উত্তর
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান - জ্যোতিষ্কমণ্ডল।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
- শব্দটি সংস্কৃত ভাষার শব্দ।
শব্দের অর্থ:
- নভোমণ্ডলে ঘূর্ণমান গ্রহনক্ষত্র।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন
PrepBank · পাতা ২৫ / ৬৯ · ২,৪০১–২,৫০০ / ৬,৯৫৩
• শুদ্ধ বানান - জ্যোতিষ্কমণ্ডল।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
- শব্দটি সংস্কৃত ভাষার শব্দ।
শব্দের অর্থ:
- নভোমণ্ডলে ঘূর্ণমান গ্রহনক্ষত্র।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
• অশুদ্ধ বাক্য- সকল ছাত্রগণ পাঠে মনোযোগী নয়।
-------------------------------
• নিয়ম:
• বহুবচনের অপ্রপ্রয়োগজনিত ভুল:
- বহুত্ব বোঝাতে আমরা বহুবচন ব্যবহার করি। বিশেষ পদের সঙ্গে গুলি/গুলো/রা, এরা ইত্যাদি যুক্ত করে বহুবচন তৈরি করা হয়।
- বহুবচনের পরে দ্বিত্ব প্রয়োগ হয় না, অর্থাৎ কোনো শব্দকে একবার বহুবচনে রূপান্তরিত করলে পুনরায় তার বহুবচন অপ্রয়োজনীয়।
- তাই অগণিত, অনেক, বহু, যাবতীয়, সব, সকল ইত্যাদি যত বহুবচক পদ আছে, তাদের পরে সংশ্লিষ্ট বিশেষ পদের সঙ্গে গণ, রা, গুলি/গুলো ইত্যাদি যুক্ত হবে না।
- যেমন:
- অশুদ্ধ- সকল ছাত্রগণ পাঠে মনোযোগী নয়।
- শুদ্ধ- সকল ছাত্র পাঠে মনোযোগী নয়।
--------------------------
• কিছু বাক্যশুদ্ধি:
অশুদ্ধ- ক্লাসে অনেক ছাত্রছাত্রীরা এসেছিল।
শুদ্ধ- ক্লাসে অনেক ছাত্রছাত্রী এসেছিল।
- অশুদ্ধ- সকল আলেমগণ আজ উপস্থিত।
- শুদ্ধ- আলেমগণ আজ উপস্থিত।
- অশুদ্ধ- আলোচনার মাধ্যমে সব সমস্যাগুলোর সমাধান সম্ভব।
- শুদ্ধ- আলোচনার মাধ্যমে সব সমস্যার সমাধান সম্ভবপর।
- অশুদ্ধ- অনেক ছাত্রছাত্রীরা ভালো পড়াশোনা করেও পরীক্ষায় ভালো ফল করে না।
- শুদ্ধ- অনেক ছাত্রছাত্রী ভালো পড়াশোনা করেও পরীক্ষায় ভালো ফল করে না।
- অশুদ্ধ- অন্যান্য বিষয়গুলোর আলোচনা পরে হবে।
- শুদ্ধ- অন্য বিষয়গুলোর আলোচনা পরে হবে।
উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
সকল বন্যার্তদের বাক্যটিতে অপ-প্রয়োগ ঘটেছে। এর শুদ্ধরূপ হবে - সকল বন্যার্তকে।
গুরুত্বপূর্ণ কতিপয় অপপ্রয়োগ -
অধ্যবধি (হবে না) - অদ্যাবধি (হবে),
অহোরাত্রি - অহোরাত্র,
পিতাহারা - পিতৃহারা,
রাজাগণ - রাজগণ,
দুরাবস্থা - দুরবস্থা
পশ্বাধম - পশ্বধম,
আমদ - আমোদ ইত্যাদি।
- ক্রিয়া সম্পাদনের কাল (সময়) এবং আধারকে (স্থান) অধিকরণ কারক বলে।
উদাহরণঃ
- আজকে হবে না, কালকে আসুন৷
অতএব, প্রদত্ত বাক্যে 'আজকে' শব্দটি অধিকরণ কারণে ২য়া বিভক্তি৷
উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
অর্থালংকার:
⇒ অর্থের বৈচিত্র্য ও সৌন্দর্য - বিধায়ক অলঙ্কারকে বলা হয় অর্থালঙ্কার। অর্থালংকারে শব্দধ্বনি গৌণ, তার অর্থই প্রধান। এজন্য অর্থ ঠিক রেখে শব্দ বদলে দিলেও অর্থালংকারের কোনো পরিবর্তন হয় না।
⇒ অর্থালংকার প্রধানত ৫ প্রকার :
যথা :
- সাদৃশ্যমূলক।
- বিরোধমূলক।
- শৃঙ্খলামূলক।
- ন্যায়মূলক।
- গূঢ়ার্থমূলক।
উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।
• প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম অনুসারে,
অর্জন- শুদ্ধ বানান।
• প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম:
রেফের পর ব্যঞ্জনবর্ণের দ্বিত্ব হবে না।
যেমন:
- অর্জ্জন, ঊর্দ্ধ, কার্ত্তিক, কর্ম্ম, মূর্চ্ছ্ কার্য্য ইত্যাদির পরিবর্তে যথাক্রমে- অর্জন, ঊর্ধ্ব, কার্তিক, কর্ম, মূর্ছা, কার্য ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
বাংলা একাডেমী অভিধান অনুসারে ‘ইতোমধ্যে' বানানটি সঠিক।
ইদানীং (অব্যয়, ক্রিয়া, বিশেষ্য) - আজকাল; সম্প্রতি; অধুনা।
উৎসঃ বাংলা একাডেমী অভিধান
করণ কারক:
- ক্রিয়া সম্পাদনের যন্ত্র, উপকরণ বা সহায়ককেই করণ কারক বলা হয়। 'করণ' শব্দটির অর্থ যন্ত্র, সহায়ক বা উপায়। বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদের সঙ্গে 'কীসের দ্বারা' বা 'কী উপায়ে' প্রশ্ন করলে যে উত্তরটি পাওয়া যায়, তা-ই করণ কারক।
করণ কারকে বিভিন্ন বিভক্তির ব্যবহার :
প্রথমা বা শূন্য বা অ বিভক্তি -
- ছাত্ররা বল খেলে।
- ডাকাতেরা গৃহস্বামীর মাথায় লাঠি মেরেছে।
তৃতীয়া বা দ্বারা বিভক্তি, দিয়া বিভক্তি:
- লাঙ্গল দ্বারা জমি চাষ করা হয়।
- মন দিয়া কর সবে বিদ্যা উপার্জন।
সপ্তমী বিভক্তি বা এ বিভক্তি, তে বিভক্তি, য় বিভক্তি :
- ফুলে ফুলে ঘর ভরেছে।
- শিকারি বিড়াল গোঁফে চেনা যায়।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি ( ২০১৮ সংস্করণ)।
'তোমার দ্বারা ভ্রমণে যাওয়া হবে না।' ভাববাচ্যের উদাহরণ।
• ভাববাচ্য :
যে বাচ্যে কর্ম থাকে না এবং বাক্যে ক্রিয়ার অর্থই বিশেষভাবে ব্যক্ত হয় তাকে ভাববাচ্য বলে।
১. ভাববাচ্যের ক্রিয়া সর্বদাই নাম পুরুষের হয়। ভাববাচ্যের কর্তায় ষষ্ঠী, দ্বিতীয়া অথবা তৃতীয়া বিভক্তি প্রযুক্ত
হয়। যেমন—
- আমার (কর্তায় ষষ্ঠী) খাওয়া হলো না।
- আমাকে (কর্তায় দ্বিতীয়া) এখন যেতে হবে।
- তোমার দ্বারা (কর্তায় তৃতীয়) এ কাজ হবে না।
অন্যদিকে,
• কর্তৃবাচ্য :
যে বাক্যে কর্তার অর্থ-প্রাধান্য রক্ষিত হয় এবং ক্রিয়াপদ কর্তার অনুসারী হয়, তাকে কর্তৃবাচ্যের বাক্য বলে।
যেমন— ছাত্ররা অঙ্ক করছে।
- কর্তৃবাচ্যে ক্রিয়াপদ সর্বদাই কর্তার অনুসারী হয় ।
- কর্তৃবাচ্যে কর্তায় প্রথমা বা শূন্য বিভক্তি এবং কর্মে দ্বিতীয়া, ষষ্ঠী বা শূন্য বিভক্তি হয়। যথা— শিক্ষক ছাত্রদের পড়ান। রোগী পথ্য সেবন করে।
• কর্মবাচ্য :
যে বাক্যে কর্মের সাথে ক্রিয়ার সম্বন্ধ প্রধানভাবে প্রকাশিত হয়, তাকে কর্মবাচ্য বলে।
যেমন- শিকারি কর্তৃক ব্যাঘ্র নিহত হয়েছে।
- কর্মবাচ্যে কর্মে প্রথমা, কর্তায় তৃতীয়া বিভক্তি ও দ্বারা দিয়া (দিয়ে), কর্তৃক অনুসর্গের ব্যবহার এবং ক্রিয়াপদ কর্মের অনুসারী হয়।
যথা – আলেকজান্ডার কর্তৃক পারস্য দেশ বিজিত হয়।
চোরটা ধরা পড়েছে।
- কখনো কখনো কর্মে দ্বিতীয়া বিভক্তি হতে পারে।
যথা- আসামিকে জরিমানা করা হয়েছে।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( সংস্করণ- ২০২১)।
• সম্বন্ধ কারক:
যে কারকে বিশেষ্য ও সর্বনামের সঙ্গে বিশেষ্য ও সর্বনামের সম্পর্ক নির্দেশিত হয়, তাকে সম্বন্ধ কারক বলে।
- এই কারকে ক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক পরোক্ষ।
- এই কারকে শব্দের সঙ্গে ‘-র’, '-এর’, '-য়ের’, ‘-কার’, ‘-কের' ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়।
যেমন -
→ ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না।
→ আমার জামার বােতামগুলাে একটু অন্য রকম।
- রাজার হস্ত করে সমস্ত কাঙালের ধন চুরি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ); বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
সাধারণত বাংলা ভাষায় প্রবাদ-প্রবচনগুলো যেভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে তার বিকৃতি বা রূপের পরিবর্তন করা হলে তা ভুল বলে গণ্য হবে।
যেমন- 'গৃহস্থের খেয়ে বনের মোষ তাড়াতে পারব না' -বাক্যটিতে প্রবাদ-প্রবচন বিকৃতিজনিত ভুল প্রয়োগ ঘটেছে।
সঠিক বাক্যটি হবে - 'ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়াতে পারব না'।
উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ
অপাদান কারক:
- যে কারকে ক্রিয়ার উৎস নির্দেশ করা হয়, তাকে অপাদান কারক বলে। এই কারকে সাধারণত ‘হতে’, ‘থেকে’ ইত্যাদি অনুসর্গ শব্দেরে পরে বসে।
যেমন:
- জমি থেকে ফসল পাই।
- কাপটা উঁচু টেবিল থেকে পড়ে ভেঙে গেল।
- কুকর্মে বিরত হও।
অন্যদিকে,
অধিকরণ কারক:
- যে কারকে স্থান, কাল, বিষয় ও ভাব নির্দেশিত হয়, তাকে অধিকরণ কারক বলে।
- এই কারকে সাধারণত -'এ', –'য়', -'য়ে', -তে ইত্যাদি বিভক্তি শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়।
যেমন -
- বাবা বাড়িতে আছেন।
করণ কারক:
- যার দ্বারা বা যে উপায়ে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে করণ কারক বলে।
- এই কারকে সাধারণত ‘দ্বারা’, ‘দিয়ে’, ‘কর্তৃক’ ইত্যাদি অনুসর্গ যুক্ত হয়।
যেমন:
- ভেড়া দিয়ে চাষ করা সম্ভব নয়।
কর্মকারক:
- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে কর্মকারক বলে।
- ক্রিয়ার সঙ্গে 'কী' বা 'কাকে' যোগ করে প্রশ্ন করলে কর্মকারক পাওয়া যায়।
উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
• অশুদ্ধ বানান - মহিয়সী।
- শুদ্ধ বানান - মহীয়সী।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
- শব্দটি সংস্কৃত ভাষা হতে আগত।
শব্দের অর্থ:
- অতি মহান,
- মহত্তর।
অন্যদিকে,
- মন্ত্রিপরিষদ, প্রতিযোগিতা এবং ভাগীরথী - শব্দগুলোর বানান শুদ্ধ।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
⇒ বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
শুদ্ধ বানান- অন্তঃসার।
অন্যদিকে,
'ভাগীরথি' এর শুদ্ধ রূপ- 'ভাগীরথী'।
’অন্ত্যেষ্টিক্রিয়’ শব্দের শুদ্ধরূপ- অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া (মৃতের সৎকার);
’আকিঞ্চণ’ শব্দের শুদ্ধরূপ- আকিঞ্চন (অবিলাষ, কামনা)
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
• বাক্যে অবস্থান বিবেচনায় বিরামচিহ্নকে ২ ভাগে ভাগ করা যায়:
- প্রান্তিক বিরামচিহ্ন।
- বাক্যান্তর্গত বিরামচিহ্ন।
• প্রান্তিক বিরামচিহ্ন:
যেসব বিরামচিহ্ন বাক্যের শেষে বসে তাদের প্রান্তিক বিরামচিহ্ন বলে।
যেমন-
- দাঁড়ি, প্রশ্নবোধক চিহ্ন, বিস্ময়বোধক প্রভৃতি প্রান্তিক বিরামচিহ্ন।
• বাক্যান্তর্গত বিরামচিহ্ন:
- যেসব বিরামচিহ্ন বাক্যের শেষে ছাড়া অন্যান্য স্থানে বসে তাদের বাক্যান্তর্গত বিরামচিহ্ন বলা হয়।
যেমন- কমা, কোলন, সেমিকোলন, ড্যাশ, হাইফেন ইত্যাদি।
উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি-ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
- ‘মেয়েরা উঠোনে দৌড়াচ্ছে।— বাক্যটিতে ‘মেয়েরা’ কর্তৃকারক নির্দেশ করে।
• কর্তৃকারক:
- যে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদ ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে কর্তৃকারক বলে।
- ক্রিয়াকে ‘কে’ দিয়ে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, সেটিই কর্তৃকারক।
- এখানে প্রশ্ন করলে- কে দৌড়াচ্ছে? → মেয়েরা।
- তাই ‘মেয়েরা’ কর্তৃকারক।
- কর্তৃকারকের কিছু উদাহরণ:
• রহিম গান গায়- (কে গান গায়? → রহিম)।
- রহিম কর্তৃকারক।
• মেয়েরা উঠোনে দৌড়াচ্ছে- (কারা দৌড়াচ্ছে? → মেয়েরা)।
- মেয়েরা কর্তৃকারক।
• আমি চা খাই (কে চা খায়? → আমি)।
- আমি কর্তৃকারক।
• অধ্যাপক শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা নিয়েছেন- (কে পরীক্ষা নিয়েছেন? → অধ্যাপক)।
- অধ্যাপক কর্তৃকারক।
- তারা সিনেমা দেখছে (কে দেখছে? → তারা)।
- তারা কর্তৃকারক।
অন্যদিকে,
- অধিকরণ কারক – কাজটি কোথায় বা কখন হয় তা বোঝায়।
- অপাদান কারক - কোনো কিছুর উৎস, বিচ্যুতি, বিরতি, আরম্ভ বা রক্ষা নির্দেশ করে এবং যা দেখে কেউ ভীত বা প্রভাবিত হয়।
- করণ কারক - কাজের উপায় বা যন্ত্র বোঝায়।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর।
যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে কর্মকারক বলে৷
ক্রিয়ার সঙ্গে 'কী' বা 'কাকে' যোগ করে প্রশ্ন করলে কর্মকারক পাওয়া যায়৷
উল্লেখিত বাক্যটিতে 'কী' বা 'কাকে' প্রশ্ন করলে পাওয়া যায় 'গুণহীনে'৷
অর্থাৎ বাক্যে 'গুণহীনে' একটি কর্মকারক।
আর শব্দের শেষে ''এ, (য়), য়, তে, এতে'' থাকলে তা সপ্তমী বিভক্তি হয়।
অতএব, বাক্যটিতে ''গুণহীনে'' কর্মকারকে সপ্তমী বিভক্তি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যকরণ, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
• অপশনে সবগুলো বাক্যই অশুদ্ধ।
অশুদ্ধ বাক্য: আমি সন্তোষ হলাম।
শুদ্ধ বাক্য: আমি সন্তুষ্ট হলাম।
অশুদ্ধ বাক্য: তোমাকে দেখে সে আশ্চর্য হয়েছে।
শুদ্ধ বাক্য: তোমাকে দেখে সে আশ্চর্যান্বিত হয়েছে।
অশুদ্ধ বাক্য: অধ্যাপনাই ছাত্রদের তপস্যা।
শুদ্ধ বাক্য: অধ্যয়নই ছাত্রদের তপস্যা।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
- 'বাল্মীকি' বানানটি শুদ্ধ।
- 'বাল্মীকি' একটি সংস্কৃত শব্দ।
- বাল্মীকি = বল্মীক + ই।
অর্থ: রামায়ণের প্রণেতা কবি, আদিকবি।
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
- শুদ্ধ বানান - সমীচীন।
- সমীচীন শব্দের অর্থ - সঙ্গত, উচিত,উপযুক্ত,ন্যায় সঙ্গত, যথার্থ ।
- সমীচীন শব্দটি বিশেষণ পদ।
- সমীচীন শব্দটি সংস্কৃত ভাষা থেকে সরাসরি বাংলায় এসেছে।
অন্যদিকে,
- সমিচীন, সমীচিন, সমিচিন- শব্দগুলোর বানান ভুল।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
• কিছু সমাস ঘটিত অশুদ্ধ শব্দের সম্পর্কে সতর্কতা:
সংস্কৃত ইন্- প্রত্যয়ান্ত শব্দের প্রথমবার একবচনের রূপ হিসেবে বাংলায় ধনী, গুণী, মানী, পাপী ইত্যাদি হয়। কিন্তু নিঃ উপসর্গযোগে সমাসবদ্ধ হলে শব্দের শেষে ঈ-কার হয় না। সেখানে ধন, গুণ, মান, পাপ ইত্যাদি শব্দের সমান হয়।
যেমন- নেই ধন যার = নির্ধন; নেই গুণ যার = নির্গুণ; নেই পাপ যার = নিষ্পাপ। নির্ধনী, নির্গুণী, নিষ্পাপী ইত্যাদি অশুদ্ধ।
কিছু সমাস সাধিত অশুদ্ধ শব্দের শুদ্ধ প্রয়োগ:
অশুদ্ধ শব্দ - শুদ্ধ শব্দ:
পিতাহারা - পিতৃহারা;
যুবরাজা - যুবরাজ;
মহিমামণ্ডিত - মহিমমণ্ডিত;
রাজাগণ - রাজগণ;
মাতাজাতি - মাতৃজাতি;
সুবুদ্ধিমান - সুবুদ্ধি;
নির্দোষী - নির্দোষ;
পিতাহারা - পিতৃহারা;
অর্ধরাত্রি - অর্ধরাত্র;
নিরভিমানী - নিরভিমান;
দিবারাত্রি - দিবারাত্র;
নীরোগী - নীরোগ ইত্যাদি।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
• উপরিউক্ত অপশনে বাক্যগুলো অশুদ্ধ। তাই সঠিক উত্তর - কোনটিই নয়।
অশুদ্ধ বাক্য: বিদ্যান মূর্খ অপেক্ষা শ্রেয়।
শুদ্ধ বাক্য: বিদ্বান মূর্খ অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ।
অশুদ্ধ বাক্য: এ কথা প্রমাণ হয়েছে।
শুদ্ধ বাক্য: এ কথা প্রমাণিত হয়েছে।
অশুদ্ধ বাক্য: তার সৌজন্যতায় মুগ্ধ হয়েছি।
শুদ্ধ বাক্য: তার সৌজন্যে মুগ্ধ হয়েছি।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
ফারসি শব্দের উদাহরণ হলো- খোদা, গুনাহ, নামাজ, ফেরেশতা, চশমা, জানোয়ার, বান্দা, বেগম, জিন্দা, নমুনা ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী।
• যে বাক্যে আদেশ, অনুরোধ, উপদেশ, নিষেধ ইত্যাদি অর্থ প্রকাশ পায় তাকে অনুজ্ঞা বাক্য বলে। একে আজ্ঞাসূচক, আজ্ঞাবাহক, অনুজ্ঞাবাচক, অনুজ্ঞাসূচক
বাক্যও বলা হয়। যেমনঃ
• উপদেশ-
- সদা সত্য কথা বলবে।
- দেশের স্বাধীনতা রক্ষার জন্য যুদ্ধ করবে।
- ভালো ফলের চেষ্টা কর।
• আদেশ-
- কাছে এসো।
- চুপটি করে বসো।
- উঠে দাঁড়াও।
• অনুরোধ-
- দয়া করে আমাকে কাজটা করে দেবেন/দিন।
- কাজটি করে দাও না ভাই।
উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।
• সঠিক বানান - অস্তায়মান।
- এটি একটি বিশেষণ পদ।
- শব্দটি সংস্কৃত ভাষা হতে আগত।
'অস্তায়মান' শব্দের অর্থ -অস্তমিত হচ্ছে এমন।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
স্বায়ত্তশাসন (বিশেষ্য):
অর্থঃ স্বজাতীয়দের দ্বারা পরিচালিত শাসন; স্বদেশবাসী কর্তৃক রাজ্যশাসন; স্বশাসন।
উৎসঃ বাংলা একাডেমির অভিধান।
আবেগবাচক বাক্য:
- কোনো কিছু দেখে বা শুনে অবাক হয়ে যে ধরনের বাক্য তৈরি হয়, তাকে আবেগবাচক বাক্য বলে।
যেমন:
- দারুণ! আমরা জিতে গিয়েছি।
- অত উঁচু পাহাড়ে উঠে আমি তো ভয়েই মরি!
অন্যদিকে,
বিবৃতিবাচক বাক্য - তারা তোমাদের ভোলেনি।
অনুজ্ঞাবাচক বাক্য - আমাকে একটি কলম দাও। তার মঙ্গল হোক।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
• কর্মবাচ্যের ধাতু:
- মৌলিক ধাতুর সাথে 'আ' প্রত্যয় যোগে কর্মবাচ্যের ধাতু সাধিত হয়।
- এটি বাক্য মধ্যস্ত কর্মপদের অনুসারী ক্রিয়ার ধাতু।
- যেমন: দেখ্ + আ = দেখা; কাজটি ভালো দেখায় না।
- হার্ + আ = হারা; যা কিছু হারায় গিন্নী বলেন কেষ্টা বেটাই চোর।
উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
• অশুদ্ধ বানান - বাষ্পিয়।
- এর শুদ্ধ বানান - বাষ্পীয়।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
শব্দের অর্থ:
- বাষ্প-শক্তির সাহায্যে চলে এমন। বাষ্পসম্বন্ধীয়।
অন্যদিকে,
- মন্ত্রিসভা, ঔষধ এবং অনুকূল - শব্দগুলোর বানান শুদ্ধ।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
• 'বাস টার্মিনাল ছেড়েছে' বাক্যটিতে ‘টার্মিনাল' অপাদান কারকে শূন্য বিভক্তি।
- বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথা থেকে? কী থেকে? কিসের থেকে?—এই প্রশ্নগুলো করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, সেটিই অপাদান কারক।
- যেমন— বাস টার্মিনাল ছেড়েছে।
- এখানে ‘টার্মিনাল’ থেকে বাসটি বিচ্ছিন্ন হয়েছে।
- ‘টার্মিনাল’ শব্দে কোনো বিভক্তি যুক্ত না থাকায় এটি অপাদান কারকে শূন্য বিভক্তি হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।
------------------
• অপাদান কারক:
- অপাদান কারক হলো সেই কারক, যেখান থেকে কোনো কিছু বিচ্ছিন্ন হয়, উৎপত্তি ঘটে, শুরু হয় বা দূরে সরে যায়।
- বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথা থেকে? কী থেকে? কিসের থেকে?—এই প্রশ্নগুলো করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, সেটিই অপাদান কারক।
-----------
অন্যদিকে,
• কর্তৃকারক-
- বাক্যস্থিত যে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদ ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে ক্রিয়ার কর্তা বা কর্তৃকারক বলা হয়।
- অর্থাৎ, যে কাজটি করে তাকেই কর্তা বা কর্তৃকারক বলা হয়।
- কর্তৃকারক শনাক্ত করতে বাক্যের ক্রিয়াপদের সঙ্গে ‘কে?’ বা ‘কারা?’ প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, সেটিই কর্তৃকারক।
- যেমন— পাগলে কিনা বলে।
- এখানে ‘কে কিনা বলে?’ প্রশ্নের উত্তরে ‘পাগল’ পাওয়া যায়।
- তাই ‘পাগল’ হলো কর্তৃকারক।
এই বাক্যেটি কর্তৃকারকে সপ্তমী বিভক্তি।
• কর্মকারক-
- যাকে অবলম্বন করে বা আশ্রয় নিয়ে ক্রিয়া সম্পাদিত হয়, তাকে কর্মকারক বলা হয়।
- কর্মকারক শনাক্ত করতে বাক্যের ক্রিয়াপদের সঙ্গে ‘কী?’ বা ‘কাকে?’ প্রশ্ন করতে হয়।
- যেমন— ‘বিহগে ললিত গান শিখায়েছ ভালবেসে’।
- প্রশ্ন: শিখানো কাকে অবলম্বন করে হয়েছে?
- উত্তর: বিহগকে।
- অতএব, ‘বিহগ’ হলো কর্মকারক।
• করণকারক-
- ক্রিয়া সম্পাদনের যন্ত্র, উপকরণ বা সহায়ককে করন কারক বলা হয়।
- ক্রিয়াপদকে ‘কিসের দ্বারা?’ বা ‘কি দিয়ে?’ প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায় তাই করণ কারক।
- যেমন— মন দিয়ে করো সবে বিদ্যা অর্জন।
- প্রশ্ন: কি দিয়ে বিদ্যা অর্জন করো?
- উত্তর: মন দিয়ে।
- অতএব, ‘মন দিয়ে’ হলো করণ কারক।
- এই বাক্যটি করণ কারকে তৃতীয়া বিভক্তি।
উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
যতি বা ছেদ চিহ্নের বিরতি কালঃ
কমা- ১ (এক) বলতে যে সময় প্রয়োজন।
সেমিকোলন- ১ বলার দ্বিগুণ সময়।
দাঁড়ি বা পূর্ণচ্ছেদ- এক সেকেন্ড।
প্রশ্নবোধক চিহ্ন- এক সেকেন্ড।
বিস্ময় ও সম্বোধন চিহ্ন- এক সেকেন্ড।
কোলন- এক সেকেন্ড।
ড্যাস- এক সেকেন্ড।
কোলন ড্যাস- এক সেকেন্ড।
হাইফেন - থামার প্রয়োজন নেই।
ইলেক বা লোপ চিহ্ন- থামার প্রয়োজন নেই।
একক উদ্ধৃতি চিহ্ন- 'এক' উচ্চরণে যে সময় লাগে।
যুগল উদ্ধৃতি চিহ্ন- 'এক' উচ্চরণে যে সময় লাগে।
ব্র্যাকেট (বন্ধনি চিহ্ন)- থামার প্রয়োজন নেই।
ধাতু দ্যোতক চিহ্ন- থামার প্রয়োজন নেই।
সূত্রঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী।