বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

মুক্তিযুদ্ধ ও অন্যান্য ইতিহাস

মোট প্রশ্ন৭০৪এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

মুক্তিযুদ্ধ ও অন্যান্য ইতিহাস

PrepBank · পাতা / · ১০০ / ৭০৪

.
কোনটি বঙ্গবন্ধু রচিত গ্রন্থ নয়?
  1. ক) অসমাপ্ত আত্মজীবনী
  2. খ) কারাগারের রোজনামচা
  3. গ) আমার স্বপ্ন, আমার সংগ্রাম
  4. ঘ) আমার দেখা নয়াচীন
ব্যাখ্যা
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রচিত দ্বিতীয় আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ হলো কারাগারের রোজনামচা।
- এটি ২০১৭ সালে বঙ্গবন্ধুর ৯৭তম জন্মবার্ষিকীতে বাংলা একাডেমি প্রকাশ করে।
- এই গ্রন্থটি মূলত একটি ডায়রি যা বঙ্গবন্ধু ১৯৬৬-১৯৬৮ সময়ে কারাগারে বন্দিবস্থায় লিখেছিলেন।
- এর ভূমিকা লিখেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নামকরণ করেন শেখ রেহেনা।
- প্রচ্ছদ ও নকশা করেন তারিক সুজাত। তবে প্রচ্ছদে ব্যবহৃত বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি অঙ্কন করেন শিল্পী রাসেল কান্তি দাশ।

“আমার দেখা নয়াচীন” জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর চীন ভ্রমণের উপর লেখা গ্রন্থ।
- এই গ্রন্থটি তার প্রকাশিত তৃতীয় গ্রন্থ।
- ০২ ফেব্রুয়ারী ২০২০ বাংলা একাডেমি এটি প্রকাশ করে।
- ১৯৫২ সালের সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসে বিশ্ব শান্তি সম্মেলনে যোগ দিতে নয়া চীন যান বঙ্গবন্ধু।
- তার এ সফরের অভিজ্ঞতাই এ গ্রন্থে বর্ণনা করা হয়েছে।

অসমাপ্ত আত্মজীবনী শেখ মুজিবুর রহমানের আত্মজীবনী সংকলন।
- ২০১২ সালের জুনে এ বইটি প্রকাশিত হয়।
- ২০০৪ সালে শেখ মুজিবুর রহমানের লেখা চারটি খাতা আকস্মিকভাবে তাঁর কন্যা বর্তমান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তগত হয়।

- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বেশ কয়েকটি গ্রন্থের রচয়িতা।
- তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে:-
১। ‘‘শেখ মুজিব আমার পিতা’’,
২। ওরা টোকাই কেন?,
৩। বাংলাদেশে স্বৈরতন্ত্রের জন্ম’’,
৪। দারিদ্র্য বিমোচন, কিছু ভাবনা’’,
৫। ‘‘আমার স্বপ্ন, আমার সংগ্রাম’’,
৬। আমরা জনগণের কথা বলতে এসেছি’’,
৭। ‘‘সামরিকতন্ত্র বনাম গণতন্ত্র’’,
৮। ‘‘সাদা কালো’’,
৯। ‘‘সবুজ মাঠ পেরিয়ে’’,
১০।মুজিব বাংলার, বাংলা মুজিবের,
১১। Miles to Go, The Quest for Vision-2021 (two volumes) ইত্যাদি।

তথ্যসূত্র:- প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় , কারাগারের রোজনামচা , অসমাপ্ত আত্মজীবনী , আমার দেখা নয়াচীন।
.
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কোন বিষয়ে ভর্তি হয়েছিল?
  1. ক) রাষ্ট্রবিজ্ঞান
  2. খ) সমাজ বিজ্ঞান
  3. গ) আইন
  4. ঘ) অর্থনীতি
ব্যাখ্যা
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জাতির জনক এবং বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি।
- শেখ মুজিবুর রহমান ফরিদপুর জেলার গোপালগঞ্জ মহকুমার টুঙ্গীপাড়া গ্রামে ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ জন্মগ্রহণ করেন।
- মুজিব ছয় ভাই-বোনের মধ্যে তৃতীয় ছিলেন।
- তিনি স্থানীয় গীমাডাঙ্গা স্কুলে প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করেন।
- চোখের সমস্যার কারণে তাঁর প্রাথমিক শিক্ষা চার বছর ব্যাহত হয়।
- ১৯৪২ সালে তিনি গোপালগঞ্জ মিশনারী স্কুল থেকে ম্যাট্রিক, ১৯৪৪ সালে কলকাতার ইসলামিয়া কলেজ থেকে আই.এ এবং একই কলেজ থেকে ১৯৪৭ সালে বি.এ পাশ করেন।
- ম্যাট্রিক পাশের পর মুজিব কলকাতায় গিয়ে ইসলামিয়া কলেজে ভর্তি হন।
- সেখান থেকেই তিনি আই.এ ও বি.এ পাশ করেন।
- তিনি বঙ্গীয় প্রাদেশিক মুসলিম লীগের একজন সক্রিয় কর্মী এবং ১৯৪৩ সাল থেকে নিখিল ভারত মুসলিম লীগ কাউন্সিলের সদস্য ছিলেন।
- রাজনীতিতে তিনি ছিলেন এইচ. এস সোহরাওয়ার্দীর একজন একনিষ্ঠ অনুসারী। 
- ভারত বিভাগের (১৯৪৭) পর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিষয়ে  অধ্যয়নের জন্য ভর্তি হন।
- তবে পড়াশুনা শেষ করতে পারেন নি।
- কারণ চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের ন্যায্য দাবি দাওয়ার প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ঔদাসীন্যের বিরুদ্ধে তাদের বিক্ষোভ প্রদর্শনে উস্কানি দেওয়ার অভিযোগে তাঁকে ১৯৪৯ সালের প্রথমদিকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিস্কার করা হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
.
ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণে অ্যাসেম্বলিতে বসবার জন্য বঙ্গবন্ধু কয়টি শর্ত দিয়েলিলেন?
  1. ক) ৫টি
  2. খ) ৪টি
  3. গ) ৩টি
  4. ঘ) ৬টি
ব্যাখ্যা
অ্যাসেম্বলিতে বসবার জন্য বঙ্গবন্ধু কয়টি শর্ত দিয়েলিলেন ৪ টি।

• ৭ মার্চের ভাষণ:

- পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী কর্তৃক নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের টালবাহানার পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী লীগ আয়োজিত এক সমাবেশে বঙ্গবন্ধু ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ প্রদান করেন।

• ৭ই মার্চের ভাষণে বঙ্গবন্ধু চারটি দাবি উত্থাপন করেন। এগুলো হলোঃ
- চলমান সামরিক আইন প্রত্যাহার করা। 
- সৈন্যদের ব্যারাকে ফিরিয়ে নেওয়া।
- গণহত্যার তদন্ত করা।
- নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করা।

• ৭ই মার্চের ভাষণকে ২০১৭ সালের ৩০ অক্টোবর ইউনেস্কো মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড ইনটারন্যাশনাল রেজিস্ট্রারে অন্তর্ভুক্ত করে।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
.
নিম্নের কোন ব্যক্তি ‘স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী পরিষদ’ গঠন করেন?
  1. সিরাজুল আলম খান
  2. কাজী আরেফ আহমেদ
  3. আবদুর রাজ্জাক
  4. বর্ণিত সবাই
ব্যাখ্যা
স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী পরিষদ:
- পাকিস্তানের কাঠামোয় বাঙালি জাতিসত্তার বিকাশ ঘটা অসম্ভব বিবেচনা করে তৎকালীন ছাত্র সমাজের নেতৃস্থানীয় কয়েকজন ১৯৬২ সালে গোপনে ছাত্রদের সংগঠিত করার প্রচেষ্টা গ্রহণ করে- বাঙালি জাতীয়তাবাদে উদ্বুদ্ধ এই ছাত্র সংগঠনের নেতৃত্ব দেন জনাব সিরাজুল আলম খান, জনাব আবদুর রাজ্জাক এবং কাজী আরেফ আহমেদ।এই সংগঠন 'স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী পরিষদ' নামে পরিচিত ছিল।

উৎস: i) মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।
ii) প্রথম আলো।
.
মেজর সি আর দত্ত মুক্তিযুদ্ধের কোন সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার ছিলেন?
  1. ৪নং
  2. ৬নং
  3. ৭নং
  4. ৮নং
ব্যাখ্যা

সেক্টর নং ৪
- সিলেট জেলার অংশবিশেষ নিয়ে গঠিত হয়েছিল ‘সেক্টর নং ৪’।
- এই সেক্টরেও ছিল ৬টি সাব-সেক্টর।
- মে থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর সিআর দত্ত (পরে মেজর জেনারেলা) এবং পরে ক্যাপ্টেন এ রব।


অন্যদিকে,
- সেক্টর নং ৬:
- দিনাজপুরের ঠাকুরগাঁও মহাকুমা এবং ব্রহ্মপুত্র নদের তীরবর্তী অঞ্চল ব্যতীত সমগ্র রংপুর নিয়ে গঠিত হয় ‘সেক্টর নং ৬’।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন উইং কমান্ডার এমকে বাশার। এই সেক্টরে ছিল ৫টি সাব-সেক্টর।

- সেক্টর নং ৭:
- রাজশাহী, পাবনা, ব্রহ্মপুত্র নদীর তীরবর্তী এলাকা ব্যতীত সমগ্র বগুড়া, দিনাজপুরের দক্ষিণ অঞ্চল এবং রংপুরের কিছু অংশ ছিল ‘সেক্টর নং ৭’ এর অন্তর্ভুক্ত।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন তিনজন -মেজর নাজমুল হক, সুবেদার মেজর এ রব ও মেজর (পরে লে. কর্নেল) কাজী নুরুজ্জামান।
- এই সেক্টরে ছিল ৯টি সাব-সেক্টর।

• সেক্টর নং ৮: 
- কুষ্টিয়া, যশোর, দৌলতপুর সাতক্ষীরা সড়ক পর্যন্ত খুলনা জেলা ও ফরিদপুরের কিছু অংশ ছিল ‘সেক্টর নং ৮’ এর অন্তর্ভুক্ত।
- এপ্রিল থেকে আগস্ট পর্যন্ত এই সেক্টরের কমান্ডার ছিলেন মেজর (পরে লে.কর্নেল) আবু ওসমান চৌধুরী ও আগস্ট থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত মেজর (পরে মেজর জেনারেল) এম এ মঞ্জুর। এই সেক্টরে ছিল ৭টি সাব-সেক্টর।

উৎস: বিবিসি বাংলা।[ লিঙ্ক]

.
মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে কোন বৃহৎ শক্তিধর দেশ জাতিসংঘে ভেটো দেয়?
  1. চীন
  2. যুক্তরাষ্ট্র
  3. ফ্রান্স
  4. রাশিয়া
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধে ভেটো প্রদান:
- মুক্তিযুদ্ধের সময় জাতিসংঘে বাংলাদেশের পক্ষে ভেটো প্রদান করেছিল তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন। 
- বর্তমানে সোভিয়েত ইউনিয়ন নাম রাশিয়া।
- ১৯৭১ সালের ৪ ডিসেম্বর জাতিসংঘে বাংলাদেশের পক্ষে ভেটো দেয় রাশিয়া।
- যুক্তরাষ্ট্র জাতিসংঘে পাকিস্তানের পক্ষে মোট তিনবার যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব আনে।
- এবং সোভিয়েত ইউনিয়ন তিন বার ই ভেটো দেয়।

উল্লেখ্য, 
-মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গোপসাগরে ৭ম নৌবহর প্রেরণ করে।
- তার পাল্টা ভারত মহাসাগরে অবস্থিত সোভিয়েত ইউনিয়নের ২০তম নৌবহর ৭ম নৌবহরের পিছু নেয়।
- চীন ও যুক্তরাষ্ট্র তখন বাংলাদেশের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিল।
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্র ছিল তখন ভারত ও তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
মুক্তিযুদ্ধে চিফ অব স্টাফ এর দায়িত্ব পালন করেন- 
  1. মাহবুব আলম
  2. কর্নেল এম এ রব
  3.  এ কে খন্দকার
  4. সৈয়দ নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা

- মুক্তিযুদ্ধের সময় ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল বাংলাদেশের অস্থায়ী প্রবাসী বা মুজিবনগর সরকার গঠিত হয়।
- এই সরকার ১৭ এপ্রিল বর্তমান মেহেরপুর জেলার মুজিবনগরে শপথ গ্রহণ করে।
- মুজিব নগরের পূর্বনাম ছিলো - বৈদ্যনাথতলা।


অন্যদিকে,

- প্রবাসী সরকারের উপ-রাষ্ট্রপতি ও ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ছিলেন - সৈয়দ নজরুল ইসলাম।
- প্রধানমন্ত্রী ছিলেন - তাজউদ্দীন আহমদ।
- মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি ছিলেন - জেনারেল এম এ জি ওসমানী।
- মুক্তিযুদ্ধে চিফ অব স্টাফ এর দায়িত্ব পালন করেন - কর্নেল এম এ রব।
- এবং মুক্তিযুদ্ধে উপসেনাপতির দায়িত্ব পালন করেন - এ কে খন্দকার।

উৎস: সংগ্রামের নোটবুক, বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া

.
মুক্তিযুদ্ধের সময় জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবের বিরুদ্ধে কোন দেশ ভেটো প্রদান করে?
  1. যুক্তরাষ্ট্র
  2. সোভিয়েত ইউনিয়ন
  3. চীন
  4. পাকিস্তান
ব্যাখ্যা
• মুক্তিযুদ্ধে বৃহৎ শক্তির ভূমিকা
- মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে ছিল- ভারত এবং সোভিয়েত ইউনিয়ন, কিউবা, যুগোশ্লাভিয়া, পোল্যান্ড, হাজেরি, বুলগেরিয়া, চেকোস্লোভাকিয়া, পূর্ব জার্মানি প্রভৃতি তৎকালীন সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলো।
- পাকিস্তানের পক্ষে ছিল- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং চীন।
- জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবের বিরুদ্ধে সোভিয়েত ইউনিয়ন ৩ বার ভেটো প্রদান করে।
- যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানের সমর্থনে ভারত মহাসাগরে মূল ভূখণ্ডের বাইরে সবচেয়ে বড় নেভাল ফোর্স সপ্তম নৌক পাঠায়।
- সোভিয়েত ইউনিয়ন পাঠিয়েছিল- অষ্টম নৌবহর।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম ও দশম শ্রেণি।
.
বঙ্গবন্ধুকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা হয় কত সালে?
  1. ১৯৪৮ সালে
  2. ১৯৪৯ সালে
  3. ১৯৫০ সালে
  4. ১৯৫১ সালে
ব্যাখ্যা
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান:

- বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ জন্মগ্রহণ করেন।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পিতা শেখ লুৎফর রহমান।
- ১৯৪২ সালে তিনি গোপালগঞ্জ মিশনারী স্কুল থেকে ম্যাট্রিক, ১৯৪৪ সালে কলকাতার ইসলামিয়া কলেজ থেকে আই.এ এবং একই কলেজ থেকে ১৯৪৭ সালে বি.এ পাশ করেন।
- বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪র্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের সাথে তাদের দাবি আদায়ের পক্ষে আন্দোলন করার জন্যে ১৯৪৯ সালে বঙ্গবন্ধুকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা হয়।
- ১৯৫৩ সালে শেখ মুজিব পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন এবং ১৯৬৬ সাল পর্যন্ত এ পদে বহাল ছিলেন। ১৯৬৬ সালেই তিনি দলের সভাপতি হন।
- ১৯৬৬ সালে তিনি তাঁর বিখ্যাত ছয়দফা কর্মসূচী ঘোষণা করেন।
- ১৯৭১ সালে তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষনা করেন।
- ১৯৭৫ সালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
- ২০১০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বঙ্গবন্ধুর বহিষ্কারাদেশ তুলে দেয়া হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া ও বিবিসি বাংলা, ১০ আগস্ট, ২০১০।
১০.
’কারাগারের রোজনামচা’ বইটির প্রকাশকাল কত?
  1. ১৭ মার্চ ২০১৭
  2. ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৭
  3. ১৭ মার্চ ২০১২
  4. ১৬ মার্চ ২০১৭
ব্যাখ্যা
♦ কারাগারের রোজনামচা:
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রচিত দিনলিপি গ্রন্থ হলো কারাগারের রোজনামচা।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রচিত দ্বিতীয় আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ হলো কারাগারের রোজনামচা।
- এটি ১৭ মার্চ, ২০১৭ সালে বঙ্গবন্ধুর ৯৭তম জন্মবার্ষিকীতে বাংলা একাডেমি প্রকাশ করে।
- এই গ্রন্থটি মূলত একটি ডায়রি যা বঙ্গবন্ধু ১৯৬৬-১৯৬৮ সময়ে কারাগারে বন্দিবস্থায় লিখেছিলেন।
- এর ভূমিকা লিখেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
- নামকরণ করেন শেখ রেহেনা।

উৎস: কারাগারের রোজনামচা।
১১.
যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভায় বঙ্গবন্ধু কোন দপ্তরের দায়িত্বে ছিলেন?
  1. ক) অর্থ ও পরিকল্পনা
  2. খ) স্বরাষ্ট্র ও ত্রাণ
  3. গ) কৃষি ও সমবায়
  4. ঘ) শিক্ষা ও স্বাস্থ্য
ব্যাখ্যা
১৯৫৪ সালের ৮ মার্চ পূর্ব পাকিস্তানে সার্বজনীন ভোটাধিকারের ভিত্তিতে প্রথম সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এই নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা (২২৩টি আসন) অর্জন করে।
৪ এপ্রিল ১৯৫৪ এ কে ফজলুল হককে মুখ্যমন্ত্রী করে ৫ সদস্যের মন্ত্রীসভা গঠন করা হয়।
১৪ মে যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভায় আওয়ামীলীগ যোগদান করলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি, বন, সমবায় এবং পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রী হন।
তবে ৩০শে মে মাত্র ৫৬ দিনের মাথায় যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভা ভেঙে দেওয়া হয়।

(তথ্যসূত্র: অসমাপ্ত আত্মজীবনী এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
১২.
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান OIC ২য় শীর্ষ সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন-
  1. ক) ২২-২৪ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭৩
  2. খ) ২০-২২ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭৩
  3. গ) ২০-২২ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭৪
  4. ঘ) ২২-২৪ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭৪
ব্যাখ্যা
১৯৭৪ সালের ২২-২৪ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের লাহোরে অনুষ্ঠিত ওআইসির দ্বিতীয় শীর্ষ সম্মেলনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অংশগ্রহণ করেন।
১৩.
‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ: দলিলপত্র’ প্রণয়নের নেতৃত্বে কে ছিলেন?
  1. সৈয়দ আবুল মকসুদ
  2. মুনতাসীর মামুন
  3. হাসান হাফিজুর রহমান
  4. গোলাম মোস্তফা
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ': 'দলিলপত্র
- ইতিহাস রচনার ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা ও বস্তুনিষ্ঠতা রক্ষা করা ও বিকৃতির আশংকা এড়িয়ে যাবার জন্যই ইতিহাস রচনার পরিবর্তে দলিল ও তথ্য প্রকাশকেই অধিকতর গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হয়েছে।
- আর সে প্রকল্পের ফসলই “বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ: দলিলপত্র”।
- প্রায় ১৫,০০০ পৃষ্ঠায় ১৫ খন্ডে এসব দলিলপত্র প্রণয়ন করে ১৯৮২ সালে তা প্রকাশ করা হয়। 
- এ দলিলপত্রাদি ইতিহাসবিদ অধ্যাপক মফিজুল্লাহ কবীর ও সাংবাদিক হাসান হাফিজুর রহমানের যৌথ নেতৃত্বে একটি প্রামাণ্যকরণ কমিটি কর্তৃক প্রণীত।
- প্রায় সাড়ে তিন লাখ পৃষ্ঠাব্যাপী বিপুলায়তন ও সংগৃহীত উপাত্ত থেকে নির্বাচন করে প্রামাণ্যকরণ কমিটি কর্তৃক অনুমোদনের পর কালপঞ্জি অনুসারে বিভিন্ন খন্ডে প্রকাশ করা হয়।

⇒  বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর সরকারের উদ্যোগে ১৯৭৩ সালে বাংলা একাডেমির মাধ্যমে প্রথম স্বাধীনতা যুদ্ধের তথ্য সংগ্রহের প্রকল্প শুরু হয়।
- রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাসনামলে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয় ১৯৭৭ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের ইতিহাস লিখন ও মুদ্রণ প্রকল্প গ্রহণ করে।
- পরবর্তীকালে এই প্রকল্প স্বাধীনতা যুদ্ধ সংক্রান্ত দলিল ও তথ্যসমূহ প্রকাশনার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে এবং এর কাজ শুরু হয় ১৯৭৮ সালের জানুয়ারি থেকে। 
- তবে প্রকল্পটি সরকারি অনুমোদন লাভ করে ১৮ জুলাই ১৯৭৮-এ বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয়ের গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী (নং ৫১/২/৭৮/ডেব/২৬১)।
- এই প্রকল্পের সদস্য সচিব হাসান হাফিজুর রহমান বাংলা একাডেমি কর্তৃক ইতোপূর্বে সংগৃহীত দলিলপত্রসমূহ স্ব-উদ্যোগে গ্রহণ করেন।
- রাষ্ট্রপতি এরশাদ সরকারের শাসনামলে ১৯৮২ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর থেকে খন্ডগুলির প্রকাশ শুরু হয়।

উল্লেখ্য,
- দলিলপত্রের প্রথম খণ্ডে রয়েছে পটভূমি (১০৫-১৯৫৮), দ্বিতীয় খণ্ডেও পটভূমি (১৯৫৮-১৯৭১), তৃতীয় খণ্ডে ‘মুজিবনগর: প্রশাসন’, চতুর্থ খণ্ডে ‘মুজিবনগর: প্রবাসী বাঙালিদের তৎপরতা’, পঞ্চম খণ্ডে ‘মুজিবনগর: বেতারমাধ্যম’, ষষ্ঠ খণ্ডে ‘মুজিবনগর: গণমাধ্যম’, সপ্তম খণ্ডে ‘পাকিস্তানি দলিলপত্র: সরকারি ও বেসরকারি’, অষ্টম খণ্ডে ‘গণহত্যা, শরণার্থী শিবির ও প্রাসঙ্গিক ঘটনা’, নবম খণ্ডে ‘সশস্ত্র সংগ্রাম (১)’, দশম খণ্ডে ‘সশস্ত্র সংগ্রাম (২)’, একাদশ খণ্ডে ‘সশস্ত্র সংগ্রাম (৩)’, দ্বাদশ খণ্ডে ‘বিদেশি প্রতিক্রিয়া: ভারত’, ত্রয়োদশ খণ্ডে ‘বিদেশি প্রতিক্রিয়া: জাতিসংঘ ও বিভিন্ন রাষ্ট্র বিশ্ব জনমত’, চতুর্দশ খণ্ডে ‘বিশ্ব জনমত’, পঞ্চদশ খণ্ডে ‘সাক্ষাৎকার’, ষোড়শ খণ্ডে ‘কালপঞ্জী, গ্রন্থপঞ্জী ও নির্ঘণ্ট’ সন্নিবেশিত আছে।

উৎস: i) বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ': 'দলিলপত্র। 
ii) বাংলাপিডিয়া।

১৪.
পাক বাহিনীর আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে পাকিস্তানের আত্মসমর্পণ দলিলে স্বাক্ষর করেছিল-
  1. লে. জেনারেল জগজিৎ সিং আরোরা
  2. লে. জেনারেল আমির আবদুল্লাহ খান নিয়াজী
  3. আতাউল গণি ওসমানী
  4. লে. কর্নেল কে. এম. শফিউল্লাহ 
ব্যাখ্যা

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ:
- আমাদের জাতীয় ইতিহাসের সবচেয়ে গৌরবময় অধ্যায় হলো ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ। 
- এই যুদ্ধের মাধ্যমেই স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশের জন্ম ঘটে।

- ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তান ইস্টার্ন কমান্ড যুদ্ধে হেরে গিয়ে আত্মসমর্পণ করে।
- ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিকেলে ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) পাকিস্তানি বাহিনী আত্মসমর্পণ করে।
- পাকিস্তানের পক্ষে দলিলে স্বাক্ষর করেন পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডের প্রধান লে. জেনারেল আমির আবদুল্লাহ খান নিয়াজী।
- নিয়াজী ৯৩,০০০ সৈন্য ও অস্ত্র-শস্ত্রসহ আত্মসমর্পণ করেন।
- যৌথ বাহিনীর পক্ষে এই দলিল গ্রহণ করেন ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডের প্রধান লে. জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা।
- বাংলাদেশ সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ কে খন্দকার।
- এই আত্মসমর্পণের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের বিজয় নিশ্চিত হয়।
- এবং বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভ করে।
------------------------------------ 
অন্যদিকে,
- মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি ছিলেন আতাউল গণি ওসমানী।
- এস ফোর্সের প্রধান ছিলেন-  লে. কর্নেল কে. এম. শফিউল্লাহ।  

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও বিবিসি নিউজ। 

১৫.
মুজিব শতবর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষ্যে ১০ দিনের অনুষ্ঠান 'মুজিব চিরন্তন'-এর সময়কাল -
  1. ২১ ফেব্রুয়ারি - ০২ মার্চ
  2. ১৭ মার্চ - ২৬ মার্চ
  3. ২৬ মার্চ - ০৪ এপ্রিল
  4. ১০ এপ্রিল - ১৯ এপ্রিল
ব্যাখ্যা
মুজিব চিরন্তন:
- বাঙালি জাতির মুক্তি ও স্বাধীনতার অবিসংবাদিত নেতা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জন্মগ্রহণ করেন ১৭ই মার্চ ১৯২০ সালে।
- সে অনুযায়ী ২০২০ সাল সামনে রেখে উৎসবমুখর পরিবেশে দেশে-বিদেশে তার জন্মশতবার্ষিকী আয়োজনের ব্যাপক পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষে জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে ২০২১ সালে ১৭-২৬ মার্চ অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করে।
- এ অনুষ্ঠানে দেশের রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও অংশ নেন বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধান, আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রধান ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ।
- আয়োজিত এই ১০ দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের মূল থিম ছিল 'মুজিব চিরন্তন'।
- এছাড়া প্রতিদিন বিভিন্ন থিমে ছিল আলোচনা অনুষ্ঠান।

উৎস: ১৭ মার্চ, ২০২১, প্রথম আলো।
১৬.
স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র প্রথম স্থাপন করা হয়-
  1. ক) মুজিবনগর, মেহেরপুর
  2. খ) সিতাকুণ্ড, চট্টগ্রাম
  3. গ) কালুরঘাট, চট্টগ্রাম
  4. ঘ) রাউজান, চট্টগ্রাম
ব্যাখ্যা

- স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার পরপরই বাংলাদেশের প্রবাসী সরকার কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত বেতার সম্প্রচার কেন্দ্র।
- চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে এর প্রাথমিক যাত্রা শুরু হয়।
- পরবর্তীতে, ১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর ভারত বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও অস্থায়ী সরকারকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়ার পর স্বাধীন দেশের বেতার কেন্দ্র হিসেবে এর নতুন নাম হয় ‘বাংলাদেশ বেতার’।
- বাংলাদেশের প্রবাসী সরকার ১৯৭১ সালের ২২ ডিসেম্বর ঢাকায় ফিরে আসে এবং সেদিন থেকেই স্বাধীন দেশের রেডিও হিসেবে বাংলাদেশ বেতারের সম্প্রচার কাজ শুরু হয়।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।

১৭.
বঙ্গবন্ধু কত সালে প্রথম আওয়ামীলীগের সভাপতি নির্বাচিত হন?
  1. ১৯৫৬ সালে
  2. ১৯৬৬ সালে
  3. ১৯৬৮ সালে
  4. ১৯৭০ সালে
ব্যাখ্যা
বঙ্গবন্ধু ও আওয়ামীলীগ: 
- ১৯৬৬ সালের ষষ্ঠ জাতীয় সম্মেলনটি ছিল অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ।
- এ সম্মেলনে বঙ্গবন্ধুর ছয় দফা দলীয়  ফোরামে পাস হয়।
- ১৮ থেকে ২০ মার্চ হোটেল ইডেনে অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনের মাধ্যমে দলের সভাপতি নির্বাচিত হন শেখ মুজিবুর রহমান।
- আর প্রথমবারের মতো সাধারণ সম্পাদক হন তাজউদ্দীন আহমেদ।
- এতে কাউন্সিলর ও ডেলিগেটের সংখ্যা ছিল এক হাজার ৪৪৩ জন।
- বর্তমানে দলটির সভাপতি শেখ হাসিনা ও সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। 

উৎস- বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের ওয়েবসাইট।
১৮.
কারাগারের রোজনামচা দিনলিপির ভূমিকা কে লিখেছেন?
  1. শেখ মুজিবুর রহমান
  2. শেখ হাসিনা
  3. শেখ রেহেনা
  4. তোফায়েল আহমেদ
ব্যাখ্যা
কারাগারের রোজনামচা:
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রচিত দিনলিপি গ্রন্থ হলো কারাগারের রোজনামচা।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রচিত দ্বিতীয় আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ হলো কারাগারের রোজনামচা।
- এটি ১৭ মার্চ, ২০১৭ সালে বঙ্গবন্ধুর ৯৭তম জন্মবার্ষিকীতে বাংলা একাডেমি প্রকাশ করে ।
- এই গ্রন্থটি মূলত একটি ডায়রি যা বঙ্গবন্ধু ১৯৬৬-১৯৬৮ সময়ে কারাগারে বন্দিবস্থায় লিখেছিলেন ।
- এর ভূমিকা লিখেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
- নামকরণ করেন শেখ রেহেনা।

উৎস: কারাগারের রোজনামচা।
১৯.
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলায় প্রথম ভাষণ প্রদান করেন -
  1. ২২ সেপ্টেম্বর, ১৯৭৪ সালে
  2. ২৩ সেপ্টেম্বর, ১৯৭৪ সালে
  3. ২৪ সেপ্টেম্বর, ১৯৭৪ সালে
  4. ২৫ সেপ্টেম্বর, ১৯৭৪ সালে
ব্যাখ্যা
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন:

- বাংলাদেশ জাতিসংঘের ২৯ তম অধিবেশনে ১৯৭৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর সদস্যপদ লাভ করে।
- বাংলাদেশ জাতিসংঘের ১৩৬ তম সদস্য।
- জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলায় প্রথম ভাষণ প্রদান করেন ২৫ সেপ্টেম্বর, ১৯৭৪ সালে।
- বাংলাদেশ ১৯৮৬ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৪১তম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করে।
- বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী ৪১তম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।
- আনোয়ারুল করিম চৌধুরী ২০০১ সালে নিরাপত্তা পরিষদে সভাপতিত্ব করেন।

তথ্যসূত্র - জাতিসংঘ অফিসিয়াল ওয়েবসাইট।
২০.
পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী কোথায় আত্মসমর্পণ করেন?
  1. পল্টনে
  2. টিএসসি
  3. ঢাকা সেনানিবাসে
  4. রেসকোর্স ময়দানে
ব্যাখ্যা

পাকিস্তানের আত্মসমর্পণ:
- ১৯৭১ সালের ৬ থেকে ১৬ ডিসেম্বর যৌথ বাহিনীর দুর্বার আক্রমণে পর্যুদস্ত পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী অবশেষে আত্মসমর্পণে সম্মত হয়।
- ১৬ ডিসেম্বর তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে পাকিস্তান বাহিনীর ইস্টার্ন কমান্ডার প্রধান লে. জেনারেল আমীর আবদুল্লাহ খান নিয়াজী ৯৩ হাজার সৈন্যসহ যৌথ বাহিনীর নিকট আত্মসমর্পণ করেন।
- পাকিস্তানের পক্ষে নিয়াজী এবং যৌথ বাহিনীর পক্ষে আত্মসমর্পণ দলিলে স্বাক্ষর করেন ভারতীয় সেনাবাহিনীর ইস্টার্ন কমান্ডের প্রধান লে. জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা।
- বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ কে খন্দকার উপস্থিত ছিলেন।

উৎস:বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২১.
সংবিধানের কোন সংশোধনীর মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে জাতির পিতা হিসাবে স্বীকৃতি দেয়া হয়?
  1. ত্রয়োদশ
  2. চতুর্দশ
  3. পঞ্চদশ
  4. ষোড়শ
ব্যাখ্যা
পঞ্চদশ সংশোধনী:
- ২০১১ সালের ৩০ জুন, সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের মূলনীতিগুলো পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়।
- এই সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করা হয়।
- সংশোধনীর মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে জাতির পিতা হিসাবে স্বীকৃতি দেয়া হয়। 

এছাড়া,
- চতুর্দশ সংশোধনী ৪৫ টি নারী আসন সংরক্ষণ,
- ষোড়শ সংশোধনী বিচারপতিদের অভিসংশন ক্ষমতা এবং
- সপ্তদশ সংশোধনী ৫০ টি নারী আসন সংক্রান্ত।

উৎস: বিবিসি নিউজ বাংলা, ১৯ ডিসেম্বর ২০২১ [লিঙ্ক]
২২.
কতজন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে 'বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরস্কার' - ১৪২৫ ও ১৪২৬ প্রদান করা হয়?
  1. ক) ১৫
  2. খ) ২৫
  3. গ) ২৯
  4. ঘ) ৪৪
ব্যাখ্যা
• কৃষিখাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য ৪৪ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে 'বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরস্কার' - ১৪২৫ ও ১৪২৬ দেয়া হয়েছে।
• এর মধ্যে ১৪২৫ সালের জন্য ১৫ ব্যক্তি ও সংগঠনকে এবং ১৪২৬ সালের জন্য ২৯ ব্যক্তি ও সংগঠনকে এ পুরস্কার দেয়া হবে।

তথ্যসূত্র:- লাইভ এম সি কিউ সাম্প্রতিক সমাচার, অক্টোবর - ২০২২।      
২৩.
মুক্তিযুদ্ধের সময় 'টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ' শহর কোন সেক্টরের অধীনে ছিল?
  1. ৭ নং সেক্টর 
  2. ৯ নং সেক্টর
  3. ১১ নং সেক্টর
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা

মুক্তিযুদ্ধ:
- একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য তৎকালীন অস্থায়ী বাংলাদেশ সরকার সমগ্র পূর্ব পাকিস্তানকে (বর্তমান বাংলাদেশ) ১১টি সেক্টরে বিভক্ত করে।
- এটি ছিলো যুদ্ধ পরিচালনার একটি সামরিক কৌশল।
- ১৯৭১ সালের জুন মাসে প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে এই সেক্টর গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। 

⇒ সেক্টরগুলো:
- ১নং সেক্টর: চট্টগ্রাম ও পাবর্ত্য চট্টগ্রাম,
- ২নং সেক্টর: ঢাকা, নোয়াখালী, ফরিদপুর ও কুমিল্লার অংশবিশেষ,
- ৩নং সেক্টর: কুমিল্লা, কিশোরগঞ্জ ও হবিগঞ্জ, 
- ৪ নং সেক্টর: মৌলভীবাজার ও সিলেটের পূর্বাংশ, 
- ৫নং সেক্টর: সিলেট ও সুনামগঞ্জ, 
- ৬নং সেক্টর: রংপুর, দিনাজপুর,
- ৭নং সেক্টর: রাজশাহী, বগুড়া, পাবনা,
- ৮নং সেক্টর: কুষ্টিয়া, যশোর, ফরিদপুর,
- ৯নং সেক্টর: খুলনা, বরিশাল,
- ১০নং সেক্টর: সকল নৌপথ ও সমুদ্র উপকূলীয় অঞ্চল,
- ১১নং সেক্টর: টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ।
 
উৎস: বাংলাপিডিয়া।

২৪.
স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র জারি করেন-
  1. ক) শেখ মুজিবুর রহমান
  2. খ) অধ্যাপক ইউসুফ আলী
  3. গ) সৈয়দ নজরুল ইসলাম
  4. ঘ) তাজউদ্দিন আহমেদ
ব্যাখ্যা

স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র:
স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র  প্রবাসী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল বাংলাদেশের আনুষ্ঠানিক স্বাধীনতা ঘোষণা।
বাংলাদেশের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে একই দিনে আইনের ধারাবাহিকতা বলবৎকরণ আদেশ নামে একটি আদেশ জারি করেন। স্বাধীনতা ঘোষণাপত্রের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পর্যন্ত বাংলাদেশে যে সকল আইন চালু ছিল, তা রক্ষার্থে এটা করা হয়।
অর্থ্যাৎ ২৬ মার্চ থেকে এটি বলবৎ হয়।

- স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র লিপিবদ্ধ করেন ব্যারিস্টার আমিরুল ইসলাম।
- ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন।
- ১০ এপ্রিল ১৯৭১ স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র আনুষ্ঠানিকভাবে জারি করা হয় এবং
- ১৭ এপ্রিল অধ্যাপক ইউসুফ আলী আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীনতার ঘোষণা পত্র পাঠ করেন।

- ৬ষ্ঠ তফসিলে ২৬ মার্চের স্বাধীনতার ঘোষনাপত্র সংযুক্ত করা হয় ।

সূত্র:- বাংলাপিডিয়া।

২৫.
মুক্তিযুদ্ধে 'এস' ফোর্সের অধিনায়ক কে ছিলেন?
  1. মেজর খালেদ মোশাররফ
  2. মেজর কে. এম সফিউল্লাহ
  3. মেজর জিয়াউর রহমান
  4. এয়ার ভাইস মার্শাল এ কে খন্দকার
ব্যাখ্যা

ব্রিগেড ফোর্স:
- মুক্তিবাহিনীকে তিনটি ব্রিগেড ফোর্সে ভাগ করা হয়েছিল।
- ফোর্সের নামকরণ করা হয় ব্রিগেডগুলোর অধিনায়কদের নামের প্রথম অক্ষর দিয়ে।

• ব্রিগেড ফোর্সগুলোর নাম হলো:
- 'কে' ফোর্স, যার অধিনায়ক ছিলেন মেজর খালেদ মোশাররফ।
- 'এস' ফোর্স, যার অধিনায়ক ছিলেন মেজর কে. এম সফিউল্লাহ।
-  'জেড' ফোর্স, যার অধিনায়ক ছিলেন মেজর জিয়াউর রহমান।

উল্লেখ্য, 
- সামরিক ও বেসামরিক জনগণকে একত্রিত করে ১৯৭১ সালের ১১ জুলাই মুক্তিবাহিনী গঠন করা হয়।
- মুক্তিবাহিনী দুটি ভাগে বিভক্ত ছিল: নিয়মিত বাহিনী এবং অনিয়মিত বাহিনী।
- অনিয়মিত বাহিনী গণবাহিনী নামে পরিচিত ছিল।
- গণবাহিনীতে ছাত্র, কৃষক, শ্রমিক ও রাজনৈতিক কর্মীদের প্রশিক্ষণ দিয়ে সেক্টরে নিয়োগ করা হতো।
- গণবাহিনীর সদস্যদের গেরিলা যুদ্ধ পরিচালনার জন্য বাংলাদেশের অভ্যন্তরে পাঠানো হয়।
- নিয়মিত বাহিনীতে ছিল ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট এবং পূর্ব পাকিস্তান রাইফেলসের সৈন্যরা।
- এই বাহিনীর সদস্যরা সশস্ত্র বাহিনীর প্রথাগত যুদ্ধে অংশগ্রহণ করছিল।
- ১৪ এপ্রিল, কর্নেল এম. এ. জি. ওসমানীকে মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি নিযুক্ত করা হয়।
- বাংলাদেশ বাহিনীর হেড কোয়ার্টার কলকাতার ৮ নম্বর থিয়েটার রোডে স্থাপিত হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।

২৬.
বীরশ্রেষ্ঠ মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীরের সমাধিস্থল কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. যশোর
  2. চাপাইনবাবগঞ্জ
  3. ঢাকা
  4. খুলনা
ব্যাখ্যা

• বীরশ্রেষ্ঠ মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর:
- বীরশ্রেষ্ঠ মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীরের সমাধিস্থল চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় অবস্থিত।
- 'বীরশ্রেষ্ঠ' মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীরের জন্ম ৭ মার্চ ১৯৪৯, বরিশাল জেলার বাবুগঞ্জ উপজেলার রহিমগঞ্জ গ্রামে।
- পিতা আব্দুল মোতালেব হাওলাদার ছিলেন কৃষক ও শৌখিন গাইয়ে এবং মা সাফিয়া বেগম ছিলেন গৃহিণী।
- পিতার আর্থিক দৈন্যতার কারণে মাত্র সাড়ে তিন বছর বয়সে মামার বাড়ি মুলাদি উপজেলার পাতারচর গ্রামে গমন করেন।
- ১৯৫৩ সালে পাতারচর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তার শিক্ষা জীবনের সূচনা হয়।
- ১৯৬৪ সালে মুলাদি মাহমুদ জান পাইলট হাইস্কুল থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এসএসসি এবং ১৯৬৬ সালে বরিশাল ব্রজমোহন কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করেন।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিসংখ্যান বিভাগে অধ্যয়নরত অবস্থায় ১৯৬৭ সালের ৩রা অক্টোবর ১৫তম শর্ট সার্ভিস কোর্সে পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে যোগ দেন।
- তার পোস্টিং হয় ৭নং সেক্টর-এর মহোদিপুর সাব-সেক্টরে।
- ১২ই ডিসেম্বর মুক্তিবাহিনী তার নেতৃত্বে চাঁপাইনবাবগঞ্জ আক্রমণ করে।
- যুদ্ধে অপরিসীম বীরত্ব প্রদর্শন করে ১৪ ডিসেম্বর, ১৯৭১ সালে সকালে পাকিস্তানী বাহিনীর স্নাইপার বুলেটের আঘাতে তিনি শহীদ হন।
- পরদিন সহযোদ্ধারা লাশ উদ্ধার করে তার শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী সোনামসজিদ চত্বরে সমাহিত করে।
- স্বাধীন বাংলাদেশ সরকার তার অবদানের স্বীকৃতি স্বরুপ তাকে 'বীরশ্রেষ্ঠ' খেতাবে ভূষিত করা হয়।
- তিনি বীরশ্রেষ্ঠদের মধ্যে শেষ শহীদ।

উল্লেখ্য,
- ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য ত্যাগের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানাতে রাজশাহীর চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সার্কিট হাউস সংলগ্ন নবনির্মিত রাস্তাকে 'বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর' সড়ক নামকরণ করা হয়। 

উৎস: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।

২৭.
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কত সালে কারাগারে রাজবন্দী অবস্থায় ‘আমার দেখা নয়াচীন’ গ্রন্থের পান্ডুলিপি রচনা করেন?
  1. ১৯৫২
  2. ১৯৫৩
  3. ১৯৫৪
  4. ১৯৫৫
ব্যাখ্যা
বঙ্গবন্ধুর লেখা বইসমূহ:

- ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী' বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের লেখা বই।
- বঙ্গবন্ধুর প্রথম বই অসমাপ্ত আত্মজীবনী প্রকাশিত হয় ২০১২ সালে।
- অসমাপ্ত আত্মজীবনী লেখা হয়েছে ১৯৬৭ সালের মাঝামাঝি সময়ে যখন তিনি কারারুদ্ধ ছিলেন।
- আত্মজীবনীর শুরু হয়েছে তাঁর জন্মের সময় থেকে; পাশাপাশি এসেছে পিতৃপুরুষের কথাও। আর বইটি শেষ হয়েছে ১৯৫৪ সালের ঘটনাবলি দিয়ে।
- বঙ্গবন্ধুর দ্বিতীয় বই কারাগারের রোজনামচা ২০১৭ সালে প্রকাশিত হয়।
- এই গ্রন্থের নামকরণ করেছেন শেখ রেহানা। এই বইও বঙ্গবন্ধু কারাগারে বসে রচনা করেন।
- জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জেলখানার জীবনের ওপর লেখা বইয়ের নাম ‘৩০৫৩ দিন’।
- বইটি প্রকাশিত হয় ২০১৮ সালে।
- স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন কারা অধিদপ্তরের ব্যবস্থাপনা এবং জননিরাপত্তা বিভাগের তদারকিতে বইটি প্রকাশিত হয়েছে।
- বঙ্গবন্ধুর লেখা তৃতীয় বই আমার দেখা নয়াচীন ২০২০ সালে প্রকাশিত হয়।
- এই বইটিও কারাগারে রাজবন্দী থাকার সময়ে রচিত।
- বঙ্গবন্ধু ১৯৫২ সালের অক্টোবর মাসে চীনের পিকিংয়ে অনুষ্ঠিত এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় আঞ্চলিক শান্তি সম্মেলনে পাকিস্তানের প্রতিনিধি হিসেবে যোগ দেন। সে সময় নয়াচীন দেখার অভিজ্ঞতার আলোকে বইটি রচিত।
- ১৯৫৪ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কারাগারে রাজবন্দী হিসেবে বন্দী থাকা অবস্থায় এ বইয়ের লিপিবদ্ধ স্মৃতিকথা গুলো তুলে ধরেছিলেন

তথ্যসূত্র - দৈনিক প্রথম আলো, ১৪ই আগস্ট ২০২০, দৈনিক কালের কন্ঠ, ৩০ জুলাই, ২০১৮ ও দৈনিক ইত্তেফাক, ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২০।
২৮.
আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র কবে জারি করা হয়?
  1. ক) ১০ এপ্রিল, ১৯৭১
  2. খ) ১৭ এপ্রিল, ১৯৭১
  3. গ) ৭ মার্চ, ১৯৭১
  4. ঘ) ২৬ মার্চ, ১৯৭১
ব্যাখ্যা
- ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন।
- ১০ এপ্রিল ১৯৭১ স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র খসড়া প্রণয়ন ও আনুষ্ঠানিকভাবে জারি করা হয় এবং
- ১৭ এপ্রিল অধ্যাপক ইউসুফ আলী আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীনতার ঘোষণা পত্র পাঠ করেন।
[সূত্র : বাংলাপিডিয়া ]
২৯.
মুজিবনগর সরকারের চীফ অব স্টাফ ছিলেন কে?
  1. শেখ মুজিবুর রহমান
  2. ক্যাপ্টেন (অব.) এম.মুনসুর আলী
  3. কর্নেল (অব.) এম.এ.জি ওসমানী
  4. কর্নেল (অব.) এ. রব
ব্যাখ্যা
মুজিবনগর সরকার
- ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের আজকের দিনে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সরকার গঠিত হয়েছিল।
- প্রবাসী বাংলাদেশ সরকার বা মুজিবনগর সরকার নামে পরিচিত। 
- ১৭ই এপ্রিল মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলা (বর্তমান উপজেলা মুজিবনগর) গ্রামের আমবাগানে এই সরকার শপথ গ্রহণ করে।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলেন স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি।
- তিনি পশ্চিম পাকিস্তানের কারাগারে বন্দি থাকার কারণে উপরাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন।
- তাজউদ্দীন আহমদ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
- অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী ছিলেন ক্যাপ্টেন মনসুর আলী। 
-  এ. এইচ. এম কামারুজ্জামানকে স্বরাষ্ট্র এবং ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয়া হয়।
- খন্দকার মোশতাক আহমেদ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী।
- কর্নেল (অব.) এম.এ.জি ওসমানী সেনাবাহিনীর প্রধান।
- কর্নেল (অব.) এ. রব  সেনাবাহিনীর উপ - প্রধান (চীফ অব স্টাফ)। 

তথ্য সূত্র-
• ‘স্বাধীন ও সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের ঘোষণাপত্র’
•  একাত্তরের রণাঙ্গন/ শামসুল হুদা চৌধুরী
•  লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে/ রফিকুল ইসলাম বীর উত্তম
• আত্মকথা ১৯৭১/ নির্মলেন্দু গুণ। 
৩০.
'Agartala Conspiracy Case' was withdrawn on-
  1. 19 June 1968
  2. 11 January 1969
  3. 22 February 1969
  4. 23 March 1969
ব্যাখ্যা
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা:
- ১৯৬৮ সালের ৬ জানুয়ারি পাকিস্তান সরকার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ঘোষণা করে যে, পাকিস্তানকে বিচ্ছিন্ন করার জন্য একটি ষড়যন্ত্র উদ্ঘাটিত হয়েছে। 
- এর সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে দুইজন আওয়ামী লীগ নেতা, সিভিল সার্ভিসের দুইজন বাঙালি কর্মকর্তাসহ ২৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়। 
- ১৮ জানুয়ারি আরেকটি প্রেসবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে শেখ মুজিবুর রহমানকে উক্ত মামলার ১নং আসামী বলে ঘোষণা করা হয়।
- বঙ্গবন্ধুসহ মোট ৩৫ জনকে এই মামলার আসামী করা হয়।
- এই মামলার সরকারি নাম 'রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান ও অন্যান্য'।
- লোকমুখে এই মামলা পরিচিতি লাভ করে ‘আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা' হিসেবে। 
- বঙ্গবন্ধু এই মামলার নামকরণ করেছিলেন ‘ইসলামাবাদ ষড়যন্ত্র মামলা' নামে।
- ১৯৬৮ সালের ১৯ জুন কুর্মিটোলা ক্যান্টনমেন্টের একটি বিশেষ কক্ষে মামলার শুনানি শুরু হয়।
- বাঙালিরা এটিকে মিথ্যা মামলা হিসেবে অভিহিত করে এবং মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে গণআন্দোলন গড়ে তোলে। 
- আন্দোলন জোরদার হলে সরকার ১৯৬৯ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি আগরতলা মামলা প্রত্যাহার করে নেয় এবং বিনাশর্তে  অভিযুক্তদের মুক্তি দেয়।

উৎস: ইতিহাস প্রথমপত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩১.
১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভায় বঙ্গবন্ধু কোন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন?
  1. অর্থ, রাজস্ব ও স্বরাষ্ট্র
  2. বিচার, স্বাস্থ্য ও স্থানীয় সরকার
  3. শিক্ষা, বাণিজ্য, শ্রম ও শিল্প
  4. কৃষি, সমবায় ও পল্লী উন্নয়ন
ব্যাখ্যা
যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভা:
- ১৯৫৪ সালের ৩ এপ্রিল যুক্তফ্রন্ট ৪ সদস্য বিশিষ্ট মন্ত্রিসভা গঠন করে। মুখ্যমন্ত্রী হন শের-ই-বাংলা এ কে ফজলুল হক। অন্যান্য মন্ত্রী-
১. অর্থ, রাজস্ব ও স্বরাষ্ট্র-এ কে ফজলুল হক।
২. বিচার, স্বাস্থ্য ও স্থানীয় সরকার-আবু হোসেন সরকার।
৩. বেসামরিক সরবরাহ ও যোগাযোগ মন্ত্রী-আশরাফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরি।
৪. সৈয়দ আজিজুল হক-শিক্ষা, বাণিজ্য, শ্রম ও শিল্প।
- পরবর্তীতে ১৫ মে,১৯৫৪ সালে ১৪ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রীসভা গঠিত হলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ৩৪ বছর বয়সে সর্বকনিষ্ট মন্ত্রী হিসবে কৃষি, সমবায় ও পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান।
- রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং ফজলুল হক মন্ত্রীসভা বাংলাকে স্বাধীন করবে এমন অজুহাতে ১৯৫৪ সালের ৩০ মে পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল গোলাম মোহাম্মদ যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রী পরিষদ বাতিল করেন।
- ফজলুল হক মন্ত্রীসভা দ্বায়িত্বে ছিল মাত্র ৫৬ দিন যার মধ্যে পূর্নাঙ্গ মন্ত্রীসভা দ্বায়িত্বে ছিল মাত্র ১৫ দিন।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া ও পৌরনীতি ও সুশাসন (২য় পত্র), প্রফেসর মো: মোজাম্মেল হক।
৩২.
মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন কত তারিখ পাকিস্তান সরকার বঙ্গবন্ধুকে আটক এবং বন্দী করার কথা স্বীকার করে?
  1. ২৯ মার্চ
  2. ১ এপ্রিল
  3. ৭ এপ্রিল
  4. ১০ এপ্রিল
ব্যাখ্যা
বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার:
- ২৫ মার্চ দিবাগত রাত একটা থেকে দেড়টার মধ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ধানমন্ডির বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয়।
- গ্রেফতারের পূর্ব মুহূর্তে তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দেন।
- গ্রেফতারের তিনদিন পর তাকে বিমানযোগে পশ্চিম পাকিস্তানে নিয়ে যাওয়া হয়।
- সেখানে তাকে লায়াল্পুর (বর্তমান ফয়সালাবাদ) জেলে বন্দী করে রাখা হয়।
- এরপর ১০ এপ্রিল পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ বঙ্গবন্ধুকে বন্দী এবং হেফাজতে নেয়ার কথা ঘোষণা করে।
- বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর আন্তর্জাতিক চাপে পাকিস্তান সরকার ১৯৭২ সালের ৮ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণী, NCTB।
৩৩.
বঙ্গবন্ধু কবে জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিয়েছিলেন?
  1. ক) ২৮ জানুয়ারী, ১৯৭৫
  2. খ) ২৭ জানুয়ারী, ১৯৭৫
  3. গ) ২৬ জানুয়ারী, ১৯৭৫
  4. ঘ) ২৫ জানুয়ারী, ১৯৭৫
ব্যাখ্যা
• বঙ্গবন্ধু:
- বিপ্লব' বলতে একটি ব্যবস্থার আমূল বা মৌলিক পরিবর্তন বোঝায়।
- ১৯৭১ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে পাকিস্তান ভেঙে স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্রের অভ্যুদয় 'বাংলাদেশ বিপ্লব ৭১' হিসেবে চিহ্নিত।
- ১৯৭৫ সালের ২৫শে জানুয়ারি দেশের আর্থ- সামাজিক ও রাষ্ট্র ব্যবস্থার সার্বিক পরিবর্তন করার উদ্দেশ্যে বঙ্গবন্ধু সংবিধানে চতুর্থ সংশোধনী আনেন।
- চতুর্থ সংশোধনী পাস করে বাংলাদেশে সংসদীয় পদ্ধতির বদলে রাষ্ট্রপতি পদ্ধতির সরকার (বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ) কায়েম হয় ২৫ জানুয়ারি
- বঙ্গবন্ধু একে 'সিস্টেম চেইঞ্জ' বা 'দ্বিতীয় বিপ্লব' হিসেবে অভিহিত করেন। 

উৎস: sangbad.net.bd, যুগান্তর পত্রিকা রিপোর্ট।
৩৪.
দক্ষিণ আমেরিকার কোন দেশ প্রথম বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে? 
  1. উরুগুয়ে 
  2. ভেনিজুয়েলা
  3. আর্জেন্টিনা
  4. পানামা 
ব্যাখ্যা

• বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি:
- ৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ সালে বাংলাদেশকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসাবে সর্বপ্রথম স্বীকৃতি দেয় ভুটান।
- বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দানকারী দ্বিতীয় দেশ  ভারত (৬ ডিসেম্বর, ১৯৭১)।
- বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দানকারী প্রথম মুসলিম দেশ আফ্রিকার সেনেগাল।
- এশিয়ার মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া প্রথম বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়।
- প্রথম ইউরোপীয় দেশ হিসেবে ১৯৭২ সালের ১১ জানুয়ারি স্বীকৃতি দেয় পূর্ব-জার্মানি (১১ জানুয়ারি, ১৯৭২)।
- বাংলাদেশকে ৪ এপ্রিল, ১৯৭২ তারিখে স্বীকৃতি দেয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। 
- প্রথম আরব দেশ হিসেবে ইরাক ৮ জুলাই, ১৯৭২ তারিখে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়।
- দক্ষিণ আমেরিকার প্রথম স্বীকৃতি দানকারী দেশ- ভেনিজুয়েলা (২ মে, ১৯৭২)।
- সর্বশেষ দেশ হিসেবে চীন বাংলাদেশকে ১৯৭৫ সালের ৩১ আগস্ট স্বীকৃতি দেয়।

তথ্যসূত্র: কালের কন্ঠ ও প্রথম আলো।  

৩৫.
মুজিবনগর সরকারের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ছিলেন-
  1. ক) এম মনসুর আলী
  2. খ) মোশতাক আহমেদ
  3. গ) কামরুজ্জামান
  4. ঘ) তাজউদ্দীন আহমদ
ব্যাখ্যা

- ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল আনুষ্ঠানিকভাবে মুজিবনগর সরকারের মন্ত্রিসভা শপথ গ্রহণ করে এবং এই সরকারের কাঠামো ছিল নিম্নরূপ-
- রাষ্ট্রপতিঃ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান;
- উপরাষ্ট্রপতিঃ সৈয়দ নজরুল ইসলাম;
- প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রীঃ তাজউদ্দীন আহমদ;
- অর্থ, বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রীঃ এম মনসুর আলী;
- স্বরাষ্ট্র, কৃষি, ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রীঃ এ.এইচ.এম. কামরুজ্জামান,
- পররাষ্ট্র ও আইনমন্ত্রীঃ খন্দকার মোশতাক আহমেদ;
- প্রধান সেনাপতিঃ কর্নেল অবসরপ্রাপ্ত এম. এ. জি ওসমানী;
- চিফ অব স্টাফঃ কর্নেল (অব.) আব্দুর রব এবং
- ডেপুটি চিফ অব স্টাফ এবং বিমান বাহিনীর প্রধানঃ গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ. কে. খন্দকার।

উৎসঃ পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৩৬.
মুক্তিবাহিনীকে প্রথমে কী নামে ডাকা হতো?
  1. সংগ্রাম বাহিনী
  2. স্বাধীনতা বাহিনী
  3. মুক্তিফৌজ
  4. বিজয় বাহিনী
ব্যাখ্যা

• মুক্তিবাহিনী:
- মুক্তিবাহিনী  বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে সংগঠিত সশস্ত্রবাহিনী।
- শুরুতে এর নাম ছিল মুক্তিফৌজ। 

⇒ ১৯৭১ সালের মার্চের শুরু থেকে দেশের শহর ও গ্রাম এলাকায় ছাত্র ও যুব নেতৃবৃন্দের উদ্যোগে গঠিত সংগ্রাম পরিষদের কর্মীরাই পরবর্তী সময়ে সংগঠিত হয়ে মুক্তিফৌজ ও মুক্তিবাহিনী গঠন করে।

⇒ মুক্তিবাহিনীর সদস্যদের মূলত দুই শ্রেণীতে ভাগ করা যায়: প্রথম শ্রেণীর সদস্যরা ছিলেন পূর্ব পাকিস্তানের জাতীয়তাবাদী সেনাবাহিনীর সদস্যবৃন্দ, অন্যভাগ আসে ইতিপূর্বে শহর ও গ্রামে সংগঠিত সংগ্রাম পরিষদের বিভিন্ন শাখার সদস্য ও তাদের অনুসারী বেসামরিক জনগণ থেকে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম ও দশম শ্রেণি।

৩৭.
ক্র্যাক প্লাটুন স্বাধীনতা যুদ্ধে কোন সেক্টরের অধীনে অংশ নেয়?
  1. ১ নং সেক্টর
  2. ১০ নং সেক্টর
  3. ২ নং সেক্টর
  4. ৪ নং সেক্টর
ব্যাখ্যা

ক্র্যাক প্লাটুন:
- মুক্তিযুদ্ধে স্বতন্ত্র গেরিলা দল যারা মূলত গণবাহিনীর অংশ।
- এই বাহিনী স্বাধীনতা যুদ্ধে ২ নং সেক্টরের অধীন অংশ নেয়।
- ক্র্যাক প্লাটুন গঠনে প্রধান ভূমিকা পালন করেছিলেন খালেদ মোশাররফ এবং এটিএম হায়দার।
- ঢাকা শহরে এটি ৮২ টি অপারেশন পরিচালনা করে।
- এরা "হিট এন্ড রান" পদ্ধতিতে তাঁদের অপারেশন পরিচালনা করতো।
- এই প্লাটুনের অন্যতম সদস্য ছিলেন:
- শহীদ জননী জাহানার ইমাম, শহীদ রুমি ইমাম, আলতাফ মাহমুদ, পপ সম্রাট আজম খান প্রমুখ।
 
 উৎস:  বাংলাপিডিয়া, মুক্তিযুদ্ধ ই-আর্কাইভস, দ্যা দেইলি স্টার বাংলা।

৩৮.
Who was the Captain of 'S' force in the Liberation War?
  1. ক) Lt. General Ziaur Rahman
  2. খ) Major Khaled Musharraf
  3. গ) K.M Safiullah
  4. ঘ) Major Abu Osman Chowdhury
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধের সময় ব্রিগেড ফোর্স ছিল তিনটি। যথা: জেড ফোর্স, এস ফোর্স, কে ফোর্স।
• এস ফোর্স:
- সর্বাধিনায়ক ছিলেন- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
- প্রতিরক্ষামন্ত্রী ছিলেন- তাজউদ্দীন আহমদ।
- প্রধান সেনাপতি ছিলেন- কর্নেল (জেনারেল) মুহম্মদ আতাউল গণি ওসমানী।
- অধিনায়ক- মেজর (পরে মে. জেনারেল) কে এম সফিউল্লাহ, বীর উত্তম।

তথ্যসূত্র: চিরন্তন ১৯৭১, প্রথম আলো।
৩৯.
মুক্তিযুদ্ধের ৩ নং সেক্টরের সেক্টর কমান্ডর কে ছিলেন?
  1. মেজর জিয়াউর রহমান
  2. মেজর খালেদ মোশাররফ
  3. মেজর কে.এম. শফিউল্লাহ
  4. মেজর রফিকুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
• ৩ নং সেক্টর :
 - উত্তরে চূড়ামনকাঠি (শ্রীমঙ্গলের নিকট) থেকে সিলেট এবং দক্ষিণে ব্রাহ্মণবাড়ীয়ার সিঙ্গারবিল পর্যন্ত এলাকা নিয়ে গঠিত হয়।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর কে.এম শফিউল্লাহ এবং পরে মেজর এ.এন.এম নূরুজ্জামান।
- দুই ইস্ট বেঙ্গল এবং সিলেট ও ময়মনসিংহের ইপিআর বাহিনী সমন্বয়ে এই সেক্টর গঠিত হয়।
- সেক্টরের সদর দফতর ছিল হেজামারা।
- এই সেক্টরের অধীনে ১৯টি গেরিলা ঘাঁটি গড়ে উঠেছিল।
- নভেম্বর মাস পর্যন্ত গেরিলার সংখ্যা দাঁড়ায় প্রায় ত্রিশ হাজার।
- তারা কুমিল্লা-সিলেট সড়কে কয়েকটি সেতু বিধ্বস্ত করে পাক বাহিনীর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়।
- তাদের সবচেয়ে সফল আক্রমণ ছিল শায়েস্তাগঞ্জের নিকটে ট্যাঙ্ক বিধ্বংসী মাইনের সাহায্যে একটি রেলগাড়ি বিধ্বস্ত করা।

• এই সেক্টরের দশটি সাব-সেক্টর (কমান্ডারদের নামসহ) হচ্ছে:
- আশ্রমবাড়ি (ক্যাপ্টেন আজিজ এবং পরে ক্যাপ্টেন এজাজ);
- বাঘাইবাড়ি (ক্যাপ্টেন আজিজ এবং পরে ক্যাপ্টেন এজাজ);
- হাতকাটা (ক্যাপ্টেন মতিউর রহমান);
- সিমলা (ক্যাপ্টেন মতিন);
- পঞ্চবটী (ক্যাপ্টেন নাসিম);
- মনতলা (ক্যাপ্টেন এম.এস.এ ভূঁইয়া);
- বিজয়নগর (এম.এস.এ ভূঁইয়া);
- কালাছড়া (লেফটেন্যান্ট মজুমদার);
- কলকলিয়া (লেফটেন্যান্ট গোলাম হেলাল মোরশেদ);
- এবং বামুটিয়া (লেফটেন্যান্ট সাঈদ)।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৪০.
জাতিসংঘের কত তম সাধারণ অধিবেশনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলায় ভাষণ প্রদান করেন?
  1. ২৭তম
  2. ২৮তম
  3. ২৯তম
  4. ৩০তম
ব্যাখ্যা
জাতিসংঘের অধিবেশনে বঙ্গবন্ধুর বাংলায় ভাষণ:
- জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ২৯তম অধিবেশনে ১৯৭৪ সালের ১৭ই সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ জাতিসংঘের ১৩৬তম সদস্য হিসেবে সদস্যপদ লাভ করে।
- বঙ্গবন্ধু জাতিসংঘের কেবল ২৯তম অধিবেশনেই অংশগ্রহণ করেন।
- তার এক সপ্তাহ পরেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জাতিসংঘের সাধারন পরিষদের ২৯তম অধিবেশনে ২৫ সেপ্টেম্বর, ১৯৭৪ সালে প্রথমবারের মতো বাংলায় ভাষন প্রদান করেন।
- উল্লেখ্য, ২৯তম অধিবেশনে বাংলাদেশের সাথেই গ্রানাডা ও গিনি বিসাউ যথাক্রমে ১৩৭ ও ১৩৮তম সদস্য হিসাবে জাতিসংঘের সদস্য হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও জাতিসংঘের ওয়েবসাইট।
৪১.
বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের পদবী কি ছিল?
  1. সিপাহী
  2. ল্যান্সনায়েক
  3. লেফটেন্যান্ট
  4. ক্যাপ্টেন
ব্যাখ্যা

বীরশ্রেষ্ঠ ও তাদের কর্মস্থল:
- ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর: সেনাবাহিনী।
- সিপাহী মোস্তফা কামাল: সেনাবাহিনী। -
- ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান বিমান বাহিনী।
- ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ সাবেক ই. পি. আর.।
- ল্যান্স নায়েক মুন্সি আব্দুর রউফ সাবেক ই. পি. আর.।
- সিপাহী হামিদুর রহমান: সেনাবাহিনী।
- ইঞ্জিনরুম আর্টিফিসার মোহাম্মদ রুহুল আমিন নৌবাহিনী।

উৎস: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।

৪২.
Who was the first President of Bangladesh, serving from 17 April 1971 to 12 January 1972?
  1. Syed Nazrul Islam
  2. Mohammad Mohammadullah
  3. Sheikh Mujibur Rahman
  4. Abu Sayeed Chowdhury
ব্যাখ্যা
মুজিব নগর সরকার:

- ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল গঠিত মুজিব নগর সরকারের রাষ্ট্রপতি ও মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক ছিলেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
- ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল গঠিত মুজিব নগর সরকার শপথ গ্রহন করেন।
- মুজিবনগর সরকারের তথা প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের সদর দপ্তর ছিল কলকাতার ৮নং থিয়েটার রোড।
- শপথ পাঠ করান অধ্যাপক ইউসুফ আলী।
- উপ-রাষ্ট্রপতি এবং অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ছিলেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম।
- প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী ছিলেন তাজউদ্দিন আহমদ।
- পররাষ্ট্র, আইন ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন খন্দকার মোশতাক আহমেদ।
- অর্থ, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন এম. মনসুর আলী।
- স্বরাষ্ট্র, ত্রান ও পুনর্বাসন মন্ত্রনালয়ের দায়িত্বে ছিলেন এ এইচ এম কামরুজ্জামান।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া।
৪৩.
গান্ধী শান্তি পুরস্কার-২০২০ লাভ করেন কে?
  1. সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান
  2. বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
  3. অধ্যাপক আনিসুজ্জামান
  4. শেখ হাসিনা
ব্যাখ্যা
- ভারত সরকার প্রদত্ত গান্ধী শান্তি পুরস্কার-২০২০ লাভ করেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
- ভারত সরকার ১৯৯৫ সাল থেকে এই পুরস্কার দিয়ে আসছে।
- মহাত্মা গান্ধীর ১২৫তম জন্মবার্ষিকীতে এই পুরস্কারের প্রবর্তন করা হয়।। জাতীয়তা, বর্ণ, ভাষা বা লিঙ্গ নির্বিশেষে সকল ব্যক্তির জন্য এই পুরস্কারটি উন্মুক্ত রয়েছে।
তথ্যসূত্র: প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরো, ভারত)
৪৪.
মুক্তিযুদ্ধের একমাত্র ব্যতিক্রমী সেক্টর কোনটি?
  1. ৫ নং
  2. ৭ নং
  3. ১০ নং
  4. ১১ নং
ব্যাখ্যা

মুক্তিযুদ্ধ:
- মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করা হয়েছিলো।
- মুক্তিযুদ্ধের সময় ১০ নং সেক্টরটি ছিল ব্যতিক্রমধর্মী।
- নৌ-বাহিনীর অধীনে ছিল: ১০ নং সেক্টর (সকল নদী ও-বঙ্গোপসাগর)।
- ১০ নং সেক্টরে কোনো সেক্টর কমান্ডার ছিল না।
- প্রধান সেনাপতির নিয়ন্ত্রণাধীন বিশেষ বাহিনী ছিল এটি।

অন্যদিকে,
- সেক্টর নং ৫:
- বৃহত্তর ময়মনসিংহের সীমান্তবর্তী অঞ্চল এবং সিলেট জেলার অংশ বিশেষ নিয়ে ‘সেক্টর নং ৫‘ গঠিত হয় ।
- মেজর মীর শওকত আলী ছিলেন সেক্টর কমান্ডার। এই সেক্টরকেও ৬টি সাব-সেক্টরে ভাগ করা হয়ছিল

• সেক্টর নং ৭: 
- রাজশাহী, পাবনা, ব্রহ্মপুত্র নদীর তীরবর্তী এলাকা ব্যতীত সমগ্র বগুড়া, দিনাজপুরের দক্ষিণ অঞ্চল এবং রংপুরের কিছু অংশ ছিল ‘সেক্টর নং ৭’ এর অন্তর্ভুক্ত।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন তিনজন -মেজর নাজমুল হক, সুবেদার মেজর এ রব ও মেজর (পরে লে. কর্নেল) কাজী নুরুজ্জামান।
- এই সেক্টরে ছিল ৯টি সাব-সেক্টর।

• সেক্টর নং ১১:
- কিশোরগঞ্জ বাদে ময়মনসিংহ ও টাঙ্গাইল জেলা নিয়ে গঠিত হয় ‘সেক্টর নং ১১’।
- ১৯৭১ সালের এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত এই সেক্টরের কমান্ডার ছিলেন মেজর জিয়াউর রহমান ।
- নভেম্বর পর্যন্ত সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর আবু তাহের ও তারপর ফ্লাইট লেফট্যান্যান্ট (পরে উইং কমান্ডার) এম হামিদুল্লাহ খান। - এই সেক্টরকে ৭টি সাব-সেক্টর ভাগ করা হয়েছিল।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বিবিসি বাংলা।

৪৫.
বঙ্গবন্ধুকে হিমালয়ের সাথে তুলনা করেছেন কোন নেতা?
  1. সুভাষ বসু
  2. ইন্দিরা গান্ধী
  3. ফিদেল কাস্ত্রো
  4. গাদ্দাফি
ব্যাখ্যা
আমি হিমালয় দেখিনি, শেখ মুজিবকে দেখেছি:
- ‘আমি হিমালয় দেখিনি কিন্তু শেখ মুজিবকে দেখেছি। ব্যক্তিত্ব ও সাহসিকতায় এই মানুষটি  হিমালয়’— ফিদেল কাস্ত্রো।
- ফিদেল কাস্ত্রো ছিলেন কিউবা প্রজাতন্ত্রের সাবেক প্রধানমন্ত্রী।
- ফিদেল কাস্ত্রো ছিলেন একজন জগৎখ্যাত বিপ্লবী ও একজন মুক্তিদাতা।
- তিনি তার দ্বীপ জাতিকে ঔপনিবেশিক শক্তি এবং মাফিয়া ডনদের হাত থেকে উদ্ধার করেছিলেন; যারা ১৬ শতকের অর্ধেক থেকে ২০ শতকের মধ্যে শাসন করেছিল এবং ল্যাটিন আমেরিকা ও আফ্রিকার অন্যান্য স্বাধীনতা আন্দোলনে অনুপ্রাণিত করেছেন যে নেতা, যে যোদ্ধা।

উৎস: ৯ মার্চ ২০২২, যুগান্তর।
৪৬.
স্বাধীন বাংলাদেশের নির্বাচিত প্রথম প্রধানমন্ত্রী ছিলেন কে?
  1. শেখ মুজিবুর রহমান
  2. তাজউদ্দিন আহমদ
  3. সৈয়দ নজরুল ইসলাম
  4. আতাউর রহমান খান
ব্যাখ্যা
স্বাধীন বাংলাদেশের নির্বাচিত প্রথম প্রধানমন্ত্রী ছিলেন - শেখ মুজিবুর রহমান

• সংসদ নেতা হলেন বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে শাসক দলের নেতা, যিনি জাতীয় সংসদে সরকারের কার্যক্রম নির্ধারন ও পরিচালনার জন্য দায়ী থাকেন।
• সংসদ নেতা সংসদ সদস্যদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থনের ভিত্তিতে নির্বাচিত হন।
• বাংলাদেশের প্রথম সংসদ নেতা ছিলেন শেখ মুজিবুর রহমান।
• বর্তমানে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সংসদ নেতার কার্যালয় অবস্থিত।
• বর্তমান সংসদ নেতা হলেন শেখ হাসিনা।

তথ্যসূত্র:- সংসদ সচিবালয় ও আওয়ামী লীগ ওয়েবসাইট।
৪৭.
বাংলাদেশের প্রথম নৌবহরের নাম -
  1. ক) বঙ্গবন্ধু
  2. খ) তিতুমীর
  3. গ) ঈশা খাঁ
  4. ঘ) সম্রাট
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ নৌবাহিনী

- মুক্তিযুদ্ধে নিয়মিত বাহিনী হিসাবে নৌবাহিনীও গড়ে তোলা হয়।
- ১৯৭১ সালের নভেম্বর মাসে এ বাহিনী গড়ে তোলা হয়।
- ৯ নভেম্বর পাকবাহিনীর কাছ থেকে ৬টি দখলকৃত নৌযান নিয়ে প্রথম ‘বঙ্গবন্ধু' নৌবহরের উদ্বোধন করা হয়।
- যুদ্ধের শেষদিকে নৌবাহিনী গঠিত হলেও নৌপথে যুদ্ধ পরিচালনার কৃতিত্ব মূলত নৌ-কমান্ডো গেরিলাদের।


তথ্যসূত্র: ইতিহাস ৩, বিএ অ্যান্ড বিএসএস প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৪৮.
‘চিরঞ্জীব মুজিব’ চলচ্চিত্রের পরিচালক -
  1. শ্যাম বেনেগাল
  2. সন্তু রায়
  3. সেলিম খান
  4. নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
চিরঞ্জীব মুজিব:
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রচিত অসমাপ্ত আত্মজীবনী গ্রন্থ অবলম্বনে নির্মিত চলচ্চিত্র হলো চিরঞ্জীব মুজিব।
- এটির পরিচালনা করেন প্রধানমন্ত্রীর স্পিচ রাইটার নজরুল ইসলাম।
- হায়দার এন্টারপ্রাইজের ব্যানারে নির্মিত চলচ্চিত্রটি আগস্ট মাসে মুক্তি পায়।
- চলচ্চিত্রটিতে বঙ্গবন্ধু চরিত্রে অভিনয় করেন আহমেদ রুবেল।
 
উৎস: ১ জানুয়ারি ২০২২, প্রথম আলো।
৪৯.
বঙ্গবন্ধুর লেখা প্রকাশিত দ্বিতীয় বইয়ের নাম কী?
  1. ক) আমার কিছু কথা
  2. খ) রক্তাক্ত বাংলা
  3. গ) কারাগারের রােজনামচা
  4. ঘ) অসমাপ্ত আত্মজীবনী
ব্যাখ্যা
কারাগারের রোজনামচা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রচিত দ্বিতীয় গ্রন্থ। তার রচিত প্রথম গ্রন্থ - অসমাপ্ত আত্মজীবনী। বঙ্গবন্ধু রচিত তৃতীয় গ্রন্থ ‘আমার দেখা নয়া চীন’।
- এটি ২০১৭ সালের ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর ৯৮ তম জন্মবার্ষিকীতে বাংলা একাডেমি প্রকাশ করে।
- এতে ১৯৬৬ থেকে ১৯৬৮ সাল পর্যন্ত বঙ্গবন্ধুর জেল জীবন ও রাজনৈতিক ইতিহাস স্থান পেয়েছে। এটির পৃষ্ঠা সংখ্যা ৩৩২।
- এটির ভূমিকা লিখেন শেখ হাসিনা এবং নামকরণ করেন শেখ রেহানা।

উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ সাম্প্রতিক সমাচার, কারাগারের রোজনামচা, অসমাপ্ত আত্মজীবনী এবং দৈনিক প্রথম আলো
৫০.
প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘জুলিও কুরী’ পুরস্কার প্রদান করা হয় কত সালে?
  1. ক) ১৯৭২ সালের ১৩ অক্টোবর
  2. খ) ১৯৭৩ সালের ২৩ অক্টোবর
  3. গ) ১৯৭৩ সালের ২৩ মে
  4. ঘ) ১৯৭২ সালের ২৪ মে
ব্যাখ্যা

শান্তিতে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে 'বিশ্ব শান্তি পরিষদ' জুলিও কুরি শান্তি পদকে ভূষিত করে।
- ১৯৭২ সালের ১০ অক্টোবর চিলির সান্টিয়াগো শহরে অনুষ্ঠিত বিশ্ব শান্তি পরিষদের সভায় বঙ্গবন্ধুকে ১৯৫০ সালে প্রবর্তিত জুলিও কুরি শান্তি পদকের জন্যে মনোনীত করা হয়।
- ১৯৭৩ সালের ২৩শে মে ঢাকায় বিশ্ব শান্তি পরিষদ আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে এর তৎকালীন মহাসচিব রমেশ চন্দ্র বঙ্গবন্ধুর হাতে জুলিও কুরি শান্তি পদক তুলে দেন।

সূত্রঃ কারাগারের রোজনামচা ও আওয়ামীলীগ ওয়েবসাইট।

৫১.
বঙ্গবন্ধুর দ্বিতীয় বই কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ক) ২০১২ সালে
  2. খ) ২০১৫ সালে
  3. গ) ২০০১ সালে
  4. ঘ) ২০১৭ সালে
ব্যাখ্যা
বঙ্গবন্ধুর লেখা বইসমূহ:

- বঙ্গবন্ধুর প্রথম বই অসমাপ্ত আত্মজীবনী প্রকাশিত হয় ২০১২ সালে। অসমাপ্ত আত্মজীবনী লেখা হয়েছে ১৯৬৭ সালের মাঝামাঝি সময়ে যখন তিনি কারারুদ্ধ ছিলেন। আত্মজীবনীর শুরু হয়েছে তাঁর জন্মের সময় থেকে; পাশাপাশি এসেছে পিতৃপুরুষের কথাও। আর বইটি শেষ হয়েছে ১৯৫৪ সালের ঘটনাবলি দিয়ে।
- বঙ্গবন্ধুর দ্বিতীয় বই কারাগারের রোজনামচা ২০১৭ সালে প্রকাশিত হয়। এই গ্রন্থের নামকরণ করেছেন শেখ রেহানা। এই বইও বঙ্গবন্ধু কারাগারে বসে রচনা করেন।
- বঙ্গবন্ধুর লেখা তৃতীয় বই আমার দেখা নয়াচীন ২০২০ সালে প্রকাশিত হয়। এই বইটিও কারাগারে রাজবন্দী থাকার সময়ে রচিত। বঙ্গবন্ধু ১৯৫২ সালের অক্টোবর মাসে চীনের পিকিংয়ে অনুষ্ঠিত এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় আঞ্চলিক শান্তি সম্মেলনে পাকিস্তানের প্রতিনিধি হিসেবে যোগ দেন। সে সময় নয়াচীন দেখার অভিজ্ঞতার আলোকে বইটি রচিত।

তথ্যসূত্র - দৈনিক প্রথম আলো, ১৪ই আগস্ট ২০২০।
৫২.
মুক্তিযুদ্ধকালীন ৮ নং সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার কে ছিলেন?
  1. মেজর চিত্তরঞ্জন দাশ
  2. মেজর আবু ওসমান চৌধুরী
  3. মেজর আবু হায়দার চৌধুরী
  4. মেজর জিয়াউর রহমান 
ব্যাখ্যা

• মুক্তিযুদ্ধকালীন ৮ নং সেক্টর
- এপ্রিল মাসে এই সেক্টরের অপারেশনাল এলাকা ছিল কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা, বরিশাল, ফরিদপুর ও পটুয়াখালী জেলা।
- মে মাসের শেষে অপারেশন এলাকা সঙ্কুচিত করে কুষ্টিয়া, যশোর ও খুলনা জেলা, সাতক্ষীরা মহকুমা এবং ফরিদপুরের উত্তরাংশ  নিয়ে এই সেক্টর পুনর্গঠিত হয়।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর আবু ওসমান চৌধুরী এবং পরে মেজর এম.এ মঞ্জুর। 
- এই সেক্টরের হেডকোয়ার্টার ছিল কল্যানীতে। 
- সেক্টরের সৈন্যদের মধ্যে ৩০০০ ছিল নিয়মিত বাহিনী এবং ২৫০০০ গেরিলা সৈন্য। 
 
• এই সেক্টরের সাতটি সাব-সেক্টর (কমান্ডারদের নামসহ) হচ্ছে: 
- বয়রা (ক্যাপ্টেন খোন্দকার নজমুল হুদা); 
- হাকিমপুর (ক্যাপ্টেন শফিক উল্লাহ); 
- ভোমরা (ক্যাপ্টেন সালাহউদ্দিন এবং পরে ক্যাপ্টেন শাহাবুদ্দীন); 
- লালবাজার (ক্যাপ্টেন এ.আর আযম চৌধুরী); 
- বানপুর (ক্যাপ্টেন মুস্তাফিজুর রহমান); 
- বেনাপোল (ক্যাপ্টেন আবদুল হালিম এবং পরে ক্যাপ্টেন তৌফিক-ই-এলাহী চৌধুরী);
- শিকারপুর (ক্যাপ্টেন তৌফিক-ই-এলাহী চৌধুরী এবং পরে লেফটেন্যান্ট জাহাঙ্গীর)।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৫৩.
মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশের বিরোধিতাকারী দেশ নয় কোনটি?
  1. ক) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র
  2. খ) ইরান
  3. গ) সোভিয়েত ইউনিয়ন
  4. ঘ) সৌদি আরব
ব্যাখ্যা

- ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, চীন, ইরান, সৌদি আরবসহ বেশ কিছু দেশ বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়।
- এদের মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ১৯৭১ সালের ডিসেম্বরে পাকিস্তানকে সাহায্য করতে বঙ্গোপসাগরের উদ্দেশ্যে টাস্কফোর্স-৭৪ নামে নৌবহর প্রেরণ করে।
- তবে মার্কিন জনগণ, গণমাধ্যম ও কিছু কংগ্রেসম্যান পাকিস্তানী বর্বরতার নিন্দা জানায় এবং বাঙালিদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে।

অন্যদিকে,
- ভারত, সোভিয়েত ইউনিয়ন, ইরাকসহ বিভিন্ন দেশ বাংলাদেশের পক্ষে অবস্থান নেয়।
- যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, কানাডা, ইতালিসহ পশ্চিমা দেশগুলোর সাধারণ জনগণ ও প্রচারমাধ্যমসমূহে পাকিস্তানী বর্বরতার নিন্দা জানানো হয়।
- লন্ডন ছিলো বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের প্রধান প্রচারকেন্দ্র।

তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী।

৫৪.
কোন দেশ জাতিসংঘে বাংলাদেশ-পাকিস্তান যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে ভেটো প্রদান করে?
  1. যুক্তরাষ্ট্র
  2. চীন
  3. যুক্তরাজ্য
  4. সোভিয়েত ইউনিয়ন
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশ-পাকিস্তান যুদ্ধবিরতি:
- ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ডিসেম্বর মাসে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে পাকিস্তানপন্থী যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব মোট তিনবার উত্থাপিত হয়।
- বিশেষ করে ৪ ও ৫ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্র ভারত–পাকিস্তান যুদ্ধ বন্ধ ও সেনা প্রত্যাহারের প্রস্তাব তোলে।
- এসব প্রস্তাব গৃহীত হলে যুদ্ধ তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ হয়ে যেত;
- এবং পাকিস্তানি সেনাবাহিনী বাংলাদেশে থেকেই যেত, ফলে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জন মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হতো।
- এই বাস্তবতা বিবেচনায় সোভিয়েত ইউনিয়ন (বর্তমান রাশিয়া) প্রস্তাবগুলোর বিরুদ্ধে ভেটো প্রয়োগ করে।

- সোভিয়েত ইউনিয়নের এই ভেটোর ফলে:
• যুদ্ধ চালু থাকে,
• মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনীর অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকে এবং
• শেষ পর্যন্ত পাকিস্তান বাহিনীর পরাজয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশের চূড়ান্ত বিজয় ও স্বাধীনতা নিশ্চিত হয়।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন। 

৫৫.
বঙ্গবন্ধু জুলিও কুরি শান্তি পদক গ্রহণ করেন কবে?
  1. ১০ অক্টোবর ১৯৭২
  2. ১৭ জানুয়ারি ১৯৭৩
  3. ২৩ মে ১৯৭৩
  4. ২৩ অক্টোবর ১৯৭৩
ব্যাখ্যা
- শান্তিতে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে বিশ্ব শান্তি পরিষদ জুলিও কুরি শান্তি পদকে ভূষিত করে।
- ১৯৭২ সালের ১০ অক্টোবর চিলির সান্টিয়াগো শহরে অনুষ্ঠিত বিশ্ব শান্তি পরিষদের সভায় বঙ্গবন্ধুকে জুলিও কুরি শান্তি পদকের জন্যে মনোনীত করা হয়।
- ১৯৭৩ সালের ২৩শে মে ঢাকায় বিশ্ব শান্তি পরিষদ আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে এর তৎকালীন মহাসচিব রমেশ চন্দ্র বঙ্গবন্ধুর হাতে জুলিও কুরি শান্তি পদক তুলে দেন।
- জুলিও কুরি শান্তি পদক প্রবর্তিত হয় ১৯৫০ সালে।
(তথ্যসূত্রঃ কারাগারের রোজনামচা ও একুশে টেলিভিশন)
৫৬.
বঙ্গবন্ধুর কনিষ্ঠ সন্তানের নাম কি?
  1. ক) শেখ কামাল
  2. খ) শেখ রাসেল
  3. গ) শেখ হাসিনা
  4. ঘ) শেখ রেহানা
ব্যাখ্যা
শেখ রাসেল (অক্টোবর ১৮, ১৯৬৪ – আগস্ট ১৫, ১৯৭৫) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সর্বকনিষ্ঠ পুত্র।
৫৭.
The Cruel Birth of Bangladesh বইটির লেখক কে?
  1. রিচার্ড নিক্সন 
  2. আর্চার কেন্ট ব্লাড
  3. জেনারেল মানকেশ 
  4. অ্যান্থনি মাসকারেনহাস 
ব্যাখ্যা

• The Cruel Birth of Bangladesh: 
- "The Cruel Birth of Bangladesh" বইটির লেখক হলেন আর্চার কেন্ট ব্লাড (Archer Kent Blood)
- আর্চার কে. ব্লাড ছিলেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত যিনি ১৯৭০-এর দশকের শুরুতে ঢাকা, পূর্ব পাকিস্তানে (বর্তমান বাংলাদেশ) কর্মরত ছিলেন।
- ১৯৭১ সালের বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি ঢাকায় মার্কিন কনস্যুল জেনারেল ছিলেন। 
- তিনি পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর দ্বারা বাঙালিদের বিরুদ্ধে নৃশংসতার নিবিড় বর্ণনা প্রেরণ করেছিলেন। 
- এই বইটি ২০০২ সালে প্রকাশিত হয় যেখানে তিনি যুদ্ধ ও পাকিস্তানি সেনাদের অত্যাচারের বিবরণ দিয়েছেন। 
- "নিষ্ঠুর জন্ম" শিরোনামটি বাংলাদেশের অত্যন্ত সংঘর্ষপূর্ণ জন্ম প্রসঙ্গে ইঙ্গিত করে।

তথ্যসূত্র: দ্য ডেলি স্টার পত্রিকা রিপোর্ট।[

৫৮.
নিচের কোন ব্যাক্তি মুজিবনগর মন্ত্রিসভার সদস্য ছিলেন না?
  1. ক) এম মনসুর আলী
  2. খ) অধ্যাপক এম ইউসুফ আলী
  3. গ) এএইচএম কামরুজ্জামান
  4. ঘ) ক্যাপ্টেন (অব.) এম মনসুর আলী
ব্যাখ্যা
মুজিবনগর মন্ত্রিসভার সদস্য ছিলেন না - অধ্যাপক এম ইউসুফ আলী।

• মুজিবনগর সরকার:
 
- ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল বাংলাদেশে প্রথম সরকার গঠিত হয়।
- এটি ‘অস্থায়ী প্রবাসী সরকার বা মুজিবনগর সরকার’ নামে পরিচিত। ১৭ এপ্রিল ১৯৭১ এই সরকার শপথ গ্রহণ করে।
- রাষ্ট্রপতি শাসিত মুজিবনগর সরকারের সদস্য সংখ্যা ছিলো ছয়জন।
 -এরা হলেন:
- রাষ্ট্রপতি : বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, 
- প্রধানমন্ত্রী : তাজউদ্দীন আহমদ, 
- উপরাষ্ট্রপতি ও ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি : সৈয়দ নজরুল ইসলাম,
- অর্থ ও বাণিজ্য মন্ত্রী : এম মনসুর আলী,  
- স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রী : এএইচএম কামরুজ্জামান,
- পররাষ্ট্র, আইন ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী : খন্দকার মুশতাক আহমেদ।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণি।
৫৯.
বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের 'অন্তবর্তীকালীন শাসনতন্ত্র আদেশ, ১৯৭২' জারি করেন কবে?
  1. ১০ জানুয়ারি, ১৯৭২
  2. ১১ জানুয়ারি, ১৯৭২
  3. ১২ জানুয়ারি, ১৯৭২
  4. ১৩ জানুয়ারি, ১৯৭২
ব্যাখ্যা
বঙ্গবন্ধুর সরকার প্রধানের দায়িত্ব গ্রহণ:
- ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তান বাহিনীর আত্মসমর্পণের কয়েকদিনের মধ্যেই মুজিবনগর প্রশাসনের সিনিয়র আমলাবৃন্দ সচিব রুহুল কুদ্দুসের নেতৃত্বে ঢাকায় এসে প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণভার গ্রহণ করেন।
- ২২ ডিসেম্বর মুজিবনগর সরকারের সদস্যবৃন্দ ঢাকায় আসেন। 
- ১৯৭২ সালের ৮ জানুয়ারি পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্তিলাভের পর লন্ডন-দিল্লি হয়ে ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি তারিখে বঙ্গবন্ধু ঢাকায় প্রত্যাবর্তন করেন।
- ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল তাজউদ্দিন আহমদ কর্তৃক প্রবাসী সরকার গঠনের সময়েই বঙ্গবন্ধু ঐ সরকারের প্রেসিডেন্ট মনোনীত হয়েছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের নয় মাস তাঁর অনুপস্থিতিতেও বঙ্গবন্ধু সেই পদে বহাল ছিলেন।
- ১৯৭২ সালের ১১ জানুয়ারি রাতে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের 'অন্তবর্তীকালীন শাসনতন্ত্র আদেশ, ১৯৭২' জারি করেন।
- এই আদেশের মাধ্যমে বাংলাদেশে সংসদীয় সরকার পদ্ধতি প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ১২ জানুয়ারি, ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধু প্রধান বিচারপতির কাছে প্রথমে দেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন এবং পরে পদত্যাগ করে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
- তখন বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট নিযুক্ত হন বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী।
- প্রধান বিচারপতি মনোনীত হন বিচারপতি আবু সাদাত মোঃ সায়েম।
- ১২ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু ১২ সদস্য বিশিষ্ট মন্ত্রিসভা গঠন করেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬০.
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মুক্তিযুদ্ধের পর স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করেন-
  1. ৮ জানুয়ারি, ১৯৭২ সালে
  2. ২২ ডিসেম্বর, ১৯৭১ সালে
  3. ৯ জানুয়ারি, ১৯৭১ সালে
  4. ১০ জানুয়ারি, ১৯৭২ সালে
ব্যাখ্যা

• ৮ জানুয়ারি, ১৯৭২ সালে পাকিস্তান সরকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে আন্তর্জাতিক চাপে পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্তি দেয়।
• সেদিনই বঙ্গবন্ধুকে ঢাকার উদ্দেশ্যে লন্ডন পাঠানো হয়।
• লন্ডন থেকে ঢাকা আসার পথে বঙ্গবন্ধু দিল্লিতে যাত্রাবিরতি করেন।
• বিমানবন্দরে ভারতের রাষ্ট্রপতি ভি. ভি. গিরি ও প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী বঙ্গবন্ধুকে স্বাগত জানান।
• পরবর্তীতে বঙ্গবন্ধু ১০ জানুয়ারি ঢাকায় পৌঁছলে তাকে অবিস্মরণীয় সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।
• সেই দিনকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য ১০ জানুয়ারি বাংলাদেশে স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস পালিত হয়।
উৎসঃ পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৬১.
বঙ্গবন্ধুকে গ্রেপ্তারের অপারেশনটির নাম ছিল -
  1. অপারেশন ব্লুবার্ড
  2. অপারেশন ব্ল্যাকবার্ড
  3. অপারেশন বিগবার্ড
  4. অপারেশন ক্যাচবার্ড
ব্যাখ্যা
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান:
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় (বাইগার নদীর তীরে)।
- বঙ্গবন্ধু আনুষ্ঠানিকভাবে রাজনীতিতে অভিষিক্ত হন ১৯৪৪ সালে কুষ্টিয়ায় অনুষ্ঠিত নিখিল বঙ্গ মুসলিম ছাত্রলীগের সম্মেলনে যোগদানের মাধ্যমে।
- ১৯৪৮ সালের ৪ জানুয়ারি ছাত্রলীগ প্রতিষ্ঠা করেন।
- ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন আওয়ামী মুসলিম লীগ গঠিত হয়।
- ভাষার দাবিতে বঙ্গবন্ধু কারাগারে ১৩ দিন অনশন করেছিলেন।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব আনুষ্ঠানিকভাবে ২৩ মার্চ, ১৯৬৬ ছয়দফা ঘোষণা করেন।
- শেখ মুজিবুর রহমানকে 'বঙ্গবন্ধু' উপাধি দেন তৎকালীন ডাকসুর ভিপি তোফায়েল আহমেদ।
- 'বঙ্গবন্ধু' উপাধি দেওয়া হয় রেসকোর্স ময়দানে ।
- বঙ্গবন্ধু পূর্ব বাংলাকে 'বাংলাদেশ' নামকরণ করেন ৫ ডিসেম্বর, ১৯৬৯।
- ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব দেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
- বঙ্গবন্ধুকে 'জাতির জনক' উপাধি দেওয়া হয় ৩ মার্চ ১৯৭১ (উপাধি দেন আ স ম আবদুর রব)।
- ১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধু ৭ মার্চের ভাষণ দেন ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে, যা এখন সোহরাওয়ার্দী উদ্যান নামে পরিচিত।
- ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ বঙ্গবন্ধুর ভাষণের ব্যাপ্তি ছিল ১৮ মিনিট ।
- বঙ্গবন্ধুর ধানমন্ডির বাড়িতে প্রথম ২৩ মার্চ, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করা হয়।

অপারেশন বিগবার্ড:
- ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ মধ্যরাত অর্থাৎ ২৬ মার্চে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন।
- এরপরই পাকিস্তানি সেনাবাহিনী বঙ্গবন্ধুকে গ্রেপ্তার করে।
- বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করা হয় অপারেশন বিগবার্ড এর মাধ্যমে।
- পাক-ব্রিগ্রেডিয়ার জহির আলম খান ও মেজর বেলাল বঙ্গবন্ধুকে গ্রেপ্তারে নেতৃত্ব দেয়।
- বঙ্গবন্ধুকে গ্রেপ্তারের রেডিও বার্তা ছিল: The Big Bird in Cage।

উৎস: শতবর্ষে শত তথ্যে 'বঙ্গবন্ধু'।
৬২.
বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা প্রথমবারের মতো উত্তোলন করেন কে? 
  1. কামরুল হাসান
  2. সিরাজ চৌধুরী
  3. আ স ম আব্দুর রব
  4. মাওলানা ভাসানী 
ব্যাখ্যা

জাতীয় পতাকা: 
- জাতীয় পতাকা প্রথম উত্তোলন হয় ২রা মার্চ, ১৯৭১ সালে।
- স্থান: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবনের পশ্চিম দিকের গেটে।
- উত্তোলন করেন: ছাত্রনেতা আ. স. ম. আবদুর রব।
- বাংলাদেশের আনুষ্ঠানিক স্বাধীনতা ঘোষণার পূর্বেই পাকিস্তান রাষ্ট্রকে প্রত্যাখ্যানের শামিল।

উল্লেখ্য,
- স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু ১৯৭২ সালে পটুয়া কামরুল হাসানকে দায়িত্ব দেন জাতীয় পতাকার নকশা চূড়ান্ত করার।
- পটুয়া কামরুল হাসানের হাতেই আমাদের জাতীয় পতাকা বর্তমান রূপ লাভ করেছে।

​উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম দশম শ্রেণি।

৬৩.
'বায়ান্নর দিনগুলো' কার লেখা স্মৃতি সংকলন?
  1. ক) আবুল মনসুর আহমেদ
  2. খ) কাজী আবদুল ওদুদ
  3. গ) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
  4. ঘ) সেলিনা হোসেন
ব্যাখ্যা

'বায়ান্নর দিনগুলো' রচনাটি শেখ মুজিবুর রহমানের কারাগারে অতিবাহিত দিনগুলোর স্মৃতিবিজড়িত সংকলন। 
‘বায়ান্নর দিনগুলো’ রচনাটি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ গ্রন্থ থেকে সংকলিত হয়েছে। 

- ১৯৬৭ সালের মাঝামাঝি সময়ে ঢাকা সেন্ট্রাল জেলে রাজবন্দি থাকা অবস্থায় বঙ্গবন্ধু এই আত্মজীবনী লেখা শুরু করেন এবং ১৯৬৮ সালের ১৭ জানুয়ারি ঐতিহাসিক আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় ঢাকা সেনানিবাসে আটক থাকার সময় তা লেখা বন্ধ হয়ে যায়।
- বায়ান্ন সালের ভাষা আন্দোলনের নানা বিষয় এবং বঙ্গবন্ধুর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা এ রচনায় ফুটে উঠেছে।

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক সাহিত্য পাঠ।

৬৪.
‘লোকটি এবং তার দল পাকিস্তানের শত্রু, এবার তারা শাস্তি এড়াতে পারবে না’- এ দম্ভোক্তিকারী ব্যক্তিটি কে?
  1. জেনারেল হামিদ খান
  2. জেনারেল ইয়াহিয়া খান
  3. জেনারেল নিয়াজী
  4. জেনারেল টিক্কা খান
ব্যাখ্যা
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান:
- ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাত ১১ টার দিকে ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট থেকে বেলুচিস্তানের কসাই হিসেবে কুখ্যাত লেফটেন্যান্ট জেনারেল টিক্কা খানের নির্দেশ ছিল- 'আজ রাতেই সামরিক অভিযান'।
- কুখ্যাত অপারেশন সার্চলাইট বাস্তবায়নের এটা ছিল সবুজ সংকেত।
- ঢাকায় মোতায়েন পাকিস্তানি আর্মির এক পদস্থ অফিসার দম্ভভরে বলেছিলেন- পাকিস্তানি আর্মির সক্ষমতা ও শৃঙ্খলা নিয়ে সন্দেহ পোষণ করা অনুচিত, তারা বিশ্ব সেরা। কিন্তু তারা ভুলে গিয়েছিল জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানের সেই অমর উক্তি- 'সাত কোটি মানুষকে দাবায়া রাখতে পারবা না... যার যা আছে তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবিলা কর।'
- পাকিস্তান সশস্ত্র বাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডের জনসংযোগ অফিসার সিদ্দিক সালেক তার উইটনেস টু সারেন্ডার গ্রন্থে লিখেছেন, '২৩ মার্চ মার্শাল ল' সদর দফতর ও গভর্নর হাউস ছাড়া আর কোথাও পাকিস্তানের পতাকা দেখা যায়নি। বেতার-টেলিভিশনে গাওয়া হয় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালবাসি...' গান [উইটনেস টু সারেন্ডার, পৃষ্ঠা ৬৭।
- ২৫ মার্চ অপারেশন সার্চলাইট বাস্তবায়ন শুরুর পর পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট জেনারেল ইয়াহিয়া খান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সম্পর্কে বিদ্বেষপূর্ণ ভাষায় বলেছিলেন, 'ওই লোক এবং তার দল আওয়ামী লীগ পাকিস্তানের শত্রু। এই অপরাধের বিচার হবেই। দিস টাইম হি উইল নট গো আনপানিশন্ড। আওয়ামী লীগ ইজ ব্যান্ড।

উৎস: তথ্য অধিদফতর (পিআইডি) ওয়েবসাইট।
৬৫.
মুজিবনগর সরকারের সদর দপ্তর ছিল-
  1. ক) ডালহৌসি স্ট্রিট, কলকাতা
  2. খ) কলেজ স্ট্রিট, কলকাতা
  3. গ) থিয়েটার রোড, কলকাতা
  4. ঘ) পার্ক স্ট্রিট, কলকাতা
ব্যাখ্যা

- প্রবাসী বাংলাদেশ সরকার বা মুজিবনগর সরকারের সদর দপ্তর ছিল কলকাতার ৮ নং থিয়েটার রোডে।
- মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকার বা মুজিবনগর সরকার সেখান থেকে মুক্তিযুদ্ধের যাবতীয় রাজনৈতিক ও সামরিক দিক নির্দেশনা দিত।
- অন্যদিকে মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলায় বর্তমান মুজিবনগরে প্রবাসী সরকারের গঠন ও শপথ অনুষ্ঠান পরিচালিত হয়েছিল।

৬৬.
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কবে প্রথম স্বাধীন বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন করেন?
  1. ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১
  2. ১০ জানুয়ারি ১৯৭২
  3. ১২ জানুয়ারি ১৯৭২
  4. ৭ মার্চ ১৯৭২
ব্যাখ্যা
বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন:
- ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি দখলদারী থেকে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ৮ জানুয়ারি ১৯৭২ সালে শেখ মুজিবকে পাকিস্তানি কারাগার হতে মুক্তি দেওয়া হয়।
- ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি তিনি লন্ডন হয়ে বিজয়ীর বেশে স্বদেশ প্রর্ত্যাবর্তন করেন। সারা দেশে আনন্দ ও উচ্ছ্বাসের বন্যা বয়ে যায়।
- সমাজের সর্বস্তরের লাখো জনতা তেজগাঁ পুরাতন বিমানবন্দরে তাঁকে বীরোচিত অভ্যর্থনা জানায়।
- লন্ডন থেকে প্রকাশিত দৈনিক গার্ডিয়ান পত্রিকার ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারির সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছিল : ‘শেখ মুজিব ঢাকা বিমানবন্দরে পর্দাপণ করা মাত্র নতুন প্রজাতন্ত্র এক সুদৃঢ় বাস্তবতা লাভ করে।’

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
৬৭.
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেট্রিক পাশ করেন কত সালে?
  1. ক) ১৯৪০ সালে
  2. খ) ১৯৪১ সালে
  3. গ) ১৯৪২ সালে
  4. ঘ) ১৯৪৩ সালে
ব্যাখ্যা

- ১৯৪২ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান গোপালগঞ্জ মিশনারী স্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাশ করেন।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান:
- বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ জন্মগ্রহণ করেন।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পিতা শেখ লুৎফর রহমান। 
- ১৯৪২ সালে তিনি গোপালগঞ্জ মিশনারী স্কুল থেকে ম্যাট্রিক, ১৯৪৪ সালে কলকাতার ইসলামিয়া কলেজ থেকে আই.এ এবং একই কলেজ থেকে ১৯৪৭ সালে বি.এ পাশ করেন।
- বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪র্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের সাথে তাদের দাবি আদায়ের পক্ষে আন্দোলন করার জন্যে ১৯৪৯ সালে বঙ্গবন্ধুকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিস্কার করা হয়।
- ১৯৫৩ সালে শেখ মুজিব পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন এবং ১৯৬৬ সাল পর্যন্ত এ পদে বহাল ছিলেন। ১৯৬৬ সালেই তিনি দলের সভাপতি হন।
- ১৯৬৬ সালে তিনি তাঁর বিখ্যাত ছয়দফা কর্মসূচী ঘোষণা করেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
৬৮.
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সাথে সম্পৃক্ত-
  1. অপারেশন সার্চ ফ্রিডম
  2. অপারেশন অ্যানাকোন্ডা
  3. অপারেশন সার্চ লাইট
  4. অপারেশন ব্ল‍্যাক থান্ডার স্টর্ম
ব্যাখ্যা
• অপারেশন সার্চ লাইট:
- পাকিস্তানি সেনারা ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পূর্ব পাকিস্তানে যে ভয়াবহ গণহত্যা অভিযান চালায়, তার নাম ছিল 'অপারেশন সার্চ লাইট'। যদিও হানাদার বাহিনী ২৫ মার্চ এ অভিযান শুরু করেছিল, তবে মূল পরিকল্পনা করা হয়েছিল মার্চ মাসের শুরু থেকেই।
- ১৬ মার্চ বঙ্গবন্ধুর সাথে আলোচনার জন্য বৈঠক শুরু হয়, কিন্তু অন্যদিকে পাকিস্তানি সরকার গোপনে আলোচনার নামে সময়ক্ষেপণ করে এবং পশ্চিম পাকিস্তান থেকে সৈন্য ও গোলাবারুদ এনে পূর্ব পাকিস্তানে সামরিক প্রস্তুতি নেয়।
- ১৮ মার্চ টিক্কা খান এবং রাও ফরমান আলী 'অপারেশন সার্চ লাইট' এর নীলনকশা তৈরি করেন।
- ২৫ মার্চ রাতেই গণহত্যা শুরু করা হয়। এই পরিকল্পনার তত্ত্বাবধান করেন পাকিস্তানের গভর্নর লে. জেনারেল টিক্কা খান। 

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম ও দশম শ্রেণি।
৬৯.
বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণে নিচের কোন দাবিটি ছিল না?
  1. মার্শাল ল প্রত্যাহার
  2. জনপ্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর
  3. পুনরায় নির্বাচন করা
  4. সেনাদের ব্যারাকে ফিরিয়ে নেওয়া
ব্যাখ্যা
৭ই মার্চের ভাষণ:
- ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) অনুষ্ঠিত জনসভায় শেখ মুজিবুর রহমান এক ঐতিহাসিক ভাষণ দেয়।
- উক্ত ভাষণ ১৮ মিনিট স্থায়ী হয়।
- এই ভাষণে তিনি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের বাঙালিদেরকে স্বাধীনতা সংগ্রামের জন্য প্রস্তুত হওয়ার আহ্বান জানান।
- ভাষণে মূলত চার দফা দাবি তোলা হয়:
১। মার্শাল ল প্রত্যাহার,
২। সেনাদের ব্যারাকে ফিরিয়ে নেওয়া,
৩। রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডগুলোর বিচার বিভাগীয় তদন্ত এবং,
৪। জনপ্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর।

উল্লেখ্য,
- বিশ্ব ইতিহাসে যে ভাষণগুলো বিখ্যাত হয়ে আছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক এই ভাষণটি সেগুলোর অন্যতম।
- বিশিষ্ট ইতিহাসবিদ Jacob F. Field এর বিশ্বসেরা ভাষণ নিয়ে লেখা 'We shall Fight on the beaches: The Speeches that Inspired History' শীর্ষক গ্রন্থে বঙ্গবন্ধু সাতই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণটি স্থান পেয়েছে।
- ২০১৭ সালের ৩০ অক্টোবর ইউনেস্কো এই ভাষণটিকে 'World's Documentary Heritage' এর মর্যাদা দিয়ে 'International Memory of the World Register'- এ অর্ন্তভুক্ত করেছে।
- বঙ্গবন্ধুর সেই অমর ভাষণকে  ইউনেস্কো ঐতিহাসিক দলিল হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

উৎস: সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭০.
মুক্তিযুদ্ধের সময় মুজিব নগর কত নং সেক্টরের অধীনে ছিলো?
  1. ক) ১০
  2. খ) ৮
  3. গ) ৯
  4. ঘ) ৬
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশকে-১১টি সেক্টরে ভাগ করা হয়েছিলো।
নৌ-বাহিনীর অধীনে ছিল - ১০ নং সেক্টর (সকল নদী ও বঙ্গোপসাগর)। ১০ নং সেক্টরে কোনো সেক্টর কমান্ডার ছিল না।
চট্টগ্রাম - ১নং সেক্টর,
ঢাকা - ২ নং সেক্টর,
রাজশাহী - ৭ নং সেক্টর,
মুজিবনগর - ৮ নং সেক্টর,
সুন্দরবন - ৯ নং সেক্টর।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া
৭১.
বাংলাদেশের মানচিত্র খচিত পতাকা প্রথম উত্তোলন করেন কে?
  1. শিবনারায়ণ দাস
  2. জহুরুল হক
  3. সিরাজুল আলম খান
  4. আ স ম আব্দুর রব
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার ডিজাইনার কামরুল হাসান।
- ১৯৭২ সালে কামরুল হাসান সবুজের মাঝে লাল বৃত্তের জাতীয় পতাকার নকশা করেন।
- এর পূর্বে ব্যবহৃত মানচিত্র খচিত পতাকাটি ১৯৭০ সালের ৬ জুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান জহুরুল হক হলের ১১৬ নং কক্ষে সিরাজুল আলম খানের নির্দেশে শিবনারায়ণ দাস ও আরো কয়েকজন মিলে চূড়ান্ত করেন।
- মানচিত্র খচিত পতাকাটি ১৯৭১ সালের ২রা মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় তৎকালীন ডাকসু ভিপি আ স ম আব্দুর রব প্রথম উত্তোলন করেন।
- ১৯৭১ সালের ২৩শে মার্চ বাংলাদেশের সর্বত্র পাকিস্তানের পতাকা’র পরিবর্তে লাল-সবুজের পতাকা উড়ানো হয়।

সূত্র-  বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণি।
৭২.
কোন বীরশ্রেষ্ঠের দেহাবশেষ এনে বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের কবরের পাশে সমাহিত করা হয়?
  1. ল্যান্স নায়েক মুন্সি আবদুর রউফ
  2. সিপাহী হামিদুর রহমান
  3. সিপাহী মোস্তফা কামাল
  4. ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ
ব্যাখ্যা

- মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে সমাহিত আছেন ২ জন বীরশ্রেষ্ঠ।
- বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান ও বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী হামিদুর রহমান।

• বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী হামিদুর রহমান:
- তার জন্ম ২ ফেব্রুয়ারি ১৯৫৩, খদ্দখালিশপুর, কালীগঞ্জ, ঝিনাইদহ।
- ১৯৭১ সালে আনসারে স্বল্প সময় কাজ করে ২ ফেব্রুয়ারি ১৯৭১ সেনাবাহিনীর ১ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে যোগদান করেন।
- অক্টোবর ১৯৭১, মৌলভীবাজার জেলার ধলই সীমান্ত চৌকি আক্রমণে বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
- সামনে থেকে যুদ্ধ করতে গিয়ে তিনি শহীদ হন।
- প্রথমে তাকে সমাহিত করা হয় আমবাসা গ্রাম, কমলপুর, ত্রিপুরা, ভারত।
- পরে তার দেহাবশেষ দেশে এনে ১১ ডিসেম্বর ২০০৭ মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে পুনঃসমাহিত করা হয়।

অন্যদিকে, 
- বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান শহীদ হন ২০ আগস্ট ১৯৭১।
- তাকে প্রথমে সমাহিত করা হয় মাসরুর বিমান ঘাঁটি, করাচি, পাকিস্তান।
- পরবর্তীতে ২৪ জুন ২০০৬, ৩৫ বছর পর তার দেহাবশেষ দেশে এনে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে পুনঃসমাহিত করা হয়।

উৎস: মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট, বাংলাপিডিয়া ও জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৭৩.
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মস্থান-
  1. টুঙ্গিপাড়া
  2. টংগী
  3. টাঙ্গাইল
  4. টঙ্গিবাড়ী
ব্যাখ্যা
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান:
- বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ জন্মগ্রহণ করেন।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পিতা শেখ লুৎফর রহমান।
- ১৯৪২ সালে তিনি গোপালগঞ্জ মিশনারী স্কুল থেকে ম্যাট্রিক, ১৯৪৪ সালে কলকাতার ইসলামিয়া কলেজ থেকে আই.এ এবং একই কলেজ থেকে ১৯৪৭ সালে বি.এ পাশ করেন।
- বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪র্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের সাথে তাদের দাবি আদায়ের পক্ষে আন্দোলন করার জন্যে ১৯৪৯ সালে বঙ্গবন্ধুকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিস্কার করা হয়।
- ১৯৫৩ সালে শেখ মুজিব পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন এবং ১৯৬৬ সাল পর্যন্ত এ পদে বহাল ছিলেন। ১৯৬৬ সালেই তিনি দলের সভাপতি হন।
- ১৯৬৬ সালে তিনি তাঁর বিখ্যাত ছয়দফা কর্মসূচী ঘোষণা করেন।
- ১৯৭১ সালে তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষনা করেন।
- ১৯৭৫ সালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
- ২০১০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বঙ্গবন্ধুর বহিষ্কারাদেশ তুলে দেয়া হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া ও বিবিসি বাংলা, ১০ আগস্ট, ২০১০।
৭৪.
’বরিশাল’ মুক্তিযুদ্ধকালীন কোন সেক্টরের অন্তর্গত ছিল?
  1. ৯নং
  2. ৫নং
  3. ২নং
  4. ৩নং
ব্যাখ্যা

• মুক্তিযুদ্ধকালীন সেক্টর ৯নং :
- পটুয়াখালী, বরিশাল ও খুলনার কিছু অংশ নিয়ে গঠিত হয় ‘সেক্টর ৯নং ’।
- ডিসেম্বরের শুরু পর্যন্ত সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর এম এ জলিল এবং তারপর মেজর জয়নাল আবেদীন।
- এছাড়াও অতিরিক্ত দায়িত্বে ছিলেন মেজর এম এ মঞ্জুর।
- এই সেক্টরে ছিল ৩টি সাব-সেক্টর।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৭৫.
বাংলাদেশ গণপ্রজাতন্ত্রের ঘোষণা ছিল-
  1. ১৭ এপ্রিল, ১৯৭১
  2. ২৬ মার্চ, ১৯৭১
  3. ১১ এপ্রিল, ১৯৭১
  4. ১০ জানুয়ারি, ১৯৭২
ব্যাখ্যা
• ১০ এপ্রিল, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র জারি করার মাধ্যমে বাংলাদেশকে গণপ্রজাতন্ত্রী হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
- ১৭ এপ্রিল ১৯৭১ সালে মুজিবনগর সরকার শপথ নেওয়ার মাধ্যমে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করে।

যেহেতু প্রশ্নে ১০ ই এপ্রিল নেই, তাই কাছাকাছি উত্তর হিসেবে ১৭ ই এপ্রিল উত্তর গ্রহণ করা হয়েছে।

- মুজিবনগর সরকারের শপথ বাক্য পাঠ করেন অধ্যাপক ইউসুফ আলী।
- মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে এ ঘোষণা প্রবাসী মুজিবনগর সরকার পরিচালনার অন্তর্বর্তীকালীন সংবিধান হিসাবে কার্যকর হয়।

স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র:
-  প্রথম বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল বাংলাদেশের আনুষ্ঠানিক স্বাধীনতা ঘোষণা।
- মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে এ ঘোষণা প্রবাসী মুজিবনগর সরকার পরিচালনার অন্তর্বর্তীকালীন সংবিধান হিসেবে কার্যকর হয় এবং ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর স্বাধীন বাংলাদেশের নতুন সংবিধান প্রণীত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত এ ঘোষণা দেশের সংবিধান হিসেবে কার্যকর ছিল।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা: 
- ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ মধ্যরাতে পাকিস্তানী সেনারা ভারী অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ইতিহাসের জঘন্যতম গণহত্যায় লিপ্ত হয়।
- নিরস্ত্র ঘুমন্ত বাঙ্গালির ওপর বিভৎস এ আক্রমণ অখন্ড পাকিস্তানের কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে দেয়।
- আনুমানিক রাত দেড়টার দিকে গ্রেপ্তার হওয়ার পূর্ব মুহূর্তে অর্থাৎ ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা করেন।

• 'স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র-- মুজিবনগর, বাংলাদেশ-- তারিখ ১০ এপ্রিল, ১৯৭১': 
আমরা, নির্বাচিত প্রতিনিধিরা, সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী বাংলাদেশের জনগণ যেক্ষমতাদিয়েছেন, সে মোতাবেক,তাদেরসর্বোচ্চ চাওয়া দ্রষ্টব্য যে আমাদের সংগঠিত করে একটি শাসনণতন্ত্র গঠন করা। সমাবেশ করে পারষ্পরিক আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে বাংলাদেশের জনগণের জন্য সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশকে একটি সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্র ঘোষণা ও গঠন করছি এবং আগেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দেওয়া স্বাধীনতারঘোষণা নিশ্চিত করছি, এবং এতদ্বারা আমরা আরও সিদ্ধান্ত ঘোষণা করছি যে শাসনতন্ত্র প্রণীত না হওয়া পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রপ্রধান এবং সৈয়দ নজরুল ইসলাম উপ-রাষ্ট্রপ্রধান পদে অধিষ্ঠিত থাকবেন,এবং রাষ্ট্রপ্রধান প্রজাতন্ত্রের সশস্ত্র বাহিনীসমূহের সর্বাধিনায়ক পদে অধিষ্ঠিত থাকবেন।

উৎস: স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র - বাংলাপিডিয়া, পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাপিডিয়া।
৭৬.
কোন তারিখে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা সরকারিভাবে গৃহীত হয়?
  1. ১৯৭২ সালের ১২ এপ্রিল
  2. ১৯৭২ সালের ১৮ এপ্রিল
  3. ১৯৭২ সালের ১৭ জানুয়ারি
  4. ১৯৭২ সালের ৬ জুন
ব্যাখ্যা

- ১৯৭১ সালের ২রা মার্চ সে পতাকাটিই ছাত্ররা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে উত্তোলন করে।
- এদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবনের সামনে ছাত্রসমাজকে সঙ্গে নিয়ে পতাকা ওড়ান তৎকালীন ডাকসুর ভিপি আ স ম আব্দুর রব।

- এই জাতীয় পতাকাটি প্রথম তৈরি করা হয়েছিল ১৯৭০ সালের ৬ জুন।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের ১১৬ নম্বর কক্ষে এই পতাকা তৈরি করেন কয়েকজন ছাত্রনেতা।
- জাতীয় পতাকা তৈরির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন ছাত্রনেতা কাজী আরেফ আহমেদ, শিব নারায়ণ দাস সহ ২২ জন।

- বিদেশে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা প্রথম উত্তোলন করা হয় ১৯৭১ সালের ১৮ এপ্রিল। 
- ভারতের কলকাতায় বাংলাদেশ মিশনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়।

- স্বাধীনতার পর পতাকা থেকে মানচিত্র বাদ দেওয়া হয়। পতাকার মাপ ও রঙ নির্ধারণ করে পরিমার্জন করা হয় পতাকা।
- যা আজ বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা।

- সবুজ আয়তক্ষেত্রের মাঝখানে লাল বৃত্ত, বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার এই রূপটি ১৯৭২ সালের ১৭ জানুয়ারি সরকারিভাবে গৃহীত হয়।

উৎস:  বিডিনিউজ-২৪।

৭৭.
বঙ্গবন্ধুর চার খলিফা নামে পরিচিত নন কে?
  1. তোফায়েল আহমেদ
  2. শাহজাহান সিরাজ
  3. আবদুল কুদ্দুস মাখন
  4. নুরে আলম সিদ্দিকী
ব্যাখ্যা
বঙ্গবন্ধুর চার খলিফা
-  বাংলাদেশের রাজনীতিতে বহুল আলোচিত পরিভাষা এটি। 
-  ১৯৭০-৭১ সালে ছাত্রলীগের চার প্রখ্যাত চার নেতাকে সবাই রসিকতা করেই শেখ মুজিবের চার খলিফা বলে চিহ্নিত করত। কারণ, তাঁরা বঙ্গবন্ধুর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও স্নেহভাজন ছিলেন।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সান্নিধ্য পাওয়া ওই নেতারা হলেন- আবদুল কুদ্দুস মাখন, শাহজাহান সিরাজ, আ স ম আবদুর রব ও নুরে আলম সিদ্দিকী।

- জানা যায়, চার ছাত্রনেতার মধ্যে আবদুল কুদ্দুস মাখন ছিলেন ছাত্রনেতাদের মধ্যে অন্যতম, যিনি সত্তরের দশকের শুরুতে সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।
- ১৯৭০ সালে মাখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র ইউনিয়নের (ডাকসু) সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
- ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের অন্যান্য নেতাসহ আবদুল কুদ্দুস মাখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবন চত্বরে ২ মার্চ স্বাধীনতার পতাকা উত্তোলন করেন এবং পরদিন তিনি তাঁর সহকর্মীসহ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘জাতির জনক’ বলে ঘোষণা দেন।
- আবদুল কুদ্দুস মাখন ১৯৭৩ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হন।
- তিনি আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ছিলেন (১৯৯২-১৯৯৪)।
- ১৯৯৪ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি তাঁর মৃত্যু হয়।
- আরেক নেতা হলে শাহজাহান সিরাজ; 
- ১৯৬২ সালে হামিদুর রহমান শিক্ষা কমিশনবিরোধী আন্দোলনে সম্পৃক্ত হওয়ার মধ্যদিয়ে শাহজাহান সিরাজ ছাত্র-রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। 
- ১৯৭১ সালের ২ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করেন আ স ম আবদুর রব।
- সেখান থেকেই পরদিন স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠের পরিকল্পনা করা হয়।
- সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ৩ মার্চ পল্টন ময়দানে বিশাল এক ছাত্রসমাবেশে বঙ্গবন্ধুর সামনে স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠ করেন শাহজাহান সিরাজ।
- এরপর যুদ্ধ শুরু হলে তিনি ‘বাংলাদেশ লিবারেশন ফোর্স’ (বিএলএফ) বা মুজিব বাহিনীর কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব নেন।
- আ.স.ম আব্দুর রব বর্তমানে বাংলাদশের জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) এর নেতা।
- তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম সংগঠক।
- তার নেতৃত্বে ১৯৭১ সালে ২ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করা হয়।
- বাংলাদেশের মানচিত্র খচিত যে পতাকা সেই পতাকা সর্ব প্রথম উত্তোলন করেন আ স ম আবদুর রব।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক বটতলায় শেখ মুজিবুর রহমানের হাতে বাংলাদেশের পতাকা তুলে দেন।
- ১৯৭১ ৩ মার্চ তিনি পল্টন ময়দানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘জাতির জনক’ উপাধি প্রদান করেন। 

উৎস: প্রথম আলো, বিবিসি।
৭৮.
বঙ্গবন্ধুর লেখা স্বাধীনতা ঘোষণাটি প্রথম যে বেতার মাধ্যমে প্রচারিত হয় সেটার নাম-
  1. ক) চট্টগ্রাম বেতার কেন্দ্র
  2. খ) স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী বেতার কেন্দ্র
  3. গ) কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র
  4. ঘ) স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার ঘোষণা
- গ্রেফতার হওয়ার পূর্বমুহূর্তে ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে (২৫ মার্চ রাত ১২ টার পর) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দেন।
- ঘোষণাটি ছিল ইংরেজিতে, যাতে বিশ্ববাসী ঘোষণাটি বুঝতে পারেন। 

- স্বাধীনতার এ ঘোষণা বাংলাদেশের সকল স্থানে তদানীন্তন ইপিআর এর ট্রান্সমিটার, টেলিগ্রাম ও টেলিপ্রিন্টারের মাধ্যমে প্রচার করা হয়।
- বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা ২৬ মার্চ দুপুরে চট্টগ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা এম. এ. হান্নান চট্টগ্রামের বেতার কেন্দ্র থেকে একবার এবং সন্ধ্যায় কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে দ্বিতীয়বার প্রচার করেন।
- ২৭ মার্চ উক্ত বেতার কেন্দ্র থেকে মেজর জিয়াউর রহমান পুনরায় বঙ্গবন্ধুর পক্ষে স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করেন।


তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৭৯.
বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের প্রথম দাবি ছিলো কোনটি?
  1. বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করা
  2. মার্শাল ল প্রত্যাহার
  3. সেনাদের ব্যারাকে ফিরিয়ে নেওয়া
  4. প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন‌
ব্যাখ্যা
• বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ:
- বঙ্গবন্ধু ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে এক ঐতিহাসিক ভাষণ দেন।
- ভাষণটি ইতিহাসে ‘বঙ্গবন্ধুর সাতই মার্চের ভাষণ’ নামে অভিহিত হয়েছে।
- মার্শাল ল প্রত্যাহার বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের প্রথম দাবি ছিলো। 

• ভাষণে মূলত চার দফা দাবি তোলা হয় -
১। মার্শাল ল প্রত্যাহার,
২। সেনাদের ব্যারাকে ফিরিয়ে নেওয়া,
৩। রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডগুলোর বিচার বিভাগীয় তদন্ত এবং
৪। জনপ্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর।

অন্যদিকে: 
- ২১ দফা দাবির প্রথম দফা: বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করা
- ৬ দফা দাবির প্রথম দফা: প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন‌।

সূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৮০.
বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ কত তম সংশোধনী দ্বারা সংবিধানের তফসিলে সংযোজন করা হয়েছে?
  1. চতুর্দশ
  2. ত্রয়োদশ
  3. পঞ্চদশ
  4. দ্বাদশ
ব্যাখ্যা
• ২০১১ সালে সংবিধানের ১৫তম সংশোধনী দ্বারা সংবিধানে নতুন করে ৩টি তফসিল ৫ম, ৬ষ্ঠ ও ৭ম তফসিল যুক্ত করা হয়।

৫ম তফসিল : বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ।
৬ষ্ঠ তফসিল : ২৬শে মার্চ বঙ্গবন্ধু প্রদত্ত স্বাধীনতার ঘোষণা।
৭ম তফসিল : ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল মুজিবনগর সরকার জারিকৃত স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র।

বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ:
- বঙ্গবন্ধু ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে এক ঐতিহাসিক ভাষণ দেন।
- ভাষণটি ইতিহাসে ‘বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ’ নামে অভিহিত হয়েছে। 

ভাষণে মূলত চার দফা দাবি তোলা হয় -
১/ মার্শাল ল প্রত্যাহার,
২/ সেনাদের ব্যারাকে ফিরিয়ে নেয়া,
৩/ রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড গুলোর বিচার বিভাগীয় তদন্ত এবং
৪/ জনপ্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর।
 
সূত্র- বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বাংলাদেশ সংবিধান।
৮১.
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘রাজনীতির কবি’ বলে আখ্যায়িত করেছিলেন কে?
  1. মাওলানা আকরাম খান
  2. আব্দুল গাফ্ফার চৌধুরী
  3. নির্মলেন্দু গুণ
  4. লোবেন জেঙ্কিন্স
ব্যাখ্যা
Poet of Politics:
- রাজনীতির কবি ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব’।
- তিনি শুধু বাঙালির বঙ্গবন্ধু নয়, বিশ্ববরেণ্য রাজনীতিক 'বিশ্ববন্ধু' উপাধিতেও বিশ্বনন্দিত।
- তিনি ছিলেন বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের একজন স্বপ্নদ্রষ্টা। 
- ৫ এপ্রিল, ১৯৭১ সাংবাদিক লোবেন জেঙ্কিন্স সাপ্তাহিক ম্যাগাজিন Newsweek পত্রিকায় তার প্রতিবেদনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে 'রাজনীতির কবি' বা Poet of Politics বলে আখ্যায়িত করেছিলেন।
-  সকল শ্রেণী ও আদর্শের অনুসারীদের একতাবদ্ধ করার জন্য সম্ভবত তাঁর 'স্টাইল' সবচেয়ে বেশি উপযোগী ছিল।
- এ প্রসঙ্গে বঙ্গবন্ধুর কালজয়ী ৭ মার্চের ভাষণকে এক অনবদ্য কবিতা এবং বঙ্গবন্ধুকে মহাকবি হিসেবে ভূষিত করার অবারিত যুক্তি রয়েছে।

উল্লেখ্য,
- নিউজউইক যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সাপ্তাহিক ম্যাগাজিন।
- ১৯৩৩ সালে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়।

উৎস: i) রাষ্ট্রপতির কার্যালয়।
          ii) ১৫ আগস্ট ২০১৮, দৈনিক জনকণ্ঠ।
৮২.
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বের জন্যে একমাত্র বিদেশি নাগরিক হিসেবে বীরত্বসূচক খেতাব লাভ করেন কে?
  1. সাইমন ড্রিং
  2. ডব্লিউ এ.এস. ওডারল্যান্ড
  3. রবি শংকর
  4. অ্যালেন গিন্সবার্গ
ব্যাখ্যা

• ডব্লিউ এ.এস. ওডারল্যান্ড:
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বের জন্যে একমাত্র বিদেশি নাগরিক হিসেবে বীর প্রতীক খেতাব লাভ করেন ডব্লিউ এ.এস. ওডারল্যান্ড।
- তিনি অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক। তবে তার জন্ম নেদারল্যান্ডসে।
- ওডারল্যান্ড ১৯৭১ সালে ঢাকা বাটা সু কোম্পানিতে কর্মরত ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি ২নং
সেক্টরে যুদ্ধ করেন।
- ওডারল্যান্ড ২০০১ সালের ১৮ মে অস্ট্রেলিয়ায় মারা যান।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৮৩.
"অসমাপ্ত আত্মজীবনী" এর রচনাকাল -
  1. ১৯৫৪-১৯৫৭
  2. ১৯৬৪-১৯৬৬
  3. ১৯৫০-১৯৫২
  4. ১৯৬৬-১৯৬৯
ব্যাখ্যা
অসমাপ্ত আত্মজীবনী:
- 'অসমাপ্ত আত্মজীবনী' বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের লেখা বই।
- বঙ্গবন্ধুর প্রথম বই অসমাপ্ত আত্মজীবনী প্রকাশিত হয় ২০১২ সালে।
- অসমাপ্ত আত্মজীবনী লেখা হয়েছে ১৯৬৭ সালের মাঝামাঝি সময়ে যখন তিনি কারারুদ্ধ ছিলেন।
- আত্মজীবনীর শুরু হয়েছে তাঁর জন্মের সময় থেকে; পাশাপাশি এসেছে পিতৃপুরুষের কথাও। আর বইটি শেষ হয়েছে ১৯৫৪ সালের ঘটনাবলি দিয়ে।
- 'অসমাপ্ত আত্মজীবনী' বইটির ভূমিকা লিখেছেন শেখ হাসিনা।
- এই প্রকাশনার সাথে জড়িত ছিলেন বাংলাদেশের খ্যাতনামা ইতিহাসবিদ, সাহিত্যিক এবং সাংবাদিকদের একটি দল।
- বাংলা ভাষা ছাড়াও ইংরেজি ভাষায়ও এই বইয়ের অনুবাদ হয়েছে। বাংলাদেশে এই বই প্রকাশ করেছে প্রকাশনা সংস্থা ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড।
- এছাড়া ইংরেজি অনুবাদ প্রকাশিত হয়েছে ভারতে পেঙ্গুইন ইন্ডিয়া থেকে এবং পাকিস্তানে অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস পাকিস্তান থেকে। এছাড়া পাকিস্তানে উর্দু ভাষাতেও এর অনুবাদ বের হবার কথা রয়েছে।
- ইংরেজিতে এই বইয়ের ভাষান্তর করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি সাহিত্যের অধ্যাপক ফকরুল আলম।

[অপশন বিবেচনায় ১৯৬৬-১৯৬৯ অধিক গ্রহণযোগ্য।]

উৎসঃ অসমাপ্ত আত্মজীবনী।
৮৪.
When did Bangabandhu Sheikh Mujibur Rahman take oath as the Prime Minister of Bangladesh?
  1. 10 January 1972
  2. 11 January 1972
  3. 12 January 1972
  4. 13 January 1972
ব্যাখ্যা
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১২ জানুয়ারি, ১৯৭২ তারিখে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন।

বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস:
- ১০ জানুয়ারি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস।
- পাকিস্তানের বন্দীদশা থেকে মুক্তি পেয়ে ১৯৭২ সালের এদিন বেলা ১টা ৪১ মিনিটে জাতির অবিসংবাদিত নেতা ও মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশের মাটিতে প্রত্যাবর্তন করেন।
- ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি সৈন্যদের বিরুদ্ধে নয় মাস যুদ্ধের পর চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হলেও ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের মধ্যদিয়ে জাতি বিজয়ের পূর্ণ স্বাদ গ্রহণ করে।

উল্লেখ্য,
- ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি রেসকোর্স ময়দানে প্রদত্ত ঐতিহাসিক ভাষনে, বঙ্গবন্ধু যে নির্দেশনা দিয়েছিলেন, সে অনুসারে স্বাধীন বাংলাদেশকে একটি সমৃদ্ধ, সমতাভিত্তিক এবং মানবিক রাষ্ট্র হিসাবে গড়ে তুলতে মান্যবর রাষ্ট্রদূত উপস্থিত সবাইকে এক যোগে কাজ করবার আহ্বান জানান।

অন্যদিকে,
- মুক্তিযুদ্ধে পরাজয়ের পর পাকিস্তান সরকার আন্তর্জাতিক চাপে ১৯৭২ সালের ৮ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে মুক্তি দানে বাধ্য হয়।
- বঙ্গবন্ধু ৮ জানুয়ারি পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে লন্ডন গমন করেন।
- সেখান থেকে দিল্লিতে কিছু সময় অবস্থান করে ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু ঢাকায় আসেন।
- ১৯৭২ সালের ১২ জানুয়ারি বাংলাদেশের স্বাধীনতার স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন।

উৎস: বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৮৫.
মুক্তিযুদ্ধের সময় নিম্নের কোন দেশ থেকে 'বাংলাদেশ স্ফুলিঙ্গ' নামক সংবাদপত্র প্রকাশিত হয়েছে?
  1. কানাডা
  2. যুক্তরাজ্য
  3. ভারত
  4. জার্মানি
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধে গণমাধ্যম:
- মুক্তিযুদ্ধের সময় বিভিন্ন দেশে সংবাদপত্রে মুক্তিবাহিনীর তৎপরতা, বাংলাদেশ সরকারের কার্যক্রম ও নির্দেশাবলী, নেত্রবৃন্দের বিবৃতি ও তৎপরতা, প্রবাসী বাঙ্গালীদের আন্দোলনের খবর ইত্যাদি প্রকাশিত হত।
- এদের মধ্যে মুজিবনগর থেকে প্রকাশিত জয় বাংলা, বাংলাদেশ, বঙ্গবাণী, স্বদেশ, রণাঙ্গন, স্বাধীন বাংলা, মুক্তিযুদ্ধ, সোনার বাংলা, বিপ্লবী বাংলাদেশ, জন্মভূমি, বাংলার বাণী, নতুন বাংলা ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।

এছাড়াও,
- মার্কিন যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত হতো বাংলাদেশ নিউজ লেটার, বাংলাদেশ সংবাদ পরিক্রমা।
- আমেরিকা থেকে প্রকাশিত বাংলাদেশ নিউজ লেটার, বাংলাদেশ নিউজ বুলেটিন, শিক্ষা উল্লেখযোগ্য।
- কানাডা থেকে বাংলাদেশ স্ফুলিঙ্গ নামক সংবাদপত্র প্রকাশিত হত।

উৎস: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।
৮৬.
বীরশ্রেষ্ঠদের মধ্যে বিমান বাহিনীর সদস্য ছিলেন কে?
  1. বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল
  2. বীরশ্রেষ্ঠ মোহাম্মদ রুহুল আমিন
  3. বীরশ্রেষ্ঠ মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর
  4. বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান
ব্যাখ্যা

• বীরশ্রেষ্ঠ ও তাদের কর্মস্থল:
- ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর : সেনাবাহিনী।
- সিপাহী মোস্তফা কামাল : সেনাবাহিনী।
- ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান : বিমান বাহিনী।
- ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ : সাবেক ই. পি. আর.।
- ল্যান্স নায়েক মুন্সি আব্দুর রউফ : সাবেক ই. পি. আর.।
- সিপাহী হামিদুর রহমান : সেনাবাহিনী।
- ইঞ্জিনরুম আর্টিফিসার মোহাম্মদ রুহুল আমিন : নৌবাহিনী।

উৎস: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।

৮৭.
জাতিসংঘের কত তম অধিবেশনে প্রথমবারের মতো বাংলা ভাষায় ভাষণ প্রদান করা হয়?
  1. ক) ২৯তম
  2. খ) ২৮তম
  3. গ) ২৭তম
  4. ঘ) ২৫তম
ব্যাখ্যা
বঙ্গবন্ধুর সফল নেতৃত্বে ১৯৭৪ সালের মধ্যেই বাংলাদেশ বিশ্বের অধিকাংশ রাষ্ট্র ও জাতিসংঘসহ প্রায় সকল অস্তির্জাতিক সংস্থার স্বীকৃতি লাভ করে।
- সাধারণ পরিষদের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১৭ই সেপ্টেম্বর, ১৯৭৪ সালের বাংলাদেশ জাতিসংঘের ১৬তম সদস্য হিসেবে যোগদান করে।
- বঙ্গবন্ধু ১৯৭৪ সালের ২৫শে সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ২৯তম অধিবেশনে প্রথমবারের মতো আমাদের মাতৃভাষা বাংলায় ভাষণ দেন।
- ফলে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলা ভাষা লাভ করে মর্যাদা।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৮৮.
বঙ্গবন্ধু কত সালে প্রথম আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন?
  1. ১৯৫২ সালে
  2. ১৯৫৩ সালে
  3. ১৯৫৪ সালে
  4. ১৯৫৫ সালে
ব্যাখ্যা
১৯৪৯ সালের ২৩শে জুন ঢাকার রোজ গার্ডেনে সম্মেলনের মাধ্যমে আওয়ামী মুসলিম লীগ গঠিত হয়।
এর প্রথম কমিটি:

সভাপতি : মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী
সাধারণ সম্পাদক : শামসুল হক
যুগ্ম সম্পাদক : বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

১৯৫৩ সালের ৩-৫ জুলাই আওয়ামী মুসলিম লীগের দ্বিতীয় সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রথমবারের মতো দলটির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। তিনি টানা চারবার সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।
১৯৬৬ সালের মার্চে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন।

১৯৫৫ সালের আওয়ামী মুসলিম লীগের তৃতীয় সম্মেলনে দলটির নাম থেকে মুসলিম শব্দটি বাদ দেওয়া হয়।

(তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ওয়েবসাইট)
৮৯.
১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তান বাহিনীর আত্মসমর্পণের সময় মুক্তিবাহিনীর প্রতিনিধিত্ব কে করেছিলেন?
  1. মেজর ‍জিয়াউর রহমান
  2. ক্যাপ্টেন এ কে খন্দকার
  3. মেজর কর্ণেল রশিদ হায়দার
  4. জেনারেল আতাউল গণি উসমানি
ব্যাখ্যা

- দীর্ঘ ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধ শেষে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাঙালি জাতি পায় কাঙ্ক্ষিত ও বহু প্রত্যাশিত বিজয়।
- এই বিজয়ের মধ্য দিয়ে পূর্ববঙ্গের আপামর জনতা পৃথিবীর মানচিত্রে জন্ম দেয় বাংলাদেশ নামের নতুন এক রাষ্ট্রের। 
- পরাজিত পাকিস্তান সেনাবাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল আমির আবদুল্লাহ খান নিয়াজি মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় বাহিনীর সমন্বয়ে গড়া যৌথ বাহিনীর প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরার কাছে অস্ত্র ও সেনা সমর্পণ করে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণ দলিলে স্বাক্ষর করেন। 
- মুক্তিবাহিনীর প্রতিনিধিত্ব করেন বাংলাদেশ বাহিনীর উপপ্রধান গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ কে খন্দকার।
- বাংলাদেশ বাহিনী ও মুক্তিবাহিনীর পক্ষে আরও ছিলেন এস ফোর্সের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কে এম সফিউল্লাহ, ২ নম্বর সেক্টরের অধিনায়ক মেজর এ টি এম হায়দার, কাদের সিদ্দিকীসহ অনেকে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া প্রথম আলো।

৯০.
স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম পতাকা উত্তোলিত হয়েছিল-
  1. ক) ২ মার্চ, ১৯৭১ সালে
  2. খ) ৩ মার্চ, ১৯৭১ সালে
  3. গ) ৬ মার্চ, ১৯৭১ সালে
  4. ঘ) ৭ মার্চ, ১৯৭১ সালে
ব্যাখ্যা
১৯৭১ সালের ২ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় ছাত্র জনতার সমাবেশে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করেছিলেন আ.স.ম আব্দুর রউফ।
উৎসঃ স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাস।
৯১.
মুক্তিযুদ্ধে অবদানের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ খেতাব- 
  1. বীরশ্রেষ্ঠ
  2. বীরপ্রতীক
  3. বীরবিক্রম
  4. বীরউত্তম
ব্যাখ্যা

মুক্তিযুদ্ধের বীরত্ব:
- মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় খেতাব বীরশ্রেষ্ঠ।
- মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় খেতাব বীরউত্তম।
- মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান ও বীরত্বের জন্যে ১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধু সরকার মোট ৬৭৬ জনকে চারটি বীরত্বসূচক খেতাব বা উপাধি প্রদান করে।
- সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় খেতাব হলো বীরশ্রেষ্ঠ-৭ জন।
- দ্বিতীয় সর্বোচ্চ খেতাব বীরউত্তম- ৬৮ জন।
- তৃতীয় সর্বোচ্চ খেতাব বীরবিক্রম- ১৭৫ জন।
- চতুর্থ সর্বোচ্চ খেতাব বীরপ্রতীক- ৪২৬ জন।

উল্লেখ্য,
স্বাধীনতা যুদ্ধে অবদানের জন্য বর্তমানে ৬৭২ জনের খেতাব বহাল রয়েছে।
- বীরশ্রেষ্ঠ: ৭জন
- বীর উত্তম: ৬৭ জন
- বীরবিক্রম: ১৭৪ জন
- বীরপ্রতীক: ৪২৪ জন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং প্রথম আলো পত্রিকা।

৯২.
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিষ্ঠাকাল-
  1. ক) ১৯৯৭
  2. খ) ১৯৯৯
  3. গ) ২০০১
  4. ঘ) ২০০৯
ব্যাখ্যা

২৩ অক্টোবর, ২০০১ সালে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠিত হয়।
এই মন্ত্রণালয়ের প্রথম মন্ত্রী ছিলেন রেদোয়ান আহমেদ। বর্তমানে, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী হলেন আ ক ম মোজাম্মেল হক।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অন্তর্ভুক্ত প্রতিষ্ঠানসমূহ/সংগঠনসমূহঃ
বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট, জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, জাতীয় স্মৃতিস্তম্ভ, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর, স্বাধীনতা স্তম্ভ কমপ্লেক্স, মুজিবনগর স্মৃতি কমপ্লেক্স, মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ ইত্যাদি।

উৎসঃ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট।

৯৩.
‘মুজিব : একটি জাতির রূপকার’ চলচ্চিত্রটির বাংলাদেশের প্রযোজক কে?
  1. বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশন
  2. জাজ মাল্টিমিডিয়া
  3. ইমপ্রেস টেলিফিল্ম লিমিটেড
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
মুজিব: একটি জাতির রূপকার:

- জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনী নিয়ে নির্মিত চলচ্চিত্র ‘মুজিব: একটি জাতির রূপকার’।
- চলচ্চিত্রটি মুক্তি পায় ১৩ অক্টোবর ২০২৩ সালে।
- ১৯ মে ২০২২ সালে ফ্রান্সে ৭৫তম কান চলচ্চিত্র উৎসবে সিনেমাটির প্রাথমিক ট্রেলার মুক্তি পায়।
- সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন ভারতের খ্যাতিমান নির্মাতা শ্যাম বেনেগাল।
- সিনেমাটির প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশের ‘বিএফডিসি’ (বাংলাদেশ) ও ভারতের ‘এনএফডিসি’।
- এর নির্মাণ ব্যয় ৮৩ কোটি টাকা। বাংলাদেশ মোট অর্থের ৫০ কোটি ও ভারত ৩৩ কোটি টাকা দিয়েছে।
- চলচ্চিত্রটিতে বঙ্গবন্ধুর চরিত্রে অভিনয় করেছেন আরিফিন শুভ।
• খন্দকার মোশতাক আহমদের চরিত্রে অভিনয় করেছেন ফজলুর রহমান বাবু।
• কিশোর শেখ মুজিব চরিত্রে অভিনয় করেছেন দিব্য জ্যোতি।
• রেণু (শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব) চরিত্রে অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশা।
• শেখ হাসিনা চরিত্রে নুসরাত ফারিয়া।
• শেখ রেহানা চরিত্রে সাবিলা নূর।
• মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী চরিত্রে রাইসুল ইসলাম আসাদ।
• তাজউদ্দীন আহমদ চরিত্রে রিয়াজ।
• এ কে ফজলুল হক চরিত্রে শহীদুল আলম সাচ্চু।
• টিক্কা খান চরিত্রে জায়েদ খান।

তথ্যসূত্র - সময় নিউজ, ১৫ অক্টোবর ২০২৩ ও জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৯৪.
মর্যাদা অনুসারে মুক্তিযোদ্ধাদের ২য় বীরত্বসূচক খেতাব কোনটি?
  1. বীরপ্রতীক
  2. বীরশ্রেষ্ঠ
  3. বীরউত্তম
  4. বীরবিক্রম
ব্যাখ্যা

• ১৫ ডিসেম্বর ১৯৭৩ সালে — সরকারি গেজেট নোটিফিকেশনের মাধ্যমে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের খেতাব প্রদান করেন।

• মুক্তিযুদ্ধের খেতাব ৪ পর্বে বিভক্ত।
যথা-
- বীরশ্রেষ্ঠ (মর্যাদা অনুসারে প্রথম বীরত্বসূচক খেতাব),
- বীর উত্তম (মর্যাদা অনুসারে দ্বিতীয় বীরত্বসূচক খেতাব),
- বীর বিক্রম (মর্যাদা অনুসারে তৃতীয় বীরত্বসূচক খেতাব) এবং
- বীর প্রতীক (মর্যাদা অনুসারে চতুর্থ বীরত্বসূচক খেতাব)।
----------------
বিশেষ তথ্য- খেতাবপ্রাপ্ত মোট বীর মুক্তিযোদ্ধা:
• ১ম উপাধি: বীরশ্রেষ্ঠ, ৭ জন,
• ২য় উপাধি: বীর উত্তম, ৬৮ জন,
• ৩য় উপাধি: বীর বিক্রম, ১৭৫ জন এবং
• ৪র্থ উপাধি: বীর প্রতীক, ৪২৬ জন।
- মুক্তিযুদ্ধে খেতাবপ্রাপ্ত মোট যোদ্ধার সংখ্যা ৬৭৬ জন।

- কিন্তু ৬ জুন, ২০২১ সালে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যা মামলায় দণ্ডিত ৪ খুনির বীরত্বসূচক রাষ্ট্রীয় খেতাব বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারি করে।
- যার ফলে বর্তমানে খেতাবপ্রাপ্ত মোট বীর মুক্তিযোদ্ধা ৬৭২ জন।

উৎস: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৯৫.
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান 'OIC' এর কততম সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন?
  1. ক) পঞ্চম সম্মেলন
  2. খ) চতুর্থ সম্মেলন
  3. গ) তৃতীয় সম্মেলন
  4. ঘ) দ্বিতীয় সম্মেলন
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশ ১৯৭৪ সালের ২২-২৪ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের লাহোরে অনুষ্ঠিত 'OIC' এর দ্বিতীয় শীর্ষ সম্মেলনে সদস্য পদ লাভ করে।
- জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এই সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন।

• ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থা OIC:
- OIC (The Organisation of Islamic Cooperation) হলো মুসলিম দেশগুলোর একটি রাজনৈতিক জোট যা ১৯৬৯ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর মরক্কোতে অনুষ্ঠিত রাবাত সম্মেলনের মাধ্যমে গঠিত হয়।
- ইসরাইল কর্তৃক আল আকসা মসজিদে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার প্রেক্ষাপটে OIC গঠিত হয়।
- OIC এর বর্তমান সদস্য সংখ্যা ৫৭টি।
- দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলের দুটি দেশ গায়ানা ও সুরিনাম OIC সদস্য।
- ইউরোপ মহাদেশের আলবেনিয়া OIC সদস্য।
- OIC এর সদরদপ্তর সৌদি আরবের জেদ্দায় অবস্থিত।
- OIC এর বর্তমান মহাসচিব, এইচ.ই. হিসেইন ইব্রাহিম তাহা (১২ তম)।
- মহাসচিবের মেয়াদ-৫ বছর।
- শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়-তিন বছর পর পর।
- প্রথম শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়- রাবাত, মরক্কো (১৯৬৯ সালে)।
- অফিসিয়াল ভাষা- তিনটি (আরবি, ইংরেজি, ফ্রেঞ্চ।

উৎস: OIC ওয়েবসাইট ও বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের ওয়েবসাইট।
৯৬.
বঙ্গবন্ধু সামরিক জাদুঘর কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট
  2. খ) চট্টগ্রাম ক্যান্টনমেন্ট
  3. গ) আগারগাঁও
  4. ঘ) বিজয় সরণী
ব্যাখ্যা
- ১০ জানুয়ারি ২০২২ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি 'টুঙ্গিপাড়া: হৃদয়ে পিতৃভূমি' শিরোনামে একটি পোস্টার প্রকাশ করে। 
- ৬ জানুয়ারি ২০২২ রাজধানীর বিজয় সরণীতে ‘বঙ্গবন্ধু সামরিক জাদুঘর’ উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
- ১৯৮৭ সালে বাংলাদেশ সামরিক জাদুঘর মিরপুর সেনানিবাসে প্রতিষ্ঠিত হয়। যা পরবর্তীতে ১৯৯২ সালে ঢাকার বিজয় স্মরণী রোডের পাশে স্থানান্তরিত হয়। বর্তমানে এর নামকরণ করা হয়েছে বঙ্গবন্ধু সামরিক জাদুঘর।

উৎস: বঙ্গবন্ধু সামরিক জাদুঘর ওয়েবসাইট ও প্রথম আলো রিপোর্ট।
৯৭.
'এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার গ্রাম' - জাতির পিতা কবে এই ঘােষণা দেন?
  1. ২৬ মার্চ ১৯৭১
  2. ৭ মার্চ ১৯৭১
  3. ৩ মার্চ ১৯৭১
  4. ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১
ব্যাখ্যা
• ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ রেসকোর্স ময়দানের সমাবেশে বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতা সংগ্রামের জন্য প্রস্তুতি নেয়ার আহব্বান জানান এবং দেশকে মুক্ত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

তিনি বজ্রকণ্ঠে ঘোষণা করেন - “এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।”

১৯৭১ সালের ৭ই মার্চের ভাষণে শেখ মুজিবুর রহমান ৪টি দাবি উপস্থাপন করেন। যথা:
১.চলমান সামরিক আইন প্রত্যাহার,
২.সৈন্যদের ব্যারাকে ফিরিয়ে নেয়া,
৩. গণহত্যার তদন্তকরা এবং
৪. নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করা।

তথ্যসূত্র:- বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণি।
৯৮.
’কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’- এ নিচের কোন শিল্পী অন্তর্ভুক্ত ছিল না?
  1. এরিক ক্ল্যাপটন
  2. এলভিস প্রিসলি
  3. রবি শঙ্কর
  4. বব ডিলান
ব্যাখ্যা

কনসার্ট ফর বাংলাদেশ
• একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নিউইয়র্কের ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে ১৯৭১ সালের ১ আগস্ট অনুষ্ঠিত হয়েছিল ‘দ্য কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’।
• পণ্ডিত রবিশংকর মুক্তিযুদ্ধের প্রতি বিশ্বজনমত গড়ে তোলা এবং শরণার্থীদের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার জন্য তাঁর শিষ্য-বন্ধু বিশ্বখ্যাত ব্যান্ড বিটল্সের শিল্পী জর্জ হ্যারিসনকে নিয়ে এই অবিস্মরণীয় কনসার্টের আয়োজন করেছিলেন। তাতে মোট ৪০,০০০ দর্শক উপস্থিত হয়েছিলেন। কনসার্টটির নাম দেওয়া হয়েছিল ‘কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’।
• কনসার্ট ফর বাংলাদেশে আয়োজক দুই তারকা ছাড়াও অংশ নেন বিটলসের রিংগো স্টার, বব ডিলান, এরিক ক্ল্যাপটন, বিলি প্রেসটন, লিয়ন রাসেল।
• রবি শঙ্কর ছাড়াও সরোদ শিল্পী আলী আকবর খান অংশ নিয়েছিলেন এই কনসার্টে।
• এই কনসার্টটি পরিচালনা করেন পল সুইমার। 

উৎস::  প্রথম আলো এবং বিবিসি বাংলা।

৯৯.
মুক্তিযুদ্ধে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত কোন দেশের সরকার নিরপেক্ষ অবস্থান গ্রহণ করে?
  1. সৌদি আরব
  2. আমেরিকা
  3. চীন
  4. যুক্তরাজ্য
ব্যাখ্যা

মুক্তিযুদ্ধে যুক্তরাজ্যের ভুমিকা :
- যুক্তরাজ্যের নীতির মূল লক্ষ্য ছিল পাকিস্তানের কাঠামোর অভ্যন্তরে বাঙালির স্বাধীকার সমস্যার সমাধান করা।
- মুক্তিযুদ্ধের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত যুক্তরাজ্য সরকার নিরপেক্ষ অবস্থান গ্রহণ করে।
- বাংলাদেশের ঘটনায় ব্রিটেন সরকারিভাবে উৎকণ্ঠা প্রকাশ করে এবং ভারতে আশ্রয় গ্রহণকারী শরণার্থীদের জন্য ব্রিটিশ সরকার আন্তর্জাতিক ত্রাণ তৎপরতায় অংশগ্রহণ করে। 
- ব্রিটিশ সরকারের নিরপেক্ষ নীতির কারণে ব্রিটেনের পত্র-পত্রিকায় ও বেতার মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষে প্রচারণা সহজতর হয়েছিল। 
- ব্রিটেনের মাটিকে প্রবাসী বাঙালিরা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে আন্তর্জাতিক জনমত গড়ে তোলার জন্য কোন সরকারি বাধা বিঘ্ন ছাড়াই জোরালো আন্দোলন গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছিল। 
অন্যদিকে,
- চীন পাকিস্তানকে সমর্থন করেছে। 
- মুক্তিযুদ্ধের সময় মার্কিন সরকার পাকিস্তানের পক্ষ অবলম্বন করে।
- সৌদি আরব, ইরান, ইরাক প্রভৃতি দেশসমূহ এবং ওআইসি বাংলাদেশে পাকিস্তানের গণহত্যার প্রতিবাদ করেনি। 
- বরং পাকিস্তানকে সমর্থন করতে বিশ্বের মুসলমানদের আহ্বান জানিয়েছে।

উৎস:  বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা (এসএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১০০.
মুক্তিযুদ্ধের সময় নৌ-কমান্ডো গঠিত হয়েছিল কোন সেক্টরে?
  1. ১১নং
  2. ৫নং
  3. ২নং
  4. ১০নং
ব্যাখ্যা

মুক্তিযুদ্ধ সেক্টর:
- মুক্তিযুদ্ধকালে যুদ্ধাঞ্চলকে যে ১১ টি সেক্টরে ভাগ করা হয়।
- এর মধ্যে ১০নং সেক্টরের অধীনে ছিল নৌ-কমান্ডো।
- সমুদ্র উপকূলবর্তী এলাকা, নদী ও সমুদ্র বন্দরসহ বাংলাদেশের সমগ্র জলপথ নিয়ে এ সেক্টর গঠিত হয়।
- নদীমাতৃক বাংলাদেশের সঙ্গে সমুদ্রপথে পাকিস্তানের যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া ছিল নৌ-কমান্ডো আক্রমণের উদ্দেশ্য।
- ১০নং সেক্টরের কোনো নিয়মিত সেক্টর কমান্ডার ছিলেন না।
- অপারেশনের সময় কমান্ডোদের কাজের নিয়ন্ত্রণ থাকত যে এলাকায় অপারেশন পরিচালিত হবে সে এলাকার সেক্টর কমান্ডারের ওপর।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।