বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

পদ-প্রকরণ

মোট প্রশ্ন৩,০২৪এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

পদ-প্রকরণ

PrepBank · পাতা ১৯ / ৩১ · ১,৮০১১,৯০০ / ৩,০২৪

১,৮০১.
'অধ্যয়ন' শব্দের বিশেষণ কী?
  1. অধ্যয়নকৃত
  2. অধীত
  3. অধ্যয়নরত
  4. পঠিত
সঠিক উত্তর:
অধীত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অধীত
ব্যাখ্যা

'অধ্যয়ন' শব্দের বিশেষণ হচ্ছে - অধীত।

উল্লেখ্য,
- 'অধ্যয়ন’ শব্দটি - বিশেষ্য পদ।
- ‘'অধ্যয়ন’ শব্দের অর্থ - পঠন; অভিনিবেশ সহকারে পাঠ।
- “অধীত” শব্দটি বিশেষণ পদ।
- ‘অধীত’ শব্দের অর্থ - পাঠ করা হয়েছে এমন, পঠিত।

অন্যদিকে,
‘অধ্যয়নরত’ শব্দটি - বিশেষণ পদ।
‘অধ্যয়নরত’ শব্দের অর্থ - গভীর মনোযোগ সহকারে পাঠ করছে এমন।

‘পঠিত’ শব্দটি - বিশেষণ পদ।
‘পঠিত’ শব্দের অর্থ - পাঠ করা হয়েছে এমন, অধীত।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১,৮০২.
'আজ যদি শিহাব আসত, কেমন মজা হতো।' কোন কালের উদাহরণ?
  1. পুরাঘটিত অতীত
  2. পুরাঘটিত ভবিষ্যত
  3. নিত্যবৃত্ত অতীত
  4. সাধারণ অতীত
সঠিক উত্তর:
নিত্যবৃত্ত অতীত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিত্যবৃত্ত অতীত
ব্যাখ্যা

• নিত্যবৃত্ত অতীত:
- অতীত কালে যে ক্রিয়া সাধারণ অভ্যস্ততা অর্থে ব্যবহৃত হয়, তাকে নিত্যবৃত্ত অতীত কাল বলে।

যেমন:
- আমরা তখন রোজ সকালে নদী তীরে ভ্রমণ করতাম।

• নিত্যবৃত্ত অতীতের বিশিষ্ট ব্যবহার:
(১) কামনা প্রকাশে: আজ যদি সুমন আসত, কেমন মজা হতো।
(২) অসম্ভব কল্পনায়: 'সাতাশ হতো যদি একশ সাতাশ'।
(৩) সম্ভাবনা প্রকাশে: তুমি যদি যেতে, তবে ভালোই হতো।

অন্যদিকে,
• সাধারণ অতীত:
অতীত কালে যে কাজ সম্পন্ন হয়ে গিয়েছে বোঝায়, তাকে সাধারণ অতীত কাল বলে।
যেমন:
- তারা সেখানে বেড়াতে গেল।
- তখন বাতিটা জ্বলে উঠল।

• ঘটমান অতীত:
যে ক্রিয়া অতীত কালে চলছিল বোঝায়, তাকে ঘটমান অতীত কাল বলে।
যেমন:
- আমরা তখন বই পড়ছিলাম।
- তারা মাঠে খেলছিল।
- তুমি নাচছিলে।

• পুরাঘটিত অতীত:
অতীতের যে ক্রিয়া বহু পূর্বেই ঘটে গেছে এবং পরে আরো কিছু ঘটনা ঘটেছে, তার কালকে পুরাঘটিত অতীতকাল বলে।
যেমন:
- খবরটা তুমি আমাকে চিঠিতে জানিয়েছিলে।
- বৃষ্টি শেষ হওয়ার আগেই আমরা বাড়ি পৌঁছেছিলাম।
- কাজটি কি তুমি করেছিলে?

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৮সংস্করণ)।

১,৮০৩.
কোনটি নির্দেশক সর্বনামের উদাহরণ?
  1. একজন
  2. কেউ
  3. স্বয়ং
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা
নির্দেশক সর্বনাম:
- যে সর্বনাম নৈকট্য বা দূরত্ব নির্দেশ করে, তাকে নির্দেশক সর্বনাম বলে।

যেমন:
- নিকট নির্দেশক: এ, এই, এরা, ইনি; দূর নির্দেশক: ও, ওই, ওরা, উনি।

অন্যদিকে,
আত্মবাচক সর্বনাম - স্বয়ং।
অনির্দিষ্ট সর্বনাম - একজন, কেউ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
১,৮০৪.
'বাবা আমাকে ডাকছেন' - বাক্যে 'আমাকে' কোন ধরনের ক্রিয়া?
  1. ক) অকর্মক ক্রিয়া
  2. খ) দ্বিকর্মক ক্রিয়া
  3. গ) সকর্মক ক্রিয়া
  4. ঘ) প্রযোজক ক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
গ) সকর্মক ক্রিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সকর্মক ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
- বাক্যে 'আমাকে' হচ্ছে সকর্মক ক্রিয়া।

• সকর্মক ক্রিয়া:
- কর্মপদযুক্ত ক্রিয়াই সকর্মক ক্রিয়া।
যেমন:
- সে বই পড়ে।
- বাবা আমাকে ডাকছেন।
- খালা আমাকে এই ঘড়িটা দিয়েছেন।

- প্রথম বাক্যে 'বই' হচ্ছে ক্রিয়াটির কর্মপদ। দ্বিতীয় বাক্যে 'আমাকে' কর্মপদ। তৃতীয় বাক্যে 'আমাকে' গৌণ কর্মপদ আর 'ঘড়িটা' মুখ্য কর্মপদ।
- বাক্যে ক্রিয়ার সঙ্গে 'কী' বা 'কাকে' প্রশ্ন করলে কর্মপদ পাওয়া যায়।

উৎস: প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, বাংলা একাডেমি।
১,৮০৫.
সম্বোধন আবেগ আছে কোন বাক্যে?
  1. ওহে, কী বলেছি, শুনেছ?
  2. নাহ্, ওকে নিয়ে আর পারি না।
  3. আরে! তুমি আবার কখন এলে?
  4. দুর! ওসব কথা আমি বলিনি।
সঠিক উত্তর:
ওহে, কী বলেছি, শুনেছ?
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ওহে, কী বলেছি, শুনেছ?
ব্যাখ্যা

• 'ওহে, কী বলেছি, শুনেছ?'-  সম্বোধন আবেগ।

• সম্বোধন আবেগ:

এ ধরনের শব্দ সম্বোধন বা আহ্বান করার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়।
যেমন-
- হে বন্ধু, তোমাকে অভিনন্দন।
- ওগো, তোরা জয়ধ্বনি করো।

• অলংকার আবেগ:
- এ ধরনের শব্দ বাক্যের অর্থের পরিবর্তন না ঘটিয়ে কোমলতা, মাধুর্য ইত্যাদি বৈশিষ্ট্য এবং সংশয়, অনুরোধ, মিনতি ইত্যাদি মনোভাব প্রকাশের জন্যে অলংকার হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
যেমন
- দুর! এ কথা কি বলতে আছে?
- দুর! ওসব কথা আমি বলিনি।
- যাকগে ওসব কথা থাক।

• বিস্ময় আবেগ:
- এ ধরনের শব্দ বিস্মিত বা আশ্চর্য হওয়ার ভাব প্রকাশ করে। যেমন-
- আরে! তুমি আবার কখন এলে?
- আহ্, কী চমৎকার দৃশ্য!

• বিরক্তি আবেগ:
- এ ধরনের শব্দ অবজ্ঞা, ঘৃণা, বিরক্তি ইত্যাদি মনোভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন- 
- ছি ছি! এরকম কথা তার মুখে মানায় না।
- জ্বালা! তোমাকে নিয়ে আর পারি না!
- নাহ্, ওকে নিয়ে আর পারি না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি (২০২৪ সংস্করণ)।

১,৮০৬.
কোনটি অনুসর্গের উদাহরণ?
  1. কিন্তু
  2. তাই
  3. যদি
  4. পর্যন্ত
সঠিক উত্তর:
পর্যন্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পর্যন্ত
ব্যাখ্যা
• অনুসর্গ:
যেসব শব্দ কোনাে শব্দের পরে বসে শব্দটিকে বাক্যের সঙ্গে সম্পর্কিত করে, সেসব শব্দকে অনুসর্গ বলে।
যেমন: 
• সে কাজ ছাড়া কিছুই বােঝে না।
এই বাক্যে 'ছাড়া' একটি অনুসর্গ। 

• কোন পর্যন্ত পড়েছ?
এই বাক্যে 'পর্যন্ত' একটি অনুসর্গ।

কয়েকটি অনুসর্গের উদাহরণ:
অপেক্ষা, অবধি, অভিমুখে, আগে, উপরে, করে, কর্তৃক, কাছে, কারণে, ছাড়া, জন্য, তরে, চেয়ে, থেকে, দরুন, দিকে, দিয়ে, দ্বারা, ধরে, নাগাদ, নিচে, পর্যন্ত, পানে, পাশে, পিছনে, প্রতি, বদলে, বনাম, বরাবর, বাইরে, বাদে, বাবদ, বিনা, ব্যতীত, ভিতরে, মতাে, মধ্যে, মাঝে, লেগে, সঙ্গে, সম্মুখে, সাথে, সামনে, হতে ইত্যাদি। 

অনুসর্গকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। 
যথা- 
- সাধারণ অনুসর্গ ও 
- ক্রিয়াজাত অনুসর্গ। 

অন্যদিকে,
• কিন্তু, তাই এবং যদি যোজক পদের উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ-২০১৯)।
১,৮০৭.
রকেট অতি দ্রুত চলে। কীসের উদাহরণ?
  1. ক) ক্রিয়া বিশেষণ
  2. খ) বিশেষণের অতিশায়ন
  3. গ) ক্রিয়া বিশেষণের বিশেষণ
  4. ঘ) সর্বনামের বিশেষণ
সঠিক উত্তর:
গ) ক্রিয়া বিশেষণের বিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ক্রিয়া বিশেষণের বিশেষণ
ব্যাখ্যা
- উপরের বাক্যে 'চলে' ক্রিয়াকে 'দ্রুত' শব্দটি বিশেষিত করছে।
- সুতরাং 'দ্রুত' একটি ক্রিয়া বিশেষণ।
- আবার 'দ্রুত' শব্দটিকে 'অতি' শব্দটি বিশেষিত করছে।
- তাই 'অতি' ক্রিয়া বিশেষণের বিশেষণ।



উৎস : ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ ও মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ (২০১৯)
১,৮০৮.
সাধু ও চলিত ভাষার মূল পার্থক্য কোন পদে বেশি বেশি দেখা যায়-
  1. ক) বিশেষণ ও ক্রিয়া
  2. খ) বিশেষ্য ও বিশেষণ
  3. গ) ক্রিয়া ও সর্বনাম
  4. ঘ) বিশেষ্য ও ক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
গ) ক্রিয়া ও সর্বনাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ক্রিয়া ও সর্বনাম
ব্যাখ্যা
সাধুভাষায় সর্বনাম পদ পূর্ণরূপে ব্যবহৃত হয়। যেমন- তাহার, তাহারা ইত্যাদি। চলিত রীতিতে সর্বনামগুলাে সংকুচিত রূপে ব্যবহৃত হয়। যেমন- তার, তারা ইত্যাদি। সাধু ভাষায় ক্রিয়াপদ পূর্ণরূপে ব্যবহৃত হয়। যেমন- করিয়া, পড়িয়া, খেলিয়া ইত্যাদি। চলিত ভাষায় ক্রিয়াপদ সংক্ষিপ্তভাবে ব্যবহৃত হয়। যেমন- করে, পড়ে, খেলে ইত্যাদি। উৎস: শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা।
১,৮০৯.
হে বন্ধু, চলো ফিরে যাই গ্রামে। - ‘হে বন্ধু’ কোন পদ?
  1. ক) ক্রিয়া বিশেষণ
  2. খ) অনুসর্গ
  3. গ) আবেগ
  4. ঘ) যোজক
সঠিক উত্তর:
গ) আবেগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) আবেগ
ব্যাখ্যা
যে আবেগ—শব্দ দ্বারা সম্বোধন বা আহ্বান করা বুঝায় তাকে সম্বোধনসূচক আবেগ বলে। যেমন : 
হে বন্ধু, চলো ফিরে যাই গ্রামে। 
ও বন্ধু, তোমাকে অভিনন্দন।

উৎস : নবম—দশম শ্রেণি পুরাতন ও নতুন ব্যাকরণ, ভাষা—শিক্ষা, বাংলা একাডেমির ব্যাকরণ, উন্মক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ।
১,৮১০.
'ঘটনাটা শুনে রাখো' বাক্যে কোন ক্রিয়া রয়েছে?
  1. অকর্মক
  2. যৌগিক
  3. প্রযোজক
  4. মিশ্র
সঠিক উত্তর:
যৌগিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যৌগিক
ব্যাখ্যা
• 'ঘটনাটা শুনে রাখ'- এখানে 'শুনে রাখ'- যৌগিক ক্রিয়া।

যৌগিক ক্রিয়া:
একটি সমাপিকা ও একটি অসমাপিকা ক্রিয়া যদি একত্রে একটি বিশেষ বা সম্প্রসারিত অর্থ প্রকাশ করে, তবে তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে।
যেমন -
- তাগিদ দেয়া অর্থে: ঘটনাটা শুনে রাখ
- কার্যসমাপ্তি অর্থে: ছেলেমেয়েরা শুয়ে পড়ল

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,৮১১.
সংযোগজ্ঞাপন সর্বনাম কোনটি?
  1. ক) কিছু
  2. খ) স্বয়ং
  3. গ) যে
  4. ঘ) তাবৎ
সঠিক উত্তর:
গ) যে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) যে
ব্যাখ্যা
সংযোগজ্ঞাপক সর্বনাম পদ: 
- যে, যিনি, যাঁরা, যারা, যাহারা।

আত্মবাচক সর্বনাম পদ
- স্বয়ং, নিজে, খোদ, আপনি।

অনির্দিষ্টতাজ্ঞাপক সর্বনাম পদ
- কোন, কেহ, কেউ, কিছু ইত্যাদি।

ব্যক্তিবাচক বা পুরুষবাচক সর্বনাম পদ
- আমি, তুমি, আমরা, তোমরা, সে, তারা, তাহারা, তিনি, এ, এরা, ও, ওরা ইত্যাদি।

সাকুল্যবাচক সর্বনাম:
- সব, সকল, তাবৎ।  

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ৯ম-১০ম শ্রেণী
১,৮১২.
বাংলা ব্যাকরণে 'পদ' বলতে কি বোঝায়?
  1. কবিতার চরণ
  2. যে কোন শব্দ
  3. বিভক্তিযুক্ত শব্দ বা ধাতু
  4. প্রত্যয়ন শব্দ
সঠিক উত্তর:
বিভক্তিযুক্ত শব্দ বা ধাতু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিভক্তিযুক্ত শব্দ বা ধাতু
ব্যাখ্যা
• বাংলা ব্যাকরণে বিভক্তিযুক্ত শব্দ বা ধাতুকে পদ বলে। 
-------------- 
• পদ:

- শব্দে বিভক্তি যুক্ত হলেই তাকে পদ বলা হয়। অর্থাৎ, বিভক্তি যুক্ত শব্দকে পদ বলে।
- বাক্যে ব্যবহৃত প্রতিটি শব্দ বিভক্তিযুক্ত।
- যেসব শব্দে বিভক্তি দেখা যায় না সেসব শব্দে শূন্য বিভক্তি থাকে। তাই বাক্যের প্রতিটি শব্দই পদ।

পদগুলো প্রধানত দুই প্রকার। 
যথা - সব্যয় পদ ও অব্যয় পদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী (২০১৯ সংস্করণ)।
১,৮১৩.
অনুক্ত ক্রিয়ার উদাহরণ কোনটি?
  1. ক) জাহানারা আমার খালাতো বোন।
  2. খ) সে বই পড়ছিল।
  3. গ) বাবা আমাকে ডাকছেন।
  4. ঘ) খালা আমাকে বইটি দিয়েছেন।
সঠিক উত্তর:
ক) জাহানারা আমার খালাতো বোন।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) জাহানারা আমার খালাতো বোন।
ব্যাখ্যা
অনুক্ত ক্রিয়া: 
- বাংলায় ক্রিয়াহীন বাক্যও হয়, তাদের অনুক্ত ক্রিয়া বলে। 
যেমন- জাহানারা আমার খালাতো বোন। 
- নিত্য বর্তমান কালে কখনো অতীত কালেও 'আছা' 'থাকা' ইত্যাদি অস্তিবাচক ক্রিয়া উহ্য থাকে।
- অন্যান্য কালে তা মূর্ত থাকে। যেমন - জাহানারা আমার খালাতো বোন ছিল।  

উৎস: প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, বাংলা একাডেমি।
১,৮১৪.
আত্মবাচক সর্বনাম পদ কোনটি?
  1. কেউ
  2. স্বয়ং
  3. যাহারা
  4. আমি
সঠিক উত্তর:
স্বয়ং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বয়ং
ব্যাখ্যা
• আত্মবাচক সর্বনাম পদ- স্বয়ং, নিজে, খোদ, আপনি।

অন্যদিকে,
"কেউ" - অনির্দিষ্টতাজ্ঞাপক সর্বনাম পদ।
"যাহারা" - সংযোগজ্ঞাপক সর্বনাম পদ।
"আমি" - ব্যক্তিবাচক বা পুরুষবাচক সর্বনাম পদ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম - দশম শ্রেণী) (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)।
১,৮১৫.
'তুমি যদি যেতে, তবে ভালােই হতাে।' - এটি কোন কালের উদাহরণ?
  1. পুরাঘটিত অতীত
  2. নিত্যবৃত্ত অতীত
  3. নিত্যবৃত্ত বর্তমান
  4. পুরাঘটিত বর্তমান
সঠিক উত্তর:
নিত্যবৃত্ত অতীত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিত্যবৃত্ত অতীত
ব্যাখ্যা
নিত্যবৃত্ত অতীত:
- অতীত কালে যে ক্রিয়া সাধারণ অভ্যস্ততা অর্থে ব্যবহৃত হয়, তাকে নিত্যবৃত্ত অতীত কাল বলে।

যেমন:
- আমরা তখন রােজ সকালে নদী তীরে ভ্রমণ করতাম।

নিত্যবৃত্ত অতীতের বিশিষ্ট ব্যবহার:
১. কামনা প্রকাশে: আজ যদি সুমন আসত, কেমন মজা হতাে।
২. অসম্ভব কল্পনায়: ‘সাতাশ হতাে যদি একশ সাতাশ।
৩. সম্ভাবনা প্রকাশে: তুমি যদি যেতে, তবে ভালােই হতাে। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,৮১৬.
বাক্যের মধ্যে কিসের ভূমিকা বদলে গেলে একই বক্তব্যের প্রকাশভংগি আলাদা হয়ে যায়?
  1. ক) ক্রিয়া
  2. খ) অনুসর্গ
  3. গ) আবেগ 
  4. ঘ) যোজক
সঠিক উত্তর:
ক) ক্রিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
বাক্যের প্রকাশভঙ্গিকে বাচ্য বলে।
বাক্যের মধ্যে ক্রিয়ার ভূমিকা বদলে গিয়ে একই বক্তব্যের প্রকাশভঙ্গি আলাদা হয়ে যায়।

• ক্রিয়া কখনো কর্তাকে অনুসরণ করে, ক্রিয়া কখনো কর্মকে অনুসরণ করে, আবার ক্রিয়াই কখনো বাক্যের মধ্যে মুখ্য হয়ে ওঠে।
যেমন –
- সে বাজারে যায় ।
- সাহসী ছেলেটিকে পুরস্কৃত করা হয়েছে।
- কোথায় যাওয়া হচ্ছে?

উপরের,
- প্রথম বাক্যে যায়' ক্রিয়াটি ‘সে' কর্তার অনুসারী।
- দ্বিতীয় বাক্যে ‘করা হয়েছে’ ক্রিয়াটি ‘সাহসী ছেলেটিকে’ কর্মের অনুসারী।
- তৃতীয় বাক্যে ‘যাওয়া হচ্ছে' ক্রিয়াই মুখ্য।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (নবম -দশম শ্রেণি)
১,৮১৭.
"তিনি বিদ্বান, অথচ সৎ ব্যক্তি নন।" বাক্যে 'অথচ' কোন ধরনের অব্যয়?
  1. সংকোচক অব্যয়
  2. অনুগামী সমুচ্চয়ী অব্যয়
  3. বিয়োজক অব্যয়
  4. সংযোজক অব্যয়
  5. কোনোটিই
সঠিক উত্তর:
সংকোচক অব্যয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সংকোচক অব্যয়
ব্যাখ্যা

• সংকোচক অব্যয়:
- যে অব্যয় দুটি বাক্যের মধ্যে ভাবের সংকোচ সাধন করে, তাকে সংকোচক অব্যয় বলে।
যেমন- তিনি বিদ্বান, অথচ সৎ ব্যক্তি নন। এখানে 'অথচ' অব্যয়টি দুটি বাক্যের মধ্যে ভাবের সংকোচ সাধন করেছে। 
- কিন্তু, বরং শব্দগুলোও সংকোচক অব্যয়। 

বিয়োজক অব্যয়:
- বা, অথবা, নতুবা, নয়তো।
যেমন: হাসেম কিংবা কাসেম এর জন্য দায়ী।
 
সংযোজক অব্যয়:
- ও, আর, তাই, অধিকন্তু, সুতরাং। 
যেমন: তিনি সৎ, তাই সকলেই তাঁকে শ্রদ্ধা করে। 
 
অনুগামী সমুচ্চয়ী অব্যয়:
- যে, যদি, যদিও, যেন। 
যেমন: এভাবে চেষ্টা করবে যেন কৃতকার্য হতে পার।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০১৯ সংস্করণ)

১,৮১৮.
'দেখে যেন মনে হয় চিনি উহারে' পঙক্তির 'যেন' কোন পদ?
  1. ক) ভাব বিশেষণ
  2. খ) পদান্বয়ী অব্যয়
  3. গ) সংযোজক অব্যয়
  4. ঘ) অনন্বয়ী অব্যয়
সঠিক উত্তর:
গ) সংযোজক অব্যয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সংযোজক অব্যয়
ব্যাখ্যা

যে পদ সর্বদা অপরিবর্তনীয় থেকে কখনো কখনো বাক্যের শোভা বর্ধন করে,কখনো একাধিক পদের, বাক্যাংশের বা বাক্যের সংযোগ বা বিয়োগ সম্বন্ধ ঘটায় তাকে অব্যয় পদ বলে।যে যদি ,যদিও , যেন প্রভৃতি কয়েকটি শব্দ সংযোজক অব্যয়ের কাজ করে থাকে।
যেমন:
- দেখে যেন মনে হয় চিনি উহারে।
- এভাবে চেষ্টা করবে যেন কৃতকার্য হতে পার।
- আজ যদি পারি, একবার সেখানে যাব।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।

১,৮১৯.
'ওকে দিয়ে ক্রিকেট হবে না' বাক্যে 'দিয়ে' কোন অব্যয়?
  1. পদান্বয়ী অব্যয়
  2. অনুকার অব্যয়
  3. সমুচ্চয়ী অব্যয়
  4. অনন্বয়ী অব্যয়
সঠিক উত্তর:
পদান্বয়ী অব্যয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পদান্বয়ী অব্যয়
ব্যাখ্যা
• অনুসর্গ/পদান্বয়ী' অব্যয়:
- যে সকল অব্যয় শব্দ বিশেষ্য ও সর্বনাম পদের বিভক্তির ন্যায় বসে কারকবাচকতা প্রকাশ করে, এদের অনুসর্গ অব্যয় বলে।
যেমন: ওকে দিয়ে এ কাজ হবে না।
অনুসর্গ অব্যয়কে 'পদান্বয়ী' অব্যয় ও বলে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
১,৮২০.
’ওখানে যাস না’ কোন অর্থে অনুজ্ঞার ব্যবহার হয়েছে?
  1. আদেশ
  2. উপদেশ
  3. অনুরোধ
  4. নির্দেশ
সঠিক উত্তর:
উপদেশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপদেশ
ব্যাখ্যা

• 'ওখানে যাস না।' - এই বাক্যে 'উপদেশ' অর্থে বর্তমান অনুজ্ঞার ব্যবহার হয়েছে।

অনুজ্ঞা বা আদেশসূচক বাক্য:
- যে বাক্য আদেশ, অনুরোধ, উপদেশ, নিষেধ ইত্যাদি অর্থ প্রকাশ পায়, তাকে অনুজ্ঞা বাক্য বলে।

কিছু অনুজ্ঞার উদাহরণ:
'আদেশ' অর্থে - তোমরা এখন যাও, হাতমুখ ধুয়ে পড়তে বসো।
'অনুরােধ' অর্থে - অঙ্কটা বুজিয়ে দাও না।
'উপদেশ' অর্থে - পাতিস নে শিলাতলে পদ্মপাতা।
'প্রার্থনা' অর্থে- আমার দরখাস্তটা পড়ুন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী (২০১৯ সংস্করণ)।

১,৮২১.
বাংলা ভাষায় কোন অনুসর্গটি পঞ্চমী বিভক্তিরূপে কাজ করে?
  1. দিয়ে
  2. কর্তৃক
  3. হইতে
  4. মধ্যে
সঠিক উত্তর:
হইতে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হইতে
ব্যাখ্যা

• অনুসর্গ:
বাংলা ভাষায় যে অব্যয় শব্দগুলো কখনো স্বাধীন পদরূপে, আবার কখনো শব্দ বিভক্তির ন্যায় বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে বাক্যের অর্থ প্রকাশে সাহায্য করে, সেগুলোকে অনুসর্গ বা কর্মপ্রবচনীয় বলে।

[অনুসর্গগুলো কখনো প্রতিপাদিকের পরে ব্যবহৃত হয়, আবার কখনো বা ‘কে’ এবং ‘র’ বিভক্তিযুক্ত শব্দের পরে বসে।]

• বাংলা ভাষায় বহু অনুসর্গ আছে: প্রতি, বিনা, বিহনে, সহ, ওপর, অবধি, হেতু, মধ্যে, মাঝে, পরে, ভিন্ন, বই, ব্যতীত, জন্যে, পর্যন্ত, মতো, নামে, পানে, অধিক, পক্ষে, দ্বারা, দিয়া, ভিতর, পাছে, চেয়ে ইত্যাদি।

[এদের মধ্যে দ্বারা, দিয়া, দিয়ে, কর্তৃক (তৃতীয়া বিভক্তি), হইতে, হতে, চেয়ে (পঞ্চমী বিভক্তি), অপেক্ষা, মধ্যে প্রভৃতি কয়েকটি অনুসর্গ বিভক্তিরূপে ব্যবহৃত হয়।]

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১,৮২২.
“তুমি আমার চেয়ে ভালো।” বাক্যে "চেয়ে" কোন বিভক্তির অনুসর্গ?
  1. সপ্তমী
  2. চতুর্থী
  3. পঞ্চমী
  4. ষষ্ঠী
সঠিক উত্তর:
পঞ্চমী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পঞ্চমী
ব্যাখ্যা
কয়েকটি অনুসর্গের উদাহরণ:
- অপেক্ষা, অবধি, অভিমুখে, আগে, উপরে, করে, কর্তৃক, কাছে, কারণে, ছাড়া, জন্য, তরে, থেকে, দরুন, দিকে, দিয়ে, দ্বারা, ধরে, নাগাদ, নিচে, পর্যন্ত, পানে, পাশে, পিছনে, প্রতি, বদলে, বনাম, বরাবর, বাইরে, বাদে, বাবদ, বিনা, ব্যতীত, ভিতরে, মতাে, মধ্যে, মাঝে, লেগে, সঙ্গে,
সম্মুখে, সাথে, সামনে, হতে ইত্যাদি।
-------------------
• “তুমি আমার চেয়ে ভালো।” - 
- এ বাক্যে "চেয়ে" শব্দটি তুলনার অর্থ প্রকাশ করছে।
- বাংলা ব্যাকরণ অনুযায়ী, পঞ্চমী বিভক্তির অন্তর্ভুক্ত = হতে , থেকে, চেয়ে।

সুতরাং,
"চেয়ে" পঞ্চমী বিভক্তির অনুসর্গ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,৮২৩.
ঘটমান বর্তমান কালের ক্রিয়ার বিশিষ্ট প্রয়োগ ঘটেছে নিচের কোন বাক্যে?
  1. শিকারি পাখিটিকে এইমাত্র গুলি করল।
  2. যদি বৃষ্টি হতো, সবাই মিলে খিচুড়ি খেতাম।
  3. আগামী মাসে আমরা সিলেট যাচ্ছি।
  4. তোমরা হয়ত ছয় দফার কথা শুনে থাকবে।
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
আগামী মাসে আমরা সিলেট যাচ্ছি।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আগামী মাসে আমরা সিলেট যাচ্ছি।
ব্যাখ্যা
• ক্রিয়ার কালের বিশিষ্ট প্রয়োগ:
অনেক সময়ে ক্রিয়াবিভক্তি যে কালের হয়, ঘটনা সেই কালের হয় না। এগুলো ক্রিয়ার কালের বিশিষ্ট প্রয়োগ।

সাধারণ বর্তমান কালের ক্রিয়ার বিশিষ্ট প্রয়োগ:
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ১৮৯১ সালে মৃত্যুবরণ করেন। (ঘটনা অতীতের; কিন্তু ক্রিয়ার কাল বর্তমান)
- সবাই যেন সভায় হাজির থাকে। (ঘটনা ভবিষ্যতের; কিন্তু ক্রিয়ার কাল বর্তমান)

ঘটমান বর্তমান কালের ক্রিয়ার বিশিষ্ট প্রয়োগ:
আগামী মাসে আমরা সিলেট যাচ্ছি। (ঘটনা ভবিষ্যতের; কিন্তু ক্রিয়ার কাল বর্তমান।)

অন্যদিকে,
• সাধারণ অতীত কালের ক্রিয়ার বিশিষ্ট প্রয়োগ:
- শিকারি পাখিটিকে এইমাত্র গুলি করল। (ঘটনা পুরাঘটিত বর্তমানের; কিন্তু ক্রিয়ার কাল অতীত।)
- যদি বৃষ্টি হতো, সবাই মিলে খিচুড়ি খেতাম। (ঘটনা ভবিষ্যতের; কিন্তু ক্রিয়ার কাল অতীত।)

• সাধারণ ভবিষ্যৎ কালের ক্রিয়ার বিশিষ্ট প্রয়োগ:
তোমরা হয়ত ছয় দফার কথা শুনে থাকবে। (ঘটনা অতীতের; কিন্তু কাল ভবিষ্যৎ।)

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।
১,৮২৪.
বিশেষণ পদের উদাহরণ কোনটি?
  1. ধৈর্য 
  2. দীনতা
  3. আনন্দ
  4. চালাক
সঠিক উত্তর:
চালাক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চালাক
ব্যাখ্যা
• গুণবাচক বিশেষণ:
- যে বিশেষণ দিয়ে গুণ বা বৈশিষ্ট্য বোঝায়, তাকে গুণবাচক বিশেষণ বলে।
 যেমন-
- চালাক ছেলে,
- ঠান্ডা পানি
উপরের উদাহরণগুলোতে ‘চালাক’ ও ‘ঠান্ডা' হলো গুণবাচক বিশেষণ

অন্যদিকে,
• গুণ-বিশেষ্য:
গুণগত অবস্থা ও ধারণার নামকে গুণ-বিশেষ্য বলে। যেমন: সরলতা, দয়া, আনন্দ, গুরুত্ব, দীনতাধৈর্য ইত্যাদি।


------------------
• বিশেষণ:
যে শব্দ দিয়ে সাধারণত বিশেষ্য ও সর্বনামের গুণ, দোষ, সংখ্যা, পরিমাণ, অবস্থা ইত্যাদি বোঝায় তাকে বিশেষণ বলে।

শব্দটি কীভাবে গঠিত, কোন শ্রেণির শব্দকে বিশেষিত করে এবং বাক্যের মধ্যে বিশেষণের অবস্থান কোথায় এসব বিবেচনায় বিশেষণকে নানা নামে উপস্থাপন করা যেতে পারে। যেমন:
- বর্ণবাচক বিশেষণ,
- গুণবাচক বিশেষণ,
- অবস্থানবাচক বিশেষণ,
- ক্রমবাচক বিশেষণ,
- পূরণবাচক বিশেষণ,
- পরিমাণবাচক বিশেষণ,
- উপাদানবাচক বিশেষণ,
- প্রশ্নবাচক বিশেষণ,
- নির্দিষ্টতাবাচক বিশেষণ,
- ভাববাচক বিশেষণ,
- বিধেয় বিশেষণ ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
১,৮২৫.
অনুবাদের ক্ষেত্রে পরিবর্তন করা যাবে না?
  1. ক) ক্রিয়ার কাল
  2. খ) ভাষার অলংকার
  3. গ) বাক্যের দৈর্ঘ্য
  4. ঘ) পদক্রম
সঠিক উত্তর:
ক) ক্রিয়ার কাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ক্রিয়ার কাল
ব্যাখ্যা
অনুবাদ প্রাঞ্জল করার জন্য ভাবানুবাদ জরুরি৷ এ উদ্দেশ্যে ভাষার অলংকারের পরিবর্তন, বাক্যের দৈর্ঘ্যের সংকোচন প্রসারণ এবং পদক্রমের পরিবর্তন করা যায়৷ কিন্তু ক্রিয়ার কাল পরিবর্তন করলে অনুবাদ সঠিক হয় না৷
যেমনঃ I went to the market.
এটা অতীত কালে আছে, কিন্তু অনুবাদে বর্তমান বা ভবিষ্যতকালের ব্যবহার দূষণীয়।
উপরিউক্ত বাক্যের ভুল অনুবাদ- আমি বাজারে যাবো/যাই৷
১,৮২৬.
অসমাপিকা ক্রিয়া কয় ধরনের?
  1. দুই
  2. তিন
  3. চার
  4. পাঁচ
সঠিক উত্তর:
তিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তিন
ব্যাখ্যা
অসমাপিকা ক্রিয়া:
- যে ক্রিয়া ভাব সম্পূর্ণ করতে পারে না, তাকে অসমাপিকা ক্রিয়া বলে।

যেমন:
- প্রভাতে সূর্য উঠলে অন্ধকার দূর হয়।
- আমরা বিকেলে খেলতে যাই।

অসমাপিকা ক্রিয়া তিন ধরনের।
যথা:
১. ভূত অসমাপিকা,
২. ভাবী অসমাপিকা এবং
৩. শর্ত অসমাপিকা।
যথা:
- ভূত অসমাপিকা: সে গান করে আনন্দ পায়।
- ভাবী অসমাপিকা: সে গান শিখতে রাজশাহী যায়।
- শর্ত অসমাপিকা: গান করলে তার মন ভালো হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯, ২০২২ সংস্করণ)।
১,৮২৭.
কোন শব্দটি বিশেষ্য পদ?
  1. চালাক
  2. চাতুর্য
  3. চঞ্চল
  4. চতুর
সঠিক উত্তর:
চাতুর্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চাতুর্য
ব্যাখ্যা

• বিশেষ্য পদ - চাতুর্য
- এটি একটি সংস্কৃত শব্দ।

​শব্দের অর্থ:
​- চতুরতা।

​অন্যদিকে,
বিশেষণ পদ - চতুর, চঞ্চল এবং চালাক।

​​উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১,৮২৮.
অনুসর্গকে কত ভাগে ভাগ করা যায়?
  1. দুই
  2. তিন
  3. চার
  4. পাঁচ
সঠিক উত্তর:
দুই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুই
ব্যাখ্যা

• অনুসর্গকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়।

অনুসর্গ:
- যেসব শব্দ কোনো শব্দের পরে বসে শব্দটিকে বাক্যের সঙ্গে সম্পর্কিত করে, সেসব শব্দকে অনুসর্গ বলে।
- অনুসর্গ দুই প্রকার।

যেমন: 
১। সাধারণ অনুসর্গ। 
২। ক্রিয়াজাত অনুসর্গ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ ২০২১)

১,৮২৯.
ভবিষ্যৎ কালের অনুজ্ঞা বলতে বোঝায়, ভবিষ্যৎ কালের -
  1. আদেশ
  2. আমন্ত্রণ
  3. আশীর্বাদ
  4. সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
ব্যাখ্যা
অনুজ্ঞা ভবিষ্যৎ:
যে ক্রিয়া দিয়ে ভবিষ্যৎ কালের বক্তার আদেশ, অনুমতি, অনুরোধ, প্রার্থনা, আমন্ত্রণ, আশীর্বাদ, অভিশাপ, উপদেশ, উপেক্ষা ইত্যাদি প্রকাশ করা হয়, তাকে অনুজ্ঞা ভবিষ্যৎ কাল বলে।
যেমন -
- বড় হও, বুঝতে পারবে।
- সব সময় সত্যি বলবে।
- খোকা সময়মতো খেয়ো।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১,৮৩০.
কোন বাক্যে নাম পুরুষের ব্যবহার করা হয়েছে?
  1. ওরা কি করে?
  2. আপনি আসবেন
  3. আমরা যাচ্ছি
  4. তোরা খাসনে
সঠিক উত্তর:
ওরা কি করে?
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ওরা কি করে?
ব্যাখ্যা
• ওরা কি করে?- বাক্যে ‘ওরা’ নামপুরুষের উদাহরণ।

পুরুষ তিন প্রকার। যেমন:
১. উত্তম পুরুষ,
২. মধ্যম পুরুষ,
৩. নাম পুরুষ।

• উত্তম পুরুষ: ক্রিয়ার কর্তা নিজেকে বুঝাতে যে সর্বনাম ব্যবহার করে, তাকে উত্তম পুরুষ বলে। যেমন: আমি, আমরা ইত্যাদি।
• মধ্যম পুরুষ: বক্তা যার সাথে কথা বলে তাকে বুঝাতে যে সর্বনাম ব্যবহার করে, তাকে মধ্যম পুরুষ বলে। যেমন: তুমি, তােমরা, আপনি, তোরা ইত্যাদি।
• নাম পুরুষ: বক্তা যার সম্পর্কে কিছু বলে তাকে বুঝাতে যে সর্বনাম ব্যবহার করে, তাকে নাম পুরুষ বলে। যেমন: সে, তারা, ওরা, করিম, এটা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,৮৩১.
রূপবাচক বিশেষণ কোনটি?
  1. সবুজ মাঠ
  2. মেটে কলসি
  3. ঠাণ্ডা হাওয়া
  4. সিকি পথ
সঠিক উত্তর:
সবুজ মাঠ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবুজ মাঠ
ব্যাখ্যা
• রূপবাচক নাম বিশেষণ - সবুজ মাঠ।

নাম বিশেষণের প্রকারভেদ:

ক. রূপবাচক: নীল আকাশ, সবুজ মাঠ, কালো মেঘ।
খ. গুণবাচক: চৌকস লোক, দক্ষ কারিগর, ঠাণ্ডা হাওয়া
গ. অবস্থাবাচক: তাজা মাছ, রোগা ছেলে, খোঁড়া পা।
ঘ. সংখ্যাবাচক: হাজার লোক, দশ দশা, শ টাকা।
ঙ. ক্রমবাচক: দশম শ্রেণি, সত্তর পৃষ্ঠা, প্রথমা কন্যা।
চ. পরিমাণবাচক: বিঘাটেক জমি, পাঁচ শতাংশ ভূমি, হাজার টনী জাহাজ, এক কেজি চাল, দু কিলোমিটার রাস্তা।
ছ. অংশবাচক: অর্ধেক সম্পত্তি, ষোল আনা দখল, সিকি পথ
জ. উপাদানবাচক: বেলে মাটি, মেটে কলসি, পাথুরে মূর্তি।
ঝ. প্রশ্নবাচক: কতদূর পথ? কেমন অবস্থা?
ঞ. নির্দিষ্টতাজ্ঞাপক: এই লোক, সেই ছেলে, ছাব্বিশে মার্চ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি ( ২০১৯ সংস্করণ)।
১,৮৩২.
‘দেখা’ কী পদ?
  1. বিশেষ্য
  2. বিশেষণ
  3. ক্রিয়া
  4. ক্রিয়া বিশেষণ
সঠিক উত্তর:
বিশেষ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশেষ্য
ব্যাখ্যা

- ‘দেখা’ একটি কৃদন্ত পদ। দেখ্ + আ = দেখা।
- এটি বিশেষ্য পদ। ক্রিয়া থেকে এসেছে বলে এটাকে ক্রিয়া বিশেষ্যও বলা হয়।
ক্রিয়া বিশেষ্যের আরও উদাহরণ :
- দেখা
- শোনা
- বলা
- চলা
- লেখা
- ভোজন
- দর্শন

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াত মামুদ ও বাংলা একাডেমি অভিধান।

১,৮৩৩.
কোনটি জাতি বিশেষ্যের উদাহরণ?
  1. আনন্দ
  2. সাগর
  3. বঙ্গোপসাগর
  4. হাবিব
সঠিক উত্তর:
সাগর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাগর
ব্যাখ্যা
জাতি-বিশেষ্য:
- জাতি-বিশেষ্য সাধারণ-বিশেষ্য নামেও পরিচিত। এ ধরনের বিশেষ্য নির্দিষ্ট কোনো নামকে না বুঝিয়ে প্রাণী ও অপ্রাণীর সাধারণ নামকে বোঝায়।

যেমন:
- মানুষ, গরু, ছাগল, ফুল, ফল, নদী, সাগর, পর্বত ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
নাম-বিশেষ্য - বঙ্গোপসাগর, হাবিব।
গুণ-বিশেষ্য - আনন্দ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ) এবং বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
১,৮৩৪.
কোন শব্দটি বিশেষ্য পদ নয়?
  1. ন্যায়
  2. লাজ
  3. মধুর
  4. সন্ধ্যা
সঠিক উত্তর:
মধুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মধুর
ব্যাখ্যা

• বিশেষ্য পদ নয় - মধুর
- এটি বিশেষণ পদ।
- 'মধুর' এর বিশেষ্য পদ - মাধুর্য।
- এটি একটি সংস্কৃত শব্দ।

শব্দের অর্থ:
- অত্যন্ত মিষ্ট।
- প্রীতিকর।

অন্যদিকে,
বিশেষ্য পদ - ন্যায়, লাজ, সন্ধ্যা।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১,৮৩৫.
নিচের কোনটি সকলবাচক সর্বনাম পদের দৃষ্টান্ত?
  1. স্বয়ং
  2. তাবৎ
  3. অমুক
  4. তাহারা
সঠিক উত্তর:
তাবৎ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তাবৎ
ব্যাখ্যা
⇒ সকলবাচক/সাকুল্যবাচক সর্বনাম: ব্যক্তি, বস্তু বা ভাবের সমষ্টি বোঝাতে সকলবাচক সর্বনাম ব্যবহৃত হয়। যেমন- সব, সকল, সমুদয়, তাবৎ, সমস্ত ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
⇒ ব্যক্তিবাচক বা পুরুষবাচক সর্বনাম: ব্যক্তিবাচক সর্বনাম ব্যক্তি নামের পরিবর্তে বসে। যেমন-  আমি, আমরা, তুমি, তোমরা, সে, তারা, তাহারা, তিনি, তাঁরা, এ, এরা, ও, ওরা।

⇒ আত্মবাচক সর্বনাম: কর্তা নিজেই কোনো কাজ করেছে, এ ভাবটি জোরদিয়ে বোঝানোর জন্য এ ধরণের সর্বনাম ব্যবহার করা হয়। যেমন- স্বয়ং, নিজ, খোদ, আপনি।

⇒ অন্যবাচক সর্বনাম: নিজ ভিন্ন অন্য কোনো অনির্দিষ্ট ব্যক্তি বোঝাতে অন্যবাচক সর্বনাম ব্যবহৃত হয়। যেমন: অন্য, অপর, পর, অমুক ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
১,৮৩৬.
নিচের কোন বাক্যের ঘটনা ভবিষ্যতের, কিন্তু ক্রিয়ার কাল অতীত?
  1. শিকারি পাখিটিকে এইমাত্র গুলি করল।
  2. তোমরা হয়ত ছয় দফার কথা শুনে থাকবে।
  3. যদি বৃষ্টি হতো, সবাই মিলে খিচুড়ি খেতাম।
  4. আমি গত বছর পরীক্ষা দিয়েছিলমা।
সঠিক উত্তর:
যদি বৃষ্টি হতো, সবাই মিলে খিচুড়ি খেতাম।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যদি বৃষ্টি হতো, সবাই মিলে খিচুড়ি খেতাম।
ব্যাখ্যা
- আগামী মাসে আমরা সিলেট যাচ্ছি। (ঘটনা ভবিষ্যতের; কিন্তু ক্রিয়ার কাল বর্তমান।)

• ক্রিয়ার কালের বিশিষ্ট প্রয়োগ:

অনেক সময়ে ক্রিয়াবিভক্তি যে কালের হয়, ঘটনা সেই কালের হয় না। এগুলো ক্রিয়ার কালের বিশিষ্ট প্রয়োগ।নিচের বাক্য দুটির দিকে তাকানো যাক:
- আমি গত বছর পরীক্ষা দিয়েছিলাম
- আমি গত বছর পরীক্ষা দিয়েছি

[প্রথম বাক্যে ক্রিয়ার কাল অতীত এবং ক্রিয়া ঘটার সময় অতীতের। কিন্তু দ্বিতীয় বাক্যে ক্রিয়ার কাল বর্তমান কালের এবং ক্রিয়া ঘটার সময় অতীতের। দ্বিতীয় বাক্যটি কালের বিশিষ্ট প্রয়োগের নমুনা।]

• সাধারণ বর্তমান কালের ক্রিয়ার বিশিষ্ট প্রয়োগ:
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ১৮৯১ সালে মৃত্যুবরণ করেন। (ঘটনা অতীতের; কিন্তু ক্রিয়ার কাল বর্তমান।)
- সবাই যেন সভায় হাজির থাকে। (ঘটনা ভবিষ্যতের; কিন্তু ক্রিয়ার কাল বর্তমান।)

• ঘটমান বর্তমান কালের ক্রিয়ার বিশিষ্ট প্রয়োগ:
- আগামী মাসে আমরা সিলেট যাচ্ছি। (ঘটনা ভবিষ্যতের; কিন্তু ক্রিয়ার কাল বর্তমান।)

• সাধারণ অতীত কালের ক্রিয়ার বিশিষ্ট প্রয়োগ:
- শিকারি পাখিটিকে এইমাত্র গুলি করল (ঘটনা পুরাঘটিত বর্তমানের; কিন্তু ক্রিয়ার কাল অতীত।)
- 'যদি বৃষ্টি হতো, সবাই মিলে খিচুড়ি খেতাম। (ঘটনা ভবিষ্যতের; কিন্তু ক্রিয়ার কাল অতীত।

• সাধারণ ভবিষ্যৎ কালের ক্রিয়ার বিশিষ্ট প্রয়োগ:
- তোমরা হয়ত ছয় দফার কথা শুনে থাকবে (ঘটনা অতীতের; কিন্তু কাল ভবিষ্যৎ।)

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১,৮৩৭.
না' শব্দটি?
  1. বিশেষ্য
  2. বিশেষণ
  3. সর্বনাম
  4. অব্যয়
সঠিক উত্তর:
অব্যয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অব্যয়
ব্যাখ্যা
না (অব্যয় পদ),
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ:
- ক্রিয়ার অঘটন বা নিষেধ (এখন যেয়ো না)।
- অভাব (না আছে বিদ্যা না আছে বুদ্ধি)। 
- অনুরোধ বা অনুজ্ঞা (আমায় করতে দাও না)। আধিক্য (কত না ধন এ জগতে)।
- প্রশ্ন বা সন্দেহ (খাবে না?)।
- বিকল্প (কোনো না কোনো)।
- বিনা (না বুঝে কারে তুমি ভাসালে আঁখিজলে। রবীন্দ্র.)

অন্যদিকে,
• না অব্যয় পদ হিসেবে নঞর্থক বাংলা উপসর্গবিশেষ অর্থ প্রকাশ করে।

আবার, 
• না বিশেষ্য পদ হিসেবে অঞ্চলিক ভাষায় নৌকা বোঝাতে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- না নিয়ে গেল বোয়াল-মাছে।

তবে ‘না’ শব্দের বহুল ব্যবহার হয় অব্যয় পদ হিসেবেই। তাই অধিক গ্রহণযোগ্য উত্তর হিসেবে অপশন ‘ঘ’ গ্রহণ করা হয়েছে।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১,৮৩৮.
অভিজ্ঞ উনিই ব্যাপারটা বুঝবেন।- বাক্যে ‘অভিজ্ঞ’ কোন পদ?
  1. অনুসর্গ
  2. বিশেষণ
  3. সর্বনাম
  4. বিশেষ্য
সঠিক উত্তর:
বিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশেষণ
ব্যাখ্যা
• বিশেষণ পদ:
বিশেষণ হলো সেই শব্দশ্রেণি যা অন্য শব্দের অর্থকে বিশাদ বা সীমিত করে শব্দটিকে বিশেষিত করে। বিশেষণ যখন কোনো কিছুর গুণ বা বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করে তখন বিশেষ্য শব্দের অর্থ বিশাদ হয়। বিশেষণ যখন কোনো কিছুর পরিমাণ, সংখ্যা, সম্বন্ধ ইত্যাদি প্রকাশ করে তখন শব্দের অর্থ সীমিত হয়ে যায়।
যেমন:
- দুষ্টু ছেলেটি দৌড়ে পালালো।
- অভিজ্ঞ উনিই ব্যাপারটা বুঝবেন।
- গাড়িটা বেশ জোরে চলছে।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।
১,৮৩৯.
প্রশ্ন জিজ্ঞাসায় কোন ভাব হয়?
  1. অনুজ্ঞা ভাব
  2. সাপেক্ষ ভাব
  3. আকাঙ্খা ভাব
  4. নির্দেশক ভাব
সঠিক উত্তর:
নির্দেশক ভাব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নির্দেশক ভাব
ব্যাখ্যা
• ক্রিয়ার যে অবস্থার দ্বারা তা ঘটার ধরন বা রীতি প্রকাশ পায়, তাকে ক্রিয়ার ভাব বা প্রকার বলে।

- ক্রিয়ার ভাব বা ধরন চার প্রকার।
১. নির্দেশক ভাব,
২. অনুজ্ঞা ভাব,
৩. সাপেক্ষ ভাব,
৪. আকাঙক্ষা প্রকাশক ভাব।

• নির্দেশক ভাব: সাধারণ ঘটনা নির্দেশ করলে বা কিছু জিজ্ঞাসা করলে ক্রিয়াপদের নির্দেশক ভাব হয়।
ক. সাধারণ নির্দেশক: আমরা বই পড়ি। তারা বাড়ি যাবে।
খ. প্রশ্ন জিজ্ঞাসায়: আপনি কি আসবেন? সে কি গিয়েছিল?

• অনুজ্ঞা ভাব: আদেশ, নিষেধ, উপদেশ, অনুরোধ, আশীর্বাদ ইত্যাদি সূচিত হলে ক্রিয়াপদের অনুজ্ঞা ভাব
হয়।
যেমন-
ক. আদেশাত্মক-
• বর্তমান কালে: চুপ কর।
• ভবিষ্যৎ কালে: তুমি কাল যেও।

খ. নিষেধাত্মক-
• বর্তমান কালে: অন্যায় কাজ করো না।
• ভবিষ্যৎ কালে: মিথ্যা বলবে না।

গ. অনুরোধসূচক-
• বর্তমান কালে: ছাতাটা দিন তো ভাই।
• ভবিষ্যৎ কালে: আপনারা আসবেন।

ঘ. উপদেশাত্মক-
• বর্তমানে কালে: মন দিয়ে পড় ।
• ভবিষ্যৎ কালে: স্বাস্থ্যের প্রতি দৃষ্টি রেখো।

• সাপেক্ষ ভাব: একটি ক্রিয়ার সংঘটন অন্য একটি ক্রিয়ার ওপর নির্ভর করলে, নির্ভরশীল ক্রিয়াকে সাপেক্ষ ভাবের ক্রিয়া বলা হয়। যেমন-
ক. সম্ভাবনায়: তিনি ফিরে এলে সবকিছুর মীমাংসা হবে। যদি সে পড়ত তবে পাশ করত।
খ. উদ্দেশ্য বোঝাতে: ভালো করে পড়লে সফল হবে।
গ. ইচ্ছা বা কামনায়: আজ বাবা বেঁচে থাকলে আমার এত কষ্ট হতো না।
তার মঙ্গল হোক।

• আকাঙক্ষা প্রকাশক ভাব: আকাঙ্ক্ষা প্রকাশক ভাব যে ক্রিয়াপদে বক্তা সোজাসুজি কোনো ইচ্ছা বা আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করে, তাকে আকাঙ্ক্ষা প্রকাশক ভাবের ক্রিয়া বলা হয়।
যেমন:
- সে যাক।
- যা হয় হোক।
- সে একটু হাসুক।
- বৃষ্টি আসে আসুক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,৮৪০.
অনুসর্গের ক্ষেত্রে কোনটি সঠিক?
  1. অনুসর্গ শব্দের পরে বসে।
  2. অনুসর্গ কারকের ধারণা দেয়।
  3. অনুসর্গের স্বতন্ত্র ব্যবহার আছে।
  4. সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
ব্যাখ্যা
• অনুসর্গ:
বাংলা ভাষায় এক ধরনের সহায়ক শব্দ বাক্যে অন্য কনো পদের পরে বসে পদটিকে বাক্যের সবগে সম্পর্কিত করে কিংবা বিভক্তির মতো কাজ করে। এগুলো অনুসর্গ নামে পরিচিত।

• অনুসর্গের বৈশিষ্ট্য:
- অনুসর্গ শব্দের পরে বসে।
- অনুসর্গ কারকের ধারণা দেয়।
- অনুসর্গের স্বতন্ত্র ব্যবহার আছে।
- অনুসর্গ শব্দের সঙ্গে জুড়ে বসে না। পৃথক শব্দ হিসেবে থাকে।
- অনুসর্গ সাধারণভাবে অব্যয় হলেও বিশেষ্য, বিশেষণ বা ক্রিয়া থেকেও সৃষ্টি হতে পারে।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি - ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন, মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৮৪১.
কোনটি গুণবাচক বিশেষণ?
  1. পাথুরে মূর্তি
  2. ঠাণ্ডা হাওয়া
  3. তাজা মাছ
  4. নীল আকাশ
সঠিক উত্তর:
ঠাণ্ডা হাওয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঠাণ্ডা হাওয়া
ব্যাখ্যা

বিশেষণের প্রকারভেদ:
রূপবাচক: নীল আকাশ, সবুজ মাঠ, কালো মেঘ।
গুণবাচক: চৌকস লোক, দক্ষ কারিগর, ঠাণ্ডা হাওয়া।
অবস্থাবাচক: তাজা মাছ, রোগা ছেলে, খোঁড়া পা।
সংখ্যাবাচক: হাজার লোক, দশ দশা, শ টাকা।
ক্রমবাচক: দশম শ্রেণি, সত্তর পৃষ্ঠা, প্রথমা কন্যা।
পরিমাণবাচক: বিঘাটেক জমি, পাঁচ শতাংশ ভূমি, হাজার টনী জাহাজ, এক কেজি চাল, দু কিলোমিটার রাস্তা।
অংশবাচক: অর্ধেক সম্পত্তি, ষোল আনা দখল, সিকি পথ।
উপাদানবাচক: বেলে মাটি, মেটে কলসি, পাথুরে মূর্তি।
প্রশ্নবাচক: কতদূর পথ? কেমন অবস্থা?
নির্দিষ্টতাজ্ঞাপক: এই লোক, সেই ছেলে, ছাব্বিশে মার্চ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১,৮৪২.
কোনটি সাধারণ অনুসর্গের উদাহরণ?
  1. দিয়ে
  2. কাছে
  3. করে
  4. ক ও গ উভয়ই
সঠিক উত্তর:
কাছে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাছে
ব্যাখ্যা
সাধারণ অনুসর্গ:
- যেসব অনুসর্গ ক্রিয়া ছাড়া অন্য শব্দ থেকে তৈরি হয়, সেগুলোকে সাধারণ অনুসর্গ বলে।

যেমন:
- উপরে: মাথার উপরে নীল আকাশ।
- কাছে : কার কাছে গেলে জানা যাবে?

অন্যদিকে,
ক্রিয়াজাত অনুসর্গ:
- যেসব অনুসর্গ ক্রিয়াপদ থেকে তৈরি হয়েছে, সেগুলোকে ক্রিয়াজাত অনুসর্গ বলে।

যেমন:
- করে: ভালো করে খেয়ে নাও।
- দিয়ে: মন দিয়ে পড়ালেখা করা দরকার।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ)।
১,৮৪৩.
নিচের কোনটি উত্তম পুরুষ?
  1. আমরা
  2. তোমরা
  3. তিনি
  4. সে
সঠিক উত্তর:
আমরা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আমরা
ব্যাখ্যা
• 'আমরা'- উত্তম পুরুষের উদাহরণ। 

• উত্তম পুরুষ:
স্বয়ং বক্তাই উত্তম পুরুষ। আমি, আমরা, আমাদের ইত্যাদি সর্বনাম শব্দ উত্তম পুরুষ।

• মধ্যম পুরুষ:
প্রত্যক্ষভাবে উদ্দিষ্ট ব্যক্তি বা শ্রোতাই মধ্যম পুরুষ। তুমি, তোমরা, তোমাদের, আপনি, আপনারা, আপনাদের ইত্যাদি সর্বনাম শব্দ মধ্যম পুরুষ।
যেমন: তুমি, আপনি, তুই, তোমরা। 
 
• প্রথম পুরুষ বা নাম পুরুষ:
- যে সর্বনামের দ্বারা বক্তা বা শ্রোতা ছাড়া অন্য ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গকে বোঝায়, তাকে প্রথম পুরুষ বা নাম পুরুষ বলে। 
- আমি ও তুমি এবং এদের দলভুক্ত অন্যান্য সর্বনাম ছাড়া যাবতীয় সর্বনাম পদ  প্রথম পুরুষ বা নাম পুরুষ।
- যেমন: সে, তাহারা, তাকে, তাঁর, তিনি ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ - নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), প্রমিত বাংলা, প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎমামুদ। 
১,৮৪৪.
কোন শব্দটি বিশেষ্য পদ নয়?
  1. স্বতন্ত্র
  2. বুদ্ধিমত্তা
  3. বিস্ময়
  4. সৌহার্দ
সঠিক উত্তর:
স্বতন্ত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বতন্ত্র
ব্যাখ্যা

• বিশেষ্য পদ নয় - স্বতন্ত্র
- বিশেষণ পদ - স্বতন্ত্র।
- 'স্বতন্ত্র' শব্দের বিশেষ্য পদ - স্বাতন্ত্র্য।

শব্দের অর্থ:
- স্বাধীন,
- ভিন্ন, পৃথক।

অন্যদিকে,
বিশেষ্য পদ - বিস্ময়, বুদ্ধিমত্তা, সৌহার্দ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১,৮৪৫.
“তাড়াতাড়ি কাজ কোরো” বাক্যটি কোন কাল নির্দেশ করে?
  1. ক) নিত্য বর্তমান
  2. খ) নিত্য ভবিষ্যৎ
  3. গ) অনুজ্ঞা বর্তমান
  4. ঘ) অনুজ্ঞা ভবিষ্যৎ
সঠিক উত্তর:
ঘ) অনুজ্ঞা ভবিষ্যৎ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) অনুজ্ঞা ভবিষ্যৎ
ব্যাখ্যা

ক্রিয়ার কাল ৩ প্রকার।
- বর্তমান কাল,
- অতীত কাল,
- ভবিষ্যৎ কাল।

বর্তমান কাল ৪ প্রকার -
- সাধারন বর্তমান
- ঘটমান বর্তমান
- পুরাঘটিত বর্তমান
- অনুজ্ঞা বর্তমান

অতীত কাল ৪ প্রকার -
- সাধারন অতীত
- ঘটমান অতীত
- পুরাঘটিত অতীত
- নিত্য অতীত

ভবিষ্যৎ কাল ৪ প্রকার -
- সাধারন ভবিষ্যৎ
- ঘটমান ভবিষ্যৎ
- পুরাঘটিত ভবিষ্যৎ
- অনুজ্ঞা ভবিষ্যৎ

“তাড়াতাড়ি কাজ কোরো” বাক্যটি অনুজ্ঞা ভবিষ্যৎকাল নির্দেশ করে

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিত নবম-দশম শ্রেণি।

১,৮৪৬.
'১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়।' - বাক্যটি কোন কালের উদাহরণ?
  1. সাধারণ বা নিত্যবৃত্ত বর্তমান
  2. সাধারণ অতীত
  3. অনুজ্ঞা বর্তমান
  4. নিত্যবৃত্ত অতীত
সঠিক উত্তর:
সাধারণ বা নিত্যবৃত্ত বর্তমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাধারণ বা নিত্যবৃত্ত বর্তমান
ব্যাখ্যা
সাধারণ বর্তমান কাল:
যে ক্রিয়া বর্তমানে সাধারণভাবে ঘটে, তার কালকে সাধারণ বর্তমান কাল বলে।
যেমন -
- সে ভাত খায়।
- আমি বাড়ি যাই।

নিত্যবৃত্ত বর্তমান কাল:
স্বাভাবিক বা অভ্যস্ততা বোঝালে সাধারণ বর্তমান কালের ক্রিয়াকে নিত্যবৃত্ত বর্তমান কাল বলে।
যথা -
- সন্ধ্যায় সূর্য অস্ত যায়। (স্বাভাবিকতা)
- আমি রোজ সকালে বেড়াতে যাই। (অভ্যস্ততা)

নিত্যবৃত্ত বর্তমান কালের বিশিষ্ট প্রয়োগ:
ঐতিহাসিক বর্তমান:
অতীতের কোনো ঐতিহাসিক ঘটনায় যদি নিত্যবৃত্ত বর্তমান কালের প্রয়োগ হয়, তাহলে তাকে ঐতিহাসিক বর্তমান কাল বলে।
যেমন -
- বাবরের মৃত্যুর পর হুমায়ুন দিল্লির সিংহাসনে আরোহণ করেন
- ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ); ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১,৮৪৭.
কোনটি বিশেষণ পদ?
  1. অভিমুখিতা
  2. গাঁথুনি
  3. প্রস্তুত
  4. খোঁয়ারি
সঠিক উত্তর:
প্রস্তুত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রস্তুত
ব্যাখ্যা

• বিশেষণ পদ:
যে পদ বিশেষ্য, সর্বনাম ও ক্রিয়াপদের দোষ, গুণ, অবস্থা, সংখ্যা, পরিমাণ, ইত্যাদি প্রকাশ করে, তাকে বিশেষণ পদ বলে।
যেমন- দুঃসাহসী, চিরন্তন, প্রস্তুত।

-------------------
• বিশেষ্য পদ:
কোনো কিছুর নামকে বিশেষ্য পদ বলে। বাক্যমধ্যে ব্যবহৃত যে সমস্ত পদ দ্বারা কোনো ব্যক্তি, জাতি, সমষ্টি, বস্তু, স্থান, কাল, ভাব, কর্ম বা গুণের নাম বোঝানো হয় তাদের বিশেষ্য পদ বলে।
যেমন- খোঁয়ারি, গতিবিদ্যা, গতকল্য, অভিমুখিতা, গাঁথুনি, মানুষ, রাজ্য, দেশ, মঙ্গলগ্রহ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম দশম শ্রেণি (২০১৯- সংস্করণ) এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১,৮৪৮.
নিচের কোনটি বস্তু বিশেষ্যের উদাহরণ?
  1. পর্বত
  2. ফুল
  3. কাগজ
  4. ফল
সঠিক উত্তর:
কাগজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাগজ
ব্যাখ্যা
• বিশেষ্য পদ:
যেসব শব্দ দিয়ে ব্যক্তি, প্রাণী, স্থান, বস্তু, ধারণা ও গুণের নাম বোঝায়, সেগুলোকে বিশেষ্য বলে। যেমন নজরুল, বাঘ, ঢাকা, ইট, ভোজন, সততা ইত্যাদি।

বিশেষ্য সাধারণত ছয় প্রকার:
১. নাম-বিশেষ্য,
২. জাতি-বিশেষ্য,
৩. বস্তু-বিশেষ্য,
৪. সমষ্টি-বিশেষ্য,
৫. গুণ-বিশেষ্য এবং
৬. ক্রিয়া-বিশেষ্য।
 
• নাম-বিশেষ্য: ব্যক্তি, স্থান, দেশ, কাল, সৃষ্টি প্রভৃতির সুনির্দিষ্ট নামকে নাম-বিশেষ্য বলা হয়।
যেমন:
ব্যক্তিনাম: হাবিব, সজল, লতা, শম্পা।
স্থাননাম: ঢাকা, বাংলাদেশ, হিমালয়, পদ্মা।
কালনাম: সোমবার, বৈশাখ, জানুয়ারি, রমজান।
সৃষ্টিনাম: গীতাঞ্জলি, সঞ্চিতা, ইত্তেফাক, অপরাজেয় বাংলা।
 
• জাতি-বিশেষ্য: জাতি-বিশেষ্য সাধারণ-বিশেষ্য নামেও পরিচিত। এ ধরনের বিশেষ্য নির্দিষ্ট কোনো নামকে না বুঝিয়ে প্রাণী ও অপ্রাণীর সাধারণ নামকে বোঝায়। যেমন: মানুষ, গরু, ছাগল, ফুল, ফল, নদী, সাগর, পর্বত ইত্যাদি।
 
• বস্তু-বিশেষ্য: কোনো দ্রব্য বা বস্তুর নামকে বস্তু-বিশেষ্য বলে। যেমন: ইট, লবণ, আকাশ, টেবিল, বই, কাগজ ইত্যাদি।
 
• সমষ্টি-বিশেষ্য: এ ধরনের বিশেষ্য দিয়ে ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টিকে বোঝায়। যেমন: জনতা, পরিবার, ঝাঁক, বাহিনী, মিছিল ইত্যাদি।
 
• গুণ-বিশেষ্য: গুণগত অবস্থা ও ধারণার নামকে গুণ-বিশেষ্য বলে। যেমন: সরলতা, দয়া, আনন্দ, গুরুত্ব, দীনতা, ধৈর্য ইত্যাদি।
 
• ক্রিয়া-বিশেষ্য: যে বিশেষ্য দিয়ে কোনো ক্রিয়া বা কাজের নাম বোঝায়, তাকে ক্রিয়া-বিশেষ্য বলে। যেমন: পঠন, ভোজন, শয়ন, করা, করানো, পাঠানো, নেওয়া ইত্যাদি।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১,৮৪৯.
নিচের কোনটি অকর্মক ক্রিয়া?
  1. আমি চোখে দেখি না।
  2. সে বই পড়ছে।
  3. আমি রাতে ভাত খাব না।
  4. আকাশে চাঁদ দেখি না।
সঠিক উত্তর:
আমি চোখে দেখি না।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আমি চোখে দেখি না।
ব্যাখ্যা
সকর্মক ক্রিয়া:
- যে ক্রিয়ার কর্মপদ আছে তাই সকর্মক ক্রিয়া। ক্রিয়ার সাথে কী বা কাকে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, তাই ক্রিয়ার কর্মপদ। কর্মপদযুক্ত ক্রিয়াই সর্কমক ক্রিয়া।

অকর্মক ক্রিয়া:
- যে ক্রিয়ার কর্ম নেই, তা অকর্মক ক্রিয়া। যেমনঃ ছেলেটি হাসে। কী ‘হাসে’ বা ‘কাকে হাসে’ প্রশ্ন করলে কোনো উত্তর হয় না।
- কাজেই ‘হাসে’ ক্রিয়াটি অকর্মক ক্রিয়া।
- প্রয়োগ বৈশিষ্ট্যে সকর্মক ক্রিয়াও অকর্মক হতে পারে।

যেমন:
অকর্মক: সে পড়ছে।
সকর্মক: সে বই পড়ছে।

অকর্মক: আমি রাতে খাব না।
সকর্মক: আমি রাতে ভাত খাব না।

অকর্মক: আমি চোখে দেখি না।
সকর্মক: আকাশে চাঁদ দেখি না।

অকর্মক: ছেলেটা কানে শোনে না।
সকর্মক: ছেলেটা কথা শোনে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,৮৫০.
নিচের কোনটি উত্তম পুরুষের উদাহরণ?
  1. তুমি
  2. আমি
  3. আপনি
  4. তাহাকে
সঠিক উত্তর:
আমি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আমি
ব্যাখ্যা
• 'আমি'- উত্তম পুরুষের উদাহরণ। 
---------------------
উত্তম পুরুষ:
স্বয়ং বক্তাই উত্তম পুরুষ। আমি, আমরা, আমাদের ইত্যাদি সর্বনাম শব্দ উত্তম পুরুষ।
যেমন: আমি।

মধ্যম পুরুষ:
প্রত্যক্ষভাবে উদ্দিষ্ট ব্যক্তি বা শ্রোতাই মধ্যম পুরুষ। তুমি, তোমরা, তোমাদের, আপনি, আপনারা, আপনাদের ইত্যাদি সর্বনাম শব্দ মধ্যম পুরুষ।
যেমন: তুমি, আপনি, তুই। 

প্রথম পুরুষ বা নাম পুরুষ:
- যে সর্বনামের দ্বারা বক্তা বা শ্রোতা ছাড়া অন্য ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গকে বোঝায়, তাকে প্রথম পুরুষ বা নাম পুরুষ বলে। 
- আমি ও তুমি এবং এদের দলভুক্ত অন্যান্য সর্বনাম ছাড়া যাবতীয় সর্বনাম পদ  প্রথম পুরুষ বা নাম পুরুষ।
- যেমন: সে, তাকে, তাঁর, তিনি ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ - নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), ভাষাশিক্ষা- ড. হায়াৎমামুদ।
১,৮৫১.
'ঠান্ডা হাওয়া' - এখানে 'ঠান্ডা' কোন বিশেষণের উদাহরণ?
  1. অবস্থাবাচক
  2. উপাদানবাচক
  3. গুণবাচক
  4. ভাববাচক
সঠিক উত্তর:
গুণবাচক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গুণবাচক
ব্যাখ্যা
বিশেষণ:
- যে শব্দ দিয়ে সাধারণত বিশেষ্য ও সর্বনামের গুণ, দোষ, সংখ্যা, পরিমাণ, অবস্থা ইত্যাদি বোঝায়, তাকে বিশেষণ বলে।
যেমন - সুন্দর ফুল, বাজে কথা, পঞ্চাশ টাকা, হাজার সমস্যা, তাজা মাছ।

গুণবাচক বিশেষণ:
- যে বিশেষণ দিয়ে গুণ বা বৈশিষ্ট্য বোঝায়, তাকে গুণবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন - চালাক ছেলে, ঠান্ডা হাওয়া - এখানে 'চালাক' ও 'ঠান্ডা' হলো গুণবাচক বিশেষণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১,৮৫২.
‘আমি ঐ কাজ করেছিলাম।’- বাক্যটি ক্রিয়ার কোন কাল নির্দেশ করে?
  1. সাধারণ অতীত কাল
  2. ঘটমান অতীত কাল
  3. পুরাঘটিত অতীত কাল
  4. নিত্যবৃত্ত অতীত কাল
সঠিক উত্তর:
পুরাঘটিত অতীত কাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পুরাঘটিত অতীত কাল
ব্যাখ্যা
• অতীত কাল:
যে ক্রিয়া পুর্বে ঘটে গেছে, তাকে অতীত কাল বলে। অতীত কালের চারটি রূপ। যথা:

১. সাধারণ অতীত কাল: যে ক্রিয়া সাধারণভাবে অতীত অর্থাৎ বর্তমান কালের পূর্বে সংঘটিত হয়েছে তার সংঘটন কালই সাধারণ অতীত।
যেমন:
- বিড়াল ইঁদুরটিকে ধরল।
- পুলিশ সন্ত্রাসী ছেলেটিকে মেরে ফেলল।

২. ঘটমান অতীত কাল: অতীতে কোনো কাজ চলছিল এবং তখনও কাজটি শেষ হয়নি; এরূপ অর্থে ঘটমান অতীত ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- কাল সন্ধ্যায় আমরা টেলিভিশনে খেলা দেখছিলাম।

৩. পুরাঘটিত অতীত কাল: যে ক্রিয়া অতীতে ঘটেছে এবং এর প্রভাবও শেষ হয়ে গেছে। তার কালকে পুরাঘটিত অতীত কাল বলে।
যেমন:
- দায়িত্বটি আমি পালন করেছিলাম।
- প্রিন্সিপাল স্যার আমাদের বাড়ি গিয়েছিলেন।
- আমি ঐ কাজ করেছিলাম।
[বাক্যে কাজ গুলো অতীতে হয়ে গিয়েছে এবং এর রেশ এবং প্রভাবও শেষ হয়ে গিয়েছে]

৪. নিত্যবৃত্ত অতীত কাল: অতীতকালে যে ক্রিয়া সাধারণভাবে এবং সচরাচর ঘটতো তার কাল নিত্যবৃত্ত অতীত কাল।
যেমন:
- প্রতিদিন সকালে আমরা শহিদ মিনারে আড্ডা দিতাম।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।
১,৮৫৩.
কোনটি বিশেষণ পদ?
  1. চালাক
  2. চালাকি
  3. চাতুরী
  4. চাতুর্য
সঠিক উত্তর:
চালাক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চালাক
ব্যাখ্যা
• বিশেষণ পদ - চালাক
- এটি একটি ফরাসি শব্দ।

শব্দের অর্থ:
- বুদ্ধিমান,
- চতুর।

অন্যদিকে, 
- চাতুরী, চাতুর্য, চালাকি - শব্দগুলো বিশেষ্য পদ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১,৮৫৪.
নিচের কোনটি শব্দ বিভক্তির মতো কাজ করে?
  1. ধাতু 
  2. উপসর্গ
  3. অনুসর্গ
  4. প্রত্যয়
সঠিক উত্তর:
অনুসর্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুসর্গ
ব্যাখ্যা

• অনুসর্গ:
- বাংলা ভাষায় যে অব্যয়গুলো কখনো স্বাধীন পদ হিসেবে এবং কখনো বাক্যে শব্দ বিভক্তির মতো ব্যবহার হয়ে অর্থ প্রকাশে সাহায্য করে, সেগুলোকে অনুসর্গ বলা হয়।
- অনুসর্গের অপর নাম- বা কর্মপ্রবচনীয়।
- অনুসর্গকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়:
• সাধারণ অনুসর্গ ও
• ক্রিয়াজাত অনুসর্গ।
- এই অনুসর্গগুলো কখনো প্রাতিপদিকের পরে আসে;
- আবার কখনো ‘কে’ বা ‘র’ বিভক্তিযুক্ত শব্দের পরে বসে।
- যেমন:
- “দুঃখ বিনা সুখ লাভ হয় কি মহীতে?” (প্রাতিপদিকের পরে)।
- "সে পরীক্ষার জন্য পড়ছে" (ষষ্ঠী বিভক্তিযুক্ত শব্দের পরে)।
- “তোমাকে দিয়ে এ কাজ সম্ভব” (দ্বিতীয়ার ‘কে’ বিভক্তিযুক্ত শব্দের পরে)।
- বাংলা ভাষায় বহু অনুসর্গ রয়েছে, যেমন:
- প্রতি, বিনা, বিহনে, সহ, ওপর, অবধি, হেতু, মধ্যে, মাঝে, পরে, ভিন্ন, বই, ব্যতীত, জন্য, পর্যন্ত, অপেক্ষা, সহকারে, তরে, পানে, নামে, মতো, নিকট, অধিক, পক্ষে, দ্বারা, দিয়া/দিয়ে, কর্তৃক, সঙ্গে, হইতে/হতে, থেকে, চেয়ে, পাছে, ভিতর ইত্যাদি।
- এদের মধ্যে দ্বারা, দিয়া/দিয়ে, কর্তৃক, হইতে/হতে, চেয়ে, অপেক্ষা, মধ্যে প্রভৃতি অনুসর্গ সাধারণত বিভক্তিরূপে ব্যবহৃত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১,৮৫৫.
'সুন্দর মাত্রেরই একটা আকর্ষণ শক্তি আছে।'- এই বাক্যে সুন্দর শব্দটি কোন পদ?
  1. বিশেষ্য
  2. বিশেষণ
  3. সর্বনাম
  4. বিশেষণের বিশেষণ
সঠিক উত্তর:
বিশেষ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশেষ্য
ব্যাখ্যা
• ‘সুন্দর মাত্রেরই একটি আকর্ষণ শক্তি আছে’ - এই বাক্যে ‘সুন্দর’ শব্দটি হলো 'বিশেষ্য' পদ।
- এখানে 'সুন্দর' হলো গুণবাচক বিশেষ্য।

• গুণবাচক বিশেষ্য:
যে বিশেষ্য দ্বারা কোনো বস্তুর দোষ বা গুণের নাম বোঝায়, তা-ই গুণবাচক বিশেষ্য।
যথা:
• মধুর মিষ্টত্বের গুণ - মধুরতা
• তরল দ্রব্যের গুণ - তারল্য
• তিক্ত দ্রব্যের দোষ বা গুণ - তিক্ততা
• তরুণের গুণ - তারুণ্য ইত্যাদি।

তদ্রুপ- সৌরভ, স্বাস্থ্য, যৌবন, সুখ, দুঃখ।

• সন্দর বিশেষ্য পদ যোগে গঠিত কিছু বাক্য হলো:
- সুন্দর (বিশেষ্য) মানুষকে নিজের দিকে টানে।
- সুন্দর (বিশেষ্য) মাত্রেরই একটা আকর্ষণ শক্তি আছে।
- সুন্দরের (বিশেষ্য) একটি নিজস্ব আকর্ষণ শক্তি আছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৮৫৬.
নিচের কোনটি সমষ্টি বিশেষ্যের উদাহরণ?
  1. নদী
  2. জনতা
  3. মানুষ
  4. হিমালয়
সঠিক উত্তর:
জনতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জনতা
ব্যাখ্যা

বিশেষ্য পদ:
- কোন কিছুর নামকে বিশেষ্যপদ বলে।
- বাক্যমধ্যে ব্যবহৃত যে সমস্ত পদ দ্বারা কোনো ব্যক্তি, জাতি, সমষ্টি, বস্তু, স্থান, কাল, ভাব, কর্ম বা গুণের নাম বোঝানো হয় তাদের বিশেষ্য পদ বলে।

• বিশেষ্য পদ ছয় প্রকার:
১. নাম-বিশেষ্য: যে পদ দ্বারা কোনো ব্যক্তি, ভৌগোলিক স্থান বা সংজ্ঞা এবং গ্রন্থ বিশেষের নাম বিজ্ঞাপিত হয়,তাকে সংজ্ঞা (বা নাম) বাচক বিশেষ্য বলে।
যথা-
(ক) ব্যক্তির নাম: নজরুল, ওমর, আনিস, মাইকেল।
(খ) ভৌগোলিক স্থানের: ঢাকা, দিল্লি, লন্ডন, মক্কা।
(গ) ভৌগোলিক সংজ্ঞা: (নদী, পর্বত, সমুদ্র ইত্যাদি) মেঘনা, হিমালয়, আরব সাগর।
(ঘ) গ্রন্থের নাম: 'গীতাঞ্জলি', 'অগ্নিবীণা', 'দেশে বিদেশে', 'বিশ্বনবি'।

২. জাতি-বিশেষ্য: জাতি-বিশেষ্য সাধারণ-বিশেষ্য নামেও পরিচিত। এ ধরনের বিশেষ্য নির্দিষ্ট কোনো নামকে না বুঝিয়ে প্রাণী ও অপ্রাণীর সাধারণ নামকে বোঝায়। যেমন- মানুষ, গরু, ছাগল, ফুল, ফল, নদী, সাগর, পর্বত ইত্যাদি।

৩. বস্তু-বিশেষ্য: কোনো দ্রব্য বা বস্তুর নামকে বস্তু-বিশেষ্য বলে। যেমন- ইট, লবণ, আকাশ, টেবিল, বই ইত্যাদি।

৪. সমষ্টি-বিশেষ্য: এ ধরনের বিশেষ্য দিয়ে ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টিকে বোঝায়। যেমন- জনতা, পরিবার, ঝাঁক, বাহিনী, মিছিল ইত্যাদি।

৫. গুণ-বিশেষ্য: গুণগত অবস্থা ও ধারণার নামকে গুণ-বিশেষ্য বলে। যেমন- সরলতা, দয়া, আনন্দ, গুরুত্ব, দীনতা, ধৈর্য ইত্যাদি।

৬. ক্রিয়া-বিশেষ্য: যে বিশেষ্য দিয়ে কোনো ক্রিয়া বা কাজের নাম বোঝায়, তাকে ক্রিয়া-বিশেষ্য বলে। যেমন- পঠন, ভোজন, শয়ন, করা, করানো, পাঠানো, নেওয়া ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮- সংস্করণ)।

১,৮৫৭.
‘ছাব্বিশে মার্চ’ কোন ধরনের বিশেষণ?
  1. নির্দিষ্টতাজ্ঞাপক
  2. ভাববাচক
  3. উপাদানবাচক
  4. অবস্থাবাচক
সঠিক উত্তর:
নির্দিষ্টতাজ্ঞাপক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নির্দিষ্টতাজ্ঞাপক
ব্যাখ্যা
• ছাব্বিশে মার্চ - নির্দিষ্টতাজ্ঞাপক বিশেষণ।

নাম বিশেষণের প্রকারভেদ:

ক. রূপবাচক: নীল আকাশ, সবুজ মাঠ, কালো মেঘ।
খ. গুণবাচক: চৌকস লোক, দক্ষ কারিগর, ঠাণ্ডা হাওয়া।
গ. অবস্থাবাচক: তাজা মাছ, রোগা ছেলে, খোঁড়া পা।
ঘ. সংখ্যাবাচক: হাজার লোক, দশ দশা, শ টাকা।
ঙ. ক্রমবাচক: দশম শ্রেণি, সত্তর পৃষ্ঠা, প্রথমা কন্যা।
চ. পরিমাণবাচক: বিঘাটেক জমি, পাঁচ শতাংশ ভূমি, হাজার টনী জাহাজ, এক কেজি চাল, দু কিলোমিটার রাস্তা।
ছ. অংশবাচক: অর্ধেক সম্পত্তি, ষোল আনা দখল, সিকি পথ।
জ. উপাদানবাচক: বেলে মাটি, মেটে কলসি, পাথুরে মূর্তি।
ঝ. প্রশ্নবাচক: কতদূর পথ? কেমন অবস্থা?
ঞ. নির্দিষ্টতাজ্ঞাপক: এই লোক, সেই ছেলে, ছাব্বিশে মার্চ

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি ( ২০১৯ সংস্করণ)।
১,৮৫৮.
'খুব ভালো খবর।'  বাক্যে 'খুব' কোন ধরনের বিশেষণ?
  1. নির্দিষ্টতাবাচক
  2. পরিমাণবাচক
  3. অবস্থাবাচক
  4. ভাববাচক
সঠিক উত্তর:
ভাববাচক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভাববাচক
ব্যাখ্যা

• ভাববাচক বিশেষণ:
- যেসব বিশেষণ বাক্যের অন্তর্গত অন্য বিশেষণকে বিশেষিত করে, সেসব বিশেষণকে ভাববাচক বিশেষণ বলে।
- যেমন: 'খুব ভালো খবর' ও 'গাড়িটা বেশ জোরে চলছে' এসব বাক্যে 'খুব' এবং 'বেশ' ভাববাচক বিশেষণ।

অন্যদিকে,
• নির্দিষ্টতাবাচক:
যে বিশেষণ দিয়ে বিশেষিত শব্দকে নির্দিষ্ট করা হয়, তাকে নির্দিষ্টতাবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন- এই দিনে, সেই সময় এখানে 'এই' ও 'সেই' নির্দিষ্টতাবাচক বিশেষণ।

• পরিমাণবাচক:
যে বিশেষণ দিয়ে পরিমাণ বা আয়তন বোঝায়, তাকে পরিমাণবাচক বিশেষণ বলে। যেমন আধা কেজি চাল, অনেক লোক এখানে 'আধা কেজি' ও 'অনেক' পরিমাণবাচক বিশেষণ।

• অবস্থাবাচক:
যে বিশেষণ দিয়ে অবস্থা বোঝায়, তাকে অবস্থাবাচক বিশেষণ বলে। যেমন চলন্ত ট্রেন, তরল পদার্থ এখানে 'চলন্ত' ও 'তরল' অবস্থাবাচক বিশেষণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০২৫ সংস্করণ)। 

১,৮৫৯.
কোনটি গুণবাচক বিশেষণের উদাহরণ?
  1. ঠান্ডা পানি
  2. নীল আকাশ
  3. তরল পদার্থ
  4. চলন্ত ট্রেন
সঠিক উত্তর:
ঠান্ডা পানি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঠান্ডা পানি
ব্যাখ্যা
গুণবাচক বিশেষণ:
যে বিশেষণ দিয়ে গুণ বা বৈশিষ্ট্য বোঝায়, তাকে গুণবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন: চালাক ছেলে, ঠান্ডা পানি।- এখানে 'চালাক' ও 'ঠান্ডা' হলো গুণবাচক বিশেষণ

অন্যদিকে, 
• বর্ণবাচক বিশেষণ:
যে বিশেষণ দিয়ে রং নির্দেশ করা হয়, তাকে বর্ণবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন: নীল আকাশ, সবুজ মাঠ, লাল ফিতা।- এখানে 'নীল', 'সবুজ' বা 'লাল' হলো বর্ণবাচক বিশেষণ।

• অবস্থাবাচক বিশেষণ:
যে বিশেষণ দিয়ে অবস্থা বোঝায়, তাকে অবস্থাবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন: চলন্ত ট্রেন, তরল পদার্থ।- এখানে 'চলন্ত' ও 'তরল' অবস্থাবাচক বিশেষণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।
১,৮৬০.
সূর্য পূর্ব দিকে ওঠে। - এটি কোন বর্তমান কালের উদাহরণ?
  1. অনুজ্ঞা বর্তমান
  2. পুরাঘটিত বর্তমান
  3. ঘটমান বর্তমান
  4. সাধারণ বর্তমান
সঠিক উত্তর:
সাধারণ বর্তমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাধারণ বর্তমান
ব্যাখ্যা
সাধারণ বর্তমান:
- যে ক্রিয়া বর্তমান কালে নিয়মিতভাবে ঘটে, তাকে সাধারণ বর্তমান কাল বলে।
যেমন:
- আমি স্কুলে যাই।
- সূর্য পূর্ব দিকে ওঠে।

অন্যদিকে,
অনুজ্ঞা বর্তমান:
- যে ক্রিয়া দিয়ে বর্তমান কালে বক্তার আদেশ, অনুমতি, অনুরোধ, প্রার্থনা, আমন্ত্রণ, আশীর্বাদ, অভিশাপ, উপদেশ, উপেক্ষা ইত্যাদি প্রকাশ করা হয়, তাকে অনুজ্ঞা বর্তমান কাল বলে।
যেমন:
- তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়।
- সকলের মঙ্গল হোক।

পুরাঘটিত বর্তমান:
এইমাত্র সম্পন্ন ক্রিয়ার কালকে পুরাঘটিত বর্তমান কাল বলে।
যেমন -
- আমি অঙ্কটি করেছি।
- তারা বাড়িতে ফিরেছে।

ঘটমান বর্তমান:
- যে ক্রিয়া বর্তমানে চলছে বোঝায়, তাকে ঘটমান বর্তমান কাল বলে।
যেমন:
- আমি স্কুলে যাচ্ছি।
- আমাদের পরীক্ষা চলছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১,৮৬১.
"বাঙালিরা ভাত খায়।" - কোন কালের উদাহরণ?
  1. সাধারণ বর্তমান
  2. ঘটমান বর্তমান
  3. পুরাঘটিত বর্তমান
  4. অনুজ্ঞা বর্তমান
সঠিক উত্তর:
সাধারণ বর্তমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাধারণ বর্তমান
ব্যাখ্যা
• সাধারণ বর্তমান কাল:
- যে ক্রিয়া বর্তমানে সাধারণভাবে ঘটে, তার কালকে সাধারণ বর্তমান কাল বলে।
যেমন:
- বাঙালিরা ভাত খায়।
- আমি বাড়ি যাই।
- টিটু নাচে।

সাধারণ বর্তমান কালের বিশিষ্ট প্রয়োগ:
(১) অনুমতি প্রার্থনায় (ভবিষ্যৎ কালের অর্থে): এখন তবে আসি।
(২) প্রাচীন লেখকের উদ্ধৃতি দিতে (অতীত কালের অর্থে): চণ্ডীদাস বলেন, 'সবার উপরে মানুষ সত্য, তাহার উপরে নাই।'
(৩) বর্ণিত বিষয় প্রত্যক্ষীভূত করতে (অতীতের স্থলে): আমি দেখেছি, বাচ্চাটি রোজ রাতে কাঁদে।
( ৪) 'নেই', 'নাই' বা 'নি' শব্দযোগে অতীত কালের ক্রিয়ায়: তিনি গতকাল হাটে যাননি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,৮৬২.
ক্রিয়ার দ্বিরুক্তি যোগে গঠিত বিশেষণের দৃষ্টান্ত কোনটি?
  1. কাঁদো কাঁদো
  2. ভনভনে
  3. খুকখুক
  4. ঠকঠক
সঠিক উত্তর:
কাঁদো কাঁদো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাঁদো কাঁদো
ব্যাখ্যা
• ক্রিয়াজাত বিশেষণ:
এ ধরণের বিশেষণ ধাতুর বা ক্রিয়ামূলের সঙ্গে কৃৎ প্রত্যয় বা ধাতু প্রত্যয় যোগ করে গঠিত হয়। একে কৃদন্ত বিশেষণও বলা হয়।
যেমন:
- চলন্ত ট্রেন। 
- পঠিত গ্রন্থ। 

ক্রিয়াপদের দ্বিত্ব ঘটিয়েও বিশেষণ করা যায়।
যেমন: যায় যায় অবস্থা, খাই খাই স্বভাব, কাঁদো কাঁদো চেহারা। 

অন্যদিকে, 
ধ্বন্যাত্মক শব্দজাত বিশেষণ:
ধ্বন্যাত্মক শব্দ সরাসরি কিংবা অন্ত্যপ্রত্যয়যুক্ত হয়ে এ ধরনের বিশেষণ গঠন করে।
যেমন: খুকখুক কাশি, ভনভনে মাছি, ঠকঠক শব্দ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১,৮৬৩.
“আগে প্রতি বছর এখানে খেলা হত"। এ বাক্যে কোন ধরনের অতীত কালের প্রয়োগ লক্ষ্য করা যায়?
  1. ক) সাধারণ অতীত
  2. খ) ঘটনার অতীত
  3. গ) পুরাঘটিত অতীত
  4. ঘ) নিত্যবৃত্ত অতীত
সঠিক উত্তর:
ঘ) নিত্যবৃত্ত অতীত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) নিত্যবৃত্ত অতীত
ব্যাখ্যা
নিত্যবৃত্ত অতীত: অতীত কালে যে ক্রিয়া সাধারণ অভ্যস্ততা অর্থে ব্যবহৃত হয়, তাকে নিত্যবৃত্ত অতীত কাল বলে।
যেমন: আমরা তখন রােজ সকালে নদী তীরে ভ্রমন করতাম।

নিত্যবৃত্ত অতীতের বিশিষ্ট ব্যবহার।
১. কামনা প্রকাশে : আজ যদি সুমন আসত, কেমন মজা হতাে।
২. অসম্ভব কল্পনায় : ‘সাতাশ হতাে যদি একশ সাতাশ।
৩. সম্ভাবনা প্রকাশে : তুমি যদি যেতে, তবে ভালােই হতাে। 

প্রদত্ত বাক্য 'আগে প্রতি বছর এখানে খেলা হত'- বাক্যে অতীত কালের সাধারণ অভ্যস্ততা বুঝানো হচ্ছে, তাই এটিতে নিত্যবৃত্ত অতীতের প্রয়োগ ঘটেছে। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৮৬৪.
সর্বনামের বিভক্তিগ্রাহী রূপ নেই কোন কারকের?
  1. ক) কর্তৃ কারকের
  2. খ) কর্ম কারকের
  3. গ) সম্প্রদান কারকের
  4. ঘ) অপাদান কারকের
সঠিক উত্তর:
ক) কর্তৃ কারকের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) কর্তৃ কারকের
ব্যাখ্যা
বাংলা সর্বনামসমূহ কর্তৃকারক ভিন্ন অন্যান্য কারকে বিভক্তিযুক্ত হওয়ার পূর্বে একটি বিশেষ রূপ পরিগ্রহ করে। সর্বনামের এ রূপটিকে বিভক্তিগ্রাহী রূপ বলা হয়। কর্তকারকে সর্বনামের মূল রূপটিই ব্যবহৃত হয় এবং একে প্রথমা বিভক্তিযুক্ত একবচন ধরা হয়। সূত্র- বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী।
১,৮৬৫.
“কাজটি কি তুমি করেছিলে?” — বাক্যটি কোন কালের উদাহরণ?
  1. ঘটমান অতীত 
  2. পুরাঘটিত অতীত
  3. পুরাঘটিত বর্তমান
  4. নিত্য অতীত
সঠিক উত্তর:
পুরাঘটিত অতীত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পুরাঘটিত অতীত
ব্যাখ্যা

• পুরাঘটিত অতীত:
- অতীতের যে ক্রিয়া বহু পূর্বেই ঘটে গেছে এবং পরে আরো কিছু ঘটনা ঘটেছে, তার কালকে পুরাঘটিত অতীত কাল বলে। 
যেমন:
- কাজটি কি তুমি করেছিলে?
- বৃষ্টি শেষ হওয়ার আগেই আমরা বাড়ি পৌঁছেছিলাম।
- বিষয় টা তুমি আমাকে চিঠিতে জানিয়েছিলে।

• পুরাঘটিত বর্তমান:
- এইমাত্র সম্পন্ন ক্রিয়ার কালকে পুরাঘটিত বর্তমান কাল বলে।
যেমন
- আমি অঙ্কটি করেছি।
- তারা বাড়িতে ফিরেছে।

• ঘটমান অতীত:
- যে ক্রিয়া অতীত কালে চলছিল বোঝায়, তাকে ঘটমান অতীত কাল বলে।
যেমন
- আমরা তখন বই পড়ছিলাম।
- তারা মাঠে খেলছিল।

• নিত্য অতীত:
- অতীত কালে প্রায়ই ঘটতো এমন বোঝালে নিত্য অতীত কাল হয়।
যেমন
- খুব সকালে ঘুম থেকে উঠতাম।
- তারা সাগরের তীরেঝিনুক কুড়াত।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি (২০২৫ এবং ২০১৯ সালের সংস্করণ)।

১,৮৬৬.
অতীত কালে যে ক্রিয়া সাধারণ অভ্যস্ততা অর্থে ব্যবহৃত হয়, তাকে কী বলে?
  1. পুরাঘটিত অতীত কাল
  2. নিত্যবৃত্ত অতীত কাল
  3. সাধারণ অতীত কাল
  4. ঘটমান অতীত কাল
সঠিক উত্তর:
নিত্যবৃত্ত অতীত কাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিত্যবৃত্ত অতীত কাল
ব্যাখ্যা
নিত্যবৃত্ত অতীত কাল:
- অতীত কালে যে ক্রিয়া সাধারণ অভ্যস্ততা অর্থে ব্যবহৃত হয়, তাকে নিত্যবৃত্ত অতীত কাল বলে।
যেমন:
- আমরা তখন রোজ সকালে নদী তীরে ভ্রমণ করতাম।

নিত্যবৃত্ত অতীতের বিশিষ্ট ব্যবহার।
১. কামনা প্রকাশে: আজ যদি সুমন আসত, কেমন মজা হতাে।
২. অসম্ভব কল্পনায়: ‘সাতাশ হতাে যদি একশ সাতাশ।
৩. সম্ভাবনা প্রকাশে: তুমি যদি যেতে, তবে ভালােই হতাে।

অন্যদিকে,
সাধারণ অতীত কাল:
- বর্তমান কালের পূর্বে যে ক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়ে গিয়েছে, তার সংঘটন সাধারণ অতীত কাল।
যেমন:
- শিকারি পাখিটিকে গুলি করল।

ঘটমান অতীত কাল:
- অতীত কালে যে কাজ চলছিল এবং যে সময়ের কথা বলা হয়েছে, তখনও কাজটি সমাপ্ত হয়নি, ক্রিয়া সংঘটনের এরূপ ভাব বুঝালে ক্রিয়ার ঘটমান অতীত কাল হয়।
যেমন:
- কাল সান্ধায় বৃষ্টি পড়ছিল।
- আমরা তখন বই পড়ছিলাম।
- বাবা আমাদের পড়াশুনা দেখছিলেন।

পুরাঘটিত অতীত কাল:
- যে ক্রিয়া অতীতের বহু পূর্বেই সংগঠিত হয়ে গিয়েছে এবং যার পরে আরও কিছু ঘটনা ঘটে গেছে, তার কালকে পুরাঘটিত অতীত কাল বলা হয়।
যেমন:
- সেবার তাকে সুস্থই দেখেছিলাম।
- কাজটি কি তুমি করেছিলে?

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২) মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৮৬৭.
সম্মতি ও সমর্থন প্রকাশ পায় কোনটিতে?
  1. করুণা আবেগে
  2. সিদ্ধান্ত আবেগে
  3. অলঙ্কার আবেগে
  4. সম্বোধন আবেগে
সঠিক উত্তর:
সিদ্ধান্ত আবেগে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিদ্ধান্ত আবেগে
ব্যাখ্যা
• আবেগ:
মনের নানা ভাব প্রকাশ করা হয় যেসকল শব্দ দিয়ে সেগুলোকে আবেগ বলে।
- এই ধরনের শব্দ বাক্যের অন্য শব্দগুলোর সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত না হয়ে আলগাভাবে বা স্বাধীনভাবে ব্যবহৃত হয়।
যেমন - ছি ছি, আহা, বাহ্, শাবাশ, হায় হায় ইত্যাদি।

• সিদ্ধান্ত আবেগ:
এ জাতীয় শব্দের সাহায্যে অনুমোদন, সম্মতি, সমর্থন ইত্যাদি প্রকাশ করা হয়।
যেমন -
বেশ, তবে যাওয়াই যাক।
হ্যাঁ, আমাদের জিততেই হবে।

অন্যদিকে,
• করুণা আবেগ:
এ ধরনের শব্দ করুণা, মায়া, সহানুভূতি ইত্যাদি মনোভাব প্রকাশ করে।
যেমন -
আহা! বেচারার কত কষ্ট।
হায়! হায়! ওদের এখন কে দেখবে!

• সম্বোধন আবেগ:
এ ধরনের শব্দ সম্বোধন বা আহ্বান করার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
ওগো, তোরা জয়ধ্বনি কর।
হে বন্ধু, তোমাকে অভিনন্দন।

• অলংকার আবেগ:
এ ধরনের শব্দ বাক্যের অর্থের পরিবর্তন না ঘটিয়ে কোমলতা, মাধুর্য ইত্যাদি বৈশিষ্ট্য এবং সংশয়, অনুরোধ, মিনতি ইত্যাদি মনোভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন -
যাকগে, ওসব কথা থাক। 
দুর! এ কথা কি বলতে আছে?

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
১,৮৬৮.
'সেও এসেছে আর তোমারও যাওয়া হয়েছে।' - বাক্যটি কোন বর্তমান কালের দৃষ্টান্ত?
  1. সাধারণ বর্তমান
  2. ঘটমান বর্তমান
  3. পুরাঘটিত বর্তমান
  4. অনুজ্ঞা বর্তমান
সঠিক উত্তর:
পুরাঘটিত বর্তমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পুরাঘটিত বর্তমান
ব্যাখ্যা
পুরাঘটিত বর্তমান:
এইমাত্র সম্পন্ন ক্রিয়ার কালকে পুরাঘটিত বর্তমান কাল বলে।
যেমন -
- আমি অঙ্কটি করেছি
- তারা বাড়িতে ফিরেছে

পুরাঘটিত বর্তমান কালের বিশেষ প্রয়োগ:
- ভবিষ্যৎ সময় বোঝাতে: সেও এসেছে আর তোমারও যাওয়া হয়েছে

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ); ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১,৮৬৯.
পুরাঘটিত অতীত কালের উদাহরণ কোনটি?
  1. আমি সমিতিতে সেদিন পাঁচ টাকা নগদ দিয়েছিলাম।
  2. কাল সন্ধ্যায় বৃষ্টি পড়ছিল।
  3. বাবা আমাদের পড়াশুনা দেখছিলেন।
  4. আমরা তখন রোজ সকালে নদী তীরে ভ্রমণ করতাম।
সঠিক উত্তর:
আমি সমিতিতে সেদিন পাঁচ টাকা নগদ দিয়েছিলাম।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আমি সমিতিতে সেদিন পাঁচ টাকা নগদ দিয়েছিলাম।
ব্যাখ্যা

• পুরাঘটিত অতীত কাল:
যে ক্রিয়া অতীতের বহু পূর্বেই সংঘটিত হয়ে গিয়েছে এবং যার পরে আরও কিছু ঘটনা ঘটে গেছে, তার কালকে পুরাঘটিত অতীত কাল বলা হয়।
যেমন-
- সেবার তাকে সুস্থই দেখেছিলাম।
- কাজটি কি তুমি করেছিলে?

(ক) অতীতে সংঘটিত ঘটনার নিশ্চিত বর্ণনায়:
যেমন:
- পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধে এক লক্ষ সৈন্য মারা গিয়েছিল।
- আমি সমিতিতে সেদিন পাঁচ টাকা নগদ দিয়েছিলাম।

(খ) অতীতে সংঘটিত ক্রিয়ার পরম্পরা বোঝাতে শেষ ক্রিয়াপদে পুরাঘটিত অতীত কালের প্রয়োগ হয়।
যেমন-
- বৃষ্টি শেষ হওয়ার পূর্বেই আমরা বাড়ি পৌঁছেছিলাম।

অন্যদিকে, 
----------------
• ঘটমান অতীত কাল:
অতীত কালে যে কাজ চলছিল এবং যে সময়ের কথা বলা হয়েছে, তখনও কাজটি সমাপ্ত হয়নি-ক্রিয়া সংঘটনের এরূপ ভাব বোঝালে ক্রিয়ার ঘটমান অতীত কাল হয়।
যেমন-
- কাল সন্ধ্যায় বৃষ্টি পড়ছিল।
- বাবা আমাদের পড়াশুনা দেখছিলেন।

• নিত্যবৃত্ত অতীত:
- অতীত কালে যে ক্রিয়া সাধারণ অভ্যস্ততা অর্থে ব্যবহৃত হয়, তাকে নিত্যবৃত্ত অতীত কাল বলে।
যেমন-
- আমরা তখন রোজ সকালে নদী তীরে ভ্রমণ করতাম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১,৮৭০.
তুমি যদি যেতে, তবে ভালোই হতো। - বাক্যটি কোন প্রকার অতীত কাল নির্দেশ করে?
  1. সাধারণ অতীত
  2. ঘটমান অতীত
  3. পুরাঘটিত অতীত
  4. নিত্যবৃত্ত অতীত
সঠিক উত্তর:
নিত্যবৃত্ত অতীত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিত্যবৃত্ত অতীত
ব্যাখ্যা
• তুমি যদি যেতে, তবে ভালোই হতো। - বাক্যটি নিত্যবৃত্ত অতীত কাল নির্দেশ করে।

নিত্যবৃত্ত অতীত:
অতীত কালে যে ক্রিয়া সাধারণ অভ্যস্ততা অর্থে ব্যবহৃত হয়, তাকে নিত্যবৃত্ত অতীত কাল বলে।
যেমন -
- আমরা তখন রোজ সকালে নদী তীরে ভ্রমণ করতাম।

নিত্যবৃত্ত অতীতের বিশিষ্ট ব্যবহার:
(১) কামনা প্রকাশে: আজ যদি সুমন আসত, কেমন মজা হতো।
(২) অসম্ভব কল্পনায়: 'সাতাশ হতো যদি একশ সাতাশ'।
(৩) সম্ভাবনা প্রকাশে: তুমি যদি যেতে, তবে ভালোই হতো

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,৮৭১.
কোনটি সৃষ্টিনাম বিশেষ্যের উদাহরণ?
  1. পদ্মা
  2. ইত্তেফাক
  3. বৈশাখ
  4. বাংলাদেশ
সঠিক উত্তর:
ইত্তেফাক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইত্তেফাক
ব্যাখ্যা
বিশেষ্য পদ:
যেসব শব্দ দিয়ে ব্যক্তি, প্রাণী, স্থান, বস্তু, ধারণা ও গুণের নাম বোঝায়, সেগুলোকে বিশেষ্য বলে। যেমন নজরুল, বাঘ, ঢাকা, ইট, ভোজন, সততা ইত্যাদি। বিশেষ্য সাধারণত ছয় প্রকার:
১. নাম-বিশেষ্য,
২. জাতি-বিশেষ্য,
৩. বস্তু-বিশেষ্য,
৪. সমষ্টি-বিশেষ্য,
৫. গুণ-বিশেষ্য এবং
৬. ক্রিয়া-বিশেষ্য।

• নাম-বিশেষ্য: ব্যক্তি, স্থান, দেশ, কাল, সৃষ্টি প্রভৃতির সুনির্দিষ্ট নামকে নাম-বিশেষ্য বলা হয়।
যেমন:
ব্যক্তিনাম: হাবিব, সজল, লতা, শম্পা।
স্থাননাম: ঢাকা, বাংলাদেশ, হিমালয়, পদ্মা।
কালনাম: সোমবার, বৈশাখ, জানুয়ারি, রমজান।
সৃষ্টিনাম: গীতাঞ্জলি, সঞ্চিতা, ইত্তেফাক, অপরাজেয় বাংলা।

• জাতি-বিশেষ্য: জাতি-বিশেষ্য সাধারণ-বিশেষ্য নামেও পরিচিত। এ ধরনের বিশেষ্য নির্দিষ্ট কোনো নামকে না বুঝিয়ে প্রাণী ও অপ্রাণীর সাধারণ নামকে বোঝায়। যেমন: মানুষ, গরু, ছাগল, ফুল, ফল, নদী, সাগর, পর্বত ইত্যাদি।

• বস্তু-বিশেষ্য: কোনো দ্রব্য বা বস্তুর নামকে বস্তু-বিশেষ্য বলে। যেমন: ইট, লবণ, আকাশ, টেবিল, বই ইত্যাদি।

• সমষ্টি-বিশেষ্য: এ ধরনের বিশেষ্য দিয়ে ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টিকে বোঝায়। যেমন: জনতা, পরিবার, ঝাঁক, বাহিনী, মিছিল ইত্যাদি।

• গুণ-বিশেষ্য: গুণগত অবস্থা ও ধারণার নামকে গুণ-বিশেষ্য বলে। যেমন: সরলতা, দয়া, আনন্দ, গুরুত্ব, দীনতা, ধৈর্য ইত্যাদি।

• ক্রিয়া-বিশেষ্য: যে বিশেষ্য দিয়ে কোনো ক্রিয়া বা কাজের নাম বোঝায়, তাকে ক্রিয়া-বিশেষ্য বলে। যেমন: পঠন, ভোজন, শয়ন, করা, করানো, পাঠানো, নেওয়া ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১,৮৭২.
বাক্যে ব্যবহৃত বিভক্তিযুক্ত শব্দ ও ধাতুকে কী বলে?
  1. কারক
  2. প্রত্যয়
  3. পদ 
  4. সমাস
সঠিক উত্তর:
পদ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পদ 
ব্যাখ্যা

• পদ:
- বাক্যে ব্যবহৃত বিভক্তিযুক্ত শব্দ ও ধাতুকে পদ বলে।

• পদগুলো প্রধানত দুই প্রকার:
- সব্যয় পদ ও অব্যয় পদ।

- সব্যয় পদ চার প্রকার:
- বিশেষ্য;
- বিশেষণ;
- সর্বনাম;
-  ক্রিয়া।

• সুতরাং পদমোট পাঁচ প্রকার: বিশেষ্য, বিশেষণ, সর্বনাম, ক্রিয়া এবং অব্যয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ৯ম-১০ম শ্রেণি, ২০১৯ সালের সংস্করণ।

১,৮৭৩.
‘ভালো করে পড়াশোনা করলে ভালো ফল হবে’ - এখানে 'করলে' কোন ধরনের ক্রিয়া?  
  1. প্রযোজক ক্রিয়া
  2. সমাপিকা ক্রিয়া
  3. অসমাপিকা ক্রিয়া
  4. সরল ক্রিয়া 
সঠিক উত্তর:
অসমাপিকা ক্রিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অসমাপিকা ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
ক্রিয়া:
- বাক্যে উদ্দেশ্য বা কর্তা কী করে বা কর্তার কী ঘটে বা হয়, তা নির্দেশ করা হয় যে পদ দিয়ে তাকে ক্রিয়া বলে। যেমন - 
• রাজীব খেলছে,
• বৃষ্টি হতে পারে।  
- ক্রিয়ামূল বা ধাতুর সঙ্গে বিভক্তি যুক্ত হয়ে ক্রিয়া গঠিত হয়। যেমন - পড়্‌ + ই = পড়ি।

⇒ ভাব প্রকাশের দিক দিয়ে ক্রিয়া ২ প্রকার: 
১. সমাপিকা ক্রিয়া:   
• ভাব সম্পূর্ণ হয়। 
• যেমন - ভালো করে পড়াশোনা করবে।   
২. অসমাপিকা ক্রিয়া:
• ভাব সম্পূর্ণ করতে পারে না। 
• যেমন - ভালো করে পড়াশোনা করলে ভালো ফল হবে।  

⇒ গঠন বিবেচনায় ক্রিয়া ৫ প্রকার:
১. সরল ক্রিয়া:
• সে লিখছে; ছেলেরা মাঠে খেলছে। 
২. প্রযোজক ক্রিয়া:
• তিনি আমাকে অঙ্ক করাচ্ছেন, রাখাল গরুকে ঘাস খাওয়ায়।
৩. নামক্রিয়া:
• চমকানো, চমকায়, কমা, ছটফটানো (আ বা আনো প্রত্যয় যোগে)। 
৪. সংযোগ ক্রিয়া:
• গান করা, গরম করা, সাঁতার কাটা, বিপদ কাটা, মরচে ধরা, ক্যাচ ধরা।
৫. যৌগিক ক্রিয়া:
• সমাপিকা ক্রিয়ার সাথে অসমাপিকা ক্রিয়া যক্ত হয়। 
- যেমন: মরে যাওয়া, কমে আসা, এগিয়ে চলা, বুঝে নেওয়া, সরে দাঁড়ানো। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)। 
১,৮৭৪.
'শুধু তোমার মুখের পানে চাহি বাহির হনু' - বাক্যে অনুসর্গ কোনটি?
  1. হনু
  2. বাহির
  3. পানে
  4. মুখের
সঠিক উত্তর:
পানে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পানে
ব্যাখ্যা
- 'শুধু তোমার মুখের পানে চাহি বাহির হনু' - বাক্যে অনুসর্গ হচ্ছে - পানে। 
- এখানে 'পানে' অনুসর্গটি প্রতি, দিক অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। 

অনুসর্গ: 

- যেসব শব্দ কোনাে শব্দের পরে বসে শব্দটিকে বাক্যের সঙ্গে সম্পর্কিত করে, সেসব শব্দকে অনুসর্গ বলে। যেমন -
- সে কাজ ছাড়া কিছুই বােঝে না।- এই বাক্যে 'ছাড়া' একটি অনুসর্গ।
- কোন পর্যন্ত পড়েছ? - এই বাক্যে 'পর্যন্ত' একটি অনুসর্গ।

কয়েকটি অনুসর্গের উদাহরণ:
- অপেক্ষা, অবধি, অভিমুখে, আগে, উপরে, করে, কর্তৃক, কাছে, কারণে, ছাড়া, জন্য, তরে, থেকে, দরুন, দিকে, দিয়ে, দ্বারা, ধরে, নাগাদ, নিচে, পর্যন্ত, পানে, পাশে, পিছনে, প্রতি, বদলে, বনাম, বরাবর, বাইরে, বাদে, বাবদ, বিনা, ব্যতীত, ভিতরে, মতাে, মধ্যে, মাঝে, লেগে, সঙ্গে,
সম্মুখে, সাথে, সামনে, হতে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,৮৭৫.
অনুমোদন, সম্মতি ও সমর্থন প্রকাশ পায় কোন জাতীয় আবেগ শব্দে?
  1. প্রশংসা আবেগ
  2. আতঙ্ক আবেগ
  3. সিদ্ধান্ত আবেগ
  4. সম্বোধন আবেগ
সঠিক উত্তর:
সিদ্ধান্ত আবেগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিদ্ধান্ত আবেগ
ব্যাখ্যা
• আবেগ:
মনের নানা ভাব প্রকাশ করা হয় যেসকল শব্দ দিয়ে সেগুলোকে আবেগ বলে।
- এই ধরনের শব্দ বাক্যের অন্য শব্দগুলোর সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত না হয়ে আলগাভাবে বা স্বাধীনভাবে ব্যবহৃত হয়।
যেমন - ছি ছি, আহা, বাহ্, শাবাশ, হায় হায় ইত্যাদি।

• সিদ্ধান্ত আবেগ:
এ জাতীয় শব্দের সাহায্যে অনুমোদন, সম্মতি, সমর্থন ইত্যাদি প্রকাশ করা হয়।
যেমন -
বেশ, তবে যাওয়াই যাক।
হ্যাঁ, আমাদের জিততেই হবে।

অন্যদিকে,
• করুণা আবেগ:
এ ধরনের শব্দ করুণা, মায়া, সহানুভূতি ইত্যাদি মনোভাব প্রকাশ করে।
যেমন -
আহা! বেচারার কত কষ্ট।
হায়! হায়! ওদের এখন কে দেখবে!

• সম্বোধন আবেগ:
এ ধরনের শব্দ সম্বোধন বা আহ্বান করার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
ওগো, তোরা জয়ধ্বনি কর।
হে বন্ধু, তোমাকে অভিনন্দন।

• অলংকার আবেগ:
এ ধরনের শব্দ বাক্যের অর্থের পরিবর্তন না ঘটিয়ে কোমলতা, মাধুর্য ইত্যাদি বৈশিষ্ট্য এবং সংশয়, অনুরোধ, মিনতি ইত্যাদি মনোভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন -
যাকগে, ওসব কথা থাক। 
দুর! এ কথা কি বলতে আছে?

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি - নবম ও দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১,৮৭৬.
"আপন ভালো সবাই চায়।"- এই বাক্যে 'ভালো' কোন পদ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. বিশেষ্য
  2. বিশেষণ
  3. অব্যয়
  4. ক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
বিশেষ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশেষ্য
ব্যাখ্যা
• "আপন ভালো সবাই চায়।"- এই বাক্যে 'ভালো' বিশেষ্য পদ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।
• এখানে 'ভালো' গুণবাচক বিশেষ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।

• গুণবাচক বিশেষ্য:
- যে বিশেষ্য দ্বারা কোনো বস্তুর দোষ বা গুণের নাম বোঝায়, তা-ই গুণবাচক বিশেষ্য।
যথা-
- মধুর মিষ্টত্বের গুণ - মধুরতা,
- তরল দ্রব্যের গুণ - তারল্য,
- তিক্ত দ্রব্যের দোষ বা গুণ - তিক্ততা,
- তরুণের গুণ - তারুণ্য ইত্যাদি।
- তদ্রুপ- সৌরভ, স্বাস্থ্য, যৌবন, সুখ, দুঃখ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
১,৮৭৭.
নিচের কোনটি বিশেষণ?
  1. দারিদ্র্য
  2. বৈচিত্র্য
  3. সমগ্র
  4. দৈর্ঘ্য
সঠিক উত্তর:
সমগ্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমগ্র
ব্যাখ্যা
• বিশেষণ হলো — যে পদ দ্বারা কোনো বিশেষ্যের গুণ, অবস্থা, পরিমাণ, সংখ্যা ইত্যাদি প্রকাশ পায়।

এখানে, 
• 'সমগ্র' শব্দটি বিশেষণ।
- বিশেষ্যের পরিমাণ বোঝাতে ব্যবহৃত হয়, যেমন: "সমগ্র পৃথিবী।"

অন্য শব্দগুলো বিশেষ্য- 
• দারিদ্র্য: বিশেষ্য (অবস্থা), 
• বৈচিত্র্য: বিশেষ্য (অবস্থা), 
• দৈর্ঘ্য: বিশেষ্য (পরিমাণ)।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
১,৮৭৮.
'ছন্দা গান গাইছে।' বাক্যটি ক্রিয়ার কোন কাল নির্দেশ করে?
  1. সাধারণ ভবিষ্যৎ
  2. ঘটমান অতীত
  3. ঘটমান বর্তমান
  4. পুরাঘটিত বর্তমান
সঠিক উত্তর:
ঘটমান বর্তমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘটমান বর্তমান
ব্যাখ্যা
• বর্তমান কাল:
যে ক্রিয়া দ্বারা বর্তমানের কোনো কাজ করা, অভ্যাস বা চিরসত্য বোঝায় তাকে বর্তমান কাল বলে। বর্তমান কালের চারটি রূপ। যথা:
১. সাধারণ বর্তমান কাল।
২. ঘটমান বর্তমান কাল।
৩. পুরাঘটিত বর্তমান কাল।
৪. বর্তমান অনুজ্ঞা।

• সাধারণ বর্তমান কাল: যে ক্রিয়া বর্তমানে সাধারণভাবে ঘটে তার কালকে বর্তমান কাল বলে।
যেমন:
- তৃণা স্কুলে যায়।
- বর্ণ বই পড়ে।

• ঘটমান বর্তমান কাল: যে ক্রিয়ার কাল শেষ হয়নি, এখনও চলছে এরূপ অর্থ বোঝালে ঘটমান বর্তমান হয়।
যেমন:
- ছন্দা গান গাইছে।
- রাফিন ও রিজন বল খেলছে।

ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা অর্থে ঘটমান বর্তমান কাল হয়।
যেমন:
- চিন্তা করো না, কালই আসছি।

• পুরাঘটিত বর্তমান কাল: যে ক্রিয়ার কার্য কিছুক্ষণ পূর্বে ঘটেছে। কিন্তু এর ফর বা প্রভাব এখনও বর্তমান, এরূপ অর্থে পুরাঘটিত বর্তমান কাল হয়।
যেমন:
- বৃষ্টি আমাদের বড়োই উপকার করেছে।
- ঝড় আমাদের ভীষণ ক্ষতি করেছে।

• বর্তমান অনুজ্ঞা: বর্তমানে কোনো ক্রিয়া সম্পাদনের আদেশ, উপদেশ, আশীবার্দ, অভিশাপ, অনুরোধ, প্রার্থনা প্রভৃতি বোঝানোর জন্য বর্তমান অনুজ্ঞা ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- সকলের মঙ্গল হোক।
- সদা সত্য বলো।
- আল্লাহ তোমাকে দীর্ঘজীবী করুন।
- আল্লাহ তোমাকে সুস্থতা দান করুক।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা এবং প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১,৮৭৯.
'সে আমার চেনা লোক' -বাক্যে 'চেনা' কোন পদ?
  1. বিশেষ্য
  2. বিশেষণ
  3. অব্যয়
  4. সর্বনাম
সঠিক উত্তর:
বিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশেষণ
ব্যাখ্যা
বিশেষণ পদ:
-যে পদ বিশেষ্য, সর্বনাম ও ক্রিয়াপদের দোষ, গুণ, অবস্থা, সংখ্যা, পরিমাণ ইত্যাদি প্রকাশ করে তাকে বিশেষণ পদ বলে।
যেমন- 
- দশটি (বিশেষণ) বছর।
- এ আমার চেনা (বিশেষণ) লোক।
- নিশীথ (বিশেষণ) রাতে বাজছে বাঁশি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,৮৮০.
কোনটি নির্দেশক নয়?
  1. -টা
  2. -তম
  3. -খানা
  4. -জন
সঠিক উত্তর:
-তম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
-তম
ব্যাখ্যা

' যেসব লগ্নক শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়ে নির্দিষ্টতা বোঝায়, সেগুলোকে নির্দেশক বলে। যেমন, -টা, -টি, -খানা, -খানি,-জন, -টুকু।

বিশেষ্য, সর্বনাম ও বিশেষণের সঙ্গে -টা ,-টি নির্দেশক যুক্ত হয়।
বিশেষ্য ও বিশেষণ শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয় -খানা, -খানি নির্দেশক।
শুধু মানুষের ক্ষেত্রে -জন নির্দেশক ব্যবহৃত হয়।
কোনো কিছুর সামান্য অংশ বা অল্প পরিমান বোঝায় সেক্ষেত্রে -টুকু নির্দেশক যুক্ত হয়।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নির্মিত, নবম-দশম শ্রেনি।

১,৮৮১.
'বাস্তবিকই আজ আমাদের কঠিন পরিশ্রমের প্রয়োজন।' - বাক্যে 'বাস্তবিকই' কী রূপে ব্যবহার হয়েছে?
  1. বাক্যের বিশেষণ
  2. অব্যয়ের বিশেষণ
  3. ক্রিয়া বিশেষণ
  4. বিশেষণীয় বিশেষণ
সঠিক উত্তর:
বাক্যের বিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাক্যের বিশেষণ
ব্যাখ্যা
বাক্যের বিশেষণ:
- যে বিশেষণ পদ একটি সম্পূর্ণ বাক্যকে বিশেষিত করতে পারে, তখন তাকে বাক্যের বিশেষণ বলে।
যেমন:
- দুর্ভাগ্যক্রমে দেশ আবার নানা সমস্যাজালে আবদ্ধ হয়ে পড়েছে।
- বাস্তবিকই আজ আমাদের কঠিন পরিশ্রমের প্রয়োজন।
 
অন্যদিকে,
অব্যয়ের বিশেষণ:
- যে ভাব বিশেষণ অব্যয় পদ অথবা অব্যয় পদের অর্থকে বিশেষিত করে, তাকে অব্যয়ের বিশেষণ বলে।
যেমন:
- ধিক্‌ তারে, শত ধিক্‌ নির্লজ্জ যে জন।
 
ক্রিয়া বিশেষণ:
- যে পদ ক্রিয়া সংঘটনের ভাব, কাল বা রূপ নির্দেশ করে, তাকে ক্রিয়া বিশেষণ বলে।
যেমন: 
ক্রিয়া সংঘটনের ভাব: ধীরে ধীরে বায়ু বয়।
ক্রিয়া সংঘটনের কাল: পরে একবার এসো।
 
বিশেষণীয় বিশেষণ: 
- যে পদ নাম বিশেষণ বা ক্রিয়া বিশেষণকে বিশেষিত করে, তাকে বিশেষণীয় বিশেষণ বলে। 
যথা:
ক. নাম বিশেষণের বিশেষণ: এ ব্যাপারে সে অতিশয় দুঃখিত। সামান্য একটু দুধ দাও।
খ. ক্রিয়া-বিশেষণের বিশেষণ: রকেট অতি দ্রুত চলে।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
১,৮৮২.
নিচের কোনটি একটি অনুসর্গ?
  1. দিগে
  2. দের
  3. সঙ্গে
  4. গুলো
সঠিক উত্তর:
সঙ্গে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সঙ্গে
ব্যাখ্যা
• 'সঙ্গে' - একটি অনুসর্গ।

অন্যদিকে,
• 'দিগে, দের'  - দ্বিতীয়া বিভক্তির  উদাহরণ।
• 'গুলো' - পদাশ্রিত নির্দেশক।

কয়েকটি অনুসর্গের উদাহরণ:

- অপেক্ষা, অবধি, অভিমুখে, আগে, উপরে, করে, কর্তৃক, কাছে, কারণে, ছাড়া, জন্য, তরে, থেকে, দরুন, দিকে, দিয়ে, দ্বারা, ধরে, নাগাদ, নিচে, পর্যন্ত, পানে, পাশে, পিছনে, প্রতি, বদলে, বনাম, বরাবর, বাইরে, বাদে, বাবদ, বিনা, ব্যতীত, ভিতরে, মতাে, মধ্যে, মাঝে, লেগে, সঙ্গে,
সম্মুখে, সাথে, সামনে, হতে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,৮৮৩.
'তিনি বিদ্বান, অথচ সৎ ব্যক্তি নন।' -এখানে 'অথচ' কোন ধরনের অব্যয়?
  1. সংযোজক অব্যয়
  2. বিয়োজক অব্যয়
  3. সংকোচক অব্যয়
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
সংকোচক অব্যয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সংকোচক অব্যয়
ব্যাখ্যা

সমুচ্চয়ী অব্যয়:
- যে অব্যয় পদ একটি বাক্যের সঙ্গে অন্য একটি বাক্যের অথবা বাক্যস্থিত একটি পদের সঙ্গে অন্য একটি পদের সংযোজন, বিয়োজন বা সংকোচন ঘটায়, তাকে সমুচ্চয়ী অব্যয় বা সম্বন্ধবাচক অব্যয় বলে।

ক. সংযোজক অব্যয়:
(i) উচ্চপদ ও সামাজিক মর্যাদা সকলেই চায়। এখানে 'ও' অব্যয়টি বাক্যস্থিত দুটি পদের সংযোজন করছে।
(ii) তিনি সৎ, তাই সকলেই তাঁকে শ্রদ্ধা করে। এখানে 'তাই' অব্যয়টি দুটি বাক্যের সংযোজন ঘটাচ্ছে।
আর, অধিকন্তু, সুতরাং শব্দগুলোও সংযোজক অব্যয়।

খ. বিয়োজক অব্যয়:
(i) হাসেম কিংবা কাসেম এর জন্য দায়ী।
এখানে 'কিংবা' অব্যয়টি দুটি পদের (হাসেম এবং কাসেমের) বিয়োগ সম্বন্ধ ঘটাচ্ছে।
(ii)'মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন'। এখানে 'কিংবা' অব্যয়টি দুটি বাক্যাংশের বিয়োজক।
আমরা চেষ্টা করেছি বটে, কিন্তু কৃতকার্য হতে পারিনি। এখানে 'কিন্তু' অব্যয় দুটি বাক্যের বিয়োজক।
বা, অথবা, নতুবা, না হয়, নয়তো শব্দগুলো বিয়োজক অব্যয়।

গ. সংকোচক অব্যয়: তিনি বিদ্বান, অথচ সৎ ব্যক্তি নন। এখানে 'অথচ' অব্যয়টি দুটি বাক্যের মধ্যে ভাবের সংকোচ সাধন করেছে। কিন্তু, বরং শব্দগুলোও সংকোচক অব্যয়।

ঘ. অনুগামী সমুচ্চয়ী অব্যয়: যে, যদি, যদিও, যেন প্রভৃতি কয়েকটি শব্দ সংযোজক অব্যয়ের কাজ করে থাকে। তাই তাদের অনুগামী সমুচ্চয়ী অব্যয় বলে। যেমন-
১. তিনি এত পরিশ্রম করেন যে তার স্বাস্থ্যভঙ্গ হওয়ার আশঙ্কা আছে।
২. আজ যদি (শর্ত বাচক) পারি, একবার সেখানে যাব।
৩. এভাবে চেষ্টা করবে যেন কৃতকার্য হতে পার।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

১,৮৮৪.
‘তখনই বৃষ্টি শুরু হলো।’ – বাক্যে ‘তখনই’ কোন ধরনের ক্রিয়াবিশেষণ?
  1. স্থানবাচক
  2. ধরনবাচক
  3. কালবাচক
  4. নেতিবাচক
সঠিক উত্তর:
কালবাচক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কালবাচক
ব্যাখ্যা
কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ:
এই ধরনের ক্রিয়াবিশেষণ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল নির্দেশ করে।
যেমন:
যথাসময়ে সে হাজির হয়।
- গতকাল তিনি ঘুরে গিয়েছেন।

• প্রদত্ত বাক্যটি: "তখনই বৃষ্টি শুরু হলো।"
এখানে, 'কখন' বৃষ্টি শুরু হলো প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'তখনই'। সুতরাং, 'তখনই' - কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১,৮৮৫.
‘কতক্ষণ সময়?’ বাক্যে ‘কতক্ষণ’ কোন পদ?
  1. বিশেষ্য
  2. ক্রিয়া বিশেষণ
  3. ক্রিয়া
  4. বিশেষণ
সঠিক উত্তর:
বিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশেষণ
ব্যাখ্যা
• প্রশ্নবাচক বিশেষণ:
যে বিশেষণ দিয়ে প্রশ্নবাচকতা নির্দেশিত হয়, তাকে প্রশ্নবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন:
- কেমন গান?
- কতক্ষণ সময়?
[ এখানে ‘কেমন' ও 'কতক্ষণ' প্রশ্নবাচক বিশেষণ। কারণ ‘কেমন' ও 'কতক্ষণ' শব্দদুটি ‘গান ও সময়’ শব্দকে বিশেষিত করেছে।]

------------------
• বিশেষণ:
যে শব্দ দিয়ে সাধারণত বিশেষ্য ও সর্বনামের গুণ, দোষ, সংখ্যা, পরিমাণ, অবস্থা ইত্যাদি বোঝায় তাকে বিশেষণ বলে।

শব্দটি কীভাবে গঠিত, কোন শ্রেণির শব্দকে বিশেষিত করে এবং বাক্যের মধ্যে বিশেষণের অবস্থান কোথায় এসব বিবেচনায় বিশেষণকে নানা নামে উপস্থাপন করা যেতে পারে। যেমন:
- বর্ণবাচক বিশেষণ,
- গুণবাচক বিশেষণ,
- অবস্থানবাচক বিশেষণ,
- ক্রমবাচক বিশেষণ,
- পূরণবাচক বিশেষণ,
- পরিমাণবাচক বিশেষণ,
- উপাদানবাচক বিশেষণ,
- প্রশ্নবাচক বিশেষণ,
- নির্দিষ্টতাবাচক বিশেষণ,
- ভাববাচক বিশেষণ,
- বিধেয় বিশেষণ ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
১,৮৮৬.
কোনটি সংযোগজ্ঞাপক সর্বনাম?
  1. আমরা
  2. তারা
  3. যারা
  4. এরা
সঠিক উত্তর:
যারা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যারা
ব্যাখ্যা
• সংযোগজ্ঞাপক সর্বনাম - যারা।

সর্বনামের শ্রেণিবিভাগ:
- বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত সর্বনামসমূহকে নিম্নলিখিত কয়েকটি ভাগে ভাগ করা হয়ে থাকে।

(১) ব্যক্তিবাচক বা পুরুষবাচক: আমি, আমরা, তুমি, তোমরা, সে, তারা, তাহারা, তিনি, তাঁরা, এ, এরা, ও, ওরা ইত্যাদি।
(২) আত্মবাচক: স্বয়ং, নিজে, খোদ, আপনি।
(৩) সামীপ্যবাচক: এ, এই, এরা, ইহারা, ইনি ইত্যাদি।
(৪) দূরত্ববাচক: ঐ, ঐসব।
(৫) সাকুল্যবাচক: সব, সকল, সমুদয়, তাবৎ।
(৬) প্রশ্নবাচক: কে, কি, কী, কোন, কাহার, কার, কিসে?
(৭) অনির্দিষ্টতাজ্ঞাপক: কোন, কেহ, কেউ, কিছু।
(৮) ব্যতিহারিক: আপনা আপনি, নিজে নিজে, আপসে, পরস্পর ইত্যাদি।
(৯) সংযোগজ্ঞাপক: যে, যিনি, যাঁরা, যারা, যাহারা ইত্যাদি।
(১০) অন্যাদিবাচক: অন্য, অপর, পর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
১,৮৮৭.
বিশেষণ পদ কোনটি?
  1. ক) রক্তাক্ত
  2. খ) সততা
  3. গ) তিক্ততা
  4. ঘ) সরলতা
সঠিক উত্তর:
ক) রক্তাক্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) রক্তাক্ত
ব্যাখ্যা
বিশেষণ :
যে পদ বিশেষ্য, সর্বনাম ও ক্রিয়াপদের দোষ, গুণ, অবস্থা, সংখ্যা, পরিমাণ, ইত্যাদি প্রকাশ করে, তাকে বিশেষণ পদ বলে।

রক্তাক্ত (বিশেষণ): রক্তে মাখা; রক্তরঞ্জিত।

অন্যদিকে,
- সততা, তিক্ততা, সরলতা শব্দগুলো বিশেষ্য পদ। 

 তথ্যসূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ - নবম-দশম শ্রেণি ও বাংলা একাডেমি অভিধান।
১,৮৮৮.
"তিনি আমাকে অঙ্ক করাচ্ছেন।" - বাক্যে কোন ধরেনর ক্রিয়ার ব্যবহার হয়েছে?
  1. যৌগিক ক্রিয়া
  2. সরল ক্রিয়া
  3. নাম ক্রিয়া
  4. প্রযোজক ক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
প্রযোজক ক্রিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রযোজক ক্রিয়া
ব্যাখ্যা

• প্রযোজক ক্রিয়া:
- কর্তা অন্যকে দিয়ে কাজ করালে তাকে প্রযোজক ক্রিয়া বলে।
 যেমন :
- তিনি আমাকে অঙ্ক করাচ্ছেন;
- রাখাল গরুকে ঘাস খাওয়ায়। 
- এখানে 'করাচ্ছেন' ও 'খাওয়ায়' প্রযোজক ক্রিয়া।

অন্যদিকে,
• সরল ক্রিয়া:
- একটিমাত্র পদ দিয়ে যে ক্রিয়া গঠিত হয় এবং কর্তা এককভাবে ক্রিয়াটি সম্পন্ন করে, তাকে সরল ক্রিয়া বলে।
 যেমন:
- সে লিখছে। ছেলেরা মাঠে খেলছে। এখানে লিখছে ও খেলছে - এগুলো সরল ক্রিয়া।

• নামক্রিয়া:
- বিশেষ্য, বিশেষণ বা ধ্বন্যাত্মক শব্দের শেষে -আ বা -আনো প্রত্যয় যুক্ত হয়ে যে ক্রিয়া গঠিত হয়, তাকে নামক্রিয়া বলে।
 যেমন:
- বিশেষ্য চমক শব্দের সঙ্গে-আনো যুক্ত হয়ে হয় ‘চমকানো’।

• যৌগিক ক্রিয়া:
- অসমাপিকা ক্রিয়ার সঙ্গে সমাপিকা ক্রিয়া যুক্ত হয়ে যখন একটি ক্রিয়া গঠন করে, তখন তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- মরে যাওয়া, কমে আসা, এগিয়ে চল।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি (২০২২ সালের সংস্করণ)।

১,৮৮৯.
"আজ বাংলাদেশ বনাম অস্ট্রেলিয়ার খেলা।" - এখানে 'বনাম' কোন ভাষার অনুসর্গ?
  1. তৎসম
  2. তদ্ভব
  3. আরবি
  4. ফারসি
সঠিক উত্তর:
ফারসি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফারসি
ব্যাখ্যা
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত অনেক অনুসর্গই ফারসি, আরবি, ইংরেজি ইত্যাদি বিদেশি ভাষা থেকে আগত।
‘বনাম’ ফারসি থেকে এসেছে এবং এটি সাধারণত আইনি বা ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় দুই পক্ষ বোঝাতে ব্যবহৃত হয়।

সঠিক উত্তর: ঘ) ফারসি।

ব্যাখ্যা:
‘বনাম’ শব্দটি ফারসি ভাষার একটি অনুসর্গ, যার অর্থ ‘বিরুদ্ধে’ বা ‘versus’।

উদাহরণ:
আজ বাংলাদেশ বনাম অস্ট্রেলিয়ার খেলা।
অর্থ: আজ বাংলাদেশ বিরুদ্ধ অস্ট্রেলিয়ার খেলা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ); মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়; বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
১,৮৯০.
“সন্ধ্যা” শব্দের বিশেষণটি নির্দেশ করুন?
  1. ক) সাঁঝ
  2. খ) সন্ধ্যা
  3. গ) সন্দা
  4. ঘ) সান্ধ্য
সঠিক উত্তর:
ঘ) সান্ধ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সান্ধ্য
ব্যাখ্যা
সান্ধ্য (বিশেষণ) - ১) সন্ধ্যাকালীন; সন্ধ্যাবেলার।
২) সন্ধ্যাসম্পর্কিত।
{(তৎসম বা সংস্কৃত) সন্ধ্যা+অ(অণ্‌)}
উৎসঃ বাংলা একাডেমী অভিধান
১,৮৯১.
’মনীষা দৌড়াতে থাকবে’ বাক্যটি কোন ধরনের ক্রিয়ার কাল নির্দেশ করে?
  1. ঘটমান ভবিষ্যৎ কাল
  2. সাধারণ ভবিষ্যৎ কাল
  3. পুরাঘটিত ভবিষ্যৎ কাল
  4. ভবিষ্যৎ অনুজ্ঞা
সঠিক উত্তর:
ঘটমান ভবিষ্যৎ কাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘটমান ভবিষ্যৎ কাল
ব্যাখ্যা
• ভবিষ্যৎ কাল:
- ভবিষ্যতে যে ক্রিয়া সংঘটিত হবে, তার কালকে  ভবিষ্যৎ কাল বলে।
যথা-
- আমরা মাঠে খেলতে যাব।
- শীঘ্রই বৃষ্টি আসবে।

• ভবিষ্যৎকালের প্রকার:

• সাধারণ ভবিষ্যৎ কাল:
যে ক্রিয়া পরে বা অনাগত কালে সংঘটিত হবে, তার কালকে সাধারণ ভবিষ্যৎ কাল বলে।
যথা-
- নিহা আসবে।

• ঘটমান ভবিষ্যৎ কাল:
- যে ক্রিয়ার কাজ ভবিষ্যতে শুরু হয়ে চলতে থাকবে, তার কালকে ঘটমান ভবিষ্যৎ কাল বলা হয়।
যেমন:
সুমন হয়তো তখন দেখতে থাকবে।
মনীষা দৌড়াতে থাকবে।

পুরাঘটিত ভবিষ্যৎ কাল:
যে ক্রিয়া সম্ভবত ঘটে গিয়েছে, সাধারণ ভবিষ্যৎ কালবোধক শব্দ ব্যবহার করে তা বোঝাতে পুরাঘটিত ভবিষ্যৎ কাল হয়।
- আমি সোমবার।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম দশম শ্রেণি -২০১৮ সালের শিক্ষাবর্ষ।
১,৮৯২.
অনুজ্ঞা বর্তমানকালের ক্রিয়া রয়েছে নিচের কোন বাক্যে?
  1. সুমি বই পড়ছে।
  2. এতক্ষণ আমি অঙ্ক করেছি।
  3. তাড়াতাড়ি কাজটি করো।
  4. সন্ধ্যায় সূর্য অস্ত যায়।
সঠিক উত্তর:
তাড়াতাড়ি কাজটি করো।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তাড়াতাড়ি কাজটি করো।
ব্যাখ্যা
• বর্তমান কাল:
বর্তমানে যে ক্রিয়া সম্পন্ন হয় তাকে বর্তমান কাল বলে। বর্তমান কাল চার প্রকার: সাধারণ বর্তমান, ঘটমান বর্তমান, পুরাঘটিত বর্তমান এবং অনুজ্ঞা বর্তমান।

• সাধারণ বা নিত্যবৃত্ত বর্তমানকাল:
সাধারণভাবে এবং সচরাচর যখন কোনো ক্রিয়ার ব্যাপার ঘটে, তার কালকে সাধারণত নিত্যবৃত্ত বর্তমান কাল বলে।
যেমন:
- সন্ধ্যায় সূর্য অস্ত যায় (স্বাভাবিকতা)।
- আমি রােজ সকালে বেড়াতে যাই (অভ্যস্ততা)।

ঐতিহাসিক বর্তমান কাল: অতীতের কোনো ঐতিহাসিক ঘটনায় যদি নিত্য বর্তমান কালের প্রয়োগ হয়, তাহলে তাকে ঐতিহাসিক বর্তমান কাল বলে।
যেমন:
- বাবরের মৃত্যুর পর হুমায়ুন দিল্লির সিংহাসনে আরোহণ করেন।

• ঘটমান বর্তমানকাল:
যে কাজ শেষ হয় নি, এখনো চলছে, সে কাজ বোঝাবার জন্য ঘটমান বর্তমান কাল ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- সুমি বই পড়ছে।
- মেয়েরা গান গাইছে।

ঘটমান বর্তমান কালের প্রয়োগ:
• বক্তার প্রত্যক্ষ উক্তিতে ঘটমান বর্তমান কাল ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- বক্তা বললেন, 'শত্রুর অত্যাচারে দেশ আজ বিপন্ন, ধন-সম্পদ লুণ্ঠিত হচ্ছে, দিকে দিকে আগুন জ্বলছে।'

• ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা অর্থে ঘটমান বর্তমান কাল হয়।
যেমন:
- চিন্তা করো না, কালই আসছি।

• পুরাঘটিত বর্তমানকাল:
ক্রিয়া পূর্বে শেষ হলেও তার ফল এখনো বর্তমান থাকলে, পুরাঘটিত বর্তমান কাল ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- এবার আমি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছি।
- এতক্ষণ আমি অঙ্ক করেছি।

• অনুজ্ঞা বর্তমানকাল:
যে ক্রিয়া দিয়ে বর্তমান কালে বক্তার আদেশ, অনুমতি, অনুরোধ, প্রার্থনা, আমন্ত্রণ, আশীর্বাদ, অভিশাপ, উপদেশ, উপেক্ষা ইত্যাদি প্রকাশ করা হয়, তাকে অনুজ্ঞা বর্তমান কাল বলে।
যেমন:
- তাড়াতাড়ি কাজটি করো।
- সকলের মঙ্গল হোক।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।
১,৮৯৩.
"আমি এখানে টানা পাঁচটি বছর কাজ করেছি।" - এখানে 'পাঁচটি' কোন পদ?
  1. গুণবাচক বিশেষণ
  2. অবস্থাবাচক বিশেষণ
  3. সংখ্যাবাচক বিশেষণ
  4. অংশবাচক বিশেষণ
সঠিক উত্তর:
সংখ্যাবাচক বিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সংখ্যাবাচক বিশেষণ
ব্যাখ্যা
• "আমি এখানে টানা পাঁচটি বছর কাজ করেছি।" - এখানে 'পাঁচটি' সংখ্যাবাচক বিশেষণ পদ।

• নাম  বিশেষণ:
- যে বিশেষণ পদ কোনো বিশেষ্য বা সর্বনাম পদকে বিশেষিত করে, তাকে নাম বিশেষণ বলে।

• নাম বিশেষণের প্রকারভেদ:
ক. রূপবাচক: নীল আকাশ, সবুজ মাঠ, কালো মেঘ।
খ. গুণবাচক: চৌকস লোক, দক্ষ কারিগর, ঠাণ্ডা হাওয়া।
গ. অবস্থাবাচক: তাজা মাছ, রোগা ছেলে, খোঁড়া পা।
ঘ. সংখ্যাবাচক: হাজার লোক, দশ দশা, শ টাকা।
ঙ. ক্রমবাচক: দশম শ্রেণি, সত্তর পৃষ্ঠা, প্রথমা কন্যা।
চ. পরিমাণবাচক: বিঘাটেক জমি, পাঁচ শতাংশ ভূমি, হাজার টনী জাহাজ, এক কেজি চাল, দু কিলোমিটার রাস্তা।
ছ. অংশবাচক: অর্ধেক সম্পত্তি, ষোল আনা দখল, সিকি পথ।
জ. উপাদানবাচক: বেলে মাটি, মেটে কলসি, পাথুরে মূর্তি।
ঝ. প্রশ্নবাচক: কতদূর পথ? কেমন অবস্থা?
ঞ. নির্দিষ্টতাজ্ঞাপক: এই লোক, সেই ছেলে, ছাব্বিশে মার্চ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
১,৮৯৪.
বাক্যের মধ্যে ব্যবহৃত বিভক্তিযুক্ত শব্দ ও ধাতুকে কী বলা হয়?
  1. শব্দ
  2. পদ
  3. উপসর্গ
  4. অনুসর্গ
সঠিক উত্তর:
পদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পদ
ব্যাখ্যা
• পদ:
বাক্যে ব্যবহৃত বিভক্তিযুক্ত শব্দ ও ধাতুকে পদ বলে৷

অন্যভাবে,
শব্দ যখন বাক্যে ব্যবহৃত হয়, তখন তার নাম হয় পদ।

• বাক্যের অন্তর্গত এসব শব্দ বা পদকে মােট আটটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে।
যথা:
- বিশেষ্য,
- সর্বনাম,
- বিশেষণ,
- ক্রিয়া,
- ক্রিয়াবিশেষণ,
- অনুসর্গ,
- যােজক,
- আবেগ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ)।
১,৮৯৫.
'নিশীথ রাতে বাজছে বাঁশি' বাক্যে 'নিশীথ' কোন পদ? 
  1. বিশেষ্য
  2. বিশেষণ 
  3. ক্রিয়াবিশেষণ
  4. বিশেষ্যের বিশেষণ
সঠিক উত্তর:
বিশেষ্যের বিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশেষ্যের বিশেষণ
ব্যাখ্যা

• বিশেষণ পদ:  
যে পদ বিশেষ্য, সর্বনাম ও ক্রিয়াপদের দোষ, গুণ, অবস্থা, সংখ্যা, পরিমাণ, বৈশিষ্ট্য, ধর্ম ইত্যাদি প্রকাশ করে তাকে বিশেষণ পদ বলে।
যেমন: 
- নিশীথ (বিশেষণ) রাতে বাজছে বাঁশি।
- দশটি (বিশেষণ) বছর।
- এ আমার চেনা (বিশেষণ) লোক।

• নাম বিশেষণ: 
যে বিশেষণ পদ কোনো বিশেষ্য বা সর্বনাম পদকে বিশেষিত করে, তাকে নাম বিশেষণ বলে। যথা -

বিশেষ্যের বিশেষণ:
- সুস্থ সবল দেহকে কে না ভালোবাসে?
- নিশীথ রাতে বাজছে বাঁশি।

সর্বনামের বিশেষণ:
- সে রূপবান ও গুণবান।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৮৯৬.
নিচের কোনটি বিভক্তিহীন অনুসর্গ?
  1. আগে
  2. কাছে
  3. অবধি
  4. মাঝে
সঠিক উত্তর:
অবধি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অবধি
ব্যাখ্যা
বিভক্তির ভিত্তিতে বাংলা ব্যাকরণের অনুসর্গ গুলোকে বিভক্তিহীন ও বিভক্তিযুক্ত এ দুই অবস্থায় দেখা যায়।
যথা:

• বিভক্তিহীন অনুসর্গ:
কিছু অনুসর্গ গঠনের দিক থেকে বিভক্তিহীন।
যেমন: 
অপেক্ষা, অবধি, কর্তৃক, ছাড়া, দ্বারা, নাগাদ, পর্যন্ত, প্রতি, বিনা, ব্যতীত, মতো।
ফারসি অনুসর্গ বিভক্তিহীন : দরুন, বনাম, বরাবর, বাবদ।

• বিভক্তিযুক্ত অনুসর্গ:
এ জাতীয় অনুসর্গের অধিকাংশই নাম অনুসর্গ '-এ' বিভক্তিযুক্ত।
যেমন:
আগে, পরে, কাছে, কারণে, দিকে, নিচে, পাশে, পেছনে, বাইরে, ভেতরে, মধ্যে, মাঝে, সঙ্গে, সাথে, সামনে, সম্মুখে।

- ক্রিয়া অনুসর্গগুলো '-ইয়া জাত-এ' বিভক্তিযুক্ত। যেমন-করে, চেয়ে, থেকে, দিয়ে, লেগে, হতে। কোনে কোনো ফারসি অনুসর্গ 'এ' বিভক্তি যোগে গঠিত। যেমন-বদলে, বাদে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১,৮৯৭.
সে লালন গীতি শিখতে কুষ্টিয়া যায়। এখানে 'শিখতে' কোন ধরনের ক্রিয়া?
  1. ক) সমাপিকা ক্রিয়া
  2. খ) ভূত অসমাপিকা ক্রিয়া
  3. গ) ভাবী অসমাপিকা ক্রিয়া
  4. ঘ) শর্ত অসমাপিকা ক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
গ) ভাবী অসমাপিকা ক্রিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ভাবী অসমাপিকা ক্রিয়া
১,৮৯৮.
নিচের কোনটি গুণ-বিশেষ্য?
  1. দীনতা
  2. সমিতি
  3. পরিবার
  4. শয়ন
সঠিক উত্তর:
দীনতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দীনতা
ব্যাখ্যা
• বিশেষ্য সাধারণত ছয় প্রকার:
- নাম-বিশেষ্য,
- জাতি-বিশেষ্য
- বস্তু-বিশেষ্য,
- সমষ্টি-বিশেষ্য,
- গুণ-বিশেষ্য,
- ক্রিয়া-বিশেষ্য।

নাম-বিশেষ্য: ব্যক্তি, স্থান, দেশ, কাল, সৃষ্টি প্রভৃতির সুনির্দিষ্ট নামকে নাম-বিশেষ্য বলা হয়। যেমন:
স্থাননাম: ঢাকা, বাংলাদেশ, হিমালয়, পদ্মা
কালনাম: সোমবার, বৈশাখ, জানুয়ারি, রমজান
সৃষ্টিনাম: গীতাঞ্জলি, সঞ্চিতা, ইত্তেফাক, অপরাজেয় বাংলা।
ব্যক্তিনাম: হাবিব, সজল, লতা, শম্পা।

জাতি-বিশেষ্য: জাতি-বিশেষ্য সাধারণ-বিশেষ্য নামেও পরিচিত। এ ধরনের বিশেষ্য নির্দিষ্ট কোনো নামকে না বুঝিয়ে প্রাণী ও অপ্রাণীর সাধারণ নামকে বোঝায়। যেমন: মানুষ, গরু, ছাগল, ফুল, ফল, নদী, সাগর, পর্বত ইত্যাদি।

বস্তু-বিশেষ্য: কোনো দ্রব্য বা বস্তুর নামকে বস্তু-বিশেষ্য বলে। যেমন: ইট, লবণ, আকাশ, টেবিল, বই ইত্যাদি।

সমষ্টি-বিশেষ্য: এ ধরনের বিশেষ্য দিয়ে ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টিকে বোঝায়। যেমন: জনতা, পরিবার, ঝাঁক, বাহিনী, মিছিল ইত্যাদি।

গুণ-বিশেষ্য: গুণগত অবস্থা ও ধারণার নামকে গুণ-বিশেষ্য বলে। যেমন: সরলতা, দয়া, আনন্দ, গুরুত্ব, দীনতা, ধৈর্য ইত্যাদি।

ক্রিয়া-বিশেষ্য: যে বিশেষ্য দিয়ে কোনো ক্রিয়া বা কাজের নাম বোঝায়, তাকে ক্রিয়া-বিশেষ্য বলে। যেমন: পঠন, ভোজন, শয়ন, করা, করানো, পাঠানো, নেওয়া ইত্যাদি ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১,৮৯৯.
ভাববাচ্যে নিচের কোনটি বাক্যের ক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করে?
  1. কর্ম
  2. বিভক্তি
  3. ক্রিয়া-বিশেষ্য
  4. কর্তা
সঠিক উত্তর:
ক্রিয়া-বিশেষ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্রিয়া-বিশেষ্য
ব্যাখ্যা
যে বাক্যের ক্রিয়া-বিশেষ্য বাক্যের ক্রিয়াকে নিয়ন্রণ করে, তাকে ভাব বাচ্য  বলে।
যেমন:
- আমার যাওয়া হলো না। 
- কোথা থেকে আসা হলো। 
- এখানে আসা, যাওয়া হলো ক্রিয়া-বিশেষ্য।

উৎস: নবম-দশম শ্রেনি, বাংলা ব্যাকরণ ( ২০২১ সংস্করণ )।
১,৯০০.
কোনটি গুণবাচক বিশেষণ?
  1. ঠান্ডা পানি
  2. খুব ভালো খরব
  3. এই দিনে
  4. কেমন গান?
সঠিক উত্তর:
ঠান্ডা পানি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঠান্ডা পানি
ব্যাখ্যা
গুণবাচক বিশেষণ:
- যে বিশেষণ দিয়ে গুণ বা বৈশিষ্ট্য বােঝায়, তাকে গুণবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন:
- চালাক ছেলে, ঠান্ডা পানি – এখানে ‘চালাক’ ও ঠান্ডা হলাে গুণবাচক বিশেষণ।

অন্যদিকে,
নির্দিষ্টতাবাচক - এই দিনে।
ভাববাচক বিশেষণ - খুব ভালো খরব।
প্রশ্নবাচক বিশেষণ - কেমন গান?

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।