বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

শব্দজোড় ও প্রায় সমোচ্চারিত শব্দ

মোট প্রশ্ন২৭৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

শব্দজোড় ও প্রায় সমোচ্চারিত শব্দ

PrepBank · পাতা / · ১০০ / ২৭৭

.
‘উপাদান’ ও 'উপাধান' শব্দজোড়ের অর্থ যথাক্রমে -
  1. আচ্ছাদন ও অলংকার
  2. অলংকার ও আচ্ছাদন
  3. উপকরণ ও বালিশ
  4. বালিশ ও উপকরণ
ব্যাখ্যা
• ‘উপাদান’ ও 'উপাধান' শব্দজোড়ের অর্থ যথাক্রমে - উপকরণ ও বালিশ

শব্দজোড়:
- বাংলা ভাষায় এমন কিছু শব্দ আছে, যেগুলোর উচ্চারণ এক অথবা প্রায় এক, কিন্তু অর্থ ভিন্ন; এমন যুগল শব্দকে শব্দজোড় বলে।
- অধিকাংশ ক্ষেত্রে এদের বানান ভিন্ন হয়, তবে উচ্চারণ এক হওয়ায় কানে শুনে এদের পার্থক্য করা যায় না। 
- বাক্যে ব্যবহৃত হলে প্রসঙ্গ বিবেচনায় এসব শব্দের পার্থক্য বোঝা যায়।

কিছু শব্দজোড়ের উদাহরণ:
→ আবরণ - আচ্ছাদন।
→ আভরণ - অলংকার।
উপাদান - উপকরণ
উপাধান - বালিশ
→ ধুম - প্রাচুর্য।
→ ধূম - ধোঁয়া।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
.
'উদ্যত' ও 'উদ্ধত' শব্দজোড়ের অর্থ যথাক্রমে -
  1. অবিনীত ও প্রবৃত্ত
  2. প্রবৃত্ত ও অবিনীত
  3. ক্ষিপ্ত ও বিনীত
  4. বিনীত ও ক্ষিপ্ত
ব্যাখ্যা
শব্দজোড়:
বাংলা ভাষায় এমন কিছু শব্দ আছে, যেগুলোর উচ্চারণ এক অথবা প্রায় এক, কিন্তু অর্থ ভিন্ন; এমন যুগল শব্দকে শব্দজোড় বলে।
- অধিকাংশ ক্ষেত্রে এদের বানান ভিন্ন হয়, তবে উচ্চারণ এক হওয়ায় কানে শুনে এদের পার্থক্য করা যায় না। বাক্যে ব্যবহৃত হলে প্রসঙ্গ বিবেচনায় এসব শব্দের পার্থক্য বোঝা যায় ।

কিছু শব্দজোড়ের উদাহরণ:
• অবিরাম - অনবরত।
• অভিরাম - সুন্দর।
• অবদান - কীর্তি।
• অবধান - মনোযোগ।
• উদ্যত - প্রবৃত্ত
• উদ্ধত - অবিনীত

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
.
'জমক - যমক' শব্দজোড়ের অর্থ কী?
  1. মিল - যুগল
  2. সমারোহ - জোড়া
  3. শক্তি - জোড়া
  4. ফাঁদ - যুগল
ব্যাখ্যা
• 'জমক' শব্দের অর্থ - সমারোহ। 
• 'যমক' শব্দের অর্থ - জোড়া। 

এরূপ গুরুত্বপূর্ণ কিছু শব্দজোড় হলো-
জাল - ফাঁদ। 
জ্বাল - অগ্নিশিখা। 

জালা - মাটির বড়ো পাত্র। 
জ্বালা - যন্ত্রণা। 

জিভ - জিহ্বা। 
জীব - প্রাণী। 

জোর - শক্তি।
জোড় - জোড়া। 

জ্যেষ্ঠ - বড়ো। 
জ্যৈষ্ঠ - বাংলা দ্বিতীয় মাস। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।
.
‘ভাষ-ভাস’ শব্দজোড়ের অর্থ যথাক্রমে-
  1. ভাসা - কথা
  2. কথা - দীপ্তি
  3. গন্ধ - দীপ্তি
  4. কথা - আচ্ছাদনী
ব্যাখ্যা

• শব্দজোড়:
বাংলা ভাষায় এমন কিছু শব্দ আছে, যেগুলোর উচ্চারণ এক অথবা প্রায় এক, কিন্তু অর্থ ভিন্ন, এমন যুগল শব্দকে শব্দজোড় বলে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এদের বানান ভিন্ন হয়, তবে উচ্চারণ এক হওয়ায় কানে শুনে এদের পার্থক্য করা যায় না। বাক্যে ব্যবহৃত হলে প্রসঙ্গ বিবেচনায় এসব শব্দের পার্থক্য বোঝা যায়। উল্লিখিত শব্দজোড় উচ্চারণে এক হলেও বানান ও অর্থে বৈসাদৃশ্য রয়েছে।

• উল্লেখযোগ্য আরো কয়েকটি শব্দজোড়:
- শ্বশ্রূ শব্দের অর্থ – শাশুড়ি।
- শ্মশ্রু শব্দের অর্থ – দাড়ি।

- ভাষ – কথা।
- ভাস – দীপ্তি।

- মোড়ক – আচ্ছাদনী।
- মড়ক – মহামারী।

- যুগ – কাল।
- যোগ – মিলন।

- লক্ষ – শত সহস্র।
- লক্ষ্য – উদ্দেশ্য।

- লন্ঠন – বাতি।
- লুণ্ঠন – লুটতরাজ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ ২০২১)।

.
'আদি ও আধি' শব্দদ্বয় কী অর্থ প্রকাশ করে?
  1. মূল ও মনঃকষ্ট
  2. মূল ও প্রবল ঝড়
  3. মূল ও বর্ষণ
  4. মূল ও অর্ধেক
ব্যাখ্যা
সমোচ্চারিত শব্দের অর্থগুলো হলো-
আদি - মূল। 
আধি - মনঃকষ্ট। 
আঁধি -প্রবল ঝড়। 

এরূপ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সমোচ্চারিত শব্দ হলো-
আষাঢ় - মাসের নাম। 
আসার - বর্ষণ। 

আশা - ভরসা। 
আসা - আগমন। 

আপন - নিজ। 
আপণ - দোকান। 

আবাস - বাসস্থান। 
আভাস - ইঙ্গিত। 
আভাষ - আলাপ, ভূমিকা। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 
.
'শিল' ও 'শীল' শব্দদুটির অর্থ কী প্রকাশ করে?
  1. চরিত্র ও পাথর
  2. বলবান ও পাথর
  3. পাথর ও চরিত্র
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• শব্দজোড়: 
বাংলা ভাষায় এমন কিছু শব্দ আছে, যেগুলোর উচ্চারণ এক অথবা প্রায় এক, কিন্তু অর্থ ভিন্ন, এমন যুগল শব্দকে শব্দজোড় বলে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এদের বানান ভিন্ন হয়, তবে উচ্চারণ এক হওয়ায় কানে শুনে এদের পার্থক্য করা যায় না। বাক্যে ব্যবহৃত হলে প্রসঙ্গ বিবেচনায় এসব শব্দের পার্থক্য বোঝা যায়।
যেমন:
• 'শিল' শব্দের অর্থ - পাথর, 
• 'শীল' শব্দের অর্থ - চরিত্র। 

• ‘অকুল’ শব্দের অর্থ - নীচ বংশ। 
• ‘অকূল’ শব্দের অর্থ - তীরহীন। 

• ‘অণু’ শব্দের অর্থ - ক্ষুদ্রতম অংশ। 
• ‘অনু’ শব্দের অর্থ - পশ্চাৎ। 

• ‘অনিষ্ট’ শব্দের অর্থ - ক্ষতি।
• ‘অনিষ্ঠ’ শব্দের অর্থ - নিষ্ঠাহীন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ সংস্করণ)।
.
"অহিংসা পরম ধর্ম।" - এই বাক্যে 'ধর্ম' কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. উৎকর্ষ
  2. সুনীতি
  3. স্বভাব
  4. পুণ্যকাজ
ব্যাখ্যা
• 'অহিংসা পরম ধর্ম।'- এখানে 'ধর্ম' শব্দটি "সৎকাজ/পুণ্যকাজ" অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। 

অন্যদিকে,
• এটা ধর্মসংগত কাজ - এখানে 'ধর্ম' শব্দটি 'সুনীতি' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
• 'মানুষ ও পশুর ধর্ম পৃথক' - এখানে 'ধর্ম' শব্দটি 'স্বভাব' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। 
• 'প্রত্যেক ধর্মই মানুষের চরিত্রকে উন্নত করে' - এখানে 'ধর্ম' শব্দটি 'সম্প্রদায় বিশেষের উপসনাপদ্ধতি বোঝাতে ব্যবহৃত হয়েছে।  

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি - নবম ও দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
.
'কথাটা মায়ের কান পর্যন্ত উঠেছে।'- এখানে 'কানে উঠা' শব্দটি কী অর্থ প্রকাশ করেছে?
  1. গুজব উঠা
  2. স্থান পাওয়া
  3. নিন্দা করা
  4. শুনতে পাওয়া
ব্যাখ্যা
'উঠা' শব্দের বিশিষ্ট প্রয়োগ:
• রব উঠা (গুজব উঠা)- এ খারাপ কাজটি তুমিই করেছ বলে রব উঠেছে।
• জাতে উঠা (সমাজে স্থান পাওয়া)- চাকুরি হওয়ায় মজিদ এখন জাতে উঠেছে।
• কানে উঠা (শুনতে পাওয়া)- কথাটা মায়ের কান পর্যন্ত উঠেছে।
• মন উঠা (সন্তুষ্ট হওয়া)- এত অল্প টাকায় তার মন উঠবে না।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
'চূত' শব্দের অর্থ কী?
  1. চূর্ণ
  2. নেশাগ্রস্ত
  3. স্খলিত
  4. আম
ব্যাখ্যা
• 'চূত' শব্দের অর্থ - আম

অন্যদিকে,
- 'চ্যুত' শব্দের অর্থ - স্খলিত।
- 'চুর' শব্দের অর্থ - নেশাগ্রস্ত।
- 'চূর' শব্দের অর্থ - চূর্ণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ ২০২১)।
১০.
'অহি' শব্দের সমার্থক শব্দ কোনটি?
  1. পর্বত
  2. হাত
  3. পৃথিবী
  4. সাপ
ব্যাখ্যা

'অহি' শব্দের সমার্থক শব্দ- সাপ, আশীবিষ, নাগ, ফণী, ভুজঙ্গ, সর্প।

অন্যদিকে,
- 'পর্বত' শব্দের সমার্থক শব্দ- অচল, আদ্র, গিার, পাহাড়, ভূধর, শেল।
- 'পৃথিবী' - অবনী, ধরা, ধরণী, ধরিত্রী, বসুন্ধরা, ভূ, মেদিনী।
- 'হাত' শব্দের সমার্থক শব্দ- কর, বাহু, ভুজ, হস্ত।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, (২০১৯ সংস্করণ)।

১১.
'উদ্যত ও উদ্ধত' শব্দের অর্থ কী?
  1. আগমন ও অবিনীত
  2. অনুরাগ ও নৈকট্য
  3. প্রবৃত্ত ও অবিনীত
  4. বিনীত ও আকাঙ্ক্ষা
ব্যাখ্যা
• 'উদ্যত' শব্দের অর্থ - প্রবৃত্ত। 
• 'উদ্ধত' শব্দের অর্থ - অবিনীত। 

এরূপ গুরুত্বপূর্ণ কিছু শব্দজোড় হলো-
উপাদান - উপকরণ। 
উপাধান - বালিশ। 

আশা - আকাঙ্ক্ষা। 
আসা - আগমন। 

আসক্তি - অনুরাগ। 
আসত্তি - নৈকট্য। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।
১২.
কোন শব্দজোড় সমার্থক অর্থ প্রকাশ করে?
  1. বিত্ত-ধন
  2. বেশি-বেশী
  3. শরণ-স্মরণ
  4. রতি-রথী
ব্যাখ্যা
• সমার্থক অর্থে ব্যবহৃত শব্দজোড় হলো - বিত্ত-ধন

অন্যদিকে,
- ‘শরণ’ অর্থ - আশ্রয়।
- ‘স্বরণ’ অর্থ - স্মৃতি।

- ‘বেশি’ অর্থ - অনেক।
- ‘বেশী’ অর্থ - বেশধারী।

- ‘রতি’ অর্থ - পরিমাণ।
- ‘রথী’ অর্থ - রথের আরোহী।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
১৩.
'সম্প্রতি - সম্প্রীতি' শব্দজোড়টি কী অর্থ প্রকাশ করে?
  1. আজকাল - সংযমী
  2. শান্ত - সম্মানিত
  3. অধুনা - সম্ভাব
  4. বর্তমান - শান্ত
ব্যাখ্যা
• 'সম্প্রতি' শব্দের অর্থ - অধুনা। 
• 'সম্প্রীতি' শব্দের অর্থ - সম্ভাব। 

এরূপ কিছু গুরুত্বপূর্ণ শব্দজোড় হলো:
শর্ব - শিব। 
সর্ব - সকল। 

শকৃৎ - বিষ্ঠা। 
সকৃৎ - একবার। 

শ্যেন - বাজপাখি। 
সেন - হিন্দুদের উপাধি। 

স্কন্দ - কার্তিকেয়। 
স্কন্ধ - কাঁধ। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৪.
নিচের কোন শব্দটি রোগ অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ক) মাথা ব্যাথা
  2. খ) মাথা ঘামান
  3. গ) মাথা ধরা
  4. ঘ) মাথা দেওয়া
ব্যাখ্যা
• রোগ অর্থে ব্যবহৃত শব্দ = মাথা ধরা

মাথা: 
• আভিধানিক বা সাধারণ অর্থ:
- মস্তক, শির, আগা, আরম্ভ /শরীরের একটি অঙ্গ

বিশেষ অর্থ :
- মাথা দেওয়া (সাহায্য করা) বিপদে যে মাথা দেয় সেই প্রকৃত বন্ধু।
- মাথা ধরা (মাথায় যন্ত্রণা হওয়া) ওষুধ খেয়ে রুগির মাথা ধরা কমেছে
- মাথা পাতা (সম্মত হওয়া) এ কাজে আমি মাথা পাততে পারি না। 
- মাথা আসা ( বোধগম্য হওয়া) অঙ্কটি কিছুতেই আমার মাথায় আসছে না।
- মাথা খাওয়া (নষ্ট করা) অতি আদর দিয়ে ছেলেটার মাথা খেয়ো না।
- মাথা ঠেকান (প্রণাম করা) ও আমার দেশের মাটি, তোমার তরে ঠেকাই মাথা৷
- মাথায় উঠা (প্রশয় পাওয়ার) আদর পেয়ে ছেলেটা মাথায় উঠে যাচ্ছে। 
- মাথা গরম করা (চটিয়া যাওয়া) এত অল্পে ছেলেটা মাথায় উঠে যাচ্ছে।
- চোখের মাথা খাওয়া (অন্ধ হওয়া) চোখের মাথা না খেলে কেউ এমন কাজ করতে পারে?
- মাথার দিব্যি (শপথ) মাথার দিব্যি, দয়া করে এ কাজ করো না।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৫.
`তুমি না বলেছিলে আগামীকাল আসবে? এখানে 'না এর ব্যবহার কি অর্থে?
  1. ক) না বাচক
  2. খ) হ্যাঁ বাচক
  3. গ) প্রশ্নবোধক
  4. ঘ) বিস্ময়সূচক
ব্যাখ্যা
• তুমি না বলেছিলে আগামীকাল আসবে?- এখানে 'না'- প্রশ্নাত্মক/প্রশ্নবোধন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

• নির্দেশাত্মক বাক্য থেকে প্রশ্নাত্মক বাক্যে রূপান্তর:
নির্দেশাত্মক বাক্য থেকে প্রশ্নাত্মক বাক্যে রূপান্তর করতে হলে বাক্যের মৌলিক অর্থ বা মূল অর্থ অপরিবর্তিত রেখে প্রশ্নাত্মক বাক্যটি এমনভাবে তৈরি করতে হবে যার সবচেয়ে কাছাকাছি সম্ভাব্য উত্তর হবে নির্দেশাত্মক বাক্যটি।

• সূত্র: নির্দেশাত্মক বাক্য হ্যাঁ-বাচক হলে প্রশ্নাত্মক হবে না-বাচক, নির্দেশাত্মক বাক্য না-বাচক হলে প্রশ্নাত্মক হবে হ্যাঁ-বাচক। প্রথমটির ক্ষেত্রে বিধেয় ক্রিয়ার সঙ্গে নঞর্থক শব্দ যোগ করতে হয়, দ্বিতীয়টির ক্ষেত্রে নঞর্থক শব্দ বর্জন করে 'আর' প্রভৃতি বাক্যালঙ্কার শব্দের আগমন ঘটাতে হয়।
যেমন:
• নির্দেশাত্মক: দেশপ্রেমিককে সবাই ভালোবাসে।
• প্রশ্নাত্মক: দেশপ্রেমিককে কে না ভালোবাসে?

তেমনই,
• নির্দেশাত্মক: তুমি বলেছিলে আগামীকাল আসবে।
• প্রশ্নাত্মক: তুমি না বলেছিলে আগামীকাল আসবে?

• সূত্র: রূপান্তরিত বাক্যে প্রয়োজনমতো 'কে', 'কি', 'কোথায়' ইত্যাদি প্রশ্নাত্মক শব্দ এবং প্রশ্ন (?) চিহ্ন বসাতে
হয়।
যেমন:
• নির্দেশাত্মক: কেউ মৃত্যুকে ফাঁকি দিতে পারে না।
• প্রশ্নাত্মক: কেউ কি মৃত্যুকে ফাঁকি দিতে পারে?

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৬.
বাণী অর্থ কথা; বানি অর্থ কী
  1. গয়নার মজুরি
  2. ফরিয়াদি
  3. পানি
  4. মতাদর্শী
ব্যাখ্যা
• বাণী অর্থ কথা; বানি অর্থ গয়নার মজুরি।

• এছাড়া ও আরো সমোচ্চারিত শব্দ: 
•মূল শব্দ -  প্রতিশব্দ।
নারী - স্ত্রীলোক,
নাড়ি - শিরা,
বাদি- ফরিয়াদি,
বাদী - মতাদর্শী,
পিঠ- পৃষ্ঠ,
পীঠ- স্থান,
বাড়ি ঘর,
বারি পানি,

উৎস : বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি (২০২৫ সংস্করণ)।
১৭.
"সমাজে বিভিন্ন ছাঁদের মানুষের প্রয়োজন আছে।"- এ বাক্যে ‘ছাঁদ’ কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. আচ্ছাদন
  2. গঠন
  3. উপরিভাগ
  4. চিহ্ন
ব্যাখ্যা

• "সমাজে বিভিন্ন ছাঁদের মানুষের প্রয়োজন আছে।"- এ বাক্যে ‘ছাঁদ’ গঠন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে ।

প্রায় সমোচ্চারিত ভিন্নার্থক শব্দ -
ছাঁদ -  ধরন; গঠন; আকৃতি।
ছাদ - আচ্ছাদন।

• প্রায় সমোচ্চারিত শব্দ:
- উদার = মহৎ,
- উদারা = সংগীতের নিম্ন সপ্তকের সুর,
- উধার = কর্জ,
- ক্রোড় - কোল, 
- ক্রোর - কোটি,
- ক্রূর - নিষ্ঠুর।

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়; বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা।

১৮.
‘অংক অভ্যাস কর, পরীক্ষা অভ্যাশে’ - বাক্যে ‘অভ্যাশ’ কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ক) চর্চা
  2. খ) নিকট
  3. গ) আবৃত্তি
  4. ঘ) গুরত্বপূর্ণ
ব্যাখ্যা
বাক্যে ‘অভ্যাশ’ নিকট অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

অন্যান্য সমোচ্চারিত শব্দ:

অভ্যাস - চর্চা, শিক্ষা
অভ্যাশ - আবৃত্তি, নিকট

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি - ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
১৯.
'ভিত ও ভীত' শব্দজোড়ের সঠিক অর্থ কী?
  1. বুনিয়াদ ও শঙ্কিত
  2. ভয় ও সংশয়
  3. মাশুল ও আতঙ্কিত
  4. ভোগ করা ও শঙ্কিত
ব্যাখ্যা
• 'ভিত' শব্দের অর্থ - বুনিয়াদ। 
• 'ভীত' শব্দের অর্থ - শঙ্কিত। 

এরূপ কিছু গুরুত্বপূর্ণ শব্দজোড় হলো- 
• ভোজন - আহার। 
• ভজন - আরাধনা। 

• ভুঞ্জন - ভোগ করা। 
• ভঞ্জন - নিবারণ, নিরসন। 

• ভাড়া - মাশুল। 
• ভারা - উচ্চ স্থানে কাজ করার মাচান। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২০.
'ক্রোড়' শব্দের অর্থ কি?
  1. কোল
  2. কোটি
  3. নিষ্ঠুর
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
- 'ক্রোড়' শব্দের অর্থ হচ্ছে- কোল। 

প্রায় সমোচ্চারিত শব্দ:
- ক্রোড় - কোল, 
- ক্রোর - কোটি,
- ক্রূর - নিষ্ঠুর।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ, ড. মোহাম্মদ আমীন। 
২১.
‘অভ্যাশ’ শব্দের অর্থ কোনটি?
  1. আবৃত্তি
  2. চর্চা
  3. নিন্দা
  4. পরিমার্জন
ব্যাখ্যা
• ‘অভ্যাশ’ শব্দের অর্থ - আবৃত্তি

শব্দজোড়:
- বাংলা ভাষায় এমন কিছু শব্দ আছে, যেগুলোর উচ্চারণ এক অথবা প্রায় এক, কিন্তু অর্থ ভিন্ন; এমন যুগল শব্দকে শব্দজোড় বলে।
- অধিকাংশ ক্ষেত্রে এদের বানান ভিন্ন হয়, তবে উচ্চারণ এক হওয়ায় কানে শুনে এদের পার্থক্য করা যায় না। 
- বাক্যে ব্যবহৃত হলে প্রসঙ্গ বিবেচনায় এসব শব্দের পার্থক্য বোঝা যায়।

কিছু শব্দজোড়ের উদাহরণ:
অভ্যাশ - আবৃত্তি
→ অভ্যাস - চর্চা।
→ আপণ - দোকান।
→ আপন - নিজ।
→ কমল - পদ্ম।
→ কোমল - নরম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ), বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২২.
'গ্রন্থি' ও 'গ্রন্থী' শব্দজোড়ের অর্থ কোনগুলো?
  1. গাট ও গণক
  2. গণক ও গাট
  3. বন্ধন ও গ্রন্থকার
  4. গ্রন্থকার ও বন্ধন
ব্যাখ্যা
• 'গ্রন্থি' ও 'গ্রন্থী' শব্দজোড়ের অর্থ - বন্ধন ও গ্রন্থকার

শব্দজোড়:
বাংলা ভাষায় এমন কিছু শব্দ আছে, যেগুলোর উচ্চারণ এক অথবা প্রায় এক, কিন্তু অর্থ ভিন্ন; এমন যুগল শব্দকে শব্দজোড় বলে।
- অধিকাংশ ক্ষেত্রে এদের বানান ভিন্ন হয়, তবে উচ্চারণ এক হওয়ায় কানে শুনে এদের পার্থক্য করা যায় না। বাক্যে ব্যবহৃত হলে প্রসঙ্গ বিবেচনায় এসব শব্দের পার্থক্য বোঝা যায় ।

কিছু শব্দজোড়ের উদাহরণ:
গ্রন্থি - বন্ধন
গ্রন্থী - গ্রন্থকার
→ গাথা - কাহিনি।
→ গাঁথা - গ্রন্থন।
→ ছাঁদ - আকৃতি।
→ ছাদ - চাল।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ); বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২৩.
'মাথা খাটিয়ে কাজ করবে'- এখানে 'মাথা' শব্দটি কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. রোগ
  2. বুদ্ধি
  3. সামান্য
  4. মস্তক
ব্যাখ্যা
• 'মাথা খাটিয়ে কাজ কর' বাক্যে ‘মাথা’ শব্দটি বুদ্ধি অর্থে ব্যবহৃত।

একই শব্দের ভিন্নার্থক প্রয়োগ:
• মাথা ধরা (মাথায় যন্ত্রণা হওয়া) - ওষুধ খেয়ে রুগির মাথা ধরা কমেছে।
• মাথা পাতা (সম্মত হওয়া) - এ কাজে আমি মাথা পাততে পারি না।
• মাথা আসা ( বোধগম্য হওয়া) - অঙ্কটি কিছুতেই আমার মাথায় আসছে না।
• মাথা খাওয়া (নষ্ট করা) - অতি আদর দিয়ে ছেলেটার মাথা খেয়ো না।
• মাথা ঠেকান (প্রণাম করা) - ও আমার দেশের মাটি, তোমার তরে ঠেকাই মাথা৷
• মাথায় উঠা (প্রশয় পাওয়ার) - আদর পেয়ে ছেলেটা মাথায় উঠে যাচ্ছে।
• মাথা গরম করা (চটিয়া যাওয়া) - এত অল্পে ছেলেটা মাথায় উঠে যাচ্ছে।
• চোখের মাথা খাওয়া (অন্ধ হওয়া) - চোখের মাথা না খেলে কেউ এমন কাজ করতে পারে?
• মাথার দিব্যি (শপথ) - মাথার দিব্যি, দয়া করে এ কাজ করো না।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৪.
'ভিক্ষুকটা যে পিছনে লেগেই রয়েছে, কী বিপদ!' - এই বাক্যের 'কী' এর অর্থ-
  1. ক) ভয়
  2. খ) রাগ
  3. গ) বিরক্তি
  4. ঘ) বিপদ
ব্যাখ্যা
‘কী বিপদ, লোকটা যে পিছু ছাড়ে না।’—এখানে অব্যয়টি ব্যবহৃত হয়েছে বিরক্তি প্রকাশে।
তেমনিভাবে,
'ভিক্ষুকটা যে পিছনে লেগেই রয়েছে, কী বিপদ!' বাক্যের অব্যয় পদটি (কী) 'বিরক্তি' অর্থ প্রকাশ করে।

সূত্র- বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী।
২৫.
চক্ষু : লোচন : : কপাল : ?
  1. ক) শ্রুতি
  2. খ) ললাট
  3. গ) কায়া
  4. ঘ) কর
ব্যাখ্যা
'চক্ষু' শব্দের প্রতিশব্দ = দর্শন, লোচন, নয়ন, নেত্র, অক্ষি, চোখ, আঁখি। 
'কপাল' শব্দের প্রতিশব্দ = ভাল, ভাগ্য, ললাট, অলিক, নিয়তি, অদৃষ্ট, দৈব। 
'শ্রুতি' = 'কর্ণ/কান' এর প্রতিশব্দ। 
'কায়া' = 'দেহ' এর প্রতিশব্দ।
'কর' = 'হাত' এর প্রতিশব্দ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২৬.
'অণু - অনু' শব্দজোড়টি কী অর্থ প্রকাশ করে?
  1. মেঘ - কণা
  2. পানি - ক্ষুদ্রতম অংশ
  3. ক্ষুদ্রতম অংশ - পশ্চাৎ
  4. পশ্চাৎ - পানি
ব্যাখ্যা
• 'অণু' শব্দের অর্থ - ক্ষুদ্রতম অংশ। 
• 'অনু' শব্দের অর্থ - পশ্চাৎ। 

এরূপ কিছু গুরুত্বপূর্ণ হলো-
• অনিষ্ট - ক্ষতি। 
• অনিষ্ঠ - নিষ্ঠাহীন। 

• অন্ত্য - শেষ। 
• অন্তঃ - ভিতর। 

• অন্ন - ভাত। 
• অন্য - অপর। 

• অন্যান্য - অপরাপর। 
• অনন্য - একক। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।
২৭.
‘মুখ রাখা’ বাক্যাংশের অর্থ কী?
  1. ক) অনুগ্রহ লাভ করা
  2. খ) নিজের মুখ উপরে তোলা
  3. গ) মুখের স্বাদ নষ্ট হওয়া
  4. ঘ) সম্মান রক্ষা করা
ব্যাখ্যা

‘মুখ তোলা’ অর্থ অনুগ্রহ লাভ করা, প্রসন্ন হওয়া।
উদাহরণ - খোদা মুখ তুলে চাইলে অবশ্যই ব্যবসায় লাভ হবে।
মুখ রাখা - সম্মান রক্ষা করা
মুখ ধরা - মুখের স্বাদ নষ্ট হওয়া 
মুখ বদলানো - স্বাদ বদলানো
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণি

২৮.
'আভাস-আভাষ' শব্দজোড়টি কী অর্থ প্রকাশ করে? 
  1. ইঙ্গিত-আলাপ
  2. সংকেত-বাসস্থান
  3. ভূমিকা-ইঙ্গিত
  4. পূর্বাভাস-বাসস্থান
ব্যাখ্যা

• 'আবাস' অর্থ - বাসস্থান। 
• 'আভাস' অর্থ - ইঙ্গিত। 
• 'আভাষ' অর্থ - আলাপ, ভূমিকা। 

এরূপ গুরুত্বপূর্ণ কিছু শব্দজোড় হলো-
আশা - ভরসা। 
আসা - আগমন। 

আপন - নিজ। 
আপণ - দোকান। 

আহুতি - হোম। 
আহূতি - আহ্বান। 

আষাঢ় - মাসের নাম। 
আসার - বর্ষণ। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।  

২৯.
'পটল' ও 'পটোল' শব্দজোড়ের অর্থ যথাক্রমে -
  1. অধ্যায় ও সবজিবিশেষ
  2. সবজিবিশেষ ও অধ্যায়
  3. মরা ও সবজিবিশেষ
  4. সবজিবিশেষ ও মরা
ব্যাখ্যা
শব্দজোড়:
বাংলা ভাষায় এমন কিছু শব্দ আছে, যেগুলোর উচ্চারণ এক অথবা প্রায় এক, কিন্তু অর্থ ভিন্ন; এমন যুগল শব্দকে শব্দজোড় বলে।
- অধিকাংশ ক্ষেত্রে এদের বানান ভিন্ন হয়, তবে উচ্চারণ এক হওয়ায় কানে শুনে এদের পার্থক্য করা যায় না। বাক্যে ব্যবহৃত হলে প্রসঙ্গ বিবেচনায় এসব শব্দের পার্থক্য বোঝা যায় ।

কিছু শব্দজোড়ের উদাহরণ:
• অনিষ্ট - ক্ষতি।
• অনিষ্ঠ - নিষ্ঠাহীন।
• অর্ঘ - দাম।
• অর্ঘ্য - পূজার উপকরণ।
• পটল - অধ্যায়
• পটোল - সবজিবিশেষ

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৩০.
'বাঁক' শব্দের অর্থ -
  1. অস্ত্রবিশেষ
  2. বাঁকা
  3. কথা
  4. ধারালো যন্ত্র
ব্যাখ্যা
• 'বাঁক' শব্দের অর্থ - বাঁকা

অন্যদিকে,
- 'বাক' শব্দের অর্থ - কথা।
- 'বাইস' শব্দের অর্থ - ধারালো যন্ত্র।
- 'বর্শা' শব্দের অর্থ - অস্ত্রবিশেষ।

শব্দজোড়:
- বাংলা ভাষায় এমন কিছু শব্দ আছে, যেগুলোর উচ্চারণ এক অথবা প্রায় এক, কিন্তু অর্থ ভিন্ন; এমন যুগল শব্দকে শব্দজোড় বলে।
- অধিকাংশ ক্ষেত্রে এদের বানান ভিন্ন হয়, তবে উচ্চারণ এক হওয়ায় কানে শুনে এদের পার্থক্য করা যায় না। বাক্যে ব্যবহৃত হলে প্রসঙ্গ বিবেচনায় এসব শব্দের পার্থক্য বোঝা যায়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ ২০২১)।
৩১.
'স্বর' শব্দের অর্থ কী?
  1. তির
  2. আঁশ
  3. সুর
  4. সব
ব্যাখ্যা

• 'স্বর' শব্দের অর্থ - সুর

অন্যদিকে,
• শর - তির।
• শকল - আঁশ।
• সকল - সব।

শব্দজোড়:
- বাংলা ভাষায় এমন কিছু শব্দ আছে, যেগুলোর উচ্চারণ এক অথবা প্রায় এক, কিন্তু অর্থ ভিন্ন; এমন যুগল শব্দকে শব্দজোড় বলে।
- অধিকাংশ ক্ষেত্রে এদের বানান ভিন্ন হয়, তবে উচ্চারণ এক হওয়ায় কানে শুনে এদের পার্থক্য করা যায় না।
- বাক্যে ব্যবহৃত হলে প্রসঙ্গ বিবেচনায় এসব শব্দের পার্থক্য বোঝা যায় ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

৩২.
'গাথা' ও 'গাঁথা' শব্দজোড়ের অর্থ যথাক্রমে -
  1. কাহিনি ও গ্রন্থন
  2. গ্রন্থন ও কাহিনি
  3. স্থায়ী ও নির্মাণ
  4. নির্মাণ ও স্থায়ী
ব্যাখ্যা
শব্দজোড়:
বাংলা ভাষায় এমন কিছু শব্দ আছে, যেগুলোর উচ্চারণ এক অথবা প্রায় এক, কিন্তু অর্থ ভিন্ন; এমন যুগল শব্দকে শব্দজোড় বলে।
- অধিকাংশ ক্ষেত্রে এদের বানান ভিন্ন হয়, তবে উচ্চারণ এক হওয়ায় কানে শুনে এদের পার্থক্য করা যায় না। বাক্যে ব্যবহৃত হলে প্রসঙ্গ বিবেচনায় এসব শব্দের পার্থক্য বোঝা যায় ।

কিছু শব্দজোড়ের উদাহরণ:
• অবিহিত - অন্যায়।
• অভিহিত - কথিত।
• কুল - বংশ।
• কূল - তীর।
• গাথা - কাহিনি
• গাঁথা - গ্রন্থন

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৩৩.
'শ্মশ্রু' এর অর্থ কী?
  1. ক) শ্বশুর
  2. খ) দাড়িগোঁফ
  3. গ) শাশুড়ি
  4. ঘ) শুভ্রতা
ব্যাখ্যা
- 'শ্মশ্রু' এর অর্থ হচ্ছে দাড়িগোঁফ

• 'শ্মশ্রু' (বিশেষ্য):
- এর সঠিক উচ্চারণ হচ্ছে শোঁস্‌স্রু।
- এর সঠিক প্রকৃতি ও প্রত্যয় হচ্ছে শ্মন্‌+√শ্রি+উ।
- এর অর্থ হচ্ছে দাড়িগোঁফ, দাড়ি।

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
৩৪.
'ফোঁটা' ও 'ফোটা' শব্দজোড়ের অর্থ যথাক্রমে -
  1. বিন্দু ও প্রস্ফুটিত
  2. প্রস্ফুটিত ও বিন্দু
  3. বিন্দু ও তিলক
  4. প্রস্ফুটিত ও উদিত
ব্যাখ্যা
শব্দজোড়:
বাংলা ভাষায় এমন কিছু শব্দ আছে, যেগুলোর উচ্চারণ এক অথবা প্রায় এক, কিন্তু অর্থ ভিন্ন; এমন যুগল শব্দকে শব্দজোড় বলে।
- অধিকাংশ ক্ষেত্রে এদের বানান ভিন্ন হয়, তবে উচ্চারণ এক হওয়ায় কানে শুনে এদের পার্থক্য করা যায় না। বাক্যে ব্যবহৃত হলে প্রসঙ্গ বিবেচনায় এসব শব্দের পার্থক্য বোঝা যায় ।

কিছু শব্দজোড়ের উদাহরণ:
• বর্ষা - ঋতু।
• বর্শা - অস্ত্রবিশেষ।
• পুরি - লুচি।
• পুরী - নিকেতন।
• ফোঁটা - বিন্দু।
• ফোটা - প্রস্ফুটিত।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৩৫.
বিশেষণ বোঝাতে অব্যয় পদের দ্বিরুক্তি হয়েছে কোন বাক্যটিতে?
  1. ক) আমি জ্বর জ্বর বোধ করেছি
  2. খ) ভালো ভালো আম নিয়ে এসো
  3. গ) দেখতে দেখতে আকাশ কালো হয়ে এলো
  4. ঘ) পিলসুজে বাতি জ্বলে মিটিরমিটির
ব্যাখ্যা

দ্বিরুক্ত শব্দকে ভাঙলে পাওয়া যায় ‘দ্বি+উক্ত’।
অর্থাৎ, যা দুইবার বলা হয়েছে।
- দ্বিরুক্ত শব্দ ৩ প্রকার- শব্দের দ্বিরুক্তি, পদের দ্বিরুক্তি ও অনুকার দ্বিরুক্তি

পদাত্মক দ্বিরুক্তির প্রয়োগঃ
অব্যয় পদের দ্বিরুক্তি -
১. ভাবের গভীরতা বোঝাতেঃ সবাই হায় হায় করতে লাগল। ছি ছি, তুমি এত খারাপ!
২. পৌনঃপুনিকতা বোঝাতেঃ
বার বার সে কামান গর্জে উঠল।
৩. অনুভূতি বা ভাব বোঝাতেঃ
ভয়ে গা ছম ছম করছে। ফোঁড়াটা টন টন করছে।
৪. বিশেষণ বোঝাতেঃ
পিলসুজে বাতি জ্বলে মিটির মিটির
৫. ধ্বনিব্যঞ্জনাঃ
ঝির ঝির করে বাতাস বইছে। বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

৩৬.
'দীপ-দ্বীপ' শব্দজোড়টি কী অর্থ প্রকাশ করে?
  1. উজ্জ্বল - প্রাচুর্য 
  2. প্রদীপ - জলবেষ্টিত ভূখণ্ড 
  3. জলবেষ্টিত ভূখণ্ড - আলো
  4. বলিষ্ঠ - জলবেষ্টিত ভূখণ্ড 
ব্যাখ্যা

• 'দীপ' শব্দের অর্থ - প্রদীপ।
• 'দ্বীপ' শব্দের অর্থ - জলবেষ্টিত ভূখণ্ড

অন্যদিকে,
'দৃপ্ত' - বলিষ্ঠ।
'দীপ্ত' - উজ্জ্বল।

দূতী - নারী সংবাদবাহক।
দ্যুতি - আলো।

ধুম - প্রাচুর্য।
ধূম - ধোঁয়া।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৩৭.
'অধীতি' ও 'অধীতী' শব্দজোড়ের অর্থ যথাক্রমে -
  1. অধ্যয়ন ও অধ্যয়নকারী
  2. অধ্যয়নকারী ও অধ্যয়ন
  3. কৃতি ও জানা
  4. জানা ও কৃতি
ব্যাখ্যা
• 'অধীতি' ও 'অধীতী' শব্দজোড়ের অর্থ যথাক্রমে - অধ্যয়ন ও অধ্যয়নকারী

শব্দজোড়:
বাংলা ভাষায় এমন কিছু শব্দ আছে, যেগুলোর উচ্চারণ এক অথবা প্রায় এক, কিন্তু অর্থ ভিন্ন; এমন যুগল শব্দকে শব্দজোড় বলে।
- অধিকাংশ ক্ষেত্রে এদের বানান ভিন্ন হয়, তবে উচ্চারণ এক হওয়ায় কানে শুনে এদের পার্থক্য করা যায় না। বাক্যে ব্যবহৃত হলে প্রসঙ্গ বিবেচনায় এসব শব্দের পার্থক্য বোঝা যায়।

কিছু শব্দজোড়ের উদাহরণ:
• অর্ঘ - দাম।
• অর্ঘ্য - পূজার উপকরণ।
অধীতি - অধ্যয়ন
অধীতী - অধ্যয়নকারী
• অবদান - কৃতি / কীর্তি।
• অবধান - জানা / মনোযোগ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ); বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৮.
‘ছার’ শব্দের অর্থ কী?
  1. অধম
  2. উত্তম
  3. ত্যাগ
  4. মুক্তি
ব্যাখ্যা
• ‘ছার’ শব্দের অর্থ - অধম

শব্দজোড়:
- বাংলা ভাষায় এমন কিছু শব্দ আছে, যেগুলোর উচ্চারণ এক অথবা প্রায় এক, কিন্তু অর্থ ভিন্ন; এমন যুগল শব্দকে শব্দজোড় বলে।
- অধিকাংশ ক্ষেত্রে এদের বানান ভিন্ন হয়, তবে উচ্চারণ এক হওয়ায় কানে শুনে এদের পার্থক্য করা যায় না। 
- বাক্যে ব্যবহৃত হলে প্রসঙ্গ বিবেচনায় এসব শব্দের পার্থক্য বোঝা যায়।

কিছু শব্দজোড়ের উদাহরণ:
→ চির - দীর্ঘ।
→ চীর - ছিন্নবস্ত্র।
→ চুর - নেশাগ্রস্ত।
→ চূর - চূর্ণ।
ছার - অধম
→ ছাড় - ত্যাগ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৩৯.
'চির' অর্থ যদি 'দীর্ঘ' হয় তবে, 'চীর' অর্থ- 
  1. নেশাগ্রন্ত
  2. চূর্ণ
  3. দীর্ঘকাল
  4. ছিন্নবস্ত্র
ব্যাখ্যা

শব্দজোড়:
বাংলা ভাষায় এমন কিছু শব্দ আছে যেগুলোর উচ্চারণ এক অথবা প্রায় এক, কিন্তু অর্থ ভিন্ন; এমন যুগল শব্দকে শব্দজোড় বলে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এদের বানান ভিন্ন হয়, তবে উচ্চারণ এক হওয়ায় কানে শুনে এদর পার্থক্য করা যায় না।
যেমন:
• ‘চির’ শব্দের অর্থ - দীর্ঘ।
• চির - দীর্ঘকাল।
• ‘চীর’ শব্দের অর্থ - ছিন্নবস্ত্র।

• ‘চুর’ শব্দের অর্থ - নেশাগ্রন্ত।
• ‘চূর’ শব্দের অর্থ - চূর্ণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

৪০.
'উষ্ণীষ'-এর শব্দার্থ-
  1. অত্যন্ত উষ্ণ
  2. কুসুম কুসুম উষ্ণ
  3. পাগড়ি
  4. শীতের আমেজ
ব্যাখ্যা
উষ্ণীষ (বিশেষ্য) 
- সংস্কৃত শব্দ 
- প্রকৃতি প্রত্যয় = উষ্ণ+√ঈষ্‌+অ
অর্থ: পাগড়ি, কিরীট। 

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
৪১.
‘মাথা খাও, পত্র দিতে ভুলো না’- এখানে ‘মাথা’ খাওয়ার’ অর্থ কী?
  1. ক) আস্কারা পাওয়া
  2. খ) জ্ঞান দেয়া
  3. গ) অঙ্গ বিশেষ
  4. ঘ) দিব্যি দেয়া
ব্যাখ্যা
‘মাথা খাও, পত্র দিতে ভুলো না’- এখানে ‘মাথা’ খাওয়ার’ অর্থ হলো দিব্যি দেয়া। 
 
দিব্যি অর্থ উত্তম; চমৎকার; সুন্দর।
ক্রিয়াবিশেষণ অর্থে বেশ ভালোভাবে; পরিষ্কার করে; স্পষ্টভাবে (ঠিক যে কোথায় হাসতে হবে একেক সময় দিব্যি বুঝে-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর)।
 
উৎস: বাংলা একাডেমি অভিধান। 
৪২.
'চীর' ও 'চির' এই শব্দগুচ্ছের অর্থ হলো যথাক্রমে-
  1. দীর্ঘকাল; ফাটল
  2. দীর্ঘকাল; ছেঁড়া কাপড়
  3. ছেঁড়া কাপড়; দীর্ঘকাল
  4. ফাটল; দীর্ঘকাল
ব্যাখ্যা
• 'চীর' ও 'চির' এই শব্দগুচ্ছের অর্থ হলো যথাক্রমে-
চীর -ছেঁড়া কাপড়;
চির - দীর্ঘকাল।

বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,




উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান; ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪৩.
নিচের কোন বাক্যে 'আনাড়ি' অর্থে 'কাঁচা' শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. মেয়েটির একেবারেই কাঁচা বয়স। 
  2. কাঁচা আমগুলো গাছে ঝুলছে।
  3. গহনাটি একেবারেই কাঁচা সোনা দিয়ে তৈরি।
  4.  এমন কাঁচা লোক দিয়ে সব কাজ চলে না।
ব্যাখ্যা

• এমন কাঁচা লোক দিয়ে সব কাজ চলে না। - এখানে ‘কাঁচা’ শব্দটি 'আনাড়ি' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

অন্যদিকে,
• মেয়েটির একেবারেই কাঁচা বয়স। - এখানে ‘কাঁচা’ শব্দটি অপরিণত বয়স বোঝাতে ব্যবহৃত হয়েছে।
• কাঁচা আমগুলো গাছে ঝুলছে।- এখানে ‘কাঁচা’ শব্দটি অপরিপক্ক আম বোঝাতে ব্যবহৃত হয়েছে।
• গহনাটি একেবারেই কাঁচা সোনা দিয়ে তৈরি।- এখানে ‘কাঁচা’ শব্দটি খাঁটি অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

উৎস: প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও মোহাম্মদ আমীন (২য় খণ্ড)।

৪৪.
কোন বাক্যে 'মাথা' শব্দটি বুদ্ধি অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. মাথা খাটিয়ে কাজ করবে
  2. তিনিই সমাজের মাথা
  3. মাথা নেই তার মাথা ব্যথা
  4. লজ্জায় আমার মাথা কাটা গেল
ব্যাখ্যা
• 'মাথা খাটিয়ে কাজ কর' বাক্যে ‘মাথা’ শব্দটি বুদ্ধি অর্থে ব্যবহৃত।

অন্যদিকে,
• 'তিনিই সমাজের মাথা' বাক্যে ‘মাথা’ শব্দটি প্রধান ব্যক্তি অর্থে ব্যবহৃত।
• 'লজ্জায় আমার মাথা কাটা গেল' বাক্যে ‘মাথা’ শব্দটি সম্মান অর্থে ব্যবহৃত।
• 'মাথা নেই তার মাথা ব্যাথা' বাক্যে উভয় ‘মাথা’ই মাথা অর্থে ব্যবহৃত।

উৎস: অভিগম্য অভিধান এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪৫.
'খাদি - খাদী' শব্দজোড়ের অর্থ কী?
  1. খাটিয়া ও চাউলের কণা
  2. স্বয়ং ও খদ্দর
  3. খদ্দর ও ভক্ষক
  4. খদ্দর ও বেঁটে
ব্যাখ্যা
• 'খাদি' শব্দের অর্থ - খদ্দর। 
• 'খাদী' শব্দের অর্থ - ভক্ষক। 

এরূপ কিছু গুরুত্বপূর্ণ শব্দজোড় হলো-
• খুর - গরু বা ঘোড়ার পায়ের তলদেশ। 
• ক্ষুর - কামানোর অস্ত্র। 

• খড় - বিচালি। 
• খর - তীব্র। 

• খাটো - বেঁটে, খর্ব। 
• খাট - খাটিয়া, চৌকি। 

• খোদ - স্বয়ং, নিজে। 
• খুদ - চাউলের কণা। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪৬.
'দ্রব্যের গুণ জানতে হয়'- বাক্যে 'গুণ' শব্দটি কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. উৎকর্ষ
  2. ধর্ম 
  3. ক্রিয়া
  4. উপকার 
ব্যাখ্যা

নিচে "গুণ" শব্দটির বিভিন্ন অর্থে প্রয়োগ এর উদাহরণ দেওয়া হলো:
- 'তুমি তো নিজের গুণকীর্তন করছো' এখানে "গুণ" শব্দটি উৎকর্ষ অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
- 'দ্রব্যের গুণ জানতে হয়' এখানে "গুণ" শব্দটি ধর্ম অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
- 'ওষুধে গুণ করেছে' এখানে "গুণ" শব্দটি ক্রিয়া অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
- 'মাঝিরা নৌকার গুণ টেনে এসেছে' এখানে "গুণ" শব্দটি দড়ি অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৪৭.
'মড়ক' শব্দের অর্থ কী?
  1. আচ্ছাদনী
  2. ক্ষান্ত
  3. মরা
  4. মহামারী
ব্যাখ্যা
শব্দজোড়:
বাংলা ভাষায় এমন কিছু শব্দ আছে, যেগুলোর উচ্চারণ এক অথবা প্রায় এক, কিন্তু অর্থ ভিন্ন; এমন যুগল শব্দকে শব্দজোড় বলে।
- অধিকাংশ ক্ষেত্রে এদের বানান ভিন্ন হয়, তবে উচ্চারণ এক হওয়ায় কানে শুনে এদের পার্থক্য করা যায় না। বাক্যে ব্যবহৃত হলে প্রসঙ্গ বিবেচনায় এসব শব্দের পার্থক্য বোঝা যায় ।

কিছু শব্দজোড়ের উদাহরণ:
• নিরস্ত্র - অস্ত্রহীন।
• নিরস্ত - ক্ষান্ত।
• মড়ক - মহামারী
• মোড়ক - আচ্ছাদনী।
• শুচি - পবিত্র।
• সূচি - তালিকা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৪৮.
‘দারা ও দ্বারা’ শব্দজোড় দুটি কী অর্থ প্রকাশ করে?
  1. নৌকার বাট ও মাধ্যমে
  2. স্ত্রী ও দিয়ে
  3. মাধ্যমে ও স্ত্রী
  4. তীর ও মাধ্যমে
ব্যাখ্যা
• শব্দজোড়: 
বাংলা ভাষায় এমন কিছু শব্দ আছে, যেগুলোর উচ্চারণ এক অথবা প্রায় এক, কিন্তু অর্থ ভিন্ন, এমন যুগল শব্দকে শব্দজোড় বলে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এদের বানান ভিন্ন হয়, তবে উচ্চারণ এক হওয়ায় কানে শুনে এদের পার্থক্য করা যায় না। বাক্যে ব্যবহৃত হলে প্রসঙ্গ বিবেচনায় এসব শব্দের পার্থক্য বোঝা যায়।
যেমন:
• ‘দারা’ শব্দের অর্থ - স্ত্রী।
• ‘দ্বারা’ শব্দের অর্থ - দিয়ে।

নিচে কিছু শব্দজোড়ের উদাহরণ:
• ‘করী’ শব্দের অর্থ - হাতি।
• ‘কড়ি’ শব্দের অর্থ - অর্থ।

• ‘গোড়া’ শব্দের অর্থ - মূল অংশ।
• ‘গোঁড়া’ শব্দের অর্থ - রক্ষণশীল।

• ‘জাল’ শব্দের অর্থ - ফাঁদ।
• ‘জ্বাল’ শব্দের অর্থ -অগ্নিশিখা।

• ‘অকুল’ শব্দের অর্থ - নীচ বংশ। 
• ‘অকূল’ শব্দের অর্থ - তীরহীন। 

• ‘অণু’ শব্দের অর্থ - ক্ষুদ্রতম অংশ। 
• ‘অনু’ শব্দের অর্থ - পশ্চাৎ। 

• ‘অনিষ্ট’ শব্দের অর্থ - ক্ষতি।
• ‘অনিষ্ঠ’ শব্দের অর্থ - নিষ্ঠাহীন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ সংস্করণ)।
৪৯.
'কাজে গা লাগাও'- বাক্যে 'গা' শব্দটি কোন অর্থ প্রকাশ করে?
  1. শরীর
  2. মনোযোগ
  3. গ্রাহ্য করা
  4. অভ্যস্ত
ব্যাখ্যা

• 'কাজে গা লাগাও'- বাক্যে 'গা' শব্দটি 'মনোযোগ' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। 

• 'গা' শব্দের বিশিষ্ট অর্থে প্রয়োগ: 
» শরীর অর্থে- গা ব্যথা ব্যথা করছে।
» 'মনোযোগ' অর্থে- কাজে গা লাগাও।
» দম্ভ অর্থে- গায়ের জোর দেখিয়ে কাজ হাসিল করতে চাও। 
» গ্রাহ্য করা অর্থে- ও কথা গায়ে মেখো না। 
» অভ্যস্ত অর্থে- অন্যায় এখন গা সওয়া হয়ে গেছে। 

উৎস: ভাষা- শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 

৫০.
দার' ও 'দ্বার' শব্দের অর্থ যথাক্রমে -
  1. দরজা, দিয়ে
  2. স্ত্রী, দরজা
  3. দিয়ে, দরজা
  4. দরজা, স্ত্রী
ব্যাখ্যা
• শব্দজোড়: 
- বাংলা ভাষায় এমন কিছু শব্দ আছে, যেগুলোর উচ্চারণ এক অথবা প্রায় এক, কিন্তু অর্থ ভিন্ন;
- এমন যুগল শব্দকে শব্দজোড় বলে।
- অধিকাংশ ক্ষেত্রে এদের বানান ভিন্ন হয়, তবে উচ্চারণ এক হওয়ায় কানে শুনে এদের পার্থক্য করা যায় না।
- বাক্যে ব্যবহৃত হলে প্রসঙ্গ বিবেচনায় এসব শব্দের পার্থক্য বোঝা যায়।

• উল্লেখযোগ্য আরো কয়েকটি শব্দজোড় ও অর্থ:
- 'দার' শব্দের অর্থ - স্ত্রী।
- 'দ্বার' শব্দের অর্থ - দরজা।

- 'দারা' শব্দের অর্থ - স্ত্রী।
- 'দ্বারা' শব্দের অর্থ - দিয়ে।

- তরণী - নৌকা।
- তরুণী – যুবতী।

- তারা – নক্ষত্র।
- নিতি – রোজ।

- পিন – আলপিন।
- পীন – স্থূল।

- দন্ত – দাঁত।
- দন্ত্য – দাঁত বিষয়ক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ ২০২১)।
৫১.
“এ ব্যাপারে আমার কোনো হাত নেই।”-  এখানে ‘হাত থাকা’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
  1. অংশগ্রহণ
  2. প্রভাব
  3. দায়িত্ব
  4. দক্ষতা
ব্যাখ্যা

• বিশেষ্য শব্দের প্রয়োগভেদে অর্থের পার্থক্য হয়। বাক্য ভেদে 'হাত' শব্দটি বিভিন্ন অর্থ প্রয়োগ করে।
যেমন:

• হাত আসা (দক্ষতা অর্থে)- কাজ করতে করতেই কাজে হাত আসবে।
• হাত গুটান (কার্যে বিরতি অর্থে)-হাত গুটিয়ে বসে আছ কেন?
• হাত করা (আয়ত্তে আনা অর্থে)- সাহেবকে হাত করতে পারলেই কাজ হবে।
• হাত ছাড়া (হস্তচ্যুত অর্থে)- টাকাগুলো হাত ছাড়া করো না।
• হাত থাকা (প্রভাব অর্থে)- এ ব্যাপারে আমার কোনো হাত নেই।

দ্রষ্টব্য: বান্ধারা গঠনে বিভিন্ন পদের ব্যবহারকে রীতিসিদ্ধ প্রয়োগও বলে।

'হাত' শব্দের রীতিসিদ্ধ প্রয়োগ-
• হাতের পাঁচ (শেষ সম্বল): এ টাকা কটিই ছিল আমার হাতের পাঁচ।
• হাতে হাতে (অবিলম্বে): হাতে হাতে এ কাজের ফল পাবেন।
• হাতে খড়ি (বিদ্যারম্ভ): এ মাসেই খোকার হাতে খড়ি হবে।
• হাতে কলমে (স্বহস্তে, কার্যকর ভাবে): হাতে-কলমে শিক্ষা কেতাবি শিক্ষার চেয়ে দীর্ঘস্থায়ী।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

৫২.
'দর' ও 'দড়' শব্দজোড়ের অর্থ কী?
  1. মূল্য - প্রহরী
  2. মূল্য - প্রধান
  3. মূল্য - মজবুত
  4. মূল্য - স্ত্রী
ব্যাখ্যা
'দর' শব্দের অর্থ - মূল্য। 
'দড়' শব্দের অর্থ- কঠিন, মজবুত। 

এরূপ কিছু গুরুত্বপূর্ণ শব্দজোড় হলো:
দার - স্ত্রী।  
দাঁড় - নৌকার বৈঠা। 

দ্বারী - প্রহরী। 
দাঁড়ি - যতিচিহ্ন। 
দাড়ি - শ্মশ্রু।  

ধর - ধারণকারী। 
ধড় - দেহ। 

ধরা - স্পর্শ করা, পৃথিবী। 
ধড়া - কটিবস্ত্র। 

ধারী - ধারণকারী। 
ধাড়ি - প্রধান, সর্দার। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৫৩.
'জাঁতি' শব্দের অর্থ -
  1. সুপারি কাটার যন্ত্র
  2. দেশীয় জনসমষ্টি
  3. ফুল-বিশেষ
  4. হাতের গয়না-বিশেষ
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,

'জাঁতি' শব্দের অর্থ:
- সুপারি কাটার যন্ত্র,
- সরতা,
- জাঁতাকল।

অন্যদিকে,
জাতি - দেশীয় জনসমষ্টি,
জাতী - ফুল-বিশেষ, 
চুড় - হাতের গয়না-বিশেষ।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
৫৪.
কূট-জটিল; কুট অর্থ কী?
  1. বংশ
  2. পর্বত
  3. কর্মকুশল
  4. পাঁক
ব্যাখ্যা
কূট-জটিল; কুট অর্থ -পর্বত।

• এছাড়া ও বাংলাভাষায় সমোচ্চারিত  অন্য শব্দসমূহ: 

•মূল শব্দ -  প্রতিশব্দ।
কুট - পর্বত,
কূট - জটিল,
কুল - বংশ,
কূল- তীর,
কৃতি- কাজ,
কৃতী - কর্মকুশল,
কাঁদা -ক্রন্দন 
কাদা - পাঁক।

উৎস : বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি (২০২৫ সংস্করণ)।
৫৫.
'গুটিটা কাঁচালে কেন?' এখানে 'কাঁচা' শব্দটি কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. অপূর্ণ
  2. নতুন করে শুরু করা
  3. অদক্ষ
  4. অপ্রাপ্ত বয়স্ক
ব্যাখ্যা

'কাঁচা' পদের বিশিষ্টার্থে প্রয়োগ:
• 'অপূর্ণ' অর্থে- কাঁচা ঘুমে জাগিয়ো না।
• 'অদক্ষ' অর্থে- ছেলেটার বুদ্ধি কাঁচা।
• 'অপ্রাপ্ত বয়স্ক' অর্থে- ছেলেটার কাঁচা বয়েস।
• 'মাটির তৈরি' অর্থে- কাঁচা রাস্তায় বর্ষাকালে কাদা হয়।
'নতুন করে শুরু করা' অর্থে- গুটিটা কাঁচালে কেন?
• 'অল্প জ্ঞান' অর্থে- মেয়েটা অঙ্কে কাঁচা।
• 'কালো' অর্থে- বৃদ্ধলোকদের চুল কাঁচা থাকে না।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 

৫৬.
‘নিবৃত’ ও ‘নিভৃত’ - শব্দজোড়ের মধ্যে মিল কোথায়?
  1. উচ্চারণে
  2. বানানে
  3. অর্থে
  4. শব্দশ্রেণিতে
ব্যাখ্যা
- উল্লেখিত প্রশ্নে 'নিবৃত' ও 'নিভৃত' শব্দজোড়টিতে উচ্চারণে মিল রয়েছে।
- তবে ব্যবহারিকভাবে উভয়ই ভিন্ন অর্থ বহন করে।

- নিবৃত শব্দের অর্থ - আবৃত।
- নিভৃত শব্দের অর্থ - গোপন।
অর্থাৎ উভয় শব্দ উচ্চারণে এক হলেও অর্থের দিক হতে ভিন্ন।

• উল্লেখযোগ্য আরো কয়েকটি শব্দজোড়:
বিচি – বীজ
বীচি – ঢেউ

বিত্ত – ধন
বৃত্ত – গোলাকার।

বিনা – ব্যতীত।
বীণা – বাদ্যযন্ত্র বিশেষ।

বিশ – ২০ সংখ্যা।
বিষ – গরল

বিস্মিত – চমৎকৃত।
বিস্মৃত – ভুলে যাওয়া।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৫৭.
'দৃপ্ত ও দীপ্ত' শব্দজোড়টি কী অর্থ প্রকাশ করে?
  1. প্রদীপ ও উজ্জ্বল
  2. ধোঁয়া ও আলো
  3. প্রদীপ ও প্রাচুর্য
  4. বলিষ্ঠ ও উজ্জ্বল
ব্যাখ্যা
• 'দৃপ্ত' শব্দের অর্থ - বলিষ্ঠ। 
• 'দীপ্ত' শব্দের অর্থ - উজ্জ্বল। 

অন্যদিকে, 
• দীপ - প্রদীপ।
• দ্বীপ - জলবেষ্টিত ভূখণ্ড। 

• দূতী - নারী সংবাদবাহক। 
• দ্যুতি - আলো।

• ধুম - প্রাচুর্য।
• ধূম - ধোঁয়া। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৫৮.
‘আপণ’- শব্দের অর্থ কি?
  1. ক) নিজ
  2. খ) দোকান
  3. গ) কাছের
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
‘আপণ’ শব্দের অর্থ - দোকান।

অন্যান্য সমোচ্চারিত শব্দ:
চীর - দীর্ঘকাল
চির - ছেঁড়া কাপড়
ছার - অধম
ছাড় - অনুমতি

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৯.
'বিদুর-বিদূর-বিধুর' শব্দজোড়ের অর্থ কী?
  1. দূরবর্তী-জ্ঞানী-ব্যথিত 
  2. ধীর-দূরবর্তী-কাতর 
  3. জ্ঞানী-বহুদূর-নেশগ্রস্থ 
  4. পণ্ডিত-দূরবর্তী-মোহগ্রস্থ 
ব্যাখ্যা

'বিদুর' অর্থ - ধীর, জ্ঞানী।  
'বিদূর' অর্থ- দূরবর্তী। 
'বিধুর' অর্থ- কাতর। 

এরূপ কিছু গুরুত্বপূর্ণ শব্দজোড় হলো-
বাদিত - ধ্বনিত। 
বাধিত - কৃতার্থ। 

বালি - বালু। 
বালী - কিষ্কিন্ধ্যার রাজা।  

বাসি - টাটকা নয়। 
বাসী - বসবাসকারী। 

বিচি - বীজ। 
বীচি - ঢেউ। 

বিস্মিত - আশ্চর্যান্বিত। 
বিস্মৃত - যা মনে নেই। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।  

৬০.
'নাড়ী' অর্থ শিরা; 'নারি' শব্দটির অর্থ -
  1. পানি
  2. স্ত্রীলোক
  3. না পারি
  4. মানবী
ব্যাখ্যা
• 'নারি':
- শব্দটি ক্রিয়া।
- এটি বাংলা শব্দ।
অর্থ:
- না পারি (যারে দেখতে নারি তার চলন বাঁকা)।

উল্লেখ্য,
'নারী' শব্দের অর্থ - 'মানবী'/স্ত্রীলোক। 

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৬১.
'আষাঢ়' ও 'আসার' শব্দের অর্থ যথাক্রমে-
  1. বর্ষণ ও বর্ষণ
  2. মাসের নাম ও বর্ষণ
  3. বর্ষণ ও সারহীন
  4. মাসের নাম ও সারহীন
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

• আষাঢ় - মাসের নাম।
• আসার - ১ প্রবল বৃষ্টিপাত (ধারাসার)। ২ জলকণা; জলস্রাব।

কিছু সমোচ্চারিত শব্দ:
- কপাল -ললাট
- কপোল- গাল, গণ্ডদেশ

- খড় - বিচালি
- খর - তীব্র

- গোঁড়া -অন্ধভক্ত
- গোড়া -মূলঅংশ

উৎস: ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।

৬২.
'ছাঁদ' শব্দের অর্থ কোনটি?
  1. আকৃতি
  2. চাল
  3. ধরণ
  4. গঠন
ব্যাখ্যা
শব্দজোড়:
বাংলা ভাষায় এমন কিছু শব্দ আছে, যেগুলোর উচ্চারণ এক অথবা প্রায় এক, কিন্তু অর্থ ভিন্ন; এমন যুগল শব্দকে শব্দজোড় বলে।
- অধিকাংশ ক্ষেত্রে এদের বানান ভিন্ন হয়, তবে উচ্চারণ এক হওয়ায় কানে শুনে এদের পার্থক্য করা যায় না। বাক্যে ব্যবহৃত হলে প্রসঙ্গ বিবেচনায় এসব শব্দের পার্থক্য বোঝা যায় ।

কিছু শব্দজোড়ের উদাহরণ:
• কুল - বংশ।
• কূল - তীর।
• চির - দীর্ঘ।
• চীর - ছিন্নবস্ত্র।
ছাঁদ - আকৃতি
• ছাদ - চাল।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৬৩.
'শরণ-সরণ' শব্দজোড় কী অর্থ প্রকাশ করে?
  1. মনে করা - আশ্রয়
  2. আশ্রয় - গমন
  3. আশ্রয় - শ্রবণ করা
  4. মনে করা - স্বর্ণ
ব্যাখ্যা

• 'শরণ' অর্থ - আশ্রয়। 
• 'সরণ' অর্থ - গমন।

উল্লেখ্য,  
স্মরণ - মনে করা। 

এরূপ কিছু গুরুত্বপূর্ণ শব্দজোড় হলো-
• শবল - চিত্রিত, নানা বর্ণযুক্ত। 
• সবল- শক্তিমান। 

• শোনা - শ্রবণ করা। 
• সোনা - স্বর্ণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

৬৪.
"পাকা ইটের বাড়ি খুব শক্ত মজবুত।" এখানে 'পাকা' শব্দটি কী অর্থ প্রকাশ করেছে?
  1. অভিজ্ঞ
  2. খাঁটি
  3. স্থায়ী
  4. পোড়ানো
  5. ক ও গ
ব্যাখ্যা
• 'পাকা' শব্দের আভিধানিক বা সাধারণ অর্থ: পক্ব, পরিণত। 

বিশেষ অর্থ:
১. পাকা ইট (পোড়ানো)- পাকা ইটের বাড়ি খুব শক্ত মজবুত।
২. পাকা (অভিজ্ঞ) - রহমান সাহেব পাকা ডাক্তার।
৩. পাকা সোনা (খাঁটি) - পাকা সোনার অলংকার টিকে বেশি।
৪. পাকারং (স্থায়ী) - পাকারঙের শাড়ি দামে সস্তা নয়।
৫. পাকা চুল (সাদা) - সে পাকা চুলে রঙ দিয়েছে।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৫.
'দুই ভাইয়ের মধ্যে কোন কথা নেই'। এখানে 'কথা' শব্দটি কোন অর্থে প্রয়োগ করা হয়েছে?
  1. ক) গল্প
  2. খ) তর্ক
  3. গ) অসৎভাব
  4. ঘ) পরামর্শ
ব্যাখ্যা
বাংলা ভাষায় কতকগুলো বিশেষ্য, বিশেষণ ও ক্রিয়া-জাতীয় পদ রয়েছে যেগুলো বাক্যে বিশিষ্ট অর্থে ব্যবহৃত হয় এবং একই শব্দ ভিন্ন ভিন্ন বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে ভিন্ন ভিন্ন অর্থ প্রকাশ করে। এ জাতীয় বাক্যের পরিবেশ ও পরিস্থিতির সঙ্গে সঙ্গতি রেখে এক একটা শব্দের অর্থ নির্ণীত হয়ে থাকে।

যেমন: 'কথা' শব্দের অর্থ মনের ভাব প্রকাশ করা,  কোন কিছু বলা।
কিন্তু, "দুই ভাইয়ের মধ্যে কোন কথা নেই।" এ বাক্যে 'কথা' শব্দটি মনোমালিন্য বা অসৎভাব বোঝাতে প্রয়োগ হয়েছে।

তেমনিভাবে, 'গা' শব্দের আর্থ দেহ, শরীর। কিন্তু,
কাজে গা লাগা- এ বাক্যে গা শব্দটি 'মনোযোগ' অর্থ বোঝাতে ব্যবহৃত হয়েছে হয়েছে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৬৬.
'ফিক-ফীক' শব্দজোড়টি কী অর্থ প্রকাশ করে?
  1. কোকিল - কাক
  2. কোকিল - ময়ূর
  3. ময়ূর - মৃদু হাসি
  4. মৃদু হাসি - কোকিল
ব্যাখ্যা
• 'ফিক' শব্দের অর্থ - মৃদু হাসি। 
• 'ফীক' শব্দের অর্থ - কোকিল। 

এরূপ কিছু শব্দজোড় হলো:
• পরভূত - কোকিল। 
• পরভৃৎ - কাক। 

• ফাড়া - ছেঁড়া। 
• ফাঁড়া - বিপদ আশঙ্কা। 

• ফোড়া - ব্রণ। 
• ফোঁড়া - ছিদ্র বা বিদ্ধ করা। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৬৭.
'তার ব্যক্তিসত্ত্ব এখনো বিকাশিত হয়নি' এখানে 'সত্ত্ব' কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ক) অস্তিত্ব
  2. খ) মালিকানা
  3. গ) স্বামিত্ব
  4. ঘ) যথার্থ
ব্যাখ্যা
প্রায় সমোচ্চারিত ভিন্নার্থক শব্দ - 
সত্তা - অস্তিত্ব
সত্ত্ব - সত্তা, অস্তিত্ব
সত্য - ঠিক, যথার্থ
স্বত্ব - অধিকার 

'তার ব্যক্তিসত্ত্ব এখনো বিকাশিত হয়নি' এখানে 'সত্ত্ব' 'অস্তিত্ব' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬৮.
‘অর্ঘ’ শব্দের অর্থ কী?
  1. জৈন সন্ন্যাসী
  2. দাম
  3. পূজা
  4. পূজার উপকরণ
ব্যাখ্যা
• শব্দজোড়:
বাংলা ভাষায় এমন কিছু শব্দ আছে, যেগুলোর উচ্চারণ এক অথবা প্রায় এক, কিন্তু অর্থ ভিন্ন; এমন যুগল শব্দকে শব্দজোড় বলে।
- অধিকাংশ ক্ষেত্রে এদের বানান ভিন্ন হয়, তবে উচ্চারণ এক হওয়ায় কানে শুনে এদের পার্থক্য করা যায় না। বাক্যে ব্যবহৃত হলে প্রসঙ্গ বিবেচনায় এসব শব্দের পার্থক্য বোঝা যায় ।

- কিছু শব্দজোড়ের উদাহরণ:
• অর্হণ - পূজা।
• অর্হন - জৈন সন্ন্যাসী।
• অর্ঘ - দাম
• অর্ঘ্য - পূজার উপকরণ।
• আত্ম - স্বীয়।
• আত্ত - প্রাপ্ত।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ), বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬৯.
'ঝুড়ি' শব্দের অর্থ -
  1. তীর
  2. ছোটো গাছ
  3. বটের শিকড়
  4. চাঙাড়ি
ব্যাখ্যা
• 'ঝুড়ি' শব্দের অর্থ - চাঙাড়ি

অন্যদিকে,
'ঝুরি' শব্দের অর্থ - বটের শিকড়।
'চারা' শব্দের অর্থ - ছোটো গাছ।
'কূল' শব্দের অর্থ - তীর।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৭০.
শব্দের প্রাণ হচ্ছে -
  1. ক) ধ্বনি
  2. খ) বর্ণ
  3. গ) অক্ষর
  4. ঘ) অর্থ
ব্যাখ্যা
অর্থপূর্ণ শব্দের দ্বারা মানুষ পারস্পরিক ভাবের আদান-প্রদান করে। আর অর্থ হচ্ছে শব্দের প্রাণ।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণি
৭১.
'দূতী' ও 'দ্যুতি' শব্দজোড়ের অর্থ -
  1. ক) আলো, নারী সংবাদবাহক।
  2. খ) অন্ধকার, নারী সংবাদবাহক।
  3. গ) নারী সংবাদবাহক, আলো।
  4. ঘ) অন্ধকার, নারী সংবাদবাহক।
ব্যাখ্যা
- প্রদত্ত প্রশ্নে শব্দজোড় উচ্চারণে এক হলেও বানান ও অর্থে বৈসাদৃশ্য রয়েছে।

- 'দূতী' অর্থ হচ্ছে নারী সংবাদবাহক।
- 'দ্যুতি' অর্থ হচ্ছে আলো।

• উল্লেখযোগ্য আরো কয়েকটি শব্দজোড় ও অর্থ:
দারা - স্ত্রী।
দ্বারা - দিয়ে।

দার - স্ত্রী।
দ্বার - দরজা।

তরণী - নৌকা।
তরুণী – যুবতী।

তারা – নক্ষত্র।
নিতি – রোজ।

পিন – আলপিন।
পীন – স্থূল।

দন্ত – দাঁত।
দন্ত্য – দাঁত বিষয়ক।

দিন – দিবস।
দীন – দরিদ্র।

দীপ – প্রদীপ।
দ্বীপ – জলবেষ্টিত ভূখণ্ড।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।
৭২.
কোন বাগ্‌ধারাটি দ্বারা 'আগ্রহ' বোঝায়?
  1. মাথা ধরা
  2. মাথা ব্যথা
  3. মাথা ঘামান
  4. মাথা খাওয়া
ব্যাখ্যা

"মাথা ব্যথা" বাগধারাটি দ্বারা - আগ্রহ, মনোনিবেশ, মনোযোগ দেওয়া বোঝায়।
 -----------------

• ‘মাথা’ সম্পর্কিত বাগ্‌ধারার অর্থ:
- মাথা ধরা = রোগ বিশেষ।
- মাথা ব্যথা = আগ্রহ।
- মাথা দেওয়া = দায়িত্ব গ্রহণ।
- মাথাপিছু = জনপ্রতি।
- গাঁয়ের মাথা = মোড়ল।
- মাথা খাওয়া = শপথ করা।
- মাথা ঘামানো = ভাবনা করা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৭৩.
'উপর্যুক্ত' শব্দটির অর্থ কী ?
  1. ক) উপযুক্ত
  2. খ) উপরের
  3. গ) উপরে উল্লিখিত
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• উপর্যুক্ত (বিশেষণ):
- এর সঠিক উচ্চারণ হচ্ছে উপোর্‌জুক্‌তো।
- এর সঠিক প্রকৃতি ও প্রত্যয় হচ্ছে উপরি + উক্ত।
- এর অর্থ হচ্ছে পূর্বে কথিত বা উল্লেখ করা হয়েছে এমন।

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
৭৪.
‘শরণ-স্বরণ’ শব্দজোড়টি কী অর্থ প্রকাশ করে?
  1. ডাক - স্মৃতি
  2. স্মৃতি - আশ্রয়
  3. স্মৃতি - ডাক
  4. আশ্রয় - স্মৃতি
ব্যাখ্যা
• ‘শরণ’ অর্থ - আশ্রয়।
• ‘স্বরণ’ অর্থ - স্মৃতি।

এরূপ কিছু শব্দজোড় হলো:
• ‘জাল’ শব্দের অর্থ - ফাঁদ।
• ‘জ্বাল’ শব্দের অর্থ - অগ্নিশিখা।

• ‘করী’ শব্দের অর্থ - হাতি।
• ‘কড়ি’ শব্দের অর্থ - অর্থ।

- ‘অবগত’ অর্থ - জানা।
- ‘অপগত’ অর্থ - দূরীভূত।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ সংস্করণ) এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৭৫.
"প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় শিকড় যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই শীতের সকালে জমে থাকা শীকর ফসলের জন্য আশীর্বাদ।" - নিম্নরেখ শব্দগুলোর অর্থ যথাক্রমে -
  1. শিকড়: গাছের মূল; শীকর: গাছের ফল
  2. শিকড়: গাছের মূল; শীকর: জলকণা
  3. শিকড়: গাছের পাতা; শীকর: ভোরের আলো
  4. শিকড়: মাটির গর্ত; শীকর: মূল
ব্যাখ্যা
• বাক্যটি:
- "প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় শিকড় যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই শীতের সকালে জমে থাকা শীকর ফসলের জন্য আশীর্বাদ।"

এখানে, 
• শিকড় শব্দের অর্থ: গাছের মূল;
• শীকর শব্দের অর্থ: জলকণা

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ, বাংলা একাডেমি অভিধান।
৭৬.
’অনুপ - অনূপ’ শব্দজোড় কী অর্থ প্রকাশ করে?
  1. মেঘ - কণা
  2. পাশ্চৎ - অদম
  3. উপমাহীন - বিল
  4. অপর - ভাত
ব্যাখ্যা

’অনুপ’ শব্দের অর্থ- উপমাহীন।
’অনূপ’ শব্দের অর্থ- জলা, বিল।

• আরো কিছু প্রায়- সমোচ্চারিত ভিন্নার্থক শব্দ।

'অণু' শব্দের অর্থ ক্ষুদ্রতম অংশ।
'অনু' শব্দের অর্থ - পশ্চাৎ।

’অনিষ্ট’ - ক্ষতি।
’অনিষ্ঠ’ - নিষ্ঠাহীন।

’অন্ত্য’- শেষ।
’অন্তঃ’- ভিতর।

’অন্ন’- ভাত।
’অন্য’- অপর।

’অন্যান্য’ - অপরাপর।
’অনন্য’ - একক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।

৭৭.
'দিন যায় কথা থাকে'- এখানে 'যায়' কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ক) গমন
  2. খ) অতিবাহিত
  3. গ) বলা
  4. ঘ) ধারাবাহিকতা
ব্যাখ্যা
'দিন যায় কথা থাকে'- এখানে 'যায়' সময় বয়ে যাওয়া বা সময় অতিবাহিত হওয়া অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে
৭৮.
‘মাথা দেওয়া’ শব্দটির অর্থ কী?
  1. ক) ভাবনা করা
  2. খ) শপথ করা
  3. গ) দায়িত্ব গ্রহণ
  4. ঘ) আগ্রহ
ব্যাখ্যা
- ‘মাথা দেওয়া’ শব্দটির অর্থ হচ্ছে দায়িত্ব গ্রহণ।

• বিশেষ অর্থ:
- মাথা ধরা (মাথায় যন্ত্রণা হওয়া) ওষুধ খেয়ে রুগির মাথা ধরা কমেছে।
- মাথা পাতা (সম্মত হওয়া) এ কাজে আমি মাথা পাততে পারি না। 
- মাথা আসা ( বোধগম্য হওয়া) অঙ্কটি কিছুতেই আমার মাথায় আসছে না।
- মাথা খাওয়া (নষ্ট করা) অতি আদর দিয়ে ছেলেটার মাথা খেয়ো না।
- মাথা ঠেকান (প্রণাম করা) ও আমার দেশের মাটি, তোমার তরে ঠেকাই মাথা৷
- মাথায় উঠা (প্রশয় পাওয়ার) আদর পেয়ে ছেলেটা মাথায় উঠে যাচ্ছে। 
- মাথা গরম করা (চটিয়া যাওয়া) এত অল্পে ছেলেটা মাথায় উঠে যাচ্ছে।
- চোখের মাথা খাওয়া (অন্ধ হওয়া) চোখের মাথা না খেলে কেউ এমন কাজ করতে পারে?
- মাথার দিব্যি (শপথ) মাথার দিব্যি, দয়া করে এ কাজ করো না।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৯.
‘অনু’ এবং ‘অণু’ - এই শব্দ দুটির মধ্যে তফাত কোন ক্ষেত্রে?
  1. উচ্চারণে ও বানানে
  2. বানানে ও অর্থে
  3. উচ্চারণে ও অর্থে
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
• শব্দজোড়: 
- বাংলা ভাষায় এমন কিছু শব্দ আছে, যেগুলোর উচ্চারণ এক অথবা প্রায় এক, কিন্তু অর্থ ভিন্ন;
- এমন যুগল শব্দকে শব্দজোড় বলে।
- অধিকাংশ ক্ষেত্রে এদের বানান ভিন্ন হয়, তবে উচ্চারণ এক হওয়ায় কানে শুনে এদের পার্থক্য করা যায় না।
- বাক্যে ব্যবহৃত হলে প্রসঙ্গ বিবেচনায় এসব শব্দের পার্থক্য বোঝা যায়।

• অনু’ এবং ‘অণু’ এই শব্দ দুটির মধ্যে বানান ও অর্থের পার্থক্য রয়েছে। 

• অনু (অব্যয়):  
- সংস্কৃত শব্দ। 

অর্থ: 
- অনুরূপ, অনুযায়ী, 
- পশ্চাৎ, পেছন দিক। 

• ‘অণু' (বিশেষ্য):  
- সংস্কৃত শব্দ। 

অর্থ: 
- মৌলিক বা যৌগিক পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণা যা ভাগ করলে সেই পদার্থের গুণ লুপ্ত হয়। 

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
৮০.
‘শ্বশ্রূ’ শব্দের অর্থ নিচের কোনটি?
  1. ক) চোখের জল
  2. খ) দাড়ি
  3. গ) শাশুড়ি
  4. ঘ) আশ্রয়
ব্যাখ্যা
অন্যান্য শব্দের অর্থ:
‘শ্বশ্রূ’ শব্দের অর্থ  - শাশুড়ি।
শ্মশ্রু - দাড়ি।
শরণ - আশ্রয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি
৮১.
'ম্যাও ধরা' এর রীতিসিদ্ধ প্রয়োগ কোনটি?
  1. অনুরোধ করা
  2. কণ্ঠ রুদ্ধ হওয়া
  3. দায়িত্ব নেওয়া
  4. একগুয়েমি করা
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
ম্যাও ধরা - দায়িত্ব নেওয়া৷
হাতে-পায়ে ধরা - অনুরোধ করা৷
গলা ধরা - কণ্ঠ রুদ্ধ হওয়া৷
গোঁ ধরা - একগুয়েমি করা।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণি
৮২.
‘এত অল্প টাকায় মাস চলবে না' এই চলা কোন অর্থ প্রকাশ করেছে?
  1. ক) সংকুলান হওয়া
  2. খ) প্রচলিত হওয়া
  3. গ) অবলম্বন করা
  4. ঘ) সময় দেয়া
ব্যাখ্যা
প্রশ্নোক্ত বাক্যে ‘চলা’ শব্দটি সংকুলান হওয়া অর্থ প্রকাশ করে।
‘চলা’র নানা অর্থ রয়েছে।
যেমন- যাত্রা করা, অগ্রসর হওয়া, শুরু করা, অতিবাহিত হওয়া, চালু হওয়া প্রভৃতি।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
৮৩.
‘অণু ও অনু’ শব্দজোড়টি কী অর্থ প্রকাশ করে?
  1. শেষ ও ক্ষুদ্রতম অংশ
  2. ক্ষুদ্রতম অংশ ও দূরীভূত
  3. শেষ ও ভিতর
  4. ক্ষুদ্রতম অংশ ও পশ্চাৎ
ব্যাখ্যা
• শব্দজোড়: 
বাংলা ভাষায় এমন কিছু শব্দ আছে, যেগুলোর উচ্চারণ এক অথবা প্রায় এক কিন্তু অর্থ ভিন্ন, এমন যুগল শব্দকে শব্দজোড় বলে।

অধিকাংশ ক্ষেত্রে এদের বানান ভিন্ন হয়, তবে উচ্চারণ এক হওয়ায় কানে শুনে এদের পার্থক্য করা যায় না।বাক্যে ব্যবহৃত হলে প্রসঙ্গ বিবেচনায় এসব শব্দের পার্থক্য বোঝা যায়।

নিচে কিছু শব্দজোড়ের উদাহরণ:
- ‘অণু’ অর্থ - ক্ষুদ্রতম অংশ।
- ‘অনু’ অর্থ - পশ্চাৎ। 

এরূপ-
- ‘রতি’ অর্থ - পরিমাণ।
- ‘রথী’ অর্থ - রথের আরোহী।

- ‘শরণ’ অর্থ - আশ্রয়।
- ‘স্বরণ’ অর্থ - স্মৃতি।

- ‘অবগত’ অর্থ - জানা।
- ‘অপগত’ অর্থ - দূরীভূত।

- ‘অকুল’ অর্থ - নীচ বংশ।
- ‘অকূল’ অর্থ - তীরহীন। 

- ‘অন্ত্য’ অর্থ  - শেষ।
- ‘অন্তঃ’ অর্থ - ভিতর।

- ‘অনিষ্ট’ অর্থ - ক্ষতি।
- ‘অনিষ্ঠ’ অর্থ - নিষ্ঠাহীন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ সংস্করণ) এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৮৪.
সমার্থক অর্থ প্রকাশ করে কোন শব্দজোড়টি?
  1. স্রবণ - স্রুতি
  2. শোনা - স্রুতি
  3. স্রবণ - শ্রুতি
  4. সোনা - শ্রবণ
ব্যাখ্যা

• সমার্থক অর্থ প্রকাশ করে কোন 'স্রবণ - স্রুতি' শব্দজোড়টি। 
'স্রবণ' অর্থ - ক্ষরণ। 
'স্রুতি' অর্থ - ক্ষরণ। 

এরূপ কিছু শব্দজোড় হলো- 
শোনা - শ্রবণ করা। 
সোনা - স্বর্ণ। 

শ্রবণ - কর্ণ, শোনা। 
স্রবণ - ক্ষরণ। 

স্রুতি - ক্ষরণ। 
শ্রুতি - শ্রবণ। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৮৫.
‘উপনয়’ শব্দের অর্থ কী?
  1. আগমন
  2. উপহার
  3. জলযোগ
  4. পুরস্কার
ব্যাখ্যা
• শব্দজোড়:
বাংলা ভাষায় এমন কিছু শব্দ আছে, যেগুলোর উচ্চারণ এক অথবা প্রায় এক, কিন্তু অর্থ ভিন্ন; এমন যুগল শব্দকে শব্দজোড় বলে।
- অধিকাংশ ক্ষেত্রে এদের বানান ভিন্ন হয়, তবে উচ্চারণ এক হওয়ায় কানে শুনে এদের পার্থক্য করা যায় না। বাক্যে ব্যবহৃত হলে প্রসঙ্গ বিবেচনায় এসব শব্দের পার্থক্য বোঝা যায় ।

- কিছু শব্দজোড়ের উদাহরণ:
• উপনয় - আগমন
• উপানয় - উপহার।
• উপহার - পুরস্কার।
• উপাহার - জলযোগ।
• উৎপত - পাখি।
• উৎপথ - বিপথ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮৬.
“আর কষ্ট দিয়ে কী লাভ?” এখানে ‘আর’ এর অর্থ কোনটি?
  1. এরপর
  2. অব্যবহিত পরেই
  3. তদুপরি
  4. এখন
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: গ) তদুপরি।

ব্যাখ্যা:
"আর কষ্ট দিয়ে কী লাভ?" — এই বাক্যে 'আর' মানে "তদুপরি" অর্থাৎ "এর উপরে আরও" বা "অতিরিক্ত"।
বাক্যের ভাব হলো — ইতোমধ্যে যে কষ্ট হয়েছে তার উপরে আরও (তদুপরি) কষ্ট দিয়ে লাভ কী?
--------------------
আর /আর্‌/ (অব্য.): 

১. এবং, ও (তুমি আর আমি)।
২. এরপর (আমি আর ওখানে যাচ্ছি না)।
৩. অথবা (মারো আর কাটো ও যাবে না)।
৪. তদুপরি (আর কষ্ট দিয়ে কী লাভ)।
৫. এখন (সেই দিন কি আর আছে)।
6. কাজেই (সেখানে আর যাওয়ার প্রশ্ন ওঠে না)।
৭. আক্ষেপ অবসাদ হতাশা ক্রোধ বিস্ময় বিরক্তি প্রভৃতিবোধক শব্দ (ওর কথা আর বোলো না)।

আর /আর্‌/ (বিণ.):
১. দ্বিতীয় (এই বিষয়ে ওঁর চেয়ে ভালো শিক্ষক আর নেই)।
২. বিগত (আর বছরে ভালো ফলন হয়েছিল)।
৩. আগামী (আর বুধবারে আমিও যাব)।
৪. অপর , অন্য (আর কেউ জানে না)।
৫. অধিক, এর বেশি (এরপর আর কী বলব)।
৬. অভিন্ন (উনিশ আর বিশ)।

আর /আর্‌/ (ক্রিবিণ.):
১. ভবিষ্যতে (আর এমন কাজ করো না)।
২. যুগপৎ (দেখি আর অবাক হই)।
৩. পরপর (আমি কেবল যাব আর আসব)।
৪. পক্ষান্তরে (ও খেটে মরছে আর তোমরা বসে আছ)।
৫. অব্যবহিত পরেই (তুমিও গেলে আর বৃষ্টিও থামলো)। 

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

৮৭.
'দুর্ভাগ্যবশত সভায় উপস্থিত হতে পারি নি।' বাক্যটিতে 'বশত' কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ক) নিমিত্ত
  2. খ) কারণ
  3. গ) বিরতি
  4. ঘ) প্রসঙ্গ
ব্যাখ্যা

• 'দুর্ভাগ্যবশত সভায় উপস্থিত হতে পারি নি।' বাক্যটিতে 'বশত' কারণ অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
• 'তোমার তরে এনেছি মালা গাঁথিয়া।'- এখানে 'তরে' অনুসর্গটি নিমিত্ত অর্থ প্রকাশ করছে।
• 'শরতের পর আসে বসন্ত।', বাক্যটিতে 'পর' অনুসর্গটি দীর্ঘ বিরতি অর্থ প্রকাশ করছে।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

৮৮.
‘অপলাপ’ শব্দের অর্থ কী?
  1. ক) মিথ্যাচার
  2. খ) অস্বীকার
  3. গ) প্রলাপ
  4. ঘ) সদালাপ
ব্যাখ্যা
'অপলাপ' শব্দের অর্থ- অস্বীকার, গোপন,মিথ্যা উক্তি।


উৎস: আধুনিক বাংলা একাডেমি অভিধান
৮৯.
নিম্নের কোন শব্দটি বাকিগুলো থেকে আলাদা?
  1. ক) দুহিতা
  2. খ) ললনা
  3. গ) ননিতা
  4. ঘ) অঙ্গনা
ব্যাখ্যা

নারী শব্দের সমার্থক শব্দগুলি হচ্ছে - ললনা, ননিতা, অঙ্গনা, মানবী, মহিলা, স্ত্রী, স্ত্রীলোক, মেয়ে।

অন্যদিকে কন্যা শব্দের সমার্থক শব্দগুলি হচ্ছে - দুহিতা, আত্মজা, নন্দিনী, তনয়া, পুত্রী, ঝি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যকরণ (নবম-দশম শ্রেণি)।

৯০.
'ক্রূর' শব্দের অর্থ কী?
  1. কোল
  2. কোটি
  3. খোঁপা
  4. নিষ্ঠুর
ব্যাখ্যা
- 'ক্রূর' শব্দের অর্থ হচ্ছে - 'নিষ্ঠুর'।

প্রায় সমোচ্চারিত শব্দ:
- ক্রোড় - কোল,
- ক্রোর - কোটি,
- কবরী - খোঁপা।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।
৯১.
'অশ্ব এবং অশ্ম' এর অর্থ যথাক্রমে - 
  1. ঘোড়া-পাথর
  2. বাসস্থান-পাথর
  3. ঘোড়-বাসস্থান
  4. পাথর-ঘোড়া
ব্যাখ্যা

- অশ্ব – ঘোড়া;
- অশ্ম – পাথর।

সমোচ্চারিত ভিন্ন শব্দ:
- সমোচ্চারিত ভিন্ন শব্দ হলো এমন শব্দ, যেগুলোর উচ্চারণ এক বা প্রায় এক, কিন্তু অর্থ ভিন্ন।
- বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এদের বানানও ভিন্ন হয়।
- সাধারণভাবে কানে শুনে এদের পার্থক্য বোঝা যায় না।
- তবে বাক্যে ব্যবহৃত হলে প্রসঙ্গ অনুযায়ী পার্থক্য স্পষ্ট হয়।

• কিছু সমোচ্চারিত ভিন্ন শব্দের উদাহরণ:
- অণু – ক্ষুদ্রতম অংশ;
- অনু – পশ্চাৎ।

- অন্ত – শেষ;
- অন্তঃ – ভিতর।

- অন্ন – ভাত;
- অন্য – অপর।

- অন্যান্য – অপরাপর;
- অনন্য – একক।

- অপত্য – সন্তান;
- অপথ্য – যা পথ্য নয়। 

- অবিহিত – অন্যায়;
- অভিহিত – কথিত।

- অর্ঘ – দাম;
- অর্ঘ্য – পূজার উপকরণ।

- আঁশ – তন্তু;
- আঁষ – আমিষ।

- আদা – মসলাবিশেষ;
- আধা – অর্ধেক।

- আবরণ – আচ্ছাদন;
- আভরণ – অলংকার। 

- আভাস – ইঙ্গিত;
- আবাস – বাসস্থান
 
- আশা – আকাঙ্ক্ষা;
- আসা – আগমন।

- ইস্ত্রি – ধোপার যন্ত্র;
- স্ত্রী – পত্নী।

- ওষধি – একবার ফল দেওয়া গাছ;
- ঔষধি – ভেষজ উদ্ভিদ।

- কটি – কোমর;
- কোটি – শত লক্ষ।

- কমল – পদ্ম;
- কোমল – নরম

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 

৯২.
‘নিরাস’ শব্দের অর্থ কী?
  1. ক) আশাহীন
  2. খ) প্রত্যাখ্যান
  3. গ) ক্ষান্ত
  4. ঘ) মৃত
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে, 
‘নিরাস’ সংস্কৃত শব্দ।

 ‘নিরাস’ শব্দের অর্থ - প্রত্যাখ্যান।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান, উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৩.
‘খাঁটি’ অর্থে ‘কাঁচা’ শব্দের ব্যবহার কোনটি?
  1. ক) কাঁচা আম
  2. খ) কাঁচা কথা
  3. গ) কাঁচা চুল
  4. ঘ) কাঁচা সোনা
ব্যাখ্যা
• কাঁচা (খাঁটি): গহনাটি একেবারেই কাঁচা সোনা দিয়ে তৈরি।

অন্যদিকে,
• কাঁচা কথা (গুরুত্বহীন কথা): এমন কাঁচা কথা বলো না।
• কাঁচা চুল (কালো চুল): গৃহিণীর ঘন কাঁচা চুলের মতোই বর্ষার আকাশ।
• কাঁচা বয়স (অপরিণত বয়স): মেয়েটির একেবারেই কাঁচা বয়স।
• কাঁচা ঘুম (অগভীর ঘুম): শিশুটির কাঁচা ঘুম ভেঙে গেছে ৷
• কাঁচা আম (অপরিপক্ক আম): কাঁচা আমগুলো গাছে ঝুলছে।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
৯৪.
বাইশ = ২২ সংখ্যা হয় ; ‘বাইস’ অর্থ কি?
  1. ক) অস্ত্র
  2. খ) দেয়াল
  3. গ) ধারালো যন্ত্র
  4. ঘ) কঠোর
ব্যাখ্যা
বাইস’ অর্থ কি - ধারালো যন্ত্র।

অন্যান্য শব্দের অর্থ :
বর্শা = অস্ত্রবিশেষ
প্রাকার = দেয়াল
পরুষ = কঠোর
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।
৯৫.
'শব্দজোড়' ব্যাকরণের কোন অংশে আলোচিত হয়?
  1. অর্থতত্ত্ব
  2. রূপতত্ত্ব
  3. বাক্যতত্ত্ব
  4. ধ্বনিতত্ত্ব
ব্যাখ্যা
• 'শব্দজোড়' ব্যাকরণের অর্থতত্ত্বে আলোচিত হয়।

• ব্যাকরণের আলোচ্য বিষয়:
- ব্যাকরণের আলোচ্য বিষয়কে অন্তত চারটি ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা-
১। ধ্বনিতত্ত্ব।
২। রূপতত্ত্ব।
৩। বাক্যতত্ত্ব ও
৪। অর্থতত্ত্ব।

অর্থতত্ত্ব:
- ব্যাকরণের যে অংশে শব্দ, বর্গ ও বাক্যের অর্থ নিয়ে আলোচনা করা হয়, সেই অংশের নাম অর্থতত্ত্ব।
- একে বাগর্থতত্ত্বও বলা হয়।
- বিপরীত শব্দ, প্রতিশব্দ, শব্দজোড়, বাগ্‌ধারা প্রভৃতি বিষয় অর্থতত্ত্বের অন্তর্ভুক্ত।
- এছাড়া শব্দ, বর্গ ও বাক্যের ব্যঞ্জনা নিয়েও ব্যাকরণের এই অংশে আলোচনা থাকে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ-২০২২)।
৯৬.
‘শিল’ ও ‘শীল’ - শব্দজোড়ের মধ্যে মিল কোথায়?
  1. অর্থে
  2. উচ্চারণে
  3. বানানে
  4. শব্দশ্রেণিতে
ব্যাখ্যা
• শব্দজোড়:
বাংলা ভাষায় এমন কিছু শব্দ আছে, যেগুলোর উচ্চারণ এক অথবা প্রায় এক, কিন্তু অর্থ ভিন্ন; এমন যুগল শব্দকে শব্দজোড় বলে।
- অধিকাংশ ক্ষেত্রে এদের বানান ভিন্ন হয়, তবে উচ্চারণ এক হওয়ায় কানে শুনে এদের পার্থক্য করা যায় না। বাক্যে ব্যবহৃত হলে প্রসঙ্গ বিবেচনায় এসব শব্দের পার্থক্য বোঝা যায় ।

- কিছু শব্দজোড়ের উদাহরণ:
• শকল - আঁশ।
• সকল - সব।
• সন - বছর।
• স্বন - শব্দ।
• শিল - পাথর।
• শীল - চরিত্র।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৯৭.
'সলিল-সলীল' শব্দজোড়ের অর্থ কী?
  1. জল - লীলাযুক্ত
  2. জল - মাটি
  3. ইচ্ছা - জল
  4. লীলাযুক্ত - মাটি
ব্যাখ্যা
'সলিল' শব্দের অর্থ - জল। 
'সলীল' শব্দের অর্থ - লীলাযুক্ত। 

এরূপ কিছু গুরুত্বপূর্ণ শব্দজোড় হলো:
সাক্ষর -  অক্ষরজ্ঞানসম্পন্ন। 
স্বাক্ষর - সই, দস্তখত।
 
সমর্থক - সমর্থনকারী। 
সমার্থক - একই অর্থবিশিষ্ট। 

সমীহ - সম্মান প্রদর্শন। 
সমীহা - চেষ্টা, ইচ্ছা। 

সংসদ - আইনসভা। 
সাংসদ - সংসদ-সদস্য। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৯৮.
'ক্রোড়-ক্রোর' শব্দজোড়টি কী অর্থ প্রকাশ করে?
  1. লক্ষসংখ্যক-পত্র
  2. পত্র-দলিল 
  3. দৌড়-টাকা 
  4. কোল-কোটি
ব্যাখ্যা

'ক্রোড়' অর্থ - কোল। 
'ক্রোর'  অর্থ - কোটি। 

এরূপ কিছু গুরুত্বপূর্ণ শব্দজোড় হলো-
খড় - তৃণ। 
খর - তীব্র। 

খদ্দর - কাপড়। 
খদ্দের - গ্রাহক। 

খরা - রৌদ্র। 
ক্ষরা - ক্ষরণ। 

খুর - পশুর পায়ের অংশ। 
ক্ষুর - কামানোর অস্ত্র। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)। 

৯৯.
'ধোঁয়া' শব্দের অর্থ -
  1. প্রক্ষালন
  2. ধৌত
  3. ধূম্র
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
'ধোঁয়া' শব্দের অর্থ - ধূম্র।
 
অন্যদিকে,
- 'ধোয়া' শব্দের অর্থ - ধৌত, প্রক্ষালন।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ) এবং আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
১০০.
'ধমনী ও স্ত্রীলোক' অর্থ প্রকাশ করে নিচের কোন শব্দজোড়টি?
  1. নারী - নাড়ি
  2. নাড়ি - নারী
  3. নারী - নারি
  4. নারি - নাড়ি
ব্যাখ্যা
• 'নাড়ি' শব্দের অর্থ - ধমনী। 
• 'নারী' শব্দের অর্থ - স্ত্রীলোক। 

অন্যদিকে, 
• 'নারি' শব্দের অর্থ - পারি না (কবিতায়)

এরূপ কিছু গুরুত্বপূর্ণ শব্দজোড় হলো:
• নীর - পানি। 
• নীড় - পাখির বাসা। 

• নিভৃত - গোপন। 
• নিবৃত্ত - বিরত। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।