বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাক্য প্রকরণ

মোট প্রশ্ন৬,৯৫৩এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাক্য প্রকরণ

PrepBank · পাতা ৬০ / ৬৯ · ৫,৯০১৬,০০০ / ৬,৯৫৩

৫,৯০১.
বঙ্গানুবাদ করুন- 'Put out the lamp.'
  1. প্রদীপটি জ্বালাও।
  2. প্রদীপটি রাখ।
  3. প্রদীপটি নিভাও।
  4. প্রদীপটি বাইরে রাখ।
সঠিক উত্তর:
প্রদীপটি নিভাও।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রদীপটি নিভাও।
ব্যাখ্যা
• 'Put out the lamp.'- প্রদীপটি নিভাও।

• কিছু গুরুত্বপূর্ণ অনুবাদ:
- Necessity is the mother of invention - প্রয়োজনই আবিষ্কারের জননী।
- All that glitters is not gold - চকচক করলেই সোনা হয় না।
- Honesty is the best policy – সততা সর্বোত্তম নীতি।
- Fortune favors the brave –  ভাগ্য সাহসীদের সহায় হয়।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৫,৯০২.
যেকোনো সাধারণ বাক্যের প্রধান কয়টি অংশ থাকে?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা
বাক্য:
• এক বা একাধিক শব্দ দিয়ে গঠিত পূর্ণ অর্থবোধক ভাষিক একককে বাক্য বলে। 
• বাক্যের মাধ্যমে বক্তার মনের ভাব সম্পূর্ণ প্রকাশিত হয়। যেমন - সজল ও লতা বই পড়ে। 

⇒ সাধারণ বাক্যের প্রধান তিনটি অংশ: 
• কর্তা: বাক্যের ক্রিয়াকে চালায়; 
• কর্ম: যাকে অবলম্বন করে ক্রিয়া সম্পাদিত হয়; 
• ক্রিয়া: যে অংশ দিয়ে কোন কিছু করা, ঘটা বা হওয়া বোঝায়। 

⇒ প্রতিটি বাক্যকে দুই অংশে ভাগ করা যায়:
• উদ্দেশ্য: যে অংশে করো সম্পর্কে বলা হয়;  
• বিধেয়: যে অংশে উদ্দেশ্য সম্পর্কে কিছু বলা হয়। 

⇒ গঠনগত দিক দিয়ে বাক্য তিন প্রকার: 
১. সরল,
২. জটিল,
৩. যৌগিক। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৫,৯০৩.
সমাসে বিভক্তির বদলে কোন যতিচিহ্ন ব্যবহৃত হয়?
  1. ড্যাশ 
  2. কমা 
  3. সেমিকোলন 
  4. হাইফেন 
সঠিক উত্তর:
হাইফেন 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাইফেন 
ব্যাখ্যা

• হাইফেন:
- বাক্যের মধ্যকার একাধিক পদকে সংযুক্ত করতে হাইফেন ব্যবহৃত হয়।
- হাইফেন মূলত পদসংযোজক চিহ্ন।
- সমাসে বিভক্তির বদলেও হাইফেন ব্যবহৃত হয়।
- বিভিন্ন ধরনের সমাসবদ্ধ পদ তৈরি করার সময়ে হাইফেন ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- মা-বাবার কাছে সন্তানের গৌরব সবচেয়ে বড় গৌরব।
- স্কুল-পালানো ছেলে।
- জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলকে নিয়েই গড়ে উঠেছে এই ক্লাব।

উৎস: প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, বাংলা একাডেমি এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৫,৯০৪.
নিচের কোন বাক্যটি প্রয়ােগগত দিক থেকে শুদ্ধ?
  1. আপনি স্বপরিবারে আমন্ত্রিত। 
  2. সারা জীবন ভূতের মজুরি খেটে মরলাম । 
  3. এ মামলায় আমি সাক্ষ্য দেব না।
  4. আমি কারও সাতেও নেই, সতেরােতেও নেই।
সঠিক উত্তর:
এ মামলায় আমি সাক্ষ্য দেব না।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এ মামলায় আমি সাক্ষ্য দেব না।
ব্যাখ্যা
প্রয়োগের দিক থেকে প্রশ্নের অপশন এ মামলায় আমি সাক্ষ্য দেব না। - বাক্যটি শুদ্ধ।

অন্যান্য বাক্যগুলোর শুদ্ধরূপ -
অশুদ্ধ বাক্য: - আমি কারও সাতেও নেই, সতেরােতেও নেই।
শুদ্ধ বাক্য:- আমি কারও সাতেও নেই, পাঁচেও নেই।

অশুদ্ধ বাক্য: - আপনি স্বপরিবারে আমন্ত্রিত। 
শুদ্ধ বাক্য:- আপনি সপরিবারে আমন্ত্রিত। 

অশুদ্ধ বাক্য: - সারা জীবন ভূতের মজুরি খেটে মরলাম । 
শুদ্ধ বাক্য:- সারা জীবন ভূতের বেগার খেটে মরলাম ।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, সৌমিত্র শেখর।
৫,৯০৫.
কোনটি অপপ্রয়োগ ?
  1. ক) কচুয়া
  2. খ) উৎসিক্ত
  3. গ) কজ্জলি
  4. ঘ) আয়ুষ্য
সঠিক উত্তর:
গ) কজ্জলি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) কজ্জলি
ব্যাখ্যা
অশুদ্ধ - কজ্জলি
শুদ্ধ - কজ্জলী
- সংস্কৃত শব্দ
- প্রকৃতি প্রত্যয় - কজ্জল+ঈ
অর্থ: পারদ ও গন্ধকের মিশ্রণে তৈরি আয়ুর্বেদীয় ওষুধবিশেষ।

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
৫,৯০৬.
গৃহহীনে গৃহ দাও - 'গৃহহীনে' কোন প্রকারের কারক?
  1. ক) করণ কারক
  2. খ) সম্প্রদান কারক
  3. গ) কর্ম কারক
  4. ঘ) অপাদান কারক
সঠিক উত্তর:
খ) সম্প্রদান কারক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সম্প্রদান কারক
ব্যাখ্যা
গুরুজনে কর নতি (ভক্তি) - সম্প্রদানে সপ্তমী৷ গৃহহীনে গৃহ দাও - সম্প্রদানে সপ্তমী৷
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
৫,৯০৭.
কোনটি শুদ্ধ বানান কোনটি?
  1. প্রতিদ্বন্ধী
  2. প্রজ্জ্বলিত
  3. মহত্ত
  4. সান্ত্বনা
সঠিক উত্তর:
সান্ত্বনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সান্ত্বনা
ব্যাখ্যা
•  বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
- শুদ্ধ বানান- সান্ত্বনা।
 
অন্যদিকে,
’প্রতিদ্বন্ধী’ শব্দের শুদ্ধরূপ- প্রতিদ্বন্দ্বী।
’প্রজ্জ্বলিত’ শব্দের সঠিক রূপ- প্রজ্বলিত।
’মহত্ত’ শব্দের সঠিক রূপ- মহত্ত্ব।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৫,৯০৮.
'সমূলসহ' শব্দে কী ধরনের অশুদ্ধি ঘটেছে?
  1. প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগজনিত অশুদ্ধি 
  2. সমাস ঘটিত অশুদ্ধি 
  3. সমার্থ শব্দের বাহুল্যজনিত অশুদ্ধি 
  4. সন্ধি বিষয়ক অশুদ্ধি 
সঠিক উত্তর:
সমার্থ শব্দের বাহুল্যজনিত অশুদ্ধি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমার্থ শব্দের বাহুল্যজনিত অশুদ্ধি 
ব্যাখ্যা

সমার্থ শব্দের বাহুল্যজনিত অশুদ্ধি:
অশুদ্ধ - শুদ্ধ:
অদ্যাপিও - অদ্যাপি/অদ্যও।  
কদাপিও - কদাপি। 
সময়কাল - সময়/কাল। 
বিবিধপ্রকার - বিবিধ। 
সুবুদ্ধিমান - সুবুদ্ধি/বুদ্ধিমান। 
আয়ত্তাধীন - আয়ত/অধীন। 
শুধুমাত্র - শুধু/মাত্র। 
কেবলমাত্র - কেবল/মাত্র। 
সমূলসহ - সমূল/মূলসহ। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৫,৯০৯.
শুদ্ধ বানান কোনটি?
  1. মনোকষ্ট
  2. মনকষ্ট
  3. মনঃকষ্ট
  4. মনোঃকষ্ট
সঠিক উত্তর:
মনঃকষ্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মনঃকষ্ট
ব্যাখ্যা

• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
- শুদ্ধ বানান- মনঃকষ্ট।

 


• 'মনঃকষ্ট' অর্থ:
- মনোদুঃখ; মনোবেদনা; মনের কষ্ট।

আরো কিছু শুদ্ধ বানান:
• অপকর্শ - অপকর্ষ।
• অন্যমনষ্ক - অন্যমনস্ক।
• 'অন্যমনষ্ক' - অন্যমনস্ক।
• অন্যপুর্বা - অন্যপূর্বা।
• 'অনুযায়ি' - অনুযায়ী।
• প্রোজ্বলিত - প্রজ্বলিত।
• শ্বাশত - শাশ্বত।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

৫,৯১০.
শুদ্ধ বাক্য কোনটি?
  1. অধ্যাপনাই ছাত্রদের তপস্যা।
  2. তোমাকে দেখে সে আশ্চর্য হয়েছে।
  3. আমি সন্তোষ হলাম।
  4. আপনি সপরিবারে আমন্ত্রিত।
সঠিক উত্তর:
আপনি সপরিবারে আমন্ত্রিত।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আপনি সপরিবারে আমন্ত্রিত।
ব্যাখ্যা

শুদ্ধ বাক্য: আপনি সপরিবারে আমন্ত্রিত।

অন্যদিকে:
অশুদ্ধ বাক্য: আমি সন্তোষ হলাম।
শুদ্ধ বাক্য: আমি সন্তুষ্ট হলাম।

অশুদ্ধ বাক্য: তোমাকে দেখে সে আশ্চর্য হয়েছে।
শুদ্ধ বাক্য: তোমাকে দেখে সে আশ্চর্যান্বিত হয়েছে।

অশুদ্ধ বাক্য: অধ্যাপনাই ছাত্রদের তপস্যা।
শুদ্ধ বাক্য: অধ্যয়নই ছাত্রদের তপস্যা।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৫,৯১১.
নিচের কোন বাক্যটি শুদ্ধ?
  1. ক) প্রত্যেক শিক্ষক অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন।
  2. খ) প্রত্যেক শিক্ষকগণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন।
  3. গ) সকল শিক্ষকগণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন।
  4. ঘ) সকল শিক্ষিকবর্গ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন।
সঠিক উত্তর:
ক) প্রত্যেক শিক্ষক অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) প্রত্যেক শিক্ষক অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন।
ব্যাখ্যা
শুদ্ধ বাক্যটি হলো প্রত্যেক শিক্ষক অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন। অন্য বাক্যগুলোতে বাহুল্য দোষ বিদ্যমান।
৫,৯১২.
মূর্ধন্য-ষ এর অশুদ্ধ প্রয়োগ ঘটেছে নিচের কোন শব্দে?
  1. পরিষ্কার
  2. বাচষ্পতি
  3. আবিষ্কার
  4. নিষ্কলঙ্ক
সঠিক উত্তর:
বাচষ্পতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাচষ্পতি
ব্যাখ্যা

• মূর্ধন্য-ষ এর অশুদ্ধ প্রয়োগ ঘটেছে- বাচষ্পতি শব্দে। 
• শুদ্ধ বানান- বাচস্পতি। 
 
--------------------
• বানানের নিয়ম:
বিসর্গযুক্ত অ-ধ্বনির সঙ্গে সন্ধি হলে বর্ণে সাধারণত 'স' যুক্ত হয় (পুরঃ + কার = পুরস্কার) এবং বিসর্গযুক্ত ই-ধ্বনির সঙ্গে সন্ধি হলে সাধারণত 'ষ' যুক্ত হয় (বহিঃ + কার= বহিষ্কার)।

তবে স্ক/ স্ক সংক্রান্ত সমস্যার সহজ সমাধানকল্পে বলা যায়: অ-যুক্ত বা মুক্ত বর্ণের পরে সাধারণত 'স' হবে। যেমন: নমস্কার, পুরস্কার, বনস্পতি, তিরস্কার, বাচস্পতি ইত্যাদি।

অন্যদিকে ই-যুক্ত বর্ণের পর সাধারণত 'ষ' হবে। যেমন: আবিষ্কার, নিষ্কলঙ্ক, পরিষ্কার, নিষ্ফল, নিষ্প্রভ, নিষ্পাপ, নিষ্পন্ন, নিষ্কর, জ্যোতিষ্ক ইত্যাদি। (স্প/ স্ত/ স্থ থাকলে 'ষ' হয় না। যেমন: নিস্পন্দ /নিস্তব্ধ / দুস্থ ইত্যাদি)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫,৯১৩.
কোনটি অশুদ্ধ?
  1. ক) অনূঢ়া
  2. খ) অনূদিত
  3. গ) অনূপ
  4. ঘ) অনূভুতি
সঠিক উত্তর:
ঘ) অনূভুতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) অনূভুতি
ব্যাখ্যা
• অনূঢ়/অনূঢ়া, অনূপ, অনূর্ধ্ব, অনূদিত এই চারটি শব্দ ছাড়া সব অনু বানানে উ-কার হবে।
যেমন- অনুকার, অনুভূতি, অনুকরণ ইত্যাদি।

উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান,।
৫,৯১৪.
ষ-ত্ব বিধানের ভুল প্রয়োগ হয়েছে নিচের কোনটিতে?
  1. ক) ঋষি
  2. খ) নিষ্পাপ
  3. গ) পাষাণ
  4. ঘ) ষ্টোর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ষ্টোর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ষ্টোর
ব্যাখ্যা

যেসব তৎসম শব্দে ‘ষ’ রয়েছে তা বাংলায় অবিকৃত আছে। তৎসম শব্দের বানানে ষ এর সঠিক ব্যবহারের নিয়মই ষ-ত্ব বিধান।

অপশন ক তে ষ এর সঠিক প্রয়োগ হয়েছে।
নিয়ম: ঋ-কারে পরে মূর্ধন্য-ষ হয়। যেমন: ঋষি, বৃষ, বৃষ্টি।

অপশন খ তে ষ এর সঠিক প্রয়োগ হয়েছে।
নিয়ম:
কোন শব্দে অ/আ স্বরধ্বনি ছাড়া অন্য কোন স্বরধ্বনির পরে ঃ থাকলে এবং তারপর ক, খ, প, ফ থাকলে ঃ এর স্থানে ষ হয়। যেমন:
বহিঃ + কার = বহিষ্কার
নিঃ + পাপ = নিষ্পাপ

অপশন গ তে ষ এর সঠিক প্রয়োগ হয়েছে। কিছু শব্দ স্বভাবতই মূর্ধন্য-ষ হয়। যেমন: আষাঢ়, নিষ্কর, পাষাণ, ষোড়শ ইত্যাদি। 

অপশন ঘ তে ষ এর ভুল প্রয়োগ হয়েছে।
নিয়ম বিদেশি শব্দে ষ হয় না। তাই এখানে হবে স্টোর। সুতরাং এটি সঠিক উত্তর।

তথ্যসূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম-দশম শ্রেণি

৫,৯১৫.
কোন শব্দের ব্যবহার সঠিক?
  1. ক) মন্ত্রিপরিসদ
  2. খ) মন্ত্রীপরিষদ
  3. গ) মন্ত্রীসভা
  4. ঘ) মন্ত্রিসভা
সঠিক উত্তর:
ঘ) মন্ত্রিসভা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) মন্ত্রিসভা
ব্যাখ্যা
পরিষদ/সভা শব্দ দুটো ‘মন্ত্রী’ শব্দের শেষে যোগ হলে ‘মন্ত্রী’ বানান আর ঈ-কার থাকে না।
যেমনঃ মন্ত্রিপরিষদ, মন্ত্রিসভা।
সূত্রঃ বাংলা একাডেমির পার্লামেন্টারি শব্দকোষ।
৫,৯১৬.
'কাজের বেলা গোল করো না।' কোন কারক?
  1. অধিকরণ কারক
  2. কর্ম কারক
  3. অপাদান কারক
  4. সম্প্রদান কারক
সঠিক উত্তর:
অধিকরণ কারক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অধিকরণ কারক
ব্যাখ্যা

•'কাজের বেলা গোল  করো না।' এখানে 'বেলা' অধিকরণ কারক।

• অধিকরণ কারক:

- ক্রিয়া সম্পাদনের কাল (সময়) এবং আধারকে অধিকরণ কারক বলে। 
- অধিকরণ কারকে সপ্তমী অর্থাৎ ‘এ’, 'য়', ‘তে’ ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়।
যথা -
→ আধার (স্থান): আমরা রোজ স্কুলে যাই। 
→ কাল (সময়): প্রভাতে সূর্য ওঠে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫,৯১৭.
শুদ্ধ বাক্য কোনটি?
  1. ক) দেবী অন্তর্ধান হইবেন।
  2. খ) জ্বর হ্রাস হইয়াছে।
  3. গ) সে আরোগ্য হয়েছে।
  4. ঘ) তদ্দর্শনে লিখিত হইল।
  5. ঙ) কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ঘ) তদ্দর্শনে লিখিত হইল।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) তদ্দর্শনে লিখিত হইল।
ব্যাখ্যা
শুদ্ধ বাক্য- দেবী অন্তর্হিত হইবেন, জ্বরের হ্রাস হইয়াছে, সে আরোগ্য লাভ করেছে।
৫,৯১৮.
নিচের কোনটি শুদ্ধ বানান?
  1. জাত্যাভিমান
  2. জাত্যাভিমাণ
  3. জাত্যভিমান
  4. জাত্যভীমান
সঠিক উত্তর:
জাত্যভিমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জাত্যভিমান
ব্যাখ্যা

• শুদ্ধ বানান - 'জাত্যভিমান'।

- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
- শব্দটি সংস্কৃত ভাষা হতে আগত

শব্দের অর্থ:
- উচ্চবংশে জন্মের অহংকার।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৫,৯১৯.
রাজীব বললো, “আমি বাগান করা পছন্দ করি।” বাক্যের পরোক্ষ উক্তি নিচের কোনটি?
  1. ক) রাজীব বললো যে, আমি বাগান করা পছন্দ করি।
  2. খ) রাজীব বললো যে, সে বাগান করা পছন্দ করে।
  3. গ) রাজীব বলিল যে, আমি বাগান করা পছন্দ করি।
  4. ঘ) রাজীব বললো যে, সে বাগান করা পছন্দ করে না।
সঠিক উত্তর:
খ) রাজীব বললো যে, সে বাগান করা পছন্দ করে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) রাজীব বললো যে, সে বাগান করা পছন্দ করে।
ব্যাখ্যা
- উল্লেখিত প্রশ্নের পরোক্ষ উক্তি হচ্ছে রাজীব বললো যে, সে বাগান করা পছন্দ করে

• উক্তি পরিবর্তন:
- প্রত্যক্ষ উক্তির যেখান থেকে উদ্ধারচিহ্ন শুরু হয়, পরোক্ষ উক্তিতে সেখানে যোজক ‘যে’ বসে এবং উদ্ধারচিহ্ন উঠে যায়।
- অর্থের সংগতি রাখার জন্য বাক্যে ব্যবহৃত সর্বনামের পরিবর্তন প্রয়োজন হয়।
যেমন:
প্রত্যক্ষ উক্তি: রাজীব বললো, “আমি বাগান করা পছন্দ করি।”
পরোক্ষ উক্তি: রাজীব বললো যে, সে বাগান করা পছন্দ করে।

প্রত্যক্ষ উক্তি: মিহির বললো, “আমার জানামতে সবুজ এ বাসায় থাকে।”
পরোক্ষ উক্তি: মিহির বললো যে, তার জানামতে সবুজ সে বাসায় থাকতো।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( সংস্করণ- ২০২১)।
৫,৯২০.
শব্দের যোগ্যতার সঙ্গে কয়টি বিষয় জড়িত?
  1. ক) ৩ টি
  2. খ) ৪ টি
  3. গ) ৫ টি
  4. ঘ) ৬ টি
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৬ টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৬ টি
ব্যাখ্যা
শব্দের জগতের সঙ্গে ৬ টি বিষয় জড়িত।
এগুলো হলো- রীতিসিদ্ধ অর্থবাচকতা, দুর্বোধ্যতা, উপমার ভুল প্রয়োগ, বাহুল্য দোষ, বাগধারার শব্দ পরিবর্তন এবং গুরুচণ্ডালী দোষ।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম-দশম শ্রেণি।
৫,৯২১.
নিচের কোন বানানটি অশুদ্ধ?
  1. নিয়ন্ত্রণ
  2. সূর্য্য
  3. নিমন্ত্রণ
  4. আমন্ত্রণ
সঠিক উত্তর:
সূর্য্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সূর্য্য
ব্যাখ্যা
• 'সূর্য্য' বানানটি অশুদ্ধ। 
- সূর্য্য-এর শুদ্ধরূপ সূর্য
- কারণ, রেফের পরে ব্যঞ্জনবর্ণের দ্বিত্ব হয় না।

• 'সূর্য' শব্দের অর্থ: 
- সৌরজগতের কেন্দ্রীয় নক্ষত্র-যাকে কেন্দ্র করে গ্রহসমূহ আবর্তিত হয়। 

• 'সূর্য' শব্দের প্রতিশব্দ:
দিবাকর; রবি; ভানু; আফতাব; তপন; প্রভাকর; দিনমণি; বিবস্বান; বিভাবসু; মিত্র; মিহির; সবিতা; ভাস্কর; আদিত্য; মার্তণ্ড; অর্ক; পূষা; সূর; অর্যমা।
-------------- 
অন্য অপশনে, 
• 'আমন্ত্রণ' যার অর্থ আহ্বান।
• 'নিমন্ত্রণ' যার অর্থ দাওয়াত বা ভোজনে আহ্বান।
• 'নিয়ন্ত্রণ' যার অর্থ পরিচালক, সংযমন, শাসন।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বানান অভিধান, প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম, বাংলা একাডেমি, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৯২২.
‘মাঠে জল থই থই করছে।’- বাক্যে "মাঠে" পদটি কোন অধিকরণ?
  1. ক) ঐকদেশিক আধারাধিকরণ
  2. খ) অভিব্যাপক আধারাধিকরণ
  3. গ) বৈষয়িক আধারাধিকরণ
  4. ঘ) ভাবাধিকরণ
সঠিক উত্তর:
খ) অভিব্যাপক আধারাধিকরণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) অভিব্যাপক আধারাধিকরণ
ব্যাখ্যা
• মাঠে জল থই থই করছে। "মাঠে" পদটি অভিব্যাপক আধারাধিকরণ।

• অধিকরণ কারক বলতে ক্রিয়া সম্পাদনের সময় এবং আধারকে নির্দেশ করে।
• ক্রিয়াকে "কখন" ও "কোথায়" দ্বারা প্রশ্ন করলে উত্তরে অধিকরণ কারক পাওয়া যায়।
• অধিকরণ কারকে সপ্তমী অর্থাৎ '-এ' '-য়' '-তে' ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়।

-অধিকরণ কারক তিন প্রকার। যথা-
১. কালাধিকরণ,
২. আধারাধিকরণ এবং
৩. ভাবাধিকরণ।
- আধারাধিকরণ তিন ভাগে বিভক্ত। যথা:-

 ১. ঐকদেশিক,
২. অভিব্যাপক এবং
৩. বৈষয়িক।

 - উদ্দিষ্ট বস্তু যদি সমগ্র আধার ব্যাপ্ত করে বিরাজমান থাকে, তবে তাকে অভিব্যাপক আধারাধিকরণ বলে।
উদাহরণ:
- তিলে তৈল আছে। (তিলের সারা অংশব্যাপী)
- নদীতে পানি আছে। (নদীর সমস্ত অংশ ব্যাপ্ত করে)

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ নবম দশম শ্রেণি ২০১৯ সংস্করণ।
৫,৯২৩.
ভেড়া দিয়ে চাষ করা সম্ভব নয় । বাক্যে ‘ভেড়া’ কোন কারক?
  1. ক) কর্তা কারক
  2. খ) কর্ম কারক
  3. গ) করণ কারক
  4. ঘ) অপাদান কারক
সঠিক উত্তর:
গ) করণ কারক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) করণ কারক
ব্যাখ্যা
বাক্যে  ভেড়া- করণ কারক।

করণ কারক:
যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে করণ কারক বলে। এই কারকে সাধারণত ‘দ্বারা’, ’দিয়া’, ‘কর্তৃক’ ইত্যাদি অনুসর্গ যুক্ত হয় । 
যেমন - 
ভেড়া দিয়ে চাষ করা সম্ভব নয় ।
 
উৎস : বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি ( নবম - দশম শ্রেণি )
৫,৯২৪.
'কাল বিতরণী হবে উৎসব স্কুলে আমাদের পুরস্কার অনুষ্ঠিত' - বাক্যটিতে আদর্শ বাক্যের কোন গুণটি অনুপস্থিত?
  1. আকাঙ্ক্ষা
  2. আসত্তি
  3. যোগ্যতা
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
আসত্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আসত্তি
ব্যাখ্যা
• আসত্তি:
- মনোভাব প্রকাশের জন্য বাক্যে শব্দগুলো এমনভাবে পর পর সাজাতে হবে যাতে মনোভাব প্রকাশ বাধাগ্রস্ত না হয়।
- বাক্যের অর্থসঙ্গতি রক্ষার জন্য সুশৃঙ্খল পদবিন্যাসই আসত্তি।
যেমন –
- 'কাল বিতরণী হবে উৎসব স্কুলে আমাদের পুরস্কার অনুষ্ঠিত।' লেখা হওয়াতে পদ সন্নিবেশ ঠিকভাবে না হওয়ায় শব্দগুলোর অন্তর্নিহিত ভাবটি যথাযথ প্রকাশিত হয়নি। তাই এটি একটি বাক্য হয়নি। মনোভাব পূর্ণ - ভাবে প্রকাশ করার জন্য পদগুলোকে নিম্নলিখিতভাবে যথাস্থানে সন্নিবিষ্ট করতে হবে।
যেমন –
কাল আমাদের স্কুলে পুরস্কার বিতরণী উৎসব অনুষ্ঠিত হবে। বাক্যটি আসত্তিসম্পন্ন।

অন্যদিকে,
• আকাঙ্ক্ষা:
- বাক্যের অর্থ পরিষ্কারভাবে বোঝার জন্য এক পদের পর অন্য পদ শোনার যে ইচ্ছা তা-ই আকাঙ্ক্ষা।
যেমন-
'চন্দ্র পৃথিবীর চারদিকে'- এটুকু বললে বাক্যটি সম্পূর্ণ মনোভাব প্রকাশ করে না, আরও কিছু ইচ্ছা থাকে। বাক্যটি এভাবে পূর্ণাঙ্গ করা যায়: চন্দ্র পৃথিবীর চারদিকে ঘোরে। এখানে আকাঙ্ক্ষার নিবৃত্তি হয়েছে বলে এটি পূর্ণাঙ্গ বাক্য।

• যোগ্যতা:
- বাক্যস্থিত পদসমূহের অন্তর্গত এবং ভাবগত মিলবন্ধনের নাম যোগ্যতা।
যেমন:
- 'বর্ষার বৃষ্টিতে প্লাবনের সৃষ্টি হয়।' এটি একটি যোগ্যতাসম্পন্ন বাক্য। কারণ, বাক্যটিতে পদসমূহের অর্থগত এবং ভাবগত সমন্বয় রয়েছে।
কিন্তু 'বর্ষার রৌদ্র প্লাবনের সৃষ্টি করে।' বললে বাক্যটি ভাবপ্রকাশের যোগ্যতা হারাবে। কারণ, রৌদ্র প্লাবন সৃষ্টি করে না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৫,৯২৫.
শুদ্ধ বানান কোনটি?
  1. অজিজ্ঞাসীত
  2. অজীজ্ঞাসিত
  3. অজিজ্ঞাসিত
  4. অজিজ্ঞসীত
সঠিক উত্তর:
অজিজ্ঞাসিত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অজিজ্ঞাসিত
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান- অজিজ্ঞাসিত। 
- শব্দটি সংস্কৃত ভাষা থেকে আগত।
- এটি বিশেষণ পদ। 
অর্থ:
- জিজ্ঞাসা করা হয়নি এমন।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৫,৯২৬.
ভুল বানান কোনটি?
  1. ক) সমিতি
  2. খ) প্রতীতি
  3. গ) জামিতি
  4. ঘ) প্রকৃতি
সঠিক উত্তর:
গ) জামিতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) জামিতি
ব্যাখ্যা
জ্যামিতি (বিশেষ্য) - ভূমির পরিমাপ বিষয়ক শাস্ত্র; ক্ষেত্রতত্ত্ব।
প্রতীতি (বিশেষ্য) - জ্ঞান; বোধ; উপলব্ধি।
উৎসঃ বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৫,৯২৭.
‘আগামী কাল একটি বিজয় দিবস সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ১৬ই ডিসেম্ব হবে আমাদের স্কুলে উপলক্ষে’- বাক্যটি কোন গুণ হারিয়েছে?
  1. ক) আকাঙ্খা
  2. খ) আসত্তি
  3. গ) যোগ্যতা
  4. ঘ) সহজবোধ্যতা
সঠিক উত্তর:
খ) আসত্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) আসত্তি
ব্যাখ্যা
• একটি বাক্যকে সার্থক ও শুদ্ধ হতে হলে কতগুলাে গুণ বা বৈশিষ্ট্য থাকা দরকার।
- এগুলাে হচ্ছে- 
- আকাঙ্ক্ষা
- আসত্তি এবং
- যােগ্যতা

• আকাঙ্ক্ষা: ‘আকাঙক্ষা' শব্দের আভিধানিক অর্থ- ইচ্ছা, বাসনা। বাক্যের অর্থ সম্পূর্ণরূপে স্পষ্টভাবে বােঝার জন্য একপদের পর অন্য পদ শােনার যে ইচ্ছা তা-ই আকাঙ্ক্ষা।

• আসত্তি: আসত্তি শব্দের অর্থ নৈকট্য। মনােভাব প্রকাশের জন্য বাক্যে শব্দগুলি এমনভাবে পরপর সাজাতে হবে যাতে পরস্পরের মধ্যে সম্পর্ক থাকে এবং ভাষার নিয়ম অনুযায়ী নৈকট্য থাকে।
- ‘আগামী কাল একটি বিজয় দিবস সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ১৬ই ডিসেম্ব হবে আমাদের স্কুলে উপলক্ষে’- বাক্যটিতে পদবিন্যাস সঠিক বা সুশৃঙ্খল না হওয়ায় বাক্যটি  আসত্তি গুণ হারিয়েছে।
• শুদ্ধরূপ: আগামী কাল ১৬ই ডিসেম্বর বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে আমাদের স্কুলে একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হবে।

• যােগ্যতা: বাক্যের পদসমূহের অর্থগত ও ভাবগত মেলবন্ধনের নামই যােগ্যতা। 

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ।
৫,৯২৮.
ভাববাচ্যের ক্রিয়া কোন পুরুষ হয়?
  1. কর্তৃ পুরুষ
  2. মধ্যম পুরুষ
  3. উত্তম পুরুষ
  4. নাম পুরুষ
সঠিক উত্তর:
নাম পুরুষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাম পুরুষ
ব্যাখ্যা
• ভাববাচ্য:
যে বাচ্যে কর্ম থাকে না এবং বাক্যে ক্রিয়ার অর্থই বিশেষভাবে ব্যক্ত হয় তাকে ভাববাচ্য বলে।

১. ভাববাচ্যের ক্রিয়া সর্বদাই নাম পুরুষের হয়। ভাববাচ্যের কর্তায় ষষ্ঠী, দ্বিতীয়া অথবা তৃতীয়া বিভক্তি প্রযুক্ত হয়।
যেমন:
(ক) আমার (কর্তায় ষষ্ঠী) খাওয়া হলো না। (নাম পুরুষের ক্রিয়া)
(খ) আমাকে (কর্তায় দ্বিতীয়া) এখন যেতে হবে। (নাম পুরুষের ক্রিয়া)
(গ) তোমার দ্বারা (কর্তায় তৃতীয়) এ কাজ হবে না। (নাম পুরুষের ক্রিয়া)

২. কখনো কখনো ভাববাচ্যে কর্তা উহ্য থাকে, কর্ম দ্বারাই ভাববাচ্য গঠিত হয়।
যেমন:
- এ পথে চলা যায় না।
- এবার ট্রেনে ওঠা যাক।
- কোথা থেকে আসা হচ্ছে?

৩. মূল ক্রিয়ার সঙ্গে সহযোগী ক্রিয়ার সংযোগ ও বিভিন্ন অর্থে ভাববাচ্যের ক্রিয়া গঠিত হয়।
যেমন:
- এ ব্যাপারে আমাকে দায়ী করা চলে না।
- এ রাস্তা আমার চেনা নেই।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫,৯২৯.
অশুদ্ধ বানান কোনটি?
  1. অগ্নিক্রিয়া
  2. অগ্নিগিরী
  3. অগ্নিদগ্ধ
  4. অগ্নিনির্বাপক
  5. কোনোটিই নয় 
সঠিক উত্তর:
অগ্নিগিরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অগ্নিগিরী
ব্যাখ্যা

• অশুদ্ধ বানান- অগ্নিগিরী। 

শুদ্ধরূপ- অগ্নিগিরি। 
- শব্দটি বিশেষ্য পদ।
- এটি একটি সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ:
- যে পর্বত থেকে ভূগর্ভস্থ গলিত লাভা অঙ্গার প্রভৃতি নির্গত হয়।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।  

৫,৯৩০.
নিচের কোনটি অশুদ্ধ?
  1. ক) প্রাণিবিদ্যা
  2. খ) মনোকষ্ট
  3. গ) মন্ত্রিসভা
  4. ঘ) শিরশ্ছেদ
সঠিক উত্তর:
খ) মনোকষ্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মনোকষ্ট
ব্যাখ্যা
অশুদ্ধ শব্দটি হচ্ছে মনোকষ্ট। এর শুদ্ধ রূপ হবে মনঃকষ্ট। এটি বিসর্গ সন্ধি যোগে গঠিত একটি শব্দ।
৫,৯৩১.
নিচের কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. ঝঞ্ঝাট
  2. ঝঞ্জাট
  3. জঞ্ঝাঠ
  4. জঞ্ঝাট
সঠিক উত্তর:
ঝঞ্ঝাট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঝঞ্ঝাট
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
- ঝঞ্ঝাট- শুদ্ধ বানান।

• ঝঞ্ঝাট, ঝঞ্ঝট [ঝন্‌ঝাট্‌, ঝন্‌ঝট্‌] শব্দের অর্থ:
- অশান্তি; হাঙ্গামা; ঝামেলা; ঝক্কি।
- কষ্ট (ঝঞ্ঝাট পোহানো)। 

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৫,৯৩২.
'মিথ্যাবাদীকে কেউ বিশ্বাস করে না।' - বাক্যটির জটিল রূপ কী?
  1. মিথ্যাবাদীকে সবাই অপছন্দ করে।
  2. তিনি মিথ্যাবাদী এবং তাকে কেউ বিশ্বাস করে না।
  3. যে মিথ্যাবাদী, তাকে কেউ বিশ্বাস করে না।
  4. মিথ্যাবাদী তাই কেউ বিশ্বাস করে না।
সঠিক উত্তর:
যে মিথ্যাবাদী, তাকে কেউ বিশ্বাস করে না।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যে মিথ্যাবাদী, তাকে কেউ বিশ্বাস করে না।
ব্যাখ্যা
সরল বাক্য থেকে জটিল বাক্য:
- যে-সে, যিনি-তিনি, যারা-তারা, যা-তা ইত্যাদি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যেহেতু-সেহেতু, যখন- তখন, যত-তত, যেমন-তেমন ইত্যাদি সাপেক্ষ যোজক যুক্ত করে সরল বাক্যকে জটিল বাক্যে রূপান্তরিত করা যায়।

যেমন:
সরল বাক্য: মিথ্যাবাদীকে কেউ বিশ্বাস করে না।
জটিল বাক্য: যে মিথ্যাবাদী, তাকে কেউ বিশ্বাস করে না।

সরল বাক্য: সুসংবাদটা পেয়ে সে আনন্দিত হলো।
জটিল বাক্য: যখন সে সুসংবাদটা পেল, তখন সে আনন্দিত হলো।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নির্মিত ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, (সংস্করণ ২০২১)।
৫,৯৩৩.
‘জিহ্বা’ শব্দের উচ্চারণ হচ্ছে -
  1. জিউবা
  2. জিউভা
  3. জিওভা
  4. জিওবা
সঠিক উত্তর:
জিউভা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জিউভা
ব্যাখ্যা
• ‘জিহ্বা’ শব্দের শুদ্ধ উচ্চারণ (জিউ্ভা),
- সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃতি প্রত্যয় = [লিহ্ + ব + অ (টাপ্)]
অর্থ: জিভ, রসনা।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৫,৯৩৪.
কোন শব্দে মূর্ধন্য-ণ এর ব্যবহার অশুদ্ধ?
  1. ভূষণ
  2. বিষ্ণু
  3. পরাণ
  4. দূষণ
সঠিক উত্তর:
পরাণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরাণ
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ: পরাণ।
• শুদ্ধ: পরান।
[অতৎসম শব্দের বানানে ণ ব্যবহার করা হবে না।]

--------------------
• নিয়ম:
বাংলা শব্দের বানানে দন্ত্য-ন এর পরিবর্তে মূর্ধন্য-ণ ব্যবহার হওয়ার কিছু নিয়ম রয়েছে। সাধারণভাবে ‘র, ষ, ক্ষ’ এই তিনটি অক্ষরের পর মূর্ধন্য-ণ ব্যবহৃত হয়।
• এখারে র অর্থ: র, ঋ, রেফ্, র-ফলা, ঋ-কার। উদাহরণ- কারণ, ঋণ, কর্ণ, তৃণ ইত্যাদি।
• ষ: ষণ্ড, ঘর্ষণ, বিষ্ণু, ভূষণ, দূষণ ইত্যাদি।
• ক্ষ: ক্ষণ, ক্ষীণ, ক্ষুণ্ন, ক্ষৌণি ইত্যাদি।

• মূর্ধন্য-ণ ও দন্ত্য-ন এর ব্যবহার:
- অতৎসম শব্দের বানানে ণ ব্যবহার করা হবে না।
যেমন:
অঘ্রান, ইরান, কান, কোরান, গভর্নর, গুনতি, গোনা, ঝরনা, পরান, রানি, সোনা।

উৎস: বাংলা লেখার নিয়মকানুন, ড. হায়াৎ মামুদ।
৫,৯৩৫.
কোনটি অপপ্রয়োগ?
  1. সৌহার্দ্যতা
  2. কার্পণ্য
  3. পৌরুষ
  4. গাম্ভীর্য
সঠিক উত্তর:
সৌহার্দ্যতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৌহার্দ্যতা
ব্যাখ্যা
• 'সৌহার্দ্যতা'- প্রত্যয়জনিত অপপ্রয়োগ। এর শুদ্ধ প্রয়োগ - সৌহার্দ। 

তা- প্রত্যয়ের শুদ্ধ- অশুদ্ধ প্রয়োগ:
- তা, ত্ব প্রত্যয় বিশেষ্যবাচক প্রত্যয়। এই প্রত্যয় কেবল বিশেষণকে বিশেষ্য করে। তাই বিশেষ্য শব্দের সঙ্গে তা বা ত্ব প্রত্যয় প্রয়োগ অশুদ্ধ।

অন্যদিকে:
- গাম্ভীর্য, পৌরুষ ও কার্পণ্য শব্দ গুলোর শুদ্ধপ্রয়োগ ঘটেছে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৫,৯৩৬.
‘সর্বাঙ্গে ব্যথা, ঔষধ দিব কোথা’ - এখানে ‘সর্বাঙ্গে’ শব্দটি কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. ক) অধিকরণে দ্বিতীয়া
  2. খ) অধিকরণে সপ্তমী
  3. গ) কর্তায় সপ্তমী
  4. ঘ) অপাদানে তৃতীয়া
সঠিক উত্তর:
খ) অধিকরণে সপ্তমী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) অধিকরণে সপ্তমী
ব্যাখ্যা

ক্রিয়া সম্পাদনের কাল এবং আধারকে অধিকরণ কারক বলে। এ কারকে সপ্তমী অর্থ্যাৎ ‘এ’, ‘য়’ ‘তে’ ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়।
কতিপয় অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তির উদাহরণঃ 
তিলে তৈল আছে,
নদীতে মাছ আছে,
বনে বাঘ আছে,
আকাশে চাঁদ উঠেছে,
সর্বাঙ্গে ব্যথা, ঔষধ দিব কোথা।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী

৫,৯৩৭.
কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. রূপায়ন
  2. রুপায়ন
  3. রূপায়ণ
  4. রুপায়ণ
সঠিক উত্তর:
রূপায়ণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রূপায়ণ
ব্যাখ্যা
রূপায়ণ (বিশেষ্য) 
- সংস্কৃত শব্দ 
- প্রকৃতি প্রত্যয় = √রূপায়্‌+অন
অর্থ: 
- মূর্তি বা আকার দান, রূপদান।
- বাস্তবে পরিণতকরণ। 

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
৫,৯৩৮.
'তোমার দ্বারা এই কাজ হবে না।' কোন ধরনের বাচ্যর উদাহরণ?
  1. কর্তৃবাচ্য
  2. কর্মবাচ্য 
  3. ভাববাচ্য
  4. কর্মকর্তৃবাচ্য
সঠিক উত্তর:
ভাববাচ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভাববাচ্য
ব্যাখ্যা

• ভাববাচ্য:
যে বাক্যে কর্ম থাকে না এবং বাক্যে ক্রিয়ার অর্থই বিশেষভাবে ব্যক্ত হয় তাকে ভাববাচ্য বলে।
যেমন:
- আমার খাওয়া হলো না।
- আমাকে এখন যেতে হবে।
- তোমার দ্বারা এই কাজ হবে না।
- কোথায় থাকা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৫,৯৩৯.
নিম্নের কোন বাক্যটি অশুদ্ধ?
  1. তাহার বৈমাত্রেয় ভ্রাতা অসুস্থ।
  2. এই কাজে স্বার্থকতা লাভ করিতে চাইলে আরো মনযোগ করিতে হইবে।
  3. চোখের জলে বুক ভেসে গেল।
  4. সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
এই কাজে স্বার্থকতা লাভ করিতে চাইলে আরো মনযোগ করিতে হইবে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এই কাজে স্বার্থকতা লাভ করিতে চাইলে আরো মনযোগ করিতে হইবে।
ব্যাখ্যা

অশুদ্ধ বাক্য: এই কাজে স্বার্থকতা লাভ করিতে চাইলে আরো মনযোগ করিতে হইবে। (এখানে, 'মনযোগ' বানানটি' অশুদ্ধ)
শুদ্ধ বাক্য: এই কাজে সার্থকতা লাভ করতে চাইলে আরো মনোযোগ দিতে হবে।

অন্যদিকে,
শুদ্ধ বাক্য: তাহার বৈমাত্রেয় ভ্রাতা অসুস্থ।
শুদ্ধ বাক্য: চোখের জলে বুক ভেসে গেল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫,৯৪০.
নিচের কোন বাক্যটি শুদ্ধ?
  1. দরীদ্রকে দয়া কর।
  2. কি ভয়ানক বিপদ!
  3. ইহার আবশ্যক নাই।
  4. এটা কাঁচা হাতের লেখা
সঠিক উত্তর:
এটা কাঁচা হাতের লেখা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এটা কাঁচা হাতের লেখা
ব্যাখ্যা

অশুদ্ধ বাক্যগুলোর শুদ্ধরূপঃ দরিদ্রকে দয়া কর।
কী ভয়ানক বিপদ!
ইহার আবশ্যকতা নাই।
[উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর]

৫,৯৪১.
কোন শব্দে অপপ্রয়োগ ঘটেছে?
  1. মাতৃজনিত
  2. মহিমমণ্ডিত
  3. রাজগণ
  4. সৌন্দর্যতা
সঠিক উত্তর:
সৌন্দর্যতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৌন্দর্যতা
ব্যাখ্যা
• ‘সৌন্দর্যতা’ শব্দে ‘তা’ প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগ ঘটেছে।
- শুদ্ধ প্রয়োগ: সৌন্দর্য, সুন্দরতা।

অন্যদিকে,
- রাজগণ,
- মহিমমণ্ডিত ,
- মাতৃজনিত।
শব্দ গুলোর সঠিক প্রয়োগ হয়েছে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা ড. হায়াৎ মামুদ।
৫,৯৪২.
"মনোযোগ দিয়ে শিক্ষকের কথা লক্ষ্য করুন।" - বাক্যটিতে কোন ধরনের ভুল রয়েছে?
  1. উপমার ভুল প্রয়োগ
  2. বাচ্যজনিত
  3. শব্দের অপপ্রয়োগ
  4. ভুল নেই
সঠিক উত্তর:
শব্দের অপপ্রয়োগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শব্দের অপপ্রয়োগ
ব্যাখ্যা

বাক্যটি হলো: "মনোযোগ দিয়ে শিক্ষকের কথা লক্ষ্য করুন।"

অপশনগুলো বিশ্লেষণ করে দেখা যাক:

ক) উপমার ভুল প্রয়োগ: বাক্যটিতে কোনো উপমা (simile) ব্যবহৃত হয়নি, তাই এই অপশনটি প্রযোজ্য নয়।

খ) বাচ্যজনিত: বাচ্যজনিত ভুল বলতে সাধারণত কর্তৃবাচ্য, কর্মবাচ্য বা ভাববাচ্যের ভুল বোঝায়। এখানে বাচ্যের কোনো সমস্যা নেই, কারণ বাক্যটি সঠিকভাবে কর্তৃবাচ্যে আছে।

গ) শব্দের অপপ্রয়োগ: শব্দের অপপ্রয়োগ বলতে কোনো শব্দের ভুল অর্থে বা ভুল প্রসঙ্গে ব্যবহার বোঝায়। এখানে "মনোযোগ দিয়ে" এবং "লক্ষ্য করুন" শব্দ দুটি ভুল নয়, তবে একই অর্থ প্রকাশে দুটি শব্দের ব্যবহার অপ্রয়োজনীয় (বাহুল্যদোষ)।

ঘ) ভুল নেই: বাক্যটিতে শব্দের অপপ্রয়োগ আছে, তাই "ভুল নেই" অপশনটি সঠিক নয়।

ব্যাখ্যা:
বাক্যটিতে "লক্ষ্য" শব্দটি ভুল। কারণ, 'লক্ষ্য' শব্দের অর্থ- উদ্দেশ্য এবং 'লক্ষ' শব্দের অর্থ- খেয়াল করা। তাই, সঠিক শব্দ হিসেবে এখানে বসবে 'লক্ষ'।

সঠিক উত্তর: গ) শব্দের অপপ্রয়োগ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ; বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

৫,৯৪৩.
সাহিত্যে অলঙ্কার প্রধানত কত প্রকার?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা

• অলঙ্কার:
কাব্যকে সৌন্দর্যমণ্ডিতও সহৃদয়হৃদয়সংবেদ্য করার জন্য কবি যেসব কৌশল অবলম্বন করেন, তাকে অলঙ্কার বলে।
সাহিত্যে অলঙ্কার প্রধানত দুই প্রকার।
 যথা:
১. শব্দালঙ্কার এবং
২. অর্থালঙ্কার।

শব্দালংকার:
শব্দের ধ্বনিরূপকে আশ্রয় করে যে অলংকারের সৃষ্টি হয় তাকে বলা হয় শব্দালংকার। শব্দালংকারের নানা শ্রেণিবিভাগ রয়েছে। তন্মধ্যে প্রধান বিভাগগুলো হলো: অনুপ্রাস, যমক, শ্লেষ ও বক্রোক্তি।

অর্থালঙ্কার:
- যে অলঙ্কার একান্তভাবে শব্দের অর্থের উপর নির্ভর করে; অর্থ-প্রকাশক শব্দ বা শব্দাবলিকে পরিবর্তিত করে সেখানে সমার্থক অন্য শব্দ বসিয়ে দিলেও যে অলঙ্কার অক্ষুণ্ণ থাকে তাকে অর্থালঙ্কার বলে।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫,৯৪৪.
তৎসম শব্দের নিয়মানুযায়ী কোন বানানটি অশুদ্ধ?
  1. প্রণব
  2. পরিমাণ
  3. প্রয়ান
  4. কোনোটিই নয় 
সঠিক উত্তর:
প্রয়ান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রয়ান
ব্যাখ্যা

• তৎসম শব্দে 'প্র, পরি, নির' প্রভৃতি উপসর্গের পর কতকগুলো শব্দের 'দন্ত্য- ন' পরিবর্তিত হয়ে মূর্ধন্য- ণ' হয়। 
যেমন- প্রণব, প্রণয়, প্রণাম, প্রয়াণ, প্রাণ, প্রণোদন ইত্যাদি।  

• সে অনুসারে, 'প্রয়ান' এর শুদ্ধ বানান হবে- 'প্রয়াণ'। 

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান; প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন। 

৫,৯৪৫.
'একটু বাইরে বেড়িয়ে আসি।' কোন ধরনের বাচ্যের উদাহরণ?
  1. কর্তাবাচ্য
  2. ভাববাচ্য 
  3. কর্মবাচ্য 
  4. কর্মকর্তৃবাচ্য 
  5. কোনোটিই নয় 
সঠিক উত্তর:
কর্তাবাচ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্তাবাচ্য
ব্যাখ্যা

• কর্তাবাচ্য:
যে বাক্যের ক্রিয়া কর্তাকে অনুসরণ করে, তাকে কর্তাবাচ্য বলে। এক্ষেত্রে ক্রিয়ার রূপটি কর্তার পক্ষ অনুযায়ী হয়।
যেমন:
- তারা বাড়িটি তৈরি করেছে।
- পুলিশ ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করছেন।
- প্রধান শিক্ষক জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেছেন।
- আমরা কঠোর পরিশ্রম করি।
- একটু বাইরে বেড়িয়ে আসি।

অজীব বিশেষ্যও অনেক সময়ে কর্তার ভূমিকা গ্রহণ করে।
যেমন-
- ফ্যানটা অনেক জোরে ঘুরছে।
- শরতে শিউলি ফোটে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-২০২২ সংস্করণ)। 

৫,৯৪৬.
'তোমাকেই ঢাকা যেতে হবে'- কোন বাচ্যের উদাহরণ?
  1. ক) কর্তৃবাচ্য
  2. খ) কর্মবাচ্য
  3. গ) ভাববাচ্য
  4. ঘ) কর্মকর্তৃবাচ্য
সঠিক উত্তর:
গ) ভাববাচ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ভাববাচ্য
ব্যাখ্যা
'তোমাকেই ঢাকা যেতে হবে'- 'ভাববাচ্য' এর উদাহরণ।  
 
ভাববাচ্য:  
যে বাচ্যে কর্ম থাকে না এবং বাক্যের ক্রিয়ার অর্থই বিশেষভাবে ব্যক্ত হয়, তাকে ভাববাচ্য বলে।

ভাববাচ্যের বৈশিষ্ঠ্য: 
- ভাববাচ্যে ক্রিয়া সর্বদা নাম পুরুষের হয়। ভাববাচ্যের কর্তায় ষষ্ঠী, দ্বিতীয়া অথবা তৃতীয় বিভক্তি প্রযুক্ত হয়।
যেমন - আমার খাওয়া হলো না। (কর্তায় ষষ্ঠী)

- কখনো কখনো ভাববাচ্যে কর্তা উহ্য থাকে, কর্ম দ্বারাই ভাববাচ্য গঠিত হয়।
যেমন - এ পথে চলা যায় না; এবার ট্রেনে ওঠা যাক।

- মূল ক্রিয়ার সঙ্গে সহযোগী ক্রিয়ার সংযোগ ও বিভিন্ন অর্থে ভাববাচ্যের ক্রিয়া গঠিত হয়।
যেমন - এ রাস্তা আমার চেনা নেই।


উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি। ( ২০১৯ সংস্করণ)। 
৫,৯৪৭.
"তুমি আসবে এবং আমি যাব"- এই যৌগিক বাক্যের সরলরূপ হবে -
  1. ক) তুমি আসলে এরপর আমি চলে যাব।
  2. খ) তুমি আসো তারপর আমি যাব
  3. গ) তুমি এলে আমি যাব।
  4. ঘ) তুমি আসার পরপরই আমি চলে যাব।
সঠিক উত্তর:
গ) তুমি এলে আমি যাব।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) তুমি এলে আমি যাব।
ব্যাখ্যা
উল্লেখিত বাক্যটির সরলরূপ হচ্ছে - তুমি এলে আমি যাব।

যৌগিক বাক্যকে সরল বাক্যে রূপান্তরিত করার নিয়ম:
- বাক্য পরিবর্তন হলেও অর্থের পরিবর্তন হয় না। 
- বাক্যটিকে একটি অংশে পরিণত করতে হয়।
- সংযোজক, বিয়োজক ইত্যাদি অব্যয় পদ থাকলে তা বর্জন করতে হয়।
উদাহরণ: 
যৌগিক বাক্য: তুমি আসবে এবং আমি যাব। 
সরল বাক্য: তুমি এলে আমি যাব।

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক, বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৯৪৮.
'আমার হারানো কলমটি ফিরে পেয়েছি।' - এটি কোন ধরনের বাক্য?
  1. যৌগিক বাক্য
  2. জটিল বাক্য
  3. সরল বাক্য
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
সরল বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সরল বাক্য
ব্যাখ্যা
সরল বাক্য:
- যে বাক্যে একটিমাত্র কর্তা (উদ্দেশ্য) এবং একটিমাত্র সমাপিকা ক্রিয়া (বিধেয়) থাকে, তাকে সরল বাক্য বলে।

যেমন:
- পুকুরে পদ্মফুল জন্মে।
- জ্ঞানী লোক সকলের শ্রদ্ধার পাত্র।
- পরিশ্রমী লোকই সাফল্য লাভ করে।
- আমার হারানো কলমটি ফিরে পেয়েছি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫,৯৪৯.
শুদ্ধ বানান - 
  1. পিপিলীকা
  2. অন্যূন
  3. প্রোজ্বলিত
  4. মুহুর্ত
সঠিক উত্তর:
অন্যূন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অন্যূন
ব্যাখ্যা

• শুদ্ধ বানান - ‘অন্যূন’।

বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,  
‘অন্যূন’ অর্থ- অন্তত; কমপক্ষে। 

অন্যদিকে,
• 'পিপিলীকা' এর শুদ্ধ বানান 'পিপীলিকা'। 
• প্রোজ্বলিত এর শুদ্ধ বানান - প্রজ্বলিত।
• 'মুহুর্ত' এর শুদ্ধ বানান - মুহূর্ত।

উৎস: বাংলা বানান অভিধান, বাংলা একাডেমি।

৫,৯৫০.
“কি বললে, আমি পাগল ------' শূন্যস্থানে বসবে:
  1. ক) প্রশ্নবােধক চিহ্ন
  2. খ) বিস্ময় চিহ্ন
  3. গ) দাড়ি
  4. ঘ) ড্যাশ
সঠিক উত্তর:
খ) বিস্ময় চিহ্ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বিস্ময় চিহ্ন
ব্যাখ্যা

- সবিস্ময় প্রশ্নের বেলায় প্রশ্নবোধক চিহ্নের পরিবর্তে বিস্ময়চিহ্ন বসে।
যেমনঃ
- তার হৃদয় কী দিয়ে গড়া!
- তার মন কী পাষাণ!
- তেমনি: কি বললে, আমি পাগল!

অর্থাৎ, শূন্যস্থানে বিস্ময় চিহ্ন বসবে৷

উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ৷

৫,৯৫১.
কোনটি শুদ্ধ বানান?
  1. বুৎপত্তি
  2. ব্যুৎপত্তি
  3. ব্যূৎপত্তি
  4. বূৎপত্তি
সঠিক উত্তর:
ব্যুৎপত্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যুৎপত্তি
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান - ব্যুৎপত্তি
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
- শব্দটি সংস্কৃত ভাষা হতে আগত।

শব্দের অর্থ:
- প্রকৃতি-প্রত্যয়াদি বিশ্লেষণদ্বারা শব্দের গঠন বিচার,
- গভীর জ্ঞান।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৫,৯৫২.
শুদ্ধবাক্য নির্ণয় করুন-
  1. বানান ভুল দূষণীয়।
  2. ইহা প্রমাণ হয়েছে।
  3. অধীনস্ত কর্মচারীরা কাজটি করেছে।
  4. জাপান উন্নতশীল দেশ।
সঠিক উত্তর:
বানান ভুল দূষণীয়।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বানান ভুল দূষণীয়।
ব্যাখ্যা
"বানান ভুল দূষণীয়।" বাক্যটি শুদ্ধ।

অন্যদিকে,
- অশুদ্ধ: ইহা প্রমাণ হয়েছে।
- শুদ্ধ: ইহা প্রমাণিত হয়েছে।

- অশুদ্ধ: অধীনস্ত কর্মচারীরা কাজটি করেছে।
- শুদ্ধ: অধীন কর্মচারীরা কাজটি করেছে।

- অশুদ্ধ: জাপান উন্নতশীল দেশ।
- শুদ্ধ: জাপান উন্নত দেশ।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৫,৯৫৩.
নিচের কোন বানানটি অশুদ্ধ?
  1. তিরস্কার
  2. দুস্কর
  3. পরিষ্কার
  4. আবিষ্কার
সঠিক উত্তর:
দুস্কর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুস্কর
ব্যাখ্যা

বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
- 'দুস্কর' বানানটি অশুদ্ধ ।
- শুদ্ধ বানান: দুষ্কর।

অন্যদিকে,
- আবিষ্কার, পরিষ্কার, তিরস্কার এর বানান শুদ্ধ ।

নিয়ম:
- বিসর্গযুক্ত ই/উ ধ্বনি এর পর 'ষ' হবে। যেমন: আবিষ্কার (আবিঃ + কার); পরিষ্কার।
- অ-যুক্ত বা মুক্ত বর্ণের পর 'স' হবে ।যেমন: তিরস্কার।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

৫,৯৫৪.
"কর্ম কর, অনুরূপ ফল পাবে।" গঠন অনুসারে বাক্যটি কোন ধরনের?
  1. জটিল বাক্য
  2. যৌগিক বাক্য
  3. সরুল বাক্য
  4. নির্দেশাত্মক বাক্য
সঠিক উত্তর:
যৌগিক বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যৌগিক বাক্য
ব্যাখ্যা
• "কর্ম কর, অনুরূপ ফল পাবে।" গঠন অনুসারে বাক্যটি একটি যৌগিক বাক্য।

• যৌগিক বাক্য:
- পরস্পর নিরপেক্ষ দুই বা ততোধিক সরল বা মিশ্র বাক্য মিলিত হয়ে একটি সম্পূর্ণ বাক্য গঠন করলে তাকে যৌগিক বাক্য বলে।
- জ্ঞাতব্য: যৌগিক বাক্যের অন্তর্গত নিরপেক্ষ বাক্যগুলো এবং, ও, কিন্তু, অথবা, অথচ, কিংবা, বরং, তথাপি প্রভৃতি অব্যয় যোগে সংযুক্ত বা সমন্বিত থাকে।
যেমন –
- নেতা জনগণকে উৎসাহিত করলেন বটে, কিন্তু, কোনো পথ দেখাতে পারলেন না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৫,৯৫৫.
'সত্য কথা না বলে বিপদে পড়েছি।' বাক্যটির জটিল রূপ কোনটি?
  1. সত্য কথা বলিনি বলেই বিপদে পড়েছি।
  2. আমি সত্য কথা বলিনি, সেহেতু আমি বিপদে পড়েছি।
  3. আমি সত্য কথা বলিনি, তাই আমি বিপদে পড়েছি।
  4. যেহেতু আমি সত্য কথা বলিনি, তাই আমি বিপদে পড়েছি।
সঠিক উত্তর:
যেহেতু আমি সত্য কথা বলিনি, তাই আমি বিপদে পড়েছি।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যেহেতু আমি সত্য কথা বলিনি, তাই আমি বিপদে পড়েছি।
ব্যাখ্যা
• বাক্যটির জটিল রূপ: যেহেতু আমি সত্য কথা বলিনি, তাই আমি বিপদে পড়েছি।

-----------------
• সরল বাক্য থেকে জটিল বাক্যে রূপান্তরের নিয়ম:
সরল বাক্য থেকে জটিল বাক্যে রূপান্তর করতে হলে মৌলিক অর্থ বা মূল অর্থ অপরিবর্তিত রেখে নিচের সাধারণ সূত্রগুলো অবলম্বন করা যেতে পারে-

→ সূত্র: বাক্য পরিবর্তিত হলেও মৌলিক অর্থ অপরিবর্তিত থাকবে।
যেমন-
সরল: 'ইহাদের ন্যায় রূপবতী রমণী আমার অন্তঃপুরে নাই।'
জটিল: 'ইহারা যেরূপ, এরূপ রূপবতী রমণী আমার অন্তঃপুরে নাই।'

→ সূত্র: সরল বাকোর উদ্দেশ্য বা কর্তা ও বিধেয় বা সমাপিকা ক্রিয়াকে পরিবর্তন না করে সাধারণত জটিল বাক্যের প্রধান খণ্ডবাক্যটি গঠিত হয়। কিছু কিছু ক্ষেত্রে ব্যতিক্রমও হয়।
যেমন:
সরল: 'তুমি নবমালিকা কুসুমকোমলা হওয়া সত্ত্বেও তোমায় আলবালজলসেচনে নিযুক্ত করিয়াছেন।'
জটিল: 'যদিও তুমি নবমালিকা কুসুমকোমলা, তথাপি তোমায় আলবালজলসেচনে নিযুক্ত করিয়াছেন।'

→ সূত্র: সরল বাক্যের বাকি অংশ বিশেষ্য, বিশেষণ বা ক্রিয়া-বিশেষণস্থানীয় অপ্রধান বা আশ্রিত খণ্ডবাক্যে পরিণত হয়।
যেমন:
সরল: 'ভূস্বামী স্বাধিকারে অধিষ্ঠান করিলে প্রজারা একদিনের নিমিত্ত নিশ্চিন্ত থাকিতে পারে না।'
জটিল: 'ভূস্বামী যখন স্বাধিকারে অধিষ্ঠান করেন, তখন প্রজারা একদিনের নিমিত্ত নিশ্চিন্ত থাকিতে পারে না।'

→ সূত্র: প্রধান ও অপ্রধান খন্ডবাক্য সাপেক্ষ সর্বনাম (যা, তা) কিংবা যোজক শব্দ (যদি, তবে) দ্বারা যুক্ত হয়।
যেমন:
সরল: 'কার্যে ক্ষতি না হইলে তথায় গিয়া অতিথি সৎকার করুন।'
জটিল: 'যদি কার্যে ক্ষতি না হয়, তবে তথায় গিয়া অতিথি সৎকার করুন।'

সরল বাক্য থেকে জটিল বাক্যে রূপান্তরের ক্ষেত্রে কিছু যোজক ও সাপেক্ষ সর্বনাম ব্যবহৃত হয় -
• সাপেক্ষ যোজক: বটে-কিন্তু, যেই-সেই, বরঞ্চ-তথাপি, হয়-নয়, এত-যে, যেমন-তেমন, একে-তায়, যদি-তবু। তাহলে, এরূপ-যে-সে, যত-তত, যাই-তাই ইত্যাদিকে সাপেক্ষ যোজক বলে।

• সাপেক্ষ সর্বনাম: পরস্পরের ওপর নির্ভরশীল এক প্রকার সংযোগমূলক সর্বনামই সাপেক্ষ সর্বনাম।
যেমন: যে-সে, যিনি-তিনি, যা-তা, যার-তার, যতক্ষণ-ততক্ষণ ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৫,৯৫৬.
অন্ত্যযতি নয় কোনটি?
  1. প্রশ্নচিহ্ন
  2. বিস্ময়চিহ্ন
  3. দুই দাঁড়ি
  4. কমা
সঠিক উত্তর:
কমা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কমা
ব্যাখ্যা
• যতিচিহ্ন:
মুখের কথা লিখিত রূপ দেওয়ার সময় কম-বেশি থামা বোঝাতে যতিচিহ্ন ব্যবহৃত হয়। বক্তব্যকে স্পষ্ট করতেও যতিচিহ্ন ব্যবহৃত হয়। যতিচিহ্নকে বিরামচিহ্ন বা বিরতি চিহ্নও বলা হয়।

• বাক্যের শেষে যে যতিচিহ্নগুলো ব্যবহৃত হয়, এগুলোকে প্রান্তিক যতিচিহ্ন বা অন্ত্যযতি চিহ্ন বলে। অন্ত্যযতি চারটি, এগুলো হলো-

• অন্ত্যযতি:
১. দাঁড়ি (।),
২. প্রশ্নচিহ্ন (?),
৩. বিস্ময়চিহ্ন (!),
৪. দুই দাঁড়ি (।।)।

• অভ্যন্তর যতি:
৫. কমা (,),
৬. সেমিকোলন (;),
৭. হাইফেন (-),
৮. ড্যাশ (-),
৯. কোলন (:),
১০. কোলন-ড্যাশ (:-),
১১. বিন্দু (.)।

• অন্যান্য যতি:
১২. ঊর্ধ্বকমা ('),
১৩. ত্রিবিন্দু (...),
১৪. উদ্ধৃতিচিহ্ন ('...'/"..."),
১৫. বন্ধনীচিহ্ন (({{-]})),
১৬. বিকল্পচিহ্ন (/)।

উৎস: বাংলা একাডেমি, প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (প্রথম খণ্ড)।
৫,৯৫৭.
'শিক্ষক ছাত্রদের পড়ান।' - এটি কোন বাচ্যের উদাহরণ?
  1. ভাববাচ্য
  2. কর্তৃবাচ্য
  3. কর্মবাচ্য
  4. কর্মকর্তৃবাচ্য
সঠিক উত্তর:
কর্তৃবাচ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্তৃবাচ্য
ব্যাখ্যা
কর্তৃবাচ্য:
- যে বাক্যে কর্তার অর্থ-প্রধান্য রক্ষিত হয় এবং ক্রিয়াপদ কর্তার অনুসারী হয়, তাকে কর্তৃবাচ্য বলে।
- কর্তৃবাচ্যে ক্রিয়াপদ সর্বদাই কর্তার অনুসারী হয়। কর্তৃবাচ্যে কর্তায় প্রথমা বা শূন্য বিভক্তি এবং কর্মে দ্বিতীয়া, ষষ্ঠী বা শূন্য বিভক্তি হয়।

যেমন:
- ছাত্ররা অঙ্ক করছে।
- শিক্ষক ছাত্রদের পড়ান।
- রোগী পথ্য সেবন করে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫,৯৫৮.
নিচের কোন শব্দদ্বয় শুদ্ধ?
  1. উপরিউক্ত-উল্লিখিত
  2. উপরোক্ত-উল্লেখিত
  3. জাদুঘর-শুধুমাত্র
  4. আইনজীবী-মৌনতা
সঠিক উত্তর:
উপরিউক্ত-উল্লিখিত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরিউক্ত-উল্লিখিত
ব্যাখ্যা
• 'উপরিউক্ত'- বানানটি শুদ্ধ।
এর অর্থ: ওপরে বা পূর্বে বলা হয়েছে এমন, উপর্যুক্ত।

- 'উল্লিখিত'- বানানটি শুদ্ধ।
শব্দের অর্থ: ওপরে বা পূর্বে লিখিত, পূর্বোক্ত।

অন্যান্য অপশন,
অপশন খ) উপরোক্ত-উল্লেখিত; বানানগুলো অশুদ্ধ।

অপশন গ) জাদুঘর- বানানটি শুদ্ধ।
তবে,
শুধুমাত্র- অশুদ্ধ প্রয়োগ।
এর শুদ্ধ রূপ: শুধু/ মাত্র। 

অপশন ঘ) আইনজীবী-শুদ্ধ বানান।
তবে, 
মৌনতা- অশুদ্ধ প্রয়োগ।
এর শুদ্ধ প্রয়োগ: মৌন।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 
৫,৯৫৯.
করণ কারকে ৭মী বিভক্তির প্রয়োগ ঘটেছে কোন বাক্যে?
  1. ঘোড়ায় গাড়ি টানে।
  2. টাকায় কিনা হয়।
  3. টাকায় টাকা হয়।
  4. ঘোড়ায় চড়ে মর্দ হেঁটে চলল।
সঠিক উত্তর:
টাকায় কিনা হয়।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
টাকায় কিনা হয়।
ব্যাখ্যা
• কারক:
মূলত ক্রিয়ার সঙ্গে বাক্যের বিশেষ্য ও সর্বনামের যে সম্পর্ক, তাকে কারক বলে।
- কারক সম্পর্ক বোঝাতে বিশেষ্য ও সর্বনামের সঙ্গে সাধারণত বিভক্তি ও অনুসর্গ যুক্ত হয়ে থাকে।

• কারক ছয় প্রকার:
- কর্তা কারক,
- কর্ম কারক,
- করণ কারক,
- অপাদান কারক,
- অধিকরণ কারক ও
- সম্বন্ধ কারক।

• করণ কারক:
যার দ্বারা বা যে উপায়ে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে করণ কারক বলে।
- এই কারকে সাধারণত ‘দ্বারা’, ‘দিয়ে’, ‘কর্তৃক' ইত্যাদি অনুসর্গ যুক্ত হয়।
যেমন -
কেঁদে মরি আঁখিজলে।
ভেড়া দিয়ে
চাষ করা সম্ভব নয়।

অন্যদিকে,
ঘোড়ায় গাড়ি টানে - কর্তা কারকে ৭মী।
টাকায় টাকা হয় - অপাদান কারকে ৭মী।
ঘোড়ায় চড়ে মর্দ হেঁটে চলল- অধিকরণ কারকে ৭মী।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ), বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৯৬০.
অশুদ্ধ বাক্য কোনটি?
  1. মাত্র এই কটা টাকা দিলে?
  2. লোকটি নিরাপরাধী কিন্তু নিরহংকারী নয়।
  3. অপমানিত হবার ভয় নেই।
  4. তারা একত্র গমন করলো।
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
লোকটি নিরাপরাধী কিন্তু নিরহংকারী নয়।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লোকটি নিরাপরাধী কিন্তু নিরহংকারী নয়।
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ বাক্য- লোকটি নিরাপরাধী কিন্তু নিরহংকারী নয়।
[এখানে "নিরাপরাধী" শব্দটি অশুদ্ধ, এবং এর শুদ্ধ রূপ হবে "নিরাপরাধ"।]

• শুদ্ধ বাক্যটি হলো: লোকটি নিরাপরাধ; কিন্তু নিরহংকারী নয়।

অন্যদিকে,  
শুদ্ধ: শুধু/মাত্র এই কটা টাকা দিলে?
শুদ্ধ: অপমানিত হবার ভয় নেই।
শুদ্ধ: তারা একত্র গমন করলো।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৫,৯৬১.
‘পৌরুষত্ব’ শব্দটির শুদ্ধ রূপ কোনটি?
  1. পৌরুষতা
  2. পৌরুষ
  3. পুরুষত্ব
  4. খ) ও গ) উভয়ই
সঠিক উত্তর:
খ) ও গ) উভয়ই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ও গ) উভয়ই
ব্যাখ্যা

 • 'পৌরুষত্ব'- প্রত্যয়জনিত অপপ্রয়োগ।
- এর শুদ্ধ প্রয়োগ - পৌরুষ, পুরুষত্ব।

• তা- প্রত্যয়ের শুদ্ধ- অশুদ্ধ প্রয়োগ:
- তা, ত্ব প্রত্যয় বিশেষ্যবাচক প্রত্যয়। এই প্রত্যয় কেবল বিশেষণকে বিশেষ্য করে। তাই বিশেষ্য শব্দের সঙ্গে তা বা ত্ব প্রত্যয় প্রয়োগ অশুদ্ধ।

উল্লেখ্য,
- গাম্ভীর্য, চতুরতা ও চপলতা শব্দ গুলোর শুদ্ধপ্রয়োগ ঘটেছে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৫,৯৬২.
'যখন সে সুসংবাদ পেল, তখন সে আনন্দিত হলো'- বাক্যটির সরলরূপ কোনটি?
  1. সে সুসংবাদ পেল এবং আনন্দিত হলো।
  2. যেই সে সুসংবাদ পেল, সেই সে আনন্দিত হলো।
  3. যদি সুসংবাদ পাও, তবে আনন্দিত হও।
  4. সুসংবাদ পেয়ে সে আনন্দিত হলো।
সঠিক উত্তর:
সুসংবাদ পেয়ে সে আনন্দিত হলো।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুসংবাদ পেয়ে সে আনন্দিত হলো।
ব্যাখ্যা
• জটিল বাক্য থেকে সরল বাক্য:
- জটিল বাক্যকে সরল বাক্যে রূপান্তরের সময়ে সাপেক্ষ সর্বনাম ও সাপেক্ষ যোজককে বাদ দিতে হয়।
যেমন:
জটিল বাক্য: যখন সে সুসংবাদটা পেল, তখন সে আনন্দিত হলো ।
সরল বাক্য: সুসংবাদটা পেয়ে সে আনন্দিত হলো।

জটিল বাক্য: যারা পরিশ্রম করে, তারা জীবনে সফল হয়।
সরল বাক্য: পরিশ্রমীরা জীবনে সফল হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( সংস্করণ- ২০২১)।
৫,৯৬৩.
'দেশ থেকে পঙ্গপাল চলে গেছে।' - এখানে 'দেশ' কোন কারক?
  1. অপাদান
  2. অধিকরণ
  3. কর্ম
  4. কর্তা
সঠিক উত্তর:
অপাদান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপাদান
ব্যাখ্যা

অপাদান কারক:
- যা থেকে কিছু বিচ্যুত, গৃহীত, জাত, বিরত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয় এবং যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকেই অপাদান কারক বলে।

যেমন:
- বিচ্যুত: গাছ থেকে পাতা পড়ে।
- গৃহীত: সুক্তি থেকে মুক্তো মেলে।
- জাত: জমি থেকে ফসল পাই।
- বিরত: পাপে বিরত হও।
- দূরীভূত: দেশ থেকে পঙ্গপাল চলে গেছে।
- রক্ষিত: বিপদ থেকে বাঁচাও।
- আরম্ভ: শুক্রবার থেকে পরীক্ষা শুরু।
- ভীত: বাঘকে ভয় পায় না কে?

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

৫,৯৬৪.
'গুরু কাছে লব গুরু দুখ।' - এখানে কী ধরনের অলংকারের প্রয়োগ হয়েছে?
  1. যমক
  2. শ্লেষ
  3. ধ্বন্যুক্তি
  4. পুনরুক্তবদাভাস
সঠিক উত্তর:
যমক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যমক
ব্যাখ্যা
যমক:
- যমক শব্দের অর্থ 'যুগ্ম'।
- একই শব্দ বা প্রায় একই রকম উচ্চার্য শব্দ যদি নির্দিষ্টক্রমে দুই বা তার বেশিবার আলাদা, আলাদা অর্থে বসে, তবে সে অলঙ্কার হবে যমক।
যথা -
'গুরু কাছে লব গুরু দুখ।'
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
→ ১ম গুরু = পুরোহিত।
→ ২য় গুরু = কঠিন / বড়।

অন্যদিকে,
শ্লেষ:
চরণে একটিমাত্র শব্দ একাধিক অর্থ প্রকাশ করলে এবং পাঠকও যদি একাধিক অর্থেই তাকে গ্রহণ করে তবে তাকে শ্লেষ বলে।
যথা -
'মধুহীন করোনা মা তব মনঃ কোকনদে।'
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত
(এখানে 'মধুহীন' বলতে মিষ্টিহীন ও মধুসূদনহীন-এ দুই অর্থ প্রকাশিত)

ধ্বন্যুক্তি:
- ধ্বনির উচ্চারণে যদি বিষয়বস্তুকে দৃশ্যমান করা যায়, এমন অলঙ্কার।
- অর্থাৎ কবিতার চরণে ধ্বনিরূপ দিয়ে যদি অর্থের অবতারণা করা যায় তবে তাকে ধ্বন্যুক্তি বলে।
যেমন -
'বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর
বাজছে বাদল গামুর-গুমুর।
টাপুর-টুপুর গামুর-গুমুর
গামুর-গুমুর টাপুর-টুপুর।
ঝাপুর-ঝুপুর ছাপুর-ছুপুর
ছাপুর-ছুপুর ছাপুর-ঝুপুর।'
- অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
(এখানে শব্দ দিয়ে এমন ধ্বনিসৃজন হয়েছে, যেন দেখা যাচ্ছে বৃষ্টি হচ্ছে।)

পুনরুক্তবদাভাস:
- একই চরণে একার্থক একাধিক শব্দ যদি বিভিন্নরূপে ব্যবহৃত হয় কিন্তু বিশ্লেষণে যদি সেই পুনরাবৃত্তির বিভিন্ন অর্থ প্রতীয়মান হয় তাহলে তাকে পুনরুক্তবদাভাস বলা হয়।
- বাংলা সাহিত্যে এর দৃষ্টান্ত অল্প।
যেমন -
'নিশীথ রাতে একা বসে গান গাই।'
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
(এখানে নিশীথ ও রাত একার্থ হলেও নিশীথ 'গভীর' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।) 'তনু দেহটি সাজাব তব আমার আভরণে।' -রবীন্দ্রনাথ (এখানে তনু ও দেহ একার্থ হলেও তনু 'ছিপছিপে' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।)

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৯৬৫.
‘যদিও তাঁর টাকা আছে, তথাপি তিনি দান করেন না’- বাক্যটির যৌগিক রূপ কোনটি?
  1. তাঁর টাকা আছে এবং তিনি দান করেন না
  2. তাঁর টাকা আছে, কিন্তু তিনি দান করেন না।
  3. তাঁর টাকা থাকলেও তিনি দান করেন না।
  4. টাকা থাকা সত্ত্বেও তিনি দান করেন না।
সঠিক উত্তর:
তাঁর টাকা আছে, কিন্তু তিনি দান করেন না।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তাঁর টাকা আছে, কিন্তু তিনি দান করেন না।
ব্যাখ্যা
• মিশ্রবাক্যকে যৌগিক বাক্যে রূপান্তর:
মিশ্র বাক্যকে যৌগিক বাক্যে পরিবর্তন করতে হলে খণ্ডবাক্যগুলোকে এক একটি স্বাধীন বাক্যে পরিবর্তন করে তাদের মধ্যে সংযোজক অব্যয়ের ব্যবহার করতে হয়। যেমন-
(১) মিশ্র বাক্য: যদি সে কাল আসে, তাহলে আমি যাব।
যৌগিক বাক্য: সে কাল আসবে এবং আমি যাব।
(২) মিশ্র বাক্য: যখন বিপদ আসে, তখন দুঃখও আসে।
যৌগিক বাক্য: বিপদ এবং দুঃখ এক সময়ে আসে।
(৩) মিশ্র বাক্য: যদিও তাঁর টাকা আছে, তথাপি তিনি দান করেন না।
যৌগিক বাক্য: তাঁর টাকা আছে, কিন্তু তিনি দান করেন না

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৫,৯৬৬.
ব্যাকরণের কোন অংশে কারক সম্বন্ধে আলোচনা করা হয়?
  1. ক) ধ্বনিতত্ত্বে
  2. খ) অর্থতত্ত্বে
  3. গ) বাক্যতত্ত্বে
  4. ঘ) রূপতত্ত্বে
সঠিক উত্তর:
গ) বাক্যতত্ত্বে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বাক্যতত্ত্বে
ব্যাখ্যা
- 'কারক' ব্যাকরণের বাক্যতত্ত্বে আলোচিত হয়ে থাকে।

 বাক্যতত্ত্ব:

- বাক্যতত্ত্বে বাক্য নিয়ে আলোচনা করা হয়। বাক্যের নির্মাণ ও গঠন বাক্যতত্ত্বের মূল আলোচ্য।
- বাক্যের মধ্যে পদ ও বর্গ কিভাবে বিন্যস্ত থাকে বাক্যতত্ত্বে তা বর্ণনা করা হয়।
- এছাড়া বাক্যের রূপান্তর, বাক্যের বাচ্য, উক্তি ইত্যাদি এই অংশের আলোচ্য বিষয়।
- কারক বিশ্লেষণ, বাক্যের যোগ্যতা, বাক্যের উপাদান লোপ, যতিচিহ্ন ইত্যাদি বাক্যতত্ত্ব অংশে আলোচিত হয়।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)
৫,৯৬৭.
কোন বানানটি সঠিক?
  1. ধাধাঁ
  2. ধাধা
  3. ধাঁধাঁ
  4. ধাঁধা
সঠিক উত্তর:
ধাঁধা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধাঁধা
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
'ধাঁধা' - শুদ্ধ শব্দ।



উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৫,৯৬৮.
অধীন বাক্যকে আলাদা করতে কোন যতিচিহ্ন ব্যবহৃত হয়?
  1. কমা
  2. কোলন
  3. সেমিকোলন
  4. দাঁড়ি
সঠিক উত্তর:
কমা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কমা
ব্যাখ্যা
যতিচিহ্ন:
- মুখের কথাকে লিখিত রূপ দেওয়ার সময়ে কম-বেশি থামা বোঝাতে যেসব চিহ্ন ব্যবহৃত হয়, সেগুলোকে যতিচিহ্ন বলে।
- বক্তব্যকে স্পষ্ট করতেও কিছু চিহ্ন ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
- যতিচিহ্নকে বিরামচিহ্ন বা বিরতিচিহ্নও বলা হয়।

কমা (,):
- কমা সামান্য বিরতি নির্দেশ করে।
- শব্দ, বর্গ ও অধীন বাক্যকে আলাদা করতে কমার ব্যবহার হয়।
যেমন -
→ গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ, হেমন্ত, শীত ও বসন্ত – বাংলাদেশ এই ছয়টি ঋতুর দেশ।
→ নিবিড় অধ্যবসায়, কঠোর পরিশ্রম ও সময়নিষ্ঠ থাকলে সাফল্য আসবে।
→ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছেন, “পাপকে ঠেকাবার জন্যে কিছু না করাই তো পাপ।"

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৫,৯৬৯.
কোনটি শুদ্ধ বাক্য?
  1. অনাবশ্যকীয় ব্যাপারে কৌতূহল ভালো নয়।
  2. আমি তোমার অপরাধ সম্পর্কে নিঃসন্দিহান।
  3. অন্যায়ের প্রতিফল অনিবার্য।
  4. বাংলাদেশ একটি উন্নতশীল দেশ।
সঠিক উত্তর:
অন্যায়ের প্রতিফল অনিবার্য।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অন্যায়ের প্রতিফল অনিবার্য।
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধবাক্য: অন্যায়ের প্রতিফল অনিবার্য।

• বিশেষ্যের জায়গায় বিশেষণের কিংবা বিশেষণের বাহুল্য প্রয়োগজনিত ভুল:

বাক্যের মধ্যে ব্যবহৃত বিশেষ্য পদকে বিশেষণ কিংবা বিশেষণ পদকে বিশেষ্য ভেবে পদ পরিবর্তন করে এ ধরনের ভুল করা হয়। যেমন : আবশ্যক শব্দটি বিশেষণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এর বদলে -ঈয় প্রত্যয় যোগ করে আবশ্যকীয় শব্দের ব্যবহার যথাযথ নয়। 

অশুদ্ধ বাক্যগুলোর শুদ্ধরূপ হলো- 
• অশুদ্ধ: অনাবশ্যকীয় ব্যাপারে কৌতূহল ভালো নয়।
• শুদ্ধ বাক্য: অনাবশ্যক ব্যাপারে কৌতূহল ভালো নয়।

• অশুদ্ধ: বাংলাদেশ একটি উন্নতশীল দেশ। 
• শুদ্ধ বাক্য: বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ।

• অশুদ্ধ: আমি তোমার অপরাধ সম্পর্কে নিঃসন্দিহান।
• শুদ্ধ বাক্য: আমি তোমার অপরাধ সম্পর্কে নিঃসন্দেহ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৫,৯৭০.
নিচের কোনটি যৌগিক বাক্য?
  1. যারা ধার্মিক তারা সুখী।
  2. সে ভালো ফল করেছে তাই আমরা আনন্দিত হয়েছি।
  3. সাবধান না হলে বিপদে পড়বে।
  4. আমার যে কলমটি হারিয়েছিল সেটি ফিরে পেয়েছি।
সঠিক উত্তর:
সে ভালো ফল করেছে তাই আমরা আনন্দিত হয়েছি।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সে ভালো ফল করেছে তাই আমরা আনন্দিত হয়েছি।
ব্যাখ্যা
• যৌগিক বাক্য:
দুই বা ততোধিক স্বাধীন বাক্য যখন যোজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে একটি বাক্যে পরিণত হয়, তখন তাকে যৌগিক বাক্য বলে।

- এবং, ও, আর, অথবা, বা, কিংবা, কিন্তু, অথচ, সেজন্য, ফলে ইত্যাদি যোজক যৌগিক বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। কমা (,), সেমিকোলন (;), কোলন (:), ড্যাশ (−) ইত্যাদি যতিচিহ্নও যোজকের কাজ করে।

যেমন:
- হামিদ বই পড়ছে, আর সীমা রান্না করছে।
- সে ভালো ফল করেছে তাই আমরা আনন্দিত হয়েছি।
- সে ঘর ঝাড়ু দিল, ঘর মুছল, তারপর পড়তে বসল ৷
- অন্ধকার হয়ে এসেছে অথচ সে বাসাই ফিরেনি।
- তোমরা চেষ্টা করেছ, কিন্তু আশানুরূপ ফল পাওনি এতে দোষের কিছু নেই।

অন্যদিকে,
- যারা ধার্মিক তারা সুখী।- এটি একটি সরল বাক্য।
- সাবধান না হলে বিপদে পড়বে।- এটি একটি সরল বাক্য।
- আমার যে কলমটি হারিয়েছিল সেটি ফিরে পেয়েছি।- এটি একটি জটিল বাক্য।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৫,৯৭১.
কোন বাক্যে ভাববাচ্যের কর্তার উদাহরণ দেয়া হয়েছে?
  1. ক) সে গ্রামে যাবে
  2. খ) ছুটি হলে ঘন্টা পড়বে
  3. গ) আমার যাওয়া হবে না
  4. ঘ) তাকে গ্রামে যেতে হবে
সঠিক উত্তর:
গ) আমার যাওয়া হবে না
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) আমার যাওয়া হবে না
ব্যাখ্যা
বাক্যের বাচ্য বা প্রকাশভঙ্গি অনুসারে কর্তা ৩ রকম হতে পারে।
যেমন-
১/ কর্মবাচ্যের কর্তা (পুলিশ দ্বারা চোর ধৃত হয়েছে),
২/ ভাববাচ্যের কর্তা (আমার যাওয়া হবে না) এবং
৩/ কর্ম-কর্তৃবাচ্যের কর্তা (কলমটা লেখে ভালো)।
(উৎস- বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী)
৫,৯৭২.
আকাশ মেঘে ঢাকা। - নিম্নরেখ শব্দটি কোন কারক?
  1. অপাদান
  2. করণ
  3. কর্ম
  4. অধিকরণ
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
করণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
করণ
ব্যাখ্যা
করণ কারক:
- ক্রিয়া নিষ্পত্তির ব্যাপারে যা প্রধান সহায়, তা-ই করণ। কর্তা যার সাহায্যে ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে করণ কারক বলে।

যেমন:
করণ কারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগ:
প্রথমা বিভক্তি: ছেলেরা বল খেলে।
তৃতীয়া বিভক্তি: আমরা কান দ্বারা শুনি।
পঞ্চমী বিভক্তি: এ সন্তান হতে দেশের মুখ উজ্জ্বল হবে।
ষষ্ঠী বিভক্তি: তার মাথায় লাঠির আঘাত কোরো না।
সপ্তমী বিভক্তি: আকাশ মেঘে ঢাকা।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।
৫,৯৭৩.
"দিবানিদ্রা" শব্দটি কোন অর্থে সঠিক?
  1. দিবা ও নিদ্রা 
  2. দিবায থেকে নিদ্রা
  3. দিবায় নিদ্রা
  4. দিবায় নিদ্রা দেয় যে 
সঠিক উত্তর:
দিবায় নিদ্রা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দিবায় নিদ্রা
ব্যাখ্যা

"দিবানিদ্রা" শব্দটি খ) দিবায় নিদ্রা - এভাবে সমাসসাধিত ধরলে সঠিক হবে।

ব্যাখ্যা:
'দিবানিদ্রা' শব্দটি বাংলা ভাষায় একটি সমাসসাধিত শব্দ, যা 'দিবায় নিদ্রা' থেকে গঠিত। এটি একটি সপ্তমী তৎপুরুষ সমাস, যেখানে 'দিবা' (বিশেষ্য - দিন) এবং 'নিদ্রা' (বিশেষ্য - ঘুম) মিলে 'দিবায় নিদ্রা' অর্থাৎ 'দিনের বেলায় ঘুম' বা 'দিনে ঘুমানো' বোঝায়।

সমাসের বিশ্লেষণ:
- পূর্বপদ: দিবা (অধিকরণ কারক - 'দিবায়');
- পরপদ: নিদ্রা (বিশেষ্য);
- ব্যাসবাক্য: দিবায় নিদ্রা = দিবানিদ্রা।

সমাসের নাম: সপ্তমী তৎপুরুষ সমাস।
অর্থ: দিনের ঘুম, দুপুরের ঘুম।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্; ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৫,৯৭৪.
আমি জিজ্ঞেস করলুম ফালুদা বানাতে বরফ লাগে এখানে বরফ তৈরি করার কল আছে
- বাক্যটির যতিচিহ্ন সম্বলিত সঠিক রূপ কোনটি?
  1. ক) আমি জিজ্ঞেস করলুম, ‘ফালুদা বানাতে বরফ লাগে?’ ‘এখানে বরফ তৈরি করার কল আছে?’
  2. খ) আমি জিজ্ঞেস করলুম, ‘ফালুদা বানাতে বরফ লাগে। এখানে বরফ তৈরি করার কল আছে?’
  3. গ) আমি জিজ্ঞেস করলুম - ‘ফালুদা বানাতে বরফ লাগে, এখানে বরফ তৈরি করার কল আছে?’
  4. ঘ) আমি জিজ্ঞেস করলুম “ফালুদা বানাতে বরফ লাগে। এখানে বরফ তৈরি করার কল আছে।”
সঠিক উত্তর:
খ) আমি জিজ্ঞেস করলুম, ‘ফালুদা বানাতে বরফ লাগে। এখানে বরফ তৈরি করার কল আছে?’
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) আমি জিজ্ঞেস করলুম, ‘ফালুদা বানাতে বরফ লাগে। এখানে বরফ তৈরি করার কল আছে?’
ব্যাখ্যা
আমি জিজ্ঞেস করলুম, ‘ফালুদা বানাতে বরফ লাগে। এখানে বরফ তৈরি করার কল আছে?’
- (প্রবাস বন্ধু - সৈয়দ মুজতবা আলী) থেকে নেওয়া।
৫,৯৭৫.
নিচের কোনটি সমাসঘটিত অশুদ্ধি নয়?
  1. দিবারাত্রি
  2. অহর্নিশি
  3. নীরোগ
  4. নিরপরাধী
সঠিক উত্তর:
নীরোগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নীরোগ
ব্যাখ্যা
'নীরোগ' সমাসঘটিত অশুদ্ধি নয়।
• নীরোগ শুদ্ধ শব্দ।

• সমাস-ঘটিত অশুদ্ধি:
- শুদ্ধ    -    অশুদ্ধ
- দিবারাত্র - দিবারাত্রি
- অহর্নিশ - অহর্নিশি
- নিরপরাধ - নিরপরাধী
- নিরপরাধ - নিরপরাধী। 
- নিরহঙ্কার - নিরহঙ্কারী। 
- নির্ধন - নির্ধনী। 
- নিরভিমান - নিরভিমানী। 
- নির্দোষ - নির্দোষী। 
- নীরোগ - নীরোগী। 
- অর্ধরাত্র - অর্ধরাত্রি। 
- পিতৃহারা - পিতাহারা। 
- যুবরাজ - যুবরাজা। 

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৫,৯৭৬.
নিচের কোন বানানটি অশুদ্ধ?
  1. স্বত্ব
  2. গভর্নর
  3. দুর্বিসহ
  4. প্রতীচী
সঠিক উত্তর:
দুর্বিসহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুর্বিসহ
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে, 
দুর্বিসহ- বানানটি অশুদ্ধ।
 এর শুদ্ধ বানান- 'দুর্বিষহ'।

'দুর্বিষহ'- এর শব্দের অর্থ:
- সহ্য করা যায় না এমন। 

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান। 
৫,৯৭৭.
নিচের কোনটি শুদ্ধ বানান?
  1. কনীনিকা
  2. কণিণিকা
  3. কনীণিকা
  4. কণীনিকা
সঠিক উত্তর:
কনীনিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কনীনিকা
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান 'কনীনিকা'
- সংস্কৃত শব্দ।
- বিশেষ্য পদ।
- প্রকৃতি প্রতয়: √কন্‌+ঈযস্‌+কন্‌+আ।
অর্থ:
- চোখের তারা,
- কড়ে আঙুল,
- ছোটো বোন।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৫,৯৭৮.
কোনটি সঠিক বানান নয়?
  1. ব্যর্থ
  2. ব্যবহার
  3. ব্যকরণ
  4. সব শুদ্ধ
সঠিক উত্তর:
ব্যকরণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যকরণ
ব্যাখ্যা
• সঠিক বানান নয় - ব্যকরণ
- 'ব্যকরণ' এর শুদ্ধ বানান - ব্যাকরণ
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
- সংস্কৃত শব্দ।

অন্যদিকে,
- 'ব্যর্থ এবং ব্যবহার' শব্দ দুটির বানান শুদ্ধ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৫,৯৭৯.
কোনটি অপপ্রয়োগ?
  1. নিরপরাধী
  2. সময়কাল
  3. সুবুদ্ধিমান
  4. উপরের সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলোই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলোই
ব্যাখ্যা

উত্তর: ঘ) উপরের সবগুলোই।
------------------
• 'সুবুদ্ধিমান', সমাস-ঘটিত অপপ্রয়োগ ঘটেছে। 
এর শুদ্ধরূপ: সুবুদ্ধি, বুদ্ধিমান।

• 'নিরপরাধী'
- শব্দটির সমাস-ঘটিত অপপ্রয়োগ হয়েছে। 
- এর শুদ্ধরূপ: নিরপরাধ। 

• 'সময়কাল'
- শব্দটির সমার্থ শব্দের বাহুল্যজনিত অপপ্রয়োগ হয়েছে।
- এর শুদ্ধরূপ: সময় / কাল।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ ও বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৫,৯৮০.
‘সৎ ব্যক্তি বলে সকলে তাকে সম্মান করে।’- বাক্যটির জটিল রূপ কোনটি?
  1. সে সৎ ব্যক্তি বলেই সকলে তাকে সম্মান করে।
  2. লোকটি সৎ এবং সকলে তাকে সম্মান করে।
  3. যেহেতু সে সৎ ব্যক্তি তাই সকলে তাকে সম্মান করে।
  4. লোকটি সৎ তাই সকলে তাকে সম্মান করে।
সঠিক উত্তর:
যেহেতু সে সৎ ব্যক্তি তাই সকলে তাকে সম্মান করে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যেহেতু সে সৎ ব্যক্তি তাই সকলে তাকে সম্মান করে।
ব্যাখ্যা
‘সৎ ব্যক্তি বলে সকলে তাকে সম্মান করে।’- বাক্যটির জটিল রূপ - যেহেতু সে সৎ ব্যক্তি, তাই সকলে তাকে সম্মান করে।

• সরল বাক্যকে যৌগিক বাক্যে রূপান্তর:

সরল বাক্যকে যৌগিক বাক্যে পরিণত করতে হলে সরল বাক্যের কোনো অংশকে নিরপেক্ষ বাক্যে রূপান্তর করতে হয়। এবং যথাসম্ভব সংযোজক বা বিয়োজক অব্যয়ের প্রয়োগ করতে হয়। যেমন-
১. সরল বাক্য: তিনি আমাকে পাঁচ টাকা দিয়ে বাড়ি যেতে বললেন।
যৌগিক বাক্য: তিনি আমাকে পাঁচটি টাকা দিলেন এবং বাড়ি যেতে বললেন।

২. সরল বাক্য: পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার জন্য এখন থেকেই তোমার পড়া উচিত।
যৌগিক বাক্য: এখন থেকেই তোমার পড়া উচিত, তবেই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারবে।

৩. সরল বাক্য: আমি বহু কষ্টে শিক্ষা লাভ করেছি।
যৌগিক বাক্য: আমি বহু কষ্ট করেছি, ফলে শিক্ষা লাভ করেছি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৫,৯৮১.
কোন বাক্যটি শুদ্ধ?
  1. এটা অপক্ক হাতের লেখা।
  2. দশচক্রে ঈশ্বর ভূত।
  3. অতিলোভে তাতী নষ্ট।
  4. কোনোটি নয়
সঠিক উত্তর:
কোনোটি নয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোনোটি নয়
ব্যাখ্যা

উপরিউক্ত সবগুলোই বাক্য অশুদ্ধ।

অশুদ্ধ বাক্য: অতিলোভে তাতী নষ্ট।
শুদ্ধ বাক্য: অতিলোভে তাঁতি নষ্ট।

অশুদ্ধ বাক্য: দশচক্রে ঈশ্বর ভূত।
শুদ্ধ বাক্য: দশচক্রে ভগবান ভূত।

অশুদ্ধ বাক্য: এটা অপক্ক হাতের লেখা।
শুদ্ধ বাক্য: এটা কাঁচা হাতের লেখা।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৫,৯৮২.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ছড়া ছন্দ বা লোকছন্দ বলেছেন কোনটিকে?
  1. স্বরবৃত্ত ছন্দ
  2. মাত্রাবৃত্ত ছন্দ
  3. পয়ার ছন্দ
  4. অক্ষরবৃত্ত
সঠিক উত্তর:
স্বরবৃত্ত ছন্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বরবৃত্ত ছন্দ
ব্যাখ্যা

• স্বরবৃত্ত ছন্দ:
- স্বরবৃত্ত ছন্দের বহুল প্রচলিত নাম ছড়ার ছন্দ, লৌকিক ছন্দ, লোকছন্দ, মেয়েলি ছন্দ।
- এটাকে প্রাকৃত বাংলা ছন্দও বলা হয়।প্রাচীন ছড়াগুলো স্বরবৃত্তে রচিত।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একে ছড়া ছন্দ বা লোকছন্দ বলেছেন।
- এর ভাব লঘু ও চপল।

স্বরবৃত্ত ছন্দের বৈশিষ্ট্য:
- দ্রুত লয়ের ছন্দ।
- এই ছন্দের মূল পর্ব বা পূর্ণ পর্ব চার মাত্রাবিশিষ্ট।
- মুক্তাক্ষর এবং বদ্ধাক্ষর উভয়ই একমাত্র বিশিষ্ট, পর্বগুলো ছোট ৪ মাত্রা বিশিষ্ট।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড হায়াৎ মামুদ, বাংলাপিডিয়া, প্রাচ্য সাহিত্য সমালোচনা তত্ত্ব ও অলংকার শাস্ত্র, প্রফেসর ড. ধীরেন্দ্রনাথ তরফদার।

৫,৯৮৩.
কোনটি শুদ্ধ বাক্য?
  1. মাতাহীন শিশুর কি দুঃখ।
  2. বিনয়পূর্বক নিবেদন করি।
  3. তার অন্তর অজ্ঞান সমুদ্রে আচ্ছন্ন।
  4. একের লাঠি দশের বোঝা।
সঠিক উত্তর:
বিনয়পূর্বক নিবেদন করি।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিনয়পূর্বক নিবেদন করি।
ব্যাখ্যা
• বিনয়পূর্বক নিবেদন করি।- বাক্যটি শুদ্ধ। 

• অন্যদিকে: 
- অশুদ্ধ বাক্য: মাতাহীন শিশুর কি দুঃখ।
- শুদ্ধ রূপ: মাতৃহীন শিশুর কি দুঃখ!

- অশুদ্ধ বাক্য: তার অন্তর অজ্ঞান সমুদ্রে আচ্ছন্ন।
- শুদ্ধ রূপ: তার অন্তর তিমিরাচ্ছন্ন।  

- অশুদ্ধ বাক্য: একের লাঠি দশের বোঝা। 
- শুদ্ধ রূপ: দশের লাঠি একের বোঝা। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৯৮৪.
'সে কি রহিম না' - এ বাক্যে না অব্যয়ের প্রয়োগ কি অর্থে হয়েছে?
  1. ক) অনুমান অর্থে
  2. খ) বিস্ময় অর্থে
  3. গ) সম্ভাবনা অর্থে
  4. ঘ) বিরক্তি অর্থে
সঠিক উত্তর:
ক) অনুমান অর্থে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) অনুমান অর্থে
ব্যাখ্যা
'সে নাকি আসবে না'- এ বাক্যে না অব্যয়টি 'সম্ভাবনা’ অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। প্রশ্ন- তুমি খাবে না?, বিস্ময়- স্কুলে যাবে না!, অনুমান- সে কি রহিম না?
Source: LiveMCQ Archive
৫,৯৮৫.
‘অণুতে গঠিত হিমালয়’- বাক্যে ‘অণুতে’ কোন কারক?
  1. করণে সপ্তমী
  2. অপাদানে সপ্তমী
  3. কর্মে সপ্তমী
  4. অধিকরণে সপ্তমী
সঠিক উত্তর:
করণে সপ্তমী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
করণে সপ্তমী
ব্যাখ্যা
• করণ কারক:
যার দ্বারা বা যার সাহায্যে ক্রিয়া সম্পাদিত হয় তাকে করণ কারক বলে। ‘করণ' শব্দের অর্থ উপায় বা সহায়।
- বাক্যের ক্রিয়াপদকে 'কার দ্বারা বা কী উপায়ে জিজ্ঞাসা করলে যে উত্তর পাওয়া যায় তা-ই করণ কারক।
যেমন:
- ‘অণুতে গঠিত হিমালয়’- বাক্যেকে ‘কী উপায়ে গঠিত?’ দ্বারা প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় ‘অণুতে’। সুতরাং ‘অণুতে’ করণ কারকে সপ্তমী বিভক্তির উদাহরণ।

• করণ কারকে বিভক্তির ব্যবহার:
করণ কারকে সাধারণত দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক ইত্যাদি তৃতীয়া - বিভক্তির (অনুসর্গের) ব্যবহার হয়।

• তবে অন্য বিভক্তিগুলোরও প্রয়োগ রয়েছে -
- করণ কারকে ‘দ্বারা বিভক্তি (অনুসর্গ) - তোমাদের দ্বারা দেশের ক্ষতি হবে।
- করণ কারকে ‘দিয়া বিভক্তি (অনুসর্গ) - তোমার লোক দিয়ে কাজটা করাবে।
- করণ কারকে শূন্য (০) বা অ-বিভক্তি - রফিক তাস খেলে।
- করণ কারকে এ-বিভক্তি - গ্যাসে গাড়ি চলে।
- করণ কারকে য়-বিভক্তি - টাকায় টাকা হয়।
- করণ কারকে তে-বিভক্তি - তার কথা যেন মধুতে মাখা।

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৯৮৬.
কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. শ্রদ্ধাঞ্ছলী
  2. দারিদ্রতা
  3. বৈশিষ্ট
  4. উপর্যুক্ত
সঠিক উত্তর:
উপর্যুক্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপর্যুক্ত
ব্যাখ্যা
• 'উপর্যুক্ত' - বানানটি শুদ্ধ। 

• উপর্যুক্ত (বিশেষণ):
- এর সঠিক উচ্চারণ হচ্ছে উপোর্‌জুক্‌তো।
- এর সঠিক প্রকৃতি ও প্রত্যয় হচ্ছে উপরি + উক্ত।
- এর অর্থ হচ্ছে পূর্বে কথিত বা উল্লেখ করা হয়েছে এমন।
--------
অন্যদিকে, 
• 'শ্রদ্ধাঞ্ছলী' এর শুদ্ধ বানান - 'শ্রদ্ধাঞ্জলি। 

• বাংলা একাডেমী অভিধান অনুসারে দারিদ্রতা বানানটি অশুদ্ধ।
সঠিক বানান সম্বলিত এরূপ শব্দ হলো দরিদ্র, দারিদ্র্য, দরিদ্রতা। 

• 'বৈশিষ্ট' এর শুদ্ধ বানান - 'বৈশিষ্ট্য'।

উৎস: অভিগম্য অভিধান- বাংলা একাডেমি, বাংলা একাডেমী অভিধান।
৫,৯৮৭.
নিচের কোন বাক্যটিতে সমধাতুজ কর্ম রয়েছে?
  1. ক) খুব এক ঘুম ঘুমিয়েছি
  2. খ) বেশ ঘুম হয়েছে
  3. গ) সে ঘুমিয়ে আছে
  4. ঘ) আমি ঘুম থেকে জেগেছি
সঠিক উত্তর:
ক) খুব এক ঘুম ঘুমিয়েছি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) খুব এক ঘুম ঘুমিয়েছি
ব্যাখ্যা
প্রদত্ত প্রশ্নে সঠিক উত্তর হচ্ছে - খুব এক ঘুম ঘুমিয়েছি। 
- এখানে ঘুম হচ্ছে কর্ম এবং ঘুমিয়েছি হচ্ছে ক্রিয়াপদ। 

• সমধাতুজ কর্ম: 
- বাক্যের ক্রিয়া ও কর্ম পদ একই ধাতু থেকে গঠিত হয়।
- একে ধাত্বর্থকও বলা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫,৯৮৮.
বাংলা বানানে ‘ণ’ এর প্রয়োগ কোন ক্ষেত্রে সঠিক?
  1. ক) তৎসম শব্দে
  2. খ) তদ্ভব শব্দে
  3. গ) দেশি শব্দে
  4. ঘ) বিদেশি শব্দে
সঠিক উত্তর:
ক) তৎসম শব্দে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) তৎসম শব্দে
ব্যাখ্যা

১৯৯২ সালের বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা বানানের বেশ কয়েকটি নিয়ম প্রণয়ন করেছে।
তার মধ্যে একটি হলো-
তৎসম শব্দের বানানে ণ-ত্ব বিধানের শুদ্ধতা রক্ষা করতে হবে।
যেমন: মাণিক্য, গণ, লবণ, বেণু, কঙ্কণ, কল্যাণ, শোণিত, মণি ইত্যাদি।

অতৎসম বানানে ণ হবে না। তার বদলে হবে ন। 
যেমন: অঘ্রান, কান, গুনতি, ঝরনা, ইরান, কুরান ইত্যাদি।

উৎস: প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম, বাংলা একাডেমি অভিধান।

৫,৯৮৯.
'অসুস্থ ছেলেটি আজ স্কুলে আসেনি।' বাক্যে 'অসুস্থ ছেলেটি' কোন ধরনের বর্গ?
  1. বিশেষ্য বর্গ
  2. বিশেষণ বর্গ
  3. ক্রিয়া বিশেষণ
  4. ক্রিয়াবর্গ
সঠিক উত্তর:
বিশেষ্য বর্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশেষ্য বর্গ
ব্যাখ্যা

বিশেষ্য বর্গ:
বিশেষ্যের আগে এক বা একাধিক বিশেষণ বা সম্বন্ধপদ যুক্ত হয়ে বিশেষ্য বর্গ তৈরি হয়।
যেমন,
অসুস্থ ছেলেটি আজ স্কুলে আসেনি।

বিশেষণ বর্গ:
বিশেষণ জাতীয় শব্দের গুচ্ছকে বলা যায় বিশেষণবর্গ।
যেমন-
আমটা দেখতে ভারী সুন্দর।

ক্রিয়া বিশেষণ-বর্গ:
যে শব্দগুচ্ছ ক্রিয়াবিশেষণ হিসেবে কাজ করে, তাকে ক্রিয়াবিশেষণ-বর্গ বলে।
যেমন,
সকাল আটটার সময়ে সে রওনা হলো।

ক্রিয়াবর্গ: বাক্যের বিধেয় অংশের ক্রিয়া প্রায় ক্ষেত্রেই ক্রিয়াবর্গ তৈরি করে।
যেমন,
সে লিখছে আর  হাসছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)

৫,৯৯০.
‘কষ্টের মধ্য দিয়েই ফল লাভ’ অর্থে কোন প্রবাদটি সঠিক?
  1. ক) অধিক সন্ন্যাসীতে গাঁজন নষ্ট
  2. খ) অতিদর্পে হত লঙ্কা
  3. গ) এঁটোপাত না যায় স্বর্গে
  4. ঘ) আগুন পোহাতে ধোঁয়ার কষ্ট
সঠিক উত্তর:
ঘ) আগুন পোহাতে ধোঁয়ার কষ্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) আগুন পোহাতে ধোঁয়ার কষ্ট
ব্যাখ্যা
• ‘আগুন পোহাতে ধোঁয়ার কষ্ট‘ প্রবাদ প্রবচনটির অর্থ = কষ্টের মধ্য দিয়েই ফল লাভ।

অন্যদিকে, 
‘অধিক সন্ন্যাসীতে গাঁজন নষ্ট’ প্রবাদ প্রবচনটির অর্থ = অতিরিক্ত লোকের খবরদারিতে কাজ পণ্ড।
‘অতিদর্পে হত লঙ্কা’ প্রবাদ-প্রবচনটির অর্থ = অহঙ্কার পতনের মূল।
‘এঁটোপাত না যায় স্বর্গে’ প্রবাদ প্রবচনটির অর্থ = পরমুখাপেক্ষীর সমৃদ্ধি সম্ভব হয় না।
‘উনা ভাতে দুনা বল’ প্রবাদ প্রবচনটির অর্থ = স্বল্পহার স্বাস্থ্যপ্রদ।
কানা-ছেলের নাম পদ্মলোচন = অযোগ্যের বিপরীত নামকরণ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং সৌমিত্র শেখর।
৫,৯৯১.
বাক্যে 'কোলন ড্যাস' থাকলে বিরতির সময়কাল কত?
  1. এক সেকেন্ড
  2. এক বলার দ্বিগুণ সময়
  3. এক মিনিট
  4. থামার প্রয়োজন হয় না
সঠিক উত্তর:
এক সেকেন্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এক সেকেন্ড
ব্যাখ্যা
• যতিচিহ্ন:
মুখের কথার লিখিত রূপ দেওয়ার সময় কম-বেশি থামা বোঝাতে যতিচিহ্ন ব্যবহৃত হয়। বক্তব্যকে স্পষ্ট করতেও যতিচিহ্ন ব্যবহৃত হয়। যতিচিহ্নকে বিরামচিহ্ন বা বিরতি চিহ্নও বলা হয়।

বাক্যে যতিচিহ্ন অনুসারে থামার পরিমাণ:
• কমা বা পাদচ্ছেদ থাকলে- 'এক' বলতে যে সময় লাগে সেই পরিমাণ সময় থামতে হয়।

• সেমিকোলন বা অর্ধচ্ছেদ থাকলে- 'এক' বলার দ্বিগুণ সময় থামতে হয়।

• হাইফেন, ইলেক বা লোপ চিহ্ন ও ব্র্যাকেট (বন্ধনী) থাকলে- থামার প্রয়োজন হয় না।

• দাঁড়ি বা পূর্ণচ্ছেদ, প্রশ্নবোধক চিহ্ন, বিস্ময় চিহ্ন, কোলন, কোলন ড্যাস, ড্যাস ইত্যাদি চিহ্ন থাকলে- 'এক' সেকেন্ড থামতে হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫,৯৯২.
বক্তার প্রত্যক্ষ উক্তিকে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য কোন বিরাম চিহ্ন বসে?
  1. ক) কোলন
  2. খ) উদ্ধরণ চিহ্ন
  3. গ) হাইফেন
  4. ঘ) সেমিকোলন
সঠিক উত্তর:
খ) উদ্ধরণ চিহ্ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) উদ্ধরণ চিহ্ন
ব্যাখ্যা

উক্তি দুই প্রকার- প্রত্যক্ষ উক্তি ও পরোক্ষ উক্তি।

প্রত্যক্ষ উক্তিঃ যে বাক্যে বক্তার কথা অবিকল উদ্ধৃত হয়, তাকে প্রত্যক্ষ উক্তি বলে।
প্রত্যক্ষ উক্তিতে বক্তার কথা উদ্ধরণ চিহ্ন (‘ ’/“ ”)-এর মধ্যে থাকে এবং বক্তার কথা ‍উদ্ধৃত করার আগে কমা (,) ব্যবহার করা হয়। এগুলো দেখে সহজেই প্রত্যক্ষ উক্তি চেনা যায়।

পরোক্ষ উক্তিঃ যে বাক্যে বক্তার কথা অন্যের জবানীতে পরিবর্তিত/রূপান্তরিত ভাবে প্রকাশিত হয়, তাকে পরোক্ষ উক্তি বলে।
পরোক্ষ উক্তিতে কোনো উদ্ধরণ চিহ্ন থাকে না, এবং প্রথম উদ্ধরণ চিহ্নের স্থলে ‘যে’ শব্দটি ব্যবহৃত হয়।
বেশিরভাগ পরোক্ষ উক্তিতেই ‘যে’ সংযোজক অব্যয়টি থাকে বলে একে দেখে পরোক্ষ উক্তি চেনা যেতে পারে। তবে ‘যে’ ছাড়াও অনেক পরোক্ষ উক্তি গঠিত হতে পারে।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

৫,৯৯৩.
নিচের কোনটি কর্মবাচ্যের উদাহরণ?
  1. চিঠিটা পড়া হয়েছে। 
  2. কোথা থেকে আসা হলো।
  3. একটু বাইরে বেড়িয়ে আসি।
  4. শরতে শিউলি ফোটে।  
সঠিক উত্তর:
চিঠিটা পড়া হয়েছে। 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চিঠিটা পড়া হয়েছে। 
ব্যাখ্যা
কর্মবাচ্য: 
- যে বাক্যের ক্রিয়া কর্মকে অনুসরণ করে, তাকে কর্মবাচ্য বলে।
- যেমন: 
• পুলিশ কর্তৃক ডাকাত ধৃত হয়েছে। 
• চিঠিটা পড়া হয়েছে। 
• তাদের দ্বারা বাড়িটি তৈরি হয়েছে। 
• আসামিকে জরিমানা করা হয়েছে।   
• আমাদের কঠোর পরিশ্রম করতে হয়।

অন্যদিকে,
কর্তাবাচ্য:  
- যে বাক্যের ক্রিয়া কর্তাকে অনুসরণ করে, তাকে কর্তাবাচ্য বলে। এক্ষেত্রে ক্রিয়ার রূপটি কর্তার পক্ষ অনুযায়ী হয়।
- যেমন:  
• তারা বাড়িটি তৈরি করেছে।
• প্রধান শিক্ষক জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেছেন। 
• আমরা কঠোর পরিশ্রম করি।
• একটু বাইরে বেড়িয়ে আসি। 

- অজীব বিশেষ্যও অনেক সময়ে কর্তার ভূমিকা গ্রহণ করে। যেমন – 
• ফ্যানটা অনেক জোরে ঘুরছে। 
শরতে শিউলি ফোটে।  

ভাববাচ্য:
- যে বাক্যের ক্রিয়া-বিশেষ্য বাক্যের ক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করে, তাকে ভাববাচ্য বলে। 
- যেমন:  
• আমার যাওয়া হল না। 
কোথা থেকে আসা হলো।
• এবার বাঁশিটি বাজানো হোক।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
৫,৯৯৪.
প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম অনুসারে নিচের কোন শব্দজোড়ের বানান শুদ্ধ?
  1. ক) পিপীলিকা, নির্নিমেষ
  2. খ) পিপিলিকা, নির্নিমেস
  3. গ) পিপীলিকা, নির্ণিমেষ
  4. ঘ) পিপিলিকা, নির্নিমেশ
সঠিক উত্তর:
ক) পিপীলিকা, নির্নিমেষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) পিপীলিকা, নির্নিমেষ
ব্যাখ্যা
প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম অনুসারে শুদ্ধ বানান- পিপীলিকা, নির্নিমেষ।
উৎসঃ বাংলা একাডেমী অভিধান
৫,৯৯৫.
বচনের অপপ্রয়োগ ঘটেছে নিচের কোন শব্দে?
  1. দুর্বলতাবশত তিনি আসতে পারেননি।
  2. শুধু টাকার জোরে সব কিছু হয় না। 
  3. সভায় অনেক ছাত্রগণ এসেছিল।
  4. বাংলাদেশ একটি উন্নতিশীল দেশ।
সঠিক উত্তর:
সভায় অনেক ছাত্রগণ এসেছিল।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সভায় অনেক ছাত্রগণ এসেছিল।
ব্যাখ্যা
অশুদ্ধ: সভায় অনেক ছাত্রগণ এসেছিল।
শুদ্ধ: সভায় অনেক ছাত্র এসেছিল।

অন্যদিকে, 
অশুদ্ধ: বাংলাদেশ একটি উন্নতশীল দেশ।
শুদ্ধ: বাংলাদেশ একটি উন্নতিশীল/উন্নয়নশীল দেশ।

অশুদ্ধ: শুধুমাত্র টাকার জোরে সব কিছু হয় না। 
শুদ্ধ: শুধু টাকার জরে সব কিছু হয় না। 

অশুদ্ধ: দুর্বলবশত তিনি আসতে পারেননি।
শুদ্ধ: দুর্বলতাবশত তিনি আসতে পারেননি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৫,৯৯৬.
শুদ্ধ বাক্য কোনটি?
  1. অতিলোভে তাঁতি নষ্ট।
  2. অতিশয় দুঃখিত হলাম।
  3. তাহারা বাড়ি যাচ্ছে।
  4. অপব্যায় একটি মারাত্মক ব্যাধি।
সঠিক উত্তর:
অতিলোভে তাঁতি নষ্ট।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অতিলোভে তাঁতি নষ্ট।
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বাক্য: অতিলোভে তাঁতি নষ্ট।

অশুদ্ধ বাক্যের শুদ্ধরূপ হলো-
• খুব দুঃখ পেলাম / অত্যন্ত দুঃখিত হলাম।
• তারা বাড়ি যাচ্ছে।
• অপব্যয় একটি মারাত্মক ব্যাধি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৫,৯৯৭.
কোনটি বাহুল্য দোষমুক্ত বাক্য?
  1. সব মাছগুলোর দাম কত?
  2. সকল ছাত্র ক্লাসে মনযোগী নয়।
  3. ক্লাসে অনেক ছাত্র ছাত্রীরা এসেছিল। 
  4. দেশের সকল শিক্ষকগণ এখানে উপস্থিত হয়েছেন।
সঠিক উত্তর:
সকল ছাত্র ক্লাসে মনযোগী নয়।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সকল ছাত্র ক্লাসে মনযোগী নয়।
ব্যাখ্যা

• সকল ছাত্র ক্লাসে মনযোগী নয়। - বাক্যটি শুদ্ধ। এখানে, বাহুল্য দোষ ঘটেনি।
---------------
বাহুল্য দোষ:
প্রয়োজনের অতিরিক্ত শব্দ ব্যবহার করলে বাক্যে বাহুল্য দোষ ঘটে এবং বাক্য তার যোগ্যতা গুণ হারায়। 

অশুদ্ধ বাক্যের শুদ্ধ রূপ -
- 'দেশের সব শিক্ষক এখানে উপস্থিত হয়েছেন' অথবা 'দেশের শিক্ষকগণ এখানে উপস্থিত হয়েছেন'।
- 'ক্লাসে অনেক ছাত্র ছাত্রী এসেছিল।' অথবা 'ক্লাসে ছাত্র ছাত্রীরা এসেছিল।'
- 'মাছগুলোর দাম কত?' অথবা 'সব মাছের দাম কত?' 

 উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামদু।

৫,৯৯৮.
নিচের কোন বানানটি প্রমিত?
  1. কল্যাণীয়াষু
  2. সাতাঁর
  3. ব্যূৎপত্তি
  4. সর্বাঙ্গীণ
সঠিক উত্তর:
সর্বাঙ্গীণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সর্বাঙ্গীণ
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
• শুদ্ধ বানান = সর্বাঙ্গীণ।
-----------------------------------------
- শব্দের অর্থ,
- সর্বাঙ্গব্যাপী। 
- পূর্ণাঙ্গ,
- সম্পূর্ণ।

অন্যদিকে,
’কল্যাণীয়াষু’ শব্দের শুদ্ধ বানান = ‘কল্যাণীয়াসু।
’সাতাঁর’ শব্দের শুদ্ধ বানান = সাঁতারু।
’ব্যূৎপত্তি’ শব্দের শুদ্ধ বানান = ব্যুৎপত্তি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৫,৯৯৯.
তিলে তৈল আছে। এটি কোন অধিকরণ কারকের উদাহরণ?
  1. কালাধিকরণ
  2. আধারাধিকরণ
  3. ভাবাধিকরণ
  4. কোনটিই নয়?
সঠিক উত্তর:
আধারাধিকরণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আধারাধিকরণ
ব্যাখ্যা

আধারাধিকরণ কারক তিন প্রকার
ঐকদেশিক - বিরাট স্থানের যে কোন অংশে ক্রিয়া সংঘটিত হলে তাকে ঐকদেশিক আধারাধিকরণ বলে।
যেমনঃ পুকুরে মাছ আছে।
অভিব্যাপক - উদ্দিষ্ট বস্তু যদি সমগ্র আধার ব্যাপ্ত করে বিরাজমান থাকে, তাকে অভিব্যাপক আধারাধিকরণ বলে।
যেমনঃ তিলে তৈল আছে।
বৈষয়িক - বিষয় বিশেষে বা কোন বিশেষ গুণে কারও কোন দক্ষতা বা ক্ষমতা থাকলে সেখানে বৈষয়িক অধিকরণ হয়।
যেমনঃ আমাদের সেনারা সাহসে দূর্জয়, যুদ্ধে অপরাজেয়।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম - দশম শ্রেণী)

৬,০০০.
নিচের কোনটি নেতিবাচক বাক্য?
  1. ক) হৈম তাহার অর্থ বুঝিতে ব্যর্থ হইল।
  2. খ) হৈম তাহার অর্থ বুঝিল না।
  3. গ) হৈম কি তাহার অর্থ বুঝিল না?
  4. ঘ) হৈম তাহার অর্থ বুঝিল!
সঠিক উত্তর:
খ) হৈম তাহার অর্থ বুঝিল না।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) হৈম তাহার অর্থ বুঝিল না।
ব্যাখ্যা

নেতিবাচক বাক্য : যে বাক্যের সাহায্যে কোন কিছুর নেতিবাচক বর্ণনা দেয়া হয়, তাকে বলা হয় নেতিবাচক বাক্য।
যেমনঃ
- হৈম তাহার অর্থ বুঝিল না।
- সে এখন আর গান গায় না।
- ছেলেটির অসুখ এখনও ভালো হয়নি। 

সোর্সঃ বাংলা দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।