বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

পদ-প্রকরণ

মোট প্রশ্ন৩,০২৪এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

পদ-প্রকরণ

PrepBank · পাতা ৩০ / ৩১ · ২,৯০১৩,০০০ / ৩,০২৪

২,৯০১.
অব্যয় পদ কত প্রকার?
  1. ক) দুই
  2. খ) তিন
  3. গ) চার
  4. ঘ) পাচঁ
সঠিক উত্তর:
গ) চার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) চার
ব্যাখ্যা
অব্যয় পদ প্রধানত চার প্রকার। যথাঃ সমুচ্চয়ী, অনন্বয়ী, অনুসর্গ এবং অনুকার বা ধ্বন্যাত্মক অব্যয়।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী
২,৯০২.
কোনটি ক্রিয়া-বিশেষ্য?
  1. আনন্দ
  2. সরলতা
  3. দীনতা
  4. করা
সঠিক উত্তর:
করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
করা
ব্যাখ্যা

• ক্রিয়া-বিশেষ্য:
- যে বিশেষ্য দিয়ে কোনো ক্রিয়া বা কাজের নাম বোঝায়, তাকে ক্রিয়া-বিশেষ্য বলে।

যেমন:
- পঠন, ভোজন, শয়ন, করা, করানো, পাঠানো, নেওয়া ইত্যাদি । 

অন্যদিকে,
গুণ-বিশেষ্য:
- গুণগত অবস্থা ও ধারণার নামকে গুণ-বিশেষ্য বলে।

যেমন:
- সরলতা, দয়া, আনন্দ, গুরুত্ব, দীনতা, ধৈর্য ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

২,৯০৩.
ক্রিয়ার অনুজ্ঞা ভাব প্রকাশ পেয়েছে নিচের কোন বাক্যে?
  1. ক) আমরা বই পড়ি
  2. খ) তুমি কাল যেও
  3. গ) তারা বাড়ি যাবে
  4. ঘ) সে কি গিয়েছিলো?
সঠিক উত্তর:
খ) তুমি কাল যেও
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) তুমি কাল যেও
ব্যাখ্যা
ক্রিয়ার অনুজ্ঞা ভাব প্রকাশ পেয়েছে - ‘চুপ কর, তুমি কাল যেও, মিথ্যা বলবে না’ এই বাক্যগুলোতে। ক্রিয়ার নির্দেশক ভাব প্রকাশ পেয়েছে - ‘আমরা বই পড়ি, তারা বাড়ি যাবে, সে কি গিয়েছিলো?’ এই বাক্যগুলোতে।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী
২,৯০৪.
কোনটি পুরাঘটিত অতীত কাল নির্দেশ করে? 
  1. আমরা তখন পত্রিকা পড়ছিলাম।
  2. কাল সন্ধ্যায় বৃষ্টি পড়ছিল। 
  3. কাজটি কি তুমি করেছিলে?
  4. শিকারি পাখিটিকে গুলি করল।
সঠিক উত্তর:
কাজটি কি তুমি করেছিলে?
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাজটি কি তুমি করেছিলে?
ব্যাখ্যা

• পুরাঘটিত অতীত কাল:
- যে ক্রিয়া অতীতের বহু পূর্বেই সংগঠিত হয়ে গিয়েছে এবং যার পরে আরও কিছু ঘটনা ঘটে গেছে, তার কালকে পুরাঘটিত অতীত কাল বলা হয়।

যেমন:
- সেবার তাকে সুস্থই দেখেছিলাম।
- কাজটি কি তুমি করেছিলে?

অন্যদিকে,
সাধারণ অতীত কাল:
- বর্তমান কালের পূর্বে যে ক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়ে গিয়েছে, তার সংঘটন সাধারণ অতীত কাল।
যেমন:
- শিকারি পাখিটিকে গুলি করল।

ঘটমান অতীত কাল:
- অতীত কালে যে কাজ চলছিল এবং যে সময়ের কথা বলা হয়েছে, তখনও কাজটি সমাপ্ত হয়নি, ক্রিয়া সংঘটনের এরূপ ভাব বুঝালে ক্রিয়ার ঘটমান অতীত কাল হয়।
যেমন:
- কাল সন্ধ্যায় বৃষ্টি পড়ছিল।
- আমরা তখন বই পড়ছিলাম।
- বাবা আমাদের পড়াশুনা দেখছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি। 

২,৯০৫.
সাধারণ অনুসর্গ রয়েছে কোন বাক্যটিতে?
  1. বহুদিন ধরে অপেক্ষা করে আছি।
  2. ভালো করে খেয়ে নাও।
  3. মাথার উপরে নিল আকাশ।
  4. মন দিয়ে লেখাপড়া করা দরকার।
সঠিক উত্তর:
মাথার উপরে নিল আকাশ।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাথার উপরে নিল আকাশ।
ব্যাখ্যা
অনুসর্গ ২ প্রকার:
- সাধারণ অনুসর্গ
- ক্রিয়াজাত অনুসর্গ 

সাধারণ অনুসর্গ:
যেসব অনুসর্গ ক্রিয়া ছাড়া অন্য শব্দ থেকে তৈরি হয়, সেগুলোকে সাধারণ অনুসর্গ বলে।
যেমন: 
• উপরে: মাথার উপরে নিল আকাশ।
• কাছে: কার কাছে গেলে জানা যাবে?
• দ্বারা: এমন কাজ তোমার দ্বারা হবে না।

অন্যদিকে,
ক্রিয়াজাত অনুসর্গ:
- যেসব অনুসর্গ ক্রিয়াপদ থেকে তৈরি হয়েছে, সেগুলোকে ক্রিয়াজাত অনুসর্গ বলে।
যেমন:
• করে: ভালো করে খেয়ে নাও।
• ধরে: বহুদিন ধরে অপেক্ষা করে আছি।
• দিয়ে: মন দিয়ে লেখাপড়া করা দরকার।
• বলে: তুমি আসবে বলে আমি দাঁড়িয়ে আছি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২,৯০৬.
'যথাসময়ে আঁখি হাজির হয়েছিল'- বাক্যে 'যথাসময়ে' কোন ধরনের ক্রিয়াবিশেষণ?
  1. ক) ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ
  2. খ) কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ  
  3. গ) স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ
  4. ঘ) নেতিবাচক ক্রিয়াবিশেষণ
সঠিক উত্তর:
খ) কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ  
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ  
ব্যাখ্যা
• কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ:
এই ধরনের ক্রিয়াবিশেষণ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল নির্দেশ করে।
যেমন-
যথাসময়ে আঁখি হাজির হয়েছিল।
আজকাল ফলের চেয়ে ফুলের দাম বেশি।
  
• ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ:
কোনাে ক্রিয়া কীভাবে সম্পন্ন হয়, ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ তা নির্দেশ করে।
যেমন -
টিপ টিপ বৃষ্টি পড়ছে।
ঠিকভাবে চললে কেউ কিছু বলবে না।

• স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ:
ক্রিয়ার স্থান নির্দেশ করে স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ।
যেমন -
মিছিলটি সামনে এগিয়ে যায়। 
তাকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

• নেতিবাচক ক্রিয়াবিশেষণ:
না, নি ইত্যাদি দিয়ে ক্রিয়ার নেতিবাচক অবস্থা বােঝায়।
এগুলাে সাধারণত ক্রিয়ার পরে বসে।
যেমন -
সে এখন যাবে না।

• পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ:
বাক্যের মধ্যে বিশেষ কোনাে ভূমিকা পালন না করলেও ‘কি’, ‘যে, বা',না’, ‘তাে  প্রভৃতি পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ হিসেবে কাজ করে।
যেমন -
কি: আমি কি যাব?
যে: খুব যে বলেছিলেন আসবেন!

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, ২০২২ সংস্করণ।
২,৯০৭.
কোন বাক্যটিতে সমধাতুজ কর্ম আছে?
  1. ক) সে বই পড়ছে
  2. খ) সে গভীর চিন্তায় মগ্ন
  3. গ) সে ঘুমিয়ে আছে
  4. ঘ) সে যে চাল চেলেছে তাতে তাকে ষড়যন্ত্রকারী ছাড়া আর কিছু বলা যায় না
সঠিক উত্তর:
ঘ) সে যে চাল চেলেছে তাতে তাকে ষড়যন্ত্রকারী ছাড়া আর কিছু বলা যায় না
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সে যে চাল চেলেছে তাতে তাকে ষড়যন্ত্রকারী ছাড়া আর কিছু বলা যায় না
ব্যাখ্যা
বাক্যের ক্রিয়া ও কর্ম পদ একই ধাতু থেকে গঠিত হলে ঐ কর্মপদকে সমধাতুজ কর্মপদ বলে।
যেমন - 'আমি বেশ এক ঘুম ঘুমিয়েছি' বাক্যে কর্মপদ ঘুম এবং ক্রিয়াপদ ঘুমিয়েছি একই ধাতু ঘুম্‌ থেকে গঠিত হয়েছে।
আবার, ‘সে যে চাল চেলেছে তাতে তাকে ষড়যন্ত্রকারী ছাড়া আর কিছু বলা যায় না’ বাক্যে কর্মপদ চাল এবং ক্রিয়াপদ চেলেছে একই ধাতু চাল থেকে গঠিত হয়েছে।
সমধাতুজ কর্মপদ অকর্মক ক্রিয়াকে সকর্মক করে।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যকরণ (২০১৯ সংস্করণ)।
২,৯০৮.
তুমি কীভাবে যাবে? - প্রশ্নে 'কীভাবে' কোন পদ?
  1. ক) বিশেষ্য
  2. খ) বিশেষণ
  3. গ) সর্বনাম
  4. ঘ) অব্যয়
সঠিক উত্তর:
গ) সর্বনাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সর্বনাম
ব্যাখ্যা
- তুমি কীভাবে যাবে?- প্রশ্নসূচক 'কীভাবে' (কেমন করে) পদটি হচ্ছে সর্বনাম পদ

আবার,
তুমি কী খাবে?: খাদ্য নামের পরিবর্তে প্রশ্নসূচক 'কী' একটি সর্বনাম পদ।
আপনার নাম কী?:  ব্যক্তি নামের পরিবর্তে প্রশ্নসূচক 'কী' একটি সর্বনাম।

 উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৯০৯.
বিধেয় ক্রিয়ার বিশেষ্য অংশকে কী বলে?
  1. উদ্দেশ্য
  2. প্রসারক
  3. সম্পূরক
  4. পূরক
সঠিক উত্তর:
পূরক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পূরক
ব্যাখ্যা
বাক্যকে উদ্দেশ্য ও বিধেয় দুটি অংশে ভাগ করা হয়। 
- বাক্য দীর্ঘতর হলে বাক্যের সঙ্গে নানা ধরনের শব্দ ও বর্গ যুক্ত হতে পারে। 
- উদ্দেশ্য ও বিধেয় কে এইসব  শব্দ ও বর্গ প্রসারিত করে বলে এগুকোকে প্রসারক বলে। 
- এছাড়া বিধেয় ক্রিয়ার বিশেষ্য অংশকে বলা হয় পূরক। 

উৎস:
মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
২,৯১০.
‘ঝাঁকে ঝাঁকে মাছ ধরা পরেছে।’ - এখানে ‘ঝাঁক’ কোন পদ?
  1. জাতিবাচক বিশেষ্য
  2. বস্তুবাচক বিশেষ্য
  3. ভাববাচক বিশেষ্য
  4. সমষ্টিবাচক বিশেষ্য
সঠিক উত্তর:
সমষ্টিবাচক বিশেষ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমষ্টিবাচক বিশেষ্য
ব্যাখ্যা
• বাক্যমধ্যে ব্যবহৃত যে সমস্ত পদ দ্বারা কোনো ব্যক্তি, জাতি, সমষ্টি, বস্তু, স্থান, কাল, ভাব, কর্ম বা গুণের নাম বোঝানো হয় তাকে বিশেষ্য পদ বলে।

বিশেষ্যপদ ছয় প্রকার:
১. সংজ্ঞা (বা নাম) বাচক বিশেষ্য,
২. জাতিবাচক বিশেষ্য,
৩. বস্তুবাচক বিশেষ্য,
৪. সমষ্টিবাচক বিশেষ্য,
৫. ভাববাচক বিশেষ্য,
৬. গুণবাচক বিশেষ্য।

⇒ সমষ্টিবাচক-বিশেষ্য:
এ ধরনের বিশেষ্য দিয়ে ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টিকে বোঝায়। যেমন: জনতা, পরিবার, ঝাঁক, বাহিনী, মিছিল ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
⇒ জাতি বিশেষ্য: জাতি বিশেষ্য সাধারণ বিশেষ্য নামেও পরিচিত। এ ধরনের বিশেষ্য নির্দিষ্ট কোনো নামকে না বুঝিয়ে প্রাণী ও অপ্রাণাীর সাধারণ নামকে বোঝায়। যেমন: মানুষ, গরু, ছাগল, ফুল, ফল, নদী, সাগর, পর্বত ইত্যাদি।

⇒ বস্তু বিশেষ্য: কোনো দ্রব্য বা বস্তুর নামকে বস্তু-বিশেষ্য বলে।
যেমন: ইট, লবণ, আকাশ, টেবিল, বই ইত্যাদি।

⇒ ভাববাচক বিশেষ্য/ক্রিয়া-বিশেষ্য: যে বিশেষ্যপদে কোন ক্রিয়ার ভাব বা কাজের ভাব প্রকাশিত হয়, তাকে ভাববাচক বিশেষ্য বলে।
যেমন: ভোজন (খাওয়ার কাজ), শয়ন (শোয়ার কাজ), গমন (যাওয়ার ভাব বা কাজ), দর্শন, দেখা, শোনা।

উল্লেখ্য, ভাববাচক বিশেষ্য (২০২৩ সংস্করণ) অনুসারে ক্রিয়া-বিশেষ্য নামে পরিচিত।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২,৯১১.
’যদি সে পড়ত তবে পাশ করত।’- বাক্যে ক্রিয়ার কোন ভাব প্রকাশ পেয়েছে?
  1. নির্দেশক ভাব
  2. সাপেক্ষ ভাব
  3. অনুজ্ঞাসূচক
  4. আকাঙ্ক্ষা
সঠিক উত্তর:
সাপেক্ষ ভাব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাপেক্ষ ভাব
ব্যাখ্যা

• সাপেক্ষ ভাব:
- একটি ক্রিয়ার সংঘটন অন্য একটি ক্রিয়ার ওপর নির্ভর করলে, নির্ভরশীল ক্রিয়াকে সাপেক্ষ ভাবের ক্রিয়া বলা হয়।
যেমন-
ক. সম্ভাবনায়: তিনি ফিরে এলে সবকিছুর মীমাংসা হবে। যদি সে পড়ত তবে পাশ করত।
খ. উদ্দেশ্য বোঝাতে: ভালো করে পড়লে সফল হবে।
গ. ইচ্ছা বা কামনায়: আজ বাবা বেঁচে থাকলে আমার এত কষ্ট হতো না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি (২০২০ সালের সংস্করণ)।

২,৯১২.
নিচের কোনটি সমষ্টিবাচক বিশেষ্য?
  1. পানি
  2. আনন্দ
  3. মানুষ
  4. পঞ্চায়েত
সঠিক উত্তর:
পঞ্চায়েত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পঞ্চায়েত
ব্যাখ্যা
• 'পঞ্চায়েত' - সমষ্টিবাচক বিশেষ্য। 

সমষ্টিবাচক বিশেষ্য (Collective Noun) :
যে পদে ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টি বােঝায়, তা-ই সমষ্টিবাচক বিশেষ্য।
যথা- সভা, জনতা, সমিতি, সমাজ, পঞ্চায়েত, মিছিল, ঝাঁক, বহর, দল ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
পানি - বস্তুবাচক বিশেষ্য। 
আনন্দ - গুণ বিশেষ্য। 
মানুষ - জাতিবাচক বিশেষ্য। 
------------------- 
অপরদিকে,
• গুণ-বিশেষ্য:
- গুণগত অবস্থা ও ধারণার নামকে গুণ-বিশেষ্য বলে।
যেমন – সরলতা, দয়া, আনন্দ, গুরুত্ব, দীনতা, ধৈর্য ইত্যাদি।

জাতিবাচক বিশেষ্য: 
যে পদ দ্বারা কোনো একজাতীয় প্রাণী বা পদার্থের সাধারণ নাম বোঝায় তাকে জাতিবাচক বিশেষ্য বলে।
যেমন- মানুষ, গরু, পাখি, গাছ, সাগর, পর্বত, ইংরেজ ইত্যাদি জাতিবাচক বিশেষ্যের উদাহরণ। 

বস্তু-বিশেষ্য: 
কোনো দ্রব্য বা বস্তুর নামকে বস্তু-বিশেষ্য বলে।
যেমন – ইট, লবণ, আকাশ, টেবিল, বই ইত্যাদি।

নাম-বিশেষ্য:
ব্যক্তি, স্থান, দেশ, কাল, সৃষ্টি প্রভৃতির সুনির্দিষ্ট নামকে নাম-বিশেষ্য বলা হয়।
যেমন – স্থাননাম: ঢাকা, বাংলাদেশ, হিমালয়।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ও০২২ সংস্করণ)।
২,৯১৩.
নিচের কোনটি অনুসর্গ না?
  1. ক) পরি
  2. খ) তরে
  3. গ) পরে
  4. ঘ) বই
সঠিক উত্তর:
ক) পরি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) পরি
ব্যাখ্যা
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত বহু অনুসর্গ আছে। যেমন - প্রতি, বিনা, বিহনে, সহ, ওপর, অবধি, হেতু, মধ্যে, মাঝে, পরে, ভিন্ন, বই, ব্যতীত, জন্যে, জন্য, পর্যন্ত, তরে, পানে, নামে, মতো, নিকট, অধিক, পক্ষে, দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক, হতে, থেকে, চেয়ে, ভিতর, ভেতর ইত্যাদি।
পরি সংস্কৃত উপসর্গ।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণি
২,৯১৪.
"মৌলিসা পাস করে গেল।" - বাক্যটিতে কোন ক্রিয়ার ব্যবহার হয়েছে?
  1. নাম ক্রিয়া
  2. দ্বিকর্মক ক্রিয়া
  3. যৌগিক ক্রিয়া
  4. সংযোগ ক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
যৌগিক ক্রিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যৌগিক ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
যৌগিক ক্রিয়া:
- একটি সমাপিকা ক্রিয়া ও একটি অসমাপিকা ক্রিয়া মিলিত হয়ে যে ক্রিয়াপদ গঠিত হয়, তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে।
যেমন:
মৌলিসা পাস করে গেল।
সাইরেন বেজে উঠল।

অন্যদিকে,
সংযোগ ক্রিয়া:
- বিশেষ্য, বিশেষণ বা ধ্বন্যাত্মক শব্দের পরে করা, কাটা, হওয়া, দেওয়া, ধরা, পাওয়া, খাওয়া, মারা প্রভৃতি ক্রিয়া যুক্ত হয়ে সংযোগ ক্রিয়া গঠিত হয়।
যেমন:
- গরম করা, গান করা, মার খাওয়া, উদয় হওয়া, ঠনঠন করা ইত্যাদি।

নাম ক্রিয়া:
- বিশেষ্য, বিশেষণ ও ধ্বনাত্মক শব্দের শেষে ‘আ' বা 'আনো' প্রত্যয় যোগ করে যে যে ক্রিয়া গঠিত হয় তাকে নামক্রিয়া বলে।
যেমন:
- বিশেষ্য চমক শব্দের সঙ্গে - 'আনো' প্রত্যয় যুক্ত করে হয় 'চমকানো'; আকাশে বিদ্যুৎ চমকায়।

দ্বিকর্মক ক্রিয়া:
বাক্যের মধ্যে ক্রিয়ার দুটি কর্ম থাকলে সেই ক্রিয়াকে দ্বিকর্মক ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- শিক্ষক ছাত্রকে বই দিলেন।
[এই বাক্যে 'দিলেন' একটি দ্বিকর্মক ক্রিয়া। 'কী দিলেন' প্রশ্নের উত্তর দেয় মুখ্য কর্ম ('বই'), আর 'কাকে দিলেন' প্রশ্নের উত্তর দেয় গৌণ কর্ম ('ছাত্রকে')।]

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিত, নবম দশম শ্রেণি, (সংস্করণ ২০২১) ও বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
২,৯১৫.
কোনটি বর্তমান কালের অনুজ্ঞা?
  1. রোহান লিখুক।
  2. মিথ্যা কথা বলো না।
  3. অঙ্কটা বুঝিয়ে দেবেন?
  4. সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
ব্যাখ্যা
অনুজ্ঞা:
- আদেশ, অনুরোধ, অনুমতি, প্রার্থনা ইত্যাদি বোঝাতে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ কালের মধ্যম পুরুষে ক্রিয়াপদের যে রূপ হয়, তাকে অনুজ্ঞা বলে।

বর্তমান কালের অনুজ্ঞা:
যেমন:
- তোমরা কাজ করো।
- রোহান লিখুক।
- মিথ্যা কথা বলো না।
- অঙ্কটা বুঝিয়ে দেবেন?
- আমাকে তুমি রক্ষা করো, প্রভু।
- আদেশ করুন জাহাপনা।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
২,৯১৬.
মামুন আমেরিকা থাকে। - এ বাক্যে ‘আমেরিকা’ কোন পদ?
  1. ক) বিশেষ্য
  2. খ) বিশেষণ
  3. গ) ক্রিয়া বিশেষণ
  4. ঘ) সর্বনাম
সঠিক উত্তর:
গ) ক্রিয়া বিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ক্রিয়া বিশেষণ
ব্যাখ্যা
যে ক্রিয়াবিশেষণ দ্বারা কোনো কাজ কোথায় বা কোন স্থানে সংঘটিত হচ্ছে বোঝায় তাকে স্থানজ্ঞাপক ক্রিয়াবিশেষণ বলে।
যেমন : 
আমার সামনে দাঁড়াও। 
এখানে বসো। 
কল্যাণী গাজীপুর থাকে। 
চশমাটা কোথায় রেখেছি বলতে পারছি না। 
মামুন আমেরিকা থাকে।

উৎস : নবম—দশম শ্রেণি পুরাতন ও নতুন ব্যাকরণ, ভাষা—শিক্ষা, বাংলা একাডেমির ব্যাকরণ, উন্মক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ।
২,৯১৭.
নিম্নের কোনটি লগ্নকের প্রকারভেদ নয়?
  1. ক) বিভক্তি
  2. খ) নির্দেশক
  3. গ) বলক
  4. ঘ) অব্যয়
সঠিক উত্তর:
ঘ) অব্যয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) অব্যয়
ব্যাখ্যা

শব্দ যখন বাক্যের মধ্যে অবস্থান করে তখন তাকে বলে হয় পদ। পদে পরণত হবার সময় শব্দের সঙ্গে কিছু শব্দাংশ যুক্ত হয়। তাকে লগ্নক বলে। লগ্নক ৪ প্রকার -
বিভক্তি
নির্দেশক
বচন
বলক

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি)

২,৯১৮.
'লবণ' শব্দের বিশেষ্য কোনটি?
  1. নুন
  2. লবণাক্ত
  3. লাবণ্য
  4. ললিত
সঠিক উত্তর:
নুন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নুন
ব্যাখ্যা
• লবণ (বিশেষ্য পদ),
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ:
- নুন,
- সোডিয়াম ও ক্লোরিন পরমানুর রাসায়নিক বিক্রিয়াজাত কেলাসিত খনিজপদার্থ।
- সমুদ্রের জল শুকিয়ে প্রপ্ত লবণাক্ত সাদা যৌগবিশেষ।

অন্যদিকে,
• লবণাক্ত (বিশেষণ পদ)।

• লাবণ্য (বিশেষ্য পদ),
অর্থ: সৌন্দর্য, শোভা, লাবণি।

• ললিত (বিশেষ্য ও বিশেষণ পদ হিসেবে ব্যবহৃত হয়),
অর্থ: লাস্য, চারু, কোমল।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
২,৯১৯.
‘খুব ভালো খবর’- বাক্যে 'ভালো' কোন পদের উদাহরণ?
  1. বিশেষ্য
  2. বিশেষণ
  3. ক্রিয়া
  4. ক্রিয়া বিশেষণ
সঠিক উত্তর:
বিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশেষণ
ব্যাখ্যা
• ভাববাচক বিশেষণ:
যেসব বিশেষণ বাক্যের অন্তর্গত অন্য বিশেষণকে বিশেষিত করে, সেসব বিশেষণকে ভাববাচক বিশেষণ বলে।
যেমন:
- খুব ভালো খবর।
- গাড়িটা বেশ জোরে চলছে।
[এসব বাক্যে ‘খুব’ এবং ‘বেশ’ ভাববাচক বিশেষণ।]

------------------
• বিশেষণ:
যে শব্দ দিয়ে সাধারণত বিশেষ্য ও সর্বনামের গুণ, দোষ, সংখ্যা, পরিমাণ, অবস্থা ইত্যাদি বোঝায় তাকে বিশেষণ বলে।

শব্দটি কীভাবে গঠিত, কোন শ্রেণির শব্দকে বিশেষিত করে এবং বাক্যের মধ্যে বিশেষণের অবস্থান কোথায় এসব বিবেচনায় বিশেষণকে নানা নামে উপস্থাপন করা যেতে পারে। যেমন:
- বর্ণবাচক বিশেষণ,
- গুণবাচক বিশেষণ,
- অবস্থানবাচক বিশেষণ,
- ক্রমবাচক বিশেষণ,
- পূরণবাচক বিশেষণ,
- পরিমাণবাচক বিশেষণ,
- উপাদানবাচক বিশেষণ,
- প্রশ্নবাচক বিশেষণ,
- নির্দিষ্টতাবাচক বিশেষণ,
- ভাববাচক বিশেষণ,
- বিধেয় বিশেষণ ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২,৯২০.
"সালমান সময়মতো স্টেশনে পৌঁছে গেল।" - এ বাক্যের ক্রিয়াটি কোন ধরনের?
  1. সরল ক্রিয়া
  2. সংযোগ ক্রিয়া
  3. প্রযোজক ক্রিয়া
  4. যৌগিক ক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
যৌগিক ক্রিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যৌগিক ক্রিয়া
ব্যাখ্যা

যৌগিক ক্রিয়া:
একটি সমাপিকা ক্রিয়া ও একটি অসমাপিকা ক্রিয়া মিলিত হয়ে যে ক্রিয়াপদ গঠিত হয়, তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে।
যেমন: 
মরে যাওয়া, কমে আসা, এগিয়ে চলা, হেসে ওঠা, উঠে পড়া, পেয়ে বসা, সরে দাঁড়ানাে, বেঁধে দেওয়া, বুঝে নেওয়া, বলে ফেলা, করে তােলা, চেপে রাখা ইত্যাদি।

বাক্যে উদাহরণ:
- সালমান সময়মতো স্টেশনে পৌঁছে গেল।
- সাইরেন বেজে উঠল।
- সে আমার কথা শুনে হেসে উঠল।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিত, নবম দশম শ্রেণি, (সংস্করণ ২০২১) ও বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।

২,৯২১.
নিচের কোনটি বিশেষ্য পদ?
  1. জাত
  2. গৈরিক
  3. উদ্ধত
  4. গাম্ভীর্য
সঠিক উত্তর:
গাম্ভীর্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গাম্ভীর্য
ব্যাখ্যা
• গাম্ভীর্য (বিশেষ্য পদ),
- এটি একটি সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ:
- গম্ভীর ভাব,
- চপলতার অভাব,
- প্রগাঢ়তা ইত্যাদি।

• গাম্ভীর্য শব্দের বিশেষণ রূপ - গম্ভীর।

অন্যদিকে,
- জাত ও উদ্ধত - বিশেষণ পদ।
- আর ‘গৈরিক’ শব্দটি অর্থ ভেদে বিশেষ্য ও বিশেষণ উভয় পদ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
২,৯২২.
'আমি রোজ বিদ্যালয়ে পড়তে যাই।' - এটি কোন কালের উদাহরণ?
  1. সাধারণ অতীত
  2. সাধারণ বর্তমান
  3. ঘটমান বর্তমান
  4. পুরাঘটিত বর্তমান
সঠিক উত্তর:
সাধারণ বর্তমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাধারণ বর্তমান
ব্যাখ্যা
সাধারণ বর্তমান:
- যে ক্রিয়ার কাজটি বর্তমানে সাধারণভাবে ঘটে বা হয়, তাকে সাধারণ বর্তমান বা নিত্যবৃত্ত বর্তমান কাল বলে।

যেমন:
সকালে সূর্য ওঠে।
দুই আর দুইয়ে চার হয়।
আমি রোজ বিদ্যালয়ে পড়তে যাই

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
২,৯২৩.
কোনটি বিশেষ্য পদ নয়?
  1. একতা
  2. সৎ
  3. জনতা
  4. দর্শন
সঠিক উত্তর:
সৎ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৎ
ব্যাখ্যা

• বিশেষ্য পদ নয় - সৎ
- এটি বিশেষণ পদ।
অর্থ: নৈতিকভাবে ভালো, সত্যবাদী।
- এটি একটি বিশেষণ, কারণ এটি বিশেষ্যের গুণ বা অবস্থা বোঝায়।
উদাহরণ: সৎ মানুষ (মানুষ বিশেষ্যকে সৎ বিশেষিত করছে)।

অন্যদিকে,
একতা:
অর্থ: ঐক্য বা মিলন।
- এটি গুণবাচক বিশেষ্য।

দর্শন:
অর্থ: দৃষ্টি, দর্শনশাস্ত্র, বা দেখা।
- এটি ভাববাচক বিশেষ্য।

জনতা:
অর্থ: জনসাধারণ বা মানুষের সমষ্টি। 
- এটি সমষ্টিবাচক বিশেষ্য।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

২,৯২৪.
বিশেষ্যের পরিবর্তে কোন পদ ব্যবহৃত হয়?
  1. অব্যয়
  2. ক্রিয়া বিশেষণ
  3. সর্বনাম
  4. ভাব বিশেষণ
সঠিক উত্তর:
সর্বনাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সর্বনাম
ব্যাখ্যা

সর্বনাম:
- বিশেষ্যের পরিবর্তে ব্যবহৃত শব্দকে সর্বনাম শব্দ বলে। বাক্যের মধ্যে বিশেষ্য যে ভূমিকা পালন করে, সর্বনাম অনুরূপ ভূমিকা পালন করে।
যেমন:
"শিমুল মনোযোগের সঙ্গে পড়াশোনা করত। তাই সে পরীক্ষায় ভালো করেছে।"
দ্বিতীয় বাক্যের 'সে' প্রথম বাক্যের 'শিমুল'-এর পরিবর্তে বসেছে।
- বিশেষ্য শব্দের মতো সর্বনাম শব্দের সঙ্গেও বিভক্তি, নির্দেশক, বচন প্রভৃতি যুক্ত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

২,৯২৫.
'গান দিয়ে মনটাকে আনন্দে ভরিয়ে রাখতো সে।' বাক্যটিতে 'দিয়ে' হলো-
  1. উপসর্গ 
  2. প্রত্যয় 
  3. ধাতু 
  4. অনুসর্গ 
সঠিক উত্তর:
অনুসর্গ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুসর্গ 
ব্যাখ্যা

• 'গান দিয়ে মনটাকে আনন্দে ভরিয়ে রাখতো সে।' বাক্যটিতে 'দিয়ে' হলো একটি ​অনুসর্গ। 

​---------------
​• অনুসর্গ:
যেসব শব্দ কোনো শব্দের পরে বসে শব্দটিকে বাক্যের সাথে সম্পর্কিত করে, সেসব শব্দকে অনুসর্গ বলে ।
বাংলা কিছু অনুসর্গ আছে এদের মধ্যে দ্বারা, দিয়া (দিয়ে), কর্তৃক, হইতে, চেয়ে, অপেক্ষায়, মধ্যে প্রভৃতি কয়েকটি অনুসর্গ বিভক্তি রূপে ব্যবহৃত হয়।

কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অনুসর্গের উদাহরণ:
হইতে, হতে, চেয়ে, দ্বারা, দিয়া, দিয়ে, কর্তৃক ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

২,৯২৬.
'এ এক বিরাট সত্য'- এই বাক্যে 'সত্য' কোন পদ?
  1. ক) বিশেষ্য
  2. খ) বিশেষণ
  3. গ) ক্রিয়া
  4. ঘ) অব্যয়
সঠিক উত্তর:
ক) বিশেষ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) বিশেষ্য
ব্যাখ্যা
• এ এক বিরাট সত্য’—এখানে ‘সত্য’ একটি বিশেষ্য।
বিশেষণ সবসময় বিশেষ্যের পূর্বে বসে।
বিরাট একটি বিশেষণ।
[বিরাট্‌] (বিশেষণ) ১ বিশাল; প্রকাণ্ড; সুবৃৎ।

• যে পদ কোন ব্যক্তি, বস্ত্ত, প্রাণী, সমষ্টি, স্থান, কাল, ভাব, কর্ম, গুণ ইত্যাদির নাম বোঝায়, তাকে বিশেষ্য পদ বলে।

• একই পদের বিশেষ্য ও বিশেষণ রূপে প্রয়োগ
বাংলা ভাষায় একই পদ বিশেষ্য ও বিশেষণ রূপে ব্যবহৃত হতে পারে।
যেমন -

বিশেষণ রূপে - ভালো বাড়ি পাওয়া কঠিন ।
বিশেষ্য রূপে - আপন ভালো সবাই চায় ৷

বিশেষণ রূপে - মন্দ কথা বলতে নেই ।
বিশেষ্য রূপে - এখানে কী মন্দটা তুমি দেখলে?

বিশেষণ রূপে - তোমার এ পুণ্য প্রচেষ্টা সফল হোক ।
বিশেষ্য রূপে - পুণ্যে মতি হোক ।

বিশেষণ রূপে - নিশীথ রাতে বাজছে বাঁশি ।
বিশেষ্য রূপে - গভীর নিশীথে প্রকৃতি সুপ্ত।

বিশেষণ রূপে - শীতকালে কুয়াশা পড়ে
বিশেষ্য রূপে - শীতের সকালে চারদিক কুয়াশায় অন্ধকার ।

বিশেষণ রূপে - সত্য পথে থেকে সত্য কথা বল।
বিশেষ্য রূপে - এ এক বিরাট সত্য

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ), বাংলা একাডেমি অভিধান।
২,৯২৭.
‘যত্ন করলে রত্ন মিলে'- এখানে 'করলে' কোন ধরনের ক্রিয়া?
  1. সমাপিকা
  2. অসমাপিকা
  3. প্রযোজক 
  4. অনুক্ত
সঠিক উত্তর:
অসমাপিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অসমাপিকা
ব্যাখ্যা

অসমাপিকা ক্রিয়া:
যে ক্রিয়া ভাব সম্পূর্ণ করতে পারে না, তাকে অসমাপিকা ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- যত্ন করলে রত্ন মিলে।
এখানে 'যত্ন করলে' বললে ভাব সম্পূর্ণ প্রকাশিত হয় না। তাই এটি অসমাপিকা ক্রিয়ার উদাহরণ।

অসমাপিকা ক্রিয়া তিন ধরনের:
১. ভূত অসমাপিকা,
২. ভাবী অসমাপিকা এবং
৩. শর্ত অসমাপিকা।
যথা:
• ভূত অসমাপিকা: সে গান করে আনন্দ পায়।
• ভাবী অসমাপিকা: সে গান শিখতে রাজশাহি যায়।
• শর্ত অসমাপিকা: গান করলে তার মন ভালাে হয়।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।

২,৯২৮.
‘ওরে, তুই যাবি নাকি সোহাগ তলীর গাঁ?’- বাক্যে ‘ওরে’ কোন পদ?
  1. অনুসর্গ
  2. যোজক
  3. বিশেষণ
  4. আবেগ
সঠিক উত্তর:
আবেগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবেগ
ব্যাখ্যা
⇒ ‘ওরে, তুই যাবি নাকি সোহাগ তলীর গাঁ?’- বাক্যে ব্যবহৃত ‘ওরে’ সম্বোধন আবেগ পদের উদাহরণ।

• আবেগ:
মনের নানা ভাব প্রকাশ করা হয় যেসকল শব্দ দিয়ে তাকে আবেগ বলে।

নিম্নে বিভিন্ন ধরনের আবেগ শব্দের প্রয়োগ দেখানো হলো:
⇒ সিদ্ধান্ত আবেগ: এ জাতীয় শব্দের সাহায্যে অনুমোদন, সম্মতি, সমর্থন ইত্যাদি প্রকাশ করা হয়।
যেমন:
- বেশ, তবে যাওয়াই যাক।
- হুঁ, যুক্তিটা মন্দ মনে হচ্ছে না।

⇒ প্রশংসা আবেগ: এ ধরনের শব্দ প্রশংসা বা তারিফের মনোভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- বাহ, চমৎকার লিখেছ।
- শাবাশ! খেলার মতো খেলা দেখালে।

⇒ বিরক্তি আবেগ: এ ধরনের শব্দ অবজ্ঞা, ঘৃণা, বিরক্তি ইত্যাদি মনোভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- ছি ছি! এরকম কথা মুখে মানায় না।
- কী জ্বালা! আর কতক্ষণ অপেক্ষা করব।

⇒ আতঙ্ক আবেগ: এ ধরনের শব্দ আতঙ্ক, যন্ত্রনা, কাতরতা ইত্যাদি প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- উহ! কি বিপদে পরা গেল।
- আহ! কী বিপদ।

⇒ বিস্ময় আবেগ: এ ধরনের শব্দ বিস্মিত বা আশ্চর্য হওয়ার  ভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- আরে! তুমি আবার কখন এলে?
- অ্যাঁ, বলছ কী?

⇒ করুণা আবেগ: এ ধরনের শব্দ করুণা, মায়া, সহানুভূতি ইত্যাদি মনোভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- আহা! বেচারার কত কষ্ট।
- হায়! হায়! এখন ওদের কে দেখবে!

⇒ সম্বোধন আবেগ: এ ধরনের শব্দ সম্বোধন বা আহ্বান করার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- ওগো, তোরা সব জয়ধ্বনি কর।
- ওরে, তুই কোথায় চললি ?

⇒ অলংকার আবেগ: এ ধরনের শব্দ বাক্যের অর্থের পরিবর্তন না ঘটিয়ে কোমলতা, মাধুর্য ইত্যাদি বৈশিষ্ট্য এবং সংশয় অনুরোধ, মিনতি ইত্যাদি মনোভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- যাকগে, ওসব কথা থাক। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নব-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২,৯২৯.
'এ দেশের মাঝে একদিন সব ছিল'। -এখানে 'মাঝে' কী অর্থ প্রকাশ করছে?
  1. ব্যাপ্তি
  2. মধ্যে
  3. ক্ষণকাল
  4. একদেশিক
সঠিক উত্তর:
একদেশিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
একদেশিক
ব্যাখ্যা

'মাঝে' অনুসর্গের প্রয়োগ:
- মধ্যে অর্থে - 'সীমার মাঝে অসীম তুমি'।
- একদেশিক অর্থে - এ দেশের মাঝে একদিন সব ছিল।
- ক্ষণকাল অর্থে - নিমেষ মাঝেই সব শেষ।

অন্যদিকে,
মাঝারে: ব্যাপ্তি অর্থে - 'আছ তুমি প্রভু, জগৎ মাঝারে।'

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

২,৯৩০.
নিচের কোনটি যৌগিক কালের উদাহরণ নয়?
  1. করছিলাম
  2. করেছি
  3. করছি
  4. করব
সঠিক উত্তর:
করব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
করব
ব্যাখ্যা
• যৌগিক কালের উদাহরণ নয়- করব

• যৌগিক কাল:
- ক্রিয়ার যে কালরূপ একাধিক ধাতুর দ্বারা গঠিত, তাকে যৌগিক কাল বলে।
- যৌগিক কালের ক্রিয়া গঠনের জন‍্য মূল ধাতুর সাথে 'ইয়া' বা 'ইতে' প্রত‍্যয় যোগ করার পর '√আছ্', '√থাক্' প্রভৃতি ধাতুকে সহায়ক হিসেবে ব‍্যবহার করতে হয়।
- বাংলায় ঘটমান ও পুরাঘটিত কালগুলো যৌগিক কাল হিসেবে গণ‍্য হয়।
- সুতরাং পুরাঘটিত বর্তমান, ঘটমান বর্তমান, পুরাঘটিত অতীত, ঘটমান অতীত, পুরাঘটিত ভবিষ্যৎ, ঘটমান ভবিষ্যৎ কালগুলো যৌগিক কাল।

 অপশনে প্রদত্ত,
- করছিলাম ও করছি - ঘটমান কাল নির্দেশ করে।
- করেছি - পুরাঘটিত কাল নির্দেশ করে।
সুতরাং, এগুলো যৌগিক কালের উদাহরণ।

- করব সাধারণ ভবিষ্যৎ কালের উদাহরণ। অর্থাৎ এটি সরল কালের উদাহরণ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ); মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৯৩১.
কোনটি অনুসর্গের উদাহরণ?
  1. ক) আপন, তুমি
  2. খ) বলে, কয়ে
  3. গ) অভিমুখে, কাছে
  4. ঘ) জোরে, আস্তে
সঠিক উত্তর:
গ) অভিমুখে, কাছে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) অভিমুখে, কাছে
ব্যাখ্যা
- উল্লেখিত প্রশ্নে অভিমুখে, কাছে অনুসর্গের উদাহরণ।

• অনুসর্গ:
- যেসব শব্দ কোনো শব্দের পরে বসে শব্দটিকে বাক্যের সঙ্গে সম্পর্কিত করে, সেসব শব্দকে অনুসর্গ বলে।

• কয়েকটি অনুসর্গের উদাহরণ:
অপেক্ষা, অবধি, অভিমুখে, আগে, উপরে, করে, কর্তৃক, কাছে, কারণে, ছাড়া, জন্য, তরে, থেকে, দরুন, দিকে, দিয়ে, দ্বারা, ধরে, নাগাদ, নিচে, পর্যন্ত, পানে, পাশে, পিছনে, প্রতি, বদলে, বনাম, বরাবর, বাইরে, বাদে, বাবদ, বিনা, ব্যতীত, ভিতরে, মতো, মধ্যে, মাঝে, লেগে, সঙ্গে, সম্মুখে, সাথে, সামনে, হতে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( সংস্করণ- ২০২১)।
২,৯৩২.
নিচের কোন বাক্যটি অকর্মক ক্রিয়ার উদাহরণ?
  1. আমি বই পড়ছি
  2. মা শিশুকে চাঁদ দেখাচ্ছেন
  3. ছেলেরা মাঠে ফুটবল খেলছে
  4. সে ঘুমায়
সঠিক উত্তর:
সে ঘুমায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সে ঘুমায়
ব্যাখ্যা
• অকর্মক ক্রিয়া:
- বাক্যে ক্রিয়ার কোনো কর্ম না থাকলে সেই ক্রিয়াকে অকর্মক ক্রিয়া বলে।

যেমন - 
- যেমন সে ঘুমায়। 
- এই বাক্যে কোনো কৰ্ম নেই। 

সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২,৯৩৩.
"আমি বাড়ি গিয়ে খাব।" - বাক্যে 'গিয়ে' কোন ক্রিয়া?
  1. অসমাপিকা
  2. প্রযোজক
  3. দ্বিকর্মক
  4. সমাপিকা
সঠিক উত্তর:
অসমাপিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অসমাপিকা
ব্যাখ্যা
অসমাপিকা ক্রিয়া:
- যে ক্রিয়া দ্বারা বাক্যের অর্থ সম্পূর্ণ হয় না, তাকে অসমাপিকা ক্রিয়া বলে।
যেমন:
আমি বাড়ি গিয়ে .......
সে বই নিয়ে...

→ এখানে 'গিয়ে', 'নিয়ে' ক্রিয়ার দ্বারা কথা শেষ হয় নি। বাক্যের অর্থ অসম্পূর্ণ রয়েছে।
→ বাক্যের অর্থ সম্পূর্ণ করার জন্য আরও ক্রিয়া চাই।
যেমন:
- আমি বাড়ি গিয়ে খাব।
- সে বই নিয়ে পড়তে বসেছে।

• সুতরাং, 'গিয়ে', 'নিয়ে' হচ্ছে অসমাপিকা ক্রিয়া। আর 'খাব', 'বসেছে' এগুলো সমাপিকা ক্রিয়া।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
২,৯৩৪.
সর্বনামের প্রতিনিধি স্থানীয় কোনটি?
  1. ক) বিশেষ্য
  2. খ) বিশেষণ
  3. গ) অব্যয়
  4. ঘ) ক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
ক) বিশেষ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) বিশেষ্য
ব্যাখ্যা

বিশেষ্যের পরিবর্তে যে শব্দ ব্যবহৃত হয়, তাকে সর্বনাম পদ বলে।
সর্বনাম সাধারণত ইতোপূর্বে ব্যবহৃত বিশেষ্যের প্রতিনিধি স্থানীয় শব্দ। যেমন: হস্তী প্রাণিজগতের সর্ববৃহৎ প্রাণী। তার শরীরটি যেন বিরাট এক মাংসের স্তুপ।
বিশেষ্য পদ অনুক্ত থাকলেও ক্ষেত্রবিশেষে বিশেষ্য পদের পরিবর্তে সর্বনাম পদ ব্যবহৃত হতে পারে।
যেমন: যারা দেশের ডাকে সারা দিতে পারে, তারা তো সত্যিকারের দেশপ্রেমিক।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ - নবম-দশম শ্রেণি।

২,৯৩৫.
'ক্রিয়াপদ' সম্পর্কে কোনটি সত্য?
  1. বাক্যগঠনের অপরিহার্য অঙ্গ।
  2. কখনো কখনো বাক্যে ক্রিয়াপদ উহ্য বা অনুক্ত থাকতে পারে।
  3. ক্রিয়াপদ ভিন্ন কোনো মনোভাবই সম্পূর্ণরূপে প্রকাশ করা যায় না।
  4. সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
ব্যাখ্যা
• অনুক্ত ক্রিয়াপদ:
- ক্রিয়াপদ বাক্যগঠনের অপরিহার্য অঙ্গ।
- ক্রিয়াপদ ভিন্ন কোনো মনোভাবই সম্পূর্ণরূপে প্রকাশ করা যায় না।
- তবে কখনো কখনো বাক্যে ক্রিয়াপদ উহ্য বা অনুক্ত থাকতে পারে।
যেমন -
→ ইনি আমার ভাই = ইনি আমার ভাই (হন)।
→ আজ প্রচণ্ড গরম = আজ প্রচণ্ড গরম (অনুভূত হচ্ছে)।
→ তোমার মা কেমন? = তোমার মা কেমন (আছেন)?
- বাক্যে সাধারণত 'হ্' এবং 'আছ' ধাতু গঠিত ক্রিয়াপদ উহ্য থাকে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২,৯৩৬.
পদ প্রধানত কত প্রকার?
  1. ক) ২ প্রকার
  2. খ) ৩ প্রকার
  3. গ) ৪ প্রকার
  4. ঘ) ৫ প্রকার
সঠিক উত্তর:
ক) ২ প্রকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ২ প্রকার
ব্যাখ্যা

• পদ প্রধানত দুই প্রকার। যথাঃ
- সব্যয় পদ ও
- অব্যয় পদ।
• সব্যয় পদ চার প্রকার। যথাঃ
- বিশেষ্য,
- বিশেষণ,
- সর্বনাম ও
- ক্রিয়া।
• সুতরাং পদ মোট পাঁচ প্রকার। যথাঃ
- বিশেষ্য,
- বিশেষণ,
- সর্বনাম,
- ক্রিয়া ও
- অব্যয় পদ।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

২,৯৩৭.
'বালকেরা স্কুলে যাচ্ছে।' - বাক্যটি কোন ধরনের বর্তমান কাল নির্দেশ করে?
  1. বর্তমান অনুজ্ঞা
  2. নিত্য বর্তমান
  3. ঘটমান বর্তমান
  4. সাধারণ বর্তমান
সঠিক উত্তর:
ঘটমান বর্তমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘটমান বর্তমান
ব্যাখ্যা
ঘটমান বর্তমান:
- যে ক্রিয়ার কাজ বর্তমানে ঘটছে বা চলছে, এখনো শেষ হয়ে যায়নি, তাকে ঘটমান বর্তমান কাল বলে।

যেমন:
- আমার ছোট ভাই লিখছে।
- ছেলেরা এখনো ফুটবল খেলছে।
- টেলিভিশনে রবীন্দ্রনাথের লেখা নাটক দেখাচ্ছে।
- বালকেরা স্কুলে যাচ্ছে।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
২,৯৩৮.
"চারটা বাজলে স্কুলের ছুটি হবে"- বাক্যটিতে কী অর্থে অসমাপিকা ক্রিয়ার ব্যবহার ঘটেছে?
  1. ক) সম্ভাব্যতা অর্থে
  2. খ) বিধি বোঝাতে
  3. গ) কার্যপরম্পরা বোঝাতে
  4. ঘ) সাপেক্ষতা বোঝাতে
সঠিক উত্তর:
গ) কার্যপরম্পরা বোঝাতে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) কার্যপরম্পরা বোঝাতে
ব্যাখ্যা
"চারটা বাজলে স্কুলের ছুটি হবে"- বাক্যটিতে 'কার্যপরম্পরা' অর্থে 'ইলে' > 'লে' বিভক্তিযুক্ত অসমাপিকা ক্রিয়ার ব্যবহার ঘটেছে।

'ইলে' > 'লে' বিভক্তিযুক্ত অসমাপিকা ক্রিয়ার কয়েকটি ব্যবহার -
- কার্যপরম্পরা বোঝাতে -- চারটা 'বাজলে' স্কুলের ছুটি হবে।
- প্রশ্ন বা বিস্ময় জ্ঞাপনে -- একবার 'মরলে' কি কেউ ফেরে?
- সম্ভাব্যতা অর্থে -- এখন বৃষ্টি 'হলে' ফসলের ক্ষতি হবে।
- সাপেক্ষতা বোঝাতে -- তিনি 'গেলে' কাজ হবে।
- বিধিনির্দেশ অর্থে- এখানে প্রচারপত্র লাগালে ফৌজদারিতে সোপর্দ হবে।


উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী।
২,৯৩৯.
'গাড়িটা বেশ জোরে চলছে।' বাক্যে 'বেশ' কোন ধরনের বিশেষণ পদ?
  1. ভাববাচক বিশেষণ
  2. নির্দিষ্টতাবাচক বিশেষণ
  3. গুণবাচক বিশেষণ
  4. অবস্থাবাচক বিশেষণ
সঠিক উত্তর:
ভাববাচক বিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভাববাচক বিশেষণ
ব্যাখ্যা

• ভাববাচক বিশেষণ:
যেসব বিশেষণ বাক্যের অন্তর্গত অন্য বিশেষণকে বিশেষিত করে, সেসব বিশেষণকে ভাববাচক বিশেষণ বলে।
যেমন:
- খুব ভালো খরব।
- গাড়িটা বেশ জোরে চলছে।
[এসব বাক্যে 'খুব' এবং 'বেশ' ভাববাচক বিশেষণ।]

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

২,৯৪০.
'কি' এবং 'কী' যথাক্রমে-
  1. ক) সর্বনাম ও বিশেষ্য পদ
  2. খ) অব্যয় ও সর্বনাম পদ
  3. গ) বিশেষ্য ও অব্যয় পদ
  4. ঘ) সর্বনাম ও বিশেষণ পদ
সঠিক উত্তর:
খ) অব্যয় ও সর্বনাম পদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) অব্যয় ও সর্বনাম পদ
ব্যাখ্যা
• বাংলা বানানের নিয়মানুসারে 'কি' ও 'কী' এর ব্যবহারের নিয়ম:
১. অন্যদিকে অব্যয়পদরূপে 'কি' ব্যবহৃত হয়।
বাংলা ভাষায় যেসব প্রশ্নবোধক বাক্যের উত্তর 'হ্যা-না' হয় অথবা অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমে প্রকাশ করা যায়, সেসব বাক্যে  কি' ব্যবহৃত হবে।
যেমন-
 যদি কামাল জামালকে প্রশ্ন করে- তুমি কি যাবে?
এখানে জামাল হ্যাঁ অথা না দিয়ে উত্তর দিতে পারে অথবা অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমেও জানাতে পারে। তাই এ ক্ষেত্রে 'কী' না হয়ে 'কি' হাবে।

২. সর্বনাম, বিশেষণ, ক্রিয়া-বিশেষণ ও যোজক পদরূপে- 'কী' ব্যবহৃত হয়। 
যেসব প্রশ্নের উত্তরে বিস্তারিত বর্ণনা দেয়া লাগতে পারে সেখানে 'কী' বসবে।
 যেমন-
কী করো?
এটা কী ধরনের রং?

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
২,৯৪১.
কোনটি সাধারণ অনুসর্গ?
  1. কাছে
  2. দিয়ে
  3. করে
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
কাছে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাছে
ব্যাখ্যা
সাধারণ অনুসর্গ:
- যেসব অনুসর্গ ক্রিয়া ছাড়া অন্য শব্দ থেকে তৈরি হয়, সেগুলোকে সাধারণ অনুসর্গ বলে।
যেমন -
- উপরে: মাথার উপরে নীল আকাশ।
- কাছে: কার কাছে গেলে জানা যাবে?

অন্যদিকে,
ক্রিয়াজাত অনুসর্গ:
- যেসব অনুসর্গ ক্রিয়াপদ থেকে তৈরি হয়েছে, সেগুলোকে ক্রিয়াজাত অনুসর্গ বলে।
যেমন -
- করে: ভালো করে খেয়ে নাও।
- দিয়ে: মন দিয়ে পড়ালেখা করা দরকার।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ)।
২,৯৪২.
'ছি ছি! এরকম কথা তার মুখে মানায় না।'- বাক্যে কোন ধরনের আবেগ এর ব্যবহার ঘটেছে?
  1. করুণা আবেগ
  2. বিরক্তি আবেগ
  3. আতঙ্ক আবেগ
  4. বিস্ময় আবেগ
সঠিক উত্তর:
বিরক্তি আবেগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিরক্তি আবেগ
ব্যাখ্যা
বিরক্তি আবেগ:
- এ ধরনের শব্দ অবজ্ঞা, ঘৃণা, বিরক্তি ইত্যাদি মনোভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- ছি ছি! এরকম কথা তার মুখে মানায় না।
- জ্বালা! তোমাকে নিয়ে আর পারি না!

অন্যদিকে,
বিস্ময় আবেগ:
- এ ধরনের শব্দ বিস্মিত বা আশ্চর্য হওয়ার ভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- আরে! তুমি আবার কখন এলে?

আতঙ্ক আবেগ:
- এ ধরনের শব্দ আতঙ্ক, যন্ত্রনা, কাতরতা ইত্যাদি প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- উহ! কি বিপদে পরা গেল।

করুণা আবেগ:
- এ ধরনের শব্দ করুণা, মায়া, সহানুভূতি ইত্যাদি মনোভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- আহা! বেচারার কত কষ্ট।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ ২০২১)।
২,৯৪৩.
'সদা সত্য বলো।' - বাক্যটি কোন কাল প্রকাশ করে?
  1. বর্তমান অনুজ্ঞা
  2. ঘটমান ভবিষ্যৎ
  3. ভবিষ্যৎ অনুজ্ঞা
  4. সাধারণ বর্তমান
সঠিক উত্তর:
বর্তমান অনুজ্ঞা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বর্তমান অনুজ্ঞা
ব্যাখ্যা
বর্তমান অনুজ্ঞা:
- বর্তমানে কোনো ক্রিয়া সম্পাদনের আদেশ, উপদেশ, আশীবার্দ, অভিশাপ, অনুরোধ, প্রার্থনা প্রভৃতি বোঝানোর জন্য বর্তমান অনুজ্ঞা ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- সদা সত্য বলো।
- আল্লাহ তোমাকে দীর্ঘজীবী করুন।
- আল্লাহ তোমাকে সুস্থতা দান করুক।

অন্যদিকে,
সাধারণ বর্তমান কাল:
- যে ক্রিয়া বর্তমানে সাধারণভাবে ঘটে তার কালকে বর্তমান কাল বলে।
যেমন:
- তৃণা স্কুলে যায়।
- বর্ণ বই পড়ে।

ঘটমান বর্তমান কাল:
- যে ক্রিয়ার কাল শেষ হয়নি, এখন চলছে এরূপ অর্থ বোঝালে ঘটমান বর্তমান হয়।
যেমন:
- ছন্দা গান গাইছে।
- রাফিন ও রিজন বল খেলছে।

পুরাঘটিত বর্তমান কাল:
- যে ক্রিয়ার কার্য কিছুক্ষণ পূর্বে ঘটেছে। কিন্তু এর ফর বা প্রভাব এখনও বর্তমান, এরূপ অর্থে পুরাঘটিত বর্তমান কাল হয়।
যেমন:
- বৃষ্টি আমাদের বড়োই উপকার করেছে।
- ঝড় আমাদের ভীষণ ক্ষতি করেছে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২,৯৪৪.
‘ইচ্ছামতো’ কোন পদের উদাহরণ?
  1. ক্রিয়া
  2. ক্রিয়া বিশেষ্য
  3. বিশেষণ
  4. ক্রিয়া বিশেষণ
সঠিক উত্তর:
ক্রিয়া বিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্রিয়া বিশেষণ
ব্যাখ্যা
• 'ইচ্ছামতো' (ক্রিয়া বিশেষণ পদ),
- এটি সংস্কৃত + বাংলা ভাষা যোগে গঠিত শব্দ।
অর্থ:
- খেয়ালখুশিমাফিক। 

-----------------------
• ক্রিয়া বিশেষণ:
 যে শব্দ ক্রিয়াকে বিশেষিত করে, তাকে ক্রিয়া বিশেষণ বলে।

নিচের বাক্যে নিম্নরেখ শব্দগুলাে ক্রিয়া বিশেষণের উদাহরণ:
- ছেলেটি দ্রুত দৌড়ায়।
- লোকটি ধীরে হাঁটে।
এখানে দ্রুত, ধীরে শব্দ গুলো হলো ক্রিয়া বিশেষণ।

- অনেক সময়ে বিশেষ্য ও বিশেষণ শব্দের সঙ্গে '-এ', '-তে' ইত্যাদি বিভক্তি এবং '-ভাবে', '-বশত', '-মতো' ইত্যাদি শব্দাংশ যুক্ত হয়ে ক্রিয়াবিশেষণ তৈরি হয়।
যেমন - ততক্ষণে, দ্রুতগতিতে, শান্তভাবে, ভ্রান্তিবশত, ইচ্ছামতো ইত্যাদি।

ক্রিয়া বিশেষণকে কয়েক ভাগে ভাগ করা যায়। যথা:
• ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: কোনাে ক্রিয়া কীভাবে সম্পন্ন হয়, ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ তা নির্দেশ করে।
যেমন:
- টিপ টিপ বৃষ্টি পড়ছে।
- ঠিকভাবে চললে কেউ কিছু বলবে না।

• কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: এই ধরনের ক্রিয়াবিশেষণ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল নির্দেশ করে।
যেমন:
- যথাসময়ে সে হাজির হয়।
- আজকাল ফলের চেয়ে ফুলের দাম বেশি।

• স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: ক্রিয়ার স্থান নির্দেশ করে স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ।
যেমন:
- মিছিলটি সামনে এগিয়ে যায়।
- তাকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

• নেতিবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: না, নি ইত্যাদি দিয়ে ক্রিয়ার নেতিবাচক অবস্থা বোঝায়।
যেমন:
- তিনি আর এখন ক্রিকেট খেলেন না।
- তিনি বেড়াতে যাননি।
- এমন কথা আমার জানা নেই।

• পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ: 'কি', 'যে', 'বা', 'না', 'ত' ইত্যাদি পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ হিসেবে কাজ করে।
যেমন:
- আমি কি যাব?
- খুব যে বলেছিলেন আসবেন!
- কখনো বা দেখা হবে।
- একটু ঘুরে আসুন না, ভালো লাগবে।
- মরি তো মরব।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ) এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
২,৯৪৫.
কোনটি জাতি-বিশেষ্য?
  1. গীতাঞ্জলি
  2. কুমিল্লা
  3. ইত্তেফাক
  4. ফুল
সঠিক উত্তর:
ফুল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফুল
ব্যাখ্যা
• জাতি-বিশেষ্য:
- জাতি-বিশেষ্য সাধারণ-বিশেষ্য নামেও পরিচিত। এ ধরনের বিশেষ্য নির্দিষ্ট কোনো নামকে না বুঝিয়ে প্রাণী ও অপ্রাণীর সাধারণ নামকে বোঝায়।

যেমন:
- মানুষ, গরু, ছাগল, ফুল, ফল, নদী, সাগর, পর্বত ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
নাম-বিশেষ্য - কুমিল্লা, ইত্তেফাক, গীতাঞ্জলি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
২,৯৪৬.
'কে জানে আজ ফেরি পার হতে পারব কি না' - বাক্যটিতে কোন কালকে নির্দেশ করা হয়েছে?
  1. ক) নিত্যবৃত্ত বর্তমান কাল
  2. খ) বর্তমান কালের অনুজ্ঞা
  3. গ) সাধারণ ভবিষৎ কাল
  4. ঘ) ভবিষৎ কালের অনুজ্ঞা
সঠিক উত্তর:
ক) নিত্যবৃত্ত বর্তমান কাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) নিত্যবৃত্ত বর্তমান কাল
ব্যাখ্যা
নিত্যবৃত্ত বর্তমান কাল: স্বাভাবিক বা অভ্যাস বুঝালে সাধারণ বর্তমান কালের ক্রিয়া কে নিত্যবৃত্ত বর্তমান কাল বলে। 
যেমন - সকালে সূর্য উঠে- স্বাভাবিকতা। 
           আমি রোজ সকালে চা খাই - অভ্যাস।

নিত্যবৃত্ত বর্তমান কালের বিশিষ্ট প্রয়োগ: 
⇒ ঐতিহাসিক বর্তমান কাল - ১৯৭১ সালে আমাদের দেশ স্বাধীনতা লাভ করে। 
⇒ চিরসত্য প্রকাশে - দুই আর তিন পাঁচ হয়। 
⇒ অনিশ্চয়তা প্রকাশে - কে জানে আজ ফেরি পার হতে পারব কি না।
⇒ কাব্যের ভণিতায় - "মহাভারতের কথা অমৃত সমান         
                              কাশীরাম দাস ভণে শুনে পূণ্যবান।"
⇒ যদি, যখন, যেন প্রভৃতি শব্দের প্রয়োগে - বিপদ যখন আসে তখন এমনি করেই আসে। 

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৯৪৭.
যে শব্দ ক্রিয়াকে বিশেষিত করে তাকে কী বলা হয়?
  1. গুণ-বিশেষ্য
  2. ক্রিয়াবিশেষণ
  3. ক্রিয়া-বিশেষ্য
  4. সর্বনাম
সঠিক উত্তর:
ক্রিয়াবিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্রিয়াবিশেষণ
ব্যাখ্যা
• ক্রিয়াবিশেষণ:
যে শব্দ ক্রিয়াকে বিশেষিত করে, তাকে ক্রিয়া বিশেষণ বলে।

নিচের বাক্যে নিম্নরেখ শব্দগুলাে ক্রিয়া বিশেষণের উদাহরণ:
- ছেলেটি দ্রুত দৌড়ায়।
- লোকটি ধীরে হাঁটে।
এখানে দ্রুত, ধীরে শব্দ গুলো হল ক্রিয়া বিশেষণ।

ক্রিয়া বিশেষণকে কয়েক ভাগে ভাগ করা যায়। যথা:

ধরনবাচক ক্রিয়া বিশেষণ: 
কোনাে ক্রিয়া কীভাবে সম্পন্ন হয়, ধরন বাচক ক্রিয়াবিশেষণ তা নির্দেশ করে।
যেমন
- টিপ টিপ বৃষ্টি পড়ছে।
 - ঠিকভাবে চললে কেউ কিছু বলবে না।

কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: 
এই ধরনের ক্রিয়াবিশেষণ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল নির্দেশ করে। 
যেমন:
- যথাসময়ে সে হাজির হয় ।

স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: 
ক্রিয়ার স্থান নির্দেশ করে স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ।
যেমন: মিছিলটি সামনে এগিয়ে যায়। 

নেতিবাচক ক্রিয়াবিশেষণ:
না, নি ইত্যাদি দিয়ে ক্রিয়ার নেতিবাচক অবস্থা বোঝায়। এগুলো সাধারণত ক্রিয়ার পরে বসে।
যেমন:
- তিনি আর এখন ক্রিকেট খেলেন না।

পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ: 
'কি', 'যে', 'বা', 'না', 'ত' ইত্যাদি পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ হিসেবে কাজ করে। 
যেমন:
- আমি কি যাব?

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২,৯৪৮.
"এটা সত্য কিংবা মিথ্যা, বলা কঠিন।" - এখানে 'কিংবা' কোন ধরনের অব্যয়?
  1. সংযোজক অব্যয়
  2. বিয়োজক অব্যয়
  3. সমুচ্চয়ী অব্যয়
  4. অনুকার অব্যয়
সঠিক উত্তর:
বিয়োজক অব্যয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিয়োজক অব্যয়
ব্যাখ্যা

• "এটা সত্য কিংবা মিথ্যা, বলা কঠিন।" - এখানে 'কিংবা' বিয়োজক অব্যয়।

• সমুচ্চয়ী অব্যয়:
যে অব্যয় পদ একটি বাক্যের সঙ্গে অন্য একটি বাক্যের অথবা বাক্যস্থিত একটি পদের সঙ্গে অন্য একটি পদের সংযোজন, বিয়োজন বা সংকোচন ঘটায়, তাকে সমুচ্চয়ী অব্যয় বলে।

• বিয়োজক অব্যয়: 
মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন।
এখানে ''কিংবা'' বিয়োজক' অব্যয়। 
এরকম- কিংবা, বা, অথবা, নতুবা, না হয়, নয়তো, ইত্যাদি।

• সংযোজক অব্যয়: 
ক. উচ্চপদ ও সামাজিক মর্যাদা সকলেই চায়। বাক্যে ‘ও’ সংযোজক অব্যয়।
খ. তিনি সৎ, তাই তাঁকে সকলেই শ্রদ্ধা করে। বাক্যে ‘তাই’ সংযোজক অব্যয়।
তাছাড়া আর, অধিকন্তু, সুতরাং সংযোজক অব্যয়।

• সংকোচক অব্যয়: 
- তিনি বিদ্বান, অথচ সৎ ব্যক্তি নন। বাক্যে ‘অথচ’ সংকোচক অব্যয়। কিন্তু, বরং শব্দগুলোও সংকোচক অব্যয়।

• অনুগামী সমুচ্চায়ী অব্যয়: 
যে, যদি, যদিও, যেন প্রভৃতি কয়েকটি শব্দ সংযোজক অব্যয়ের কাজ করে থেকে।
তাই তাদের অনুগামী সমুচ্চায়ী অব্যয় বলে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

২,৯৪৯.
"তিনি ঘটনাটি বলতে লাগলেন" বাক্যে কোন ক্রিয়ার প্রয়োগ ঘটেছে?
  1. ক) যৌগিক ক্রিয়া
  2. খ) প্রযোজক ক্রিয়া
  3. গ) সংযোগ ক্রিয়া
  4. ঘ) নাম ক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
ক) যৌগিক ক্রিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) যৌগিক ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
"তিনি ঘটনাটি বলতে লাগলেন" বাক্যে যৌগিক ক্রিয়ার প্রয়োগ ঘটেছে?

গঠন বিবেচনায় ক্রিয়া পাঁচ প্রকার। 
- সরল ক্রিয়া 
- প্রযোজক ক্রিয়া 
- নাম ক্রিয়া
- সংযোগ ক্রিয়া
- যৌগিক ক্রিয়া

যৌগিক ক্রিয়া: অসমাপিকা ক্রিয়ার সঙ্গে সমাপিকা ক্রিয়া যুক্ত হয়ে যখন একটি ক্রিয়া গঠন করে, তখন তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে।
যেমন: মরে যাওয়া, কমে আসা, এগিয়ে চলা, হেসে ওঠা, উঠে পড়া, পেয়ে বসা, সরে দাঁড়ানাে, বেঁধে দেওয়া, বুঝে নেওয়া, বলে ফেলা, করে তােলা, চেপে রাখা ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
২,৯৫০.
'শায়িত' কোন ধরনের পদ?
  1. বিশেষ্য
  2. বিশেষণ
  3. ক্রিয়া বিশেষণ
  4. অব্যয়
সঠিক উত্তর:
বিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশেষণ
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
'শায়িত' - বিশেষণ পদ।

• 'শায়িত' শব্দের অর্থ: 
- শয়ন করানো হয়েছে এমন।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
২,৯৫১.
নিচের কোনটি অকর্মক ক্রিয়া নয়?
  1. ক) আমি খাই। 
  2. খ) সে যায়। 
  3. গ) তারা খেলে।
  4. ঘ) সে গান করে।
সঠিক উত্তর:
ঘ) সে গান করে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সে গান করে।
ব্যাখ্যা
সে গান করে - এ বাক্যের ‘গান’ কর্মপদ। বাকি বাক্যগুলোতে কর্মপদ নেই। 

উৎস : নবম—দশম শ্রেণি পুরাতন ও নতুন ব্যাকরণ, ভাষা—শিক্ষা, বাংলা একাডেমির ব্যাকরণ, উন্মক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ।
২,৯৫২.
"সদা সত্য বলো।" - ক্রিয়ার কোন কালের উদাহরণ?
  1. সাধারণ বর্তমান কাল
  2. ঘটমান বর্তমান কাল
  3. পুরাঘটিত বর্তমান কাল
  4. বর্তমান অনুজ্ঞা
সঠিক উত্তর:
বর্তমান অনুজ্ঞা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বর্তমান অনুজ্ঞা
ব্যাখ্যা

• সাধারণ বর্তমান কাল: যে ক্রিয়া বর্তমানে সাধারণভাবে ঘটে তার কালকে বর্তমান কাল বলে।
যেমন:
- তৃণা স্কুলে যায়।
- বর্ণ বই পড়ে।

• ঘটমান বর্তমান কাল: যে ক্রিয়ার কাল শেষ হয়নি, এখন চলছে এরূপ অর্থ বোঝালে ঘটমান বর্তমান হয়।
যেমন:
- ছন্দা গান গাইছে।
- রাফিন ও রিজন বল খেলছে।

• পুরাঘটিত বর্তমান কাল: যে ক্রিয়ার কার্য কিছুক্ষণ পূর্বে ঘটেছে। কিন্তু এর ফর বা প্রভাব এখনও বর্তমান, এরূপ অর্থে পুরাঘটিত বর্তমান কাল হয়।
যেমন:
- বৃষ্টি আমাদের বড়োই উপকার করেছে।
- ঝড় আমাদের ভীষণ ক্ষতি করেছে।

• বর্তমান অনুজ্ঞা:
বর্তমানে কোনো ক্রিয়া সম্পাদনের আদেশ, উপদেশ, আশীবার্দ, অভিশাপ, অনুরোধ, প্রার্থনা প্রভৃতি বোঝানোর জন্য বর্তমান অনুজ্ঞা ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- সকলের মঙ্গল হোক।
- সদা সত্য বলো।
- আল্লাহ তোমাকে দীর্ঘজীবী করুন।
- আল্লাহ তোমাকে সুস্থতা দান করুক।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

২,৯৫৩.
হতে, থেকে, চেয়ে - এগুলো প্রধানত কী?
  1. ক) বিভক্তি
  2. খ) অনুসর্গ
  3. গ) ক্রিয়া
  4. ঘ) প্রত্যয়
সঠিক উত্তর:
খ) অনুসর্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) অনুসর্গ
ব্যাখ্যা
হতে, থেকে, চেয়ে- এগুলো পঞ্চমী বিভক্তি হিসেবে চিনি, আবার দ্বারা, দিয়ে, কর্তৃক তৃতীয়া বিভক্তি হিসেবে চিনি।
এগুলো মূলত অনুসর্গ।
- কিন্তু এগুলো বিভক্তি হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। প্রশ্নে বিভক্তি ও অনুসর্গ দুইটাই থাকলে অনুসর্গ উত্তর করাই শ্রেয়।
- অনুসর্গ না থাকলে বিভক্তি উত্তর করতে হবে।


উৎস : ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ (২০১৯)
২,৯৫৪.
"টিপ টিপ বৃষ্টি পড়ছে।" - বাক্যে কোন প্রকার ক্রিয়াবিশেষণের প্রয়োগ ঘটেছে?
  1. ক) ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ
  2. খ) স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ
  3. গ) নেতিবাচক ক্রিয়াবিশেষণ
  4. ঘ) পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ
সঠিক উত্তর:
ক) ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ
ব্যাখ্যা
যে শব্দ ক্রিয়াকে বিশেষিত করে, তাকে ক্রিয়াবিশেষণ বলে।

ক্রিয়াবিশেষণকে কয়েক ভাগে ভাগ করা যায়। যথা:
১. ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ
২. কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ
৩. স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ
৪. নেতিবাচক ক্রিয়াবিশেষণ
৫. পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ

• ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ:
কোনাে ক্রিয়া কীভাবে সম্পন্ন হয়, ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ তা নির্দেশ করে।
যেমন -
টিপ টিপ বৃষ্টি পড়ছে।
ঠিকভাবে চললে কেউ কিছু বলবে না।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
২,৯৫৫.
কোনটি সাধারণ অতীত কাল?
  1. কাজটি কি তুমি করেছিলে?
  2. সেবার তাকে সুস্থই দেখেছিলাম।
  3. শিকারি পাখিটিকে গুলি করল।
  4. কাল সান্ধায় বৃষ্টি পড়ছিল।
সঠিক উত্তর:
শিকারি পাখিটিকে গুলি করল।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শিকারি পাখিটিকে গুলি করল।
ব্যাখ্যা
সাধারণ অতীত কাল:
- বর্তমান কালের পূর্বে যে ক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়ে গিয়েছে, তার সংঘটন সাধারণ অতীত কাল।

যেমন:
- শিকারি পাখিটিকে গুলি করল

অন্যদিকে,
ঘটমান অতীত কাল - কাল সান্ধায় বৃষ্টি পড়ছিল।
পুরাঘটিত অতীত কাল - সেবার তাকে সুস্থই দেখেছিলাম। কাজটি কি তুমি করেছিলে?

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২,৯৫৬.
'সে স্কুলে গিয়েছে'- এটি কোন কাল?
  1. ক) সাধারণ বর্তমান
  2. খ) ঘটমান বর্তমান
  3. গ) পুরাঘটিত বর্তমান
  4. ঘ) বর্তমান অনুজ্ঞা
সঠিক উত্তর:
গ) পুরাঘটিত বর্তমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) পুরাঘটিত বর্তমান
ব্যাখ্যা
ক্রিয়া পূর্বে শেষ হলেও তার ফল এখনও বর্তমান থাকলে পুরাঘটিত বর্তমানকাল হয়। যেমন- এবার আমি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছি, এতক্ষণ আমি অঙ্ক করেছি। যে ক্রিয়া বর্তমানে সাধারণভাবে ঘটে তার কালকে সাধারণ বর্তমানকাল বলে। যেমন- সন্ধ্যায় সূর্য অস্ত যায়। যে কাজ শেষ হয়নি এখনও চলছে সে কাজ বোঝানোর জন্য ঘটমান বর্তমান কাল ব্যবহৃত হয়। যেমন- স্বপন বই পড়ছে।
উৎসঃ বাংলা প্রশ্নের টীকা-ভাষ্য, অধ্যাপক ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৯৫৭.
"এবার মা খেতে ডেকেছেন।" - এটি কোন কালের উদাহরণ?
  1. পুরাঘটিত বর্তমান কাল
  2. ঘটমান বর্তমান কাল
  3. সাধারণ বর্তমান কাল
  4. নিত্যবৃত্ত বর্তমান কাল
সঠিক উত্তর:
পুরাঘটিত বর্তমান কাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পুরাঘটিত বর্তমান কাল
ব্যাখ্যা

পুরাঘটিত বর্তমান কাল:
- যে ক্রিয়া কিছু আগে শেষ হয়েছে কিন্তু তার ফল এখনো রয়েছে, তাকে পুরাঘটিত বর্তমান কাল বলে।

যেমন:
- এখন বাবা অফিস থেকে ফিরেছেন।
- এবার মা খেতে ডেকেছেন।
- অবশেষে আমি ইংরেজি পড়া শেষ করেছি।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।

২,৯৫৮.
'ইলমি গুনগুনিয়ে গান করছে।' - বাক্যটি কিসের দৃষ্টান্ত?
  1. বিশেষ্য
  2. বিশেষণ
  3. সর্বনাম
  4. ক্রিয়াবিশেষণ
সঠিক উত্তর:
ক্রিয়াবিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্রিয়াবিশেষণ
ব্যাখ্যা
ক্রিয়াবিশেষণ:
যে শব্দ ক্রিয়াকে বিশেষিত করে, তাকে ক্রিয়াবিশেষণ বলে। নিচের বাক্য তিনটির নিম্নরেখ শব্দগুলো ক্রিয়াবিশেষণের উদাহরণ:
- ছেলেটি দ্রুত দৌড়ায়।
- লোকটি ধীরে হাঁটে।
- ইলমি গুনগুনিয়ে গান করছে

• গঠন বিবেচেনায় ক্রিয়াবিশেষণকে একপদী ও বহুপদী - এই দুই ভাগে ভাগ করা যায়।
- একপদী ক্রিয়াবিশেষণ: আস্তে, জোরে, চেঁচিয়ে, সহজে, ভালোভাবে, গুনগুনিয়ে ইত্যাদি।
- বহুপদী ক্রিয়াবিশেষণ: ভয়ে ভয়ে, চুপি চুপি, মরতে মরতে, যায় যায় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২,৯৫৯.
নিচের কোনটি বিশেষ্য পদ?
  1. সুন্দর
  2. সুন্দরতম
  3. সৌন্দর্য
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
সৌন্দর্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৌন্দর্য
ব্যাখ্যা
• সৌন্দর্য:
- বিশেষ্য পদ সৌন্দর্য।
- বিশেষণ পদ সুন্দর।
- এটি একটি তৎসম শব্দ।
- অর্থ: মনোহর, উত্তম।
- প্রকৃতি প্রত্যয়: সু+√দৃ+অ; সু+√উন্দ্‌+অর।

উৎস: বাংলা একাডেমি, অভিগম্য অভিধান।
২,৯৬০.
'এবং' কোন পদ?
  1. সর্বনাম
  2. বিশেষণ
  3. বিশেষ্য
  4. অব্যয়
সঠিক উত্তর:
অব্যয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অব্যয়
ব্যাখ্যা

• অব্যয় পদ:
যে পদ সর্বদা অপরিবর্তনীয় থেকে বাক্যের শোভা বর্ধন করে, কখনো একাধিক পদের, বাক্যাংশের বা বাক্যের সংযোগ বা বিয়োগ সম্বন্ধ ঘটায়, তাকে অব্যয় পদ বলে।
যথা-
১. বাংলা, 
২. তৎসম, 
৩. বিদেশি।

বাংলা অব্যয় শব্দ - আর, আবার, ও, হ্যাঁ।
তৎসম অব্যয় শব্দ - যদি, যথা, সহসা, আপাতত, বরং।
বিদেশী অব্যয় শব্দ - আলবত, বহুত, খুব, শাবাশ, খাসা, মাইরি।

সংযোজক অব্যয়:
সংযোজক অব্যয়গুলো হলো- ও, এবং, তাই, আর, অধিকন্তু, সুতরাং ইত্যাদি। যেমন- সে রূপবান ও গুণবান।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ৯ম-১০ম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ) এবং বাংলা দ্বিতীয় পত্র, নবম-শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৯৬১.
জাতিবাচক বিশেষ্য নয় কোনটি?
  1. পাখি
  2. গাছ
  3. পর্বত
  4. মাটি
সঠিক উত্তর:
মাটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাটি
ব্যাখ্যা

জাতিবাচক বিশেষ্য: মানুষ, গরু, পাখি, গাছ, পর্বত, ইংরেজ ইত্যাদি জাতিবাচক বিশেষ্যের উদাহরণ।
বস্তুবাচক বিশেষ্য: বই, খাতা, কলম, থালা, বাটি, মাটি, চাল, পানি, চিনি ইত্যাদি।

-----------------
• বিশেষ্য পদ:

বাক্যমধ্যে ব্যবহৃত যে সমস্ত পদ দ্বারা কোনো ব্যক্তি, জাতি, সমষ্টি, বস্তু, স্থান, কাল, ভাব, কর্ম বা গুণের নাম বোঝানো হয় তাদের বিশেষ্য পদ বলে।

বিশেষ্য পদ ছয় প্রকার-
১. সংজ্ঞা (বা নাম) বাচক বিশেষ্য (Proper Noun)
২. জাতিবাচক বিশেষ্য (Common Noun)
৩. বস্তু (বা দ্রব্য) বাচক বিশেষ্য (Material Noun)
৪. সমষ্টিবাচক বিশেষ্য (Collective Noun)
৫. ভাববাচক বিশেষ্য (Verbal Noun)
৬. গুণবাচক বিশেষ্য (Abstract Noun)

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

২,৯৬২.
কোনটি বস্তু-বিশেষ্য?
  1. আকাশ
  2. ফুল
  3. মানুষ
  4. সরলতা
সঠিক উত্তর:
আকাশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আকাশ
ব্যাখ্যা
বস্তু-বিশেষ্য:
- কোনো দ্রব্য বা বস্তুর নামকে বস্তু-বিশেষ্য বলে।

যেমন:
- ইট, লবণ, আকাশ, টেবিল, বই ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
জাতি-বিশেষ্য - মানুষ, ফুল।
গুণ-বিশেষ্য - সরলতা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ) এবং বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
২,৯৬৩.
'ধীরে ধীরে বায়ু বয়।' বাক্যে 'ধীরে' কোন ধরনের বিশেষণের উদাহারণ? 
  1. সর্বনামের বিশেষণ
  2. অব্যয়ের বিশেষণ
  3. বিশেষণীয় বিশেষণ
  4. ক্রিয়া বিশেষণ
সঠিক উত্তর:
ক্রিয়া বিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্রিয়া বিশেষণ
ব্যাখ্যা

• ক্রিয়া বিশেষণ: যে পদ ক্রিয়া সংঘটনের ভাব, কাল বা রূপ নির্দেশ করে, তাকে ক্রিয়া বিশেষণ বলে। 
যথা-
ক. ক্রিয়া সংগঠনের ভাব- ধীরে ধীরে বায়ু বয়।
খ. ক্রিয়া সংগঠনের কাল- পরে একবার এসো।

অন্যদিকে, 
--------------
• বিশেষণীয় বিশেষণ: যে পদ নাম বিশেষণ অথবা ক্রিয়া বিশেষণকে বিশেষিত করে, তাকে বিশেষণীয় বিশেষণ বলে।
যথা-
ক. নাম বিশেষণের বিশেষণ : সামান্য একটু দুধ দাও। এ ব্যাপারে সে অতিশয় দুঃখিত।
খ. ক্রিয়া-বিশেষণের বিশেষণ: রকেট অতি দ্রুত চলে।

• অব্যয়ের বিশেষণ: যে ভাব-বিশেষণ অব্যয় পদ অথবা অব্যয় পদের অর্থকে বিশেষিত করে, তাকে অব্যয়ের বিশেষণ বলে।
যথা- ধিক্ তারে, শত ধিক্ নির্লজ্জ যে জন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

২,৯৬৪.
'করুণাময় তুমি।' বাক্যে 'করুণাময়' কোন বিশেষণের উদাহরণ?
  1. বিশেষ্যের বিশেষণ
  2. ক্রিয়া বিশেষণ
  3. সর্বনামের বিশেষণ
  4. বিশেষণীয় বিশেষণ
সঠিক উত্তর:
সর্বনামের বিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সর্বনামের বিশেষণ
ব্যাখ্যা
বিশেষণ:
- যে পদ বিশেষ্য, সর্বনাম ও ক্রিয়াপদের দোষ, গুণ, অবস্থা, সংখ্যা, পরিমাণ ইত্যাদি প্রকাশ করে, তাকে বিশেষণ পদ বলে।

বিশেষ্যের বিশেষণ: চলন্ত গাড়ি।
সর্বনামের বিশেষণ: করুণাময় তুমি।
ক্রিয়া বিশেষণ: দ্রুত চল।

তাছাড়া,
বিশেষণীয় বিশেষণ:
- যে পদ নাম-বিশেষণ অথবা ক্রিয়া বিশেষণকে বিশেষিত করে ,তাকে বিশেষণের বিশেষণ বা বিশেষণীয় বিশেষণ বলে।
যেমন:

• নাম-বিশেষনের বিশেষণ হলো:
- সামান্য একটু দুধ দাও।
- এ ব্যাপারে সে অতিশয় দুঃখিত।

• ক্রিয়া-বিশেষণের বিশেষণ:
- রকেট অতি দ্রুত চলে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
২,৯৬৫.
নিচের কোনটি বিস্ময় আবেগের ভাব প্রকাশ করে?
  1. বাহ্‌ !
  2. উহ্‌ !
  3. আহা !
  4. আরে !
সঠিক উত্তর:
আরে !
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আরে !
ব্যাখ্যা
আবেগ:
- মনের নানা ভাব প্রকাশ করা হয় যেসকল শব্দ দিয়ে সেগুলোকে আবেগ বলে।
- এই ধরনের শব্দ বাক্যের অন্য শব্দগুলোর সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত না হয়ে আলগাভাবে বা স্বাধীনভাবে ব্যবহৃত হয়।
যেমন - ছি ছি, আহা, বাহ্, শাবাশ, হায় হায় ইত্যাদি।

বিস্ময় আবেগ:
- এ ধরনের শব্দ বিস্মিত বা আশ্চর্য হওয়ার ভাব প্রকাশ করে।
যেমন -
- আরে! তুমি আবার কখন এলে?
- আহ্‌, কী চমৎকার দৃশ্য!

অন্যদিকে,
• আহা - করুণা আবেগ।
• উহ্‌ - আতঙ্ক আবেগ।
• বাহ্‌ - প্রশংসা আবেগ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
২,৯৬৬.
নিম্নের কোনটি ক্রিয়াবিশেষণের পদাণু নয়?
  1. ক) তো
  2. খ) না
  3. গ) কি
  4. ঘ) তে
সঠিক উত্তর:
ঘ) তে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) তে
ব্যাখ্যা

- পদাণু হচ্ছে আপাত অর্থহীন পদখণ্ড যা পদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে বিশেষ অর্থ বা ইঙ্গিত প্রকাশ করে।
- বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত ক্রিয়াবিশেষণ পদাণুগুলি (Adverbial clitic) হচ্ছে: ‘তো’, ‘না’, ‘কি’, ‘যে’ ‘বা’ ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার নিয়ম কানুন, হায়াৎ মাহমুদ

২,৯৬৭.
বাক্যের শোভা বর্ধন করে কোন পদ?
  1. বিশেষ্য
  2. বিশেষণ
  3. অব্যয়
  4. সর্বনাম
সঠিক উত্তর:
অব্যয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অব্যয়
ব্যাখ্যা
অব্যয় পদ: 
- ন ব্যয় = অব্যয়।
- যার ব্যয় বা পরিবর্তন হয় না, অর্থ্যাৎ যা অপরিবর্তনীয় শব্দ তাই অব্যয়।
- অব্যয় শব্দের সাথে কোন বিভক্তিচিহ্ন যুক্ত হয় না, এর কোন একবচন-বহুবচন হয় না।
- এই শব্দসমূহের কোন পুরুষবাচক বা স্ত্রীবাচক শব্দ নির্ণয় করা যায় না।

• যে পদ সর্বদা অপরিবর্তনীয় থেকে কখনো বাক্যের শোভা বর্ধন করে, কখনো একাধিক পদের, বাক্যাংশের বা বাক্যের সংযোগ বা বিয়োগ সম্বদ্ধ ঘটায়, তাকে অব্যয় পদ বলে। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
২,৯৬৮.
বিকল্প যোজকের ব্যবহার ঘটেছে নিচের কোন বাক্যে?
  1. তাকে আসতে বললাম, তবু এল না।
  2. যদি রোদ ওঠে, তবে রওনা দেব।
  3. বসার সময় নেই, তাই যেতে হচ্ছে।
  4. চা না-হয় কফি খান।
সঠিক উত্তর:
চা না-হয় কফি খান।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চা না-হয় কফি খান।
ব্যাখ্যা
•  চা না-হয় কফি খান।- বাক্যে ‘না-হয়’ বিকল্প যোজক পদের উদাহরণ।

-----------------------
• যোজক:

পদ, বর্গ বা বাক্যকে যেসব শব্দ যুক্ত করে, সেগুলোকে যোজক বলে। যেমন- এবং, ও, আর, অথবা, তবু, সুতরাং, কারণ, তবে ইত্যাদি। বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী যোজককে ৫টি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়:

• সাধারণ যোজক: এ ধরনের যোজক দুটি শব্দ বা বাক্যকে যোগ করে।
যেমন:
- রহিম ও করিম এই কাজটি করেছে।
- জলদি দোকানে যাও এবং পাউরুটি কিনে আনো।

• বিকল্প যোজক: এ ধরনের যোজক একাধিক শব্দ বা বাক্যের মধ্যে বিকল্প নির্দেশ করে।
যেমন:
- লাল বা নীল কলমটা আনো।
- চা না-হয় কফি খান।

• বিরোধ যোজক: এ ধরনের যোজক বাক্যের দুটি অংশের সংযোগ ঘটায় এবং প্রথম বাক্যের বক্তব্যের সঙ্গে বিরোধ তৈরি করে।
যেমন:
- এত পড়লাম, কিন্তু পরীক্ষায় ভালো করতে পারলাম না।
- তাকে আসতে বললাম, তবু এল না।

• কারণ যোজক: এ ধরনের যোজক বাক্যের দুটি অংশের মধ্যে সংযোগ ঘটায় যার একটি অন্যটির কারণ।
যেমন:
- জিনিসের দাম বেড়েছে, কারণ চাহিদা বেশি।
- বসার সময় নেই, তাই যেতে হচ্ছে।

• সাপেক্ষ যোজক: এ ধরনের যোজক একে অন্যের পরিপূরক হয়ে বাক্যে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- যদি রোদ ওঠে, তবে রওনা দেব।
- যত পড়ছি, ততই নতুন করে জানছি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ সংস্করণ)।
২,৯৬৯.
'অনুসর্গ' সম্পর্কে শুদ্ধ নয় কোনটি?
  1. বাক্যের অর্থ প্রকাশে সাহায্য করে
  2. কখনো স্বাধীন পদ রূপে বাক্যে ব্যবহৃত হয়
  3. ধাতুর পূর্বে বসে নতুন নতুন শব্দ গঠন করে
  4. কখনো শব্দ বিভক্তির ন্যায় বাক্যে ব্যবহৃত হয়
সঠিক উত্তর:
ধাতুর পূর্বে বসে নতুন নতুন শব্দ গঠন করে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধাতুর পূর্বে বসে নতুন নতুন শব্দ গঠন করে
ব্যাখ্যা
• 'অনুসর্গ' সম্পর্কে শুদ্ধ নয় - ধাতুর পূর্বে বসে নতুন নতুন শব্দ গঠন করে।

• অনুসর্গ বা কর্মপ্রবচনীয়:
- বাংলা ভাষায় যে অব্যয় শব্দগুলো কখনো স্বাধীন পদ রূপে, আবার কখনো শব্দ বিভক্তির ন্যায় বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে বাক্যের অর্থ প্রকাশে সাহায্য করে, সেগুলোকে অনুসর্গ বা কর্মপ্রবচনীয় বলে।
- অনুসর্গগুলো কখনো প্রাতিপদিকের পরে ব্যবহৃত হয়, আবার কখনো বা 'কে' এবং 'র' বিভক্তিযুক্ত শব্দের পরে বসে।
যেমন -
→ বিনা: দুঃখ বিনা সুখ লাভ হয় কি মহীতে? (প্রাতিপদিকের পরে)
→ সনে: ময়ূরীর সনে নাচিছে ময়ূর। (ষষ্ঠী বিভক্তিযুক্ত শব্দের পরে)
→ দিয়ে: তোমাকে দিয়ে আমার চলবে না। (দ্বিতীয়ার 'কে' বিভক্তিযুক্ত শব্দের পরে)
- বাংলা ভাষায় বহু অনুসর্গ আছে।
যেমন -
প্রতি, বিনা, বিহনে, সহ, ওপর, অবধি, হেতু, মধ্যে, মাঝে, পরে, ভিন্ন, বই, ব্যতীত, জন্যে, জন্য, পর্যন্ত অপেক্ষা, সহকারে, তরে, পানে, নামে, মতো, নিকট, অধিক, পক্ষে, দ্বারা, দিয়া, দিয়ে, কর্তৃক, সঙ্গে, হইতে, হতে, থেকে, চেয়ে, পাছে, ভিতর, ভেতর ইত্যাদি।
- এদের মধ্যে দ্বারা, দিয়া (দিয়ে), কর্তৃক, হইতে (হতে), চেয়ে, অপেক্ষা, মধ্যে প্রভৃতি কয়েকটি অনুসর্গ বিভক্তিরূপে ব্যবহৃত হয়। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২,৯৭০.
"চলন্ত ট্রেন থেকে লাফ দিয়ো না।" – বাক্যটিতে ‘চলন্ত' কোন জাতীয় বিশেষণ?
  1. ক্রমবাচক
  2. অবস্থাবাচক
  3. পূরণবাচক
  4. গুণবাচক
সঠিক উত্তর:
অবস্থাবাচক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অবস্থাবাচক
ব্যাখ্যা

• অবস্থাবাচক:
- যে বিশেষণ দিয়ে অবস্থা বোঝায়, তাকে অবস্থাবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন,
- চলন্ত ট্রেন, - তরল পদার্থ – এখানে ‘চলন্ত ও ‘তরল’ অবস্থাবাচক বিশেষণ।

• "চলন্ত ট্রেন থেকে লাফ দিয়ো না।" – বাক্যটিতে ‘চলন্ত' অবস্থাবাচক বিশেষণ।
-------------------

• গুণবাচক বিশেষণ:
- যে বিশেষণ দিয়ে গুণ বা বৈশিষ্ট্য বোঝায়, তাকে গুণবাচক বিশেষণ বলে।
- যেমন চালাক - ছেলে, ঠান্ডা পানি – এখানে ‘চালাক’ ও ‘ঠান্ডা’ হলো গুণবাচক বিশেষণ। 

• ক্রমবাচক বিশেষণ:
- যে বিশেষণ দিয়ে ক্রমসংখ্যা বোঝায়, তাকে ক্রমবাচক বিশেষণ বলে।
- যেমন: এক টাকা, - আট দিন – এখানে এক’ ও ‘আট’ ক্রমবাচক বিশেষণ।

• পূরণবাচক বিশেষণ:
- যে বিশেষণ দিয়ে পূরণসংখ্যা বোঝায়, তাকে পূরণবাচক বিশেষণ বলে।
- যেমন – তৃতীয় প্রজন্ম, ৩৪তম অনুষ্ঠান – এখানে ‘তৃতীয়’ ও ‘৩৪তম’ পূরণবাচক বিশেষণ।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।

২,৯৭১.
"নৌকাটি দক্ষিণের অভিমুখে যাত্রা করল।" - এখানে 'অভিমুখে' কোন পদ?
  1. বিশেষ্য
  2. সর্বনাম 
  3. ক্রিয়াবিশেষণ 
  4. অনুসর্গ 
সঠিক উত্তর:
অনুসর্গ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুসর্গ 
ব্যাখ্যা

• "নৌকাটি দক্ষিণের অভিমুখে যাত্রা করল।" - এখানে 'অভিমুখে' অনুসর্গ পদ।

---------------
• অনুসর্গ:
- যেসব শব্দ কোনাে শব্দের পরে বসে শব্দটিকে বাক্যের সঙ্গে সম্পর্কিত করে, সেসব শব্দকে অনুসর্গ বলে।
যেমন -
সে কাজ ছাড়া কিছুই বােঝে না।
এই বাক্যে 'ছাড়া' একটি অনুসর্গ।
কোন পর্যন্ত পড়েছ?
এই বাক্যে 'পর্যন্ত' একটি অনুসর্গ।

কয়েকটি অনুসর্গের উদাহরণ:
- অপেক্ষা, অবধি, অভিমুখে, আগে, উপরে, করে, কর্তৃক, কাছে, কারণে, ছাড়া, জন্য, তরে, চেয়ে, থেকে, দরুন, দিকে, দিয়ে, দ্বারা, ধরে, নাগাদ, নিচে, পর্যন্ত, পানে, পাশে, পিছনে, প্রতি, বদলে, বনাম, বরাবর, বাইরে, বাদে, বাবদ, বিনা, ব্যতীত, ভিতরে, মতাে, মধ্যে, মাঝে, লেগে, সঙ্গে, সম্মুখে, সাথে, সামনে, হতে ইত্যাদি।

অনুসর্গকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা -
- সাধারণ অনুসর্গ ও
- ক্রিয়াজাত অনুসর্গ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ-২০১৯)। 

২,৯৭২.
'গেঁয়ো' এর বিশেষ্য রূপ কোনটি?
  1. ক) গাঁ
  2. খ) গেছো
  3. গ) গ্রাম্য
  4. ঘ) গ্রামীণ
সঠিক উত্তর:
ক) গাঁ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) গাঁ
ব্যাখ্যা
• গাঁ (বিশেষ্য) 
অর্থ: গ্রাম। 

• গেঁয়ো (বিশেষণ) 
অর্থ: 
- গ্রামবাসী
- গ্রামসম্বন্ধীয় 
- গ্রাম্য

• গ্রাম্য (বিশেষণ) 
অর্থ: গ্রামসংক্রান্ত 

• গ্রামীণ (বিশেষণ) 
অর্থ: গ্রামজাত 

• গেছো (বিশেষণ) 
অর্থ: গাছসংক্রান্ত।

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
২,৯৭৩.
গুণবাচক বিশেষ্য কোনটি?
  1. বহর
  2. সাহসী
  3. দর্শন
  4. মধুরতা
সঠিক উত্তর:
মধুরতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মধুরতা
ব্যাখ্যা
• বিশেষ্য: কোন কিছুর নামকে বিশেষ্যপদ বলে। 

বিশেষ্য সাধারণত ছয় প্রকার। যথা:
১. নাম-বিশেষ্য: ব্যক্তি, স্থান, দেশ, কাল, সৃষ্টি প্রভৃতির সুনির্দিষ্ট নামকে নাম-বিশেষ্য বলা হয়। যেমন – স্থাননাম: ঢাকা, বাংলাদেশ, হিমালয়, পদ্মা কালনাম: সোমবার, বৈশাখ, জানুয়ারি, রমজান সৃষ্টিনাম: গীতাঞ্জলি, সঞ্চিতা, ইত্তেফাক, অপরাজেয় বাংলা ।

২. জাতি-বিশেষ্য: জাতি-বিশেষ্য সাধারণ-বিশেষ্য নামেও পরিচিত। এ ধরনের বিশেষ্য নির্দিষ্ট কোনো নামকে না বুঝিয়ে প্রাণী ও অপ্রাণীর সাধারণ নামকে বোঝায়। যেমন – মানুষ, গরু, ছাগল, ফুল, ফল, নদী, সাগর, পর্বত ইত্যাদি ।

৩. বস্তু-বিশেষ্য: কোনো দ্রব্য বা বস্তুর নামকে বস্তু-বিশেষ্য বলে। যেমন – ইট, লবণ, আকাশ, টেবিল, বই ইত্যাদি।

৪. সমষ্টি-বিশেষ্য: এ ধরনের বিশেষ্য দিয়ে ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টিকে বোঝায়। যেমন – জনতা, পরিবার, ঝাঁক, বাহিনী, বহর, মিছিল ইত্যাদি।

৫. গুণ-বিশেষ্য: গুণগত অবস্থা ও ধারণার নামকে গুণ-বিশেষ্য বলে। যেমন – মধুরতা, সরলতা, দয়া, আনন্দ, গুরুত্ব, দীনতা, ধৈর্য ইত্যাদি।

৬. ক্রিয়া-বিশেষ্য: যে বিশেষ্য দিয়ে কোনো ক্রিয়া বা কাজের নাম বোঝায়, তাকে ক্রিয়া-বিশেষ্য বলে। যেমন – পঠন, দর্শন, ভোজন, শয়ন, করা, করানো, পাঠানো, নেওয়া ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
সাহসী- বিশেষণ পদ। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও ১দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ) এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
২,৯৭৪.
‘সে বই নিয়ে পড়তে বসেছে।' - বাক্যে 'নিয়ে' কোন ক্রিয়াপদ?
  1. সমাপিকা
  2. প্রযোজক
  3. অসমাপিকা
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
অসমাপিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অসমাপিকা
ব্যাখ্যা
অসমাপিকা ক্রিয়া:
- যে ক্রিয়া দ্বারা বাক্যের অর্থ সম্পূর্ণ হয় না, তাকে অসমাপিকা ক্রিয়া বলে।

যেমন:
আমি বাড়ি গিয়ে .......
সে বই নিয়ে

এখানে 'গিয়ে', 'নিয়ে' ক্রিয়ার দ্বারা কথা শেষ হয় নি। বাক্যের অর্থ অসম্পূর্ণ রয়েছে। বাক্যের অর্থ সম্পূর্ণ করার জন্য আরও ক্রিয়া চাই।

যেমন:
আমি বাড়ি গিয়ে খাব।
সে বই নিয়ে পড়তে বসেছে।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
২,৯৭৫.
আত্মবাচক সর্বনাম পদ নয় কোনটি?
  1. ক) নিজে
  2. খ) খোদ
  3. গ) আপনি
  4. ঘ) আমি
সঠিক উত্তর:
ঘ) আমি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) আমি
ব্যাখ্যা
আত্মবাচক সর্বনাম পদ- স্বয়ং, নিজে, খোদ, আপনি। ব্যক্তিবাচক বা পুরুষবাচক সর্বনাম পদ- আমি, তুমি, আমরা, তোমরা, সে, তারা, তাহারা, তিনি, এ, এরা, ও, ওরা ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৯৭৬.
বাংলা ভাষায় কোন শব্দ্টি অনুসর্গ এবং উপসর্গ হিসেবে কাজ করে?
  1. ক) পরা
  2. খ) প্রতি
  3. গ) বিনা
  4. ঘ) অতি
সঠিক উত্তর:
খ) প্রতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) প্রতি
ব্যাখ্যা

পরা, প্রতি, অতি সংস্কৃত উপসর্গ।
প্রতি, বিনা, সহ, পাছে, মধ্যে, মাঝে, পরে - এগুলো অনুসর্গ।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণি

২,৯৭৭.
’সন্ধ্যায় সূর্য অস্ত যায়’ বাক্যটি কোন ধরনের বর্তমান কাল নির্দেশ করে?
  1. নিত্যবৃত্ত বর্তমান
  2. ঘটমান বর্তমান
  3. পুরাঘটিত বর্তমান
  4. বর্তমান অনুজ্ঞা
সঠিক উত্তর:
নিত্যবৃত্ত বর্তমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিত্যবৃত্ত বর্তমান
ব্যাখ্যা
• বর্তমান কাল:
যে ক্রিয়া বর্তমানে সাধারণভাবে ঘটে, তার কালকে সাধারণ বর্তমান কাল বলে। যেমন- সে ভাত খায়। আমি বাড়ি যাই।

বর্তমান কালকে তিনভাগে ভাগ করা যায় :
ক. সাধারণ বর্তমান বা নিত্যবৃত্ত বর্তমান;
খ. ঘটমান বর্তমান;
গ. পুরাঘটিত বর্তমান।

- নিত্যবৃত্ত বর্তমান কাল:
- স্বাভাবিক বা অভ্যস্ততা বোঝালে সাধারণ বর্তমান কালের ক্রিয়াকে নিত্যবৃত্ত বর্তমান কাল বলে।
যথা-
• সন্ধ্যায় সূর্য অস্ত যায়। (স্বাভাবিকতা)।
• আমি রোজ সকালে বেড়াতে যাই। (অভ্যস্ততা)।

 ঘটমান বর্তমান কাল:
- যে কাজ শেষ হয়নি, এখনও চলছে, সে কাজ বোঝানোর জন্য ঘটমান বর্তমান কাল ব্যবহৃত হয়।
যথা-
হাসান বই পড়ছে।
নীরা গান গাইছে।

পুরাঘটিত বর্তমান কাল:
ক্রিয়া পূর্বে শেষ হলে এবং তার ফল এখনও বর্তমান থাকলে, পুরাঘটিত বর্তমান কাল ব্যবহৃত হয়।
যেমন-
এবার আমি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছি।
এতক্ষণ আমি অঙ্ক করেছি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম দশম শ্রেণি -২০১৮ সালের শিক্ষাবর্ষ।
২,৯৭৮.
'ঘোড়াটি দ্রুত দৌড়ায়' বাক্যে 'দ্রুত' কোন বিশেষণ?
  1. বিশেষ্যের বিশেষণ
  2. অব্যয়ের বিশেষণ
  3. ক্রিয়াবিশেষণ
  4. বিশেষণের বিশেষণ
সঠিক উত্তর:
ক্রিয়াবিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্রিয়াবিশেষণ
ব্যাখ্যা
• ক্রিয়াবিশেষণ:
- যে শব্দ ক্রিয়াকে বিশেষিত করে, তাকে ক্রিয়াবিশেষণ বলে। নিচের বাক্য তিনটির নিম্নরেখ শব্দগুলো ক্রিয়াবিশেষণের উদাহরণ:

যেমন:
- ঘোড়াটি দ্রুত দৌড়ায়।
- লোকটি ধীরে হাঁটে।
- মেয়েটি গুনগুনিয়ে গান করছে।

• গঠন বিবেচেনায় ক্রিয়াবিশেষণকে একপদী ও বহুপদী - এই দুই ভাগে ভাগ করা যায়।
- একপদী ক্রিয়াবিশেষণ: আস্তে, জোরে, চেঁচিয়ে, সহজে, ভালোভাবে, গুনগুনিয়ে ইত্যাদি।
- বহুপদী ক্রিয়াবিশেষণ: ভয়ে ভয়ে, চুপি চুপি, মরতে মরতে, যায় যায় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
২,৯৭৯.
নিরন্তরতা অর্থে যৌগিক ক্রিয়া কোনটি?
  1. ক) ছেলে মেয়েরা শুয়ে পড়ল
  2. খ) ঘটনাটা শুনে রাখ
  3. গ) তিনি বলতে লাগলেন
  4. ঘ) শিক্ষায় মন সংস্কারমুক্ত হয়ে থাকে
সঠিক উত্তর:
গ) তিনি বলতে লাগলেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) তিনি বলতে লাগলেন
ব্যাখ্যা

একটি সমাপিকা ও একটি অসমাপিকা ক্রিয়া যদি একত্রে বিশেষ বা সম্প্রসারিত অর্থ প্রকাশ করে, তবে
তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে। যেমন-
তাগিত দেওয়া অর্থে : ঘটনাটা শুনে রাখ।
নিরন্তরতা অর্থে : তিনি বলতে লাগলেন।
কার্যসমাপ্তি অর্থে : ছেলে মেয়েরা শুয়ে পড়ল।
আকস্মিকতা অর্থে : সাইরেন বেজে উঠল।
অভ্যস্ততা অর্থে : শিক্ষায় মন সংস্কারমুক্ত হয়ে থাকে।
অনুমোদন অর্থে : এখন যেতে পার।
সূত্র- বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী।

২,৯৮০.
'ট্রেনটি বেশ জোরে চলছে।'- বাক্যটিতে 'বেশ' কোন ধরনের বিশেষণ?
  1. ক) গুণবাচক
  2. খ) ভাববাচক
  3. গ) উপাদানবাচক
  4. ঘ) অবস্থাবাচক
সঠিক উত্তর:
খ) ভাববাচক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ভাববাচক
ব্যাখ্যা
• ভাববাচক বিশেষণ:
- যেসব বিশেষণ বাক্যের অন্তর্গত অন্য বিশেষণকে বিশেষিত করে, সেসব বিশেষণকে ভাববাচক বিশেষণ বলে।
যেমন – 'খুব ভালাে খবর' ও 'ট্রেনটি  বেশ জোরে চলছে' – এসব বাক্যে 'খুব' এবং 'বেশ' ভাববাচক বিশেষণ।

অন্যান্য অপশন:

• গুণবাচক বিশেষণ:
- যে বিশেষণ দিয়ে গুণ বা বৈশিষ্ট্য বােঝায়, তাকে গুণবাচক বিশেষণ বলে।
- যেমন – চালাক ছেলে, ঠান্ডা পানি – এখানে ‘চালাক’ ও ঠান্ডা হলাে গুণবাচক বিশেষণ।

• অবস্থাবাচক বিশেষণ:
- যে বিশেষণ দিয়ে অবস্থা বােঝায়, তাকে অবস্থাবাচক বিশেষণ বলে।
- যেমন – চলন্ত ট্রেন, তরল পদার্থ – এখানে চলন্ত ও তরল অবস্থাবাচক বিশেষণ।

• উপাদানবাচক বিশেষণ: 
- যে বিশেষণ দিয়ে উপাদান নির্দেশ করে, তাকে উপাদানবাচক বিশেষণ বলে।
- যেমন- বেলে মাটি, পাথুরে মূর্তি – এখানে 'বেলে' ও 'পাথুরে' উপাদানবাচক বিশেষণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ ২০২১)।
২,৯৮১.
‘কোথাও তাকে খুজে পাচ্ছিনা।’- বাক্যে ‘কোথাও’ কোন পদ?
  1. বিশেষ্য
  2. বিশেষণ
  3. সর্বনাম
  4. অনুসর্গ
সঠিক উত্তর:
সর্বনাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সর্বনাম
ব্যাখ্যা
• ‘কোথাও তাকে খুজে পাচ্ছিনা।’- বাক্যে ব্যবহৃত ‘কোথাও’ শব্দটি অনির্দিষ্ট সর্বনাম পদ।

⇒ সর্বনাম:
 বিশেষ্য পদের পরিবর্তে যে পদ ব্যবহৃত হয়, তাকেই সর্বনাম পদ বলে। সর্বনাম পদগুলোকে মূলত ৯ ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা:
১. ব্যক্তিবাচক বা পুরুষবাচক সর্বনাম: ব্যক্তিবাচক সর্বনাম ব্যক্তি নামের পরিবর্তে বসে। যেমন-  আমি, আমরা, তুমি, তোমরা, সে, তারা, তাহারা, তিনি, তাঁরা, এ, এরা, ও, ওরা।

২. আত্মবাচক সর্বনাম: কর্তা নিজেই কোনো কাজ করেছে, এ ভাবটি জোরদিয়ে বোঝানোর জন্য এ ধরণের সর্বনাম ব্যবহার করা হয়। যেমন- স্বয়ং, নিজ, খোদ, আপনি।

৩. নির্দেশক সর্বনাম: যে সর্বনাম নৈকট্য বা দূরত্ব নির্দেশ করে, তাকে  নির্দেশক সর্বনাম বলে। যেমন:
নিকট নির্দেশক- এ, এই, এরা, ইহারা, ইনি।
দূর নির্দেশক- ও, ওই, ওরা, উনি।

৪. অনির্দষ্ট সর্বনাম: অনির্দষ্ট বা পরিচয়হীন কিছু বোঝাতে যে সর্বনাম ব্যবহৃত হয় তাকে অনির্দিষ্ট সর্বনাম বলে। যেমন- কেউ, কোথাও, কিছু, একজন।

৫. প্রশ্নবাচক সর্বনাম: প্রশ্ন তৈরির জন্য প্রশ্নবাচক সর্বনাম প্রয়োগ করা হয়। যেমন- কে, কারা, কাকে, কার, কী ইত্যাদি।

৬. সাপেক্ষ সর্বনাম: পরস্পর নির্ভরশীল দুটি সর্বনামকে সাপেক্ষ সর্বনাম বলে। যেমন- যারা-তারা, যে-সে, যেমন-তেমন ইত্যাদি।

৭. পারস্পারিক সর্বনাম: দুই পক্ষের সহযোগিতা বা নির্ভরতা বোঝাতে পারস্পরিক সর্বনাম ব্যবহৃত হয় । যেমন- পরস্পর, নিজেরা নিজেরা ইত্যাদি।

৮. সকলবাচক/সাকুল্যবাচক সর্বনাম: ব্যক্তি, বস্তু বা ভাবের সমষ্টি বোঝাতে সকলবাচক সর্বনাম ব্যবহৃত হয়। যেমন- সব, সকল, সমুদয়, তাবৎ, সমস্ত ইত্যাদি।

৯. অন্যবাচক সর্বনাম: নিজ ভিন্ন অন্য কোনো অনির্দিষ্ট ব্যক্তি বোঝাতে অন্যবাচক সর্বনাম ব্যবহৃত হয়। যেমন: অন্য, অপর, পর, অমুক ইত্যাদি।

- তবে পুরাতন বই অনুযায়ী সর্বনাম ১০ প্রকার। ১০ নম্বরটি হলো- ব্যতিহারিক সর্বনাম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
২,৯৮২.
'খুব ভালো খরব।' - এখানে 'খুব' কোন ধরনের বিশেষণ?
  1. নির্দিষ্টতাবাচক বিশেষণ
  2. গুণবাচক বিশেষণ
  3. অবস্থাবাচক বিশেষণ
  4. ভাববাচক বিশেষণ
সঠিক উত্তর:
ভাববাচক বিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভাববাচক বিশেষণ
ব্যাখ্যা
ভাববাচক বিশেষণ:
- যেসব বিশেষণ বাক্যের অন্তর্গত অন্য বিশেষণকে বিশেষিত করে, সেসব বিশেষণকে ভাববাচক বিশেষণ বলে।
যেমন:
- খুব ভালো খরব।
- গাড়িটা বেশ জোরে চলছে।
- এসব বাক্যে ‘খুব’ এবং ‘বেশ’ ভাববাচক বিশেষণ।

অন্যদিকে:
অবস্থাবাচক বিশেষণ:
- যে বিশেষণ দিয়ে অবস্থা বােঝায়, তাকে অবস্থাবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন:
- চলন্ত ট্রেন, তরল পদার্থ – এখানে 'চলন্ত' ও 'তরল' অবস্থাবাচক বিশেষণ।

গুণবাচক বিশেষণ:
- যে বিশেষণ দিয়ে গুণ বা বৈশিষ্ট্য বােঝায়, তাকে গুণবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন:
- চালাক ছেলে, ঠান্ডা পানি – এখানে ‘চালাক’ ও ঠান্ডা হলাে গুণবাচক বিশেষণ।

নির্দিষ্টতাবাচক:
- যে বিশেষণ দিয়ে বিশেষিত শব্দকে নির্দিষ্ট করা হয়, তাকে নির্দিষ্টতাবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন:
- এই দিনে, সেই সময় – এখানে ‘এই' ও 'সেই' নির্দিষ্টতাবাচক বিশেষণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
২,৯৮৩.
‘বাড়ি গিয়ে তাকে পাওয়া যায় নি’ এই বাক্যে ‘গিয়ে’ কোন ক্রিয়া?
  1. ক) অসমাপিকা
  2. খ) সমাপিকা
  3. গ) দ্বিকর্ম
  4. ঘ) প্রয়োজক
সঠিক উত্তর:
ক) অসমাপিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) অসমাপিকা
ব্যাখ্যা
‘বাড়ি গিয়ে তাকে পাওয়া যায় নি’ এই বাক্যে ‘গিয়ে’ অসমাপিকা ক্রিয়া।

যে ক্রিয়া দ্বারা বাক্যের পরিসমাপ্তি ঘটে না, বক্তার কথা অসম্পূর্ণ থেকে যায়, তাকে অসমাপিকা ক্রিয়া বলে।
যেমন - বাড়ি গিয়ে...... এই বাক্যে 'গিয়ে' দ্বারা কথা শেষ হয় নি। তাই এখানে 'গিয়ে' অসমাপিকা ক্রিয়া। তবে, ‘বাড়ি গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি।' এই বাক্যে 'যায়নি' সমাপিকা ক্রিয়া।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৯৮৪.
ঘটমান বর্তমান কালের ক্রিয়া কোনটি?
  1. ওঠে
  2. যাচ্ছি
  3. ফিরেছে
  4. করো
সঠিক উত্তর:
যাচ্ছি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যাচ্ছি
ব্যাখ্যা
• বর্তমান কাল:
বর্তমানে যে ক্রিয়া সম্পন্ন হয় তাকে বর্তমান কাল বলে। বর্তমান কাল চার প্রকার: সাধারণ বর্তমান, ঘটমান বর্তমান, পুরাঘটিত বর্তমান এবং অনুজ্ঞা বর্তমান।

• সাধারণ বর্তমান:
যে ক্রিয়া বর্তমান কালে নিয়মিতভাবে ঘটে, তাকে সাধারণ বর্তমান কাল বলে।
যেমন:
- আমি স্কুলে যাই
- সূর্য পূর্ব দিকে ওঠে

• ঘটমান বর্তমান:
যে ক্রিয়া বর্তমানে চলছে বোঝায়, তাকে ঘটমান বর্তমান কাল বলে।
যেমন:
- আমি স্কুলে যাচ্ছি
- আমাদের পরীক্ষা চলছে

• পুরাঘটিত বর্তমান:
এইমাত্র সম্পন্ন ক্রিয়ার কালকে পুরাঘটিত বর্তমান কাল বলে।
যেমন:
- আমি অঙ্কটি করেছি
- তারা বাড়িতে ফিরেছে

• অনুজ্ঞা বর্তমান:
যে ক্রিয়া দিয়ে বর্তমান কালে বক্তার আদেশ, অনুমতি, অনুরোধ, প্রার্থনা, আমন্ত্রণ, আশীর্বাদ, অভিশাপ, উপদেশ, উপেক্ষা ইত্যাদি প্রকাশ করা হয়, তাকে অনুজ্ঞা বর্তমান কাল বলে।
যেমন:
- তাড়াতাড়ি কাজটি করো
- সকলের মঙ্গল হোক

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।
২,৯৮৫.
‘সে নিজে এখানে এসেছে।’ বাক্যে ‘নিজে’ কোন ধরনের সর্বনামের উদাহরণ?
  1. পারস্পরিক সর্বনাম
  2. সাপেক্ষ সর্বনাম
  3. আত্মবাচক সর্বনাম
  4. অনির্দিষ্ট সর্বনাম
সঠিক উত্তর:
আত্মবাচক সর্বনাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আত্মবাচক সর্বনাম
ব্যাখ্যা
• সর্বনাম:
 বিশেষ্য পদের পরিবর্তে যে পদ ব্যবহৃত হয়, তাকেই সর্বনাম পদ বলে।

• আত্মবাচক সর্বনাম: কর্তা নিজেই কোনো কাজ করেছে, এ ভাবটি জোর দিয়ে বোঝানোর জন্য এ ধরনের সর্বনাম ব্যবহার করা হয়।
যেমন: নিজে, স্বয়ং ইত্যাদি।
- বাক্য: সে নিজে অঙ্কটা করছে।
- বাক্য: সে নিজে এখানে এসেছে।

অন্যদিকে,
• অনির্দিষ্ট সর্বনাম: অনির্দিষ্ট বা পরিচয়হীন কিছু বোঝাতে যে সর্বনাম ব্যবহৃত হয়, তাকে অনির্দিষ্ট সর্বনাম বলে।
যেমন: কেউ, কোথাও, কিছু, একজন ইত্যাদি।
- বাক্য: একজন এসে খবরটা দেয়।
- বাক্য: একজন এসে পত্রটা দেয়।

• সাপেক্ষ সর্বনাম: পরস্পর নির্ভরশীল দুটি সর্বনামকে সাপেক্ষ সর্বনাম বলে।
যেমন: যারা-তারা, যে-সে, যেমন-তেমন (যেমন কর্ম তেমন ফল) ইত্যাদি।
- বাক্য: যেমন কর্ম তেমন ফল।

• পারস্পরিক সর্বনাম: দুই পক্ষের সহযোগিতা বা নির্ভরতা বোঝাতে পারস্পরিক সর্বনাম ব্যবহৃত হয়।
যেমন: পরস্পর, নিজেরা নিজেরা ইত্যাদি।
- বাক্য: যাবতীয় দ্বন্দ্ব নিজেরা নিজেরা মিটমাট করো।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ সংস্করণ)।
২,৯৮৬.
'সামঞ্জস্য' শব্দটি কোন পদ?
  1. বিশেষ্য
  2. বিশেষণ
  3. অব্যয়
  4. ক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
বিশেষ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশেষ্য
ব্যাখ্যা

বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,

• সামঞ্জস্য(বিশেষ্য)

অর্থ:
১ সমীচীনতা, উপযুক্ততা।
২ মিল, সংগতি (সামঞ্জস্য বিধান)।

অন্যদিকে,
সামঞ্জস্যপূর্ণ(বিশেষণ)

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

২,৯৮৭.
'ইত্তেফাক' কোন জাতীয় নাম-বিশেষ্য?
  1. ব্যক্তিনাম
  2. স্থাননাম
  3. কালনাম
  4. সৃষ্টিনাম
সঠিক উত্তর:
সৃষ্টিনাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৃষ্টিনাম
ব্যাখ্যা
বিশেষ্য:
যেসব শব্দ দিয়ে ব্যক্তি, প্রাণী, স্থান, বস্তু, ধারণা ও  গুণের নাম বোঝায়, সেগুলোকে বিশেষ্য বলে।
যেমন - নজরুল, বাঘ, ঢাকা, ইট, ভোজন, সততা ইত্যাদি।

• বিশেষ্য সাধারণত ছয় প্রকার। যথা:
১. নাম-বিশেষ্য,
২. জাতি-বিশেষ্য,
৩. বস্তু-বিশেষ্য,
৪. সমষ্টি-বিশেষ্য,
৫. গুণ-বিশেষ্য,
৬. ক্রিয়া-বিশেষ্য।

নাম-বিশেষ্য:
ব্যক্তি, স্থান, দেশ, কাল, সৃষ্টি প্রভৃতির সুনির্দিষ্ট নামকে নাম-বিশেষ্য বলা হয়।
যেমন - 
- ব্যক্তিনাম: হাবিব, জুয়েল, লতা, শম্পা।
- স্থাননাম: বাংলাদেশ, ঢাকা, হিমালয়, পদ্মা।
- কালনাম: সোমবার, বৈশাখ, জানুয়ারি, রমজান।
- সৃষ্টিনাম: গীতাঞ্জলি, সঞ্চিতা, ইত্তেফাক, অপরাজেয় বাংলা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২,৯৮৮.
ধ্বন্যাত্মক নামক্রিয়ার উদাহরণ আছে কোন বাক্যে?
  1. ঠকঠক করা হচ্ছে।
  2. মা শিশুকে খাওয়াচ্ছেন।
  3. পাখিটা ব্যাথায় ছটফটায়।
  4. ঘন্টা বেজে উঠল।
সঠিক উত্তর:
পাখিটা ব্যাথায় ছটফটায়।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাখিটা ব্যাথায় ছটফটায়।
ব্যাখ্যা

• পাখিটা ব্যাথায় ছটফটায়।- বাক্যে ছটফটায় ধ্বন্যাত্মক নাম ক্রিয়ার উদাহরণ।

⇒ নামক্রিয়া: বিশেষ্য, বিশেষণ বা ধ্বন্যাত্মক শব্দের শেষে -আ বা আনাে প্রত্যয় যুক্ত হয়ে যে ক্রিয়া গঠিত হয়, তাকে নামক্রিয়া বলে।
যেমন
- বিশেষ্য চমক শব্দের সঙ্গে অনাে যুক্ত হয়ে হয় চমকানাে: আকাশে বিদ্যুৎ চমকায়।
- বিশেষণ কম শব্দের সঙ্গে -আ যুক্ত হয়ে হয় কমা: বাজারে সবজির দাম কমছে না।
- ধ্বন্যাত্মক ছটফট শব্দের সঙ্গে আনাে যুক্ত হয়ে হয় ছটফটানো: জবাই করা মুরগি উঠানে ছটফটায়


অন্যদিকে,
⇒ প্রযোজক ক্রিয়া: যে ক্রিয়া একজনের প্রযোজনা বা চালনায় অন্য কর্তৃক অনুষ্ঠিত হয়, সেই ক্রিয়াকে প্রযোজক বা ণিজন্ত ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- 'মা শিশুকে খাওয়াচ্ছেন।'
[বাক্যটিতে 'খাওয়াচ্ছেন' প্রযোজক বা ণিজন্ত ক্রিয়া। 'মা' এখানে প্রযোজক কর্তা এবং 'শিশুকে' প্রযোজ্য কর্তা।]

⇒ যৌগিক ক্রিয়া: অসমাপিকা ক্রিয়ার সঙ্গে সমাপিকা ক্রিয়া যুক্ত হয়ে যখন একটি ক্রিয়া গঠন করে, তখন তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে।
যেমন: মরে যাওয়া, কমে আসা, এগিয়ে চলা, হেসে ওঠা, উঠে পড়া, পেয়ে বসা, সরে দাঁড়ানাে, বেঁধে দেওয়া, বুঝে নেওয়া, বলে ফেলা, করে তােলা, চেপে রাখা ইত্যাদি।

• অনুরূপভাবে, ঘন্টা বেজে উঠল।- এখানে বেজে উঠল যৌগিক ক্রিয়া।

⇒ সংযোগ ক্রিয়া: বিশেষ্য, বিশেষণ বা ধ্বন্যাত্মক শব্দের পরে করা, কাটা, হওয়া, দেওয়া, ধরা, পাওয়া, খাওয়া, মারা প্রভৃতি ক্রিয়া যুক্ত হয়ে সংযোগ ক্রিয়া গঠিত হয়।
যেমন: গরম করা, গান করা, উদয় হওয়া, ঠনঠন করা ইত্যাদি। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।

২,৯৮৯.
নিচের কোনটি ভুল বানান?
  1. ক) দারিদ্র্য
  2. খ) সৌন্দর্য
  3. গ) মাধুর্য্য
  4. ঘ) সারল্য
সঠিক উত্তর:
গ) মাধুর্য্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) মাধুর্য্য
ব্যাখ্যা

- প্রদত্ত অপশনগুলোতে মাধুর্য্য বানানটি ভুল।
- এর সঠিক বানান হচ্ছে মাধুর্য।
উৎসঃ প্রমিত বাংলা বানান রীতি ও বাংলা একাডেমির অভিধান।

২,৯৯০.
যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হলে বক্তব্য জোরালো হয় তাকে কী বলে?
  1. বিভক্তি
  2. বলক
  3. নির্দেশক
  4. বচন
সঠিক উত্তর:
বলক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বলক
ব্যাখ্যা
বলক:
- যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হলে বক্তব্য জোরালো হয়, সেগুলোকে বলক বলে।
- 'তখনই' বা 'এখনও' পদের 'ই' বা 'ও' হলো বলকের উদাহরণ।

অন্যদিকে,
বিভক্তি:
- ক্রিয়ার কাল নির্দেশের জন্য এবং কারক বোঝাতে পদের সঙ্গে যেসব শব্দাংশ যুক্ত থাকে, সেগুলোকে বিভক্তি বলে।
- বিভক্তি দুই প্রকার: ক্রিয়া-বিভক্তি ও কারক-বিভক্তি।
- 'করলাম' ক্রিয়াপদের 'লাম' শব্দাংশ হলো ক্রিয়া-বিভক্তি এবং 'কৃষকের' পদের 'এর' শব্দাংশ কারক-বিভক্তির উদাহরণ।

নির্দেশক:
- যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পদকে নির্দিষ্ট করে, সেগুলোকে নির্দেশক বলে।
- 'লোকটি' বা 'ভালোটুকু' পদের 'টি' বা 'টুকু' হলো নির্দেশকের উদাহরণ।

বচন:
- যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পদের সংখ্যা বোঝায়, সেগুলোকে বচন বলে।
- 'ছেলেরা' বা 'বইগুলো' পদের 'রা' বা 'গুলো' হলো বচনের উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
২,৯৯১.
'গীতাঞ্জলি, অগ্নিবীণা' কোন ধরনের বিশেষ্য?
  1. নামবাচক
  2. জাতিবাচক
  3. সংজ্ঞাবাচক
  4. ক ও গ উভয়ই
সঠিক উত্তর:
ক ও গ উভয়ই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক ও গ উভয়ই
ব্যাখ্যা
নামবাচক বা সংজ্ঞাবাচক বিশেষ্য:
- যে পদ দ্বারা কোন ব্যক্তি, ভৌগোলিক স্থান, বা গ্রন্থ বিশেষের নাম বিজ্ঞাপিত হয়, তাকে সংজ্ঞা বা নামবাচক বিশেষ্য পদ বলে।

যেমন:
- নজরুল, ঢাকা, মেঘনা, হিমালয়, গীতাঞ্জলি, অগ্নিবীণা, ফাল্গুন, বিজু, বৈসাবি ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
জাতিবাচক বিশেষ্য:
- যে পদ দ্বারা কোনো একজাতীয় প্রাণী বা পদার্থের সাধারণ নাম বোঝায় তাকে জাতিবাচক বিশেষ্য বলে।

যেমন:
মানুষ, গরু, পাখি, গাছ, নদী, পর্বত, ইংরেজ ইত্যাদি জাতিবাচক বিশেষ্যের উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০১৮ সংস্করণ)।
২,৯৯২.
'এক্ষণে জানিলাম, কুসুমে কীট আছে।' বাক্যটি কোন অতীত কালকে নির্দেশ করছে?
  1. সাধারণ অতীত
  2. নিত্যবৃত্ত অতীত
  3. ঘটমান অতীত
  4. পুরাঘটিত অতীত
সঠিক উত্তর:
সাধারণ অতীত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাধারণ অতীত
ব্যাখ্যা
• 'এক্ষণে জানিলাম, কুসুমে কীট আছে।' বাক্যটি সাধারণ অতীত কালকে নির্দেশ করছে

সাধারণ অতীত:
বর্তমান কালের পূর্বে যে ক্রিয়া সম্পন্ন হয়ে গিয়েছে, তার সংঘটন কালই সাধারণ অতীত কাল।
যেমন -
- প্রদীপ নিভে গেল।
- শিকারি পাখিটিকে গুলি করল।

সাধারণ অতীতের বিশিষ্ট ব্যবহার:
(১) পুরাঘটিত বর্তমান স্থলে: 'এক্ষণে জানিলাম, কুসুমে কীট আছে।'
(২) বিশেষ ইচ্ছা অর্থে বর্তমান কালের পরিবর্তে: তোমরা যা খুশি কর, আমি বিদায় হলাম

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২,৯৯৩.
'দুঃখ' কোন প্রকার বিশেষ্য?
  1. ভাববাচক
  2. গুণবাচক
  3. জাতিবাচক
  4. বস্তুবাচক
সঠিক উত্তর:
গুণবাচক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গুণবাচক
ব্যাখ্যা

গুণবাচক বিশেষ্য:
- যে বিশেষ্য দ্বারা কোনো বস্তুর দোষ বা গুণের নাম বোঝায়, তা-ই গুণবাচক বিশেষ্য। 

যেমন:
- মধুর মিষ্টতার গুণ- মধুরতা, তরল দ্রব্যের গুণ- তারল্য, তিক্ত দ্রব্যের গুণ- তিক্ততা ইত্যাদি।
তদ্রুপ: সৌরভ, স্বাস্থ্য, যৌবন, সুখ, দুঃখ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০১৯ সংস্করণ)।

২,৯৯৪.
বাক্যের একক কী?
  1. ক) ধ্বনি
  2. খ) পদ
  3. গ) বর্ণ
  4. ঘ) অক্ষর
সঠিক উত্তর:
খ) পদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) পদ
ব্যাখ্যা

এক বা একাধিক শব্দ দিয়ে গঠিত পূর্ণ অর্থবোধক ভাষিক একককে বাক্য বলে।
বাক্যের মধ্যে স্থান পাওয়া প্রত্যেকটি শব্দকে পদ বলে। এদিক দিয়ে পদ হলো বাক্যের একক।
সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, ২০২১ সংস্করণ।

২,৯৯৫.
"আমি বাড়ি যাওয়ার পূর্বেই আফরিন চলে গিয়েছিল।" - ক্রিয়ার কোন কালের উদাহরণ?
  1. সাধারণ অতীত কাল
  2. ঘটমান অতীত কাল
  3. পুরাঘটিত অতীত কাল
  4. নিত্যবৃত্ত অতীত কাল
সঠিক উত্তর:
পুরাঘটিত অতীত কাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পুরাঘটিত অতীত কাল
ব্যাখ্যা

অতীত কালকে নিম্নোক্ত ভাগে ভাগ করা হয়েছে-
• সাধারণ অতীত কাল:
যে ক্রিয়া অতীতে সাধারণ ভাবে সংঘটিত হয়েছে, তাকে বলা হয় সাধারণ অতীত কাল।
যেমন-
- তিনি কাল বাড়ি এসেছেন।
- লোকটি বেড়াতে গেলো।

• ঘটমান অতীত কাল:
যে ক্রিয়ার কাল অতীতে শুরু হয়েছিল বা চলছিল বোঝায় তাকে বলা হয় ঘটমান অতীত কাল।
যেমন-
- ইলা গান গাইছিলো,
- তিনি তখন বাড়ি আসছিলেন।

• পুরাঘটিত অতীত কাল:
যে ক্রিয়া অতীতে বহুপূর্বে সংঘটিত হয়েছে এবং পরে আরও কিছু ঘটনা ঘটেছে তাকে বলা হয় পুরাঘটিত অতীত কাল।
যেমন-
- আমি বাড়ি যাওয়ার পূর্বেই মিম চলে গিয়েছিল।
- ডাক্তার আসার পর রোগী মারা গেল।
- বৃষ্টি শুরু হওয়ার পূর্বেই আমরা বাড়ি পৌছেছিলাম ইত্যাদি।

• নিত্যবৃত্ত অতীত কাল:
যে ক্রিয়ার সাহায্যে অতীত কালের কোনো কাজের অভ্যস্ততা বোঝায়, তাকে বলা হয় নিত্যবৃত্ত অতীত কাল।
যেমন-
- লোকটি নিয়মিত নদীর ধারে হাটতেন।
- মিম প্রায়ই রাধুনী রেস্তোরায় খেতে যেত।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৯৯৬.
'অনুরোধ' অর্থে অনুজ্ঞার উদাহরণ কোনটি?
  1. ক) মন দিয়ে পড়
  2. খ) আপনারা আসবেন
  3. গ) মিথ্যা বলবে না
  4. ঘ) চুপ কর
সঠিক উত্তর:
খ) আপনারা আসবেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) আপনারা আসবেন
ব্যাখ্যা
- 'অনুরোধ' অর্থে অনুজ্ঞার উদাহরণ হলো-আপনারা আসবেন। 

অনুজ্ঞা ভাব:
- আদেশ, নিষেধ, উপদেশ, অনুরোধ, আশীর্বাদ ইত্যাদি সূচিত হলে ক্রিয়াপদের অনুজ্ঞা ভাব হয়। যেমন- 
১। আদেশাত্মক- চুপ কর। 
২। নিষেশাত্মক- মিথ্যা বলবে না। 
৩। অনুরোধসূচক- আপনারা আসবেন। 
৪। উপদেশাত্মক- মন দিয়ে পড়। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৯৯৭.
আমি আজ ‘আলবত’ যাব-কোন ধরনের অব্যয়?
  1. ক) সমুচ্চয়ী অব্যয়
  2. খ) অনন্বয়ী অব্যয়
  3. গ) অনুসর্গ অব্যয়
  4. ঘ) অনুকার অব্যয়
সঠিক উত্তর:
খ) অনন্বয়ী অব্যয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) অনন্বয়ী অব্যয়
ব্যাখ্যা
যে সকল অব্যয় বাক্যের অন্য পদের সঙ্গে কোন সম্মন্ধ না রেখে স্বাধীনভাবে নানাবিধ ভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়, তাদের অনন্বয়ী অব্যয় বলে। যেমন- প্রশ্নে উল্লেখিত বাক্যটি তে ‘আলবত’ অব্যয় সম্মতি প্রকাশে ব্যবহৃত হয়েছে।
সহজ কথায়, যে অব্যয়বাচক শব্দ ছাড়াই বাক্যের অর্থ সম্পন্ন হয় তাকে অনন্বয়ী অব্যয় বলে।
উৎস- বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৯৯৮.
নিচের কোনটি সঠিক?
  1. আহ - প্রশংসা আবেগ
  2. বাহ - বিস্ময় আবেগ
  3. আহা - অলঙ্কার আবেগ
  4. বাপরে বাপ - আতঙ্ক আবেগ
সঠিক উত্তর:
বাপরে বাপ - আতঙ্ক আবেগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাপরে বাপ - আতঙ্ক আবেগ
ব্যাখ্যা
আবেগ:
মনের নানা ভাব প্রকাশ করা হয় যেসকল শব্দ দিয়ে সেগুলোকে আবেগ বলে।
- এই ধরনের শব্দ বাক্যের অন্য শব্দগুলোর সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত না হয়ে আলগাভাবে বা স্বাধীনভাবে ব্যবহৃত হয়।
যেমন - ছি ছি, আহা, বাহ্, শাবাশ, হায় হায় ইত্যাদি।

আতঙ্ক আবেগ:
এ ধরনের শব্দ আতঙ্ক, যন্ত্রনা, কাতরতা ইত্যাদি প্রকাশ করে।
যেমন -
উহ! কি বিপদে পড়া গেল।
বাপরে বাপ! কী ভয়ঙ্কর ছিল রাক্ষসটা।

অন্যদিকে,
প্রশংসা আবেগ:
এ ধরনের শব্দ প্রশংসা বা তারিফের মনোভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন -
বাহ, চমৎকার লিখেছ।
শাবাশ! এমন খেলাই তো চেয়েছিলাম।

বিস্ময় আবেগ:
এ ধরনের শব্দ বিস্মিত বা আশ্চর্য হওয়ার  ভাব প্রকাশ করে।
যেমন -
আরে! তুমি আবার কখন এলে?
আহ, কী চমৎকার দৃশ্য!

অলংকার আবেগ:
এ ধরনের শব্দ বাক্যের অর্থের পরিবর্তন না ঘটিয়ে কোমলতা, মাধুর্য ইত্যাদি বৈশিষ্ট্য এবং সংশয়, অনুরোধ, মিনতি ইত্যাদি মনোভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন -
যাকগে, ওসব কথা থাক। 
দুর! এ কথা কি বলতে আছে?

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
২,৯৯৯.
সাধারণ অনুসর্গ রয়েছে কোন বাক্যে?
  1. মন দিয়ে পড়ালেখা কর।
  2. এমন কাজ তোমার দ্বারা হবেনা।
  3. তুমি আসবে বলে দাঁড়িয়ে আছি।
  4. বহুদিন ধরে অপেক্ষা করে আছি।
সঠিক উত্তর:
এমন কাজ তোমার দ্বারা হবেনা।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এমন কাজ তোমার দ্বারা হবেনা।
ব্যাখ্যা
সাধারণ অনুসর্গ:
- যেসব অনুসর্গ ক্রিয়া ছাড়া অন্য শব্দ থেকে তৈরি হয়, তাকে সাধারণ অনুসর্গ বলে।

যেমন:
- আজ বাংলাদেশ বনাম ভারতের খেলা।
- কার কাছে গেলে জানা যাবে?
- এমন কাজ তোমার দ্বারা হবেনা।

অন্যদিকে,
ক্রিয়াজাত অনুসর্গ:
- যেসব অনুসর্গ ক্রিয়াপদ থেকে তৈরি হয়েছে, তাকে ক্রিয়াজাত অনুসর্গ বলে।

যেমন:
- বহুদিন ধরে অপেক্ষা করে আছি।
- তুমি আসবে বলে দাঁড়িয়ে আছি।
- মন দিয়ে পড়ালেখা কর।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
৩,০০০.
‘যত গর্জে তত বর্ষে না।’ - বাক্যে কোন ধরনের অব্যয় ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. নিত্য সম্বন্ধীয়
  2. বাক্যালংকার
  3. পদান্বয়ী
  4. ত প্রত্যয়ান্ত
সঠিক উত্তর:
নিত্য সম্বন্ধীয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিত্য সম্বন্ধীয়
ব্যাখ্যা
 নিত্য সম্বন্ধীয় অব্যয়: 
কতগুলো যুগ্মশব্দ পরস্পরের ওপর নির্ভরশীল, সেগুলো নিত্য সম্বন্ধীয় অব্যয় রূপে পরিচিত।
যেমন: যথা-তথা, যত-তত, যখন-তখন, যেমন-তেমন, যেরূপ- সেরূপ ইত্যাদি।
উদাহরণ -
- যথা ধর্ম তথা জয়।
- যত গর্জে তত বর্ষে না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।