বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

পদ-প্রকরণ

মোট প্রশ্ন৩,০২৪এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

পদ-প্রকরণ

PrepBank · পাতা ২৭ / ৩১ · ২,৬০১২,৭০০ / ৩,০২৪

২,৬০১.
'মাঝে' অনুসর্গটি কোন বাক্যে একদেশিক অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. এ দেশের মাঝে একদিন সব ছিল।
  2. সীমার মাঝে অসীম তুমি।
  3. নিমেষ মাঝেই সব শেষ।
  4. সে নদীর মাঝখানে দাঁড়িয়ে।
সঠিক উত্তর:
এ দেশের মাঝে একদিন সব ছিল।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এ দেশের মাঝে একদিন সব ছিল।
ব্যাখ্যা
• 'এ দেশের মাঝে একদিন সব ছিল।' এখানে 'মাঝে' অনুসর্গটি ব্যবহৃত হয়েছে - একদেশিক অর্থে।

• অনুসর্গ বা কর্মপ্রবচনীয়:
- বাংলা ভাষায় যে অব্যয় শব্দগুলো কখনো স্বাধীন পদ রূপে, আবার কখনো শব্দ বিভক্তির ন্যায় বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে বাক্যের অর্থ প্রকাশে সাহায্য করে, সেগুলোকে অনুসর্গ বা কর্মপ্রবচনীয় বলে।
- অনুসর্গগুলো কখনো প্রাতিপদিকের পরে ব্যবহৃত হয়, আবার কখনো বা 'কে' এবং 'র' বিভক্তিযুক্ত শব্দের পরে বসে।
যেমন -
বিনা: দুঃখ বিনা সুখ লাভ হয় কি মহীতে? (প্রাতিপদিকের পরে)
সনে: ময়ূরীর সনে নাচিছে ময়ূর। (ষষ্ঠী বিভক্তিযুক্ত শব্দের পরে)
দিয়ে: তোমাকে দিয়ে আমার চলবে না। (দ্বিতীয়ার 'কে' বিভক্তিযুক্ত শব্দের পরে)

- বাংলা ভাষায় বহু অনুসর্গ আছে।
যেমন -
প্রতি, বিনা, বিহনে, সহ, ওপর, অবধি, হেতু, মধ্যে, মাঝে, পরে, ভিন্ন, বই, ব্যতীত, জন্যে, জন্য, পর্যন্ত অপেক্ষা, সহকারে, তরে, পানে, নামে, মতো, নিকট, অধিক, পক্ষে, দ্বারা, দিয়া, দিয়ে, কর্তৃক, সঙ্গে, হইতে, হতে, থেকে, চেয়ে, পাছে, ভিতর, ভেতর ইত্যাদি।
- এদের মধ্যে দ্বারা, দিয়া (দিয়ে), কর্তৃক, হইতে (হতে), চেয়ে, অপেক্ষা, মধ্যে প্রভৃতি কয়েকটি অনুসর্গ বিভক্তিরূপে ব্যবহৃত হয়।

• অনুসর্গের প্রয়োগ:
মাঝে:
- মধ্যে অর্থে - 'সীমার মাঝে অসীম তুমি'। সে নদীর মাঝখানে দাঁড়িয়ে।
- একদেশিক অর্থে - এ দেশের মাঝে একদিন সব ছিল।
- ক্ষণকাল অর্থে - নিমেষ মাঝেই সব শেষ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২,৬০২.
তোমাকে মেসেঞ্জারে নক করেছি, কিন্তু উত্তর পাইনি। - এ বাক্যে কী ধরনের যোজক আছে?
  1. ক) বৈকল্পিক যোজক
  2. খ) রিবোধমূলক যোজক
  3. গ) কারণবাচক যোজক
  4. ঘ) সাপেক্ষ যোজক
সঠিক উত্তর:
খ) রিবোধমূলক যোজক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) রিবোধমূলক যোজক
ব্যাখ্যা
যে যোজক দুটি বাক্যের সংযোগ ঘটিয়ে দ্বিতীয়টির সাহায্যে প্রথম বাক্যের বিরোধ নির্দেশ করে তাকে বিরোধমূলক যোজক বলে। বিরোধমূলক যোজক হলো : কিন্তু, তবু, অথচ।
যেমন : 
তোমাকে ইমেইল করেছি, কিন্তু উত্তর পাইনি। 
তোমাকে কত ডাকলাম, কিন্তু তুমি শুনলে না।
সারাদিন খুঁজলাম, অথচ তোমার দেখা পেলাম না। 
এত বৃষ্টি হলো, তবু গরম কমল না।

উৎস : নবম-দশম শ্রেণি পুরাতন ও নতুন ব্যাকরণ, ভাষা-শিক্ষা, বাংলা একাডেমির ব্যাকরণ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ।
২,৬০৩.
'আগামী মাসে আমরা সিলেট যাচ্ছি।' উক্তিটি ক্রিয়ার কোন কাল নির্দেশ করে?
  1. ঘটমান ভবিষ্যৎ কাল
  2. সাধারণ বর্তমান কাল
  3. সাধারণ ভবিষ্যৎ কাল
  4. ঘটমান বর্তমান কাল
সঠিক উত্তর:
ঘটমান বর্তমান কাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘটমান বর্তমান কাল
ব্যাখ্যা

ঘটমান বর্তমান কালের ক্রিয়ার বিশিষ্ট প্রয়োগ:
আগামী মাসে আমরা সিলেট যাচ্ছি। (ঘটনা ভবিষ্যতের; কিন্তু ক্রিয়ার কাল বর্তমান।)

সাধারণ অতীত কালের ক্রিয়ার বিশিষ্ট প্রয়োগ:
শিকারি পাখিটিকে এইমাত্র গুলি করল। (ঘটনা পুরাঘটিত বর্তমানের; কিন্তু ক্রিয়ার কাল অতীত।)
যদি বৃষ্টি হতো, সবাই মিলে খিচুড়ি খেতাম। (ঘটনা ভবিষ্যতের; কিন্তু ক্রিয়ার কাল অতীত।)

সাধারণ ভবিষ্যৎ কালের ক্রিয়ার বিশিষ্ট প্রয়োগ:
তোমরা হয়ত ছয় দফার কথা শুনে থাকবে। (ঘটনা অতীতের; কিন্তু কাল ভবিষ্যৎ।)

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)

২,৬০৪.
নিচের কোনটি অনুসর্গ?
  1. পানে
  2. বিনা
  3. লেগে
  4. সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
ব্যাখ্যা

অনুসর্গ: 
- যেসব শব্দ কোনাে শব্দের পরে বসে শব্দটিকে বাক্যের সঙ্গে সম্পর্কিত করে, সেসব শব্দকে অনুসর্গ বলে।
যেমন:
- সে কাজ ছাড়া কিছুই বােঝে না।- এই বাক্যে 'ছাড়া' একটি অনুসর্গ।
- কোন পর্যন্ত পড়েছ? - এই বাক্যে 'পর্যন্ত' একটি অনুসর্গ।

কয়েকটি অনুসর্গের উদাহরণ:
- অপেক্ষা, অবধি, অভিমুখে, আগে, উপরে, করে, কর্তৃক, কাছে, কারণে, ছাড়া, জন্য, তরে, থেকে, দরুন, দিকে, দিয়ে, দ্বারা, ধরে, নাগাদ, নিচে, পর্যন্ত, পানে, পাশে, পিছনে, প্রতি, বদলে, বনাম, বরাবর, বাইরে, বাদে, বাবদ, বিনা, ব্যতীত, ভিতরে, মতাে, মধ্যে, মাঝে, লেগে, সঙ্গে,
সম্মুখে, সাথে, সামনে, হতে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

২,৬০৫.
"বৃষ্টি আসে আসুক।" - এই বাক্যে ক্রিয়ার ভাব কোনটি?
  1. সাপেক্ষ ভাব 
  2. নির্দেশক ভাব 
  3. অনুজ্ঞা ভাব 
  4. আকাঙ্ক্ষা প্রকাশক ভাব
সঠিক উত্তর:
আকাঙ্ক্ষা প্রকাশক ভাব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আকাঙ্ক্ষা প্রকাশক ভাব
ব্যাখ্যা

• 'বৃষ্টি আসে আসুক' - বাক্যটি 'আকাঙ্ক্ষা প্রকাশক ভাব' প্রকাশ করে। 
------------------ 
• ক্রিয়ার ভাব:
- ক্রিয়ার যে অবস্থার দ্বারা তা ঘটার ধরন বা রীতি প্রকাশ পায়, তাকে ক্রিয়ার ভাব বলে।
- ক্রিয়ার ভাব ৪ প্রকার।
যথা -

নির্দেশক ভাব:
- সাধারণ ঘটনা নির্দেশ করলে বা কিছু জিজ্ঞাসা করলে ক্রিয়াপদের নির্দেশক ভাব হয়।
যথা:
- তারা বাড়ি যাবে।

অনুজ্ঞা ভাব:
- আদেশ, নিষেধ, উপদেশ, অনুরোধ, আশীর্বাদ ইত্যাদি সূচিত হলে ক্রিয়া পদের অনুজ্ঞা ভাব হয়।
যথা:
- চুপ করো, মিথ্যা বলবে না, ডেকে দেয় পাষণ্ড!

সাপেক্ষ ভাব:
- একটি ক্রিয়ার সংঘটন অন্য একটি ক্রিয়ার ওপর নির্ভর করলে, নির্ভরশীল ক্রিয়াকে সাপেক্ষ ভাবের ক্রিয়া বলে।
যথা:
- যদি সে পড়ত, তবে পাস করত।
- আজ বাবা বেঁচে থাকলে আমার এত কষ্ট হতো না।

আকাঙ্ক্ষা প্রকাশক ভাব:
- যে ক্রিয়াপদের বক্তা সোজাসুজি কোনো ইচ্ছা বা আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করে, তাকে আকাঙ্ক্ষা প্রকাশক ভাবের ক্রিয়া বলা হয়।
যথা:
- সে যাক, বৃষ্টি আসে আসুক, তার মঙ্গল হোক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ।

২,৬০৬.
অনুসর্গ কী?
  1. অস্বাধীন পদ
  2. ধ্বনি বিভক্তি
  3. শব্দ বিভক্তি
  4. নাম বিভক্তি
সঠিক উত্তর:
শব্দ বিভক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শব্দ বিভক্তি
ব্যাখ্যা
• অনুসর্গ:
বাংলা ভাষায় যে অব্যয় শব্দগুলো কখনো স্বাধীন পদ রূপে, আবার কখনো শব্দ বিভক্তির ন্যায় বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে বাক্যের অর্থ প্রকাশ করতে সাহায্য করে, তাকে অনুসর্গ বলে।
- অনুসর্গগুলো কখনো প্রাতিপদিকের পরে ব্যবহৃত হয়, আবার কখনো বা 'কে' এবং 'র' বিভক্তিযুক্ত শব্দের পরে বসে।
যেমন:
- বিনা: দুঃখ বিনা সুখ লাভ হয় কি মহীতে? (প্রাতিপদিকের পরে)
- সনে: ময়ূরীর সনে নাচিছে ময়ূর। (ষষ্ঠী বিভক্তিযুক্ত শব্দের পরে)
- দিয়ে: তোমাকে দিয়ে আমার চলবে না। (দ্বিতীয়ার 'কে' বিভক্তিযুক্ত শব্দের পরে)

বাংলা ভাষায় বহু অনুসর্গ আছে। এগুলো হলো-
প্রতি, বিনা, বিহনে, সহ, ওপর, অবধি, হেতু, মধ্যে, মাঝে, পরে, ভিন্ন, বই, ব্যতীত, জন্যে, জন্য, পর্যন্ত অপেক্ষা, সহকারে, তরে, পানে, নামে, মতো, নিকট, অধিক, পক্ষে, দ্বারা, দিয়া, দিয়ে, কর্তৃক, সঙ্গে, হইতে, হতে, থেকে, চেয়ে, পাছে, ভিতর, ভেতর ইত্যাদি।

• এদের মধ্যে দ্বারা, দিয়া (দিয়ে), কর্তৃক, হইতে (হতে), চেয়ে, অপেক্ষা, মধ্যে প্রভৃতি কয়েকটি অনুসর্গ বিভক্তিরূপে ব্যবহৃত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
২,৬০৭.
'লোভ' শব্দের বিশেষণ রূপ কোনটি?
  1. ক) লুব্ধ
  2. খ) লুপ্ত
  3. গ) লব্ধ
  4. ঘ) লাভ
সঠিক উত্তর:
ক) লুব্ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) লুব্ধ
ব্যাখ্যা
'লোভ' (বিশেষ্য) এর অর্থ = কোনো কিছু পাবার প্রবল বাসনা, লিপ্সা। 
- এ শব্দের বিশেষণ রূপ লুব্ধ।
লুব্ধ (বিশেষণ) এর অর্থ = লোলুপ, লোভী

অন্যদিকে, 
লাভ (বিশেষ্য) এর অর্থ = মুনাফা, আয়, উপকার, প্রাপ্তি। 
লব্ধ (বিশেষণ) এর অর্থ = পাওয়া গিয়েছে এমন, প্রাপ্ত; উপার্জিত।  
লুপ্ত (বিশেষণ) এর অর্থ = লোপ পেয়েছে এমন। 

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
২,৬০৮.
যে ক্রিয়া একজনের চালনায় অন্য কর্তৃক অনুষ্ঠিত হয়, সেই ক্রিয়াকে কী বলে?
  1. যৌগিক ক্রিয়া
  2. মিশ্র ক্রিয়া
  3. সরল ক্রিয়া
  4. প্রযোজক ক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
প্রযোজক ক্রিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রযোজক ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
• প্রযোজক ক্রিয়া:
যে ক্রিয়া একজনের প্রযোজনা বা চালনায় অন্য কর্তৃক অনুষ্ঠিত হয়, সেই ক্রিয়াকে প্রযোজক ক্রিয়া বলে। (সংস্কৃত ব্যাকরণে এটি ণিজন্ত ক্রিয়া বলা হয়)।
যেমন: মা শিশুকে চাঁদ দেখাচ্ছেন।

প্রযোজক কর্তা : যে ক্রিয়া প্রযোজন করে, তাকে প্রযোজক কর্তা বলে।
প্রযোজ্য কর্তা : যাকে দিয়ে ক্রিয়াটি অনুষ্ঠিত হয়, তাকে প্রযোজ্য কর্তা বলে।
যেমন : মা শিশুকে চাঁদ দেখাচ্ছেন। বাক্যে ‘মা’ প্রযোজক কর্তা, ‘শিশুকে' প্রযোজ্য কর্তা, ‘চাঁদ দেখাচ্ছেন' প্রযোজক ক্রিয়া।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ - নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)। 
২,৬০৯.
‘কড় কড়’ কোন প্রকার অব্যয়?
  1. অনুকার
  2. সম্মুচ্চয়ী
  3. অনন্বয়ী
  4. অনুসর্গ
সঠিক উত্তর:
অনুকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুকার
ব্যাখ্যা
অনুকার অব্যয়:
- যে সকল অব্যয় অব্যক্ত রব, শব্দ বা ধ্বনির অনুকরণে গঠিত হয়, সেগুলোকে অনুকার বা ধ্বন্যাত্মক অব্যয় বলে।

যথা:
বজ্রের ধ্বনি - কড় কড়
বৃষ্টির তুমুল শব্দ – ঝম ঝম। 
স্রোতের ধ্বনি – কল কল। 
বাতাসের গতি – শন শন।
শুষ্ক পাতার শব্দ – মর মর। 
নূপুরের আওয়াজ – রুম ঝুম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
২,৬১০.
'ইত্তেফাক' কোন ধরনের নাম-বিশেষ্য?
  1. ব্যক্তিনাম
  2. স্থাননাম
  3. কালনাম
  4. সৃষ্টিনাম
সঠিক উত্তর:
সৃষ্টিনাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৃষ্টিনাম
ব্যাখ্যা

নাম-বিশেষ্য:
- ব্যক্তি, স্থান, দেশ, কাল, সৃষ্টি প্রভৃতির সুনির্দিষ্ট নামকে নাম-বিশেষ্য বলা হয়।
যেমন-
- ব্যক্তিনাম: হাবিব, সজল, লতা, শম্পা।
- স্থাননাম: ঢাকা, বাংলাদেশ, হিমালয়, পদ্মা।
- কালনাম: সোমবার, বৈশাখ, জানুয়ারি, রমজান।
- সৃষ্টিনাম: গীতাঞ্জলি, সঞ্চিতা, ইত্তেফাক, অপরাজেয় বাংলা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি, ২০২৫ সালের সংস্করণ।

২,৬১১.
"শত্রুর সহিত সন্ধি চাই না।" - বাক্যে 'সহিত' অনুসর্গটি কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. সহগামিতা
  2. সমসূত্র
  3. বিরুদ্ধগামিতা
  4. তুলনায়
সঠিক উত্তর:
সমসূত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমসূত্র
ব্যাখ্যা

অনুসর্গের প্রয়োগ:
সহ: সহগামিতা অর্থে - তিনি পুত্রসহ উপস্থিত হলেন।
সহিত: সমসূত্রে অর্থে - শত্রুর সহিত সন্ধি চাই না।
সনে: বিরুদ্ধগামিতা অর্থে - 'দংশনক্ষত শ্যেন বিহঙ্গ যুঝে ভুজঙ্গ সনে।'
সঙ্গে: তুলনায় - মায়ের সঙ্গে এ মেয়ের তুলনা হয় না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

২,৬১২.
পুরাঘটিত অতীতের উদাহরণ নিচের কোন বাক্যে রয়েছে?
  1. শিকারী পাখিটিকে গুলি করল।
  2. গতবছর তাকে কিছুটা অন্যমনস্কই দেখেছিলাম।
  3. গতবছর আমরা এখানে মিছিল করতাম।
  4. সেবার চারদিক ডুবিয়ে বন্যার পানি এল।
  5. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
গতবছর তাকে কিছুটা অন্যমনস্কই দেখেছিলাম।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গতবছর তাকে কিছুটা অন্যমনস্কই দেখেছিলাম।
ব্যাখ্যা
• গতবছর তাকে কিছুটা অন্যমনস্কই দেখেছিলাম।- পুরাঘটিত অতীত কালের উদাহরণ। 
[এই বাক্যে ক্রিয়া অতীতে ঘটেছে এবং এর প্রভাবও শেষ হয়ে গেছে।]

অন্যদিকে,
• সেবার চারদিক ডুবিয়ে বন্যার পানি এল।- সাধারণ অতীত কালের উদাহরণ।
• শিকারী পাখিটিকে গুলি করল।- সাধারণ অতীত কালের উদাহরণ।
• গতবছর আমরা এখানে মিছিল করতাম।- নিত্যবৃত্ত অতীত কালের উদাহরণ।

-----------------------
• অতীত কাল:
যে ক্রিয়া পুর্বে ঘটে গেছে, তাকে অতীত কাল বলে। অতীত কালের চারটি রূপ। যথা:

• সাধারণ অতীত কাল: যে ক্রিয়া সাধারণভাবে অতীত অর্থাৎ বর্তমান কালের পূর্বে সংঘটিত হয়েছে তার সংঘটন কালই সাধারণ অতীত।
যেমন:
- বিড়াল ইঁদুরটিকে ধরল।
- পুলিশ সন্ত্রাসী ছেলেটিকে মেরে ফেলল।
- তারা সেখানে বেড়াতে গেল।
- তখন বাতিটা জ্বলে উঠল।

• ঘটমান অতীত কাল: অতীতে কোনো কাজ চলছিল এবং তখনও কাজটি শেষ হয়নি; এরূপ অর্থে ঘটমান অতীত ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- কাল সন্ধ্যায় আমরা টেলিভিশনে খেলা দেখছিলাম।
- তারা মাঠে খেলছিল।
- আমরা তখন বই পড়ছিলাম।

• পুরাঘটিত অতীত কাল: যে ক্রিয়া অতীতে ঘটেছে এবং এর প্রভাবও শেষ হয়ে গেছে। তার কালকে পুরাঘটিত অতীত কাল বলে।
যেমন:
- দায়িত্বটি আমি পালন করেছিলাম।
- প্রিন্সিপাল স্যার আমাদের বাড়ি গিয়েছিলেন।
- আমি ঐ কাজ করেছিলাম।
[বাক্যে কাজ গুলো অতীতে হয়ে গিয়েছে এবং এর রেশ এবং প্রভাবও শেষ হয়ে গিয়েছে]

• নিত্যবৃত্ত অতীত কাল: অতীতকালে যে ক্রিয়া সাধারণভাবে এবং সচরাচর ঘটতো তার কাল নিত্যবৃত্ত অতীত কাল।
যেমন:
- প্রতিদিন সকালে আমরা শহিদ মিনারে আড্ডা দিতাম।
- তারা সাগরের তীরে ঝিনুক কুড়াত।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।
২,৬১৩.
"এখানে তুমি কী মন্দটা দেখলে?" বাক্যে 'মন্দ' শব্দটি কোন পদ নির্দেশ করছে?
  1. ক) বিশেষ্য
  2. খ) বিশেষণ
  3. গ) যোজক
  4. ঘ) আবেগ
সঠিক উত্তর:
ক) বিশেষ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) বিশেষ্য
ব্যাখ্যা
বাংলা ভাষায় একই পদ বিশেষ্য বিশেষণ উভয় রূপে ব্যবহৃত হতে পারে। যেমন-
মন্দ - এখানে তুমি কী মন্দটা দেখলে? - বিশেষ্য 
          মন্দ কথা বলতে নেই - বিশেষণ
পূণ্য - পূণ্যে মতি হোক - বিশেষ্য 
         তোমার এ পূন্য প্রচেষ্টা সফল হোক  - বিশেষণ


উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৬১৪.
কোনটি গুণবাচক বিশেষ্য?
  1. বহর
  2. ভোজন
  3. শয়ন
  4. দুঃখ
সঠিক উত্তর:
দুঃখ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুঃখ
ব্যাখ্যা
গুণবাচক বিশেষ্য:
- যে বিশেষ্য দ্বারা কোনো বস্তুর দোষ বা গুণের নাম বোঝায়, তা-ই গুণবাচক বিশেষ্য।

যেমন:
- মধুর মিষ্টতার গুণ- মধুরতা, তরল দ্রব্যের গুণ- তারল্য, তিক্ত দ্রব্যের গুণ- তিক্ততা ইত্যাদি।
তদ্রুপ: সৌরভ, স্বাস্থ্য, যৌবন, সুখ, দুঃখ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
ভাববাচক বিশেষ্য - ভোজন, শয়ন।
সমষ্টিবাচক বিশেষ্য - বহর।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
২,৬১৫.
নিচের কোনটি অবস্থাবাচক বিশেষণ?
  1. ক) সবুজ মাঠ
  2. খ) দক্ষ কারিগর
  3. গ) রোগা ছেলে
  4. ঘ) বেলে মাটি
সঠিক উত্তর:
গ) রোগা ছেলে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) রোগা ছেলে
ব্যাখ্যা
রোগা ছেলে- এখানে ছেলের অবস্থা বোঝানো হয়েছে।
তাই এটি অবস্থাবাচক বিশেষণ। 

কোন কোন শ্রেণির শব্দকে বিশেষি করে, সেই অনুযায়ী বিশেষণকে আলাদা করা যায়। বিশেষণ শব্দটি কীভাবে গঠিত হয়েছে, সেই বিবেচনায়ও বিশেষণকে ভাগ করা সম্ভব। এছাড়া বাক্যের মধ্যে বিশেষণটির অবস্থান কোথায় তা দিয়েও বিশেষণকে চিহ্নিত করা যায়। এসব বিবেচনায় বিশেষণকে নানা নামে উপস্থাপন করা যেতে পারে।


১ . বর্ণবাচক/রূপবাচক: যে বিশেষণ দিয়ে রং নির্দেশ করা হয়, তাকে বর্ণবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন – নীল আকাশ, יל ,, সবুজ মাঠ, লাল ফিতা – এখানে ‘নীল’, ‘সবুজ' বা ‘লাল’ হলো বর্ণবাচক বিশেষণ ।

২. গুণবাচক: যে বিশেষণ দিয়ে গুণ বা বৈশিষ্ট্য বোঝায়, তাকে গুণবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন – চালাকছেলে, ঠান্ডা পানি – এখানে ‘চালাক' ও 'ঠান্ডা' হলো গুণবাচক বিশেষণ

৩. অবস্থাবাচক: যে বিশেষণ দিয়ে অবস্থা বোঝায়, তাকে অবস্থাবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন - চলন্ত ট্রেন, তরল পদার্থ – এখানে ‘চলন্ত’ ও ‘তরল’ অবস্থাবাচক বিশেষণ।

8. ক্রমবাচক: যে বিশেষণ দিয়ে ক্রমসংখ্যা বোঝায়, তাকে ক্রমবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন – এক টাকা, আট দিন – এখানে ‘এক' ও ‘আট’ ক্রমবাচক বিশেষণ ৷

৫. পূরণবাচক: যে বিশেষণ দিয়ে পূরণসংখ্যা বোঝায়, তাকে পূরণবাচক বিশেষণ বলে। যেমন – তৃতীয়
প্রজন্ম, ৩৪তম অনুষ্ঠান – এখানে ‘তৃতীয়’ ও ‘৩৪তম’ পূরণবাচক বিশেষণ ।
-
৬. পরিমাণবাচক: যে বিশেষণ দিয়ে পরিমাণ বা আয়তন বোঝায়, তাকে পরিমাণবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন – আধা কেজি চাল, অনেক লোক – এখানে ‘আধা কেজি' ও 'অনেক' পরিমাণবাচক বিশেষণ ।

৭. উপাদানবাচক: যে বিশেষণ দিয়ে উপাদান নির্দেশ করে, তাকে উপাদানবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন – বেলে মাটি, পাথুরে মূর্তি – এখানে ‘বেলে' ও ‘পাথুরে’ উপাদানবাচক বিশেষণ ।

৮. প্রশ্নবাচক: যে বিশেষণ দিয়ে প্রশ্নবাচকতা নির্দেশিত হয়, তাকে প্রশ্নবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন – কেমন গান? কতক্ষণ সময়? – এখানে ‘কেমন' ও 'কতক্ষণ' প্রশ্নবাচক বিশেষণ ।

৯. নির্দিষ্টতাবাচক: যে বিশেষণ দিয়ে বিশেষিত শব্দকে নির্দিষ্ট করা হয়, তাকে নির্দিষ্টতাবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন – এই দিনে, সেই সময় – এখানে ‘এই’ ও ‘সেই’ নির্দিষ্টতাবাচক বিশেষণ ৷

১০. ভাববাচক বিশেষণ: যেসব বিশেষণ বাক্যের অন্তর্গত অন্য বিশেষণকে বিশেষিত করে, সেসব বিশেষণকে ভাববাচক বিশেষণ বলে।
যেমন – ‘খুব ভালো খবর’ ও ‘গাড়িটা বেশ জোরে চলছে' – এসব বাক্যে “খুব’ এবং ‘বেশ’ ভাববাচক বিশেষণ ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (সর্বশেষ সংস্করণ)।
২,৬১৬.
'তিনটি বছর' – এখানে 'তিনটি' কোন পদ? 
  1. বিশেষ্য
  2. অব্যয়
  3. ক্রিয়া
  4. বিশেষণ
সঠিক উত্তর:
বিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশেষণ
ব্যাখ্যা

• 'তিনটি বছর' - এখানে 'তিনটি' সংখ্যাবাচক বিশেষণ পদ

নাম বিশেষণ:
- যে বিশেষণ পদ কোনো বিশেষ্য বা সর্বনাম পদকে বিশেষিত করে, তাকে নাম বিশেষণ বলে।

নাম বিশেষণের প্রকারভেদ:
ক. রূপবাচক: নীল আকাশ, সবুজ মাঠ, কালো মেঘ।
খ. গুণবাচক: চৌকস লোক, দক্ষ কারিগর, ঠাণ্ডা হাওয়া।
গ. অবস্থাবাচক: তাজা মাছ, রোগা ছেলে, খোঁড়া পা।
ঘ. সংখ্যাবাচক: হাজার লোক, দশ দশা, শ টাকা।
ঙ. ক্রমবাচক: দশম শ্রেণি, সত্তর পৃষ্ঠা, প্রথমা কন্যা।
চ. পরিমাণবাচক: বিঘাটেক জমি, পাঁচ শতাংশ ভূমি, হাজার টনী জাহাজ, এক কেজি চাল, দু কিলোমিটার রাস্তা।
ছ. অংশবাচক: অর্ধেক সম্পত্তি, ষোল আনা দখল, সিকি পথ।
জ. উপাদানবাচক: বেলে মাটি, মেটে কলসি, পাথুরে মূর্তি।
ঝ. প্রশ্নবাচক: কতদূর পথ? কেমন অবস্থা?
ঞ. নির্দিষ্টতাজ্ঞাপক: এই লোক, সেই ছেলে, ছাব্বিশে মার্চ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

২,৬১৭.
কোনটি বিশেষ্য পদ নয়?
  1. মধুর
  2. মধুরতা
  3. মধুরত্ব
  4. মাধুর্য
সঠিক উত্তর:
মধুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মধুর
ব্যাখ্যা

• বিশেষ্য পদ নয় - মধুর
- 'মধুর' শব্দটি বিশেষণ পদ।
- এটি একটি তৎসম শব্দ।

শব্দের অর্থ:
- অত্যন্ত মিষ্ট,
- প্রীতিকর।

অন্যদিকে,
বিশেষ্য পদ - মধুরতা, মধুরত্ব এবং মাধুর্য।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

২,৬১৮.
কেবল তোমার জন্যই আমার এ দুর্ভোগ। এ বাক্যে 'কেবল' হচ্ছে-
  1. উপসর্গ
  2. অনুসর্গ
  3. ধাতু
  4. প্রকৃতি
সঠিক উত্তর:
অনুসর্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুসর্গ
ব্যাখ্যা
• কেবল তোমার জন্যই আমার এ দুর্ভোগ। এ বাক্যে 'কেবল' হচ্ছে - অনুসর্গ

অনুসর্গ বা কর্মপ্রবচনীয়:
- বাংলা ভাষায় যে অব্যয় শব্দগুলো কখনো স্বাধীন পদ রূপে, আবার কখনো শব্দ বিভক্তির ন্যায় বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে বাক্যের অর্থ প্রকাশে সাহায্য করে, সেগুলোকে অনুসর্গ বা কর্মপ্রবচনীয় বলে।
- অনুসর্গগুলো কখনো প্রাতিপদিকের পরে ব্যবহৃত হয়, আবার কখনো বা 'কে' এবং 'র' বিভক্তিযুক্ত শব্দের পরে বসে।
যেমন -
→ বিনা: দুঃখ বিনা সুখ লাভ হয় কি মহীতে? (প্রাতিপদিকের পরে)
→ সনে: ময়ূরীর সনে নাচিছে ময়ূর। (ষষ্ঠী বিভক্তিযুক্ত শব্দের পরে)
→ দিয়ে: তোমাকে দিয়ে আমার চলবে না। (দ্বিতীয়ার 'কে' বিভক্তিযুক্ত শব্দের পরে)
→ কেবল: কেবল তোমার জন্যই আমার এ দুর্ভোগ
- বাংলা ভাষায় বহু অনুসর্গ আছে।
যেমন -
প্রতি, বিনা, বিহনে, সহ, ওপর, অবধি, হেতু, মধ্যে, মাঝে, পরে, ভিন্ন, বই, ব্যতীত, জন্যে, জন্য, পর্যন্ত অপেক্ষা, সহকারে, তরে, পানে, নামে, মতো, নিকট, অধিক, পক্ষে, দ্বারা, দিয়া, দিয়ে, কর্তৃক, সঙ্গে, হইতে, হতে, থেকে, চেয়ে, পাছে, ভিতর, ভেতর, কেবল ইত্যাদি।
- এদের মধ্যে দ্বারা, দিয়া (দিয়ে), কর্তৃক, হইতে (হতে), চেয়ে, অপেক্ষা, মধ্যে প্রভৃতি কয়েকটি অনুসর্গ বিভক্তিরূপে ব্যবহৃত হয়। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২,৬১৯.
নিচের কোন বাক্যে বিরোধ যোজকের ব্যবহার ঘটেছে?
  1. বসার সময় নেই, তাই যেতে হচ্ছে।
  2. লাল বা নীল কলমটা আনো।
  3. এত পড়লাম, কিন্তু পরীক্ষায় ভালো করতে পারলাম না।
  4. যদি রোদ ওঠে, তবে রওনা দেব।
সঠিক উত্তর:
এত পড়লাম, কিন্তু পরীক্ষায় ভালো করতে পারলাম না।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এত পড়লাম, কিন্তু পরীক্ষায় ভালো করতে পারলাম না।
ব্যাখ্যা
• যোজক:
পদ, বর্গ বা বাক্যকে যেসব শব্দ যুক্ত করে, সেগুলোকে যোজক বলে। যেমন- এবং, ও, আর, অথবা, তবু, সুতরাং, কারণ, তবে ইত্যাদি। বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী যোজককে ৫টি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়:

• সাধারণ যোজক: এ ধরনের যোজক দুটি শব্দ বা বাক্যকে যোগ করে।
যেমন:
- রহিম ও করিম এই কাজটি করেছে।
- জলদি দোকানে যাও এবং পাউরুটি কিনে আনো।

• বিকল্প যোজক: এ ধরনের যোজক একাধিক শব্দ বা বাক্যের মধ্যে বিকল্প নির্দেশ করে।
যেমন:
- লাল বা নীল কলমটা আনো।
- চা না-হয় কফি খান।

• বিরোধ যোজক: এ ধরনের যোজক বাক্যের দুটি অংশের সংযোগ ঘটায় এবং প্রথম বাক্যের বক্তব্যের সঙ্গে বিরোধ তৈরি করে।
যেমন:
- এত পড়লাম, কিন্তু পরীক্ষায় ভালো করতে পারলাম না।
- তাকে আসতে বললাম, তবু এল না।

• কারণ যোজক: এ ধরনের যোজক বাক্যের দুটি অংশের মধ্যে সংযোগ ঘটায় যার একটি অন্যটির কারণ।
যেমন:
- জিনিসের দাম বেড়েছে, কারণ চাহিদা বেশি।
- বসার সময় নেই, তাই যেতে হচ্ছে।

• সাপেক্ষ যোজক: এ ধরনের যোজক একে অন্যের পরিপূরক হয়ে বাক্যে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- যদি রোদ ওঠে, তবে রওনা দেব।
- যত পড়ছি, ততই নতুন করে জানছি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ সংস্করণ)।
২,৬২০.
'আমাকে কী বাবদ টাকাটা দিলেন?' - এখানে 'বাবদ' কী পদ?
  1. বিশেষ্য 
  2. বিশেষণ 
  3. অনুসর্গ 
  4. ক্রিয়া বিশেষণ 
সঠিক উত্তর:
অনুসর্গ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুসর্গ 
ব্যাখ্যা

• 'আমাকে কী বাবদ টাকাটা দিলেন?' - এখানে 'বাবদ' একটি অনুসর্গ। 

• অনুসর্গ বা কর্মপ্রবচনীয় শব্দ:

যে অব্যয় শব্দগুলো কখনো স্বাধীন পদ রূপে, আবার কখনো শব্দ বিভক্তির ন্যায় বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে বাক্যের অর্থ প্রকাশে সাহায্যে করে, সেগুলোকে অনুসর্গ বা কর্মপ্রবচনীয় বলে। সম্মুখে, সাথে, সামনে, হতে ইত্যাদি। যেসব শব্দের পরে অনুসর্গ বসে, সেসব শব্দের সঙ্গে ‘কে' ‘র’, -- ইত্যাদি বিভক্তিও যুক্ত হতে পারে।।

ফারসি অনুসর্গ: বাংলা ভাষায় ফারসি অনুসর্গের মধ্যে রয়েছে দরুন, বদলে, বনাম, বাদে, বাবদ, বরাবর ইত্যাদি।
যেমন:
- বৃষ্টির দরুন খেলা পণ্ড হয়ে গেল।
- আমাকে এটার বদলে ওটা দিন।
- খেলা চলছে আবাহনী বনাম মোহামেডান।
- আমাকে কী বাবদ টাকাটা দিলেন?

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড হায়াৎ মামুদ।

২,৬২১.
সাধুরীতিতে কোন পদটির দীর্ঘরূপ হয় না ?
  1. ক) বিশেষ্য
  2. খ) সর্বনাম
  3. গ) অব্যয়
  4. ঘ) ক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
গ) অব্যয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) অব্যয়
ব্যাখ্যা
- ন ব্যয় = অব্যয়।
- যার ব্যয় বা পরিবর্তন হয় না, অর্থাৎ যা অপরিবর্তনীয় শব্দ তাই অব্যয়।
- অব্যয় শব্দের সাথে কোনাে বিভক্তিচিহ্ন যুক্ত হয় না, সেগুলাের একবচন বা বহুবচন হয় না এবং সেগুলাের স্ত্রী ও পুরুষবাচকতা নির্ণয় করা যায় না।
- যে পদ সর্বদা অপরিবর্তনীয় থেকে কখনাে বাক্যের শােভা বর্ধন করে, কখনাে একাধিক পদের, বাক্যাংশের বা বাক্যের সংযােগ বা বিয়ােগ সম্বন্ধ ঘটায়, তাকে অব্যয় পদ বলে।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ সংস্করণ)।

[উল্লেখ্য, মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ) অনুসারে, অব্যয় কে শব্দের শ্রেণিবিভাগ থেকে বাদ দেয়া হয়েছে।]
২,৬২২.
কোনটি নিত্য সম্বন্ধীয় অব্যয়?
  1. অধিকন্তু
  2. শন শন
  3. যথা-তথা
  4. অথবা
সঠিক উত্তর:
যথা-তথা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যথা-তথা
ব্যাখ্যা
নিত্য সম্বন্ধীয় অব্যয়:
- কতকগুলো যুগ্ম শব্দ পরস্পরের ওপর নির্ভরশীল, সেগুলো নিত্য সম্বন্ধীয় অব্যয় রূপে পরিচিত।
যেমন:
- যথা-তথা,
- যখন-তখন,
- যেমন-তেমন,
- যেরূপ- সেরূপ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• অধিকন্তু - সংযোজক অব্যয়।
• অথবা - বিয়োজক অব্যয়।
• শন শন - অনুকার দ্বিরুক্তি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
২,৬২৩.
কোন বাক্যটিতে ক্রিয়াজাত অনুসর্গ রয়েছে?
  1. হারানো ঘড়িটার জন্য অনেক কেঁদেছি।
  2. তুমি আসবে বলে আমি দাঁড়িয়ে আছি।
  3. কার কাছে গেলে জানা যাবে?
  4. মাথার উপরে নিল আকাশ।
সঠিক উত্তর:
তুমি আসবে বলে আমি দাঁড়িয়ে আছি।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তুমি আসবে বলে আমি দাঁড়িয়ে আছি।
ব্যাখ্যা
ক্রিয়াজাত অনুসর্গ:
- যেসব অনুসর্গ ক্রিয়াপদ থেকে তৈরি হয়েছে, সেগুলোকে ক্রিয়াজাত অনুসর্গ বলে।
যেমন:
• করে: ভালো করে খেয়ে নাও।
• ধরে: বহুদিন ধরে অপেক্ষা করে আছি।
• দিয়ে: মন দিয়ে লেখাপড়া করা দরকার।
• বলে: তুমি আসবে বলে আমি দাঁড়িয়ে আছি।

সাধারণ অনুসর্গ:
- যেসব অনুসর্গ ক্রিয়া ছাড়া অন্য শব্দ থেকে তৈরি হয়, সেগুলোকে সাধারণ অনুসর্গ বলে।
যেমন: 
• উপরে: মাথার উপরে নিল আকাশ।
• জন্য: হারানো ঘড়িটার জন্য অনেক কেঁদেছি।
• কাছে: কার কাছে গেলে জানা যাবে?
• দ্বারা: এমন কাজ তোমার দ্বারা হবে না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৮ ও ২০২১ সংস্করণ)।
২,৬২৪.
কোন বাক্যটি প্রযোজক ক্রিয়া দ্বারা গঠিত?
  1. বাতাস হু-হু করে বইছে।
  2. আমরা তাজমহল দর্শন করলাম। 
  3. শিক্ষক ছাত্রদের দিয়ে নোট লিখাচ্ছেন।
  4. আমি নদীতে সাঁতার কাটলাম।
সঠিক উত্তর:
শিক্ষক ছাত্রদের দিয়ে নোট লিখাচ্ছেন।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শিক্ষক ছাত্রদের দিয়ে নোট লিখাচ্ছেন।
ব্যাখ্যা

• প্রযোজক ক্রিয়া:
যে ক্রিয়া একজনের প্রযোজনা বা চালনায় অন্য কর্তৃক অনুষ্ঠিত হয়, সেই ক্রিয়াকে প্রযোজক ক্রিয়া বলে। (সংস্কৃত ব্যাকরণে এটি ণিজন্ত ক্রিয়া বলা হয়)।
যেমন: মা শিশুকে চাঁদ দেখাচ্ছেন।

প্রযোজক কর্তা : যে ক্রিয়া প্রযোজন করে, তাকে প্রযোজক কর্তা বলে।
প্রযোজ্য কর্তা : যাকে দিয়ে ক্রিয়াটি অনুষ্ঠিত হয়, তাকে প্রযোজ্য কর্তা বলে।
যেমন : মা শিশুকে চাঁদ দেখাচ্ছেন। বাক্যে ‘মা’ প্রযোজক কর্তা, ‘শিশুকে' প্রযোজ্য কর্তা, ‘চাঁদ দেখাচ্ছেন' প্রযোজক ক্রিয়া।

সঠিক উত্তর: গ) শিক্ষক ছাত্রদের দিয়ে নোট লিখাচ্ছেন।
কারণ: লিখাচ্ছেন = লিখানো → শিক্ষক প্রযোজনা করে ছাত্রদের দিয়ে লিখানো হচ্ছে।
→ প্রযোজক কর্তা = শিক্ষক;
→ প্রযোজ্য কর্তা = ছাত্ররা;
→ প্রযোজক ক্রিয়া = লিখাচ্ছেন।

অন্য অপশনে,
বাতাস হু-হু করে বইছে। - যৌগিক ক্রিয়ার উদাহরণ।
'আমরা তাজমহল দর্শন করলাম।', আমি নদীতে সাঁতার কাটলাম।'- মিশ্র ক্রিয়ার উদাহরণ। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ - নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)। 

২,৬২৫.
‘মন দিয়ে পড়।’- বাক্যটি ক্রিয়ার কোন ভাব নির্দেশ করে?
  1. সাপেক্ষ ভাব
  2. আকাঙক্ষা প্রকাশক ভাব
  3. অনুজ্ঞা ভাব
  4. নির্দেশক ভাব
সঠিক উত্তর:
অনুজ্ঞা ভাব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুজ্ঞা ভাব
ব্যাখ্যা
• ‘মন দিয়ে পড়।’- বাক্যটি ক্রিয়ার অনুজ্ঞা ভাব নির্দেশ করে।

-----------------------------
• ক্রিয়ার যে অবস্থার দ্বারা তা ঘটার ধরন বা রীতি প্রকাশ পায়, তাকে ক্রিয়ার ভাব বা প্রকার বলে।

- ক্রিয়ার ভাব বা ধরন চার প্রকার।
১. নির্দেশক ভাব,
২. অনুজ্ঞা ভাব,
৩. সাপেক্ষ ভাব,
৪. আকাঙক্ষা প্রকাশক ভাব।

• নির্দেশক ভাব: সাধারণ ঘটনা নির্দেশ করলে বা কিছু জিজ্ঞাসা করলে ক্রিয়াপদের নির্দেশক ভাব হয়।
ক. সাধারণ নির্দেশক: আমরা বই পড়ি। তারা বাড়ি যাবে।
খ. প্রশ্ন জিজ্ঞাসায়: আপনি কি আসবেন? সে কি গিয়েছিল?

• অনুজ্ঞা ভাব: আদেশ, নিষেধ, উপদেশ, অনুরোধ, আশীর্বাদ ইত্যাদি সূচিত হলে ক্রিয়াপদের অনুজ্ঞা ভাব
হয়।
যেমন-
ক. আদেশাত্মক-
• বর্তমান কালে: চুপ কর।
• ভবিষ্যৎ কালে: তুমি কাল যেও।

খ. নিষেধাত্মক-
• বর্তমান কালে: অন্যায় কাজ করো না।
• ভবিষ্যৎ কালে: মিথ্যা বলবে না।

গ. অনুরোধসূচক-
• বর্তমান কালে: ছাতাটা দিন তো ভাই।
• ভবিষ্যৎ কালে: আপনারা আসবেন।

ঘ. উপদেশাত্মক-
• বর্তমানে কালে: মন দিয়ে পড়।
• ভবিষ্যৎ কালে: স্বাস্থ্যের প্রতি দৃষ্টি রেখো।

• সাপেক্ষ ভাব: একটি ক্রিয়ার সংঘটন অন্য একটি ক্রিয়ার ওপর নির্ভর করলে, নির্ভরশীল ক্রিয়াকে সাপেক্ষ ভাবের ক্রিয়া বলা হয়। যেমন-
ক. সম্ভাবনায়: তিনি ফিরে এলে সবকিছুর মীমাংসা হবে। যদি সে পড়ত তবে পাশ করত।
খ. উদ্দেশ্য বোঝাতে: ভালো করে পড়লে সফল হবে।
গ. ইচ্ছা বা কামনায়: আজ বাবা বেঁচে থাকলে আমার এত কষ্ট হতো না।
তার মঙ্গল হোক।

• আকাঙক্ষা প্রকাশক ভাব: আকাঙ্ক্ষা প্রকাশক ভাব যে ক্রিয়াপদে বক্তা সোজাসুজি কোনো ইচ্ছা বা আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করে, তাকে আকাঙ্ক্ষা প্রকাশক ভাবের ক্রিয়া বলা হয়।
যেমন:
- সে যাক।
- যা হয় হোক।
- সে একটু হাসুক।
- বৃষ্টি আসে আসুক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২,৬২৬.
নিচের কোনটি বিশেষণ পদ?
  1. তারুণ্য
  2. মধুরতা
  3. দুঃখ
  4. দুঃসাহসী
সঠিক উত্তর:
দুঃসাহসী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুঃসাহসী
ব্যাখ্যা

• বিশেষণ:
যে শব্দ দিয়ে সাধারণত বিশেষ্য ও সর্বনামের গুণ, দোষ, সংখ্যা, পরিমাণ, অবস্থা ইত্যাদি বোঝায় তাকে বিশেষণ বলে।

• বিশেষণ পদ: দুঃসাহসী। 

এরূপ কিছু বিশেষণ পদ- চিরন্তন, প্রস্তুত, চৌকশ, দক্ষ, বিচক্ষণ। 

----------------------
• গুণবাচক বিশেষ্য:
যে বিশেষ্য দ্বারা কোনো বস্তুর দোষ বা গুণের নাম বোঝায়, তা-ই গুণবাচক বিশেষ্য।
যথা- মধুর মিষ্টত্বের গুণ- মধুরতা, তরল দ্রব্যের গুণ-তারল্য, তিক্ত দ্রব্যের দোষ বা গুণ- তিক্ততা, তরুণের গুণ- তারুণ্য ইত্যাদি।

তদ্রুপ- সৌরভ, স্বাস্থ্য, যৌবন, সুখ, দুঃখ

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

২,৬২৭.
নিচের কোন বাক্যে সকর্মক ক্রিয়ার উদাহরণ পাওয়া যায়?
  1. সে ঘুমায়।
  2. সে বই পড়ছে।
  3. সে মাটিতে শোয়।
  4. সে দৌড়ায়।
সঠিক উত্তর:
সে বই পড়ছে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সে বই পড়ছে।
ব্যাখ্যা
• "সে বই পড়ছে।" - সকর্মক ক্রিয়ার উদাহরণ।
অপশনের অন্যগুলো - অকর্মক ক্রিয়ার উদাহরণ।
------------ 
বাক্যের মধ্যে কর্মের উপস্থিতির ভিত্তিতে ক্রিয়া তিন প্রকার। 
যথা:
১. অকর্মক ক্রিয়া: 
বাক্যে ক্রিয়ার কোনাে কর্ম না থাকলে সেই ক্রিয়াকে অকর্মক ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- সে ঘুমায়।
- সে মাটিতে শোয়।
- সে ভালো দৌড়ায়।
[এই বাক্যেগুলোতে কোনাে কর্ম নেই।]
 
২. সকর্মক ক্রিয়া: 
বাক্যের মধ্যে ক্রিয়ার কর্ম থাকলে সেই ক্রিয়াকে সকর্মক ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- সে বই পড়ছে।
- বাবা আমাকে একটি কলম কিনে দিয়েছেন।

৩. দ্বিকর্মক ক্রিয়া: 
বাক্যের মধ্যে ক্রিয়ার দুটি কর্ম থাকলে সেই ক্রিয়াকে দ্বিকর্মক ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- তপু দীপুকে বলটি দিল।
- শিক্ষক ছাত্রকে বই দিলেন।
[এই বাক্যে ‘দিলেন একটি দ্বিকর্মক ক্রিয়া। কী দিলেন প্রশ্নের উত্তর দেয় মুখ্য কর্ম (বই), আর কাকে দিলেন প্রশ্নের উত্তর দেয় গৌণ কর্ম (ছাত্রকে)।]
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ), ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ।
২,৬২৮.
কোনটি বিশেষ্য পদ?
  1. চাতুর্য
  2. চালাক
  3. চতুর
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
চাতুর্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চাতুর্য
ব্যাখ্যা
• বিশেষ্য পদ  - চাতুর্য
- শব্দটি সংস্কৃত ভাষা হতে আগত।

শব্দের অর্থ:
- চতুরতা।

অন্যদিকে,
বিশেষণ পদ - চালাক, চতুর।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
২,৬২৯.
“মরি তো মরব”- ‘তো’ কোন ধরনের পদের দৃষ্টান্ত?
  1. আবেগ
  2. ক্রিয়াবিশেষণ
  3. যোজক
  4. ক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
ক্রিয়াবিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্রিয়াবিশেষণ
ব্যাখ্যা

• পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ:
বাক্যের মধ্যে বিশেষ কোনো ভূমিকা পালন না করলেও ‘কি’, ‘যে’, ‘বা’, ‘না’, ‘তো’ প্রভৃতি পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ হিসেবে কাজ করে।
যেমন:
- মরি তো মরব।
- আমি কি যাব।

• ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদের বই অনুসারে,
পদাণু হচ্ছে আপাত অর্তহীন পদখণ্ড যা পদের সঙ্গে যুক্ত বিশেষ ইঙ্গিত বা অর্থ প্রকাশ করে। বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত ক্রিয়াবিশেষণ পদাণুগুলো হলো: তো, না, কি, যে, বা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

২,৬৩০.
"১৯৩৯ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়।" - বাক্যটি কোন কালের উদাহরণ?
  1. নিত্যবৃত্ত বর্তমান
  2. সাধারণ অতীত
  3. সাধারণ বর্তমান
  4. নিত্যবৃত্ত অতীত
সঠিক উত্তর:
নিত্যবৃত্ত বর্তমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিত্যবৃত্ত বর্তমান
ব্যাখ্যা
নিত্যবৃত্ত বর্তমান কাল:
স্বাভাবিক বা অভ্যস্ততা বোঝালে সাধারণ বর্তমান কালের ক্রিয়াকে নিত্যবৃত্ত বর্তমান কাল বলে।
যথা -
- সন্ধ্যায় সূর্য অস্ত যায়। (স্বাভাবিকতা)
- আমি রোজ সকালে বেড়াতে যাই। (অভ্যস্ততা)

• নিত্যবৃত্ত বর্তমান কালের বিশিষ্ট প্রয়োগ:
(১) স্থায়ী সত্য প্রকাশে: চার আর তিনে সাত হয়।

(২) ঐতিহাসিক বর্তমান:
অতীতের কোনো ঐতিহাসিক ঘটনায় যদি নিত্যবৃত্ত বর্তমান কালের প্রয়োগ হয়, তাহলে তাকে ঐতিহাসিক বর্তমান কাল বলে।
যেমন -
- বাবরের মৃত্যুর পর হুমায়ুন দিল্লির সিংহাসনে আরোহণ করেন।
- ১৯৩৯ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়।

(৩) কাব্যের ভণিতায়:
- মহাভারতের কথা অমৃত সমান।
কাশীরাম দাস ভনে শুনে পুণ্যবান।

(৪) অনিশ্চয়তা প্রকাশে: কে জানে দেশে আবার সুদিন আসবে কি না।

(৫) 'যদি', 'যখন', 'যেন' প্রভৃতি শব্দের প্রয়োগে অতীত ও ভবিষ্যৎ কাল জ্ঞাপনের জন্য সাধারণ বর্তমান কালের ব্যবহার হয়।
যেমন -
- বৃষ্টি যদি আসে, আমি বাড়ি চলে যাব।
- সকলেই যেন সভায় হাজির থাকে।
- বিপদ যখন আসে, তখন এমনি করেই আসে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২,৬৩১.
‘বসার সময় নেই, তাই যেতে হচ্ছে।’- এখানে ‘তাই’ কোন পদের উদাহরণ?
  1. অনুসর্গ
  2. যোজক
  3. আবেগ
  4. উপসর্গ
সঠিক উত্তর:
যোজক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যোজক
ব্যাখ্যা
• যোজক:
পদ, বর্গ বা বাক্যকে যেসব শব্দ যুক্ত করে, সেগুলোকে যোজক বলে। যেমন- এবং, ও, আর, অথবা, তবু, সুতরাং, কারণ, তবে ইত্যাদি। বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী যোজককে ৫টি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়:

• সাধারণ যোজক: এ ধরনের যোজক দুটি শব্দ বা বাক্যকে যোগ করে।
যেমন:
- রহিম ও করিম এই কাজটি করেছে।
- জলদি দোকানে যাও এবং পাউরুটি কিনে আনো।

• বিকল্প যোজক: এ ধরনের যোজক একাধিক শব্দ বা বাক্যের মধ্যে বিকল্প নির্দেশ করে।
যেমন:
- লাল বা নীল কলমটা আনো।
- চা না-হয় কফি খান।

• বিরোধ যোজক: এ ধরনের যোজক বাক্যের দুটি অংশের সংযোগ ঘটায় এবং প্রথম বাক্যের বক্তব্যের সঙ্গে বিরোধ তৈরি করে।
যেমন:
- এত পড়লাম, কিন্তু পরীক্ষায় ভালো করতে পারলাম না।
- তাকে আসতে বললাম, তবু এল না।

• কারণ যোজক: এ ধরনের যোজক বাক্যের দুটি অংশের মধ্যে সংযোগ ঘটায় যার একটি অন্যটির কারণ।
যেমন:
- জিনিসের দাম বেড়েছে, কারণ চাহিদা বেশি।
- বসার সময় নেই, তাই যেতে হচ্ছে।

• সাপেক্ষ যোজক: এ ধরনের যোজক একে অন্যের পরিপূরক হয়ে বাক্যে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- যদি রোদ ওঠে, তবে রওনা দেব।
- যত পড়ছি, ততই নতুন করে জানছি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩-সংস্করণ)।
২,৬৩২.
“তোমরা নিজেরা নিজেরা গিয়ে পার্ক থেকে ঘুরে এসো।”- বাক্যটিতে “নিজেরা নিজেরা” কোন ধরনের সর্বনাম পদ নির্দেশ করছে? 
  1. সকলবাচক সর্বনাম
  2. ব্যতিহারিক সর্বনাম
  3. আত্মবাচক সর্বনাম
  4. ব্যক্তিবাচক সর্বনাম 
সঠিক উত্তর:
ব্যতিহারিক সর্বনাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যতিহারিক সর্বনাম
ব্যাখ্যা

“তোমরা নিজেরা নিজেরা গিয়ে পার্ক থেকে ঘুরে এসো।”—
এখানে “নিজেরা নিজেরা” হলো ব্যতিহারিক বা পারস্পারিক সর্বনাম এর উদাহরণ। 
-------------------------------- 
ব্যতিহারিক বা পারস্পারিক সর্বনাম:
- ব্যতিহারিক সর্বনাম হলো সেইসব সর্বনাম, যা দুই বা ততোধিক ব্যক্তি বা বস্তুর মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক বা পারস্পরিক ক্রিয়া প্রকাশ করে। 
- অর্থাৎ, এই সর্বনামগুলো ব্যবহার করা হয় তখন, যখন একাধিক ব্যক্তি বা বস্তু একে অপরের প্রতি কোনো কাজ করে বা পারস্পরিক ক্রিয়া সম্পন্ন করে।
- এগুলো সাধারণত একই শব্দের পুনরাবৃত্তি বা সামান্য পরিবর্তনের মাধ্যমে গঠিত হয়।
- যেমন: আপনা-আপনি, নিজে-নিজে, আপসে, পরস্পর, নিজেরা-নিজেরা। 

- উদাহরণস্বরূপ,
- "পরস্পর না মিলতে পারলে বন্ধুত্ব গড়বে কী করে"? 
- “তারা আপনা-আপনিই সব কাজ করেছে”,
- “তারা পরস্পরকে সাহায্য করে”,
- “শিক্ষার্থীরা নিজে-নিজে খেলা করছে”- এই বাক্যগুলোতে দেখা যায়, কাজটি কেবল একমুখী নয়, বরং পক্ষগুলোর মধ্যে আবর্তিত হয়েছে।
------------------------
অন্যদিকে,
সকলবাচক সর্বনাম: 
- সকলবাচক সর্বনাম হচ্ছে বাক্তি, বস্তু বা ভাবের সমষ্টি। 
- যেমন- 
- সবাই গেছে বনে। 
- সকলেই খাবার খেয়েছেন। 
- সকলেই ত্রাণসামগ্রী পেয়েছেন। 
- সবাই সমুদ্রে ঘুরতে যেতে চাচ্ছে। 

আত্মবাচক সর্বনাম:
- যে সকল সর্বনাম দ্বারা কর্তা নিজেই কোনো ক্রিয়া সম্পাদন করেছে তা প্রকাশ পায়, তাদেরকে আত্মবাচক সর্বনাম বলা হয়।
- উদাহরণ: স্বয়ং, নিজ, নিজে, আপনি, খোদ, আপনা-আপনি, ও নিজে, নিজেই।

ব্যক্তিবাচক সর্বনাম (পুরুষবাচক সর্বনাম):
- যে সকল সর্বনাম কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা ব্যক্তিসমূহকে নির্দেশ করে বা তাদের পরিবর্তে ব্যবহৃত হয়, তাদেরকে ব্যক্তিবাচক সর্বনাম বা পুরুষবাচক সর্বনাম বলা হয়।
- এগুলো মূলত বিশেষ্য বা নামের পরিবর্তে ব্যবহৃত হয়।
- উদাহরণ: আমি, আমরা, তুমি, তোমরা, সে, তারা, তিনি, আপনি, তুই, আমাকে, তোমাকে, তাকে, তাদের, আমাদের, তাহার ইত্যাদি।

- পুরুষভেদে ভাগ:
- উত্তম পুরুষ: আমি, আমরা, আমার, আমাদের, আমাকে।
- মধ্যম পুরুষ: তুমি, তোমরা, তুই, তোরা, আপনি, আপনারা, তোমার, তোমাকে, আপনাকে।
- নাম পুরুষ: সে, তারা, তিনি, তাহারা, তাঁর, তাদের, তাঁকে, তাকে

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 

২,৬৩৩.
যেসব শব্দাংশ শব্দমূলের পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে কী বলে?
  1. প্রত্যয়
  2. উপসর্গ
  3. বলক
  4. বিভক্তি
সঠিক উত্তর:
উপসর্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপসর্গ
ব্যাখ্যা
উপসর্গ:
- যেসব শব্দাংশ শব্দমূলের পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে উপসর্গ বলে।
- 'পরিচালক' শব্দের ‘পরি অংশ একটি উপসর্গ।

অন্যদিকে,
বলক:
- যেসব শব্দাংশ পদের সাথে যুক্ত হলে বক্তব্য জোরালো হয়, সেগুলোকে বলক বলে।
- ‘তখনই’ বা ‘এখনও’ পদের ‘ই’ বা ‘ও’ হলো বলকের উদাহরণ।

প্রত্যয়:
- যেসব শব্দাংশ শব্দমূলের পরে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে প্রত্যয় বলে।
- 'সাংবাদিক' শব্দের 'ইক' অংশ একটি প্রত্যয়।

বিভক্তি:
- ক্রিয়ার কাল নির্দেশের জন্য এবং কারক বোঝাতে পদের সঙ্গে যেসব শব্দাংশ যুক্ত থাকে, সেগুলোকে বিভক্তি বলে।
- বিভক্তি দুই প্রকার: ক্রিয়া-বিভক্তি ও কারক-বিভক্তি।
- ‘করলাম’ ক্রিয়াপদের ‘লাম’ শব্দাংশ হলো ক্রিয়া-বিভক্তি এবং ‘কৃষকের’ পদের ‘এর’ শব্দাংশ কারক-বিভক্তির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ-২০২১)।
২,৬৩৪.
যেসব শব্দ দিয়ে ব্যক্তি, প্রাণী, স্থান, বস্তু, ধারণা ও গুণের নাম বোঝায় তাদেরকে কোন পদ বলে?
  1. বিশেষ্য
  2. বিশেষণ
  3. অব্যয়
  4. সর্বনাম
সঠিক উত্তর:
বিশেষ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশেষ্য
ব্যাখ্যা
• বিশেষ্য:
• যেসব শব্দ দিয়ে ব্যক্তি, প্রাণী, স্থান, বস্তু, ধারণা ও গুণের নাম বোঝায়, সেগুলোকে বিশেষ্য বলে। যেমন নজরুল, বাঘ, ঢাকা, ইট, ভোজন, সততা ইত্যাদি।

• বিশেষ্যের শ্রেণিবিভাগ

বিশেষ্য সাধারণত ছয় প্রকার:
১. নাম-বিশেষ্য,
২. জাতি-বিশেষ্য,
৩. বস্তু-বিশেষ্য,
৪. সমষ্টি-বিশেষ্য,
৫. গুণ-বিশেষ্য এবং
৬. ক্রিয়া-বিশেষ্য।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি (২০২৪ সংস্করণ)।
২,৬৩৫.
ভাব বিশেষ্য এর উদাহরণ কোনটি?
  1. ক) গোলাপ
  2. খ) পাপ
  3. গ) হাত
  4. ঘ) সভা
সঠিক উত্তর:
খ) পাপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) পাপ
ব্যাখ্যা
ইন্দ্রিয়গ্রাহ্যতার দিক থেকে সাধারণ বিশেষ্যকে দুটি উপশ্রেণিতে ভাগ করা যায়। যথা : 

মূর্ত বিশেষ্য : এমন ব্যাক্তি বা বস্তুর নাম বোঝায় যা দেখা যায়, স্পর্শ করা, ঘ্রান নেওয়া কিংবা পরিমাপ করা যায় ।
যেমন -  গোলাপ, বাক্স, হাত ইত্যাদি।

ভাব বিশেষ্য : নির্বস্তুক অবস্থা, মনোগত ভাব বা গুনগত বৈশিষ্ট্য ইত্যাদির নাম বোঝায় ।
যেমন - আনন্দ, ইচ্ছা, শান্তি, ক্ষমা, পাপ, যুক্তি, রাগ ইত্যাদি।
- এ শ্রেণীর বিশেষ্যের সঙ্গে বহুবচন প্রয়োগ খুব স্বাভাবিক নয়।

উৎস : বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (প্রথম খন্ড)।
২,৬৩৬.
‘আজকাল ফলের চেয়ে ফুলের দাম বেশি।’- বাক্যে ‘আজকাল’ শব্দটি কোন পদ?
  1. বিশেষ্য
  2. ক্রিয়া বিশেষণ
  3. অব্যয়
  4. বিশেষণ
সঠিক উত্তর:
ক্রিয়া বিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্রিয়া বিশেষণ
ব্যাখ্যা
• ‘আজকাল ফলের চেয়ে ফুলের দাম বেশি।’- বাক্যে ‘আজকাল’ শব্দটি কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ।

ক্রিয়াবিশেষণ: যে শব্দ ক্রিয়াকে বিশেষিত করে, তাকে ক্রিয়াবিশেষণ বলে। ক্রিয়াবিশেষণকে কয়েক ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা-
• কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ:
এই ধরনের ক্রিয়াবিশেষণ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল নির্দেশ করে।
যেমন-
যথাসময়ে কামাল হাজির হয়েছিল।
আজকাল ফলের চেয়ে ফুলের দাম বেশি।

• ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ:
কোনাে ক্রিয়া কীভাবে সম্পন্ন হয়, ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ তা নির্দেশ করে।
যেমন -
টিপ টিপ বৃষ্টি পড়ছে।
ঠিকভাবে চললে কেউ কিছু বলবে না।

• স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ:
ক্রিয়ার স্থান নির্দেশ করে স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ।
যেমন -
মিছিলটি সামনে এগিয়ে যায়।
তাকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

• নেতিবাচক ক্রিয়াবিশেষণ:
না, নি ইত্যাদি দিয়ে ক্রিয়ার নেতিবাচক অবস্থা বােঝায়। এগুলাে সাধারণত ক্রিয়ার পরে বসে।
যেমন -
সে এখন যাবে না।

• পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ:
বাক্যের মধ্যে বিশেষ কোনাে ভূমিকা পালন না করলেও ‘কি’, ‘যে, বা',না’, ‘তাে  প্রভৃতি পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ হিসেবে কাজ করে।
যেমন -
কি: আমি কি যাব?
যে: খুব যে বলেছিলেন আসবেন!

উৎস:
- বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, (২০২২ সংস্করণ)।
২,৬৩৭.
‘লাবণ্য’ কোন পদ?
  1. ক) বিশেষ্য
  2. খ) বিশেষণ
  3. গ) অব্যয়
  4. ঘ) সর্বনাম
সঠিক উত্তর:
ক) বিশেষ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) বিশেষ্য
ব্যাখ্যা
• ‘লাবণ্য’ বিশেষ্য পদ।

• বিশেষ্য: যেসব শব্দ দিয়ে ব্যক্তি, প্রাণী, স্থান, বস্তু, ধারণা ও গুণের নাম বোঝায়, সেগুলোকে বিশেষ্য বলে। যেমন- নজরূল, বাঘ, ঢাকা, ইট, ভোজন, সততা ইত্যাদি।

• বিশেষণ: যে শব্দ বিশেষ্য ও সর্বনামের গুণ, দোষ, সংখ্যা, পরিমাণ, অবস্থা ইত্যাদি বোঝায়, তাকে বিশেষণ পদ বলে।
যেমন-
সুন্দর ফুল
বাজে কথা
পঞ্চাশ টাকা
হাজার সমস্যা

• সর্বনাম: বিশেষ্যের পরিবর্তে ব্যবহৃত শব্দকে সর্বনাম শব্দ বলে। সর্বনামকে কয়েকটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয় যথা:
১. ব্যক্তিবাচক সর্বনাম
২. আত্মবাচক সর্বনাম
৩. নির্দেশক সর্বনাম
৪. অনির্দিষ্ট সর্বনাম
৫. প্রশ্নবাচক সর্বনাম
৬. সাপেক্ষ সর্বনাম
৭. পারস্পরিক সর্বনাম
৮. সকলবাচক সর্বনাম
৯. অন্যবাচক সর্বনাম


উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৬৩৮.
নিচের কোনটি জাতিবাচক বিশেষ্য?
  1. পানি
  2. পর্বত
  3. জনতা
  4.  মাটি
সঠিক উত্তর:
পর্বত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পর্বত
ব্যাখ্যা

• জাতিবাচক বিশেষ্য: 
যে পদ দ্বারা কোনো একজাতীয় প্রাণী বা পদার্থের সাধারণ নাম বোঝায়, তাকে জাতিবাচক বিশেষ্য বলে। যেমন- মানুষ, গরু, পাখি, গাছ, পর্বত, নদী, ইংরেজ।

অন্যদিকে, 
-----------------
কস্তুবাচক বা দ্রব্যবাচক বিশেষ্য:
যে পদে কোনো উপাদানবাচক পদার্থের নাম বোঝায়, তাকে বস্তুবাচক বা দ্রব্যবাচক বিশেষ্য বলে। এই জাতীয় বস্তুর সংখ্যা ও পরিমাণ নির্ণয় করা যায়। যথা- বই, খাতা, কলম, থালা, বাটি, মাটি, চাল, চিনি, লবণ, পানি

সমষ্টিবাচক বিশেষ্য:
যে পদে বেশকিছু সংখ্যক ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টি বোঝায়, তা-ই সমষ্টিবাচক বিশেষ্য। যথা- সভা, জনতা, সমিতি, পঞ্চায়েত, মাহফিল, ঝাঁক, বহর, দল।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

২,৬৩৯.
‘নিখাদ’ শব্দে ‘নি’ উপসর্গ দ্বারা কী অর্থ প্রকাশ পেয়েছে?
  1. ক) নিখুদ
  2. খ) খাঁটি
  3. গ) নেই এমন
  4. ঘ) পরিষ্কার
সঠিক উত্তর:
গ) নেই এমন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) নেই এমন
ব্যাখ্যা

- যে অর্থহীন শব্দাংশ অন্য শব্দের শুরুতে বসে নতুন শব্দ গঠণ করে তাকে উপসর্গ বলে।
- শব্দের অর্থ পরিবর্তন করা উপসর্গের একটি কাজ।
যেমন, নি+খাদ = নিখাদ শব্দে নি শব্দাংশটি 'নেই এমন' অর্থে প্রকাশ হয়েছে।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী (২০২১ ও ২০১৯ সংস্করণ)।

২,৬৪০.
অনুসর্গ কত প্রকার?
  1. ২ প্রকার
  2. ৩ প্রকার
  3. ৪ প্রকার
  4. ৫ প্রকার
সঠিক উত্তর:
২ প্রকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২ প্রকার
ব্যাখ্যা

অনুসর্গকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়: 
- সাধারণ অনুসর্গ,
- ক্রিয়াজাত অনুসর্গ।
 
সাধারণ অনুসর্গ:
- যেসব অনুসর্গ ক্রিয়া ছাড়া অন্য শব্দ থেকে তৈরি হয়, সেগুলোকে সাধারণ অনুসর্গ বলে।
যেমন - 
- উপরে: মাথার উপরে নীল আকাশ।
- কাছে : কার কাছে গেলে জানা যাবে?
 
ক্রিয়াজাত অনুসর্গ: 
- যেসব অনুসর্গ ক্রিয়াপদ থেকে তৈরি হয়েছে, সেগুলোকে ক্রিয়াজাত অনুসর্গ বলে।
যেমন - 
- করে: ভালো করে খেয়ে নাও।
- দিয়ে: মন দিয়ে পড়ালেখা করা দরকার।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ)।

২,৬৪১.
ভালো করে পড়াশোনা করবে- এ বাক্যে ‘করবে’ কোন পদ?
  1. ক) বিশেষ্য
  2. খ) আবেগ
  3. গ) ক্রিয়া
  4. ঘ) সর্বনাম
সঠিক উত্তর:
গ) ক্রিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
• বাক্যে উদ্দেশ্য বা কর্তা কী করে বা কর্তার কী ঘটে বা হয়, তা নির্দেশ করা হয় যে পদ নিয়ে তাকে ক্রিয়া বলে।
যেমন-
রাজীব খেলছে
বৃষ্টি হতে পারে

- ভাবপ্রকাশের দিক দিয়ে ক্রিয়া দুই প্রকার:
১. সমাপিকা ক্রিয়া: যে ক্রিয়া দিয়ে ভাব সম্পূর্ণ হয়, তাকে সমাপিকা ক্রিয়া বলে।
যেমন- ভালো করে পড়াশোনা করবে
২. অসমাপিকা ক্রিয়া: যে ক্রিয়া ভাব সম্পূর্ণ করতে পারে না, তাকে অসমাপিকা ক্রিয়া বলে।
যেমন- ভালো করে পড়াশোনা করলে ভালো ফল পাবে।

উৎস:- বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১সংস্করণ)।
২,৬৪২.
‘তাঁর কথায় কেউ কেউ দুঃখ পেয়েছে।’ এ বাক্যে 'কেউ' হলো-
  1. ক) নির্দেশক সর্বনাম
  2. খ) অনির্দিষ্ট সর্বনাম
  3. গ) সকলবাচক সর্বনাম
  4. ঘ) অন্যবাচক সর্বনাম
সঠিক উত্তর:
খ) অনির্দিষ্ট সর্বনাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) অনির্দিষ্ট সর্বনাম
ব্যাখ্যা

সর্বনামের শ্রেণিবিভাগ:
- ব্যাক্তিবাচক সর্বনাম: আমি , আমরা, তুমি, তোমরা ইত্যাদি।
- আত্মবাচক সর্বনাম: স্বয়ং, নিজ , খোদ, আপনি ইত্যাদি।
- প্রশ্নবাচক সর্বনাম: কে, কি, কোন, কার ইত্যাদি।
- নির্দেশক সর্বনাম: এ, ঐ, ইনি, উনি ইত্যাদি।
- অনির্দিষ্ট সর্বনাম: কোন, কেউ কিছু ইত্যাদি।
- সকলবাচক সর্বনাম: সবাই, সব, সকল, সমুদয় ইত্যাদি।
- অন্যবাচক সর্বনাম: অন্য , অপর, পর ইত্যাদি।
- পারষ্পরিক সর্বনাম: পরষ্পর, আপনা আপনি, নিজে নিজে ইত্যাদি।
- সাপেক্ষ সর্বনাম: যে-যে, যা-তা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি)।

২,৬৪৩.
নিচের কোনটি বিশেষ্য পদ?
  1. পঞ্চায়েত
  2. চিরন্তন
  3. সে
  4. এবং
  5. কোনটি নয়
সঠিক উত্তর:
পঞ্চায়েত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পঞ্চায়েত
ব্যাখ্যা
• পঞ্চায়েত (বিশেষ্য পদ),
অর্থ:
- গ্রামোন্নয়নের লক্ষে পাঁচ বা তততোধিক নির্বাচিত প্রতিনিধিদ্বারা গঠিত সভা।

অন্যদিকে,
• চিরন্তর (বিশেষণ পদ),
অর্থ: 
- নিত্য,
- চিরকালীন।

• ‘সে’ মূলত সর্বনাম পদ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
• ‘এবং’ যোজক হিসেবে একাধিক শব্দ, পদবন্ধু ও বাক্যকে যুক্ত করে।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২,৬৪৪.
নিচের কোন বাক্যটি শুদ্ধ?
  1. ক) বাংলাদেশ একটি উন্নতশীল দেশ
  2. খ) অশ্রুজলে বুক ভেসে গেল
  3. গ) কারো দৈন্য নিয়ে উপহাস কোরো না
  4. ঘ) কথাটি সঠিক নয়
সঠিক উত্তর:
গ) কারো দৈন্য নিয়ে উপহাস কোরো না
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) কারো দৈন্য নিয়ে উপহাস কোরো না
ব্যাখ্যা

কারো দৈন্য/দীনতা নিয়ে উপহাস কোরো না। বাক্যটি সম্পূর্ণ সঠিক

প্রশ্নের অন্যান্য বাক্যের সঠিক রূপ-
দশচক্রে ভগবান ভূত।
অশ্রুতে বুক ভেসে গেল।
কথাটি ঠিক নয়।

উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

২,৬৪৫.
'তোমার গ্রামের নাম কী?' এই বাক্যে 'কী' কোন প্রকারের পদ?
  1. অব্যয়
  2. অনুসর্গ
  3. সর্বনাম
  4. বিশেষণ
সঠিক উত্তর:
সর্বনাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সর্বনাম
ব্যাখ্যা

• 'তোমার জেলার নাম কী?' এই বাক্যে 'কী' প্রশ্নবাচক সর্বনাম পদ।

• প্রশ্নবাচক সর্বনাম:
- প্রশ্ন তৈরির জন্যে প্রশ্নবাচক সর্বনাম প্রয়োগ করা হয়।
- যেমন,
কে, কারা, কাকে, কার, কী (কী দিয়ে ভাত খায়?) ইত্যাদি।

উল্লেখ্য,
- উত্তর যদি 'হ্যাঁ' বা 'না' হলে প্রশ্ন হবে কি দিয়ে এবং কি অব্যয় পদ।
- হ্যাঁ না ব্যতিত উত্তর অন্যকিছু হলে প্রশ্ন হবে - 'কী' দিয়ে যা সর্বনাম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি ৯ম-১০ম শ্রেণি ((২০২২ সংস্করণ))।

২,৬৪৬.
'সবাই যদি যেতে, তবে ভালই হতো।' বাক্যটি ক্রিয়ার কোন কাল নির্দেশ করে?
  1. সাধারণ ভবিষ্যৎ কাল
  2. নিত্যবৃত্ত অতীত কাল
  3. পুরাঘটিত ভবিষ্যৎ কাল
  4. সাধারণ বর্তমান কাল
সঠিক উত্তর:
নিত্যবৃত্ত অতীত কাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিত্যবৃত্ত অতীত কাল
ব্যাখ্যা
• নিত্যবৃত্ত অতীতকাল:
অতীতকালে কোনো ক্রিয়া সব সময় বা নিয়মিতভাবে ঘটতো এমন বোঝালে কিংবা অভ্যাসগত কোনো কাজ বোঝালে তাকে 'নিত্যবৃত্ত অতীতকাল' বলে।
যেমন:
- আমি খুব খেতাম, এখন পারি না।

নিত্যবৃত্ত অতীত কালের প্রয়োগ:
• ইচ্ছা প্রকাশে: আজ যদি ছুটি হতো, কেমন মজা হতো।
• কল্পনায়: 'সাতাশ হতো যদি একশ সাতাশ'।
• সম্ভাবনা প্রকাশে: সবাই যদি যেতে, তবে ভালই হতো।
• ক্রিয়া সংঘটনের অপূর্ণতাজনিত কারণ বোঝাতে: গাড়িটা কিনতাম, কিন্তু দাম বেশি বলে কেনা হল না।
• অপূর্ণতাজনিত খেদ প্রকাশে: যদি তোমার মতো গান গাইতে পারতাম।
• নিশ্চয়তার ভাব প্রকাশে ভবিষ্যৎকালের দ্যোতনায়: এ ঘটনা আজ হোক কাল হোক ঘটতই।

অন্যদিকে, 
------------------
• সাধারণ ভবিষ্যৎ কাল:
ভবিষ্যৎ কালে যে কাজ সাধারণভাবে সম্পন্ন হবে বোঝায়, তাকে সাধারণ ভবিষ্যৎ কাল বলে।
যেমন:
- আমরা রংপুরে যাব।
- দু-এক দিনের মধ্যে সে আসবে।

• পুরাঘটিত ভবিষ্যৎ কাল:
কোনো কাজ হওয়ার সম্ভাবনা বোঝাতে কিংবা ভবিষ্যতে হয়তো সম্পন্ন হয়ে থাকবে বোঝাতে ক্রিয়ার যে রূপ ব্যবহৃত হয় তাকে পুরাঘটিত ভবিষ্যৎ কাল বলে।
যেমন:
- তিনি কাল সকালে নাশতা বানিয়ে রাখবেন।
[এখানে প্রথম বাক্যে- কাল সকালে কোনো সময়ে কাজটা সম্পন্ন হবে। দ্বিতীয় বাক্যে - বোঝা যাচ্ছে সকাল না হতেই কাজটা করে রাখা হবে।]

• সাধারণ বর্তমান কাল:
যে ক্রিয়া বর্তমান কালে নিয়মিতভাবে ঘটে, তাকে সাধারণ বর্তমান কাল বলে।
যেমন:
- আমি স্কুলে যাই।
- সূর্য পূর্ব দিকে ওঠে।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।
২,৬৪৭.
‘এখনও তোমার কথা মনে পড়ে।’ - এ বাক্যে ‘ও’ কী হিসেবে ভূমিকা পালন করেছে?
  1. উপসর্গ
  2. বচন
  3. পদাশ্রিত নির্দেশক
  4. বলক
সঠিক উত্তর:
বলক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বলক
ব্যাখ্যা

• বলক:
যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হলে বক্তব্য জোরালাে হয়, সেগুলােকে বলক বলে।
যেমন - 
'তখনই' বা ‘এখনও' পদের 'ই' বা ‘ও’ হলাে বলকের উদাহরণ।

• "এখনও তোমার কথা মনে পড়ে।" - এ বাক্যে ‘ও’ হলো বলকের উদাহরণ।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।

২,৬৪৮.
'আমাদের কাজ আমরা করতে থাকব।'- বাক্যটি কোন কালের উদাহরণ?
  1. সাধারণ ভবিষ্যৎ
  2. ঘটমান ভবিষ্যৎ
  3. পুরাঘটিত বর্তমান
  4. ঘটমান বর্তমান
সঠিক উত্তর:
ঘটমান ভবিষ্যৎ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘটমান ভবিষ্যৎ
ব্যাখ্যা
• ভবিষ্যতে যে ক্রিয়া সম্পন্ন হবে তাকে ভবিষ্যৎ কাল বলে। ভবিষ্যৎ কাল তিন প্রকার:
- সাধারণ ভবিষ্যৎ,
- ঘটমান ভবিষ্যৎ এবং
- অনুজ্ঞা ভবিষ্যৎ।

• সাধারণ ভবিষ্যৎ:
ভবিষ্যৎ কালে যে কাজ সাধারণভাবে সম্পন্ন হবে বোঝায়, তাকে সাধারণ ভবিষ্যৎ কাল বলে।
যেমন:
- আমরা ঢাকা যাব।
- দু-এক দিনের মধ্যে সে আসবে।

• ঘটমান ভবিষ্যৎ:
যে ক্রিয়া ভবিষ্যৎ কালে চলতে থাকবে বোঝায়, তাকে ঘটমান ভবিষ্যৎ কাল বলে।
যেমন: 
- আমাদের কাজ আমরা করতে থাকব।
- এমন ঘটনা ঘটতেই থাকবে।

• অনুজ্ঞা ভবিষ্যৎ:
যে ক্রিয়া দিয়ে ভবিষ্যৎ কালের আদেশ, অনুমতি, অনুরোধ, প্রার্থনা, আমন্ত্রণ, আশীর্বাদ, উপদেশ, উপেক্ষা ইত্যাদি প্রকাশ করা হয়, তাকে অনুজ্ঞা ভবিষ্যৎ কাল বলে।
যেমন:
- তাড়াতাড়ি কাজটি কোরো।
- ভালোভাবে পৌঁছে যেয়ো।
- এক সময় বইটা পোড়ো।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২,৬৪৯.
নিচের কোন বাক্যটি অনুজ্ঞা ভাব প্রকাশ করে?
  1. আজ বাবা বেঁচে থাকলে আমার এত কষ্ট হতো না।
  2. চুপ কর।
  3. তারা বাড়ি যাবে।
  4. সে একটু হাসুক।
সঠিক উত্তর:
চুপ কর।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চুপ কর।
ব্যাখ্যা
অনুজ্ঞা ভাব:
- আদেশ, নিষেধ, উপদেশ, অনুরোধ, আশীর্বাদ ইত্যাদি সূচিত হলে ক্রিয়াপদের অনুজ্ঞা ভাব
হয়।
যেমন-
ক. আদেশাত্মক-
• বর্তমান কালে: চুপ কর।
• ভবিষ্যৎ কালে: তুমি কাল যেও।

খ. নিষেধাত্মক-
• বর্তমান কালে: অন্যায় কাজ করো না।
• ভবিষ্যৎ কালে: মিথ্যা বলবে না।

গ. অনুরোধসূচক-
• বর্তমান কালে: ছাতাটা দিন তো ভাই।
• ভবিষ্যৎ কালে: আপনারা আসবেন।

ঘ. উপদেশাত্মক-
• বর্তমানে কালে: মন দিয়ে পড়।
• ভবিষ্যৎ কালে: স্বাস্থ্যের প্রতি দৃষ্টি রেখো।

নির্দেশক ভাব:
- সাধারণ ঘটনা নির্দেশ করলে বা কিছু জিজ্ঞাসা করলে ক্রিয়াপদের নির্দেশক ভাব হয়।
ক. সাধারণ নির্দেশক:
- আমরা বই পড়ি।
- তারা বাড়ি যাবে।

খ. প্রশ্ন জিজ্ঞাসায়:
- আপনি কি আসবেন?
- সে কি গিয়েছিল?

সাপেক্ষ ভাব:
- একটি ক্রিয়ার সংঘটন অন্য একটি ক্রিয়ার ওপর নির্ভর করলে, নির্ভরশীল ক্রিয়াকে সাপেক্ষ ভাবের ক্রিয়া বলা হয়। যেমন-
ক. সম্ভাবনায়: তিনি ফিরে এলে সবকিছুর মীমাংসা হবে। যদি সে পড়ত তবে পাশ করত।
খ. উদ্দেশ্য বোঝাতে: ভালো করে পড়লে সফল হবে।
গ. ইচ্ছা বা কামনায়: আজ বাবা বেঁচে থাকলে আমার এত কষ্ট হতো না।

আকাঙক্ষা প্রকাশক ভাব:
- আকাঙ্ক্ষা প্রকাশক ভাব যে ক্রিয়াপদে বক্তা সোজাসুজি কোনো ইচ্ছা বা আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করে, তাকে আকাঙ্ক্ষা প্রকাশক ভাবের ক্রিয়া বলা হয়।
যেমন:
- সে যাক।
- যা হয় হোক।
- সে একটু হাসুক।
- বৃষ্টি আসে আসুক।
- তার মঙ্গল হোক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২,৬৫০.
এইমাত্র সম্পন্ন ক্রিয়ার কালকে কোন কাল বলে?
  1. সাধারণ বর্তমান
  2. ঘটমান বর্তমান
  3. পুরাঘটিত বর্তমান
  4. অনুজ্ঞা বর্তমান
সঠিক উত্তর:
পুরাঘটিত বর্তমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পুরাঘটিত বর্তমান
ব্যাখ্যা

• বর্তমান কাল:
- বর্তমানে যে ক্রিয়া সম্পন্ন হয় তাকে বর্তমান কাল বলে।
- বর্তমান কাল চার প্রকার: সাধারণ বর্তমান, ঘটমান বর্তমান, পুরাঘটিত বর্তমান এবং অনুজ্ঞা বর্তমান।

• পুরাঘটিত বর্তমান:
এইমাত্র সম্পন্ন ক্রিয়ার কালকে পুরাঘটিত বর্তমান কাল বলে।
যেমন -
- আমি অঙ্কটি করেছি।
- তারা বাড়িতে ফিরেছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

২,৬৫১.
নিচের কোনটি ক্রিয়াজাত অনুসর্গ?
  1. উপরে
  2. থেকে
  3. কাছে
  4. দ্বারা
সঠিক উত্তর:
থেকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
থেকে
ব্যাখ্যা
• ক্রিয়াজাত অনুসর্গ:
- যেসব অনুসর্গ ক্রিয়াপদ থেকে তৈরি হয়েছে, সেগুলোকে ক্রিয়াজাত অনুসর্গ বলে।
যেমন
- করে;
- থেকে;
- দিয়ে;
- ধরে;
- বলে;

অন্যদিকে,
• সাধারণ অনুসর্গ:

যেসব অনুসর্গ ক্রিয়া ছাড়া অন্য শব্দ থেকে তৈরি হয়, সেগুলোকে সাধারণ অনুসর্গ বলে।
যেমন
- উপরে;
- কাছে;
- জন্যে;
- দ্বারা;
- বনাম;

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি, নবম দশম শ্রেণি, ২০২৫ সালের সংস্করণ।
২,৬৫২.
কোন শব্দটি বিস্ময় আবেগ নির্দেশ করে?
  1. বাহ্‌
  2. আহা
  3. আহ্‌
  4. উহ্‌
সঠিক উত্তর:
আহ্‌
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আহ্‌
ব্যাখ্যা

• বিস্ময় আবেগ:
- এ ধরনের শব্দ বিস্মিত বা আশ্চর্য হওয়ার ভাব প্রকাশ করে।

যেমন:
- আরে! তুমি আবার কখন এলে?
- আহ্‌, কী চমৎকার দৃশ্য! (এখানে, 'আহ্‌' শব্দটি বিস্ময় আবেগ নির্দেশ করে।)

অন্যদিকে,
• আহা - করুণা আবেগ।
• উহ্‌ - আতঙ্ক আবেগ।
• বাহ্‌ - প্রশংসা আবেগ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

২,৬৫৩.
'খুব ভালো খবর'— এখানে 'খুব' কোন ধরনের বিশেষণ?
  1. গুণবাচক
  2. ভাববাচক
  3. অবস্থাবাচক
  4. ক্রমবাচক
সঠিক উত্তর:
ভাববাচক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভাববাচক
ব্যাখ্যা

• ভাববাচক বিশেষণ:
- যেসব বিশেষণ বাক্যের অন্তর্গত অন্য বিশেষণকে বিশেষিত করে, সেসব বিশেষণকে ভাববাচক বিশেষণ বলে।
যেমন-
-'খুব ভালো খবর' ও 'গাড়িটা বেশ জোরে চলছে' এসব বাক্যে 'খুব' এবং 'বেশ' ভাববাচক বিশেষণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ৯ম-১০ম শ্রেণি, ২০১৯ সালের সংস্করণ।

২,৬৫৪.
'গাড়িটা বেশ জোরে চলছে'- এখানে 'বেশ' কোন ধরণের বিশেষণ ?
  1. ক) পরিমাণবাচক
  2. খ) উপাদানবাচক
  3. গ) ভাববাচক
  4. ঘ) নির্দিষ্টতাবাচক
সঠিক উত্তর:
গ) ভাববাচক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ভাববাচক
ব্যাখ্যা
- প্রদত্ত বাক্যের  'বেশ' শব্দটি হলো 'ভাববাচক' বিশেষণ।
ভাববাচক বিশেষণ: যেসব বিশেষণ বাক্যের অন্তর্গত অন্য বিশেষণকে বিশেষিত করে, সেসব বিশেষণকে ভাববাচক বিশেষণ বলে।
যেমন – “খুব ভালো খবর' ও ‘গাড়িটা বেশ জোরে চলছে'- এসব বাক্যে 'খুব' এবং 'বেশ' ভাববাচক বিশেষণ।

পরিমাণবাচক:
যে বিশেষণ দিয়ে পরিমাণ বা আয়তন বোঝায়, তাকে পরিমাণবাচক বিশেষণ বলে। যেমন আধা কেজি চাল, অনেক লোক – এখানে “আধা কেজি' ও 'অনেক' পরিমাণবাচক বিশেষণ।

•উপাদানবাচক:
যে বিশেষণ দিয়ে উপাদান নির্দেশ করে, তাকে উপাদানবাচক বিশেষণ বলে। যেমন বেলে মাটি, পাথুরে মূর্তি – এখানে ‘বেলে' ও 1 ‘পাথুরে’ উপাদানবাচক বিশেষণ ।

•নির্দিষ্টতাবাচক:
যে বিশেষণ দিয়ে বিশেষিত শব্দকে নির্দিষ্ট করা হয়, তাকে নির্দিষ্টতাবাচক বিশেষণ বলে। যেমন এই দিনে, সেই সময় – এখানে ‘এই' ও 'সেই' নির্দিষ্টতাবাচক বিশেষণ ।

উৎস:
মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
২,৬৫৫.
কোন বাক্যটি অনুজ্ঞা ভাব প্রকাশ করছে?
  1. আমি বাড়ি যাই।
  2. সে একটু হাসুক।
  3. পরিশ্রম করলে সফল হবে।
  4. মিথ্যা বলবে না।
সঠিক উত্তর:
মিথ্যা বলবে না।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মিথ্যা বলবে না।
ব্যাখ্যা

⇒ অনুজ্ঞা ভাব: আদেশ, নিষেধ, উপদেশ, অনুরোধ, আশীর্বাদ ইত্যাদি সূচিত হলে ক্রিয়াপদের অনুজ্ঞা ভাব হয়।
যেমন-
ক. আদেশাত্মক: 
বর্তমান কালে- চুপ কর।
ভবিষ্যৎ কালে- তুমি কাল যেও।

খ. নিষেধাত্মক:
বর্তমান কালে: অন্যায় কাজ করো না।
ভবিষ্যৎ কালে- মিথ্যা বলবে না।

গ. অনুরোধসূচক:
বর্তমান কালে- ছাতাটা দিন তো ভাই।
ভবিষ্যৎ কালে-আপনারা আসবেন।

ঘ. উপদেশাত্মক:
বর্তমানে কালে-মন দিয়ে পড়।
ভবিষ্যৎ কালে- স্বাস্থ্যের প্রতি দৃষ্টি রেখো।

অন্যদিকে,
⇒ সাধারণ নির্দেশক : আমি বাড়ি যাই।
⇒ আকাঙ্ক্ষা প্রকাশক ভাব: সে একটু হাসুক।
⇒  সাপেক্ষ ভাব: পরিশ্রম করলে সফল হবে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি  (২০২০ সালের সংস্করণ)।

২,৬৫৬.
বর্তমান কালের অনুজ্ঞার উদাহরণ কোনটি?
  1. সদা সত্য বলবে।
  2. ভালোভাবে পৌঁছে যেয়ো।
  3. ভালোভাবে কাজটি কোরো।
  4. সকলের মঙ্গল হোক।
সঠিক উত্তর:
সকলের মঙ্গল হোক।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সকলের মঙ্গল হোক।
ব্যাখ্যা
• সকলের মঙ্গল হোক।- বর্তমান কালের অনুজ্ঞার উদাহরণ।

অন্যদিকে,
• সদা সত্য বলবে।
• ভালোভাবে পৌঁছে যেয়ো।
• ভালোভাবে কাজটি কোরো।

[বাক্যগুলো ভবিষ্যৎ অনুজ্ঞা কালেরর উদাহরণ।]

---------------------
• বর্তমান কাল:
যে ক্রিয়া দ্বারা বর্তমানের কোনো কাজ করা, অভ্যাস বা চিরসত্য বোঝায় তাকে বর্তমান কাল বলে। বর্তমান কালের চারটি রূপ। যথা:
১. সাধারণ বর্তমান কাল,
২. ঘটমান বর্তমান কাল,
৩. পুরাঘটিত বর্তমান কাল,
৪. বর্তমান অনুজ্ঞা।

• সাধারণ বর্তমান কাল: যে ক্রিয়া বর্তমানে সাধারণভাবে ঘটে তার কালকে বর্তমান কাল বলে।
যেমন:
- তৃণা স্কুলে যায়।
- বর্ণ বই পড়ে।

• ঘটমান বর্তমান কাল: যে ক্রিয়ার কাল শেষ হয়নি, এখন চলছে এরূপ অর্থ বোঝালে ঘটমান বর্তমান হয়।
যেমন:
- ছন্দা গান গাইছে।
- রাফিন ও রিজন বল খেলছে।

• পুরাঘটিত বর্তমান কাল: যে ক্রিয়ার কার্য কিছুক্ষণ পূর্বে ঘটেছে। কিন্তু এর ফর বা প্রভাব এখনও বর্তমান, এরূপ অর্থে পুরাঘটিত বর্তমান কাল হয়।
যেমন:
- বৃষ্টি আমাদের বড়োই উপকার করেছে।
- ঝড় আমাদের ভীষণ ক্ষতি করেছে।

• বর্তমান অনুজ্ঞা: বর্তমানে কোনো ক্রিয়া সম্পাদনের আদেশ, উপদেশ, আশীবার্দ, অভিশাপ, অনুরোধ, প্রার্থনা প্রভৃতি বোঝানোর জন্য বর্তমান অনুজ্ঞা ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- সকলের মঙ্গল হোক।
- সদা সত্য বলো।
- আল্লাহ তোমাকে দীর্ঘজীবী করুন।
- আল্লাহ তোমাকে সুস্থতা দান করুক।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-২০২২ সংস্করণ)।
২,৬৫৭.
"জনতা, পরিবার, ঝাঁক”- শব্দগুলো কোন বিশেষ্য?
  1. জাতি বিশেষ্য
  2. নাম বিশেষ্য
  3. গুণ বিশেষ্য
  4. একটিও নয়
সঠিক উত্তর:
একটিও নয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
একটিও নয়
ব্যাখ্যা

• "জনতা, পরিবার, ঝাঁক”- শব্দগুলো সমষ্টি বিশেষ্য। সুতরাং, অপশন অনুসারে সঠিক উত্তর- ঘ) একটিও নয়।
--------------------------
বিশেষ্য:

কোন কিছুর নামকে বিশেষ্যপদ বলে। 

বিশেষ্য সাধারণত ছয় প্রকার।
যথা- 
১. নাম-বিশেষ্য, ২. জাতি-বিশেষ্য, ৩. বস্তু-বিশেষ্য, ৪. সমষ্টি-বিশেষ্য, ৫. গুণ-বিশেষ্য এবং ৬. ক্রিয়া-বিশেষ্য ।

১. নাম-বিশেষ্য:
- ব্যক্তি, স্থান, দেশ, কাল, সৃষ্টি প্রভৃতির সুনির্দিষ্ট নামকে নাম-বিশেষ্য বলা হয়।
যেমন – স্থাননাম: ঢাকা, বাংলাদেশ, হিমালয়, পদ্মা কালনাম: সোমবার, বৈশাখ, জানুয়ারি, রমজান সৃষ্টিনাম: গীতাঞ্জলি, সঞ্চিতা, ইত্তেফাক, অপরাজেয় বাংলা ।

২. জাতি-বিশেষ্য:
- জাতি-বিশেষ্য সাধারণ-বিশেষ্য নামেও পরিচিত। এ ধরনের বিশেষ্য নির্দিষ্ট কোনো নামকে না বুঝিয়ে প্রাণী ও অপ্রাণীর সাধারণ নামকে বোঝায়।
যেমন – মানুষ, গরু, ছাগল, ফুল, ফল, নদী, সাগর, পর্বত ইত্যাদি ।

৩. বস্তু-বিশেষ্য:
- কোনো দ্রব্য বা বস্তুর নামকে বস্তু-বিশেষ্য বলে।
যেমন –
ইট, লবণ, আকাশ, টেবিল, বই ইত্যাদি।

৪. সমষ্টি-বিশেষ্য:
- এ ধরনের বিশেষ্য দিয়ে ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টিকে বোঝায়।
যেমন – জনতা, পরিবার, ঝাঁক, বাহিনী, মিছিল ইত্যাদি।

৫. গুণ-বিশেষ্য:
- গুণগত অবস্থা ও ধারণার নামকে গুণ-বিশেষ্য বলে।
যেমন – সরলতা, দয়া, আনন্দ, গুরুত্ব, দীনতা, ধৈর্য ইত্যাদি। 

৬. ক্রিয়া-বিশেষ্য:
- যে বিশেষ্য দিয়ে কোনো ক্রিয়া বা কাজের নাম বোঝায়, তাকে ক্রিয়া-বিশেষ্য বলে।
যেমন – পঠন, ভোজন, শয়ন, করা, করানো, পাঠানো, নেওয়া ইত্যাদি ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)। 

২,৬৫৮.
বাক্যের অপরিবর্তনীয় পদ কোনটি?
  1. ক) ক্রিয়াপদ
  2. খ) সর্বনাম পদ
  3. গ) অব্যয়পদ
  4. ঘ) অনুক্ত ক্রিয়াপদ
সঠিক উত্তর:
গ) অব্যয়পদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) অব্যয়পদ
ব্যাখ্যা
ন ব্যয় = অব্যয়।
- যার ব্যয় বা পরিবর্তন হয় না, অর্থাৎ যা অপরিবর্তনীয় শব্দ তাই অব্যয়।
- অব্যয় শব্দের সাথে কোনাে বিভক্তিচিহ্ন যুক্ত হয় না, সেগুলাের একবচন বা বহুবচন হয় না এবং সেগুলাের স্ত্রী ও পুরুষবাচকতা নির্ণয় করা যায় না।
- যে পদ সর্বদা অপরিবর্তনীয় থেকে কখনাে বাক্যের শােভা বর্ধন করে, কখনাে একাধিক পদের, বাক্যাংশের বা বাক্যের সংযােগ বা বিয়ােগ সম্বন্ধ ঘটায়, তাকে অব্যয় পদ বলে।
বাংলা ভাষায় তিন প্রকার অব্যয় শব্দ রয়েছে-
- বাংলা অব্যয় শব্দ,
- তৎসম অব্যয় শব্দ এবং
- বিদেশি অব্যয় শব্দ।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ সংস্করণ)।
২,৬৫৯.
জাতিবাচক বিশেষ্যের উদাহরণ নয় কোনটি?
  1. মানুষ
  2. পর্বত
  3. পরিবার
  4. নদী
সঠিক উত্তর:
পরিবার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরিবার
ব্যাখ্যা
• বাক্যমধ্যে ব্যবহৃত যে সমস্ত পদ দ্বারা কোনো ব্যক্তি, জাতি, সমষ্টি, বস্তু, স্থান, কাল, ভাব, কর্ম বা গুণের নাম বোঝানো হয় তাকে বিশেষ্য পদ বলে।

বিশেষ্যপদ ছয় প্রকার:
১. সংজ্ঞা (বা নাম) বাচক বিশেষ্য,
২. জাতিবাচক বিশেষ্য,
৩. বস্তুবাচক বিশেষ্য,
৪. সমষ্টিবাচক বিশেষ্য,
৫. ভাববাচক বিশেষ্য,
৬. গুণবাচক বিশেষ্য।

• জাতি বিশেষ্য: জাতি বিশেষ্য সাধারণ বিশেষ্য নামেও পরিচিত। এ ধরনের বিশেষ্য নির্দিষ্ট কোনো নামকে না বুঝিয়ে প্রাণী ও অপ্রাণাীর সাধারণ নামকে বোঝায়। যেমন: মানুষ, গরু, ছাগল, ফুল, ফল, নদী, সাগর, পর্বত ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
সমষ্টি-বিশেষ্য: এ ধরনের বিশেষ্য দিয়ে ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টিকে বোঝায়। যেমন: জনতা, পরিবার, ঝাঁক, বাহিনী, মিছিল ইত্যাদি।

উল্লেখ্য, ভাববাচক বিশেষ্য (২০২৩ সংস্করণ) অনুসারে ক্রিয়া-বিশেষ্য নামে পরিচিত।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২,৬৬০.
নিচের কোনটি সংকোচক অব্যয় নয়?
  1. ক) যদি
  2. খ) অথচ
  3. গ) কিন্তু
  4. ঘ) বরং
সঠিক উত্তর:
ক) যদি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) যদি
ব্যাখ্যা
- সংকোচক অব্যয় নয়- যদি। এটি একটি অনুগামী সমুচ্চয়ী অব্যয়ের উদাহরণ। 

সংকোচক অব্যয়:
- যে অব্যয় দুটি বাক্যের মধ্যে ভাবের সংকোচ সাধন করে, তাকে সংকোচক অব্যয় বলে।
যেমন- তিনি বিদ্বান, অথচ সৎ ব্যক্তি নন। এখানে 'অথচ' অব্যয়টি দুটি বাক্যের মধ্যে ভাবের সংকোচ সাধন করেছে। 
- কিন্তু, বরং শব্দগুলোও সংকোচক অব্যয়। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৬৬১.
"যত চাই তত লও" - এখানে, 'যত-তত' হলো — 
  1. পারস্পরিক সর্বনাম
  2. সাপেক্ষ সর্বনাম
  3. নির্দেশক সর্বনাম  
  4. অনির্দিষ্ট সর্বনাম  
সঠিক উত্তর:
সাপেক্ষ সর্বনাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাপেক্ষ সর্বনাম
ব্যাখ্যা

• 'যত চাও তত লও' - এই বাক্যে 'যত-তত' হলো — সাপেক্ষ সর্বনাম।
-----------------
• সাপেক্ষ সর্বনাম:
- পরস্পর নির্ভরশীল দুটি সর্বনামকে সাপেক্ষ সর্বনাম বলে।

যেমন:
- যারা-তারা, যে-সে, যেমন-তেমন (যেমন কর্ম তেমন ফল) ইত্যাদি।

অন্যান্য অপশন ক্ষেত্রে:
• (ক) নির্দেশক সর্বনাম:
যে সর্বনাম নৈকট্য বা দূরত্ব নির্দেশ করে, তাকে নির্দেশক সর্বনাম  বলে।
যেমন -
নিকট নির্দেশক: এ, এই, এরা, ইনি।
দূর নির্দেশক: ও, ওই, ওরা, উনি।

(গ) পারস্পরিক সর্বনাম:
দুই পক্ষের সহযােগিতা বা নির্ভরতা বোঝাতে পারস্পরিক সর্বনাম ব্যবহৃত হয়।
যেমন – পরস্পর, নিজেরা নিজেরা (যাবতীয় দ্বন্দ্ব নিজেরা নিজেরা মিটমাট করে) ইত্যাদি।

(ঘ) অনির্দিষ্ট সর্বনাম: 
- অনির্দিষ্ট বা পরিচয়হীন কিছু বােঝাতে যে সর্বনাম ব্যবহৃত হয়, তাকে অনির্দিষ্ট সর্বনাম বলে।
যেমন:
- কেউ, কোথাও, কিছু, একজন (একজন এসে খবরটা দেয়) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

২,৬৬২.
কোন বাক্যটিতে ক্রিয়া-বিশেষণের বিশেষণ ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. বাগানটি অত্যন্ত সুন্দর।
  2. সামান্য একটু দুধ দাও।
  3. গাড়িটি খুব দ্রুত চলে।
  4. আজ আবহাওয়া অনেক ভালো।
সঠিক উত্তর:
গাড়িটি খুব দ্রুত চলে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গাড়িটি খুব দ্রুত চলে।
ব্যাখ্যা
বিশেষণের বিশেষণ:
যে পদ নাম-বিশেষণ অথবা ক্রিয়া বিশেষণকে বিশেষিত করে ,তাকে বিশেষণের বিশেষণ বা বিশেষণীয় বিশেষণ বলে।
যেমন- 

• নাম-বিশেষণের বিশেষণ হলো:
- সামান্য একটু দুধ দাও।
- বাগানটি অত্যন্ত সুন্দর।
- এ ব্যাপারে সে অতিশয় দুঃখিত।
- আজ আবহাওয়া অনেক ভালো।

• ক্রিয়া-বিশেষণের বিশেষণ:
- রকেট অতি দ্রুত চলে।
- ঘোড়া খুব দ্রুত চলে।

• "গাড়িটি খুব দ্রুত চলে।" 
[বাক্যে ‘দ্রুত চলা’র কাজ মানে ক্রিয়া বিশেষণকে ‘খুব’ শব্দের মাধ্যমে বিশেষিত করা হয়েছে।]

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ।
২,৬৬৩.
'এভাবে চেষ্টা করবে যেন কৃতকার্য হতে পার।' - এখানে 'যেন' কোন ধরনের অব্যয়?
  1. অনুগামী সমুচ্চয়ী অব্যয়
  2. সংকোচক অব্যয়
  3. বিয়োজক অব্যয়
  4. সংযোজক অব্যয়
সঠিক উত্তর:
অনুগামী সমুচ্চয়ী অব্যয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুগামী সমুচ্চয়ী অব্যয়
ব্যাখ্যা
অনুগামী সমুচ্চয়ী অব্যয়:
- যে, যদি, যদিও, যেন। 
যেমন: এভাবে চেষ্টা করবে যেন কৃতকার্য হতে পার।

অন্যদিকে,
সংকোচক অব্যয়:
- যে অব্যয় দুটি বাক্যের মধ্যে ভাবের সংকোচ সাধন করে, তাকে সংকোচক অব্যয় বলে।
- ‘অথচ’ কিন্তু, বরং শব্দগুলো সংকোচক অব্যয়।

সংযোজক অব্যয়:
- ও, আর, তাই, অধিকন্তু, সুতরাং। 
যেমন: তিনি সৎ, তাই সকলেই তাঁকে শ্রদ্ধা করে। 

বিয়োজক অব্যয়:
- বা, অথবা, নতুবা, নয়তো।
যেমন: হাসেম কিংবা কাসেম এর জন্য দায়ী।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০১৯ সংস্কর
২,৬৬৪.
‘হাবিব ঢাকায় বসবাস করে’ এখানে ‘ঢাকায়’ কোন প্রকার বিশেষ্য?
  1. বস্তু-বিশেষ্য
  2. সমষ্টি-বিশেষ্য
  3. ক্রিয়া-বিশেষ্য
  4. নাম-বিশেষ্য
সঠিক উত্তর:
নাম-বিশেষ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাম-বিশেষ্য
ব্যাখ্যা
• নাম-বিশেষ্য: 
ব্যক্তি, স্থান, দেশ, কাল, সৃষ্টি প্রভৃতির সুনির্দিষ্ট নামকে নাম-বিশেষ্য বলা হয়।
যেমন-
ব্যক্তিনাম: হাবিব, সজল, লতা, শম্পা।
স্থাননাম: ঢাকা, বাংলাদেশ, কলকাতা, হিমালয়, পদ্মা।
কালনাম: সোমবার, বৈশাখ, জানুয়ারি, রমজান।
সৃষ্টিনাম: গীতাঞ্জলি, সঞ্চিতা, ইত্তেফাক, অপরাজেয় বাংলা।

উৎস:- বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)। 
২,৬৬৫.
'কি আমীর কি ফকির, একদিন সকলকেই যেতে হবে।' এখানে 'কি' কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. বিড়ম্বনা প্রকাশে
  2. সাকুল্য অর্থে
  3. বিরক্তি প্রকাশে
  4. জিজ্ঞাসায়
সঠিক উত্তর:
সাকুল্য অর্থে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাকুল্য অর্থে
ব্যাখ্যা
• কি/কী বিভিন্ন অর্থে ব্যবহার:
• জিজ্ঞাসায়: 'তুমি কি বাড়ি যাচ্ছ?
• বিরক্তি প্রকাশে: কী বিপদ, লোকটা যে পিছু ছাড়ে না।
• সাকুল্য অর্থে: কি আমীর কি ফকির, একদিন সকলকেই যেতে হবে।
• বিড়ম্বনা প্রকাশে: তোমাকে নিয়ে কী মুশকিলেই না পড়লাম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
২,৬৬৬.
‘মানুষ বড়ই স্বার্থপর।’- বাক্যে ‘মানুষ’ কোন ধরনের বিশেষ্য পদ?
  1. বস্তু-বিশেষ্য
  2. সমষ্টি-বিশেষ্য
  3. জাতি-বিশেষ্য
  4. নাম-বিশেষ্য
সঠিক উত্তর:
জাতি-বিশেষ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জাতি-বিশেষ্য
ব্যাখ্যা
• ‘মানুষ বড়ই স্বার্থপর।’ বাক্যে ‘মানুষ’ হলো জাতি-বিশেষ্য পদ। 

• বিশেষ্য পদ:
যেসব শব্দ দিয়ে ব্যক্তি, প্রাণী, স্থান, বস্তু, ধারণা ও গুণের নাম বোঝায়, সেগুলোকে বিশেষ্য বলে। যেমন নজরুল, বাঘ, ঢাকা, ইট, ভোজন, সততা ইত্যাদি। বিশেষ্য সাধারণত ছয় প্রকার:
১. নাম-বিশেষ্য,
২. জাতি-বিশেষ্য,
৩. বস্তু-বিশেষ্য,
৪. সমষ্টি-বিশেষ্য,
৫. গুণ-বিশেষ্য এবং
৬. ক্রিয়া-বিশেষ্য।

• নাম-বিশেষ্য:
ব্যক্তি, স্থান, দেশ, কাল, সৃষ্টি প্রভৃতির সুনির্দিষ্ট নামকে নাম-বিশেষ্য বলা হয়।
যেমন:
ব্যক্তিনাম: হাবিব, সজল, লতা, শম্পা।
স্থাননাম: ঢাকা, বাংলাদেশ, হিমালয়, পদ্মা।
কালনাম: সোমবার, বৈশাখ, জানুয়ারি, রমজান।
সৃষ্টিনাম: গীতাঞ্জলি, সঞ্চিতা, ইত্তেফাক, অপরাজেয় বাংলা।

• জাতি-বিশেষ্য:
জাতি-বিশেষ্য সাধারণ-বিশেষ্য নামেও পরিচিত। এ ধরনের বিশেষ্য নির্দিষ্ট কোনো নামকে না বুঝিয়ে প্রাণী ও অপ্রাণীর সাধারণ নামকে বোঝায়। যেমন: মানুষ, গরু, ছাগল, ফুল, ফল, নদী, সাগর, পর্বত ইত্যাদি।

• বস্তু-বিশেষ্য:
কোনো দ্রব্য বা বস্তুর নামকে বস্তু-বিশেষ্য বলে। যেমন: ইট, লবণ, আকাশ, টেবিল, বই ইত্যাদি।

• সমষ্টি-বিশেষ্য:
এ ধরনের বিশেষ্য দিয়ে ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টিকে বোঝায়। যেমন: জনতা, পরিবার, ঝাঁক, বাহিনী, মিছিল ইত্যাদি।

• গুণ-বিশেষ্য:
গুণগত অবস্থা ও ধারণার নামকে গুণ-বিশেষ্য বলে। যেমন: সরলতা, দয়া, আনন্দ, গুরুত্ব, দীনতা, ধৈর্য ইত্যাদি।

• ক্রিয়া-বিশেষ্য:
যে বিশেষ্য দিয়ে কোনো ক্রিয়া বা কাজের নাম বোঝায়, তাকে ক্রিয়া-বিশেষ্য বলে। যেমন: পঠন, ভোজন, শয়ন, করা, করানো, পাঠানো, নেওয়া ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।
২,৬৬৭.
নিম্নের কোনটি লগ্নক এর অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. কারক
  2. বিভক্তি
  3. নির্দেশক
  4. বলক
সঠিক উত্তর:
কারক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কারক
ব্যাখ্যা
শব্দ যখন বাক্যের মধ্যে থাকে, তখন তার নাম হয় পদ। পদে পরিণত হওয়ার সময়ে শব্দের সঙ্গে কিছু শব্দাংশ যুক্ত হয়, এগুলাের নাম লগ্নক। লগ্নক চার ধরনের:

⇒ বিভক্তি : ক্রিয়ার কাল নির্দেশের জন্য এবং কারক বােঝাতে পদের সঙ্গে যেসব শব্দাংশ যুক্ত থাকে, সেগুলােকে বিভক্তি বলে। বিভক্তি দুই প্রকার: ক্রিয়া-বিভক্তি ও কারক-বিভক্তি। করলাম ক্রিয়াপদের 'লাম' শব্দাংশ হলাে ক্রিয়া-বিভক্তি এবং কৃষকের পদের 'এর' শব্দাংশ কারক-বিভক্তির উদাহরণ।

⇒ নির্দেশক: যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পদকে নির্দিষ্ট করে, সেগুলােকে নির্দেশক বলে। লােকটি বা ভালােটুকু পদের 'টি' বা 'টুকু' হলাে নির্দেশকের উদাহরণ।

⇒ বচন: যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পদের সংখ্যা বােঝায়, সেগুলােকে বচন বলে। ছেলেরা বা বইগুলাে পদের 'রা' বা 'গুলাে' হলাে বচনের উদাহরণ।

⇒ বলক: যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হলে বক্তব্য জোরালাে হয়, সেগুলােকে বলক বলে। তখনই বা এখনও পদের 'ই' বা 'ও' হলাে বলকের উদাহরণ।


উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
২,৬৬৮.
করণ কারকে অনুসর্গ ব্যবহারের পূর্বে মূল সর্বনাম শব্দের সঙ্গে কোন বিভক্তি যোগ করে নিতে হয়?
  1. র 
  2. এর 
  3. কে 
  4. উপরের সবগুলোই 
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলোই 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলোই 
ব্যাখ্যা

• করণ কারক:
 যার দ্বারা বা যার সাহায্যে ক্রিয়া সম্পাদিত হয় তাকে করণ কারক বলে। ‘করণ' শব্দের অর্থ উপায় বা সহায়।
- বাক্যের ক্রিয়াপদকে 'কার দ্বারা বা কী উপায়ে জিজ্ঞাসা করলে যে উত্তর পাওয়া যায় তা-ই করণ কারক।

• করণ কারকে বিভক্তির ব্যবহার:
করণ কারকে সাধারণত দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক ইত্যাদি তৃতীয়া - বিভক্তির (অনুসর্গের) ব্যবহার হয়।

• করণ কারকে অনুসর্গ ব্যবহারের পূর্বে মূল সর্বনাম শব্দের সঙ্গে — "র; এর; কে" বিভক্তি যোগ করে নিতে হয়।

• তবে অন্য বিভক্তিগুলোরও প্রয়োগ রয়েছে - 
- করণ কারকে ‘দ্বারা বিভক্তি (অনুসর্গ) - তোমাদের দ্বারা দেশের ক্ষতি হবে।
- করণ কারকে ‘দিয়া বিভক্তি (অনুসর্গ) - তোমার লোক দিয়ে কাজটা করাবে।
- করণ কারকে শূন্য (০) বা অ-বিভক্তি - রফিক তাস খেলে।
- করণ কারকে এ-বিভক্তি - গ্যাসে গাড়ি চলে।
- করণ কারকে তে-বিভক্তি - তার কথা যেন মধুতে মাখা।

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

২,৬৬৯.
'বড়াই' কোন পদ?
  1. ক্রিয়া
  2. বিশেষণ
  3. বিশেষ্য
  4. ক্রিয়া বিশেষণ
সঠিক উত্তর:
বিশেষ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশেষ্য
ব্যাখ্যা
• ভাববাচক বিশেষ্য (Verbal Noun):
যে বিশেষ্য পদে কোনো ক্রিয়ার ভাব বা কাজের ভাব প্রকাশিত হয়, তাকে ভাববাচক বিশেষ্য বলে। যথা- যাওয়ার ভাব বা কাজ = গমন।

তদ্রুপ- ভোজন, শয়ন, দর্শন, দেখা, শোনা প্রভৃতি।

আবার ধাতুর বা প্রাতিপদিকের পর 'আই' প্রত্যয় যুক্ত করে ভাববাচক বিশেষ্য গঠিত হয়।
যেমন:
- √ চড়ু + আই = চড়াই,
- বড় + আই = বড়াই ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
২,৬৭০.
‘লয়’ শব্দটির বিশেষণ পদ কী?
  1. লয়া
  2. লেয়
  3. লীন
  4. লিন
সঠিক উত্তর:
লীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লীন
ব্যাখ্যা
• 'লীন'
- এটি একটি বিশেষণ পদ।
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
এর অর্থ:
- মিশে গিয়েছে এমন,
- লয়প্রাপ্ত।

• 'লয়;
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
এর অর্থ:
- ধ্বংস,
- মৃত্যু।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
২,৬৭১.
কোন বাক্যটিতে সাপেক্ষ সর্বনাম ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ছেলেরা নিজেরা নিজেরা খেলছে।
  2. একজন এসে খবরটা দিলো।
  3. প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
  4. যেমন গুরু তেমন শিষ্য।
সঠিক উত্তর:
যেমন গুরু তেমন শিষ্য।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যেমন গুরু তেমন শিষ্য।
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: ঘ) যেমন গুরু তেমন শিষ্য।
------------------
সাপেক্ষ সর্বনাম:

- পরস্পর নির্ভরশীল দুটি সর্বনামকে সাপেক্ষ সর্বনাম বলে।
যেমন:
- যারা-তারা, যে-সে, যেমন-তেমন (যেমন কর্ম তেমন ফল) ইত্যাদি।

বাক্যটি - ঘ) যেমন গুরু তেমন শিষ্য।
- এখানে যেমন-তেমন = সাপেক্ষ সর্বনাম।
- একটি বাক্যাংশ অপরটির উপর নির্ভরশীল।

অন্যান্য অপশনের বিশ্লেষণ:
ক) ছেলেরা নিজেরা নিজেরা খেলছে।
- নিজেরা নিজেরা = আত্মবাচক সর্বনাম।

খ) একজন এসে খবরটা দিলো।
- একজন = অনির্দিষ্ট সংখ্যাবাচক সর্বনাম।

গ) প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
- স্বয়ং = আত্মবাচক সর্বনাম (নিজে, স্বশরীরে)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

২,৬৭২.
"ছি ছি, তুমি এত নীচ।" বাক্যে 'ছি ছি' কোন ধরনের অব্যয়? 
  1. সমুচ্চয়ী অব্যয়
  2. অনন্বয়ী অব্যয়
  3. পদান্বয়ী অব্যয়
  4. অনুকার অব্যয়
সঠিক উত্তর:
অনন্বয়ী অব্যয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনন্বয়ী অব্যয়
ব্যাখ্যা
• "ছি ছি, তুমি এত নীচ।" বাক্যে 'ছি ছি' অনন্বয়ী অব্যয়।

• অনন্বয়ী অব্যয়:

- যে সকল অব্যয় বাক্যের অন্য পদের সঙ্গে কোনো সম্বন্ধ না রেখে স্বাধীনভাবে নানাবিধ ভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়, তাদের অনন্বয়ী অব্যয় বলে।
যেমন-
- উচ্ছ্বাস প্রকাশে: মরি মরি! কী সুন্দর প্রভাতের রূপ।
- স্বীকৃতি বা অস্বীকৃতি জ্ঞাপনে: হ্যাঁ, আমি যাব। না, আমি যাব না।
- সম্মতি প্রকাশে: আমি আজ আলবত যাব। নিশ্চয়ই পারব।
- অনুমোদনবাচকতায়: আপনি যখন বলছেন, বেশ তো আমি যাব।
- সমর্থনসূচক জবাবে : আপনি যা জানেন তা তো ঠিকই বটে।
- যন্ত্রণা প্রকাশে: উঃ! পায়ে বড্ড লেগেছে। নাঃ! এ কষ্ট অসহ্য।
- ঘৃণা বা বিরক্তি প্রকাশে: ছি ছি, তুমি এত নীচ!
- সম্বোধনে: 'ওগো, আজ তোরা যাস নে ঘরের বাহিরে।'
- কী আপদ। লোকটা যে পিছু ছাড়ে না।
- সম্ভাবনায়: 'সংশয়ে সংকল্প সদা টলে পাছে লোকে কিছু বলে।'

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
২,৬৭৩.
সর্বনাম পদ ব্যবহৃত হয়েছে কোন বাক্যে?
  1. ক) যদি ডাক পাই, নিশ্চই যাব।
  2. খ) কে আমারে লহিবে ডাকয়িা কাছে?
  3. গ) ওরে, আজ যাসনে ঘরের বাইরে।
  4. ঘ) ডাক দিয়েছ ভোর-সকালে শুনিনি তো!
সঠিক উত্তর:
খ) কে আমারে লহিবে ডাকয়িা কাছে?
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কে আমারে লহিবে ডাকয়িা কাছে?
ব্যাখ্যা
বিশেষ্য পদের পরিবর্তে যে পদ ব্যবহৃত হয়, তাকেই সর্বনাম পদ বলে। “কে আমারে লহিবে ডাকয়িা কাছে?” এই বাক্যে “কে” সর্বনাম পদ। এটি প্রশ্নবাচক সর্বনাম পদ। অন্যান্য প্রশ্নবাচক সর্বনাম পদ গুলো হলো- কি, কী, কোন, কাহার, কার, কিসে।
সূত্রঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী।
২,৬৭৪.
'রাশি রাশি ভারা ভারা ধান কাটা হলাে সারা’- এখানে রাশি রাশি’-
  1. ক) সাপেক্ষ সর্বনাম
  2. খ) নির্ধারক বিশেষণ
  3. গ) অনুকার অব্যয়
  4. ঘ) সমষ্টিবাচক বিশেষ্য
সঠিক উত্তর:
খ) নির্ধারক বিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) নির্ধারক বিশেষণ
ব্যাখ্যা
সাধারণত একের বেশি কোনাে কিছুকে বােঝাতে দ্বিরুক্ত শব্দ ব্যবহার করা হয়, যাকে নির্ধারক বিশেষণ বলে। এখানে বিশেষ্য ‘ধান’এর নির্ধারক বিশেষণ ‘রাশি রাশি' 'ভারা ভারা'। ‘রাশি রাশি’ বলতে অনেক এবং ভারা ভারা’ বলতে বােঝা বােঝা বুঝানো হয়েছে। উৎস: শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা।
২,৬৭৫.
নিচের কোন বাক্যে বচনবাচক শব্দে বিশেষ নিয়মের প্রয়োগ হয়েছে?
  1. হস্তীযুথ মাঠের ফসল নষ্ট করছে?
  2. বাগানে লাল লাল ফুল ফুটেছে।
  3. সকলে সব জানে না।
  4. অজস্র লোক জমায়েত হয়েছে।
সঠিক উত্তর:
সকলে সব জানে না।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সকলে সব জানে না।
ব্যাখ্যা


উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ বই (২০১৯ সংস্করণ)।
২,৬৭৬.
পক্ষভেদে (পুরুষভেদে) সর্বনাম পদ কয় প্রকার?
  1. ক) ৩
  2. খ) ৪
  3. গ) ৫
  4. ঘ) ৬
সঠিক উত্তর:
ক) ৩
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ৩
ব্যাখ্যা

'পক্ষ' হল নাম শব্দের এমন এক ব্যাকরণিক বৈশিষ্ট্য, যা দিয়ে বক্তা, বক্তার সামনের শ্রোতা, এবং যার কথা বলা হচ্ছে এমন উপস্থিত সত্তা নির্দেশ করা হয়।
প্রচলিত ব্যাকরণে এটি 'পুরুষ' নামে পরিচিত। 

পক্ষভেদে বা পুরুষভেদে সর্বনাম পদ ৩ প্রকার।
১. বক্তাপক্ষ (উত্তম পুরুষ) : আমি, আমরা, আমাকে, আমাদের ইত্যাদি।
২. শ্রোতাপক্ষ (মধ্যম পুরুষ) : তুমি, আপনি, তুই, ইত্যাদি।
৩. অন্যপক্ষ (প্রথম পুরুষ) : সে, তারা, তিনি, ওড়া, এদের ইত্যাদি।

উল্লেখ্য, সর্বনাম পদ মোট ৯ প্রকার; অর্থগত দিক থেকে ৭ প্রকার।

উৎস: বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা ব্যবহারিক ব্যাকরণ।

২,৬৭৭.
নিচের কোনটি অকর্মক ক্রিয়ার উদাহরণ?
  1. আমি রাতে ভাত খাব না।
  2. ছেলেটা কানে শোনে না।
  3. আকাশে চাঁদ দেখি না।
  4. সে বই পড়ছে। 
সঠিক উত্তর:
ছেলেটা কানে শোনে না।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ছেলেটা কানে শোনে না।
ব্যাখ্যা
- যে ক্রিয়ার কর্মপদ আছে তাই সকর্মক ক্রিয়া। ক্রিয়ার সাথে কী বা কাকে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, তাই ক্রিয়ার কর্মপদ। কর্মপদযুক্ত ক্রিয়াই সর্কমক ক্রিয়া।
- যে ক্রিয়ার কর্ম নেই, তা অকর্মক ক্রিয়া। যেমনঃ ছেলেটি হাসে। কী ‘হাসে’ বা ‘কাকে হাসে’ প্রশ্ন করলে কোনো উত্তর হয় না। কাজেই ‘হাসে’ ক্রিয়াটি অকর্মক ক্রিয়া।
- প্রয়োগ বৈশিষ্ট্যে সকর্মক ক্রিয়াও অকর্মক হতে পারে।

যেমনঃ
অকর্মক: সে পড়ছে। সকর্মক: সে বই পড়ছে। 
অকর্মক: আমি রাতে খাব না। সকর্মক: আমি রাতে ভাত খাব না।
অকর্মক: আমি চোখে দেখি না। সকর্মক: আকাশে চাঁদ দেখি না।
অকর্মক: ছেলেটা কানে শোনে না। সকর্মক: ছেলেটা কথা শোনে।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী
২,৬৭৮.
'চিকচিক করে বালি কোথা নাহি কাদা' বাক্যের ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্তিটি কোন পদ নির্দেশক করেছে?
  1. ক) ক্রিয়া বিশেষণ
  2. খ) বিশেষ্য
  3. গ) বিশেষণ
  4. ঘ) ক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
ক) ক্রিয়া বিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ক্রিয়া বিশেষণ
ব্যাখ্যা
• দ্বিরুক্ত শব্দের আভিধানিক অর্থ- দুবার বলা হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে কোন শব্দ বা পদের পরপর দুবার প্রয়োগ বা পুনরাবৃত্তিকেই দ্বিরুক্ত শব্দ বলে ।

• বাংলা ভাষায় এমন বহু দ্বিরুক্ত শব্দ আছে যা কোন বাস্তব ধ্বনির অনুকারী বা নিছক কোন ধ্বনির কাল্পনিক অনুকরণ করে। এই জাতীয় শব্দকে ধ্বন্যাত্মক শব্দ বলে। এমন একই ধ্বন্যাত্মক শব্দের দুবার প্রয়োগের নামই ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্তি বা ধ্বনির দ্বিরুক্তি।

• ক্রিয়ার বিশেষণ: যে পদ ক্রিয়া সংগঠনের ভাব, কাল বা রূপ নির্দেশ করে, তাই ক্রিয়া বিশেষণ।

'চিকচিক করে বালি কোথা নাহি কাদা' বাক্যে ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্তি পদ 'চিকচিক', 'বালি'(বিশেষ্য) এর ক্রিয়া সংগঠনের ভাব, কাল বা রূপ নির্দেশ করে, তাই তা ক্রিয়াবিশেষণ পদ নির্দেশ করে। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ) এবং মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৬৭৯.
কোনটি ঘটমান অতীত?
  1. উঠতাম
  2. গেল
  3. পড়ছিলাম
  4. পৌঁছেছিলাম
সঠিক উত্তর:
পড়ছিলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পড়ছিলাম
ব্যাখ্যা

ঘটমান অতীত:
- যে ক্রিয়া অতীত কালে চলছিল বোঝায়, তাকে ঘটমান অতীত কাল বলে।

​যেমন:
- আমরা তখন বই পড়ছিলাম

​অন্যদিকে
সাধারণ অতীত - তারা সেখানে বেড়াতে গেল
পুরাঘটিত অতীত - বৃষ্টি শেষ হওয়ার আগেই আমরা বাড়ি পৌছেছিলাম। 
নিত্য অতীত - খুব সকালে ঘুম থেকে উঠতাম

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

২,৬৮০.
'অপরাজেয় বাংলা' কোন জাতীয় নাম-বিশেষ্য?
  1. কালনাম
  2. সৃষ্টিনাম
  3. স্থাননাম
  4. ব্যক্তিনাম
সঠিক উত্তর:
সৃষ্টিনাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৃষ্টিনাম
ব্যাখ্যা
• নামবাচক-বিশেষ্য:
- ব্যক্তি, স্থান, দেশ, কাল, সৃষ্টি প্রভৃতির সুনির্দিষ্ট নামকে নাম-বিশেষ্য বলা হয়।
যেমন
• ব্যক্তিনাম: হাবিব, সজল, লতা, শম্পা।
• স্থাননাম: ঢাকা,বাংলাদেশ, হিমালয়, পদ্মা, মেঘনা।
• কালনাম: সোমবার, বৈশাখ, জানুয়ারি, রমজান।
• সৃষ্টিনাম: গীতাঞ্জলি, সঞ্চিতা, ইত্তেফাক, অপরাজেয় বাংলা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি, ২০২৫ সালের সংস্করণ।
২,৬৮১.
গঠনগতভাবে পদ কয় প্রকার?
  1. দুই প্রকার
  2. তিন প্রকার
  3. চার প্রকার
  4. পাঁচ প্রকার
সঠিক উত্তর:
দুই প্রকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুই প্রকার
ব্যাখ্যা
• গঠনগতভাবে পদ দুই রকমের।
যথা -
- অলগ্নক পদ,
- সলগ্নক পদ। 
 -------------------  
• সলগ্নক পদ:
- বাক্যের যেসব পদে লগ্নক থাকে সেগুলোকে সলগ্নক পদ বলে।
যেমন -
'ছেলেরা ক্রিকেট খেলে'। 
- এ বাক্যে 'ছেলেরা' ও 'খেলে' সংলগ্নক পদ।
 
• অলগ্নক পদ:
যেসব পদে লগ্নক থাকে না সেগুলোকে অলগ্নক পদ বলে।
যেমন -
'ছেলেরা ক্রিকেট খেলে'।
- এ বাক্যে 'ক্রিকেট' অলগ্নক পদ।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২,৬৮২.
সংজ্ঞার্থবাচক বিশেষ্য-
  1. ক) পদ্মা
  2. খ) ঝাঁক
  3. গ) মানুষ
  4. ঘ) সাহস
সঠিক উত্তর:
ক) পদ্মা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) পদ্মা
ব্যাখ্যা
নাম বা সংজ্ঞার্থবাচক বিশেষ্য হচ্ছে - পদ্মা, বুড়িগঙ্গা, অমর, ইমরুল ইত্যাদি। মানুষ জাতিবাচক, ঝাঁক সমষ্টিবাচক এবং সাহস গুণবাচক বিশেষ্য।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
২,৬৮৩.
কোনটি অনির্দেশক সর্বনাম?
  1. সেগুলো
  2. এটি
  3. কেহ
  4. কার
সঠিক উত্তর:
কেহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কেহ
ব্যাখ্যা
• বাংলা ভাষায় সর্বনাম পদ নানারকম হয়।

যেমন:
১. ব্যক্তিবাচক সর্বনাম: আমি, আমরা, তুমি, তোমরা, সে, তারা, তিনি, এরা, ওরা ইত্যাদি।
২. নির্দেশক সর্বনাম: এ, এটি, সেটি, সেগুলো ইত্যাদি।
৩. সাকল্যবাচক সর্বনাম: সকল, সব, সমুদয় ইত্যাদি।
৪. সাপেক্ষ সর্বনাম: যে-সে, যা-তা, যিনি-তিনি ইত্যাদি।
৫. প্রশ্নসূচক সর্বনাম: কী, কার, কাদের, কিসে ইত্যাদি।
৬. অনির্দেশক সর্বনাম: কেউ, কোন, কেহ, কিছু ইত্যাদি।
৭. আত্মবাচক সর্বনাম: স্বয়ং, নিজ, খোদ, আপনি ইত্যাদি।
৮. অন্যাদিবাচক সর্বনাম: অন্য, অপর, পর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
২,৬৮৪.
কোনটি অসমাপিকা ক্রিয়ার ধরন?
  1. ক) ভাবী
  2. খ) ভূত
  3. গ) শর্ত
  4. ঘ) সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলোই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলোই
ব্যাখ্যা
• অসমাপিকা ক্রিয়া:
যে ক্রিয়া ভাব সম্পূর্ণ করতে পারে না, তাকে অসমাপিকা ক্রিয়া বলে ।
যেমন – ভালো করে পড়াশোনা করলে ভালো ফল হবে ।

• অসমাপিকা ক্রিয়া তিন ধরনের:
১. ভূত অসমাপিকা।
২. ভাবী অসমাপিকা এবং
৩. শর্ত অসমাপিকা।
যথা:
ভূত অসমাপিকা: সে গান করে আনন্দ পায়।
ভাবী অসমাপিকা: সে গান শিখতে রাজশাহী যায়।
শর্ত অসমাপিকা: গান করলে তার মন ভালো হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
২,৬৮৫.
নিচের কোনটি বিশেষণ পদ?
  1. বুদ্ধিমান
  2. ঢাকা
  3. বুদ্ধি
  4. সংযোজন
সঠিক উত্তর:
বুদ্ধিমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বুদ্ধিমান
ব্যাখ্যা
- বুদ্ধিমান (বিশেষণ পদ), এটি একটি সংস্কৃত শব্দ। 

অন্যদিকে, 
- ঢাকা, বুদ্ধি এবং সংযোজন বিশেষ্য পদ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
২,৬৮৬.
নিচের কোন বাক্যে অলংকার আবেগ প্রকাশ পায়?
  1. দূর! এ কথা কি বলতে আছে?
  2. আহ্‌, কী চমৎকার দৃশ্য!
  3. আহা! বেচারার এত কষ্ট।
  4. ওগো, তোরা জয়ধ্বনি কর।
সঠিক উত্তর:
দূর! এ কথা কি বলতে আছে?
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দূর! এ কথা কি বলতে আছে?
ব্যাখ্যা
'দূর ! এ কথা কি বলতে আছে?'- বাক্যটিতে 'অলংকার  আবেগ এর প্রয়োগ ঘটেছে। 

• আবেগ: 
- মনের নানা ভাব প্রকাশ করা হয় যেসকল শব্দ দিয়ে তাকে আবেগ বলে।

অলংকার আবেগ:
- এ ধরনের শব্দ বাক্যের অর্থের পরিবর্তন না ঘটিয়ে কোমলতা, মাধুর্য্য ইত্যাদি বৈশিষ্ট্য
এবং সংশয় অনুরোধ, মিনতি ইত্যাদি মনোভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন-
- দূর ! এ কথা কি বলতে আছে?
- যাকগে, ওসব কথা থাক। 

বিরক্তি আবেগ:
এ ধরনের শব্দ অবজ্ঞা, ঘৃণা, বিরক্তি ইত্যাদি মনোভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন- ছি ছি! এরকম কথা মুখে মানায় না।

বিস্ময় আবেগ: 
এ ধরনের শব্দ বিস্মিত বা আশ্চর্য হওয়ার  ভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন- আরে! তুমি আবার কখন এলে?
আহ, কী চমৎকার দৃশ্য !

সম্বোধন আবেগ:
এ ধরনের শব্দ সম্বোধন বা আহ্বান করার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়।
যেমন- ওগো, তোরা সব জয়ধ্বনি কর।

• করুণা আবেগ:
- এ ধরনের শব্দ করুণা, মায়া, সহানুভূতি ইত্যাদি মনোভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন: আহা! বেচারার কত কষ্ট।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
২,৬৮৭.
"এ এক বিরাট সত্য।" - বাক্যে 'সত্য' কোন পদ?
  1. ক) বিশেষ্য
  2. খ) বিশেষণ
  3. গ) অব্যয়
  4. ঘ) যোজক
সঠিক উত্তর:
ক) বিশেষ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) বিশেষ্য
ব্যাখ্যা
• "এ এক বিরাট সত্য।" - বাক্যে 'সত্য' বিশেষ্য পদ।

• একই পদের বিশেষ্য ও বিশেষণ রূপে প্রয়োগ
বাংলা ভাষায় একই পদ বিশেষ্য ও বিশেষণ রূপে ব্যবহৃত হতে পারে।
যেমন -

বিশেষণ রূপে - ভালো বাড়ি পাওয়া কঠিন ।
বিশেষ্য রূপে - আপন ভালো সবাই চায় ৷

বিশেষণ রূপে - মন্দ কথা বলতে নেই ।
বিশেষ্য রূপে - এখানে কী মন্দটা তুমি দেখলে?

বিশেষণ রূপে - তোমার এ পুণ্য প্রচেষ্টা সফল হোক ।
বিশেষ্য রূপে - পুণ্যে মতি হোক ।

বিশেষণ রূপে - নিশীথ রাতে বাজছে বাঁশি ।
বিশেষ্য রূপে - গভীর নিশীথে প্রকৃতি সুপ্ত।

বিশেষণ রূপে - শীতকালে কুয়াশা পড়ে
বিশেষ্য রূপে - শীতের সকালে চারদিক কুয়াশায় অন্ধকার ।

বিশেষণ রূপে - সত্য পথে থেকে সত্য কথা বল।
বিশেষ্য রূপে - এ এক বিরাট সত্য

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
২,৬৮৮.
নিচের কোনটি ক্রিয়া বিশেষ্য?
  1. গুরুত্ব
  2. আনন্দ
  3. ধৈর্য
  4. শয়ন
সঠিক উত্তর:
শয়ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শয়ন
ব্যাখ্যা
• ক্রিয়া-বিশেষ্য:
- যে বিশেষ্য দিয়ে কোনো ক্রিয়া বা কাজের নাম বোঝায়, তাকে ক্রিয়া-বিশেষ্য বলে।
যেমন:
- পঠন, ভোজন, শয়ন, করা, করানো, পাঠানো, নেওয়া ইত্যাদি ।

অন্যদিকে,
• গুণ-বিশেষ্য:
- গুণগত অবস্থা ও ধারণার নামকে গুণ-বিশেষ্য বলে।
যেমন: সরলতা, দয়া, আনন্দ, গুরুত্ব, দীনতা, ধৈর্য ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি (২০২৪ সংস্করণ)।
২,৬৮৯.
'পাতিস নে শিলাতলে পদ্মপাতা'- কী অর্থে অনুজ্ঞার ব্যবহার হয়েছে?
  1. আদেশ
  2. উপদেশ
  3. অনুরোধ
  4. বিধান
সঠিক উত্তর:
উপদেশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপদেশ
ব্যাখ্যা
• অনুজ্ঞা বা আদেশসূচক বাক্য:
- যে বাক্য আদেশ, অনুরোধ, উপদেশ, নিষেধ ইত্যাদি অর্থ প্রকাশ পায়, তাকে অনুজ্ঞা বাক্য বলে।

• 'পাতিস নে শিলাতলে পদ্মপাতা'- উপদেশ অর্থে অনুজ্ঞার ব্যবহার হয়েছে।  

• কিছু অনুজ্ঞার উদাহরণ: 
- 'আদেশ' অর্থে - তোমরা এখন যাও, হাতমুখ ধুয়ে পড়তে বসো। 
- 'অনুরােধ' অর্থে - অঙ্কটা বুজিয়ে দাও না 
- 'উপদেশ' অর্থে - পাতিস নে শিলাতলে পদ্মপাতা। 
- 'প্রার্থনা' অর্থে- আমার দরখাস্তটা পড়ুন। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী (২০১৯ সংস্করণ)। 
২,৬৯০.
নির্দেশকযুক্ত শব্দের উদাহরণ কোনটি?
  1. ক) লোকটি
  2. খ) এখনও
  3. গ) কৃষকের
  4. ঘ) বই
সঠিক উত্তর:
ক) লোকটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) লোকটি
ব্যাখ্যা
- উল্লেখিত প্রশ্নে নির্দেশকযুক্ত শব্দের উদাহরণ হচ্ছে লোকটি

 • লগ্নক:
- শব্দ যখন বাক্যের মধ্যে থাকে, তখন তার নাম হয় পদ।
- পদে পরিণত হওয়ার সময়ে শব্দের সঙ্গে কিছু শব্দাংশ যুক্ত হয়, এগুলোর নাম লগ্নক।

লগ্নক চার ধরনের:

• বিভক্তি:
- ক্রিয়ার কাল নির্দেশের জন্য এবং কারক বোঝাতে পদের সঙ্গে যেসব শব্দাংশ যুক্ত থাকে, সেগুলোকে বিভক্তি বলে।
- বিভক্তি দুই প্রকার: ক্রিয়া-বিভক্তি ও কারক-বিভক্তি।
- যেমন: ‘করলাম' ক্রিয়াপদের ‘লাম’ শব্দাংশ হলো ক্রিয়া-বিভক্তি এবং ‘কৃষকের' পদের ‘এর' শব্দাংশ কারক-বিভক্তির উদাহরণ।

• নির্দেশক:
- যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পদকে নির্দিষ্ট করে, সেগুলোকে নির্দেশক বলে।
- ‘লোকটি’ বা ‘ভালোটুকু' পদের 'টি' বা 'টুকু' হলো নির্দেশকের উদাহরণ।

• বচন:
- যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পদের সংখ্যা বোঝায়, সেগুলোকে বচন বলে।
- ‘ছেলেরা’ বা ‘বইগুলো' পদের ‘রাত বা ‘গুলো হলো বচনের উদাহরণ।

• বলক:
- যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হলে বক্তব্য জোরালো হয়, সেগুলোকে বলক বলে।
- ‘তখনই বা ‘এখনও’ পদের ‘ই' বা 'ও' হলো বলকের উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( ২০২১ সংস্করণ)।
২,৬৯১.
কোনটিতে বিশেষণের বিশেষণ রয়েছে?
  1. ধীরে চল
  2. ঘোড়া খুব দ্রুত চলে
  3. সে পূণ্যবান
  4. মেটে কলসি
সঠিক উত্তর:
ঘোড়া খুব দ্রুত চলে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘোড়া খুব দ্রুত চলে
ব্যাখ্যা
বিশেষণীয় বিশেষণ:
- যে পদ নাম-বিশেষণ অথবা ক্রিয়া বিশেষণকে বিশেষিত করে ,তাকে বিশেষণের বিশেষণ বা বিশেষণীয় বিশেষণ বলে।
যেমন:
• নাম-বিশেষনের বিশেষণ হলো:
- সামান্য একটু দুধ দাও।
- এ ব্যাপারে সে অতিশয় দুঃখিত।

• ক্রিয়া-বিশেষণের বিশেষণ:
- রকেট অতি দ্রুত চলে।
- ঘোড়া খুব দ্রুত চলে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২,৬৯২.
যে ক্রিয়ার কাজ বর্তমানে ঘটছে বা চলছে, এখনো শেষ হয়ে যায়নি, তাকে কী বলে?
  1. ঘটমান অতীত
  2. ঘটমান বর্তমান
  3. ঘটমান ভবিষ্যৎ
  4. কোনোটি নয়
সঠিক উত্তর:
ঘটমান বর্তমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘটমান বর্তমান
ব্যাখ্যা
ঘটমান বর্তমান:
- যে ক্রিয়ার কাজ বর্তমানে ঘটছে বা চলছে, এখনো শেষ হয়ে যায় নি, তাকে ঘটমান বর্তমান কাল বলে।
যেমন:
আমার ছোট ভাই লিখছে।
ছেলেরা এখনো ফুটবল খেলছে।
টেলিভিশনে রবীন্দ্রনাথের লেখা নাটক দেখাচ্ছে।

অন্যদিকে,
ঘটমান অতীত কাল:
যে ক্রিয়া অতীত কালে চলছিল বঝায়, তাকে ঘটমান অতীত কাল বলে। 
যেমন: তারা মাঠে খেলছিল। 

ঘটমান ভবিষ্যৎ:
যে ক্রিয়া ভবিষ্যৎ কালে চলতে থাকবে বোঝায়, তাকে ঘটমান ভবিষ্যৎ কাল বলে।
যেমন -
- আমাদের কাজ আমরা করতে থাকব।
- এমন ঘটনা ঘটতেই থাকবে।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
২,৬৯৩.
'কার কাছে গেলে জানা যাবে?' - বাক্যে 'কাছে' কোন অনুসর্গের উদাহরণ?
  1. ক্রিয়াজাত অনুসর্গ
  2. ক্রিয়াধর্মী অনুসর্গ
  3. সাধারণ অনুসর্গ
  4. বিশেষ অনুসর্গ
সঠিক উত্তর:
সাধারণ অনুসর্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাধারণ অনুসর্গ
ব্যাখ্যা
সাধারণ অনুসর্গ:
- যেসব অনুসর্গ ক্রিয়া ছাড়া অন্য শব্দ থেকে তৈরি হয়, তাকে সাধারণ অনুসর্গ বলে।
- যেমন:
- আজ বাংলাদেশ বনাম ভারতের খেলা।
- কার কাছে গেলে জানা যাবে?
- এমন কাজ তোমার দ্বারা হবেনা।

অন্যদিকে,
ক্রিয়াজাত অনুসর্গ:
- যেসব অনুসর্গ ক্রিয়াপদ থেকে তৈরি হয়েছে, তাকে ক্রিয়াজাত অনুসর্গ বলে।
যেমন:
- বহুদিন ধরে অপেক্ষা করে আছি। 
- তুমি আসবে বলে দাঁড়িয়ে আছি।
- মন দিয়ে পড়ালেখা কর।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
২,৬৯৪.
'ওখানে যাস না' - কী অর্থে অনুজ্ঞার ব্যবহার হয়েছে?
  1. ক) প্রার্থনা
  2. খ) উপদেশ
  3. গ) অভিশাপ
  4. ঘ) আদেশ
সঠিক উত্তর:
খ) উপদেশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) উপদেশ
ব্যাখ্যা
অনুজ্ঞাবাচক বাক্য:--যে বাক্যে আদেশ,অনুরোধ,উপদেশ,প্রার্থনা ইত্যাদি বুঝায় সেই বাক্যকে অনুজ্ঞা বাচিক বাক্য বলে। প্রশ্নে “ওখানে যাস না” বাক্যটি উপদেশ নির্দেশ করে।
২,৬৯৫.
’অবজ্ঞাত’ বিশেষণটির বিশেষ্য নির্দেশ করুন?
  1. ক) অজ্ঞাত
  2. খ) অবজ্ঞেও
  3. গ) অজ্ঞান
  4. ঘ) অবজ্ঞা
সঠিক উত্তর:
ঘ) অবজ্ঞা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) অবজ্ঞা
ব্যাখ্যা
’অবজ্ঞাত’ বিশেষণটির বিশেষ্য রূপ হলো অবজ্ঞা

অবজ্ঞা (বিশেষ্য)
১ উপেক্ষা।
২ তাচ্ছিল্য।
৩ ঘৃণা।
৪ অবমাননা; অপমান।

অবজ্ঞাত (বিশেষণ)
অর্থ :
(সে অজ্ঞাত অবজ্ঞাত তুচ্ছ সাধারণ নারী মাত্র নহে-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর)।

অবজ্ঞেয় (বিশেষ্য)
অর্থ :
অবজ্ঞার যোগ্য।

উৎস : বাংলা একাডেমি অভিধান
২,৬৯৬.
যোজক কাকে যুক্ত করে?
  1. পদ
  2. বাক্য
  3. বর্গ
  4. সবগুলো
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
ব্যাখ্যা
• যোজক: 
- পদ, বর্গ বা বাক্যকে যেসব শব্দ যুক্ত করে তাকে যোজক বলে।
- যেমন:
এবং, ও, আর, তবু, অথবা, সুতরাং, কারন, তবে ইত্যাদি।

• যোজকের প্রকারভেদ:
বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী যোজক কে নিম্নলিখিত শ্রেণিতে ভাগ করা হয়:

- সাধারন যোজক: এ ধরনের যোজক দুটি শব্দ বা বাক্যকে যুক্ত করে। যেমন: করিম ও রহিম এ কাজটি করেছে।
- বিকল্প যোজক: এ ধরনের যোজক একাধিক শব্দ বা বাক্যের মধ্যে বিকল্প নির্দেশ করে। যেমন: চা না-হয় কফি খান।
- বিরোধ যোজক: এ ধরনের যোজক বাক্যের দুটি অংশের মধ্যে সংযোগ ঘটায় এবং প্রথম বাক্যের বক্তব্যের সঙ্গে বিরোধ তৈরি করে। যেমন: তাকে আসতে বললাম, তবু এলো না ।
- কারণ যোজক: এ ধরনের যোজক বাক্যের দুটি অংশের মধ্যে সংযোগ ঘটায় যার একটি অন্যটির কারণ। যেমন: বসার সময় নেই, তাই যেতে হচ্ছে।
- সাপেক্ষ যোজক: এ ধরনের যোজক একে অন্যের পরিপূরক হয়ে বাক্যে ব্যবহৃত হয়। যেমন: যত পড়ছি, ততই নতুন করে জানছি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)। 
২,৬৯৭.
'বেলে মাটি তরমুজ চাষের জন্য ভালো।' এখানে 'বেলে' কোন ধরনের বিশেষণ?
  1. অবস্থাবাচক
  2. উপাদানবাচক
  3. পরিমাণবাচক
  4. নির্দিষ্টতাজ্ঞাপক
সঠিক উত্তর:
উপাদানবাচক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপাদানবাচক
ব্যাখ্যা

• নাম  বিশেষণ:
- যে বিশেষণ পদ কোনো বিশেষ্য বা সর্বনাম পদকে বিশেষিত করে, তাকে নাম বিশেষণ বলে।

• নাম বিশেষণের প্রকারভেদ:
ক. রূপবাচক: নীল আকাশ, সবুজ মাঠ, কালো মেঘ।
খ. গুণবাচক: চৌকস লোক, দক্ষ কারিগর, ঠাণ্ডা হাওয়া।
গ. অবস্থাবাচক: তাজা মাছ, রোগা ছেলে, খোঁড়া পা।
ঘ. সংখ্যাবাচক: হাজার লোক, দশ দশা, শ টাকা।
ঙ. ক্রমবাচক: দশম শ্রেণি, সত্তর পৃষ্ঠা, প্রথমা কন্যা।
চ. পরিমাণবাচক: বিঘাটেক জমি, পাঁচ শতাংশ ভূমি, হাজার টনী জাহাজ, এক কেজি চাল, দু কিলোমিটার রাস্তা।
ছ. অংশবাচক: অর্ধেক সম্পত্তি, ষোল আনা দখল, সিকি পথ।
জ. উপাদানবাচক: বেলে মাটি, মেটে কলসি, পাথুরে মূর্তি।
ঝ. প্রশ্নবাচক: কতদূর পথ? কেমন অবস্থা?
ঞ. নির্দিষ্টতাজ্ঞাপক: এই লোক, সেই ছেলে, ছাব্বিশে মার্চ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

২,৬৯৮.
'প্রচুর' এর বিশেষ্য রূপ কোনটি?
  1. প্রাচুর্যতা
  2. প্রাচুর্য্যতা
  3. প্রাচুর্য
  4. প্রাচুর্য্য
সঠিক উত্তর:
প্রাচুর্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রাচুর্য
ব্যাখ্যা
• 'প্রচুর' এর বিশেষ্য রূপ- প্রাচুর্য। 

প্রচুর (বিশেষণ): 
- সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃতি প্রত্যয় = প্র+√ চুর্‌ + অ। 
অর্থ: ঢের, পর্যাপ্ত। 

প্রাচুর্য (বিশেষ্য): 
- সংস্কৃত শব্দ। 
- প্রকৃতি প্রত্যয় = প্রচুর + য। 
অর্থ:
- আধিক্য। 

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
২,৬৯৯.
যেখানে আকাশ আর সমুদ্র একাকার হয়ে গেছে, সেখানেই দিকচক্রবাল। - বাক্যটি কোন ধরনের?
  1. ক) বিশেষ্য স্থানীয় আশ্রিত খন্ডবাক্য
  2. খ) বিশেষণ স্থানীয় আশ্রিত খন্ডবাক্য
  3. গ) ক্রিয়া-বিশেষণ স্থানীয় খন্ডবাক্য
  4. ঘ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
গ) ক্রিয়া-বিশেষণ স্থানীয় খন্ডবাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ক্রিয়া-বিশেষণ স্থানীয় খন্ডবাক্য
ব্যাখ্যা

আশ্রিত খন্ডবাক্য ৩ প্রকার। যথা-
ক) বিশেষ্য স্থানীয় আশ্রিত খন্ডবাক্য,
খ) বিশেষণ স্থানীয় আশ্রিত খন্ডবাক্য এবং
গ) ক্রিয়া বিশেষণ স্থানীয় আশ্রিত খন্ডবাক্য।

যেখানে আকাশ আর সমুদ্র একাকার হয়ে গেছে,
সেখানেই দিকচক্রবাল। - বাক্যটি ক্রিয়া বিশেষণ স্থানীয় খন্ডবাক্যের উদাহরণ।

উৎস- বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

২,৭০০.
নিচের কোনটি লগ্নক নয়?
  1. প্রকৃতি
  2. বলক
  3. বিভক্তি
  4. নির্দেশক
  5. কোনোটিই নয় 
সঠিক উত্তর:
প্রকৃতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রকৃতি
ব্যাখ্যা
• 'প্রকৃতি' - লগ্নক নয়।

প্রকৃতি:
যে শব্দকে বা কোনো শব্দের যে অংশকে আর কোনো ক্ষুদ্রতর অংশে ভাগ করা যায় না, তাকে প্রকৃতি বলে।
প্রকৃতি দুই প্রকার। যথা -
১. নাম প্রকৃতি; উদাহরণ - হাত + ল = হাতল (বাঁট)। এখানে, হাত - নাম প্রকৃতি।
২. ক্রিয়া প্রকৃতি; উদাহরণ - √চল্‌ + অন্ত = চলন্ত (চলমান)। এখানে, চল্‌ - ক্রিয়া প্রকৃতি।
---------------------
• লগ্নক:
- শব্দ যখন বাক্যের মধ্যে থাকে, তখন তার নাম হয় পদ।
- পদে পরিণত হওয়ার সময়ে শব্দের সঙ্গে কিছু শব্দাংশ যুক্ত হয়, এগুলোর নাম লগ্নক।

• লগ্নক চার ধরনের।
যথা:
- বিভক্তি, 
- নির্দেশক, 
- বচন, 
- বলক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ)।