ব্যাখ্যা
- প্লেগ একটি জীবনঘাতী রোগ যা Yersinia pestis নামক ব্যাকটেরিয়ার দ্বারা সৃষ্ট।
- এই ব্যাকটেরিয়াটি ফ্রান্স-সুইস ব্যাকটেরিওলজিস্ট আলেকজেন্ডার ইরসিন কর্তৃক আবিস্কৃত।
উৎস: সপ্তম শ্রেণির বিজ্ঞান
PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন
PrepBank · পাতা ৪ / ১৪ · ৩০১–৪০০ / ১,৩৫৫
- প্লেগ একটি জীবনঘাতী রোগ যা Yersinia pestis নামক ব্যাকটেরিয়ার দ্বারা সৃষ্ট।
- এই ব্যাকটেরিয়াটি ফ্রান্স-সুইস ব্যাকটেরিওলজিস্ট আলেকজেন্ডার ইরসিন কর্তৃক আবিস্কৃত।
উৎস: সপ্তম শ্রেণির বিজ্ঞান
লাইসােজোম (Lysosome)
লাইসােজোম জীবকোষকে জীবাণুর হাত থেকে বক্ষা করে। এর উতসেচক আগত জীবাণুগুলােকে হজম করে ফেলে। এর পরিপাক করার উৎসেচকগুলাে একটি পর্দা দিয়ে আলাদা করা থাকে তাই অন্যান্য অঙ্গাণু এর সংস্পর্শে এলেও হজম হয় না।
দেহে আক্সজেনের অভাব হলে বা বিভিন্ন কারণে লাইসােজোমের পর্দা ক্ষতিগ্রস্ত হলে তখন এর আশেপাশের অঙ্গগুলাে নষ্ট হয়ে যায়। কখনাে কোষটিই মারা যায়।
বোরন (B):
- বোরন কোষপ্রাচীরের কাঠামোর মধ্যে অবস্থান করে প্রাচীরটিকে তথা কোষটিকে দৃঢ়তা দেয়।
- বিপাক ক্রিয়ার বিভিন্ন বিক্রিয়ায় এর নিয়ন্ত্রকের ভূমিকা রয়েছে।
- তাই বোরনের অভাবে পর্যাপ্ত দৃঢ়তা না পেয়ে এবং বিপাকে গোলযোগ হওয়ার কারণে উদ্ভিদের বর্ধনশীল অগ্রভাগ মরে যায়।
- কচি পাতার বৃদ্ধি কমে যায় এবং পাতা বিকৃত হয়, কাণ্ড খসখসে হয়ে ফেটে যায়।
- বোরন নামক খনিজের অভাবে ফুলের কুঁড়ির জন্ম ব্যাহত হয়।
সালফার (S):
- সালফার উদ্ভিদের বিভিন্ন প্রোটিন, হরমোন ও ভিটামিনের গাঠনিক উপাদানই শুধু নয়, একই সাথে এটি কোষে পানির সমতা রক্ষা করে।
- সালফারের অভাবে পাতা হালকা সবুজ হয় এবং পাতায় লাল ও বেগুনি দাগ দেখা যায়।
- কচি পাতায় বেশি এবং বয়োবৃদ্ধ পাতায় কম ক্লোরোসিস হয়।
- সালফারের অভাবে মূল, কাণ্ড এবং পাতার শীর্ষ থেকে শুরু করে পর্যায়ক্রমে টিস্যু মারা যেতে থাকে, যাকে ডাইব্যাক (dieback) বলে।
- কাণ্ডের মধ্যপর্ব ছোট হয় বলে গাছ খর্বাকৃতির হয়।
ম্যাগনেসিয়াম (Mg):
- ম্যাগনেসিয়ামের অভাবে ক্লোরোফিল সংশ্লেষিত হয় না বলে সবুজ রং হালকা হয়ে যায় এবং সালোকসংশ্লেষণের হার কমে যায়।
- পাতার শিরাগুলোর মধ্যবর্তী স্থানে অধিক হারে ক্লোরোসিস হয়।
লৌহ (Fe):
- লৌহের অভাবে প্রথমে কচি পাতার রং হালকা হয়ে যায়, তবে পাতার সরু শিরার মধ্যবর্তী স্থানেই প্রথম হালকা হয় এবং ক্লোরোসিস হয়।
- কখনো কখনো সম্পূর্ণ পাতা বিবর্ণ হয়ে যায়।
- কাণ্ড দুর্বল এবং ছোট হয়।
উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
সূত্রঃ বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণী।
সাধারণত 400 nm থেকে 480 nm এবং 680 nm তরঙ্গদৈর্ঘ্য বিশিষ্ট আলোতে সালোকসংশ্লেষণ সবচেয়ে ভাল হয়।
সালোকসংশ্লেষণ একটি প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে সবুজ উদ্ভিদ/গাছপালা সূর্যালোকের উপস্থিততে কার্বনডাইঅক্সাইড ও পানি সহযোগে শর্করা জাতীয় খাদ্য প্রস্তুত করে, এই প্রক্রিয়াকেই সালোকসংশ্লেষণ বলে।
গাছপালার বেঁচে থাকার জন্য সালোকসংশ্লেষণ সবচেয়ে প্রয়োজনীয়। সালোকসংশ্লেষণ ছাড়া উদ্ভিদের শ্বসনের জন্য কার্বোহাইড্রেট থাকত না। এছাড়াও, সালোকসংশ্লেষে উত্পাদিত কার্বোহাইড্রেটগুলি সেলুলোজ কোষ প্রাচীরের মতো উদ্ভিদ কোষ কাঠামো তৈরি করতে ব্যবহৃত হয়।
সূত্র: নবম-দশম শ্রেণির জীববিজ্ঞান
জরায়ুজ অঙ্কুরোদগমঃ
সমুদ্রের তীরবর্তী লোনা মাটির অধিকাংশ উদ্ভিদে যে ধরনের অঙ্কুরোদগম দেখা যায় তাকে জরায়ুজ অঙ্কুরোদগম বলে।
যেমন - সুন্দরী, গরান, কেওড়া, কাকরা, পশুর, গোলপাতা, খলসী, হারগোজা, বোরা ইত্যাদি লোনা পানির উদ্ভিদ।
এইসকল উদ্ভিদে জরায়ুজ অঙ্কুরোদগম হয়।
জরায়ুজ অঙ্কুরোদগমের ক্ষেত্রে গাছের সাথে যুক্ত থাকা অবস্থায় ফলের ভেতর অঙ্কুরোদগম শুরু হয়। ভ্রুণমূল ফলত্বক ভেদ করে বের হয়ে ঝুলতে থাকে এবং বীজপত্রাবকান্ড বেড়ে ফুলে উঠে।
এ সময় ভ্রুণমুকুলও বৃদ্ধি পেয়ে ওজন বেড়ে যায়। ওজন বাড়ার কারনে গাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে খাড়াভাবে নরম মাটিতে প্রবেশ করে আটকে যায়। ফলে চারাগাছটি আর জোয়ার ভাঁটার টানে ভেসে যেতে পারে না।
জরায়ুজ অঙ্কুরোদগম না থাকলে সমুদ্র উপকূলীয় এলাকায় বনরাজি জন্মাতে পারতো না।
উৎসঃ একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির উদ্ভিদ বিজ্ঞান বই ও teachers.gov.bd
- 6CO2 + 6H2O + আলো → C6H12O6 + 6O2 সমীকরণটি সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়াকে সঠিকভাবে উপস্থাপন করে, যেখানে কার্বন ডাই-অক্সাইড (6CO2) এবং জল (6H2O) সূর্যালোকের (আলো) উপস্থিতিতে গ্লুকোজ (C6H12O6) এবং অক্সিজেন (6O2) তৈরি করে। এই প্রক্রিয়াতে ক্লোরোফিল অনুঘটক হিসেবে কাজ করে।
সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়া:
- সালোকসংশ্লেষণ হলো একটি জৈব-রাসায়নিক প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে উদ্ভিদ সবুজ পাতার ক্লোরোফিল রঞ্জকের সাহায্যে সূর্যালোক ব্যবহার করে কার্বন ডাই-অক্সাইড ও পানি থেকে খাদ্য তৈরি করে।
- সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় প্রধান খাদ্য উপাদান হিসেবে শর্করা উৎপন্ন হয়, যা সাধারণত স্টার্চ (মাড়) হিসেবে উদ্ভিদদেহে সঞ্চিত থাকে।
- প্রাণিদেহে অতিরিক্ত শর্করা গ্লাইকোজেন আকারে যকৃত ও পেশিতে জমা থাকে।
- সালোকসংশ্লেষণের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপজাত (by-product) হলো অক্সিজেন, যা পরিবেশে নিঃসরণ হয়ে প্রাণীর জীবনধারণে সহায়ক হয়।
• 6CO2 + 6H2O + আলো → C6H12O6 + 6O2
উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
- ভাইরাসের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে: ভাইরাসকে কেলাসিত করা যায়।
ভাইরাসের বৈশিষ্ট্য:
- ভাইরাস কখনও জীবের ন্যায় আচরণ করে। আবার কখনও জড়ের ন্যায় আচরণ করে। তাই ভাইরাসে জীব এবং জড় উভয় বৈশিষ্ট্যই বিদ্যমান। যেমন-
ভাইরাসে জীব বৈশিষ্ট্য:
- ভাইরাসে নিউক্লিক অ্যাসিড হিসেবে DNA বা RNA থাকে।
- পোষক কোষের অভ্যন্তরে এরা সংখ্যাবৃদ্ধি করতে পারে।
- এতে জেনেটিক রিকম্বিনেশন ঘটতে দেখা যায়।
- ভাইরাস মিউটেশন ঘটাতে এবং প্রকরণ তৈরি করতে সক্ষম।
- নতুন সৃষ্ট ভাইরাসে মূল ভাইরাসের বৈশিষ্ট্য বজায় থাকে অর্থাৎ একটি ভাইরাস তার অনুরূপ ভাইরাস জন্ম দিতে পারে।
- ভাইরাস সুনির্দিষ্টভাবে বাধ্যতামূলক পরজীবি।
ভাইরাসে জড় বৈশিষ্ট্য:
- ভাইরাস অকোষীয়। এদের সাইটোপ্লাজম, কোষ ঝিল্লী, কোষ প্রাচীর, রাইবোসোম, মাইটোকন্ড্রিয়া, নিউক্লিয়াস ইত্যাদি থাকে না।
- এদের বিপাকীয় এনজাইম এবং পুষ্টি প্রক্রিয়া অনুপস্থিত।
- এদের কোন জৈবিক কার্যকলাপ যেমন প্রজনন অন্য সজীব কোষ ছাড়া ঘটতে পারে না।
- ভাইরাসকে কেলাসিত করা যায়, সেন্ট্রিফিউজ করা যায়, ব্যাপন করা যায়, পানির সাথে মিশিয়ে সাসপেনশন তৈরি করা যায় এবং তলানিও করা যায়।
- জীবকোষের বাইরে ভাইরাস রাসায়নিক কণার ন্যায় নিষ্ক্রিয় থাকে।
উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
সালোকসংশ্লেষণে আলোর ভূমিকা:
- সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় আলোর গুরুত্ব অপরিসীম।
- পানি এবং CO2 থেকে শর্করা তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় শক্তির উৎস আলো।
- সূর্যালোক ক্লোরোফিল সৃষ্টিতে অংশগ্রহণ করে।
- সূর্যালোকের প্রভাবেই পত্ররন্ধ্র উন্মুক্ত হয়, CO2 পাতার অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে পারে এবং খাদ্য প্রস্তুতকরণে অংশগ্রহণ করে।
- কিন্তু পাতায় যেটুকু আলো পড়ে, তার অতি সামান্য অংশই সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত হয়।
- আবার আলোকবর্ণালির লাল, নীল, কমলা এবং বেগুনি অংশটুকুতেই সালোকসংশ্লেষণ ভালো হয়। সবুজ কিংবা হলুদ আলোতে সালোকসংশ্লেষণ ভালো হয় না।
- একটি নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত আলোর পরিমাণ বাড়লে সালোকসংশ্লেষণের হারও বেড়ে যায়। কিন্তু আলোর পরিমাণ অত্যধিক বেড়ে গেলে পাতার ভিতরকার এনজাইম নষ্ট হয়ে যায়, ক্লোরোফিল উৎপাদন কম হয়। ফলে সালোকসংশ্লেষণের হারও কমে যায়।
- সাধারণত 400 nm থেকে 480 nm এবং 680 nm (ন্যানোমিটার) তরঙ্গদৈর্ঘ্য বিশিষ্ট আলোতে সালোকসংশ্লেষণ সবচেয়ে ভালো হয়।
উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
• ভাইরাস:
- ভাইরাস একটি ল্যাটিন শব্দ যার অর্থ বিষ। আদিকালে রোগ সৃষ্টিকারী যে কোনো বিষাক্ত পদার্থকেই ভাইরাস বলা হত। এরা অকোষীয় এবং আকারে এতই ছোট যে খালি চোখেতো দূরের কথা, সাধারণ অণুবীক্ষণ যন্ত্রেও দেখা যায় না। এদেরকে ইলেকট্রন অণুবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্যে দেখতে হয়।
- ভাইরাস নিউক্লিক অ্যাসিড (যা কেন্দ্রে থাকে) ও প্রোটিন (যা আবরণ হিসেবে থাকে) দিয়ে গঠিত অতি-আণুবীক্ষণিক বস্তু যা জীবদেহের অভ্যন্তরে সক্রিয় হয় এবং দ্রুত বংশবৃদ্ধির মাধ্যমে তথায় রোগ সৃষ্টি করে কিন্তু জীবদেহের বাইরে নিষ্ক্রিয় অবস্থায় অবস্থান করে।
- উদ্ভিদ, প্রাণী, ব্যাকটেরিয়া, সায়ানোব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক, অ্যাকটিনোমাইসিটিস প্রভৃতি জীবদেহের সজীব কোষে ভাইরাস সক্রিয় অবস্থায় বিরাজ করে। আবার বায়ু, মাটি, পানি ইত্যাদি জড় মাধ্যমে ভাইরাস নিষ্ক্রিয় অবস্থায় অবস্থান করে।
• ভাইরাসের বৈশিষ্ট্য:
- ভাইরাস কখনও জীবের ন্যায় আচরণ করে। আবার কখনও জড়ের ন্যায় আচরণ করে। তাই ভাইরাসে জীব এবং জড় উভয় বৈশিষ্ট্যই বিদ্যমান। যেমন-
ভাইরাসে জীব বৈশিষ্ট্য:
• ভাইরাসে নিউক্লিক অ্যাসিড হিসেবে DNA বা RNA থাকে।
• পোষক কোষের অভ্যন্তরে এরা সংখ্যাবৃদ্ধি করতে পারে।
• এতে জেনেটিক রিকম্বিনেশন ঘটতে দেখা যায়।
• ভাইরাস মিউটেশন ঘটাতে এবং প্রকরণ তৈরি করতে সক্ষম।
• নতুন সৃষ্ট ভাইরাসে মূল ভাইরাসের বৈশিষ্ট্য বজায় থাকে অর্থাৎ একটি ভাইরাস তার অনুরূপ ভাইরাস জন্ম দিতে পারে।
• ভাইরাস সুনির্দিষ্টভাবে বাধ্যতামূলক পরজীবী।
• ভাইরাসে জড় বৈশিষ্ট্য:
• ভাইরাস অকোষীয়। এদের সাইটোপ্লাজম, কোষঝিল্লী, কোষপ্রাচীর, রাইবোসোম, মাইটোকন্ড্রিয়া, নিউক্লিয়াস ইত্যাদি থাকে না।
• ভাইরাসের বিপাকীয় এনজাইম এবং পুষ্টি প্রক্রিয়া অনুপস্থিত।
• ভাইরাসের কোনো জৈবিক কার্যকলাপ যেমন- প্রজনন অন্য সজীব কোষ ছাড়া ঘটতে পারে না।
• ভাইরাসকে কেলাসিত করা যায়, সেন্ট্রিফিউজ করা যায়, ব্যাপন করা যায়, পানির সাথে মিশিয়ে সাসপেনশন তৈরি করা যায় এবং তলানিও করা যায়।
• জীবকোষের বাইরে ভাইরাস রাসায়নিক কণার ন্যায় নিষ্ক্রিয় থাকে।
উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
সালোকসংশ্লেষণের জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ হলোঃ
১) ক্লোরোফিল,
২) আলো,
৩) পানি এবং
৪) কার্বন ডাইঅক্সাইড।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
জীববিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখা:
- ভৌত জীববিজ্ঞান শাখায় তত্ত্বীয় বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়ে থাকে।
- নিচে উল্লিখিত বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করা হলো-
১। এন্ডোক্রাইনোলজি (Endocrinology): জীবদেহে হরমোনের (hormone) কার্যকারিতাবিষয়ক আলোচনা এ শাখার বিষয়।
২। শ্রেণিবিন্যাসবিদ্যা (Taxonomy): জীবের শ্রেণিবিন্যাস এবং তার রীতিনীতিগুলো এ শাখার আলোচ্য বিষয়।
৩। শারীরবিদ্যা (Physiology): জীবদেহের নানা অঙ্গপ্রত্যঙ্গের জৈবরাসায়নিক কার্যাদি, যেমন: শ্বসন, রেচন, সালোকসংশ্লেষণ ইত্যাদি বিষয় এ শাখায় আলোচনা করা হয়। এছাড়া জীবের যাবতীয় শারীরবৃত্তীয় কাজের বিবরণ এ শাখায় পাওয়া যায়।
৪। হিস্টোলজি (Histology): জীবদেহের টিস্যুসমূহের গঠন, বিন্যাস এবং কার্যাবলি এ শাখায় আলোচনা করা হয়।
৫। ভ্রুণবিদ্যা (Embryology): জনন কোষের উৎপত্তি, নিষিক্ত জাইগোট থেকে ভ্রূণের সৃষ্টি, গঠন, পরিস্ফুটন, বিকাশ প্রভৃতি নিয়ে আলোচনা এ শাখার প্রধান বিষয়।
৬। কোষবিদ্যা (Cytology): জীবদেহের কোষের গঠন, কার্যাবলি ও বিভাজন সম্পর্কে যাবতীয় আলোচনা এ শাখার বিষয়।
৭। বংশগতিবিদ্যা বা জেনেটিক্স (Genetics): জিন ও জীবের বংশগতিধারা সম্পর্কে এ শাখায় আলোচনা করা হয়।
৮। বিবর্তনবিদ্যা (Evolution): পৃথিবীতে প্রাণের বিকাশ, জীবের বিবর্তন এবং ক্রমবিকাশের তথ্যসমূহের আলোচনা এ শাখার বিষয়।
৯। বাস্তুবিদ্যা (Ecology): এ শাখায় প্রাকৃতিক পরিবেশের সাথে জীবের আন্তঃসম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করা হয়।
১০। অঙ্গসংস্থান (Morphology): জীবের সার্বিক অঙ্গসংস্থানিক বা দৈহিক গঠন বর্ণনা এ শাখার আলোচ্য বিষয়। দেহের বাহ্যিক বর্ণনার বিষয়কে বহিঃ অঙ্গসংস্থান (External Morphology) এবং দেহের অভ্যন্তরীণ বর্ণনার বিষয়কে অন্তঃ অঙ্গসংস্থান (Internal Morphology) বলা হয়।
১১। কীটতত্ত্ব (Entomology): কীটপতঙ্গের জীবন, উপকারিতা, অপকারিতা, ক্ষয়ক্ষতি, দমন ইত্যাদি সম্পর্কিত বিজ্ঞান।
১২। অণুজীববিজ্ঞান (Microbiology): ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, আণুবীক্ষণিক ছত্রাক এবং অন্যান্য অণুজীব সম্পর্কিত বিজ্ঞান।
১৩। জিনপ্রযুক্তি (Genetic Engineering): জিনপ্রযুক্তি ও এর ব্যবহার সম্পর্কিত বিজ্ঞান।
উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
- নিষেকক্রিয়ার পর ফুলের গর্ভাশয় ফলে পরিবর্তিত হয়।
• নিষেকক্রিয়া:
- আকার, আকৃতি ও প্রকৃতিগত পার্থক্যমন্ডিত একটি পুংগ্যামিট ও স্ত্রীগ্যামিট এর মধ্যকার মিলন প্রক্রিয়াকে নিষেকক্রিয়া বলা হয়।
- একে নিষেক বা গর্ভাধানও বলে।
- সকল আবৃতবীজী উদ্ভিদ, ব্যক্তবীজী উদ্ভিদ, টেরিডোফাইটস্, ব্রায়োফাইটস্, শৈবাল প্রভৃতি উদ্ভিদে নিষেক ক্রিয়া ঘটে।
- নিষেক ক্রিয়ার ফলে ডিপ্লয়েড জাইগোট উৎপন্ন হয়।
• বীজ সৃষ্টি:
- গুপ্তবীজী উদ্ভিদ ও ব্যক্তবীজী উদ্ভিদে বীজ সৃষ্টি হয়। নিষেকক্রিয়ার পর ডিম্বক বিভিন্ন ধরনের বিভাজন ও পরিবর্তনের মাধ্যমে বীজে পরিণত হয়।
- জাইগোট বিভাজন ও পরিস্ফুটনের মাধ্যমে একটি ভূণ গঠন করে। একটি ভ্রূণে থাকে বীজপত্র, ভূণকান্ড, ভূণমূল ও সস্য বা এন্ডোস্পার্ম।
• নিষেকক্রিয়ার পর গর্ভাশয় ও ডিম্বকের বিভিন্ন পরিবর্তন:
উৎস: জীব বিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
• ছত্রাকের কোষপ্রাচীর প্রধানত কাইটিন দিয়ে গঠিত।
- ছত্রাকের কোষপ্রাচীর উদ্ভিদের কোষপ্রাচীরের মতো সেলুলোজ দিয়ে তৈরি নয়।
- এটি একটি শক্তিশালী ও নমনীয় পদার্থ কাইটিন দিয়ে গঠিত।
- কাইটিন হল একটি নাইট্রোজেনযুক্ত পলিস্যাকারাইড, যা ছত্রাককে তার আকার বজায় রাখতে সাহায্য করে।
- এটি পরিবেশগত চাপ যেমন আর্দ্রতা, তাপমাত্রা, এবং জীবাণু সংক্রমণ থেকে রক্ষা করে।
- কাইটিন ছত্রাকের কোষকে স্থায়িত্ব এবং স্থিতিশীলতা প্রদান করে, উদ্ভিদের সেলুলোজের মতো।
- উদাহরণস্বরূপ, মাশরুম, ইস্ট এবং অন্যান্য ফাংগাস প্রজাতির কোষপ্রাচীর কাইটিনযুক্ত হওয়ায় তারা শক্তিশালী এবং আকারে স্থিতিশীল থাকে।
• জীবনচক্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা:
- কোষের ভিতরের অঙ্গাণুগুলোকে রক্ষা করে।
- আকার অনুযায়ী সাপোর্ট প্রদান করে।
- বৃদ্ধি ও প্রজননের জন্য স্থিতিশীল ভিত্তি দেয়।
- এর মাধ্যমে ছত্রাক শারীরিক আঘাত থেকে রক্ষা পায় এবং পরিবেশের সঙ্গে অভিযোজন সক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।
তথ্যসূত্র:
- NCTB জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
◉ ভুট্টা (Maize) একটি বায়ুপরাগী উদ্ভিদ। এর পুরুষ ফুল (Tassel) বাতাসে পরাগ ছড়িয়ে দেয় এবং স্ত্রী ফুল (Silk) সেই পরাগ গ্রহণ করে।
বায়ুর মাধ্যমে পরাগায়ন:
- যে ফুলের পরাগায়ন বায়ুর সাহায্যে সম্পন্ন হয়ে থাকে তাকে বায়ু পরাগী ফুল বলে এবং এ প্রক্রিয়াকে বায়ু পরাগায়ন বলে।
- বায়ু পরাগী ফুল সাধারণত আকর্ষণহীন হয়। এ সমস্ত ফুল আকারে ছোট, ফলে এদের পরাগরেণু ক্ষুদ্র ও হালকা হয়।
- এদের পরাগরেণু হালকা হওয়ায় সহজেই বাতাসে ভেসে বেড়াতে পারে।
- এ জাতীয় উদ্ভিদের ফুলে অসংখ্য পরাগরেণু সৃষ্টি হয়, কেননা বায়ুর মাধ্যমে পরাগরেণু স্থানান্তরের সময় অনেক পরাগরেণু নষ্ট হয়ে যায়।
- বাতাসে ভেসে আসা পরাগরেণু ধরার জন্য এসকল উদ্ভিদের ফুলের গর্ভমুন্ড পাখির পালকের মত রোমশ হয়।
- পাইনাস, ধান, গম, ভুট্টা, ইক্ষু, ঘাস জাতীয় উদ্ভিদে এ প্রক্রিয়ায় পরাগায়ন ঘটে।
অন্যান্য অপশনসমূহ,
গোলাপ, সূর্যমুখী ও জুঁই হচ্ছে পতঙ্গ পরাগী ফুল।
উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ব্যাখ্যা:
পোষক দেহে কীভাবে সংক্রমণ ও বংশবৃদ্ধি হয় তার ওপর ভিত্তি করে ভাইরাসকে দুই ভাগে বিভক্ত করা যায়।
যেমন- সাধারণ ভাইরাস ও রিট্রোভাইরাস।
HIV একটি রিট্রোভাইরাস।
এখানে ভাইরাল RNA থেকে DNA তৈরি হয়।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক উদ্ভিদবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
প্রজনন অঙ্গ: ফুল
- প্রজননের জন্য রূপান্তরিত বিশেষ ধরনের বিটপ (Shoot) হলো ফুল।
- ফুল উচ্চশ্রেণির উদ্ভিদের প্রজনন অঙ্গ।
- একটি আদর্শ ফুলের পাঁচটি স্তবকের মধ্যে দুটি স্তবক (পুংস্তবক ও স্ত্রীস্তবক) প্রজননের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ যারা সরাসরি প্রজননে অংশ নেয়, কিন্তু অন্য স্তবকগুলো সরাসরি অংশ না নিলেও প্রজননে গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা প্রদান করে।
- যে ফুলে এই পাঁচটি স্তবকই উপস্থিত থাকে তাকে সম্পূর্ণ ফুল বলে। যেমন- জবা, ধুতুরা।
- এই পাঁচটি স্তবকের যেকোনো একটি স্তবক না থাকলে সে ফুলকে অসম্পূর্ণ ফুল বলে। যেমন- লাউ, কুমড়া।
- বৃন্তযুক্ত ফুলকে সবৃন্তক যেমন- জবা, কুমড়া এবং বৃন্তহীন ফুলকে অবৃন্তক ফুল বলে যেমন- হাতীশুঁড়।
- যখন কোনো ফুলে পুংস্তবক ও স্ত্রীস্তবক দুটোই উপস্থিত থাকে, তাকে উভলিঙ্গ ফুল (Bisexual flower) যেমন- জবা, ধুতুরা।
- পুংস্তবক বা স্ত্রীস্তবকের যেকোনো একটি অনুপস্থিত থাকলে তাকে একলিঙ্গ ফুল (Unisexual flower) যেমন লাউ, কুমড়া এবং দুটোই অনুপস্থিত থাকলে ক্লীব ফুল (Neuter flower) বলে।
উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
- একটি ফুলে যখন অনেকগুলো গর্ভাশয় থাকে এবং প্রতিটি গর্ভাশয় ফলে পরিণত হয়ে একটি বোঁটার উপর গুচ্ছাকারে থাকে তখন তাকে গুচ্ছ ফল বলে। যেমন- চম্পা, নয়নতারা, আকন্দ, আতা, শরীফা ইত্যাদি।
- আনারস, কাঁঠাল হলো যৌগিক ফলের উদাহরণ।
- আম, জাম, কলা, শিম ইত্যাদি হলো সরল ফল।
সূত্র: বিজ্ঞান বোর্ড বই, অষ্টম শ্রেণি
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন খনিজ পুষ্টি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- কিছু ম্যাক্রো নিউট্রিয়েন্টের ভূমিকার কথা নিচে বর্ণনা করা হলো-
১। নাইট্রোজেন:
- নাইট্রোজেন নিউক্লিক অ্যাসিড, প্রোটিন আর ক্লোরোফিলের অত্যাবশ্যকীয় উপাদান।
- উদ্ভিদের সাধারণ দৈহিক বৃদ্ধিতে নাইট্রোজেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং কোষ কলায় পানির পরিমাণ বৃদ্ধি করে।
- নাইট্রোজেনের অভাব হলে ক্লোরোফিল সৃষ্টি ব্যাহত হয়, আর ক্লোরোফিল সৃষ্টি ব্যাহত হলে খাদ্য প্রস্তুত বাধাপ্রাপ্ত হয়।
- খাদ্যপ্রস্তুত বাঁধাপ্রাপ্ত হলে শ্বসন প্রক্রিয়ায় বিঘ্ন ঘটে এবং শক্তি নির্গমন হ্রাস পায়।
২। ম্যাগনেসিয়াম:
- ম্যাগনেসিয়াম ক্লোরোফিল অণুর একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান এবং শ্বসন প্রক্রিয়ায় সাহায্য করে।
- এর অভাব হলে ক্লোরোফিল অণু সৃষ্টি এবং সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় খাদ্য প্রস্তুত ব্যাহত হবে।
৩। পটাশিয়াম:
- উদ্ভিদের বহু জৈবিক ক্রিয়া-বিক্রিয়ায় পটাশিয়াম সহায়ক হিসেবে কাজ করে।
- পত্ররন্ধ্র খোলা এবং বন্ধ হওয়ার ক্ষেত্রে পটাশিয়ামের গুরুত্ব অপরিসীম।
- পটাশিয়াম উদ্ভিদের পানি শোষণে সাহায্য করে।
- কোষ বিভাজনের মাধ্যমে উদ্ভিদের বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করে পটাশিয়াম।
- এটি মূল, ফুল ও ফল উৎপাদন এবং বর্ধনেও সাহায্য করে।
৪। ফসফরাস:
- মূল বর্ধনের জন্য ফসফরাস অত্যন্ত প্রয়োজনীয় উপাদান।
- ফসফরাস জীবকোষের DNA, RNA, NADP, ATP প্রভৃতির গাঠনিক উপাদান। কাজেই এটি ছাড়া উদ্ভিদের পুষ্টি একেবারেই সম্ভব নয়।
- উদ্ভিদের মূল বৃদ্ধির জন্য ফসফরাস অত্যন্ত প্রয়োজনীয় উপাদান।
৫। আয়রন:
- আয়রন সাইটোক্রোমের সাংগঠনিক উপাদান, কাজেই বায়বীয় শ্বসন এর উপর নির্ভরশীল।
- ক্লোরোফিল সৃষ্টিতেও আয়রনের ভূমিকা অপরিসীম।
উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
সালফার:
- সালফার (S) উদ্ভিদের বিভিন্ন প্রোটিন, হরমোন ও ভিটামিনের গাঠনিক উপাদানই নয়, একই সাথে এটি কোষে পানির সমতা রক্ষা করে।
- সালফারের অভাবে পাতা হালকা সবুজ হয় এবং পাতায় লাল ও বেগুনি দাগ দেখা যায়।
- সালফারের অভাবে উদ্ভিদের কচি পাতায় বেশি এবং বয়োবৃদ্ধ পাতায় কম ক্লোরোসিস হয়।
- সালফারের অভাবে মূল, কান্ড এবং পাতার শীর্ষ থেকে শুরু করে পর্যায়ক্রমে টিস্যু মারা যেতে থাকে, যাকে ডাইব্যাক (dieback) বলে।
- গাছের মধ্যপর্ব ছোট হয় বলে গাছ খর্বাকৃতির হয়।
উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
ভাইরাসের বেশিষ্ট্য:
- ভাইরাস কখনও জীবের ন্যায় আচরণ করে। আবার কখনও জড়ের ন্যায় আচরণ করে।
- তাই ভাইরাসে জীব এবং জড় উভয় বৈশিষ্ট্যই বিদ্যমান।
যেমন-
ভাইরাসে জীব বৈশিষ্ট্য:
• ভাইরাসে নিউক্লিক অ্যাসিড হিসেবে DNA বা RNA থাকে।
• পোষক কোষের অভ্যন্তরে এরা সংখ্যাবৃদ্ধি করতে পারে।
• এতে জেনেটিক রিকম্বিনেশন ঘটতে দেখা যায়।
• ভাইরাস মিউটেশন ঘটাতে এবং প্রকরণ তৈরি করতে সক্ষম। নতুন সৃষ্ট ভাইরাসে মূল ভাইরাসের বৈশিষ্ট্য বজায় থাকে অর্থাৎ একটি ভাইরাস তার অনুরূপ ভাইরাস জন্ম দিতে পারে।
• ভাইরাস সুনির্দিষ্টভাবে বাধ্যতামূলক পরজীবী।
ভাইরাসে জড় বৈশিষ্ট্য:
• ভাইরাস অকোষীয়।
- এদের সাইটোপ্লাজম, কোষ ঝিল্লী, কোষ প্রাচীর, রাইবোসোম, মাইটোকন্ড্রিয়া, নিউক্লিয়াস ইত্যাদি থাকে না।
• এদের বিপাকীয় এনজাইম এবং পুষ্টি প্রক্রিয়া অনুপস্থিত।
• এদের কোন জৈবিক কার্যকলাপ যেমন প্রজনন অন্য সজীব কোষ ছাড়া ঘটতে পারে না।
• ভাইরাসকে কেলাসিত করা যায়, সেন্ট্রিফিউজ করা যায়, ব্যাপন করা যায়, পানির সাথে মিশিয়ে সাসপেনশন তৈরি করা যায় এবং তলানিও করা যায়।
• জীবকোষের বাইরে ভাইরাস রাসায়নিক কণার ন্যায় নিষ্ক্রিয় থাকে।
উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ক্যারিওকাইনেসিস বলতে মূলত নিউক্লিয়াসের বিভাজনকে বলা হয়। মাইটোসিসে ক্যারিওকাইনেসিস পাঁচটি ধাপে সম্পন্ন হয়
ধাপগুলাে-
১. প্রােফেজ,
২. প্রাে-মেটাফেজ,
৩. মেটাফেজ,
৪. অ্যানাফেজ ও
৫. টেলােফেজ।
সাইটোপ্লাজমের বিভাজনকে মূলত সাইটোকাইনেসিস বলে। নিউক্লিয়াসের বিভাজন শেষ হওয়ার সাথে সাথে সাইটোকাইনেসিস শুরু হয়। প্রকৃতপক্ষে টেলােফেজ দশাতেই সাইটোকাইনেসিস শুরু হয়।
উদ্ভিদে গ্যাসীয় বিনিময়:
- উদ্ভিদের জীবনে সালোকসংশ্লেষণ (Photosynthesis) এবং শ্বসন (Respiration) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দুটি প্রক্রিয়া।
- মূলত এই দুটি শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে উদ্ভিদের গ্যাসীয় বিনিময় ঘটে থাকে, এই প্রক্রিয়া দুটি ঘটে রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে।
- উদ্ভিদ সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার জন্য বায়ু থেকে CO2 গ্রহণ করে এবং O2 ত্যাগ করে, অন্যদিকে শ্বসন প্রক্রিয়ায় জন্য O2 গ্রহণ করে এবং CO2 ত্যাগ করে।
- উদ্ভিদে প্রাণীর মতো শ্বাস নেওয়ার জন্য কোনো বিশেষ অঙ্গ নেই, তবে পাতার স্টোমাটা ও পরিণত কাণ্ডের বাকলে অবস্থিত লেন্টিসেলের (Lenticel) মাধ্যমে অক্সিজেন, কার্বন ডাই-অক্সাইড ও অন্যান্য গ্যাসের বিনিময় ঘটে।
- দিনের বেলা বা পর্যাপ্ত আলোর উপস্থিতিতে সালোকসংশ্লেষণের হার অধিক হয়।
- সালোকসংশ্লেষণে উৎপাদিত অক্সিজেন গ্যাসের কিছু অংশ শ্বসন প্রক্রিয়ায় ব্যয় হয়।
- আবার শ্বসন প্রক্রিয়ায় উৎপাদিত কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাসের কিছু অংশ সালোকসংশ্লেষণে ব্যবহার হয়, তাই আদান-প্রদানকৃত অক্সিজেন ও কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাসের পরিমাণ প্রায় সমান।
- রাতের বেলা সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার আলোক পর্যায় বন্ধ থাকে, তাই অক্সিজেন গ্যাস উৎপন্ন হয় না।
- অন্যদিকে দিবারাত্রি ২৪ ঘণ্টা শ্বসন প্রক্রিয়া সংঘটিত হয়, ফলে শ্বসন প্রক্রিয়ায় কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাসের উৎপাদন চলতে থাকে। এ জন্য বড় গাছের নিচে রাত্রিবেলা ঘুমালে শ্বাসকষ্ট দেখা দিতে পারে।
- উদ্ভিদ তার পরিবেশ থেকে প্রয়োজনীয় গ্যাস সংগ্রহ করে।
- উদ্ভিদের পাতা যেরকম বাতাস থেকে অক্সিজেন ও কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাস সংগ্রহ করে, তেমনি মূল মাটি থেকে পানি শোষণ করে।
- শোষিত সেই পানির সাথে CO2 এর বিক্রিয়ার ফলে O2 গ্যাস উৎপাদন হয়, যা বায়ুমণ্ডলে চলে যায়। এভাবে উদ্ভিদদেহে গ্যাস বিনিময় চলতে থাকে।
উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
রূপান্তরিত পাতাঃ বিশেষ কাজ সমাধা করার জন্য পাতার রূপ পরিবর্তিত হয়।
ক) আকর্ষী: পাতার শীর্ষভাগ অথবা পত্রক অনেক সময় প্যাচানো স্প্রিং এর ন্যায় রূপ ধারন করে। এগুলো আকর্ষি। এর সাহায্যে গাছ কোন কিছু আকড়ে ধরতে পারে। জংলী মটর গাছে এ ধরনের আকর্ষি দেখা যায়।
খ) খাদ্য সঞ্চয়: পেঁয়াজ, রসুন বা ঘৃতকুমারী গাছের পাতা পুরুও রসালো হয়। এসব পাতায় খাদ্য জমা থাকে।
গ) পতঙ্গ ফাঁদ: কলসী উদ্ভিদ এক ধরণের লতানো গাছ ও ঝাঁঝি নামক জলজ উদ্ভিদের পাতা রূপান্তরিত হয়ে কলসি বা থলের ন্যায় রূপ ধারণ করে। এর মধ্যে পোকামাকড় ঢুকলে কলসির ঢাকনাটি বন্ধ হয়ে যায় পরে গাছ তার দেহ থেকে রস শুষে নেয়।
ঘ) প্রজনন: কোন কোন উদ্ভিদে পাতার কিনারা থেকে কুঁড়ি গজায়। ধীরে ধীরে এসব কুঁড়ি থেকে নিচের দিকে গুচ্ছ মূল ও গজায়। কোন এক সময় এরা মুক্ত হয়ে স্বাধীন উদ্ভিদের জন্ম দেয়, যেমন-পাথরকুঁচি।
ঙ) কণ্টক পত্র: পাতা কখনও কাঁটায় রূপান্তরিত হয়, যথা- লেবু।
চ) শল্কপত্র: কখনও ভূ-নিম্নস্থ কাণ্ডের পাতা পাতলা আঁশ এর ন্যায় আকার ধারণ করে। যেমন- আলু, আদা, হলুদ ইত্যাদি। এরাই শল্কপত্র। রসালো শল্কপত্র খাদ্য সঞ্চয় করে এবং কাক্ষিক মুকুলকে রক্ষা করে।
উৎসঃ বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।
- ফায ভাইরাস, ব্যাকটেরিওফায (bacteriophage) নামে পরিচিত, এটি এক ধরনের ভাইরাস যা বিশেষভাবে ব্যাকটেরিয়াকে আক্রমণ করে এবং মেরে ফেলে। কিছু ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ যেমন- কলেরা, টাইফয়েড, আমাশয় ইত্যাদির ওষুধ তৈরিতে এই ফায ভাইরাস বা ব্যাকটেরিওফায ব্যবহৃত হয়। এই প্রক্রিয়াটিকে ফায থেরাপি (phage therapy) বলা হয় এবং এটি ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের একটি সম্ভাব্য পদ্ধতি।
ভাইরাসের উপকারিতা:
- বিজ্ঞানীরা অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে ভাইরাসকে বিভিন্নভাবে মানুষের কিছু উপকারে আনতে সক্ষম হয়েছেন।
যেমন-
• বসন্ত, পোলিও, এবং জলাতঙ্ক রোগের প্রতিষেধক টিকা ভাইরাস দিয়েই তৈরি করা হয়।
• ভাইরাস হতে জন্ডিস রোগের টিকা তৈরি করা হয়।
• ভাইরাসকে বর্তমানে বহুল আলোচিত জিনতত্ত্ব ও আণবিক জীববিদ্যা বা জিন প্রকৌশলে বাহক হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
• ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া নিয়ন্ত্রণে ভাইরাস ব্যবহার করা হচ্ছে। যেমন- ফায ভাইরাস ব্যাকটেরিয়াকে ধ্বংস করে ব্যাকটেরিয়াজনিত আমাশয় রোগ থেকে মানুষকে রক্ষা করে।
• কতিপয় ভাইরাস ব্যবহার করে ক্ষতিকর পোকামাকড় ও কীটপতঙ্গ দমন করা সম্ভব হচ্ছে।
• জীব সৃষ্টি প্রক্রিয়া, অভিব্যক্তি ও ক্রমবিবর্তনের ধারা সম্পর্কে জ্ঞানলাভ করার চাবিকাঠি হলো ভাইরাস, কেননা ভাইরাসে জীব ও জড় উভয় বৈশিষ্ট্যই বিদ্যমান।
• লাল টিউলিপ ফুলে ভাইরাস আক্রমণের ফলে লম্বা লম্বা সাদা দাগ পড়ে, এর ফলে ফুলের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায় এবং ফুলের মূল্যও বাড়ে।
উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
উদ্ভিদকোষ থেকে বাষ্পাকারে পানি বের হয়ে যাওয়ার প্রণালীকে বলে প্রস্বেদন।
-প্রস্বেদনের জন্য সূর্যের প্রখর উত্তাপেও গাছের পাতা গরম হয় না।
শীত বা গ্রীষ্মের পূর্বে প্রস্বেদন কমাতে গাছের পাতা ঝরে যায়।
প্রস্বেদন ৩ প্রকার। যথা- পত্ররন্ধ্রীয় প্রস্বেদন, কিউটিকুলার প্রস্বেদন এবং লেন্টিকুলার প্রস্বেদন।
উৎসঃ উদ্ভিদবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
দেহ অঙ্গের মাধ্যমে:
- দেহ অঙ্গের মাধ্যমেও অযৌন জনন ঘটে।
- এ ধরনের অযৌন জননকে অঙ্গজ জননও (Vegetative reproduction) বলা হয়।
- এটা আবার দু'ভাবে হয়।
যথা-
(ক) স্বাভাবিক অঙ্গজ জনন এবং
(খ) কৃত্রিম অঙ্গজ জনন।
স্বাভাবিক অঙ্গজ জনন:
- কিছু কিছু উদ্ভিদের মূল থেকে নতুন উদ্ভিদের সৃষ্টি হয়।
যেমন- মিষ্টি আলু, ডালিয়া, কাঁকরোল, পটল ইত্যাদি।
- কতিপয় উদ্ভিদের কাণ্ড থেকে নতুন উদ্ভিদের সৃষ্টি হয়।
যেমন- আদা, হলুদ, সটি, আলু, ওলকচু ইত্যাদি।
- কিছু উদ্ভিদের পাতার কিনারায় পত্রাশ্রয়ী মুকুল হতে নতুন উদ্ভিদের সৃষ্টি হয়।
যথা- পাথরকুচি।
উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
পরাগায়ন (pollination):
- পরাগায়নকে পরাগ সংযোগও বলা হয়।
- পরাগায়ন ফুল এবং বীজ উৎপাদন প্রক্রিয়ার পূর্বশর্ত।
- ফুলের পরাগধানী থেকে পরাগরেণুর একই ফুলে অথবা একই জাতের অন্য ফুলের গর্ভমুণ্ডে স্থানান্তরিত হওয়াকে পরাগায়ন বলে।
- পরাগায়ন দুই ধরনের।
যথা-
১। স্ব-পরাগায়ন:
- একই ফুলে বা একই গাছের ভিন্ন দুটি ফুলের মধ্যে যখন পরাগায়ন ঘটে, তখন তাকে স্ব-পরাগায়ন বলে।
- সরিষা, ধুতুরা ইত্যাদি উদ্ভিদে স্ব-পরাগায়ন ঘটে থাকে।
- স্ব-পরাগায়নের ফলে পরাগরেণুর অপচয় কম হয়, পরাগায়নের জন্য বাহকের উপর নির্ভর করতে হয় না এবং পরাগায়ন নিশ্চিত হয়। এর ফলে নতুন যে উদ্ভিদ উৎপন্ন হয়, তাতে বৈশিষ্ট্যেরও কোনো পরিবর্তন আসে না এবং কোনো একটি প্রজাতির চরিত্রগত বিশুদ্ধতা বজায় থাকে।
- তবে এতে জিনগত বৈচিত্র্য কম থাকে।
- এই বীজের থেকে জন্ম নেওয়া নতুন গাছের অভিযোজন ক্ষমতা কমে যায় এবং অচিরেই প্রজাতির বিলুপ্তি ঘটে।
২। পর-পরাগায়ন:
- একই প্রজাতির দুটি ভিন্ন উদ্ভিদের ফুলের মধ্যে যখন পরাগ সংযোগ ঘটে, তখন তাকে পর-পরাগায়ন বলে।
- শিমুল, পেঁপে ইত্যাদি গাছের ফুলে পর-পরাগায়ন হতে দেখা যায়।
- পর-পরাগায়নের ফলে নতুন চরিত্রের সৃষ্টি হয়, বীজের অংকুরোদগমের হার বৃদ্ধি পায়, বীজ অধিক জীবনীশক্তিসম্পন্ন হয় এবং নতুন প্রজাতির সৃষ্টি হয়।
- দুটি ভিন্ন গুণসম্পন্ন গাছের মধ্যে পরাগায়ন ঘটে, তাই এর ফলে যে বীজ উৎপন্ন হয় তা নতুন গুণসম্পন্ন হয় এবং বীজ থেকে যে গাছ জন্মায় তাও নতুন গুণসম্পন্ন হয়। এ কারণে এসব গাছে নতুন বৈচিত্র্যের সৃষ্টি হয়।
- তবে এটি বাহকনির্ভর প্রক্রিয়া হওয়ায় পরাগায়নের নিশ্চয়তা থাকে না, এতে প্রচুর পরাগরেণুর অপচয় ঘটে। ফলে প্রজাতির বিশুদ্ধতা নষ্ট হওযার সম্ভাবনা থাকে।
উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
• পত্ররন্ধ্রীয় প্রস্বেদন প্রধানত পাতার নিচের পৃষ্ঠে দেখা যায়।
• প্রস্বেদন:
- উদ্ভিদ মাটি থেকে যে পরিমাণ পানি শোষণ করে তার কিছু অংশ বিভিন্ন জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত হয়।
- অধিকাংশ পানি বাষ্পাকারে বের হয়।
- তবে কিছু পানি উদ্ভিদদেহ থেকে পানি হিসেবেই বের হয়।
- উদ্ভিদদেহ থেকে যে প্রক্রিয়ায় পানি বাষ্পাকারে বের হয় তাকে প্রস্বেদন বলা হয়।
- প্রস্বেদনের প্রধান অঙ্গ উদ্ভিদের পাতা।
- এছাড়া কান্ড এবং শাখা-প্রশাখা থেকেও প্রস্বেদন হয়ে থাকে।
- প্রস্বেদনের প্রকারভেদ: প্রস্বেদন তিন প্রকার।
- যথা- (ক) পত্ররন্ধ্রীয় প্রস্বেদন, (খ) কিউটিকুলার প্রস্বেদন এবং (গ) লেন্টিকুলার প্রস্বেদন।
• পত্ররন্ধ্রীয় প্রস্বেদন:
- পত্ররন্ধ্রীয় প্রস্বেদন প্রধানত পাতার নিচের পৃষ্ঠে দেখা যায়।
- এছাড়া কচি কান্ডেও অনেক পত্ররন্ধ্র থাকে।
- পত্ররন্ধ্রের মধ্য দিয়েই বেশির ভাগ প্রস্বেদন ঘটে।
- উদ্ভিদের মোট প্রস্বেদনের ৯০-৯৫% পত্ররন্ধ্রের মাধ্যমে ঘটে।
- শিরা ও উপশিরার মধ্য দিয়ে পানি প্যালিসেড প্যারেনকাইমা এবং স্পঞ্জি প্যারেনকাইমা কোষ সমূহে পৌঁছায়।
- স্পঞ্জি প্যারেনকাইমা টিস্যুর কোষগুলো আলগাভাবে সাজান থাকে।
- কোষগুলোর মাঝে অনেক আন্তঃকোষীয় ফাঁকা স্থান থাকে।
- উদ্ভিদের সালোকসংশ্লেষণের জন্য প্রয়োজনীয় কার্বন ডাইঅক্সাইড স্পঞ্জি প্যারেনকাইমা অঞ্চলেই শোষিত হয়।
- উদ্ভিদ বায়ুর কার্বন ডাইঅক্সাইড ব্যাপন প্রক্রিয়ায় শোষণ করে।
- পত্ররন্ধ্রের মধ্যদিয়ে বায়ু প্রথমে পত্ররন্ধ্রীয় প্রকোষ্ঠে প্রবেশ করে।
- এখান থেকে বায়ু প্যালিসেড প্যারেনকাইমা টিস্যুর কোষগুলোর আন্তঃকোষীয় ফাঁকাস্থানে ছড়িয়ে পড়ে।
- প্যালিসেড প্যারেনকাইমা টিস্যুর কোষগুলোর বহিঃপৃষ্ঠ সব সময় ভেজা থাকে এবং এজন্য ব্যাপন প্রক্রিয়ায় সুবিধা হয়।
- এ রকম অবস্থায় উদ্ভিদ যেমন বায়ু থেকে কার্বন ডাইঅক্সাইড গ্রহণ করে, বায়ুও তেমন উদ্ভিদ কোষের ভেজা পৃষ্ঠদেশ থেকে পানি জলীয় বাষ্পরূপে গ্রহণ করে।
- উদ্ভিদ কোষ থেকে নেয়া পানি জলীয় বাষ্পরূপে ব্যাপন প্রক্রিয়ায় পত্ররন্ধ্রের মধ্য দিয়ে বাইরের বায়ুতে ছড়িয়ে পড়ে।
- পত্ররন্ধ্রের মধ্যদিয়ে সংঘটিত হয় বলে এ ধরনের প্রস্বেদনকে পত্ররন্ধ্রীয় প্রস্বেদন বলা হয়।
• কিউটিকুলার প্রস্বেদন:
- উদ্ভিদের কান্ড এবং পাতার বহিঃত্বকের উপর কিউটিন এর আবরণকে কিউটিকল বলা হয়।
- উদ্ভিদকে শুষ্কতার হাত থেকে রক্ষা করাই এর কাজ।
- কিউটিকল পাতলা হলে কিউটিকল ভেদ করে কিছু পানি বাষ্পাকারে বের হয়ে আসে। এটাই কিউটিকুলার প্রস্বেদন।
• লেন্টিকুলার প্রস্বেদন:
- উদ্ভিদদেহে সেকেন্ডারি বৃদ্ধির ফলে কান্ডের বাইরের আবরণ (বহিঃত্বক অথবা কর্ক) কোন কোন জায়গায় ফেঁটে যায়।
- এতে কান্ডের ভেতরের কোষ বাইরের পরিবেশে উন্মুক্ত হয়।
- এ উন্মুক্ত জায়গাগুলোকে লেন্টিসেল বলা হয়।
- লেন্টিসেলের মধ্য দিয়ে ভেতরের টিস্যু থেকে পানি বাষ্পাকারে বের হয়ে আসে। এটাই লেন্টিকুলার প্রস্বেদন।
উৎস: জীববিজ্ঞান, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।