ব্যাখ্যা
'সমীচিন'- শুদ্ধ বানান নয়।
- বানানটির শুদ্ধরূপ: সমীচীন।
• আরো কিছু শুদ্ধ বানান:
ধরণি, পিওন, প্রণামি, ধরন,স্বতঃপ্রণোদিত, ঐকমত্য।
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন
PrepBank · পাতা ৬৪ / ৬৯ · ৬,৩০১–৬,৪০০ / ৬,৯৫৩
সঠিক শব্দ - দুষ্প্রাপ্য, পরস্পর, নিষ্পত্তি, স্নেহাস্পদ।
উৎসঃ বাংলা একাডেমি অভিধান
কমা বা পাদচ্ছেদ চিহ্ন (,):
- অল্পক্ষণ বিরামের জন্যে কমার ব্যবহার হয়। এখানে 'এক' উচ্চারণ করার সমান সময় থামতে হয়। অল্প বিরাম বোঝাতে নিম্নলিখিত স্থানে কমা ব্যবহৃত হতে পারে:
• বাক্য পাঠকালে সুস্পষ্টতা বা অর্থ-বিভাগ দেখানোর জন্য যেখানে স্বল্প বিরতির প্রয়োজন, সেখানে কমা ব্যবহৃত হয়। যেমন- সুখ চাও, সুখ পাবে পরিশ্রমে।
• পরস্পর সম্বন্ধযুক্ত একাধিক বিশেষ্য বা বিশেষণ পদ একসঙ্গে বসলে শেষ পদটি ছাড়া বাকি সবগুলোর পরই কমা বসবে।
যেমন- সুখ, দুঃখ, আশা, নৈরাশ্য একই মালিকার পুষ্প।
• সম্বোধনের পরে কমা বসাতে হয়। যেমন- রশিদ, এদিকে এসো।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮-সংস্করণ)।
⇒ গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ, হেমন্ত, শীত ও বসন্ত বাংলাদেশ এই ছয়টি ঋতুর দেশ।—এ বাক্যে কমার ব্যবহার হয়েছে একদিক শব্দের মধ্যে প্রতিটি শব্দ আলাদা করার জন্যে।
• কমা (,)
⇒ কমা সামান্য বিরতি নির্দেশ করে। শব্দ, বর্গ ও অধীন বাক্যকে আলাদা করতে কমার ব্যবহার হয়।
যেমন
- গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ, হেমন্ত, শীত ও বসন্ত বাংলাদেশ এই ছয়টি ঋতুর দেশ।
- নিবিড় অধ্যবসায়, কঠোর পরিশ্রম ও সময়নিষ্ঠ থাকলে সাফল্য আসবে।
- সুজন, দেখ তো কে এসেছে।
- কাল তুমি যাকে দেখেছ,তিনি আমার বাবা।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছেন, "পাপকে ঠেকাবার জন্যে কিছুনা করাই তো পাপ।"
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি (২০২৫ সালের সংস্করণ)।
একটি প্রধান বাক্যের সাথে এক বা একাধিক খণ্ড বাক্য সাধারনভাবে বা কোন অনুগামি সমুচ্চয়ী অব্যয় বা সাপেক্ষ সর্বনাম দিয়ে যুক্ত হয়ে পরস্পর সাপেক্ষ ভাবে ব্যবহৃত হলে তাকে মিশ্র বা জটিল বাক্য বলে।
এখানে, 'বের হবোনা' প্রধান বাক্য আর 'যদি বৃষ্টি হয়' হলো- অপ্রধান বা খণ্ড বাক্য।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণী।
• শুদ্ধ বাক্য: আমি তোমার অপরাধ সম্পর্কে নিঃসন্দেহ।
তাছাড়া,
অশুদ্ধ বাক্য: তিনি স্বস্ত্রীক ঢাকায় থাকেন।
শুদ্ধ বাক্য: তিনি সস্ত্রীক ঢাকায় থাকেন।
অশুদ্ধ বাক্য: তোমাকে দেখে সে আশ্চর্য হয়েছে।
শুদ্ধ বাক্য: তোমাকে দেখে সে আশ্চর্যান্বিত হয়েছে।
অশুদ্ধ বাক্য: মাতাহীন শিশুর কি দুঃখ।
শুদ্ধ বাক্য: মাতৃহীন শিশুর কি দুঃখ।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
• বাচ্য:
- বাক্যের বিভিন্ন ধরণের প্রকাশ ভঙ্গিকে বলা হয়।
- বাচ্য তিন প্রকার।
- যথা:
কর্তৃবাচ্য, কর্মবাচ্য, ভাববাচ্য।
১. কর্তাবাচ্য:
- যে বাক্যের ক্রিয়া কর্তাকে অনুসরণ করে, তাকে কর্তাবাচ্য বলে। এক্ষেত্রে ক্রিয়ার রূপটি কর্তার পক্ষ অনুযায়ী হয়।
যেমন-
- ঝরনা ছবি আঁকে।
২. কর্মবাচ্য:
যে বাক্যের ক্রিয়া কর্মকে অনুসরণ করে, তাকে কর্মবাচ্য বলে।
যেমন-
- পুলিশ কর্তৃক ডাকাত ধৃত হয়েছে।
৩. ভাববাচ্য:
যে বাক্যের ক্রিয়া-বিশেষ্য বাক্যের ক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করে, তাকে ভাববাচ্য বলে।
যেমন-
- আমার যাওয়া হলো না।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ ২০১৯)।
• তার সৌজন্যে আমি সুযোগটি পেয়েছি। - বাক্যটি শুদ্ধ।
অন্যদিকে,
অশুদ্ধ বাক্য: যুক্তি খণ্ডন হয়েছে, তবে মুক্তি মেলে নি।
শুদ্ধ বাক্য: যুক্তি খণ্ডিত হয়েছে, তবে মুক্তি মেলে নি৷
অশুদ্ধ বাক্য: তোমাকে দেখে সে আশ্চর্য হয়েছে।
শুদ্ধ বাক্য: তোমাকে দেখে সে আশ্চর্যান্বিত হয়েছে৷
অশুদ্ধ বাক্য: অন্নাভাবে প্রতি ঘরে ঘরে হাহাকার।
শুদ্ধ বাক্য: অন্নাভাবে ঘরে ঘরে হাহাকার।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
• আলোচনার মাধ্যমে সব সমস্যাগুলোর সমাধান সম্ভব। - বাক্যটি বহুবচনের অপপ্রয়োগজনিত অশুদ্ধি।
- শুদ্ধ বাক্য: আলোচনার মাধ্যমে সব সমস্যার সমাধান সম্ভব।
বহুবচনের অপপ্রয়োগজনিত অশুদ্ধি:
- বহুত্ব বোঝাতে আমরা বহুবচন ব্যবহার করি। বিশেষ্য পদের সঙ্গে গুলি/গুলো/রা, এরা ইত্যাদি যুক্ত করে বহুবচন তৈরি যা হয়। স্মরণ রাখতে হবে যে বহুবচনের পরে দ্বিত্ব প্রয়োগ হয় না, অর্থাৎ কোনো শব্দকে এক বার বহুবচনে রূপান্তরিত করলে পুনরায় তার বহুত্ব অপ্রয়োজনীয়। তাই অগণিত, অনেক, বহু, যাবতীয়, সব ইত্যাদি যত বহুত্ববাচক শব্দ আছে, তাদের পরে সংশ্লিষ্ট বিশেষ্য পদের সঙ্গে গুলি/গুলো ইত্যাদি যুক্ত হবে না।
অন্যদিকে,
শুদ্ধ বাক্য: অপব্যয় একটি মারাত্মক ব্যাধি।
শুদ্ধ বাক্য: নতুন ছেলেগুলো উৎপাত করছে।
শুদ্ধ বাক্য: আকণ্ঠ ভোজনে স্বাস্থ্যহানি ঘটে।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
• অশুদ্ধ বানান- উপরোক্ত।
• বানানটির শুদ্ধরূপ- উপরিউক্ত।
অর্থ:
- ওপরে বা পূর্বে বলা হয়েছে এমন, উপর্যুক্ত।
অন্যদিকে,
- উল্লিখিত, আইনজীবী ও জাদুঘর বানানগুলো শুদ্ধ।
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
আধুনিক বাংলা একাডেমি অভিধান অনুসারে ন্যূনতম শব্দটি প্রমিত।
উৎস : ভাষা-শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ, বাংলা ব্যাকরণ, ড. শাজাহান মনির, বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণির ব্যাকরণ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ।
কর্তৃকারক:
- বাক্যস্থিত যে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদ ক্রিয়া সম্পন্ন করে তা ক্রিয়ার কর্তা বা কর্তৃকারক। ক্রিয়ার সঙ্গে 'কে' বা 'কারা' যোগ করে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, তা-ই কর্তৃকারক।
যেমন:
- খোকা বই পড়ে।
- মেয়েরা ফুল তোলে।
- গুণহীন চিরদিন থাকে পরাধীন।
• এখানে কে চিরদিন পরাধীন থাকে প্রশ্নের উত্তরে 'গুণহীন' পাওয়া যায় তাই গুণহীন কর্তৃকারক।
- 'গুণহীন' শব্দের সাথে কোনো বিভক্তিযুক্ত হয়নি তাই শূন্যবিভক্তি হবে।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম- দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
• প্রত্যক্ষ উক্তির 'আগামীকাল' পরোক্ষ উক্তিতে হবে- 'পরদিন'।
---------------------------
প্রত্যক্ষ উক্তিকে পরোক্ষ উক্তিতে পরিবর্তন করার সময় কালবাচক এবং স্থানবাচক শব্দের পরিবর্তন হয়।
যেমন:
প্রত্যক্ষ উক্তি: লোকটি বললেন, 'আমি আগামীকাল এখানে আবার আসব।'
পরোক্ষ উক্তি: লোকটি বললেন যে, তিনি পরদিন সেখানে আবার যাবেন।
উল্লেখ্য,
প্রত্যক্ষ উক্তির 'গতকল্য' পরোক্ষ উক্তিতে হবে- পূর্বদিন।
প্রত্যক্ষ উক্তির 'আজ' পরোক্ষ উক্তিতে হবে- সেদিন।
প্রত্যক্ষ উক্তির 'গতকাল' পরোক্ষ উক্তিতে হবে- আগেরদিন।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), উচ্চ মাধ্যমিক, বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
• নিম্নের উল্লেখিত যতিচিহ্নের বিরতি কালের পরিমাণ 'এক সেকেন্ড':
যেমন:
- দাড়ি বা পূর্ণচ্ছেদ,
- প্রশ্নবোধক চিহ্ন,
- বিস্ময় চিহ্ন,
- কোলন,
- কোলন ড্যাস,
- ড্যাস।
অন্যদিকে,
• থামার প্রয়োজন নেই:
- হাইফেন,
- ইলেক বা লোপ চিহ্ন,
- ব্র্যাকেট।
উৎস: বাংলা ভষার ব্যাকরণ, নবম দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
• বিদ্বান মূর্খ অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ। বাক্যটি শুদ্ধ।
অন্যদিকে,
অশুদ্ধ: পরবর্তীকালে তার সাথে আমার সাক্ষাৎ হয়নি।
শুদ্ধ: পরবর্তীতে তার সাথে আমার সাক্ষাৎ হয়নি।
অশুদ্ধ: বিবিধ জিনিসপত্র কিনলাম।
শুদ্ধ: বিবিধ জিনিস কিনলাম।
অশুদ্ধ: আকণ্ঠ পর্যন্ত ভোজন করলাম।
শুদ্ধ: আকণ্ঠ ভোজন করলাম।
উৎস: ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।
গ) তে প্রদত্ত সবগুলো শব্দের বানান শুদ্ধ।
অশুদ্ধ বানানগুলোর শুদ্ধরূপ :
- নিপিড়ীত = নিপীড়িত
- মুর্ছনা = মূর্ছনা
শুশ্রুষা = শুশ্রূষা
উৎস: সংসদ বাংলা অভিধান।
অশুদ্ধ: বহিস্কার।
শুদ্ধ: বহিষ্কার
---------------
বানানের নিয়ম:
বিসর্গযুক্ত অ-ধ্বনির সঙ্গে সন্ধি হলে বর্ণে সাধারণত 'স' যুক্ত হয় (পুরঃ + কার = পুরস্কার) এবং বিসর্গযুক্ত ই-ধ্বনির সঙ্গে সন্ধি হলে সাধারণত 'ষ' যুক্ত হয় (বহিঃ + কার= বহিষ্কার)।
তবে স্ক/ স্ক সংক্রান্ত সমস্যার সহজ সমাধানকল্পে বলা যায়: অ-যুক্ত বা মুক্ত বর্ণের পরে সাধারণত 'স' হবে। যেমন: নমস্কার, পুরস্কার, বনস্পতি, তিরস্কার, বাচস্পতি ইত্যাদি। অন্যদিকে ই-যুক্ত বর্ণের পর সাধারণত 'ষ' হবে। যেমন: আবিষ্কার, নিষ্কলঙ্ক, পরিষ্কার, নিষ্ফল, নিষ্প্রভ, নিষ্পাপ, নিষ্পন্ন, নিষ্কর, জ্যোতিষ্ক ইত্যাদি। (স্প/ স্ত/ স্থ থাকলে 'ষ' হয় না। যেমন: নিস্পন্দ /নিস্তব্ধ / দুস্থ ইত্যাদি)।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
খৎনা শব্দে ৎ এর ব্যবহার সঠিক নয়।
শুদ্ধ বানান: খতনা।
• ৎ এর সঠিক ব্যবহার:
• শব্দের শেষাংশে যদি কৃৎ/চিৎ/জিৎ/বিৎ (বিদ) অথবা অৎ/বৎ/সাৎ থাকে তাহলে খন্ড-ত (ৎ) ব্যবহৃত হবে।
যেমন: পথিকৃৎ, সুকৃৎ, কিঞ্চিৎ, ক্বচিৎ, অভিজিৎ, বিশ্বজিৎ, সত্যজিৎ, জগৎ, মহৎ, পুত্রবৎ, যাবৎ, দণ্ডবৎ, ধূলিসাৎ ইত্যাদি।
• শব্দের শেষেও হবেই এমন আরো কিছু শব্দ:
অকস্মাৎ, অর্থাৎ, ঈষৎ, কদাচিৎ, কিঞ্চিৎ, কিয়ৎ, ক্বচিৎ, ক্ষুৎ, যকৃৎ, ছুঁৎ, জগৎ, তড়িৎ, তৎ, তাবৎ, দৈবাৎ, নচেৎ, নস্যাৎ, পথিকৃৎ, পরভৃৎ, পশ্চাৎ, বৃহৎ, ভবিষ্যৎ, মরুৎ, মহৎ, যকৃৎ, যৎ, যাবৎ, যুগপৎ, শরৎ, সৎ, সংবিৎ, সাক্ষাৎ, হঠাৎ, হরিৎ ইত্যাদি।
• শব্দের মধ্যাংশে ৎ আছে এমন কিছু শব্দ:
অকিঞ্চিৎকর, অনুসন্ধিৎসা, উৎপাত, উৎস, উৎসব, উৎসাহ, ঔৎসুক্য, কুৎসা, কুৎসিত, গণৎকার, চমৎকার, চিকিৎসা, চিৎকার, তৎপর, তাৎক্ষণিক, তাৎপর্য, ফুৎকার, বৎস, বৎসর, বীভৎস, ভৎসনা, মৎস্য, মৃৎপাত্র, সৎকার, সাক্ষাৎকার, হৃৎপিণ্ড।
শব্দের প্রথমে উৎ-উপসর্গ যোগ করে তৈরি-হওয়া কিছু শব্দ আছে যেগুলোতে সন্ধির ফলে দ বাদ পড়ে যায়, সে উৎকট, উৎকণ্ঠা, উৎকর্ষ, উৎকলিত, উৎকীর্ণ, উৎকোচ, উৎক্ষিপ্ত, উৎখাত, উৎপত্তি, স্থানে ৎ চলে আসে। যেমন: উৎপাত, উৎপীড়ন, উৎসব, উৎসারণ, উৎসাহ, উৎসুক, ইত্যাদি।
উৎস: ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।
• প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগ-জনিত অশুদ্ধি:
প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগের ফলে শব্দগঠন বা বাক্যে পদ ব্যবহারের সময় বানানে যে সব ভুল হয় সেরকম কিছু শব্দের তালিকা নিচে দেওয়া হলো:
• অশুদ্ধ শব্দ - শুদ্ধ শব্দ:
আবশ্যকীয় - আবশ্যক;
একত্রিত - একত্র;
অধীনস্থ - অধীন;
করিতকর্মী - করিতকর্মা;
গণ্যনীয় - গণনীয়;
জ্ঞানমান - জ্ঞানবান;
ঘূর্ণীয়মান - ঘূর্ণায়মান;
পুজ্য - পূজ্য;
বাহ্যিক - বাহ্য।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
• অপশনের সবগুলো বাক্য শুদ্ধ।
- শুদ্ধ বাক্য: আজকাল বিদুষী মেয়ের অভাব নেই।
- শুদ্ধ বাক্য: সে সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছে।
- শুদ্ধ বাক্য: বৃক্ষটি সমূলে উৎপাটিত হয়েছে।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
জটিল বা মিশ্র বাক্য (complex sentence):
- যে বাক্যে প্রধান খণ্ডবাক্যের অধীন এক বা একের বেশি অপ্রধান খণ্ডবাক্য থাকে বা একটি প্রধান খণ্ডবাক্যের এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য পরস্পর সাপেক্ষভাবে ব্যবহৃত হয়, তাকে জটিল বা মিশ্র বাক্য বলে।
যেমন:
- যারা নির্বোধ তারাই শুধু এ কাজ করে।
- যে ব্যক্তি কর্মরত আছে, তাকে বিরক্ত করো না।
- যেহেতু তুমি মিথ্যা কথা বলেছ, সেহেতু তোমার পাপ হবে।
- যাদের ধন আছে, তারা প্রায়ই কৃপণ হয়।
- আমার যে কলমটি হারিয়েছিল, সেটি ফিরে পেয়েছি
- যদি গাড়িঘোড়া চড়তে চাও, তবে লেখাপড়া কর।
অন্যদিকে,
- আমি বহু কষ্টে শিক্ষা লাভ করেছি।
- মিথ্যা কথা বলার জন্য তোমার পাপ হবে।
- সত্য কথা না বলে বিপদে পড়েছি। এগুলো সরল বাক্যের উদাহরণ।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
- শুদ্ধ বাক্যটি হচ্ছে মেয়েটি স্বয়ংবরা।
অন্যদিকে,
অশুদ্ধ বাক্য: ছেলেটি অস্থির মেধাবী।
শুদ্ধ বাক্য: ছেলেটি অত্যন্ত মেধাবী।
অশুদ্ধ বাক্য: আজকাল বিদ্বান মেয়ের অভাব নেই।
শুদ্ধ বাক্য: আজকাল বিদুষী মেয়ের অভাব নেই।
অশুদ্ধ বাক্য: ক্ষমা একটি মহানগুণ।
শুদ্ধ বাক্য: ক্ষমা একটি মহৎ গুণ।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
অশ্রু (বিশেষ্য) - চোখের পানি; নয়ন জল; নেত্রবারি।
অশ্রুআঁখি, অশ্রুচোখ (বিশেষ্য) - অশ্রুপূর্ণ আঁখি বা চোখ।
অশ্রুমান (বিশেষ্য) - অশ্রুপূর্ণ; অশ্রুযুক্ত।
যথোপযুক্ত ও যথাযোগ্য - শব্দ দুটির প্রয়োগও শুদ্ধ।
উৎসঃ বাংলা একাডেমী অভিধান।
• তোমার কাজে আমি সন্তুষ্ট হলাম- বাক্যটি শুদ্ধ কারণ এখানে বিশেষণ পদ (সন্তুষ্ট) সঠিকভাবে ব্যবহৃত হয়েছে।
--------------------------
অন্যদিকে,
- "তোমার কাজে আমি সন্তোষ হলাম।"- বাক্যটি অশুদ্ধ কারণ এখানে বিশেষ্য পদ (সন্তোষ) ভুলভাবে ব্যবহৃত হয়েছে।
- “তোমার কাজে আমি সন্তোষজনক হলাম।"- ভুল, কারণ ‘সন্তোষজনক’ কাজ বা বস্তুর গুণ বোঝায়, কিন্তু ব্যক্তি নিজে সন্তোষজনক না হয়ে ‘সন্তুষ্ট’ হন।
- “তোমার কাজে আমি সন্তোষ্ট হলাম।"- বাক্যটি বানানজনিত কারনে ভুল। সন্তোষ্ট' বানানটি ভুল।
উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
যৌগিক বাক্য:
- পরস্পর নিরপেক্ষ দুই বা ততোধিক সরল বা মিশ্র বাক্য মিলিত হয়ে একটি সম্পূর্ণবাক্য গঠন করলে তাকে যৌগিক বাক্য বলে।
জ্ঞাতব্য: যৌগিক বাক্যের অন্তর্গত নিরপেক্ষ বাক্যগুলো এবং, ও, কিন্তু, অথবা, অথচ, কিংবা, বরং, প্রভৃতি অব্যয় যোগে সংযুক্ত বা সমন্বিত থাকে।
যেমন:
- নেতা জনগণকে উৎসাহিত করলেন বটে, কিন্তু, কোনো পথ দেখাতে পারলেন না।
- বস্ত্ৰ মলিন কেন, কেহ জিজ্ঞাসা করিলে সে ধোপাকে গালি পাড়ে, অথচ ধৌত বস্ত্রে তাহার গৃহ পরিপূর্ণ।
- উদয়াস্ত পরিশ্রম করব, তথাপি অন্যের দ্বারস্থ হব না।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ , নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
প্রথম গুচ্ছের অশুদ্ধ বিকিরন শব্দের শুদ্ধরূপ বিকিরণ
দ্বিতীয় গুচ্ছের অশুদ্ধ শুশ্রুষা শব্দের শুদ্ধরূপ শুশ্রূষা
তৃতীয় গুচ্ছের অশুদ্ধ মনীষি শব্দের শুদ্ধরূপ মনীষী
উৎস : বাংলা একাডেমি আধুনিক বানান অভিধান
• 'আমি যে গান গাই, তা যৌবনের গান।'- বাক্যটি একটি জটিল বাক্য।
• জটিল বাক্য:
- যে বাক্যে প্রধান খণ্ডবাক্যের অধীন এক বা একের বেশি অপ্রধান খণ্ডবাক্য থাকে বা একটি প্রধান খণ্ডবাক্যের এক বা একাধিক বাক্য পরস্পর সাপেক্ষভাবে ব্যবহৃত হলে তাকে জটিল বা মিশ্র বাক্য বলে।
যে-সে, যারা-তারা, যিনি-তিনি, যাঁরা-তাঁরা, যা-তা প্রভৃতি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যদিও-তবুও, যেহেতু-সেহেতু, যত-তত, যেটুকু-সেটুকু, যেমন-তেমন, যখন-তখন প্রভৃতি সাপেক্ষ যোজক দিয়ে যখন অধীন বাক্যগুলো যুক্ত থাকে, তাকে জটিল বাক্য বলে।
যেমন:
- যে রক্ষক, সে ভক্ষক।
- যে ছেলেটি এখানে এসেছিল, সে আমার ভাই।
- যে বইটি আমি কিনেছি, সেটি খুব দামি।
- যদি তুমি যাও, তবে তার দেখা পাবে।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।
• শুদ্ধ বানান - দেদীপ্যমান।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
- শব্দটি সংস্কৃত ভাষা হতে আগত।
শব্দের অর্থ:
- অত্যন্ত উজ্জ্বল বা দীপ্তিময় দেখাচ্ছে এমন;
- অতিশয় দীপ্তিশীল;
- জাজ্বল্যমান।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বানান অভিধান।
• '-তা' এবং 'ত্ব' প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগ:
- 'তা' এবং 'ত্ব' হলো বিশেষ্যবাচক প্রত্যয়।
- যা কেবল বিশেষণ শব্দকে বিশেষ্য করে।
- তাই বিশেষ্য শব্দের সঙ্গে আবারো 'তা' বা 'ত্ব' যুক্ত করলে তা ভুল হবে।
- যেমন: 'ধীর' বিশেষণ শব্দের সঙ্গে 'তা' যোগ করে বিশেষ্যবাচক শব্দ 'ধীরতা' হয়। কিন্তু 'ধীর' এর সঙ্গে বিশেষ্যবাচক 'য' প্রত্যয় যোগ করে 'ধৈর্য' বিশেষ্য শব্দ গঠিত হয়। ফলে 'ধৈর্য' শব্দের সঙ্গে আবারো বিশেষ্যবাচক 'তা' প্রত্যয় যুক্ত হলে তা ভুল বলে গণ্য হবে।
এরকম-
• 'উৎকৃষ্ট' বিশেষণ পদ। আর ‘তা’ প্রত্যয় যোগে 'উৎকৃষ্ট' শব্দের বিশেষ্য পদ ‘উৎকৃষ্টতা’ শব্দটি গঠিত হয়।এখানে 'তা' প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগ।
উৎস: ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।
(ই, উ) ব্যবহারের নিয়ম:
সকল অতৎসম অর্থাৎ তদ্ভব, দেশি, বিদেশি, মিশ্র শব্দে কেবল ই এবং উ এবং এদের কারচিহ্ন হিসেবে 'কি-কার' ও '-কার' ব্যবহৃত হবে।
যেমন:
ই:
আরবি, আসামি, ইংরেজি, ইমান, ইরানি, উনিশ, ওকালতি, কাহিনি, কুমির, কেরামতি, খুশি, খেয়ালি গাড়ি, গোয়ালিনি, চাচি, জমিদারি, জাপানি, জার্মানি, টুপি, তরকারি, দাড়ি, দাদি, দাবি, দিঘি, দিদি, নানি নিচু, পশমি, পাখি, পাগলামি, পাগলি, পিসি, ফরাসি, ফরিয়াদি, ফারসি, ফিরিঙ্গি, বর্ণালি, বাঁশি, বাঙালি, বাড়ি, বিবি, বুড়ি, বেআইনি, বেশি, বোমাবাজি, ভারি (অত্যন্ত অর্থে), মামি, মালি, মাসি, মাস্টারি, রানি, রুপালি, রেশমি, শাড়ি, সরকারি, সিন্ধি, সোনালি, হাতি, হিজরি, হিন্দি, হেঁয়ালি।
উ: চুন, পুজো, পুব, মুলা, মুলো।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
• সর্বনাম, বিশেষণ, ক্রিয়া-বিশেষণ ও যোজক পদরূপে কী শব্দটি ঈ-কার দিয়ে লেখা হবে।
যেমন:
- এটা কী বই?
- কী আনন্দ!
- কী আর বলব?
- কী করছ?
- কী করে যাব?
- কী খেলে?
- কী জানি?
উৎস: বাংলা একাডেমি, প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম।
অপাদান কারক:
- যে কারকে ক্রিয়ার উৎস নির্দেশ করা হয়, তাকে অপাদান কারক বলে। এই কারকে সাধারণত ‘হতে’, ‘থেকে’ ইত্যাদি অনুসর্গ শব্দেরে পরে বসে।
যেমন:
- জমি থেকে ফসল পাই।
- কাপটা উঁচু টেবিল থেকে পড়ে ভেঙে গেল।
- কুকর্মে বিরত হও।
অন্যদিকে,
অধিকরণ কারক:
- যে কারকে স্থান, কাল, বিষয় ও ভাব নির্দেশিত হয়, তাকে অধিকরণ কারক বলে। এই কারকে সাধারণত এ, য়, য়ে, তে ইত্যাদি বিভক্তি শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়।
যেমন:
- রাজীব বাংলা ব্যাকরণে ভালো।
- কাননে কুসুমকলি সকলি ফুটিল।
- ত্যাগে তিনি নিহঙ্কার।
উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
• আবেগসূচক বাক্য: কী সাংঘাতিক লোক!
• বিস্ময় বা আবেগসূচক বাক্য:
যে বাক্যে বিস্ময়, হর্ষ, শোক, ঘৃণা, ক্রোধ, ভয় ইত্যাদি ভাব প্রকাশ পায় তাকে আবেগসূচক বাক্য বলে।
যথা:
• বিস্ময়: কী সাংঘাতিক লোক!
• হর্ষ: ছন্দে ছন্দে দুলি আনন্দে, আমি বনফুল গো!
• ঘৃণা: ছিঃ ছিঃ! অমন কথা মুখে আনলে কী করে?
• শোক: হায় হায়! কী যন্ত্রণায় যে পড়েছি।
• ক্রোধ: এত বড় স্পর্ধা! মুখের ওপর কথা বলে।
• ভয়: ওরে বাবা রে, খেয়ে ফেলল রে!
• আবেগ: বাহ! সুন্দর লিখেছ তো।
অন্যদিকে,
নির্দেশাত্মক বাক্য:
• সেই বাঁশির সুর ভারি মিষ্টি।
• এ গানটি অত্যন্ত করুণ।
• যা দেখলাম, ভারি সুন্দর।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
• কর্তৃকারক:
- বাক্যস্থিত যে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদ ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে ক্রিয়ার কর্তা বা কর্তৃকারক বলে।
- ক্রিয়াকে 'কে/ কারা' দিয়ে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, সেটিই কর্তৃকারক। (কর্মবাচ্য ও ভাববাচ্যের বাক্যে এই নিয়ম খাটবে না। সেক্ষেত্রে একটু সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে।)
----------------
বাক্যের বাচ্য বা প্রকাশভক্তি অনুসারে কর্তা তিন রকম হতে পারে।
যথা:
১.কর্মবাচ্যের কর্তা (কর্মের প্রাধান্যসূচক বাক্যে): পুলিশ দ্বারা চোর ধৃত হয়েছে।
২. ভাববাচ্যের কর্তা (ক্রিয়ার প্রাধান্যসূচক বাক্য): আমার যাওয়া হবে না।
৩. কর্ম-কর্তৃবাচ্যের কর্তা ( বাক্যে কর্মপদই কর্তৃস্থানীয়): বাঁশি বাজে। কলমটা লেখে ভালো।
- কাননে কুসুম কলি সকলি ফুটিল - এখানে 'কুসুম কলি' নিজেই কর্তার মতো আচরণ করছে।
=============
কর্ম-কর্তৃবাচ্যের কর্তা অনুসারে দেখা যায় এখানে 'কুসুম কলি' নিজেই কর্তার মতো আচরণ করছে।
আবার কুসুম কলিতে শূন্য বিভক্তি যুক্ত আছে।
তাই বলা যায়, 'কুসুম কলি' কর্তৃকারকে শূন্য বিভক্তি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।