বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাক্য প্রকরণ

মোট প্রশ্ন৬,৯৫৩এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাক্য প্রকরণ

PrepBank · পাতা ২৩ / ৬৯ · ২,২০১২,৩০০ / ৬,৯৫৩

২,২০১.
শুদ্ধ বানান কোনটি?
  1. শশিভুষন
  2. শশিভূষণ
  3. শশীভূষন
  4. শশীভুষণ
সঠিক উত্তর:
শশিভূষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শশিভূষণ
ব্যাখ্যা

• শুদ্ধ বানান - 'শশিভূষণ'
- সংস্কৃত শব্দ।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
এর অর্থ:
- চন্দ্র যাঁর অলঙ্কার বা কিরীট।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

২,২০২.
'খাঁটি সোনার চাইতে খাঁটি, আমার দেশের মাটি।' কোন ধরনের বাক্যের উদাহরণ?
  1. ক) সরল বাক্য
  2. খ) জটিল বাক্য
  3. গ) যৌগিক বাক্য
  4. ঘ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
খ) জটিল বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) জটিল বাক্য
ব্যাখ্যা

জটিল বাক্য বা মিশ্র বাক্য: যে বাক্যের মধ্যে একটি প্রধান বাক্য থাকে এবং একাধিক বাক্যকে প্রধান বাক্যের ওপর নির্ভরশীল দেখা যায়, তাকে জটিল বাক্য বা মিশ্র বাক্য বলে৷
যেমন-
খাঁটি সোনার চাইতে খাঁটি, আমার দেশের মাটি।
যে এ সভায় অনুপস্থিত, সে বড় দুর্ভাগা।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি

২,২০৩.
যে কারকে ক্রিয়ার উৎস নির্দেশ করা হয়, তাকে কী কারক বলে?
  1. অধিকরণ কারক
  2. কর্মকারক
  3. করণ কারক
  4. অপাদান কারক
সঠিক উত্তর:
অপাদান কারক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপাদান কারক
ব্যাখ্যা
অপাদান কারক:
- যে কারকে ক্রিয়ার উৎস নির্দেশ করা হয়, তাকে অপাদান কারক বলে। এই কারকে সাধারণত ‘হতে’, ‘থেকে’ ইত্যাদি অনুসর্গ শব্দেরে পরে বসে।

যেমন:
- জমি থেকে ফসল পাই।
- কাপটা উঁচু টেবিল থেকে পড়ে ভেঙে গেল।
- কুকর্মে বিরত হও।

অন্যদিকে, 
অধিকরণ কারক:
- যে কারকে স্থান, কাল, বিষয় ও ভাব নির্দেশিত হয়, তাকে অধিকরণ কারক বলে।
- এই কারকে সাধারণত -'এ', –'য়', -'য়ে', -তে ইত্যাদি বিভক্তি শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়।
যেমন -
- বাবা বাড়িতে আছেন।

করণ কারক:
- যার দ্বারা বা যে উপায়ে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে করণ কারক বলে।
- এই কারকে সাধারণত ‘দ্বারা’, ‘দিয়ে’, ‘কর্তৃক’ ইত্যাদি অনুসর্গ যুক্ত হয়।
যেমন:
- ভেড়া দিয়ে চাষ করা সম্ভব নয়।

কর্মকারক:
- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে কর্মকারক বলে।
- ক্রিয়ার সঙ্গে 'কী' বা 'কাকে' যোগ করে প্রশ্ন করলে কর্মকারক পাওয়া যায়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ) ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,২০৪.
নিচের কোন বাক্যটিতে ভাষার অপপ্রয়োগ ঘটে নি?
  1. ছেলেটি মারাত্নক মেধাবী।
  2. আকণ্ঠ পর্যন্ত ভোজন করলাম।
  3. অন্নাভাবে ঘরে ঘরে হাহাকার।
  4. তিনি অপমানিতবোধ করেছেন।
সঠিক উত্তর:
অন্নাভাবে ঘরে ঘরে হাহাকার।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অন্নাভাবে ঘরে ঘরে হাহাকার।
ব্যাখ্যা
"অন্নাভাবে ঘরে ঘরে হাহাকার।" বাক্যটি শুদ্ধ।

অন্যদিকে,
- অশুদ্ধ: ছেলেটি মারাত্নক মেধাবী।
- শুদ্ধ: ছেলেটি অত্যন্ত মেধাবী।

- অশুদ্ধ: আকণ্ঠ পর্যন্ত ভোজন করলাম।
- শুদ্ধ: আকণ্ঠ ভোজন করলাম।

- অশুদ্ধ: তিনি অপমানিতবোধ করেছেন।
- শুদ্ধ: তিনি অপমানবোধ করেছেন।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২,২০৫.
'হইতে, থেকে, চেয়ে' - কোন বিভক্তি?
  1. পঞ্চমী বিভক্তি
  2. দ্বিতীয়া বিভক্তি
  3. প্রথমা বিভক্তি
  4. তৃতীয়া বিভক্তি
সঠিক উত্তর:
পঞ্চমী বিভক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পঞ্চমী বিভক্তি
ব্যাখ্যা

বিভক্তি:
- যে সব বর্ণ বা বর্ণসমষ্টি বা চিহ্ন দ্বারা বাক্যের এক পদের সঙ্গে অন্য পদের সম্বন্ধ নির্ধারিত হয়, তাকে বলা বিভক্তি।
বাংলা শব্দ বিভক্তি ৭ প্রকার।

যথা: 
- প্রথমা বা শূণ্য বিভক্তি:  ০, অ।
- দ্বিতীয়া বিভক্তি : কে, রে।
- তৃতীয়া বিভক্তি : দ্বারা, দিয়া (দিয়ে), কর্তৃক।
- চতুর্থী বিভক্তি : কে, রে।
- পঞ্চমী বিভক্তি: হইতে (হতে), থেকে, চেয়ে
- ষষ্ঠী বিভক্তি: র, এর।
- সপ্তমী বিভক্তি:  এ, য়, তে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

২,২০৬.
মিহির বললো, “আমার জানামতে সবুজ এ বাসায় থাকে।” - বাক্যের পরোক্ষ উক্তি নিচের কোনটি?
  1. মিহির বললো যে, আমার জানামতে সবুজ সে বাসায় থাকতো।
  2. মিহির বললো, তার জানামতে সে বাসায় থাকতো।
  3. মিহির বললো যে, তার জানামতে সবুজ সে বাসায় থাকতো না।
  4. মিহির বললো যে, তার জানামতে সবুজ সে বাসায় থাকতো।
সঠিক উত্তর:
মিহির বললো যে, তার জানামতে সবুজ সে বাসায় থাকতো।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মিহির বললো যে, তার জানামতে সবুজ সে বাসায় থাকতো।
ব্যাখ্যা
উক্তি পরিবর্তন:
- প্রত্যক্ষ উক্তির যেখান থেকে উদ্ধারচিহ্ন শুরু হয়, পরোক্ষ উক্তিতে সেখানে যোজক 'যে' বসে এবং উদ্ধারচিহ্ন উঠে যায়।
- অর্থের সংগতি রাখার জন্য বাক্যে ব্যবহৃত সর্বনামের পরিবর্তন প্রয়োজন হয়।
যেমন:
প্রত্যক্ষ উক্তি: মিহির বললো, “আমার জানামতে সবুজ এ বাসায় থাকে।”
পরোক্ষ উক্তি: মিহির বললো যে, তার জানামতে সবুজ সে বাসায় থাকতো।

প্রত্যক্ষ উক্তি: রাজীব বললো, “আমি বাগান করা পছন্দ করি।”
পরোক্ষ উক্তি: রাজীব বললো যে, সে বাগান করা পছন্দ করে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( সংস্করণ- ২০২১)।
২,২০৭.
মূর্ধন্য-ণ এর অপপ্রয়োগ ঘটেছে নিচের কোন শব্দে?
  1. কণিকা
  2. বাণিজ্য
  3. দুর্ণিবার 
  4. রুক্মিণী
সঠিক উত্তর:
দুর্ণিবার 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুর্ণিবার 
ব্যাখ্যা

• মূর্ধন্য-ণ এর অপপ্রয়োগ ঘটেছে- দুর্ণিবার শব্দে।  
শুদ্ধরূপ- দুর্নিবার। 

-----------------
• ণ-ত্ব বিধান:
বাংলা ভাষায় বহু তৎসম বা সংস্কৃত শব্দে মূর্ধন্য-ণ এবং দন্ত্য-ন এর ব্যবহার
রয়েছে। এগুলো বাংলা বানানেও অবিকৃতভাবে রক্ষিত হয়। তৎসম শব্দের বানানে ণ-এর সঠিক ব্যবহারের নিয়মই ণ-ত্ব বিধান।

• 'ণ' ব্যবহারের নিয়ম:
- ট-বর্গীয় ধ্বনির আগে তৎসম শব্দে সব সময় 'ণ' ব্যবহৃত হয়। যেমন: ঘণ্টা, কাণ্ড ইত্যাদি।
- ঋ, র, ষ এর পরে 'ণ' হয়। যেমন: ঋণ, তৃণ, বর্ণ, বর্ণনা, কারণ, মরণ, ব্যাকরণ, ভীষণ, ভাষণ, উষ্ণ ইত্যাদি।
- ঋ, র, ষ- এর পরে স্বরধ্বনি (ষ, য়, ব, হ, ং  এবং ক-বর্গীয় ও প-বর্গীয়) ধ্বনি থাকলে তার পরবর্তী 'ন' মূর্ধন্য 'ণ' হয়। যেমন: কৃপণ, হরিণ, অর্পণ, লক্ষণ, রুক্মিণী, ব্রাহ্মণ ইত্যাদি।
- কতকগুলো শব্দে স্বভাবতই 'ণ' হয়। যেমন: চাণক্য, মাণিক্য, গণ, বাণিজ্য, লবণ, মণ, বেণু, বীণা, কঙ্কণ, কণিকা, স্থাণু, ফণী, পিণাক ইত্যাদি।

যেসকল ক্ষেত্রে ণ-ত্ব বিধান প্রযোজ্য নয়:
১. সমাসবদ্ধ শব্দে সাধারণত ণ-ত্ব বিধান খাটে না। এরূপ ক্ষেত্রে 'ন' হয়। যেমন- ত্রিনয়ন, সর্বনাম, দুর্নীতি, দুর্নাম, দুর্নিবার, পরনিন্দা, অগ্রনায়ক ইত্যাদি।
২. ত-বর্গীয় বর্ণের সঙ্গে যুক্ত ন কখনো (ণ) হয় না। যেমন- অন্ত, গ্রন্থ ইত্যাদি।
৩. বাংলা (দেশি), তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে 'ণ' লেখার প্রয়োজন হয় না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

২,২০৮.
অধীন খণ্ডবাক্য কত রকমের হয়ে থাকে?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা
অধীন খণ্ডবাক্য তিন রকমের:

বিশেষ্যস্থানীয় অধীন খণ্ডবাক্য:

- যে অধীন খণ্ডবাক্য স্বাধীন খণ্ডবাক্যের যেকোনো পদের অধীন থেকে বিশেষ্যের কাজ করে, তাকে বিশেষ্যস্থানীয় অধীন খণ্ডবাক্য বলে। যেমন: আমি বাড়ি গিয়ে দেখলাম, সবার খাওয়া হয়ে গেছে।

বিশেষণস্থানীয় অধীন খণ্ডবাক্য:
- যে অধীন খণ্ডবাক্য স্বাধীন খণ্ডবাক্যের অন্তর্গত কোনো বিশেষ্য বা সর্বনামের দোষ, গুণ, অবস্থা প্রকাশ করে, তাকে বিশেষণস্থানীয় অধীন খণ্ডবাক্য বলে।
যেমন: যে পরিশ্রম করে, সে-ই সুখ লাভ করে। (অধীন খণ্ডবাক্যটি 'সে-ই' সর্বনামের অবস্থা প্রকাশ করছে)

ক্রিয়া-বিশেষণস্থানীয় অধীন খণ্ডবাক্য:
যে অধীন খণ্ডবাক্য ক্রিয়াপদের স্থান, কাল ও কারণ নির্দেশক অর্থে ব্যবহৃত হয়, তাকে ক্রিয়া-বিশেষণস্থানীয় অধীন খণ্ডবাক্য বলে।
যেমন: 'যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে, তবে একলা চলো রে।'

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
২,২০৯.
নিচের কোনটি সম্বন্ধ কারকের উদাহরণ?
  1. ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না।
  2. রাজীব বাংলা ব্যাকরণে ভালো।
  3. জমি থেকে ফসল পাই।
  4. ভেড়া দিয়ে চাষ করা সম্ভব নয়।
সঠিক উত্তর:
ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না।
ব্যাখ্যা
• সম্বন্ধ কারক: 
- যে কারকে বিশেষ্য ও সর্বনামের সঙ্গে বিশেষ্য ও সর্বনামের সম্পর্ক নির্দেশিত হয়, তাকে সম্বন্ধ কারক বলে। এই কারকে ক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক পরোক্ষ।
- এই কারকে শব্দের সঙ্গে '-র', -এর', '-য়ের', '-কার', '-কের' ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়।
যেমন -
ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না।
- আমার জামার বোতামগুলো একটু অন্য রকম।
- তখনকার দিনে পায়ে হেঁটে চলতে হতো মাইলের পর মাইল।

অন্যদিকে,
• রাজীব বাংলা ব্যাকরণে ভালো।-  এটি ’অধিকরণ কারক’।
জমি থেকে ফসল পাই। এটি ’অপাদান কারকের’ উদাহরণ।
ভেড়া দিয়ে চাষ করা সম্ভব নয়। এটি ’করণ কারকের’ উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি, নবম দশম শ্রেণি, ২০২৫ সালের সংস্করণ।
২,২১০.
অশুদ্ধ বানান কোনটি?
  1. কঙ্কাল
  2. ভয়ঙ্কর
  3. লঙ্ঘন
  4. আতঙ্ক
সঠিক উত্তর:
ভয়ঙ্কর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভয়ঙ্কর
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ: ভয়ঙ্কর।
• শুদ্ধরূপ: ভয়ংকর।

• বানানের নিয়ম:
- সন্ধির ক্ষেত্রে ক খ গ ঘ পরে থাকলে পূর্ব পদের অন্তস্থিত ম্ স্থানে অনুস্বার (ং) হবে।
যেমন:
- অহম্ + কার = অহংকার।

• এরূপ- ভয়ংকর, সংগীত, শুভংকর, হৃদয়ংগম, সংঘটন।

• সন্ধিবদ্ধ না হলে ‘ঙ’ স্থানে ‘ং’ হবে না।
যেমন:
অঙ্ক, অঙ্গ, আকাঙ্ক্ষা, আতঙ্ক, কঙ্কাল, গঙ্গা, বঙ্কিম, বঙ্গ, লঙ্ঘন, শঙ্কা, শৃঙ্খলা, সঙ্গে, সঙ্গী।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
২,২১১.
অশুদ্ধ বানান -
  1. স্টেশন
  2. পুঙ্খানুপূঙ্খ
  3. ধ্যানধারণা
  4. রীতিনীতি
সঠিক উত্তর:
পুঙ্খানুপূঙ্খ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পুঙ্খানুপূঙ্খ
ব্যাখ্যা

• অশুদ্ধ বানান - পুঙ্খানুপূঙ্খ
- শুদ্ধ বানান - পুঙ্খানুপুঙ্খ
- এটি একটি বিশেষণ পদ।
- শব্দটি সংস্কৃত ভাষা হতে আগত।

শব্দের অর্থ:
- তন্নতন্ন, সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম।

অন্যদিকে,
- স্টেশন, 
- ধ্যানধারণা, 
- রীতিনীতি।
শব্দগুলোর বানান শুদ্ধ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

২,২১২.
নিচের কোনটি প্রমিত বানান নয়?
  1. তৃণ
  2. অগ্নিষাৎ
  3. ভাষণ
  4. উষ্ণ
সঠিক উত্তর:
অগ্নিষাৎ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অগ্নিষাৎ
ব্যাখ্যা
• প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম অনুসারে,
অগ্নিষাৎ - প্রমিত বানান নয়।

• ঋ, র, ষ এর পরে মূর্ধন্য 'ণ' হয়। 
যেমন - ঋণ, তৃণ, বর্ণ, বর্ণনা, কারণ, মরণ, ভীষণ, ভাষণ, উষ্ণ ইত্যাদি।

• সংস্কৃত 'সাৎ' প্রতয়যুক্ত পদে ষ হয় না।
যেমন - অগ্নিসাৎ, ধূলিসাৎ, ভূমিসাৎ ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
২,২১৩.
নিচের কোন বাক্যে যতিচিহ্নের সঠিক প্রয়োগ ঘটেনি?
  1. সুখ, দুঃখ, আশা, নৈরাশ্য একই মালিকার পুষ্প।
  2. ড. মুহম্মদ এনামুল হক, এম.এ. পি-এইচডি।
  3. ৬৮-জেল রোড; ঢাকা-১২০০।
  4. সাহেব বললেন, ''ছুটি পাবেন না।''
সঠিক উত্তর:
৬৮-জেল রোড; ঢাকা-১২০০।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৬৮-জেল রোড; ঢাকা-১২০০।
ব্যাখ্যা

⇒ ৬৮-জেল রোড; ঢাকা-১২০০।- বাক্যে যতিচিহ্নের অশুদ্ধ প্রয়োগ ঘটেছে।
⇒ যতিচিহ্নের শুদ্ধ প্রয়গে সঠিক বাক্য: ৬৮, জেল রোড, ঢাকা-১২০০।

⇒ ‘কমা’ যতিচিহ্ন:

বাংলায় কোনো কিছু লিখতে গিয়ে যত ধরনের যতিচিহ্ন আমরা ব্যবহার করি তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করি কমা (,)। বাক্যের ভেতরের বিরাম-চিহ্ন হলো কমা। বাক্যে ব্যবহৃত কমার ক্ষেত্রে ‘এক’ উচ্চারণ করার সমান সময় থামতে হয়।

অল্প বিরাম বোঝাতে কিছু স্থানে কমা ব্যবহৃত হয়। যথা:
• উদ্ধরণ চিহ্নের পূর্বে (খণ্ডবাক্যের শেষে) কমা বসাতে হবে।
যেমন- সাহেব বললেন, ''ছুটি পাবেন না।''

• নামের পরে ডিগ্রিসূচক পরিচয় দেওয়া হলে সেগুলোর প্রত্যেকটির আগে কমা বসে।
যেমন- ড. মুহম্মদ এনামুল হক, এম.এ. পি-এইচডি।

• বাড়ি বা রাস্তার নম্বরের পরে কমা বসবে।
যেমন- ৬৮, জেল রোড, ঢাকা-১২০০।

• পরস্পর সমন্ধযুক্ত একাধিক বিশেষ্য বা বিশেষণ পদ একসঙ্গে বসলে শেষ পদটি ছাড়া বাকি সবগুলোর পরই কমা বসবে।
যেমন- সুখ, দুঃখ, আশা, নৈরাশ্য একই মালিকার পুষ্প।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

২,২১৪.
বাংলা ভাষায় যতি বা ছেদ চিহ্ন মোট কয়টি?
  1. ৯ টি
  2. ১০ টি
  3. ১১ টি
  4. ১২ টি
সঠিক উত্তর:
১২ টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১২ টি
ব্যাখ্যা
• বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি , নবম-দশম শ্রেণির ২০১৯ সংস্করণ অনুসারে, 
- বাংলা ভাষায় যতি বা ছেদ চিহ্ন ১২ টি। 
যথা:
- কমা, সেমিকোলন, দাঁড়ি, প্রশ্নবোধক চিহ্ন, বিস্ময় চিহ্ন, কোলন, ড্যাশ, কোলন ড্যাস, হাইফেন, ইলেক ( ' ), উদ্ধরণ চিহ্ন / উদ্ধারচিহ্ন, বন্ধনী। 
----------------------------
---------------------------- 
বিশেষ তথ্য: 
 বাংলা একাডেমি, প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ অনুসারে,
• বাংলা ভাষায় যতি বা ছেদ চিহ্ন ১৬টি।
যথা:
- কমা,
- সেমিকোলন,
- দাঁড়ি,
- প্রশ্নবোধক চিহ্ন,
- বিস্ময় চিহ্ন,
- হাইফেন,
- ড্যাশ,
- কোলন,
- উদ্ধৃতি চিহ্ন/উদ্ধারচিহ্ন,
- বন্ধনী,
- বিন্দু,
- ত্রিবিন্দু,
- বিকল্প চিহ্ন,
- ঊর্ধ্বকমা,
- দুই দাঁড়ি,
- কোলন-ড্যাশ।

 বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি , নবম-দশম শ্রেণির ২০২২ সংস্করণ অনুসারে,
• বাংলা ভাষায় যতি বা ছেদ চিহ্ন ১৩ টি। 
যথা:
- কমা,
- সেমিকোলন,
- দাড়ি,
- প্রশ্নবোধক চিহ্ন,
- বিস্ময় চিহ্ন,
- হাইফেন
- ড্যাশ,
- কোলন
- উদ্ধরণ চিহ্ন/উদ্ধারচিহ্ন,
- বন্ধনী
- বিন্দু
- ত্রিবিন্দু
- বিকল্প চিহ্ন

আবার ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এর বই অনুসারে,
• বাংলা ভাষায় যতি বা ছেদ চিহ্নের সংখ্যা ১৭টি।

উল্লেখ্য, বাংলা একাডেমি, প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ বই এর তথ্য অধিক গ্রহণযোগ্য। অতএব বাংলা ভাষায় যতি বা ছেদ চিহ্নের সংখ্যা ১৬টি অধিক গ্রহণযোগ্য উত্তর। 
২,২১৫.
অনুজ্ঞাসূচক বাক্যের শেষে কোন চিহ্ন বসে?
  1. দাঁড়ি
  2. কমা
  3. সেমিকোলন
  4. হাইফেন
সঠিক উত্তর:
দাঁড়ি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দাঁড়ি
ব্যাখ্যা

দাঁড়ি বা পূর্ণছেদ:
- বাংলা ভাষায় দাঁড়ি একটি বহুল ব্যবহৃত যতিচিহ্ন। বাক্যের মধ্যে বক্তব্য সমাপ্ত হলে অথবা অর্থ সম্পূর্ণ হলে দাড়ি বা পূর্ণচ্ছেদ বসে।

এর প্রয়োগ ক্ষেত্র হচ্ছে:
- অনুজ্ঞাসূচক বাক্যের শেষে দাঁড়ি বসে। যেমন- কাল একবার এসো।
- নির্দেশাত্মক বাক্যের শেষে দাঁড়ি বসে। যেমন- সব সময় সত্য কথা বলবে।
- পরোক্ষ প্রশ্নের শেষে প্রশ্নবোধক চিহ্নের বদলে দাড়ি ব্যবহার হয়। যেমন- সীমা জানতে চাইল রীমা কবে আসবে।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,২১৬.
"সাবধান না হলে বিপদে পড়বে।" - বাক্যটির জটিল রূপ কোনটি?
  1. সাবধান না হলে তুমি বিপদকে আমন্ত্রণ জানাবে।
  2. বিপদে পড়বে, কারণ তুমি সাবধান নও।
  3. তুমি সাবধান হও, নয়তো বিপদে পড়বে।
  4. যদি তুমি সাবধান না হও, তাহলে বিপদে পড়বে।
সঠিক উত্তর:
যদি তুমি সাবধান না হও, তাহলে বিপদে পড়বে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যদি তুমি সাবধান না হও, তাহলে বিপদে পড়বে।
ব্যাখ্যা
সরল বাক্য থেকে জটিল বাক্য:
- যে-সে, যিনি-তিনি, যারা-তারা, যা-তা ইত্যাদি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যেহেতু-সেহেতু, যখন- তখন, যত-তত, যেমন-তেমন ইত্যাদি সাপেক্ষ যোজক যুক্ত করে সরল বাক্যকে জটিল বাক্যে রূপান্তরিত করা যায়।

যেমন
সরল বাক্য: সাবধান না হলে বিপদে পড়বে।
জটিল বাক্য: যদি তুমি সাবধান না হও, তাহলে বিপদে পড়বে।

সরল বাক্য: সুসংবাদটা পেয়ে সে আনন্দিত হলো।
জটিল বাক্য: যখন সে সুসংবাদটা পেল, তখন সে আনন্দিত হলো।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, (সংস্করণ ২০২১) ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২,২১৭.
নিচের বাক্যগুলোর মধ্যে শুদ্ধ বাক্য না কোনটি?
  1. ক) শুধু গায়ের জোরে সব হয় না
  2. খ) যার লাঠি, তার মাটি
  3. গ) বুনো ওল, বাঘা তেঁতুল
  4. ঘ) আবাল্য হতে তিনি কাব্য প্রিয়
সঠিক উত্তর:
ঘ) আবাল্য হতে তিনি কাব্য প্রিয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) আবাল্য হতে তিনি কাব্য প্রিয়
ব্যাখ্যা
শুদ্ধ বাক্য -
শুধু গায়ের জোরে সব হয় না।
যার লাঠি, তার মাটি।
বুনো ওল, বাঘা তেঁতুল।
বাল্য হতেই তিনি কাব্য প্রিয়।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
২,২১৮.
নিচের কোন বানানগুচ্ছের সবগুলো বানানই অশুদ্ধ?
  1. নিক্কণ, সূচগ্র, অনুর্ধব
  2. অনূর্বর, ঊর্ধবগামী, শুদ্ধ্যশুদ্ধি
  3. ভূরিভূরি, ভুঁড়িওয়ালা, মাতৃশ্বসা
  4. রানি, বিকিরণ, দুরতিক্রম্য
সঠিক উত্তর:
নিক্কণ, সূচগ্র, অনুর্ধব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিক্কণ, সূচগ্র, অনুর্ধব
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ বানানগুচ্ছ: নিক্কণ, সূচগ্র, অনুর্ধব।
এর শুদ্ধরূপ: নিক্বণ, সূচ্যগ্র, অনূর্ধ্ব।

অন্যদিকে,
• অপশন ‘খ’ এর- অনূর্বর ও ঊর্ধবগামী বানানদ্বয় অশুদ্ধ। এদের শুদ্ধরূপ হলো- অনুর্বর ও ঊর্ধ্বগামী।
• অপশন ‘গ’ এর- মাতৃশ্বসা বানানটি অশুদ্ধ। এর শুদ্ধরূপ হলো- মাতৃষ্বসা।


• সুতরাং বানানগুচ্ছের সবগুলো বানানই অশুদ্ধ অপশন ‘ক’ এর।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
২,২১৯.
'অন্ধজনে দেহ আলো।' এই বাক্যে 'অন্ধজনে' কোন কারক?
  1. অপাদান কারক
  2. কর্ম কারক
  3. করণ কারক
  4. সম্প্রদান কারক
সঠিক উত্তর:
সম্প্রদান কারক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সম্প্রদান কারক
ব্যাখ্যা

• 'অন্ধজনে দেহ আলো।' এখানে 'অন্ধজনে' সম্প্রদান  কারক।

• সম্প্রদান কারক:

- যাকে স্বত্ব ত্যাগ করে দান, অর্চনা, সাহায্য ইত্যাদি করা হয়, তাকে (সংস্কৃত ব্যাকরণ অনুযায়ী) সম্প্রদান কারক বলে। বস্তু নয়- ব্যক্তিই সম্প্রদান কারক।
(অনেক বৈয়াকরণ বাংলা ব্যাকরণে সম্প্রদান কারক স্বীকার করেন না; কারণ, কর্মকারক দ্বারাই সম্প্রদান কারকের কাজ সুন্দরভাবে সম্পাদন করা যায়।)
- সম্প্রদান কারকে বিভিন্ন বিভক্তির ব্যবহার
(ক) চতুর্থী বা কে বিভক্তি: ভিখারিকে ভিক্ষা দাও। (স্বত্বত্যাগ করে না দিলে কর্মকারক হবে। যেমন ধোপাকে কাপড় দাও।)
(খ) সপ্তমী বা এ বিভক্তি: সৎপাত্রে কন্যা দান কর। সমিতিতে চাঁদা দাও। 'অন্ধজনে দেহ আলো'।

জ্ঞাতব্য: নিমিত্তার্থে 'কে' বিভক্তি যুক্ত হলে সেখানে চতুর্থী বিভক্তি হয়। যেমন- 'বেলা যে পড়ে এল, জলকে চল।'

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

২,২২০.
'উচ্চারণের স্থান' ব্যাকরণের আলোচিত হয়
  1. ক) রূপতত্ত্ব
  2. খ) ধ্বনিতত্ত্ব
  3. গ) বাক্যতত্ত্ব
  4. ঘ) অর্থতত্ত্ব
সঠিক উত্তর:
খ) ধ্বনিতত্ত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ধ্বনিতত্ত্ব
ব্যাখ্যা
• 'সন্ধি' ব্যাকরণের ধ্বনিতত্ত্বে আলোচিত হয়।

• ব্যাকরণের আলোচ্য বিষয় অন্তত চারটি ভাগে বিভক্ত হয়।
যথা –
- ধ্বনিতত্ত্ব,
- রূপতত্ত্ব,
-বাক্যতত্ত্ব ও
- অর্থতত্ত্ব।

• ধ্বনিতত্ত্বের আলোচ্য বিষয় সমূহ
- ধ্বনি,
- বর্ণ,
- ধ্বনির উচ্চারণ প্রণালি,
- উচ্চারণের স্থান,
- ধ্বনি পরিবর্তন ও
- লোপ, ষ-ত্ব ও ণ-ত্ব বিধান,
- সন্ধি ইত্যাদি।
 
উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
২,২২১.
তৎসম শব্দে ইন্-প্রত্যয়ান্ত শব্দের সঙ্গে ‘ত্ব’ ও ‘তা’ প্রত্যয় যুক্ত হলে কোন কারবর্ণটি ব্যবহৃত হয়?
  1. উ-কার
  2. এ-কার
  3. ঊ-কার
  4. ই-কার
সঠিক উত্তর:
ই-কার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ই-কার
ব্যাখ্যা
• তৎসম শব্দে ইন্-প্রত্যয়ান্ত শব্দের সঙ্গে ‘ত্ব’ ও ‘তা’ প্রত্যয় যুক্ত হলে ই-কার হবে।
যেমন:
কৃতী → কৃতিত্ব,
দায়ী → দায়িত্ব,
প্রতিযোগী → প্রতিযোগিতা,
মন্ত্রী → মন্ত্রিত্ব,
সহযোগী → সহযোগিতা।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।
২,২২২.
ভুল বানান কোনটি?
  1. দূষণ
  2. নিষেদ
  3. পাষাণ
  4. মুমূর্ষু
সঠিক উত্তর:
নিষেদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিষেদ
ব্যাখ্যা
• ভুল বানান - নিষেদ
- শুদ্ধ বানান - নিষেধ।
- শব্দটি বিশেষ্য।
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
- অর্থ: বারণ; নিবারণ; আপত্তি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
২,২২৩.
কোন বাক্যটি অশুদ্ধ?
  1. সভায় অনেক ছাত্র এসেছিল।
  2. এ মামলায় আমি সাক্ষ্য দেব না।
  3. অধ্যাপনাই ছাত্রদের তপস্যা।
  4. আমি অহর্নিশ সে কথাই ভেবেছি।
সঠিক উত্তর:
অধ্যাপনাই ছাত্রদের তপস্যা।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অধ্যাপনাই ছাত্রদের তপস্যা।
ব্যাখ্যা
অশুদ্ধ বাক্য: অধ্যাপনাই ছাত্রদের তপস্যা।
শুদ্ধ বাক্য: অধ্যয়নই ছাত্রদের তপস্যা।

অন্যদিকে,
- আমি অহর্নিশ সে কথাই ভেবেছি।
- এ মামলায় আমি সাক্ষ্য দেব না।
- সভায় অনেক ছাত্র এসেছিল।
উপরিউক্ত বাক্যগুলো শুদ্ধ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২,২২৪.
বোঁটা-আলগা ফল গাছে থাকে না। -  বাক্যে 'বোঁটা-আলগা' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্মকারকে শূন্য বিভক্তি
  2. অধিকরণ কারকে শূন্য বিভক্তি
  3. অপাদান কারকে শূন্য বিভক্তি
  4. কর্তৃকারকে শূন্য বিভক্তি
সঠিক উত্তর:
অপাদান কারকে শূন্য বিভক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপাদান কারকে শূন্য বিভক্তি
ব্যাখ্যা
• কারক: 
- মূলত ক্রিয়ার সঙ্গে বাক্যের বিশেষ্য ও সর্বনামের যে সম্পর্ক, তাকে কারক বলে।
- কারক সম্পর্ক বোঝাতে বিশেষ্য ও সর্বনামের সঙ্গে সাধারণত বিভক্তি ও অনুসর্গ যুক্ত হয়ে থাকে।

• কারক ছয় প্রকার:
→ কর্তা কারক,
→ কর্ম কারক,
→ করণ কারক,
→ অপাদান কারক,
→ অধিকরণ কারক ও
→ সম্বন্ধ কারক।

• অপাদান কারক: 
- যা থেকে কিছু বিচ্যুত, গৃহীত, জাত, বিরত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয় এবং যা দেখে কেউ ভীত হয় তাকে অপাদান কারক বলে।

• অপাদান কারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগ
- প্রথমা বা শূন্য বা অ বিভক্তি: বোঁটা-আলগা ফল গাছে থাকে না।
- দ্বিতীয়া বা কে বিভক্তি: বাবাকে বড্ড ভয় পাই।
- ষষ্ঠী বা এর বিভিক্ত: যেখানে বাঘের ভয় সেখানে সন্ধে হয়৷
- সপ্তমী বা এ বিভক্তি: বিপদে মোরে করিবে ত্রাণ, এ নহে মোর প্রার্থনা। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)। 
২,২২৫.
শুদ্ধ বানান -
  1. মনমোহন
  2. তত্ত্বজ্ঞান
  3. ভাতুস্পুত্র
  4. বিবাদমান
সঠিক উত্তর:
তত্ত্বজ্ঞান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তত্ত্বজ্ঞান
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান – তত্ত্বজ্ঞান
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।

শব্দের অর্থ:
- পরমার্থবিষয়ে জ্ঞান,
- দিব্যজ্ঞান।

অন্যদিকে,
বিবাদমান – বিবদমান, 
ভাতুস্পুত্র – ভ্রাতুষ্পুত্র, 
মনমোহন – মনোমোহন।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
২,২২৬.
কর্তাবাচ্যের বাক্যে কর্তার অবস্থান কীভাবে প্রকাশিত হয়?
  1. কর্তা গোপন থাকে।
  2. ক্রিয়ার রূপটি কর্তার পক্ষ অনুযায়ী হয়।
  3. ক্রিয়া কর্মকে অনুসরণ করে।
  4. ক্রিয়ার মাধ্যমে কর্তার ক্রিয়াকলাপ প্রকাশিত হয় না।
সঠিক উত্তর:
ক্রিয়ার রূপটি কর্তার পক্ষ অনুযায়ী হয়।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্রিয়ার রূপটি কর্তার পক্ষ অনুযায়ী হয়।
ব্যাখ্যা
• বাচ্য:
- বাক্যের প্রকাশভঙ্গিকে বাচ্য বলে।

- প্রকাশভঙ্গির এই ভিন্নতা অনুযায়ী বাচ্য তিন প্রকার।
যথা - 
১. কৰ্তাবাচ্য,
২. কর্মবাচ্য ও
৩. ভাববাচ্য। 

কর্তাবাচ্য:
- যে বাক্যের ক্রিয়া কর্তাকে অনুসরণ করে, তাকে কর্তাবাচ্য বলে। এক্ষেত্রে ক্রিয়ার রূপটি কর্তার পক্ষ অনুযায়ী হয়।
- যেমন:
• তারা বাড়িটি তৈরি করেছে।
• প্রধান শিক্ষক জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেছেন।
• আমরা কঠোর পরিশ্রম করি।
• একটু বাইরে বেড়িয়ে আসি।

- অজীব বিশেষ্যও অনেক সময়ে কর্তার ভূমিকা গ্রহণ করে। যেমন –
• ফ্যানটা অনেক জোরে ঘুরছে।
• শরতে শিউলি ফোটে।  

কর্মবাচ্য:
- যে বাক্যের ক্রিয়া কর্মকে অনুসরণ করে, তাকে কর্মবাচ্য বলে।
- যেমন:
• পুলিশ কর্তৃক ডাকাত ধৃত হয়েছে।
• চিঠিটা পড়া হয়েছে ।
• তাদের দ্বারা বাড়িটি তৈরি হয়েছে।
• আসামিকে জরিমানা করা হয়েছে।
• আমাদের কঠোর পরিশ্রম করতে হয়।

ভাববাচ্য:
- যে বাক্যের ক্রিয়া-বিশেষ্য বাক্যের ক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করে, তাকে ভাববাচ্য বলে।
- যেমন:
• আমার যাওয়া হল না।
• কোথা থেকে আসা হলো।
• এবার বাঁশিটি বাজানো হোক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২,২২৭.
'পৃথিবী সূর্যের চারদিকে ঘোরে।' কোন ধরনের বাক্য?
  1. অনুজ্ঞাবাচক
  2. নির্দেশাত্মক
  3. প্রশ্নবোধক
  4. বিস্ময়বোধক
সঠিক উত্তর:
নির্দেশাত্মক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নির্দেশাত্মক
ব্যাখ্যা
• বর্ণনা বা বিবরণমূলক বা বিবৃতিমূলক বা নির্দেশাত্মক বাক্য:
- যে বাক্যের সাহায্যে কোনো কিছু বর্ণনা বা বিবৃত করা হয়, সে বাক্যকে বলা হয় বর্ণনা বা বিবরণমূলক বা বিবৃতিমূলক বা নির্দেশাত্মক বাক্য।

আবার এভাবেও বলা যায়, যে বাক্যে কোনো ঘটনার ভাব বা তথ্য থাকে এবং সেই বক্তব্যকে সাধারণভাবে বিবৃত বা নির্দেশ করা হয় তাকে বর্ণনাত্মক বা নির্দেশাত্মক বাক্য বলে।
যেমন:
- পৃথিবী সূর্যের চারদিকে ঘোরে।
- লোকটি প্রতিদিন পুকুরে সাতার কাটে।
- সে কবিতা লিখছে ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,২২৮.
বাংলা শব্দের বিভক্তি কত প্রকার?
  1. ক) ৭
  2. খ) ৫
  3. গ) ১০
  4. ঘ) ৩
সঠিক উত্তর:
ক) ৭
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ৭
ব্যাখ্যা
• বাংলা শব্দ বিভক্তি ৭ প্রকার।

 • বিভক্তি:  
- যে সব বর্ণ বা বর্ণসমষ্টি বা চিহ্ন দ্বারা বাক্যের এক পদের সঙ্গে অন্য পদের সম্বন্ধ নির্ধারিত হয়, তাকে বলা বিভক্তি।
- বাংলা শব্দ বিভক্তি ৭ প্রকার-

• বিভক্তির নাম ও বিভক্তি:
- প্রথমা বা শূণ্য বিভক্তি:  ০, অ।
- দ্বিতীয়া বিভক্তি:  কে, রে।
- তৃতীয়া বিভক্তি:  দ্বারা, দিয়া (দিয়ে), কর্তৃক।
- চতুর্থী বিভক্তি:  কে, রে।
- পঞ্চমী বিভক্তি:  হইতে (হতে), থেকে, চেয়ে।
- ষষ্ঠী বিভক্তি:  র, এর।
- সপ্তমী বিভক্তি:  এ, য়, তে।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ নবম দশম শ্রেণি ২০১৯ সংস্করণ।
২,২২৯.
'কান্নায় শোক মন্দীভূত' কোন কারক?
  1. করণ কারক
  2. অধিকরণ কারক
  3. কর্ম কারক
  4. অপাদান কারক
সঠিক উত্তর:
অধিকরণ কারক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অধিকরণ কারক
ব্যাখ্যা

• ভাবাধিকরণ: 
- যদি কোনো ক্রিয়াবাচক বিশেষ্য অন্য ক্রিয়ার কোনোরূপ ভাবের অভিব্যক্তি প্রকাশ করে, তবে তাকে ভাবাধিকরণ বলে।
- ভাবাধিকরণে সর্বদাই সপ্তমী বিভক্তির প্রয়োগ হয় বলে একে ভাবে সপ্তমী বলা হয়।
যেমন:
- সূর্যোদয়ে অন্ধকার দূরীভূত হয়।
- কান্নায় শোক মন্দীভূত হয়।

• অধিকরণ কারক:

- ক্রিয়া সম্পাদনের কাল (সময়) এবং আধারকে অধিকরণ কারক বলে।
- অধিকরণ কারকে সপ্তমী অর্থাৎ 'এ' 'য়' 'তে' ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়।
যথা-
- আধার (স্থান) : আমরা রোজ স্কুলে যাই। এ বাড়িতে কেউ নেই।
- কাল (সময়) : প্রভাতে সূর্য ওঠে।

• অধিকরণ তিন প্রকার : 
১. কালাধিকরণ।
২. আধারাধিকরণ।
৩. ভাবাধিকরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম- দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

২,২৩০.
"জমিতে বেশ ধান পেয়েছি।" - নিম্নরেখ শব্দটি কোন কারকের উদাহরণ?
  1. কর্তৃকারকে সপ্তমী বিভক্তি
  2. কর্মকারকে সপ্তমী বিভক্তি
  3. করণকারকে সপ্তমী বিভক্তি
  4. অপাদান কারকে সপ্তমী বিভক্তি
সঠিক উত্তর:
অপাদান কারকে সপ্তমী বিভক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপাদান কারকে সপ্তমী বিভক্তি
ব্যাখ্যা
• "জমিতে বেশ ধান পেয়েছি।" - এখানে 'জমিতে' অপাদান কারক।

• অপাদান কারক:
যা থেকে কোনো কিছু উৎপত্তি, বিচ্যুত, জাত, গৃহীত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয়, তাকে বলা হয় অপাদান কারক। বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথা হতে, কি থেকে, কিসের থেকে ইত্যাদি প্রশ্ন করলে উত্তরে যে কারক পাওয়া যায়, তা-ই হলো অপাদান কারক।
যেমন:
- জমিতে বেশ ধান পেয়েছি।"
[বাক্যে 'জমিতে' থেকে ধান উৎপন্ন হয়েছে। এবং এতে 'এ' বা সপ্তমী বিভক্তি যুক্ত হয়েছে। তাই 'জমিতে' শব্দটি অপাদান কারকে সপ্তমী বিভক্তির উদাহরণ।]

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,২৩১.
"আমরা রোজ স্কুলে যাই" বাক্যে 'স্কুলে' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. অধিকরণে ৭মী
  2. অধিকরণে ১মা
  3. করণে ৭মী
  4. কর্মে ৭মী
সঠিক উত্তর:
অধিকরণে ৭মী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অধিকরণে ৭মী
ব্যাখ্যা
• "আমরা রোজ স্কুলে যাই" - বাক্যে 'স্কুলে' অধিকরণ কারকে ৭মী বিভক্তি।

অধিকরণ কারক:
- ক্রিয়া সম্পাদনের কাল (সময়) এবং আধারকে(স্থান, পাত্র,আশ্রয়,অবলম্বন) অধিকরণ কারক বলে। 
- অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি ( 'এ' 'য়' 'তে') 'এ' বিভক্তি যুক্ত হয়েছে।

• ক্রিয়াকে কখন / কোথায় দ্বারা প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, তাই অধিকরণ কারক।

সুতরাং,
• "আমরা রোজ স্কুলে যাই" - বাক্যে 'স্কুলে' অধিকরণ কারকে ৭মী বিভক্তি।

বিভিন্ন কারক চেনার উপায়:

- কি/কারা দ্বারা প্রশ্নের উত্তরে কর্তৃকারক।
- কি/কাকে প্রশ্নের উত্তরে কর্মকারক।
- কীসে/ কীসের সাহায্যে প্রশ্নের উত্তরে করণ কারক।
- কার জন্য দিয়ে প্রশ্নের উত্তরে ( যদি স্বত্ব ত্যাগ করে দান বুঝায় ) সম্প্রদান কারক।
- কোথা থেকে/ কী হতে /কীসের হাত দিয়ে প্রশ্নের উত্তরে অপাদান কারক।
- কোথায়/কীসে/কখন দিয়ে প্রশ্নের উত্তরে অধিকরণ কারক।

উৎস:বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮সংস্করণ)।
২,২৩২.
কোনটি অশুদ্ধ বানান?
  1. ধনুষ্টংকার
  2. মনঃসংযোগ
  3. সত্বা
  4. তফসির
  5. স্বায়ত্তশাসন
সঠিক উত্তর:
সত্বা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সত্বা
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ বানান- সত্বা।

• শুদ্ধ বানান: সত্তা (বিশেষ্য পদ)।
- শব্দটি সংস্কৃত ভাষা থেকে আগত।
- প্রকৃতি-প্রত্যয়: (সৎ + তা),
অর্থ:
- অস্তিত্ব,
- স্থিতি,
- উৎপত্তি। 

অন্যদিকে,
ধনুষ্টংকার, মনঃসংযোগ, তফসির ও স্বায়ত্তশাসন শব্দের বানানগুলো শুদ্ধ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
২,২৩৩.
‘শেরেবাংলা মহান ছিলেন নেতা’। বাক্যের কোন গুণটি নেই?
  1. ক) আকাঙ্ক্ষা
  2. খ) আসত্তি
  3. গ) যোগ্যতা
  4. ঘ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
খ) আসত্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) আসত্তি
ব্যাখ্যা

বাক্যের সম্পূর্ণ মনোভাব প্রকাশের জন্যে বাক্যস্থিত পদগুলোকে সঠিকভাবে সাজিয়ে লেখা বা বলার নামই আসত্তি।
বাক্যকে সম্পূর্ণ করার জন্য প্রয়োজন আকাঙ্ক্ষার নিবৃত্তি।
আর সুসংহত করার জন্য প্রয়োজন যোগ্যতা ও আসত্তি৷ সুতরাং একটি সার্থক বাক্যের ভিত্তি আকাঙ্ক্ষা, যোগ্যতা ও আসত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত৷
এই তিনটি বিষয়ের কোন একটির অভাব ঘটলে বাক্য নিরর্থক হয়ে পড়ে৷
যেমন- ‘শেরেবাংলা মহান ছিলেন নেতা’।——এতে একটি সম্পূর্ণ বাক্যের সবগুলো পদই আছে, কিন্তু আসত্তির অভাবে বাক্য হয়নি৷ পদগুলোর অর্থসংগতি রক্ষা করে ঠিকমত সাজালেই বাক্য হবে৷
অর্থাৎ সঠিক বাক্য- ‘শেরেবাংলা মহান নেতা ছিলেন’।
উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

২,২৩৪.
'নাসিফ ছোটো বাচ্চাটিকে হাঁটাচ্ছে'- এ বাক্যে কোনটি প্রযোজ্য কর্তা?
  1. নাসিফ
  2. হাঁটাচ্ছে
  3. বাচ্চাটি
  4. ছোটো
সঠিক উত্তর:
বাচ্চাটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাচ্চাটি
ব্যাখ্যা
প্রযোজ্য কর্তা: 
- যাকে দিয়ে মুখ্য কর্তার কাজ সম্পাদিত হয় তাকে বলা হয় প্রযোজ্য কর্তা।
যেমন:
- নাসিফ ছোটো বাচ্চাটিকে হাঁটাচ্ছে।
- বাক্যে ‘নাসিফ’ প্রযোজক কর্তা, ‘বাচ্চাটি’ প্রযোজ্য কর্তা, ‘হাঁটাচ্ছে’ প্রযোজক ক্রিয়া।

প্রযোজক কর্তা:
- মূল কর্তা যখন অন্যকে কোনো কাজে নিয়োজিত করে তা সম্পন্ন করায়, তখন তাকে প্রযোজক কর্তা বলে।
যেমন:
- শিক্ষক ছাত্রদের ব্যাকরণ পড়াচ্ছেন।
- বাক্যে ‘শিক্ষক’ প্রযোজক কর্তা।

উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার- ৩৬।
২,২৩৫.
কোন শব্দটি শুদ্ধ বানানে লিখিত নয়?
  1. প্রোজ্জল
  2. শ্মশান
  3. জিগীষা
  4. অচিন্তনীয়
সঠিক উত্তর:
প্রোজ্জল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রোজ্জল
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
প্রোজ্জল - বানানটি অশুদ্ধ।
- এর শুদ্ধ বানান: 'প্রোজ্জ্বল'।

• 'প্রোজ্জ্বল' শব্দের অর্থ:
- বিশেষভাবে উজ্জ্বল। 

• কয়েকটি শুদ্ধ বানান:
- কৌতূহল,
- মন্ত্রিসভা,
- মুমূর্ষু,
- সমীচীন,
- স্বায়ত্তশাসন,
- প্রতিযোগিতা।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
২,২৩৬.
শুদ্ধ বানান কোনটি?
  1. উচ্ছাস
  2. উজ্জ্বল
  3. উশৃঙ্খল
  4. উত্তলন
সঠিক উত্তর:
উজ্জ্বল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উজ্জ্বল
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান- উজ্জ্বল। 
- বিশেষণ পদ। 
- সংস্কৃত শব্দ। 
অর্থ:
- আলোকিত,
- দীপ্তিমান। 

অশুদ্ধ বানানগুলোর শুদ্ধরূপ- 
• উচ্ছাস - উচ্ছ্বাস। 
• উশৃঙ্খল - উচ্ছৃঙ্খল। 
• উত্তলন - উত্তোলন। 

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
২,২৩৭.
কোন শব্দে ‘ষ’ এর ব্যবহার অশুদ্ধ?
  1. দ্বেষ
  2. ষ্টল
  3. বিষম
  4. কলুষ
সঠিক উত্তর:
ষ্টল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ষ্টল
ব্যাখ্যা
- অশুদ্ধ: ষ্টল।
- শুদ্ধ বানান: স্টল।

অন্যদিকে,
দ্বেষ, বিষম ও কলুষ শব্দে ‘ষ’ এর ব্যবহার শুদ্ধ।

-----------------------
• 'ষ' ব্যবহারের নয়িম:
- বিদেশি শব্দের ক্ষেত্রে 'ষ' ব্যবহারের প্রয়োজন নেই।

যেমন:
কিশমিশ, নাশতা, পোশাক, বেহেস্ত, শখ, শয়তান, শরবত, শরম, শহর, শামিয়ানা, শার্ট, শৌখিন; আপস, জিনিস, মসলা, সন, সাদা, সাল (বৎসর), স্মার্ট, হিসাব; স্টল, স্টাইল, স্টিমার, স্ট্রিট, স্টুডিয়ো, স্টেশন, স্টোর। ইসলাম, তসলিম, মুসলমান, মুসলিম, সালাত, সালাম; এশা, শাওয়াল (হিজরি মাস), শাবান (হিজরি মাস)।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
২,২৩৮.
নিচের কোনটি সঠিক শব্দ?
  1. ফনীভূষণ
  2. নিরহঙ্কারী
  3. অনাটন
  4. নিরপরাধ
সঠিক উত্তর:
নিরপরাধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিরপরাধ
ব্যাখ্যা

• প্রদত্ত অপশনগুলোতে 'নিরপরাধ' শব্দটি সঠিক।
• ফনীভূষণ শব্দের সঠিক রূপ হবে ফণিভূষণ।
• নিরহঙ্কারী শব্দের সঠিক রূপ হবে নিরহঙ্কার।
• অনাটন শব্দের সঠিক রূপ হবে অনটন।
উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।

২,২৩৯.
কোনটি অশুদ্ধ বাক্য?
  1. বেগম রোকেয়ার মতো বিদ্বান নারী একালেও বিরল।
  2. এটা কাঁচা হাতের লেখা।
  3. বিশ্বে বাংলাভাষীর সংখ্যা প্রায় পঁচিশ কোটি।
  4. গতকালের সভায় সকল সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
সঠিক উত্তর:
বেগম রোকেয়ার মতো বিদ্বান নারী একালেও বিরল।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বেগম রোকেয়ার মতো বিদ্বান নারী একালেও বিরল।
ব্যাখ্যা
অশুদ্ধ: বেগম রোকেয়ার মতো বিদ্বান নারী একালেও বিরল।
শুদ্ধ: বেগম রোকেয়ার মতো বিদুষী নারী একালেও বিরল।

অন্যদিকে,
- গতকালের সভায় সকল সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
- বিশ্বে বাংলাভাষীর সংখ্যা প্রায় পঁচিশ কোটি।
- এটা কাঁচা হাতের লেখা।
উপরিউক্ত বাক্যগুলো শুদ্ধ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২,২৪০.
‘জ্ঞানী লোক সকলের শ্রদ্ধার পাত্র।’ - এটি কোন ধরনের বাক্য?
  1. খণ্ড
  2. যৌগিক
  3. জটিল
  4. সরল
সঠিক উত্তর:
সরল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সরল
ব্যাখ্যা
সরল বাক্য:
- যে বাক্যে একটিমাত্র কর্তা (উদ্দেশ্য) এবং একটিমাত্র সমাপিকা ক্রিয়া (বিধেয়) থাকে, তাকে সরল বাক্য বলে।
যথা:
- পুকুরে পদ্মফুল জন্মে।
- জ্ঞানী লোক সকলের শ্রদ্ধার পাত্র।
- পরিশ্রমী লোকই সাফল্য লাভ করে।

অন্যদিকে, 
মিশ্র বা জটিল বাক্য:
- যে বাক্যে একটি প্রধান খণ্ডবাক্যের এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য পরস্পর সাপেক্ষ ভাবে ব্যবহৃত হয়, তাকে মিশ্র বা জটিল বাক্য বলে।

যথা:
• আশ্রিত বাক্য:
- যে পরিশ্রম করে,
-  সে যে অপরাধ করেছে,
• প্রধান খণ্ডবাক্য
- সে-ই সুখ লাভ করে।
- তা মুখ দেখেই বুঝেছি।

যৌগিক বাক্য:
- পরস্পর নিরপেক্ষ দুই বা ততোধিক সরল বা মিশ্র বাক্য মিলিত হয়ে একটি সম্পূর্ণবাক্য গঠন করলে তাকে যৌগিক বাক্য বলে।
- জ্ঞাতব্য:
- যৌগিক বাক্যের অন্তর্গত নিরপেক্ষ বাক্যগুলো এবং, ও, কিন্তু, অথবা, অথচ, কিংবা, বরং, প্রভৃতি অব্যয় যোগে সংযুক্ত বা সমন্বিত থাকে।

যেমন:
- নেতা জনগণকে উৎসাহিত করলেন বটে, কিন্তু, কোনো পথ দেখাতে পারলেন না।
- বস্ত্ৰ মলিন কেন, কেহ জিজ্ঞাসা করিলে সে ধোপাকে গালি পাড়ে, অথচ ধৌত বস্ত্রে তাহার গৃহ পরিপূর্ণ।
- উদয়াস্ত পরিশ্রম করব, তথাপি অন্যের দ্বারস্থ হব না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২,২৪১.
'বাঁশি বাজায়' বাক্যটিতে বাঁশি শব্দটি কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্মে শূণ্য
  2. কর্তৃতে শূণ্য
  3. করণে শূণ্য
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
কর্মে শূণ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্মে শূণ্য
ব্যাখ্যা
• কর্ম কারক:
- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে কর্ম কারক বলে।
- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে কর্মকারক বলে।
- বাক্যের মুখ্য কর্ম ও গৌণ কর্ম- উভয় ধরনের কর্মই কর্ম কারক হিসেবে গণ্য হয়।
- সাধারণত মুখ্য কর্ম কারকে বিভক্তি হয় না, তবে গৌণ কর্ম কারকে- 'কে' বিভক্তি হয়।
যেমন:
- অসহায়কে সাহায্য করো। 
- শিক্ষককে জানাও।
- বাঁশি বাজে। ( কর্মকারকে প্র্রথমা বা শূন্য বিভক্তি)। 

• 'বাঁশি বাজায়' বাক্যটিকে কী বাজায়' দ্বারা প্রশ্ন করলে উত্তর আসে 'বাঁশি'। তাই এখানে 'বাঁশি' কর্মকারক হবে। আর এর সাথে শূন্য বিভক্তি যুক্ত আছে। 
সুতরাং,
'বাঁশি বাজায়'- কর্মকারকে শূণ্য বিভক্তির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ), বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,২৪২.
বক্তার প্রত্যক্ষ উক্তিকে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য ব্যবহৃত হয় -
  1. উদ্ধরণ চিহ্ন
  2. ড্যাস
  3. সেমিকোলন
  4. হাইফেন
সঠিক উত্তর:
উদ্ধরণ চিহ্ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উদ্ধরণ চিহ্ন
ব্যাখ্যা
উক্তি:
- কোনো কথকের বাক কর্মের নামই উক্তি।
- উক্তি দুই প্রকার: প্রত্যক্ষ উক্তি ও পরোক্ষ উক্তি।

প্রত্যক্ষ উক্তি:
- যে বাক্যে বক্তার কথা অবিকল উদ্ধৃত হয়, তাকে প্রত্যক্ষ উক্তি বলে।
- প্রত্যক্ষ উক্তিতে বক্তার কথা উদ্ধরণ চিহ্ন (“ ”) - এর মধ্যে থাকে এবং বক্তার কথা ‍উদ্ধৃত করার আগে কমা (,) ব্যবহার করা হয়। 

পরোক্ষ উক্তি:
- যে বাক্যে বক্তার কথা অন্যের জবানিতে রূপান্তরিতভাবে প্রকাশিত হয়, তাকে পরোক্ষ উক্তি বলে।
- পরোক্ষ উক্তিতে কোনো উদ্ধরণ চিহ্ন থাকে না এবং প্রথম উদ্ধরণ চিহ্নের স্থলে ‘যে’ শব্দটি ব্যবহৃত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২,২৪৩.
'আমার জামার বোতামগুলো একটু অন্য রকম।'- এখানে 'জামার'কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্ম কারকে ৬ষ্ঠী
  2. অধিকরণ কারকে ২য়া
  3. সম্বন্ধ কারক ৬ষ্ঠী  
  4. কর্তৃকারকে ২য়া
সঠিক উত্তর:
সম্বন্ধ কারক ৬ষ্ঠী  
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সম্বন্ধ কারক ৬ষ্ঠী  
ব্যাখ্যা

• সম্বন্ধ কারক:
যে কারকে বিশেষ্য ও সর্বনামের সঙ্গে বিশেষ্য ও সর্বনামের সম্পর্ক নির্দেশিত হয়, তাকে সম্বন্ধ কারক বলে। এই কারকে ক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক পরোক্ষ।
- এই কারকে শব্দের সঙ্গে '-র', '-এর', '-য়ের', '-কার', '-কের' ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়।

যেমন:
- তার হাতের লেখা চমৎকার।
- ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না।
- আমার জামার বোতামগুলো একটু অন্য রকম।
- রাজার হস্ত করে সমস্ত কাঙালের ধন চুরি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।

২,২৪৪.
বিপদে মোরে করিবে ত্রাণ, এ নহে মোর প্রার্থনা। - বাক্যে 'বিপদে' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. অধিকরণে ৭মী
  2. অপাদানে ৭মী
  3. কর্তায় ৭মী
  4. কর্মে ৭মী
সঠিক উত্তর:
অপাদানে ৭মী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপাদানে ৭মী
ব্যাখ্যা
অপাদান কারক:
- যা থেকে কিছু বিচ্যুত, গৃহীত, জাত, বিরত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয় এবং যা দেখে কেউ ভীত হয় তাকে অপাদান কারক বলে।
- অপাদান কারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগ:

 প্রথমা বা শূন্য বা অ বিভক্তি:
- বোঁটা-আলগা ফল গাছে থাকে না।

দ্বিতীয়া বা কে বিভক্তি:
- বাবাকে বড্ড ভয় পাই।

ষষ্ঠী বা এর বিভিক্ত:
- যেখানে বাঘের ভয় সেখানে সন্ধে হয়৷

সপ্তমী বা এ বিভক্তি:
- বিপদে মোরে করিবে ত্রাণ, এ নহে মোর প্রার্থনা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
২,২৪৫.
সম্বন্ধ পদে কোন বিভক্তি যুক্ত হয়?
  1. ক) চতুর্থী
  2. খ) শূন্য
  3. গ) ষষ্ঠী
  4. ঘ) তৃতীয়া
সঠিক উত্তর:
গ) ষষ্ঠী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ষষ্ঠী
ব্যাখ্যা

সম্বন্ধ পদের বিভক্তি :
ক. সম্বন্ধ পদে ষষ্ঠী বিভক্তি অর্থাৎ ‘র’ বা ‘এর’ বিভক্তি যুক্ত থাকে। আমি + ও = আমার (ভাই), খালিদ + এর = খালিদের (বই)।
খ. সময়বাচক অর্থে সম্বন্ধ পদে কার > কের বিভক্তি যুক্ত হয়। যথা: পূর্বে + কার = পূর্বেকার (ঘটনা), আজি + কার = আজিকার > আজকের (কাগজ)।
কিন্তু ‘কাল’ শব্দের উত্তর শুধু ‘এর’ বিভক্তিই যুক্ত হয়। যেমন: কাল + এর = কালের।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণি।

২,২৪৬.
'আকাশে চাঁদ উঠেছে।' - বাক্যে 'আকাশে' কোন প্রকার আধারাধিকরণ?
  1. ঐকদেশিক আধারাধিকরণ
  2. অভিব্যাপক আধারাধিকরণ
  3. বৈষয়িক আধারাধিকরণ
  4. কালারাধিকরণ
সঠিক উত্তর:
ঐকদেশিক আধারাধিকরণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঐকদেশিক আধারাধিকরণ
ব্যাখ্যা
অধিকরণ কারক:
- ক্রিয়া সম্পাদনের কাল (সময়) এবং আধারকে অধিকরণ কারক বলে।
- অধিকরণ কারকে সপ্তমী অর্থাৎ ‘এ’, 'য়', ‘তে’ ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়।
যথা -
→ আধার (স্থান): আমরা রোজ স্কুলে যাই। 
→ কাল (সময়): প্রভাতে সূর্য ওঠে।
- অধিকরণ কারক তিন প্রকার। যথা:
১. আধারাধিকরণ,
২. কালাধিকরণ এবং 
৩. ভাবাধিকরণ।

• আধারাধিকরণ তিন ভাগে বিভক্ত। যথা:
১. ঐকদেশিক,
২. অভিব্যাপক এবং
৩. বৈষয়িক।

ঐকদেশিক আধারাধিকরণ:
- বিশাল স্থানের যে কোনো অংশে ক্রিয়া সংঘটিত হলে তাকে ঐকদেশিক আধারাধিকরণ বলে।
যেমন -
পুকুরে মাছ আছে। (পুকুরের যে কোনো একস্থানে)
বনে বাঘ আছে। (বনের যে কোনো এক অংশে)
আকাশে চাঁদ উঠেছে। (আকাশের কোনো এক অংশে)
- সামীপ্য অর্থেও ঐকদেশিক অধিকরণ হয়।
যেমন -
ঘাটে নৌকা বাঁধা আছে (ঘাটের কাছে)।
দুয়ারে দাঁড়ায়ে প্রার্থী, ভিক্ষা দেহ তারে (দুয়ারের কাছে)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২,২৪৭.
'গরুগুলো আকাশে উড়ছে'- এখানে কোন গুণের অভাব রয়েছে?
  1. ক) আসত্তির
  2. খ) আকাঙ্ক্ষার
  3. গ) যোগ্যতার
  4. ঘ) গঠনের
সঠিক উত্তর:
গ) যোগ্যতার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) যোগ্যতার
ব্যাখ্যা

বাক্যের অন্তর্গত পদ সমূহের বিশ্বাসযোগ্য ভাবসম্মিলনের নামই যোগ্যতা।
এই বাক্যে কোন বিশ্বাস যোগ্যতা নেই কারন গরু আকাশে উড়ে না।

উৎস -  মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ।

২,২৪৮.
'তুমি না বলেছিলে আগামীকাল আসবে।'- এখানে 'না' এর ব্যবহার কী অর্থে?
  1. না-বাচক 
  2. হ্যাঁ-বাচক
  3. প্রশ্নবোধক
  4. বিস্ময়সূচক
সঠিক উত্তর:
প্রশ্নবোধক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রশ্নবোধক
ব্যাখ্যা

• তুমি না বলেছিলে আগামীকাল আসবে?- এখানে 'না'- প্রশ্নাত্মক/প্রশ্নবোধন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

• নির্দেশাত্মক বাক্য থেকে প্রশ্নাত্মক বাক্যে রূপান্তর:
নির্দেশাত্মক বাক্য থেকে প্রশ্নাত্মক বাক্যে রূপান্তর করতে হলে বাক্যের মৌলিক অর্থ বা মূল অর্থ অপরিবর্তিত রেখে প্রশ্নাত্মক বাক্যটি এমনভাবে তৈরি করতে হবে যার সবচেয়ে কাছাকাছি সম্ভাব্য উত্তর হবে নির্দেশাত্মক বাক্যটি।

• সূত্র: নির্দেশাত্মক বাক্য হ্যাঁ-বাচক হলে প্রশ্নাত্মক হবে না-বাচক, নির্দেশাত্মক বাক্য না-বাচক হলে প্রশ্নাত্মক হবে হ্যাঁ-বাচক। প্রথমটির ক্ষেত্রে বিধেয় ক্রিয়ার সঙ্গে নঞর্থক শব্দ যোগ করতে হয়, দ্বিতীয়টির ক্ষেত্রে নঞর্থক শব্দ বর্জন করে 'আর' প্রভৃতি বাক্যালঙ্কার শব্দের আগমন ঘটাতে হয়।
যেমন:
• নির্দেশাত্মক: দেশপ্রেমিককে সবাই ভালোবাসে।
• প্রশ্নাত্মক: দেশপ্রেমিককে কে না ভালোবাসে?

তেমনই,
• নির্দেশাত্মক: তুমি বলেছিলে আগামীকাল আসবে।
• প্রশ্নাত্মক: তুমি না বলেছিলে আগামীকাল আসবে?

• সূত্র: রূপান্তরিত বাক্যে প্রয়োজনমতো 'কে', 'কি', 'কোথায়' ইত্যাদি প্রশ্নাত্মক শব্দ এবং প্রশ্ন (?) চিহ্ন বসাতে
হয়।
যেমন:
• নির্দেশাত্মক: কেউ মৃত্যুকে ফাঁকি দিতে পারে না।
• প্রশ্নাত্মক: কেউ কি মৃত্যুকে ফাঁকি দিতে পারে?

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

২,২৪৯.
জটিল বাক্যে রূপান্তর করুন: 'জ্ঞানী লোক সকলের শ্রদ্ধার পাত্র।'
  1. জ্ঞানী লোক তাই সকলে শ্রদ্ধা করে।
  2. জ্ঞানী লোক মাত্রই সকলের শ্রদ্ধার পাত্র।
  3. যে জ্ঞানী সেই সকলের শ্রদ্ধার পাত্র।
  4. যেসব লোক জ্ঞানী, তারা সকলের শ্রদ্ধার পাত্র।
সঠিক উত্তর:
যেসব লোক জ্ঞানী, তারা সকলের শ্রদ্ধার পাত্র।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যেসব লোক জ্ঞানী, তারা সকলের শ্রদ্ধার পাত্র।
ব্যাখ্যা
সরল বাক্য থেকে জটিল বাক্য রূপান্তরের নিয়ম:
- যে-সে, যিনি-তিনি, যারা তারা, যা-তা ইত্যাদি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি তবে, যেহেতু সেহেতু, যখন- তখন, যত-তত, যেমন-তেমন ইত্যাদি সাপেক্ষ যোজক যুক্ত করে সরল বাক্যকে জটিল বাক্যে রূপান্তরিত করা যায়।
যেমন -
সরল বাক্য: দুর্জন লোক পরিত্যাজ্য।
জটিল বাক্য: যেসব লোক দুর্জন, তারা পরিত্যাজ্য।

সরল বাক্য: জ্ঞানী লোক সকলের শ্রদ্ধার পাত্র।
জটিল বাক্য: যেসব লোক জ্ঞানী, তারা সকলের শ্রদ্ধার পাত্র।

সরল বাক্য: তুমি চেষ্টা না করায় ব্যর্থ হয়েছ।
জটিল বাক্য: যেহেতু তুমি চেষ্টা করোনি, তাই ব্যর্থ হয়েছ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২,২৫০.
নিচের কোন যতিচিহ্নের বিরতির সময়কাল এক সেকেন্ড?
  1. কমা
  2. কোলন
  3. সেমিকোলন
  4. ইলেক
সঠিক উত্তর:
কোলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোলন
ব্যাখ্যা
• যতিচিহ্ন:
মুখের কথা লিখিত রূপ দেওয়ার সময় কম-বেশি থামা বোঝাতে যতিচিহ্ন ব্যবহৃত হয়। বক্তব্যকে স্পষ্ট করতেও যতিচিহ্ন ব্যবহৃত হয়। যতিচিহ্নকে বিরামচিহ্ন বা বিরতি চিহ্নও বলা হয়।

বাক্যে যতিচিহ্ন অনুসারে থামার পরিমাণ-
• কমা বা পাদচ্ছেদ থাকলে'এক' বলতে যে সময় লাগে সেই পরিমাণ সময় থামতে হয়।
• সেমিকোলন বা অর্ধচ্ছেদ থাকলে 'এক' বলার দ্বিগুণ সময় থামতে হয়।
• হাইফেন, ইলেক বা লোপ চিহ্ন ও ব্র্যাকেট থাকলে থামার প্রয়োজন হয় না।
• দাঁড়ি বা পূর্ণচ্ছেদ, প্রশ্নবোধক চিহ্ন, বিস্ময় চিহ্ন, কোলন, কোলন ড্যাস, ড্যাস ইত্যাদি চিহ্ন থাকলে 'এক' সেকেন্ড থামতে হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
২,২৫১.
নিচের কোনটি অশুদ্ধ বানান?
  1. উন্মিলন
  2. চাবি
  3. পাখি
  4. বাড়ি
সঠিক উত্তর:
উন্মিলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উন্মিলন
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান - 'উন্মীলন'
- সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ:
- বিকাশ,
- উন্মেষ।

অন্যদিকে,
• অপ্রাণিবাচক শব্দ ও ইতরপ্রাণিবাচক অতৎসম শব্দের শেষে ই/ঈ-কারের মধ্যে ই-কার হবে।
যেমন:
অপ্রাণিবাচক শব্দ:
- বাড়ি, গাড়ি, শাড়ি, চাবি ইত্যাদি ।

ইতরপ্রাণিবাচক শব্দ:
- পাখি, হাতি, চড়ুই, মুরগি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
২,২৫২.
কোন বাক্যে অপপ্রয়োগ ঘটেছে?
  1. এই দেশে প্রাকৃতিক সম্পদের প্রাচুর্য রয়েছে।
  2. বর্ষাকালে পানির প্রাচুর্য থাকে।
  3. তার জীবনে দুঃখের প্রাচুর্যতা নেই।
  4. বইটিতে তথ্যের প্রাচুর্য রয়েছে।
সঠিক উত্তর:
তার জীবনে দুঃখের প্রাচুর্যতা নেই।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তার জীবনে দুঃখের প্রাচুর্যতা নেই।
ব্যাখ্যা

উত্তর: গ) তার জীবনে দুঃখের প্রাচুর্যতা নেই। 
-------------------
ব্যাখ্যা:
• 'প্রাচুর্যতা' শব্দটি অপপ্রয়োগ।
- এটি ’তা’ প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগ জনিত ভুল।
- এর শুদ্ধ প্রয়োগ - প্রাচুর্য, প্রচুর।

 'প্রাচুর্য' মানে আধিক্য বা প্রাবল্য। "দুঃখের প্রাচুর্যতা নেই"।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

২,২৫৩.
শুদ্ধ বাক্য কোনটি?
  1. ঘটনা বর্ণনা হয়েছে।
  2. আমি সন্তোষ হলাম।
  3. অন্নাভাবে প্রতি ঘরে ঘরে হাহাকার।
  4. আজ আমার কনিষ্ঠা বোনের বাগদান অনুষ্ঠান।
সঠিক উত্তর:
আজ আমার কনিষ্ঠা বোনের বাগদান অনুষ্ঠান।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আজ আমার কনিষ্ঠা বোনের বাগদান অনুষ্ঠান।
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বাক্য: আজ আমার কনিষ্ঠা বোনের বাগদান অনুষ্ঠান।

অন্য অপশনে,

অশুদ্ধ বাক্য: ঘটনা বর্ণনা হয়েছে।
শুদ্ধ বাক্য: ঘটনা বর্ণিত হয়েছে।

অশুদ্ধ বাক্য: আমি সন্তোষ হলাম।
শুদ্ধ বাক্য: আমি সন্তুষ্ট হলাম।

অশুদ্ধ বাক্য: অন্নাভাবে প্রতি ঘরে ঘরে হাহাকার।
শুদ্ধ বাক্য: অন্নাভাবে ঘরে ঘরে হাহাকার।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২,২৫৪.
উৎপত্তির বিচারে খাঁটি বাংলা ছন্দ বলা হয় কোনটিকে?
  1. মাত্রাবৃত্ত ছন্দ
  2. অক্ষরবৃত্ত ছন্দ
  3. স্বরবৃত্ত ছন্দ
  4. খ ও গ
সঠিক উত্তর:
অক্ষরবৃত্ত ছন্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অক্ষরবৃত্ত ছন্দ
ব্যাখ্যা
• অক্ষরবৃত্ত ছন্দ:
উৎপত্তির বিচারে যে ছন্দটিকে আমরা খাঁটি বাংলা অর্থাৎ 'তদ্ভব ছন্দ' নামে আখ্যায়িত করেছি, তাকেই প্রচলিত ভাষায় বলা হয় অক্ষরবৃত্ত ছন্দ।

যে ছন্দে শব্দের আদিতে ও মধ্যে যুগ্মধ্বনি থাকলে তা সংশ্লিষ্ট উচ্চারণে এক-মাত্রা এবং শেষে যুগ্মধ্বনি থাকলে বিশ্লিষ্ট উচ্চারণে দুই মাত্রা ধরা হয়, সে ছন্দকে অক্ষরবৃত্ত ছন্দ বলা হয়।

- এ ছন্দে অক্ষর উচ্চারণের ধ্বনি আচ্ছন্ন করে একটি অতিরিক্ত তান বা সুরের তরঙ্গ সৃষ্টি হয়। ফলে যুক্তাক্ষরবিহীন ও যুক্তাক্ষরবহুল সব চরণই এ ছন্দে দেখা যায়।
- মন্দর বা ধীর লয় বা গতির এ ছন্দ সাধারণত দুই পর্বের হয় এবং ৬, ৮ ও ১০ মাত্রার পর্বই এ ছন্দে বেশি দেখা যায়। বৈচিত্র্যপূর্ণ নানা ছন্দ এ ছন্দের অন্তর্ভুক্ত।

যেমন:
মরিতে চাহিনা আমি । সুন্দর ভুবনে,
মানবের মাঝে আমি । বাঁচিবারে চাই,
এই সূর্যকরে এই । পুষ্পিত কাননে,
জীবন্ত হৃদয় মাঝে । যদি স্থান পাই।

উপর্যুক্ত চরণগুলোর মাত্রাসংখ্যা যথাক্রমে ৮ + ৬ = ১৪ মাত্রার। প্রতি চরণে পর্ব সংখ্যা দুটি করে।

অন্যদিকে, 
• মাত্রাবৃত্ত ছন্দ:
উৎপত্তির বিচারে যে ছন্দকে আমরা বলেছি 'তৎসম' বা 'অর্ধতৎসম ছন্দ', যে ছন্দে প্রাচীন সংস্কৃত ও প্রাকৃত ছন্দের অনেক লক্ষণ অথবা অন্তত কিছুটা লক্ষণও বর্তমান আছে তাকেই বলা হয় 'মাত্রাবৃত্ত ছন্দ'।

• স্বরবৃত্ত ছন্দ:
এই ছন্দের একটি অতি প্রচলিত নাম 'ছড়ার ছন্দ' বা 'লৌকিক ছন্দ / লোকছন্দ'। প্রাচীন ছড়াগুলো এই ছন্দে রচিত এবং এই ছন্দ মূলত লোকজীবনে নিত্যব্যবহৃত কথ্যভাষা-আশ্রিত বলেই এরূপ নামকরণের সার্থকতা স্বীকার করা চলে। রবীন্দ্রনাথও অনেক সময় একে 'ছড়ার ছন্দ' বা 'লোকছন্দ' নামে অভিহিত করেছেন।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২,২৫৫.
’যে ভিক্ষা চায়, তাকে দান কর।’ এটি কোন ধরনের বাক্য?
  1. জটিল বাক্য
  2. সরল বাক্য
  3. মৌলিক বাক্য
  4. যৌগিক বাক্য
সঠিক উত্তর:
জটিল বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জটিল বাক্য
ব্যাখ্যা
• গঠন অনুযায়ী বাক্যের  তিন প্রকার।
যথা- 
১. সরল বাক্য:
- যে বাক্যে একটিমাত্র কর্তা (উদ্দেশ্য) এবং একটিমাত্র সমাপিকা ক্রিয়া (বিধেয়) থাকে, তাকে সরল বাক্য বলে। যথা পুকুরে পদ্মফুল জন্মে।
এখানে 'পদ্মফুল' উদ্দেশ্য এবং 'জন্মে' বিধেয়।
- একটিমাত্র সমাপিকা ক্রিয়া থাকলে সরল বাক্য।
- সমাপিকা ক্রিয়া: যে ক্রিয়া বাক্যের অর্থ প্রকাশ করতে পারে।

২. মিশ্র বা জটিল বাক্য :
- যে বাক্যে একটি প্রধান খন্ডবাক্যের এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য পরস্পর সাপেক্ষ ভাবে ব্যবহৃত হয়, তাকে মিশ্র বা জটিল বাক্য বলে।
- সাপেক্ষ সর্বনাম থাকলেই জটিল বা মিশ্র বাক্য।
- সাপেক্ষ সর্বনাম: যে-সে, যেমন-তেমন, যখন-তখন, যদিও-তবুও ইত্যাদি।
-যেমন: 
- যারা ভালো ছেলে, তারা শিক্ষকের আদেশ পালন করেন।
- যে ভিক্ষা চায়, তাকে দান কর।
- যতদিন জবিত থাকব, ততদিন সত্যকথা বলব।

৩. যৌগিক বাক্য:
- পরস্পর নিরপেক্ষ দুই বা ততোধিক সরল বা মিশ্র বাক্য মিলিত হয়ে একটি সম্পূর্ণ বাক্য গঠন করলে তাকে যৌগিক বাক্য বলে।
-  যৌগিক বাক্যের অন্তর্গত নিরপেক্ষ বাক্যগুলো এবং, ও, কিন্তু, অথবা, অথচ, কিংবা, বরং, তথাপি প্রভৃতি অব্যয় যোগে সংযুক্ত বা সমন্বিত থাকে।
- যেমন-
- তার বয়স হয়েছে কিন্তু  বুদ্ধি হয়নি।
- মেঘ গর্জন করে, তবে ময়ূর নৃত্য করে।

উৎস : বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি ( ২০১৮ সংস্করণ)।
২,২৫৬.
‘সৎপাত্রে কন্যা দান কর।’ - বাক্যে ‘সৎপাত্রে’ কোন কারক?
  1. কর্ম কারক
  2. করণ কারক
  3. কর্তা কারক
  4. অপাদান কারক
সঠিক উত্তর:
কর্ম কারক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্ম কারক
ব্যাখ্যা
• কর্মকারক:
- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে কর্মকারক বলে।
- ক্রিয়ার সঙ্গে 'কী' বা 'কাকে' যোগ করে প্রশ্ন করলে কর্মকারক পাওয়া যায়।
- উল্লেখিত বাক্যটিতে 'কী' বা 'কাকে' প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায় তাকেই কর্মকারক বলে।
যেমন:
- ‘সৎপাত্রে কন্যা দান কর।’ - বাক্যেটিকে কাকে দ্বারা প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় ‘সৎপাত্রে’। অতএব ‘সৎপাত্রে’ কর্ম কারকে সপ্তমী বিভক্তির উদাহরণ।

উল্লেখ্য, বর্তমানে কন্যাকে স্বত্বত্যাগ করে দান করা হয় না।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২,২৫৭.
'দুধ থেকে দই হয়।' এখানে 'দুধ থেকে' কোন কারক?
  1. করণ কারক
  2. অধিকরণ কারক
  3. অপাদান কারক
  4. কর্তৃকারক
সঠিক উত্তর:
অপাদান কারক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপাদান কারক
ব্যাখ্যা

• অপাদান কারক: 
যে কারকে ক্রিয়ার উৎস নির্দেশ করা হয়, তাকে অপাদান কারক বলে। এই কারকে সাধারণত 'হতে', 'থেকে, ইত্যাদি অনুসর্গ শব্দের পরে বসে।
যেমন-
- জমি থেকে ফসল পাই।
- কাপটা উঁচু টেবিল থেকে পড়ে ভেঙ্গে গেল।
- গাছ থেকে পাতা পড়ে।
- দুধ থেকে দই হয়।

অন্যদিকে, 
---------------------
• অধিকরণ কারক: 
যে কারকে স্থান, কাল, বিষয় ও ভাব নির্দেশিত হয়, তাকে অধিকরণ কারক বলে। এই কারকে সাধারণত এ, য়, য়ে, তে, ইত্যাদি বিভক্তি শব্দের সাথে যুক্ত হয়।
যেমন:
- বাবা বাড়িতে আছেন।
- বিকাল পাঁচটায় অফিস ছুটি হবে।
- রাজীব বাংলা ব্যাকরণে ভালো।

• করণ কারক: 
যারা দ্বারা বা যে উপায়ে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে করণ কারক বলে। এই কারকে সাধারণত 'দ্বারা', 'দিয়ে', 'কর্তৃক' ইত্যাদি অনুসর্গ যুক্ত হয়।
যেমন:
- ভেড়া দিয়ে চাষ করা সম্ভব নয়।
- চাষিরা ধারালো কাস্তে দিয়ে ধান কাটছে।

• কর্তৃকারক:
বাক্যস্থিত যে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদ ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তা ক্রিয়ার কর্তা বা কর্তৃকারক। ক্রিয়ার সঙ্গে 'কে' বা 'কারা' যোগ করে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, তা-ই কর্তৃকারক।
যেমন:
- খোকা বই পড়ে। (কে পড়ে? খোকা কর্তৃকারক) মেয়েরা ফুল তোলে। (কারা তোলে? মেয়েরা কর্তৃকারক) 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

২,২৫৮.
হৃদয়াবেগ প্রকাশ করতে কোন বিরামচিহ্ন বসে?
  1. ত্ৰিবিন্দু
  2. দাঁড়ি
  3. বিকল্পচিহ্ন
  4. বিস্ময়চিহ্ন
সঠিক উত্তর:
বিস্ময়চিহ্ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিস্ময়চিহ্ন
ব্যাখ্যা
- হৃদয়াবেগ প্রকাশ করতে হলে - বিস্ময়চিহ্ন বসে। 

• বিস্ময়চিহ্ন (!):
- অবাক বা বিস্ময়ের ব্যাপার বোঝাতে প্রধানত বাক্যের শেষে বিস্ময়চিহ্ন বসে।
- আবেদন, ভর্তি, হতাশা, আনন্দ ইত্যাদি মনোভাব প্রকাশের ক্ষেত্রেও বিস্ময়চিহ্ন বসে।
- বাক্যের ভেতরে বন্ধনীর মধ্যে, প্রয়োজন হলে বিস্ময়চিহ্ন বসানো যায়।

উদাহরণ:
- ইশ! যতি তুমি থাকতে।
- হঠাৎ বাড়িতে শোরগোল উঠল- চোর! চোর! চোর!

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি এবং ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২,২৫৯.
‘একখানি মাটির সানকিতে ভাত বাড়িয়া লইয়াছে।’- এখানে ‘সানকিতে’ কোন কারক?
  1. অপাদান কারক
  2. কর্ম কারক
  3. অধিকরণ কারক
  4. করণ কারক
সঠিক উত্তর:
অধিকরণ কারক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অধিকরণ কারক
ব্যাখ্যা
• অধিকরণ কারক:
ক্রিয়া সমাপদনের কাল, স্থান ও সময়কে অধিকরণ কারক বলে। অর্থাৎ যে স্থানে বা সময়ে ক্রিয়া সম্পাদিত হয় সেটিই অধিকরণ কারক।
অর্থাৎ ক্রিয়াপদকে কোথায়, কোন স্থানে, কখন, কোন সময়ে, কবে, কোন বিষয়ে বা ব্যাপারে এসব প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায় সেটিই অধিকরণ কারক।

অধিকরণ কারকে বিভক্তির প্রয়োগ:
• প্রথমা বা শূন্য বিভক্তি:
- আমি ঢাকা যাব।
- বাবা বাড়ি নেই।
- সারারাত বৃষ্টি ছিলো।

• তৃতীয়া বিভক্তি: খিলিপান (এর ভিতরে) দিয়ে ঔষধ খাবে।
• পঞ্চমী বিভক্তি: বাড়ি থেকে নদী দেখা যায়।
• সপ্তমী বা তে বিভক্তি: এ বাড়িতে কেউ নেই।

প্রশ্নে প্রদত্ত ‘একখানি মাটির সানকিতে ভাত বাড়িয়া লইয়াছে।’- বাক্যকে কোন স্থানে ভাত বাড়িয়া লইয়াছে? দ্বারা প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া ‘সানকিতে’। সুতরাং ‘সানকিতে’ অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভিক্তি।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,২৬০.
কোন শব্দে সন্ধিজনিত অপপ্রয়োগ ঘটেছে?
  1. মাতৃজনিত
  2. তরুছায়া
  3. মহিমমণ্ডিত
  4. রাজগণ
সঠিক উত্তর:
তরুছায়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তরুছায়া
ব্যাখ্যা
তরুছায়া - শব্দে সন্ধিজনিত অপপ্রয়োগ ঘটেছে।
- এর শুদ্ধপ্রয়োগ - তরুচ্ছায়া।

অন্যদিকে,
- রাজগণ,
- মহিমমণ্ডিত ,
- মাতৃজনিত।
শব্দগুলোর সঠিক প্রয়োগ ঘটেছে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা ড. হায়াৎ মামুদ।
২,২৬১.
'দশে মিলে করি কাজ'- এখানে ‘দশে’ কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্মকারকে ৭মী
  2. কতৃকারকে ৭মী
  3. কতৃকার্রকে ২য়া
  4. কতৃকাকে ৪র্থী
সঠিক উত্তর:
কতৃকারকে ৭মী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কতৃকারকে ৭মী
ব্যাখ্যা
কর্তৃকারক:
- বাক্যস্থিত যে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদ ক্রিয়া সম্পন্ন করে তা ক্রিয়ার কর্তা বা কর্তৃকারক।
যেমন:
- দশে মিলে করি কাজ।
- এখানে ‘দশে’ হলো কর্তৃকারকে সপ্তমী (এ) বিভক্তি।

• বিভক্তির নাম ও বিভক্তি:
- প্রথমা বা শূণ্য বিভক্তি: শূন্য, অ;
- দ্বিতীয়া বিভক্তি: কে, রে;
- তৃতীয়া বিভক্তি: দ্বারা, দিয়া (দিয়ে), কর্তৃক;
- চতুর্থী বিভক্তি: কে, রে;
- পঞ্চমী বিভক্তি: হইতে (হতে), থেকে, চেয়ে;
- ষষ্ঠী বিভক্তি: র, এর;
- সপ্তমী বিভক্তি: এ, য়, তে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যকরণ, নবম ও দশম শ্রেণী (২০১৮ সংস্করণ)।
২,২৬২.
কোন বাক্যে কর্তায় এ বিভক্তির উদাহরণ দেয়া হয়েছে?
  1. ক) পাগলে কি না বলে
  2. খ) বনে বাঘ থাকে
  3. গ) ফুলে ফুলে বাগান ভারা
  4. ঘ) অন্ধজনে দেহ আলো
সঠিক উত্তর:
ক) পাগলে কি না বলে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) পাগলে কি না বলে
ব্যাখ্যা
বাক্যস্থিত যে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদ ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে ক্রিয়ার কর্তা বা কর্তৃকারক বলে।
ক্রিয়াকে ‘কে/ কারা’ দিয়ে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, সেটিই কর্তৃকারক।
(কর্মবাচ্য ও ভাববাচ্যের বাক্যে এই নিয়ম খাটবে না। সেক্ষেত্রে একটু সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে।)

সপ্তমী বিভক্তিঃ এ, য়, তে

উদাহরণ-
বুলবুলিতে ধান খেয়েছে (কে খেয়েছে) : কর্তৃকারকে সপ্তমী বিভক্তি।
পাগলে কি না বলে (কে বলে) : কর্তৃকারকে সপ্তমী বিভক্তি।
ছাগলে কি না খায় (কে খায়) : কর্তৃকারকে সপ্তমী বিভক্তি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
২,২৬৩.
পুলিশ ঘটনার তদন্তে _________ খোঁজখবর নিল।
  1. পুঙ্খানূপুঙ্খ
  2. পুঙ্খানুপুঙ্খ
  3.  পুঙ্খানুপূঙ্খ 
  4. পুঙ্খানূপূঙ্খ
সঠিক উত্তর:
পুঙ্খানুপুঙ্খ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পুঙ্খানুপুঙ্খ
ব্যাখ্যা

বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,

• শুদ্ধ বানান - পুঙ্খানুপুঙ্খ।
- শব্দটি বিশেষণ।
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
- অর্থ: তন্নতন্ন, সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

২,২৬৪.
কোনটি শুদ্ধ বানান?
  1. স্বশুর
  2. শ্বসুর
  3. শশুর
  4. শ্বশুর
সঠিক উত্তর:
শ্বশুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শ্বশুর
ব্যাখ্যা
শুদ্ধ বানান -  শ্বশুর 

শ্বশুর (বিশেষ্য) 
- সংস্কৃত শব্দ 
অর্থ: স্বামী বা স্ত্রীর পিতা। 

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
২,২৬৫.
কোনটি অশুদ্ধ বাক্য?
  1. সকল ছাত্রগণ পাঠে মনোযোগী নয়।
  2. অনেক ছাত্রছাত্রী ভালো পড়াশোনা করেও পরীক্ষায় ভালো ফল করে না।
  3. অন্য বিষয়গুলোর আলোচনা পরে হবে।
  4. আলোচনার মাধ্যমে সব সমস্যার সমাধান সম্ভবপর।
সঠিক উত্তর:
সকল ছাত্রগণ পাঠে মনোযোগী নয়।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সকল ছাত্রগণ পাঠে মনোযোগী নয়।
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ বাক্য: সকল ছাত্রগণ পাঠে মনোযোগী নয়।
• শুদ্ধ বাক্য: সকল ছাত্র পাঠে মনোযোগী নয়।

• বাক্যে বহুবচন ব্যবহারের নিয়ম:
বহুত্ব বোঝাতে আমরা বহুবচন ব্যবহার করি। বিশেষ্য পদের সঙ্গে গুলি/গুলো/রা, এর ইত্যাদি যুক্ত করে বহুবচন তৈরি করা হয়। স্মরণ রাখতে হবে যে বহুবচনের পরে দ্বিত্ব প্রয়োগ হয় না, অর্থাৎ কোনো শব্দকে একবার বহুবচনে রূপান্তরিত করলে পুনরায় তার বহুত্ব অপ্রয়োজনীয়। তাই অগণিত, অনেক, বহু, যাবতীয়, সব ইত্যাদি যত বহুত্ববাচক শব্দ আছে, তাদের পরে সংশ্লিষ্ট বিশেষ্য পদের সঙ্গে গুলি/গুলো/রা ইত্যাদি যুক্ত হবে না।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২,২৬৬.
বানানের নিয়ম অনুসারে কোনটি অশুদ্ধ?
  1. গাঙ
  2. বাঙালি
  3. রাং
  4. রঙের
সঠিক উত্তর:
গাঙ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গাঙ
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ বানান - গাঙ
- এর শুদ্ধরূপ: গাং।

• বানানের নিয়ম:
- শব্দের শেষে প্রাসঙ্গিক ক্ষেত্রে সাধারণভাবে অনুস্বার (ং) ব্যবহৃত হবে।
যেমন:
গাং, ঢং, পালং, রং, রাং, সং।

- তবে অনুস্বারের সঙ্গে স্বর যুক্ত হলে ঙ হবে।
যেমন :
বাঙালি, ভাঙা, রঙিন, রঙের

- ব্যতিক্রম: বাংলা ও বাংলাদেশ শব্দে অনুস্বার থাকবে।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
২,২৬৭.
'বাঁশি বাজে এ মধুর লগনে।' - বাক্যেটি কোন বাচ্যের উদাহরণ?
  1. ভাববাচ্য
  2.  কর্তৃবাচ্য
  3. কর্মকর্তৃবাচ্য
  4. কর্মবাচ্য
সঠিক উত্তর:
কর্মকর্তৃবাচ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্মকর্তৃবাচ্য
ব্যাখ্যা

কর্মকর্তৃবাচ্য:
- যে বাক্যে কর্মপদই কর্তৃস্থানীয় হয়ে বাক্য গঠন করে, তাকে কর্মকর্তৃবাচ্যের বাক্য বলা হয়।
যেমন:
- কাজটা ভালো দেখায় না।
- বাঁশি বাজে এ মধুর লগনে।
- সুতি কাপড় অনেক দিন টেকে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

২,২৬৮.
ইচ্ছাসূচক বাক্য কোনটি?
  1. ক) তােমার মঙ্গল হােক।
  2. খ) হুররে, আমরা জিতেছি!
  3. গ) আমি প্রত্যদিন সকালে হাঁটি।
  4. ঘ) এখান থেকে বিদায় হও।
সঠিক উত্তর:
ক) তােমার মঙ্গল হােক।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) তােমার মঙ্গল হােক।
ব্যাখ্যা
ইচ্ছাসূচক বাক্য: এ ধরনের বাক্যে শুভজনক প্রার্থনা, আশিস, আকাঙ্ক্ষা করা হয়।
যথা
- তােমার মঙ্গল হােক।
- পরীক্ষায় সফল হও।

অন্যদিকে, 
অনুজ্ঞাসূচক বাক্য - এখান থেকে বিদায় হও।
অস্তিবাচক বাক্য - আমি প্রত্যদিন সকালে হাঁটি।
বিস্ময়সূচক বাক্য - হুররে, আমরা জিতেছি!

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,২৬৯.
শুদ্ধ বানান কোনটি?
  1. অহঃরহ
  2. অংশিদার
  3. সম্ভব্য
  4. সম্ভাবনীয়
সঠিক উত্তর:
সম্ভাবনীয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সম্ভাবনীয়
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান: সম্ভাবনীয় (বিশেষণ পদ),
- এটি একটি সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ: 
- ঘটতে পারে এমন,
- করা সম্ভব এমন,
- সম্ভাবনাযুক্ত।

অশুদ্ধ বানানগুলোর শুদ্ধরূপ হলো:
• অহরহ (ক্রিয়া বিশেষণ),
অর্থ:
- সর্বদা, 
- নিত্য,
- প্রত্যহ,
- প্রতিনিয়ত।

• অংশীদার (বিশেষ্য পদ),
অর্থ:
- সম্পতি বা ব্যবসায়ে যার অংশ আছে।

• সম্ভাব্য (বিশেষণ পদ),
অর্থ:
- ঘটা সম্ভব এমন।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
২,২৭০.
'মা ছিল না বলে কেউ তার চুল বেঁধে দেয়নি' এটি একটি _______ বাক্য।
  1. যৌগিক বাক্য
  2. জটিল বাক্য
  3. সরল বাক্য
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
জটিল বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জটিল বাক্য
ব্যাখ্যা
‘মা ছিল না বলে কেউ তার চুল বেঁধে দেয়নি’- এটি একটি জটিল বাক্য।
=================
সাপেক্ষ সর্বনামের বা সাপেক্ষ যোজক ছাড়াও নিম্নের উপায়ে জটিল বাক্য হতে পারে। এই জায়গা অনেক অনেক এবং অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ, অবশ্যই অবশ্যই ভালো করে বুঝে নিতে হবে।  

শর্টকাট : সরল বাক্য + ক্রিয়াবাচক অনুসর্গ + সরল বাক্য = জটিল বাক্য

'মা ছিল না বলে কেউ তার চুল বেঁধে দেয়নি। - এই উদাহরণটি অনেক বইয়ে সরল বাক্য বা যৌগিক বাক্য হিসেবে দেখানো হয়েছে। চলুন সরল বাক্যের শর্তগুলো মনে করি।

সরল বাক্যে অবশ্যই একটি সমাপিকা ক্রিয়া থাকবে। আর যৌগিক বাক্যে অবশ্যই অব্যয় দ্বারা যুক্ত থাকবে অথবা দুটি সরল বাক্যের মাঝে অব্যয়ের পরিবর্তে শুধু কমা থাকবে এবং বাক্যগুলো একটা আরেকটার ওপর নির্ভর করবে না, অর্থাৎ স্বাধীনভাবে ব্যবহৃত হবে। 

এবার ওপরের বাক্যটিকে ভেঙে লিখি। 
মা ছিল না - বলে - কেউ তার চুল বেঁধে দেয়নি।

‘মা ছিল না।’ এটি একটি সরল বাক্য এবং এখানে সমাপিকা ক্রিয়া (ছিল) আছে। 
‘কেউ তার চুল বেঁধে দেয়নি।’ এটিও একটি সরল বাক্য এবং এখানেও সমাপিকা ক্রিয়া (দেয়নি) আছে।   
‘মা ছিল না বলে কেউ তার চুল বেঁধে দেয়নি’ বাক্যে একাধিক সমাপিকা ক্রিয়া আছে এবং একাধিক সরল বাক্য পাওয়া গেছে। সুতরাং এটি সরল বাক্য নয়। 

এবার দেখি এটি যৌগিক বাক্য কি না। যৌগিক বাক্যের মূল কথা হলো দুটি সরল বা জটিল বাক্য বাক্য অব্যয় দ্বারা সংযোগ থাকবে অথবা দুটি সরল বাক্যের মাঝে অব্যয়ের পরিবর্তে কমা থাকবে। যোৗগিক বাক্যের সরল বাক্যগুলো স্বাধীন ও নিরপেক্ষ হবে, অর্থাৎ একটি আরেকটির ওপর নির্ভর করবে না। 

‘মা ছিল না বলে কেউ তার চুল বেঁধে দেয়নি’ বাক্যের অন্তর্গত ‘মা ছিল না’ এবং ‘কেউ তার চুল বেঁধে দেয়নি’ বাক্যের মাঝে কোনো সংযোজক বা বিয়োজক অব্যয় নেই এবং বাক্য দুটি স্বাধীন নয়, একটি অন্যটির ওপর নির্ভর করছে, এখানে অব্যয়ের পরিবর্তে ‘বলে’ নামক অনুসর্গ আছে, তাই এটি যৌগিক বাক্যের শর্ত পূরণ করতে পারে না। 

এবার তবে জটিল বাক্যের শর্তের দিকে যাই। জটিল বাক্যে একটি বাক্য আরেকটি বাক্যের সঙ্গে সাপেক্ষ অবস্থায় থাকবে। এখানে ‘বলে’ অনুসর্গ দুটি বাক্যকে একটির সঙ্গে আরেকটির সাপেক্ষ অবস্থা সৃষ্টি করেছে। ‘বলে’ ক্রিয়া হিসেবে ব্যবহৃত হয়নি, ক্রিয়াবাচক অনুসর্গ হিসেবে বসে একটি বাক্যের সঙ্গে আরেকটি বাক্যের নির্ভরশীলতা বা সাপেক্ষ অবস্থা বুঝিয়েছে। যদি ‘বলে’ ক্রিয়া হিসেবে ব্যবহৃত  হতো তবে সেটি সরল বাক্য হতো। 

অব্যশই অব্যশই মনে রাখতে হবে : বলে দ্বারা যদি ক্রিয়া না বোঝায় তবে ধরে নিতে হবে সেটি ক্রিয়া হিসেবে বাক্যে ব্যবহৃত হয়নি ক্রিয়াবাচক অনুসর্গ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে, আর অবশ্যই বাক্যটি জটিল বাক্য হবে। প্রসঙ্গত ক্রিয়াবাচক অনুসর্গগুলো দেখে নেই। 

[ক্রিয়াজাত অনুসর্গ : ক্রিয়া থেকে নির্মিত অনুসর্গকে ক্রিয়াজাত অনুসর্গ বলে। এ জাতীয় অনুসর্গ হলো : বলে, করে, থেকে, দিয়ে, ধরে, হতে ইত্যাদি। যেমন : ভালো করে পড়াশুনা করো। মন দিয়ে কাজ করো।]

 > কয়েকটি উদাহরণ লক্ষ করি, যে উদাহরণগুলো প্রতিযোগিতমূলক পরীক্ষায় এসেছে।
 - ‘তুমি আসবে বলে হে স্বাধীনতা সাকিনা বিবির কপাল ভাঙল।’ [৩৩তম বিসিএস]
- মা ছিল না বলে কেউ তার চুল বেঁধে দেয়নি। [৩২তম বিসিএস]
 - তুমি আসবে বলে আমি অপেক্ষা করছি।
 
সূত্র: মুনীর চৌধুরী ও মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী রচিত নবম-দশম শ্রেণির ‘বাংলা ভাষার ব্যাকরণ গ্রন্থ।
২,২৭১.
সৎ পাত্রে কন্যা দাও- ‘সৎ পাত্রে’ পদটিতে কোন কারকে কোন বিভক্তির প্রয়োগ হয়েছে?
  1. ক) সম্প্রদানে পঞ্চমী
  2. খ) কর্মে সপ্তমী
  3. গ) সম্প্রদানে সপ্তমী
  4. ঘ) অপাদানে সপ্তমী
সঠিক উত্তর:
গ) সম্প্রদানে সপ্তমী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সম্প্রদানে সপ্তমী
ব্যাখ্যা

সম্প্রদান কারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগ:
ক. চতুর্থী বা কে বিভক্তি : ভিখারিকে ভিক্ষা দাও। (স্বত্ব ত্যাগ করে না দিলে কর্ম কারক হবে। যেমন: ধোপাকে কাপড় দাও।)
খ. সপ্তমী বা এ বিভক্তি : সৎ পাত্রে কন্যা দান কর। মৃতজনে দেহ প্রাণ।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণি।

২,২৭২.
অণুতে গঠিত হিমালয়। এখানে ‘অণুতে’ কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. অপাদানে ৭মী
  2. করণে ৭মী
  3. কর্তায় ৭মী
  4. অধিকরণে ৭মী
সঠিক উত্তর:
করণে ৭মী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
করণে ৭মী
ব্যাখ্যা
করণ কারক:
- যার দ্বারা বা যে উপায়ে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে করণ কারক বলে।
- এই কারকে সাধারণত ‘দ্বারা’, ‘দিয়ে’, ‘কর্তৃক' ইত্যাদি অনুসর্গ যুক্ত হয়।
যেমন -
- ভেড়া দিয়ে চাষ করা সম্ভব নয়।
- চাষিরা ধারালো কাস্তে দিয়ে ধান কাটছে।
- লোকটা জাতিতে বৈষ্ণব।
- শিকারী বিড়াল গোঁফে চেনা যায়।
- অণুতে গঠিত হিমালয়। করণে ৭মী বিভক্তি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ)।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,২৭৩.
কোনটি ভুল বাক্য নয়?
  1. অধিক সন্যাসীতে গযন নষ্ট।
  2. দীনতা সবসময় ভালো নয়।
  3. উপরোক্ত বাক্যটি শুদ্ধ নয়।
  4. রচনাটির উৎকর্ষতা অনস্বীকার্য।
  5. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
দীনতা সবসময় ভালো নয়।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দীনতা সবসময় ভালো নয়।
ব্যাখ্যা
• 'দৈন্য/দীনতা সবসময় ভালো নয়।'-  এটি একটি শুদ্ধ বাক্য।

অন্যান্য অপশন,

অশুদ্ধ বাক্য-- শুদ্ধ বাক্য:
অধিক সন্যাসীতে গযন নষ্ট- অধিক সন্ন্যাসীতে গাজন নষ্ট। 
উপরোক্ত বাক্যটি শুদ্ধ নয়- উপরিউক্ত বাক্যটি শুদ্ধ নয়। 
রচনাটির উৎকর্ষতা অনস্বীকার্য- রচনাটির উৎকর্ষ/উৎকৃষ্টতা অনস্বীকার্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২,২৭৪.
'জানালার কাচ ভাঙল'। কোন বাচ্যের উদহারণ? 
  1. ক) কর্তৃবাচ্য 
  2. খ) কর্মবাচ্য
  3. গ) ভাববাচ্য
  4. ঘ) কর্ম-কর্তৃবাচ্য
সঠিক উত্তর:
ঘ) কর্ম-কর্তৃবাচ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) কর্ম-কর্তৃবাচ্য
ব্যাখ্যা
- 'জানালার কাচ ভাঙল' কর্ম-কর্তৃবাচ্য বাচ্যের উদহারণ

• যে বাক্যে কর্মকারক কর্তার মতো প্রতীয়মান হয় অথার্ৎ ক্রিয়ার কর্ম কর্তার মনোযোগ ব্যতীত সম্পাদিত হয়, তাকে কর্ম-কর্তৃবাচ্যের বাক্য বলে।
যেমন : 
এসিটা চালো হলো।
জানালার কাচ ভাঙল।
আজ সারারাত রাস্তায় আলো জ্বলেনি। 
কোথায় যেন বাঁশি বাজছে।

উৎস : নবম-দশম শ্রেণি পুরাতন ও নতুন ব্যাকরণ, ভাষা-শিক্ষা, বাংলা একাডেমির ব্যাকরণ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ। 
২,২৭৫.
নিচের কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. মরূদ্যান
  2. উদীচি
  3. ধুর্ত
  4. শ্বাশত
সঠিক উত্তর:
মরূদ্যান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মরূদ্যান
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
'মরূদ্যান ' - শুদ্ধ বানান।

• 'মরূদ্যান' শব্দের অর্থ: 
- মরুভূমিতে অবস্থিত জল ও বৃক্ষাদিপূর্ণ স্থান। 

অন্য অপশনের শুদ্ধ বানান:
• উদীচি - উদীচী,
• ধুর্ত - ধূর্ত, 
• শ্বাশত - শাশ্বত।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
২,২৭৬.
"নিষ্ঠাবান কর্মীরা সময়মতো অফিসে আসে।" - এটি কোন ধরনের বাক্য?
  1. সরল বাক্য
  2. জটিল বাক্য
  3. যৌগিক বাক্য
  4. খণ্ড বাক্য
সঠিক উত্তর:
সরল বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সরল বাক্য
ব্যাখ্যা
সরল বাক্য:
- যে বাক্যে একটি মাত্র কর্তা এবং একটি মাত্র সমাপিকা ক্রিয়া থাকে তাকে সরল বাক্য বলে।
যেমন: 
- পুকুরে পদ্মফুল জন্মে।
- ভালো ছেলেরা শিক্ষকের আদেশ পালন করে।
- নিষ্ঠাবান কর্মীরা সময়মতো অফিসে আসে।
• 'রক্ষকই ভক্ষক' বাক্যে একটি মাত্র কর্তা এবং একটি মাত্র সমাপিকা ক্রিয়া থাকায় বাক্যটি একটি সরল বাক্য। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
২,২৭৭.
শুদ্ধ বানানটি নির্ণয় করুন।
  1. ক) শ্রদ্ধাস্পদেষু
  2. খ) শ্রদ্ধাস্পদেসু
  3. গ) নিক্বন
  4. ঘ) নিক্বোন
সঠিক উত্তর:
ক) শ্রদ্ধাস্পদেষু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) শ্রদ্ধাস্পদেষু
ব্যাখ্যা

শ্রদ্ধাস্পদেষু (বিশেষণ) - শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিকে লিখিত পত্রের আরম্ভে পাঠ।
নিক্বণ (বিশেষ্য) - নিনাদ; ঝঙ্কার; ধ্বনি; মিষ্টি আওয়াজ।
উৎসঃ বাংলা একাডেমী অভিধান

২,২৭৮.
কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. ক) আবেদনকারি
  2. খ) আভিরপল্লী
  3. গ) আবেষ্টনী
  4. ঘ) আবেস্টিত
সঠিক উত্তর:
গ) আবেষ্টনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) আবেষ্টনী
ব্যাখ্যা
বাংলা বানান অভিধান -বাংলা একাডেমি অনুসারে, 
আবেষ্টনী বানানটি শুদ্ধ।
- এটি একটি সংস্কৃত শব্দ।
- এর প্রকৃতি-প্রত্যয়: আবেশটন+ঈ
বিশেষ্য অর্থে- বেষ্টনী, পরিবেশ, প্রতিবেশ। 

এছাড়া,
আবেদনকারি এর সঠিক বানান - আবেদনকারী।
আভিরপল্লী এর সঠিক বানান - আভীরপল্লি।
আবেস্টিত এর সঠিক বানান - আবেষ্টিত।

উৎস:  বাংলা বানান অভিধান -বাংলা একাডেমি।
২,২৭৯.
"মেঘ গর্জন করে, তবে ময়ূর নৃত্য করে।" - কোন ধরনের বাক্য?
  1. সরল বাক্য 
  2. যৌগিক বাক্য
  3. জটিল বাক্য 
  4. মিশ্র বাক্য 
সঠিক উত্তর:
যৌগিক বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যৌগিক বাক্য
ব্যাখ্যা

যৌগিক বাক্য:
- দুই বা ততোধিক স্বাধীন বাক্য যখন যোজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে একটি বাক্যে পরিণত হয়, তখন তাকে যৌগিক বাক্য বলে।
- এবং,  ও, আর, অথবা, বা, কিংবা, কিন্তু,অথচ, সেজন্য, ফলে ইত্যাদি যোজক যৌগিক বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
- কমা(, ), সেমিকোলন( ;), কোলন( ; ), ড্যাশ( -) ইত্যাদি যতিচিহ্নও যোজকের কাজ করে।

যেমন:
- আঁখি রাতে রুটি খায় আর মোহন খায় ভাত।
- মেঘ গর্জন করে, তবে ময়ূর নৃত্য করে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

২,২৮০.
"বইয়ের মধ্যে অনেক ছবি আছে।" - নিম্নরেখ শব্দটি কোন কারকের উদাহরণ?
  1. কর্মকারক
  2. করণ কারক
  3. অধিকরণ কারক
  4. অপাদান কারক
সঠিক উত্তর:
অধিকরণ কারক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অধিকরণ কারক
ব্যাখ্যা
• "বইয়ের মধ্যে অনেক ছবি আছে।" - নিম্নরেখ শব্দটি অধিকরণ কারকের উদাহরণ।

• অধিকরণ কারক:
- ক্রিয়ার আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক। আধার বলতে ক্রিয়া নিষ্পন্ন হওয়ার স্থান, কাল ও ভাবকে বােঝায়।
- অর্থাৎ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল এবং আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক।
- বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথায়, কখন ও কোনাে বিষয় বােঝাতে অধিকরণ কারক হয়।
----------------------------------------
• 'বইয়ের মধ্যে অনেক ছবি আছে।' - বাক্য়ের ক্রিয়াকে 'কোথায়' দ্বারা প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'বইয়ের মধ্যে'।
তাই,
নিম্নরেখ শব্দটি অধিকরণ কারকের উদাহরণ।  
 
উৎস:
- মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২,২৮১.
কোন বাক্যটি অশুদ্ধ?
  1. অপব্যয় একটি মারাত্মক ব্যাধি।
  2. বৃক্ষটি সমূল উৎপাটিত হয়েছে।
  3. অপমানিত হবার ভয় নেই।
  4. অন্নাভাবে প্রতি ঘরে ঘরে হাহাকার।
সঠিক উত্তর:
অন্নাভাবে প্রতি ঘরে ঘরে হাহাকার।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অন্নাভাবে প্রতি ঘরে ঘরে হাহাকার।
ব্যাখ্যা
অশুদ্ধ: অন্নাভাবে প্রতি ঘরে ঘরে হাহাকার।
শুদ্ধ: অন্নাভাবে ঘরে ঘরে হাহাকার।

অন্যদিকে,
→ অপমানিত হবার ভয় নেই।
→ বৃক্ষটি সমূল উৎপাটিত হয়েছে।
→ অপব্যয় একটি মারাত্মক ব্যাধি।
উপরিউক্ত বাক্যগুলোর প্রয়োগ শুদ্ধ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২,২৮২.
নিচের কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. তুখোর
  2. প্রবহন
  3. দিকগজ
  4. স্বতঃপ্রবৃত্ত
সঠিক উত্তর:
স্বতঃপ্রবৃত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বতঃপ্রবৃত্ত
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
'স্বতঃপ্রবৃত্ত' - বানানটি শুদ্ধ।

শব্দের অর্থ: 
- স্বেচ্ছায় প্রবৃত্ত; স্বতঃস্ফূর্ত।

অন্য অপশনের শুদ্ধ বানান:
• তুখোর - তুখোড়;
• প্রবহন - প্রবহণ;
• দিকগজ - দিগ্‌গজ।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
২,২৮৩.
গুরুচণ্ডালী দোষমুক্ত কোনটি?
  1. শবমড়া
  2. শবদাহ
  3. শবপোড়া
  4. মড়াদাহ
সঠিক উত্তর:
শবদাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শবদাহ
ব্যাখ্যা
- তৎসম শব্দের সঙ্গে দেশীয় শব্দের প্রয়ােগ কখনাে কখনাে গুরুচণ্ডালী দোষ সৃষ্টি করে।
- এ দোষে দুষ্ট শব্দ তার যােগ্যতা হারায়।

- 'গরুর গাড়ি', 'শবদাহ', 'মড়াপােড়া' প্রভৃতির স্থলে যথাক্রমে গরুর শকট, শবপােড়া, মড়াদাহ প্রভৃতির প্রয়ােগ গুরুচণ্ডালী দোষ সৃষ্টি করে।

- সুতরাং গুরুচণ্ডালী দোষমুক্ত শব্দ শবদাহ

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
২,২৮৪.
অভ্যন্তর যতিচিহ্ন কোনটি?
  1. দাঁড়ি
  2. কমা
  3. বিস্ময়চিহ্ন
  4. প্রশ্নচিহ্ন
সঠিক উত্তর:
কমা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কমা
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমির প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ অনুসারে, বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত যতিচিহ্ন হলো:

• অন্ত্যযতি:
১. দাঁড়ি (।)
২. প্রশ্নচিহ্ন (?)
৩. বিস্ময়চিহ্ন (!)
৪. দুই দাঁড়ি (।।)

• অভ্যন্তর যতি:
৫. কমা (,)
৬. সেমিকোলন (;)
৭. হাইফেন (-)
৮. ড্যাশ (-)
৯. কোলন (:)
১০. কোলন-ড্যাশ (:-)
১১. বিন্দু (.)

• অন্যান্য যতি:
১২. ঊর্ধ্বকমা (')
১৩. ত্রিবিন্দু (...)
১৪. উদ্ধৃতিচিহ্ন ('...'/”...”)
১৫. বন্ধনীচিহ্ন (({{-]}))
১৬. বিকল্পচিহ্ন (/)।
২,২৮৫.
অধিকরণ কারকে সাধারণত কোন বিভক্তি যুক্ত হয়?
  1. দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক
  2. এ, য়, তে
  3. হতে, থেকে, চেয়ে
  4. কে, রে
সঠিক উত্তর:
এ, য়, তে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এ, য়, তে
ব্যাখ্যা
অধিকরণ কারক:
- ক্রিয়া সম্পাদনের কাল (সময়) এবং আধারকে অধিকরণ কারক বলে।
- অধিকরণ কারকে সপ্তমী অর্থাৎ ‘এ’, 'য়', ‘তে’ ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়।
যথা -
→ আধার (স্থান): আমরা রোজ স্কুলে যাই। 
→ কাল (সময়): প্রভাতে সূর্য ওঠে।
- অধিকরণ কারক তিন প্রকার। যথা:
১. আধারাধিকরণ,
২. কালাধিকরণ এবং 
৩. ভাবাধিকরণ।

• আধারাধিকরণ তিন ভাগে বিভক্ত। যথা:
১. ঐকদেশিক,
২. অভিব্যাপক এবং
৩. বৈষয়িক।

• ঐকদেশিক আধারাধিকরণ:
- বিশাল স্থানের যে কোনো অংশে ক্রিয়া সংঘটিত হলে তাকে ঐকদেশিক আধারাধিকরণ বলে।
যেমন -
→ পুকুরে মাছ আছে। (পুকুরের যে কোনো একস্থানে)
→ বনে বাঘ আছে। (বনের যে কোনো এক অংশে)
→ আকাশে চাঁদ উঠেছে। (আকাশের কোনো এক অংশে)
- সামীপ্য অর্থেও ঐকদেশিক অধিকরণ হয়।
যেমন -
→ ঘাটে নৌকা বাঁধা আছে (ঘাটের কাছে)।
→ দুয়ারে দাঁড়ায়ে প্রার্থী, ভিক্ষা দেহ তারে (দুয়ারের কাছে)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২,২৮৬.
‘মেঘ গর্জন করে, তবে ময়ূর নৃত্য করে।’- এটি কোন ধরনের বাক্য?
  1. ক) খন্ড বাক্য
  2. খ) সরল বাক্য
  3. গ) মিশ্র বাক্য
  4. ঘ) যৌগিক বাক্য
সঠিক উত্তর:
ঘ) যৌগিক বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) যৌগিক বাক্য
ব্যাখ্যা
দুই বা তার বেশি সরল বা জটিল বাক্য সংযোজক বা বিয়োজক অব্যয় দ্বারা যুক্ত হয়ে একটি দীর্ঘ বাক্য গঠন করলে তাকে যৌগিক বাক্য বলে। যৌগিক বাক্যের অন্তর্গত নিরপেক্ষ বাক্যগুলো এবং, ও, কিন্তু, অথবা, কিংবা, বরং, তথাপি ইত্যাদি অব্যয়যোগে সংযুক্ত থাকে। ‘মেঘ গর্জন করে, তবে ময়ূর নৃত্য করে’- এটি যৌগিক বাক্য। এর সরল রূপঃ মেঘ গর্জন করলে ময়ূর নৃত্য করে।
[সূত্রঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম-দশম শ্রেণি]
২,২৮৭.
নিচের কোন শব্দে অপ্রয়োগ ঘটেছে?
  1. কৃপণতা
  2. উৎকর্ষতা
  3. অলসতা 
  4. দরিদ্রতা
সঠিক উত্তর:
উৎকর্ষতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উৎকর্ষতা
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ - উৎকর্ষতা,
• শুদ্ধ - উৎকৃষ্ট শব্দে তা-প্রত্যয়যোগে উৎকৃষ্টতা।
- সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃতি প্রত্যয়- [উৎ+কৃষ্+তা]
অর্থ: উওম, শ্রেষ্ঠ, উন্নত ।

⇒ নিয়ম: ‘তা’ ‘ত্ব’ এবং ‘য’ হলো বিশেষ্যবাচক প্রত্যয়। যা কেবল বিশেষণ শব্দকে বিশেষ্য করে। তাই বিশেষ্য শব্দের সঙ্গে আবারো ‘তা’ ‘ত্ব’ বা য যুক্ত করলে তা ভুল হবে। যেমন: কৃপণ বিশেষণ শব্দের সাথে তা প্রত্যয় যুক্ত হয়ে কৃপণতা হয়েছে।

- সূত্র অনুসারে,  কৃপণতা, অলসতা ও দরিদ্রতা শব্দে তা-প্রত্যয়ের সঠিক প্রয়োগ ঘটেছে।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান ও ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২,২৮৮.
‘নিয়মিত করে হাসান লেখাপড়া’- বাক্যটিতে কোন গুণের অভাব রয়েছে?
  1. আকাঙ্ক্ষা
  2. আসত্তি
  3. যোগ্যতা
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
আসত্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আসত্তি
ব্যাখ্যা
• ‘নিয়মিত করে হাসান লেখাপড়া’- বাক্যটিতে আসত্তি গুণের অভাব রয়েছে। 
---------------------------
একটি আদর্শ বাক্যের জন্যে তিনটি গুণ থাকা থাকা জরুরি।
যথা:
• আকাঙ্ক্ষা:
বাক্যের অর্থ স্পষ্টকরণে এক পদের পর অন্য পদ শোনার যে ইচ্ছা বা প্রয়াস তাকে আকাঙ্ক্ষা বলে।
যেমন:
- ছেলেরা খেলে।
- কাজল নিয়মিত লেখাপড়া।

উপরের দু'টি বাক্যই অসম্পূর্ন অর্থাৎ বাক্যে আকাঙ্ক্ষা পূর্ণ হয়নি। বাক্যগুলো এভাবে পরিপূর্ণ করা যায়-
- ছেলেরা ফুটবল খেলে।
- কাজল নিয়মিত লেখাপড়া করে।

• আসত্তি:
বাক্যের অর্থসঙ্গতি রক্ষায় সুনির্দিষ্ট পদবিন্যাসই হল-আসত্তি।
- ‘নিয়মিত করে হাসান লেখাপড়া’।

উপরের বাক্যে পদ সন্নিবেশ ঠিকঠাক না হওয়ায় শব্দগুলোর অন্তর্নিহিত ভাব প্রকাশ হয়নি। বাক্যটি এভাবে পরিপূর্ণ করা যায়-
- হাসান নিয়মিত লেখাপড়া করে। এখন বাক্যটি আসত্তিসম্পন্ন।

• যোগ্যতা:
বাক্যের অন্তর্গত পদসমূহের বিশ্বাসযোগ্য ভাবসম্মিলনের নাম হল যোগ্যতা।
- ‘বর্ষার রৌদ্র প্লাবনের সৃষ্টি করে’।

উপরের বাক্যটি ভাব প্রকাশে যোগ্যতা হারিয়েছে। কেননা রোদ কখনো প্লাবন সৃষ্টি করতে পারে না। তাই যোগ্যতাসম্পন্ন বাক্যটি-
‘বর্ষার বৃষ্টি প্লাবনের সৃষ্টি করে’।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াত মামুদ, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড.সৌমিত্র শেখর।
২,২৮৯.
‘নয় দুয়ারে দুয়ারে না ঘুরে এবার সংসারী হও’ বাক্যটিতে কী ধরনের অশুদ্ধি আছে?
  1. ক) কাল জনিত
  2. খ) সমাস জনিত
  3. গ) সন্ধি জনিত
  4. ঘ) বাগধারা জনিত
সঠিক উত্তর:
ঘ) বাগধারা জনিত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) বাগধারা জনিত
ব্যাখ্যা
‘নয় দুয়ারে দুয়ারে না ঘুরে এবার সংসারী হও’ বাক্যটিতে বাগধারা জনিত অশুদ্ধি আছে।
শুদ্ধ বাক্য হবে - নয়-দুয়ারি হয়ে না ঘুরে এবার সংসারী হও।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
২,২৯০.
‘তুমি আমার সাথে প্রপঞ্চ করেছো’-বাক্যটিতে রীতিসিদ্ধ অর্থবাচকতার ক্ষেত্রে কোন ধরনের ভুল রয়েছে?
  1. ক) উপমার ভুল
  2. খ) দুর্বোধ্যতা
  3. গ) বাহুল্য
  4. ঘ) গুরুচণ্ডালী দোষ
সঠিক উত্তর:
খ) দুর্বোধ্যতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) দুর্বোধ্যতা
ব্যাখ্যা
বাক্যে ব্যবহৃত ‘প্রপঞ্চ’ শব্দটি প্রচলিত বাংলা শব্দ নয়। এজন্য এ শব্দটি বাক্যে ব্যবহার করার কারনে বাক্যের অর্থে দুর্বোধ্যতা তৈরি হয়েছে। যা বাক্যের যোগ্যতার অভাবের পর্যায়ভূক্ত।
উৎস- বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
২,২৯১.
শুদ্ধ বাক্য কোনটি?
  1. ঘটনাটি অত্যন্ত লজ্জাকর।
  2. তুমিই টাকাটি আত্মস্ম্যাৎ করেছ।
  3. মহারাজা সভাগৃহে প্রবেশ করিলেন।
  4. আমার আর বাঁচিবার স্বাদ নাই।
সঠিক উত্তর:
ঘটনাটি অত্যন্ত লজ্জাকর।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘটনাটি অত্যন্ত লজ্জাকর।
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ: ঘটনাটি অত্যন্ত লজ্জাকর।

অন্যদিকে, 
• অশুদ্ধ: তুমিই টাকাটি আত্মস্ম্যাৎ করেছ।
• শুদ্ধ: তুমিই টাকাটি আত্মসাৎ করেছ।

• অশুদ্ধ: মহারাজা সভাগৃহে প্রবেশ করিলেন।
• শুদ্ধ: মহারাজ সভাগৃহে প্রবেশ করিলেন।

• অশুদ্ধ: আমার আর বাঁচিবার স্বাদ নাই।
• শুদ্ধ: আমার আর বাঁচিবার সাধ নাই।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২,২৯২.
নিম্নের কোনটি ‘বৈয়াকরণ’ শব্দের সঠিক উচ্চারণ?
  1. ক) বইয়াকরোন্‌
  2. খ) বোইয়াকরোন্‌
  3. গ) বোইয়াকরন্‌
  4. ঘ) বইয়াকরন্‌
সঠিক উত্তর:
খ) বোইয়াকরোন্‌
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বোইয়াকরোন্‌
ব্যাখ্যা

বৈয়াকরণ [বোইয়াকরোন্‌] (বিশেষণ) {(তৎসম বা সংস্কৃত) ব্যাকরণ+অ(অণ্‌)}
১ ব্যাকরণে পণ্ডিত; ব্যাকরণ-বিশারদ; ব্যাকরণবিদ।
২ ব্যাকরণ সম্পর্কীয়।
ব্যাকরণ (বিশেষ্য)।

উৎস: বাংলা একাডেমি অভিধান।

২,২৯৩.
সমার্থ শব্দের বাহুল্যজনিত অশুদ্ধি ঘটেছে নিচের কোন শব্দে?
  1. মূলসহ
  2. আয়ত্তাধীন
  3. অদ্যাপি
  4. বুদ্ধিমান
সঠিক উত্তর:
আয়ত্তাধীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আয়ত্তাধীন
ব্যাখ্যা

সমার্থ শব্দের বাহুল্যজনিত অশুদ্ধি:
অশুদ্ধ - শুদ্ধ:
অদ্যাপিও - অদ্যাপি/অদ্যও।  
কদাপিও - কদাপি। 
সময়কাল - সময়/কাল। 
বিবিধপ্রকার - বিবিধ। 
সুবুদ্ধিমান - সুবুদ্ধি/বুদ্ধিমান। 
আয়ত্তাধীন - আয়ত/অধীন। 
শুধুমাত্র - শুধু/মাত্র। 
কেবলমাত্র - কেবল/মাত্র। 
সমূলসহ - সমূল/মূলসহ। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

২,২৯৪.
যে ছন্দেরমূল পর্ব বা পূর্ণ পর্বের মাত্রা সংখ্যা চার, তাকে কী বলা হয়?
  1. অমিত্রাক্ষর
  2. অক্ষরবৃত্ত
  3. মাত্রাবৃত্ত
  4. স্বরবৃত্ত
সঠিক উত্তর:
স্বরবৃত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বরবৃত্ত
ব্যাখ্যা
• স্বরবৃত্ত ছন্দ:
- স্বরবৃত্ত ছন্দের বহুল প্রচলিত নাম ছড়ার ছন্দ, লৌকিক ছন্দ, লোকছন্দ, মেয়েলি ছন্দ।
- এটাকে প্রাকৃত বাংলা ছন্দও বলা হয়।
- প্রাচীন ছড়াগুলো স্বরবৃত্তে রচিত।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একে ছড়া ছন্দ বা লোকছন্দ বলেছেন।
- এর ভাব লঘু ও চপল।

• স্বরবৃত্ত ছন্দের বৈশিষ্ট্য:
- দ্রুত লয়ের ছন্দ।
- এই ছন্দের মূল পর্ব বা পূর্ণ পর্ব চার মাত্রাবিশিষ্ট।
- মুক্তাক্ষর এবং বদ্ধাক্ষর উভয়ই একমাত্র বিশিষ্ট,পর্বগুলো ছোট ৪ মাত্রা বিশিষ্ট।

উৎস : ভাষা-শিক্ষা, ড হায়াৎ মামুদ, বাংলাপিডিয়া, প্রাচ্য সাহিত্য সমালোচনা তত্ত্ব ও অলংকার শাস্ত্র, প্রফেসর ড. ধীরেন্দ্রনাথ তরফদার।
২,২৯৫.
নিচের কোন বাক্যটি সঠিক?
  1. ক) জাপান একটি সমৃদ্ধশালী দেশ।
  2. খ) সুশিক্ষিত লোক মাত্রই সশিক্ষিত।
  3. গ) তিনি সানন্দে সম্মতি দিলেন।
  4. ঘ) কাব্যটির উৎকর্ষতা প্রশংসনীয়।
সঠিক উত্তর:
গ) তিনি সানন্দে সম্মতি দিলেন।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) তিনি সানন্দে সম্মতি দিলেন।
ব্যাখ্যা

- 'জাপান একটি সমৃদ্ধশালী দেশ।' বাক্যটি শুদ্ধরূপ জাপান একটি সমৃদ্ধ দেশ।
- 'সুশিক্ষিত লোক মাত্রই সশিক্ষিত।' বাক্যটি শুদ্ধরূপ সুশিক্ষিত লোক মাত্রই স্বশিক্ষিত।
- 'কাব্যটির উৎকর্ষতা প্রশংসনীয়।' বাক্যটি শুদ্ধরূপ কাব্যটির উৎকর্ষ/উৎকৃষ্টতা প্রশংসনীয়।

২,২৯৬.
‘তা’ প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগ ঘটেছে নিচের কোন শব্দে?
  1. বিষমতা
  2. মিত্রতা
  3. লঘুতা
  4. বহুলতা
  5. মৌনতা
সঠিক উত্তর:
মৌনতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মৌনতা
ব্যাখ্যা
• ‘মৌনতা’ শব্দে ‘তা’ প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগ ঘটেছে।
- শুদ্ধ প্রয়োগ: মৌন। 
------------- 
• নিয়ম:
‘তা’ ‘ত্ব’ এবং ‘য’ হলো বিশেষ্যবাচক প্রত্যয়। যা কেবল বিশেষণ শব্দকে বিশেষ্য করে। তাই বিশেষ্য শব্দের সঙ্গে আবারো ‘তা’ ‘ত্ব’ বা য যুক্ত করলে তা ভুল হবে।
যেমন:
- দৈন্যতা শব্দটি অপপ্রয়োগ বা অশুদ্ধ। কারণ ‘দীন’ বিশেষণ শব্দের সঙ্গে বিশেষ্যবাচক ‘য’ প্রত্যয় যোগ করে ‘দৈন্য’ বিশেষ্য শব্দ গঠিত হয়। ফলে ‘দৈন্য’ শব্দের সঙ্গে আবারো বিশেষ্যবাচক ‘তা’ প্রত্যয় যুক্ত হলে তা ভুল বলে গণ্য হয়েছে।

এরূপ কিছু অশুদ্ধ শব্দের শুদ্ধরূপ হলো:
• অধৈর্যতা - অধৈর্য, ধীরতা।
• আলস্যতা - আলস্য, অলসতা।
• ঐক্যতা - ঐক্য, একতা।
• দৈন্যতা - দৈন্য, দীনতা।
• মৈত্রতা- মৈত্র/মিত্রতা।
• বৈশিষ্টতা- বৈশিষ্ট্য/বিশিষ্টিতা। 
• কার্পণ্যতা - কার্পন্য, কৃপণতা।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২,২৯৭.
‘গুরুচণ্ডালী দোষ' কীসের সাথে সম্পর্কিত?
  1. রূপতত্ত্বের সঙ্গে
  2. বানানের সঙ্গে
  3. ভাষারীতির সঙ্গে 
  4. কোনটিই নয় 
সঠিক উত্তর:
ভাষারীতির সঙ্গে 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভাষারীতির সঙ্গে 
ব্যাখ্যা

গুরুচণ্ডালী দোষ:
গুরুচণ্ডালী দোষ হলো একই বাক্যে বা রচনায় বিভিন্ন ভাষারীতির মিশ্রণ ঘটলে যে দোষ হয়।

অর্থ্যাৎ,
'গুরুচণ্ডালী দোষ' সম্পর্কিত— ভাষারীতির সঙ্গে।

যেমন- গরুর গাড়ি, শবদাহ, মড়াপােড়া প্রভৃতি হলাে তৎসম শব্দ। গঠন ও অর্থের দিক থেকে এসব শব্দের কোনাে সমস্যা নেই। কিন্তু যদি বলা হয় যথাক্রমে গরুর শকট, শবপােড়া, মড়াদাহ; তাহলে দেশীয় শব্দের সঙ্গে তৎসম শব্দের মিলন ঘটে এবং তাতে শব্দ গুরুচণ্ডালী দোষে দুষ্ট হয়।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,২৯৮.
নিচের কোনটি অশুদ্ধ?
  1. নিবিষ্টচিত্ত
  2. নিবেদিত
  3. নিন্মমধ্যবিত্ত
  4. নিমন্ত্রয়িতা
সঠিক উত্তর:
নিন্মমধ্যবিত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিন্মমধ্যবিত্ত
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ: নিন্মমধ্যবিত্ত।
• শুদ্ধ বানান : নিম্নমধ্যবিত্ত।

• নিম্নমধ্যবিত্ত (বিশেষণ),
- সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃত- প্রত্যয় = [নিম্নমধ্য + √বিদ্ + ত],
অর্থ: মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তের মধ্যবর্তী অবস্থাসম্পন্ন।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
২,২৯৯.
কোনটি সন্ধি বিষয়ক অপপ্রয়োগ?
  1. তরুছায়া
  2. উপরোক্ত
  3. দুরবস্থা
  4. দুরদৃষ্ট
সঠিক উত্তর:
উপরোক্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরোক্ত
ব্যাখ্যা

 • সন্ধি বিষয়ক অপপ্রয়োগ - উপরোক্ত।
- 'উপরোক্ত' শব্দের শুদ্ধ প্রয়োগ - উপর্যুক্ত।

অন্যদিকে,
- তরুছায়া,
- দুরবস্থা,
- দুরদৃষ্ট।
উপরিউক্ত শব্দগুলোর প্রয়োগ শুদ্ধ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

২,৩০০.
কোনটি অশুদ্ধ বানান?
  1. ব্যকরণ
  2. বৈয়াকরণ 
  3. ব্যাকরণবিদ 
  4. ব্যাকরণসম্পর্কিত 
সঠিক উত্তর:
ব্যকরণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যকরণ
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান: ব্যাকরণ (বিশেষ্য),
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ: কোনো ভাষার শব্দের ব্যুৎপত্তিবিষয়ক শাস্ত্র।

অন্যদিকে,
• বৈয়াকরণ (বিশেষণ), 
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃতি প্রত্যয় = (ব্যাকরণ + অ); 
অর্থ:
- ব্যাকরণবিদ:
- ব্যাকরণসম্পর্কিত ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।