বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

পদ-প্রকরণ

মোট প্রশ্ন৩,০২৪এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

পদ-প্রকরণ

PrepBank · পাতা ২২ / ৩১ · ২,১০১২,২০০ / ৩,০২৪

২,১০১.
সাপেক্ষ সর্বনাম কোনটি?
  1. অন্য
  2. ইহারা
  3. পরস্পর
  4. যারা-তারা
সঠিক উত্তর:
যারা-তারা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যারা-তারা
ব্যাখ্যা

• সাপেক্ষ সর্বনাম:
পরস্পর নির্ভরশীল দুটি সর্বনামকে সাপেক্ষ সর্বনাম বলে।
যেমন: যারা-তারা, যে-সে, যেমন-তেমন (যেমন কর্ম তেমন ফল) ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- 'অন্য' অন্যবাচক সর্বনাম।
- 'ইহারা' সামীপ্যবাচক সর্বনাম।
- 'পরস্পর' পারস্পরিক সর্বনাম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি ৯ম-১০ম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

২,১০২.
অনুসর্গ সম্বন্ধে নিচের কোন বাক্যটি সঠিক নয়?
  1. ক) ধাতুর পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে
  2. খ) বাক্যে স্বাধীন পদ রূপে ব্যবহৃত হয়
  3. গ) বাক্যের অর্থ সম্পাদনে সাহায্য করে
  4. ঘ) কখনো বাক্যে বিভক্তি রূপে ব্যবহৃত হয়
সঠিক উত্তর:
ক) ধাতুর পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ধাতুর পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে
ব্যাখ্যা

বাংলা ভাষায় যে অব্যয় শব্দগুলো কখনো স্বাধীন পদরূপে, আবার কখনো শব্দ বিভক্তির ন্যায় বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে বাক্যের অর্থ প্রকাশে সাহায্য করে, সেগুলোকে অনুসর্গ বা কর্মপ্রবচনীয় বলা হয়।
মনে রাখতে হবে, এরা- শব্দ বিভক্তির ন্যায় বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে বাক্যের অর্থ প্রকাশে সাহায্য করে কিন্তু শব্দ-বিভক্তি নয়।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণী।

২,১০৩.
কোন বাক্যে উপাদানবাচক বিশেষণ ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. চালাক ছাত্র
  2. সবুজ মাঠ
  3. ঠাণ্ডা পানি
  4. বেলে মাটি
সঠিক উত্তর:
বেলে মাটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বেলে মাটি
ব্যাখ্যা

• উপাদানবাচক বিশেষণ: 
যে বিশেষণ দিয়ে উপাদান নির্দেশ করে, তাকে উপাদানবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন,
- বেলে মাটি, পাথুরে মূর্তি – এখানে ‘বেলে’ ও ‘পাথুরে’ উপাদানবাচক বিশেষণ।

• গুণবাচক বিশেষণ: 
যে বিশেষণ দিয়ে গুণ বা বৈশিষ্ট্য বােঝায়, তাকে গুণবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন – ছেলেটি চালাক/ চালাক ছেলে, ঠান্ডা পানি – এখানে ‘চালাক’ ও ঠান্ডা হলাে গুণবাচক বিশেষণ।
এভাবেই,  'নিপুণ কারিগর' এ কারিগর এর গুণ 'নিপুণ' এর মাধ্যমে গুণবাচক বিশেষণ প্রকাশ পেয়েছে। 

• ভাববাচক বিশেষণ:
যেসব বিশেষণ বাক্যের অন্তর্গত অন্য বিশেষণকে বিশেষিত করে, সেসব বিশেষণকে ভাববাচক বিশেষণ বলে।
যেমন – “খুব ভালাে খবর’ ও ‘গাড়িটা বেশ জোরে চলছে’ – এসব বাক্যে খুব এবং বেশ ভাববাচক বিশেষণ।

• অবস্থাবাচক বিশেষণ:
যে বিশেষণ দিয়ে অবস্থা বােঝায়, তাকে অবস্থাবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন – চলন্ত ট্রেন, তরল পদার্থ – এখানে চলন্ত ও তরল অবস্থাবাচক বিশেষণ।

• রূপবাচক বিশেষণ:
- যে বিশেষণ দিয়ে রং নির্দেশ করা হয়, তাকে বর্ণবাচক বিশেষণ বলে।
 যেমন- নীল আকাশ, সবুজ মাঠ, লাল ফিতা – এখানে ‘নীল’, ‘সবুজ' বা 'লাল' হলো বর্ণবাচক বিশেষণ।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ)।

২,১০৪.
কোনটি সংকোচক অব্যয়?
  1. তাই
  2. অথচ
  3. নতুবা
  4. কিংবা
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
অথচ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অথচ
ব্যাখ্যা

• সংকোচক অব্যয়: 
- তিনি বিদ্বান, অথচ সৎ ব্যক্তি নন। বাক্যে ‘অথচ’ সংকোচক অব্যয়।
- কিন্তু, বরং শব্দগুলোও সংকোচক অব্যয়।

অন্যদিকে,
বিয়োজক অব্যয়: 
- মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন। এখানে ''কিংবা'' বিয়োজক' অব্যয়। 
এরকম- কিংবা, বা, অথবা, নতুবা, না হয়, নয়তো, ইত্যাদি।

সংযোজক অব্যয়: 
ক. উচ্চপদ ও সামাজিক মর্যাদা সকলেই চায়। বাক্যে ‘ও’ সংযোজক অব্যয়।
খ. তিনি সৎ, তাই তাঁকে সকলেই শ্রদ্ধা করে। বাক্যে ‘তাই’ সংযোজক অব্যয়।
তাছাড়া আর, অধিকন্তু, সুতরাং সংযোজক অব্যয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

২,১০৫.
কোনটি সমষ্টিবাচক বিশেষ্যের উদাহরণ?
  1. মানুষ
  2. মাহফিল
  3. ইংরেজ
  4. থালা
সঠিক উত্তর:
মাহফিল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাহফিল
ব্যাখ্যা

সমষ্টিবাচক বিশেষ্য:
- যে পদে বেশকিছু সংখ্যক ব্যক্তি বা প্রানীর সমষ্টি বোঝায় তা-ই সমষ্টিবাচক বিশেষ্য।

যেমন:
- সভা, জনতা, সমিতি, পঞ্চায়েত, মাহফিল, ঝাঁক, বহর, দল ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
জাতিবাচক বিশেষ্য - মানুষ, গরু, পাখি, গাছ, পর্বত, ইংরেজ
বস্তুবাচক বিশেষ্য - বই, খাতা, কলম, থালা, বাটি, মাটি, চাল, পানি, চিনি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

২,১০৬.
'কেমন গান?'— এখানে 'কেমন' কী ধরনের বিশেষণ?
  1. প্রশ্নবাচক
  2. গুণবাচক
  3. নির্দিষ্টতাবাচক
  4. ভাববাচক
সঠিক উত্তর:
প্রশ্নবাচক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রশ্নবাচক
ব্যাখ্যা

• প্রশ্নবাচক বিশেষণ:
- যে বিশেষণ দিয়ে প্রশ্নবাচকতা নির্দেশিত হয়, তাকে প্রশ্নবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন
- কেমন গান? কতক্ষণ সময়? এখানে 'কেমন' ও 'কতক্ষণ' প্রশ্নবাচক বিশেষণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ৯ম-১০ম শ্রেণি, ২০১৯ সালের সংস্করণ।

২,১০৭.
'আমি আজ আলবত যাব।' - বাক্যে 'আলবত' কোন অব্যয়ের উদাহরণ?
  1. অনুকার অব্যয়
  2. অনুসর্গ অব্যয়
  3. অনন্বয়ী অব্যয়
  4. সমুচ্চয়ী অব্যয়
সঠিক উত্তর:
অনন্বয়ী অব্যয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনন্বয়ী অব্যয়
ব্যাখ্যা
অনন্বয়ী অব্যয়:
- যে সকল অব্যয় বাক্যের অন্য পদের সঙ্গে কোন সমন্ধ না রেখে স্বাধীনভাবে নানাবিধ ভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়, তাদের অনন্বয়ী অব্যয় বলে।

কয়েকটি অনন্বয়ী অব্যয়ের উদাহরণ:
- মরি মরি! কী সুন্দর প্রভাতের রূপ- উচ্ছ্বাস প্রকাশে।
- নিশ্চয়ই পারব।
- আমি আজ আলবত যাব।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ-২০১৯)।
২,১০৮.
চলন্ত ট্রেন থেকে নামবে না। বাক্যে 'চলন্ত' কোন পদের উদাহরণ?
  1. ক) ক্রিয়া বিশেষণ
  2. খ) ক্রিয়াজাত বিশেষণ
  3. গ) বিশেষ্য
  4. ঘ) বিশেষণজাত বিশেষ্য
সঠিক উত্তর:
খ) ক্রিয়াজাত বিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ক্রিয়াজাত বিশেষণ
ব্যাখ্যা
- চলে ক্রিয়াপদ থেকে 'চলন্ত' শব্দটি সৃষ্টি হয়েছে। এটি একটি কৃদন্ত পদ এবং এটি ক্রিয়াজাত বিশেষণ।
উৎস : ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ
২,১০৯.
'না-হয়, অথচ' কোন ধরনের যোজক?
  1. বিরোধমূলক যোজক
  2. কারণবাচক যোজক
  3. সাপেক্ষ যোজক
  4. বৈকল্পিক যোজক
সঠিক উত্তর:
বৈকল্পিক যোজক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বৈকল্পিক যোজক
ব্যাখ্যা
বৈকল্পিক যোজক:
- এ ধরনের যোজক একাধিক পদ, বা বাক্যকল্প বা বাক্যের মধ্যে বিকল্প নির্দেশ করে।
- বৈকল্পিক যোজক হলো- বা, না-হয়, অথচ
যেমন:
- সাদা বা কালো।
- তিনি হয় রিকশায় না-হয় হেঁটে যাবেন।
- সারাদিন খুঁজলাম, অথচ বইটা পেলাম না।

কারণবাচক যোজক:

- এ ধরনের যোজক এমন দুটি বাক্যের মধ্যে সংযোগ ঘটায় যার একটি অন্যটির কারণ।
- কারণবাচক যোজক হলো- কারণ, যেহেতু, তাই, অতএব।
যেমন:
- জিনিসের দাম বেড়েছে, কারণ পরিবহন ধর্মঘট।
- যেহেতু ঠান্ডা লেগেছে, তাই আইসক্রিম খাচ্ছি না।
- তুমি অপরাধী, অতএব শাস্তি পেতে হবে।

বিরোধমূলক যোজক:
- এ ধরনের যোজক দুটি বাক্যের সংযোগ ঘটিয়ে দ্বিতীয়টির সাহায্যে প্রথম বাক্যের বিরোধ নির্দেশ করে।
- বিরোধমূলক যোজক হলো- কিন্তু, তবু, অথচ।
যেমন:
- তোমাকে চিঠি লিখেছি, কিন্তু উত্তর পাইনি।
- এত বৃষ্টি হলো, তবু গরম গেল না।
- সারাদিন অপেক্ষা করলাম, অথচ আপনি এলেন না।

সাপেক্ষ যোজক:
- এ ধরনের সংযোজক একে অন্যের পরিপূরক হয়ে বাক্যে ব্যবহৃত হয়।
- প্রথাগত ব্যাকরণে এগুলো শর্তবাচক বা সাপেক্ষ বা নিত্যসম্বন্দ্বী অব্যয় নামে পরিচিত।
- সাপেক্ষ যোজক হলো- যথা... তথা, যত... তত, যখন... তখন, যেমন... তেমন, যেরূপ ... সেরূপ। যেমন: যত গর্জে তত বর্ষে না। যথা ধর্ম তথা জয়।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২,১১০.
অকর্মক ক্রিয়া পদ রয়েছে নিচের কোন বাক্যে?
  1. সে বই পড়ছে।
  2. সে ভালো দৌড়ায়।
  3. তপু দীপুকে বলটি দিল।
  4. বাবা আমাকে একটি কলম কিনে দিয়েছেন।
  5. শিক্ষক ছাত্রকে বই দিলেন।
সঠিক উত্তর:
সে ভালো দৌড়ায়।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সে ভালো দৌড়ায়।
ব্যাখ্যা
• ক্রিয়া পদ:
বাক্যে উদ্দেশ্য বা কর্তা কী করে বা কর্তার কী ঘটে বা হয়, তা নির্দেশ করা হয় যে পদ দিয়ে তাকে ক্রিয়া বলে।
 
বাক্যের মধ্যে কর্মের উপস্থিতির ভিত্তিতে ক্রিয়া তিন প্রকার। 
যথা:
১. অকর্মক ক্রিয়া: বাক্যে ক্রিয়ার কোনাে কর্ম না থাকলে সেই ক্রিয়াকে অকর্মক ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- সে ঘুমায়। 
- সে মাটিতে শোয়।
- সে ভালো দৌড়ায়।
[এই বাক্যেগুলোতে কোনাে কর্ম নেই।]
 
------------------------
২. সকর্মক ক্রিয়া: বাক্যের মধ্যে ক্রিয়ার কর্ম থাকলে সেই ক্রিয়াকে সকর্মক ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- সে বই পড়ছে।
- বাবা আমাকে একটি কলম কিনে দিয়েছেন।

৩. দ্বিকর্মক ক্রিয়া: বাক্যের মধ্যে ক্রিয়ার দুটি কর্ম থাকলে সেই ক্রিয়াকে দ্বিকর্মক ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- তপু দীপুকে বলটি দিল।
- শিক্ষক ছাত্রকে বই দিলেন।
[এই বাক্যে ‘দিলেন একটি দ্বিকর্মক ক্রিয়া। কী দিলেন প্রশ্নের উত্তর দেয় মুখ্য কর্ম (বই), আর কাকে দিলেন প্রশ্নের উত্তর দেয় গৌণ কর্ম (ছাত্রকে)।]
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ), ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ।
২,১১১.
যেসব অনুসর্গ ক্রিয়া ছাড়া অন্য শব্দ থেকে তৈরি হয়, সেগুলোকে কী বলে?
  1. ক্রিয়া- বিশেষণ জাত অনুসর্গ
  2. ক্রিয়াজাত অনুসর্গ
  3. সাধারণ অনুসর্গ
  4. অব্যয় বিশেষণ
সঠিক উত্তর:
সাধারণ অনুসর্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাধারণ অনুসর্গ
ব্যাখ্যা

• অনুসর্গকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়: সাধারণ অনুসর্গ ও ক্রিয়াজাত অনুসর্গ।

সাধারণ অনুসর্গ:
- যেসব অনুসর্গ ক্রিয়া ছাড়া অন্য শব্দ থেকে তৈরি হয়, সেগুলোকে সাধারণ অনুসর্গ বলে।
যেমন-
- উপরে: মাথার উপরে নীল আকাশ।
- কাছে: কার কাছে গেলে জানা যাবে?
- জন্যে: হারানো ঘড়িটার জন্য অনেক কেঁদেছি।
- দ্বারা: এমন কাজ তোমার দ্বারা হবে না।
- বনাম: আজ বাংলাদেশ বনাম ভারতের খেলা।

ক্রিয়াজাত অনুসর্গ:
- যেসব অনুসর্গ ক্রিয়াপদ থেকে তৈরি হয়েছে, সেগুলোকে ক্রিয়াজাত অনুসর্গ বলে।
যেমন-
- করে: ভালো করে খেয়ে নাও।
- থেকে: ঢাকা থেকে বরিশাল যেতে পদ্মা নদী পার হতে হয়।
- দিয়ে: মন দিয়ে লেখাপড়া করা দরকার।
- ধরে: বহুদিন ধরে অপেক্ষা করে আছি।
- বলে: সে সঙ্গে যাবে বলে তৈরি হয়ে এসেছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২৫ সংস্করণ), ৯ম-১০ম শ্রেণি।

২,১১২.
‘বাহিনী’ কোন পদের উদাহরণ
  1. বিশেষ্য
  2. বিশেষণ
  3. ক্রিয়া
  4. অব্যয়
সঠিক উত্তর:
বিশেষ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশেষ্য
ব্যাখ্যা
• ‘বাহিনী’ সমষ্টি-বিশেষ্যের উদাহরণ।

• বিশেষ্য পদ:
যেসব শব্দ দিয়ে ব্যক্তি, প্রাণী, স্থান, বস্তু, ধারণা ও গুণের নাম বোঝায়, সেগুলোকে বিশেষ্য বলে। যেমন নজরুল, বাঘ, ঢাকা, ইট, ভোজন, সততা ইত্যাদি। বিশেষ্য সাধারণত ছয় প্রকার:
১. নাম-বিশেষ্য,
২. জাতি-বিশেষ্য,
৩. বস্তু-বিশেষ্য,
৪. সমষ্টি-বিশেষ্য,
৫. গুণ-বিশেষ্য এবং
৬. ক্রিয়া-বিশেষ্য।

• নাম-বিশেষ্য:
ব্যক্তি, স্থান, দেশ, কাল, সৃষ্টি প্রভৃতির সুনির্দিষ্ট নামকে নাম-বিশেষ্য বলা হয়।
যেমন:
ব্যক্তিনাম: হাবিব, সজল, লতা, শম্পা।
স্থাননাম: ঢাকা, বাংলাদেশ, হিমালয়, পদ্মা।
কালনাম: সোমবার, বৈশাখ, জানুয়ারি, রমজান।
সৃষ্টিনাম: গীতাঞ্জলি, সঞ্চিতা, ইত্তেফাক, অপরাজেয় বাংলা।

• জাতি-বিশেষ্য:
জাতি-বিশেষ্য সাধারণ-বিশেষ্য নামেও পরিচিত। এ ধরনের বিশেষ্য নির্দিষ্ট কোনো নামকে না বুঝিয়ে প্রাণী ও অপ্রাণীর সাধারণ নামকে বোঝায়। যেমন: মানুষ, গরু, ছাগল, ফুল, ফল, নদী, সাগর, পর্বত ইত্যাদি।

• বস্তু-বিশেষ্য:
কোনো দ্রব্য বা বস্তুর নামকে বস্তু-বিশেষ্য বলে। যেমন: ইট, লবণ, আকাশ, টেবিল, বই ইত্যাদি।

• সমষ্টি-বিশেষ্য:
এ ধরনের বিশেষ্য দিয়ে ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টিকে বোঝায়। যেমন: জনতা, পরিবার, ঝাঁক, বাহিনী, মিছিল ইত্যাদি।

• গুণ-বিশেষ্য:
গুণগত অবস্থা ও ধারণার নামকে গুণ-বিশেষ্য বলে। যেমন: সরলতা, দয়া, আনন্দ, গুরুত্ব, দীনতা, ধৈর্য ইত্যাদি।

• ক্রিয়া-বিশেষ্য:
যে বিশেষ্য দিয়ে কোনো ক্রিয়া বা কাজের নাম বোঝায়, তাকে ক্রিয়া-বিশেষ্য বলে। যেমন: পঠন, ভোজন, শয়ন, করা, করানো, পাঠানো, নেওয়া ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২,১১৩.
"আজ বাজারে গিয়ে তাজা মাছ কিনলাম।" - এখানে 'তাজা' কোন পদ?
  1. গুণবাচক বিশেষণ
  2. অবস্থাবাচক বিশেষণ
  3. অংশবাচক বিশেষণ
  4. রূপবাচক বিশেষণ 
সঠিক উত্তর:
অবস্থাবাচক বিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অবস্থাবাচক বিশেষণ
ব্যাখ্যা

• "আজ বাজারে গিয়ে তাজা মাছ কিনলাম।" - এখানে 'তাজা' অবস্থাবাচক বিশেষণ পদ।

• নাম  বিশেষণ:
- যে বিশেষণ পদ কোনো বিশেষ্য বা সর্বনাম পদকে বিশেষিত করে, তাকে নাম বিশেষণ বলে।

• নাম বিশেষণের প্রকারভেদ:
ক. রূপবাচক: নীল আকাশ, সবুজ মাঠ, কালো মেঘ।
খ. গুণবাচক: চৌকস লোক, দক্ষ কারিগর, ঠাণ্ডা হাওয়া।
গ. অবস্থাবাচক: তাজা মাছ, রোগা ছেলে, খোঁড়া পা।
ঘ. সংখ্যাবাচক: হাজার লোক, দশ দশা, শ টাকা।
ঙ. ক্রমবাচক: দশম শ্রেণি, সত্তর পৃষ্ঠা, প্রথমা কন্যা।
চ. পরিমাণবাচক: বিঘাটেক জমি, পাঁচ শতাংশ ভূমি, হাজার টনী জাহাজ, এক কেজি চাল, দু কিলোমিটার রাস্তা।
ছ. অংশবাচক: অর্ধেক সম্পত্তি, ষোল আনা দখল, সিকি পথ।
জ. উপাদানবাচক: বেলে মাটি, মেটে কলসি, পাথুরে মূর্তি।
ঝ. প্রশ্নবাচক: কতদূর পথ? কেমন অবস্থা?
ঞ. নির্দিষ্টতাজ্ঞাপক: এই লোক, সেই ছেলে, ছাব্বিশে মার্চ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

২,১১৪.
নিচের কোনটি নিত্য অতীত?
  1. উঠতাম
  2. গেল
  3. পড়ছিলাম
  4. পৌঁছেছিলাম
সঠিক উত্তর:
উঠতাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উঠতাম
ব্যাখ্যা
নিত্য অতীত:
অতীত কালে প্রায়ই ঘটতো এমন বোঝালে নিত্য অতীত কাল হয়।
যেমন -
- খুব সকালে ঘুম থেকে উঠতাম

অন্যদিকে,
সাধারণ অতীত:
অতীত কালে যে কাজ সম্পন্ন হয়ে গিয়েছে বোঝায়, তাকে সাধারণ অতীত কাল বলে।
যেমন -
- তারা সেখানে বেড়াতে গেল

পুরাঘটিত অতীত:
অতীতের যে ক্রিয়া বহু পূর্বেই ঘটে গেছে এবং পরে আরো কিছু ঘটনা ঘটেছে, তার কালকে পুরাঘটিত অতীত কাল বলে।
যেমন -
- বৃষ্টি শেষ হওয়ার আগেই আমরা বাড়ি পৌছেছিলাম

ঘটমান অতীত:
যে ক্রিয়া অতীত কালে চলছিল বোঝায়, তাকে ঘটমান অতীত কাল বলে।
যেমন -
- আমরা তখন বই পড়ছিলাম

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২,১১৫.
যোজক কাকে যুক্ত করে?
  1. ক) পদ
  2. খ) বর্গ
  3. গ) বাক্য
  4. ঘ) সবগুলো
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা
• পদ, বর্গ বা বাক্যকে যেসব শব্দ যুক্ত করে, সেগুলোকে যোজক বলে। 
যেমন: এবং, ও, আর, অথবা, তবু, সুতরাং, কারণ, তবে। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
২,১১৬.
'আমি এখন পড়ব।' বাক্যটি কোন কালের উদাহরণ?
  1. সাধারণ ভবিষ্যৎকাল
  2. সাধারণ বর্তমানকাল
  3. ঘটমান ভবিষ্যৎকাল
  4. অনুজ্ঞা ভবিষ্যৎকাল
সঠিক উত্তর:
সাধারণ ভবিষ্যৎকাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাধারণ ভবিষ্যৎকাল
ব্যাখ্যা
• ভবিষ্যৎ কাল:
ভবিষ্যতে যে ক্রিয়া সম্পন্ন হবে তাকে ভবিষ্যৎ কাল বলে। ভবিষ্যৎ কাল তিন প্রকার: সাধারণ ভবিষ্যৎ, ঘটমান ভবিষ্যৎ এবং অনুজ্ঞা ভবিষ্যৎ।

• সাধারণ ভবিষ্যৎকাল:
যে ক্রিয়া এখনো ঘটেনি অথচ ভবিষ্যতে ঘটবে এমন বোঝায়, তাকে সাধারণ ভবিষ্যৎ কাল বলে।
যেমন:
- আমি এখন পড়ব।

• ঘটমান ভবিষ্যৎকাল:
যে ক্রিয়া ভবিষ্যতে আরম্ভ হয়ে চলতে থাকবে এমন বোঝায় তাকে ঘটমান ভবিষ্যৎ কাল বলে।
যেমন:
- তিনি ক্লাসে পড়াতে থাকবেন।

• এ ধরনের যৌগিক ক্রিয়ার সাহায্যেও এই অর্থ প্রকাশের বিকল্প উপায় আছে- পূর্বক্রিয়া + চল্ ব্যবহার করে- বলে চলব, কেঁদে চলবে।

• অনুজ্ঞা ভবিষ্যৎকাল:
যে ক্রিয়া দিয়ে ভবিষ্যৎ কালের আদেশ, অনুমতি, অনুরোধ, প্রার্থনা, আমন্ত্রণ, আশীর্বাদ, উপদেশ, উপেক্ষা ইত্যাদি প্রকাশ করা হয়, তাকে অনুজ্ঞা ভবিষ্যৎ কাল বলে।
যেমন:
- তাড়াতাড়ি কাজটি কোরো।
- ভালোভাবে পৌঁছে যেয়ো।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।
২,১১৭.
‘ত্রিশ লক্ষ শহিদের রক্তে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে।’ বাক্যটি কোন কালের?
  1. সাধারণ বর্তমান
  2. পুরাঘটিত বর্তমান
  3. নিত্যবৃত্ত অতীত
  4. পুরাঘটিত অতীত
সঠিক উত্তর:
পুরাঘটিত বর্তমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পুরাঘটিত বর্তমান
ব্যাখ্যা
পুরাঘটিত বর্তমান কাল:
ক্রিয়া পূর্বে শেষ হলে এবং তার ফল এখনও বর্তমান থাকলে, পুরাঘটিত বর্তমান কাল ব্যবহৃত
হয়।
যেমন:
- এবার আমি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছি।
- এতক্ষণ আমি অঙ্ক করেছি।
- ত্রিশ লক্ষ শহিদের রক্তে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে।
----------------------- 
সাধারণ বর্তমান কাল:

যে ক্রিয়া বর্তমানে সাধারণভাবে ঘটে তার কালকে সাধারণ বর্তমান কাল বলে।
যেমন-
- তৃণা যায়।
- বর্ণ বই পড়ে।
- বৃষ্টি চিঠি লেখে।

সাধারণ বর্তমানের দুটি রূপ পাওয়া যায়। যথা :
i. নিত্যবৃত্ত বর্তমান কাল :
যে ক্রিয়া সাধারণভাবে নিত্য বা সব সময় ঘটে অর্থাৎ ক্রিয়া সংঘটনে স্বাভাবিকতা বা অভ্যন্তর বোঝালে সাধারণ বর্তমান কালের ক্রিয়াকে নিত্যবৃত্ত বর্তমান কাল বলে। যেমন:
- সকালে সূর্য উঠে। (স্বাভাবিকতা)
- সন্ধ্যায় সূর্য অস্ত যায়। (স্বাভাবিকতা)
- আমি প্রত্যহ সকালে চা খাই। (অভ্যস্ততা)
- আমি রোজ বিকেলে হাঁটতে যাই। (অভ্যস্ততা)

ii. ঐতিহাসিক বর্তমান কাল :
ঐতিহাসিক বর্তমান কাল অতীত অর্থে বর্তমান। অতীত কালের কোনো ঐতিহাসিক ঘটনা বর্ণনায় অনেক ক্ষেত্রে নিত্য বর্তমান কালের প্রয়োগ বা ব্যবহার হয়। এরূপ ক্ষেত্রে সাধারণ বর্তমান বা নিত্যবৃত্ত বর্তমান কালকে ঐতিহাসিক বর্তমান কাল বলে। যেমন -
- ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দে বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভ করে।
- ৫৭০ খ্রিষ্টাব্দে হযরত মুহম্মদ (স) মক্কায় জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৪৮৬ খ্রিষ্টাব্দে নবদ্বীপে শ্রীচৈতন্য দেবের জন্ম হয়।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২,১১৮.
'শিকারি পাখিটিকে গুলি করল।' বাক্যের ক্রিয়াটি কোন কালের উদাহরণ?
  1. সাধারণ অতীত কাল
  2. নিত্যবৃত্ত অতীত কাল
  3. ঘটমান অতীত কাল
  4. পুরাঘটিত অতীত কাল
সঠিক উত্তর:
সাধারণ অতীত কাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাধারণ অতীত কাল
ব্যাখ্যা

• সাধারণ অতীত কাল: বর্তমান কালের পূর্বে যে ক্রিয়া সম্পন্ন হয়ে গিয়েছে, তার সংঘটন কালই সাধারণ অতীত কাল।
 যেমন:
- প্রদীপ নিভে গেল।
- শিকারি পাখিটিকে গুলি করল।

• নিত্যবৃত্ত অতীত কাল: অতীত কালে যে ক্রিয়া সাধারণ অভ্যস্ততা অর্থে ব্যবহৃত হয়, তাকে নিত্যবৃত্ত অতীত কাল বলে।
 যেমন:
- আমরা তখন রোজ সকালে নদী তীরে ভ্রমণ করতাম।

• ঘটমান অতীত কাল: যে ক্রিয়া অতীত কালে চলছিল বোঝায়, তাকে ঘটমান অতীত কাল বলে।
যেমন:
- আমরা তখন বই পড়ছিলাম।

• পুরাঘটিত অতীত কাল: যে ক্রিয়া অতীতের বহু পূর্বেই সংঘটিত হয়ে গিয়েছে এবং যার পরে আরও কিছু ঘটনা ঘটে গেছে, তার কালকে পুরাঘটিত অতীত কাল বলা হয়। 
যেমন:
- সেবার তাকে সুস্থই দেখেছিলাম।
- কাজটি কি তুমি করেছিলে?

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

২,১১৯.
‘আনন্দ’ কোন ধরণের বিশেষ্য ?
  1. ক) নাম-বিশেষ্য
  2. খ) জাতি - বিশেষ্য
  3. গ) গুণ - বিশেষ্য
  4. ঘ) সমষ্টি -বিশেষ্য
সঠিক উত্তর:
গ) গুণ - বিশেষ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) গুণ - বিশেষ্য
ব্যাখ্যা

- গুণ-বিশেষ্য: গুনগত অবস্থা ও ধারণার নামকে গুণ-বিশেষ্য বলে। যেমনঃ-
- সরলতা
- দয়া
- আনন্দ 
- গুরুত্ব
- দীনতা
-ধৈর্য

[উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিত, নবম - দশম শ্রেণি, সংস্করণ ২০২১]

২,১২০.
নিচের কোনগুলো ব্যতিহারিক সর্বনাম পদ?
  1. ক) স্বয়ং, খোদ, আপনি
  2. খ) এ, ইহারা, ইনি
  3. গ) নিজে নিজে, আপসে, পরস্পর
  4. ঘ) সব, সকল, তাবৎ
সঠিক উত্তর:
গ) নিজে নিজে, আপসে, পরস্পর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) নিজে নিজে, আপসে, পরস্পর
ব্যাখ্যা
প্রদত্ত অপশন গুলোর মধ্যে - স্বয়ং, খোদ,
আপনি- আত্মবাচক সর্বনাম
এ, ইহারা, ইনি - সমীপ্যবাচক সর্বনাম
নিজে নিজে, আপসে, পরস্পর - ব্যতিহারিক সর্বনাম এবং
সব, সকল, তাবৎ - সাকুল্যবাচক সর্বনাম পদ।
উৎস- বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
২,১২১.
‘বিপদ কাটা’ এখানে ‘কাটা’ কোন ধরনের ক্রিয়ার দৃষ্টান্ত?
  1. যৌগিক ক্রিয়া
  2. সংযোগ ক্রিয়া
  3. নামক্রিয়া
  4. প্রযোজক ক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
সংযোগ ক্রিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সংযোগ ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
• গঠন বিবেচনায় ক্রিয়া পাঁচ রকম। যথা:

• সরল ক্রিয়া:
একটিমাত্র পদ দিয়ে যে ক্রিয়া গঠিত হয় এবং কর্তা এককভাবে ক্রিয়াটি সম্পন্ন করে, তাকে সরল ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- সে লিখছে।
- ছেলেরা মাঠে খেলছে।
[এখানে ‘লিখছে’ ও ‘খেলছে’ এগুলো সরল ক্রিয়া।]

• প্রযোজক ক্রিয়া:
কর্তা অন্যকে দিয়ে কাজ করালে তাকে প্রযোজক ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- তিনি আমাকে অঙ্ক করাচ্ছেন।
- রাখাল গরুকে ঘাস খাওয়ায়।
[এখানে 'করাচ্ছেন' ও 'খাওয়ায়' প্রযোজক ক্রিয়া।]

• নামক্রিয়া:
বিশেষ্য, বিশেষণ বা ধ্বন্যাত্মক শব্দের শেষে আ বা আনো প্রত্যয় যুক্ত হয়ে যে ক্রিয়া গঠিত হয়, তাকে নামক্রিয়া বলে।
যেমন:
- বাজারে সবজির দাম কমছে না; (বিশেষণ কম শব্দের সঙ্গে আ যুক্ত হয়ে হয় কমা)।
-  জবাই করা মুরগি উঠানে ছটফটায়; (ধ্বন্যাত্মক ছটফট শব্দের সঙ্গে -আনো যুক্ত হয়ে হয় ছটফটানো)।

• সংযোগ ক্রিয়া:
বিশেষ্য, বিশেষণ বা ধ্বন্যাত্মক শব্দের পরে করা, কাটা, হওয়া, দেওয়া, ধরা, পাওয়া, খাওয়া, মারা প্রভৃতি ক্রিয়া যুক্ত হয়ে সংযোগ ক্রিয়া গঠিত হয়।
• করা ক্রিয়া যোগে: গান করা, গরম করা, ঠনঠন করা, ব্যাট করা।
• কাটা ক্রিয়া যোগে: সাঁতার কাটা, বিপদ কাটা।
• হওয়া ক্রিয়া যোগে: উদয় হওয়া, বড়ো হওয়া, রাজি হওয়া।
• দেওয়া ক্রিয়া যোগে: কথা দেওয়া, মন দেওয়া, দোষ দেওয়া ইত্যাদি।

• যৌগিক ক্রিয়া:
অসমাপিকা ক্রিয়ার সঙ্গে সমাপিকা ক্রিয়া যুক্ত হয়ে যখন একটি ক্রিয়া গঠন করে, তখন তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে।
যেমন:
মরে যাওয়া, কমে আসা, এগিয়ে চলা, হেসে ওঠা, উঠে পড়া, পেয়ে বসা, সরে দাঁড়ানো, বেঁধে দেওয়া, বুঝে নেওয়া, বলে ফেলা, করে তোলা, চেপে রাখা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ সংস্করণ)।
২,১২২.
'দুঃসাহসী' কোন পদ?
  1. বিশেষ্য
  2. ক্রিয়া
  3. সর্বনাম
  4. বিশেষণ
সঠিক উত্তর:
বিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশেষণ
ব্যাখ্যা
• দুঃসাহসী (বিশেষণ পদ),
- সংস্কৃত শব্দ। 
- উচ্চারণ- দুশ্‌শাহোশি।
অর্থ  
অত্যধিক সাহসী, নির্ভীক। 

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান। 
২,১২৩.
"সীমার মাঝে অসীম তুমি।" - বাক্যে "মাঝে" অনুসর্গ কী অর্থ প্রকাশ করে?
  1. নিমিত্ত
  2. কারণে
  3. মধ্যে
  4. ব্যাপ্তি
সঠিক উত্তর:
মধ্যে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মধ্যে
ব্যাখ্যা
অনুসর্গের প্রয়োগ:
মাঝে:
- মধ্যে অর্থে - 'সীমার মাঝে অসীম তুমি'।
- একদেশিক অর্থে - এ দেশের মাঝে একদিন সব ছিল।
- ক্ষণকাল অর্থে - নিমেষ মাঝেই সব শেষ।

অনুসর্গ:
- বাংলা ভাষায় যে অব্যয় শব্দগুলো কখনো স্বাধীন পদ রূপে, আবার কখনো শব্দ বিভক্তির ন্যায় বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে বাক্যের অর্থ প্রকাশে সাহায্য করে, সেগুলোকে অনুসর্গ বা কর্মপ্রবচনীয় বলে।
- অনুসর্গগুলো কখনো প্রাতিপদিকের পরে ব্যবহৃত হয়, আবার কখনো বা 'কে' এবং 'র' বিভক্তিযুক্ত শব্দের পরে বসে।
- বাংলা ভাষায় বহু অনুসর্গ আছে।
যেমন -
প্রতি, বিনা, বিহনে, সহ, ওপর, অবধি, হেতু, মধ্যে, মাঝে, পরে, ভিন্ন, বই, ব্যতীত, জন্যে, জন্য, পর্যন্ত অপেক্ষা, সহকারে, তরে, পানে, নামে, মতো, নিকট, অধিক, পক্ষে, দ্বারা, দিয়া, দিয়ে, কর্তৃক, সঙ্গে, হইতে, হতে, থেকে, চেয়ে, পাছে, ভিতর, ভেতর ইত্যাদি।
- এদের মধ্যে দ্বারা, দিয়া (দিয়ে), কর্তৃক, হইতে (হতে), চেয়ে, অপেক্ষা, মধ্যে প্রভৃতি কয়েকটি অনুসর্গ বিভক্তিরূপে ব্যবহৃত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২,১২৪.
'ধৈর্য' কোন ধরনের বিশেষ্যে বাচক শব্দের উদাহরণ?
  1. ক) বস্তু বিশেষ্য
  2. খ) গুণ-বিশেষ্য
  3. গ) ক্রিয়া-বিশেষ্য
  4. ঘ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
খ) গুণ-বিশেষ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) গুণ-বিশেষ্য
ব্যাখ্যা
⇒ গুণ-বিশেষ্য : গুণগত অবস্থা ও ধারণার নামকে গুণ-বিশেষ্য বলে।
যেমন – সরলতা, দয়া, আনন্দ, গুরুত্ব, দীনতা, ধৈর্য ইত্যাদি।


⇒ বস্তু বিশেষ্য: কোনাে দ্রব্য বা বস্তুর নামকে বন্ধু বিশেষ্য বলে।
যেমন – ইট, লবণ, আকাশ, টেবিল, বই ইত্যাদি।

⇒ ক্রিয়া-বিশেষ্য: যে বিশেষ্য দিয়ে কোনাে ক্রিয়া বা কাজের নাম বােঝায়, তাকে ক্রিয়া-বিশেষ্য বলে।
যেমন – পঠন, ভেজিন, শয়ন, করা, করানাে, পাঠানাে, নেওয়া ইত্যাদি।

⇒ নাম-বিশেষ্য: ব্যক্তি, স্থান, দেশ, কাল, সৃষ্টি প্রভৃতির সুনির্দিষ্ট নামকে নাম-বিশেষ্য বলা হয়।
যেমন – ব্যক্তিনাম: হাবিব, সজল, লতা, শম্পা। স্থাননাম: ঢাকা, বাংলাদেশ, হিমালয়, পদ্মা। কালনাম: সােমবার, বৈশাখ, জানুয়ারি, রমজান। সৃষ্টিনাম: গীতাঞ্জলি, সঞ্চিতা, ইত্তেফাক, অপরাজেয় বাংলা।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
২,১২৫.
কোনটি সংজ্ঞাবাচক বিশেষ্য?
  1. ক) সমিতি
  2. খ) বীরত্ব
  3. গ) সৌরব
  4. ঘ) বিশ্বনবি
সঠিক উত্তর:
ঘ) বিশ্বনবি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) বিশ্বনবি
ব্যাখ্যা

সংজ্ঞা (বা নাম) বাচক বিশেষ্য : যে পদ দ্বারা কোনো ব্যক্তি, ভৌগোলিক স্থান বা সংজ্ঞা এবং গ্রন্থ বিশেষের নাম বিজ্ঞাপিত হয়, তাকে সংজ্ঞা (বা নাম) বাচক বিশেষ্য বলে।
যথা:
ক. ব্যক্তির নাম : নজরুল, রহিম, সানিয়া।
খ. ভৌগোলিক স্থানের : ঢাকা, মক্কা, দিল্লি।
গ. ভৌগোলিক সংজ্ঞা : (নদী, সমুদ্র, পর্বত ইত্যাদি) মেঘনা, হিমালয়, আরব সাগর।
ঘ. গ্রন্থের নাম : অগ্নিবীণা, গীতাঞ্জলি, বিশ্বনবি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ - নবম-দশম শ্রেণি।

 
২,১২৬.
‘মা শিশুকে চাঁদ দেখাচ্ছেন’ - বাক্যে প্রযোজ্য কর্তা কোনটি?
  1. ক) মা
  2. খ) শিশুকে
  3. গ) চাঁদ
  4. ঘ) দেখাচ্ছেন
সঠিক উত্তর:
খ) শিশুকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) শিশুকে
ব্যাখ্যা

যে ক্রিয়া প্রযোজনা করে, তাকে প্রযোজক কর্তা এবং
যাকে দিয়ে ক্রিয়াটি অনুষ্ঠিত হয় তাকে, প্রযোজ্য কর্তা বলে।
এখানে, ‘মা’ প্রযোজক কর্তা এবং ‘শিশুকে’ প্রযোজ্য কর্তা।
সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী।

২,১২৭.
‘রোগ হলে ওষুধ খাবে।’- বাক্যটি কোন কালের দৃষ্টান্ত?
  1. সাধারণ বর্তমান
  2. ভবিষ্যৎ অনুজ্ঞা
  3. ঘটমান ভবিষ্যৎ
  4. বর্তমান অনুজ্ঞা
সঠিক উত্তর:
ভবিষ্যৎ অনুজ্ঞা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভবিষ্যৎ অনুজ্ঞা
ব্যাখ্যা
⇒ ভবিষ্যৎ কাল:
যে ক্রিয়া ভবিষ্যতে সংঘটিত হবে তার কালকে ভবিষ্যৎ কাল বলে। যেমন- অয়ন গোসল করবে। ভবিষ্যৎ কালের চারটি রূপ যথা:
১. সাধারণ ভবিষ্যৎ কাল,
২. ঘটমান ভবিষ্যৎ কাল,
৩. পুরাঘটিত ভবিষ্যৎ কাল,
৪. ভবিষ্যৎ অনুজ্ঞা।

⇒ ভবিষ্যৎ অনুজ্ঞা: ভবিষ্যতে কোনো কাজ করার জন্য আদেশ, উপদেশ, অনুরোধ, প্রার্থনা ইত্যাদি বোঝালে ভবিষ্যৎ অনুজ্ঞা হয়।
যেমন:
- আদেশ: সদা সত্য বলবে।
- সম্ভাবনায়: চেষ্টা করো, সবই বুঝতে পারবে।
- বিধান অর্থে: রোগ হলে ওষুধ খাবে।
- অনুরোধে: কাল একবার এসো (বা আসিও বা আসিবে)। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,১২৮.
'আবার' কোন ধরনের অব্যয়ের উদাহরণ?
  1. বিদেশি
  2. বাংলা
  3. তৎসম
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
বাংলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাংলা
ব্যাখ্যা
বাংলা অব্যয় শব্দ:
- আর, আবার, ও, হ্যাঁ, না ইত্যাদি।

বিদেশি অব্যয় শব্দ:
যেমন:
- আলবত, বহুত, খুব, শাবাশ, খাসা, মাইরি, মারহাবা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
তৎসম অব্যয় শব্দ:
যেমন:
- যদি, যথা, সদা, সহসা, হঠাৎ, অর্থাৎ, দৈবাৎ, বরং, পুনশ্চ, আপাতত, বস্তুত ইত্যাদি। 'এবং' ও 'সুতরাং' তৎসম শব্দ হলেও বাংলায় এগুলোর অর্থ পরিবর্তিত হয়েছে। সংস্কৃতে 'এবং' শব্দের অর্থ এমন, আর 'সুতরাং' অর্থ অত্যন্ত, অবশ্য।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২,১২৯.
'মহারাজের ভোজন পর্ব শেষ হয়েছে।' - বাক্যে 'ভোজন' কোন ধরনের বিশেষ্য?
  1. বস্তুবাচক
  2. গুণবাচক
  3. সমষ্টিবাচক
  4. ভাববাচক
সঠিক উত্তর:
ভাববাচক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভাববাচক
ব্যাখ্যা
ভাববাচক বিশেষ্য:
- যে বিশেষ্য পদে কোনাে ক্রিয়ার ভাব বা কাজের ভাব প্রকাশিত হয়, তাকে ভাববাচক বিশেষ্য বলে।
যথা-
- গমন (যাওযার ভাব বা কাজ), দর্শন (দেখার কাজ), ভােজন (খাওয়ার কাজ), শয়ন (শশায়ার কাজ), দেখা, শােনা।

অন্যদিকে,
সমষ্টিবাচক বিশেষ্য:
- যে পদে বেশকিছু সংখ্যক ব্যক্তি বা প্রানীর সমষ্টি বোঝায় তা-ই সমষ্টিবাচক বিশেষ্য।
যেমন:
- সভা, জনতা, সমিতি, পঞ্চায়েত, মাহফিল, ঝাঁক, বহর, দল ইত্যাদি।

গুণবাচক বিশেষ্য:
- যে বিশেষ্য দ্বারা কোনো বস্তুর দোষ বা গুণের নাম বোঝায়, তা-ই গুণবাচক বিশেষ্য।
যেমন:
- মধুর মিষ্টতার গুণ- মধুরতা, তরল দ্রব্যের গুণ- তারল্য, তিক্ত দ্রব্যের গুণ- তিক্ততা ইত্যাদি।
তদ্রুপ: সৌরভ, স্বাস্থ্য, যৌবন, সুখ, দুঃখ ইত্যাদি।

বস্তুবাচক বিশেষ্য:
- যে পদে কোনো উপাদানবাচক পদার্থের নাম বোঝায়, তাকে বস্তুবাচক বা দ্রব্যবাচক বিশেষ্য বলে।
যেমন:
- বই, খাতা, কলম, থালা, বাটি, মাটি, চাল, পানি, চিনি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২,১৩০.
সাদা কাপড় পরলেই মন সাদা হয়না; এখানে 'সাদা' কোন পদের উদাহরণ?
  1. ক) বিশেষ্য
  2. খ) বিশেষণ
  3. গ) ক্রিয়া বিশেষণ
  4. ঘ) যোজক
সঠিক উত্তর:
খ) বিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বিশেষণ
ব্যাখ্যা
সাদা কাপড় পরলেই মন সাদা হয়না- এখানে 'সাদা' বিশেষণ পদ।  

বিশেষণ পদ:
- যেসব শব্দ বিশেষ্য ও সর্বনামের দোষ, গুণ, অবস্থা, সংখ্যা ও পরিমাণ বোঝায় তাকে বিশেষণ বলে।
- যেমন- সাদা কাপড় পরলেই মন সাদা হয়না- এখানে 'সাদা' বিশেষণ পদ। 
- কারণ কাপড়ের রূপ বর্ণনা করা হয়েছে। 

যোজক: শব্দ, বাক্যাংশ, বা বহু বাক্যকে যে সংযুক্ত করে তাকে যোজক বলে। 

বিশেষ্য পদ: ব্যক্তি, জাতি, বস্তু, স্থান, কাল, সংখ্যা ও গুণের নামকে বিশেষ্য বলে। 
যেমন- কামাল, ঢাকা, বই ইত্যাদি। 

ক্রিয়া বিশেষণ: যে পদ ক্রিয়া সংঘটনের ভাব, কাল,বা রূপ নির্দেশ করে, তাকে ক্রিয়া বিশেষণ বলে। 
যেমন: ধীরে ধীরে বায়ু বয়। 

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎ মামুদ।
২,১৩১.
কোনটি বাক্যের অপরিহার্য পদ?
  1. নামপদ
  2. কর্মপদ
  3. ক্রিয়াপদ
  4. কর্তৃপদ
সঠিক উত্তর:
ক্রিয়াপদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্রিয়াপদ
ব্যাখ্যা

• যে পদের দ্বারা কোন কার্য সম্পাদন করা বোঝায় তাকে ক্রিয়াপদ বলে।
• ক্রিয়াপদ বাক্য গঠনের অপরিহার্য অঙ্গ।
• ক্রিয়াপদ ভিন্ন কোনো মনোভাবই সম্পূর্ণরূপে প্রকাশ করা যায় না।
• তবে কখনো কখনো বাক্যে ক্রিয়াপদ উহ্য বা অনুক্ত থাকতে পারে।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

২,১৩২.
শব্দ যখন বাক্যে ব্যবহৃত হয় তখন তাকে কী বলে?
  1. প্রত্যয়
  2. পদ
  3. বিভক্তি
  4. শব্দ
সঠিক উত্তর:
পদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পদ
ব্যাখ্যা

• পদ:
- শব্দ যখন বাক্যে ব্যবহৃত হয়, তখন তার নাম হয় পদ।
- বাক্যের অন্তর্গত এসব শব্দ বা পদকে মোট আটটি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়।

যেমন:
১. বিশেষ্য
২. সর্বনাম
৩. বিশেষণ
৪. ক্রিয়া
৫. ক্রিয়া বিশেষণ
৬. অনুসর্গ
৭. যোজক
৮. আবেগ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

২,১৩৩.
পদ বা পদাবলী বলতে কি বুঝায়?
  1. ক) লাচাড়ী ছন্দে রচতি পদ্য বা কবিতাবলী
  2. খ) পদ্যাকারে রচতি দেবস্তুতিমূলক রচনা
  3. গ) বাউল বা মরমী গীতি
  4. ঘ) বৌদ্ধ বা বৈষ্ণবীয় ধর্মের গূঢ় বিশয়ের বিশেষ সৃষ্টি
সঠিক উত্তর:
খ) পদ্যাকারে রচতি দেবস্তুতিমূলক রচনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) পদ্যাকারে রচতি দেবস্তুতিমূলক রচনা
ব্যাখ্যা
- বাংলা ভাষার উল্লেখযোগ্য সাহিত্যধারা হচ্ছে পদাবলি। এর শুরু চৈতন্যপূর্বযুগেই।
- রাধাকৃষ্ণের লীলাবিষয়ক এ সাহিত্য ভাব, ভাষা ও ছন্দে অতুলনীয়।
- এতে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ আত্মার আত্মীয়রূপে কল্পিত; তাঁর ও ভক্তের মধ্যে কোনো দূরত্ব নেই।
- পরে রাধাকৃষ্ণের প্রণয়লীলা এবং চৈতন্যদেবের প্রেমসাধনাকে অবলম্বন করেই বিস্তার লাভ করে মধ্যযুগের পদাবলি বা গীতিকাব্যের ধারা।

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া
২,১৩৪.
'সে খুব দ্রুত দৌড়ায়'- বাক্যে 'দ্রুত' কোন পদ?
  1. বিশেষ্য
  2. ক্রিয়া
  3. বিশেষণ
  4. ক্রিয়া-বিশেষণ
সঠিক উত্তর:
ক্রিয়া-বিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্রিয়া-বিশেষণ
ব্যাখ্যা

'সে খুব দ্রুত দৌড়ায়'- বাক্যে 'দ্রুত'- ক্রিয়া-বিশেষণ। 
--------------
• ক্রিয়া বিশেষণ: 
- যে শব্দ ক্রিয়ার কাজের ধরণ, সময়, স্থান, পরিমাণ, কারণ বা অবস্থা সম্পর্কে অতিরিক্ত তথ্য দেয়, তাকে ক্রিয়া বিশেষণ বলে।
- সাধারণত ক্রিয়াকে কীভাবে দিয়ে প্রশ্ন করলে উত্তরে ক্রিয়াবিশেষণটি পাওয়া যায়।
- 'সে খুব দ্রুত দৌড়ায়'- বাক্যটিতে দৌড়ায় হচ্ছে ক্রিয়া আর দ্রুতহচ্ছে বিশেষণ।
- 'দ্রুত' শব্দটি কোনো কাজ করার গতি বা ধরনকে নির্দেশ করে।
- যদি প্রশ্ন করা হয় কিভাবে দৌড়ায় তাহলে উত্তর হবে দ্রুত দৌড়ায়।
- যেহেতু 'দ্রুত' শব্দটি ক্রিয়াকে বিশেষায়িত করছে, তাই এটি একটি ক্রিয়া-বিশেষণ।

- ক্রিয়া বিশেষণের কিছু উদাহরণ-
- গাড়িটি জোরে ছুটছে।
- তুমি একটু আস্তে হাঁটো।
- ছেলেটি কেঁদে কেঁদে অনুরোধ করল।
- লোকটি নাচতে নাচতে এল।  
-----------
অন্যদিকে,
- বিশেষ্য: এমন পদ যা কোনো বস্তু, ব্যক্তি বা স্থানের নাম প্রকাশ করে।
- ক্রিয়া: এমন পদ যা বাক্যে কাজ বা কার্য সম্পাদনের অর্থ বহন করে (যেমন এখানে ‘দৌড়ায়’ হলো ক্রিয়া)।
- বিশেষণ: এমন পদ যা বিশেষ্য বা সর্বনামের বৈশিষ্ট্য, গুণ বা অবস্থার বর্ণনা দেয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)। 

২,১৩৫.
কোন বাক্যে অসমান কর্তা আছে?
  1. সে কেঁদে কেঁদে বলল
  2. বালিকাটি গান করে বলে গেল
  3. সে এলে আমি যাব
  4. সে যেতে যেতে থেমে গেল
সঠিক উত্তর:
সে এলে আমি যাব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সে এলে আমি যাব
ব্যাখ্যা
অসমান কর্তা:
- বাক্যস্থিত সমাপিকা ও অসমাপিকা ক্রিয়ার কর্তা এক না হলে সেখানে কর্তাগুলোকে
অসমান কর্তা বলা হয়।
যেমন-

শর্তাধীন কর্তা:
এ জাতীয় কর্তাদের ব্যবহার শর্তাধীন হতে পারে।
উদাহরণ –
-তোমরা বাড়ি এলে আমি রওনা হব।
-এখানে 'এলে' অসমাপিকা ক্রিয়ার কর্তা 'তোমরা' এবং 'রওনা হব' সমাপিকা ক্রিয়ার কর্তা 'আমি'।
- তোমাদের বাড়ি আসার ওপর আমার রওনা হওয়া নির্ভরশীল বলে এ জাতীয় বাক্যে কর্তৃপক্ষের ব্যবহার শর্তাধীন।
অনুরুপ,
- সে এলে আমি যাব।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২,১৩৬.
১৪৮৬ খ্রিষ্টাব্দে নবদ্বীপ শ্রীচৈতন্য দেবের জন্ম হয়।- বাক্যটি কোন কালের অর্থ প্রকাশ করে?
  1. পুরাঘটিত বর্তমান
  2. নিত্যবৃত্ত অতীত
  3. ঘটমান অতীত
  4. সাধারণ বর্তমান
সঠিক উত্তর:
সাধারণ বর্তমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাধারণ বর্তমান
ব্যাখ্যা
⇒ সাধারণ বর্তমান কাল:
যে ক্রিয়া বর্তমানে সাধারণভাবে ঘটে তার কালকে বর্তমান কাল বলে। যেমন: তৃণা স্কুলে যায়।
সাধারন বর্তমানে দুটি রূপ পাওয়া যায়। যথা:

১. নিত্যবৃত্ত বর্তমান কাল:
যে ক্রিয়া সাধারণভাবে নিত্য বা সব সময় ঘটে অর্থাৎ ক্রিয়া সংঘটনের স্বাভাবিকতা বা অভ্রস্ততা বোঝালে সাধারন বর্তমান কালের ক্রিয়াকে নিত্যবৃত্ত বর্তমান কাল বলে।
যেমন:
- সকালে সূর্য উঠে।
- আমি প্রত্যহ সকালে চা খাই।

২. ঐতিহাসিক বর্তমান কাল:
ঐতিহাসিক বর্তমান কাল অতীত অর্থে বর্তমান। অতীত কালের কোনো ঐতিহাসিক ঘটনার বর্ণনায় অনেক ক্ষেত্রে নিত্য বর্তমান কালের প্রয়োগ বা ব্যবহার হয়। এরূপ ক্ষেত্রে সাধারণ বর্তমান বা নিত্যবৃত্ত বর্তমান কালকে ঐতিহাসিক বর্তমান কাল বলে।
যেমন:
- ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দে বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভ করে।
- ১৪৮৬ খ্রিষ্টাব্দে নবদ্বীপ শ্রীচৈতন্য দেবের জন্ম হয়।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।
২,১৩৭.
বাক্যে বর্গের নাম কী অনুযায়ী হয়?
  1. ক) পদ অনুযায়ী
  2. খ) বাক্য অনুযায়ী
  3. গ) ধ্বনি অনুযায়ী
  4. ঘ) বর্ণ অনুযায়ী
সঠিক উত্তর:
ক) পদ অনুযায়ী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) পদ অনুযায়ী
ব্যাখ্যা
- কোনো একটি বর্গ বাক্যের মধ্যে যে পদের মতো আচরণ করে। সেই পদের নাম অনুযায়ী বর্গের নাম হয়।
- উপরের উদাহরণে মালা ও মায়া' ও 'স্কুল-বাসে' হলো বিশেষ্যবর্গ; 'বাড়ির সামনে থাকা' হলো বিশেষণবর্গ, ‘খুব সকালে’ ক্রিয়াবিশেষণ-বর্গ এবং ‘উঠে পড়লো' হলো ক্রিয়াবর্গ ।
• বাক্যের মধ্যে একাধিক শব্দ দিয়ে গঠিত বাক্যাংশকে বর্গ বলে।
•  বর্গ হলো ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত শব্দের গুচ্ছ।
• বৰ্গকে বলা যায় বাক্যের একক, কেননা মানুষ কথা বলতে গিয়ে শব্দের পরে শব্দ না বসিয়ে প্রায়ই বর্গের পরে বর্গ বসায়।
যেমন -
মালা ও মায়া খুব সকালে বাড়ির সামনে থাকা স্কুল-বাসে উঠে পড়ল । এই বাক্যে 'মালা ও মায়া’, ‘খুব সকালে', ‘বাড়ির সামনে থাকা’, 'স্কুল-বাসে’, ‘উঠে পড়ল' প্রভৃতি শব্দগুচ্ছ এক একটি বর্গ ।

নিচে বিভিন্ন ধরনের বর্গের পরিচয় দেওয়া হলো-
১) বিশেষ্যবর্গ
২) বিশেষণবর্গ
৩) ক্রিয়াবিশেষণবর্গ
৪) ক্রিয়াবর্গ

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
২,১৩৮.
'দুষ্টু ছেলেটি দৌড়ে পালালো।' - বাক্যে 'দুষ্টু' কোন পদ?
  1. বিশেষণ
  2. ক্রিয়া
  3. বিশেষ্য
  4. অব্যয়
সঠিক উত্তর:
বিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশেষণ
ব্যাখ্যা

বিশেষণ পদ:
- যে শব্দ দিয়ে সাধারণত বিশেষ্য ও সর্বনামের গুণ, দোষ, সংখ্যা, পরিমাণ, অবস্থা ইত্যাদি বোঝায় তাকে বিশেষণ বলে।

যেমন:
- দুষ্টু ছেলেটি দৌড়ে পালালো।
- অভিজ্ঞ উনিই ব্যাপারটা বুঝবেন।
[বাক্যে দুষ্টু ও অভিজ্ঞ বিশেসণ পদ]

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

২,১৩৯.
'চার আর তিনে সাত হয়।' - বাক্যটি কোন বর্তমান কালকে নির্দেশ করছে?
  1. অনুজ্ঞা বর্তমান
  2. ঘটমান বর্তমান
  3. নিত্যবৃত্ত বর্তমান
  4. পুরাঘটিত বর্তমান
সঠিক উত্তর:
নিত্যবৃত্ত বর্তমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিত্যবৃত্ত বর্তমান
ব্যাখ্যা
সাধারণ বর্তমান কাল:
যে ক্রিয়া বর্তমানে সাধারণভাবে ঘটে, তার কালকে সাধারণ বর্তমান কাল বলে।
যেমন -
- সে ভাত খায়।
- আমি বাড়ি যাই।

নিত্যবৃত্ত বর্তমান কাল:
স্বাভাবিক বা অভ্যস্ততা বোঝালে সাধারণ বর্তমান কালের ক্রিয়াকে নিত্যবৃত্ত বর্তমান কাল বলে।
যথা -
- সন্ধ্যায় সূর্য অস্ত যায়। (স্বাভাবিকতা)
- আমি রোজ সকালে বেড়াতে যাই। (অভ্যস্ততা)

নিত্যবৃত্ত বর্তমান কালের বিশিষ্ট প্রয়োগ:
(১) স্থায়ী সত্য প্রকাশে: চার আর তিনে সাত হয়

(২) ঐতিহাসিক বর্তমান: অতীতের কোনো ঐতিহাসিক ঘটনায় যদি নিত্যবৃত্ত বর্তমান কালের প্রয়োগ হয়, তাহলে তাকে ঐতিহাসিক বর্তমান কাল বলে।
যেমন - বাবরের মৃত্যুর পর হুমায়ুন দিল্লির সিংহাসনে আরোহণ করেন

(৩) কাব্যের ভণিতায়: মহাভারতের কথা অমৃত সমান। কাশীরাম দাস ভনে শুনে পুণ্যবান।

(৪) অনিশ্চয়তা প্রকাশে: কে জানে দেশে আবার সুদিন আসবে কি না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- নবম ও দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২,১৪০.
'ভালোভাবে পৌঁছে যেয়ো।' - এটি কোন কালের উদাহরণ?
  1. সাধারণ ভবিষ্যৎ
  2. ঘটমান ভবিষ্যৎ
  3. অনুজ্ঞা বর্তমান
  4. অনুজ্ঞা ভবিষ্যৎ
সঠিক উত্তর:
অনুজ্ঞা ভবিষ্যৎ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুজ্ঞা ভবিষ্যৎ
ব্যাখ্যা

অনুজ্ঞা ভবিষ্যৎ:
- যে ক্রিয়া দিয়ে ভবিষ্যৎ কালের আদেশ, অনুমতি, অনুরোধ, প্রার্থনা, আমন্ত্রণ, আশীর্বাদ, উপদেশ, উপেক্ষা ইত্যাদি প্রকাশ করা হয়, তাকে অনুজ্ঞা ভবিষ্যৎ কাল বলে।

​যেমন:
- তাড়াতাড়ি কাজটি কোরো।
- ভালোভাবে পৌঁছে যেয়ো।

​উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

২,১৪১.
সম্বন্ধ কারকে বিশেষ্য ও সর্বনামের সঙ্গে কোন পদের সম্পর্ক নির্দেশিত হয়?
  1. বিশেষ্য
  2. ক্রিয়া
  3. সর্বনাম
  4. ক ও গ
সঠিক উত্তর:
ক ও গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক ও গ
ব্যাখ্যা
সম্বন্ধ কারক: যে কারকে বিশেষ্য ও সর্বনামের সঙ্গে বিশেষ্য ও সর্বনামের সম্পর্ক নির্দেশিত হয়, তাকে সম্বন্ধ কারক বলে।
- এই কারকে ক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক পরোক্ষ।
- এই কারকে শব্দের সঙ্গে ‘র’, -এর’, -য়ের’, ‘কার’, ‘কের ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়।
- যেমন – ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না।
              আমার জামার বােতামগুলাে একটু অন্য রকম।
             তখনকার দিনে পায়ে হেঁটে চলতে হতাে মাইলের পর মাইল।


উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
২,১৪২.
‘রবিবার’ শব্দটি কোন জাতীয় নাম বিশেষ্য?
  1. ক) কালনাম
  2. খ) স্থাননাম
  3. গ) সৃষ্টিনাম
  4. ঘ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ক) কালনাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) কালনাম
ব্যাখ্যা
• বিশেষ্য সাধারণত ছয় প্রকার:
- নাম-বিশেষ্য,
- জাতি-বিশেষ্য,
- বস্তু-বিশেষ্য,
- সমষ্টি-বিশেষ্য,
- গুণ-বিশেষ্য,
- ক্রিয়া-বিশেষ্য।

• নাম-বিশেষ্য:
ব্যক্তি, স্থান, দেশ, কাল, সৃষ্টি প্রভৃতির সুনির্দিষ্ট নামকে নাম-বিশেষ্য বলা হয়।
যেমন:
• ব্যক্তিনাম: হাবিব, সজল, লতা, শম্পা।
• স্থাননাম: ঢাকা, বাংলাদেশ, হিমালয়, পদ্মা।
• কালনাম: সোমবার, বৈশাখ, জানুয়ারি, রমজান।
• সৃষ্টিনাম: গীতাঞ্জলি, সঞ্চিতা, ইত্তেফাক, অপরাজেয় বাংলা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম - দশম শ্রেণি ২০২২ সংস্করণ।
২,১৪৩.
‘যত গর্জে তত বর্ষে না।’—বাক্যে কোন ধরনের অব্যয় ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ক) ত প্রত্যয়ান্ত
  2. খ) পদান্বয়ী
  3. গ) বাক্যালংকার
  4. ঘ) নিত্য সম্বন্ধীয়
সঠিক উত্তর:
ঘ) নিত্য সম্বন্ধীয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) নিত্য সম্বন্ধীয়
ব্যাখ্যা
কতকগুলো যুগ্ম শব্দ পরস্পরের ওপর নির্ভরশীল, সেগুলো নিত্য সম্বন্ধীয় অব্যয় রূপে পরিচিত। যেমনঃ যথা-তথা, যখন-তখন, যেমন-তেমন, যে রূপ- সে রূপ ইত্যাদি। উদাহরণ- যথা ধর্ম তথা জয়। যত গর্জে তত বর্ষে না। সূত্র- বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী।
২,১৪৪.
বলকযুক্ত শব্দের উদাহরণ কোনটি?
  1. ক) লোকটি
  2. খ) বইগুলো
  3. গ) তখনই
  4. ঘ) কৃষকের
সঠিক উত্তর:
গ) তখনই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) তখনই
ব্যাখ্যা
- উল্লেখিত প্রশ্নে বলকযুক্ত শব্দের উদাহরণ হচ্ছে তখনই।

 • লগ্নক:
- শব্দ যখন বাক্যের মধ্যে থাকে, তখন তার নাম হয় পদ।
- পদে পরিণত হওয়ার সময়ে শব্দের সঙ্গে কিছু শব্দাংশ যুক্ত হয়, এগুলোর নাম লগ্নক।

লগ্নক চার ধরনের:
• বিভক্তি:
- ক্রিয়ার কাল নির্দেশের জন্য এবং কারক বোঝাতে পদের সঙ্গে যেসব শব্দাংশ যুক্ত থাকে, সেগুলোকে বিভক্তি বলে।
- বিভক্তি দুই প্রকার: ক্রিয়া-বিভক্তি ও কারক-বিভক্তি।
- যেমন: ‘করলাম' ক্রিয়াপদের ‘লাম’ শব্দাংশ হলো ক্রিয়া-বিভক্তি এবং ‘কৃষকের' পদের ‘এর' শব্দাংশ কারক-বিভক্তির উদাহরণ।

• নির্দেশক:
- যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পদকে নির্দিষ্ট করে, সেগুলোকে নির্দেশক বলে।
- ‘লোকটি’ বা ‘ভালোটুকু' পদের 'টি' বা 'টুকু' হলো নির্দেশকের উদাহরণ।

• বচন:
- যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পদের সংখ্যা বোঝায়, সেগুলোকে বচন বলে।
- ‘ছেলেরা’ বা ‘বইগুলো' পদের ‘রাত বা ‘গুলো হলো বচনের উদাহরণ।

• বলক:
- যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হলে বক্তব্য জোরালো হয়, সেগুলোকে বলক বলে।
- ‘তখনই বা ‘এখনও’ পদের ‘ই' বা 'ও' হলো বলকের উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( ২০২১ সংস্করণ)।
২,১৪৫.
'সকলের মঙ্গল হোক।' - এটি কোন কালের উদাহরণ?
  1. সাধারণ বর্তমান
  2. পুরাঘটিত বর্তমান
  3. ঘটমান বর্তমান
  4. বর্তমান অনুজ্ঞা
সঠিক উত্তর:
বর্তমান অনুজ্ঞা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বর্তমান অনুজ্ঞা
ব্যাখ্যা

বর্তমান অনুজ্ঞা:
- বর্তমানে কোনো ক্রিয়া সম্পাদনের আদেশ, উপদেশ, আশীবার্দ, অভিশাপ, অনুরোধ, প্রার্থনা প্রভৃতি বোঝানোর জন্য বর্তমান অনুজ্ঞা ব্যবহৃত হয়।

যেমন:
- সকলের মঙ্গল হোক।
- সদা সত্য বলো।
- আল্লাহ তোমাকে দীর্ঘজীবী করুন।
- আল্লাহ তোমাকে সুস্থতা দান করুক।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

২,১৪৬.
নিচের কোনটি পদান্বয়ী অব্যয়?
  1. শফিককে দিয়ে এ কাজ হবে না।
  2. ঝম ঝম করে বৃষ্টি হচ্ছে।
  3. তিনি দরিদ্র কিন্তু সৎ।
  4. মরি মরি! কী সুন্দর প্রভাতের রূপ!
সঠিক উত্তর:
শফিককে দিয়ে এ কাজ হবে না।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শফিককে দিয়ে এ কাজ হবে না।
ব্যাখ্যা

• 'শফিককে দিয়ে এ কাজ হবে না।' - এখানে 'দিয়ে' পদান্বয়ী অব্যয়।

• অনুসর্গ/ পদান্বয়ী অব্যয়:
- যে সকল অব্যয় শব্দ বিশেষ্য ও সর্বনাম পদের বিভক্তির ন্যায় বসে কারকবাচকতা প্রকাশ করে, তাদের অনুসর্গ অব্যয় বলে।
- যথা- ওকে দিয়ে এ কাজ হবে না। (দিয়ে অনুসর্গ অব্যয়)।
- অনুসর্গ অব্যয় 'পদান্বয়ী অব্যয়' নামেও পরিচিত।

অন্যদিকে,
• সমুচ্চয়ী অব্যয়:
- যে অব্যয় পদ একটি বাক্যের সঙ্গে অন্য একটি বাক্যের অথবা বাক্যস্থিত একটি পদের সঙ্গে অন্য একটি পদের সংযোজন, বিয়োজন বা সংকোচন ঘটায়, তাকে সমুচ্চয়ী অব্যয় বা সম্বন্ধবাচক অব্যয় বলে।
যেমন: উচ্চপদ ও সামাজিক মর্যাদা সকলেই চায়।

• অনন্বয়ী অব্যয়:
- যে সকল অব্যয় বাক্যের অন্য পদের সঙ্গে কোনো সম্বন্ধ না রেখে স্বাধীনভাবে নানাবিধ ভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়, তাদের অনন্বয়ী অব্যয় বলে।
যেমন:  মরি মরি! কী সুন্দর প্রভাতের রূপ!

• অনুকার অব্যয়:
- যে সকল অব্যয় অব্যক্ত রব, শব্দ বা ধ্বনির অনুকরণে গঠিত হয়, সেগুলোকে অনুকার বা ধ্বন্যাত্মক অব্যয় বলে। 
যেমন- ঝম ঝম, গুড় গুড়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)

২,১৪৭.
‘খাঁচার ভেতর অচিন পাখি’ - এখানে ‘ভেতর’ কোন পদের দৃষ্টান্ত?
  1. সর্বনাম
  2. বিশেষণ
  3. অনুসর্গ
  4. যোজক
সঠিক উত্তর:
অনুসর্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুসর্গ
ব্যাখ্যা
• ‘খাঁচার ভেতর অচিন পাখি’ - এখানে ‘ভেতর’ নাম অনুসর্গ।

⇒ অনুসর্গ:
বাংলা ভাষায় এক ধরনের সহায়ক শব্দ বাক্যে অন্য কোনো পদের পরে বসে পদটিকে বাক্যের সঙ্গে সম্পর্কিত করে কিংবা বিভক্তির মতো কাজ করে। এগুলো অনুসর্গ নামে পরিচিত।
অন্যভাবে বলা যায়, যেসব শব্দ কোনো শব্দের পরে বসে  শব্দটিকে বাক্যের সঙ্গে সম্পর্কিত করে, সেসব শব্দকে অনুসর্গ বলে।

অনুসর্গ প্রধানত দুই প্রকার।
- নাম বা বিশেষ্য অনুসর্গ,
- ক্রিয়া অনুসর্গ।

⇒ নাম বা বিশেষ্য অনুসর্গ:
ক্রিয়া ছাড়া অন্য শব্দ থেকে যেসব অনুসর্গ এসেছে সেগুলো নামজাত বা বিশেষ্য অনুসর্গ।

নাম অনুসর্গকে আবার তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
- সংস্কৃত অনুসর্গ: অপেক্ষা, অভিমুখ, উপরে, কর্তৃক, জন্য, দিকে ইত্যাদি।
- বিবর্তিত অনুসর্গ: আগে, কাছে, ছাড়া, তরে, পানে, পাশে, বই, ভেতর, মাঝে, সাথে, সামনে ইত্যাদি।
- ফারসি অনুসর্গ: দরুন, বদলে, বনাম, বাদে, বাবদ, বরাবর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ।
২,১৪৮.
নিম্নের কোনটি অনুসর্গ?
  1. ক) ও, এবং
  2. খ) টি, টা
  3. গ) এ, তে
  4. ঘ) তরে, থেকে
সঠিক উত্তর:
ঘ) তরে, থেকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) তরে, থেকে
ব্যাখ্যা
• অনুসর্গ- যেসব শব্দ কোনো শব্দের পরে বসে শব্দটিকে বাক্যের সাথে সম্পর্কিত করে, সেসব শব্দকে অনুসর্গ বলে।
যেমন-
সে কাজ ছাড়া কিছুই বোঝে না।- এই বাক্যে 'ছাড়া' একটি অনুসর্গ।

• কয়েকটি অনুসর্গের উদাহরণ:
অপেক্ষা, অবধি, অভিমুখে, আগে, উপরে, করে, কর্তৃক, কাছে, কারণে, ছাড়া, জন্য, তরে, থেকে, দরুন, দিকে, দিয়ে, দ্বারা, ধরে, নাগাদ, নিচে, পর্যন্ত, পানে, পাশে, পিছনে, প্রতি, বদলে, বনাম, বরাবর, বাইরে, বাদে, বাবদ, বিনা, ব্যতীত, ভিতরে, মতাে, মধ্যে, মাঝে, লেগে, সঙ্গে, সম্মুখে, সাথে, সামনে, হতে ইত্যাদি।

• অন্যদিকে,
ও, এবং = যোজক 
টি, টা = নির্দেশক 
এ, তে = বিভক্তি 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
২,১৪৯.
বিশেষ্য পদ নয় কোনটি?
  1. বিচিত্র
  2. সামর্থ্য
  3. সামগ্র্য 
  4. নৈষ্কর্ম
সঠিক উত্তর:
বিচিত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিচিত্র
ব্যাখ্যা

• বিশেষ্য পদ নয় - বিচিত্র
- এটি বিশেষণ পদ
- 'বিচিত্র' শব্দের বিশেষ্য পদ - বৈচিত্র্য।
- এটি একটি সংস্কৃত শব্দ।

শব্দের অর্থ:
- নানা বর্ণবিশিষ্ট, নানারূপে চিত্রিত, নকশাদার।
- মনোরম, মনোহর, সুন্দর, বিস্ময়কর।

অন্যদিকে,
বিশেষ্য পদ - সামর্থ্য, সামগ্র্য, নৈষ্কর্ম।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

২,১৫০.
‘পদের রূপ পরিবর্তন’ বাংলা ব্যাকরণের কোন অংশের আলোচ্য বিষয়?
  1. ক) রূপতত্ত্ব
  2. খ) ধ্বনিতত্ত্ব
  3. গ) বাক্যতত্ত্ব
  4. ঘ) অর্থতত্ত্ব
সঠিক উত্তর:
গ) বাক্যতত্ত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বাক্যতত্ত্ব
ব্যাখ্যা
বাক্যের সঠিক গঠনপ্রণালী, বিভিন্ন উপাদানের সংযোজন, বিয়োজন, এদের সার্থক ব্যবহারযোগ্যতা, বাক্যমধ্যে শব্দ বা পদের স্থান বা ক্রম, পদের রূপ পরিবর্তন ইত্যাদি বিষয় আলোকপাত করে এ ভাষার বাক্যতত্ত্ব। বাক্যতত্ত্বকে পদক্রমও বলা হয়। সূত্র- বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী।
২,১৫১.
কোন ধরনের বিশেষ্য 'সাধারণ বিশেষ্য' নামে পরিচিত?
  1. নাম-বিশেষ্য
  2. বস্তু-বিশেষ্য
  3. জাতি-বিশেষ্য
  4. সমষ্টি-বিশেষ্য
সঠিক উত্তর:
জাতি-বিশেষ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জাতি-বিশেষ্য
ব্যাখ্যা

• জাতি-বিশেষ্য:
- জাতি-বিশেষ্য, সাধারণ-বিশেষ্য নামেও পরিচিত।
- এ ধরনের বিশেষ্য নির্দিষ্ট কোনো নামকে না বুঝিয়ে প্রাণী ও অপ্রাণীর সাধারণ নামকে বোঝায়।
- যেমন: মানুষ, গরু, ছাগল, ফুল, ফল, নদী, সাগর, পর্বত ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• নাম-বিশেষ্য: ব্যক্তি, স্থান, দেশ, কাল, সৃষ্টি প্রভৃতির সুনির্দিষ্ট নামকে নাম-বিশেষ্য বলা হয়।যেমন- ব্যক্তিনাম: হাবিব, সজল। স্থাননাম: ঢাকা, বাংলাদেশ। কালনাম: সোমবার, বৈশাখ। সৃষ্টিনাম : গীতাঞ্জলি, সঞ্চিতা।
• সমষ্টি-বিশেষ্য: এ ধরনের বিশেষ্য দিয়ে ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টিকে বোঝায়। যেমন- জনতা, পরিবার, ঝাঁক, বাহিনী, মিছিল ইত্যাদি।
• বস্তু-বিশেষ্য: কোনো দ্রব্য বা বস্তুর নামকে বস্তু-বিশেষ্য বলে। যেমন- ইট, লবণ, আকাশ, টেবিল, বই ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি ৯ম-১০ম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

২,১৫২.
কোনটি অনুজ্ঞা ভবিষ্যৎ নয়?
  1. বড় হও, বুঝতে পারবে।
  2. তাড়াতাড়ি কাজটি করো।
  3. সব সময় সত্যি বলবে।
  4. সুমাইয়া সময়মতো খেয়ো।
সঠিক উত্তর:
তাড়াতাড়ি কাজটি করো।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তাড়াতাড়ি কাজটি করো।
ব্যাখ্যা

অনুজ্ঞা ভবিষ্যৎ:
- যে ক্রিয়া দিয়ে ভবিষ্যৎ কালের বক্তার আদেশ, অনুমতি, অনুরোধ, প্রার্থনা, আমন্ত্রণ, আশীর্বাদ, অভিশাপ, উপদেশ, উপেক্ষা ইত্যাদি প্রকাশ করা হয়, তাকে অনুজ্ঞা ভবিষ্যৎ কাল বলে।

যেমন:
- বড় হও, বুঝতে পারবে।
- সব সময় সত্যি বলবে।
- সুমাইয়া সময়মতো খেয়ো।

অন্যদিকে,
অনুজ্ঞা বর্তমান:
- যে ক্রিয়া দিয়ে বর্তমান কালে বক্তার আদেশ, অনুমতি, অনুরোধ, প্রার্থনা, আমন্ত্রণ, আশীর্বাদ, অভিশাপ, উপদেশ, উপেক্ষা ইত্যাদি প্রকাশ করা হয়, তাকে অনুজ্ঞা বর্তমান কাল বলে।
যেমন -
- তাড়াতাড়ি কাজটি করো।
- সকলের মঙ্গল হোক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

২,১৫৩.
‘ছেলেটি গোল্লায় গেছে।'- এ বাক্যের ক্রিয়া পদ কোনটি?
  1. ক) মিশ্র ক্রিয়া
  2. খ) যৌগিক ক্রিয়া
  3. গ) দ্বিকর্মক ক্রিয়া
  4. ঘ) প্রযোজক ক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
ক) মিশ্র ক্রিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) মিশ্র ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
মিশ্র ক্রিয়া:
বিশেষ্য, বিশেষণ ও ঋনাত্মক অব্যয়ের সঙ্গে ক, হ, দে, পা, যা, কাট, গা, ছাড়, ধ, মার প্রভৃতি ধাতুযােগে গঠিত ক্রিয়াপদ বিশেষ বিশেষ অর্থে মিশ্র ক্রিয়া গঠন করে। যেমন-
বিশেষ্যের পরে: আমরা তাজমহল দর্শন করলাম। ছেলেটি গােল্লায় গেছে। (এখন গোল্লায় যাও)
বিশেষণের পরে: তােমাকে দেখে বিশেষ প্রীত হলাম।
ঋনাত্মক অব্যয়ের পরে: মাথা ঝিম ঝিম্ করছে। ঝম্ ঝম্ করে বৃষ্টি পড়ছে।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,১৫৪.
'সন্তানের প্রতি মাতৃস্নেহ আন্তরিক'। এখানে 'আন্তরিক' শব্দটি কোন পদ?
  1. বিশেষ্য
  2. বিশেষণ
  3. অব্যয়
  4. ক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
বিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশেষণ
ব্যাখ্যা
আন্তরিক, আন্তর (বিশেষণ) - অকপট; অকৃত্রিম; প্রকৃত; ঐকান্তিক।
উৎসঃ বাংলা একাডেমী অভিধান
২,১৫৫.
নিচের কোনটি ভাববাচক বিশেষ্য-
  1. ক) দুঃখ
  2. খ) তিক্ততা
  3. গ) দর্শন
  4. ঘ) সৌরভ
সঠিক উত্তর:
গ) দর্শন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) দর্শন
ব্যাখ্যা
যে বিশেষ্য পদে ক্রিয়ার ভাব প্রকাশিত হয় তাকে ভাববাচক বিশেষ্য বলে। যেমন− ‘গমন’। ‘গমন’ ভাববাচক বিশেষ্য এজন্য যে এতে যাওয়ার ভাব প্রকাশিত হয়েছে। এরকম আরও উদাহরণ দর্শন (দেখার কাজ), ভোজন, শয়ন ইত্যাদি। সূত্র- বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী।
২,১৫৬.
যে শব্দগুচ্ছ ক্রিয়াবিশেষণ হিসেবে কাজ করে তাকে কী ধরনের বাক্য বলে?
  1. ক্রিয়াবর্গ
  2. ক্রিয়াবিশেষণ বর্গ
  3. বিশেষ্যবর্গ
  4. বিশেষণবর্গ
সঠিক উত্তর:
ক্রিয়াবিশেষণ বর্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্রিয়াবিশেষণ বর্গ
ব্যাখ্যা
বাক্যের বর্গ: বাক্যের মধ্যে একাধিক শব্দ দিয়ে গঠিত বাক্যাংশকে বর্গ বলে। বর্গ হলো ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত শব্দের গুচ্ছ।

বিশেষ্যবর্গ: বিশেষ্যের আগে এক বা একাধিক বিশেষণ বা সম্বন্ধপদ যুক্ত হয়ে বিশেষ্য বর্গ তৈরি হয়।
যেমন,
অসুস্থ ছেলেটি আজ স্কুলে আসেনি।
আমার ভাই পড়তে বসেছে।

বিশেষণবর্গ: বিশেষণজাতীয় শব্দের গুচ্ছকে বলা যায় বিশেষণবর্গ।
যেমন-
আমটা দেখতে ভারী সুন্দর।
ভদ্রলোক সত্যিকারের নির্লোভ।

ক্রিয়াবিশষেণ-বর্গ: যে শব্দগুচ্ছ ক্রিয়াবিশেষণ হিসেবে কাজ করে, তাকে ক্রিয়াবিশেষণ-বর্গ বলে।
যেমন,
সকাল আটটার সময়ে সে রওনা হলো।
তারপর আমরা দশ নম্বর প্লাটফর্মে গিয়ে দাঁড়ালাম।

ক্রিয়াবর্গ: বাক্যের বিধেয় অংশের ক্রিয়া প্রায় ক্ষেত্রেই ক্রিয়াবর্গ তৈরি করে।
যেমন,
সে লিখছে আর  হাসছে।
সে অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার পর বসে পড়লো।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।
২,১৫৭.
আমি আপনার আশায় খবরটি পৌছে দিব- বাক্যটি-
  1. সাধারণ ভবিষ্যৎ কালের
  2. ঘটমান ভবিষ্যৎ কালের
  3. পুরাঘটিত ভবিষ্যৎ কালের
  4. ভবিষ্যৎ অনুজ্ঞা কালের
সঠিক উত্তর:
পুরাঘটিত ভবিষ্যৎ কালের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পুরাঘটিত ভবিষ্যৎ কালের
ব্যাখ্যা
আমি আপনার আশায় সংবাদটি পৌঁছে দিব।- এ বাক্যে ভবিষ্যৎ কালে ক্রিয়াটি সংঘটিত হবে এবং শেষ হয়ে থাকবে বোঝাচ্ছে। কাব্যটিতে পুরাঘটিত ভবিষ্যৎ কালের ক্রিয়া রয়েছে।


যে ক্রিয়া ভবিষ্যতে সংঘটিত হবে তার কালকে ভবিষ্যৎ কাল বলে। ভবিষ্যৎ কালের চারটি রূপ রয়েছে। যথা:
১. সাধারণ ভবিষ্যৎ কাল
২. ঘটমান ভবিষ্যৎ কাল
৩. পুরাঘটিত ভবিষ্যৎ কাল
৪. ভবিষ্যৎ অনুজ্ঞা

• পুরাঘটিত ভবিষ্যৎ কাল: ভবিষ্যৎ কালে কোনো ক্রিয়া সংঘটিত হবে এবং শেষ হয়ে থাকবে, এরূপ বোঝালে তার কালকে পুরাঘটিত ভবিষ্যৎ কাল বলে।
যেমন:
- আমার কথা হয়তো মনে পড়ে থাকবে।

মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ পুরাতন সংস্করণ অনুসারে,

পুরাঘটিত ভবিষ্যৎ কাল:
পুরাঘটিত ভবিষ্যৎ কালের অর্থ প্রকাশের জন্য মূল ধাতুর সঙ্গে অসমাপিকা ক্রিয়া বিভক্তি- ইয়া/ এ যোগ করে এবং ধাতুর সঙ্গে সাধারণ ভবিষ্যতের ক্রিয়াবিভক্তি যুক্ত করে যৌগিক ক্রিয়াপদ তৈরি হয়।
যে বাক্যে ভবিষ্যৎ কালে ক্রিয়াটি সংঘটিত হবে এবং শেষ হয়ে থাকবে বোঝায় তা পুরাঘটিত ভবিষ্যৎ কাল। 
তাই এটা পুরাঘটিত ভবিষ্যৎ কাল হবে।
অন্যদিকে, সাধারণ ভবিষ্যৎ কাল:
যে ক্রিয়া ভবিষ্যতে বা পরে সংঘঠিত হবে তাই সাধারণ ভবিষ্যৎ কাল।
যেমন- আমি ভাত খাব। রানা স্কুলে যাবে।
বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (১ম খণ্ড) অনুসারে,

পুরাঘটিত ভবিষ্যতের অর্থ বাংলায় ঠিক নির্মিত হয়না।
'বলে থাকব, খেয়ে থাকব, পড়ে থাকব'- ইত্যাদি প্রয়োগ খানিকটা সংশয়বাচক অর্থ প্রকাশ করবে।
এ থেকে বোঝা যায়- পুরাঘটিত ভবিষ্যৎ কালে এ ধরনের 'বলে থাকব, খেয়ে থাকব, পড়ে থাকব' শব্দ ব্যবহৃত হয়।
অন্যদিকে, সাধারণ ভবিষ্যৎ কালে 'যাব, শুনব' এ ধরনের শব্দ ব্যবহৃত হয় এবং কোন নিজস্ব বিভক্তি যুক্ত হয়না।
 
সে হিসাবে 'আমি আপনার আশায় সংবাদটি পৌঁছে দিব' বাক্যটি সাধারণ ভবিষ্যৎ কাল।

(প্রশ্নটি প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি ড. হায়াৎ মামুদের বই থেকে হুবুহু করা হয়েছিল। )
২,১৫৮.
'আমি আজ আলবত যাব।' বাক্যে 'আলবত' কোন ধরনের অব্যয় পদ?
  1. সমুচ্চয়ী অব্যয়
  2. অনন্বয়ী অব্যয়
  3. পদান্বয়ী অব্যয়
  4. অনুকার অব্যয়
সঠিক উত্তর:
অনন্বয়ী অব্যয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনন্বয়ী অব্যয়
ব্যাখ্যা
• অনন্বয়ী অব্যয়:
যে সকল অব্যয় বাক্যের অন্য পদের সঙ্গে কোনো সম্বন্ধ না রেখে স্বাধীনভাবে নানাবিধ ভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়, তাদের অনন্বয়ী অব্যয় বলে।

যেমন:
• উচ্ছ্বাস প্রকাশে:
- মরি মরি! কী সুন্দর প্রভাতের রূপ!

• স্বীকৃতি বা অস্বীকৃতি জ্ঞাপনে:
- হ্যাঁ, আমি যাব।
- না, আমি যাব না।

• সম্মতি প্রকাশে:
- আমি আজ আলবত যাব।
- নিশ্চয়ই পারব।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
২,১৫৯.
'জনতা' কোন পদ?
  1. বিশেষ্য
  2. সর্বনাম
  3. বিশেষণ
  4. অব্যয়
সঠিক উত্তর:
বিশেষ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশেষ্য
ব্যাখ্যা
• জনতা (বিশেষ্য পদ),
- এটি সংস্কৃত শব্দ। 
অর্থ:
- সাধারণ মানুষ,
- জনসাধারণ।
- অনেক লোকের একত্রসমাবেশ।

--------------------
বিশেষ্য পদ:
যেসব শব্দ দিয়ে ব্যক্তি, প্রাণী, স্থান, বস্তু, ধারণা ও গুণের নাম বোঝায়, সেগুলোকে বিশেষ্য বলে। যেমন নজরুল, বাঘ, ঢাকা, ইট, ভোজন, সততা ইত্যাদি।
বিশেষ্য সাধারণত ছয় প্রকার:
১. নাম-বিশেষ্য,
২. জাতি-বিশেষ্য,
৩. বস্তু-বিশেষ্য,
৪. সমষ্টি-বিশেষ্য,
৫. গুণ-বিশেষ্য এবং
৬. ক্রিয়া-বিশেষ্য।

• সমষ্টিবাচক বিশেষ্য:
যে পদে বেশকিছু সংখ্যক ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টি বোঝায় তা-ই সমষ্টিবাচক বিশেষ্য।
যেমন:
সভা, জনতা, সমিতি, পঞ্চায়েত, মাহফিল, ঝাঁক, বহর, দল ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
২,১৬০.
'অতিশয় মন্দ কথা' বাক্যে 'অতিশয়' শব্দে কোন প্রকার বিশেষণের প্রয়োগ ঘটেছে?
  1. ক) বিশেষণের বিশেষণ
  2. খ) ক্রিয়া বিশেষণ
  3. গ) অব্যয়ের বিশেষণ
  4. ঘ) বাক্যের বিশেষণ
সঠিক উত্তর:
ক) বিশেষণের বিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) বিশেষণের বিশেষণ
ব্যাখ্যা
ভাব বিশেষণ: যে পদ বিশেষ্য ও সর্বনাম ভিন্ন অন্য পদকে বিশেষিত করে তা-ই ভাব বিশেষণ।
ভাব বিশেষণ চার প্রকার।
যথা- ক্রিয়া বিশেষণ, বিশেষণের বিশেষণ বা বিশেষণীয় বিশেষণ, অব্যয়ের বিশেষণ, বাক্যের বিশেষণ।

১. ক্রিয়ার বিশেষণ: যে পদ ক্রিয়া সংগঠনের ভাব, কাল বা রূপ নির্দেশ করে, তাই ক্রিয়া বিশেষণ।
যথা- বাতাস ধীরে বইছে। সে খুব তাড়াতাড়ি হাটল। পরে একবার এসাে।
২. বিশেষণীয় বিশেষণ: যে পদ নাম-বিশেষণ অথবা ক্রিয়া বিশেষণকে বিশেষিত করে, তাকে বিশেষণীয় বিশেষণ বলে।
যেমন- সামান্য একটু দুধ দাও। অতিশয় মন্দ কথা। রকেট অতি দ্রুত চলে।
৩. অব্যয়ের বিশেষণ: যে ভাব-বিশেষণ অব্যয় পদ অথবা অব্যয় পদের অর্থকে বিশেষিত করে, তাকে অব্যয়ের বিশেষণ বলে।
যেমন- ধিক্ তারে, শত ধিক নির্লজ্জ যে জন।
৪. বাক্যর বিশেষণ: কখনাে কখনাে কোনাে বিশেষণ পদ একটি সম্পূর্ণ বাক্যকে বিশেষিত করতে পারে, তখন তাকে বাক্যে বিশেষণ বলা হয়।
যেমন- দুর্ভাগ্যক্রমে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে দেশ আবার নানা সমস্যাজালে আবদ্ধ হয়ে পড়েছে। বাস্তবিকই আজ আমাদের কঠিন পরিশ্রমের প্রয়ােজন।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
২,১৬১.
'দুঃখ বিনা সুখ লাভ হয় কি মহীতে' - বাক্যে অনুসর্গ কোনটি?
  1. ক) দুঃখ
  2. খ) বিনা
  3. গ) সুখ
  4. ঘ) কি
সঠিক উত্তর:
খ) বিনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বিনা
ব্যাখ্যা
যেসব শব্দ কোনাে শব্দের পরে বসে শব্দটিকে বাক্যের সঙ্গে সম্পর্কিত করে, সেসব শব্দকে অনুসর্গ বলে।
যেমন -
'দুঃখ বিনা সুখ লাভ হয় কি মহীতে'- এই বাক্যে 'বিনা' একটি অনুসর্গ।

কয়েকটি অনুসর্গের উদাহরণ:
অপেক্ষা, অবধি, অভিমুখে, আগে, উপরে, করে, কর্তৃক, কাছে, কারণে, ছাড়া, জন্য, তরে, থেকে, দরুন, দিকে, দিয়ে, দ্বারা, ধরে, নাগাদ, নিচে, পর্যন্ত, পানে, পাশে, পিছনে, প্রতি, বদলে, বনাম, বরাবর, বাইরে, বাদে, বাবদ, বিনা, ব্যতীত, ভিতরে, মতাে, মধ্যে, মাঝে, লেগে, সঙ্গে,
সম্মুখে, সাথে, সামনে, হতে ইত্যাদি।

যেসব শব্দের পরে অনুসর্গ বসে, সেসব শব্দের সঙ্গে ‘কে’ ‘র’, - ইত্যাদি বিভক্তিও যুক্ত হতে পারে।
যেমন -
তােমাকে দিয়ে এ কাজ সম্ভব।
সে পরীক্ষার জন্য পড়ছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
২,১৬২.
পদ বিবেচনায় শব্দকে কতটি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়?
  1. তিনটি 
  2. দুইটি 
  3. চারটি 
  4. আটটি
সঠিক উত্তর:
আটটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আটটি
ব্যাখ্যা

• পদ:
- শব্দ যখন বাক্যে ব্যবহৃত হয়, তখন তার নাম হয় পদ।
- বাক্যের অন্তর্গত এসব শব্দ বা পদকে মোট আটটি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়।
যেমন:
১. বিশেষ্য,
২. সর্বনাম,
৩. বিশেষণ,
৪. ক্রিয়া,
৫. ক্রিয়া বিশেষণ,
৬. অনুসর্গ,
৭. যোজক,
৮. আবেগ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( ২০২১ সংস্করণ)। 

২,১৬৩.
সত্য বই মিথ্যে বলবো না। এখানে 'বই' -
  1. প্রত্যয়
  2. বিশেষ্য
  3. অনুসর্গ
  4. বিশেষণ
সঠিক উত্তর:
অনুসর্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুসর্গ
ব্যাখ্যা
অনুসর্গ:
- যেসব শব্দ কোনো শব্দের পরে বসে শব্দটিকে বাক্যের সাথে সম্পর্কিত করে, সেসব শব্দকে অনুসর্গ বলে।

যেমন:
- বিনা, তরে, দ্বারা, দিয়ে, বই, পানে, নামে, মত, কাছে, ধরে, নিয়োগ, অবধি ইত্যাদি।

সন্ধ্যা অবধি অপেক্ষা করো।
সত্য বই মিথ্যে বলবো না।
মন দিয়ে লেখাপড়া করো।
বহুদিন ধরে অপেক্ষা করে আছি।
কার কাছে গেলে জানা যাবে?

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ)।
২,১৬৪.
"সে গান শিখতে রাজশাহী যাবে" বাক্যে দাগাঙ্কিত শব্দটি কী ধরনের ক্রিয়া শব্দ?
  1. ক) সমাপিকা ক্রিয়া
  2. খ) ভূত অসমাপিকা ক্রিয়া
  3. গ) শর্ত অসমাপিকা ক্রিয়া
  4. ঘ) ভাবী অসমাপিকা ক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
ঘ) ভাবী অসমাপিকা ক্রিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ভাবী অসমাপিকা ক্রিয়া
ব্যাখ্যা

বাক্যে উদ্দেশ্য বা কর্তা কী করে বা কর্তার কি ঘটে বা হয়, তা নির্দেশ করা হয় যে পদ দিয় তালে ক্রিয়া পদ বলে।
ভাব প্রকাশের দিক দিয়ে ক্রিয়া ২ প্রকার।
সমাপিকা ক্রিয়া - যে ক্রিয়ায় দিয়ে ভাব সম্পূর্ণ হয় তাকে সমাপিকা ক্রিয়া বলে। যেমন: ভালো করে পড়াশোনা করবে ।
অসমাপিকা ক্রিয়া - যে ক্রিয়ায় দিয়ে ভাব সম্পূর্ণ হয় না তাকে সমাপিকা ক্রিয়া বলে। যেমন: ভালো করে পড়াশোনা করলে ভালো ফল পাবে।

অসমাপিকা ক্রিয়া ৩ প্রকারের। যথা-
ভূত অসমাপিকা ক্রিয়া - সে গান করে আনন্দ পায়।
শর্ত অসমাপিকা ক্রিয়া - গান করলে মন ভালো হয় ।
ভাবী অসমাপিকা ক্রিয়া - সে গান শিখতে রাজশাহী যাবে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি)

২,১৬৫.
অসমাপিকা ক্রিয়ার সঙ্গে সমাপিকা ক্রিয়া যুক্ত হয়ে কোন ক্রিয়া গঠন করে?
  1. নামক্রিয়া
  2. সংযোগ ক্রিয়া 
  3. যৌগিক ক্রিয়া
  4. প্রযোজক ক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
যৌগিক ক্রিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যৌগিক ক্রিয়া
ব্যাখ্যা

• যৌগিক ক্রিয়া:
অসমাপিকা ক্রিয়ার সঙ্গে সমাপিকা ক্রিয়া যুক্ত হয়ে যখন একটি ক্রিয়া গঠন করে, তখন তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে।
যেমন - 
- মরে যাওয়া, 
- কমে আসা, 
- এগিয়ে চলা,
- হেসে ওঠা, 
- উঠে পড়া, 
- পেয়ে বসা,
- সরে দাঁড়ানো, 
- বেঁধে দেওয়া,
- বুঝে নেওয়া।

সংযোগ ক্রিয়া : 
বিশেষ্য, বিশেষণ বা ধবন্যাত্নক শব্দের পরে করা, কাটা, হওয়া, দেওয়া, ধরা, পাওয়া, খাওয়া, মারা প্রভৃতি ক্রিয়া যুক্ত হয়ে সংযোগ ক্রিয়া গঠিত হয়।

নামক্রিয়া:
বিশেষ্য, বিশেষণ বা ধবন্যাত্নক শব্দের শেষে -আ বা -আনো প্রত্যয় যুক্ত হয়ে যে ক্রিয়া গঠিত হয়, তাকে নামক্রিয়া বলে।

• প্রযোজক ক্রিয়া:
- কর্তা অন্যকে দিয়ে কাজ করালে তাকে প্রযোজক ক্রিয়া বলে।
 যেমন :
- তিনি আমাকে অঙ্ক করাচ্ছেন; রাখাল গরুকে ঘাস খাওয়ায় এখানে 'করাচ্ছেন' ও 'খাওয়ায়' প্রযোজক ক্রিয়া।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যকরণ ও নির্মিতি (নবম-দশম শ্রেণি)- ২০২২ সংস্করণ।

২,১৬৬.
"শরতের পরে আসে বসন্ত" – এখানে ‘পরে’ অনুসর্গটি কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. স্বল্প বিরতি
  2. ব্যাপ্তি
  3. কারণে
  4. দীর্ঘ বিরতি
সঠিক উত্তর:
দীর্ঘ বিরতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দীর্ঘ বিরতি
ব্যাখ্যা
• "শরতের পরে আসে বসন্ত"- বাক্যে 'পরে' অনুসর্গটি ‘দীর্ঘ বিরতি’ অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। 

অন্যদিকে,
- স্বল্প বিরতি অর্থে 'পরে' অনুসর্গটির প্রয়োগ - এই ঘটনার পরে আর এখানে থাকা চলে না। 

--------------------------
অনুসর্গ:
- বাংলা ভাষায় যে অব্যয় শব্দগুলো কখনো স্বাধীন পদ রূপে, আবার কখনো শব্দ বিভক্তির ন্যায় বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে বাক্যের অর্থ প্রকাশ করতে সাহায্য করে, তাকে অনুসর্গ বলে।

অনুসর্গের আরও উদাহরণ :
প্রতি, বিনা, বিহনে, সহ, ওপর, অবধি, হেতু, মধ্যে, মাঝে, পরে, ভিন্ন, বই, ব্যতীত, জন্য, পর্যন্ত ইত্যাদি।

আরো কিছু অনুসর্গের ব্যবহার:
• ‘সীমার মাঝে অসীম তুমি।' - 'মধ্যে' অর্থে অনুসর্গটি ব্যবহৃত হয়েছে। 
• 'এ দেশের মাঝে একদিন সব ছিল।' - এখানে 'মাঝে' অনুসর্গটি 'একদেশিক' অর্থে' ব্যবহৃত হয়েছে।
• 'আছ তুমি প্রভু, জগৎ মাঝারে।' - 'মাঝারে' অনুসর্গটি 'ব্যাপ্তি' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
• 'সীমার মাঝে অসীম তুমি।' - এখানে 'মাঝে' অনুসর্গটি 'মধ্যে' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
• 'নিমেষ মাঝেই সব শেষ।' - 'মাঝে' অনুসর্গটি 'ক্ষণকাল' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২,১৬৭.
'দুঃখ' কোন পদের দৃষ্টান্ত?
  1. অবস্থাবাচক বিশেষণ
  2. গুণবাচক বিশেষ্য
  3. ভাববাচক বিশেষ্য
  4. গুণবাচক বিশেষণ
সঠিক উত্তর:
গুণবাচক বিশেষ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গুণবাচক বিশেষ্য
ব্যাখ্যা
• গুণবাচক বিশেষ্য:
যে বিশেষ্য দ্বারা কোনো বস্তুর দোষ বা গুণের নাম বোঝায়, তাই গুণবাচক বিশেষ্য।
যথা:
- মধুর মিষ্টত্বের গুণ = মধুরতা।

তদ্রূপ: সৌরভ, স্বাস্থ্য, যৌবন, তারুণ্য, তারল্য, তিক্ততা, সুখ, দুঃখ, উৎকর্ষ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ) এবং মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,১৬৮.
'আমি' 'আমরা' এগুলো কোন সর্বনাম পদ?
  1. ক) ব্যতিহারিক
  2. খ) সাকুল্যবাচক
  3. গ) অস্তিবাচক
  4. ঘ) ব্যক্তিবাচক
সঠিক উত্তর:
ঘ) ব্যক্তিবাচক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ব্যক্তিবাচক
ব্যাখ্যা
আত্মবাচক সর্বনাম পদ- স্বয়ং, নিজে, খোদ, আপনি।
অনির্দিষ্টতাজ্ঞাপক সর্বনাম পদ - কোন, কেহ, কেউ, কিছু ইত্যাদি।
সংযোগজ্ঞাপক সর্বনাম পদ- যে, যিনি, যাঁরা, যারা, যাহারা।
ব্যক্তিবাচক বা পুরুষবাচক সর্বনাম পদ- আমি, তুমি, আমরা, তোমরা, সে, তারা, তাহারা, তিনি, এ, এরা, ও, ওরা ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ৯ম-১০ম শ্রেণী
২,১৬৯.
কোন বাক্যে ক্রিয়া বিশেষণের উদাহরণ আছে?
  1. পরে একবার এসো।
  2. সামান্য একটু দুধ দাও।
  3. এ ব্যাপারে সে অতিশয় দুঃখিত।
  4. ধিক তারে শত ধিক নির্লজ্জ যে জন।
সঠিক উত্তর:
পরে একবার এসো।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরে একবার এসো।
ব্যাখ্যা
ক্রিয়া বিশেষণ: 
- যে পদ ক্রিয়া সংঘটনের ভাব,কাল বা রূপ নির্দেশ করে,তাকে ক্রিয়া বিশেষণ বলে।
যথা:
ক্রিয়া সংঘটনের ভাব: ধীরে ধীরে বায়ু বয়।
ক্রিয়া সংঘটনের কাল: পরে একবার এসো।

অন্যদিকে,
বিশেষণের বিশেষণ - সামান্য একটু দুধ দাও। এ ব্যাপারে সে অতিশয় দুঃখিত।
অব্যয়ের বিশেষণ - ধিক তারে শত ধিক নির্লজ্জ যে জন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২,১৭০.
"সিকি পথ" - এখানে ’সিকি’ কোন বিশেষণের উদাহরণ হবে?
  1. ক্রমবাচক
  2. অংশবাচক
  3. অবস্থাবাচক
  4. পরিমাণবাচক
সঠিক উত্তর:
অংশবাচক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অংশবাচক
ব্যাখ্যা
• বিশেষণ: যে পদ দ্বারা বিশেষ্য, সর্বনাম, ও ক্রিয়াপদের দোষ, গুণ, অবস্থা, সংখ্যা, পরিমাণ বুঝায় তাকে বিশেষণ বলে। 
যেমন: সুন্দর ফুল, তাজা মাছ, রোগা ছেলে, ইত্যাদি।

• অংশবাচক বিশেষণ :
-যে বিশেষণ দ্বারা কোন বিশেষ্যের অংশবিশেষ বুঝায় তাকে অংশবাচক বিশেষণ বলে।
- যেমন:
- অর্ধেক সম্পত্তি,
- ষোল আনা দখল,
- সিকি পথ।

• পরিমাণবাচক বিশেষণ :

-যে বিশেষণ দ্বারা কোন বিশেষ্যের পরিমাণ বুঝায় তাকে পরিমাণবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন-
- দশম শ্রেণি,
- সত্তর পৃষ্ঠা,
- প্রথমা কন্যা।

• ক্রমবাচক বিশেষণ :
- যে বিশেষণ দ্বারা কোন বিশেষ্যের ক্রম বুঝায় তাকে ক্রমবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন-
- বিঘাটেক জমি,
- পাঁচ শতাংশ ভূমি,
- হাজার টনী জাহাজ,
- এক কেজি চাল,
- দু কিলোমিটার রাস্তা।

• অবস্থাবাচক বিশেষণ :
- যে বিশেষণ দ্বারা কোন বিশেষ্যের অবস্থা প্রকাশ পায় তাকে  অবস্থাবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন-
- তাজা মাছ,
- রোগা ছেলে,
- খোঁড়া ছেলে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি ( ২০১৮ সংস্করণ)।
২,১৭১.
'পাঁচটি বছর।' এখানে 'পাঁচটি' কোন পদ?
  1. ক) বিশেষ্য
  2. খ) সর্বনাম
  3. গ) বিশেষণ
  4. ঘ) অব্যয়
সঠিক উত্তর:
গ) বিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বিশেষণ
ব্যাখ্যা

• যে পদ বিশেষ্য, সর্বনাম ও ক্রিয়াপদের দোষ, গুণ, অবস্থা, সংখ্যা, পরিমাণ, বৈশিষ্ট্য, ধর্ম ইত্যাদি প্রকাশ করে তাকে বিশেষণ পদ বলে। যেমনঃ
- দশটি (বিশেষণ) বছর।
- এ আমার চেনা (বিশেষণ) লোক।
- নিশীথ (বিশেষণ) রাতে বাজছে বাঁশি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

২,১৭২.
নিচের কোনটি নামক্রিয়ার উদাহরণ?
  1. চমকানো
  2. করাচ্ছেন
  3. কাটা
  4. উঠে পড়া
সঠিক উত্তর:
চমকানো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চমকানো
ব্যাখ্যা

• নামক্রিয়া: 
- বিশেষ্য, বিশেষণ বা ধ্বন্যাত্মক শব্দের শেষে-আ বা-আনো প্রত্যয় যুক্ত হয়ে যে ক্রিয়া গঠিত হয়, তাকে নামক্রিয়া বলে। 
যেমন- বিশেষ্য চমক শব্দের সঙ্গে-আনো যুক্ত হয়ে হয় চমকানো: আকাশে বিদ্যুৎ চমকায়; বিশেষণ কম শব্দের সঙ্গে-আ যুক্ত হয়ে হয় কমা: বাজারে সবজির দাম কমছে না; ধ্বন্যাত্মক ছটফট শব্দের সঙ্গে-আনো যুক্ত হয়ে হয় ছটফটানো: জবাই করা মুরগি উঠানে ছটফটায়।

• সরল ক্রিয়া: 

একটিমাত্র পদ দিয়ে যে ক্রিয়া গঠিত হয় এবং কর্তা এককভাবে ক্রিয়াটি সম্পন্ন করে, তাকে সরল ক্রিয়া বলে। যেমন সে লিখছে। ছেলেরা মাঠে খেলছে। এখানে লিখছে ও খেলছে- এগুলো সরল ক্রিয়া।
• প্রযোজক ক্রিয়া:
কর্তা অন্যকে দিয়ে কাজ করালে তাকে প্রযোজক ক্রিয়া বলে।
যেমন তিনি আমাকে অঙ্ক করাচ্ছেন; রাখাল গরুকে ঘাস খাওয়ায়- এখানে 'করাচ্ছেন' ও 'খাওয়ায়' প্রযোজক ক্রিয়া।

• সংযোগ ক্রিয়া:
বিশেষ্য, বিশেষণ বা ধ্বন্যাত্মক শব্দের পরে করা, কাটা, হওয়া, দেওয়া, ধরা, পাওয়া, খাওয়া, মারা প্রভৃতি ক্রিয়া যুক্ত হয়ে সংযোগ ক্রিয়া গঠিত হয়।
- করা ক্রিয়া যোগে: গান করা, গরম করা, ঠনঠন করা, ব্যাট করা;
- কাটা ক্রিয়া যোগে: সাঁতার কাটা, বিপদ কাটা;
- হওয়া ক্রিয়া যোগে: উদয় হওয়া, বড়ো হওয়া, রাজি হওয়া;
- দেওয়া ক্রিয়া যোগে: কথা দেওয়া, মন দেওয়া, দোষ দেওয়া;
- ধরা ক্রিয়া যোগে: ভাঙন ধরা, মরচে ধরা, ক্যাচ ধরা;
- পাওয়া ক্রিয়া যোগে: লজ্জা পাওয়া, কষ্ট পাওয়া, বৃদ্ধি পাওয়া;
- খাওয়া ক্রিয়া যোগে: আছাড় খাওয়া, মার খাওয়া, ডিগবাজি খাওয়া;
- মারা ক্রিয়া যোগে: উঁকি মারা, পকেট মারা।

• যৌগিক ক্রিয়া:
অসমাপিকা ক্রিয়ার সঙ্গে সমাপিকা ক্রিয়া যুক্ত হয়ে যখন একটি ক্রিয়া গঠন করে, তখন তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে।
যেমন:
মরে যাওয়া, কমে আসা, এগিয়ে চলা, হেসে ওঠা, উঠে পড়া, পেয়ে বসা, সরে দাঁড়ানো, বেঁধে দেওয়া, বুঝে নেওয়া, বলে ফেলা, করে তোলা, চেপে রাখা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০২৫ সংস্করণ)। 

২,১৭৩.
রূপবাচক বিশেষণ রয়েছে নিচের কোন বাক্যে?
  1. রোগা ছেলে। 
  2. কালো মেঘ। 
  3. হাজার লোক। 
  4. ঠাণ্ডা হাওয়া।
সঠিক উত্তর:
কালো মেঘ। 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কালো মেঘ। 
ব্যাখ্যা
• নাম বিশেষণ:
যে বিশেষণ পদ কোনো বিশেষ্য বা সর্বনাম পদকে বিশেষিত করে, তাকে নাম বিশেষণ বলে।

নাম বিশেষণের প্রকারভেদ:
• রূপবাচক: নীল আকাশ, কালো মেঘ। 
• গুণবাচক: দক্ষ কারিগর, ঠাণ্ডা হাওয়া।
• অবস্থাবাচক: তাজা মাছ, রোগা ছেলে।
• সংখ্যাবাচক: হাজার লোক, দশ টাকা।
• ক্রমবাচক: দশম শ্রেণি, প্রথমা কন্যা।
• পরিমাণবাচক: পাঁচ শতাংশ ভূমি, দুই কিলোমিটার রাস্তা।
• প্রশ্নবাচক: কতদূর পথ?, কেমন অবস্থা।
• নির্দিষ্টতাজ্ঞাপক: এই লোক, ছাব্বিশে মার্চ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
২,১৭৪.
কোন বাক্যে ভাববাচক বিশেষ্যের উদাহরণ আছে?
  1. আমরা খেয়েছি।
  2. খুকু নাচছে।
  3. খুকুর নাচন দেখে যা।
  4. আমি কোটবাড়ি দেখেছি।
সঠিক উত্তর:
খুকুর নাচন দেখে যা।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খুকুর নাচন দেখে যা।
ব্যাখ্যা
ভাববাচক বিশেষ্য:
- যে বিশেষ্যপদ দ্বারা ক্রিয়ার ভাব বা কাজের নাম বোঝায়, তাকে ভাববাচক বা ক্রিয়াবাচক বিশেষ্য বলে।
যেমন:
- ভোজন, শয়ন, দর্শন, গমন, শ্রবণ, করা, দেখা, শোনা ইত্যাদি।

• ভাববাচক বিশেষ্য ও ক্রিয়াপদ এক নয়।
যেমন:

ভাববাচক বিশেষ্য:
১. কোটবাড়ি দর্শন করে এলাম।
২. মহারাজের ভোজন-পর্ব শেষ হয়েছে।
৩. বাবার শয়ন এখনো সম্পন্ন হয় নি।
৪. খুকুর নাচন দেখে যা।
৫. তার বোধহয় ফেরা হবে না।

ক্রিয়াপদ:
১. আমি কোটবাড়ি দেখেছি।
২. আমরা খেয়েছি।
৩. বাবা শুয়েছেন।
৪. খুকু নাচছে।
৫. সে ফিরেছে।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
২,১৭৫.
'তোমরা এখন যাও।'-কী অর্থে অনুজ্ঞার ব্যবহার হয়েছে?
  1. আদেশ অর্থে
  2. উপদেশ অর্থে
  3. অনুরোধ অর্থে
  4. প্রার্থনা অর্থে
সঠিক উত্তর:
আদেশ অর্থে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আদেশ অর্থে
ব্যাখ্যা

• বর্তমান কালের অনুজ্ঞা:

• আদেশ অর্থে:
- কাজটি করে ফেল।
- তোমরা এখন যাও।

• উপদেশ অর্থে:
- সত্য গোপন করো না।
- কড়া রোদে ঘোরাফেরা করিস না।
- 'পাতিস নে শিলাতলে পদ্মপাতা।

• অনুরোধ অর্থে: 
- আমার কাজটা এখন কর।
- অঙ্কটা বুঝিয়ে দাও না।

• প্রার্থনা অর্থে : - আমার দরখাস্তটা পড়ুন।
• অভিশাপ অর্থে: মর, পাপিষ্ঠ।

উল্লেখ্য,
আদেশ, অনুরোধ, অনুমতি, প্রার্থনা, অনুনয় প্রভৃতি অর্থে বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ কালে মধ্যম পুরুষে ক্রিয়াপদের যেরূপ হয় তাকে অনুজ্ঞা পদ বলে।

উৎস: উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ৯ম-১০ম শ্রেণি, ২০১৯ সালের সংস্করণ।

২,১৭৬.
সাধারণ ভবিষ্যৎ কালের ক্রিয়ার বিশিষ্ট প্রয়োগ ঘটেছে কোন বাক্যে?
  1. তোমরা হয়ত ছয় দফার কথা শুনে থাকবে।
  2. আগামী মাসে আমরা সিলেট যাচ্ছি।
  3. যদি বৃষ্টি হতো, সবাই মিলে খিচুড়ি খেতাম।
  4. শিকারি পাখিটিকে এইমাত্র গুলি করল।
সঠিক উত্তর:
তোমরা হয়ত ছয় দফার কথা শুনে থাকবে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তোমরা হয়ত ছয় দফার কথা শুনে থাকবে।
ব্যাখ্যা
• সাধারণ বর্তমান কালের ক্রিয়ার বিশিষ্ট প্রয়োগ:
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ১৮৯১ সালে মৃত্যুবরণ করেন। (ঘটনা অতীতের; কিন্তু ক্রিয়ার কাল বর্তমান।)
সবাই যেন সভায় হাজির থাকে। (ঘটনা ভবিষ্যতের; কিন্তু ক্রিয়ার কাল বর্তমান।)

• ঘটমান বর্তমান কালের ক্রিয়ার বিশিষ্ট প্রয়োগ:
আগামী মাসে আমরা সিলেট যাচ্ছি। (ঘটনা ভবিষ্যতের; কিন্তু ক্রিয়ার কাল বর্তমান।)

• সাধারণ অতীত কালের ক্রিয়ার বিশিষ্ট প্রয়োগ:
শিকারি পাখিটিকে এইমাত্র গুলি করল। (ঘটনা পুরাঘটিত বর্তমানের; কিন্তু ক্রিয়ার কাল অতীত।)
যদি বৃষ্টি হতো, সবাই মিলে খিচুড়ি খেতাম। (ঘটনা ভবিষ্যতের; কিন্তু ক্রিয়ার কাল অতীত।)

• সাধারণ ভবিষ্যৎ কালের ক্রিয়ার বিশিষ্ট প্রয়োগ:
তোমরা হয়ত ছয় দফার কথা শুনে থাকবে। (ঘটনা অতীতের; কিন্তু কাল ভবিষ্যৎ।)

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)
২,১৭৭.
বাক্যের মধ্যে কর্মের উপস্থিতির ভিত্তিতে ক্রিয়া কত প্রকার?
  1. ২ প্রকার
  2. ৩ প্রকার
  3. ৪ প্রকার
  4. ৫ প্রকার
সঠিক উত্তর:
৩ প্রকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩ প্রকার
ব্যাখ্যা

• বাক্যের মধ্যে কর্মের উপস্থিতির ভিত্তিতে ক্রিয়া তিন প্রকার:
• অকর্মক ক্রিয়া:
- বাক্যে ক্রিয়ার কোনো কর্ম না থাকলে সেই ক্রিয়াকে অকর্মক ক্রিয়া বলে।
যেমন-
- সে ঘুমায়।
- এই বাক্যে কোনো কর্ম নেই

• সকর্মক ক্রিয়া:
- বাক্যের মধ্যে ক্রিয়ার কর্ম থাকলে সেই ক্রিয়াকে সকর্মক ক্রিয়া বলে।
যেমন- সে বই পড়ছে
এই বাক্যে 'পড়ছে' হলো সকর্মক ক্রিয়া। 'বই' হলো 'পড়ছে' ক্রিয়ার কর্ম।

• দ্বিকর্মক ক্রিয়া:

বাক্যের মধ্যে ক্রিয়ার দুটি কর্ম থাকলে সেই ক্রিয়াকে দ্বিকর্মক ক্রিয়া বলে।
যেমন -
শিক্ষক ছাত্রকে বই দিলেন
এই বাক্যে 'দিলেন' একটি দ্বিকর্মক ক্রিয়া। 'কী দিলেন' প্রশ্নের উত্তর দেয় মুখ্য কর্ম ('বই'), আর 'কাকে দিলেন' প্রশ্নের উত্তর দেয় গৌণ কর্ম ('ছাত্রকে')।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০২৫ সংস্করণ)। 

২,১৭৮.
'তিতাস একটি নদীর নাম', বাক্যে 'নদী' কোন প্রকার বিশেষ্য?
  1. জাতি বাচক
  2. নাম বাচক
  3. বস্তু বাচক
  4. সমষ্টি বাচক
সঠিক উত্তর:
জাতি বাচক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জাতি বাচক
ব্যাখ্যা
⇒ 'তিতাস একটি নদীর নাম।’-  বাক্যে ব্যবহৃত 'নদী' জাতিবাচক বিশেষ্যের উদাহরণ।

• বিশেষ্য পদ:

কোনো কিছুর নামকে বিশেষ্য পদ বলে। বাক্যের মধ্যে ব্যবহৃত যে সমস্ত পদ দ্বারা কোনো ব্যক্তি, জাতি, সমষ্টি, বস্তু, স্থান, কাল, ভাব, কর্ম বা গুণের নাম বোঝানো হয়, তাকে বিশেষ্য পদ বলে। 
- বিশেষ্যের শ্রেণিবিভাগ বিশেষ্য পদ ছয় প্রকার। যথা-

১. সংজ্ঞা বা নাম বাচক বিশেষ্য (Proper Noun): যে পদ দ্বারা ব্যক্তি, ভৌগোলিক স্থান বা সংজ্ঞা এবং গ্রন্থ বিশেষের নাম বিজ্ঞাপিত হয়, তাকে সংজ্ঞা বা নাম বাচক বিশেষ্য বলে। যেমন-
• ব্যক্তির নাম: সারা, কনিকা, শিলা, মাসুদ, দেলোয়ার প্রভৃতি।
• ভৌগোলিক অস্থানের নাম: কিশোরগঞ্জ, পটুয়াখালী, ঢাকা, আমেরিকা, লন্ডন প্ৰভৃতি। 
• ভৌগোলিক সংজ্ঞা: (নদী, পর্বত, সমুদ্র ইত্যাদি): করতোয়া, মেঘনা, হিমালয়, আরব সাগর প্রভৃতি। 
• গ্রন্থের নাম: কৃষ্ণকুমারী, অগ্নি-বীণা, গীতাঞ্জলি, পথের দাবী, সঞ্চিতা, সঞ্চয়িতা, বিশ্বনবী প্রভৃতি।

২. জাতিবাচক বিশেষ্য (Common Noun): যে পদ দ্বারা কোনো একজাতীয় প্রাণী বা পদার্থের সাধারণ নাম বোঝায়, তাকে জাতিবাচক বিশেষ্য বলে। যেমন- মানুষ, গরু, পাখি, পর্বত, নদী, ইংরেজ প্রভৃতি। 

৩. বস্তুবাচক বা দ্রব্যবাচক বিশেষ্য (Material Noun): যে পদে কোনো উপাদানবাচক পদার্থের নাম বোঝায়, তাকে বস্তুবাচক বা দ্রব্যবাচক বিশেষ্য বলে। এই জাতীয় বস্তুর সংখ্যা ও পরিমাণ নির্ণয় করা যায়। যথা— বই, খাতা, কলম, থালা, বাটি, মাটি, চাল, চিনি, পানি, লবণ প্রভৃতি। 

৪. সমষ্টিবাচক বিশেষ্য (Collective Noun): যে পদে ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টি বোঝায়, তা–ই সমষ্টিবাচক বিশেষ্য। যথা— সভা, জনতা, সমিতি, সমাজ, পঞ্চায়েত, মিছিল, ঝাঁক, বহর, দল ইত্যাদি।

৫. ভাববাচক বিশেষ্য (Verbal Noun): যে বিশেষ্য পদে কোনো ক্রিয়ার ভাব বা কাজের ভাব প্রকাশিত হয়, তাকে ভাববাচক বিশেষ্য বলে। যথা- যাওয়ার ভাব বা কাজ = গমন।
তদ্রুপ : ভোজন, শয়ন, দর্শন, দেখা, শোনা প্রভৃতি। 
আবার ধাতুর বা প্রাতিপদিকের পর ‘আই’ প্রত্যয় যুক্ত করে ভাববাচক বিশেষ্য গঠিত হয়। √ চড়ু + আই = চড়াই, বড় + আই = বড়াই ইত্যাদি।

৬. গুণবাচক বিশেষ্য (Abstract Noun): যে বিশেষ্য দ্বারা কোনো বস্তুর দোষ বা গুণের নাম বোঝায়, তা-ই গুণবাচক বিশেষ্য। যথা- মধুর মিষ্টত্বের গুণ = মধুরতা। তদ্রুপ : সৌরভ, স্বাস্থ্য, যৌবন, তারুণ্য, তারল্য, তিক্ততা, সুখ, দুঃখ, উৎকর্ষ ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,১৭৯.
নিচের কোনটি ক্রিয়াবিশেষ্য নয়?
  1. ক) চলন
  2. খ) বলানো
  3. গ) খাওয়া
  4. ঘ) দরিদ্র
সঠিক উত্তর:
ঘ) দরিদ্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) দরিদ্র
ব্যাখ্যা
যে বিশেষ্য দ্বারা ক্রিয়ার নাম বা ক্রিয়ার ভাব বুঝায় তাকে ক্রিয়া বিশেষ্য বলে।
যেমন : করা, দেখা, বলা, খাওয়া, দর্শন, ভোজন, করানো, বলানো, পঠন ইত্যাদি।

উৎস : নবম-দশম শ্রেণি পুরাতন ও নতুন ব্যাকরণ বোর্ড বই।
২,১৮০.
'কাজটি কি তুমি করেছিলে?' বাক্যটি ক্রিয়ার কোন কালের উদাহরণ?
  1. পুরাঘটিত অতীত কাল
  2. সাধারণ অতীত কাল
  3. ঘটমান অতীত কাল
  4. নিত্যবৃত্ত অতীত
সঠিক উত্তর:
পুরাঘটিত অতীত কাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পুরাঘটিত অতীত কাল
ব্যাখ্যা

• পুরাঘটিত অতীত কাল:
যে ক্রিয়া অতীতের বহু পূর্বেই সংগঠিত হয়ে গিয়েছে এবং যার পরে আরও কিছু ঘটনা ঘটে গেছে, তার কালকে পুরাঘটিত অতীত কাল বলা হয়।
যেমন:
- সেবার তাকে সুস্থই দেখেছিলাম।
- কাজটি কি তুমি করেছিলে?

অন্যদিকে,
--------------------
• সাধারণ অতীত কাল:
বর্তমান কালের পূর্বে যে ক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়ে গিয়েছে, তার সংঘটন সাধারণ অতীত কাল।
যেমন:
- শিকারি পাখিটিকে গুলি করল।

• নিত্যবৃত্ত অতীত:
অতীত কালে যে ক্রিয়া সাধারণ অভ্যস্ততা অর্থে ব্যবহৃত হয়, তাকে নিত্যবৃত্ত অতীত কাল বলে।
যেমন:
- আমরা তখন রোজ সকালে নদী তীরে ভ্রমণ করতাম।

• ঘটমান অতীত কাল:
অতীত কালে যে কাজ চলছিল এবং যে সময়ের কথা বলা হয়েছে, তখনও কাজটি সমাপ্ত হয়নি, ক্রিয়া সংঘটনের এরূপ ভাব বুঝালে ক্রিয়ার ঘটমান অতীত কাল হয়।
যেমন:
- কাল সান্ধায় বৃষ্টি পড়ছিল।
- আমরা তখন বই পড়ছিলাম।
- বাবা আমাদের পড়াশুনা দেখছিলেন।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,১৮১.
"বিনে স্বদেশী ভাষা মিটে কি আশা।" এখানে 'বিনে' কী?
  1. উপসর্গ
  2. অনুসর্গ
  3. অব্যয়
  4. ক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
অনুসর্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুসর্গ
ব্যাখ্যা
• অনুসর্গ বা কর্মপ্রবচনীয় শব্দ:
- বাংলা ভাষায় যে অব্যয় শব্দগুলো কখনো স্বাধীন পদ রূপে, আবার কখনো শব্দ বিভক্তির ন্যায় বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে বাক্যের অর্থ প্রকাশে সাহায্য করে, সেগুলোকে অনুসর্গ বা কর্মপ্রবচনীয় বলে।
- অনুসর্গগুলো কখনো প্রাতিপদিকের পরে ব্যবহৃত হয়, আবার কখনো বা 'কে' এবং 'র' বিভক্তিযুক্ত শব্দের পরে বসে।
যেমন-
- বিনা: দুঃখ বিনা সুখ লাভ হয় কি মহীতে? (প্রাতিপদিকের পরে)। 
- সনে: ময়ূরীর সনে নাচিছে ময়ূর। (ষষ্ঠী বিভক্তিযুক্ত শব্দের পরে)। 
- দিয়ে: তোমাকে দিয়ে আমার চলবে না। (দ্বিতীয়ার 'কে' বিভক্তিযুক্ত শব্দের পরে)। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
২,১৮২.
অনুসর্গের ক্ষেত্রে কোনটি মিথ্যা?
  1. ক) অনুসর্গ শব্দের পরে বসে।
  2. খ) অনুসর্গ কারকের ধারণা দেয়।
  3. গ) অনুসর্গের স্বতন্ত্র ব্যবহার নেই।
  4. ঘ) অনুসর্গ শব্দের সঙ্গে জুড়ে বসে না।
সঠিক উত্তর:
গ) অনুসর্গের স্বতন্ত্র ব্যবহার নেই।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) অনুসর্গের স্বতন্ত্র ব্যবহার নেই।
ব্যাখ্যা
অনুসর্গ:
বাংলা ভাষায় এক ধরনের সহায়ক শব্দ বাক্যে অন্য কনো পদের পরে বসে পদটিকে বাক্যের সবগে সম্পর্কিত করে কিংবা বিভক্তির মতো কাজ করে। এগুলো অনুসর্গ নামে পরিচিত।

অনুসর্গের বৈশিষ্ট্য:
- অনুসর্গ শব্দের পরে বসে।
- অনুসর্গ কারকের ধারণা দেয়।
- অনুসর্গের স্বতন্ত্র ব্যবহার আছে।
- অনুসর্গ শব্দের সঙ্গে জুড়ে বসে না। পৃথক শব্দ হিসেবে থাকে।
- অনুসর্গ সাধারণভাবে অব্যয় হলেও বিশেষ্য, বিশেষণ বা ক্রিয়া থেকেও সৃষ্টি হতে পারে।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি - ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
২,১৮৩.
'তখন বাতিটা জ্বলে উঠল।' এখানে 'উঠল' কোন কালের ক্রিয়া নির্দেশ করে?
  1. ঘটমান অতীত
  2. পুরাঘটিত অতীত
  3. নিত্য অতীত
  4. সাধারণ অতীত
সঠিক উত্তর:
সাধারণ অতীত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাধারণ অতীত
ব্যাখ্যা
• সাধারণ অতীত:
অতীত কালে যে কাজ সম্পন্ন হয়ে গিয়েছে বোঝায়, তাকে সাধারণ অতীত কাল বলে। যেমন-
- তারা সেখানে বেড়াতে গেল
- তখন বাতিটা জ্বলে উঠল

• ঘটমান অতীত:
যে ক্রিয়া অতীত কালে চলছিল বোঝায়, তাকে ঘটমান অতীত কাল বলে।
যেমন:
- আমরা তখন বই পড়ছিলাম
- তারা মাঠে খেলছিল

• পুরাঘটিত অতীত:
অতীতের যে ক্রিয়া বহু পূর্বেই ঘটে গেছে এবং পরে আরো কিছু ঘটনা ঘটেছে, তার কালকে পুরাঘটিত অতীত কাল বলে।
যেমন:
- বৃষ্টি শেষ হওয়ার আগেই আমরা বাড়ি পৌঁছেছিলাম
- খরবটা তুমি আমাকে চিঠিতে জানিয়েছিলে

• নিত্য অতীত:
অতীত কালে প্রায়ই ঘটতো এমন বোঝালে নিত্য অতীত কাল হয়।
যেমন:
- খুব সকালে ঘুম থেকে উঠতাম
- তারা সাগরের তীরে ঝিনুক কুড়াত

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।
২,১৮৪.
কোনটি অনির্দিষ্ট সর্বনাম?
  1. পরস্পর
  2. একজন
  3. স্বয়ং
  4. যারা-তারা
সঠিক উত্তর:
একজন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
একজন
ব্যাখ্যা
অনির্দিষ্ট সর্বনাম:
- অনির্দিষ্ট বা পরিচয়হীন কিছু বোঝাতে যে সর্বনাম ব্যবহৃত হয়, তাকে অনির্দিষ্ট সর্বনাম বলে।
যেমন:
- কেউ,
- কোথাও,
- কিছু,
- একজন ইত্যাদি।

অন্যদিকে
সাপেক্ষ সর্বনাম - যারা-তারা।
আত্মবাচক সর্বনাম - স্বয়ং।
পারস্পরিক সর্বনাম - পরস্পর।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
২,১৮৫.
নিচের কোনটি অনুসর্গের উদাহরণ?
  1. ক) জোরে, আস্তে
  2. খ) আপন, তুমি
  3. গ) পাশে, পিছনে
  4. ঘ) বলে, কয়ে
সঠিক উত্তর:
গ) পাশে, পিছনে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) পাশে, পিছনে
ব্যাখ্যা
অনুসর্গ
- যেসব শব্দ কোনো শব্দের পরে বসে শব্দটিকে বাক্যের সঙ্গে সম্পর্কিত করে, সেসব শব্দকে অনুসর্গ বলে। 
যেমন-
• সে কাজ ছাড়া কিছুই বোঝে না। – এই বাক্যে ‘ছাড়া' একটি অনুসর্গ। 
• কোন পর্যন্ত পড়েছ? – এই বাক্যে ‘পর্যন্ত' একটি অনুসর্গ।

কয়েকটি অনুসর্গের উদাহরণ:
- অপেক্ষা, অবধি, অভিমুখে, আগে, উপরে, করে, কর্তৃক, কাছে, কারণে, ছাড়া, জন্য, তরে, থেকে, দরুন, দিকে, দিয়ে, দ্বারা, ধরে, নাগাদ, নিচে, পর্যন্ত, পানে, পাশে, পিছনে, প্রতি, বদলে, বনাম, বরাবর, বাইরে, বাদে, বাবদ, বিনা, ব্যতীত, ভিতরে, মতো, মধ্যে, মাঝে, লেগে, সঙ্গে, সম্মুখে, সাথে, সামনে, হতে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২,১৮৬.
যোজক কত প্রকার?
  1. ক) ২
  2. খ) ৩
  3. গ) ৪
  4. ঘ) ৫
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৫
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৫
ব্যাখ্যা
যোজক পাঁচ প্রকার। যথা :
সাধারণ যোজক
বৈকল্পিক যোজক
রিবোধমূলক যোজক
কারণবাচক যোজক
সাপেক্ষ যোজক
উৎস : নবম-দশম শ্রেণি পুরাতন ও নতুন ব্যাকরণ, ভাষা-শিক্ষা, বাংলা একাডেমির ব্যাকরণ, উন্মক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ।
২,১৮৭.
আমাকে এক গ্লাস পানি দেবেন। - বাক্যটিতে কোন কালের প্রয়োগ ঘটেছে?
  1. ক) বর্তমান অনুজ্ঞা
  2. খ) সাধারন বর্তমান
  3. গ) ঘটমান বর্তমান
  4. ঘ) পুরাঘটিত বর্তমান
সঠিক উত্তর:
ক) বর্তমান অনুজ্ঞা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) বর্তমান অনুজ্ঞা
ব্যাখ্যা
• আমাকে এক গ্লাস পানি দেবেন। - বাক্যটিতে বর্তমান অনুজ্ঞা কালের প্রয়োগ ঘটেছে।

- ক্রিয়াপদের যে রূপ বক্তার আদেশ, অনুমতি, অনুরােধ, প্রার্থনা, আমন্ত্রণ, আশীর্বাদ, অভিশাপ, উপদেশ, উপেক্ষা ইত্যাদি প্রকাশ করে, তাকে অনুজ্ঞা বলে
আর ক্রিয়াপদের যে রূপ বর্তমান কালের অনুজ্ঞা প্রকাশ করে তাকে বলে বর্তমান অনুজ্ঞা
যেমন -
• তাড়াতাড়ি কাজটি করাে।
• সকলের মঙ্গল হােক।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
২,১৮৮.
"দুই আর দুইয়ে চার হয়।" - কোন কাল?
  1. পুরাঘটিত বর্তমান
  2. নিত্যবৃত্ত বর্তমান
  3. ঘটমান বর্তমান
  4. নিত্যবৃত্ত অতীত
সঠিক উত্তর:
নিত্যবৃত্ত বর্তমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিত্যবৃত্ত বর্তমান
ব্যাখ্যা
সাধারণ বর্তমান/নিত্যবৃত্ত বর্তমান:
- যে ক্রিয়ার কাজটি বর্তমানে সাধারণভাবে ঘটে বা হয়, তাকে সাধারণ বর্তমান বা নিত্যবৃত্ত বর্তমান কাল বলে।
যেমন:
- সকালে সূর্য ওঠে।
- দুই আর দুইয়ে চার হয়।
- আমি রোজ বিদ্যালয়ে পড়তে যাই।

নিত্যবৃত্ত অতীত:
- যে ক্রিয়া অতীতে প্রায়ই ঘটত এমন বোঝায়, তাকে নিত্যবৃত্ত অতীত কাল বলে।
যেমন:
- বাবা প্রতিদিন বাজার করতেন।
- স্কুল ছুটির পর বন্ধুদের সঙ্গে রোজ পড়া নিয়ে আলাপ করতাম।
- ছুটিতে প্রতি বছর গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে যেতাম।

পুরাঘটিত বর্তমান:
- যে ক্রিয়া কিছু আগে শেষ হয়েছে কিন্তু তার ফল এখনো রয়েছে, তাকে পুরাঘটিত বর্তমান কাল বলে।
যেমন:
- এখন বাবা অফিস থেকে ফিরেছেন।
- এবার মা খেতে ডেকেছেন।
- অবশেষে আমি ইংরেজি পড়া শেষ করেছি।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
২,১৮৯.
নিচের কোনটি অনুসর্গ নয়?
  1. জন্য
  2. থেকে
  3. গাছা
  4. দ্বারা
সঠিক উত্তর:
গাছা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গাছা
ব্যাখ্যা
• ‘গাছা’ — অনুসর্গের উদাহরণ নয়।
- এটি একটি প্রদাশ্রিত নির্দেশক।

• অনুসর্গ:
- যেসব শব্দ কোনাে শব্দের পরে বসে শব্দটিকে বাক্যের সঙ্গে সম্পর্কিত করে, সেসব শব্দকে অনুসর্গ বলে।
যেমন -
• সে কাজ ছাড়া কিছুই বােঝে না।
এই বাক্যে 'ছাড়া' একটি অনুসর্গ।

• কোন পর্যন্ত পড়েছ?
এই বাক্যে 'পর্যন্ত' একটি অনুসর্গ।

• কয়েকটি অনুসর্গের উদাহরণ:
অপেক্ষা, অবধি, অভিমুখে, আগে, উপরে, করে, কর্তৃক, কাছে, কারণে, ছাড়া, জন্য, তরে, চেয়ে, থেকে, দরুন, দিকে, দিয়ে, দ্বারা, ধরে, নাগাদ, নিচে, পর্যন্ত, পানে, পাশে, পিছনে, প্রতি, বদলে, বনাম, বরাবর, বাইরে, বাদে, বাবদ, বিনা, ব্যতীত, ভিতরে, মতাে, মধ্যে, মাঝে, লেগে, সঙ্গে, সম্মুখে, সাথে, সামনে, হতে ইত্যাদি।

অনুসর্গকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা -
- সাধারণ অনুসর্গ ও
- ক্রিয়াজাত অনুসর্গ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ-২০১৯)।
২,১৯০.
নিচের কোনটি নিত্যবৃত্ত অতীত কালের উদাহরণ নয়?
  1. ক) আজ যদি সুমন আসত, কেমন মজা হত।
  2. খ) সাতাশ হতো যদি একশ সাতাশ।
  3. গ) তুমি যদি যেতে, তবে ভালোই হতো।
  4. ঘ) কাল সন্ধ্যায় বৃষ্টি পড়ছিল।
সঠিক উত্তর:
ঘ) কাল সন্ধ্যায় বৃষ্টি পড়ছিল।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) কাল সন্ধ্যায় বৃষ্টি পড়ছিল।
ব্যাখ্যা
অতীত কালে যে ক্রিয়া সাধারণ অভ্যস্ততা অর্থে ব্যবহৃত হয়, তাকে নিত্যবৃত্ত অতীত কাল বলে।
যেমন-
আজ যদি সুমন আসত, কেমন মজা হত (কামনা প্রকাশে)
সাতাশ হতো যদি একশ সাতাশ (অসম্ভব কল্পনায়)
তুমি যদি যেতে, তবে ভালোই হতো (সম্ভাবনা প্রকাশে)
অন্যদিকে
‘কাল সন্ধ্যায় বৃষ্টি পড়ছিল’-ঘটমান অতীত কাল।
উৎস- বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
২,১৯১.
'চন্দ্র পৃথিবী অপেক্ষা ক্ষুদ্রতর' বাক্যে 'ক্ষুদ্রতর' কী হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ক) গুণবাচক বিশেষ্য
  2. খ) ভাববাচক বিশেষ্য
  3. গ) অব্যয়
  4. ঘ) বিশেষণের অতিশায়ন
সঠিক উত্তর:
ঘ) বিশেষণের অতিশায়ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) বিশেষণের অতিশায়ন
ব্যাখ্যা
'চন্দ্র পৃথিবী অপেক্ষা ক্ষুদ্রতর' বাক্যে 'ক্ষুদ্রতর' বিশেষণের অতিশায়ন হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। বিশেষণ পদ যখন দুই বা ততোধিক বিশেষ্য পদের মধ্যে গুণ, অবস্থা, পরিমাণ প্রভৃতি বিষয়ের তুলনায় একের উৎকর্ষ বা অপকর্ষ বুঝিয়ে থাকে তখন তাকে বিশেষণের অতিশায়ন বলে। যেমন যমুনা অপেক্ষা পদ্মা দীর্ঘতর নদী, চন্দ্র পৃথিবীর তুলনায় ক্ষুদ্রতর ইত্যাদি। (সূত্রঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ : নবম-দশম শ্রেণী)
২,১৯২.
'হনহন' শব্দটি কোন পদের উদাহরণ?
  1. বিশেষ্য
  2. বিশেষণ
  3. ক্রিয়া বিশেষণ
  4. অব্যয়
সঠিক উত্তর:
অব্যয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অব্যয়
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
'হনহন' - অব্যয় পদের উদাহরণ।

• 'হনহন' শব্দের অর্থ: 
- দ্রুততার ভাববাচক।
----------------- 
• অব্যয় পদ:
- যে পদ সর্বদা অপরিবর্তনীয় থেকে বাক্যের শোভা বর্ধন করে, কখনো একাধিক পদের, বাক্যাংশের বা বাক্যের সংযোগ বা বিয়োগ সম্বন্ধ ঘটায়, তাকে অব্যয় পদ বলে।
যথা-
১. বাংলা, 
২. তৎসম, 
৩. বিদেশি।

• বাংলা অব্যয় শব্দ - আর, আবার, ও, হ্যাঁ।
• তৎসম অব্যয় শব্দ - যদি, যথা, সহসা, আপাতত, বরং।
• বিদেশী অব্যয় শব্দ - আলবত, বহুত, খুব, শাবাশ, খাসা, মাইরি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ৯ম-১০ম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
২,১৯৩.
'দংশনক্ষত শ্যেন বিহঙ্গ যুঝে ভুজঙ্গ সনে।' - এখানে 'সনে' অনুসর্গটি কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. সহগামিতা
  2. তুলনায়
  3. বিরুদ্ধগামিতা
  4. সমসূত্রে
সঠিক উত্তর:
বিরুদ্ধগামিতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিরুদ্ধগামিতা
ব্যাখ্যা

• এখানে 'সহ" 'সহিত' 'সঙ্গে' 'সনে' -এগুলা একেক বাক্যে একেক অর্থ প্রকাশ করেছে।

যেমন:
 ১. তিনি পুত্র সহ উপস্থিত হলেন। (সহগামীতা অর্থে),
 ২. শত্রুর সহিত সন্ধি চাইনা। (সমসূত্রে অর্থে),
 ৩. মায়ের সঙ্গে এই মেয়ের তুলনা হয়না। (তুলনায় অর্থে),
 ৪. দংশনক্ষত শ্যেন বিহঙ্গ যুঝে ভুজঙ্গ সনে। (বিরুদ্ধগামীতা অর্থে)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

২,১৯৪.
কোনটি ভাববাচক বিশেষ্য?
  1. জনতা
  2. মানুষ
  3. ভোজন
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ভোজন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভোজন
ব্যাখ্যা
• ভাববাচক বিশেষ্য:
যে বিশেষ্য পদের কোনো ক্রিয়ার ভাব বা কাজের ভাব প্রকাশিত হয় তাকে ভাববাচক বিশেষ্য বলে।
যথা- গমন (যাওয়ার ভাব বা কাজ), দর্শন (দেখার কাজ), ভোজন (খাওয়ার কাজ), শয়ন (শোয়ার কাজ) দেখা, শোনা ইত্যাদি ভাববাচক বিশেষ্য।

অন্যদিকে,
- ‘জনতা’ সমষ্টিবাচক বিশেষ্য।
- ‘মানুষ’ জাতিবাচক বিশেষ্য। 

উল্লেখ্য,
ভাববাচক বিশেষ্য (২০২৩ সংস্করণ) অনুসারে ক্রিয়া-বিশেষ্য নামে পরিচিত।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২৩ সংস্করণ) এবং মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,১৯৫.
‘মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন’ বাক্যটিতে কোন ধরণের অব্যয় রয়েছে-
  1. ক) সংযোজক অব্যয়
  2. খ) বিয়োজক অব্যয়
  3. গ) সংকোচক অব্যয়
  4. ঘ) অনুগামী সমুচ্চয়ী অব্যয়
সঠিক উত্তর:
খ) বিয়োজক অব্যয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বিয়োজক অব্যয়
ব্যাখ্যা
‘মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন’- বাক্যটিতে রয়েছে বিয়োজক অব্যয়। এখানে কিংবা অব্যয়টি দুটো বাক্যাংশের বিয়োজক। বা, অথবা, নতুবা, না হয়, নয়তো শব্দগুলো বিয়োজক অব্যয়। সূত্র- বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী।
২,১৯৬.
'আকাশে বিদ্যুৎ চমকায়।' বাক্যে 'চমকায়' কোন ধরনের ক্রিয়া?
  1. নামক্রিয়া
  2. প্রযোজক ক্রিয়া
  3. সংযোগ ক্রিয়া
  4. সরল ক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
নামক্রিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নামক্রিয়া
ব্যাখ্যা

•গঠন বিবেচনায় ক্রিয়া পাঁচ রকম:
১. সরল ক্রিয়া: একটিমাত্র পদ দিয়ে যে ক্রিয়া গঠিত হয় এবং কর্তা এককভাবে ক্রিয়াটি সম্পন্ন করে, তাকে সরল ক্রিয়া বলে। যেমন সে লিখছে। ছেলেরা মাঠে খেলছে। এখানে লিখছে ও খেলছে - এগুলো সরল ক্রিয়া।

২. প্রযোজক ক্রিয়া: কর্তা অন্যকে দিয়ে কাজ করালে তাকে প্রযোজক ক্রিয়া বলে। যেমন- তিনি আমাকে অঙ্ক করাচ্ছেন; রাখাল গরুকে ঘাস খাওয়ায়- এখানে 'করাচ্ছেন' ও 'খাওয়ায়' প্রযোজক ক্রিয়া।

৩. নামক্রিয়া: বিশেষ্য, বিশেষণ বা ধ্বন্যাত্মক শব্দের শেষে-আ বা-আনো প্রত্যয় যুক্ত হয়ে যে ক্রিয়া গঠিত হয়, তাকে নামক্রিয়া বলে।
যেমন-
- বিশেষ্য চমক শব্দের সঙ্গে-আনো যুক্ত হয়ে হয় চমকানো: আকাশে বিদ্যুৎ চমকায়;
- বিশেষণ কম শব্দের সঙ্গে -আ যুক্ত হয়ে হয় কমা: বাজারে সবজির দাম কমছে না;
- ধ্বন্যাত্মক ছটফট শব্দের সঙ্গে-আনো যুক্ত হয়ে হয় ছটফটানো: জবাই করা মুরগি উঠানে ছটফটায়।

৪. সংযোগ ক্রিয়া: বিশেষ্য, বিশেষণ বা ধ্বন্যাত্মক শব্দের পরে করা, কাটা, হওয়া, দেওয়া, ধরা, পাওয়া, খাওয়া, মারা প্রভৃতি ক্রিয়া যুক্ত হয়ে সংযোগ ক্রিয়া গঠিত হয়।
- করা ক্রিয়া যোগে: গান করা, গরম করা, ঠনঠন করা, ব্যাট করা;
- কাটা ক্রিয়া যোগে: সাঁতার কাটা, বিপদ কাটা;
- হওয়া ক্রিয়া যোগে: উদয় হওয়া, বড়ো হওয়া, রাজি হওয়া;
- দেওয়া ক্রিয়া যোগে: কথা দেওয়া, মন দেওয়া, দোষ দেওয়া;
- ধরা ক্রিয়া যোগে: ভাঙন ধরা, মরচে ধরা, ক্যাচ ধরা;
- পাওয়া ক্রিয়া যোগে: লজ্জা পাওয়া, কষ্ট পাওয়া, বৃদ্ধি পাওয়া;
- খাওয়া ক্রিয়া যোগে: আছাড় খাওয়া, মার খাওয়া, ডিগবাজি খাওয়া;
- মারা ক্রিয়া যোগে: উঁকি মারা, পকেট মারা।

৫. যৌগিক ক্রিয়া:
অসমাপিকা ক্রিয়ার সঙ্গে সমাপিকা ক্রিয়া যুক্ত হয়ে যখন একটি ক্রিয়া গঠন করে, তখন তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে।
যেমন: মরে যাওয়া, কমে আসা, এগিয়ে চলা, হেসে ওঠা, উঠে পড়া, পেয়ে বসা, সরে দাঁড়ানো, বেঁধে দেওয়া, বুঝে নেওয়া, বলে ফেলা, করে তোলা, চেপে রাখা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৫ সংস্করণ)।

২,১৯৭.
বিশেষ্য কত প্রকার? 
  1. ৪ প্রকার
  2. ৫ প্রকার 
  3. ৬ প্রকার 
  4. ৯  প্রকার 
সঠিক উত্তর:
৬ প্রকার 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৬ প্রকার 
ব্যাখ্যা
বিশেষ্য:
যেসব শব্দ দিয়ে ব্যক্তি, প্রাণী, স্থান, বস্তু, ধারণা ও গুণের নাম বোঝায়, সেগুলোকে বিশেষ্য বলে।
বিশেষ্যের শ্রেণিবিভাগ:
১. নাম-বিশেষ্য: ব্যক্তি, স্থান, দেশ, কাল, সৃষ্টি প্রভৃতির সুনির্দিষ্ট নামকে নাম-বিশেষ্য বলা হয়। যেমন হাবিব, সজল, লতা, শম্পা।
২. জাতি-বিশেষ্য: জাতি-বিশেষ্য সাধারণ-বিশেষ্য নামেও পরিচিত। এ ধরনের বিশেষ্য নির্দিষ্ট কোনো নামকে না বুঝিয়ে প্রাণী ও অপ্রাণীর সাধারণ নামকে বোঝায়।
যেমন মানুষ, গরু, ছাগল, ফুল, ফল, নদী, সাগর, পর্বত ইত্যাদি।
৩. বস্তু-বিশেষ্য: কোনো দ্রব্য বা বস্তুর নামকে বস্তু-বিশেষ্য বলে।
যেমন ইট, লবণ, আকাশ, টেবিল, বই ইত্যাদি।
৪. সমষ্টি-বিশেষ্য: এ ধরনের বিশেষ্য দিয়ে ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টিকে বোঝায়।
যেমন জনতা, পরিবার, ঝাঁক, বাহিনী, মিছিল ইত্যাদি।
৫. গুণ-বিশেষ্য: গুণগত অবস্থা ও ধারণার নামকে গুণ-বিশেষ্য বলে।
যেমন সরলতা, দয়া, আনন্দ, গুরুত্ব, দীনতা, ধৈর্য ইত্যাদি।
৬. ক্রিয়া-বিশেষ্য: যে বিশেষ্য দিয়ে কোনো ক্রিয়া বা কাজের নাম বোঝায়, তাকে ক্রিয়া-বিশেষ্য বলে। যেমন পঠন, ভোজন, শয়ন, করা, করানো, পাঠানো, নেওয়া ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি (২০২৪ সংস্করণ)।
২,১৯৮.
কোন বাক্যে নাম পুরুষের ব্যবহার করা হয়েছে?
  1. ক) ওরা কি করে?
  2. খ) আপনি আসবেন
  3. গ) আমরা যাচ্ছি
  4. ঘ) তোরা খাসনে
সঠিক উত্তর:
ক) ওরা কি করে?
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ওরা কি করে?
ব্যাখ্যা

পুরুষ তিন প্রকার। যেমন–
উত্তম পুরুষ
মধ্যম পুরুষ
নাম পুরুষ

⇒উত্তম পুরুষ : ক্রিয়ার কর্তা নিজেকে বুঝাতে যে সর্বনাম ব্যবহার করে, তাকে উত্তম পুরুষ বলে। যেমন– আমি, আমরা ইত্যাদি।
⇒মধ্যম পুরুষ : বক্তা যার সাথে কথা বলে তাকে বুঝাতে যে সর্বনাম ব্যবহার করে, তাকে মধ্যম পুরুষ বলে। যেমন– তুমি, তােমরা, আপনি ইত্যাদি।
⇒নাম পুরুষ : বক্তা যার সম্পর্কে কিছু বলে তাকে বুঝাতে যে সর্বনাম ব্যবহার করে, তাকে নাম পুরুষ বলে। যেমন– সে, তারা, ওরা, করিম, এটা ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ সংস্করণ)

২,১৯৯.
বিরোধ যোজক কোনটি?
  1. না-হয়
  2. তবুও
  3. ততই
সঠিক উত্তর:
তবুও
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তবুও
ব্যাখ্যা
বিরোধ যোজক:
- এ ধরনের যোজক বাক্যের দুটি অংশের মধ্যে সংযোগ ঘটায় এবং প্রথম বাক্যের বক্তব্যের সঙ্গে বিরোধ তৈরি করে।
যেমন:
- তাকে আসতে বললাম, তবুও এলো না।

অন্যদিকে,
সাপেক্ষ যোজক - যত পড়ছি, ততই নতুন করে জানছি।
সাধারণ যোজক - করিম রহিম এ কাজটি করেছে।
বিকল্প যোজক - চা না-হয় কফি খান।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২,২০০.
কোন বাক্যে মধ্যম পুরুষ ব্যবহার করা হয়েছে?
  1. আমরা যাচ্ছি।
  2. আপনি কখন আসবেন?
  3. ওরা কোথায় আছে?
  4. এটা ওখানে রাখ।
সঠিক উত্তর:
আপনি কখন আসবেন?
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আপনি কখন আসবেন?
ব্যাখ্যা
• ‘আপনি কখন আসবেন?’ বাক্যে আপনি মধ্যম পুরুষের উদাহরণ।

--------------------
• পুরুষ তিন প্রকার। যেমন:
- উত্তম পুরুষ,
- মধ্যম পুরুষ,
- নাম পুরুষ।

• উত্তম পুরুষ:
ক্রিয়ার কর্তা নিজেকে বুঝাতে যে সর্বনাম ব্যবহার করে, তাকে উত্তম পুরুষ বলে।
যেমন: আমি, আমরা ইত্যাদি।

• মধ্যম পুরুষ:
বক্তা যার সাথে কথা বলে তাকে বুঝাতে যে সর্বনাম ব্যবহার করে, তাকে মধ্যম পুরুষ বলে।
যেমন: তুমি, তােমরা, আপনি ইত্যাদি।

• নাম পুরুষ:
বক্তা যার সম্পর্কে কিছু বলে তাকে বুঝাতে যে সর্বনাম ব্যবহার করে, তাকে নাম পুরুষ বলে।
যেমন: সে, তারা, ওরা, করিম, এটা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।