বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

আধুনিক পদার্থ ও ভূগোল সংক্রান্ত

মোট প্রশ্ন২,৪০৪এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

আধুনিক পদার্থ ও ভূগোল সংক্রান্ত

PrepBank · পাতা / ২৪ · ৮০১৯০০ / ২,৪০৪

৮০১.
নিম্নের কোনটি বিয়োজক?
  1. ছত্রাক
  2. পাখি
  3. পোকামাকড়
  4. ব্যাঙ
ব্যাখ্যা
বায়োম: 
- ইকোসিস্টেম যখন বৃহৎ এলাকা নিয়ে গড়ে উঠে তখন তাকে বায়োম বলে। 
- নির্দিষ্ট পরিবেশ ও জলবায়ুর প্রভাবে বিশেষ ধরনের উদ্ভিদ ও প্রাণীদের পারস্পরিক ক্রিয়া ও প্রতিক্রিয়ার মাধ্যমে গড়ে উঠা জীবমণ্ডলের বৃহৎ ভৌগোলিক এককই বায়োম। তাই বায়োম হচ্ছে জীবমণ্ডলের সর্ববৃহৎ একক। 
বাংলাদেশের বায়োম: 
- বাংলাদেশে পরিবেশের অজীব উপাদান (যেমন- অক্সিজেন, কার্বন ডাই-অক্সাইড, নাইট্রোজেন গ্যাস ইত্যাদি), মাটির জৈব উপাদান (যেমন- মৃত উদ্ভিদ ও প্রাণীর দেহ পচে সৃষ্ট ইউরিয়া ও হিউমাস, ভূপ্রকৃতি ও মাটি ইত্যাদি) এবং সজীব উপাদানের (যেমিন- উৎপাদক, খাদক ও বিয়োজক ইত্যাদি) প্রভাবে সেখানকার উদ্ভিদ ও প্রাণীদের পারস্পরিক ক্রিয়া-বিক্রিয়ার ভিত্তিতে যে বাস্তুতন্ত্রের একক গড়ে উঠে তাকেই বাংলাদেশী বায়োম বলা হয়। 
- এতে উদ্ভিদ ও প্রাণীদের মধ্যে পুষ্টিচক্র সক্রিয় হয় অর্থাৎ শক্তির প্রবাহ অক্ষুণ্ণ থাকে। 
- বাংলাদেশের বায়োম দুই প্রকার। 
যথা-
(ক) বাংলাদেশের স্থলজ বায়োম: 
১। শস্যক্ষেত্রের বায়োম (Biome of Crops): 
- বাংলাদেশের শস্যক্ষেত্রের প্রধান উদ্ভিদ হচ্ছে ধান, পাট, ঘাস, আগাছা ইত্যাদি। 
- এখানে ইকোসিস্টেমের উৎপাদক হচ্ছে ঐ সকল উদ্ভিদসমূহ। 
- কীট-পতঙ্গ প্রথম স্তরের খাদক। 
- দ্বিতীয় স্তরের খাদক ব্যাঙ, পাখি, গরু, ছাগল, ভেড়া, মানুষ ইত্যাদি। 
- তৃতীয় স্তরের খাদক হলো সাপ ও শিকারী পাখি। 
এখানে, মাটিতে বিয়োজক সৃষ্টি হয় ছত্রাক, ব্যাকটেরিয়া এবং কাক, শিয়াল ও পাখির গলিত মৃতদেহের সমন্বয়ে। 

২। বনভূমির বায়োম (Biome of Forest): 
- বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় যেসব বনভূমি রয়েছে তাদের বায়োম প্রায় একই প্রকার। 
- তবে খাদ্য শৃঙ্খলে বিভিন্ন স্তরের উৎসগুলো এক প্রকার নয়। এখানে উৎপাদক হচ্ছে তৃণ, গুল্ম, ঘাস, গাছপালা ইত্যাদি। 
- আর প্রথম স্তরের খাদক বানর, হরিণ, বাদুড়, হাতি নানা ধরনে পোকামাকড় ইত্যাদি। 
- দ্বিতীয় স্তরের খাদ্য হচ্ছে- পাখি, ফড়িং, ব্যাঙ, বাঘ। 
- তৃতীয় স্তরের খাদক হচ্ছে- বেজি, সাপ, চিল প্রভৃতি। 
- বনভূমির গাছের পাতা, বিভিন্ন মৃত প্রাণীদের দেহ মাটিতে পঁচে গিয়ে ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাকের প্রভাবে বিয়োজক সৃষ্টি হয়, পরিশেষে পুষ্টিচক্র সক্রিয় থাকে। 
- বৈশিষ্ট্যের ওপর ভিত্তি করে বাংলাদেশে বনভূমির বায়োমকে কতিপয় বায়োম-এ ভাগ করা যায়। 
যেমন- (১) সুন্দর বনের বায়োম, (২) মধুপুর অরণ্যের বায়োম (৩) চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বনাঞ্চলের বায়োম এবং (৪) সিলেট অঞ্চলের বনভূমির বায়োম। 

(খ) বাংলাদেশের জলজ বায়োম: 
- বাংলাদেশের জলজ বায়োম আবার দুই প্রকার। 
যথা- স্বাদু পানির বায়োম এবং লবণাক্ত পানির বায়োম। 
- বাংলাদেশের হাওড়, বাঁওড়, বিল প্রভৃতি এলাকার বায়োমকে স্বাদু পানির বায়োম বলা হয়। 
যেমিন- নেত্রকোনা এবং কিশোরগঞ্জের হাওড়, দক্ষিণ-পশ্চিমা অঞ্চলের বাঁওড়, মাদারীপুর, গোপালগঞ্জের বিল প্রভৃতি বাংলাদেশের স্বাদু পানির বায়োমের উদাহরণ। 
- বাংলাদেশের উপকূলীয় সাগর ও মহাসাগরের লবণাক্ত পানির বায়োমকে লবণাক্ত পানির বায়োম বলা হয়। 

উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (প্রফেসর মোয়াজ্জেম হোসেন চৌধুরী)।
৮০২.
পৃথিবীর আবর্তনের বেগ সবচেয়ে বেশি কোথায়?
  1. ক) মূল মধ্যরেখায়
  2. খ) নিরক্ষরেখায়
  3. গ) উপক্রান্তীয় অঞ্চলে
  4. ঘ) মেরুবৃত্তে
ব্যাখ্যা
পৃথিবী তার নিজ অক্ষের উপর পশ্চিম থেকে পূর্বদিকে নিয়ত আবর্তনশীল। পৃথিবীর এই আবর্তনের গতি আহ্নিক গতি নামে পরিচিত।

- পৃথিবীর সর্বত্র আহ্নিক গতি সমান নয়। নিরক্ষরেখায় পৃথিবীর পরিধি সবচেয়ে বেশি হওয়ায় এখানে আবর্তন গতিও সবচেয়ে বেশি যা প্রায় ১,৭০০ কিলোমিটার।

- নিরক্ষরেখা থেকে মেরু অঞ্চলের দিকে আবর্তন বেগ ক্রমান্বয়ে হ্রাস পায়। ঢাকায় পৃথিবীর আর্বতন বেগ ১,৬০০ কিলোমিটার।

(তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী)
৮০৩.
পৃথিবী থেকে নক্ষত্রের দূরত্ব মাপার একক কী?
  1. কিলোমিটার 
  2. মাইল 
  3. আলোক বর্ষ
  4. নটিক্যাল মাইল 
ব্যাখ্যা

- মহাকাশের বিশাল দূরত্ব পরিমাপের জন্য আলোক বর্ষ ব্যবহৃত হয়। এটি সময়ের একক নয়, বরং দূরত্বের একক। এক আলোক বর্ষ হলো এক বছরে শূন্য মাধ্যমে আলো যে দূরত্ব অতিক্রম করে। নক্ষত্রগুলো পৃথিবী থেকে এতটাই দূরে যে কিলোমিটার বা মাইলে সেই দূরত্ব প্রকাশ করা হলে সংখ্যাটি অনেক বড় হয়ে যায়, তাই আলোক বর্ষ ব্যবহার করা সুবিধাজনক। 

নক্ষত্র (Star): 
- যেসব জ্যোতিষ্কের নিজের আলো আছে তাদের নক্ষত্র বলে। 
- মহাকাশে অসংখ্য নক্ষত্র রয়েছে। খালি চোখে মাত্র কয়েক হাজার নক্ষত্র দেখা যায়। এদের কয়েকটি পৃথিবী থেকে শক্তিশালী দূরবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্যে দেখা যায়। 
- নক্ষত্রগুলো হলো জ্বলন্ত গ্যাসপিন্ড, এরা হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম গ্যাস দিয়ে তৈরি। এই গ্যাস অতি উচ্চ (প্রায় ৬০০০° সেলসিয়াস) তাপমাত্রায় জ্বলছে। 
- সূর্যের প্রখর আলোর জন্য দিনের বেলায় অন্যান্য নক্ষত্র দেখা যায় না। 

- পৃথিবী থেকে দেখলে মনে হয় নক্ষত্রগুলো যেন একই সমতলে অবস্থান করছে। কিন্তু পৃথিবী থেকে এরা বিভিন্ন দূরত্বে অবস্থান করছে। পৃথিবী ও নক্ষত্রদের মধ্যে এবং নক্ষত্রদের পরস্পরের মধ্যে দূরত্ব এত বেশি যে কিলোমিটার দ্বারা এই দূরত্ব প্রকাশ করা যায় না। এই দূরত্ব আলোক বর্ষ এককে মাপা হয়। 
- আলো প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৩ লক্ষ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে। এই বেগে এক বছরে আলো যে পরিমাণ দূরত্ব অতিক্রম করে তাকে এক আলোক বর্ষ বলে। 
- সূর্য পৃথিবীর নিকটতম নক্ষত্র। সূর্য থেকে পৃথিবীতে আলো আসতে সময় লাগে ৮ মিনিট ১৯ সেকেন্ড। সূর্যের নিকটতম নক্ষত্র প্রক্সিমা সেন্টারাই (Proxima Centauri)। 

উৎস: ভূগোল, নবম-দশম শ্রেণি।

৮০৪.
কোনটি নবায়নযােগ্য সম্পদ?
  1. ক) প্রাকৃতিক গ্যাস
  2. খ) চুনাপাথর
  3. গ) বায়ু
  4. ঘ) কয়লা
ব্যাখ্যা
নবায়নযােগ্য শক্তি (Renewable Energy):
- যে জ্বালানি পুন: পুন ব্যবহার করলে সাধারণত ফুরােয় না এমনকি অদূর ভবিষ্যতেও ঘাটতির সম্ভাবনা থাকে না, তাকে নবায়নযােগ্য জ্বালানি বলা হয়।
যেমন: সূর্যের আলাে, সমুদ্রের জোয়ার-ভাটা, সমুদ্রের ঢেউ, বায়ু, নদীর বহমান পানি, পৃথিবীর গভীরের উত্তপ্ত ম্যাগমা।

অনবায়নযােগ্য শক্তি (Non-Renewable Energy):
অনবায়নযােগ্য মানে হলাে, যে শক্তি একবার ব্যবহার করা হলে তা থেকে পুনরায় শক্তি উৎপন্ন করা যায় না। এটি হলো মূলত প্রাকৃতিক সম্পদ, যা পুনরায় উৎপন্ন করা যায় না।
যেমন - তেল, গ্যাস, কয়লা, ইউরেনিয়াম।

তথ্যসূত্র:- পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮০৫.
সমুদ্রের তলদেশে ভূমিকম্প হলে সৃষ্টি হয়- 
  1. টর্নেডো 
  2. সুনামি 
  3. ঘূর্ণিঝড় 
  4. বন্যা 
ব্যাখ্যা

সুনামি: 
- Tsunami একটি জাপানি শব্দ। যার ‘সু’ অর্থ বন্দর এবং ‘নামি’ অর্থ ঢেউ। 
অর্থাৎ সুনামি শব্দের অর্থ হলো বন্দরের ঢেউ। এটি একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ। 
- সমুদ্রতলদেশে ভূমিকম্প, আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত, ভূমিধস এবং নভোজাগতিক ঘটনা সুনামি সৃষ্টি করতে পারে। 
- সুনামি প্রাকৃতিক দুর্যোগটি শুধুমাত্র সাগরে সংঘটিত হয়। 
- সাধারণত সমুদ্রের তলদেশে একটা ভূমিকম্প হলে সুনামি তৈরি হয়। 
- ২০০৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর স্বরণকালের ভয়ঙ্কর একটি প্রাকৃতিক দূর্যোগ ঘটে। 
- ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা দ্বীপের কাছাকাছি ভারত মহাসাগরের তলদেশে সৃষ্টি হয়েছিল ট্রাক্টনিক ভূমিকম্প। 
- ইউরেশিয়ান প্লেট ও অস্ট্রেলিয়ান প্লেটের সংঘর্ষে সৃষ্টি হওয়া এই মারাত্মক ভূমিকম্পটি ছিল রিখটার স্কেলে নয় মাত্রার। 
- এই জলোচ্ছাসে তিন লাখের মতো মানুষ নিহত হয় যার মধ্যে ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রার আচেহ প্রদেশেই নিহত হয়েছে এক লাখ মানুষ। 
- অগভীর পানিতে যাওয়ার সময় সুনামি তার শক্তি হারায় অর্থাৎ কমে। 
- বঙ্গোপসাগরে ১৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত অগভীর পানি বাংলাদেশকে সুনামির কবল থেকে রক্ষা করে থাকে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৮০৬.
লেজার রশ্মি কে কত সালে আবিষ্কার করেন?
  1. মাইম্যান, ১৯৬০
  2. রাদারফোর্ড, ১৯১৯
  3. বোর, ১৯৬৩
  4. হাইগ্যান, ১৯৬১
ব্যাখ্যা
LASER এর পূর্ণরূপ - Light Amplification by Stimulated Emission Radiation. অর্থাৎ উত্তেজিত বিকিরণের সাহায্যে আলোক বিবর্ধক।
১৯৬০ সালে আমেরিকান পদার্থবিদ থিওডর মাইম্যান প্রথম লেজার তৈরী করেন। লেজারের বিবিধ ব্যবহারের মধ্যে রয়েছে মৃদু শল্যচিকিৎসা এবং পৃথিবী থেকে চাঁদের দূরত্ব পরিমাপ করা।

উৎস: ব্রিটানিকা
৮০৭.
এক নির্দিষ্ট আয়তনের বায়ুতে জলীয়বাষ্পের প্রকৃত পরিমাণকে কী বলা হয়? 
  1. পরম আর্দ্রতা
  2. বায়বীয় আর্দ্রতা
  3. গ্যাসীয় আর্দ্রতা
  4. আপেক্ষিক আর্দ্রতা
ব্যাখ্যা
বায়ুর আর্দ্রতা (Humidity): 
- বায়ুতে জলীয়বাষ্প ধারণ করা না হলে পানিচক্র প্রক্রিয়া সম্পন্ন হত না। 
- বায়ুর জলীয়বাষ্প ধারণ করাকে তাই বলা হয় বায়ুর আর্দ্রতা। 
অর্থাৎ, বায়ুর আর্দ্রতার উপর বায়ুর জলীয়বাষ্প ধারণক্ষমতা নির্ভর করে। 
- বায়ুমণ্ডলে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ শতকরা ১ ভাগেরও কম। 
- আর্দ্র বায়ুতে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ প্রায় শতকরা ২ থেকে ৫ ভাগ বেশি থাকে। 
- বায়ুর এই আর্দ্রতা হাইগ্রোমিটার দ্বারা পরিমাপ করা যায়। 
- বায়ুর আর্দ্রতা মূলত দুই প্রকার। 
যথা- 
১। পরম আর্দ্রতা: 
- কোনো নির্দিষ্ট আয়তনের বায়ুতে জলীয়বাষ্পের প্রকৃত পরিমাণকে বলা হয় পরম আর্দ্রতা। 

২। আপেক্ষিক আর্দ্রতা: 
- কোনো নির্দিষ্ট আয়তনের জলীয়বাষ্পের প্রকৃত পরিমাণ আর একই আয়তনের বায়ুতে একই উষ্ণতায় পরিপৃক্ত করতে যে পরিমাণ জলীয়বাষ্প প্রয়োজন এ দুটির অনুপাতকে বলা হয় আপেক্ষিক আর্দ্রতা। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮০৮.
ভূত্বকের গড় গভীরতা কত কিলোমিটার?
  1. ক) ০৫ কি.মি.
  2. খ) ১০ কি.মি.
  3. গ) ২০ কি.মি.
  4. ঘ) ৩৫ কি.মি
ব্যাখ্যা
- ভূপৃষ্ঠে শিলার যে কঠিন বহিরাবরণ দেখা যায় তা ‘ভূত্বক’ নামে পরিচিত।
- ভূত্বের গড় গভীরতা ২০ কিমি।
- মহাসাগরীয় ভূত্বকের গড় গভীরতা ০৫ কিলোমিটার এবং মহাদেশীয় পৃষ্ঠে ভূত্বকের গড় গভীরতা ৩৫ কিমি।
- মহাদেশীয় ভূত্বক সিলিকন (Si) ও অ্যালুমিনিয়াম (Al) দ্বারা গঠিত যা ‘সিয়াল’ (SiAl) স্তর নামে পরিচিত।
- মহাসাগরীয় ভূত্বক সিলিকন (Si) এবং ম্যাগনেসিয়াম (Mg) দ্বারা গঠিত যা ‘সিমা’ (SiMg) স্তর নামে পরিচিত।
(তথ্যসূত্রঃ ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী)
৮০৯.
আমাদের দেশে বনায়নের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ-
  1. গাছপালা পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করে
  2. গাছপালা O₂ ত্যাগ করে পরিবেশকে নির্মল রাখে ও জীব জগতকে বাঁচায়
  3. দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে কোনো অবদান নেই
  4. ঝড় ও বন্যার আশঙ্কা বাড়িয়ে দেয়
ব্যাখ্যা
- পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় কোন দেশের মোট আয়তনের ন্যূনতম ২৫ ভাগ বনভূমি থাকতে হয়।
- বাংলাদেশে বনভূমির পরিমাণ মোট আয়তনের শতকরা ১৭ ভাগ।

উল্লেখ্য যে,
- আমাদের দেশের জন্য বনায়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ-
গাছপালা অক্সিজেন ত্যাগ করে পরিবেশকে নির্মল রাখে ও জীব জগতকে বাঁচায়।
• গাছপালা বিভিন্ন ছোট জীবজন্তু ও পাখির আশ্রয়স্থল হিসাবে কাজ করে এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে।
• গাছপালা বিভিন্ন দুর্যোগ থেকে জীবজগতকে রক্ষা করে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৮১০.
কোন প্রকার বায়ু চাপবলয় দ্বারা প্রভাবিত হয়ে সারাবছর একইদিকে প্রবাহিত হয়? 
  1. স্থানীয় বায়ু
  2. নিয়ত বায়ু
  3. মৌসুমি বায়ু
  4. সাময়িক বায়ু
ব্যাখ্যা
বায়ু: 
- পৃথিবীর চাপ বলয়গুলো দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়ে যে বায়ু সারাবছর একইদিকে প্রবাহিত হয় তাকে নিয়ত বায়ু বলে। 
- নিয়ত বায়ু তিন প্রকার। 
- যথা: পশ্চিমা বায়ু, অয়ন বায়ু, মেরু বায়ু। 
- পশ্চিমা বায়ু প্রবাহিত হয় ক্রান্তীয় উচ্চচাপ বলয় থেকে মেরুবৃত্ত নিম্নচাপ বলয়ের দিকে। 
- অয়ন বায়ু বা বাণিজ্য বায়ু প্রবাহিত হয় ক্রান্তীয় উচ্চচাপ বলয় থেকে নিরক্ষীয় নিম্নচাপ বলয়ের দিকে। 
- মেরু বায়ু প্রবাহিত হয় মেরু অঞ্চলের উচ্চচাপ বলয় থেকে মেরুবৃত্ত নিম্নচাপ বলয়ের দিকে। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৮১১.
নিম্নের কোন গ্রহের বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই অক্সাইড রয়েছে?
  1. পৃথিবী
  2. শুত্রু
  3. মঙ্গল
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
পৃথিবী, শুত্রু ও মঙ্গল এই তিন গ্রহের বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই অক্সাইড রয়েছে। 
 
Both Venus and Mars have atmospheres made of about 96 percent carbon dioxide. 
Earth's atmosphere started out like Venus' atmosphere. 
But Earth's ocean absorbed much of this carbon dioxide, and as photosynthesis evolved, plants converted carbon dioxide to oxygen, increasing oxygen levels in the air from 0.01 percent to 21 percent today.
 
Source: Nasa Website
 
 
৮১২.
আকাশে রংধনু সৃষ্টির কারণ-
  1. ধূলিকণা
  2. বায়ুস্তর
  3. বৃষ্টির কণা
  4. অতি বেগুনী রশ্মি
ব্যাখ্যা

- আকাশে রংধনু সৃষ্টির কারণ- বৃষ্টির কণা। 
- সূর্য থেকে যে আলোর রশ্মি পৃথিবীতে আসে তার রঙ মূলত সাদা। 
- এই সাদা রঙের ভেতরে বেগুনী, নীল, আসমানি, সবুজ, হলুদ, কমলা ও লাল এই সাতটি রং বিদ্যমান থাকে। 
- সাদা আলোর একটি বিশেষ ধর্ম আছে যা প্রিজমের মধ্য দিয়ে গমন করলে সাদা আলো সাতটি ভিন্ন রঙে বিশ্লেষিত হয়ে যায়। 
- আকাশে যখন বৃষ্টি পড়ে তখন বৃষ্টির ফোঁটাগুলো ভাসমান প্রিজমের মতো কাজ করে। 
- সূর্য হতে আলো বৃষ্টির ফোঁটার একপাশ দিয়ে প্রবেশ করে বের হবার সময় সাত রঙের বর্ণালী সৃষ্টি করে। 
- বৃষ্টির ফোঁটা বা কণার প্রিজমসুলভ বৈশিষ্ট্যের কারণেই সৃষ্টি হয় রংধনু।  
- বৃষ্টির ফোঁটা হতে বের হওয়া সাত রঙের আলো আমাদের চোখে এসে পৌঁছায় বলেই আমরা রংধনুকে দেখতে পাই। 
- ঘন মাধ্যম থেকে লঘু মাধ্যমে যাওয়ার সময় আলোকরশ্মি যদি দুই মাধ্যমের বিভেদ তলে মাধ্যম দুটির সংকট কোণের চেয়ে বেশি কোণে আপতিত হয়, তবে ওই আপতিত রশ্মি, দুই মাধ্যমের বিভেদ তলে আপতিত হওয়ার পর ওর সবটুকুই প্রতিফলিত হয়ে আবার ঘন মাধ্যমেই ফিরে আসে, এই ঘটনাকে পূর্ণ অভ্যন্তরীণ  প্রতিফলন বলে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৮১৩.
বিদ্যুৎ উৎপাদনে নিম্নের কোন বিক্রিয়াটি বহুল ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) ফিশন
  2. খ) ফিউশন
  3. গ) হাইড্রোলাইসিস
  4. ঘ) বিযোজন
ব্যাখ্যা
কিছু কিছু পরমাণুকে ভেঙে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পরমাণুতে পরিণত করলে অর্থাৎ ফিশন বিক্রিয়া ঘটালে প্রচুর পরিমাণে তাপশক্তি বের হয়। এই তাপশক্তি ব্যবহার করে জেনারেটর দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপন্ন করা হয়। আমরা সেটিকে নিউক্লিয়ার বিদ্যুৎকেন্দ্র বলি।
উৎস: নবম শ্রেণির রসায়ন বিজ্ঞান
৮১৪.
গোধূলির কারণ কী?
  1. ক) প্রতিফলন
  2. খ) বিক্ষেপণ
  3. গ) প্রতিসরণ
  4. ঘ) ব্যতিচার
ব্যাখ্যা
• গোধুলির মূল কারণ হলো আলোর বিক্ষেপণ
- সূর্য যখন দিগন্তের নিচের দিকে অবস্থান করে, তখন নীল আর সবুজ রং ভেঙে যায় এবং আমরা কমলা এবং লাল রং-এর আভা দেখতে পাই। এসময় সূর্যকে লাল দেখায়। এটাই গোধুলি নামে পরিচিত।
- এর কারণ, আলোর যে রংগুলোর তরঙ্গদৈঘ্য ছোট (যেমন, বেগুনি এবং নীল) সেগুলোর বিক্ষেপণ বেশি হয়, বেশি তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলো যেমন, কমলা এবং লাল আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য বেশি বলে এর বিক্ষেপণ কম হওয়ায় এরা সরাসরি পৃথিবীতে চলে আসে।

উৎস: বিবিসি।
৮১৫.
আইনস্টাইন নােবেল পুরস্কার পান-
  1. আপেক্ষিক তত্ত্বের উপর
  2. মহাকর্ষীয় ধ্রুবক আবিষ্কারের জন্য
  3. কৃষ্ণগহ্বর আবিষ্কারের জন্য
  4. আলোক তড়িৎ ক্রিয়ার ব্যাখ্যা প্রদানের জন্য
ব্যাখ্যা
- কোন কোন ধাতুর উপর আলো পড়লে তাৎক্ষণিক ইলেকট্রন নির্গত হয় একে ফটো-তড়িৎ ক্রিয়া বলে।
- ১৯০৫ সালে বিজ্ঞানী আইনস্টাইন কোয়ান্টাম তত্ত্বের সাহায্যে ফটো তড়িৎ ক্রিয়া ব্যাখ্যা করেন।
- এই জন্য তিনি ১৯২১ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
৮১৬.
কোন স্থানের সময় নির্ধারণের ক্ষেত্রে কোন রেখাটি ব্যবহৃত হয়?
  1. অক্ষরেখা
  2. মেরুবৃত্তীয় রেখা
  3. দ্রাঘিমারেখা
  4. নিরক্ষরেখা
ব্যাখ্যা
- দ্রাঘিমারেখার উপর সূর্যের অবস্থানের ভিত্তিতে সময় নির্ধারণ করা হয়।
- পুরো পৃথিবীকে মোট ৩৬০ ডিগ্রি দ্রাঘিমারেখায় বিভক্ত করা হয়েছে।
- প্রতি ডিগ্রি দ্রাঘিমার জন্যে সময়ের পার্থক্য হয় ৪ মিনিট করে।
- মূল মধ্যরেখা বা ০ ডিগ্রি দ্রাঘিমারেখাকে প্রমাণ সময় বিবেচনা করা হয়।
- মূল মধ্যরেখার পূর্বদিকে অবস্থিত অঞ্চলসমূহের ক্ষেত্রে প্রতি ডিগ্রি দ্রাঘিমার জন্যে ৪ মিনিট করে যোগ করে প্রমাণ সময় নির্ণয় করতে হয়।
- মূল মধ্যরেখার পশ্চিমদিকে অবস্থিত অঞ্চলসমূহের ক্ষেত্রে প্রতি ডিগ্রি দ্রাঘিমার জন্যে ৪ মিনিট করে সময় বিয়োগ করে প্রমাণ সময় নির্ণয় করতে হয়।
- ১৮০ ডিগ্রি দ্রাঘিমারেখা আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা নামে পরিচিত যা প্রশান্ত মহসাগরের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করেছে।
(তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী)
৮১৭.
ঢাকার দ্রাঘিমা ৯০° পূর্ব এবং রিয়াদের দ্রাঘিমা ৬০° পূর্ব। ঢাকার স্থানীয় সময় বিকাল ৩টা হলে সেই সময় রিয়াদের স্থানীয় সময় কত?
  1. দুপুর ১ টা
  2. দুপুর ১২টা
  3. বিকাল ৩টা
  4. রাত ১২টা
ব্যাখ্যা
আমরা জানি,
প্রতি ডিগ্রি দ্রাঘিমার জন্য সময়ের পার্থক্য ৪ মিনিট

ঢাকা ও রিয়াদের দ্রাঘিমার পার্থক্য ৯০° -  ৬০° = ৩০°

সময়ের পার্থক্য হবে ৩০ × ৪ = ১২০মিনিট অর্থাৎ ২ ঘণ্টা

প্রশ্নে উল্লিখিত,
৬০° পূর্ব দ্রাঘিমা দেখে আমরা বুঝতে পারি, রিয়াদ ঢাকার পশ্চিমে অবস্থিত।
তাই ঢাকার স্থানীয় সময় থেকে এই ২ ঘণ্টা বাদ যাবে।

রিয়াদের স্থানীয় সময় হবে
= বিকাল৩টা – ২ ঘণ্টা ।

এখানে বিকাল ৩টা বলতে ১৫টা হবে।]

= ১৫টা - ২ ঘণ্টা= ১৩টা অর্থাৎ দুপুর ১ টা

উত্তর: রিয়াদের স্থানীয় সময় হবে দুপুর ১ টা
৮১৮.
'গ্রানাইট' কোন ধরনের শিলার উদাহরণ?
  1. পাললিক শিলা
  2. আগ্নেয় শিলা
  3. রূপান্তরিত শিলা
  4. স্তরীভূত শিলা
ব্যাখ্যা

- জন্মের প্রথমে পৃথিবী ছিলো একটি উত্তপ্ত গ্যাসপিণ্ড। এই গ্যাসপিণ্ড ক্রমান্বয়ে তাপ বিকিরণ করে তরল হয়। এর পর আবার তাপ বিকিরণ করে উপরিভাগ শীতল ও কঠিন আকার ধারণ করে। এভাবে গলিত অবস্থা থেকে ঘনীভূত বা কঠিন হয়ে যে শিলা গঠিত হয় তাকে বলে আগ্নেয় শিলা বলে।
- আগ্নেয় শিলা পৃথিবীর প্রথম পর্যায়ে সৃষ্টি হয় বলে তাকে প্রাথমিক শিলা ও অস্তরীভূত শিলা বলে।
- আগ্নেয় শিলায় কোন জীবাশ্ম নেই।
- গ্রানাইট, গ্যাব্রো, ডলোরাইট, ল্যাকোলিথ, ব্যাথোলিথ, ডাইক, সিল, ব্যাসল্ট, অ্যান্ডিসাইট ইত্যাদি আগ্নেয় শিলার উদাহরণ।
- পাললিক শিলার উদাহরণঃ চুনাপাথর, কয়লা, নুড়িপাথর, বেলেপাথর, পলিপাথর, কর্দমপাথর, চক, কোকিনা, লবণ, জিপসাম, ডায়াটম, ডোলোমাইট ইত্যাদি।
- আগ্নেয় শিলা ও পাললিক শিলা যখন প্রচণ্ড চাপ, উত্তাপ এবং রাসায়নিক ক্রিয়ার ফলে রূপ পরিবর্তন করে নতুন রূপ ধারণ করে তখন তাকে রূপান্তরিত শিলা বলে।
- নিস, মার্বেল, স্লেট, গ্রাফাইট, কোয়ার্টাজাইট ইত্যাদি রূপান্তরিত শিলার উদাহরণ।
- চুনাপাথর রূপান্তরিত হয়ে মার্বেল,
- বেলেপাথর রুপান্তরিত হয়ে কোয়ার্টাজাইট,
- কাদা ও শেল রূপান্তরিত হয়ে স্লেট,
- গ্রানাইট রূপান্তরিত হলে নিস।
- কয়লা রূপান্তরিত হয়ে গ্রাফাইটে পরিণত হয়।

উৎসঃ ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৮১৯.
প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ কোনটি? 
  1. স্পুটনিক-১
  2. টেলস্টার-১
  3. এক্সপ্লোরার-৩
  4. ভ্যানগার্ড-১
ব্যাখ্যা

বিশ্বের প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহটি হলো স্পুটনিক-১।

• কৃত্রিম উপগ্রহ ও এর ইতিহাস: 
- মানুষের পাঠানো যেসব বস্তু বা মহাকাশযান পৃথিবীকে কেন্দ্র করে নির্দিষ্ট কক্ষপথে ঘুরে তাদের বলা হয় কৃত্রিম উপগ্রহ। 
- রকেটের সাহায্যে এদের উৎক্ষেপণ করা হয়। 
- পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ বা অভিকর্ষ বলের প্রভাবে চাঁদের মতো এরা এদের নিজস্ব কক্ষপথে ঘুরে। 
- কৃত্রিম উপগ্রহ চাঁদের তুলনায় অনেক ছোট এবং চাঁদের তুলনায় অনেক নিচু দিয়ে পৃথিবীর চারদিকে ঘুরে। 
- নির্দিষ্ট কক্ষপথে ঘুরার জন্য এদের প্রয়োজনীয় দ্রুতি থাকতে হয়। পৃথিবী থেকে কৃত্রিম উপগ্রহের উচ্চতা যত বেশি হবে তার দ্রুতি হবে তত কম। ফলে পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করতে এরা বেশি সময় নেবে। 
- পৃথিবী ২৪ ঘণ্টায় এর নিজ অক্ষের চারদিকে একবার ঘুরে। সুতরাং, কোনো কৃত্রিম উপগ্রহ যদি ২৪ ঘণ্টায় পৃথিবীর চারদিকে একবার ঘুরে আসে, তাহলে একে পৃথিবী থেকে স্থির বলে মনে হবে। 

- মহাকাশযাত্রার প্রথম পদক্ষেপটির সূচনা করেছিল তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন ১৯৫৭ সালের ৪ঠা অক্টোবর। তারা স্পুটনিক-১ নামক কৃত্রিম উপগ্রহ মহাকাশে উৎক্ষেপণ করে, স্পুটনিক শব্দের অর্থ হলো ভ্রমণসঙ্গী বা সহযাত্রী। একই বছর ২রা নভেম্বর স্পুটনিক-২ নামক আরেকটি কৃত্রিম উপগ্রহ তারা মহাকাশে পাঠান। 
- প্রথম মার্কিন কৃত্রিম উপগ্রহের নাম এক্সপ্লোরার-১, এই উপগ্রহ ১৯৫৮ সালের ২রা ফেব্রুয়ারি মহাকাশে পাঠানো হয়। 
- ভস্টক-১ নামক সোভিয়েত কৃত্রিম উপগ্রহ মানুষ নিয়ে প্রথম পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করে। যে মানুষটি প্রথম মহাকাশে গিয়েছিলেন, তিনি হলেন সোভিয়েত ইউনিয়নের ইউরি গ্যাগারিন। তিনি ১৯৬১ সালের ১২ই এপ্রিল ভস্টক-১ কৃত্রিম উপগ্রহে চড়ে পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করেন। 
- ভস্টক-৬ নামক কৃত্রিম উপগ্রহে (মহাকাশযান) চড়ে প্রথম সোভিয়েত নারী মহাকাশচারি ভেলেনটিনা তেরেসকোভা মহাকাশে ঘুরে আসেন ১৯৬৩ সালে। 
- ইনটেলসেট-১ কৃত্রিম উপগ্রহকে পাঠানো হয় বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহারের জন্য যোগাযোগ উপগ্রহ হিসেবে। 
- রিমোটসেনসিং বা দূর অনুধাবনের জন্য পাঠানো প্রথম উপগ্রহ হলো ল্যান্ডসেট-১, একে পাঠানো হয় ১৯৭২ সালে। 
- আন্তর্জাতিক যোগসূত্র স্থাপনের জন্য অ্যাপোলো-সয়োজ টেস্ট প্রজেক্ট নামে একটি কৃত্রিম উপগ্রহ মহাকাশে প্রথম পাঠানো হয় ১৯৭৫ সালে। 
- পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ এ পর্যন্ত হাজার হাজার কৃত্রিম উপগ্রহ মহাকাশে পাঠিয়েছে। কয়েক হাজার কৃত্রিম উপগ্রহ বর্তমানে ব্যবহার করা হচ্ছে এবং হাজার হাজার অব্যবহৃত কৃত্রিম উপগ্রহ বা তাদের অংশবিশেষ মহাকাশে ধ্বংসাবশেষ হিসেবে পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করছে। 

অন্যান্য অপশন:
- টেলস্টার-১: এটি ছিল প্রথম বাণিজ্যিক যোগাযোগ উপগ্রহ (১৯৬২ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক উৎক্ষেপিত)।
- এক্সপ্লোরার-৩: এটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রাথমিক বৈজ্ঞানিক উপগ্রহ (১৯৫৮ সালে উৎক্ষেপিত)।
- ভ্যানগার্ড-১: এটি ছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক সফলভাবে উৎক্ষেপিত প্রথম সৌরশক্তিচালিত উপগ্রহ (১৯৫৮ সালে উৎক্ষেপিত)।

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি এবং ব্রিটানিকা।

৮২০.
পৃথিবীকে উত্তর ও দক্ষিণ গোলার্ধে সমান দুই ভাগে বিভক্তকারী রেখার নাম কী?
  1. গ্রিনউইচ রেখা
  2. নিরক্ষরেখা
  3. কর্কটক্রান্তি রেখা
  4. মকরক্রান্তি রেখা
ব্যাখ্যা

নিরক্ষরেখা:
- পৃথিবীকে উত্তর ও দক্ষিণে সমান দুই গোলার্ধে বিভক্তকারী রেখাটির নাম নিরক্ষরেখা।
- এটি সর্ববৃহৎ অক্ষাংশ রেখা।
- নিরক্ষরেখার (০০) উত্তর ও দক্ষিণে এই অক্ষরেখা সমূহের আকার ক্রমশ ছোট হতে হতে দুই মেরুতে একেবারে বিন্দুতে পরিণত হয়।
- অর্থাৎ অক্ষরেখাগুলো নিরক্ষরেখার সাথে কৌণিক দুরত্বে কল্পিত কতিপয় সমাক্ষরেখা।
- ২৩.৫° উত্তর ও দক্ষিণ অক্ষরেখাসমূহ যথাক্রমে কর্কটক্রান্তি রেখা ও মকর ক্রান্তি রেখা নামে অভিহিত হয়।
- ৬৬.৫° উত্তর ও দক্ষিণ অক্ষরেখাসমূহ যথাক্রমে সুমেরু বৃত্ত ও কুমেরু বৃত্ত নামে অভিহিত হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮২১.
ভয়েজার-২ মহাকাশে প্রেরণ করা হয় কত সালে?
  1. ক) ১৯৭৭ সালে
  2. খ) ১৯৮৩ সালে
  3. গ) ১৯৯৭ সালে
  4. ঘ) ২০০১ সালে
ব্যাখ্যা
২০ আগস্ট ১৯৭৭ সালে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা ভয়েজার-২ যানটি মহাকাশের উদ্দেশ্যে প্রেরণ করে।
এবং একই বছরে ৫ সেপ্টেম্বর ভয়েজার-১ প্রেরণ করা হয়। 

১ আগস্ট ২০১২ সালে ভয়েজার-১ এবং ১০ ডিসেম্বর ২০১৮ ভয়েজার-২ ইন্টারস্টেলার স্পেসে প্রবেশ করে।

সূত্র: নাসা ওয়েবসাইট
৮২২.
উপকূলের কোনো একটি স্থানে জোয়ারের কত ঘন্টা পর ভাঁটা হয়?
  1. ৬ ঘন্টা
  2. ১২ ঘন্টা
  3. ১৮ ঘন্টা
  4. ২৪ ঘন্টা
ব্যাখ্যা

জোয়ার-ভাঁটা: 
- উপকূলে কোনো একটি স্থানে পর পর দুটি জোয়ারের মধ্যে ব্যবধান হলো প্রায় ১২ ঘণ্টা। 
- চন্দ্র ও সূর্যের আকর্ষন শক্তি এবং পৃথিবীর কেন্দের শক্তি প্রভৃতি কারনে সমুদ্রের পানি নির্দিষ্ট সময় পরপর এক জায়গায় ফুলে উঠাকে জোয়ার এবং নেমে যাওয়াকে ভাঁটা বলে। 
- সমুদ্রের একই জায়গায় প্রতিদিন দুইবার জোয়ার এবং দুইবার ভাঁটা হয়। 
- জোয়ারের ৬ ঘন্টা পরে ভাঁটা হয়। 

উৎস: মাধ্যমিক ভূগোল, নবম-দশম শ্রেণি।

৮২৩.
কোনো অঞ্চলের জীব ও জড় উপাদানের পারস্পরিক নির্ভরশীলতার সম্পর্ককে কী বলা হয়?
  1. জীবমণ্ডল
  2. পরিবেশ
  3. বাস্তুতন্ত্র
  4. খাদ্যশৃঙ্খল
ব্যাখ্যা

• কোন অঞ্চলের জীব ও জড় উপাদানের পারস্পরিক নির্ভরশীল সম্পর্ককে বাস্তুতন্ত্র (Ecosystem) বলা হয়।

• পরিবেশ ও এর উপাদান:
- পরিবেশ গঠিত হয় জীব উপাদান ও জড় উপাদান নিয়ে।
- জীব উপাদানের মধ্যে উদ্ভিদ, প্রাণী ও অণুজীব অন্তর্ভুক্ত।
- জড় উপাদানের মধ্যে বায়ু, পানি, মাটি, আলো, তাপ ইত্যাদি অন্তর্ভুক্ত।
- পরিবেশে জীব ও জড় উপাদান সবসময় পারস্পরিক ক্রিয়া ও আদান-প্রদানে যুক্ত থাকে।
 
• বাস্তুতন্ত্র (Ecosystem):
- কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলে জীব ও জড় উপাদানের পারস্পরিক নির্ভরশীল সম্পর্ককে বাস্তুতন্ত্র বলা হয়।
- বাস্তুতন্ত্রে জীব উপাদান জড় উপাদানের উপর নির্ভরশীল।
- একইভাবে জীব উপাদানও একে অপরের উপর নির্ভরশীল।
- এই নির্ভরশীলতার মাধ্যমেই জীবের বেঁচে থাকা ও পরিবেশের ভারসাম্য বজায় থাকে।
 
• জীব ও জড় উপাদানের পারস্পরিক সম্পর্ক:
- উদ্ভিদ খাদ্য তৈরির জন্য সূর্যালোক, পানি ও কার্বন ডাই-অক্সাইড ব্যবহার করে।
- প্রাণী খাদ্য ও অক্সিজেনের জন্য উদ্ভিদের উপর নির্ভরশীল।
- বায়ু, পানি ও মাটি ছাড়া কোনো জীবের জীবনধারণ সম্ভব নয়।
- এ সম্পর্ক কখনো সহজ, আবার কখনো জটিল প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সম্পন্ন হয়।
 
• বাস্তুতন্ত্রে প্রক্রিয়াসমূহ:
- সালোকসংশ্লেষণ উদ্ভিদ ও জড় উপাদানের সম্পর্কের প্রধান প্রক্রিয়া।
- শ্বসন উদ্ভিদ ও প্রাণীর শক্তি উৎপাদনের প্রক্রিয়া।
- এই দুই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পরিবেশে গ্যাস ও শক্তির প্রবাহ বজায় থাকে।
- ফলে জীবমণ্ডলে একটি সামগ্রিক ভারসাম্য সৃষ্টি হয়।
 
• অন্যান্য অপশন:
- জীবমণ্ডল → পৃথিবীর সকল বাস্তুতন্ত্রের সমষ্টি।
- পরিবেশ → জীব ও জড় উপাদানের সামগ্রিক অবস্থা।
- খাদ্যশৃঙ্খল → জীবের মধ্যে খাদ্যনির্ভর সম্পর্কের ধারা।

 উৎস: বিজ্ঞান, ৬ষ্ঠ শ্রেণি।

৮২৪.
বাংলাদেশে কালবৈশাখী ঝড় সৃষ্টির প্রধান কারণ কী? 
  1. নিম্নচাপ
  2. অতিবৃষ্টি
  3. উচ্চচাপ
  4. বায়ুপ্রবাহ
ব্যাখ্যা
কালবৈশাখী ঝড়: 

• কালবৈখাশী ঝড় বাংলাদেশের একটি অতি পরিচিত প্রাকৃতিক দুর্যোগ। 
• এটি গ্রীষ্মকালীন জলবায়ুর অন্যতম বৈশিষ্ট্য। 
• সাধারণত বৈশাখ মাসের শেষের দিকে এ ঝড় হতে দেখা যায়। 
• কালবৈশাখী ঝড়ে বাৎসরিক এক পঞ্চমাংশ বৃষ্টিপাত হয় 
• এ ঝড়ের ফলে উষ্ণতা স্বাভাবিকের তুলনায় ৫-১০ ডিগ্রী সেলসিয়াস কমে যায়।
• কালবৈশাখী ঝড় সৃষ্টির প্রধান কারণ হলো নিম্নচাপ (Depression)। 
• নিম্নচাপের কারণে উষ্ণ বাতাস ওপরের দিকে উঠতে থাকে। এর ফলে সৃষ্ট ফাঁকা জায়গা পূরণের জন্য ঠান্ডা বাতাস প্রচন্ড বেগে ঐ ফাঁকা স্থানের দিকে অগ্রসর হয়। ফলে ঝড়ের উৎপত্তি হয়। 
• এ ঝড়ের গতিবেগ ঘন্টায় প্রায় ৪০ কি. মি. থেকে ৮০ কি.মি. পর্যন্ত হয়ে থাকে। 
• এ ঝড় দেশের পূর্বাঞ্চলে সবচেয়ে বেশি সংঘটিত হয় এবং এ অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের পরিমাণও বেশি। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।  
৮২৫.
আপেক্ষিকতার সাধারণ তত্ত্ব প্রকাশিত হয় কত সালে?
  1. ক) ১৯০৫ সালে
  2. খ) ১৯১১ সালে
  3. গ) ১৯১৬ সালে
  4. ঘ) ১৯০০ সালে
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা:
আপেক্ষিক তত্ত্ব মূলত দুইভাগে বিভক্ত, যথা- আপেক্ষিকতার সাধারণ বা সার্বিক তত্ত্ব এবং আপেক্ষিকতার বিশেষ তত্ত্ব।
আপেক্ষিকতার সাধারণ বা সার্বিক তত্ত্ব পরস্পরের তুলনায় ঊর্ধ্ব বা নিম্নগতিশীল বস্তুসমূহ বা সিস্টেম নিয়ে আলোচনা করেছে। এটি প্রকাশিত হয় ১৯১৬ সালে।
পক্ষান্তরে আপেক্ষিকতার বিশেষ তত্ত্ব শুধু পরস্পরের তুলনায় সমগতিতে সঞ্চরণশীল বা অসঞ্চরণশীল বস্তু বা সিস্টেম নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। এটি সাধারণ তত্ত্বের একটি বিশেষ রূপ। এটি আবিষ্কৃত হয় ১৯০৫ সালে।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

৮২৬.
মহাজাগতিক রশ্মির আবিষ্কারক কে ছিলেন?
  1. স্টিফেন হকিং
  2. রন্টজেন
  3. ভিক্টর হেস
  4. গ্যালিলিও
ব্যাখ্যা

• মহাজাগতিক রশ্মি হলো উচ্চ-শক্তির কণা, যা পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে। এর আবিষ্কারক ছিলেন ভিক্টর হেস। ১৯১২ সালে হেস বেলুনের মাধ্যমে বায়ুমণ্ডলের উচ্চতার সঙ্গে কণার তীব্রতা পরিমাপ করেন। তিনি দেখেন, উচ্চতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কণার পরিমাণও বাড়ছে, যা নির্দেশ করে যে এই কণাগুলো পৃথিবীর বাইরে থেকে আসছে। তাই তিনি প্রমাণ করেন যে মহাজাগতিক রশ্মি একটি মহাকাশীয় উৎস থেকে আসে। অন্যান্য অপশন  যেমন স্টিফেন হকিং ছিলেন কালো গহ্বর ও মহাবিশ্ব বিজ্ঞানের গবেষক, রন্টজেন এক্স-রশ্মি আবিষ্কারক এবং গ্যালিলিও খগোলীয় পর্যবেক্ষক, তারা এই আবিষ্কারের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত নন। সুতরাং সঠিক উত্তর হলো গ) ভিক্টর হেস।
 
• মহাজাগতিক রশ্মি (Cosmic rays):
- বাইরে থেকে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে উচ্চ শক্তিসম্পন্ন যে আহিত কণাসমূহ প্রবেশ করে তাদেরকে সমষ্টিগতভাবে মহাজাগতিক রশ্মি বলা হয়।
- ধারণা করা হয় ছায়াপথের বাইরে নতুন নতুন নক্ষত্রের বিস্ফোরণের ফলে বেশির ভাগ মহাজাগতিক রশ্মির সৃষ্টি হয়।
- কসমিক-রে বা মহাজাগতিক রশ্মির আবিষ্কারক- ভিক্টর ফ্রান্সিস হেস।
- মহাজাগতিক রশ্মি আবিষ্কারের জন্য ভিক্টর ফ্রান্সিস হেস ১৯৩৬ সালে অপর বিজ্ঞানী কার্ল ডেভিড অ্যান্ডারসনের সাথে যৌথভাবে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।
- ভিক্টর ফ্রান্সিস হেস একজন অস্ট্রীয়-মার্কিন পদার্থবিজ্ঞানী।
- বেলুনের মাধ্যমে বহনযোগ্য বিভিন্ন যন্ত্রের মাধ্যমে হেস এবং তার সহকর্মীরা প্রমাণ করেছিলেন, যে বিকিরণ পরিবেশকে আয়নিত করে তার উৎস হল মহাজাগতিক।

• অন্যান্য অপশন আলোচনা:
- বিগ ব্যাং তত্ত্বের আধুনিক ব্যাখ্যা প্রদান করেন স্টিফেন হকিং।
- গ্যালিলিও মুক্তভাবে পড়ন্ত বস্তুর জন্য তিনটি সূত্র প্রদান করেন।
- ১৮৯৫ সালে জার্মান পদার্থবিজ্ঞানী উইলিয়াম রন্টজেন আবিষ্কার করেন যে, তড়িৎক্ষরণ নল থেকে যখন ক্যাথোড রশ্মি নলের দেয়ালে পড়ে তখন এক্সরে উৎপন্ন হয়।

উৎস:
১. পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২. ব্রিটানিকা

৮২৭.
ফোটন কণা-
  1. ক) ভরহীন
  2. খ) তড়িৎ নিরপেক্ষ
  3. গ) স্থিতিশীল
  4. ঘ) উপরের সবগুলি
ব্যাখ্যা
আলাে যে ক্ষুদ্র শক্তির প্যাকেট রুপে নির্গত হয় তাকে ফোটন বলে।
ফোটন ভরহীন, তড়িৎ নিরপেক্ষ স্থিতিশীল/সুস্থিত। ফোটন এর দুইটি সম্ভাব্য সমবর্তন দশা রয়েছে।
ফোটন এর কোনো চার্জ না থাকার কারনে তড়িৎ বা চুম্বক ক্ষেত্র প্রভাব বিস্তার করতে পারেনা। কোয়ান্টাম তত্ত্বের অপর নাম ফোটন তত্ত্ব।
৮২৮.
পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য মূলত কোন প্রক্রিয়া ব্যবহৃত হয়?
  1. পারমাণবিক সংযোজন
  2. পারমাণবিক বিভাজন
  3. তেজস্ক্রিয় ক্ষয়
  4. আয়নীকরণ
ব্যাখ্যা

◉ পারমাণবিক বিভাজন (Nuclear Fission) হলো একটি প্রক্রিয়া, যেখানে ভারী পরমাণুর নিউক্লিয়াস (যেমন ইউরেনিয়াম-235 বা প্লুটোনিয়াম-239) ভেঙে দুটি বা ততোধিক হালকা নিউক্লিয়াসে পরিণত হয় এবং বিপুল পরিমাণ শক্তি নির্গত হয়।
- এই শক্তি পানিকে বাষ্পে রূপান্তরিত করতে ব্যবহৃত হয়, যা টারবাইন ঘুরিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে।

নিউক্লিয় ফিশন বিক্রিয়া: 
- নিউক্লিয় ফিশন হল এমন একটি পারমাণবিক প্রক্রিয়া যেখানে একটি ভারী নিউক্লিয়াস ভেঙে দুটি বা ততোধিক হালকা নিউক্লিয়াসে পরিণত হয়।
- একে বিয়োজন বিক্রিয়াও বলা হয়।
- এই বিক্রিয়ার ফলে প্রচুর শক্তি উৎপন্ন হয়, যা পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ও পারমাণবিক অস্ত্র, বিশেষত পারমাণবিক বোমা তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।

অন্যান্য অপশনসমূহ, 
পারমাণবিক সংযোজন (Nuclear Fusion) — হালকা পরমাণু মিলিয়ে ভারী পরমাণু তৈরি, যা সূর্যের শক্তির উৎস, তবে বিদ্যুৎকেন্দ্রে এখনো বাণিজ্যিকভাবে প্রয়োগযোগ্য নয়।
তেজস্ক্রিয় ক্ষয় (Radioactive Decay) — স্বতঃস্ফূর্তভাবে নিউক্লিয়াস থেকে কণা বা বিকিরণ নির্গমন, যা বিদ্যুৎ উৎপাদনের মূল প্রক্রিয়া নয়।
আয়নীকরণ (Ionization) — ইলেকট্রন যোগ-বিয়োগ করে আয়ন তৈরি, যা বিদ্যুৎ উৎপাদনের মূল প্রক্রিয়া নয়। 

উৎস: রসায়ন (নবম-দশম শ্রেণি)।

৮২৯.
পৃথিবীর পরিধি কত ডিগ্রি?
  1. ক) ৩৬০ ডিগ্রি
  2. খ) ২৬০ ডিগ্রি
  3. গ) ১৮০ ডিগ্রি
  4. ঘ) ৯০ ডিগ্রি
ব্যাখ্যা
পৃথিবী:

- পৃথিবীর পরিধি ৩৬০ ডিগ্রি।
- পৃথিবীকে বলা হয় আদর্শ গ্রহ।
- একমাত্র পৃথিবী গ্রহেই উদ্ভিদ ও প্রাণীর বসবাসের উপযোগী পরিবেশ রয়েছে।
- সূর্য থেকে পৃথিবীর গড় দূরত্ব প্রায় ১৫ কোটি কিলোমিটার।
- এর ব্যাস প্রায় ১৩ হাজার কিলোমিটার।
- পৃথিবী সূর্যকে প্রদক্ষিণ করতে সময় লাগে ৩৬৫ দিন ৫ ঘণ্টা ৪৮ মিনিট ৪৬ সেকেন্ড।
- পৃথিবীর একমাত্র উপগ্রহ চাঁদ।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৩০.
আলফ্রেড নোবেল কী আবিষ্কার করেন?
  1. ক) বিদ্যুৎ
  2. খ) পলিও টিকা
  3. গ) ডিনামাইট
  4. ঘ) কয়লা
ব্যাখ্যা

- সুইডেনের বৈজ্ঞানিক আলফ্রেড নোবেল ডিনামাইট আবিস্কার করেন।
মানবকল্যানের জন্য তিনি ডিনামাইট আবিষ্কার করলেও যখন এটি ধ্বংসাত্মক কাজে ব্যবহৃত হতে থাকে তখন তিনি ডিনামাইট আবিস্কার বাবদ প্রাপ্ত অর্থ মানবকল্যানে দান করেন।
সে অর্থে তিনি ১৮৯৬ সালে নোবেল পুরস্কার প্রবর্তন করেন যা ১৯০১ সাল থেকে ৬ টি বিষয়ে অবদান রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ সারা বিশ্বে প্রদান করা হয়।

- ১৯৫২ সালে জোনাস এডওয়ার্ড সাল্ক‌ পোলিওর টিকা উদ্ভাবন করেন। ১৯৫৭ সালে আলবার্ট সাবিন মুখে খাওয়ার পোলিও টিকা আবিষ্কার করেন।

উৎসঃ এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা এবং লাইভ এমসিকিউ সাম্প্রতিক সমাচার : অক্টোবর সংখ্যা

৮৩১.
কোয়াসার কী?
  1. মহাবিশ্বের সবচেয়ে উজ্জ্বল বস্তু
  2. সৌরজগতের বৃহত্তম গ্রহ
  3. সৌরজগতের ক্ষুদ্রতম গ্রহ
  4. একটি সুপারনোভা বিস্ফোরণের অবশেষ
ব্যাখ্যা
• কোয়াসার হলো মহাবিশ্বের সবচেয়ে উজ্জ্বল বস্তু, যা সাধারণত অনেক দূরের গ্যালাক্সির কেন্দ্রে অবস্থান করে। এগুলো একটি সুপারম্যাসিভ ব্ল্যাক হোলের চারপাশে গঠিত গ্যাস ও ধূলিকণার ঘূর্ণনের ফলে তাপ ও শক্তি উৎপন্ন করে অত্যন্ত উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। কোয়াসার এতটাই উজ্জ্বল যে এটি একটি গোটা গ্যালাক্সিকে ছাপিয়ে আলো দিতে পারে, যদিও এর আকার তুলনামূলকভাবে ছোট। এরা মূলত মহাবিশ্বের প্রাচীন ইতিহাস জানার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
- তাই সঠিক উত্তর হলো: ক) মহাবিশ্বের সবচেয়ে উজ্জ্বল বস্তু।


কোয়াসার (Quasar): 

- মহাবিশ্বে এ যাবৎ কালের আবিস্কৃত সবচেয়ে বিস্ময়কর বস্তু সম্ভবত কোয়াসার। 
- কোয়াসার হলো মহাবিশ্বের সবচেয়ে উজ্জ্বল বস্তু। 
- একটি কোয়াসারের মোট শক্তির পরিমাণ একটি সম্পূর্ণ গ্যালাক্সির শক্তির চেয়ে প্রায় 100 গুণ বেশি। অথচ একটি কোয়াসারের ব্যাপ্তি সৌরজগতের প্রায় দ্বিগুণের মতো। 
- বিজ্ঞানীদের অনেকেই মনে করেন কোয়াসার হলো গ্যালাক্সির কেন্দ্রে অবস্থিত ঘূর্ণায়মান ব্ল্যাক হোল যা ক্রমাগত সন্নিকটবর্তী নক্ষত্রসমূহকে গ্রাস করে চলছে। 
- সুতরাং কোয়াসারের শক্তির উৎস ব্ল্যাক হোল কর্তৃক নক্ষত্র গলধঃকরণ হতে পারে। 
- কোয়াসার এখনও মহাবিশ্বের অতি রহস্যময় এক বস্তু। 
- তবে কোয়াসারের যে বৈশিষ্ট্যগুলো এখন পর্যন্ত জানা সম্ভব হয়েছে তাদের মধ্যে উলেখযোগ্য হলো: কোয়াসার দেখতে নক্ষত্রের মতো, তাদের রং নীলাভ, কতকগুলো কোয়াসার তীব্র বেতার বিকিরণের উৎস, কোয়াসারের লোহিত সরণ খুবই বেশি প্রভৃতি। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৩২.
Intergovernmental Panel on Climate Change (IPCC) -এর চতুর্থ মূল্যায়ন রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০৮০ সালের মধ্যে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা কত সেন্টিমিটার পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে?
  1. ৩০ সেন্টিমিটার
  2. ৩৮ সেন্টিমিটার
  3. ৩৪ সেন্টিমিটার
  4. ৪০ সেন্টিমিটার
ব্যাখ্যা
- জলবায়ু পরিবর্তন-সংক্রান্ত প্রভাব মূল্যায়নের জন্য গঠিত Intergovernmental Panel on Climate Change (IPCC)-এর চতুর্থ মূল্যায়ন রিপোর্ট (AR4) অনুযায়ী, জলবায়ুজনিত পরিবর্তনের প্রভাব অনেক মারাত্মক এবং তা ধীরে ধীরে বেড়েই চলছে। 
- পৃথিবীর তাপমাত্রা গত ১০০ বছরে প্রায় ০.৭° সেলসিয়াস বেড়েছে। 
- ১৯৬১-২০০৩ সালের মধ্যে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা গড়ে প্রতি বছরে ১.৮ সেন্টিমিটার করে বেড়েছে। 
- ১৯৯৫-২০০৬ পর্যন্ত ১২ বছরের মধ্যে ১১ বছরই প্রচন্ড গরম পড়েছে। পরবর্তী দুই দশকে বায়ুমন্ডলীয় তাপমাত্রা প্রতি দশ বছরে গড়ে ০.২°-০.৩° সেলসিয়াস পর্যন্ত বেড়ে যাবে। 
- ২১০০ সালের মধ্যে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা ১.১°-৬.৪° সেলসিয়াস পর্যন্ত বাড়তে পারে। 
- ২০৮০ সালের মধ্যে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ৩৪ সেন্টিমিটার পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। 
- প্রলয়ংকারী ঘূর্ণিঝড়, আইলা, সিডর, নার্গিস, ক্যাটরিনার মতো ভয়াবহ দুর্যোগ আরো ঘন ঘন হবে এবং তার মাত্রা আরো ভয়ানক হবে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৮৩৩.
কে প্রথম বোসন কণার ধারণা ব্যবহার করে কোয়ান্টাম সংখ্যায়নতত্ত্ব প্রদান করেন?
  1. ম্যাক্স প্ল্যাংক
  2. জগদীশচন্দ্র বসু
  3. প্রফুল্ল চন্দ্র বসু 
  4. সত্যেন্দ্রনাথ বসু
ব্যাখ্যা

আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের সূচনা: 
- ঊনবিংশ শতাব্দীর শুরু থেকেই আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের সূচনা হয়। 
- 1803 সালে ডাল্টন পারমাণবিক তত্ত্ব দিয়েছেন, 1897 সালে থমসন সেই পরমাণুর ভেতর ইলেকট্রন আবিষ্কার করেছেন, 1911 সালে রাদারফোর্ড দেখিয়েছেন, পরমাণুর কেন্দ্রে খুবই ক্ষুদ্র নিউক্লিয়াসে পজিটিভ চার্জগুলো থাকে। কিন্তু দেখা গেল নিউক্লিয়াসকে ঘিরে ঘুরন্ত ইলেকট্রনের মডেলটি কোনোভাবে ব্যাখ্যা করা যায় না, কারণ বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় সূত্র অনুযায়ী এই অবস্থায় ইলেকট্রন তার শক্তি বিকিরণ করে নিউক্লিয়াসের ভেতর পড়ে যাবে; কিন্তু বাস্তবে তা কখনো ঘটে না। 
- 1900 সালে ম্যাক্স প্ল্যাংক কোয়ান্টাম তত্ত্ব আবিষ্কার করেন, যা ব্যবহার করে কৃষ্ণবস্তুর বিকিরণ ব্যাখ্যা করা সম্ভব হয়। পরবর্তী সময়ে বিজ্ঞানী বোর পরমাণুর স্থিতিশীলতা ব্যাখ্যা করার জন্য কোয়ান্টাম তত্ত্ব ব্যবহার করেন। 
- বিজ্ঞানী সত্যেন্দ্রনাথ বসু 1924 সালে কোয়ান্টাম তত্ত্বের ধারণা ব্যবহার করে বিকিরণ সংক্রান্ত কোয়ান্টাম সংখ্যায়নতত্ত্ব প্রদান করেন। এজন্য বিজ্ঞানী বসুকে কোয়ান্টাম সংখ্যায়নতত্ত্বের জনক হিসেবে অভিহিত করা হয়, এবং তাঁর অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ একশ্রেণির মৌলিক কণাকে বোসন (Boson) নাম দেওয়া হয়। 
- 1900 থেকে 1930 সাল পর্যন্ত এই সময়টিতে হাইজেনবার্গ, শ্রোডিঙ্গার, ডিরাকসহ অনেক বড় বড় বিজ্ঞানী মিলে পদার্থের কোয়ান্টাম তত্ত্ব প্রতিষ্ঠিত করেন। 

- বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় তরঙ্গের বাহক হিসেবে ইথার নামে একটি বিষয় কল্পনা করে নেওয়া হয়েছিল এবং 1887 সালে মাইকেলসন ও মোরলি তার অস্তিত্ব আবিষ্কার করার চেষ্টা করে দেখান যে প্রকৃতপক্ষে ইথার বলে কিছু নেই এবং আলোর বেগ স্থির কিংবা গতিশীল সব মাধ্যমে সমান। 
- 1905 সালে আইনস্টাইনের থিওরি অব রিলেটিভিটি থেকে এই বিষয়টির ব্যাখ্যা পাওয়া যায়। থিওরি অব রিলেটিভিটি থেকেই সর্বকালের সবচেয়ে চমকপ্রদ সূত্র E = mc2 বের হয়ে আসে, যেখানে দেখানো হয় বস্তুর ভরকে শক্তিতে রূপান্তর করা সম্ভব। 
- কোয়ান্টাম তত্ত্বের সাথে থিওরি অব রিলেটিভিটি ব্যবহার করে ডিরাক 1931 সালে প্রতি কণা (Anti Particle) অস্তিত্ব ঘোষণা করেন, যেটি পরের বছরেই আবিষ্কৃত হয়ে যায়।
- 1895 সালে রন্টজেন এক্স-রে আবিষ্কার করেন। 
- 1896 সালে বেকেরেল দেখান যে পরমাণুর কেন্দ্র থেকে তেজস্ক্রিয় বিকিরণ হচ্ছে। 
- 1899 সালে পিয়ারে ও মেরি কুরি রেডিয়াম আবিষ্কার করেন এবং বিজ্ঞানীরা বুঝতে পারেন পরমাণুগুলো আসলে অবিনশ্বর নয়, সেগুলো ভেঙে তেজস্ক্রিয় বিকিরণ হতে পারে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৮৩৪.
ট্রানজিস্টর আবিষ্কারের জন্য কোন বিজ্ঞানীরা নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন? 
  1. ওয়াল্টার ব্রাটেইন, আইনস্টাইন ও ফ্রেমিং 
  2. উইলিয়াম শকলি, ম্যারি কুরি ও পিয়েরে কুরি 
  3. জন বারডিন, ওয়াল্টার ব্রাটেইন ও উইলিয়াম শকলি 
  4. নিউটন, জন বারডিন ও গ্যালিলিও 
ব্যাখ্যা

ট্রানজিস্টর (Transistor): 
- ১৯৪৭ সালে বেল ল্যাবরেটরিতে প্রথম ট্রানজিস্টর তৈরি করা হয়। 
- এই ট্রানজিস্টর আবিষ্কারের জন্য জন বারডিন, ওয়াল্টার ব্রাটেইন এবং উইলিয়াম শকলিকে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়। 
- এই ট্রানজিস্টর কত দ্রুত এবং কত ব্যাপকভাবে পুরো পৃথিবীকে পাল্টে দেবে সেটি তখনো কেউ অনুমান করতে পারেনি। 
- ট্রানজিস্টর ভ্যাকুয়াম টিউবের মতোই কাজ করতে পারে কিন্তু ভ্যাকুয়াম টিউবের তুলনায় এটি অতি ক্ষুদ্র এবং ওজন খুবই কম, এটি ব্যবহার করতে খুব অল্প বিদ্যুতের প্রয়োজন হয়, এটি অনেক বেশি নির্ভরযোগ্য এবং সবচেয়ে বড় কথা এটি অনেক কম খরচে তৈরি করা সম্ভব। 
- কাজেই ট্রানজিস্টর খুব দ্রুত ভ্যাকুয়াম টিউবকে সরিয়ে তার স্থান দখল করে নিতে শুরু করল এবং পৃথিবীর মানুষ স্বল্প মূল্যে ট্রানজিস্টর ব্যবহার করে তৈরি নানা ধরনের ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি পেতে শুরু করল। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৮৩৫.
কালবৈশাখী ঝড় বাংলাদেশে কোন দিক থেকে প্রবাহিত হয়?
  1. দক্ষিণ-পশ্চিম
  2. দক্ষিণ-পূর্ব
  3. উত্তর-পশ্চিম
  4. উত্তর-পূর্ব
ব্যাখ্যা
কালবৈশাখী ঝড়:
- বাংলাদেশের কালবৈশাখী ঝড় গ্রীষ্মকালীন জলবায়ুর অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
- বৈশাখ মাসের শেষের দিকে এ ঝড় হতে দেখা যায় বলে একে কালবৈশাখী ঝড় বলে।
- সাধারণ বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠের প্রবল গরমের সময় কালবৈশাখী ঝড় হয় বাংলাদেশে।
- কাল শব্দের অর্থ ধ্বংস এবং বৈশাখ মাসে উৎপত্তি হয় বলে একে কালবৈশাখী নামে অভিহিত করা হয়।
- কালবৈশাখী ঝড়ের অপর নাম নরওয়েস্টার।
- কালবৈশাখী ঝড় উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে প্রবাহিত হয় বলে একে ইংরেজিতে নরওয়েস্টার বলা হয়।
- এই ঝড়ের গতিবেগ ৫৫ থেকে ৮০ কি. মি. পর্যন্ত হয়ে থাকে।
- বাংলাদেশে উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে আগত শীতল ও শুষ্ক বায়ু এবং দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে আগত উষ্ণ ও আর্দ্র বায়ুর সংঘর্ষে সাধারণত কালবৈশাখী ঝড় সংঘটিত হয়।

উল্লেখ্য,
- মার্চ-এপ্রিল মাসে সন্ধ্যার দিকে আকাশ হঠাৎ কালো মেঘে ঢেকে বজ্রবিদ্যুৎসহ প্রবল ঝড়ো হাওয়া প্রবাহিত হয়।
- এ ঝড়ে বাৎসরিক বৃষ্টিপাতের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ সংঘটিত হয়।
- অনেক সময় বৃষ্টিপাতের সাথে শিলাবৃষ্টিও হয়ে থাকে।

উৎস: i) ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
        ii) ২২ এপ্রিল ২০২২, বিবিসি বাংলা।
৮৩৬.
সিলিকনের ব্যবহার কোন শিল্পে বেশি হয়?
  1. ক) ওষুধ
  2. খ) টেকটোনিক
  3. গ) কাগজ
  4. ঘ) ইলেকট্রনিক
ব্যাখ্যা
ইলেকট্রনিক শিল্পে সিলিকনের ব্যবহার বেশি হয়। সিলিকন অর্ধপরিবাহী হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
৮৩৭.
সর্বপ্রথম সমন্বিত বর্তনীর ধারনা দেন কে?
  1. ক) চার্লস ব্যাবেজ
  2. খ) জ্যাক কিলবি
  3. গ) ওয়াল্টার ব্রাটেইন
  4. ঘ) রবার্ট নায়েস
ব্যাখ্যা
সমন্বিত বর্তনী:
- ১৯৫৮ সালে জ্যাক কিলবি সম্বনিত বর্তনীর ধারণা দেন
- ১৯৫৯ সালে জ্যাক কিলবি ও রবার্ট নায়েস প্রথম প্রকৃত মনোলিথিক আইসি তৈরি করে।
- একটি IC তে সাধারণত বহু সংখ্যাক Transistor, Capacitor, Logic Gate Resistor থাকে। 

উৎস: কম্পিউটার ও তথ্য প্রযুক্তি-১, এসএসসি ও দাখিল ( ভোকেশনাল )।
৮৩৮.
'পাথফাইন্ডার' মঙ্গলপৃষ্ঠে কত সালে অবতরণ করে?
  1. ১৯৯২ সালে
  2. ১৯৯৩ সালে
  3. ১৯৯৫ সালে
  4. ১৯৯৭ সালে
ব্যাখ্যা
- মার্স পাথফাইন্ডার ১৯৯৬ সালের ৪ ডিসেম্বর উৎক্ষেপণ করা হয়।
- ১৯৯৭ সালের ৪ জুলাই মঙ্গল গ্রহের এরেস ভ্যালিসে সফলভাবে অবতরণ করে।
- এটি ছিল নাসার "ফাস্ট, বেটার, চিপার" (Faster, Better, Cheaper) দর্শনের অধীনে পরিচালিত অন্যতম সফল মিশন, যা সীমিত বাজেটে দ্রুত এবং কার্যকর উপায়ে আন্তগ্রহীয় গবেষণার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছিল।
- এই মিশনটি একটি উন্নত ল্যান্ডার এবং সোজার্নার নামের স্বয়ংচালিত রোভার বহন করেছিল, যা মঙ্গল গ্রহে অবতরণ করা ও পরিচালিত প্রথম রোবোটিক রোভার হিসেবে ইতিহাস গড়ে।
- সোজার্নার ছোট হলেও এর কার্যক্ষমতা ছিল অসাধারণ; এটি মঙ্গলের পৃষ্ঠে বিভিন্ন শিলা ও মাটির নমুনা বিশ্লেষণ করে মূল্যবান তথ্য সংগ্রহ করে।
- পাথফাইন্ডার মিশন তখন পর্যন্ত অভূতপূর্ব পরিমাণ বৈজ্ঞানিক তথ্য পৃথিবীতে প্রেরণ করেছিল, যার মধ্যে মঙ্গলের বায়ুমণ্ডল, আবহাওয়া, ভূতাত্ত্বিক গঠন এবং রাসায়নিক উপাদান সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার অন্তর্ভুক্ত ছিল।
- পাথফাইন্ডারের সাফল্য নাসাকে পরবর্তী রোভার মিশনগুলোর জন্য প্রযুক্তিগত দিক থেকে আরও আত্মবিশ্বাসী করে তোলে এবং মহাকাশ গবেষণায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে।

উৎস: নাসা ওয়েবসাইট।
৮৩৯.
বায়ুমণ্ডলের কোন স্তরে ওজোনস্তর রয়েছে?
  1. স্ট্রাটোমণ্ডল
  2. মেসোমণ্ডল
  3. তাপমণ্ডল
  4. ট্রপোমণ্ডল
ব্যাখ্যা
স্ট্রাটোমণ্ডল(Stratosphere): 
- স্ট্রাটোমণ্ডলের দ্বিতীয় স্তরটি হলো স্ট্রাটোমণ্ডল, যা ভূ-পৃষ্ঠ থেকে উপরের দিকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত। 
- এ স্তরের শেষ সীমা স্ট্রাটোবিরতি (Stratopause)। 
- এ স্তরে ২০ কিলোমিটার উচ্চতা পর্যন্ত তাপমাত্রার কোনো পরিবর্তন হয় না। 
- স্ট্রাটোবিরতিতে তাপমাত্রা ০° সেলসিয়াস বা এর কাছাকাছি হয়। 
- এ স্তরে বায়ুর ঘনত্ব ও চাপ উভয়ই কম। 
- স্ট্রাটোমণ্ডলে জলীয়বাষ্প ও ধূলিকণার পরিমাণ খুব নগন্য এবং প্রায় মেঘশূন্য থাকে। 
- এ স্তরে বাতাস অত্যন্ত হালকা । বাতাসের ঊর্ধ্ব বা নিম্ন গতি নেই, তবে সমান্তরাল গতি দেখা যায়। 

- স্ট্রাটোমণ্ডলে ঝড়-বৃষ্টি থাকে না বলে এ স্তরের মধ্য দিয়েই সাধারণত বিমান চলাচল করে থাকে। 
- স্ট্রাটোমণ্ডলের উপরের দিকে ওজোন (ozone) গ্যাসের স্তর রয়েছে যা ওজোনমণ্ডল বা Ozonesphere নামে পরিচিত। এ স্তরটির গভীরতা ১২-১৬ কিলোমিটার। 
- ওজোন স্তর সূর্যরশ্মির অতি বেগুনি রশ্মি (Ultra Violet Rays) শোষণ করে। জীবজগতের জন্য সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি খুবই ক্ষতিকর। তবে এটি ওজোন স্তর ভেদ করে পৃথিবীতে পৌঁছাতে পারে না। 
- এ স্তর সূর্যের অতি বেগুনি রশ্মি শোষণ করায় তাপমাত্রা (প্রায় ৭৬° সেলসিয়াস) অনেক বেশি। 
 
উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৪০.
'স্লেট' কোন ধরনের শিলার উদাহরণ?
  1. পাললিক শিলা
  2. আগ্নেয় শিলা
  3. রূপান্তরিত শিলা
  4. স্তরীভূত শিলা
ব্যাখ্যা

- জন্মের প্রথমে পৃথিবী ছিলো একটি উত্তপ্ত গ্যাসপিণ্ড। এই গ্যাসপিণ্ড ক্রমান্বয়ে তাপ বিকিরণ করে তরল হয়। এর পর আবার তাপ বিকিরণ করে উপরিভাগ শীতল ও কঠিন আকার ধারণ করে। এভাবে গলিত অবস্থা থেকে ঘনীভূত বা কঠিন হয়ে যে শিলা গঠিত হয় তাকে বলে আগ্নেয় শিলা বলে।
- আগ্নেয় শিলা পৃথিবীর প্রথম পর্যায়ে সৃষ্টি হয় বলে তাকে প্রাথমিক শিলা ও অস্তরীভূত শিলা বলে।
- আগ্নেয় শিলা স্ফটিকার, অপেক্ষাকৃত ভারী, কঠিন ও কম ভঙ্গুর।
- আগ্নেয় শিলায় কোন জীবাশ্ম নেই।
- গ্রানাইট, গ্যাব্রো, ডলোরাইট, ল্যাকোলিথ, ব্যাথোলিথ, ডাইক, সিল, ব্যাসল্ট, অ্যান্ডিসাইট ইত্যাদি আগ্নেয় শিলার উদাহরণ।
- পলি সঞ্চিত হয়ে যে শিলা গঠন করে তা পাললিক শিলা। এ শিলায় পলি সাধারণত স্তরে স্তরে সঞ্চিত হয় বলে একে স্তরীভূত শিলাও বলে। পাললিক শিলা নরম ও হালকা যা সহজেই ক্ষয়প্রাপ্ত হয়। এর মধ্যে জীবাশ্ম দেখা যায়। পাললিক শিলায় ছিদ্র দেখা যায়।
- পাললিক শিলার উদাহরণ- চুনাপাথর, কয়লা, নুড়িপাথর, বেলেপাথর, পলিপাথর, কর্দমপাথর, চক, কোকিনা, লবণ, জিপসাম, ডায়াটম, ডোলোমাইট ইত্যাদি।
- আগ্নেয় শিলা ও পাললিক শিলা যখন প্রচণ্ড চাপ, উত্তাপ এবং রাসায়নিক ক্রিয়ার ফলে রূপ পরিবর্তন করে নতুন রূপ ধারণ করে তখন তাকে রূপান্তরিত শিলা বলে।
- নিস, মার্বেল, স্লেট, গ্রাফাইট, কোয়ার্টাজাইট ইত্যাদি রূপান্তরিত শিলার উদাহরণ।
- চুনাপাথর রূপান্তরিত হয়ে মার্বেল,
- বেলেপাথর রুপান্তরিত হয়ে কোয়ার্টাজাইট,
- কাদা ও শেল রূপান্তরিত হয়ে স্লেট,
- গ্রানাইট রূপান্তরিত হলে নিস।
- কয়লা রূপান্তরিত হয়ে গ্রাফাইটে পরিণত হয়।
উৎসঃ ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৮৪১.
যে যন্ত্রের সাহায্যে পরিবর্তী উচ্চ বিভবকে নিম্ন বিভব এবং নিম্ন বিভবকে উচ্চ বিভবে রূপান্তরিত করা হয় তাকে বলা হয়-
  1. ক) তড়িৎ মোটর
  2. খ) ডায়নামো
  3. গ) ট্রান্সফর্মার
  4. ঘ) ডায়োড
ব্যাখ্যা

- যে যন্ত্রের সাহায্যে পরিবর্তী উচ্চ বিভবকে নিম্ন বিভব এবং নিম্ন বিভবকে উচ্চ বিভবে রূপান্তরিত করা হয় তাকে ট্রান্সফর্মার বলে।
- যে তড়িৎযন্ত্র তড়িৎ শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে তাকে তড়িৎ মোটর বলে।
- যে যন্ত্রের সাহায্যে যান্ত্রিক শক্তিকে তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তরিত করা হয় তাকে ডায়নামো বা জেনারেটর বলে। তাড়িত চৌম্বক আবেশের উপর ভিত্তি করে এই যন্ত্রের মূলনীতি প্রতিষ্ঠিত।

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

৮৪২.
শনি গ্রহের উপগ্রহের সংখ্যা কয়টি?
  1. ১৪৬টি
  2. ২৪৭টি
  3. ২৭৪টি
  4. ২৮২টি
ব্যাখ্যা
শনি গ্রহ:
- শনি সৌরজগতের দ্বিতীয় বৃহত্তম গ্রহ।
- সূর্য থেকে এর দূরত্ব ১৪৩ কোটি কিলোমিটার।
- শনি গ্রহ উজ্জ্বল বলয় দ্বারা বেষ্টিত এবং এর ভূ-ত্বক বরফে ঢাকা।
- সূর্যের চারদিকে শনির একবার ঘুরে আসতে সময় লাগে প্রায় ২৯.৪ বছর।
- গ্রহটি পৃথিবী থেকে প্রায় ৯ গুণ বড়।
- এর উপগ্রহ রয়েছে ২৭৪টি

উল্লেখ্য,
- সম্প্রতি শনি গ্রহের চারপাশে আরও ১২৮টি নতুন চাঁদের সন্ধান পেয়েছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা।
- এই আবিষ্কারের ফলে এখন শনির মোট চাঁদের সংখ্যা ২৭৪। 

উৎস: NASA Science (.gov)
৮৪৩.
কোনটি একটি প্রাকৃতিক দূষণকারী উপাদান?
  1. আগ্নেয়গিরির ছাই
  2. গাড়ির ধোঁয়া
  3. কলকারখানার বর্জ্য
  4. কৃষিজ রাসায়নিক
ব্যাখ্যা
• আগ্নেয়গিরির ছাই একটি প্রাকৃতিক দূষণকারী উপাদান, যেটি কোনও মানব ক্রিয়ার ফল নয়।

-  আগ্নেয়গিরি থেকে নির্গত ছাই, গ্যাস এবং লাভা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বায়ুমণ্ডলে ও পরিবেশে ছড়িয়ে পড়ে এবং তাৎক্ষণিক দূষণ সৃষ্টি করে।
-  তবে এটি নিয়ন্ত্রণযোগ্য নয় এবং প্রাকৃতিক প্রাকৃতিক দুর্যোগের অংশ।

অপরদিকে, 
গাড়ির ধোঁয়া: 
- এটি একটি মানবসৃষ্ট দূষণকারী উপাদান।
- বিভিন্ন যানবাহন পেট্রোল, ডিজেল বা অন্যান্য জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহার করে। জ্বালানি পোড়ালে কার্বন মনোঅক্সাইড (CO), নাইট্রোজেন অক্সাইড (NOx), কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO₂), এবং সূক্ষ্ম ধূলিকণা (PM2.5) নির্গত হয়।
- এসব উপাদান বায়ু দূষণ সৃষ্টি করে এবং মানবস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।

• কলকারখানার বর্জ্য: 
- এটিও একটি মানবসৃষ্ট দূষণকারী উৎস।
- শিল্পপ্রতিষ্ঠান বা ফ্যাক্টরি থেকে বর্জ্য পদার্থ যেমন– রাসায়নিক, তেল, ভারী ধাতু (lead, mercury), এবং বর্জ্য পানির মাধ্যমে পরিবেশে নিক্ষিপ্ত হয়।
- এগুলো জলদূষণ, মৃত্তিকা দূষণ এবং জীববৈচিত্র্যের উপর বিরূপ প্রভাব ফেলে।

কৃষিজ রাসায়নিক:
- এটি মানুষ কর্তৃক চাষের জন্য ব্যবহৃত কৃত্রিম উপাদান যেমন– সার (fertilizer), কীটনাশক (pesticide), আগাছানাশক (herbicide)।
- এইসব রাসায়নিক উপাদান মাটির গুণমান নষ্ট করে, ভূগর্ভস্থ পানিকে দূষিত করে, এবং খাদ্যশৃঙ্খলে বিষাক্ত পদার্থ যোগ করে।

তথ্যসূত্র:
- ভূগোল ও পরিবেশ – নবম-দশম শ্রেণি, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (NCTB)।
৮৪৪.
IPCC-এর চতুর্থ মূল্যায়ন রিপোর্ট অনুযায়ী, গত ১০০ বছরে পৃথিবীর তাপমাত্রা কত ডিগ্রী সেলসিয়াস বেড়েছে?
  1. ০.৫° সেলসিয়াস
  2. ০.১° সেলসিয়াস
  3. ০.৬° সেলসিয়াস
  4. ১.০° সেলসিয়াস
ব্যাখ্যা

- জলবায়ু পরিবর্তন-সংক্রান্ত প্রভাব মূল্যায়নের জন্য গঠিত Intergovernmental Panel on Climate Change (IPCC)-এর চতুর্থ মূল্যায়ন রিপোর্ট (AR4) অনুযায়ী, জলবায়ুজনিত পরিবর্তনের প্রভাব অনেক মারাত্মক এবং তা ধীরে ধীরে বেড়েই চলছে। 
- পৃথিবীর তাপমাত্রা গত ১০০ বছরে প্রায় ০.৬° সেলসিয়াস বেড়েছে। 
- ১৯৬১-২০০৩ সালের মধ্যে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা গড়ে প্রতি বছরে ১.৮ সেন্টিমিটার করে বেড়েছে। 
- ১৯৯৫-২০০৬ পর্যন্ত ১২ বছরের মধ্যে ১১ বছরই প্রচন্ড গরম পড়েছে। পরবর্তী দুই দশকে বায়ুমন্ডলীয় তাপমাত্রা প্রতি দশ বছরে গড়ে ০.২°-০.৩° সেলসিয়াস পর্যন্ত বেড়ে যাবে। 
- ২১০০ সালের মধ্যে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা ১.১°-৬.৪° সেলসিয়াস পর্যন্ত বাড়তে পারে। 
- ২০৮০ সালের মধ্যে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ৩৪ সেন্টিমিটার পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। 
- প্রলয়ংকারী ঘূর্ণিঝড়, আইলা, সিডর, নার্গিস, ক্যাটরিনার মতো ভয়াবহ দুর্যোগ আরো ঘন ঘন হবে এবং তার মাত্রা আরো ভয়ানক হবে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৮৪৫.
উপকূলবর্তী অঞ্চলে জোয়ারের কত সময় পর ভাঁটার সৃষ্টি হয়?
  1. ২ ঘণ্টা ১৫ মিনিট পর
  2. ৪ ঘণ্টা ২০ মিনিট পর
  3. ৬ ঘণ্টা ১৩ মিনিট পর
  4. ৮ ঘণ্টা ১৬ মিনিট পর
ব্যাখ্যা
•  উপকূলে একটি জোয়ারের প্রায় ৬ ঘণ্টা ১৩ মিনিট পর ভাঁটা হয়।

• জোয়ার-ভাঁটা:

- সমুদ্রের একই স্থানে প্রতিদিন দুইবার জোয়ার এবং দুইবার ভাঁটা ঘটে।
- সমুদ্রের পানি ফুলে ওঠাকে জোয়ার এবং নিচে নেমে যাওয়াকে ভাঁটা বলা হয়।
- পর পর দুটি জোয়ার বা দুটি ভাঁটার মধ্যে ব্যবধান হলো ১২ ঘণ্টা ২৬ মিনিট।
- চন্দ্র ও সূর্যের আকর্ষণ শক্তি এবং পৃথিবীর কেন্দ্রগত শক্তির প্রভাবে সমুদ্রের পানি নির্দিষ্ট সময় অন্তর ফুলে উঠে আবার নেমে যায়। অর্থাৎ, সমুদ্রে একই জায়গায় প্রতিদিন দু’বার জোয়ার এবং দু’বার ভাঁটা ঘটে।
- সমুদ্রের মোহনা থেকে নদীগুলোর স্রোতের বিপরীতে উজানে কয়েক কিলোমিটার পর্যন্ত জোয়ার ভাঁটা অধিক অনুভূত হয়।
- সমুদ্রের মধ্যভাগ থেকে উপকূলের কাছে পানির অগভীর অংশে জোয়ারের পানির উচ্চতা বেশি থাকে।
- তবে দেশের অভ্যন্তরে বিভিন্ন নদীপথে সমুদ্রের পানি প্রবাহিত হলে এবং নেমে গেলে, তাকে জোয়ার ভাঁটা বলা হয় না।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৪৬.
প্লেট টেকটোনিক তত্ত্ব কোন দুটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ ব্যাখ্যা করে? 
  1. ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরি
  2. জোয়ার-ভাটা ও মেরু-প্রবাহ
  3. বন্যা ও খরা
  4. ঘূর্ণিঝড় ও বজ্রপাত
ব্যাখ্যা
প্লেট টেকটোনিক তত্ত্ব: 
- প্লেট টেকটোনিক তত্ত্বের মূল ধারণা হলো ভূ-পৃষ্ঠের নিচে পৃথিবীর শিলামণ্ডল কতগুলো অংশে বা খণ্ডে বিভক্ত যাদেরকে প্লেট বলা হয়। 
- এই প্লেটগুলো গুরুমণ্ডলের আংশিক তরল অংশের উপরে ভাসমান অবস্থায় আছে। 
- এই প্লেটগুলো প্রতিবছরে কয়েক সেন্টিমিটার কোনো একদিকে সরে যায়। 
- প্লেটগুলো কখনও একটি থেকে আরেকটি দূরে সরে যায়, আবার কখনো কখনো একে অন্যের দিকে আসে। 
- প্লেটগুলো কখনো কখনো বছরে কয়েক মিলিমিটার উপরে ওঠে বা নিচে নামে। 
- প্লেট টেকটোনিক তত্ত্ব দ্বারা ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির উদগীরণ ব্যাখ্যা করা যায়। 

- দুটি টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে বেশি ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির উদগীরণের ঘটনা ঘটে। 
- প্লেটগুলোর সংযোগস্থলে উঁচু পর্বত থাকলে ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির উদগীরণের ঘটনা আরও বাড়ে।
- ধারণা করা হয়, প্লেটগুলো একটি আরেকটির সাথে ঘষা বা ধাক্কা খেলে সেখানে প্রচুর তাপ সৃষ্টি হয়।
- তাপে ভূ-অভ্যন্তরের পদার্থ গলে যায়, এ গলিত পদার্থ চাপের ফলে নিচ থেকে ভূ-পৃষ্ঠ ভেদ করে বেরিয়ে আসে। একেই আগ্নেয়গিরির উদগীরণ বলে।
- বেরিয়ে আসা গলিত তরল পদার্থ ম্যাগমা নামে পরিচিত।
- একইভাবে প্লেটগুলো একটি অন্যটির সাথে ধাক্কা খেলে পৃথিবী কেঁপে ওঠে যা ভূমিকম্প নামে পরিচিত। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।
৮৪৭.
শতকরা হিসেবে সমুদ্রের পানিতে লবণের পরিমাণ কত?
  1. ক) ২-৩%
  2. খ) ২.৫-৩.৫%
  3. গ) ৩-৩.৫%
  4. ঘ) ২.৫-৩%
ব্যাখ্যা
সমুদ্রের পানিতে ২.৫% থেকে ৩.৫% লবণ দ্রবীভূত অবস্থায় থাকে।
যে পানির ঘনত্ব বেশি সে পানিতে সাঁতার কাটা সহজ।
পুকুর, নদী বা বিলের পানির চেয়ে সমুদ্রের পানির ঘনত্ব বেশি।
সমুদ্রের পানিতে সাঁতার কাটা সহজ হয়।
৮৪৮.
কোন বিজ্ঞানী সর্বপ্রথম মহাবিশ্বের সম্প্রসারণ সম্পর্কিত সূত্র প্রদান করেন?
  1. ক) স্টিফেন হকিং
  2. খ) এডুইন হাবল
  3. গ) জর্জ ল্যামেটার
  4. ঘ) আলবার্ট আইনস্টাইন
ব্যাখ্যা
১৯২০ সালে বিখ্যাত মার্কিন জ্যোতির্বিজ্ঞানী এডউইন হাবল তার ২.৫ মি. টেলিস্কোপের সাহায্যে গ্যালাক্সিগুলো পর্যবেক্ষণের সময় লক্ষ্য করলেন যে, গ্যালাক্সিগুলো পরস্পর থেকে ক্রমশ দূরে সরে যাচ্ছে।

১৯২৯ সালে হাবল তাঁর দীর্ঘ নয় বছরের পর্যবেক্ষণের ফলাফল পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্তে উপনীত হন যে, মহাবিশ্ব অত্যন্ত দ্রুতগতিতে সম্প্রসারিত হচ্ছে। তাঁর এই সিদ্ধান্তকে তিনি একটি সূত্রের মাধ্যমে প্রকাশ করেন যা হাবলের সূত্র নামে পরিচিত।

হাবলের সূত্রানুসারে-
গ্যালাক্সিসমূহ নিজেরা এবং পৃথিবী হতে দ্রুতগতিতে দূরে সরে যাচ্ছে এবং গ্যালাক্সিগুলোর মধ্যে দূরত্ব যতো বেশি পরষ্পর হতে দূরে সরে যাওয়ার বেগও ততো বেশি।

সূত্রঃ পদার্থ বিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৪৯.
1 amu ভরের সমতুল্য শক্তি কত?
  1. ক) 931 MeV
  2. খ) 93.4 MeV
  3. গ) 943 MeV
  4. ঘ) 980 MeV
ব্যাখ্যা
কোন ব্যাখ্যা যোগ করা হয়নি।
৮৫০.
ওজোন গ্যাস বায়ু মণ্ডলের কোন স্তরে বেশি পরিমাণে আছে?
  1. ক) স্ট্রাটোস্ফিয়ার
  2. খ) ট্রপোস্ফিয়ার
  3. গ) আয়নোস্ফিয়ার
  4. ঘ) এক্সোস্ফিয়ার
ব্যাখ্যা
বায়ুমণ্ডলের দ্বিতীয় স্তর স্ট্রাটোমণ্ডল।
এই স্তরে ওজোন গ্যাসের স্তর বেশি পরিমাণে আছে।
এ ওজোন স্তর সূর্যের আলোর বেশিরভাগ অতিবেগুনি রশ্মি শুষে নেয়।
এই স্তরের বায়ুতে অতি সূক্ষ্ম ধূলিকণা ছাড়া কোনো রকম জলীয়বাষ্প থাকে না।
ফলে আবহাওয়া থাকে শান্ত ও শুষ্ক।
ঝড়-বৃষ্টি থাকেনা বলেই এই স্তরের মধ্য দিয়ে সাধারণত জেট বিমানগুলো চলাচল করে।
উৎসঃ ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি
৮৫১.
দ্রাঘিমারেখাগুলো এক-একটি -
  1. সরলরেখা
  2. পূর্ণবৃত্ত
  3. অধিবৃত্ত
  4. অর্ধবৃত্ত
ব্যাখ্যা
দ্রাঘিমারেখা (Longitude): 
- নিরক্ষরেখাকে ডিগ্রি, মিনিট ও সেকেন্ডে ভাগ করে প্রত্যেক ভাগবিন্দুর উপর দিয়ে উত্তর মেরু থেকে দক্ষিণ মেরু পর্যন্ত যে সকল রেখা কল্পনা করা হয়েছে, সেগুলোই হলো দ্রাঘিমারেখা।
- এ রেখাগুলো পৃথিবীর পরিধির অর্ধেকের সমান। অর্থাৎ এক-একটি অর্ধবৃত্ত।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৮৫২.
সমুদ্রস্রোতের প্রধান কারণ কোনটি?
  1. নিয়ত বায়ুপ্রবাহ
  2. জোয়ার-ভাটা
  3. ভূ-গর্ভস্থ জলধারা
  4. সমুদ্রের গভীরতা 
ব্যাখ্যা

- সমুদ্রস্রোত সৃষ্টির পেছনে একাধিক কারণ থাকলেও নিযত বায়ুপ্রবাহই এর প্রধানতম কারণ। অয়ন বায়ু, পশ্চিমা বায়ু এবং মেরু বায়ুর মতো নিয়ত বায়ুপ্রবাহগুলো সমুদ্রপৃষ্ঠের পানির ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার সময় ঘর্ষণের ফলে পানিকে নির্দিষ্ট দিকে ঠেলে নিয়ে যায়, যা স্থায়ী সমুদ্রস্রোত তৈরি করে

সমুদ্রস্রোত: 
- সমুদ্রস্রোতের প্রধান কারণ বায়ুপ্রবাহ। বায়ুপ্রবাহ সমুদ্রের উপরিভাগের পানির সঙ্গে ঘর্ষণ তৈরি করে এবং ঘর্ষণের জন্য পানিতে ঘূর্ণন তৈরি করে। 
- সমুদ্রের পানি একটি নির্দিষ্ট গতিপথ অনুসরণ করে চলাচল করে, একে সমুদ্রস্রোত বলে। 

সমুদ্রস্রোতের কারণ: 
১। নিয়ত বায়ুপ্রবাহ: 
- নিয়ত বায়ুপ্রবাহই সমুদ্রস্রোত সৃষ্টির প্রধান কারণ। এসব বায়ুপ্রবাহ সমুদ্রস্রোতের দিক ও গতি নিয়ন্ত্রণ করে। অয়ন বায়ু, পশ্চিমা বায়ু ও মেরু বায়ুর প্রবাহ অনুযায়ী প্রধান সমুদ্রস্রোতগুলোর সৃষ্টি হয়। 

২। পৃথিবীর আহ্নিক গতি: 
- পৃথিবীর আহ্নিক গতির ফলে ফেরেলের সূত্র অনুসারে বায়ুপ্রবাহের মতো সমুদ্রজলও উত্তর গোলার্ধে ডান দিকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে বাম দিকে বেঁকে যায়। এর ফলে সমুদ্রস্রোতের সৃষ্টি হয়। 

৩। সমুদ্রের গভীরতার তারতম্য: 
- সমুদ্রের গভীরতার তারতম্য অনুসারে তাপমাত্রার পার্থক্য হয়। অগভীর সমুদ্রের জল দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে উপরে ওঠে। তখন গভীরতর অংশের শীতল জল নিচে নেমে আসে। এজন্য ঊর্ধ্বগামী ও নিম্নগামী সমুদ্রস্রোতের সৃষ্টি হয়। সমুদ্রের পৃষ্ঠে গতি সবচেয়ে বেশি। সমুদ্রের ১০০ মিটার নিচ থেকে গতি কমতে থাকে। 

৪। সমুদ্রজলের লবণাক্ততার পার্থক্য: 
- সমুদ্রজলে লবণের পরিমাণ সর্বত্র সমান নয়। অধিক লবণাক্ত জল বেশি ভারী বলে তার ঘনত্বও বেশি। বেশি ঘনত্বের জল কম ঘনত্বের দিকে নিম্ন প্রবাহরূপে প্রবাহিত হয় ও সমুদ্রস্রোতের সৃষ্টি করে। 

৫। সমুদ্রজলের তাপমাত্রার পার্থক্য: 
- নিরক্ষীয় অঞ্চলে উষ্ণমণ্ডলের সমুদ্রের জল বেশি উষ্ণ বলে তা জলের উপরের অংশ দিয়ে পৃষ্ঠপ্রবাহ বা বহিঃস্রোতরূপে মেরু অঞ্চলের দিকে প্রবাহিত হয়। অন্যদিকে, মেরু অঞ্চল থেকে শীতল ও ভারী জলরাশি জলের নিচের অংশ দিয়ে অন্তঃপ্রবাহ বা অন্তঃস্রোতরূপে নিরক্ষীয় উষ্ণমণ্ডলের দিকে প্রবাহিত হয়। এইভাবে উষ্ণ ও শীতল সমুদ্রস্রোতের সৃষ্টি হয়। 

৬। মেরু অঞ্চলের সমুদ্রে বরফের গলন: 
- মেরু অঞ্চলের সমুদ্রে বরফ কিছু পরিমাণ গলে গেলে জলরাশি স্ফীত হয় ও সমুদ্রজলের লবণাক্ততার পরিমাণ হ্রাস পায়। এর ফলে সমুদ্রস্রোতের সৃষ্টি হয়। 

৭। ভূখন্ডের অবস্থান: 
- সমুদ্রস্রোতের প্রবাহপথে কোনো মহাদেশ, দ্বীপ প্রভৃতি ভূখণ্ড অবস্থান করলে সমুদ্রস্রোত তাতে বাধা পেয়ে দিক ও গতিপথ পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়। অনেক সময় এর প্রভাবে সমুদ্রস্রোত একাধিক শাখায় বিভক্ত হয়। 

উৎস: ভূগোল, নবম-দশম শ্রেণি।

৮৫৩.
পৃথিবীর আবর্তনের বেগ সবচেয়ে বেশি কোথায়? 
  1. মেরু অঞ্চলে 
  2. নিরক্ষরেখায়
  3. কর্কটক্রান্তি রেখায়
  4. মকরক্রান্তি রেখায়
ব্যাখ্যা

আহ্নিক গতি (Rotation): 
- পৃথিবী তার নিজের মেরুদন্ডের বা অক্ষের চারদিকে দিনে একবার নির্দিষ্ট গতিতে পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে আবর্তন করে।
- পৃথিবী তার নিজের মেরুদন্ডের উপর একবার পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে আবর্তন করতে সময় নেয় ২৩ ঘণ্টা ৫৬ মিনিট ৪ সেকেন্ড বা ২৪ ঘণ্টা অর্থাৎ একদিন। একে সৌরদিন বলে।
- নিরক্ষরেখায় পৃথিবীর আবর্তনের বেগ সবচেয়ে বেশি। ঘণ্টায় প্রায় ১৭০০ কিলোমিটার।
- ঢাকায় পৃথিবীর আহ্নিক গতির বেগ ১৬০০ কিলোমিটার।
- যত মেরুর দিকে যাবে এ আবর্তনের বেগ তত কমতে থাকে এবং মেরুদ্বয়ে প্রায় নিঃশেষ হয়ে যায়।

উৎস:  NASA ওয়েবসাইট এবং  ভূগোল ও পরিবেশ, নবম -দশম শ্রেণি।

৮৫৪.
বিশ্ব ব্রহ্মান্ডের সবচেয়ে বেশি গ্যাসটি হলো-
  1. অক্সিজেন
  2. কার্বন-ডাই-অক্সাইড
  3. নাইট্রোজেন
  4. হাইড্রোজেন
ব্যাখ্যা

বিশ্ব ব্রহ্মান্ডের (Universe) সবচেয়ে বেশি গ্যাসটি হলো হাইড্রোজেন।
- মহাবিশ্বের সবচেয়ে প্রচুর পরিমাণে প্রাপ্ত মৌলিক উপাদান হলো হাইড্রোজেন।
- ধারণা করা হয়, মহাবিশ্বের মোট স্বাভাবিক (সাধারণ) পদার্থের মোট ভরের প্রায় ৭৫% হলো হাইড্রোজেন।
- মহাবিশ্বের মোট পদার্থের মধ্যে, তারার (Stars) গঠন (যেমন: সূর্য), আন্তঃনাক্ষত্রিক মেঘ (Interstellar Clouds) এবং গ্যালাক্সিদের মধ্যবর্তী স্থানে (Intergalactic Space) হাইড্রোজেন গ্যাস মুখ্য উপাদান হিসেবে থাকে।
- তারার মধ্যে নিউক্লীয় ফিউশন (Nuclear Fusion) প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হাইড্রোজেন ক্রমাগত হিলিয়ামে রূপান্তরিত হতে থাকে।
- হাইড্রোজেন হলো পর্যায় সারণির সবচেয়ে হালকা মৌল।
- এরপরেই প্রচুর পরিমাণে প্রাপ্ত গ্যাস হলো হিলিয়াম; এটি প্রায় ২৪% এর কাছাকাছি থাকে।
- বাকি সমস্ত উপাদান (যেমন: অক্সিজেন, নাইট্রোজেন, কার্বন, ইত্যাদি) একত্রে মাত্র ১% এরও কম পরিমাণে থাকে।

অন্যান্য অপশন:
-  ক) অক্সিজেন, গ) নাইট্রোজেন: এই গ্যাস দুটি পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের প্রধান উপাদান (নাইট্রোজেন প্রায় ৭৮%, অক্সিজেন প্রায় ২১%)। তবে, মহাবিশ্বের সামগ্রিক ভরের তুলনায় এদের পরিমাণ খুবই নগণ্য।
- খ) কার্বন-ডাই-অক্সাইড: এটি পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের একটি গৌণ উপাদান এবং মহাবিশ্বের মৌলিক উপাদানগুলোর মধ্যে এর পরিমাণ খুবই কম।

উৎস: নাসা ওয়েবসাইট, ব্রিটানিকা।

৮৫৫.
জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ (JWST) পৃথিবীর কক্ষপথে আবর্তিত না হয়ে কোন স্থানে সূর্যকে কেন্দ্র করে পরিভ্রমণ করছে? 
  1. নিম্ন পৃথিবী কক্ষপথ
  2. সূর্য–পৃথিবী L2 ল্যাগরেঞ্জ বিন্দু
  3. ভূ-স্থির কক্ষপথ
  4. মঙ্গল গ্রহের কক্ষপথ
ব্যাখ্যা

• জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ সূর্য–পৃথিবী L2 ল্যাগরেঞ্জ বিন্দুর নিকটে অবস্থান করে পৃথিবী থেকে প্রায় ১৫ লাখ কিলোমিটার দূরে সূর্যকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়, যা গভীর মহাকাশ পর্যবেক্ষণের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করে।

• জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ (JWST):
- জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ একটি শক্তিশালী ইনফ্রারেড মহাকাশ দূরবীক্ষণ যন্ত্র।
- এটি ২৫ ডিসেম্বর ২০২১ সালে উৎক্ষেপণ করা হয়।
- এটি যুক্তরাষ্ট্রের নাসা (NASA), ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থা (ESA) এবং কানাডীয় মহাকাশ সংস্থার (CSA) যৌথ প্রকল্প।
- এটি হাবল স্পেস টেলিস্কোপের উত্তরসূরি হিসেবে বিবেচিত।

• কক্ষপথ ও অবস্থান:
- JWST পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথে অবস্থান করে না।
- এটি পৃথিবী থেকে প্রায় ১.৫ মিলিয়ন কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।
- এটি সূর্য–পৃথিবী ব্যবস্থার L2 ল্যাগরেঞ্জ বিন্দুর নিকটে অবস্থান করে।
- এই অবস্থানে সূর্য, পৃথিবী ও চাঁদ একই দিকে থাকে, ফলে টেলিস্কোপের সানশিল্ড একদিকে রেখে তাপ ও আলো থেকে সুরক্ষা দেওয়া যায়।
- L2 বিন্দুতে মাধ্যাকর্ষণ বলের সাম্যাবস্থার কারণে টেলিস্কোপ তুলনামূলকভাবে কম জ্বালানি ব্যবহার করে স্থিতিশীলভাবে কক্ষপথে থাকতে পারে।

• ল্যাগরেঞ্জ বিন্দু (Lagrange Point):
- ল্যাগরেঞ্জ বিন্দু হলো এমন বিশেষ স্থান যেখানে দুটি বৃহৎ বস্তুর মাধ্যাকর্ষণ বল ও কক্ষীয় গতি একে অপরকে সাম্যাবস্থায় রাখে।
- সূর্য–পৃথিবী ব্যবস্থায় মোট পাঁচটি ল্যাগরেঞ্জ বিন্দু রয়েছে, যথা L1, L2, L3, L4 ও L5.
- L2 বিন্দুটি পৃথিবীর বিপরীত দিকে সূর্য থেকে দূরে অবস্থিত।

• বৈজ্ঞানিক গুরুত্ব:
- L2 অবস্থান থেকে JWST মহাবিশ্বের প্রাচীনতম গ্যালাক্সি পর্যবেক্ষণ করতে সক্ষম।
- এটি নক্ষত্রের জন্মপ্রক্রিয়া, গ্রহীয় বায়ুমণ্ডল, এবং প্রাথমিক মহাবিশ্বের অবস্থা বিশ্লেষণ করে।
- ইনফ্রারেড পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে এটি ধূলিকণার আড়ালে থাকা জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক বস্তু শনাক্ত করতে পারে।

• অন্যান্য অপশন:
- নিম্ন পৃথিবী কক্ষপথ → পৃথিবীর পৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২০০–২০০০ কিলোমিটার উচ্চতার কক্ষপথ, যেখানে হাবল স্পেস টেলিস্কোপ অবস্থান করে।
- ভূ-স্থির কক্ষপথ → বিষুবরেখার উপর প্রায় ৩৫,৭৮৬ কিলোমিটার উচ্চতায় অবস্থিত কক্ষপথ, যেখানে উপগ্রহ পৃথিবীর ঘূর্ণনের সাথে সমান কৌণিক বেগে আবর্তিত হয়।
- মঙ্গল গ্রহের কক্ষপথ → মঙ্গল গ্রহকে কেন্দ্র করে আবর্তিত কক্ষপথ, যা গ্রহ অনুসন্ধানী মহাকাশযানের জন্য ব্যবহৃত হয়।

উৎস: NASA, James Webb Space Telescope – Orbit Overview Page [Link], Britannica.

৮৫৬.
নিয়ত বায়ু কত প্রকার?
  1. ২ প্রকার
  2. ৩ প্রকার
  3. ৪ প্রকার
  4. ৫ প্রকার
ব্যাখ্যা

যে বায়ু সর্বদাই উচ্চচাপ অঞ্চল হতে নিম্নচাপ অঞ্চলের দিকে প্রবাহিত হয় তাকে বলা হয় নিয়ত বায়ু।
নিয়ত বায়ু তিন প্রকার।
যথা:
• অয়ন বায়ু,
• পশ্চিমা বায়ু ও
• মেরু বায়ু।
- কর্কটীয় ও মকরীয় উচ্চচাপ অঞ্চল থেকে নিরক্ষীয় নিম্নচাপ অঞ্চলের দিকে সদা প্রবাহিত বায়ুকে বলা হয়- অয়ন বায়ু।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৮৫৭.
নিম্নলিখিত কোন গ্যাসটি গ্রিন হাউস প্রভাব সৃষ্টি করে?
  1. আর্গন
  2. নাইট্রাস অক্সাইড
  3. নাইট্রোজেন
  4. হিলিয়াম
ব্যাখ্যা

অপশনে উল্লিখিত গ্যাসসমূহের মধ্যে নাইট্রাস অক্সাইড গ্যাস গ্রিন হাউস প্রভাব সৃষ্টি করে।

গ্রিন হাউস প্রভাব:
- শীতপ্রধান দেশে গ্রিন হাউসের (কাঁচ নির্মিত একটি ঘর) মাধ্যমে কৃত্রিমভাবে সবুজ উদ্ভিদ জন্মানো হয়।
- গ্রিন হাউস গ্যাসসমূহ শীতপ্রধান দেশের গ্রিন হাউস ঘরের ন্যায় সূর্য থেকে আগত রশ্মি তাপ বিকিরণে বাঁধা সৃষ্টি করে বায়ুমণ্ডলকে উত্তপ্ত করে।
- গ্রিন হাউস গ্যাস কর্তৃক বায়ুমণ্ডলের এইরূপ তাপ বৃদ্ধির প্রক্রিয়াকে গ্রিন হাউস অ্যাফেক্ট (Greenhouse effect) বলে।
- গ্রিন হাউস ইফেক্ট কথাটি সর্বপ্রথম সোভানটে আরহেনিয়াস প্রথম ব্যবহার করেন।
- গ্রিন হাউস গ্যাসসমূহ হলো-কার্বন ডাইঅক্সাইড (CO2), মিথেন (CH4), নাইট্রাস অক্সাইড (N2O), ক্লোরোফ্লোরোকার্বন (CFC)। 

বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির প্রধান নিয়ামক হিসেবে নিম্নে গ্রিন হাউস গ্যাস ও গ্রিন হাউস প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে আলোচনা করা হলো।

গ্রিন হাউস গ্যাসসমূহ:
১। কার্বন ডাইঅক্সাইড (CO2):
- কার্বন ডাইঅক্সাইড বর্ণহীন, সামান্য গন্ধযুক্ত কার্বন ও অক্সিজেন নিয়ে গঠিত একটি গ্যাস।
- পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের ০.০৩ শতাংশ কার্বন ডাইঅক্সাইড।
- জীবের প্রশ্বাসের সাথে কার্বন ডাইঅক্সাইড, আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতে, উদ্ভিদ ও প্রাণিদেহের পচন, মোটরযান ও শিল্প কারখানার জ্বালানি (কয়লা, প্রাকৃতিক গ্যাস, তৈল) পোড়ানো থেকে কার্বন ডাইঅক্সাইড বায়ুমণ্ডলে যোগ হয়।
- বর্তমানে তরল ও কঠিন কার্বন ডাইঅক্সাইড রেফ্রিজারেন্ট হিসেবে আইসক্রিম, অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রে ব্যবহৃত হয়।
- সবুজ উদ্ভিদ এর খাদ্য প্রস্তুতে কার্বন ডাইঅক্সাইড গ্রহণ করলেও বন উজাড় বৃদ্ধি পাওয়ায়, অধিক হারে জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহার, মোটরযানের সংখ্যা প্রভৃতি বৃদ্ধির কারণে বায়ুমণ্ডলে বিশ্বব্যাপী কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিমাণ বাড়ছে এবং বায়ুমণ্ডলকে উত্তপ্ত করছে।

২। মিথেন (CH4):
- প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রধান উপাদান মিথেন।
- এছাড়াও জলাভূমিতে পানির নিচে পানা পচনের মাধ্যমে, ধানের বর্জ্য অবশিষ্টাংশের পচন থেকে মিথেন পাওয়া যায়।
- তাপ ধারণ ক্ষমতার ক্ষেত্রে মিথেন কার্বন ডাই অক্সাইডের চাইতে ২০ গুণ বেশি তাপ ধারণ করে।

৩। ক্লোরোফ্লোরো কার্বন (CFC):
- সিএফসি সাধারণত বিষমুক্ত, নিষ্ক্রিয় এবং ফ্লোরিন ও কার্বনের সমন্বয়ে গঠিত যৌগ।
- সিএফসি হিমায়নে (ফ্রিজ, এসি) ও স্প্রে-ক্যানে (অ্যারেসোল), মাইক্রো ইলেকট্রিক সার্কিট ও প্লাস্টিক ফোমে ব্যবহৃত হয়।

৪। নাইট্রাস অক্সাইড (N2O):
- অক্সিজেনের সাথে নাইট্রোজেন যুক্ত হয়ে নাইট্রোজেনের অক্সাইডসমূহ তৈরি করে।
- এটিও বর্ণহীন, সামান্য মিষ্টিগন্ধযুক্ত।
- এই গ্যাসের উৎসসমূহ হলো মোটরযান, শক্তি উৎপাদন কেন্দ্র, নাইট্রোজেন সমৃদ্ধ রাসায়নিক সার, কারখানা।

অন্যদিকে,
- আর্গন (Ar): বর্ণহীন, গন্ধহীন, স্বাদহীন, পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে তৃতীয় সর্বাধিক পরিমাণে থাকে। গ্রিনহাউস গ্যাস নয়।
- নাইট্রোজেন (N2): পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের ৭৮.০৯% গঠন করে। গ্রিনহাউস গ্যাস নয়।
- হিলিয়াম : এটি একটি নিষ্ক্রিয় (inert) গ্যাস। পর্যায় সারণির Noble gas গ্রুপের অন্তর্ভুক্ত।

উৎস: পরিবেশ বিজ্ঞান, বিবিএ প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮৫৮.
উত্তর গোলার্ধে শরৎকাল হলে দক্ষিণ গোলার্ধে কী কাল বিরাজ করে?
  1. শরৎকাল
  2. গ্রীষ্মকাল
  3. বসন্তকাল
  4. শীতকাল
ব্যাখ্যা
- সূর্যের দক্ষিনায়ণের কারণে ২৩শে সেপ্টেম্বরের দেড় মাস পূর্বের ও দেড় মাস পরের সময়ে উত্তর গোলার্ধে শরৎকাল বিরাজ করে। তখন দক্ষিণ গোলার্ধে বসন্তকাল বিরাজ করে।
- একইভাবে, ২১শে মার্চের পূর্বের ও পরের দেড় করে সময়ে উত্তর গোলার্ধে যখন বসন্তকাল বিরাজ করে তখন দক্ষিণ গোলার্ধে শরৎকাল বিরাজ করে।
- ২১শে জুনের পূর্বের ও পরের দেড় মাস করে মোট তিন মাস যখন উত্তর গোলার্ধে গ্রীষ্মকাল বিরাজ করে তখন দক্ষিণ গোলার্ধে শীতকাল বিরাজ করে।
- ২২শে ডিসেম্বরের পূর্বের ও পরের দেড় মাস করে মোট তিন মাস যখন উত্তর গোলার্ধে শীতকাল বিরাজ করে তখন দক্ষিণ গোলার্ধে গ্রীষ্মকাল বিরাজ করে।
(তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী)
৮৫৯.
ভূমিকম্প সৃষ্টির প্রধান কারণ কোনটি?
  1. ভূগর্ভস্থ চাপের হ্রাস-বৃদ্ধি
  2. শিলাচ্যুতি
  3. প্লেটসমূহের সঞ্চালন
  4. ভূগর্ভস্থ বাষ্প
ব্যাখ্যা
- ভূত্বকের কোন অংশের আকস্মিক কম্পনকে ভূমিকম্প বলা হয়।
- বিভিন্ন কারণে ভূমিকম্প হয়ে থাকে। এর মধ্যে প্রধান কারণ হলো পৃথিবীর উপরিভাগের প্লেটসমূহের সঞ্চালন এবং আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যূৎপাত।
এছাড়া অন্যান্য কারণসমূহের মধ্যে রয়েছে:
- শিলাচ্যুতি বা শিলাতে ভাঁজের সৃষ্টি
- তাপ বিকিরণ
- ভূগর্ভস্থ বাষ্প
- ভূগর্ভস্থ চাপের হ্রাস-বৃদ্ধি
- হিমবাহের প্রভাব প্রভৃতি।
(তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী)
৮৬০.
নিচের কোন অবদানের জন্য চিকিৎসা শাস্ত্রে ২০২০ সালের নোবেল পুরস্কার প্রদান করা হয়?
  1. ক) আত্মভক্ষণ প্রক্রিয়া আবিষ্কারের জন্য
  2. খ) হেপাটাইটিস সি ভাইরাস শনাক্তের জন্য
  3. গ) জিনোম ইডিটিংয়ের জন্য
  4. ঘ) ক্যান্সারের চিকিৎসা আবিষ্কার
ব্যাখ্যা

- হেপাটাইটিস সি ভাইরাস শনাক্ত ও এর চিকিৎসার উন্নতির জন্যে হার্ভে জে আল্টার (যুক্তরাষ্ট্র), চার্লস রাইস (যুক্তরাষ্ট্র), মিকায়েল হগটন (যুক্তরাজ্য) চিকিৎসা বিজ্ঞানে ২০২০ সালে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।

- রসায়নে ২০২০ সালে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন ফ্রান্সের এমানুয়েল শারপন্টিয়ের এবং যুক্তরাষ্ট্রের জেনিফার ডাউডনা।
- জিনোম এডিটিংয়ের পদ্ধতি উদ্ভাবনের জন্যে তাদের এই পুরস্কার দেওয়া হয়।

(সূত্র: নোবেল পুরস্কার ওয়েবসাইট)

৮৬১.
বজ্রপাতের সময় আপনি নিজের গাড়ি করে যাচ্ছেন। নিজেকে সুরক্ষিত রাখার জন্য আপনি কোন উপায়টি গ্রহণ করবেন? 
  1. গাড়ির মধ্যেই বসে থাকবেন
  2. কোনো গাছের তলায় আশ্রয় নিবেন
  3. বাইরে এসে মাটিতে উপুড় হয়ে শুয়ে পড়বেন
  4. বাইরে এসে আকাশের দিকে মুখ করে দাঁড়িয়ে থাকবেন
ব্যাখ্যা
National Oceanic and Atmospheric Administration of the USA Government এর মতে,
No place outside is safe when a thunderstorm is in the area. Get inside as soon as you hear thunder. Run to a substantial building or hard-topped metal vehicle as fast as you can.
এখানে স্পষ্ট করে বলা আছে যে, বাইরে যাওয়া কোনভাবেই নিরাপদ নয়
তারা আরও বলে যে,
If you can’t get to a safe building or vehicle:
— Avoid open areas. Don’t be the tallest object in the area.
অর্থাৎ, যদি কোন বিল্ডিং বা ছাদ বিশিষ্ট গাড়ি আশেপাশে না থাকে তাহলেই কেবল বাইরে শুয়ে পড়তে হবে যেন আশেপাশের সবকিছুর চেয়ে নিজের উচ্চতাটা কম থাকে।

তাছাড়া, আমাদের সরকারি নির্দেশনা/লিফলেটেও গাড়ির ভেতরেই থাকতে বলা হয়েছে এবং গাড়ির ভেতরে কোন ধাতব অংশের সঙ্গে যেন স্পর্শ না লাগে এ ব্যাপারে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। বাইরে খোলা জায়গাতে যেতে সরাসরিভাবে নিষেধ করা হয়েছে।
এখানে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি আবহাওয়া সেবা সংস্থার প্রচারণামূলক নির্দেশিকার একটা ছবি দিয়ে দেয়া হলো- 
৮৬২.
‘ব্ল্যাক বক্স’ কী?
  1. একটি ধরনের স্যাটেলাইট যন্ত্র
  2. মহাকাশযানের নিয়ন্ত্রণ প্যানেল
  3. বিমানের দুর্ঘটনার তথ্য সংগ্রহকারী যন্ত্র
  4. দূরবর্তী অঞ্চলের তাপমাত্রা নির্ধারণ যন্ত্র
ব্যাখ্যা
বিমানের ব্ল্যাক বক্স:
- ব্ল‍্যাক বক্স একটি যন্ত্র যাতে বিমান উড্ডয়নের শুরু থেকে অবতরণ পর্যন্ত সমস্ত ঘটনা রেকর্ড করা থাকে।
- এটিকে বিমানের 'ফ্লাইট ডেটা রেকর্ডারও বলা হয়।
- প্রথম দিকে এটি লাল রঙের ছিল এবং 'রেড এগ' নামে পরিচিত ছিল।
- ব্ল্যাক বক্স অত্যন্ত শক্তিশালী ধাতব পদার্থ (স্টেইনলেস স্টিল বা টাইটেনিয়াম) দিয়ে তৈরি।
- এটি ১০০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপ এবং প্রচণ্ড চাপেও অক্ষত থাকে।
- সর্বশেষ ২৫ ঘণ্টা পর্যন্ত তথ্য ধরে রাখতে পারে।
- অর্থাৎ ‘ব্ল্যাক বক্স’ বিমানের দুর্ঘটনার তথ্য সংগ্রহকারী যন্ত্র। 

উল্লেখ্য, 
- ২৯ ডিসেম্বর ২০২৪ সালে, দক্ষিণ কোরিয়ার মুয়ান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জেজু এয়ারের একটি উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়।
- উড়োজাহাজটি থাইল্যান্ডের ব্যাংকক থেকে আসছিল।
- এতে ১৮১ জন আরোহী ছিল, যার মধ্যে ১৭৯ জন নিহত হয়েছেন।
- দুর্ঘটনার পর ব্ল্যাক বক্স উদ্ধার করা হয়।
- ব্ল্যাক বক্সটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দক্ষিণ কোরিয়ায় এর তথ্য উদ্ধার সম্ভব হয়নি।
- ব্ল্যাক বক্স বিশ্লেষণের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হবে।

তথ্যসূত্র:  প্রথম আলো নিউজ। [লিঙ্ক] ও ইত্তেফাক নিউজ। [লিঙ্ক]
৮৬৩.
তরঙ্গ দৈর্ঘ্যকে মিলিমিটার পর্যায়ে পরিমাপের পদ্ধতি প্রথম আবিষ্কার করেন কে?
  1. ক) রবার্ট হুক
  2. খ) অ্যালেকজান্ডার ফ্লেমিং
  3. গ) জগদীশচন্দ্র বসু
  4. ঘ) আইনস্টাইন
ব্যাখ্যা
জগদীশচন্দ্র বসু
- ১৮৮৫ খ্রিষ্টাব্দে জগদীশচন্দ্র বসু কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজে পদার্থবিজ্ঞানে অধ্যাপনা এবং গবেষণা শুরু করেন। 
- জগদীশচন্দ্র বসু প্ৰথম বিনা তারে দুরবর্তী স্থানে সংকেত পাঠানো বিষয়ে গবেষণা শুরু করেন এবং সফল হন। 
- ১৮৯৫ খ্রিষ্টাব্দে প্রথম বারের মত দূরবর্তী স্থানে বিনা তারে রেডিও তরঙ্গ প্রেরণ করে আলোড়ন সৃষ্টি করেন। 
- জগদীশচন্দ্র বসুই প্রথম তরঙ্গদৈর্ঘ্যকে মিলিমিটার (৫মিলিমিটার) পর্যায়ে পরিমাপের পদ্ধতি আবিষ্কার করেন। 
- জগদীশচন্দ্র বসুই সর্বপ্রথম রেডিও সংকেত শনাক্ত করার কাজে অর্ধপরিবাহি জাংশন ব্যবহার করেন।
- এই আবিষ্কারকে ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে ব্যবহার না করে জগদীশচন্দ্র বসু তাঁর আবিষ্কারকে সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেন।
- জীব পদার্থবিজ্ঞানে জগদীশচন্দ্র বসু গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। 
- তিনি উদ্ভিদের শারীরিতত্বের উপর গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার হচ্ছে উদ্ভিদের বৃদ্ধি রেকর্ড করার জন্য ক্রেস্কোগ্রাফ। 
- তিনি উদ্ভিদের উদ্দীপকে সাড়া দেওয়ার কারণ ও প্রক্রিয়াকে ব্যাখ্যা করেন।
- তিনি দেখান যে বিভিন্ন উদ্দীপনায় উদ্ভিদেও সাড়া দেওয়ার প্রকৃতি রাসায়নিক নয় বৈদ্যুতিক। 
- তার উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের একটি হচ্ছে ‘Response in the living and non-living'. 
- ১৯১৭ খ্রিষ্টাব্দে উদ্ভিদ-শরীরিতত্ত্ব নিয়ে গবেষণার জন্য কলকাতায় বসু মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন। 
- ১৯৩৭ খ্রিষ্টাব্দের ২৩ নভেম্বর জগদীশচন্দ্র বসু পরলোকে গমন করেন।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৬৪.
হিগস বোজন কণা শণাক্ত করা হয়-
  1. ক) ২০১০ সালে
  2. খ) ২০১১ সালে
  3. গ) ২০১২ সালে
  4. ঘ) ২০১৩ সালে
ব্যাখ্যা

On July 4, 2012, scientists at the LHC announced that they had detected an interesting signal that was likely from a Higgs boson with a mass of 125–126 gigaelectron volts (billion electron volts; GeV). Further data was needed to definitively confirm those observations, and such confirmation was announced in March 2013. That same year Higgs and Belgian physicist François Englert (who had also proposed the Higgs mechanism) shared the Nobel Prize in Physics.

Source: Encyclopaedia Britannica

From CERN website:

৮৬৫.
তেজস্ক্রিয়তার এস. আই. লব্ধ একক কোনটি? 
  1. ওহম
  2. কুরী
  3. বেকেরেল
  4. রন্টজেন
ব্যাখ্যা
তেজস্ক্রিয় পদার্থ: 
- কয়েকটি বিশেষ ধরনের নিঃসরণ করে ভারী নিউক্লিয়াসগুলো স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভেঙ্গে যাওয়ার প্রক্রিয়াকে তেজস্ক্রিয়তা বলে। 
- ১৮৯৬ খ্রিস্টাব্দে হেনরি বেকারেল তেজস্ক্রিয়তা আবিষ্কার করেন। 
- তেজস্ক্রিয়তার এসআই লব্ধ একক হলো বেকেরেল (Bq), যা আবিষ্কারকের নামানুসারে করা হয়। 
- তেজস্ক্রিয় পদার্থ যেমন: রেডন (Rn), রেডিয়াম (Ra), থোরিয়াম (Th), ইউরেনিয়াম (U) ইত্যাদি। 
- উচ্চমাত্রায় তেজস্ক্রিয়তার ফলে গাছপালা মরে যায়। এছাড়া অন্যান্য খাদ্যশৃংখলের মাধ্যমে এরা প্রাণীদেহে প্রবেশ করে ভয়াবহ রোগ সৃষ্টি করে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৮৬৬.
Black Hole-এর ভেতরের ভৌত অবস্থা কেমন ধারণা করা হয়?
  1. আয়তন অনেক বড়, ঘনত্ব খুবই কম
  2. আয়তন প্রায় অসীমের কাছাকাছি, ঘনত্ব প্রায় শূন্য
  3. আয়তন ও ঘনত্ব উভয়ই অসীম 
  4. আয়তন প্রায় শূন্য, ঘনত্ব প্রায় অসীম
ব্যাখ্যা

◉ কৃষ্ণবিবর তখনই তৈরি হয় যখন কোনো বৃহদাকারের নক্ষত্র নিজের মহাকর্ষীয় আকর্ষণে ধসে পড়ে। ধসের ফলে ভেতরের পদার্থ একেবারে কেন্দ্রে সিঙ্গুলারিটি (Singularity) নামক বিন্দুতে সংকুচিত হয়।

আয়তন (Volume): এই সিঙ্গুলারিটির আয়তন প্রায় শূন্য বলে ধরা হয়।
ঘনত্ব (Density): যেহেতু বিশাল ভর একেবারে ক্ষুদ্র বিন্দুতে কেন্দ্রীভূত হয়, তাই ঘনত্ব প্রায় অসীম হয়ে যায়।
• মহাকর্ষীয় প্রভাব: এই অসীম ঘনত্বের কারণে মহাকর্ষ শক্তি এত প্রবল হয় যে আলো পর্যন্ত বের হতে পারে না।

কৃষ্ণবিবর (Black hole): 
- ১৯৬৯ সালে জন হুইলার নামক জনৈক মার্কিন বিজ্ঞানী কৃষ্ণবিবর আবিষ্কার করেন। 
- তিন সৌর ভরের সমান বা বেশি ভরের নক্ষত্রের সুপার নোভা বিস্ফোরণের পর এর অন্তর্বস্তু অনির্দিষ্টভাবে সংকুচিত হতে থাকে। এই সংকোচনের কারণে আয়তন প্রায় শূন্য এবং ঘনত্ব প্রায় অসীম হওয়ায় মহাকর্ষ ক্ষেত্র এমন প্রবল হয় যে, এ জাতীয় বস্তু থেকে এর মহাকর্ষকে কাটিয়ে কোনো প্রকার আলো বা সংকেতও বেরিয়ে আসতে পারে না। তাই বস্তুটিকে আর দেখা যায় না, নক্ষত্রের এই অবস্থাকে বলা হয় কৃষ্ণবিবর (Black hole)। 
- বাস্তবে g-এর মান এত বেশি হয় যে, ফোটন কণাও এর পৃষ্ঠ থেকে মুক্ত হতে বা বেরিয়ে আসতে পারে না। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮৬৭.
জোয়ার-ভাটা তৈরিতে চন্দ্রের ক্ষমতা সূর্যের ক্ষমতার তুলনায়-
  1. ক) অর্ধেক
  2. খ) সমান
  3. গ) দেড়গুণ
  4. ঘ) দ্বিগুণ
ব্যাখ্যা
চন্দ্র ও সূর্যের মিলিত মহাকর্ষীয় শক্তির (প্রধানত চাঁদের কেননা,জোয়ার উৎপাদনে সূর্যের ক্ষমতা চন্দ্রের ৪/৯ ভাগ / প্রায় অর্ধেক। অর্থাৎচন্দ্রের ক্ষমতা সূর্যের ক্ষমতার দ্বিগুণ ) প্রভাবে সমুদ্রপৃষ্ঠের পানি ফুলে ওঠাকে জোয়ার ও নেমে যাওয়ার ঘটনাকে ভাঁটা (একত্রে জোয়ার-ভাটা) বলা হয়।
৮৬৮.
তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গ ব্যবহার করে অধিক দূরত্বে সংকেত পাঠানোর পন্থা আবিষ্কার করেন কে? 
  1. মার্কোনি 
  2. গ্যালিলিও 
  3. ম্যাক্সওয়েল 
  4. আইনস্টাইন 
ব্যাখ্যা

- ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষের দিকে আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের অভূতপূর্ব উন্নতি ঘটে। 
- ১৮৬৪ সালে বিখ্যাত পদার্থবিজ্ঞানী জেমস ক্লার্ক ম্যাক্সওয়েল আলোর তড়িৎ চুম্বকীয় তত্ত্বের ধারণা দেন।
- তিনি তড়িৎ ক্ষেত্র এবং চুম্বক ক্ষেত্র একত্র করে তড়িৎ চুম্বকীয় তত্ত্বের বিকাশ ঘটান যা পরবর্তীতে জার্মান পদার্থবিজ্ঞানী হেনরিখ হার্জের পরীক্ষা দ্বারা প্রমাণিত হয়।
- ১৮৯৬ সালে বিজ্ঞানী মার্কোনি তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গ ব্যবহার করে অধিক দূরত্বে সংকেত পাঠানোর পন্থা আবিষ্কার করেন
- বাঙ্গালী বিজ্ঞানী জগদীশ চন্দ্র বসুও একই প্রকার পরীক্ষা নীরিক্ষা চালান।
- পরবর্তীতে তিনি বেতার যন্ত্র আবিষ্কার করেন।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮৬৯.
বাংলাদেশে ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্রের সংখ্যা কয়টি?
  1. ক) ১টি
  2. খ) ২টি
  3. গ) ৩টি
  4. ঘ) ৪টি
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যাঃ
বাংলাদেশে ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র ৪টি। যথা-
১ নং – বেতবুনিয়া (রাঙ্গামাটি),১৯৭৫
২ নং – তালিবাবাদ (গাজীপুর), ১৯৮২
৩ নং – মহাখালী (ঢাকা),১৯৯৫ এবং
৪ নং – সিলেট, ১৯৯৭।

৮৭০.
ভূ-পৃষ্ঠে সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায়-
  1. কার্বন
  2. নাইট্রোজেন
  3. অক্সিজেন
  4. হাইড্রোজেন
ব্যাখ্যা
ভূ-পৃষ্ঠের গঠন: 
- ভূ-পৃষ্ঠে শিলার যে কঠিন বহিরাবরণ দেখা যায় তাই ভূত্বক। 
- ভূত্বকের পুরুত্ব খুবই কম। 
- ভূত্বকের প্রধান উপাদান বা সবচেয়ে বেশি পরিমাণে পাওয়া যায় অক্সিজেন। 

ভূত্বকে বিভিন্ন উপাদানের পরিমাণ:
→ ভূত্বকে অক্সিজেনের পরিমাণ ৪২.৭%, 
→ সিলিকনের পরিমাণ ২৭.৭%, 
→ অ্যালুমিনিয়ামের পরিমাণ ৮.১%, 
→ লোহা বা আয়রনের পরিমাণ ৫.১%, 
→ ক্যালসিয়ামের পরিমাণ ৩.৭%, 
→ সোডিয়ামের পরিমাণ ২.৮%, 
→ পটাসিয়ামের পরিমাণ ২.৬% এবং 
→ ম্যাগনেসিয়ামের পরিমাণ ২.১%। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৮৭১.
অর্জিত বৈশিষ্ট্যের উত্তরাধিকার মতবাদ প্রদান করেন-
  1. ক) ডারউইন
  2. খ) ল্যামার্ক
  3. গ) মেন্ডেল
  4. ঘ) কেউই না
ব্যাখ্যা
অর্জিত বৈশিষ্ট্যের উত্তরাধিকার মতবাদকে ল্যামার্কিজম বলে। এই মতবাদ দেন জ্যা বাপ্টিস্ট ল্যামার্ক৷
উৎসঃ একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর জীব বিজ্ঞান বোর্ড বই
৮৭২.
ফোটন কণায় কোন ধরনের বল বিদ্যমান?
  1. দুর্বল নিউক্লিয় বল
  2. তাড়িতচৌম্বক বল
  3. মহাকর্ষ বল
  4. সবল নিউক্লিয় বল
ব্যাখ্যা
• ফোটন:
- ফোটন কণায় তাড়িতচৌম্বক বল বিদ্যমান।
- ফোটন কণার নিশ্চল ভর শূন্য (০)।
- প্রতিটি কোয়ান্টা আকার তার বা শক্তি তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গের কম্পাংকের উপর নির্ভরশীল।
- কোয়ান্টাম তত্ত্বের মূল কথা হলো, তাড়িতচৌম্বক বিকিরণ তরঙ্গধর্মী নয়, বরং এক ধরণের কণার স্রোত, এই কণার নাম ফোটন (Photon)।

• ফোটন কণার ধর্মসমূহ:
১. পদার্থের ক্ষুদ্র অংশ কে যেমন পরমাণু বলে, তেমনি আলোর ক্ষুদ্র অংশকে ফোটন বলে।
২. ফোটন আলোর বেগে প্রবাহিত হয়।
৩. ফোটনের স্থিতি ভর শূন্য।
৪. প্রতি ফোটনের নির্দিষ্ট শক্তি এবং নির্দিষ্ট রৈখিক ভরবেগ আছে।
৫. ফোটন তড়িৎ নিরপেক্ষ। এর কোন চার্জ নেই।
৬. ফোটন এর কণা-তরঙ্গ দ্বৈত রুপ আছে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৭৩.
নিচের কোনটি চার্জ নিরপেক্ষ রশ্মি?
  1. ক) আলফা রশ্মি
  2. খ) বিটা রশ্মি
  3. গ) গামা রশ্মি
  4. ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা
ধনাত্মক আধান গ্রস্থ রশ্মিকে আলফা রশ্মি, ঋণাত্মক আধান গ্রস্থ রশ্মিকে বিটা রশ্মি এবং তড়িৎ নিরপেক্ষ রশ্মিকে গামা রশ্মি বলে।

গামা রশ্মির ধর্ম ও প্রকৃতি:
১। গামা রশ্মি অতি ক্ষুদ্র তরঙ্গ দৈর্ঘ্যরে তাড়িতচৌম্বকীয় তরঙ্গ।
২। এই রশ্মি আলোর বেগে গতিশীল।
৩। এর কোন চার্জ ও ভর নাই।
৪। এই রশ্মি বিদ্যুৎ ক্ষেত্র ও চুম্বক ক্ষেত্র দ্বারা বিক্ষিপ্ত হয় না।
৫। এটি ফটোগ্রাফিক প্লেটের উপর বিক্রিয়া করে।
৬। এর আয়নিত করার ক্ষমতা আছে তবে বিটা রশ্মি অপেক্ষা কম।
৭। জিংক সালফাইডে গামা রশ্মি প্রতিপ্রভা সৃষ্টি করে।
৮। গামা রশ্মির প্রতিলন, প্রতিসরণ, ব্যাতিচার, অপবর্তন ইত্যাদি সব আলোকীয় ধর্ম আছে।

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, নবম দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
৮৭৪.
ভূ-পৃষ্ঠের নিকটতম বায়ুস্তরকে বলে-
  1. ক) ট্রপোমন্ডল
  2. খ) তাপমন্ডল
  3. গ) স্ট্রাটোমন্ডল
  4. ঘ) মেসোমন্ডল
ব্যাখ্যা
- বায়ুমণ্ডল যে সমস্ত উপাদানে গঠিত তাদের প্রকৃতি, বৈশিষ্ট্য ও উষ্ণতার পার্থক্য অনুসারে ভূ-পৃষ্ঠ থেকে উপরের দিকে পর্যায়ক্রমে পাঁচটি স্তরে ভাগ করা হয়।
যথা-
• ট্রপোমন্ডল, 
• স্ট্রাটোমন্ডল,
• মেসোমন্ডল,
• তাপমন্ডল ও
• এক্সোমন্ডল।

ট্রপোমন্ডল
- বায়ুমন্ডলের যে স্তরটি ভূ-ত্বকের সব থেকে নিচের স্তরে অবস্থিত সেটি হলো ট্রপোমন্ডল বা ট্রপোস্ফিয়ার।
- এই স্তরে বায়ুপ্রবাহ, ঝড়, মেঘ, বৃষ্টি, কুয়াশা, তুষারপাত, শিশির ইত্যাদির সৃষ্টি হয়।
- ট্রপোমন্ডলের শেষ প্রান্তের অংশের নাম ট্রপোবিরতি বা ট্রপোপজ।
- ট্রপোবিরতি এলাকায় তাপমাত্রা ৫৪° সেলসিয়াসের নিচে থাকে।
- ট্রপোমন্ডলের উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে বাতাসের গতিবেগ বেড়ে যায় ও নিচের দিকের বাতাসে জলীয়বাষ্পের উপস্থিতি বেশি পাওয়া যায়।
- ভূ-পৃষ্ঠের নিকটতম বায়ুস্তরকে বলে ট্রপোমন্ডল
- আবহাওয়া ও জলবায়ুজনিত যাবতীয় প্রক্রিয়ার বেশির ভাগ বায়ুমণ্ডলের এই স্তরে ঘটে।
- মেঘ, বৃষ্টিপাত, বজ্রপাত, বায়ুপ্রবাহ, ঝড় ও কুয়াশা সবকিছুই এই স্তরে সৃষ্টি হয়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি এবং ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৮৭৫.
গ্রিন হাউস ইফেক্টের ফলে বাংলাদেশের সবচেয়ে গুরুতর ক্ষতি কী হবে?
  1. ক) বৃষ্টিপাত হবে না
  2. খ) নিম্নভূমি নিমজ্জিত হবে
  3. গ) মেঘ-রৌদ্রের লুকোচুরি হবে না
  4. ঘ) সাইক্লোন হবে
ব্যাখ্যা
গ্রিনহাউজ প্রতিক্রিয়ার ফলে পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাবে। এতে করে মেরু অঞ্চলসহ অন্যান্য স্থানে সঞ্চিত থাকা বরফ গলতে শুরু করবে। যার কারণে সমুদ্রের পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পাবে। ফলশ্রুতিতে বাংলাদেশসহ পৃথিবীর স্থলভাগের অনেক নিম্নভূমি সমুদ্রের পানিতে নিমজ্জিত হবে।
(সূত্র: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা)
৮৭৬.
শিশু স্বাস্থ্য সংক্রান্ত LBW এর পূর্ণরূপ কী?
  1. Less birth weight
  2. Lean birth weight
  3. Level birth weight
  4. Low birth weight
ব্যাখ্যা
LBW:
- পূর্ণরূপ: Low Birth Weight
- বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) অনুযায়ী, Low Birth Weight (LBW) বা কম ওজন নিয়ে জন্মগ্রহণকারী শিশু বলতে বোঝায় যেসব নবজাতকের ওজন জন্মের সময় ২.৫ কিলোগ্রামের (২৫০০ গ্রাম) কম হয়।
- এটি শিশুদের অপুষ্টি, গর্ভকালীন জটিলতা ও মাতৃস্বাস্থ্যের অবস্থা সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ একটি সূচক।
- WHO ২০২৫ সালের মধ্যে কম জন্ম ওজনের হার ৩০% কমানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।
- এ জন্য বিভিন্ন দেশভিত্তিক নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা হচ্ছে, যার মধ্যে পুষ্টি উন্নয়ন, মাতৃস্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি ও গর্ভকালীন সেবা উন্নতকরণ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

উৎস: WHO অফিসিয়াল ওয়েবসাইট।
৮৭৭.
পৃথিবীর উপর কার  আকর্ষণ বেশি? 
  1. ক) চন্দ্রের
  2. খ) সূর্যের
  3. গ) শনি
  4. ঘ) মঙ্গলের
ব্যাখ্যা
মহাকর্ষ সূত্র অনুযায়ী মহাকাশে বিভিন্ন গ্রহ, উপগ্রহ, নক্ষত্র প্রভৃতি প্রতিটি পরস্পরকে আকর্ষণ করে। তাই এর প্রভাবে সূর্য ও চাঁদ পৃথিবীকে আকর্ষণ করে। পৃথিবী হতে  সূর্য গড়ে ১৫ কোটি কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। কিন্তু পৃথিবীর উপর সূর্য অপেক্ষা চাঁদের আকর্ষণ বল বেশি হয়। কারণ সূর্য চন্দ্র অপেক্ষা ২ কোটি ৬০ লক্ষগুণ বড় হলেও পৃথিবী থেকে চন্দ্রের গড় দূরত্ব মাত্র ৩৮.৪ লক্ষ কিলোমিটার। এ কারণেই পৃথিবীর ওপর সূর্যের আকর্ষণ শক্তি চন্দ্ৰ অপেক্ষা অনেক কম। ফলে জোয়ার-ভাটার ব্যাপারে সূর্য অপেক্ষা চন্দ্রের প্রভাব বেশি। 
জোয়ার উৎপাদনে সূর্যের ক্ষমতা চন্দ্রের ৪/৯ ভাগ। চাঁদ ও সূর্য একই সরলরেখায় অবস্থিত হলে চাঁদ ও সূর্য উভয়ের আকর্ষণে জোয়ার অত্যন্ত প্রবল হয়। 

Source: বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, এসএসসি প্রোগ্রাম 
৮৭৮.
ফোটন সম্পর্কে সর্বপ্রথম ধারণা দেন কে?
  1. ক) নিউটন
  2. খ) আইনস্টাইন
  3. গ) পাউলি
  4. ঘ) ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক
ব্যাখ্যা
১৯০০ সালে ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক সর্বপ্রথম ফোটন সম্পর্কে ধারণা দেন। ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক আলোর কোয়ান্টাম তত্ত্ব প্রদান করেন। কোয়ান্টাম তত্ত্ব অনুসারে আলোকরশ্মি কোনো উৎস থেকে অবিচ্ছন্ন তরঙ্গের আকারে না বেরিয়ে অসংখ্য ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র শক্তিগুচ্ছ বা প্যাকেট আকারে বের হয়। শক্তির এই সর্ব নিম্নমানের কণিকাকে বলে কোয়ান্টাম বা ফোটন।
৮৭৯.
বায়ুমন্ডলে কার্বন ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ কত শতাংশের বেশি হলে কোনো প্রাণী বাঁচতে পারে না?
  1. ক) ৩%
  2. খ) ১০%
  3. গ) ১২%
  4. ঘ) ২৫%
ব্যাখ্যা
US National Library of Medicine National Institutes of Health এর মতে,
- বাতাসে কার্বন ডাই অক্সাইডের ঘনত্ব ৫% এর বেশি হলে শ্বাসযন্ত্রে এসিডোসিস হয়,
- ১০% এর বেশি হলে খিচুনি দেখা দেয় এবং
- ৩০% এর বেশি হলে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে সংজ্ঞা হারাতে হবে এবং ধীরে ধীরে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়তে হবে।
ব্যাখ্যার তথ্য থেকে বিবেচনায় নিয়ে আমরা উত্তর হিসেবে ২৫%-কে বিবেচনা করছি।
৮৮০.
জোয়ার-ভাটার প্রধান দুটি কারণ -
  1. মহাকর্ষ শক্তি ও কেন্দ্রাতিগ শক্তি
  2. কেন্দ্রাতিগ শক্তি ও কেন্দ্রমুখী শক্তি
  3. মহাকর্ষ শক্তি ও কেন্দ্রমুখী শক্তি
  4. ঘর্ষণ শক্তি ও মহাকর্ষ শক্তি
ব্যাখ্যা
- সমুদ্রের পানি নির্দিষ্ট সময় ব্যবধানে একই জায়গায় ফুলে ওঠে আবার অন্য সময় নেমে যায়। 
- এর কারণ মূলত দুটি; যথা- চন্দ্র-সূর্যের আকর্ষণ শক্তি (যা মূলত মহাকর্ষ শক্তি) এবং পৃথিবীর কেন্দ্রাতিগ শক্তি। 
- সমুদ্রের পানির এইরূপ ফুলে ওঠাকে জোয়ার (Tide) এবং নেমে যাওয়াকে ভাটা (Ebb or Low Tide) বলে। 
- সমুদ্রের একই জায়গায় প্রতিদিন দুইবার জোয়ার ও দুইবার ভাটা সংঘটিত হয়।
- জোয়ার-ভাটার প্রধান দুটি কারণ হলো:
     (ক) মহাকর্ষ শক্তির প্রভাব (The Force of Gravitational Attraction)
     (খ) কেন্দ্রাতিগ/বহির্মুখী শক্তি (Centrifugal force)
 
উৎস: বারিমণ্ডল, এসএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৮৮১.
কিসের পার্থক্যের জন্যে বায়ু প্রবাহ হয়ে থাকে?
  1. ক) বারিপাত
  2. খ) বায়ুর আর্দ্রতা
  3. গ) বায়ুর চাপ
  4. ঘ) বাষ্পীভবন
ব্যাখ্যা
- ভূপৃষ্ঠের সমান্তরাল বায়ু চলাচলকে বায়ু প্রবাহ বলে। বায়ুর চাপ ও তাপের পার্থ্যক্যের কারণে বায়ু প্রবাহ সংঘটিত হয়।
- বায়ু সর্বদা উচ্চচাপ অঞ্চল থেকে নিম্নচাপ অঞ্চলের দিকে প্রবাহিত হয়। তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে বায়ু হালকা ও শুষ্ক হয়ে উপরের দিকে উঠে যাওয়ার ফলে নিম্নচাপের সৃষ্টি হয়। এতে করে উচ্চচাপযুক্ত অঞ্চল থেকে নিম্নচাপ অঞ্চলের দিকে বায়ু ধাবিত হয়।
(তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী)
৮৮২.
তিনদিকে স্থলভাগ ও একদিকে জলবেষ্টিত জলরাশিকে কী বলা হয়?
  1. মহাসাগর
  2. সাগর
  3. উপসাগর
  4. হ্রদ
ব্যাখ্যা
• উপসাগর:
- যে জলরাশি তিন দিক থেকে স্থলভাগ দ্বারা বেষ্টিত এবং এক দিক সমুদ্র বা মহাসাগরের সঙ্গে সংযুক্ত থাকে, তাকে উপসাগর (Bay বা Gulf) বলা হয়।

⇒ উদাহরণ:
- বঙ্গোপসাগর (Bay of Bengal)
- পারস্য উপসাগর (Persian Gulf)
- মেক্সিকো উপসাগর (Gulf of Mexico)

অন্যদিকে,
• মহাসাগর: পৃথিবীর বিশাল জলভাগের প্রতিটি বড় অংশকে মহাসাগর বলা হয়। যেমন- আটলান্টিক, প্রশান্ত মহাসাগর।
• সাগর: মহাসাগর অপেক্ষা তুলনামূলক ছোট, কিন্তু মহাসাগরের অংশবিশেষ এমন জলরাশিকে বলা হয় সাগর। যেমন- আরব সাগর।
• হ্রদ: চারদিকে স্থলবেষ্টিত জলাধারকে হ্রদ বলা হয়। যেমন- ভিক্টোরিয়া হ্রদ, বৈকাল হ্রদ। 

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক ভূগোল ও পরিবেশ, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
৮৮৩.
কোন সালে প্রথম নভোযান আকাশে পাঠানো হয়?
  1. ১৯৫৭
  2. ১৯৫৯
  3. ১৯৬১
  4. ১৯৬৩
ব্যাখ্যা
- ১৯৫৭ সালে প্রথম 'স্পুটনিক-১' নামে একটি কৃত্রিম উপগ্রহ মহাকাশে উৎক্ষেপণ করা হয়। 
- মহাকাশ যাত্রার প্রথম পদক্ষেপটির সূচনা হয়েছিল ১৯৫৭ সালের ৪ঠা অক্টোবর। 
- তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন স্পুটনিক-১ কৃত্রিম উপগ্রহ মহাকাশে উৎক্ষেপণ করে এই যাত্রার সূচনা করে। 
- স্পুটনিক শব্দের অর্থ হল- ভ্রমণসঙ্গী। 
- একই বছর তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন স্পুটনিক-২ কৃত্রিম উপগ্রহ উৎক্ষেপণ করেন।

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি এবং নাসা [লিঙ্ক]।
৮৮৪.
কত সালে বিজ্ঞানীরা প্রথমবারের মতো কৃষ্ণগহ্বরের ছবি তুলতে সক্ষম হন?
  1. ক) ১৯৯৮ সালে
  2. খ) ২০০৬ সালে
  3. গ) ২০১৫ সালে
  4. ঘ) ২০১৯ সালে
ব্যাখ্যা
কৃষ্ণগহ্বর প্রচন্ড শক্তিশালী অভিকর্ষ বলের টানে সবকিছু শোষণ করে নিজের দিকে নেয়‌। এর চরিত্র এতই সর্বগ্রাসী যে কোনো ধরনের তরঙ্গ এমনকি আলোও শোষিত হয়ে যায়। ২০১৯ সালে প্রথমবারের মতো একটা কৃষ্ণগহ্বরের ছবি তুলতে সক্ষম হন বিজ্ঞানীরা। ছবিটি ধারণ করে ইভেন্ট হরাইজন টেলিস্কোপ। ব্যাকহোলটি মেসিয়ার ৮৭ গ্যালাক্সির কেন্দ্রে অবস্থিত।
৮৮৫.
পৃথিবী কোন গ্যালাক্সির অন্তর্ভুক্ত?
  1. হ্যাবিটেবল গ্যালাক্সি
  2. এন্ড্রোমিডা গ্যালাক্সি
  3. মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সি
  4. ট্রায়াঙ্গুলাম গ্যালাক্সি
ব্যাখ্যা
গ্যালাক্সি:
- গ্যালাক্সি হলো একটি বৃহৎ নক্ষত্রমণ্ডলী, যা লক্ষ-কোটি তারা, গ্যাস, ধুলিকণা এবং অন্যান্য মহাজাগতিক উপাদান দ্বারা গঠিত।
- এখানে রয়েছে হাজার হাজার কোটি নক্ষত্র ও গ্রহ, উপগ্রহ।
- গ্যালাক্সিগুলি মহাকর্ষীয় শক্তির মাধ্যমে একত্রিত থাকে
- পৃথিবী যে গ্যালাক্সির অন্তর্ভুক্ত তার নাম হলো মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সি বা আকাশগঙ্গা ছায়াপথ।
- এই ছায়াপথটি অসংখ্য গ্রহ-নক্ষত্রের সমন্বয়ে উত্তর- দক্ষিণে বিস্তৃত।
- এটি ১-২ লাখ আলোকবর্ষ পর্যন্ত বিস্তৃত।
- এই গ্যালাক্সিতে প্রায় ১০০ বিলিয়ন বা তারও বেশি তারা রয়েছে।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি ও ব্রিটানিকা।
৮৮৬.
'বিগ রিপ' দ্বারা বুঝায় -
  1. ক) মহাবিশ্ব ক্রমশ সম্প্রসারিত হচ্ছে।
  2. খ) মহাবিশ্ব ক্রমশ সংকুচিত হচ্ছে।
  3. গ) মহাবিশ্বের সম্প্রসারণ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌছালে তা আবার সংকুচিত হবে।
  4. ঘ) মহাবিশ্বের সবকিছুই পরস্পর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে।
ব্যাখ্যা
বিগ রিপ (Big Rip):
মহাবিশ্বে অদৃশ্য শক্তির পরিমাণ যদি খুব বেশি হয়, তখন এর সম্প্রসারণের ত্বরণ আরো বেড়ে যাবে এবং এই ক্রমবর্ধমান ত্বরণ এত বেশি হবে যে মহাবিশ্বের গ্যালাক্সি থেকে শুর করে যত রকম বস্তু রয়েছে তা ক্ষুদ্র থেকে ক্ষুদ্রতর পর্যায়ে ভেঙ্গে গিয়ে মৌলিক কণা ও বিকিরণে বিশ্লিষ্ট হয়ে যাবে এবং এই কণাগুলো পরস্পর থেকে অনেক দূরে সরে যাবে।

এরূপ অবস্থায় অদৃশ্য শক্তি ও সম্প্রসারণ হার অসীম হবে। মহাবিশ্ব তখন অনন্যতা বা সিঙ্গুলারিটিতে পৌছুবে এবং আমাদের এই পরিচিত মহাবিশ্বের সমাপ্তি ঘটবে। এই অনন্যতার সময় যে কোনো ধরনের বল, তা সে যতই প্রবল হোক না কেন, পদার্থের উপর তার কোনো প্রভাবই থাকবে না।
মহাবিশ্বের সবকিছুই পরস্পর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে, একে বিগ রিপ (Big Rip) বা মহাবিচ্ছেদ নামে অভিহিত করা হয়।

সূত্র: পদার্থ বিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৮৭.
বৈদ্যুতিক প্রবাহের একক-
  1. ক) K
  2. খ) C
  3. গ) A
  4. ঘ) S
ব্যাখ্যা
বৈদ্যুতিক প্রবাহের একক Ampere এবং একক প্রকাশের প্রতীক A
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর পদার্থ বিজ্ঞান বোর্ড বই
৮৮৮.
সুনামি কোথায় সংঘটিত হয়? 
  1. পাহাড়ে
  2. মরুভূমিতে
  3. নদীতে
  4. সমুদ্রের তলদেশে
ব্যাখ্যা
সুনামি: 
- Tsunami একটি জাপানি শব্দ। যার ‘সু’ অর্থ বন্দর এবং ‘নামি’ অর্থ ঢেউ। 
অর্থাৎ সুনামি শব্দের অর্থ হলো বন্দরের ঢেউ। এটি একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ। 
- সমুদ্রতলদেশে ভূমিকম্প, আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত, ভূমিধস এবং নভোজাগতিক ঘটনা সুনামি সৃষ্টি করতে পারে। 
- সুনামি প্রাকৃতিক দুর্যোগটি শুধুমাত্র সাগরে সংঘটিত হয়। 
- সাধারণত সমুদ্রের তলদেশে একটা ভূমিকম্প হলে সুনামি সংঘটিত হয়। 
- ২০০৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর স্বরণকালের ভয়ঙ্কর একটি প্রাকৃতিক দূর্যোগ ঘটে। 
- ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা দ্বীপের কাছাকাছি ভারত মহাসাগরের তলদেশে সৃষ্টি হয়েছিল ট্রাক্টনিক ভূমিকম্প। 
- ইউরেশিয়ান প্লেট ও অস্ট্রেলিয়ান প্লেটের সংঘর্ষে সৃষ্টি হওয়া এই মারাত্মক ভূমিকম্পটি ছিল রিখটার স্কেলে নয় মাত্রার। 
- এই জলোচ্ছাসে তিন লাখের মতো মানুষ নিহত হয় যার মধ্যে ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রার আচেহ প্রদেশেই নিহত হয়েছে এক লাখ মানুষ। 
- অগভীর পানিতে যাওয়ার সময় সুনামি তার শক্তি হারায় অর্থাৎ কমে। 
- বঙ্গোপসাগরে ১৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত অগভীর পানি বাংলাদেশকে সুনামির কবল থেকে রক্ষা করে থাকে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৮৮৯.
প্র‍থম আবিষ্কৃত কৃষ্ণ গহ্বরের নাম কী?
  1. Cygnus X-1
  2. Persius AA-2
  3. Galactus S
  4. Pegasus M5
ব্যাখ্যা

Scientists think stellar-mass black holes, which contain up to a few times the sun's mass, form when giant stars die and collapse in on themselves.
- The first black hole ever discovered was Cygnus X-1, located within the Milky Way in the constellation of Cygnus, the Swan.
- Astronomers saw the first signs of the black hole in 1964 via gas it sucked away from a closely orbiting blue supergiant star.
- As this gas spiraled into the black hole, it became so hot it emitted high-energy X-rays and gamma-rays that satellites could detect.
- A trio of studies in 2011 suggested Cygnus X-1 was located about 6,070 light-years from Earth, but the new research suggests the black hole is actually about 7,240 light-years away.

সূত্র: Encyclopedia Britannica

৮৯০.
তড়িচ্চালক শক্তির একক হলাে-
  1. ক) জুল
  2. খ) ভােল্ট
  3. গ) কুলম্ব
  4. ঘ) অ্যাম্পিয়ার
ব্যাখ্যা

তড়িচ্চালক শক্তি/বলের একক (unit of emf) : তড়িচ্চালক বলের একক হলাে জুল/কুলম্ব (JC-1), বা ভােল্ট (volt, V)। তবে ভোল্টই সর্বাধিক ব্যবহৃত একক। সুতরাং তড়িচ্চালক বল ও বিভব পার্থক্যের একক একই। ভােল্ট এর নিম্নোক্ত সংজ্ঞা দেয়া যায়:
তড়িৎ বর্তনীর কোনাে এক বিন্দু হতে 1 কুলম্ব চার্জকে তড়িৎ কোষসহ সম্পূর্ণ বর্তনী একবার ঘুরিয়ে পুনরায় ওই বিন্দুতে আনতে যত জুল কাজ সম্পন্ন করা হয় কোষের তড়িচ্চালক বল হবে তত ভােল্ট। (উৎসঃ ১১-১২শ শ্রেণির পদার্থ বিজ্ঞান)

৮৯১.
উপকূলে কোনো একটি স্থানে জোয়ারের কত সময় পর ভাটার সৃষ্টি হয়? 
  1. ৮ ঘণ্টা ১২ মিনিট 
  2. ৬ ঘণ্টা ১৩ মিনিট 
  3. ১২ ঘণ্টা ২৮ মিনিট
  4. ১৩ ঘণ্টা ১৬ মিনিট
ব্যাখ্যা

জোয়ার-ভাটা: 
- সমুদ্রের একই জায়গায় প্রতিদিন দুইবার জোয়ার ও দুইবার ভাটা হয়। সমুদ্রের পানি এভাবে ফুলে উঠাকে বলা হয় জোয়ার এবং নেমে যাওয়াকে ভাটা বলে। 
- উপকূলে কোনো একটি স্থানে একটি জোয়ারের প্রায় ৬ ঘন্টা ১৩ মিনিট পর ভাটা হয়। 
- উপকূলে কোনো একটি স্থানে পর পর দুটি জোয়ার বা দুটি ভাটার মধ্যে ব্যবধান হলো ১২ ঘণ্টা ২৬ মিনিট। 
- চন্দ্র ও সূর্যের আকর্ষণ শক্তি এবং পৃথিবীর কেন্দ্রাতিক শক্তি প্রভৃতির প্রভাবে সমুদ্রের পানি নির্দিষ্ট সময় অন্তর ফুলে উঠে আবার নেমে যায়। 
অর্থাৎ, সমুদ্রে একই জায়গায় প্রতিদিন দু’বার জোয়ার ও দু’বার ভাটা হয়। 
- সমুদ্রের মোহনা থেকে নদীগুলোর স্রোতের বিপরীতে উজানে কয়েক কিলোমিটার পর্যন্ত জোয়ার ভাটা বেশি অনুভূত হয়। 
- সমুদ্রের মধ্যভাগ থেকে উপকূলের কাছে পানির অগভীর অংশে জোয়ারের পানির উচ্চতা বেশি থাকে। 
- তবে বিভিন্ন নদীপথে দেশের ভিতরে সমুদ্রের পানি যখন প্রবেশ করে এবং নেমে যায় তাকে জোয়ার ভাটা বলে না। 
 
উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এইসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮৯২.
দুটি অর্ধপরিবাহী ডায়োডকে পাশাপাশি যুক্ত করে একটি অর্ধপরিবাহী ট্রায়োড তৈরি করা হলে তাকে কী বলা হয়?
  1. ট্রান্সফরমার
  2. ট্রানজিস্টর
  3. জেনারেটর
  4. রেক্টিফায়ার
ব্যাখ্যা
দুটি অর্ধপরিবাহী ডায়োডকে পাশাপাশি যুক্ত করে একটি অর্ধপরিবাহী ট্রায়োড তৈরি করা হলে তাকে ট্রানজিস্টর বলে।

- ১৯৪৭ সালে ট্রানজিস্টর প্রথম তৈরি করেন উইলিয়াম শকলি, জন বার্ডিন এবং ওয়াল্টার ব্রাটেইন।
- ট্রানজিস্টর তৈরি করতে প্রয়োজন সেমিকন্ডাক্টর (সিলিকন, জার্মেনিয়াম)।
- ট্রানজিস্টরের অপর নাম অর্ধপরিবাহী ট্রায়োড।
- ট্রানজিস্টর ব্যবহৃত হয় বিবর্ধক ও সুইচ হিসেবে।
- ইলেকট্রনিক্সে বিপ্লব শুরু হয় ট্রানজিস্টর আবিষ্কারের সময় থেকে।
- ট্রানজিস্টর প্রধানত ব্যবহার করা হয় এমপ্লিফায়ার বা বিবর্ধক হিসেবে।
৮৯৩.
উত্তর গোলার্ধের দীর্ঘতম দিন-
  1. ক) ২৩ সেপ্টেম্বর
  2. খ) ২১ জুন
  3. গ) ২২ ডিসেম্বর
  4. ঘ) ২১ মার্চ
ব্যাখ্যা

- পৃথিবীর তথা উত্তর গোলার্ধের দীর্ঘতম দিন ২১ জুন,
- পৃথিবীর তথা উত্তর গোলার্ধের ক্ষুদ্রতম দিন ২২ ডিসেম্বর।
- ২১ মার্চ ও ২৩ সেপ্টেম্বর পৃথিবীর তথা উত্তর গোলার্ধের সর্বত্র দিবারাত্রি সমান।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৮৯৪.
কোন সালে মহাকাশ যাত্রার প্রথম পদক্ষেপটির সূচনা হয়েছিল?
  1. ১৯৫৩ সালে
  2. ১৯৫৫ সালে
  3. ১৯৫৭ সালে
  4. ১৯৫৯ সালে
ব্যাখ্যা
- মহাকাশ যাত্রার প্রথম পদক্ষেপটির সূচনা হয়েছিল ১৯৫৭ সালের ৪ঠা অক্টোবর। 
- তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন এই যাত্রার সূচনা করেছিলেন স্পুটনিক-১ কৃত্রিম উপগ্রহ মহাকাশে উৎক্ষেপণ করে। 
- স্পুটনিক শব্দের অর্থ হল- ভ্রমণসঙ্গী। 
- ১৯৫৭ সালে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন স্পুটনিক-২ কৃত্রিম উপগ্রহ উৎক্ষেপণ করেন। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি। 
৮৯৫.
নদী সিকস্তি বলা হয় কাদের?
  1. নদী ভাঙ্গনে সর্বস্বান্ত জনগণ
  2. নদীর চর জাগলে যারা দখল করতে চায়
  3. নদীতে যারা সারা বছর মাছ ধরে
  4. নদীর পাড়ে যারা বসবাস করে
ব্যাখ্যা

• নদীভাঙন:
- বর্ষাকালে নদীখাতে প্রবল বেগে পানিপ্রবাহ, নদী খাতের উভয় পার্শ্বে নরম মাটি ও ফাটলের অবস্থানের কারণে যে ক্ষয় হয়ে থাকে, তাকে নদীভাঙন বলে।
- নদী ভাঙ্গনের শিকার হয় পলিমাটি গঠিত সমভূমি অধ্যুষিত অঞ্চলসমূহ।
- নদী ভাঙ্গনে সর্বস্বান্ত জনগণকে নদী সিকস্তি বলে। 

উল্লেখ্য:
- নদীতে ভেঙে যাওয়া জমির স্থানে নতুন চর জাগা বা পুনর্গঠনকে নদী পয়স্তি বলে।

৮৯৬.
সূর্যগ্রহণ ঘটে কোন অবস্থায়? 
  1. সূর্য চাঁদের পিছনে চলে গেলে 
  2. চাঁদ সূর্য ও পৃথিবীর মাঝে থাকলে 
  3. পৃথিবী সূর্য ও চাঁদের মাঝে থাকলে 
  4. সূর্য পৃথিবী ও চাঁদের মাঝে থাকলে 
ব্যাখ্যা

পূর্ণিমা: 
- পূর্ণিমা তখনই হয়, যখন পৃথিবীর এক পাশে সূর্য এবং তার উল্টো পাশে চাঁদ অবস্থান করে। 

অমাবস্যা: 
- চাঁদ ও পৃথিবী আবর্তনকালে যখন চাঁদ, পৃথিবী ও সূর্য একই সরলরেখায় অবস্থান করে। 
- চাঁদের অবস্থান হয় পৃথিবী ও সূর্যের মাঝখানে, সেই অবস্থাকে বলে অমাবস্যা। 

সূর্যগ্রহণ: 
- যখন সূর্য ও পৃথিবীর মধ্যে চাঁদ অবস্থান করে তখন হয় সূর্যগ্রহণ। 
- চাঁদ যখন পৃথিবীর কক্ষপথে ঘোরে, তখন তার প্রদক্ষিণ করার পথে কখনও কখনও সে এসে পড়ে সূর্য এবং পৃথিবীর মাঝখানে। 
- তখন সূর্য থেকে আলোর বিচ্ছুরণ বাধাগ্রস্ত হয় এবং সূর্যের গ্রহণ ঘটে। 
- অন্যভাবে বললে বলা যায়, চাঁদ এই সময় পৃথিবীকে তার ছায়ায় ঢেকে ফেলে। 

চন্দ্ৰগ্ৰহণ: 
- চন্দ্রগ্রহণ হয় যখন চাঁদ আর সূর্যের মাঝখানে থাকে পৃথিবীর অবস্থান। 
- পৃথিবী তখন আলোর উৎস বন্ধ করে দেয়। 
- চন্দ্রগ্রহণের সময় আমরা দেখি চাঁদের পিঠে পৃথিবীর ছায়া।
 
উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি এবং বিবিসি বাংলা পত্রিকা রিপোর্ট [লিঙ্ক]।

৮৯৭.
সমুদ্র পৃষ্ঠে বায়ুর স্বাভাবিক চাপ কত?
  1. ৭.৯ সে. মি.
  2. ৭৬ সে. মি.
  3. ৭২ সে. মি.
  4. ৭৭ সে. মি.
ব্যাখ্যা
• বায়ুর চাপ:
- ভূপৃষ্ঠের প্রতি একক জায়গায় বায়ুর গ্যাসের অনুগুলোর সংঘর্ষের ফলে প্রদত্ত বলই হলো বায়ুর চাপ।
- সমুদ্রপৃষ্ঠে বায়ুর স্বাভাবিক চাপ ৭৬ সেন্টিমিটার বা ২৯.৯২ ইঞ্চি পারদ স্তম্ভের সমান।
- আদর্শ অবস্থায় বায়ুমণ্ডলের চাপ ১০১৩.২৫ মিলিবার (১০১,৩২৫ প্যাসকেল) বা ৭৬০ পারদ মি.মি., ২৯.৯২ পারদ ইঞ্চি, বা ১৪.৬৯৬ পাউন্ড/ইঞ্চি২।
- এটিএম (atm) এককটি পৃথিবীর সমুদ্রপৃষ্ঠের গড় বায়ুমণ্ডলীয় চাপের সমতুল্য অর্থাৎ পৃথিবীর সমুদ্রপৃষ্ঠের বায়ুমণ্ডলীয় চাপ প্রায় ১ এটিএম।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৮৯৮.
নিম্নের কোনটি রিসাইকেলযোগ্য?
  1. ক) কয়লা
  2. খ) কাঁচ
  3. গ) পেট্রোল
  4. ঘ) ডিজেল
ব্যাখ্যা
- গৃহস্থালী এবং শিল্পজাত বর্জ্যে এক বিরাট অংশ জুড়ে রয়েছে কাঁচজাত কঠিন বর্জ্য। কাঁচ ভাঙ্গুর হওয়ায় অন্যান্য ব্যবহার্য দ্রব্যের তুলনায় কাঁচ সামগ্রীর বর্জ্য তুলনামূলকভাবে বেশি।
- কাঁচ 100% রিসাইকেলযোগ্য একটি উপকরণ।

কাঁচ রিসাইক্লিং এর ধাপসমূহ নিচে বর্ণনা করা হলো :
১। বর্জ্য কাঁচ সংগ্রহ (Collection of waste glass) : পরিত্যক্ত ভাঙ্গা কাঁচের টুকরা, কাঁচ কারখানার ত্রুটিপূর্ণ কাঁচ দ্রব্য ও বিভিন্ন উৎস হতে প্রাপ্ত কাঁচ সামগ্রী রিসাইকেল কারখানায় নেয়া হয়।
২। পরিষ্কারকরণ (Cleaning) : সংগৃহীত কাঁচ বর্জ্যকে পানি দ্বারা উত্তমরূপে ধৌত করে কাঁচের গায়ে লেগে থাকা মাটি, কাদা, ধুলা-বালি, গাম, লেবেল ইত্যাদি অপসারিত করা হয়।
৩। পৃথকীকরণ (Separation) : পরিষ্কার বর্জ্য কাঁচ মিশ্রণ থেকে রঙ্গিন ও বর্ণহীন কাঁচ দ্রব্য পৃথক করে আলাদাভাবে সংরক্ষণ করা হয়।
৪। চূর্ণকরণ (Crushing) : পৃথকীকৃত কাঁচ বর্জ্যকে ক্রাশার মেশিনের সাহায্যে অতি ক্ষুদ্র আকৃতির টুকরায় পরিণত করা
হয় । চুর্ণীকৃত ক্ষুদ্রাকৃতির এ কাঁচ কিউলেট (cullet) নামে পরিচিত । ৫। অপদ্রব্য অপসারন (Removal of contaminant) : চূর্ণীকরণ প্রক্রিয়ায় প্রাপ্ত কিউলেটকে একটি কনভেয়ার বেল্টের উপর পরিচালনা করলে ধাতব কণাসমূহ চুম্বক দ্বারা এবং হালকা ওজনের অপদ্রব্য বায়ু প্রবাহ দ্বারা অপসারিত হয় ।
৬। বিগলন (Smelting) : অপদ্রব্যমুক্ত চূর্ণীকৃত কাঁচের সাথে নির্দিষ্ট অনুপাতে প্রয়োজনীয় উপাদান যেমন- সোডাঅ্যাশ, বোরাক্স, নাইটার ইত্যাদি মিশানো হয়। অত:পর প্রাপ্ত মিশ্রণকে ট্যাংক ফার্নেসে 1300 1450°C তাপমাত্রায় উত্তপ্ত করলে গলিত কাঁচ পাওয়া যায়।
৭। আকৃতি প্রদান (Shapping) : বিগলিত কাঁচকে যান্ত্রিক উপায়ে ব্যবহার উপযোগী বিভিন্ন ধরনের কাঙ্খিত আকৃতি প্রদান করা হয় ।
৮। কোমলায়ন (Annealing) : বিগলিত কাঁচ থেকে উৎপাদিত নির্দিষ্ট আকৃতি বিশিষ্ট উত্তপ্ত কাঁচ দ্রব্যকে ধীরে ধীরে কক্ষ তাপমাত্রায় এনে কোমলায়ন করা হয়।
৯। সমাপন (Fininishing) : কোমলায়নকৃত কাঁচ বস্তুকে পরিষ্কারকরণ, ঘর্ষণ ও মসৃণ করে ব্যবহার উপযোগী করা হয়।

সূত্র: ৩৩৩ পৃষ্ঠা, রসায়ন ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।   
৮৯৯.
কোন গতির কারণে জোয়ার-ভাঁটা সৃষ্টি হয়? 
  1. বার্ষিক গতি
  2. আহ্নিক গতি
  3. পর্যাবৃত্ত গতি
  4. মধ্যাকর্ষণ শক্তি
ব্যাখ্যা
আহ্নিক গতি: 
- পৃথিবী তার নিজ অক্ষের উপর পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে নির্দিষ্ট গতিতে আবর্তিত হচ্ছে যা আহ্নিক গতি নামে পরিচিত। 
- পৃথিবীর আহ্নিক গতির ফলাফল সমূহ- 
• দিন-রাত্রি সংঘটন, 
জোয়ার-ভাঁটা সৃষ্টি
• বায়ুপ্রবাহ ও সমুদ্রস্রোত সৃষ্টি, 
• তাপমাত্রার তারতম্য সৃষ্টি, 
• জীব জগতের সৃষ্টি ও বংশবিস্তার প্রভৃতি। 

অন্যদিকে, 
- সূর্যের মহাকর্ষ বলের প্রভাবে পৃথিবী তার নিজ অক্ষের উপর অবিরাম ঘূর্ণনের সাথে সাথে নির্দিষ্ট পথে নির্দিষ্ট দিকে (ঘড়ির কাটার বিপরীত দিকে) নির্দিষ্ট সময়ে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করছে যা পৃথিবীর বার্ষিক গতি নামে পরিচিত। 
- পৃথিবীর বার্ষিক গতির কারণে ঋতু পরিবর্তন ও দিন- রাত্রির হ্রাস বৃদ্ধি হয়ে থাকে। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৯০০.
বন্যার মানব সৃষ্ট কারণ কোনটি?
  1. হিমালয়ের বরফগলা পানিপ্রবাহ
  2. অপরিকল্পিত রাস্তাঘাট নির্মাণ
  3. মূল নদীসমূহের গভীরতা হ্রাস পাওয়া
  4. মৌসুমি জলবায়ুর প্রভাব
ব্যাখ্যা

বন্যার কারণসমূহ- 
• মানব সৃষ্ট কারণ
- অপরিকল্পিত নগরায়ন ও জলাধার ভরাট করে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বিঘ্ন করা।
- অপরিকল্পিত রাস্তাঘাট নির্মাণ।
- গঙ্গা নদীর উপর ফারাক্কা ও তিস্তা নদীর উপর নির্মিত বাঁধের প্রভাব।
- বালু ভরাট করে নদীসমূহের স্বাভাবিক প্রবাহে বাধা দান।

• প্রাকৃতিক কারণ
- বর্ষাকালে উত্তরাঞ্চলে নদীর উজানে প্রচুর বৃষ্টি।
- মৌসুমি জলবায়ুর প্রভাব।
- মূল নদীসমূহের গভীরতা হ্রাস পাওয়া।
- বঙ্গোপসাগরে ভরা জোয়ার।
- হিমালয়ের বরফগলা পানিপ্রবাহ।
- শাখা নদীগুলো পলি দ্বারা ভরাট হয়ে যাওয়া।

সূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, ৯ম - ১০ম শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।