বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

উপমহাদেশের রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও সমাজ সংস্কারক

মোট প্রশ্ন৩২৮এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

উপমহাদেশের রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও সমাজ সংস্কারক

PrepBank · পাতা / · ১০১২০০ / ৩২৮

১০১.
ভারতের অহিংস আন্দোলনের প্রবক্তা কে?
  1. ইন্দিরা গান্ধী
  2. রামনাথ সিং
  3. মহাত্মা গান্ধী
  4. জওহরলাল নেহেরু
ব্যাখ্যা
মহাত্মা গান্ধী:
- তাঁর পুরো নাম মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী।
- তিনি ২ অক্টোবর ১৮৬৯ সালে ভারতে জন্মগ্রহন করেন।
- তিনি ধর্মীয় সহনশীলতা এবং অহিংসার মতবাদ গ্রহণ করেছিলেন।
- ভারতের অহিংস আন্দোলনের প্রবক্তা ও ভারত রাষ্ট্রের জনক মহাত্মা গান্ধী।
- তিনি ১৮৮৮ থেকে ১৮৯১ সাল পর্যন্ত ইংল্যান্ডে আইন অধ্যয়ন করেন।
- তিনি ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসকে ভারতীয় জাতীয়তাবাদের একটি কার্যকর রাজনৈতিক হাতিয়ারে রূপান্তরিত করেন।
- অসহযোগ আন্দোলন মহাত্মা গান্ধীর নেতৃত্বাধীনে প্রবর্তিত ভারতের একটি শক্তিশালী জাতীয়তাবাদী আন্দোলন।
- ১৯৪৭ সালের সেপ্টেম্বরে তিনি অনশনের মাধ্যমে কলকাতায় (কলকাতা) দাঙ্গার অবসান ঘটান।
- ১৯৪৮ সালের জানুয়ারী মাসে তিনি একজন তরুণ হিন্দু ধর্মান্ধ কর্তৃক গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন।

তথ্যসূত্র - ব্রিটানিকা ও বাংলাপিডিয়া।
১০২.
স্যার সৈয়দ আহমদ খানের নেতৃত্বে গঠিত আন্দোলনের নাম কী ছিল?
  1. খেলাফত আন্দোলন
  2. আলিগড় আন্দোলন
  3. অসহযোগ আন্দোলন
  4. ফরায়েজি আন্দোলন
ব্যাখ্যা
আলীগড় আন্দোলন:
- আলীগড় আন্দোলন হচ্ছে আলীগড়ভিত্তিক সমাজ সংস্কারমূলক আন্দোলন।
- স্যার সৈয়দ আহমদ খানের নেতৃত্বে আলীগড় আন্দোলন সংঘটিত হয়।

এছাড়াও, 
- ১৮৭৫ সালে সৈয়দ আহমদ খান আলীগড়ে 'মোহামেডান এ্যাংলো ওরিয়েন্টাল স্কুল' প্রতিষ্ঠা করেন।
- ১৮৭৭ সালে এটি কলেজে উন্নীত হয়।
- সৈয়দ আহমদ খান এ আলীগড় কলেজকে কেন্দ্র করে অধঃপতিত অবস্থা থেকে মুসলমানদের পুনরুদ্ধার ও তাদের পুনর্জাগরণের জন্য একটি আন্দোলন পরিচালনা করেন।
- ইতিহাসে এটিই 'আলীগড় আন্দোলন' নামে প্রসিদ্ধ।
- এ আন্দোলন মুসলমানদের মধ্যে আধুনিক ভাবধারা ও চিন্তা-চেতনা জাগ্রত করে।

অন্যদিকে: 
- মাওলানা মুহাম্মদ আলী খিলাফত আন্দোলনের নেতা ছিলেন।
- ফরায়েজি আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা হাজী শরিয়ত উল্লাহ।

সূত্র: ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০৩.
মুক্তিযুদ্ধকালীন সর্বদলীয় উপদেষ্টা কমিটির অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না কে?
  1. ক্যাপ্টেন মনসুর আলী
  2. এ. এইচ. এম. কামারুজ্জামান
  3. সৈয়দ নজরুল ইসলাম
  4. খন্দকার মোশতাক আহমদ
ব্যাখ্যা
• সর্বদলীয় উপদেষ্টা কমিটি:
- মুক্তিযুদ্ধ ছিল একটি জনযুদ্ধ।
- দেশের সর্বস্তরের মানুষ এই যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে।
- মুজিবনগর সরকারকে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ে উপদেশ প্রদান করার জন্য মুক্তিযুদ্ধে সমর্থনদানকারী বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দকে নিয়ে ৮ সদস্য বিশিষ্ট একটি উপদেষ্টা কমিটি গঠিত হয় (৯ সেপ্টেম্বর ১৯৭১)।
- মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী এই কমিটির নেতা।
- এর আহ্বায়ক ছিলেন তাজউদ্দীন আহমেদ।

⇒ কমিটির অন্যান্য সদস্যরা ছিলেন:
- অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ (মস্কোপন্থী ন্যাপ এর প্রতিনিধি),
- মনিসিংহ (কমিউিনিস্ট পার্টির প্রতিনিধি),
- মনোরঞ্জন ধর (কংগ্রেস দলের নেতা),
- ক্যাপ্টেন মনসুর আলী (আওয়ামী লীগ দলের প্রতিনিধি),
- এ. এইচ. এম. কামারুজ্জামান (আওয়ামী লীগ দলের প্রতিনিধি),
- খন্দকার মোশতাক আহমদ (মুজিবনগর সরকারের প্রতিনিধি)।

অন্যদিকে,
- সৈয়দ নজরুল ইসলাম সর্বদলীয় উপদেষ্টা কমিটির সদস্য ছিলেন না।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
১০৪.
নওয়াব ফয়জুন্নেসা জন্মগ্রহণ করেন কোথায়?
  1. ঢাকায়
  2. কুমিল্লায়
  3. রংপুরে
  4. নোয়াখালী
ব্যাখ্যা
- নওয়াব ফয়জুন্নেসা জন্মগ্রহণ করেন কুমিল্লায়। 

 • নবাব ফয়জুন্নেসা:
- নবাব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী ছিলেন জমিদার, নারীশিক্ষার প্রবর্তক, সমাজসেবক ও কবি।
- কুমিল্লা জেলার লাকসাম উপজেলাধীন পশ্চিমগাঁও গ্রামে এক জমিদার বংশে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা আহমদ আলী চৌধুরী ছিলেন হোমনাবাদ-পশ্চিমগাঁও-এর জমিদার।
- পারিবারিক পরিবেশে গৃহশিক্ষকের তত্ত্বাবধানে বাড়িতেই তিনি শিক্ষালাভ করেন।
- মুসলমানদের কঠিন পর্দাপ্রথার মধ্যে থেকেও ফয়জুন্নেসা আরবি, ফারসি ও উর্দুর পাশাপাশি বাংলা ও সংস্কৃত ভাষায়ও ব্যুৎপত্তি অর্জন করেন।
- গদ্যে-পদ্যে রচিত তাঁর রূপজালাল (১৮৭৬) গ্রন্থটি রূপকের আশ্রয়ে একটি আত্মজীবনীমূলক রচনা।

সূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
১০৫.
'ঘেরাও' শব্দটি কোন রাজনীতিবিদ প্রথম ব্যবহার করেন?
  1. এ কে ফজলুল হক
  2. মাওলানা ভাসানী
  3. হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
  4. সুফিয়া কামাল
ব্যাখ্যা
আব্দুল হামিদ খান ভাসানী:
- ভাসানী ১৮৮০ সালে সিরাজগঞ্জ জেলার ধনপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা ছিলেন হাজী শরাফত আলী খান।
- ১৯১৯ সালে ব্রিটিশ বিরোধী অসহযোগ ও খেলাফত আন্দোলনে যোগদানের মধ্য দিয়ে তাঁর রাজনৈতিক জীবনের সূচনা হয়।
- ব্রহ্মপুত্র নদীর ভাসানচরে বন্যার কবল থেকে বাঙালি কৃষকদের রক্ষার জন্য তিনি স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে একটি বাঁধ নির্মাণ করেন।
- ভাসানচরের জনসাধারণ তাকে ‘ভাসানী সাহেব’ বলে অভিহিত করে এবং পরবর্তীকালে এ উপাধি তাঁর নামের অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়।
- ১৯৩৭ সালে ভাসানী মুসলিম লীগে যোগ দেন।

উল্লেখ্য,
- ১৯৭৬ সালের ১৬ই মে ফারাক্কা বাঁধের বিরুদ্ধে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তের দিকে একটি মিছিলের আয়োজন করেন বাংলাদেশের সুপরিচিত রাজনীতিবিদ মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী।
- এই মিছিল ও সমাবেশ 'ফারাক্কা লংমার্চ' হিসেবে পরিচিত।
- মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী যখন ফারাক্কা লং মার্চের নেতৃত্ব দেন তখন তার বয়স ৯০ বছরের বেশি।
- ১৯৭৬ সালের ১৭ নভেম্বর তাঁর মৃত্যু হয়।

⇒ 'ঘেরাও' শব্দটি মাওলানা ভাসানী প্রথম ব্যবহার করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১০৬.
মুক্তিযুদ্ধকালীন সর্বদলীয় উপদেষ্টা কমিটির আহবায়ক কে ছিলেন?
  1. তাজউদ্দীন আহমেদ
  2. এ. এইচ. এম. কামারুজ্জামান
  3. ক্যাপ্টেন মনসুর আলী
  4. মাওলানা ভাসানী
ব্যাখ্যা
সর্বদলীয় উপদেষ্টা কমিটি:
- মুক্তিযুদ্ধ ছিল একটি জনযুদ্ধ।
- দেশের সর্বস্তরের মানুষ এই যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে।
- মুজিবনগর সরকারকে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ে উপদেশ প্রদান করার জন্য মুক্তিযুদ্ধে সমর্থনদানকারী বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দকে নিয়ে ৮ সদস্য বিশিষ্ট একটি উপদেষ্টা কমিটি গঠিত হয় (৯ সেপ্টেম্বর ১৯৭১)।
- মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী এই কমিটির নেতা।
- এর আহবায়ক ছিলেন তাজউদ্দীন আহমেদ।

⇒ কমিটির অন্যান্য সদস্যরা ছিলেন:
- অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ (মস্কোপন্থী ন্যাপ এর প্রতিনিধি),
- মনিসিংহ (কমিউিনিস্ট পার্টির প্রতিনিধি),
- মনোরঞ্জন ধর (কংগ্রেস দলের নেতা),
- ক্যাপ্টেন মনসুর আলী (আওয়ামী লীগ দলের প্রতিনিধি),
- এ. এইচ. এম. কামারুজ্জামান (আওয়ামী লীগ দলের প্রতিনিধি),
- খন্দকার মোশতাক আহমদ (মুজিবনগর সরকারের প্রতিনিধি)।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
১০৭.
এখন পর্যন্ত (২০২৪) শেখ হাসিনা টানা কতবার প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন?
  1. ৩ বার
  2. ৪ বার
  3. ৫ বার
  4. ৬ বার
ব্যাখ্যা
শেখ হাসিনা:
 
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিবের ৫ সন্তানের মধ্যে জ্যেষ্ঠ শেখ হাসিনা।
- গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়ায় ১৯৪৭ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- শেখ হাসিনা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৭৩ সালে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন।
- ছাত্রজীবন থেকেই শেখ হাসিনা সকল গণআন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।
- ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে পরিবারের অধিকাংশ সদস্যসহ নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।
- শেখ হাসিনা ও তাঁর ছোটবোন শেখ রেহানা সে সময় পশ্চিম জার্মানিতে অবস্থান করায় বেঁচে যান।
- ১৯৮০ সালে ইংল্যান্ডে থেকে তিনি স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন শুরু করেন।
- ১৯৮১ সালে শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে তাঁকে সর্বসম্মতিক্রমে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত করা হয়।
- ছয় বছরের নির্বাসিত জীবন শেষ করে অবশেষে তিনি ১৯৮১ সালের ১৭ মে দেশে ফিরে আসেন।
- তিনি এখন পর্যন্ত (২০২৪) ৫ বার প্রধানমন্ত্রী ও ৮ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।
- এখন পর্যন্ত (২০২৪) শেখ হাসিনা টানা ৪ বার প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন।
- ১৯৯৬, ২০০৮, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনে তিনি প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছিলেন।
- ১৯৮৬, ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১, ২০০৮, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।
 
তথ্যসূত্র - প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ও দৈনিক যুগান্তর।
১০৮.
এ.কে. ফজলুল হক কত সালে 'শেরে বাংলা' উপাধিতে ভূষিত হয়েছিলেন?
  1. ১৯৩৭ সালে
  2. ১৯৩৮ সালে
  3. ১৯৩৯ সালে
  4. ১৯৪০ সালে
ব্যাখ্যা
এ.কে. ফজলুল হক:
- একে ফজলুল হকের পুরো নাম আবুল কাশেম ফজলুল হক।
- ্তিনি ছিলেন একজন রাজনীতিবিদ ও জননেতা।
- তিনি ছিলেন কলকাতা করপোশনের প্রথম বাঙালি মুসলমান, বাংলার প্রধানমন্ত্রী, পূর্বপাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী, পুর্ব পাকিস্তানের গভর্ণর, পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
- তিনি ছিলেন অবিভক্ত বাংলার প্রথম মুখ্যমন্ত্রী।
- তিনি বাগ্মী হিসেবে সুপরিচিত ছিলেন।

উল্লেখ্য,
- ১৯১৬ সালে লক্ষ্ণৌ শহরে লীগ কংগ্রেসের যুক্ত অধিবেশনে তিনি যে প্রস্তাব উত্থাপন করেন, তাই বিখ্যাত ‘লক্ষ্ণৌ চুক্তি’ নামে অভিহিত হয়।
- ১৯১৮ সালে ফজলুল হক লিখিত ভারত মুসলিম লীগের দিল্লী অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।
- ১৯৪০ সালে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর সভাপতিত্বে লাহোরে অনুষ্ঠিত নিখিল ভারত মুসলিম লীগের অধিবেশনে জ্বালাময়ী বক্তৃতায় প্রথম পাকিস্তান প্রস্তাব পেশ করেন। তার বক্তৃতায় মুগ্ধ হয়ে পাঞ্জাববাসীরা তাকে ‘শের-ই-বঙ্গাল’ উপাধি দেয়। ‘শের-ই-বঙ্গাল’ অর্থ বাংলার বাঘ। সেই থেকে তিনি শেরে বাংলা নামে পরিচিত।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
১০৯.
হেনরি লুই ডিরোজিও কোন আন্দোলনের প্রবক্তা?
  1. নিউ ক্যালকাটা আন্দোলন
  2. জাগো কলকাতা
  3. ইয়াং বেঙ্গল আন্দোলন
  4. রিক্লেম দ্য নাইট
ব্যাখ্যা
ডিরোজিও ও ইয়াং বেঙ্গল মুভমেন্ট: 
- হেনরি লুই ডিরোজিও ১৮০৯ সালের ১৮ই এপ্রিল কোলকাতা শহরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা ছিলেন পর্তুগিজ এবং মা ছিলেন বাঙালি।
- ডিরোজিও ইংরেজি শিক্ষার স্কুল ডেভিড ড্রামন্ডের ধর্মতলা একাডেমিতে পড়ালেখা শুরু করেন।
- এই শিক্ষকের আদর্শ ডিরোজিওকে তাঁর শিশুকাল থেকে মৃত্যু পর্যন্ত প্রভাবিত করে রেখেছিল।
- তিনি বাঙালি যুব সমাজের মধ্যে আলোড়ন সৃষ্টিকারী 'ইয়াং বেঙ্গল' আন্দোলনের প্রবক্তা।
- বয়সে তরুণ হলেও তিনি ইতিহাস, ইংরেজি, সাহিত্য, দর্শন শাস্ত্রে গভীর জ্ঞানের অধিকারী ছিলেন।
- তাঁর দূরদৃষ্টি, বাগ্মিতা ও বিশ্লেষণ ক্ষমতা তৎকালীন তরুণ সমাজকে ব্যাপক প্রভাবিত করতে সক্ষম হয়েছিল।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
১১০.
”তারিখ-ই-মুহাম্মদিয়া” কার নেতৃত্বে পরিচালিত হয়েছিলো?
  1. হাজী শরীয়ত উল্লাহ
  2. আহমেদ সৈয়দ খান
  3. মাওলানা আকরাম খাঁ
  4. মীর নিসার আলী
ব্যাখ্যা

• তিতুমীর:
- মীর নিসার আলী ওরফে তিতুমীর চব্বিশ পরগনা জেলার বারাসাত মহকুমার চাঁদপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- উনিশ শতকে ভারতবর্ষে মুসলমান সমাজে এক ধর্মীয় সংস্কার আন্দোলনের সূত্রপাত হয়েছিল।
- বাংলায় তার দুইটি ধারা প্রবহমান ছিল।
- যার একটি ওয়াহাবি বা মুহাম্মদিয়া আন্দোলন, অপরটি ফরায়েজি আন্দোলন নামে খ্যাত।
- উভয় আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্য ছিল ধর্মীয় কুসংস্কার দূর করে মুসলিম সমাজ সংস্কার করা।
- বাংলার ওয়াহাবিরা তিতুমিরের নেতৃত্বে সংগঠিত হয়েছিল।
- তিতুমিরের নেতৃত্বে পরিচালিত তারিখ-ই-মুহাম্মদিয়া বা ওয়াহাবি আন্দোলন ছিল উত্তর ভারতের সৈয়দ আহমদ শহীদের ভাবধারায় অনুপ্রাণিত।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা বোর্ড বই, নবম ও দশম শ্রেণি।

১১১.
রাজা রামমোহন রায় কী উদ্দেশ্যে 'আত্মীয় সভা' গঠন করেন?
  1. সামাজিক ও রাজনৈতিক সংস্কার বৃদ্ধির জন্য
  2. ব্রাহ্মণসেবধি পারস্পারিক সম্পর্ক বৃদ্ধির জন্য
  3. নিজ ধর্মীয় মতবাদ প্রচারের জন্য
  4. জনগণকে নিজের মত চাপিয়ে দেওয়ার জন্য
ব্যাখ্যা
•রাজা রামমোহন রায়:
- রাজা রামমোহন রায় ছিলেন সমাজ, শিক্ষা ও ধর্ম সংস্কারক।
- তিনি আধুনিক ভারতের রূপকার রাজা রামমোহন রায়।
- হিন্দুধর্মের সংস্কার তথা নিজ ধর্মীয় মতবাদ প্রচারের উদ্দেশ্যে ‘আত্মীয় সভা’ নামে একটি সমিতি গঠন করেন।
- তিনি হিন্দু সমাজের সতীদাহ, বাল্যবিবাহ, কৌলিন্যস প্রথা, মূর্তিপূজা ও অন্যান্য কুসংস্কার দূর করে আদি একেশ্বরবাদের ভিত্তিতে হিন্দুধর্ম পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে সচেষ্ট হন।
- ১৮২৮ খ্রিস্টাব্দে ২০ আগস্ট তিনি ব্রাহ্মসমাজের উপাসনালয় স্থাপন করেন।
- ১৯২৩ খ্রিস্টাব্দে প্রস্তাবিত সরকারি সংস্কৃত কলেজের প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেন।
- বাংলার নবজাগরণের স্রষ্টা ভারতের প্রথম আধুনিক পুরুষ ছিলেন রাজা রামমোহন রায়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১২.
অবিভক্ত বাংলার প্রথম মুখ্যমন্ত্রী কে ছিলেন?
  1. হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
  2. এ.কে. ফজলুল হক
  3. খাজা নাজিমুদ্দিন
  4. মোহাম্মদ আলী
ব্যাখ্যা

এ.কে. ফজলুল হক:
- আবুল কাশেম ফজলুল হক ছিলেন একজন রাজনীতিবিদ ও জননেতা।
- তিনি ছিলেন কলকাতা করপোশনের প্রথম বাঙালি মুসলমান, বাংলার প্রধানমন্ত্রী, পূর্বপাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী, পুর্ব পাকিস্তানের গভর্ণর, পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
- তিনি ছিলেন অবিভক্ত বাংলার প্রথম মুখ্যমন্ত্রী।
- আবুল কাশেম ফজলুল হক বাগ্মী হিসেবে সুপরিচিত ছিলেন।
- ১৯১৬ সালে লক্ষ্ণৌ শহরে লীগ কংগ্রেসের যুক্ত অধিবেশনে তিনি যে প্রস্তাব উত্থাপন করেন, তাই বিখ্যাত ‘লক্ষ্ণৌ চুক্তি’ নামে অভিহিত হয়।
- ১৯১৮ সালে ফজলুল হক লিখিত ভারত মুসলিম লীগের দিল্লী অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।
- ১৯৪০ সালে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর সভাপতিত্বে লাহোরে অনুষ্ঠিত নিখিল ভারত মুসলিম লীগের অধিবেশনে জ্বালাময়ী বক্তৃতায় প্রথম পাকিস্তান প্রস্তাব পেশ করেন। তার বক্তৃতায় মুগ্ধ হয়ে পাঞ্জাববাসীরা তাকে ‘শের-ই-বঙ্গাল’ উপাধি দেয়। ‘শের-ই-বঙ্গাল’ অর্থ বাংলার বাঘ। সেই থেকে তিনি শেরে বাংলা নামে পরিচিত।
- ১৯১২ সালে ফজলুল হক কলকাতায় "কেন্দ্রীয় জাতীয় মুসলিম শিক্ষা সমিতি" (Central Muslim Educational Association) গঠন করেন। এই শিক্ষা সমিতির মাধ্যমে তিনি মুসলমানদের শিক্ষাকে স্তরে স্তরে এগিয়ে নিয়েছিলেন।
- আবুল কাশেম ফজলুল হকের প্রচেষ্টায় ১৯১৬ সালে কলকাতায় 'বেকার হোস্টেল' ও 'কারমাইকেল হোস্টেল' প্রতিষ্ঠিত হয়।

উৎস: i) সিভিক এডুকেশন-২, বিএসএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
         ii) সমাজকল্যাণ ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১১৩.
'ব্রাহ্মসমাজ' নিম্নের কে প্রতিষ্ঠা করেন?
  1. রাজা রামমোহন রায়
  2. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  3. দেবেন্দ্রনাথ
  4. দাদাভাই নওরোজী
ব্যাখ্যা
ব্রাহ্মসমাজ:
- ১৮২৮ সালে রাজা রামমোহন রায় ব্রাহ্মসভা (পরবর্তীসময়ে ব্রাহ্মসমাজ) প্রতিষ্ঠা করেন। 
- 'ব্রাহ্মসমাজ প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য পাশ্চাত্য ধ্যান-ধারণার সংস্পর্শে এসে রাজা রামমোহন রায় হিন্দু ধর্মের প্রচলিত মূর্তি পূজা ও আচার অনুষ্ঠানের সমালোচনা করেন এবং একেশ্বরবাদের প্রতি অনুরক্ত হয়ে ওঠেন।
- এই সভায় বেদ, উপনিষদ পাঠ করার ব্যবস্থা হয়।

রাজা রামমোহন রায়
:
- ভারতীয় নবজাগরণের অগ্রদূত রাজা রামমোহন রায়।
- ১৭৭৪ খ্রিস্টাব্দে হুগলী জেলার রাধানগর গ্রামে রাজা রামমোহন রায় জন্ম গ্রহন করেন।
- তিনি সুফি মতবাদে বিশেষভাবে প্রভাবিত ছিলেন।
- তিনি বেদান্তসূত্র বেদান্তসারসহ উপনিষদের অনুবাদ প্রকাশ করেন।
- তিনি হিন্দু সমাজের সতীদাহ, বাল্যবিবাহ, কৌলিন্য প্রথা, মূর্তিপুজা ও অন্যান্য কুসংস্কার দূর করে।
- আদি একেশ্বরবাদের ভিত্তিতে হিন্দুধর্ম পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে সচেষ্ট হন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১১৪.
বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী কে ছিলেন?
  1. তাজউদ্দিন আহমদ
  2. সৈয়দ নজরুল ইসলাম
  3. এএইচএম কামারুজ্জামান
  4. এম মনসুর আলী
ব্যাখ্যা
তাজউদ্দিন আহমদ: 
- তাজউদ্দিন আহমদ (১৯২৫-১৯৭৫) আইনজীবী, রাজনীতিক এবং বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী।
- গাজীপুর জেলার কাপাসিয়া থানার দরদরিয়া গ্রামে ১৯২৫ সালের ২৩ জুলাই তাঁর জন্ম।
- তাজউদ্দিন আহমদ ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্ট প্রার্থী হিসেবে কাপাসিয়া থেকে পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। 
- ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসাবে তিনি জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন।
- ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকবাহিনী গণহত্যা শুরু করলে তিনি তাঁর কতিপয় সহকর্মী সহ ঢাকা ত্যাগ করে ভারত গমন করেন।
 ১০ এপ্রিল প্রবাসী বাংলাদেশ সরকার গঠিত হলে তিনি এ সরকারের প্রধানমন্ত্রী হন এবং মুক্তিযুদ্ধ সংগঠিত করেন।
- মুক্তিবাহিনীর জন্য অস্ত্র সংগ্রহ ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে আন্তর্জাতিক সমর্থন লাভের ক্ষেত্রে তিনি বিশেষ ভূমিকা পালন করেন।
- মুক্তিযুদ্ধে চূড়ান্ত বিজয়ের পর ১৯৭১ সালের ২২ ডিসেম্বর তিনি স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করেন এবং সদ্য স্বাধীন দেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
- এরপর নতুন মন্ত্রিসভা গঠিত হলে (১৯৭২) তাজউদ্দিন আহমদ প্রথমে অর্থ এবং পরে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রীর দায়িত্ব লাভ করেন।
- বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়ন কমিটির সদস্য হিসেবে তিনি সংবিধান প্রণয়নে বিশিষ্ট ভূমিকা রাখেন। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 
১১৫.
'শহীদ জননী' হিসেবে খ্যাত কে?
  1. কামিনী রায়
  2. সুফিয়া কামাল
  3. জাহানারা ইমাম
  4. নীলিমা ইব্রাহিম
ব্যাখ্যা
• জাহানারা ইমাম:
- জাহানারা ইমাম (১৯২৯-১৯৯৪) ছিলেন একজন বাংলাদেশি কথাসাহিত্যিক এবং শিক্ষাবিদ।
- তিনি 'শহীদ জননী' হিসেবে খ্যাত।
- তিনি ক্র্যাক প্লাটুনের সদস্য শহীদ শফি ইমাম রুমীর মা।
- একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন জাহানারা ইমাম।
- ১৯৯২-এর ১৯ জানুয়ারি দেশের ১০১ জন বরেণ্য নাগরিক একটি ঘোষণায় স্বাক্ষর করে গঠন করেছিলেন 'একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি'।
- মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সকল বরেণ্য বুদ্ধিজীবী, সংস্কৃতিকর্মী, রাজনৈতিক দল ও কর্মিবৃন্দ, দেশপ্রেমিক তরুণ সমাজ এবং প্রজন্ম '৭১ তাঁর আহবানে এগিয়ে আসেন।
- জাহানারা ইমাম ১৯৭১-এর স্বাধীনতাবিরোধী চক্রের বিরুদ্ধে গণ-আদালত গড়ে তোলেন।
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের উপর স্মৃতিচারণমূলক তাঁর অসাধারণ ডায়েরি গ্রন্থ 'একাত্তরের দিনগুলি'।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া।
১১৬.
কাগমারী সম্মেলনের আহ্বায়ক ছিলেন কে?
  1. হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
  2. বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
  3. মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী
  4. শেরে বাংলা এ, কে, ফজলুল হক
ব্যাখ্যা
কাগমারী সম্মেলন:
- ১৯৫৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত হয় কাগমারী সম্মেলন।
- টাঙ্গাইল জেলার সন্তোষে এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
- সম্মেলনের আহ্বায়ক ছিলেন মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী।
- প্রধান অতিথি ছিলেন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী।
- কাগমারী সম্মেলন পূর্ব বাংলা তথা আজকের বাংলাদেশের প্রথম আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক এবং রাজনৈতিক সম্মেলনে রূপ নেয়।

উল্লেখ্য যে,
- কাগমারী সম্মেলনের মাত্র স্বল্প সময়ের মাথায় আওয়ামী লীগ থেকে পদত্যাগ করে মওলানা ভাসানীর নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠিত হয় ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-ন্যাপ।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া।
১১৭.
কার নেতৃত্বে তিতুমীরের বাঁশের কেল্লায় আক্রমণ চালানো হয়?
  1. কর্নেল স্টুয়ার্ট
  2. ওয়ারেন হেস্টিংস
  3. কর্নেল পাওয়েল
  4. কর্নেল স্টিফেন
ব্যাখ্যা
• তিতুমীর:
- তিতুমীর ১৭৮২ সালের ২৭ জানুয়ারি (১৪ মাঘ ১১৮২ বঙ্গাব্দ) ২৪ পরগনা জেলার বসিরহাট মহকুমার চাঁদপুর (মতান্তরে হায়দরপুর) গ্রামে একটি সুন্নী মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- সেখান থেকে এসে (১৮২৭) তিতুমীর তার গ্রামের দরিদ্র কৃষকদের সাথে নিয়ে জমিদার এবং ব্রিটিশ নীলকদের বিরুদ্ধে সংগঠিত হয়ে আন্দোলন শুরু করেন।
- ১৮৩১ সালের ২৩শে অক্টোবর বারাসতের কাছে বাদুড়িয়ার ১০ কিলোমিটার দূরে নারিকেলবাড়িয়া গ্রামে তারা বাঁশের কেল্লা তৈরি করেন।
 - ১৮৩১ সালের ১৯ নভেম্বর লে. কর্নেল স্টুয়ার্টের নেতৃত্বাধীন বাহিনীর সাথে যুদ্ধে কামানের গোলায় তার বাঁশেরকেল্লা ধ্বংস হয়ে যায় এবং তিনিসহ তার বহু অনুসারী শহিদ হন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণী এবং বাংলাপিডিয়া।
১১৮.
মুসলিম নারী জারণের অগ্রদূত বলা হয় কাকে?
  1. বেগম রোকেয়া
  2. বেগম সুফিয়া কামাল
  3. জাহানারা ইমাম
  4. নবাব ফয়জুন্নেসা
ব্যাখ্যা
⇒ মুসলিম নারী জারণের অগ্রদূত বলা হয় বেগম রোকেয়াকে।

বেগম রোকেয়া:
- ১৮৮০ খ্রিস্টাব্দে রংপুর জেলার মিঠাপুকুর উপজেলার পায়রাবন্দ গ্রামে বেগম রোকেয়া জন্মগ্রহন করেন।
- তাঁর পিতার নাম জহিরুদ্দীন মোহাম্মদ আবু আলী সাবের ও মায়ের নাম মোসাম্মৎ বাহাতননেসা সাবেরা চৌধুরী।
- বেগম রোকেয়া তাঁর বড় ভাই ইবরাহিম সাবের এবং বড় বোন করিমুন্নেসার কাছে শিক্ষা লাভ করেন।
- বিবাহিত জীবনে তিনি তাঁর স্বামীর কাছ থেকে জ্ঞান চর্চায় উৎসাহ লাভ করেছিলেন।
- স্বামীর মৃত্যুর পর তিনি তাঁর জীবনের বাকি সময় নারী শিক্ষা আর সমাজসেবায় ব্যয় করেন।
- তিনি স্বামীর নামে ভাগলপুরে একটি প্রাথমিক বালিকা বিদ্যালয় স্থাপন করেন।
- ১৯১১ খ্রিস্টাব্দে তিনি কোলকাতায় সাখাওয়াত মেমোরিয়াল উর্দু প্রাইমারি স্কুল স্থাপন করেন।
- ১৯৩১ খ্রিস্টাব্দে এটি উচ্চ ইংরেজি গার্লস স্কুলে উন্নিত হয়।
- মুসলমান নারী মুক্তি আন্দোলনের পথিকৃৎ বেগম রোকেয়ার মনে নারীর প্রতি সমাজের নানা অত্যাচার ও অসহিষ্ণুতার বিরুদ্ধে ছিল তীব্র বিদ্রোহের সুর।
- তিনি তাঁর কর্মের মধ্যে তার প্রকাশ ঘটিয়েছেন।
- ১৯৩২ খ্রিস্টাব্দে এই মহীয়সী নারী কোলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১৯.
মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী মারা যান কবে?
  1. ১৯৭৫ সালে
  2. ১৯৭৬ সালে
  3. ১৯৭৭ সালে
  4. ১৯৭৮ সালে
ব্যাখ্যা

মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী:
- ভাসানী ১৮৮০ সালে সিরাজগঞ্জের ধানগড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৯১৯ সালে ব্রিটিশ বিরোধী অসহযোগ ও খেলাফত আন্দোলনে যোগদানের মধ্য দিয়ে তাঁর রাজনৈতিক জীবনের সূচনা হয়।
- পরে তিনি টাঙ্গাইল জেলার সন্তোষে গিয়ে তথাকার অত্যাচারিত কৃষকদের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন।
- ১৯৩৭ সালে ভাসানী মুসলিম লীগে যোগ দেন এবং অচিরেই দলের আসাম শাখার সভাপতি নির্বাচিত হন।

- ১৯৪৯ সালে পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ নামে একটি নতুন রাজনৈতিক দল জন্মলাভ করে।
- নবগঠিত আওয়ামী মুসলিম লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হন মাওলানা ভাসানী, এবং টাঙ্গাইলের শামসুল হক হন সাধারণ সম্পাদক।
- আওয়ামী মুসলিম লীগের সভাপতি হিসেবে ভাসানী তখনকার বিরোধী দল নিয়ে  যুক্তফ্রন্ট নামে একটি মোর্চা গঠন করেন।
- এ মোর্চার অপরাপর নেতা ছিলেন এ কে ফজলুল হক, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, শেখ মুজিবুর রহমান ও হাজী মোহাম্মদ দানেশ।

- মওলানা ভাসানী ফারাক্কা চুক্তিকে বাংলাদেশের স্বার্থের পরিপন্থি বলে মনে করেন।
- তিনি ১৯৭৬ সালের ১৬ মে রাজশাহী থেকে ফারাক্কা অভিমুখে এক লং মার্চে নেতৃত্ব দেন।
- ১৯৭৬ সালের ১৭ নভেম্বর তাঁর মৃত্যু হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।

১২০.
কার নেতৃত্বে ঐতিহাসিক সলঙ্গা বিদ্রোহ সংঘটিত হয়?
  1. হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
  2. মাওলানা আবদুর রশিদ তর্কবাগীশ
  3. মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী
  4. শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক
ব্যাখ্যা
মাওলানা আবদুর রশিদ তর্কবাগীশ-এর নেতৃত্বে ঐতিহাসিক সলঙ্গা বিদ্রোহ সংঘটিত হয়। 

সলঙ্গা বিদ্রোহ:

- ১৯২২ সালের ২৭ জানুয়ারি তরুণ নেতা মাওলানা আবদুর রশীদ তর্কবাগীশ-এর নেতৃত্বে তৎকালীন পাবনা জেলার সিরাজগঞ্জ মহকুমার সলঙ্গা হাটে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের সূচনা ঘটে।
- আন্দোলনরত জনতার ওপর নির্বিচারে গুলিবর্ষণ করে ব্রিটিশ পুলিশ, নিহত হন কয়েক শ মানুষ।
- নিহতদের ব্রিটিশ পুলিশ সিরাজগঞ্জের রহমতগঞ্জে গণকবর দেয়।

⇒ বিদেশি পণ্য বর্জন ও স্বদেশি পণ্য ব্যবহার করার আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে ১৯২২ সালের ২৭ জানুয়ারি সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জের সলঙ্গা হাটে গণহত্যা সংঘটিত হয়।
- যুবনেতা মাওলানা আবদুর রশীদ তর্কবাগীশের নেতৃত্বে সলঙ্গা এলাকায় 

⇒ মূলত জালিয়ান ওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা থেকে সূত্রপাত হয় ভারতবর্ষে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের। জালিয়ান ওয়ালাবাগের পথ ধরে ব্রিটিশ বেনিয়াদের নৃশংসতার আরেক রক্তাক্ত অধ্যায় রচিত হয় সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায়।

⇒ ২৭ জানুয়ারি ঐতিহাসিক সলঙ্গা বিদ্রোহ দিবস পালিত হয়।

উল্লেখ্য,
• আবদুর রশীদ তর্কবাগীশ:
- মওলানা আবদুর রশীদ তর্কবাগীশ একজন রাজনীতিক। 
- তর্কবাগীশ জন্মেছিলেন ১৯০০ সালের ২৭ নভেম্বরে সলঙ্গাতে।
- স্থানীয় ডায়মন্ড জুবিলী হাইস্কুলে এন্ট্রান্স ক্লাসে অধ্যয়নকালে তিনি খিলাফত ও অসহযোগ আন্দোলনে (১৯২০-২২) যোগ দেন।
- লাহোরের এরশাদ ইসলামিয়া কলেজে বিতর্ক প্রতিযোগিতায় সেরা বাগ্মীর স্বীকৃতি লাভ করার পরে তিনি ‘তর্কবাগীশ’ হিসেবে পরিচিত হন।
- ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্টের প্রার্থী হিসেবে তিনি প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য এবং ১৯৫৬ সালে আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থী হিসেবে পাকিস্তান গণপরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। 
- তিনি ১৯৫৭ থেকে ১৯৬৬ সাল পর্যন্ত পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন।
- ১৯৬৯-এর গণআন্দোলনের পর তিনি ছয়দফা-পন্থি আওয়ামী লীগে প্রত্যাবর্তন করেন।
- ১৯৭২ সালে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় সংসদ অধিবেশনে মাওলানা সভাপতিত্ব করেন।
- ১৯৮৬ সালের ২০ আগস্ট ঢাকায় তার মৃত্যু হয়।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) প্রথম আলো।
১২১.
হাজী শরীয়তউল্লাহর সংস্কার আন্দোলনের নাম কী ছিল?
  1. ইসলামিক আন্দোলন
  2. ওয়াহাবী আন্দোলন
  3. ফরায়েজি আন্দোলন
  4. তারিখ-ই-মুহাম্মদিয়া
ব্যাখ্যা
ফরায়েজি আন্দোলন: 
- ফরায়েজি আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা হাজী শরীয়তউল্লাহ
- তিনি বৃহত্তর ফরিদপুরের মাদারীপুর জেলার শাসশাইল গ্রামে ১৭৮২ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি দীর্ঘ বিশ বছর মক্কায় অবস্থান করেন।
- সেখানে তিনি ইসলাম ধর্মের ওপর লেখাপড়া করে অগাধ পাণ্ডিত্য অর্জন করেন।
- দেশে ফিরে তিনি বুঝতে পারেন যে, বাংলার মুসলমানরা ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা থেকে অনেক দূরে সরে গেছে।
- তাদের মধ্যে অনৈসলামিক রীতিনীতি, কুসংস্কার, অনাচার প্রবেশ করেছে।
- ইসলাম ধর্মকে কুসংস্কার আর অনাচারমুক্ত করতে তিনি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হন।
- এই প্রতিজ্ঞার বশবর্তী হয়ে উনিশ শতকের প্রথমার্ধে তিনি এক ধর্মীয়-সামাজিক সংস্কার আন্দোলনের সূত্রপাত করেন।
- হাজী শরীয়তউল্লাহর এই ধর্মীয় সংস্কার আন্দোলনের নামই 'ফরায়েজি আন্দোলন'।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড  বই।
১২২.
"বঙ্গীয় কৃষক পার্টি" গঠন করেন কে?
  1. দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাস
  2. আব্দুল হামিদ খান ভাসানী
  3. এ. কে. ফজলুল হক
  4. হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
ব্যাখ্যা
ফজলুল হকের অবদান:
- 'বঙ্গীয় কৃষক পার্টি' গঠন করেন শেরে বাংলা এ, কে, ফজলুল হক।
- ১৯২৭ সালে তিনি এই পার্টি গঠন করেন।

উল্লেখ্য, 
- ১৯০৬ সালে ঢাকায় নিখিল ভারত মুসলিম শিক্ষা সম্মেলনের তিনি অন্যতম সংগঠক ছিলেন।
- ১৯১২ সালে তার বলিষ্ঠ উদ্যোগে “কেন্দ্রীয় জাতীয় মুসলিম শিক্ষা সমিতি” গঠিত হয়। এই সমিতির উদ্দেশ্য ছিল মেধাবী ও দরিদ্র শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করা এবং তাদের জন্য বৃত্তি, অনুদান প্রভৃতির ব্যবস্থা করা।
- ১৯২০ সালে আলীগড় ও ১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় তিনি প্রভূত অবদান রাখেন।

সূত্র: সমাজকল্যাণ ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাপিডিয়া।
১২৩.
নিম্নের কোন জন 'The Grand Old Man of India' নামে পরিচিত?
  1. মহাত্মা গান্ধী
  2. দাদাভাই নওরোজী
  3. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  4. জওহরলাল নেহরু
ব্যাখ্যা
দাদাভাই নওরোজী:
- দাদাভাই নওরোজি ছিলেন একজন ভারতীয় জাতীয়তাবাদী এবং ভারতে ব্রিটিশ অর্থনৈতিক নীতির সমালোচক।
- ভারতীয়দের মধ্যে তিনিই প্রথম ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সদস্য।
- 'The Grand Old Man of India' হিসাবে পরিচিত ছিলেন দাদাভাই নরোজি।
- ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসে ১৮৮৬, ১৮৯৩ এবং ১৯০৬ সালে তিনি সভাপতি ছিলেন।

উল্লেখ্য,
- ১৮৫৫ সালে দাদাভাই নওরেজি প্রথম বারের মতো ব্রিটেন সফরে আসেন।
- ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সদস্য হওয়ার জন্য তার মধ্যে যে আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়, তার মূলে ছিল ভারতের দারিদ্র।

উৎস: Britannica.
১২৪.
অবিভক্ত বাংলার প্রথম মুখ্যমন্ত্রী কে ছিলেন?
  1. নবাব আব্দুল লতিফ
  2. এ. কে. ফজলুল হক
  3. সরেন্দ্রনাথ ব্যানার্জী
  4. হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
ব্যাখ্যা
এ.কে. ফজলুল হক:
- আবুল কাশেম ফজলুল হক বাকেরগঞ্জ জেলার দক্ষিণাঞ্চলের বর্ধিষ্ণু গ্রাম সাটুরিয়ায় ১৮৭৩ সালের ২৬ অক্টোবর জন্মগ্রহণ করেন।
- অবিভক্ত বাংলার প্রথম মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন এ.কে. ফজলুল হক।
- শেরে বাংলা এ.কে. ফজলুল হক ছিলেন একজন রাজনীতিবিদ ও জননেতা।
- তিনি কলকাতার মেয়র হোন ১৯৩৫ সালে।
- তাঁর নেতৃত্বে ১৯৩৫ সালে কৃষক প্রজা পার্টি গঠিত হয়।
- অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী (১৯৩৭-১৯৪৩) এবং পূর্ব বাংলার মুখ্যমন্ত্রী (১৯৫৪) ছিলেন।
- তিনি পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী (১৯৫৫) এবং পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নরের পদ (১৯৫৬-১৯৫৮) সহ বহু উঁচু রাজনৈতিক পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন।
- ১৯৬২ সালের ২৭ এপ্রিল ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
১২৫.
অবিভক্ত বাংলার শেষ মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন কে?
  1. এ. কে. ফজলুল হক
  2. খাজা নাজিমউদ্দিন
  3. হোসেন শহীদ সোহ্‌রাওয়ার্দী
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
হোসেন শহীদ সোহ্‌রাওয়ার্দী:
- তিনি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন ১৮৯২ সালে।
- সোহ্‌রাওয়ার্দী অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি.এস.সি (সম্মান) ও বি.সি.এল ডিগ্রি লাভ করেন এবং পরে লন্ডনের গ্রেইজ ইন থেকে ব্যরিস্টার-এট-ল সম্পন্ন করেন।
- ১৯২০ সালে ইংল্যান্ড থেকে ভারতে ফিরেই তিনি রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করেন।
- তিনি ১৯২৪ সালে কলকাতা কর্পোরেশনের ডেপুটি মেয়র, ১৯৩৭ সালের নির্বাচনোত্তর ফজলুল হক কোয়ালিশন মন্ত্রিসভার শ্রম ও বাণিজ্য মন্ত্রী, ১৯৪৩-১৯৪৫ সালে খাজা নাজিমউদ্দীন মন্ত্রিসভায় বেসামরিক সরবরাহ মন্ত্রী, ১৯৪৬-৪৭ সালে অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী, পাকিস্তান আমলে ১৯৫৪-৫৫ সালে মোহাম্মদ আলীর মন্ত্রিসভায় আইনমন্ত্রী এবং ১৯৫৬-১৯৫৭ সালে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন।
- হোসেন শহীদ সোহ্‌রাওয়ার্দী ছিলেন অবিভক্ত বাংলার শেষ মুখ্যমন্ত্রী।
- প্রথম ও প্রধান বিরোধীদল আওয়ামী মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও সোহ্‌রাওয়ার্দীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।
- ১৯৫৫ সালের ২২শে সেপ্টেম্বর শহীদ সোহরাওয়ার্দী দলের নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব করলে সর্ব সম্মতিক্রমে তা গৃহীত হয়।
- পাকিস্তানে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (এন.ডি.এফ) গঠন করে তিনি ১৯৬২-৬৩ সালের আইয়ুব-বিরোধী সম্মিলিত জোটের আন্দোলনে মুখ্য ভূমিকা পালন করেন।
- সোহ্‌রাওয়ার্দী ১৯৬৩ সালের ৫ ডিসেম্বর মৃত্যুবরণ করেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া ও পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র এইচ এস সি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং আওয়ামী লীগের ওয়েবসাইট।
১২৬.
শেরে বাংলা এ.কে. ফজলুল হক কত সালে "কেন্দ্রীয় জাতীয় মুসলিম শিক্ষা সমিতি" গঠন করেন?
  1. ১৯১২ সালে
  2. ১৯১৬ সালে
  3. ১৯২১ সালে
  4. ১৯২৬ সালে
ব্যাখ্যা
এ.কে. ফজলুল হক:
- আবুল কাশেম ফজলুল হক ছিলেন একজন রাজনীতিবিদ ও জননেতা।
- তিনি ছিলেন কলকাতা করপোশনের প্রথম বাঙালি মুসলমান, বাংলার প্রধানমন্ত্রী, পূর্বপাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী, পুর্ব পাকিস্তানের গভর্ণর, পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
- তিনি ছিলেন অবিভক্ত বাংলার প্রথম মুখ্যমন্ত্রী।
- আবুল কাশেম ফজলুল হক বাগ্মী হিসেবে সুপরিচিত ছিলেন।

উল্লেখ্য,
- ১৯১৬ সালে লক্ষ্ণৌ শহরে লীগ কংগ্রেসের যুক্ত অধিবেশনে তিনি যে প্রস্তাব উত্থাপন করেন, তাই বিখ্যাত ‘লক্ষ্ণৌ চুক্তি’ নামে অভিহিত হয়।
- ১৯১৮ সালে ফজলুল হক লিখিত ভারত মুসলিম লীগের দিল্লী অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।
- ১৯৪০ সালে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর সভাপতিত্বে লাহোরে অনুষ্ঠিত নিখিল ভারত মুসলিম লীগের অধিবেশনে জ্বালাময়ী বক্তৃতায় প্রথম পাকিস্তান প্রস্তাব পেশ করেন। তার বক্তৃতায় মুগ্ধ হয়ে পাঞ্জাববাসীরা তাকে ‘শের-ই-বঙ্গাল’ উপাধি দেয়। ‘শের-ই-বঙ্গাল’ অর্থ বাংলার বাঘ। সেই থেকে তিনি শেরে বাংলা নামে পরিচিত।

⇒ ১৯১২ সালে ফজলুল হক কলকাতায় "কেন্দ্রীয় জাতীয় মুসলিম শিক্ষা সমিতি" (Central Muslim Educational Association) গঠন করেন। এই শিক্ষা সমিতির মাধ্যমে তিনি মুসলমানদের শিক্ষাকে স্তরে স্তরে এগিয়ে নিয়েছিলেন।
- আবুল কাশেম ফজলুল হকের প্রচেষ্টায় ১৯১৬ সালে কলকাতায় 'বেকার হোস্টেল' ও 'কারমাইকেল হোস্টেল' প্রতিষ্ঠিত হয়।

উৎস: i) সিভিক এডুকেশন-২, বিএসএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) সমাজকল্যাণ ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২৭.
কাকে হত্যা চেষ্টার জন্য বিপ্লবী ক্ষুদিরাম বসুর ফাঁসি হয়েছিল?
  1. কিংস ফোর্ড
  2. ব্যামফিল্ড ফুলার
  3. জেনারেল ডায়ার
  4. এন্ড্রু ফ্রেজার
ব্যাখ্যা
ক্ষুদিরাম বসু:

- তিনি ১৮৮৯ সালে মেদিনীপুর জেলার হাবিবপুর গ্রামে ক্ষুদিরামের জন্ম গ্রহণ করেন।
১৯০৩ সালে মেদিনীপুরের ‘কলেজিয়েট’ স্কুলে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত তিনি শিক্ষা লাভ করেন।
১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ বিরোধী ও স্বদেশী আন্দোলন ক্ষুদিরামের মতো স্কুলের ছাত্রদেরও প্রভাবিত করে এবং পরিণামে তিনি পড়াশোনা ছেড়ে সত্যেন বসুর নেতৃত্বে এক গুপ্ত সমিতিতে যোগ দেন।
১৯০৬ সালের মার্চে মেদিনীপুরের এক কৃষি ও শিল্পমেলায় রাজদ্রোহমূলক ইস্তেহার বণ্টনকালে ক্ষুদিরাম প্রথম পুলিশের হাতে ধরা পড়লেও পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।
- পরবর্তী মাসে অনুরূপ এক দুঃসাহসী কর্মের জন্য তিনি পুলিশের হাতে ধরা পড়েন এবং আদালতে বিচারের সম্মুখীন হন।
১৯০৭ সালের ৬ ডিসেম্বর নারায়ণগড় রেল স্টেশনের কাছে বঙ্গের ছোটলাটের বিশেষ রেলগাড়িতে বোমা আক্রমণের ঘটনার সাথে তিনি জড়িত ছিলেন।
বঙ্গভঙ্গ বিরোধী ও স্বদেশী আন্দোলনের কর্মীদের প্রয়োজনভিত্তিক কঠোর সাজা ও দমননীতির কারণে কলকাতার প্রধান প্রেসিডেন্সি ম্যাজিস্ট্রেট কিংসফোর্ড বাঙালিদের অত্যন্ত ঘৃণার পাত্রে পরিণত হয়েছিলেন।
- বিপ্লবীদল ১৯০৮ সালে তাঁকে হত্যার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে এবং প্রফুল্ল চাকী ও ক্ষুদিরামের উপর এ দায়িত্ব পড়ে।
কিংসফোর্ডের গাড়ির মতো অন্য একটি গাড়িতে ভুলবশত বোমা মারলে গাড়ির ভেতরে একজন ইংরেজ মহিলা ও তাঁর মেয়ে মারা যান। এ ঘটনার পর ক্ষুদিরাম ওয়ানি রেলস্টেশনে পুলিশের হাতে ধরা পড়েন।
- তিনি বোমা নিক্ষেপের সমস্ত দায়িত্ব নিজের উপর নিয়ে নেন।
- তাঁকে মৃত্যুদন্ড প্রদান করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য অনুসারে মুজফ্ফরপুর কারাগারে ১৯০৮ সালের ১১ আগস্ট ফাঁসিতে তাঁর মৃত্যৃ হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
১২৮.
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের উদ্যোগে বিধবা বিবাহ আইন কবে প্রবর্তিত হয়?
  1. ১৮৩৫ সালে
  2. ১৮৪৮ সালে
  3. ১৮৫৬ সালে
  4. ১৮৬১ সালে
ব্যাখ্যা

- ইশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের উদ্যোগে বিধবা বিবাহ আইন কবে প্রবর্তিত - ১৮৫৬।

• ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর: 

- জন্ম: ২৬ সেপ্টেম্বর ১৮২০, বীরসিংহ গ্রাম, মেদিনীপুর, 
- পশ্চিমবঙ্গ মৃত্যু: ২৯ জুলাই ১৮৯১, কলকাতা।
- পিতার নাম: ঠাকুরদাস বন্দ্যোপাধ্যায়, মাতার নাম: ভগবতী দেবী।
- উপাধি: “বিদ্যাসাগর” ১৮৩৯ সালে সংস্কৃত কলেজ থেকে।
- পেশা: শিক্ষাবিদ, সমাজ সংস্কারক।

• সমাজ সংস্কার: 
- বিধবা বিবাহ আইন (১৮৫৬) প্রবর্তনের অন্যতম উদ্যোক্তা। 
- বাল্যবিবাহ ও বহুবিবাহ বিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব
- নারীশিক্ষা প্রসারে অগ্রণী ভূমিকা: নদিয়া, হুগলি, বর্ধমান, মেদিনীপুরে স্কুল স্থাপন করেন। 

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া। 

১২৯.
মঙ্গল পান্ডে নামটি কোন বিদ্রোহের সাথে জড়িত?
  1. নাচোল বিদ্রোহ
  2. কৃষক বিদ্রোহ
  3. সিপাহী বিদ্রোহ
  4. নীল বিদ্র্রোহ
ব্যাখ্যা
মঙ্গল পান্ডে:
- মঙ্গল পান্ডে ছিলেন একজন সিপাহি, যার নেতৃত্বে সিপাহি বিদ্রোহ শুরু হয়।
- ১৮৫৭ সালে ইংরেজদের বিরুদ্ধে সিপাহিদের একটি অংশ বিদ্রোহ করে।
- মঙ্গল পাণ্ডের নেতৃত্বে পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগণার ব্যারাকপুরে এই বিদ্রোহ শুরু হয়।
- ‘সিপাহি বিদ্রোহ’ নামে খ্যাত এই বিদ্রোহের মূল উদ্দেশ্য ছিল ইংরেজ শাসনকে হটিয়ে দিয়ে পুরো ভারতকে দখলদার মুক্ত করা।
 
সিপাহী বিদ্রোহ:
- এটি ছিল ব্রিটিশ শাসন অবসানকল্পে ভারতীয়দের প্রথম জাতীয় সংগ্রাম বা ‘স্বাধীনতা লড়াই'।
- ১৮৫৭ সালে এ বিদ্রোহ মিরাট, দিল্লি, বেরলী, ফতেহপুর, কানপুর, বুন্দেল খণ্ড, রোহিলা খণ্ড, এলাহাবাদ, অযোধ্যা, কলকাতা, বিহার, চট্টগ্রাম, ঢাকা, যশোর এবং দিনাজপুর প্রভৃতি অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে।
- বিদ্রোহীরা মোগল সম্রাট ২য় বাহাদুর শাহকে ভারতের বাদশাহ ও বিদ্রোহের নেতা ঘোষণা করে।
- মারাঠা নেতা নানা সাহেব, ঝাঁসির রাণি লক্ষ্মীবাঈ, মৌলভী লিয়াকত আলী, মৌলভী আহম্মদ উল্লাহ প্রমুখ বিদ্রোহে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন।
- সিপাহীরা জেলখানা ভেঙ্গে কয়েদিদের মুক্তি, খাজাঞ্চিখানা লুঠ এবং সর্বত্র ব্রিটিশদের আক্রমণ করে।
- এ লড়াই শুধু সিপাহীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, ভারতের হিন্দু-মুসলমান নির্বিশেষে ব্যাপক গণমানুষ এর প্রতি সমর্থন ও সহানুভূতি প্রকাশ করে।
 
উৎস: ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩০.
হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের নকশাকার কে?
  1. ফয়েজ উল্লাহ
  2. রোহানি বাহারিন
  3. এহসান খান
  4. সব্যসাচী হাজরা
ব্যাখ্যা
হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল:
⇒ ২০১৭ সালে তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণের প্রকল্পটি হাতে নেওয়া হয়।
- এরপর নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০১৯ সালের ২৮ ডিসেম্বর।
- এর নির্মাণকাজ করেছে জাপানের মিতসুবিশি ও ফুজিতা এবং দক্ষিণ কোরিয়ার স্যামসাং।

⇒ ২১ হাজার ৩০০ কোটি টাকারও বেশি ব্যয়ে নির্মিত এই টার্মিনাল।
- জাপানি সহযোগিতা সংস্থা জাইকা ও বাংলাদেশ সরকারের যৌথ উদ্যোগে নির্মিত হয়েছে।
- তৃতীয় টার্মিনালের জন্য সরকার অর্থায়ন করেছে পাঁচ হাজার কোটি টাকা।
- বাকি অর্থ জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি থেকে ঋণ নেওয়া হয়েছে।

⇒ এ ভবনটির নকশা করেছেন রোহানি বাহারিন। 
- তিনি আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন সিঙ্গাপুরের সিপিজি করপোরেশন প্রাইভেট লিমিটেডের স্থপতি।

⇒ ৭ অক্টোবর ২০২৩ সালে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের উদ্বোধন করা হয়।
- বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালে পুরোদমে কার্যক্রম শুরু করতে ২০২৬ সাল লাগতে পারে বলে

⇒ টার্মিনালটির যাত্রী ক্যাপাসিটি ১ কোটি ৬০ লাখ।
- টার্মিনালটির ফ্লোর আয়তন ২ লাখ ৩০ হাজার বর্গ মিটার। 

অন্যদিকে -
- কক্সবাজার স্টেশনটির নকশা করেছেন ফয়েজ উল্লাহ।
- মুজিববর্ষের লোগোর নকশাকার সব্যসাচী হাজরা।
- হাতিরঝিল-এর নকশাকার এহসান খান।

উৎস: i) প্রথম আলো।
ii) The Daily Star Bangla. 
১৩১.
বেঙ্গল রেনেসাঁর ‘ইয়াং বেঙ্গল’ আন্দোলনের প্রবক্তা কে ছিলেন?
  1. হেনরি লুই ডিরোজিও 
  2. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  3. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  4. রাধানাথ সিকদার
ব্যাখ্যা

- বেঙ্গল রেনেসাঁসের 'ইয়াং বেঙ্গল' আন্দোলনের প্রবক্তা হেনরি লুই ডিরোজিও।

• ডিরোজিও ও ইয়াং বেঙ্গল মুভমেন্ট :
- 'রেনেসাঁস যুগে বাঙালি যুব সমাজের মধ্যে আলোড়ন সৃষ্টিকারী 'ইয়াং বেঙ্গল' আন্দোলনের প্রবক্তা ডিরোজিও ১৮০৯ খ্রিস্টাব্দে কলকাতা শহরে জন্ম গ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা ছিলেন পর্তুগিজ এবং মা ছিলেন বাঙালি। 
- ডিরোজিও ইংরেজি শিক্ষার স্কুল ডেভিড ড্রামন্ডের ধর্মতলা একাডেমিতে পড়ালেখা শুরু করেন। 
- এই শিক্ষকের আদর্শ ডিরোজিওকে তাঁর শিশুকাল থেকে মৃত্যু পর্যন্ত প্রভাবিত করে রেখেছিল। 
- বাঙালি যুব সমাজের মধ্যে আলোড়ন সৃষ্টিকারী 'ইয়াং বেঙ্গল' আন্দোলনের প্রবক্তা। 
- বয়সে তরুণ হলেও তিনি ইতিহাস, ইংরেজি, সাহিত্য, দর্শন শাস্ত্রে গভীর জ্ঞানের অধিকারী ছিলেন।
-  ডিরোজিওর অনুসারীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন রামতনু লাহিড়ী, রাধানাথ সিকদার, প্যারিচাঁদ মিত্র, কৃষ্ণমোহন ব্যানার্জি প্রমুখ।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত তাঁর ছাত্র না হলেও তাঁর আদর্শ দ্বারা গভীরভাবে প্রভাবিত হয়েছিলেন। ডিরোজিওর অনুসারীদের আন্দোলন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরকেও প্রভাবিত করেছিল।


তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, ৯ম-১০ শ্রেণি ও লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

১৩২.
'দ্বিজাতি তত্ত্বের' প্রবক্তা কে?
  1. স্যার সৈয়দ আহমদ খান
  2. মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ
  3. এ.কে. ফজলুল হক
  4. নওয়াব সলিমুল্লাহ
ব্যাখ্যা
জিন্নাহর দ্বিজাতি তত্ত্ব:
- জাতিতত্ত্বের বিশ্লেষণে একটি জনগোষ্ঠীকে তখনই জাতি বলা যায়, যার ভাষা, শিক্ষা, সংস্কৃতি, সাহিত্য, মনন, কৃষ্টি, ধর্ম এমনকি অর্থনীতি একটি একক সত্তায় পরিণতি লাভ করে।
- মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ভারতের হিন্দু ও মুসলমান এ দুটি ধর্মীয় সম্প্রদায়কে দুটি পৃথক জাতি হিসেবে চিহ্নিত করেছিলেন। এটিই মূলত জিন্নাহর 'দ্বিজাতি তত্ত্ব'।
- ১৯৩৯ সালে জিন্নাহ্ তাঁর 'দ্বিজাতি তত্ত্ব' ঘোষণা করেন।
- পরবর্তী বছর লাহোরে মুসলিম লীগের ঘোষণায় এরই প্রতিধ্বনি পুনর্ব্যক্ত হয়েছে।
- ১৯৪০ খ্রিস্টাব্দের ২৩ মার্চ লাহোরে অনুষ্ঠিত মুসলিম লীগের অধিবেশনের সভাপতি ছিলেন মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ্।
- এ অধিবেশনেই বাংলার নেতা ও প্রধানমন্ত্রী এ.কে. ফজলুল হক বিখ্যাত লাহোর প্রস্তাব উত্থাপন করেন।
- এতে বলা হয় যে, কোনো শাসনতান্ত্রিক পরিকল্পনা এদেশে কার্যকর বা মুসলমানদের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না যদি একটি নিম্নবর্ণিত মূলনীতির উপর প্রতিষ্ঠিত না হয়।

সূত্র - ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩৩.
বঙ্গবন্ধুর বই কারাগারের রোজনামচা কত সালে প্রকাশিত হয়
  1. ২০১২ সালে
  2. ২০১৪ সালে
  3. ২০১৭ সালে
  4. ২০১৯ সালে
ব্যাখ্যা
বঙ্গবন্ধুর লেখা বইসমূহ:
 
- ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী' বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের লেখা বই।
- বঙ্গবন্ধুর প্রথম বই অসমাপ্ত আত্মজীবনী প্রকাশিত হয় ২০১২ সালে।
- অসমাপ্ত আত্মজীবনী লেখা হয়েছে ১৯৬৭ সালের মাঝামাঝি সময়ে যখন তিনি কারারুদ্ধ ছিলেন।
- আত্মজীবনীর শুরু হয়েছে তাঁর জন্মের সময় থেকে; পাশাপাশি এসেছে পিতৃপুরুষের কথাও। আর বইটি শেষ হয়েছে ১৯৫৪ সালের ঘটনাবলি দিয়ে।
- বঙ্গবন্ধুর বই কারাগারের রোজনামচা ২০১৭ সালে প্রকাশিত হয়।
- এই গ্রন্থের নামকরণ করেছেন শেখ রেহানা। এই বইও বঙ্গবন্ধু কারাগারে বসে রচনা করেন।
- জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জেলখানার জীবনের ওপর লেখা বইয়ের নাম ‘৩০৫৩ দিন’।
- বইটি প্রকাশিত হয় ২০১৮ সালে।
- স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন কারা অধিদপ্তরের ব্যবস্থাপনা এবং জননিরাপত্তা বিভাগের তদারকিতে বইটি প্রকাশিত হয়েছে।
- বঙ্গবন্ধুর লেখা বই আমার দেখা নয়াচীন ২০২০ সালে প্রকাশিত হয়।
- এই বইটিও কারাগারে রাজবন্দী থাকার সময়ে রচিত।
- বঙ্গবন্ধু ১৯৫২ সালের অক্টোবর মাসে চীনের পিকিংয়ে অনুষ্ঠিত এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় আঞ্চলিক শান্তি সম্মেলনে পাকিস্তানের প্রতিনিধি হিসেবে যোগ দেন। সে সময় নয়াচীন দেখার অভিজ্ঞতার আলোকে বইটি রচিত।
 
তথ্যসূত্র - দৈনিক প্রথম আলো, ১৪ই আগস্ট ২০২০ ও দৈনিক কালের কন্ঠ, ৩০ জুলাই, ২০১৮।
১৩৪.
’রাজা রামমোহন রায়’ কোন প্রথা বিলুপ্তিতে নেতৃত্ব দেন?
  1. বহুবিবাহ
  2. বাল্যবিবাহ
  3. সতীদাহ প্রথা
  4. দাসপ্রথা
ব্যাখ্যা

• রাজা রামমোহন রায়: 
- উপাধি: ভারতীয় রেনেসাঁর জনক।
- জন্ম: ২২ মে ১৭৭২/৭৪, রাধানগর, হুগলি, পশ্চিমবঙ্গ
- মৃত্যু: ২৭ সেপ্টেম্বর ১৮৩৩, ব্রিস্টল, ইংল্যান্ড
- পেশা: সমাজ সংস্কারক, চিন্তাবিদ, ভাষাবিদ, ধর্মতত্ত্ববিদ।
 
প্রধান অবদান:
- সতীদাহ প্রথা বিলুপ্তিতে নেতৃত্ব দেন , জাতিভেদ ও কুসংস্কারের বিরুদ্ধে অবস্থান।
- একেশ্বরবাদ প্রচার, প্রতিমা পূজার বিরোধিতা
- আধুনিক শিক্ষার প্রসার, ইংরেজি ও বাংলা ব্যাকরণ রচনা
- ১৮২৮ সালে ব্রাহ্ম সমাজ প্রতিষ্ঠা। 

রাজনৈতিক ও আন্তর্জাতিক ভূমিকা:
- মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় আকবর শাহ কর্তৃক “রাজা” উপাধি লাভ।
- ইউরোপীয় উদার চিন্তাধারার সাথে পরিচিত হয়ে তা ভারতীয় সমাজে প্রয়োগ করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 

১৩৫.
শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের আঁকা চিত্রকর্ম কোনটি?
  1. মনপুরা ৭০
  2. তিনকন্যা
  3. নাইওর
  4. ধানকাটা
ব্যাখ্যা
শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন: 
- শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন জীবনের ২৯ বছর বাংলাদেশের শিল্প আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। 
- ঢাকা আর্ট কলেজ, ময়মনসিংহ জয়নুল সংগ্রহশালা, বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের সূচনা তার হাত ধরেই হয়েছে। 
- বাংলাদেশের চারু ও ব্যবহারিক কারুকলার প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে তাকে গণ্য করা হয়।
- ১৯৪৮ সালে জয়নুল আবেদিন চিত্রশিল্পী আনোয়ারুল হক, কামরুল হাসান, খাজা শফিক আহমেদ, সফিউদ্দীন আহমেদ এবং হাবিবুর রহমানকে নিয়ে জনসন রোডের একটি বিল্ডিং-এ শুরু করেন সরকারি আর্ট ইন্সটিটিউট।
- জয়নুল আবেদিন ১৯৪৩ সালে দুর্ভিক্ষ চিত্রমালার জন্য বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেছেন।
- এ ছাড়াও তার বিখ্যাত শিল্পকর্মগুলোর মধ্যে নৌকা (১৯৫৭), সংগ্রাম(১৯৫৯), বীর মুক্তিযোদ্ধা(১৯৭১), ম্যাডোনা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
- ১৯৭০ সালে তিনি গ্রামবাংলার উৎসব নিয়ে আঁকেন বিখ্যাত ৬৫ ফুট দীর্ঘ ছবি ‘নবান্ন’। 
- ‘সোনার বাংলার শ্মশান’ হওয়ার আখ্যান ছিল ‘নবান্ন’।
- এর পরপরই বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় প্রচন্ড সাইক্লোন ও জলোচ্ছ্বাসের আঘাতে তিন লক্ষাধিক মানুষ প্রাণ হারান। 
- এটি নিয়ে ‘মনপুরা ৭০’ শীর্ষক ৩০ ফুট দৈর্ঘ্যের আরেকটি স্ক্রলচিত্র আঁকেন তিনি।
- এছাড়াও তার ভিন্নধর্মী ছবির মধ্যে আমারা দেখি সাঁওতাল দম্পতি, সাঁওতাল রমণীদ্বয়, মই দেওয়া, সংগ্রাম, বিদ্রোহী, কিংবা কাদায় পড়া কাঠবোঝাই গরুর গাড়ি ঠেলার মতো চিত্রকর্ম।

উল্লেখ্য, 
- তিনকন্যা ও নাইওর কামরুল হাসানের চিত্রকর্ম এবং ধানকাটা এসএম সুলতানের চিত্রকর্ম। 

উৎস: ভয়েস অফ আমেরিকা বাংলা (অক্টোবর ২৬, ২০২৩)।
১৩৬.
ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ কোন জেলায় জন্ম গ্রহণ করেন?
  1. ব্রাহ্মণবাড়ীয়া
  2. ময়মনসিংহ
  3. রংপুর
  4. যশোর
ব্যাখ্যা
ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ:
- তিনি বিশ্ববিখ্যাত সঙ্গীতজ্ঞ।
- ১৮৬২ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর উপজেলার শিবপুর গ্রামে এক সঙ্গীতপরিবারে তাঁর জন্ম।
- তাঁর পিতা সবদর হোসেন খাঁ ওরফে সদু খাঁও ছিলেন বিশিষ্ট সঙ্গীতজ্ঞ।
- মাতার নাম সুন্দরী বেগম।
- তাঁর সঙ্গীতগুরু ছিলেন আগরতলা রাজদরবারের সভাসঙ্গীতজ্ঞ তানসেনের কন্যাবংশীয় রবাবী ওস্তাদ কাশিম আলী খাঁ।
- তিনি দেশিয় বাদ্যযন্ত্রের সমন্বয়ে অর্কেস্ট্রার স্টাইলে একটি যন্ত্রীদল গঠন করে নাম দেন ‘রামপুর স্ট্রিং ব্যান্ড’।
- ব্রিটিশ সরকার তাঁকে ‘খাঁ সাহেব’ উপাধিতে ভূষিত করে।
- অতঃপর ভারত সরকার তাঁকে একে একে ‘সঙ্গীত নাটক আকাদেমী সম্মান’ (১৯৫২), ‘পদ্মভূষণ’ (১৯৫৮) ও ‘পদ্মবিভূষণ’ (১৯৭১), বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় ‘দেশিকোত্তম’ (১৯৬১) এবং দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় ‘ডক্টর অব ল’ উপাধিতে ভূষিত করে।
- তিনি ১৯৭২ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
১৩৭.
কার প্রস্তাবনায় ‘All India Muslim League’ গঠিত হয়?
  1. নবাব সলিমুল্লাহ
  2. আবদুল হামিদ খান ভাসানী
  3. ফজলুল হক
  4. উপরের কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
নবাব সলিমুল্লাহ:
- ঢাকার আহসান মঞ্জিলে ১৮৭১ সালের ৭ জুন নবাব সলিমুল্লাহ জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা এবং পিতামহের নাম যথাক্রমে নওয়াব স্যার খাজা আহসানুল্লাহ ও নওয়াব স্যার খাজা আব্দুল গণি।
- ১৮৯৩ সালে তিনি ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেটের চাকরি নেন।
- ১৯০১ সালে পিতার মৃত্যুর পর জীবিত জ্যেষ্ঠ পুত্র হিসেবে তিনি ঢাকা নওয়াব এস্টেট এর কর্তৃত্ব লাভ করেন।
- ১৯০৬ সালের ৩০ ডিসেম্বর নওয়াব সলিমুল্লাহর প্রস্তাবনায় ‘All India Muslim League’ গঠিত হয়।
- তিনি এর সহ-সভাপতি এবং গঠনতন্ত্র তৈরি কমিটির সদস্য মনোনীত হন।
- লর্ড হার্ডিঞ্জ ঢাকা সফরে এলে নওয়াব সলিমুল্লাহর নেতৃত্বে মুসলিম নেতৃবৃন্দ ১৯১২ সালের ৩১ জানুয়ারি তাঁর কাছে বিভিন্ন দাবি পেশ করেন।
- সেদিনই ঢাকায় একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা এবং মুসলিমদের জন্য একজন শিক্ষা অফিসার নিয়োগের প্রতিশ্রুতি পাওয়া যায়।
- নওয়াব সলিমুল্লাহ ছিলেন একজন দানশীল ব্যক্তি। আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন কর্মকান্ডে তিনি অকাতরে দান করতেন।
- ১৯১৫ সালের ১৬ জানুয়ারি কলকাতার চৌরঙ্গীর বাসভবনে নওয়াব সলিমুল্লাহর মৃত্যু হয়।

তথসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
১৩৮.
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন -
  1. খালেদ মোশাররফ
  2. কে.এম শফিউল্লাহ
  3. আতাউল গণি ওসমানী
  4. জিয়াউর রহমান
ব্যাখ্যা
⇒ জেনারেল আতাউল গণি ওসমানী বাংলাদেশ সশস্ত্রবাহিনী এবং মুক্তিযুদ্ধে মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি।

জেনারেল আতাউল গণি ওসমানী:

- তিনি ১৯১৮ সালে ১ নভেম্বর সুনামগঞ্জে জন্ম গ্রহণ করেন।
- তিনি ১৯৩৪ সালে সিলেট সরকারি হাইস্কুল থেকে প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন এবং ১৯৩৮ সালে আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন।
- তিনি ১৯৩৯ সালের জুলাই মাসে দেরাদুনে ব্রিটিশ ভারতীয় সামরিক একাডেমী থেকে সামরিক কোর্স সম্পন্ন করে রাজকীয় বাহিনীতে কমিশন্ড অফিসার হিসেবে যোগ দেন (অক্টোবর ১৯৪০)।
- ১৯৪৭ সালে সেনাবাহিনীর সিনিয়র অফিসার কোর্স সম্পন্ন করার পর ওসমানী লেফটেন্যান্ট কর্নেল পদে নিয়োগের জন্য মনোনীত হন।
- ভারত বিভাগের পর ১৯৪৭ সালের ৭ অক্টোবর তিনি পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে যোগ দেন এবং পরদিনই লেফটেন্যান্ট কর্নেল পদে উন্নীত হন।
- আতাউল গণি ওসমানী ১৯৭০ সালে আওয়ামী লীগে যোগদান করেন। সত্তরের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী হিসেবে তিনি পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন।
- ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মুজিবনগরে অস্থায়ী বাংলাদেশ সরকার গঠিত হলে ওসমানী বাংলাদেশ সশস্ত্রবাহিনী ও মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি নিযুক্ত হন।
- ১৯৮৪ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
১৩৯.
বাঙালি মুসলমান সমাজে নারীর স্বাতন্ত্র্য ও নারী স্বাধীনতার পক্ষে প্রথম প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর ছিলেন -
  1. জাহানারা ইমাম
  2. সুফিয়া কামাল
  3. বেগম রোকেয়া
  4. সেলিনা হোসেন
ব্যাখ্যা

• রোকেয়া সাখাওয়াৎ হোসেন, 
- রোকেয়া সাখাওয়াৎ হোসেন,  (১৮৮০-১৯৩২)  সাহিত্যিক, শিক্ষাব্রতী, সমাজসংস্কারক এবং নারী জাগরণ ও নারীর অধিকার আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ।
- ১৮৮০ সালের ৯ ডিসেম্বর রংপুর জেলার মিঠাপুকুর থানার অন্তর্গত পায়রাবন্দ ইউনিয়নে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম জমিদার পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা জহীরুদ্দীন মোহাম্মদ আবু আলী হায়দার সাবের এবং মাতা রাহাতুন্নেসা সাবেরা চৌধুরানী।
- বাংলাদেশের নারী আন্দোলনের ইতিহাসে বেগম রোকেয়ার অবদান চিরঅম্লান।
- ১৮৯৮ সালে রোকেয়ার বিয়ে হয় বিহারের ভাগলপুর নিবাসী উর্দুভাষী সৈয়দ সাখাওয়াৎ হোসেনের সঙ্গে।
- তিনি ছিলেন ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট, তদুপরি সমাজসচেতন, কুসংস্কারমুক্ত এবং প্রগতিশীল দৃষ্টিভঙ্গিসম্পন্ন।
- স্বামীর মৃত্যুর পর নিঃসঙ্গ রোকেয়া নারীশিক্ষা বিস্তার ও সমাজসেবায় আত্মনিয়োগ করেন।
- ১৯০৯ সালের ১ অক্টোবর স্বামীর প্রদত্ত অর্থে পাঁচটি ছাত্রী নিয়ে তিনি ভাগলপুরে ‘সাখাওয়াৎ মেমোরিয়াল গার্লস’ স্কুল স্থাপন করেন।  
- মুসলমান মেয়েদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি এবং তাদের অধিকার আদায়ের জন্য ১৯১৬ সালে বেগম রোকেয়া প্রতিষ্ঠা করেন আঞ্জুমানে খাওয়াতীনে ইসলাম  বা মুসলিম মহিলা সমিতি। 
- 'Sultana’s Dream' গ্রন্থটি রোকেয়া নিজেই বাংলায় অনুবাদ করেন সুলতানার স্বপ্ন  নামে।
- এটি একটি প্রতীকী রচনা এবং এতে বর্ণিত Lady Land  বা নারীস্থান মূলত রোকেয়ারই স্বপ্নকল্পনার প্রতীক।
- বাঙালি মুসলমান সমাজে নারীর স্বাতন্ত্র্য ও নারী স্বাধীনতার পক্ষে প্রথম প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর বেগম রোকেয়া।
- বিশ শতকের প্রথম দিকে বাঙালি মুসলমানদের নবজাগরণের সূচনালগ্নে নারীশিক্ষা ও নারী জাগরণে তিনিই প্রধান নেতৃত্ব দেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

১৪০.
হাজী শরিয়ত উল্লাহর মৃত্যুর পর ফরায়েজি আন্দোলনের নেতৃত্বে কে আসেন?
  1. মুহম্মদ মুহসিন উদ্দীন আহমদ
  2. স্যার সৈয়দ আহমদ খান
  3. মজনু শাহ
  4. মাওলানা মুহাম্মদ আলী
ব্যাখ্যা
- হাজী শরিয়ত উল্লাহর মৃত্যুর পরে ফরায়েজি আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন তাঁর যোগ্যপুত্র মুহম্মদ মুহসিন উদ্দীন আহমদ ওরফে দুদু মিয়া।

ফরায়েজী আন্দোলন:
- ফরায়েজী আন্দোলনকে রাজনৈতিক আন্দোলনে রূপদান করেন মুহম্মদ মুহসিন উদ্দীন আহমদ ওরফে দুদু মিয়া।
- ফরায়েজি আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা হাজী শরিয়ত উল্লাহ।
- জী শরিয়ত উল্লাহ বৃহত্তর ফরিদপুরের মাদারীপুর জেলায় ১৭৮২ খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন।
- হাজী শরিয়ত উল্লাহর এই সংস্কার আন্দোলনের নামই ফরায়েজি আন্দোলন।
- ফরায়েজি শব্দটি আরবি ‘ফরজ’ (অবশ্য কর্তব্য) শব্দ থেকে এসেছে।
- যাঁরা ফরজ পালন করে তারাই ফরায়েজি।
- শরিয়ত উল্লাহ যে ফরজের উপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছেন, তা ছিল পবিত্র কুরআনে বর্ণিত পাঁচটি অবশ্যপালনীয় (ফরজ) মৌলনীতি।
- তিনি ভারতবর্ষকে ‘দারুল হারব' অর্থাৎ বিধর্মীর রাজ্য বলে ঘোষণা করেন।
- জমিদার শ্রেণি নানা অজুহাতে ফরায়েজি প্রজাদের উপর অত্যাচার শুরু করলে শরিয়ত উল্লাহ প্রজাদের রক্ষার জন্য লাঠিয়াল বাহিনী গঠনের সিদ্ধান্ত নেন।
- ১৮৩৯ খ্রিস্টাব্দে তার উপর পুলিশি নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।
- ১৮৪০ খ্রিস্টাব্দে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

উল্লেখ্য, 
- ১৮৬২ খ্রিস্টাব্দে দুদু মিয়া মৃত্যুবরণ করেন।
- তাঁর মৃত্যুর পর যোগ্য নেতৃত্বের অভাবে ফরায়েজি আন্দোলন দুর্বল হয়ে পড়ে।

সূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৪১.
'Poverty and Famines: An Essay on Entitlement and Deprivation' গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. ড. মুহাম্মদ ইউনুস
  2. ফজলে হাসান আবেদ
  3. ড. কুদরত-ই-খুদা
  4. অমর্ত্য সেন
ব্যাখ্যা
অমর্ত্য সেন:
- অমর্ত্য সেন একজন বিশ্বখ্যাত ভারতীয় অর্থনীতিবিদ ও দার্শনিক, যিনি কল্যাণমূলক অর্থনীতি, দারিদ্র্য নিরসন, এবং সামাজিক ন্যায়বিচারের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন।
- তিনি 1998 সালে এশিয়ার প্রথম ব্যাক্তি হিসেবে  অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।
- অমর্ত্য সেনকে অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয় তাঁর কল্যাণমূলক অর্থনীতি, দারিদ্র্য বিশ্লেষণ, এবং সামাজিক ন্যায়বিচার সংক্রান্ত গবেষণার জন্য।
- বিশেষভাবে, তিনি দারিদ্র্য পরিমাপের নতুন পদ্ধতি উদ্ভাবন করেন এবং দেখান যে দুর্ভিক্ষ কেবল খাদ্যের অভাবের কারণে ঘটে না, বরং অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক কারণেও ঘটে।
- গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ: Development as Freedom, The Idea of Justice, Poverty and Famines: An Essay on Entitlement and Deprivation।

উৎস: ব্রিটানিকা।
১৪২.
বাংলাদেশের কোন ক্রিকেটার শততম টেস্ট ম্যাচ খেলেছেন? 
  1. আব্দুর রাজ্জাক
  2. মুমিনুল হক
  3. নাজমুল হোসেন শান্ত
  4. মুশফিকুর রহিম
ব্যাখ্যা

শততম টেস্ট ম্যাচ:
- মুশফিকুর রহিম শততম ম্যাচ খেলেছেন।

- মুশফিকুর রহিম ১১তম খেলোয়াড় হিসেবে শততম টেস্টে সেঞ্চুরি অর্জন করেন।
- বিপক্ষ দল: আয়ারল্যান্ড।
- ভেন্যু: মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় স্টেডিয়াম।
- সময়: ২০ নভেম্বর, ২০২৫।
- মুশফিক প্রথম ইনিংসে করেছিলেন ১০৬ রান এবং দ্বিতীয় ইনিংসে তিনি করেন অপরাজিত ৫৩ রান।
- সব মিলিয়ে শততম টেস্টে অন্তত এক ইনিংসে সেঞ্চুরি করা ব্যাটারের সংখ্যা এখন ১১ জন।
- এদের মধ্যে মুশফিকসহ মাত্র চারজন ব্যাটার দুই ইনিংসেই ব্যাট করার সুযোগ পেয়েছেন।

• শততম টেস্টে সেঞ্চুরি করা বাকি সাত ব্যাটার:
- রিকি পন্টিং, ইনজামাম উল হক, জো রু,ট  কলিন কাউড্রি, জাভেদ মিঁয়াদাদ, গর্ডন গ্রিনিজ, অ্যালেক স্টুয়ার্ট, গ্রায়েম স্মিথ, হাশিম আমলা ও ডেভিড ওয়ার্নার।

উৎস: প্রথম আলো পত্রিকা।

১৪৩.
লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তি ছিল-
  1. ধর্মনিরপেক্ষতা
  2. দ্বিজাতি তত্ত্ব
  3. দেশপ্রম
  4. জাতীয়তাবাদ
ব্যাখ্যা
• ১৯৪০ সালের ২৩ মার্চ পাঞ্জাবের লাহোরে অনুষ্ঠিত মুসলিম লীগের বার্ষিক কাউন্সিল অধিবেশনে তৎকালীন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী এ.কে. ফজলুল হক উপমহাদেশের মুসলমানদের স্বার্থ সম্বলিত একটি প্রস্তাব পেশ করেন।
- জিন্নাহর সভাপতিত্বে সভায় প্রস্তাবটি গৃহীত হয়।
- এই প্রস্তাবই ঐতিহাসিক "লাহোর প্রস্তাব" বা "পাকিস্তান প্রস্তাব" নামে অভিহিত।
• লাহোর প্রস্তাবের মূল বক্তব্য বা বৈশিষ্ট্য :
- ভৌগোলিক দিক থেকে সংলগ্ন এলাকাগুলোকে পৃথক অঞ্চল বলে গণ্য করতে হবে।
- এ সকল অঞ্চলের ভৌগোলিক সীমানা প্রয়োজন মত পরিবর্তন করে ভারতবর্ষের উত্তরপশ্চিম ও পূর্বাঞ্চলের যে সকল স্থানে মুসলমানেরা সংখ্যাগরিষ্ঠ সেখানে 'স্বাধীন রাষ্ট্রগুলো' (Independent States) প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
- এ সমস্ত স্বাধীন রাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্য হবে সার্বভৌম ও স্বায়ত্তশাসিত।
- ভারতের ও নবগঠিত মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ রাষ্ট্রের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সাংস্কৃতিক, শাসনতান্ত্রিক ও অন্যান্য অধিকার ও স্বার্থ সংরক্ষণের কার্যকর ব্যবস্থা করা হবে।
- দেশের যে-কোনো ভবিষ্যৎ শাসনতান্ত্রিক পরিকল্পনায় উক্ত বিষয়গুলোকে মৌলিক নীতি হিসাবে গ্রহণ করতে হবে।
- লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তি ছিল দ্বিজাতি তত্ত্ব।

উৎস: এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৪৪.
রাজা রামমোহন রায়ের 'গোস্বামীর সহিত বিচার' বইটি মূলত কোন বিষয়ের উপর লেখা?
  1. বিধবা বিবাহ প্রথার প্রচলন
  2. সতীদাহ প্রথার অযৌক্তিকতা
  3. সমাজে নারী অধিকার ও বাল্যবিবাহ প্রসঙ্গ
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• রাজা রামমোহন রায়: 
- রাজা রামমোহন রায় রচিত ব্যাকরণ গ্রন্থের নাম = গৌড়ীয় ব্যাকরণ।  
- রাজা রামমোহন রায় প্রথম বাঙালি যিনি বাংলা ভাষায় প্রথম বাংলা ব্যাকরণ রচনা করেন। 
- রাজা রামমোহন রায় রচিত বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম বাংলা ব্যাকরণ গ্রন্থের নাম- 'গৌড়ীয় ব্যাকরণ'।             
-  রাজা রামমোহন রায় ছিলেন একাধারে সমাজ, শিক্ষা ও ধর্ম সংস্কারক ।
- সতীদাহ প্রথা নিষিদ্ধকরণে তিনি জোর প্রচারণা চালান।
 
সতীদাহ প্রথার প্রসঙ্গে রচিত গ্রন্থ:
উনিশ শতকের যুক্তিবাদী মননশীলতায় রামমোহন সহমরণ প্রথার বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলেন। নিজস্ব মত প্রচারের জন্য হিন্দু সমাজের গোঁড়া সংস্কারের যুক্তিহীনতা দেখাবার জন্য তিনি দুটি গ্রন্থ রচনা করেন।
এগুলো হলো - 
১. প্রবর্তক ও নিবর্তকের সম্বাদ,
২. গোস্বামীর সহিত বিচার।

তার রচিত অন্যান্য গ্রন্থ:
- বেদান্ত গ্রন্থ, 
- বেদান্তসার, 
- পথ্য প্রদান,
- গোস্বামীর সহিত বিচার ( সতীদাহ প্রথার অযৌক্তিকতা প্রসঙ্গে)। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৪৫.
’নারিকেলবাড়িয়ায়’ বাঁশের কেল্লা নির্মাণ করেন কে?
  1. রবার্ট ক্লাইভ
  2. তিতুমীর
  3. মঈনুদ্দিন
  4. সৈয়দ আহমদ
ব্যাখ্যা

তিতুমীর:
- তিতুমীর ১৮৩১ সালের অক্টোবর মাসে নারকেলবাড়িয়ায় এক দুর্ভেদ্য বাঁশের কেল্লা নির্মাণ করেন।
- তিনি তাঁর মুজাহিদ বাহিনীতে বিপুল সংখ্যক মুজাহিদ নিয়োগ করে তাদের সামরিক প্রশিক্ষণ দান করেন।
- অচিরেই মুজাহিদদের সংখ্যা প্রায় পাঁচ হাজারে উপনীত হয়।
- সামরিক প্রস্ত্ততি সম্পন্ন করে তিতুমীর নিজেকে ‘বাদশাহ’ বলে ঘোষণা দেন।
- লর্ড উইলিয়ম বেন্টিঙ্ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল স্টুয়ার্টের নেতৃত্বে ১০০ অশ্বারোহী,
- ৩০০ স্থানীয় পদাতিক, দুটি কামানসহ গোলন্দাজ সৈন্যের এক নিয়মিত বাহিনী তিতুমীরের বিরুদ্ধে প্রেরণ করেন।
- ১৮৩১ সালের ১৪ নভেম্বর ইংরেজ বাহিনী মুজাহিদদের উপর আক্রমণ চালায়।
- মুজাহিদগণ সাবেকি ধরনের স্থানীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আধুনিক অস্ত্র সজ্জিত ইংরেজ বাহিনীকে প্রতিরোধ করতে ব্যর্থ হয়ে বাঁশের কেল্লায় আশ্রয় নেয়।
- ইংরেজরা কামানে গোলাবর্ষণ করে কেল্লা সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত করে দেয়।
- বহুসংখ্যক অনুসারিসহ তিতুমীর যুদ্ধে শহীদ হন (১৯ নভেম্বর ১৮৩১)।

অন্যদিকে,
- রবার্ট ক্লাইভ ভারত উপমহাদেশে ইংরেজ সাম্রাজ্যবাদের সূচনা করেন।
- সৈয়দ আহমদ খানের নেতৃত্বে আলীগড় আন্দোলন শুরু হয়।
 
 উৎস: বাংলাপিডিয়া।

১৪৬.
Who is the proponent of the Bengal Pact?
  1. Pandit Motilal Nehru
  2. Fazlul Haque
  3. Abdul Latif
  4. Chittaranjan Das
  5. Subhas Chandra Bose
ব্যাখ্যা
চিত্তরঞ্জন দাশ:
- চিত্তরঞ্জন দাশ সাধারণ্যে দেশবন্ধু বলে আখ্যায়িত।

⇒ তিনি বিশ শতকের বাংলার সবচেয়ে প্রগতিশীল রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের অন্যতম।
- বিশ শতকের প্রথম দিকে তিনি রাজনীতিতে প্রবেশ করেন।
- অনুশীলন সমিতির মতো বিপ্লবী সংগঠনের সাথে তিনি যুক্ত ছিলেন।
- এস.এন ব্যানার্জী, বি.সি পাল ও অরবিন্দ ঘোষের সহকর্মী হিসেবে তিনি বঙ্গভঙ্গ (১৯০৫)-কে বাংলায় বিপ্লবী কর্মকান্ড বিস্তৃত করতে সদ্ব্যবহার করেন।
- ১৯১৭ সালে ভবানীপুরে অনুষ্ঠিত বাংলার প্রাদেশিক সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন তিনি।
- তিনি ব্যাঙ্গল প্যাক্ট এর প্রবক্তা।

⇒ চিত্তরঞ্জন দাস বাংলার বহু রাজনৈতিক নেতার রাজনৈতিক গুরু।
- তাদের মধ্যে সুভাষচন্দ্র বসু, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, বিধানচন্দ্র রায়, শরৎচন্দ্র বসু, যতীন্দ্রমোহন সেনগুপ্ত প্রভৃতি ব্যক্তিবর্গ উল্লেখযোগ্য।
- তিনি সব সময় ব্রিটিশবিরোধী লড়াইকে জোরদার করতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির পক্ষে নিজের মত প্রকাশ করেছেন।
- একসময় তিনি কংগ্রেস নেতাদের সঙ্গে মতবিরোধের কারণে 'স্বরাজ দল' নামের একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন।
- এই স্বরাজ দলের প্রার্থী হিসেবেই ১৯২৪ সালে কলকাতা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রথম মেয়র নির্বাচিত হন।
- এ সময়ে তিনি নারী শিক্ষা, বিধবা বিবাহ ইত্যাদির পক্ষে অনেক কাজ করেন।
- বাংলার এই বলিষ্ঠ নেতা মাত্র ৫৫ বছর বয়সে ১৯২৫ সালের জুন মাসে মারা যান।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৪৭.
অবিভক্ত বাংলার শেষ মুখ্যমন্ত্রী কে ছিলেন?
  1. হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
  2. খাজা নাজিমউদ্দিন
  3. চিত্তরঞ্জন দাশ
  4. এ.কে. ফজলুল হক
ব্যাখ্যা
হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী:
- অবিভক্ত বাংলার প্রথম মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন শেরে বাংলা এ.কে. ফজলুল হক এবং শেষ মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী।
- ১৯৪৬ সালে অবিভক্ত বাংলায় সর্বশেষ সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
- এতে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর নেতৃত্বাধীন মুসলিমলীগ ১১৪টি আসন পেয়ে জয় লাভ করে এবং সোহরাওয়ার্দী মুখ্যমন্ত্রী হন।
- ১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট পাকিস্তান সৃষ্টি হলে খাজা নাজিমুদ্দিন পূর্ব বাংলার প্রথম মুখ্যমন্ত্রী নিযুক্ত হন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
১৪৮.
নিম্নলিখিতদের মধ্যে কে বিধবা বিবাহের প্রচলনের সাথে যুক্ত ছিলেন?
  1. জ্যোতিরাও ফুলে
  2. ই. ভি. রামাস্বামী নাইকার
  3. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  4. দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর:
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর সংস্কৃত পন্ডিত, লেখক, শিক্ষাবিদ, সমাজসংস্কারক, জনহিতৈষী।
- তিনি ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- কোলকাতায় সংস্কৃতি কলেজে অধ্যয়নকালে তার অগাধ পান্ডিত্য ও মেধার স্বীকৃতি স্বরুপ শিক্ষক মন্ডলী তাঁকে বিদ্যাসাগর উপাধিতে ভূষিত করেন। 
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাগরের অমরকীর্তি হিন্দু বিধবা বিবাহ প্রচলন।
- ১৮২৯ সালে প্রণীত সতীদাহ প্রথা উচ্ছেদ আইনের ফলে হিন্দু বিধবারা সহমরণ থেকে মুক্তি পেলেও বিধবা বিবাহের রীতি না থাকায় বিধবারা মানবেতর জীবনযাপনে বাধ্য হয়।
- ১৮৫৫ সালের ৪ঠা অক্টোবর তিনি হিন্দু সমাজের বিভিন্ন স্তরের ৯৮৭ জনের স্বাক্ষরিত একখানা স্মারকলিপি ভারত সরকারের নিকট পেশ করেন। 
- লর্ড ডার্লহৌসীর সহায়তায় ১৮৫৬ সালের ২৬শে জুলাই বিধবা বিবাহ আইন পাস হলেও তা বাস্তবায়ন সহজ হয়নি।
- ১৮৭০ সালের ১১ই আগষ্ট নিজ পুত্র নারায়নচন্দ্র বন্দোপাধ্যায়ের বিয়ের মাধ্যমে তিনি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।
 
উল্লেখ্য,
- বহুবিবাহ এবং বাল্য বিবাহ রোধেও তিনি প্রয়াস চালান।
 
উৎস: সমাজকল্যাণ ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৪৯.
রাজা রামমোহন রায় কবে 'ঈশ্বরের সমাজ' প্রতিষ্ঠা করেন?
  1. ১৮২২ সালে
  2. ১৮২৮ সালে
  3. ১৮৩০ সালে
  4. ১৮৩৩ সালে
ব্যাখ্যা

রাজা রামমোহন রায়ঃ
- পশ্চিম বঙ্গের হুগলী জেলার রাধানগর গ্রামে রাজা রামমোহন রায় ১৭৭২ (মতান্তরে ১৭৭৪) সালের ২২শে মে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর বংশগত পদবী ছিল বন্দোপাধ্যায়।
- নবাবের কাছ থেকে রায় রায়হান উপাধি লাভ করেন।
- তিনি হিন্দুদের ধর্মশাস্ত্র উপনিষদ ও বেদান্ত অধ্যয়ন করে একেশ্বর বাদের অস্তিত্ব খুঁজে পান।
- মনযারাতুল্ আদিয়ান শীর্ষক তাঁর প্রথম গবেষণামূলক গ্রন্থটি বিভিন্ন ধর্মের আলোচনায় নিবেদিত। 
- তিনি সতীদাহের মতো কুপ্রথার বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তুলতে সক্ষম হন, যা ১৮২৯ সালে বিশেষ আইনের মাধ্যমে এ প্রথা বন্ধ করতে সরকারকে প্রভাবিত করে।
- ১৮২১ সালে রামমোহন সম্বাদ কৌমুদী নামে বাংলা সংবাদপত্র ও ১৮২২ সালে মিরাত-উল-আখবার নামে ফারসি সংবাদপত্র প্রকাশ করেন।
- ১৮২৮ সালে রাজা রামমোহন ব্রাহ্মসভা (পরবর্তীসময়ে ব্রাহ্মসমাজ) অর্থাৎ ঈশ্বরের সমাজ প্রতিষ্ঠা করেন।
- ১৮৩০ সালে খেতাবসর্বস্ব মুগল সম্রাট দ্বিতীয় আকবর (১৮০৬-১৮৩৭) রামমোহন রায়কে ‘রাজা’ উপাধিতে ভূষিত করেন 
- ১৮৩৩ সালের ২৭শে সেপ্টেম্বর ইংল্যান্ডের ব্রিষ্টল নগরীতে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

উৎস: সমাজকল্যাণ ১ম পত্র (এইচএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া। 

১৫০.
'মোহামেডান লিটারারি সোসাইটি' প্রতিষ্ঠা করেন কে? 
  1.  হাজী শরীয়তুল্লাহ্
  2. শহীদ তিতুমীর
  3. নবাব স্যার সলিমুল্লাহ
  4. নওয়াব আবদুল লতিফ
ব্যাখ্যা

নওয়াব আবদুল লতিফ:
- ১৮২৮ সনে ফরিদপুর জেলার রাজাপুরে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
- মাত্র উনিশ বছর বয়সে তিনি শিক্ষকতা শুরু করেন।
- তিনি ১৮৪৯ সালে ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট নিযুক্ত হন। 
- তিনিই প্রথম সরকারি আমলা যিনি নীলকরদের অত্যাচারের হাত থেকে নীল চাষীদের রক্ষায় এগিয়ে আসেন। 
- ভুপালের নবাবের দরবারেও কিছুকাল প্রধানমন্ত্রীর পদে দায়িত্ব পালন করেছেন।
- নওয়াব আবদুল লতিফ মুসলমানদের শিক্ষিত করতে ১৮৬৭ সালে মোহামেডান লিটারারি সোসাইটি স্থাপন করেন।
- বাংলার মুসলিম সমাজে একটি শিক্ষিত মধ্যবিত্ত শ্রেণী হিসেবে গড়ে ওঠার ক্ষেত্রে তার অবদান গুরুত্বপূণ।
- ১৮৯৩ সালের ১০ জুলাই নওয়াব আবদুল লতিফের জীবনাবসান হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, ১ম পত্র (এইচএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।  

১৫১.
‘ভারতে রাজভক্ত মুসলমান’ বইয়ের রচয়িতা কে?
  1. আবুল কাশেম ফজলুল হক
  2. হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
  3. সৈয়দ আমীর আলী
  4. সৈয়দ আহমদ খান
ব্যাখ্যা
সৈয়দ আহমদ খান:
- সিপাহী বিদ্রোহের জন্য ইংরেজ সরকার মুসলমানদের এককভাবে দায়ী করে তাদের বিরুদ্ধে নানা প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ শুরু করে।
- ভারতীয় মুসলমানদের দুর্দশা সৈয়দ আহমদ খানকে ব্যথিত করে।
- এমতাবস্থায় সৈয়দ আহমদ খান ভারতীয় মুসলমানদের প্রতি ইংরেজ সরকারের মনোভাব পরিবর্তনের জন্য নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।
- তিনি ‘ভারতে সিপাহী বিদ্রোহের কারণ’ এবং ‘ভারতের রাজভক্ত মুসলমান' নামক দুটি বই রচনা করেন।
- তিনি যুক্তি দিয়ে প্রমাণ করেন যে, সিপাহী বিদ্রোহের জন্য মুসলমানরা দায়ী ছিল না।
- বরং বিদ্রোহকালে অধিকাংশ মুসলমান ইংরেজদের পক্ষে ছিল।
- তাঁর যৌক্তিক আলোচনায় মুসলমানদের প্রতি ইংরেজদের দৃষ্টিভঙ্গি যথেষ্ট পরিবর্তন ঘটে।
- উল্লেখ্য যে, সৈয়দ আহমদ খান নিজে ইংরেজ অনুগত ছিলেন।
- তিনি ভারতের মুসলমানদের ভাগ্যোন্নয়নের জন্য তাদেরকেও ইংরেজ অনুগত হওয়ার এবং তাদের সহযোগিতা করার উপদেশ দেন।

সূত্র: ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৫২.
শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের পুরো নাম কী?
  1. আবুল কাশেম ফজলুল হক
  2. আবুল কালাম ফজলুল হক
  3. আবদুল কালাম ফজলুল হক
  4. আবদুল কাশেম ফজলুল হক
ব্যাখ্যা
• এ কে  ফজলুল হক (১৮৭৩-১৯৬২):
- এ.কে ফজলুল হক রাজনীতিবিদ ও জননেতা।
- তার পুরো নাম আবুল কাশেম ফজলুল হক।
- আবুল কাশেম ফজলুল হক বর্তমান বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণাঞ্চলের বর্ধিষ্ণু গ্রাম সাটুরিয়ায় ১৮৭৩ সালের ২৬ অক্টোবর জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি কলকাতার মেয়র (১৯৩৫), অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী (১৯৩৭-১৯৪৩) এবং পূর্ব বাংলার মুখ্যমন্ত্রী (১৯৫৪), পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী (১৯৫৫) এবং পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নরের পদ (১৯৫৬-১৯৫৮) সহ বহু উঁচু রাজনৈতিক পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন।
- লোকপ্রিয়ভাবে ‘শেরে বাংলা’ বা হক সাহেব রূপে পরিচিত।
- ১৯৪০ সালের ২৩ মার্চ সর্বভারতীয় মুসলিম লীগের লাহোর অধিবেশনে লোকপ্রিয়ভাবে পাকিস্তান প্রস্তাব নামে অভিহিত 'লাহোর প্রস্তাব' উত্থাপনের জন্য জিন্নাহ্ তাঁকে নির্বাচিত করেন।
- তাঁর প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দলের নাম কৃষক প্রজা পার্টি (কে.পি.পি)।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৫৩.
ভারতের প্রথম গভর্নর জেনারেল ছিলেন-
  1. রবার্ট ক্লাইভ
  2. লর্ড বেন্টিঙ্ক
  3. ওয়ারেন হেস্টিংস
  4. লর্ড কর্ণওয়ালিস
ব্যাখ্যা
লর্ড উইলিয়াম বেন্টিংক:
- ভারতের প্রথম গভর্নর জেনারেল ছিলেন লর্ড উইলিয়াম বেন্টিংক।
- লর্ড উইলিয়াম বেন্টিংক ১৮২৮ -৩৫ সাল পর্যন্ত ভারতের গভর্নর জেনারেল ছিলেন।
- বেন্টিংক মাদ্রাজের গভর্নর হিসেবে ১৮০৩ সালে প্রথম ভারতে আসেন।
- ১৮৩৩ সালের সনদ আইন দ্বারা পরে তাঁর পদবিকে ভারতের গভর্নর জেনারেল হিসেবে পুনরাখ্যায়িত করা হয়।
⇒ ১৮৩৩ সালের সনদ আইন দ্বারা বাংলার গভর্নর জেনারেলকে ভারতের গভর্নর জেনারেলে উন্নীত করা হয়।
- ফলে বাংলার তৎকালীন গভর্নর জেনারেল লর্ড উইলিয়াম বেন্টিংক ভারতের প্রথম গভর্নর জেনারেল হিসেবে নিযুক্ত হন।
উল্লেখ্য,
- লর্ড উইলিয়ম বেন্টিঙ্ক সাধারণত হস্তক্ষেপ না করা এবং অনাক্রমণের নীতি অনুসরণ করেছিলেন।
- ১৮৩১ সালে মহিশূরে অনেকদিন যাবৎ চলতে থাকা কুশাসন ঐ রাজ্যটিকে ব্রিটিশ প্রশাসনে আনতে তাঁকে বাধ্য করে।
- বেন্টিঙ্ক উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশে ভূমি রাজস্ব ব্যবস্থার সংস্কার করেন এবং সেখানে রাজস্ব বোর্ড প্রতিষ্ঠা করেন।
- সতীদাহ নিবারণ ও ঠগী দমন হলো বেন্টিঙ্কের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য কীর্তি।
- তিনি সতীদাহ প্রথার বিলোপ সাধন করেন।
অন্যদিকে,
- ওয়ারেন হেস্টিংস ছিলেন বাংলার প্রথম গভর্নর-জেনারেল, প্রথমে ফোর্ট উইলিয়মএর গভর্নর এবং পরে গভর্নর জেনারেল।
- ভারতের শেষ গভর্নর জেনারেল ছিলেন লর্ড ক্যানিং।
- স্বাধীন ভারতের প্রথম গভর্নর জেনারেল ছিলেন লর্ড মাউন্টব্যাটেন।
উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) ইতিহাস ১ম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৫৪.
’বেঙ্গল প্যাক্ট’ চুক্তি সম্পাদনে উদ্যোগ নেয় কে?
  1. পন্ডিত মতিলাল নেহেরু
  2. মহাত্মা গান্ধী
  3. দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ
  4. সুভাস চন্দ্র বসু
ব্যাখ্যা
বেঙ্গল প্যাক্ট, ১৯২৩: 
- চিত্তরঞ্জন দাশ স্বরাজ অর্জনের জন্য আন্দোলনকে সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ পথ মনে করেন।
- গান্ধীজীর ন্যায় তিনিও অহিংস পন্থায় স্বদেশের স্বাধীনতা অর্জনের পক্ষপাতী ছিলেন।
- জাতীয়তাবাদকে চিত্তরঞ্জন দাশ বিশ্ব শান্তির সোপান মনে করতেন।
- জাতীয়তাবাদী চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়েই তিনি স্বরাজ আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন।
- চিত্তরঞ্জন দাশ ১৯২৩ সালে মুসলমান সম্প্রদায়ের সাথে একটি চুক্তি করেন, যা 'বেঙ্গল প্যাক্ট' নামে পরিচিত।
- 'বেঙ্গল প্যাক্ট' এ সরকারি চাকুরিতে মুসলমানদের জন্য শতকরা ৫৫ ভাগ আসন সংরক্ষণের কথা বলা হয়।
- যতদিন মুসলমানরা ৫৫ শতাংশে না পৌঁছায়, ততদিন পর্যন্ত মোট সরকারি চাকুরির ৮০ ভাগ মুসলমানদের জন্য সংরক্ষণের কথা বলা হয়।

উল্লেখ্য,
- দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ স্বদেশের কৃষ্টি ও ঐতিহ্যকে নিগূঢ়ভাবে ভালবেসেছেন।
- তিনি ছিলেন একজন বিশুদ্ধ বাঙালি।
- স্বরাজ পার্টি গঠন, বেঙ্গল প্যাক্ট এর মত উদ্যোগগুলি নিয়ে এ জনপদের রাজনীতিকে অসাম্প্রদায়িক ধারায় প্রবাহিত করতে সচেষ্ট হন চিত্তরঞ্জন দাশ।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৫৫.
বাংলাদেশের কোন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ১৯দফা কর্মসূচী প্রণয়ন করেছিলেন?
  1. এ কে ফজলুল হক
  2. শহীদ সোহরাওয়ার্দী
  3. মাওলানা ভাসানী
  4. জিয়াউর রহমান
ব্যাখ্যা

জিয়াউর রহমান:
- লেফটেন্যান্ট জেনারেল জিয়াউর রহমান একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা, সেনাপ্রধান এবং বাংলাদেশে বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা, সেই সাথে বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি'র প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন।
- তিনি ছিলেন বীর উত্তম ছিলেন স্বাধীনতার ঘোষক এবং বাংলাদেশের নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি।
- জিয়াউর রহমান ১৯৩৬ সালের ১৯ জানুয়ারি বগুড়ার বাগবাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। 
⇒ ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর জিয়াউর রহমান নিজেকে চেয়ারম্যান করে একটি নতুন রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি গঠন করেন।
- ১৯৭৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে দেশের দ্বিতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় এবং বিএনপি ৩০০টির মধ্যে ২০৭টি আসনে জয়লাভ করে।

উল্লেখ্য,
- শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান দেশের আর্থ-সামাজিক মুক্তির লক্ষ্যে ১৯ দফা কর্মসূচি প্রণয়ন করেছিলেন। 
-  তিনি ১৯৭৭ সালের ৩০ এপ্রিল দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, স্বনির্ভরতা অর্জন এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষার লক্ষ্যে এই ঐতিহাসিক কর্মসূচি ঘোষণা করেন। 

উৎস: বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ওয়েবসাইট।

১৫৬.
Which of the following is not one of the three leaders buried at the Tin Netar Mazar?
  1. A.K.Fazlul Huq
  2. Huseyn Shaheed Suhrawardy
  3. Khwaja Nazimuddin
  4. Abdul Hamid Khan Bhashani
ব্যাখ্যা

⇒ 'তিন নেতার মাজার'-এর সাথে সংশ্লিষত ব্যক্তি নয় আব্দুল হামিদ খান ভাসানী।

তিন নেতার মাজার:
- রাজধানী ঢাকার দোয়েল চত্বরের কাছে অবস্থিত তিন নেতার মাজার বাংলাদেশের স্থাপত্য শিল্পের অন্যতম নিদর্শন।
- বাংলাদেশের জাতীয় তিন নেতা হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, খাজা নাজিমুদ্দিন এবং এ কে ফজলুল হক-এর সমাধির উপর ১৯৬৩ সালে স্থপতি মাসুদ আহমদ ও এস এ জহিরুদ্দিনের নকশায় তিন নেতার মাজার স্থাপনাটি নির্মাণ করা হয়েছে।
- তিন নেতার মাজারের কাছেই রয়েছে হাইকোর্ট এবং শিশু একাডেমি।
- স্বাধীনতার পূর্ব সময়ে এই তিন মহান নেতাই তৎকালীন অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে নিযুক্ত ছিলেন।
- বাংলার বাঘ খ্যাত শের-এ-বাংলা এ.কে. ফজলুল হক ছিলেন অবিভক্ত বাংলার প্রধানমন্ত্রী।
- ফজলুল হক ১৯৫৪ সালে পূর্ব পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী, পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া যুক্তফ্রন্ট গঠনে তাঁর ভূমিকা ছিল অনস্বীকার্য।
- খাজা নাজিমুদ্দিন ১৯৪৮ সালে পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল নিযুক্ত হন। ১৯৫১ সালে তাঁকে পাকিস্তানের দ্বিতীয় প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন করা হয়।
- হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ১৯২৪ সালে কলকাতা পৌরসভার ডেপুটি মেয়র হন এবং খাজা নাজিমুদ্দিনের মন্ত্রীসভায় তিনি শ্রমমন্ত্রী নিযুক্ত ছিলেন। ১৯৫৭ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী।

তথ্যসূত্র - জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

১৫৭.
আলীগড় আন্দোলনের প্রবর্তক কে ছিলেন?
  1. নওয়াব আবদুল লতিফ
  2. সৈয়দ আমীর আলী
  3. নওয়াব স্যার সলিমুল্লাহ
  4. সৈয়দ আহমদ খান
ব্যাখ্যা

 আলীগড় আন্দোলন:
- আলীগড় আন্দোলন হচ্ছে আলীগড়ভিত্তিক সমাজ সংস্কারমূলক আন্দোলন।
- আলীগড় আন্দোলনের প্রবর্তক স্যার সৈয়দ আহমদ খান।

⇒ ১৮৭৫ সালে সৈয়দ আহমদ খান আলীগড়ে 'মোহামেডান এ্যাংলো ওরিয়েন্টাল স্কুল' প্রতিষ্ঠা করেন,  ১৮৭৭ সালে এটি কলেজে উন্নীত হয়।
- এ কলেজ প্রতিষ্ঠার পর আলীগড় ভারতীয় মুসলমানদের ধর্মীয়, সামাজিক, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।
- সৈয়দ আহমদ খান এ আলীগড় কলেজকে কেন্দ্র করে অধঃপতিত অবস্থা থেকে মুসলমানদের পুনরুদ্ধার ও তাদের পুনর্জাগরণের জন্য একটি আন্দোলন পরিচালনা করেন।
- ইতিহাসে এটিই 'আলীগড় আন্দোলন' নামে প্রসিদ্ধ।
- এ আন্দোলন মুসলমানদের মধ্যে আধুনিক ভাবধারা ও চিন্তা-চেতনা জাগ্রত করে। পরবর্তীকালে আলীগড় কলেজ ভারতীয় মুসলমানদের রাজনৈতিক জীবনকেও প্রভাবিত করেছিল।

উল্লেখ্য,
• স্যার সৈয়দ আহমদ খান:
- ভারতীয় রাষ্ট্রচিন্তার বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব ও ভারতীয় মুসলমান সমাজের আধুনিকতামুখী অগ্রগতির অগ্রপথিক ছিলেন স্যার সৈয়দ আহমদ খান।
- তিনি ১৮১৭ সালে ১৭ই অক্টোবর দিল্লি শহরের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৮৩৭ সালে সৈয়দ আহমদ খান ভারতস্থ ব্রিটিশ সরকারের অধীনে সরকারী চাকুরীতে নিযুক্ত হন এবং পরে সাব জজ পদে উন্নীত হন।
- তাঁর কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ বৃটিশ সরকার ১৮৮৮ খ্রিস্টাব্দে তাঁকে ‘নাইট’ উপাধিতে ভূষিত করেন।
- সৈয়দ আহমদ খান ১৮৭৫ খ্রিস্টাব্দে আলীগড়ে ‘মোহামেডান এ্যাংলো ওরিয়েন্টাল স্কুল’ প্রতিষ্ঠা করেন।

উৎস: ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৫৮.
এ.কে ফজলুল হকের  মন্ত্রিসভার ( ১৯৩৭-১৯৪১) সদস্য কত জন ছিল?
  1. ১১ জন
  2. ১২ জন
  3. ১৫ জন
  4. ১৭ জন
ব্যাখ্যা
এ.কে ফজলুল হক:
এ.কে ফজলুল হক ছিলেন অবিভক্ত বাংলার শেষ মুখ্যমস্ত্রী ।

এছাড়াও

- ১৯৩৫ সালে তিনি কলকাতা মিউনিসিপ্যালিটির প্রথম মুসলিম মেয়র হন।
- তিনি কৃষক প্রজা পার্টি (১৯৩৬) সালে প্রতিষ্ঠা করেন।
- ১৯৩৭ সালে তিনি অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমস্ত্রী হন।
- তার মন্ত্রীসভা হক মন্ত্রীসভা নামে পরিচিত ।
- মন্ত্রীসভার সদস্য ছিল-১১ জন
- তার আমলের্ ঋণ সালিশি আইন” প্রণীত হয়।
- ১৯৫৪ সালে তিনি যুক্তফ্রন্ট গঠন করেন।
- ১৯৫৫ সালে তিনি পূর্ব পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হন।
- ১৯৫৬ সালে তিনি পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর হন

উৎস
: বাংলাপিডিয়া।
১৫৯.
বাংলাদেশের রাজনীতিতে 'গণতন্ত্রের মানসপুত্র' বলা হয় কোন রাজনীতিবিদকে?
  1. হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
  2. বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
  3. শেরে বাংলা এ.কে ফজলুল হক
  4. মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী
ব্যাখ্যা
• হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীকে বাংলাদেশের রাজনীতিতে 'গণতন্ত্রের মানসপুত্র' বলা হয়।

হোসেন শহীদ সোহ্‌রাওয়ার্দী:
- তিনি ১৮৯২ সালে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- সোহ্‌রাওয়ার্দী অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি.এস.সি (সম্মান) ও বি.সি.এল ডিগ্রি লাভ করেন এবং পরে লন্ডনের গ্রেইজ ইন থেকে ব্যরিস্টার-এট-ল সম্পন্ন করেন।
- ১৯২০ সালে ইংল্যান্ড থেকে ভারতে ফিরেই তিনি রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করেন।
- তিনি ১৯২৪ সালে কলকাতা কর্পোরেশনের ডেপুটি মেয়র, ১৯৩৭ সালের নির্বাচনোত্তর ফজলুল হক কোয়ালিশন মন্ত্রিসভার শ্রম ও বাণিজ্য মন্ত্রী, ১৯৪৩-১৯৪৫ সালে খাজা নাজিমউদ্দীন মন্ত্রিসভায় বেসামরিক সরবরাহ মন্ত্রী, ১৯৪৬-৪৭ সালে অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী, পাকিস্তান আমলে ১৯৫৪-৫৫ সালে মোহাম্মদ আলীর মন্ত্রিসভায় আইনমন্ত্রী এবং ১৯৫৬-১৯৫৭ সালে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন।
- তিনি ছিলেন অবিভক্ত বাংলার শেষ মুখ্যমন্ত্রী।
- ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন পাকিস্তানের প্রথম ও প্রধান বিরোধীদল আওয়ামী মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও সোহ্‌রাওয়ার্দীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।
- ১৯৫৫ সালের ২২শে সেপ্টেম্বর শহীদ সোহরাওয়ার্দী দলের নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব করলে সর্ব সম্মতিক্রমে তা গৃহীত হয়।
- পাকিস্তানে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (এন.ডি.এফ) গঠন করে তিনি ১৯৬২-৬৩ সালের আইয়ুব-বিরোধী সম্মিলিত জোটের আন্দোলনে মুখ্য ভূমিকা পালন করেন।
- সোহ্‌রাওয়ার্দী ১৯৬৩ সালের ৫ ডিসেম্বর মৃত্যুবরণ করেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া ও পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র এইচ এস সি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং আওয়ামী লীগের ওয়েবসাইট।
১৬০.
বেগম রোকেয়া মুসলিম নারীদের মধ্যে নেতৃত্বের গুণাবলির বিকাশের উদ্দেশ্যে ১৯১৬ সালে কোন সংস্থা প্রতিষ্ঠা করেন?
  1. বঙ্গ মহিলা সমিতি
  2. নারী মুক্তি সমিতি
  3. আঞ্জুমানে খাওয়াতীনে ইসলাম
  4. মুসলিম নারী সংস্থা
ব্যাখ্যা
• সমাজসেবায় বেগম রোকেয়া:
- মুসলিম নারী জ্ঞান-বিজ্ঞানে প্রতিষ্ঠা লাভ করুক, আত্মনির্ভরশীল হয়ে মাথা তুলে দাড়াক, সামাজিক কর্মকান্ডে পুরুষের মত নারীও সমান অবদান রাখতে সক্ষম হোক এটা ছিল তাঁর স্বপ্ন।
- মুসলিম নারীদের মধ্যে নেতৃত্বের গুণাবলির বিকাশ, স্বাবলম্বী মনোভাব সৃষ্টি সামাজিক ও রাজনৈতিক অধিকার সচেতনতা সৃষ্টির জন্য বেগম রোকেয়া ১৯১৬ সালে "আঞ্জুমানে খাওয়াতীনে ইসলাম" বা মুসলিম মহিলা সমিতি নামে একটি সংস্থা গড়ে তোলেন।
- এ সংস্থার মাধ্যমে তিনি নারী মুক্তি আন্দোলন শুরু করেন।

উৎস: সমাজকল্যাণ ১ম পত্র- এইচএসসি প্রোগ্রাম-উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাপিডিয়া।
১৬১.
'ব্রাহ্মসমাজ' প্রতিষ্ঠা করেন কে?
  1. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  2. সি.আর. দাস
  3. রাজা রামমোহন রায়
  4. সুভাষচন্দ্র বসু
ব্যাখ্যা

রাজা রামমোহন রায়:
- বাংলার নবজাগরণের স্রষ্টা ছিলেন রাজা রামমোহন রায়। 
- ১৭৭৪ সালে হুগলী জেলার রাধানগর গ্রামে তাঁর জন্ম। 
- অসাধারণ পাণ্ডিত্যের অধিকারী ছিলেন রাজা রামমোহন রায়। 
- তিনি বেদান্তসূত্র ও বেদান্তসারসহ উপনিষদের অনুবাদ প্রকাশ। করেন। 
- ১৮২৯ সালে রামমোহন রায়ের প্রচেষ্টায়, সতীদাহ প্রথা বিলুপ্ত হয়।
- তাছাড়া তিনি সব কুসংস্কার দূর করে আদি একেশ্বরবাদের পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে সচেষ্ট হন। 
- ১৮২৮ সালে তিনি ব্রাহ্মসমাজ প্রতিষ্ঠা করেন। এর পরে ব্রাহ্মসমাজের উপাসনালয় স্থাপন করেন। 
- তাঁর ব্রাহ্মসমাজ প্রতিষ্ঠা উপমহাদেশের ধর্মীয় ইতিহাসে এক নবযুগের সূচনা করে। 
- রাজা রামমোহন রায় ১৮২২ সালে কোলকাতায় 'অ্যাংলো-হিন্দু স্কুল' প্রতিষ্ঠা করেন, যেখানে ইংরেজি, আধুনিক বিজ্ঞান পড়ানোর ব্যবস্থা ছিল।
- ১৮৩৩ সালে রাজা রামমোহন রায়ের মৃত্যু হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।

১৬২.
এ কে ফজলুল হককে কারা ‘শের-ই-বাংলা’ উপাধি দেয়?
  1. লক্ষ্ণৌর জনগণ
  2. কলকাতার জনগণ
  3. বাংলার জনগণ
  4. পাঞ্জাবের জনগণ
ব্যাখ্যা
এ.কে. ফজলুল হক:
- একে ফজলুল হকের পুরো নাম আবুল কাশেম ফজলুল হক। 
- এ.কে. ফজলুল হক ছিলেন একজন রাজনীতিবিদ ও জননেতা।
- তিনি ছিলেন কলকাতা করপোশনের প্রথম বাঙালি মুসলমান, বাংলার প্রধানমন্ত্রী, পূর্বপাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী, পুর্ব পাকিস্তানের গভর্ণর, পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। 
- তিনি ছিলেন অবিভক্ত বাংলার প্রথম মুখ্যমন্ত্রী।
- আবুল কাশেম ফজলুল হক বাগ্মী হিসেবে সুপরিচিত ছিলেন। 

উল্লেখ্য,
- ১৯১৬ সালে লক্ষ্ণৌ শহরে লীগ কংগ্রেসের যুক্ত অধিবেশনে তিনি যে প্রস্তাব উত্থাপন করেন, তাই বিখ্যাত ‘লক্ষ্ণৌ চুক্তি’ নামে অভিহিত হয়।
- ১৯১৮ সালে ফজলুল হক লিখিত ভারত মুসলিম লীগের দিল্লী অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।

⇒ ১৯৪০ সালে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর সভাপতিত্বে লাহোরে অনুষ্ঠিত নিখিল ভারত মুসলিম লীগের অধিবেশনে জ্বালাময়ী বক্তৃতায় প্রথম পাকিস্তান প্রস্তাব পেশ করেন।
- তার বক্তৃতায় মুগ্ধ হয়ে পাঞ্জাববাসীরা তাকে ‘শের-ই-বঙ্গাল’ উপাধি দেয়। ‘শের-ই-বঙ্গাল’ অর্থ বাংলার বাঘ। সেই থেকে তিনি শেরে বাংলা নামে পরিচিত।

এছাড়াও,
- তিনি জীবনে আরো অনেক উপাধি পেয়েছেন।
- ১৯৫৯ সালে তৎকালীন পাকিস্তানী প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খান তাকে ‘হিলাল-ই-পাকিস্তান’ উপাধিতে ভূষিত করেন।

উৎস: i) দেশ রুপান্তর।
ii) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
১৬৩.
'নিখিল বঙ্গ প্রজা সমিতি' প্রতিষ্ঠা করেন কে?
  1. হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
  2. শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক
  3. মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ
  4. আবদুল হামিদ খান ভাসানী
ব্যাখ্যা
শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক: 
- ব্রিটিশ শাসন এবং অবাঙালি নেতৃত্বের বিরোধিতা ছিল তাঁর চেতনামূলে।
- কৃষক-প্রজা সাধারণ মানুষ ছিল তাঁর রাজনৈতিক চিন্তার কেন্দ্রবিন্দুতে।
- হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে সকল সম্প্রদায়ের কাছে সমান জনপ্রিয় ছিলেন এ কে ফজলুল হক।
- ১৯১৬ সালের হিন্দু-মুসলমান 'লক্ষ্ণৌ চুক্তি' সম্পাদনে বিশিষ্ট ভূমিকা পালন করেছিলেন।
- ১৯১৮-১৯ সালে কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।
- ১৯২৯ সালে তিনি 'নিখিল বঙ্গ প্রজা সমিতি' প্রতিষ্ঠা করেন,
- ১৯৩৬ সালে যার নতুন নামকরণ হয় কৃষক-প্রজা পার্টি।

উল্লেখ্য
- ১৯৩৭ থেকে ১৯৪৩ সাল পর্যন্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী আসীন ছিলেন।
- ১৯৪০ সালে লাহোরে নিখিল ভারত মুসলিম লীগের বার্ষিক অধিবেশনে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাব উত্থাপন করেন।
- এ প্রস্তাবে একাধিক স্বাধীন মুসলিম রাষ্ট্র গঠনের কথা বলা হয়েছিল।
- ১৯৪২ সাল থেকেই শেরেবাংলা সাম্প্রদায়িক "দ্বিজাতি তত্ত্বের" জোরালো বিরোধীতা শুরু করেন।
-  তিনি সাধারণ মানুষের জন্য 'ডাল-ভাত' কর্মসূচি প্রবর্তন করেন।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৬৪.
স্বরাজ পার্টির প্রতিষ্ঠাতা নেতারা ছিলেন?
  1. মহাত্মা গান্ধী ও সুভাষ চন্দ্র বোস
  2. চিত্তরঞ্জন দাস ও মতিলাল নেহেরু
  3. লালা লাজপত রাই ও বাল গঙ্গাধর তিলক
  4. বীর সাভারকার ও মুজাফফর আহমদ
ব্যাখ্যা
স্বরাজ পার্টি:
স্বরাজ পার্টি ভারতের একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক দল ছিল, যা ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের সময় ১৯২০-এর দশকের গোড়ার দিকে আত্মপ্রকাশ করেছিল। এটি বিশেষত ব্রিটিশ ভারতের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং ভারতীয় জাতীয়তাবাদীদের আকাঙ্ক্ষার প্রতিক্রিয়া হিসেবে গঠিত হয়েছিল। পার্টির নামটি স্বরাজ শব্দটি থেকে নেওয়া হয়েছে , যার অর্থ "স্ব-শাসন", যা ব্রিটিশ শাসন থেকে স্বাধীনতা লাভের আন্দোলনে ব্যাপকভাবে প্রয়োগ করা হয়েছিল।

প্রতিষ্ঠা:
- ১৯২৩ সালে এই দলটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।
- প্রতিষ্ঠাতা: মতিলাল নেহেরু এবং চিত্তরঞ্জন দাস।

গঠনের পটভূমি:
- স্বরাজ পার্টির গঠন ছিল ১৯১৯ সালের মন্টেগু-চেমসফোর্ড সংস্কারের প্রতিক্রিয়া।
- এই সংস্কারের মাধ্যমে ভারতে সীমিত স্ব-শাসন প্রবর্তিত হয়েছিল, কিন্তু ভারতীয় জাতীয়তাবাদীদের আকাঙ্ক্ষা ছিল ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসন থেকে পূর্ণ স্বাধীনতা।
- মন্টেগু-চেমসফোর্ড সংস্কার সীমিত স্ব-শাসন প্রদান করলেও, অনেক ভারতীয় নেতা এটিকে যথেষ্ট মনে করেননি, ফলে স্বরাজ পার্টির গঠন হয়েছিল।

স্বরাজ পার্টির উদ্দেশ্য:
- ১৯১৯ সালের মন্টেগু-চেমসফোর্ড সংস্কারের অধীনে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা ছিল প্রধান উদ্দেশ্য।
- ভারতের প্রথম কংগ্রেসের বিপরীতে, যারা এই সংস্কারের অধীনে আইন পরিষদ বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, স্বরাজ পার্টির লক্ষ্য ছিল আইন পরিষদে প্রবেশ করে বৃহত্তর স্বায়ত্তশাসন এবং স্বশাসনের জন্য কাজ করা।

উৎস: বাংলাপিডিয়া, ব্রিটানিকা।
১৬৫.
কোন আন্দোলন ব্রিটিশ বিরোধী নয়?
  1. অসহযোগ
  2. খেলাফত
  3. ফরায়েজী
  4. আলীগড়
ব্যাখ্যা
• আলীগড় আন্দোলন 
- আলীগড় আন্দোলন হচ্ছে আলীগড়ভিত্তিক সমাজ সংস্কারমূলক আন্দোলন।

- ব্রিটিশ শাসিত ভারতীয় উপমহাদেশে যেসব মনীষী পশ্চাৎপদ মুসলমানদের অজ্ঞতা, অশিক্ষা, সামাজিক শোষণ, রাজনৈতিক বঞ্চনা এবং অথনৈতিক বিপর্যয়ের বিরুদ্ধে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন, তাঁদের মধ্যে স্যার সৈয়দ আহমদ খান অন্যতম।
- তিনি তৎকালীন ভারতীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের নবজাগরণের অন্যতম পথনির্দেশক ছিলেন।
- তাঁর পরিচালিত উত্তর ভারতের আলীগড়ভিত্তিক সংস্কার আন্দোলন ইতিহাসে আলীগড় আন্দোলন নামে পরিচিত।
- স্যার সৈয়দ আহমদ খান ব্রিটিশ শাসিত ভারতীয় মুসলমানদের শোষণ, রাজনৈতিক বঞ্চনা এবং অর্থনৈতিক দুর্দশা মোকাবেলা করে অধপতিত মুসলমানদের মর্যাদা সহকারে সমাজে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে আলীগড় আন্দোলন গড়ে তোলেন।
- এটি ছিল প্রত্যক্ষসংগ্রামের পরিবর্তে ব্রিটিশ শাসনের সঙ্গে সহযোগিতাধর্মী সম্পর্ক স্থাপনের সংস্কার আন্দোলন।
- ধর্মীয় ও সামাজিক কুসংস্কারের কারণে ভারতের মুসলমানরা সে সময় চরম দুর্দিনের মধ্যে জীবনযাপন করতে থাকে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৬৬.
'সেন্ট্রাল মোহামেডান অ্যাসোসিয়েশন' -এর প্রতিষ্ঠাতা কে?
  1. সৈয়দ আমির আলি
  2. নওয়াব আবদুল লতিফ
  3. হাজী মুহম্মদ মহসীন
  4. মাওলানা আবুল কালাম আজাদ
ব্যাখ্যা

• সৈয়দ আমির আলি:
- উনিশ শতকের শেষার্ধে বাংলার মুসলমান সমাজের নবজাগরণে যিনি সবচেয়ে
- গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিলেন তিনি হলেন সৈয়দ আমির আলি।
- তিনি ১৮৪৯ সালে হুগলীর এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এম.এ, ও বি.এল ডিগ্রি লাভ করেন।
- ১৮৭৩ সালে লন্ডনের লিংকন্স ইন থেকে ব্যারিস্টারি পাস করে দেশে ফেরেন।
- কর্মজীবনে তিনি বিভিন্ন দায়িত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন।
- তিনি ১৮৯০ সালে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি নিযুক্ত হন।
- ১৯০৯ সালে তিনি লন্ডনে প্রিভি কাউন্সিলের সদস্য হন। 
- বাংলা তথা ভারতে তিনিই প্রথম মুসলমান নেতা, যিনি বিশ্বাস করতেন মুসলমানদের জন্য একটি পৃথক রাজনৈতিক সংগঠন থাকা প্রয়োজন।
- তিনি বিশ্বাস করতেন, মুসলমানদের স্বার্থরক্ষা এবং তাদের দাবি-দাওয়ার
- প্রতি সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য নিজস্ব রাজনৈতিক সংগঠন থাকা প্রয়োজন।
- এই উদ্দেশ্যে তিনি ১৮৭৭ সালে কোলকাতায় 'সেন্ট্রাল মোহামেডান অ্যাসোসিয়েশন' নামে একটি সমিতি গঠন করেন।
- তিনি পত্র-পত্রিকায় শিক্ষা ও বিভিন্ন ক্ষেত্রে মুসলমানদের পিছিয়ে পড়ার বিষয়টি নিয়ে লেখালেখি করেন।
- ফলে ১৮৮৫ সালে সরকার মুসলমানদের শিক্ষার অগ্রগতির জন্য কতকগুলো ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। এ কারণে
- তিনি ১৮৮৪ সালে কোলকাতায় মাদ্রাসায় কলেজ পর্যায়ে ইংরেজি শিক্ষা এবং করাচিতে একটি কলেজ প্রতিষ্ঠায় উৎসাহিত করেন।
- তাঁর বিখ্যাত দুইটি গ্রন্থ 'The Spirit of Islam' এবং 'A Short History of the Saracens'-এ

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম ও দশম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া।

১৬৭.
কোন মতবাদের ভিত্তিতে হাজী শরীয়তুল্লাহ্ তাঁর সংস্কারমূলক আন্দোলন শুরু করেন?
  1. মনরো মতবাদ
  2. ওয়াহাবি মতবাদ
  3. দার্শনিক মতবাদ
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

হাজী শরীয়তুল্লাহ্:
- হাজী শরীয়তুল্লাহ্ ফরিদপুর জেলার মাদারীপুর মহকুমার অন্তর্গত শামাইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন ১৭৮১ সালে।
- শরিয়তপুর জেলার নামকরণ করা হয়েছে তাঁর নামানুসারে। 
- দীর্ঘ বিশ বছর মক্কায় অবস্থানকালে তিনি ওয়াহাবি মতবাদের প্রতি আকৃষ্ট হন।
- ওয়াহাবি মতবাদের ভিত্তিতেই হাজী শরীয়তুল্লাহ্ তাঁর সংস্কারমূলক আন্দোলন শুরু করেন।
- অত্যাচারী জমিদারদের শোষণ হতে কৃষকদের মুক্ত করার লক্ষ্যে তাঁর সংস্কারমূলক আন্দোলন পরিচালিত হয়। 
- হাজী শরীয়তুল্লাহর আন্দোলন পরবর্তীতে ’ফরায়েজি আন্দোলন’ নামে পরিচিতি পায়।
- ১৮৪০ সালে শরীয়তুল্লাহ মৃত্যুবরণ করলে, পুত্র দুদুমিয়া ফরায়েজিদের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন।

উৎস: সমাজকল্যাণ ২য় পত্র (এইচএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৬৮.
মুসলমান নারী কর্তৃক লিখিত প্রথম বাংলা সাহিত্যকর্ম ‘রূপজালাল’–এর লেখক –
  1. বেগম রোকেয়া
  2. নুরুন্নেসা খাতুন বিদ্যাবিনোদিনী
  3. নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধুরী
  4. সুফিয়া কামাল
ব্যাখ্যা
নওয়াব ফয়জুন্নেসা:
- অবিভক্ত ভারতীয় রক্ষণশীল মুসলিম নারীদের মধ্যে এক উজ্জল নক্ষত্র নওয়াব ফয়জুন্নেসা সততা, মহানুভবতা, সাহিত্য সাধনা ও সমাজসেবার ক্ষেত্রে অনন্য ভূমিকা রেখে তিনি চিরস্মরণীয় হয়ে আছেন।
- জনকল্যাণে তাঁর অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ ইংল্যান্ডের তৎকালীন মহারানী ভিক্টেরিয়া তাকে নওয়াব উপাধিতে ভূষিত করেন।
- ১৮৩৪ সালে ত্রিপুরা জেলার (বর্তমানে কুমিল্লা) লাকসাম থানার পশ্চিমগাঁও গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম জমিদার পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- স্বীয় প্রতিভা বলে দ্রুত বিদুষী হিসেবে প্রসিদ্ধি লাভ করেন।
- দানবীর হাজী মোঃ মুহসীনের জনহিতকর কার্যবলীর সাথে তাঁর দানশীলতাকে তুলনা করা যেতে পারে।
- তিনিই এক মাত্র ভারতীয় মহিলা যিনি ব্রিটিশ কর্তৃক ভারতীয়দের জন্য দেওয়া শ্রেষ্ঠতম সম্মান নওয়াব উপাধি লাভ করেন।

তাঁকে নারী শিক্ষার অগ্রদূত বলা যায়:
- নারী শিক্ষার জন্য নিজ গ্রামে এম. ই. স্কুল, কুমিল্লায় ফয়জুন্নেসা গার্লস হাই স্কুল ও একটি পাঠশালা, পশ্চিমগাঁও এ স্বীয় কন্যার নামে বদরুন্নেসা উচ্চ বিদ্যালয় তাঁর অমর কীর্তি।পশ্চিমগাঁও এ স্বীয় কন্যার নামে বদরুন্নেসা উচ্চ বিদ্যালয় তাঁর অমর কীর্তি।
- কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ স্থাপনেও তিনি সাহায্যের হাত বাড়ায়।

সহিত্য সাধনা:
- তাঁর সাহিত্য কর্মের অন্যতম নিদর্শণ রূপজালাল বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে কোন মুসলমান মহিলা প্রকাশিত ১৮৭৬ সালের ১০ ফেব্রুয়ারী প্রথম কাব্যগ্রন্থ।

উৎস: সমাজকল্যাণ ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৬৯.
“গণতন্ত্রের মানসপুত্র” বলা হয় কোন রাজনীতিবিদকে?
  1. শেরে বাংলা এ.কে ফজলুল হক
  2. মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী
  3. হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
  4. নওয়াব আব্দুল লতিফ
ব্যাখ্যা

হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী:
- তিনি ছিলেন রাজনীতিক, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী।
- তিনি ১৮৯২ সালে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তাকে 'গণতন্ত্রের মানসপুত্র' বলা হয়
- হোসেন শহীদ সোহ্‌রাওয়ার্দী ১৯২১ থেকে ১৯৫৮ সালের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে বঙ্গীয় ব্যবস্থাপক সভা এবং পাকিস্তান গণপরিষদের সদস্য ছিলেন।
- তিনি তাঁর রাজনৈতিক জীবনে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত থেকেছেন।
- সেসবের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো
- ১৯২৪ সালে কলকাতা কর্পোরেশনের ডেপুটি মেয়র,
- ১৯৩৭ সালের নির্বাচনোত্তর ফজলুল হক কোয়ালিশন মন্ত্রিসভার শ্রম ও বাণিজ্য মন্ত্রী,
- ১৯৪৩-১৯৪৫ সালে খাজা নাজিমউদ্দীন মন্ত্রিসভায় বেসামরিক সরবরাহ মন্ত্রী,
- ১৯৪৬-৪৭ সালে অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী,
- পাকিস্তান আমলে ১৯৫৪-৫৫ সালে মোহাম্মদ আলীর মন্ত্রিসভায় আইনমন্ত্রী এবং
- ১৯৫৬-১৯৫৭ সালে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৭০.
হেনরি লুই ডিরোজিওর জন্ম সাল কোনটি?
  1. ১৮০৭ খ্রিস্টাব্দে
  2. ১৮০৮ খ্রিস্টাব্দে
  3. ১৮০৯ খ্রিস্টাব্দে
  4. ১৮১০ খ্রিস্টাব্দে
ব্যাখ্যা
ডিরোজিও ও ইয়াং বেঙ্গল মুভমেন্ট:
 
- উনিশ শতকের প্রথমার্ধ জুড়ে ছিল রাজা রামমোহন রায়ের আন্দোলনের ধারা। দৃঢ়ভাবে সে ধারাকে বাঁচিয়ে রেখেছিল হিন্দু কলেজের প্রতিভাবান ছাত্রবৃন্দ ইয়াং বেঙ্গল আন্দোলনের মাধ্যমে । যার নেতৃত্বে ছিলেন হিন্দু কলেজের তরুণ অধ্যাপক হেনরি লুইস ডিরোজিও।
- তিনি তাঁর ছাত্র-অনুসারীদের স্বাধীন মতামত ব্যক্ত করার শিক্ষা দেন।
- ডিরোজিও ১৮০৯ খ্রিস্টাব্দে কলকাতা শহরে জন্ম গ্রহণ করেন।
- ডিরোজিও তাঁর স্কুল শিক্ষক ডেভিড ড্রামন্ডের প্রগতিবাদী, সংস্কারমুক্ত, অসাম্প্রদায়িক চেতনা সমৃদ্ধ মানবতাবাদী চিন্তাধারা দ্বারা গভীরভাবে প্রভাবিত ছিলেন।
- বাংলার ‘রেনেসাঁস’ যুগের এই প্রতিভাবান তরুণ মাত্র তেইশ বছর বয়সে ১৮৩১ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন।
- তাঁর মৃত্যুর পরও তাঁর হাতে গড়া অনুসারী, ছাত্ররা বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখতে থাকেন। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন, রামতনু লাহিড়ী, রাধানাথ সিকদার, প্যারিচাঁদ মিত্র, কৃষ্ণমোহন ব্যনার্জি প্রমুখ।
 
তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৭১.
ড. মুহাম্মদ ইউনূস প্রথম সাংবিধানিক তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থায় কোন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন?
  1. প্রাথমিক ও গণশিক্ষা
  2. আইন, বিচার ও সংসদ
  3. পররাষ্ট্র
  4. স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়
ব্যাখ্যা

ড. মুহাম্মদ ইউনূস:
- বাংলাদেশের বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
- তিনি বাংলাদেশি নোবেল পুরস্কার বিজয়ী ব্যাংকার ও অর্থনীতিবিদ।
- তিনি ক্ষুদ্রঋণ নামক অর্থনৈতিক ব্যবস্থার জনক হিসেবে সমাদৃত।
- তিনি গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা। তিনি এবং তার প্রতিষ্ঠিত গ্রামীণ ব্যাংক যৌথভাবে ২০০৬ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার লাভ করেন।
- তিনি ১৯৮৭ সালে স্বাধীনতা পদক লাভ করেন।

⇒ ড. মুহাম্মদ ইউনূস ১৯৯৬ সালে সাবেক প্রধান বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমানের নেতৃত্বে গঠিত প্রথম তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থায় উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
- তিনি সেই উপদেষ্টা পরিষদে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন।

উল্লেখ্য,
- তত্ত্বাবধায়ক সরকার হলো বাংলাদেশের একপ্রকারের শাসন ব্যবস্থা, যার অধীনে দুইটি নির্বাচিত সরকারের মধ্যবর্তী সময়কালে সাময়িকভাবে অনির্বাচিত ব্যক্তিবর্গ কোন দেশের শাসনভার গ্রহণ করে থাকে।
- ১৯৯৬ সালের ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানে ৫৮খ-৫৮ঙ পর্যন্ত চারটা অনুচ্ছেদ যোগ করে জাতীয় নির্বাচনের সময়ে সরকার পরিচালনার জন্য ‘নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার’ ব্যবস্থা চালু করা হয়।
- ১৯৯৬ সালে বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান বাংলাদেশের সর্বপ্রথম সংবিধানসম্মত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ লাভ করেন।
- এর চারদিন পর সংবিধান অনুযায়ী ১০ জন উপদেষ্টাকে নিয়োগ দেওয়া হয়।
- তারা হলেন ব্যারিস্টার সৈয়দ ইশতিয়াক আহমেদ, ড. মুহাম্মদ ইউনূস, অর্থনীতিবিদ ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ, অধ্যাপক মো. শামসুল হক, অধ্যাপক জামিলুর রেজা চৌধুরী, শেগুফতা বখত চৌধুরী, এ জেড এম নাছিরুদ্দিন, সৈয়দ মঞ্জুর এলাহী, অধ্যাপক নাজমা চৌধুরী ও মেজর জেনারেল (অব.) আব্দুর রহমান খান।
- এই তত্ত্বাবধায়ক সরকার মোট ৮৬ দিন ক্ষমতায় ছিল।
- তিনি ১৯৯৬ সালের ১২ জুন জাতীয় সংসদের নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেন।
- অবশেষে বিপুল উৎসাহ ও উদ্দীপনা মধ্য দিয়ে ১৯৯৬ সালের ১২ জুন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীন প্রথম সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

এছাড়াও,
- ১৯৯০ সালে প্রধান বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদের নেতৃত্বে গঠিত সরকার কার্যকাল, পদ্ধতি ও সাংবিধানিকতার বিচারে ‘নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার’ না হলেও বাস্তবে সেটিই ছিল প্রথম নির্দলীয় ও নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার এবং পরবর্তী সাংবিধানিক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ভিত্তিভূমি ও পথনির্দেশক।

উৎস: i) BBC.
ii) প্রথম আলো।
iii) ইতিহাস ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৭২.
সোহরাওয়াদী কোন দলের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা?
  1. কংগ্রেস
  2. আওয়ামী লীগ
  3. মুসলিম লীগ
  4. কৃষক-প্রজা পার্টি
ব্যাখ্যা
হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী:
- অবিভক্ত বাংলার শেষ মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী।

⇒ ১৯২১ সনে বঙ্গীয় ব্যবস্থাপক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হবার পর দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাসের অসাম্প্রদায়িক মানসিকতা, উদার দৃষ্টিভঙ্গি ও গভীর স্বদেশপ্রেম দ্বারা হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী দারুণভাবে অনুপ্রাণিত হন।
- ১৯২১ সালে শহীদ সোহরাওয়ার্দী বঙ্গীয় আইন পরিষদে সর্বকনিষ্ঠ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন।
- তিনি ব্রিটিশ শাসন অবসানের লক্ষ্যে হিন্দু-মুসলিম ঐক্য প্রতিষ্ঠার জন্য ১৯২৩ সালে দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ এর নেতৃত্বে 'বেঙ্গল প্যাক্ট' চুক্তি সম্পাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

⇒ ১৯৩৭ সালে তিনি মুসলিম লীগে যোগ দেন।
- ১৯৪৯ সালের আওয়ামী মুসলিম লীগ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
- পাকিস্তানে ১৯৫৬ সালে যে সংবিধান প্রণয়ন হয় তার পিছনেও শহীদ সোহরাওয়ার্দীর যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে।
- ১৯৫৬-১৯৫৭ সালে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।
- ১৯৬৩ সালে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী মৃত্যুবরণ করেন।

উল্লেখ্য,
- ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন ঢাকার কে.এম দাস লেনের রোজ গার্ডেনে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও আবুল হাশিমের নেতৃত্বাধীন বঙ্গীয় প্রাদেশিক মুসলিম লীগের একটি অংশের নেতা-কর্মীদের কনভেনশনে আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠিত হয়।
- মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর প্রস্তাব অনুযায়ী সেই দলের নামকরণ করা হয় 'পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ'।
- ১৯৫৫ সালের ২১-২৩ অক্টোবরের তৃতীয় কাউন্সিল সভায় ধর্মনিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গির অধিকারী হিসেবে দলের নাম থেকে ‘মুসলিম’ শব্দটি বাদ দেয়া হয়।

উৎস: i) সিভিক এডুকেশন-২, বিএসএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৭৩.
'বেঙ্গল প্যাক্ট' চুক্তি সম্পাদনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন কে?
  1. চিত্তরঞ্জন দাস
  2. সৈয়দ আহমদ খান
  3. মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী
  4. মাওলানা আবুল কালাম আজাদ
ব্যাখ্যা
• বেঙ্গল প্যাক্ট:
- সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও ঐক্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ১৯২৩ সালের ডিসেম্বরে বাংলার হিন্দু ও মুসলিম নেতাদের মধ্যে ‘বেঙ্গল প্যাক্ট’ নামে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
- চুক্তি সম্পাদনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাস।
- মুসলমানদের পক্ষে আব্দুল করিম, মুজিবুর রহমান, আকরম খাঁ, মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী, শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক, ড. এ সোহরাওয়ার্দী প্রমুখ প্রতিনিধিত্ব করেন।
- তাঁদের লক্ষ্য ছিল, কাউন্সিলে থেকে ধারাবাহিক প্রতিবন্ধকতার নীতি অনুসরণের মাধ্যমে ১৯১৯ সালের ভারত শাসন আইনের অধীনে প্রবর্তিত দ্বৈত শাসন-ব্যবস্থার অবসান ঘটানো।
- ১৯২৫ সালে চিত্তরঞ্জন দাসের মৃত্যু হলে বেঙ্গল প্যাক্ট তার গুরুত্ব হারায়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস : অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম এবং বাংলাপিডিয়া
১৭৪.
নবাব স্যার সলিমুল্লাহর উল্লেখযোগ্য রাজনৈতিক অবদান কী ছিল?
  1. সিপাহী বিদ্রোহে নেতৃত্ব
  2. মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠা
  3. মোহামেডান লিটারেরী সোসাইটি প্রতিষ্ঠা
  4. কংগ্রেস প্রতিষ্ঠা
ব্যাখ্যা
• নবাব স্যার সলিমুল্লাহ:
- ১৮৭১ সালের ৭ জুন ঢাকার বিখ্যাত নবাব পরিবারে খাজা সলিমুল্লাহ জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতার নাম নবাব খাজা আহসানউল্লাহ।
- নবাব পরিবারের মধ্যে সলিমুল্লাহ ছিলেন সবচেয়ে আলোচিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব।
- যৌবনকালে তিনি কিছুকাল ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে সরকারি চাকুরি করলেও পরে চাকুরিতে ইস্তফা দিয়ে সমাজকল্যাণমূলক কাজে আত্মনিয়োগ করেন।
- ১৯০১ সালে তাঁর পিতার মৃত্যু হলে জ্যেষ্ঠ পুত্র হিসেবে তিনি নবাবের পদসহ পারিবারিক কর্তত্ব লাভ করেন।
- ব্যক্তিগত জীবনে তিনি সৎ, সাহসী ও ধার্মিক ছিলেন।
- ১৯০৬ সালে ডিসেম্বর ঢাকায় নিখিল ভারত মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে নবাব সলিমুল্লাহ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও নবাব সলিমুল্লাহ নানামুখী অবদান রাখেন।
- নবাব সলিমুল্লাহ ১৯১৫ সালের ১৬ জানুয়ারি কলকাতায় মারা যান।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৭৫.
রামমোহন রায়কে 'রাজা' উপাধি দেন কে?
  1. রাজা কৃষ্ণচন্দ্র
  2. রাজা পঞ্চম জর্জ
  3. সম্রাট দ্বিতীয় আকবর
  4. লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক
ব্যাখ্যা
• রাজা রামমোহন রায়:
- রাজা রামমোহন রায় পশ্চিম বাংলার রাধানগর গ্রামে এক রক্ষণশীল ব্রাহ্মণ পরিবারে তাঁর জন্ম।
- উনিশ শতকের বাংলার নবজাগরণের অগ্রদূত ছিলেন।
- তিনি হিন্দি ও তাঁর মাতৃভাষা বাংলা ছাড়াও যেমন সংস্কৃত, আরবি ও ফারসিতে উল্লেখযোগ্য ব্যুৎপত্তি লাভ করেন।
- একেশ্বরবাদ বানী প্রচারে রামমোহন রায় আত্মীয় সভা গঠন করেন ।
- ১৮২২ সালে অ্যাংলো হিন্দু কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন।
- সম্রাট 'দ্বিতীয় আকবর' রাজা রামমোহন রায়কে 'রাজা' উপাধি দেন।
- ১৮২৫ সালে বেদান্ত কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন।
- তিনি বাল্যবিবাহ, বহুবিবাহ, কৌলীন্য প্রথা, গঙ্গা সাগরে সন্তান বিসর্জন, শিশুকন্যা হত্যার প্রতিবাদ করেন।
- তার প্রচেষ্টায় ৪ ডিসেম্বর ১৮২৯ সালে সতীদাহ প্রথা বিলুপ্ত করেন।
- তাকে ভারতীয় নবজাগরণের অগ্রদূত বলা হয়।
- ব্রাহ্ম সমাজ নামের পরিবর্তে ব্রাহ্মধর্ম গ্রহণ করা হয় ১৮৪৩ সালে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৭৬.
চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর মূল লক্ষ্য কী?
  1. সরকারি ক্ষমতা দখল করা
  2. সরকারি নীতি নির্ধারণে প্রভাব বিস্তার করা
  3. নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা
  4. জনসাধারণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করা
ব্যাখ্যা

চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী: 
- চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর মূল লক্ষ্য হলো সরকারি নীতি নির্ধারণ প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার করা।
- তারা রাজনৈতিক দলের মতো সরাসরি সরকারি ক্ষমতা দখলের চেষ্টা করে না।
- বরং তারা সরকারের গৃহীত নীতি ও সিদ্ধান্তকে নিজেদের স্বার্থের পক্ষে প্রভাবিত করতে চায়।
- এই গোষ্ঠীগুলো সাধারণত নির্দিষ্ট সামাজিক, অর্থনৈতিক, ধর্মীয় বা পেশাগত স্বার্থকে কেন্দ্র করে গঠিত হয় এবং তারা সংঘবদ্ধভাবে সেই স্বার্থ রক্ষার জন্য কাজ করে।
- অ্যালান বল, এইচ জিগলার ও অ্যালমন্ড-পাওয়েল প্রমুখ রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা এই গোষ্ঠীগুলোর সংজ্ঞায় একমত যে, এগুলো সংগঠিত এবং লক্ষ্য-সচেতন।
- তাই বলা যায়, চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর মূল লক্ষ্য হচ্ছে নীতিনির্ধারক মহলে চাপ সৃষ্টি করে নিজেদের লক্ষ্য অর্জন করা।

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

১৭৭.
বাংলাদেশে কমিউনিস্ট আন্দোলনের পথিকৃৎ ছিলেন -
  1. কমরেড মণি সিংহ
  2. কমরেড তোহা খান
  3. কমরেড ফরহাদ
  4. কমরেড মহিউদ্দীন আহমেদ
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশে কমিউনিস্ট আন্দোলনের পথিকৃৎ:
- উপমহাদেশের কমিউনিস্ট আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ, মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম নেতা, প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সাবেক সভাপতি কমরেড মণি সিংহ।

⇒ কমরেড মণি সিংহ ছিলেন উপমহাদেশের কমিউনিস্ট আন্দোলনের কিংবদন্তি নেতা, অন্যতম স্থপতি।
- তিনি ছিলেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সপিবি) প্রতিষ্ঠাতা প্রাণপুরুষ।
- মার্ক্সবাদী বিপ্লবী আদর্শই ছিল তাঁর জীবনাদর্শ।
- ‘মুক্ত মানবের মুক্ত সমাজ’, তথা সমাজতন্ত্র-সাম্যবাদ প্রতিষ্ঠার জন্য ছিল তাঁর আমৃত্যু সংগ্রামী প্রয়াস। 
- তিনি সব সময় ‘বিপ্লবী মানবতাবাদের’ কথা প্রচার করতেন।
- কমরেড মণি সিংহ ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের রাজনৈতিক নেতৃত্বের অন্যতম ব্যক্তিত্ব।
- স্বাধীন বাংলাদেশ সরকারের উপদেষ্টামণ্ডলীর অন্যতম সদস্য এবং কমিউনিস্ট পার্টির রাজনৈতিক-সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু। 

উৎস: প্রথম আলো। 

১৭৮.
উপমহাদেশের প্রথম মুসলিম নারী চিকিৎসা বিজ্ঞানী কে ছিলেন?
  1. ডা. হোসনেয়ারা বেগম
  2. ডা. জোহরা বেগম কাজী
  3. ডা. ফিরোজা বেগম
  4. ডা. মমতাজ বেগম কাজী
ব্যাখ্যা
উপমহাদেশের প্রথম মুসলিম নারী চিকিৎসা বিজ্ঞানী:
- উপমহাদেশের প্রথম নারী চিকিৎসক অধ্যাপক জোহরা বেগম কাজী।

⇒ তিনি ১৯১২ সালের ১৫ অক্টোবর অবিভক্ত ভারতের মধ্য প্রদেশের রাজনান গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ২৩ বছর বয়সেই তিনি দিল্লির 'লেডি হাডিং মেডিকেল কলেজ' থেকে ১৯৩৫ সালে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অধিকার করে এমবিবিএস পাস করেন।
- এজন্য পুরস্কার হিসেবে পান ভাইসরয় পদক।
- ১৯৪৮ সালে তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যোগ দেন।
- ১৯৭৩ সালে চাকরি থেকে অবসর নেবার পর বেশকিছু বছর হলিফ্যামিলি রেডক্রিসেন্ট হাসপাতালে কনসালটেন্ট হিসাবে চিকিৎ‍সা সেবা প্রদান করেন।
- পরবর্তীকালে তিনি বাংলাদেশ মেডিকেলে অনারারী অধ্যাপক হিসেবে কাজ করেন।
- তার কারণে চিকিৎসা শাস্ত্রে এদেশে মেয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বৃদ্ধি পায়।

⇒ ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে তিনি সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন। দীর্ঘকাল মানবতার সেবায় নিঃস্তার্থ কর্মকান্ডের স্তীকৃতিস্তরূপ ডাঃ জোহরা কাজীকে তমঘা-ই-পাকিস্তান (১৯৬৪), বেগম রোকেয়া পদক (২০০২) এবং একুশে পদক (২০০৮) প্রদান করা হয়।
- তিনি ২০০৭ সালের ৭ নভেম্বর মৃত্যুবরণ করেন।

উৎস: বাংলপিডিয়া।
১৭৯.
কার নেতৃত্বে ফরায়েজী আন্দোলন গড়ে উঠে?
  1. হাজী শরিয়ত উল্লাহ
  2. মুহসিন উদ্দিন দুদুমিয়া
  3. হাজী মুহম্মদ মহসীন
  4. মীর নিসার আলী
ব্যাখ্যা
ফরায়েজী আন্দোলন: 
- ফরায়েজি আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা হাজী শরিয়ত উল্লাহ।
- তিনি বৃহত্তর ফরিদপুরের মাদারীপুর জেলায় ১৭৮২ খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি দীর্ঘ বিশ বছর মক্কায় অবস্থান করেন।
- সেখানে তিনি ইসলাম ধর্মের উপর লেখাপড়া করে অগাধ পাণ্ডিত্য অর্জন করেন।
- দেশে ফিরে তিনি বুঝতে পারেন যে বাংলার মুসলমানরা ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা থেকে অনেক দূরে সরে গেছে।
- তাদের মধ্যে অনৈসলামিক রীতিনীতি, কুসংস্কার, অনাচার প্রবেশ করেছে।
- তিনি ইসলাম ধর্মকে এসব কুসংস্কার আর অনৈসলামিক অনাচার মুক্ত করতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ হন।
- এই প্রতিজ্ঞার বশবর্তী হয়ে তিনি উনিশ শতকের প্রথমার্ধে বাংলার মুসলমানদের মধ্যে এক ধর্মীয় সামাজিক সংস্কার আন্দোলনের সূত্রপাত করেন।
- হাজী শরিয়ত উল্লাহর এই সংস্কার আন্দোলনের নামই ফরায়েজি আন্দোলন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৮০.
নিখিল ভারত মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠার প্রস্তাবক কে ছিলেন?
  1. নবাব স্যার সলিমুল্লাহ
  2. মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ
  3. স্যার সৈয়দ আহমদ খান
  4. নওয়াব আব্দুল লতিফ
ব্যাখ্যা
নিখিল ভারত মুসলিম লীগ:
- ১৯০৬ সালের ৩০ ডিসেম্বর ঢাকায় নিখিল ভারত মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠিত হয়।
- বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলনের সময় ১৯০৬ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত সর্ব ভারতীয় মুসলিম শিক্ষা সম্মেলনে ঢাকার তৎকালীন নবাব স্যার সলিমুল্লাহ মুসলমানদের জন্যে একটি পৃথক রাজনৈতিক সংগঠন প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব করেন।
- তার প্রস্তাবের ভিত্তিতেই নিখিল ভারত মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠিত হয়।
- নওয়াব খাজা সলিমুল্লাহ, নবাব ভিকার-উল মুলক, সুলতান মুহাম্মদ শাহ আগা খান প্রমুখের উদ্যোগে মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠিত হয়।

⇒ নবাব স্যার সলিমুল্লাহ:
- ১৮৭১ সালের ৭ জুন ঢাকার বিখ্যাত নবাব পরিবারে খাজা সলিমুল্লাহ জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতার নাম নবাব খাজা আহসানউল্লাহ।
- খাজা সলিমুল্লাহ নবাবী পরিবারের বিত্ত-বৈভবের মধ্যে বেড়ে উঠলেও চিন্তা-চেতনায় ছিলেন আলাদা।
- নবাব পরিবারের মধ্যে সলিমুল্লাহ ছিলেন সবচেয়ে আলোচিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব।
- যৌবনকালে তিনি কিছুকাল ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে সরকারি চাকুরি করলেও পরে চাকুরিতে ইস্তফা দিয়ে সমাজকল্যাণমূলক কাজে আত্মনেয়োগ করেন।
- মুসলিম স্বার্থ অক্ষুন্ন রাখার জন্য নবাব সলিমুল্লাহ সকল প্রদেশের স্বশাসিত প্রতিষ্ঠানে, সংস্থায়, আইনসভায় মুসলমানদের জন্য স্বতন্ত্র নির্বাচন দাবি করেন।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও নবাব সলিমুল্লাহ নানামুখী অবদান রাখেন।

অন্যদিকে,
⇒ নওয়াব আব্দুল লতিফ, স্যার সৈয়দ আহমদ খান, মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠার সাথে জড়িত ছিলেন না।

উল্লেখ্য,
- মুহম্মদ আলী জিন্নাহ ১৯১৩ সালে মুসলিম লীগে যোগ দেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৮১.
‘পাইন্যার মা’ চিত্র কর্মের চিত্রশিল্পী কে?
  1. কাইয়ুম চৌধুরী
  2. জয়নুল আবেদিন
  3. হাসেম খান
  4. এস এম সুলতান
ব্যাখ্যা
জয়নুল আবেদিন:

- জয়নুল আবেদিন ১৯১৪ সালে ময়মনসিংহে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি বেড়ে উঠেছেন ব্রহ্মপুত্রের লালিত্যে গড়ে ওঠা সবুজ শ্যামলিমায়।
- জয়নুল তাঁর প্রথম জীবনেই নদী ও অবারিত প্রকৃতির মাঝে রোমান্টিকতার অনুপ্রেরণা পান।
- তিনি ১৯৩৩ সালে কলকাতা সরকারি আর্ট স্কুলে ভর্তি হন এবং পাঁচ বছর সেখানে ব্রিটিশ / ইউরোপীয় স্টাইলের ওপর পড়াশুনা করেন। 
- জয়নুল আবেদিন ও তাঁর কয়েকজন সহযোগী, যারা দেশ ভাগের পর ঢাকায় অভিবাসী হয়েছিলেন, আর্ট ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করেন।
- ‘দুই মহিলা’ (গোয়াশ, ১৯৫৩), ‘পাইন্যার মা’ (গোয়াশ, ১৯৫৩) ও ‘মহিলা’ (জলরং, ১৯৫৩), 'ফসল মাড়াই', জলরং (১৯৬৩) হলো এ আমলের উল্লেখযোগ্য চিত্রকর্ম।
- ১৯৭৬ সালের ২৮ মে ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
১৮২.
'The Spirit of Islam' বইটি কে লিখেছেন?
  1. সৈয়দ আমির আলি
  2. নওয়াব আবদুল লতিফ
  3. নওয়াব স্যার সলিমুল্লাহ
  4. নবাব ফয়জুন্নেছা চৌধুরানী
ব্যাখ্যা
সৈয়দ আমির আলি
- উনিশ শতকের শেষার্ধে বাংলার মুসলমান সমাজের নবজাগরণে যিনি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিলেন তিনি হলেন সৈয়দ আমির আলি।
- তিনি ১৮৭৭সালে কোলকাতায় 'সেন্ট্রাল মোহামেডান অ্যাসোসিয়েশন' নামে একটি সমিতি গঠন করেন।
- তিনি পত্র-পত্রিকায় শিক্ষা ও বিভিন্ন ক্ষেত্রে মুসলমানদের পিছিয়ে পড়ার বিষয়টি নিয়ে লেখালেখি করেন।
- ফলে ১৮৮৫ সালে সরকার মুসলমানদের শিক্ষার অগ্রগতির জন্য কতকগুলো ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।
- এ কারণে তিনি ১৮৮৪ সালে কোলকাতায় মাদ্রাসায় কলেজ পর্যায়ে ইংরেজি শিক্ষা এবং করাচিতে একটি কলেজ প্রতিষ্ঠায় উৎসাহিত করেন।
- তাঁর বিখ্যাত দুইটি গ্রন্থ 'The Spirit of Islam' এবং 'A Short History of the Saracens'-এ ইসলাম ধর্মের বিজ্ঞানসম্মত ব্যাখ্যা ও ইসলামের অতীত গৌরবের কথা তুলে ধরা হয়েছে।
- তিনি বিশ্বাস করতেন, আধুনিক ভারতের উন্নতির জন্য হিন্দু-মুসলমান উভয় সম্প্রদায়ের একযোগে কাজ করা প্রয়োজন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
১৮৩.
'ফুড কনফারেন্স' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. আবুল কালাম আজাদ
  2. সৈয়দ আমীর আলী
  3. আবুল কালাম শামসুদ্দিন
  4. আবুল মনসুর আহমদ
ব্যাখ্যা
আবুল মনসুর আহমদ:
- আহমদ, আবুল মনসুর একাধারে সাংবাদিক, আইনজীবী, রাজনীতিবিদ, সাহিত্যিক।
- ১৮৯৮ সালের ৩ সেপ্টেম্বর তিনি ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার ধানীখোলা গ্রামে জন্ম নেন এবং ১৯৭৯ সালের ১৮ মার্চ ঢাকায় মারা যান।
- তিনি যে সকল সাময়িক পত্রিকায় কাজ করেন, সেগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য সোলতান, মোহাম্মদী, দি মুসলমান, কৃষক, নবযুগ ও ইত্তেহাদ।
- তিনি ১৯৪৬ সালে অবিভক্ত বাংলার কলকাতা থেকে প্রকাশিত দৈনিক 'কৃষক', 'নবযুগ' ও 'ইত্তেহাদ'র সম্পাদক ছিলেন।
- তিনি খিলাফত ও অসহযোগ আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন।
- আবুল মনসুর আহমদ শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের যুক্তফ্রন্ট সরকারে প্রাদেশিক শিক্ষামন্ত্রী ছিলেন।
- তিনি যুক্তফ্রন্ট এর নির্বাচনী কর্মসূচি ২১-দফার অন্যতম প্রণেতা ছিলেন।
- ১৯৫৭ সালে তদানীন্তন প্রধানমন্ত্রী হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর আওয়ামী লীগ সরকারে ছিলেন কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী।

উল্লেখ্য,
- তাঁর বিখ্যাত বিদ্রুপাত্মক রচনা হচ্ছে: আয়না (১৯৩৬-১৯৩৭) ও ফুড কনফারেন্স (১৯৪৪)।
- তাঁর রচিত উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে, সত্যমিথ্যা (১৯৫৩), জীবন ক্ষুধা (১৯৫৫) ও আবে-হায়াৎ (১৯৬৪)।
- আর স্মৃতিকথা, আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর (১৯৬৯), শের-ই-বাংলা থেকে বঙ্গবন্ধু (১৯৭২) এবং তাঁর আত্মচরিত হল আত্মকথা (১৯৭৮)।
- সাহিত্যে অবদানের জন্য তাঁকে বাংলা একাডেমী পুরস্কার (১৯৬০), স্বাধীনতা দিবস পদক (১৯৭৯) ও নাসিরউদ্দিন স্বর্ণপদকে ভূষিত করা হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৮৪.
শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হকের জন্মস্থান কোন জেলায়?
  1. খুলনা
  2. যশোর
  3. ফরিদপুর
  4. বরিশাল
ব্যাখ্যা
• এ.কে ফজলুল হক (১৮৭৩-১৯৬২):
- এ.কে ফজলুল হক রাজনীতিবিদ ও জননেতা।
- আবুল কাশেম ফজলুল হক বর্তমান বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণাঞ্চলের বর্ধিষ্ণু গ্রাম সাটুরিয়ায় ১৮৭৩ সালের ২৬ অক্টোবর জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি কলকাতার মেয়র (১৯৩৫), অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী (১৯৩৭-১৯৪৩) এবং পূর্ব বাংলার মুখ্যমন্ত্রী (১৯৫৪), পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী (১৯৫৫) এবং পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নরের পদ (১৯৫৬-১৯৫৮) সহ বহু উঁচু রাজনৈতিক পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন।
- লোকপ্রিয়ভাবে ‘শেরে বাংলা’ বা হক সাহেব রূপে পরিচিত।
- ১৯৪০ সালের ২৩ মার্চ সর্বভারতীয় মুসলিম লীগের লাহোর অধিবেশনে লোকপ্রিয়ভাবে পাকিস্তান প্রস্তাব নামে অভিহিত  'লাহোর প্রস্তাব' উত্থাপনের জন্য জিন্নাহ্ তাঁকে নির্বাচিত করেন। 
- তাঁর প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দলের নাম কৃষক প্রজা পার্টি (কে.পি.পি)।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৮৫.
’বেঙ্গল প্যাক্ট’ চুক্তির রূপকার কে?
  1. পন্ডিত মতিলাল নেহেরু
  2. মহাত্মা গান্ধী
  3. দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ
  4. নবাব আব্দুল লতিফ
ব্যাখ্যা

দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ:
- দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ ১৮৭০ সালের ৫ নভেম্বর কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি সি. আর দাশ নামেও পরিচিত।
- বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিক থেকে তিনি রাজনীতিতে জড়িত হন।
- অসহযোগ আন্দোলন চলাকালে মহাত্না গান্ধীর ডাকে সাড়া দিয়ে তিনি লাভজনক আইনজীবির
পেশা পরিত্যাগ করে রাজনৈতিক কর্মকান্ডে আরো বেশী সোচ্চার হয়ে ওঠেন।
- ১৯২৩ সালে তিনি মুসলমান সম্প্রদায়ের সাথে একটি চুক্তি করেন যা ’বেঙ্গল প্যাক্ট’ নামে পরিচিত।
- ’বেঙ্গল প্যাক্ট’ এ সরকারি চাকুরিতে মুসলমানদের জন্য শতকরা ৫৫ ভাগ আসন সংরক্ষণের কথা বলা হয়।
- রাজনৈতিক নিষ্ঠা ও গভীর দেশপ্রেমের জন্য এই উপমহাদেশের জনগণ চিত্তরঞ্জন দাশকে 'দেশবন্ধু' উপাধিতে ভূষিত করে।
- ১৯২৫ সালের ১৬ জুন অসুস্থ অবস্থায় দার্জিলিংয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, ২য় পত্র (এইচএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৮৬.
ভারতের গ্র্যান্ড ওল্ড ম্যান হিসাবে পরিচিত ছিলেন -
  1. মহাত্মা গান্ধী
  2. মাওলানা মোহাম্মদ আলী
  3. রমেশ চন্দ্র দত্ত
  4. দাদাভাই নওরোজী
ব্যাখ্যা
দাদাভাই নওরোজী:
- দাদাভাই নওরোজি ছিলেন একজন ভারতীয় জাতীয়তাবাদী এবং ভারতে ব্রিটিশ অর্থনৈতিক নীতির সমালোচক।
- ভারতীয়দের মধ্যে তিনিই প্রথম ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সদস্য।
- ভারতের গ্র্যান্ড ওল্ড ম্যান হিসাবে পরিচিত ছিলেন দাদাভাই নরোজি।
- ১৮৮৬, ১৮৯৩ এবং ১৯০৬ সালে তিনি ভারতীয় জাতীয় সংসদের বার্ষিক অধিবেশনেও সভাপতিত্ব করেন। 

উল্লেখ্য,
- ১৮৫৫ সালে দাদাভাই নওরেজি প্রথম বারের মতো ব্রিটেন সফরে আসেন।
- ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সদস্য হওয়ার জন্য তার মধ্যে যে আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়, তার মূলে ছিল ভারতের দারিদ্র।

উৎস: Britannica.
১৮৭.
হোসেন শহীদ সোহ্‌রাওয়ার্দী কবে অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন?
  1. ১৯৪৬ সাল থেকে ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত
  2. ১৯৪৮ সাল থেকে ১৯৪৯ সাল পর্যন্ত
  3. ১৯৪৩ সাল থেকে ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত
  4. ১৯৪৩ সাল থেকে ১৯৪৬ সাল পর্যন্ত
ব্যাখ্যা

হোসেন শহীদ সোহ্‌রাওয়ার্দী: 
- হোসেন শহীদ সোহ্‌রাওয়ার্দী অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন ১৯৪৬ থেকে ১৯৪৭ সালের আগস্ট পর্যন্ত।
- সোহ্‌রাওয়ার্দী ১৯৪৬ সালের নির্বাচনে মুসলিম লীগের পক্ষে বিশাল বিজয়ে মুখ্য ভূমিকা পালন করেন।
- ঐ নির্বাচনে মুসলিম লীগ ১২১টি সংরক্ষিত মুসলিম আসনের মধ্যে ১১৪টি আসনে জয়লাভ করে।
- এই বিজয়ের ফলে হোসেন শহীদ সোহ্‌রাওয়ার্দী অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হন।
- তিনি ১৯৪৬ সালের এপ্রিল মাসে মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
- তাঁর নেতৃত্বেই ১৬ আগস্ট ১৯৪৬ "প্রত্যক্ষ সংগ্রাম দিবস" পালন করা হয়, এর ফলে কলকাতায় ভয়াবহ দাঙ্গা ঘটে।
- মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তিনি মুসলিম লীগের লক্ষ্য পূরণে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন।
- তিনি হিন্দু নেতাদের সঙ্গে মিলে "স্বাধীন ও অখণ্ড বাংলা" গঠনের প্রস্তাব দেন, যা ব্যর্থ হয়।
- ১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট ভারত বিভাজনের মধ্য দিয়ে তাঁর মুখ্যমন্ত্রিত্বের অবসান ঘটে।
- দেশবিভাগের পর তিনি প্রথমে ভারতে থাকেন এবং গান্ধীর সঙ্গে শান্তি মিশনে কাজ করেন।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া। 

১৮৮.
তিতুমীর বাঁশেরকেল্লা নির্মাণ করেন-
  1. নারিকেলবাড়িয়ায়
  2. হুগলিতে
  3. মুর্শিদাবাদে
  4. আলীগড়ে
ব্যাখ্যা
• তিতুমীর:
- তিতুমীর ওরফে মীর নিসার আলী প্রথমে ধর্মীয় সংস্কার আন্দোলন শুরু করেন।
- পরবর্তীতে তার এই আন্দোলন জমিদার ও ব্রিটিশবিরোধী রূপ লাভ করে।
- তিনি বারাসাতের নিকটবর্তী নারিকেলবাড়িয়ায় একটি বাঁশের কেল্লা নির্মাণ করেন।
- ১৮৩১ সালের ১৯ নভেম্বর লে. কর্নেল স্টুয়ার্টের নেতৃত্বাধীন বাহিনীর সাথে যুদ্ধে কামানের গোলায় তার বাঁশেরকেল্লা ধ্বংস হয়ে যায় এবং তিনিসহ তার বহু অনুসারী শহিদ হন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণী এবং বাংলাপিডিয়া।
১৮৯.
'মনপুরা ৭০' শিল্পকর্মটির চিত্রশিল্পী কে?
  1. হাশেম খান
  2. জয়নুল আবেদিন
  3. এস এম সুলতান
  4. কাইয়ুম চৌধুরী
ব্যাখ্যা
মনপুরা ৭০:
- সত্তরের ভয়াবহ ঘুর্ণিঝড়ে বিপর্যস্ত মানুষের অসহায়তাকে অবলম্বন করে একটি চিত্রশিল্প ‘মনপুরা ৭০’।
- ‘মনপুরা ৭০’ শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের শিল্পকর্ম।
- আধুনিকযুগে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন শিল্পচর্চার পথিকৃৎ।
- ১৯৪৩-এর বাংলার মন্বন্তর-ভিত্তিক চিত্রমালা তাঁকে ভারতব্যাপী খ্যাতি এনে দেয় এবং এক সকরুণ মানব-ট্র্যাজেডির তাৎক্ষণিক, সহানুভূতিপূর্ণ ও সবল রূপায়ন হিসেবে এগুলি বহির্বিশ্বেও শিল্পরসিকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
- দুর্ভিক্ষের স্কেচে, কেবল তুলির কালো রেখায় যার সূচনা, সেটাকে বর্ণপ্রয়োগের ন্যূনতায় ও স্পেস ব্যবহারের পরিমিতিবোধে তিনি ক্রমশ এক নিজস্ব শৈলীতে রূপান্তরিত করেন।
- তাঁর এপর্যায়ের ছবিগুলো- ‘বিদ্রোহী’, ‘মই দেওয়া’, ‘সাঁওতাল যুগল’ ‘সংগ্রাম’ এবং লোকশৈলীর মটিফে জ্যামিতিক বিন্যাসে সন্নিবেশিত চিত্র- ‘পাইন্যার মা’, ‘প্রসাধন’, ‘গুণটানা' প্রভৃতি।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
১৯০.
নারীশিক্ষার প্রসার ও জনহিতৈষী কার্যক্রমের স্বীকৃতি হিসেবে মহারাণী ভিক্টোরিয়া কর্তৃক কে নবাব উপাধী ভূষিত হয়?
  1. ফয়জুন্নেছা চৌধুরানী
  2. বদরুন্নেছো চৌধুরানী
  3. রাজিয়া খানম আরা
  4. চৌধুরানী মমতাজ বেগম
ব্যাখ্যা

• নবাব ফয়জুন্নেছা চৌধুরানী:
- নবাব ফয়জুন্নেছা চৌধুরানী ছিলেন নারীশিক্ষার একজন প্রবর্তক, সমাজসেবক ও লেখক। 
- তিনি কুমিল্লার হোমনাবাদ পরগনার (বর্তমান লাকসাম) পশ্চিমগাঁও-এ ১৮৩৪ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতার নাম আহমদ আলী চৌধুরী ছিলেন হোমনাবাদ-পশ্চিমগাঁও-এর জমিদার।
- পারিবারিক পরিবেশে গৃহশিক্ষকের তত্ত্বাবধানে তিনি শিক্ষা লাভ করেন।
- ফয়জুন্নেছা বাংলা ভাষা ছাড়াও আরবি, ফারসি ও উর্দুভাষায় বিশেষ জ্ঞান অর্জন করেন।
-  পিতার মৃত্যুর পর তিনি পশ্চিমগাঁও-এর জমিদারি লাভ করেন।
- মা আরাফান্নেছার মৃত্যুর পর মাতুল সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হয়েতিনি বিশাল জমিদারির অধিকারী হন।
- তিনি সফলভাবে এই জমিদারি পরিচালনা করে বিশেষ খ্যাতি লাভ করে। 
- তিনি নিজ জমিদারি এলাকার বহু প্রাথমিক বিদ্যালয়, মসজিদ ও মাদ্রাসা ইত্যাদি নির্মাণেও প্রচুর অর্থ ব্যয় করেন।
- যাতায়াতের সুবিধার জন্য রাস্তাঘাট নির্মাণ, দিঘি-পুষ্করিণী খনন প্রভৃতি জনহিতকর কাজে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে।
- নারীশিক্ষার প্রসার ও জনহিতৈষী কার্যক্রমের স্বীকৃতি হিসেবেমহারানী ভিক্টোরিয়া ১৮৮৯ সালে ফয়জুন্নেছাকে 'নবাব' উপাধিতে ভূষিত করেন।
- তিনিই ভারতবর্ষের প্রথম নারী যিনি এই সম্মানজনক উপাধি লাভ করেন।
- ১৯০৩ সালে নিজ গ্রামে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
- ২০০৪ সালে বাংলাদেশ সরকার ফয়জুন্নেছা চৌধুরানীকে 'একুশে পদক' (মরণোত্তর) প্রদান করে সম্মান জানায়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা বোর্ড বই, নবম ও দশম শ্রেণি।

১৯১.
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরকে 'বিদ্যাসাগর' উপাধি দেয় কোন প্রতিষ্ঠান?
  1. কলকতা বিশ্ববিদ্যালয়
  2. ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ
  3. সংস্কৃত কলেজ
  4. ব্রাক্ষ্ম সমাজ
ব্যাখ্যা
• ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর (১৮২০-১৮৯১ খ্রি.):
- উনিশ শতকের বাংলার অন্যতম শ্রেষ্ঠ বুদ্ধিজীবী ও সমাজকর্মী ।
- ঈশ্বরচন্দ্রের জন্ম পশ্চিম বঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীর সিংহ গ্রামের এক দরিদ্র পরিবারে।
- কাব্য, অলঙ্কার শাস্ত্র, বেদান্ত, স্মৃতি, জ্যোতিষ ও যুক্তিবিদ্যায় তাঁর অসামান্য পাণ্ডিত্যের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৮৩৯ সালে সংস্কৃত কলেজ কর্তৃপক্ষ তাঁকে 'বিদ্যাসাগর' উপাধি দেন।
- তিনি সংস্কৃত কলেজে ইংরেজি শিক্ষা চালু করেন।
- শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপনে তাঁর মহৎ কীর্তি কলকাতা মেট্রোপলিটন ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা।
- উদার ও সংস্কারমনা বিদ্যাসাগর হিন্দু সমাজে প্রচলিত, বাল্য বিবাহ, বহু বিবাহ, বিধবা বিবাহ নিষিদ্ধ, সতীদাহ প্রথা সহ সামাজিক উন্নয়ন ব্যাহতকারী অন্যান্য অশুভ তৎপরতার বিরুদ্ধে জোর আন্দোলন পরিচালনা করেন।
- তাঁর প্রচেষ্টায় বিধবা বিবাহ আইনসম্মত করণে ১৮৫৬ সালে একটি আইন পাস করা হয়।
- ১৮৭২ সালে বহু বিবাহ ও বাল্য বিবাহ রহিতকরণে 'সিভিল ম্যারেজ এ্যাক্ট' প্রণয়নেও তাঁর প্রভূত অবদান রয়েছে।
- ১৮৯১ সালের ২৫ জুলাই তিনি পরলোকগমণ করেন।

উৎস: ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৯২.
'ভারতে রাজভক্ত মুসলমান' নামক বইটির লেখক কে?
  1. এ.কে. ফজলুল হক
  2. নওয়াব আব্দুল লতিফ
  3. সৈয়দ আমীর আলী
  4. স্যার সৈয়দ আহমদ
ব্যাখ্যা
• সৈয়দ আহমদ খান:
- সিপাহী বিদ্রোহের জন্য ইংরেজ সরকার মুসলমানদের এককভাবে দায়ী করে তাদের বিরুদ্ধে নানা প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ শুরু করে।
- ভারতীয় মুসলমানদের দুর্দশা সৈয়দ আহমদ খানকে ব্যথিত করে।
- এমতাবস্থায় সৈয়দ আহমদ খান ভারতীয় মুসলমানদের প্রতি ইংরেজ সরকারের মনোভাব পরিবর্তনের জন্য নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।

- তিনি ‘ভারতে সিপাহী বিদ্রোহের কারণ’ এবং ‘ভারতের রাজভক্ত মুসলমান' নামক দুটি বই রচনা করেন।
- তিনি যুক্তি দিয়ে প্রমাণ করেন যে, সিপাহী বিদ্রোহের জন্য মুসলমানরা দায়ী ছিল না।
- বরং বিদ্রোহকালে অধিকাংশ মুসলমান ইংরেজদের পক্ষে ছিল।
- তাঁর যৌক্তিক আলোচনায় মুসলমানদের প্রতি ইংরেজদের দৃষ্টিভঙ্গি যথেষ্ট পরিবর্তন ঘটে।
- উল্লেখ্য যে, সৈয়দ আহমদ খান নিজে ইংরেজ অনুগত ছিলেন।
- তিনি ভারতের মুসলমানদের ভাগ্যোন্নয়নের জন্য তাদেরকেও ইংরেজ অনুগত হওয়ার এবং তাদের সহযোগিতা করার উপদেশ দেন।

সূত্র: ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৯৩.
মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী কার আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে রাজনীতিতে যোগদান করেন?
  1. দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ
  2. শেরেবাংলা ফজলুল হক
  3. হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
  4. মহাত্মা গান্ধী
ব্যাখ্যা

আব্দুল হামিদ খান ভাসানী:
- বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রভাবশালী ব্যক্তি আব্দুল হামিদ খান ভাসানী।
- তিনি মওলানা ভাসানী হিসেবে পরিচিত।
- ভাসানী ১৮৮০ সালে সিরাজগঞ্জের ধানগড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৯৭৬ সালের ১৭ নভেম্বর তাঁর মৃত্যু হয়।
- ভাষা আন্দোলনে বিশেষ অবদানের জন্য ২০০২ সালে বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক তাকে মরণোত্তর একুশে পদকে ভূষিত করা হয়।

উল্লেখ্য,
- মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে রাজনীতিতে যোগদান করেন।

⇒ বাইশ বছর বয়সে কংগ্রেস নেতা দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশের আদর্শে তিনি অনুপ্রাণিত হন।
- ১৯২৪ সালে সিরাজগঞ্জে তিনি এক সভায় ভাষণ দেন।
- এই ভাষণে তিনি কৃষক সাধারণের ওপর জমিদারদের শোষণ, নিপীড়ন ও অত্যাচারের কাহিনি তুলে ধরেন। 
- আসামের ধুবড়ি জেলার ভাসানচরে তিনি এক বিশাল প্রতিবাদী সমাবেশের আয়োজন করেন। এ সভায় তিনি বাঙালি কৃষকদের ওপর অত্যাচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানান। এই সমাবেশেই সাধারণ কৃষকরা তাঁকে ভাসানচরের মওলানা নাম দেয়। পরে তাঁকে ভাসানী নাম দেয়।
- তখন থেকেই তাঁর পরিচয় হয় মওলানা ভাসানী। 
- মওলানা ভাসানী তাঁর এক ভাষণে বলেছেন, 'আমি খেটে-খাওয়া মানুষের কথা বলি। এই মানুষেরা কাজ করে খেতে-খামারে, কাজ করে কলে-কারখানায়। এরা কৃষক, এরা শ্রমিক। আর এরাই জমিদার, মহাজন, মালিকের জুলুমের শিকার হয়।'
- সোহরাওয়ার্দীর সঙ্গে যুক্তফ্রন্ট গঠন করেন। যুক্তফ্রন্ট এ নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ী হয়।
- ১৯৫৭ সালে ভাসানী টাঙ্গাইলের কাগমারিতে এক বিশাল আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক সম্মেলন আহ্বান করেন। এ সম্মেলন 'কাগমারি সম্মেলন' নামে খ্যাত। 

উৎস: i) আমার বাংলা বই, পঞ্চম শ্রেণি।
ii) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

১৯৪.
বিধবা বিবাহের পক্ষে কে সামাজিক আন্দোলন শুরু করেছিলেন?
  1. হাজী শরীয়তুল্লাহ্
  2. হাজী মুহম্মদ মুহসীন
  3. রাজা রামমোহন রায়
  4. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
ব্যাখ্যা

বিধবা বিবাহ আইন:
- বিধবা বিবাহ আইন প্রবর্তন করেন লর্ড ডালহৌসী।
- এই আইন প্রণয়ন করেন -১৮৫৪ সালে।
- বিধবা বিবাহ আইন পাশ হয়- ১৮৫৬ সালে।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর বিধবা বিবাহের জন্য সামাজিক আন্দোলন শুরু করেন।
- তিনি বাল্যবিবাহ ও বহু বিবাহ নিষিদ্ধের পাশাপাশি বিধবা বিবাহ জন্য সংগ্রাম করেন
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর তার ছেলের সাথে বিধবা বিবাহ দিয়েছিলেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।

১৯৫.
মুক্তিযুদ্ধের সময় তাজউদ্দীন আহমদ কোন পদে দায়িত্ব পালন করেন?
  1. মুক্তিবাহিনীর প্রধান
  2. অস্থায়ী সরকারের অর্থমন্ত্রী
  3. অস্থায়ী সরকারের প্রধানমন্ত্রী
  4. মিত্র বাহিনীর সেনাপ্রধান
ব্যাখ্যা
তাজউদ্দীন আহমদ:
- তাজউদ্দীন আহমদ ছিলেন বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী এবং মুক্তিযুদ্ধকালীন অস্থায়ী সরকারের প্রধান নেতা।
- তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব হিসেবে ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে আছেন।
- তাজউদ্দীন আহমদ ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হয়ে পূর্ব পাকিস্তানের বিভিন্ন রাজনৈতিক আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।
- শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহচর হিসেবে তাজউদ্দীন আহমদ রাজনৈতিক আন্দোলনের মাধ্যমে বাঙালির অধিকার আদায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

অবদান:
- ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ পাকিস্তানি বাহিনী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে গ্রেপ্তার করলে তাজউদ্দীন আহমদ অস্থায়ী সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন।
- ১৭ এপ্রিল মুজিবনগরে অস্থায়ী সরকার গঠিত হয় এবং তাজউদ্দীন আহমদ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন।
- মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠিত করেন, মুক্তিবাহিনী গঠনের উদ্যোগ নেন এবং আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশের পক্ষে সমর্থন আদায় করেন।
- স্বাধীনতার পর তাজউদ্দীন আহমদ স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সরকারে অর্থমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
- ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পর তাজউদ্দীন আহমদসহ অন্যান্য জাতীয় নেতাদের বন্দি করা হয়।
- ৩ নভেম্বর, ১৯৭৫ সালে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের ভেতরে তাকে হত্যা করা হয়, যা জেল হত্যা দিবস হিসেবে পরিচিত।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া।
১৯৬.
নিচের কোন নামটি ইয়াং বেঙ্গল আন্দোলনের প্রবক্তা হিসেবে অধিক যুক্তিযুক্ত?
  1. হেনরী কুই ডিরোজিও
  2. কৃষ্ণমোহন ডিরোজিও
  3. হেনরী লুই ডিরোজিও
  4. উইলিয়াম কেরি
ব্যাখ্যা
ইয়াং বেঙ্গল:
- 'ইয়াং বেঙ্গল' আন্দোলনের প্রবক্তা ডিরোজিও।
- ‘রেনেসাঁস’ যুগে বাঙালি যুব সমাজের মধ্যে আলোড়ন সৃষ্টিকারী ‘ইয়াং বেঙ্গল’ আন্দোলনের প্রবক্তা ডিরোজিও ১৮০৯ খ্রিস্টাব্দে কলকাতা শহরে জন্ম গ্রহণ করেন।
- ডিরোজিওর অনুসারী ইয়াং বেঙ্গল আন্দোলনের সদস্যরা দেশবাসীকে বোঝাতে চেয়েছেন যে তারা ব্রিটিশ কর্তৃক শাসিত ও শোষিত হচ্ছে।
- ডিরোজিও কর্তৃক ১৮২৮ খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত ‘একাডেমি এ্যাসোসিয়েশন’ গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখে।
- বাংলার ‘রেনেসাঁস’ যুগের এই প্রতিভাবান তরুণ মাত্র তেইশ বছর বয়সে ১৮৩১ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন।
- তাঁর মৃত্যুর পরও তাঁর হাতে গড়া অনুসারী, ছাত্ররা বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখতে থাকেন। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন, রামতনু লাহিড়ী, রাধানাথ সিকদার, প্যারিচাঁদ মিত্র, কৃষ্ণমোহন ব্যনার্জি প্রমুখ।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৯৭.
চট্টগ্রাম কারাগার ডিনামাইট দিয়ে উড়িয়ে দেবার নির্দেশ প্রদান করেন কে?
  1. আম্বিকা চক্রবর্তী
  2. কল্যাণী দাস
  3. শহীদ তিতুমীর
  4. মাস্টারদা সূর্যসেন
ব্যাখ্যা

মাস্টারদা সূর্যসেনঃ 
- ১৮৯৪ সালে মাস্টারদা সূর্যসেন জন্মগ্রহণ করেন।
- সূর্যসেন ছিলেন পেশায় শিক্ষক তাই তাঁকে সম্মান প্রদর্শনের জন্য বলা হত মাস্টারদা সূর্যসেন।  
- বি.এ পড়ার সময় তিনি তাঁর শিক্ষক শতীশচন্দ্র চক্রবর্তী কর্তৃক বৈপ্লবিক আদর্শে দীক্ষিত হন। 
- ১৯৩০ সালের এপ্রিল মাস থেকে ভারতবর্ষের স্বাধীনতার লক্ষ্যে মাস্টারদা ব্রিটিশদের উপর আক্রমণ চালাতে শুরু করেন।
- ১৯৩০ সালের ১৮ এপ্রিলের সশস্ত্র বিদ্রোহ ছিল সূর্যসেনের নেতৃত্বে বিপ্লবীদের ফসল।
-  এ যুদ্ধে ১৪ জন বিপ্লবী শহীদ হন।
- মাস্টারদা প্রীতিলতা ও কল্পনা দত্তকে বোমা সংগ্রহ করে চট্টগ্রাম কারাগার ডিনামাইট দিয়ে উড়িয়ে দেবার নির্দেশ প্রদান করেন ১৯৩২ সালের জুন মাসে।
- মাস্টারদা পটিয়া এলাকার গৈরালা গ্রামে আত্নগোপন করেন।
- একজন গ্রামবাসীর বিশ্বাসঘাতকতায় ১৯৩৩ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি মাস্টারদা গ্রেফতার হন।
- ১৯৩৪ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি সূর্যসেনকে ফাঁসি দেয়া হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, ২য় পত্র (এইচএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া।

১৯৮.
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট আন্দোলনের পথিকৃৎ কে ছিলেন?
  1. তোহা খান
  2. মণি সিংহ
  3. মহিউদ্দীন আহমেদ 
  4. সি আর দাস
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশে কমিউনিস্ট আন্দোলনের পথিকৃৎ:
- উপমহাদেশের কমিউনিস্ট আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ, মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম নেতা, প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সাবেক সভাপতি কমরেড মণি সিংহ।

⇒ কমরেড মণি সিংহ ছিলেন উপমহাদেশের কমিউনিস্ট আন্দোলনের কিংবদন্তি নেতা, অন্যতম স্থপতি।
- তিনি ছিলেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সপিবি) প্রতিষ্ঠাতা প্রাণপুরুষ।
- মার্ক্সবাদী বিপ্লবী আদর্শই ছিল তাঁর জীবনাদর্শ।
- ‘মুক্ত মানবের মুক্ত সমাজ’, তথা সমাজতন্ত্র-সাম্যবাদ প্রতিষ্ঠার জন্য ছিল তাঁর আমৃত্যু সংগ্রামী প্রয়াস। 
- তিনি সব সময় ‘বিপ্লবী মানবতাবাদের’ কথা প্রচার করতেন।
- কমরেড মণি সিংহ ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের রাজনৈতিক নেতৃত্বের অন্যতম ব্যক্তিত্ব।
- স্বাধীন বাংলাদেশ সরকারের উপদেষ্টামণ্ডলীর অন্যতম সদস্য এবং কমিউনিস্ট পার্টির রাজনৈতিক-সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু।

উৎস: প্রথম আলো। 

১৯৯.
নওয়াব আব্দুল লতিফ সম্পর্কে কোন তথ্যটি ভুল?
  1. বাঙালিদের মধ্যে প্রথম ইংল্যান্ডের প্রিভি কাউন্সিলের সদস্য
  2. 'মোহামেডান লিটারারি সোসাইটি' প্রতিষ্ঠা করেন
  3. 'নীল কমিশন' গঠনের পেছনে তাঁর ভূমিকা ছিল
  4. মুসলমানদের জাগরণের অন্যতম স্থপতি
ব্যাখ্যা
• নওয়াব আব্দুল লতিফ:
- তিনি ছিলেন মুসলমানদের জাগরণের অন্যতম স্থপতি।
- নওয়াব আবদুল লতিফ ১৮২৮ সালে ফরিদপুর জেলার রাজাপুর গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- ইংরেজদের প্রতি আনুগত্য এবং মুসলমান সমাজের প্রতি তাঁর অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে সরকার ১৮৭৭ সালে তাঁকে 'খান বাহাদুর', ১৮৮০ সালে 'নওয়াব', ১৮৮৩ সালে সি.আই.ই. এবং ১৮৮৭ সালে উচ্চতর সম্মানের প্রতীক 'নওয়াব বাহাদুর' উপাধিতে ভূষিত করে।
- ১৮৬০ সালে ব্রিটিশ সরকার কর্তৃক 'নীল কমিশন গঠনের পেছনে তাঁর ভূমিকা ছিল।
- এ কমিশনের সুপারিশ অনুসারে নীল চাষে কৃষকদের স্বাধীনতা দেওয়া হয়।
- নওয়াব আবদুল লতিফ ১৮৬৩ সালে কলকাতায় 'মোহামেডান লিটারারি সোসাইটি' বা 'মুসলিম সাহিত্য সমাজ' নামে একটি সমিতি প্রতিষ্ঠা করেন।
- আধুনিক শিক্ষা সম্পর্কে মুসলমানদের মধ্যে জনমত তৈরি এবং তাদেরকে পরিবর্তিত অবস্থা সম্পর্কে সচেতন করাই ছিল এ সমিতি প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য।

অন্যদিকে,
- বাঙালিদের মধ্যে প্রথম ইংল্যান্ডের প্রিভি কাউন্সিলের সদস্য ছিলেন সৈয়দ আমির আলী।

উৎস: ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২০০.
নওয়াব ফয়জুন্নেসার প্রধান সাহিত্যকর্ম কোনটি?
  1. অবরোধ বাসিনী
  2. সোনালী কাবিন
  3. রূপজালাল
  4. মায়াবী পর্দা দুলে ওঠো
ব্যাখ্যা
নওয়াব ফয়জুন্নেসা:
- অবিভক্ত ভারতীয় রক্ষণশীল মুসলিম নারীদের মধ্যে এক উজ্জল নক্ষত্র নওয়াব ফয়জুন্নেসা সততা, মহানুভবতা, সাহিত্য সাধনা ও সমাজসেবার ক্ষেত্রে অনন্য ভূমিকা রেখে তিনি চিরস্মরণীয় হয়ে আছেন।
- জনকল্যাণে তাঁর অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ ইংল্যান্ডের তৎকালীন মহারানী ভিক্টেরিয়া তাকে নওয়াব উপাধিতে ভূষিত করেন।
- ১৮৩৪ সালে ত্রিপুরা জেলার (বর্তমানে কুমিল্লা) লাকসাম থানার পশ্চিমগাঁও গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম জমিদার পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- স্বীয় প্রতিভা বলে দ্রুত বিদুষী হিসেবে প্রসিদ্ধি লাভ করেন।
- তিনিই এক মাত্র ভারতীয় মহিলা যিনি ব্রিটিশ কর্তৃক ভারতীয়দের জন্য দেওয়া শ্রেষ্ঠতম সম্মান নওয়াব উপাধি লাভ করেন।
- বাংলাদেশের সরকার ২০০৪ সালে নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানীকে মরণোত্তর একুশে পদক প্রদান করে।

⇒ সমাজসেবা ও সমাজকল্যাণ ক্ষেত্রে তাঁর অবদান: সমাজসেবা, দানশীলতা, ও জনহিতকর কাজের মাধ্যমে নওয়াব ফয়জুন্নেসা চিরস্মরণীয় হয়ে আছেন। সমাজসেবার ক্ষেত্রে তাঁর উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপগুলো হচ্ছে- রাস্তাঘাট, সেতু, কার্লভাট প্রভৃতি নির্মাণ পানীয় জলের সুব্যবস্থা করণের জন্য দিঘী, জলাশয়, কুপ খনন, চিকিৎসার জন্য দাতব্য চিকিৎসালয় স্থাপন, মুসাফির খানা নির্মাণ, মক্কা শরীফে মাদ্রাসায় সাওলাতিয়া প্রতিষ্ঠা, মসজিদ ও উপাসনালয় স্থাপন ইত্যাদি।

⇒ তাঁকে নারী শিক্ষার অগ্রদূত বলা যায়: নারী শিক্ষার জন্য নিজ গ্রামে এম. ই. স্কুল, কুমিল্লায় ফয়জুন্নেসা গার্লস হাই স্কুল ও একটি পাঠশালা, পশ্চিমগাঁও এ স্বীয় কন্যার নামে বদরুন্নেসা উচ্চ বিদ্যালয় তাঁর অমর কীর্তি।পশ্চিমগাঁও এ স্বীয় কন্যার নামে বদরুন্নেসা উচ্চ বিদ্যালয় তাঁর অমর কীর্তি। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ স্থাপনেও তিনি সাহায্যের হাত বাড়ায়।

⇒ সহিত্য সাধনা:
- আধুনিক বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে প্রথম মুসলমান সাহিত্যিক হিসেবে নবাব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানীকে কৃতিত্ব দেয়া হয়। তার লেখা পদ্য ও গীতি আলেখ্য 'রূপজালাল' প্রকাশিত হয় ১৮৭৬ সালে। বলা হয়ে থাকে এটি বাংলায় কোন নারী মুসলমান লেখকের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ। 'রূপজালাল' বস্তুত রূপকের আশ্রয়ে একটি আত্মজীবনীমূলক রচনা। এরপরেও আরো দুইটি কবিতার বই প্রকাশিত হয় তার, 'সঙ্গীত লহরী' এবং 'সঙ্গীতসার'।

উৎস: i) সমাজকল্যাণ ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) BBC.