বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাক্য প্রকরণ

মোট প্রশ্ন৬,৯৫৩এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাক্য প্রকরণ

PrepBank · পাতা ৩০ / ৬৯ · ২,৯০১৩,০০০ / ৬,৯৫৩

২,৯০১.
“তারা যদিও কথা কয় না, কিন্তু বলাই সমস্ত কথাই যেন জানে।”- বাক্যটির যৌগিকরূপ কোনটি?
  1. তারা কথা না বললেও, কিন্তু বলাই সমস্ত কথাই যেন জানে।
  2. যদিও তারা কথা কয় না, তবে বলাই সমস্ত কথাই যেন জানে।
  3. তারা কথা না কইলেও, বরং বলাই সমস্ত কথাই যেন জানে।
  4. তারা কথা কয় না, কিন্তু বলাই সমস্তই যেন জানে।
সঠিক উত্তর:
তারা কথা কয় না, কিন্তু বলাই সমস্তই যেন জানে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তারা কথা কয় না, কিন্তু বলাই সমস্তই যেন জানে।
ব্যাখ্যা
• জটিল বাক্য থেকে যৌগিক বাক্যে রূপান্তর:
সূত্র ক : আশ্রিত খণ্ড বাক্যগুলোকে নিরপেক্ষ খণ্ড বাক্যে পরিণত করতে হবে।
সূত্র খ: জটিল বা মিশ্র বাক্যের উপযোগী শব্দ প্রয়োগের মাধ্যমে সবকটি খণ্ডবাক্যের সম্পর্ক বজায় রাখতে হবে।
সূত্র গ: সাপেক্ষবাচক সর্বনাম বর্জন করে যোজক পদ ব্যবহারের মাধ্যমে স্বাধীন বাক্যগুলোকে যুক্ত করতে হবে।

যেমন:
• জটিল বাক্য: তারা যদিও কথা কয় না, কিন্তু বলাই সমস্ত কথাই যেন জানে।
• যৌগিক বাক্য: তারা কথা কয় না, কিন্তু বলাই সমস্তই যেন জানে।

• জটিল বাক্য: যখন বিপদ আসে, তখন দুঃখও আসে।
• যৌগিক বাক্য: বিপদ ও দুঃখ একসঙ্গে আসে ।

• জটিল: যদি পরিশ্রম কর, তাহলে ফল পাবে।
• যৌগিক: পরিশ্রম কর, তবে ফল পাবে।

• জটিল: যে রক্ষক সেই ভক্ষক।
• যৌগিক: সেই রক্ষক, অথচ সেই ভক্ষক।

• জটিল: যদি সাফল্য চাও তাহলে পরিশ্রম কর।
• যৌগিক: পরিশ্রম কর এবং সাফল্য লাভ কর।

• জটিল: যদিও তিনি দরিদ্র তথাপি সৎ।
• যৌগিক: তিনি দরিদ্র, কিন্তু সৎ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২,৯০২.
‘সবার উপরে মানুষ সত্য, তাহার উপরে নাই'- কে বলেছেন?
  1. ক) চণ্ডীদাস
  2. খ) বিদ্যাপতি
  3. গ) রামকৃষ্ণ পরমহংস
  4. ঘ) বিবেকানন্দ
সঠিক উত্তর:
ক) চণ্ডীদাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) চণ্ডীদাস
ব্যাখ্যা
• চন্ডীদাসের বিখ্যাত উক্তি:
- 'শুনহ মানুষ ভাই, সবার উপর মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই।'
- 'সই কেবা শুনাইল শ্যাম নাম।',
- 'সখি কেমনে ধরিব হিয়া, আমার বধূয়া আনবাড়ী যায় আমার আঙিনা দিয়া।'

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ।
২,৯০৩.
“সে ঘর ঝাড়ু দিল, ঘর মুছল, তারপর পড়তে বসল।” — বাক্যটি যৌগিক হওয়ার কারণ—
  1. এতে একটি মাত্র সমাপিকা ক্রিয়া আছে
  2. এতে অধীন বাক্য রয়েছে
  3. স্বাধীন খণ্ডবাক্য যোজক দিয়ে যুক্ত হয়েছে
  4. এতে সাপেক্ষ যোজক ব্যবহৃত হয়েছে
সঠিক উত্তর:
স্বাধীন খণ্ডবাক্য যোজক দিয়ে যুক্ত হয়েছে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বাধীন খণ্ডবাক্য যোজক দিয়ে যুক্ত হয়েছে
ব্যাখ্যা

• যৌগিক বাক্য:
দুই বা ততোধিক স্বাধীন বাক্য যখন যোজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে একটি বাক্যে পরিণত হয়, তখন তাকে যৌগিক বাক্য বলে।

- এবং, ও, আর, অথবা, বা, কিংবা, কিন্তু, অথচ, সেজন্য, ফলে ইত্যাদি যোজক যৌগিক বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। কমা (,), সেমিকোলন (;), কোলন (:), ড্যাশ (−) ইত্যাদি যতিচিহ্নও যোজকের কাজ করে।

যেমন:
- হামিদ বই পড়ছে, আর সীমা রান্না করছে।
- সে ভালো ফল করেছে তাই আমরা আনন্দিত হয়েছি।
- সে ঘর ঝাড়ু দিল, ঘর মুছল, তারপর পড়তে বসল ৷
- অন্ধকার হয়ে এসেছে অথচ সে বাসাই ফিরেনি।
- তোমরা চেষ্টা করেছ, কিন্তু আশানুরূপ ফল পাওনি এতে দোষের কিছু নেই।

যৌগক বাক্য গঠনে শর্ত:
- যৌগিক বাক্যে কমপক্ষে দুটো খণ্ডবাক্য থাকবে।
- খণ্ডবাক্যগুলো পরস্পর নিরপেক্ষ বা স্বাধীন, এক অপরের ওপর নির্ভরশীল নয়।
- খণ্ডবাক্যগুলো বিভিন্ন অব্যয়যোগ এক অপরের সঙ্গে যুক্ত থাকবে। কখনো কখনো এগুলো উহ্যও থাকতে পারে।

সুতরাং,
সে অনুসারে, “সে ঘর ঝাড়ু দিল, ঘর মুছল, তারপর পড়তে বসল।” — বাক্যটি যৌগিক হওয়ার কারণ— স্বাধীন খণ্ডবাক্য যোজক দিয়ে যুক্ত হয়েছে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।

২,৯০৪.
ছোটো ছোটো বিতর্কিত অংশ নির্দেশ করার জন্যে কোন যতিচিহ্নটি ব্যবহৃত হয়?
  1. কোলন
  2. ড্যাশ
  3. হাইফেন
  4. সেমিকোলন
সঠিক উত্তর:
সেমিকোলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সেমিকোলন
ব্যাখ্যা
• সেমিকোলন-চিহ্ন (;):
সেমিকোলন বা অর্ধচ্ছেদ হলো বাক্যের মধ্যে ব্যবহৃত এক ধরনের বাক্যান্তর্গত চিহ্ন। একাধিক বাক্যের মধ্যে অর্থের নিকট-সম্মন্ধ থাকলে বাক্যগুলোকে একটু বেশি থামার চিহ্ন দিয়ে ভাগ করতে হয়। এর জন্যে সেমিকোলন বসে। সেমিকোলনের বিরামের অনুপাত কমার (,) দ্বিগুণ।

নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে সেমিকোলন ব্যবহৃত হয়-
১. একাধিক স্বাধীন বাক্যকে একটি বাক্যে লিখলে সেগুলোর মাঝখানে সেমিকোলন ব্যবহৃত হয়। যেমন-তিনি শুধু তামাশা দেখিতেছিলেন; কোথাকার জল কোথায় গিয়া পড়ে।

২. বক্তব্য স্পষ্ট করার জন্যে সমজাতীয় বাক্য পাশাপাশি প্রতিস্থাপন করলে সেমিকোলন ব্যবহৃত হয়। যেমন-'বৃদ্ধ তাহারাই যাহারা মায়াচ্ছন্ন নব মানবের অভিনব জয়যাত্রার শুধু বোঝা নয়, বিঘ্ন; শতাব্দীর নব যাত্রীর চলার ছন্দে ছন্দ মিলাইয়া যাহারা কুচকাওয়াজ করিতে জানে না, পারে না; জীব হইয়াও জড়; যাহারা অটল সংস্কারের পাষাণ-স্তূপ আঁকড়িয়া পড়িয়া আছে।'

৩. দুটি বা তিনটি বাক্য যোজক শব্দের সাহায্যে যুক্ত না হলে সেমিকোলন ব্যবহৃত হয়। যেমন-আগে পাঠ্যবই পড়; পরে গল্প-উপন্যাস।

8. কোনো তালিকায় একাধিক ব্যক্তির নাম ও তাঁদের পদের উল্লেখ থাকলে বোঝবার সুবিধার জন্যে সেমিকোলন ব্যবহার করা হয়। যেমন- এবারের নবনিচিত কার্যনির্বাহী পরিষদে যাঁরা রয়েছেন তাঁরা হলেন: আকবরউদ্দিন আহমদ, সভাপতি; আফসার রায়হান, সাধারণ সম্পাদক; চিত্ত বড়ুয়া, প্রচার সম্পাদক; এন্ড্রু গোমেজ, সংস্কৃতি সম্পাদক; ইত্যাদি।

৫. সেজন্যে, তবু, তথাপি, সুতরাং ইত্যাদি যে-সব যোজক বৈপরীত্য বা অনুমান প্রকাশ করে তাদের আগে সেমিকোলন বসে। যেমন-সে ফেল করেছে; সেজন্যে সে মুখ দেখায় না। মনোযোগ দিয়ে পড়; তাহলেই পাশ করবে।

৬. যেসব বাক্যে ভাবসাদৃশ্য আছে তাদের মধ্যে সেমিকোলন বসে। যেমন- দিনটা ভালো নয়; মাঝে মাঝে বৃষ্টি পড়ছে।

৭. ছোটো ছোটো বিতর্কিত অংশ নির্দেশ করার জন্যে সেমিকোলন বসে। যেমন-মেয়েটি, যে প্রথম হয়েছে, একটি পুরস্কার পেয়েছে; এবার আশা করা যায়, সে আরো ভালো করবে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২,৯০৫.
নিচের কোনটি অশুদ্ধ বানান?
  1. ক) উপাহার
  2. খ) উপাখ্যান
  3. গ) উল্কাপিন্ড
  4. ঘ) উপার্জন
সঠিক উত্তর:
গ) উল্কাপিন্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) উল্কাপিন্ড
ব্যাখ্যা
• উল্কাপিন্ড বানানটি অশুদ্ধ।

• বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
এর শুদ্ধরূপ - উল্কাপিণ্ড।

• উল্কাপিণ্ড (বিশেষ্য)
- সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ: উল্কারূপে ভূপৃষ্ঠে পতিত প্রস্তরখণ্ড।

অন্য অপশনগুলো, 
• 'উপাহার'- সংস্কৃত শব্দ- যার অর্থ: অল্প আহার, স্বল্পাহার, জলযোগ। 
• 'উপাখ্যান'- কল্প কাহিনি ,রূপকথা। 
• 'উপার্জন'- কাজের বিনিময়ে টাকা পাওয়া,  আয়।  

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
২,৯০৬.
'আমার সোনার বাংলায়, বৈষম্যের ঠাঁই নাই।'-কোন ধরনের বাক্য?
  1. সরল
  2. জটিল
  3. যৌগিক
  4. আশ্রিত
সঠিক উত্তর:
সরল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সরল
ব্যাখ্যা

• সরল বাক্য:
যে বাক্যে একটিমাত্র কর্তা (উদ্দেশ্য) এবং একটিমাত্র সমাপিকা ক্রিয়া (বিধেয়) থাকে, তাকে সরল বাক্য বলে।
যথা:
- পুকুরে পদ্মফুল জন্মে।
- জ্ঞানী লোক সকলের শ্রদ্ধার পাত্র।
- পরিশ্রমী লোকই সাফল্য লাভ করে।

এরূপ-
“আমার সোনার বাংলায়, বৈষম্যের ঠাঁই নাই।”- এটি একটি সরল বাক্য। 

কারণ, এই বাক্যে একটি মাত্র 'উদ্দেশ্য' (আমার সোনার বাংলা) এবং একটি মাত্র 'বিধেয়' (বৈষম্যের ঠাঁই নাই) থাকায় এটি সরল বাক্যের অন্তর্ভুক্ত।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

২,৯০৭.
যিনি সৎ পথে চলেন, তিনি সুখী হন—কী ধরনের বাক্য?
  1. ক) সরল
  2. খ) যৌগিক
  3. গ) জটিল
  4. ঘ) ইচ্ছাসূচক
সঠিক উত্তর:
গ) জটিল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) জটিল
ব্যাখ্যা

জটিল বাক্য বা মিশ্র বাক্য: যে বাক্যের মধ্যে একটি প্রধান বাক্য থাকে এবং একাধিক বাক্যকে প্রধান বাক্যের ওপর নির্ভরশীল দেখা যায়, তাকে জটিল বাক্য বা মিশ্র বাক্য বলে৷
যেমন-
যে পরিশ্রম করে, সে-ই সুখ লাভ করে৷
যিনি সৎ পথে চলেন, তিনি সুখী হন।
উৎসঃ বাংলা ব্যকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি৷

২,৯০৮.
একই ধরণের বর্গকে পাশাপাশি সাজাতে কোন যতিচিহ্ন ব্যবহৃত হয়?
  1. দাঁড়ি
  2. সেমিকোলন
  3. ড্যাশ
  4. কোলন
সঠিক উত্তর:
সেমিকোলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সেমিকোলন
ব্যাখ্যা
• 'সেমিকোলন’:
স্বাধীন অথচ ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত একাধিক বাক্যকে এক বাক্যে পরিণত করার কার্যে অথবা একই ধরণের বর্গকে পাশাপাশি সাজাতে সেমিকোলন ( ; ) ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- সোহাগ ক্রিকেট পছন্দ করে; আমি ফুটবল পছন্দ করি।

• সেমিকোলন চিহ্নের ব্যবহার:
- একাধিক স্বাধীন বাক্যকে একটি স্বাধীন বাক্যে লিখতে সেগুলোর মাঝে সেমিকোলন বসে।
- কমা’র বারংবার ব্যবহারের পর কিন্তু দাঁড়ির আগে সেমিকোলন বসে।
- কমা অপেক্ষা অধিক বিরতির প্রয়োজন হলে সেমিকোলন বসে।
- কোনো তালিকায় বিদ্যমান একাধিক ব্যক্তির নাম ও পদের তালিকা অনুধাবনের সুবিধার্থে সেমিকোলন ব্যবহার করা হয়।
যেমন- গঠিত কমিটিতে সভাপতি, মোহাম্মদ আমজাদ; সহ-সভাপতি, নুর উদ্দীন; সাধারণ সম্পাদক, হামেদ আলি প্রমুখ।
- ছোটো ছোটো বিতর্কিত অংশ নির্দেশ করার জন্য সেমিকোলন বসে। যেমন: মেয়েটি, যে প্রথম হয়েছে, একটি পুরস্কার; এবার আশা করা যায়, সে আরো ভালো করবে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২,৯০৯.
অশুদ্ধ বাক্য -
  1. পাতায় পাতায় পড়ে শিশির নিশির।
  2. শকুনের দোয়ায় গরু মরে না।
  3. এখানে গরুর খাঁটি দুধ পাওয়া যায়।
  4. চোখে সরষেফুল দেখছি।
সঠিক উত্তর:
পাতায় পাতায় পড়ে শিশির নিশির।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাতায় পাতায় পড়ে শিশির নিশির।
ব্যাখ্যা
অশুদ্ধ: পাতায় পাতায় পড়ে শিশির নিশির।
শুদ্ধ: পাতায় পাতায় পড়ে নিশির শিশির।

অন্যদিকে,
শুদ্ধ: চোখে সরষেফুল দেখছি।
শুদ্ধ: এখানে গরুর খাঁটি দুধ পাওয়া যায়।
শুদ্ধ: শকুনের দোয়ায় গরু মরে না।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২,৯১০.
শুদ্ধ বানান কোনটি?
  1. কুলাটা
  2. গবক্ষ
  3. শুদ্ধোদন
  4. প্রোঢ়
সঠিক উত্তর:
শুদ্ধোদন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শুদ্ধোদন
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
শুদ্ধোদন/শুদ্ধোদন বানানটি সঠিক। 
অর্থ- শুধরানো/শুঘ্রানো/ [বা.] ক্রিবি, 'শোধরানো'-র সাধু রূপ।

• অন্যদিকে, 
- শুদ্ধবানান- কুলটা (কুলাটা নয়),
- শুদ্ধবানান- গবাক্ষ (গবক্ষ নয়),
- শুদ্ধবানান- প্রৌঢ় (প্রোঢ় নয়),

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
২,৯১১.
কোন বাক্যটির শুদ্ধ প্রয়োগ হয়েছে?
  1. এ রূপ জীবন কল্পনা করিতেও আমাদের আতঙ্কিত হয়েছিল।
  2. তোমাকে দেখে সে আশ্চর্যান্বিত হয়েছে।
  3. অন্যায়ের প্রতিফল দুর্নিবার্য।
  4. জ্যোৎস্না রাত বড়ই মাধুর্যময়।
সঠিক উত্তর:
তোমাকে দেখে সে আশ্চর্যান্বিত হয়েছে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তোমাকে দেখে সে আশ্চর্যান্বিত হয়েছে।
ব্যাখ্যা
• তোমাকে দেখে সে আশ্চর্যান্বিত হয়েছে।- শুদ্ধ বাক্য। 

• অন্যদিকে: 
- অশুদ্ধ: এ রূপ জীবন কল্পনা করিতেও আমাদের আতঙ্কিত হয়েছিল।
- শুদ্ধ বাক্য: এরূপ জীবন কল্পনা করিতেও আমাদের আতঙ্ক হয়েছিল।

- অশুদ্ধ: অন্যায়ের প্রতিফল দুর্নিবার্য। 
- শুদ্ধ: অন্যায়ের প্রতিফলন অনিবার্য।

- অশুদ্ধ: জ্যোৎস্না রাত বড়ই মাধুর্যময়। 
- শুদ্ধ: জ্যোৎস্না রাত বড়ই মধুর। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৯১২.
‘সকল আলেমগণ আজ উপস্থিত'- বাক্যটিতে কোন দোষ আছে?
  1. ক) গুরুচন্ডালী দোষ
  2. খ) বাহুল্য দোষ
  3. গ) দুর্বোধ্যতা দোষ
  4. ঘ) বিদেশী শব্দ দোষ
সঠিক উত্তর:
খ) বাহুল্য দোষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বাহুল্য দোষ
ব্যাখ্যা
"সকল আলেমগণ আজ উপস্থিত"- বাক্যটিতে বাহুল্য দোষ রয়েছে। 

• বাহুল্য দোষ:
প্রয়ােজনের অতিরিক্ত শব্দ ব্যবহার করলে বাক্যে বাহুল্য দোষ ঘটে এবং শব্দ তার যােগ্যতা গুণ হারিয়ে ফেলে।
• যেমন- দেশের সব শিক্ষকগণ এখানে উপস্থিত হয়েছেন।
বাংলা ভাষায় একই বাক্যে দুইবার বহুবচন ব্যবহৃত হয় না।
দুইবার বহুবচন বাচক চিহ্ন বা শব্দ ব্যবহার করলে শব্দ বাহুল্য দোষে দুষ্ট হয়।
বাক্যটি হবে দেশের "সকল আলেম আজ উপস্থিত" অথবা "আলেমগণ আজ উপস্থিত"।

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৯১৩.
কোনটি শুদ্ধ বানান?
  1. প্রতিদ্বন্দ্বীতা
  2. প্রতিদন্দ্বিতা
  3. প্রতিদ্বন্দীতা
  4. প্রতিদ্বন্দ্বিতা
সঠিক উত্তর:
প্রতিদ্বন্দ্বিতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রতিদ্বন্দ্বিতা
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান - 'প্রতিদ্বন্দ্বিতা'
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
- শব্দটি সংস্কৃত ভাষা হতে আগত।
এর অর্থ:
- পরস্পরের দ্বন্দ্ব বা বিরোধ,
- প্রতিপক্ষের সঙ্গে শক্তি পরিক্ষা,
- প্রতিযোগিতা।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
২,৯১৪.
বাংলা ভাষায় প্রচলিত যতিচিহ্নগুলোর মধ্যে ‘উদ্ধারচিহ্ন’ এর কাজ কী?
  1. বিস্ময় প্রকাশ
  2. শব্দসংক্ষেপ
  3. উদাহরণ উপস্থাপন করা
  4. উদ্ধৃত করা
সঠিক উত্তর:
উদ্ধৃত করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উদ্ধৃত করা
ব্যাখ্যা
উদ্ধারচিহ্ন ('-'), ("-"):
- কোনো কিছু উদ্ধৃত করার কাজে উদ্ধারচিহ্নের ব্যবহার হয়।
- উদ্ধারচিহ্ন দুই রকম: একক ও দ্বৈত।
যেমন:
- 'সিরাজউদ্দৌলা' একটি ঐতিহাসিক নাটক।
- আমাদের কণ্ঠ শুনে প্রিয়ন্তি ঘর থেকে বেরিয়ে এল, "ও আপনারা এসে গেছেন! বাসা চিনতে কোনো কষ্ট হয়নি তো?"

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)। 
২,৯১৫.
বাক্যে পাদচ্ছেদ যতিচিহ্ন থাকলে, বিরতির সময়কাল কত?
  1. থামার প্রয়োজন নেই
  2. এক সেকেন্ড
  3. এক বলার দ্বিগুণ সময়
  4. এক বলতে যে সময় লাগে
সঠিক উত্তর:
এক বলতে যে সময় লাগে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এক বলতে যে সময় লাগে
ব্যাখ্যা
• যতিচিহ্ন:
মুখের কথা লিখিত রূপ দেওয়ার সময় কম-বেশি থামা বোঝাতে যতিচিহ্ন ব্যবহৃত হয়। বক্তব্যকে স্পষ্ট করতেও যতিচিহ্ন ব্যবহৃত হয়। যতিচিহ্নকে বিরামচিহ্ন বা বিরতি চিহ্নও বলা হয়।

♦ বাক্যে যতিচিহ্ন অনুসারে থামার পরিমাণ-

• কমা বা পাদচ্ছেদ থাকলে -
- 'এক' বলতে যে সময় লাগে সেই পরিমাণ সময় থামতে হয়।

• সেমিকোলন বা অর্ধচ্ছেদ থাকলে -
- 'এক' বলার দ্বিগুণ সময় থামতে হয়।

• হাইফেন, ইলেক বা লোপ চিহ্ন ও ব্র্যাকেট থাকলে -
- থামার প্রয়োজন হয় না।

• দাঁড়ি বা পূর্ণচ্ছেদ, প্রশ্নবোধক চিহ্ন, বিস্ময় চিহ্ন, কোলন, কোলন ড্যাস, ড্যাস ইত্যাদি চিহ্ন থাকলে -
- 'এক' সেকেন্ড থামতে হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২,৯১৬.
কোনটি কর্মবাচ্যের উদাহরণ?
  1. আমরা কঠোর পরিশ্রম করি।
  2. আসামিকে জরিমানা করা হয়েছে।
  3. তারা বাড়িটি তৈরি করেছে।
  4. আমার যাওয়া হল না।
সঠিক উত্তর:
আসামিকে জরিমানা করা হয়েছে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আসামিকে জরিমানা করা হয়েছে।
ব্যাখ্যা
কর্মবাচ্য:
- যে বাক্যের ক্রিয়া কর্মকে অনুসরণ করে, তাকে কর্মবাচ্য বলে।

যেমন:
পুলিশ কর্তৃক ডাকাত ধৃত হয়েছে।
চিঠিটা পড়া হয়েছে ।
তাদের দ্বারা বাড়িটি তৈরি হয়েছে।
আসামিকে জরিমানা করা হয়েছে

অন্যদিকে,
কর্তাবাচ্য - তারা বাড়িটি তৈরি করেছে। আমরা কঠোর পরিশ্রম করি।
ভাববাচ্য - আমার যাওয়া হল না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
২,৯১৭.
একটি বাক্যের প্রধান দুটি অংশ থাকে। যথা -
  1. উপমা, অলংকার
  2. উদ্দেশ্য, বিধেয়  
  3. সাধু, চলিত
  4. বাচ্যার্থ, লক্ষার্থ
সঠিক উত্তর:
উদ্দেশ্য, বিধেয়  
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উদ্দেশ্য, বিধেয়  
ব্যাখ্যা
• একটি বাক্যের প্রধান দুটি অংশ থাকে।
যথা:
১. উদ্দেশ্য,
২. বিধেয়।

• উদ্দেশ্য:
বাক্যের যে অংশে কাউকে উদ্দেশ্য করে কিছু বলা হয় সেই অংশকে বাক্যের উদ্দেশ্য বলে।
যেমন:
- মামুন বল খেলে।
এই বাক্যে মামুনকে উদ্দেশ্য করে বলা হচ্ছে।
অতএব 'মামুন' বাক্যটির উদ্দেশ্য।

• বিধেয়:
কর্তা বা উদ্দেশ্য সম্বন্ধে বাক্যে যা কিছু বলা হয় তাকে বিধেয় বলে।
বিধেয় অংশে সাধারণত ক্রিয়া থাকে।
যেমন:
- মামুন বল খেলে।
এখানে 'বল খেলে' অংশটি বাক্যের বিধেয়।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২,৯১৮.
নিচের কোনটি শুদ্ধ বানান?
  1. প্রজ্জ্যোল
  2. প্রোজ্জ্বল
  3. প্রোজ্জল
  4. প্রজ্যোল
সঠিক উত্তর:
প্রোজ্জ্বল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রোজ্জ্বল
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান 'প্রোজ্জ্বল'
- বিশেষণ পদ।
- সংস্কৃত শব্দ
- প্রকৃতি প্রত্যয়: প্র+উজ্জ্বল।
অর্থ:
- বিশেষ ভাবে উজ্জ্বল

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
২,৯১৯.
'সুস্বাস্থ্য' শব্দটি কী কারণে অশুদ্ধ?
  1. সমার্থ শব্দের বাহুল্যজনিত কারণে
  2. প্রত্যয়জনিত কারণে
  3. সমাস-ঘটিত কারণে
  4. সন্ধি বিষয়ক কারণে
সঠিক উত্তর:
সমার্থ শব্দের বাহুল্যজনিত কারণে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমার্থ শব্দের বাহুল্যজনিত কারণে
ব্যাখ্যা

• 'সুস্বাস্থ্য' শব্দটি সমার্থ শব্দের বাহুল্যজনিত কারণে অশুদ্ধ।
• শুদ্ধ শব্দ: স্বাস্থ্য।

• সমার্থ শব্দের বাহুল্যজনিত অশুদ্ধি:

শুদ্ধ:অদ্যাপি/অদ্যও
অশুদ্ধ:অদ্যাপিও

শুদ্ধ:অশ্রু
অশুদ্ধ:অশ্রুজল

শুদ্ধ:আয়ত্ত/অধীন
অশুদ্ধ: আয়ত্তাধীন

শুদ্ধ: আরক্ত/রক্তিম
অশুদ্ধ:আরক্তিম

শুদ্ধ:কেবল/মাত্র
অশুদ্ধ:কেবলমাত্র

উৎস: ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।

২,৯২০.
'বিকাল পাঁচটায় অফিস ছুটি হবে।' - বাক্যে 'বিকাল পাঁচটায়' কোন কারক?
  1. সম্বন্ধ কারক
  2. অপাদান কারক
  3. অধিকরণ কারক
  4. কর্মকারক
সঠিক উত্তর:
অধিকরণ কারক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অধিকরণ কারক
ব্যাখ্যা
অধিকরণ কারক:
- যে কারকে স্থান, কাল, বিষয় ও ভাব নির্দেশিত হয়, তাকে অধিকরণ কারক বলে।
- এই কারকে সাধারণত -'এ', –'য়', -'য়ে', -তে ইত্যাদি বিভক্তি শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়।
যেমন -
- বাবা বাড়িতে আছেন।
- বিকাল পাঁচটায় অফিস ছুটি হবে।
- রাজীব বাংলা ব্যাকরণে ভালো।

অন্যদিকে,
সম্বন্ধ কারক:
- যে কারকে বিশেষ্য ও সর্বনামের সঙ্গে বিশেষ্য ও সর্বনামের সম্পর্ক নির্দেশিত হয়, তাকে সম্বন্ধ কারক বলে।
- এই কারকে ক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক পরোক্ষ।
- এই কারকে শব্দের সঙ্গে ‘র’, -এর’, -য়ের’, ‘কার’, ‘কের ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়।

অপাদান কারক:
- যে কারকে ক্রিয়ার উৎস নির্দেশ করা হয়, তাকে অপাদান কারক বলে।
- এই কারকে সাধারণত হতে’, ‘থেকে ইত্যাদি অনুসর্গ শব্দের পরে বসে।
 যেমন: 
- জমি থেকে ফসল পাই।

কর্ম কারক:
- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে কর্ম কারক বলে।
- বাক্যের মুখ্য কর্ম ও গৌণ কর্ম – উভয় ধরনের কর্মই কর্ম কারক হিসেবে গণ্য হয়।
- সাধারণত মুখ্য কর্ম কারকে বিভক্তি হয় না, তবে গৌণ কর্ম কারকে ‘কে’ বিভক্তি হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
২,৯২১.
কোন যতিচিহ্নের বিরতিকাল 'এক সেকেন্ড' নয়?
  1. ড্যাস
  2. বিস্ময়চিহ্ন
  3. কোলন
  4. হাইফেন
সঠিক উত্তর:
হাইফেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাইফেন
ব্যাখ্যা
যেসকল যতিচিহ্নের বিরতিকালের পরিমাণ 'এক সেকেন্ড':
- দাঁড়ি বা পূর্ণচ্ছেদ,
- প্রশ্নবোধক চিহ্ন,
- বিস্ময়চিহ্ন,
- কোলন,
- কোলন ড্যাস,
- ড্যাস

থামার প্রয়োজন নেই:
- হাইফেন,
- ইলেক বা লোপ চিহ্ন,
- ব্র্যাকেট।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২,৯২২.
মুক্তাক্ষর বা মুক্তদল ছন্দের কোন স্থানে থাকে? 
  1. শেষে
  2. শুরুতে
  3. মাঝখানে
  4. সব স্থানে
সঠিক উত্তর:
শুরুতে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শুরুতে
ব্যাখ্যা

মুক্তাক্ষর বা মুক্তদল সাধারণত ছন্দের শুরুতে থাকে।

• মুক্তাক্ষর:
- অযুগ্ন বা মুক্ত স্বরান্ত ধ্বনিকে মুক্তাক্ষর বলে। 
- একে স্বরান্ত অক্ষরও বলা হয়।
- মুক্তাক্ষর বা মুক্তদল হলো ছন্দের সেই অংশ যা বাক্যের মূল ছন্দের বাইরে থাকে।
- এটি সাধারণত বাক্যের শুরুতে অবস্থান করে।
- মুক্তদল ছন্দের মূল অংশের (বদ্ধাক্ষরের) আগে আসে।
- মুক্তাক্ষরের মাত্রা সাধারণত এক মাত্রা।
- মুক্তাক্ষর হলো ছন্দের সূচনাকারী একমাত্রা। 
- এটি ছন্দের বাকি অংশের সঙ্গে মিলিয়ে বাক্যের গতি ও ছন্দ নির্ধারণে সহায়তা করে।
- যখন মূল বদ্ধাক্ষর (ছন্দের প্রধান অংশ) শুরু হয়, তখন মুক্তাক্ষরের উপস্থিতি বাকি ছন্দের জন্য প্রারম্ভিক তাল ও সমন্বয় তৈরি করে।
- ফলে পুরো বাক্যের ছন্দ এবং গতি সুষম ও স্বাভাবিকভাবে প্রবাহিত হয়।
- মুক্তাক্ষর অংশের ব্যবহার- ছন্দকে স্বতন্ত্র ও প্রাথমিক রূপ প্রদান করে, যাতে মূল ছন্দের প্রবাহ সুন্দরভাবে প্রকাশ পায়।
- উদাহরণস্বরূপ, “কবির কণ্ঠে হে বন্ধু বাজে সুর”–এখানে "হে বন্ধু" অংশটি শুরুতে মুক্তদল হিসেবে বসে, যা বাক্যের বাকি ছন্দকে সুন্দরভাবে সূচনা দেয়।

উৎস:
বাংলা কবিতার ছন্দ বিশ্লেষণ;
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।

২,৯২৩.
বাক্যের অর্থ সঙ্গতি রক্ষার জন্য পরোক্ষ উক্তিতে কিসের  পরিবর্তন করতে হয়?
  1. ক) ক্রিয়াপদের
  2. খ) বিশেষণের
  3. গ) সর্বনামের 
  4. ঘ) অনুসর্গ
সঠিক উত্তর:
ক) ক্রিয়াপদের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ক্রিয়াপদের
ব্যাখ্যা
বাক্যের অর্থ সঙ্গতি রক্ষার জন্য পরোক্ষ উক্তিতে ক্রিয়াপদের পরিবর্তন করতে হয়।
যেমন - 
প্রত্যক্ষ উক্তি : হিরণ বলল, “আমি এক্ষুণি আসছি।” 
পরোক্ষ উক্তি : হিরণ বলল যে, সে তক্ষুণি যাচ্ছে। 

উৎস : বাংলা দ্বিতীয় পত্র, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ।
২,৯২৪.
শুদ্ধ বানান নির্ণয় করুন-
  1. দেদীপ্যমাণ
  2. দেদীপ্যমান
  3. দেদিপ্যমাণ
  4. দেদিপ্যমান
সঠিক উত্তর:
দেদীপ্যমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দেদীপ্যমান
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি আধুনিক বানান অভিধান অনুসারে, 
• 'দেদীপ্যমান' বানানটি সঠিক।

• দেদীপ্যমান (বিশেষণ) শব্দের অর্থ:
- অত্যন্ত উজ্জ্বল বা দীপ্তিময় দেখাচ্ছে এমন;
- অতিশয় দীপ্তিশীল;
- জাজ্বল্যমান, 

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বানান অভিধান।
২,৯২৫.
কর্তৃবাচ্য বাক্যে কর্তার বিভক্তি সাধারণত কী হয়?
  1. পঞ্চমী বিভক্তি
  2. প্রথমা বা শূন্য বিভক্তি
  3. সপ্তমী বিভক্তি
  4. চতুর্থী বিভক্তি
সঠিক উত্তর:
প্রথমা বা শূন্য বিভক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রথমা বা শূন্য বিভক্তি
ব্যাখ্যা
কর্তৃবাচ্য:
- যে বাক্যে কর্তার অর্থ-প্রধান্য রক্ষিত হয় এবং ক্রিয়াপদ কর্তার অনুসারী হয়, তাকে কর্তৃবাচ্য বলে।

যেমন:
- ছাত্ররা অঙ্ক করছে।
- কর্তৃবাচ্যে ক্রিয়াপদ সর্বদাই কর্তার অনুসারী হয়।
- কর্তৃবাচ্যে কর্তায় প্রথমা বা শূন্য বিভক্তি এবং কর্মে দ্বিতীয়া, ষষ্ঠী বা শূন্য বিভক্তি হয়।

যেমন:
- শিক্ষক ছাত্রদের পড়ান।
- রোগী পথ্য সেবন করে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২,৯২৬.
‘ইট–পাথরের দালান’ এখানে ‘ইট–পাথরের’ কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. ক) কর্মে সপ্তমী
  2. খ) কর্তৃকারকে ষষ্ঠী
  3. গ) করণে ষষ্ঠী
  4. ঘ) করণে সপ্তমী
সঠিক উত্তর:
গ) করণে ষষ্ঠী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) করণে ষষ্ঠী
ব্যাখ্যা

ক্রিয়া সম্পাদনের যন্ত্র/সহায়ক উপকরণকে করণ কারক বলা হয়।
এখানে ‘ইট–পাথর’ দিয়ে দালান তৈরি হয় বলে তা করণ কারক।
এর সাথে ‘এর’ বিভক্তি থাকায় এটি করণ কারকে ৬ষ্ঠী বিভক্তি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

২,৯২৭.
সৎ পাত্রে কন্যা দান করিও।’ এখানে সৎ পাত্রে কোন কারক?
  1. কর্মকারক
  2. করণ কারক
  3. সম্প্রদান কারক
  4. কর্তৃকারক
সঠিক উত্তর:
কর্মকারক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্মকারক
ব্যাখ্যা
• কর্মকারক:
- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে কর্মকারক বলে।
- ক্রিয়ার সঙ্গে 'কী' বা 'কাকে' যোগ করে প্রশ্ন করলে কর্মকারক পাওয়া যায়।
- উল্লেখিত বাক্যটিতে 'কী' বা 'কাকে' প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায় তাকেই কর্মকারক বলে।
যেমন:
- ‘সৎপাত্রে কন্যা দান করিও।’ - বাক্যেটিকে কাকে দ্বারা প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় ‘সৎপাত্রে’। অতএব ‘সৎপাত্রে’ কর্ম কারকে সপ্তমী বিভক্তির উদাহরণ।

উল্লেখ্য, বর্তমানে কন্যাকে স্বত্বত্যাগ করে দান করা হয় না।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২,৯২৮.
বাক্যের পদসমূহের অর্থগত ও ভাবগত মেলবন্ধনকে কী বলে?
  1. আসত্তি
  2. আকাঙ্ক্ষা
  3. যোগ্যতা
  4. আসক্তি
সঠিক উত্তর:
যোগ্যতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যোগ্যতা
ব্যাখ্যা
• একটি বাক্যকে সার্থক ও শুদ্ধ হতে হলে কতগুলাে গুণ বা বৈশিষ্ট্য থাকা দরকার।
এগুলাে হচ্ছে- 
- আকাঙ্ক্ষা,
- আসত্তি এবং
- যােগ্যতা।

⇒ আকাক্ষা: বাক্যের অর্থ সম্পূর্ণরূপে স্পষ্টভাবে বােঝার জন্য একপদের পর অন্য পদ শােনার যে ইচ্ছা তা-ই আকাঙ্ক্ষা। 

⇒ আসত্তি: মনােভাব প্রকাশের জন্য বাক্যে শব্দগুলি এমনভাবে পরপর সাজাতে হবে যাতে পরস্পরের মধ্যে সম্পর্ক থাকে এবং ভাষার নিয়ম অনুযায়ী নৈকট্য থাকে।

⇒ যােগ্যতা: বাক্যের পদসমূহের অর্থগত ও ভাবগত মেলবন্ধনের নামই যােগ্যতা। 

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৯২৯.
শুদ্ধ বানান কোনটি?
  1. গর্ভস্ত
  2. বিন্যস্ত
  3. দ্বারস্ত
  4. মনস্ত
সঠিক উত্তর:
বিন্যস্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিন্যস্ত
ব্যাখ্যা

• শুদ্ধ বানান- বিন্যস্ত। 

-------------------------
• স্ত আর স্থ-য়ে গন্ডগোল:

স্ত /স্থ সংক্রান্ত বানান ভুল এড়াবার একটা উপায় আছে। যেসব শব্দে স্থ আছে, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সেসব শব্দ থেকে স্থ বাদ দিলেও অর্থবোধক শব্দ পড়ে থাকবে। কিন্তু স্ত দিয়ে যেসব শব্দ পাচ্ছি সেখানে স্ত বাদ দিলে অর্থবোধক শব্দ পড়ে থাকবে না।

উদাহরণগুলো লক্ষ করি:
• স্ত: অভ্যস্ত, অস্ত, আশ্বস্ত, গ্রস্ত (যেমন: বিপদগ্রস্ত) ত্রস্ত, নিরস্ত, ন্যস্ত, পরাস্ত, পর্যুদস্ত, প্রশস্ত, বিধ্বস্ত, বিন্যস্ত, বিপর্যস্ত, বিশ্বস্ত, ব্যতিব্যস্ত, সন্ত্রস্ত সমস্ত, স্বস্তি।

• স্থ: অন্তঃস্থ, অবস্থা, অভ্যন্তরস্থ, কণ্ঠস্থ, গর্ভস্থ, গৃহস্থ, তটস্থ, দুস্থ, দ্বারস্থ, ভূগর্ভস্থ, মধ্যস্থতা, মনস্থ, মুখস্থ, সভাস্থ, সমাধিস্থ, সুস্থ।

উল্লেখ্য, 'অধীনস্থ' ব্যাকরণসম্মত নয় বটে, কিন্তু বর্তমানে সর্বত্র প্রচলিত।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 

২,৯৩০.
প্রান্তিক বিরামচিহ্ন-  
  1. দাঁড়ি
  2. প্রশ্নচিহ্ন
  3. বিস্ময়চিহ্ন
  4. সবগুলো
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
ব্যাখ্যা

বিরামচিহ্ন:
- বাক্যের অর্থ স্পষ্ট ও ঠিকভাবে প্রকাশ করতে বিরামচিহ্ন ব্যবহৃত হয়।
- মুখের কথা লিখিত রূপে উপস্থাপন করার সময় কম-বেশি থামা বা বিরতি বোঝাতে এবং বক্তব্যকে পরিষ্কার করতে এগুলো ব্যবহৃত হয়।
- বিরামচিহ্নকে কখনও যতিচিহ্ন বা বিরতি চিহ্নও বলা হয়।
- বাক্যের মধ্যে অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে বিরামচিহ্ন দুই ভাগে ভাগ করা যায়—
১. প্রান্তিক বিরামচিহ্ন;
২. বাক্যান্তর্গত বিরামচিহ্ন।

• প্রান্তিক বিরামচিহ্ন:
- এ ধরনের চিহ্ন সাধারণত বাক্যের শেষে বসে।
- যেমন—দাঁড়ি (।), প্রশ্নবোধক চিহ্ন (?), বিস্ময়বোধক চিহ্ন (!)।

• বাক্যান্তর্গত বিরামচিহ্ন:
- এই চিহ্নগুলো বাক্যের মাঝে বা বাক্যের অন্যান্য স্থানে বসে।
- যেমন—কমা (,), কোলন (:), সেমিকোলন (;), ড্যাশ (—), হাইফেন (-) ইত্যাদি।
- এই চিহ্নগুলো বাক্যের গঠন ও অর্থের সঠিক ব্যাখ্যা প্রদান করে।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি-ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।

২,৯৩১.
নিচের কোন বাক্যে বানানের অশুদ্ধ প্রয়োগ ঘটেছে?
  1. মুমূর্ষু রোগীকে শুশ্রূষা করো।
  2. কাউকে তিরস্কার করবে না।
  3. পুরষ্কার পেয়ে সে আনন্দিত হয়েছে।
  4. সে ক্রোধান্ধ হইয়াছে।
সঠিক উত্তর:
পুরষ্কার পেয়ে সে আনন্দিত হয়েছে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পুরষ্কার পেয়ে সে আনন্দিত হয়েছে।
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ বাক্য: পুরষ্কার পেয়ে সে আনন্দিত হয়েছে।
• শুদ্ধ বাক্য: পুরস্কার পেয়ে সে আনন্দিত হয়েছে।

• নিয়ম:
⇒ বিসর্গযুক্ত অ-ধ্বনির সঙ্গে সন্ধি হলে বর্ণে সাধারণত 'স' যুক্ত হয় (পুরঃ + কার = পুরস্কার) এবং বিসর্গযুক্ত ই-ধ্বনির সঙ্গে সন্ধি হলে সাধারণত 'ষ' যুক্ত হয় (বহিঃ + কার = বহিষ্কার)।
⇒ তবে স্ক / স্ক সংক্রান্ত সমস্যার সহজ সমাধানকল্পে বলা যায় : অ-যুক্ত বা মুক্ত বর্ণের পরে সাধারণত 'স' হবে। যেমন: নমস্কার, পুরস্কার, বনস্পতি, তিরস্কার, বাচস্পতি ইত্যাদি। অন্যদিকে ই-যুক্ত বর্ণের পর সাধারণত 'ষ' হবে। যেমন: আবিষ্কার, নিষ্কলঙ্ক, পরিষ্কার, নিষ্ফল, নিষ্প্রভ, নিষ্পাপ, নিষ্পন্ন, নিষ্কর, জ্যোতিষ্ক ইত্যাদি। (স্প / স্ত / স্থ থাকলে 'ষ' হয় না। যেমন: নিস্পন্দ / নিস্তব্ধ / দুস্থ ইত্যাদি)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৯৩২.
কোনটি জটিল বাক্যের উদাহরণ?
  1. উদয়াস্ত পরিশ্রম করব, তথাপি অন্যের দ্বারস্থ হব না।
  2. যেখানে আকাশ আর সমুদ্র একাকার হয়ে গেছে, সেখানেই দিকচক্রবাল।
  3. বস্ত্র মলিন কেন, কেহ জিজ্ঞাসা করিলে সে ধোপাকে গালি পাড়ে, অথচ ধৌত বস্ত্রে তাহার গৃহ পরিপূর্ণ।
  4. দোষ স্বীকার করলে তোমার কোনো শাস্তি হবে না।
সঠিক উত্তর:
যেখানে আকাশ আর সমুদ্র একাকার হয়ে গেছে, সেখানেই দিকচক্রবাল।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যেখানে আকাশ আর সমুদ্র একাকার হয়ে গেছে, সেখানেই দিকচক্রবাল।
ব্যাখ্যা

মিশ্র বা জটিল বাক্য:
- যে বাক্যে একটি প্রধান খণ্ডবাক্যের এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য পরস্পর সাপেক্ষ ভাবে ব্যবহৃত হয়, তাকে মিশ্র বা জটিল বাক্য বলে।

ক্রিয়া-বিশেষণ স্থানীয় খণ্ডবাক্য:
- যে আশ্রিত খণ্ডবাক্য ক্রিয়াপদের স্থান, কাল ও কারণ নির্দেশক অর্থে ব্যবহৃত হয় তাকে ক্রিয়া-বিশেষণ স্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য বলে। 

যেমন:
- ‘যতই করিবে দান, তত যাবে বেড়ে।
- তুমি আসবে বলে আমি অপেক্ষা করছি।
- যেখানে আকাশ আর সমুদ্র একাকার হয়ে গেছে, সেখানেই দিকচক্রবাল।

অন্যদিকে,
যৌগিক বাক্য - বস্ত্র মলিন কেন, কেহ জিজ্ঞাসা করিলে সে ধোপাকে গালি পাড়ে, অথচ ধৌত বস্ত্রে তাহার গৃহ পরিপূর্ণ। উদয়াস্ত পরিশ্রম করব, তথাপি অন্যের দ্বারস্থ হব না।
সরল বাক্য - দোষ স্বীকার করলে তোমার কোনো শাস্তি হবে না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

২,৯৩৩.
বানানের নিয়ম অনুসারে কোনটি অশুদ্ধ?
  1. বর্ণালী
  2. খেয়ালি
  3. মিতালি
  4. সোনালি
সঠিক উত্তর:
বর্ণালী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বর্ণালী
ব্যাখ্যা
• বানানের নিয়ম অনুসারে অশুদ্ধ বানান: বর্ণালী।
• এর শুদ্ধরূপ: বর্ণালি।

• বানানের নিয়ম:
আলি প্রত্যয়যুক্ত শব্দে ই-কার ব্যবহৃত হবে।
যেমন- সোনালি, মিতালি, বর্ণালি, খেয়ালি, রুপালি, হেঁয়ালি ইত্যাদি।

[ তবে ‘সোনালী ব্যাংক’ এর (সোনালী) বানানটি ব্যাংক কর্তৃক এভাবেই নিবন্ধিত। তাই সোনালী ব্যাংক লিখতে সোনালী শব্দটিই ব্যবহৃত হবে। যদিও বানানের নিয়ম অনুসারে (সোনালী) শব্দের শুদ্ধ বানান সোনালি।]

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
২,৯৩৪.
অশুদ্ধ বানান কোনটি?
  1. ক) ঊর্ধ্ব
  2. খ) ঊহ্য
  3. গ) ঊষর
  4. ঘ) ঊর্মি
সঠিক উত্তর:
খ) ঊহ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ঊহ্য
ব্যাখ্যা
অশুদ্ধ বানান = ঊহ্য 

শুদ্ধ বানান = উহ্য
উহ্য (উজ্‌ঝোমান্‌):
- বিশেষণ
- সংস্কৃত শব্দ 
- প্রকৃতি প্রত্যয়  √বহ্‌+মান
অর্থ:
- নীত হয়েছে এমন; নীয়মান।
- আকর্ষিত হচ্ছে এমন।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
২,৯৩৫.
অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তির উদাহরণ কোনটি?
  1. ক) বুলবুলিতে ধান খেয়েছে
  2. খ) গোয়ালে গরু আছে
  3. গ) সৎপাত্রে কন্যা দান কর
  4. ঘ) পরাজয়ে ডরে না বীর
সঠিক উত্তর:
খ) গোয়ালে গরু আছে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) গোয়ালে গরু আছে
ব্যাখ্যা
• অধিকরণ কারক:
- ক্রিয়ার আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক। আধার বলতে ক্রিয়া নিষ্পন্ন হওয়ার স্থান, কাল ও ভাবকে বােঝায়।
- অর্থাৎ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল এবং আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক।
- বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথায়, কখন ও কোনাে বিষয় বােঝাতে অধিকরণ কারক হয়।

• অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি অর্থাৎ এ, য়, তে ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়।
যেমন- আধার (স্থান) : আমরা প্রতিদিন কলেজে যাই। কাল (সময়) সকালে সূর্য উঠবে।
----------------------------------------
• 'গোয়ালে গরু আছে' - বাক্যে অধিকরণ কারকে 'সপ্তমী' বিভক্তির প্রয়োগ ঘটেছে।
এই বাক্যে 'গোয়ালে' শব্দ দ্বারা স্থানকে বুঝায় এবং এতে সপ্তমী বিভক্তি (এ) আছে।
তাই এটিই অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তির উদাহরণ।  
 
উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২,৯৩৬.
নিচের কোনটি প্রমিত বানান?
  1. বৈচিত্র
  2. স্বয়ম্বর
  3. কর্ণেল
  4. বৈদগ্ধ্য
সঠিক উত্তর:
বৈদগ্ধ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বৈদগ্ধ্য
ব্যাখ্যা

•  বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
- সঠিক বানান = বৈদগ্ধ্য।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
অর্থ: 
- রসিকতা, রসবোধ, দক্ষতা।

অন্যদিকে,
• অশুদ্ধ = কর্ণেল;
• শুদ্ধ = কর্নেল;

• অশুদ্ধ = স্বয়ম্বর;
• শুদ্ধ = স্বয়ংবর;

• অশুদ্ধ = বৈচিত্র;
• শুদ্ধ = বৈচিত্র্য;

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

২,৯৩৭.
কারক ও বিভক্তি নির্ণয় করুন। “ঘোড়াকে চাবুক মার”
  1. ক) কর্তৃকারকে ৩ য়
  2. খ) কর্তৃকারকে শূন্য
  3. গ) করণে শুন্য
  4. ঘ) করণে ৩য়া
সঠিক উত্তর:
গ) করণে শুন্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) করণে শুন্য
ব্যাখ্যা
ঘোড়াকে চাবুক মার - করণে শুন্য। ঘোড়ায় গাড়ি টানে - কর্তায় সপ্তমী। ঘোড়ায় চরিয়া মর্দ হাতিয়া চলিল - অধিকরণে সপ্তমী।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৯৩৮.
'সকল ছাত্রগণ পাঠে মনোযোগী নয়।' বাক্যটিতে কোন ধরনের অপপ্রয়োগ ঘটেছে?
  1. উপমার অপপ্রয়োগ
  2. বানানের অপপ্রয়োগ
  3. বিশেষ্যের অপপ্রয়োগ
  4. বহুবচনের অপপ্রয়োগ
সঠিক উত্তর:
বহুবচনের অপপ্রয়োগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বহুবচনের অপপ্রয়োগ
ব্যাখ্যা

বহুবচনের অপপ্রয়োগজনিত অশুদ্ধি:
বহু বোঝাতে আমরা বহুবচন ব্যবহার করি। বিশেষ্য পদের সঙ্গে গুলি/গুলো/রা, এরা ইত্যাদি যুক্ত করে বহুবচন তৈরি করা হয়। স্মরণ রাখতে হবে যে বহুবচনের পরে দ্বিত্ব প্রয়োগ হয় না, অর্থাৎ কোনো শব্দকে এক বার বহুবচনে প্রশান্তরিত করলে পুনরায় তার বহুত্ব অপ্রয়োজনীয়। তাই অগণিত, অনেক, বহু, যাবতীয়, সব ইত্যাদি যত বহুত্ববাচক শব্দ আছে, তাদের পরে সংশ্লিষ্ট বিশেষ্য পদের সঙ্গে গুলি/গুলো ইত্যাদি যুক্ত হবে না।
যেমন:
অশুদ্ধ- ক্লাসে অনেক ছাত্রছাত্রীরা এসেছিল।
শুদ্ধ- ক্লাসে অনেক ছাত্রছাত্রী এসেছিল।

অশুদ্ধ- সকল ছাত্রগণ পাঠে মনোযোগী নয়।
শুদ্ধ- সকল ছাত্র পাঠে মনোযোগী নয়।

অশুদ্ধ- অন্যান্য বিষয়গুলোর আলোচনা পরে হবে।
শুদ্ধ- অন্য বিষয়গুলোর আলোচনা পরে হবে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড.  হায়াৎ মামুদ। 

২,৯৩৯.
জটিল বাক্যকে যৌগিক বাক্যে রূপান্তরের ক্ষেত্রে কোন পদ ব্যবহারের মাধ্যমে স্বাধীন বাক্যগুলোকে যুক্ত করতে হয়?
  1. যোজক 
  2. সর্বনাম
  3. যতিচিহ্ন 
  4. বিশেষণ
সঠিক উত্তর:
যোজক 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যোজক 
ব্যাখ্যা

• জটিল বাক্য থেকে যৌগিক বাক্যে রূপান্তর:
সূত্র ক : আশ্রিত খণ্ড বাক্যগুলোকে নিরপেক্ষ খণ্ড বাক্যে পরিণত করতে হবে।
সূত্র খ: জটিল বা মিশ্র বাক্যের উপযোগী শব্দ প্রয়োগের মাধ্যমে সবকটি খণ্ডবাক্যের সম্পর্ক বজায় রাখতে হবে।
সূত্র গ: সাপেক্ষবাচক সর্বনাম বর্জন করে যোজক পদ ব্যবহারের মাধ্যমে স্বাধীন বাক্যগুলোকে যুক্ত করতে হবে।

যেমন:
• জটিল বাক্য: যেহেতু সে নিরপরাধ, সেহেতু সে মুক্তি পাবে। 
• যৌগিক বাক্য: সে নিরপরাধ, অতএব সে মুক্তি পাবে। 

• জটিল বাক্য: যখন বিপদ আসে, তখন দুঃখও আসে।
• যৌগিক বাক্য: বিপদ ও দুঃখ একসঙ্গে আসে ।

• জটিল: যে রক্ষক সেই ভক্ষক।
• যৌগিক: সেই রক্ষক, অথচ সেই ভক্ষক।

• জটিল: যদি সাফল্য চাও তাহলে পরিশ্রম কর।
• যৌগিক: পরিশ্রম কর এবং সাফল্য লাভ কর।

• জটিল: যদিও তিনি দরিদ্র তথাপি সৎ।
• যৌগিক: তিনি দরিদ্র, কিন্তু সৎ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

২,৯৪০.
নিচের কোন বাক্যটিতে শুদ্ধ প্রয়োগ ঘটেছে?  
  1. এই বিষয় প্রমাণ হয়েছে। 
  2. সবিনয় পূর্বক নিবেদন করি।
  3. তোমার সাথে আমার একটি গোপন পরামর্শ আছে।
  4. এই মর্মে প্রত্যায়ন করা যাচ্ছে।
সঠিক উত্তর:
এই মর্মে প্রত্যায়ন করা যাচ্ছে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এই মর্মে প্রত্যায়ন করা যাচ্ছে।
ব্যাখ্যা

এই মর্মে প্রত্যায়ন করা যাচ্ছে- বাক্যটিতে শুদ্ধ প্রয়োগ ঘটেছে। 

শুদ্ধ প্রয়োগ:
- ‘প্রত্যায়ন’ শব্দের অর্থ হলো বিশ্বাস বা প্রত্যয় সৃষ্টি করা।
- ‘প্রত্যয়ন’ শব্দের অর্থ হলো প্রত্যয়করণ বা প্রত্যয়িত করা।
- তাই, “এই মর্মে প্রত্যায়ন করা যাচ্ছে” বাক্যটি সঠিক।
- কারণ এর মানে হচ্ছে- কোনো বিষয় সম্পর্কে বিশ্বাস বা প্রত্যয় উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছে।
- অপরদিকে, “এই মর্মে প্রত্যয়ন করা যাচ্ছে” বাক্যে ‘করা’ শব্দটি দ্বিগুণ ব্যবহার হয়েছে, যা ব্যাকরণগতভাবে অনুচিত।
- অতএব, সঠিক ও উপযুক্ত রূপ হলো “এই মর্মে প্রত্যায়ন করা যাচ্ছে”।

অন্যদিকে,
• “তোমার সাথে আমার একটি গোপন পরামর্শ আছে” বাক্যটি ব্যাকরণগতভাবে ভুল।
- কারণ ‘গোপন’ একটি বিশেষণ, যা সরাসরি ‘পরামর্শ’ বিশেষ্যটির সঙ্গে ব্যবহার করলে অপপ্রয়োগ ঘটে।
- সঠিক রূপ হলো- “তোমার সাথে আমার একটি গোপনীয় পরামর্শ আছে”।
- এখানে বিশেষ্য 'পরামর্শ'-এর সঙ্গে বিশেষণীয় রূপ 'গোপনীয়' ব্যবহার করা হয়েছে । 

• “সবিনয় পূর্বক নিবেদন করি” বাক্যটিও ভুল।
- কারণ ‘সবিনয়’ এবং ‘পূর্বক’ এক অর্থ বহন করে।
- দুটো একসাথে ব্যবহার করলে বাহুল্য দোষ হয়।
- সঠিক রূপ হবে- “বিনয়পূর্বক নিবেদন করি”। 

• “এই বিষয় প্রমাণ হয়েছে” বাক্যটি ভুল।
- কারণ ‘প্রমাণ’ একটি বিশেষ্য, কিন্তু এখানে ‘প্রমাণ হওয়া’ বলে ক্রিয়ার অর্থ বোঝানো হয়েছে।
- এটি বাক্যের গঠন ও পদবিন্যাসের ভুল।
- শুদ্ধ রূপ হলো- “এই বিষয় প্রমাণিত হয়েছে”।
- এখানে ‘প্রমাণিত’ একটি বিশেষণ বা কৃদন্ত পদ হিসেবে ‘এই বিষয়’-কে বিশেষায়িত করছে। 

উৎস: 
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াত মামুদ। 

২,৯৪১.
সমাস সাধিত শব্দের শুদ্ধ প্রয়োগ ঘটেছে কোনটিতে?
  1. নিরহঙ্কারী
  2. অর্ধরাত্রি
  3. নীরোগী
  4. পিতৃহারা
সঠিক উত্তর:
পিতৃহারা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পিতৃহারা
ব্যাখ্যা
• 'পিতৃহারা' - শব্দটিতে শুদ্ধ প্রয়োগ ঘটেছে।

কিছু সমাস সাধিত অশুদ্ধ শব্দের শুদ্ধ প্রয়োগ:
অশুদ্ধ শব্দ - শুদ্ধ শব্দ:
- নিরপরাধী - নিরপরাধ;
- অহর্নিশি - অহর্নিশ;
- নিরহঙ্কারী - নিরহঙ্কার;
- নির্দোষী - নির্দোষ;
- পিতাহারা - পিতৃহারা;
- অর্ধরাত্রি - অর্ধরাত্র;
- নিরভিমানী - নিরভিমান;
- নীরোগী - নীরোগ ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২,৯৪২.
কোনটি জটিল বাক্য নয়?
  1. যে ছেলেটি এখানে এসেছিল, সে আমার ভাই।
  2. যদি তুমি যাও, তবে তার দেখা পাবে।
  3. তাদের যে দৃষ্টি তাতে সামান্য বিস্ময়ের ভাব।
  4. তার ভাই ঋণ করেছিল, আর সে তা পরিশোধ করেছে।
সঠিক উত্তর:
তার ভাই ঋণ করেছিল, আর সে তা পরিশোধ করেছে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তার ভাই ঋণ করেছিল, আর সে তা পরিশোধ করেছে।
ব্যাখ্যা

• জটিল বাক্য:
- যে-সে, যারা-তারা, যিনি-তিনি, যাঁরা তাঁরা, যা-তা প্রভৃতি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যদিও-তবু, যেহেতু-সেহেতু, যত-তত, যেটুকু-সেটুকু, যেমন-তেমন, যখন-তখন প্রভৃতি সাপেক্ষ যোজক দিয়ে যখন অধীন বাক্যগুলো যুক্ত থাকে, তাকে জটিল বাক্য বলে।

যেমন:
- যে ছেলেটি এখানে এসেছিল, সে আমার ভাই।
- যদি তুমি যাও, তবে তার দেখা পাবে।
- তাদের যে দৃষ্টি তাতে সামান্য বিস্ময়ের ভাব।

অন্যদিকে,

যৌগিক বাক্য:
- তার ভাই ঋণ করেছিল, আর সে তা পরিশোধ করেছে।

উৎস: ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ।

২,৯৪৩.
কোনটি অশুদ্ধ বানান?
  1. অগ্রাধিকার
  2. জ্যোতির্বিদ্যা
  3. আগুন্তুক
  4. আগ্নেয়গিরি
সঠিক উত্তর:
আগুন্তুক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আগুন্তুক
ব্যাখ্যা
অশুদ্ধ বানান: আগুন্তুক।

শুদ্ধ বানান: আগন্তুক (বিশেষ্য পদ),
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ:
- অতিথি,
- অপরিচিত ব্যক্তি,
- নবাগত ব্যক্তি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
২,৯৪৪.
নিচের কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. চূর্ণবিচুর্ণ
  2. চূর্নবিচূর্ণ
  3. চুর্নবিচুর্ণ
  4. চূর্ণবিচূর্ণ
সঠিক উত্তর:
চূর্ণবিচূর্ণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চূর্ণবিচূর্ণ
ব্যাখ্যা

- শুদ্ধ বানান - চূর্ণবিচূর্ণ
- এটি একটি বিশেষণ পদ।

শব্দের অর্থ:
- সম্পূর্ণ চূর্ণিত,
- সম্পূর্ণ বিনষ্ট।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

২,৯৪৫.
যৌগিক বাক্য সম্পর্কে নিচের কোনটি সঠিক?
  1. খণ্ডবাক্যগুলো পরস্পর নির্ভরশীল
  2. সব খণ্ডবাক্য একত্রে একটি মাত্র ভাব প্রকাশ করে
  3. প্রতিটি খণ্ডবাক্য আলাদাভাবে সম্পূর্ণ ভাব প্রকাশ করতে পারে
  4. একটিমাত্র সমাপিকা ক্রিয়া থাকে
সঠিক উত্তর:
প্রতিটি খণ্ডবাক্য আলাদাভাবে সম্পূর্ণ ভাব প্রকাশ করতে পারে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রতিটি খণ্ডবাক্য আলাদাভাবে সম্পূর্ণ ভাব প্রকাশ করতে পারে
ব্যাখ্যা

যৌগিক বাক্য (compound sentence):
- পরস্পর নিরপেক্ষ দুই বা ততোধিক সরল বা জটিল বাক্য সংযোজক, সংকোচক, বিয়োজক, ব্যতিরেকাত্মক প্রভৃতি যোজক শব্দ দ্বারা যুক্ত হয়ে যখন একটিমাত্র বাক্য গঠন করে তখন তাকে 'যৌগিক বাক্য' বলে।
যেমন:
- তুমি আস, তবে আমি যাব।(সংযোজক)
- তারা দুজনে আড়ি পেতে ছিল, নইলে চোর ধরা পড়ত না।(ব্যতিরেকাত্মক)
- তার আভাস পেতাম, কিন্তু নাগাল পেতাম না।

• স্মরণ রাখতে হবে-
- যৌগিক বাক্যে কমপক্ষে দুটো খণ্ডবাক্য থাকবে।
- খণ্ডবাক্যগুলো পরস্পর নিরপেক্ষ বা স্বাধীন, একে অপরের ওপর নির্ভরশীল নয়।
-  খণ্ডবাক্যগুলো বিভিন্ন অব্যয়যোগে একে অপরের সঙ্গে যুক্ত থাকবে। কখনো কখনো এগুলো উহ্যও থাকতে পারে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

২,৯৪৬.
'ছাদ থেকে নদী দেখা যায়।' - বাক্যে নিম্নরেখ শব্দটি কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. করণ কারক, তৃতীয়া বিভক্তি
  2. অধিকরণ কারক, সপ্তমী বিভক্তি
  3. অপাদান কারক, পঞ্চমী বিভক্তি
  4. অধিকরণ কারক, পঞ্চমী বিভক্তি
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
অধিকরণ কারক, পঞ্চমী বিভক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অধিকরণ কারক, পঞ্চমী বিভক্তি
ব্যাখ্যা
অধিকরণ কারক:
- যে স্থানে, যে কালে বা যে বিষয়ে ক্রিয়া সম্পন্ন হয়, তাকে ক্রিয়ার আধার বলে। ক্রিয়ার আধারকে অধিকরণ কারক বলে। 

প্রথমা বিভক্তি: আমি আগামীকাল বাড়ি যাব।
দ্বিতীয়া বিভক্তি: মন আমার নাচেরে আজিকে
তৃতীয়া বিভক্তি: খিলিপান দিয়ে ঔষধটা খেয়ে নিও।
পঞ্চমী বিভক্তি: ছাদ থেকে নদী দেখা যায়।
সপ্তমী বিভক্তি: বনে বাঘ থাকে।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।
২,৯৪৭.
নিচের কোনটি অশুদ্ধ?
  1. বিবিধপ্রকার
  2. যদ্যপি
  3. স্বাস্থ্য
  4. প্রয়োজন
সঠিক উত্তর:
বিবিধপ্রকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিবিধপ্রকার
ব্যাখ্যা
• সমার্থ শব্দের বাহুল্যজনিত অশুদ্ধি - বিবিধপ্রকার
- এর শুদ্ধ প্রয়োগ - বিবিধ।

অন্যদিকে,
- প্রয়োজন,
- স্বাস্থ্য,
- যদ্যপি।
উপরিউক্ত শব্দগুলোর প্রয়োগ শুদ্ধ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২,৯৪৮.
‘ণ’ এর সঠিক প্রয়োগ ঘটেছে কোন শব্দে?
  1. ক) লক্ষণ
  2. খ) ত্রিনয়ণ
  3. গ) নির্ণিমেষ
  4. ঘ) খ ও গ উভয়ই
সঠিক উত্তর:
ক) লক্ষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) লক্ষণ
ব্যাখ্যা
‘ণ’ এর সঠিক প্রয়োগ ঘটেছে লক্ষণ, রক্ষণ, প্রশিক্ষণ, আমন্ত্রণ ইত্যাদি শব্দে।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী
২,৯৪৯.
'সুতি কাপড় অনেক দিন টেকে।' - এটি কোন বাচ্যের উদাহরণ?
  1. কর্মকর্তৃবাচ্য
  2. কর্তৃবাচ্য
  3. ভাববাচ্য
  4. কর্মবাচ্য
সঠিক উত্তর:
কর্মকর্তৃবাচ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্মকর্তৃবাচ্য
ব্যাখ্যা
কর্মকর্তৃবাচ্য:
- যে বাক্যে কর্মপদই কর্তৃস্থানীয় হয়ে বাক্য গঠন করে, তাকে কর্মকর্তৃবাচ্যের বাক্য বলে।

যেমন:
- কাজটা ভালো দেখায় না।
- বাঁশি বাজে ঐ মধুর লগনে।
- সুতি কাপড় অনেক দিন টেকে

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
২,৯৫০.
'মা ছিল না বলে কেউ তার চুল বেঁধে দেয়নি।'- এটি একটি কী ধরনের বাক্য?
  1. জটিল
  2. সরল
  3. যৌগিক
  4. মিশ্র
সঠিক উত্তর:
জটিল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জটিল
ব্যাখ্যা

‘মা ছিল না বলে কেউ তার চুল বেঁধে দেয়নি’- এটি একটি জটিল বাক্য।
=================
সাপেক্ষ সর্বনামের বা সাপেক্ষ যোজক ছাড়াও নিম্নের উপায়ে জটিল বাক্য হতে পারে। এই জায়গা অনেক অনেক এবং অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ, অবশ্যই অবশ্যই ভালো করে বুঝে নিতে হবে।  

শর্টকাট : সরল বাক্য + ক্রিয়াবাচক অনুসর্গ + সরল বাক্য = জটিল বাক্য

'মা ছিল না বলে কেউ তার চুল বেঁধে দেয়নি। - এই উদাহরণটি অনেক বইয়ে সরল বাক্য বা যৌগিক বাক্য হিসেবে দেখানো হয়েছে। চলুন সরল বাক্যের শর্তগুলো মনে করি।

সরল বাক্যে অবশ্যই একটি সমাপিকা ক্রিয়া থাকবে। আর যৌগিক বাক্যে অবশ্যই অব্যয় দ্বারা যুক্ত থাকবে অথবা দুটি সরল বাক্যের মাঝে অব্যয়ের পরিবর্তে শুধু কমা থাকবে এবং বাক্যগুলো একটা আরেকটার ওপর নির্ভর করবে না, অর্থাৎ স্বাধীনভাবে ব্যবহৃত হবে। 

এবার ওপরের বাক্যটিকে ভেঙে লিখি। 
মা ছিল না - বলে - কেউ তার চুল বেঁধে দেয়নি।

‘মা ছিল না।’ এটি একটি সরল বাক্য এবং এখানে সমাপিকা ক্রিয়া (ছিল) আছে। 
‘কেউ তার চুল বেঁধে দেয়নি।’ এটিও একটি সরল বাক্য এবং এখানেও সমাপিকা ক্রিয়া (দেয়নি) আছে।   
‘মা ছিল না বলে কেউ তার চুল বেঁধে দেয়নি’ বাক্যে একাধিক সমাপিকা ক্রিয়া আছে এবং একাধিক সরল বাক্য পাওয়া গেছে। সুতরাং এটি সরল বাক্য নয়। 

এবার দেখি এটি যৌগিক বাক্য কি না। যৌগিক বাক্যের মূল কথা হলো দুটি সরল বা জটিল বাক্য বাক্য অব্যয় দ্বারা সংযোগ থাকবে অথবা দুটি সরল বাক্যের মাঝে অব্যয়ের পরিবর্তে কমা থাকবে। যোৗগিক বাক্যের সরল বাক্যগুলো স্বাধীন ও নিরপেক্ষ হবে, অর্থাৎ একটি আরেকটির ওপর নির্ভর করবে না। 

‘মা ছিল না বলে কেউ তার চুল বেঁধে দেয়নি’ বাক্যের অন্তর্গত ‘মা ছিল না’ এবং ‘কেউ তার চুল বেঁধে দেয়নি’ বাক্যের মাঝে কোনো সংযোজক বা বিয়োজক অব্যয় নেই এবং বাক্য দুটি স্বাধীন নয়, একটি অন্যটির ওপর নির্ভর করছে, এখানে অব্যয়ের পরিবর্তে ‘বলে’ নামক অনুসর্গ আছে, তাই এটি যৌগিক বাক্যের শর্ত পূরণ করতে পারে না। 

এবার তবে জটিল বাক্যের শর্তের দিকে যাই। জটিল বাক্যে একটি বাক্য আরেকটি বাক্যের সঙ্গে সাপেক্ষ অবস্থায় থাকবে। এখানে ‘বলে’ অনুসর্গ দুটি বাক্যকে একটির সঙ্গে আরেকটির সাপেক্ষ অবস্থা সৃষ্টি করেছে। ‘বলে’ ক্রিয়া হিসেবে ব্যবহৃত হয়নি, ক্রিয়াবাচক অনুসর্গ হিসেবে বসে একটি বাক্যের সঙ্গে আরেকটি বাক্যের নির্ভরশীলতা বা সাপেক্ষ অবস্থা বুঝিয়েছে। যদি ‘বলে’ ক্রিয়া হিসেবে ব্যবহৃত  হতো তবে সেটি সরল বাক্য হতো। 

অব্যশই অব্যশই মনে রাখতে হবে : বলে দ্বারা যদি ক্রিয়া না বোঝায় তবে ধরে নিতে হবে সেটি ক্রিয়া হিসেবে বাক্যে ব্যবহৃত হয়নি ক্রিয়াবাচক অনুসর্গ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে, আর অবশ্যই বাক্যটি জটিল বাক্য হবে। প্রসঙ্গত ক্রিয়াবাচক অনুসর্গগুলো দেখে নেই। 

[ক্রিয়াজাত অনুসর্গ : ক্রিয়া থেকে নির্মিত অনুসর্গকে ক্রিয়াজাত অনুসর্গ বলে। এ জাতীয় অনুসর্গ হলো : বলে, করে, থেকে, দিয়ে, ধরে, হতে ইত্যাদি। যেমন : ভালো করে পড়াশুনা করো। মন দিয়ে কাজ করো।]

 > কয়েকটি উদাহরণ লক্ষ করি, যে উদাহরণগুলো প্রতিযোগিতমূলক পরীক্ষায় এসেছে।
 - ‘তুমি আসবে বলে হে স্বাধীনতা সাকিনা বিবির কপাল ভাঙল।’ [৩৩তম বিসিএস]
- মা ছিল না বলে কেউ তার চুল বেঁধে দেয়নি। [৩২তম বিসিএস]
 - তুমি আসবে বলে আমি অপেক্ষা করছি।
 ====================

বিশেষ দ্রষ্টব্য: জটিল বাক্যের সমার্থক হিসেবে ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় মিশ্র বাক্য ব্যবহার করেছেন, কিন্তু এটি গ্রহণীয় নয়। কারণ, মিশ্র শব্দটি অনেকাংশে যৌগিক শব্দের সমার্থক হয়ে যায়। তাই পরীক্ষায় জটিল ও মিশ্র থাকলে আর সেটি যদি জটিল বাক্য হয় হবে জটিল উত্তর করবেন।

সূত্র: মুনীর চৌধুরী ও মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী রচিত নবম-দশম শ্রেণির ‘বাংলা ভাষার ব্যাকরণ গ্রন্থ।

২,৯৫১.
নিচের কোন বানানটি সঠিক ?
  1. ক) অন্তর্ভূক্ত
  2. খ) পরাভূত
  3. গ) উদ্ভত
  4. ঘ) ভৌগলিক
সঠিক উত্তর:
খ) পরাভূত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) পরাভূত
ব্যাখ্যা
পরাভূত বানানটি সঠিক ।

অশুদ্ধ গুলোর শুদ্ধ রূপ:
• অন্তর্ভূক্ত -অন্তর্ভুক্ত
• উদ্ভত - উদ্ভূত 
• ভৌগলিক - ভৌগোলিক
 
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
২,৯৫২.
নিচের কোন বানানটি অশুদ্ধ?
  1. কণ্ঠস্থ
  2. পটিয়সী
  3. পীড়াপীড়ি
  4. শুশ্রূষু
সঠিক উত্তর:
পটিয়সী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পটিয়সী
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
'পটিয়সী' - অশুদ্ধ বানান।

• 'পটিয়সী' এর শুদ্ধ বানান: পটীয়সী।
-----------------------
• 'পটীয়ান' শব্দের অর্থ:
- অত্যন্ত পটু, সুদক্ষ।

• 'পটীয়ান' এর স্ত্রীবাচক শব্দ - পটীয়সী।

অন্যদিকে,
কণ্ঠস্থ, পীড়াপীড়ি, শুশ্রূষু - বানানগুলো শুদ্ধ।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
২,৯৫৩.
‘একটা সামান্য কাজও যদি তোমার দ্বারা হত !’ - নিম্নরেখা শব্দটি কোন কারক?
  1. কর্তা কারক
  2. কর্ম কারক
  3. অপাদন কারক
  4. করণ কারক
সঠিক উত্তর:
করণ কারক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
করণ কারক
ব্যাখ্যা
• করণ কারক: 
- যার দ্বারা বা যার সাহায্যে ক্রিয়া সম্পাদিত হয় তাকে করণ কারক বলে। বাক্যের ক্রিয়াপদকে ‘কার দ্বারা' বা 'কী উপায়ে' জিজ্ঞাসা করলে যে উত্তর পাওয়া যায় তা-ই করণ কারক।

- 'নীলু ফুল দিয়ে ঘর সাজায়।' - নীলু কী দিয়ে ঘর সাজায়? ফুল দিয়ে সুতরাং ‘ফুল’ করণ কারক।
- 'কাঠুরে কুড়াল দ্বারা গাছ কাটে।' – কাঠুরে কী দ্বারা গাছ কাটে? কুড়াল দ্বারা। কুড়াল’ করণ কারক।

এরূপ বিভক্তি র + অনুসর্গ ‘দ্বারা’ যোগে :
- ‘একটা সামান্য কাজও যদি তোমার দ্বারা হত !’ - এখানে তোমার দ্বারা করণ কারক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২,৯৫৪.
'এই জমিতে সোনা ফলে' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. অধিকরণ কারকে ৭মী বিভক্তি
  2. করণ কারকে ৭মী বিভক্তি
  3. অপাদান কারকে ৭মী বিভক্তি
  4. কর্ম কারকে ৭মী বিভক্তি
সঠিক উত্তর:
অধিকরণ কারকে ৭মী বিভক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অধিকরণ কারকে ৭মী বিভক্তি
ব্যাখ্যা
• 'এই জমিতে সোনা ফলে' অধিকরণ কারকে ৭মী বিভক্তি।

অধিকরণ কারক:
- যে কারকে স্থান, কাল, বিষয় ও ভাব নির্দেশিত হয়, তাকে অধিকরণ কারক বলে।
- এই কারকে সাধারণত '-এ', '-য়', '-য়ে', '-তে' ইত্যাদি বিভক্তি শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়।
যেমন-
- বাবা বাড়িতে আছেন।
- বিকাল পাঁচটায় অফিস ছুটি হবে।
- রাজীব বাংলা ব্যাকরণে ভালো।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২,৯৫৫.
কোনটি অপাদান কারকের উদাহরণ?
  1. ক) গাছ থেকে কাঠ পাই।
  2. খ) শিক্ষককে জানাও।
  3. গ) মা বাড়িতে আছেন।
  4. ঘ) ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না।
সঠিক উত্তর:
ক) গাছ থেকে কাঠ পাই।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) গাছ থেকে কাঠ পাই।
ব্যাখ্যা
অপাদান কারক:
যে কারকে ক্রিয়ার উত্স নির্দেশ করা হয়, তাকে অপাদান কারক বলে। এই কারকে সাধারণত হতে’, ‘থেকে ইত্যাদি অনুসর্গ শব্দের পরে বসে।
যেমন –
- গাছ থেকে কাঠ পাই।
- কাপটা উঁচু টেবিল থেকে পড়ে ভেঙে গেল।

অন্যদিকে, 
শিক্ষককে জানাও = কর্ম কারক।
ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না = সম্বন্ধ কারক।
বাবা বাড়িতে আছেন = অধিকরণ কারক।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
২,৯৫৬.
পাগলে কিনা বলে, ছাগলে কিনা খায় - উক্ত বাক্যে 'পাগলে' কোন কারক?
  1. করণ কারক
  2. অপাদান কারক
  3. কর্ম কারক
  4. কর্তা কারক
সঠিক উত্তর:
কর্তা কারক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্তা কারক
ব্যাখ্যা
• কারক: 
- মূলত ক্রিয়ার সঙ্গে বাক্যের বিশেষ্য ও সর্বনামের যে সম্পর্ক, তাকে কারক বলে।
- কারক সম্পর্ক বোঝাতে বিশেষ্য ও সর্বনামের সঙ্গে সাধারণত বিভক্তি ও অনুসর্গ যুক্ত হয়ে থাকে।

• কারক ছয় প্রকার:
→ কর্তা কারক,
→ কর্ম কারক,
→ করণ কারক,
→ অপাদান কারক,
→ অধিকরণ কারক ও
→ সম্বন্ধ কারক।

• কর্তা কারক: 
- ক্রিয়া যার দ্বারা সম্পাদিত হয়, তাকে কর্তাকারক বলে।
- বাক্যের কর্তা বা উদ্দেশ্যই কর্তা কারক।
- কর্তা কারকে সাধারণত বিভক্তি যুক্ত হয় না।

যেমন -
- আমরা নদীর ঘাট থেকে রিকশা নিয়েছিলাম।
- অনেকগুলো বন্য হাতি বাগান নষ্ট করে দিল।

- কর্তা কারকে কখনো কখনো -এ বিভক্তি যুক্ত হয়।
যেমন
- পাগলে কিনা বলে, ছাগলে কিনা খায়। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
২,৯৫৭.
কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. দুষ্কৃতকারী
  2. দুষ্কৃতিকারি
  3. দুস্কৃতিকারী
  4. দুষ্কৃতকারি
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
দুষ্কৃতকারী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুষ্কৃতকারী
ব্যাখ্যা

• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
- দুষ্কৃতকারী - শুদ্ধ বানান।

• দুষ্কৃতকারী (বিশেষণ):
- সংস্কৃত শব্দ।

শব্দের অর্থ: 
দুষ্কর্মকারী, অন্যায়কারী, অপরাধী।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান; অভিগম্য অভিধান।

২,৯৫৮.
স্বভাবতই 'ষ' ব্যবহৃত হয় কোন শব্দে?
  1. ক) আষাঢ়
  2. খ) উৎকৃষ্ট
  3. গ) দৃষ্টি
  4. ঘ) তৃষ্ণা
সঠিক উত্তর:
ক) আষাঢ়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) আষাঢ়
ব্যাখ্যা
ঋ ও র-এর পরে ষ হয়।
যেমন: ঋষি, কৃষক (ক+ঋ+ষ+অ+ক), তৃষ্ণা (ত+ঋ+ষ+ণ+আ), উৎকৃষ্ট, বৃষ্টি (ব+ঋ+ষ+ট+ই), দৃষ্টি (দ+ঋ+ষ+ট+ই), কৃষ্টি, সৃষ্টি।

ট-বর্গীয় ধ্বনির সাথে 'ষ' যুক্ত হয়।
যেমন: কষ্ট, স্পষ্ট, নষ্ট, কাষ্ঠ, ওষ্ঠ ইত্যাদি।

কতগুলো শব্দে স্বভাবতই 'ষ' হয়।
যেমন:  ষড়ঋতু, রোষ, কোষ, আষাঢ়, ভাষণ, ভাষা, ঊষা, পৌষ, কলুষ, পাষাণ, মানুষ, ঔষধ, ষড়যন্ত্র, ভূষণ, দ্বেষ ইত্যাদি।

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৯৫৯.
‘উল্লেখিত’ শব্দটিতে কী ধরণের অশুদ্ধি ঘটেছে?
  1. সমাসজনিত
  2. প্রত্যয়জনিত
  3. সন্ধিজনিত
  4. উপসর্গজনিত
সঠিক উত্তর:
সন্ধিজনিত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সন্ধিজনিত
ব্যাখ্যা
• ‘উল্লেখিত’ শব্দটিতে সন্ধিজনিত অপপ্রয়োগ ঘটেছে।
• শুদ্ধ বানান: উল্লিখিত।

⇒ নিয়ম:

 - ত্ ও দ্‌, এর পর ল্‌ থাকলে ত্ ও দ্‌ -এর স্থলে ল উচ্চারিত হয়।
- উল্লিখিত এর সন্ধি বিচ্ছেদ উৎ + লিখিত। তাই উল্লেখিত শব্দটি অশুদ্ধ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৯৬০.
কোন বাক্যে ‘ভালো’ বিশেষ্য রূপে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ক) ভালো, তাই হোক
  2. খ) তোমার ভালো হোক
  3. গ) পরের ভালো দেখতে পারে না
  4. ঘ) ভালো কথা, তোমার বাড়ি তৈরির কি হলো
সঠিক উত্তর:
খ) তোমার ভালো হোক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) তোমার ভালো হোক
ব্যাখ্যা

‘ভালো’ এর বিভিন্ন রূপ-
বিশেষ্য রূপেঃ তোমার ভালো হোক।
বিশেষণ রূপেঃ পরের ভালো দেখতে পারে না।
অব্যয় রূপেঃ ভালো, তাই হোক; ভালো কথা, তোমার বাড়ি তৈরির কি হলো।
সূত্র- অভিগম্য অভিধান, বাংলা একাডেমী।

২,৯৬১.
নিচের কোন বাক্যটি শুদ্ধ?
  1. পূর্ব দিকে সূর্য উদয় হয়।
  2. ইহার আবশ্যক নাই।
  3. গাছটি সমূলে উৎপাটন হয়েছে।
  4. এটি একটি অনুবাদিত গ্রন্থ।
সঠিক উত্তর:
গাছটি সমূলে উৎপাটন হয়েছে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গাছটি সমূলে উৎপাটন হয়েছে।
ব্যাখ্যা
• "গাছটি সমূলে উৎপাটন হয়েছে।"- বাক্যটি শুদ্ধ।

অন্য অপশনের শুদ্ধ বাক্যগুলো হলো:
• পূর্বদিকে সূর্য উদিত হয়।
• ইহার আবশ্যকতা নাই।
• এটি একটি অনূদিত গ্রন্থ।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৯৬২.
নিম্নরেখ কোন শব্দে করণ কারকে শূন্য বিভক্তি ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ঘোড়াকে চাবুক মার
  2. ডাক্তার ডাক
  3. গাড়ি স্টেশন ছেড়েছে
  4. মুষলধারে বৃষ্টি পড়ছে
সঠিক উত্তর:
ঘোড়াকে চাবুক মার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘোড়াকে চাবুক মার
ব্যাখ্যা
করণ কারক:
যার দ্বারা বা যার সাহায্যে ক্রিয়া সম্পাদিত হয় তাকে করণ কারক বলে। ‘করণ' শব্দের অর্থ উপায় বা সহায়।
- বাক্যের ক্রিয়াপদকে 'কার দ্বারা বা কী উপায়ে জিজ্ঞাসা করলে যে উত্তর পাওয়া যায় তা-ই করণ কারক।

করণ কারকে বিভিন্ন বিভক্তির ব্যবহার:
• প্রথমা বা শূন্য বিভক্তি:
- ছাত্ররা বল খেলে।
- ঘোড়াকে 'চাবুক' মার।

• তৃতীয়া বা দ্বারা বিভক্তি:
- লাঙ্গল দ্বারা জমি চাষ করা হয়।
- দিয়া বিভক্তি: মন দিয়া কর সবে বিদ্যা অর্জন।

• সপ্তমী বা এ বিভক্তি:
- ফুলে ফুলে ঘর ভরেছে।
- জ্ঞানে বিমল আনন্দ হয়।

• তে বিভক্তি: লোকটা জাতিতে বৈষ্ণব।

• য় বিভক্তি: চেষ্টায় সব হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নবম-দশম শ্রেণি, ২০১৯ সংস্করণ।
২,৯৬৩.
নিচের কোনটি অশুদ্ধ?
  1.  বিন্যস্ত
  2. বিধ্বস্ত
  3. দ্বারস্ত
  4. অস্ত
সঠিক উত্তর:
দ্বারস্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বারস্ত
ব্যাখ্যা

অশুদ্ধ- দ্বারস্ত। 
শুদ্ধরূপ- দ্বারস্থ। 

• স্ত আর স্থ-য়ে গন্ডগোল:

স্ত /স্থ সংক্রান্ত বানান ভুল এড়াবার একটা উপায় আছে। যেসব শব্দে স্থ আছে, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সেসব শব্দ থেকে স্থ বাদ দিলেও অর্থবোধক শব্দ পড়ে থাকবে। কিন্তু স্ত দিয়ে যেসব শব্দ পাচ্ছি সেখানে স্ত বাদ দিলে অর্থবোধক শব্দ পড়ে থাকবে না।

উদাহরণগুলো লক্ষ করি:
• স্ত: অভ্যস্ত, অস্ত, আশ্বস্ত, গ্রস্ত (যেমন: বিপদগ্রস্ত) ত্রস্ত, নিরস্ত, ন্যস্ত, পরাস্ত, পর্যুদস্ত, প্রশস্ত, বিধ্বস্ত, বিন্যস্ত, বিপর্যস্ত, বিশ্বস্ত, ব্যতিব্যস্ত, সন্ত্রস্ত সমস্ত, স্বস্তি।

• স্থ: অন্তঃস্থ, অবস্থা, অভ্যন্তরস্থ, কণ্ঠস্থ, গর্ভস্থ, গৃহস্থ, তটস্থ, দুস্থ, দ্বারস্থ, ভূগর্ভস্থ, মধ্যস্থতা, মনস্থ, মুখস্থ, সভাস্থ, সমাধিস্থ, সুস্থ।

উল্লেখ্য, 'অধীনস্থ' ব্যাকরণসম্মত নয় বটে, কিন্তু বর্তমানে সর্বত্র প্রচলিত।

২,৯৬৪.
উক্তি পরিবর্তনের ক্ষেত্রে অর্থের সংগতি রাখার জন্য বাক্যে ব্যবহৃত কোন পদের পরিবর্তন প্রয়োজন হয়?
  1. বিশেষ্য
  2. সর্বনাম
  3. বিশেষণ
  4. ক্রিয়া বিশেষণ
সঠিক উত্তর:
সর্বনাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সর্বনাম
ব্যাখ্যা
উক্তি পরিবর্তনের নিয়মসমূহ:
• প্রত্যক্ষ উক্তির যেখান থেকে উদ্ধারচিহ্ন শুরু হয়, পরোক্ষ উক্তিতে সেখানে যোজক 'যে' বসে এবং উদ্ধারচিহ্ন উঠে যায়।
যেমন:
- প্রত্যক্ষ উক্তি: নেতা বললেন, "আমি জনগণের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে চাই।"
- পরোক্ষ উক্তি: নেতা বললেন যে, তিনি জনগণের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে চান।

• অর্থের সংগতি রাখার জন্য বাক্যে ব্যবহৃত সর্বনামের পরিবর্তন প্রয়োজন হয়।
যেমন:
- প্রত্যক্ষ উক্তি: রাজীব বললো, "আমি বাগান করা পছন্দ করি।"
- পরোক্ষ উক্তি: রাজীব বললো যে, সে বাগান করা পছন্দ করে।

- প্রত্যক্ষ উক্তি: মিহির বললো, "আমার জানামতে সবুজ এ বাসায় থাকে।"
- পরোক্ষ উক্তি: মিহির বললো যে, তার জানামতে সবুজ সে বাসায় থাকতো।

• পরোক্ষ উক্তিতে কর্তা অনুযায়ী ক্রিয়ারূপের পরিবর্তন করতে হয়।
যেমন:
- প্রত্যক্ষ উক্তি: লিপি বলল, "আমি এখনই বের হচ্ছি।"
- পরোক্ষ উক্তি: লিপি বলল যে, সে তখনই বের হচ্ছে।

• প্রত্যক্ষ উক্তিকে পরোক্ষ উক্তিতে পরিবর্তন করার সময়ে কালবাচক ও স্থানবাচক শব্দের পরিবর্তন হয়।-
যেমন:
- প্রত্যক্ষ উক্তি: লোকটি বললেন, "আমি আগামীকাল এখানে আবার আসব।"
- পরোক্ষ উক্তি: লোকটি বললেন যে, তিনি পরদিন সেখানে আবার যাবেন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( ২০২৩ সংস্করণ)।
২,৯৬৫.
নিচের কোন বানানটি অশুদ্ধ?
  1. শোণিত
  2. গৌণ
  3. নির্নিমেষ
  4. পূর্বাহ্ন
সঠিক উত্তর:
পূর্বাহ্ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পূর্বাহ্ন
ব্যাখ্যা
• 'পূর্বাহ্ন' - শব্দের বানানটি অশুদ্ধ।
কারণ,

• প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম:
তৎসম শব্দে 'অপর, পরা, পূর্ব, প্রা' ইত্যাদি উপসর্গের সঙ্গে 'অহ্ন' প্রত্যয় যুক্ত হলে 'অহ্ন' শব্দের 'দন্ত- ন' পরিবর্তিত হয়ে 'মূর্ধন্য- ণ' হয়। 
যেমন,
- অপরাহ্ণ, পরাহ্ণ, প্রাহ্ণ, পূর্বাহ্ণ ইত্যাদি। 

• প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম অনুসারে, পূর্বাহ্ন শুদ্ধ নয়, এর শুদ্ধ বানান- 'পূর্বাহ্ণ'।

অন্যদিকে,
শোণিত; গৌণ; নির্নিমেষ - বানানগুলো শুদ্ধ।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান; উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মতি- ড. হায়াৎ মামুদ এবং ড. মোহাম্মদ আমীন।
২,৯৬৬.
ঠিকানা লেখার সময় রাস্তার নামের পর কোন যতিচিহ্ন বসে?
  1. ড্যাশ 
  2. কমা
  3. কোলন
  4. সেমিকোলন 
সঠিক উত্তর:
কমা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কমা
ব্যাখ্যা

• 'কমা' যতিচিহ্ন:
কমা সামান্য বিরতি নির্দেশ করে। কমা পূর্ণযতি নয়, তাই কমা দিয়ে কোনো বাক্য শেষ হয় না। কমা চিহ্নের বাংলা নাম পাদচ্ছেদ।

• কমা (,) এর ব্যবহার:

- বাক্য সুস্পষ্ট করতে বাক্যকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করে প্রতিটি ভাগের মাঝে কমা বসে। যেমন- সুখ চাও, সুখ পাবে বই পড়ে।

- পরস্পর সম্পর্কিত একাধিক বিশেষ্য বা বিশেষণ পদ একসঙ্গে ব্যবহৃত হলে শেষ পদটি ছাড়া প্রতিটির পরে কমা বসে। যেমন- ১৬ ডিসেম্বর আমাদের মন সুখ, স্বাচ্ছন্দ্য, ভালবাসা, আনন্দে ভরে থাকে।

- সম্বোধনের পরে কমা বসে। যেমন- রশিদ, এদিকে এসো।

- জটিল বাক্যের প্রত্যেকটি খণ্ডবাক্যের পরে কমা বসে। যেমন- যে পরিশ্রম করে, সেই সুখ লাভ করে।

- কোন বাক্যে উদ্ধৃতি থাকলে, তার আগের খণ্ডবাক্যের শেষে কমা (,) বসে। যেমন- আহমদ ছফা বলেন, 'মানুষের উপর বিশ্বাস হারানো পাপ।' তুমি বললে, 'আমি কালকে আবার আসবো।'

- মাসের তারিখ লেখার সময় বার ও মাসের পর কমা বসে। যেমন- ২৫ বৈশাখ, ১৪১৮, বুধবার।

- ঠিকানা লেখার সময় বাড়ির নাম্বার বা রাস্তার নামের পর কমা বসে। যেমন-৬৮, নবাবপুর রোড, ঢাকা-১০০০।
- ডিগ্রী পদবি লেখার সময় কমা ব্যবহৃত হয়। যেমন- ডক্টর মুহম্মদ এনামুল হক, এম, এ, পি-এইচ,ডি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-২০২১ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

২,৯৬৭.
উপমার ভুল প্রয়োগ ঘটেছে কোন বাক্যে?
  1. ক) এক পৌষে শীত যায় না
  2. খ) আমার হৃদয়-মন্দিরে আশার বীজ উপ্ত হলো
  3. গ) রাহাতকে উপদেশ প্রদান আর অরণ্যে ক্রন্দন একই কথা।
  4. ঘ) দেশের সকল বেসরকারি শিক্ষকগণ তাদের চাকুরী স্থায়ীকরণে আন্দোলন করছেন।
সঠিক উত্তর:
খ) আমার হৃদয়-মন্দিরে আশার বীজ উপ্ত হলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) আমার হৃদয়-মন্দিরে আশার বীজ উপ্ত হলো
ব্যাখ্যা
প্রথম বাক্যটি 'এক পৌষে শীত যায় না' বাক্যটি ভুল৷ এতে প্রবাদ-প্রবচন বিকৃতিজনিত ভুল প্রয়োগ ঘটেছে।
- শুদ্ধ বাক্যটি হলো- এক মাঘে শীত যায় না (বিপদ বা প্রতিকূল অবস্থা সবসময় থাকে না)।

দ্বিতীয় বাক্যটিতে উপমার ভুল প্রয়োগ হয়েছে।
সঠিক বাক্যরূপটি হবে - আমার হৃদয়-ক্ষেত্রে আশার বীজ উপ্ত হলো।

 তৃতীয় বাক্যটিতে বাগধারার অপপ্রয়োগ হয়েছে।
বাক্যটির সঠিক রূপটি হবে - রাহাতকে উপদেশ প্রদান আর অরণ্যে রোদন একই কথা।

চতুর্থ বাক্যে বাহুল্যদোষে দুষ্ট।
বাক্যটির সঠিক রূপ - দেশের সকল বেসরকারি শিক্ষক তাদের চাকুরী স্থায়ীকরণে আন্দোলন করছেন।
বা, দেশের বেসরকারি শিক্ষকগণ তাদের চাকুরী স্থায়ীকরণে আন্দোলন করছেন। 

উৎস: নবম-দশম শ্রেণির বাংলা ব্যাকরণ।
২,৯৬৮.
কোনটি ঠিক?
  1. সমিচীন
  2. সমীচিন
  3. সমিচিন
  4. সমীচীন
সঠিক উত্তর:
সমীচীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমীচীন
ব্যাখ্যা
- অপশনে প্রদত্ত বানান গুলোর মধ্যে শুদ্ধবানান - সমীচীন

সমীচীন (বিশেষণ)
- এটি সংস্কৃত ভাষার শব্দ।
এর অর্থ:
- সংগত;
- উপযুক্ত;
- উত্তম;

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
২,৯৬৯.
নিচের কোনটিতে অপপ্রয়োগ ঘটেছে?
  1. আমি পেয়েছি, তাকে পেয়েছি, আমার বুকের রক্তে, চোখের অশ্রুজলে।
  2. আমি তার উদ্দেশ্যে আমার শান্ত স্নিগ্ধ অন্তরের পরিপূর্ণ চিত্তের একটি সশ্রদ্ধ নমস্কার রেখে গেলাম।
  3. আমি যেন শুনতে পাই, সে আমারে সর্বান্তকরণে ক্ষমা করেছে।
  4. ফুলের কাঁটা ভুলে গিয়ে তার উর্ধ্বে ফুলের কথাই যেন সে মনে রাখে।
সঠিক উত্তর:
আমি পেয়েছি, তাকে পেয়েছি, আমার বুকের রক্তে, চোখের অশ্রুজলে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আমি পেয়েছি, তাকে পেয়েছি, আমার বুকের রক্তে, চোখের অশ্রুজলে।
ব্যাখ্যা
অশ্রু - চোখের পানি; নয়ন জল
তাই ‘অশ্রুজল’ চোখের পানি অথবা কান্না অর্থে ব্যবহার করলে অপপ্রয়োগ হবে।
এর শুদ্ধ প্রয়োগ হবে অশ্রু/চোখের জল।
উৎসঃ বাংলা একাডেমি অভিধান
২,৯৭০.
‘বিপদে ধৈর্য ধর।’ কোন ধরনের বাক্যের উদাহরণ?
  1. বিবৃতিবাচক বাক্য
  2. আবেগবাচক বাক্য
  3. অনুজ্ঞাবাচক বাক্য
  4. বিস্ময়বাধক বাক্য
সঠিক উত্তর:
অনুজ্ঞাবাচক বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুজ্ঞাবাচক বাক্য
ব্যাখ্যা
• বক্তব্যের লক্ষ্য অনুযায়ী বাক্যকে বিবৃতিবাচক, নেতিবাচক, প্রশ্নবাচক, অনুজ্ঞাবাচক ও আবেগবাচক প্রভৃতি ভাগে ভাগ করা যায়। যথা:

• বিবৃতিবাচক বাক্য:
সাধারণভাবে কোনাে বিবরণ প্রকাশ পায় যেসব বাক্যে, সেগুলােকে বিবৃতিমূলক বাক্য বলে।
বিবৃতিবাচক বাক্য ইতিবাচক বা নেতিবাচক হতে পারে।
যেমন-
• আমরা রােজ বেড়াতে যেতাম।
• তারা তােমাদের ভােলেনি।

• প্রশ্নবাচক বাক্য:
বক্তা কারও কাছ থেকে কিছু জানার জন্য যে ধরনের বাক্য বলে, সেগুলাে প্রশ্নবাচক বাক্য।
যেমন-
• তােমার নাম কী?
• সুন্দরবনকে কোন ধরনের বনাঞ্চল বলা হয়?

• অনুজ্ঞাবাচক বাক্য:
আদেশ, নিষেধ, অনুরােধ, প্রার্থনা ইত্যাদি বােঝাতে অনুজ্ঞাবাচক বাক্য হয়।
যেমন-
• আমাকে একটি কলম দাও।
• তার মঙ্গল হােক।
• বিপদে ধৈর্য ধর।

• আবেগবাচক বাক্য:
কোনাে কিছু দেখে বা শুনে অবাক হয়ে যে ধরনের বাক্য তৈরি হয়, তাকে আবেগবাচক বাক্য বলে।
যেমন-
• দারুণ! আমরা জিতে গিয়েছি।
• অত উঁচু পাহাড়ে উঠে আমি তাে ভয়েই মরি!

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ সংস্করণ)।
২,৯৭১.
ভাবাধিকরণে কোন বিভক্তি ধ্রুব? 
  1. ২য়া
  2. ৬ষ্ঠী
  3. ৩য়া
  4. ৭মী
সঠিক উত্তর:
৭মী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৭মী
ব্যাখ্যা

• ভাবাধিকরণ কারক:
- যদি কোনো ক্রিয়াবাচক বিশেষ্য অন্য ক্রিয়ার কোনোরূপ ভাবের অভিব্যক্তি প্রকাশ করে, তবে তাকে ভাবাধিকরণ বলে।
- ভাবাধিকরণে সর্বদাই সপ্তমী বিভক্তির প্রয়োগ হয় বলে একে ‘ভাবে সপ্তমী’ বলা হয়।
যেমন-
- সূর্যোদয়ে অন্ধকার দূরীভূত হয়।
= কান্নায় শোক মন্দীভূত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

২,৯৭২.
প্রত্যক্ষ উক্তির ‘গতকাল' পরোক্ষ উক্তিতে কী হবে?
  1. পূর্বদিন
  2. আগেরদিন
  3. সেদিন
  4. গতকল্য
সঠিক উত্তর:
আগেরদিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আগেরদিন
ব্যাখ্যা
উক্তি:
- বক্তার কথা উপস্থাপনের ধরনকে উক্তি বলে।
- উক্তি দুই প্রকার: প্রত্যক্ষ উক্তি ও পরোক্ষ উক্তি।
যেমন:
→ প্রত্যক্ষ উক্তি: ছেলেটি বলেছিল, "আজ আমি অনেক পড়েছি।"
→ পরোক্ষ উক্তি: ছেলেটি বলেছিল যে, সেদিন সে অনেক পড়েছে।

প্রত্যক্ষরূপ - পরোক্ষরূপ:
• আগামীকাল - পরদিন,
• এই - সেই,
• ইহা - তাহা,
গতকাল - আগেরদিন,
• আজ - সেদিন,
• গতকল্য - পূর্বদিন,
• এখানে - সেখানে,
• ওখানে - ঐখানে,
• এখন - তখন,
• এ - সে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯, ২০২২ সংস্করণ)।
২,৯৭৩.
"আমাদের পুকুরে মাছ আছে।" - এখানে "পুকুরে" কোন কারক?
  1. অপাদান কারক
  2. কর্তৃকারক
  3. অধিকরণ কারক
  4. কর্মকারক
সঠিক উত্তর:
অধিকরণ কারক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অধিকরণ কারক
ব্যাখ্যা
• অধিকরণ কারক:
ক্রিয়া সম্পাদনের কাল এবং আধারকে (সময় এবং স্থানকে) অধিকরণ কারক বলে।

• যেমন - 
- আমাদের পুকুরে মাছ আছে। (কোথায় আছে? পুকুরে) : অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি।
(কোনো স্থানে কোনো কিছু আছে বোঝালে অধিকরণ কারক হবে।) 

তেমনিভাবে, 
- বনে বাঘ আছে। (কোথায় আছে? বনে) : অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি।
- ঘাটে নৌকা বাঁধা আছে। (কোথায় বাঁধা আছে? ঘাটে) : অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ নবম দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)। 
২,৯৭৪.
‘মহানদী’ শব্দের ব্যাসবাক্য কোনটি?
  1. মহান যে নদী
  2. মহা যে নদী
  3. মহৎ যে নদী
  4. মহীয়সী যে নদী
সঠিক উত্তর:
মহা যে নদী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মহা যে নদী
ব্যাখ্যা
কর্মধারয় সমাস:
- যেখানে বিশেষণ বা বিশেষণভাবাপন্ন পদের সাথে বিশেষ্য বা বিশেষ্যভাবাপন্ন পদের সমাস হয় এবং পরপদের অর্থই প্রধান রূপে প্রতীয়মান হয়, তাকে কর্মধারয় সমাস বলে।
 যেমন:
- নীল যে পদ্ম = নীলপদ্ম।
- শান্ত অথচ শিষ্ট = শান্তশিষ্ট।
- কাঁচা অথচ মিঠা = কাঁচামিঠা।
- মহান যে নবী = মহানবী।

* মহানদী এর ব্যাসবাক্য হিসেবে - 'মহতী যে নদী' সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য কিন্তু এটি অপশনে নেই।
অপশন অনুসারে 'মহা যে নদী' ব্যাসবাক্যটিকে সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য মনে করছি।
মহান ও মহৎ সাধারণত পুংলিঙ্গবাচক শব্দের সাথে ব্যবহৃত হয়। নদী হচ্ছে স্ত্রীবাচক শব্দ। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২,৯৭৫.
শুদ্ধ বানান কোনটি?
  1. ক) কৃতিত্ব
  2. খ) প্রণয়িণী
  3. গ) উদীচি
  4. ঘ) স্বাতন্ত্র
সঠিক উত্তর:
ক) কৃতিত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) কৃতিত্ব
ব্যাখ্যা
•শুদ্ধ বানান = 'কৃতিত্ব' 

• উদীচী (বিশেষ্য) 
- সংস্কৃত শব্দ 
- প্রকৃতি প্রত্যয় = উদচ্‌+ঈ
অর্থ: উত্তর দিক

• প্রণয়িনী (বিশেষ্য) শব্দটি 'প্রণয়ী' এর স্ত্রীবাচক শব্দ
'প্রণয়ী' (বিশেষ্য) - সংস্কৃত শব্দ 
- প্রকৃতি প্রত্যয় = প্রণয়+ইন্‌
অর্থ: 
- প্রেমের পাত্র
- অনুরক্ত ব্যক্তি

• স্বাতন্ত্র্য (বিশেষ্য) 
- সংস্কৃত শব্দ 
- প্রকৃতি প্রত্যয় = স্বতন্ত্র+য
অর্থ: 
- অন্যের সঙ্গে প্রভেদ
- স্বাধীনতা 

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
২,৯৭৬.
প্রত্যয়জনিত অপপ্রয়োগের দৃষ্টান্ত হলো-
  1. ক) বিচিত্রতা
  2. খ) স্বাতন্ত্র‍্য
  3. গ) ঐক্যমত
  4. ঘ) বাহুল্য
সঠিক উত্তর:
গ) ঐক্যমত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ঐক্যমত
ব্যাখ্যা

প্রত্যয়জনিত অপপ্রয়োগের দৃষ্টান্ত হলো- ঐক্যমত।
এর সঠিক রূপ হলোঃ ঐকমত্য বা ঐক্যমত্য - (বিশেষ্য) একমত; মতের অভিন্নতা; মতের মিল বা ঐক্য।

উৎসঃ বাংলা একাডেমী অভিধান।

২,৯৭৭.
'তার আভাস পেতাম, কিন্তু নাগাল পেতাম না।' কোন ধরনের বাক্য?
  1. জটিল বাক্য
  2. যৌগিক বাক্য
  3. প্রধান খণ্ডবাক্য
  4. মিশ্র বাক্য
সঠিক উত্তর:
যৌগিক বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যৌগিক বাক্য
ব্যাখ্যা
• যৌগিক বাক্য (compound sentence):
পরস্পর নিরপেক্ষ দুই বা ততোধিক সরল বা জটিল বাক্য সংযোজক, সংকোচক, বিয়োজক, ব্যতিরেকাত্মক প্রভৃতি যোজক শব্দ দ্বারা যুক্ত হয়ে যখন একটিমাত্র বাক্য গঠন করে তখন তাকে 'যৌগিক বাক্য' বলে।
যেমন:
- তুমি আস, তবে আমি যাব।(সংযোজক)
- তারা দুজনে আড়ি পেতে ছিল, নইলে চোর ধরা পড়ত না।(ব্যতিরেকাত্মক)
- তার আভাস পেতাম, কিন্তু নাগাল পেতাম না।

• স্মরণ রাখতে হবে-
- যৌগিক বাক্যে কমপক্ষে দুটো খণ্ডবাক্য থাকবে।
- খণ্ডবাক্যগুলো পরস্পর নিরপেক্ষ বা স্বাধীন, একে অপরের ওপর নির্ভরশীল নয়।
-  খণ্ডবাক্যগুলো বিভিন্ন অব্যয়যোগে একে অপরের সঙ্গে যুক্ত থাকবে।কখনো কখনো এগুলো উহ্যও থাকতে পারে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২,৯৭৮.
"এখনই ঘরে ফেরা উচিত" - কোন বাচ্য?
  1. কর্তৃবাচ্য
  2. কর্মবাচ্য
  3. ভাববাচ্য
  4. কর্ম-কর্তৃবাচ্য
সঠিক উত্তর:
ভাববাচ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভাববাচ্য
ব্যাখ্যা
•  এখনই ঘরে ফেরা উচিত - ভাববাচ্য।

• বাচ্য:
- বাক্যের বিভিন্ন ধরনের প্রকাশভঙ্গিকে বলা হয় 'বাচ্য'।
- বাচ্য প্রধানত তিন প্রকার। যথা:
(১) কর্তৃবাচ্য,
(২) কর্মবাচ্য ও
(৩) ভাববাচ্য।

• ভাববাচ্য:
যে বাচ্যে কর্ম থাকে না এবং বাক্যে ক্রিয়ার অর্থই বিশেষভাবে ব্যক্ত হয় তাকে ভাববাচ্য বলে।

• কখনো কখনো ভাববাচ্যে কর্তা উহ্য থাকে, কর্ম দ্বারাই ভাববাচ্য গঠিত হয়।
যেমন -
- এ পথে চলা যায় না।
- এবার ট্রেনে ওঠা যাক।
- এখনই ঘরে ফেরা উচিত।
- কোথা থেকে আসা হচ্ছে?

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২,৯৭৯.
নিচের কোনটি শুদ্ধ প্রয়োগ?
  1. ক) দারিদ্র্যতা
  2. খ) উৎকর্ষতা
  3. গ) সরলতা
  4. ঘ) মৌনতা
সঠিক উত্তর:
গ) সরলতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সরলতা
ব্যাখ্যা
সরল + তা = সরলতা। সরল বিশেষণ, তার সঙ্গে তা প্রত্যয় যুক্ত হয়ে বিশেষ্য হয়েছে। 

উৎস : নবম-দশম শ্রেণি পুরাতন ও নতুন ব্যাকরণ, ভাষা-শিক্ষা, বাংলা একাডেমির ব্যাকরণ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ।
২,৯৮০.
নিচের কোনটিতে শুদ্ধপ্রয়োগ ঘটেছে?
  1. ক) শুধুমাত্র
  2. খ) আয়ত্তাধীন
  3. গ) রক্তিম
  4. ঘ) কেবলমাত্র
সঠিক উত্তর:
গ) রক্তিম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) রক্তিম
ব্যাখ্যা
ব্যাখ্যা :
শব্দগুলোর শুদ্ধরূপ হলো :
শুধু/মাত্র
আয়ত্ত/অধীন
কেবল/মাত্র
উৎস : নবম-দশম শ্রেণি পুরাতন ও নতুন ব্যাকরণ, ভাষা-শিক্ষা, বাংলা একাডেমির ব্যাকরণ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ।
২,৯৮১.
নিচের কোন বাক্যে বহুবচনের অপপ্রয়োগ জনিত অশুদ্ধি রয়েছে?
  1. ক) ক্লাসে অনেক ছাত্রছাত্রী এসেছিল।
  2. খ) অনাবশ্যকীয় ব্যাপারে কৌতুহল ভালো নয়।
  3. গ) অন্যান্য বিষয়গুলোর আলোচনা পরে হবে।
  4. ঘ) সকল ছাত্র পাঠে মনোযোগী নয়।
সঠিক উত্তর:
গ) অন্যান্য বিষয়গুলোর আলোচনা পরে হবে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) অন্যান্য বিষয়গুলোর আলোচনা পরে হবে।
ব্যাখ্যা

বহুবচনের পরে দ্বিত্ব প্রয়োগ হয় না, অর্থ্যাৎ কোন শব্দকে একবার বহুবচনে রূপান্তরিত করলে পুনরায় তার বহুত্ব অপ্রয়োজনীয়।
কোন বাক্যে এরকম করা হলে তাতে বহুবচনের অপপ্রয়োগজনিত অশুদ্ধি ঘটে।
প্রদত্ত অপশনগুলোর মধ্যে, ক ও ঘ - সঠিক বাক্য। কোন অশুদ্ধি ঘটে নি।

- অপশন খ) তে বিশেষ্য পদের বাহুল্য প্রয়োগজনিত ভুল রয়েছে।
এর সঠিক রূপঃ অনাবশ্যক ব্যাপারে কৌতুহল ভালো নয়।
- অপশন গ) তে বহুবচনের অপপ্রয়োগজনিত অশুদ্ধি রয়েছে।
এর শুদ্ধরূপ হবেঃ অন্য বিষয়গুলোর আলোচনা পরে হবে।

উৎসঃ ভাষা শিক্ষা বই, ড. হায়াৎ মামুদ।

২,৯৮২.
নিচের কোন বাক্যে গুরুচণ্ডালী দোষ পরিলক্ষিত?
  1. এ কাজে তাহার হাত পাকা।
  2. তিনি বাড়ি হইতে বাহির হইয়াছেন।
  3. তাঁর সাথে আমার দেখা হয়নি কতকাল!
  4. এ কাজটি করা আমার পক্ষে সম্ভব না।
সঠিক উত্তর:
এ কাজে তাহার হাত পাকা।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এ কাজে তাহার হাত পাকা।
ব্যাখ্যা
⇒ তৎসম শব্দের সঙ্গে দেশীয় শব্দের মিশ্রণ ঘটলে যে দোষের সৃষ্টি হয় তাকে গুরুচণ্ডালী দোষ বলে। এদোষে দুষ্টু শব্দ তার যোগ্যতা হারায়।
যেমন:
- গরুর গাড়ি, শবদাহ ইত্যাদি হলো তৎসম শব্দ।
কিন্তু যদি বলা হয়- গরুর শকট, মড়াদাহ তাহলে তা গুরুচণ্ডালী দোষে দুষ্ট হয়ে যায়।

• 'এ কাজে তাহার হাত পাকা।'- বাক্যটিতে গুরুচণ্ডালী দোষ রয়েছে।
• বাক্যটির শুদ্ধরূপ হবে- 'এই কার্যে তাহার হস্ত পাকা' বা 'এ কাজে তার হাত পাকা'। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৯৮৩.
‘শবপোড়া’ শব্দটির কী দোষ দেখা যায়?
  1. ক) গুরুচন্ডালী
  2. খ) আকঙ্খার প্রয়োগে ভুল
  3. গ) উপমার প্রয়োগে ভুল
  4. ঘ) দুর্বোধ্যতা
সঠিক উত্তর:
ক) গুরুচন্ডালী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) গুরুচন্ডালী
ব্যাখ্যা
• ‘শবপোড়া’ শব্দটি গুরুচন্ডালী দোষে দুষ্টু। 
- সঠিক শব্দ হবে শবদাহ। 

• গুরুচণ্ডালী দোষ:
- তৎসম শব্দের সঙ্গে দেশীয় শব্দের প্রয়ােগ ঘটলে যে দোষের সৃষ্টি হয়, তাকে বলা হয় গুরুচণ্ডালী দোষ।
- তৎসম শব্দের সঙ্গে দেশীয় শব্দের প্রয়ােগ কখনও কখনও গুরুচণ্ডালী দোষ সৃষ্টি করে।
- এ দোষে দুষ্ট শব্দ তার যােগ্যতা হারায়।
যেমন- গরুর গাড়ি, শবদাহ, মড়াপােড়া প্রভৃতি হলাে তৎসম শব্দ। গঠন ও অর্থের দিক থেকে এসব শব্দের কোনাে সমস্যা নেই। কিন্তু যদি বলা হয় যথাক্রমে গরুর শকট, শবপােড়া, মড়াদাহ; তাহলে দেশীয় শব্দের সঙ্গে তৎসম শব্দের মিলন ঘটে এবং তাতে শব্দ গুরুচণ্ডালী দোষে দুষ্ট হয়।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৯৮৪.
শুদ্ধ বানানের শব্দজোড় কোনটি?
  1. ক) স্বত্ব, পিপীলিকা
  2. খ) ষান্মাসিক, রুগণ
  3. গ) একত্রিত, ঐকমত্য
  4. ঘ) জন্মবার্ষিক, ভূল
সঠিক উত্তর:
ক) স্বত্ব, পিপীলিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) স্বত্ব, পিপীলিকা
ব্যাখ্যা
শুদ্ধ বানানের শব্দজোড় স্বত্ব, পিপীলিকা। স্বত্ব শব্দের অর্থ মালিকানা আর পিপীলিকা শব্দের অর্থ পিঁপড়া।
২,৯৮৫.
নিচের কোন বাক্যটিতে অপ্রয়োগ-এর দৃষ্টান্ত রয়েছে?
  1. এ কথা প্রমাণিত হয়েছে।
  2. তোমাকে দেখে সে আশ্চর্যান্বিত হয়েছে। 
  3. বৃক্ষটি সমূলসহ উৎপাটিত হইয়াছে। 
  4. ঘটনা বর্ণিত হয়েছে।
সঠিক উত্তর:
বৃক্ষটি সমূলসহ উৎপাটিত হইয়াছে। 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বৃক্ষটি সমূলসহ উৎপাটিত হইয়াছে। 
ব্যাখ্যা
•অশুদ্ধ: বৃক্ষটি সমূলসহ উৎপাটিত হইয়াছে। 
- শুদ্ধ: বৃক্ষটি মূলসহ উৎপাটিত হইয়াছে। 
 ----------------------
অন্যদিকে, 
• অপপ্রয়োগ: 'আমি এ ঘটনা চাক্ষুস প্রত্যক্ষ করেছি।'
বাক্যটির শুদ্ধরূপ হলো: 'আমি এ ঘটনা  প্রত্যক্ষ করেছি।' / 'আমি এ ঘটনা স্বচক্ষে দেখেছি।' 

তোমাকে দেখে সে আশ্চর্য হয়েছে। - বাক্যে বাচ্যজনিত অপ্রয়োগ ঘটেছে।
শুদ্ধ: তোমাকে দেখে সে আশ্চর্যান্বিত হয়েছে। 

ভুল বাক্য: এ কথা প্রমাণ হয়েছে। 
শুদ্ধ বাক্য: এ কথা প্রমাণিত হয়েছে।  

অশুদ্ধ: ঘটনা বর্ণনা হয়েছে।
শুদ্ধ: ঘটনা বর্ণিত হয়েছে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ।
২,৯৮৬.
কোনটি শুদ্ধ বানান?
  1. হীনম্ন্যন্যতা
  2. হীনোম্মন্যতা
  3. হীনম্মন্যতা
  4. হীনোম্নন্যতা
সঠিক উত্তর:
হীনম্মন্যতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হীনম্মন্যতা
ব্যাখ্যা

শুদ্ধ বানান - হীনম্মন্যতা
- এটি একটি বিশেষণ পদ।
- এটি সংস্কৃত শব্দ।

শব্দের অর্থ:
- নিজের সম্বন্ধে হীন ধারণা পোষণ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

২,৯৮৭.
নিচের কোন বাক্যটিতে অপপ্রয়োগ ঘটেছে?
  1. ক) দশচক্রে ঈশ্বর ভূত
  2. খ) এক মাঘে শীত যায় না
  3. গ) গাঁয়ে মানে না আপনি মোড়ল
  4. ঘ) উন বর্ষা দুনো শীত
সঠিক উত্তর:
ক) দশচক্রে ঈশ্বর ভূত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) দশচক্রে ঈশ্বর ভূত
ব্যাখ্যা
সাধারণত বাংলা ভাষায় প্রবাদ-প্রবচনগুলো যেভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে তার বিকৃতি বা রূপের পরিবর্তন করা হলে তা ভুল বলে গণ্য হবে।
যেমন- 'দশচক্রে ঈশ্বর ভূত' বাক্যটি ভুল৷ এতে প্রবাদ-প্রবচন বিকৃতিজনিত ভুল প্রয়োগ ঘটেছে। শুদ্ধ বাক্যটি হলো- দশচক্রে ভগবান ভূত (দশ জনের চক্রান্তে অন্যায়কে ন্যায় করা)।
এক মাঘে শীত যায় না (বিপদ বা প্রতিকূল অবস্থা সবসময় থাকে না);
গাঁয়ে মানে না আপনি মোড়ল (গায়ে পড়ে কর্তৃত্ব জাহির করা);
উন বর্ষা দুনো শীত (অল্প কাজে অধিক লাভ)।
উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২,৯৮৮.
‘যেখানে বাঘের ভয় সেখানে সন্ধে হয়।’- বাক্যে নিম্নরেখ শব্দটি কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্তৃকারকে ৬ষ্ঠী
  2. কর্মে ৬ষ্ঠী
  3. অপাদানে ৬ষ্ঠী
  4. অধিকরণে ৬ষ্ঠী
সঠিক উত্তর:
অপাদানে ৬ষ্ঠী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপাদানে ৬ষ্ঠী
ব্যাখ্যা
• অপাদান কারক:
যা থেকে কিছু বিচ্যুত, গৃহীত, জাত, বিরত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয় এবং যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকেই অপাদান কারক বল
যেমন -
- গাছ থেকে পাতা পড়ে।
- দুধ থেকে দই হয়।
- পাপে বিরত হও।
• অপাদান কারকে বিভিন্ন বিভক্তি ছাড়াও হইতে, হতে, থেকে, দিয়া, দিয়ে ইত্যাদি অনুসর্গ ব্যবহৃত হয়।

প্রথমা বা শূন্য বা অ বিভক্তি:
- বোটা-আলগা ফল গাছে থাকে না।

দ্বিতীয়া বা কে বিভক্তি:
- বাবাকে বড্ড ভয় পাই।

ষষ্ঠী বা এর বিভক্তি:
- যেখানে বাঘের ভয় সেখানে সন্ধে হয়।

সপ্তমী বা এ বিভক্তি:
- বিপদে মোরে করিবে ত্রান, এ নহে মোর প্রার্থনা।
- তিলে তৈল হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৯৮৯.
নিচের কোন বানানটি অশুদ্ধ?
  1. নির্নিমেষ
  2. অপেক্ষমান
  3. ত্রিনয়ন 
  4. পরিপোষণ  
সঠিক উত্তর:
অপেক্ষমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপেক্ষমান
ব্যাখ্যা

• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
'অপেক্ষমান'- অশুদ্ধ বানান।
এর শুদ্ধ বানান- 'অপেক্ষমাণ'।



অন্যদিকে,
শুদ্ধ বানানগুলো হলো: নির্নিমেষ; পরিপোষণ; ত্রিনয়ন।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

২,৯৯০.
‘খোদা তোমার মঙ্গল করুন’- বাক্যটি কোন ধরনের?
  1. ক) আদেশ বাচক বাক্য
  2. খ) ইচ্ছাসূচক বাক্য
  3. গ) বিবৃতিমূলক বাক্য
  4. ঘ) বিস্ময়সূচক বাক্য
সঠিক উত্তর:
খ) ইচ্ছাসূচক বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ইচ্ছাসূচক বাক্য
ব্যাখ্যা
যে বাক্যে শুভ প্রার্থনা, আশিস, আকাঙ্ক্ষা ইত্যাদি প্রকাশ করা হয় তাকে ইচ্ছাসূচক বাক্য বলে।
যেমন-
তোমার মঙ্গল হোক।
পরীক্ষায় সফল হও।
খোদা তোমার মঙ্গল করুন ইত্যাদি
উৎস- বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৯৯১.
নিচের কোন বাক্যটি অশুদ্ধ?
  1. সে সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছে।
  2. অন্যান্য বিষয়গুলোর আলোচনা পরে হবে।
  3. তোমাকে দেখে সে আশ্চর্যান্বিত হয়েছে।
  4. আলোচনার মাধ্যমে সব সমস্যার সমাধান সম্ভবপর।
সঠিক উত্তর:
অন্যান্য বিষয়গুলোর আলোচনা পরে হবে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অন্যান্য বিষয়গুলোর আলোচনা পরে হবে।
ব্যাখ্যা
অপশনে খ ছাড়া বাকি সবগুলো শুদ্ধ।
অপশন খ এর শুদ্ধরূপঃ
অন্য বিষয়গুলোর আলোচনা পরে হবে।

উৎসঃ ভাষা শিক্ষা, ড.হায়াৎ মামুদ।
২,৯৯২.
আদেশ, নিষেধ, অনুরোধ, প্রার্থনা ইত্যাদি বোঝাতে কোন বাক্য ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) বিবৃতিবাচক
  2. খ) নেতিবাচক
  3. গ) আবেগবাচক
  4. ঘ) অনুজ্ঞাবাচক
সঠিক উত্তর:
ঘ) অনুজ্ঞাবাচক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) অনুজ্ঞাবাচক
ব্যাখ্যা
• বক্তব্যের লক্ষ্য অনুযায়ী বাক্যকে বিবৃতিবাচক, নেতিবাচক, প্রশ্নবাচক, অনুজ্ঞাবাচক ও আবেগবাচক প্রভৃতি ভাগে ভাগ করা যায়।

• অনুজ্ঞাবাচক বাক্য: আদেশ, নিষেধ, অনুরোধ, প্রার্থনা ইত্যাদি বোঝাতে অনুজ্ঞাবাচক বাক্য হয়।
যেমন,
- আমাকে একটি কলম দাও।
- তার মঙ্গল হোক।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)। 
২,৯৯৩.
নিচের কোন বাক্যে অপপ্রয়োগ ঘটেছে?
  1. ক) আমার টাকার আবশ্যকতা নেই।
  2. খ) বিদ্বান মূর্খ অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ।
  3. গ) ছেলেটি বংশের মুখে চুনকালি দিলো।
  4. ঘ) সে এ মোকদ্দমায় সাক্ষী দিয়েছে।
সঠিক উত্তর:
ঘ) সে এ মোকদ্দমায় সাক্ষী দিয়েছে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সে এ মোকদ্দমায় সাক্ষী দিয়েছে।
ব্যাখ্যা

বাক্যটির শুদ্ধরূপ হবে : সে এ মোকদ্দমায় সাক্ষ্য দিয়েছে।

উৎস : ভাষা-শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ, বাংলা ব্যাকরণ, ড. শাজাহান মনির, বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণির ব্যাকরণ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ।

২,৯৯৪.
অধিকরণ কারকের উদাহরণ কোনটি?
  1. গাছ থেকে পাতা পড়ে।
  2. ফুলের গন্ধে ঘুম আসেনা
  3. আমি গাছের নিচে দাঁড়িয়ে আছি।
  4. গরুতে দুধ দেয়।
সঠিক উত্তর:
আমি গাছের নিচে দাঁড়িয়ে আছি।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আমি গাছের নিচে দাঁড়িয়ে আছি।
ব্যাখ্যা
• "আমি গাছের নিচে দাঁড়িয়ে আছি।"
 - নিম্নরেখ শব্দটি অধিকরণ কারকের উদাহরণ।

• অধিকরণ কারক:
- ক্রিয়ার আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক। আধার বলতে ক্রিয়া নিষ্পন্ন হওয়ার স্থান, কাল ও ভাবকে বােঝায়।
- অর্থাৎ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল এবং আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক।
- বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথায়, কখন ও কোনাে বিষয় বােঝাতে অধিকরণ কারক হয়।
----------------------------------------
• 'আমি গাছের নিচে দাঁড়িয়ে আছি।' - বাক্য়ের ক্রিয়াকে 'কোথায়' দ্বারা প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'গাছের নিচে'।
তাই,
নিম্নরেখ শব্দটি অধিকরণ কারকের উদাহরণ।  
 
অন্যদিকে,
• 'ফুলের গন্ধে ঘুম আসেনা।'- এখানে 'ফুলের' সম্বন্ধ কারকের উদাহরণ।
• "গাছ থেকে পাতা পড়ে।" - অপাদান কারক।
• "গরুতে দুধ দেয়।" - কর্তৃকারক।

উৎস:
- মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২,৯৯৫.
নিচের কোন বানানটি প্রমিত?
  1. কঙ্কন
  2. কনকন
  3. কঙ্কণ
  4. কনকণ
সঠিক উত্তর:
কঙ্কণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কঙ্কণ
ব্যাখ্যা
• তৎসম শব্দের বানানে ণ-ত্ব বিধানের শুদ্ধতা রক্ষা করতে হবে।
যেমন:
- মাণিক্য, গণ, লবণ, বেণু, কঙ্কণ, কল্যাণ, শোণিত, মণি ইত্যাদি।

• অতৎসম বানানে ণ হবে না। তার বদলে হবে ন। 
যেমন:
অঘ্রান, কান, গুনতি, ঝরনা, ইরান, কুরান ইত্যাদি।

উৎস: প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম, বাংলা একাডেমি অভিধান।
২,৯৯৬.
নিচের কোন বানানটি অশুদ্ধ?
  1. পুরস্কার
  2. তিরষ্কার
  3. পরিষ্কার
  4. আবিষ্কার
সঠিক উত্তর:
তিরষ্কার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তিরষ্কার
ব্যাখ্যা
• 'তিরষ্কার' এর সঠিক বানান হবে 'তিরস্কার'।

সূত্র:
• র-ধ্বনির পরে যদি অ, আ ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনি থাকে তবে তার পরে 'ষ' হয়।
যথা: পরিষ্কার। কিন্তু অ, আ স্বরধ্বনি থাকলে স হয়। যথা: পুরস্কার।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
২,৯৯৭.
'দুর্জন লোক পরিত্যাজ্য'- বাক্যটির জটিলরূপ কী হবে?
  1. লোকগুলো দুর্জন, তারা পরিত্যাজ্য।
  2. দুর্জন লোককে সকলে পরিত্যাগ করে।
  3. যে দুর্জন সেই পরিত্যাজ্য।
  4. যেসব লোক দুর্জন, তারা পরিত্যাজ্য।
সঠিক উত্তর:
যেসব লোক দুর্জন, তারা পরিত্যাজ্য।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যেসব লোক দুর্জন, তারা পরিত্যাজ্য।
ব্যাখ্যা
• 'দুর্জন লোক পরিত্যাজ্য'- বাক্যটিরজটিল রূপ হচ্ছে 'যেসব লোক দুর্জন, তারা পরিত্যাজ্য'। 

• সরল বাক্য থেকে জটিল বাক্য:
যে-সে, যিনি-তিনি, যারা-তারা, যা-তা ইত্যাদি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যেহেতু-সেহেতু, যখন- তখন, যত-তত, যেমন-তেমন ইত্যাদি সাপেক্ষ যোজক যুক্ত করে সরল বাক্যকে জটিল বাক্যে রূপান্তরিত করা যায়।
যেমন:
সরল বাক্য: দুর্জন লোক পরিত্যাজ্য।
জটিল বাক্য: যেসব লোক দুর্জন, তারা পরিত্যাজ্য।

সরল বাক্য: তুমি চেষ্টা না করায় ব্যর্থ হয়েছ।
জটিল বাক্য: যেহেতু তুমি চেষ্টা করোনি, তাই ব্যর্থ হয়েছ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( সংস্করণ- ২০২১)।
২,৯৯৮.
‘ব্যা’ এর অপপ্রয়োগ ঘটেছে কোন শব্দে?
  1. ক) ব্যাঘ্র
  2. খ) ব্যাগ্র
  3. গ) ব্যাকরণ
  4. ঘ) ব্যাপার
সঠিক উত্তর:
খ) ব্যাগ্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ব্যাগ্র
ব্যাখ্যা
কোনো শব্দের শুরুতে ‘ব্য’ থাকলে তাকে ভাঙতে হয় ‘বি+অ’ দিয়ে এবং শব্দের শুরুতে ‘ব্যা’ থাকলে একে ভাঙতে হবে ‘বি+আ’ দিয়ে। সঠিক বানান গুলো হচ্ছে - ব্যাঘ্র, ব্যগ্র, ব্যাকরণ, ব্যাপার।
উৎসঃ বাংলা একাডেমী অভিধান
২,৯৯৯.
'দেশের সকল অর্থনীতিবদগণই এ ব্যাপারে আমাদের সমর্থন দান করেন৷' বাক্যটিতে কি ধরনের অপপ্রয়োগ ঘটেছে?
  1. ক) বিশেষ্যের জায়গায় বিশেষণ
  2. খ) বাহুল্য দোষ
  3. গ) বাচ্যজনিত ভুল
  4. ঘ) যথার্থ শব্দ প্রয়োগ না করা
সঠিক উত্তর:
খ) বাহুল্য দোষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বাহুল্য দোষ
ব্যাখ্যা
প্রয়োজনের অতিরিক্ত শব্দ ব্যবহার করলে বাহুল্য দোষ ঘটে এবং এর ফলে শব্দ তার যোগ্যতাগুণ হারিয়ে ফেলে৷
যেমন- উপরের বাক্যটিতে 'অর্থনীতিবদগণ' হলো বহুবচনবাচক শব্দ৷ এর সঙ্গে 'সকল' শব্দটির অতিরিক্ত ব্যবহার বাহুল্য দোষ সৃষ্টি করেছে।
সঠিক বাক্য - 'দেশের সকল অর্থনীতিবদ এ ব্যাপারে আমাদের সমর্থন দান করেন৷'
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,০০০.
প্রিয়জনে যাহা দিতে চাই তাই দিই দেবতারে'- বাক্যে নিম্নরেখ শব্দটি কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. ক) অধিকরণে প্রথমা
  2. খ) কর্মে সপ্তমী
  3. গ) অপাদানে সপ্তমী
  4. ঘ) সম্প্রদানে সপ্তমী
সঠিক উত্তর:
খ) কর্মে সপ্তমী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কর্মে সপ্তমী
ব্যাখ্যা
• কর্মকারক: 
কর্তা যাকে আশ্রয় করে বা অবলম্বন করে ক্রিয়া সম্পাদন করে তাকে বল হয় কর্মকারক।
- ক্রিয়ার সঙ্গে 'কী' বা 'কাকে' যোগ করে প্রশ্ন করলে কর্মকারক পাওয়া যায়।
যেমন: সেলিম বই পড়ে। - এ বাক্যের কর্ম হলাে বই। কারণ বইকে আশ্রয় করে কর্তা এখানে কাজ সম্পাদন করেছে।

•  কর্মকারকের বিভিন্ন বিভক্তির ব্যবহার।
ক) প্রথমা বা শূন্য অ বিভক্তি : ডাক্তার ডাক।
খ) দ্বিতীয়া বা কে বিভক্তি : তাকে বল।
রে বিভক্তি : ‘আমারে তুমি করিবে ত্রাণ, এ নহে মাের প্রার্থনা।
গ) ষষ্ঠী বা র বিভক্তি : তােমার দেখা পেলাম না।
ঘ) সপ্তমীর এ বিভক্তি : জিজ্ঞাসিবে জনে জনে। 
------------------------------------------------
প্রিয়জনে যাহা দিতে চাই তাই দিই দেবতারে'- বাক্যে নিম্নরেখ শব্দটি কর্মকারকে সপ্তমী বিভক্তি।
কারন, ক্রিয়াকে 'কাকে' দিতে চাই প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যাবে 'প্রিয়জনে', তাই প্রিয়জনে- কর্মকারক।
আবার, এখানে 'প্রিয়জনে' 'এ' বা ৭মী বিভক্তি যুক্ত হয়েছে। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯সংস্করণ)।