উত্তর
ব্যাখ্যা
- শুদ্ধ বানান - শুশ্রূষা।
- শব্দটি বিশেষ্য।
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
- অর্থ: পরিচর্যা, সেবা।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন
PrepBank · পাতা ৫৬ / ৬৯ · ৫,৫০১–৫,৬০০ / ৬,৯৫৩
• শুদ্ধ বানান - সদ্যোজাত।
- এটি একটি বিশেষণ পদ।
- শব্দটি সংস্কৃত ভাষা হতে আগত।
শব্দের অর্থ:
- এইমাত্র জন্মলাভ করেছে এমন।
- নবজাত।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
বাক্যের বাচ্য বা প্রকাশভক্তি অনুসারে কর্তা তিন রকম হতে পারে।
যথা:
১.কর্মবাচ্যের কর্তা (কর্মের প্রাধান্যসূচক বাক্যে): পুলিশ দ্বারা চোর ধৃত হয়েছে।
২. ভাববাচ্যের কর্তা (ক্রিয়ার প্রাধান্যসূচক বাক্য): আমার যাওয়া হবে না।
৩. কর্ম-কর্তৃবাচ্যের কর্তা ( বাক্যে কর্মপদই কর্তৃস্থানীয়): বাঁশি বাজে। কলমটা লেখে ভালো।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণি।
• শুদ্ধ প্রয়োগ- ঘটনাবহুল।
'বহুল' এর ব্যবহার:
'বহু'র মতোই 'বহুল' শব্দ অর্থ-তারতম্যে কখনো একসঙ্গে আবার কখনো পৃথক বসে।
যেমন:
ঘটনাবহুল, জনবহুল, বিলাসবহুল, ব্যয়বহুল, সঙ্গীতবহুল ইত্যাদি।
আবার, বহুল কথিত, বহুল পরিচিত, বহুল পরিমাণে, বহুল প্রয়োগ ইত্যাদি।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
• মতের ঐক্য - এভাবে সমাসসাধিত ধরলে।
ব্যাখ্যা:
‘ঐক্যমত’ শব্দটি বাংলা ভাষায় একটি সমাসসাধিত শব্দ, যা ‘মতের ঐক্য’ থেকে গঠিত। এটি একটি তৎপুরুষ সমাস, যেখানে ‘মত’ (বিশেষ্য) এবং ‘ঐক্য’ (বিশেষ্য) মিলে ‘মতের ঐক্য’ বোঝায়, অর্থাৎ ‘একই মতামত’ বা ‘মতৈক্য’। বাংলা ব্যাকরণে সমাসের মাধ্যমে এ ধরনের শব্দ গঠন সঠিক এবং প্রচলিত। তাই, ‘ঐক্যমত’ শব্দটি সমাসসাধিত হিসেবে বিবেচিত হলে অশুদ্ধ নয়।
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান; ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
• অশুদ্ধ বানান - তিরষ্কার।
• শুদ্ধ বানান: তিরস্কার (বিশেষ্য),
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
• বাংলা বানানের নিয়ম অনুসারে,
'র- ধ্বনি'র পরে যদি অ, আ স্বরধ্বনি থাকে তবে তার পরে 'স' হবে।
যেমন: পুরস্কার, তিরস্কার ইত্যাদি।
অন্যদিকে,
আবিষ্কার, পরিষ্কার ও পুরস্কার শব্দের বানানগুলো শুদ্ধ।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
বাক্যে যতিচিহ্ন অনুসারে থামার পরিমাণ:
• কমা বা পাদচ্ছেদ থাকলে:
- 'এক' বলতে যে সময় লাগে সেই পরিমাণ সময় থামতে হয়।
• সেমিকোলন বা অর্ধচ্ছেদ থাকলে -
- 'এক' বলার দ্বিগুণ সময় থামতে হয়।
• হাইফেন, ইলেক বা লোপ চিহ্ন ও ব্র্যাকেট (বন্ধনী) থাকলে -
- থামার প্রয়োজন হয় না।
• দাঁড়ি বা পূর্ণচ্ছেদ, প্রশ্নবোধক চিহ্ন, বিস্ময় চিহ্ন, কোলন, কোলন ড্যাস, ড্যাস ইত্যাদি চিহ্ন থাকলে -
- 'এক' সেকেন্ড থামতে হয়।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
শুদ্ধ বাক্য: আজ আমার কনিষ্ঠা বোনের বাগদান অনুষ্ঠান।
তাছাড়া,
অশুদ্ধ বাক্য: বাংলাদেশ একটি উন্নতশীল দেশ।
শুদ্ধ বাক্য: বাংলাদেশ একটি উন্নতিশীল / উন্নয়নশীল দেশ।
অশুদ্ধ বাক্য: সকল ছাত্রগণ পাঠে মনোযোগী নয়।
শুদ্ধ বাক্য: সকল ছাত্র পাঠে মনোযোগী নয়।
অশুদ্ধ বাক্য: তিনি স্বস্ত্রীক ঢাকায় থাকেন।
শুদ্ধ বাক্য: তিনি সস্ত্রীক ঢাকায় থাকেন।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
• কমা হচ্ছে অভ্যন্তরযতি।
- কমা বাক্যের মধ্যে তথ্য বা ভাব আলাদা করতে ব্যবহৃত হয়।
• যতিচিহ্ন:
- যতিচিহ্ন হলো লেখায় বিভিন্ন অর্থ বা ছন্দ, ভাব ও প্রয়োগ নির্দেশ করার জন্য ব্যবহৃত বিশেষ চিহ্ন।
- বাংলা একাডেমির প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ অনুযায়ী, বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত যতিচিহ্নগুলো তিনটি ভাগে বিভক্ত:
১. অন্ত্যযতি:
- এগুলো বাক্যের শেষ বা শেষের কাছাকাছি ব্যবহৃত হয়।
- এতে অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে: দাঁড়ি (।), দুই দাঁড়ি (।।), প্রশ্নচিহ্ন (?), এবং বিস্ময়চিহ্ন (!)।
২. অভ্যন্তরযতি:
- এগুলো বাক্যের মধ্যে ব্যবহৃত হয় ভাব, ছন্দ বা তথ্য আলাদা করার জন্য।
- এতে কমা (,), সেমিকোলন (;), হাইফেন (-), ড্যাশ (_), কোলন (:), কোলন-ড্যাশ (:-), এবং বিন্দু (.) অন্তর্ভুক্ত।
৩. অন্যান্য যতি:
- এগুলো বিশেষ অর্থ বা লেখার বৈচিত্র্য প্রদর্শনের জন্য ব্যবহৃত হয়।
- এতে ঊর্ধ্বকমা ('), ত্রিবিন্দু (...), উদ্ধৃতিচিহ্ন ('.../"..."), বন্ধনীচিহ্ন (({{-]})), এবং বিকল্পচিহ্ন (/) অন্তর্ভুক্ত।
- এই ভাগবিন্যাসের মাধ্যমে লেখায় যতিচিহ্নের সঠিক ব্যবহার ও তাদের কার্যকারিতা সুস্পষ্টভাবে বোঝা যায়।
উৎস: বাংলা একাডেমি, প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (দ্বিতীয় খণ্ড)।
• প্রত্যক্ষ উক্তি: রানা বলল, "আমার ভাই আজই ঢাকা যাচ্ছেন।"
সঠিক পরোক্ষ উক্তি: রানা বলল যে তার ভাই সেদিনই ঢাকা যাচ্ছেন।
• উক্তি:
- বক্তার কথা উপস্থাপনের ধরনকে উক্তি বলে।
- উক্তি দুই প্রকার: প্রত্যক্ষ উক্তি ও পরোক্ষ উক্তি।
যেমন -
→ প্রত্যক্ষ উক্তি: ছেলেটি বলেছিল, "আজ আমি অনেক পড়েছি।"
→ পরোক্ষ উক্তি: ছেলেটি বলেছিল যে, সেদিন সে অনেক পড়েছে।
- যে উক্তিতে বক্তার কথা সরাসরি উদ্ধৃত করা হয়, তাকে বলে প্রত্যক্ষ উক্তি।
- আর যে উক্তিতে বক্তার কথা অন্যের দ্বারা বর্ণিত হয়, তাকে বলে পরোক্ষ উক্তি।
- প্রত্যক্ষ উক্তি লেখার সময়ে উদ্ধারচিহ্ন ব্যবহৃত হয়।
যেমন -
→ রফিক হেসে বললো, "আমি আপনাকে লক্ষ করিনি।"
→ কালো চুলের মানুষটি বলল, "দশ পর্যন্ত গুনতে পারি। যোগ কী আমার ধারণা আছে। কিন্তু বিয়োগ করতে পারি না।”
• প্রত্যক্ষ উক্তিকে পরোক্ষ উক্তিতে পরিবর্তন করার সময়ে কালবাচক ও স্থানবাচক শব্দের পরিবর্তন হয়।
যেমন -
→ প্রত্যক্ষ উক্তি: লোকটি বললেন, "আমি আগামীকাল এখানে আবার আসব।"
→ পরোক্ষ উক্তি: লোকটি বললেন যে, তিনি পরদিন সেখানে আবার যাবেন।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
'তাহাতেও মনটাকে উদাস করিয়া দিত।' বাক্যে 'মনটাকে' কর্ম কারক।
কর্ম কারক:
- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে কর্ম কারক বলে।
- বাক্যের মুখ্য কর্ম ও গৌণ কর্ম- উভয় ধরনের কর্মই কর্ম কারক হিসেবে গণ্য হয়।
- সাধারনত মুখ্য কর্ম কারকে বিভক্তি হয় না, তবে গৌণ কর্ম কারকে- 'কে' বিভক্তি হয়।
যেমন,
- শিক্ষককে জানাও।
- অসহায়কে সাহায্য করো।
উল্লেখ্য,
- কী / কাকে দিয়ে প্রশ্ন করলে উত্তরে কর্ম কারক পাওয়া যায়।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( সংস্করণ- ২০২৫)।
• কর্তৃবাচ্য থেকে ভাববাচ্যে রূপান্তরের নিয়ম:
কর্তৃবাচ্যের বাক্যকে ভাববাচ্যে পরিবর্তিত করতে হলে- কর্তায় ষষ্ঠী বা দ্বিতীয়া বিভক্তি হয় এবং ক্রিয়া নাম পুরুষের হয়।
যেমন-
• কর্তৃবাচ্য: আমি যাব না।
• ভাববাচ্য: আমার যাওয়া হবে না।
• কর্তৃবাচ্য: তুমিই ঢাকা যাবে।
• ভাববাচ্য: তোমাকেই ঢাকা যেতে হবে।
• কর্তৃবাচ্য: তোমরা কখন এলে?
• ভাববাচ্য: তোমাদের এখন আসা হলো?
• কর্তৃবাচ্য: তুমি এখন এলে?
• ভাববাচ্য: তোমার এখন আসা হলো?
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)
প্রথম বন্ধনীটি বিশেষ ব্যাখ্যামূলক অর্থে বা অতিরিক্ত বক্তব্য থাকলে ব্যবহৃত হয়। যেমনঃ
- ত্রিপুরায় (বর্তমানে কুমিল্লা) তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
• জটিল বাক্য:
- যে বাক্যে একটি প্রধান খণ্ডবাক্যের অধীনে এক বা একাধিক অপ্রধান বা আশ্রিত খণ্ডবাক্য থাকে, তাকে জটিল বাক্য বলা হয়।
- এসব খণ্ডবাক্য সাধারণত সাপেক্ষ সর্বনাম বা সাপেক্ষ যোজকের মাধ্যমে পরস্পরের সাথে যুক্ত থাকে।
- যেমন— যে-সে, যারা-তারা, যিনি-তিনি, যাঁরা-তাঁরা, যা-তা ইত্যাদি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যদিও-তবু, যেহেতু-সেহেতু, যত-তত, যেটুকু-সেটুকু, যেমন-তেমন, যখন-তখন ইত্যাদি সাপেক্ষ যোজক ব্যবহার করে প্রধান ও আশ্রিত খণ্ডবাক্যের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন করা হয়।
- “যখন বৃষ্টি নামল, তখন ঈশানরা ছাতা খুঁজতে শুরু করল।” — এটি একটি জটিল বাক্য।
- কারণ:
- এই বাক্যে দুটি খণ্ডবাক্য আছে—একটি আশ্রিত খণ্ডবাক্য এবং একটি প্রধান খণ্ডবাক্য।
• আশ্রিত খণ্ডবাক্য: যখন বৃষ্টি নামল — এটি সময় নির্দেশ করে এবং প্রধান বাক্যের ওপর নির্ভরশীল। তাই এটি ক্রিয়াবিশেষণীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য।
• প্রধান খণ্ডবাক্য: তখন ঈশানরা ছাতা খুঁজতে শুরু করল — এটি মূল বক্তব্য প্রকাশ করে।
- সংযোজক: যখন... তখন — এই সংযোজক দুটি খণ্ডবাক্যের মধ্যে সময়গত সম্পর্ক স্থাপন করেছে।
-----------------
অন্যদিকে,
- ললিতা রান্না করল, ঘর মুছল, তারপর খেতে বসল;
- তুমি ঘুমোবে, না পড়বে?
- তারা দুইজন আড়ি পেতে ছিল, নইলে চোর ধরা পড়ত না- এই বাক্যগুলো যৌগিক বাক্যের উদাহরণ।
• যৌগিক বাক্য:
- যখন দুই বা ততোধিক স্বাধীন বাক্য যোজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে একটি সম্পূর্ণ বাক্য গঠন করে, তখন তাকে যৌগিক বাক্য বলা হয়।
- এই ধরনের বাক্যে প্রতিটি খণ্ডবাক্য নিজে নিজেই স্বাধীনভাবে অর্থ প্রকাশ করতে পারে।
- যৌগিক বাক্যে সাধারণত এবং, ও, আর, অথবা, বা, কিংবা, কিন্তু, অথচ, সেজন্য, ফলে ইত্যাদি যোজক ব্যবহৃত হয়।
- কখনো কখনো কমা (,), সেমিকোলন (;), কোলন (:), ড্যাশ (-) প্রভৃতি যতিচিহ্নও যোজকের মতো কাজ করে খণ্ডবাক্যগুলোকে সংযুক্ত করে।
- যেমন— সামিনা গল্পের বই পড়ছে, আর আমিনা খেলা করছে।
উৎস:
ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ;
বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
• যৌগিক বাক্য:
দুই বা ততোধিক স্বাধীন বাক্য যখন যোজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে একটি বাক্যে পরিণত হয়, তখন তাকে যৌগিক বাক্য বলে।
- এবং, ও, আর, অথবা, বা, কিংবা, কিন্তু, অথচ, সেজন্য, ফলে ইত্যাদি যোজক যৌগিক বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। কমা (,), সেমিকোলন (;), কোলন (:), ড্যাশ (−) ইত্যাদি যতিচিহ্নও যোজকের কাজ করে।
যেমন:
- হামিদ বই পড়ছে, আর সীমা রান্না করছে।
- সে ভালো ফল করেছে তাই আমরা আনন্দিত হয়েছি।
- সে ঘর ঝাড়ু দিল, ঘর মুছল, তারপর পড়তে বসল ৷
- অন্ধকার হয়ে এসেছে অথচ সে বাসাই ফিরেনি।
- তোমরা চেষ্টা করেছ, কিন্তু আশানুরূপ ফল পাওনি এতে দোষের কিছু নেই।
যৌগক বাক্য গঠনে শর্ত:
- যৌগিক বাক্যে কমপক্ষে দুটো খণ্ডবাক্য থাকবে।
- খণ্ডবাক্যগুলো পরস্পর নিরপেক্ষ বা স্বাধীন, এক অপরের ওপর নির্ভরশীল নয়।
- খণ্ডবাক্যগুলো বিভিন্ন অব্যয়যোগ এক অপরের সঙ্গে যুক্ত থাকবে। কখনো কখনো এগুলো উহ্যও থাকতে পারে।
অন্যদিকে,
যে-সে, যদি-তবে, যেহেতু-সেহেতু, যত-তত, যেটুকু-সেটুকু, যেমন-তেমন, যখন-তখন প্রভৃতি সাপেক্ষ যোজক দিয়ে যখন অধীন বাক্যগুলো যুক্ত থাকে, তাকে জটিল বাক্য বলে।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।
বাক্যের বিভিন্ন ভাব সার্থকভাবে প্রকাশের জন্য কন্ঠস্বরের ভঙ্গির তারতম্য বোঝাতে বর্ণের অতিরিক্ত যে-সব চিহ্ন ব্যবহৃত হয় সেগুলোকে বলে বিরামচিহ্ন৷
-অপশন (খ)-তে বিরামচিহ্ন সঠিকভাবে ব্যবহৃত হয়নি৷
• তারিখ লেখার ক্ষেত্রে সাধারণত তারিখ ও বছরের মাঝে কমা বসে।
অর্থাৎ,
শুদ্ধরূপ হবে - কক্সবাজার, ৫ জানুয়ারি, ২০২২।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
• শুদ্ধ বানান: বিশৃঙ্খল।
- শব্দটি বিশেষণ পদ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
- এটি সংস্কৃত ভাষার শব্দ।
অর্থ:
- অরাজক,
- নিয়মহীন।
- বিপর্যস্ত।
- উচ্ছৃঙ্খল।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
• সার্থক বাক্যের গুণ- আকাঙ্ক্ষা।
অন্যদিকে,
• আবেগ, অনুজ্ঞা, এবং আসক্তি—এই প্রসঙ্গে সার্থক বাক্যের গুণ হিসেবে প্রযোজ্য নয়।
------------------------
একটি আদর্শ বাক্যের জন্যে ৩টি গুণ থাকা থাকা জরুরি। যথা-
• আকাঙ্ক্ষা:
বাক্যের অর্থ স্পষ্টকরণে এক পদের পর অন্য পদ শোনার যে ইচ্ছা বা প্রয়াস তাকে আকাঙ্ক্ষা বলে।
উদাহরণ- কাজল নিয়মিত লেখাপড়া।
উপরের বাক্যটি অসম্পূর্ণ। অর্থাৎ বাক্যে আকাঙ্ক্ষা পূর্ণ হয়নি। বাক্যটিকে এভাবে পরিপূর্ণ করা যায়- কাজল নিয়মিত লেখাপড়া করে।
• আসত্তি:
বাক্যের অর্থসঙ্গতি রক্ষায় সুনির্দিষ্ট পদবিন্যাসই হলো আসত্তি।
উদাহরণ: নিয়মিত করে হাসান লেখাপড়া।
বাক্যটির পদগুলো সন্নিবেশ না হওয়ায় অন্তর্নিহিত ভাব প্রকাশ হয়নি। তাই এটি আদর্শ বাক্য নয়। পরিপূর্ণ বাক্য গঠনে বাক্যের পদগুলো সাজাতে হবে- হাসান নিয়মিত লেখাপড়া করে।
• যোগ্যতা:
বাক্যের অন্তর্গত পদসমূহের বিশ্বাসযোগ্য ভাবসম্মিলনের নাম হল যোগ্যতা।
উদাহরণ: বর্ষার রৌদ্র প্লাবনের সৃষ্টি করে।
বাক্যটি ভাব প্রকাশের যোগ্যতা হারিয়েছে। কেননা রোদ কখনো প্লাবন সৃষ্টি করতে পারে না। তাই যোগ্যতাসম্পন্ন বাক্যটি হবে- 'বর্ষার বৃষ্টি প্লাবনের সৃষ্টি করে'।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
• বানান শুদ্ধিকরণ:
• অশুদ্ধ বানান - 'অভ্যন্তরীন';
- শব্দের শুদ্ধ বানান - 'অভ্যন্তরীণ';
- অভ্যন্তরীণ একটি বিশেষণ পদ।
- এর অর্থ হলো ভেতরের বা অন্তর্গত।
- এটি কোনো বস্তু বা ব্যক্তির অভ্যন্তরীণ বৈশিষ্ট্য বা অবস্থান প্রকাশ করতে ব্যবহৃত হয়।
-----------------------------------------
অন্যদিকে,
• দৃষ্টিকোণ, চক্ষুষ্মান, কনকাঞ্জলি- শব্দগুলোর বানান শুদ্ধ।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
সরল বাক্য : যে বাক্যে একটিমাত্র কর্তা (উদ্দেশ্য) একটিমাত্র সমাপিকা ক্রিয়া থাকে, তাকে সরল বাক্য বলে।
যেমন: - পুকুরে পদ্মফুল ফুটে,
- খোকা আজ স্কুলে গিয়েছে,
- স্নেহময়ী জননী স্বীয় সন্তানকে প্রাণাপেক্ষা ভালোবাসেন,
- বিশ্ববিখ্যাত মহাকবিরা ঐন্দ্রজালিক শক্তিসম্পন্ন লেখনীর দ্বারা অমরতার সঙ্গীত রচনা করেন।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ - নবম-দশম শ্রেণি।
• 'কাননে কুসুমকলি সকলি ফুটিল।'- এখানে 'কাননে' অধিকরণ কারকে ৭মী বিভক্তি।
• অধিকরণ কারক:
যে কারকে স্থান, কাল, বিষয় ও ভাব নির্দেশিত হয়, তাকে অধিকরণ কারক বলে। এই কারকে সাধারণত এ, য়, য়ে, তে ইত্যাদি বিভক্তি শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়।
যেমন:
- বিকাল পাঁচটায় অফিস ছুটি হবে।
- কাননে কুসুমকলি সকলি ফুটিল।
- মাঝরাত্রে শংকরের ঘুম ভেঙ্গে গেল।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
দরিদ্র্য শব্দটি নিঃসন্দেহে ভুল।
দারিদ্র্য এবং দারিদ্র -
বাংলা একাডেমির ব্যবহারিক অভিধানে এভাবে দেয়া আছে,
- দারিদ্র ⇒ দারিদ্র্য
- দারিদ্র্য, দারিদ্র (বিশেষ্য)
১ নির্ধনতা; দরিদ্র অবস্থা; দরিদ্রতা।
২ অভাব (চিন্তার দারিদ্র্য)।
৩ দৈন্য; দীনতা।
{(তৎসম বা সংস্কৃত) দরিদ্র+য (ষ্যঞ্), অ(অণ্)}
অর্থাৎ, দারিদ্র এবং দারিদ্র্য দুইটাই অভিধানে আছে এবং দুইটাই শুদ্ধ। তবে, আধুনিক অভিধানে কেবল "দারিদ্র্য" রাখা হয়েছে। আবার কয়েকজন স্কলারের বইতে "্য" (য - ফলা) ব্যবহার করতে বলা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট শুদ্ধ বানানগুলো নিম্নরূপঃ
দরিদ্র (বিশেষণ)
দারিদ্র্য (বিশেষ্য)
দারিদ্র (বিশেষ্য)
দরিদ্রতা (বিশেষ্য)
এই প্রশ্নটা অনেক চাকরির পরীক্ষায় ইতোমধ্যে এসেছে। সমস্যা হচ্ছে, দারিদ্র এবং দারিদ্র্য দুইটাই একসাথে আছে এমন প্রশ্নও আছে।
যেহেতু, ব্যবহারিক অভিধানে দারিদ্র ⇒ দারিদ্র্য তে ফরোয়ার্ড করা হয়েছে এবং আধুনিক অভিধানে শুধু "দারিদ্র্য"কেই রাখা হয়েছে, পাশপাশি স্কলাররাও অনেকেই "্য" (য - ফলা) এর পক্ষে, তাই দুইটার মধ্যে 'দারিদ্র্য' কে বেস্ট এন্সার হিসেবে নেয়া যায়।
অধিকরণ কারক:
- ক্রিয়ার আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক। আধার বলতে ক্রিয়া নিষ্পন্ন হওয়ার স্থান, কাল ও ভাবকে বোঝায়।
- অর্থাৎ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল এবং আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক।
- বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথায়, কখন ও কোনো বিষয় বোঝাতে অধিকরণ কারক হয়।
যেমন:
- পুকুরে মাছ আছে।
- বনে বাঘ আছে।
- আকাশে চাঁদ উঠেছে।
এরূপ- 'সারারাত বৃষ্টি ছিল।'- বাক্যকে কখন দ্বারা প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'সারারাত'। সুতরাং 'সারারাত' অধিকরণ কারকে শূন্য বিভক্তি।
উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
অপাদান কারক:
- যে কারকে ক্রিয়ার উৎস নির্দেশ করা হয়, তাকে অপাদান কারক বলে। এই কারকে সাধারণত ‘হতে’, ‘থেকে’ ইত্যাদি অনুসর্গ শব্দেরে পরে বসে।
যেমন:
- জমি থেকে ফসল পাই।
- কাপটা উঁচু টেবিল থেকে পড়ে ভেঙে গেল।
- কুকর্মে বিরত হও।
উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
• অপপ্রয়োগ- নাচ না হলে গান- অনুষ্ঠানে কিছু তো একটা হবে। যা হয় তাই দেখব, তাই শুনব।
• 'না হলে / নাহলে' এর ব্যবহার:
ক.
- তার সঙ্গে দেখা না হলে এখনি ফিরে আসব, তুমি ধৈর্য ধরে আধঘণ্টা বস।
- যোগ-বিয়োগ শেখা না হলে গুণ-ভাগ কেউ করতে পারে?
- আপনি আমার পাশে বসতে পারলে বসুন, তা না হলে দাঁড়িয়ে থাকুন।
খ.
নাচ নাহলে গান- অনুষ্ঠানে কিছু তো একটা হবে। যা হয় তাই দেখব, তাই শুনব।
যা ঘটনা, সত্যি করে সব বল; নাহলে আমি সব বলে দিলে তোমার গুমোর ফাঁস হয়ে যাবে।
তুমি নাহলে এ কাজটা করবে কে? আমি তো দ্বিতীয় লোক দেখি না।
ক-অংশের উদাহরণ তিনটিতে 'না হলে' অর্থ স্পষ্টতই 'না হয়', অর্থাৎ 'না হয়' ও 'না হলে' পরিপূর্ণভাবে সমার্থক, একটির বিকল্পে অন্যটি বলা চলে। খ-অংশের তিনটি বাক্যের 'নাহলে' কিন্তু 'নাহয়' শব্দের সমার্থক নয়। এক্ষেত্রে 'নাহলে' অর্থ অথবা, নইলে, অন্যথায়, ব্যতীত।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
অশুদ্ধ বাক্যের শুদ্ধ রূপ:
- তপ্ত ভাতে নুন জুটেনা, পান্তা ভাতে ঘি।
- ভাত ছড়ালে কাকের অভাব হয় না
- যার লাঠি, তার মাটি।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর।
• শুদ্ধ বানান - কিম্ভূত।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
- শব্দটি সংস্কৃত ভাষা হতে আগত।
শব্দের অর্থ:
- কীরূপ,
- কীরকম,
- অদ্ভুত।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
কর্মকর্তৃবাচ্য:
- যে বাক্যে কর্মপদই কর্তৃস্থানীয় হয়ে বাক্য গঠন করে, তাকে কর্মকর্তৃবাচ্যের বাক্য বলে।
যেমন:
- কাজটা ভালো দেখায় না।
- বাঁশি বাজে ঐ মধুর লগনে।
- সুতি কাপড় অনেক দিন টেকে।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
• শুদ্ধ বানান: স্বায়ত্তীকরণ।
- শব্দটি বিশেষ্য পদ।
- এটি সংস্কৃত ভাষার শব্দ।
অর্থ:
- নিজ অধিকারে আনয়ন।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।