উত্তর
ব্যাখ্যা
বাক্যের প্রথম অংশের কোন উক্তিকে দ্বিতীয় অংশে ব্যাখ্যা করা এবং উদাহরণ উপস্থাপনের কাজে কোলন ব্যবহৃত হয়.
যেমন-
সভার সিদ্ধান্ত হলো: প্রতি মাসে দশ টাকা করে চাঁদা দিতে হবে।
উৎস: ভাষা শিক্ষা - বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি - ড. হায়াৎ মামুদ।
PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন
PrepBank · পাতা ৪৫ / ৬৯ · ৪,৪০১–৪,৫০০ / ৬,৯৫৩
• অধিকরণ কারক:
- ক্রিয়া সম্পাদনের কাল, স্থান ও সময়কে অধিকরণ কারক বলে। অর্থাৎ যে স্থানে বা সময়ে ক্রিয়া সম্পাদিত হয় সেটিই অধিকরণ কারক।
- অর্থাৎ ক্রিয়াপদকে কোথায়, কোন স্থানে, কখন, কোন সময়ে, কবে, কোন বিষয়ে বা ব্যাপারে এসব প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায় সেটিই অধিকরণ কারক।
- এই কারকে সাধারণত '-এ', '-য়', ‘-য়ে’, '-তে' ইত্যাদি বিভক্তি শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়।
যেমন -
- বাবা বাড়িতে আছেন।
- বিকাল পাঁচটায় অফিস ছুটি হবে।
প্রশ্নের বাক্যটি,
- আহারে রুচি নেই।
[এখানে 'কোন বিষয়ে রুচি নেই?', প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'আহারে'। তাই 'আহারে' অধিকরণে সপ্তমী বিভক্তি।]
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
দুর্বোধ্যতাঃ
অপ্রচলিত, দুর্বোধ্য শব্দ ব্যবহার করলে বাক্যের যোগ্যতা বিনষ্ট হয়।
যেমন - তুমি আমার সাথে প্রপঞ্চ করেছো।
এখানে, প্রপঞ্চ শব্দটি 'মায়া' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে; কিন্তু শব্দটি প্রচলিত নয়।
উৎসঃ নবম - দশম শ্রেণির বাংলা ব্যাকরণ বোর্ড বই।
সাপেক্ষ ভাব : একটি ক্রিয়ার সংঘটন অন্য একটি ক্রিয়ার উপর নির্ভর করলে, নির্ভরশীল ক্রিয়াকে সাপেক্ষ ভাবের ক্রিয়া বলে। যেমন :
ক. সম্ভাবনায় : তিনি ফিরে এলে সবকিছুর মীমাংশা হবে, যদি সে পড়ত তবে সে পাশ করত।
খ. উদ্দেশ্য বোঝাতে : ভালো করে পড়লে সফল হবে।
গ. ইচ্ছা বা কামনায় : আজ বাবা বেঁচে থাকলে আমার এত কষ্ট হতো না।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ - নবম-দশম শ্রেণি।
• ‘বাচ্য' ব্যাকরণের বাক্যতত্ত্বে আলোচিত হয়।
বাংলা ব্যাকরণের আলোচ্য বিষয়কে ৪ টি ভাগে ভাগ করা হয়। যথা:
• ধ্বনিতত্ত্ব:
ধ্বনিতত্ত্বের আলোচ্য বিষয় ধ্বনি। লিখিত ভাষায় ধ্বনি যেহেতু বর্ণ দিয়ে প্রকাশ করা হয় তাই বর্ণমালা সংক্রান্ত আলোচনা এর অন্তর্ভুক্ত। ধ্বনিতত্ত্বের মূল আলোচ্য বাগ্যন্ত্র, বাগ্যন্ত্রের উচ্চারণ-প্রক্রিয়া, ধ্বনির বিন্যাস, স্বর ও ব্যঞ্জনধ্বনির বৈশিষ্ট্য, ধ্বনিদল প্রভৃতি।
• রূপতত্ত্ব:
রূপতত্ত্বে শব্দ ও তার উপাদান নিয়ে আলোচনা করা হয়। শব্দ ও পদনির্মানের বিভিন্ন দিক ব্যাকরণের এই অংশে আলোচিত হয়। যেমন- বিশেষ্য, বিশেষণ, সর্বনাম, ক্রিয়া, ক্রিয়া বিশেষণ ইত্যাদি।
• বাক্যতত্ত্ব:
বাক্যের নির্মান ও গঠন এই অংশের আলোচ্য বিষয়। বাক্যের মধ্যে পদ ও বর্গ কীভাবে বিন্যস্ত থাকে, বাক্যতত্ত্ব তা বর্ণনা করে।
তাছাড়া এক ধরনের বাক্যকে অন্য ধরনের বাক্যে রূপান্তর, বাক্যের বাচ্য, উক্তি ইত্যাদি বাক্যতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়। কারক বিশ্লেষণ, বাক্যের যোগ্যতা, বাক্যের উপাদান লোপ, যতিচিহ্ন প্রভৃতি বাক্যতত্ত্বে আলোচনা করা হয়।
• অর্থতত্ত্ব:
ব্যকরণের এই অংশে শব্দ, বর্গ ও বাক্যের অর্থ নিয়ে আলোচনা করা হয়। একে বাগর্থও বলে। বিপরীত শব্দ, প্রতিশব্দ, শব্দজোড়, বাগ্ধারা প্রভৃতি এর আলোচ্য বিষয়।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
• দুঃসংবাদটি শুনে সে চোখের জল সংবরণ করতে পারলো না। - বাক্যটি শুদ্ধ।
অন্যদিকে,
অশুদ্ধ বাক্য: মেয়েটি সুকেশা ও সুহাসি।
শুদ্ধ বাক্য: মেয়েটি সুকেশী ও সুহাসিনী।
অশুদ্ধ বাক্য: তুমি নির্দোষী নও।
শুদ্ধ বাক্য: তুমি নির্দোষ নও।
অশুদ্ধ বাক্য: এটা অপক্ক হাতের লেখা।
শুদ্ধ বাক্য: এটা কাঁচা হাতের লেখা।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
কোলন (:)
- বাক্যে নানা কারণে কোলনচিহ্ন ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
নাটকের সংলাপের আগে:
দুকড়ি: কী চাই?
কাঙালি: আজ্ঞে, মহাশয় হচ্ছেন দেশহিতৈষী।
দুকড়ি: তা তো সকলেই জানে কিন্তু আসল ব্যাপারটা কী?
কাঙালি: আপনি সাধারণের হিতের জন্য প্রাণপণ----
উদাহরণ বা দৃষ্টান্ত বোঝাতে:
বাংলা সন্ধি দু প্রকার: স্বরসন্ধি ও ব্যঞ্জনসন্ধি।
উদ্ধৃতির আগে:
রবীন্দ্রনাথ বলেছেন: “মরিতে চাহি না আমি সুন্দর ভুবনে।"
উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
কোলন(:):
- একটি অপূর্ণ বাক্যের পরে অন্য একটি বাক্যের অবতারণা করতে হলে কোলন ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- সভায় সাব্যস্ত হলো: একমাস পরে নতুন সভাপতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
অন্যদিকে,
সেমিকোলন (;):
- স্বাধীন অথচ ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত একাধিক বাক্যকে এক বাক্যে পরিণত করার কাজে অথবা একই ধরনের বৰ্গকে পাশাপাশি সাজাতে সেমিকোলন ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- সোহাগ ক্রিকেট পছন্দ করে; আমি ফুটবল পছন্দ করি।
ড্যাস চিহ্ন(__):
- যৌগিক ও মিশ্র বাক্যে পৃথক ভাবাপন্ন দুই বা তার বেশি বাক্যের সমন্বয় বা সংযোগ বোঝাতে ড্যাস চিহ্ন ব্যবহৃত হয়।
যেমন -
- তোমরা দরিদ্রের উপকার কর– এতে তোমাদের সম্মান যাবে না – বাড়বে।
কোলন ড্যাস (:-):
- উদাহরণ বা দৃষ্টান্ত প্রয়োগ করতে হলে কোলন এবং ড্যাস চিহ্ন একসঙ্গে ব্যবহৃত হয়।
যেমন-
পদ পাঁচ প্রকার:-
বিশেষ্য, বিশেষণ, সর্বনাম, অব্যয় ও ক্রিয়া।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
• "লালসালু" উপন্যাস:
- 'লালসালু' সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত 'লালসালু'র একটি বহুমাত্রিক ও কালোত্তীর্ণ উপন্যাস। ১৯৪৮ সালে কলকাতা থেকে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত।
- এই উপন্যাসে একদিকে যেমন বাংলার গ্রামজীবনের বাস্তব প্রকৃতি ধরা পড়েছে তার সৌন্দর্য, মাধুর্য ও কঠোরতা নিয়ে; তেমনই রূপায়িত হয়েছে অসংখ্য গ্রামীণ মানুষের জীবন। সাধারণ মানুষের সরলতাকে কিভাবে ধর্ম ব্যবসার উপাদানরূপে ব্যবহার করা হয় তা লালসালু উপন্যাসের মূল উপজীব্য বিষয়।
- নোয়াখালি অঞ্চল থেকে মজিদ নামের একটি কূটচরিত্র গারোপাহাড়ি অঞ্চলে গিয়ে সেই এলাকার মানুষকে ধর্মের নামে কীভাবে শোষণ করে, সেই বাস্তব চিত্র আছে উপন্যাসটিতে। ধর্ম ব্যবসায়ী মজিদ অর্থ ও প্রভাব বৃদ্ধির সঙ্গে অল্পবয়সী দ্বিতীয় স্ত্রী গ্রহণ করে। সে গ্রামের মোড়লদেরও প্রভাবিত করে। পাশের গ্রামে অন্য পিরের আগমন হলে, নিজের দাপট খর্ব হবে বিবেচনায়, তাকে মারধর দিয়ে উচ্ছেদ করে। তবে স্বল্পবয়সী স্ত্রী জমিলা কর্তৃক মজিদ লাঞ্ছিত হয়। উপন্যাসে জমিলা বিদ্রোহিণী, প্রতিবাদের প্রতীক।
- ঔপন্যাসিক ধর্মব্যবসায়ীদের উপলক্ষ করে লিখেছেন: 'খোদার এলেমে বুক ভরে না তলায় পেট শূন্য বলে।'
- উপন্যাসটি 'Tree Without Roots' নামে ইংরেজিতে অনূদিত হয়ে (১৯৬৭) খ্যাতি অর্জন করে।
- ওয়ালীউল্লাহর পত্নী অ্যান মেরির 'লালসালু'র ফরাসি অনুবাদের নাম- ল্য অরবরে সামস মায়েমে (১৯৬১)।
উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- মজিদ,
- খালেক ব্যাপারি,
- জমিলা,
- রহিমা,
- আমেনা,
- আক্কাস,
- তাহেরের বাপ,
- হাসুনির মা।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; "লালসালু" উপন্যাস এবং বাংলাপিডিয়া।
• নিমগ্ম বানানটি ভুল।
• সঠিক বানান - নিমগ্ন।
- নিধান - ১) আধার, আশ্রয় (দয়ার নিধান)। ২) অর্পণ। ৩) নিবেশ; স্থাপন। ৪) লগারিদমের ঘাতাঙ্ক গণনের প্রথম রাশি:
- নিদান - ১) মূল কারণ। ২) চিকিৎসা। ৩) মৃত্যু আসন্ন এমন ঘোষণা। ৪) অবসান। বিণ. অন্তিম (নিদানকাল)। অব্য, অন্তত; নেহাত (নিদানপক্ষে)।
নিবৃত্ত - ১) বিরত, ক্ষান্ত; সমাপ্ত। ২)প্রত্যাবৃত্ত।
উৎস: বাংলা একাডেমী আধুনিক বাংলা অভিধান।
• গহনা (বিশেষ্য পদ),
- এটি হিন্দি ভাষার শব্দ।
অর্থ:
- অলংকার,
- ভূষণ।
এখনে, গহনায় শব্দটির সাথে 'য়' সপ্তমী বিভক্তি যুক্ত হয়েছে।
----------------
• বিভক্তি:
যে সব বর্ণ বা বর্ণসমষ্টি বা চিহ্ন দ্বারা বাক্যের এক পদের সঙ্গে অন্য পদের সম্বন্ধ নির্ধারিত হয়, তাকে বলা বিভক্তি। বাংলা শব্দে বিভক্তি ৭ প্রকার।
যথা:
- প্রথমা বা শূণ্য বিভক্তি: শূণ্য, অ।
- দ্বিতীয়া বিভক্তি: কে, রে।
- তৃতীয়া বিভক্তি: দ্বারা, দিয়া (দিয়ে), কর্তৃক।
- চতুর্থী বিভক্তি: কে, রে।
- পঞ্চমী বিভক্তি: হইতে (হতে), থেকে, চেয়ে।
- ষষ্ঠী বিভক্তি: র, এর।
- সপ্তমী বিভক্তি: এ, য়, তে।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং অভিগম্য অভিধান।
নিরীহ (বিশেষণ)
১) শান্ত; গোবেচারা।
২) অহিংস্র।
৩) নিরুপদ্রব; নির্বিরোধ।
৪) নিশ্চেষ্ট; অচেষ্ট।
৫) নিঃস্পৃহ; নির্লোভ।
উৎসঃ বাংলা একাডেমী আধুনিক বাংলা অভিধান।
• সরল বাক্য: ভিক্ষুককে দান কর।
• মিশ্র বাক্য: যে ভিক্ষা চায়, তাকে দান কর।
• সরল বাক্যকে মিশ্র বাক্যে রূপান্তর:
- প্রথমে সরল বাক্যের একটি অংশ নির্বাচন করতে হবে যেটিকে খণ্ডবাক্যে রূপান্তর করা যায়।
- এরপর খণ্ডবাক্যটির শুরুতে বা মাঝে সম্বন্ধসূচক শব্দ ব্যবহার করতে হবে।
- খণ্ডবাক্য ও প্রধান বাক্যকে সঠিকভাবে যুক্ত করে মিশ্র বাক্য তৈরি করতে হবে।
- অর্থ যেন স্পষ্ট থাকে, সে বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে।
• উদাহরণসমূহ:
• সরল বাক্য: ভালো ছেলেরা শিক্ষকের আদেশ পালন করে।
• মিশ্র বাক্য: যারা ভালো ছেলে, তারা শিক্ষকের আদেশ পালন করে।
• সরল বাক্য: তার দর্শনমাত্রই আমরা প্রস্থান করলাম।
• মিশ্র বাক্য: যেই তার দর্শন পেলাম, সেই আমরা প্রস্থান করলাম।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি ২০১৯ সালের সংস্করণ।
• 'শুধুমাত্র' - শব্দটি অপপ্রয়োগ।
- এটি সমার্থ শব্দের বাহুল্যজনিত কারণে অপপ্রয়োগ।
- এখানে শুধু ও মাত্র দুটি একই শব্দ।
- তাই এখানে একই সাথে 'শুধুমাত্র' শব্দটি অশুদ্ধ।
অন্যদিকে,
- যদ্যপি,
- নিরভিমান;
- অর্ধরাত্র;
শব্দগুলো সঠিক প্রয়োগ হয়েছে।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ; বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে শুদ্ধ বানান- অদ্ভুত।
• বানানের নিয়ম:
'অদ্ভুত' শব্দটি ছাড়া বাকি সব ক্ষেত্রে ভূত বানানে ঊ-কার হবে।
যেমন:
- ভূতুড়ে,
- উদ্ভূত,
- ভূতপূর্ব,
- পুঞ্জীভূত,
- ঘনীভূত ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
প্রত্যয়ের ভুল প্রয়োগের কারণে বাংলা ভাষায় অনেক ভুল দেখা যায়। উপরিউক্ত প্রশ্নের অপশন ক, খ, গ এর শব্দগুলো সঠিক।
কিন্তু অপশন ঘ তে উৎকর্ষ শব্দের সাথে ‘তা’ প্রত্যয় যোগ করা যাবে না। তাই অপশন ঘ ভুল। আর এটিই সঠিক উত্তর।
তথ্যসূত্র: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি-ড. হায়াৎ মাহমুদ
• করণ কারক:
- যার দ্বারা বা যার সাহায্যে ক্রিয়া সম্পাদিত হয় তাকে করণ কারক বলে।
- ক্রিয়া সম্পাদনের যন্ত্র, উপকরণ বা সহায়ককেই করণ কারক বলে।
- বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদের সঙ্গে 'কীসের দ্বারা' বা 'কী উপায়ে' প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, তাই করণ কারক।
• একবচনে ব্যবহৃত ৭মী বিভক্তি: এ, য়, তে, এতে ইত্যাদি।
• যেমন- 'এ পেন্সিলে ভালো লেখা হয়।'
- এখানে 'কিসের দ্বারা' প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'পেন্সিলে'।
- সে অনুসারে এখানে 'পেন্সিলে' হচ্ছে করণ কারকের উদাহরণ।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
• ব্যাবহারিক [ব্যবহার+ইক] শব্দটির বানান শুদ্ধ।
অর্থ:
১) কাজে লাগানো যায় এমন, প্রায়োগিক, ফলিত।
২) আইনবিষয়ক।
৩) বিষয়কর্ম-সম্পর্কিত, সাংসারিক।
৪)(দর্শন) অবাস্তব হলেও ব্যবহারের ক্ষেত্রে মূল্য আছে এমন।
অন্যদিকে,
- অশুদ্ধ: প্রমান।
- শুদ্ধ: প্রমাণ।
- অশুদ্ধ: সৌজন্যতা।
- শুদ্ধ: সৌজন্য।
- অশুদ্ধ:উৎকৃষ্টতা।
- শুদ্ধ: উৎকৃষ্ট।
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
শুদ্ধ বানান- স্বায়ত্তশাসন।
• স্বায়ত্তশাসন: (বিশেষ্য)
- স্বশাসিত রাষ্ট্র (একনায়ক-শাসিত নয়)।
উৎস: বাংলা একাডেমী আধুনিক বাংলা অভিধান।
• কর্ম কারক:
- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে কর্ম কারক বলে।
- কর্ম দুই প্রকার: মুখ্য কর্ম, গৌণ কর্ম।
যেমন-
• বাবা আমাকে (গৌণ কর্ম) একটি কলম (মুখ্য কর্ম) কিনে দিয়েছেন।
- সাধারণত মুখ্য কর্ম বস্তুবাচক ও গৌণ কর্ম প্রাণিবাচক হয়ে থাকে।
- এছাড়াও সাধারণত কর্ম কারকের গৌণ কর্মে বিভক্তি যুক্ত হয়, মুখ্য কর্মে হয় না।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
• শুদ্ধ বানান- কার্যালয়।
- এটি একটি সংস্কৃত শব্দ।
- শব্দটি বিশেষ্য পদ।
-------------------
• বানানের নিয়ম:
রেফ এর পর তৎসম, অতৎসম শব্দে ব্যঞ্জনবর্ণের দ্বিত্ব হবে না।
যেমন:
- কার্য্যালয় হবে না, সঠিক বানান হবে কার্যালয়।
- নির্দ্দিষ্ট হবে না, সঠিক বানান নির্দিষ্ট।
- ধর্ম্মসভা বানানটি ভুল, সঠিক বানান হবে ধর্মসভা।
- তেমনি ভাবে পর্ব্বত হবে না , সঠিক বানান হবে পর্বত।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান; প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
• ভাববাচ্য:
যে বাক্যে কর্ম থাকে না এবং বাক্যে ক্রিয়ার অর্থই বিশেষভাবে ব্যক্ত হয় তাকে ভাববাচ্য বলে।
যেমন:
- আমার খাওায়া হলো না।
- আমাকে এখন যেতে হবে।
- তোমার দ্বারা এই কাজ হবে না।
-কোথায় থাকা হয়?
অন্যদিকে,
কর্তৃবাচ্য
(ক) আমি যাব না।
(খ) তুমিই ঢাকা যাবে।
(গ) তোমরা কখন এলে?
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
মনমোহন- এর শুদ্ধরূপ মনোমোহন।
ভস্ম, রামায়ণ, স্টেডিয়াম শুদ্ধ বানানে লেখা।
উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
• শুদ্ধ বানান: নিষ্প্রভ।
অর্থ: প্রভাহীন, অনুজ্জ্বল।
অশুদ্ধ বানানগুলোর শুদ্ধ রূপ হলো:
- নিষ্ঠাবান,
- পুরস্কার,
- নিষ্কণ্টক।
-------------------
• বানানের নিয়ম:
• বিসর্গযুক্ত অ-ধ্বনির সঙ্গে সন্ধি হলে বর্ণে সাধারণত 'স' যুক্ত হয় (পুরঃ + কার = পুরস্কার) এবং বিসর্গযুক্ত ই-ধ্বনির সঙ্গে সন্ধি হলে সাধারণত 'ষ' যুক্ত হয় (বহিঃ + কার = বহিষ্কার)।
• তবে স্ক / স্ক সংক্রান্ত সমস্যার সহজ সমাধানকল্পে বলা যায় : অ-যুক্ত বা মুক্ত বর্ণের পরে সাধারণত 'স' হবে। যেমন: নমস্কার, পুরস্কার, বনস্পতি, তিরস্কার, বাচস্পতি ইত্যাদি।
• ই-যুক্ত বর্ণের পর সাধারণত 'ষ' হবে। যেমন: আবিষ্কার, নিষ্কলঙ্ক, পরিষ্কার, নিষ্ফল, নিষ্প্রভ, নিষ্পাপ, নিষ্পন্ন, নিষ্কর, জ্যোতিষ্ক ইত্যাদি।
(স্প / স্ত / স্থ থাকলে 'ষ' হয় না। যেমন: নিস্পন্দ / নিস্তব্ধ / দুস্থ ইত্যাদি)।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
• জটিল বাক্য:
যে বাক্যে প্রধান খণ্ডবাক্যের অধীন এক বা একের বেশি অপ্রধান খণ্ডবাক্য থাকে বা একটি প্রধান খণ্ডবাক্যের এক বা একাধিক বাক্য পরস্পর সাপেক্ষভাবে ব্যবহৃত হলে তাকে জটিল বা মিশ্র বাক্য বলে।
যে-সে, যারা-তারা, যিনি-তিনি, যাঁরা-তাঁরা, যা-তা প্রভৃতি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যদিও-তবুও, যেহেতু-সেহেতু, যত-তত, যেটুকু-সেটুকু, যেমন-তেমন, যখন-তখন প্রভৃতি সাপেক্ষ যোজক দিয়ে যখন অধীন বাক্যগুলো যুক্ত থাকে, তাকে জটিল বাক্য বলে।
যেমন:
- পিতা যখন আছেন, তখন পুত্রকে খোঁজ কেন?
- যে রক্ষক, সে ভক্ষক।
- যে ছেলেটি এখানে এসেছিল, সে আমার ভাই।
- যে বইটি আমি কিনেছি, সেটি খুব দামি।
- যদি তুমি যাও, তবে তার দেখা পাবে।
অন্যদিকে,
যৌগিক বাক্য:
- তুমি ভালো হও এবং সকলে তোমাকে ভালোবাসবে।
- সেসব দিন আর নেই, কিন্তু সেসব স্মৃতি এখনো জেগে রয়েছে।
- তার আভাস পেতাম, কিন্তু নাগাল পেতাম না।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।
অশুদ্ধ বানান - ঠাণ্ডা।
• শুদ্ধ বানান- ঠান্ডা।
- হিন্দি ভাষার শব্দ।
- শব্দটি বিশেষ্য ও বিশেষণ উভয়য় পদ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
----------------------
• মূর্ধন্য-ণ ও দন্ত্য-ন এর ব্যবহার:
- অতৎসম শব্দের বানানে ণ ব্যবহার করা হবে না।
যেমন:
অঘ্রান, ইরান, কান, কোরান, গভর্নর, গুনতি, গোনা, ঝরনা, ধরন, পরান, রানি, সোনা, হর্ন।
- তৎসম শব্দে ট, ঠ, ড, ঢ-য়ের পূর্বে যুক্ত নাসিক্যবর্ণ ণ হয়।
যেমন:
কণ্টক, প্রচণ্ড, লুণ্ঠন।
- কিন্তু অতৎসম শব্দের ক্ষেত্রে ট ঠ ড ঢ-য়ের আগে কেবল ন হবে।
যেমন:
গুন্ডা, ঝান্ডা, ঠান্ডা, ডান্ডা, লন্ঠন।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
• 'আয়ত্তাধীন' - শব্দটি অপপ্রয়োগের দৃষ্টান্ত।
- 'আয়ত্তাধীন' শব্দটি ব্যাকরণগতভাবে শুদ্ধ নয় কিন্তু 'আয়ত্ত' শব্দটি শুদ্ধ।
• "আয়ত্ত" শব্দের অর্থ-
"নিজের ক্ষমতা বা নিয়ন্ত্রণের অধীন" - অর্থাৎ এখানেই "অধীন" অর্থ নিহিত আছে। তাই "আয়ত্তাধীন" বলার মাধ্যমে "অধীন"-এর পুনরাবৃত্তি ঘটেছে, যা অনাবশ্যক এবং অপপ্রয়োগ।
অন্যদিকে,
• 'অহোরাত্র' - শব্দটির প্রয়োগ শুদ্ধ।
• উপর্যুক্ত - শব্দটির প্রয়োগ শুদ্ধ।
• 'দরিদ্রতা' - শব্দটির প্রয়োগ শুদ্ধ।
উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ।