বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাক্য প্রকরণ

মোট প্রশ্ন৬,৯৫৩এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাক্য প্রকরণ

PrepBank · পাতা ১০ / ৬৯ · ৯০১১,০০০ / ৬,৯৫৩

৯০১.
"হয় রওনা হও, নতুবা গাড়িতে ওঠ।"- এটি কোন ধরণের বাক্য?
  1. সরল বাক্য
  2. জটিল বাক্য
  3. যৌগিক বাক্য
  4. মিশ্র বাক্য
সঠিক উত্তর:
যৌগিক বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যৌগিক বাক্য
ব্যাখ্যা
• “হয় রওনা হও, নতুবা গাড়িতে ওঠ।”- এটি যৌগিক বাক্য।

যৌগিক বাক্য:
- দুই বা ততোধিক স্বাধীন বাক্য যখন যোজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে একটি বাক্যে পরিণত হয়, তখন তাকে যৌগিক বাক্য বলে।
- এবং,  ও, আর, অথবা, বা, কিংবা, কিন্তু,অথচ, সেজন্য, ফলে ইত্যাদি যোজক যৌগিক বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
- কমা(, ), সেমিকোলন(ঃ), কোলন( ; ), ড্যাশ( -) ইত্যাদি যতিচিহ্নও যোজকের কাজ করে।
যেমন- 
রহমত রাতে রুটি খায় আর রহিমা খায় ভাত।
সে ঘর ঝাড়ু দিল, ঘর মুছল, তারপর পড়তে বসলো।

জটিল বাক্য:
- যে-সে, যারা-তারা, যিনি-তিনি, যাঁরা-তাঁরা, যা-তা প্রভৃতি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যদিও-তবু, যেহেতু-সেহেতু, যত-তত, যেটুকু-সেটুকু, যেমন-তেমন, যখন-- - তখন প্রভৃতি সাপেক্ষ যোজক দিয়ে যখন অধীন বাক্যগুলো যুক্ত থাকে, তাকে জটিল বাক্য বলে।
যেমন –
যে ছেলেটি এখানে এসেছিল. সে আমার ভাই ।

সরল বাক্য:
- যে বাক্যে একটি সমাপিকা ক্রিয়া থাকে, তাকে সরল বাক্য বলে।
যেমন - পাখিগুলো নীল আকাশে উড়ছে।
- বাক্যের মধ্যে এক বা একাধিক অসমাপিকা ক্রিয়া থাকলেও সরল বাক্য হয়। যেমন – তিনি খুব সকালে ঘুম থেকে উঠে পায়চারি করতে করতে বাজারের দিকে গেলেন ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নির্মিত, নবম-দশম শ্রেণি, (সংস্করণ ২০২২)।
৯০২.
কোন শব্দগুচ্ছের বানান অশুদ্ধ?
  1. ক) দারিদ্র্য, নিক্কন
  2. খ) জ্যৈষ্ঠ, পৃষ্ঠ
  3. গ) আভরণ, আহরণ
  4. ঘ) দূর্গ, দূর্বল
সঠিক উত্তর:
ঘ) দূর্গ, দূর্বল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) দূর্গ, দূর্বল
ব্যাখ্যা
দূর্গ, দূর্বল বানান দুটির শুদ্ধ রূপ- দুর্গ, দুর্বল।
উৎসঃ‌ শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা এবং বাংলা একাডেমির ডিকশনারি।
৯০৩.
প্রশ্ন (২৩ - ২৫) শুদ্ধ বানান নির্ণয় করুন :
  1. ক) অন্বেষণ
  2. খ) অন্বেষন
  3. গ) অণ্বেষন
  4. ঘ) অণ্বেষণ
সঠিক উত্তর:
ক) অন্বেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) অন্বেষণ
ব্যাখ্যা
'অন্বেষণ'- বানানটি শুদ্ধ। 

বাংলা একাডেমি আধুনিক বানান অভিধান অনুসারে, 
অন্বেষণ (বিশেষ্য) এর অর্থ- 
- তালাশ;
- অনুসন্ধান;
- খোঁজ।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বানান অভিধান। 
৯০৪.
বাক্যে ড্যাস থাকলে কতক্ষণ থামতে হয়?
  1. ১ বলতে যে সময় লাগে
  2. এক সেকেন্ড
  3. ১ বলার দ্বিগুণ সময়
  4. থামার প্রয়োজন নেই
সঠিক উত্তর:
এক সেকেন্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এক সেকেন্ড
ব্যাখ্যা
• ড্যাস থাকলে - এক সেকেন্ড থামতে হয়।

♦ বাক্যে যতিচিহ্ন অনুসারে থামার পরিমাণ -

• কমা বা পাদচ্ছেদ থাকলে -
- 'এক' বলতে যে সময় লাগে সেই পরিমাণ সময় থামতে হয়।

• সেমিকোলন বা অর্ধচ্ছেদ থাকলে -
- 'এক' বলার দ্বিগুণ সময় থামতে হয়।

• হাইফেন, ইলেক বা লোপ চিহ্ন ও ব্র্যাকেট থাকলে -
- থামার প্রয়োজন হয় না।

• দাঁড়ি বা পূর্ণচ্ছেদ, প্রশ্নবোধক চিহ্ন, বিস্ময় চিহ্ন, কোলন, কোলন ড্যাস, ড্যাস ইত্যাদি চিহ্ন থাকলে -
- 'এক' সেকেন্ড থামতে হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৯০৫.
নিম্নের কোনটি সঠিক?
  1. ক) সহযোগী
  2. খ) মন্ত্রীত্ব
  3. গ) প্রতিযোগীতা
  4. ঘ) কৃতীত্ব
সঠিক উত্তর:
ক) সহযোগী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সহযোগী
ব্যাখ্যা
সংস্কৃত 'ইন্‌' প্রত্যয়ান্ত শব্দের ক্ষেত্রে ঈ কারান্ত রূপ সমাসবদ্ধ হলে সংস্কৃত ব্যাকরণের নিয়ম অনুযায়ী হ্রস্ব ই-কার হবে। 
আবার 'ইন্‌' প্রত্যয়ান্ত শব্দের শেষে ত্ব ও তা যুক্ত হলে ই-কার হবে। 
সঠিক বানান সমূহ- 
মন্ত্রিত্ব, প্রতিযোগিতা, কৃতিত্ব । 

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯০৬.
নিচের কোন বাক্যটি শুদ্ধ?
  1. দূরবীণ দিয়ে দূরের জিনিস দেখা যায়।
  2. দুরবীন দিয়ে দুরের জিনিস দেখা যায়।
  3. দূরবীন দিয়ে দূরের জিনিস দেখা যায়।
  4. দুরবিন দিয়ে দূরের জিনিস দেখা যায়।
সঠিক উত্তর:
দুরবিন দিয়ে দূরের জিনিস দেখা যায়।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুরবিন দিয়ে দূরের জিনিস দেখা যায়।
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,

• 'দুরবিন দিয়ে দূরের জিনিস দেখা যায়।' বাক্যটি শুদ্ধ।

• দুরবিন শব্দের অর্থ:
দূরের জিনিস স্পষ্ট করে দেখার জন্য ব্যবহৃত লম্বা নলে পরকলা (lens) বা অবতল আয়না (concave mirror) লাগানো সরঞ্জামবিশেষ, দূরবীক্ষণযন্ত্র, telescope।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৯০৭.
কালির দাগ দাও’- বাক্যে নিম্নরেখ শব্দটি কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্মে ২য়া
  2. করণে ৬ষ্ঠী
  3. অপাদানে ৬ষ্ঠী
  4. অধিকরণে ৬ষ্ঠী
সঠিক উত্তর:
করণে ৬ষ্ঠী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
করণে ৬ষ্ঠী
ব্যাখ্যা
• করণ কারক: করণ শব্দটির অর্থ - যন্ত্র, সহায়ক, উপায়। ক্রিয়া সম্পাদনের যন্ত্র, উপকরণ বা সহায়ককেই বলে করণ কারক।
কীসের দ্বারা বা কী উপায়ে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায় তাই করণ কারক।
যেমন:
- কালির দাগ দাও ।

এই বাক্যে কিসের দ্বারা বা কী উপায়ে দাগ দেওয়া যাবে প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় ‘কালির’। এবং কালির দ্বারা দাগ দেয়ার কর্ম সম্পাদন হচ্ছে। সুতরাং ‘কালি’ করণ কারক এবং এর সাথে ষষ্ঠী বিভক্তি ‘র’ যুক্ত হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
৯০৮.
কোন বাক্যে কর্তার অসংগত প্রয়োগ ঘটেছে?
  1. ক) কেউই জানে না, সে কোথায় গেছে
  2. খ) বেশ, তাই হবে
  3. গ) তার কাঁধে বিরাট বোঝা, হাতে লাঠি
  4. ঘ) তুমি ও যাবে, আমি ও যাব
সঠিক উত্তর:
ঘ) তুমি ও যাবে, আমি ও যাব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) তুমি ও যাবে, আমি ও যাব
ব্যাখ্যা
প্রসিদ্ধভাবে বাংলা বাক্যের স্বাভাবিক অন্বয় হচ্ছে SOV ক্রম, অর্থাৎ কর্তা বাক্যের আগে বসে, কর্ম তার পরে, ক্রিয়া সব শেষে।
সে অনুসারে, "তুমি ও যাবে, আমি ও যাব" বাক্যটি হবে "তুমি ও আমি যাবো"।

সূত্র: বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, প্রথম খণ্ড।
৯০৯.
বিদ্যান মুর্খ অপেক্ষা শ্রেয়৷ -এই বাক্যটিতে যে ধরনের অপপ্রয়োগ ঘটেছে-
  1. ক) বানান ভুল জনিত
  2. খ) বাচ্যজনিত
  3. গ) বাহুল্যজনিত
  4. ঘ) প্রবাদ-প্রবচন বিকৃতিজনিত
সঠিক উত্তর:
ক) বানান ভুল জনিত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) বানান ভুল জনিত
ব্যাখ্যা

বিদ্যান মুর্খ অপেক্ষা শ্রেয়৷ —এই বাক্যটিতে বানান ভুল জনিত অপপ্রয়োগ ঘটেছে৷
এর শুদ্ধরূপ হলো: বিদ্বান মূর্খ অপেক্ষা শ্রেয়৷

উৎসঃ বাংলা একাডেমী অভিধান।

৯১০.
নিচের কোনটিতে সম্বন্ধ কারকের প্রয়োগ ঘটেছে?
  1. ক) কপালের লিখন যায় না খণ্ডন।
  2. খ) তিথির চেয়ে বিথী বড়।
  3. গ) তােমার দেখা পেলাম না।
  4. ঘ) আমার জামার বােতামগুলাে একটু অন্য রকম।
সঠিক উত্তর:
ঘ) আমার জামার বােতামগুলাে একটু অন্য রকম।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) আমার জামার বােতামগুলাে একটু অন্য রকম।
ব্যাখ্যা
• কারক ছয় প্রকার:
- কর্তা কারক,
- কর্ম কাবক,
- করণ কারক,
- অপাদান কারক,
- অধিকরণ কারক ও
- সম্বন্ধ কারক।

• সম্বন্ধ কারক:
যে কারকে বিশেষ্য ও সর্বনামের সঙ্গে বিশেষ্য ও সর্বনামের সম্পর্ক নির্দেশিত হয়, তাকে সম্বন্ধ কারক বলে।
- এই কারকে ক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক পরোক্ষ।
- এই কারকে শব্দের সঙ্গে ‘র’, -এর’, -য়ের’, ‘কার’, ‘কের ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়।
যেমন:
- ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না।
- আমার জামার বােতামগুলাে একটু অন্য রকম।
- তখনকার দিনে পায়ে হেঁটে চলতে হতাে মাইলের পর মাইল।

অন্যদিকে, 
কপালের লিখন যায় না খণ্ডন = অধিকরণ কারকে ষষ্ঠী বিভক্তি ।
তিথির চেয়ে বিথী বড় = অপাদান কারকে ষষ্ঠী বিভক্তি।
তােমার দেখা পেলাম না = কর্ম কারকে ষষ্ঠী বিভক্তি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৯১১.
যেখানে বাঘের ভয় সেখানে সন্ধ্যে হয়। বাক্যে 'বাঘের' শব্দটি-
  1. অধিকরণে ৫মী
  2. অপাদানে ৬ষ্ঠী
  3. অপাদানে ৫মী
  4. অধিকরণে ৬ষ্ঠী
সঠিক উত্তর:
অপাদানে ৬ষ্ঠী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপাদানে ৬ষ্ঠী
ব্যাখ্যা
অপাদান কারক:
- যা থেকে কিছু বিচ্যুত, গৃহীত, জাত, বিরত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয় এবং যা দেখে কেউ ভীত হয় তাকে অপাদান কারক বলে।
- অপাদান কারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগ:

 প্রথমা বা শূন্য বা অ বিভক্তি:
বোঁটা-আলগা ফল গাছে থাকে না।

দ্বিতীয়া বা কে বিভক্তি:
বাবাকে বড্ড ভয় পাই।

ষষ্ঠী বা এর বিভিক্ত:
- যেখানে বাঘের ভয় সেখানে সন্ধে হয়৷

সপ্তমী বা এ বিভক্তি:
বিপদে মোরে করিবে ত্রাণ, এ নহে মোর প্রার্থনা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
৯১২.
নিম্নের কোনটি শুদ্ধ বাক্য?
  1. পরবর্তীতে আপনি আসবেন।
  2. তাহারা বাড়ি যাচ্ছে।
  3. শুধু গায়ের জোরে কাজ হয় না।
  4. সে সংকট অবস্থায় পড়েছে।
সঠিক উত্তর:
শুধু গায়ের জোরে কাজ হয় না।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শুধু গায়ের জোরে কাজ হয় না।
ব্যাখ্যা
অশুদ্ধ বাক্যের শুদ্ধ রূপ- 
- আপনি পরে আসবেন। 
- তারা বাড়ি যাচ্ছে। 
- সে সংকটজনক অবস্থায় পড়েছে।  

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯১৩.
কোন বানানটি অশুদ্ধ?
  1. ক) অনূপ
  2. খ) অনুদিত
  3. গ) অনূর্ধ্ব
  4. ঘ) অনুভূতি
সঠিক উত্তর:
খ) অনুদিত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) অনুদিত
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ বানান - অনুদিত।
• শুদ্ধ বানান - অনূদিত।
- সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃত-প্রত্যয় = [অনু+√বাদ্+ত]
অর্থ: অনুবাদ করা হয়েছে এমন, ভাষান্তরিত।

অন্যদিকে,
অনূপ, অনূর্ধ্ব এবং অনুভূতি শব্দের বানানগুলো শুদ্ধ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৯১৪.
যে পরিশ্রম করে, সে-ই সুখ লাভ করে—কী ধরনের বাক্য?
  1. ক) আকাঙ্ক্ষাবাচক
  2. খ) জটিল
  3. গ) ইচ্ছাসূচক
  4. ঘ) যৌগিক
সঠিক উত্তর:
খ) জটিল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) জটিল
ব্যাখ্যা

জটিল বাক্য বা মিশ্র বাক্য: যে বাক্যের মধ্যে একটি প্রধান বাক্য থাকে এবং একাধিক বাক্যকে প্রধান বাক্যের ওপর নির্ভরশীল দেখা যায়, তাকে জটিল বাক্য বা মিশ্র বাক্য বলে৷
যেমন-
যে পরিশ্রম করে, সে-ই সুখ লাভ করে৷
যিনি সৎ পথে চলেন, তিনি সুখী হন।
উৎসঃ বাংলা ব্যকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি৷

৯১৫.
মা বললেন, “আমার মাথা ব্যথা করছে।”- পরোক্ষ উক্তি কোনটি?
  1. মা বললেন যে, আমার মাথা ব্যথা করছে।
  2. মা বললেন যে, তার মাথা ব্যথা করছে।
  3. মা বললেন, তার মাথা ব্যথা করেছিল।
  4. মা বললেন যে, আমার মাথা ব্যথা করেছে।
সঠিক উত্তর:
মা বললেন যে, তার মাথা ব্যথা করছে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মা বললেন যে, তার মাথা ব্যথা করছে।
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর:
খ) মা বললেন যে, তার মাথা ব্যথা করছে।

প্রত্যক্ষ উক্তিকে পরোক্ষ উক্তিতে রূপান্তর নিয়ম:
• সর্বনাম পরিবর্তন: "আমার" → "তার" (মা-এর জন্য তৃতীয় পুরুষ হয়েছে)।
• ক্রিয়ার কাল: প্রত্যক্ষ উক্তির বর্তমান কাল অপরিবর্তিত রয়েছে। ("করছে" → "করছে")।
• উদ্ধৃতি চিহ্ন ও যোজক: উদ্ধৃতি চিহ্ন (“ ”) বাদ দিয়ে "যে" সংযোজন করা হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), উচ্চ মাধ্যমিক, বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, ভাষাশিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ।
৯১৬.
নিচের কোনটি শুদ্ধ বানান নয়?
  1. অদ্যপি
  2. ঐক্যমত্য
  3. অদ্যাপি
  4. ঐকমত্য
সঠিক উত্তর:
অদ্যপি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অদ্যপি
ব্যাখ্যা

- অদ্যাপি (অব্যয়) - এখনও; আজও; একাল পর্যন্ত (অদ্যাপি ব্যবহৃত)।
- ঐকমত্য, ঐক্যমত্য (বিশেষ্য) - একমত; মতের অভিন্নতা; মতের মিল বা ঐক্য।

উৎসঃ বাংলা একাডেমী অভিধান

৯১৭.
সঠিক উচ্চারণ নয় কোনটি?
  1. ক) ঋণ (রীন)
  2. খ) খেল (খেলো)
  3. গ) প্রতিভা (প্রোতিভা)
  4. ঘ) যাবতীয় (যাবতীয়ো)
সঠিক উত্তর:
খ) খেল (খেলো)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) খেল (খেলো)
ব্যাখ্যা
খেল, দেখ, ফেল ইত্যাদি শব্দে 'এ' কার ব্যবহৃত হলেও উচ্চারণে 'অ্যা' এর মতো হয় এবং বিবৃত উচ্চারণের জন্যে 'অ' ধ্বনির উচ্চারণ 'ও' এর মতো হয়। যার কারণে খেল, দেখ এবং ফেল এর উচ্চারণ হয় যথাক্রমে খ্যালো, দ্যাখো এবং ফ্যালো। (সূত্রঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ : নবম-দশম শ্রেণী)
৯১৮.
'Like priest, like pupil’ এর যথার্থ অনুবাদ কোনটি?
  1. যেমন কর্ম তেমন ফল।
  2. যত গর্জে তত বর্ষে না।
  3. যেমন গুরু তেমন চেলা।
  4. তিলকে তাল বানানো।
সঠিক উত্তর:
যেমন গুরু তেমন চেলা।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যেমন গুরু তেমন চেলা।
ব্যাখ্যা

'Like priest, like pupil’ এর যথার্থ অনুবাদ :যেমন গুরু তেমন চেলা।

অন্যদিকে,
- Empty vessels sound much. এর বাংলা অনুবাদ: যত গর্জে তত বর্ষে না।
- As you sow so you reap. এর বাংলা অনুবাদ: যেমন কাজ তেমন ফল।
- To make a mountain of a molehill. এর বাংলা অনুবাদ: তিলকে তাল বানানো।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৯১৯.
'উদয়াস্ত পরিশ্রম করব, তথাপি অন্যের দ্বারস্থ হব না।' - এটি কোন ধরনের বাক্য?
  1. যৌগিক
  2. মিশ্র
  3. জটিল
  4. সরল
সঠিক উত্তর:
যৌগিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যৌগিক
ব্যাখ্যা

যৌগিক বাক্য:
- পরস্পর নিরপেক্ষ দুই বা ততোধিক সরল বা মিশ্র বাক্য মিলিত হয়ে একটি সম্পূর্ণবাক্য গঠন করলে তাকে যৌগিক বাক্য বলে।
- যৌগিক বাক্যের অন্তর্গত নিরপেক্ষ বাক্যগুলো এবং, ও, কিন্তু, অথবা, অথচ, কিংবা, বরং, প্রভৃতি অব্যয় যোগে সংযুক্ত বা সমন্বিত থাকে।

যেমন:
- নেতা জনগণকে উৎসাহিত করলেন বটে, কিন্তু, কোনো পথ দেখাতে পারলেন না।
- বস্ত্ৰ মলিন কেন, কেহ জিজ্ঞাসা করিলে সে ধোপাকে গালি পাড়ে, অথচ ধৌত বস্ত্রে তাহার গৃহ পরিপূর্ণ।
- উদয়াস্ত পরিশ্রম করব, তথাপি অন্যের দ্বারস্থ হব না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৯২০.
প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম অনুসারে, কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. কর্ম্ম
  2. মূর্চ্ছা
  3. অর্জ্জন
  4. ঊর্ধ্ব
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ঊর্ধ্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঊর্ধ্ব
ব্যাখ্যা

• প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম: 
রেফের পর ব্যঞ্জনবর্ণের দ্বিত্ব হবে না। 
যেমন,
- অর্জ্জন, ঊর্দ্ধ, কর্ম্ম, মূর্চ্ছা ইত্যাদির পরিবর্তে যথাক্রমে- অর্জন, ঊর্ধ্ব, কর্ম, মূর্ছা ইত্যাদি। 
- 'বার্দ্ধক্য' এর শুদ্ধ বানান হবে- বার্ধক্য। 

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান; প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মতি- ড. হায়াৎ মামুদ এবং ড. মোহাম্মদ আমীন।

৯২১.
শুদ্ধ শব্দ কোনটি?
  1. ক) নীরোগী
  2. খ) স্বাতন্ত্র্য
  3. গ) শুধুমাত্র
  4. ঘ) উপরোক্ত
সঠিক উত্তর:
খ) স্বাতন্ত্র্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) স্বাতন্ত্র্য
ব্যাখ্যা
শুদ্ধ শব্দ = স্বাতন্ত্র্য
অন্যান্য শব্দের শুদ্ধ রূপ- 
• নীরোগ (বিশেষণ) 
- সংস্কৃত শব্দ 
- প্রকৃতি প্রত্যয় = নির্‌+রোগ 
অর্থ: সুস্থ

• শুধু/মাত্র 
শুধু (বিশেষ্য) 
- সংস্কৃত শব্দ শুদ্ধ থেকে আগত তদ্ভব শব্দ।
- প্রকৃতি প্রত্যয় 
অর্থ: শূণ্য, খালি

• উপর্যুক্ত (বিশেষণ) 
- সংস্কৃত শব্দ 
- প্রকৃতি প্রত্যয় = উপরি+উক্ত
অর্থ: পূর্বে কথিত বা উল্লখ করা হয়েছে এমন

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
৯২২.
কোন বাক্যে যিনি-তিনি, যা-তা, যে-সে ইত্যাদি সর্বনাম থাকে?
  1. যৌগিক বাক্য
  2. সরল বাক্য
  3. জটিল বাক্য
  4. খণ্ড বাক্য
সঠিক উত্তর:
জটিল বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জটিল বাক্য
ব্যাখ্যা
সরল বাক্য থেকে জটিল বাক্যে রূপান্তরের নিয়ম:
- যে-সে, যিনি-তিনি, যারা-তারা, যা-তা ইত্যাদি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যেহেতু-সেহেতু, যখন-তখন, যত-তত, যেমন-তেমন ইত্যাদি সাপেক্ষ যােজক যুক্ত করে সরল বাক্যকে জটিল বাক্যে রূপান্তরিত করা যায়।

যেমন:
সরল বাক্য: দুর্জন লােক পরিত্যাজ্য।
জটিল বাক্য: যেসব লােক দুর্জন, তারা পরিত্যাজ্য।

সরল বাক্য: তুমি চেষ্টা না করায় ব্যর্থ হয়েছ।
জটিল বাক্য: যেহেতু তুমি চেষ্টা করােনি, তাই ব্যর্থ হয়েছ।

তেমনিভাবে,
সরল বাক্য: 'তিনি এ বাড়িতে থাকতেন।'
জটিল বাক্য: এ সেই বাড়ি যেটিতে তিনি থাকতেন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, (২০২২ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৯২৩.
'ড. আখতার হামিদ খান হলেন বাংলাদেশের পল্লী উন্নয়নের পথিকৃৎ।' - এটি কোন ধরনের বাক্য?
  1. জটিল
  2. সরল
  3. যৌগিক
  4. মিশ্র
সঠিক উত্তর:
সরল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সরল
ব্যাখ্যা
সরল বাক্য:
- যে বাক্যে একটিমাত্র কর্তা (উদ্দেশ্য) এবং একটিমাত্র সমাপিকা ক্রিয়া (বিধেয়) থাকে, তাকে সরল বাক্য বলে।

যথা:
- পুকুরে পদ্মফুল জন্মে।
- পরিশ্রমী লোকই সাফল্য লাভ করে।
- ড. আখতার হামিদ খান হলেন বাংলাদেশর পল্লী উন্নয়নের পথিকৃৎ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৯২৪.
বিভক্তিযুক্ত শব্দ কোনটি?
  1. কর্তামশায়
  2. টাকায়
  3. একমুখো
  4. দুনিয়া
সঠিক উত্তর:
টাকায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
টাকায়
ব্যাখ্যা
• টাকা (বিশেষ্য পদ), 
অর্থ:
একশত পয়সার সমমানের মুদ্রা; মুদ্রাবিশেষ; অর্থ; ধন ইত্যাদি।

• 'টাকা' শব্দে 'য়' সপ্তমী বিভক্তিযুক্ত হয়ে গঠিত শব্দ 'টাকায়'।

--------------
• বিভক্তি:
যে সব বর্ণ বা বর্ণসমষ্টি বা চিহ্ন দ্বারা বাক্যের এক পদের সঙ্গে অন্য পদের সম্বন্ধ নির্ধারিত হয়, তাকে বলা বিভক্তি।
• বাংলা শব্দে বিভক্তি ৭ প্রকার। যথা:
প্রথমা বা শূণ্য বিভক্তি: শূণ্য, অ।
দ্বিতীয়া বিভক্তি: কে, রে।
তৃতীয়া বিভক্তি: দ্বারা, দিয়া (দিয়ে), কর্তৃক।
চতুর্থী বিভক্তি: কে, রে।
পঞ্চমী বিভক্তি: হইতে (হতে), থেকে, চেয়ে।
ষষ্ঠী বিভক্তি: র, এর।
সপ্তমী বিভক্তি: এ, য়, তে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং অভিগম্য অভিধান।
৯২৫.
চক্রের প্রান্তভাগকে এক কথায় বলে-
  1. ক) চক্রেশ
  2. খ) চক্রসীমা
  3. গ) চক্রধারা
  4. ঘ) চক্রবিন্দু
সঠিক উত্তর:
গ) চক্রধারা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) চক্রধারা
ব্যাখ্যা
চক্রের প্রান্তভাগ- চক্রধারা।
৯২৬.
'আর ভয় নেই।' বাক্যটিকে অনুজ্ঞাবাচক বাক্যে রূপান্তর করুন-
  1. আরো ভয় কর।
  2. আর ভয় আসবে না।
  3. আর ভয় করো না।
  4. আর ভয় করলে কী হবে?
সঠিক উত্তর:
আর ভয় করো না।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আর ভয় করো না।
ব্যাখ্যা
• নির্দেশাত্মক বাক্য থেকে অনুজ্ঞাবাচক বাক্যে রূপান্তর:
নির্দেশাত্মক বাক্য থেকে অনুজ্ঞাবাচক বাক্যে রূপান্তর: নির্দেশাত্মক বাক্য থেকে অনুজ্ঞাবাচক বাক্যে রূপান্তর করতে হলে মৌলিক অর্থ বা মূল অর্থ অপরিবর্তিত রেখে নিচের সাধারণ সূত্রগুলো অবলম্বন করতে হবে:
সূত্র: ক। বাক্যের কর্তা সাধারণত মধ্যম পুরুষের হবে। তবে অনেক সময় না থাকতে পারে।
সূত্র: খ। ক্রিয়াপদের ব্যবহার কর্তা অনুযায়ী হবে।
সূত্র: গ। নির্দেশাত্মক বাক্যের মূল ধাতুটিকে অনুজ্ঞাবাচক ক্রিয়ারূপে পরিণত করতে হয়।
যেমন:
- নির্দেশাত্মক : দেশের সেবা করা কর্তব্য।
- অনুজ্ঞাবাচক: দেশের সেবা করবে।
- নির্দেশাত্মক : ভুলগুলো এখনই সংশোধন করতে বলছি।
-  অনুজ্ঞাবাচক: ভুলগুলো এখনই সংশোধন কর।
- নির্দেশাত্মক: আর ভয় নেই।
- অনুজ্ঞাবাচক: আর ভয় করো না।
- নির্দেশাত্মক : আমাদের পালিয়ে যেতে হবে। অনুজ্ঞাবাচক: চল আমরা পালাই।
- নির্দেশাত্মক: জননী ও জন্মভূমি স্বর্গ হতেও বড়।
- অনুজ্ঞাবাচক: জননী ও জন্মভূমিকে স্বর্গ হতেও বড় মনে কর।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৯২৭.
“সে আমাকে দিয়ে চিঠিটা লেখালো”–বাক্যটিতে প্রযোজক কর্তা কে?
  1. সে
  2. চিঠি
  3. আমি
  4. কেউ নয়
সঠিক উত্তর:
সে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সে
ব্যাখ্যা

- “সে আমাকে দিয়ে চিঠিটা লেখালো”–বাক্যটিতে প্রযোজক কর্তা - সে।

প্রযোজক কর্তা:
- প্রযোজক কর্তা কর্তৃকারকের একটি প্রকারভেদ। 
- প্রযোজক কর্তা হলো সেই কর্তা, যিনি নিজে সরাসরি কাজ না করে অন্যকে দিয়ে কাজটি সম্পন্ন করান।
- অন্যদিকে, যাকে দিয়ে কাজটি করানো হয় তাকে প্রযোজ্য কর্তা বলা হয়।
- উদাহরণস্বরূপ,
“সে আমাকে দিয়ে চিঠিটা লেখালো” —এখানে সে প্রযোজক কর্তা, কারণ সে নিজে লিখছেনা, আমাকে দিয়ে কাজটি সম্পন্ন করেছে।
• “হুজুর ছাত্রদের কুরআন পড়াচ্ছেন”—এখানে হুজুর প্রযোজক কর্তা, কারণ তিনি নিজে পড়াচ্ছেন না, ছাত্রদের দিয়ে কাজটি সম্পন্ন করছেন। 
• “মা শিশুকে চাঁদ দেখাচ্ছেন”—এখানে মা প্রযোজক কর্তা এবং শিশু প্রযোজ্য কর্তা। 

• প্রযোজক কর্তার কিছু উদাহরণ হলো:
- “মালিক শ্রমিককে দিয়ে বাড়ি তৈরি করাচ্ছেন”  → মালিক = প্রযোজক কর্তা।
- “আমি তাকে দিয়ে অঙ্কটা কষালাম”  → আমি = প্রযোজক কর্তা।
- "কৃষক গরু দিয়ে চাষ করায়"  → কৃষক = প্রযোজক কর্তা।
- “সাপুড়ে সাপ খেলাচ্ছে।” → সাপুড়ে = প্রযোজক কর্তা।
- “আমি তাকে দিয়ে কাজটি করালাম।” → আমি = প্রযোজক কর্তা। 

উৎস:
বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ);
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৯২৮.
শুদ্ধ বানানগুচ্ছ নির্ণয় করুন-
  1. ধাঁধাঁ, ভদ্রাচিত, নৈঋত
  2. ধাঁধা, ভদ্রোচিত, নৈর্ঋত
  3. ধাধাঁ, ভদ্রোচিত, নৈরিত
  4. ধাঁধা, ভদ্রচিত, নৈহৃত
সঠিক উত্তর:
ধাঁধা, ভদ্রোচিত, নৈর্ঋত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধাঁধা, ভদ্রোচিত, নৈর্ঋত
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
- ধাঁধা, ভদ্রোচিত, নৈর্ঋত- বানান শুদ্ধ।

- 'নৈর্ঋত'  শব্দের অর্থ দক্ষিণ ও পশ্চিম দিকের মধ্যবর্তী।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৯২৯.
'আমাকে বই পড়তে হয়েছে।' - কোন বাচ্যের উদাহরণ?
  1. ক) কর্তৃবাচ্য
  2. খ) কর্মকর্তৃবাচ্য
  3. গ) ভাববাচ্য
  4. ঘ) কর্মবাচ্য
সঠিক উত্তর:
ঘ) কর্মবাচ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) কর্মবাচ্য
ব্যাখ্যা
• বাক্যটি যদি কর্তৃবাচ্য না হয় আর যেখানে যদি কর্ম থাকে তবে সেটি কর্মবাচ্য কিংবা ভাববাচ্য হতে পারে। তবে বাক্যের ক্রিয়ার প্রতি খেয়াল রাখতে হবে; যদি ক্রিয়া দ্বারা ভবিষ্যতের কোনো কাজ হবে বোঝায়। অর্থাৎ কামনা, বাসনা, প্রার্থনা বোঝায় তবে সেটি ভাববাচ্য হবে, তা না-হলে কর্মবাচ্য হবে। যেমন :

ভাববাচ্য:
- ডিঙি টেনে বের করতে হবে।
- আমাকে বই পড়তে হবে।

কর্মবাচ্য:
- ডিঙি টেনে বের করা হয়েছে।
- আমাকে বই পড়তে হয়েছে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।
৯৩০.
‘নালিশটা অযৌক্তিক' কোন ধরনের বাক্য?
  1. ক) নেতিবাচক
  2. খ) অস্তিবাচক
  3. গ) অনুজ্ঞাবাচক
  4. ঘ) প্রশ্নবাচক
সঠিক উত্তর:
খ) অস্তিবাচক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) অস্তিবাচক
ব্যাখ্যা
অস্তিবাচক বাক্য/ হাঁ বাচক বাক্য:
যে বাক্যে সমর্থনের মাধ্যমে কোন কিছু বর্ণনা করা হয়, তাকে অস্তিবাচক বাক্য বা হাঁ বাচক বলে।
যে বাক্যে হাঁ বাচক শব্দ থাকে, তাকে হাঁ বাচক বা অস্তিবাচক বাক্য বলে।
যেমন - তুমি কালকে আসবে।
প্রশ্নে উল্লেখিত বাক্য 'নালিটশটা অযৌক্তিক' - এটি অস্তিবাচক বাক্য।
এর নেতিবাচক রূপ - নালিশটা যৌক্তিক নয়।
৯৩১.
নিচের কোনটি শুদ্ধ বাক্য?
  1. পৃথিবী সর্বদা সূর্যের চারিদিকে ঘূর্ণীয়মান।
  2. এটা অপক্ক হাতের লেখা।
  3. সকল আলেমগণ সভায় উপস্থিত ছিলেন।
  4. কেবল গায়ের জোরে সব কাজ হয় না।
সঠিক উত্তর:
কেবল গায়ের জোরে সব কাজ হয় না।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কেবল গায়ের জোরে সব কাজ হয় না।
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বাক্য: কেবল গায়ের জোরে সব কাজ হয় না।

অন্যদিকে,
অশুদ্ধ: পৃথিবী সর্বদা সূর্যের চারিদিকে ঘূর্ণীয়মান।
শুদ্ধ: পৃথিবী সর্বদা সূর্যের চারিদিকে ঘূর্ণায়মান।

অশুদ্ধ: এটা অপক্ক হাতের লেখা।
শুদ্ধ: এটা কাঁচা হাতের লেখা।

অশুদ্ধ: সকল আলেমগণ সভায় উপস্থিত ছিলেন।
শুদ্ধ: সকল আলেম সভায় উপস্থিত ছিলেন।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৯৩২.
'ছেলেটিকে বিছানায় শোয়াও।'- বাক্যে 'ছেলেটিকে' কোন কারক?
  1. কর্তা কারক
  2. কর্ম কারক
  3. করণ কারক
  4. অপাদান কারক
সঠিক উত্তর:
কর্ম কারক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্ম কারক
ব্যাখ্যা
• কর্মকারক:
 কর্তা যাকে আশ্রয় করে বা অবলম্বন করে ক্রিয়া সম্পাদন করে তাকে বল হয় কর্মকারক।
যেমন:
- সেলিম বই পড়ে।
[এ বাক্যের কর্ম হলো বই। কারণ বইকে আশ্রয় করে কর্তা এখানে কাজ সম্পাদন করেছে।]

কর্ম প্রধানত দুই প্রকার- মুখ্য কর্ম এবং গৌণ কর্ম।
১. মুখ্য কর্ম:
কোনো কোনো বাক্যে দুটি কর্ম থাকে। দ্বিকর্মক ক্রিয়ার অপ্রাণিবাচক বা বস্তুবাচক কর্মটিকে বলা হয় মুখ্য কর্ম। যেমন- সুমি রিপনকে একটি কলম দিয়েছে। এ বাক্যে দুটি কর্ম রয়েছে- রিপন এবং কলম। কলম হলো বস্তুবাচক কর্ম; অতএব কলম হলো মুখ্য কর্ম।

২. গৌণ কর্ম:
দ্বিকর্মক ক্রিয়ার বস্তুবাচক কর্মকে বলা হয় গৌণ কর্ম।
যেমন:
- জয়নাল, ফারুককে একটি বই দিয়েছিল।
[এ বাক্যের ব্যক্তিবাচক কর্ম হলো জয়নাল। অতএব ফারুক হলো গৌণ কর্ম।]

কর্মকারকের প্রকারভেদ:
• সকর্মক ক্রিয়ার কর্ম: রিমা ফুল তুলছে।
• প্রযোজক ক্রিয়ার কর্ম: ছেলেটিকে বিছানায় শোয়াও।
• সমধাতুজ কর্ম: খুব এক ঘুম ঘুমিয়েছি।
• উদ্দেশ্য ও বিধেয়: দ্বিকর্মক ক্রিয়ার দুটি পরস্পর আপেক্ষিক কর্মপদ থাকলে প্রধান কর্মপদটিকে বলা হয় উদ্দেশ্য কর্ম এবং অপেক্ষিত কর্মপদটিকে বলা হয় বিধেয় কর্ম।
যেমন-
- দুধকে (উদ্দেশ্য কর্ম) মোরা দুগ্ধ (বিধেয় কর্ম) বলি, হলুদকে (উদ্দেশ্য কর্ম) বলি হরিদ্রা (বিধেয় কর্ম)।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৩৩.
’বাগ্‌ধারা’ ব্যাকরণের কোন অংশে আলোচিত হয়?
  1. অর্থতত্ত্ব
  2. ধ্বনিতত্ত্ব
  3. রূপতত্ত্ব
  4. বাক্যতত্ত্ব
সঠিক উত্তর:
অর্থতত্ত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অর্থতত্ত্ব
ব্যাখ্যা

• অর্থতত্ত্ব আলোচ্য বিষয়:
- ব্যাকরণের যে অংশে শব্দ, বর্গ ও বাক্যের অর্থ নিয়ে আলোচনা করা হয়, সেই অংশের নাম অর্থতত্ত্ব।
- একে বাগর্থতত্ত্বও বলা হয়।
- বিপরীত শব্দ, প্রতিশব্দ, শব্দজোড়,বাগধারা প্রভৃতি বিষয় অর্থতত্ত্বের অন্তর্ভুক্ত।
- এছাড়া শব্দ, বর্গ ও বাক্যের ব্যঞ্জনা নিয়েও ব্যাকরণের এই অংশে আলোচনা থাকে।

এছাড়াও,
• ধ্বনিতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়:
- বাগ্যন্ত্র, বাগ্যন্ত্রের উচ্চারণ-প্রক্রিয়া, ধ্বনির বিন্যাস, স্বর ও ব্যঞ্জনধ্বনির বৈশিষ্ট্য, ধ্বনিদল প্রভৃতি ব্যাকরণের এই অংশে আলোচনা হয়ে থাকে।

• রূপতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়:
- বিশেষ্য, সর্বনাম, বিশেষণ, ক্রিয়া,ক্রিয়াবিশেষণ, শব্দগঠন প্রক্রিয়া ব্যাকরণের এই অংশে আলোচনা হয়ে থাকে।

• বাক্যতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়:
- কারক বিশ্লেষণ, বাক্যের যোগ্যতা, বাক্যের উপাদান লোপ, যতিচিহ্ন ব্যাকরণের এই অংশে আলোচনা হয়ে থাকে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি, ২০২৫ সালের সংস্করণ।

৯৩৪.
কোনটি অশুদ্ধ বানান?
  1. মুরগি
  2. পাখি
  3. শাড়ি
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
কোনোটিই নয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• প্রদত্ত সবগুলোই শুদ্ধ বানান।

• অপ্রাণিবাচক শব্দ ও ইতরপ্রাণিবাচক অতৎসম শব্দের শেষে ই/ঈ-কারের মধ্যে ই-কার হবে।
যেমন:
অপ্রাণিবাচক শব্দ:
- বাড়ি, গাড়ি, শাড়ি, চাবি ইত্যাদি ।

ইতরপ্রাণিবাচক শব্দ:
- পাখি, হাতি, চড়ুই, মুরগি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৯৩৫.
'সেমিকোলন' এর অপর নাম কী?
  1. অর্ধচ্ছেদ
  2. পাদচ্ছেদ
  3. পূর্ণচ্ছেদ
  4. দৃষ্টান্তচ্ছেদ
সঠিক উত্তর:
অর্ধচ্ছেদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অর্ধচ্ছেদ
ব্যাখ্যা

• 'সেমিকোলন' এর অপর নাম - অর্ধচ্ছেদ

সেমিকোলন (;):
- স্বাধীন অথচ ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত একাধিক বাক্যকে এক বাক্যে পরিণত করার কাজে অথবা একই ধরনের বৰ্গকে পাশাপাশি সাজাতে সেমিকোলন ব্যবহৃত হয়।
 যেমন:
- সোহাগ ক্রিকেট পছন্দ করে; আমি ফুটবল পছন্দ করি।
- কোনো বইয়ের সমালোচনা করা সহজ; কিন্তু বই লেখা অত সহজ নয়।
- তিনি পড়েছেন বিজ্ঞান; পেশা ব্যাংকার; আর নেশা সাহিত্যচর্চা।

অন্যদিকে,
'কমা' এর বাংলা অর্থ- পাদচ্ছেদ।
'দাড়ি' এর অপর নাম - পূর্ণচ্ছেদ।
'কোলন' এর অপর নাম - দৃষ্টান্তচ্ছেদ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৯৩৬.
কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. সূচিস্মিতা
  2. মনীষী
  3. প্রষন্ন
  4. আকাঙ্খা
সঠিক উত্তর:
মনীষী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মনীষী
ব্যাখ্যা
• মনীষী (বিশেষণ):
- সংস্কৃত শব্দ। 
- প্রকৃতি প্রত্যয় = মনীষা+ইন্‌। 
অর্থ: 
- তীক্ষ্ণধী, 
- বিদ্বান, 
- প্রতিভাসম্পন্ন। 

অন্য অপশনের শুদ্ধ বানান:  
সূচিস্মিতা - শুচিস্মিতা,
প্রষন্ন - প্রসন্ন, 
আকাঙ্খা - আকাঙ্ক্ষা।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৯৩৭.
'কেঁদে মরি আঁখিজলে।' বাক্যে 'আঁখিজলে' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্ম কারকে ৭মী বিভক্তি
  2. অপাদান কারকে ৭মী বিভক্তি
  3. করণ কারকে ৭মী বিভক্তি
  4. সম্প্রদান কারকে ৭মী বিভক্তি
সঠিক উত্তর:
করণ কারকে ৭মী বিভক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
করণ কারকে ৭মী বিভক্তি
ব্যাখ্যা

- বাক্যে 'আঁখিজলে' শব্দটি কাজ সম্পন্ন করার মাধ্যম বা উপায় বোঝাচ্ছে।
- যেহেতু এটি ক্রিয়ার মাধ্যম, তাই এটি করণ কারক। শব্দটির শেষে 'এ' বিভক্তি যুক্ত আছে, যা ৭মী বিভক্তি নির্দেশ করে।

করণ কারক:

- 'করণ' শব্দটির অর্থ যন্ত্র, সহায়ক বা উপায়।
- ক্রিয়া সম্পাদনের যন্ত্র, উপকরণ বা সহায়ককেই করণ কারক বলে।
- বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদের সঙ্গে 'কীসের দ্বারা' বা কী উপায়ে' প্রশ্ন করলে যে উত্তরটি পাওয়া যায়, তা- ই করণ কারক।

যেমন:
- নীরা কলম দিয়ে লেখে। (উপকরণ = কলম)।
- 'জগতে কীর্তিমান হয় সাধনায়।' (উপায় = সাধনা)।
- 'এ সাবানে কাপড় কাচা চলবে না'। (উপকরণ = সাবান)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৯৩৮.
প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম অনুসারে কোনটি শুদ্ধ?
  1. পুরষ্কার
  2. নিষ্প্রভ
  3. নিষ্পন্দ
  4. নিষ্তব্ধ
সঠিক উত্তর:
নিষ্প্রভ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিষ্প্রভ
ব্যাখ্যা
শুদ্ধ বানান: নিষ্প্রভ। 
অর্থ: প্রভাহীন, অনুজ্জ্বল। 

অশুদ্ধ বানানগুলোর শুদ্ধ রূপ হলো:
- পুরস্কার,
- নিস্পন্দ,
- নিস্তব্ধ। 

-------------------
• বানানের নিয়ম:
• বিসর্গযুক্ত অ-ধ্বনির সঙ্গে সন্ধি হলে বর্ণে সাধারণত 'স' যুক্ত হয় (পুরঃ + কার = পুরস্কার) এবং বিসর্গযুক্ত ই-ধ্বনির সঙ্গে সন্ধি হলে সাধারণত 'ষ' যুক্ত হয় (বহিঃ + কার = বহিষ্কার)।

• তবে স্ক / স্ক সংক্রান্ত সমস্যার সহজ সমাধানকল্পে বলা যায় : অ-যুক্ত বা মুক্ত বর্ণের পরে সাধারণত 'স' হবে। যেমন: নমস্কার, পুরস্কার, বনস্পতি, তিরস্কার, বাচস্পতি ইত্যাদি।

• অন্যদিকে,
ই-যুক্ত বর্ণের পর সাধারণত 'ষ' হবে। যেমন: আবিষ্কার, নিষ্কলঙ্ক, পরিষ্কার, নিষ্ফল, নিষ্প্রভ, নিষ্পাপ, নিষ্পন্ন, নিষ্কর, জ্যোতিষ্ক ইত্যাদি।
(স্প / স্ত / স্থ থাকলে 'ষ' হয় না। যেমন: নিস্পন্দ / নিস্তব্ধ / দুস্থ ইত্যাদি)।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯৩৯.
কোনটি অস্তিবাচক বাক্য?
  1. কিন্তু বরফ গলিল না।
  2. এরূপ রূপবতী রমণী আমার অন্তঃপুরে নাই।
  3. এ কথা আমরা অবিশ্বাস করি।
  4. শহিদের মৃত্যু নেই।
সঠিক উত্তর:
এ কথা আমরা অবিশ্বাস করি।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এ কথা আমরা অবিশ্বাস করি।
ব্যাখ্যা

• অস্তিবাচক বাক্য/ হাঁ বাচক বাক্য:
যে বাক্যে সমর্থনের মাধ্যমে কোন কিছু বর্ণনা করা হয়, তাকে অস্তিবাচক বাক্য বা হাঁ বাচক বলে।
অন্যভাবে, যে বাক্যে হাঁ বাচক শব্দ থাকে, তাকে হাঁ বাচক বা অস্তিবাচক বাক্য বলে।

যেমন:
- তুমি কালকে আসবে।
- এ কথা আমরা অবিশ্বাস করি।
- আপনি আমায় অবিশ্বাস করেছেন।

অন্যদিকে,
--------------
• নেতিবাচক বাক্য:
যে বাক্যে কোনো ঘটনায়, কাজে, বা ভাবে অস্বীকৃতি, অনস্তিত্ব, নিষেধ বা না-সূচক অর্থ বোঝায় তাকে নেতিবাচক বা নাস্ত্যর্থক বাক্য বলে।
যেমন:
- এরূপ রূপবতী রমণী আমার অন্তঃপুরে নাই।
- কিন্তু বরফ গলিল না।
- তোমার এরূপ ব্যবহার উচিত হয়নি।
- শহিদের মৃত্যু নেই।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯৪০.
“তোমার সঙ্গে কিছু গোপন পরামর্শ আছে” - বাক্যটির শুদ্ধ রূপ কোনটি?
  1. ক) তোমার সাথে কিছু গোপন পরামর্শ আছে।
  2. খ) তোমার সঙ্গে কিছু গোপন আলাপ আছে।
  3. গ) তোমার সঙ্গে কিছু গোপনীয় পরামর্শ আছে।
  4. ঘ) তোমার সাথে কিছু গোপনীয় পরামর্শ আছে।
সঠিক উত্তর:
গ) তোমার সঙ্গে কিছু গোপনীয় পরামর্শ আছে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) তোমার সঙ্গে কিছু গোপনীয় পরামর্শ আছে।
ব্যাখ্যা
বাক্যটির শুদ্ধ রূপ - তোমার সঙ্গে কিছু গোপনীয় পরামর্শ আছে।

- বাক্যে বিশেষণের অপপ্রয়োগজনিত ভুল রয়েছে।

• কতগুলো শব্দ আছে যা বিশেষণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
- এগুলোকে বিশেষ্য ভেবে বিশেষণে রূপান্তর করতে গিয়ে ভুল প্রয়োগের মাধ্যমে অশুদ্ধ বাক্যের সৃষ্টি হয়।
- ‘আবশ্যক’ একটি বিশেষণবাচক শব্দ। এর পরিবর্তে ‘ঈয়’ প্রত্যয় যুক্ত করে ‘আবশ্যকীয়’ শব্দের ব্যবহার যথাযথ হয় না।
-আবার কখনো বিশেষণ ভেবে বিশেষ্য প্রয়োগও শুদ্ধ নয়। 

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
৯৪১.
সমাস-ঘটিত অপপ্রয়োগের উদাহরণ কোনটি?
  1. সুস্বাগত
  2. শ্রেষ্ঠতম
  3. সুবুদ্ধিমান
  4. আয়ত্তাধীন
সঠিক উত্তর:
সুবুদ্ধিমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুবুদ্ধিমান
ব্যাখ্যা
• 'সুবুদ্ধিমান', সমাস-ঘটিত অপপ্রয়োগ। 
এর শুদ্ধরূপ: সুবুদ্ধি, বুদ্ধিমান। 

অন্যদিকে,
• 'শ্রেষ্ঠতম' -তম প্রত্যয়জনিত অপপ্রয়োগ।
এর শুদ্ধরূপ: শ্রেষ্ঠ, সর্বশ্রেষ্ঠ। 

• 'সুস্বাগত', সমার্থ শব্দের বাহুল্যজনিত অপপ্রয়োগ।
এর শুদ্ধরূপ: স্বাগত।
 
• 'আয়ত্তাধীন', সমার্থ শব্দের বাহুল্যজনিত অপপ্রয়োগ।
এর শুদ্ধরূপ: আয়ত্ত / অধীন। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ ও বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৯৪২.
'সোনার খাঁচায় রাখব তোমায়' - বাক্যে 'সোনার খাঁচায়' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্মে শূন্য
  2. অধিকরণে সপ্তমী
  3. অপাদানে সপ্তমী
  4. করণে সপ্তমী
সঠিক উত্তর:
অধিকরণে সপ্তমী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অধিকরণে সপ্তমী
ব্যাখ্যা
• 'সোনার খাঁচায় রাখব তোমায়' - বাক্যে 'সোনার খাঁচায়' অধিকরণে সপ্তমী কারকে বিভক্তি

অধিকরণ কারক:

- ক্রিয়া সম্পাদনের কাল (সময়) এবং আধারকে অধিকরণ কারক বলে।
- অধিকরণ কারকে সপ্তমী অর্থাৎ ‘এ’, 'য়', ‘তে’ ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়।
যথা-
→ আধার (স্থান): আমরা রোজ স্কুলে যাই।
→ কাল (সময়): প্রভাতে সূর্য ওঠে।

• অধিকরণ কারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগ:
• প্রথমা বা শূন্য বিভক্তি: বাবা বাড়ি নেই।

• তৃতীয়া বিভক্তি: খিলিপান (এর ভিতরে) দিয়ে ওষুধ খাবে।

• পঞ্চমী বিভক্তি: বাড়ি থেকে নদী দেখা যায়।
• সপ্তমী বা তে বিভক্তি: এ বাড়িতে কেউ নেই।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৯৪৩.
'খগড়ে কাটে গাছ'- বাক্যে ব্যবহৃত ‘খড়গে’ কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. অধিকরণে ৭মী
  2. অপাদানে ৭মী
  3. করণে ৭মী
  4. কর্মে ৭মী
সঠিক উত্তর:
করণে ৭মী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
করণে ৭মী
ব্যাখ্যা
• করণ কারক: 
- যার দ্বারা বা যার সাহায্যে ক্রিয়া সম্পাদিত হয় তাকে করণ কারক বলে। বাক্যের ক্রিয়াপদকে ‘কার দ্বারা' বা 'কী উপায়ে' জিজ্ঞাসা করলে যে উত্তর পাওয়া যায় তা-ই করণ কারক।
 
করণ কারকে বিভক্তির ব্যবহার-
- করণ কারকে সাধারণত দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক ইত্যাদি তৃতীয়া বিভক্তির (অনুসর্গের) ব্যবহার হয়।
-তবে অন্য বিভক্তিগুলােরও প্রয়ােগ রয়েছে।
- করণ কারকে ‘দ্বারা বিভক্তি (অনুসর্গ) - তােমাদের দ্বারা দেশের ক্ষতি হবে।
- করণ কারকে ‘দিয়া বিভক্তি (অনুসর্গ) - তােমার লােক দিয়ে কাজটা করাবে।
- করণ কারকে শূন্য (০) বা অ-বিভক্তি - রফিক তাস খেলে।
- করণ কারকে এ-বিভক্তি - গ্যাসে গাড়ি চলে।
- করণ কারকে য়-বিভক্তি - টাকায় টাকা হয়।
- করণ কারকে তে-বিভক্তি - তার কথা যেন মধুতে মাখা
- আবার, এ, য়, তে সপ্তমী বিভক্তির উদাহরণ। 
 
অতএব 'খগড়ে কাটে গাছ' বাক্যটিকে কার দ্বারা গাছ কাটে জিজ্ঞেস করলে উত্তর পাওয়া যায় খড়গে বা তলোয়ারতাই ‘খড়গে’ করণে ৭মী বিভক্তির উদাহরণ। 
 
উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, জ্যোতিভূষণ চাকী।
৯৪৪.
শুদ্ধ বানান কোনটি?
  1. প্রত্যুদ্‌গমণ
  2. প্রত্যুৎগমন
  3. প্রত্যুতগমন
  4. প্রত্যুদ্‌গমন
  5. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
প্রত্যুদ্‌গমন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রত্যুদ্‌গমন
ব্যাখ্যা

• শুদ্ধ বানান - প্রত্যুদ্‌গমন
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
- শব্দটি সংস্কৃত ভাষা হতে আগত।

শব্দের অর্থ:
- মান্য ব্যক্তিকে অভ্যর্থনাকালে কিছুদূর এগিয়ে গিয়ে বা বিদায়কালে কিছুদূর সঙ্গে গিয়ে সৌজন্য প্রদর্শন।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৯৪৫.
কোনটি অশুদ্ধ বানান?
  1. নিরীক্ষণ
  2. জাত্যাভিমান
  3. খেলোয়াড়
  4. অনুষঙ্গ
সঠিক উত্তর:
জাত্যাভিমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জাত্যাভিমান
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ বানান - 'জাত্যাভিমান'
- শব্দের শুদ্ধ বানান - 'জাত্যভিমান'
শব্দের অর্থ:
- বংশগৌরব।

অন্যদিকে,
- অনুষঙ্গ, খেলোয়াড় এবং নিরীক্ষণ - শব্দগুলোর বানান শুদ্ধ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৯৪৬.
নিচের কোন বাক্যটি শুদ্ধ?
  1. তোমাকে দেখে সে আশ্চর্য হয়েছে।
  2. নিরোগ লোক আসলে সুখী।
  3. ইহার আবশ্যকতা নাই।
  4. আমি সাক্ষী দিব না।
সঠিক উত্তর:
ইহার আবশ্যকতা নাই।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইহার আবশ্যকতা নাই।
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বাক্য: ইহার আবশ্যকতা নাই।

অন্যদিকে,
অশুদ্ধ বাক্য: নিরোগ লোক আসলে সুখী।
শুদ্ধ বাক্য: নীরোগ লোক আসলে সুখী।

অশুদ্ধ বাক্য: তোমাকে দেখে সে আশ্চর্য হয়েছে।
শুদ্ধ বাক্য: তোমাকে দেখে সে আশ্চর্যান্বিত হয়েছে।

অশুদ্ধ বাক্য: আমি সাক্ষী দিব না।
শুদ্ধ বাক্য: আমি সাক্ষ্য দিব না।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৯৪৭.
'আমরা রােজ বেড়াতে যেতাম।' কোন ধরনের বাক্য?
  1. অনুজ্ঞাবাচক বাক্য
  2. আবেগবাচক বাক্য
  3. বিবৃতিবাচক বাক্য
  4. প্রশ্নবাচক বাক্য
সঠিক উত্তর:
বিবৃতিবাচক বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিবৃতিবাচক বাক্য
ব্যাখ্যা

• বক্তব্যের লক্ষ্য অনুযায়ী বাক্যকে বিবৃতিবাচক, নেতিবাচক, প্রশ্নবাচক, অনুজ্ঞাবাচক ও আবেগবাচক প্রভৃতি ভাগে ভাগ করা যায়। যথা:

• বিবৃতিবাচক বাক্য:
 সাধারণভাবে কোনাে বিবরণ প্রকাশ পায় যেসব বাক্যে, সেগুলােকে বিবৃতিমূলক বাক্য বলে। বিবৃতিবাচক বাক্য ইতিবাচক বা নেতিবাচক হতে পারে।
যেমন-
• আমরা রােজ বেড়াতে যেতাম।
• তারা তােমাদের ভােলেনি।

• প্রশ্নবাচক বাক্য:
বক্তা কারও কাছ থেকে কিছু জানার জন্য যে ধরনের বাক্য বলে, সেগুলাে প্রশ্নবাচক বাক্য।
যেমন-
• তােমার নাম কী?
• সুন্দরবনকে কোন ধরনের বনাঞ্চল বলা হয়?
• আর কি পথ আছে?

• অনুজ্ঞাবাচক বাক্য:
আদেশ, নিষেধ, অনুরােধ, প্রার্থনা ইত্যাদি বােঝাতে অনুজ্ঞাবাচক বাক্য হয়।
যেমন-
• আমাকে একটি কলম দাও।
• তার মঙ্গল হােক।
• সদুপায়ে জীবিকা অর্জনের চেষ্টা করো।

• আবেগবাচক বাক্য:
কোনাে কিছু দেখে বা শুনে অবাক হয়ে যে ধরনের বাক্য তৈরি হয়, তাকে আবেগবাচক বাক্য বলে।
যেমন-
• দারুণ! আমরা জিতে গিয়েছি।
• অত উঁচু পাহাড়ে উঠে আমি তাে ভয়েই মরি!
• দৃশ্যটি কী দারুণ!
• আহা! দৃশ্যটি ভুলবার নয়।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ সংস্করণ)।

৯৪৮.
নিচের কোন শব্দটিতে অপ-প্রয়োগ ঘটেনি?
  1. ক) অহোরাত্রি
  2. খ) ইতিমধ্যে
  3. গ) কুসংস্কার
  4. ঘ) অর্ধাঙ্গিনী
সঠিক উত্তর:
গ) কুসংস্কার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) কুসংস্কার
ব্যাখ্যা
কুসংস্কার শব্দটিতে অপ-প্রয়োগ ঘটেনি।
অহোরাত্রি, ইতিমধ্যে ও অর্ধাঙ্গিনী শব্দগুলোর সঠিক প্রয়োগ হবে যথাক্রমে অহোরাত্র, ইতোমধ্যে ও অর্ধাঙ্গী।
উৎসঃ প্রমিত বাংলা বানান নিয়ম রীতি ও বাংলা একাডেমির অভিধান।
৯৪৯.
বিবৃতিমূলক বাক্য কোনটি?
  1. তোমার মঙ্গল হোক।
  2. তোমার আজ কি পরীক্ষা?
  3. সে ঢাকা যাবে না।
  4. তাজ্জব ব্যাপার!
সঠিক উত্তর:
সে ঢাকা যাবে না।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সে ঢাকা যাবে না।
ব্যাখ্যা
বিবৃতিমূলক বাক্য: 
এ বাক্যে কোনো বক্তব্য সাধারণভাবে বিবৃত বা বর্ণনা নির্দেশ করা হয়। এই ধরনের বাক্যকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়।
- যথা: অস্তিবাচক বাক্য ও নেতিবাচক বাক্য।

বিবৃতিমূলক বাক্যের আরো কয়েকটি উদাহরণ হচ্ছে-
- সে ঢাকা যাবে না।
- পৃথিবী সূর্যের চারদিকে ঘুরে।
- লোকটি প্রতিদিন পুকুরে সাতার কাটে।
- সে কবিতা লিখছে। 

অন্যদিকে,
• যে বাক্যে শুভজনক প্রার্থনা, আশিস, আকাঙ্খা করা ইত্যাদি প্রকাশ করা হয় তাকে ইচ্ছাসূচক বাক্য বলে।
যেমন- তোমার মঙ্গল হোক।

• যে বাক্যের সাহায্যে কোনাে কিছু জিঞ্জাসা বা প্রশ্ন করা হয়, তাকে বলা হয় প্রশ্নবােধক বাক্য।
যেমন:
- তোমার আজ কি পরীক্ষা?
- তুমি কি লােকটিকে চিন? 

• যে বাক্যে আশ্চর্যজনক কিছু বোঝায় তাকে বিস্ময়সূচক বাক্য বলে।
যেমন:
- তাজ্জব ব্যাপার!
- কী সাংঘাতিক ব্যাপার!

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক, বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৫০.
তৎসম শব্দের বানানে কখনো কী বসবে না?
  1. 'স'
  2. 'ণ'
  3. 'খ'
  4. 'য'
সঠিক উত্তর:
'স'
উত্তর
সঠিক উত্তর:
'স'
ব্যাখ্যা
তৎসম শব্দের বানানে কখনো 'স' বসবে না।

বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা ব্যাকরণের নিয়মানুসারে,

- তৎসম শব্দের বানানে সবসময় 'ষ' ব্যবহৃত হবে।

এছাড়াও,
- তৎসম শব্দের বানানে সবসময় 'ণ' ব্যবহৃত হবে।
- তৎসম স্ত্রী বাচক শব্দের বানানে সর্বদা 'ই'- কার না হয়ে ঈ - কার বসবে।

 উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা ব্যাকরণ।
৯৫১.
'দেশের সব শিক্ষকগণ এখানে উপস্থিত হয়েছেন।' - বাক্যটি কেন তার যোগ্যতা হাড়িয়েছে?
  1. ক) দুর্বোধ্যতা
  2. খ) গুরুচণ্ডালী দোষ
  3. গ) উপমার ভুল প্রয়োগ
  4. ঘ) বাহুল্য দোষ
সঠিক উত্তর:
ঘ) বাহুল্য দোষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) বাহুল্য দোষ
ব্যাখ্যা
বাহুল্য দোষ: প্রয়োজনের অতিরিক্ত শব্দ ব্যবহার করলে বাহুল্য দোষ ঘটে। এতে শব্দ তার যোগ্যতা গুণ হারিয়ে ফেলে। 
যেমন- 'দেশের সব শিক্ষকগণ এখানে উপস্থিত হয়েছেন।'
- বাংলা ভাষায় একই বাক্যে দুইবার বহুবচন ব্যবহৃত হয় না। 
- বাক্যটি হবে 'দেশের সব শিক্ষক এখানে উপস্থিত হয়েছেন।' বা 'দেশের শিক্ষকগণ এখানে উপস্থিত হয়েছেন।'

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৫২.
কোন বাক্যটি শুদ্ধ?
  1. অপ্রয়োজনীয় গ্রন্থ সমূহ সরিয়ে রাখো।
  2. সে এখন আর চিঠি লেখেনা।
  3. সব পাখিরা নীড় বাঁধে না।
  4. তার কাছে আমার ঠিকানা নেই।
সঠিক উত্তর:
তার কাছে আমার ঠিকানা নেই।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তার কাছে আমার ঠিকানা নেই।
ব্যাখ্যা
শুদ্ধ বাক্য: তার কাছে আমার ঠিকানা নেই।

অশুদ্ধবাক্য গুলোর শুদ্ধরূপ হলো:
• সে এখন আর চিঠি লেখে না।
• সব পাখি নীড় বাঁধে না।
• অপ্রয়োজনীয় গ্রন্থসমূহ সরিয়ে রাখো।

----------------
• (না, নেই, নয়) ব্যবহারের সঠিক নিয়ম:

না, নাই, নয় এই নেতিবাচক শব্দ সবসময় পৃথক শব্দ হিসেবে বসবে। কখনো কোনো শব্দের সঙ্গে জুড়ে যাবে না। যেমন- করিনা, যাইনা, যেওনা, লেখেনা ইত্যাদি না হয়ে, হবে- করি না, যাই না, যেও না, লেখে না ইত্যাদি।

অতএব নিয়ম অনুসারে,
• অশুদ্ধ বাক্য: সে এখন আর চিঠি লেখেনা।
• শুদ্ধরূপ: সে এখন আর চিঠি লেখে না।

• বহুবচনের অপপ্রয়োজনিত অশুদ্ধি:
বহুত্ব বোঝাতে আমরা বহুবচন ব্যবহার করি। বিশেষ্য পদের সঙ্গে গুলি/গুলো/রা, এর ইত্যাদি যুক্ত করে বহুবচন তৈরি করা হয়। স্মরণ রাখতে হবে যে বহুবচনের পরে দ্বিত্ব প্রয়োগ হয় না, অর্থাৎ কোনো শব্দকে একবার বহুবচনে রূপান্তরিত করলে পুনরায় তার বহুত্ব অপ্রয়োজনীয়। তাই অগণিত, অনেক, বহু, যাবতীয়, সব ইত্যাদি যত বহুত্ববাচক শব্দ আছে, তাদের পরে সংশ্লিষ্ট বিশেষ্য পদের সঙ্গে গুলি/গুলো/রা ইত্যাদি যুক্ত হবে না।
যেমন:
• অশুদ্ধ বাক্য: সব পাখিরা নীড় বাঁধে না।
• শুদ্ধ বাক্য: সব পাখি নীড় বাঁধে না।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৯৫৩.
শুদ্ধ বানান -
  1. তত্ত্বাবধান
  2. ধুলিস্যাৎ
  3. কিম্বদন্তী
  4. অত্যান্ত
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
তত্ত্বাবধান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তত্ত্বাবধান
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান – তত্ত্বাবধান
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।

শব্দের অর্থ:
- মনযোগ সহকারে পর্যবেক্ষণ করা।

অন্যদিকে,
অত্যান্ত – অত্যন্ত,
কিম্বদন্তী – কিংবদন্তি, 
ধুলিস্যাৎ – ধূলিসাৎ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৯৫৪.
অশুদ্ধ বানান নির্ণয় করুন- 
  1. কৃষিজীবী
  2. সমীচীন
  3. ভাগীরথি
  4. বিভীষিকা
সঠিক উত্তর:
ভাগীরথি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভাগীরথি
ব্যাখ্যা

বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
• অশুদ্ধ বানান - 'ভাগীরথি'।
- শুদ্ধরূপ-  ভাগীরথী।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
- এটি সংস্কৃত ভাষার শব্দ।
অর্থ:
- গঙ্গা নদীর অন্য নাম, গঙ্গার শাখা নদী বিশেষ।

অন্যদিকে,
- বিভীষিকা, কৃষিজীবী এবং সমীচীন - বানানগুলো শুদ্ধ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৯৫৫.
'ঝিনুক থেকে মুক্তা মেলে।' - বাক্যে নিম্নরেখ অংশটি কোন কারক?
  1. অধিকরণ
  2. করণ
  3. অপাদান
  4. কর্ম
সঠিক উত্তর:
অপাদান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপাদান
ব্যাখ্যা
অপাদান কারক:
- যা থেকে কোনো কিছু বিচ্যুত, পতিত, গৃহীত, জাত, রক্ষিত, বিরত, দূরীভূত ও উৎপন্ন এবং যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকে অপাদান কারক বলে।

যেমন:
পতিত: মেঘে বৃষ্টি হয়।
গৃহীত: ঝিনুক থেকে মুক্তা মেলে।
জাত: জমি থেকে ফসল পাই।
রক্ষিত: বিপদে মোরে রক্ষা কর।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।
৯৫৬.
'বোঁটা-আলগা ফল গাছে থাকে না।' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্ম কারকে শূন্য
  2. করণ কারকে শূন্য
  3. সম্প্রদান কারকে শূন্য
  4. অপাদান কারকে শূন্য
সঠিক উত্তর:
অপাদান কারকে শূন্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপাদান কারকে শূন্য
ব্যাখ্যা

অপাদান কারক:
- যা থেকে কিছু বিচ্যুত, গৃহীত, জাত, বিরত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয় এবং যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকেই অপাদান কারক বলে।
যেমন -
→ বিচ্যুত: মেঘ থেকে বৃষ্টি পড়ে।
→ গৃহীত: দুধ থেকে দই হয়।
→ জাত: খেজুর রসে গুড় হয়।
→ বিরত: পাপে বিরত হও।
- অপাদান কারকে বিভিন্ন বিভক্তি ছাড়াও হইতে, হতে, থেকে, দিয়া, দিয়ে ইত্যাদি অনুসর্গ ব্যবহৃত হয়।

• অপাদান কারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগ:
(ক) প্রথমা বা শূন্য বা 'অ' বিভক্তি:
- বোঁটা-আলগা ফল গাছে থাকে না। 
- 'মনে পড়ে সেই জ্যৈষ্ঠ দুপুরে পাঠশালা পলায়ন।'

(খ) দ্বিতীয়া বা 'কে' বিভক্তি: বাবাকে বড্ড ভয় পাই।

(গ) ষষ্ঠী বা 'এর' বিভক্তি: যেখানে বাঘের ভয় সেখানে সন্ধে হয়।

(ঘ) সপ্তমী বা 'এ' বিভক্তি:
লোকমুখে শুনেছি।
তিলে তৈল হয়।
→ বিপদে মোরে করিবে ত্রাণ, এ নহে মোর প্রার্থনা।
- য় বিভক্তি: টাকায় টাকা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৯৫৭.
বাক্যে সেমিকোলন থাকলে কতক্ষন থামতে হয় ?
  1.  ১ বলতে যে সময় লাগে
  2.  এক সেকেন্ড
  3.  ১ বলার দ্বিগুণ সময়
  4. থামার প্রয়োজন নেই
সঠিক উত্তর:
 ১ বলার দ্বিগুণ সময়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
 ১ বলার দ্বিগুণ সময়
ব্যাখ্যা

• সেমিকোলন (;) :
- স্বাধীন অথচ ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত একাধিক বাক্যকে এক বাক্যে পরিণত করার কাজে অথবা একই ধরনের বর্গকে পাশাপাশি সাজাতে সেমিকোলন ব্যবহৃত হয়।
• সেমিকোলন এর সময়কাল এক বলার দ্বিগুন সময়।
যেমন-
• সোহাগ ক্রিকেট পছন্দ করে; আমি ফুটবল পছন্দ করি।
• কোনো বইয়ের সমালোচনা করা সহজ; কিন্তু বই লেখা অত সহজ নয়।
• তিনি পড়েছেন বিজ্ঞান; পেশা ব্যাংকার; আর নেশা সাহিত্যচর্চা।

উৎস : বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি (২০২৫ সংস্করণ)।

৯৫৮.
নিচের কোন শব্দগুচ্ছের বানান শুদ্ধ?
  1. স্বত্বা, পুণ্য
  2. শশ্রুষা, মূমূর্ষূ
  3. স্বান্তনা, রুচিবান
  4. প্রাঙ্গণ, নীরব
সঠিক উত্তর:
প্রাঙ্গণ, নীরব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রাঙ্গণ, নীরব
ব্যাখ্যা

শুদ্ধ বানান- প্রাঙ্গণ, নীরব। 

অন্যদিকে, 
ক) স্বত্বা, পুণ্য- এখানে “স্বত্বা” → ভুল, শুদ্ধ বানান স্বত্ব। “পুণ্য” ঠিক আছে। 
খ) শশ্রুষা, মূমূর্ষূ- এখানে দুটোই ভুল বানান। শুদ্ধ: শুশ্রূষা, মুমূর্ষু।
গ) স্বান্তনা, রুচিবান- এখানে “স্বান্তনা” শব্দের বানানটি ভুল, শুদ্ধ: সান্ত্বনা। “রুচিবান” ঠিক আছে।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান। 

৯৫৯.
'করে ১৯৭১ বাংলাদেশ স্বাধীনতা সালে অর্জন৷' - এই বাক্য–
  1. ক) আসত্তিহীন
  2. খ) যোগ্যতাহীন
  3. গ) আকাঙ্ক্ষাহীন
  4. ঘ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ক) আসত্তিহীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) আসত্তিহীন
ব্যাখ্যা

বাক্যের অত্যাশব্যকীয় গুণ তিনটি। এগুলো হলো: আকাঙ্ক্ষা, আসত্তি এবং যোগ্যতা।

- এক পদের পর অন্য পদ শোনার ইচ্ছা হলো আকাঙ্ক্ষা।
- বাক্যে ব্যবহৃত পদসমূহের সুশৃঙ্খল পদবিন্যাস হলো আসত্তি।

যেমন: করে ১৯৭১ বাংলাদেশ স্বাধীনতা সালে অর্জন৷ এই বাক্য আসত্তিহীন

সঠিক বাক্য: ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করে৷

- বাক্যস্থিত পদসমূহের অন্তর্গত ও ভাবগত মিলবন্ধনের নাম হলো যোগ্যতা।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী।

৯৬০.
"শিক্ষক ছাত্রদের পড়ান।" - বাক্যটি কোন বাচ্যের উদাহরণ?
  1. কর্মবাচ্য
  2. কর্তৃবাচ্য
  3. কর্মকর্তৃবাচ্য
  4. ভাববাচ্য
সঠিক উত্তর:
কর্তৃবাচ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্তৃবাচ্য
ব্যাখ্যা
কর্তৃবাচ্য: 
যে বাক্যে কর্তার অর্থ-প্রাধান্য রক্ষিত হয় এবং ক্রিয়াপদ কর্তার অনুসারী হয়, তাকে কর্তৃবাচ্যের বাক্য বলে।
যেমন- ছাত্ররা অঙ্ক করছে।
- কর্তৃবাচ্যে ক্রিয়াপদ সর্বদাই কর্তার অনুসারী হয় ।
- কর্তৃবাচ্যে কর্তায় প্রথমা বা শূন্য বিভক্তি এবং কর্মে দ্বিতীয়া, ষষ্ঠী বা শূন্য বিভক্তি হয়।
যথা-
শিক্ষক ছাত্রদের পড়ান। রোগী পথ্য সেবন করে।

কর্মবাচ্য: 
যে বাক্যে কর্মের সাথে ক্রিয়ার সম্বন্ধ প্রধানভাবে প্রকাশিত হয়, তাকে কর্মবাচ্য বলে।
যেমন- শিকারি কর্তৃক ব্যাঘ্র নিহত হয়েছে।
- কর্মবাচ্যে কর্মে প্রথমা, কর্তায় তৃতীয়া বিভক্তি ও দ্বারা দিয়া (দিয়ে), কর্তৃক অনুসর্গের ব্যবহার এবং ক্রিয়াপদ কর্মের অনুসারী হয়।
যথা – আলেকজান্ডার কর্তৃক পারস্য দেশ বিজিত হয়।
চোরটা ধরা পড়েছে।
- কখনো কখনো কর্মে দ্বিতীয়া বিভক্তি হতে পারে।
যথা- আসামিকে জরিমানা করা হয়েছে।

• ভাববাচ্য:
যে বাচ্যে কর্ম থাকে না এবং বাক্যে ক্রিয়ার অর্থই বিশেষভাবে ব্যক্ত হয় তাকে ভাববাচ্য বলে।

• মূল ক্রিয়ার সঙ্গে সহযোগী ক্রিয়ার সংযোগ ও বিভিন্ন অর্থে ভাববাচ্যের ক্রিয়া গঠিত হয়।
যেমন -
- এ ব্যাপারে আমাকে দায়ী করা চলে না।
- এ রাস্তা আমার চেনা নেই।
- তাঁর সেখানে যাওয়া হবে না। 
- তাঁর দ্বারা এ কাজটি করা হবে। 

• কর্মকর্তৃবাচ্য:
এছাড়াও বাংলায় আরো এক ধরনের প্রকাশভঙ্গির বাক্য দেখা যায়। এ ধরনের বাক্যের বাচ্যকে বলা হয় কর্মকর্তৃবাচ্য।
- এ ধরনের বাক্যে কর্তাপদ উহ্য থাকে, তবে কর্মপদ থাকে। আর ওই কর্মপদই কর্তার কাজ করে।
- অর্থাৎ, যে বাক্যে কর্তা থাকে না, কর্মই কর্তার কাজ করে, তাকে কর্মকর্তৃবাচ্য বলে।
যেমন:
- কাজটা ভাল দেখায় না।
- বাঁশি বাজে এ মধুর লগনে। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৯৬১.
'রবিবার থেকে পরীক্ষা শুরু।' এখানে 'রবিবার থেকে' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্তৃকারকে ৫মী বিভক্তি
  2. কর্ম কারকে ৫মী বিভক্তি
  3. করণ কারকে ৫মী বিভক্তি
  4. অপাদান কারকে ৫মী বিভক্তি
সঠিক উত্তর:
অপাদান কারকে ৫মী বিভক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপাদান কারকে ৫মী বিভক্তি
ব্যাখ্যা

• 'রবিবার থেকে পরীক্ষা শুরু।' এখানে 'রবিবার ’ থেকে' অপাদান কারকে ৫মী বিভক্তি।

• অপাদান কারক:
- যা থেকে কিছু বিচ্যুত, গৃহীত, জাত, বিরত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয় এবং যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকেই অপাদান কারক বলে।
যেমন-
- বিচ্যুত: গাছ থেকে পাতা পড়ে। মেঘ থেকে বৃষ্টি পড়ে।
- গৃহীত : সুক্তি থেকে মুক্তো মেলে। দুধ থেকে দই হয়।
- জাত : জমি থেকে ফসল পাই। খেজুর রসে গুড় হয়।
- বিরত : পাপে বিরত হও।
- দূরীভূত : দেশ থেকে পঙ্গপাল চলে গেছে।
- রক্ষিত : বিপদ থেকে বাঁচাও।
- আরম্ভ : সোমবার থেকে পরীক্ষা শুরু।
- ভীত : বাঘকে ভয় পায় না কে?

• ৫মী বিভক্তি: হতে, থেকে, চেয়ে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

৯৬২.
কোনটি শুদ্ধ বাক্য?
  1. একটা গোপনীয় কথা বলি
  2. একটি গোপন কথা বলি
  3. একটি গোপণ কথা বলি
  4. একটি গুপ্ত কথা বলি
সঠিক উত্তর:
একটা গোপনীয় কথা বলি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
একটা গোপনীয় কথা বলি
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বাক্য: একটা গোপনীয় কথা বলি।

এমনকিছু অশুদ্ধ ও শুদ্ধ বাক্য হলো-
• অশুদ্ধ বাক্য: আমি সাক্ষী দিব না।
• শুদ্ধ বাক্য: আমি সাক্ষ্য দিব না।

• অশুদ্ধ বাক্য: এ কথা প্রমাণ হয়েছে।
• শুদ্ধ বাক্য: এ কথা প্রমাণিত হয়েছে।

• অশুদ্ধ বাক্য: অনাবশ্যকীয় ব্যাপারে কৌতূহল ভালো নয়।
• শুদ্ধ বাক্য: অনাবশ্যক ব্যাপারে কৌতূহল ভালো নয়।

• অশুদ্ধ বাক্য: পূর্বদিকে সূর্য উদয় হয়।
• শুদ্ধ বাক্য: পূর্বদিকে সূর্য উদিত হয়।

• অশুদ্ধ বাক্য: ঘটনা বর্ণনা হয়েছে।
• শুদ্ধ বাক্য: ঘটনা বর্ণিত হয়েছে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৯৬৩.
শুদ্ধ বানান কোনটি?
  1. অনির্বাচ্চ
  2. অনিবাচ্য
  3. অনিবার্চ‍‍্য 
  4. অনির্বাচ্য
সঠিক উত্তর:
অনির্বাচ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনির্বাচ্য
ব্যাখ্যা

শুদ্ধ বানান- অনির্বাচ্য। 
- বিশেষণ পদ। 
- এটি সংস্কৃত শব্দ। 
অর্থ:
- বাক্যে প্রকাশ করা যায় না এমন, 
- বর্ণনার অতীত,
- নির্বাচনের অযোগ্য।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান। 

৯৬৪.
নিচের কোনটিতে তৃতীয়া বিভক্তির ব্যবহার হয়েছে?
  1. ফেরদৌসী কর্তৃক শাহনামা রচিত হয়েছে।
  2. হামিদ বই পড়ে।
  3. আমার যাওয়া হয়নি।
  4. চোরে না শুনে ধর্মের কাহিনি।
সঠিক উত্তর:
ফেরদৌসী কর্তৃক শাহনামা রচিত হয়েছে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফেরদৌসী কর্তৃক শাহনামা রচিত হয়েছে।
ব্যাখ্যা

কর্তৃকারক:
- বাক্যস্থিত যে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদ ক্রিয়া সম্পন্ন করে তা ক্রিয়ার কর্তা বা কর্তৃকারক। ক্রিয়ার সঙ্গে 'কে' বা 'কারা' যোগ করে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, তা-ই কর্তৃকারক।

কর্তৃকারকে বিভিন্ন বিভক্তির ব্যবহার:
প্রথমা শূন্য বা অ বিভক্তি: হামিদ বই পড়ে।
দ্বিতীয়া বা কে বিভক্তি: বশিরকে যেতে হবে।
তৃতীয়া বা দ্বারা বিভক্তি: ফেরদৌসী কর্তৃক শাহনামা রচিত হয়েছে।
ষষ্ঠী বা র বিভক্তি: আমার যাওয়া হয়নি।
সপ্তমী বিভক্তি: চোরে না শুনে ধর্মের কাহিনি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৯৬৫.
অশুদ্ধ বানান কোনটি?
  1. স্বাতন্ত্র্য
  2. স্বত্বাধিকারী
  3. অহর্নিশ
  4. অনুসুয়া
সঠিক উত্তর:
অনুসুয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুসুয়া
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে, 
- 'অনসূয়' শব্দটি শুদ্ধ।  

• অনসূয় (বিশেষণ): 
- সংস্কৃত শব্দ। 
- প্রকৃতি প্রত্যয় = ন+অসূয়া। 
শব্দের অর্থ: ঈর্ষাশূন্য, বিদ্বেষহীন। 
- 'অনসূয়' এর স্ত্রী লিঙ্গ = 'অনসূয়া'। 

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯৬৬.
কোনটি অপপ্রয়োগের উদাহরণ নয়?
  1. শ্রেষ্ঠতম
  2. তরুছায়া
  3. মূলসহ
  4. আয়ত্তাধীন
সঠিক উত্তর:
মূলসহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মূলসহ
ব্যাখ্যা

• অপপ্রয়োগের উদাহরণ নয় - মূলসহ।

উল্লেখ্য, 
• 'সমূলসহ', সমাস-ঘটিত অপপ্রয়োগ। 
এর শুদ্ধরূপ: মূলসহ। 
 ----------------- 
অন্যদিকে,
• 'শ্রেষ্ঠতম', উৎকর্ষবাচক '-তম' প্রত্যয়জনিত অপপ্রয়োগ।
এর শুদ্ধরূপ: শ্রেষ্ঠ, সর্বশ্রেষ্ঠ।

• 'তরুছায়া', সন্ধি বিষয়ক অপপ্রয়োগ।
এর শুদ্ধরূপ: তরুচ্ছায়া।

• 'আয়ত্তাধীন', সমার্থ শব্দের বাহুল্যজনিত অপপ্রয়োগ।
এর শুদ্ধরূপ: আয়ত্ত / অধীন।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ ও বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান

৯৬৭.
'বাঁশি বাজে ঐ মধুর লগনে' - এটা কোন ধরনের বাচ্যের উদাহরণ?
  1. কর্তৃবাচ্য
  2. কর্মবাচ্য
  3. ভাববাচ্য
  4. কর্ম-কর্তৃবাচ্য
সঠিক উত্তর:
কর্ম-কর্তৃবাচ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্ম-কর্তৃবাচ্য
ব্যাখ্যা
• কর্মকর্তৃবাচ্য:
এছাড়াও বাংলায় আরো এক ধরনের প্রকাশভঙ্গির বাক্য দেখা যায়। এ ধরনের বাক্যের বাচ্যকে বলা হয় কর্মকর্তৃবাচ্য।
- এ ধরনের বাক্যে কর্তাপদ উহ্য থাকে, তবে কর্মপদ থাকে। আর ওই কর্মপদই কর্তার কাজ করে।
- অর্থাৎ, যে বাক্যে কর্তা থাকে না, কর্মই কর্তার কাজ করে, তাকে কর্মকর্তৃবাচ্য বলে।
যেমন:
- কাজটা ভাল দেখায় না।
- বাঁশি বাজে এ মধুর লগনে।

[এখানে কর্তা নেই। বাঁশি নিজেই কর্তার মতো বাক্যকে নেতৃত্ব দিচ্ছে বা বাজার কাজ সম্পন্ন করছে।]

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৯৬৮.
কোন পদরূপে 'কি' শব্দটি লিখতে ঈ-কার ব্যবহৃত হয়?
  1. বিশেষ্য
  2. উপসর্গ
  3. বিশেষণ
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
বিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশেষণ
ব্যাখ্যা
• সর্বনাম, বিশেষণ, ক্রিয়া-বিশেষণ ও যোজক পদরূপে কী শব্দটি ঈ-কার দিয়ে লেখা হবে।
যেমন:
- এটা কী বই?
- কী আনন্দ!
- কী আর বলব?
- কী করছ?
- কী করে যাব?
- কী খেলে?
- কী জানি?

উৎস: বাংলা একাডেমি, প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম।
৯৬৯.
'সুবুদ্ধিমান' শব্দটিতে কোন ধরনের অশুদ্ধি ঘটেছে?
  1. প্রত্যয় সাধিত 
  2. সমার্থ শব্দের বাহুল্যজনিত 
  3. সন্ধি সাধিত 
  4. সমাস সাধিত 
  5. কোনোটিই নয় 
সঠিক উত্তর:
সমার্থ শব্দের বাহুল্যজনিত 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমার্থ শব্দের বাহুল্যজনিত 
ব্যাখ্যা

• 'সুবুদ্ধিমান' শব্দটিতে সমার্থ শব্দের বাহুল্যজনিত অশুদ্ধি ঘটেছে। 

সমার্থ শব্দের বাহুল্যজনিত অশুদ্ধি:

অশুদ্ধ - শুদ্ধ:
অদ্যাপিও - অদ্যাপি/অদ্যও।  
কদাপিও - কদাপি। 
সময়কাল - সময়/কাল। 
বিবিধপ্রকার - বিবিধ। 
সুবুদ্ধিমান - সুবুদ্ধি/বুদ্ধিমান। 
আয়ত্তাধীন - আয়ত/অধীন। 
শুধুমাত্র - শুধু/মাত্র। 
কেবলমাত্র - কেবল/মাত্র। 
সমূলসহ - সমূল/মূলসহ। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৯৭০.
কোনো কিছু দেখে শুনে অবাক হয়ে যে ধরনের বাক্য তৈরি হয়, তাকে কী বলে?
  1. ক) বিবৃতিবাচক
  2. খ) প্রশ্নবাচক
  3. গ) অনুজ্ঞাবাচক
  4. ঘ) আবেগবাচক
সঠিক উত্তর:
ঘ) আবেগবাচক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) আবেগবাচক
ব্যাখ্যা
বক্তব্যের লক্ষ্য অনুযায়ী বাক্যকে বিবৃতিবাচক, নেতিবাচক, প্রশ্নবাচক, অনুজ্ঞাবাচক ও আবেগবাচক প্রভৃতি
ভাগে ভাগ করা যায়। 

আবেগবাচক বাক্য: কোনাে কিছু দেখে বা শুনে অবাক হয়ে যে ধরনের বাক্য তৈরি হয়, তাকে আবেগবাচক বাক্য বলে।
যেমন -
দারুণ! আমরা জিতে গিয়েছি।
অত উঁচু পাহাড়ে উঠে আমি তাে ভয়েই মরি!

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৯৭১.
কোন কারকে 'দ্বারা’, 'দিয়ে', 'কর্তৃক' ইত্যাদি অনুসর্গ যুক্ত হয়?
  1. অধিকরণ কারক
  2. অপাদান কারক
  3. কর্ম কারক
  4. করণ কারক
সঠিক উত্তর:
করণ কারক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
করণ কারক
ব্যাখ্যা
কারক:
- ক্রিয়ার সঙ্গে বাক্যের বিশেষ্য ও সর্বনামের যে সম্পর্ক, তাকে কারক বলে।
- কারক সম্পর্ক বোঝাতে বিশেষ্য ও সর্বনামের সঙ্গে সাধারণত বিভক্তি ও অনুসর্গ যুক্ত হয়ে থাকে।

• কারক ছয় প্রকার। যথা:
১. কর্তা কারক,
২. কর্ম কারক,
৩. করণ কারক,
৪. অপাদান কারক,
৫.অধিকরণ কারক ও
৬. সম্বন্ধ কারক।

করণ কারক:
- যার দ্বারা বা যে উপায়ে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে করণ কারক বলে।
- এই কারকে সাধারণত 'দ্বারা’, 'দিয়ে', 'কর্তৃক' ইত্যাদি অনুসর্গ যুক্ত হয়
যেমন -
ভেড়া দিয়ে চাষ করা সম্ভব নয়।
চাষিরা ধারালাে কাস্তে দিয়ে ধান কাটছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৯৭২.
'রূপার চেয়ে সোনার দাম বেশি।' নিম্নরেখ শব্দটি যে কারকের দুষ্টান্ত-
  1. ক) কর্ম
  2. খ) কর্তৃ
  3. গ) করণ
  4. ঘ) অধিকরণ
সঠিক উত্তর:
ক) কর্ম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) কর্ম
ব্যাখ্যা
যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে কর্মকারক বলে৷
ক্রিয়ার সঙ্গে 'কী' বা 'কাকে' যোগ করে প্রশ্ন করলে কর্মকারক পাওয়া যায়৷
প্রশ্নোক্ত বাক্যে কর্তা না থাকলেও 'কী' প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'সোনা'।
উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৯৭৩.
উপমার ভুল প্রয়োগ ঘটেছে কোন বাক্যে?
  1. আমার হৃদয় মন্দিরে আশার বীজ উপ্ত হলো। 
  2. এক মাঘে শীত যায় না। 
  3. বিরাট গরু ছাগলের হাট।  
  4. এখানে হাতের সুন্দর লেখা শেখানো হয়। 
সঠিক উত্তর:
আমার হৃদয় মন্দিরে আশার বীজ উপ্ত হলো। 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আমার হৃদয় মন্দিরে আশার বীজ উপ্ত হলো। 
ব্যাখ্যা

উপমার ভুল প্রয়োগ: 
- উপমার ভুল প্রয়োগ ঘটে যখন তুলনা অপ্রাসঙ্গিক, বেমানান বা অযৌক্তিক হয়।
- উপমার ভুল প্রয়োগ বাক্যের স্বাভাবিকতা নষ্ট করে।
- উপমার ভুল প্রয়োগে অর্থ বোঝায় অসুবিধার সৃষ্টি হয়।

আমার হৃদয়-মন্দিরে আশার বীজ উপ্ত হলো। বাক্যটি সঠিক নয় (উপমার ভুল প্রয়োগ ঘটেছে)। কেননা বীজ বপন করা হয় খেতে, মন্দিরে নয়।
সঠিক বাক্যটি হবে আমার হৃদয় ক্ষেত্রে আশার বীজ উপ্ত হলো।

অন্যদিকে, 

• “এখানে হাতের সুন্দর লেখা শেখানো হয়" এই বাক্যে পদক্রম ঠিক নেই। 
- কারণ, হাতের সুন্দর লেখা বলে কিছু হয়না, কিন্তু সুন্দর হাতের লেখা হতে পারে। এখানে ‘সুন্দর’ শব্দটি হাতের লেখার গুণমান বা বৈশিষ্ট্য নির্দেশ করছে। অর্থাৎ, এটি কোনো বস্তু বা নাম নয়, বরং একটি বিশেষণ, যা লেখার রূপ বা মানের বর্ণনা দিচ্ছে।
সঠিক প্রয়োগ হবে যখন বলা হবে- 'এখানে সুন্দর হাতের লেখা শেখানো হয়'।

• বিরাট গরু ছাগলের হাট-
এখানে, "বিরাট" শব্দটি "হাট" কে বিশেষিত করছে, "গরু-ছাগল" কে নয়। অর্থাৎ, শিরোনামটির প্রকৃত অর্থ হলো— "বিরাট (বৃহৎ) গরু-ছাগলের হাট"। গঠনগতভাবে, "গরু-ছাগলের" একটি সম্বন্ধ পদ যা হাটের ধরন বোঝাচ্ছে (গরু-ছাগলের জন্য নির্দিষ্ট হাট)।
সঠিক পদক্রম: বিরাট (বিশেষণ) + গরু-ছাগলের (সম্বন্ধ পদ) + হাট (বিশেষ্য)।

• বাগ্‌ধারার প্রয়োগে শুদ্ধবাক্য: 
- এক মাঘে শীত যায়না।
- এই বাগ্‌ধারাটির অর্থ হচ্ছে- বিপদ বা প্রতিকূল অবস্থা সব সময় এক রকম থাকেনা। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 

৯৭৪.
প্রত্যক্ষ কোনো বস্তুর সাথে পরোক্ষ কোনো বস্তুর তুলনা করলে প্রত্যক্ষ বস্তুটিকে বলা হয়-
  1. উপমিত
  2. উপমান
  3. রূপক
  4. উপমেয়
সঠিক উত্তর:
উপমেয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপমেয়
ব্যাখ্যা

• উপমান অর্থ তুলনীয় বস্তু।
• প্রত্যক্ষ কোনো বস্তুর সাথে পরোক্ষ কোনো বস্তুর তুলনা করলে প্রত্যক্ষ বস্তুটিকে বলা হয় উপমেয়।
• আর যার সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে তাকে বলা হয় উপমান।
• উপমান এবং উপমেয়ের একটি সাধারণ ধর্ম থাকবে।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম-দশম শ্রেণি।

৯৭৫.
নিম্নের কোনটি শুদ্ধ বাক্য?
  1. ক) দৈন্যতা প্রশংসনীয় নয়
  2. খ) শুধুমাত্র তুমি গেলেই হবে 
  3. গ) একের লাঠি দশের বোঝা
  4. ঘ) আমার মামা ও আমি ঢাকা গিয়েছিলাম
সঠিক উত্তর:
ঘ) আমার মামা ও আমি ঢাকা গিয়েছিলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) আমার মামা ও আমি ঢাকা গিয়েছিলাম
ব্যাখ্যা
** অশুদ্ধ - শুদ্ধ 
• তার উদ্ধতপূর্ণ আচরণে ব্যথিত হয়েছি - তার উদ্ধত (বা ঔদ্ধতপূর্ণ) আচরণে ব্যথিত হয়েছি 
• দৈন্যতা প্রশংসনীয় নয়। - দীনতা প্রশংসনীয় নয়।
• তোমার তথ্য গ্রাহ্যযোগ্য নয়। - তোমার তথ্য গ্রহণযোগ্য নয়।
• শুধুমাত্র তুমি গেলেই হবে। - শুধু তুমি গেলেই হবে।
• আমি সাক্ষী দিব না। - আমি সাক্ষ্য দিব না।
• একের লাঠি দিশের বোঝা। - দশের লাঠি একের বোঝা।
• আমি তোমার কাছে কৃতজ্ঞতা রইলাম। - আমি তোমার নিকট কৃতজ্ঞ রইলাম।
• আমি ও আমার মামা ঢাকা গিয়েছিলাম। - আমার মামা ও আমি ঢাকা গিয়েছিলাম।


উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৭৬.
নিচের কোনটি অপপ্রয়োগ?
  1. চঞ্চলতা
  2. গম্ভীরতা
  3. স্বতঃপ্রণোদিত
  4. গাম্ভীর্যতা
সঠিক উত্তর:
গাম্ভীর্যতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গাম্ভীর্যতা
ব্যাখ্যা

• অপপ্রয়োগ - গাম্ভীর্যতা।
- এটি '-তা' এবং 'ত্ব' প্রত্যয় ঘটিত অপপ্রয়োগ।
- এর শুদ্ধ প্রয়োগ - গাম্ভীর্য, গম্ভীরতা।

অন্যদিকে,
শুদ্ধ প্রয়োগ হবে: চঞ্চলতা; গম্ভীরতা; স্বতঃপ্রণোদিত। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৯৭৭.
“তার চুল পেকেছে কিন্তু বুদ্ধি বাড়েনি'- কোন ধরনের বাক্য?
  1. ক) সরল বাক্য
  2. খ) জটিল বাক্য
  3. গ) যৌগিক বাক্য
  4. ঘ) মিশ্র বাক্য
সঠিক উত্তর:
গ) যৌগিক বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) যৌগিক বাক্য
ব্যাখ্যা
“তার চুল পেকেছে কিন্তু বুদ্ধি বাড়েনি'- যৌগিক বাক্যের উদাহরণ। 

যৌগিক বাক্য:
- দুই বা ততোধিক স্বাধীন বাক্য যখন যোজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে একটি বাক্যে পরিণত হয়, তখন তাকে যৌগিক বাক্য বলে।
- এবং,  ও, আর, অথবা, বা, কিংবা, কিন্তু,অথচ, সেজন্য, ফলে ইত্যাদি যোজক যৌগিক বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
- কমা(, ), সেমিকোলন(ঃ), কোলন( ; ), ড্যাশ( -) ইত্যাদি যতিচিহ্নও যোজকের কাজ করে।
- যেমন: লােকটি অশিক্ষিত, কিন্তু অভদ্র নয়।

সরল বাক্য: 
যে বাক্যে একটি মাত্র কর্তা (উদ্দেশ্য) এবং একটি মাত্র সমাপিকা ক্রিয়া (বিধেয়) থাকে, তাকে সরল বাক্য বলে।
যেমন - পুকুরে পদ্মফুল জন্মে।

জটিল বাক্য: 
একটি মূল বাক্যের অধীনে এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য বা বাক্যাংশ থাকলে জটিল বাক্য তৈরি হয়।
যেমন-
যদি তোমার কিছু বলার থাকে, তবে এখনই বলে ফেলো।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নির্মিত, নবম-দশম শ্রেণি, সংস্করণ ২০২২।
৯৭৮.
যতিচিহ্ন ব্যবহার করা হয় কেন?
  1. বাক্যকে অলংকৃত করার জন্য
  2. বাক্যের সৌন্দর্যের জন্য
  3. বাক্যের অর্থ স্পষ্টকরণের জন্য
  4. বাক্য সংকোচনের জন্য
সঠিক উত্তর:
বাক্যের অর্থ স্পষ্টকরণের জন্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাক্যের অর্থ স্পষ্টকরণের জন্য
ব্যাখ্যা
যতিচিহ্ন:
- বাক্যের অর্থ সুস্পষ্টভাবে বোঝাবার জন্য বাক্যের মধ্যে বা বাক্যের শেষে কিংবা বাক্যের আবেগ (আনন্দ, বেদনা, দুঃখ), জিজ্ঞাসা ইত্যাদি প্রকাশের উদ্দেশে বাক্যগঠনে যেভাবে বিরতি দিতে হয়।
- লেখার সময় বাক্যের মধ্যে তা দেখানোর জন্য যেসব সাংকেতিক চিহ্ন ব্যবহার করা হয়, সেগুলোই বিরামচিহ্ন বা যতিচিহ্ন বা ছেদচিহ্ন।

• বাক্যের অর্থ সুস্পষ্টভাবে বোঝাবার জন্য,
- বাক্যের মধ্যে বা বাক্যের সমাপ্তিতে কিংবা বাক্যে আবেগ (হর্ষ, বিষাদ), জিজ্ঞাসা ইত্যাদি প্রকাশ করার উদ্দেশ্যে,
- বাক্য গঠনে যেভাবে বিরতি দিতে হয় এবং লেখার সময় বাক্যের মধ্যে তা দেখাবার জন্য,
- যেসব সাংকেতিক চিহ্ন ব্যবহার করা হয়, সেগুলোই যতি বা ছেদচিহ্ন বা বিরাম- চিহ্ন।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
২) ভাষা- শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৯৭৯.
নিচের কোন বাক্যটি শুদ্ধ?
  1. ক) ছেলেটি বংশের চোখে চুনকালি দিল
  2. খ) তিনি স্বত্রীক ঢাকায় থাকেন
  3. গ) তাহার বৈমাত্রেয় ভ্রাতা অসুস্থ
  4. ঘ) নীরোগ লোকেরাই প্রকৃত অসুখী
সঠিক উত্তর:
গ) তাহার বৈমাত্রেয় ভ্রাতা অসুস্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) তাহার বৈমাত্রেয় ভ্রাতা অসুস্থ
ব্যাখ্যা
• প্রদত্ত প্রশ্নে শুদ্ধ বাক্য হচ্ছে - তাহার বৈমাত্রেয় ভ্রাতা অসুস্থ।
- বাকি অপশনগুলো অশুদ্ধ নিয়মে গঠিত।

• অপশনগুলোর শুদ্ধরূপ হচ্ছে - 
- ছেলেটি বংশের মুখে চুনকালি দিল।
- নীরোগ লোকেরাই প্রকৃত সুখী।
- তিনি সস্ত্রীক ঢাকায় থাকেন।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ, ড. মোহাম্মদ আমীন।
৯৮০.
তুমি কী খাবে? - এ বাক্যে কী কোন পদ?
  1. ক) বিশেষ্য
  2. খ) বিশেষণ
  3. গ) সর্বনাম
  4. ঘ) ক্রিয়া বিশেষণ
সঠিক উত্তর:
গ) সর্বনাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সর্বনাম
ব্যাখ্যা
কী + ক্রিয়া = সর্বনাম। এখানে কী-এর উত্তর হয় ভাত/মাছ/বিরিয়ানি, অর্থাৎ কোনো খাবারের নাম, সুতরাং কী হলো সর্বনাম।

উৎস : নবম-দশম শ্রেণি পুরাতন ও নতুন ব্যাকরণ, ভাষা-শিক্ষা, বাংলা একাডেমির ব্যাকরণ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ। 
৯৮১.
নিম্নের কোনটি অশুদ্ধ বানান?
  1. ক) শ্রেনি
  2. খ) প্রাণিবিদ্যা
  3. গ) পদবি
  4. ঘ) কিংবদন্তি
সঠিক উত্তর:
ক) শ্রেনি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) শ্রেনি
ব্যাখ্যা
অশুদ্ধ বানান = শ্রেনি 
শুদ্ধ রূপ = শ্রেণি 

শ্রেণি (বিশেষ্য) 
- সংস্কৃত শব্দ 
- প্রকৃতি প্রত্যয় = √শ্রি+ণি 
অর্থ: 
- বিভাগ, ক্লাস
- গুণানুযায়ী স্থান
- সারি, পঙ্‌ক্তি
- সম্প্রদায়, সমাজ
- একসঙ্গে অবস্থান করে এমন দল বা যূথ। 

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
৯৮২.
'ছাত্ররা ক্রিকেট খেলছে।'- এখানে 'ক্রিকেট' কোন কারক?
  1. করণ কারক
  2. কর্ম কারক
  3. অপাদান কারক
  4. সম্বন্ধ কারক
সঠিক উত্তর:
কর্ম কারক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্ম কারক
ব্যাখ্যা
কর্ম কারক:
- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে কর্ম কারক বলে।
- বাক্যের মুখ্য কর্ম ও গৌণ কর্ম- উভয় ধরনের কর্মই কর্ম কারক হিসেবে গণ্য হয়।
- সাধারনত মুখ্য কর্ম কারকে বিভক্তি হয় না, তবে গৌণ কর্ম কারকে- 'কে' বিভক্তি হয়।
যেমন,
- শিক্ষককে জানাও।
- অসহায়কে সাহায্য করো।

• ক্রিয়ার সঙ্গে 'কী' বা 'কাকে' যোগ করে প্রশ্ন করলে কর্মকারক পাওয়া যায়৷

তাই,
'ছাত্ররা ক্রিকেট খেলছে।'- এখানে 'ক্রিকেট' কর্ম কারক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( সংস্করণ- ২০২১)।
৯৮৩.
'বিদ্বান সকলের দ্বারা আদৃত হন।' - বাক্যটিকে কর্তৃবাচ্য রূপান্তর করলে কোনটি হবে?
  1. বিদ্বান দ্বারা সবাই আদৃত হন।
  2. বিদ্বানকে সকলেই আদর করে।
  3. বিদ্বান দ্বারা সবাই সমাদৃত হন।
  4. বিদ্বানকে সকলেই পছন্দ করে।
সঠিক উত্তর:
বিদ্বানকে সকলেই আদর করে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিদ্বানকে সকলেই আদর করে।
ব্যাখ্যা

• কর্তৃবাচ্য থেকে কর্মবাচ্য:
কর্তৃবাচ্যের বাক্যকে কর্মবাচ্যে পরিবর্তিত করতে হলে -
(১) কর্তায় তৃতীয়া,
(২) কর্মে প্রথমা বা শূন্য বিভক্তি এবং
(৩) ক্রিয়া কর্মের অনুসারী হয়।
- কর্তৃবাচ্যের ক্রিয়া অকর্মক হলে সেই বাক্যের কর্মবাচ্য হয় না।
- কর্তৃবাচ্যে ব্যবহৃত তৎসম মিশ্রক্রিয়াটি কর্মবাচ্যে যৌগিক ক্রিয়াজাত ক্রিয়াবিশেষণ রূপে ব্যবহৃত হয়।

কর্তৃবাচ্য → কর্মবাচ্য:
(ক) বিদ্বানকে সকলেই আদর করে। ⇒ (ক) বিদ্বান সকলের দ্বারা আদৃত হন।
(খ) খোদাতায়ালা বিশ্বজগৎ সৃষ্টি করেছেন। ⇒ (খ) বিশ্বজগৎ খোদাতায়ালা কর্তৃক সৃষ্ট হয়েছে।
(গ) সুমাইয়া পুস্তক পাঠ করছে। ⇒ (গ)  সুমাইয়া কর্তৃক পুস্তক পঠিত হচ্ছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৯৮৪.
'রুখের তেন্তুলি কুমীরে খাই’--এর অর্থ কী?
  1. ক) তেজি কুমিরকে রুখে দিই
  2. খ) বৃক্ষের শাখায় পাকা তেঁতুল
  3. গ) গাছের তেঁতুল কুমিরে খায়
  4. ঘ) ভুল থেকে শিক্ষা নিতে হয়
সঠিক উত্তর:
গ) গাছের তেঁতুল কুমিরে খায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) গাছের তেঁতুল কুমিরে খায়
ব্যাখ্যা

চর্যাপদের ২নং পদের রচয়িতা কুক্কুরী পা।
পদটি হলো:
“দুলি দুহি পিটা ধরণ ন জাই।
রুখের তেন্তুলি কুম্ভীরে খাঅ।।”

অর্থ্যাৎ, "মাদী কাছিম দোহন করে দুধ পাত্রে রাখা যাচ্ছে না। গাছের তেঁতুল কুমিরে খাচ্ছে।"
সুতুরাং, 'রুখের তেন্তুলি কুমীরে খাই' অর্থ - গাছের তেঁতুল কুমিরে খাচ্ছে।

উৎস: বাংলাবাজার আর্কাইভ।


৯৮৫.
নির্দেশাত্মক বাক্যের শেষে কোন যতিচিহ্ন বসে?
  1. বিস্ময়
  2. দাঁড়ি
  3. প্রশ্নবোধক
  4. সেমিকোলন
সঠিক উত্তর:
দাঁড়ি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দাঁড়ি
ব্যাখ্যা
• দাঁড়ি বা পূর্ণছেদ:
বাংলা ভাষায় দাঁড়ি একটি বহুল ব্যবহৃত যতিচিহ্ন। বাক্যের মধ্যে বক্তব্য সমাপ্ত হলে অথবা অর্থ সম্পূর্ণ হলে দাড়ি বা পূর্ণচ্ছেদ বসে।

এর প্রয়োগ ক্ষেত্র হচ্ছে-
- অনুজ্ঞাসূচক বাক্যের শেষে দাঁড়ি বসে। যেমন- কাল একবার এসো।
- নির্দেশাত্মক বাক্যের শেষে দাঁড়ি বসে। যেমন- সব সময় সত্য কথা বলবে।
- পরোক্ষ প্রশ্নের শেষে প্রশ্নবোধক চিহ্নের বদলে দাড়ি ব্যবহার হয়। যেমন-সীমা জানতে চাইল রীমা কবে আসবে।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৮৬.
'বুদ্ধি খাটিয়ে কাজ কর।' - কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্তায় শূন্য
  2. করণে দ্বিতীয়া
  3. কর্মে শূন্য
  4. করণে শূন্য
সঠিক উত্তর:
করণে শূন্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
করণে শূন্য
ব্যাখ্যা

করণ কারক:
- 'করণ' শব্দটির অর্থ যন্ত্র, সহায়ক বা উপায়। ক্রিয়া সম্পাদনের যন্ত্র, উপকরণ বা সহায়ককেই করণ কারক বলে। বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদের সঙ্গে 'কীসের দ্বারা' বা কী উপায়ে' প্রশ্ন করলে যে উত্তরটি পাওয়া যায়, তা- ই করণ কারক।

যেমন:
- জগতে কীর্তিমান হও সাধনায়
- এ সাবানে কাপড় কাচা চলবে না।
- বুদ্ধি খাটিয়ে কাজ কর। (করণে শূন্য)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)।

৯৮৭.
প্রয়োগের অর্থ বিবেচনায় নিচের কোন শব্দটি শুদ্ধ?
  1. ক) সুস্বাস্থ্য
  2. খ) সচিত্রিত
  3. গ) শ্রেষ্ঠতম
  4. ঘ) স্বাগত
সঠিক উত্তর:
ঘ) স্বাগত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) স্বাগত
ব্যাখ্যা
প্রয়োগের অর্থ বিবেচনায় শুদ্ধ হলো স্বাগত। অপশনে প্রদত্ত বাকি শব্দগুলোর প্রায়োগিক শুদ্ধরূপ যথাক্রমে স্বাস্থ্য, সচিত্র/চিত্রিত ও শ্রেষ্ঠ।
৯৮৮.
শুদ্ধ বানান কোনটি?
  1. মূমুর্ষূ
  2. মুমুর্ষু
  3. মুমূর্ষু
  4. মূমূর্ষ
সঠিক উত্তর:
মুমূর্ষু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুমূর্ষু
ব্যাখ্যা

• শুদ্ধ বানান - মুমূর্ষু
- এটি একটি বিশেষণ পদ।
- এটি সংস্কৃত ভাষা থেকে আগত শব্দ।

অর্থ:
- মৃত্যুকাল আসন্ন এমন।
- মরণাপন্ন
- মৃতপ্রায়।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৯৮৯.
নিচের অপশনগুলো থেকে শুদ্ধ বানানটি চিহ্নিত করুন-
  1. ক) রৌদ্রকরৌজ্জল
  2. খ) রৌদ্রকরৌজ্জ্বল
  3. গ) রৌদ্রকরোজ্জ্বল
  4. ঘ) রৌদ্রকরুনজ্জ্বল
সঠিক উত্তর:
গ) রৌদ্রকরোজ্জ্বল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) রৌদ্রকরোজ্জ্বল
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমী আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে ‘রৌদ্রকরোজ্জ্বল’ শুদ্ধ বানান।
৯৯০.
‘ঘোড়াশকট’ শব্দটি কোন দোষে দুষ্ট?
  1. ক) বাহুল্য
  2. খ) গুরুচণ্ডালী
  3. গ) উপমার ভুল প্রয়োগ
  4. ঘ) দুর্বোধ্যতা
সঠিক উত্তর:
খ) গুরুচণ্ডালী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) গুরুচণ্ডালী
ব্যাখ্যা

‘ঘোড়াশকট’ শব্দটি গুরুচণ্ডালী দোষে দুষ্ট।
তৎসম শব্দের সঙ্গে দেশীয় শব্দের প্রয়োগ কখনো কখনো গুরুচণ্ডালী দোষ সৃষ্টি করে। এ দোষে দুষ্ট শব্দ তার যোগ্যতা হারায়।
শব্দটির সঠিক প্রয়োগ হবে ঘোড়াগাড়ি অথবা অশ্বশকট।
সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৯৯১.
‘ষ’ এর সঠিক প্রয়োগ ঘটেছে নিচের কোন শব্দে?
  1. ক) পুরষ্কার
  2. খ) পরিষ্কার
  3. গ) নমষ্কার
  4. ঘ) আশীষ
সঠিক উত্তর:
খ) পরিষ্কার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) পরিষ্কার
ব্যাখ্যা
র ধ্বনির পর যদি অ, আ ছাড়া অন্য স্বরধ্বনি থাকে তবে তার পরে ষ হয়। যেমন পরিষ্কার। অ আ ধ্বনি থাকলে স হবে। যেমন পুরস্কার, নমস্কার ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি
৯৯২.
বাংলা একাডেমী অভিধান অনুসারে শুদ্ধ বানানটি হলো-
  1. ক) বক্ষমাণ
  2. খ) পুরোহিত্য
  3. গ) পক্ক
  4. ঘ) প্রত্যুৎপন্নমতি
সঠিক উত্তর:
ঘ) প্রত্যুৎপন্নমতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) প্রত্যুৎপন্নমতি
ব্যাখ্যা

সঠিক বানানগুলো হলো:
- বক্ষ্যমাণ
- পৌরোহিত্য
- পক্ব
- প্রত্যুৎপন্নমতি

উৎসঃ বাংলা একাডেমী অভিধান।

৯৯৩.
যেসব বাক্যের বিধেয় অংশে ক্রিয়া থাকে, সেগুলোকে কোন ধরনের বাক্য বলে?
  1. সক্রিয় বাক্য
  2. বর্গ
  3. যোজক
  4. অক্রিয় বাক্য
সঠিক উত্তর:
সক্রিয় বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সক্রিয় বাক্য
ব্যাখ্যা
- বাক্যের বিধেয় অংশে ক্রিয়া থাকা-না থাকা বিবেচনায় বাক্যকে দুই ভাগে বিভক্ত করা যায়।
১/ সক্রিয় বাক্য ও
২/ অক্রিয় বাক্য।

• সক্রিয় বাক্য:
- যেসব বাক্যের বিধেয় অংশে ক্রিয়া থাকে, সেগুলোকে সক্রিয় বাক্য বলে।
যেমন-
আমার মা চাকরি করেন ।

• অক্রিয় বাক্য:
- যেসব বাক্যের বিধেয় অংশে ক্রিয়া থাকে না, সেগুলোকে অক্রিয় বাক্য বলে।
যেমন- তিনি বাংলাদেশের নাগরিক।
- তবে অতীত ও ভবিষ্যৎ কালের প্রয়োগে এগুলো সক্রিয় বাক্য হয়ে যায়।
যেমন- ‘তিনি বাংলাদেশের নাগরিক ছিলেন' বা ‘তিনি বাংলাদেশের নাগরিক হবেন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।।
৯৯৪.
নিচের কোনটি অপপ্রয়োগের দৃষ্টান্ত?
  1. দরিদ্রতা
  2. অধীন
  3. অদ্যাবধি
  4. অহোরাত্রি
সঠিক উত্তর:
অহোরাত্রি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অহোরাত্রি
ব্যাখ্যা
• 'অহোরাত্রি', সমাস-ঘটিত অপপ্রয়োগ।
- এর শুদ্ধরূপ: অহোরাত্র। 

'অহোরাত্র' শব্দের অর্থ : 
- এক সূর্যোদয় থেকে পরবর্তী সূর্যোদয় পর্যন্ত কালপর্ব।

অন্যদিকে, 
অপশনের অন্য শব্দগুলো শুদ্ধ। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ, বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৯৯৫.
‘সে এখানে এল এবং সব কথা খুলে বলল।’ - বাক্যটির সরল রূপ কোনটি?
  1. সে এখানে এল সব কথা বলার জন্য।
  2. সে এখানে এসে সব কথা খুলে বলল।
  3. এখানে এসে সে সব কথা খুলে বলেছিলো।
  4. সে এখানে আসল সব কথা খুলে বলতে।
সঠিক উত্তর:
সে এখানে এসে সব কথা খুলে বলল।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সে এখানে এসে সব কথা খুলে বলল।
ব্যাখ্যা

যৌগিক বাক্য থেকে সরল বাক্য:
- যৌগিক বাক্যে দুটি সমাপিকা ক্রিয়া থাকে; অন্যদিকে সরল বাক্যে থাকে একটি সমাপিকা ক্রিয়া। তাই যৌগিক বাক্য থেকে সরল বাক্যে রূপান্তরের সময়ে মাঝখানের সমাপিকা ক্রিয়াকে অসমাপিকা ক্রিয়ায় রূপান্তর করে নিতে হয়।

যেমন: 
- যৌগিক বাক্য: সে এখানে এল এবং সব কথা খুলে বলল।
- সরল বাক্য: সে এখানে এসে সব কথা খুলে বলল।

- যৌগিক বাক্য: লোকটি অশিক্ষিত, কিন্তু অভদ্ৰ নয়।
- সরল বাক্য: লোকটি অশিক্ষিত হলেও অভদ্র নয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ)।

৯৯৬.
'এ যুদ্ধে বাঁধা দিও না' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. ক) কর্তায় ৭মী
  2. খ) করণে ৭মী
  3. গ) অধিকরণে ৭মী
  4. ঘ) অপাদানে ৭মী
সঠিক উত্তর:
গ) অধিকরণে ৭মী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) অধিকরণে ৭মী
ব্যাখ্যা
⇒ অধিকরণ কারক:
ক্রিয়া সম্পাদনের কাল, স্থান ও সময়কে অধিকরণ কারক বলে। অর্থাৎ যে স্থানে বা সময়ে ক্রিয়া সম্পাদিত হয় সেটিই অধিকরণ কারক।
অর্থাৎ ক্রিয়াপদকে কোথায়, কোন স্থানে, কখন, কোন সময়ে, কবে, কোন বিষয়ে বা ব্যাপারে এসব প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায় সেটিই অধিকরণ কারক।
যেমন:
• এ যুদ্ধে বাঁধা দিও না।
[বাক্যটিকে কোন বিষয়ে বা ব্যাপারে বাঁধা দিও না দিয়ে প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় ‘যুদ্ধে’। অতএব এখানে যুদ্ধ অধিকরণ কারক এবং শব্দে ‘এ’ বিভক্তি যুক্ত থাকায় ‘যুদ্ধে’ অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি।]
৯৯৭.
"আমি বাড়ি গিয়ে দেখলাম, সবার খাওয়া হয়ে গেছে।" - বাক্যের "আমি বাড়ি গিয়ে দেখলাম" কোন ধরনের খণ্ডবাক্য?
  1. বিশেষণস্থানীয় খণ্ডবাক্য
  2. বিশেষ্যস্থানীয় খণ্ডবাক্য
  3. ক্রিয়াবিশেষণ স্থানীয় খণ্ডবাক্য
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
বিশেষ্যস্থানীয় খণ্ডবাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশেষ্যস্থানীয় খণ্ডবাক্য
ব্যাখ্যা
বিশেষ্যস্থানীয় অধীন খণ্ডবাক্য:
- যে অধীন খণ্ডবাক্য স্বাধীন খণ্ডবাক্যের যেকোনো পদের অধীন থেকে বিশেষ্যের কাজ করে, তাকে বিশেষ্যস্থানীয় অধীন খণ্ডবাক্য বলে। যেমন:
- আমি বাড়ি গিয়ে দেখলাম, সবার খাওয়া হয়ে গেছে।
 
অন্যদিকে,
বিশেষণস্থানীয় অধীন খণ্ডবাক্য:
- যে অধীন খণ্ডবাক্য স্বাধীন খণ্ডবাক্যের অন্তর্গত কোনো বিশেষ্য বা সর্বনামের দোষ, গুণ, অবস্থা প্রকাশ করে, তাকে বিশেষণস্থানীয় অধীন খণ্ডবাক্য বলে।
যেমন:
- যে পরিশ্রম করে, সেই সুখ লাভ করে। (অধীন খণ্ডবাক্যটি 'সে-ই' সর্বনামের অবস্থা প্রকাশ করছে)।

ক্রিয়া-বিশেষণস্থানীয় অধীন খণ্ডবাক্য:
- যে অধীন খণ্ডবাক্য ক্রিয়াপদের স্থান, কাল ও কারণ নির্দেশক অর্থে ব্যবহৃত হয়, তাকে ক্রিয়া-বিশেষণস্থানীয় অধীন খণ্ডবাক্য বলে।
যেমন:
- 'যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে, তবে একলা চলো রে।'

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
৯৯৮.
'অনাবশ্যকীয় ব্যাপারে কৌতূহল ভালো নয়।' - বাক্যটি কী কারণে অশুদ্ধ?
  1. সমাস ঘটিত
  2. সন্ধি জনিত
  3. বিশেষণের বাহুল্য প্রয়োগজনিত
  4. প্রত্যয়জনিত
সঠিক উত্তর:
বিশেষণের বাহুল্য প্রয়োগজনিত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশেষণের বাহুল্য প্রয়োগজনিত
ব্যাখ্যা

বিশেষ্যের জায়গায় বিশেষণের কিংবা বিশেষণের বাহুল্য প্রয়োগজনিত ভুল:
- বাক্যের মধ্যে ব্যবহৃত বিশেষ্য পদকে বিশেষণ কিংবা বিশেষণ পদকে বিশেষ্য ভেবে পদ পরিবর্তন করলে এ ধরনের ভুল হয়।

যেমন:
- আবশ্যক শব্দটি বিশেষণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
- এর বদলে ঈয় প্রত্যয় যোগ করে আবশ্যকীয় শব্দের ব্যবহার যথাযথ নয়।

অশুদ্ধ: অনাবশ্যকীয় ব্যাপারে কৌতূহল ভালো নয়।
শুদ্ধ: অনাবশ্যক ব্যাপারে কৌতূহল ভালো নয়।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৯৯৯.
শুদ্ধ বাক্য কোনটি?
  1. মেয়েটি বিদ্যান কিন্তু ঝগড়াটে।
  2. যাবতীয় প্রাণীবৃন্দ এই গ্রহের বাসিন্দা।
  3. মাদকাসক্তি ভালো নয়।
  4. পরোপকার মানুষত্বের পরিচায়ক।
সঠিক উত্তর:
মাদকাসক্তি ভালো নয়।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাদকাসক্তি ভালো নয়।
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বাক্য: মাদকাসক্তি ভালো নয়।

অন্যদিকে, 
• অশুদ্ধ: পরোপকার মানুষত্বের পরিচায়ক।
• শুদ্ধ: পরোপকার মনুষ্যত্বের পরিচায়ক।

• অশুদ্ধ: মেয়েটি বিদ্যান কিন্তু ঝগড়াটে।
• শুদ্ধ: মেয়েটি বিদুষী কিন্তু ঝগড়াটে।

• অশুদ্ধ: যাবতীয় প্রাণীবৃন্দ এই গ্রহের বাসিন্দা।
• শুদ্ধ: যাবতীয় প্রাণী এই গ্রহের বাসিন্দা।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১,০০০.
শুদ্ধ বাক্য কোনটি?
  1. সারা দেশব্যাপী দিবসটি উদ্‌যাপন করা হবে।
  2. সারা দেশে দিবসটি উদ্যাপন করা হবে।
  3. দেশব্যাপী দিবসটি উদ্যাপন করা হবে।
  4. সারা দেশে দিবসটি উদ্‌যাপন করা হবে।
সঠিক উত্তর:
সারা দেশে দিবসটি উদ্‌যাপন করা হবে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সারা দেশে দিবসটি উদ্‌যাপন করা হবে।
ব্যাখ্যা
উত্তর: ঘ) সারা দেশে দিবসটি উদ্‌যাপন করা হবে।

ব্যাখ্যা:
বাংলা ভাষায় শুদ্ধ বাক্য নির্ধারণের জন্য বানান, শব্দচয়ন, এবং ব্যাকরণগত নিয়ম বিবেচনা করতে হয়।

অপশনগুলোর বিশ্লেষণ:
ক) সারা দেশব্যাপী দিবসটি উদ্‌যাপন করা হবে:
- ‘উদ্‌যাপন’ বানান শুদ্ধ।
তবে ‘সারা দেশব্যাপী’ অশুদ্ধ, কারণ ‘সারা’ এবং ‘দেশব্যাপী’র দ্বৈত ব্যবহার অপ্রয়োজনীয়।
অর্থ্যাৎ, বাক্যটি শুদ্ধ নয়।

খ) সারা দেশে দিবসটি উদ্যাপন করা হবে:
- ‘উদ্যাপন’ বানান অশুদ্ধ।
অর্থ্যাৎ, বানান ভুলের কারণে বাক্যটি শুদ্ধ নয়।

গ) দেশব্যাপী দিবসটি উদ্যাপন করা হবে:
- ‘উদ্যাপন’ বানান অশুদ্ধ।
অর্থ্যাৎ, বানান ভুল এবং বাক্যাংশের অপ্রচলিত ব্যবহারের কারণে শুদ্ধ নয়।

ঘ) সারা দেশে দিবসটি উদ্‌যাপন করা হবে:
- ‘উদ্‌যাপন’ বানান শুদ্ধ।
- ‘সারা দেশে’ ব্যাকরণগতভাবে শুদ্ধ এবং প্রচলিত ব্যবহারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

অর্থাৎ, বাক্যটি বানান এবং ব্যাকরণের দিক থেকে সম্পূর্ণ শুদ্ধ।


উৎস:
- বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
- ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।