বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

চর্যাপদের কবিগণ

মোট প্রশ্ন৩৭৫এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

চর্যাপদের কবিগণ

PrepBank · পাতা / · ১০১২০০ / ৩৭৫

১০১.
উল্লিখিতদের মধ্যে কে প্রাচীন যুগের কবি নন?
  1. রমনীপা
  2. জয়নন্দীপা
  3. কম্বলাম্বরপা
  4. দারিকপা
সঠিক উত্তর:
রমনীপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রমনীপা
ব্যাখ্যা
রমনীপা - প্রাচীন যুগের কবি নন।

চর্যাপদের কবিগণ:
- সুকুমার সেনের 'বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস' (প্রথম খণ্ড) গ্রন্থে চর্যাপদের ২৪ জন পদকর্তার নাম পাওয়া যায়। ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সম্পাদিত 'Buddhist Mystic Songs' গ্রন্থে চর্যাপদের ২৩ জন কবির নাম উল্লেখ আছে।
 
এরা হলেন:
- কাহ্নপা; কুক্কুরীপা; ধর্মপা; ঢেগুণপা; বিরুপা; বীণাপা; ভাদেপা; ভুসুকুপা, মহীধরপা, লুইপা; শবরপা; শান্তিপা; সরহপা; ডোম্বীপা; কম্বলাম্বরপা; গুণ্ডুরীপা; চাটিল্লপা; আর্যদেবপা; দারিকপা; তাড়কপা; কঙ্কণপা; জয়নন্দীপা; তন্ত্রীপা। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১০২.
কাহ্নপার রচিত কোন পদটি পাওয়া যায়নি?
  1. ৪৮ নং
  2. ২৪ নং
  3. ৪১ নং
  4. ১৯ নং
সঠিক উত্তর:
২৪ নং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৪ নং
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদের মোট ৩ টি পদ পাওয়া যায়নি এবং ১ টি পদ খণ্ডিত আকারে পাওয়া গেছে।

এগুলো হলো - 
- কাহ্নপার ২৪ নং পদটি পাওয়া যায়নি।
- তন্ত্রীপার ২৫ নং পদটি পাওয়া যায়নি।
- কুক্কুরীপার ৪৮ নং পদটি পাওয়া যায়নি।
- ভুসুকুপার ২৩ নং পদটি খন্ডিত আকারে পাওয়া গেছে।
----------- 
• কাহ্নপা:
- তিনি চর্যাপদের পদকর্তার মধ্যে সর্বাধিক পদ রচয়িতা।
- তিনি ছিলেন সহজিয়া তান্ত্রিক বৌদ্ধযোগী।
- তিনি ধর্মশাস্ত্র ও সঙ্গীত শাস্ত্র উভয় দিকেই দক্ষ ছিলেন।
- কাহ্নপা ১৩ টি পদ রচনা করেন। তার রচিত ২৪ নং পদটি পাওয়া যায় নি।
- চর্যাপদে কাহ্নিল, কাহ্নি, কৃষ্ণচর্য, কৃষ্ণবজ্রপাদ, কাহ্নু নামে লিখতেন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া। 
১০৩.
কাহ্নপা কোন রাজার রাজত্বকালে বর্তমান ছিলেন?
  1. ধর্মপাল
  2. দেবপাল
  3. গোপাল
  4. মহীপাল
সঠিক উত্তর:
দেবপাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দেবপাল
ব্যাখ্যা

কাহ্নপা:
- কাহ্নপা বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্য ও চর্যাপদকর্তা ছিলেন।
- প্রকৃত নাম কৃষ্ণাচার্য পাদ, অপভ্রংশে হয়েছে কাহ্নপা, কনহপা, কাহিল পা ইত্যাদি।
- বাংলা সাহিত্যের আদি নিদর্শন চর্যাপদের কবি গোষ্ঠীর মধ্যে তিনিই ছিলেন শ্রেষ্ঠ।
- পালরাজ দেবপালের রাজত্বকালে (আনু. ৯০০-৫০) তিনি বর্তমান ছিলেন।
- চর্যাপদের ২৩জন কবির মধ্যে কাহ্নপার পদসংখ্যা সর্বাধিক, মোট ১৩টি।
- তাঁর রচিত পদগুলো: ৭, ৯, ১০, ১১, ১২, ১৩, ১৮, ১৯, ৩৬, ৪০, ৪২, ৪৫ নং পদ উদ্ধার হয়েছে।
- কিন্তু ২৪ নং পদ টি পাওয়া যায়নি।
- তাই চর্যাপদে কাহ্নপার প্রাপ্ত পদ সংখ্যা ১২টি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১০৪.
চর্যাপদের ১নং পদ রচনা করেন -
  1. ভুসুকুপা
  2. কাহ্নপা
  3. লুইপা
  4. শবরপা
সঠিক উত্তর:
লুইপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লুইপা
ব্যাখ্যা
লুইপা: 
- লুইপা প্রবীণ বৌদ্ধসিদ্ধাচার্য ও চর্যাপদের একজন কবি।
- মুহাম্মদ শহীদুল্লার অনুমান: ৭৩০ থেকে ৮১০ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে লুইপা জীবিত ছিলেন।
- হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর মতে, লুইপা রাঢ় অঞ্চলের লোক।
- লুইপা চর্যাপদের ১ ও ২৯ নং পদ রচনা করেন। 

• তাঁর রচিত চর্যার প্রথম পদটি হলো-

কাআ তরুবর পাঞ্চ বি ডাল।
চঞ্চল চীএ পৈঠা কাল।।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
১০৫.
চর্যাপদের ২৮ ও ৫০নং পদের রচয়িতা -
  1. শবরপা
  2. ভুসুকুপা
  3. কাহ্নপা
  4. লুইপা
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
শবরপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শবরপা
ব্যাখ্যা
শবরপা:
- সহজিয়া বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্য ও চর্যাপদকর্তা।
- চর্যাপদ সঙ্কলনে শবর পা’র দুটি পদ (২৮, ৫০) আছে। উভয় পদে অরণ্যবাসী শবর-শবরী দম্পতির সাজসজ্জা, প্রেম-মিলন, মদ্যপান, পানোন্মত্ত নৃত্য, মৃত্যুজনিত বিরহ ইত্যাদির চিত্র আছে।
- তিনি ছিলেন নাগার্জুনের শিষ্য।
- তাঁর জীবনকাল ৬৮০-৭৬০ খ্রিস্টাব্দ বলে অনুমান করা হয়।
- শবরপা চর্যাপদের প্রথম পদকর্তা ও লুইপার গুরু ছিলেন।
- সংস্কৃত ও অপভ্রংশ মিলে তিনি মোট ১৬টি গ্রন্থ রচনা করেন।

শবরপা রচিত উল্লেখযোগ্য পঙক্তি -
"উষ্ণা উষ্ণা পাবত তহিঁ সবই সবরী বালী।
মোরাঙ্গ পীচ্ছ পরিহাণ সবী গীবত গুঞ্জরী।।"

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০৬.
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, কাকে চর্যাপদের সর্বাপেক্ষা প্রাচীন কবি হিসেবে মনে করেন?
  1. লুইপা
  2. কাহ্নপা
  3. ভুসুকুপা
  4. শবরপা
সঠিক উত্তর:
শবরপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শবরপা
ব্যাখ্যা
শবরপা:
- ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে, চর্যাপদের সর্বাপেক্ষা প্রাচীন কবি শবরপা।
- তিনি ছিলেন নাগার্জুনের শিষ্য।
- শবরপার জীবনকাল ৬৮০ - ৭৬০ খ্রিস্টাব্দ বলে অনুমান করা হয়।
- শবরপা চর্যাপদের প্রথম পদকর্তা ও লুইপার গুরু ছিলেন।
- ২৮ ও ৫০ নং পদের রচয়িতা তিনি।
- সংস্কৃত ও অপভ্রংশ মিলে তিনি মোট ১৬টি গ্রন্থ রচনা করেন।

শবরপা রচিত উল্লেখযোগ্য পঙক্তি -
"উষ্ণা উষ্ণা পাবত তহিঁ সবই সবরী বালী।
মোরাঙ্গ পীচ্ছ পরিহাণ সবী গীবত গুঞ্জরী।।"

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০৭.
'হাড়ীত ভাত নাঁহি নিতি আবেশী।' পঙ্‌ক্তিটির স্রষ্টা কে?
  1. কুক্কুরীপা
  2. ঢেণ্ডণপা
  3. ভুসুকুপা
  4. লুইপা
সঠিক উত্তর:
ঢেণ্ডণপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঢেণ্ডণপা
ব্যাখ্যা
• 'হাড়ীত ভাত নাঁহি নিতি আবেশী।' পঙ্‌ক্তিটির স্রষ্টা - ঢেণ্ডণপা

ঢেণ্ডণপা:
- ঢেণ্ডণপা নবম শতকের কবি ছিলেন।
- তিনি পেশায় তাঁতি ছিলেন।
- চর্যাপদের ৩৩নং পদটি তাঁর রচনা।
- তাঁর রচিত পদে বাঙালি জীবনের চিরায়ত দারিদ্র্যের ছবি চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে।

টালত মোর ঘর নাহি পড়বেষী।
হাড়ীত ভাত নাঁহি নিতি আবেশী।। (পদ: ৩৩)

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০৮.
প্রাচীনযুগের কবি নন -
  1. আর্যদেবপা
  2. কঙ্কপা
  3. মহীধরপা
  4. কম্বলাম্বরপা
সঠিক উত্তর:
কঙ্কপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কঙ্কপা
ব্যাখ্যা
চর্যাপদের কবিগণ:
 চর্যার কবিদেরর সংখ্যা নিয়ে মতবিরোধ আছে,
সুকুমার সেনের 'বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস' (প্রথম খণ্ড) গ্রন্থে চর্যাপদের ২৪ জন পদকর্তার নাম পাওয়া যায়। ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সম্পাদিত 'Buddhist Mystic Songs' গ্রন্থে চর্যাপদের ২৩ জন কবির নাম উল্লেখ আছে।
 
তারা হলেন:
- কাহ্নপা; কুক্কুরীপা; ধর্মপা; ঢেগুণপা; বিরুপা; বীণাপা; ভাদেপা; ভুসুকুপা, মহীধরপা, লুইপা; শবরপা; শান্তিপা; সরহপা; ডোম্বীপা; কম্বলাম্বরপা; গুণ্ডুরীপা; চাটিল্লপা; আর্যদেবপা; দারিকপা; তাড়কপা; কঙ্কণপা; জয়নন্দীপা; তন্ত্রীপা। 

অন্যদিকে,
প্রাচীন যুগের কবি নন - কঙ্কপা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১০৯.
ভুসুকুপার প্রকৃত নাম কী ছিলো?
  1. শান্তিদেব
  2. ধর্মপাল
  3. মুনিদত্ত
  4. ভুসুকু
সঠিক উত্তর:
শান্তিদেব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শান্তিদেব
ব্যাখ্যা
ভুসুকুপা:
- চর্যাগীতি রচনার দিক থেকে দ্বিতীয় স্থানের অধিকারী হলেন ভুসুকুপা।
- তিনি সৌরাষ্ট্রের ক্ষত্রিয় রাজপুত্র ছিলেন বলে মনে করা হয়।
- তাঁর রচিত আঁটটি পদ চর্যাপদ গ্রন্থে সংগৃহীত হয়েছে।
- নানা কিংবদন্তি বিচারে ভুসুকুপা নামটিকে ছন্দ নাম বলে মনে করেন। তাঁর প্রকৃত নাম শান্তিদেব।
- ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর মতে শান্তিদেব ভুসুকু সাত শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বর্তমান ছিলেন।
- ভুসুকুর জীবৎকালে শেষ সীমা ৮০০ সাল। ধর্মপালের রাজত্বকালে (৭৭০-৮০৬ সাল) ভুসুকুপা জীবিত ছিলেন।

উৎস:
১। বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১১০.
চর্যাপদ রচনার দিক থেকে দ্বিতীয় স্থানের অধিকারী হলেন -
  1. ভুসুকুপা
  2. কাহ্নপা
  3. সরহপা
  4. লুইপা
সঠিক উত্তর:
ভুসুকুপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভুসুকুপা
ব্যাখ্যা

ভুসুকুপা:
- চর্যাগীতি রচনার দিক থেকে দ্বিতীয় স্থানের অধিকারী হলেন ভুসুকুপা।
- তাঁর রচিত আঁটটি পদ চর্যাপদ গ্রন্থে সংগৃহীত হয়েছে।
- নানা কিংবদন্তি বিচারে ভুসুকুপা নামটিকে ছন্দ নাম বলে মনে করেন। তাঁর প্রকৃত নাম শান্তিদেব।
- ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর মতে শান্তিদেব ভুসুকু সাত শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বর্তমান ছিলেন।
- ভুসুকুর জীবৎকালে শেষ সীমা ৮০০ সাল।
- ধর্মপালের রাজত্বকালে (৭৭০-৮০৬ সাল) ভুসুকুপা জীবিত ছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

১১১.
চর্যাপদে কোন কবি সৌরাষ্ট্রের ক্ষত্রিয় রাজপুত্র ছিলেন?
  1. ধর্মপা
  2. দারিকপা
  3. তাড়কপা
  4. ভুসুকুপা
  5. কোনোটি নয়
সঠিক উত্তর:
ভুসুকুপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভুসুকুপা
ব্যাখ্যা
ভুসুকুপা:
- চর্যাগীতি রচনার দিক থেকে দ্বিতীয় স্থানের অধিকারী হলেন ভুসুকুপা।
- তিনি সৌরাষ্ট্রের ক্ষত্রিয় রাজপুত্র ছিলেন বলে মনে করা হয়।
- তাঁর রচিত আঁটটি পদ চর্যাপদ গ্রন্থে সংগৃহীত হয়েছে।
- নানা কিংবদন্তি বিচারে ভুসুকুপা নামটিকে ছন্দ নাম বলে মনে করেন। তাঁর প্রকৃত নাম শান্তিদেব।
- ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর মতে শান্তিদেব ভুসুকু সাত শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বর্তমান ছিলেন। ভুসুকুর জীবৎকালে শেষ সীমা ৮০০ সাল।
- ধর্মপালের রাজত্বকালে (৭৭০-৮০৬ সাল) ভুসুকুপা জীবিত ছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১১২.
ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে, চর্যাপদের সর্বাপেক্ষা প্রাচীন কবি -
  1. কাহ্নপা
  2. শবরপা
  3. লুইপা
  4. ভুসুকুপা
সঠিক উত্তর:
শবরপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শবরপা
ব্যাখ্যা

শবরপা:
- ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে, চর্যাপদের সর্বাপেক্ষা প্রাচীন কবি - শবরপা। তিনি ছিলেন নাগার্জুনের শিষ্য।
- শবরপার জীবনকাল ৬৮০ - ৭৬০ খ্রিস্টাব্দ বলে অনুমান করা হয়।
- শবরপা চর্যাপদের প্রথম পদকর্তা ও লুইপার গুরু ছিলেন।
- ২৮ ও ৫০ নং পদের রচয়িতা তিনি। সংস্কৃত ও অপভ্রংশ মিলে তিনি মোট ১৬টি গ্রন্থ রচনা করেন।

শবরপা রচিত উল্লেখযোগ্য পঙক্তি - 
"উষ্ণা উষ্ণা পাবত তহিঁ সবই সবরী বালী।
মোরাঙ্গ পীচ্ছ পরিহাণ সবী গীবত গুঞ্জরী।।"

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১১৩.
চর্যাপদের ৫০তম পদের রচয়িতা কে?
  1. শবরপা
  2. ভুসুকুপা
  3. কাহ্নপা
  4. সরহপা
সঠিক উত্তর:
শবরপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শবরপা
ব্যাখ্যা
শবরপা:
- ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে, চর্যাপদের সর্বাপেক্ষা প্রাচীন কবি শবরপা।
- তিনি ছিলেন নাগার্জুনের শিষ্য।
- শবরপার জীবনকাল ৬৮০ - ৭৬০ খ্রিস্টাব্দ বলে অনুমান করা হয়।
- শবরপা চর্যাপদের প্রথম পদকর্তা ও লুইপার গুরু ছিলেন। ২৮ ও ৫০ নং পদের রচয়িতা তিনি।
- সংস্কৃত ও অপভ্রংশ মিলে তিনি মোট ১৬টি গ্রন্থ রচনা করেন।

শবরপা রচিত উল্লেখযোগ্য পঙক্তি -
"উষ্ণা উষ্ণা পাবত তহিঁ সবই সবরী বালী।
মোরাঙ্গ পীচ্ছ পরিহাণ সবী গীবত গুঞ্জরী।।"

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১৪.
'দুলি দুহি পীঢ়া ধরণ ন জাই ! রুখের তেন্তলি কুম্ভীরে খাই॥' পদটি কোন কবির রচনা?
  1. ভুসুকুপা 
  2. কাহ্নপা
  3. শবরপা 
  4. কুক্কুরীপা
সঠিক উত্তর:
কুক্কুরীপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুক্কুরীপা
ব্যাখ্যা

'দুলি দুহি পীঢ়া ধরণ ন জাই ! রুখের তেন্তলি কুম্ভীরে খাই॥'- পদটি চর্যার কবি কুক্কুরীপা রচিত। 

অর্থ: 
দুলি [মাদি কচ্ছপ] দোহন করে পিটাতে [= দুগ্ধ-পাত্রে] [দুধ] ধরানো গেল না। গাছের তেঁতুল কুমিরে খায়।

------------------------
• কুক্কুরীপা:
- কুক্কুরীপা চর্যাগীতির তিনটি গানের রচয়িতা। এদের মধ্যে একটি গান [৪৮ সংখ্যক পুথির লুপ্ত অংশ ছিল।

- তিনি উচ্চবংশীয় ছিলেন বলে ধারণা করা হয়। তাঁর চর্যার ভাষা সে ইঙ্গিত বহন করে। তাঁর রচিত গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে 'যোগভাবনাপ্রদেশ', 'স্রবপরিচ্ছদ'।

- কুক্কুরীপা তান্ত্রিক নাম কিংবা ছদ্মনাম। কুলীন বা উচ্চবংশীয় হলেও কাব্যমূর্তির কারণে বা তান্ত্রিকতার আকর্ষণে তিনি এ নাম ব্যবহার করে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হয়। নামের সঙ্গে 'পা' যুক্ত থাকায় কেউ কেউ একে গুরুর প্রতি শ্রদ্ধাসূচক ছদ্মনাম বলে মনে করেন। তারানাথের মতে, সঙ্গে সবসময় একটি কুকুরী থাকত বলে তাঁর নামকরণ হয়েছে কুক্কুরীপা।

- কুক্কুরীপা বাংলার উত্তরখণ্ডের অধিবাসী ছিলেন বলে ধারণা করা হয়। অবশ্য হিন্দিভাষীরা তাঁকে কপিলাবস্তু বা বুদ্ধের জন্মস্থান নেপালের লোক বলেছেন।

- সংস্কৃত রচনা 'মহামায়াসাধন'-এর রচয়িতা হিসেবে কুকুরীপার নাম পাওয়া গেছে। এ থেকে অনুমিত হয়, তিনি মহামায়ার উপাসক ছিলেন। ড. শহীদুল্লাহ্ মতে, কুকুরীপা ৭৪০ থেকে ৮২০ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে জীবিত ছিলেন। ধারণা করা হয়, ৮০৯ খ্রিষ্টাব্দে রাজা ধর্মপালের শাসনামলে কুক্কুরীপা তাঁর পৃষ্ঠপোষকতা পেয়েছিলেন।

উৎস: চর্যাগীতি পাঠ, ড. মাহবুবুল হক।

১১৫.
চর্যার ৪৯ নং পদের রচয়িতা কে?
  1. ভাদেপা
  2. লুইপা
  3. ভুসুকুপা
  4. শবরপা
সঠিক উত্তর:
ভুসুকুপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভুসুকুপা
ব্যাখ্যা
চর্যাপদের কবি 'ভুসুকুপা':
• ভুসুকুপা চর্যাপদের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদের রচয়িতা। তিনি মোট আটটি পদ রচনা করেন।
• চর্যাপদের ২৩ নং পদটি তারই রচনা। চর্যার ২৩ নং পদটি খণ্ডিত আকারে পাওয়া যায়২৩ নং পদের ৬টি পঙ্‌ক্তি পাওয়া গেছে। বাকি ৪টি পঙ্‌ক্তি পাওয়া যায়নি
• ভুসুকুপা রচিত চর্যার পদগুলো হলো: ৬নং, ২১নং, ২৩নং, ২৭নং, ৩০ নং, ৪১নং, ৪৩ নং, ৪৯নং। 

• তিনি তাঁর রচিত ৪৯নং পদে পদ্মা নদী (পউআঁ খাল) এবং 'বঙ্গাল' দেশ ও 'বঙ্গালী'র কথা বলেছেন।

৪৯নং পদ-
বাজ ণাব পাড়ী পউআঁ খালে বাহিউ.
অদঅ বঙ্গাল দেশ লুড়িউ।।
আজি ভুসুকু ভইলী।
নিঅ ঘরিণী চণ্ডালে লেল।।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম।
১১৬.
"উষ্ণা উষ্ণা পাবত তহিঁ সবই সবরী বালী।
মোরাঙ্গ পীচ্ছ পরিহাণ সবী গীবত গুঞ্জরী।।" - পদটির রচয়িতা কে?
  1. শান্তিপা
  2. শবরপা
  3. চাটিল্লপা
  4. আর্যেবপা
সঠিক উত্তর:
শবরপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শবরপা
ব্যাখ্যা
শবরপা:
- ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে, চর্যাপদের সর্বাপেক্ষা প্রাচীন কবি শবরপা।
- তিনি ছিলেন নাগার্জুনের শিষ্য।
- শবরপার জীবনকাল ৬৮০ - ৭৬০ খ্রিস্টাব্দ বলে অনুমান করা হয়।
- শবরপা চর্যাপদের প্রথম পদকর্তা ও লুইপার গুরু ছিলেন।
- ২৮ ও ৫০ নং পদের রচয়িতা তিনি।
- সংস্কৃত ও অপভ্রংশ মিলে তিনি মোট ১৬টি গ্রন্থ রচনা করেন।

• 'শবরপা' রচিত উল্লেখযোগ্য পঙক্তি -
"উষ্ণা উষ্ণা পাবত তহিঁ সবই সবরী বালী।
মোরাঙ্গ পীচ্ছ পরিহাণ সবী গীবত গুঞ্জরী।।"

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১৭.
প্রথম চর্যাপদের ধর্মতত্ত্ব বিশ্লেষণ করেন কে?
  1. রাহুল সাংকৃত্যায়ন
  2. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ 
  3. ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী
  4. ড. সুকুমার সেন
সঠিক উত্তর:
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ 
ব্যাখ্যা

• চর্যাপদ:
- বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনযুগের চীনযুগের একমাত্র নিদর্শনের নাম চর্যাচর্যবিনিশ্চয় বা চর্যাগীতিকোষ বা চর্যাগীতি বা চর্যাপদ।
- চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন।
- চর্যাপদের বিষয়বস্তু বৌদ্ধ ধর্ম মতে সাধনভজনের তত্ত্ব প্রকাশ।
- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ। চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে।
- মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী কর্তৃক নেপালের রয়েল লাইব্রেরি থেকে, ১৯০৭ সালে আবিষ্কৃত হয় বাংলা ভাষার প্রাচীনতম নিদর্শন চর্যাপদ।
চর্যাপদের ভাষাকে বলা হয় 'সন্ধ্যা' বা 'সান্ধ্য ভাষা'। এ ভাষা কোথাও স্পষ্ট, কোথাও অস্পষ্ট। তাই একে 'আলো-আঁধারি' ভাষাও বলা হয়।
- চর্যাপদের পদগুলো প্রাচীন কোন ছন্দে রচিত তা আজ বলা সম্ভপর নয়। তবে আধুনিক ছন্দের বিচারে এগুলো মাত্রাবৃত্ত ছন্দের অধীনে বিবেচ্য।

চর্যাপদ বিষয়ক গবেষণা:
•  বিজয়চন্দ্র মজুমদার ১৯২০ সালে প্রথম চর্যাপদের ভাষা নিয়ে আলোচনা করেন।

• ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় ১৯২৬ সালে ভাষা আলোচনা করে স্বীকৃত দেন যে, চর্যাপদ বাংলা ভাষায় রচিত। ১৯২৬ সালে ড. সুনীতি কুমার চট্টোপাধ্যায় 'অরিজিন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অব বেঙ্গলি ল্যাঙ্গুয়েজ' গ্রন্থে সম্পূর্ণ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে বিস্তারিতভাবে চর্যাপদের ভাষার ধ্বনিতত্ত্ব, ব্যাকরণ ও ছন্দ বিচার বিশ্লেষণ করে প্রমাণ করেন চর্যাপদ বাংলা ভাষার সম্পদ। অধিকাংশ ভাষাবিজ্ঞানী এ অভিমত সমর্থন করেন।

১৯২৭ সালে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ প্রথম চর্যাপদের ধর্মতত্ত্ব বিশ্লেষণ করেন।

• ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্, ড. সুকুমার সেন, ড. শশীভূষণ দাশগুপ্ত চর্যাপদের ভাষা, বিষয়বস্তু, প্রভৃতি আলোচনা করে প্রমাণ করেন যে-চর্যাপদ বাংলা ভাষায় রচিত।

• ১৯৪৬ সালে ড. শশীভূষণ দাশগুপ্ত সহজযান প্রসঙ্গে চর্যাপদের অন্তনিহিত তত্ত্বের ব্যাখ্যা করেন।
• বিহারের বিখ্যাত পণ্ডিত রাহুল সাংকৃত্যায়ন বৌদ্ধ সিদ্ধাচর্য, বৈদ্ধ সহজান ও চর্যাগীতিকা নিয়ে ইংরেজি ও হিন্দিতে প্রচুর গবেষণা করেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

১১৮.
ডোম্বীপার গুরু ছিলেন-
  1. ভুসুকুপা
  2. শবরপা
  3. শান্তিপা
  4. বিরূপা
সঠিক উত্তর:
বিরূপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিরূপা
ব্যাখ্যা

• ডোম্বীপা:
- চর্যাপদের পদকর্তাদের মধ্যে ত্রিপুরা রাজ্যের রাজা ছিলেন-ডোম্বীপা।
- তিনি চর্যাপদের ১৪নং পদটির রচয়িতা।
- ডোম্বীপার গুরু ছিলেন বিরূপা।
- গঙ্গা ও যমুনা নদীতে নৌকা বেয়ে নেয়ার চিত্র এবং গঙ্গা ও যমুনা নদীতে কড়ি ছাড়াই নদী পার হওয়া যেত বলে ডোম্বীপা রচিত পদ থেকে জানা যায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১১৯.
চর্যাগীতি কোন তত্ত্বের কথা ব্যক্ত করে?
  1. নাথ সাধনতত্ত্বের
  2. জৌন সাধনতত্ত্বের
  3. বৌদ্ধ সাধনতত্ত্বের
  4. খ্রিষ্ট সাধনতত্ত্বের
সঠিক উত্তর:
বৌদ্ধ সাধনতত্ত্বের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বৌদ্ধ সাধনতত্ত্বের
ব্যাখ্যা
• চর্যাগীতির বিষয়বস্তু:
চর্যাগীতির বিষয়বস্তু বৌদ্ধ সহজিয়াদের ধর্মসাধন-পদ্ধতি ও গূঢ় তত্ত্ব। এতে দেহসাধনার গূঢ় তত্ত্ব প্রকাশ পেয়েছে। দেহসাধনার মধ্য দিয়েই বৌদ্ধ সহজিয়া সিদ্ধাচার্যরা পার্থিব জীবনের রোগ-শোক ও জন্ম-মৃত্যুর চক্রজাল থেকে মুক্তি পেতে চেয়েছেন, সুখ-দুঃখের ঊর্ধ্বে উঠে অর্জন করতে চেয়েছেন মহাসুখ।

হীনযানী বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের পদকর্তা তথা বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্যরা গুহ্য ভাষায় তাঁদের এ সাধনতত্ত্ব ও আচার-প্রকরণের কথা চর্যাগীতিগুলোতে প্রকাশ করে গেছেন। এক্ষেত্রে নানা রূপক, প্রতীক ও সংকেতের মাধ্যমে তাঁরা তাঁদের বক্তব্য প্রচ্ছন্ন রাখতে চেয়েছেন। ফলে বৌদ্ধ ধর্মের এ শাখার ধর্মীয় গুহ্য আচরণবিধি জানা না থাকলে চর্যাগীতির সম্পূর্ণ মর্ম উদ্ধার সম্ভব হয় না। সহজিয়া বৌদ্ধদের কায়াশ্রয়ী সাধনার কথা চর্যাগীতিগুলোতে বিশেষ বাগ্রীতিতে ব্যক্ত হয়েছে। তাই সেগুলোর পুরোপুরি রস আস্বাদনে সমস্যা হয়।

বৌদ্ধ সাধনতত্ত্বের কথা ব্যক্ত করলেও চর্যাকাররা জগৎ এবং মানবজীবনকে একেবারে উপেক্ষা করেন নি। চর্যাগানের কবিরা রূপসচেতন শিল্পী। তাঁদের কবিতা প্রগাঢ় জীবনবোধে ভাস্বর। ধর্মতত্ত্ব ও সাধন প্রক্রিয়ার কথা বলতে গিয়ে তাঁরা যেসব রূপক-প্রতীক, উপমা-চিত্রকল্প ব্যবহার করেছেন সেগুলো রসসৌন্দর্যমণ্ডিত। তাঁদের রচনা বিষয় ও আঙ্গিক উভয় দিক থেকে কাব্যগ্রাহ্য হয়ে উঠেছে। বৈষ্ণব ধর্মতত্ত্ব ও সাধনপ্রক্রিয়া না জেনেও পাঠক এগুলোর রস কম-বেশি উপভোগ করতে পারেন।

উৎস: চর্যাগীতি পাঠ, ড. মাহবুবুল হক।
১২০.
কীর্তিচন্দ্র মুনিদত্তের টীকার তিব্বতি অনুবাদ করেছিলেন কোন নামে?
  1. আশ্চর্যচর্যাচয়
  2. চর্যাচর্যবিনিশ্চয়
  3. চর্যাগীতিকোষবৃত্তি
  4. চর্যাশ্চর্যবিনিশ্চয়
সঠিক উত্তর:
চর্যাগীতিকোষবৃত্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চর্যাগীতিকোষবৃত্তি
ব্যাখ্যা

• চর্যাপদ:
- বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগের একমাত্র নির্ভরযোগ্য ঐতিহাসিক নিদর্শন চর্যাপদ। বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্যদের রচিত চর্যাপদগুলো সম্পর্কে ১৯০৭ সালের আগে কোন তথ্যই জানা ছিল না। ১৮৮২ সালে প্রকাশিত Sanskrit Buddhist Literature in Nepal গ্রন্থে রাজা রাজেন্দ্রলাল মিত্র সর্বপ্রথম নেপালের বৌদ্ধতান্ত্রিক সাহিত্যের কথা প্রকাশ করেন। সেখানে তিনি বিভিন্ন গ্রন্থের সংক্ষিপ্ত বিবরণী প্রকাশ করে যে কৌতূহলের সৃষ্টি করেছিলেন তাতে উদ্দীপ্ত হয়ে মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী তৃতীয় বার নেপাল সফর কালে নেপালের রাজগ্রন্থাগার থেকে ১৯০৭ সালে সে সাহিত্যের কতকগুলো পদ আবিষ্কার করেন। তাঁর সম্পাদনায় বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে সে সব পদ ১৯১৬ সালে (১৩২৩ সনে) চর্যাচর্যবিনিশ্চয় সরহপাদ ও কৃষ্ণপাদের দোহা এবং ডাকার্ণব-এ চারটি পুঁথি একত্রে 'হাজার বছরের পুরাণ বাংলা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা' নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়। এগুলোর মধ্যে একমাত্র চর্যাচর্যবিনিশ্চয়ই প্রাচীন বাংলায় লেখা; অন্য তিনটি বাংলায় নয়, অপভ্রংশ ভাষায় রচিত।

- ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় Origin and Development of the Bengali Language (ODBL) নামক বিখ্যাত গ্রন্থে ১৯২৬ সালে এগুলোর ভাষাতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য প্রথম আলোচনা করেন।

- ১৯২৭ সালে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ চর্যাপদের ধর্মমত সম্পর্কে প্রথম আলোচনা করেন।

- ১৯৩৮ সালে ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী কর্তৃক চর্যার তিব্বতি অনুবাদ প্রকাশিত হয়।

- চর্যাপদের প্রাপ্ত পুঁথিতে উল্লেখকৃত সংস্কৃত টীকাকার মুনিদত্তের মতানুসারে এই পদসংগ্রহের নাম 'আশ্চর্যচর্যাচয়'। নেপালে প্রাপ্ত পুঁথিতে পদগুলোর নাম দেওয়া হয়েছে 'চর্যাচর্যবিনিশ্চয়'। এ দুটি নাম মিলিয়ে ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী 'চর্যাশ্চর্যবিনিশ্চয়' নামের পরিকল্পনা করেন। সে আমলে শত শত চর্যাগীতি রচিত হয়েছিল বলে অনুমান করা হয়। মুনিদত্তের মত অনেকেই বিভিন্ন চর্যাগীতির টীকা রচনা করেছিলেন।

- কীর্তিচন্দ্র মুনিদত্তের টীকার তিব্বতি অনুবাদ করেছিলেন 'চর্যাগীতিকোষবৃত্তি' নামে। এতে মনে হয় মূল সংকলনের নাম ছিল 'চর্যাগীতিকোষ'। আধুনিক পণ্ডিতগণের অনুমান যে পুঁথিটির নাম ছিল 'চর্যাগীতিকোষ' এবং এর সংস্কৃত টীকার নাম 'চর্যাচর্যবিনিশ্চয়'।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম। 

১২১.
কবি সরহপা রচিত চর্যার পদ সংখ্যা কয়টি?
  1. ৩টি 
  2. ৪টি 
  3. ৫টি  
  4. ৬টি 
সঠিক উত্তর:
৪টি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪টি 
ব্যাখ্যা

• সরহপা:
- সরহপা ছিলেন ব্রাহ্মণ। তাঁর জন্মস্থান রাজ্ঞীদেশ সম্ভবত উত্তরবঙ্গ-কামরূপ।
- কামরূপের রাজা রত্নপাল (১০০০-৩০ সাল) ছিলেন তাঁর শিষ্য।
- তিনি এগার শতকের প্রথমার্ধে জীবিত ছিলেন। তিনি অপভ্রংশ ভাষায় দোহাকোষ রচনা করেছিলেন।
- তাঁর পদাবলীর ভাষা বঙ্গ-কামরূপী। তিনি ছিলেন ভিক্ষু ও সিদ্ধা। তিনি বহু গ্রন্থের রচয়িতা।
- সরহপা চর্যাপদে তৃতীয় সর্বোচ্চ পদ রচনা করেন। তাঁর রচিত পদগুলো হলো- (৪টি; ২২,৩২, ৩৮, ৩৯)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১২২.
নিম্নোক্ত কে প্রাচীন যুগের কবি ছিলেন না?
  1. মহীধরপা
  2. তাড়কপা
  3. তুলসীপা
  4. শান্তিপা
সঠিক উত্তর:
তুলসীপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তুলসীপা
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদের কবি নন- তুলসীপা।
 
• চর্যাপদ:
- চর্যাপদ বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন গ্রন্থ।
- এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- চর্যাপদ আবিষ্কৃত হয় ১৯০৭ সালে (১৩১৪ বঙ্গাব্দে)।
- এবং ১৯১৬ খ্রিস্টাব্দে (১৩২৩ বঙ্গাব্দে) কলকাতার বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে আধুনিক লিপিতে প্রকাশিত হয়।
- প্রাচীন এ গ্রন্থটির সম্পাদনা করেন মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী।
 
• চর্যাপদের কবিগণ:
 চর্যার কবিতের সংখ্যা নিয়ে মতবিরোধ আছে-
- সুকুমার সেনের 'বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস' (প্রথম খণ্ড) গ্রন্থে চর্যাপদের ২৪ জন পদকর্তার নাম পাওয়া যায়।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সম্পাদিত 'Buddhist Mystic Songs' গ্রন্থে চর্যাপদের ২৩ জন কবির নাম উল্লেখ আছে।
 
এরা হলেন-
- কাহ্নপা; কুক্কুরীপা; ধর্মপা; ঢেগুণপা; বিরুপা; বীণাপা; ভাদেপা; ভুসুকুপা, মহীধরপা, লুইপা; শবরপা; শান্তিপা; সরহপা; ডোম্বীপা; কম্বলাম্বরপা; গুণ্ডুরীপা; চাটিল্লপা; আর্যদেবপা; দারিকপা; তাড়কপা; কঙ্কণপা; জয়নন্দীপা; তন্ত্রীপা। 

অপশনের কবিগণের পদ: 
• মহীধরপা - ১৬,
• তাড়কপা - ৩৭,
• শান্তিপা - ১৬/২৬। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১২৩.
নিচের কোনটি চর্যাপদের কবি নন?
  1. দারিকপা
  2. কম্বলাম্বরপা 
  3. চাটিল্লপা
  4. কাহারপা
সঠিক উত্তর:
কাহারপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাহারপা
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদের কবি নন - কাহারপা।

চর্যাপদের কবিগণ:
চর্যার কবিতের সংখ্যা নিয়ে মতবিরোধ আছে-
- সুকুমার সেনের 'বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস' (প্রথম খণ্ড) গ্রন্থে চর্যাপদের ২৪ জন পদকর্তার নাম পাওয়া যায়।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সম্পাদিত 'Buddhist Mystic Songs' গ্রন্থে চর্যাপদের ২৩ জন কবির নাম উল্লেখ আছে।

কবিগণ হলেন:
কাহ্নপা; কুক্কুরীপা; ধর্মপা; ঢেণ্ডণপা; বিরুপা; বীণাপা; ভাদেপা; ভুসুকুপা, মহীধরপা, লুইপা; শবরপা; শান্তিপা; সরহপা; ডোম্বীপা; কম্বলাম্বরপা; গুণ্ডরীপা; চাটিল্লপা; আর্যদেবপা; দারিকপা; তাড়কপা; কঙ্কণপা; জয়নন্দীপা; তন্ত্রীপা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১২৪.
'চয্যাচর্যবিনিশ্চয়'-এর প্রথম কবি কে?
  1. লুইপা 
  2. কাহ্নপা
  3. ভুসুকুপা 
  4. সরহপা
সঠিক উত্তর:
লুইপা 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লুইপা 
ব্যাখ্যা

• চর্যার কবি লুইপা:
- লুইপা প্রবীণ বৌদ্ধসিদ্ধাচার্য ও চর্যাপদের একজন কবি।
- 'লুইপা' রচিত চর্যার পদ সংখ্যা দুইটি। লুইপা চর্যাপদের ১ ও ২৯ নং পদ রচনা করেন।
- মুহাম্মদ শহীদুল্লারহ্‌ অনুমান: ৭৩০ থেকে ৮১০ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে লুইপা জীবিত ছিলেন। হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর মতে, লুইপা রাঢ় অঞ্চলের লোক।
- 'চয্যাচর্যবিনিশ্চয়'-এর প্রথম কবি লুইপা। তিব্বতি ঐতিহ্যে প্রাপ্ত চুরাশি জন
- সিদ্ধাচার্যের নামের তালিকায় লুইয়ের নাম আদিতম। অনেক পণ্ডিত লুইপাকে ও প্রথম চর্যাগীতি রচয়িতা বলে মনে করেন। তাঁর জীবৎকাল ৭৩০-৮১০ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে। সে সময় ছিল রাজা ধর্মপালের রাজত্বকাল। হিন্দিভাষীরা লুইপাকে মগধ বা বিহারের অধিবাসী বলে দাবি করেন।

লুইপা রচিত চর্যাপদের প্রথম পদ-
'কাআ তরুবর পাঞ্চ বি ডাল।
চঞ্চল চীএ পৈঠা কাল।।'

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১২৫.
'কাহ্নপা' রচিত কোন পদটি পাওয়া যায়নি?
  1. ১২তম
  2. ২২তম
  3. ২৩তম
  4. ২৪তম
সঠিক উত্তর:
২৪তম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৪তম
ব্যাখ্যা

কাহ্নপা:
- চর্যাপদের পদকর্তার মধ্যে সর্বাধিক পদ রচনা করেন- কাহ্নপা।
- তিনি ছিলেন সহজিয়া তান্ত্রিক বৌদ্ধযোগী।
- তিনি ধর্মশাস্ত্র ও সঙ্গীত শাস্ত্র উভয় দিকেই দক্ষ ছিলেন।
- কাহ্নপা ১৩টি পদ রচনা করেন।
- কাহ্নপা রচিত ২৪ নং পদটি পাওয়া যায়নি।
- চর্যাপদে তাঁর কাহ্নিল, কাহ্নি, কৃষ্ণচর্য, কৃষ্ণবজ্রপাদ, কাহ্নু নাম পাওয়া যায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১২৬.
চর্যাপদের ২৩নং খণ্ডিত পদটি কার রচনা?
  1. কাহ্নপা
  2. তন্ত্রীপা
  3. ভুসুকুপা
  4. কুক্কুরীপা
সঠিক উত্তর:
ভুসুকুপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভুসুকুপা
ব্যাখ্যা

• চর্যাপদ:
- বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনযুগের একমাত্র নিদর্শন চর্যাচর্যবিনিশ্চয় বা চর্যাগীতিকোষ বা চর্যাগীতি বা চর্যাপদ।
- ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজ দরবার গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন। ১৯১৬ সালে কলকাতার বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে চর্যাপদ আধুনিক লিপিতে প্রকাশিত হয়।

- চর্যাপদের পদ সংখ্যা: চর্যাপদের পদ সংখ্যা ৫০টি। তবে সুকুমার সেন মনে করেন পদসংখ্যা ৫১টি।
- উদ্ধারকৃত পদের সংখ্যা: চর্যাপদের সাড়ে ৪৬টি পদ পাওয়া যায়।

- অনুদ্ধারকৃত/বিলুপ্ত পদের সংখ্যা: সাড়ে ৩টি। প্রাপ্ত সাড়ে ৪৬টি পদের মধ্যে ভুসুকুপা রচিত ২৩নং পদটি খণ্ডিত আকারে পাওয়া গেছে। পদটির ৬টি পদ পাওয়া গেছে কিন্তু বাকি ৪টি পদ পাওয়া যায়নি।

- এছাড়াও চর্যাপদের ২৪নং (কাহ্নপা রচিত), ২৫নং (তন্ত্রীপা রচিত) এবং ৪৮নং (কুক্কুরীপা রচিত) পদগুলো পাওয়া যায়নি।
- সংস্কৃত ভাষায় মুনিদত্ত চর্যাপদের ব্যাখ্যা করেন। তিনি ১১নং পদের ব্যাখ্যা করেননি।
- চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র। ১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতি ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

১২৭.
চর্যাপদের কোন কবি নিজেকে বাঙালি বলে পরিচয় দিয়েছেন?
  1. কাহ্নপা
  2. শান্তিপা
  3. ভুসুকুপা
  4. গুণ্ডরীপা
সঠিক উত্তর:
ভুসুকুপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভুসুকুপা
ব্যাখ্যা
ভুসুকুপা:
- চর্যাগীতি রচনার দিক থেকে দ্বিতীয় স্থানের অধিকারী হলেন ভুসুকুপা।
- তাঁর রচিত আটটি পদ চর্যাপদ গ্রন্থে সংগৃহীত হয়েছে।
- নানা কিংবদন্তি বিচারে ভুসুকুপা নামটিকে ছদ্ম নাম বলে মনে করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম শান্তিদেব।
- ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর মতে শান্তিদেব ভুসুকু সাত শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বর্তমান ছিলেন।
- ভুসুকুর জীবৎকালের শেষ সীমা ৮০০ সাল।
- ধর্মপালের রাজত্বকালে (৭৭০-৮০৬ সাল) ভুসুকুপা জীবিত ছিলেন।

• “আজি ভুসুকু বাঙ্গালী ভইলী/ নিঅ ঘরিণী চণ্ডালে লেলী” - ভুসুকুপার এই উক্তিটির মাধ্যমে তিনি নিজেকে বাঙ্গালি বলে পরিচয় দিয়েছেন।
• তার কবিতার লাইনের আধুনিক রূপ - আজ ভুসুকু বাঙ্গালি হইলো।

• ভুসুকু রচিত চর্যাপদের নমুনা:

কাহৈরি ঘিনি মেলি অচ্ছহু কীস।
বেটিল ডাক পড়অ চৌদীস ॥

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১২৮.
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে, চর্যাপদের সর্বাপেক্ষা প্রাচীন কবি কে?
  1. লুইপা
  2. শবরপা
  3. ভুসুকুপা
  4. সরহপা
সঠিক উত্তর:
শবরপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শবরপা
ব্যাখ্যা

শবরপা:
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে, চর্যাপদের সর্বাপেক্ষা প্রাচীন কবি শবরপা।
- তিনি ছিলেন নাগার্জুনের শিষ্য।
- শবরপার জীবনকাল ৬৮০ - ৭৬০ খ্রিস্টাব্দ বলে অনুমান করা হয়।
- শবরপা চর্যাপদের প্রথম পদকর্তা ও লুইপার গুরু ছিলেন।
- ২৮ ও ৫০ নং পদের রচয়িতা তিনি। সংস্কৃত ও অপভ্রংশ মিলে তিনি মোট ১৬টি গ্রন্থ রচনা করেন।

শবরপা রচিত উল্লেখযোগ্য পঙক্তি - 
 "উষ্ণা উষ্ণা পাবত তহিঁ সবই সবরী বালী।
মোরাঙ্গ পীচ্ছ পরিহাণ সবী গীবত গুঞ্জরী।।"

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১২৯.
চর্যার প্রথম পদ রচনা করেন কোন কবি?
  1. শবরপা
  2. কাহ্নপা
  3. লুইপা
  4. কুক্কুরীপা
সঠিক উত্তর:
লুইপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লুইপা
ব্যাখ্যা
• লুইপা:
- সাধারণত লুইপাকে আদি সিদ্ধাচার্য বিবেচনা করা হয়। কিন্তু ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ ও রাহুল সংকৃত্যায়ন তাঁকে প্রথম বলে স্বীকার করেন না।
- লুইপা বাঙালি বলে অনুমিত। উড়িষ্যায় তাঁর জন্মস্থান বলে কারও কারও ধারণা।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ উল্লেখ করেছেন, তারানাথের মতে লুই বাংলাদেশের গঙ্গার ধারে বাস করতেন।
- তিনি প্রথম জীবনে উদ্যানের (সোয়াতের) রাজার কায়স্থ বা লেখক ছিলেন। তখন তাঁর নাম ছিল সামন্ত শুভ।
- তিনি উড়িষ্যার রাজা ও মন্ত্রীর গুরু ছিলেন। লুইপার জীবৎকাল ৭৩০-৮১০ সাল।
- সংস্কৃত ভাষায় তিনি চারটি গ্রন্থ রচনা করেছিলেন। তাঁর একটি গ্রন্থের নাম 'অভিসময়বিভঙ্গ।'
- তিনি চর্যাপদে দুটি পদ লিখেছেন। পদ দুইটি হলো ১নং ও ২৯নং পদ।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১৩০.
'টালত মোর ঘর নাহি পড়বেষী।
হাড়ীত ভাত নাঁহি নিতি আবেশী।।'- এটি চর্যার কত নং পদ?
  1. ২৩নং
  2. ৩৩নং
  3. ৬নং
  4. ৪৩নং
সঠিক উত্তর:
৩৩নং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩৩নং
ব্যাখ্যা
• ঢেণ্ডণপা:
- ঢেণ্ডণপা নবম শতকের কবি ছিলেন।
- তিনি পেশায় তাঁতি ছিলেন।
- চর্যাকার ঢেণ্ডণপা রচিত পদসংখ্যা ১টি (৩৩নং পদ)।
- এই একটি পদে বাঙালি জীবনে চিরায়ত দারিদ্র্যের ছবি চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে।

চর্যাপদের ৩৩নং পদটি হলো-
'টালত মোর ঘর নাহি পড়বেষী।
হাড়ীত ভাত নাঁহি নিতি আবেশী।।'

অর্থ- লোক শূন্য স্থানে প্রতিবেশীহীন আমার বাড়ি। হাঁড়িতে ভাত নেই, অথচ প্রেমিক এসে ভিড় করে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩১.
সহজযান প্রসঙ্গে চর্যাপদের অন্তর্নিহিত তত্ত্বের ব্যাখ্যা করেন কে?
  1. বিজয়চন্দ্র মজুমদার
  2. ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী
  3. রাহুল সাংকৃত্যায়ন
  4.  ড. শশীভূষণ দাশগুপ্ত
সঠিক উত্তর:
 ড. শশীভূষণ দাশগুপ্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
 ড. শশীভূষণ দাশগুপ্ত
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদ বিষয়ক গবেষণা:
• বিজয়চন্দ্র মজুমদার ১৯২০ সালে প্রথম চর্যাপদের ভাষা নিয়ে আলোচনা করেন। 
• ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় ১৯২৬ সালে ভাষা আলোচনা করে স্বীকৃতি দেন যে, চর্যাপদ বাংলা ভাষায় রচিত। 
১৯২৬ সালে ড. সুনীতি কুমার চট্টোপাধ্যায় 'অরিজিন অ্যান্ড ডেভলোপমেন্ট অব বেঙ্গলি ল্যাঙ্গুয়েজ' গ্রন্থে সম্পূর্ণ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে বিস্তারিতভাবে চর্যাপদের ভাষার ধ্বনিতত্ত্ব, ব্যাকরণ ও ছন্দ বিচার বিশ্লেষণ করে প্রমাণ করেন চর্যাপদ বাংলা ভাষার সম্পদ। অধিকাংশ ভাষাবিজ্ঞানী এ অভিমত সমর্থন করেন।
 
• ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্, ড. সুকুমার সেন, ড. শশীভূষণ দাশগুপ্ত চর্যাপদের ভাষা, বিষয়বস্তু, প্রভৃতি আলোচনা করে প্রমাণ করেন যে- চর্যাপদ বাংলা ভাষায় রচিত। 
• ১৯৪৬ সালে ড. শশীভূষণ দাশগুপ্ত সহজযান প্রসঙ্গে চর্যাপদের অন্তর্নিহিত তত্ত্বের ব্যাখ্যা করেন।
• বিহারের বিখ্যাত পণ্ডিত রাহুল সাংকৃত্যায়ন বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্য, বৌদ্ধ সহজযান ও চর্যাগীতিকা নিয়ে ইংরেজি ও হিন্দিতে প্রচুর গবেষণা করেন।
 
উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১৩২.
কার পদাঙ্ক অনুসরণ করে হরপ্রসাদ শাস্ত্রী চর্যাপদের পুথি সংগ্রহে নেপালে যাত্রা করেন?
  1. প্রবোধচন্দ্র বাগচী
  2. শশীভূষণ দাশগুপ্ত
  3. রাহুল সংকৃত্যায়ন
  4. রাজেন্দ্রলাল মিত্র
সঠিক উত্তর:
রাজেন্দ্রলাল মিত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজেন্দ্রলাল মিত্র
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদ আবিষ্কারের তথ্য: 
- হরপ্রসাদ শাস্ত্রী বৌদ্ধধর্মে'র ইতিবৃত্ত সন্ধানেই নেপাল যাত্রা করে এ-পর্যন্ত প্রাপ্ত বাংলা সাহিত্যের আদি নিদর্শন চর্যাপদ আবিষ্কার করেন। 

- শাস্ত্রী মশায়ের পূর্বে, এ-সম্পর্কিত তথ্য সংগ্রহে প্রথম প্রবৃত্ত হন- রাজা রাজেন্দ্রলাল মিত্র। সম্ভবত তিনিই প্রথম নেপাল যাত্রা করে সংস্কৃতে রচিত অনেকগুলি বৌদ্ধ ধর্ম' ও সাহিত্যের পুথি প্রাপ্ত হন এবং ১৮৮২ খ্রীষ্টাব্দে Sanskrit Buddhist Literature In Nepal নাম দিয়ে সে সবের একটি তালিকাও প্রকাশ করেন। 

• রাজেন্দ্রলাল মিত্রের পর তাঁরই পদাঙ্ক অনুসরণ করে নেপালে পুথি সংগ্রহের চেষ্টায় যান হরপ্রসাদ শাস্ত্রী।

- হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ধর্ম ঠাকুরকে প্রচ্ছন্ন বৌদ্ধ বলে মনে করেছিলেন - 'নানা কারণে আমার সংস্কার হইয়াছিল যে, ধর্মমঙ্গলের ধর্মঠাকুর বৌদ্ধ ধর্মের শেষ'। শাস্ত্রী মশায়ের এ সিদ্ধান্ত পরবর্তীকালে অসার প্রমাণিত হয়েছে। তিনবার তিনি নেপালে যান, ১৮৯৭-৯৮ খ্রীষ্টাব্দে দুবার এবং শেষবার ১৯০৭ খ্রীষ্টাব্দে।

- এই শেষবার তিনি ১৯০৭ সালে সাহিত্যের মূল্যবান সম্পদ আবিষ্কার করেন। তিনি  বলেন- নেপালে গিয়া আমি কয়েকখানি পুথি দেখিতে পাইলাম। একখানির নাম চর্য্যাচয্যবিনিশ্চয়, উহাতে কতকগুলি কীর্ত্তনের গান আছে ও তাহার সংস্কৃত টীকা আছে। গানগুলি বৈষ্ণবদের কীর্ত্তনের মত, গানের নাম চর্যাপদ।

অন্যদিকে,
• ১৯৪৬ সালে ড. শশীভূষণ দাশগুপ্ত সহজযান প্রসঙ্গে চর্যাপদের অর্ন্তনিহিত তত্ত্বের ব্যাখ্যা করেন।
• ১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতী ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করেন।
• বিহারের বিখ্যাত পণ্ডিত রাহুল সাংকৃত্যায়ন বৌদ্ধ সিদ্ধাচর্য, বৈদ্ধ সহজান ও চর্যাগীতিকা নিয়ে ইংরেজি ও হিন্দিতে প্রচুর গবেষণা করেন।

উৎস: চর্যাগীতিকা- মুহম্মদ আবদুল হাই এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১৩৩.
শবরপা সংস্কৃত ও অপভ্রংশ মিলে মোট কতটি গ্রন্থ রচনা করেন?
  1. ১২টি
  2. ১৪টি
  3. ১৬টি
  4. ১৮টি
সঠিক উত্তর:
১৬টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৬টি
ব্যাখ্যা
শবরপা:
- ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে, চর্যাপদের সর্বাপেক্ষা প্রাচীন কবি শবরপা।
- তিনি ছিলেন নাগার্জুনের শিষ্য। শবরপা চর্যাপদের প্রথম পদকর্তা ও লুইপার গুরু ছিলেন।
- শবরপার জীবনকাল ৬৮০-৭৬০ খ্রিস্টাব্দ বলে অনুমান করা হয়।
- ২৮ ও ৫০ নং পদের রচয়িতা তিনি। সংস্কৃত ও অপভ্রংশ মিলে তিনি মোট ১৬টি গ্রন্থ রচনা করেন।

শবরপা রচিত উল্লেখযোগ্য পঙক্তি:
"উষ্ণা উষ্ণা পাবত তহিঁ সবই সবরী বালী।
মোরাঙ্গ পীচ্ছ পরিহাণ সবী গীবত গুঞ্জরী।।"

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩৪.
কাহ্নপা কী ধরনের সাহিত্য রচনা করেছেন?
  1. ক) বৈষ্ণবপদ
  2. খ) চর্যাপদ
  3. গ) বাউল পদ
  4. ঘ) শাক্ত পদ
সঠিক উত্তর:
খ) চর্যাপদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) চর্যাপদ
ব্যাখ্যা

চর্যাপদের শ্রেষ্ঠ কবি - কাহ্নপা। তার প্রকৃত নাম - কৃষ্ণাচার্য পাদ।
তার রচিত পদের সংখ্যা - ১৩টি; যা সর্বাধিক পদ।
কিন্তু তার রচিত প্রাপ্ত পদের সংখ্যা ১২টি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম।

১৩৫.
পদসংখ্যার বিচারে চর্যাপদের কবি গোষ্ঠীর শ্রেষ্ঠ কবি কে?
  1. ভুসুকুপা
  2. ডোম্বীপা
  3. কাহ্নপা
  4. শবরপা
সঠিক উত্তর:
কাহ্নপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাহ্নপা
ব্যাখ্যা
চর্যাপদের কবি গোষ্ঠীর মধ্যে শ্রেষ্ঠ কবি কাহ্নপা।

• কাহ্নপা:
- কাহ্নপা বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্য ও চর্যাপদকর্তা ছিলেন।
- প্রকৃত নাম কৃষ্ণাচার্য পাদ, অপভ্রংশে হয়েছে কাহ্নপা, কনহপা, কাহিল পা ইত্যাদি।
- বাংলা সাহিত্যের আদি নিদর্শন চর্যাপদের কবি গোষ্ঠীর মধ্যে তিনিই ছিলেন শ্রেষ্ঠ।
- পালরাজ দেবপালের রাজত্বকালে (আনু. ৯০০-৫০) তিনি বর্তমান ছিলেন।
- চর্যাপদের ২৩জন কবির মধ্যে কাহ্নপার পদসংখ্যা সর্বাধিক, মোট ১৩টি।
- তাঁর রচিত পদগুলো: ৭, ৯, ১০, ১১, ১২, ১৩, ১৮, ১৯, ৩৬, ৪০, ৪২, ৪৫ নং পদ উদ্ধার হয়েছে।
- কিন্তু ২৪ নং পদ টি পাওয়া যায়নি।
- তাই চর্যাপদে কাহ্নপার প্রাপ্ত পদ সংখ্যা ১২টি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
১৩৬.
‘আন চাহন্তে আন বিনধা।’- চর্যাপদের প্রবাদ বাক্যটি কার রচনা?
  1. ভুসুকুপা
  2. কাঙ্কণপা
  3. ঢেণ্ডণপা
  4. সরহপা
সঠিক উত্তর:
কাঙ্কণপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাঙ্কণপা
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদে প্রবাদ বাক্য রয়েছে ৬টি। এগুলো হলো:

- অপণা মাংসেঁ হরিণা বৈরী(ভুসুকুপা, ৬নং পদ)।
- দুহিল দুধু কি বেণ্টে সামায় (ঢেণ্ডণপা, ৩৩নং পদ)।
- হাতের কাঙ্কণ মা লোউ দাপন (সরহপা, ৩২নং পদ)।
- হাড়ীত ভাত নাঁহি নিতি আবেশী (ঢেণ্ডণপা,৩৩নং পদ)।
- বর সুন গোহালী কি মো দুঠ্য বলংদেঁ (সরহপা,৩৯নং পদ)।
- আন চাহন্তে আন বিনধা (কাঙ্কণপা, ৪৪নং পদ)।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞেসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩৭.
চর্যাপদের কবি নন কে?
  1. দারিকপা
  2. আর্যদেবপা
  3. শাস্তিপা
  4. কঙ্কণপা
সঠিক উত্তর:
শাস্তিপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শাস্তিপা
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদের কবি নন- শাস্তিপা।

উল্লেখ্য,
- শান্তিপা ছিলেন চর্যাপদের কবি। 

-------------------
• চর্যাপদ:
- চর্যাপদ বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন গ্রন্থ।
- এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- চর্যাপদ আবিষ্কৃত হয় ১৯০৭ সালে (১৩১৪ বঙ্গাব্দে)।
- এবং ১৯১৬ খ্রিস্টাব্দে (১৩২৩ বঙ্গাব্দে) কলকাতার বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে আধুনিক লিপিতে প্রকাশিত হয়।
- প্রাচীন এ গ্রন্থটির সম্পাদনা করেন মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী।

• চর্যাপদের কবিগণ:
 চর্যার কবিতের সংখ্যা নিয়ে মতবিরোধ আছে-
- সুকুমার সেনের 'বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস' (প্রথম খণ্ড) গ্রন্থে চর্যাপদের ২৪ জন পদকর্তার নাম পাওয়া যায়।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সম্পাদিত 'Buddhist Mystic Songs' গ্রন্থে চর্যাপদের ২৩ জন কবির নাম উল্লেখ আছে।

কবিগণ হলেন:
কাহ্নপা; কুক্কুরীপা; ধর্মপা; ঢেণ্ডণপা; বিরুপা; বীণাপা; ভাদেপা; ভুসুকুপা, মহীধরপা, লুইপা; শবরপা; শান্তিপা; সরহপা; ডোম্বীপা; কম্বলাম্বরপা; গুণ্ডরীপা; চাটিল্লপা; আর্যদেবপা; দারিকপা; তাড়কপা; কঙ্কণপা; জয়নন্দীপা; তন্ত্রীপা। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১৩৮.
সহজযান প্রসঙ্গে চর্যাপদের অন্তর্নিহিত তত্ত্বের ব্যাখ্যা করেন কে?
  1. প্রবোধচন্দ্র বাগচী
  2. ড. বিজয়চন্দ্র মজুমদার
  3. রাহুল সাংকৃত্যায়ন
  4. ড. শশিভূষণ দাশগুপ্ত
সঠিক উত্তর:
ড. শশিভূষণ দাশগুপ্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ড. শশিভূষণ দাশগুপ্ত
ব্যাখ্যা

চর্যাপদ:
- চর্যাপদের ভাষাকে বলা হয় 'সন্ধ্যা' বা 'সান্ধ্য ভাষা'। এ ভাষা কোথাও স্পষ্ট, কোথাও অস্পষ্ট। তাই একে 'আলো-আঁধারি' ভাষাও বলা হয়।
- চর্যাপদের পদগুলো প্রাচীন কোন ছন্দে রচিত তা আজ বলা সম্ভপর নয়। তবে আধুনিক ছন্দের বিচারে এগুলো মাত্রাবৃত্ত ছন্দের অধীনে বিবেচ্য।

চর্যাপদ বিষয়ক গবেষণা:
• ড. বিজয়চন্দ্র মজুমদার ১৯২০ সালে প্রপথম চর্যাপদের ভাষা নিয়ে আলোচনা করেন।

• ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় ১৯২৬ সালে ভাষা আলোচনা করে স্বীকৃতি দেন যে, চর্যাপদ বাংলা ভাষায় রচিত। ১৯২৬ সালে ড. সুনীতি কুমার চট্টোপাধ্যায় 'দি অরিজিন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অব দি বেঙ্গলি ল্যাংগুয়েজ' গ্রন্থে সম্পূর্ণ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে বিস্তারিতভাবে চর্যাপদের ভাষার ধ্বনিতত্ত্ব, ব্যাকরণ ও ছন্দ বিচার বিশ্লেষণ করে প্রমাণ করেন চর্যাপদ বাংলা ভাষার সম্পদ। অধিকাংশ ভাষাবিজ্ঞানী এ অভিমত সমর্থন করেন।

• ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্, ড. সুকুমার সেন, ড. শশিভূষণ দাশগুপ্ত চর্যাপদের ভাষা, বিষয়বস্তু, প্রভৃতি আলোচনা করে প্রমাণ করেন যে-চর্যাপদ বাংলা ভাষায় রচিত।
• ১৯২৭ সালে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ চর্যাপদের ধর্মতত্ত্ব বিশ্লেষণ করেন।
• ১৯৪৬ সালে ড. শশিভূষণ দাশগুপ্ত সহজযান প্রসঙ্গে চর্যাপদের অন্তর্নিহিত তত্ত্বের ব্যাখ্যা করেন।
• বিহারের বিখ্যাত পণ্ডিত রাহুল সাংকৃত্যায়ন বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্য, বৌদ্ধ সহজযান ও চর্যাগীতিকা নিয়ে ইংরেজি ও হিন্দিতে প্রচুর গবেষণা করেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

১৩৯.
চর্যার ২৩নং পদটি কার রচনা?
  1. শবরপা
  2. ভুসুকুপা
  3. কুক্কুরীপা
  4. কাহ্নপা
সঠিক উত্তর:
ভুসুকুপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভুসুকুপা
ব্যাখ্যা
• ভুসুকুপা:
- চর্যাগীতি রচনার দিক থেকে দ্বিতীয় স্থানের অধিকারী হলেন ভুসুকুপা।
- তিনি সৌরাষ্ট্রের ক্ষত্রিয় রাজপুত্র ছিলেন বলে মনে করা হয়।
- তিনি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৮টি পদ রচনা করেন।
- তাঁর রচিত চর্যার পদগুলো হলো- ৬নং/ ২১নং/ ২৩নং/ ২৭নং/ ৩০নং/ ৪১নং/ ৪৩নং/ ৪৯নং।
- ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে তিনি পূর্ব বঙ্গ অঞ্চলের মানুষ ছিলেন।
- ভুসুকুপা রচিত চর্যাপদের ২৩নং পদটি খণ্ডিত আকারে পাওয়া যায়।
- এর ৬টি পঙক্তি পাওয়া গেছে। বাকি ৪টি পঙক্তি পাওয়া যায়নি।
- তিনি তাঁর রচিত ৪৯নং পদে পদ্মা নদী (পঁঊআ খাল) এবং 'বঙ্গাল' দেশ ও 'বঙ্গালী'র কথা বলেছেন।
- 'আপনা মাংসেঁ হরিণা বৈরী' (৬নং পদ) পদের রচয়িতা ভুসুকপা।

অন্যদিকে,
• শবরপা রচিত পদ- ২৮ ও ৫০।
• কুক্কুরীপা রচিত পদ- ২, ২০ ও ৪৮নং (৪৮নং পদটি খুঁজে পাওয়া যায়নি)।
• কাহ্নপা রচিত পদগুলো হলো - ৭, ৯, ১০, ১১, ১২, ১৩, ১৮, ১৯, ২৪, ৩৬, ৪০, ৪২ ও ৪৫।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪০.
"টালত মোর ঘর নাহি পড়বেশী। হাড়ীতে ভাত নাহি নিতি আবেশী।।" চর্যাপদের এ পদটি কে রচনা করেন?
  1. লুইপা
  2. কুক্কুরীপা
  3. শবরপা
  4. ঢেণ্ডণপা পা
সঠিক উত্তর:
ঢেণ্ডণপা পা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঢেণ্ডণপা পা
ব্যাখ্যা
- 'টালত মোর ঘর নাহি পড়বেশী' হাড়ীতে ভাত নাহি নিতি আবেশী।" - চর্যাপদের এ পদটির রচয়িতা ’ঢেণ্ডণপা’।
- চর্যাপদের এ চরণ দুটিতে কি বোঝানো হয়েছে: টিলার উপর আমার ঘর,আমার কোন প্রতিবেশী নেই। আমার হাঁড়িতে ভাত নেই,অথচ নিত্য অতিথি আসে।
-------------------------------------------------
• ঢেণ্ডণপা পা:
- তিনি নবম শতকের কবি।
- তিনি পেশায় একজন  তাঁতি।
- তিনি চর্যায় ৩৩ নং পদটি রচনা করেন।
- তাঁর রচিত পদটি : 'টালত মোর ঘর নাহি পড়বেশী' হাড়ীতে ভাত নাহি নিতি আবেশী'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪১.
কুক্কুরীপা কোন অঞ্চলের বাসিন্দা ছিলেন বলে ধারণা করা হয়?
  1. নেপাল
  2. তিব্বত
  3. বঙ্গদেশ
  4. কামরূপ
সঠিক উত্তর:
তিব্বত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তিব্বত
ব্যাখ্যা

কুক্কুরীপা:
- ধারণা করা হয় কুক্কুরীপা খ্রিষ্টীয় অষ্টম শতকে বর্তমান ছিলেন। এবং তিনি তিব্বতের কাছাকাছি কোনো এক অঞ্চলের বাসিন্দা।
- কুক্কুরীপা চর্যাপদের ২, ২০ ও ৪৮নং পদের রচয়িতা। তাঁর রচিত ৪৮নং পদটি খুঁজে পাওয়া যায়নি।

কুক্কুরীপা রচিত পঙক্তি হলো:

“দিবসহি বহূড়ী কাউহি ডর ভাই।
রাতি ভইলে কামরু জাই।।”

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৪২.
ডোম্বীপা'র গুরু ছিলেন -
  1. গোরক্ষনাথ
  2. নাগার্জুন
  3. বিরুপা
  4. শবরপা
সঠিক উত্তর:
বিরুপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিরুপা
ব্যাখ্যা
ডোম্বীপা:
- তিনি চর্যাপদের ১৪ নং পদের পদকর্তা। তার গুরু ছিলেন - বিরুপা
- তিনি ত্রিপুরা রাজ্যের রাজা ছিলেন।
- তার রচিত পদে গঙ্গা ও যমুনা নদীতে নৌকা বেয়ে নেয়ার চিত্র ফুটে উঠে।

চর্যাপদ:
- চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন।
- ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজ দরবার গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন।
- চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র।
- ১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতী ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১৪৩.
আধুনিক ছন্দের বিচারে চর্যাপদ কোন ছন্দের অধীনে বিবেচ্য?
  1. পায়ার 
  2. মাত্রাবৃত্ত 
  3. ত্রিপদী 
  4. স্বরবৃত্ত 
সঠিক উত্তর:
মাত্রাবৃত্ত 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাত্রাবৃত্ত 
ব্যাখ্যা

'চর্যাপদ' এর ছন্দ সম্পর্কিত তথ্য:
- চর্যাপদ প্রাচীন কোন ছন্দে রচিত তা নিয়ে বিভিন্ন মতভেদ রয়েছে।
- চর্যাপদের ছন্দে সংস্কৃত পজঝটিকা ছন্দের প্রভাব রয়েছে। পজঝটিকা ছন্দের প্রতিটি চরণ ষোল মাত্রার, চরণে চার পর্ব, চার মাত্রা।
- আবার শৌরসেনী প্রাকৃত প্রভাবিত মাত্ৰাপ্রধান পাদাকুলক ছন্দের সঙ্গেও চর্যার ছন্দের মিল রয়েছে।
- পাদাকুলক ছন্দের চরণও ষোল মাত্রার, প্রতিটি চরণে চার পর্ব, প্রতি পর্বে চার মাত্রা।
- চর্যাপদের ছন্দ মাত্রাবৃত্ত রীতিতে গঠিত হলেও মাত্রাবৃত্তের বর্তমান সুনির্দিষ্ট গণনা পদ্ধতি এতে মানা হয় নি। তবে আধুনিক ছন্দের বিচারে এটি মাত্রাবৃত্ত ছন্দের অধীনে বিবেচ্য।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম; বাংলা ভাষা ও জিজ্ঞাসা।

১৪৪.
চর্যাপদের কোন কবি 'কৃষ্ণবজ্রপাদ' নামে লিখতেন?
  1. শবরপা
  2. লুইপা
  3. কাহ্নপা
  4. বিরুপা
সঠিক উত্তর:
কাহ্নপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাহ্নপা
ব্যাখ্যা
• কাহ্নপা- 'কৃষ্ণবজ্রপাদ' নামে লিখতেন।
---------------- 
• কাহ্নপা:

- চর্যাপদের কবিগণের মধ্যে সর্বাধিক পদ রচনা করেন কাহ্নপা।
- কাহ্নপা সর্বমোট ১৩টি পদ রচনা করেন।
- এই সংখ্যাধিক্যের পরিপ্রেক্ষিতে তাঁকে কবি এবং সিদ্ধাচার্যদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ বলে অভিহিত করা যায়।
- কাহ্নপা রচিত পদগুলো হল : ৭, ৯, ১০, ১১, ১২, ১৩, ১৮, ১৯, ২৪, ৩৬, ৪০, ৪২ ও ৪৫।
- তাঁর রচিত ২৪নং পদটি পাওয়া যায় নি।
- কাহ্নপা রচিত পদগুলোতে- নিপুণ কবিত্ব শক্তি এবং তৎকালীন সমাজচিত্র ফুটে উঠেছে।
- চর্যাপদে কাহ্নিল, কাহ্নি, কৃষ্ণচর্য, কৃষ্ণবজ্রপাদ, কাহ্নু নামে লিখতেন। 
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪৫.
চর্যাপদের রচনার দিকে থেকে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে কে?
  1. ধর্মপা
  2. ভুসুকুপা
  3. দারিকপা
  4. কাহ্নপা
সঠিক উত্তর:
ভুসুকুপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভুসুকুপা
ব্যাখ্যা
ভুসুকুপা:
- চর্যাগীতি রচনার দিক থেকে দ্বিতীয় স্থানের অধিকারী হলেন ভুসুকুপা।
- তাঁর রচিত আঁটটি পদ চর্যাপদ গ্রন্থে সংগৃহীত হয়েছে।
- নানা কিংবদন্তি বিচারে ভুসুকুপা নামটিকে ছন্দ নাম বলে মনে করেন। তাঁর প্রকৃত নাম শান্তিদেব।
- ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর মতে শান্তিদেব ভুসুকু সাত শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বর্তমান ছিলেন।
- ভুসুকুর জীবৎকালে শেষ সীমা ৮০০ সাল।
- ধর্মপালের রাজত্বকালে (৭৭০-৮০৬ সাল) ভুসুকুপা জীবিত ছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১৪৬.
শবরপা কার শিষ্য ছিলেন?
  1. সরহপার
  2. নাগার্জুনের
  3. ভুসুকুপার
  4. লুইপার
সঠিক উত্তর:
নাগার্জুনের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাগার্জুনের
ব্যাখ্যা
শবরপা:
- ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে, চর্যাপদের সর্বাপেক্ষা প্রাচীন কবি শবরপা।
- তিনি ছিলেন নাগার্জুনের শিষ্য।
- শবরপার জীবনকাল ৬৮০ - ৭৬০ খ্রিস্টাব্দ বলে অনুমান করা হয়।
- শবরপা চর্যাপদের প্রথম পদকর্তা ও লুইপার গুরু ছিলেন।
- ২৮ ও ৫০ নং পদের রচয়িতা তিনি।
- সংস্কৃত ও অপভ্রংশ মিলে তিনি মোট ১৬টি গ্রন্থ রচনা করেন।

শবরপা রচিত উল্লেখযোগ্য পঙক্তি:

"উষ্ণা উষ্ণা পাবত তহিঁ সবই সবরী বালী।
মোরাঙ্গ পীচ্ছ পরিহাণ সবী গীবত গুঞ্জরী।।"

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪৭.
চর্যাপদের কোন কবি ত্রিপুরা রাজ্যের রাজা ছিলেন?
  1. সরহপা 
  2. ডোম্বীপা
  3. চাটিল্লপা 
  4. ভুসুকুপা
সঠিক উত্তর:
ডোম্বীপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডোম্বীপা
ব্যাখ্যা

ডোম্বীপা:
- তিনি চর্যাপদের ১৪ নং পদের পদকর্তা।
- তার গুরু ছিলেন বিরুপা।
- তিনি ত্রিপুরা রাজ্যের রাজা ছিলেন
- তার রচিত পদে গঙ্গা ও যমুনা নদীতে নৌকা বেয়ে নেয়ার চিত্র ফুটে উঠে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৪৮.
চর্যাশ্চর্য বিনিশ্চয়ে লুইপার কয়টি পদ পাওয়া যায়?
  1. তিনটি
  2. দুইটি
  3. চারটি
  4. পাঁচটি
সঠিক উত্তর:
দুইটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুইটি
ব্যাখ্যা
লুইপা: 
- প্রবীণ বৌদ্ধসিদ্ধাচার্য ও চর্যাপদের কবি।
- মুহাম্মদ শহীদুল্লার অনুমান: ৭৩০ থেকে ৮১০ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে লুইপা জীবিত ছিলেন।
- হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর মতে, লুইপা রাঢ় অঞ্চলের লোক।
- চর্যাপদের প্রথম পদটি রচনা করেন লুইপা।
- লুইপা পদ দুইটি রচনা করেন।

লুইপার পদসংখ্যা:
লুইপাদের ২টি চর্যাগীতি (১নং ও ২৯নং) চর্যাশ্চর্য বিনিশ্চয়ে পাওয়া যায়। গীতি দুটির পদ সংখ্যা, ছন্দ ও রাগিনী একই। দুটি পদেই দু'বার করে ভণিতা আছে। আলোচ্য পদটি ভালভাবে পাঠ করলেই দেখা যাবে ধ্রুব (দ্বিতীয়) পদে এবং শেষ পদে। লুইপাদ আদি পদকর্তা বলে সুচিহ্নিত। কবি দশম শতাব্দীতেই পদটি রচনা করেছেন বলে গবেষকদের ধারণা।

• কাআ তরুবর পাঞ্চ বি ডাল।- বীণাপার গুরু ছিলেন - ভাদেপা।
চঞ্চল চীএ পৈঠা কাল।।- পদটির রচয়িতা 'লুইপা'। এটি চর্যাপদের প্রথম পদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪৯.
বীণাপা'র গুরু কে ছিলেন?
  1. ভুসুকুপা
  2. ভাদেপা
  3. লুইপা
  4. শবরপা
সঠিক উত্তর:
ভাদেপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভাদেপা
ব্যাখ্যা
বীণাপা:
- বীণাপা'র জন্ম খ্রিষ্ট্রীয় নবম শতকে, গৌড়ে।
- তাঁর গুরু ছিলেন - ভাদেপা।
- তিনি সংস্কৃতগ্রন্থ বজ্রডাকিনী নিষ্পন্নক্রম রচনা করেন।
- তিনি চর্যাপদের ১৭ং পদ রচনা করেন। তাঁর পদের বিশেষত্ব হচ্ছে, এখানে সূর্য-চন্দ্রকে চমৎকার উপমায় উপস্থাপন করা হয়েছে।

চর্যাপদ:
- চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন।
- এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজ দরবার গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন।
- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ। চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে। চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র।
- ১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতী ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম, বাংলাপিডিয়া।
১৫০.
“হাড়ীত ভাত নাহি নিতি আবেশী”- চর্যাপদের এই প্রবাদ বাক্যটির রচয়িতা কে?  
  1. ভুসুকুপা 
  2. সরহপা 
  3. ঢেণ্ডণ পা
  4. কাহ্নপা
সঠিক উত্তর:
ঢেণ্ডণ পা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঢেণ্ডণ পা
ব্যাখ্যা

• “হাড়ীত ভাত নাহি নিতি আবেশী”:
- “হাড়ীত ভাত নাহি নিতি আবেশী” চর্যাপদের ৩৩ নং পদ।
- এই পদের রচয়িতা ঢেণ্ডণ পা। 
- এটি রাগ পটমঞ্জরীতে রচিত।
- পদের অর্থ হলো: হাঁড়িতে ভাত নেই অথচ প্রতিদিন অতিথি বা প্রেমিক আসে।
- পদটি চরম দারিদ্র্য ও অভাবের সংসারে নিত্য নতুন দায়-দায়িত্ব বা মানুষের আগমনে বিপাকে পড়ার রূপক চিত্র ফুটিয়ে তোলে।
- অর্থাৎ, অভাব থাকা সত্ত্বেও অপ্রত্যাশিত চাপ ও দায়িত্বের আগমন অব্যাহত থাকে।

- ঢেণ্ডণ পা-এর আরেকটি বিখ্যাত পদ হলো- “দুহিল দুধু কী বেন্টে সামায়”।
-------------------------------------
প্রবাদ বাক্য:
- চর্যাপদ বৌদ্ধ সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ সাহিত্যকর্ম, যা নৈতিক শিক্ষা এবং জীবনমুখী বার্তা সমৃদ্ধ।
- এতে মোট ৬টি প্রবাদ বাক্য রয়েছে, যা সহজবোধ্য ভাষায় জ্ঞানগর্ভ উপদেশ প্রদান করে।
- এই প্রবাদগুলো হলো:
• আপণা মাংসে হরিণা বৈরী – নিজের লোভই নিজের ক্ষতি করে (রচয়িতা- ভুসুকুপা)। 
• দুহিল দুধু কি বেন্টে সামায় – একবার যা হয়েছে, তা ফেরানো যায় না।  
• হাতের কাঙ্কণ মা লোউ দাপন – যা স্পষ্ট, তা দেখার জন্য আলাদা প্রমাণের দরকার নেই (রচয়িতা- সরহপা)।
• হাড়ীত ভাত নাহি নিতি আবেশী – অভাব থাকা সত্ত্বেও নিত্য নতুন দায়-দায়িত্ব ও মানুষের আগমন অব্যাহত থাকে
• বর সুন গোহালী কি মো দুঠ্য বলংদেঁ – আমার দোষ নয়, অপরের; নিজেকে নির্দোষ ধরা (রচয়িতা- সরহপা)। 
• আন চাহন্তে আন বিনধা – অন্য কিছু চাইতে গিয়ে অন্য কিছু অপ্রত্যাশিতভাবে পাওয়া বা ঘটে যাওয়া (রচয়িতা- কাহ্নপা)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

১৫১.
চর্যার কোন কবির পদে নারীদের গঙ্গা ও যমুনা নদীতে নৌকা বেয়ে নেয়ার চিত্র অঙ্কিত হয়েছে?
  1. কাহ্নপা
  2. ডোম্বীপা
  3. ভাদেপা
  4. কুক্কুরীপা
সঠিক উত্তর:
ডোম্বীপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডোম্বীপা
ব্যাখ্যা
• ডোম্বীপা:
- চর্যাপদের পদকর্তাদের মধ্যে ত্রিপুরা রাজ্যের রাজা ছিলেন-ডোম্বীপা।
- তিনি চর্যাপদের ১৪নং পদটির রচয়িতা।
- ডোম্বীপার গুরু ছিলেন বিরূপা।
- ডোম্বীপাদের ১৪নং পদে নারীদের নৌকা চালনা, নৌকার জলসিঞ্চন, লোক পারাপার ইত্যাদির মতো কর্মে যুক্ত থাকার উল্লেখ পাওয়া যায়। তাছাড়া নারীরা গুরুর স্থানও অধিকার করেছিল।
- গঙ্গা ও যমুনা নদীতে নৌকা বেয়ে নেয়ার চিত্র এবং গঙ্গা ও যমুনা নদীতে কড়ি ছাড়াই নদী পার হওয়া যেত বলে ডোম্বীপা রচিত পদ থেকে জানা যায়।

অন্যদিকে,
• কাহ্নপা একটি পদে (১০নং) জানিয়েছেন, এক ডোমিনী নগরে তাঁত ও চেঙারি বিক্রি করে। কাহ্নপার অন্য একটি পদে (১৮নং) ডোমনীর 'ছিনালী' করার কথা আছে।

• ভাদেপা চর্যার ৩৫নং পদ রচনা করেন। এই পদের মূলকথা হচ্ছে- ধর্মীয় তত্ত্বকথার বর্ণনা।

• কুক্কুরীপা একটি পদে (২নং) লিখেছেন, গৃহবধূটি বেশ ছল জানে। সে দিনের বেলায় কাকের ডাক শুনেই ভয় পায়, কিন্তু রাতে প্রেমিকের সঙ্গে দেখা করতে যায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৫২.
চর্যাপদের পঞ্চাশতম পদের রচয়িতা কে?
  1. শবরপা
  2. লুইপা
  3. ভুসুকুপা
  4. সরহপা
সঠিক উত্তর:
শবরপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শবরপা
ব্যাখ্যা

শবরপা:
- ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে, চর্যাপদের সর্বাপেক্ষা প্রাচীন কবি শবরপা।
- তিনি ছিলেন নাগার্জুনের শিষ্য।
- শবরপার জীবনকাল ৬৮০ - ৭৬০ খ্রিস্টাব্দ বলে অনুমান করা হয়।
- শবরপা চর্যাপদের প্রথম পদকর্তা ও লুইপার গুরু ছিলেন।
- ২৮ ও ৫০ নং পদের রচয়িতা তিনি।
- সংস্কৃত ও অপভ্রংশ মিলে তিনি মোট ১৬টি গ্রন্থ রচনা করেন।

শবরপা রচিত উল্লেখযোগ্য পঙক্তি:
"উষ্ণা উষ্ণা পাবত তহিঁ সবই সবরী বালী।
মোরাঙ্গ পীচ্ছ পরিহাণ সবী গীবত গুঞ্জরী।।"

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৫৩.
৪৮নং বিলুপ্ত পদটি কার রচনা?
  1. সরহপা
  2. কুক্কুরীপা
  3. ভুসুকুপা
  4. কাহ্নপা
সঠিক উত্তর:
কুক্কুরীপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুক্কুরীপা
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদ:
- বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনযুগের একমাত্র নিদর্শন চর্যাচর্যবিনিশ্চয় বা চর্যাগীতিকোষ বা চর্যাগীতি বা চর্যাপদ।
- ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজ দরবার গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন।
- চর্যাপদের পদ সংখ্যা: চর্যাপদের পদ সংখ্যা ৫০টি। তবে সুকুমার সেন মনে করেন পদসংখ্যা ৫১টি।
- উদ্ধারকৃত পদের সংখ্যা: চর্যাপদের সাড়ে ৪৬টি পদ পাওয়া যায়।
- অনুদ্ধারকৃত/বিলুপ্ত পদের সংখ্যা: সাড়ে ৩টি। প্রাপ্ত সাড়ে ৪৬টি পদের মধ্যে ভুসুকুপা রচিত ২৩নং পদটি খণ্ডিত আকারে পাওয়া গেছে। পদটির ৬টি পদ পাওয়া গেছে কিন্তু বাকি ৪টি পদ পাওয়া যায়নি।
- এছাড়াও চর্যাপদের ২৪নং (কাহ্নপা রচিত), ২৫নং (তন্ত্রীপা রচিত) এবং ৪৮নং (কুক্কুরীপা রচিত) পদগুলো পাওয়া যায়নি।

- চর্যাপদ তিব্বতী ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র। কীর্তিচন্দ্র মুনিদত্তের টীকার তিব্বতী  অনুবাদ করেছিলেন চর্যাগীতিকোষবৃত্তি নামে।
- ১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতি ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১৫৪.
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌র মতে, চর্যাপদের কবির সংখ্যা কত ছিলো?
  1. ২৩
  2. ২৪
  3. ২৫
  4. ২৮
সঠিক উত্তর:
২৩
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৩
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদের কবিগণ:
চর্যার কবিদের সংখ্যা নিয়ে মতবিরোধ আছে -

- সুকুমার সেনের 'বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস' (প্রথম খণ্ড) গ্রন্থে চর্যাপদের ২৪ জন পদকর্তার নাম পাওয়া যায়।

- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌ সম্পাদিত 'Buddhist Mystic Songs' গ্রন্থে চর্যাপদের ২৩ জন কবির নাম উল্লেখ আছে।
সে বিচারে এককথায় বলা চলে, চর্যাপদের কবির সংখ্যা ২৩, মতান্তরে ২৪।

এরা হলেন -
- লুইপা, কাহ্নপা, কুক্কুরীপা, ধর্মপা, ঢেণ্ডণপা, বিরুপা, বীণাপা, ভাদেপা, ভুসুকুপা, মহীধরপা, শবরপা, শান্তিপা, সরহপা, ডোম্বীপা, কম্বলাম্বরপা, গুণ্ডরীপা, চাটিল্লপা, আর্যদেবপা, দারিকপা, তাড়কপা, কঙ্কণপা, জয়নন্দীপা, তন্ত্রীপা, লাড়ীডোম্বীপা।

- লাড়ীডোম্বীপার কোনো পদ পাওয়া যায় নি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১৫৫.
"দিবসহি বহুড়ী কাউহি ডর ভাই।
রাতি ভইলে কামরু জাই।।"- চর্যার পদটি কোন কবির রচনা?
  1. শবরপা 
  2. ভুসুকুপা
  3. ঢেণ্ডুণপা 
  4. কুক্কুরীপা
সঠিক উত্তর:
কুক্কুরীপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুক্কুরীপা
ব্যাখ্যা

"দিবসহি বহুড়ী কাউহি ডর ভাই।
রাতি ভইলে কামরু জাই।।"- এটি কুক্কুরীপা রচিত চর্যাপদের ২নং পদ।

• এর বাংলা অর্থ- দিনে বউটি কাকের ভয়ে ভীত হয় কিন্তু রাত হলেই সে কামরূপ যায়।

------------------
• কুক্কুরীপা:
- কুক্কুরীপা চর্যাপদের ২, ২০ ও ৪৮নং পদের রচয়িতা। কুক্কুরীপা চর্যাগীতির তিনটি গানের রচয়িতা। এদের মধ্যে একটি গান [৪৮ সংখ্যক পুথির লুপ্ত অংশ ছিল।

- তিনি উচ্চবংশীয় ছিলেন বলে ধারণা করা হয়। তাঁর চর্যার ভাষা সে ইঙ্গিত বহন করে। তাঁর রচিত গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে 'যোগভাবনাপ্রদেশ', 'স্রবপরিচ্ছদ'।

- কুক্কুরীপা তান্ত্রিক নাম কিংবা ছদ্মনাম। কুলীন বা উচ্চবংশীয় হলেও কাব্যমূর্তির কারণে বা তান্ত্রিকতার আকর্ষণে তিনি এ নাম ব্যবহার করে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হয়। নামের সঙ্গে 'পা' যুক্ত থাকায় কেউ কেউ একে গুরুর প্রতি শ্রদ্ধাসূচক ছদ্মনাম বলে মনে করেন। তারানাথের মতে, সঙ্গে সবসময় একটি কুকুরী থাকত বলে তাঁর নামকরণ হয়েছে কুক্কুরীপা।

- কুক্কুরীপা বাংলার উত্তরখণ্ডের অধিবাসী ছিলেন বলে ধারণা করা হয়। অবশ্য হিন্দিভাষীরা তাঁকে কপিলাবস্তু বা বুদ্ধের জন্মস্থান নেপালের লোক বলেছেন।

- সংস্কৃত রচনা 'মহামায়াসাধন'-এর রচয়িতা হিসেবে কুক্কুরীপার নাম পাওয়া গেছে। এ থেকে অনুমিত হয়, তিনি মহামায়ার উপাসক ছিলেন। ড. শহীদুল্লাহ্ মতে, কুক্কুরীপা ৭৪০ থেকে ৮২০ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে জীবিত ছিলেন। ধারণা করা হয়, ৮০৯ খ্রিষ্টাব্দে রাজা ধর্মপালের শাসনামলে কুক্কুরীপা তাঁর পৃষ্ঠপোষকতা পেয়েছিলেন।

উৎস: চর্যাগীতি পাঠ, ড. মাহবুবুল হক।

১৫৬.
"মারি সাসু ননন্দ ঘরে সালী।
মাঅ মারি কাহ্ন ভইঅ কবালী।।" - এই পদের রচয়িতা কে?
  1. কঙ্কণপা
  2. দারিকপা
  3. কাহ্নপা
  4. ভুসুকুপা
সঠিক উত্তর:
কাহ্নপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাহ্নপা
ব্যাখ্যা
"মারি সাসু ননন্দ ঘরে সালী।
মাঅ মারি কাহ্ন ভইঅ কবালী।।" - এটি কাহ্নপা রচিত চর্যাপদের ১১নং পদ।

→ এই পদের আক্ষরিক অর্থ - "ঘরে শাশুড়ি ননদ শালীকে মেরে ও মাকে মেরে কাহ্ন কাপালি হল।"

কাহ্নপা:

- তিনি চর্যাপদের পদকর্তার মধ্যে সর্বাধিক পদ রচয়িতা।
- তিনি ছিলেন সহজিয়া তান্ত্রিক বৌদ্ধযোগী।
- তিনি ধর্মশাস্ত্র ও সঙ্গীত শাস্ত্র উভয় দিকেই দক্ষ ছিলেন।
- কাহ্নপা ১৩ টি পদ রচনা করেন। তার রচিত ২৪ নং পদটি পাওয়া যায়নি।
- কাহ্নপা রচিত পদগুলো হল - ৭, ৯, ১০, ১১, ১২, ১৩, ১৮, ১৯, ২৪, ৩৬, ৪০, ৪২ ও ৪৫।
- চর্যাপদে কাহ্নিল, কাহ্নি, কৃষ্ণচর্য, কৃষ্ণবজ্রপাদ, কাহ্নু নামে লিখতেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১৫৭.
ভুসুকুপা-র প্রকৃত নাম কী?
  1. লুইদেব
  2. শান্তিদেব
  3. মীননাথ
  4. কাহ্নদেব
  5. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
শান্তিদেব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শান্তিদেব
ব্যাখ্যা

ভুসুকুপা:
- চর্যাগীতি রচনার দিক থেকে দ্বিতীয় স্থানের অধিকারী হলেন ভুসুকুপা।
- তাঁর রচিত আঁটটি পদ চর্যাপদ গ্রন্থে সংগৃহীত হয়েছে।
- নানা কিংবদন্তি বিচারে ভুসুকুপা নামটিকে ছন্দ নাম বলে মনে করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম শান্তিদেব।
- ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর মতে শান্তিদেব ভুসুকু সাত শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বর্তমান ছিলেন।
- ভুসুকুর জীবৎকালে শেষ সীমা ৮০০ সাল।
- ধর্মপালের রাজত্বকালে (৭৭০-৮০৬ সাল) ভুসুকুপা জীবিত ছিলেন।

উৎস:
১। বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

১৫৮.
"টালত মোর ঘর নাহি পড়বেসী /
হাড়ীত ভাত নাঁহি নিতি আবেশী।"- চর্যার কত নং পদ?
  1. ২নং
  2. ৪৯নং
  3. ১নং
  4. ৩৩নং
সঠিক উত্তর:
৩৩নং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩৩নং
ব্যাখ্যা
• "টালত মোর ঘর নাহি পড়বেসী /
হাড়ীত ভাত নাঁহি নিতি আবেশী।"- চর্যাপদের ৩৩নং পদটির রচয়িতা ঢেণ্ঢণপা।

• আধুনিক গদ্যে রূপান্তর:
টালেতে [জনপদে] আমার ঘর, [অথচ] পড়শি নেই। হাড়িতে ভাত নেই, [অথচ] নিত্য অতিথি।

--------------
• ঢেণ্ঢণপা: 
- চর্যাগীতির তেত্রিশ সংখ্যক গানের রচয়িতা ঢেণ্টণপা। বর্ণরত্নাকরের নাথ সিদ্ধাদের নামের যে তালিকা রয়েছে তাতে ঢেণ্ঢণপার উল্লেখ রয়েছে। তবে এ ঢেণ্ঢণপা আর চর্যাপদকার একই ব্যক্তি কি না তা নিঃসন্দেহে বলা যায় না।

- তিনি পেশায় তাঁতি ছিলেন। চর্যাপদের ৩৩নং পদটি তাঁর রচনা। তাঁর রচিত পদে বাঙালি জীবনের চিরায়ত দারিদ্র্যের ছবি চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে।

- ঢেণ্ঢণপা দেবপাল ও বিগ্রহ পালের রাজত্বকালে (৮১০-৮৮০ খ্রিষ্টাব্দ) বর্তমান ছিলেন বলে পণ্ডিতদের অভিমত। কিছু কিছু গ্রন্থে উল্লেখ রয়েছে, ৮৭৪ খ্রিষ্টাব্দে ঢেণ্ঢণপা অবন্তীনগরে বাস করেছেন।

- 'ঢেণ্ঢণ' শব্দের তিব্বতি রূপ ধেতন। তিব্বতী ঐতিহ্য অনুযায়ী, তিনি ছিলেন কাহ্নের বংশধর।

- ঢেণ্ঢণপা রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ 'চতুর্যোগভাবনা'। সংস্কৃত টীকাকাররা গ্রন্থটির পাঠোদ্ধার করতে না পেরে একে বলেছেন 'সান্ধ্যভাষা'।

উৎস: চর্যাগীতি পাঠ, মাহাবুবুল হক এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৫৯.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম নিদর্শন চর্যাপদে প্রাপ্ত পদের সংখ্যা-
  1. ৪৬ টি
  2. সাড়ে ৪৬ টি
  3. ৪৯ টি
  4. ৫০ টি
সঠিক উত্তর:
সাড়ে ৪৬ টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাড়ে ৪৬ টি
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদে মোট সাড়ে ছেচল্লিশটি (একটি পদের ছেঁড়া বা খণ্ডিত অংশসহ) পদ পাওয়া গেছে।

• চর্যাপদ:
- বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনযুগের একমাত্র নিদর্শনের নাম চর্যাচর্যবিনিশ্চয় বা চর্যাগীতিকোষ বা চর্যাগীতি বা চর্যাপদ।
- চর্যাপদ গানের সংকলন।
- চর্যাপদের বিষয়বস্তু বৌদ্ধ ধর্ম মতে সাধনভজনের তত্ত্ব প্রকাশ।
- চর্যাগুলো বৌদ্ধ সহজিয়াগণ রচনা করেন।
- মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী কর্তৃক নেপালের রয়েল লাইব্রেরি থেকে, ১৯০৭ সালে আবিষ্কৃত হয় বাংলা ভাষার প্রাচীনতম নিদর্শন চর্যাপদ।

• চর্যাপদে মোট সাড়ে ছেচল্লিশটি (একটি পদের ছেঁড়া বা খণ্ডিত অংশসহ) পদ পাওয়া গেছে।
- চর্যাপদে ২৩নং পদটি খণ্ডিত আকারে পাওয়া গেছে।
- চর্যাপদের সর্বোচ্চ পদ রচয়িতা - কাহ্নপা। তাঁর রচিত পদের সংখ্যা (১৩টি)।
- চর্যাপদের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদ রচয়িতা - ভুসুকুপা। তাঁর রচিত পদের সংখ্যা (৮টি)।
- চর্যাপদের তৃতীয় সর্বোচ্চ পদ রচয়িতা - সরহপা। তাঁর রচিত পদের সংখ্যা (৪টি)।
- চর্যাপদের চতুর্থ সর্বোচ্চ পদ রচয়িতা - কুক্কুরীপা। তাঁর রচিত পদের সংখ্যা (৩টি)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৬০.
চর্যাপদের কবি ঢেণ্ডণপা পেশায় ছিলেন একজন-
  1. নৌকা চালক 
  2. তাঁতি
  3. কামার 
  4. মন্ত্রী 
সঠিক উত্তর:
তাঁতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তাঁতি
ব্যাখ্যা

• ঢেণ্ডণপা:
- ঢেণ্ডণপা নবম শতকের কবি ছিলেন।
- তিনি পেশায় তাঁতি ছিলেন।
- চর্যাকার ঢেণ্ডণপা রচিত পদসংখ্যা ১টি (৩৩নং পদ)।
- এই একটি পদে বাঙালি জীবনে চিরায়ত দারিদ্র্যের ছবি চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে।

‘টালত মোর ঘর নাহি পড়বেষী।
হাড়ীত ভাত নাঁহি নিতি আবেশী।।’- চর্যাপদের ৩৩নং পদটির রচয়িতা চর্যাকার ঢেণ্ডণপা।

- অর্থাৎ লোক শূন্য স্থানে প্রতিবেশীহীন আমার বাড়ি। হাঁড়িতে ভাত নেই, অথচ প্রেমিক এসে ভিড় করে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

১৬১.
'টালত মোর ঘর নাহি পড়বেষী।
হাড়ীত ভাত নাঁহি নিতি আবেশী।।' - পদটির রচয়িতা কে?
  1. ঢেণ্ডণপা
  2. বীণাপা
  3. ভাদেপা
  4. শান্তিপা
সঠিক উত্তর:
ঢেণ্ডণপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঢেণ্ডণপা
ব্যাখ্যা
ঢেণ্ডণপা:
- ঢেণ্ডণপা নবম শতকের কবি ছিলেন। তিনি পেশায় তাঁতি ছিলেন।
- চর্যাকার ঢেণ্ডণপা রচিত পদসংখ্যা ১টি (৩৩নং পদ)।
- এই একটি পদে বাঙালি জীবনে চিরায়ত দারিদ্র্যের ছবি চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে।

চর্যার ৩৩নং পদটি হলো:

'টালত মোর ঘর নাহি পড়বেষী।
হাড়ীত ভাত নাঁহি নিতি আবেশী।।' - অর্থাৎ, লোক শূন্য স্থানে প্রতিবেশীহীন আমার বাড়ি। হাঁড়িতে ভাত নেই, অথচ প্রেমিক এসে ভিড় করে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৬২.
চর্যাপদের কোন কবি অতীশ দীপঙ্করের গুরু ছিলেন?
  1. কাহ্নপা
  2. শান্তিপা
  3. শবরপা
  4. ভুসুকুপা
সঠিক উত্তর:
শান্তিপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শান্তিপা
ব্যাখ্যা
• শান্তিপা:
- রাজা মহীপালের (৯৮৮-১০৩৮ খ্রিষ্টাব্দ) রাজত্বকালে শান্তিপা জীবিত ছিলেন বলে ধারণা করা যায়।
- মগধবাসী শান্তিপা ছিলেন অতীশ দীপঙ্করের গুরু।
- প্রথম জীবনে ব্রাহ্মণ ছিলেন পরে বৌদ্ধ ধর্মে ধর্মান্তরিত হন।
- তিনি একাধারে কুলগুরু ও রাজগুরু ছিলেন। নালন্দায় অধ্যাপনা করেছেন বলেও ধারণা করা হয়।
- তাঁর রচনাবলির মধ্যে রয়েছে 'সুখদুঃখদ্বয়', 'পরিত্যাগ দৃষ্টি'।

উল্লেখ্য,
অতীশ দীপঙ্কর দশম থেকে একাদশ শতকের মধ্যে বিখ্যাত বৌদ্ধ পণ্ডিত এবং ধর্মপ্রচারক ছিলেন।
---------------------------- 
• চর্যাপদের কবিগণ:
 চর্যার কবিতের সংখ্যা নিয়ে মতবিরোধ আছে-
- সুকুমার সেনের 'বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস' (প্রথম খণ্ড) গ্রন্থে চর্যাপদের ২৪ জন পদকর্তার নাম পাওয়া যায়।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সম্পাদিত 'Buddhist Mystic Songs' গ্রন্থে চর্যাপদের ২৩ জন কবির নাম উল্লেখ আছে।

উৎস: চর্যাগীতি পাঠ - ড. মাহবুবুল হক, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১৬৩.
চর্যাপদের মহিলা কবি হিসেবে কাকে অনুমান করা হয়?
  1. চন্দ্রাবতী
  2. লুইপা
  3. ভুসুকুপা
  4. কুক্কুরীপা
সঠিক উত্তর:
কুক্কুরীপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুক্কুরীপা
ব্যাখ্যা

• চর্যাপদের মহিলা কবি:  
- চর্যাপদ হলো প্রাচীন বৌদ্ধ সাহিত্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকলন।
- চর্যাপদ পাল শাসনামলে রচিত হয়েছে।
- চর্যাপদ মাত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত।
- চর্যাপদে ৬ টি প্রবাদ বাক্য পাওয়া যায়।
- চর্যাপদের বয়স আনুমানিক ১০০০ বছর।
- চর্যাপদের রচনাকাল সপ্তম থেকে দ্বাদশ শতাব্দী।তা না থাকলে দশম থেকে চতুর্দশ শতাব্দী।
- সুনীতিকুমার ১৯২৬ সালে ‘Origin and Development of the Bengali Language'(ODBL) গ্রন্থ রচনা করে চর্যাপদকে বাংলা সাহিত্যের বলে প্রমাণ করেন।

- ধারনা করা হয় চর্যাপদের একমাত্র মহিলা কবি ছিলেন কুক্কুরীপা। 
- তাকে বাংলা সাহিত্যের প্রথম নারী কবি হিসেবে ধরা হয়।
- ধারণা করা হয়, তিনি চর্যাপদের ৩টি পদ লিখেছেন—২, ২০ এবং ৪৮ নং, যদিও ৪৮ নং পদ আজ পাওয়া যায়নি।

- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে, কুক্কুরীপা ৮ম শতকের প্রথমার্ধে বর্তমান বাংলাদেশের অঞ্চলের লোক ছিলেন।
- এবং বৌদ্ধ তন্ত্র সাধনার মাধ্যমে মহামায়ার সাধনা শুরু করেছিলেন।
- ড. সুকুমার সেনের মতে, কুক্কুরীপার ভাষার সঙ্গে নারীদের ভাষার মিল দেখা যায়।
- ধারনা করা হয়, কুক্কুরীপা ছিলেন ইন্দ্রভূতির অন্যতম গুরু। 

- রাহুল সংকৃত্যায়নের মতে,
• কুক্কুরীপা দেবপালের রাজত্বকালে ছিলেন।
• তার জন্মস্থান কপিলবস্তু এবং জন্ম হয়েছিল ব্রাহ্মণ বংশে।
• তিনি একজন সিদ্ধা ছিলেন।

- তারানাথের মতে, একটি কুকুরী সর্বদা সঙ্গে রাখতেন তাই এই সিদ্ধা কুক্কুরীপা নামে পরিচিত।
- কুক্কুরীপার লেখা চর্যাপদের ভাষা সহজ, গ্রাম্য এবং লোকসঙ্গীতের মতো।
- তার পরিচিত পংক্তি হলো—“দিবসহি বহুড়ী কাউহি ডর ভাই রাতি ভইলে কামরু জাই।" 

উৎস:
লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ;
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।  

১৬৪.
বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন গ্রন্থ চর্যাপদের কবি নন কে?
  1. জগদানন্দপা
  2. আর্যদেবপা
  3. শান্তিপা
  4. চাটিল্লপা
সঠিক উত্তর:
জগদানন্দপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জগদানন্দপা
ব্যাখ্যা

• চর্যাপদের কবি নন- জগদানন্দপা। 
- জগদানন্দ ছিলেন বৈষ্ণব সাহিত্যের পণ্ডিত। 

--------------------
• চর্যাপদ:

- চর্যাপদ বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন গ্রন্থ। এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের - একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- চর্যাপদ আবিষ্কৃত হয় ১৯০৭ সালে (১৩১৪ বঙ্গাব্দে)। এবং ১৯১৬ খ্রিস্টাব্দে * (১৩২৩ বঙ্গাব্দে) কলকাতার বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে আধুনিক লিপিতে প্রকাশিত হয়। প্রাচীন এ গ্রন্থটির সম্পাদনা করেন মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী।

চর্যার কবিদের সংখ্যা নিয়ে মতবিরোধ আছে-
- সুকুমার সেনের 'বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস' (প্রথম খণ্ড) গ্রন্থে চর্যাপদের ২৪ জন পদকর্তার নাম পাওয়া যায়।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সম্পাদিত 'Buddhist Mystic Songs' গ্রন্থে চর্যাপদের ২৩ জন কবির নাম উল্লেখ আছে।

চর্যাপদ কবিগণ হলেন:
- কাহ্নপা; কুক্কুরীপা; ধর্মপা; ঢেগুণপা; বিরুপা; বীণাপা; ভাদেপা; ভুসুকুপা,  মহীধরপা, লুইপা; শবরপা; শান্তিপা; সরহপা; ডোম্বীপা; কম্বলাম্বরপা; গুণ্ডরীপা; চাটিল্লপা; আর্যদেবপা; দারিকপা; তাড়কপা; কঙ্কণপা; জয়নন্দীপা; তন্ত্রীপা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

১৬৫.
চর্যাপদের কবি ছিলেন কে?
  1. হরিরাম
  2. ময়ূরভট্ট
  3. জয়দেব
  4. মহীধর
সঠিক উত্তর:
মহীধর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মহীধর
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদ:
চর্যাপদ বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের আদি নিদর্শন। ১৯০৭ খ্রিস্টাব্দে মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপাল রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে এর পুথি আবিষ্কার করেন। তাঁরই সম্পাদনায় পুথিখানি হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা (১৯১৬) নামে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ কর্তৃক প্রকাশিত হয়। তিনি পুথির সূচনায় একটি সংস্কৃত শ্লোক থেকে নামের যে ইঙ্গিত পান তাতে এটি চর্যাশ্চর্যবিনিশ্চয় নামেও পরিচিত হয়। তবে সংক্ষেপে এটি ‘বৌদ্ধগান ও দোহা’ বা ‘চর্যাপদ’ নামেই অভিহিত হয়ে থাকে।

চর্যাপদের কবিগণ:
চর্যার কবিদের সংখ্যা নিয়ে মতবিরোধ আছে-
- সুকুমার সেনের 'বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস' (প্রথম খণ্ড) গ্রন্থে চর্যাপদের ২৪ জন পদকর্তার নাম উল্লেখ আছে।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সম্পাদিত 'Buddhist Mystic Songs' গ্রন্থে চর্যাপদের ২৩ জন কবির নাম উল্লেখ আছে।

চর্যাপদের কবিগণ হলেন:
কাহ্নপা; কুক্কুরীপা; ধর্মপা; ঢেণ্ডণপা; বিরুপা; বীণাপা; ভাদেপা; ভুসুকুপা, মহীধরপা, লুইপা; শবরপা; শান্তিপা; সরহপা; ডোম্বীপা; কম্বলাম্বরপা; গুণ্ডরীপা; চাটিল্লপা; আর্যদেবপা; দারিকপা; তাড়কপা; কঙ্কণপা; জয়নন্দীপা; তন্ত্রীপা।

অন্যদিকে, 
•'হরিরাম' চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের কবি। 
• 'ময়ূরভট্ট' ধর্মমঙ্গল কাব্যের কবি। 
• 'জয়দেব' বৈষ্ণব পদাবলির কবি। 
 
উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম।
১৬৬.
বিরুপার গুরু ছিলেন -
  1. কুক্কুরীপা
  2. শান্তিপা
  3. লুইপা
  4. জালন্ধরীপা
সঠিক উত্তর:
জালন্ধরীপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জালন্ধরীপা
ব্যাখ্যা
বিরুপা:
- বিরুপা'র অবস্থান ছিলো, অষ্টম শতকের ত্রিপুরায়।
- বিরুপার গুরু ছিলেন - জালন্ধরীপা। তার রচর্যাপদে পদের সংখ্যা একটি। তিনি ৩নং পদ রচনা করেন।
- এই পদে বর্ণিত হয়েছে, শুঁড়িবাড়ির উপযুক্ত চিত্র। বলা হয়েছে, এক শুঁড়িনী দুই ঘরে ঢুকে বাকল দিয়ে মদের পাত্র বাধেঁ।

চর্যাপদ:
- চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন।
- এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজ দরবার গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন।
- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ। চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে।
- চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র। ১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতী ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম, বাংলাপিডিয়া।
১৬৭.
সরহপা'র শিষ্য কে ছিলেন?
  1. রাজা দেবপাল
  2. রাজা বিজয়পাল
  3. রাজা রত্নপাল
  4. রাজা ধর্মপাল
সঠিক উত্তর:
রাজা রত্নপাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজা রত্নপাল
ব্যাখ্যা
সরহপা:
- সরহপা ছিলেন ব্রাহ্মণ। তাঁর জন্মস্থান রাজ্ঞীদেশ সম্ভবত উত্তরবঙ্গ-কামরূপ।
- কামরূপের রাজা রত্নপাল (১০০০-৩০ সাল) ছিলেন তাঁর শিষ্য। তিনি এগার শতকের প্রথমার্ধে জীবিত ছিলেন।
- তিনি অপভ্রংশ ভাষায় দোহাকোষ রচনা করেছিলেন। তাঁর পদাবলীর ভাষা বঙ্গ-কামরূপী।
- তিনি ছিলেন ভিক্ষু ও সিদ্ধা। তিনি বহু গ্রন্থের রচয়িতা।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১৬৮.
চর্যাপদের কোন কবিকে আদি সিদ্ধাচার্য বিবেচনা করা হয়? 
  1. কুক্কুরীপা
  2. কাহ্নপা
  3. ভুসুকুপা
  4. লুইপা
সঠিক উত্তর:
লুইপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লুইপা
ব্যাখ্যা

• লুইপা:
- সাধারণত লুইপাকে আদি সিদ্ধাচার্য বিবেচনা করা হয়। কিন্তু ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ ও রাহুল সংকৃত্যায়ন তাঁকে প্রথম বলে স্বীকার করেন না।
-  বাঙালি বলে অনুমিত। উড়িষ্যায় তাঁর জন্মস্থান বলে কারও কারও ধারণা।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ উল্লেখ করেছেন, তারানাথের মতে লুই বাংলাদেশের গঙ্গার ধারে বাস করতেন।
- তিনি প্রথম জীবনে উদ্যানের (সোয়াতের) রাজার কায়স্থ বা লেখক ছিলেন। তখন তাঁর নাম ছিল সামন্ত শুভ।
- তিনি উড়িষ্যার রাজা ও মন্ত্রীর গুরু ছিলেন। লুইপার জীবৎকাল ৭৩০-৮১০ সাল।
- সংস্কৃত ভাষায় তিনি চারটি গ্রন্থ রচনা করেছিলেন। তাঁর একটি গ্রন্থের নাম 'অভিসময়বিভঙ্গ।'
- তিনি চর্যাপদে দুটি পদ লিখেছেন। পদ দুইটি হলো ১নং ও ২৯নং পদ।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

১৬৯.
কোন পদকর্তার চর্যাপদে কোনো পদ খুঁজে পাওয়া যায়নি?
  1. জয়নন্দী
  2. লাড়ীডোম্বীপা
  3. তাড়কপা
  4. মহীধরপা
সঠিক উত্তর:
লাড়ীডোম্বীপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লাড়ীডোম্বীপা
ব্যাখ্যা

চর্যাপদের কবি: 
- চর্যাচর্যবিনিশ্চয়ের মোট চব্বিশ জন পদকর্তার পরিচয় পাওয়া যায়।
- গানের মাঝে ও শেষে তাঁরা ভণিতা দিয়েছেন। তবে কারও কারও গুরুর ভণিতা আছে। নামের শেষে গৌরবসূচক ‘পা’ যোগ করা হয়েছে।

চর্যার চব্বিশ জন পদকর্তা হলেন: 
- লুই, কুক্কুরী, বিরুপা, গুণ্ডরী, চাটিল, ভুসুকু, কাহ্ন, কামলি, ডোম্বী, শান্তি, মহিত্তা, বীণা, সরহ, সবর, আজদেব, ঢেণ্ঢণ, দারিক, ভাদে, তাড়ক, কঙ্কণ, জয়নন্দী, ধাম, তন্ত্রী ও লাড়ীডোম্বী।

- লাড়ীডোম্বীপার কোন পদ পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য,
- জয়নন্দী ৪৬ নম্বর পদের রচয়িতা।
- জয়নন্দী ৪৬ নম্বর পদের রচয়িতা। 
- তাড়কপা ৩৭ নম্বর পদ রচয়িতা। 
- মহীধরপা ১৬ নম্বর পদের রচয়িতা।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৭০.
"দশবর রঅণ হরিঅ দশ দিসেঁ।
বিদ্যাকরি দম জা অহিলেসেঁ॥" - চর্যাপদের চরণটির রচয়িতা কে?
  1. সরহপা
  2. কাহ্নপা
  3. বীণাপা
  4. ভুসুকুপা
সঠিক উত্তর:
কাহ্নপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাহ্নপা
ব্যাখ্যা

দশবর রঅণ হরিঅ দশ দিসেঁ।
বিদ্যাকরি দম জা অহিলেসেঁ॥ - এই চরণটির রচয়িতা কাহ্নপা

কাহ্নপা:
- তিনি বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্য ও চর্যাপদকর্তা ছিলেন।
- প্রকৃত নাম কৃষ্ণাচার্য পাদ, অপভ্রংশে হয়েছে কাহ্নপা, কনহপা, কাহ্নিল পা ইত্যাদি।
- বাংলা সাহিত্যের আদি নিদর্শন চর্যাপদের কবিগোষ্ঠীর মধ্যে তিনিই ছিলেন শ্রেষ্ঠ।
- পালরাজ দেবপালের রাজত্বকালে (আনু. ৯০০-৫০) তিনি বর্তমান ছিলেন।
- চর্যাপদের ২৩জন কবির মধ্যে কাহ্নপার পদসংখ্যা সর্বাধিক, মোট ১৩টি। কাহ্নপা রচিত ২৪ নং পদটি পাওয়া যায়নি।

কাহ্নপা রচিত চর্যাগীতির একটি নিদর্শন:

এবংকার দৃঢ় বাখোড় মোড়িউ।
বিবিহ বিআপক বান্ধণ তোড়িউ॥
কাহ বিলসঅ আসব মাতা।
সহজ নলিনীবণ পইসি নিবিতা॥
জিম জিম করিণা করিণিরে রিসঅ।
তিম তিম তথতা মঅগল বরিসঅ ৷ ছড়গই সঅল সহাবে সুধ।
ভাবাভাব বলাগ ন দুধ।
দশবর রঅণ হরিঅ দশ দিসেঁ।
বিদ্যাকরি দম জা অহিলেসেঁ॥

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

১৭১.
"দিবসহি বহুড়ী কাউহি ডর ভাই।
রাতি ভইলে কামরু জাই।।" পদটি কোন কবির রচনা?
  1. ঢেগুণপা 
  2. শবরপা 
  3. কুক্কুরীপা
  4. ডোম্বীপা
সঠিক উত্তর:
কুক্কুরীপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুক্কুরীপা
ব্যাখ্যা

• কুক্কুরীপা:
- ধারণা করা হয় কুক্কুরীপা খ্রিষ্টীয় অষ্টম শতকে বর্তমান ছিলেন। এবং তিনি তিব্বতের কাছাকাছি কোনো এক অঞ্চলের বাসিন্দা।
- কুক্কুরীপা চর্যাপদের ২, ২০ ও ৪৮নং পদের রচয়িতা। তাঁর রচিত ৪৮নং পদটি খুঁজে পাওয়া যায় নি।
- চতুর্থ সর্বোচ্চ পদ রচনা করেন কুক্কুরীপা (৩টি)।

কুক্কুরীপা রচিত অতিপরিচিত দুটি পঙ্‌ক্তি হলো:
"দিবসহি বহুড়ী কাউহি ডর ভাই।
রাতি ভইলে কামরু জাই।।" চর্যাপদের ২নং পদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৭২.
"দিবসহি বহূড়ী কাউহি ডর ভাই। রাতি ভইলে কামরু জাই।”- পদটির রচয়িতা কে? 
  1. ঢেণ্ডনপা 
  2. ধর্মপা 
  3. সরহপা 
  4. কুক্কুরীপা 
সঠিক উত্তর:
কুক্কুরীপা 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুক্কুরীপা 
ব্যাখ্যা

"দিবসহি বহূড়ী কাউহি ডর ভাই। রাতি ভইলে কামরু জাই।”- পদটির রচয়িতা- কুক্কুরীপা । 
--------------------------------- 
• কুক্কুরীপা: 
- বাংলা ভাষার প্রথম মহিলা কবি হিসেবে কুক্কুরীপাকে ধরা হয়।
- ড. সুকুমার সেন মনে করেন কুক্কুরীপার ভাষার সঙ্গে নারীদের ভাষার মিল রয়েছে।
- তিনি মোট ৩টি পদ রচনা করেছেন।
- ২ ও ২০ নম্বর পদ পাওয়া গেছে। 
- কিন্তু ৪৮ নম্বর পদ খুঁজে পাওয়া যায়নি।
- কুক্কুরীপা রচিত ২ নং পদটি হচ্ছে- "দিবসহি বহূড়ী কাউহি ডর ভাই। রাতি ভইলে কামরু জাই।”
- এর অর্থ হচ্ছে- 'দিনে বউটি কাকের ভয়ে ভীত থাকলেও রাত হলে সে কামরূপে যায়'। 
------------------------------------- 
অন্যদিকে,
• ঢেণ্ডনপা নবম শতকের কবি ছিলেন।
- পেশায় তিনি তাঁতি ছিলেন।
- চর্যাপদে তাঁর রচিত একটিমাত্র পদ পাওয়া যায়।
- ঢেণ্ডনপা চর্যাপদের ৩৩ নম্বর পদ রচনা করেছেন।

• ধর্মপা জন্মেছিলেন নবম শতকে, বিক্রমশীলার এক ব্রাহ্মণ বংশে।
- তাঁর গুরু ছিলেন কাহ্নপা।
- চর্যাপদের ৪৭ নম্বর পদটি ধর্মপা রচিত।
- তিনি ভিক্ষু ও সিদ্ধা ছিলেন।

• সরহপা অপভ্রংশ ভাষায় দোহাকোষ রচনা করেছিলেন।
- তার পদাবলীর ভাষা বঙ্গ-কামরূপী।
- সরহপা চর্যাপদে মোট ৪টি পদ রচনা করেছেন।
- তার রচিত পদগুলো হলো ২২, ৩২, ৩৮ এবং ৩৯ নম্বর।
 
উৎস:
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম;
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

১৭৩.
চর্যাপদের ১নং পদের রচয়িতা কে?
  1. কাহ্নপা
  2. শবরপা
  3. ভুসুকুপা
  4. লুইপা
সঠিক উত্তর:
লুইপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লুইপা
ব্যাখ্যা

লুইপা:
- লুইপা প্রবীণ বৌদ্ধসিদ্ধাচার্য ও চর্যাপদের একজন কবি।
- 'লুইপা' রচিত চর্যার পদ সংখ্যা দুইটি। লুইপা চর্যাপদের ১ ও ২৯ নং পদ রচনা করেন।
- মুহাম্মদ শহীদুল্লার অনুমান: ৭৩০ থেকে ৮১০ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে লুইপা জীবিত - ছিলেন। হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর মতে, লুইপা রাঢ় অঞ্চলের লোক।
- 'চয্যাচর্যবিনিশ্চয়'-এর প্রথম কবি লুইপা। তিব্বতি ঐতিহ্যে প্রাপ্ত চুরাশি জন সিদ্ধাচার্যের নামের তালিকায় লুইয়ের নাম আদিতম। অনেক পণ্ডিত লুইপাকে ও প্রথম চর্যাগীতি রচয়িতা বলে মনে করেন। তাঁর জীবৎকাল ৭৩০-৮১০ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে।
- সে সময় ছিল রাজা ধর্মপালের রাজত্বকাল।
- হিন্দিভাষীরা লুইপাকে মগধ বা বিহারের অধিবাসী বলে দাবি করেন।

লুইপা রচিত চর্যাপদের প্রথম পদ-
'কাআ তরুবর পাঞ্চ বি ডাল।
চঞ্চল চীএ পৈঠা কাল।।'

উৎস:
১। বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২। বাংলাপিডিয়া।

১৭৪.
"আজি ভুসুকু বঙ্গালী ভইলি।
নিঅ ঘরিণী চণ্ডালী লেলী।" - কে লিখেছেন?
  1. লুইপা
  2. কাহ্নপা
  3. ভুসুকুপা
  4. ঢেণ্ডণপা
সঠিক উত্তর:
ভুসুকুপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভুসুকুপা
ব্যাখ্যা
• ভুসুকুপা:
- চর্যাপদের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদ রচিয়তা ভুসুকুপা। 
- তিনি আটটি পদ রচনা করেন।
- তিনি ৬, ২১, ২৩, ২৭, ৩০, ৪১, ৪৩, ৪৯ নং পদ রচনা করেন।
- ভুসুকুপা তাঁর ছদ্মনাম, প্রকৃত নাম শান্তিদেব। তিনি সৌরাষ্ট্রের রাজপুত্র ছিলেন এবং শেষ জীবনে নালন্দায় বৌদ্ধ ভিক্ষু হিসেবে নিঃসঙ্গভাবে অবস্থান করেন। সেজন্য ভুক্তির ভু, সুপ্তির সু এবং কুটিরের কু এই তিন আদ্যক্ষর যোগে তাঁকে ভুসুকু বলে পরিহাস করা হত।

'আজি ভুসুকু বঙ্গালী ভইলি।
নিঅ ঘরিণী চণ্ডালী লেলী।'
-- ভুসুকুর এই উক্তিকে প্রমাণ স্বরূপ মনে করে তাঁকে বাঙালি অনুমান করা হয়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম।
১৭৫.
চর্যার সিদ্ধাচার্যদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ বলে অভিহিত করা হয় কাকে?
  1. লুইপা
  2. কাহ্নপা
  3. সরহপা
  4. ঢেগুণপা
সঠিক উত্তর:
কাহ্নপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাহ্নপা
ব্যাখ্যা
• কাহ্নপা:
- চর্যাপদের কবিগণের মধ্যে সর্বাধিক পদ রচনা করেন কাহ্নপা।
- কাহ্নপা সর্বমোট ১৩টি পদ রচনা করেন।
- এই সংখ্যাধিক্যের পরিপ্রেক্ষিতে তাঁকে কবি এবং সিদ্ধাচার্যদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ বলে অভিহিত করা যায়।
- কাহ্নপা রচিত পদগুলো হল : ৭, ৯, ১০, ১১, ১২, ১৩, ১৮, ১৯, ২৪, ৩৬, ৪০, ৪২ ও ৪৫।
- তাঁর রচিত ২৪নং পদটি পাওয়া যায় নি।
- কাহ্নপা রচিত পদগুলোতে- নিপুণ কবিত্ব শক্তি এবং তৎকালীন সমাজচিত্র ফুটে উঠেছে।
- চর্যাপদে কাহ্নিল, কাহ্নি, কৃষ্ণচর্য, কৃষ্ণবজ্রপাদ, কাহ্নু নামে লিখতেন। 

অন্যদিকে,
• চর্যাপদের প্রথম পদটি লুইপা রচনা করেছেন। সেই হিসেবে লুইপাকে চর্যাপদের আদি কবি মনে করা হয়। তাঁর রচিত ১নং ও ২৯নং পদটি।
• তৃতীয় সর্বোচ্চ পদ রচনা করেন সরহপা। তাঁর রচিত পদগুলো হলো- ৪টি; ২২, ৩২, ৩৮, ৩৯।
• চর্যাপদের কবি ঢেগুণপা একজন তাঁতি ছিলেন। তিনি নবম শতকের কবি। চর্যাপদের ৩৩নং পদটি তিনি রচনা করেন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৭৬.
চর্যার কোন কবির পদে নারীদের নৌকা চালনা, নৌকার জলসিঞ্চন, লোক পারাপারের মতো কর্মে যুক্ত থাকার উল্লেখ পাওয়া যায়?
  1. ভাদেপা
  2. কুক্কুরীপা
  3. কাহ্নপা
  4. ডোম্বীপা
সঠিক উত্তর:
ডোম্বীপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডোম্বীপা
ব্যাখ্যা
• ডোম্বীপা:
- চর্যাপদের পদকর্তাদের মধ্যে ত্রিপুরা রাজ্যের রাজা ছিলেন-ডোম্বীপা।
- তিনি চর্যাপদের ১৪নং পদটির রচয়িতা।
- ডোম্বীপার গুরু ছিলেন বিরূপা।
- ডোম্বীপাদের ১৪নং পদে নারীদের নৌকা চালনা, নৌকার জলসিঞ্চন, লোক পারাপার ইত্যাদির মতো কর্মে যুক্ত থাকার উল্লেখ পাওয়া যায়। তাছাড়া নারীরা গুরুর স্থানও অধিকার করেছিল।
- গঙ্গা ও যমুনা নদীতে নৌকা বেয়ে নেয়ার চিত্র এবং গঙ্গা ও যমুনা নদীতে কড়ি ছাড়াই নদী পার হওয়া যেত বলে ডোম্বীপা রচিত পদ থেকে জানা যায়।

অন্যদিকে,
• কুক্কুরীপা একটি পদে (২নং) লিখেছেন, গৃহবধূটি বেশ ছল জানে। সে দিনের বেলায় কাকের ডাক শুনেই ভয় পায়, কিন্তু রাতে প্রেমিকের সঙ্গে দেখা করতে যায়।

• কাহ্নপা একটি পদে (১০নং) জানিয়েছেন, এক ডোমিনী নগরে তাঁত ও চেঙারি বিক্রি করে। কাহ্নপার অন্য একটি পদে (১৮নং) ডোমনীর 'ছিনালী' করার কথা আছে।

• ভাদেপা চর্যার ৩৫নং পদ রচনা করেন। এই পদের মূলকথা হচ্ছে- ধর্মীয় তত্ত্বকথার বর্ণনা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৭৭.
সংখ্যাধিক্যের পরিপেক্ষিতে কাকে কবি ও সিদ্ধাচার্যদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ বলে অভিহিত করা যায়?
  1. ভুসুকুপা
  2. কানু পা 
  3. সরহ পা
  4. লুই পা
সঠিক উত্তর:
কানু পা 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কানু পা 
ব্যাখ্যা

• কাহ্ন পাদ:
- চর্যাপদের কবিগণের মধ্যে সর্বাধিক পদরচয়িতার গৌরবের অধিকারী কাহ্ন পাদ তাঁর তেরটি পদ চর্যাপদ গ্রন্থে গৃহীত হয়েছে।
- এই সংখ্যাধিক্যের পরিপেক্ষিতে তাঁকে কবি ও সিদ্ধাচার্যদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ বলে অভিহিত করা যায়।
- কানু পা, কৃষ্ণপাদ ইত্যাদি নামেও তিনি পরিচিত।
- বিভিন্ন পদে কাহ্ন, কাহ্ন, কাহ্নু, কাহ, কাহ্নি, কাহ্নিলা, কাফিল প্রভৃতি ভণিতা লক্ষ করা যায়।
- খ্রিস্টিয় অষ্টম শতকে কানু পার আবির্ভাব হয়েছিল বলেতাঁর তেরটি পদ চর্যাপদ গ্রন্থে গৃহীত হয়েছে।

চর্যাপদে সবচেয়ে বেশি পদ আছে কাহ্নপাদের, সংখ্যায় তেরটি।
তাছাড়া ভুসুকুর আট, সরহের চার, লুই, শান্তি, শবরের দুটি করে, অন্যদের একটি করে পদ বিদ্যমান।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

১৭৮.
চর্যাপদে কাহ্নপার মোট কতটি পদ রয়েছে?
  1. ১০টি
  2. ১২টি
  3. ১৩টি
  4. ১৪টি
সঠিক উত্তর:
১৩টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৩টি
ব্যাখ্যা

কাহ্নপা:
- তিনি বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্য ও চর্যাপদকর্তা ছিলেন।
- প্রকৃত নাম কৃষ্ণাচার্য পাদ, অপভ্রংশে হয়েছে কাহ্নপা, কনহপা, কাহ্নিল পা ইত্যাদি।
- বাংলা সাহিত্যের আদি নিদর্শন চর্যাপদের কবিগোষ্ঠীর মধ্যে তিনিই ছিলেন শ্রেষ্ঠ।
- পালরাজ দেবপালের রাজত্বকালে (আনু. ৯০০-৫০) তিনি বর্তমান ছিলেন।
- চর্যাপদের ২৩জন কবির মধ্যে কাহ্নপার পদসংখ্যা সর্বাধিক, মোট ১৩টি।
- কাহ্নপা রচিত ২৪ নং পদটি পাওয়া যায়নি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৭৯.
চর্যাপদের কবি নয় কে?
  1. তাড়কপা
  2. জয়ীনন্দপা
  3. গুণ্ডরীপা
  4. চাটিল্লপা
সঠিক উত্তর:
জয়ীনন্দপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জয়ীনন্দপা
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদের কবি নন - জয়ীনন্দপা

চর্যাপদের কবিগণ:
চর্যার কবিতের সংখ্যা নিয়ে মতবিরোধ আছে-
- সুকুমার সেনের 'বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস' (প্রথম খণ্ড) গ্রন্থে চর্যাপদের ২৪ জন পদকর্তার নাম পাওয়া যায়। ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সম্পাদিত 'Buddhist Mystic Songs' গ্রন্থে চর্যাপদের ২৩ জন কবির নাম উল্লেখ আছে।

কবিগণ হলেন:
কাহ্নপা; কুক্কুরীপা; ধর্মপা; ঢেণ্ডণপা; বিরুপা; বীণাপা; ভাদেপা; ভুসুকুপা, মহীধরপা, লুইপা; শবরপা; শান্তিপা; সরহপা; ডোম্বীপা; কম্বলাম্বরপা; গুণ্ডরীপা; চাটিল্লপা; আর্যদেবপা; দারিকপা; তাড়কপা; কঙ্কণপা; জয়নন্দীপা; তন্ত্রীপা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১৮০.
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে চর্যাপদের প্রাচীন কবি কে?
  1. লুইপা
  2. শবরপা
  3. কাহ্নপা
  4. ভুসুকুপা
সঠিক উত্তর:
শবরপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শবরপা
ব্যাখ্যা

চর্যাপদ:
- চর্যাপদ হলো প্রাচীন বৌদ্ধ সাহিত্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকলন।
- এটি মূলত ৬৫০–১২০০ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে রচিত পদ, গান বা গীতিকবিতার সংকলন।
- চর্যাপদ  সহজিয়া বৌদ্ধ সাধনাসংগীত হিসেবে ব্যবহৃত হতো।
- চর্যাপদের ভাষা ‘সন্ধ্যা ভাষা’, অর্থাৎ রূপক ও সংকেতধর্মী।
- এতে ধর্মীয় ভাবধারা, লৌকিক জীবনের সরল চিত্র এবং নৈতিক শিক্ষা ফুটে ওঠে। 

- বাংলা সাহিত্যের প্রথম গ্রন্থ যেহেতু চর্যাপদ;
- এবং এই গ্রন্থের ৫১ টি পদের প্রথম পদের রচয়িতা যেহেতু লুইপা;
- তাই লুইপাকে বাংলা সাহিত্যের আদি কবি বলা হয়। 

- তবে শহীদুল্লাহর মতে প্রাচীন কবি শবরপা।
- লুইপা চর্যাপদের প্রথম পদ রচয়িতা হলেও, শহীদুল্লাহর মতে, লুইপা শবরপার শিষ্য ছিলেন।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে, শবরপা লুইপার গুরু এবং নাগার্জুনের শিষ্য ছিলেন।
- শহীদুল্লাহ শবরপাকে তাই আগে স্থাপন করেন।
- তিনি ধারণা করেন, শবরপা বাংলাদেশের লোক
- এবং চর্যাপদের ২৮ ও ৫০ নং পদ দুটি রচনা করেছেন।

উৎস:
লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ।
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।  

১৮১.
কাহ্নপা রচিত কয়টি পদ পাওয়া গেছে?
  1. ৮টি
  2. ৯টি
  3. ১১টি
  4. ১২ টি
সঠিক উত্তর:
১২ টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১২ টি
ব্যাখ্যা
• কাহ্নপা:
- চর্যাপদের পদকর্তার মধ্যে সর্বাধিক পদ রচনা করেন- কাহ্নপা।
- কাহ্নপা ১৩টি পদ রচনা করেন।
- তাঁর মধ্যে ১২টি পদ পাওয়া গেছে।
- তাঁর রচিত পদগুলো: ৭, ৯, ১০, ১১, ১২, ১৩, ১৮, ১৯, ৩৬, ৪০, ৪২, ৪৫ নং পদ উদ্ধার হয়েছে, কিন্তু ২৪ নং পদ টি পাওয়া যায় নি।
- তিনি ছিলেন সহজিয়া তান্ত্রিক বৌদ্ধযোগী।
- তিনি ধর্মশাস্ত্র ও সঙ্গীত শাস্ত্র উভয় দিকেই দক্ষ ছিলেন।
- চর্যাপদে তাঁর কাফিল, কাহ্নি, কৃষ্ণচর্য, কৃষ্ণবজ্রপাদ, কাঙ্গু নাম পাওয়া যায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৮২.
বাংলা সাহিত্যের আদি নিদর্শন কত সালে আবিষ্কৃত হয়?
  1. ১৯০৯ সালে
  2. ১৯১১ সালে
  3. ১৯০৭ সালে
  4. ১৯১৭ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯০৭ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯০৭ সালে
ব্যাখ্যা

চর্যাপদ:
- চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন। এবং এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজ দরবার গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন।
- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ। চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে।
- চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র। ১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতী ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম, বাংলাপিডিয়া।

১৮৩.
“এতকাল হউ অচ্ছিলোঁ স্বমোহে” — এই পদটি কার রচনা?
  1. ভাদেপা
  2. সরহপা
  3. কাহ্নপা
  4. লুইপা
সঠিক উত্তর:
ভাদেপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভাদেপা
ব্যাখ্যা

ভাদেপা:
- তিনি খ্রিষ্টীয় অষ্টম শতকে ছিলো।
- তিনি শ্রাবন্তী এলাকায় অবস্থান ছিলো।
- ভাদেপা'র গুরু ছিলো জালন্ধরীপা, মতান্তরে কাহ্নপা।
- চর্যাপদের ৩৫ নং পদ রচনা করেন।

ভাদেপা রচিত পদ:
এতকাল হউ অচ্ছিলোঁ স্বমোহে।
এবেঁ মই বুঝিল সদ্ গুরু বোহেঁ।।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৮৪.
চর্যাপদের ১ ও ২৯ নং পদ রচনা করেন -
  1. ভুসুকুপা
  2. বিরুপা
  3. বীণাপা
  4. লুইপা
সঠিক উত্তর:
লুইপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লুইপা
ব্যাখ্যা
লুইপা:
- তিনি প্রবীণ বৌদ্ধসিদ্ধাচার্য ও চর্যাপদের কবি ছিলেন।
- মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌র অনুমান: ৭৩০ থেকে ৮১০ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে লুইপা জীবিত ছিলেন।
- 'চঞ্চল চীএ পৈঠা কাল''- পদটির রচয়িতা- 'লুইপা'। এটি চর্যাপদের প্রথম পদ।
- তিনি চর্যাপদে দুটি পদ লিখেছেন। লুইপা চর্যাপদের ১ ও ২৯ নং পদ রচনা করেন

লুইপা রচিত পদ:

কাআ তরুবর পাঞ্চ বি ডাল।
চঞ্চল চীএ পৈঠা কাল।।
দিঢ় করিঅ মহাসুহ পরিমাণ
লূই ভণই গুরু পূছিহ জাণ।।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৮৫.
এতকাল হউ অচ্ছিলোঁ স্বমোহে।
এবেঁ মই বুঝিল সদ্ গুরু বোহেঁ।। - এটি চর্যাপদের কত নং পদ?
  1. ১৮নং
  2. ৫০নং
  3. ৩৫নং
  4. ৪৪নং
সঠিক উত্তর:
৩৫নং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩৫নং
ব্যাখ্যা

এতকাল হউ অচ্ছিলোঁ স্বমোহে।
এবেঁ মই বুঝিল সদ্ গুরু বোহেঁ।। - পদটি রচয়িতা - ভাদেপা।
- এটি চর্যাপদের ৩৫নং পদ।

ভাদেপা:
- তিনি খ্রিষ্টীয় অষ্টম শতকে ছিলো।
- তিনি শ্রাবন্তী এলাকায় অবস্থান ছিলো।
- ভাদেপা'র গুরু ছিলো জালন্ধরীপা, মতান্তরে কাহ্নপা।
- চর্যাপদের ৩৫নং পদ রচনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১৮৬.
চর্যাপদের সর্বাধিক পদ রচয়িতা কে?
  1. কুক্কুরীপা
  2. ভুসুকুপা
  3. লুইপা 
  4. কাহ্নপা
সঠিক উত্তর:
কাহ্নপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাহ্নপা
ব্যাখ্যা

• চর্যাপদ:
বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনযুগের একমাত্র নিদর্শনের নাম চর্যাচর্যবিনিশ্চয় বা চর্যাগীতিকোষ বা চর্যাগীতি বা চর্যাপদ।
- চর্যাপদ গানের সংকলন।
- চর্যাপদের বিষয়বস্তু বৌদ্ধ ধর্ম মতে সাধনভজনের তত্ত্ব প্রকাশ। চর্যাগুলো বৌদ্ধ সহজিয়াগণ রচনা করেন।
- মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী কর্তৃক নেপালের রয়েল লাইব্রেরি থেকে, ১৯০৭ সালে আবিষ্কৃত হয় বাংলা ভাষার প্রাচীনতম নিদর্শন চর্যাপদ।
- চর্যাপদে মোট সাড়ে ছেচল্লিশটি (একটি পদের ছেঁড়া বা খণ্ডিত অংশসহ) পদ পাওয়া গেছে।
- চর্যাপদে সর্বাধিক পদরচয়িতা কবি কাহ্নপা। তিনি মোট ১৩টি পদ রচনা করেন।
- দ্বিতীয় সর্বাধিক পদরচয়িতা কবি ভুসুকুপা। তিনি মোট ৮টি পদ রচনা করেন।
- তৃতীয় সর্বোচ্চ পদ রচনা করেন সরহপা। তাঁর রচিত পদের সংখ্যা (৪টি; ২২,৩২, ৩৮, ৩৯)।
- চতুর্থ সর্বোচ্চ পদ রচনা করেন কুক্কুরীপা (৩টি; ২, ২০, ৪৮)। তবে তাঁর রচিত ৪৮ নং পদটি খুঁজে পাওয়া যায়নি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৮৭.
কুক্কুরীপা চর্যাগীতির কয়টি গানের রচয়িতা?
  1. ৮টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৫টি
সঠিক উত্তর:
৩টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩টি
ব্যাখ্যা
• কুক্কুরীপা:
- কুক্কুরীপা চর্যাগীতির তিনটি গানের রচয়িতা। এদের মধ্যে একটি গান [৪৮ সংখ্যক পুথির লুপ্ত অংশ ছিল।

- তিনি উচ্চবংশীয় ছিলেন বলে ধারণা করা হয়। তাঁর চর্যার ভাষা সে ইঙ্গিত বহন করে। তাঁর রচিত গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে 'যোগভাবনাপ্রদেশ', 'স্রবপরিচ্ছদ'।

- কুক্কুরীপা তান্ত্রিক নাম কিংবা ছদ্মনাম। কুলীন বা উচ্চবংশীয় হলেও কাব্যমূর্তির কারণে বা তান্ত্রিকতার আকর্ষণে তিনি এ নাম ব্যবহার করে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হয়। নামের সঙ্গে 'পা' যুক্ত থাকায় কেউ কেউ একে গুরুর প্রতি শ্রদ্ধাসূচক ছদ্মনাম বলে মনে করেন। তারানাথের মতে, সঙ্গে সবসময় একটি কুকুরী থাকত বলে তাঁর নামকরণ হয়েছে কুক্কুরীপা।

- কুক্কুরীপা বাংলার উত্তরখণ্ডের অধিবাসী ছিলেন বলে ধারণা করা হয়। অবশ্য হিন্দিভাষীরা তাঁকে কপিলাবস্তু বা বুদ্ধের জন্মস্থান নেপালের লোক বলেছেন।

- সংস্কৃত রচনা 'মহামায়াসাধন'-এর রচয়িতা হিসেবে কুকুরীপার নাম পাওয়া গেছে। এ থেকে অনুমিত হয়, তিনি মহামায়ার উপাসক ছিলেন। ড. শহীদুল্লাহ্ মতে, কুকুরীপা ৭৪০ থেকে ৮২০ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে জীবিত ছিলেন। ধারণা করা হয়, ৮০৯ খ্রিষ্টাব্দে রাজা ধর্মপালের শাসনামলে কুক্কুরীপা তাঁর পৃষ্ঠপোষকতা পেয়েছিলেন।

উৎস: চর্যাগীতি পাঠ, ড. মাহবুবুল হক।
১৮৮.
"নবচর্যাপদ" কার সম্পাদনায় সর্বপ্রথম প্রকাশিত হয়?
  1. ড. বিজয়চন্দ্র মজুমদারের
  2. ড. শশিভূষণ দাশগুপ্তের
  3. হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর
  4. ড. অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের
সঠিক উত্তর:
ড. অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ড. অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের
ব্যাখ্যা
• 'নবচর্যাপদ' সম্পাদকা বিষয়ক তথ্য:
- হরপ্রসাদ শাস্ত্রী কর্তৃক চর্যাগীতির পুথি আবিষ্কারের প্রায় অর্ধশতক বছর পর ড. শশিভূষণ দাশগুপ্ত নেপাল থেকে ২০টি পুথি অবলম্বনে ২৫০টি চর্যাগীতি খুঁজে বের করেন।
এগুলোর মধ্য থেকে ৯৮টি চর্যাগীতি 'নবচর্যাপদ' নামে প্রকাশের উদ্যোগ নেন তিনি। কিন্তু তাঁর আকস্মিক মৃত্যু ঘটলে ড. অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্পাদনায় ১৯৮৯ খ্রিষ্টাব্দে সেগুলো প্রকাশিত হয়।

- এই গ্রন্থে সংকলিত চর্যাগীতিপুথির প্রথম ১৯টির রচনাকাল দশম থেকে দ্বাদশ শতক। পরবর্তী ৪৪টি চর্যাগীতি ত্রয়োদশ থেকে চতুর্দশ শতকের রচনা। বাকি ৩৫টি চর্যাগীতির রচনাকাল পঞ্চদশ শতক।

- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে নবচর্যাপদগুলির বিশেষ গুরুত্ব ও তাৎপর্য রয়েছে। প্রথমত ত্রয়োদশ ও চতুর্দশ শতক সম্পর্কে সাধারণ ধারণা, বাংলা সাহিত্যর তথাকথিত এই অন্ধকার কালপঠে এদেশে সাহিত্য রচিত হয় নি। কিন্তু নবচর্যাগীতিগুলি আবিষ্কারের পর এ প্রমাণ পাওয়া গেছে সেসময়ও সাহিত্য রচনা অব্যাহত ছিল।

উৎস: চর্যাগীতি পাঠ, ড. মাহবুবুল হক।
১৮৯.
চর্যাপদের কবি নন কে?
  1. চাটিল্লপা
  2. জয়নন্দীপা
  3. তাড়কপা
  4. গুকুরীপা
সঠিক উত্তর:
গুকুরীপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গুকুরীপা
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদের কবি নন গুকুরীপা।

⇒ চর্যাপদ:
- চর্যাপদ বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন গ্রন্থ।
- এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- চর্যাপদ আবিষ্কৃত হয় ১৯০৭ সালে (১৩১৪ বঙ্গাব্দে)।
- এবং ১৯১৬ খ্রিস্টাব্দে (১৩২৩ বঙ্গাব্দে) কলকাতার বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে আধুনিক লিপিতে প্রকাশিত হয়।
- প্রাচীন এ গ্রন্থটির সম্পাদনা করেন মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী।

⇒ চর্যাপদের কবিগণ:
 চর্যার কবিতের সংখ্যা নিয়ে মতবিরোধ আছে-
- সুকুমার সেনের 'বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস' (প্রথম খণ্ড) গ্রন্থে চর্যাপদের ২৪ জন পদকর্তার নাম পাওয়া যায়।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সম্পাদিত 'Buddhist Mystic Songs' গ্রন্থে চর্যাপদের ২৩ জন কবির নাম উল্লেখ আছে।

এরা হলেন-
- কাহ্নপা; কুক্কুরীপা; ধর্মপা; ঢেগুণপা; বিরুপা; বীণাপা; ভাদেপা; ভুসুকুপা, মহীধরপা, লুইপা; শবরপা; শান্তিপা; সরহপা; ডোম্বীপা; কম্বলাম্বরপা; গুণ্ডুরীপা; চাটিল্লপা; আর্যদেবপা; দারিকপা; তাড়কপা; কঙ্কণপা; জয়নন্দীপা; তন্ত্রীপা। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১৯০.
চর্যার সর্বশেষ রচয়িতা হিসেবে অনুমান করা হয় কাকে?
  1. ডোম্বীপা
  2. সরহপা
  3. চাটিল্পপা
  4. আর্যদেবপা
  5. তন্ত্রীপা
সঠিক উত্তর:
সরহপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সরহপা
ব্যাখ্যা
• চর্যার সর্বশেষ রচয়িতা বিষয়ক আলোচনা:
সর্বশেষ চর্যা রচয়িতা কে, বলা শক্ত। দারিকপাদ লুইপার শিষ্য বলে কথিত আছে। কিন্তু দারিকপাদ তিব্বতী ঐতিহ্য অনুসারে দীক্ষা-গ্রহণের পূর্বে রাজা ছিলেন ইন্দ্রপাল।

আর ইন্দ্রপাল নামের একজন রাজা ছিলেন কামরূপে, ১০৩০ খ্রী. তিনি সিংহাসনে বসেন। এই রাজা ইন্দ্রপালই যদি দারিকপাদ হন তবে তিনি লুইপার শিষ্য হতে পারেন না। লুইপার শিষ্য হতে গেলে তাঁর জীবনকাল অনেকখানি পূর্বের হয়ে পড়ে।

সেই হিসেবে সরহ-পাদকেই আমরা শেষ চর্যারচয়িতা বলে মনে করতে পারি। তিনি কাম-রূপের রাজা রত্নপালের (১০০০-১০৩০ খ্রী,) দীক্ষাগুরু ছিলেন।

-------------------
• চর্যার আদি পদকর্তা বিষয়ক আলোচনা:
হরপ্রসাদ শাস্ত্রী আদি পদকর্তা হিসেবে লুইপার নাম উল্লেখ করেছেন। চর্যাপদের প্রথম চর্যাটি লুইপার। এতে মনে হতে পারে চর্যাগীতিকাগুলির সংগ্রাহক লুইয়ের প্রাচীনত্ব সম্পর্কে সচেতন ছিলেন।

সুকুমার সেন মনে করেন- লুই অভিসময়ের বই লিখেছিলেন। আর কোন চর্যাকর্তা বা বৌদ্ধ তান্ত্রিক সিদ্ধাচার্য বিশুদ্ধ বৌদ্ধ দর্শনের বই লিখেননি। এখানেও লুইয়ের প্রাচীনত্বের প্রমাণ।

লুইপার প্রাচীনত্ব সম্পর্কে কেউই সন্দেহ প্রকাশ করেন না। তবে অন্যবিধ প্রমাণের সাহাযো- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্, দেখিয়েছেন শবরপা ছিলেন লুইপার গুরু, এবং কিঞ্চিৎ পূর্ববর্তী। তাই শবরপাকেই প্রথম রচয়িতা মনে করা যেতে পারে। তারপরই অবশ্য লুইপা।

উৎস: ‘চর্যািগীতিকা’ মুহম্মদ আবদুল হাই।
১৯১.
চর্যাপদের কোন কবি তার রচিত পদে 'পদ্মানদী'র কথা বলেছেন?
  1. ঢেণ্ডনপা
  2. ভুসুকুপা
  3. শবরপা
  4. বীণাপা
সঠিক উত্তর:
ভুসুকুপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভুসুকুপা
ব্যাখ্যা
• ভুসুকুপা:
- চর্যাগীতি রচনার দিক থেকে দ্বিতীয় স্থানের অধিকারী হলেন ভুসুকুপা।
- তাঁর রচিত আঁটটি পদ চর্যাপদ গ্রন্থে সংগৃহীত হয়েছে।
- নানা কিংবদন্তি বিচারে ভুসুকুপা নামটিকে ছন্দ নাম বলে মনে করেন। তাঁর প্রকৃত নাম শান্তিদেব।
- তার রচিত ৪৯ নং পদে পদ্মা নদী (পঁঊআ খাল) এবং 'বঙ্গাল' দেশ ও 'বঙ্গালী'র কথা বলেছেন।
- 'আপনা মাংসেঁ হরিণা বৈরী' (৬ নং পদ) পদের রচয়িতা ভুসুকপা।

৪৯ নং পদ এর কিছু অংশ- 
"বাজ ণাব পাড়ী পউআ খালে' বাহিউ৷৷
অদঅ বঙ্গাল দেশ লুড়িউ ধু।।
আজি ভুসুকু বঙ্গালী ভইলী।
ণিঅ ঘরিণী চন্ডালে লেলী।।"

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর, চর্যাগীতিকা- মুহম্মদ আবদুল হাই ও আনোয়ার পাশা ।
১৯২.
ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌র মতে পূর্ববঙ্গ অঞ্চলের মানুষ ছিলেন-
  1. কাহ্নপা
  2. ভুসুকুপা
  3. গুণ্ডরীপা
  4. চাটিল্লপা
সঠিক উত্তর:
ভুসুকুপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভুসুকুপা
ব্যাখ্যা
• ভুসুকুপা:
- চর্যাগীতি রচনার দিক থেকে দ্বিতীয় স্থানের অধিকারী হলেন ভুসুকুপা।
- তিনি সৌরাষ্ট্রের ক্ষত্রিয় রাজপুত্র ছিলেন বলে মনে করা হয়।
- তিনি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৮টি পদ রচনা করেন। তাঁর রচিত চর্যার পদগুলো হলো- ৬নং/ ২১নং/ ২৩নং/ ২৭নং/ ৩০নং/৪১নং/ ৪৩নং/৪৯নং।
- ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে তিনি পূর্ববঙ্গ অঞ্চলের মানুষ ছিলেন।
- তিনি তাঁর রচিত ৪৯নং পদে পদ্মা নদী (পঁউআ খাল) এবং 'বঙ্গাল' দেশ ও 'বঙ্গালী'র কথা বলেছেন।
- 'আপনা মাংসে হরিণা বৈরী' (৬নং পদ) পদের রচয়িতা ভুসুকপা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
১৯৩.
কাহ্নপা রচিত কোন পদটি পাওয়া যায়নি?
  1. ২৪নং
  2. ১২নং
  3. ৩৬নং
  4. ১৯নং
সঠিক উত্তর:
২৪নং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৪নং
ব্যাখ্যা
কাহ্নপা:
- চর্যাপদের কবিগণের মধ্যে সর্বাধিক পদ রচনা করেন কাহ্নপা।
- কাহ্নপা সর্বমোট ১৩টি পদ রচনা করেন।
- এই সংখ্যাধিক্যের পরিপ্রেক্ষিতে তাঁকে কবি এবং সিদ্ধাচার্যদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ বলে অভিহিত করা যায়।
- কাহ্নপা রচিত পদগুলো হল: ৭, ৯, ১০, ১১, ১২, ১৩, ১৮, ১৯, ২৪, ৩৬, ৪০, ৪২ ও ৪৫।
- তাঁর রচিত ২৪নং পদটি পাওয়া যায়নি।
- কাহ্নপা রচিত পদগুলোতে- নিপুণ কবিত্ব শক্তি এবং তৎকালীন সমাজচিত্র ফুটে উঠেছে।
- চর্যাপদে কাহ্নিল, কাহ্নি, কৃষ্ণচর্য, কৃষ্ণবজ্রপাদ, কাহ্নু নামে লিখতেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৯৪.
দুলি দুহি পীঢ়া ধরণ ন জাই !
রুখের তেন্তলি কুম্ভীরে খাই'॥- এখানে 'দুলি' শব্দের অর্থ কী?
  1. মাদি কচ্ছপ
  2. দোহনকার্য সম্পাদনকারী স্ত্রীলোক
  3. দুধ দোয়ার পাত্র
  4. বনজ মাদি হরিণ
সঠিক উত্তর:
মাদি কচ্ছপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাদি কচ্ছপ
ব্যাখ্যা

দুলি দুহি পীঢ়া ধরণ ন জাই ! 
রুখের তেন্তলি কুম্ভীরে খাই'॥- কুক্কুরীপা রচিত চর্যার ২নং পদ এটি। পদে ব্যবহৃত 'দুলি' শব্দের অর্থ- কচ্ছপী/মাদি কাছিম।

আধুনিক গদ্যে রূপান্তর:
দুলি [= মাদি কচ্ছপ] দোহন করে পিটাতে [= দুগ্ধ-পাত্রে] [দুধ] ধরানো গেল না। গাছের তেঁতুল কুমিরে খায়।

অন্যান্য শব্দের অর্থগুলো নিম্নরূপ-
দুহি- দোয়া হলো।  দোহন করে। দুহিতঃ > দুহিঅ > দুহি।
পীঢ়া- দুধ দোয়ার পাত্র ।
ধরণ- ধরা। ধর + ন = ধরণ।
জাই- যায়। যাই > জাই।
রুখের- বৃক্ষের। গাছের। বৃক্ষ > রুথ > রুখ + এর = রুখের।
তেন্তলি- তেঁতুল।
কুম্ভীরে- কুম্ভীর + এ।

---------------------------
• কুক্কুরীপা:
- কুক্কুরীপা চর্যাগীতির তিনটি (২, ২০, ৪৮) গানের রচয়িতা। এদের মধ্যে একটি গান [৪৮] সংখ্যক পুথির লুপ্ত অংশ ছিল।

- তিনি উচ্চবংশীয় ছিলেন বলে ধারণা করা হয়। তাঁর চর্যার ভাষা সে ইঙ্গিত বহন করে। তাঁর রচিত গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে 'যোগভাবনাপ্রদেশ', 'স্রবপরিচ্ছদ'।

- কুক্কুরীপা তান্ত্রিক নাম কিংবা ছদ্মনাম। কুলীন বা উচ্চবংশীয় হলেও কাব্যমূর্তির কারণে বা তান্ত্রিকতার আকর্ষণে তিনি এ নাম ব্যবহার করে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হয়। নামের সঙ্গে 'পা' যুক্ত থাকায় কেউ কেউ একে গুরুর প্রতি শ্রদ্ধাসূচক ছদ্মনাম বলে মনে করেন। তারানাথের মতে, সঙ্গে সবসময় একটি কুকুরী থাকত বলে তাঁর নামকরণ হয়েছে কুক্কুরীপা।

- কুক্কুরীপা বাংলার উত্তরখণ্ডের অধিবাসী ছিলেন বলে ধারণা করা হয়। অবশ্য হিন্দিভাষীরা তাঁকে কপিলাবস্তু বা বুদ্ধের জন্মস্থান নেপালের লোক বলেছেন।

- সংস্কৃত রচনা 'মহামায়াসাধন'-এর রচয়িতা হিসেবে কুকুরীপার নাম পাওয়া গেছে। এ থেকে অনুমিত হয়, তিনি মহামায়ার উপাসক ছিলেন। ড. শহীদুল্লাহ্ মতে, কুকুরীপা ৭৪০ থেকে ৮২০ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে জীবিত ছিলেন। ধারণা করা হয়, ৮০৯ খ্রিষ্টাব্দে রাজা ধর্মপালের শাসনামলে কুক্কুরীপা তাঁর পৃষ্ঠপোষকতা পেয়েছিলেন।

উৎস: চর্যাগীতি পাঠ, ড. মাহবুবুল হক।

১৯৫.
চর্যাপদে কোন অন্ত্যজ শ্রেণির লোকেরা নগরের বাইরে পাহাড়ে বা টিলায় বাস করত?
  1. ডোম
  2. চণ্ডাল
  3. শবর
  4. সবগুলো
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
ব্যাখ্যা
• 'চর্যাপদ' এর জনগোষ্ঠী : 
- ডোম, চণ্ডাল, শবর ইত্যাদি অন্ত্যজ শ্রেণির লোকেরা নগরের বাইরে পাহাড়ে বা টিলায় বাস করত।
- ব্রাহ্মণরা এদের স্পর্শ এড়িয়ে চলতেন এবং নিজেদের সমাজকে নিষ্কলুষ রাখতে সচেষ্ট থাকতেন।

- এ বৈষম্য ও বিভেদের ভাবটি একটি চর্যাগানে অভিব্যক্তি পেয়েছে:
'নগর বাহিরি রে ডোম্বি তোহোরি কুড়িআ।
ছোই ছোই জাসি বাম্‌হণ নাড়িআ ॥' [চর্যা ১০]।

উৎস: চর্যাগীতি পাঠ- ড. মাহবুবুল হক। 
১৯৬.
"টালত মোর ঘর নাহি পড়বেষী।
হাড়ীত ভাত নাঁহি নিতি আবেশী।।" - পদটি রচনা করেন কে?
  1. ভুসুকুপা
  2. ঢেণ্ডণপা
  3. সরহপা
  4. লুইপা
সঠিক উত্তর:
ঢেণ্ডণপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঢেণ্ডণপা
ব্যাখ্যা

ঢেণ্ডণপা:
- ঢেণ্ডণপা নবম শতকের কবি ছিলেন।
- তিনি পেশায় তাঁতি ছিলেন।
- চর্যাকার ঢেণ্ডণপা রচিত পদসংখ্যা ১টি (৩৩নং পদ)।
- এই একটি পদে বাঙালি জীবনে চিরায়ত দারিদ্র্যের ছবি চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে।

ঢেণ্ডণপা রচিত ৩৩নং পদটি:
'টালত মোর ঘর নাহি পড়বেষী।
হাড়ীত ভাত নাঁহি নিতি আবেশী।।'

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৯৭.
চর্যাপদের কবি নন কে?
  1. জয়দেবপা
  2. মহীধরপা
  3. আর্যদেবপা
  4. জয়নন্দীপা
সঠিক উত্তর:
জয়দেবপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জয়দেবপা
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদের কবি নন- জয়দেবপা। 

---------------------
• চর্যাপদের কবিগণ:
সুকুমার সেনের 'বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস' (প্রথম খণ্ড) গ্রন্থে চর্যাপদের ২৪ জন পদকর্তার নাম পাওয়া যায়। ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সম্পাদিত 'Buddhist Mystic Songs' গ্রন্থে চর্যাপদের ২৩ জন কবির নাম উল্লেখ আছে।

চর্যাপদের কবিগণ হলেন:
কাহ্নপা; কুক্কুরীপা; ধর্মপা; ঢেগুণপা; বিরুপা; বীণাপা; ভাদেপা; ভুসুকুপা, মহীধরপা, লুইপা; শবরপা; শান্তিপা; সরহপা; ডোম্বীপা; কম্বলাম্বরপা; গুণ্ডুরীপা; চাটিল্লপা; আর্যদেবপা; দারিকপা; তাড়কপা; কঙ্কণপা; জয়নন্দীপা; তন্ত্রীপা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১৯৮.
চর্যাপদের প্রথম পদটি রচনা করেন কে?
  1. লুইপা
  2. আর্যদেব
  3. সরহপা
  4. শবরপা
সঠিক উত্তর:
লুইপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লুইপা
ব্যাখ্যা

লুইপা:
- চর্যাপদের প্রথম পদটি লুইপার।
- সে হিসেবে বাংলা সাহিত্যের আদি কবি লুই পা।
- লুইপার গুরু ছিলেন - শবরপার।
- তিনি চর্যাপদে দুটি পদ লিখেছেন পদ দুইটি হলো ১নং ও ২৯নং পদ।

• "কাআ তরুবর পাঞ্চ বি ডাল।চঞ্চল চীএ পইঠা কাল।"
- পদটির রচয়িতা লুইপা।
-  এটি তাঁর রচিত ১ম পদের প্রথম দুইটি চরণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৯৯.
চর্যাপদের ৫০নং পদ রচনা করেন কে?
  1. শবরপা
  2. কাহ্নপা
  3. দারিকপা
  4. ভুসুকুপা
সঠিক উত্তর:
শবরপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শবরপা
ব্যাখ্যা
শবরপা:
- ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে, চর্যাপদের সর্বাপেক্ষা প্রাচীন কবি শবরপা।
- তিনি ছিলেন নাগার্জুনের শিষ্য।
- শবরপা চর্যাপদের প্রথম পদকর্তা ও লুইপার গুরু ছিলেন।
- ২৮নং ও ৫০নং পদের রচয়িতা তিনি। সংস্কৃত ও অপভ্রংশ মিলে তিনি মোট ১৬টি গ্রন্থ রচনা করেন।

শবরপা রচিত উল্লেখযোগ্য পঙক্তি -
"উষ্ণা উষ্ণা পাবত তহিঁ সবই সবরী বালী।
মোরাঙ্গ পীচ্ছ পরিহাণ সবী গীবত গুঞ্জরী।।"

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২০০.
কাহ্নপা রচিত কোন পদটি খুঁজে পাওয়া যায়নি?
  1. ১০নং
  2. ২৩নং
  3. ২৪নং
  4. ৪৮নং
সঠিক উত্তর:
২৪নং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৪নং
ব্যাখ্যা

কাহ্নপা:
- তিনি বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্য ও চর্যাপদকর্তা ছিলেন।
- প্রকৃত নাম কৃষ্ণাচার্য পাদ, অপভ্রংশে হয়েছে কাহ্নপা, কনহপা, কাহ্নিল পা ইত্যাদি।
-বাংলা সাহিত্যের আদি নিদর্শন চর্যাপদের কবিগোষ্ঠীর মধ্যে তিনিই ছিলেন শ্রেষ্ঠ।
- পালরাজ দেবপালের রাজত্বকালে (আনু. ৯০০-৫০) তিনি বর্তমান ছিলেন।
- চর্যাপদের ২৩জন কবির মধ্যে কাহ্নপার পদসংখ্যা সর্বাধিক, মোট ১৩টি।
- কাহ্নপা রচিত ২৪নং পদটি পাওয়া যায়নি

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।