উত্তর
ব্যাখ্যা
- ইকোসিস্টেম যখন বৃহৎ এলাকা নিয়ে গড়ে উঠে তখন তাকে বায়োম বলে।
- নির্দিষ্ট পরিবেশ ও জলবায়ুর প্রভাবে বিশেষ ধরনের উদ্ভিদ ও প্রাণীদের পারস্পরিক ক্রিয়া ও প্রতিক্রিয়ার মাধ্যমে গড়ে উঠা জীবমণ্ডলের বৃহৎ ভৌগোলিক এককই বায়োম। তাই বায়োম হচ্ছে জীবমণ্ডলের সর্ববৃহৎ একক।
বাংলাদেশের বায়োম:
- বাংলাদেশে পরিবেশের অজীব উপাদান (যেমন- অক্সিজেন, কার্বন ডাই-অক্সাইড, নাইট্রোজেন গ্যাস ইত্যাদি), মাটির জৈব উপাদান (যেমন- মৃত উদ্ভিদ ও প্রাণীর দেহ পচে সৃষ্ট ইউরিয়া ও হিউমাস, ভূপ্রকৃতি ও মাটি ইত্যাদি) এবং সজীব উপাদানের (যেমিন- উৎপাদক, খাদক ও বিয়োজক ইত্যাদি) প্রভাবে সেখানকার উদ্ভিদ ও প্রাণীদের পারস্পরিক ক্রিয়া-বিক্রিয়ার ভিত্তিতে যে বাস্তুতন্ত্রের একক গড়ে উঠে তাকেই বাংলাদেশী বায়োম বলা হয়।
- এতে উদ্ভিদ ও প্রাণীদের মধ্যে পুষ্টিচক্র সক্রিয় হয় অর্থাৎ শক্তির প্রবাহ অক্ষুণ্ণ থাকে।
- বাংলাদেশের বায়োম দুই প্রকার।
যথা-
(ক) বাংলাদেশের স্থলজ বায়োম:
১। শস্যক্ষেত্রের বায়োম (Biome of Crops):
- বাংলাদেশের শস্যক্ষেত্রের প্রধান উদ্ভিদ হচ্ছে ধান, পাট, ঘাস, আগাছা ইত্যাদি।
- এখানে ইকোসিস্টেমের উৎপাদক হচ্ছে ঐ সকল উদ্ভিদসমূহ।
- কীট-পতঙ্গ প্রথম স্তরের খাদক।
- দ্বিতীয় স্তরের খাদক ব্যাঙ, পাখি, গরু, ছাগল, ভেড়া, মানুষ ইত্যাদি।
- তৃতীয় স্তরের খাদক হলো সাপ ও শিকারী পাখি।
এখানে, মাটিতে বিয়োজক সৃষ্টি হয় ছত্রাক, ব্যাকটেরিয়া এবং কাক, শিয়াল ও পাখির গলিত মৃতদেহের সমন্বয়ে।
২। বনভূমির বায়োম (Biome of Forest):
- বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় যেসব বনভূমি রয়েছে তাদের বায়োম প্রায় একই প্রকার।
- তবে খাদ্য শৃঙ্খলে বিভিন্ন স্তরের উৎসগুলো এক প্রকার নয়। এখানে উৎপাদক হচ্ছে তৃণ, গুল্ম, ঘাস, গাছপালা ইত্যাদি।
- আর প্রথম স্তরের খাদক বানর, হরিণ, বাদুড়, হাতি নানা ধরনে পোকামাকড় ইত্যাদি।
- দ্বিতীয় স্তরের খাদ্য হচ্ছে- পাখি, ফড়িং, ব্যাঙ, বাঘ।
- তৃতীয় স্তরের খাদক হচ্ছে- বেজি, সাপ, চিল প্রভৃতি।
- বনভূমির গাছের পাতা, বিভিন্ন মৃত প্রাণীদের দেহ মাটিতে পঁচে গিয়ে ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাকের প্রভাবে বিয়োজক সৃষ্টি হয়, পরিশেষে পুষ্টিচক্র সক্রিয় থাকে।
- বৈশিষ্ট্যের ওপর ভিত্তি করে বাংলাদেশে বনভূমির বায়োমকে কতিপয় বায়োম-এ ভাগ করা যায়।
যেমন- (১) সুন্দর বনের বায়োম, (২) মধুপুর অরণ্যের বায়োম (৩) চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বনাঞ্চলের বায়োম এবং (৪) সিলেট অঞ্চলের বনভূমির বায়োম।
(খ) বাংলাদেশের জলজ বায়োম:
- বাংলাদেশের জলজ বায়োম আবার দুই প্রকার।
যথা- স্বাদু পানির বায়োম এবং লবণাক্ত পানির বায়োম।
- বাংলাদেশের হাওড়, বাঁওড়, বিল প্রভৃতি এলাকার বায়োমকে স্বাদু পানির বায়োম বলা হয়।
যেমিন- নেত্রকোনা এবং কিশোরগঞ্জের হাওড়, দক্ষিণ-পশ্চিমা অঞ্চলের বাঁওড়, মাদারীপুর, গোপালগঞ্জের বিল প্রভৃতি বাংলাদেশের স্বাদু পানির বায়োমের উদাহরণ।
- বাংলাদেশের উপকূলীয় সাগর ও মহাসাগরের লবণাক্ত পানির বায়োমকে লবণাক্ত পানির বায়োম বলা হয়।
উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (প্রফেসর মোয়াজ্জেম হোসেন চৌধুরী)।