বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাক্য প্রকরণ

মোট প্রশ্ন৬,৯৫৩এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাক্য প্রকরণ

PrepBank · পাতা ৩৯ / ৬৯ · ৩,৮০১৩,৯০০ / ৬,৯৫৩

৩,৮০১.
নিম্নে কোন বাক্যটি সঠিক?
  1. কাব্যটির উৎকর্ষতা প্রশংসনীয়।
  2. আগত শনিবারে তারা যাবে।
  3. অশ্রুতে বুক ভেসে গেল।
  4. দুর্বলবশত তিনি আসতে পারেননি।
সঠিক উত্তর:
অশ্রুতে বুক ভেসে গেল।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অশ্রুতে বুক ভেসে গেল।
ব্যাখ্যা
শুদ্ধ বাক্য- অশ্রুতে বুক ভেসে গেল।
-------------------------------
অন্যদিকে,
• অশুদ্ধ বাক্য- দুর্বলবশত তিনি আসতে পারেননি।
• শুদ্ধ বাক্য- দুর্বলতাবশত তিনি আসতে পারেননি।

• অশুদ্ধ বাক্য- আগত শনিবারে তারা যাবে।
• শুদ্ধ বাক্য- আগামী শনিবারে তারা যাবে।

• অশুদ্ধ বাক্য- কাব্যটির উৎকর্ষতা প্রশংসনীয়।
• শুদ্ধ বাক্য- কাব্যটির উৎকর্ষ প্রশংসনীয়।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩,৮০২.
নিচের কোন বানানটি ‘ণ-ত্ব বিধান’ অনুযায়ী অশুদ্ধ?
  1. অঘ্রান
  2. ঝরনা
  3. গভর্নর
  4. ভীষন
সঠিক উত্তর:
ভীষন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভীষন
ব্যাখ্যা

• ‘ণ-ত্ব বিধান’ অনুযায়ী অশুদ্ধ বানান - ভীষন। 
- এর শুদ্ধ বানান - ভীষণ

• অতৎসম শব্দের বানানে 'ণ' ব্যবহার করা হবে না।
যেমন- অঘ্রান, ঝরনা, গভর্নর, হর্ন। 

এখানে, 'গভর্ণর' বিদেশি শব্দ। তাই এর শুদ্ধ বানান হবে- 'গভর্নর'।

• বিদেশি শব্দের বানানে মুর্ধন্য বর্ণ (ণ) লেখার প্রয়োজন হয়না।  
যেমন- পোশাক, মাস্টার। 

• ঋ, র, ষ এর পরে মূর্ধন্য 'ণ' হয়। 
যেমন - ঋণ, তৃণ, বর্ণ, বর্ণনা, কারণ, মরণ, ভীষণ, ভাষণ, উষ্ণ ইত্যাদি।

• - পরি, প্র, নির- এই তিনটি উপসর্গের পর ণত্ব বিধি অনুসারে ন-ধ্বনি মূর্ধন্য ণ হয়। 
যেমন- প্রণয়, প্রণাম।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াত মামুদ, বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

৩,৮০৩.
করণ কারকের উদাহরণ কোনটি?
  1. আমার দেখা পাবে না।
  2. বসন্তে কোকিল ডাকে।
  3. টাকায় কি না হয়।
  4. সুখের চেয়ে স্বস্তি বড়।
সঠিক উত্তর:
টাকায় কি না হয়।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
টাকায় কি না হয়।
ব্যাখ্যা
করণ কারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়ােগ- 
করণ কারকে ‘দ্বারা বিভক্তি (অনুসর্গ) -তােমাদের দ্বারা দেশের ক্ষতি হবে।
করণ কারকে ‘দিয়া বিভক্তি (অনুসর্গ) - তােমার লােক দিয়ে কাজটা করাবে।
করণ কারকে শূন্য (০) বা অ-বিভক্তি – রফিক তাস খেলে।
করণ কারকে এ-বিভক্তি – গ্যাসে গাড়ি চলে।
করণ কারকে তে-বিভক্তি – তার কথা যেন মধুতে মাখা।

বসন্তে কোকিল ডাকে - অধিকরণ কারক। 
সুখের চেয়ে স্বস্তি বড় - অপাদান কারক। 
আমার দেখা পাবে না - কর্ম কারক। 

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৮০৪.
শুদ্ধ বানান কোনটি ?
  1. মনুষ্যত্ব
  2. ব্যপারী
  3. স্বার্থকতা
  4. মাধুর্য্য
সঠিক উত্তর:
মনুষ্যত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মনুষ্যত্ব
ব্যাখ্যা
অশুদ্ধ বানানের শুদ্ধ রূপ- 
ব্যাপারী (ব্যাপারি) 
[স. ব্যাপার+ইন্‌]
- বিশেষণ
- ব্যবসায়ী, নণিক, কারবারি। 

মাধুর্য (মাধুর্‌যো)
[স. +মধুর+য] 
- বিশেষ্য
মধুরতা, মনুহারিতা
- সৌন্দর্য, লাবণ্য

সার্থকতা (শার্‌থোকতা)
[স. সার্থক+তা]
- বিশেষ্য
- সফলতা 
- যুক্তিযুক্ততা 

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, একাডেমি অভিধান।
৩,৮০৫.
কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. নিরূপম
  2. বিভূতিভূষণ
  3. বিদূষী
  4. নির্বান
সঠিক উত্তর:
বিভূতিভূষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিভূতিভূষণ
ব্যাখ্যা

• শুদ্ধ বানান 'বিভূতিভূষণ'।
- বিশেষ্য পদ।
- সংস্কৃত শব্দ

শব্দের অর্থ:
- ভস্ম যার অঙ্গের ভূষণ; শিব।
- ভস্মরূপ অলংকার

অন্যদিকে,
অশুদ্ধ বানানের শুদ্ধরূপ:
- বিদুষী,
- নির্বাণ, 
- নিরুপম।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৩,৮০৬.
কোন শব্দটি শুদ্ধ বানানে লিখিত নয়?
  1. ক) শ্বশান
  2. খ) প্রজ্বলন
  3. গ) আকাঙ্ক্ষা
  4. ঘ) আষাঢ়
সঠিক উত্তর:
ক) শ্বশান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) শ্বশান
ব্যাখ্যা
শ্বশান বানানটি অশুদ্ধ।
এর শুদ্ধরূপ - শ্মশান

অপশনের অন্যান্য বানানগুলো শুদ্ধ।

উৎসঃ বাংলা একাডেমী অভিধান।
৩,৮০৭.
‘ম’ কোন ব্যঞ্জনের উদাহরণ?
  1. ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন
  2. দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন
  3. মূর্ধন্য ব্যঞ্জন
  4. দন্ত্য ব্যঞ্জন
সঠিক উত্তর:
ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন
ব্যাখ্যা
ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন:
- যেসব ব্যঞ্জন ধ্বনি উচ্চারণের সময় ঠোঁট দুটি কাছাকাছি এসে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন বলে।
- এগুলো দ্বি-ওষ্ঠ্য ধ্বনি নামেও পরচিত।
 যেমন: 
- পাকা, ফল, বাবা, ভাই, মা প্রভৃতি শব্দের প, ফ, ব, ভ, ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

অন্যদিকে, 
মূর্ধন্য ব্যঞ্জন:
- দন্তমূল এবং তালুর মাঝখানে যে উঁচু অংশ থাকে তার নাম মূর্ধা।
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা মূর্ধার সঙ্গে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলােকে মূর্ধন্য ব্যঞ্জন বলে।
- ট, ঠ, ড, ঢ, ড়, ঢ় মূর্ধন্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন:
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা উপরের পাটির দাঁতের গােড়ার সঙ্গে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলােকে
- দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন বলে। নানা, রাত, লাল, সালাম প্রভৃতি শব্দের ন, র, ল, স দন্ত্যমূলীয় ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

দন্ত্য ব্যঞ্জন:
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময় জিভের ডগা উপরের পাটি দাতে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে দন্ত্য ব্যঞ্জন বলে।
যেমন:
- ত, থ, দ, ধ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৩,৮০৮.
'ভূস্বামী স্বাধিকারে অধিষ্ঠান করিলে প্রজারা একদিনের নিমিত্ত নিশ্চিন্ত থাকিতে পারে না।' কোন ধরনের বাক্য?
  1. জটিল
  2. যৌগিক 
  3. সরল 
  4. মিশ্র 
সঠিক উত্তর:
সরল 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সরল 
ব্যাখ্যা

• সরল থেকে জটিল বাক্যে রূপান্তর:
সরল বাক্য থেকে জটিল বাক্যে রূপান্তর করতে হলে মৌলিক অর্থওমূল অর্থ অপরিবর্তিত রেখে নিচের সাধারণ সূত্রগুলো অবলম্বন করা যেতে পারে-

• সূত্র: বাক্য পরিবর্তিত হলেও মৌলিক অর্থ অপরিবর্তিত থাকবে।
যেমন:
- সরল: 'ইহাদের ন্যায় রূপবতী রমণী আমার অন্তঃপুরে নাই।'
- জটিল: 'ইহারা যেরূপ, এরূপ রূপবতী রমণী আমার অন্তঃপুরে নাই।'

• সূত্র: সরল বাক্যের উদ্দেশ্য বা কর্তা ও বিধেয় বা সমাপিকা ক্রিয়াকে পরিবর্তন না করে সাধারণত জটিল বাক্যের প্রধান খণ্ডবাক্যটি গঠিত হয়। কিছু কিছু ক্ষেত্রে ব্যতিক্রমও হয়।
যেমন:
- সরল: 'তুমি নবমালিকা কুসুমকোমলা হওয়া সত্ত্বেও তোমায় আলবালজলসেচনে নিযুক্ত করিয়াছেন।'
- জটিল: 'যদিও তুমি নবমালিকা কুসুমকোমলা, তথাপি তোমায় আলবালজলসেচনে নিযুক্ত করিয়াছেন।'

• সূত্র: সরল বাক্যের বাকি অংশ বিশেষ্য, বিশেষণ বা ক্রিয়া-বিশেষণস্থানীয় অপ্রধান বা আশ্রিত খণ্ডবাক্যে পরিণত হয়।
যেমন:
- সরল: 'ভূস্বামী স্বাধিকারে অধিষ্ঠান করিলে প্রজারা একদিনের নিমিত্ত নিশ্চিন্ত থাকিতে পারে না।'
- জটিল: 'ভূস্বামী যখন স্বাধিকারে অধিষ্ঠান করেন, তখন প্রজারা একদিনের নিমিত্ত নিশ্চিন্ত থাকিতে পারে না।'

• সূত্র: প্রধান ও অপ্রধান খণ্ডবাক্য সাপেক্ষ সর্বনাম (যা, তা) কিংবা যোজক শব্দ (যদি, তবে) দ্বারা যুক্ত হয়।
যেমন:
- সরল: 'কার্যে ক্ষতি না হইলে তথায় গিয়া অতিথি সৎকার করুন।'
- জটিল: 'যদি কার্যে ক্ষতি না হয়, তবে তথায় গিয়া অতিথি সৎকার করুন।'

- সরল: 'কেবল লোভের উপভোগ আহরণ করাই তাহার একমাত্র প্রয়োজন।'
- জটিল: 'যাহা তাঁহার একমাত্র প্রয়োজন, তাহা হইল কেবল লোভের উপভোগ আহরণ করা।'

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৩,৮০৯.
'আজ সেখানে গিয়েছিলাম।'- বাক্যে 'আজ' কোন কারক? 
  1. অপাদান কারক
  2. করণ কারক
  3. কর্ম কারক
  4. অধিকরণ কারক
সঠিক উত্তর:
অধিকরণ কারক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অধিকরণ কারক
ব্যাখ্যা
• অধিকরণ কারক:
ক্রিয়ার আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক। আধার বলতে ক্রিয়া নিষ্পন্ন হওয়ার স্থান, কাল ও ভাবকে বোঝায়। অর্থাৎ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল এবং আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক।

- বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথায়, কখন ও কোনো বিষয় দ্বারা প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায় তাই অধিকরণ কারক।
যথা :
- আধার (স্থান): আমরা রোজ স্কুলে যাই।
- কাল (সময়): প্রভাতে সূর্য ওঠে।

এরূপ- 
- আজ সেখানে গিয়েছিলাম। 
[বাক্যের ক্রিয়াপদকে 'কখন?' প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'আজ'। সুতরাং 'আজ' অধিকরণ কারকে শূন্য বিভক্তি।]

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।।
৩,৮১০.
নিচের কোন বাক্যটি শুদ্ধ?
  1. তার সাংস্কৃতি নেই
  2. তার সংস্কৃতি নেই
  3. তার সাংস্কৃত নাই
  4. তার সাংস্কিৃতি নাই
সঠিক উত্তর:
তার সংস্কৃতি নেই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তার সংস্কৃতি নেই
ব্যাখ্যা
• সংস্কৃতি (বিশেষ্য): 

অর্থ: 
- শিল্প-সাহিত্য আচার-আচরণ বেশভূষা প্রভৃতির দ্বারা কোনো জাতি বা গোষ্ঠীর যে পরিচয় ফুটে ওঠে (বাঙালি সংস্কৃতি),
- কৃষ্টি।
- অনুশীলন বা চর্চার দ্বারা লব্ধ শিক্ষা শিল্প রুচি প্রভৃতিবিষয়ক উৎকর্ষ।

এখানে, 'তার সংস্কৃতি নেই' বাক্যটি শুদ্ধ। বাকী অপশন গুলোতে 'সংস্কৃতি' বানান ভুল দেওয়া আছে। 

সূত্র: আধুনিক বাংলা একাডেমি অভিধান। 
৩,৮১১.
"ই-কারান্ত ও উ-কারান্ত উপসর্গের পরে কিছু ধাতুতে কোনটি ব্যবহৃত হয়? 
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা

• "ই-কারান্ত ও উ-কারান্ত উপসর্গের পরে কিছু ধাতুতে 'ষ' ব্যবহৃত হয়। 
----------------------------------------
• ষ-ত্ব বিধান:
- অবিকৃত সংস্কৃত শব্দে কোন নিয়মে মূর্ধন্য ষ লেখা হবে—এই বিধানকেই ষ-ত্ব বিধান বলা হয়।
- বাংলা ভাষায় মূর্ধন্য ষ-এর জন্য আলাদা কোনো বিশেষ উচ্চারণ নেই।
- তাই খাঁটি বাংলা শব্দ ও বিদেশি শব্দের বানানে মূর্ধন্য ষ ব্যবহারের প্রয়োজন হয় না।

• 'ষ' ব্যবহারের নিয়ম:
- ই-কারান্ত ও উ-কারান্ত উপসর্গের পরে কিছু ধাতুতে মূর্ধন্য ষ ব্যবহৃত হয়।
- যেমন:
- অভি + সেক → অভিষেক,
- অনু + সঙ্গ → অনুষঙ্গ,
- প্রতি + সেধক → প্রতিষেধক,
- অনু + স্থান → অনুষ্ঠান।

উৎস: বাংলা ২য় পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

৩,৮১২.
‘এটা কাচা হাতের লেখা।’ বাক্যটিতে কী ধরনের অপপ্রয়োগ ঘটেছে?
  1. ক) বানান জনিত
  2. খ) পদক্রম জনিত
  3. গ) কারক জনিত
  4. ঘ) যোগ্যতা জনিত
সঠিক উত্তর:
ক) বানান জনিত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) বানান জনিত
ব্যাখ্যা
‘এটা কাচা হাতের লেখা।’ বাক্যটিতে কাঁচা বানান ভুল।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
৩,৮১৩.
"বৃক্ষটি সমূলসহ উৎপাটিত হইয়াছে।" - বাক্যটি কী কারণে অশুদ্ধ?
  1. বাহুল্যদোষ
  2. অনাবশ্যক শব্দ প্রয়োগ
  3. পদক্রম জনিত
  4. বাহুল্যদোষ এবং অনাবশ্যক শব্দ প্রয়োগ
সঠিক উত্তর:
বাহুল্যদোষ এবং অনাবশ্যক শব্দ প্রয়োগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাহুল্যদোষ এবং অনাবশ্যক শব্দ প্রয়োগ
ব্যাখ্যা

• অশুদ্ধ বাক্য: বৃক্ষটি সমূলসহ উৎপাটিত হইয়াছে।
এই বাক্যে মূল সমস্যা- বাহুল্যদোষ এবং অনাবশ্যক শব্দ প্রয়োগ। 

- সমূলসহ = ভুল। "সমূল" মানেই "মূলসহ", তাই "সমূলসহ" বাহুল্য।

- শুদ্ধ বাক্য:
"সমূলসহ উৎপাঠিত" অংশে ভুল শব্দচয়ন আছে। এখানে বাক্যটি হবে- বৃক্ষটি মূলসহ/সমূলে উৎপাঠিত হইয়াছে।

সুতরাং, অধিক গ্রহণযোগ্য উত্তর- ঘ) বাহুল্যদোষ এবং অনাবশ্যক শব্দ প্রয়োগ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ।

৩,৮১৪.
নিচের কোন বাক্যটি শুদ্ধ?
  1. হস্তীটি অত্যন্ত স্থুল।
  2. তার সব ছেলেরাই কৃতি।
  3. ইহা একটি কম্বদন্তী।
  4. তাঁরা সন্তোস হইল।
সঠিক উত্তর:
হস্তীটি অত্যন্ত স্থুল।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হস্তীটি অত্যন্ত স্থুল।
ব্যাখ্যা

'হস্তীটি অত্যন্ত স্থুল।' বাক্যটি শুদ্ধ।

অন্যদিকে,
• অশুদ্ধ বাক্য: তার সব ছেলেরাই কৃতি।
• শুদ্ধ বাক্য: তার সব ছেলেই কৃতী।

• অশুদ্ধ বাক্য: ইহা একটি কম্বদন্তী।
• শুদ্ধ বাক্য: ইহা একটি কিংবদন্তি।

• অশুদ্ধ বাক্য: তাঁরা সন্তোস হইল।
• শুদ্ধ বাক্য: তাঁরা সন্তুষ্ট হইল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩,৮১৫.
নিচের কোনটি শুদ্ধ বাক্য?
  1. আমি সাক্ষী দিব না।
  2. একটা গোপনীয় কথা বলি।
  3. এ কথা প্রমাণ হয়েছে।
  4. অনাবশ্যকীয় ব্যাপারে কৌতূহল ভালো নয়।
সঠিক উত্তর:
একটা গোপনীয় কথা বলি।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
একটা গোপনীয় কথা বলি।
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বাক্য: একটা গোপনীয় কথা বলি।

এমনকিছু অশুদ্ধ ও শুদ্ধ বাক্য হলো-
• অশুদ্ধ বাক্য: আমি সাক্ষী দিব না।
• শুদ্ধ বাক্য: আমি সাক্ষ্য দিব না।

• অশুদ্ধ বাক্য: এ কথা প্রমাণ হয়েছে।
• শুদ্ধ বাক্য: এ কথা প্রমাণিত হয়েছে।

• অশুদ্ধ বাক্য: অনাবশ্যকীয় ব্যাপারে কৌতূহল ভালো নয়।
• শুদ্ধ বাক্য: অনাবশ্যক ব্যাপারে কৌতূহল ভালো নয়।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩,৮১৬.
উদাহরণ উপস্থাপনের কাজে ব্যবহৃত হয়-
  1. কমা
  2. কোলন
  3. দাঁড়ি
  4. সেমিকোলন
সঠিক উত্তর:
কোলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোলন
ব্যাখ্যা
• কোলন (:)
- বাক্যের প্রথম অংশের কোনো উক্তিকে দ্বিতীয় অংশে ব্যাখ্যা করা এবং উদাহরণ উপস্থাপনের কাজে কোলন ব্যবহৃত হয়।
যেমন
- ভাষার দুটি রূপ: কথ্য ও লেখ্য।
- সভার সিদ্ধান্ত হলো: প্রতি মাসে সব সদস্যকে দশ টাকা করে চাঁদা দিতে হবে।

অন্যদিকে,
• কমা (,) এর ব্যবহার: 
- কমা সামান্য বিরতি নির্দেশ করে। শব্দ, বর্গ ও অধীন বাক্যকে আলাদা করতে কমার ব্যবহার হয়।
যেমন:
- গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ, হেমন্ত, শীত ও বসন্ত বাংলাদেশ এই ছয়টি ঋতুর দেশ।
- নিবিড় অধ্যবসায়, কঠোর পরিশ্রম ও সময়নিষ্ঠ থাকলে সাফল্য আসবে।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছেন, "পাপকে ঠেকাবার জন্যে কিছুনা করাই তো পাপ।"

• দাঁড়ি :
- দাঁড়ি সাধারণত বাক্যের সমাপ্তি নির্দেশ করে।
যেমন
- প্রান্ত ফুটবল খেলা পছন্দ করে।

• সেমিকোলন (;)
- স্বাধীন অথচ ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত একাধিক বাক্যকে এক বাক্যে পরিণত করার কাজে অথবা একই ধরনের বর্গকে পাশাপাশি সাজাতে সেমিকোলন ব্যবহৃত হয়।
যেমন
- সোহাগ ক্রিকেট পছন্দ করে; আমি ফুটবল পছন্দ করি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি (২০২৫ সালের সংস্করণ)।
৩,৮১৭.
নিচের কোন শব্দে অপপ্রয়োগ ঘটেছে?
  1. দরিদ্রতা
  2. একতা
  3. চতুরতা
  4. আতিশয্যতা
সঠিক উত্তর:
আতিশয্যতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আতিশয্যতা
ব্যাখ্যা

• 'আতিশয্যতা' - শব্দে প্রত্যয়জনিত অপপ্রয়োগ ঘটেছে।
- এর শুদ্ধ প্রয়োগ হবে - আতিশয্য।

অন্যদিকে,
- একতা, দরিদ্রতা এবং চতুরতা - শব্দগুলোর প্রয়োগ শুদ্ধ।

তা- প্রত্যয়ের শুদ্ধ- অশুদ্ধ প্রয়োগ: 
- তা, ত্ব প্রত্যয় বিশেষ্যবাচক প্রত্যয়। এই প্রত্যয় কেবল বিশেষণকে বিশেষ্য করে।
- তাই বিশেষ্য শব্দের সঙ্গে তা বা ত্ব প্রত্যয় প্রয়োগ অশুদ্ধ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৩,৮১৮.
শুদ্ধ বাক্যটি নির্বাচন করুন:
  1. ক) এটি লজ্জানীয় ব্যাপার
  2. খ) এটি লজ্জাস্কর ব্যাপার
  3. গ) এটি লজ্জাষ্কর ব্যাপার
  4. ঘ) এটি লজ্জাকর ব্যাপার
সঠিক উত্তর:
ঘ) এটি লজ্জাকর ব্যাপার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) এটি লজ্জাকর ব্যাপার
ব্যাখ্যা
শুদ্ধ বাক্যটি হল:  এটি লজ্জাকর ব্যাপার।

এছাড়া,  লজ্জাস্কর বা লজ্জাষ্কর শব্দগুলো প্রচলিত ভুল বানান। 

সূত্র: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
 
৩,৮১৯.
'কার্যে ক্ষতি না হইলে তথায় গিয়া অতিথি সৎকার করুন।' কোন ধরনের বাক্য?
  1. জটিল বাক্য
  2. সরল বাক্য
  3. যৌগিক বাক্য
  4. আবেগবাচক বাক্য
সঠিক উত্তর:
সরল বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সরল বাক্য
ব্যাখ্যা
• সরল বাক্য:
যে বাক্যে একটি মাত্র কর্তা (উদ্দেশ্য) এবং একটি মাত্র সমাপিকা ক্রিয়া (বিধেয়) থাকে, তাকে সরল বাক্য বলে।

• সরল থেকে জটিল বাক্যে রূপান্তর:
সরল বাক্য থেকে জটিল বাক্যে রূপান্তর করতে হলে মৌলিক অর্থওমূল অর্থ অপরিবর্তিত রেখে নিচের সাধারণ সূত্রগুলো অবলম্বন করা যেতে পারে-

• সূত্র: বাক্য পরিবর্তিত হলেও মৌলিক অর্থ অপরিবর্তিত থাকবে।
যেমন:
- সরল: 'ইহাদের ন্যায় রূপবতী রমণী আমার অন্তঃপুরে নাই।'
- জটিল: 'ইহারা যেরূপ, এরূপ রূপবতী রমণী আমার অন্তঃপুরে নাই।'

• সূত্র: সরল বাক্যের উদ্দেশ্য বা কর্তা ও বিধেয় বা সমাপিকা ক্রিয়াকে পরিবর্তন না করে সাধারণত জটিল বাক্যের প্রধান খণ্ডবাক্যটি গঠিত হয়। কিছু কিছু ক্ষেত্রে ব্যতিক্রমও হয়।
যেমন:
- সরল: 'তুমি নবমালিকা কুসুমকোমলা হওয়া সত্ত্বেও তোমায় আলবালজলসেচনে নিযুক্ত করিয়াছেন।'
- জটিল: 'যদিও তুমি নবমালিকা কুসুমকোমলা, তথাপি তোমায় আলবালজলসেচনে নিযুক্ত করিয়াছেন।'

• সূত্র: সরল বাক্যের বাকি অংশ বিশেষ্য, বিশেষণ বা ক্রিয়া-বিশেষণস্থানীয় অপ্রধান বা আশ্রিত খণ্ডবাক্যে পরিণত হয়।
যেমন:
- সরল: 'ভূস্বামী স্বাধিকারে অধিষ্ঠান করিলে প্রজারা একদিনের নিমিত্ত নিশ্চিন্ত থাকিতে পারে না।'
- জটিল: 'ভূস্বামী যখন স্বাধিকারে অধিষ্ঠান করেন, তখন প্রজারা একদিনের নিমিত্ত নিশ্চিন্ত থাকিতে পারে না।'

• সূত্র: প্রধান ও অপ্রধান খণ্ডবাক্য সাপেক্ষ সর্বনাম (যা, তা) কিংবা যোজক শব্দ (যদি, তবে) দ্বারা যুক্ত হয়।
যেমন:
- সরল: 'কার্যে ক্ষতি না হইলে তথায় গিয়া অতিথি সৎকার করুন।'
- জটিল: 'যদি কার্যে ক্ষতি না হয়, তবে তথায় গিয়া অতিথি সৎকার করুন।'

- সরল: 'কেবল লোভের উপভোগ আহরণ করাই তাহার একমাত্র প্রয়োজন।'
- জটিল: 'যাহা তাঁহার একমাত্র প্রয়োজন, তাহা হইল কেবল লোভের উপভোগ আহরণ করা।'

সরল বাক্যকে জটিল বাক্যতে রূপান্তরের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত কতিপয় যোজক ও সর্বনাম:
• সাপেক্ষ যোজক: বটে-কিন্তু, যেই-সেই, বরঞ্চ-তথাপি, হয়-নয়, এত-যে, যেমন-তেমন, একে-তায়, যদি-তবু। তাহলে, এরূপ-যে-সে, যত-তত, যাই-তাই ইত্যাদিকে সাপেক্ষ যোজক বলে।

• সাপেক্ষ সর্বনাম: পরস্পরের ওপর নির্ভরশীল এক প্রকার সংযোগমূলক সর্বনামই সাপেক্ষ সর্বনাম। যেমন: যে-সে, যিনি-তিনি, যা-তা, যার-তার, যতক্ষণ-ততক্ষণ ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩,৮২০.
‘যদিও তিনি ধনী তথাপি সে গরিবকে ভালোবাসে।’- কোন ধরনের বাক্যের উদাহরণ?
  1. যৌগিক বাক্য
  2. সরল বাক্য
  3. জটিল বাক্য
  4. অমিশ্র বাক্য
সঠিক উত্তর:
জটিল বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জটিল বাক্য
ব্যাখ্যা
⇒ জটিল বাক্য:
যে বাক্যে প্রধান খণ্ডবাক্যের অধীন এক বা একের বেশি অপ্রধান খণ্ডবাক্য থাকে বা একটি প্রধান খণ্ডবাক্যের এক বা একাধিক বাক্য পরস্পর সাপেক্ষভাবে ব্যবহৃত হলে তাকে জটিল বলে।
 
যে-সে, যারা-তারা, যিনি-তিনি, যাঁরা-তাঁরা, যা-তা প্রভৃতি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যদিও-তবুও, যেহেতু-সেহেতু, যত-তত, যেটুকু-সেটুকু, যেমন-তেমন, যখন-তখন প্রভৃতি সাপেক্ষ যোজক দিয়ে যখন অধীন বাক্যগুলো যুক্ত থাকে, তাকে জটিল বাক্য বলে।

যেমন:
- যদিও তিনি ধনী, তথাপি সে গরিবকে ভালোবাসে।
- যে সহে, সে রহে।
- যে রক্ষক, সে ভক্ষক।
- যে ছেলেটি এখানে এসেছিল, সে আমার ভাই।
- যদি তুমি যাও, তবে তার দেখা পাবে।
- যখন বৃষ্টি নামল, তখন আমরা ছাতা খুঁজতে শুরু করলাম।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩,৮২১.
‘ছাগলে কি না খায়’- কোন কারক?
  1. ক) কর্তৃকারক
  2. খ) কর্মকারক
  3. গ) করণকারক
  4. ঘ) অপাদান কারক
সঠিক উত্তর:
ক) কর্তৃকারক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) কর্তৃকারক
ব্যাখ্যা
• কর্তৃকারক:
- বাক্যস্থিত যে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদ ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে ক্রিয়ার কর্তা বা কর্তৃকারক বলে।
- ক্রিয়াকে ‘কে/ কারা’ দিয়ে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, সেটিই কর্তৃকারক।

সপ্তমী বিভক্তি: এ, য়, তে। 

উদাহরণ-
পাগলে কি না বলে (কে বলে) : কর্তৃকারকে সপ্তমী বিভক্তি।
ছাগলে কি না খায় (কে খায়) : কর্তৃকারকে সপ্তমী বিভক্তি।
বুলবুলিতে ধান খেয়েছে (কে খেয়েছে) : কর্তৃকারকে সপ্তমী বিভক্তি।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)। 
৩,৮২২.
কোনটি অপপ্রয়োগ?
  1. আলস্য
  2. সখ্য
  3. মৈত্রতা
  4. লাঘব
সঠিক উত্তর:
মৈত্রতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মৈত্রতা
ব্যাখ্যা

• 'মৈত্রতা' শব্দটি অপপ্রয়োগ।
- এটি ’তা’ প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগ জনিত ভুল।
- এর শুদ্ধ প্রয়োগ - মৈত্র, মিত্রতা

অন্যদিকে,
- লাঘব,
- সখ্য,
- আলস্য।
উপরিউক্ত শব্দগুলোর প্রয়োগ শুদ্ধ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৩,৮২৩.
"রহমত রাতে রুটি খায় আর রহিমা খায় ভাত।" - কোন ধরনের বাক্য? 
  1. সরল বাক্য
  2. জটিল বাক্য
  3. যৌগিক বাক্য
  4. মিশ্র বাক্য
সঠিক উত্তর:
যৌগিক বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যৌগিক বাক্য
ব্যাখ্যা

গঠনগত দিক থেকে বাক্যকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়।
যেমন,
- সরল বাক্য,
- জটিল বাক্য,
- যৌগিক বাক্য।

যৌগিক বাক্য:
দুই বা ততোধিক স্বাধীন বাক্য যখন যোজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে একটি বাক্যে পরিণত হয় তাকে যৌগিক বাক্য বলে।
যেমন-
- রহমত রাতে রুটি খায় আর রহিমা খায় ভাত।
- সে ঘর ঝাড়ু দিল, ঘর মুছল, তারপর পড়তে বসলো।
- বিপদ ও দুঃখ একসঙ্গে আসে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ)।

৩,৮২৪.
'না' শব্দটি বাক্যে কোথায় বসে?
  1. ক) সমাপিকা ক্রিয়ার পূর্বে
  2. খ) সমাপিকা ক্রিয়ার পরে
  3. গ) অসমাপিকা ক্রিয়ার পরে
  4. ঘ) বিশেষণের পরে
সঠিক উত্তর:
খ) সমাপিকা ক্রিয়ার পরে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সমাপিকা ক্রিয়ার পরে
ব্যাখ্যা

'না' শব্দটি বাক্যে সমাপিকা ক্রিয়ার পরেঅসমাপিকা ক্রিয়ার পূর্বে বসে।

যেমনঃ সমাপিকা ক্রিয়ার পরে-  আমি যাব না

অসমাপিকা ক্রিয়ার পূর্বে - না চাইতে দানের কোন মর্যাদা নেই

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণী

৩,৮২৫.
"বাংলা সাহিত্যে রবীন্দ্রনাথের উৎকর্ষতা অপ্রতিদ্বন্দ্বী।" - বাক্যটিতে কোন ধরনের ভুল রয়েছে?
  1. সন্ধিজনিত 
  2. প্রত্যয়জনিত
  3. বানানজনিত
  4. উপসর্গজনিত
সঠিক উত্তর:
প্রত্যয়জনিত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রত্যয়জনিত
ব্যাখ্যা

• 'উৎকর্ষতা' প্রত্যয়জনিত অশুদ্ধ।
- এর শুদ্ধরূপ: উৎকর্ষ, উৎকৃষ্টতা।

তাই বলা চলে, "বাংলা সাহিত্যে রবীন্দ্রনাথের উৎকর্ষতা অপ্রতিদ্বন্দ্বী।" - বাক্যটিতে প্রত্যয়জনিত ভুল রয়েছে।

• '-তা' এবং 'ত্ব' প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগ:
- '-তা' এবং 'ত্ব' হলো বিশেষ্যবাচক প্রত্যয়। 
- এই প্রত্যয় কেবল বিশেষণ শব্দকে বিশেষ্য করে।
- তাই বিশেষ্য শব্দের সঙ্গে আবারো '-তা' বা 'ত্ব' যুক্ত করলে তা ভুল হবে।
যেমন -
 • 'উৎকর্ষ' শব্দটি বিশেষ্য।
- ‘উৎকর্ষ' শব্দের সঙ্গে আবারো বিশেষ্যবাচক ‘-তা' প্রত্যয় যুক্ত হলে তা ভুল বলে গণ্য হবে।
অর্থাৎ 'উৎকর্ষতা' প্রত্যয়জনিত অপপ্রয়োগ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ; বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

৩,৮২৬.
কোনটি যৌগিক বাক্যের উদাহরণ?
  1. সত্য কথা না বলে বিপদে পড়েছি।
  2. মা ছিলনা বলে কেউ তার চুল বেঁধে দেয়নি।
  3. নেতা জনগণকে উৎসাহিত করলেন বটে, কিন্তু, কোনো পথ দেখাতে পারলেন না।
  4. যদি তোমার কিছু বলার থাকে, তবে এখনই বলে ফেলো।
সঠিক উত্তর:
নেতা জনগণকে উৎসাহিত করলেন বটে, কিন্তু, কোনো পথ দেখাতে পারলেন না।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নেতা জনগণকে উৎসাহিত করলেন বটে, কিন্তু, কোনো পথ দেখাতে পারলেন না।
ব্যাখ্যা

যৌগিক বাক্য:
- পরস্পর নিরপেক্ষ দুই বা ততোধিক সরল বা মিশ্র বাক্য মিলিত হয়ে একটি সম্পূর্ণবাক্য গঠন করলে তাকে যৌগিক বাক্য বলে।
জ্ঞাতব্য: যৌগিক বাক্যের অন্তর্গত নিরপেক্ষ বাক্যগুলো এবং, ও, কিন্তু, অথবা, অথচ, কিংবা, বরং, প্রভৃতি অব্যয় যোগে সংযুক্ত বা সমন্বিত থাকে।

যেমন:
- নেতা জনগণকে উৎসাহিত করলেন বটে, কিন্তু, কোনো পথ দেখাতে পারলেন না।
- বস্ত্ৰ মলিন কেন, কেহ জিজ্ঞাসা করিলে সে ধোপাকে গালি পাড়ে, অথচ ধৌত বস্ত্রে তাহার গৃহ পরিপূর্ণ।
- উদয়াস্ত পরিশ্রম করব, তথাপি অন্যের দ্বারস্থ হব না।

অন্যদিকে,
সরল বাক্য - সত্য কথা না বলে বিপদে পড়েছি।
জটিল বাক্য - মা ছিলনা বলে কেউ তার চুল বেঁধে দেয়নি। যদি তোমার জন্য কিছু বলার থাকে, তবে এখনই বলে ফেলো।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

৩,৮২৭.
শুদ্ধ বানান -
  1. অপকর্শ
  2. বীণাপাণি
  3. জাজ্জ্বল্যমান
  4. শ্বাশত
সঠিক উত্তর:
বীণাপাণি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বীণাপাণি
ব্যাখ্যা

• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
- শুদ্ধ বানান - বীণাপাণি।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।

শব্দের অর্থ:
- বীণা যার পাণিতে, সরস্বতীদেবী, বাগদেবী।

আরো কিছু শুদ্ধ বানান:
• অপকর্শ এর শুদ্ধ বানান - অপকর্ষ।
• অন্যমনষ্ক এর শুদ্ধ বানান - অন্যমনস্ক।
• অন্যপুর্বা এর শুদ্ধ বানান - অন্যপূর্বা।
• জাজ্জ্বল্যমান এর শুদ্ধ বানান - জাজ্বল্যমান। 
• প্রোজ্বলিত এর শুদ্ধ বানান - প্রজ্বলিত।
• শ্বাশত এর শুদ্ধ বানান - শাশ্বত।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৩,৮২৮.
কোন বানানটি অশুদ্ধ?
  1. তীক্ষ্ণদৃষ্টি
  2. তিরস্ক্রিয়া
  3. তিতীর্ষু
  4. তীর্যক
সঠিক উত্তর:
তীর্যক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তীর্যক
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ বানান: তীর্যক।

• শুদ্ধ বানান: তির্যক (বিশেষণ পদ),
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ:
- অসরল,
- বক্র,
- কুটিল।

অন্যদিকে, শুদ্ধ বানানগুলো হলো:
• শুদ্ধ বানান: তিতীর্ষু,
- বিশেষণ পদ।
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ: পার হতে উচ্ছুক, তরণেচ্ছু।

• শুদ্ধ বানান: তিরস্ক্রিয়া,
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ: অবজ্ঞা, অনাদর, র্ভৎসনা।

• শুদ্ধ বানান: তীক্ষ্ণদৃষ্টি (বিশেষণ পদ)।
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ: সতর্ক দৃষ্টিসম্পন্ন।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৩,৮২৯.
নিচের কোনটি বিশেষ্যের ভুল প্রয়োগ?
  1. দীনতা
  2. অলসতা
  3. ঐক্যতা
  4. দারিদ্র্য
সঠিক উত্তর:
ঐক্যতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঐক্যতা
ব্যাখ্যা

ঐক্যতা: এটি বিশেষ্য হিসেবে ভুল প্রয়োগ।

কারণ,
‘ঐক্য’ শব্দটি নিজেই একটি বিশেষ্য (অর্থ: একতা বা মিলন)। বাংলায় ‘ঐক্য’ শব্দের সঙ্গে -তা প্রত্যয় যুক্ত করে ‘ঐক্যতা’ গঠন করা অপ্রচলিত এবং অপ্রয়োজনীয়, কারণ ‘ঐক্য’ নিজেই একটি সম্পূর্ণ বিশেষ্য। ‘ঐক্যতা’ শব্দটি বাংলা ভাষায় প্রমিত বা সাধারণ ব্যবহারে দেখা যায় না। সঠিক শব্দ হবে ‘ঐক্য’। তাই এটি বিশেষ্যের ভুল প্রয়োগ।

অন্য শব্দগুলো শুদ্ধ:
ক) দীনতা = দীন + তা = সঠিক।
খ) অলসতা = অলস + তা = সঠিক।
ঘ) দারিদ্র্য = দরিদ্র + য = সঠিক।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

৩,৮৩০.
নিচের কোনটি যৌগিক বাক্যের উদাহরণ ?
  1. যারা ধার্মিক তারা সুখী।
  2. আমাদের সমাজ আর তাদের সমাজ এক নয়।
  3. তোমাকে দেওয়ার মতো আমার কিছুই নেই।
  4. ধনী হলেও তুমি উদার নও।
সঠিক উত্তর:
আমাদের সমাজ আর তাদের সমাজ এক নয়।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আমাদের সমাজ আর তাদের সমাজ এক নয়।
ব্যাখ্যা

• যৌগিক বাক্য:
পরস্পর নিরপেক্ষ দুই বা ততোধিক সরল বা মিশ্র বাক্য মিলিত হয়ে একটি সম্পূর্ণ বাক্য গঠন করলে তাকে যৌগিক বাক্য বলে।

উল্লেখ্য,
যৌগিক বাক্যের অন্তর্গত নিরপেক্ষ বাক্যগুলো এবং, কিন্তু, ও, অথবা, অথচ, কিংবা, বরং, তবে, তথাপি প্রভৃতি অব্যয় যোগে সংযুক্ত থাকে।
যেমন:
আমাদের সমাজ আর তাদের সমাজ এক নয়।
- সূর্য উদিত হয় তবে অন্ধকার দূর হয়।

অন্যদিকে, 
• জটিল বাক্য- যারা ধার্মিক তারা সুখী।
• সরল বাক্য- তোমাকে দেওয়ার মতো আমার কিছুই নেই।
• সরল বাক্য- ধনী হলেও তুমি উদার নও।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৩,৮৩১.
নিচের বাক্যে নিম্নরেখ শব্দটি কোন কারকে কোন বিভক্তি?
তোমার পায়ে নখের আঁচড়ও লাগবে না।
  1. ক) কর্মে শূন্য
  2. খ) করণে ৫মী
  3. গ) অপাদানে ৬ষ্ঠী
  4. ঘ) করণে ৬ষ্ঠী
সঠিক উত্তর:
ঘ) করণে ৬ষ্ঠী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) করণে ৬ষ্ঠী
ব্যাখ্যা
• করণ কারক
যার দ্বারা বা যে উপায়ে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে করণ কারক বলে। এই কারকে সাধারণত দ্বারা’, “দিয়ে, কর্তৃক ইত্যাদি অনুসর্গ যুক্ত হয়।
যেমন –
- ভেড়া দিয়ে চাষ করা সম্ভব নয়।
- চাষিরা ধারালাে কাস্তে দিয়ে ধান কাটছে।

"তোমার পায়ে নখের (নখ দ্বারা) আঁচড়ও লাগবে না।"- বাক্যে নখ শব্দের সাথে -র (ষষ্ঠী বিভক্তি) যুক্ত হয়েছে। 
- তাই এটি করণে ৬ষ্ঠী। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৩,৮৩২.
'যদি পরিশ্রম কর, তাহলে ফল পাবে।’- বাক্যটির যৌগিক রূপ কোনটি?
  1. পরিশ্রম করলেই, ফল পাবে।
  2. পরিশ্রম কর, তবে ফল পাবে।
  3. যদি পরিশ্রম কর, ফল পাবে।
  4. যদি পরিশ্রম কর, তবে ফল পাবে।
সঠিক উত্তর:
পরিশ্রম কর, তবে ফল পাবে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরিশ্রম কর, তবে ফল পাবে।
ব্যাখ্যা
• জটিল বাক্য থেকে যৌগিক বাক্যে রূপান্তর: 
সূত্র ক : আশ্রিত খণ্ড বাক্যগুলোকে নিরপেক্ষ খণ্ড বাক্যে পরিণত করতে হবে। 
সূত্র খ:  জটিল বা মিশ্র বাক্যের উপযোগী শব্দ প্রয়োগের মাধ্যমে সবকটি খণ্ডবাক্যের সম্পর্ক বজায় রাখতে হবে।
সূত্র গ: সাপেক্ষবাচক সর্বনাম বর্জন করে যোজক পদ ব্যবহারের মাধ্যমে স্বাধীন বাক্যগুলোকে যুক্ত করতে হবে।
যেমন:
• জটিল বাক্য: যখন বিপদ আসে, তখন দুঃখও আসে।
• যৌগিক বাক্য: বিপদ ও দুঃখ একসঙ্গে আসে ।

• জটিল: যদি পরিশ্রম কর, তাহলে ফল পাবে।
• যৌগিক: পরিশ্রম কর, তবে ফল পাবে।

• জটিল: যে রক্ষক সেই ভক্ষক।
• যৌগিক: সেই রক্ষক, অথচ সেই ভক্ষক।

• জটিল:যদি সাফল্য চাও তাহলে পরিশ্রম কর।
• যৌগিক: পরিশ্রম কর এবং সাফল্য লাভ কর।

• জটিল: যদিও তিনি দরিদ্র তথাপি সৎ। 
• যৌগিক: তিনি দরিদ্র, কিন্তু সৎ। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩,৮৩৩.
গুরুচন্ডালী দোষে বাক্য কি হারায়?
  1. যোগ্যতা
  2. আসক্তি
  3. আকাঙ্খা
  4. প্রসাদগুন
সঠিক উত্তর:
যোগ্যতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যোগ্যতা
ব্যাখ্যা
• গুরুচণ্ডালী দোষ:
- গুরুচণ্ডালী দোষ তৎসম শব্দের সঙ্গে দেশীয় শব্দের মিশ্রণ ঘটলে যে দোষের সৃষ্টি হয় তাকে গুরুচণ্ডালী দোষ বলে।
- এদোষে দুষ্ট শব্দ তার যোগ্যতা হারায়।
যেমন-
গরুর গাড়ি, শবদাহ ইত্যাদি হলো তৎসম শব্দ।

কিন্তু যদি বলা হয় গরুর শকট, মড়াদাহ তাহলে তা গুরুচণ্ডালী দোষে দুষ্ট হয়ে যায়।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৮৩৪.
'বিদ্যান ব্যক্তিরা দরিদ্র্যের স্বীকার হন।' বাক্যটিতে কয়টি বানান ভুল আছে?




সঠিক উত্তর:

উত্তর
সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা

বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
• 'বিদ্যান ব্যক্তিরা দরিদ্র্যের স্বীকার হন।' বাক্যটিতে ৩টা বানান ভুল রয়েছে।
• শুদ্ধ বাক্য:বিদ্বান  ব্যক্তিরা দারিদ্র্যের শিকার হন।

- অশুদ্ধ: বিদ্যান।
- শুদ্ধ: বিদ্বান।

- অশুদ্ধ: দরিদ্র্যের
- শুদ্ধ: দারিদ্র্যের

- অশুদ্ধ: স্বীকার
- শুদ্ধ: শিকার

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৩,৮৩৫.
বাক্যের ক্ষুদ্রাংশকে কী বলে?
  1. ক) পদ
  2. খ) রূপ
  3. গ) শব্দমূল
  4. ঘ) ধ্বনি 
সঠিক উত্তর:
ক) পদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) পদ
ব্যাখ্যা
বাক্যের মধ্যে স্থান পাওয়া প্রতিটি শব্দকে পদ বলে। 
- এদিক দিয়ে পদ হলো বাক্যের একক বা ক্ষুদ্রাংশ । 
- রূপতত্ত্ব অংশে শব্দশ্রেণি নামে বাক্যের এই পদ বিভাজন উপস্থাপন করা হয়েছে। 
উদাহরণ: 'সজল ও লতা বই পড়ে' বাক্যে 'সজল' 'ও' 'লতা' 'বই' 'পড়ে' প্রতিটি পদ। 
 
উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৩,৮৩৬.
'তুমি চেষ্টা না করে ব্যর্থ হয়েছ।' এটা কোন বাক্য?
  1. ক) জটিল বাক্য
  2. খ) অধীন বাক্য
  3. গ) যৌগিক বাক্য
  4. ঘ) সরল বাক্য
সঠিক উত্তর:
ঘ) সরল বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সরল বাক্য
ব্যাখ্যা

• যে বাক্যে একটি সমাপিকা ক্রিয়া থাকে তাকে সরল বাক্য বলে। যেমনঃ
- তুমি চেষ্টা না করে ব্যর্থ হয়েছ।
- পাখিগুলো নীল আকাশে উড়ছে।
- তিনি ভাত খেয়ে ঘুমিয়ে পড়লেন।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,৮৩৭.
"রাতে মশা দিনে মাছি।" - বাক্যে 'রাতে' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. অপাদানে ৭মী
  2. কর্তায় ৭মী
  3. অধিকরণে ৭মী
  4. কর্মে ৭মী
সঠিক উত্তর:
অধিকরণে ৭মী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অধিকরণে ৭মী
ব্যাখ্যা
অধিকরণ কারক:
- যে কারকে স্থান, কাল, বিষয় ও ভাব নির্দেশিত হয়, তাকে অধিকরণ কারক বলে। এই কারকে সাধারণত এ, য়, য়ে, তে ইত্যাদি বিভক্তি শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়।

যেমন:
- রুহামা বাংলা ব্যাকরণে ভালো।
- কাননে কুসুমকলি সকলি ফুটিল।
- এ দেহে প্রাণ নেই।
- রাতে মশা দিনে মাছি। (অধিকরণে সপ্তমী)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৮৩৮.
কোনটি যৌগিক বাক্য?
  1. যিনি পরের উপকার করেন, তাঁকে সবাই শ্রদ্ধা করে।
  2. কোথাও পথ না পেয়ে তোমার কাছে এসেছি।
  3. তুমি আসবে বলে আমি অপেক্ষা করে আছি।
  4. এতক্ষণ অপেক্ষা করলাম কিন্তু গাড়ি পেলাম না।
সঠিক উত্তর:
এতক্ষণ অপেক্ষা করলাম কিন্তু গাড়ি পেলাম না।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এতক্ষণ অপেক্ষা করলাম কিন্তু গাড়ি পেলাম না।
ব্যাখ্যা

যৌগিক বাক্য:
- দুই বা তার অধিক সরল বা জটিল বাক্য মিলিত হয়ে যদি একটি সম্পূর্ণ বাক্য গঠন করে, তবে তাকে যৌগিক বাক্য বলে।

যেমন:
ছেলেটি গরিব কিন্তু মেধাবী।
দুঃখ এবং বিপদ এক সাথে আসে।
এতক্ষণ অপেক্ষা করলাম কিন্তু গাড়ি পেলাম না।

অন্যদিকে,
জটিল বাক্য:
যিনি পরের উপকার করেন, তাঁকে সবাই শ্রদ্ধা করে।
কোথাও পথ না পেয়ে তোমার কাছে এসেছি।
তুমি আসবে বলে আমি অপেক্ষা করে আছি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, অষ্টম শ্রেণি।

৩,৮৩৯.
কোনটি অশুদ্ধ বানান?
  1. ক) পৃষ্ঠপ্রদর্শণ
  2. খ) পৃষ্ঠপোষক
  3. গ) পৃষ্ঠব্রণ
  4. ঘ) পৃষ্ঠপোষক
সঠিক উত্তর:
ক) পৃষ্ঠপ্রদর্শণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) পৃষ্ঠপ্রদর্শণ
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা একাডেমি অনুসারে,
• পৃষ্ঠপ্রদর্শণ - বানানটি অশুদ্ধ।
- এর শুদ্ধরূপ: পৃষ্ঠপ্রদর্শন।

পৃষ্ঠপ্রদর্শন (বিশেষ্য)
- সংস্কৃত শব্দ
- প্রকৃতি - প্রত্যয়: পৃষ্ঠ + প্রদর্শন।
- অর্থ: পলায়ন।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা একাডেমি।
৩,৮৪০.
'রাশেদ বাড়িতে নেই'- এখানে ‘বাড়িতে’ কোন কারকের উদাহরণ?
  1. অপাদান কারকে
  2. করণ কারক
  3. অধিকরণ কারক
  4. কর্মকারক
সঠিক উত্তর:
অধিকরণ কারক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অধিকরণ কারক
ব্যাখ্যা
• রাশেদ বাড়িতে নেই- এখানে বাড়িতে অধিকরণ কারকের উদাহরণ। 

অধিকরণ কারক:
- যে কারকে স্থান, কাল, বিষয়, ও ভাব নির্দেশিত হয়, তাকে অধিকরণ কারক বলে। 
- এ কারকে সাধারণত 'এ', 'য়', 'তে' ইত্যাদি বিভক্তি শব্দের সাথে যুক্ত হয়। 
-------------- 
কর্তৃকারক:
বাক্যস্থিত যে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদ ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে ক্রিয়ার কর্তা বা কর্তৃকারক বলে।
ক্রিয়াকে ‘কে/ কারা’ দিয়ে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, সেটিই কর্তৃকারক।

কর্মকারক:
যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে ক্রিয়ার কর্ম বা কর্মকারক বলে। 
ক্রিয়ার সঙ্গে 'কী' বা 'কাকে' যোগ করে প্রশ্ন করলে কর্মকারক পাওয়া যায়৷

করণ কারক:
যার দ্বারা বা যে উপায়ে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে তাকে, করণ কারক বলে। 
- এই কারকে সাধারণত দ্বারা, দিয়ে, কর্তৃক ইত্যাদি অনুসর্গ যুক্ত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৩,৮৪১.
ইতিবাচক অর্থের শব্দ নেতিবাচক অর্থে ব্যবহৃত হওয়া কে কী বলে?
  1. ক) অর্থ বদল
  2. খ) অর্থের অবনতি
  3. গ) অর্থের উন্নতি
  4. ঘ) অর্থপ্রসার
সঠিক উত্তর:
খ) অর্থের অবনতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) অর্থের অবনতি
ব্যাখ্যা
অর্থের অবনতি: ইতিবাচক অর্থের শব্দ নেতিবাচক অর্থে ব্যবহৃত হওয়া কে বলে অর্থের অবনতি।
যেমন- দ্বন্দ্ব শব্দের অর্থ আগে ছিল মিলন (দ্বন্দ্ব সমাস) এখন এর অর্থ বিরোধ। জ্যাঠামি শব্দটি জ্যাঠা-সংশ্লিষ্ট হয়ে সম্মানিত বোঝাতে পারত। কিন্তু তা ব্যবহৃত হয় পাকামি অর্থে বা হেয়- অর্থে বা 'জ্যাঠার ভাব' বোঝাতে।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
৩,৮৪২.
"দুঃখে যাদের জীবন গড়া, তাদের আবার দুঃখ কীসের?" - বাক্যে ‘দুঃখে’ কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. অপাদানে সপ্তমী
  2. করণে সপ্তমী
  3. কর্মে সপ্তমী
  4. অধিকরণে সপ্তমী
  5. কোনোটি নয়
সঠিক উত্তর:
অধিকরণে সপ্তমী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অধিকরণে সপ্তমী
ব্যাখ্যা
অধিকরণ কারক:
- যে কারকে স্থান, কাল, বিষয় ও ভাব নির্দেশিত হয়, তাকে অধিকরণ কারক বলে।
- এই কারকে সাধারণত এ, য়, য়ে, তে ইত্যাদি বিভক্তি শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়।
যেমন:
- বিকাল পাঁচটায় অফিস ছুটি হবে।
- কাননে কুসুমকলি সকলি ফুটিল।
- ত্যাগে তিনি নিহঙ্কার।
- দুঃখে যাদের জীবন গড়া, তাদের আবার দুঃখ কীসের? (অধিকরণে সপ্তমী)।

অন্যদিকে,
অপাদান কারক:
- যে কারকে ক্রিয়ার উৎস নির্দেশ করা হয়, তাকে অপাদান কারক বলে।
- এই কারকে সাধারণত ‘হতে’, ‘থেকে’ ইত্যাদি অনুসর্গ শব্দেরে পরে বসে।
যেমন:
- জমি থেকে ফসল পাই।

করণ কারক:
- 'করণ' শব্দটির অর্থ যন্ত্র, সহায়ক বা উপায়।
- ক্রিয়া সম্পাদনের যন্ত্র, উপকরণ বা সহায়ককেই করণ কারক বলে।
- বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদের সঙ্গে 'কীসের দ্বারা' বা কী উপায়ে' প্রশ্ন করলে যে উত্তরটি পাওয়া যায়, তা- ই করণ কারক।
যেমন:
- নীরা কলম দিয়ে লেখে। (উপকরণ = কলম),
- 'জগতে কীর্তিমান হয় সাধনায়।' (উপায় = সাধনা),
- 'এ সাবানে কাপড় কাচা চলবে না'। (উপকরণ = সাবান)।

কর্ম কারক:
- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে কর্ম কারক বলে।
- বাক্যের মুখ্য কর্ম ও গৌণ কর্ম – উভয় ধরনের কর্মই কর্ম কারক হিসেবে গণ্য হয়।
- সাধারণত মুখ্য কর্ম কারকে বিভক্তি হয় না, তবে গৌণ কর্ম কারকে ‘কে’ বিভক্তি হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ) ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৮৪৩.
গঠন অনুযায়ী বাক্য কত প্রকার?
  1. ক) ২
  2. খ) ৩
  3. গ) ৪
  4. ঘ) ৬
সঠিক উত্তর:
খ) ৩
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ৩
ব্যাখ্যা
গঠন-বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী বাংলা বাক্যকে তিন ভাগে ভাগ করা
যায়: সরল বাক্য, জটিল বাক্য ও যৌগিক বাক্য ।

নিচের বাক্যগুলো লক্ষ করা যাক:
আমি পড়াশোনা শেষ করে খেলতে যাব।
যখন আমার পড়াশোনা শেষ হবে, তখন আমি খেলতে যাব ।
আমি পড়াশোনা শেষ করব; তারপর খেলতে যাব ।
প্রথম বাক্যে একটিমাত্র সমাপিকা ক্রিয়া আছে। এটি সরল বাক্য। দ্বিতীয় বাক্যের দুটি অংশ ‘যখন' ও 'তখন' যোজক দ্বারা যুক্ত হয়েছে। এটি জটিল বাক্যের উদাহরণ। তৃতীয় বাক্যে ‘করব' ও 'যাব' দুটি সমাপিকা ক্রিয়া রয়েছে। এটি একটি যৌগিক বাক্য।
১. সরল বাক্য
যে বাক্যে একটি সমাপিকা ক্রিয়া থাকে, তাকে সরল বাক্য বলে।
যেমন - পাখিগুলো নীল আকাশে উড়ছে।
বাক্যের মধ্যে এক বা একাধিক অসমাপিকা ক্রিয়া থাকলেও সরল বাক্য হয়। যেমন – তিনি খুব সকালে ঘুম থেকে উঠে পায়চারি করতে করতে বাজারের দিকে গেলেন ।

২. জটিল বাক্য
যে-সে, যারা-তারা, যিনি-তিনি, যাঁরা-তাঁরা, যা-তা প্রভৃতি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যদিও-তবু, যেহেতু-সেহেতু, যত-তত, যেটুকু-সেটুকু, যেমন-তেমন, যখন-তখন প্রভৃতি সাপেক্ষ যোজক দিয়ে যখন অধীন বাক্যগুলো যুক্ত থাকে, তাকে জটিল বাক্য বলে।
যেমন –
যে ছেলেটি এখানে এসেছিল. সে আমার ভাই ।
৩. যৌগিক বাক্য
দুই বা ততোধিক স্বাধীন বাক্য যখন যোজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে একটি বাক্যে পরিণত হয়, তখন তাকে যৌগিক বাক্য বলে। এবং, ও, আর, অথবা, বা, কিংবা, কিন্তু, অথচ, সেজন্য, ফলে ইত্যাদি যোজক যৌগিক বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। কমা (,), সেমিকোলন (i), কোলন (:), ড্যাশ (−) ইত্যাদি যতিচিহ্নও
যোজকের কাজ করে। যেমন-
হামিদ বই পড়ছে, আর সীমা রান্না করছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (সর্বশেষ সংস্করণ)।
৩,৮৪৪.
একই ধরনের একাধিক বাক্য বা বাক্যাংশকে আলাদা করতে, কোন বিরামচিহ্ন বসে?
  1. হাইফেন
  2. দাঁড়ি
  3. কোলন
  4. কমা
সঠিক উত্তর:
কমা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কমা
ব্যাখ্যা
কমা (,):
- বাক্যে অল্প বিরতি বোঝাতে কমা বসে। নানা প্রয়োজনে বাক্যে কমাচিহ্ন ব্যবহৃত হয়।
যেমন:

১. বাক্যের অর্থ স্পষ্ট করার জন্য কমা বসে।
যেমন:
তুমি যাবে, না যাবে না?
সুখ চাও, সুখ পাবে পরিশ্রমে।

২. বাক্যে সম্বোধনের পর কমা বসে।
যেমন:
সেতু, পড়তে বসো।
বিধু, খাবে এসো।

৩. একই পদের একাধিক শব্দ পাশাপাশি ব্যবহৃত হলে কমা বসে।
যেমন:
বিশেষ্য: পদ্মা, মেঘনা, যমুনা বাংলাদেশের প্রধান প্রধান নদী।
বিশেষণ: সুখ, দুঃখ, আশা, নিরাশা একই মালার ফুল।
সর্বনাম: তুমি, আমি ও রবিন বাজারে যাব।

৪. একই ধরনের একাধিক বাক্য বা বাক্যাংশকে আলাদা করতে কমা বসে।
যেমন:
শ্রেষ্ঠা ক্লাসে ঢুকল, বই রাখল, তারপর বেরিয়ে গেল।
আমাদের কাছে স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস, পহেলা বৈশাখ খুবই আনন্দের দিন।

৫. বাক্যে উদ্ধৃতিচিহ্নের আগে কমা বসে।
যেমন:
মা বললেন, "অঙ্ক করতে বসো।"
আমি বললাম, "গল্পের বই পড়তেই ভালো লাগছে।"

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
৩,৮৪৫.
প্রত্যক্ষ উক্তিতে ব্যবহৃত 'ইহা' শব্দটির পরোক্ষ উক্তিতে কী পরিবর্তন হবে?
  1. উহা
  2. এটি
  3. তা
  4. তাহা
সঠিক উত্তর:
তাহা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তাহা
ব্যাখ্যা

• প্রত্যক্ষ উক্তির বাক্যের সর্বনাম এবং কালসূচক শব্দের পরোক্ষ উক্তিতে নিম্নলিখিত পরিবর্তন সংঘটিত হয়।
যেমন:
প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ:
→ এই-সেই, 
→ ইহা-তাহা, 
→ এ-সে, 
→ আজ-সেদিন, 
→ আগামীকাল-পরদিন, 
→ গতকাল-আগেরদিন, 
→ গতকল্য-পূর্বদিন, 
→ ওখানে-ঐখানে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৩,৮৪৬.
নিচের কোন বাক্যটি অশুদ্ধ ?
  1. ক) গীতাঞ্জলী একটি কাব্যগ্রন্থ।
  2. খ) এ কথা প্রমাণিত হয়েছে।
  3. গ) তিনি সভায় উপস্থিত ছিলেন।
  4. ঘ) সকল ছাত্র পাঠে মনোযোগী নয়।
সঠিক উত্তর:
ক) গীতাঞ্জলী একটি কাব্যগ্রন্থ।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) গীতাঞ্জলী একটি কাব্যগ্রন্থ।
ব্যাখ্যা

‘গীতাঞ্জলী একটি কাব্যগ্রন্থ।’ এই বাক্যটির শুদ্ধ রূপ হলো:
গীতাঞ্জলি একটি কাব্যগ্রন্থ।

[উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড.হায়াৎ মাহমুদ]

৩,৮৪৭.
ভাববাচ্যের উদাহরণ-
  1. ছাত্ররা অঙ্ক করছে।
  2. হালাকু খাঁ কর্তৃক বাগদাদ বিধ্বস্ত হয়।
  3. তাঁর যেন আসা হয়।
  4. তুমিই ঢাকা যাবে।
সঠিক উত্তর:
তাঁর যেন আসা হয়।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তাঁর যেন আসা হয়।
ব্যাখ্যা
• 'তাঁর যেন আসা হয়।'- ভাববাচ্যের উদাহরণ। 

• ভাববাচ্য: 

- যে বাচ্যে কর্ম থাকে না এবং বাক্যের ক্রিয়ার অর্থই বিশেষভাবে ব্যক্ত হয়, তাকে ভাববাচ্য বলে।

• ভাববাচ্যের বৈশিষ্ঠ্য: 
- ভাববাচ্যে ক্রিয়া সর্বদা নাম পুরুষের হয়। ভাববাচ্যের কর্তায় ষষ্ঠী, দ্বিতীয়া অথবা তৃতীয় বিভক্তি প্রযুক্ত হয়।
যেমন - আমার খাওয়া হলো না। (কর্তায় ষষ্ঠী)

- কখনো কখনো ভাববাচ্যে কর্তা উহ্য থাকে, কর্ম দ্বারাই ভাববাচ্য গঠিত হয়।
যেমন - এ পথে চলা যায় না; এবার ট্রেনে ওঠা যাক।
তেমনিভাবে,
কোথা থেকে আসা হচ্ছে?

- মূল ক্রিয়ার সঙ্গে সহযোগী ক্রিয়ার সংযোগ ও বিভিন্ন অর্থে ভাববাচ্যের ক্রিয়া গঠিত হয়।
যেমন - এ রাস্তা আমার চেনা নেই।
----------------------
অন্য অপশনে, 
'ছাত্ররা অঙ্ক করছে।'- কর্তৃবাচ্যের উদাহরণ। 
'হালাকু খাঁ কর্তৃক বাগদাদ বিধ্বস্ত হয়।'- কর্মবাচ্যের উদাহরণ। 
'তুমিই ঢাকা যাবে।'- কর্তৃবাচ্যের উদাহরণ।  

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩,৮৪৮.
‘ছেলেরা সাপের ভয়ে লাফালাফি করল।’— বাক্যে ‘সাপের’ কোন কারক ও কোন বিভক্তি নির্দেশ করছে?
  1. কর্মকারকে ষষ্ঠী
  2. করণ কারকে ষষ্ঠী
  3. অপাদান কারকে ষষ্ঠী
  4. কর্তৃকারকে ষষ্ঠী
সঠিক উত্তর:
অপাদান কারকে ষষ্ঠী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপাদান কারকে ষষ্ঠী
ব্যাখ্যা

- এখানে ‘সাপের’ শব্দটি অপাদান কারক নির্দেশ করছে এবং এটি ষষ্ঠী বিভক্তি।

অপাদান কারক:
- যা থেকে কিছু বিচ্যুত, জাত, বিরত, আরম্ভ, উৎপন্ন, দূরীভূত ও রক্ষিত হয় এবং যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকেই অপাদান কারক বলে।
- বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথা হতে, কি থেকে, কিসের থেকে ইত্যাদি প্রশ্ন করলে উত্তরে যে কারক পাওয়া যায়, তাই হলো অপাদান কারক।
• বাক্য: ‘ছেলেরা সাপের ভয়ে লাফালাফি করল’।
- এখানে ‘সাপের’ শব্দটি অপাদান কারকে ষষ্ঠী বিভক্তি। 
-  কারণ, যদি প্রশ্ন করা হয়- কিসের ভয়ে লাফালাফি করছে, তাহলে উত্তর হবে সাপের ভয়ে।
- ছেলেরা সাপের ভয় থেকে লাফালাফি করছে, অর্থাৎ ভয় পাওয়ার উৎস বা হেতু বোঝানো হচ্ছে।
- এখানে ষষ্ঠী বিভক্তির চিহ্ন ‘এর’ ব্যাবহার করা হয়েছে।
- তাই ‘ছেলেরা সাপের ভয়ে লাফালাফি করল’ বাক্যটিতে সাপের হচ্ছে অপাদানে ষষ্ঠী বিভক্তি।
-----------------------------------------
- অপাদান কারকের কিছু উদাহরণ:
- যেমন:
 • বাস স্টেশন ছেড়েছে।
- বাক্যে 'স্টেশন' থেকে বাসটি বিচ্যুত হয়েছে। 
- এতে কোনো বিভক্তি যুক্ত হয়নি।
- তাই 'স্টেশন' শব্দটি অপাদান কারকে শূন্য বিভক্তি।
• এই রাস্তায় কুকুরের ভয় নেই।
- এখানে কুকুরের ভয়ে ভীত হওয়ার অনুভূতি প্রকাশ পেয়েছে।
- তাই 'কুকুরের' অপাদান কারকে ৬ষ্ঠী বিভক্তি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৩,৮৪৯.
লোকটি বললেন, ‘আমি আগামীকাল এখানে আবার আসব।’ – এটি পরোক্ষ উক্তিতে কী হবে?
  1. লোকটি বললেন যে, তিনি পরদিন এখানে আবার যাবেন।
  2. লোকটি বললেন যে, তিনি পরদিন সেখানে আবার যাবেন।
  3. লোকটি বললেন যে, আগামীকাল এখানে আবার আসবেন।
  4. সে লোকটি বললেন যে, আমি আগামীকাল এখানে আবার আসব।
সঠিক উত্তর:
লোকটি বললেন যে, তিনি পরদিন সেখানে আবার যাবেন।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লোকটি বললেন যে, তিনি পরদিন সেখানে আবার যাবেন।
ব্যাখ্যা
প্রত্যক্ষ উক্তিকে পরোক্ষ উক্তিতে পরিবর্তন করার সময়ে কালবাচক ও স্থানবাচক শব্দের পরিবর্তন হয়।

যেমন - প্রত্যক্ষ উক্তি: লোকটি বললেন, “আমি আগামীকাল এখানে আবার আসব।” 
পরোক্ষ উক্তি: লোকটি বললেন যে, তিনি পরদিন সেখানে আবার যাবেন ।

উক্তি:
- বক্তার কথা উপস্থাপনের ধরনকে উক্তি বলে।

উক্তি দুই প্রকার।
যথা: প্রত্যক্ষ উক্তি ও পরােক্ষ উক্তি।
যেমন-
প্রত্যক্ষ উক্তি: যে উক্তিতে বক্তার কথা সরাসরি উদ্ধৃত করা হয়, তাকে বলে প্রত্যক্ষ উক্তি।
ছেলেটি বলেছিল, “আজ আমি অনেক পড়েছি।” – এটি প্রত্যক্ষ উক্তি। 

পরােক্ষ উক্তি: যে উক্তিতে বক্তার কথা অন্যের দ্বারা বর্ণিত হয়, তাকে বলে পরােক্ষ উক্তি।
ছেলেটি বলেছিল যে, সেদিন সে অনেক পড়েছে। এটি পরােক্ষ উক্তি।

প্রত্যক্ষ উক্তিতে চিরন্তন সত্যের উদ্ধৃতি থাকলে পরােক্ষ উক্তিতে ক্রিয়ার কালের কোনাে পরিবর্তন হয় না।
যেমন - যেমন: শিক্ষক বললেন, "পৃথিবী গোলাকার।"
 শিক্ষক বললেন যে, পৃথিবী গোলাকার। 

উৎস; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- নবম দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৩,৮৫০.
নিচের কোনটি শুদ্ধ? 
  1. সৌজন্যতা 
  2. রক্তিমতা 
  3. সৌজন্য  
  4. কোনটি নয় 
সঠিক উত্তর:
সৌজন্য  
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৌজন্য  
ব্যাখ্যা

শুদ্ধরূপ- সৌজন্য। 

প্রয়োগ - অপপ্রয়োগ:
- বাংলা ভাষায় কিছু প্রত্যয় (যেমন: ই, তা, ত্ব) মূলত বিশেষণকে বিশেষ্যে রূপান্তরিত করার জন্য ব্যবহৃত হয়।
- কিন্তু যদি এগুলো ইতিমধ্যেই বিশেষ্য হিসেবে থাকা শব্দের সঙ্গে যুক্ত করা হয়, তবে তা অপপ্রয়োগ বা অশুদ্ধ হয়।
- নিয়ম:
- বিশেষণ + 'তা' → সঠিক, যেমন: 'গভীর' + 'তা' → গভীরতা;
- এখানে গভীর বিশেষণকে তা প্রত্যয়যোগে বিশেষ্যে রুপান্তর করা হয়েছে। 
- বিশেষ্য + 'তা' → অশুদ্ধ, যেমন: 'রক্তিমতা'- এখানে 'তা' প্রত্যয়টি অতিরিক্ত।
- শুদ্ধ হবে 'রক্তিমা', কারণ 'রক্তিমা' নিজেই বিশেষ্য।

- “সৌজন্যতা” শব্দে ‘তা’ সংযোজন করা হয়েছে। 
- বাংলায় ‘তা’ বা ‘ই’ প্রত্যয় মূলত বিশেষণকে বিশেষ্যে রূপান্তরিত করার জন্য ব্যবহৃত হয়।
- কিন্তু "সৌজন্য" ইতিমধ্যেই বিশেষ্য। 
- তাই "সৌজন্যতা" শব্দটি ব্যাকরণগত ভুল।
-' সুজন’ থেকে ‘য’ প্রত্যয় যোগে গঠিত সৌজন্য শব্দের সাথে অতিরিক্ত ‘তা’ যোগ করা ব্যাকরণগতভাবে অপ্রয়োজনীয় এবং অশুদ্ধ।
- তাই সৌজন্যতার শুদ্ধরূপ হচ্ছে- সৌজন্য। 

অন্যদিকে, 
- "সৌজন্যপূর্ণ" শব্দটি বিশেষণ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি – ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।

৩,৮৫১.
প্রান্তিক যতিচিহ্ন কয়টি?
  1. ক) দুইটি
  2. খ) তিনটি
  3. গ) চারটি
  4. ঘ) পাঁচটি
সঠিক উত্তর:
গ) চারটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) চারটি
ব্যাখ্যা
যতিচিহ্ন:
- বাক্যের অর্থ স্পষ্ট করার জন্য বাক্যের মধ্যে বা শেষে নিয়মিত বর্ণের পাশাপাশি সাংকেতিক চিহ্নকে বোঝায়।
- যতিচিহ্ন ছেদ বা বিরাম চিহ্ন নামেও পরিচিত।

বাক্যে অবস্থান বিবেচনায় বিরাম চিহ্নকে ২ প্রকার:
- প্রান্তিক বিরামচিহ্ন ৪টি: দাঁড়ি, প্রশ্নবোধক চিহ্ন, বিস্ময়বোধক দুই দাঁড়ি (।।)।
- বাক্যান্তর্গত বিরামচিহ্ন: কমা, সেমিকোলন, ড্যাস, হাইফেন ইত্যাদি।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও বাংলা একাডেমি ।
৩,৮৫২.
'যিনি জ্ঞানী, তিনিই সত্যিকার ধনী।' বাক্যটির সরলরূপ কী? 
  1. জ্ঞানীই সত্যিকার ধনী।
  2. জ্ঞানীরা ধনী হয়।
  3. যে ব্যক্তি ধনী, তিনি জ্ঞানী।
  4. তিনি জ্ঞানী, তাই সত্যিকার  ধনী
সঠিক উত্তর:
জ্ঞানীই সত্যিকার ধনী।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জ্ঞানীই সত্যিকার ধনী।
ব্যাখ্যা
'যিনি জ্ঞানী, তিনিই সত্যিকার ধনী।' এটি একটি জটিল বাক্য।
• এটির সরলরূপ: জ্ঞানীই সত্যিকার ধনী।

• জটিল বাক্য থেকে সরল বাক্য:

- জটিল বাক্যকে সরল বাক্যে রূপান্তরের সময়ে সাপেক্ষ সর্বনাম ও সাপেক্ষ যোজক বাদ দিতে হয়।
- অপ্রধান খন্ডবাক্যটিকে সংকুচিত করে একটি পদ বা একটি বাক্যাংশে পরিণত করতে হবে।
যেমন:
- জটিল বাক্য: যতদিন জীবিত থাকব, ততদিন এ ঋণ স্বীকার করব।
- সরল বাক্য: আজীবন এ ঋণ স্বীকার করব।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি (২০২৪ সংস্করণ) ও ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩,৮৫৩.
কর্ম কারকে ৭মী বিভক্তির প্রয়োগ হয়েছে কোনটিতে?
  1. বাড়িতে কেউ নেই।
  2. গরুতে দুধ দেয়।
  3. জিজ্ঞাসিবে জনে জনে
  4. লোকটা জাতিতে বৈষ্ণব।
সঠিক উত্তর:
জিজ্ঞাসিবে জনে জনে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জিজ্ঞাসিবে জনে জনে
ব্যাখ্যা
কারক:
মূলত ক্রিয়ার সঙ্গে বাক্যের বিশেষ্য ও সর্বনামের যে সম্পর্ক, তাকে কারক বলে।
- কারক সম্পর্ক বোঝাতে বিশেষ্য ও সর্বনামের সঙ্গে সাধারণত বিভক্তি ও অনুসর্গ যুক্ত হয়ে থাকে।

• কারক ছয় প্রকার। যথা:
- কর্তা কারক,
- কর্ম কারক,
- করণ কারক,
- অপাদান কারক,
- অধিকরণ কারক ও
- সম্বন্ধ কারক।

কর্ম কারক:
- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে কর্ম কারক বলে।
- বাক্যের মুখ্য কর্ম ও গৌণ কর্ম - উভয় ধরনের কর্মই কর্ম কারক হিসেবে গণ্য হয়।
- সাধারণত মুখ্য কর্ম কারকে বিভক্তি হয় না, তবে গৌণ কর্ম কারকে '-কে' বিভক্তি হয়।
যেমন -
সে রোজ সকালে এক প্লেট ভাত খায়।
শিক্ষককে জানাও।
- কাব্যভাষায় কর্মকারকে 'রে' বিভক্তি হয়।
যেমন -
আমারে তুমি করিবে ত্রাণ এ নহে মোর প্রার্থনা।
- সপ্তমীর এ বিভক্তি: জিজ্ঞাসিবে জনে জনে - কর্ম কারকে ৭মী

অন্যদিকে,
বাড়িতে কেউ নেই - অধিকরণ কারকে ৭মী।
গরুতে দুধ দেয় - কর্তা কারকে ৭মী।
লোকটা জাতিতে বৈষ্ণব - করণ কারকে ৭মী।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯, ২০২২ সংস্করণ)।
৩,৮৫৪.
নিচের কোন বাক্যটিতে যতিচিহ্ন সঠিকভাবে প্রয়োগ হয় নি?
  1. ক) ড. মুহম্মদ এনামুল হক, এম.এ. পি-এইচডি
  2. খ) সুখ, দুঃখ, আশা, নৈরাশ্য একই মালিকার পুষ্প।
  3. গ) ৬৮, জেল রোড, ঢাকা-১২০০
  4. ঘ) সাহেব বললেন ''ছুটি পাবেন না।''
সঠিক উত্তর:
ঘ) সাহেব বললেন ''ছুটি পাবেন না।''
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সাহেব বললেন ''ছুটি পাবেন না।''
ব্যাখ্যা
সাহেব বললেন ''ছুটি পাবেন না।'' - বাক্যটিতে যতিচিহ্ন সঠিকভাবে ব্যবহৃত হয় নি।
- উদ্ধরণ চিহ্নের পূর্বে (খন্ডবাক্যের শেষে) কমা বসাতে হবে।
যেমন - সাহেব বললেন, ''ছুটি পাবেন না।''

- নামের পরে ডিগ্রিসূচক পরিচয় দেওয়া হলে সেগুলোর প্রত্যেকটির আগে কমা বসে।
যেমন - ড. মুহম্মদ এনামুল হক, এম.এ. পি-এইচডি।
- বাড়ি বা রাস্তার নম্বরের পরে কমা বসবে।
যেমন - ৬৮, জেল রোড, ঢাকা-১২০০।
- পরস্পর সমন্ধযুক্ত একাধিক বিশেষ্য বা বিশেষণ পদ একসঙ্গে বসলে শেষ পদটি ছাড়া বাকি সবগুলোর পরই কমা বসবে।
যেমন - সুখ, দুঃখ, আশা, নৈরাশ্য একই মালিকার পুষ্প।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩,৮৫৫.
নিচের কোনটি অনুজ্ঞাসূচক বাক্য নয়?
  1. উপকার করার অধিকার রেখো।
  2. তবে ওর ভিতর দিয়ে যেয়ো না।
  3. তোমার ভীত হওয়া উচিত নয়।
  4. উপরের কোনটিই নয়।
সঠিক উত্তর:
তোমার ভীত হওয়া উচিত নয়।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তোমার ভীত হওয়া উচিত নয়।
ব্যাখ্যা
অনুজ্ঞা বা আদেশসূচক বাক্যঃ যে বাক্য আদেশ, অনুরোধ, উপদেশ, নিষেধ ইত্যাদি অর্থ প্রকাশ পায়, তাকে অনুজ্ঞা বাক্য বলে।
যেমনঃ
- তুমি ভীত হয়ো না।
- উপকার করার অধিকার রেখো। 
- তবে ওর ভিতর দিয়ে যেয়ো না।
- আপনি নিবেন।
- সবাই দেশের সেবা করো।

নির্দেশাত্নক বাক্যঃ যে বাক্য কোন বক্তব্য সাধারণভাবে বিবৃত বা নির্দেশ করা হয়, তাকে বর্ননাত্নক বা নির্দেশাত্নক বাক্য বলে।
যেমনঃ
- তোমার ভীত হওয়া উচিৎ নয়।
- উপকার করার অধিকার থাকা চাই। 
- তবে ওর ভিতর দিয়ে নাই গেলে।
- আপনাকে নিতে হবে।
- দেশের সেবা করা সকলের কর্তব্য।

উৎসঃ ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩,৮৫৬.
শুদ্ধ বানান কোনটি?
  1. অন্মেষণ
  2. দেদিপ্যমান
  3. তিরস্ক্রিয়া
  4. কল্যাণিয়েষু
সঠিক উত্তর:
তিরস্ক্রিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তিরস্ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান: তিরস্ক্রিয়া,
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ:
- অবজ্ঞা,
- অনাদর,
- র্ভৎসনা।

--------------------
অন্যদিকে,
• শুদ্ধ বানান: অন্বেষণ (বিশেষ্য পদ),
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃতি-প্রত্যয়: (অনু + √ইষ্ + অন),
অর্থ:
- তালাশ, অনুসন্ধান, খোঁজ।

• দেদীপ্যমান (বিশেষণ পদ),
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ:
- অত্যন্ত উজ্জ্বল বা দীপ্তিময় দেখাচ্ছে এমন;
- অতিশয় দীপ্তিশীল;
- জাজ্বল্যমান।

• কল্যাণীয়েষু (বিশেষ্য) বানানটি শুদ্ধ।
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ:
- বয়ঃকনিষ্ঠ পুরুষকে লিখিত সম্বোধনসূচক পাঠ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৩,৮৫৭.
‘ছড়ার ছন্দ ও লোকছন্দ’ বলা হয় কোন ছন্দকে?
  1. অক্ষরবৃত্ত ছন্দ
  2. মাত্রাবৃত্ত ছন্দ
  3. পয়ার ছন্দ
  4. স্বরবৃত্ত ছন্দ
সঠিক উত্তর:
স্বরবৃত্ত ছন্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বরবৃত্ত ছন্দ
ব্যাখ্যা
• স্বরবৃত্ত ছন্দ:
- স্বরবৃত্ত ছন্দের বহুল প্রচলিত নাম ছড়ার ছন্দ, লৌকিক ছন্দ, লোকছন্দ, মেয়েলি ছন্দ।
- এটাকে প্রাকৃত বাংলা ছন্দও বলা হয়।
- প্রাচীন ছড়াগুলো স্বরবৃত্তে রচিত।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একে ছড়া ছন্দ বা লোকছন্দ বলেছেন।
- এর ভাব লঘু ও চপল।

স্বরবৃত্ত ছন্দের বৈশিষ্ট্য:
- দ্রুত লয়ের ছন্দ।
- এই ছন্দের মূল পর্ব বা পূর্ণ পর্ব চার মাত্রাবিশিষ্ট।
- মুক্তাক্ষর এবং বদ্ধাক্ষর উভয়ই একমাত্র বিশিষ্ট,পর্বগুলো ছোট ৪ মাত্রা বিশিষ্ট।

---------------------------
• অক্ষরবৃত্ত ছন্দ:
- উৎপত্তির বিচারে যে ছন্দটিকে খাঁটি বাংলা অর্থাৎ 'তদ্ভব ছন্দ' নামে আখ্যায়িত করা হয়, তাকেই প্রচলিত ভাষায় বলা হয় অক্ষরবৃত্ত ছন্দ।

• মাত্রাবৃত্ত ছন্দ:
- উৎপত্তির বিচারে এ ছন্দ“তৎসম' বা 'অর্ধতৎসম ছন্দ'; যে ছন্দে প্রাচীন সংস্কৃত ও প্রাকৃত ছন্দের অনেক লক্ষণ অথবা অন্তত কিছুটা লক্ষণও বর্তমান আছে তাকেই বলা হয় 'মাত্রাবৃত্ত ছন্দ'।

• পয়ার ছন্দ:
- পয়ার হচ্ছে অক্ষরবৃত্ত ছন্দের ৮/৬ মাত্রার বৈশিষ্ট্যপূর্ণ একটি শ্রেণীবিভাগ।
- এটি মধ্যযুগীয় বাংলা কাব্যের প্রধান ছন্দোরীতিও বটে।
- মধ্যযুগে পয়ার ছন্দেই রামায়ণ ও মহাভারতের বঙ্গানুবাদ এবং মঙ্গলকাব্যসমূহ রচিত হয়েছে।
- মাইকেল মধুসূদনের চতুদর্শপদী কবিতাবলির ছন্দও প্রচলিত পয়ার ছন্দেরই এক নতুন রূপ।

উৎস : ভাষা-শিক্ষা, ড হায়াৎ মামুদ; বাংলাপিডিয়া; প্রাচ্য সাহিত্য সমালোচনা তত্ত্ব ও অলংকার শাস্ত্র, প্রফেসর ড. ধীরেন্দ্রনাথ তরফদার।
৩,৮৫৮.
নিচের কোন শব্দে স্বভাবতই মূর্ধন্য 'ণ' হয়েছে?
  1. ক) ভীষণ
  2. খ) ভাষণ
  3. গ) আপণ
  4. ঘ) কারণ
সঠিক উত্তর:
গ) আপণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) আপণ
ব্যাখ্যা
'আপণ' শব্দে- স্বভাবতই মূর্ধন্য 'ণ' হয়েছে।

• ঋ, র, ষ- এর পরে মূর্ধন্য 'ণ' হয়।
যেমন : ঋণ, তৃণ, বর্ণ, বর্ণনা, কারণ, মরণ ব্যাকরণ, ভীষণ, ভাষণ, উষ্ণ ইত্যাদি।  

কতগুলো শব্দে স্বভাবতই মর্ধন্য ণ হয়।
- চিক্কণ
- নিক্বণ
- তূণ
- বণিক
- চাণক্য,
- মাণিক্য,
- গণ,
- বাণিজ্য
- লবণ,
- মণ,
- বেণু,
- বীণা,
- কঙ্কণ
- কণিকা,
- আপণ,
- লাবণ্য,
- বাণী,
- নিপুণ,
- ভণিতা,
- পাণি,
- গৌণ,
- কোণ,
- বাণ ইত্যাদি

[উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি সংস্করণ ২০১৯]
৩,৮৫৯.
শুদ্ধ বাক্য কোনটি?
  1. এ বিদ্যালয়ের সকল ছাত্রই মনোযোগী।
  2. এ বিদ্যালয়ের সকল ছাত্ররাই মনোযোগী।
  3. এ বিদ্যালয়ের সকল ছাত্রইবৃন্দই মনোযোগী।
  4. এ বিদ্যালয়ের সকল ছাত্রগণই মনোযোগী।
সঠিক উত্তর:
এ বিদ্যালয়ের সকল ছাত্রই মনোযোগী।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এ বিদ্যালয়ের সকল ছাত্রই মনোযোগী।
ব্যাখ্যা
- 'এ বিদ্যালয়ের সকল ছাত্রই মনোযোগী।'- বাক্যে ‘ছাত্ররা’ বা ‘ছাত্রবৃন্দ’ থাকলে ‘সকল’ শব্দটির ব্যবহার বাহুল্যদোষ সৃষ্টি করে।
- তাই সকল ছাত্র লিখতে হবে অথবা শুধু ‘ছাত্ররা’/ ‘ছাত্রবৃন্দ’ লিখতে হবে।

তাই শুদ্ধ বাক্য হবে - এ বিদ্যালয়ের সকল ছাত্রই মনোযোগী। অথবা এ বিদ্যালয়ের  ছাত্ররা/ছাত্রবৃন্দ মনোযোগী।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩,৮৬০.
নিম্নের কোন বাক্যটি সঠিক?
  1. ক) এরকম অশ্মের মতো শব্দ করছো কেন?
  2. খ) সংসারে কাজের অন্ত্য নেই।
  3. গ) পড়ালেখায় অবধান না দিলে ভালো করতে পারবে না
  4. ঘ) আমরা সন্ধ্যায় সমূদ্র কুলে গেলাম।
সঠিক উত্তর:
গ) পড়ালেখায় অবধান না দিলে ভালো করতে পারবে না
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) পড়ালেখায় অবধান না দিলে ভালো করতে পারবে না
ব্যাখ্যা

অশ্ব (ঘোড়া) কিন্তু অশ্ম (পাথর) তাই সঠিক বাক্যের রূপ - 'এরকম অশ্বের মতো শব্দ করছো কেন?
অন্ত (শেষ) কিন্তু অন্ত্য ( যা অন্তে আছে) তাই সঠিক বাক্যের রূপ - 'সংসারে কাজের অন্ত নেই।'
অবদান (সৎকর্ম) কিন্তু অবধান (মনযোগ) তাই বাক্যটি সঠিক - 'পড়ালেখায় অবধান না দিলে ভালো করতে পারবে না।'
কূল (তট) কিন্তু কুল (বংশ) তাই সঠিক বাক্যের রূপ - 'আমরা সন্ধ্যায় সমূদ্র কূলে গেলাম।'

উৎস:এসএসসি বাংলা দ্বিতীয় পত্র বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৮৬১.
"A stitch in time saves nine" এর বাংলা অর্থ কী হবে?
  1. সময়ের এক ফোঁড় অসময়ের দশ ফোড়।
  2. নাচতে না জানলে উঠান বাকা।
  3. যেমন কর্ম তেমন ফল।
  4. আপনি ভালো তো জগৎ ভালো।
সঠিক উত্তর:
সময়ের এক ফোঁড় অসময়ের দশ ফোড়।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সময়ের এক ফোঁড় অসময়ের দশ ফোড়।
ব্যাখ্যা
• "A stitch in time saves nine" এর বাংলা অর্থ- সময়ের এক ফোঁড় অসময়ের দশ ফোড়।  

• কিছু গুরুত্বপূর্ণ অনুবাদ:
- Actions speak louder than words – কাজ কথার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
- You can't judge a book by its cover - বাহ্যিক দেখে কিছু বিচার করা যায় না।
- Rome wasn't built in a day - বড় কাজ সময় নিয়ে হয়।
- Practice makes perfect - চর্চা মানুষকে নিখুঁত করে।
- A bad workman quarrels with his tools- নাচতে না জানলে উঠান বাকা। 
- As you sow so will you reap- যেমন কর্ম তেমন ফল।  

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩,৮৬২.
"যখন বৃষ্টি শুরু হলো, তখন আমরা ঘরে ফিরে এলাম।" - কোন ধরনের বাক্য?
  1. সরল বাক্য 
  2. জটিল বাক্য 
  3. যৌগিক বাক্য 
  4. আশ্রিত খণ্ড বাক্য 
সঠিক উত্তর:
জটিল বাক্য 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জটিল বাক্য 
ব্যাখ্যা
• জটিল বাক্য:
যে-সে, যারা-তারা, যিনি-তিনি, যাঁরা তাঁরা, যা-তা প্রভৃতি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যদিও-তবু, যেহেতু-সেহেতু, যত-তত, যেটুকু-সেটুকু, যেমন-তেমন, যখন-তখন প্রভৃতি সাপেক্ষ যোজক দিয়ে যখন অধীন বাক্যগুলো যুক্ত থাকে, তাকে জটিল বাক্য বলে।
যেমন:
- যে ছেলেটি এখানে এসেছিল, সে আমার ভাই ।
- যদি তুমি যাও, তবে তার দেখা পাবে।
- যখন বৃষ্টি শুরু হলো, তখন আমরা ঘরে ফিরে এলাম।
- যদি তোমার কিছু বলার থাকে তবে এখনই বলে ফেলো।
- যখন বৃষ্টি নামল, তখন আমরা ছাতা খুঁজতে শুরু করলাম।
(বাক্যে যদিও__তবু/যদিও__তথাপি থাকলে জটিল বাক্য হয়ে থাকে।)

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৩,৮৬৩.
প্রশ্ন নং ১ - ৬: শব্দের সঠিক বানান নির্ণয় করুনঃ
  1. দুরাবস্থা
  2. দূরাবস্থা
  3. দুরবস্থা
  4. দূরবস্থা
  5. কোনটি নয়
সঠিক উত্তর:
দুরবস্থা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুরবস্থা
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান: দুরবস্থা।
- শব্দটি বিশেষ্য।
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
- অর্থ: দুর্দশা।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৩,৮৬৪.
নিচের কোন বাক্যটি শুদ্ধ?
  1. ক) তােমার মতাে এমন হীন চরিত্রবান লােক আমার প্রয়ােজন নেই।
  2. খ) বৃক্ষটি সমূল উৎপাটিত হয়েছে।
  3. গ) ব্যাপারটা আমার আয়ত্তাধীন নয়।
  4. ঘ) তিনি স্বত্রীক ঢাকায় থাকেন।
সঠিক উত্তর:
খ) বৃক্ষটি সমূল উৎপাটিত হয়েছে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বৃক্ষটি সমূল উৎপাটিত হয়েছে।
ব্যাখ্যা

শুদ্ধ বাক্যটি হলো - বৃক্ষটি সমূল উৎপাটিত হয়েছে।
অন্যান্য বাক্যের শুদ্ধরূপ হলো:
- তােমার মতাে এমন হীনচরিত্র লােক আমার প্রয়ােজন নেই।
- ব্যাপারটা আমার আয়ত্ত নয় ।
- তিনি সস্ত্রীক ঢাকায় থাকেন।
সূত্রঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মাহমুদ

৩,৮৬৫.
সাহচর্য শব্দের শুদ্ধ গঠন কোনটি?
  1. ক) সাহ + চর + য
  2. খ) সাহ + চর+য
  3. গ) সাহচর + য
  4. ঘ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ঘ) কোনটিই নয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

সাহচর্য (বিশেষ্য)
১ সংস্রব (সাধু সাহচর্য)।
২ সহায়তা (কাজে সাহচর্য দান)।
৩ সঙ্গ (সাহচর্য দান)।
৩ সঙ্গ (সাহচর্য কামনা)।
{(তৎসম বা সংস্কৃত) সহচর+য(ষ্যঞ্‌)}

৩,৮৬৬.
নিচের কোন বাক্যটি শুদ্ধ?
  1. পৃথিবী সর্বদা সূর্যের চারিদিকে ঘূর্ণীয়মান।
  2. আপনি স্বপরিবারে আমন্ত্রিত। 
  3. সকল সভ্য সভায় উপস্থিত ছিলেন।
  4. রচনাটির উৎকর্ষতা অনস্বীকার্য।
সঠিক উত্তর:
সকল সভ্য সভায় উপস্থিত ছিলেন।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সকল সভ্য সভায় উপস্থিত ছিলেন।
ব্যাখ্যা
অশুদ্ধ বাক্য: সকল সভ্যগণ সভায় উপস্থিত ছিলেন।
শুদ্ধ বাক্য: সকল সভ্য সভায় উপস্থিত ছিলেন।

অন্যদিকে, 
অশুদ্ধ বাক্য: পৃথিবী সর্বদা সূর্যের চারিদিকে ঘূর্ণীয়মান।
শুদ্ধ বাক্য: পৃথিবী সর্বদা সূর্যের চারিদিকে ঘূর্ণায়মান।

অশুদ্ধ বাক্য: আপনি স্বপরিবারে আমন্ত্রিত। 
শুদ্ধ বাক্য: আপনি সপরিবারে আমন্ত্রিত। 

• অশুদ্ধ বাক্য: রচনাটির উৎকর্ষতা অনস্বীকার্য।
• শুদ্ধ বাক্য: রচনাটির উৎকর্ষ অনস্বীকার্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৮৬৭.
কোন বানানটি শুদ্ধ? 
  1. শিরচ্ছেদ
  2. শিরশ্ছেদ
  3. শিরোচ্ছেদ
  4. শিরোশ্ছেদ 
সঠিক উত্তর:
শিরশ্ছেদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শিরশ্ছেদ
ব্যাখ্যা

শুদ্ধ বানান- শিরশ্ছেদ।

• শিরশ্ছেদ—
- এটি পারিভাষিক বা তৎসম শব্দ।
- সন্ধি–বিচ্ছেদ: শিরঃ + ছেদ। 
- পদ: বিশেষ্য। 
- অর্থ:
- কোনো ব্যক্তির মাথা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করে হত্যা করা বা মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা। 

- প্রকৃতি–প্রত্যয়:
- প্রকৃতি: শিরস্ (নাম প্রকৃতি);
- ধাতু: √ছেদ্;
- প্রত্যয়: অ (অচ্)।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান। 

৩,৮৬৮.
কোনটিতে শুদ্ধ প্রয়োগ ঘটেছে?
  1. প্রাতঃরাশ
  2. অধীনস্ত
  3. বিলাসবহুল
  4. সৌন্দর্যতা
সঠিক উত্তর:
বিলাসবহুল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিলাসবহুল
ব্যাখ্যা
• 'বিলাসবহুল' — শব্দটির প্রয়োগ শুদ্ধ।
এর অর্থ - আমোদ-প্রমোদের পর্যাপ্ত ব্যবস্থাযুক্ত।

অন্য অপশনের অশুদ্ধ শব্দগুলোর শুদ্ধ প্রয়োগ হলো:
• সৌন্দর্যতা - সৌন্দর্য,
• অধীনস্ত - অধীন,
• প্রাতঃরাশ - প্রাতরাশ।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান, ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ।
৩,৮৬৯.
নিচের কোনটি শুদ্ধ প্রয়োগ?
  1. ক) সুস্বাগতম
  2. খ) স্বাগতম
  3. গ) সুস্বাগত
  4. ঘ) স্বাগত
সঠিক উত্তর:
ঘ) স্বাগত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) স্বাগত
ব্যাখ্যা
ব্যাখ্যা :
শব্দটির শুদ্ধরূপ : স্বাগত 
উৎস : নবম-দশম শ্রেণি পুরাতন ও নতুন ব্যাকরণ, ভাষা-শিক্ষা, বাংলা একাডেমির ব্যাকরণ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ।
৩,৮৭০.
'ছেলেরা মাঠে বল খেলে'- এখানে করণ কারক প্রকাশ করে কোনটি?
  1. ক) ছেলেরা
  2. খ) মাঠে
  3. গ) বল
  4. ঘ) খেলে
সঠিক উত্তর:
গ) বল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বল
ব্যাখ্যা
বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদের সঙ্গে ‘কীসের দ্বারা’ বা ‘কী উপায়ে’ প্রশ্ন করলে যে উত্তরটি পাওয়া যায় তাই করণ কারক। প্রশ্নোক্ত বাক্যে ছেলেরা বল দিয়ে খেলে। তাই বল করণ কারক।
সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী।
৩,৮৭১.
'তার ভাই ঋণ করেছিলো আর সে তা পরিশোধ করেছে।' কোন ধরনের বাক্যের উদাহরণ?
  1. সরল
  2. জটিল
  3. যৌগিক
  4. সাধিত
সঠিক উত্তর:
যৌগিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যৌগিক
ব্যাখ্যা
• যৌগিক বাক্য:
দুই বা ততোধিক স্বাধীন বাক্য যখন যোজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে একটি বাক্যে পরিণত হয়, তখন তাকে যৌগিক বাক্য বলে।

এবং, ও, আর, অথবা, বা, কিংবা, কিন্তু, অথচ, সেজন্য, ফলে ইত্যাদি যোজক যৌগিক বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। কমা (,), সেমিকোলন (;), কোলন (:), ড্যাশ (_) ইত্যাদি যতিচিহ্নও যোজকের কাজ করে।
যেমন:
- তিনি ধনী, কিন্তু দাতা নন।
- তার ভাই ঋণ করেছিলো, আর সে তা পরিশোধ করেছে।
- বিপদ এবং দুঃখ একই সঙ্গে আসে।
- হামিদ বই পড়ছে, আর সীমা রান্না করছে।
- সে ঘর ঝাড়ু দিল, ঘর মুছল, তারপর পড়তে বসল।
- অন্ধকার হয়ে এসেছে অথচ সে বাসাই ফিরেনি।
-লোকটি সৎ, তাই সকলে তাকে সম্মন করে।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মাহমুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ ২০২১)।
৩,৮৭২.
শুদ্ধ যতিচিহ্নের ব্যবহার হয়েছে কোন বাক্যটিতে?
  1. ১৮ পৌষ, বুধবার ১৩১০, বঙ্গাব্দ।
  2. ১৮ পৌষ বুধবার, ১৩১০ বঙ্গাব্দ।
  3. ১৮ পৌষ, বুধবার, ১৩১০ বঙ্গাব্দ।
  4. ১৮, পৌষ বুধবার ১৩১০ বঙ্গাব্দ।
সঠিক উত্তর:
১৮ পৌষ, বুধবার, ১৩১০ বঙ্গাব্দ।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮ পৌষ, বুধবার, ১৩১০ বঙ্গাব্দ।
ব্যাখ্যা
• মাসের তারিখ লিখতে বার ও মাসের পরে - 'কমা' বসে।

• মাসের তারিখ লিখতে বার ও মাসের পর কমা বসবে।
যেমন;
১৮ পৌষ, বুধবার, ১৩১০ বঙ্গাব্দ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ); বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৮৭৩.
নিচের কোনটি অনুজ্ঞাবাচক বাক্য?
  1. তোমার মঙ্গল হোক। 
  2. আমি বলতে চাই। 
  3. সে ঢাকা যাবে না। 
  4. অত উঁচু পাহাড়ে উঠে আমি তো ভয়েই মরি!
সঠিক উত্তর:
তোমার মঙ্গল হোক। 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তোমার মঙ্গল হোক। 
ব্যাখ্যা
♣ বক্তব্যের লক্ষ্য অনুযায়ী বাক্যের প্রকারভেদ: 
♠ অনুজ্ঞাবাচক বাক্য:
- আদেশ, নিষেধ, অনুরোধ, প্রার্থনা ইত্যাদি বোঝাতে অনুজ্ঞাবাচক বাক্য হয়। 
• আমাকে একটি কলম দাও। 
• তোমার মঙ্গল হোক।  
• পরীক্ষায় সফল হও। 
• দীর্ঘজীবী হও। 
• দেশের স্বাধীনতা রক্ষার জন্য যুদ্ধ কর।  

♠ বিবৃতিবাচক বাক্য:
- সাধারণভাবে কোনো বিবরণ প্রকাশ পায় যেসব বাক্যে, সেগুলোকে বিবৃতিমূলক বাক্য বলে। বিবৃতিবাচক বাক্য ইতিবাচক বা নেতিবাচক হতে পারে। যেমন - 
• আমরা রোজ বেড়াতে যেতাম। 
• সে ঢাকা যাবে না। 
• আমি বলতে চাই। 
• তারা তোমাদের ভোলেনি।

♠ প্রশ্নবাচক বাক্য:
- বক্তা কারও কাছ থেকে কিছু জানার জন্য যে ধরনের বাক্য বলে, সেগুলো প্রশ্নবাচক বাক্য। যেমন - 
• তোমার নাম কী?  
• সুন্দরবনকে কোন ধরনের বনাঞ্চল বলা হয়?

♠ আবেগবাচক বাক্য:
- কোনো কিছু দেখে বা শুনে অবাক হয়ে যে ধরনের বাক্য তৈরি হয়, তাকে আবেগবাচক বাক্য বলে। যেমন - 
• দারুণ! আমরা জিতে গিয়েছি। 
• অত উঁচু পাহাড়ে উঠে আমি তো ভয়েই মরি!

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩,৮৭৪.
নিচের কোন শব্দে স্বভাবতই 'ষ' হয়নি?
  1. ক) ষড়ঋতু
  2. খ) ভূষণ
  3. গ) ভাষণ
  4. ঘ) দর্ষন
সঠিক উত্তর:
ঘ) দর্ষন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) দর্ষন
ব্যাখ্যা
কতগুলো শব্দে স্বভাবতই 'ষ' হয়।
যেমন- রোষ, কোষ, আষাঢ়, ভাষণ, ভাষা, ঊষা, পৌষ, কলুষ, পাষাণ, মানুষ, ঔষধ, ষড়যন্ত্র, ভূষণ, দ্বেষ ইত্যাদি।
দর্শন, আদর্শ, অর্শ, বর্শা ইত্যাদি শব্দে ষ হয় না।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি
৩,৮৭৫.
বক্তব্য স্পষ্ট করার জন্যে সমজাতীয় বাক্য পাশাপাশি প্রতিস্থাপন করলে কোন যতিচিহ্ন ব্যবহৃত হয়?
  1. কোলন
  2. ড্যাশ
  3. সেমিকোলন
  4. ত্রিবিন্দু
সঠিক উত্তর:
সেমিকোলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সেমিকোলন
ব্যাখ্যা
• সেমিকোলন-চিহ্ন (;):
সেমিকোলন বা অর্থচ্ছেদ হলো বাক্যের মধ্যে ব্যবহৃত এক ধরনের বাক্যান্তর্গত চিহ্ন। মনোভাব প্রকাশের বেলায় একটা ভাব একটিমাত্র বাক্যে শেষ হয়ে সন্নিহিত ভাবের নতুন বাক্য শুরু করতে চাইলে একটু বেশি থামতে হয়।

অর্থাৎ একাধিক বাক্যের মধ্যে অর্থের নিকট-সম্মন্ধ থাকলে বাক্যগুলোকে একটু বেশি থামার চিহ্ন দিয়ে ভাগ করতে হয়। এর জন্যে সেমিকোলন বসে। সেমিকোলনের বিরামের অনুপাত কমার (,) দ্বিগুণ। নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে সেমিকোলন ব্যবহৃত হয়-

১. একাধিক স্বাধীন বাক্যকে একটি বাক্যে লিখলে সেগুলোর মাঝখানে সেমিকোলন ব্যবহৃত হয়। যেমন- তিনি শুধু তামাশা দেখিতেছিলেন; কোথাকার জল কোথায় গিয়া পড়ে।

২. বক্তব্য স্পষ্ট করার জন্যে সমজাতীয় বাক্য পাশাপাশি প্রতিস্থাপন করলে সেমিকোলন ব্যবহৃত হয়। যেমন- 'বৃদ্ধ তাহারাই যাহারা মায়াচ্ছন্ন নব মানবের অভিনব জয়যাত্রার শুধু বোঝা নয়, বিঘ্ন; শতাব্দীর নব যাত্রীর চলার ছন্দে ছন্দ মিলাইয়া যাহারা কুচকাওয়াজ করিতে জানে না, পারে না; জীব হইয়াও জড়; যাহারা অটল সংস্কারের পাষাণ-স্তূপ আঁকড়িয়া পড়িয়া আছে।'

৩. দুটি বা তিনটি বাক্য যোজক শব্দের সাহায্যে যুক্ত না হলে সেমিকোলন ব্যবহৃত হয়। যেমন- আগে পাঠ্যবই পড়; পরে গল্প-উপন্যাস।

8. কোনো তালিকায় একাধিক ব্যক্তির নাম ও তাঁদের পদের উল্লেখ থাকলে বোঝবার সুবিধার জন্যে সেমিকোলন ব্যবহার করা হয়। যেমন- এবারের নবনির্বাচিত কার্যনির্বাহী পরিষদে যাঁরা রয়েছেন তাঁরা হলেন: আকবরউদ্দিন আহমদ, সভাপতি; আফসার রায়হান, সাধারণ সম্পাদক; চিত্ত বড়ুয়া, প্রচার সম্পাদক; এন্ড্রু গোমেজ, সংস্কৃতি সম্পাদক; ইত্যাদি।

৫. সেজন্যে, তবু, তথাপি, সুতরাং ইত্যাদি যে-সব যোজক বৈপরীত্য বা অনুমান প্রকাশ করে তাদের আগে সেমিকোলন বসে। যেমন- সে ফেল করেছে; সেজন্যে সে মুখ দেখায় না।

৬. যেসব বাক্যে ভাবসাদৃশ্য আছে তাদের মধ্যে সেমিকোলন বসে। যেমন- দিনটা ভালো নয়; মাঝে মাঝে বৃষ্টি পড়ছে।

৭. ছোটো ছোটো বিতর্কিত অংশ নির্দেশ করার জন্যে সেমিকোলন বসে। যেমন- মেয়েটি, যে প্রথম হয়েছে, একটি পুরস্কার পেয়েছে; এবার আশা করা যায়, সে আরো ভালো করবে।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩,৮৭৬.
'আমি তোমার অপরাধ সম্পর্কে নিঃসন্দিহান' - বাক্যটিতে কিসের অপপ্রয়োগ ঘটেছে?
  1. ক) বিশেষনের বাহুল্য
  2. খ) বাচ্যজনিত
  3. গ) বহুবচনের
  4. ঘ) বাহুল্যজনিত
সঠিক উত্তর:
ক) বিশেষনের বাহুল্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) বিশেষনের বাহুল্য
ব্যাখ্যা
'আমি তোমার অপরাধ সম্পর্কে নিঃসন্দিহান' - বাক্যটিতে বিশেষনের বাহুল্য জনিত অপপ্রয়োগ ঘটেছে। 
এর সঠিক প্রয়োগ হবে- 'আমি তোমার অপরাধ সম্পর্কে নিঃসন্দেহ' 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩,৮৭৭.
'কাজটা ভালো দেখায় না।' বাক্যটি কোন বাচ্যের উদাহরণ?
  1. ভাববাচ্য
  2. কর্মকর্তৃবাচ্য
  3. কর্তৃবাচ্য 
  4. কর্মবাচ্য
সঠিক উত্তর:
কর্মকর্তৃবাচ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্মকর্তৃবাচ্য
ব্যাখ্যা

• কর্মকর্তৃবাচ্য:
যে বাক্যে কর্মপদই কর্তৃস্থানীয় হয়ে বাক্য গঠন করে, তাকে কর্মকর্তৃবাচ্যের বাক্য বলে।
যেমন:
- কাজটা ভালো দেখায় না।
- বাঁশি বাজে ঐ মধুর লগনে।
- সুতি কাপড় অনেক দিন টেকে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ)।

৩,৮৭৮.
নিচের কোন শব্দটি অশুদ্ধ?
  1. ক) সজ্জন
  2. খ) উজ্জল
  3. গ) বিভাজ্য
  4. ঘ) জ্বলন্ত
সঠিক উত্তর:
খ) উজ্জল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) উজ্জল
ব্যাখ্যা

‘উজ্জল’ শব্দটি অশুদ্ধ।
এর শুদ্ধরূপঃ উজ্জ্বল।
অর্থ - আলোকিত; দীপ্তিমান; তীক্ষ্ণ; প্রখর।

উৎসঃ বাংলা একাডেমী অভিধান।

৩,৮৭৯.
কোন কারকে স্থান, কাল, বিষয় ও ভাব নির্দেশিত হয়?
  1. কর্ম 
  2. অধিকরণ 
  3. করণ 
  4. অপাদান 
সঠিক উত্তর:
অধিকরণ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অধিকরণ 
ব্যাখ্যা

অধিকরণ কারক:
- যে কারকে স্থান, কাল, বিষয় ও ভাব নির্দেশিত হয়, তাকে অধিকরণ কারক বলে। এই কারকে সাধারণত এ, য়, য়ে, তে ইত্যাদি বিভক্তি শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়।

যেমন:
- রাজীব বাংলা ব্যাকরণে ভালো।
- কাননে কুসুমকলি সকলি ফুটিল। 
- ত্যাগে তিনি নিহঙ্কার।

অন্যদিকে, 
অপাদান কারক - যে কারকে ক্রিয়ার উৎস নির্দেশ করা হয়, তাকে অপাদান কারক বলে।
করণ কারক - 'করণ' শব্দটির অর্থ যন্ত্র, সহায়ক বা উপায়।
কর্ম কারক - যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে কর্ম কারক বলে।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩,৮৮০.
কোন বাক্যটি শুদ্ধ?
  1. পরবর্তীকালে তার সাথে আমার সাক্ষাৎ হয়নি।
  2. বিবিধ জিনিসপত্র কিনলাম।
  3. আকণ্ঠ পর্যন্ত ভোজন করলাম।
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
কোনটিই নয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

• সঠিক উত্তর - কোনটিই নয়

অশুদ্ধ: পরবর্তীকালে তার সাথে আমার সাক্ষাৎ হয়নি।
শুদ্ধ: পরবর্তীতে তার সাথে আমার সাক্ষাৎ হয়নি।

অশুদ্ধ: বিবিধ জিনিসপত্র কিনলাম।
শুদ্ধ: বিবিধ জিনিস কিনলাম।

অশুদ্ধ: আকণ্ঠ পর্যন্ত ভোজন করলাম।
শুদ্ধ: আকণ্ঠ ভোজন করলাম।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।

৩,৮৮১.
বাংলা একাডেমির প্রমিত বানানরীতি অনুযায়ী নিচের কোন শব্দটির বানান ভুল?
  1. জার্মানি
  2. হাঙ্গেরী
  3. ইতালি 
  4. মালদ্বীপ 
সঠিক উত্তর:
হাঙ্গেরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাঙ্গেরী
ব্যাখ্যা

বাংলা একাডেমির প্রমিত বানানরীতি অনুযায়ী ‘হাঙ্গেরী’ শব্দটির বানান ভুল।
--------------------
• দেশের নাম লিখতে ই-কার ব্যবহার: 
- যে কোনো দেশের নাম লিখার সময় সাধারণভাবে ই-কার ব্যবহার করা যায়।
- উদাহরণস্বরূপ—
- গ্রিস, জার্মানি, ইতালি, হাঙ্গেরি ইত্যাদি।
- তবে কিছু দেশের ক্ষেত্রে এটি ব্যতিক্রম,
- যেখানে ই-কার প্রয়োগ করা হয় না।
- এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য—শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

৩,৮৮২.
'যখন সূর্য উদিত হয় তখন পদ্মফুল ফোটে'- এটি কোন ধরনের বাক্য?
  1. সরল বাক্য
  2. জটিল বাক্য
  3. হ্যাঁ-বাচক বাক্য
  4. যৌগিক বাক্য
সঠিক উত্তর:
জটিল বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জটিল বাক্য
ব্যাখ্যা
• গঠনগত দিক বাক্যকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যেমন:
» সরল বাক্য,
» জটিল বাক্য,
» যৌগিক বাক্য।

জটিল বাক্য:
এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য বা বাক্যাংশ পাওয়া যায় জটিল বাক্যে। একটি মূল বাক্যের অধীনে এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য বা বাক্যাংশ থাকলে জটিল বাক্য তৈরি হয়।
যেমন:
- যদি তোমার কিছু বলার থাকে, তবে এখনই বলে ফেলো।

• সরল বাক্য থেকে জটিল বাক্যে রূপান্তর:
- মূল অর্থ ঠিক রেখে জটিল বাক্যে সাপেক্ষ যোজক ও সাপেক্ষ সর্বনাম ব্যবহার করতে হবে।
- খণ্ডবাক্য দুটির মাঝে কমা দিতে হবে।

» সরল বাক্য: দুর্জন লোক পরিত্যাজ্য।
• জটিল বাক্য: যেসব লোক দুর্জন, তারা পরিত্যাজ্য।

» সরল বাক্য: তুমি চেষ্টা না করায় ব্যর্থ হয়েছ।
জটিল বাক্য: যেহেতু তুমি চেষ্টা করোনি, তাই ব্যর্থ হয়েছ।

• সরল বাক্য: আমার দেখাবে আমার সত্য।
জটিল বাক্য: যা আমার পথ তাই আমাকে পথ দেখাবে।

» সরল বাক্য: সূর্যোদয়ে পদ্মফুল ফোটে।
• জটিল বাক্য: যখন সূর্য উদিত হয় তখন পদ্মফুল ফোটে

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৩,৮৮৩.
শুদ্ধ বানান কোনটি?
  1. প্রবীন 
  2. মিতালী 
  3. জ্যেষ্ঠতা
  4. জেঠামি
সঠিক উত্তর:
জ্যেষ্ঠতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জ্যেষ্ঠতা
ব্যাখ্যা

• শুদ্ধ বানান- জ্যেষ্ঠতা। 
- শব্দটি বিশেষ্য পদ।
- এটি একটি সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ:
- কর্মক্ষেত্র প্রতিষ্ঠান প্রভৃতি ক্ষেত্রে বয়স বা পদমর্যাদার ভিত্তিতে পূর্বিতাক্রম।

• শব্দটির ইংরেজি পারিভাষিক শব্দ- order of priority I

অন্যদিকে, অশুদ্ধ অপশনগুলোর শুদ্ধরূপ হলো-
প্রবীণ, মিতালি, জ্যাঠামি। 

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৩,৮৮৪.
'পাগলে কিনা বলে, ছাগলে কিনা খায়'- নিম্নরেখ শব্দগুলো কোন কারকের উদাহরণ?
  1. অপাদান কারক
  2. কর্ম কারক
  3. করণ কারক
  4. কর্তা কারক
  5. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
কর্তা কারক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্তা কারক
ব্যাখ্যা
• 'পাগলে কিনা বলে, ছাগলে কিনা খায়।'- নিম্নরেখ শব্দগুলো কর্তা কারকের উদাহরণ। 
-------------------- 
• কর্তা কারক: 
- ক্রিয়া যার দ্বারা সম্পাদিত হয়, তাকে কর্তাকারক বলে।
- বাক্যের কর্তা বা উদ্দেশ্যই কর্তা কারক।

যেমন -
আমরা নদীর ঘাট থেকে রিকশা নিয়েছিলাম।
অনেকগুলো বন্য হাতি বাগান নষ্ট করে দিল।

- কর্তা কারকে কখনো কখনো -এ বিভক্তি যুক্ত হয়।
যেমন
পাগলে কিনা বলে, ছাগলে কিনা খায়। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৩,৮৮৫.
কমা (Comma) এর বাংলা কী?
  1. অর্ধছেদ
  2. দৃষ্টান্তছেদ
  3. পাদচ্ছেদ
  4. পূর্ণচ্ছেদ
সঠিক উত্তর:
পাদচ্ছেদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাদচ্ছেদ
ব্যাখ্যা

'কমা (,)'- এর অপর নাম হচ্ছে পাদচ্ছেদ।

কমা (,):
- কমা সামান্য বিরতি নির্দেশ করে। শব্দ, বর্গ ও অধীন বাক্যকে আলাদা করতে কমার ব্যবহার হয়।
- "কমা" চিহ্নের বিরতিকাল ১ (এক) বলতে যে সময় প্রয়োজন।

অন্যদিকে,
- 'দাড়ি' এর অপর নাম পূর্ণচ্ছেদ।
- 'সেমিকোলন' এর অপর নাম অর্ধচ্ছেদ।
- 'কোলন' বিরামচিহ্নের অপর নাম দৃষ্টান্তচ্ছেদ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৩,৮৮৬.
শুদ্ধ বানান কোনটি ?
  1. ব্যকূল
  2. ব্যাকূল
  3. ব্যকুল
  4. ব্যাকুল
সঠিক উত্তর:
ব্যাকুল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাকুল
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
শুদ্ধ বানান হচ্ছে — ব্যাকুল।
---------------- 
• ব্যাকুল (বিশেষণ):
- সংস্কৃত শব্দ। 
- প্রকৃতি প্রত্যয়ন = বি+আ+√কুল্‌+অ। 
অর্থ:  অতিশয় আকুল, অস্থির, উৎকণ্ঠিত, ব্যগ্র।

• • আরো কিছু শুদ্ধ বানান: 
ত্রিনয়ন, কৌতুক, প্রণামি, ধরন,স্বতঃপ্রণোদিত, ঐকমত্য, অনসূয়া।

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
৩,৮৮৭.
শব্দে ঊর্ধ্বকমা -
  1. গ্রহণ করতে হবে
  2. বর্জন করতে হবে
  3. পরিবর্তন করতে হবে
  4. অপরিবর্তিত থাকবে
সঠিক উত্তর:
বর্জন করতে হবে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বর্জন করতে হবে
ব্যাখ্যা
বানান-সূত্র:
- দেশ, ভাষা ও জাতির নাম লিখতে ই/ঈ-কার দেয়ার প্রশ্ন এলে তাতে নিশ্চিন্তে ই-কার (ি) দেয়া যাবে।
যেমন:
- দেশ: গ্রিস, জার্মানি, ইতালি, হাঙ্গেরি ইত্যাদি। (ব্যতিক্রম: চীন, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ)
- ভাষা: হিন্দি, সাঁওতালি, আরবি, পারসি ইত্যাদি।
- জাতি: বাঙালি, ইত্যাদি। পর্তুগিজ, তুর্কি ইত্যাদি।

২. অপ্রাণিবাচক শব্দ ও ইতরপ্রাণিবাচক অতৎসম শব্দের শেষে ই/ঈ-কারের মধ্যে ই-কার হবে। যেমন:
অপ্রাণিবাচক শব্দ: বাড়ি, গাড়ি, শাড়ি, চাবি ইত্যাদি।
ইতরপ্রাণিবাচক শব্দ: পাখি, হাতি, চড়ুই, মুরগি ইত্যাদি।

৩. সংস্কৃত বা তৎসম স্ত্রীবাচক শব্দের শেষে সর্বদা ঈ-কার হবে।
যেমন: জননী, স্ত্রী, নারী, সাধ্বী ইত্যাদি।

৪. বিদেশি শব্দের বানান বাংলায় লেখার সময় কখনো 'ষ' লেখা যাবে। না।
যেমন: ষ্টেশন হবে না, হবে স্টেশন; ষ্টুডিও হবে না, হবে স্টুডিও; ফটোষ্ট্যাট হবে না, হবে ফটোস্ট্যাট ইত্যাদি।

৫. তৎসম বা সংস্কৃত কতিপয় শব্দ ছাড়া অন্য সব শব্দের বানানে 'ণ' হবে না, হবে 'ন'।
যেমন: কর্ণার হবে না, হবে কর্নার; কর্ণেল হবে না, হবে কর্নেল; বামুণ হবে না, হবে বামুন ইত্যাদি।

৬. বানানে যে বর্ণের উপর রেফ থাকবে, সেই বর্ণে দ্বিত্ব হবে না।
যেমন: কাৰ্য্যালয় হবে না, হবে কার্যালয়; নির্দ্দিষ্ট হবে না, হবে নির্দিষ্ট, পৰ্ব্বত হবে না, হবে পর্বত ইত্যাদি।

৭. বিস্ময়সূচক অব্যয় (যেমন: বাঃ / ছিঃ / উঃ ইত্যাদি) ছাড়া বাংলা কোনো শব্দের শেষে বিসর্গ রাখা যাবে না।
যেমন: প্রায়শঃ / বিশেষতঃ / কার্যতঃ / প্রথমতঃ ইত্যাদি লেখা যাবে না, লিখতে হবে প্রায়শ / বিশেষত / কার্যত / প্রথমত ইত্যাদি।

৮. শব্দে ঊর্ধ্বকমা লেখা যাবে না
যেমন: আগে লেখা হতো (হ'লো) এখন (হলো); আগে (দু'টি) এখন (দুটি); আগে (তা'র) এখন (তার) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৮৮৮.
সেমিকোলন থাকলে থামতে হয় —
  1. এক বলার সময়
  2. এক সেকেন্ড
  3. এক বলার দ্বিগুণ সময়
  4. থামার প্রয়োজন হয় না
সঠিক উত্তর:
এক বলার দ্বিগুণ সময়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এক বলার দ্বিগুণ সময়
ব্যাখ্যা
• বাক্যে যতিচিহ্ন অনুসারে থামার পরিমাণ:
• কমা বা পাদচ্ছেদ থাকলে -
- 'এক' বলতে যে সময় লাগে সেই পরিমাণ সময় থামতে হয়।

• সেমিকোলন বা অর্ধচ্ছেদ থাকলে -
- 'এক' বলার দ্বিগুণ সময় থামতে হয়।

• হাইফেন, ইলেক বা লোপ চিহ্ন ও ব্র্যাকেট থাকলে -
- থামার প্রয়োজন হয় না।

• দাঁড়ি বা পূর্ণচ্ছেদ, প্রশ্নবোধক চিহ্ন, বিস্ময় চিহ্ন, কোলন, কোলন ড্যাস, ড্যাস ইত্যাদি চিহ্ন থাকলে -
- 'এক' সেকেন্ড থামতে হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) ও ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩,৮৮৯.
নিচের কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. তরণী
  2. কাণ্ডারি
  3. পুষ্করণী
  4. মহীরুহ
সঠিক উত্তর:
পুষ্করণী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পুষ্করণী
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
'পুষ্করণী'- বানানটি শুদ্ধ। 

• 'পুষ্করণী' শব্দের অর্থ:
- মাটি খুঁড়ে তৈরি উন্মুক্ত জলাধার,পুকুর।

অন্য অপশনের বানানগুলোর শুদ্ধরূপ:
তরণী- তরণি, 
কাণ্ডারি- কান্ডারি,
মহীরুহ- মহিরুহ। 

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৩,৮৯০.
'ব্যাপারটি নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করলে ফল ভালো হবে না।' - এটি কোন ধরনের বাক্য?
  1. জটিল বাক্য
  2. বিস্ময়সূচক বাক্য
  3. যৌগিক বাক্য
  4. সরল বাক্য
সঠিক উত্তর:
জটিল বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জটিল বাক্য
ব্যাখ্যা
• 'ব্যাপারটি নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করলে ফল ভালো হবে না।' - জটিল বাক্য

মিশ্র বা জটিল বাক্য:
যে বাক্যে একটি প্রধান খণ্ডবাক্যের এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য পরস্পর সাপেক্ষ ভাবে ব্যবহৃত হয়, তাকে মিশ্র বা জটিল বাক্য বলে।
যথা -
আশ্রিত বাক্য ....... প্রধান খণ্ডবাক্য
১. যে পরিশ্রম করে,.....সে-ই সুখ লাভ করে।
২. সে যে অপরাধ করেছে,......তা মুখ দেখেই বুঝেছি।

• আশ্রিত খণ্ডবাক্য তিন প্রকার। যথা:
(ক) বিশেষ্য স্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য,
(খ) বিশেষণ স্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য,
(গ) ক্রিয়া বিশেষণ স্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য।

বিশেষ্য স্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য:
যে আশ্রিত খণ্ডবাক্য প্রধান খণ্ডবাক্যের যে কোনো পদের আশ্রিত থেকে বিশেষ্যের কাজ করে, তাকে বিশেষ্যস্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য বলে।
যথা -
- আমি মাঠে গিয়ে দেখলাম, খেলা শেষ হয়ে গিয়েছে। (বিশেষ্য স্থানীয় খণ্ডবাক্য ক্রিয়ার কর্মরূপে ব্যবহৃত)
- ব্যাপারটি নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করলে ফল ভালো হবে না। (বিশেষ্য স্থানীয় খণ্ডবাক্য ক্রিয়ার কর্মরূপে ব্যবহৃত)

তদ্রুপ - তিনি বাড়ি আছেন কি না, আমি জানি না। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩,৮৯১.
'জীবনে স্বার্থকতা অর্জন করতে চাইলে সংকীর্নতার উর্ধে উঠতে হবে, সব অপগুণগুলো বিসর্জন দিতে হবে। - বাক্যটিতে বানান ভুলের সংখ্যা-
  1. চার
  2. পাঁচ
  3. তিন 
  4. কোনোটিই নয় 
সঠিক উত্তর:
তিন 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তিন 
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: ক) তিন।

-------------- 
বাক্যটিতে - ৩টি বানান ভুল আছে। 
১. স্বার্থকতা এর শুদ্ধ বানান → সার্থকতা।
 
২. সংকীর্নতার এর শুদ্ধ বানান → সংকীর্ণতার।
- ণ-ত্ব বিধি অনুসারে 'ঋ, র, ষ' এর পরে 'ণ' হবে।
 
৩. উর্ধে এর শুদ্ধ বানান → ঊর্ধ্বে।
- ঊর্ধ্ব শব্দে 'ধ্ব' যুক্তাক্ষর আছে
 
• সংশোধিত বাক্য:
"জীবনে সার্থকতা অর্জন করতে চাইলে সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠতে হবে, সব অপগুণগুলো বিসর্জন দিতে হবে।"
 
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

৩,৮৯২.
"তুমি পড়াশোনা করো, নাহলে পরীক্ষায় ভালো করবে না।" - কোন ধরনের বাক্য?
  1. সরল বাক্য
  2. জটিল বাক্য
  3. যৌগিক বাক্য
  4. খণ্ড বাক্য
সঠিক উত্তর:
যৌগিক বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যৌগিক বাক্য
ব্যাখ্যা
যৌগিক বাক্য:
দুই বা ততোধিক স্বাধীন বাক্য যখন যোজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে একটি বাক্যে পরিণত হয় তাকে যৌগিক বাক্য বলে। যৌগিক বাক্য হল এমন একটি বাক্য যেখানে দুটি বা তার অধিক সরল বাক্য অব্যয় (যেমন: এবং, কিন্তু, অথবা, তাই, নাহলে, তবু ইত্যাদি) দিয়ে যুক্ত থাকে
যেমন-
- রহমত রাতে রুটি খায় আর রহিমা খায় ভাত।
- তুমি পড়াশোনা করো, নাহলে পরীক্ষায় ভালো করবে না।
- সে ঘর ঝাড়ু দিল, ঘর মুছল, তারপর পড়তে বসলো।
- বিপদ ও দুঃখ একসঙ্গে আসে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৮৯৩.
মা ছিল না বলে কেউ তার চুল বেঁধে দেয়নি। - এটি কী ধরনের বাক্য?
  1. ক) সরল
  2. খ) যৌগিক
  3. গ) জটিল
  4. ঘ) মিশ্র
সঠিক উত্তর:
গ) জটিল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) জটিল
ব্যাখ্যা
সরল বাক্য + ক্রিয়াবাচক অনুসর্গ (বলে) + সরল বাক্য = জটিল বাক্য
মা ছিল না। কেউ তার চুল বেঁধে দেয়নি। বাক্য দুটিকে বলে ক্রিয়াবাচক অনুসর্গ দ্বারা যুক্ত হয়ে সাপেক্ষ অবস্থা সৃষ্টি করেছে বলে এটি জটিল বাক্য। 

বিশেষ দ্রষ্টব্য: জটিল বাক্যের সমার্থক হিসেবে ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় মিশ্র বাক্য ব্যবহার করেছেন, কিন্তু এটি গ্রহণীয় নয়। কারণ, মিশ্র শব্দটি অনেকাংশে যৌগিক শব্দের সমার্থক হয়ে যায়। তাই পরীক্ষায় জটিল ও মিশ্র থাকলে আর সেটি যদি জটিল বাক্য হয় হবে জটিল উত্তর করবেন।

উৎস: বাংলা একাডেমির আধুনিক ব্যাকরণ। 
৩,৮৯৪.
শুদ্ধ বানান কোনটি?
  1. কৃষিজীবি
  2. দুষণ
  3. নিষ্পন্ন
  4. ভুষণ
সঠিক উত্তর:
নিষ্পন্ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিষ্পন্ন
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
'নিষ্পন্ন' - শুদ্ধ বানান।

• 'নিষ্পন্ন' শব্দের অর্থ:
- নিষ্পাদন করা হয়েছে এমন,
- মীমাংসা। 

অন্যান্য অপশনের শুদ্ধ বানান:
কৃষিজীবি - কৃষিজীবী,
দুষণ - দূষণ,
ভুষণ -ভূষণ।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৩,৮৯৫.
নিচের কোন বাক্যটি শুদ্ধ নয়?
  1. অন্যায়ের প্রতিফল অনিবার্য।
  2. অল্পজ্ঞান বিপজ্জনক।
  3. সে ভীষণ বিপদগ্রস্থ।
  4. কাব্যটির ভাষায় দীনতা আছে।
সঠিক উত্তর:
সে ভীষণ বিপদগ্রস্থ।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সে ভীষণ বিপদগ্রস্থ।
ব্যাখ্যা
অশুদ্ধ বাক্য = সে ভীষণ বিপদগ্রস্থ
শুদ্ধ বাক্য = সে ভীষণ বিপদগ্রস্ত।

বাক্যটি বানান জনিত ভুল।
’বিপদগ্রস্থ’ শব্দের সঠিক বানান = বিপদগ্রস্ত

অপশনে উল্লেখিত বাকি বাক্যগুলো শুদ্ধ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৩,৮৯৬.
বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে, কোন বানানটি সঠিক?
  1. তান্ডব
  2. সুনামি
  3. সর্বশান্ত
  4. জলচ্ছ্বাস
সঠিক উত্তর:
সুনামি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুনামি
ব্যাখ্যা

বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে, 
শুদ্ধবানান - সুনামি।
বাকিদের শুদ্ধ রূপ: জলোচ্ছ্বাস, তাণ্ডব, সর্বস্বান্ত।

সুনামি (বিশেষ্য):
শব্দের উৎস: জাপানি ভাষা।
অর্থ:
- সমুদ্রগর্ভে তীব্র ভূকম্পন বা অগ্ন্যুৎ-পাতের ফলে সমুদ্র উপকূলকে প্লাবিত করে এমন প্রবল বেগে ধেয়ে আসা জলোচ্ছ্বাস,
- বেলোর্মি।

তাণ্ডব (বিশেষ্য):
শব্দের উৎস: সংস্কৃত ভাষা।
অর্থ:
- তণ্ডুমুনি-উদ্ভাবিত নৃত্য,
- উদ্যাম নৃত্য,
- শিবের নৃত্য।
আলংকারিক অর্থ: প্রলয়ংকর ব্যাপার।

সর্বস্বান্ত (বিশেষণ):
শব্দের উৎস: সংস্কৃত ভাষা।
অর্থ: সব সম্পদ হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছে এমন।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

৩,৮৯৭.
"আমাকে একটি কলম দাও।" — এটি কোন ধরনের বাক্য?
  1. প্রশ্নবাচক
  2. অনুজ্ঞাবাচক
  3. আবেগবাচক
  4. বিস্ময়বাচক
সঠিক উত্তর:
অনুজ্ঞাবাচক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুজ্ঞাবাচক
ব্যাখ্যা
• অনুজ্ঞাবাচক বাক্য:
আদেশ, নিষেধ, অনুরােধ, প্রার্থনা ইত্যাদি বােঝাতে অনুজ্ঞাবাচক বাক্য হয়।
যেমন-
• আমাকে একটি কলম দাও।
• তার মঙ্গল হােক।
• আমাকে একটু জল দাও।
• বিপদে ধৈর্য ধর।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ সংস্করণ)।
৩,৮৯৮.
'জগতে কীর্তিমান হও সাধনায়' বাক্যে 'সাধনায়' শব্দটি কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্মে ২য়া
  2. করণে ৭মী
  3. কর্মে ৭মী
  4. অধিকরণে ৭মী
সঠিক উত্তর:
করণে ৭মী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
করণে ৭মী
ব্যাখ্যা
করণ কারক:
- 'করণ' শব্দটির অর্থ যন্ত্র, সহায়ক বা উপায়।
- ক্রিয়া সম্পাদনের যন্ত্র, উপকরণ বা সহায়ককেই করণ কারক বলে।
- বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদের সঙ্গে 'কীসের দ্বারা' বা কী উপায়ে' প্রশ্ন করলে যে উত্তরটি পাওয়া যায়, তা- ই করণ কারক।
যেমন:
- নীরা কলম দিয়ে লেখে। (উপকরণ = কলম),
- 'জগতে কীর্তিমান হও সাধনায়।' (উপায় = সাধনা), করণে ৭মী বিভক্তি। 
- 'এ সাবানে কাপড় কাচা চলবে না'। (উপকরণ  = সাবান)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩,৮৯৯.
শুদ্ধ কোনটি?
  1. ক) ভূবন
  2. খ) ভুবন
  3. গ) ভুবণ
  4. ঘ) ভূবণ
সঠিক উত্তর:
খ) ভুবন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ভুবন
ব্যাখ্যা
ভুবন (বিশেষ্য) 
- সংস্কৃত শব্দ 
- প্রকৃতি প্রত্যয় = ভু+√অন
অর্থ: 
- পৃথিবী, জগৎ
- পুরাণে বর্ণিত চতুর্দশ লোক। 

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
৩,৯০০.
বাক্যের অন্তর্গত পদসমূহের বিশ্বাসযোগ্য ভাব সম্মিলনের নাম কী?
  1. ক) আকাঙ্খা
  2. খ) আসক্তি
  3. গ) আসত্তি
  4. ঘ) যোগ্যতা
সঠিক উত্তর:
ঘ) যোগ্যতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) যোগ্যতা
ব্যাখ্যা
বাক্যের গুণ ৩ টি।
যথা -
- আকাঙ্খা
- যোগ্যতা
- আসত্তি।

১. বাক্যের অর্থ স্পষ্টকরণের জন্য এক পদের পর অন্য পদের যে সংস্থাপন , বাক্য পূর্ন না হওয়া পর্যন্ত শ্রোতার যে না-মেটা কৌতূহল, তাকে বাক্যের আকাঙ্খা বলে।
২. বাক্যের পদগুলি অর্থের সঙ্গতিক্রমে পূর্বাপর সন্নিবিষ্ট করার নাম আসত্তি।
৩. বাক্যের অন্তর্গত পদসমূহের বিশ্বাসযোগ্য ভাব সম্মিলনের নাম যোগ্যতা ।

আলোচ্য বাক্যে বাক্যের অন্তর্গত পদসমূহের বিশ্বাসযোগ্য ভাবসম্মিলন লোপ পেয়েছে। তাই বাক্যটি যোগ্যতা হারিয়েছে।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ (২০১৯ সংস্করণ)।