বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাক্য প্রকরণ

মোট প্রশ্ন৬,৯৫৩এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাক্য প্রকরণ

PrepBank · পাতা ৪৫ / ৬৯ · ৪,৪০১৪,৫০০ / ৬,৯৫৩

৪,৪০১.
'কোলন' এর বাংলা অর্থ কি?
  1. ক) অর্ধচ্ছেদ
  2. খ) দৃষ্টান্তচ্ছেদ
  3. গ) পাদচ্ছেদ
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
'কোলন'এর বাংলা অর্থ - দৃষ্টান্তচ্ছেদ

বাক্যের প্রথম অংশের কোন উক্তিকে দ্বিতীয় অংশে ব্যাখ্যা করা এবং উদাহরণ উপস্থাপনের কাজে কোলন ব্যবহৃত হয়.
যেমন-
সভার সিদ্ধান্ত হলো: প্রতি মাসে দশ টাকা করে চাঁদা দিতে হবে। 


উৎস: ভাষা শিক্ষা - বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি - ড. হায়াৎ মামুদ।
৪,৪০২.
'আহারে রুচি নেই।'- এখানে 'আহারে' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. অধিকরণে ৭মী
  2. অপাদানে ৭মী
  3. করণে ৭মী
  4. কর্মে ৭মী
ব্যাখ্যা

• অধিকরণ কারক: 
- ক্রিয়া সম্পাদনের কাল, স্থান ও সময়কে অধিকরণ কারক বলে। অর্থাৎ যে স্থানে বা সময়ে ক্রিয়া সম্পাদিত হয় সেটিই অধিকরণ কারক।
- অর্থাৎ ক্রিয়াপদকে কোথায়, কোন স্থানে, কখন, কোন সময়ে, কবে, কোন বিষয়ে বা ব্যাপারে এসব প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায় সেটিই অধিকরণ কারক।

- এই কারকে সাধারণত '-এ', '-য়', ‘-য়ে’, '-তে' ইত্যাদি বিভক্তি শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়।
যেমন -
- বাবা বাড়িতে আছেন।
- বিকাল পাঁচটায় অফিস ছুটি হবে।

প্রশ্নের বাক্যটি,
- আহারে রুচি নেই।
 [এখানে 'কোন বিষয়ে রুচি নেই?', প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'আহারে'। তাই 'আহারে' অধিকরণে সপ্তমী বিভক্তি।]

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন। 

৪,৪০৩.
নিচের কোন বানানটি অশুদ্ধ?
  1. সায়াহ্ন
  2. মনোহারিণী
  3. নিরূপণ 
  4. লণ্ঠণ
ব্যাখ্যা
• সঠিক উত্তর হলো — ঘ) লণ্ঠণ।
• লণ্ঠণ → এটি অশুদ্ধ, শুদ্ধ রূপ হবে লন্ঠন।



ব্যাখ্যা: 
• সায়াহ্ন (শুদ্ধ) = সন্ধ্যা।
• মনোহারিণী (শুদ্ধ) = মনোহরণকারী।
• নিরূপণ (শুদ্ধ) = নির্ণয়, সিদ্ধান্ত।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৪,৪০৪.
কোন বানানটি অশুদ্ধ? 
  1. হেঁয়ালি
  2. ধমনী
  3. রূপালি
  4. বর্ণালি
ব্যাখ্যা
• প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম অনুসারে, ধমনী বানানটি অশুদ্ধ।
- এর শুদ্ধ বানান- 'ধমনি'। 
----------------- 
• বাংলা একাডেমি প্রণীত প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম:

- রেফের পর ব্যঞ্জনবর্ণের দ্বিত্ব হবে না। 
যেমন,
অর্জ্জন, ঊর্দ্ধ, কর্ম্ম, মূর্চ্ছা ইত্যাদির পরিবর্তে যথাক্রমে- অর্জন, ঊর্ধ্ব, কর্ম, মূর্ছা ইত্যাদি। 

- আলি প্রত্যয়যুক্ত শব্দে ই-কার ব্যবহৃত হবে।
যেমন,
সোনালি, মিতালি, বর্ণালি, খেয়ালি, রূপালি, হেঁয়ালি ইত্যাদি।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মতি- ড. হায়াৎ মামুদ এবং ড. মোহাম্মদ আমীন, বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৪,৪০৫.
নিচের কোনটি অশুদ্ধ?
  1. দরিদ্রতা আমাদের অভিশাপ।
  2. আকণ্ঠ খেয়ে এখন হাঁসফাঁস লাগছে।
  3. সকল অপরাধীরাই ক্ষমা প্রার্থনা করেছিল।
  4. কাব্যটির উৎকর্ষ প্রশংসনীয়।
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ বাক্য: সকল অপরাধীরাই ক্ষমা প্রার্থনা করেছিল।
[বাক্যে 'সকল লোকেরাই' না হয়ে "সকল লোকই" হবে।]

• শুদ্ধরূপ: সকল অপরাধীই ক্ষমা প্রার্থনা করেছিল।

অন্যদিকে, 
শুদ্ধ: আকণ্ঠ খেয়ে এখন হাঁসফাঁস লাগছে।
শুদ্ধ: দারিদ্র্য/দরিদ্রতা আমাদের অভিশাপ।
শুদ্ধ: কাব্যটির উৎকর্ষ প্রশংসনীয়।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৪,৪০৬.
কোনটি অপপ্রয়োগ?
  1. স্বতন্ত্রতা
  2. সৌহার্দ্য
  3. চাপল্য
  4. স্বাতন্ত্র্যতা
ব্যাখ্যা
• 'স্বাতন্ত্র্যতা'- 'অপপ্রয়োগ'।
- এটি প্রত্যয়জনিত অপপ্রয়োগের এর উদাহরণ।
- এর শুদ্ধ প্রয়োগ - স্বাতন্ত্র্য / স্বতন্ত্রতা।

অন্যদিকে:
- চাপল্য,   
- সৌহার্দ্য,
- স্বতন্ত্রতা।
→ উপরিউক্ত শব্দগুলো প্রয়োগ শুদ্ধ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪,৪০৭.
আসত্তি অর্থ কী?
  1. ক) যোগাযোগ
  2. খ) যোগ্যতা
  3. গ) মিলন
  4. ঘ) ক ও খ উভয়ই
ব্যাখ্যা
বাক্যের পদগুলিকে অর্থসঙ্গতিক্রমে পূর্বাপর সন্নিবিষ্ট করার নাম আসত্তি। আসত্তি অর্থ মিলন বা নৈকট্য বা পারস্পরিক সংযোগ।
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
৪,৪০৮.
‘তুমি আমার সাথে প্রপঞ্চ করেছো’ - বাক্যটিতে রীতিসিদ্ধ অর্থবাচকতার ক্ষেত্রে কোন ধরনের ভুল রয়েছে?
  1. ক) উপমার ভুল প্রয়োগ
  2. খ) বাহুল্য-দোষ
  3. গ) দুর্বোধ্যতা
  4. ঘ) বাগধারার ভুল প্রয়োগ
ব্যাখ্যা

দুর্বোধ্যতাঃ
অপ্রচলিত, দুর্বোধ্য শব্দ ব্যবহার করলে বাক্যের যোগ্যতা বিনষ্ট হয়।
যেমন - তুমি আমার সাথে প্রপঞ্চ করেছো।
এখানে, প্রপঞ্চ শব্দটি 'মায়া' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে; কিন্তু শব্দটি প্রচলিত নয়।

উৎসঃ নবম - দশম শ্রেণির বাংলা ব্যাকরণ বোর্ড বই।

৪,৪০৯.
ভাববাচ্যের ক্রিয়াপদ সর্বদা _______ অনুসারী হয়।
  1. ক) কর্তার
  2. খ) কর্মের
  3. গ) নাম পুরুষের
  4. ঘ) মূল ক্রিয়ার
ব্যাখ্যা
ভাববাচ্য: যে বাচ্যে কর্ম থাকে না এবং বাক্যে ক্রিয়ার অর্থই বিশেষভাবে ব্যক্ত হয় তাকে ভাববাচ্য বলে।
১. ভাববাচ্যের ক্রিয়াপদ সর্বদা নাম পুরুষের অনুসারী হয়। ভাববাচ্যের কর্তায় ষষ্ঠী, দ্বিতীয়া বা তৃতীয়া বিভক্তি যুক্ত হয়।
যেমন -
- আমার খাওয়া হলো না।
- আমাকে এখন যেতে হবে।
- তোমার দ্বারা এ কাজ হবে না।
২. কখনো কখনো ভাববাচ্যে কর্তা উহ্য থাকে। কর্ম দ্বারাই ভাববাচ্য গঠিত হয়।
যেমন -
- এ পথে চলা যায় না।
- কোথা থেকে আসা হচ্ছে?
৩. মূল ক্রিয়ার সঙ্গে সহযোগী ক্রিয়ার সংযোগ ও বিভিন্ন অর্থে ভাববাচ্যের ক্রিয়া গঠিত হয়।
যেমন-
- এ ব্যাপারে আমাকে দায়ী করা চলে না।
- এ রাস্তা আমার চেনা নেই।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ (২০১৯ সংস্করণ)।
৪,৪১০.
‘তা’ প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগ ঘটেছে নিচের কোন শব্দে?
  1. আলস্যতা
  2. কৃপণতা
  3. ধীরতা
  4. একতা
ব্যাখ্যা
• ‘আলস্যতা’ শব্দে ‘তা’ প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগ ঘটেছে।
- শুদ্ধ প্রয়োগ: আলস্য, অলসতা।

• বানানের নিয়ম:
‘তা’ ‘ত্ব’ এবং ‘য’ হলো বিশেষ্যবাচক প্রত্যয়। যা কেবল বিশেষণ শব্দকে বিশেষ্য করে। তাই বিশেষ্য শব্দের সঙ্গে আবারো ‘তা’ ‘ত্ব’ বা য যুক্ত করলে তা ভুল হবে।
যেমন:
- দৈন্যতা শব্দটি অপপ্রয়োগ বা অশুদ্ধ। কারণ ‘দীন’ বিশেষণ শব্দের সঙ্গে বিশেষ্যবাচক ‘য’ প্রত্যয় যোগ করে ‘দৈন্য’ বিশেষ্য শব্দ গঠিত হয়। ফলে ‘দৈন্য’ শব্দের সঙ্গে আবারো বিশেষ্যবাচক ‘তা’ প্রত্যয় যুক্ত হলে তা ভুল বলে গণ্য হয়েছে।

এরূপ কিছু অশুদ্ধ শব্দের শুদ্ধরূপ হলো:
• অধৈর্যতা - অধৈর্য, ধীরতা।
• আলস্যতা - আলস্য, অলসতা।
• ঐক্যতা - ঐক্য, একতা।
• দৈন্যতা - দৈন্য, দীনতা।
• কার্পণ্যতা - কার্পন্য, কৃপণতা।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪,৪১১.
কোন বাক্যটি সাপেক্ষ ভাব প্রকাশ করেছে?
  1. ক) যা হয় হোক
  2. খ) মন দিয়ে পড়
  3. গ) ভালো করে পড়লে সফল হবে
  4. ঘ) অন্যায় কাজ করো না
ব্যাখ্যা

সাপেক্ষ ভাব : একটি ক্রিয়ার সংঘটন অন্য একটি ক্রিয়ার উপর নির্ভর করলে, নির্ভরশীল ক্রিয়াকে সাপেক্ষ ভাবের ক্রিয়া বলে। যেমন :
ক. সম্ভাবনায় : তিনি ফিরে এলে সবকিছুর মীমাংশা হবে, যদি সে পড়ত তবে সে পাশ করত।
খ. উদ্দেশ্য বোঝাতে : ভালো করে পড়লে সফল হবে।
গ. ইচ্ছা বা কামনায় : আজ বাবা বেঁচে থাকলে আমার এত কষ্ট হতো না।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ - নবম-দশম শ্রেণি।

৪,৪১২.
'বাচ্য' নিয়ে ব্যাকরণের কোন তত্ত্বে আলোচনা হয়?
  1. ধ্বনিতত্ত্ব
  2. রূপতত্ত্ব
  3. বাক্যতত্ত্ব
  4. অর্থতত্ত্ব
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

• ‘বাচ্য' ব্যাকরণের বাক্যতত্ত্বে আলোচিত হয়।

বাংলা ব্যাকরণের আলোচ্য বিষয়কে ৪ টি ভাগে ভাগ করা হয়। যথা:

• ধ্বনিতত্ত্ব:
ধ্বনিতত্ত্বের আলোচ্য বিষয় ধ্বনি। লিখিত ভাষায় ধ্বনি যেহেতু বর্ণ দিয়ে প্রকাশ করা হয় তাই বর্ণমালা সংক্রান্ত আলোচনা এর অন্তর্ভুক্ত। ধ্বনিতত্ত্বের মূল আলোচ্য বাগ্যন্ত্র, বাগ্যন্ত্রের উচ্চারণ-প্রক্রিয়া, ধ্বনির বিন্যাস, স্বর ও ব্যঞ্জনধ্বনির বৈশিষ্ট্য, ধ্বনিদল প্রভৃতি।

• রূপতত্ত্ব:
রূপতত্ত্বে শব্দ ও তার উপাদান নিয়ে আলোচনা করা হয়। শব্দ ও পদনির্মানের বিভিন্ন দিক ব্যাকরণের এই অংশে আলোচিত হয়। যেমন- বিশেষ্য, বিশেষণ, সর্বনাম, ক্রিয়া, ক্রিয়া বিশেষণ ইত্যাদি।

• বাক্যতত্ত্ব:
বাক্যের নির্মান ও গঠন এই অংশের আলোচ্য বিষয়। বাক্যের মধ্যে পদ ও বর্গ কীভাবে বিন্যস্ত থাকে, বাক্যতত্ত্ব তা বর্ণনা করে।
তাছাড়া এক ধরনের বাক্যকে অন্য ধরনের বাক্যে রূপান্তর, বাক্যের বাচ্য, উক্তি ইত্যাদি বাক্যতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়। কারক বিশ্লেষণ, বাক্যের যোগ্যতা, বাক্যের উপাদান লোপ, যতিচিহ্ন প্রভৃতি বাক্যতত্ত্বে আলোচনা করা হয়।

• অর্থতত্ত্ব:
ব্যকরণের এই অংশে শব্দ, বর্গ ও বাক্যের অর্থ নিয়ে আলোচনা করা হয়। একে বাগর্থও বলে। বিপরীত শব্দ, প্রতিশব্দ, শব্দজোড়, বাগ্‌ধারা প্রভৃতি এর আলোচ্য বিষয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

৪,৪১৩.
নিচের কোন বাক্যটি শুদ্ধ?
  1. এটা অপক্ক হাতের লেখা।
  2. বৃক্ষটি সমূলসহ উৎপাটিত হইয়াছে।
  3. সর্ব বিষয়ে বাহুল্যতা বর্জন করিবে।
  4. আমার এ কাজে মনোযোগ নেই।
ব্যাখ্যা
আমার এ কাজে মনোযোগ নেই।- শুদ্ধ বাক্য। 

• অন্যদিকে: 
- অশুদ্ধ: এটা অপক্ক হাতের লেখা। 
- শুদ্ধ বাক্য: এটা কাঁচা হাতের লেখা। 

- অশুদ্ধ: বৃক্ষটি সমূলসহ উৎপাটিত হইয়াছে। 
- শুদ্ধ: বৃক্ষটি মূলসহ উৎপাটিত হইয়াছে। 

- অশুদ্ধ: সর্ব বিষয়ে বাহুল্যতা বর্জন করিবে। 
- শুদ্ধ: সর্ব বিষয়ে বাহুল্য বর্জন করিবে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৪১৪.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ছড়া ছন্দ বা লোকছন্দ বলেছেন কোনটিকে?
  1. পয়ার ছন্দ
  2. মাত্রাবৃত্ত ছন্দ
  3. স্বরবৃত্ত ছন্দ
  4. অক্ষরবৃত্ত
ব্যাখ্যা
• স্বরবৃত্ত ছন্দ:
- স্বরবৃত্ত ছন্দের বহুল প্রচলিত নাম ছড়ার ছন্দ, লৌকিক ছন্দ, লোকছন্দ, মেয়েলি ছন্দ।
- এটাকে প্রাকৃত বাংলা ছন্দও বলা হয়।প্রাচীন ছড়াগুলো স্বরবৃত্তে রচিত।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একে ছড়া ছন্দ বা লোকছন্দ বলেছেন।
- এর ভাব লঘু ও চপল।

স্বরবৃত্ত ছন্দের বৈশিষ্ট্য:
- দ্রুত লয়ের ছন্দ।
- এই ছন্দের মূল পর্ব বা পূর্ণ পর্ব চার মাত্রাবিশিষ্ট।
- মুক্তাক্ষর এবং বদ্ধাক্ষর উভয়ই একমাত্র বিশিষ্ট, পর্বগুলো ছোট ৪ মাত্রা বিশিষ্ট।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড হায়াৎ মামুদ, বাংলাপিডিয়া, প্রাচ্য সাহিত্য সমালোচনা তত্ত্ব ও অলংকার শাস্ত্র, প্রফেসর ড. ধীরেন্দ্রনাথ তরফদার।
৪,৪১৫.
শুদ্ধ বাক্য নির্ণয় করুন-
  1. তুমি নির্দোষী নও।
  2. এটা অপক্ক হাতের লেখা।
  3. মেয়েটি সুকেশা ও সুহাসি।
  4. দুঃসংবাদটি শুনে সে চোখের জল সংবরণ করতে পারলো না।
ব্যাখ্যা

• দুঃসংবাদটি শুনে সে চোখের জল সংবরণ করতে পারলো না। - বাক্যটি শুদ্ধ।

অন্যদিকে,
অশুদ্ধ বাক্য: মেয়েটি সুকেশা ও সুহাসি।
শুদ্ধ বাক্য: মেয়েটি সুকেশী ও সুহাসিনী।

অশুদ্ধ বাক্য: তুমি নির্দোষী নও।
শুদ্ধ বাক্য: তুমি নির্দোষ নও।

অশুদ্ধ বাক্য: এটা অপক্ক হাতের লেখা।
শুদ্ধ বাক্য: এটা কাঁচা হাতের লেখা। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৪,৪১৬.
নিচের কোনটি শুদ্ধ বাক্য?
  1. বাংলাদেশ একটি উন্নতশীল দেশ।
  2. আমি তোমার অপরাধ সম্পর্কে নিঃসন্দিহান।
  3. ইহার আবশ্যক নেই।
  4. অনাবশ্যক ব্যাপারে কৌতূহল ভালো নয়।
ব্যাখ্যা
• বিশেষ্যের জায়গায় বিশেষণের কিংবা বিশেষণের বাহুল্য প্রয়োগজনিত ভুল: 
বাক্যের মধ্যে ব্যবহৃত বিশেষ্য পদকে বিশেষণ কিংবা বিশেষণ পদকে বিশেষ্য ভেবে পদ পরিবর্তন করে এ ধরনের ভুল করা হয়।

যেমন:
অশুদ্ধ: অনাবশ্যকীয় ব্যাপারে কৌতূহল ভালো নয়।
শুদ্ধ: অনাবশ্যক ব্যাপারে কৌতূহল ভালো নয়।

অশুদ্ধ: আমি তোমার অপরাধ সম্পর্কে নিঃসন্দিহান।
শুদ্ধ: আমি তোমার অপরাধ সম্পর্কে নিঃসন্দেহ।

অশুদ্ধ: ইহার আবশ্যক নেই।
শুদ্ধ: ইহার আবশ্যকতা নাই ৷

অশুদ্ধ: বাংলাদেশ একটি উন্নতশীল দেশ।
শুদ্ধ: বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪,৪১৭.
“যত পড়ছি, ততই নতুন করে জানছি” - বাক্যটি কোন যোজক নির্দেশ করছে?
  1. ক) সাধারণ যোজক
  2. খ) বিকল্প যোজক
  3. গ) বিরোধ যোজক
  4. ঘ) সাপেক্ষ যোজক
ব্যাখ্যা
“যত পড়ছি, ততই নতুন করে জানছি” - বাক্যটি সাপেক্ষ যোজক নির্দেশ করেছে ।

- এ ধরনের যোজক একে অন্যের পরিপূরক হয়ে বাক্যে ব্যবহৃত হয় ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যকরণ ও নির্মিতি (নবম-দশম শ্রেণি)
৪,৪১৮.
নাটকের সংলাপের আগে কোন চিহ্ন বসে?
  1. সেমিকোলন
  2. হাইফেন
  3. কোলন
  4. কোলন ড্যাস
ব্যাখ্যা

কোলন (:)
- বাক্যে নানা কারণে কোলনচিহ্ন ব্যবহৃত হয়।

যেমন:
নাটকের সংলাপের আগে: 
দুকড়ি: কী চাই? 
কাঙালি: আজ্ঞে, মহাশয় হচ্ছেন দেশহিতৈষী। 
দুকড়ি: তা তো সকলেই জানে কিন্তু আসল ব্যাপারটা কী? 
কাঙালি: আপনি সাধারণের হিতের জন্য প্রাণপণ----

উদাহরণ বা দৃষ্টান্ত বোঝাতে: 
বাংলা সন্ধি দু প্রকার: স্বরসন্ধি ও ব্যঞ্জনসন্ধি। 

উদ্ধৃতির আগে: 
রবীন্দ্রনাথ বলেছেন: “মরিতে চাহি না আমি সুন্দর ভুবনে।"

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।

৪,৪১৯.
কোন শব্দটি শুদ্ধ ?
  1. ক) অধগতি
  2. খ) অধঃগতি
  3. গ) অধোগতি
  4. ঘ) অধোঃগতি
ব্যাখ্যা
বানান: 
- অধোগতি বানানটি শুদ্ধ। 
- অধোগতি, অধোগমন একটি বিশেষ্য শব্দ। 
- অধোগতি শব্দটির বিভিন্ন অর্থ রয়েছে। 
যেমন - 
১. নিম্নগতি; নিচের দিকে যাওয়া। 
২. অবনতি; দুর্দশা; অধঃপতন (আকস্মিক অধোগতির খবরতার কানে আসে-অচিন্তকুমার সেনগুপ্ত)।
৩. নরকবাস; দোজখে যাওয়া। 

উৎস: বাংলা একাডেমি অভিধান।
৪,৪২০.
সন্ধিজনিত অপপ্রয়োগ ঘটেছে নিচের কোন শব্দে?
  1. ক) পৃথকান্ন
  2. খ) দুরবস্থা
  3. গ) রক্তোষ্ঠ
  4. ঘ) যাবজ্জীবন
ব্যাখ্যা
পৃথগন্ন = পৃথক+অন্ন,
দুরবস্থা = দুঃ + অবস্থা;
রক্তোষ্ঠ = রক্ত + ওষ্ঠ;
যাবজ্জীবন = যাবৎ + জীবন৷
উৎসঃ বাংলা একাডেমী অভিধান
৪,৪২১.
কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. ক) যশোলাভ
  2. খ) দূর্গা
  3. গ) জলোচ্ছাস
  4. ঘ) গ্রামীন
ব্যাখ্যা
যশোলাভ বানানটি শুদ্ধ। দূর্গা = দুর্গা ; জলোচ্ছাস = জলোচ্ছ্বাস ; গ্রামীন = গ্রামীণ। [সূত্র: বাংলা একাডেমী এর অভিধান]
৪,৪২২.
'কোলন' চিহ্ন কোন কাজে ব্যব্যহার হয়?
  1. স্বাধীন অথচ ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত একাধিক বাক্যকে এক বাক্যে পরিণত করার কাজে
  2. একটি অপূর্ণ বাক্যের পরে অন্য একটি বাক্যের অবতারণা করতে
  3. উদাহরণ বা দৃষ্টান্ত প্রয়োগ করতে
  4. যৌগিক ও মিশ্র বাক্যে পৃথক ভাবাপন্ন দুই বা তার বেশি বাক্যের সমন্বয় বা সংযোগ বোঝাতে
ব্যাখ্যা

কোলন(:):
- একটি অপূর্ণ বাক্যের পরে অন্য একটি বাক্যের অবতারণা করতে হলে কোলন ব্যবহৃত হয়
যেমন:
- সভায় সাব্যস্ত হলো: একমাস পরে নতুন সভাপতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

অন্যদিকে,
সেমিকোলন (;):
- স্বাধীন অথচ ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত একাধিক বাক্যকে এক বাক্যে পরিণত করার কাজে অথবা একই ধরনের বৰ্গকে পাশাপাশি সাজাতে সেমিকোলন ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- সোহাগ ক্রিকেট পছন্দ করে; আমি ফুটবল পছন্দ করি।

ড্যাস চিহ্ন(__):
- যৌগিক ও মিশ্র বাক্যে পৃথক ভাবাপন্ন দুই বা তার বেশি বাক্যের সমন্বয় বা সংযোগ বোঝাতে ড্যাস চিহ্ন ব্যবহৃত হয়।
যেমন -
- তোমরা দরিদ্রের উপকার কর– এতে তোমাদের সম্মান যাবে না – বাড়বে।

কোলন ড্যাস (:-):
- উদাহরণ বা দৃষ্টান্ত প্রয়োগ করতে হলে কোলন এবং ড্যাস চিহ্ন একসঙ্গে ব্যবহৃত হয়।
যেমন-
পদ পাঁচ প্রকার:-
বিশেষ্য, বিশেষণ, সর্বনাম, অব্যয় ও ক্রিয়া।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৪,৪২৩.
নিচের কোন বানানটি অশুদ্ধ?
  1. ক) দুস্থ
  2. খ) বিশ্বস্ত
  3. গ) সমস্ত
  4. ঘ) প্রশস্থ
ব্যাখ্যা
অশুদ্ধ বানানের শুদ্ধরূপ হলো : প্রশস্ত
৪,৪২৪.
নিচের কোনটিতে বিরামচিহ্ন যথাযথভাবে ব্যবহৃত হয়নি?
  1. ডিসেম্বর ১৬, ১৯৭১
  2. ২৬ মার্চ, ১৯৭১
  3. ঢাকা, ২১ ফেব্রুয়ারি ১৯৫২
  4. পয়লা বৈশাখ, চৌদ্দশো সাত
ব্যাখ্যা
- যতিচিহ্নের অশুদ্ধ প্রয়োগ ঘটেছে ‘ঢাকা, ২১ ফেব্রুয়ারি ১৯৫২’ বাক্যে।
• বাক্যটির শুদ্ধরূপ হবে- ঢাকা, ২১ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫২।

------------------------
• যতিচিহ্ন:

মুখের কথা লিখিত রূপ দেওয়ার সময় কম-বেশি থামা বোঝাতে যতিচিহ্ন ব্যবহৃত হয়। বক্তব্যকে স্পষ্ট করতেও যতিচিহ্ন ব্যবহৃত হয়।যতিচিহ্নকে বিরামচিহ্ন বা বিরতি চিহ্নও বলা হয়।

• কমা:

- কমা সামান্য বিরতি নির্দেশ করে। কমা পূর্ণযতি নয়, তাই কমা দিয়ে কোনো বাক্য শেষ হয় না। কমা চিহ্নের বাংলা নাম পাদচ্ছেদ।
- শব্দ, বর্গ ও অধীন বাক্যকে আলাদা করতে কমার ব্যবহার হয়।
• সম্বোধন পদের পরে সাধারণত কমা বসে।
যেমন:
- স্যার, আমাকে ব্যাপারটি বুঝিয়ে দেবেন?
- রব, এদিকে এসো।

• বাক্যে একাধিক বিশেষ্য কিংবা বিশেষণ পদের বিবৃতি প্রকাশের ক্ষেত্রে কমা বসাতে হয়।
যেমন:
- জনি বুদ্ধিমান, সাহসী ও জ্ঞানী।
- মীম, সানি, হারুন ও রব কক্সবাজার গিয়েছে।

• তারিখ লিখতে বার ও মাসের পরে ‘কমা’ বসে।
যেমন:
- ১৯শে আশ্বিন, বৃহস্পতিবার, ১৪২৫ সালে মীম বান্দরবান জেলায় জন্মগ্রহণ করে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৪,৪২৫.
কোন বাক্যটি অশুদ্ধ?
  1. দুর্বলতাবশত তিনি আসতে পারেননি।
  2. গাছটি মূলসহ উৎপাটিত হয়েছে।
  3. অন্যায়ের প্রতিফল দুনিবার্য।
  4. আমৃত্যু দেশের সেবা করে যাব।
ব্যাখ্যা
অশুদ্ধ: অন্যায়ের প্রতিফল দুনিবার্য।
শুদ্ধ: অন্যায়ের প্রতিফল অনিবার্য।

অন্যদিকে,
- আমৃত্যু দেশের সেবা করে যাব।
- গাছটি মূলসহ উৎপাটিত হয়েছে।
- দুর্বলতাবশত তিনি আসতে পারেননি।
উপরিউক্ত বাক্যগুলো শুদ্ধ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪,৪২৬.
"দারুণ ! আমরা জিতে গেছি।" - এটি কোন ধরনের বাক্য?
  1. অনুজ্ঞাবাচক বাক্য
  2. আদেশবাচক বাক্য
  3. আবেগবাচক বাক্য
  4. ইচ্ছাসূচক বাক্য
ব্যাখ্যা
• আবেগবাচক বাক্য:
কোনো কিছু দেখে বা শুনে আবাক হয়ে যে ধরনের বাক্য তৈরি হয়, তাকে আবেগবাচক বাক্য বলে।
যেমন,
- দারুণ ! আমরা জিতে গেছি।
- অত উঁচু পাহাড়ে উঠে আমি তো ভয়েই মরি !

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( সংস্করণ- ২০২১)।
৪,৪২৭.
নিচের কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. মহত
  2. মহত্ত্বর
  3. মহত্ত
  4. মাহাত্ম্য
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান 'মাহাত্ম্য'
- বিশেষ্য পদ।
- সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃতি প্রত্যয়: মহাত্মন্‌ + য।
 অর্থ:
- মহত্ত্ব, মহানুভবতা।

অন্যদিকে: 
• শুদ্ধ বানান 'মহৎ'
- বিশেষণ পদ।
- সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃতি প্রত্যয়: √মহ্‌ + অৎ।
  অর্থ:
- মহানুভব, উদার।

• শুদ্ধ বানান 'মহত্ত্ব'
- বিশেষণ পদ।
- সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃতি প্রত্যয়: মহৎ + ত্ব।
  অর্থ:
- মহতের ভাব, উদারতা।

• শুদ্ধ বানান 'মহত্তর'
- বিশেষণ পদ।
- সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃতি প্রত্যয়: মহৎ + তরপ্‌। 
  অর্থ: 
- দুইয়ের মধ্যে অধিকতর মহৎ। 

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান। 
৪,৪২৮.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 'সংস্কৃত ভাঙা ছন্দ' নামকরণ করেছিলেন কোন ছন্দের?
  1. স্বরবৃত্ত ছন্দের
  2. মাত্রাবৃত্ত ছন্দের
  3. ত্রিপদী ছন্দের
  4. পয়ার ছন্দের
ব্যাখ্যা
• মাত্রাবৃত্ত:
- এই নামটি দিয়েছেন প্রবোধ চন্দ্র সেন, হালে, এর নোতুন নামকরণ করেছেন-কলাবৃত্ত।
- রবীন্দ্রনাথ এর নাম দিয়েছেন-সংস্কৃত ভাঙা ছন্দ।
- অমূল্যধন এর নাম দিয়েছেন-ধ্বনি প্রধান ছন্দ।

উৎস: 'ছন্দ ও অলঙ্কার' ড. অজয় কুমার চক্রবর্তী।
৪,৪২৯.
'খোদার এলেমে বুক ভরে না তলায় পেট শূন্য বলে।' উক্তিটি কোন উপন্যাসের অন্তর্ভুক্ত?
  1. পদ্মানদীর মাঝি 
  2. লালসালু 
  3. তিতাস একটি নদীর নাম
  4. সূর্য দীঘল বাড়ি
ব্যাখ্যা

• "লালসালু" উপন্যাস:
- 'লালসালু' সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত 'লালসালু'র একটি বহুমাত্রিক ও কালোত্তীর্ণ উপন্যাস। ১৯৪৮ সালে কলকাতা থেকে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত।

- এই উপন্যাসে একদিকে যেমন বাংলার গ্রামজীবনের বাস্তব প্রকৃতি ধরা পড়েছে তার সৌন্দর্য, মাধুর্য ও কঠোরতা নিয়ে; তেমনই রূপায়িত হয়েছে অসংখ্য গ্রামীণ মানুষের জীবন। সাধারণ মানুষের সরলতাকে কিভাবে ধর্ম ব্যবসার উপাদানরূপে ব্যবহার করা হয় তা লালসালু উপন্যাসের মূল উপজীব্য বিষয়।

- নোয়াখালি অঞ্চল থেকে মজিদ নামের একটি কূটচরিত্র গারোপাহাড়ি অঞ্চলে গিয়ে সেই এলাকার মানুষকে ধর্মের নামে কীভাবে শোষণ করে, সেই বাস্তব চিত্র আছে উপন্যাসটিতে। ধর্ম ব্যবসায়ী মজিদ অর্থ ও প্রভাব বৃদ্ধির সঙ্গে অল্পবয়সী দ্বিতীয় স্ত্রী গ্রহণ করে। সে গ্রামের মোড়লদেরও প্রভাবিত করে। পাশের গ্রামে অন্য পিরের আগমন হলে, নিজের দাপট খর্ব হবে বিবেচনায়, তাকে মারধর দিয়ে উচ্ছেদ করে। তবে স্বল্পবয়সী স্ত্রী জমিলা কর্তৃক মজিদ লাঞ্ছিত হয়। উপন্যাসে জমিলা বিদ্রোহিণী, প্রতিবাদের প্রতীক।

- ঔপন্যাসিক ধর্মব্যবসায়ীদের উপলক্ষ করে লিখেছেন: 'খোদার এলেমে বুক ভরে না তলায় পেট শূন্য বলে।'
- উপন্যাসটি 'Tree Without Roots' নামে ইংরেজিতে অনূদিত হয়ে (১৯৬৭) খ্যাতি অর্জন করে।
- ওয়ালীউল্লাহর পত্নী অ্যান মেরির 'লালসালু'র ফরাসি অনুবাদের নাম- ল্য অরবরে সামস মায়েমে (১৯৬১)।

উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- মজিদ,
- খালেক ব্যাপারি,
- জমিলা,
- রহিমা,
- আমেনা,
- আক্কাস,
- তাহেরের বাপ,
- হাসুনির মা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; "লালসালু" উপন্যাস এবং বাংলাপিডিয়া।

৪,৪৩০.
নিচের কোন বানানটি অশুদ্ধ?
  1. নিধান
  2. নিদান
  3. নিমগ্ম
  4. নিবৃত্ত
ব্যাখ্যা

• নিমগ্ম বানানটি ভুল।
• সঠিক বানান - নিমগ্ন।

- নিধান - ১) আধার, আশ্রয় (দয়ার নিধান)। ২) অর্পণ। ৩) নিবেশ; স্থাপন। ৪) লগারিদমের ঘাতাঙ্ক গণনের প্রথম রাশি: 

- নিদান -  ১) মূল কারণ। ২) চিকিৎসা। ৩) মৃত্যু আসন্ন এমন ঘোষণা। ৪) অবসান। বিণ. অন্তিম (নিদানকাল)। অব্য, অন্তত; নেহাত (নিদানপক্ষে)।
নিবৃত্ত - ১) বিরত, ক্ষান্ত; সমাপ্ত। ২)প্রত্যাবৃত্ত।

উৎস: বাংলা একাডেমী আধুনিক বাংলা অভিধান।

৪,৪৩১.
বাংলা ভাষার ব্যবহৃত "(;)" চিহ্নটিকে কী চিহ্ন বলে?
  1. ক) বিকল্প
  2. খ) সেমিকোলন
  3. গ) উদ্ধৃতিচিহ্ন
  4. ঘ) ঊর্ধ্বকমা
ব্যাখ্যা
বাক্যের মধ্যে ব্যবহূত বিরামচিহ্নগুলো হচ্ছে:
- কমা (,),
- সেমিকোলন (;),
- কোলন (:),
- হাইফেন (-),
- ড্যাস (—),
- ঊর্ধ্বকমা (’),
- উদ্ধৃতিচিহ্ন (“ ”),
- বিকল্প চিহ্ন (/)।

[উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম- দশম শ্রেণি, ২০১৯ সংস্করণ]
৪,৪৩২.
কোনো কথকের বাক কর্মের নামকে কী বলে?
  1. বাক্য
  2. বাচ্য
  3. উক্তি
  4. প্রবাদ
ব্যাখ্যা
উক্তি:  
- বক্তার কথা উপস্থাপনের ধরনকে উক্তি বলে।
- কোনো কথকের বাক কর্মের নামই উক্তি।  
- উক্তি দুই প্রকার: প্রত্যক্ষ উক্তি ও পরোক্ষ উক্তি।  
- যেমন:   
• ছেলেটি বলেছিল, “আজ আমি অনেক পড়েছি।” - এটি প্রত্যক্ষ উক্তি। 
• ছেলেটি বলেছিল যে, সেদিন সে অনেক পড়েছে। - এটি পরোক্ষ উক্তি।  

- যে উক্তিতে বক্তার কথা সরাসরি উদ্ধৃত করা হয়, তাকে বলে প্রত্যক্ষ উক্তি। 
- আর যে উক্তিতে বক্তার কথা অন্যের দ্বারা বর্ণিত হয়, তাকে বলে পরোক্ষ উক্তি।  

♠ প্রত্যক্ষ উক্তি লেখার সময়ে উদ্ধারচিহ্ন ব্যবহৃত হয়।
- যেমন:   
• রফিক হেসে বললো, “আমি আপনাকে লক্ষ করিনি।”  
• কালো চুলের মানুষটি বলল, “দশ পর্যন্ত গুনতে পারি। যোগ কী আমার ধারণা আছে। কিন্তু বিয়োগ করতে পারি না।” 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪,৪৩৩.
'পয়ার' ছন্দ কোন শ্রেণির অন্তর্গত?
  1. স্বরবৃত্ত
  2. মাত্রাবৃত্ত
  3. অক্ষরবৃত্ত
  4. চতুর্দশপদী
ব্যাখ্যা
• অক্ষরবৃত্ত ছন্দ:
- উৎপত্তির বিচারে যে ছন্দটিকে খাঁটি বাংলা অর্থাৎ 'তদ্ভব ছন্দ' নামে আখ্যায়িত করা হয়, তাকেই প্রচলিত ভাষায় বলা হয় অক্ষরবৃত্ত ছন্দ।
 
মাত্রাবৃত্ত ছন্দ:
- উৎপত্তির বিচারে এ  ছন্দ“তৎসম' বা 'অর্ধতৎসম ছন্দ'; যে ছন্দে প্রাচীন সংস্কৃত ও প্রাকৃত ছন্দের অনেক লক্ষণ অথবা অন্তত কিছুটা লক্ষণও বর্তমান আছে তাকেই বলা হয় 'মাত্রাবৃত্ত ছন্দ'।

• পয়ার ছন্দ:
- পয়ার হচ্ছে অক্ষরবৃত্ত ছন্দের ৮/৬ মাত্রার বৈশিষ্ট্যপূর্ণ একটি শ্রেণীবিভাগ।
- এটি মধ্যযুগীয় বাংলা কাব্যের প্রধান ছন্দোরীতিও বটে।
- মধ্যযুগে পয়ার ছন্দেই রামায়ণ ও মহাভারতের বঙ্গানুবাদ এবং মঙ্গলকাব্যসমূহ রচিত হয়েছে।
- মাইকেল মধুসূদনের চতুদর্শপদী কবিতাবলির ছন্দও প্রচলিত পয়ার ছন্দেরই এক নতুন রূপ।

উৎস : ভাষা-শিক্ষা, ড হায়াৎ মামুদ, বাংলাপিডিয়া, প্রাচ্য সাহিত্য সমালোচনা তত্ত্ব ও অলংকার শাস্ত্র, প্রফেসর ড. ধীরেন্দ্রনাথ তরফদার।
৪,৪৩৪.
কোনটি শুদ্ধ বানান?
  1. অন্তঃকরণ
  2. বিভিষিকা
  3. পরজীবি
  4. নূন্যতম
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান – অন্তঃকরণ
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।

শব্দের অর্থ:
- হৃদয়, মন।

অন্যদিকে,
নূন্যতম – ন্যূনতম। 
পরজীবি – পরজীবী। 
বিভিষিকা – বিভীষিকা।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৪,৪৩৫.
'বনে বাঘ আছে।' কোন কারক?
  1. কর্ম কারক
  2. অধিকরণ কারক
  3. করণ কারক
  4. অপাদান কারক
ব্যাখ্যা
• অধিকরণ কারক:
ক্রিয়া সম্পাদনের কাল এবং আধারকে (সময় এবং স্থানকে) অধিকরণ কারক বলে।
- বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথায়, কখন ও কোনো বিষয় বোঝাতে অধিকরণ কারক হয়।

যেমন:
- বনে বাঘ আছে। (কোথায় আছে? বনে): অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি।
- পুকুরে মাছ আছে। (কোথায় আছে? পুকুরে) : অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি।
- ঘাটে নৌকা বাঁধা আছে। (কোথায় বাঁধা আছে? ঘাটে): অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৪,৪৩৬.
বিভক্তিযুক্ত শব্দ কোনটি?
  1. দুনিয়া 
  2. কাকামশায়
  3. ঝাপসা 
  4. গহনায় 
ব্যাখ্যা

• গহনা (বিশেষ্য পদ),
- এটি হিন্দি ভাষার শব্দ।
অর্থ:
- অলংকার,
- ভূষণ।

এখনে, গহনায় শব্দটির সাথে 'য়' সপ্তমী বিভক্তি যুক্ত হয়েছে। 
----------------
• বিভক্তি:
যে সব বর্ণ বা বর্ণসমষ্টি বা চিহ্ন দ্বারা বাক্যের এক পদের সঙ্গে অন্য পদের সম্বন্ধ নির্ধারিত হয়, তাকে বলা বিভক্তি। বাংলা শব্দে বিভক্তি ৭ প্রকার।
যথা:
- প্রথমা বা শূণ্য বিভক্তি: শূণ্য, অ।
- দ্বিতীয়া বিভক্তি: কে, রে।
- তৃতীয়া বিভক্তি: দ্বারা, দিয়া (দিয়ে), কর্তৃক।
- চতুর্থী বিভক্তি: কে, রে।
- পঞ্চমী বিভক্তি: হইতে (হতে), থেকে, চেয়ে।
- ষষ্ঠী বিভক্তি: র, এর।
- সপ্তমী বিভক্তি: এ, য়, তে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং অভিগম্য অভিধান।

৪,৪৩৭.
কোনটি শুদ্ধ বানান?
  1. ক) নিরিহ
  2. খ) নিরীহ
  3. গ) নীরিহ
  4. ঘ) নীরীহ
ব্যাখ্যা

নিরীহ (বিশেষণ)
১) শান্ত; গোবেচারা।
২) অহিংস্র।
৩) নিরুপদ্রব; নির্বিরোধ।
৪) নিশ্চেষ্ট; অচেষ্ট।
৫) নিঃস্পৃহ; নির্লোভ।
উৎসঃ বাংলা একাডেমী আধুনিক বাংলা অভিধান।

৪,৪৩৮.
নিচের কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. ঘূর্ণ্যয়ম্যন
  2. ঘুর্ণ্যয়মান
  3. ঘূর্ণ্যয়মান
  4. ঘূর্ণায়মান
ব্যাখ্যা
- বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
- শুদ্ধ বানান = ঘূর্ণায়মান।
-------------------------------------------------
’ঘূর্ণায়মান’ শব্দের উচ্চরণ,  /ঘুরনায়োমান্ /
অর্থ-
- বিণ,
- ঘুরছে এমন।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৪,৪৩৯.
নিচের কোন বানানটি অশুদ্ধ?
  1. সমীচীন
  2. অতিথি
  3. দারিদ্রতা
  4. গণনা
ব্যাখ্যা
- বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,

- দারিদ্রতা বানানটি ভুল।
- এর সঠিক বানান হবে- দরিদ্রতা/ দারিদ্র্য।

অন্যদিকে,

- সমীচীন, গণনা ও অতিথি -বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে শুদ্ধ বানান।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৪,৪৪০.
“ভিক্ষুককে দান কর।” – বাক্যটির মিশ্রবাক্য কোনটি?
  1. ভিক্ষুক ভিক্ষা চায়, তাকে দান কর।
  2. যে ভিক্ষা চায়, তাকে দান কর।
  3. ভিক্ষা চাওয়া ভিক্ষুক কে দান কর।
  4. ভিক্ষা চায়, ভিক্ষা দাও।
ব্যাখ্যা

• সরল বাক্য: ভিক্ষুককে দান কর।
• মিশ্র বাক্য: যে ভিক্ষা চায়, তাকে দান কর।

• সরল বাক্যকে মিশ্র বাক্যে রূপান্তর:

- প্রথমে সরল বাক্যের একটি অংশ নির্বাচন করতে হবে যেটিকে খণ্ডবাক্যে রূপান্তর করা যায়।
- এরপর খণ্ডবাক্যটির শুরুতে বা মাঝে সম্বন্ধসূচক শব্দ ব্যবহার করতে হবে।
- খণ্ডবাক্য ও প্রধান বাক্যকে সঠিকভাবে যুক্ত করে মিশ্র বাক্য তৈরি করতে হবে।
- অর্থ যেন স্পষ্ট থাকে, সে বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে।

• উদাহরণসমূহ:
• সরল বাক্য: ভালো ছেলেরা শিক্ষকের আদেশ পালন করে।
• মিশ্র বাক্য: যারা ভালো ছেলে, তারা শিক্ষকের আদেশ পালন করে।

• সরল বাক্য: তার দর্শনমাত্রই আমরা প্রস্থান করলাম।
• মিশ্র বাক্য: যেই তার দর্শন পেলাম, সেই আমরা প্রস্থান করলাম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি ২০১৯ সালের সংস্করণ।

৪,৪৪১.
বিস্ময় বিহ্নের বিরতিকাল কতটুকু?
  1. ক) এক বলার দ্বিগুণ সময়
  2. খ) এক সেকেন্ড
  3. গ) থামার প্রয়োজন নেই
  4. ঘ) এক বলতে যে সময় প্রয়োজন
ব্যাখ্যা
বিস্ময় বিহ্নের বিরতিকাল- 'এক সেকেন্ড'

• বাক্যে যতিচিহ্ন অনুসারে থামার পরিমাণ:
- কমা বা পাদচ্ছেদ এবং উদ্ধরণ চিহ্ন থাকলে -- 'এক' উচ্চারণে যত সময় লাগে সেই পরিমাণ সময় থামতে হয়।
- সেমিকোলন বা অর্ধচ্ছেদ থাকলে -- 'এক' বলার দ্বিগুণ সময় থামতে হয়।
- হাইফেন, ইলেক বা লোপ চিহ্ন ও ব্রাকেট থাকলে -- থামার প্রয়োজন হয় না।
- দাড়ি বা পূর্ণচ্ছেদ, প্রশ্নবোধক চিহ্ন, বিস্ময় চিহ্ন, কোলন, কোলন ড্যাস, ড্যাস ইত্যাদি চিহ্ন থাকলে - এক সেকেন্ড থামতে হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
৪,৪৪২.
নিচের কোনটি অপপ্রয়োগ?
  1. যদ্যপি
  2. শুধুমাত্র
  3. অর্ধরাত্র
  4. নিরভিমান
ব্যাখ্যা

• 'শুধুমাত্র' - শব্দটি অপপ্রয়োগ।
- এটি সমার্থ শব্দের বাহুল্যজনিত কারণে অপপ্রয়োগ।
- এখানে শুধু ও মাত্র দুটি একই শব্দ।
- তাই এখানে একই সাথে 'শুধুমাত্র' শব্দটি অশুদ্ধ।

অন্যদিকে,
- যদ্যপি,
- নিরভিমান;
- অর্ধরাত্র;
শব্দগুলো সঠিক প্রয়োগ হয়েছে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ; বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

৪,৪৪৩.
নিচের কোন বাক্যটি শুদ্ধ নয়?
  1. ক) ছেলেটি বংশের মুখে চুনকালি দিল
  2. খ) তিনি স্বত্রীক ঢাকায় থাকেন
  3. গ) নীরোগ লোকেরাই প্রকৃত সুখী
  4. ঘ) তাহার বৈমাত্রেয় ভ্রাতা অসুস্থ
ব্যাখ্যা
• প্রদত্ত প্রশ্নে শুদ্ধ নয়- তিনি স্বত্রীক ঢাকায় থাকেন।
- এটির শুদ্ধরূপ হচ্ছে তিনি সস্ত্রীক ঢাকায় থাকেন

- ছেলেটি বংশের মুখে চুনকালি দিল।
- নীরোগ লোকেরাই প্রকৃত সুখী।
- তাহার বৈমাত্রেয় ভ্রাতা অসুস্থ।
 উল্লেখিত অপশনের অন্যান্য বাক্য শুদ্ধ নিয়মে গঠিত।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ, ড. মোহাম্মদ আমীন।
৪,৪৪৪.
'বাচ্য' হলো বাক্যের -
  1. রূপান্তর
  2. সংখ্যার ধারণা
  3. অর্থ
  4. প্রকাশভঙ্গি
ব্যাখ্যা
• বাচ্য: 
- বাক্যের প্রকাশভঙ্গিকে বাচ্য বলে।
- বাক্যের মধ্যে ক্রিয়ার ভূমিকা বদলে গিয়ে একই বক্তব্যের প্রকাশভঙ্গি আলাদা হয়ে যায়।
- ক্রিয়া কখনো কর্তাকে অনুসরণ করে, ক্রিয়া কখনো কর্মকে অনুসরণ করে, আবার ক্রিয়াই কখনো বাক্যের মধ্যে মুখ্য হয়ে ওঠে।

যেমন -
- সে বাজারে যায়।
- সাহসী ছেলেটিকে পুরস্কৃত করা হয়েছে।
- কোথায় যাওয়া হচ্ছে?

- উপরের প্রথম বাক্যে ‘যায়' ক্রিয়াটি ‘সে' কর্তার অনুসারী।
- দ্বিতীয় বাক্যে ‘করা হয়েছে' ক্রিয়াটি ‘সাহসী ছেলেটিকে' কর্মের অনুসারী।
- তৃতীয় বাক্যে ‘যাওয়া হচ্ছে' ক্রিয়াই মুখ্য।
- প্রকাশভঙ্গির এই ভিন্নতা অনুযায়ী বাচ্য তিন প্রকার: কর্তাবাচ্য, কর্মবাচ্য ও ভাববাচ্য।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ)।
৪,৪৪৫.
নিচের কোনটি অশুদ্ধ?
  1. হাতে টাকা নেই তাই চোখে সরষে ফুল দেখছি।
  2. এক মাঘে শীত যায় না।
  3. মুখে খিদে চোখে লাজ।
  4. উদোর পিণ্ডি বুধোর ঘাড়ে।
ব্যাখ্যা
• সাধারণত বাংলা ভাষায় প্রবাদ-প্রবচনগুলো যেভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে তার বিকৃতি বা রূপের পরিবর্তন করা হলে তা ভুল বলে গণ্য হবে।
যেমন:
• অশুদ্ধ: মুখে খিদে চোখে লাজ।

• শুদ্ধ প্রয়োগ: পেটে খিদে মুখে লাজ।
অর্থ: ভেতরের ইচ্ছা লজ্জাবশত প্রকাশ করতে না পারা।

অন্যদিকে,
• শুদ্ধ প্রয়োগ: এক মাঘে শীত যায় না।
• শুদ্ধ প্রয়োগ: উদোর পিণ্ডি বুধোর ঘাড়ে।
• শুদ্ধ বাক্য: হাতে টাকা নেই, একারণেই চোখে সরষে ফুল দেখছি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪,৪৪৬.
শুদ্ধ বানান কোনটি?
  1. মহিয়ষি
  2. মহীয়ষী
  3. মহিয়সী
  4. মহীয়সী
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান - মহীয়সী
- শব্দটি বিশেষণ।
- এটি সংস্কৃত শব্দ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৪,৪৪৭.
"তখন রতন ধুলায় পড়িয়া তাঁহার পা জড়াইয়া ধরিয়া কহিল, দাদাবাবু তোমার দুটি পায়ে পড়ি তোমার দুটি পায়ে পড়ি আমাকে কিছু দিতে হবে না তোমার দুটি পায়ে পড়ি আমার জন্য কাউকে কিছু ভাবতে হবে না' বলিয়া এক দৌড়ে সেখান হইতে পলাইয়া গেল।"
- উদ্ধৃতিতে অনুপস্থিত সেমিকোলন ও ড্যাসের সংখ্যা যথাক্রমে -
  1. ১টি ; ১টি
  2. ২টি ; ১টি
  3. ৩টি ; ১টি
  4. ১টি ; ৩টি
ব্যাখ্যা
প্রশ্নোল্লিখিত উদ্ধৃতিটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পোস্টমাস্টার গল্প থেকে নেওয়া হয়েছে।
এই গল্পে রতন নামের এক বালিকার স্নেহময়তা ও পোস্ট মাস্টারের প্রতি মাতৃত্বসুলভ আচরণ লক্ষ্য করা যায়।

প্রশ্নোল্লিখিত উদ্ধৃতিতে অনুপস্থিত সেমিকোলন ও ড্যাসের সংখ্যা ১ টি করে।



উৎস: রবীন্দ্র রচনাবলী
৪,৪৪৮.
কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. স্মরণিকা
  2. স্বচ্ছল
  3. সত্বোসিদ্ধ
  4. লজ্জাস্কর
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান - 'স্মরণিকা'
- এটি একটি বিশেষণ পদ।
- শব্দটি সংস্কৃত ভাষা হতে আগত।

শব্দের অর্থ:
- স্মৃতি রক্ষার উদ্দেশ্যে প্রকাশিত।

অন্যদিকে,
স্বচ্ছল – সচ্ছল, 
সত্বোসিদ্ধ – স্বতঃসিদ্ধ, 
লজ্জাস্কর – লজ্জাকর।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৪,৪৪৯.
কোনটি শুদ্ধ বানান?
  1. ক) নিসুতী
  2. খ) নিসুতি
  3. গ) নিসূতী
  4. ঘ) নিষুতি
ব্যাখ্যা
শুদ্ধ বানান = নিষুতি

নিষুতি (বিশেষ্য) 
- তৎসম বা সংস্কৃত শব্দ 'নিষুপ্তি' থেকে উদ্ভূত তদ্ভব শব্দ। 
অর্থ:
(বিশেষ্য) নিদ্রায় মগ্ন; গাঢ়নিদ্রা।
(বিশেষণ) নিস্তব্ধ; নিঃশব্দ।

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
৪,৪৫০.
'এক যে ছিলো রাজা।' - বাক্যে 'রাজা' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্মে শূন্য
  2. অপাদানে শূন্য
  3. কর্তায় দ্বিতীয়া
  4. কর্তায় শূন্য
ব্যাখ্যা
কর্তৃকারক:
- বাক্যস্থিত যে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদ ক্রিয়া সম্পন্ন করে তা ক্রিয়ার কর্তা বা কর্তৃকারক।
- ক্রিয়ার সঙ্গে 'কে' বা 'কারা' যোগ করে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, তা-ই কর্তৃকারক।

কর্তৃকারকে বিভিন্ন বিভক্তির ব্যবহার
প্রথমা শূন্য বা অ বিভক্তি: এক যে ছিলো রাজা

দ্বিতীয়া বা কে বিভক্তি: বশিরকে যেতে হবে।

তৃতীয়া বা দ্বারা বিভক্তি: ফেরদৌসী কর্তৃক শাহনামা রচিত হয়েছে।

ষষ্ঠী বা র বিভক্তি: আমার যাওয়া হয়নি।

সপ্তমী বিভক্তি: চোরে না শুনে ধর্মের কাহিনি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ) ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৪৫১.
'ভিক্ষুককে টাকা দাও'- বাক্যটির যৌগিক রূপ কোনটি?
  1. ক) যারা ভিক্ষা করে, তাদের ভিক্ষা দাও।
  2. খ) কিছু লোক ভিক্ষা করে, ওদের টাকা দাও।
  3. গ) যে ব্যক্তি ভিক্ষা করে, তাকে টাকা দাও।
  4. ঘ) ভিক্ষা করা, মানুষদের টাকা দাও।
ব্যাখ্যা
⇒ যৌগিক বাক্য:
দুই বা ততোধিক স্বাধীন বাক্য যখন যোজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে একটি বাক্যে পরিণত হয়, তখন তাকে যৌগিক বাক্য বলে।

[এবং,  ও, আর, অথবা, বা, কিংবা, কিন্তু, অথচ, সেজন্য, ফলে ইত্যাদি যোজক যৌগিক বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
কমা(, ), সেমিকোলন(ঃ), কোলন( ; ), ড্যাশ( -) ইত্যাদি যতিচিহ্নও যোজকের কাজ করে।]

যৌগিক বাক্যে একাধিক সমাপিকা ক্রিয়ার প্রয়োজন হয়। এজন্য সরলবাক্যকে যৌগিক বাক্য করতে হলে সরল বাক্যের মাঝখানের অসমাপিকা ক্রিয়াকে সমাপিকা ক্রিয়া রূপান্তর করতে হয়। সরল বাক্যে একটি মাত্র ক্রিয়া থাকলে যৌগিক বাক্য গঠনের সময়ে আরেকটি ক্রিয়া তৈরি করে নিতে হয়।
যেমন:
• সরল বাক্য: তুমি চেষ্টা না করায় ব্যর্থ হয়েছ।
• যৌগিক বাক্য: তুমি চেষ্টা করোনি, তাই ব্যর্থ হয়েছ।

• সরল বাক্য: ভিক্ষুকে টাকা দাও।
• যৌগিক বাক্য: কিছু লোক ভিক্ষা করে, ওদের টাকা দাও।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নির্মিত, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ ২০২১)।
৪,৪৫২.
‘সে আসবে বলে আমি অপেক্ষা করছি।’ - এটি কোন ধরনের বাক্য?
  1. যৌগিক
  2. সরল
  3. জটিল
  4. কোনোটি নয়
ব্যাখ্যা
• ‘সে আসবে বলে আমি অপেক্ষা করছি।’ - এটি মিশ্র বা জটিল বাক্য ধরনের বাক্য। 

মিশ্র বা জটিল বাক্য:

- যে বাক্যে একটি প্রধান খণ্ডবাক্যের এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য পরস্পর সাপেক্ষ ভাবে ব্যবহৃত হয়, তাকে মিশ্র বা জটিল বাক্য বলে।

আশ্রিত খণ্ডবাক্য তিন প্রকার:
১) বিশেষ্য স্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য,
২) বিশেষণ স্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য,
৩) ক্রিয়া বিশেষণ স্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য।

ক্রিয়া-বিশেষণ স্থানীয় খণ্ডবাক্য (Adverbial clause ):
- যে আশ্রিত খণ্ডবাক্য ক্রিয়াপদের স্থান, কাল ও কারণ নির্দেশক অর্থে ব্যবহৃত হয় তাকে ক্রিয়া-বিশেষণ স্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য বলে। যেমন:
- ‘যতই করিবে দান, তত যাবে বেড়ে।’
- সে আসবে বলে আমি অপেক্ষা করছি।
- যেখানে আকাশ আর সমুদ্র একাকার হয়ে গেছে, সেখানেই দিকচক্রবাল।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪,৪৫৩.
বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে শুদ্ধ বানান কোনটি?
  1. ভুতপূর্ব
  2. ভুতূড়ে
  3. অদ্ভুত
  4. পূঞ্জীভুত
ব্যাখ্যা

বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে শুদ্ধ বানান- অদ্ভুত। 

• বানানের নিয়ম:
'অদ্ভুত' শব্দটি ছাড়া বাকি সব ক্ষেত্রে ভূত বানানে ঊ-কার হবে।
যেমন:
- ভূতুড়ে,
- উদ্ভূত,
- ভূতপূর্ব,
- পুঞ্জীভূত,
- ঘনীভূত ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৪,৪৫৪.
সরল বাক্যে রূপান্তর করঃ ''যদি আমার কথা না শুন, ভবিষ্যতে অনুতাপ করবে।''
  1. ক) আমার কথা না শুনলে অনুতাপ করবে।
  2. খ) ভবিষ্যাতে আমার কথা না শুনলে অনুতাপ করবে।
  3. গ) আমার কথা শুনলে অনুতাপ করবে না।
  4. ঘ) আমার কথা না শুনলে ভবিষ্যতে অনুতাপ করবে।
ব্যাখ্যা
যে বাক্যে একটি মাত্র ক্রিয়া এবং একটি মাত্র সমাপিকা ক্রিয়া থাকে তাকে সরল বাক্য বলে।
''যদি আমার কথা না শুন, ভবিষ্যতে অনুতাপ করবে।'' এটি একটি জটিল বাক্য।
একে সরল বাক্যে রূপান্তর করলে হবে- আমার কথা না শুনলে ভবিষ্যতে অনুতাপ করবে।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
৪,৪৫৫.
শুদ্ধ বানান -
  1. মনমোহন
  2. মনোমহন
  3. মনোমোহণ
  4. মনোমোহন
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান - 'মনোমোহন'
- এটি একটি বিশেষণ পদ।
- শব্দটি সংস্কৃত ভাষা হতে আগত শব্দ।

শব্দের অর্থ:
- মনকে মোহিত করে এমন।
- মনোহর, চিত্তাকর্ষক।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৪,৪৫৬.
প্রত্যয়গতভাবে অশুদ্ধ শব্দ কোনটি?
  1. ক) উৎকর্ষ
  2. খ) উৎকৃষ্ট
  3. গ) উৎকৃষ্টতা
  4. ঘ) উৎকর্ষতা
ব্যাখ্যা

প্রত্যয়ের ভুল প্রয়োগের কারণে বাংলা ভাষায় অনেক ভুল দেখা যায়। উপরিউক্ত প্রশ্নের অপশন ক, খ, গ এর শব্দগুলো সঠিক।
কিন্তু অপশন ঘ তে উৎকর্ষ শব্দের সাথে ‘তা’ প্রত্যয় যোগ করা যাবে না। তাই অপশন ঘ ভুল। আর এটিই সঠিক উত্তর।
তথ্যসূত্র: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি-ড. হায়াৎ মাহমুদ

৪,৪৫৭.
করণ কারক কী বোঝায়?
  1. যিনি ক্রিয়া সম্পাদন করেন
  2. যেখানে ক্রিয়া সম্পাদিত হয়
  3. যার সাহায্যে ক্রিয়া সম্পাদিত হয়
  4. যাকে ক্রিয়ার ফল ভোগ করতে হয়
ব্যাখ্যা

• করণ কারক:
- যার দ্বারা বা যার সাহায্যে ক্রিয়া সম্পাদিত হয় তাকে করণ কারক বলে।
- ক্রিয়া সম্পাদনের যন্ত্র, উপকরণ বা সহায়ককেই করণ কারক বলে। 
- বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদের সঙ্গে 'কীসের দ্বারা' বা 'কী উপায়ে' প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, তাই করণ কারক। 

• একবচনে ব্যবহৃত ৭মী বিভক্তি: এ, য়, তে, এতে ইত্যাদি। 

• যেমন- 'এ পেন্সিলে ভালো লেখা হয়।' 
- এখানে 'কিসের দ্বারা' প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'পেন্সিলে'।
- সে অনুসারে এখানে 'পেন্সিলে' হচ্ছে করণ কারকের উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।

৪,৪৫৮.
নিচের কোন বানানটি শুদ্ধ? 
  1. প্রমান
  2. ব্যাবহারিক
  3. সৌজন্যতা
  4. উৎকৃষ্টতা
ব্যাখ্যা

বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
• ব্যাবহারিক [ব্যবহার+ইক] শব্দটির বানান শুদ্ধ।
অর্থ:
১) কাজে লাগানো যায় এমন, প্রায়োগিক, ফলিত। 
২) আইনবিষয়ক।
৩) বিষয়কর্ম-সম্পর্কিত, সাংসারিক।
৪)(দর্শন) অবাস্তব হলেও ব্যবহারের ক্ষেত্রে মূল্য আছে এমন।

অন্যদিকে,
- অশুদ্ধ: প্রমান।
- শুদ্ধ: প্রমাণ।

- অশুদ্ধ: সৌজন্যতা।
- শুদ্ধ: সৌজন্য।

- অশুদ্ধ:উৎকৃষ্টতা।
- শুদ্ধ: উৎকৃষ্ট।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

৪,৪৫৯.
নিচের কোন বানানটি অশুদ্ধ?
  1. কণ্ঠ
  2. কণ্টক
  3. পাণ্ডব
  4. ঘন্টা
ব্যাখ্যা
• ণ-ত্ব বিধান বানান অনুসারে, 'ঘন্টা' শব্দটি অশুদ্ধ। 

• ণ-ত্ব বিধান: 
• ট–বর্গীয় ধ্বনির আগে তৎসম শব্দে সবসময় মূর্ধন্য ‘ণ’ যুক্ত হয়।
যেমন- ঘণ্টা, লুণ্ঠন, কাণ্ড, কণ্টক, পাণ্ডব, কণ্ঠ। 

• ঋ, র, ষ এর পরে মূর্ধন্য ‘ণ’ হয়।
যেমন- তৃণ, ঋণ, বর্ণনা, কারণ, মরণ, ব্যাকরণ, ভীষণ, ভাষণ, উষ্ণ ইত্যাদি।

• ঋ, র, ষ এর পরে স্বরধ্বনি ষ, য়, ব, হ, ং এবং 'ক' বর্গীয় ও 'প' বর্গীয় থাকলে তার পরবর্তীতে ‘ন’ তখন ‘ণ’ হয়ে যায়।
যেমন- কৃপণ, হরিণ, অর্পণ, লক্ষণ ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মাহমুদ ও বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪,৪৬০.
"ফুলে ফুলে ঘর ভরেছে।" - এখানে 'ফুলে ফুলে' কোন কারকের উদাহরণ?
  1. কর্তাকারক
  2. করণ কারক
  3. কর্মকারক
  4. অধিকরণ কারক
ব্যাখ্যা
‘ফুলে ফুলে ঘর ভরেছে’ - করণ কারকে ৭মী বিভক্তির উদাহরণ। 

----------------- 
• করণ কারক:

- 'করণ' শব্দটির অর্থ: যন্ত্র, সহায়ক বা উপায়।
- ক্রিয়া সম্পাদনের যন্ত্র, উপকরণ বা সহায়ককেই করণ কারক বলা হয়।
- বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদের সঙ্গে 'কীসের দ্বারা' বা 'কী উপায়ে' প্রশ্ন করলে যে উত্তরটি পাওয়া যায়, তা-ই করণ কারক। 

যেমন,
-ফুলে ফুলে ঘর ভরেছে।
-ভেড়া দিয়ে চাষ করা সম্ভব নয়।

• সপ্তমী বিভক্তির ব্যবহার:

'এ' বিভক্তি: 
→ তিরিশ বছর ভিজায়ে রেখেছি দুই নয়নের জলে। 
→ শিকারি বিড়াল গোঁফে চেনা যায়।

'তে' বিভক্তি: 
→ 'এত শঠতা, এত যে ব্যথা, তবু যেন তা মধুতে মাখা।' - নজরুল। 
→ লোকটা জাতিতে বৈষ্ণব।

'য়' বিভক্তি: 
→ চেষ্টায় সব হয়। 
→ এ সুতায় কাপড় হয় না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ); বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৪৬১.
কোনটি অশুদ্ধ বানান?
  1. দূরগ
  2. দুর্নিবার
  3. দুরারোগ্য
  4. দূরতিক্রম্য
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ বানান: দূরতিক্রম্য।

• শুদ্ধ বানান: দুরতিক্রম্য (বিশেষণ পদ),
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ:
- কষ্ট করে অতিক্রম করতে হয় এমন।
- দুর্লঙ্ঘ্য।

- ‘দুরতিক্রম্য’ নারীবাচক শব্দ: দুরতিক্রম্ণীয়া।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৪,৪৬২.
কোন চিহ্নের বিরতিকাল 'এক সেকেন্ড'?
  1. উদ্ধৃতি চিহ্ন
  2. হাইফেন
  3. ইলেক বা লোপ চিহ্ন
  4. কোলন
ব্যাখ্যা
কোলন (:)
- বাক্যের প্রথম অংশের কোনো উক্তিকে দ্বিতীয় অংশে ব্যাখ্যা করা এবং উদাহরণ উপস্থাপনের কাজে কোলন ব্যবহৃত হয়।
- কোলন চিহ্নের বিরতিকাল - এক সেকেন্ড

যেমন:
ভাষার দুটি রূপ: কথ্য ও লেখ্য।
সভার সিদ্ধান্ত হলো: প্রতি মাসে সব সদস্যকে দশ টাকা করে চাঁদা দিতে হবে।

অন্যদিকে,
হাইফেন - থামার প্রয়োজন নেই।
ইলেক বা লোপ চিহ্ন - থামার প্রয়োজন নেই।
একক উদ্ধৃতি চিহ্ন - 'এক' উচ্চরণে যে সময় লাগে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, (সংস্করণ-২০২১)।
৪,৪৬৩.
'কাঠুরে কুড়াল দ্বারা গাছ কাটে।'- এই বাক্যে ‘কুড়াল দ্বারা’ কোন কারক?
  1. ক) সম্প্রাদান কারক
  2. খ) অপাদান কারক
  3. গ) করণ কারক
  4. ঘ) অধিকরণ কারক
ব্যাখ্যা
করণ কারক
- যার দ্বারা বা যার সাহায্যে ক্রিয়া সম্পাদিত হয় তাকে করণ কারক বলে।
- ‘করণ' শব্দের অর্থ উপায় বা সহায়।
- বাক্যের ক্রিয়াপদকে ‘কার দ্বারা' বা 'কী উপায়ে' জিজ্ঞাসা করলে যে উত্তর পাওয়া যায় তা-ই করণ কারক
 
যেমন:
- 'নীলু ফুল দিয়ে ঘর সাজায়।' - নীলু কী দিয়ে ঘর সাজায়? ফুল দিয়ে সুতরাং ‘ফুল’ করণ কারক।
- 'কাঠুরে কুড়াল দ্বারা গাছ কাটে।' – কাঠুরে কী দ্বারা গাছ কাটে? কুড়াল দ্বারা। কুড়াল’ করণ কারক।

করণ কারকে বিভক্তির ব্যবহার –
- করণ কারকে সাধারণত দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক ইত্যাদি তৃতীয়া বিভক্তির (অনুসর্গের) ব্যবহার হয়।
-তবে অন্য বিভক্তিগুলােরও প্রয়ােগ রয়েছে।
- করণ কারকে ‘দ্বারা বিভক্তি (অনুসর্গ) - তােমাদের দ্বারা দেশের ক্ষতি হবে।
- করণ কারকে ‘দিয়া বিভক্তি (অনুসর্গ) - তােমার লােক দিয়ে কাজটা করাবে।
- করণ কারকে শূন্য (০) বা অ-বিভক্তি – রফিক তাস খেলে।
- করণ কারকে এ-বিভক্তি – গ্যাসে গাড়ি চলে।
- করণ কারকে য়-বিভক্তি – টাকায় টাকা হয়।
- করণ কারকে তে-বিভক্তি – তার কথা যেন মধুতে মাখা
- আবার, এ, য়, তে সপ্তমী বিভক্তির উদাহরণ। 

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৪৬৪.
উদ্ধরণ চিহ্নের পূর্বে ও খণ্ডবাক্যের শেষে কোন চিহ্ন বসে?
  1. কোলন
  2. ড্যাস
  3. কমা
  4. সেমিকোলন
ব্যাখ্যা
- উদ্ধরণ চিহ্নের পূর্বে (খণ্ডবাক্যের শেষে) কমা বসাতে হবে।

- বক্তার প্রত্যেক্ষ উক্তিকে এই চিহ্নের অন্তর্ভুক্ত করতে হয়।
যথা:
রহিম বলল, “দরিদ্রের উপকার করবে।”

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪,৪৬৫.
শুদ্ধ শব্দ কোনটি?
  1. নিশুতি
  2. নিষুতি
  3. নিসুতি
  4. নিষুতী
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ শব্দ - নিশুতি
- শব্দটি বিশেষ্য।
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
- অর্থ: মধ্যরাত; গভীর রাত; গভীর রাতের নিদ্রা।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৪,৪৬৬.
কোন শব্দটি ভুল?
  1. মরূদ্যান
  2. কটূক্তি
  3. পরিপক্ক
  4. অঞ্জলি
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান - 'পরিপক্ব'
- এটি একটি বিশেষণ পদ।
- এটি সংস্কৃত ভাষার শব্দ।

অন্যদিকে,
- মরূদ্যান,
- কটূক্তি,
- অঞ্জলি।
শব্দগুলোর বানান শুদ্ধ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৪,৪৬৭.
কোন বানানটি অশুদ্ধ?
  1. শৌখিন
  2. বেহেস্ত
  3. ষ্টিমার
  4. কিশমিশ
ব্যাখ্যা
ষ্টিমার -অশুদ্ধ বানান।
- এর শুদ্ধ বানান হচ্ছে - স্টিমার।

• বিদেশি শব্দের ক্ষেত্রে 'ষ' ব্যবহারের প্রয়োজন নেই।
যেমন:
- কিশমিশ, নাশতা, পোশাক, স্টিমার, বেহেস্ত, শখ, শয়তান, শরবত, শরম, শহর, শামিয়ানা, শার্ট, শৌখিন

উৎস: বাংলা একাডেমি, প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম।
৪,৪৬৮.
শুদ্ধ বানানটি নির্ণয় করুন-
  1. সায়ত্বশাসন
  2. সায়ত্তশাসন
  3. স্বায়ত্তশাসন
  4. স্বায়ত্বশাসন
ব্যাখ্যা

শুদ্ধ বানান- স্বায়ত্তশাসন।

• স্বায়ত্তশাসন: (বিশেষ্য)
- স্বশাসিত রাষ্ট্র (একনায়ক-শাসিত নয়)।



উৎস: বাংলা একাডেমী আধুনিক বাংলা অভিধান।

৪,৪৬৯.
‘রিকশা' শব্দটি কোন ভাষা থেকে আগত শব্দ?
  1. বাংলা
  2. পর্তুগিজ
  3. জাপানি
  4. ফরাসি
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
রিকশা (বিশেষ্য):
- জাপানি ভাষা থেকে আগত শব্দ 
অর্থ: মানুষ্যবাহিত দুই বা তিন চাকার সড়কযান

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
৪,৪৭০.
বাহুল্যজনিত শুদ্ধ প্রয়োগ ঘটেছে কোনটিতে?
  1. ক) শুধুমাত্র এই কটা টাকা দিলে?
  2. খ) অন্যায়ের প্রতিফল দুর্নিবার্য
  3. গ) ব্যাপারটা আমার আয়ত্তাধীন নয়
  4. ঘ) বৃক্ষটি সমূল উৎপাটিত হয়েছে
ব্যাখ্যা
বাহুল্যজনিত শুদ্ধ প্রয়োগ ঘটেছে - ‘বৃক্ষটি সমূল উৎপাটিত হয়েছে’ বাক্যে।

• ‘ব্যাপারটা আমার আয়ত্তাধীন নয়’ এবং ‘শুধুমাত্র এই কটা টাকা দিলে ?’ বাক্য দুটিতে বাহুল্যজনিত অপপ্রয়োগ ঘটেছে। 

এদের শুদ্ধ প্রয়োগ:
অশুদ্ধ: ব্যাপারটা আমার আয়ত্তাধীন নয়।
শুদ্ধ: ব্যাপারটা আমার আয়ত্ত নয়।

অশুদ্ধ: শুধুমাত্র এই কটা টাকা দিলে?
শুদ্ধ: শুধু এই কটা টাকা দিলে? 

‘অন্যায়ের প্রতিফল দুর্নিবার্য’ - বাক্যে যথার্থ শব্দের প্রয়োগ না করার ভুল।
এর শুদ্ধ প্রয়োগ - অন্যায়ের প্রতিফল অনিবার্য/দুর্নিবার।

উৎস: ভাষা - শিক্ষা, বাংলা ব্যকরণ ও নির্মিতি - ড. হায়াৎ মামুদ।
৪,৪৭১.
সমাস সাধিত অশুদ্ধ শব্দ কোনটি?
  1. নির্দোষ
  2. অর্ধরাত্র
  3. নীরোগী
  4. নিরপরাধ
ব্যাখ্যা
• সমাস সাধিত অশুদ্ধি ঘটেছে ‘নীরোগী’ শব্দে।
- শুদ্ধ প্রয়োগ: নীরোগ।

• কিছু সমাস ঘটিত অশুদ্ধ শব্দের সম্পর্কে সতর্কতা:
সংস্কৃত ইন্‌- প্রত্যয়ান্ত শব্দের প্রথমবার একবচনের রূপ হিসেবে বাংলায় ধনী, গুণী, মানী, পাপী ইত্যাদি হয়। কিন্তু নিঃ উপসর্গযোগে সমাসবদ্ধ হলে শব্দের শেষে ঈ- কার হয় না। সেখানে ধন, গুণ, মান, পাপ ইত্যাদি শব্দের সমান হয়। যেমন- নেই ধন যার= নির্ধন, নেই গুণ যার= নির্গুণ, নেই পাপ যার= নিষ্পাপ। নির্ধনী, নির্গুণী, নিষ্পাপী ইত্যাদি অশুদ্ধ।

• কিছু সমাস সাধিত অশুদ্ধ শব্দের শুদ্ধ প্রয়োগ: 
অশুদ্ধ শব্দ - শুদ্ধ শব্দ:
- নিরপরাধী - নিরপরাধ;
- অহর্নিশি - অহর্নিশ;
- নিরহঙ্কারী - নিরহঙ্কার;
- নির্দোষী - নির্দোষ;
- পিতাহারা - পিতৃহারা;
- অর্ধরাত্রি - অর্ধরাত্র;
- নিরভিমানী - নিরভিমান;
- দিবারাত্রি - দিবারাত্র;
- নীরোগী - নীরোগ ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪,৪৭২.
‘অহি নকুলকে এক খাঁচায় ধরে রেখেছে।’ বাক্যে 'অহি নকুলকে' কোন কারক?
  1. কর্ম কারক
  2. অপাদান কারক
  3. অধিকরণ কারক
  4. কর্তা কারক
ব্যাখ্যা
কর্ম কারক:
- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে কর্ম কারক বলে।
- বাক্যের মুখ্য কর্ম ও গৌণ কর্ম- উভয় ধরনের কর্মই কর্ম কারক হিসেবে গণ্য হয়।
- সাধারনত মুখ্য কর্ম কারকে বিভক্তি হয় না, তবে গৌণ কর্ম কারকে- 'কে' বিভক্তি হয়।
যেমন: 
- শিক্ষককে জানাও।
- অসহায়কে সাহায্য করো। 
- আমাদের একটি গল্প বলুন।
- অহি নকুলকে এক খাঁচায় ধরে রেখেছে।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৪৭৩.
‘বিপদে যেন করিতে পারি জয়।’- বাক্যে বিপদে কোন কারক?
  1. কর্ম কারক
  2. অধিকরণ কারক
  3. সম্বন্ধ কারক
  4. করণ কারক
ব্যাখ্যা
• কর্ম কারক: 
যাকে অবলম্বন করে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে তাকে ক্রিয়ার কর্ম বা কর্ম কারক বলে। ক্রিয়াকে কি/কাকে দ্বারা প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায় তা-ই কর্ম কারক।
 
কর্ম কারকে বিভক্তির প্রয়োগ: 
- রেখো মা দাসেরে মনে। [কর্মকারকে রে/দ্বিতীয়া বিভক্তি]
- বিপদে যেন করিতে পারি জয়। [কর্মকারকে সপ্তমী বিভক্তি]
- কোন কাননে ফুটল ফুল। [কর্মকারকে শুন্য বিভক্তি ]
- ডাক্তারকে ডাক। [কর্মকারকে দ্বিতীয়া বিভক্তি] 
 
উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
৪,৪৭৪.
"বাবা আমাকে একটি কলম কিনে দিয়েছেন।" - এখানে 'গৌণ কর্ম কোনটি?
  1. বাবা
  2. আমাকে
  3. কলম
  4. একটি
ব্যাখ্যা

• কর্ম কারক:
- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে কর্ম কারক বলে।
- কর্ম দুই প্রকার: মুখ্য কর্ম, গৌণ কর্ম।
যেমন-
• বাবা আমাকে (গৌণ কর্ম) একটি কলম (মুখ্য কর্ম) কিনে দিয়েছেন।
- সাধারণত মুখ্য কর্ম বস্তুবাচক ও গৌণ কর্ম প্রাণিবাচক হয়ে থাকে।
- এছাড়াও সাধারণত কর্ম কারকের গৌণ কর্মে বিভক্তি যুক্ত হয়, মুখ্য কর্মে হয় না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৪,৪৭৫.
বাংলাদেশ এক উন্নয়নশীল দেশ৷ বাক্যটিতে কোন ধরনের ভুল আছে?
  1. ক) নির্দেশকজনিত
  2. খ) প্রত্যয়জনিত
  3. গ) বিভক্তিজনিত
  4. ঘ) কারকজনিত
ব্যাখ্যা
এখানে নির্দেশক হিসেবে 'টি' যুক্ত করা উচিত ছিলো। শুদ্ধ বাক্য হবে - ''বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ৷''
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
৪,৪৭৬.
শুদ্ধ বাক্য কোনটি?
  1. অন্যায়ের প্রতিফল অনিবার্য।
  2. সব মাছগুলোর দাম কত।
  3. গৃহস্থের খেয়ে বনের মোষ তাড়াতে পারবো না।
  4. আগত শনিবারে তারা যাবে।
ব্যাখ্যা
শুদ্ধ: অন্যায়ের প্রতিফল অনিবার্য।

অন্যদিকে,
অশুদ্ধ: আগত শনিবারে তারা যাবে।
শুদ্ধ: আগামী শনিবারে তারা যাবে।

অশুদ্ধ বাক্য: গৃহস্থের খেয়ে বনের মোষ তাড়াতে পারবো না।
শুদ্ধ বাক্য: ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়াতে পারব না।

অশুদ্ধ বাক্য: সব মাছগুলোর দাম কত।
শুদ্ধ বাক্য: মাছগুলোর দাম কত।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪,৪৭৭.
প্রমিত বানানের নিয়ম অনুসারে কোনটি শুদ্ধ?
  1. কার্য্যালয়
  2. কার্যালয়
  3. কার্য্যলয়
  4. কার্যলয়
ব্যাখ্যা

• শুদ্ধ বানান- কার্যালয়।
- এটি একটি সংস্কৃত শব্দ। 
- শব্দটি বিশেষ্য পদ।  

 
-------------------
• বানানের নিয়ম:

রেফ এর পর তৎসম, অতৎসম শব্দে ব্যঞ্জনবর্ণের দ্বিত্ব হবে না।
যেমন:
- কার্য্যালয় হবে না, সঠিক বানান হবে কার্যালয়।
- নির্দ্দিষ্ট হবে না, সঠিক বানান নির্দিষ্ট।
- ধর্ম্মসভা বানানটি ভুল, সঠিক বানান হবে ধর্মসভা।
- তেমনি ভাবে পর্ব্বত হবে না , সঠিক বানান হবে পর্বত।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান; প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৪,৪৭৮.
‘ইন্দ্রের যেমন ঐরাবত আমার তেমনি পদ্মা।’- কোন ধরনের বাক্যের উদাহরণ?
  1. জটিল বাক্য
  2. সরল বাক্য
  3. যৌগিক বাক্য
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
⇒ জটিল বাক্য:
একটি মূল বাক্যের অধীনে এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য বা খণ্ড বাক্যাংশ থাকলে জটিল বাক্য তৈরি হয়।
যেমন:
- যদি তোমার কিছু বলার থাকে, তবে এখনই বলে ফেলো।

⇒ যে-সে, যিনি-তিনি, যারা-তারা, যা-তা ইত্যাদি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যেহেতু-সেহেতু, যখনতখন, যত-তত, যেমন-তেমন ইত্যাদি সাপেক্ষ যােজক যুক্ত করে সরল বাক্যকে জটিল বাক্যে রূপান্তরিত করা যায়।
যেমন:
• সরল বাক্য: ইন্দ্রের ঐরাবতের মতো আমার পদ্মা।
• জটিল বাক্য: ইন্দ্রের যেমন ঐরাবত আমার তেমনি পদ্মা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪,৪৭৯.
নিচের কোনটি ভাববাচ্যের উদাহরণ?
  1. তোমরা কখন এলে?
  2.  আমি যাব না।
  3. তুমিই ঢাকা যাবে।
  4. তোমার দ্বারা এই কাজ হবে না।
ব্যাখ্যা

• ভাববাচ্য:
যে বাক্যে কর্ম থাকে না এবং বাক্যে ক্রিয়ার অর্থই বিশেষভাবে ব্যক্ত হয় তাকে ভাববাচ্য বলে।
যেমন:
- আমার খাওায়া হলো না।
- আমাকে এখন যেতে হবে।
- তোমার দ্বারা এই কাজ হবে না।
-কোথায় থাকা হয়?

অন্যদিকে, 
কর্তৃবাচ্য
(ক) আমি যাব না।
(খ) তুমিই ঢাকা যাবে।
(গ) তোমরা কখন এলে?

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৪,৪৮০.
প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগ-জনিত অশুদ্ধি ঘটেছে নিচের কোন শব্দে?
  1. গ্রাহ্য
  2. স্বাতন্ত্র‍্য
  3. দৌরাত্ম
  4. করিতকর্মা
ব্যাখ্যা
• প্রত্যয়জনিত অপপ্রয়োগ: দৌরাত্ম।
- শুদ্ধ প্রয়োগ: দৌরাত্ম্য।

• প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগ-জনিত অশুদ্ধি:
প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগের ফলে শব্দগঠন বা বাক্যে পদ ব্যবহারের সময় বানানে যে সব ভুল হয় সেরকম কিছু শব্দের তালিকা নিচে দেওয়া হলো:

• অশুদ্ধ শব্দ - শুদ্ধ শব্দ:
- আবশ্যকীয় - আবশ্যক;
- অধীনস্থ - অধীন;
- করিতকর্মী - করিতকর্মা;
- গণ্যনীয় - গণনীয়;
- জ্ঞানমান - জ্ঞানবান;
- ঘূর্ণীয়মান - ঘূর্ণায়মান;
- গ্রাহ্যনীয় - গ্রাহ্য;
- স্বাতন্ত্র - স্বাতন্ত্র‍্য;
- সাধ্যায়ত্ত - সাধ্য;
- সত্বা - সত্তা;
- দৌরাত্ম - দৌরাত্ম্য;
- পুজ্য - পূজ্য।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪,৪৮১.
নিচের কোনটি অশুদ্ধ?
  1. ঘরের খেয়ে পরের মোষ তাড়াতে পারব না।
  2. দশচক্রে ভগবান ভূত।
  3. এক মাঘে শীত য়ায় না।
  4. হাতে টাকা নেই, একারণেই চোখে সরষে ফুল দেখছি।
ব্যাখ্যা
• সাধারণত বাংলা ভাষায় প্রবাদ-প্রবচনগুলো যেভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে তার বিকৃতি বা রূপের পরিবর্তন করা হলে তা ভুল বলে গণ্য হবে।
যেমন:
অশুদ্ধ: ঘরের খেয়ে পরের মোষ তাড়াতে পারব না।
শুদ্ধ প্রয়োগ: ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়াতে পারব না।

অন্যদিকে,
- এক মাঘে শীত য়ায় না।
- দশচক্রে ভগবান ভূত।
- হাতে টাকা নেই, একারণেই চোখে সরষে ফুল দেখছি।
বাক্যগুলোর প্রয়োগ শুদ্ধ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪,৪৮২.
ট্রেন ঢাকা পৌঁছেছে।- বাক্যে 'ঢাকা' কোন কারক?
  1. অধিকরণ
  2. কর্ম
  3. করণ
  4. অপাদান
ব্যাখ্যা
• যদি কোনো স্থান থেকে কোনো কিছু ত্যাগ করেছে, ছেড়ে গেছে বোঝায় তবে অপাদান আর যদি কোনো স্থানে কোনো কিছু আছে বোঝায় বা পৌঁছেছে বোঝায় তবে অধিকরণ।
- যেমন:
• অপাদান কারক
- ট্রেন ঢাকা ছেড়েছে।
• অধিকরণ
- ট্রেন ঢাকা পৌঁছেছে।

উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার- ৩৬।
৪,৪৮৩.
কোন শব্দের বানানটি অশুদ্ধ?
  1. ক) সহকারী
  2. খ) উপকারী
  3. গ) ছলনাকারী
  4. ঘ) পাইকারী
ব্যাখ্যা
অশুদ্ধ বানান = পাইকারী 
শুদ্ধ বানান = পাইকারি

পাইকারি (বিশেষণ) 
- ফারসি শব্দ 
অর্থ: একসঙ্গে অনেক জিনিস কেনাবেচা করে এমন।

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
৪,৪৮৪.
'মেঘ করলে বৃষ্টি হয়।' বাক্যটিকে জটিল বাক্যে রুপান্তর করুন।
  1. যখন মেঘ করে, তখন বৃষ্টি হয়।
  2. মেঘ করায় বৃষ্টি হয়।
  3. মেঘ করে তাই বৃষ্টি হয়।
  4. মেঘ করে ও বৃষ্টি হয়।
ব্যাখ্যা
• 'মেঘ করলে বৃষ্টি হয়।' বাক্যটি একটি সরল বাক্য।
• এই বাক্যের জটিলরূপ: যখন মেঘ করে, তখন বৃষ্টি হয়।

• সরল বাক্য থেকে জটিল বাক্য:
- যে-সে, যিনি-তিনি, যারা-তারা, যা-তা ইত্যাদি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যেহেতু-সেহেতু, যখন-তখন, যত-তত, যেমন-তেমন ইত্যাদি সাপেক্ষ যোজক যুক্ত করে সরল বাক্যকে জটিল বাক্যে রূপান্তরিত করা যায়।
যেমন:
- সরল বাক্য: দুর্জন লোক পরিত্যাজ্য।
- জটিল বাক্য: যেসব লোক দুর্জন, তারা পরিত্যাজ্য।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ) ও ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪,৪৮৫.
কোনটিতে অপপ্রয়োগ ঘটেছে?
  1. ক) জবাবদিহি
  2. খ) মিথস্ক্রিয়া
  3. গ) একত্রিত
  4. ঘ) গৌরবিত
ব্যাখ্যা
একত্রিত শব্দটির প্রত্যয় অপপ্রয়োগজনিত অশুদ্ধ। শুদ্ধ রূপ - একত্র।
একত্র, একত্রিত (অপপ্রয়োগ) (অব্যয়), (বিশেষণ) সমবেত; মিলিত; সম্মিলিত।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৪,৪৮৬.
নিচের কোন শব্দে প্রত্যয়জনিত অপপ্রয়োগ ঘটেছে?
  1. আবশ্যকীয়
  2. পূজ্য
  3. একত্র
  4. বাহ্য
ব্যাখ্যা
• প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগ-জনিত অশুদ্ধি:
প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগের ফলে শব্দগঠন বা বাক্যে পদ ব্যবহারের সময় বানানে যে সব ভুল হয় সেরকম কিছু শব্দের তালিকা নিচে দেওয়া হলো:

• অশুদ্ধ ⇒ শুদ্ধ
- আবশ্যকীয় ⇒ আবশ্যক;
- একত্রিত ⇒ একত্র;
- পুজ্য ⇒ পূজ্য;
- বাহ্যিক ⇒ বাহ্য।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪,৪৮৭.
অশুদ্ধ বানানের শব্দ কোনটি?
  1. ক) ভূতুড়ে
  2. খ) ভূতপূর্ব
  3. গ) উদ্ভূত
  4. ঘ) অদ্ভূত
ব্যাখ্যা
অশুদ্ধ বানান = অদ্ভূত
অশুদ্ধ বানানের শুদ্ধ রূপ = অদ্ভুত

অদ্ভুত (বিশেষণ) 
- সংস্কৃত শব্দ 
- প্রকৃতি প্রত্যয় = অতৎ+√ভূ+উত
অর্থ: বিস্ময়কর, আশ্চর্যজনক, 
- অসাধারন, আকস্মিক ইত্যাদি।

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
৪,৪৮৮.
বাচ্যার্থ শব্দের কোন ধরনের অর্থ প্রকাশ করে?
  1. মূখ্য
  2. গৌণ
  3. পরোক্ষ
  4. প্রত্যক্ষ
ব্যাখ্যা
• বাগর্থ: 
- ভাষা ব্যবহারের প্রধান উদ্দেশ্য মনের ভাব প্রকাশ করা।
- মনের ভাব প্রকাশ করতে মানুষ শব্দ ও শব্দগুচ্ছ ব্যবহার করে।
- এগুলাের অর্থই মূলত বক্তা ও শ্রোতার মধ্যে সংযোেগ ঘটায়।
- শব্দ ও শব্দগুচ্ছের অর্থকে বাগর্থ বলে।
---------------------------- 
• অর্থের শ্রেণিবিভাগ: 
- অনুসারে শব্দের অর্থ অন্তত দুই রকমের।
-কোথাও শব্দের গাঠনিক উপাদানগুলাের অর্থ প্রাধান্য পায়, আবার কোথাও গাঠনিক অর্থ ছাপিয়ে শব্দের ভিন্ন অর্থ তৈরি হয়।
- এই দুই ধরনের অর্থের নাম - বাচ্যার্থ ও লক্ষ্যার্থ।

• বাচ্যার্থ:
- একটি শব্দ শােনার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের মনে যে ছবি বা বােধ জেগে ওঠে, সেটাই শব্দটির বাচ্যার্থ।
- অভিধানে অর্থ গ্রহণের বেলায় শব্দের বাচ্যার্থকে প্রাধান্য দেওয়া হয়।
- 'মাথা' শব্দটি শােনার সঙ্গে সঙ্গে শরীরের ঊর্ধ্বাঙ্গের যে ছবি মনে ভেসে ওঠে, তা-ই ‘মাথা’ শব্দের বাচ্যার্থ।
- বাচ্যার্থ হলাে শব্দের মুখ্য অর্থ।
- এই অর্থকে আক্ষরিক অর্থও বলা হয়ে থাকে।

• লক্ষ্যার্থ:
- একটি শব্দের বাচ্যার্থের বাইরেও আলাদা অর্থ তৈরি হতে পারে।
- এই আলাদা অর্থের নাম লক্ষ্যার্থ।
- যেমন: 'তিনি গ্রামের মাথা'। 
- এখানে মাথা’ শব্দ শােনার পরে শ্রোতার মনে শরীরের ঊর্ধ্বাঙ্গের কোনাে ছবি ভেসে ওঠে না, মাননীয় কোনাে ব্যক্তির ছবি ভেসে ওঠে।
- লক্ষ্যার্থকে গৌণার্থ বা লাক্ষণিক অর্থ বলা হয়ে থাকে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)। 
৪,৪৮৯.
'কাজল নিয়মিত লেখাপড়া'- আদর্শ বাক্যের কোন গুণটি অনুপস্থিত?
  1. ক) আসত্তি
  2. খ) যোগ্যতা  
  3. গ) আকাঙ্খা 
  4. ঘ) আকাঙ্ক্ষা 
ব্যাখ্যা
- বাক্যের অর্থ স্পষ্টকরণে এক পদের পর অন্য পদ শোনার যে ইচ্ছা বা প্রয়াস তাকে আকাঙ্ক্ষা বলে।
- উল্লেখিত বাক্যে আকাঙ্ক্ষা গুণটি অনুপস্থিত রয়েছে।

• আকাঙ্ক্ষা: 
- বাক্যের অর্থ স্পষ্টকরণে এক পদের পর অন্য পদ শোনার যে ইচ্ছা বা প্রয়াস তাকে আকাঙ্ক্ষা বলে।
যেমন-
- ছেলেরা খেলে
- কাজল নিয়মিত লেখাপড়া
উপরের দু'টি বাক্যই অসম্পূর্ণ। অর্থাৎ বাক্যে আকাঙ্ক্ষা পূর্ণ হয়নি। বাক্যগুলো এভাবে পরিপূর্ণ করা যায়-
- ছেলেরা ফুটবল খেলে। 
- কাজল নিয়মিত লেখাপড়া করে।

• আদর্শ বাক্যের জন্যে তিনটি গুণ থাকা থাকা জরুরি।
১। আকাঙ্ক্ষা,
২। আসত্তি,
৩। যোগ্যতা।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াত মাহমুদ, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা,সৌমিত্র শেখর।
৪,৪৯০.
‘যতই করিবে দান, ততই যাবে বেড়ে’ - এটি কোন ধরনের বাক্য?
  1. সরল বাক্য
  2. জটিল বাক্য
  3. যৌগিক বাক্য
  4. খণ্ড বাক্য
ব্যাখ্যা
• জটিল বাক্য:
- যে বাক্যে একটি প্রধান খণ্ডবাক্যের এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য পরস্পর সাপেক্ষ ভাবে ব্যবহৃত হয়, তাকে মিশ্র বা জটিল বাক্য বলে।
বিশেষভাবে,
যে-সে, যারা-তারা, যিনি-তিনি, যাঁরা তাঁরা, যা-তা প্রভৃতি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যদিও-তবু, যেহেতু-সেহেতু, যত-তত, যেটুকু-সেটুকু, যেমন-তেমন, যখন-তখন প্রভৃতি সাপেক্ষ যোজক দিয়ে যখন অধীন বাক্যগুলো যুক্ত থাকে, তাকে জটিল বাক্য বলে।
যেমন:
- যে ছেলেটি এখানে এসেছিল, সে আমার ভাই ।
- যদি তুমি যাও, তবে তার দেখা পাবে।
- যদি তোমার কিছু বলার থাকে তবে এখনই বলে ফেলো।
- যখন বৃষ্টি নামল, তখন আমরা ছাতা খুঁজতে শুরু করলাম।
বাক্যে যদিও__তবু/যদিও__তথাপি থাকলে জটিল বাক্য হয়ে থাকে।
-----------------
সে অনুসারে,
‘যতই করিবে দান, ততই যাবে বেড়ে’ - এটি জটিল বাক্য।

উল্লেখ্য,
মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণের ২০১৯ সংস্করণে জটিল বাক্যকে মিশ্র বাক্যও বলা হয়েছে।
এই ক্ষেত্রে দুটোই অপশনে থাকলে জটিল বাক্য উত্তর করাটা বেশি যুক্তিযুক্ত।
-------------------
গঠনগত দিক বাক্যকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়।
যেমন,
- সরল বাক্য,
- জটিল বাক্য,
- যৌগিক বাক্য।

• সরল বাক্য:
- একটিমাত্র সমাপিকা ক্রিয়া থাকলে তাকে সরল বাক্য বলে।
যেমন:
- জেসমিন সবার জন্য চা বানিয়েছে।
- মেঘ গর্জন করলে ময়ূর নৃত্য করে।

• যৌগিক বাক্য:
- দুই বা ততোধিক স্বাধীন বাক্য যখন যোজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে একটি বাক্যে পরিণত হয়, তখন তাকে যৌগিক বাক্য বলে।
এবং, ও, আর, অথবা, বা, কিংবা, কিন্তু, অথচ, সেজন্য, ফলে ইত্যাদি যোজক যৌগিক বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
কমা(, ), সেমিকোলন(;), কোলন(:), ড্যাশ(-) ইত্যাদি যতিচিহ্নও যোজকের কাজ করে।
যেমন: 
- রহিম রাতে ভাত খাই আর রহিমা খায় রুটি।
- তুমি চেষ্টা করোনি, তাই ব্যর্থ হয়েছ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- নবম ও দশম শ্রেণি, (২০২৯ ও ২০২২ সংস্করণ)।
৪,৪৯১.
কোন বানানটি শুদ্ধ নয়?
  1. ভস্ম
  2. মনমোহন
  3. রামায়ণ
  4. স্টেডিয়াম
ব্যাখ্যা

মনমোহন- এর শুদ্ধরূপ মনোমোহন।
ভস্ম, রামায়ণ, স্টেডিয়াম শুদ্ধ বানানে লেখা।

উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৪,৪৯২.
‘তুমি আসবে বলে হে স্বাধীনতা সখিনা বিবির কপাল ভাঙল’ এটি কোন বাক্য?
  1. ক) সরল
  2. খ) মিশ্র
  3. গ) যৌগিক
  4. ঘ) সংযুক্ত
ব্যাখ্যা
- প্রশ্নে উল্লেখিত বাক্যটি হলো 'মিশ্র' বাক্যের অন্তর্গত।

মিশ্র বা জটিল বাক্য:

যে বাক্যে একটি খণ্ডবাক্যের এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য পরস্পর সাপেক্ষ ভাবে ব্যবহৃত হয়, তাকে মিশ্র বা জটিল বাক্য বলে।
যেমন-
সে যে অপরাধ করেছে (আশ্রিত বাক্য), তা মুখ দেখেই বুঝেছি (প্রধান খণ্ডবাক্য)।

উৎস
: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯সংস্করণ)।
৪,৪৯৩.
প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম অনুসারে, কোনটি শুদ্ধ?
  1. নিষ্টাবান
  2. নিষ্কন্টক
  3. পুরষ্কার
  4. নিষ্প্রভ 
  5. কোনোটিই নয় 
ব্যাখ্যা

• শুদ্ধ বানান: নিষ্প্রভ। 
অর্থ: প্রভাহীন, অনুজ্জ্বল। 

অশুদ্ধ বানানগুলোর শুদ্ধ রূপ হলো:
- নিষ্ঠাবান,
- পুরস্কার,
- নিষ্কণ্টক।

-------------------
• বানানের নিয়ম:
• বিসর্গযুক্ত অ-ধ্বনির সঙ্গে সন্ধি হলে বর্ণে সাধারণত 'স' যুক্ত হয় (পুরঃ + কার = পুরস্কার) এবং বিসর্গযুক্ত ই-ধ্বনির সঙ্গে সন্ধি হলে সাধারণত 'ষ' যুক্ত হয় (বহিঃ + কার = বহিষ্কার)।

• তবে স্ক / স্ক সংক্রান্ত সমস্যার সহজ সমাধানকল্পে বলা যায় : অ-যুক্ত বা মুক্ত বর্ণের পরে সাধারণত 'স' হবে। যেমন: নমস্কার, পুরস্কার, বনস্পতি, তিরস্কার, বাচস্পতি ইত্যাদি।

• ই-যুক্ত বর্ণের পর সাধারণত 'ষ' হবে। যেমন: আবিষ্কার, নিষ্কলঙ্ক, পরিষ্কার, নিষ্ফল, নিষ্প্রভ, নিষ্পাপ, নিষ্পন্ন, নিষ্কর, জ্যোতিষ্ক ইত্যাদি।
(স্প / স্ত / স্থ থাকলে 'ষ' হয় না। যেমন: নিস্পন্দ / নিস্তব্ধ / দুস্থ ইত্যাদি)।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৪,৪৯৪.
নিচের কোনটিতে সবগুলো বানান শুদ্ধ?
  1. ক) প্রতীতি, দধীচি, নুপুর
  2. খ) মুমূর্ষু, পিপীলিকা, ক্ষীনজীবী
  3. গ) উদীচী, নিশীথ, দুরুহ
  4. ঘ) সমীচীন, নিপীড়িত, বীণাপাণি
ব্যাখ্যা
অপশন ক) তে নুপুর বানানটি ভুল। এর শুদ্ধরূপ নূপুর,
অপশন খ) তে ক্ষীনজীবী বানানটি ভুল। এর শুদ্ধরূপ ক্ষীণজীবী,
অপশন গ) তে দুরুহ বানানটি ভুল। এর শুদ্ধরূপ দুরূহ।
উৎস : ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ
৪,৪৯৫.
কোনটি জটিল বাক্য?
  1. তুমি ভালো হও এবং সকলে তোমাকে ভালোবাসবে।
  2. সেসব দিন আর নেই, কিন্তু সেসব স্মৃতি এখনো জেগে রয়েছে।
  3. পিতা যখন আছেন, তখন পুত্রকে খোঁজ কেন?
  4. তার আভাস পেতাম, কিন্তু নাগাল পেতাম না।
ব্যাখ্যা

• জটিল বাক্য:
যে বাক্যে প্রধান খণ্ডবাক্যের অধীন এক বা একের বেশি অপ্রধান খণ্ডবাক্য থাকে বা একটি প্রধান খণ্ডবাক্যের এক বা একাধিক বাক্য পরস্পর সাপেক্ষভাবে ব্যবহৃত হলে তাকে জটিল বা মিশ্র বাক্য বলে।

যে-সে, যারা-তারা, যিনি-তিনি, যাঁরা-তাঁরা, যা-তা প্রভৃতি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যদিও-তবুও, যেহেতু-সেহেতু, যত-তত, যেটুকু-সেটুকু, যেমন-তেমন, যখন-তখন প্রভৃতি সাপেক্ষ যোজক দিয়ে যখন অধীন বাক্যগুলো যুক্ত থাকে, তাকে জটিল বাক্য বলে।

যেমন:
- পিতা যখন আছেন, তখন পুত্রকে খোঁজ কেন?
- যে রক্ষক, সে ভক্ষক।
- যে ছেলেটি এখানে এসেছিল, সে আমার ভাই।
- যে বইটি আমি কিনেছি, সেটি খুব দামি।
- যদি তুমি যাও, তবে তার দেখা পাবে।

অন্যদিকে,
যৌগিক বাক্য:
- তুমি ভালো হও এবং সকলে তোমাকে ভালোবাসবে।
- সেসব দিন আর নেই, কিন্তু সেসব স্মৃতি এখনো জেগে রয়েছে।
- তার আভাস পেতাম, কিন্তু নাগাল পেতাম না।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।

৪,৪৯৬.
অশুদ্ধ বানান কোনটি?
  1. কণ্টক
  2. ঠাণ্ডা  
  3. প্রচণ্ড
  4. লুণ্ঠন
ব্যাখ্যা

অশুদ্ধ বানান - ঠাণ্ডা। 

• শুদ্ধ বানান- ঠান্ডা। 
- হিন্দি ভাষার শব্দ।
- শব্দটি বিশেষ্য ও বিশেষণ উভয়য় পদ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। 


----------------------
• মূর্ধন্য-ণ ও দন্ত্য-ন এর ব্যবহার:

- অতৎসম শব্দের বানানে ণ ব্যবহার করা হবে না।
যেমন:
অঘ্রান, ইরান, কান, কোরান, গভর্নর, গুনতি, গোনা, ঝরনা, ধরন, পরান, রানি, সোনা, হর্ন।

- তৎসম শব্দে ট, ঠ, ড, ঢ-য়ের পূর্বে যুক্ত নাসিক্যবর্ণ ণ হয়।
যেমন:
কণ্টক, প্রচণ্ড, লুণ্ঠন।

- কিন্তু অতৎসম শব্দের ক্ষেত্রে ট ঠ ড ঢ-য়ের আগে কেবল ন হবে।
যেমন:
গুন্ডা, ঝান্ডা, ঠান্ডা, ডান্ডা, লন্ঠন। 

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৪,৪৯৭.
অধিকরণ কারকে অনুসর্গের ব্যবহার ঘটেছে কোন বাক্যটিতে?
  1. বন্যেরা বনে সুন্দর
  2. ছাদে পানি আছে
  3. ঘরের মধ্যে কে রে?
  4. কাননে কুসুম কলি সকলি ফুটিল
ব্যাখ্যা
"ঘরের মধ্যে কে রে?" - বাক্যটিতে অধিকরণ কারকে অনুসর্গের প্রয়োগ ঘটেছে । বাক্যটিতে 'মধ্যে' অনুসর্গ রয়েছে।

অধিকরণ কারক:
ক্রিয়া সম্পাদনের কাল (সময়) এবং আধারকে অধিকরণ কারক বলে। অধিকরণ কারকে সপ্তমী অর্থাৎ ‘এ’, 'য়', ‘তে’ ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়।
যথা-
• অধিকরণ কারকের উদাহরণ - 
- তিলে তৈল আছে - অধিকরণ কারকে ৭মী বিভক্তি।
কাননে কুসুম কলি সকলি ফুটিল - অধিকরণ কারকে ৭মী বিভক্তি।
- শিশুগণ দেয় মন নিজ নিজ পাঠে  - অধিকরণ কারকে শূন্য বিভক্তি।
- পাতায় পাতায় পড়ে শিশির নিশির - অধিকরণ কারকে ৭মী বিভক্তি।
- বাংলাদেশ আমাদের জন্মভূমি - অধিকরণ কারকে শূন্য বিভক্তি।
- বন্যেরা বনে সুন্দর - অধিকরণ কারকে ৭মী বিভক্তি।
- ছাদে পানি আছে - অধিকরণ কারকে ৭মী বিভক্তি।
- কপালের লিখন যায় না খণ্ডন - অধিকরণ কারকে ষষ্ঠী বিভক্তি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৪৯৮.
কোনটি অপপ্রয়োগের দৃষ্টান্ত?
  1. অহোরাত্র
  2. আয়ত্তাধীন
  3. উপর্যুক্ত
  4. দরিদ্রতা
ব্যাখ্যা

• 'আয়ত্তাধীন' - শব্দটি অপপ্রয়োগের দৃষ্টান্ত।
- 'আয়ত্তাধীন' শব্দটি ব্যাকরণগতভাবে শুদ্ধ নয় কিন্তু 'আয়ত্ত' শব্দটি শুদ্ধ।

• "আয়ত্ত" শব্দের অর্থ- 
"নিজের ক্ষমতা বা নিয়ন্ত্রণের অধীন" - অর্থাৎ এখানেই "অধীন" অর্থ নিহিত আছে। তাই "আয়ত্তাধীন" বলার মাধ্যমে "অধীন"-এর পুনরাবৃত্তি ঘটেছে, যা অনাবশ্যক এবং অপপ্রয়োগ।

অন্যদিকে,
• 'অহোরাত্র' - শব্দটির প্রয়োগ শুদ্ধ।
• উপর্যুক্ত - শব্দটির প্রয়োগ শুদ্ধ।
• 'দরিদ্রতা' - শব্দটির প্রয়োগ শুদ্ধ।

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ।

৪,৪৯৯.
কোন বাক্যে অপপ্রয়োগ ঘটেছে?
  1. আমি অহর্নিশ সে কথাই ভেবেছি।
  2. চরিত্রবান লোক সকলের প্রিয়।
  3. যাবতীয় প্রাণীবৃন্দ এই গ্রহের বাসিন্দা।
  4. তোমার মতো এমন বুদ্ধিমতী বালিকা আমি আর দ্বিতীয়টি দেখিনি।
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ: যাবতীয় প্রাণীবৃন্দ এই গ্রহের বাসিন্দা।
• শুদ্ধ: যাবতীয় প্রাণী এই গ্রহের বাসিন্দা।

অন্যদিকে, 
- আমি অহর্নিশ সে কথাই ভেবেছি।
- চরিত্রবান লোক সকলের প্রিয়।
- তোমার মতো এমন বুদ্ধিমতী বালিকা আমি আর দ্বিতীয়টি দেখিনি।

[এই বাক্যগুলোর প্রয়োগ শুদ্ধ]

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪,৫০০.
'রাফা পুস্তক পাঠ করছে।' বাক্যটিকে কর্মবাচ্যে পরিণত করলে হবে-
  1. পুস্তক রাফা কর্তৃক পাঠ হচ্ছে।
  2. পুস্তক কর্তৃক রাফা পঠিত হচ্ছে।
  3. রাফা কর্তৃক পুস্তক পঠিত হচ্ছে।
  4. রাফা কর্তৃক পুস্তক পাঠ করছে।
ব্যাখ্যা
• কর্তৃবাচ্য : রাফা পুস্তক পাঠ করছে।
• কর্মবাচ্য : রাফা কর্তৃক পুস্তক পঠিত হচ্ছে।
-----------------------------
• কোনো বাক্যকে কর্মবাচ্যে রূপান্তর করার জন্য তিনটি ধাপ অনুসরণ করতে হয়:

- কর্তাকে তৃতীয়া বিভক্তিতে রূপান্তর করতে হয় (যেমন: "সে" → "তার দ্বারা", "রহিম" → "রহিম কর্তৃক")
- কর্মকে প্রথমা বা শূন্য বিভক্তিতে রাখতে হয় (যেমন: "পুস্তককে" → "পুস্তক")
- ক্রিয়াকে কর্ম অনুযায়ী পরিবর্তন করতে হয়,  (যেমন: "লিখেছে" → "লিখিত হয়েছে")

• কর্তৃবাচ্য : বিদ্বানকে সকলেই আদর করে।
• কর্মবাচ্য : বিদ্বান সকলের দ্বারা আদৃত হন।

• কর্তৃবাচ্য : খোদাতায়ালা বিশ্বজগৎ সৃষ্টি করেছেন।
• কর্মবাচ্য : বিশ্বজগৎ খোদাতায়ালা কর্তৃক সৃষ্ট হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি ২০১৯ সালের সংস্করণ।