উত্তর
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান - 'শশিভূষণ'
- সংস্কৃত শব্দ।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
এর অর্থ:
- চন্দ্র যাঁর অলঙ্কার বা কিরীট।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন
PrepBank · পাতা ২৩ / ৬৯ · ২,২০১–২,৩০০ / ৬,৯৫৩
• শুদ্ধ বানান - 'শশিভূষণ'
- সংস্কৃত শব্দ।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
এর অর্থ:
- চন্দ্র যাঁর অলঙ্কার বা কিরীট।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
জটিল বাক্য বা মিশ্র বাক্য: যে বাক্যের মধ্যে একটি প্রধান বাক্য থাকে এবং একাধিক বাক্যকে প্রধান বাক্যের ওপর নির্ভরশীল দেখা যায়, তাকে জটিল বাক্য বা মিশ্র বাক্য বলে৷
যেমন-
খাঁটি সোনার চাইতে খাঁটি, আমার দেশের মাটি।
যে এ সভায় অনুপস্থিত, সে বড় দুর্ভাগা।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি
বিভক্তি:
- যে সব বর্ণ বা বর্ণসমষ্টি বা চিহ্ন দ্বারা বাক্যের এক পদের সঙ্গে অন্য পদের সম্বন্ধ নির্ধারিত হয়, তাকে বলা বিভক্তি।
বাংলা শব্দ বিভক্তি ৭ প্রকার।
যথা:
- প্রথমা বা শূণ্য বিভক্তি: ০, অ।
- দ্বিতীয়া বিভক্তি : কে, রে।
- তৃতীয়া বিভক্তি : দ্বারা, দিয়া (দিয়ে), কর্তৃক।
- চতুর্থী বিভক্তি : কে, রে।
- পঞ্চমী বিভক্তি: হইতে (হতে), থেকে, চেয়ে।
- ষষ্ঠী বিভক্তি: র, এর।
- সপ্তমী বিভক্তি: এ, য়, তে।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
• মূর্ধন্য-ণ এর অপপ্রয়োগ ঘটেছে- দুর্ণিবার শব্দে।
শুদ্ধরূপ- দুর্নিবার।
-----------------
• ণ-ত্ব বিধান:
বাংলা ভাষায় বহু তৎসম বা সংস্কৃত শব্দে মূর্ধন্য-ণ এবং দন্ত্য-ন এর ব্যবহার
রয়েছে। এগুলো বাংলা বানানেও অবিকৃতভাবে রক্ষিত হয়। তৎসম শব্দের বানানে ণ-এর সঠিক ব্যবহারের নিয়মই ণ-ত্ব বিধান।
• 'ণ' ব্যবহারের নিয়ম:
- ট-বর্গীয় ধ্বনির আগে তৎসম শব্দে সব সময় 'ণ' ব্যবহৃত হয়। যেমন: ঘণ্টা, কাণ্ড ইত্যাদি।
- ঋ, র, ষ এর পরে 'ণ' হয়। যেমন: ঋণ, তৃণ, বর্ণ, বর্ণনা, কারণ, মরণ, ব্যাকরণ, ভীষণ, ভাষণ, উষ্ণ ইত্যাদি।
- ঋ, র, ষ- এর পরে স্বরধ্বনি (ষ, য়, ব, হ, ং এবং ক-বর্গীয় ও প-বর্গীয়) ধ্বনি থাকলে তার পরবর্তী 'ন' মূর্ধন্য 'ণ' হয়। যেমন: কৃপণ, হরিণ, অর্পণ, লক্ষণ, রুক্মিণী, ব্রাহ্মণ ইত্যাদি।
- কতকগুলো শব্দে স্বভাবতই 'ণ' হয়। যেমন: চাণক্য, মাণিক্য, গণ, বাণিজ্য, লবণ, মণ, বেণু, বীণা, কঙ্কণ, কণিকা, স্থাণু, ফণী, পিণাক ইত্যাদি।
যেসকল ক্ষেত্রে ণ-ত্ব বিধান প্রযোজ্য নয়:
১. সমাসবদ্ধ শব্দে সাধারণত ণ-ত্ব বিধান খাটে না। এরূপ ক্ষেত্রে 'ন' হয়। যেমন- ত্রিনয়ন, সর্বনাম, দুর্নীতি, দুর্নাম, দুর্নিবার, পরনিন্দা, অগ্রনায়ক ইত্যাদি।
২. ত-বর্গীয় বর্ণের সঙ্গে যুক্ত ন কখনো (ণ) হয় না। যেমন- অন্ত, গ্রন্থ ইত্যাদি।
৩. বাংলা (দেশি), তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে 'ণ' লেখার প্রয়োজন হয় না।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
• অশুদ্ধ বানান - পুঙ্খানুপূঙ্খ।
- শুদ্ধ বানান - পুঙ্খানুপুঙ্খ
- এটি একটি বিশেষণ পদ।
- শব্দটি সংস্কৃত ভাষা হতে আগত।
শব্দের অর্থ:
- তন্নতন্ন, সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম।
অন্যদিকে,
- স্টেশন,
- ধ্যানধারণা,
- রীতিনীতি।
শব্দগুলোর বানান শুদ্ধ।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
⇒ ৬৮-জেল রোড; ঢাকা-১২০০।- বাক্যে যতিচিহ্নের অশুদ্ধ প্রয়োগ ঘটেছে।
⇒ যতিচিহ্নের শুদ্ধ প্রয়গে সঠিক বাক্য: ৬৮, জেল রোড, ঢাকা-১২০০।
⇒ ‘কমা’ যতিচিহ্ন:
বাংলায় কোনো কিছু লিখতে গিয়ে যত ধরনের যতিচিহ্ন আমরা ব্যবহার করি তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করি কমা (,)। বাক্যের ভেতরের বিরাম-চিহ্ন হলো কমা। বাক্যে ব্যবহৃত কমার ক্ষেত্রে ‘এক’ উচ্চারণ করার সমান সময় থামতে হয়।
অল্প বিরাম বোঝাতে কিছু স্থানে কমা ব্যবহৃত হয়। যথা:
• উদ্ধরণ চিহ্নের পূর্বে (খণ্ডবাক্যের শেষে) কমা বসাতে হবে।
যেমন- সাহেব বললেন, ''ছুটি পাবেন না।''
• নামের পরে ডিগ্রিসূচক পরিচয় দেওয়া হলে সেগুলোর প্রত্যেকটির আগে কমা বসে।
যেমন- ড. মুহম্মদ এনামুল হক, এম.এ. পি-এইচডি।
• বাড়ি বা রাস্তার নম্বরের পরে কমা বসবে।
যেমন- ৬৮, জেল রোড, ঢাকা-১২০০।
• পরস্পর সমন্ধযুক্ত একাধিক বিশেষ্য বা বিশেষণ পদ একসঙ্গে বসলে শেষ পদটি ছাড়া বাকি সবগুলোর পরই কমা বসবে।
যেমন- সুখ, দুঃখ, আশা, নৈরাশ্য একই মালিকার পুষ্প।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
দাঁড়ি বা পূর্ণছেদ:
- বাংলা ভাষায় দাঁড়ি একটি বহুল ব্যবহৃত যতিচিহ্ন। বাক্যের মধ্যে বক্তব্য সমাপ্ত হলে অথবা অর্থ সম্পূর্ণ হলে দাড়ি বা পূর্ণচ্ছেদ বসে।
এর প্রয়োগ ক্ষেত্র হচ্ছে:
- অনুজ্ঞাসূচক বাক্যের শেষে দাঁড়ি বসে। যেমন- কাল একবার এসো।
- নির্দেশাত্মক বাক্যের শেষে দাঁড়ি বসে। যেমন- সব সময় সত্য কথা বলবে।
- পরোক্ষ প্রশ্নের শেষে প্রশ্নবোধক চিহ্নের বদলে দাড়ি ব্যবহার হয়। যেমন- সীমা জানতে চাইল রীমা কবে আসবে।
উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
• 'অন্ধজনে দেহ আলো।' এখানে 'অন্ধজনে' সম্প্রদান কারক।
• সম্প্রদান কারক:
- যাকে স্বত্ব ত্যাগ করে দান, অর্চনা, সাহায্য ইত্যাদি করা হয়, তাকে (সংস্কৃত ব্যাকরণ অনুযায়ী) সম্প্রদান কারক বলে। বস্তু নয়- ব্যক্তিই সম্প্রদান কারক।
(অনেক বৈয়াকরণ বাংলা ব্যাকরণে সম্প্রদান কারক স্বীকার করেন না; কারণ, কর্মকারক দ্বারাই সম্প্রদান কারকের কাজ সুন্দরভাবে সম্পাদন করা যায়।)
- সম্প্রদান কারকে বিভিন্ন বিভক্তির ব্যবহার
(ক) চতুর্থী বা কে বিভক্তি: ভিখারিকে ভিক্ষা দাও। (স্বত্বত্যাগ করে না দিলে কর্মকারক হবে। যেমন ধোপাকে কাপড় দাও।)
(খ) সপ্তমী বা এ বিভক্তি: সৎপাত্রে কন্যা দান কর। সমিতিতে চাঁদা দাও। 'অন্ধজনে দেহ আলো'।
জ্ঞাতব্য: নিমিত্তার্থে 'কে' বিভক্তি যুক্ত হলে সেখানে চতুর্থী বিভক্তি হয়। যেমন- 'বেলা যে পড়ে এল, জলকে চল।'
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
• ভাবাধিকরণ:
- যদি কোনো ক্রিয়াবাচক বিশেষ্য অন্য ক্রিয়ার কোনোরূপ ভাবের অভিব্যক্তি প্রকাশ করে, তবে তাকে ভাবাধিকরণ বলে।
- ভাবাধিকরণে সর্বদাই সপ্তমী বিভক্তির প্রয়োগ হয় বলে একে ভাবে সপ্তমী বলা হয়।
যেমন:
- সূর্যোদয়ে অন্ধকার দূরীভূত হয়।
- কান্নায় শোক মন্দীভূত হয়।
• অধিকরণ কারক:
- ক্রিয়া সম্পাদনের কাল (সময়) এবং আধারকে অধিকরণ কারক বলে।
- অধিকরণ কারকে সপ্তমী অর্থাৎ 'এ' 'য়' 'তে' ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়।
যথা-
- আধার (স্থান) : আমরা রোজ স্কুলে যাই। এ বাড়িতে কেউ নেই।
- কাল (সময়) : প্রভাতে সূর্য ওঠে।
• অধিকরণ তিন প্রকার :
১. কালাধিকরণ।
২. আধারাধিকরণ।
৩. ভাবাধিকরণ।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম- দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
বাক্যের সম্পূর্ণ মনোভাব প্রকাশের জন্যে বাক্যস্থিত পদগুলোকে সঠিকভাবে সাজিয়ে লেখা বা বলার নামই আসত্তি।
বাক্যকে সম্পূর্ণ করার জন্য প্রয়োজন আকাঙ্ক্ষার নিবৃত্তি।
আর সুসংহত করার জন্য প্রয়োজন যোগ্যতা ও আসত্তি৷ সুতরাং একটি সার্থক বাক্যের ভিত্তি আকাঙ্ক্ষা, যোগ্যতা ও আসত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত৷
এই তিনটি বিষয়ের কোন একটির অভাব ঘটলে বাক্য নিরর্থক হয়ে পড়ে৷
যেমন- ‘শেরেবাংলা মহান ছিলেন নেতা’।——এতে একটি সম্পূর্ণ বাক্যের সবগুলো পদই আছে, কিন্তু আসত্তির অভাবে বাক্য হয়নি৷ পদগুলোর অর্থসংগতি রক্ষা করে ঠিকমত সাজালেই বাক্য হবে৷
অর্থাৎ সঠিক বাক্য- ‘শেরেবাংলা মহান নেতা ছিলেন’।
উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
• প্রদত্ত অপশনগুলোতে 'নিরপরাধ' শব্দটি সঠিক।
• ফনীভূষণ শব্দের সঠিক রূপ হবে ফণিভূষণ।
• নিরহঙ্কারী শব্দের সঠিক রূপ হবে নিরহঙ্কার।
• অনাটন শব্দের সঠিক রূপ হবে অনটন।
উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।
• সম্বন্ধ কারক:
যে কারকে বিশেষ্য ও সর্বনামের সঙ্গে বিশেষ্য ও সর্বনামের সম্পর্ক নির্দেশিত হয়, তাকে সম্বন্ধ কারক বলে। এই কারকে ক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক পরোক্ষ।
- এই কারকে শব্দের সঙ্গে '-র', '-এর', '-য়ের', '-কার', '-কের' ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়।
যেমন:
- তার হাতের লেখা চমৎকার।
- ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না।
- আমার জামার বোতামগুলো একটু অন্য রকম।
- রাজার হস্ত করে সমস্ত কাঙালের ধন চুরি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।
সম্বন্ধ পদের বিভক্তি :
ক. সম্বন্ধ পদে ষষ্ঠী বিভক্তি অর্থাৎ ‘র’ বা ‘এর’ বিভক্তি যুক্ত থাকে। আমি + ও = আমার (ভাই), খালিদ + এর = খালিদের (বই)।
খ. সময়বাচক অর্থে সম্বন্ধ পদে কার > কের বিভক্তি যুক্ত হয়। যথা: পূর্বে + কার = পূর্বেকার (ঘটনা), আজি + কার = আজিকার > আজকের (কাগজ)।
কিন্তু ‘কাল’ শব্দের উত্তর শুধু ‘এর’ বিভক্তিই যুক্ত হয়। যেমন: কাল + এর = কালের।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণি।
বাক্যের অন্তর্গত পদ সমূহের বিশ্বাসযোগ্য ভাবসম্মিলনের নামই যোগ্যতা।
এই বাক্যে কোন বিশ্বাস যোগ্যতা নেই কারন গরু আকাশে উড়ে না।
উৎস - মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ।
• তুমি না বলেছিলে আগামীকাল আসবে?- এখানে 'না'- প্রশ্নাত্মক/প্রশ্নবোধন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
• নির্দেশাত্মক বাক্য থেকে প্রশ্নাত্মক বাক্যে রূপান্তর:
নির্দেশাত্মক বাক্য থেকে প্রশ্নাত্মক বাক্যে রূপান্তর করতে হলে বাক্যের মৌলিক অর্থ বা মূল অর্থ অপরিবর্তিত রেখে প্রশ্নাত্মক বাক্যটি এমনভাবে তৈরি করতে হবে যার সবচেয়ে কাছাকাছি সম্ভাব্য উত্তর হবে নির্দেশাত্মক বাক্যটি।
• সূত্র: নির্দেশাত্মক বাক্য হ্যাঁ-বাচক হলে প্রশ্নাত্মক হবে না-বাচক, নির্দেশাত্মক বাক্য না-বাচক হলে প্রশ্নাত্মক হবে হ্যাঁ-বাচক। প্রথমটির ক্ষেত্রে বিধেয় ক্রিয়ার সঙ্গে নঞর্থক শব্দ যোগ করতে হয়, দ্বিতীয়টির ক্ষেত্রে নঞর্থক শব্দ বর্জন করে 'আর' প্রভৃতি বাক্যালঙ্কার শব্দের আগমন ঘটাতে হয়।
যেমন:
• নির্দেশাত্মক: দেশপ্রেমিককে সবাই ভালোবাসে।
• প্রশ্নাত্মক: দেশপ্রেমিককে কে না ভালোবাসে?
তেমনই,
• নির্দেশাত্মক: তুমি বলেছিলে আগামীকাল আসবে।
• প্রশ্নাত্মক: তুমি না বলেছিলে আগামীকাল আসবে?
• সূত্র: রূপান্তরিত বাক্যে প্রয়োজনমতো 'কে', 'কি', 'কোথায়' ইত্যাদি প্রশ্নাত্মক শব্দ এবং প্রশ্ন (?) চিহ্ন বসাতে
হয়।
যেমন:
• নির্দেশাত্মক: কেউ মৃত্যুকে ফাঁকি দিতে পারে না।
• প্রশ্নাত্মক: কেউ কি মৃত্যুকে ফাঁকি দিতে পারে?
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
উত্তর: গ) তার জীবনে দুঃখের প্রাচুর্যতা নেই।
-------------------
ব্যাখ্যা:
• 'প্রাচুর্যতা' শব্দটি অপপ্রয়োগ।
- এটি ’তা’ প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগ জনিত ভুল।
- এর শুদ্ধ প্রয়োগ - প্রাচুর্য, প্রচুর।
'প্রাচুর্য' মানে আধিক্য বা প্রাবল্য। "দুঃখের প্রাচুর্যতা নেই"।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
• অপাদান কারক:
যে কারকে ক্রিয়ার উৎস নির্দেশ করা হয়, তাকে অপাদান কারক বলে। এই কারকে সাধারণত 'হতে', 'থেকে, ইত্যাদি অনুসর্গ শব্দের পরে বসে।
যেমন-
- জমি থেকে ফসল পাই।
- কাপটা উঁচু টেবিল থেকে পড়ে ভেঙ্গে গেল।
- গাছ থেকে পাতা পড়ে।
- দুধ থেকে দই হয়।
অন্যদিকে,
---------------------
• অধিকরণ কারক:
যে কারকে স্থান, কাল, বিষয় ও ভাব নির্দেশিত হয়, তাকে অধিকরণ কারক বলে। এই কারকে সাধারণত এ, য়, য়ে, তে, ইত্যাদি বিভক্তি শব্দের সাথে যুক্ত হয়।
যেমন:
- বাবা বাড়িতে আছেন।
- বিকাল পাঁচটায় অফিস ছুটি হবে।
- রাজীব বাংলা ব্যাকরণে ভালো।
• করণ কারক:
যারা দ্বারা বা যে উপায়ে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে করণ কারক বলে। এই কারকে সাধারণত 'দ্বারা', 'দিয়ে', 'কর্তৃক' ইত্যাদি অনুসর্গ যুক্ত হয়।
যেমন:
- ভেড়া দিয়ে চাষ করা সম্ভব নয়।
- চাষিরা ধারালো কাস্তে দিয়ে ধান কাটছে।
• কর্তৃকারক:
বাক্যস্থিত যে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদ ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তা ক্রিয়ার কর্তা বা কর্তৃকারক। ক্রিয়ার সঙ্গে 'কে' বা 'কারা' যোগ করে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, তা-ই কর্তৃকারক।
যেমন:
- খোকা বই পড়ে। (কে পড়ে? খোকা কর্তৃকারক) মেয়েরা ফুল তোলে। (কারা তোলে? মেয়েরা কর্তৃকারক)
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
• শুদ্ধ বানান - পুঙ্খানুপুঙ্খ।
- শব্দটি বিশেষণ।
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
- অর্থ: তন্নতন্ন, সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
কর্মকর্তৃবাচ্য:
- যে বাক্যে কর্মপদই কর্তৃস্থানীয় হয়ে বাক্য গঠন করে, তাকে কর্মকর্তৃবাচ্যের বাক্য বলা হয়।
যেমন:
- কাজটা ভালো দেখায় না।
- বাঁশি বাজে এ মধুর লগনে।
- সুতি কাপড় অনেক দিন টেকে।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
সম্প্রদান কারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগ:
ক. চতুর্থী বা কে বিভক্তি : ভিখারিকে ভিক্ষা দাও। (স্বত্ব ত্যাগ করে না দিলে কর্ম কারক হবে। যেমন: ধোপাকে কাপড় দাও।)
খ. সপ্তমী বা এ বিভক্তি : সৎ পাত্রে কন্যা দান কর। মৃতজনে দেহ প্রাণ।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণি।
শ্রদ্ধাস্পদেষু (বিশেষণ) - শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিকে লিখিত পত্রের আরম্ভে পাঠ।
নিক্বণ (বিশেষ্য) - নিনাদ; ঝঙ্কার; ধ্বনি; মিষ্টি আওয়াজ।
উৎসঃ বাংলা একাডেমী অভিধান
যৌগিক বাক্য:
- দুই বা ততোধিক স্বাধীন বাক্য যখন যোজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে একটি বাক্যে পরিণত হয়, তখন তাকে যৌগিক বাক্য বলে।
- এবং, ও, আর, অথবা, বা, কিংবা, কিন্তু,অথচ, সেজন্য, ফলে ইত্যাদি যোজক যৌগিক বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
- কমা(, ), সেমিকোলন( ;), কোলন( ; ), ড্যাশ( -) ইত্যাদি যতিচিহ্নও যোজকের কাজ করে।
যেমন:
- আঁখি রাতে রুটি খায় আর মোহন খায় ভাত।
- মেঘ গর্জন করে, তবে ময়ূর নৃত্য করে।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
বৈয়াকরণ [বোইয়াকরোন্] (বিশেষণ) {(তৎসম বা সংস্কৃত) ব্যাকরণ+অ(অণ্)}
১ ব্যাকরণে পণ্ডিত; ব্যাকরণ-বিশারদ; ব্যাকরণবিদ।
২ ব্যাকরণ সম্পর্কীয়।
ব্যাকরণ (বিশেষ্য)।
উৎস: বাংলা একাডেমি অভিধান।
সমার্থ শব্দের বাহুল্যজনিত অশুদ্ধি:
অশুদ্ধ - শুদ্ধ:
অদ্যাপিও - অদ্যাপি/অদ্যও।
কদাপিও - কদাপি।
সময়কাল - সময়/কাল।
বিবিধপ্রকার - বিবিধ।
সুবুদ্ধিমান - সুবুদ্ধি/বুদ্ধিমান।
আয়ত্তাধীন - আয়ত/অধীন।
শুধুমাত্র - শুধু/মাত্র।
কেবলমাত্র - কেবল/মাত্র।
সমূলসহ - সমূল/মূলসহ।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
- 'জাপান একটি সমৃদ্ধশালী দেশ।' বাক্যটি শুদ্ধরূপ জাপান একটি সমৃদ্ধ দেশ।
- 'সুশিক্ষিত লোক মাত্রই সশিক্ষিত।' বাক্যটি শুদ্ধরূপ সুশিক্ষিত লোক মাত্রই স্বশিক্ষিত।
- 'কাব্যটির উৎকর্ষতা প্রশংসনীয়।' বাক্যটি শুদ্ধরূপ কাব্যটির উৎকর্ষ/উৎকৃষ্টতা প্রশংসনীয়।
গুরুচণ্ডালী দোষ:
গুরুচণ্ডালী দোষ হলো একই বাক্যে বা রচনায় বিভিন্ন ভাষারীতির মিশ্রণ ঘটলে যে দোষ হয়।
অর্থ্যাৎ,
'গুরুচণ্ডালী দোষ' সম্পর্কিত— ভাষারীতির সঙ্গে।
যেমন- গরুর গাড়ি, শবদাহ, মড়াপােড়া প্রভৃতি হলাে তৎসম শব্দ। গঠন ও অর্থের দিক থেকে এসব শব্দের কোনাে সমস্যা নেই। কিন্তু যদি বলা হয় যথাক্রমে গরুর শকট, শবপােড়া, মড়াদাহ; তাহলে দেশীয় শব্দের সঙ্গে তৎসম শব্দের মিলন ঘটে এবং তাতে শব্দ গুরুচণ্ডালী দোষে দুষ্ট হয়।
উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
• সন্ধি বিষয়ক অপপ্রয়োগ - উপরোক্ত।
- 'উপরোক্ত' শব্দের শুদ্ধ প্রয়োগ - উপর্যুক্ত।
অন্যদিকে,
- তরুছায়া,
- দুরবস্থা,
- দুরদৃষ্ট।
উপরিউক্ত শব্দগুলোর প্রয়োগ শুদ্ধ।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।