ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
• অবমর্ষন বানানটি ভুল।
• সঠিক বানান - অবমর্শন
অন্যদিকে,
কৌতূহল, ধূলিসাৎ, কৃতদাস বানানগুলো সঠিক।
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন
PrepBank · পাতা ৬৯ / ৬৯ · ৬,৮০১–৬,৮৭৬ / ৬,৯৫৩
বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
• অবমর্ষন বানানটি ভুল।
• সঠিক বানান - অবমর্শন
অন্যদিকে,
কৌতূহল, ধূলিসাৎ, কৃতদাস বানানগুলো সঠিক।
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
’ - লোপ চিহ্ন ব্যবহার করতে হয় শব্দ বা পদের মধ্যে কোন অক্ষর লোপ পেলে। যেমনঃ দু’বেলা ভাতই জোটে না।
() - বন্ধনি চিহ্ন ব্যবহৃত হয় কোনো কিছু ব্যাখ্যা করে বুঝাতে। যেমনঃ বৃত্তি পরীক্ষা (জুনিয়র) আগামী মাসে।
... - বর্জন চিহ্ন ব্যবহার করা হয় কোনো রচনার অংশবিশেষ বর্জন করা হলে সূচনাতে এটি ব্যবহৃত হয়। যেমন- …তব ঘৃণা তারে যেন/ তৃণসম দহে।
“ ”- উদ্ধৃতি চিহ্ন ব্যবহৃত হয় বক্তার বক্তব্য তুলে ধরার জন্য। যেমনঃ ভাগিনা বলিল, “মহারাজ পাখিটার শিক্ষা পুরা হইয়াছে”
“সকলের তরে সকলে আমরা, প্রত্যেকে মোরা পরের তরে।” — এই বাক্যটি যৌগিক বাক্য।
কারণ এখানে দুটি স্বাধীন উপবাক্য আছে—
"সকলের তরে সকলে আমরা"
"প্রত্যেকে মোরা পরের তরে"
যা কমা দিয়ে যুক্ত হয়েছে।
• যৌগিক বাক্য:
দুই বা ততোধিক স্বাধীন বাক্য যখন যোজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে একটি বাক্যে পরিণত হয়, তখন তাকে যৌগিক বাক্য বলে।
- এবং, ও, আর, অথবা, বা, কিংবা, কিন্তু, অথচ, সেজন্য, ফলে ইত্যাদি যোজক যৌগিক বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। কমা (,), সেমিকোলন (;), কোলন (:), ড্যাশ (−) ইত্যাদি যতিচিহ্নও যোজকের কাজ করে।
যেমন:
- দোষ স্বীকার কর, তোমাকে শাস্তি দেয়া হবে না।
- হামিদ বই পড়ছে, আর সীমা রান্না করছে।
- তিনি সত্যের পূজারি, এজন্য তিনি জগতের সর্বত্র আদৃত।
- সে ভালো ফল করেছে তাই আমরা আনন্দিত হয়েছি।
- সে ঘর ঝাড়ু দিল, ঘর মুছল, তারপর পড়তে বসল ৷
- অন্ধকার হয়ে এসেছে অথচ সে বাসাই ফিরেনি।
- এখনই যাও, নচেৎ তার দেখা পাবে না।
- তোমরা চেষ্টা করেছ, কিন্তু আশানুরূপ ফল পাওনি এতে দোষের কিছু নেই।
যৌগক বাক্য গঠনে শর্ত:
- যৌগিক বাক্যে কমপক্ষে দুটো খণ্ডবাক্য থাকবে।
- খণ্ডবাক্যগুলো পরস্পর নিরপেক্ষ বা স্বাধীন, এক অপরের ওপর নির্ভরশীল নয়।
- খণ্ডবাক্যগুলো বিভিন্ন যোজক যোগে একে অপরের সঙ্গে যুক্ত থাকবে। কখনো কখনো এগুলো উহ্যও থাকতে পারে।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
• অশুদ্ধ বাক্য: একের বোঝা, দশের লাঠি।
[প্রদত্ত বাক্যে প্রবাদের অপপ্রয়োগ ঘটেছে।]
শুদ্ধ: দশের লাঠি, একের বোঝা।
অন্যদিকে,
---------------
• শুদ্ধ: আপনি সপরিবার আমন্ত্রিত।
• শুদ্ধ: শকুনের দোয়ায় গরু মরে না।
• শুদ্ধ: সকল ছাত্র উপস্থিত আছে।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
সেমিকোলন (;):
- একাধিক বাক্যের মধ্যে নিকট সম্পর্ক থাকলে তাদের মাঝে যোগসূত্র রক্ষার জন্য সেমিকোলন ব্যবহার করা হয়।
১. দুটো বাক্যের মধ্যে ভাব বা অর্থের সম্বন্ধ থাকলে সেমিকোলন বসে।
যেমন:
- দিনটা ভালো নয়; মাঝে মাঝে বৃষ্টি পড়ছে।
- কথাটা বলা সহজ; করা কঠিন।
২. একাধিক বাক্য সংযোজক অব্যয়ের দ্বারা যুক্ত না হলে সেমিকোলন বসে।
যেমন:
- আগে স্কুলের পড়া; পরে গল্পের বই।
উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
• শুদ্ধ বানান- ক্ষীণজীবী।
• ক্ষীণজীবী (বিশেষণ),
- এটি একটি সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃতি প্রত্যয় = ক্ষীণ+√জীব্ + ইন্।
অর্থ:
- দীর্ঘজীবী নয় এমন, অল্পজীবী।
অশুদ্ধ বানানগুলোর শুদ্ধরূপ- প্রণিপাত, নির্মাণ, কৃপাণ।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
• করণ কারক:
করণ শব্দের অর্থ যন্ত্র, সহায়, উপায়। অর্থাৎ ক্রিয়া নিষ্পত্তির ব্যাপারে যা প্রধান সহায়, তা-ই করণ কারক। কর্তা যার সাহায্যে ক্রিয়া সম্পাদন করে তাকে করণ কারক বলে।
- বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদের সঙ্গে 'কীসের দ্বারা' বা 'কী উপায়ে' প্রশ্ন করলে যে উত্তরটি পাওয়া যায়, তা-ই করণ কারক।
করণ কারকে বিভিন্ন বিভক্তির ব্যবহার
(ক) প্রথমা বা শূন্য বা অ বিভক্তি-
- ছাত্ররা বল খেলে। (অকর্মক ক্রিয়া)
- ডাকাতেরা গৃহস্বামীর মাথায় লাঠি মেরেছে। (সকর্মক ক্রিয়া)
[ বাক্যেকে কীসের দ্বারা মেরেছে প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'লাঠি দ্বারা'। সুতরাং 'লাঠি' করণ কারকে শূন্য বিভক্তি।]
(খ) তৃতীয়া বা দ্বারা বিভক্তি:
- লাঙ্গল দ্বারা জমি চাষ করা হয়।
দিয়া বিভক্তি: মন দিয়া কর সবে বিদ্যা উপার্জন।
(গ) সপ্তমী বিভক্তি বা এ বিভক্তি:
- ফুলে ফুলে ঘর ভরেছে।
- শিকারি বিড়াল গোঁফে চেনা যায়।
তে বিভক্তি: 'এত শঠতা, এত যে ব্যথা, তবু যেন তা মধুতে মাখা।'- নজরুল।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
একই অব্যয় শব্দের বিভিন্ন অর্থে ব্যবহার হয়ে থাকে।
এই বাক্যে ‘না’ শব্দটি সম্ভাবনা অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
সূত্রঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী।
• শুদ্ধ বানান - পুঙ্খানুপুঙ্খ।
- এটি একটি বিশেষণ পদ।
- শব্দটি সংস্কৃত ভাষা হতে আগত।
অর্থ:
- তন্নতন্ন, সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
ব্যতিহার কর্তা:
- কোনো বাক্যে দুটো কর্তা একত্রে একজাতীয় ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাদের ব্যতিহার কর্তা বলে।
যেমন:
- রাজায়-রাজায় লড়াই।
- বাঘে-মহিষে একঘাটে জল খায়।
অন্যদিকে,
প্রযোজ্য কর্তা:
যাকে দিয়ে ক্রিয়াটি অনুষ্ঠিত হয়, তাকে প্রযোজ্য কর্তা বলে।
যেমন:
- মা শিশুকে চাঁদ দেখাচ্ছেন।
বাক্যে 'মা' প্রযোজক কর্তা, 'শিশুকে' প্রযোজ্য কর্তা, 'চাঁদ দেখাচ্ছেন' প্রযোজক ক্রিয়া।
প্রযোজক কর্তা:
- মূল কর্তা যখন অন্যকে কোনো কাজে নিয়োজিত করে তা সম্পন্ন করায়, তখন তাকে প্রযোজক কর্তা বলে।
যেমন - শিক্ষক ছাত্রদের ব্যাকরণ পড়াচ্ছেন।
মুখ্য কর্তা:
যে বা যারা নিজেই ক্রিয়া সম্পাদন করে তাকে বোঝায়।
যেমন:
- শৈলি রান্না করছে।
কৃষকেরা ফসল কাটছে।
এখানে 'শৈলি' ও 'কৃষকেরা' হচ্ছে মুখ্য কর্তা।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
• পরোক্ষ উক্তিতে কর্তা অনুযায়ী ক্রিয়ারূপের পরিবর্তন করতে হয়।
যেমন
• প্রত্যক্ষ উক্তি: আশালতা বলল, "আমি এখনই বের হচ্ছি।"
• পরোক্ষ উক্তি: আশালতা বলল যে, সে তখনই বের হচ্ছে।
উল্লেখ্য,
• বক্তার কথা উপস্থাপনের ধরনকে উক্তি বলে।
উক্তি দুই প্রকার:
- প্রত্যক্ষ উক্তি ও
- পরোক্ষ উক্তি।
যেমন
- ছেলেটি বলেছিল, "আজ আমি অনেক পড়েছি।" এটি প্রত্যক্ষ উক্তি।
- ছেলেটি বলেছিল যে, সেদিন সে অনেক পড়েছে। এটি পরোক্ষ উক্তি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি, ২০২৫ সালের সংস্করণ।
সঠিক উত্তর - খ) কর্মকারক, দ্বিতীয় বিভক্তি
- কারণ, বাক্যের ক্রিয়াকে 'কাকে' দিয়ে প্রশ্ন করলে 'আমারে' উত্তর পাওয়া যায় এবং 'রে' বিভক্তিটি দ্বিতীয় বিভক্তি।
কর্মকারক:
- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে কর্মকারক বলে।
কর্মের প্রকার:
- কর্ম দুই প্রকার: মুখ্য কর্ম ও গৌণ কর্ম।
- উদাহরণ: বাবা আমাকে (গৌণ কর্ম) একটি কলম (মুখ্য কর্ম) কিনে দিয়েছেন।
কর্মকারকে বিভিন্ন বিভক্তির ব্যবহার
(ক) প্রথমা বা শূন্য বা অ বিভক্তি:
- ডাক্তার ডাক।
- আমাকে একখানা বই দাও। (দ্বিকর্মক ক্রিয়ার মুখ্য কর্ম)
- রবীন্দ্রনাথ পড়লাম, নজরুল পড়লাম, এর সুরাহা খুঁজে পেলাম না। (গ্রন্থ অর্থে বিশিষ্ট গ্রন্থকার প্রয়োগে)
(খ) দ্বিতীয়া বা কে বিভক্তি:
- তাকে বল।
রে বিভক্তি:
- আমারে তুমি করিবে ত্রাণ, এ নহে মোর প্রার্থনা।
(গ) ষষ্ঠী বা এর বিভক্তি:
- তোমার দেখা পেলাম না।
(ঘ) সপ্তমী বা এ বিভক্তি:
- জিজ্ঞাসিবে জনে জনে। (বীপ্সায়)
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি (২০১৯ সালের সংস্করণ)।
বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
অন্তস্তল বানান শুদ্ধ।
- অন্তস্তল( বিশেষ্য)
- এটি একটি সংস্কৃত শব্দ।
- অন্তর + তল।
- অর্থ: মনো-মধ্য: মন হদয়।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
• শুদ্ধ বানান - দুর্নীতি, মুমূর্ষু।
অন্যদিকে,
শুদ্ধ বানান - আষাঢ়, পুরষ্কার, আবিষ্কার।
অশুদ্ধ বানানের শুদ্ধরূপ - ভীষণ, লবণ, পুরস্কার।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
কর্ম কারক:
- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে কর্ম কারক বলে।
- বাক্যের মুখ্য কর্ম ও গৌণ কর্ম- উভয় ধরনের কর্মই কর্ম কারক হিসেবে গণ্য হয়।
- সাধারনত মুখ্য কর্ম কারকে বিভক্তি হয় না, তবে গৌণ কর্ম কারকে- 'কে' বিভক্তি হয়।
উল্লেখ্য,
ক্রিয়ার সঙ্গে 'কী' বা 'কাকে' যোগ করে প্রশ্ন করলে কর্মকারক পাওয়া যায়৷
এখানে ক্রিয়াকে কী দ্বারা প্রশ্ন করলে 'শোক' উত্তর পাওয়া যায় তাই 'শোক' কর্ম কারক।
যেমন,
- শিক্ষককে জানাও।
- অসহায়কে সাহায্য করো।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( সংস্করণ- ২০২১)।
বাংলা একাডেমির প্রমিত বানান নিয়মাবলী অনুসারে:
ক) উষশী → ভুল। প্রমিত: উষসী।
গ) জ্যোতিঃশাস্ত্র → সঠিক।
খ) ভ্রান্তিবশতঃ → ভুল। প্রমিত: ভ্রান্তিবশত।
গ) মনযোগ → ভুল। প্রমিত: মনোযোগ।
তথ্যসূত্র: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
• শুদ্ধ বানান- সমাধিস্থ।
• স্ত আর স্থ-য়ে গন্ডগোল:
স্ত /স্থ সংক্রান্ত বানান ভুল এড়াবার একটা উপায় আছে। যেসব শব্দে স্থ আছে, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সেসব শব্দ থেকে স্থ বাদ দিলেও অর্থবোধক শব্দ পড়ে থাকবে। কিন্তু স্ত দিয়ে যেসব শব্দ পাচ্ছি সেখানে স্ত বাদ দিলে অর্থবোধক শব্দ পড়ে থাকবে না।
উদাহরণগুলো লক্ষ করি:
• স্ত: অভ্যস্ত, অস্ত, আশ্বস্ত, গ্রস্ত (যেমন: বিপদগ্রস্ত) ত্রস্ত, নিরস্ত, ন্যস্ত, পরাস্ত, পর্যুদস্ত, প্রশস্ত, বিধ্বস্ত, বিন্যস্ত, বিপর্যস্ত, বিশ্বস্ত, ব্যতিব্যস্ত, সন্ত্রস্ত সমস্ত, স্বস্তি।
• স্থ: অন্তঃস্থ, অবস্থা, অভ্যন্তরস্থ, কণ্ঠস্থ, গর্ভস্থ, গৃহস্থ, তটস্থ, দুস্থ, দ্বারস্থ, ভূগর্ভস্থ, মধ্যস্থতা, মনস্থ, মুখস্থ, সভাস্থ, সমাধিস্থ, সুস্থ।
উল্লেখ্য, 'অধীনস্থ' ব্যাকরণসম্মত নয় বটে, কিন্তু বর্তমানে সর্বত্র প্রচলিত।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
• শুদ্ধ বানান- পরজীবী।
- শব্দটি একটি বিশেষণ পদ।
- এটি একটি সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ:
- অন্যকে আশ্রয় করে বাঁচে এমন।
ইংরেজি অনুবাদ- parasite.
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
• শুদ্ধ বানান - 'বয়োজ্যেষ্ঠ'।
- এটি বিশেষণ পদ।
এর অর্থ
- বয়সে বড়।
অন্যদিকে,
অশুদ্ধ শব্দের শুদ্ধ বানানগুলো হলো:
- জাজ্জ্বল্যমান এর শুদ্ধ বানান- জাজ্বল্যমান।
- প্রোজ্বলিত এর শুদ্ধ বানান- প্রজ্বলিত।
- 'নিরূপম' শব্দের শুদ্ধ বানান - নিরুপম।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
• শুদ্ধ বানান - কনীনিকা।
- এটি একটি সংস্কৃত শব্দ।
- শব্দটি বিশেষ্য পদ।
শব্দের অর্থ:
- চোখের তারা,
- কড়ে আঙুল,
-ছোটো বোন।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
• আনুষঙ্গ্য (বিশেষ্য পদ),
- এটি একটি সংস্কৃত শব্দ।
- শুদ্ধ প্রকৃতি প্রত্যয়-[অনুষঙ্গ+য]
অর্থ:
- সংশ্লিষ্ট বিষয় বা বস্তু।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
• 'ফুলে ফুলে ঘর ভরেছে' করণ কারকে ৭মী বিভক্তির উদাহরণ।
করণ কারক:
- যার দ্বারা বা যার সাহায্যে ক্রিয়া সম্পাদিত হয় তাকে করণ কারক বলে।
'করণ' শব্দের অর্থ উপায় বা সহায়।
- বাক্যের ক্রিয়াপদকে 'কার দ্বারা' বা 'কী উপায়ে' জিজ্ঞাসা করলে যে উত্তর পাওয়া যায় তা-ই করণ কারক।
• 'ফুলে ফুলে ঘর ভরেছে'- এ বাক্যে ক্রিয়াকে 'কী উপায়ে' দ্বারা প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায়- ফুলে ফুলে। তাই 'ফুলে ফুলে' করণ কারক।
এবং এর সাথে সপ্তমী বিভক্তি 'এ' যুক্ত হয়েছে।
করণ কারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগ:
সপ্তমী বা এ বিভক্তি: ফুলে ফুলে ঘর ভরেছে।
তে বিভক্তি: লোকটা জাতিতে বৈষ্ণব।
য় বিভক্তি: চেষ্টায় সব হয়।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
• সরল বাক্য (simple sentence):
যে বাক্যে একটি মাত্র কর্তা বা উদ্দেশ্য এবং একটিমাত্র সমাপিকা ক্রিয়া বা বিধেয় থাকে তাকে সরল বাক্য বলে।
যেমন:
- লিপা স্কুলে যায়।
- পাখিগুলাে নীল আকাশে উড়ছে।
- তিনি ভাত খেয়ে ঘুমিয়ে পড়লেন।
- দুর্বিষহ বানানটি অধিকাংশ ব্যক্তি ভুল লিখে।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
• ভাববাচ্য:
- যে বাচ্যে কর্ম থাকে না এবং বাক্যের ক্রিয়ার অর্থই বিশেষভাবে ব্যক্ত হয়, তাকে ভাববাচ্য বলে।
• ভাববাচ্যের বৈশিষ্ঠ্য:
- ভাববাচ্যে ক্রিয়া সর্বদা নাম পুরুষের হয়। ভাববাচ্যের কর্তায় ষষ্ঠী, দ্বিতীয়া অথবা তৃতীয় বিভক্তি প্রযুক্ত হয়।
যেমন - আমার খাওয়া হলো না। (কর্তায় ষষ্ঠী)
- কখনো কখনো ভাববাচ্যে কর্তা উহ্য থাকে, কর্ম দ্বারাই ভাববাচ্য গঠিত হয়।
যেমন - এ পথে চলা যায় না; এবার ট্রেনে ওঠা যাক।
তেমনিভাবে,
কোথা থেকে আসা হচ্ছে?
- মূল ক্রিয়ার সঙ্গে সহযোগী ক্রিয়ার সংযোগ ও বিভিন্ন অর্থে ভাববাচ্যের ক্রিয়া গঠিত হয়।
যেমন - এ রাস্তা আমার চেনা নেই।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
• নৌকা স্রোতে ভাসিয়া চলিয়াছিল।বাক্যটি শুদ্ধ।
- অশুদ্ধ বাক্য: এ সৌন্দর্য ছেড়ে কোথাও নড়িতে ইচ্ছা হয় না।
- শুদ্ধ বাক্য: এ সৌন্দর্য ছেড়ে কোথাও নড়তে ইচ্ছা হয় না।
- অশুদ্ধ বাক্য: আকণ্ঠ পর্যন্ত ভোজন করলাম।
- শুদ্ধ বাক্য: আকণ্ঠ ভোজন করলাম।
- অশুদ্ধ বাক্য: একটা গোপন কথা বলি।
- শুদ্ধ বাক্য: একটা গোপনীয় কথা বলি।
উৎস: ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।
কারক:
- মূলত ক্রিয়ার সঙ্গে বাক্যের বিশেষ্য ও সর্বনামের যে সম্পর্ক, তাকে কারক বলে।
- কারক সম্পর্ক বোঝাতে বিশেষ্য ও সর্বনামের সঙ্গে সাধারণত বিভক্তি ও অনুসর্গ যুক্ত হয়ে থাকে।
• কারক ছয় প্রকার।
যথা:
- কর্তা কারক,
- কর্ম কারক,
- করণ কারক,
- অপাদান কারক,
- অধিকরণ কারক ও
- সম্বন্ধ কারক।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
• বাক্যকে উদ্দেশ্য ও বিধেয় এই দুই অংশে ভাগ করা যায়।
• উদ্দেশ্য:
বাক্যে যাকে উদ্দেশ্য করে কিছু বলা হয়, তাকে উদ্দেশ্য বলে।
যেমন- 'সুমন বল খেলে।' এই বাক্যে সুমনকে উদ্দেশ্য করে কিছু বলা হচ্ছে। অতএব 'সুমন' বাক্যটির উদ্দেশ্য।
• বিধেয়:
বাক্যে উদ্দেশ্য সম্পর্কে যা বলা হয়, তাকে বিধেয় বলে। বিধেয় অংশে সাধারণত ক্রিয়া থাকে।
যেমন- 'সুমন বল খেলে।' এই বাক্যে 'বল খেলে' অংশটি বাক্যের বিধেয়।
বাক্য দীর্ঘতর হলে উদ্দেশ্য ও বিধেয় অংশের সঙ্গে নানা ধরনের শব্দ ও বর্গ যুক্ত হতে পারে। উদ্দেশ্য ও বিধেয়কে এইসব শব্দ ও বর্গ প্রসারিত করে বলে এগুলোর নাম প্রসারক। এছাড়া বিধেয় ক্রিয়ার বিশেষ্য অংশকে বলা হয় পূরক।
যেমন:
- সেলিম সাহেবের ছেলে সুমন গাছতলায় বসে বই পড়ছে।
[এখানে 'সুমন' উদ্দেশ্য, 'সেলিম সাহেবের ছেলে' উদ্দেশ্যের প্রসারক। অন্যদিকে 'পড়ছে' বিধেয়ের ক্রিয়া, 'গাছতলায় বসে' বিধেয়ের প্রসারক এবং 'বই' হলো বিধেয়ের পূরক।]
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।
• শুদ্ধ বানান - আনুকূল্য।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
- শব্দটি সংস্কৃত ভাষা হতে আগত।
শব্দের অর্থ:
- পোষকতা; সহায়তা, সাহায্য।
- দাক্ষিণ্য; অনুগ্রহ।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
বাক্য শেষ করতে বন্ধনীর ব্যবহার করা নয়।
বন্ধনী (), {}, []
- অতিরিক্ত তথ্য উপস্থাপন ও কালনির্দেশের ক্ষেত্রে বন্ধনীর ব্যবহার হয়।
- বন্ধনী তিন প্রকার: প্রথম বন্ধনী (), দ্বিতীয় বন্ধনী {} ও তৃতীয় বন্ধনী []।
- যেমন - তিনি বাংলা ভাষার বিবর্তন (চর্যাপদের সময় থেকে পরবর্তী) নিয়ে আলোচনা করবেন।
- কাজী নজরুল ইসলাম (১৮৯৯-১৯৭৬) 'বিদ্রোহী কবি' হিসেবে পরিচিত।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০২৫ সংস্করণ)।
অধিকরণ কারক:
- যে কারকে স্থান, কাল, বিষয় ও ভাব নির্দেশিত হয়, তাকে অধিকরণ কারক বলে। এই কারকে সাধারণত এ, য়, য়ে, তে, ইত্যাদি বিভক্তি শব্দের সাথে যুক্ত হয়।
যেমন:
- বাবা বাড়িতে আছেন।
- বিকাল পাঁচটায় দেখা হবে।
অন্যদিকে,
অপাদান কারক:
- যে কারকে ক্রিয়ার উৎস নির্দেশ করা হয়, তাকে অপাদান কারক বলে। এই কারকে সাধারণত 'হতে', 'থেকে, ইত্যাদি অনুসর্গ শব্দের পরে বসে।
যেমন
- জমি থেকে ফসল পাই।
- কাপটা উঁচু টেবিল থেকে পড়ে ভেঙ্গে গেল।
সম্বন্ধ কারক:
- যে কারকে বিশেষ্য ও সর্বনামের সঙ্গে বিশেষ্য ও সর্বনামের সম্পর্ক সির্দেশিত হয়, তাকে সম্বন্ধ কারক বলে। এই কারকে শব্দের সাথে র, এর, য়ের, কার, কের ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়।
যেমন:
- ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।