বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাক্য প্রকরণ

মোট প্রশ্ন৬,৯৫৩এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাক্য প্রকরণ

PrepBank · পাতা ৬৮ / ৬৯ · ৬,৭০১৬,৮০০ / ৬,৯৫৩

৬,৭০১.
নিচের কোন বানানটি শুদ্ধ নয়?
  1. পিপিলিকা
  2. মুমূর্ষু
  3. তিতিক্ষা
  4. সমীচীন
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান 'পিপীলিকা'
- বিশেষ্য পদ। 
- সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃতি প্রত্যয় = পিপীলক + আ।
 অর্থ:
- পিঁপড়া,
- পিঁপড়ে।

অন্যদিকে:
- সমীচীন,
- তিতিক্ষা,
- মুমূর্ষু।
শব্দ গুলোর বানান সঠিক।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৬,৭০২.
কর্তৃবাচ্যের বাক্যকে ভাববাচ্যে রূপান্তরিত করলে ক্রিয়া কোন পুরুষ হয়?
  1. উত্তম পুরুষ
  2. নাম পুরুষ
  3. মধ্যম পুরুষ
  4. দ্বিতীয় পুরুষ
ব্যাখ্যা
• কর্তৃবাচ্য থেকে ভাববাচ্য রূপাতনের নিয়ম:
কর্তৃবাচ্যের বাক্যকে ভাববাচ্যে পরিবর্তিত করতে হলে-  কর্তায় ষষ্ঠী বা দ্বিতীয়া বিভক্তি হয় এবং ক্রিয়া নাম পুরুষের হয়।
যেমন-
• কর্তৃবাচ্য: আমি যাব না।
• ভাববাচ্য: আমার যাওয়া হবে না।

• কর্তৃবাচ্য: তুমিই ঢাকা যাবে।
• ভাববাচ্য: তোমাকেই ঢাকা যেতে হবে।

• কর্তৃবাচ্য: তোমরা কখন এলে?
• ভাববাচ্য: তোমাদের কখন আসা হলো?

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
৬,৭০৩.
নিচের কোন শব্দে প্রত্যয়ঘটিত অশুদ্ধি ঘটেছে?
  1. ঐকমত্য
  2. অদ্যপি
  3. পুরুষত্ব
  4. মুহ্যমান
ব্যাখ্যা
- 'অদ্যপি' শব্দে প্রত্যয়ঘটিত অশুদ্ধি ঘটেছে।
- এর শুদ্ধরূপ হচ্ছে অদ্যাপি।

অন্যান্য অপশন:
অশুদ্ধ: ঐক্যমত।
শুদ্ধ: ঐকমত্য।

শুদ্ধ: মুহ্যমান ও মোহ্যমান দুইটিই শুদ্ধ। তবে ‘মোহ্যমান’ হচ্ছে মুহ্যমান শব্দের অপ্রচলিত রূপ।

অশুদ্ধ: পৌরুষত্ব।
শুদ্ধ: পুরুষত্ব।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
৬,৭০৪.
নিচের কোনটি সঠিক?
  1. ক) খ্রি:
  2. খ) খ্রিঃ
  3. গ) খ্রি,
  4. ঘ) খ্রি.
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি - এর নিয়মানুসারে,
সংক্ষেপে খ্রিষ্টাব্দ লিখতে খ্রি-এর পর শুধু একটা ফুলস্টপ, অর্থাৎ ‘খ্রি.’ ব্যবহার করতে হবে।

খ্রিষ্টাব্দ (বিশেষ্য): ‍যিশু খ্রিষ্টের জন্ম থেকে গণনা-করা বৎসর; A.D.
৬,৭০৫.
কোন বানানটি শুদ্ধ নয়?
  1. ক) জাজ্বল্যমান
  2. খ) মহত্ব
  3. গ) শিরশ্ছেদ
  4. ঘ) সান্ত্বনা
ব্যাখ্যা
'মহত্ব'- বানানটি শুদ্ধ নয়। 
এর শুদ্ধ বানান হবে- 'মহত্ত্ব' 
 
বাংলা একাডেমি আধুনিক বানান অভিধান অনুসারে,
'মহত্ত্ব' এর অর্থ- মহতের ভাব, উদারতা, প্রকর্ষ।

তাছাড়া, অন্য অপশন এর বানান গুলা সঠিক।  

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বানান অভিধান।
৬,৭০৬.
'নৌকা টেনে বের করতে হবে।' কোন ধরনের বাচ্য?
  1. কর্ম বাচ্য
  2. কর্তৃবাচ্য
  3. ভাববাচ্য
  4. কর্মকর্তৃবাচ্য
ব্যাখ্যা
• ভাববাচ্য:
- যে বাচ্যে কর্ম থাকে না এবং বাক্যে ক্রিয়ার অর্থই বিশেষভাবে ব্যক্ত হয় তাকে ভাববাচ্য বলে।
• ভাববাচ্যের ক্রিয়া সর্বদাই নাম পুরুষের হয়। ভাববাচ্যের কর্তায় ষষ্ঠী, দ্বিতীয়া অথবা তৃতীয়া বিভক্তি প্রযুক্ত হয়। যেমন-
- আমার (কর্তায় ষষ্ঠী) খাওয়া হলো না। (নাম পুরুষের ক্রিয়া)। 

• কখনো কখনো ভাববাচ্যে কর্তা উহ্য থাকে, কর্ম দ্বারাই ভাববাচ্য গঠিত হয়। যেমন- এ পথে চলা যায় না।
- তেমনি ভাবে 'নৌকা টেনে বের করতে হবে।'

• মূল ক্রিয়ার সঙ্গে সহযোগী ক্রিয়ার সংযোগ ও বিভিন্ন অর্থে ভাববাচ্যের ক্রিয়া গঠিত হয়। যেমন- এ ব্যাপারে আমাকে দায়ী করা চলে না। এ রাস্তা আমার চেনা নেই।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৬,৭০৭.
শুদ্ধ বানানগুচ্ছ-
  1. পূণ্য, শূন্য
  2. দূর্যোগ, দুর্বার
  3. বাধা, বাঁধা
  4. যন্ত্রণা, মন্ত্রনা
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: গ) বাধা, বাঁধা।

উভয় শব্দই শুদ্ধ এবং অর্থে পার্থক্য আছে।
• বাধা অর্থ = প্রতিবন্ধকতা
• বাঁধা অর্থ= রশি দিয়ে আটকে রাখা।

অন্যান্য অপশন,
ক) পূণ্য, শূন্য:
• পূণ্য শব্দটি অশুদ্ধ। সঠিক বানান পুণ্য (অর্থ: পবিত্র কাজ)।
• শূন্য শব্দটি শুদ্ধ (অর্থ: খালি, শূন্যতা)।
একটি শব্দ ভুল, তাই এই জোড়া অশুদ্ধ।

খ) দূর্যোগ, দুর্বার:
• দূর্যোগ শব্দটি অশুদ্ধ। সঠিক বানান দুর্যোগ (অর্থ: বিপদ) বা দুর্ঘটনা।
• দুর্বার শব্দটি শুদ্ধ (অর্থ: অপ্রতিরোধ্য)।
একটি শব্দ ভুল, তাই এই জোড়া অশুদ্ধ।

ঘ) যন্ত্রণা, মন্ত্রনা:
• যন্ত্রণা শব্দটি শুদ্ধ (অর্থ: কষ্ট; যাতনা)।
• মন্ত্রনা শব্দটি অশুদ্ধ। সঠিক বানান মন্ত্রণা (অর্থ: পরামর্শ)।
একটি শব্দ ভুল, তাই এই জোড়া অশুদ্ধ।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৬,৭০৮.
অশুদ্ধ বাক্য -
  1. তারা বাড়ি যাচ্ছে।
  2. এ কথা প্রমাণিত হয়েছে।
  3. বিদ্বান মূর্খ অপেক্ষা শ্রেয়।
  4. বাংলাদেশ একটি উন্নতশীল দেশ।
ব্যাখ্যা

অশুদ্ধ বাক্য: বাংলাদেশ একটি উন্নতশীল দেশ।
শুদ্ধ বাক্য: বাংলাদেশ একটি উন্নতিশীল / উন্নয়নশীল দেশ।

​অন্যদিকে,
শুদ্ধ বাক্য: তারা বাড়ি যাচ্ছে।
শুদ্ধ বাক্য: এ কথা প্রমাণিত হয়েছে।
শুদ্ধ বাক্য: বিদ্বান মূর্খ অপেক্ষা শ্রেয়।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৬,৭০৯.
শুদ্ধ বাক্য কোনটি?
  1. তিনি স্বস্ত্রীক বেড়াতে গেছেন।
  2. একটা গোপন কথা বলি।
  3. তারা মাঠে খেলে।
  4. আমার কথা প্রমাণ হলো।
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বাক্য = তারা মাঠে খেলে।

অন্যদিকে,
• অশুদ্ধ বাক্য = তিনি স্বস্ত্রীক বেড়াতে গেছেন।
• শুদ্ধ বাক্য = তিনি সস্ত্রীক বেড়াতে গেছেন।

• অশুদ্ধ বাক্য = একটা গোপন কথা বলি।
• শুদ্ধ বাক্য = একটা গোপনীয় কথা বলি।

• অশুদ্ধ বাক্য = আমার কথা প্রমাণ হলো।
• শুদ্ধ বাক্য = আমার কথা প্রমাণিত হলো।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড.হায়াৎ মামুদ।
৬,৭১০.
শুদ্ধ বানান কোনটি?
  1. সূর্পনখা
  2. শূর্পনখা
  3. শূর্পণখা
  4. সূর্পণখা
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর - শূর্পণখা

- ‘শূর্পণখা’ শব্দটি বিশেষ্য।
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
- ‘শূর্পণখা’ হলো রামায়ণে বর্ণিত লঙ্কাধিপতি রাবনের ভগিনী যিনি সীতাকে হরণ করতে উদ্যত হলে লক্ষ্মণ তার নাক ও কান ছেদন করে বিতাড়িত করেন।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৬,৭১১.
নিচের কোন বাক্যটি অশুদ্ধ?
  1. বিদ্বান মূর্খ অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ।
  2. একথা প্রমাণ হয়েছে।
  3. জীবনে সার্থকতা লাভ করতে হলে পাঠে মনযোগী হতে হয়।
  4. দীনতা ভাল নয়।
ব্যাখ্যা

বাক্যগুলোর শুদ্ধরূপ -
- বিদ্বান মূর্খ অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ।
- এ কথা প্রমাণিত হয়েছে।
- জীবনে সার্থকতা লাভ করতে হলে পাঠে মনযোগী হতে হয়।
- দীনতা ভাল নয়।

উৎসঃ ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ

৬,৭১২.
'যে ভালো কাজ করে, সে সম্মান পায়।' – এটি কোন ধরনের বাক্য?
  1. সরল বাক্য
  2. জটিল বাক্য
  3. যৌগিক বাক্য
  4. সাপেক্ষ বাক্য 
ব্যাখ্যা

• 'যে ভালো কাজ করে, সে সম্মান পায়।' - জটিল বাক্য।

• মিশ্র বা জটিল বাক্য:
যে বাক্যে একটি প্রধান খণ্ডবাক্যের এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য পরস্পর সাপেক্ষ ভাবে ব্যবহৃত হয়, তাকে মিশ্র বা জটিল বাক্য বলে।
যথা -
আশ্রিত বাক্য ....... প্রধান খণ্ডবাক্য
১. যে পরিশ্রম করে,.....সে-ই সুখ লাভ করে।
২. সে যে অপরাধ করেছে,......তা মুখ দেখেই বুঝেছি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

৬,৭১৩.
প্রচলিত অশুদ্ধ শব্দ কোনটি?
  1. ইতিহাসকার
  2. আহতি
  3. আস্পর্ধা
  4. ইতিমধ্যে
  5. কোনোটিই নয় 
ব্যাখ্যা

বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
প্রচলিত অশুদ্ধ বানান- ইতিমধ্যে।

সঠিক উত্তর- ঘ) ইতিমধ্যে- 
➝ এটি একটি অশুদ্ধ শব্দ যা প্রচলিত ভাবে ব্যবহৃত হয়। আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে, "ইতিমধ্যে" শব্দটির শুদ্ধ রূপ হলো "ইতোমধ্যে"।

'ইতোমধ্যে' অর্থ: 
- ইত্যবসরে, এর মধ্যে।

অন্যদিকে,
'আস্পর্ধা'; 'আহতি', 'ইতিহাসকার' শব্দটি শুদ্ধ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৬,৭১৪.
উদাহরণ বা দৃষ্টান্ত প্রয়োগ করতে হলে কোন যতিচিহ্ন একসঙ্গে ব্যবহৃত হয়?
  1. সেমিকোলন এবং ড্যাস
  2. কমা এবং কোলন
  3. কোলন এবং ড্যাস
  4. কোলন এবং হাইফেন
ব্যাখ্যা
• কোলন ড্যাস (:-):
- উদাহরণ বা দৃষ্টান্ত প্রয়োগ করতে হলে কোলন এবং ড্যাস চিহ্ন একসঙ্গে ব্যবহৃত হয়।
- কোলন ড্যাস চিহ্নের বিরতিকাল - ১ (এক) সেকেন্ড কাল পরিমাণ।
যেমন:
- পদ পাঁচ প্রকার:-
- বিশেষ্য, বিশেষণ, সর্বনাম, অব্যয় ও ক্রিয়া।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি এবং বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
৬,৭১৫.
'টাকায় বাঘের দুধ মেলে।' এখানে 'টাকায়' কোন কারক?
  1. কর্ম কারক
  2. করণ কারক
  3. অপাদান কারক
  4. অধিকরণ কারক
ব্যাখ্যা
• করণ কারক:
ক্রিয়া সম্পাদনের যন্ত্র, উপকরণ বা সহায়ককেই করণ কারক বলে। এসব ক্ষেত্রে বাক্যের ক্রিয়াকে 'কীসের দ্বারা' বা 'কী দিয়ে'-এ প্রশ্ন করে যে উত্তর পাওয়া যায় তাই করণ কারক।
যেমন:
- টাকায় বাঘের দুধ মেলে।
[ বাক্যকে কীসের দ্বারা বা কী দিয়ে বাঘের দুধ মেলে? প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় "টাকায়'। সুতরাং টাকায় করণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি।] 

করণ কারকে বিভক্তির প্রয়োগ-
• প্রথমা বা শূন্য বিভক্তি: ছেলেরা ফুটবল খেলে। সে তাস খেলে ইত্যাদি।
• তৃতীয়া বিভক্তি: 'মন দিয়া কর সবে বিদ্যা উপার্জন'।
• সপ্তমী বিভক্তি: ফলে ফুলে ঘর ভরেছে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 
৬,৭১৬.
নিচের কোনটিতে 'কমা' ব্যবহৃত হয়?
  1. বাক্যের মধ্যকার একাধিক পদকে সংযুক্ত করতে
  2. সাধারণত দুটি বাক্যকে এক বাক্যে পরিণত করার কাজে
  3. শব্দ, বর্গ ও অধীন বাক্যকে আলাদা করতে
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা

কমা: 
- কমা সামান্য বিরতি নির্দেশ করে।
- শব্দ, বর্গ ও অধীন বাক্যকে আলাদা করতে কমার ব্যবহার হয়।
যেমন,
- গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ, হেমন্ত, শীত, ও বসন্ত - বাংলাদেশ এই ছয়টি ঋতুর দেশ।
- নিবিড় অধ্যাবসায়, কঠোর পরিশ্রম  ও সময়নিষ্ঠ থাকলে সাফল্য আসবে।

অন্যদিকে,
হাইফেন:
- বাক্যের মধ্যকার একাধিক পদকে সংযুক্ত করতে হাইফেন ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- মা-বাবার কাছে সন্তানের গৌরব সবচেয়ে বড় গৌরব।
- জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলকে নিয়েই গড়ে উঠেছে এই ক্লাব।

ড্যাশ:
- সাধারণত দুটি বাক্যকে এক বাক্যে পরিণত করার কাজে এবং ব্যাখ্যাযোগ্য বাক্যাংশের আগে-পরে ড্যাস ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- বাংলাদেশ দল জয়লাভ করেছে - বিজয়ের আনন্দে দেশের জনগণ উচ্ছ্বসিত।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

৬,৭১৭.
নিচের কোনটি অশুদ্ধ?
  1. ক) মাতাহীন শিশুর কি দুঃখ!
  2. খ) আমি সন্তুষ্ট হইলাম।
  3. গ) দীনতা সবসময় ভালো নয়।
  4. ঘ) বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ৷
ব্যাখ্যা

শুদ্ধ বাক্যঃ
মাতৃহীন শিশুর কি দুঃখ!
আমি সন্তুষ্ট হইলাম।
দীনতা সবসময় ভালো নয়।
বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ৷

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।

৬,৭১৮.
কোন চিহ্ন কমার চেয়ে দ্বিগুণ সময় বিরতি নেয়?
  1. হাইফেন
  2. সেমিকোলন
  3. লোপ চিহ্ন
  4. ব্র্যাকেট
ব্যাখ্যা
সেমিকোলন (;):
- একাধিক বাক্যের মধ্যে নিকট সম্পর্ক থাকলে তাদের মাঝে যোগসূত্র রক্ষার জন্য সেমিকোলন ব্যবহার করা হয়। সেমিকোলনচিহ্ন কমার চেয়ে দ্বিগুণ সময় বিরতি নেয়।
যেমন:

১. দুটো বাক্যের মধ্যে ভাব বা অর্থের সম্বন্ধ থাকলে সেমিকোলন বসে।
যেমন:
- দিনটা ভালো নয়; মাঝে মাঝে বৃষ্টি পড়ছে।
- কথাটা বলা সহজ; করা কঠিন।

২. একাধিক বাক্য সংযোজক অব্যয়ের দ্বারা যুক্ত না হলে সেমিকোলন বসে।
যেমন:
- আগে স্কুলের পড়া; পরে গল্পের বই।

অন্যদিকে,
থামার প্রয়োজন নেই - ব্র্যাকেট, লোপ চিহ্ন, হাইফেন।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
৬,৭১৯.
'Brevity is the soul of wit' এর বঙ্গানুবাদ -
  1. ঠ্যাং থাকতে ক্যান্ নিবি লাঠি?
  2. মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন।
  3. মানিকের খানিক ভালো।
  4. মিষ্টি কথায় চিড়ে ভেজে না।
ব্যাখ্যা
• 'Brevity is the soul of wit' এর বঙ্গানুবাদ - মানিকের খানিক ভালো

অন্যদিকে:
• 'Fingers were made before forks' এর বঙ্গানুবাদ - ঠ্যাং থাকতে ক্যান্ নিবি লাঠি?
• 'Do or die' এর বঙ্গানুবাদ - মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন।
• Fair words butter no parsnips এর বঙ্গানুবাদ - মিষ্টি কথায় চিড়ে ভেজে না।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,৭২০.
Culture is constantly evolving.
  1. সংস্কৃতি সর্বদা বিবর্তিত হচ্ছে
  2. সংস্কৃতি সর্বদা বিকৃত হচ্ছে
  3. সংস্কৃতি সর্বদা বিসর্জিত হচ্ছে
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• 'Culture is constantly evolving.' এর বাংলা অনুবাদ - সংস্কৃতি সর্বদা বিবর্তিত হচ্ছে

কিছু ইংরেজি বাক্যের বাংলা অনুবাদ:
• 'Two heads are better than one' এর বাংলা অনুবাদ - দশে মিলি করি কাজ, হারি জিতি নাহি লাজ।
• 'Necessity is the mother of invention' এর বাংলা অনুবাদ - প্রয়োজনই আবিষ্কারের প্রসূতি।
• 'Do or die' এর বাংলা অনুবাদ - মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন।
• 'Make hay while the sun shines' এর বাংলা অনুবাদ - ঝোপ বুঝে কোপ মার।
৬,৭২১.
নিচের কোনটি সঠিক নয়?
  1. ক) বুনো কচু, বাঘা তেঁতুল৷
  2. খ) উপর্যুক্ত বাক্যটি সঠিক নয়৷
  3. গ) সারা জীবন ভূতের বেগার খেটে গেলাম।
  4. ঘ) বাল্য হতেই তিনি কাব্যপ্রিয়৷
ব্যাখ্যা

শুদ্ধ বাক্যঃ
- বুনো ওল, বাঘা তেঁতুল৷
- উপর্যুক্ত বাক্যটি সঠিক নয়৷
- সারা জীবন ভূতের বেগার খেটে গেলাম।
- বাল্য হতেই তিনি কাব্যপ্রিয়৷

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৬,৭২২.
বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম প্রথম কবে প্রকাশ করে?
  1. ১৯৮৭
  2. ১৯৯০
  3. ১৯৯২
  4. ১৯৯৬
ব্যাখ্যা
•  প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম চালু করেন- বাংলা একাডেমি।
- বাংলা একাডেমি প্রমিত বানানের নিয়ম প্রণয়ন করে ১৯৯২ সালে। 

• বাংলা একাডেমি প্রমিত বানানের নিয়ম: 
- বাংলা একাডেমি ড. আনিসুজ্জামানকেই সভাপতি করে বানানের নিয়মগুলো সূত্রবদ্ধ করার জন্য কমিটি গঠন করে।
- এ কমিটি বিশ্বভারতী, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় এবং জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড প্রবর্তিত পাঠ্য বইয়ের বানানরীতিকে সমন্বিত করে
- একটি অভিন্ন বানানের নিয়ম নির্ধারণ করেন, যা বাংলা একাডেমির প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম' বলে পরিচিত।
- যার প্রথম প্রকাশ ১৯৯২ সালের ডিসেম্বর এবং পরিমার্জিত সংস্করণ ১৯৯৪ সালের জানুয়ারি।
- উক্ত নিয়ম অনুসরণ করে একই কমিটির অন্যতম সদস্য জামিল চৌধুরী প্রণয়ন করেন 'বাংলা বানান-অভিধান'। 
- ১৯৯৪ সালের জুনে বাংলা একাডেমি এটি প্রকাশ করে।
- বিভ্রান্তি থেকে মুক্ত থাকার জন্য বাংলাদেশের সমসাময়িক সাহিত্য এবং পত্র-পত্রিকায় ওই বানানকে 'প্রমিত' হিসেবে গণ্য করা হয়।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
৬,৭২৩.
'আমি যদি জন্ম নিতেম কালিদাসের কালে।' এটি কোন ধরেনের বাক্য?
  1. বিবৃতিমূলক
  2. অনুজ্ঞাবাচক
  3. প্রার্থনাসূচক
  4. বিস্ময়বাচক 
ব্যাখ্যা

• ইচ্ছা বা প্রার্থনাসূচক বাক্য:
যে বাক্যে ইচ্ছা, প্রার্থনা, উচ্ছ্বাস ইত্যাদি অর্থ প্রকাশিত হয়, তাকে ইচ্ছা বা প্রার্থনাসূচক বাক্য বলে। একে ইচ্ছাসূচক, ইচ্ছাবোধক বাকাও বলা হয়।
যেমন:
- মহারাজের জয় হোক।
- আমি যদি জন্ম নিতেম কালিদাসের কালে।

অন্যদিকে, 
--------------------
• অনুজ্ঞাবাচক বাক্য:
যে বাক্যে আদেশ, অনুরোধ, প্রার্থনা, উপদেশ, নিষেধ ইত্যাদি অর্থ প্রকাশ পায় তাকে অনুজ্ঞাবাচক বাক্য বলে। 
যেমন-
- তাঁর মঙ্গল হোক।
- সদা সত্য কথা বলবে।

• বিবৃতিবাচক বাক্য:
সাধারণভাবে কোনো বিবরণ প্রকাশ পায় যেসব বাক্যে, সেগুলোকে বিবৃতিমূলক বাক্য বলে। বিবৃতিবাচক বাক্য ইতিবাচক বা নেতিবাচক হতে পারে।
যেমন:
- আমরা রোজ বেড়াতে যেতাম।
- তারা তোমাদের ভোলেনি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( সংস্করণ- ২০২১)। 

৬,৭২৪.
নিচের কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. ক) চুর্ণবিচুর্ণ
  2. খ) চুর্ণবিচূর্ণ
  3. গ) চূর্ণবিচূর্ণ
  4. ঘ) চুর্নবিচুর্ণ
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,

চূর্ণবিচূর্ণ (বিশেষণ)
অর্থ:
- সম্পূর্ণ চূর্ণিত।
- আলংকরিক অর্থ: সম্পূর্ণ বিনষ্ট।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৬,৭২৫.
কাব্যভাষায় লেখা কোনো রচনার মূলভাবকে সংক্ষেপে লেখার নাম -
  1. অনুচ্ছেদ
  2. ভাব-সম্প্রসারণ
  3. সারমর্ম
  4. সারাংশ
ব্যাখ্যা
সারাংশ ও সারমর্ম:
- সাধারণত গদ্যরচনার অন্তর্নিহিত বক্তব্যকে সংক্ষেপে লেখার নাম সারাংশ, আর কাব্যভাষায় লেখা কোনো রচনার মূলভাবকে সংক্ষেপে লেখার নাম সারমর্ম
- সারাংশকে সারসংক্ষেপ এবং সারমর্মকে মর্মার্থও বলা হয়ে থাকে।
- একটি বিষয় সম্পর্কে সংক্ষেপে ধারণা পেতে সারাংশ ও সারমর্ম বিশেষ ভূমিকা পালন করে।

সারাংশ ও সারমর্ম লেখার কিছু নিয়ম হলো:
ক. প্রদত্ত রচনার বিবরণ ও ভাবকে অনুসরণ করে সারাংশ ও সারমর্ম লিখতে হয়।
খ. অনধিক চার বাক্য বা চল্লিশ শব্দের মধ্যে সারাংশ ও সারমর্ম সীমিত রাখা দরকার।
গ. প্রদত্ত রচনার মূল কথা যাতে সারাংশ ও সারমর্মে বাদ না পড়ে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হয়।
ঘ. সারাংশ বা সারমর্ম লেখার সময়ে উদাহরণ, উদ্ধৃতি, পরিসংখ্যান, তথ্য-উপাত্ত ইত্যাদি পুরোপুরি বাদ দিতে হয়।
ত. সারাংশ ও সারমর্মের ভাষায় কোনো ধরনের কাব্যধর্মিতা রাখা যায় না। ভাষা হতে হয় দ্ব্যর্থহীন ও আবেগবর্জিত।
চ. সারাংশ ও সারমর্মে পুনরাবৃত্তি পুরোপুরি বর্জনীয়।
ছ. সারাংশ বা সারমর্ম লেখার সময়ে নিজস্ব বক্তব্য, মন্তব্য বা মত প্রকাশের কোনো সুযোগ নেই।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৬,৭২৬.
কোন বাক্যটিতে যতিচিহ্নের সঠিক ব্যবহার হয়েছে?
  1. ২২, গুলশান এভিনিউ: ঢাকা-১২১২।
  2. ২২, গুলশান এভিনিউ, ঢাকা-১২১২।
  3. ২২; গুলশান এভিনিউ, ঢাকা-১২১২।
  4. ২২, গুলশান এভিনিউ. ঢাকা-১২১২
ব্যাখ্যা
• ‘কমা’ যতিচিহ্ন:
বাংলায় কোনো কিছু লিখতে গিয়ে যত ধরনের যতিচিহ্ন আমরা ব্যবহার করি তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করি কমা (,)। বাক্যের ভেতরের বিরাম-চিহ্ন হলো কমা। বাক্যে ব্যবহৃত কমার ক্ষেত্রে ‘এক’ উচ্চারণ করার সমান সময় থামতে হয়।

অল্প বিরাম বোঝাতে কিছু স্থানে কমা ব্যবহৃত হয়।
যথা:
• উদ্ধরণ চিহ্নের পূর্বে (খণ্ডবাক্যের শেষে) কমা বসাতে হবে।
যেমন- সাহেব বললেন, ''ছুটি পাবেন না।''

• নামের পরে ডিগ্রিসূচক পরিচয় দেওয়া হলে সেগুলোর প্রত্যেকটির আগে কমা বসে।
যেমন- ড. মুহম্মদ এনামুল হক, এম.এ. পি-এইচডি।

• বাড়ি বা রাস্তার নম্বরের পরে কমা বসবে।
যেমন-
৬৮, জেল রোড, ঢাকা-১২০০।
২২, গুলশান এভিনিউ, ঢাকা-১২১২।

• পরস্পর সমন্ধযুক্ত একাধিক বিশেষ্য বা বিশেষণ পদ একসঙ্গে বসলে শেষ পদটি ছাড়া বাকি সবগুলোর পরই কমা বসবে।
যেমন- সুখ, দুঃখ, আশা, নৈরাশ্য একই মালিকার পুষ্প। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৬,৭২৭.
'উক্তি পরিবর্তন' বাংলা ব্যাকরণের কোন অংশের আলোচ্য বিষয়?
  1.  শব্দতত্ত্ব
  2. পদতত্ত্ব
  3. বাক্যতত্ত্ব
  4. রূপতত্ত্ব
ব্যাখ্যা

- বাংলা ব্যাকরণে উক্তি পরিবর্তন বাক্যতত্ত্ব এর  আলোচ্য বিষয়। 

উক্তি ও বাক্যতত্ত্ব: 
-বাংলা ব্যাকরণে উক্তি হলো বাক্য প্রকরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ; যা বাক্যতত্ত্ব এর আলোচ্য বিষয়।
- বাক্য প্রকরণে মূলত প্রত্যক্ষ উক্তি  এবং পরোক্ষ উক্তি –এর নিয়ম নিয়ে আলোচনা করা হয়।
-উক্তি এবং বাচ্য পরিবর্তন একে অপরের সঙ্গে সম্পর্কিত।
- বাক্য প্রকরণ বাক্যের গঠন, পদবিন্যাস, এবং বাক্য পরিবর্তনের নিয়ম নিয়ে আলোচনা করে, যার মধ্যে উক্তি একটি প্রধান অংশ। 
- উক্তি মূলত বাচ্যের ধারণা থেকেই আসে;
- কারণ বাচ্য নির্ধারণ করে বাক্যে কর্তা, কর্ম বা ক্রিয়ার প্রাধান্য কীভাবে প্রকাশ পাচ্ছে, যা উক্তি পরিবর্তনের মূল ভিত্তি।

উল্লেখ্য, 
• উক্তি হলো বক্তার কথা সরাসরি বা পরোক্ষভাবে প্রকাশ করার প্রক্রিয়া।
• অন্যদিকে, বাচ্য হলো বাক্যের এমন রূপ যা কর্তা, কর্ম বা ক্রিয়ার প্রাধান্য অনুসারে বাক্যের কাঠামো পরিবর্তন করে।
- সহজভাবে বলতে গেলে, উক্তি বাক্যের বিষয়বস্তু প্রকাশ করে, আর বাচ্য বাক্যের প্রকাশভঙ্গি বা গঠন (কর্তৃবাচ্য, কর্মবাচ্য, ভাববাচ্য) নির্ধারণ করে। 

 উৎস: বাংলা ২য় পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬,৭২৮.
"সামীপ্য অর্থে" কোন ধরনের অধিকরণ কারক হয়?
  1. ভাবাধিকরণ
  2. কালাধিকরণ
  3. ঐকদেশিক আধারাধিকরণ
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
অধিকরণ কারক তিন প্রকার।
যথা-
১. আধারাধিকরণ,
২. কালাধিকরণ এবং
৩. ভাবাধিকরণ।

আধারাধিকরণ:
আধারাধিকরণ বা স্থানাধিকরণ কোন কোন স্থানকে বুঝায়। যেমন: তিলে তৈল আছে। ছেলেটি অঙ্কে কাচা। নদীতে পানি আছে।
এটি তিন ভাগে বিভক্ত।
যথা :
- ১. ঐকদেশিক, ২. অভিব্যাপক এবং ৩. বৈষয়িক।

• ঐকদেশিক:
বিশাল স্থানের যে কোনো এক অংশে ক্রিয়া সংঘটিত হলে তাকে ঐকদেশিক আধারাধিকরণ বলে। যেমন-
পুকুরে মাছ আছে। (পুকুরের যে কোনো একস্থানে)
বনে বাঘ আছে। (বনের যে কোনো এক অংশে)
আকাশে চাঁদ উঠেছে। (আকাশের কোনো এক অংশে)

সামীপ্যে অর্থেও ঐকদেশিক অধিকরণ হয়।
যেমন:
- ঘাটে নৌকা বাঁধা আছে (ঘাটের কাছে)। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৬,৭২৯.
কোনটি শুদ্ধ বানান?
  1. ক) চানক্য
  2. খ) চাণক্য
  3. গ) চানোক্য
  4. ঘ) চাণোক্য
ব্যাখ্যা

কতগুলো শব্দে স্বভাবতই মূর্ধন্য-ণ হয়।
যেমনঃ
চাণক্য মাণিক্য গণ, বাণিজ্য লবণ মণ
বেণু বীণা কঙ্কণ কণিকা।
কল্যাণ শোণিত মণি, স্থাণু গুণ পুণ্য বেণী
ফণী অণু বিপণি গণিকা।
আপণ লাবণ্য বাণী, নিপুণ ভণিতা পাণি
গৌণ কোণ ভাণ পণ শাণ।
চিক্কণ নিক্বণ তূণ, কফণি (কনুই) বণিক গুণ
গণনা পিণাক পণ্য বাণ।

সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি

৬,৭৩০.
সরল বাক্যে রূপান্তর করুন - যখন সে সুসংবাদটা পেল, তখন সে আনন্দিত হলো।
  1. যদি সুসংবাদ পাও, তবে আনন্দিত হও।
  2. যেই সে সুসংবাদ পেল, সেই সে আনন্দিত হলো।
  3. সে সুসংবাদ পেল এবং আনন্দিত হলো।
  4. সুসংবাদটা পেয়ে সে আনন্দিত হলো।
ব্যাখ্যা
জটিল বাক্য থেকে সরল বাক্য:
জটিল বাক্যকে সরল বাক্যে রূপান্তরের সময়ে সাপেক্ষ সর্বনাম ও সাপেক্ষ যোজককে বাদ দিতে হয়।
যেমন -
- জটিল বাক্য: যারা পরিশ্রম করে, তারা জীবনে সফল হয়।
- সরল বাক্য: পরিশ্রমীরা জীবনে সফল হয়।

- জটিল বাক্য: যখন সে সুসংবাদটা পেল, তখন সে আনন্দিত হলো।
- সরল বাক্য: সুসংবাদটা পেয়ে সে আনন্দিত হলো

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৬,৭৩১.
বাংলা অক্ষরে মুদ্রিত বাঙালির লেখা প্রথম গ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) কথোপকথন
  2. খ) প্রতাপাদিত্যচরিত্র
  3. গ) হুতোম প্যাঁচার নকশা
  4. ঘ) গৌড়ীয় ব্যাকরণ
ব্যাখ্যা

বাঙলা অক্ষরে মুদ্রিত বাঙালির লেখা যে বইটি প্রথম ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের ছাপাখানা থেকে বের হয়, সেটির নাম প্রতাপাদিত্যচরিত্র। ১৮০১ সালে প্রকাশিত হওয়া বইটি লিখেছিলেন রামরাম বসু
উৎসঃ লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ

৬,৭৩২.
বানানের নিয়ম অনুসারে কোন বানানটি অশুদ্ধ?
  1. খেয়ালি
  2. মিতালি
  3. হেঁয়ালী
  4. রুপালি
ব্যাখ্যা
• বানানের নিয়ম অনুসারে অশুদ্ধ বানান: হেঁয়ালী
• এর শুদ্ধরূপ: হেঁয়ালি।

নিয়ম:
আলি প্রত্যয়যুক্ত শব্দে ই-কার ব্যবহৃত হবে।
যেমন- সোনালি, মিতালি, বর্ণালি, খেয়ালি, রুপালি, হেঁয়ালি ইত্যাদি।

[ তবে ‘সোনালী ব্যাংক’ এর (সোনালী) বানানটি ব্যাংক কর্তৃক এভাবেই নিবন্ধিত। তাই সোনালী ব্যাংক লিখতে সোনালী শব্দটিই ব্যবহৃত হবে। যদিও বানানের নিয়ম অনুসারে (সোনালী) শব্দের সঠিক বানান সোনালি।]

উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৬,৭৩৩.
শুদ্ধ বাক্য নির্ণয় করুন-
  1. মেয়েটি স্বয়ম্বর।
  2. বিপদগ্রস্তকে সাহায্য করো।
  3. আকণ্ঠ পর্যন্ত আহারে স্বাস্থ্যহানি ঘটে।
  4. একটি গোপন কথা বলি।
ব্যাখ্যা

 • বিপদগ্রস্তকে সাহায্য করো। - বাক্যটি শুদ্ধ।

অন্যদিকে,

- অশুদ্ধবাক্য: মেয়েটি স্বয়ম্বর।  
- শুদ্ধবাক্য: মেয়েটি স্বয়ম্বরা।  

- অশুদ্ধ বাক্য:আকণ্ঠ পর্যন্ত আহারে স্বাস্থ্যহানি ঘটে।
- শুদ্ধ বাক্য: আকণ্ঠ আহারে স্বাস্থ্যহানি ঘটে।

- অশুদ্ধ বাক্য: একটি গোপন কথা বলি।
- শুদ্ধ বাক্য: একটি গোপনীয় কথা বলি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৬,৭৩৪.
কোন শব্দটি অশুদ্ধ?
  1. বিমর্শ
  2. বিমর্ষ
  3. বিস্তর
  4. বিরোচিত
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে, 
- 'বিরোচিত' শব্দটির বানান ভুল।
• শুদ্ধ শব্দ:
- বিরচিত: প্রণীত; লিখিত; রচিত।

 অন্যদিকে,
- বিমর্শ অর্থ বিতর্ক।
- বিমর্ষ অর্থ বিষাদগ্রস্ত।
- বিস্তর অর্থ অনেক।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৬,৭৩৫.
নিচের কোন বানানটি অশুদ্ধ?
  1. দুরাকাঙ্ক্ষা
  2. অভিভূত
  3. মধ্যাকর্ষণ
  4. ভাগীরথী
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,

• শুদ্ধ বানান - 'মাধ্যাকর্ষণ'
- বিশেষ্য পদ।
- সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃতি প্রত্যয়: মধ্য + অ + আকর্ষণ।
অর্থ:
- জড় পদার্থের পারস্পরিক আকর্ষণশক্তি।
- অভিকর্ষ, মহাকর্ষ।

অন্যদিকে,
- দুরাকাঙ্ক্ষা, অভিভূত ও ভাগীরথী বানানগুলো শুদ্ধ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান। 
৬,৭৩৬.
'অহংকারে পতন ঘটে।' - বাক্যে 'অহংকারে' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্তায় ৭মী
  2. কর্মে ৭মী
  3. করণে ৭মী
  4. অধিকরণে ৭মী
ব্যাখ্যা
• 'অহংকারে পতন ঘটে।' - বাক্যে 'অহংকারে' করণে ৭মী বিভক্তি।

করণ কারক:
- 'করণ' শব্দটির অর্থ: যন্ত্র, সহায়ক বা উপায়।
- ক্রিয়া সম্পাদনের যন্ত্র, উপকরণ বা সহায়ককেই করণ কারক বলা হয়।
- বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদের সঙ্গে 'কীসের দ্বারা' বা 'কী উপায়ে' প্রশ্ন করলে যে উত্তরটি পাওয়া যায়, তা-ই করণ কারক।
যেমন -
→ নীরা কলম দিয়ে লেখে। (উপকরণ - কলম)
→ 'জগতে কীর্তিমান হয় সাধনায়।' (উপায় - সাধনা)

করণ কারকে বিভিন্ন বিভক্তির ব্যবহার:
(ক) প্রথমা বা শূন্য বা 'অ' বিভক্তি:
- ছাত্ররা বল খেলে। (অকর্মক ক্রিয়া)
- ডাকাতেরা গৃহস্বামীর মাথায় লাঠি মেরেছে। (সকর্মক ক্রিয়া)

(খ) তৃতীয়া বা দ্বারা বিভক্তি: লাঙ্গল দ্বারা জমি চাষ করা হয়।
- দিয়া বিভক্তি: মন দিয়া কর সবে বিদ্যা উপার্জন।

(গ) সপ্তমী বিভক্তি বা 'এ' বিভক্তি:
অহংকারে পতন ঘটে
ফুলে ফুলে ঘর ভরেছে।
→ শিকারি বিড়াল গোঁফে চেনা যায়।
- তে বিভক্তি:
→ 'এত শঠতা, এত যে ব্যথা, তবু যেন তা মধুতে মাখা।' - নজরুল।
→ লোকটা জাতিতে বৈষ্ণব।
- য় বিভক্তি:
চেষ্টায় সব হয়।
→ এ সুতায় কাপড় হয় না।

• 'অহংকারে পতন ঘটে।' - বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদকে 'কীসে পতন ঘটে?' প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'অহংকারে'। তাই, 'অহংকারে' করণে ৭মী বিভক্তি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ); বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,৭৩৭.
কোনটি সন্ধিজনিত অপপ্রয়োগ?
  1. মাতৃজনিত
  2. অদ্যবধি
  3. মহিমমণ্ডিত
  4. জ্যোতিরিন্দ্র
ব্যাখ্যা
• সন্ধিজনিত অপপ্রয়োগ - অদ্যবধি
এর শুদ্ধ প্রয়োগ - অদ্যাবধি।

অন্যদিকে,
- জ্যোতিরিন্দ্র,
- মহিমমণ্ডিত ,
- মাতৃজনিত।
 শব্দগুলোর প্রয়োগ সঠিক।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা ড. হায়াৎ মামুদ।
৬,৭৩৮.
আধারাধিকরণ কয় প্রকার?
  1. ২ প্রকার
  2. ৩ প্রকার
  3. ৪ প্রকার
  4. ৫ প্রকার
ব্যাখ্যা
• আধারাধিকরণ তিন ভাগে বিভক্ত।
যথা:
১. ঐকদেশিক,
২. অভিব্যাপক এবং
৩. বৈষয়িক।

অভিব্যাপক:
- উদ্দিষ্ট বস্তু যদি সমগ্র আধার ব্যাপ্ত করে বিরাজমান থাকে,তবে তাকে অভিব্যাপক আধারাধিকরণ বলে।
যেমন-
- তিলে তৈল আছে। (তিলের সারা অংশব্যাপী)।
- নদীতে পানি আছে। (নদীর সমস্ত অংশ ব্যাপ্ত করে)।

ঐকদেশিক:
- বিশাল স্থানের যে কোনো এক অংশে ক্রিয়া সংঘটিত হলে তাকে ঐকদেশিক আধারাধিকরণ বলে।
যেমন-
- পুকুরে মাছ আছে।
- বনে বাঘ আছে।
- আকাশে চাঁদ উঠেছে।

বৈষয়িক:
- বিষয় বিশেষে বা কোনো বিশেষ গুণে কারও কোনো দক্ষতা বা ক্ষমতা থাকলে সেখানে বৈষয়িক অধিকরণ হয়।
যেমন-
- সফিক অঙ্কে কাঁচা।
- আমাদের সেনারা সাহসে দুর্জয়, যুদ্ধে অপরাজেয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৬,৭৩৯.
তুমি দীর্ঘজীবী হও। - বাক্যটিকে নির্দেশাত্মক রূপ কী?
  1. ক) তোমার দীর্ঘজীবন হোক।
  2. খ) তোমার দীর্ঘজীবন প্রত্যাশা করছি।
  3. গ) তোমার দীর্ঘজীবন কামনা করছি।
  4. ঘ) তুমি অনেক দিন বেঁচে থাকো।
ব্যাখ্যা
ইচ্ছামূলক বর্তমান কালের ক্রিয়া ভবিষ্যৎ কালের নির্দেশক ক্রিয়ায় রূপান্তর করতে হবে।
নির্দেশক বাক্যে প্রয়োজনমতো ‘প্রার্থনা করছি’, ‘কামনা করছি’ ইত্যাদি যুক্ত করতে হবে।

উৎস : বাংলা একাডেমির আধুনিক ব্যাকরণ। 
৬,৭৪০.
নিচের কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. ক) শাড়ি
  2. খ) শারী
  3. গ) শাড়ী
  4. ঘ) উপরের সবগুলোই
ব্যাখ্যা
শাড়ি, শাড়ী (বিশেষ্য) - স্ত্রীলোকের বস্ত্রবিশেষ।
শারি, সারি, শারী, শারিকা- (বিশেষ্য) (স্ত্রীলিঙ্গ) শালিক; শালিকের পত্নী।
উৎসঃ বাংলা একাডেমি অভিধান
৬,৭৪১.
'আমাকে একটি কলম দাও।' - কোন ধরনের বাক্যের উদাহরণ?
  1. আবেগসূচক বাক্য
  2. প্রশ্নবোধক বাক্য
  3. বিবৃতিমূলক বাক্য
  4. অনুজ্ঞাসূচক বাক্য
ব্যাখ্যা
অনুজ্ঞাসূচক বাক্য:
- আদেশ, নিষেধ, অনুরোধ, প্রার্থনা ইত্যাদি বোঝাতে অনুজ্ঞাবাচক বাক্য হয় ।
যেমন -
- আমাকে একটি কলম দাও।
- তার মঙ্গল হোক।

অন্যদিকে,
বিবৃতিমূলক বাক্য:
- সাধারণভাবে কোনো বিবরণ প্রকাশ পায় যেসব বাক্যে, সেগুলোকে বিবৃতিমূলক বাক্য বলে।
- বিবৃতিবাচক বাক্য ইতিবাচক বা নেতিবাচক হতে পারে।
যেমন –
- আমরা রোজ বেড়াতে যেতাম।
- তারা তোমাদের ভোলেনি ।

প্রশ্নবোধক বাক্য:
- বক্তা কারও কাছ থেকে কিছু জানার জন্য যে ধরনের বাক্য বলে, সেগুলো প্রশ্নবাচক বাক্য।
যেমন –
- তোমার নাম কী?
- সুন্দরবনকে কোন ধরনের বনাঞ্চল বলা হয়?

আবেগসূচক বাক্য:
- যে বাক্য দ্বারা মনের আবেগ ও আকস্মিক ভাব প্রকাশ পায় বলা হয়- আবেগসূচক বাক্য।
যেমন:
বিস্ময় প্রকাশে: কী বীভৎস, এই নারকীয় হত্যাকান্ড।
আবেগ প্রকাশে: বাহ্‌ ! অনেক সুন্দর লাগছে প্রাকৃতিক দৃশ্য।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৬,৭৪২.
'বিদ্যালয়ের সকল ছেলেরা মাঠে ফুটবল খেলছে।' বাক্যটিতে যে ত্রুটি রয়েছে-
  1. ক) গুরুচণ্ডালী দোষ
  2. খ) বহুবচনের দ্বিত্ব
  3. গ) আসত্তির অভাব
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
বাক্যটিতে 'সকল ছেলেরা' বহুবচনে দ্বিত্ব হয়েছে। বাক্যটির শুদ্ধরূপ হবে- বিদ্যালয়ের সকল ছেলে মাঠে ফুটবল খেলছে বা বিদ্যালয়ের ছেলেরা মাঠে ফুটবল খেলছে।
৬,৭৪৩.
কোন বানানটি অশুদ্ধ?
  1. বীণা
  2. বাণিজ্য
  3. কণিকা
  4. ক্রন্দণ
ব্যাখ্যা
• কতকগুলো শব্দে স্বভাবতই ‘ণ’ হয়।

যেমন:
- চাণক্য, মাণিক্য, গণ, বাণিজ্য, লবণ, মণ, বেণু, বীণা, কঙ্কণ, কণিকা, স্থাণু, ফণী ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• ত-বর্গীয় বর্ণের সঙ্গে যুক্ত 'ন' কখনো 'ণ' হয় না, ন হয়।
যেমন -
- অন্ত, গ্রন্থ, ক্রন্দন

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৬,৭৪৪.
কোন শব্দে সমার্থ শব্দের বাহুল্যজনিত কারণে অপপ্রয়োগ ঘটেছে?
  1. শুধুমাত্র
  2. গাম্ভীর্যতা
  3. অর্ধরাত্রি
  4. মৈত্রতা
ব্যাখ্যা

• 'শুধুমাত্র' - শব্দটি অপপ্রয়োগ। এটি সমার্থ শব্দের বাহুল্যজনিত কারণে অপপ্রয়োগ
- এখানে শুধু ও মাত্র দুটি একই শব্দ।
- তাই এখানে একই সাথে 'শুধুমাত্র' শব্দটি অশুদ্ধ।

অন্যদিকে,
• অপপ্রয়োগ - গাম্ভীর্যতা।
- এটি '-তা' এবং 'ত্ব' প্রত্যয় ঘটিত অপপ্রয়োগ। এর শুদ্ধ প্রয়োগ - গাম্ভীর্য, গম্ভীরতা।

• 'অর্ধরাত্রি' - শব্দটি অপপ্রয়োগ।
- এটি সমাস ঘটিত অপপ্রয়োগ। এর শুদ্ধ প্রয়োগ হচ্ছে - অর্ধরাত্র।

• 'মৈত্রতা' শব্দটি অপপ্রয়োগ।
- এটি 'তা' প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগ জনিত ভুল। এর শুদ্ধ প্রয়োগ - মৈত্র, মিত্রতা।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ; বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

৬,৭৪৫.
কোনটি শুদ্ধ বানান?
  1. কনীণিকা
  2. কণিণিকা
  3. কণীনিকা
  4. কনীনিকা
ব্যাখ্যা

• শুদ্ধ বানান 'কনীনিকা'।
- এটি একটি সংস্কৃত শব্দ।
- শব্দটি বিশেষ্য পদ।

অর্থ:
- চোখের তারা,
- কড়ে আঙুল,
- ছোটো বোন।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৬,৭৪৬.
শুদ্ধ বানান -
  1. মুমূর্ষ
  2. কৃষিজীবি
  3. সমীচিন
  4. কীর্তন
ব্যাখ্যা

বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
• শুদ্ধ বানান – কীর্তন।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।

শব্দের অর্থ:
- গুণবর্ণনা, যশ বা মহিমা প্রচার, রাধাকৃষ্ণের লীলাবিষয়ক সংগীত।

অন্যদিকে,
অশুদ্ধ বানানের শুদ্ধরূপ,
- সমীচীন, 
- মুমূর্ষু, 
- কৃষিজীবী।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৬,৭৪৭.
নিচের কোন শব্দটি অপপ্রয়োগ?
  1. পিতৃহারা
  2. সুবুদ্ধিমান
  3. নির্দোষ
  4. নীরোগ
ব্যাখ্যা

• 'সুবুদ্ধিমান' - শব্দটিতে অপপ্রয়োগ ঘটেছে। 
- এটি সমাস সাধিত অপপ্রয়োগ।
- এর শুদ্ধ প্রয়োগ - সুবুদ্ধি।

অন্যদিকে,
- নীরোগ, 
- পিতৃহারা,
- নির্দোষ। 
শব্দগুলোর প্রয়োগ শুদ্ধ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৬,৭৪৮.
"জ্ঞানী লোক সকলের শ্রদ্ধার পাত্র।" এটি কোন ধরনের বাক্য?
  1. সরল বাক্য
  2. জটিল বাক্য
  3. যৌগিক বাক্য
  4. খণ্ড বাক্য
ব্যাখ্যা
"জ্ঞানী লোক সকলের শ্রদ্ধার পাত্র।" এটি সরল বাক্য।

• সরল বাক্য:
- যে বাক্যে একটিমাত্র কর্তা (উদ্দেশ্য) এবং একটিমাত্র সমাপিকা ক্রিয়া (বিধেয়) থাকে, তাকে সরল বাক্য বলে।
- যথা: জ্ঞানী লোক সকলের শ্রদ্ধার পাত্র।
- এখানে 'জ্ঞানী লোক' উদ্দেশ্য এবং 'সকলের শ্রদ্ধার পাত্র' বিধেয়।

• মিশ্র বা জটিল বাক্য:
- যে বাক্যে একটি প্রধান খণ্ডবাক্যের এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য পরস্পর সাপেক্ষ ভাবে ব্যবহৃত হয়, তাকে মিশ্র বা জটিল বাক্য বলে।
- যথা- "যে পরিশ্রম করে, সে-ই সুখ লাভ করে।"
- এই বাক্যে 'যে পরিশ্রম করে' আশ্রিত বাক্য এবং 'সে-ই সুখ লাভ' করে প্রধান খণ্ডবাক্য।

• যৌগিক বাক্য:
- পরস্পর নিরপেক্ষ দুই বা ততোধিক সরল বা মিশ্র বাক্য মিলিত হয়ে একটি সম্পূর্ণ বাক্য গঠন করলে তাকে যৌগিক বাক্য বলে।
- জ্ঞাতব্য: যৌগিক বাক্যের অন্তর্গত নিরপেক্ষ বাক্যগুলো এবং, ও, কিন্তু, অথবা, অথচ, কিংবা, বরং, তথাপি প্রভৃতি অব্যয় যোগে সংযুক্ত বা সমন্বিত থাকে।
- যেমন- নেতা জনগণকে উৎসাহিত করলেন বটে, কিন্তু, কোনো পথ দেখাতে পারলেন না।
- "সে অনেক পড়েছে কিন্তু পাস করতে পারে নি।" বাক্যটি একটি যৌগিক বাক্য।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ৯ম - ১০ম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৬,৭৪৯.
বাক্যের সমাপ্তি নির্দেশ করে কোনটি?
  1. কমা 
  2. সেমিকোলন 
  3. বিকল্পচিহ্ন 
  4. দাঁড়ি
ব্যাখ্যা
• 'দাঁড়ি' যতিচিহ্ন:
- দাঁড়ি সাধারণত বাক্যের সমাপ্তি নির্দেশ করে।
- দাঁড়ি যতিচিহ্ন ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিরতির সময়কাল ১ সেকেন্ড।
- বাংলা রচনায় দাঁড়ি চিহ্নের ব্যবহার অন্যান্য যতির তুলনায় বেশি।
- বিবৃতিমূলক সরল বাক্যে শুধু একটি দাঁড়ি দিয়ে শেষ হয়।
- অনুরোধ, আদেশ ইত্যাদি বোঝায় এমন বাক্যের শেষে দাঁড়ি ব্যবহৃত হয়।

যেমন:
- যাও।
- তোমার লেখা হলে কলমটা দিয়ো তো।
- প্রান্ত ফুটবল খেলা পছন্দ করে।
- যথাযথ অনুসন্ধানের পর বলা যাবে কী ঘটেছিল।

উৎস: প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, বাংলা একাডেমি এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।
৬,৭৫০.
কোনটি অনুজ্ঞাসূচক বাক্য?
  1. আর তো পথ নেই।
  2. দুর্জনকে দূরে রেখো।
  3. এটা তো মানুষের ধর্ম নয়।
  4. মরতে তো একদিন হবেই।
ব্যাখ্যা

• অনুজ্ঞাসূচক বাক্য- দুর্জনকে দূরে রেখো।

• অনুজ্ঞা বা আদেশসূচক বাক্য:
যে বাক্যে আদেশ, অনুরোধ, উপদেশ, নিষেধ ইত্যাদি অর্থ প্রকাশ পায় তাকে অনুজ্ঞা-বাক্য বলে। একে আজ্ঞাসূচক, আজ্ঞাবাচক, অনুজ্ঞাসূচক, আদেশসূচক বাক্যও বলা হয়।
যেমন:
• আদেশ: কাছে এসো।
• উপদেশ: সদা সত্য কথা বলবে।
• অনুরোধ: দয়া করে আমার কাজটা করে দেবেন/দিন।
• নিষেধ: "সুচেতনা, ওইখানে যেয়ো নাকো তুমি।
• প্রস্তাব: চলো, নাটক দেখে আসি।

অন্যদিকে, 
• আর তো পথ নেই।
• এটা তো মানুষের ধর্ম নয়।
• মরতে তো একদিন হবেই।

প্রদত্ত বাক্যগুলো নির্দেশাত্মক বাক্যের উদাহরণ। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৬,৭৫১.
নিচের কোনটি অপপ্রয়োগ? 
  1. ক) লঘিষ্ঠ
  2. খ) শ্রেষ্ঠ
  3. গ) বলিষ্ঠতর
  4. ঘ) পাপিষ্ঠ
ব্যাখ্যা
শব্দটির শুদ্ধরূপ : বলিষ্ঠ 

উৎস : নবম-দশম শ্রেণি পুরাতন ও নতুন ব্যাকরণ, ভাষা-শিক্ষা, বাংলা একাডেমির ব্যাকরণ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ।
৬,৭৫২.
যে বাক্যে কর্ম থাকে না এবং বাক্যে ক্রিয়ার অর্থই বিশেষভাবে ব্যক্ত হয় তাকে,কী বলে?
  1. কর্মবাচ্য
  2. কর্তৃবাচ্য
  3. ভাববাচ্য
  4. কর্মকর্তৃবাচ্য
ব্যাখ্যা
ভাববাচ্য:
- যে বাক্যে কর্ম থাকে না এবং বাক্যে ক্রিয়ার অর্থই বিশেষভাবে ব্যক্ত হয় তাকে ভাববাচ্য বলে

যেমন:
- আমার খাওায়া হলো না।
- আমাকে এখন যেতে হবে।
- তোমার দ্বারা এই কাজ হবে না।
- কোথায় থাকা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৬,৭৫৩.
কোনটি অপপ্রয়োগের দৃষ্টান্ত?
  1. কদাপি
  2. সমূলসহ
  3. রক্তিম
  4. বিপন্মুক্তি
ব্যাখ্যা
• 'সমূলসহ', সমার্থ শব্দের বাহুল্যজনিত অপপ্রয়োগ।
এর শুদ্ধরূপ - সমূল / মূলসহ।

অন্যদিকে,
- রক্তিম,
- বিপন্মুক্তি,
- কদাপি।
শব্দ গুলোর সঠিক প্রয়োগ হয়েছে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ ও বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৬,৭৫৪.
নিচ থেকে শুদ্ধ বানানটি চিহ্নিত করুন-
  1. ক) শ্রদ্ধাস্পদেষু
  2. খ) শ্রদ্ধাস্পদাষু
  3. গ) শ্রদ্ধাষ্পদেষু
  4. ঘ) শ্রদ্দাস্পাদাসু
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমী আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে ‘শ্রদ্ধাস্পদেষু’ শুদ্ধ বানান।
৬,৭৫৫.
নিচের কোন বাক্যে কোন ভুল নেই?
  1. ক) রচনাটির উৎকর্ষতা অনস্বীকার্য।
  2. খ) এরূপ জীবন কল্পনা করতেও আমাদের আতঙ্ক হয়েছিল।
  3. গ) জ্যোৎস্না রাত বড়ই মাধুর্যময়।
  4. ঘ) সর্ব বিষয়ে বাহুল্যতা বর্জন করিবে।
ব্যাখ্যা

প্রদত্ত বাক্যগুলোর মধ্যে খ) তে কোন ভুল নেই।
অন্যান্য অপশনগুলোতে ভুল থাকা বাক্যগুলোর শুদ্ধরূপঃ
- রচনাটির উৎকর্ষ অনস্বীকার্য।
- জ্যোৎস্না রাত বড়ই মধুর।
- সর্ব বিষয়ে বাহুল্য বর্জন করিবে।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৬,৭৫৬.
গুরুচণ্ডালী সংক্রান্ত অপপ্রয়োগ ঘটেনি নিচের কোনটিতে?
  1. ক) মড়াদাহ
  2. খ) তাপদাহ
  3. গ) দাবদাহ
  4. ঘ) গরুর শকট
ব্যাখ্যা
গুরুচণ্ডালী বলতে বোঝায় তদ্ভব এবং তৎসম শব্দের মিশ্রণ। এমন হলে বাক্যে অপপ্রয়োগ হয়েছে বলা যায়৷
গরুর গাড়ি, মরা পোড়া, শবদাহ, দাবদাহ - এরকম হলে গুরুচণ্ডালী দোষ হবে না।
এদের গুরুচণ্ডালী ভুল গুলো হচ্ছে - গরুর শকট, মড়া দাহ, শব পোড়া, তাপদাহ।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যকরণ, নবম-দশম শ্রেণি
৬,৭৫৭.
জটিল বাক্যে রুপান্তরিত করুন: বৃষ্টি হলে বের হব না'-
  1. ক) যদি বৃষ্টি না হয়, তবে আমরা বের হব না।
  2. খ) যদি বৃষ্টি না হয়, তবে আমরা বের হব না।
  3. গ) বৃষ্টি হলো এবং আমরা বের হলাম।
  4. ঘ) যদি বৃষ্টি হয়, তবে বের হব না।
ব্যাখ্যা
'বৃষ্টি হলে বের হব না'-এর জটিল রূপ = যদি বৃষ্টি হয়, তবে বের হব না।

বাক্যের মূল অর্থ অপরিবর্তিত রেখে সরল, জটিল ও যৌগিক বাক্যের পারস্পরিক রূপান্তর করা সম্ভব।

সরল বাক্য থেকে জটিল বাক্যে রূপান্তরের নিয়ম: 
যে-সে, যিনি-তিনি, যারা-তারা, যা-তা ইত্যাদি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যেহেতু-সেহেতু, যখন-তখন, যত-তত, যেমন-তেমন ইত্যাদি সাপেক্ষ যােজক যুক্ত করে সরল বাক্যকে জটিল বাক্যে রূপান্তরিত করা যায়।
যেমন -
সরল বাক্য: দুর্জন লােক পরিত্যাজ্য।
জটিল বাক্য: যেসব লােক দুর্জন, তারা পরিত্যাজ্য।
সরল বাক্য: তুমি চেষ্টা না করায় ব্যর্থ হয়েছ।
জটিল বাক্য: যেহেতু তুমি চেষ্টা করােনি, তাই ব্যর্থ হয়েছ।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।।
৬,৭৫৮.
'কলমটা ভালো লেখে'- কোন বাচ্যের উদাহরণ?
  1. ক) কর্তৃবাচ্য 
  2. খ) কর্মবাচ্য
  3. গ) ভাববাচ্য 
  4. ঘ) কর্ম-কর্তৃবাচ্য
ব্যাখ্যা
'কলমটা ভালো লেখে'- কর্ম-কর্তৃবাচ্যের উদাহরণ।

• কর্ম-কর্তৃবাচ্য:
- যে বাক্যে কর্মকারক কর্তার মতো প্রতীয়মান হয় অথার্ৎ ক্রিয়ার কর্ম কর্তার মনোযোগ ব্যতীত সম্পাদিত হয়, তাকে কর্ম-কর্তৃবাচ্যের বাক্য বলে।
যেমন : 
- এসিটা চালো হলো।
- জানালার কাচ ভাঙল।
- আজ সারারাত রাস্তায় আলো জ্বলেনি।
- কোথায় যেন বাঁশি বাজছে।
- আম পেকেছে খুব।
- বইটি বাজারে বেশ কাটছে।
- কাপড় ছেঁড়ে।
- বাঁশি বাজে ওই মধুর লগনে।
- কলমটা ভালো লেখে।
- সুতি কাপড় অনেক দিন টেকে বেশি।

উৎস : নবম-দশম শ্রেণি পুরাতন ও নতুন ব্যাকরণ, ভাষা-শিক্ষা, বাংলা একাডেমির ব্যাকরণ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ। 
৬,৭৫৯.
'ঐক্যতা' শব্দটি কোন কারণে অশুদ্ধ?
  1. বিভক্তিজনিত
  2. প্রত্যয়জনিত
  3. সমাসজনিত
  4. সন্ধিবিষয়ক
ব্যাখ্যা
• 'ঐক্যতা' শব্দটিতে 'তা' প্রত্যয়ের ভুল প্রয়োগ হয়েছে।
- শব্দটির সঠিক বানান হবে — ঐক্য বা একতা।

• '-তা' এবং 'ত্ব' প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগ:
- '-তা' এবং 'ত্ব' হলো বিশেষ্যবাচক প্রত্যয়। 
- এই প্রত্যয় কেবল বিশেষণ শব্দকে বিশেষ্য করে।
- তাই বিশেষ্য শব্দের সঙ্গে আবারো '-তা' বা 'ত্ব' যুক্ত করলে তা ভুল হবে।
যেমন -
 • 'উৎকর্ষ' শব্দটি বিশেষ্য।
- ‘উৎকর্ষ' শব্দের সঙ্গে আবারো বিশেষ্যবাচক ‘-তা' প্রত্যয় যুক্ত হলে তা ভুল বলে গণ্য হবে।
অর্থাৎ 'উৎকর্ষতা' প্রত্যয়জনিত অপপ্রয়োগ। 

উৎস- বাংলা একাডেমির প্রমিত বাংলা বানান এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান, ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৬,৭৬০.
অশুদ্ধ বানান কোনটি?
  1. আকাশচুম্বী
  2. অভীলাষী
  3. আকর্ষণীয়
  4. অভিনন্দিত
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ বানান: অভীলাষী।

• শুদ্ধ বানান: অভিলাষী (বিশেষণ পদ),
- সংস্কৃত শব্দভ
অর্থ:
- ইচ্ছুক,
- আকাঙ্ক্ষী,
- লোভী।

----------------------
অন্যদিকে,
• শুদ্ধ: আকাশচুম্বী (বিশেষণ পদ),
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ:
- গগনস্পর্শী,
- অত্যন্ত উঁচু।

• শুদ্ধ: আকর্ষণীয় (বিশেষণ পদ),
- এটি সংস্কৃত শব্দ। 
অর্থ:
- আকর্ষন করার যোগ্য,
- প্রীতিকর,
- মনোহর।

• শুদ্ধ: অভিনন্দিত (বিশেষণ পদ),
- এটি সংস্কৃত শব্দ। 
অর্থ:
- প্রশংসার দ্বারা সংবর্ধিত।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৬,৭৬১.
অশুদ্ধ বাক্য -
  1. বিধি লঙ্ঘিত হয়েছে।
  2. নিরোগ লোক আসলে সুখী।
  3. তাকে বাড়ি যেতে দাও।
  4. সময় বড় সংক্ষিপ্ত।
ব্যাখ্যা
অশুদ্ধ বাক্য: নিরোগ লোক আসলে সুখী।
- বাক্যটি বানানঘটিত অশুদ্ধ।
- 'নিরোগ' শব্দের শুদ্ধ বানানা - নীরোগ।
শুদ্ধ বাক্য: নীরোগ লোক আসলে সুখী।

অন্যদিকে,
উল্লিখিত বাক্যগুলো শুদ্ধ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৬,৭৬২.
কোন বানানটি সঠিক  নয়?
  1. ঘণ্টা
  2. লুণ্ঠন
  3. কণ্টক
  4. অর্পন
ব্যাখ্যা

• ণ-ত্ব বিধান বানান অনুসারে, 'অর্পন' শব্দটি অশুদ্ধ। এর শুদ্ধ বানান- অর্পণ।

• ণ-ত্ব বিধান: 
• ট–বর্গীয় ধ্বনির আগে তৎসম শব্দে সবসময় মূর্ধন্য ‘ণ’ যুক্ত হয়।
যেমন,
ঘণ্টা, লুণ্ঠন, কাণ্ড, কণ্টক, পাণ্ডব, কণ্ঠ। 

• ঋ, র, ষ এর পরে স্বরধ্বনি ষ, য়, ব, হ, ং এবং 'ক' বর্গীয় ও 'প' বর্গীয় থাকলে তার পরবর্তীতে ‘ন’ তখন ‘ণ’ হয়ে যায়।
যেমন,
- কৃপণ, হরিণ, অর্পণ, লক্ষণ ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ ও বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৬,৭৬৩.
মূর্ধন্য-ষ এর অপপ্রয়োগ ঘটেছে নিচের কোন শব্দে?
  1. অনুষঙ্গ
  2. ধূলিষাৎ 
  3. ভবিষ্যৎ
  4. সুষমা 
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

• মূর্ধন্য-ষ এর অপপ্রয়োগ ঘটেছে- ধূলিষাৎ শব্দে। 
- শুদ্ধ বানান- ধূলিসাৎ। 

--------------------
ষ-ত্ব বিধান:
বাংলা ভাষায় সাধারণত মূর্ধন্য-ষ ধ্বনির ব্যবহার নেই। তাই দেশি, তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ষ লেখার প্রয়োজন হয় না। কেবল কিছু তৎসম শব্দে ষ-এর প্রয়োগ রয়েছে। তৎসম শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ষ এর ব্যবহারের নিয়মকে ষ-ত্ব বিধান বলে।

'ষ' ব্যবহারের নিয়ম:
১. 'ঋ' এবং 'ঋ-কার' এর পর 'ষ' হয়। যেমন- ঋষি, কৃষক, উৎকৃষ্ট ইত্যাদি।
২. ট-বর্গীয় ধ্বনির সাথে 'ষ' যুক্ত হয়। যেমন- কষ্ট, স্পষ্ট, নষ্ট, কাষ্ঠ, ওষ্ঠ ইত্যাদি।
৩. অ, আ ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনি এবং ক ও র-এর পরে প্রত্যয়ের 'স' 'ষ' হয়। যেমন- ভবিষ্যৎ, মুমূর্ষু, চক্ষুম্মান, চিকীর্ষা ইত্যাদি।
৪. ই-কারান্ত এবং উ-কারান্ত উপসর্গের পর কতগুলো ধাতুতে 'ষ" হয়। যেমন- অভিসেক > অভিষেক, সুসুপ্ত  > সুষুপ্ত, অনুসঙ্গ > অনুষঙ্গ, সুসমা > সুষমা ইত্যাদি।
৫. তৎসম শব্দে 'র'-এর পর 'ষ' হয়। যেমন: বর্ষা, ঘর্ষণ, বর্ষণ।
৬. কতগুলো শব্দে স্বভাবতই 'ষ' ব্যবহৃত হয়। যেমন- ষড়ঋতু, রোষ, কোষ, আষাঢ়, ভাষণ, ঊষা, পৌষ ইত্যাদি।

যে সব ক্ষেত্রে ষ-ত্ব বিধান প্রযোজ্য নয়:
- আরবি, ফারসি, ইংরেজি ইত্যাদি বিদেশি ভাষা থেকে আগত শব্দে ষ হয় না। যেমন- জিনিস, পোশাক, মাস্টার, পোস্ট ইত্যাদি।
- সংস্কৃত 'সাৎ' প্রত্যয়যুক্ত পদেও 'ষ' হয় না। যেমন- অগ্নিসাৎ, ধূলিসাৎ, ভূমিসাৎ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৬,৭৬৪.
কোনটিতে অপ-প্রয়োগ ঘটেছে?
  1. ক) মিথস্ক্রিয়া
  2. খ) একত্রিত
  3. গ) জবাবদিহি
  4. ঘ) গৌরবিত
ব্যাখ্যা

'একত্রিত' শব্দটি প্রত্যয়জনিত অশুদ্ধ। এর শুদ্ধরূপের প্রয়োগ হবে - একত্র।

এরূপ আরও কয়েকটি অপপ্রয়োগের শুদ্ধরূপ-
অধীনস্থ (হবে না) – অধীন (হবে),
আবশ্যকীয় - আবশ্যক
উৎকর্ষতা - উৎকৃষ্টতা/উৎকর্ষ
গ্রাহ্যনীয় - গ্রাহ্য,
সৃজন - সৃষ্টি,
পৈত্রিক - পৈতৃক ইত্যাদি।

৬,৭৬৫.
"আমি কি ডরাই সথি ভিখারী রাঘবে?" রাঘবে শব্দটি কোন কারকে কোন বিভক্তি-
  1. কর্মে ২য়া
  2. করণে ৭মী
  3. অপাদানে ৫মী
  4. অপাদানে ৭মী
ব্যাখ্যা

অপাদান কারক:
- যা থেকে কিছু বিচ্যুত, জাত, বিরত, আরম্ভ, উৎপন্ন, দূরীভূত ও রক্ষিত হয় এবং যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকেই অপাদান কারক বলে।

যেমন:
- বাবাকে বড্ড ভয় পাই।
- ট্রেন স্টেশন ছেড়েছে।
- গাছ হতে ফলটি পড়ল।
- 'আমি কি ডরাই সখি ভিখারি রাঘবে?' অপাদান কারকে ৭মী বিভক্তির উদাহরণ।

যেহেতু প্রশ্নোক্ত বাক্যে রাঘবকে দেখে ভীত হওয়ার কথা বলা হয়েছে, তাই তা অপাদান কারক।
- আর 'রাঘবে' শব্দের সাথে 'এ' বিভক্তি যুক্ত আছে, তাই এটি অপাদানে সপ্তমী বিভক্তি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৬,৭৬৬.
কোনটি অশুদ্ধ বাক্য?
  1. হাতে টাকা নেই, একারণেই চোখে সরষে ফুল দেখছ।
  2. এ কথা প্রমাণিত হয়েছে।
  3. তারা বাড়ি যাচ্ছে।
  4. অতিশয় দুঃখিত হলাম।
ব্যাখ্যা

অশুদ্ধ বাক্য: অতিশয় দুঃখিত হলাম।
শুদ্ধ বাক্য: অত্যন্ত দুঃখিত হলাম।

​অন্যদিকে,
​শুদ্ধ বাক্য: তারা বাড়ি যাচ্ছে।
শুদ্ধ বাক্য: এ কথা প্রমাণিত হয়েছে।
শুদ্ধ বাক্য: হাতে টাকা নেই, একারণেই চোখে সরষে ফুল দেখছ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৬,৭৬৭.
অশুদ্ধ প্রয়োগ ঘটেছে কোন বাক্যে?
  1. সে সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছে।
  2. বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ।
  3. আমি তোমার অপরাধ সম্পর্কে নিঃসন্দিহান।
  4. অনাবশ্যক ব্যাপারে কৌতূহল ভালো নয়।
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ: আমি তোমার অপরাধ সম্পর্কে নিঃসন্দিহান।
• শুদ্ধ বাক্য: আমি তোমার অপরাধ সম্পর্কে নিঃসন্দেহ।

------------------------------
• বিশেষ্যের জায়গায় বিশেষণের কিংবা বিশেষণের বাহুল্য প্রয়োগজনিত ভুল:
বাক্যের মধ্যে ব্যবহৃত বিশেষ্য পদকে বিশেষণ কিংবা বিশেষণ পদকে বিশেষ্য ভেবে পদ পরিবর্তন করে এ ধরনের ভুল করা হয়। যেমন : আবশ্যক শব্দটি বিশেষণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এর বদলে -ঈয় প্রত্যয় যোগ করে আবশ্যকীয় শব্দের ব্যবহার যথাযথ নয়।

প্রচলিত কিছু অশুদ্ধ বাক্যের শুদ্ধরূপ হলো-

• অশুদ্ধ : অনাবশ্যকীয় ব্যাপারে কৌতূহল ভালো নয়।
• শুদ্ধ বাক্য: অনাবশ্যক ব্যাপারে কৌতূহল ভালো নয়।

• অশুদ্ধ: বাংলাদেশ একটি উন্নতশীল দেশ।
• শুদ্ধ বাক্য: বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ।

• অশুদ্ধ বাক্য: সে সম্ভ্রান্তশীল পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছে।
• শুদ্ধ বাক্য: সে সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৬,৭৬৮.
'রাঘবের পদাশ্রয়ে রক্ষার্থে আশ্রয়ী' বাক্যে 'পদাশ্রয়ে' শব্দটি-
  1. কর্মে ৭মী
  2. করণে ৭মী
  3. অপাদানে ৭মী
  4. অধিকরণে ৭মী
ব্যাখ্যা
• কারক:
মূলত ক্রিয়ার সঙ্গে বাক্যের বিশেষ্য ও সর্বনামের যে সম্পর্ক, তাকে কারক বলে।
- কারক সম্পর্ক বোঝাতে বিশেষ্য ও সর্বনামের সঙ্গে সাধারণত বিভক্তি ও অনুসর্গ যুক্ত হয়ে থাকে।

• কারক ছয় প্রকার:
- কর্তা কারক,
- কর্ম কারক,
- করণ কারক,
- অপাদান কারক,
- অধিকরণ কারক ও
- সম্বন্ধ কারক।

• অধিকরণ কারক:
- যে কারকে স্থান, কাল, বিষয় ও ভাব নির্দেশিত হয়, তাকে অধিকরণ কারক বলে।
- এই কারকে সাধারণত '-এ', '-য়', ‘-য়ে’, '-তে' ইত্যাদি বিভক্তি শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়।
যেমন -
বাবা বাড়িতে আছেন।
পাভেল বাংলা ব্যাকরণে ভালো।
রাঘবের পদাশ্রয়ে রক্ষার্থে আশ্রয়ী - অধিকরণে ৭মী

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ), বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,৭৬৯.
কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. ভূমিষ্ট
  2. ভুমিষ্ট
  3. ভূমীষ্ট
  4. ভূমিষ্ঠ
ব্যাখ্যা
• সঠিক বানান হচ্ছে 'ভূমিষ্ঠ'
- এটি একটি বিশেষণ পদ।
- এটি একটি সংস্কৃত শব্দ।
- এর প্রকৃতি প্রত্যয় - [ভূমি+√স্থা+অ(ক)]।
- এর অর্থ-  প্রসূত (তার একটি পুত্রসন্তান ভূমিষ্ঠ হয়েছে)। 

উৎসঃ বাংলা একাডেমী, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৬,৭৭০.
শুদ্ধ বানান কোনটি?
  1. হিনম্মন্যতা
  2. ভদ্রচিত
  3. ভ্রাতূষ্পুত্র
  4. অভিভূত
ব্যাখ্যা

• শুদ্ধ বানান - অভিভূত
- এটি একটি বিশেষণ পদ।
- সংস্কৃতভাষার শব্দ।

শব্দের অর্থ: 
- বিহ্বল।
- ভাবাবিষ্ট।
- পরাভূত।

অন্যদিকে,
• শুদ্ধ বানান - 'হীনম্মন্যতা'
• শুদ্ধ বানান 'ভদ্রোচিত'
• শুদ্ধ বানান - 'ভ্রাতুষ্পুত্র'

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৬,৭৭১.
কোনটি শুদ্ধ বানান?
  1. ন্যুন্যাধিক
  2. ন্যুনধিক
  3. ন্যূনাধিক
  4. নুন্যাধিক
ব্যাখ্যা

• শুদ্ধ বানান - ন্যূনাধিক
- এটি একটি বিশেষণ পদ।
- শব্দটি সংস্কৃত ভাষার শব্দ।

শব্দের অর্থ:
- কমবেশি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৬,৭৭২.
“তিনি চট্টগ্রাম থেকে এসেছেন।”- এখানে ‘চট্টগ্রাম’কোন কারক?
  1. ক) অপাদান কারক
  2. খ) অধিকরণ কারক
  3. গ) কর্ম কারক
  4. ঘ) করণ কারক
ব্যাখ্যা
বিভিন্ন অর্থে অপাদানের ব্যবহার
ক. স্থানবাচক : তিনি চট্টগ্রাম থেকে এসেছেন।
খ. দূরত্বজ্ঞাপক : ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম দুশো কিলোমিটারেরও বেশি।
গ. নিক্ষেপ : বিমান থেকে বোমা ফেলা হয়েছে।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণি।
৬,৭৭৩.
"শিক্ষক ছাত্রের দীর্ঘায়ু কামনা করলেন" এই পরোক্ষ উক্তির প্রত্যক্ষরূপ কী হবে?
  1. শিক্ষক ছাত্রকে বললেন, বাবা তুমি দীর্ঘজীবী হও।
  2. শিক্ষক ছাত্রকে বললেন, তোমার দীর্ঘায়ু হোক।
  3. শিক্ষক ছাত্রকে বললেন ,"তুমি দীর্ঘজীবী হও"।
  4. শিক্ষক ছাত্রকে বললেন, আমি তোমার দীর্ঘায়ু কামনা করি।
ব্যাখ্যা
- "শিক্ষক ছাত্রের দীর্ঘায়ু কামনা করলেন" - পরোক্ষ উক্তি।
- শিক্ষক ছাত্রকে বললেন ,"তুমি দীর্ঘজীবী হও"।- প্রত্যক্ষ উক্তি।

• উক্তি পরিবর্তন:
- কোনো কথকের বাক কর্মের নামই উক্তি। উক্তি দুই প্রকার: প্রত্যক্ষ উক্তি ও পরোক্ষ উক্তি।
- যে বাক্যে বক্তার কথা অবিকল উদ্ধৃত হয়, তাকে প্রত্যক্ষ উক্তি বলে। যথা তিনি বললেন, "বইটা আমার দরকার।"
- যে বাক্যে বক্তার উক্তি অন্যের জবানিতে রূপান্তরিতভাবে প্রকাশিত হয়, তাকে পরোক্ষ উক্তি বলা হয়।

• উক্তি পরিবর্তনের নিয়ম:
- প্রত্যক্ষ উক্তিতে বক্তার বক্তব্যটুকু উদ্ধরণ চিহ্নের ("") অন্তর্ভুক্ত থাকে।
- পরোক্ষ উক্তিতে উদ্ধরণ চিহ্ন লোপ পায়।
- প্রথম উদ্ধরণ চিহ্ন স্থানে 'যে' এই সংযোজক অব্যয়টি ব্যবহার করতে হয়।
- বাক্যের সঙ্গতি রক্ষার জন্য উক্তিতে ব্যবহৃত বক্তার পুরুষের পরিবর্তন করতে হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৬,৭৭৪.
সঠিক বানান নয় কোনটি?
  1. ধরণি
  2. মূর্ছা
  3. গুণ
  4. প্রানী
ব্যাখ্যা
অশুদ্ধ বানান: প্রানী।

শুদ্ধ বানান: প্রাণী (বিশেষ্য পদ),
- সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃতি-প্রত্যয়: (প্রাণ + ইন্),
অর্থ:
- মানুষ পশু পাখি কীটপতঙ্গ প্রভৃতি জীব।

অন্যদিকে,
• ধরণি (বিশেষ্য পদ),
অর্থ: পৃথিবী, ধরা, যে সবকিছু ধারণ করে।

• মূর্ছা (বিশেষ্য পদ),
অর্থ: অচৈতন্য অবস্থা; মোহপ্রাপ্তি।

• গুণ (বিশেষ্য পদ),
অর্থ: ধর্ম স্বভাব, প্রকৃতি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৬,৭৭৫.
নিচের কোনটি অপপ্রয়োগ?
  1. ক) নির্দোষ
  2. খ) অর্ধরাত্র
  3. গ) উৎকর্ষতা
  4. ঘ) নিরপরাধ
ব্যাখ্যা
'উৎকর্ষতা '-  'অপপ্রয়োগ'। 
-এর শুদ্ধ প্রয়োগ হবে: 'উৎকর্ষ' 
এটি  প্রত্যয়জনিত অপপ্রয়োগের এর উদাহরণ। 

 তা- প্রত্যয়ের শুদ্ধ- অশুদ্ধ প্রয়োগ: 
- তা, ত্ব প্রত্যয় বিশেষ্যবাচক প্রত্যয়। 
- এই প্রত্যয় কেবল বিশেষণকে বিশেষ্য করে 
- তাই বিশেষ্য শব্দের সঙ্গে তা বা ত্ব প্রত্যয় প্রয়োগ অশুদ্ধ।
- বিশেষ্য শব্দের সঙ্গে বিশেষ্যবাচক 'তা' প্রত্যয়ের ব্যবহার হলে তা অপপ্রয়োগ।

 এ ধরনের অপপ্রয়োগের উদাহরণ:
সৌহার্দতা, সাদৃশ্যতা, সৌজন্যতা, কার্পণ্যতা, উৎকর্ষতা ইত্যাদি।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন। 
৬,৭৭৬.
শুদ্ধ বানান -
  1. বয়োকনিস্ট
  2. বয়কনিষ্ঠ
  3. বয়োকনিষ্ট
  4. বয়ঃকনিষ্ঠ
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান - 'বয়ঃকনিষ্ঠ'
- এটি একটি বিশেষণ পদ।
- শব্দটি সংস্কৃত ভাষা হতে আগত।

শব্দের অর্থ:
- বয়সে ছোটো।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৬,৭৭৭.
কোনটি আদেশসূচক বাক্য?
  1. ক) তোমাকে বসতে বলেছি
  2. খ) পরীক্ষায় সফল হও
  3. গ) সে ঢাকা যাবে না
  4. ঘ) হুররে, আমরা জিতেছি!
ব্যাখ্যা
তোমাকে বসতে বলেছি - আদেশসূচক বাক্য;
পরীক্ষায় সফল হও - ইচ্ছাসূচক বাক্য;
সে ঢাকা যাবে না - বিবৃতিমূলক বাক্য;
হুররে, আমরা জিতেছি! - বিস্ময়সূচক বাক্য।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
৬,৭৭৮.
নিচের কোন শব্দটি শুদ্ধ?
  1. ক) বিকেন্দ্রীকরণ
  2. খ) বীকেন্দ্রিকরণ
  3. গ) বীকেন্দ্রিকরন
  4. ঘ) বিকেন্দ্রীকরন
ব্যাখ্যা
• 'বিকেন্দ্রীকরণ'- বানানটি শুদ্ধ। 

• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে, 
- 'বিকেন্দ্রীকরণ' (বিশেষ্য) শব্দের অর্থ:
- কোনো বিষয়কে কেন্দ্রীয় সরকারের শাসন থেকে প্রাদেশিক বা আঞ্চলিক সরকারের হস্তে প্রদান।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৬,৭৭৯.
উদ্ধারচিহ্ন কয় রকম?
  1. দুই
  2. তিন
  3. চার
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• উদ্ধারচিহ্ন ('-'), ("-"):
- কোনো কিছু উদ্ধৃত করার কাজে উদ্ধারচিহ্নের ব্যবহার হয়।
- উদ্ধারচিহ্ন দুই রকম: একক ও দ্বৈত।
যেমন:
- 'সিরাজউদ্দৌলা' একটি ঐতিহাসিক নাটক।
- আমাদের কণ্ঠ শুনে প্রিয়ন্তি ঘর থেকে বেরিয়ে এল, "ও আপনারা এসে গেছেন! বাসা চিনতে কোনো কষ্ট হয়নি তো?"

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৬,৭৮০.
নিচের কোনটি অশুদ্ধ?
  1. ক) অহিংস - সহিংস
  2. খ) প্রসন্ন - বিষন্ন
  3. গ) দোষী - নির্দোষী
  4. ঘ) নিষ্পাপ - পাপিনী
ব্যাখ্যা
নির্দোষ : (বিশেষণ) অপরাধ করেনি এমন; নিরপরাধ। এখানে নির্দোষী শব্দটি অশুদ্ধ।
অর্থাৎ সঠিক বিপরীত শব্দ হবে দোষী - নির্দোষ
উৎসঃ বাংলা একাডেমী অভিধান
৬,৭৮১.
গুরুচণ্ডালী দোষজনিত অপপ্রয়োগ ঘটেছে কোনটিতে?
  1. ক) মড়াদাহ
  2. খ) শবদাহ
  3. গ) গরুর গাড়ি
  4. ঘ) দাবদাহ
ব্যাখ্যা

গুরুচণ্ডালী দোষজনিত অপপ্রয়োগ হলো - মড়াদাহ৷
এর শুদ্ধরূপ: মড়াপোড়া৷

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

৬,৭৮২.
'মনে পড়ে সেই জ্যৈষ্ঠদুপুরের পাঠশালা পলায়ন'। স্ফীত হরফের পদটির কারক ও বিভক্তি হলো-
  1. কর্মে প্রথমা
  2. অধিকরণে পঞ্চমী
  3. অপাদানে শূন্য
  4. সম্প্রদানে সপ্তমী
ব্যাখ্যা
অপাদান কারক:
যা থেকে কোন কিছু উৎপন্ন, গৃহীত, বিচ্যুত, পতিত, জাত, বিরত, আরম্ভ, দূরীভূত, রক্ষিত,ভীত,সচকিত হয় তাকে অপাদান কারক বলে।
যেমন -
আকাশ হতে বৃষ্টি নামল।

• ক্রিয়াপদকে ‘কোথা থেকে,’ ‘কী থেকে’, ‘কীসের থেকে’ বা ‘কী হতে বের হলো’ প্রভৃতি প্রশ্ন করার পর যে উত্তর পাওয়া যায়, সেটি অপাদান কারক।
যেমন -
'মনে পড়ে সেই জ্যৈষ্ঠদুপুরের পাঠশালা পলায়ন'। - (কোথা থেকে পলায়ন? পাঠশালা থেকে)। তাই, এখানে 'পাঠশালা' - অপদান কারকের উদাহরণ। এবং এর সাথে শূন্য বিভক্তি যুক্ত হয়েছে। 

সুতরাং, 'পাঠশালা' - অপাদান কারকে শূন্য বিভক্তি।

উৎস: ভাষাশিক্ষা - ড. হায়াৎ মামুদ।
৬,৭৮৩.
নিচের কোন বাক্যটি সঠিক নয়?
  1. তার কথা শুনে আমি আশ্চর্যান্বিত হলাম।
  2. দৈন্য সর্বদা মহত্ত্বের পরিচায়ক নয়।
  3. বিদ্বান ব্যক্তিগণ দারিদ্র্যের শিকার হন।
  4. সকল আলেমগণ আজ উপস্থিত।
ব্যাখ্যা

- প্রয়োজনের অতিরিক্ত শব্দ ব্যবহারে বাহুল্য দোষ ঘটে। যার ফলে শব্দ তার যোগ্যতা হারিয়ে থাকে। যেমন- 'সকল আলেমগণ আজ উপস্থিত।'
- এখানে 'আলেমগণ' বহু বচনবাচক শব্দ।
- এর সাথে সকল শব্দটি অতিরিক্ত ব্যবহারে বাহুল্য দোষ সৃষ্টি করেছে।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

৬,৭৮৪.
“তুমি আমার সঙ্গে প্রপঞ্চ করেছো।” - বাক্যটি কোন কারণে যোগ্যতা হারিয়েছে?
  1. উপমার ভুল প্রয়োগ
  2. বাগধারার শব্দ পরিবর্তন
  3. দুর্বোধ্যতা
  4. গুরুচণ্ডালী দোষ
ব্যাখ্যা

দুর্বোধ্যতা:
অপ্রচলিত, দুর্বোধ্য শব্দ ব্যবহার করলে বাক্যের যোগ্যতা বিনষ্ট হয়।
যেমন -- তুমি আমার সাথে প্রপঞ্চ করেছো।
এখানে, প্রপঞ্চ শব্দটি 'মায়া' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে; কিন্তু শব্দটি প্রচলিত নয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯)।

৬,৭৮৫.
কোনটি মৌলিক শব্দ নয়?
  1. ক) গোলাপ
  2. খ) হাত
  3. গ) চলন্ত
  4. ঘ) লাল
ব্যাখ্যা
যে সব শব্দকে বিশ্লেষণ বা ভাঙা যায় না, তাদের মৌলিক শব্দ বলে। যেমনঃ গোলাপ, হাত, লাল, মা ইত্যাদি। অন্যদিকে যেসব শব্দকে ভাঙা বা বিশ্লেষণ করা যায় তাদের সাধিত শব্দ বলে। যেমনঃ চলন্ত = চল্ + অন্ত। ডুবুরি = ডুব + উরি, গরমিল = গর + মিল ইত্যাদি। (সূত্রঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ : নবম-দশম শ্রেণী)
৬,৭৮৬.
'তুমি অধম বলে আমি উত্তম হব না কেন?' কোন ধরনের বাক্য?
  1. জটিল বাক্য
  2. সরল বাক্য
  3. যৌগিক বাক্য
  4. মিশ্র বাক্য
ব্যাখ্যা
• সরল বাক্য:
- যে বাক্যে একটি মাত্র কর্তা (উদ্দেশ্য) এবং একটি মাত্র সমাপিকা ক্রিয়া (বিধেয়) থাকে, তাকে সরল বাক্য বলে।
যেমন:
- পুকুরে পদ্মফুল জন্মে।
- তুমি অধম বলে আমি উত্তম হব না কেন?
- দুর্জন লোক পরিত্যাজ্য।
- চুল পাকলেও তার বুদ্ধি পাকেনি।
- পরিশ্রমী লোকই সাফল্য লাভ করে।
- দারদ্র্য হলেও তিনি সুখী।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৬,৭৮৭.
নিচের কোনটি প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগজনিত অশুদ্ধ?
  1. উৎকর্ষ
  2. চঞ্চলতা
  3. অধীরতা
  4. বৈচিত্র্যতা
ব্যাখ্যা
• প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগজনিত অশুদ্ধ = বৈচিত্র্যতা।
শব্দটির শুদ্ধরূপ= বৈচিত্র্য।

অন্যদিকে,
- অধীরতা,  চঞ্চলতা, উৎকর্ষ, শুদ্ধ বানান।
---------------------------------------
•প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগজনিত আরোকিছু শব্দ:

• অপপ্রয়োগ =  প্রয়োগ
- দারিদ্র্যতা =  দারিদ্র্য / দরিদ্রতা;
- সৌজন্যতা =  সৌজন্য;
- উৎকর্ষতা =  উৎকৃষ্টতা/উৎকর্ষ;
- দৈন্যতা = দীনতা / দৈন্য;

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৬,৭৮৮.
শুদ্ধ বাক্য কোনটি?
  1. সে সঙ্কট অবস্থায় পড়েছে।
  2. আমার এই বইয়ের কোনো আবশ্যকতা নেই।
  3. তাকে স্নেহাশীষ দিও।
  4. আমার আর বাচিঁবার স্বাদ নাই।
ব্যাখ্যা
• 'আমার এই বইয়ের কোনো আবশ্যকতা নেই। '- বাক্যটি শুদ্ধ।

অন্যদিকে,
- অশুদ্ধ বাক্য:সে সঙ্কট অবস্থায় পড়েছে। 
- শুদ্ধ বাক্য:সে সঙ্কটজনক অবস্থায় পড়েছে। 

- অশুদ্ধ বাক্য:তাকে স্নেহাশীষ দিও।
- শুদ্ধ বাক্য: তাকে স্নেহাশিস দিও।

- অশুদ্ধ বাক্য:আমার আর বাচিঁবার স্বাদ নাই।
- শুদ্ধ বাক্য:আমার আর বাচিঁবার সাধ নাই।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামা ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,৭৮৯.
‘চেষ্টায় সব হয়।’- বাক্যে ‘চেষ্টায়’ কোন কারক?
  1. অপাদান কারক
  2. কর্ম কারক
  3. করণ কারক
  4. কর্তৃকারক
ব্যাখ্যা

‘চেষ্টায় সব হয়।’- বাক্যে ‘চেষ্টায়’ করণ কারক।

• করণ কারক:

যার দ্বারা বা যার সাহায্যে ক্রিয়া সম্পাদিত হয় তাকে করণ কারক বলে। ‘করণ' শব্দের অর্থ উপায় বা সহায়।
- বাক্যের ক্রিয়াপদকে 'কার দ্বারা বা কী উপায়ে জিজ্ঞাসা করলে যে উত্তর পাওয়া যায় তা-ই করণ কারক।
যেমন:
- চেষ্টায় সব হয়।

[বাক্যটিকে কার দ্বারা সব হয়? প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় চেষ্টায়। সুতরাং ‘চেষ্টায়’ করণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি।]

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৬,৭৯০.
নিচের কোন শব্দটির বানানে ভুল রয়েছে?
  1. ঊর্ধ্বগামী
  2. ঊর্ধ্বপাতন
  3. ঊর্ধ্বফনা
  4. ঊর্ধ্বস্থ
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
"ঊর্ধ্বফনা" বানানটি ভুল।
- এর শুদ্ধ বানান - ঊর্ধ্বফণা।

অন্যান্য শব্দগুলো সঠিক বানানে রয়েছে।
যেমন- 
- ঊর্ধ্বগামী;
- ঊর্ধ্বপাতন;
- ঊর্ধ্বস্থ।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৬,৭৯১.
'ছেলেটি বলের সঙ্গে যুদ্ধ করে।' - এখানে 'বল' কোন কারক? 
  1. করণ
  2. কর্ম
  3. অধিকরণ
  4. অপাদান
ব্যাখ্যা

কর্মকারক:
- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে কর্মকারক বলে।

কর্মকারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগ:
প্রথমা বিভক্তি: পুলিশ ডাক।
দ্বিতীয়া বিভক্তি: আমি তাকে চিনি।
ষষ্ঠী বিভক্তি: ছেলেটি বলের সঙ্গে যুদ্ধ করে।
সপ্তমী বিভক্তি: জিজ্ঞাসিব জনে জনে

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।

৬,৭৯২.
'যদি বৃষ্টি হয়, তবে বের হব না' - এটি কোন ধরনের বাক্য?
  1. ক) সরল
  2. খ) জটিল
  3. গ) হ্যা-বাচক
  4. ঘ) যৌগিক
ব্যাখ্যা
জটিল বা মিশ্র বাক্য : যে বাক্যে একটি প্রধান খণ্ডবাক্য ও তাকে আশ্রয় বা অবলম্বন করে একাধিক খণ্ডবাক্য থাকে, তাকে জটিল বা মিশ্র বাক্য বলে। জটিল বাক্যে একাধিক খণ্ডবাক্য থাকে। এদের মধ্যে একটি প্রধান থাকে, এবং অন্যগুলো সেই বাক্যের উপর নির্ভর করে। যেমনঃ যে পরিশ্রম করে, সেই সুখ লাভ করে; যে ভিক্ষা চায় তাকে দান করো; যদি বৃষ্টি হয়, তবে বের হব না।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী
৬,৭৯৩.
'আজকে তোমায় দেখতে এলাম জগৎ আলো নূরজাহান' চিহ্নিত শব্দটি কারক বিভক্তি হবে
  1. ক) করণে ৫মী
  2. খ) অধিকরণে ২য়া
  3. গ) অপাদানে ২য়া
  4. ঘ) কর্মে ১মা
ব্যাখ্যা
ক্রিয়া সম্পাদনের কাল (সময়) এবং আধারকে অধিকরণ কারক বলে।
ক্রিয়াকে 'কোথায়, কখন, কী বিষয়' দিয়ে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায় তাই অধিকরণ কারক।
অধিকরণ কারকে ২য়া অর্থাৎ 'কে' 'রে' ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়।
৬,৭৯৪.
সন্ধির ক্ষেত্রে কোন বর্ণগুলো পরে থাকলে পূর্ব পদের অন্তস্থিত ম্ এর স্থানে অনুস্বার ( ং  ) হবে?
  1. ক খ গ ঘ 
  2. চ ছ জ য
  3. ত ঠ ড ঢ
  4. ত থ দ ধ
ব্যাখ্যা

বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম অনুসারে,
• সন্ধির ক্ষেত্রে ক খ গ ঘ পরে থাকলে পূর্ব পদের অন্তস্থিত 'ম' স্থানে অনুস্বার (ং) হবে।
যেমন:
- অহম্ + কার = অহংকার
এভাবে ভয়ংকর, সংগীত, শুভংকর, হৃদয়ংগম, সংঘটন।

• সন্ধিবদ্ধ না হলে 'ঙ' স্থানে ং হবে না।
যেমন:
অঙ্ক, অঙ্গ, আকাঙ্ক্ষা, আতঙ্ক, কঙ্কাল, গঙ্গা, বঙ্কিম, বঙ্গ, লঙ্ঘন, শঙ্কা, শৃঙ্খলা, সঙ্গে, সঙ্গী।

উৎস: বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম।

৬,৭৯৫.
"আমি আগামীকাল বাড়ি ফিরব।" - বাক্যটি কোন বাচ্যের উদাহরণ?
  1. কর্মকর্তৃবাচ্য
  2. কর্তাবাচ্য
  3. কর্মবাচ্য
  4. ভাববাচ্য
ব্যাখ্যা

কর্তাবাচ্য:
- যে বাক্যের ক্রিয়া কর্তাকে অনুসরণ করে, তাকে কর্তাবাচ্য বলে। এক্ষেত্রে ক্রিয়ার রূপটি কর্তার পক্ষ অনুযায়ী হয়।

যেমন:
- আমি আগামীকাল বাড়ি ফিরব।
- শরতে শিউলি ফোটে।
- ঝরণা ছবি আঁকে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

৬,৭৯৬.
কোনটি অপপ্রয়োগজনিত ভুল?
  1. নিরপরাধ
  2. নির্দোষ
  3. অধীনস্থ
  4. একত্র
ব্যাখ্যা
প্রদত্ত অপশনগুলোতে অধীনস্থ শব্দটি অপপ্রয়োগজনিত ভুল। এর শুদ্ধ প্রয়োগ হবে- 'অধীন'।
আরও কিছু শব্দ-
অশুদ্ধ শব্দ ----- শুদ্ধ শব্দ
নিরপরাধী ------ নিরপরাধ
অহর্নিশি ----- অহর্নিশ
নিরহঙ্কারী ----- নিরহঙ্কার
নির্দোষী ----- নির্দোষ
পিতাহারা ------ পিতৃহারা
অর্ধরাত্রি ----- অর্ধরাত্র
নিরভিমানী ---- নিরভিমান
দিবারাত্রি ----- দিবারাত্র
নীরোগী ------ নীরোগ ইত্যাদি।
উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।
৬,৭৯৭.
কোন শব্দটির প্রয়োগ শুদ্ধ?
  1. করিতকর্মা
  2. দুরাবস্থা
  3. নিরপরাধী
  4. বিবিধপ্রকার
ব্যাখ্যা
করিতকর্মা - শব্দটির প্রয়োগ শুদ্ধ। 
- 'করিতকর্মা' শব্দের অর্থ - কর্মকুশল; কৃতী। 

অন্যদিকে,
• 'দুরাবস্থা', সন্ধি বিষয়ক অপপ্রয়োগ।
এর শুদ্ধরূপ: দুরবস্থা।

• 'নিরপরাধী', সমাস-ঘটিত অপপ্রয়োগ। 
এর শুদ্ধরূপ: নিরপরাধ। 

• 'বিবিধপ্রকার', সমার্থ শব্দের বাহুল্যজনিত অপপ্রয়োগ।
এর শুদ্ধরূপ: বিবিধ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ ও বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৬,৭৯৮.
যদি তারে নাই চিনি গো, সে কি আমায় নেবে চিনে? এটি একটি-
  1. যৌগিক বাক্য
  2. সরল বাক্য
  3. মিশ্র বাক্য
  4. জটিল বাক্য
ব্যাখ্যা
জটিল বাক্য:
- একটি মূল বাক্যের অধীনে এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য বা বাক্যাংশ থাকলে জটিল বাক্য তৈরি হয়।

যেমন:
- তুমি আসবে বলে হে স্বাধীনতা সাকিনা বিবির কপাল ভাঙল।
- মা ছিল না বলে কেউ তার চুল বেঁধে দেয়নি। 
- তুমি আসবে বলে আমি অপেক্ষা করছি।
- যদি তারে নাই চিনি গো, সে কি আমায় নেবে চিনে?

উল্লেখ্য,
মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণের ২০১৯ সংস্করণে জটিল বাক্যকে মিশ্র বাক্যও বলা হয়েছে।
এই ক্ষেত্রে দুটোই অপশনে থাকলে জটিল বাক্য উত্তর করাটা বেশি যুক্তিযুক্ত।

উৎস: মুনীর চৌধুরী ও মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী রচিত নবম-দশম শ্রেণির ‘বাংলা ভাষার ব্যাকরণ গ্রন্থ।
৬,৭৯৯.
বসন্তে কোকিল ডাকে -এ বাক্যে ‘বসন্তে’ কোন কারক?
  1. অধিকরণ কারক
  2. অপাদান কারক
  3. কর্মকারক
  4. করণ কারক
ব্যাখ্যা
• অধিকরণ কারক:
- ক্রিয়ার আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক।
- আধার বলতে ক্রিয়া নিষ্পন্ন হওয়ার স্থান, কাল ও ভাবকে বােঝায়।
- অর্থাৎ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল এবং আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক।
- বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথায়, কখন ও কোনাে বিষয় বােঝাতে অধিকরণ কারক হয়।
- অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি অর্থাৎ এ, য়, তে ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়।

যেমন-
- আধার (স্থান) : আমরা প্রতিদিন কলেজে যাই।
- কাল (সময়) সকালে সূর্য উঠবে।
- বসন্তে কোকিল ডাকে। 

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ নবম দশম শ্রেণি ২০১৯ সংস্করণ ও মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
 
৬,৮০০.
কোনটি যৌগিক বাক্য?
  1. যখন বিপদ আসে, তখন দুঃখও আসে।
  2. সে নিরপরাধ, অতএব সে মুক্তি পাবে।
  3. বিপদ আসলে তখন দুঃখও আসে।
  4. যেহেতু সে নিরপরাধ, সেহেতু সে মুক্তি পাবে।
ব্যাখ্যা

যৌগিক বাক্য:
- দুই বা ততোধিক স্বাধীন বাক্য যখন যোজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে একটি বাক্যে পরিণত হয়, তখন তাকে যৌগিক বাক্য বলে।
- এবং, ও, আর, অথবা, বা, কিংবা, কিন্তু, অথচ, সেজন্য, ফলে ইত্যাদি যোজক যৌগিক বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। কমা (,), সেমিকোলন (;), কোলন (:), ড্যাশ (-) ইত্যাদি যতিচিহ্নও যোজকের কাজ করে।

যেমন:
- সে নিরপরাধ, অতএব সে মুক্তি পাবে।
- সে ভালো ফল করেছে তাই আমরা আনন্দিত হয়েছি।
- সে ঘর ঝাড়ু দিল, ঘর মুছল, তারপর পড়তে বসল ।
- অন্ধকার হয়ে এসেছে অথচ সে বাসাই ফিরেনি।
তোমরা চেষ্টা করেছ, কিন্তু আশানুরূপ ফল পাওনি এতে দোষের কিছু নেই।

অন্যদিকে,
জটিল বাক্য - যেহেতু সে নিরপরাধ, সেহেতু সে মুক্তি পাবে। যখন বিপদ আসে, তখন দুঃখও আসে।

উল্লেখ্য, 
- বিপদ আসলে তখন দুঃখও আসে। - এটি ভুল বাক্য। 
- এর সঠিক যৌগিকরূপ = বিপদ এবং দুঃখ একই সঙ্গে আসে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।