বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

আধুনিক পদার্থ ও ভূগোল সংক্রান্ত

মোট প্রশ্ন২,৪০৪এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

আধুনিক পদার্থ ও ভূগোল সংক্রান্ত

PrepBank · পাতা ২১ / ২৪ · ২,০০১২,১০০ / ২,৪০৪

২,০০১.
যদি 2 cal তাপ সম্পূর্ণরূপে কাজে রূপান্তরিত হয় তবে কাজের পরিমাণ কত?
  1. ক) 4.2 J
  2. খ) 4.8 J
  3. গ) 8.2 J
  4. ঘ) 8.4 J
ব্যাখ্যা

১ ক্যালরি = ৪.২ জুল।
সুতরা,  ২ ক্যালরি = ৮.৪ জুল।

২,০০২.
সূর্য থেকে পৃথিবীতে আলো আসতে সময় লাগে-
  1. ৬ মিনিট ১৬ সেকেন্ড
  2. ৮ মিনিট ২০ সেকেন্ড
  3. ৭ মিনিট ১৯ সেকেন্ড
  4. ৯ মিনিট ৩২ সেকেন্ড
ব্যাখ্যা

• সূর্য থেকে পৃথিবী:
- পৃথিবী ও নক্ষত্রদের মধ্যে এবং নক্ষত্রদের পরস্পরের মধ্যে দূরত্ব এত বেশি যে কিলোমিটার দ্বারা এই দূরত্ব প্রকাশ করা যায় না।
- এই দূরত্ব আলোক বর্ষ এককে মাপা হয়।
- আলো প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৩ লক্ষ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে।
- এই বেগে এক বছরে আলো যে পরিমাণ দূরত্ব অতিক্রম করে তাকে এক আলোক বর্ষ বলে।
- সূর্য পৃথিবীর নিকটতম নক্ষত্র।
- সূর্য থেকে পৃথিবীতে আলো আসতে সময় লাগে ৮ মিনিট ২০ সেকেন্ড।
- সূর্যের নিকটতম নক্ষত্র প্রক্সিমা সেন্টারাই (Proxima Centauri)।
- পৃথিবী থেকে এর দূরত্ব প্রায় ৪.২ আলোক বর্ষ।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম- দশম শ্রেণি।

২,০০৩.
বায়ুমণ্ডলের কোন স্তরে ঝড়, বৃষ্টি, শিলাবৃষ্টি, বজ্রপাত ঘটে থাকে?
  1. ক) এক্সোস্ফিয়ার
  2. খ) আয়োনোস্ফিয়ার
  3. গ) ট্রপোস্ফিয়ার
  4. ঘ) মেসোস্ফিয়ার
ব্যাখ্যা
বায়ুমণ্ডলের ট্রপোস্ফিয়ার স্তরে ঝড়, বৃষ্টি, শিলাবৃষ্টি, বজ্রপাত ঘটে থাকে। 

- গ্রিক শব্দ ট্রপো (Tropo) কথার অর্থ হল পরিবর্তন।
- দৈনন্দিন আবহাওয়ায় আমরা যেরকম বিভিন্ন পরিবর্তন অনুভব করি, এই বায়ুস্তরেও সে ধরনের পরিবর্তন দেখা যায় ।
- বায়ুমণ্ডলের একেবারে নীচের স্তরে অবাধে তাপীয় মিশ্রণ ঘটে বলে, একে ট্রপোস্ফিয়ার বলে। 
- এ স্তরে ৭৮% নাইট্রোজেন, ২১% অক্সিজেন এবং ১% আর্গন, জলীয় বাষ্প এবং কার্বন ডাই অক্সাইড রয়েছে। 
- ট্রপোস্ফিয়ারের উর্ধ্বসীমাকে বলে ট্রপোপজ ।
- ট্রপোপজ স্তরে বায়ুর উষ্ণতা একই রকম থাকে বলে একে সমতাপ অঞ্চল বলে। 

সূত্র- NASA Website [লিঙ্ক]
২,০০৪.
সংক্ষিপ্ত পথে চলতে চলতে জাহাজের চালকরা কি অনুরসণ করে? 
  1. ক) সমুদ্রস্রোত    
  2. খ) সূর্য 
  3. গ) দ্রাঘিমা    
  4. ঘ) অক্ষাংশ
ব্যাখ্যা
সমুদ্র এবং উপকূলবর্তী নদীর জলরাশি প্রতিদিনই কোনো একটি সময়ে ঐ জলরাশি ধীরে ধীরে ফুলে উঠছে এবং কিছুক্ষণ পরে আবার তা ধীরে ধীরে নেমে যাচ্ছে। জলরাশির এরকম নিয়মিত স্ফীতি বা ফুলে ওঠাকে জোয়ার বা নেমে যাওয়াকে ভাটা বলে। সমুদ্রের একই জায়গায় প্রতিদিন দুইবার জোয়ার ও দু'বার ভাটা হয়। উপকূলে কোন একটি স্থানে পর পর দুটি জোয়ার বা পর পর দুটি ভাটার মধ্যে ব্যবধান হলো ১২ ঘণ্টা। সংক্ষিপ্ত পথে চলতে চলতে জাহাজের চালকরা সমুদ্রস্রোত অনুরসণ করে। 

Source: বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, এসএসসি প্রোগ্রাম।
২,০০৫.
কোন বায়ু সর্বদাই উচ্চচাপ অঞ্চল হতে নিম্নচাপ অঞ্চলে দিকে প্রবাহিত হয়? 
  1. স্থানীয় বায়ু
  2. নিয়ত বায়ু
  3. অনিয়মিত বায়ু
  4. সাময়িক বায়ু
ব্যাখ্যা

বায়ুপ্রবাহ: 
- বায়ু সর্বদা একস্থান হতে অন্যস্থানে প্রবাহিত হয়। 
- বায়ু কিছু নিয়ম মেনে প্রবাহিত হয়। 
যেমন- সাধারণত উচ্চচাপ বলয় থেকে শীতল ও ভারী বায়ু নিম্নচাপ বলয়ে প্রবাহিত হয়। 
- বায়ু প্রবাহের আরেকটি বৈশিষ্ট্য হলো ফেরেলের সূত্রানুযায়ী বায়ুপ্রবাহ উত্তর গোলার্ধের ডান দিকে ও দক্ষিণ গোলার্ধের বাম দিকে বেঁকে যায়। 
- বায়ুপ্রবাহ প্রধানত চার প্রকার। 
যথা- নিয়ত বায়ু, সাময়িক বায়ু, স্থানীয় বায়ু ও অনিয়মিত বায়ু। 

নিয়ত বায়ু: 
- যে বায়ু সর্বদাই উচ্চচাপ অঞ্চল হতে নিম্নচাপ অঞ্চলে দিকে প্রবাহিত হয়, তাকে নিয়ত বায়ু বলে। 
- নিয়ত বায়ুপ্রবাহ সারা বছর একই দিকে প্রবাহিত হয়। 
- এই বায়ুপ্রবাহ পৃথিবীর চাপ বলয়গুলো দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। 
- নিয়ত বায়ুকে আবার তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়। 
যথা- অয়ন বায়ু, পশ্চিমা বায়ু ও মেরু বায়ু। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,০০৬.
এক্সরে (x-ray) আবিষ্কৃত হয়-
  1. ১৮৯৮ সালে
  2. ১৮৯৩ সালে
  3. ১৮৯৫ সালে
  4. ১৮৯০
ব্যাখ্যা
- ক্যাথোড রশ্মি হচ্ছে এক রাশি ইলেকট্রন।
- ১৮৯৫ সালে জার্মান পদার্থবিজ্ঞানী উইলিয়াম রন্টজেন আবিষ্কার করেন যে, তড়িৎক্ষরণ নল থেকে যখন ক্যাথোড রশ্মি নলের দেয়ালে পড়ে তখন এক্সরে উৎপন্ন হয়।
- এক্সরের একক রন্টজেন।
- এক্সরে উচ্চ ভেদন ক্ষমতা সম্পন্ন।

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২,০০৭.
বিটা রশ্মি বা বিটা কণার ক্ষেত্রে কোনটি সঠিক নয়?
  1. ক) এটি আসলে ইলেক্ট্রন
  2. খ) ইলেকট্রিক এবং চৌম্বকীয় ক্ষেত্র দিয়ে প্রভাবিত করা যায় না
  3. গ) হিলিয়াম নিউক্লিয়াসের তুলনায় ইলেকট্রন খুবই ক্ষুদ্র
  4. ঘ) কয়েক মিলিমিটার পুরু অ্যালুমিনিয়ামের পাত দিয়ে একটি সাধারণ বিটা কণাকে থামানাে সম্ভব
ব্যাখ্যা

বিটা রশ্মি বা বিটা কণা আসলে ইলেকট্রন। বিটার কণা যেহেতু ইলেকট্রন তাই তার চার্জ নেগেটিভ (ঋণাত্মক আধান) এবং সে কারণে সেটি ইলেকট্রিক এবং চৌম্বকীয় ক্ষেত্র দিয়ে প্রভাবিত করা যায়। এটি যখন কোনাে পদার্থের ভেতর দিয়ে যায় তখন সেই পদার্থের অণু-পরমাণুর সাথে সংঘর্ষের কারণে সেগুলােকে আয়নিতকরতে পারে।আলফা কণার হিলিয়াম নিউক্লিয়াসের তুলনায় ইলেকট্রন খুবই ক্ষুদ্র তাই ইলেকট্রনের ভেদনক্ষমতা অনেক বেশি এবং সেটি পদার্থের অনেক ভেতর ঢুকে যেতে পারে। কয়েক মিলিমিটার পুরু অ্যালুমিনিয়ামের পাত দিয়ে একটি সাধারণ বিটা কণাকে থামানাে সম্ভব।
উৎসঃ  ৯ম- ১০ম শ্রেণির বিজ্ঞান

২,০০৮.
পরিবেশের সাথে জীবন সম্পর্ক সম্বন্ধীয় বিজ্ঞানকে বলা হয়- 
  1. Ecology
  2. Meteorology
  3. Toxicology
  4. Horticulture
ব্যাখ্যা
- পরিবেশের সাথে জীবন সম্পর্ক সম্বন্ধীয় বিজ্ঞানকে বলে Ecology

অন্যদিকে, 
- আবহাওয়া ও জলবায়ু সম্বন্ধীয় বিজ্ঞানকে বলা হয় Meteorology. 
- বিষ সম্পর্কিত বিদ্যাকে বলা হয় Toxicology. 
- উদ্যান বিষয়ক বিজ্ঞানকে বলা হয় Horticulture. 

উৎস: ব্রিটানিকা।
২,০০৯.
পারমাণবিক চুল্লিতে 'মডারেটরের' প্রাথমিক কাজ হলো:
  1. অতিরিক্ত নিউট্রন শোষণ এবং চেইন বিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ
  2. চুল্লির কেন্দ্রে উৎপন্ন তাপ স্থানান্তর করে শীতল করা
  3. দ্রুতগতি সম্পন্ন নিউট্রনগুলোকে ধীরগতি করে ফিশনের সম্ভাবনা বাড়ানো
  4. ক্ষতিকারক গামা বিকিরণ থেকে সুরক্ষা প্রদান
ব্যাখ্যা

- পারমাণবিক চুল্লিতে ফিশন প্রক্রিয়ার সময় অত্যন্ত উচ্চ গতিসম্পন্ন বা উচ্চ শক্তির নিউট্রন উৎপন্ন হয়। কিন্তু জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত ইউরেনিয়াম-২৩৫ এর নিউক্লিয়াসকে আঘাত করে নতুন ফিশন শুরু করার জন্য ধীরগতি সম্পন্ন বা তাপীয় নিউট্রন অনেক বেশি কার্যকর। মডারেটরের প্রধান কাজ হলো ইলাস্টিক কলিশন বা স্থিতিস্থাপক সংঘর্ষের মাধ্যমে নিউট্রনের গতি কমিয়ে সেগুলোকে ফিশন উপযোগী করা, যাতে চেইন রিঅ্যাকশন বজায় থাকে। 

নিউক্লিয় রিঅ্যাকটর: 
- শৃঙ্খল বিক্রিয়ার ক্ষেত্রে ইউরেনিয়ামকে তাপীয় নিউট্রন দিয়ে আঘাত করলে এই ভারী নিউক্লিয়াসটি প্রায় সমান ভাবে দুটি নিউক্লিয়াসে ভেঙ্গে যায় এবং এর সাথে প্রচুর শক্তি নির্গত করে।  

- নিউক্লিয় বিভাজন থেকে উৎপন্ন তাপশক্তিকে তড়িৎশক্তিতে রূপান্তরিত করার জন্য এমন ব্যবস্থা নেওয়া দরকার, যাতে অতি অল্প সময়ে বিপুল পরিমাণ শক্তি উৎপন্ন হয়ে সমগ্র প্রক্রিয়াটি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে না যায় এবং যাতে দীর্ঘ সময় ধরে সমহারে শক্তির সরবরাহ পাওয়া যায়। একে নিয়ন্ত্রিত বিভাজন বা নিউক্লিয় রিঅ্যাকটর বলা হয়। 
- পারমাণবিক শক্তি কেন্দ্রের নিউক্লিয় রিঅ্যাকটরকে এই নিয়ন্ত্রিত বিভাজনের উপযোগী করে তৈরি করা হয়।
- নিউক্লিয় রিঅ্যাকটরের মডারেটর (Moderator) সম্বন্ধে এখানে সংক্ষেপে আলোচনা করা হলো- 
মডারেটর (Moderator): 
- নিউক্লিয় বিক্রিয়ার জন্য তাপীয় নিউট্রন অর্থাৎ ধীর গতির নিউট্রন প্রয়োজন। অথচ এই বিক্রিয়ায় নির্গত নিউট্রনের শক্তি প্রায় 181 MeV অর্থাৎ দ্রতগতি সম্পন্ন নিউট্রন, সেইজন্য এর গতি কমিয়ে তাপীয় নিউট্রন তৈরি করা প্রয়োজন। 
- মডারেটরের কাজ হলো দ্রতগতি সম্পন্ন নিউট্রনগুলিকে পরবর্তী বিভাজনে কাজে লাগাতে হলে পর্যাপ্ত পরিমাণ মন্দন ঘটিয়ে তাপীয় নিউট্রনে পরিণত করে নিতে হয়। 
- যেসব পদার্থের মধ্য দিয়ে পাঠালে উচ্চ গতির নিউট্রন মন্দীভূত হয়ে তাপীয় নিউট্রনে পরিণত হতে পারে, তাদের বলা হয় মডারেটর। 
- বহুল প্রচলিত দুটি মডারেটর হলো- ভারী জল বা ডিউটেরিয়াম অক্সাইড (D2O) এবং গ্রাফাইট। মডারেটর হিসেবে সাধারণত ভারী পানি ব্যবহার করা হয়।
- নিউক্লীয় বিক্রিয়ার ফলে উৎপন্ন উচ্চ গতিশক্তিসম্পন্ন নিউট্রনগুলিকে মন্দীভূত করে মডারেটর এবং মন্দীভূত নিউট্রনগুলি আবার নিউক্লীয় বিক্রিয়া ঘটায়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,০১০.
যে তাপমাত্রার বায়ু জলীয়বাষ্পে সম্পৃক্ত হয় তাকে কী বলে?
  1. ক) আপেক্ষিক আর্দ্রতা
  2. খ) তুল্য আর্দ্রতা
  3. গ) কুয়াশা
  4. ঘ) শিশিরাঙ্ক
ব্যাখ্যা
• যে তাপমাত্রার বায়ু জলীয়বাষ্পে সম্পৃক্ত হয় তা শিশিরাঙ্ক নামে পরিচিত।
- অর্থাৎ বায়ুতে উপস্থিত জলীয়বাষ্প দ্বারা ঐ বায়ুতে সম্পৃক্ত করতে হলে যে তাপমাত্রা পর্যন্ত শীতল করা প্রয়োজন সেই তাপমাত্রাকে শিশিরাঙ্ক বলে।
- তুল্য আর্দ্রতার সাথে শিশিরাঙ্কের সম্পর্ক রয়েছে।
- কোনো নির্দিষ্ট আয়তনের বায়ুতে অবস্থিত জলীয়বাম্পের প্রকৃত পরিমাপকে তুল্য আর্দ্রতা বলে।

উৎস: ভূগোল-১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,০১১.
শিল্পক্ষেত্রে ইউরিয়া থেকে কি পাওয়া যায়?
  1. ক) PVC
  2. খ) মেলামাইন পলিমার
  3. গ) নাইলন
  4. ঘ) অ্যামোনিয়া
ব্যাখ্যা

- ইউরিয়া মূল্যবান পদার্থ। কার্বন - ডাই - অক্সাইড ও অ্যামোনিয়া গ্যাসের মিশ্রণকে উচ্চচাপে ও ১৩০ ডিগ্রী - ১৫০ ডিগ্রী তাপমাত্রায় উত্তপ্ত করলে প্রথমে অ্যামোনিয়াম কার্বনেট উৎপন্ন হয়।
- পরবর্তীতে অ্যামোনিয়াম কার্বামেট ভেঙ্গে ইউরিয়া প্রস্তুত করা হয়। অ্যামোনিয়াম সায়ানাইড থেকেও ইউরিয়া পাওয়া যায়।
- শিল্পক্ষেত্রে ইউরিয়া থেকে মেলামাইন পলিমার পাওয়া যায়।

তথ্যসূত্র: রসায়ন, নবম - দশম শ্রেণি, পৃষ্ঠা - ৩০২।

২,০১২.
বায়ুমণ্ডলের কোন অঞ্চলে ঝড়-ঝঞ্ঝার উৎপত্তি ঘটে?
  1. ক) ট্রপোস্ফিয়ার
  2. খ) স্ট্রাটোস্ফিয়ার
  3. গ) মেসোস্ফিয়ার
  4. ঘ) থার্মোস্ফিয়ার
ব্যাখ্যা

ভূপৃষ্ঠ থেকে ১৫ কি.মি. উচ্চতা পর্যন্ত বায়ুমণ্ডলের স্তরকে ট্রপোস্ফিয়ার বলে।
এ অঞ্চলে তাপমাত্রা ও চাপ উচ্চতা বৃদ্ধির সাথে সাথে কমতে থাকে। ট্রপোস্ফিয়ারে ঝড়, ঝঞ্ঝা প্রভৃতি প্রাকৃতিক বিপর্যয় ঘটে থাকে।
প্রায় সব ধরনের বিমান এ অঞ্চলেই চলাচল করে।
তাই ট্রপোস্ফিয়ারকে ক্ষুব্ধ মণ্ডলও বলা হয়।

সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

২,০১৩.
নিচের কোনটি অন্তঃজ আগ্নেয় শিলা?
  1. ক) ব্যাসল্ট ও রায়োলাইট
  2. খ) ল্যাকোলিথ ও ডলোরাইট
  3. গ) চুনাপাথর ও ব্যাসল্ট
  4. ঘ) গ্রাফাইট ও কেওলিন
ব্যাখ্যা
পৃথিবী সৃষ্টির প্রাথমিক পর্যায়ের উত্তপ্ত ও গলিত অবস্থা হতে ক্রমান্বয়ে শীতল ও ঘনীভূত হয়ে যে শিলা গঠিত হয়েছে তা আগ্নেয় শিলা নামে পরিচিত। পৃথিবীর প্রথম পর্যায়ে সৃষ্টি হয়েছে বিধায় আগ্নেয় শিলাকে প্রাথমিক শিলাও বলা হয়।

আগ্নেয় শিলা দুপ্রকার।
যথা:
- অন্তঃজ আগ্নেয় শিলা এবং
- বহিঃজ আগ্নেয় শিলা।

অন্তঃজ আগ্নেয় শিলা:
 - গ্রানাইট
- গ্যাব্রো
- ডলোরাইট
- ল্যাকোলিথ
- ব্যাথোলিথ
- ডাইক
- সিল প্রভৃতি।

বহিঃজ আগ্নেয় শিলা:
- ব্যাসল্ট
- রায়োলাইট
- অ্যান্ডিসাইট।

অন্যদিকে,
- চুনাপাথর ও কেওলিন : পাললিক শিলা
- গ্রাফাইট : রূপান্তরিত শিলা।

(তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী)
২,০১৪.
আলোর গতি নির্ধারণ করেন কে?
  1. নিউটন
  2. আইনস্টাইন
  3. রোমার
  4. ফ্যারাডে
ব্যাখ্যা

• ইতিহাসে প্রথমবার আলোর গতি নির্ধারণ করেছিলেন জ্যোতির্বিদ ওলে রোমার (Ole Rømer), ১৬৭৬ সালে।

- গতি হলো প্রকৃতির একটি মৌলিক ধ্রুবক, যা শূন্যস্থানে প্রায় 3 × 108 m/s। 

রোমারের পর্যবেক্ষণ:
- রোমার ড্যানিশ জ্যোতির্বিদ ছিলেন।
- তিনি বৃহস্পতি (Jupiter) ও তার উপগ্রহ আইও (Io)-এর কক্ষপথ পর্যবেক্ষণ করছিলেন।
- তিনি লক্ষ্য করেন, আইও-র গ্রহন (eclipse) সময় সবসময় একই থাকে না।
- পৃথিবী যখন সূর্যের অপর পাশে থাকে, তখন গ্রহনের সময় কিছুটা দেরিতে দেখা যায়।
- তিনি এই সময়ের পার্থক্য থেকে অনুমান করেন যে, আলোর পৃথিবী পর্যন্ত আসতে সময় লাগে, অর্থাৎ আলোর গতি সীমিত।

আলোর গতি নির্ণয়:
- রোমার অনুমান করেন, পৃথিবী সূর্যের চারপাশে ঘুরে বিপরীত পাশে গেলে (প্রায় ৩০ কোটি কিমি দূরত্ব বাড়ে), আলোর পৌঁছাতে প্রায় ২২ মিনিট বেশি সময় লাগে।
- এই তথ্য থেকে তিনি আলোর গতি আনুমানিক নির্ণয় করেন 2.14 × 108 m/s, যা আধুনিক মানের কাছাকাছি।

পরবর্তীতে:
- ফিজো (Fizeau, 1849) এবং মাইকেলসন (Michelson, 1879) পরীক্ষাগারে আলোর গতি আরও নিখুঁতভাবে পরিমাপ করেন।
- আইনস্টাইন (Einstein) পরে আলোর ধ্রুব গতিকে ভিত্তি করে আপেক্ষিক তত্ত্ব (Theory of Relativity) তৈরি করেন, তবে তিনি প্রথম মাপেননি।

তথ্যসূত্র:
- NCTB মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান বই। 
- ব্রিটানিকা [লিংক]

২,০১৫.
ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রস্থলে কী থাকে? 
  1. শূন্যচাপ 
  2. উচ্চচাপ 
  3. নিম্নচাপ 
  4. উচ্চ তাপমাত্রা 
ব্যাখ্যা

ঘূর্ণিঝড় (Cyclone): 
- বাংলাদেশে সংঘটিত প্রচন্ড শক্তিশালী এবং মারাত্মক ধ্বংসাত্মক প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যে ঘূর্ণিঝড় উল্লেযোগ্য। 
- ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রস্থলে অর্থাৎ ঘূর্ণিঝড়ের 'চোখ'-এ নিম্নচাপ এবং চারপাশে উচ্চচাপ বিরাজ করে। ফলে বাহিরের অংশ হতে উচ্চচাপ যুক্ত বায়ু প্রবল বেগে ঘড়ির কাঁটার দিকে আবর্তন করতে করতে ঝড়ের কেন্দ্রভাগে নিম্নচাপযুক্ত অঞ্চলের দিকে ধাবিত হয়। 
- বাংলাদেশে আশ্বিন-কার্তিক এবং চৈত্র-বৈশাখ মাসে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর কারণে ঘূর্ণিঝড় সংঘটিত হয়। 
- বাংলাদেশের দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরের উপকূলভাগ ফানেল আকৃতির হওয়ার কারণে এ দেশে অধিক সংখ্যক ঘূর্ণিঝড় সংঘটিত হয়। 
- ঘূর্ণিঝড় একটি সাময়িক প্রাকৃতিক দুর্যোগ। 
- গত তিন দশকে বাংলাদেশের উপকূলে, বিশেষত চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, টেকনাফ, সন্দ্বীপ, হাতিয়া, কুতুবদিয়া, উরিরচর, চর জব্বার, চর আলেকজান্ডার প্রভৃতি স্থানে বেশ কয়েকটি বড় ধরনের ঘূর্ণিঝড় সংঘটিত হয়েছে। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,০১৬.
মহাবিস্ফোরণ তত্ত্বের ব্যাখ্যা উপস্থাপন করেন‌-
  1. ক) আইনস্টাইন
  2. খ) লেমেটার
  3. গ) স্টিফেন হকিং
  4. ঘ) গ্যালিলিও
ব্যাখ্যা

- যুক্তরাজ্যের বিখ্যাত পদার্থবিদ ও গণিতজ্ঞ স্টিফেন হকিং।
- তিনি মহাবিস্ফোরণ বা বিগ ব্যাং তত্ত্বের ব্যাখ্যা উপস্থাপন করেন‌।
- তাঁর রচিত বিখ্যাত কয়েকটি গ্রন্থ:
- A brief history of time,
- The Universe in a Nutshell,
- The grand design
- অপরদিকে, মহাবিস্ফোরণ বা বিগ ব্যাং তত্ত্বের প্রবক্তা বেলজিয়ামের জ্যোতির্বিজ্ঞানী জি. লেমেটার।

২,০১৭.
হিমোগ্লোবিন কী জাতীয় পদার্থ?
  1. ক) আয়োডিন
  2. খ) লৌহ
  3. গ) আমিষ
  4. ঘ) স্নেহ
ব্যাখ্যা

- হিমোগ্লোবিন আমিষ জাতীয় পদার্থ।
- রক্তের রং লাল হয় হিমোগ্লোবিন নামক রঞ্জক পদার্থের উপস্থিতির জন্য।
- হিমোগ্লোবিনের কাজ ফুসফুস থেকে অক্সিজেন গ্রহণ করে কলায় পরিবহন করা এবং কলা থেকে কার্বণ-ডাই-অক্সাইড গ্রহণ করে ফুসফুসে পরিবহন করা।

২,০১৮.
কোন জ্যোতির্বিজ্ঞানী হ্যালির ধূমকেতু আবিষ্কার করেন?
  1. আইজ্যাক নিউটন 
  2. এডমন্ড হ্যালি
  3. গ্যালিলিও গ্যালিলি
  4. কার্ল সাগান
ব্যাখ্যা

• ধূমকেতু (Comet):
- মহাকাশে মাঝে মাঝে একপ্রকার জ্যোতিষ্কের আবির্ভাব ঘটে।
- এদের একটি মাথা ও একটি লেজ আছে।
- এসব জ্যোতিষ্ককে ধূমকেতু বলে।
- ধূমকেতু আকাশের এক অতি বিস্ময়কর জ্যোতিষ্ক।
- সৌরজগতের মধ্যে ধূমকেতুর বসবাস হলেও এরা কিছুদিনের জন্য উদয় হয়ে আবার অদৃশ্য হয়ে যায়।
- সূর্যের চারদিকে অনেক দূর দিয়ে এরা পরিক্রমণ করে। সূর্যের নিকটবর্তী হলে এদের দেখা যায়।
- এরা সূর্যের যত কাছাকাছি আসতে থাকে তত এদের লেজ লম্বা হতে থাকে।
- অনেক দীর্ঘ কক্ষপথে সূর্যকে পরিক্রমণ করে বলে এরা অনেক বছর পর পর আবির্ভূত হয়।
- জ্যোতির্বিজ্ঞানী এডমন্ড হ্যালি যে ধূমকেতু আবিষ্কার করেন তা হ্যালির ধূমকেতু নামে পরিচিত।
- হ্যালির ধূমকেতু প্রতি ৭৬ বছরে একবার দেখা যায়।
- হ্যালির ধূমকেতু ২৪০ খ্রিষ্টপূর্ব অব্দ থেকে দেখা যায় এবং সর্বশেষ ১৯৮৬ সালে হ্যালির ধূমকেতু দেখা গেছে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।

২,০১৯.
আলোর কণা তত্ত্বের প্রবর্তক কে?
  1. ক) হাইগেন
  2. খ) ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক
  3. গ) নিউটন
  4. ঘ) ম্যাক্সওয়েল
ব্যাখ্যা

- আলোর কণা তত্ত্বের প্রবক্তা স্যার আইজ্যাক নিউটন।
- তরঙ্গ তত্ত্বের প্রবক্তা হাইগেন।
- তাড়িত চৌম্বক তত্ত্বের প্রবক্তা ম্যাক্সওয়েল।
- কোয়ান্টাম তত্ত্বের প্রবক্তা ম্যাক্সপ্লাঙ্ক।
উৎসঃ পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২,০২০.
যে সর্বোচ্চ শ্রুতি সীমার উপরে মানুষ বধির হতে পারে তা হচ্ছে-
  1. ক) ৭৫ ডিবি
  2. খ) ৯০ ডিবি
  3. গ) ১০৫ ডিবি
  4. ঘ) ১২০ ডিবি
ব্যাখ্যা
When listening to a personal music system with stock earphones at a maximum volume, the sound generated can reach a level of over 100 dBA, loud enough to begin causing permanent damage after just 15 minutes per day!A clap of thunder from a nearby storm (120 dB) or a gunshot (140-190 dB, depending on weapon), can both cause immediate damage. http://dangerousdecibels.org


শব্দের তীব্রতা পরিমাপের একক ডেসিবেল (ডিবি)।
শব্দের মাত্রা ৪৫ ডিবি হলেই সাধারণত মানুষ ঘুমাতে পারে না।
৮৫ ডিবিতে শ্রবণ শক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হতে শুরু করে এবং মাত্রা ১২০ ডিবি হলে কানে ব্যথা শুরু হয়।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) মতানুসারে, সাধারণত ৬০ ডিবি শব্দ একজন মানুষকে সাময়িকভাবে বধির করে ফেলতে পারে এবং ১০০ ডিবি শব্দ সম্পূর্ণ বধিরতা সৃষ্টি করতে পারে।

বাংলাদেশের পরিবেশ অধিদপ্তরের জরিপ অনুসারে, যেকোন ব্যক্তি যেকোন স্থানে আধঘণ্টা বা তার অধিক সময় ধরে ঘটা ১০০ ডিবি বা তার অধিক শব্দ দূষণের ফলে বধির হয়ে যেতে পারে

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।
২,০২১.
চাঁদের বিপরীত দিকে যে জোয়ার হয় তাকে কী বলে? 
  1. ভরা জোয়ার 
  2. প্রত্যক্ষ জোয়ার 
  3. গৌণ জোয়ার 
  4. মুখ্য জোয়ার 
ব্যাখ্যা

জোয়ার-ভাটা: 
- মহাকর্ষ শক্তি এবং কেন্দ্রাতিগ শক্তির কারণে সমুদ্রের পানি নির্দিষ্ট সময় ব্যবধানে একই জায়গায় ফুলে ওঠে আবার অন্য সময় নেমে যায়। সমুদ্রের পানির এইরূপ ফুলে ওঠাকে জোয়ার এবং নেমে যাওয়াকে ভাটা বলে। 
- সমুদ্রের একই জায়গায় প্রতিদিন দুইবার জোয়ার এবং দুইবার ভাঁটা সংঘটিত হয়। 
- জোয়ার-ভাটাকে প্রধানত চারভাগে ভাগ করা যায়। 
​যথা- 
১. মুখ্য জোয়ার: 
- চন্দ্র পৃথিবীর চারদিকে আবর্তনকালে পৃথিবীর যে অংশ চন্দ্রের নিকটবর্তী হয়, সেখানে চন্দ্রের আকর্ষণ সর্বাপেক্ষা বেশি হয়। এই আকর্ষণে চারদিক থেকে জলরাশি এসে চন্দ্রের দিকে ফুলে ওঠে এবং জোয়ার হয়। এরুপে সৃষ্ট জোয়ারকে মুখ্য জোয়ার বা প্রত্যক্ষ জোয়ার বলে। 

২. গৌণ জোয়ার: 
- চাঁদ পৃথিবীর যে পার্শ্বে আকর্ষণ করে তার বিপরীত দিকের জলরাশির ওপর মহাকর্ষ শক্তির প্রভাব কমে যায় এবং কেন্দ্রাতিগ শক্তির সৃষ্টি হয়। এতে চারদিক থেকে পানি ঐ স্থানে এসে জোয়ারের সৃষ্টি করে। এভাবে চাঁদের বিপরীত দিকে যে জোয়ার হয় তাকে গৌণ জোয়ার বা পরোক্ষ জোয়ার বলে। 

৩. ভরা কটাল বা তেজ কটাল: 
- অমাবস্যা ও পূর্ণিমা তিথিতে পৃথিবী, চাঁদ ও সূর্য একই সরল রেখায় অবস্থান করলে, চন্দ্র ও সূর্যের মিলিত বলের প্রবল আকর্ষণে যে তীব্র জোয়ারের সৃষ্টি হয়, তাকে তেজ কটাল বা ভরা কটাল বা ভরা জোয়ার বলে। 

৪. মরা কটাল: 
- চন্দ্র ও সূর্য যখন পৃথিবীর সাথে এক সমকোণে থেকে পৃথিবীকে আকর্ষণ করে তখন চন্দ্রের আকর্ষণে সেখানে জোয়ার হয় এবং সূর্যের আকর্ষণে সেখানে ভাটা হয়। এই ধরনের জোয়ারকে মরা কটাল বা মরা জোয়ার বলে। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,০২২.
আলফা কণার আয়নিত করার ক্ষমতা বিটা কণার চেয়ে কত গুণ বেশি?
  1. প্রায় 10 গুণ
  2. প্রায় 100 গুণ
  3. প্রায় 1000 গুণ
  4. প্রায় 10000 গুণ
ব্যাখ্যা
আলফা কণিকার ধর্ম ও প্রকৃতি: 
১। আলফা কণিকা দুটি প্রোটন ও দুটি নিউট্রন নিয়ে গঠিত অর্থাৎ এটি আয়নিত হিলিয়াম নিউক্লিয়াস। এর ভর 6.6×10-27 কেজি। 
২। ইহা ধনাত্মক চার্জ বহন করে। এর পরিমাণ 3.2×10-19 কুলম্ব। 
৩। এর শক্তি 1 MeV বা 1.6 x 10-13 J হতে 9 MeV বা 1.44 x 10-12 J পর্যন্ত হয়। 
৪। এই রশ্মি তড়িৎ ক্ষেত্র ও চুম্বক ক্ষেত্র দ্বারা বিক্ষিপ্ত হয়। 
৫। আলফা কণার আয়নিত করার ক্ষমতা খুব বেশী। β -কণিকার চেয়ে প্রায় 100 গুণ এবং γ -কণিকার চেয়ে প্রায় 1000 গুণ বেশী। 
৬। এটি ফটোগ্রাফিক প্লেটের উপর বিক্রিয়া করে। 
৭। ইহা সহজেই বস্তু দ্বারা শোষিত হয়। এর ভেদন ক্ষমতা খুব কম। 
৮। জিংক সালফাইডে আলফা কণিকা প্রতিপ্রভা সৃষ্টি করে। 
৯। ধাতব প্লেটের মধ্য দিয়ে যাবার সময় আলফা কণিকার কণাগুলো চারিদিকে বিক্ষিপ্ত হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,০২৩.
কোনটি বায়ুমন্ডলে উত্তম তাপ শোষক হিসাবে কাজ করে?
  1. নাইট্রোজেন
  2. জলীয় বাষ্প
  3. অক্সিজেন
  4. ধূলিকণা
ব্যাখ্যা

সূর্য তাপ বিকিরণ করে, তাই একে আমরা বিকিরক বলতে পারি। পৃথিবী সূর্যের তাপ শোষণ করে উত্তপ্ত হয়।
পৃথিবীকে আমরা শোষক বলতে পারি। কিন্তু পৃথিবী একইসাথে বিকিরক। রাতের বেলায় উত্তপ্ত পৃথিবী তাপ বিকিরণ করে শীতল হয়। বায়ুমন্ডলের কার্বন ডাই-অক্সাইড, জলীয় বাষ্প, মিথেন- এসব গ্যাস বিকিরিত তাপের শোষক হিসাবে কাজ করে আমাদের জীবনকে প্রভাবিত করছে৷
সূত্র: বিজ্ঞান বোর্ড বই, সপ্তম শ্রেণী

২,০২৪.
সমুদ্রের পানিতে নিমজ্জিত স্থলভাগের আংশিক ঢালু অংশকে কী বলা হয়?
  1. মহীসোপান
  2. মহীঢাল
  3. মালভূমি
  4. নিমজ্জিত শৈলশিরা
ব্যাখ্যা
• স্থলভাগের যে অংশ আংশিক ঢালু হয়ে সমুদ্রের পানিতে নিমজ্জিত হয় তাকে মহীসোপান বলা হয়। 

• ভূপৃষ্ঠের উপরের ভূমিরূপ যেমন উঁচুনিচু তেমনি সমুদ্র তলদেশও অসমান।
- কারণ সমুদ্রতলে আগ্নেয়গিরি, শৈলশিরা, উচ্চভূমি ও গভীর খাত প্রভৃতি বিদ্যমান আছে।

• সমুদ্রের তলদেশের ভূমিরূপকে পাঁচটি ভাগে বিভক্ত করা হয়। যথা-
- মহীসোপান (Continental shelf), 
- মহীঢাল (Continental slope), 
- গভীর সমুদ্রের সমভূমি (Deep sea plains), 
- নিমজ্জিত শৈলশিরা (Oceanic ridges), 
- গভীর সমুদ্রখাত (Oceanic trench)। 

• মহীসোপান:
- পৃথিবীর মহাদেশসমূহের চারদিকে স্থলভাগের কিছু অংশ অল্প ঢালু হয়ে সমুদ্রের পানির মধ্যে নেমে গেছে। এরূপে সমুদ্রের উপকূলরেখা থেকে তলদেশ ক্রমনিম্ন নিমজ্জিত অংশকে মহীসোপান বলে।
- মহীসোপানের সমুদ্রের পানির সর্বোচ্চ গভীরতা ১৫০ মিটার।
- এটি ১° কোণে সমুদ্র তলদেশে নিমজ্জিত থাকে।

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক ভূগোল ও পরিবেশ, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
২,০২৫.
সৃষ্টিজগতের সবচেয়ে শক্তিশালী বল কোনটি?
  1. ক) মহাকর্ষ
  2. খ) তড়িৎ চৌম্বকীয়
  3. গ) সবল নিউক্লিয়
  4. ঘ) দুর্বল নিউক্লিয়
ব্যাখ্যা
সৃষ্টিজগতের সবচেয়ে শক্তিশালী বল সবল নিউক্লিয় বল যা তড়িৎ চুম্বকীয় বলের তুলনায়ও একশো গুণ বেশি শক্তিশালী।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর পদার্থ বিজ্ঞান বোর্ড বই
২,০২৬.
সিএফসির ফলে কোন ধরনের ক্ষতি হয়?
  1. বায়ুর তাপ বৃদ্ধি করে
  2. এসিড বৃষ্টিপাত ঘটায়
  3. ওজোন স্তর ধ্বংস করে
  4. রক্তের অক্সিজেন পরিবহন ক্ষমতা হ্রাস করে
ব্যাখ্যা
- সিএফসি ওজোন স্তর ধ্বংস করে। 

সিএফসি: 
- CFC-এর পূর্ণরূপ হলো ক্লোরো-ফ্লুরো-কার্বন। 
- মূলত মিথেন বা ইথেনের ক্লোরিন ও ফ্লোরিনের জাতকসমূহকে সিএফসি বলা হয়। 
- গন্ধহীন, অদাহ্য, অবিষাক্ত এবং নিম্ন গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক বিশিষ্ট এসব যৌগের বাণিজ্যিক নাম ফ্রেয়ন। 

সিএফসি'র ক্ষতিকর দিকসমূহ: 
১. প্রাণীর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। 
২. ত্বকের ক্যান্সার, চোখের ছানি এবং বিভিন্ন মারাত্মক রোগ সৃষ্টি। 
৩. খাদ্যশস্যের ক্ষতি করে এবং উৎপাদন কমিয়ে দেয়। 
৪. কৃষিক্ষেত্রে পোকামাকড়ের আক্রমণ বৃদ্ধি করে। 
৫. খাদ্য উৎপাদনকারী শৈবাল ও প্লাঙ্ককটন ধ্বংস করে। 

CFC এর ব্যবহারের দিকসমূহ: 
১। কীটনাশক ও পােকামাকড় দমনের জন্য বিষাক্ত দ্রবণ তৈরিতে দ্রাবক হিসাবে CFC ব্যবহার করা হয়। 
২। শ্বাস-প্রশ্বাসের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত ইনহেলার, মেডিক্যাল স্প্রে-প্রভূতি ক্ষেত্রে CFC ব্যবহার করা হয়। 
৪। সার্জিক্যাল যন্ত্রপাতি পরিষ্কার করার কাজে CFC ব্যবহার করা হয়। 

উৎস: American Chemical Society [লিঙ্ক]
২,০২৭.
সুনামির শক্তি কিভাবে কমে যায়?
  1. সমুদ্রের কেন্দ্রে পৌঁছালে
  2. বাতাসের সঙ্গে সংযোগে
  3. গভীর পানিতে যাওয়ার সময়
  4. অগভীর পানিতে যাওয়ার সময় 
ব্যাখ্যা

- সুনামি যখন গভীর সমুদ্র থেকে উপকূলের কাছাকাছি অগভীর পানিতে প্রবেশ করে, তখন এর গতিবেগ কমে যায়, কিন্তু মোট শক্তি প্রায় স্থির থাকে। শক্তির এই রূপান্তরের কারণে তরঙ্গদৈর্ঘ্য কমে যায় এবং তরঙ্গের উচ্চতা বহুগুণ বেড়ে যায়, যা উপকূলে বিধ্বংসী রূপ নেয়। 

সুনামি: 
- Tsunami একটি জাপানি শব্দ। যার ‘সু’ অর্থ বন্দর এবং ‘নামি’ অর্থ ঢেউ। 
অর্থাৎ সুনামি শব্দের অর্থ হলো বন্দরের ঢেউ। এটি একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ। 
- সমুদ্র তলদেশে ভূমিকম্প, আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত, ভূমিধস এবং নভোজাগতিক ঘটনা সুনামি সৃষ্টি করতে পারে।
- সুনামি প্রাকৃতিক দুর্যোগটি শুধুমাত্র সাগরে সংঘটিত হয়। 
- সাধারণত সমুদ্রের তলদেশে একটা ভূমিকম্প হলে সুনামি তৈরি হয়। 
- ২০০৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর স্বরণকালের ভয়ঙ্কর একটি প্রাকৃতিক দূর্যোগ ঘটে। ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা দ্বীপের কাছাকাছি ভারত মহাসাগরের তলদেশে সৃষ্টি হয়েছিল ট্রাক্টনিক ভূমিকম্প। ইউরেশিয়ান প্লেট ও অস্ট্রেলিয়ান প্লেটের সংঘর্ষে সৃষ্টি হওয়া এই মারাত্মক ভূমিকম্পটি ছিল রিখটার স্কেলে নয় মাত্রার। এই জলোচ্ছাসে তিন লাখের মতো মানুষ নিহত হয় যার মধ্যে ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রার আচেহ প্রদেশেই নিহত হয়েছে এক লাখ মানুষ। 
- অগভীর পানিতে যাওয়ার সময় সুনামি তার শক্তি হারায় অর্থাৎ কমে। 
- বঙ্গোপসাগরে ১৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত অগভীর পানি বাংলাদেশকে সুনামির কবল থেকে রক্ষা করে থাকে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২,০২৮.
CFC কি ক্ষতি করে?
  1. রক্তের অক্সিজেন পরিবহন ক্ষমতা হ্রাস করে।
  2. ওজন স্তর ধ্বংস করে।
  3. এসিড বৃষ্টিপাত ঘটায়।
  4. বায়ুর তাপ কমিয়ে দেয়।
ব্যাখ্যা
গ্রীন হাউজ প্রভাব সৃষ্টির জন্য বিভিন্ন গ্রীন হাউজ গ্যাসগুলির মধ্যে কার্বন ডাই-অক্সাইড অন্যতম। এ ছাড়া আছে মিথেন, সিএফসি(CFC), নাইট্রাস অক্সাইড ইত্যাদি।
মানুষ তার সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের জন্য রেফ্রিজারেটর, এয়ার কন্ডিশন, এ্যারোসল ব্যবহার করে থাকে। জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে এ সমস্ত যন্ত্রের ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে।
এ সমস্ত যন্ত্র থেকে CFC (ক্লোরো ফ্লোরো কার্বন) গ্যাস নির্গত হয়, যা বায়ুমন্ডলের ওজোন স্তর ধ্বংসের সহায়ক।
উৎসঃ সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,০২৯.
মহাশূন্য থেকে পৃথিবীর বায়ুমন্ডলে উচ্চশক্তিসম্পন্ন যে আহিত কণাসমূহ প্রবেশ করে তাদের সমষ্টিকে বলে -
  1. ক) গামা রশ্মি
  2. খ) অবলোহিত রশ্মি
  3. গ) মহাজাগতিক রশ্মি
  4. ঘ) অতি বেগুনী রশ্মি
ব্যাখ্যা
মহাশূন্য থেকে পৃথিবীর বায়ুমন্ডলে উচ্চশক্তিসম্পন্ন যে আহিত কণাসমূহ প্রবেশ করে তাদের সমষ্টিকে মহাজগতিক রশ্মি বলে। বিজ্ঞানী ভিক্টর ফ্রান্সিস হেস মহাজাগতিক রশ্মি আবিষ্কারের জন্য ১৯৩৬ সালে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পান। উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
২,০৩০.
রূপপুর পরমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের মূল জ্বালানি হলো-
  1. ক) Uranium-235
  2. খ) Uranium-238
  3. গ) Uranium-233
  4. ঘ) Plutonium-239
ব্যাখ্যা
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র:
- পাবনা জেলার ঈশ্বরদী উপজেলার রূপপুরে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মিত হচ্ছে।
- এটি নির্মাণে কারিগরি ও আর্থিক সহায়তা করছে রাশিয়া।
- রাশিয়ান রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান রোসাটম এতে কারিগরি সহায়তা করছে। অপর রাশিয়ান কোম্পানি টিভিএল জয়েন্ট স্টক এতে জ্বালানি সরবরাহ করবে।
- তবে বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ সঞ্চালন প্রকল্পে অর্থ সহায়তা করছে ভারত সরকার।
- মোট উৎপাদন ক্ষমতা ২,৪০০ মেগাওয়াট।
- মোট ব্যয় প্রায় ১২.৬৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর মধ্যে রাশিয়া সরকার ঋণ দিচ্ছে ১১.৪ বিলিয়ন ডলার।
- ২০২৩ সালে কেন্দ্রটি চালু করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
- রূপপুর পরমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের মূল জ্বালানি হলো ইউরেনিয়াম - ২৩৫।

সূত্র: রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ওয়েবসাইট এবং দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড।
২,০৩১.
রেল ইঞ্জিনের আবিষ্কারক কে?
  1. ক) এডিসন
  2. খ) স্টিফেনসন
  3. গ) জেমস ওয়াট
  4. ঘ) মোর্স
ব্যাখ্যা

রেল ইঞ্জিনের আবিষ্কারক- স্টিফেনসন।
বাষ্পচালিত ইঞ্জিনের আবিষ্কারক- জেমস ওয়াট।
ফনোগ্রাফ ও বৈদ্যুতিক বাতির আবিষ্কারক- টমাস আলভা এডিসন।
টেলিগ্রাফের আবিষ্কারক- স্যামুয়েল মোর্স।
উৎসঃ ব্রিটানিকা এবং বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা।

২,০৩২.
কসমিক রে প্রধানত কোন উপাদান দ্বারা গঠিত?
  1. ইলেক্ট্রন
  2. প্রোটন
  3. নিউট্রন
  4. ফোটন
ব্যাখ্যা

◉ মহাজাগতিক রশ্মি (Cosmic Rays) মূলত মহাকাশ থেকে আসা উচ্চ-শক্তিসম্পন্ন কণার ধারা। এদের মধ্যে প্রায় ৮৯% প্রোটন থাকে। 

​মহাজাগতিক রশ্মি (Cosmic rays):
- মহাজাগতিক রশ্মি হচ্ছে অসংখ্য ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কণার স্রোত। বহির্বিশ্ব থেকে এসব কণা এসে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে।
- বাইরে থেকে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে উচ্চ শক্তিসম্পন্ন যে আহিত কণাসমূহ প্রবেশ করে তাদেরকে সমষ্টিগতভাবে মহাজাগতিক রশ্মি বলা হয়।
- ধারণা করা হয় ছায়াপথের বাইরে নতুন নতুন নক্ষত্রের বিস্ফোরণের ফলে বেশির ভাগ মহাজাগতিক রশ্মির সৃষ্টি হয়।
- মহাজাগতিক রশ্মিতে থাকে ৮৯ ভাগ প্রোটন, ৯ ভাগ নিউট্রন এবং ২ ভাগ কার্বন, নাইট্রোজেন, অক্সিজেন ও লোহার ভারী নিউক্লিয়াস।
- মহাজাগতিক রশ্মি আবিষ্কারের জন্য ভিক্টর ফ্রান্সিস হেস ১৯৩৬ সালে অপর বিজ্ঞানী কার্ল ডেভিড অ্যান্ডারসনের সাথে যৌথভাবে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।

উৎস: ব্রিটানিকা ও নোবেল পুরস্কার ওয়েবসাইট।

২,০৩৩.
বায়ুমণ্ডলের কোন স্তর সবচেয়ে শীতলতম তাপমাত্রা ধারণ করে? 
  1. তাপমণ্ডল
  2. স্ট্র্যাটোমণ্ডল
  3. মেসোমণ্ডল
  4. এক্সোমণ্ডল
ব্যাখ্যা
মেসোমণ্ডল (Mesosphere): 
- স্ট্রাটোবিরতির উপরে প্রায় ৮০ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত বায়ুস্তরকে মেসোমণ্ডল বলে।
- এই স্তরের উপরে তাপমাত্রা হ্রাস পাওয়া থেমে যায়, এই স্তরকে মেসোবিরতি (Mesopause) বলে। 

মেসোমণ্ডলের বৈশিষ্ট্য: 
- এই স্তরে ট্রপোমণ্ডলের মতোই উচ্চতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা কমতে থাকে, যা - ৮৩° সেলসিয়াস পর্যন্ত নিচে নেমে যায়। 
মেসোমণ্ডল বায়ুমণ্ডলের সবচেয়ে শীতলতম তাপমাত্রা ধারণ করে। 
- মহাকাশ থেকে যেসব উল্কা পৃথিবীর দিকে ছুটে আসে সেগুলোর অধিকাংশই এই স্তরের মধ্যে এসে পুড়ে যায়। 

তাপমণ্ডল (Thermosphere): 
- মেসোবিরতির উপরে প্রায় ৫০০ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত বায়ুস্তরকে তাপমণ্ডল বলে। 
- এই মণ্ডলে বায়ুস্তর অত্যন্ত হালকা ও চাপ ক্ষীণ। তাপমণ্ডলের নিম্ন অংশকে আয়নমণ্ডল (Ionosphere) বলে। 

তাপমণ্ডলের বৈশিষ্ট্য: 
- এই স্তরে বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা অত্যন্ত দ্রুত হারে বৃদ্ধি পেয়ে ১৪৮০° সেলসিয়াসে পৌঁছায়। 
- তাপমণ্ডলের উপরের স্তরে তাপমাত্রার পরিমাণ প্রায় স্থির থাকে। 
- তীব্র সৌর বিকিরণে রঞ্জন রশ্মি ও অতিবেগুনি রশ্মির সংঘাতে এই অংশের বায়ু আয়নযুক্ত হয়। 
- ভূপৃষ্ঠ থেকে পাঠানো বিভিন্ন বেতার তরঙ্গ আয়নমণ্ডলের বিভিন্ন আয়নে বাধা পেয়ে পুনরায় ভূপৃষ্ঠে ফিরে আসে। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
২,০৩৪.
ফিউশন প্রক্রিয়ায় তৈরীকৃত বোমার নাম কী?
  1. হাইড্রোজেন বোমা
  2. পারমানবিক বোমা
  3. এটম বোমা
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
• ফিউশন প্রক্রিয়ায় তৈরীকৃত বোমার নাম হলো হাইড্রোজেন বোমা বা থার্মোনিউক্লিয়ার বোমা ।

• ফিউশন:

- ফিউশন হলো এমন একটি পারমাণবিক প্রক্রিয়া, যেখানে দুইটি হালকা পরমাণু (যেমন ডিউটেরিয়াম ও ট্রিটিয়াম) একত্রিত হয়ে একটি ভারী পরমাণু (যেমন হেলিয়াম) তৈরি করে।
- এই একত্রিত হওয়ার সময় প্রচুর শক্তি মুক্তি পায়।
- এই নিউক্লিয়ার ফিউশন প্রক্রিয়ায় প্রচুর পরিমাণে শক্তি উৎপন্ন হয় যা পারমাণবিক (fission) বোমার থেকেও অনেক গুণ বেশি।

অন্যদিকে,
- 'পারমানবিক বোমা' তৈরী হয় নিউক্লিয়ার ফিশন বিক্রিয়ার মাধ্যমে।

উৎস: ব্রিটানিকা।
২,০৩৫.
একটি ইলেকট্রিক ডিভাইস যা ডিসিকে বাধা দেয় কিন্তু এসিকে অনুমতি দেয় তাকে বলা হয় -
  1. ক) রেক্টিফায়ার
  2. খ) ইন্ডাক্টর
  3. গ) ক্যাপাসিটর
  4. ঘ) ট্রান্সডিউসার
ব্যাখ্যা
ক্যাপাসিটর একটি ইলাস্টিক পর্দার মত কাজ করে, যেখানে DC current বাধাপ্রাপ্ত হয় কিন্তুAC current চলাচল করতে পারে।
DC বাধাপ্রাপ্ত হওয়ার কারণ এটার কোনো ফ্রিকোয়েন্সি নেই কিন্তু AC current-এর ফ্রিকোয়েন্সি আছে।
Source: researchgate
২,০৩৬.
পর পর দুটি জোয়ারের মধ্যে ব্যবধান কত?
  1. ৬ ঘন্টা ১৩ মিনিট
  2. ৮ ঘন্টা ৪৮ মিনিট
  3. ১২ ঘন্টা ২৬ মিনিট
  4. ৭ ঘন্টা ৩৪ মিনিট
ব্যাখ্যা
• জোয়ার-ভাটার চক্র মূলত চাঁদ ও সূর্যের গৃহীত আকর্ষণ শক্তির কারণে ঘটে। সাধারণত, একদিনে দুইবার জোয়ার এবং দুইবার ভাটা ঘটে। পর পর দুটি জোয়ারের মধ্যে সময়ের ব্যবধান প্রায় ১২ ঘন্টা ২৬ মিনিট। এই সময়ের মধ্যে সমুদ্রের পানি একবার বৃদ্ধি পায় এবং পরে আবার কমে যায়। এই ব্যবধান পৃথিবীর ঘূর্ণনের সঙ্গে সম্পর্কিত, কারণ চাঁদের অবস্থানের পরিবর্তনের কারণে এই সময়ের পরিমাণ কিছুটা পরিবর্তিত হতে পারে।
- তাই, পর পর দুটি জোয়ারের মধ্যে ব্যবধান হল গ) ১২ ঘন্টা ২৬ মিনিট।


জোয়ার ভাঁটা:

- চন্দ্র ও সূর্যের আকর্ষণ শক্তি এবং পৃথিবীর কেন্দ্রাতিক শক্তি প্রভৃতির প্রভাবে সমুদ্রের পানি নির্দিষ্ট সময় অন্তর ফুলে উঠে আবার নেমে যায়।
- সমুদ্রের পানি এভাবে ফুলে উঠাকে বলা হয় জোয়ার (High Tide) এবং নেমে যাওয়াকে ভাঁটা (Ebb or low Tide) বলে।
- প্রতি ১২ ঘন্টা ২৬ মিনিট পরপর এই জোয়ার ভাঁটা সংঘঠিত হয়।
অর্থাৎ সমুদ্রে একই জায়গায় প্রতিদিন দু'বার জোয়ার ও দু'বার ভাঁটা হয়।
- সমুদ্রের মোহনা থেকে নদীগুলোর স্রোতের বিপরীতে উজানে কয়েক কিলোমিটার পর্যন্ত জোয়ার-ভাঁটা বেশি অনুভূত হয়।
- সমুদ্রের মধ্যভাগ থেকে উপকূলের কাছে পানির অগভীর অংশে জোয়ারের পানির উচ্চতা বেশি থাকে।
- তবে বিভিন্ন নদীপথে দেশের ভিতরে সমুদ্রের পানি যখন প্রবেশ করে এবং নেমে যায় তাকে জোয়ার ভাঁটা বলে না।

জোয়ার ভাঁটার কারণ:
- জোয়ার ভাঁটা সম্পর্কে প্রাচীনকালে মানুষ নানা রকম অবাস্তুব কল্পনা করত।
- কিন্তু বিজ্ঞানীরা প্রমাণ করেছেন যে, চন্দ্র ও সূর্যের প্রভাবেই এবং পৃথিবীর আবর্তনের ফলে সৃষ্ট কেন্দ্রাতিগ শক্তির প্রভাবে জোয়ার ভাঁটা হয়।
- জোয়ার ভাঁটা সংঘটনের কারণকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা-
ক. মহাকর্ষণ শক্তির প্রভাব এবং
খ. কেন্দ্রাতিগ শক্তির প্রভাব।

উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,০৩৭.
জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের জন্য কোন গ্যাস দায়ী?
  1. ক) নাইট্রোজেন
  2. খ) অক্সিজেন
  3. গ) কার্বন ডাই অক্সাইড
  4. ঘ) ক্লোরিন
ব্যাখ্যা

গ্রীনহাউজ গ্যাস (CO2, CO, CH4, N2O ইত্যাদি) বৃদ্ধি পাবার ফলে বায়ুমন্ডলের তাপমাত্রা বেড়ে যায় যাকে গ্রীন হাউজ ইফেক্ট বলা হয়। গ্রীন হাউজ ইফেক্টের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হবে সমুদ্র তীরবর্তী অঞ্চল। এছাড়া সমুদ্রের উচ্চতা বেড়ে যাবে, ঝড় ও জ্বলোচ্ছ্বাস এর তীব্রতা বেড়ে যাবে, বনাঞ্চল ধ্বংস হবে। সামগ্রিকভাবে জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়বে।

সূত্রঃ জীববিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

 
২,০৩৮.
হিগস্‌ বোসন কণা কত সালে আবিষ্কৃত হয়?
  1. ২০০২ সালে
  2. ২০০৪ সালে
  3. ২০১২ সালে
  4. ২০১৪ সালে
ব্যাখ্যা

 • হিগস বোসন (Higgs Boson):
- হিগস বোসন কণা আবিষ্কৃত হয় ৪ জুলাই ২০১২ সালে।
কণাটি ২০১২ সালের ৪ জুলাই আবিষ্কৃত হয়।
- সুইজারল্যান্ডের ইউরোপীয় কণা পদার্থবিজ্ঞান গবেষণাগার CERN-এ অবস্থিত বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী কণা ত্বরক 'লার্জ হ্যাড্রন কোলাইডার' (LHC)-এর গবেষকদের দ্বারা।
- এই হিগস বোসনই ঈশ্বর কণা (God's Particle) নামে পরিচিত।

• হিগস বোসন কণার বৈশিষ্ট্য:
- হিগস বোসন এর স্পিন ০, তবে এর ভর আছে।
- হিগস বোসন বুঝতে হলে হিগস ক্ষেত্র সম্বন্ধে জানতে হবে।
- হিগস ক্ষেত্র একটি তাত্ত্বিক বলক্ষেত্র যা সর্বত্র ছড়িয়ে আছে। এই ক্ষেত্রের কাজ হলো মৌলিক কণাগুলোকে ভর প্রদান করা।
- যখন কোনো ভরহীন কণা হিগস ক্ষেত্রে প্রবেশ করে তখন তা ধীরে ধীরে ভর লাভ করে। ফলে তার চলার গতি ধীর হয়ে যায়।
- হিগস বোসনের মাধ্যমে ভর কণাতে স্থানান্তরিত হয়।
- হিগস ক্ষেত্র ভর সৃষ্টি করে না, তা কেবল ভর স্থানান্তরিত করে হিগস বোসনের মাধ্যমে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও Space.com website.

২,০৩৯.
তেজ কটাল কখন সংঘটিত হয়?
  1. ক) সপ্তমী তিথিতে
  2. খ) অমাবস্যায়
  3. গ) পূর্ণিমায়
  4. ঘ) খ + গ
ব্যাখ্যা
- অমাবস্যা তিথিতে সূর্য ও চন্দ্র পৃথিবীর একই পাশে এবং পূর্ণিমা তিথিতে চন্দ্র ও সূর্য পৃথিবীর দুইপাশে একই সরলরেখায় অবস্থান করে।
- যার কারণে অমাবস্যা ও পূর্ণিমা তিথিতে সূর্য ও চন্দ্রের মিলিত আকর্ষণে প্রবল জোয়ার সংঘটিত হয় যা ভরা কটাল বা তেজ কটাল নামে পরিচিত।
(তথ্যসূত্রঃ উচ্চ মাধ্যমিক প্রাকৃতিক ভূগোল)
২,০৪০.
আকাশের উজ্জ্বলতম নক্ষত্রের নাম কী?
  1. শুক্র গ্রহ
  2. সপ্তর্ষি
  3. লুব্ধক
  4. ধ্রুবতারা
ব্যাখ্যা

নক্ষত্র বা তারা (Stars):  
- যেসব জ্যোতিষ্ক জ্বালানির মাধ্যমে নিজস্ব আলো তৈরি করে এবং নিজস্ব উত্তাপ আছে তাদের নক্ষত্র বা তারা (Stars) বলে।
- মহাবিশ্বের সৃষ্টিলগ্নে কোনো নক্ষত্র ছিল না, ছিল বিশাল ধূলিকণা ও গ্যাসের পিন্ড।
- এর মধ্যে হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম থেকে নিউক্লিয় ফিউশন বিক্রিয়ায় তাপ ও আলো নির্গতকারী নক্ষত্রের জন্ম হয়।
- আলোর তীব্রতা অনুসারে মহাবিশ্বের নক্ষত্রগুলোকে তিন বর্ণে ভাগ করা হয়েছে- লাল (এরা বৃহৎ), হলুদ (মাঝারি) ও নীল (ছোট)।
- নক্ষত্রের দূরত্ব মাপার একক- আলোক বর্ষ এবং জ্যামিতিক ভিত্তিতে মহাবিশ্বের দূরত্ব মাপার একক- পারসেক।
- আলো ৩ লক্ষ কিলোমিটার/সেকেন্ড বেগে এক বছরে যে দূরত্ব অতিক্রম করে তাকে আলোক বর্ষ (Light year) বলে। ১ পারসেক = ৩.২৬ আলোক বর্ষ।
- সূর্য পৃথিবীর নিকটতম নক্ষত্র; অন্যদিকে সূর্যের নিকটতম নক্ষত্র প্রক্সিমা বা আলফা সেন্টোরাই।
- আলফা সেন্টোরাই পৃথিবীর দ্বিতীয় নিকটতম নক্ষত্র পৃথিবী থেকে যার দূরত্ব ৪.২ আলোক বর্ষ।
- আকাশের উজ্জলতম নক্ষত্রের নাম লুব্ধক বা সিরিয়াস (Sirius) যা একটি যুগলতারা। 
- মেঘমুক্ত রাতের আকাশে তাকালে কিছু নক্ষত্র একত্রে জোটবদ্ধ হয়ে আছে বলে মনে হয় যাদেরকে নক্ষত্র মণ্ডলী (Constellation) বলে।

উৎস : ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি এবং NASA Science - Universe Glossary.

২,০৪১.
গ্রিন হাউজ ইফেক্টের পরিণতিতে বাংলাদেশের সবচেয়ে গুরুতর ক্ষতি কী হবে?
  1. বৃষ্টিপাত কমে যাবে
  2. নিম্নভূমি নিমজ্জিত হবে
  3. উত্তাপ অনেক বেড়ে যাবে
  4. সাইক্লোনের প্রবণতা বাড়বে
ব্যাখ্যা
• গ্রিন হাউস ইফেক্টের পরিণতিতে বাংলাদেশের সবচেয়ে গুরুতর ক্ষতি- নিম্নভূমি নিমজ্জিত হবে।

- গ্রীন হাউস ইফেক্টের কারনে বাংলাদেশসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের উপকূলীয় এলাকার এক বিরাট অংশ পানির নীচে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
- আইসিসি ২০০৭ সালে তার সতর্কীকরণে বলেছে ২০৫০ সাল নাগাদ সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ৪৫ সে.মি. বাড়লে বাংলাদেশের সমুদ্র উপকূলবর্তী ১০-১৫ শতাংশ ভূমি পানির নিচে চলে যাবে। আনুমানিক ৩.৫ কোটি মানুষ তাদের ঘরবাড়ি, ফসলি জমি হারিয়ে জলবায়ু উদ্বাস্তুতে পরিণত হবে।

• গ্রিন হাউজ প্রভাব:
- ওজোন স্তরে ক্ষত সৃষ্টি হলে পৃথিবীর উষ্ণতা বৃদ্ধি পেয়ে কৃষি ও পরিবেশের ওপর যে বিরুপ প্রভাব ফেলে একেই গ্রিন হাউজ প্রভাব (Green House Effect) বলা হয়।
- গ্রিন হাউস ইফেক্টের ফলে বায়ুমণ্ডল উত্তপ্ত হচ্চে।
- ফলে মেরু অঞ্চলের বরফ ক্রমে গলে যাচ্ছে।
- এর ফলে বাংলাদেশ সহ পৃথিবীর নিম্নভূমি ক্রমশ নিমজ্জিত হবে।
- গ্রীন হাউজ ইফেক্টের জন্য দায়ী গ্যাসগুলোকে বলা হয় গ্রীন হাউজ গ্যাস।

• কয়েকটি উল্লেখযোগ্য গ্রীন হাউজ গ্যাস হচ্ছে:
- জলীয় বাষ্প,
- কার্বন ডাই-অক্সাইড,
- নাইট্রাস অক্সাইড,
- মিথেন,
- ওজোন,
- ক্লোরোফ্লোরো কার্বন ইত্যাদি।
- কার্বন ডাই সালফাইড এবং কার্বনিল সাইফাইড পরোক্ষ গ্রিন হাউজ গ্যাস।

উৎস:
১. বাংলাপিডিয়া।
২. ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৩. অর্থনৈতিক সমীক্ষা-২০২০।
২,০৪২.
'Mercury' কোন গ্রহের নাম?
  1. ক) বুধ
  2. খ) মঙ্গল
  3. গ) শুক্র
  4. ঘ) বৃহস্পতি
ব্যাখ্যা
Mercury হলো বুধ গ্রহ। 
Venus হলো শুক্র গ্রহ। 
Jupiter হলো বৃহস্পতি গ্রহ।
Mars হলো মঙ্গল গ্রহ।
 
২,০৪৩.
বাংলাদেশের বার্ষিক গড় তাপমাত্রা কত ডিগ্রি সেলসিয়াস?
  1. ২৮.০৫ ডিগ্রি
  2. ২৬.০১ ডিগ্রি
  3. ২৭.৫ ডিগ্রি
  4. ২৫.০২ ডিগ্রি
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের বার্ষিক গড় তাপমাত্রা ২৬.০১ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
সবচেয়ে উষ্ণতম মাস এপ্রিলের গড় তাপমাত্রা ২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সবচেয়ে শীতল তম মাস জানুয়ারির গড় তাপমাত্রা ১৭.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ২০৩ সে.মি.।
(সূত্রঃ ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী)
২,০৪৪.
আকাশের উজ্জ্বলতম নক্ষত্রের নাম কী?
  1. লুব্ধক
  2. ধ্রুবতারা
  3. শুক্র গ্রহ
  4. সপ্তর্ষি
ব্যাখ্যা

লুব্ধক:
- আকাশের উজ্জ্বলতম নক্ষত্র লুব্ধক ।
- লুব্ধক পৃথিবীর আকাশের উজ্জ্বলতম তারা।
- লুব্ধক এত উজ্জ্বল দুটি কারণে- এর স্বকীয় উজ্জ্বলতা এবং এর অবস্থান পৃথিবীর খুবই নিকটে।
- এটি একটি জোড়া বা যুগ্মতারা।
- লুব্ধক বলতে মূলত 'সিরিয়াস' (Sirius) তারাটিকে বোঝায়।

তথ্যসূত্র - Britannic.com

২,০৪৫.
উৎপত্তি স্থান থেকে শাখা-প্রশাখার মাধ্যমে যে বিস্তৃর্ণ অঞ্চল দিয়ে প্রবাহিত হয় তাকে কী বলা হয়?
  1. ক) নদী উপত্যকা
  2. খ) দোয়াব
  3. গ) নদীসংগম
  4. ঘ) অববাহিকা
ব্যাখ্যা
- উৎপত্তি স্থান থেকে শাখা-প্রশাখার মাধ্যমে যে বিস্তৃর্ণ অঞ্চল দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়ে নদী সমুদ্র বা হ্রদে পতিত হয় সেই সমগ্র অঞ্চলকে নদী অববাহিকা বলে।
- প্রবাহমান দুটো নদীর মধ্যবর্তী ভূমিকে দোয়াব বলা হয়।
- যে উপত্যকার মধ্য দিয়ে নদী প্রবাহিত হয় তাকে নদীর উপত্যকা বলা হয়।
- দুই বা ততোধিক নদীর মিলনস্থলকে নদীসংগম বলে।
(তথ্যসূত্রঃ ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী)
২,০৪৬.
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সমুদ্রসীমা -
  1. ৩৭০ কিলোমিটার
  2. ৩৪৫ কিলোমিটার
  3. ৩২০ কিলোমিটার
  4. ২০০ কিলোমিটার
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সমুদ্রসীমা ২০০নটিক্যাল মাইল বা ৩৭০ কিলোমিটার।

১ নটিক্যাল মাইল =১.৮৫৩ কিলোমিটার ।

সেই হিসাবে অর্থনৈতিক সমুদ্রসীমা দৈর্ঘ্য ৩৭০.৪ কিলোমিটার ।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ নবম দশম শ্রেণি

২,০৪৭.
মঙ্গল ও বৃহস্পতি গ্রহের কক্ষপথ দুইটির মাঝামাঝি অবস্থানে যে গ্যাসীয় পদার্থসমূহের বলয় রয়েছে তা কী নামে পরিচিত?
  1. উল্কা
  2. গ্রহাণুপুঞ্জ
  3. নক্ষত্র
  4. ধূমকেতু
ব্যাখ্যা
গ্রহাণুপুঞ্জ (Asteroids):
- মঙ্গল ও বৃহস্পতি গ্রহের কক্ষপথ দুইটির মাঝামাঝি অবস্থানে গ্রহাণুপুঞ্জ রয়েছে।
- সৌরজগতে মঙ্গল ও বৃহস্পতি এই দুইটি গ্রহের মধ্যবর্তী অংশে অসংখ্য ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র গ্রহ একত্রে পূঞ্জীভূত হয়ে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে।
- এগুলোকে একত্রে গ্রহাণুপুঞ্জ বলে।
- গ্রহাণুপুঞ্জসমূহ একটি বলয়ের মতো ঘিরে থাকে, যা গ্রহাণুপুঞ্জ বলয় নামে অভিহিত।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,০৪৮.
বিশাল খোলা মাঠে দাঁড়িয়ে চারিদিকে তাকালে দিগন্তরেখার আকৃতি কীরূপ দেখা যায়?
  1. ক) বৃত্তাকার
  2. খ) সরলরেখার ন্যায়
  3. গ) উপবৃত্তাকার
  4. ঘ) চ্যাপ্টাকৃতির
ব্যাখ্যা
- বিশাল খোলা মাঠে বা সমুদ্রের তীরে দাঁড়িয়ে চারিদিকে তাকালে মনে হয় আকাশ ও ভূ-পৃষ্ঠ (পৃথিবীর উপরিভাগ) একটি বৃত্তাকার রেখায় মিশে গেছে। 
- এ বৃত্ত রেখার নাম দিগন্তরেখা। 
- পর্বতের উপরে বা প্লেনে যত উপরে উঠা যায়, ততই দিগন্ত রেখার পরিধি বৃদ্ধি পেলেও এর আকার বৃত্তাকার থাকে। 
- পৃথিবী গোলাকৃতির না হলে এরূপ হতো না।
 
উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
২,০৪৯.
পৃথিবীর নিকটতম ব্ল্যাক হোল কোনটি?
  1. Gaia BH1
  2. Gaia-BH3
  3. Sagittarius A
  4. ক ও গ উভয়ই
ব্যাখ্যা
- Gaia BH1 হলো পৃথিবীর নিকটতম ব্ল্যাক হোল।
- Gaia-BH3 হলো পৃথিবীর দ্বিতীয় নিকটতম ব্ল্যাক হোল।
- ১৯৬৯ সালে মার্কিন বিজ্ঞানী জন হুইলার সর্বপ্রথম ব্ল্যাক হোল বা কৃষ্ণগহ্বর শব্দটি ব্যবহার করেন।
- একটি কৃষ্ণগহ্বর বা ব্ল্যাক হোল হলো মহাকাশের এমন একটি স্থান যেখানে মধ্যাকর্ষণ বল এতটাই শক্তিশালী যে সেখান থেকে কোন কিছুই বের হতে পারে না।
- এমনকি আলোর মত তড়িৎ-চৌম্বকীয় বিকিরণও এই প্রচন্ড আকর্ষণ বল ভেদ করে বের হয়ে আসতে পারে না
- আইনস্টাইনের বিখ্যাত সাধারণ আপেক্ষিকতার তত্ত্ব ভবিষ্যদ্বাণী করে যে, মহাশূন্যে ব্ল্যাক হোলের অস্তিত্ব থাকতে পারে।
- ব্ল্যাক হোলে পদার্থের অত্যাধিক ঘনত্বের কারণে এটি এর চার দিকে এই অস্বাভাবিক মধ্যাকর্ষণ বল তৈরি করতে পারে।

উৎস:
১. NASA website.
২. [scientificamerican.com]
৩. [space.com]
২,০৫০.
পৃথিবীর অন্তঃস্থলের তাপমাত্রা কত?
  1. ৩০০০–৪০০০° সেলসিয়াস
  2. ৪০০০–৫০০০° সেলসিয়াস
  3. ৫০০০–৬০০০° সেলসিয়াস
  4. ৬০০০–৭০০০° সেলসিয়াস
ব্যাখ্যা
পৃথিবীর অন্তঃস্থল বা Inner Core প্রধানত লোহা ও নিকেল দিয়ে গঠিত। এর তাপমাত্রা প্রায় সূর্যের পৃষ্ঠের সমান (৫০০০–৬০০০° সেলসিয়াস)।

পৃথিবীর কেন্দ্র (Earth’s Core):

- পৃথিবীর কেন্দ্রক হলো অত্যন্ত উত্তপ্ত ও ঘন বল-আকৃতির অংশ।
- এটি পৃথিবীর পৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২,৯০০ কিমি গভীরে অবস্থিত।
- মোট ব্যাসার্ধ: প্রায় ৩,৪৮৫ কিমি।

বহিঃকেন্দ্র (Outer Core):
- পুরুত্ব: প্রায় ২,২০০ কিমি।
- উপাদান: তরল লোহা (Fe) ও নিকেল (Ni) এর মিশ্রণ (NiFe alloy)।
- তাপমাত্রা: ৪,৫০০°–৫,৫০০° সেলসিয়াস।

অন্তঃকেন্দ্র (Inner Core):
- ব্যাসার্ধ: প্রায় ১,২২০ কিমি।
- উপাদান: কঠিন স্ফটিক আকারের লোহা (প্রধানত Fe)।
- তাপমাত্রা: প্রায় ৫,২০০° সেলসিয়াস (সাম্প্রতিক গবেষণায় প্রায় ৬,০০০° সেলসিয়াস — সূর্যের পৃষ্ঠের সমান)।
- চাপ: প্রায় ৩.৬ মিলিয়ন বায়ুমণ্ডল (atm)।

উৎস: 
১। National Geographic ওয়েবসাইট। 
২। বিবিসি পত্রিকার রিপোর্ট। [লিংক] 
২,০৫১.
“সূর্যই হচ্ছে সৌরজগতের কেন্দ্র এবং পৃথিবী ও অন্যান্য গ্রহগুলো এর চারিদিকে ঘূর্ণায়মান” - এই মতবাদের প্রবক্তা কে?
  1. ক) কোপার্নিকাস
  2. খ) গ্যালিলিও
  3. গ) রজার বেকন
  4. ঘ) নিউটন
ব্যাখ্যা

বিখ্যাত বিজ্ঞানী ও দার্শনিক অ্যারিস্টটল মনে করতেন পৃথিবীর চারপাশে সূর্য ঘােরে।
বিখ্যাত গণিতবিদ ও জ্যোতির্বিজ্ঞানী টলেমী জোরালােভাবে বলেন যে পৃথিবীকে কেন্দ্র করেই সবকিছু ঘুরছে।
কোপারনিকাস নামে একজন জ্যোর্তিবিদ সম্পূর্ণ নতুন মতবাদ ব্যাক্ত করেন। তিনি পৃথিবীকেন্দ্রিক মডেলের পরিবর্তে সূর্যকেন্দ্রিক মডেলের প্রস্তাব করেন। তার মডেলের মূল কথা ছিল পৃথিবী সূর্যকে কেন্দ্র করে ঘােরে।
পরবর্তীতে বিজ্ঞানী কেপলার ও গ্যলিলিও, কোপারনিকাসের মতবাদের পক্ষে প্রমাণ হাজির করেন।
সূত্রঃ বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি

২,০৫২.
গ্যালাপ্যাগোস দ্বীপপুঞ্জ থেকে বিভিন্ন প্রাণীর নমুনা সংগ্রহ করেন কে?
  1. আল বিরুনী
  2. ক্যারোলাস লিনিয়াস
  3. চার্লস রবার্ট ডারউইন
  4. লিউয়েন হুক
ব্যাখ্যা
বিবর্তন: 
- বিবর্তন একটি জৈবিক পদ্ধতি। এর প্রকৃত অর্থ হলো ক্রমবিকাশ। 
- পৃথিবীতে বর্তমানে যত জীব রয়েছে তারা বিভিন্ন সময়ে এ ভূমণ্ডলে আবির্ভূত হয়েছে। আবার অনেক উদ্ভিদ ও প্রাণী সময়ের আবর্তে বিলুপ্ত হয়েছে। 
যেমন- ডাইনোসর আজ থেকে কয়েক মিলিয়ন বছর আগে বিলুপ্ত হয়েছে। 
- কয়েক লক্ষ বা হাজার বছর সময়ের ব্যাপকতায় জীব প্রজাতির পৃথিবীতে আবির্ভাব ও টিকে থাকার জন্য যে পরিবর্তন ও অভিযোজন প্রক্রিয়া তাকে জৈব বিবর্তন বলা হয়। 
- হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক স্টেফেন জে. গোল্ড (১৯৯১) এর মতে 'Evolution' পরিপদটি সর্বপ্রথম ব্যবহার করেন জার্মান জীববিদ Albrecht von Haller (১৭৭৪ সালে)। 
- তিনি বলেন ধীর অথচ ক্রমাগত ও পর্যায়ক্রমিক পরিবর্তনের মাধ্যমে কোন সত্ত্বা সরল থেকে জটিল হওয়ার ধারাবাহিক পরিবর্তনই বিবর্তন। 
- কোন প্রাণী বা উদ্ভিদ ধীরে ধীরে ধারাবাহিক রূপান্তরের মাধ্যমে একটি সম্পূর্ণ নতুন প্রাণী বা উদ্ভিদ এ পরিণত হওয়াকে অভিব্যক্তি বলা হয়। 
- অভিব্যক্তির মূল কথা হলো প্রজাতিগুলো পরিবর্তনযোগ্য অর্থাৎ দীর্ঘ সময়ের ব্যবধানে জীবের চেহারায় পরিবর্তন ঘটে। 

- ইংরেজ প্রকৃতি বিজ্ঞানী চার্লস রবার্ট ডারউইন অভিব্যক্তির কলাকৌশল সম্পর্কিত তাঁর মতামত ১৮৫৯ খ্রিস্টাব্দে ২৮ নভেম্বর 'The Origin of Species by means of Natural Selection' নামক বইটিতে প্রকাশ করেন। 
- তাঁর মতামত প্রাকৃতিক নির্বাচন মতামত নামে পরিচিত। 
- তিনি (১৮৩১) H.M. B. S. Beagle নামক জাহাজে প্রকৃতিবিদ হিসেবে চাকরি পেয়ে বিশ্ব ভ্রমণে বাহির হন। 
- চার্লস রবার্ট ডারউইন আটলান্টিক মহাসাগরে অবস্থিত দক্ষিণ আমেরিকার বিভিন্ন দ্বীপ, তাহিতি, নিউজিল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, মরিশাস, মালদ্বীপ, ব্রাজিল ও গ্যালাপ্যাগোস দ্বীপপুঞ্জে প্রায় পাঁচ বছর ধরে পরিভ্রমণ করেন এবং বিভিন্ন প্রাণীর নমুনা সংগ্রহ করেন। 
- ডারউইনের দায়িত্ব ছিল বিভিন্ন স্থানের উদ্ভিদ ও প্রাণী পর্যবেক্ষণ করা এবং এদের নমুনা সংরক্ষণ করা। 
- গ্যালাপ্যাগোস দ্বীপপুঞ্জে ভ্রমণকালে ডারউইন প্রত্যেক দ্বীপের পাখি ও কচ্ছপকে কিছুটা ভিন্ন চেহারায় দেখতে পান। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,০৫৩.
নিচের কোনটি সূর্যের নিকটতম নক্ষত্র?
  1. Proxima Centauri
  2. Vega
  3. Sirius
  4. Mars
ব্যাখ্যা

• সূর্যের সবচেয়ে নিকটতম নক্ষত্র হলো Proxima Centauri (প্রক্সিমা সেন্টারাই)।

• প্রক্সিমা সেন্টারাই:
- ১৯১৫ খ্রিষ্টাব্দে স্কটিশ জ্যোতির্বিদ ও দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গের ইউনিয়ন অবজারভেটরির পরিচালক রবার্ট আইনেস এই নক্ষত্রটি পর্যবেক্ষণ করেন।
- তিনি নক্ষত্রটি "প্রক্সিমা সেন্টারাই" নামকরণের প্রস্তাব দেন (মূলত প্রক্সিমা সেন্টারাস)।
- পৃথিবী থেকে এটির দূরত্ব প্রায় ৪.২ আলোকবর্ষ।
- যেসব জ্যোতিষ্কের নিজস্ব আলো রয়েছে তাদের নক্ষত্র বলা হয়। সূর্য এরূপ একটি নক্ষত্র।
- অর্থাৎ সূর্য ব্যতীত পৃথিবীর নিকটতম নক্ষত্র প্রক্সিমা সেন্টারাই।

• নক্ষত্র:
- যেসব জ্যোতিষ্কের নিজের আলো আছে তাদের নক্ষত্র বলে। মহাকাশে অসংখ্য নক্ষত্র রয়েছে।
- সূর্য এরূপ একটি নক্ষত্র।
- সূর্য পৃথিবীর নিকটতম নক্ষত্র।
- সূর্য থেকে পৃথিবীতে আলো আসতে সময় লাগে ৮ মিনিট ১৯ সেকেন্ড।
- নক্ষত্রগুলো হলো জ্বলন্ত গ্যাসপিণ্ড, এরা হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম গ্যাস দিয়ে তৈরি।
- এই গ্যাস অতি উচ্চ (প্রায় ৬০০০° সেলসিয়াস) তাপমাত্রায় জ্বলছে।
- সূর্যের প্রখর আলোর জন্য দিনের বেলায় অন্যান্য নক্ষত্র দেখা যায় না ।
- পৃথিবী থেকে দেখলে মনে হয় নক্ষত্রগুলো যেন একই সমতলে অবস্থান করছে।
- পৃথিবী ও নক্ষত্রদের মধ্যে এবং নক্ষত্রদের পরস্পরের মধ্যে দূরত্ব আলোক বর্ষ এককে মাপা হয়।
- আলো প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৩ লক্ষ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে।
- এই বেগে এক বছরে আলো যে পরিমাণ দূরত্ব অতিক্রম করে তাকে এক আলোক বর্ষ বলে।

অন্যান্য অপশন:
- Vega বা অভিজিৎ নক্ষত্রটি পৃথিবী থেকে প্রায় ২৫ আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত।
- Sirius বা লুব্ধক আকাশের উজ্জ্বলতম নক্ষত্র হলেও এটি পৃথিবী থেকে প্রায় ৮.৬ আলোকবর্ষ দূরে যা প্রক্সিমা সেন্টারাইয়ের দ্বিগুণ।
- Mars বা মঙ্গল কোনো নক্ষত্র নয় বরং এটি সৌরজগতের একটি গ্রহ।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

২,০৫৪.
এসিড বৃষ্টিতে কোনটির পরিমাণ বেশি থাকে?
  1. ক) সালফিউরিক এসিড
  2. খ) কার্বনিক এসিড
  3. গ) ইথানয়িক এসিড
  4. ঘ) হাইড্রোক্লোরিক এসিড
ব্যাখ্যা

- এসিড বৃষ্টি বা অম্ল বৃষ্টি হলো একধরণের বৃষ্টিপাত যেক্ষেত্রে পানি অম্লীয় প্রকৃতির হয়। এক্ষেত্রে পানির pH 7 এর চেয়ে কম হয়ে থাকে। এটি এমন এক ধরনের বৃষ্টি যাতে এসিড উপস্থিত থাকে।
- এসিড বৃষ্টিতে সালফিউরিক এসিড এবং নাইট্রিক এসিডের পরিমাণ বেশি থাকে।
- অপরদিকে, হাইড্রোক্লোরিক এসিড অল্প পরিমাণে থাকে।

উৎস: নবম দশম শ্রেণির বিজ্ঞান

২,০৫৫.
জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ কর্তৃক শনাক্তকৃত সর্বাধিক পুরোনো সুপারনোভা কোনটি? 
  1. জিআরপি ৯৯৯
  2. জিআরপি ১৮০ 
  3. জিআরপি ২৫০৩১৪এ
  4. জিআরপি ১০০১
ব্যাখ্যা

সুপারনোভা: 
- সুপারনোভা হলো শক্তিশালী ও আলোকিত নাক্ষত্রিক বিস্ফোরণ, যা সাধারণত বিশাল নক্ষত্রের জীবনের শেষে ঘটতে দেখা যায়। বিশাল এ বিস্ফোরণের মাধ্যমে মূলত নক্ষত্র ধ্বংস হওয়ার পর তারা বা কৃষ্ণবিবরে পরিণত হয়। 
- মহাবিশ্বের শুরুর দিকে বিশাল এক নক্ষত্র বিস্ফোরিত হয়েছিল। সেই বিস্ফোরণের আলো শত শত কোটি বছর মহাকাশে পাড়ি দিয়ে অবশেষে নাসার জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপে ধরা পড়েছে সুপারনোভা জিআরপি ২৫০৩১৪এ। 
- নাসার তথ্যমতে, এই সুপারনোভার সময় মহাবিশ্বের বয়স ছিল ৭৩০ মিলিয়ন বা ৭৩ কোটি বছর, জিআরপি ২৫০৩১৪এ এখন পর্যন্ত সরাসরি শনাক্ত করা সবচেয়ে পুরোনো সুপারনোভা। 
- এর মাধ্যমে জেমস ওয়েব টেলিস্কোপ তার নিজের আগের রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। এর আগে ওয়েব টেলিস্কোপ ১ দশমিক ৮ বিলিয়ন বা ১৮০ কোটি বছর পুরোনো একটি সুপারনোভা শনাক্ত করেছিল। 

- নেদারল্যান্ডসের র‍্যাডবাউড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানী অ্যান্ড্রু লেভান বলেন, ‘একমাত্র ওয়েব টেলিস্কোপের পক্ষেই এটি সরাসরি শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। এই আলো আসলে একটি সুপারনোভা বা বিশালাকার নক্ষত্রের মৃত্যু থেকে এসেছে। এই পর্যবেক্ষণ এটিও প্রমাণ করে, মহাবিশ্বের বয়স যখন বর্তমানের তুলনায় মাত্র ৫ শতাংশ ছিল, সেই সময়েরও একক কোনো নক্ষত্রকে আমরা এখন খুঁজে পেতে পারি।’ 
- ২০২৪ সালে ফ্রান্স ও চীনের উৎক্ষেপণ করা এসভিওএম টেলিস্কোপ মহাকাশে একটি শক্তিশালী গামা–রে বার্স্ট বা তেজস্ক্রিয় বিকিরণের ঝলক দেখতে পায়। সাধারণত বিশালাকার নক্ষত্রের মৃত্যুর সময় এমন দীর্ঘস্থায়ী ঝলক দেখা যায়। 
- নাসার সুইফট অবজারভেটরি দ্রুত এর অবস্থান শনাক্ত করে। এরপর ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের নর্ডিক অপটিক্যাল টেলিস্কোপে শনাক্ত করা হয় ইনফ্রারেড আভা। পরে চিলিতে অবস্থিত ভেরি লার্জ টেলিস্কোপ নিশ্চিত করে যে নক্ষত্র বিস্ফোরণের এ ঘটনা বিগ ব্যাংয়ের মাত্র ৭৩ কোটি বছর পর হয়েছে। 

উৎস: আর্থ ডটকম এবং প্রথম আলো পত্রিকা (২৮ ডিসেম্বর, ২০২৫) [লিঙ্ক]।

২,০৫৬.
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন কাজকে পর্যায়ক্রম অনুযায়ী সাজাতে হলে কোন কাজটি সর্বপ্রথমে হবে?
  1. পুনর্বাসন
  2. ঝুঁকি (Risk) চিহ্নিতকরণ
  3. দুর্যোগ প্রস্তুতি
  4. দুর্যোগ প্রশমন কর্মকাণ্ড
ব্যাখ্যা
• দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা: 
- ঝুঁকি অর্থ আপদ, বিপদাপন্নতার উপাদান এবং পরিবেশের আন্তঃক্রিয়া বা সম্মিলন ও সক্ষমতার ফলে উদ্ভূত সম্ভাব্য ক্ষতিকর অবস্থা। 
- দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় ঝুঁকি চিহ্নিতকরণ কাজটি সর্বপ্রথমে করতে হবে। 

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মূল লক্ষ্য হলো: 
• দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাস করা, 
• সম্পদ এবং পরিবেশের যে ক্ষতি হয়ে থাকে তা এড়ানো বা ক্ষতির পরিমাণ হ্রাস করা, 
• প্রয়োজন অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্ত জনগণের মধ্যে অল্প সময়ে সকল প্রকার ত্রাণ ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করা এবং 
• দুর্যোগ পরবর্তী পুনরুদ্ধার কাজ ভালভাবে সম্পন্ন করা। 
--------------------- 
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সম্পর্কিত আইন ও নীতিমালা:
- দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন ২০১২, 
- দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা ২০১৫,
- জাতিয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা (NPDM) ২০২১-২০২৫,
- বাংলাদেশ ব-দ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, একাদশ শ্রেণির ভূগোল- উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,০৫৭.
নিচের কোনটির ক্ষেত্রে দ্রাঘিমারেখার ভূমিকা রয়েছে?
  1. সময় নির্ধারণ
  2. জলবায়ু নির্ধারণ
  3. ঋতু পরিবর্তন
  4. বায়ু প্রবাহ
ব্যাখ্যা
দ্রাঘিমারেখার উপর সূর্যের অবস্থানের ভিত্তিতে সময় নির্ধারণ করা হয়

পুরো পৃথিবীকে মোট ৩৬০ ডিগ্রি দ্রাঘিমারেখায় বিভক্ত করা হয়েছে। প্রতি ডিগ্রি দ্রাঘিমার জন্যে সময়ের পার্থক্য হয় ৪ মিনিট করে। মূল মধ্যরেখা বা ০ ডিগ্রি দ্রাঘিমারেখায় অবস্থিত লন্ডনের গ্রিনিচ মানমন্দিরের সময়কে পৃথিবীর প্রমাণ সময় ধরা হয়।

মূল মধ্যরেখার পূর্বদিকে অবস্থিত অঞ্চলসমূহের ক্ষেত্রে প্রতি ডিগ্রি দ্রাঘিমার জন্যে ৪ মিনিট করে যোগ করে সেই স্থানের সময় নির্ণয় করতে হয়।
মূল মধ্যরেখার পশ্চিমদিকে অবস্থিত অঞ্চলসমূহের ক্ষেত্রে প্রতি ডিগ্রি দ্রাঘিমার জন্যে ৪ মিনিট করে সময় বিয়োগ করে সেই স্থানের সময় নির্ণয় করতে হয়।

১৮০ ডিগ্রি দ্রাঘিমারেখা আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা নামে পরিচিত যা প্রশান্ত মহসাগরের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করেছে।

অন্যদিকে,
দ্রাঘিমারেখা আবহাওয়া ও জলবায়ুর উপাদান বা নিয়ামক নয়। যার কারণে জলবায়ু নির্ধারণ, ঋতু পরিবর্তন কিংবা বায়ু প্রবাহের ক্ষেত্রে দ্রাঘিমোরেখান কোন ভূমিকা নেই।

(তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী)
২,০৫৮.
কোন ঘটনা সাধারণত সুনামি সৃষ্টি করে? 
  1. বৃষ্টি 
  2. সমুদ্রের তলদেশে ভূমিকম্প 
  3. পাহাড় ধস 
  4. নদীর বন্যা 
ব্যাখ্যা

সুনামি: 
- Tsunami একটি জাপানি শব্দ। 
- যার ‘সু’ অর্থ বন্দর এবং ‘নামি’ অর্থ ঢেউ। 
অর্থাৎ সুনামি শব্দের অর্থ হলো বন্দরের ঢেউ। 
- এটি একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ। 
- সমুদ্র তলদেশে ভূমিকম্প, আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত, ভূমিধস এবং নভোজাগতিক ঘটনা ইত্যাদি সুনামি সৃষ্টি করতে পারে। 

- সুনামি প্রাকৃতিক দুর্যোগটি শুধুমাত্র সাগরে সংঘটিত হয়। 
- সাধারণত সমুদ্রের তলদেশে একটা ভূমিকম্প হলে সুনামি তৈরি হয়। 
- ২০০৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর স্বরণকালের ভয়ঙ্কর একটি প্রাকৃতিক দূর্যোগ ঘটে। 
- ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা দ্বীপের কাছাকাছি ভারত মহাসাগরের তলদেশে সৃষ্টি হয়েছিল ট্রাক্টনিক ভূমিকম্প। 
- অগভীর পানিতে যাওয়ার সময় সুনামি তার শক্তি হারায়। 
- বঙ্গোপসাগরে ১৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত অগভীর পানি বাংলাদেশকে সুনামির কবল থেকে রক্ষা করে থাকে। 
- ১৭৬২ সালের ২ এপ্রিল বঙ্গোপসাগরের আরাকান অঞ্চলে সংঘটিত একটি ভূমিকম্প থেকে সৃষ্ট সুনামি বাংলাদেশে আঘাত এনেছিল। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। 

২,০৫৯.
নিচের কোনটি বারিমন্ডলের অংশ নয়?
  1. পাহাড়
  2. নদী
  3. সাগর
  4. হ্রদ
ব্যাখ্যা
• 'পাহাড়' বারিমন্ডলের অংশ নয়।  

• বারিমন্ডল:

- পৃথিবীর জলভাগই হলো বারিমন্ডল। বারিমন্ডলের ইংরেজি প্রতিশব্দ Hydrosphere।
- Hydro অর্থ পানি এবং Sphere অর্থ ক্ষেত্র। অর্থাৎ আভিধানিক অর্থে Hydrosphere এর অর্থ পানির ক্ষেত্র বা আধার।
- বারিমন্ডল হলো ভূ-ত্বকের অবনমিত অংশে অবস্থিত বিশাল পানিরাশি।
- পৃথিবীর প্রায় তিন-চতুর্থাংশ বারিমন্ডলের অন্তর্ভুক্ত।
- এই বিশাল পানিরাশির সবচেয়ে বড় আধার মহাসাগর এবং সাগর।
- এছাড়া রয়েছে অসংখ্য নদ-নদী, হ্রদ, খাল, বিল ও জলাশয়।

• বারিমণ্ডলের জলের পরিমাণ ভিত্তিক বন্টন:
• সমুদ্র (৯৭.২৫%),
• হিমবাহ (২.০৫%),
• ভূগর্ভস্থ পানি (০.৬৮%),
• হৃদ (০.০১%),
• মাটির আর্দ্রতা (০.০০৫%),
• বায়ুমণ্ডল (০.০০১%),
• নদী(০.০০০১%),
• জীবমণ্ডল (০.০০০০৪%)।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি ও ভূগোল প্রথম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,০৬০.
হ্যালির ধূমকেতু শেষবার কবে দেখা গিয়েছিল?
  1. ১৯৮৮ সালে
  2. ১৯৮০ সালে
  3. ১৯৮২ সালে
  4. ১৯৮৬ সালে
ব্যাখ্যা
• ধূমকেতু (Comet):
- মহাকাশে মাঝে মাঝে একপ্রকার জ্যোতিষ্কের আবির্ভাব ঘটে যাদের একটি মাথা ও একটি লেজ আছে, এসব জ্যোতিকে ধূমকেছূ বলে।
- ধূমকেতু আকাশের এক অতি বিস্ময়কর জ্যোতিক।
- সৌরজগতের মধ্যে ধূমকেতুর বসবাস হলেও এরা কিছুদিনের জন্য উপয় হরে পাবার অদৃশ্য হয়ে যায়।
- সূর্যের চারদিকে অনেক দূর দিয়ে এরা পরিক্রমণ করে।
- সূর্যের নিকটবর্তী হলে এদের দেখা যায়।

- এরা সূর্যের যত কাছাকাছি আসতে থাকে তত এর লেজ লম্বা হতে থাকে।
- এরা অনেক দীর্ঘ কক্ষপথে সূর্যকে পরিক্রমণ করে বলে অনেক বছর পর পর এরা আবির্ভূত হয়।
- জ্যোতির্বিজ্ঞানী এডমন্ড হ্যালি যে ধূমকেতু আবিষ্কার করেন তা হ্যালির ধূমকেতু নামে পরিচিত।
- হ্যালির ধূমকেতু প্রতি ৭৬ বছরে একবার দেখা যায়।
- মহাবিশ্ব ও আমাদের পৃথিবী হ্যালির ধূমকেতু ২৪০ খ্রিষ্টপূর্ব অব্দ থেকে দেখা যায় এবং সর্বশেষ ১৯৮৬ সালে হ্যালির ধূমকেতু দেখা গেছে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
২,০৬১.
যখন সূর্য ও পৃথিবীর মাঝে চাঁদ অবস্থান করে তখন কোনটি ঘটে? 
  1. পূর্ণিমা
  2. অমাবস্যা
  3. চন্দ্রগ্রহণ
  4. সূর্যগ্রহণ
ব্যাখ্যা
সূর্যগ্রহণ: 
- যখন সূর্য ও পৃথিবীর মধ্যে চাঁদ অবস্থান করে তখন হয় সূর্যগ্রহণ। 
- চাঁদ যখন পৃথিবীর কক্ষপথে ঘোরে, তখন তার প্রদক্ষিণ করার পথে কখনও কখনও সে এসে পড়ে সূর্য এবং পৃথিবীর মাঝখানে। 
- তখন সূর্য থেকে আলোর বিচ্ছুরণ বাধাগ্রস্ত হয় এবং সূর্যের গ্রহণ ঘটে। 
- অন্যভাবে বললে বলা যায়, চাঁদ এই সময় পৃথিবীকে তার ছায়ায় ঢেকে ফেলে। 

চন্দ্ৰগ্ৰহণ: 
- চন্দ্রগ্রহণ হয় যখন চাঁদ আর সূর্যের মাঝখানে থাকে পৃথিবীর অবস্থান। 
- পৃথিবী তখন আলোর উৎস বন্ধ করে দেয়। 
- চন্দ্রগ্রহণের সময় আমরা দেখি চাঁদের পিঠে পৃথিবীর ছায়া। 

পূর্ণিমা: 
- পূর্ণিমা তখনই হয়, যখন পৃথিবীর এক পাশে সূর্য এবং তার উল্টো পাশে চাঁদ অবস্থান করে। 

অমাবস্যা: 
- চাঁদ ও পৃথিবী আবর্তনকালে যখন চাঁদ, পৃথিবী ও সূর্য একই সরলরেখায় অবস্থান করে।
- চাঁদের অবস্থান হয় পৃথিবী ও সূর্যের মাঝখানে, সেই অবস্থাকে বলে অমাবস্যা। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি এবং বিবিসি বাংলা পত্রিকা রিপোর্ট।
২,০৬২.
দুইটি স্থানের দ্রাঘিমাংশের পার্থক্য কত হলে, সময়ের পার্থক্য ৪ মিনিট হয়?
  1. ১ ডিগ্রি
  2. ২ ডিগ্রি
  3. ৪ ডিগ্রি
  4. ১০ ডিগ্রি
ব্যাখ্যা
দ্রাঘিমাংশ:
- মূল মধ্যরেখা থেকে পূর্ব কিংবা পশ্চিমে অবস্থিত কোন স্থানের কৌণিক দূরত্বকে ঐ স্থানের দ্রাঘিমাংশ বলে।
- এটি বিষুবরেখা থেকে পৃথিবীর উত্তর বা দক্ষিণ দিকে অবস্থিত কোনো স্থানের কৌণিক দূরত্বের পরিমাপ।
- দ্রাঘিমাংশের পরিমাপ মোট ৩৬০ ডিগ্রি, যেখানে ০° থেকে ১৮০° পূর্ব এবং ০° থেকে ১৮০° পশ্চিমে দ্রাঘিমাংশ নির্ধারিত।
- স্থান এবং সময় নির্ণয়ের জন্য দ্রাঘিমাংশ ব্যবহার করা হয়।
- পৃথিবী ২৪ ঘণ্টায় ৩৬০° ঘুরে, অর্থাৎ প্রতি ঘণ্টায় পৃথিবী ১৫° দ্রাঘিমাংশ পার করে।
তাই, পৃথিবীর দুটি স্থানের দ্রাঘিমার পার্থক্য ১° হলে ঐ দুটি স্থানের সময়ের পার্থক্য হয় ৪ মিনিট।(কারণ ৬০ মিনিট ÷ ১৫° = ৪ মিনিট)

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,০৬৩.
জোয়ার ও ভাটাকে মোট কয়টি ভাগে ভাগ করা যায়?
  1. ক) ২টি
  2. খ) ৩টি
  3. গ) ৪টি
  4. ঘ) ৬টি
ব্যাখ্যা
জোয়ার-ভাটা
• সমুদ্রের পানি নির্দিষ্ট সময় ব্যবধানে একই জায়গায় ফুলে ওঠে আবার অন্য সময় নেমে যায়।
এর কারণ মূলত দুটি; যথা:-
১. চন্দ্র-সূর্যের আকর্ষণ শক্তি (যা মূলত মহাকর্ষ শক্তি) এবং
২. পৃথিবীর কেন্দ্রাতিগ শক্তি।
সমুদ্রের পানির এইরূপ ফুলে ওঠাকে জোয়ার এবং নেমে যাওয়াকে ভাটা বলে।

• সমুদ্রের একই জায়গায় প্রতিদিন দুইবার জোয়ার ও দুইবার ভাটা সংঘটিত হয়।

• জোয়ার-ভাটার শ্রেণিবিভাগ:-
জোয়ার-ভাটাকে নিম্নলিখিত চারটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে ; যথা:-
১. মুখ্য জোয়ার
২. গৌণ জোয়ার
৩. ভরা কটাল
৪. মরা কটাল


তথ্যসূত্র:- ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,০৬৪.
জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য কোন ধরনের শক্তি ব্যবহার করা হয়?
  1. ক) গতি শক্তি
  2. খ) বিভব শক্তি
  3. গ) যান্ত্রিক শক্তি
  4. ঘ) ঘর্ষণ শক্তি
ব্যাখ্যা
জলবিদ্যুৎ:
- পানি নবায়নযোগ্য শক্তির অন্যতম উৎস।
- পানির স্রোত ও জোয়ার-ভাটাকে ব্যবহার করে শক্তির উৎপাদন করা যায়।
- পানির স্রোতে আছে গতি শক্তি ও বিভব শক্তি।
- পানির স্রোতকে কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ শক্তি উৎপাদন করা যায়।
- একে জলবিদ্যুৎ বলা হয়।
- পানির স্রোতকে কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন পৃথিবীতে খুবই জনপ্রিয়।
- বাংলাদেশে রাঙ্গামাটির কাপ্তাইতে জলবিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র আছে।
- জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য বিভব শক্তি বা স্থিতি শক্তি ব্যবহার করা হয়। 
- পানির স্রোতের সাহায্যে একটি টার্বাইন ঘোরানো হয়।
- এই ট্রার্বাইনের ঘূর্ণন থেকেই এখানে যান্ত্রিক শক্তি ও চৌম্বকশক্তির সমন্বয় ঘটানো হয়।
- প্রবাহিত পানির স্রোত থেকে যান্ত্রিক শক্তি সংগ্রহ করে চৌম্বক শক্তির সমন্বয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।  
২,০৬৫.
Lunar eclipse occurs on-
  1. A new moon day
  2. A full moon day
  3. A half moon day
  4. A moonless day
ব্যাখ্যা
- Solar eclipses occur at the new moon, and lunar eclipses occur at full moon.
- But a solar eclipse does not occur at every new moon, nor does a lunar eclipse occur at every full moon, because the Moon's orbital plane is inclined to the ecliptic, the plane of the orbit of Earth around the Sun.

উৎস: britannica.com
২,০৬৬.
বিশুদ্ধ অর্ধপরিবাহীর সাথে সুনিয়ন্ত্রিত ও উপযুক্ত উপায়ে সামান্য পরিমাণ অপদ্রব্য মিশানোর প্রক্রিয়াকে কী বলে?
  1. ক) ট্রান্সেন্ডিং
  2. খ) মিক্সিং
  3. গ) ডোপিং
  4. ঘ) লুপিং
ব্যাখ্যা
ডোপিং
- বহির্জাত অর্ধপরিবাহী তৈরির জন্য বিশুদ্ধ অর্ধপরিবাহীর সাথে সুনিয়ন্ত্রিত ও উপযুক্ত উপায়ে সামান্য পরিমাণ অপদ্রব্য মিশানোর প্রক্রিয়াকে ডোপিং বলে।
- ডোপিং এর ফলে অর্ধপরিবাহীর তড়িৎ পরিবাহিতা বহুগুণ বৃদ্ধি পায়।

- ডোপিং এর জন্য দুই ধরনের অপদ্রব্য ব্যবহার করা হয়।
১. পর্যায় সারণির গ্রুপ-১৩ এর মৌল, যেমন –বোরন, অ্যালুমিনিয়াম, গ্যালিয়াম ইত্যাদি।
২. পর্যায় সারণির গ্রুপ-১৫ এর মৌল, যেমন – ফসফরাস, আর্সেনিক, এন্টিমনি ইত্যাদি। 

সূত্র: পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচএসসি পোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
২,০৬৭.
আমরা যে গ্যালাক্সিতে বাস করি তার নাম কী?
  1. আরসা মাইনর ড্রফ
  2. আরসা মেজর ২ ড্রফ
  3. আকাশগঙ্গা
  4. বুটেস ১
ব্যাখ্যা
 মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সি:
- সৌরজগতে সূর্যকে কেন্দ্র করে আটটি গ্রহ তাদের নিজস্ব কক্ষপথে অবিরত আবর্তন করে।
- পৃথিবী, গ্রহ, নক্ষত্র, ধূমকেতু, গ্যালক্সি সবকিছু নিয়েই গঠিত হয় মহাবিশ্ব।
- গ্যালাক্সি মহাবিশ্বের অংশ।
- এখানে রয়েছে হাজার হাজার কোটি নক্ষত্র ও গ্রহ, উপগ্রহ।
- পৃথিবী যে গ্যালাক্সির অন্তর্ভুক্ত তার নাম হলো মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সি বা আকাশগঙ্গা ছায়াপথ।
- এটি মাত্র এক লাখ আলোকবর্ষ পর্যন্ত বিস্তৃত।

উৎস: i) ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
         ii) ২৭ জুন, ২০২১, কালের কন্ঠ।
২,০৬৮.
ফটোগ্রাফিক প্লেটে আবরণ থাকে-
  1. সিলভার ব্রোমাইডের
  2. সিলভার ক্লোরাইডের
  3. সিলভার সালফেটের
  4. সিলভার নাইট্রেটের
ব্যাখ্যা
- ফটোগ্রাফিক প্লেটে আবরণ থাকে সিলভার ব্রোমাইডের। 
- সিলভার ব্রোমাইডের রাসায়নিক সংকেত হলো AgBr. 
- ফটোগ্রাফিক প্লেটে আবরণ সাধারণত সিলভার  হ্যালাইডের (ব্রোমাইড বা আয়োডাইড) আবরণ থাকে। 
- ব্রোমাইড একটি রাসায়নিক যৌগ যাতে একটি ব্রোমাইড আয়ন বা লিগ্যান্ড রয়েছে। 
- এটি −১ (Br) আধান সহ আয়নিত একটি ব্রোমাইড পরমাণু। 
যেমন- সিজিয়াম ব্রোমাইড এর সিজিয়াম ধনাত্মক আয়ন(CS+)বৈদ্যুতিক ভাবে আকর্ষিত হতে পারে ব্রোমাইড অ্যানায়ন(Br) এর প্রতি। 
- ফলে বৈদ্যুতিকভাবে নিরপেক্ষ আয়নিক যৌগ CsBr গঠিত হয়। 
Dry plate, in photography, glass plate coated with a gelatin emulsion of silver bromide. It can be stored until exposure, and after exposure it can be brought back to a darkroom for development at leisure. 
 
উৎস: ব্রিটানিকা এবং বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
২,০৬৯.
মহাকাশে তারকার বিস্ফোরণকে কী বলে?
  1. ব্ল্যাকহোল
  2. শ্বেতবামন
  3. সুপারনোভা
  4. আলফা সেন্টুরি
ব্যাখ্যা
সুপারনোভা:
- সুপারনোভা শব্দটির বাংলা করলে দাড়ায় ‘অতিনবতারা’।
- সুপারনোভা হল এক ধরনের নাক্ষত্রিক বিস্ফোরণ প্রক্রিয়া, যার কারণে একটি নক্ষত্র ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়ে যায় এবং অবশেষরূপে থাকে শীতল নীহারিকা এবং কৃষ্ণবিবর।
- কোটি কোটি বছর ধরে জ্বলতে থাকা তারকার যখন জ্বালানি সম্পূর্ণরূপে শেষ হয়ে যায়, তখন নক্ষত্রটি তার পরিণতিতে পৌঁছে যাওয়ার আগে স্ফিত এবং উজ্জ্বল হয়ে ওঠে এবং বিস্ফোরিত হয়। - - দূর হতে আপাতদৃষ্টিতে মনে হয় তারকাটি উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে।
- উজ্জ্বল হয়ে ওঠা এই ঘটনাটাই সুপারনোভা হিসেবে পরিচিত।
- এই ধরনের বিস্ফোরণে বিপুল পরিমাণ শক্তি নির্গত হয় এবং সে সময়ে সংশ্লিষ্ট নক্ষত্রটি সাময়িকভাবে কখনো কখনো পুরো ছায়াপথের চেয়েও বেশি উজ্জ্বল হয়ে ওঠে।
- আর এই সুপারনোভা ঘটনার মাধ্যমেই একটি নক্ষত্রের মৃত্যু ঘটে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,০৭০.
গামা রশ্মি নিচের কোনটি ভেদ করতে পারে না?
  1. ক) কাগজের পৃষ্ঠা
  2. খ) পুরু সিসার পাত
  3. গ) পুরু অ্যালুমিনিয়াম
  4. ঘ) সবগুলো ভেদ করতে পারে
ব্যাখ্যা
আলফা রশ্মি খুব বেশি আয়নিত করে শক্তি ক্ষয় করতে পারে বলে একটা কাগজের পৃষ্ঠা দিয়েই এটাকে থামানো সম্ভব। 
বিটা রশ্মি বা ইলেকট্রনকে থামাতে কয়েক মিলিমিটার পুরু অ্যালুমিনিয়াম দরকার হয়। 
গামা রশ্মির চার্জ নেই বলে এটিকে থামাতে পুরু সিসার পাতের দরকার হয়।
 
 
উৎস: নবম-দশম শ্রেণি; পদার্থবিজ্ঞান বোর্ড বই। 
২,০৭১.
'Tidal Bore' শব্দের অর্থ-
  1. ক) ঘূর্ণিঝড়
  2. খ) উপকূলীয় অঞ্চল
  3. গ) সুনামি
  4. ঘ) জলোচ্ছ্বাস
ব্যাখ্যা
'Tidal Bore' শব্দের অর্থ জলোচ্ছ্বাস। Cyclone শব্দের অর্থ ঘূর্ণিঝড় এবং Coastal area মানে উপকূলীয় অঞ্চল।
২,০৭২.
ফোটন বলতে কী বোঝায়?
  1. ক) শব্দের তরঙ্গ ধর্মের একক
  2. খ) আলোর কণা ধর্মের একক
  3. গ) কোনো ফুটন্ত বস্তুর তাপ প্রবাহের পরিমাপ
  4. ঘ) কৃষ্ণবিবরের ভরের পরিমাপ
ব্যাখ্যা
ফোটন হচ্ছে আলোর কণা বা ক্ষুদ্রতম একক।
প্লাঙ্কের তত্ত্ব অনুসারে - আলোকরশ্মি কোন শক্তি হতে অনবরত বের না হয়ে অসংখ্য ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বিচ্ছিন্ন প্যাকেট বা শক্তি বের হয়। প্রত্যেক বর্ণের আলোর জন্য এক একটি বিচ্ছিন্ন প্যাকেটের শক্তির নির্দিষ্ট মান রয়েছে। এই এক একটি বিচ্ছিন্ন প্যাকেটকে কোয়ান্টাম বা ফোটন বলে।
ফোটনের কিছু ধর্ম বা বৈশিষ্ট্য দেয়া হলো-
১. পদার্থের ক্ষুদ্র অংশ কে যেমন পরমাণু বলে, তেমনি আলোর ক্ষুদ্র অংশকে ফোটন বলে।
২. ফোটন আলোর বেগে প্রবাহিত হয়।
৩. ফোটনের স্থিতি ভর শূন্য।
৪. প্রতি ফোটনের নির্দিষ্ট শক্তি এবং নির্দিষ্ট রৈখিক ভরবেগ আছে।
৫. ফোটন তড়িৎ নিরপেক্ষ। এর কোন চার্জ নেই।
৬. ফোটন এর কণা-তরঙ্গ দ্বৈত রুপ আছে।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
২,০৭৩.
পৃথিবীর কোন গতির কারণে দিন-রাত্রির হ্রাস-বৃদ্ধি হয়ে থাকে?
  1. আহ্নিক গতি
  2. বার্ষিক গতি
  3. মহাকর্ষীয় গতি
  4. কোনোটিই নয় 
ব্যাখ্যা

বার্ষিক গতির কারণে দিন-রাত্রির হ্রাস-বৃদ্ধি হয়ে থাকে। 

আহ্নিক গতি:
পৃথিবী তার নিজ অক্ষের উপর পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে নির্দিষ্ট গতিতে আবর্তিত হচ্ছে, যা আহ্নিক গতি নামে পরিচিত।

পৃথিবীর আহ্নিক গতির ফলে সংঘটিত উদাহরণসমূহ:
- দিন-রাত্রি সংঘটন,
- জোয়ার-ভাঁটা সৃষ্টি,
- বায়ুপ্রবাহ ও সমুদ্রস্রোত সৃষ্টি,
- তাপমাত্রার তারতম্য সৃষ্টি,
- জীবজগতের সৃষ্টি ও বংশবিস্তার প্রভৃতি।

বার্ষিক গতি:
সূর্যের মহাকর্ষ বলের প্রভাবে পৃথিবী তার নিজ অক্ষের উপর অবিরাম ঘূর্ণনের সাথে সাথে নির্দিষ্ট পথে নির্দিষ্ট দিকে (ঘড়ির কাটার বিপরীত দিকে) নির্দিষ্ট সময়ে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করছে, যা পৃথিবীর বার্ষিক গতি নামে পরিচিত।

পৃথিবীর বার্ষিক গতির ফলে সংঘটিত উদাহরণসমূহ:
- ঋতু পরিবর্তন,
- দিন-রাত্রির হ্রাস-বৃদ্ধি।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

২,০৭৪.
বিদ্যুচ্চমক সৃষ্টি হয় - 
  1. দুটি আহিত মেঘের ঘর্ষণের ফলে
  2. দুটি মেঘের ঘর্ষণের ফলে
  3. পৃথিবীর সাথে আহিত মেঘের আধান বিনিময়ের ফলে
  4. বিপরীত আধানে আহিত দুটি মেঘের মধ্যে তড়িৎক্ষরণের ফলে
ব্যাখ্যা
বজ্রপাত: 
- সাধারণত গ্রীষ্ম ও বর্ষাকালে বায়ুতে প্রচুর জলীয় বাষ্প থাকে। 
- এই জলীয় বাষ্পগুলো বাতাসের আহিত আয়নগুলোর উপর ঘনীভূত হয়ে জলকণা সৃষ্টি করে এবং আহিত আয়নগুলোর আধানে আহিত হয়। 
- বাতাসে ভাসমান এই ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জলকণাগুলো তাপমাত্রার পার্থক্যের কারণে বায়ুপ্রবাহের সাথে সাথে উপরে উঠে যায় এবং শীতল হয়। 
- তাছাড়া উপরে বায়ুর চাপ কম থাকায় বাতাস প্রসারিত হয় এবং আরো শীতল হয়। 
- শীতল ভাসমান এই ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জলকণাগুলো একত্রিত হয়ে মেঘের সৃষ্টি করে। 
- বাতাসের আহিত আয়নগুলোর জলীয় বাষ্প ঘনীভূত হয়ে জলকণা সৃষ্টি করে, সেহেতু মেঘ ধনাত্মক বা ঋণাত্মক যেকোনো আধানে আহিত হতে পারে। 
- মেঘের আকারের উপর তাদের আধানের পরিমান নির্ভর করে। 
- দুই ধরণের আহিত মেঘ কাছাকাছি আসলে তাদের মধ্যে তড়িৎক্ষরণ ঘটে এবং বিরাট অগ্নিস্ফুলিঙ্গ সৃষ্টি হয়, যার ফলে বিদ্যুচ্চমক সৃষ্টি হয়। 
- কোনো কোনো ক্ষেত্রে এই অগ্নিস্ফুলিঙ্গের তাপমাত্রা সূর্য পৃষ্ঠের তাপমাত্রার চেয়েও বেশী হয়। 
- সৃষ্ট অগ্নিস্ফুলিঙ্গের পথে বাতাসগুলো তাপ পেয়ে হঠাৎ প্রসারিত হয় এবং পার্শ্ববর্তী বাতাসকে প্রচন্ড জোরে ধাক্কা বা চাপ দেয়। এর ফলে প্রচন্ড শব্দ হয়। 
- এই চাপ বাতাস বাহিত হয়ে ভূ-পৃষ্ঠে আসে। 
- চাপের কিছু অংশ দুই মেঘের মধ্যে বার বার প্রতিফলিত হয়ে ভূ-পৃষ্ঠে আসে। 
- এই জন্য আমরা গড় গড় শব্দ শুনি। একেই মেঘের গর্জন বলে। 
- প্রচুর আধানযুক্ত কোনো মেঘ যদি ভূ-পৃষ্ঠের কাছাকাছি চলে আসে তাহলে আবেশ প্রক্রিয়ায় ভূ-পৃষ্ঠের সেই অংশ বিপরীতধর্মী আধানে আহিত হয়। 
- সেই স্থাানের গাছপালা বা বাড়ীঘর তুলনামুলক মেঘের কাছে থাকায় এবং এর ক্ষেত্রফল কম হওয়ায় এদের শীর্ষ বিন্দুগুলোর আধানের তলমাত্রিক ঘনত্ব অনেক বেশী হয়। 
- এদের আকর্ষণে তড়িৎক্ষরণের মাধ্যমে ভূ-পৃষ্ঠে চলে আসে। একে আমরা বজ্রপাত বলি। 
- এই বজ্রপাতের ফলে প্রচন্ড উত্তাপের সৃষ্টি হয় এবং আগুন ধরে যায়। 
- এই বজ্রপাতের ফলে যে শব্দের সৃষ্টি হয় তাকে আমরা বজ্রনাদ বলি। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,০৭৫.
‘গ্রীণ হাউজ ইফেক্ট’ বলতে বুঝায়- 
  1. তাপ আটকা পড়ে সার্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি।
  2. সূর্যালোকের অভাবে সালোকসংশ্লেষণে ঘাটতি।
  3. উপগ্রহের সাহায্যে দূর থেকে ভূ-মণ্ডলের অবলোকন।
  4. প্রাকৃতিক চাষের বদলে ক্রমবর্ধমানভাবে কৃত্রিম চাষের প্রয়োজনীয়তা।
ব্যাখ্যা
গ্রীন হাউস ইফেক্ট: 
- পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধির মাধ্যমে পরিবর্তনশীল আবহাওয়ার প্রক্রিয়াকে গ্রীন হাউস ইফেক্ট বলে। 
- বায়ুমণ্ডলে উপস্থিত যেসব গ্যাসীয় CO2, CFC, N2O2, CO, O3 ইত্যাদি পদার্থের আবরণ পৃথিবীকে আচ্ছাদন রূপে ঢেকে রেখে পৃথিবী পৃষ্ঠ হতে বিকিরিত তাপকে মহাশূন্যে ফিরে যেতে বাঁধা দেয় এবং বায়ুমণ্ডলকে উত্তপ্ত রাখে তাদেরকে গ্রীন হাউজ গ্যাস বলে। 
- পরিবেশ দূষণ এবং গাছপালা কেটে ফেলার ফলে গ্রীন হাউস গ্যাসের পরিমাণ বাড়ছে, ফলে সূর্য থেকে তাপ বিকিরিত হয়ে পৃথিবীতে ঢোকার পর যতটা আবার পৃথিবীর বাইরে বিকিরিত হওয়া উচিত তা হচ্ছে না, ফলে পৃথিবীর তাপমাত্রা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। 
- গ্রিন-হাউজ ইফেক্ট এর ফলে তাপ আটকে পড়ে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের সার্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়। 

উৎস: ভূগোল, নবম-দশম শ্রেণি।
২,০৭৬.
আলোর কোয়ান্টাম তত্ত্বের সাহায্যে ফটোতড়িৎ ক্রিয়া ব্যাখ্যা করার জন্য আইনস্টাইন কত সালে নোবেল পুরস্কার পান?
  1. ক) ১৯০১
  2. খ) ১৯০৫
  3. গ) ১৯২১
  4. ঘ) ১৯২৫
ব্যাখ্যা
কোন কোন ধাতুর উপর আলো পড়লে তাৎক্ষণিক ইলেকট্রন নির্গত হয়, একে ফটোতড়িৎ ক্রিয়া বলে। আলোর তরঙ্গ ধর্মের সাহায্যে এই ঘটনার ব্যাখ্যা করা যায় না। ১৯০৫ সালে আইনস্টাইন আলোর কোয়ান্টাম তত্ত্বের সাহায্যে এই ঘটনার ব্যাখ্যা দেন। সেজন্য তাকে ১৯২১ সালে নোবেল পুরস্কার দেয়া হয়।
উৎসঃ পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২,০৭৭.
ভূপৃষ্ঠের সৌরদীপ্ত ও অন্ধকারাচ্ছন্ন অংশের সংযোগস্থলকে বলে-
  1. ঊষা
  2. গোধূলি
  3. গুরুবৃত্ত
  4. ছায়াবৃত্ত
ব্যাখ্যা
- ভূপৃষ্ঠের সৌরদীপ্ত ও অন্ধকারাচ্ছন্ন অংশের সংযোগস্থলকে ছায়াবৃত্ত বলে। 
- আবর্তনের ফলে পৃথিবীর যে অংশ অন্ধকার থেকে ছায়াবৃত্ত পার হয়ে সবেমাত্র আলোকিত অংশ পৌঁছায় সেখানে প্রভাত হয়। 
- প্রভাতের কিছু পূর্বে যে সময় ক্ষীণ আলো থাকে সেখানে ঊষা এবং সন্ধ্যার কিছু পূর্বে যে সময় ক্ষীণ আলো থাকে সে সময়কে গোধূলি বলে। 

উৎস: ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট।
২,০৭৮.
নক্ষত্রের গঠন মূলত কীরূপ?
  1. শীতল প্রস্তরখণ্ডের ন্যায়
  2. তাপবিহীন
  3. জলন্ত গ্যাসপিণ্ডের ন্যায়
  4. শীতল গ্যাস পিণ্ডর ন্যায়
ব্যাখ্যা
• নক্ষত্র-
- যেসব জ্যোতিষ্কের নিজের আলো আছে তাদের নক্ষত্র বলে।

• মহাকাশে অসংখ্য নক্ষত্র রয়েছে। খালি চোখে আমরা মাত্র কয়েক হাজার নক্ষত্র দেখতে পাই।
- এদের কয়েকটি পৃথিবী থেকে শক্তিশালী দূরবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্যে দেখা যায়।

• নক্ষত্রগুলো হলো জ্বলন্ত গ্যাসপিন্ড, এরা হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম গ্যাস দিয়ে তৈরি।
- এই গ্যাস অতি উচ্চ (প্রায় ৬০০০° সেলসিয়াস) তাপমাত্রায় জ্বলছে।
- সূর্যের প্রখর আলোর জন্য দিনের বেলায় অন্যান্য নক্ষত্র দেখা যায় না।

• পৃথিবী থেকে দেখলে মনে হয় নক্ষত্রগুলো যেন একই সমতলে অবস্থান করছে।
- কিন্তু পৃথিবী থেকে এরা বিভিন্ন দূরত্বে অবস্থান করছে।
- পৃথিবী ও নক্ষত্রদের মধ্যে এবং নক্ষত্রদের পরস্পরের মধ্যে দূরত্ব এত বেশি যে কিলোমিটার দ্বারা এই দূরত্ব প্রকাশ করা যায় না।

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক ভূগোল ও পরিবেশ, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
২,০৭৯.
ফটোগ্রাফিক ফ্ল্যাশ লাইটে প্রধানত কোন গ্যাস ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) হিলিয়াম
  2. খ) নিয়ন
  3. গ) আরগন
  4. ঘ) জেনন
ব্যাখ্যা
পর্যায় সারণির শূন্য গ্রুপের মৌলসমূহ রাসায়নিকভাবে নিষ্ক্রিয় এবং কক্ষ তাপমাত্রায় গ্যাসীয়। এগুলোকে নিষ্ক্রিয় গ্যাস বলে।
- নিষ্ক্রিয় গ্যাস মোট ৭টি।
- এগুলো হলো- হিলিয়াম, নিয়ন, আর্গন, ক্রিপ্টন, জেনন, রেডন ও ওগানেসন।
- ফটোগ্রাফিক ফ্ল্যাশ লাইটে প্রধানত জেনন গ্যাস ব্যবহৃত হয়।
২,০৮০.
পৃথিবীর একপাশে চাঁদ ও অপর পাশে সূর্য অবস্থান করে কখন?
  1. অমাবস্যা তিথি
  2. পূর্নিমা তিথি
  3. সপ্তমী তিথি
  4. অষ্টমী তিথি
ব্যাখ্যা
অমাবস্যা তিথিতে চন্দ্র ও সূর্য পৃথিবীর একই পাশে এবং পূর্ণিমা তিথিতে পৃথিবীর এক পাশে চাঁদ ও অপর পাশে সূর্য অবস্থান করে। ফলে এ দুই তিথিতে চন্দ্র ও সূর্য সমসূত্রে থাকে এবং উভয়ের মিলিত আকর্ষণে যে প্রবল জোয়ারের সৃষ্টি হয় তাকে তেজ কটাল বা ভরা কটাল বলে।
সপ্তমী ও অষ্টমী তিথিতে চন্দ্র ও সূর্য পৃথিবীর সমকোণে অবস্থান করার ফলে চন্দ্রের আকর্ষণে এ সময়ে চাঁদের দিকে জোয়ার হয়। সূর্যের আকর্ষণের জন্য এ জোয়ারের বেগ তত প্রবল হয় না। এ রূপ জোয়ারকে মরা কটাল বলে।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণি, বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়।
২,০৮১.
সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে বাংলাদেশে কী ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রকোপ বৃদ্ধি পেতে পারে? 
  1. ধুলিঝড়
  2. ভূমিকম্প
  3. জলোচ্ছ্বাস
  4. আগ্নেয়গিরি
ব্যাখ্যা
সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং ফসল উৎপাদনে প্রভাব: 
- সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এশিয়ার দেশগুলোতে প্রাকৃতিক দুর্যোগের মাত্রা ও পরিমাণ আরও বাড়িয়ে দেয়। 
- প্রায়শই বন্যা, সাইক্লোন, জলোচ্ছ্বাস ও লবণাক্ততা সৃষ্টি হয়। 
- অধিকন্তু ঋতু পরিবর্তনের স্বাভাবিক নিয়মে বৈচিত্র্য দেখা দিচ্ছে। 
- বিশ্বব্যাংক বিশ্বের তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব নিয়ে টার্ন ডাউন দ্য হিট: ক্লাইমেট রিজিওনাল ইমপ্যাক্ট অ্যান্ড কেস ফর রেজিলিয়ান্স শীর্ষক প্রতিবেদনে বাংলাদেশ সম্পর্কে উল্লেখ করেছে- প্রতি তিন থেকে পাঁচ বছর পরপর বাংলাদেশের দুই-তৃতীয়াংশ এলাকা বন্যায় ডুবে যাবে। 
- তাপমাত্রা আড়াই ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়লে বন্যায় প্লাবিত এলাকার পরিমাণ ২৯ শতাংশ বাড়বে। 
- ২০৮০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ উপকূলে সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা ৬৫ সেন্টিমিটার বাড়লে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ৪০ শতাংশ ফসলি জমি হারিয়ে যাবে। 

উৎস: কৃষি শিক্ষা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,০৮২.
মহাশূন্যে অজস্র জড়পিন্ড কোন বলের আকর্ষণে পৃথিবীর দিকে ছুটে আসে?
  1. চৌম্বক বল
  2. অভিকর্ষ 
  3. বৈদ্যুতিক বল
  4. কেন্দ্রাতিগ বল
ব্যাখ্যা

উল্কা (Meteor):
- রাতের মেঘমুক্ত আকাশে অনেক সময় মনে হয় যেন নক্ষত্র ছুটে যাচ্ছে বা কোনো নক্ষত্র যেন এই মাত্র খসে পড়ল। এই ঘটনাকে নক্ষত্রপতন বা তারা খসা বলে।
- এরা কিন্তু আসলে কোনো নক্ষত্র নয়, এদের নাম উল্কা ।
- মহাশূন্যে অজস্র জড়পিন্ড ভেসে বেড়ায়। এই জড়পিন্ডগুলো অভিকর্ষ বলের আকর্ষণে প্রচন্ড গতিতে (সেকেন্ডে প্রায় ৩ কিলোমিটার) পৃথিবীর দিকে ছুটে আসে।
- বায়ুর সংস্পর্শে এসে বায়ুর সঙ্গে ঘর্ষণের ফলে এরা জ্বলে ওঠে। ফলে এদের ছুটন্ত তারা বলে মনে হয়।
- বেশিরভাগ উল্কাপিন্ডই আকারে বেশ ক্ষুদ্র।

উৎস: NASA ওয়েবসাইট এবং  ভূগোল ও পরিবেশ, নবম -দশম শ্রেণি।

২,০৮৩.
কোনো নির্দিষ্ট স্থানের স্বল্পকালীন সময়ের বায়ুমণ্ডলের উপাদানসমূহের অবস্থাকে কী বলা হয়? 
  1. বায়ুপ্রবাহ
  2. সমুদ্রস্রোত
  3. আবহাওয়া
  4. জলবায়ু
ব্যাখ্যা
আবহাওয়া: 
- বায়ুমণ্ডল ও তার গঠনকারী উপাদানভেদে বায়ুমণ্ডলের বৈশিষ্ট্য ও বিভিন্ন ভূ-প্রাকৃতিক অঞ্চলে বৈচিত্র্যময় হয়। 
- বায়ুমণ্ডলের নিম্নস্তরে চাপ, তাপ, আর্দ্রতা ও বায়ুপ্রবাহের পার্থক্য তৈরি হলেই প্রতিদিনের বায়ুপ্রবাহ, বায়ুতাপ ও চাপের প্রভাব লক্ষ্য করা যায়। 
- কোনো স্থানের দৈনন্দিন বায়ুর গড় তাপ, চাপ, বায়ুপ্রবাহের বৈশিষ্ট্য, বায়ুর আর্দ্রতা, বারিপাত ইত্যাদি উপাদানের অবস্থা। 
অর্থাৎ, কোনো নির্দিষ্ট স্থানের স্বল্পকালীন সময়ের বায়ুমণ্ডলের উপাদানসমূহের অবস্থাকে বলা হয় আবহাওয়া। 
- আবহাওয়া নিয়ত পরিবর্তনশীল এবং এটি একটি ক্ষুদ্র এলাকার বায়ুমণ্ডলের স্বল্পমেয়াদী অবস্থাকে তুলে ধরে। 
- আবহাওয়া সম্পর্কিত যে কোনো তথ্য সংগ্রহ করা যায় “আবহাওয়া পূর্বাভাস কেন্দ্র” থেকে। 
- সাধারণত আবহাওয়া প্রতিনিয়ত পরিবর্তনশীল বলেই প্রতিঘন্টা বা প্রতি দিনের আবহাওয়া পর্যালোচনা করে আবহাওয়ার গড় বের করা হয়। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,০৮৪.
বিবর্তন কোন ধরনের প্রক্রিয়া?
  1. ক) স্থির ও গতিশীল
  2. খ) গতিশীল
  3. গ) মন্থর ও গতিশীল
  4. ঘ) স্থির
ব্যাখ্যা
যে ধীর, অবিরাম ও গতিশীল পরিবর্তন দ্বারা কোনো সরলতর উচ্চবংশীয় জীবের পরিবর্তন দ্বারা জটিল ও উন্নততর নতুন প্রজাতির বা জীবের উদ্ভব ঘটে তাকে বিবর্তন বা অভিব্যক্তি বা Evolution বলে। তাই বিবর্তন একটি মন্থর ও গতিশীল প্রক্রিয়া।
২,০৮৫.
প্রথম স্পেস টেলিস্কোপ কোনটি?
  1. হাবল টেলিস্কোপ
  2. স্পিটজার টেলিস্কোপ
  3. জেমস ওয়েব টেলিস্কোপ
  4. গ্যালিলিও টেলিস্কোপ
ব্যাখ্যা
হাবল স্পেস টেলিস্কোপ:
- মহাকাশে ভাসমান প্রথম টেলিস্কোপ হলো হাবল টেলিস্কোপ।
- আমেরিকান জ্যোতির্বিদ এডউইন পি. হাবল এর নামানুসারে NASA বিশ্বের প্রথম স্পেস-ভিত্তিক অপটিক্যাল টেলিস্কোপের নামকরণ করেছে। 
- ২৪ এপ্রিল ১৯৯০ হাবলের টেলিস্কোপ স্পেস শাটল ডিসকভারি (STS-31) থেকে প্রথম উৎক্ষেপণ করা হয়।
- ২৫ এপ্রিল ১৯৯০ থেকে এটি তার কার্যক্রম শুরু করে।
- হাবল টেলিস্কোপ মিশন শুরু হওয়ার পর থেকে ১.৫ মিলিয়নেরও বেশি পর্যবেক্ষণ সম্পন্ন করেছে।

জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ:
- জেমস ওয়েব মহাকাশ দূরবীক্ষণ যন্ত্র বা জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ (ইংরেজি: James Webb Space Telescope বা JWST) মার্কিন মহাকাশ সংস্থা নাসা, কানাডীয় মহাকাশ সংস্থা ও ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার যৌথ প্রচেষ্টায় নির্মিত একটি মহাকাশ দূরবীক্ষণ যন্ত্র।
- উৎক্ষেপণের তারিখ: ২৫শে ডিসেম্বর, ২০২১।
- ১০ বিলিয়ন ডলারের জেমস ওয়েব নামধারী স্পেস টেলিস্কোপটি ফ্রেঞ্চ গায়ানা থেকে ইউরোপিয়ান আরিয়ান রকেটে উৎক্ষেপণ করা হয়েছে।

স্পিটজার স্পেস টেলিস্কোপ:
- স্পিটজার স্পেস টেলিস্কোপ, ২০০৩ সালে চালু হয়েছিল, যা ছিল নাসার ইনফ্রারেড গ্রেট অবজারভেটরি।
- ১৬ বছরের অপারেশনে অন্যান্য অনেক অর্জনের মধ্যে, স্পিটজার শনির একটি বিশাল বলয় আবিষ্কার করেছে, ৪০ আলোকবর্ষ দূরে একটি নক্ষত্রের চারপাশে সাতটি পৃথিবীর আকারের গ্রহের একটি সিস্টেম প্রকাশ করেছে এবং সবচেয়ে দূরবর্তী পরিচিত ছায়াপথগুলি পর্যবেক্ষণ করেছে৷
- ২০০৯ সালে, স্পিটজারের তরল কুল্যান্ট ফুরিয়ে যায় এবং তার "ওয়ার্ম মিশন" শুরু করে।
- ৩০ জানুয়ারী, ২০২০ মহাকাশযানটি পরিত্যাক্ত করে, স্পিটজার মিশনকে বন্ধ করে দেয়। 

গ্যালিলিও টেলিস্কোপ:
- ১৬১০ সালে বিজ্ঞানী গ্যালিলিও প্রথম জ্যোতির্বিদ্যা বিষয়ক টেলিস্কোপ আবিষ্কার করেন।
- এটি কোন স্পেস টেলিস্কোপ নয়।
- এর সাহায্যে বৃহস্পতির চারটি উপগ্রহ এবং চাঁদের পিঠে পাহাড় আবিষ্কার করেন।

উৎস: NASA ওয়েবসাইট [Link]
২,০৮৬.
ঢাকা থেকে পূর্বদিকে অবস্থিত একটি স্থানের সাথে দ্রাঘিমার পার্থক্য ৩০°। ঢাকার সময় মধ্যাহ্ন ১২:০০ টা হলে ঐ স্থানটির স্থানীয় সময় হবে-
  1. সকাল ০৯:০০ টা
  2. বিকাল ০২:০০ টা
  3. সন্ধ্যা ০৬:০০ টা
  4. রাত ০৯:০০ টা
ব্যাখ্যা

- পৃথিবীতে প্রতি ডিগ্রি দ্রাঘিমার জন্যে সময়ের পার্থক্য হয় ৪ মিনিট করে।
→ ৩০° দ্রাঘিমার জন্য সময়ের প্রার্থক্য হবে, ৩০×৪ = ১২০ মিনিট বা ২ ঘণ্টা।
→ যেহেতু পূর্বে গেলে সময় বাড়ে সেহেতু ঢাকার সময় মধ্যাহ্ন ১২:০০ টা হলে ঐ স্থানটির স্থানীয় সময় হবে বিকেল ২টা।
 
আন্তর্জাতিক টাইম জোন:
- গ্রিনিচ মানমন্দির যুক্তরাজ্যের লন্ডন শহরে অবস্থিত।
- এর উপর দিয়ে মূল মধ্যরেখা বা শূন্য ডিগ্রী দ্রাঘিমারেখা গিয়েছে।
- ১৮৮৪ সালের ১ নভেম্বর জিএমটি আন্তর্জাতিকভাবে প্রমাণ সময় হিসেবে গৃহিত হয় ৷
- গ্রিনিচ মানমন্দির অফিসিয়াল টাইম জোন হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
- গ্রিনিচের পূর্ব দিকে অবস্থিত স্থানগুলোর সময় গ্রিনিচের থেকে এগিয়ে থাকে।
- পৃথিবীতে প্রতি ডিগ্রি দ্রাঘিমার জন্যে সময়ের পার্থক্য হয় ৪ মিনিট করে।
- কোন স্থান থেকে পশ্চিমে গেলে সময় কমবে আর পূর্বে গেলে সময় বাড়বে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

২,০৮৭.
আইসি'তে কোনটি থাকেনা?
  1. ক্যাপাসিটর
  2. রেজিস্টর
  3. ট্রান্সফর্মার
  4. ট্রানজিস্টর
ব্যাখ্যা
• ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট:
- আধুনিক কম্পিউটারের দ্রুত অগ্রগতির মূলে রয়েছে ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট।
- ১৯৫৮ সালে জ্যাক কেলবি নামক একজন বিজ্ঞানী ট্রানজিস্টর, রেজিস্টর এবং ক্যাপাসিটর সমন্বিত করে একটি সার্কিট তৈরি করেন যা আইসি নামে পরিচিত লাভ করে।
- আইসি ব্যবহারের ফলে কম্পিউটার আকার ছোট হয় এবং এর ক্ষমতা অনেক বেড়ে যায়। যার ফলে কমে আসে কম্পিউটার মূল্য এবং হিসাব নিকাশের সময়।
- ১৯৬৮ সালে বারোস কোম্পানি ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট ভিত্তিক প্রথম কম্পিউটার বি-২৫০০ ও বি-৩৫০০ এর উপস্থাপন করে।
- আইসি চিপ দিয়ে তৈরি প্রথম ডিজিটাল কম্পিউটার আইবিএম সিস্টেম ৩৬০।

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি ও ব্রিটানিকা।
২,০৮৮.
ফটো-তড়িৎ ক্রিয়া ব্যাখ্যা করা যায় কোন তত্ত্ব দ্বারা?
  1. ক) তড়িৎ চৌম্বক তত্ত্ব
  2. খ) কণা তত্ত্ব
  3. গ) কোয়ান্টাম তত্ত্ব
  4. ঘ) তরঙ্গ তত্ত্ব
ব্যাখ্যা

- কোন কোন ধাতুর উপর আলো পড়লে তাৎক্ষণিক ইলেকট্রন নির্গত হয় একে ফটো তড়িৎ বলে।
- ১৯০৫ সালে বিজ্ঞানী আইনস্টাইন কোয়ান্টাম তত্ত্বের সাহায্যে ফটো তড়িৎ ক্রিয়া ব্যাখ্যা করেন।
- এই জন্য তিনি ১৯২১ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
উৎসঃ উচ্চ মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

২,০৮৯.
আর্কটিক- এর বরফ গলে যাওয়ার কারন কি?
  1. ক) বৈশ্বিক উষ্ণতা
  2. খ) প্রলম্বিত গ্রীষ্ম কাল
  3. গ) ভূমিকম্প
  4. ঘ) অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত
ব্যাখ্যা
আর্কটিক- এর বরফ গলে যাওয়ার কারন বৈশ্বিক উষ্ণতা।
বৈশ্বিক উষ্ণতার দরুন এ অঞ্চলের বরফ গলে গিয়ে সমুদ্র স্তরের উচ্চতা বৃদ্ধি পাবে ধীরে ধীরে, ফলে অনেক প্রাণী তাদের আবাসস্থান হারিয়ে জলবায়ু উদ্বাস্তুতে পরিণত হবে।
২,০৯০.
ট্রানজিস্টরের সুবিধা নয়-
  1. ক) এটি ক্ষুদ্র আয়তনে ওজন বেশী
  2. খ) এটি ব্যবহারে অল্প বিদ্যুতের প্রয়োজন হয়
  3. গ) এটি অত্যন্ত কম খরচে তৈরী করা যায়।
  4. ঘ) উপরের কোনটিই নয়।
ব্যাখ্যা
ট্রানজিস্টর ভ্যাকুয়াম টিউবের মতো কাজ করতে পারে কিন্তু ভ্যাকুয়াম টিউবের তুলনায় এটি অতি ক্ষুদ্র, ওজন খুবই কম, এটি ব্যবহার করতে অল্প বিদ্যুতের প্রয়োজন হয়, এটি অনেক বেশি নির্ভরযোগ্য এবং সবচেয়ে বড় কথা এটি অনেক কম খরচে তৈরি করা সম্ভব।
উৎসঃ পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২,০৯১.
১৮০° দ্রাঘিমারেখার অপর নাম কী?
  1. নিরক্ষরেখা
  2. আর্ন্তজাতিক তারিখ রেখা
  3. মকরক্রান্তি রেখা
  4. কর্কটক্রান্তি রেখা
ব্যাখ্যা
⇒ ১৮০° দ্রাঘিমা রেখাটি আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা হিসাবে চিহ্নিত।

দ্রাঘিমা রেখা:

- ভূ-পৃষ্ঠের কোনো স্থানে মূল মধ্যরেখার সাথে পৃথিবীর কেন্দ্রবিন্দুতে সৃষ্ট কৌণিক দূরত্বকে দ্রাঘিমাংশ বলে।
- যে কাল্পনিক রেখার মাধ্যমে দ্রাঘিমাংশ প্রকাশ করা হয়, তাকে দ্রাঘিমা রেখা বলে।
- অর্থাৎ পৃথিবীর উত্তর ও দক্ষিণ মেরু সংযোগকারী কাল্পনিক রেখাসমূহ দ্রাঘিমা রেখা।
- যুক্তরাজ্যের লন্ডন শহরের নিকটবর্তী গ্রীনিচ নামক স্থানে একটি মান মন্দির বরাবর যে দ্রাঘিমা রেখা অতিক্রম করেছে, তাকে মূল দ্রাঘিমা রেখা বা মূল মধ্যরেখা বলা হয়।
- এই মূল মধ্যরেখাটির মান ০° ধরে নেয়া হয়।
- প্রতি ১° অন্তর অন্তর একটি করে দ্রাঘিমা রেখা কল্পনা করা হয়।
- মূল মধ্যরেখা থেকে পূর্বে মোট ১৮০° পর্যন্ত মোট ১৮০টি পূর্ব দ্রাঘিমা রেখা কল্পনা করা হয়।
- অপরদিকে মূল মধ্য রেখা থেকে পশ্চিমে মোট ১৮০° পর্যন্ত মোট ১৮০ টি পশ্চিম দ্রাঘিমা রেখা কল্পনা করা হয়।
- পৃথিবী গোলাকৃতির হওয়ার ১৮০° পূর্ব ও ১৮০° পশ্চিম দ্রাঘিমা রেখা মূলত একই মধ্যরেখার পড়ে।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,০৯২.
পৃথিবীর প্রাচীনতম শিলা কোনটি?
  1. ক) আগ্নেয়
  2. খ) রূপান্তরিত
  3. গ) পাললিক
  4. ঘ) খনিজ
ব্যাখ্যা
আগ্নেয় শিলা
সৃষ্টির প্রথমে পৃথিবী উত্তপ্ত গ্যাসীয়পিন্ড ছিল। এই গ্যাসপিন্ড ক্রমান্বয়ে তাপ বিকিরণ করে তরল হয়। পরে আরো তাপ বিকিরণ করে উপরিভাগ শীতল ও কঠিন আকার ধারণ করে। এভাবে গলিত অবস্থা থেকে ঘনীভূত বা কঠিন হয়ে যে শিলা গঠিত হয় তাকে আগ্নেয় শিলা বলে।

আগ্নেয় শিলার বৈশিষ্ট্য
১। স্তরবিহীন : উত্তপ্ত গলিত অবস্থা থেকে ঠান্ডা হয়ে জমাট বেঁধে এই জাতীয় শিলার সৃষ্টি হয় বলে এতে কোনো স্তর থাকে
না।
২। জীবাশ্মবিহীন : উত্তপ্ত গলিত পদার্থ থেকে আগ্নেয় শিলার উৎপত্তি বিধায় কোনো প্রাণি বা উদ্ভিদের অস্তিত্ব আশা করা
যায় না। এ কারণে এ জাতীয় শিলার মধ্যে জীবাশ্ম পাওয়া যায় না।
৩। কেলাসিত : উত্তপ্ত গলিত অবস্থা থেকে তাপ বিকিরণ করে এ জাতীয় শিলা তৈরি হয় বলে ক্ষেত্রবিশেষে কেলাসিত হয়
বা নির্দিষ্ট আকারে দানা বাঁধে।
৪। অপ্রবেশ্য : আগ্নেয় শিলার দানাগুলির মধ্যে কোনো ছিদ্র না থাকায় এই শিলায় পানি প্রবেশ করতে পারে না। তাই
আগ্নেয় শিলা অপ্রবেশ্য।
৫। সুদৃঢ় ও সুসংহত : উত্তপ্ত গলিত অবস্থা থেকে তাপ বিকিরণ করে উৎপন্ন হয় বলে এ শিলা সুদৃঢ় ও সুসংহত।
৬। প্রাচীনতম : আগ্নেয় শিলার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এটি পৃথিবীর প্রাচীনতম শিলা। এই শিলা থেকে অন্যান্য শিলার
উৎপত্তি হয়েছে।
৭। অপেক্ষাকৃত ভারী : আগ্নেয় শিলা অন্যান্য শিলার চেয়ে অপেক্ষাকৃত ভারী।

তথ্যসূত্র: ভূগোল প্রথম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,০৯৩.
মহাকাশ থেকে প্রবেশ করলে উল্কাগুলো বায়ুমণ্ডলের কোন স্তরে পুড়ে যায়?
  1. ট্রপোমণ্ডল
  2. তাপমণ্ডল
  3. স্ট্রাটোমণ্ডল
  4. মেসোমণ্ডল
ব্যাখ্যা
উল্কা ও উল্কাপিন্ড (Meteors & Meteoroids):
- উল্কা মহাশূন্যে বিচরণরত ক্ষুদ্রাকৃতি বিশিষ্ট কঠিন বস্তু।
- ক্ষুদ্রায়তনের এই উল্কাপিন্ড একত্রে পৃথিবীর বায়ুমন্ডলে প্রবেশ করে বাতাসের সাথে সংঘর্ষে প্রজ্জ্বলিত হয়ে তুষারপাতের মতো ঝরে পড়তে থাকে।
একে উল্কাবৃষ্টি বলে।
- উল্কা ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়ে পৃথিবী পৃষ্ঠে পতিত হলে, তাকে উল্কাপিন্ড বলে।
- মহাকাশ থেকে প্রবেশ করলে উল্কা গুলো বায়ুমন্ডলের মেসোমন্ডল স্তরে পুড়ে যায়।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
২,০৯৪.
নিচের কোন তথ্যটি সঠিক?
  1. ক) 1 বায়ুমণ্ডলীয় চাপে বরফের গলনাঙ্ক 0°C
  2. খ) ক ও ঘ উভয়ই
  3. গ) 1 বায়ুমণ্ডলীয় চাপে পানির স্ফুটনাঙ্ক 0°C
  4. ঘ) 1 বায়ুমণ্ডলীয় চাপে পানির স্ফুটনাঙ্ক 100°C
ব্যাখ্যা
1 বায়ুমণ্ডলীয় চাপে বরফের গলনাঙ্ক 0°C এবং একই চাপে পানির স্ফুটনাঙ্ক 100°C।
উৎসঃ রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি
২,০৯৫.
নিচের কোনটি বৃহৎ স্কেল মানচিত্র? 
  1. ১ : ১০,০০০
  2. ১ : ১০০,০০০
  3. ১ : ১০০০,০০০
  4. ১ : ২৫০০,০০০
ব্যাখ্যা
মানচিত্র:
• স্কেলের উপর ভিত্তি করে মানচিত্রকে প্রধান দু'ভাগে ভাগ করা যায়।
- যথা:
১. ক্ষুদ্র স্কেলের মানচিত্র:
- যখন ব্যাপক এলাকাকে ছোট করে কাগজে অঙ্কন করা হয় তখন তাকে ক্ষুদ্র স্কেলের মানচিত্র বলে।
- এ ক্ষেত্রে সমগ্র পৃথিবী বা মহাদেশ বা দেশের বড় এলাকাকে একটি ছোট কাগজে দেখানো হয়।
- ভূ-চিত্রাবলীর মানচিত্র ও দেওয়াল মানচিত্র ক্ষুদ্র স্কেলের মানচিত্র।
- যেমন: ১: ১০,০০০।

২. বৃহৎ স্কেলের মানচিত্র:
- ক্ষুদ্র এলাকাকে বৃহৎ স্কেলে অঙ্কন করে যখন অনেক বড় করে দেখান হয়, তখন তাকে বৃহৎ স্কেলের মানচিত্র বলে।
- যেমন: ১"=১৬ মাইল; ১৬"= ১মাইল।
- যেমন: ১: ১০,০০০।
- যেমন মৌজা মানচিত্র বা ক্যাডাস্ট্রাল মানচিত্র, ভূ-সংস্থানিক মানচিত্র বৃহৎ স্কেলের মানচিত্র।

উল্লেখ্য,
• প্রাকৃতিক মানচিত্র (Physical map):
- যে মানচিত্রে কোনো দেশ বা অঞ্চলের বিভিন্ন প্রাকৃতিক ভূমিরূপ যেমন: পর্বত, মালভূমি, ভূমি, নদী, হ্রদ ইত্যানি সম্পর্কে তথ্য থাকে তাকে প্রাকৃতিক মানচিত্র বলে।
- প্রাকৃতিক মানচিত্র বৃহৎ স্কেলে অঙ্কন করা হয়।

উৎস: i) ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণী।
ii) ভূগোল ১ম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,০৯৬.
টিস্যু কালচারের উদ্দেশ্যে উদ্ভিদের যে অংশ পৃথক করে নিয়ে ব্যবহার করা হয় তাকে কী বলে?
  1. In plant
  2. Explant
  3. Piece plant
  4. Slice plant
ব্যাখ্যা
• টিস্যু কালচারের উদ্দেশ্যে উদ্ভিদের যে অংশ পৃথক করে নিয়ে ব্যবহার করা হয় তাকে 'এক্সপ্ল্যান্ট (Explant)' বলে।
- টিস্যু কালচারে উন্নত গুণসম্পন্ন স্বাস্থ্যবান এবং রোগমুক্ত উদ্ভিদকে এক্সপ্ল্যান্টের জন্য নির্বাচন করা হয়।

• টিস্যু কালচার:
- উদ্ভিদের বিভিন্ন অংশে টোটিপোটেন্ট (totipotent) স্টেম কোষ থাকায় এর প্রায় যেকোনো অংশ থেকে হুবহু আরেকটি পূর্ণাঙ্গ উদ্ভিদ জন্মানো সম্ভব, এটিই টিস্যু কালচারের মূলনীতি।
- সাধারণত এক বা একাধিক ধরনের এক গুচ্ছ কোষসমষ্টিকে টিস্যু (Tissue) বা কলা বলা হয়।
- এই এক গুচ্ছ কোষ উৎপত্তিগতভাবে অভিন্ন এবং সম্মিলিতভাবে একই কাজ করে।
- একটি টিস্যুকে জীবাণুমুক্ত পুষ্টিবর্ধক কোনো মিডিয়ামে (Nutrient medium) বর্ধিতকরণ প্রক্রিয়াই হলো টিস্যু কালচার।
- টিস্যু কালচার উদ্ভিদবিজ্ঞানের একটি অপেক্ষাকৃত নতুন শাখা।
- উদ্ভিদ টিস্যু কালচারে উদ্ভিদের কোনো বিচ্ছিন্ন অংশ বা অঙ্গবিশেষ (যেমন পরাগরেণু, শীর্ষ বা পার্শ্বমুকুল, পর্ব, মূলাংশ ইত্যাদি) কোনো নির্দিষ্ট পুষ্টিবর্ধক মিডিয়ামে জীবাণুমুক্ত অবস্থায় কালচার করা হয়।
- মিডিয়ামগুলোতে পুষ্টি এবং বর্ধনের জন্য প্রয়োজনীয় সকল উপাদান সরবরাহ করা হয়।

উৎস: জীববিজ্ঞান, ৯ম - ১০ শ্রেণি।
২,০৯৭.
মঙ্গল গ্রহের আকার পৃথিবীর আকারের প্রায়-
  1. চারগুণ
  2. দ্বিগুণ
  3. অর্ধেক
  4. এক তৃতীয়াংশ
ব্যাখ্যা

• মঙ্গল (Mars):
- মঙ্গল গ্রহ সৌরজগতের সবচেয়ে অন্বেষণযোগ্য বস্তুগুলির মধ্যে একটি।
- প্রাচীন রোমানরা তাদের যুদ্ধের দেবতার নামানুসারে মঙ্গল গ্রহের নামকরণ করেছিল
- এটিকে প্রায়শই "লাল গ্রহ" বলা হয় কারণ মঙ্গল গ্রহের মাটিতে থাকা লোহার খনিজগুলি জারিত হয় বা মরিচা পড়ে, যার ফলে পৃষ্ঠটি লাল দেখায়।
- মঙ্গল গ্রহ সূর্যের চারদিকে প্রদক্ষিণ করার সময়, প্রতি ২৪.৬ ঘন্টা অন্তর একটি আবর্তন সম্পন্ন করে
- সূর্য থেকে এর গড় দূরত্ব ২২.৮ কোটি কিলোমিটার।
- এর ব্যাস ৬,৭৮৭ কিলোমিটার এবং আকার পৃথিবীর প্রায় অর্ধেক।
- এই গ্রহে দিনরাত্রির পরিমাণ পৃথিবীর প্রায় সমান।
- সূর্যের চারদিকে একবার ঘুরতে মঙ্গলের সময় লাগে ৬৮৭ দিন।
- মঙ্গল গ্রহের উপরিভাগে রয়েছে গিরিখাত ও আগ্নেয়গিরি।
- এ গ্রহে অক্সিজেন ও পানির পরিমাণ খুবই কম এবং কার্বন ডাইঅক্সাইডের পরিমাণ এত বেশি (শতকরা ৯৯ ভাগ) যে প্রাণীর অস্তিত্ব থাকা সম্ভব নয়।
- মঙ্গলে ফোবস ও ডিমোস নামে দুটি উপগ্রহ রয়েছে।

উৎস: NASA.

২,০৯৮.
সূর্যের নিকটতম নক্ষত্র কোনটি?
  1. আলফা সেন্টারাই B
  2. আলফা সেন্টারাই A
  3. প্রক্সিমা সেন্টারাই B
  4. প্রক্সিমা সেন্টারাই
ব্যাখ্যা

প্রক্সিমা সেন্টারাই:
- সূর্যের নিকটতম নক্ষত্র
- প্রক্সিমা সেন্টারাই সূর্যের নিকটতম নক্ষত্র, যা পৃথিবী থেকে প্রায় ৪.২ আলোকবর্ষ দূরে আলফা সেন্টারাই সিস্টেমে অবস্থিত।
- এটি একটি লাল বামন, যা নক্ষত্রের সবচেয়ে সাধারণ ধরন।
- এটি সূর্যের চেয়ে সাত গুণ ছোট।
- এর তাপমাত্রা প্রায় ৩,১০০ কেলভিন, যা সূর্যের তাপমাত্রার অর্ধেকের একটু বেশি।
- আকারে এটি বৃহস্পতি গ্রহের চেয়ে মাত্র ৫০% বড়।
- লাল বামন নক্ষত্র তাদের হাইড্রোজেন জ্বালানি খুব কার্যকরভাবে ব্যবহার করে, ফলে এদের আয়ুষ্কাল অত্যন্ত দীর্ঘ।
- জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা ধারণা করেন, প্রক্সিমা সেন্টারাই চার ট্রিলিয়নেরও বেশি বছর একই অবস্থায় থাকবে (তুলনামূলকভাবে, মহাবিশ্বের বয়স প্রায় ১৩.৮ বিলিয়ন বছর)।
- আলফা সেন্টারাই সিস্টেমটি সেন্টরাস নক্ষত্রপুঞ্জে দেখা যায়।
- তবে প্রক্সিমা সেন্টারাই সাধারণত খালি চোখে দেখা যায় না।
- ১৯১৫ সালে এটি স্কটিশ জ্যোতির্বিজ্ঞানী রবার্ট ইনেস আবিষ্কার করেন।

তথ্যসূত্র - Britannica.com

২,০৯৯.
পোলারিস দেখা যায় -
  1. ক) পশ্চিম গোলার্ধে
  2. খ) পূর্ব গোলার্ধে
  3. গ) উত্তর গোলার্ধে
  4. ঘ) দক্ষিণ গোলার্ধে
ব্যাখ্যা
ধ্রুবতারা বা পোলারিস দেখা যায় উত্তর গোলার্ধে। 

প্রাচীনকালে মানুষ নৌকায় সমুদ্রযাত্রা করার সময় রাতের বেলা আকাশের তারা দেখেই দিক চিহ্নিত করত।
কিন্তু পৃথিবী নিজ অক্ষরেখার চারপাশে পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে অবিরাম ঘুরছে, তাই আকাশে তারার অবস্থান স্থির থাকে না।
আজ রাতে একটি নির্দিষ্ট তারা আকাশের যেখানে থাকে, কাল রাতে একটু এদিক-ওদিক সরে যায়।
এ অবস্থায় বিজ্ঞানীরা আকাশ পর্যবেক্ষণ করে আবিষ্কার করেন, অন্য সব তারা আকাশে অবস্থান বদলালেও উত্তর আকাশে একটি উজ্জ্বল তারা প্রতি রাতে একই অবস্থানে থাকে। নড়েচড়ে না। এ তারাই হলো ধ্রুবতারা।
ইংরেজিতে পোলারিস, পোলস্টার বা নর্থপোল স্টার নামে পরিচিত।
নাবিকেরা রাতের আকাশ দেখে সহজেই ধ্রুবতারাটি বের করে ফেলে এবং তখন বুঝতে পারে ওই দিকই উত্তর। সুবিধা হলো, এই তারা খুব উজ্জ্বল এবং মেঘমুক্ত আকাশে খালি চোখে স্পষ্ট দেখা যায়।

উৎস : প্রথম আলো 
২,১০০.
নিচের কোনটি পটাসিয়ামের আকরিক?
  1. ক) সল্টপিটার
  2. খ) লিমোনাইট
  3. গ) বক্সাইট
  4. ঘ) চুনাপাথর
ব্যাখ্যা
যে সকল খনিজ থেকে লাভজনকভাবে ধাতু বা অধাতুকে সংগ্রহ বা নিষ্কাশন করা যায় সে সকল খনিজকে আকরিক বলে। পটাসিয়ামের আকরিক হলো সল্টপিটার (KNO₃)।
সূত্র: ৯ম-১০ম শ্রেণীর রসায়ন বই৷