ব্যাখ্যা
• প্রদত্ত অপশনগুলোতে 'ছেলেটি ভয়ানক মেধাবী।' বাক্যটি ভুল।
• বাক্যটির শুদ্ধরূপ হবে- 'ছেলেটি অত্যন্ত মেধাবী।'
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন
PrepBank · পাতা ১৬ / ৬৯ · ১,৫০১–১,৬০০ / ৬,৯৫৩
• প্রদত্ত অপশনগুলোতে 'ছেলেটি ভয়ানক মেধাবী।' বাক্যটি ভুল।
• বাক্যটির শুদ্ধরূপ হবে- 'ছেলেটি অত্যন্ত মেধাবী।'
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
• অশুদ্ধ- কষাই।
• শুদ্ধরূপ: 'কসাই' আরবি ভাষার শব্দ। সেকারণে 'কসাই' শব্দে মূর্ধন্য-ষ এর ব্যবহার অশুদ্ধ।
• ষ-ত্ব বিধানের নিয়ম অনুসারে বিদেশি শব্দের বানান বাংলায় লেখার সময় কখনো 'ষ' লেখা যাবে না।
যেমন:
- ফটোষ্ট্যাট হবে না, সঠিক বানান হবে ফটোস্ট্যাট।
তেমনইভাবে, ষ্টেশন, স্ট্রিট ও কিষমিশ লিখলে ভুল হবে, সঠিক বানান হবে স্টেশন, স্ট্রিট এবং কিশমিশ।
--------------------
ষ-ত্ব বিধান:
বাংলা ভাষায় সাধারণত মূর্ধন্য-ষ ধ্বনির ব্যবহার নেই। তাই দেশি, তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ষ লেখার প্রয়োজন হয় না। কেবল কিছু তৎসম শব্দে ষ-এর প্রয়োগ রয়েছে। তৎসম শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ষ এর ব্যবহারের নিয়মকে ষ-ত্ব বিধান বলে।
'ষ' ব্যবহারের নিয়ম:
১. 'ঋ' এবং 'ঋ-কার' এর পর 'ষ' হয়। যেমন- ঋষি, কৃষক, উৎকৃষ্ট ইত্যাদি।
২. ট-বর্গীয় ধ্বনির সাথে 'ষ' যুক্ত হয়। যেমন- কষ্ট, স্পষ্ট, নষ্ট, কাষ্ঠ, ওষ্ঠ ইত্যাদি।
৩. অ, আ ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনি এবং ক ও র-এর পরে প্রত্যয়ের 'স' 'ষ' হয়। যেমন- ভবিষ্যৎ, মুমূর্ষু, চক্ষুম্মান, চিকীর্ষা ইত্যাদি।
৪. ই-কারান্ত এবং উ-কারান্ত উপসর্গের পর কতগুলো ধাতুতে 'ষ" হয়। যেমন- অভিসেক > অভিষেক, সুসুপ্ত > সুষুপ্ত, অনুসঙ্গ > অনুষঙ্গ, সুসমা > সুষমা ইত্যাদি।
৫. তৎসম শব্দে 'র'-এর পর 'ষ' হয়। যেমন: বর্ষা, ঘর্ষণ, বর্ষণ।
৬. কতগুলো শব্দে স্বভাবতই 'ষ' ব্যবহৃত হয়। যেমন- ষড়ঋতু, রোষ, কোষ, আষাঢ়, ভাষণ, ঊষা, পৌষ ইত্যাদি।
যে সব ক্ষেত্রে ষ-ত্ব বিধান প্রযোজ্য নয়:
- আরবি, ফারসি, ইংরেজি ইত্যাদি বিদেশি ভাষা থেকে আগত শব্দে ষ হয় না। যেমন- জিনিস, পোশাক, মাস্টার, পোস্ট ইত্যাদি।
- সংস্কৃত 'সাৎ' প্রত্যয়যুক্ত পদেও 'ষ' হয় না। যেমন- অগ্নিসাৎ, ধূলিসাৎ, ভূমিসাৎ ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
• অশুদ্ধ শব্দ:
- 'ত্রিণয়ন' শব্দে ণ’ এর ব্যবহার অশুদ্ধ।
- কারণ ‘ণ-ত্ব’ বিধান খাটেনা- সমাসবদ্ধ পদে।
- সমাসবদ্ধ শব্দে দুইপদেরই অর্থের প্রাধান্য থাকলে ণ-ত্ব বিধান খাটে না।
- সমাসবদ্ধ পদে 'ন' হয়।
- যেমন-
- ত্রিনয়ন, সর্বনাম, দুর্নীতি, দুর্নাম, দুর্নিবার, পরনিন্দা, অগ্রনায়ক ইত্যাদি।
-------------------------
অন্যদিকে,
• ণত্ব বিধানের প্রধান নিয়ম হলো—
- ঋ, র, রেফ (র্), র-ফলা ও ষ-এর পরে যদি দন্ত্য-ন থাকে, তবে তা মূর্ধন্য-ণ হয়।
- উদাহরণ—
- ঋ-এর পরে: ঋণ, ঘৃণা, মৃণাল।
- র-এর পরে: কারণ, বরণ, মরণ।
- রেফ (র্)-এর পরে: বর্ণ, চূর্ণ, শীর্ণ।
- র-ফলা-এর পরে: ত্রাণ, দ্রোণ, অগ্রহায়ণ।
- ষ-এর পরে: ভীষণ, বিশেষণ, পাষাণ।
উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
সঠিক উত্তর হলো: ঘ) তোমার নাম বলো?
ব্যাখ্যা:
বাংলা ব্যাকরণে জিজ্ঞাসা চিহ্ন (?) সাধারণত প্রশ্নবোধক বাক্যে বা কোনো কিছু সম্পর্কে সন্দেহ, অনিশ্চয়তা বা প্রশ্ন উত্থাপনের জন্য ব্যবহৃত হয়। এটি বাক্যের শেষে বা নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে বাক্যের মাঝে (বিশেষত সন্দেহ বা অনিশ্চয়তা প্রকাশের জন্য) ব্যবহৃত হতে পারে। তবে, জিজ্ঞাসা চিহ্নের ব্যবহার অবশ্যই বাক্যের প্রকৃতি ও প্রেক্ষাপটের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে।
এখানে প্রতিটি অপশন বিশ্লেষণ করা হলো:
ক) ঢাকা কোন নদীর তীরে অবস্থিত?: এটি একটি প্রশ্নবোধক বাক্য, যেখানে জিজ্ঞাসা চিহ্ন বাক্যের শেষে ব্যবহৃত হয়েছে। এটি শুদ্ধ এবং যথাযথ, কারণ বাক্যটি সরাসরি একটি প্রশ্ন।
খ) তাদেরকে তিনি ভদ্র (?) বলেছেন।: এই বাক্যে জিজ্ঞাসা চিহ্নের ব্যবহার যথাযথ। কারণ বয়সের বিষয়ে সন্দেহ বোঝাচ্ছে।
গ) রেজাউল (৪২?) নামের একজন আহত হয়েছেন।: এই বাক্যে জিজ্ঞাসা চিহ্ন ব্যবহৃত হয়েছে ‘৪২’-এর পর, যা রেজাউলের বয়স সম্পর্কে সন্দেহ বা অনিশ্চয়তা প্রকাশ করছে। এটি বাংলায় গ্রহণযোগ্য, কারণ বাক্যের মাঝে জিজ্ঞাসা চিহ্ন ব্যবহার করে কোনো তথ্যের অনিশ্চয়তা বোঝানো যায়। উদাহরণ: “সে ২০২৩ (?) সালে এসেছিল।” তাই এটি যথাযথ।
ঘ) তোমার নাম বলো? → ভুল, কারণ এটি আসলে আদেশমূলক বাক্য, প্রশ্নবোধক নয়। সঠিক রূপ হবে – "তোমার নাম বলো।"
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ) এবং বাংলা দ্বিতীয় পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়; ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ।
বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
• 'দূষণীয়' শুদ্ধ।
অন্যদিকে,
অশুদ্ধ: উচ্ছ্বাসিত
শুদ্ধ: উচ্ছ্বসিত
অশুদ্ধ: পরিসেবা
শুদ্ধ: পরিষেবা
অশুদ্ধ: ভদ্রছিত
শুদ্ধ: ভদ্রোচিত।
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
• শুদ্ধ বাক্য: দুর্বলতাবশত অনাথা বসে পড়ল।
- অনাথা: ‘অনাথ’ শব্দের স্ত্রীবাচক রূপ।
- যেহেতু বাক্যে একজন নারীকে নির্দেশ করা হয়েছে, তাই স্ত্রীবাচক শব্দ ‘অনাথা’ ব্যবহার করা হলো।
- ‘অনাথিনী’ ব্যাকরণগতভাবে ভুল বা অপ্রচলিত।
অন্যদিকে,
• দুর্বলবশত অনাথিনী বসে পড়ল: এখানে ‘দুর্বলবশত’ এবং ‘অনাথিনী’ উভয়ই ভুল।
• দুর্বলতাবশতঃ অনাথিনী বসে পড়ল: এখানে ‘অনাথিনী’ ভুল।
- এবং বাংলা ভাষার বর্তমান রীতি অনুযায়ী শব্দের শেষে ‘ঃ’ ব্যবহার হয় না, তাই ‘দুর্বলতাবশতঃ’ অশুদ্ধ।
• দুর্বলবশত অনাথা বসে পড়ল: এখানে ‘দুর্বলবশত’ ভুল।
- কিছু গুরুত্বপূর্ণ বাক্যশুদ্ধি:
• অশুদ্ধ: ইহার আবশ্যক নেই।
শুদ্ধ: ইহার আবশ্যকতা নেই।
• অশুদ্ধ: তোমাকে দেখে সে আশ্চর্য হয়েছে।
শুদ্ধ: তোমাকে দেখে সে আশ্চর্যান্বিত হয়েছে।
• অশুদ্ধ: বিধি লঙ্ঘন হয়েছে।
শুদ্ধ: বিধি লঙ্ঘিত হয়েছে।
উৎস:
ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ;
বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
- প্রদত্ত অপশনগুলোতে সঠিক বাক্যটি হলোঃ আমি বড় অপমানিত হইয়াছি।
- 'বুনো কচু, বাঘা তেঁতুল।' বাক্যটির শুদ্ধরূপ হবেঃ 'বুনো ওল, বাঘা তেঁতুল।
- 'ভাত ছড়ালে শালিখের অভাব হয় না।' বাক্যটির শুদ্ধরূপ হবেঃ ভাত ছড়ালে কাকের অভাব হয় না।
- 'সব মাছগুলোর দাম কত?' বাক্যটির শুদ্ধরূপ হবেঃ
মাছগুলোর দাম কত? অথবা সব মাছের দাম কত?
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
• অশুদ্ধ বানান - প্রতিদ্বন্দ্বীতা।
- শুদ্ধ বানান - প্রতিদ্বন্দ্বিতা।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
শব্দের অর্থ:
- পরস্পরের দ্বন্দ্ব বা বিরোধ।
- প্রতিযোগিতা।
অন্যদিকে,
- ঝঞ্ঝাট, ঊর্মি এবং সুধী - শব্দগুলোর বানান শুদ্ধ।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
ভাববাচ্য:
- যে বাক্যে কর্ম থাকে না এবং বাক্যে ক্রিয়ার অর্থই বিশেষভাবে ব্যক্ত হয় তাকে ভাববাচ্য বলে।
যেমন:
- আমার খাওায়া হলো না।
- আমাকে এখন যেতে হবে।
- তোমার দ্বারা এই কাজ হবে না।
- কোথায় থাকা হয়।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
• শুদ্ধ বানান - কায়মনোবাক্যে।
- এটি একটি ক্রিয়া বিশেষণ পদ।
- এটি বাংলা ভাষার শব্দ।
শব্দের অর্থ:
- দেহ মন ও কথায়,
- সম্পূর্ণরূপে,
- সর্বতোভাবে।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
বিদুষী - বিদ্যাবতী রমণী; উচ্চশিক্ষিতা; পণ্ডিত মহিলা।
বিদ্বান - জ্ঞানী; বিদ্যাবান; পণ্ডিত; শিক্ষিত; সুশিক্ষিত।
উৎসঃ বাংলা একাডেমী অভিধান।
• অশুদ্ধ বানান- ইতিমধ্যে।
- শুদ্ধ বানান- ইতোমধ্যে।
- ইতোমধ্যে- শব্দটি হলো একটি ক্রিয়া বিশেষণ।
- এর অর্থ এই সময়ের মধ্যে, এই অবসরে।
- ইতোমধ্যে- মূলত সময় বা কাল নির্দেশক অব্যয় হিসেবে কাজ করে এবং বাক্যের ক্রিয়ার সময় বা অবস্থার ব্যাখ্যা দেয়।
- সন্ধি বিচ্ছেদ- ইতঃ+মধ্যে।
----------
অন্যদিকে,
- ইতঃপূর্বে, ঈদৃশ, আত্মস্থ- বানানগুলো শুদ্ধ।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
• ক্রন্দন - বানানটি সঠিক।
-------------------
• ণ-ত্ব বিধান:
- সমাসসাধিত শব্দে সাধারণত ণ-ত্ব বিধান খাটে না। এক্ষেত্রে ন হয়।
যেমন- ত্রিনয়ন, সর্বনাম, দুর্নীতি, দুর্নাম, অগ্রনায়ক, পরনিন্দা ইত্যাদি।
- ত- বর্গীয় বর্ণের সঙ্গে যুক্ত ন কখনো ণ হয় না, ন হয়।
যেমন- অন্ত, গ্রন্থ, ক্রন্দন ইত্যাদি।
ঋ, র, ষ - এর পরে 'ণ' হয়।
যেমন: ঋণ, তৃণ, বর্ণ, বর্ণনা, কারণ, মরণ, ব্যাকরণ, ভীষণ, ভাষণ, উষ্ণ ইত্যাদি।
ঋ, র, ষ- এর পরে স্বরধ্বনি (ষ, য়, ব, হ, ং এবং ক-বর্গীয় ও প-বর্গীয়) ধ্বনি থাকলে তার পরবর্তী ‘ন’ মূর্ধন্য ‘ণ’ হয়।
যেমন: কৃপণ, হরিণ, অর্পণ, লক্ষণ, রুক্মিণী, ব্রাহ্মণ ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
সুকেশী, সুকেশা, সুকেশিনী- তিনটিই শুদ্ধ। সুকেশীনী- অশুদ্ধ।
সূত্র: শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা।
বিভক্তি:
• বাক্যের মধ্যে অন্য শব্দের সাথে সম্পর্ক বোঝাতে বিশেষ্য ও সর্বনামের সঙ্গে অর্থহীন কিছু লগ্নক যুক্ত হয়, সেগুলোকে বিভক্তি বলে।
• যেমন: এ, -তে, য়, য়ে, কে, রে, -র, এর, -য়ের ইত্যাদি।
বিভক্তিগুলোকে তিন ভাগে বিভক্ত করে দেখানো যায়।
১. -এ, -তে, য়, -য়ে বিভক্তি;
• সাধারণত ক্রিয়ার স্থান, কাল, ভাব বোঝাতে এ, -তে, য়, -য়ে ইত্যাদি বিভক্তির ব্যবহার হয়। কখনো কখনো বাক্যের কর্তার সঙ্গেও এসব বিভক্তি বসে।
• যেসব শব্দের শেষে কারচিহ্ন নেই, সেসব শব্দের সঙ্গে -এ বিভক্তি যুক্ত হয়। যেমন: সকালে, দিনাজপুরে, ইমেইলে, কম্পিউটারে, ছাগলে, তিলে ইত্যাদি।
• শব্দের শেষে ই-কার ও উ-কার থাকলে -তে বিভক্তি হয়।
- যেমন: হাতিতে, রাত্রিতে, মধুতে,রামুতে ইত্যাদি।
• আ-কারান্ত শব্দের শেষে -য় বিভক্তি হয়। যেমন – ঘোড়ায়, সন্ধ্যায়, ঢাকায় ইত্যাদি।
• শব্দের শেষে দ্বিস্বর থাকলে -য়ে বিভক্তি হয়। যেমন – ছইয়ে, ভাইয়ে, বউয়ে।
• ই-কারাপ্ত শব্দের শেষেও -য়ে বিভক্তি দেখা যায়। যেমন – ঝিয়ে, ঘিয়ে।
২. -কে, -রে বিভক্তি।
৩. -র, -এর, -য়ের বিভক্তি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
• 'উঁচু ভূমির ঢাল বেয়ে জল নামছে' বাক্যে 'জল' শব্দটি কর্তৃকারকে শূন্য বিভক্তি (০ বিভক্তি);
- কারণ জল নিজেই ক্রিয়াটি (নামা) সম্পন্ন করছে এবং এর সাথে কোনো বিভক্তি চিহ্ন বা প্রত্যয় যুক্ত নেই।
-----------------------------------------------
• কর্তৃকারক:
- বাক্যে যে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদ ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে কর্তৃকারক বলে।
- যিনি কাজটি করেন তিনি হলেন কর্তা বা কর্তৃকারক।
- উদাহরণ:
• "মুক্তা রান্না করছে" - এখানে 'মুক্তা' কাজটি করছে, তাই এটি কর্তৃকারক।
• "ছাত্রীরা মাঠে দৌড়াচ্ছে" - এখানে 'ছাত্রীরা' কাজটি করছে, তাই এটি কর্তৃকারক।
- ক্রিয়াপদকে "কে" বা "কারা" দিয়ে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, সেটিই কর্তৃকারক।
- উদাহরণ:
• "কে রান্না করছে?" → উত্তর: "মুক্তা"।
• "কারা মাঠে দৌড়াচ্ছে?" → উত্তর: "ছাত্রীরা"।
• শূন্য বিভক্তি:
- যে বিভক্তি শব্দের সাথে যুক্ত হলেও কোনো চিহ্ন বা প্রত্যয় (যেমন -কে, -র, -এ) যোগ হয় না, কিন্তু বাক্যে স্পষ্ট ভূমিকা পালন করে তাকে শূন্য বিভক্তি বলা হয়।
- সহজ কথায়, শব্দটি নিজেই কারক হিসেবে কাজ করছে, কিন্তু কোনো চিহ্ন নেই।
- উদাহরণ:
• "আমি খেলছি" - 'আমি' কর্তৃকারকে শূন্য বিভক্তি , কারণ কোনো চিহ্ন নেই, কিন্তু এটি কর্তার কাজ করছে।
• "পাখি আকাশে উড়ছে" - 'পাখি' কর্তৃকারকে শূন্য বিভক্তি, কারণ এটি কর্তার কাজ করছে।
উৎস:
বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ);
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর।
শব্দ গঠন পদ্ধতি:
- সন্ধির মাধ্যমে
- সমাসের সাহায্যে
- উপসর্গযোগে
- প্রত্যয়যোগে
- অনুসর্গযোগে
- বিভক্তিযোগে
- পদ পরিবর্তন দ্বারা
- শব্দের দ্বিরুক্তির মাধ্যমে
- পদাশ্রিত নির্দেশক যোগ করে।
- উপর্যুক্ত প্রক্রিয়ায় শব্দ গঠিত হলেও মূলত সমাস, প্রত্যয় ও উপসর্গযোগে প্রধানত শব্দ গঠিত হয়।
অন্যদিকে,
- বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদের সাথে নামপদের যে সম্পর্ক তাকে কারক বলে। এটি শব্দ গঠনের পদ্ধতি নয়।
উৎস: নবম-দশম শ্রেণির বাংলা ব্যাকরণ বই ও ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
যা থেকে কিছু বিচ্যুত, গৃহীত, জাত, বিরত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয় এবং যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকেই অপাদান কারক বলে।
যেমনঃ
ভীত - বাঘকে ভয় পায় না কে?
বিচ্যুত - গাছ থেকে পাতা পড়ে।
গৃহীত - সুক্তি থেকে মুক্তো মেলে।
জাতঃ জমি থেকে ফসল পাই।
বিরতঃ পাপে বিরত হও।
দুরীভূতঃ দেশ থেকে পংগপাল চলে গেছে।
রক্ষিত - বিপদ থেকে বাঁচাও।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম - দশম শ্রেণী।
• 'To get rid of one who has served the purpose.' এর বাংলা অনুবাদ - কাজের সময় কাজি, কাজ ফুরালে পাজি।
অন্যদিকে,
Practice makes a man perfect - গাইতে গাইতে গায়েন, বাজাতে বাজাতে বায়েন।
Diligence is the mother of good luck - পরিশ্রমই সৌভাগ্যের মূল বা প্রসূতি।
No smoke without fire - কারণ বিনা কার্য হয় না।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
• বিরাম চিহ্ন:
লেখার সময়ও বাক্যের মধ্যে বিরতি বুঝিয়ে তা দেখানোর জন্য কিছু সাংকেতিক চিহ্ন ব্যবহার করা হয়, যেগুলোকেই বিরতি চিহ্ন, যতি চিহ্ন, ছেদ চিহ্ন, বিরাম চিহ্ন বা ভাষা চিহ্ন বলে।
সেমিকোলন ব্যবহৃত হয় যেসব ক্ষেত্রে-
১. একাধিক স্বাধীন বাক্যকে একটি বাক্যে লিখলে সেগুলোর মাঝখানে সেমিকোলন ব্যবহৃত হয়। যেমন-তিনি শুধু তামাশা দেখিতেছিলেন; কোথাকার জল কোথায় গিয়া পড়ে।
২. বক্তব্য স্পষ্ট করার জন্যে সমজাতীয় বাক্য পাশাপাশি প্রতিস্থাপন করলে সেমিকোলন ব্যবহৃত হয়। যেমন-'বৃদ্ধ তাহারাই যাহারা মায়াচ্ছন্ন নব মানবের অভিনব জয়যাত্রার শুধু বোঝা নয়, বিঘ্ন; শতাব্দীর নব যাত্রীর চলার ছন্দে ছন্দ মিলাইয়া যাহারা কুচকাওয়াজ করিতে জানে না, পারে না; জীব হইয়াও জড়; যাহারা অটল সংস্কারের পাষাণ-সস্তূপ আঁকড়িয়া পড়িয়া আছে।'
৩. দুটি বা তিনটি বাক্য যোজক শব্দের সাহায্যে যুক্ত না হলে সেমিকোলন ব্যবহৃত হয়। যেমন-আগে পাঠ্যবই পড়; পরে গল্প-উপন্যাস।
8. কোনো তালিকায় একাধিক ব্যক্তির নাম ও তাঁদের পদের উল্লেখ থাকলে বোঝবার সুবিধার জন্যে সেমিকোলন ব্যবহার করা হয়। যেমন- এবারের নবনিতেচিত কার্যনির্বাহী পরিষদে যাঁরা রয়েছেন তাঁরা হলেন : আকবরউদ্দিন আহমদ, সভাপতি; আফসার রায়হান, সাধারণ সম্পাদক; চিত্ত বড়ুয়া, প্রচার সম্পাদক; এন্ড্রু গোমেজ, সংস্কৃতি সম্পাদক; ইত্যাদি।
৫. সেজন্যে, তবু, তথাপি, সুতরাং ইত্যাদি যে-সব যোজক বৈপরীত্য বা অনুমান প্রকাশ করে তাদের আগে সেমিকোলন বসে। যেমন-সে ফেল করেছে; সেজন্যে সে মুখ দেখায় না। মনোযোগ দিয়ে পড়; তাহলেই পাশ করবে।
৬. যেসব বাক্যে ভাবসাদৃশ্য আছে তাদের মধ্যে সেমিকোলন বসে। যেমন-দিনটা ভালো নয়; মাঝে মাঝে বৃষ্টি পড়ছে।
৭. ছোটো ছোটো বিতর্কিত অংশ নির্দেশ করার জন্যে সেমিকোলন বসে। যেমন-মেয়েটি, যে প্রথম হয়েছে, একটি পুরস্কার পেয়েছে; এবার আশা করা যায়, সে আরো ভালো করবে।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদের সঙ্গে 'কীসের দ্বারা' বা 'কী উপায়ে' প্রশ্ন করলে যে উত্তরটি পাওয়া যায়, তা–ই করণ কারক৷
করণ কারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগ:
ক. প্রথমা বা শূন্য বিভক্তি : ছাত্ররা বল খেলে।
খ. তৃতীয়া বা দ্বারা বিভক্তি : লাঙ্গল দ্বারা জমি চাষ করা হয়।
দিয়া বিভক্তি : মন দিয়া কর সবে বিদ্যা অর্জন।
গ. সপ্তমী বা এ বিভক্তি : ফুলে ফুলে ঘর ভরেছে।
তে বিভক্তি : লোকটা জাতিতে বৈষ্ণব।
য় বিভক্তি : চেষ্টায় সব হয়।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি