বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

উপমহাদেশের রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও সমাজ সংস্কারক

মোট প্রশ্ন৩২৮এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

উপমহাদেশের রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও সমাজ সংস্কারক

PrepBank · পাতা / · ১০০ / ৩২৮

.
কোন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব 'বাংলার বাঘ' নামে পরিচিতি লাভ করেন?
  1. শেখ মুজিবুর রহমান
  2. এ.কে. ফজলুল হক
  3. আবদুল হামিদ খান ভাসানী
  4. স্যার সলিমুল্লাহ
ব্যাখ্যা
এ.কে. ফজলুল হক:
- অবিভক্ত বাংলার প্রথম মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন এ.কে. ফজলুল হক।

⇒ শেরে বাংলা এ.কে. ফজলুল হক ছিলেন একজন রাজনীতিবিদ ও জননেতা।
- তিনি ১৮৭৩ সালের ২৯ অক্টোবর বরিশাল জেলার বানরীপাড়া থানার চাখার গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৯১৬ সালে লক্ষ্ণৌ শহরে লীগ কংগ্রেসের যুক্ত অধিবেশনে তিনি যে প্রস্তাব উত্থাপন করেন, তাই বিখ্যাত ‘লক্ষ্ণৌ চুক্তি’ নামে অভিহিত হয়।
- ১৯২৫ সালে তিনি বাংলার মন্ত্রী সভার সদস্য মনোনীত হন।
- ১৯২৭ সালে তিনি কৃষক-প্রজা পার্টি নামে একটি রাজনৈতিক দল গঠন করেন।
- তিনি কলকাতার মেয়র হোন ১৯৩৫ সালে।

⇒ ১৯৪০ সালে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর সভাপতিত্বে লাহোরে অনুষ্ঠিত নিখিল ভারত মুসলিম লীগের অধিবেশনে জ্বালাময়ী বক্তৃতায় প্রথম পাকিস্তান প্রস্তাব পেশ করেন।
- তাঁর বক্তৃতায় মুগ্ধ হয়ে পাঞ্জাববাসীরা তাঁকে উপাধি দেয় শের-ই-বঙ্গাল অর্থাৎ 'বাংলার বাঘ'।
- সে থেকে তিনি শের-ই-বাংলা নামেই পরিচিত।

⇒ ১৯৫৪ সালে দেশের সাধারণ নির্বাচনে তিনি ‘যুক্তফ্রন্ট’ দলের নেতৃত্ব দিয়ে বিপুল ভোটাধিক্যে জয়লাভ করে পূর্ব পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হন।
- ১৯৫৬ সাল থেকে ১৯৫৮ সাল পর্যন্ত তিনি পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন।
- বাংলার নয়নমণি শের-এ-বাংলা এ. কে ফজলুল হক ১৯৬২ সালের ২৭ এপ্রিল প্রায় ৮৯ বছর বয়সে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
.
'দ্য ডিসকভারি অফ ইন্ডিয়া' গ্রন্থটির লেখক কে?
  1. এ পি জে আব্দুল কালাম
  2. রাজেন্দ্র প্রাসাদ
  3. জওহরলাল নেহেরু
  4. লাল বাহাদুর শাস্ত্রী
ব্যাখ্যা
জওহরলাল নেহেরু:
- জওহরলাল নেহরু ১৪ নভেম্বর, ১৮৮৯ সালে ভারতের এলাহাবাদে জন্মগ্রহণ করেছিলেন।
- জওহরলাল যখন ১৬ বছর বয়সী তখন তিনি হ্যারো এবং পরে কেমব্রিজে পড়ার জন্য ইংল্যান্ডে যান।
- তিনি ১৯১২ সালে ভারতে ফিরে আসেন এবং এলাহাবাদে আইনজীবী হন।
- ২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে ভারতকে ব্রিটিশ শাসন থেকে মুক্ত করতে মহাত্মা গান্ধীর সাথে কাজ করেছিলেন।
- নেহেরু নতুন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী হন।
- 'গ্লিম্পসেস অফ ওয়ার্ল্ড হিস্ট্রি' জওহরলাল নেহরুর লেখা আত্মজীবনী।
- 'দ্য ডিসকভারি অফ ইন্ডিয়া' তাঁর লেখা অন্যতম বই।
- তিনি ২৭ মে, ১৯৬৪ তারিখে নয়াদিল্লিতে মারা যান।

তথ্যসূত্র - Britannica Kids.com
.
তেভাগা আন্দোলনের সাথে জড়িত নন -
  1. হাজী দানেশ
  2. ইলা মিত্র
  3. হাজী শরীয়তউল্লাহ
  4. অমল সেন
ব্যাখ্যা
তেভাগা আন্দোলন:
- তেভাগা আন্দোলনের নেত্রী ছিলেন ইলা মিত্র।
- তেভাগা আন্দোলন বাংলায় সংঘটিত বর্গাচাষীদের একটি কৃষক আন্দোলন।
- ১৯৪০ থেকে ১৯৫০ সালে এই আন্দোলন সংঘটিত হয়।
- তেভাগা আন্দোলন যখন স্তিমিত হওয়ার পথে তখন নাচোলের রাণী ইলা মিত্র এই আন্দোলন পুনরুজ্জীবিত করেন।
- এই আন্দোলনের আরেকজন নেতা হলেন হাজী দানেশ।
- কৃষকদের অধিকার আদায়ে তেভাগা আন্দোলনে অগ্রপথিকের ভূমিকা পালন করেন নড়াইলের অমল সেন।
- তেভাগা আন্দোলনের দাবী ছিলো বর্গাচাষীরা তাদের উৎপন্ন ফসলের এক ভাগ দিবে মালিকপক্ষকে এবং দুই ভাগ পাবে তারা।
- রংপুর, দিনাজপুর, যশোর, চব্বিশ পরগণা প্রভৃতি জেলায় তেভাগা আন্দোলন সংঘটিত হয়।
 
উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
         ii) ১৮ জানুয়ারি ২০২৪, প্রথম আলো।
.
মুসলিম রেনেসাঁর অগ্রদূত ছিলেন -
  1. নওয়াব আবদুল লতিফ
  2. সৈয়দ আহমদ খান
  3. সৈয়দ আমীর আলী
  4. নবাব ভিকারুক মুলুক
ব্যাখ্যা
সৈয়দ আমীর আলী:
- সৈয়দ আমীর আলী ছিলেন একজন প্রখ্যাত আইনজীবী এবং ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিষয়ক খ্যাতিমান লেখক।
- ভারতে মুসলমানদের স্বার্থ সংরক্ষণ বিশেষ করে বাংলার মুসলমানদের নবজাগরণের তিনি ছিলেন অন্যতম অগ্রদূত।

⇒ সৈয়দ আমীর আলী ১৮৪৯ সালে হুগলীর এক সম্ভ্রান্ত শিয়া মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি ১৮৭৮-৮৩ সাল পর্যন্ত বঙ্গীয় আইন সভার সদস্য এবং ১৮৮৩-৮৫ সাল পর্যন্ত গভর্নরের আইন সভার সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
- ভারতীয়দের মধ্যে তিনিই প্রথম ইংল্যান্ডের প্রিভি কাউন্সিলের সদস্য মনোনীত হয়েছিলেন।
- ১৯০৪ সালে অবসর গ্রহণের পর তিনি ইংল্যান্ডে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন এবং ১৯২৮ সালে সেখানেই মৃত্যুবরণ করেন।

⇒ সৈয়দ আমীর আলী ছিলেন একজন দূরদর্শী চিন্তাবিদ ও সমাজ সংস্কারক।
- বঙ্গ-ভারতের মুসলমানদের সর্বক্ষেত্রে পশ্চাদপদতার পটভূমিতে তাদের জাগরণের জন্য নওয়াব আবদুল লতিফ ও সৈয়দ আহমদ খানের মতো তিনিও মুসলমানদের পাশ্চাত্য শিক্ষা গ্রহণ ও ব্রিটিশ সরকারের সাথে সহযোগিতার নীতিতে বিশ্বাসী ছিলেন।
- তাঁর মতে, পাশ্চাত্য শিক্ষার পাশাপাশি রাজনৈতিকভাবে সংগঠিত না হলে মুসলমানদের অস্তিত্ব বিপন্ন হয়ে যাবে। 

⇒ মুসলিম রেঁনেসার অগ্রদূত:
- সৈয়দ আমীর আলী ছিলেন মুসলিম রেনেসাঁর অগ্রদূত।
- ইসলামী ও পাশ্চাত্য জ্ঞানের অধিকারী আমীর আলী ছিলেন একজন সুলেখক।
- তিনি ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিষয়ক বেশ কিছু গ্রন্থ রচনা করেন।
- এসব গ্রন্থের মধ্যে দুটি উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ হচ্ছে: (১) দি স্পিরিট অব ইসলাম এবং (২) এ সর্ট হিস্টরি অব দি স্যারাসিন।
- এ গ্রন্থ দুটি পণ্ডিত হিসেবে আমীর আলীকে অমরত্ব দান করেছে।
- আমীর আলী তাঁর লেখায় ইসলাম ধর্মের বিজ্ঞানসম্মত ব্যাখ্যা দান করেছেন।
- মুসলমানদের গৌরবময় অতীতের প্রতি বারংবার অঙ্গুলি নির্দেশ করে মুসলিম সমাজকে আত্মসচেতন করার চেষ্টা করেছেন।
- তাঁর এ চেষ্টায় হতাশাগ্রস্ত মুসলিম সমাজে প্রাণের সঞ্চার ঘটে।

উৎস: ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
খাজা সলিমুল্লাহ নিচের কোন ব্রিটিশ উপাধি পায়নি?
  1. নওয়াব বাহাদুর
  2. নাইট হুড
  3. সি.এস.আই
  4. কে.সি.এস.আই
ব্যাখ্যা
- নাইট হুড উপাধিটি পায়নি।

• নওয়াব খাজা সলিমুল্লাহ: 

- জন্ম: ৭ জুন ১৮৭১, আহসান মঞ্জিল, ঢাকা,
- মৃত্যু: ১৬ জানুয়ারি ১৯১৫, চৌরঙ্গী, কলকাতা,
- পিতা: নওয়াব স্যার খাজা আহসানুল্লাহ,
- পিতামহ: নওয়াব স্যার খাজা আব্দুল গণি।

• দান ও সমাজসেবা:
- ঢাকা ইঞ্জিনিয়ারিং স্কুল প্রতিষ্ঠায় অনুদান দেন।
- উপাধি ও সম্মাননা (ব্রিটিশ সরকার কর্তৃক): 
- ১৯০২: C.S.I.
- ১৯০৩: Nawab Bahadur.
- ১৯০৯: K.C.S.I.
- ১৯১১: G.C.S.I.
- মৃত্যু: ১৬ জানুয়ারি ১৯১৫, কলকাতা।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
.
প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার যে আন্দোলনের সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন -
  1. রংপুর আন্দোলন
  2. ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলন
  3. তেভাগা আন্দোলন
  4. অসহযোগ আন্দোলন
ব্যাখ্যা
প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার:
- ভারতের ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম নারী মুক্তিযোদ্ধা এবং প্রথম শহীদ বিপ্লবী নারী প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার।
- ১৯১১ সালের ৫ মে চট্টগ্রামের বর্তমান পটিয়া উপজেলার ধলঘাট গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ইডেন কলেজে ছাত্রী থাকাকালে প্রীতিলতা লীলা নাগের নেতৃত্বাধীন দীপালি সংঘের অন্তর্ভুক্ত শ্রীসংঘের সদস্য ছিলেন।
- ১৯৩০ সালে সমগ্র বাংলা ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে বিপ্লবী হয়ে ওঠে।
- প্রথম মহিলা সদস্য হিসেবে প্রীতিলতা যোগ দেন সূর্যসেনের নেতৃত্বাধীন বিপ্লবী দলের সঙ্গে।
- ১৯৩২ সালে চট্টগ্রামের পাহাড়তলীতে ইউরোপিয়ান ক্লাব আক্রমণে প্রীতিলতার ছিল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।
- প্রীতিলতার নেতৃত্বে বিপ্লবীরা ইউরোপিয়ান ক্লাব আক্রমণ করে।
- ওই সময়ে তিনি গুলিবিদ্ধ হলে তাত্ক্ষণিকভাবে পটাসিয়াম সায়ানাইড খেয়ে আত্মাহুতি দেন।
- তাঁর আত্মদান বিপ্লবীদের সশস্ত্র সংগ্রামে আরো উজ্জীবিত করে তোলে।
- পাহাড়তলীর ইউরোপিয়ান ক্লাবটি এখন ‘বীরকন্যা প্রীতিলতা জাদুঘর’ নামে পরিচিত।
 
উৎস: বাংলাপিডিয়া।
.
কার নেতৃত্বে 'ফারাক্কা লংমার্চ' সংঘটিত হয়েছিল?
  1. আবুল কাশেম
  2. মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী
  3. নওয়াব আব্দুল লতিফ
  4. এ.কে. ফজলুল হক
ব্যাখ্যা

ফারাক্কা লং মার্চ:
- মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর নেতৃত্বে 'ফারাক্কা লংমার্চ' সংঘটিত হয়েছিল।
- মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা হচ্ছে 'ফারাক্কা লং মার্চ' সংঘটিত করা।
- ১৯৭৬ সালের ১৮ই এপ্রিল হাসপাতাল থেকে ফেরার পর মাওলানা ভাসানী ঘোষণা দেন ভারত যদি বাংলাদেশকে পানির অধিকার থেকে বঞ্চিত করে তাহলে তিনি লংমার্চ করবেন।

⇒ এজন্য ১৬ই মে রাজশাহী শহর থেকে লংমার্চ করার ঘোষণা দেন তিনি।
- কর্মসূচী বাস্তবায়নের জন্য ১৯৭৬ সালের ২রা মে মাওলানা ভাসানীকে প্রধান করে ৩১ সদস্যবিশিষ্ট 'ফারাক্কা মিছিল পরিচালনা জাতীয় কমিটি' গঠিত হয়।
- এই লংমার্চের আগে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর কাছে একটি চিঠি লিখেন আব্দুল হামিদ খান ভাসানী।
- সে চিঠিতে মিসেস গান্ধির কাছে লংমার্চের কারণ বর্ণনা করেন ভাসানী।
- লংমার্চের মিছিল রাজশাহী থেকে প্রেমতলী, প্রেমতলী থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে মনকষা এবং মনকষা থেকে শিবগঞ্জ পর্যন্ত ৬৪ মাইল অতিক্রম করবে।
- মাওলানা ভাসানীর অনুসারীরা তাকে একজন রাজনীতিবিদের চেয়ে 'দার্শনিক' হিসেবেই বেশি বিবেচনা করতেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

.
’বেঙ্গল প্যাক্ট’ (১৯২৩) অনুযায়ী সরকারি চাকরিতে মুসলমানদের জন্য কত শতাংশ আসন সংরক্ষণের কথা বলা হয়?
  1. ৪০ শতাংশ
  2. ৫০ শতাংশ
  3. ৫৫ শতাংশ
  4. ৬০ শতাংশ
ব্যাখ্যা

’বেঙ্গল প্যাক্ট’ ও চিত্তরঞ্জন দাশ:
- চিত্তরঞ্জন দাশের সময়ে ভারতবর্ষের রাজনীতিতে হিন্দু-মুসলিম ঐক্য সমস্যাটি অত্যন্ত প্রকট ছিল।
- ১৯২৩ সালে তিনি মুসলমান সম্প্রদায়ের সাথে একটি চুক্তি করেন যা ’বেঙ্গল প্যাক্ট’ নামে পরিচিত।
- ’বেঙ্গল প্যাক্ট’ এ সরকারি চাকুরিতে মুসলমানদের জন্য শতকরা ৫৫ ভাগ আসন সংরক্ষণের কথা বলা হয়। 
- যতদিন মুসলমানরা ৫৫ শতাংশে না পৌঁছায়, ততদিন পর্যন্ত মোট সরকারি চাকুরির ৮০ ভাগ মুসলমানদের জন্য সংরক্ষণের কথা বলা হয়।
- রাজনৈতিক নিষ্ঠা ও গভীর দেশপ্রেমের জন্য এই উপমহাদেশের জনগণ চিত্তরঞ্জন দাশকে 'দেশবন্ধু' উপাধিতে ভূষিত করে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, ২য় পত্র (এইচএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।  

.
'তেনেরিফে দ্বীপ' কোন দেশে অবস্থিত?
  1. মেক্সিকো
  2. জাপান
  3. স্পেন
  4. উত্তর আমেরিকা
ব্যাখ্যা
'তেনেরিফে দ্বীপ' স্পেনে অবস্থিত।

তেনেরিফে দ্বীপ
:
- স্পেনের ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জে তেনেরিফে দ্বীপ অবস্থিত।
- মোট আয়তন: ২,০৩৪ বর্গকিমি।
- তেনেরিফে দ্বীপের সর্বোচ্চ বিন্দু তেইদে (৩,৭১৮ মিটার)।
- এটি ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জ সর্ববৃহৎ দ্বীপ।
- আফ্রিকার উত্তর-পশ্চিম উপকূলের বিপরীতে আটলান্টিক মহাসাগরে অবস্থিত।

উল্লেখ্য,
- তেনেরিফের অর্থনীতি প্রধানত কৃষিভিত্তিক।

উৎস: Britannica.
১০.
নোবেল পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রথম বাঙালি কে?
  1. ড. মুহম্মদ ইউনুস
  2. অমর্ত্য সেন
  3. রীতু দাশ গুপ্তা
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৮৬১ খ্রিস্টাব্দের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর ঠাকুর পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর ও মাতা সারদা দেবী।

- ঠাকুর বাড়ির অনুকূল পরিবেশে শৈশবেই রবীন্দ্রনাথের কবি-প্রতিভার উন্মেষ ঘটে। ১৮৭৬ সালে পনের বছর বয়সে প্রকাশিত হয় তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'বনফুল'। অতঃপর কবিতা, উপন্যাস, ছোটগল্প, নাটক, প্রবন্ধ, শিশুসাহিত্য, ভ্রমণসাহিত্য, রম্যরচনা, সংগীত ইত্যাদি শাখায় রবীন্দ্রনাথ রেখে গেছেন তাঁর অসামান্য শিল্প-প্রতিভার স্বাক্ষর।

- ১৯০১ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন 'শান্তিনিকেতন বিদ্যালয়।' এ বিদ্যালয়ই পরবর্তীকালে 'বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়'-এ রূপলাভ করে।

- ১৯১৩ সালে রবীন্দ্রনাথ তাঁর ইংরেজি 'গীতাঞ্জলি' (১৯১১) কাব্যের জন্য নোবেল পুরস্কার লাভ করেন, তিনি নোবেল পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রথম বাঙালি।
-রবীন্দ্রনাথ কখনও সক্রিয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হননি, তবে সমসাময়িক ঘটনাপ্রবাহ থেকে নিজেকে বিচ্ছিন্নও রাখেননি; বরং তিনি ছিলেন স্বাদেশিকতার বরেণ্য পুরুষ। ১৮৯৬ সালে কলকাতায় যে কংগ্রেস সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়, ‘বন্দে মাতরম্’ গান গেয়ে রবীন্দ্রনাথ তার উদ্বোধন করেন।

-  ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনের সময় রবীন্দ্রনাথ বঙ্গভঙ্গের তীব্র বিরোধিতা করেন। বঙ্গদর্শন পত্রিকায় প্রকাশিত এক প্রবন্ধে কবি তাঁর মনোভাব ব্যক্ত করেন।

-  ১৯১৯ সালের ১৩ এপ্রিল রাউলাট অ্যাক্ট-এর বিরুদ্ধে পাঞ্জাবের জালিয়ানওয়ালাবাগে এক জনসমাবেশে ভারতীয়দের ওপর ব্রিটিশ পুলিশ আকস্মিকভাবে গুলি চালিয়ে অসহায় ব্যক্তিদের হত্যা করে। ইংরেজের এই অত্যাচারী মূর্তি দেখে রবীন্দ্রনাথ ভাইসরয়কে এক পত্র লিখে ‘নাইট’ উপাধি ফিরিয়ে দেন।

- ১৯৪০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে কবি কালিম্পঙ গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন। তখন থেকে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটতে থাকে। ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

১১.
বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কত সালে নোবেল পুরষ্কার পান?
  1. ১৯১৩
  2. ১৯১৪
  3. ১৯২৩
  4. ১৯২৪
ব্যাখ্যা
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একাধারে একজন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- তাঁর ছদ্মনাম: ভানুসিংহ ঠাকুর।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- রবীন্দ্রনাথ ছিলেন দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের চতুর্দশ সন্তান।
- তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস: চোখের বালি, গোরা, ঘরে বাইরে, চতুরঙ্গ, শেষের কবিতা, যোগাযোগ, চার অধ্যায় ইত্যাদি।
- ব্রিটিশরা তাঁকে 'নাইট' উপাধিতে ভূষিত করে ১৯১৫ সালে।
- তাঁর মৃত্যু: ৭ আগস্ট ১৯৪১ (বয়স ৮০), কলকাতার জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়িতে।

উল্লেখ্য,
- ১৯১৩ সালে তাঁকে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।
- বিশ্বভারতীর সেফ্টি ভল্টে রাখা ছিল সেই অনন্য সম্মান।
- কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় এটাই, যে ২০০৪ সালে রবীন্দ্রনাথের নোবেল চুরি হয়ে যায়।
- পরবর্তীকালে সুইডিশ অ্যাকাডেমি নোবেলের দুটি রেপ্লিকা দিয়েছিল বিশ্বভারতীকে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১২.
তিতুমীর পরিচালিত আন্দোলনের নাম কী ছিল?
  1. তারিক-ই- মুহম্মদীয়া
  2. ফরায়েজি
  3. ওয়াহাবি
  4. ক ও গ উভয়ই
ব্যাখ্যা
তিতুমীরের আন্দোলন:
- পূর্ব ও পশ্চিম বাংলায় প্রায় একই সময়ে দুটি ধর্মীয় ও সামাজিক সংস্কার আন্দোলনের শুরু হয়।
- পূর্ব বাংলার আন্দোলনটি ফরায়েজি আন্দোলন নামে পরিচিত।
- পশ্চিম বাংলার আন্দোলনের নাম ওয়াহাবি বা 'তারিক-ই- মুহম্মদীয়া'।
- ওয়াহাবি বা তারিক-ই- মুহম্মদীয়া আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন তিতুমীর।
- ১৮২৭ খ্রিস্টাব্দে এ আন্দোলন শুরু হয়।
- শেষ হয় ১৮৩১ খ্রিস্টাব্দে তিতুমীরের শাহাদাত বরণের মধ্য দিয়ে।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩.
তাজউদ্দিন আহমদ কোন জেলায় জন্মগ্রহণ করেন?
  1. মানিকগঞ্জ
  2. গাজীপুর
  3. মুন্সিগঞ্জ
  4. ঢাকা
ব্যাখ্যা
তাজউদ্দিন আহমদ:
- গাজীপুর জেলার কাপাসিয়া থানার দরদরিয়া গ্রামে ১৯২৫ সালের ২৩ জুলাই তাজউদ্দিন আহমদ জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতার নাম মৌলবী মুহাম্মদ ইয়াসিন খান এবং মাতা মেহেরুন্নেসা খানম।
- তাজউদ্দিন আহমদ ১৯৪৪ সালে ঢাকার সেন্ট গ্রেগরীজ হাইস্কুল থেকে ম্যাট্রিকুলেশন, ১৯৪৮ সালে আই.এ এবং ১৯৫৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক (সম্মান) ডিগ্রি লাভ করেন।
- ১৯৬৪ সালে তিনি আইনশাস্ত্রে ডিগ্রি লাভ করেন এবং ঢাকায় আইনব্যবসা শুরু করেন।
- ছাত্রজীবন থেকেই তাজউদ্দিন আহমদ সক্রিয় রাজনীতিতে জড়িত হন।
- তিনি ১৯৪৮ সালে প্রতিষ্ঠিত পূর্ববাংলা ছাত্রলীগের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা।
- তাজউদ্দিন আহমদ ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্ট প্রার্থী হিসেবে কাপাসিয়া থেকে পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন।
- ১৯৬৪ সালে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হন।
- ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসাবে তিনি জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন।
- ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল প্রবাসী বাংলাদেশ সরকার গঠিত হলে তিনি এ সরকারের প্রধানমন্ত্রী হন এবং মুক্তিযুদ্ধ সংগঠিত করেন।
- মুক্তিযুদ্ধে চূড়ান্ত বিজয়ের পর ১৯৭১ সালের ২২ ডিসেম্বর তিনি স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করেন এবং সদ্য স্বাধীন দেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
- ১৯৭৩ সালে তিনি ঢাকা-২২ আসন থেকে জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হন এবং বঙ্গবন্ধুর ক্যাবিনেটে মন্ত্রীত্ব লাভ করেন।
- কারাগারে বন্দি অবস্থায় ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর অপর তিন জাতীয় নেতার সঙ্গে তাঁকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
১৪.
নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু কোন বাহিনীর দ্বায়িত্বে ছিলেন?
  1. মুক্তি ফৌজ
  2. গণবাহিনী
  3. রেড আর্মি
  4. আজাদ হিন্দ ফৌজ
ব্যাখ্যা
নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু:
- ১৮৯৭ সনের ২৩ জানুয়ারি ভারত উপমহাদেশের অন্যতম বীর সন্তান স্বাধীনতাকামী নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু উড়িষ্যার কটক শহরে জন্মগ্রহণ করেন।
- পারিবারিক প্রভাবের কারণে হোক বা তৎকালীন ভারতে বিরাজমান উত্তপ্ত রাজনীতিক আবহাওয়ার কারণেই হোক, সুভাষ বসু কৈশোর থেকেই বিদ্রোহী ভাবাপন্ন ছিলেন।
- তিনি ইন্ডিয়ান সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় চতুর্থ স্থান লাভ করার পরও দেশসেবার ও স্বদেশের মুক্তির আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে সরকারি চাকুরি গ্রহণ করেননি।
- ১৯৩৮ সালে মহাত্না গান্ধীর বিরোধীতার মধ্যেই সুভাষ বসু কংগ্রেসের সভাপতি নির্বাচিত হন, গান্ধীর সাথে মতদ্বৈততার কারণে কংগ্রেস ত্যাগ করে অল ইন্ডিয়া ফরোয়ার্ড ব্লক নামে দল গঠন করেন।
- ১৯৪৩ সালে তিনি 'আজাদ হিন্দ' ফৌজের দায়িত্ব নেন এবং আজাদ হিন্দ সরকার গঠন করেন।
- ১৯৪৪ এর মার্চ মাসে তাঁর বাহিনী বার্মা পৌঁছে যায়।
- সুভাষ বসুর লক্ষ্য ছিল সামারিক অভিযানের মাধ্যমে ভারত থেকে ব্রিটিশদের বিতাড়িত করা।
- সুভাষ চন্দ্র বসু ১৯৪৫ সনের ১৮ আগস্ট রহস্যজনক বিমান দুর্ঘটনায় নিহত হন বলে সরকারিভাবে জানানো হয়।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৫.
মওলানা ভাসানী ১৯৭৬ সালে কোথায় লং মার্চের নেতৃত্ব দেন?
  1. ঢাকায়
  2. কুমিল্লায়
  3. ফারাক্কা অভিমুখে
  4. কলকাতায়
ব্যাখ্যা
মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী: 
- জন্ম: ১৮৮০, ধনপাড়া, সিরাজগঞ্জ, ব্রিটিশ ভারত সময়।
- মৃত্যু: ১৭ নভেম্বর ১৯৭৬, সন্তোষ, টাঙ্গাইল, বাংলাদেশ।
- ১৯১৯: অসহযোগ ও খেলাফত আন্দোলনে যোগদানের মাধ্যমে রাজনীতিতে আসেন।
- ১৯৩৭: মুসলিম লীগে যোগদান; আসাম শাখার সভাপতি।
- ১৯৪৯: পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি।
- ১৯৫৭: ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ) গঠন।
- ১৯৭৬: ফারাক্কা লং মার্চের নেতৃত্ব দেন। 

উল্লেখ্য, 
- “ভাসানী সাহেব” ভাসানচরের কৃষকদের কাছ থেকে প্রাপ্ত উপাধি।
- মার্কিনপন্থি ও সাম্রাজ্যবাদী নীতির বিরুদ্ধে ছিলেন।
- চীনপন্থি পররাষ্ট্রনীতির পক্ষে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৬.
'আঞ্জুমানে খাওয়াতীনে ইসলাম' প্রতিষ্ঠা করেন কে?
  1. সৈয়দ আমীর আলী
  2. রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
  3. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  4. নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী
ব্যাখ্যা
সমাজসেবা:
মুসলিম নারীদের মধ্যে নেতৃত্বের গুণাবলির বিকাশ, স্বাবলম্বী মনোভাব সৃষ্টি সামাজিক ও রাজনৈতিক টোকার সচেতনতা সৃষ্টির জন্য বেগম রোকেয়া ১৯১৬ সালে "আঞ্জুমানে খাওয়াতীনে ইসলাম" বা মুসলিম মহিলা সমিতি নামে একটি সংস্থা গড়ে তোলেন।
এ সংস্থার মাধ্যমে তিনি নারী মুক্তি আন্দোলন শুরু করেন।

রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন:
- নারী জাগরণের পথিকৃৎ বেগম রোকেয়ার জন্ম ৯ই ডিসেম্বর, ১৮৮০, পায়রাবন্দ গ্রাম, রংপুর।
- বাংলাদেশের নারী আন্দোলনের ইতিহাসে বেগম রোকেয়ার অবদান চিরঅম্লান।
- মুসলমান মেয়েদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি এবং তাদের অধিকার আদায়ের জন্য ১৯১৬ সালে বেগম রোকেয়া প্রতিষ্ঠা করেন আঞ্জুমানে খাওয়াতীনে ইসলাম বা মুসলিম মহিলা সমিতি।
- 'Sultana’s Dream' গ্রন্থটি রোকেয়া নিজেই বাংলায় অনুবাদ করেন সুলতানার স্বপ্ন নামে।
- এটি একটি প্রতীকী রচনা এবং এতে বর্ণিত Lady Land বা নারীস্থান মূলত রোকেয়ারই স্বপ্নকল্পনার প্রতীক।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
১৭.
রামমোহন রায়কে 'রাজা' উপাধিতে ভূষিত করেন কে?
  1. সম্রাট হুমায়ুন
  2. রাজা পঞ্চম জর্জ
  3. সম্রাট দ্বিতীয় আকবর
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা

রাজা রামমোহন রায়: 
- রাজা রামমোহন রায় ছিলেন উনিশ শতকের বাংলার নবজাগরণের অগ্রদূত।
- তিনি রাধানগর গ্রামে এক রক্ষণশীল ব্রাহ্মণ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- সংস্কৃত, বাংলা, হিন্দি, ফারসি ও আরবিতে তাঁর গভীর জ্ঞান ছিল।
- একেশ্বরবাদ প্রচারে তিনি আত্মীয় সভা গঠন করেন এবং ১৮২২ সালে অ্যাংলো-হিন্দু কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন।
- সম্রাট দ্বিতীয় আকবর তাঁকে “রাজা” উপাধি দেন।
- তিনি সতীদাহ, বাল্যবিবাহ, বহুবিবাহ ও কৌলীন্য প্রথার বিরোধিতা করেন।
- তাঁর প্রচেষ্টায় ১৮২৯ সালে সতীদাহ প্রথা বিলুপ্ত হয়।
- পরে তাঁর আন্দোলন থেকে ব্রাহ্ম সমাজ গঠিত হয়, ১৮৪৩ সালে “ব্রাহ্মধর্ম” নামে রূপান্তরিত হয়।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া। 

১৮.
শেরে বাংলা এ.কে. ফজলুল হকের বক্তৃতায় বিশেষভাবে কোন সম্প্রদায় মুগ্ধ হয়ে তাকে ‘শের-ই-বঙ্গাল’ উপাধি দিয়েছিল?
  1. বাঙ্গালী 
  2. লক্ষ্ণৌবাসী
  3. পাঞ্জাববাসী
  4. পেশাওয়ারাবাসী
ব্যাখ্যা

⇒ শেরে বাংলা এ.কে. ফজলুল হক:
- শেরে বাংলা এ.কে. ফজলুল হক ছিলেন একজন রাজনীতিবিদ ও জননেতা।
- তিনি ছিলেন অবিভক্ত বাংলার প্রথম মুখ্যমন্ত্রী।
- ১৯১৬ সালে লক্ষ্ণৌ শহরে লীগ কংগ্রেসের যুক্ত অধিবেশনে তিনি যে প্রস্তাব উত্থাপন করেন, তাই বিখ্যাত ‘লক্ষ্ণৌ চুক্তি’ নামে অভিহিত হয়।
- ১৯২৭ সালে তিনি কৃষক-প্রজা পার্টি নামে একটি রাজনৈতিক দল গঠন করেন।
- ১৯৪০ সালে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর সভাপতিত্বে লাহোরে অনুষ্ঠিত নিখিল ভারত মুসলিম লীগের অধিবেশনে জ্বালাময়ী বক্তৃতায় প্রথম পাকিস্তান প্রস্তাব পেশ করেন। তাঁর বক্তৃতায় মুগ্ধ হয়ে পাঞ্জাববাসীরা তাঁকে উপাধি দেয় শের-ই-বঙ্গাল অর্থাৎ বাংলার বাঘ।
- ১৯৫৪ সালে দেশের সাধারণ নির্বাচনে তিনি ‘যুক্তফ্রন্ট’ দলের নেতৃত্ব দিয়ে বিপুল ভোটাধিক্যে জয়লাভ করে পূর্ব পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হন।
- ১৯৫৬ সাল থেকে ১৯৫৮ সাল পর্যন্ত তিনি পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

১৯.
ভারতীয় উপমহাদেশের সাধারণ জনগণের মাঝে শিক্ষার দ্যুতি ছড়ানোর জন্য কে তাঁর সমুদয় সম্পত্তি ওয়াক্‌ফ করে যান?
  1. হাজী শরীয়তুল্লাহ্
  2. নওয়াব আবদুল লতিফ
  3. নবাব স্যার সলিমুল্লাহ
  4. হাজী মুহম্মদ মুহসীন
ব্যাখ্যা

হাজী মুহম্মদ মুহসীনঃ
- তিনি ১৭৩২ সালে হুগলীতে জন্মগ্রহণ করেন।
- শিক্ষানুরাগী এ দানবীর তার অর্থ দিয়ে বহু বিদ্যাপিঠ স্থাপন করে গেছেন।
- হুগলিতে ‘হুগলি মহসিন কলেজ’ ও ‘চট্টগ্রামের সরকারি হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজ’ প্রতিষ্ঠার সময় মহসিনের ওয়াকফকৃত অর্থ ব্যবহৃত হয়।
- ১৭৬৯-৭০ সালের সরকারি দলিল অনুযায়ী তৎকালীন দুর্ভিক্ষের সময় তিনি অনেক লঙ্গরখানা স্থাপন করেন।
- তিনি ‘মহসিন ফান্ড' নামক তহবিল প্রতিষ্ঠা করেন ১৮০৬ সালে।
- বঙ্গের হাতেম তাই নামে খ্যাত মুহসিন তাঁর অগাধ সম্পত্তি জনকল্যাণে দান করে যান।
- ভারতীয় উপমহাদেশের সাধারণ জনগণের মাঝে শিক্ষার দ্যুতি ছড়ানোর জন্য তাঁর সমুদয় সম্পত্তি ওয়াক্‌ফ করে যান।
- ১৮০৬ সালের ২৬ এপ্রিল তাঁর বিশাল সম্পত্তি থেকে ১,৫৬,০০০ টাকা নিয়ে মুহসিন ট্রাষ্ট গঠন করেন।
- মুহসীন জীবিত অবস্থাতেই খুলনা ও যশোর এলাকায় সুপেয় পানি সরবরাহের জন্য বহু দীঘি, পুকুর ও খাল খনন করেন।
- জনস্বাস্থ্য ক্ষেত্রে তাঁর স্মরণীয় দান হচ্ছে হুগলীতে দাতব্য চিকিৎসালয় স্থাপন।
- দরিদ্রদের মাঝে বিনামুল্যে ওষুধপত্র বিতরণ, চিকিৎসা প্রদান এবং চিকিৎসার জন্য অর্থ সাহায্য অন্যতম।
- বঙ্গের হাতেম তাই নামে খ্যাত মুহসিন তাঁর অগাধ সম্পত্তি জনকল্যাণে দান করে যান।
- দানশীলতার জন্য তিনি দানবীর খেতাব পেয়েছিলেন। 
- গরীব, দুঃখী, অন্ধ, এতিম, বৃদ্ধ অসহায়দের তিনি উদারভাবে দান করতেন।
- তাঁর দানের ক্ষেত্রে হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খৃষ্টান এমনকি চোর-ডাকাতও ভেদাভেদ ছিলনা।

উৎস: সমাজকল্যাণ ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২০.
শেরে বাংলা এ.কে. ফজলুল হক এর পূর্ণ নাম -
  1. আবুল কালাম ফজলুল হক
  2. আবুল কাশেম ফজলুল হক
  3. আব্দুল কাশেম ফজলুল হক
  4. আব্দুল কালাম ফজলুল হক
ব্যাখ্যা
আবুল কাশেম ফজলুল হক
- শেরে বাংলা এ.কে. ফজলুল হক ছিলেন একজন রাজনীতিবিদ ও জননেতা।
- পূর্ণ নাম আবুল কাশেম ফজলুল হক।
- অবিভক্ত বাংলার প্রথম মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন এ.কে. ফজলুল হক।
- শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক ১৮৭৩ সালের ২৯ অক্টোবর বরিশাল জেলার বানরীপাড়া থানার চাখার গ্রামের সম্ভ্রান্ত কাজী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। 
- ১৯১৬ সালে লক্ষ্ণৌ শহরে লীগ কংগ্রেসের যুক্ত অধিবেশনে তিনি যে প্রস্তাব উত্থাপন করেন, তাই বিখ্যাত ‘লক্ষ্ণৌ চুক্তি’ নামে অভিহিত হয়।
- ১৯২৫ সালে তিনি বাংলার মন্ত্রী সভার সদস্য মনোনীত হন।
- ১৯২৭ সালে তিনি কৃষক-প্রজা পার্টি নামে একটি রাজনৈতিক দল গঠন করেন।
- তিনি কলকাতার মেয়র হোন ১৯৩৫ সালে।
- ১৯৪০ সালে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর সভাপতিত্বে লাহোরে অনুষ্ঠিত নিখিল ভারত মুসলিম লীগের অধিবেশনে জ্বালাময়ী বক্তৃতায় প্রথম পাকিস্তান প্রস্তাব পেশ করেন।
- তাঁর বক্তৃতায় মুগ্ধ হয়ে পাঞ্জাববাসীরা তাঁকে উপাধি দেয় শের-ই-বঙ্গাল অর্থাৎ বাংলার বাঘ।
- সে থেকে তিনি শের-ই-বাংলা নামেই পরিচিত। 
- ১৯৫৪ সালে দেশের সাধারণ নির্বাচনে তিনি ‘যুক্তফ্রন্ট’ দলের নেতৃত্ব দিয়ে বিপুল ভোটাধিক্যে জয়লাভ করে পূর্ব পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হন।
- ১৯৫৬ সাল থেকে ১৯৫৮ সাল পর্যন্ত তিনি পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন।
- বাংলার নয়নমণি শের-এ-বাংলা এ. কে ফজলুল হক ১৯৬২ সালের ২৭ এপ্রিল প্রায় ৮৯ বছর বয়সে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
২১.
'মুসলিম মহিলা সমিতি' প্রতিষ্ঠা করেন -
  1. রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
  2. বেগম সুফিয়া কামাল
  3. নওয়াব ফয়জুন্নেসা
  4. শামসুন্নাহার মাহমুদ
ব্যাখ্যা
রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন:
- নারী জাগরণের পথিকৃৎ বেগম রোকেয়ার জন্ম ৯ই ডিসেম্বর, ১৮৮০, পায়রাবন্দ গ্রাম, রংপুর।
- বাংলাদেশের নারী আন্দোলনের ইতিহাসে বেগম রোকেয়ার অবদান চিরঅম্লান।
- বেগম রোকেয়া প্রতিষ্ঠা করেন আঞ্জুমানে খাওয়াতীনে ইসলাম বা মুসলিম মহিলা সমিতি।
- 'Sultana’s Dream' গ্রন্থটি রোকেয়া নিজেই বাংলায় অনুবাদ করেন সুলতানার স্বপ্ন নামে।
- এটি একটি প্রতীকী রচনা এবং এতে বর্ণিত Lady Land বা নারীস্থান মূলত রোকেয়ারই স্বপ্নকল্পনার প্রতীক।

উল্লেখ্য,
- নারী জাগরণের অগ্রদূত বেগম রোকেয়ার জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রতি বছর ৯ ডিসেম্বর রোকেয়া দিবস পালন করা হয়।

⇒ রোকেয়ার উলে­খযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে:
- মতিচূর (প্রবন্ধ, ২ খন্ড: ১ম খন্ড ১৯০৪, ২য় খন্ড ১৯২২), Sultana’s Dream (নকশাধর্মী রচনা, ১৯০৮), পদ্মরাগ (উপন্যাস, ১৯২৪), অবরোধবাসিনী (নকশাধর্মী গদ্যগ্রন্থ, ১৯৩১) প্রভৃতি।
- মতিচূর, পদ্মরাগ, অবরোধবাসিনী, সুলতানার স্বপ্ন প্রভৃতি গ্রন্থে রোকেয়ার ঐকান্তিক স্বপ্নই এক অভিনব রূপ পেয়েছে। মতিচূর ২য় খন্ডে আছে ‘সৌরজগৎ’, ‘ডেলিসিয়া হত্যা’ (মেরী করেলী রচিত Murder of Delicia, ১৮৯৬ উপন্যাসের গল্পাংশের অনুবাদ), ‘জ্ঞান-ফল’, ‘নারী-সৃষ্টি’, ‘নার্স নেলী’, ‘মুক্তি-ফল’ প্রভৃতি গল্প ও রূপকথা।
- এছাড়া আছে অসংখ্য প্রবন্ধ, ছোটগল্প, কবিতা, ব্যঙ্গাত্মক রচনা ও অনুবাদ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
২২.
হিন্দু বিধবা বিবাহ প্রচলনে কার অবদান রয়েছে?
  1. লর্ড ডালহৌসি ও রাজা রামমোহন রায়
  2. লর্ড চেমসফোর্ড ও রাজা রামমোহন রায়
  3. লর্ড ডালহৌসি ও ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  4. লর্ড উইলিয়াম বেন্টিংক ও ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
ব্যাখ্যা
হিন্দু বিধবা বিবাহ প্রচলনে অবদান রয়েছে - লর্ড ডালহৌসি ও ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর।

বিধবা বিবাহ:

- হিন্দু বিধবাদের পুনরায় বিয়েবন্ধনে আবদ্ধ হওয়াকে বিধবা বিবাহ বলে।
- ঊনবিংশ শতাব্দীতে অবাধে বাল্যবিয়ের ব্যাপক প্রচলন ছিল।
- ফলে একদিকে বাল্যবিয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছিল; অন্যদিকে সমাজে পাল্লা দিয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছিল বিধবার সংখ্যা।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর হিন্দু বিধবাদের পুনর্বিবাহের জন্য সমাজসংস্কার আন্দোলন সৃষ্টির প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন।
- তাঁর অক্লান্ত পরিশ্রমের ফল পান ১৮৫৬ সালের ২৬ জুলাই।
- সেদিন তাঁর প্রচেষ্টায় তৎকালীন বড়লাট লর্ড ডালহৌসি ‘দ্য হিন্দু উইডো’স রিম্যারেজ অ্যাক্ট ১৮৫৬’ নামে আইন প্রণয়ন করে হিন্দু বিধবাদের পুনর্বিবাহকে বৈধ করেন।
- এ আইন করার লক্ষ্য ছিল কিছু হিন্দু বিধবা শিশু, যারা স্বামীর বাড়িতে যাওয়ার আগেই বিধবা হয়ে যেত; এ আইন পাসের মাধ্যমে হিন্দু বিধবা বিবাহের সব বাধা দূরীভূত হয়।
- সে বছরই ৭ ডিসেম্বর রাজকৃষ্ণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের উপস্থিতিতে প্রথম বিধবা বিবাহের অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়।
- সে বিয়ের পাত্র ছিলেন শ্রীশচন্দ্র বিদ্যারত্ন।
- বিদ্যাসাগর পরবর্তীকালে তাঁর নিজ ছেলের সঙ্গে এক বিধবা কন্যার বিয়ে দিয়েছিলেন।

উল্লেখ্য,
⇒ লর্ড ডালহৌসি:
- ১৮৪৮ খ্রিস্টাব্দে লর্ড হার্ডিঞ্জের পর মাত্র ৩৬ বৎসর বয়সে লর্ড ডালহৌসী এ উপমহাদেশে আসেন।
- ব্রিটিশ ভারতের শাসকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সাম্রাজ্যবাদী ছিলো লর্ড ডালহৌসি।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের প্রচেষ্টায় ও সহযোগীতায় তিনি ১৮৫৬ সালে বিধবা বিবাহ আইন পাশ করেন।

⇒ ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর:
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর সংস্কৃত পন্ডিত, লেখক, শিক্ষাবিদ, সমাজসংস্কারক, জনহিতৈষী।
- কোলকাতায় সংস্কৃতি কলেজে অধ্যয়নকালে তার অগাধ পান্ডিত্য ও মেধার স্বীকৃতি স্বরুপ শিক্ষক মন্ডলী তাঁকে বিদ্যাসাগর উপাধিতে ভূষিত করেন।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাগরের অমরকীর্তি হিন্দু বিধবা বিবাহ প্রচলন।
- ১৮২৯ সালে প্রণীত সতীদাহ প্রথা উচ্ছেদ আইনের ফলে হিন্দু বিধবারা সহমরণ থেকে মুক্তি পেলেও বিধবা বিবাহের রীতি না থাকায় বিধবারা মানবেতর জীবনযাপনে বাধ্য হয়।
- ১৮৫৫ সালের ৪ঠা অক্টোবর তিনি হিন্দু সমাজের বিভিন্ন স্তরের ৯৮৭ জনের স্বাক্ষরিত একখানা স্মারকলিপি ভারত সরকারের নিকট পেশ করেন।
- ১৮৭০ সালের ১১ই আগষ্ট নিজ পুত্র নারায়নচন্দ্র বন্দোপাধ্যায়ের বিয়ের মাধ্যমে তিনি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।

উৎস: i) সমাজকল্যাণ ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) বাংলাপিডিয়া।
২৩.
মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠায় সম্পৃক্ত ছিলেন -
  1. নবাব স্যার সলিমুল্লাহ
  2. মুহম্মদ আলী জিন্নাহ
  3. নবাব ভিকার-উল মুলক
  4. ক ও গ
ব্যাখ্যা
মুসলিম লীগ:
- ১৯০৬ সালের ৩০ ডিসেম্বর ঢাকায় নিখিল ভারত মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠিত হয়।
- বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলনের সময় ১৯০৬ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত সর্ব ভারতীয় মুসলিম শিক্ষা সম্মেলনে ঢাকার তৎকালীন নবাব স্যার সলিমুল্লাহ মুসলমানদের জন্যে একটি পৃথক রাজনৈতিক সংগঠন প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব করেন।
- তার প্রস্তাবের ভিত্তিতেই মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠিত হয়।
- নওয়াব খাজা সলিমুল্লাহ, নবাব ভিকার-উল মুলক, সুলতান মুহাম্মদ শাহ আগা খান প্রমুখের উদ্যোগে মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠিত হয়। 

উল্লেখ্য,
- নওয়াব আব্দুল লতিফ, স্যার সৈয়দ আহমদ খান, মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠার সাথে জড়িত ছিলেন না। 
- মুহম্মদ আলী জিন্নাহ ১৯১৩ সালে মুসলিম লীগে যোগ দেন।
 
উৎস: বাংলাপিডিয়া। 
 
২৪.
১৯৭৬ সালে কোন রাজনৈতিক ব্যক্তি ফারাক্কা মিছিলের নেতৃত্ব দেন?
  1. মাওলানা ভাসানী
  2. জিয়াউর রহমান
  3. মনি সিং
  4. অধ্যাপক মোজাফফর আহমেদ
ব্যাখ্যা
ফারাক্কা লং মার্চ:
- মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা হচ্ছে 'ফারাক্কা লং মার্চ' সংঘটিত করা।
- মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর নেতৃত্বে 'ফারাক্কা লংমার্চ' সংঘটিত হয়েছিল।
- ১৯৭৬ সালের ১৮ এপ্রিল হাসপাতাল থেকে ফেরার পর মাওলানা ভাসানী ঘোষণা দেন ভারত যদি বাংলাদেশকে পানির অধিকার থেকে বঞ্চিত করে তাহলে তিনি লংমার্চ করবেন।
- এজন্য ১৬ মে রাজশাহী শহর থেকে লংমার্চ করার ঘোষণা দেন তিনি।
- কর্মসূচী বাস্তবায়নের জন্য ১৯৭৬ সালের ২রা মে মাওলানা ভাসানীকে প্রধান করে ৩১ সদস্যবিশিষ্ট 'ফারাক্কা মিছিল পরিচালনা জাতীয় কমিটি' গঠিত হয়।
- এই লংমার্চের আগে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর কাছে একটি চিঠি লিখেন আব্দুল হামিদ খান ভাসানী।

- সে চিঠিতে মিসেস গান্ধির কাছে লংমার্চের কারণ বর্ণনা করেন ভাসানী।
- লংমার্চের মিছিল রাজশাহী থেকে প্রেমতলী, প্রেমতলী থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে মনকষা এবং মনকষা থেকে শিবগঞ্জ পর্যন্ত ৬৪ মাইল অতিক্রম করবে।
- মাওলানা ভাসানীর অনুসারীরা তাকে একজন রাজনীতিবিদের চেয়ে 'দার্শনিক' হিসেবেই বেশি বিবেচনা করতেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
২৫.
শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হককে 'শের-ই-বঙ্গাল' বা 'বাংলার বাঘ' উপাধি দেয় কারা?
  1.  কৃষক-প্রজারা
  2. পাঞ্জাববাসীরা
  3. লাহোরবাসীরা
  4. কলকাতাবাসীরা
ব্যাখ্যা

শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হকঃ
- তার পূর্ণ নাম আবুল কাশেম ফজলুল হক। 
- ১৮৭৩ সালের ২৯ অক্টোবর বরিশাল জেলার বানরীপাড়া থানার চাখার গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৯০৬ সালে তিনি ডেপুটি ম্যাজিস্টেটের চাকরি গ্রহণ করেন।
- ১৯১৬ সালে লক্ষ্ণৌ শহরের অধিবেশনে তিনি যে প্রস্তাব উত্থাপন করেন, তাই বিখ্যাত ‘লক্ষ্ণৌ চুক্তি’ নামে অভিহিত হয়।
- ১৯২৭ সালে তিনি কৃষক-প্রজা পার্টি নামে একটি রাজনৈতিক দল গঠন করেন।
- ১৯৩৫-৩৬ সালে প্রথম বাঙালি মুসলমান হিসাবে কলকাতা কর্পোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হন।
- ১৯৩৭ সালে শের-এ-বাংলা এ. কে ফজলুল হক অবিভক্ত বাংলার প্রথম নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী পদে অধিষ্ঠিত হন। 
- ১৯৪০ সালে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর সভাপতিত্বে লাহোরে অনুষ্ঠিত নিখিল ভারত মুসলিম লীগের অধিবেশনে জ্বালাময়ী বক্তৃতায় প্রথম পাকিস্তান প্রস্তাব পেশ করেন।
- তাঁর বক্তৃতায় মুগ্ধ হয়ে পাঞ্জাববাসীরা তাঁকে উপাধি দেয় শের-ই-বঙ্গাল অর্থাৎ বাংলার বাঘ।
- তিনি ‘ঋণ সালিশী বোর্ড’ গঠন করেন।
- ১৯৪০ সালে মহাজনী আইন পাসের মাাধ্যমে সুদের হার ও চক্রবৃদ্ধি রহিত করেন।
- তাঁর প্রচেষ্টায় ফ্লাউড কমিশন গঠিত হয় এবং এ কমিশনের সুপারিশেই ১৯৫০ সালে পূর্ববঙ্গ জমিদারী দখল ও প্রজাস্বত্ব আইন পাস হয়। 
- ১৯৫৪ সালে দেশের সাধারণ নির্বাচনে তিনি ‘যুক্তফ্রন্ট’ দলের নেতৃত্ব দিয়ে পূর্ব পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হন।
- ১৯৫৬ সাল থেকে ১৯৫৮ সাল পর্যন্ত তিনি পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন।
- ১৯৫৫ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে সম্মানসূচক ডক্টর-অব-ল উপাধিতে ভূষিত করেন।
- ১৯৫৯ সালে প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খান তাঁকে ‘হিলাল-ই-পাকিস্তান’ উপাধিতে ভূষিত করেন।
- শের-এ-বাংলা এ. কে ফজলুল হক ১৯৬২ সালের ২৭ এপ্রিল প্রায় ৮৯ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন।

উৎস: সমাজকল্যাণ ১ম পত্র (এইচএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও রাজাপুর উপজেলার ওয়েবসাইট [লিঙ্ক]।

২৬.
'ব্র্যাক' কোন জেলায়, কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়?
  1. কুড়িগ্রাম জেলা, ১৯৭১
  2. পঞ্চগড় জেলা, ১৯৭২
  3. চট্টগ্রাম জেলা, ১৯৭১
  4. সিলেট জেলা, ১৯৭২
ব্যাখ্যা

স্যার ফজলে হাসান আবেদ ও ব্র্যাক:
- স্যার ফজলে হাসান আবেদ বিশ্বের সর্ববৃহৎ বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাক-এর প্রতিষ্ঠাতা।
- ব্র্যাক (বাংলাদেশ রুরাল অ্যাডভান্সমেন্ট কমিটি) একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংগঠন।
- ১৯৭২ সালে স্যার ফজলে হাসান আবেদ সিলেট জেলার শাল্লা এলাকায় ব্র্যাক প্রতিষ্ঠা করেন।
- ব্র্যাক বৈষম্য ও দারিদ্র্যের সাথে বসবাসকারী ১০ কোটিরও বেশি মানুষের সাথে অংশীদারিত্ব করে মানব সম্ভাবনাকে বাস্তবায়িত করার সুযোগ তৈরি করে।
- ২০১৪ এবং ২০১৭ সালে ‘ফরচুন’ ম্যাগাজিনে প্রকাশিত বিশ্বের ৫০ জন সেরা নেতার তালিকায় স্যার ফজলে হাসান আবেদের নাম স্থান পায়।
- ব্র্যাকের পাশাপাশি আবেদ বিভিন্ন জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক সংগঠনের সাথে যুক্ত ছিলেন।
- ১৯৮০ সালে তিনি ‘রেমন ম্যাগসাসাই কমিউনিটি লিডারশীপ’ পুরস্কার প্রাপ্ত হন।
- তিনি ২০০৪ সালে ‘ইউএনডিপি মাহবুবুল হক পুরস্কার’ লাভ করেন।
- ২০১০ সালে তিনি ‘নাইট কমান্ডার অব দি ওয়ার্ডার অব সেইন্ট মাইকেল’ এবং ‘সেইন্ট জর্জ’ (কেসিএমজি) পুরস্কারে ভূষিত হন।
- স্যার ফজলে হাসান আবেদ ২০১৯ সালের ২০শে ডিসেম্বর মৃত্যুবরণ করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

২৭.
অখণ্ড স্বাধীন বাংলা গঠনের প্রস্তাবক কে ছিলেন?
  1. হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
  2. মুহাম্মদ আতাউল গণি ওসমানী
  3. মাওলানা ভাসানী
  4. সি আর দাশ
ব্যাখ্যা
অখণ্ড স্বাধীন বাংলা:
- ১৯৪৭-পূর্ব যেসব ঘটনাপ্রবাহের ভিত্তিতে দুটি পৃথক রাষ্ট্রের জন্ম হয়েছিল, সেখানে গুরুত্বপূর্ণ একটি ভূমিকায় ছিলেন মি. সোহরাওয়ার্দী।
- অখণ্ড স্বাধীন বাংলা গঠনের প্রস্তাবক ছিলেন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী।
- ১৯৪৭ সালের ২৭ শে এপ্রিল, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী তখন বাংলার প্রধানমন্ত্রী।

⇒ ব্রিটিশরা তখন ভারতবর্ষ বিভক্ত করে ভারত ও পাকিস্তান নামে দুটি আলাদা রাষ্ট্রের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রস্তুতি নিচ্ছে। লর্ড মাউন্টব্যাটেন ভাইসরয় হিসাবে ভারতে এসে উপমহাদেশ ভাগ করার পরিকল্পনা পেশ করেন।
- দিল্লীতে এক সংবাদ সম্মেলনে মি. সোহরাওয়ার্দীর প্রস্তাবটি ছিল, অবিভক্ত এবং স্বাধীন বাংলার ধারনা।
- ভারতবর্ষ ভাগ হয়ে যখন ভারত ও পাকিস্তান নামে দুটি আলাদা রাষ্ট্রের জন্ম হতে যাচ্ছে তখন তিনি অবিভক্ত বাংলাকে নিয়ে আলাদা একটি রাষ্ট্রের ধারণা তুলে ধরেন।
- বাংলা, আসাম এবং বিহার অঞ্চলের কয়েকটি জেলা নিয়ে বৃহৎ বাংলা নামে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের আকাঙ্ক্ষা ছিল হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর।

উল্লেখ্য,
- অখণ্ড বাংলা গঠনের প্রস্তাবটি শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়। এর প্রধান কারণ ছিল মুসলিম লীগ এবং কংগ্রেসের দ্বন্দ্ব এবং বাংলার ভবিষ্যৎ নিয়ে মতভেদ। মুসলিম লীগের একটি অংশ এবং কংগ্রেস দুই পক্ষই বাংলাকে একটি পৃথক রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার প্রস্তাবে আপত্তি জানায়। এছাড়া ব্রিটিশ শাসকরা দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে সাম্প্রদায়িক দ্বন্দ্বের কারণে বাংলার বিভক্তিকে সমর্থন করে।

উৎস: i) বিবিসি।
ii) বাংলাপিডিয়া। 
২৮.
‘আঞ্জুমানে খাওয়াতীনে ইসলাম’ সংগঠনটি কার উদ্যোগে গঠিত হয়?
  1. শামসুন্নাহার মাহমুদ
  2. বেগম রোকেয়া
  3. স্যার সৈয়দ আহমদ খান
  4. বেগম সুফিয়া কামাল
ব্যাখ্যা
রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন:
- নারী জাগরণের পথিকৃৎ বেগম রোকেয়ার জন্ম ১৮৮০ সালের ৯ই ডিসেম্বর, রংপুর জেলার পায়রাবন্দ গ্রামে।
- তিনি ছিলেন উপমহাদেশের মুসলিম নারীদের শিক্ষার পথিকৃৎ ও সমাজ সংস্কারক।
- বাংলাদেশের নারী আন্দোলনের ইতিহাসে তাঁর অবদান চিরস্মরণীয়।
- মুসলমান মেয়েদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি এবং তাদের সামাজিক-রাজনৈতিক অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে তিনি ১৯১৬ সালে “আঞ্জুমানে খাওয়াতীনে ইসলাম” বা মুসলিম মহিলা সমিতি প্রতিষ্ঠা করেন।

উল্লেখ্য, 
- রোকেয়ার উল্লেখযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে: মতিচূর (প্রবন্ধগ্রন্থ, দুই খণ্ড; প্রথম খণ্ড ১৯০৪ সালে ও দ্বিতীয় খণ্ড ১৯২২ সালে প্রকাশিত), Sultana’s Dream (নকশাধর্মী রচনা, ১৯০৮), পদ্মরাগ (উপন্যাস, ১৯২৪) এবং অবরোধবাসিনী (নকশাধর্মী গদ্যগ্রন্থ, ১৯৩১)।
- Sultana’s Dream বইটি তিনি নিজেই বাংলায় অনুবাদ করেন সুলতানার স্বপ্ন নামে। এটি একটি প্রতীকী রচনা। 

সূত্র: বাংলাপিডিয়া।
২৯.
আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে গণতন্ত্র টিকে রাখার জন্য প্রয়োজন-
  1. সুশীল সমাজ
  2. বিরোধী দল
  3. বেসরকারি প্রতিষ্ঠান
  4. নাগরিক সমাজ
ব্যাখ্যা

• গণতন্ত্র রক্ষা: 
- আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে বিরোধী দল ছাড়া গণতন্ত্র টিকে থাকতে পারে না। 
- গণতন্ত্র মানেই বিভিন্ন মতামতের সংমিশ্রণ। 
- এক্ষেত্রে বিভিন্ন দলের সহাবস্থান অবশ্যই থাকতে হয়। 
- শক্তিশালী বিরোধী দলের অভাবে সরকার স্বৈরাচারী হয়ে যেতে পারে। 
- জন স্টুয়ার্ট মিল তাই বলেন, "যেখানে বিরোধী দল নেই, সেখানে গণতন্ত্র নেই"।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩০.
খিলাফত আন্দোলনের অন্যতম নেতা কে ছিলেন?
  1. মাওলানা আবুল কালাম আজাদ
  2. মাওলানা শওকত আলী
  3. মাওলানা মোহাম্মদ আলী
  4. বর্ণিত সবাই
ব্যাখ্যা
খিলাফত আন্দোলন:
- ১৯২০ সালে সেভার্স চুক্তির অধীনে ব্রিটিশ সরকার মুসলমানদের খেলাফত তুরস্ক তথা অটোমান সাম্রাজ্যকে নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নিলে এর বিরুদ্ধে ভারতীয়রা যে আন্দোলন গড়ে তোলে তা খিলাফত আন্দোলন নামে পরিচিত।
- ভারতীয় জাতীয়তাবাদের প্রভাবে উদ্ভূত একটি প্যান-ইসলামি আন্দোলন।
- কারণ ভারতের মুসলমানেরা তুরস্কের সুলতানকে মুসলিম বিশ্বের খলিফা বা ধর্মীয় নেতা বলে শ্রদ্ধা করতেন।
- প্রথম বিশ্বযুদ্ধে তুরস্কের সুলতান ব্রিটিশ বিরোধী শক্তি জার্মানির পক্ষ অবলম্বন করলে ভারতে মুসলমান সম্প্রদায় বিব্রত হন।
- কারণ ধর্মীয় কারণে তাঁরা খলিফার অনুগত, আবার অন্যদিকে রাজনৈতিক কারণে ব্রিটিশ সরকারের অনুগত থাকতে বাধ্য।
- খিলাফত আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন মাওলানা আবুল কালাম আজাদ ও দুই ভাই মাওলানা শওকত আলী এবং মাওলানা মোহাম্মদ আলী।
 
উৎস: ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৩১.
এফ আর খান-এর পরিচয় কী হিসেবে?
  1. কবি
  2. ভাস্কর
  3. নাট্যকার
  4. স্থপতি
ব্যাখ্যা

এফ আর খান:
- ফজলুর রহমান খান পেশায় স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ার এবং স্থপতি।
- তিনি ১৯২৯ সালে মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৯৪৪ সালে কলকাতার বালিগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ম্যাট্রিক পাস করার পর তিনি প্রেসিডেন্সি কলেজ-এ ভর্তি হন।
- ১৯৫০ সালে তিনি কলকাতার শিবপুর ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ থেকে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অধিকার করে ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি লাভ করেন।
- ১৯৫৫ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত স্থাপত্য প্রতিষ্ঠান স্কিডমুর-এ যোগদানের মাধ্যমে তাঁর কর্মজীবন শুরু হয়।
- ফজলুর রহমান খান শিকাগোর একশ তলা উঁচু জন হ্যানকক সেন্টার এবং একশ দশ তলা উঁচু সিয়ার্স টাওয়ার-এর নকশা তৈরি করেন।
- ইঞ্জিনিয়ারিং নিউজ রেকর্ডস কর্তৃক ‘কন্সট্রাকশনস ম্যান অব দি ইয়ার’ মনোনীত হওয়ার পর ১৯৭১ সালে শিকাগোর ওন্টারিও সেন্টারে  একটি ফলকে তাঁর সম্বন্ধে মন্তব্য লেখা হয় ‘ইনোভেশন ফলোজ প্রোগ্রাম’।
- ১৯৮২ সালের ২৬ মার্চ তিনি হূদরোগে মারা যান।
- বাংলাদেশ সরকার ১৯৯৯ সালে তাঁকে মরণোত্তর ‘স্বাধীনতা পদকে’ ভূষিত করে এবং তাঁর স্মরণে স্মারক একটি ডাকটিকিট প্রকাশ করে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৩২.
লর্ড ডালহৌসি কার সহায়তায় হিন্দু বিধবা বিবাহ আইন পাস করেন?
  1. জগদীশচন্দ্র বসু
  2. রাজা রামমোহন রায়
  3. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  4. লর্ড বেন্টিংক
ব্যাখ্যা
হিন্দু বিধবা বিবাহ আইন:
- সংস্কারপন্থী বাঙালি নেতা ও শিক্ষিত শ্রেণির উদারবাদীদের সহযোগিতায় ইংরেজ শাসকরা সামাজিক ধর্মীয় অনেক অমানবিক প্রথা কুসংস্কার দূর করতে সক্ষম হন।
- লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক, রাজা রামমোহন রায়, প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুরের মতো উদারপন্থী হিন্দু নেতৃবর্গ এবং সদর নিজামত আদালতের জজদের অকুণ্ঠ সমর্থনে ১৮২৯ খ্রিস্টাব্দে ডিসেম্বরে সতীদাহ প্রথা রহিত করতে সক্ষম হন।
- লর্ড ডালহৌসি পন্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের সহায়তায় হিন্দু বিধবা বিবাহ আইন পাস করে বিধবা বিবাহের প্রচলন করেন। 
- লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক রাজা রামমোহন রায় প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুরের মতো উদারপন্থী হিন্দু নেতৃবর্গ এবং সদর নিজামত আদালতের জজদের অকুণ্ঠ সমর্থনে ১৮২৯ খ্রিস্টাব্দে ডিসেম্বরে সতীদাহ প্রথা রহিত করতে সক্ষম হন।
- লর্ড এলেনবরা-এর সময়ে দাস প্রথা উচ্ছেদ করা হয়। পরবর্তী সময়ে দেবতার নামে শিশু হত্যা নিষিদ্ধ করা হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা,  এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৩.
'সেন্ট্রাল ন্যাশনাল মোহামেডান অ্যাসোসিয়েশন' কে প্রতিষ্ঠা করেছেন?
  1. সৈয়দ আমীর আলী
  2. স্যার সৈয়দ আহমদ খান
  3. নওয়াব আব্দুল লতিফ
  4. নওয়াব স্যার সলিমুল্লাহ
ব্যাখ্যা
• সৈয়দ আমীর আলী:
- সৈয়দ আমীর আলী ১৮৪৯ খ্রিস্টাব্দে হুগলীতে জন্ম গ্রহণ করেন।
- উনিশ শতকের শেষার্ধে বাংলার মুসলমান সমাজের নবজাগরণে যিনি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে ছিলেন তিনি হলেন সৈয়দ আমীর আলী।
- তিনি পাশ্চাত্য শিক্ষার মাধ্যমে বাঙালি মুসলমানদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নতি করতে চেয়েছেন।
- ১৯০৯ খ্রিস্টাব্দে তিনি লন্ডনে প্রিভি কাউন্সিলের সদস্য হন।
- সৈয়দ আমীর আলী ১৮৭৭ সালে ন্যাশনাল মোহামেডান অ্যাসোসিয়েশন প্রতিষ্ঠা করেন।
- এটিকে তিনি ভারতের অন্যান্য প্রদেশসমূহের শাখাগুলি অধিভুক্তির পর 'সেন্ট্রাল ন্যাশনাল মোহামেডান অ্যাসোসিয়েশন' নামে নতুন নামকরণ করেন।

উৎস: বাংলাশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া।
৩৪.
কোন রাজনীতিবিদ 'দেশবন্ধু' উপাধি পেয়েছিলেন?
  1. চিত্তরঞ্জন দাশ
  2. পন্ডিত মতিলাল নেহরু
  3. অমর্ত্য সেন
  4. সুভাষচন্দ্র বসু
ব্যাখ্যা
চিত্তরঞ্জন দাশ:
- চিত্তরঞ্জন দাশ সাধারণত দেশবন্ধু বলে আখ্যায়িত। 

⇒ তিনি বিশ শতকের বাংলার সবচেয়ে প্রগতিশীল রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের অন্যতম।
- বিশ শতকের প্রথম দিকে তিনি রাজনীতিতে প্রবেশ করেন।
- অনুশীলন সমিতির মতো বিপ্লবী সংগঠনের সাথে তিনি যুক্ত ছিলেন।
- এস.এন ব্যানার্জী, বি.সি পাল ও অরবিন্দ ঘোষের সহকর্মী হিসেবে তিনি বঙ্গভঙ্গ (১৯০৫)-কে বাংলায় বিপ্লবী কর্মকান্ড বিস্তৃত করতে সদ্ব্যবহার করেন।
- ১৯১৭ সালে ভবানীপুরে অনুষ্ঠিত বাংলার প্রাদেশিক সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন তিনি।
- তিনি ব্যাঙ্গল প্যাক্ট এর প্রবক্তা।

⇒ চিত্তরঞ্জন দাস বাংলার বহু রাজনৈতিক নেতার রাজনৈতিক গুরু।
- তাদের মধ্যে সুভাষচন্দ্র বসু, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, বিধানচন্দ্র রায়, শরৎচন্দ্র বসু, যতীন্দ্রমোহন সেনগুপ্ত প্রভৃতি ব্যক্তিবর্গ উল্লেখযোগ্য।
- তিনি সব সময় ব্রিটিশবিরোধী লড়াইকে জোরদার করতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির পক্ষে নিজের মত প্রকাশ করেছেন।
- একসময় তিনি কংগ্রেস নেতাদের সঙ্গে মতবিরোধের কারণে 'স্বরাজ দল' নামের একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন।
- এই স্বরাজ দলের প্রার্থী হিসেবেই ১৯২৪ সালে কলকাতা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রথম মেয়র নির্বাচিত হন।
- এ সময়ে তিনি নারী শিক্ষা, বিধবা বিবাহ ইত্যাদির পক্ষে অনেক কাজ করেন।
- বাংলার এই বলিষ্ঠ নেতা মাত্র ৫৫ বছর বয়সে ১৯২৫ সালের জুন মাসে মারা যান।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৩৫.
ফারাক্কা চুক্তি বাংলাদেশের স্বার্থের পরিপন্থি হিসেবে কে অভিহিত করেছেন?
  1. হাজী মোহাম্মদ দানেশ
  2. শামসুল হক হন
  3. আব্দুল হামিদ খান ভাসানী
  4. এ কে ফজলুল হক
ব্যাখ্যা
- মওলানা ভাসানী ফারাক্কা চুক্তিকে বাংলাদেশের স্বার্থের পরিপন্থি হিসেবে অভিহিত করেছেন।

 আব্দুল হামিদ খান ভাসানী:
- ১৯১৯ সালে ব্রিটিশ বিরোধী অসহযোগ ও খেলাফত আন্দোলনে যোগদানের মধ্য দিয়ে তাঁর রাজনৈতিক জীবনের সূচনা হয়।
- পরে তিনি টাঙ্গাইল জেলার সন্তোষে গিয়ে তথাকার অত্যাচারিত কৃষকদের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন।
- ১৯৩৭ সালে ভাসানী মুসলিম লীগে যোগ দেন এবং অচিরেই দলের আসাম শাখার সভাপতি নির্বাচিত হন।
- ১৯৪৯ সালে পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ নামে একটি নতুন রাজনৈতিক দল জন্মলাভ করে।
- নবগঠিত আওয়ামী মুসলিম লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হন মাওলানা ভাসানী, এবং টাঙ্গাইলের শামসুল হক হন সাধারণ সম্পাদক।
- আওয়ামী মুসলিম লীগের সভাপতি হিসেবে ভাসানী তখনকার বিরোধী দল নিয়ে যুক্তফ্রন্ট নামে একটি মোর্চা গঠন করেন।
- এ মোর্চার অপরাপর নেতা ছিলেন এ কে ফজলুল হক, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, শেখ মুজিবুর রহমান ও হাজী মোহাম্মদ দানেশ।
- মওলানা ভাসানী ফারাক্কা চুক্তিকে বাংলাদেশের স্বার্থের পরিপন্থি হিসেবে অভিহিত করেছেন।
- তিনি ১৯৭৬ সালের ১৬ মে রাজশাহী থেকে ফারাক্কা অভিমুখে এক লং মার্চে নেতৃত্ব দেন।
- ১৯৭৬ সালের ১৭ নভেম্বর তাঁর মৃত্যু হয়।

সূত্র - বাংলাপিডিয়া।
৩৬.
বাংলার নওয়াব উপাধি প্রাপ্ত প্রথম বাঙালি মহিলা কে?
  1. ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী
  2. বেগম রোকেয়া
  3. নীলিমা ইব্রাহীম
  4. সুফিয়া কামাল
ব্যাখ্যা
• নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী ছিলেন নারীশিক্ষার পথিকৃৎ।
- দানশীলতার জন্য ব্রিটিশ সরকার তাঁকে ‘নওয়াব’ উপাধিতে ভূষিত করেন।
- তিনিই বাংলার প্রথম মহিলা যিনি এই উপাধি লাভ করেন।
- 'রুপজালাল' নওয়াব ফয়জুন্নেসা রচিত গদ্য ও কবিতায় আত্মজীবনী মূলক রচনা।
- গ্রন্থটি ১৮৭৬ খ্রিষ্টাব্দে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩৭.
কোন সমাজ সংস্কারক 'ব্রাহ্মনিকাল ম্যাগাজিন’ পত্রিকার প্রকাশক ছিলেন?
  1. রামমোহন বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. ঈশ্বরচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
  3. নওয়াব আব্দুল লতিফ
  4. রাজা রামমোহন রায়
ব্যাখ্যা
- বাংলার নবজাগরণের স্রষ্টা ভারতের প্রথম আধুনিক পুরুষ ছিলেন রাজা রামমোহন রায়।
- রাজা রামমোহন রায়‘সম্বাদ কৌমুদী’, ‘মিরাত-উল-আখবার’ ও ‘ব্রাহ্মনিকাল ম্যাগাজিন’ নামে তিনটি পত্রিকার প্রকাশক ছিলেন।
- রাজা রামমোহন ১৮২২ খ্রিস্টাব্দে কলকাতায় ‘এ্যাংলো হিন্দু কলেজ’ প্রতিষ্ঠা করেন।
- বেদান্তসূত্র বেদান্তসারসহ উপনিষদের অনুবাদ প্রকাশ করেন।
- অন্যান্য রচনার মধ্যে আছে ‘তুহফাত-উল-মোয়াহিদ্দীন’ (একেশ্বরবাদ সৌরভ) ‘মানাজারাতুল আদিয়ান’ (বিভিন্ন ধর্মের উপর আলোচনা) ও হিন্দুদিগের পৌত্তলিক ধর্মপ্রণালি ইত্যাদি।
- হিন্দুধর্মের সংস্কার তথা নিজ ধর্মীয় মতবাদ প্রচারের উদ্দেশ্যে ‘আত্মীয় সভা’ নামে একটি সমিতি গঠন করেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৮.
'ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গ' কোথায় অবস্থিত ছিল?
  1. ঢাকা
  2. আগ্রা
  3. কলকাতা
  4. মুর্শিদাবাদ
ব্যাখ্যা
• ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গ
- ভারতবর্ষে ব্রিটিশদের সর্বাধিক বিখ্যাত দুর্গ হলো ফোর্ট উইলিয়াম।
- ফোর্ট উইলিয়ামের মাধ্যমেই ভারতবর্ষে ব্রিটিশদের ঘাঁটি নির্মাণের প্রক্রিয়া শুরু হয়।
- বিখ্যাত এই দুর্গটি কলকাতায় অবস্থিত।
- ভারতবর্ষে ব্রিটিশদের সামরিক শক্তি প্রদর্শনের একটি বড় নিদর্শন এই দুর্গ।
- বাস্তবে দুটি ফোর্ট উইলিয়াম ছিল : একটি পুরনো, অন্যটি নতুন। পুরনো দুর্গটি ইস্ট ইন্ডিয়া কম্পানির সূচনাকালের সৃষ্টি।
- স্যার চার্লস আইয়ার এই দুর্গের নির্মাণকাজ শুরু করেন।
- তাঁর উত্তরসূরি জন বিয়ার্ড ১৭০১ সালে ফোর্ট উইলিয়ামের উত্তর-পূর্বাংশের দুর্গপ্রাচীর সংযোজন করেন।
- ১৭০২ সালে তিনি দুর্গের মধ্যভাগে বাণিজ্যকুঠি বা 'গভর্নমেন্ট হাউস' নির্মাণ শুরু করেন, যা ১৭০৬ সালে শেষ হয়।
- এরপর ইংল্যান্ডের রাজার সম্মানে দুর্গটির নামকরণ করা হয় ফোর্ট উইলিয়াম।
- ১৯৫৬ সালে নবাব সিরাজউদ্দৌলা কলকাতা আক্রমণ করে ফোর্ট উইলিয়াম দখল করেন এবং ইংরেজদের তাড়িয়ে দেন।
- পরে পলাশীর যুদ্ধে ইংরেজরা জয়ী হলে উপমহাদেশে ইংরেজদের অবস্থান সংহত হতে থাকে।
- তারা ফোর্ট উইলিয়ামের স্থানে আরেকটি শক্তিশালী দুর্গ স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেয়।
- ১৭৮০ সালের মধ্যে দুর্গটি নির্মাণের বেশির ভাগ কাজ শেষ হয়ে যায়।
- এর প্রায় এক শ বছর পরে দুর্গটিকে আধুনিকায়ন করা হয়।
- দুর্গটিকে অষ্টভুজাকৃতির রূপ দেওয়া হয়। দুর্গে প্রবেশের জন্য সাতটি প্রবেশদ্বার ছিল। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৩৯.
নওয়াব স্যার সলিমুল্লাহ 'নওয়াব' উপাধি লাভ করেন-
  1. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে
  2. মুসলীম লীগ থেকে
  3. ব্রিটিশ সরকারের কাছ থেকে
  4. ঢাকা কলেজ থেকে
ব্যাখ্যা

নওয়াব স্যার খাজা সলিমুল্লাহ: 
- জন্ম: ৭ জুন ১৮৭১, ঢাকা নবাববাড়ি।
- মৃত্যু: ১৬ জানুয়ারি ১৯১৫, কলকাতা।
- পিতার নাম: নবাব খাজা আহসানউল্লাহ।
- উপাধি: “নওয়াব” উপাধি পান ১৯০১ সালে ব্রিটিশ সরকারের কাছ থেকে।
- সম্মাননা: ১৯০৬ সালে “Knight Commander of the Indian Empire (KCIE)” উপাধি লাভ করেন।

• শিক্ষা ও প্রশাসনিক জীবন: 
- কলকাতা আলিয়া মাদ্রাসা ও প্রেসিডেন্সি কলেজে পড়াশোনা।
- ১৮৯৫ সালে ঢাকা জেলা বোর্ডের চেয়ারম্যান।
- ১৯০১ সালে নবাব পদে অধিষ্ঠিত হন। 
- ১৯০৩ সালে বেঙ্গল লেজিসলেটিভ কাউন্সিলের সদস্য নির্বাচিত হন।
 
• রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক অবদান
- ১৯০৬ সালে ঢাকায় মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠায় মুখ্য ভূমিকা পালন করেন।
- ৩০ ডিসেম্বর ১৯০৬: মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠা সভা ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়, তাঁর সভাপতিত্বে।

 
• শিক্ষা ও সমাজ উন্নয়ন: 
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রস্তাবনায় অগ্রণী ভূমিকা। 
- মুসলিমদের জন্য আলাদা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গঠনে উদ্যোগী ছিলেন
- ঢাকা কলেজ, জুবিলি স্কুল, নবাবপুর স্কুল, ইসলামিয়া হাইস্কুল তাঁর পৃষ্ঠপোষকতায় গড়ে ওঠে।
- মুসলিম ছাত্রদের জন্য বৃত্তি ও আবাসন সুবিধা চালু করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 

৪০.
বাঙালি মুসলমান সমাজে নারী স্বাধীনতার পক্ষে প্রথম প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর ছিলো-
  1. জাহানারা ইমাম
  2. সুফিয়া কামাল 
  3. সেলিনা হোসেন
  4. বেগম রোকেয়া
ব্যাখ্যা

• রোকেয়া সাখাওয়াৎ হোসেন :
- রোকেয়া সাখাওয়াৎ হোসেন,  (১৮৮০-১৯৩২)  সাহিত্যিক, শিক্ষাব্রতী, সমাজসংস্কারক এবং নারী জাগরণ ও নারীর অধিকার আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ।
- ১৮৮০ সালের ৯ ডিসেম্বর রংপুর জেলার মিঠাপুকুর থানার অন্তর্গত পায়রাবন্দ ইউনিয়নে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম জমিদার পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা জহীরুদ্দীন মোহাম্মদ আবু আলী হায়দার সাবের এবং মাতা রাহাতুন্নেসা সাবেরা চৌধুরানী।
- বাংলাদেশের নারী আন্দোলনের ইতিহাসে বেগম রোকেয়ার অবদান চিরঅম্লান।
- ১৮৯৮ সালে রোকেয়ার বিয়ে হয় বিহারের ভাগলপুর নিবাসী উর্দুভাষী সৈয়দ সাখাওয়াৎ হোসেনের সঙ্গে।
- তিনি ছিলেন ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট, তদুপরি সমাজসচেতন, কুসংস্কারমুক্ত এবং প্রগতিশীল দৃষ্টিভঙ্গিসম্পন্ন।
- স্বামীর মৃত্যুর পর নিঃসঙ্গ রোকেয়া নারীশিক্ষা বিস্তার ও সমাজসেবায় আত্মনিয়োগ করেন।
- ১৯০৯ সালের ১ অক্টোবর স্বামীর প্রদত্ত অর্থে পাঁচটি ছাত্রী নিয়ে তিনি ভাগলপুরে ‘সাখাওয়াৎ মেমোরিয়াল গার্লস’ স্কুল স্থাপন করেন।  
- মুসলমান মেয়েদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি এবং তাদের অধিকার আদায়ের জন্য ১৯১৬ সালে বেগম রোকেয়া প্রতিষ্ঠা করেন আঞ্জুমানে খাওয়াতীনে ইসলাম  বা মুসলিম মহিলা সমিতি। 
- 'Sultana’s Dream' গ্রন্থটি রোকেয়া নিজেই বাংলায় অনুবাদ করেন সুলতানার স্বপ্ন  নামে।
- এটি একটি প্রতীকী রচনা এবং এতে বর্ণিত Lady Land  বা নারীস্থান মূলত রোকেয়ারই স্বপ্নকল্পনার প্রতীক।
- বাঙালি মুসলমান সমাজে নারীর স্বাতন্ত্র্য ও নারী স্বাধীনতার পক্ষে প্রথম প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর বেগম রোকেয়া।
- বিশ শতকের প্রথম দিকে বাঙালি মুসলমানদের নবজাগরণের সূচনালগ্নে নারীশিক্ষা ও নারী জাগরণে তিনিই প্রধান নেতৃত্ব দেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৪১.
বিধবা পুনর্বিবাহ আইন পাশ হয় কার চেষ্টায়?
  1. ভাদারাম পোদ্দার
  2. সতীনাথ ভাদুড়ী
  3. অখিলেশ সাহানী
  4. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
ব্যাখ্যা
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর:
 
- তিনি ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতার নাম ঠাকুরদাস বন্দ্যোপাধ্যায়।১৮২৮ সালের ডিসেম্বর মাসে তাঁকে কলকাতার একটি পাঠশালায় এবং ১৮২৯ সালের জুন মাসে সংস্কৃত কলেজে ভর্তি করানো হয়।
- ১৮৪১ সালের ডিসেম্বর মাসে সংস্কৃত কলেজ ত্যাগ করার অল্প পরেই তিনি ফোর্ট উইলিয়ম কলেজের বাংলা ভাষার প্রধান পন্ডিতের পদ লাভ করেন।
- ১৮৫০ সালের ডিসেম্বর মাসে তিনি সংস্কৃত কলেজের সাহিত্যের অধ্যাপক পদ লাভ করেন এবং পরের মাসে ওই কলেজের অধ্যক্ষ নিযুক্ত হন।
- বাল্যবিয়ের কুফল এবং বিধবাদের করুণ জীবন ঈশ্বরচন্দ্রকে ব্যাথিত করে। 
- ঈশ্বরচন্দ্রের চেষ্টায় ভারত সরকার এগিয়ে আসে। অবশেষে ১৮৫৬ সালে বিধবা পুনর্বিবাহ আইন পাশ হয়। 
- ১৮৯১ সালের ২৯ জুলাই তিনি মৃত্যু বরণ করেন।
 
তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া  ও ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪২.
উপমহাদেশের বিখ্যাত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব মহাত্মা গান্ধীর নেতৃত্বে অসহযোগ আন্দোলন কত সালে সংঘটিত হয়?
  1. ১৯১৯ সালে
  2. ১৯২০ সালে
  3. ১৯২১ সালে
  4. ১৯২২ সালে
ব্যাখ্যা
•অসহযোগ আন্দোলন:
- ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের অবিসংবাদিত নেতা মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী।
- ১৮৬৯ সালের ২ অক্টোবর ভারতে জন্ম নেন তিনি।
- ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে অহিংস আন্দোলন করা এবং ভারতীয় উপমহাদেশ থেকে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদী শক্তিকে বিদায় করতে তাঁর ভূমিকা অগ্রগণ্য।
- তিনি ছিলেন সত্যাগ্রহ আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা।
- ১৯২০ খ্রিস্টাব্দে খিলাফত আন্দোলন ও অসহযোগ আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ ঐক্যবদ্ধ কর্মসূচির মাধ্যমে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলে।
- মহাত্মা গান্ধীর নেতৃত্বে অসহযোগ আন্দোলন সংঘঠিত হয় ১৯২০ সালে।
- ১৯২১-২২ খ্রিস্টাব্দে এই আন্দোলন সর্বভারতীয় গণ-আন্দোলনে রূপ নেয়।
- ১৯২১ খ্রিস্টাব্দে উত্তর প্রদেশের চৌরিচোরা নামক স্থানে অহিংস অসহযোগ আন্দোলন সহিংসতায় রূপ নিলে হঠাৎ করে এই আন্দোলন বন্ধের ডাক দেন।
- ১৯২২ খ্রিস্টাব্দে তিনি গ্রেফতার হলে আন্দোলন স্থিমিত হয়ে যায়। 

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা,  এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৩.
মহাত্মা গান্ধীর অসহযোগ আন্দোলন প্রত্যাহার করে নেয়া হয় কেন?
  1. জনসমর্থন না থাকায়
  2. দাবি মেনে নেয়ায়
  3. প্রশাসনের অনুরোধে
  4. সহিংসতায় রূপ নেয়ায়
ব্যাখ্যা
অসহযোগ আন্দোলন:
- ১৯২০ খ্রিস্টাব্দে খিলাফত আন্দোলন ও অসহযোগ আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ ঐক্যবদ্ধ কর্মসূচির মাধ্যমে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলে।
- মহাত্মা গান্ধীর অসহযোগ আন্দোলন সংঘটিত হয় ১৯২০ সালে।
- ১৯২১-২২ খ্রিস্টাব্দে এই আন্দোলন সর্বভারতীয় গণ-আন্দোলনে রূপ নেয়।
- ১৯২১ খ্রিস্টাব্দে উত্তর প্রদেশের চৌরিচোরা নামক স্থানে অহিংস অসহযোগ আন্দোলন সহিংসতায় রূপ নিলে হঠাৎ করে এই আন্দোলন বন্ধের ডাক দেন।
- ১৯২২ খ্রিস্টাব্দে তিনি গ্রেফতার হলে আন্দোলন স্থিমিত হয়ে যায়।

উল্লেখ্য,
⇒ মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী:
- ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের অবিসংবাদিত নেতা মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী।
- ১৮৬৯ সালের ২ অক্টোবর ভারতে জন্ম নেন তিনি।
- ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে অহিংস আন্দোলন করা এবং ভারতীয় উপমহাদেশ থেকে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদী শক্তিকে বিদায় করতে তাঁর ভূমিকা অগ্রগণ্য।
- তিনি ছিলেন সত্যাগ্রহ আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা।
- মহাত্মা গান্ধীকে ১৯৪৮ সালের ৩০শে জানুয়ারি নতুন দিল্লির একটি সুবৃহৎ প্রাসাদ বিড়লা হাউসের প্রাঙ্গনে হত্যা করা হয়েছিল।
- তাঁর ঘাতক ছিলেন নাথুরাম গডসে।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) Britannica.
৪৪.
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের অমরকীর্তি হিসেবে বিবেচিত হয় কোনটি?
  1. হিন্দু বিধবা বিবাহ প্রচলন
  2. বেঙ্গল প্যাক্ট
  3. সতীদাহ প্রথা নিবারণ
  4. সেন্ট্রাল মোহামেডান অ্যাসোসিয়েশন প্রতিষ্ঠা
ব্যাখ্যা
বিধবা বিবাহ:
- হিন্দু বিধবাদের পুনরায় বিয়েবন্ধনে আবদ্ধ হওয়াকে বিধবা বিবাহ বলে।
- ঊনবিংশ শতাব্দীতে অবাধে বাল্যবিয়ের ব্যাপক প্রচলন ছিল।
- ফলে একদিকে বাল্যবিয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছিল; অন্যদিকে সমাজে পাল্লা দিয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছিল বিধবার সংখ্যা।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর হিন্দু বিধবাদের পুনর্বিবাহের জন্য সমাজসংস্কার আন্দোলন সৃষ্টির প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন।
- তাঁর অক্লান্ত পরিশ্রমের ফল পান ১৮৫৬ সালের ২৬ জুলাই।
- সেদিন তাঁর প্রচেষ্টায় তৎকালীন বড়লাট লর্ড ডালহৌসি ‘দ্য হিন্দু উইডো’স রিম্যারেজ অ্যাক্ট ১৮৫৬’ নামে আইন প্রণয়ন করে হিন্দু বিধবাদের পুনর্বিবাহকে বৈধ করেন।
- এ আইন করার লক্ষ্য ছিল কিছু হিন্দু বিধবা শিশু, যারা স্বামীর বাড়িতে যাওয়ার আগেই বিধবা হয়ে যেত; এ আইন পাসের মাধ্যমে হিন্দু বিধবা বিবাহের সব বাধা দূরীভূত হয়।
- সে বছরই ৭ ডিসেম্বর রাজকৃষ্ণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের উপস্থিতিতে প্রথম বিধবা বিবাহের অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়।
- সে বিয়ের পাত্র ছিলেন শ্রীশচন্দ্র বিদ্যারত্ন।
- বিদ্যাসাগর পরবর্তীকালে তাঁর নিজ ছেলের সঙ্গে এক বিধবা কন্যার বিয়ে দিয়েছিলেন।

উল্লেখ্য,
⇒ ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর:
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর সংস্কৃত পন্ডিত, লেখক, শিক্ষাবিদ, সমাজসংস্কারক, জনহিতৈষী।
- কোলকাতায় সংস্কৃতি কলেজে অধ্যয়নকালে তার অগাধ পান্ডিত্য ও মেধার স্বীকৃতি স্বরুপ শিক্ষক মন্ডলী তাঁকে বিদ্যাসাগর উপাধিতে ভূষিত করেন।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাগরের অমরকীর্তি হিন্দু বিধবা বিবাহ প্রচলন।
- ১৮২৯ সালে প্রণীত সতীদাহ প্রথা উচ্ছেদ আইনের ফলে হিন্দু বিধবারা সহমরণ থেকে মুক্তি পেলেও বিধবা বিবাহের রীতি না থাকায় বিধবারা মানবেতর জীবনযাপনে বাধ্য হয়।
- ১৮৫৫ সালের ৪ঠা অক্টোবর তিনি হিন্দু সমাজের বিভিন্ন স্তরের ৯৮৭ জনের স্বাক্ষরিত একখানা স্মারকলিপি ভারত সরকারের নিকট পেশ করেন।
- ১৮৭০ সালের ১১ই আগষ্ট নিজ পুত্র নারায়নচন্দ্র বন্দোপাধ্যায়ের বিয়ের মাধ্যমে তিনি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।

উৎস: i) সমাজকল্যাণ ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) বাংলাপিডিয়া।
৪৫.
মহাত্মা গান্ধী কত সালে অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেন?
  1. ১৯২৩ সালে
  2. ১৯২০ সালে
  3. ১৯২৮ সালে
  4. ১৯৩০ সালে
ব্যাখ্যা
মহাত্মা গান্ধী: 
- অহিংস আন্দোলনের প্রবক্তা ও ভারত রাষ্ট্রের জনক মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী।
- তিনি ১৮৬৯ সালের ২ অক্টোবর গুজরাটের পোরবন্দ নামক স্থানে জন্ম গ্রহণ করেন।
- মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী বা মহাত্মা এই উপাধিটি রবীন্দ্রনাথ প্রদান করেন।
- দক্ষিণ আফ্রিকায় নাটাল ইন্ডিয়ান কংগ্রেস নামক দল গঠন করেন।
-  দক্ষিণ আফ্রিকায় ভারতীয়দের উপর বর্ণবাদী আচরনের বিরুদ্ধে তিনি সত্যাগ্রহ আন্দোলন শুরু করেন।
- তিনি সেখানে ১৯১০ সালে একটি আশ্রম গড়ে তুলেন যার নাম ছিল - তলস্তয় ফার্ম (Tolstoy Farm)।
- এই আশ্রম থেকেই আন্দোলন পরিচালিত হত এবং সেখানে তিনি একটি পত্রিকা সম্পাদনা করতেন যার নাম “দ্যা ক্রনিকাল”। 

উল্লেখ্য, 
- ভারতে ব্রিটিশদের অত্যাচার ও ১৯১৯ সালে জালিয়ালওয়ালাগের হত্যাকান্ডের প্রেক্ষিতে তিনি ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে ১৯২০ সালে অসহযোগ আন্দোলন শুরু করেন।
- ১৯৪২ সালে মহাত্মাগান্ধী ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে ‘ভারত ছাড় আন্দোলন' (Quit India Movement) শুরু করেন। 
- ১৯৪৬ সালে তিনি নোয়াখালীর সোনাইমুরী ভ্রমন করেন দাঙ্গা থামানোর লক্ষ্যে এবং সোনাইমুরীতে তার নামে একটি জাদুঘর আছে।

সূত্র: ব্রিটানিকা।
৪৬.
আইয়ুব খান বিরোধী 'ঘেরাও' কর্মসূচি কে চালু করেন?
  1. জিয়াউর রহমান
  2. এ কে ফজলুল হক
  3. মওলানা ভাসানী
  4. হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
ব্যাখ্যা
মওলানা ভাসানী:
- ১৯৬৮ সালের ডিসেম্বরে পল্টন ময়দানে জনসভা করে গণঅভ্যুত্থানের সূচনা করেছিলেন ন্যাপের সভাপতি মওলানা ভাসানী।
- পরে আওয়ামী লীগ ও জামায়াতে ইসলামীসহ সর্বদলীয় সংগ্রাম পরিষদ (ডেমোক্রেটিক অ্যাকশন কমিটি) স্বতন্ত্রভাবে গণঅভ্যুত্থানের ঘোষণা দিলে অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ভাসানী সর্বদলীয় সংগ্রাম পরিষদে যোগ না দিয়ে ঘেরাও আন্দোলন চালাতে থাকেন।
- তার সঙ্গে ছিল পিকিংপন্থী বলে পরিচিত বামপন্থী দলগুলো এবং শ্রমিক ফেডারেশন ও কৃষক সমিতি।
- মস্কোপন্থী দলগুলো ক্রমে আওয়ামী লীগের সমর্থনে গিয়ে আন্দোলনে যুক্ত থাকে।

উল্লেখ্য,
- ১৯৬৯ সালে আইয়ুব বিরোধী আন্দোলনে মাওলানা ভাসানী বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করেন।
- আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার আসামীদের মুক্তি দাবি করেন। ৮ মার্চ (১৯৬৯) পশ্চিম পাকিস্তানে গিয়ে সেখানে পাকিস্তান পিপলস পার্টির নেতা জুলফিকার আলী ভুট্টোর সাথে সাক্ষাত করে গণতন্ত্র ও সমাজতন্ত্র কায়েমের লক্ষ্যে একমত হন।
- ২৬শে ফেব্রুয়ারি আইয়ুব খান কর্তৃক আহুত গোলটেবিল বৈঠক প্রত্যাখান করে শ্রমজীবীদের ঘেরাও কর্মসূচী পালনে উৎসাহ প্রদান করেন।

উৎস: i) The Daily Star Bangla,.
ii) বণিক বার্তা।
৪৭.
মুসলিম শিক্ষা প্রসারে অগাধ সম্পত্তি দান করেন কে?
  1. ফকির মজনু শাহ
  2. হাজী মুহম্মদ মুহসীন
  3. স্যার সৈয়দ আহমদ খান
  4. হাজী শরীয়তউল্লাহ
ব্যাখ্যা
হাজী মুহম্মদ মুহসীন:
- হাজী মুহম্মদ মুহসীন ছিলেন বাংলার একজন জনহিতৈষী, দানবীর।
- দানশীলতার জন্য তিনি দানবীর খেতাব পেয়েছিলেন। পেয়েছিলেন।
- তিনি ১৭৩২ সালে হুগলীতে জন্মগ্রহণ করেন।
- শিক্ষানুরাগী এ দানবীর তার অর্থ দিয়ে বহু বিদ্যাপিঠ স্থাপন করে গেছেন।
- হুগলিতে 'হুগলি মহসিন কলেজ' ও 'চট্টগ্রামের সরকারি হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজ' প্রতিষ্ঠার সময় মহসিনের ওয়াকফকৃত অর্থ ব্যবহৃত হয়।
- ১৭৬৯-৭০ সালের সরকারি দলিল অনুযায়ী তৎকালীন দুর্ভিক্ষের সময় তিনি অনেক লঙ্গরখানা স্থাপন করেন।
- ১৮০৬ সালে তিনি 'মহসিন ফান্ড নামক তহবিল প্রতিষ্ঠা করেন।
- এ তহবিল ধর্মীয় কর্মকাণ্ড, পেনশন, বৃত্তি ও দাতব্য কর্মকাণ্ডের জন্য বরাদ্দ করা হয়।
- বঙ্গের হাতেম তাই নামে খ্যাত মুহসিন তাঁর অগাধ সম্পত্তি জনকল্যাণে দান করে যান।

তথ্যসূত্র - সমাজকল্যাণ ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৮.
তিতুমীরের প্রধান সেনাপতি ছিলেন কে?
  1. সৈয়দ আলী
  2. গোলাম মাসুদ
  3. মীর হাসান আলী
  4. মোহাম্মদী বেগ
ব্যাখ্যা
• তিতুমীর
- তিতুমীর ১৭৮২ সালের ২৭ জানুয়ারি (১৪ মাঘ ১১৮২ বঙ্গাব্দ) ২৪ পরগনা জেলার বসিরহাট মহকুমার চাঁদপুর (মতান্তরে হায়দরপুর) গ্রামে একটি সুন্নী মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- তার পিতার নাম সৈয়দ মীর হাসান আলী এবং মাতার নাম আবিদা রুকাইয়া খাতুন।
- ১৮২২ সালে তিতুমীর মক্কায় হজ্জব্রত পালনের উদ্দেশ্যে যান।
- তিনি সেখানে আরবের স্বাধীনতার অন্যতম পথপ্রদর্শক সৈয়দ আহমেদ শহীদের শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন ও ওয়াহাবী মতবাদে অনুপ্রাণিত হন।
- সেখান থেকে এসে (১৮২৭) তিতুমীর তার গ্রামের দরিদ্র কৃষকদের সাথে নিয়ে জমিদার এবং ব্রিটিশ নীলকদের বিরুদ্ধে সংগঠিত হয়ে আন্দোলন শুরু করেন।
- ১৮৩১ সালের ২৩শে অক্টোবর বারাসতের কাছে বাদুড়িয়ার ১০ কিলোমিটার দূরে নারিকেলবাড়িয়া গ্রামে তারা বাঁশের কেল্লা তৈরি করেন।
- বাঁশ এবং কাদা দিয়ে তারা দ্বি-স্তর বিশিষ্ট এই কেল্লা নির্মাণ করেন।
- তিতুমীর বর্তমান চব্বিশ পরগনা, নদীয়া এবং ফরিদপুরের বিস্তীর্ণ অঞ্চলের অধিকার নিয়ে সেখানে ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। 
- তার বাহিনীর প্রধান সেনাপতি মাসুম খাঁ বা গোলাম মাসুমকে ফাঁসি দেয়া হয়। বাশেঁর কেল্লা গুঁড়িয়ে দেয়া হয়।
- ইতিহাসে এ কেল্লাই নারিকেলবাড়িয়া বাঁশের কেল্লা নামে বিখ্যাত।
- তিতুমীর বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রেরণার উৎস হিসাবে কাজ করেছে।
- ১৯৭১ সালে মুহাম্মদ জিন্নাহ কলেজ কে তার নাম অনুসারে সরকারী তিতুমীর কলেজ নামকরণ করা হয়।
- তার নামে বুয়েট এ একটি ছাত্র হলের নামকরণ করা হয় তিতুমীর হল।
- বিবিসির জরিপে তিনি ১১ তম শ্রেষ্ঠ বাঙালি।
- ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে তিতুমীরের অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৭৪ সালের ১০ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান খুলনা শহরে রূপসা নদীর তীরে 'বানৌজা তিতুমীর' নামে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর একটি ঘাঁটি কমিশন করেন ও ‘নেভাল এনসাইন’ প্রদান করেন।
- এছাড়া বাংলাদেশ নৌবাহিনীর একটি জাহাজের নামকরণ করা হয় বিএনএস তিতুমীর।
- রাজশাহী ও নীলফামারী জেলার চিলাহাটি স্টেশনের মধ্যে 'তিতুমীর এক্সপ্রেস' নামে একটি আন্তঃনগর ট্রেন চলাচল করে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।  
৪৯.
The Idea Of Justice-গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. হেনরি কিসিঞ্জার
  2. এপিজে আবদুল কালাম
  3. অমর্ত্য সেন
  4. নেলসন ম্যান্ডেলা
ব্যাখ্যা

অমর্ত্য সেন:
- অমর্ত্য সেন একজন নোবেল পুরস্কার বিজয়ী ভারতীয় বাঙালী অর্থনীতিবিদ ও দার্শনিক।
- ১৯৯৮ সালে অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার লাভ করেছিলেন অমর্ত্য সেন।
- দারিদ্র এবং দুর্ভিক্ষ নিয়ে গবেষণার জন্য পৃথিবী জুড়েই তিনি শ্রদ্ধা অর্জন করেছেন।
- তিনি হার্ভার্ড সোসাইটি অফ ফেলোস, ট্রিনিট্রি কলেজ, অক্সব্রিজ এবং ক্যামব্রিজের একজন সিনিয়র ফেলো।
- এছাড়াও তিনি ১৯৯৮ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত ক্যামব্রিজের ট্রিনিটি কলেজের মাস্টার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
- তিনি ইকোনমিস্ট ফর পিস অ্যান্ড সিকিউরিটির একজন ট্রাষ্টি।
- তিনিই প্রথম ভারতীয় শিক্ষাবিদ যিনি একটি অক্সব্রিজ কলেজের প্রধান হন।
- এছাড়াও তিনি প্রস্তাবিত নালন্দা আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসাবেও কাজ করেছেন।
- ২০০৬ সালে টাইম ম্যাগাজিন তাকে অনূর্ধ্ব ষাট বছর বয়সী ভারতীয় বীর হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
- ২০১০ সালে তাকে বিশ্বের ১০০ প্রভাবশালী ব্যক্তির তালিকায় স্থান দেওয়া হয়।

উল্লেখ্য,
- অমর্ত্য সেনের লেখা গ্রন্থাবলি ৩০টিরও বেশি ভাষায় অনূদিত হয়েছে।
- The Idea Of Justice-গ্রন্থটির রচয়িতা অমর্ত্য সেন।
- বইটি মূলত জন রলসের 'A Theory of Justice' (1971)-এর মৌলিক ধারণাগুলির একটি সমালোচনা এবং সংশোধন।

অন্যদিকে,
- Nuclear Weapons and Foreign Policy গ্রন্থটির রচয়িতা হেনরি কিসিঞ্জার।
- Long Walk to Freedom গ্রন্থটির রচয়িতা নেলসন ম্যান্ডেলা।
- Wings of Fire গ্রন্থটির রচয়িতা এপিজে আবদুল কালাম।

উৎস: Britannica.

৫০.
ভারতীয় নবজাগরণের অগ্রদূত বলা হয় কাকে?
  1. রাজা রামমোহন রায়
  2. সৈয়দ আমীর আলী
  3. বেগম রোকেয়া
  4. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
ব্যাখ্যা
রাজা রামমোহন রায়:
- ভারতীয় নবজাগরণের অগ্রদূত রাজা রামমোহন রায়।
- ১৭৭৪ খ্রিস্টাব্দে হুগলী জেলার রাধানগর গ্রামে রাজা রামমোহন রায় জন্ম গ্রহন করেন।

⇒ তিনি সুফি মতবাদে বিশেষভাবে প্রভাবিত ছিলেন।
- তিনি বেদান্তসূত্র বেদান্তসারসহ উপনিষদের অনুবাদ প্রকাশ করেন।
- তাঁর অন্যান্য রচনার মধ্যে আছে 'তুহফাত-উল-মোয়াহিদ্দীন' (একেশ্বরবাদ সৌরভ) “মানাজারাতুল আদিয়ান' (বিভিন্ন ধর্মের উপর আলোচনা)।
- তিনি ‘সম্বাদ কৌমুদী', 'মিরাত-উল-আখবার' ও 'ব্রাহ্মনিকাল ম্যাগাজিন' নামে তিনটি পত্রিকার প্রকাশকও ছিলেন।
- তিনি হিন্দু সমাজের সতীদাহ, বাল্যবিবাহ, কৌলিন্য প্রথা, মূর্তিপুজা ও অন্যান্য কুসংস্কার দূর করে।
- আদি একেশ্বরবাদের ভিত্তিতে হিন্দুধর্ম পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে সচেষ্ট হন।

⇒ হিন্দুধর্মের সংস্কার তথা নিজ ধর্মীয় মতবাদ প্রচারের উদ্দেশ্যে ‘আত্মীয় সভা' নামে একটি সমিতি গঠন করেন।
- রাজা রামমোহন ১৮২২ খ্রিস্টাব্দে কলকাতায় ‘এ্যাংলো হিন্দু কলেজ' প্রতিষ্ঠা করেন।
- ১৮২৮ সালে রামমোহন ব্রাহ্মসভা (পরবর্তীসময়ে ব্রাহ্মসমাজ) অর্থাৎ ঈশ্বরের সমাজ প্রতিষ্ঠা করেন, যা বস্ত্তত হিন্দুধর্মের নতুন একটি শাখা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
- ১৮৩৩ খ্রিস্টাব্দে এই মহাপুরুষ, ভারতীয় নবজাগরণের স্রষ্টা, রাজা রামমোহন রায়ের মৃত্যু হয়।

উল্লেখ্য,
- সতীদাহ প্রথার অযৌক্তিকতা প্রসঙ্গে 'গোস্বামীর সহিত বিচার' ও 'প্রবর্তক ও নিবর্তকের সম্বাদ' নামে দুটি গ্রন্থ রচনা করেন।

⇒ তার রচিত অন্যান্য গ্রন্থ:
- বেদান্ত গ্রন্থ,
- বেদান্তসার,
- পথ্য প্রদান,

অন্যদিকে,
- বেগম রোকেয়াকে বাংলার নারী জাগরণের অগ্রদূত বলা হয়।
- বাংলার মুসলমান সমাজের নবজাগরণে অগ্রদূত সৈয়দ আমীর আলী। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৫১.
মোহামেডান লিটারেরি সোসাইটি প্রতিষ্ঠা করেন কে?
  1. আখতার হামিদ খান
  2. খাজা সলিমুল্লাহ
  3. নবাব আব্দুল গনি
  4. নবাব আব্দুল লতিফ
ব্যাখ্যা
নবাব আব্দুল লতিফ:
- নওয়াব আবদুল (১৮২৮-১৮৯৩) উনিশ শতকের বাংলার মুসলিম জাগরণের অগ্রদূত ও সমাজসেবক।
- জন্ম ১৮২৮ সালে ফরিদপুর জেলার রাজাপুর গ্রামে।
- তাঁর পিতা ফকির মাহমুদ ছিলেন কলকাতার সদর দেওয়ানী আদালতের আইনজীবী।
- আবদুল লতিফ কলকাতা মাদ্রাসা থেকে আরবি, ফারসি ও ইংরেজি ভাষায় সর্বোচ্চ ডিগ্রি লাভ করেন।

• সমাজ সংস্কার ও সংগঠন: 
- মুসলিম সমাজে শিক্ষা ও আধুনিক চিন্তার প্রসারে কাজ করেন।
- ১৮৬৩ সালে প্রতিষ্ঠা করেন Mohammedan Literary Society।
- এই সংগঠন মুসলমানদের রাজনৈতিক ও সামাজিক দাবি তুলে ধরত
- মুসলিমদের জন্য পৃথক শিক্ষা ও চাকরির সুযোগ বৃদ্ধির পক্ষে ছিলেন
- বঙ্গভঙ্গ (১৯০৫)-এর অনেক আগেই পূর্ববঙ্গের মুসলমানদের উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৫২.
১৯৯০ সালে প্রবল গণঅভ্যুত্থানের মুখে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন কে?
  1. জিয়াউর রহমান
  2. হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ
  3. আবদুস সাত্তার
  4. খোন্দকার মোশতাক আহমেদ
ব্যাখ্যা
হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ: 
- লে. জেনারেল হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ (১৯৩০-২০১৯) বাংলাদেশের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি (১৯৮৩-১৯৯০)।
- ১৯৮১ সালের ৩০ মে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হত্যাকান্ডের অব্যবহিত পর থেকেই সংবাদপত্রে বিবৃতি ও কভারেজের মাধ্যমে রাজনীতিতে এরশাদের আগ্রহ প্রকাশ হতে থাকে।
- ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ রাষ্ট্রপতি আবদুস সাত্তারের নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে জেনারেল এরশাদ রাষ্ট্র ক্ষমতা দখল করেন।
- তিনি দেশের সংবিধানকে রহিত করেন, জাতীয় সংসদ বাতিল করেন, এবং সাত্তারের মন্ত্রিসভাকে বরখাস্ত করেন।
- তিনি নিজেকে দেশের সশস্ত্রবাহিনীর সর্বাধিনায়ক ঘোষণা করেন। 
- প্রবল গণঅভ্যুত্থানের মুখে ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর তিনি পদত্যাগ করতে বাধ্য হন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 
৫৩.
‘কৃষক প্রজা পার্টি’ কার নেতৃত্বে গড়ে উঠেছিল?
  1. এ.কে. ফজলুল হক
  2. আবদুল হামিদ খান ভাসানী
  3. নবাব স্যার সলিমুল্লাহ
  4. হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
ব্যাখ্যা

কৃষক-প্রজা পার্টি:
- শের-ই-বাংলা এ কে ফজলুল হক এর নেতৃত্বে ‘কৃষক প্রজা পার্টি’ গড়ে উঠেছিল।
- কৃষক প্রজা পার্টি আর্থ-সামাজিক কর্মসূচি সম্বলিত একটি রাজনৈতিক দল।
- দলটি ১৯৩৬ থেকে ১৯৪৩ পর্যন্ত বাংলার রাজনীতিতে যথেষ্ট প্রভাব বিস্তার করেছিল।
- ১৯৩৬ সালে প্রতিষ্ঠিত কৃষক প্রজা পার্টি ছিল নিখিল বঙ্গ প্রজা সমিতির ফসল।
- বিভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের মুসলমান নেতৃবৃন্দের সমন্বয়ে নিখিলবঙ্গ প্রজা সমিতি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯২৯ সালে।
- স্যার আব্দুর রহিম এ সমিতির সভাপতি এবং আরও পাঁচজন সহ-সভাপতি ছিলেন।
- এ.কে ফজলুল হক ছিলেন এ পাঁচজনের মধ্যে প্রথম সহ-সভাপতি।
- ১৯৩০ দশকের মন্দার প্রেক্ষাপটে পূর্ব বঙ্গের প্রায় সকল জেলায় প্রজা সমিতি গঠিত হয়।
- এ. কে. ফজলুল হক পূর্ব বাংলায় তার সমর্থকদের নিয়ে প্রজা সমিতি ত্যাগ করলেন এবং ১৯৩৬ সালের জুলাই মাসে ঢাকায় কৃষক-প্রজা পার্টি প্রতিষ্ঠিত করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৫৪.
উপমহাদেশে ’সিভিল সার্ভিস’ গঠন করেন কে?
  1. লর্ড ক্লাইভ
  2. লর্ড কর্নওয়ালিস
  3. লর্ড ডালহৌসি
  4. লর্ড ক্যানিং
ব্যাখ্যা
• লর্ড কর্নওয়ালিস:
 - ১৭৮৬ সালের ১২ সেপ্টেম্বর থেকে ১৭৯৩ সালের ১০ অক্টোবর পর্যন্ত বাংলায় ফোর্ট উইলিয়ম এর গভর্নর জেনারেল।
- তিনি ছিলেন চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত ও বাংলায় ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির প্রশাসনিক ও বিচার ব্যবস্থার রূপকার।
- ১৭৮৪ সালের পিট-এর ভারত আইন এর অধীনে কর্নওয়ালিস ফোর্ট উইলিয়মের গভর্নর জেনারেল নিযুক্ত হন।
-  তিনি প্রশাসন থেকে কোম্পানির বাণিজ্যকে আলাদা করেন এবং প্রশাসনকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য উচ্চ বেতনভোগী ও পেশাগতভাবে সুশৃঙ্খল ‘সিভিল সার্ভিস’ গঠন করেন।
- জেলা পর্যায়ে প্রশাসন ব্যবস্থাকে তিনি পুনর্বিন্যাস করেন। 
- চার্লস কর্নওয়ালিস বিচার এবং পুলিশ প্রশাসন ব্যবস্থার উপর সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার প্রদান করেন।
- তিনি চারস্তর বিশিষ্ট বিচার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করেন।
- এ ব্যবস্থায় বিচার বিভাগের সর্ব নিম্নে ছিল মুনসিফ আদালত এবং সর্বোচ্চে ছিল সদর আদালত। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৫৫.
মাস্টারদা সূর্যসেনকে বৈপ্লবিক আদর্শে দীক্ষিত করেন কে ?
  1. মহাত্না গান্ধী
  2. সতীশ চন্দ্র চক্রবর্তী
  3. দেশবন্ধুচিত্তরঞ্জন দাশ 
  4. সুভাষচন্দ্র বস
ব্যাখ্যা

মাস্টারদা সূর্যসেনঃ 
- মাস্টারদা সূর্যসেন ১৮৯৪ সালে চামের রাউজান থানার নাাপা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- সূর্যসেন পেশায় ছিলেন একজন শিক্ষক।
- তাঁকে সম্মান প্রদর্শনের জন্য বলা হত মাস্টারদা সূর্যসেন।  
- ১৯১৬ সালে মুর্শিদাবাদের বহরমপুর কৃঞ্চনাথ কলেজে বি.এ পড়ার সময় তিনি তাঁর এক শিক্ষক শতীশচন্দ্র চক্রবর্তী কর্তৃক বৈপ্লবিক আদর্শে দীক্ষিত হন। 
- রাজনৈতিক দল কংগ্রেসের চট্রগ্রাম অঞ্চলের নেতা হিসেবে তিনি বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মকান্ডে তৎপর হয়ে ওঠেন।
- ১৯৩০ সালের এপ্রিল মাস থেকে ভারতবর্ষের স্বাধীনতার লক্ষ্যে মাস্টারদা ব্রিটিশদের উপর আক্রমণ চালাতে শুরু করেন।
- ১৯৩০ সালের ১৮ এপ্রিলের সশস্ত্র বিদ্রোহ ছিল সূর্যসেনের নেতৃত্বে বিপ্লবীদের দীর্ঘ সময়ের প্রস্ত্ততি ও সুষ্ঠু পরিকল্পনার ফসল।
-  এ যুদ্ধে ১৪ জন বিপ্লবী শহীদ হন।
- ১৯৩২ সালের জুন মাসে মাস্টারদা প্রীতিলতা ও কল্পনা দত্তকে বোমা সংগ্রহ করে চট্টগ্রাম কারাগার ডিনামাইট দিয়ে উড়িয়ে দেবার নির্দেশ প্রদান করেন।
- মাস্টারদা পটিয়া এলাকার গৈরালা গ্রামে আত্নগোপন করেন।
- একজন গ্রামবাসীর বিশ্বাসঘাতকতায় ১৯৩৩ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি মাস্টারদা গ্রেফতার হন।
- ১৯৩৪ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি সূর্যসেনকে ফাঁসি দেয়া হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, ২য় পত্র (এইচএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া।

৫৬.
অবিভক্ত বাংলার কোন নেতা কলকাতা কর্পোরেশনের প্রথম বাঙালি মেয়র ছিলেন?
  1. মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী
  2. তাজউদ্দিন আহমদ
  3. শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক
  4. হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
ব্যাখ্যা
এ.কে. ফজলুল হক:
- একে ফজলুল হকের পুরো নাম আবুল কাশেম ফজলুল হক ছিলেন একজন রাজনীতিবিদ ও জননেতা।
- তিনি ছিলেন কলকাতা করপোশনের প্রথম বাঙালি মুসলমান, বাংলার প্রধানমন্ত্রী, পূর্বপাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী, পূর্ব পাকিস্তানের গভর্ণর, পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
- তিনি ছিলেন অবিভক্ত বাংলার প্রথম মুখ্যমন্ত্রী।
- আবুল কাশেম ফজলুল হক বাগ্মী হিসেবে সুপরিচিত ছিলেন।

উল্লেখ্য,
- ১৯৪০ সালে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর সভাপতিত্বে লাহোরে অনুষ্ঠিত নিখিল ভারত মুসলিম লীগের অধিবেশনে জ্বালাময়ী বক্তৃতায় প্রথম পাকিস্তান প্রস্তাব পেশ করেন।
- তার বক্তৃতায় মুগ্ধ হয়ে পাঞ্জাববাসীরা তাকে ‘শের-ই-বঙ্গাল’ উপাধি দেয়। ‘শের-ই-বঙ্গাল’ অর্থ বাংলার বাঘ। সেই থেকে তিনি শেরে বাংলা নামে পরিচিত।
- ১৯৫৪ সালে দেশের সাধারণ নির্বাচনে তিনি ‘যুক্তফ্রন্ট’ দলের নেতৃত্ব দিয়ে বিপুল ভোটাধিক্যে জয়লাভ করে পূর্ব পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হন।
- ১৯৫৬ সাল থেকে ১৯৫৮ সাল পর্যন্ত তিনি পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন।
- বাংলার নয়নমণি শের-এ-বাংলা এ. কে ফজলুল হক ১৯৬২ সালের ২৭ এপ্রিল প্রায় ৮৯ বছর বয়সে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৫৭.
'গণতন্ত্রের মানসপুত্র' বলা হয় কাকে?
  1. মহাত্মা গান্ধী
  2. হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
  3. মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী
  4. শেরে বাংলা এ.কে ফজলুল হক
ব্যাখ্যা

হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী:
- অবিভক্ত বাংলার শেষ মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী।
- তিনি 'গণতন্ত্রের মানসপুত্র' হিসেবে খ্যাত।
- ১৮৯২ সালের ৮ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুরে সম্ভ্রান্ত এক পরিবারে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৯২১ সনে বঙ্গীয় ব্যবস্থাপক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হবার পর দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাসের অসাম্প্রদায়িক মানসিকতা, উদার দৃষ্টিভঙ্গি ও গভীর স্বদেশপ্রেম দ্বারা হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী দারুণভাবে অনুপ্রাণিত হন।
- ১৯২১ সালে শহীদ সোহরাওয়ার্দী বঙ্গীয় আইন পরিষদে সর্বকনিষ্ঠ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন।
- তিনি ব্রিটিশ শাসন অবসানের লক্ষ্যে হিন্দু-মুসলিম ঐক্য প্রতিষ্ঠার জন্য ১৯২৩ সালে দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ এর নেতৃত্বে 'বেঙ্গল প্যাক্ট' চুক্তি সম্পাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
- ১৯৪৯ সালের আওয়ামী মুসলিম লীগ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
- ১৯৫৬-১৯৫৭ সালে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।
- ১৯৬৩ সালে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী মৃত্যুবরণ করেন।
- পাকিস্তানে গণতন্ত্র ও শিক্ষিত মানুষের রাজনীতি প্রতিষ্ঠার জন্য নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে গেছেন।
- বাংলাদেশের তিনি ‘গণতন্ত্রের মানসপুত্র' নামেই পরিচিত।

উৎস: i) সিভিক এডুকেশন-২, বিএসএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
         ii) পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫৮.
এ.কে. ফজলুল হককে কোথায় ‘শের-ই-বঙ্গাল’ উপাধি দেওয়া হয়?
  1. ঢাকায়
  2. করাচিতে
  3. কলকাতায়
  4. লাহোরে
ব্যাখ্যা

এ.কে. ফজলুল হক:
- একে ফজলুল হকের পুরো নাম আবুল কাশেম ফজলুল হক।
- এ.কে. ফজলুল হক ছিলেন একজন রাজনীতিবিদ ও জননেতা। তিনি ছিলেন কলকাতা করপোশনের প্রথম বাঙালি মুসলমান, বাংলার প্রধানমন্ত্রী, পূর্বপাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী, পুর্ব পাকিস্তানের গভর্ণর, পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি ছিলেন অবিভক্ত বাংলার প্রথম মুখ্যমন্ত্রী।
- আবুল কাশেম ফজলুল হক বাগ্মী হিসেবে সুপরিচিত ছিলেন।

⇒ ১৯৪০ সালে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর সভাপতিত্বে লাহোরে অনুষ্ঠিত নিখিল ভারত মুসলিম লীগের অধিবেশনে জ্বালাময়ী বক্তৃতায় প্রথম পাকিস্তান প্রস্তাব পেশ করেন।
- তার বক্তৃতায় মুগ্ধ হয়ে পাঞ্জাববাসীরা তাকে ‘শের-ই-বঙ্গাল’ উপাধি দেয়। ‘শের-ই-বঙ্গাল’ অর্থ বাংলার বাঘ। সেই থেকে তিনি শেরে বাংলা নামে পরিচিত।

⇒ ১৯১২ সালে ফজলুল হক কলকাতায় "কেন্দ্রীয় জাতীয় মুসলিম শিক্ষা সমিতি" (Central Muslim Educational Association) গঠন করেন। এই শিক্ষা সমিতির মাধ্যমে তিনি মুসলমানদের শিক্ষাকে স্তরে স্তরে এগিয়ে নিয়েছিলেন।
- আবুল কাশেম ফজলুল হকের প্রচেষ্টায় ১৯১৬ সালে কলকাতায় 'বেকার হোস্টেল' ও 'কারমাইকেল হোস্টেল' প্রতিষ্ঠিত হয়।

এছাড়াও,
- তিনি জীবনে আরো অনেক উপাধি পেয়েছেন।
- ১৯৫৯ সালে তৎকালীন পাকিস্তানী প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খান তাকে ‘হিলাল-ই-পাকিস্তান’ উপাধিতে ভূষিত করেন।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৫৯.
মওলানা ভাসানী কত সালে ফারাক্কা অভিমুখে এক লং মার্চে নেতৃত্ব দেন?
  1. ১৯৭২ সালে
  2. ১৯৭৪ সালে
  3. ১৯৭৬ সালে
  4. ১৯৭৮ সালে
ব্যাখ্যা
মওলানা ভাসানী: 
- মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী (১৮৮০-১৯৭৬) ছিলেন একজন রাজনীতিবিদ।
- তিনি মওলানা ভাসানী নামে সমধিক পরিচিত ছিলেন।
- তিনি ছিলেন একজন স্ব-শিক্ষিত ব্যক্তি। 
- তাঁর নেতৃত্বের ভিত্তি ছিল কৃষক শ্রমিক জনসাধারণ, যাদের অধিকার এবং স্বার্থ রক্ষার জন্য তিনি নিরবচ্ছিন্ন সংগ্রাম করে গেছেন।
- ভাসানী ১৮৮০ সালে সিরাজগঞ্জ জেলার ধনপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- মওলানা ভাসানী ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ) নামে একটি নতুন দল গঠন করেন।
- মওলানা ভাসানী ফারাক্কা চুক্তিকে বাংলাদেশের স্বার্থের পরিপন্থি বলে মনে করেন।
- তিনি ১৯৭৬ সালের ১৬ মে রাজশাহী থেকে ফারাক্কা অভিমুখে এক লং মার্চে নেতৃত্ব দেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৬০.
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের আত্মজীবনী কোনটি?
  1. আত্মকথা
  2. স্মৃতি কথা
  3. বোধোদয়
  4. আত্মচরিত
ব্যাখ্যা
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর:
- তিনি ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতার নাম ঠাকুরদাস বন্দ্যোপাধ্যায়।১৮২৮ সালের ডিসেম্বর মাসে তাঁকে কলকাতার একটি পাঠশালায় এবং ১৮২৯ সালের জুন মাসে সংস্কৃত কলেজে ভর্তি করানো হয়।
- ১৮৪১ সালের ডিসেম্বর মাসে সংস্কৃত কলেজ ত্যাগ করার অল্প পরেই তিনি ফোর্ট উইলিয়ম কলেজের বাংলা ভাষার প্রধান পন্ডিতের পদ লাভ করেন।
- ১৮৫০ সালের ডিসেম্বর মাসে তিনি সংস্কৃত কলেজের সাহিত্যের অধ্যাপক পদ লাভ করেন এবং পরের মাসে ওই কলেজের অধ্যক্ষ নিযুক্ত হন।
- বাল্যবিয়ের কুফল এবং বিধবাদের করুণ জীবন ঈশ্বরচন্দ্রকে ব্যাথিত করে।
- ঈশ্বরচন্দ্রের চেষ্টায় ভারত সরকার এগিয়ে আসে। অবশেষে ১৮৫৬ সালে বিধবা পুনর্বিবাহ আইন পাশ হয়।
- বাংলা গদ্যে প্রথম আত্মজীবনী রচনা করেন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর।
- তাঁর রচিত আত্মজীবনীর নাম বিদ্যাসাগর চরিত বা আত্মচরিত।
- ১৮৯১ সালের ২৯ জুলাই তিনি মৃত্যু বরণ করেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া ও ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬১.
ফয়জুন্নেসাকে নওয়াব উপাধিতে ভূষিত করেন কে?
  1. এলিজাবেথ
  2. রাজা দ্বিতীয় চার্লস
  3. মহারানী ভিক্টোরিয়া
  4. লেডী চেমস ফোর্ড
ব্যাখ্যা
নওয়াব ফয়জুন্নেসা:
-অবিভক্ত বাংলার রক্ষনশীল মুসলিম সমাজের মধ্যে সমাজসেবা, জমিদারী পরিচালনা, শিক্ষার বার্বিক উন্নয়নে নওয়াব ফয়জুন নেসা দুঃসাহসিক ভূমিকা পালন করেছেন।
- দানবীর হাজী মোঃ মুহসীনের জনহিতকর কার্যবলীর সাথে তাঁর দানশীলতাকে তুলনা করা যেতে পারে।
- জনকল্যাণে তাঁর অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ ইংল্যান্ডের তৎকালীন মহারানী ভিক্টেরিয়া তাকে নওয়াব উপাধিতে ভূষিত করেন।

⇒ সমাজসেবা ও সমাজকল্যাণ ক্ষেত্রে তাঁর অবদান:
- সমাজসেবা, দানশীলতা, ও জনহিতকর কাজের মাধ্যমে নওয়াব ফয়জুন্নেসা চিরস্মরণীয় হয়ে আছেন।
- সমাজসেবার ক্ষেত্রে তাঁর উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপগুলো হচ্ছে- রাস্তাঘাট, সেতু, কার্লভাট প্রভৃতি নির্মাণ পানীয় জলের সুব্যবস্থা করণের জন্য দিঘী, জলাশয়, কুপ খনন, চিকিৎসার জন্য দাতব্য চিকিৎসালয় স্থাপন, মুসাফির খানা নির্মাণ, মক্কা শরীফে মাদ্রাসায় সাওলাতিয়া প্রতিষ্ঠা, মসজিদ ও উপাসনালয় স্থাপন ইত্যাদি।
- তিনি পাল্কীতে চড়ে নিজ জমিদারীর অন্তর্ভূক্ত বিভিন্ন মৌজা ঘুরে ঘুরে প্রজাদের দুর্দশা স্বচক্ষে দেখতেন যা ছিল সেই সময়ে কল্পনাতীত।

উৎস: সমাজকল্যাণ ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬২.
হাজী শরীয়তউল্লাহর ধর্মীয় সংস্কার আন্দোলনের নাম কী ছিল?
  1. ওয়াহাবি আন্দোলন
  2. তারিখ-ই-মুহাম্মদিয়া
  3. ফরায়েজি আন্দোলন
  4. নীলবিদ্রোহ
ব্যাখ্যা
হাজী শরীয়তউল্লাহ:
- উনিশ শতকের প্রথমার্ধে হাজী শরীয়তউল্লাহ এক ধর্মীয়-সামাজিক সংস্কার আন্দোলনের সূত্রপাত করেন।
- হাজী শরীয়তউল্লাহর এই ধর্মীয় সংস্কার আন্দোলনের নামই 'ফরায়েজি আন্দোলন'। 
- 'ফরায়েজি' শব্দটি আরবি 'ফরজ' (অবশ্য কর্তব্য) শব্দ থেকে এসেছে।
- যারা ফরজ পালন করেন তাঁরাই ফরায়েজি। 
- বাংলায় যাঁরা হাজী শরীয়তউল্লাহর অনুসারী ছিলেন, ইতিহাসে শুধু তাদেরকেই ফরায়েজি বলা হয়ে থাকে।
- ইসলাম অননুমোদিত সব বিশ্বাস, আচার-আচরণ ও অনুষ্ঠান ত্যাগ করে ইসলাম ধর্মে যা অবশ্যকরণীয়, তা পালন করার জন্য তিনি মুসলমান সমাজকে আহ্বান জানান।
- তিনি বাংলা তথা ভারতবর্ষে ব্রিটিশ শাসন মেনে নিতে পারেননি।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৬৩.
প্রথম ভারতীয় হিসেবে আইসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন কে?
  1. মীর মোহন আলী
  2. সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. রায় বাহদুর চৌধুরি
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
• সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর, (১৮৪২-১৯২৩)
- তিনি ছিলেনে একজন লেখক, সাহিত্যিক ও প্রথম ভারতীয় সিভিলিয়ান।
- ১৮৪২ সালের ১ জুন কলকাতার জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়িতে তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের দ্বিতীয় পুত্র এবং রবীন্দ্রনাথের অগ্রজ।
- সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রথম ভারতীয়, যিনি (১৮৬৩ সালে) ইন্ডিয়ান সিভিল সার্ভিস (আইসিএস) পরীক্ষায় সফল হয়েছিলেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৬৪.
ফরায়েজি আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা কে ছিলেন?
  1. মাওলান আজাদ
  2. হাজী শরীয়তউল্লাহ
  3. হাজী দুদু মিয়া
  4. মাওলানা আহমদ খান
ব্যাখ্যা

• ফরায়েজি আন্দোলন:
- ফরায়েজি আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা হাজী শরীয়তউল্লাহ 
- তিনি বৃহত্তর ফরিদপুরের মাদারীপুর জেলার শাসশাইল গ্রামে ১৭৮২ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি দীর্ঘ বিশ বছর মক্কায় অবস্থান করেন।
- সেখানে তিনি ইসলাম ধর্মের ওপর লেখাপড়া করে অগাধ পাণ্ডিত্য অর্জন করেন।
- দেশে ফিরে তিনি বুঝতে পারেন যে,বাংলার মুসলমানরা ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা থেকে অনেক দূরে সরে গেছে।
- তাদের মধ্যে অনৈসলামিক রীতিনীতি, কুসংস্কার,অনাচার প্রবেশ করেছে।
- ইসলাম ধর্মকে কুসংস্কার আর অনাচারমুক্ত করতে তিনি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হন।
- এই প্রতিজ্ঞার বশবর্তী হয়ে উনিশ শতকের প্রথমার্ধে তিনি এক ধর্মীয়-সামাজিক সংস্কার আন্দোলনের সূত্রপাত করেন।
- হাজী শরীয়তউল্লাহর এই ধর্মীয় সংস্কার আন্দোলনের নামই 'ফরায়েজি আন্দোলন'।
-  তিনি বাংলা তথা ভারতবর্ষে ব্রিটিশ শাসন মেনে নিতে পারেননি।
- তিনি ইংরেজ রাজত্বকে সমালোচনার চোখে দেখতেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা বোর্ড বই, নবম ও দশম শ্রেণি।

৬৫.
চাপসৃষ্টিকারী 'সুজন'-এর সম্পাদক কে?
  1. রেহমান সোবহান
  2. বদিউল আলম মজুমদার
  3. সৈয়দা রেজওয়ানা হাসান
  4. আদিলুর রহমান খান
ব্যাখ্যা

সুজন (সুশাসনের জন্য নাগরিক):
- সুজন দেশের সচেতন নাগরিকদের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা একটি নাগরিক সংগঠন।
- গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া-সহ রাষ্ট্রের সকল স্তরে গণতন্ত্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং বাংলাদেশকে আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তোলাই সুজন-এর মূল লক্ষ্য।
- ‘সুজন’ পরিচালনার মূলনীতি হলো দলনিরপেক্ষতা, একতা, সততা, স্বচ্ছতা, সমতা ও অসাম্প্রদায়িকতা।
- ১২ নভেম্বর ২০০২ তারিখে আয়োজিত একটি সংবাদ সম্মেলনের মধ্য দিয়ে ‘সিটিজেন্স ফর ফেয়ার ইলেকশন্স (সিএফই)’ নামে সংগঠনটি প্রথম আত্মপ্রকাশ করে।
- এর ২১ সদস্য বিশিষ্ট কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটি রয়েছে।
- সুজনের সভাপতি জনাব এম হাফিজউদ্দিন খান এবং সম্পাদক ড: বদিউল আলম মজুমদার। 

উল্লেখ্য,
- প্রারম্ভিক পর্যায়ে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সৎ, যোগ্য ও জনকল্যাণে নিবেদিত প্রার্থীরা যাতে নির্বাচিত হতে পারেন, সে লক্ষ্যে কাজ করলেও, পরবর্তীতে দেশের গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার আন্দোলনকে লক্ষ্য হিসেবে নির্ধারণ করা হয় এবং লক্ষ্যের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে ২০০৩ সালের ২১ ডিসেম্বর সংগঠনটির নামকরণ করা হয় ‘সুশাসনের জন্য নাগরিক’, সংক্ষেপে ‘সুজন’।
- ‘সুজন’ দাতাদের অর্থে পরিচালিত কোনো এনজিও নয়।
- এটি একটি নির্দলীয় স্বেচ্ছাব্রতী নাগরিক উদ্যোগ।
- একদল সচেতন নাগরিকের সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতার চেতনা থেকেই এর সৃষ্টি।
- এই উদ্যোগের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সম্পৃক্ত ব্যক্তিবর্গের নেতৃত্বে ও অর্থায়নেই এর কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

উৎস: সুজন ওয়েবসাইট।

৬৬.
কাগমারী সম্মেলনের সভাপতি কে ছিলেন?
  1. হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
  2.  মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী
  3. শেরেবাংলা এ. কে. ফজলুল হক
  4. চিত্তরঞ্জন দাস
ব্যাখ্যা

কাগমারী সম্মেলন :
- ১৯৫৭ সালের ৬-১০ ফেব্রুয়ারি আওয়ামী লীগের সার্বিক তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত হয় কাগমারি সম্মেলন।
- স্থান: টাঙ্গাইল জেলার সন্তোষ।
- সম্মেলনের সভাপতি: মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী।
- প্রধান অতিথি: হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী।
- মাওলানা ভাসানী পাকিস্তানের পশ্চিমা শাসকদের প্রতি 'আসসালামুআলাইকুম' বলে সর্বপ্রথম পাকিস্তানের বিচ্ছিন্নতার ঐতিহাসিক ঘন্টা বাজিয়েছিলেন।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া।

৬৭.
ড. মুহাম্মদ ইউনূস কোন ধারণাটির প্রবক্তা হিসেবে পরিচিত?
  1. পুঁজিবাদী অর্থনীতি
  2. সামাজিক ব্যবসা
  3. মিশ্র অর্থনীতি
  4. বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা
ড. মুহাম্মদ ইউনূস:
- ড. মুহাম্মদ ইউনূস বাংলাদেশি নোবেল পুরস্কার বিজয়ী ব্যাংকার ও অর্থনীতিবিদ।
- তিনি ক্ষুদ্রঋণ নামক অর্থনৈতিক ব্যবস্থার জনক হিসেবে সমাদৃত।
- অধ্যাপক ইউনূস গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা।
- মুহাম্মদ ইউনূস এবং তার প্রতিষ্ঠিত গ্রামীণ ব্যাংক যৌথভাবে ২০০৬ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার লাভ করেন। তিনি প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে এই পুরস্কার লাভ করেন।
- ড. ইউনূস বিশ্ব খাদ্য পুরস্কারসহ আরও জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পুরস্কার লাভ করেছেন।
- ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে ২০২৪ সালে বাংলাদেশ সরকারের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান করা হয়।

উল্লেখ্য,
- ড. মুহাম্মদ ইউনূস সামাজিক ব্যবসা ধারণাটির প্রবক্তা হিসেবে পরিচিত।
- সামাজিক ব্যবসা হচ্ছে এমন ধরনের ব্যবসা যেখানে উদ্যোক্তা বা বিনিয়োগকারী একটি সামাজিক সমস্যা সমাধানের জন্য ব্যক্তিগত লাভের আশা ছাড়াই বিনিয়োগ করেন।
- এই ব্যবসায় বিনিয়োগকারী একটা সামাজিক সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে বিনিয়োগ করবেন, কিন্তু সেই ব্যবসা থেকে বিনিয়োগকারী কোন ধরনের মুনাফা গ্রহণ করবেন না। শুধু বিনিয়োগের অর্থ তুলে নিতে পারবেন। মুনাফার অর্থ দিয়ে নতুন কোনো সামাজিক ব্যবসা শুরু করতে পারেন অথবা বর্তমান ব্যবসার সম্প্রসারণ করতে পারবেন। অর্থ্যাৎ বিশ্বব্যাপী ব্যবসায় মুনাফা বৃদ্ধির যে উম্মাদনা দেখা যায় তার বাইরে ব্যবসাকে সামাজিক কল্যাণের জন্য নিয়ে আসাই সামাজিক ব্যবসার মূলকথা।

উৎস: i) Yunus Centre.
ii) মানব জমিন।
৬৮.
'ফারাক্কা লং মার্চ'-এর নেতৃত্বে কে ছিলেন?
  1. মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী
  2. চিত্তরঞ্জন দাশ
  3. এ.কে. ফজলুল হক
  4. নওয়াব আব্দুল লতিফ
ব্যাখ্যা
ফারাক্কা লং মার্চ:
- মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর নেতৃত্বে 'ফারাক্কা লংমার্চ' সংঘটিত হয়েছিল।

- মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা হচ্ছে 'ফারাক্কা লং মার্চ' সংঘটিত করা।
- ১৯৭৬ সালের ১৮ই এপ্রিল হাসপাতাল থেকে ফেরার পর মাওলানা ভাসানী ঘোষণা দেন ভারত যদি বাংলাদেশকে পানির অধিকার থেকে বঞ্চিত করে তাহলে তিনি লংমার্চ করবেন।

⇒ এজন্য ১৬ই মে রাজশাহী শহর থেকে লংমার্চ করার ঘোষণা দেন তিনি।
- কর্মসূচী বাস্তবায়নের জন্য ১৯৭৬ সালের ২রা মে মাওলানা ভাসানীকে প্রধান করে ৩১ সদস্যবিশিষ্ট 'ফারাক্কা মিছিল পরিচালনা জাতীয় কমিটি' গঠিত হয়।
- এই লংমার্চের আগে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর কাছে একটি চিঠি লিখেন আব্দুল হামিদ খান ভাসানী।
- সে চিঠিতে মিসেস গান্ধির কাছে লংমার্চের কারণ বর্ণনা করেন ভাসানী।
- লংমার্চের মিছিল রাজশাহী থেকে প্রেমতলী, প্রেমতলী থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে মনকষা এবং মনকষা থেকে শিবগঞ্জ পর্যন্ত ৬৪ মাইল অতিক্রম করবে।
- মাওলানা ভাসানীর অনুসারীরা তাকে একজন রাজনীতিবিদের চেয়ে 'দার্শনিক' হিসেবেই বেশি বিবেচনা করতেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৬৯.
'The Spirit of Islam’ গ্রন্থটির লেখক কে?
  1. স্যার সৈয়দ আহমদ
  2. সৈয়দ আমীর আলী
  3. আবুল কালাম আজাদ
  4. হাজী শরিয়তুল্লাহ
ব্যাখ্যা

- ‘The Spirit of Islam’ সৈয়দ আমীর আলীর বিখ্যাত গ্রন্থ।

সৈয়দ আমীর আলী:
- সৈয়দ আমীর আলী ছিলেন মুসলিম পুনর্জাগরণের অন্যতম অগ্রদূত।
- তিনি ১৮৪৯ সালে ভারতের হুগলি জেলায় জন্মগ্রহণ করেন এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চশিক্ষা অর্জন করেন।
- ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিষয়ে তাঁর লেখা দুইটি বিখ্যাত গ্রন্থ হলো The Spirit of Islam এবং A Short History of the Saracens।
- এই গ্রন্থদ্বয়ে তিনি মুসলিম বিশ্বের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি এবং গৌরবময় অতীতকে বিশ্লেষণাত্মকভাবে উপস্থাপন করেন।
- তাঁর লেখাগুলো শুধু ঐতিহাসিক দৃষ্টিকোণ থেকেই নয়, মুসলিম সমাজে আত্মবিশ্বাস ও সংস্কার চিন্তার বিস্তারেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

উৎস: বাংলাদেশ ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭০.
মাস্টারদা সূর্যসেনের নেতৃত্বাধীন বিপ্লবী দলের প্রথম মহিলা সদস্য কে ছিলেন?
  1. আম্বিকা চক্রবর্তী
  2.  কল্পনা দত্ত
  3. কল্যাণী দাস
  4. প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার
ব্যাখ্যা

প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার:
- ১৯১১ সালে চট্টগ্রামের এক মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার মাস্টারদা সূর্যসেন-এর ঘনিষ্ঠ সহযোদ্ধা ছিলেন।
- প্রীতিলতা মাস্টারদা সূর্যসেনের নেতৃত্বাধীন বিপ্লবী দলের প্রথম মহিলা সদস্য হন।
- তিনি টেলিফোন ও টেলিগ্রাফ অফিস ধ্বংস এবং রিজার্ভ পুলিশ লাইন দখল অভিযানে যুক্ত ছিলেন।
- তিনি জালালাবাদ যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন।
- ১৯৩২ সালের জুন মাসে মাস্টারদা প্রীতিলতা ও কল্পনা দত্তকে বোমা সংগ্রহ করে চট্টগ্রাম কারাগার ডিনামাইট দিয়ে উড়িয়ে দেবার নির্দেশ প্রদান করেন।
- ১৯৩২ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর প্রীতিলতা পাহাড়তলীতে ইউরোপিয়ান ক্লাব আক্রমণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
- ক্লাব আক্রমণ সফল করে ফিরে যাওয়ার সময়ে তিনি গুলিবিদ্ধ হলে তাৎক্ষণিকভাবে পটাসিয়াম সায়ানাইড খেয়ে মৃত্যুবরণ করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৭১.
’লাহোর প্রস্তাব’ কত তারিখে উত্থাপিত হয়?
  1. ১৭ মার্চ,১৯৪১ সাল
  2. ২৩ মার্চ,১৯৪০ সাল
  3. ২৩ মে,১৯৪০ সাল
  4. ২১ মার্চ,১৯৪২ সাল
ব্যাখ্যা
• ১৯৪০ সালের ২৩ মার্চ পাঞ্জাবের লাহোরে অনুষ্ঠিত মুসলিম লীগের বার্ষিক কাউন্সিল অধিবেশনে তৎকালীন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী এ.কে. ফজলুল হক উপমহাদেশের মুসলমানদের স্বার্থ সম্বলিত একটি প্রস্তাব পেশ করেন।
- জিন্নাহর সভাপতিত্বে সভায় প্রস্তাবটি গৃহীত হয়।
- এই প্রস্তাবই ঐতিহাসিক "লাহোর প্রস্তাব" বা "পাকিস্তান প্রস্তাব" নামে অভিহিত।
• লাহোর প্রস্তাবের মূল বক্তব্য বা বৈশিষ্ট্য :
- ভৌগোলিক দিক থেকে সংলগ্ন এলাকাগুলোকে পৃথক অঞ্চল বলে গণ্য করতে হবে।
- এ সকল অঞ্চলের ভৌগোলিক সীমানা প্রয়োজন মত পরিবর্তন করে ভারতবর্ষের উত্তরপশ্চিম ও পূর্বাঞ্চলের যে সকল স্থানে মুসলমানেরা সংখ্যাগরিষ্ঠ সেখানে 'স্বাধীন রাষ্ট্রগুলো' (Independent States) প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
- এ সমস্ত স্বাধীন রাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্য হবে সার্বভৌম ও স্বায়ত্তশাসিত।
- ভারতের ও নবগঠিত মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ রাষ্ট্রের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সাংস্কৃতিক, শাসনতান্ত্রিক ও অন্যান্য অধিকার ও স্বার্থ সংরক্ষণের কার্যকর ব্যবস্থা করা হবে।
- দেশের যে-কোনো ভবিষ্যৎ শাসনতান্ত্রিক পরিকল্পনায় উক্ত বিষয়গুলোকে মৌলিক নীতি হিসাবে গ্রহণ করতে হবে।
- লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তি ছিল দ্বিজাতি তত্ত্ব।

উৎস: এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭২.
‘পরার্থপরতার অর্থনীতি’ গ্রন্থের লেখক কে?
  1. ড. আকবর আলী খান
  2. ড. মুহম্মদ ইউনুস
  3. ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য
  4. ড. সালাউদ্দিন আহমেদ
ব্যাখ্যা

- ড. আকবর আলী খান দেশের খ্যাতনামা একজন অর্থনীতিবিদ ও শিক্ষাবিদ।
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তিনি হবিগঞ্জ মহকুমার প্রশাসক ছিলেন 
- যুদ্ধকালীন সময়ে সক্রিয়ভাবে মুজিবনগর সরকারের সঙ্গে কাজ করেছেন। 
- দেশ স্বাধীন হওয়ার পর তিনি সরকারি চাকরি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতার সঙ্গে যুক্ত হন। 
- তত্ত্বাবধায়ক সরকারের একজন উপদেষ্টাও হয়েছেন। 
- তিনি রেগুলেটরি রিফর্মস কমিশনের চেয়ারম্যানের দায়িত্বও পালন করেন।
- আকবর আলি খান লিখেছেন সমাজ, সাহিত্য, রাজনীতি ও অর্থনীতি বিষয়ে। 

• তাঁর নির্বাচিত বই সমূহ:
- পরার্থপরতার অর্থনীতি।
- পুরানো সেই দিনের কথা।
- বাংলাদেশের সত্তার অন্বেষা।
- অন্ধকারের উৎস হতে।
- আজব ও জবর-আজব অর্থনীতি।

উৎস: বাংলাট্রিবিউন এবং প্রথম আলো।

৭৩.
কলকাতায় "মোহামেডান লিটারেরি সোসাইটি" প্রতিষ্ঠায় নেতৃত্ব দিয়েছিলেন কে?
  1. স্যার সৈয়দ আহমদ খান
  2. নওয়াব আবদুল লতিফ
  3. সৈয়দ আমীর আলী
  4. হাজী মুহম্মদ মুহসীন
ব্যাখ্যা
মোহামেডান লিটারেরি সোসাইটি:
- মোহামেডান লিটারেরি সোসাইটি একটি সামাজিক সংগঠন।
- ১৮৬৩ সালে ঢাকার নওয়াব আবদুল লতিফের উদ্যোগে কলকাতায় 'মোহামেডান লিটারেরি সোসাইটি' প্রতিষ্ঠিত হয়।
- সোসাইটির কমিটির মোট ১২ জন সদস্য ছিলেন। বাংলার ছোটলাটকে সোসাইটির পৃষ্ঠপোষক করা হয়েছিল।
- সমগ্র ভারতবর্ষের পাঁচ শ’রও বেশি মুসলমান সোসাইটির সাধারণ সদস্যভুক্ত ছিল।
- আবদুল লতিফের ভাষায় ‘মুসলমানদের ইংরেজি ভাষার মাধ্যমে আধুনিক পাশ্চাত্য শিক্ষায় শিক্ষিত করা এবং সামাজিক আচরণ ও আদান-প্রদানে শিক্ষিত হিন্দু ও ইংরেজদের সমকক্ষ করে তোলাই ছিল সোসাইটি প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া।
৭৪.
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় কোন মুসলিম নেতার অবদান উল্লেখযোগ্য?
  1. স্যার সৈয়দ আহমদ খান
  2. হোসেন শহীদ সোরাওয়ার্দী
  3. এ কে ফজলুল হক
  4. স্যার সলিমুল্লাহ
ব্যাখ্যা
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়:
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য নওয়াব স্যার সলিমুল্লাহ বিশেষ ভূমিকা পালন করেন।
- এমনকি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের জন্য তিনি ঢাকার রমনা এলাকায় নিজ জমি দান করেন।
- বঙ্গভঙ্গের পর ঢাকায় ‘সর্বভারতীয় মুসলিম শিক্ষা সম্মেলন’ এবং ‘পূর্ববঙ্গ ও আসাম প্রাদেশিক শিক্ষা সমিতির’ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। 
- নওয়াব সলিমুল্লাহ ১৯০৫ সাল থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য সরকারের ওপর চাপ দিচ্ছিলেন।
- ১৯১২ সালের ২৯ জানুয়ারি লর্ড হার্ডিঞ্জ ঢাকায় আগমন করে তিন দিন অবস্থান করেন।
- ৩১ জানুয়ারি নবাব সলিমুল্লাহর নেতৃত্বে ১৯ সদস্যের একটি মুসলিম প্রতিনিধি দল বড়লাটের সঙ্গে দেখা করে একটি মানপত্র প্রদান করেন এবং কয়েকটি প্রস্তাব পেশ করে পূর্ববঙ্গের মুসলমানদের স্বার্থসংরক্ষণের প্রতি তার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। 
- ১৯১২ সালের ২ ফেব্রুয়ারি এক ইশতেহারে ভারত সরকার কর্তৃক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সুপারিশ ঘোষণা করা হয়।
- ১৯২১ সাল থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠদান হয়ে আসছে।
 
উৎস: i) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ওয়েবসাইট।
         ii) বাংলাপিডিয়া।
৭৫.
সতীদাহ প্রথা সংস্কার করেন কে এবং কত সালে?
  1. রাজা রামমোহন রায়, ১৮২৯
  2. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, ১৮২৯
  3. রাজা রামমোহন রায়, ১৮৩৮
  4. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, ১৮৩৮
ব্যাখ্যা
সতীদাহ প্রথা:
- বহুকাল আগে থেকেই হিন্দু সমাজে অনেক কুপ্রথা প্রচলিত হয়েছিল।
- এর অন্যতম হচ্ছে সতী।
- সতীদাহ প্রথা অনুসারে স্বামী মারা গেলে স্ত্রীকে স্বামীর চিতায় জীবন্ত পোড়ানো হতো।

⇒ ১৭৯৯ সালে উইলিয়াম কেরি এই প্রথা বন্ধের প্রয়াস নেন।
- গভর্নর জেনারেল লর্ড ওয়েলেসলির কাছে তিনি সতীদাহ বন্ধের আবেদন জানান।
- এরপর রামমোহন রায় ১৮১২ সালে সতীদাহবিরোধী সামাজিক আন্দোলন শুরু করেন।
- লর্ড বেন্টিঙ্কের কাছে রামমোহন রায় সতীদাহ প্রথা নিষিদ্ধ ঘোষণার জন্য আবেদন করেন।
- এই সূত্রে ১৮২৯ সালে গভর্নর জেনারেল উইলিয়াম বেন্টিঙ্কের অনুমোদনে সতীদাহ প্রথা বিলুপ্ত ঘোষণা করে আইন পাশ হয়।
- রামমোহন রায়কে সাধারণভাবে রাজা রামমোহন রায় বলা হয়।
- তিনি রাজা উপধিটি পেয়েছিলেন সেসময়ের নামেমাত্র মোগল সম্রাট দ্বিতীয় আকবরের (১৮০৬-১৮৩৭) কাছ থেকে।

উল্লেখ্য,
⇒ রাজা রামমোহন রায়:
- ভারতীয় নবজাগরণের অগ্রদূত রাজা রামমোহন রায়।
- তিনি সুফি মতবাদে বিশেষভাবে প্রভাবিত ছিলেন।
- তিনি বেদান্তসূত্র বেদান্তসারসহ উপনিষদের অনুবাদ প্রকাশ করেন।
- তিনি হিন্দু সমাজের সতীদাহ, বাল্যবিবাহ, কৌলিন্য প্রথা, মূর্তিপুজা ও অন্যান্য কুসংস্কার দূর করে।
- সতীদাহ প্রথার অযৌক্তিকতা প্রসঙ্গে 'গোস্বামীর সহিত বিচার' ও 'প্রবর্তক ও নিবর্তকের সম্বাদ' নামে দুটি গ্রন্থ রচনা করেন।

উৎস: ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৬.
আলীগড় আন্দোলনের প্রবক্তা কে?
  1. সৈয়দ আহমদ খান 
  2. এ.কে. ফজলুল হক
  3. নওয়াব আব্দুল লতিফ
  4. স্যার সলিমুল্লাহ
ব্যাখ্যা

আলীগড় আন্দোলন:
- ১৮৭৫ সালে সৈয়দ আহমদ খান আলীগড়ে 'মোহামেডান এ্যাংলো ওরিয়েন্টাল স্কুল' প্রতিষ্ঠা করেন।
- ১৮৭৭ সালে এটি কলেজে উন্নীত হয়।
- এ কলেজ প্রতিষ্ঠার পর আলীগড় ভারতীয় মুসলমানদের ধর্মীয়, সামাজিক, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।
- সৈয়দ আহমদ খান এ আলীগড় কলেজকে কেন্দ্র করে অধঃপতিত অবস্থা থেকে মুসলমানদের পুনরুদ্ধার ও তাদের পুনর্জাগরণের জন্য একটি আন্দোলন পরিচালনা করেন।
- ইতিহাসে এটিই 'আলীগড় আন্দোলন' নামে প্রসিদ্ধ।
- এ আন্দোলন মুসলমানদের মধ্যে আধুনিক ভাবধারা ও চিন্তা-চেতনা জাগ্রত করে।

উৎস: ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭৭.
ভারতীয় উপমহাদেশে 'স্বরাজ দল' প্রতিষ্ঠা করেন কে?
  1. মহাত্মা গান্ধী
  2. চিত্তরঞ্জন দাস
  3. মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ
  4. সুভাষ চন্দ্র বসু
ব্যাখ্যা
চিত্তরঞ্জন দাশ:
- ভারতীয় উপমহাদেশে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা রাজনীতিবিদদের মধ্যে চিত্তরঞ্জন দাস অন্যতম।
- তিনি “দেশবন্ধু” নামে সাধারণ্যে পরিচিত ছিলেন এবং একজন বলিষ্ঠ কংগ্রেস নেতা ছিলেন।
- ১৯২০-এর দশকে কংগ্রেসের মধ্যে স্বরাজ বা স্ব-শাসন অর্জনের পথ নিয়ে মতবিরোধ দেখা দেয়।
- চিত্তরঞ্জন দাস মনে করতেন, কংগ্রেসকে আইনসভায় প্রবেশ করে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে ভিতর থেকে আন্দোলন চালানো উচিত।
- এই মতবিরোধ থেকেই ১৯২৩ সালে চিত্তরঞ্জন দাস ও মোতিলাল নেহরু মিলে ‘স্বরাজ দল’ প্রতিষ্ঠা করেন।
- স্বরাজ দলের লক্ষ্য ছিল আইন পরিষদে গিয়ে ব্রিটিশ নীতির বিরুদ্ধে কাজ করা ও স্ব-শাসনের দাবি তোলা।
- দলটি কংগ্রেসের অংশ হয়েও আলাদা রাজনৈতিক অবস্থান গ্রহণ করে।
- চিত্তরঞ্জন দাস ছিলেন স্বরাজ দলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি।
- এই দলের মাধ্যমেই পরবর্তীতে তিনি কলকাতা সিটি করপোরেশনের প্রথম মেয়র নির্বাচিত হন (১৯২৪)।
- স্বরাজ দল ভারতীয় রাজনীতিতে সংসদীয় বিরোধিতার একটি নতুন ধারা সূচনা করে এবং চিত্তরঞ্জন দাস এর নেতৃত্বে ছিল অনন্য উদাহরণ।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া।
৭৮.
ভারতীয় উপমহাদেশে প্রথম শিক্ষা কমিশন গঠিত হয় কোন ভাইসরয়ের আমলে?
  1. লর্ড ক্যানিং
  2. লর্ড রিপন
  3. লর্ড লিটন
  4. লর্ড কার্জন
ব্যাখ্যা
হান্টার কমিশন:
- ভারতীয় উপমহাদেশের প্রথম শিক্ষা কমিশন হলো হান্টার কমিশন।
- এটি ১৮৮২ সালে স্যার উইলিয়াম হান্টার কে প্রধান করে গঠিত হয়। এতে মোট সাতজন সদস্য ছিলেন।
- কমিশনটি ব্রিটিশ ভাইসরয় লর্ড রিপনের আমলে গঠিত হয়েছিলো।

- লর্ড লিটনের পদত্যাগের পর লর্ড রিপন ভারতের ভাইসরয় নিযুক্ত হন। তার শাসনকাল ১৮৮০ - ১৮৮৪ সাল।
- তিনি সাম্রাজ্যবাদী নীতির বিরোধী ছিলেন এবং ভারতবাসীর আশা আকাঙ্খার প্রতি শ্রদ্ধা রেখে উদারনীতি অবলম্বন করেন।
- তার উল্লেখযোগ্য কয়েকটি সংস্কার কাজ হচ্ছে -
- আফগান সীমান্ত সমস্যার সমাধান,
- সংবাদপত্রের স্বাধীনতা,
- শিক্ষা কমিশন গঠন (হান্টার কমিশন),
- স্থানীয় স্বায়ত্বশাসনমূলক আইন, রাজ্বস্ব ও প্রজাস্বত্ব আইন,
- ফ্যাক্টরি আইন (দৈনিক ৮ ঘন্টা কাজের নিয়ম) ইত্যাদি।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া ও একাদশ-দ্বাদশ শ্রেনীর ইতিহাস বই, অধ্যাপক মোঃ গোলাম মোস্তফা।
৭৯.
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদি কত তারিখে মৃত্যুবরণ করেন?
  1. ১২ ডিসেম্বর, ২০২৫
  2. ১৫ ডিসেম্বর, ২০২৫
  3. ১৭ ডিসেম্বর, ২০২৫
  4. ১৮ ডিসেম্বর, ২০২৫
ব্যাখ্যা

• শরিফ ওসমান হাদি:
- ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ছিলেন শরিফ ওসমান হাদি।
- তিনি ঢাকা-৮ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়ে প্রচারে নেমেছিলেন।
- ২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর তিনি গুলিবিদ্ধ হন।
- উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫ ডিসেম্বর ওসমান হাদিকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স করে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়।
- ১৮ ডিসেম্বর, ২০২৫ সালে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
- জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সহযোদ্ধাদের চোখে তিনি এক লড়াকু যোদ্ধা। 

উৎস: প্রথম আলো ও বিএসএস।

৮০.
কার নেতৃত্বে বাঁশের কেল্লা নির্মিত হয়?
  1. তিতুমীর
  2. দুদু মিয়া
  3. হাজী শরীয়তউল্লাহ
  4. মজনু শাহ
ব্যাখ্যা
বাঁশের কেল্লা:
- ১৮৩১ সালের ২৩ অক্টোবর ভারতের কলকাতার বারাসাতের কাছে নারিকেলবাড়িয়া নামক গ্রামে একটি বাঁশের কেল্লা নির্মাণ করা হয়।
- ইতিহাসে এটিই ‘বাঁশের কেল্লা’ বা ‘নারিকেলবাড়িয়া বাঁশের কেল্লা’ নামে চিহ্নিত হয়ে আছে।
- ব্রিটিশ শক্তিকে উচ্ছেদের উদ্দেশ্যে একটি বিপ্লবী কেন্দ্র গড়ে তোলার জন্য বাংলার সন্তান মীর নিসার আলী ওরফে তিতুমীর ও তাঁর অনুসারীরা এই কেল্লা নির্মাণ করেন।
- বাঁশের কেল্লায় প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত বিরাট বাহিনী ছিল স্বদেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ ও সংগ্রামী চেতনায় উদ্দীপ্ত।
- তারা তিতুমীরের নেতৃত্বের প্রতি আস্থা স্থাপন করে।
- লর্ড উইলিয়ম বেন্টিঙ্ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল স্টুয়ার্টের নেতৃত্বে ১০০ অশ্বারোহী, ৩০০ স্থানীয় পদাতিক, দুটি কামানসহ গোলন্দাজ সৈন্যের এক নিয়মিত বাহিনী তিতুমীরের বিরুদ্ধে প্রেরণ করেন।
- ১৮৩১ সালের ১৪ নভেম্বর ইংরেজ বাহিনী মুজাহিদদের উপর আক্রমণ চালায়।
- তাঁদের সাধারণ তলোয়ার ও হালকা অস্ত্র নিয়ে তিতুমীর ও তাঁর সেনারা ব্রিটিশ সেনাদের আধুনিক অস্ত্রের সামনে দাঁড়াতে পারেননি।
- সেই যুদ্ধে তিতুমীর শহীদ হন।
- পাশাপাশি ১৮৩১ সালের ১৭ নভেম্বর বাঁশের কেল্লাটিকে ধ্বংস করে দেওয়া হয়।
 
উৎস: বাংলাপিডিয়া। 
৮১.
সৈয়দ আমীর আলী কোন প্রতিষ্ঠান থেকে ব্যারিস্টারি পাস করেন?
  1. লন্ডনের লিঙ্কন্স ইন
  2. ঢাকা ল কলেজ
  3. কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়
  4. প্রেসিডেন্সি কলেজ
ব্যাখ্যা
সৈয়দ আমীর আলী:

- উনিশ শতকের শেষার্ধে বাংলার মুসলমান সমাজের নবজাগরণে যিনি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে ছিলেন তিনি হলেন সৈয়দ আমীর আলী।
- তিনি পাশ্চাত্য শিক্ষার মাধ্যমে বাঙালি মুসলমানদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নতি করতে চেয়েছেন।
- সৈয়দ আমীর আলী ১৮৪৯ খ্রিস্টাব্দে হুগলীতে জন্ম গ্রহণ করেন।
- তিনি কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এম.এ ও বি.এল ডিগ্রি লাভ করেন।
- ১৮৭৩ খ্রিস্টাব্দে লন্ডনের লিঙ্কন্স ইন থেকে ব্যারিস্টারি পাস করে দেশে ফেরেন।
- কর্মজীবনে তিনি বিভিন্ন দায়িত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন।
- তিনি ১৮৯০ খ্রিস্টাব্দে কোলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি নিযুক্ত হন।
- ১৯১২ খ্রিস্টাব্দে তিনি মুসলিম লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। 
- সৈয়দ আমীর আলী ১৯২৮ খ্রিস্টাব্দে লন্ডনে মৃত্যুবরণ করেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮২.
Which of the following is not a concept of 'Three Zero' theory?
  1. Zero Net Carbon Emissions
  2. Zero Unemployment
  3. Zero Poverty
  4. Zero Hunger
  5. None of these
ব্যাখ্যা
Three Zero Theory বা "তিন শূন্য তত্ত্ব" হলো নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস প্রদত্ত একটি বৈশ্বিক উন্নয়ন ধারণা, যেখানে তিনি তিনটি বড় সামাজিক লক্ষ্যকে সামনে নিয়ে এসেছেন:
- Zero Poverty (শূন্য দারিদ্র্য)
- Zero Unemployment (শূন্য বেকারত্ব)
- Zero Net Carbon Emissions (শূন্য নিট কার্বন নির্গমন)

এই তিনটি লক্ষ্য অর্জনের মাধ্যমে পৃথিবীতে টেকসই উন্নয়ন, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং পরিবেশ রক্ষা সম্ভব বলে তিনি বিশ্বাস করেন।
Zero Hunger এই শব্দটি 'Three Zero' তত্ত্বের অংশ নয়।

উৎস: Yunus Centre ও দ্য ডেইলি স্টার।
৮৩.
পটুয়া নামে পরিচিতি লাভ করেন কে?
  1. জয়নুল আবেদিন
  2. কামরুল হাসান
  3. এসএম সুলতান
  4. আবদুল আলীম
ব্যাখ্যা
কামরুল হাসান: 
- কামরুল হাসান (১৯২১-১৯৮৮) প্রখ্যাত চিত্রশিল্পী।
- প্রকৃত নাম আবু শরাফ মোহাম্মদ কামরুল হাসান।
- ১৯২১ সালের ২ ডিসেম্বর পিতার কর্মস্থল কলকাতায় তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
- দেশবিভাগের পর কামরুল হাসান  ঢাকা চলে আসেন এবং শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের সঙ্গে মিলিত হয়ে ঢাকায় একটি আর্ট স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন (১৯৪৮)।
- ঢাকায় চিত্রকলার চর্চা ও প্রসারের লক্ষ্যে ১৯৫০ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন আর্ট গ্রুপ।
- ১৯৬০ সালে তিনি ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্প কর্পোরেশনের নকশা কেন্দ্রের প্রধান নকশাবিদ নিযুক্ত হন এবং ১৯৭৮ সালে উক্ত পদ থেকে অবসর গ্রহণ করেন।
- কামরুল হাসান বাংলাদেশের স্বাধিকার ও অসহযোগ আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন (১৯৬৯-৭০) এবং মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। 
- পাকিস্তানের সামরিক প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানের রক্তপায়ী, হিংস্র মুখমন্ডল সম্বলিত একটি পোস্টার এঁকে আলোড়ন সৃষ্টি করেন।
- পোস্টারটির শিরোনাম: ‘এই জানোয়ারদের হত্যা করতে হবে।
- কামরুল হাসানের চিত্রকলায় লৌকিক ও আধুনিক রীতির মিশ্রণ ঘটায় তিনি ‘পটুয়া কামরুল হাসান’ নামে পরিচিতি লাভ করেন।
- তিনি বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার চূড়ান্ত নকশা ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সরকারি মনোগ্রাম তৈরি করার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 
৮৪.
'দরিদ্রহীন বিশ্বের অভিমুখে' কার লেখা আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ?
  1. ফজলে হাসান আবেদ
  2. ড. মুহাম্মদ ইউনূস
  3. আবদুল হামিদ খান ভাসানী
  4. এ. কে. ফজলুল হক
ব্যাখ্যা
ড. মুহাম্মদ ইউনূস:
- ড. মুহাম্মদ ইউনূস বাংলাদেশি নোবেল পুরস্কার বিজয়ী ব্যাংকার ও অর্থনীতিবিদ।
- তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের একজন শিক্ষক ছিলেন।
- তিনি ক্ষুদ্রঋণ নামক অর্থনৈতিক ব্যবস্থার জনক হিসেবে সমাদৃত।
- অধ্যাপক ইউনূস গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা।
- মুহাম্মদ ইউনূস এবং তার প্রতিষ্ঠিত গ্রামীণ ব্যাংক যৌথভাবে ২০০৬ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার লাভ করেন।
- তিনি প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে এই পুরস্কার লাভ করেন।
- ড. ইউনূস বিশ্ব খাদ্য পুরস্কারসহ আরও জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পুরস্কার লাভ করেছেন।
- 'দরিদ্রহীন বিশ্বের অভিমুখে' তাঁর লেখা আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ।

উল্লেখ্য,
- মুহাম্মদ ইউনূস ১৯৯৬ সালে সাবেক প্রধান বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমানের নেতৃত্বে গঠিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
- তিনি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন।
- ড. ইউনুসকে ২০২৪ সালে বাংলাদেশ সরকারের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান করা হয়।
- ১৯৭৮ সাল থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ড. ইউনূস জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সহ প্রায় ১৪৫টি পুরস্কার অর্জন করেছেন।
- তিনি স্বাধীনতা পুরস্কার লাভ করেন ১৯৮৭ সালে।

তথ্যসূত্র - ইউনূস সেন্টার।
৮৫.
'হান্টার কমিশন' গঠন করেন কে?
  1. লর্ড ক্যানিং
  2. লর্ড লিটন
  3. লর্ড রিপন
  4. লর্ড কার্জন
ব্যাখ্যা
• 'হান্টার কমিশন'
- ১৮৫৪ খ্রিস্টাব্দে উডের ডেসপ্যাচে প্রাথমিক ও দেশজ শিক্ষার উন্নতির জন্য বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল।
- কিন্তু এই ডেসপ্যাচের ভাবধারা কে অবহেলা করে প্রাথমিক ও দেশজ শিক্ষার উপর গুরুত্ব না দিয়ে শুধু উচ্চশিক্ষা ও সরকারি স্কুল কলেজগুলিতে গুরুত্ব দেওয়া হয়। - এর ফলে প্রাথমিক শিক্ষার উন্নতি একেবারেই হয় না। তাই সরকার প্রথমে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার উন্নতি সম্পর্কে চিন্তা ভাবনা করেন।

•হান্টার কমিশন গঠন:-
- এই পরিস্থিতিতে তৎকালীন ভাইসরয় লর্ড রিপন ১৮৮২ খ্রিস্টাব্দের ৩রা ফেব্রুয়ারি ২০ জন সদস্য নিয়ে একটি শিক্ষা কমিশন গঠন করেন।
- এটি প্রথম "ভারতীয় শিক্ষা কমিশন” নামে পরিচিত।
- এই কমিশন স্যার উইলিয়াম উইলসন হান্টারের নেতৃত্বে গঠিত হয়েছিল বলে একে "হান্টার কমিশন” বলা হয়।
- স্যার উইলিয়াম উইলসন হান্টার ছিলেন এই কমিশনের সভাপতি।
- অন্যান্য সদস্যরা হলেন- আনন্দমোহন বসু, কে.টি. তেলাং, ভূদেব মুখোপাধ্যায়, স্যার সৈয়দ আহমদ খান প্রমুখ।
- প্রাথমিক শিক্ষা ও নিরক্ষরতা বিষয়ে এই কমিশনকে বিশেষভাবে বিচার করার কথা বলা হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৮৬.
কে দেশবন্ধু নামে খ্যাত?
  1. সি আর দাশ
  2. হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
  3. মহাত্মা গান্ধী
  4. হাজী মোহাম্মদ মুহসীন
ব্যাখ্যা
চিত্তরঞ্জন দাশ:
- উপমহাদেশের রাজনীতিতে গভীর নিষ্ঠা ও দেশপ্রেমের জন্য চিত্তরঞ্জন দাশকে দেশবন্ধু আখ্যা দেওয়া হয়।
- তিনি সি আর দাশ নামেও পরিচিত।

⇒ একজন বিলেত ফেরত ব্যরিস্টার হওয়া সত্ত্বেও ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে ছিল তাঁর অনঢ় অবস্থান।
- তিনি রাজনৈতিক জীবনের শুরু থেকেই ইংরেজ ঔপনিবেশিক শাসনকে মেনে নিতে পারেননি।
- অসহযোগ আন্দোলন চলাকালে মহাত্মা গান্ধীর ডাকে সাড়া দিয়ে তিনি লাভজনক আইনজীবির পেশা পরিত্যাগ করে রাজনৈতিক কর্মকান্ডে আরও বেশি সোচ্চার হয়ে দেশপ্রেমের অমোঘ স্বাক্ষর রাখেন। '
- বেঙ্গল প্যাক্ট' দেশবন্ধুর অসাম্প্রদায়িক চিত্তের অনন্য উদাহরণ।

⇒ চিত্তরঞ্জন দাস বাংলার বহু রাজনৈতিক নেতার রাজনৈতিক গুরু।
- তাদের মধ্যে সুভাষচন্দ্র বসু, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, বিধানচন্দ্র রায়, শরৎচন্দ্র বসু, যতীন্দ্রমোহন সেনগুপ্ত প্রভৃতি ব্যক্তিবর্গ উল্লেখযোগ্য।
- একসময় তিনি কংগ্রেস নেতাদের সঙ্গে মতবিরোধের কারণে 'স্বরাজ দল' নামের একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন।
- এই স্বরাজ দলের প্রার্থী হিসেবেই ১৯২৪ সালে কলকাতা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রথম মেয়র নির্বাচিত হন।
- এ সময়ে তিনি নারী শিক্ষা, বিধবা বিবাহ ইত্যাদির পক্ষে অনেক কাজ করেন।
- বাংলার এই বলিষ্ঠ নেতা মাত্র ৫৫ বছর বয়সে ১৯২৫ সালের জুন মাসে মারা যান।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) ইতিহাস ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৭.
হাজী শরীয়তউল্লাহ কোথায় জন্মগ্রহণ করেন?
  1. শরিয়তপুর জেলা
  2. মাদারীপুর জেলা
  3. ভোলা জেলা
  4. বরিশাল জেলা
ব্যাখ্যা

• ফরায়েজি আন্দোলন:
- ফরায়েজি আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা হাজী শরীয়তউল্লাহ ।
- তিনি বৃহত্তর ফরিদপুরের (বর্তমান মাদারীপুর জেলা) শাসশাইল গ্রামে ১৭৮২ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি দীর্ঘ বিশ বছর মক্কায় অবস্থান করেন।
- সেখানে তিনি ইসলাম ধর্মের ওপর লেখাপড়া করে অগাধ পাণ্ডিত্য অর্জন করেন।
- দেশে ফিরে তিনি বুঝতে পারেন যে,বাংলার মুসলমানরা ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা থেকে অনেক দূরে সরে গেছে।
- তাদের মধ্যে অনৈসলামিক রীতিনীতি, কুসংস্কার,অনাচার প্রবেশ করেছে।
- ইসলাম ধর্মকে কুসংস্কার আর অনাচারমুক্ত করতে তিনি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হন।
- এই প্রতিজ্ঞার বশবর্তী হয়ে উনিশ শতকের প্রথমার্ধে তিনি এক ধর্মীয়-সামাজিক সংস্কার আন্দোলনের সূত্রপাত করেন।
- হাজী শরীয়তউল্লাহর এই ধর্মীয় সংস্কার আন্দোলনের নামই 'ফরায়েজি আন্দোলন'।
-  তিনি বাংলা তথা ভারতবর্ষে ব্রিটিশ শাসন মেনে নিতে পারেননি।
- তিনি ইংরেজ রাজত্বকে সমালোচনার চোখে দেখতেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৮৮.
স্যার সৈয়দ আহমদ খানের নেতৃত্বে যে আন্দোলন সংঘটিত হয়েছিল, তার নাম কী?
  1. খিলাফত আন্দোলন
  2. আলীগড় আন্দোলন
  3. ফরায়েজি আন্দোলন
  4. ফকির বিদ্রোহ আন্দোলন
ব্যাখ্যা
স্যার সৈয়দ আহমদ খান:
- ১৮১৭ খ্রিস্টাব্দে দিল্লীর এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে সৈয়দ আহমদ খানের জন্ম হয়।
- কোম্পানির অধীনে ১৮৩৭ খ্রিস্টাব্দে তিনি সেরেস্তাদারের চাকুরী গ্রহণ করেন এবং পরে সাব জজ পদে উন্নীত হন।
- তাঁর কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ বৃটিশ সরকার ১৮৮৮ খ্রিস্টাব্দে তাঁকে ‘নাইট’ উপাধিতে ভূষিত করেন।
- সৈয়দ আহমদ খান ১৮৭৫ খ্রিস্টাব্দে আলীগড়ে ‘মোহামেডান এ্যাংলো ওরিয়েন্টাল স্কুল’ প্রতিষ্ঠা করেন।
- দু’বছর পরে এটি কলেজে উন্নীত হয়।

• আলীগড় আন্দোলন:
- আলীগড় আন্দোলন হচ্ছে আলীগড়ভিত্তিক সমাজ সংস্কারমূলক আন্দোলন।
- স্যার সৈয়দ আহমদ খানের নেতৃত্বে আলীগড় আন্দোলন সংঘটিত হয়।

⇒ ১৮৭৫ সালে সৈয়দ আহমদ খান আলীগড়ে 'মোহামেডান এ্যাংলো ওরিয়েন্টাল স্কুল' প্রতিষ্ঠা করেন।
- ১৮৭৭ সালে এটি কলেজে উন্নীত হয়।
- এ কলেজ প্রতিষ্ঠার পর আলীগড় ভারতীয় মুসলমানদের ধর্মীয়, সামাজিক, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।
- সৈয়দ আহমদ খান এ আলীগড় কলেজকে কেন্দ্র করে অধঃপতিত অবস্থা থেকে মুসলমানদের পুনরুদ্ধার ও তাদের পুনর্জাগরণের জন্য একটি আন্দোলন পরিচালনা করেন।
- ইতিহাসে এটিই 'আলীগড় আন্দোলন' নামে প্রসিদ্ধ।
- এ আন্দোলন মুসলমানদের মধ্যে আধুনিক ভাবধারা ও চিন্তা-চেতনা জাগ্রত করে।
- পরবর্তীকালে আলীগড় কলেজ ভারতীয় মুসলমানদের রাজনৈতিক জীবনকেও প্রভাবিত করেছিল।

অন্যদিকে -
- মাওলানা মুহাম্মদ আলী খিলাফত আন্দোলনের নেতা ছিলেন।
- মজনু শাহ ফকির বিদ্রোহের নেতা ছিলেন।
- ফরায়েজি আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা হাজী শরিয়ত উল্লাহ।

উৎস: ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৯.
’লৌহ মানবী’ হিসেবে পরিচিত-
  1. মার্গারেট থ্যাচার
  2. ইন্দিরা গান্ধী
  3. ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেল
  4. খালেদা জিয়া
ব্যাখ্যা
লৌহ মানবী:
- লৌহ মানবী হিসেবে পরিচিত মার্গারেথ থ্যাচার।
- মার্গারেথ থ্যাচার ব্রিটেনের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী।
- ১৯৭৯ -১৯৯০ সাল পর্যন্ত ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
আপরদিকে,
- ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেল  লেডি উইথ দা ল্যাম্প নামে পরিচিত। 
-  ১৮৫৩- ১৮৫৬ সালের ক্রিমিয়া যুদ্ধে তার চিকিৎসা সেবার হাত বাড়িয়ে দেন আহত যোদ্ধাদের ।
- আধুনিক নার্সিংয়ের  অগ্রদূত বলা হয়।
- খালেদা জিয়া বাংলাদেশের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী।

উৎস: Britannica.
৯০.
দ্বি-জাতি তত্ত্বের প্রবক্তা হিসেবে কাকে ধরা হয়?
  1. মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ
  2. স্যার সলিমুল্লাহ
  3. এ কে ফজলুল হক
  4. জওহরলাল নেহরু
ব্যাখ্যা
- দ্বি-জাতি তত্ত্বের (Two-Nation Theory) প্রবক্তা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ। 

জিন্নাহর দ্বিজাতি তত্ত্ব: 

- দ্বিজাতিতত্ত্ব  ভারত ও পাকিস্তান নামে দু’টি স্বাধীন জাতি ও রাষ্ট্র গঠনের মাধ্যমে ভারতকে রাজনৈতিকভাবে দ্বিধাবিভক্ত করার নির্ণায়ক ও আদর্শাশ্রয়ী একটি রাজনৈতিক মতবাদ।
- এই মতবাদই ‘দ্বিজাতি তত্ত্ব’ বা ‘Two Nations Theory’ নামে পরিচিত।
- তাঁর এই তত্ত্ব ছিল ১৯৪০ সালের লাহোর প্রস্তাব বা পাকিস্তান প্রস্তাবের মূলভিত্তি।
- যদিও উক্ত প্রস্তাবে ‘পাকিস্তান’ শব্দটি বা ‘দ্বিজাতি তত্ত্ব’ সরাসরি উল্লেখ করা হয়নি, তবুও প্রস্তাবের অন্তর্নিহিত বক্তব্য ছিল হিন্দু ও মুসলমানদের জন্য পৃথক রাষ্ট্র গঠনের পক্ষে। মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর এই তত্ত্বই পরবর্তীতে ভারত বিভাগের অন্যতম যুক্তি হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

সূত্র:- পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯১.
রাজা রামমোহন রায়ের প্রকাশিত পত্রিকা নয় কোনটি?
  1. ব্রাহ্মনিকাল ম্যাগাজিন
  2. সমাচার চন্দ্রিকা
  3. সম্বাদ কৌমুদী
  4. মিরাত-উল-আখবার
ব্যাখ্যা
• 'সমাচার চন্দ্রিকা' রাজা রামমোহন রায়ের প্রকাশিত পত্রিকা নয়।

রাজা রামমোহন রায়:
- বাংলার নবজাগরণের স্রষ্টা, ভারতের প্রথম আধুনিক পুরুষ ছিলেন রাজা রামমোহন রায়।
- ১৭৭৪ খ্রিস্টাব্দে হুগলী জেলার রাধানগর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহন করেন।
- অসাধারণ পাণ্ডিত্যের অধিকারী রামমোহন, বিশেষ করে আরবি, ফারসি, উর্দু, ল্যাটিন ও গ্রিক ভাষায় অসামান্য দক্ষতা অর্জন করেন।
- তিনি 'সম্বাদ কৌমুদী', ‘মিরাত-উল-আখবার' ও 'ব্রাহ্মনিকাল ম্যাগাজিন' নামে তিনটি পত্রিকার প্রকাশক ছিলেন।
- তিনি হিন্দু সমাজের সতীদাহ, বাল্যবিবাহ, কৌলিন্য প্রথা, মূর্তিপূজা ও অন্যান্য কুসংস্কার দূর করে আদি একেশ্বরবাদের ভিত্তিতে হিন্দুধর্ম পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে সচেষ্ট হন।
- রাজা রামমোহন ১৮২২ খ্রিস্টাব্দে কলকাতায় ‘এ্যাংলো হিন্দু কলেজ' প্রতিষ্ঠা করেন।
- ১৮৩৩ খ্রিস্টাব্দে এই মহাপুরুষ, ভারতীয় নবজাগরণের স্রষ্টা, রাজা রামমোহন রায়ের মৃত্যু হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯২.
কোনটির ভিত্তিতে রাজনৈতিক দল গড়ে উঠে?
  1. অর্থনৈতিক স্বার্থের ভিত্তিতে
  2. স্বজাতিবোধের ভিত্তিতে
  3. নীতি ও কর্মসূচির ভিত্তিতে
  4. উপরের কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
রাজনৈতিক দল:
- নীতি ও কর্মসূচি ভিত্তিতে রাজনৈতিক দল গড়ে উঠে।
- সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক মতাদর্শের ভিত্তিতে রাজনৈতিক দল গড়ে উঠে।

উল্লেখ্য, 
- সাধারণত বহুমুখী ও ব্যাপক সামাজিক বা জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে রাজনৈতিক দলের সৃষ্টি হয়।
- বহু ও বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দায়-দায়িত্ব রাজনৈতিক দলের কর্মসূচির অন্তর্ভূক্ত থাকে।
- রাজনৈতিক দলের প্রধান বিবেচ্য বিষয় হল বৃহত্তম জাতীয় ও সামাজিক স্বার্থ সাধন।
- রাজনৈতিক দলের কার্যক্রম জাতীয় জীবনের সকল ক্ষেত্রেই সম্প্রসারিত।

সূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৩.
'ছিয়াত্তরের মন্বন্তর' বাংলা কোন সনে হয়েছিল?
  1. ১০৭৬ সনে
  2. ১১৭৬ সনে
  3. ১৩৭৬ সনে
  4. ১২৭৬ সনে
ব্যাখ্যা
• ছিয়াত্তরের মন্বন্তর
- ছিয়াত্তরের মন্বন্তর বাংলার ইতিহাসে সর্বাপেক্ষা ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ নামে পরিচিত।
- তখন ছিল আঠারো শতকের চরম অর্থনৈতিক মন্দার বছর।
- ইস্ট ইন্ডিয়া কম্পানি খাজনা আদায়ের নামে সীমাহীন শোষণ আর লুণ্ঠন করে।
- পাশাপাশি সেই সময় (১৭৬৮-১৭৬৯) অনাবৃষ্টির কারণে ফসল উৎপাদন ব্যাহত হয়।ফলে সৃষ্টি হয় ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ।
- ১১৭৬ বঙ্গাব্দে (ইংরেজি ১৭৭০ সাল) এই দুর্ভিক্ষ হয় বলে একে ‘ছিয়াত্তরের মন্বন্তর’ বলা হয়। 
- ১৭৫৭ সালে বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজউদ্দৌলা ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে ইংরেজদের কাছে পরাজিত হন।
- তখন থেকেই এ দেশে ব্যাপক সম্পদ লুণ্ঠন করতে থাকে ইংরেজরা।
- ১৭৬৫ সালে ইংরেজরা দিল্লির সম্রাট শাহ আলমের কাছ থেকে বাংলা-বিহার-ওড়িশার দেওয়ানি লাভ করে।
- বাংলার নবাবের হাতে থাকে নামে মাত্র প্রশাসনিক ক্ষমতা। রাজস্ব আদায় ও আয়-ব্যয়ের হিসাব থাকে ইস্ট ইন্ডিয়া কম্পানির কাছে।
- ফলে ইতিহাসে দ্বৈত শাসন নামে শাসনব্যবস্থার সৃষ্টি হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।  
৯৪.
ন্যাপ নামক রাজনৈতিক সংগঠন কে প্রতিষ্ঠা করেন?
  1. হোসেন শহীদ সোহ্‌রাওয়ার্দী
  2. মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী
  3. শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক
  4. তাজউদ্দীন আহমদ
ব্যাখ্যা
মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী: 
- ১৮৮৭ সালে ১৮ ডিসেম্বর সিরাজগঞ্জের কৃতী পুরুষ মজলুম জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী সিরাজগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন।
- নানা ঘাত-প্রতিঘাত ও প্রতিকূল অবস্থার মধ্যে যৌবনে পদার্পন করেন করার পর তিনি ব্রিটিশবিরোধী বিপ্লবী সংগঠন ‘অনুশীলন’ দলের প্রাথমিক সদস্য হন।
- পরবর্তীতে নিরাপত্তার অন্বেষায় তিনি আসামে চলে যান।
- মওলানা ভাসানী সারাজীবন কৃষক-শ্রমিক-মেহনতী মানুষের পক্ষে আপোষহীনভাবে সংগ্রাম করতে গিয়ে বহু জেল, জুলুম ও নির্যাতন ভোগ করেছেন।
- তিনি বাংলাদেশের আওয়ামী লীগের (প্রাথমিকভাবে যে দলের নাম মুসলিম আওয়ামী লীগ ছিল) প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন।
- ১৯৫৬ সালে ঐতিহাসিক কাগমারী (টাঙ্গাইলের সন্তোষে) সম্মেলনে পররাষ্ট্রনীতির প্রশ্নে মতপার্থক্যের কারণে তিনি আওয়ামী লীগ থেকে পদত্যাগ করেন।  
- এরপর ন্যাপ নামক অপর একটি রাজনৈতিক সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন।
- ঊনবিংশ শতাব্দীতে পাক-ভারত উপমহাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে মওলানা ভাসানী মজলুম জননেতা হিসেবে সুপরিচিত ছিলেন।
- ভাসানী প্রগতিশীল, মানবতাবাদী ও মুক্ত চিন্তা-চেতনায় সমৃদ্ধ বিরল ব্যক্তিত্বের অধিকারী ছিলেন।
- সিরাজগঞ্জের তেজোদীপ্ত প্রাণপুরুষ জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী ১৯৭৬ সালে ইন্তেকাল করেন।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন। 
৯৫.
প্রথম বাঙালি মুসলমান হিসাবে কলকাতা কর্পোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হন কে?
  1. মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী
  2. হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
  3. নওয়াব আবদুল লতিফ
  4. এ. কে. ফজলুল হক
ব্যাখ্যা

শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক:
- বরিশাল জেলার বানরীপাড়া থানার চাখার গ্রামে ১৮৭৩ সালের ২৯ অক্টোবর তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তার পূর্ণ নাম আবুল কাশেম ফজলুল হক। 
- ১৯০৬ সালে তিনি ডেপুটি ম্যাজিস্টেটের চাকরি গ্রহণ করেন।
- লক্ষ্ণৌ শহরে ১৯১৬ সালে যে প্রস্তাব উত্থাপন করেন, সেইটাই ‘লক্ষ্ণৌ চুক্তি’ নামে পরিচিত।
- তিনি কৃষক-প্রজা পার্টি নামে একটি রাজনৈতিক দল গঠন করেন ১৯২৭ সালে।
- ১৯৩৫-৩৬ সালে প্রথম বাঙালি মুসলমান হিসাবে শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক কলকাতা কর্পোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হন।
- তিনি অবিভক্ত বাংলার প্রথম নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী পদে অধিষ্ঠিত হন ১৯৩৭ সালে। 
- ১৯৪০ সালে জিন্নাহর সভাপতিত্বে লাহোরে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে জ্বালাময়ী বক্তৃতায় প্রথম পাকিস্তান প্রস্তাব পেশ করেন।
- তাঁর বক্তৃতায় মুগ্ধ হয়ে পাঞ্জাববাসীরা তাঁকে উপাধি দেয় শের-ই-বঙ্গাল অর্থাৎ বাংলার বাঘ।
- তিনি ‘ঋণ সালিশী বোর্ড’ গঠন করেন।
- ১৯৪০ সালে মহাজনী আইন পাসের মাাধ্যমে সুদের হার ও চক্রবৃদ্ধি রহিত করেন।
- তাঁর প্রচেষ্টায় গঠিত ফ্লাউড কমিশনের সুপারিশেই ১৯৫০ সালে পূর্ববঙ্গ জমিদারী দখল ও প্রজাস্বত্ব আইন পাস হয়।
- দেশের সাধারণ নির্বাচনে তিনি ‘যুক্তফ্রন্ট’ দলের নেতৃত্ব দিয়ে পূর্ব পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হন।
- ১৯৫৬ সাল থেকে ১৯৫৮ সাল পর্যন্ত তিনি পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে সম্মানসূচক ডক্টর-অব-ল উপাধিতে ভূষিত করে ১৯৫৫ সালে।
- ১৯৫৯ সালে প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খান তাঁকে ‘হিলাল-ই-পাকিস্তান’ উপাধিতে ভূষিত করেন।
- শের-এ-বাংলা এ. কে ফজলুল হক ১৯৬২ সালের ২৭ এপ্রিল প্রায় ৮৯ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন।

উৎস: সমাজকল্যাণ ১ম পত্র (এইচএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও রাজাপুর উপজেলার ওয়েবসাইট [লিঙ্ক]।

৯৬.
বেগম রোকেয়ার কোন সাহিত্যকর্মটি ইউনেস্কোর ‘ওয়ার্ল্ড মেমোরি’র তালিকায় স্থান পেয়েছে?
  1. মতিচূর
  2. পদ্মরাগ
  3. সুলতানা’স ড্রিম
  4. অবরোধবাসিনী
ব্যাখ্যা
[এই প্রশ্নের তথ্য পরিবর্তনশীল। অনুগ্রহ করে সাম্প্রতিক তথ্য দেখে নিন। সাম্প্রতিক আপডেট তথ্য জানার জন্য Live MCQ ডাইনামিক ইনফো প্যানেল, সাম্প্রতিক সমাচার বা অথেনটিক সংবাদপত্র দেখুন।]

বেগম রোকেয়ার সুলতানা’স ড্রিম ইউনেস্কোর ‘ওয়ার্ল্ড মেমোরি’র তালিকায় স্থান পেয়েছে।

Sultana’s Dream:

- Sultana’s Dream গ্রন্থটি রোকেয়া নিজেই বাংলায় অনুবাদ করেন সুলতানার স্বপ্ন নামে।
- এটি একটি প্রতীকী রচনা এবং এতে বর্ণিত Lady Land বা নারীস্থান মূলত রোকেয়ারই স্বপ্নকল্পনার প্রতীক।

উল্লেখ্য,
- জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতিবিষয়ক সংস্থা ইউনেসকোর ‘বিশ্বস্মৃতি’ বা ‘ওয়ার্ল্ড মেমোরি’র তালিকায় স্থান পেয়েছে রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের লেখা নারীর মুক্তিপ্রত্যাশী উপন্যাস ‘সুলতানা’স ড্রিম’।
- এর মধ্য দিয়ে বাংলা অঞ্চলে নারীস্বাধীনতার অন্যতম পথিকৃৎ রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের ঐতিহ্যগত উত্তরাধিকারের স্বীকৃতি পায় বাংলাদেশ।
- মঙ্গোলিয়ার রাজধানী উলান বাটোরে ইউনেসকোর ‘মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড কমিটি ফর এশিয়া অ্যান্ড প্যাসিফিক’ বা মৌক্যাপের দশম সাধারণ সভায় ঘোষণাটি দেওয়া হয়।

• রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন:
- নারী জাগরণের পথিকৃৎ বেগম রোকেয়ার জন্ম ৯ই ডিসেম্বর, ১৮৮০, পায়রাবন্দ গ্রাম, রংপুর।
- বাংলাদেশের নারী আন্দোলনের ইতিহাসে বেগম রোকেয়ার অবদান চিরঅম্লান।
- বেগম রোকেয়া প্রতিষ্ঠা করেন আঞ্জুমানে খাওয়াতীনে ইসলাম বা মুসলিম মহিলা সমিতি।

⇒ রোকেয়ার উলে­খযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে:
- মতিচূর (প্রবন্ধ, ২ খন্ড: ১ম খন্ড ১৯০৪, ২য় খন্ড ১৯২২), Sultana’s Dream (নকশাধর্মী রচনা, ১৯০৮), পদ্মরাগ (উপন্যাস, ১৯২৪), অবরোধবাসিনী (নকশাধর্মী গদ্যগ্রন্থ, ১৯৩১) প্রভৃতি।
- মতিচূর, পদ্মরাগ, অবরোধবাসিনী, সুলতানার স্বপ্ন প্রভৃতি গ্রন্থে রোকেয়ার ঐকান্তিক স্বপ্নই এক অভিনব রূপ পেয়েছে। মতিচূর ২য় খন্ডে আছে ‘সৌরজগৎ’, ‘ডেলিসিয়া হত্যা’ (মেরী করেলী রচিত Murder of Delicia, ১৮৯৬ উপন্যাসের গল্পাংশের অনুবাদ), ‘জ্ঞান-ফল’, ‘নারী-সৃষ্টি’, ‘নার্স নেলী’, ‘মুক্তি-ফল’ প্রভৃতি গল্প ও রূপকথা।
- এছাড়া আছে অসংখ্য প্রবন্ধ, ছোটগল্প, কবিতা, ব্যঙ্গাত্মক রচনা ও অনুবাদ।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) প্রথম আলো।
৯৭.
বিধবা বিবাহ আইন পাসে প্রধান ভূমিকা রাখেন কে?
  1. রাজা রামমোহন রায়
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও
  4. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
ব্যাখ্যা
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর: 
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর সংস্কৃত পন্ডিত, লেখক, শিক্ষাবিদ, সমাজসংস্কারক, জনহিতৈষী।
- তিনি ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতার নাম ঠাকুরদাস বন্দ্যোপাধ্যায়।
- তিনি ছিলেন অত্যন্ত প্রতিভাবান ছাত্র এবং ১৮৩৯ সালের মধ্যেই বিদ্যাসাগর উপাধি লাভ করেন।
- তিনি বিধবা-বিবাহ চালু করা, বহুবিবাহ ও বাল্যবিবাহ নিষিদ্ধ করা এবং স্ত্রীশিক্ষা বিস্তারের জন্যে আন্দোলন আরম্ভ করেছিলেন।
- তার প্রচেষ্টায় ১৮৫৬ সালের জুলাই মাসে বিধবাবিবাহ আইন প্রণীত হয়।

উল্লেখ্য,
- বিদ্যাসাগর এবং তাঁর বন্ধুরা মিলে ১৮৫৬ সালের ডিসেম্বর মাসে রক্ষণশীল সমাজের বিক্ষোভ এবং প্রচন্ড বাধার মুখে ঘটা করে এক বিধবার বিবাহ দেন।
- পাত্র ছিল সংস্কৃত কলেজে বিদ্যাসাগরের একজন সহকর্মী।
- তাছাড়া নিজের একমাত্র পুত্রের সঙ্গে বিধবার বিবাহ দিতে তিনি কুণ্ঠিত হননি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৯৮.
‘পাইন্যার মা’ কোন চিত্র শিল্পীর বিখ্যাত চিত্রকর্ম? 
  1. এস এম সুলতান
  2. সফিউদ্দিন আহমেদ
  3. জয়নুল আবেদিন
  4. কামরুল হাসান
ব্যাখ্যা
জয়নুল আবেদিন:
- জয়নুল আবেদিন ১৯১৪ সালে ময়মনসিংহে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি বেড়ে উঠেছেন ব্রহ্মপুত্রের লালিত্যে গড়ে ওঠা সবুজ শ্যামলিমায়।
- জয়নুল তাঁর প্রথম জীবনেই নদী ও অবারিত প্রকৃতির মাঝে রোমান্টিকতার অনুপ্রেরণা পান।
- তিনি ১৯৩৩ সালে কলকাতা সরকারি আর্ট স্কুলে ভর্তি হন এবং পাঁচ বছর সেখানে ব্রিটিশ / ইউরোপীয় স্টাইলের ওপর পড়াশুনা করেন।
- জয়নুল আবেদিন ও তাঁর কয়েকজন সহযোগী, যারা দেশ ভাগের পর ঢাকায় অভিবাসী হয়েছিলেন, আর্ট ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করেন।
- ‘দুই মহিলা’ (গোয়াশ, ১৯৫৩), ‘পাইন্যার মা’ (গোয়াশ, ১৯৫৩) ও ‘মহিলা’ (জলরং, ১৯৫৩), 'ফসল মাড়াই', জলরং (১৯৬৩) হলো এ আমলের উল্লেখযোগ্য চিত্রকর্ম।
- ১৯৭৬ সালের ২৮ মে ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়।

উল্লেখ্য,
- শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন সংগ্রহশালা ময়মনসিংহ জেলার পার্ক রোডে অবস্থিত।
- এটি ১৯৭৫ সালে যাত্রা শুরু করে।
- শিল্পাচার্য জয়নুল লোক ও কারুশিল্প জাদুঘর নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁওয়ে অবস্থিত যা ১৯৯৬ সালে উদ্বোধন করা হয়।
- বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনও নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে অবস্থিত।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া এবং জাতীয় জাদুঘর ওয়েবসাইট।
৯৯.
হাজী শরীয়তুল্লাহ কোন আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা?
  1. আলীগড় আন্দোলন
  2. ফরায়েজি আন্দোলন
  3. স্বদেশী আন্দোলন
  4. নীল বিদ্রোহ
ব্যাখ্যা
• হাজী শরীয়তুল্লাহ:
- উনিশ শতকের প্রথমার্ধে হাজী শরীয়তুল্লাহ ফরায়েজী আন্দোলনের সূত্রপাত করেন।
- তিনি বৃহত্তর ফরিদপুরের মাদারীপুর জেলায় ১৭৮২ খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন।
- ফরায়েজি শব্দটি আরবি ‘ফরজ’ (অবশ্য কর্তব্য) শব্দ থেকে এসেছে। যাঁরা ফরজ পালন করে তারাই ফরায়েজি।
- হাজী শরীয়তুল্লাহ যে ফরজের উপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছেন, তা ছিল পবিত্র কুরআনে বর্ণিত পাঁচটি অবশ্যপালনীয় (ফরজ) মৌলনীতি।
- তিনি ভারতবর্ষকে ‘দারুল হারব' অর্থাৎ বিধর্মীর রাজ্য বলে ঘোষণা করেন।
- জমিদার শ্রেণি নানা অজুহাতে ফরায়েজি প্রজাদের উপর অত্যাচার শুরু করলে হাজী শরীয়তুল্লাহ প্রজাদের রক্ষার জন্য লাঠিয়াল বাহিনী গঠনের সিদ্ধান্ত নেন।
- ১৮৩৯ খ্রিস্টাব্দে তার উপর পুলিশি নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।
- ১৮৪০ খ্রিস্টাব্দে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
- হাজী শরীয়তুল্লাহর মৃত্যুর পরে ফরায়েজি আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন তাঁর যোগ্যপুত্র মুহম্মদ মুহসিন উদ্দীন আহমদ ওরফে দুদু মিয়া।
- তিনি ১৮১৯ খ্রিস্টাব্দে জন্ম গ্রহণ করেন।
- ১৮৬২ খ্রিস্টাব্দে দুদু মিয়া মৃত্যুবরণ করেন।
- তাঁর মৃত্যুর পর যোগ্য নেতৃত্বের অভাবে ফরায়েজি আন্দোলন দুর্বল হয়ে পড়ে।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০০.
উপমহাদেশের চলচ্চিত্রের জনক হীরালাল সেন কোথায় জন্মগ্রহন করেন?
  1. কোলকাতায়
  2. মানিকগঞ্জ
  3. মুন্সিগঞ্জ
  4. নাটোরে
ব্যাখ্যা

• ভারতবর্ষের প্রথম চলচ্চিত্র নির্মাতা হীরালাল সেন:
- বাংলার কিংবদন্তি চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব হীরালাল সেনের জন্ম ১৮৬৬ সালে মানিকগঞ্জের বগজুরী গ্রামে।
- তার বাবার নাম চন্দ্রমোহন সেন ও মা বিধুমুখী।
- তার পিতামহ গোকুলকৃষ্ণ মুনশি ছিলেন ঢাকার জজ আদালতের আইনজীবী।
- মানিকগঞ্জ মাইনর স্কুলে তার শিক্ষাজীবন শুরু হয়।
- ১৮৭৯ সালে তিনি ঢাকার কলেজিয়েট স্কুলে ভর্তি হন।
- পরে বাবার সঙ্গে কলকাতায় গিয়ে কলেজে ভর্তি হন।
- ১৮৯৬ সালে কলকাতায় আইএসসি পড়ার সময় স্টার থিয়েটার আয়োজিত চলচ্চিত্র প্রদর্শনী দেখে চলচ্চিত্রের প্রতি তার আগ্রহ সৃষ্টি হয়।
- তিনি ১৯০৪ সালে উপমহাদেশের প্রথম নির্বাক সিনেমা ‘আলীবাবা ও চল্লিশ চোর’ নির্মাণ করেন।
- ১৯০৩ সালে তার রয়াল বায়োস্কোপ কোম্পানি থেকে প্রথম বাংলায় সি কে সেনের মাথার তেল ‘জবাকুসুম’, 
বটফেস্ট পালের ‘এডওয়ার্ড টনিক’ ও ডব্লিউ মেজর কোম্পানির ‘সালসা পিলা’ ইত্যাদি বিজ্ঞাপনচিত্র নির্মিত হয়।
- এছাড়া তিনি প্রামাণ্যচিত্র ও সংবাদচিত্রও নির্মাণ করেন। 
- ১৯০০ থেকে ১৯১৭ সাল পর্যন্ত তার নির্মিত স্বল্পদৈর্ঘ্য সিনেমার সংখ্যা ৪০। 

উৎস: দৈনিক ইত্তেফাক।