বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

আধুনিক যুগের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ লেখক

মোট প্রশ্ন৭,৬৪৬এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

আধুনিক যুগের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ লেখক

PrepBank · পাতা ৫০ / ৭৭ · ৪,৯০১৫,০০০ / ৭,৬৪৬

৪,৯০১.
বাংলা কাব্য সাহিত্যে প্রথম ইতালীয় সনেটের প্রবর্তন করেন কে?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. বুদ্ধদেব বসু
  3. প্রমথ চৌধুরী
  4. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
সঠিক উত্তর:
প্রমথ চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রমথ চৌধুরী
ব্যাখ্যা
⇒ প্রমথ চৌধুরী:
• বাংলা ভাষার সাধু ও চলিত রূপের মধ্যে তুলনামূলক গবেষণা করেন প্রমথ চৌধুরী।
• বাংলা গদ্যে চলিত রীতির প্রবর্তক ও বিদ্রূপাত্মক প্রাবন্ধিক হলেন প্রমথ চৌধুরী।
• প্রমথ চৌধুরীর সাহিত্যিক ছদ্মনাম 'বীরবল।
• ‘বীরবলেন হালখাতা’ তাঁর রচিত প্রথম চলিত রীতির গদ্য রচনা।
• প্রমথ চৌধুরী রচিত 'বীরবলের হালখাতা' ১৯০২ সালে ভারতী পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়। 
• 'বীরবলের হালখাতা' গদ্য/প্রবন্ধ রচনায় তিনি প্রথম চলিত রীতির প্রয়োগ ঘটান।
• বাংলা কাব্য সাহিত্যে তিনিই প্রথম ইতালীয় সনেটের প্রবর্তন করেন।
• তিনি মাসিক ‘সবুজপত্র’ (১৯১৪) পত্রিকা সম্পাদনা করতেন।

• প্রমথ চৌধুরী প্রবন্ধগ্রন্থ:
- নানা কথা,
- আমাদের শিক্ষা,
- রায়তের কথা,
- প্রবন্ধ সংগ্রহ,
- বীরবলের হালখাতা,
- তেল নুন লাকড়ি ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- চার ইয়ারী কথা,
- নীললোহিত ও
- আহুতি ইত্যাদি।

উল্লেখ্য,
- বাংলা সনেটের জনক মাইকেল মধুসূদন দত্ত। তাঁর রচিত সনেটের সংকলন ‘চতুর্দশপদী কবিতাবলি’ ১৮৬৬ সালে প্রকাশিত হয়।
- তিনি ইতালীয় কবি পেত্রাক ও ইংলিশ কবি শেকসপিয়রের অনুকরনে বাংলা সনেট রচনা করেন। তিনি বাংলা অমিত্রাক্ষর ছন্দের স্রষ্টাও। 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,৯০২.
কোনটি আবু জাফর শামসুদ্দীন রচিত প্রথম উপন্যাস?
  1. পরিত্যক্ত স্বামী
  2. রৌদ্র করোটিতে
  3. নিজ বাসভূমে
  4. আমি অনাহারী
সঠিক উত্তর:
পরিত্যক্ত স্বামী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরিত্যক্ত স্বামী
ব্যাখ্যা
আবু জাফর শামসুদ্দীন:
- তিনি ১৯১১ সালের ১২ মার্চ পূর্বতন ঢাকা জেলা, বর্তমান গাজীপুর জেলার দক্ষিণবাগ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন সাংবাদিক, সাহিত্যিক।
- তাঁর রচিত প্রথম উপন্যাসের নাম 'পরিত্যক্ত স্বামী' (১৯৪৭)। এটি তাঁর প্রকাশিত প্রথম গ্রন্থও।
- তাঁর রচিত ত্রয়ী উপন্যাস - ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান, পদ্মা মেঘনা যমুনা, সংকর সংকীর্তন।
- তিনি ১৯৯৮ সালের ২৪শে আগস্ট মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান,
- পদ্মা মেঘনা যমুনা,
- সংকর সংকীর্তন,
- দেয়াল।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- জীবন,
- রাজেন ঠাকুরের তীর্থযাত্রা,
- ল্যাংড়ী
- নির্বাচিত গল্প।

তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- চিন্তার বিবর্তন ও পূর্ব পাকিস্তানী সাহিত্য,
- সোচ্চার উচ্চারণ,
- লোকায়ত সমাজ ও বাঙ্গালী সংস্কৃতি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৯০৩.
'সুবচন নির্বাসনে' নাটকের রচয়িতা কে?
  1. মামুনুর রশীদ 
  2. সেলিম আল দীন 
  3. হাসান আজিজুল হক 
  4. আব্দুল্লাহ আল মামুন
  5. কোনোটিই নয় 
সঠিক উত্তর:
আব্দুল্লাহ আল মামুন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আব্দুল্লাহ আল মামুন
ব্যাখ্যা
• 'সুবচন নির্বাসনে' আব্দুল্লাহ আল মামুন রচিত নাটক।
 
• 'সুবচন নির্বাসনে' নাটক:
‘সুবচন নির্বাসনে’ নাটকে তিনটি সুবচন মিথ্যা প্রমাণিত হয়। নাটকটিতে স্কুল মাস্টারের বড় ছেলে খোকন পড়ালেখা করে পরীক্ষা দিয়ে দ্বিতীয় শ্রেণিতে পাস করার পর একটি অফিসে চাকরিপ্রার্থী হয়। অন্যদিকে তারই সহপাঠী তৃতীয় শ্রেণিতে পাস করে ওই একই অফিসে ঘুষ দিয়ে চাকরি পেয়ে যায়। এভাবেই মিথ্যে প্রমাণিত হয় ‘সততাই মহৎ গুণ’ সুবচনটি স্কুল মাস্টারের ছোট ছেলে তপন মেধাবী ছাত্র। কিন্তু বড় ভাইয়ের অবস্থা দেখে পড়াশোনা ছেড়ে সন্ত্রাসের পথ বেছে নেয়। ‘লেখাপড়া করে যে, গাড়ি-ঘোড়া চড়ে সে’ সুবচনটিকে আর সত্য বলতে পারে না সে। একমাত্র মেয়ে রানু চরিত্রহীন স্বামীর ঘর থেকে বেরিয়ে আসে ‘সংসার সুখী হয় রমণীর গুণে’ সুবচনটি মিথ্যে প্রমাণিত হয়। এখানে নাটকের শেষদিকে স্কুল মাস্টারকে তিন সন্তান কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে বলে, তাদের করুণ পরিণতির জন্য পিতাই দায়ী। বৃদ্ধ পিতা দায় স্বীকার করেন। নাট্যকার বিচারের ভার অর্পণ করেন দর্শকের হাতে। 

আবদুল্লাহ আল মামুন:
- তিনি ১৯৪৩ সালের ১২ জুলাই জামালপুর জেলা সদরের আমলা পাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত নাট্যরচয়িতা এবং নাট্যাভিনেতা হিসেবে পরিচিত।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত নাটক 'শপথ' (১৯৬৪)। তাঁর এক চরিত্রনির্ভর নাটক 'কোকিলারা' (১৯৯০)।

তাঁর রচিত নাটক:
- সুবচন নির্বাসনে,
- এখন দুঃসময়,
- এবার ধরা দাও,
- শাহজাদীর কাল নেকাব,
- চারদিকে যুদ্ধ,
- এখনও ক্রীতদাস,
- কোকিলারা,
- মেরাজ ফকিরের মা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; প্রথম আলো পত্রিকা রিপোর্ট।
৪,৯০৪.
'মেঘমল্লার' ছোটগল্পগ্রন্থটির স্রষ্টা কে?
  1. ক) বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. খ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. গ) বদরুদ্দীন উমর
  4. ঘ) প্যারীচাঁদ মিত্র
সঠিক উত্তর:
ক) বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ঃ তিনি মূলত ঔপন্যাসিক ছিলেন।
তার রচিত উপন্যাস-
- পথের পাঁচালী (১৯২৯),
- অপরাজিত (১৯৩১),
- দৃষ্টি প্রদীপ (১৯৩৫),
- আরণ্যক (১৯৩৮),
- আদর্শ হিন্দু হােটেল (১৯৪০),
- দেবযান (১৯৪৪),
- ইছামতী (১৯৪৯),
- অশনি সংকেত।

তার রচিত ছােটগল্পগ্রন্থগুলাের নাম:
মেঘমল্লার (১৯৩১), মৌরীফুল (১৯৩২),
যাত্রাবদল (১৯৩৪), কিন্নরদল (১৯৩৮)।
তার রচিত আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থের নাম:
তৃণাঙ্কুর (১৯৪৩)।


উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর

৪,৯০৫.
বিহারিলালকে ‘ভোরের পাখি’ নামে কে আখ্যায়িত করেছেন?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. সেলিনা হোসেন
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 
  4. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 
ব্যাখ্যা

বিহারীলাল চক্রবর্তী:
- আধুনিক বাংলা গীতিকবিতার অন্যতম পুরোধা।
- তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাব্যগুরু হিসেবে পরিচিত।
- বাংলা গীতিকবিতার জনক হিসেবে বিহারীলাল চক্রবর্তী পরিচিত।
- তিনি আধুনিক বাংলা গীতিকাব্যের প্রথম ও প্রধান কবি।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁকে 'ভোরের পাখি' উপাধিতে আখ্যায়িত করেন।
- বিহারীলাল চক্রবর্তীর প্রথম সার্থক গীতিকবিতা হলো 'বঙ্গসুন্দরী'।
- তার শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ হলো 'সারদা মঙ্গল'।

বিহারীলাল চক্রবর্তীর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- স্বপ্নদর্শন,
- সঙ্গীত শতক,
- বঙ্গসুন্দরী,
- নিসর্গ সন্দর্শন,
- বন্ধু বিয়োগ,
- সারদা মঙ্গল,
- প্রেম প্রবাহিনী। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৪,৯০৬.
'শিকওয়াহ ও জওয়াব-ই-শিকওয়াহ' অনুবাদ গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. ক) আবুল কালাম শামসুদ্দীন
  2. খ) কাজী আবদুল ওদুদ
  3. গ) ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  4. ঘ) ইব্রাহীম খাঁ
সঠিক উত্তর:
গ) ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
ব্যাখ্যা

ড. মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ রচিত কিছু অনুবাদগ্রন্থ:
- দীওআন-ই-হাফিজ,
- শিকওয়াহ ও জওয়াব-ই-শিকওয়াহ,
- রুবাইয়াত-ই-উমর খইয়ম,
- মহানবী,
- বাইআত নামা,
- বিদ্যাপতি শতক,
- অমর কাব্য কোরান শরীফ (অনুবাদ ও ভাষাসহ প্রকাশিত),
- বুখারী শরীফ,
- ঈদুল আযহা
- কোরবানির আহকাম।
উৎসঃ বিভিন্ন পত্রিকা এবং বাংলাপিডিয়া।

৪,৯০৭.
‘মুক্তবুদ্ধির চিরসজাগ প্রহরী’ নামে আখ্যায়িত হন-
  1. ক) মোতাহের হোসেন চৌধুরী
  2. খ) আনোয়ারুল কাদির
  3. গ) আবুল ফজল
  4. ঘ) কাজী আবদুল ওদুদ
সঠিক উত্তর:
গ) আবুল ফজল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) আবুল ফজল
ব্যাখ্যা
আবুল ফজল (১৯০৩-১৯৮৩): শিক্ষাবিদ, প্রাবন্ধিক, কথাসাহিত্যিক।
আবুল ফজল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে ঢাকার মুসলিম সাহিত্য সমাজ (১৯২৬) প্রতিষ্ঠার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি ‘শিখা’ পত্রিকার শেষ/পঞ্চম সংখ্যার সম্পাদক ছিলেন।
তিনি মুক্তবুদ্ধির চিরসজাগ প্রহরী নামে আখ্যায়িত হন।
আবুল ফজল রচিত উপন্যাসঃ ‘চৌচির’ (১৯৩৪),’ প্রদীপ ও পতঙ্গ’ (১৯৪০), জীবন পথের যাত্রী (১৯৪৮), রাঙ্গাপ্রভাত (১৯৫৭) প্রভৃতি।
প্রবন্ধঃ বিচিত্র কথা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি সাধনা, সাহিত্য সংস্কৃতি ও জীবন, শেখ মুজিবঃ তাঁকে যেমন দেখেছি, শুভবুদ্ধি, সমকালীন চিন্তা ইত্যাদি।
আত্মকাহিনী ও দিনলিপিঃ রেখাচিত্র (১৯৬৬)।
গল্পগ্রন্থঃ মাটির পৃথিবী, মৃতের আত্মহত্যা প্রভৃতি।
[সূত্রঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর]
৪,৯০৮.
'বিশ শতকের বাঙালী' প্রবন্ধের রচয়িতা কে?
  1. ক) আহমদ ছফা
  2. খ) আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
  3. গ) আহমদ শরীফ
  4. ঘ) আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
গ) আহমদ শরীফ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) আহমদ শরীফ
ব্যাখ্যা
আহমদ শরীফ রচিত প্রবন্ধ- বিচিত্র চিন্তা, স্বদেশ চিন্তা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি চিন্তা, স্বদেশ অন্বেষা, বিশ শতকের বাঙালি, কালের দর্পণের স্বদেশ, স্বদেশ চিন্তা, জিজ্ঞাসা ও অন্বেষা, জীবনে সমাজে সাহিত্যে, একালে নজরুল ইত্যাদি।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৪,৯০৯.
সৈয়দ আলী আহসান রচিত অনুবাদগ্রন্থ কোনটি?
  1. নজরুল ইসলাম
  2. কবি মধুসূদন
  3. ইডিপাস
  4. পদ্মাবতী
সঠিক উত্তর:
ইডিপাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইডিপাস
ব্যাখ্যা
সৈয়দ আলী আহসান:
- তিনি মূলত শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক ছিলেন। 
- তিনি ১৯২২ সালের ২৬শে মার্চ মাগুরা জেলার আলোকদিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- ১৯৩৭ সালে আর্মানীটোলা স্কুলে অধ্যয়নকালে স্কুল ম্যাগাজিনে সৈয়দ আলী আহসানের ‘The Rose’ নামে একটি ইংরেজি কবিতা প্রকাশিত হয়।
- রাজশাহী ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
-  ১৯৬৭ সালে তিনি কবিতার জন্য বাংলা একাডেমি পুরস্কার, ১৯৮৩ সালে একুশে পদক এবং ১৯৮৭ সালে স্বাধীনতা পদক লাভ করেন।
- ২০০২ সালের ২৫ জুলাই তাঁর বর্ণাঢ্য কর্মময় জীবনের অবসান ঘটে।

তাঁর রচিত প্রবন্ধ-গবেষণাগ্রন্থ:
- কবিতার কথা,
- নজরুল ইসলাম,
- রবীন্দ্র কাব্যবিচারের ভূমিকা,
- কবি মধুসূদন,
- কবিতার কথা ও অন্যান্য বিবেচনা,
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস,
- পদ্মাবতী।

তাঁর রচিত অনুবাদগ্রন্থ:
- হুইটম্যানের কবিতা,
- ইডিপাস

তাঁর রচিত আত্মজীবনী:
- আমার সাক্ষ্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,৯১০.
'কৃপা শাস্ত্রের অর্থভেদ' গ্রন্থটি রচনা করেন -
  1. মনোএল দা আসসাম্পসাঁউ
  2. নাথালিয়েন ব্রাসি হ্যালহেড
  3. উইলিয়াম কেরী
  4. রামরাম বসু
সঠিক উত্তর:
মনোএল দা আসসাম্পসাঁউ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মনোএল দা আসসাম্পসাঁউ
ব্যাখ্যা
কৃপার শাস্ত্রের অর্থভেদ: 
- এটি মনোএল দ্য আসসুম্পসাঁউ পর্তুগিজ খ্রিষ্টান মিশনারি কর্তৃক রচনা করেন।
- ১৭৪৩ খ্রিষ্টাব্দে লিসবন শহর থেকে রোমান লিপিতে মুদ্রিত হয়।
- গুরুশিষ্যের কথোপকথনের মধ্য দিয়ে খ্রিষ্টধর্মের মহিমা কীর্তন এই গ্রন্থের লক্ষ্য।

মনোএল দা আসসুম্পসাঁউ:
- তিনি একজন পর্তুগিজ ছিলেন।
- তিনি ছিলেন একজন খ্রিস্টান ধর্মযাজক।
- মনোএল দা আসসুম্পসাঁউ এর আগে কেউ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ রচনা করেননি।
- ১৭৪৩ সালে মনোএল দা আসসুম্পসাঁউ দুটি বাংলা গ্রন্থ রচনা ও মুদ্রণ করেন।

তাঁর রচিত গ্রন্থ দুটি হলো:
- কৃপা শাস্ত্রের অর্থভেদ
- ভোকাবুলিরও এম ইদিওমা বেনগল্লা ই পোরতুগিজ।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৯১১.
‘বইপড়া’ প্রবন্ধটির লেখক কে?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. প্রমথ চৌধুরী
  3. মোতাহের হোসেন চৌধুরী
  4. হায়াৎ মামুদ
সঠিক উত্তর:
প্রমথ চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রমথ চৌধুরী
ব্যাখ্যা
• 'বই পরা' প্রবন্ধের রচয়িতা প্রমথ চৌধুরী।
• এটি তাঁর 'প্রবন্ধ সংগ্রহ' গ্রন্থ থেকে নির্বাচন করা হয়েছে। 

⇒ প্রমথ চৌধুরী:
- বাংলা ভাষার সাধু ও চলিত রূপের মধ্যে তুলনামূলক গবেষণা করেন প্রমথ চৌধুরী।
- বাংলা গদ্যে চলিত রীতির প্রবর্তক ও বিদ্রূপাত্মক প্রাবন্ধিক হলেন প্রমথ চৌধুরী।
- প্রমথ চৌধুরীর সাহিত্যিক ছদ্মনাম 'বীরবল।'
- প্রমথ চৌধুরী রচিত 'বীরবলের হালখাতা' ১৯০২ সালে ভারতী পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়। 
- এ গদ্য/প্রবন্ধ রচনায় তিনি প্রথম চলিত রীতির প্রয়োগ ঘটান।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ গ্রন্থ: 
- তেল নুন লকড়ী, 
- বীরবলের হালখাতা, 
- নানাকথা, 
- ভাষার কথা, 
- আমাদের শিক্ষা, 
- রায়তের কথা, 
- নানাচর্চা, 
- প্রবন্ধ সংগ্রহ। 

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ: 
- চার ইয়ারী কথা, 
- আহুতি, 
- নীললোহিত, 
- অনুকথা সপ্তক, 
- ঘোষালে ত্রিকথা। 

• কাব্যগ্রন্থ: 
- সনেট পঞ্চাশৎ, 
- পদচারণ। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা সাহিত্য; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৪,৯১২.
‘আত্মঘাতী বাঙালী’ কার রচিত গ্রন্থ?
  1. ক) অশোক মিত্র
  2. খ) দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
  3. গ) অতুল সুর
  4. ঘ) নীরদচন্দ্র চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
ঘ) নীরদচন্দ্র চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) নীরদচন্দ্র চৌধুরী
ব্যাখ্যা
• নীরদচন্দ্র চৌধুরী রচিত গ্রন্থ- ‘আত্মঘাতী বাঙালী’। 
- আহমদ শরীফ রচিত কয়েকটি উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধ গবেষণা গ্রন্থ - বিচিত চিন্তা (১৯৮৬), স্বদেশ অন্বেষা (১৯৭০), বাঙালী ও বাঙলা সাহিত্য, স্বদেশ চিন্তা ইত্যাদি।
- 'ভবিষ্যতের বাঙালি' গ্রন্থটির রচয়িতা- এস ওয়াজেদ আলি।
- কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রবন্ধ- 'বাঙালির বাংলা'। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া। 
৪,৯১৩.
“মুখরা রমণী বশীকরণ” নাটকটি কোন নাটকের অনুবাদ?
  1. The Silver Box
  2. The Taming of the Shrew
  3. You Never Can Tell
  4. The Tempest
সঠিক উত্তর:
The Taming of the Shrew
উত্তর
সঠিক উত্তর:
The Taming of the Shrew
ব্যাখ্যা

• "মুখরা রমণী বশীকরণ" (১৯৭০): উইলিয়াম শেক্‌স্‌পিয়ারের "The Taming of the Shrew" নাটকের বাংলা অনুবাদ।
------------------------

মুনীর চৌধুরীর জীবনী ও সাহিত্যকর্ম: 
মুনীর চৌধুরী ছিলেন একজন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, এবং সাহিত্যসমালোচক। তিনি ১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর মানিকগঞ্জ শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তবে তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল নোয়াখালী জেলায়। তিনি তাঁর অসাধারণ প্রতিভার মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেছেন এবং ভাষা আন্দোলনসহ বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক ঘটনা তাঁর সাহিত্যকর্মে প্রভাব ফেলেছে।

তাঁর জীবনের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা:

• জন্ম ও পৈতৃক নিবাস: মুনীর চৌধুরীর জন্ম মানিকগঞ্জে হলেও, তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল নোয়াখালীতে।
• ১৯৫২ ভাষা আন্দোলন: ভাষা আন্দোলনের পটভূমিতে তিনি কারাবন্দী অবস্থায় ১৯৫৩ সালে "কবর" নাটকটি রচনা করেন, যা তাঁর অন্যতম বিখ্যাত সাহিত্যকর্ম।

বাংলা টাইপরাইটার উদ্ভাবন:
১৯৬৫ সালে মুনীর চৌধুরী কেন্দ্রীয় বাঙলা উন্নয়ন বোর্ডের উদ্যোগে বাংলা টাইপরাইটারের জন্য একটি উন্নতমানের কী-বোর্ড উদ্ভাবন করেন, যার নাম ছিল "মুনীর অপ্‌টিমা"।
----------------------- 
রচিত নাটকসমূহ:
মুনীর চৌধুরী অনেক মৌলিক ও অনুবাদ নাটক রচনা করেছেন, যা বাংলা নাট্যসাহিত্যে অমূল্য সংযোজন হিসেবে বিবেচিত।

মৌলিক নাটক:
• "কবর" (১৯৫৩): এটি ভাষা আন্দোলনের পটভূমিতে লেখা একটি বিশেষ নাটক, যা বাংলা নাটকের ইতিহাসে এক বিশেষ স্থান দখল করে আছে।
• "রক্তাক্ত প্রান্তর": পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের উপর ভিত্তি করে লেখা।
• "মানুষ": ১৯৪৬ সালের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার ঘটনা উপজীব্য।
• "নষ্ট ছেলে": একটি রাজনৈতিক চেতনাসমৃদ্ধ নাটক।
• "পলাশী ব্যারাক ও অন্যান্য": রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে রচিত নাটক।
• "দণ্ডকারণ্য": তিনটি নাটকের সমন্বয়ে রচিত।
• "রাজার জন্মদিন": একটি চমৎকার নাট্যকর্ম যা রাজনীতি ও সামাজিক প্রেক্ষাপট নিয়ে লেখা।
--------------------- 
অনুবাদ নাটক:
• "কেউ কিছু বলতে পারে না" (১৯৬৯): জর্জ বার্নার্ড শর-এর "You never can tell" নাটকের বাংলা অনুবাদ।
• "রূপার কৌটা" (১৯৬৯): জন গলজ্‌ওয়র্দির "The Silver Box" নাটকের বাংলা অনুবাদ।
• "মুখরা রমণী বশীকরণ" (১৯৭০): উইলিয়াম শেক্‌স্‌পিয়ারের "The Taming of the Shrew" নাটকের বাংলা অনুবাদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, সাহিত্যপাঠ একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (২০২০-২১ সংস্করণ)।

৪,৯১৪.
“ছবির দেশে কবিতার দেশে” সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় রচিত কোন ধরনের গ্রন্থ?
  1. উপন্যাস
  2. কাব্যগ্রন্থ
  3. গল্পগ্রন্থ
  4. ভ্রমণকাহিনি
সঠিক উত্তর:
ভ্রমণকাহিনি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভ্রমণকাহিনি
ব্যাখ্যা
⇒ “ছবির দেশে কবিতার দেশে” ভ্রমণকাহিনি:
• সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় ফ্রান্সে পাঁচবারের ভ্রমণ-অভিজ্ঞতা মিলিয়ে এই “ছবির দেশে কবিতার দেশে” ভ্রমণকাহিনিটি রচনা করেছেন।
• সাধারণ ভ্রমণকাহিনির থেকে এ-রচনার স্বাদ একেবারে আলাদা। নিছক ঘোরাফেরা আর দেখাশোনার মামুলী বৃত্তান্ত নয় এই বই ।
• পুরো ফরাসীদেশটাকেই যেন খুঁড়ে খুঁড়ে দেখা । 

⇒ সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়:
- সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় কবি ও উপন্যাসিক হিসেবে পশ্চিমবঙ্গের সাহিত্যে একটি শ্রেষ্ঠত্বের আসন লাভ করেছিলেন।
- তবে কবি হিসেবে তাঁর পরিচিতির চেয়ে ঔপন্যাসিক হিসেবে বেশি খ্যাতিলাভ করেছিলেন।
- সমকালীন জীবনের চিত্র ফুটিয়ে তুলতে তিনি বিশেষ কৃতিত্বের পরিচয় দিয়ে গেছেন।
- সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের জন্ম বর্তমান বাংলাদেশের ফরিদপুর জেলায়। 
- কবিতা দিয়ে তাঁর সাহিত্য সাধনা শুরু।
- তাঁর প্রথম কবিতা 'একটি চিঠি' প্রকাশিত হয়েছিল 'দেশ' পত্রিকায় ১৯৫১ সালে।
- তাঁর রচিত ছোটগল্প 'খাঁচা' প্রথম প্রকাশিত হয় রমাপদ চৌধুরী সম্পাদিত 'ইন্দানীং' পত্রিকায়।
- তাঁর প্রথম উপন্যাস 'আত্মপ্রকাশ ১৯৬৪ সালে প্রকাশিত হয়।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থগুলো হলো:
- একা এবং কয়েকজন,
- 'হঠাৎ নীরার জন্য,
- 'ভোর বেলার উপহার,
- 'সেই মুহূর্তে নীরা,
- 'কায়দাটা শিখে নেবে' ইত্যাদি ।

• সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের উপন্যাসগুলো হল:
- আত্মপ্রকাশ,
- ছায়া দর্শন,
- অন্য জীবনের স্বাদ,
- স্বপ্ন সম্ভব,
- সুনীলের সাতদিন,
- বাণী ও অবিনাশ,
- প্রথম আলো।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং “ছবির দেশে কবিতার দেশে” সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়। 
৪,৯১৫.
নিচের কোনটি নির্মলেন্দু গুণের কাব্যগ্রন্থ নয়?
  1. ক) পৃথিবীজোড়া গান
  2. খ) দীর্ঘ দিবস দীর্ঘ রজনী
  3. গ) তার আগে চাই সমাজতন্ত্র
  4. ঘ) গোলাপ কেন কালো
সঠিক উত্তর:
ঘ) গোলাপ কেন কালো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) গোলাপ কেন কালো
ব্যাখ্যা
• নির্মলেন্দু গুণ:
- ১৯৪৫ সালে নেত্রকোণার বারহাট্টার কাশবন গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- নির্মলেন্দু গুণ এর সম্পূর্ণ নাম নির্মলেন্দু প্রকাশ  গুণ চৌধুরী।
- নির্মলেন্দু প্রকাশ গুণ চৌধুরী কে কবিদের কবি বলা হয়। 
- তাঁকে  ১৯৮২ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।
- এছাড়া ১৯৮২ সালেই আলাওল সাহিত্য পুরস্কার, ২০০১ সালে একুশে পদক প্রদান করা হয়। 

• নির্মলেন্দু গুণের কাব্যগুলো হলো :
- প্রেমাংশুর রক্ত চাই, 
- না প্রেমিক না বিপ্লবী, 
- দীর্ঘ দিবস দীর্ঘ রজনী
- ও বন্ধু আমার, 
- তার আগে চাই সমাজতন্ত্র, 
- চাষাভূষার কাব্য, 
- পৃথিবীজোড়া গান
- দূর হ দুঃশাসন। 

⇒ বি:দ্র: গোলাপ কেন কালো' উপন্যাসের রচয়িতা বুদ্ধদেব বসু। 

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
৪,৯১৬.
'চন্দ্রগুপ্ত' নাটকের নাট্যকার কে?
  1. দীনবন্ধু মিত্র
  2. দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
  3. গিরিশচন্দ্র ঘোষ
  4. দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
সঠিক উত্তর:
দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
ব্যাখ্যা
• 'চন্দ্রগুপ্ত' নাটক:
- 'চন্দ্রগুপ্ত' (১৯১১) দ্বিজেন্দ্রলাল রায় রচিত জনপ্রিয় নাটক।
- গ্রিক-ভারতীয় সম্পর্কের ইতিহাসের একটি বিশেষ মুহূর্তকে এই নাটকের পটভূমি করা হয়েছে।
- এই নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্র চাণক্যের মধ্যে কাঠিন্য এবং কোমলতার বিপরীত সমাবেশ, দেশপ্রেমের উদ্দীপ্তি এবং ভাষার আড়ম্বর এই তিনদিক থেকে বাংলা নাটকের ইতিহাসে 'চন্দ্রগুপ্ত' বিশেষভাবে আলোচিত হয়।

--------------
দ্বিজেন্দ্রলালের উলেখযোগ্য কয়েকটি গ্রন্থ হলো:
• কাব্য:
- আর্য্যগাথা,
- আলেখ্য,
- ত্রিবেণী।

• নকশা-প্রহসন:
- একঘরে,
- সমাজ-বিভ্রাট ও কল্কি অবতার,
- এ্যহস্পর্শ,
- প্রায়শ্চিত্ত,
- পুনর্জন্ম।

• পৌরাণিক নাটক:
- পাষাণী,
- সীতা,
- ভীষ্ম।

• সামাজিক নাটক:
- পরপারে,
- বঙ্গনারী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,৯১৭.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম ইতিহাস গ্রন্থ 'বঙ্গভাষা ও সাহিত্য' প্রকাশিত হয়-
  1. ১৮৬০ সালে
  2. ১৮৭৪ সালে
  3. ১৮৯৬ সালে
  4. ১৮৯৯ সালে
সঠিক উত্তর:
১৮৯৬ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮৯৬ সালে
ব্যাখ্যা

- 'বঙ্গভাষা ও সাহিত্য' বাংলা সাহিত্যের প্রথম ইতিহাস গ্রন্থ।
- এটি রচয়িতা করেন দীনেশচন্দ্র সেন।
- গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৮৯৬ সালে।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

৪,৯১৮.
অনুসন্ধিৎসু হরপ্রসাদ শাস্ত্রী প্রাচীন বাংলার পুঁথির খোঁজে কতবার নেপাল যান?
  1. ক) ৩ বার
  2. খ) ৪ বার
  3. গ) ৫ বার
  4. ঘ) ৭ বার
সঠিক উত্তর:
খ) ৪ বার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ৪ বার
ব্যাখ্যা
হরপ্রসাদ শাস্ত্রী প্রাচীন বাংলার পুঁথির খোঁজে চারবার নেপাল যান ১৮৯৭, ১৮৯৮, ১৯০৭ এবং ১৯২২ সালে। ১৯০৭ সালে তিনি আবিষ্কার করেন চর্যাগীতি বা চর্যাপদের পুঁথি। দীর্ঘ ৭/৮ বৎসর পুঁথিগুলো গবেষণা করে তিনি আবিষ্কার করেন যে, এগুলোর ভাষা প্রাচীন বাংলা এবং এগুলোই বাংলা সাহিত্যের আদিতম নিদর্শন। ১৯১৬ সালে চর্যাপদের পুঁথি নিয়ে রচিত তাঁর গবেষণাপত্র ‘হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় রচিত বৌদ্ধ গান ও দোহা’ নামে প্রকাশিত হয়। উৎসঃ LiveMCQ লেকচার
৪,৯১৯.
'আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি' ----কবিতাটি কার লেখা?
  1. ক) শামসুর রাহমান
  2. খ) আল মাহমুদ
  3. গ) আবুল ফজল
  4. ঘ) আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
সঠিক উত্তর:
ঘ) আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
ব্যাখ্যা
আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ ১৯৩৪ সালে বরিশাল জেলার বাবুগঞ্জ উপজেলার বাহেরচর ক্ষুদ্রকাঠী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ - সাত নরী হার।
এছাড়াও,
- কখনো রং কখনো সুখ, কোমলের চোখ ও আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি তাঁর রচিত অন্যতম কাব্যগ্রন্থ।
- আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি কাব্যগ্রন্থের অন্যতম কবিতা হল আমি কিংবদন্তির কথা বলছি।

তার অন্যতম কবিতা : মাগো ওরা বলে, কোন এক মাকে।

উৎস: সাহিত্য পাঠ (একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি)
৪,৯২০.
ঢাকায় মুসলিম সাহিত্য সমাজ গঠন করেন-
  1. আবুল হুসেন
  2. আবু ইসহাক
  3. আবুল হাসান
  4. আহমদ শরীফ
সঠিক উত্তর:
আবুল হুসেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবুল হুসেন
ব্যাখ্যা
⇒ আবুল হুসেন: 
• আবুল হুসেন একজন প্রাবন্ধিক, চিন্তাবিদ, সমাজ সংস্কারক ছিলেন।
• আবুল হুসেন মুসলমান সমাজে আধুনিক শিক্ষা ও জ্ঞানের আলো বিস্তারের উদ্দেশ্যে লেখনী পরিচালনা করেন।
• আবুল হুসেন ছিলেন 'শিখা' পত্রিকার প্রথম বর্ষের সম্পাদক।
• ঢাকায় যে বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন হয় তাতে আবুল হুসেনই নেতৃত্ব দেন।
• তিনি ঢাকায় মুসলিম সাহিত্য সমাজ (১৯২৬) গঠন এবং এর মুখপত্র শিখা সম্পাদনা ও প্রকাশ করে এ আন্দোলনকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেন।
• কাজী আবদুল ওদুদ, কাজী মোতাহার হোসেন, মুহম্মদ শহীদুল্লাহ ও আবুল ফজল তাঁকে এ কাজে সাহায্য করেন।

 তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থের নাম:
- বাংলার বলশী,
- মুসলিম কালচার ও
- বাঙালি মুসলমানদের শিক্ষা সমস্যা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৯২১.
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের সর্বশেষ উপন্যাস কোনটি?
  1. একটি কালো মেয়ের কথা
  2. ধাত্রীদেবতা
  3. গণদেবতা
  4. নিকেতন
সঠিক উত্তর:
একটি কালো মেয়ের কথা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
একটি কালো মেয়ের কথা
ব্যাখ্যা

'একটি কালো মেয়ের কথা' উপন্যাস:
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম নিয়ে রচিত তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাস - 'একটি কালো মেয়ের কথা'।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯৭১ খ্রিষ্টব্দে। এটি তাঁর সর্বশেষ উপন্যাস।

তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়:
- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়, একজন কথাসাহিত্যিক, রাজনীতিবিদ।
- তিনি ১৮৯৮ সালে পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলায় এক জমিদারবংশে জন্মগ্রহণ করেন।
- তারাশঙ্করের প্রথম গল্প ‘রসকলি’ সেকালের বিখ্যাত পত্রিকা কল্লোল-এ প্রকাশিত হয়।
- তারাশঙ্করের ত্রয়ী উপন্যাস- ধাত্রীদেবতা, গণদেবতা, পঞ্চগ্রাম। 

তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস: 
- চৈতালি ঘূর্ণি, 
- ধাত্রীদেবতা, 
- কালিন্দী, 
- জলসাঘর, 
- কবি, 
- হাঁসুলি বাঁকের উপকথা, 
- গণদেবতা, 
- আরগ্য, 
- নিকেতন, 
- পঞ্চপুণ্ডলী, 
- রাধা ইত্যাদি। 

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৪,৯২২.
নিচের কোনটি নাটক?
  1. ক) বৌ-বেগম
  2. খ) আনোয়ার পাশা
  3. গ) বাতায়ন
  4. ঘ) উস্তাদ
সঠিক উত্তর:
খ) আনোয়ার পাশা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) আনোয়ার পাশা
ব্যাখ্যা
ইব্রাহিম খাঁ রচিত নাটক ‘ আনোয়ার পাশা’, বৌ-বেগম' – উপন্যাস, ‘উস্তাদ’- গল্পগ্রন্থ, , ‘বাতায়ন’ হলো স্মৃতিকথা।রেফারেন্সঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য – মোহসীনা নাজিলা।
৪,৯২৩.
নুরুল মোমেন একজন ________।
  1. ক) কবি
  2. খ) অভিনেতা
  3. গ) ঔপন্যাসিক
  4. ঘ) নাট্যকার
সঠিক উত্তর:
ঘ) নাট্যকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) নাট্যকার
ব্যাখ্যা
নুরুল মোমেন  (১৯০৬-১৯৮৯)  শিক্ষাবিদ, নাট্যকার। জন্ম ফরিদপুর (তৎকালীন যশোর) জেলার আলফাডাঙ্গায় ২৫ নভেম্বর ১৯০৬।
তাঁর বিখ্যাত নাটক:
- যদি এমন হতো (১৯৬০),
- নয়া খান্দান (১৯৬২),
- আলোছায়া (১৯৬২),
- আইনের অন্তরালে (১৯৬৬),
- শতকরা আশি (১৯৬৭),
- রূপলেখা (১৯৬৯) ও
- যেমন ইচ্ছা তেমন (১৯৭০)।

[উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড.  সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া]
৪,৯২৪.
'এখানে নোঙর' নাটকের রচয়িতা-
  1. ক) মুনীর চৌধুরী
  2. খ) বন্দে আলী মিয়া
  3. গ) মামুনুর রশিদ
  4. ঘ) বিজন ভট্টাচার্য
সঠিক উত্তর:
গ) মামুনুর রশিদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) মামুনুর রশিদ
ব্যাখ্যা
মামুনুর রশীদ রচিত বিখ্যাত নাটক- এখানে নোঙর, ওরা কদম আলী, ওরা আছে বলেই, মে দিবস, ইবলিশ, গিনিপিগি, সমতট, পাথর, লেবেদফ ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৯২৫.
‘আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি’- এর রচয়িতা কে?
  1. ক) সিকানদার আবু জাফর
  2. খ) ফররুখ আহমদ
  3. গ) আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
  4. ঘ) আহসান হাবীব
সঠিক উত্তর:
গ) আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
ব্যাখ্যা
আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ ৩৯টি কবিতা সম্বলিত 'আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি' কাব্যগ্রন্থটি রচনা করেন।
• গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৮১ সালে।
• সাতনরী হার আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ রচিত প্ৰথম কাব্যগ্রন্থ ৷
•মসৃন কৃষ্ণ গোলাপ তার সর্বশেষ কাব্যগ্রন্থ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৪,৯২৬.
'দৃষ্টিহীন' কোন সাহিত্যিক ব্যবহৃত ছদ্মনাম?
  1. দিজেন্দ্রলাল রায় 
  2. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
  4. আবু জাফর শামসুদ্দিন
সঠিক উত্তর:
দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
ব্যাখ্যা

• দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার:
- দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার ১৮৭৭ সালে উলাইল গ্রাম, ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন।

- বিদ্যালয়ের অধ্যয়ন-শেষে পিতার সঙ্গে ২১ বছর বয়সে মুর্শিদাবাদে গিয়ে সেখানে ৫ বছর বাস করেন। এই সময় থেকেই 'সাহিত্য-পরিষৎ পত্রিকা', 'প্রদীপ' প্রভৃতি পত্রিকাতে প্রবন্ধাবলী প্রকাশ করতে থাকেন এবং নিজেও 'সুধা' নামে একটি পত্রিকা প্রকাশ করেন।

- এরপর পিতৃম্বসার জমিদারী তত্ত্বাবধানের ভারপ্রাপ্ত হয়ে ময়মনসিংহে আসেন। সেই সময় থেকে দশ বছর ধরে বাঙলার লুপ্তপ্রায় 'কথাসাহিত্যে'র সংগ্রহ ও গবেষণা করেন। পরে এই সংগৃহীত উপদানসমূহ ড. দীনেশচন্দ্র সেনের উপদেশানুযায়ী রূপকথা, গীতিকথা, রসকথা ও ব্রতকথা-এই চারভাগে বিভক্ত করে পূর্ববঙ্গের পল্লী-অঞ্চলের লুপ্তপ্রায় বিপুল কথাসাহিত্যকে 'ঠাকুরমার ঝুলি', 'ঠাকুরদাদার ঝুলি', 'দাদামশায়ের থলে', 'ঠানদিদির থলে' প্রভৃতি গল্পগ্রন্থে স্থায়ী রূপদান করেছেন।

- দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদারের সাহিত্যিক ছদ্মনাম - দৃষ্টিহীন।

অন্যদিকে, 
---------------
• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় এর ছদ্মনাম- হাবু শর্মা।

• দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের কোনো সুপরিচিত ছদ্মনাম নেই, তবে তিনি 'ডি. এল. রায়' নামেও পরিচিত ছিলেন, যা তাঁর নামের আদ্যক্ষর। 

• আবু জাফর শামসুদ্দিন 'অল্পদর্শী' ছদ্মনামে 'বৈহাসিকের পার্শ্বচিন্তা' শিরোনামে দৈনিক সংবাদ পত্রিকায় কলাম লিখতেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৪,৯২৭.
'বাংলাদেশের লোকজ সংস্কৃতি গ্রন্থমালা' সম্পাদনা করেন-
  1. ক) শহীদ কাদরী
  2. খ) শামসুজ্জামান খান
  3. গ) সৈয়দ শামসুল হক
  4. ঘ) হুমায়ুন আজাদ
সঠিক উত্তর:
খ) শামসুজ্জামান খান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) শামসুজ্জামান খান
ব্যাখ্যা
শামসুজ্জামান খান হলেন একজন বাংলাদেশী অধ্যাপক, লোক সংস্কৃতি ও পল্লীসাহিত্য গবেষক এবং বাংলা একাডেমির প্রাক্তন মহাপরিচালক। তাঁর সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য কর্ম হল 'বাংলাদেশের লোকজ সংস্কৃতি গ্রন্থমালা' শিরোনামে ৬৪ খণ্ডে ৬৪ জেলার লোকজ সংস্কৃতির সংগ্রহসালা সম্পাদনা এবং ১১৪ খণ্ডে বাংলাদেশের 'ফোকলোর সংগ্রহমালা' সম্পাদনা। ২০০৯ সালে বাংলাদেশ সরকার তাকে একুশে পদকে ভূষিত করে।
৪,৯২৮.
পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের কাহিনি অবলম্বনে রচিত নাটক কোনটি?
  1. মহাশ্মশান
  2. বিষাদসিন্ধু
  3. রক্তাক্ত প্রান্তর
  4. কবর
সঠিক উত্তর:
রক্তাক্ত প্রান্তর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রক্তাক্ত প্রান্তর
ব্যাখ্যা
• ‘রক্তাক্ত প্রান্তর’ নাটক:
- মুনীর চৌধুরী রচিত 'রক্তাক্ত প্রান্তর' রচিত হয়েছে মহাকবি কায়কোবাদের 'মহাশ্মশান' গ্রন্থের কাহিনি থেকে।
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' মুনীর চৌধুরীর প্রথম পূর্ণাঙ্গ মৌলিক নাটক।
- পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের (১৭৬১) ঘটনা অবলম্বনে তিন অঙ্ক বিশিষ্ট নাটকটি রচিত।
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' ঐতিহাসিক নাটক নয়, এটি ইতিহাস-আশ্রিত নাটক।
- ‘মানুষ মরে গেলে পচে যায়। বেঁচে থাকলে বদলায়।' রক্তাক্ত প্রান্তর নাটকের একটি জনপ্রিয় উক্তি। নাটকে উক্তিটি বলেছেন নবাব সুজাউদ্দৌলা।

• অন্যান্য উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- ইব্রাহিম কার্দি,
- জোহরা,
- হিরণবালা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• ‘মহাশ্মশান’ পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে কায়কোবাদ রচিত মহাকাব্য।
• ‘বিষাদসিন্ধু’ মীর মশাররফ হোসেনের শ্রেষ্ঠ উপন্যাস বিষাদসিন্ধু। কারবালার বিয়োগান্তক ঘটনাই এর মূল উপজীব্য।
• ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে মুনীর চৌধুরী রচিত নাটক 'কবর'।

--------------------
• মুনীর চৌধুরী:
- মুনীর চৌধুরী ছিলেন একজন বাংলাদেশি শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্য সমালোচক ও বাগ্মী।
- ১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর মানিকগঞ্জ শহরে তাঁর জন্ম।
- মুনীর চৌধুরী শিক্ষা ও পেশাগত জীবনে বামপন্থী রাজনীতি ও প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

মুনীর চৌধুরীর মৌলিক নাটক:
- রক্তাক্ত প্রান্তর,
- চিঠি,
- কবর,
- দণ্ডকারণ্য।

অনুবাদ নাটক:
- কেউ কিছু বলতে পারে না,
- রূপার কৌটা ও
- মুখরা রমণী বশীকরণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,৯২৯.
মহাকবি কায়কোবাদ রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) মহাশ্মশান
  2. খ) শিবমন্দির
  3. গ) বিরহ বিলাপ
  4. ঘ) অমিয়ধারা
সঠিক উত্তর:
গ) বিরহ বিলাপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বিরহ বিলাপ
ব্যাখ্যা
• আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম কবি কায়কোবাদ।
- তাঁর প্রকৃত নাম কাজেম আল কোরেশী।
- কায়কোবাদ তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম।
- তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ- বিরহ বিলাপ (১৮৭০)।
- মাত্র তের বছর বয়সে তাঁর এই কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয়।

• তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থঃ
- মহাশ্মশান (মহাকাব্য),
- কুসুম কানন,
- অশ্রুমালা,
- শিবমন্দির,
- অমিয়ধারা,
- শ্মশানভষ্ম,
- মহররম শরীফ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,৯৩০.
আনোয়ার পাশা রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. নিষুতি রাতের গাথা
  2. সমুদ্র শৃঙ্খলতা উজ্জয়িনী
  3. নদী নিঃশেষিত হলে
  4. নিরুপায় হরিণী
সঠিক উত্তর:
নিষুতি রাতের গাথা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিষুতি রাতের গাথা
ব্যাখ্যা
আনোয়ার পাশা:
- তিনি ১৯২৮ সালের ১৫ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুরের ডবকাই গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত কবি, শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক, সমালোচক ছিলেন।
- তিনি ১৯৭২ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার (মরণোত্তর) লাভ করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- নিষুতি রাতের গাথা,
- নীড় সন্ধানী ও,
- রাইফেল রোটি আওরাত।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- নদী নিঃশেষিত হলে,
- সমুদ্র শৃঙ্খলতা উজ্জয়িনী ও
- অন্যান্য কবিতা।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- নিরুপায় হরিণী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৪,৯৩১.
'বরফ গলা নদী" উপন্যাসটির রচয়িতা কে?
  1. ক) জহির রায়হান
  2. খ) শওকত ওসমান
  3. গ) মুনীর চৌধুরী
  4. ঘ) রশীদ করিম
সঠিক উত্তর:
ক) জহির রায়হান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) জহির রায়হান
ব্যাখ্যা
• জহির রায়হান ছিলেন চলচ্চিত্র নির্মাতা, লেখক।
- ১৯৩৫ সালে তিনি ফেনী জেলার মজিপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা মওলানা মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহ কলকাতা আলীয়া মাদ্রাসার অধ্যাপক এবং ঢাকা আলীয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ছিলেন।
- জহির রায়হান কলকাতায় মিত্র ইনিস্টিউটে এবং পরে আলীয়া মাদ্রাসায় অধ্যয়ন করেন।

ছাত্রজীবনেই তিনি লেখালেখিতে আগ্রহ প্রকাশ করেন। ১৩৬২ বঙ্গাব্দে তাঁর প্রথম গল্পসংগ্রহ সূর্যগ্রহণ প্রকাশিত হয়।
তাঁর লিখিত অন্যান্য বইগুলি হচ্ছে:
- শেষ বিকেলের মেয়ে,
- হাজার বছর ধরে, 
- আরেক ফাল্গুন, 
- বরফ গলা নদী, 
- আর কত দিন। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৪,৯৩২.
শহীদুল্লাহ কায়সার এর মহাকাব্যিক উপন্যাস কোনটি?
  1. ক) সংশপ্তক
  2. খ) সারেং বউ
  3. গ) হাজার বছর ধরে
  4. ঘ) লালসালু
সঠিক উত্তর:
ক) সংশপ্তক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সংশপ্তক
ব্যাখ্যা
• শহীদুল্লাহ কায়সার রচিত মহাকাব্যিক উপন্যাস 'সংশপ্তক' (১৯৬৫)।
- সংশপ্তক কথাটির অর্থ - যে সৈনিকেরা জীবনমরণ পণ করে যুদ্ধে লড়ে।
- লেখক এ ধরনের চেতনাকে ধারণ করে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অব্যবহিত পূর্ববর্তী কাল থেকে বায়ান্নত ভাষা আন্দোলনের পূর্বকাল অবধি বাংলাদেশের সামাজিক রাজনৈতিক পরিবর্তন ও রূপান্তর কে কেন্দ্র করে এই উপন্যাস রচনা করেছেন৷
- তাই একে মহাকাব্যিক উপন্যাস বলা হয়।
  
তাঁর রচিত উপন্যাসগুলো হলো:
- সারেং বৌ 
- সংশপ্তক 
- কৃষ্ণচূড়া মেঘ,
- তিমির বলয়, 
- দিগন্তে ফুলের আগুন,
- সমুদ্র ও তৃষ্ণা,
- চন্দ্রভানের কন্যা, 
- কবে পোহাবে বিভাবরী (অসমাপ্ত)
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৯৩৩.
বিহারীলাল চক্রবর্তীকে 'ভোরের পাখি' উপাধিতে আখ্যায়িত করেন কে?
  1. বুদ্ধদেব বসু
  2. বিষ্ণু দে
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
বিহারীলাল চক্রবর্তী:
- বিহারীলাল চক্রবর্তী  আধুনিক বাংলা গীতিকবিতার অন্যতম পুরোধা এবং রবীন্দ্রনাথের কাব্যগুরু হিসেবে পরিচত।
- বাংলা গীতিকবিতার জনক হিসেবে পরিচিত বিহারীলাল চক্রবর্তী।
- তিনি আধুনিক বাংলা গীতিকাব্যের প্রথম ও প্রধান কবি।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিহারীলাল চক্রবর্তীকে 'ভোরের পাখি' উপাধিতে আখ্যায়িত করেন।
- বিহারীলাল চক্রবর্তীর প্রথম সার্থক গীতিকবিতা ‘বঙ্গসুন্দরী’।
- তার শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ: সারদা মঙ্গল। 

বিহারীলাল চক্রবর্তী রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- স্বপ্নদর্শন,
- সঙ্গীত শতক,
- বঙ্গসুন্দরী,
- নিসর্গ সন্দর্শন,
- বন্ধু বিয়োগ,
- সারদা মঙ্গল,
- প্রেম প্রবাহিণী।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
২) বাংলাপিডিয়া।
৪,৯৩৪.
সামন্তবাদ ও পুজিবাদের দ্বন্দ্ব দেখা যায় কোন গল্পে?
  1. ক) রাইকমল
  2. খ) জলসাঘর
  3. গ) কালিন্দী
  4. ঘ) অগ্রদানী
সঠিক উত্তর:
খ) জলসাঘর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) জলসাঘর
ব্যাখ্যা
সামন্তবাদ ও পুজিবাদের দ্বন্দ্ব দেখা যায় কোন তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'জলসাঘর' গল্পে। 
'জলসাঘর' ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত ১১টি গল্পের সংকলন। 
- প্রতিটি গল্পের পটভূমি গ্রামবাংলার জমিদারের প্রতাপ ও তার অবক্ষয়ের শোচনীয় রূপ। 
- 'জলসাঘর' গল্পের প্রধান বিষয় হলো একটা সামন্ততান্ত্রিক জমিদার পরিবারের পতনের চিত্র।
- জমিদারতন্ত্রের সমৃদ্ধি ও অবসানের রূপ এই গল্পগুলিতে লক্ষ করা যায়। 
- জমিদার বাড়ির ধ্বংসসম্মুখ অবস্থার মধ্যেও সামন্ততান্ত্রিক ঐতিহ্যের কিছু নমুনা গল্পে দেখানো হয়েছে । 

অন্যদিকে, 
রাইকমল, কালিন্দী = তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাস। 
অগ্রদানী =  তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের গল্প 

উৎস: জলসাঘর, তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৯৩৫.
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌র রচনা নয় কোনটি?
  1. হঠাৎ আলোর ঝলকানি
  2. কাঁদো নদী কাঁদো
  3. জীবন থেকে নেয়া
  4. সুড়ঙ্গ
সঠিক উত্তর:
জীবন থেকে নেয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জীবন থেকে নেয়া
ব্যাখ্যা
• সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌ রচনা নয়- জীবন থেকে নেয়া। 
• 'জীবন থেকে নেয়া' জহির রায়হান পরিচালিত একটি বাংলা চলচ্চিত্র। এই চলচ্চিত্রটি ১৯৭০ সালের এপ্রিলে মুক্তি পায়।

-------------------
• সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌:
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌ ছিলেন কথাসাহিত্যিক ও নাট্যকার। ১৯২২ সালের ১৫ আগস্ট চট্টগ্রামের ষোলশহরে সৈয়দ (ডেপুটি) বাড়িতে তাঁর জন্ম।

- ফেনী হাইস্কুলে ছাত্র থাকাকালেই সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর সাহিত্যচর্চার সূত্রপাত হয়। এ সময় তিনি হাতে লেখা পত্রিকা 'ভোরের আলো' সম্পাদনা করেন।

- তাঁর প্রথম গল্প ‘হঠাৎ আলোর ঝলকানি’  ঢাকা কলেজ ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়। ইংরেজি-বাংলা উভয় ভাষায় তাঁর দক্ষতা ছিল।

- তিনি 'কনটেম্পোরারি' নামে একটি ইংরেজি পত্রিকা প্রকাশ করেন। ১৯৪৫-৪৭ সাল পর্যন্ত তিনি কলকাতার দৈনিক স্টেটস্ম্যান পত্রিকার সাব-এডিটর ছিলেন। এছাড়াও সওগাত, মোহাম্মদী, বুলবুল, পরিচয়, অরণি, পূর্বাশা প্রভৃতি পত্রিকায় তাঁর লেখা প্রকাশিত হতো।

তাঁর উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্মগুলো হলো-
• নাটক:
- বহিপীর,
- তরঙ্গভঙ্গ,
- সুড়ঙ্গ।

• উপন্যাস:
- লালসালু, 
- চাঁদের অমাবস্যা, 
- কাঁদো নদী কাঁদো।

• গল্পগ্রন্থ:
- নয়নচারা, 
- দুই তীর ও অন্যান্য গল্প।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,৯৩৬.
‘হঠাৎ আলোর ঝলকানি' বইটর লেখক কে?
  1. আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ
  2. সৈয়দ শামসুল হক
  3. বুদ্ধদেব বসু
  4. আবুল ফজল
সঠিক উত্তর:
বুদ্ধদেব বসু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বুদ্ধদেব বসু
ব্যাখ্যা
- ‘হঠাৎ আলাের ঝলকানি’ বুদ্ধদেব বসু রচিত প্রবন্ধ। গ্রন্থটি ১৯৩৫ সালে প্রকাশিত হয়।

• বুদ্ধদেব বসু:

- বুদ্ধদেব বসু  একাধারে কবি, প্রাবন্ধিক, নাট্যকার, গল্পকার, অনুবাদক, সম্পাদক ও সাহিত্য সমালােচক ছিলেন।
- রবীন্দ্রনাথের পর বাংলা সাহিত্যে বুদ্ধদেব বসুকে সব্যসাচী লেখক বলা হয়।

তাঁর প্রধান সাহিত্যকর্ম:
কাব্যগ্রন্থ:
- মর্মবাণী,
- বন্দীর বন্দনা,
- কঙ্কাবতী।

প্রবন্ধ:
- কালের পুতুল,
- সাহিত্যচর্চা,
- রবীন্দ্রনাথ: কথাসাহিত্য।

অনুবাদ:
- কালিদাসের মেঘদূত,
- বোদলেয়ার: তাঁর কবিতা,
- হেল্ডালিনের কবিতা,
- রাইনের মারিয়া রিলকের কবিতা।

• উল্লেখ্য 'হঠাৎ আলোর ঝলকানি' নামে সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর একটি গল্প রয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৪,৯৩৭.
'নিরঞ্জনের উষ্মা' কোন কাব্যগ্রন্থের অংশবিশেষ?
  1. চর্যাপদ
  2. সেক শুভোদয়া
  3. বৈষ্ণব পদাবলি
  4. শূন্যপুরাণ
সঠিক উত্তর:
শূন্যপুরাণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শূন্যপুরাণ
ব্যাখ্যা
'নিরঞ্জনের উষ্মা’:
- এটি শূন্যপুরাণ নামক কাব্যগ্রন্থের অংশবিশেষ।
- অংশের মূল প্রতিপাদ্য হলো: বর্ণ-হিন্দুগণ ধর্মসেবকদের প্রতি নানা অত্যাচার ও অবজ্ঞা করেছেন।
- এই অত্যাচারে বিরূপ হয়ে নিরঞ্জন ধর্মঠাকুর ‘যবন’ মুসলমানের রূপ ধারণ করে রাষ্ট্র ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়।
- ‘নিরঞ্জনের উষ্মা’ মূলত শূন্যপুরাণ নামক কাব্যগ্রন্থের অংশবিশেষ।
- ‘শূন্যপুরাণে’ কমপক্ষে পাঁচজন কবির হস্তক্ষেপ রয়েছে বলে মনে করা হয়।
- এছাড়া নানা মতান্তরের কারণে ‘নিরঞ্জনের উষ্মার’ রচনাকাল নির্দিষ্টভাবে বলা যায়  না।
- এই কাব্যে হিন্দু ও বৌদ্ধধর্মের উল্লেখ্য পাওয়া যায়।

উৎস:
১) বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
২) ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৯৩৮.
'দু'হাতে দুই আদিম পাথর' কাব্যগ্রন্থটি কে লিখেছেন?
  1. কায়কোবাদ
  2. ফররুখ আহমদ
  3. আহসান হাবীব
  4. সৈয়দ শামসুল হক
সঠিক উত্তর:
আহসান হাবীব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আহসান হাবীব
ব্যাখ্যা

• আহসান হাবীব:
১৯১৭ সালের ২ ফেব্রুয়ারি পিরোজপুর জেলার শংকরপাশা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি আধুনিক কাব্যধারার কবি ছিলেন। তাঁর কাব্যচর্চার শুরু বাল্যকাল থেকেই। সপ্তম শ্রেণীতে অধ্যয়নকালে ১৯৩৩ সালে স্কুল ম্যাগাজিনে তাঁর প্রথম লেখা একটি প্রবন্ধ ‘ধর্ম’ প্রকাশিত হয়।
- ১৯৩৪ সালে তাঁর প্রথম কবিতা ‘মায়ের কবর পাড়ে কিশোর’ ছাপা হয় পিরোজপুর গভর্নমেন্ট স্কুল ম্যাগাজিনে। তখন তিনি দশম শ্রেণীর ছাত্র।

• 'দু'হাতে দুই আদিম পাথর' আহসান হাবীব রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ। 
- গ্রন্থটি  ১৯৮০ সালে প্রকাশিত হয়। 

উল্লেখ্য,
• 'আমি কোন আগন্তুক নই' - 'দু'হাতে দুই আদিম পাথর' (১৯৮০) কাব্যগ্রন্থের শেষ কবিতা।
- কবিতাতে শহুরে মানুষের গ্রামে ফেরার কথা আছে।

• আহসান হাবীব রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- রাত্রিশেষ (প্রথম প্রকাশিত),
- মেঘ বলে চৈত্রে যাবো,
- দু'হাতে দুই আদিম পাথর,
- ছায়া হরিণ।

• আহসান হাবীব রচিত উপন্যাস:
- অরণ্য নীলিমা,
- রানী খালের সাঁকো।

• তাঁর কয়েকটি উল্লেখযোগ্য শিশুতোষ গ্রন্থ:
- জ্যোৎস্না রাতের গল্প,
- বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর,
- ছুটির দিন দুপুরে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৪,৯৩৯.
মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক কাব্যনাট্য কোনটি?
  1. ক) জাহান্নাম হইতে বিদায়
  2. খ) রাইফেল রোটি আওরাত
  3. গ) নেকড়ে অরণ্য
  4. ঘ) পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়
সঠিক উত্তর:
ঘ) পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়
ব্যাখ্যা
• সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হক এর একটি মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক কাব্যনাট্য 'পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়'

তাঁর রচিত কাব্যনাট্যসমূহ-
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়
- গণনায়ক
- নুরলদীনের সারাজীবন
- এখানে এখন
- কাব্যনাট্য সমগ্র
- ঈর্ষা
- বাংলার মাটি বাংলার জল
- নারীগণ

অন্যদিকে,
- ‘নেকড়ে অরণ্য’ শেখ আজিজুর রহমান ও ‘জাহান্নাম হইতে বিদায়’ শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস।
- আনোয়ার পাশা রচিত বিখ্যাত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস ‘রাইফেল রোটি আওরাত’।

মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে রচিত অন্যান্য উল্লেখযোগ্য নাটক-
• নরকের লাল গোলাপ - আলাউদ্দিন আল আজাদ.
• যে অরণ্যে আলো নেই - নীলিমা ইব্রাহীম,
• পঙ্কজ বিভাস - জিয়া হায়দার,
• কিংশুক যে ম্রুতে - মোহাম্মদ এহসানুল্লাহ,
• বর্ণচোর - মমতাজউদ্দীন আহমেদ,
• কি চাহ শঙ্খচিল - মমতাজউদ্দীন আহমেদ,
• প্রতিদিন একদিন - সাঈদ আহমদ,
• ফেরী আসছে - রনেশ দাশগুপ্ত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,৯৪০.
শহীদুল্লা কায়সারের অসমাপ্ত উপন্যাস কোনটি?
  1. কৃষ্ণচূড়া মেঘ
  2. চন্দ্রভানের কন্যা
  3. দিগন্তে ফুলের আগুন
  4. কবে পোহাবে বিভাবরী
সঠিক উত্তর:
কবে পোহাবে বিভাবরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কবে পোহাবে বিভাবরী
ব্যাখ্যা
• 'কবে পোহাবে বিভাবরী' শহীদুল্লা কায়সারের অসমাপ্ত উপন্যাস।

• শহীদুল্লাহ কায়সার:
- তিনি ছিলেন কথাসাহিত্যিক, সাংবাদিক, লেখক।
- ১৯২৭ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ফেনী জেলার মজুপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম আবু নঈম মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ ।
- পিতা মাওলানা মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহ ছিলেন ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ।
- প্রখ্যাত চলচ্চিত্রকার ও লেখক জহির রায়হান তাঁর অনুজ।
- ১৯৪৯ সালে ঢাকার সাপ্তাহিক 'ইত্তেফাক' পত্রিকায় শহীদুল্লা কায়সারের সাংবাদিক জীবন শুরু হয়।
- ১৯৫৮ সালে তিনি 'সংবাদ' পত্রিকায় সহযোগী সম্পাদক হিসেবে নিযুক্ত হন এবং জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত কর্মরত ছিলেন।
- শহীদুল্লা কায়সার 'সারেং বৌ' উপন্যাসের জন্য আদমজি সাহিত্য পুরস্কার (১৯৬২) এবং বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬২) লাভ করেন।
- ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের পূর্ব মুহূর্তে ১৪ ডিসেম্বর রাতে ঢাকার বাসভবন থেকে তিনি অপহৃত হন এবং আর ফিরে আসেন নি।

• তাঁর রচিত উপন্যাস সমূহ:
- সারেং বৌ,
- সংশপ্তক,
- কৃষ্ণচূড়া মেঘ,
- তিমির বলয়,
- দিগন্তে ফুলের আগুন,
- সমুদ্র ও তৃষ্ণা,
- চন্দ্রভানের কন্যা,
- কবে পোহাবে বিভাবরী (অসমাপ্ত)।

• তাঁর রচিত ভ্রমণবৃত্তান্ত:
- পেশোয়ার থেকে তাসখন্দ।

• তাঁর রচিত স্মৃতিকথা:
- রাজবন্দির রোজনামচা যা ১৯৬২ সালে প্রকাশিত হয়।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২. বাংলাপিডিয়া।
৪,৯৪১.
'শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব' প্রবন্ধটি কার রচনা?
  1. সুফিয়া কামাল 
  2. মোতাহের হোসেন চৌধুরী
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. প্রমথ চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
মোতাহের হোসেন চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মোতাহের হোসেন চৌধুরী
ব্যাখ্যা

• 'শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব' প্রবন্ধ:
- 'সংস্কৃতি কথা' (১৯৫৮) মোতাহের হোসেন চৌধুরীর প্রধান প্রবন্ধগ্রন্থ।
- প্রবন্ধটি 'সংস্কৃতি কথা' প্রবন্ধগ্রন্থ থেকে সংকলিত। প্রবন্ধের উক্তি-'লেফাফাদুরস্তি আর শিক্ষা এক কথা নয়।'
- 'শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব' প্রবন্ধে লেখক শিক্ষার ব্যক্তিগত ও সামগ্রিক সুফল প্রত্যাশা করেছেন।

-------------------------
• মোতাহের হোসেন চৌধুরী:
- শিক্ষাবিদ, লেখক মোতাহের হোসেন চৌধুরীর জন্ম নোয়াখালী জেলার কাঞ্চনপুর গ্রামে।
- মোতাহের হোসেনের প্রবন্ধের গদ্যশৈলীতে প্রমথ চৌধুরীর এবং মননে রবীন্দ্রনাথের প্রভাব লক্ষ্য করা যায়।
- তিনি বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলনের সাথে যুক্ত ছিলেন।
- 'সংস্কৃতি কথা' তাঁর রচিত প্রধান প্রবন্ধ গ্রন্থ।
- 'সুখ' বার্ট্রান্ড রাসেলের Conquest of Happiness গ্রন্থের এবং 'সভ্যতা' ক্লাইভ বেল-এর Civiliszation গ্রন্থের ভাবানুবাদ গ্রন্থ।
- মুক্তবুদ্ধিচর্চার প্রবক্তা, উদার মানবতাবাদী ও মননশীল প্রবন্ধকার হিসেবে মোতাহের হোসেন চৌধুরীর বিশেষ খ্যাতি আছে।

তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- আমাদের দৈন্য,
- আদেশপন্থী ও অনুপ্রেরণাপন্থী,
- মুসলমান সাহিত্যিকদের চিন্তাধারা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৪,৯৪২.
‘বড় কে’ কবিতাটি কে লিখেছেন?
  1. সুকুমার রায়
  2. হরিশচন্দ্র মিত্র
  3. কুসুমকুমারী দাশ
  4. যতীন্দ্রমোহন বাগচী
সঠিক উত্তর:
হরিশচন্দ্র মিত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হরিশচন্দ্র মিত্র
ব্যাখ্যা

• ‘বড় কে’ কবিতাটি লিখেছেন- হরিশচন্দ্র মিত্র।
 ----------------- 
হরিশচন্দ্র মিত্র:
- হরিশচন্দ্র মিত্র তিনি একাধারে কবি, নাট্যকার, প্রবন্ধকার, সাংবাদিক ছিলেন।
- তিনি ১৮৩৭ সালে ঢাকায় এক নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৮৫৮ সালে তাঁর প্রথম কবিতা ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের সংবাদ প্রভাকর পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
 
তাঁর রচিত অন্যান্য নাটক গুলো হলো:
- ম্যাও ধরবে কে, 
- ঘর থাকতে বাবুই ভেজ,
- জানকী নাটক,
- জয়দ্রথবধ বৃত্তান্ত ইত্যাদি।
 
তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ গুলো হলো: 
- হাস্যরসতরঙ্গিণী,
- বিধবা বঙ্গললনা,
- বীর বাক্যাবলী,
- কীচকবধ কাব্য,
- বঙ্গবালা,
- রামায়ণ ইত্যাদি।
 
তাঁর গীতিনাট্যগুলি হলো: 
- আগমনী,
- নতুন জামাই,
- হঠাৎ বাবু,
- ছাল নাই কুকুরের বাঘা নাম ইত্যাদি।
 
উৎস: বাংলাপিডিয়া; ‘বড় কে’ কবিতা।

৪,৯৪৩.
হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত কাব্যগ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. ছায়াময়ী
  2. চিত্তবিকাশ
  3. অনল প্রবাহ
  4. বীরবাহু
সঠিক উত্তর:
অনল প্রবাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনল প্রবাহ
ব্যাখ্যা
হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন কবি, আইনজীবী।
তিনি ১৮৩৮ সালের ১৭ এপ্রিল হুগলির গুলিটা গ্রামে মাতামহের বাড়িতে জন্ম গ্রহণ করেন।

 তাঁর রচিত কাব্য:
- চিন্তা তরঙ্গিনী,
- ছায়াময়ী,
- আশাকানন,
- বীরবাহু,
- চিত্তবিকাশ,
- দশমহাবিদ্যা ইত্যাদি।

- সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী রচিত কাব্যগ্রন্থ - অনল প্রবাহ

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৯৪৪.
নিচের কোনটি উপন্যাস?
  1. চাঁদের অমাবস্যা
  2. তরঙ্গভঙ্গ
  3. উজানে মৃত্যু
  4. সুড়ঙ্গ
সঠিক উত্তর:
চাঁদের অমাবস্যা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চাঁদের অমাবস্যা
ব্যাখ্যা
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌:
- তিনি একজন আধুনিক বাংলা সাহিত্যের কথাসাহিত্যিক ও নাট্যকার ছিলেন।
- তিনি ১৯২২ সালে, ১৫ আগস্ট চট্টগ্রাম শহরের ষোলশহর এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন।
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর প্রথম উপন্যাস 'লালসালু'।

সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌ রচিত উপন্যাস:
- কাঁদো নদী কাঁদো,
- লালসালু,
- চাঁদের অমাবস্যা

সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌ রচিত নাটক:
- বহিপীর,
- তরঙ্গভঙ্গ,
- সুড়ঙ্গ,
- উজানে মৃত্যু

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,৯৪৫.
কোনটি গোলাম মোস্তফার গ্রন্থ নয়?
  1. খোশরোজ
  2. রক্তরাগ
  3. হাসনাহেনা
  4. স্বপ্নসাধ
সঠিক উত্তর:
স্বপ্নসাধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বপ্নসাধ
ব্যাখ্যা
কবি গোলাম মোস্তফার বাংলা সাহিত্যে মুসলিম রেনেসাঁর কবি নামে পরিচিত। তাঁর কাব্যের প্রধান বিষয়বস্তু - ইসলাম ও প্রেম। তাঁর রচিত কয়েকটি বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থঃ
- হাসনাহেনা
- রক্তরাগ
- খোশরোজ
- কাব্যকাহিনী
- সাহারা
- বুলবুলিস্তান
- বনি আদম
- গীতি সঞ্চয়ন ইত্যাদি।
অপরদিকে, হুমায়ুন কবির রচিত কাব্যগ্রন্থঃ
- স্বপ্নসাধ,
- সাথী ও
- অষ্টাদশী
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৯৪৬.
‘আনোয়ারা’ উপন্যাসটি রচনা করেন-
  1. কাজী আবদুল ওদুদ
  2. মোহাম্মদ নজিবর রহমান
  3. আনোয়ার পাশা
  4. মোহাম্মদ আকরাম খাঁ
সঠিক উত্তর:
মোহাম্মদ নজিবর রহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মোহাম্মদ নজিবর রহমান
ব্যাখ্যা
• মোহাম্মদ নজিবর রহমান:
- তিনি সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরের চরবেলতৈল এ জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত ছিলেন ঔপন্যাসিক।
- তাঁর জনপ্রিয় ও প্রথম উপন্যাস হচ্ছে আনোয়ারা। উপন্যাসটি ১৯১৪ সালে প্রকাশিত হয়।

• 'আনোয়ারা' উপন্যাস:
- তাঁর জনপ্রিয় ও প্রথম উপন্যাস হচ্ছে আনোয়ারা।
- উপন্যাসটি ১৯১৪ সালে প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসটিতে মধ্যবিত্ত বিকাশের চিত্রের কথা তুলে ধরা হয়েছে।
- ধর্ম ও সত্যের জয়, অধর্মের পরাজয় ও আনোয়ারার স্বামীনিষ্ঠা।
- উপন্যাসের প্রধান চরিত্র: আনোয়ারা, নুরুল এসলাম, খাদেম, আজিমুল্লা, গোলাপ জান ইত্যাদি।

• নজিবর রহমান রচিত উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
- প্রেমের সমাধি,
- পরিণাম,
- চাঁদতারা বা হাসান গঙ্গা বাহমনি,
- দুনিয়া আর চাই না,
- গরীবের মেয়ে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৯৪৭.
‘নেমেসিস’ নাটকে নূরুল মোমেন কোন বিষয়কে তুলে ধরেছেন?
  1. ক) দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ
  2. খ) ঊনপঞ্চাশের মন্বন্তর
  3. গ) বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন
  4. ঘ) একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ
সঠিক উত্তর:
ক) দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ
ব্যাখ্যা
- নুরুল মোমেনের শ্রেষ্ঠ নাটক- ‘নেমেসিস’ ১৯৪৮ সালে প্রকাশিত হয়।
-১৯৩৯-৪৩ সালের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রচিত। নাটকটি স্কুল মাস্টার সুরজিত নুন্দী নামের এক-চরিত্র বিশিষ্ট। অদৃশ্য চরিত্র হিসেবে আছে নৃপেন বোস, তাঁর কন্যা সুলতা, ম্যানেজার অসীম, অমল বাবু, ইয়াকুব প্রমুখ।
- এ নাটকে সমকালীন দুর্ভিক্ষ, মজুতদারদের পিশাচবৃত্তি, ও নিরন্নদের হাহাকারের বাস্তব চিত্র অঙ্কিত।
- তাঁর রচিত নাটকগুলোর নাম:
 - রুপান্তর,
 - নেমেসিস
 - যদি এমন হতো
 - নয়া খান্দান
 - আলোছায়া
 - শতকরা আশি
 - আইনের অন্তরালে
 - যেমন ইচ্ছা তেমন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৯৪৮.
ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের প্রতিষ্ঠাতা কে?
  1. লর্ড ডালহৌসি
  2. লর্ড ওয়েলেসলী
  3. লর্ড বেন্টিঙ্ক
  4. লর্ড কর্ণওয়ালিস
সঠিক উত্তর:
লর্ড ওয়েলেসলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লর্ড ওয়েলেসলী
ব্যাখ্যা

ফোর্ট উইলিয়ম কলেজ ফোর্ট উইলিয়মের অভ্যন্তরভাগে গভর্নর জেনারেল লর্ড ওয়েলেসলী কর্তৃক ১৮০০ সালে প্রতিষ্ঠিত প্রাচ্যবিষয়ক একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। নবনিযুক্ত ইউরোপীয় আমলাদের নৈতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক উন্নতি সাধনই ছিল এ কেন্দ্রের উদ্দেশ্য।
> বাংলাসহ ভারতের অনেক ভাষা বিশেষজ্ঞ ও ধর্মপ্রচারক উইলিয়ম কেরীকে স্থানীয় ভাষা বিভাগের প্রধান নিয়োগ করা হয়। সব কয়টি বিভাগে কয়েকজন পন্ডিত ও মুন্সি ছিলেন। কলেজ কর্মচারীদের মধ্যে তাঁরাই ছিলেন দেশীয়। এভাবে ১৮০৫ সালের মধ্যে কলেজে মোট ১২টি অনুষদ খোলা হয়।

> শ্রীরামপুর প্রেস ও এশিয়াটিক সোসাইটি অব বেঙ্গল-এর সহযোগিতায় গবেষণা ও প্রকাশনার কাজ শুরু হয়।
> কলেজের শিক্ষক ও প্রাক্তন বিদ্বান ব্যক্তিগণ বাংলাসহ ভারতের প্রায় সকল ভাষার সংস্কার ও আধুনিকায়নে বিশেষ ভূমিকা পালন করেন। কলেজের বাঙালি শিক্ষকদের মধ্যে সর্বাপেক্ষা বিখ্যাত ছিলেন রামরাম বসু, তারিণীচরণ মিত্র ও মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার।
> ডালহৌসীর সরকার ১৮৫৪ সালে ফোর্ট উইলিয়মের এ ফ্যানট্যাম কলেজটি আনুষ্ঠানিকভাবে বিলোপ করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৪,৯৪৯.
গোলাম মোস্তফা কর্তৃক রচিত কাব্যগ্রন্থ -
  1. মরু-ভাস্কর
  2. বিশ্বনবী
  3. সিরাজাম মুনীরা
  4. গীতিসঞ্চালন
সঠিক উত্তর:
গীতিসঞ্চালন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গীতিসঞ্চালন
ব্যাখ্যা
• গোলাম মোস্তফা কর্তৃক রচিত কাব্যগ্রন্থ - গীতিসঞ্চালন।

• গোলাম মোস্তফা:

 - ১৮৯৭ সালে যশোর (বর্তমান ঝিনাইদহ) জেলার শৈলকুপা উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে তাঁর জন্ম। 
- ১৯৪৯ সালে গঠিত পূর্ববঙ্গ সরকারের ভাষা সংস্কার কমিটির সচিব হিসেবে তিনি কাজ করেন।
- তিনি পাকিস্তানি আদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন এবং ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময় উর্দুর প্রতি সমর্থন জ্ঞাপন করেন। 
- সাহিত্য-সংস্কৃতিতে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি যশোর সংঘ কর্তৃক ‘কাব্য সুধাকর’ (১৯৫২) এবং পাকিস্তান সরকার কর্তৃক ‘সিতারা-ই-ইমতিয়াজ’ (১৯৬০) উপাধি লাভ করেন।
- তিনি ১৯৬৪ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

• গোলাম মোস্তফা রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- রক্তরাগ,
- খোশরোজ,
- কাব্যকাহিনী,
- গীতিসঞ্চালন,
- সাহারা,
- হাসনাহেনা,
- বুলবুলিস্তান,
- বনি আদম ইত্যাদি।

• তাঁর গদ্যরচনার মধ্যে- 
- বিশ্বনবী (১৯৪২),
- ইসলাম ও কমিউনিজম (১৯৪৬),
- ইসলাম ও জেহাদ (১৯৪৭),
- আমার চিন্তাধারা (১৯৫২) ইত্যাদি। 

• অন্যদিকে: 
- 'মরু-ভাস্কর' কাজী নজরুল ইসলাম রচিত হযরত মোহাম্মদ (সঃ) এর জীবনী কাব্য।
- ফররুখ আহমদ রচিত কাব্যগ্রন্থ - সিরাজাম মুনীরা।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৯৫০.
'বাঙালি মুসলমানের মন' নামক বিখ্যাত প্রবন্ধের রচয়িতা কে?
  1. আবুল হাসান
  2. কাজী মোতাহার হোসেন
  3. আবদুল ওদুদ
  4. আহমদ ছফা
সঠিক উত্তর:
আহমদ ছফা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আহমদ ছফা
ব্যাখ্যা
• বাঙালি মুসলমানের মন:
- বাঙালি মুসলমানদের মন যে এখনও আদিম অবস্থায়, তা বাঙালি হওয়ার জন্যও নয় এবং মুসলমান হওয়ার জন্যও নয়।
- সুদীর্ঘকালব্যাপী একটি ঐতিহাসিক পদ্ধতির দরুন তার মনের ওপর একটি গাঢ় মায়াজাল বিস্তৃত হয়ে রয়েছে, সজ্ঞানে তার বাইরে সে আসতে পারে না, তাই এক পা যদি এগিয়ে আসে, তিন পা পিছিয়ে যেতে হয়।
- মানসিক ভীতিই এই সমাজকে চালিয়ে থাকে।
- দু’বছরে কিংবা চার বছরে হয়ত এ অবস্থার অবসান ঘটানো যাবে না, কিন্তু বাঙালি মুসলমানের মনের ধরণ-ধারণ এবং প্রবণতাগুলো নির্মোহভাবে জানার চেষ্টা করলে এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার একটা পথ হয়ত পাওয়া যেতে পারে।

• আহমদ ছফা:

- আহমদ ছফা ছিলেন একজন চিন্তাবিদ ও সাহিত্যিক।
- আহমদ ছফা ৩০শে জুন, ১৯৪৩ সালে গাছবাড়িয়া, চট্টগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি উত্থানপর্ব পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন। 

• তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- জাগ্রত বাংলাদেশ (১৯৭১),
- বুদ্ধি বৃত্তির নতুন বিন্যাস (১৯৭৩),
- বাঙালি মুসলমানের মন (১৯৭৬),
- সিপাহীযুদ্ধের ইতিহাস (১৯৮০)
- শতবর্ষের ফেরারী : বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৯৭),
- সাম্প্রতিক বিবেচনা : বুদ্ধিবৃত্তির নতুন বিন্যাস (১৯৯৭),
- যদ্যপি আমার গুরু প্রফেসর রাজ্জাক (১৯৯৭)৷

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাঙালি মুসলমানের মন গ্রন্থ ।
৪,৯৫১.
আলাওল কার আদেশে পদ্মাবতী কাব্য রচনা করেন?
  1. দৌলত কাজী
  2. কোরেশী মাগন ঠাকুর
  3. দৌলত উজির বাহরাম খান
  4. আলাউদ্দিন খিলজি
সঠিক উত্তর:
কোরেশী মাগন ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোরেশী মাগন ঠাকুর
ব্যাখ্যা
‘পদ্মাবতী’ কাব্য:
• পদ্মাবতী কবি আলাওলের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্য। এটি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একটি জনপ্রিয় প্রণয়কাব্য।
• কাব্যটি প্রখ্যাত হিন্দি কবি মালিক মুহাম্মদ জায়সির ‘পদুমাবৎ/ পদুমাবত’ কাব্যের অনুবাদ।
• আলাওল ১৬৫১ সালে আরাকান রাজ সাদ থদোমিন্তারের রাজত্বকালে মন্ত্রী মাগন ঠাকুরের আদেশে ‘পদ্মাবতী’ কাব্য রচনা করেন।

• কাব্যটিতে দুইটি পর্ব রয়েছে।  প্রথম পর্বে সিংহলের রাজকন্যা পদ্মাবতীকে লাভ করার জন্য চিতোররাজ রত্নসেনের সফল অভিযান এবং দ্বিতীয় পর্বে রানি পদ্মাবতীকে লাভ করার জন্য দিল্লির সুলতান আলাউদ্দিন খিলজির ব্যর্থ সামরিক অভিযানের বিবরণ আছে। 

---------------
•  আলাওল: 
- মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি। 
- 'পদ্মাবতী' কবি আলাওলের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্য।
- 'পদ্মাবতী' কবি মালিক মুহাম্মদ জয়সীর 'পদুমাবত' কাব্যের অনুবাদ। 

আলাওল রচিত বিখ্যাত গ্রন্থ: 
- পদ্মাবতী,
- তোহফা,
- সপ্তপয়কার,
- সিকান্দারনামা ইত্যাদি। 

উল্লেখ্য,
- আধুনিক যুগের লেখক মাইকেল মধুসূদন দত্ত ১৮৬০ সালে পদ্মাবতী নাটক রচনা করেন।
- এটি একটি পৌরাণিক নাটক গ্রিক পুরাণের ‘অ্যাপেল অব ডিসকর্ড’ গল্প অবলম্বনে রচিত।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া
৪,৯৫২.
সনেটের আদি কবি কে?
  1. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  2. পেত্রার্ক
  3. টলস্তয়
  4. তুলপ্রসাদ সেন
সঠিক উত্তর:
পেত্রার্ক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পেত্রার্ক
ব্যাখ্যা

সনেট (Sonnet):
- গীতিকবিতার যে রূপটি চৌদ্দ চরণ এবং চৌদ্দ মাত্রার সমন্বয়ে গঠিত হয় তাকে চতুর্দশপদী কবিতা বা সনেট বলে।
- কবিতাগুলো ১৪টি চরণে সংগঠিত হয়।
- একটি আদর্শ সনেটের দুটি অংশ থাকে। যেমন: অষ্টক ও ষটক।
- প্রথম ৮ চরণকে অষ্টক (Octave) এবং শেষ ৬ চরণকে ষটল্ক (Sestet) বলা হয়।
- সনেটের জনক ইতালীয় কবি পেত্রার্ক।
- বাংলা ভাষায় প্রথম সনেট রচনা করেন মাইকেল মধুসূদন দত্ত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৪,৯৫৩.
চোখে তার
যেন শত শতাব্দীর নীল অন্ধকার! - পঙক্তিটি কার রচনা?
  1. জীবনানন্দ দাশ
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. বিহারীলাল চক্রবর্তী
সঠিক উত্তর:
জীবনানন্দ দাশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জীবনানন্দ দাশ
ব্যাখ্যা
⇒ শঙ্খমালা’ কবিতা:
- জীবনানন্দ দাশ রচিত কবিতা - 'শঙ্খমালা’। 
- এ কবিতায় শঙ্খমালা নামের রূপসী নারীর কথা বলা হয়েছে ৷ কবির ধারণা, পৃথিবীর অন্য কোথাও শঙ্খমালাদের পাওয়া যাবে না।
- তার বিশ্বাস, বিশালাক্ষী বর দিয়েছিলো বলেই নীল-সবুজে মেশা বাংলার ভূ-প্রকৃতির মধ্যে অনুপম এই সৌন্দর্য সৃষ্টি হয়েছে।
- তাই বলা যায় জীবনানন্দ দাশের কবিতায় ব্যবহৃত 'শঙ্খমালা' হলো - রোমান্টিক কবিকল্পনা। 

শঙ্খমালা- কবিতার কিছু অংশ-

কড়ির মতন শাদা মুখ তার,
দুইখানা হাত তার হিম;
চোখে তার হিজল কাঠের রক্তিম
চিতা জ্বলে: দখিন শিয়রে মাথা শঙ্খমালা যেন পুড়ে যায়
সে-আগুনে হায়।
চোখে তার
যেন শত শতাব্দীর নীল অন্ধকার!
স্তন তার
করুণ শঙ্খের মতো— দুধে আৰ্দ্র— কবেকার শঙ্খিনীমালার;
এ-পৃথিবী একবার পায় তারে, পায়নাকো আর।

-------------------
• জীবনানন্দ দাশ: 
- জীবনানন্দ দাশ ১৮৯৯ সালে বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জীবনানন্দ দাশের কবিতাকে “চিত্ররূপময়” কবিতা বলে আখ্যায়িত করেছেন।
- তাঁকে বলা হয়ে থাকে- ধূসরতার কবি, তিমির হননের কবি, নির্জনতার কবি, রূপসী বাংলার কবি।
- তাঁর রচিত প্রবন্ধ গ্রন্থ- “কবিতার কথা”।
- ‘কবিতার কথা’ প্রবন্ধের একটি বিখ্যাত উক্তি: “সকলেই কবি নন, কেউ কেউ কবি”।
- 'বনলতা সেন' তাঁর একটি বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ।
- 'বনলতা সেন' কবিতার উপর এডগার অ্যালান পো এর প্রভাব রয়েছে।
- জীবনানন্দের মৃত্যুর পর প্রকাশিত হয় 'রূপসী বাংলা' এবং “বেলা অবেলা কালবেলা' নামক কাব্য।

• জীবনানন্দ দাশ রচিত কাব্যগ্রন্থ:
 - ঝরাপালক (প্রথম প্রকাশিত), 
- ধূসর পাণ্ডুলিপি, 
- বনলতা সেন, 
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- বেলা অবেলা কালবেলা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া, শঙ্খমালা- কবিতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৯৫৪.
'অনল প্রবাহ' কোন ধরনের সাহিত্য রচনা?
  1. প্রবন্ধ
  2. উপন্যাস 
  3. কাব্যগ্রন্থ
  4. নাটক 
সঠিক উত্তর:
কাব্যগ্রন্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাব্যগ্রন্থ
ব্যাখ্যা

• 'অনল প্রবাহ' কাব্যগ্রন্থ:
- সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী রচিত মুসলিম জাগরণমূলক কাব্যগ্রন্থ 'অনল প্রবাহ'।
- এটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত হয়।
- এটি তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ এবং প্রকাশিত হওয়ার সাথে সাথে ব্রিটিশ সরকার তা বাজেয়াপ্ত করেছিল।
- প্রথম সংস্করণে কবিতা ছিল মাত্র নয়টি।
- এগুলোর মধ্যে: অনল প্রবাহ, তুর্যধ্বনি, মূর্ছনা, বীর-পূজা, অভিভাষণ, মরক্কো সংকটে উল্লেখযোগ্য।

------------------
সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো হলো:
- অনল প্রবাহ, 
- আকাঙ্ক্ষা, 
- উচ্ছ্বাস, 
- উদ্বোধন, 
- নব উদ্দীপনা, 
- স্পেন বিজয় কাব্য, 
- সঙ্গীত সঞ্জীবনী, 
- প্রেমাঞ্জলি। 

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- রায়নন্দিনী, 
- তারাবাঈ, 
- ফিরোজা বেগম, 
- নূরুদ্দীন। 

তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- স্বজাতি প্রেম
- তুর্কি নারী জীবন
- স্পেনীয় মুসলান সভ্যতা

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৪,৯৫৫.
সত্তরের দশকের একজন কবির নাম?
  1. ক) আবুল হাসান
  2. খ) রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ
  3. গ) আবু কায়সার
  4. ঘ) মোহাম্মদ রফিক
সঠিক উত্তর:
খ) রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ
ব্যাখ্যা

- রুদ্র মুহাম্মদ শহিদুল্লাহ সত্তর দশেকর বিখ্যাত কবি। তাকে সত্তর দশকের কবিও বলা হয়।

অন্যদিকে,
আবুল হাসান ষাটের দশকের বিখ্যাত কবি তবে সত্তরের দশকেও তার সৃষ্টিকর্ম ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়।
- আবু কায়সার এবং মোহাম্মদ রফিক এই দুই জন কবিও ষাটের দশকের কবি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা সাহিত্য বিষয়ক সাময়িকী।

৪,৯৫৬.
The Taming of The Shrew- নাটকটি বাংলা অনুবাদ করেন কে?
  1. নুরুল মোমেন
  2. দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  3. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
  4. মুনীর চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
মুনীর চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুনীর চৌধুরী
ব্যাখ্যা

শেক্সপিয়রের The Taming of The Shrew বাংলাতে অনুবাদ করেন মুনীর চৌধুরী ।
এটি বাংলায় মুখরা রমণী বশীকরণ নামে প্রকাশ করেন ।
তিনি The Silver box (রূপার কৌটা) নাটকটি অনুবাদ করেন |
কেউ কিছু বলতে পারে না তার অনূদিত আরেকটি নাটক |

তার বিখ্যাত ঐতিহাসিক নাটক রক্তাক্ত প্রান্তর( পানিপথের যুদ্ধ নিয়ে রচিত) |
ভাষা আন্দোলনের পটভূমিতে রচিত নাটক কবর |
তিনি এটি ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী থাকা অবস্থায় রচনা করেন |

উৎস:বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ( ড. সৌমিত্র শেখর)

৪,৯৫৭.
'ভাত দে হারামজাদা' কবিতাটি কোন প্রেক্ষাপটে রচিত?
  1. দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের
  2. ভাষা আন্দোলনের
  3. ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষের
  4. বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের 
সঠিক উত্তর:
১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষের
ব্যাখ্যা

• 'ভাত দে হারামজাদা' কবিতাটি কবি রফিক আজাদ-এর বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ 'সীমাবদ্ধ জলে, সীমিত সবুজে'-এর অন্তর্ভুক্ত, যা ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষের প্রেক্ষাপটে রচিত। 

-------------------
• 'রফিক আজাদ' এর সংক্ষিপ্ত পরিচয় ও সাহিত্যকীর্তি:
- রফিক আজাদ আধুনিক বাংলা সাহিত্যের একজন গুরুত্বপূর্ণ কবি। তিনি টাঙ্গাইল জেলার জাহিদগঞ্জের গুণীগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর ডাক নাম ছিল ‘জীবন’, যা তাঁর ব্যক্তিজীবনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত ছিল।

- তিনি দীর্ঘদিন বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত মাসিক সাহিত্য পত্রিকা ‘উত্তরাধিকার’-এর সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সম্পাদক হিসেবে তিনি নতুন ও শক্তিশালী সাহিত্যধারাকে উৎসাহিত করেছেন।

- রফিক আজাদের কবিতায় প্রতিবাদী চেতনা, সামাজিক অসংগতি ও মানবিক বোধ প্রবলভাবে প্রকাশ পেয়েছে। তাঁর সর্বাধিক আলোচিত ও বিতর্কিত কবিতা ‘ভাত দে হারামজাদা’, যা শোষণ ও ক্ষুধার বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদের প্রতীক। এই কবিতাটি তাঁর ‘সীমাবদ্ধ জলে, সীমিত সবুজে’ কাব্যগ্রন্থে সংকলিত।

রফিক আজাদ বাংলা কবিতায় নিজস্ব ভাষা ও ভাবনার জন্য পরিচিত। তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থগুলো হলো:
- চুনিয়া আমার আর্কেডিয়া,
- প্রিয় শাড়িগুলো,
- সীমাবদ্ধ জলে, সীমিত সবুজে,
- হৃদয়ের কী বা দোষ,
- কোনো খেদ নেই,
- অসম্ভবের পায়ে,
- অপর অরণ্যে,
-  পরিকীর্ণ পানশালা আমার স্বদেশ,
- করো অশ্রুপাত,
- পাগলা গারদ থেকে প্রেমিকার চিঠি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৪,৯৫৮.
'ছন্দের জাদুকর' কে?
  1.  কাজী নজরুল ইসলাম
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত 
  4. সুকুমার রায়
সঠিক উত্তর:
সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত 
ব্যাখ্যা

• 'সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত' কে 'ছন্দের জাদুকর' বলা হয়।

------------------
• সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত:
- কবি ও ছান্দসিক সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের জন্ম কলকাতার নিকটবর্তী নিমতা গ্রামে ১৮৮২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারিতে।
- পিতা রজনীনাথ দত্ত ছিলেন কলকাতার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী এবং পিতামহ অক্ষয়কুমার দত্ত ছিলেন তত্ত্ববোধিনী পত্রিকার সম্পাদক।

- সত্যেন্দ্রনাথ ছিলেন ভারতী পত্রিকাগোষ্ঠীর অন্যতম বিশিষ্ট কবি। প্রথম জীবনে তিনি মাইকেল মধুসূদন দত্ত, দেবেন্দ্রনাথ সেন, অক্ষয়কুমার বড়াল প্রমুখের দ্বারা প্রভাবিত হন। পরে রবীন্দ্রানুসারী হলেও তিনি কবিস্বভাবে হয়ে ওঠেন স্বতন্ত্র।

- তিনি নানাবিধ ছন্দোনির্মাণ ও ছন্দ উদ্ভাবনে বিশেষ পারদর্শী ছিলেন। বাংলা ভাষার নিজস্ব বাগধারা ও ধ্বনি সহযোগে নতুন ছন্দসৃষ্টি তাঁর কবিপ্রতিভার মৌলিক কীর্তি। এজন্য তিনি 'ছন্দের জাদুকর' ও 'ছন্দোরাজ' নামে সাধারণ্যে পরিচিত।

- ১৯১৮ সালে ভারতী পত্রিকার বৈশাখ সংখ্যায় ছন্দ সম্পর্কিত তাঁর প্রসিদ্ধ রচনা 'ছন্দ-সরস্বতী' প্রকাশিত হয়। বাংলা শব্দের সঙ্গে আরবি-ফারসি শব্দের সমন্বিত ব্যবহার দ্বারা বাংলা কাব্যভাষার শক্তি বৃদ্ধির প্রাথমিক কৃতিত্ব তাঁরই।

- সত্যেন্দ্রনাথ একাধিক ছদ্মনামে কাব্যচর্চা করতেন, যেমন নবকুমার, কবিরত্ন, অশীতিপর শর্মা, ত্রিবিক্রম বর্মণ, কলমগীর ইত্যাদি।

তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনাবলি হলো:
- সবিতা,
- সন্ধিক্ষণ,
- বেণু ও বীণা,
- হোম শিখা,
- ফুলের ফসল,
- কুহু ও কেকা,
- তুলির লিখন,
- অভ্র-আবীর,
- হসন্তিকা,
- বেলা শেষের গান,
- বিদায়-আরতি,
- কাব্যসঞ্চয়ন,
- শিশু-কবিতা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৪,৯৫৯.
'ভুলের মূল্য' প্রবন্ধটির রচয়িতা কে?
  1. রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. কাজী মোতাহার হোসেন
  3. প্রমথ চৌধুরী
  4. সৈয়দ আলী আহসান
সঠিক উত্তর:
কাজী মোতাহার হোসেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাজী মোতাহার হোসেন
ব্যাখ্যা
- কাজী মােতাহার হােসেন রচিত “ভুলের মূল্য প্রবন্ধটি তাঁর রচনাবলির ১ম খণ্ড (১৯৮৪) থেকে সংকলিত।
- এই প্রবন্ধে লেখক মানবজীবনে ভুলের গুরুত্ব বহুমাত্রিক দৃষ্টিকোণ থেকে উপস্থাপন করেছেন।
- কাজী মোতাহার হোসেন একজন শিক্ষাবিদ, বিজ্ঞানী এবং সাহিত্যিক।
- তার জীবনের অন্যতম কীর্তি হচ্ছে ঢাকায় ‘মুসলিম সাহিত্য-সমাজ’ প্রতিষ্ঠা।
- তিনি ‘শিখা’ পত্রিকার মুখপত্র হিসেবে কাজ করেন।
- তাঁর উলে­খযোগ্য প্রকাশনাসমূহ হচ্ছে:
সঞ্চয়ন (১৯৩৭), নজরুল কাব্য পরিচিতি (১৯৫৫), সে পথ লক্ষ্য করে (১৯৫৮), সিম্পোজিয়াম (১৯৬৫), গণিত শাস্ত্রের ইতিহাস (১৯৭০) এবং আলোক বিজ্ঞান (১৯৭৪)।
বাংলা সাহিত্যে অসামান্য অবদানের জন্য কাজী মোতাহার হোসেন ১৯৬৬ সালে ‘বাংলা একাডেমী পুরষ্কার’ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিদ্যায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৭৯ সালে ‘স্বাধীনতা পুরষ্কার’ লাভ করেন।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, একাদশ -দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলা সাহিত্য।
৪,৯৬০.
'বাংলাদেশ কথা কয়' গ্রন্থটির সম্পাদনা করেন-
  1. আবুল কালাম শামসুদ্দীন
  2. আবুল মনসুর আহমদ
  3. আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
  4. আবু জাফর শামসুদ্দীন
সঠিক উত্তর:
আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
ব্যাখ্যা
'বাংলাদেশ কথা কয়' গ্রন্থটির সম্পাদনা করেন আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী।
তাঁর রচিত উপন্যাস- চন্দ্রদ্বীপের উপাখ্যান, নাম না জানা ভোর, নীল যমুনা, শেষ রাত্রির চাঁদ।
গল্পগ্রন্থ- কৃষ্ণপক্ষ, সম্রাটের ছবি, সুন্দর হে সুন্দর।
শিশুতোষ গ্রন্থ- ডানপিটে শওকত।
'আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো/ একুশে ফেব্রুয়ারী/ আমি কি ভুলিতে পারি' তাঁর রচিত কালজয়ী গান।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৯৬১.
কোনটি সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজীর রচনা?
  1. রায়নন্দিনী
  2. অগ্নিপ্রবাহ
  3. বহ্নিপ্রবাহ
  4. অগ্রপথিক
সঠিক উত্তর:
রায়নন্দিনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রায়নন্দিনী
ব্যাখ্যা

• সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী রচিত উপন্যাস - রায়নন্দিনী। 

সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী:
- সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী ১৮৮০ খ্রিষ্টাব্দের ১৩ জুলাই সিরাজগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি পেশায় ছিলেন একজন ভেষজ চিকিৎসক।

- তাঁর সাহিত্যকর্ম:
কাব্যগ্রন্থ:
- অনল প্রবাহ,
- উচ্ছ্বাস,
- উদ্বোধ,
- স্পেনবিজয় কাব্য ইত্যাদি।

উপন্যাস:
- তারা-বাঈ,
- রায়নন্দিনী,
- ফিরোজা বেগম ইত্যাদি।

প্রবন্ধ:
- স্বজাতি প্রেম,
- তুর্কিনারি জীবন,
- স্পেনীয় মুসলমান সভ্যতা।

ভ্রমণকাহিনি:
- তুরস্ক ভ্রমণ।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

৪,৯৬২.
'খোদার এলেমে বুক ভরে না তলায় পেট শূন্য বলে।' উক্তিটি কোন উপন্যাসের অন্তর্ভুক্ত?
  1. পদ্মানদীর মাঝি 
  2. লালসালু 
  3. তিতাস একটি নদীর নাম
  4. সূর্য দীঘল বাড়ি
সঠিক উত্তর:
লালসালু 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লালসালু 
ব্যাখ্যা

• "লালসালু" উপন্যাস:
- 'লালসালু' সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত 'লালসালু'র একটি বহুমাত্রিক ও কালোত্তীর্ণ উপন্যাস। ১৯৪৮ সালে কলকাতা থেকে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত।

- এই উপন্যাসে একদিকে যেমন বাংলার গ্রামজীবনের বাস্তব প্রকৃতি ধরা পড়েছে তার সৌন্দর্য, মাধুর্য ও কঠোরতা নিয়ে; তেমনই রূপায়িত হয়েছে অসংখ্য গ্রামীণ মানুষের জীবন। সাধারণ মানুষের সরলতাকে কিভাবে ধর্ম ব্যবসার উপাদানরূপে ব্যবহার করা হয় তা লালসালু উপন্যাসের মূল উপজীব্য বিষয়।

- নোয়াখালি অঞ্চল থেকে মজিদ নামের একটি কূটচরিত্র গারোপাহাড়ি অঞ্চলে গিয়ে সেই এলাকার মানুষকে ধর্মের নামে কীভাবে শোষণ করে, সেই বাস্তব চিত্র আছে উপন্যাসটিতে। ধর্ম ব্যবসায়ী মজিদ অর্থ ও প্রভাব বৃদ্ধির সঙ্গে অল্পবয়সী দ্বিতীয় স্ত্রী গ্রহণ করে। সে গ্রামের মোড়লদেরও প্রভাবিত করে। পাশের গ্রামে অন্য পিরের আগমন হলে, নিজের দাপট খর্ব হবে বিবেচনায়, তাকে মারধর দিয়ে উচ্ছেদ করে। তবে স্বল্পবয়সী স্ত্রী জমিলা কর্তৃক মজিদ লাঞ্ছিত হয়। উপন্যাসে জমিলা বিদ্রোহিণী, প্রতিবাদের প্রতীক।

- ঔপন্যাসিক ধর্মব্যবসায়ীদের উপলক্ষ করে লিখেছেন: 'খোদার এলেমে বুক ভরে না তলায় পেট শূন্য বলে।'
- উপন্যাসটি 'Tree Without Roots' নামে ইংরেজিতে অনূদিত হয়ে (১৯৬৭) খ্যাতি অর্জন করে।
- ওয়ালীউল্লাহর পত্নী অ্যান মেরির 'লালসালু'র ফরাসি অনুবাদের নাম- ল্য অরবরে সামস মায়েমে (১৯৬১)।

উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- মজিদ,
- খালেক ব্যাপারি,
- জমিলা,
- রহিমা,
- আমেনা,
- আক্কাস,
- তাহেরের বাপ,
- হাসুনির মা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; "লালসালু" উপন্যাস এবং বাংলাপিডিয়া।

৪,৯৬৩.
"কাল নিরবধি" গ্রন্থটি রচনা করেন কে?
  1. জহির রায়হান
  2. হুমায়ূন আহমেদ
  3. সুফিয়া কামাল
  4. আনিসুজ্জামান
সঠিক উত্তর:
আনিসুজ্জামান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আনিসুজ্জামান
ব্যাখ্যা
• "কাল নিরবধি" গ্রন্থটি রচনা করেন - আনিসুজ্জামান

আনিসুজ্জামান:
- লেখক আনিসুজ্জামান এর প্রকৃত নাম এ.টি.এম. আনিসুজ্জামান।
- ১৯৬২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে 'ইংরেজি আমলের বাংলা সাহিত্যে বাঙালি মুসলমানের চিন্তাধারা' শিরোনামে ডক্টরেট লাভ করেন। - এই গবেষণাপত্রকে তিনি ‘মুসলিম মানস ও বাংলা সাহিত্য' (১৯৬৪) নামে গ্রন্থরূপ দেন।

আনিসুজ্জামান রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:

- স্বরূপের সন্ধানে,
- আঠারো শতকের বাংলা চিঠি,
- বাঙালি নারী: সাহিত্য ও সমাজে,
- কাল নিরবধি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৯৬৪.
‘স্বাধীনতা -এই শব্দটি কীভাবে আমাদের হল‘’ কবিতাটি কোন কাব্য থেকে নেওয়া হয়েছে?
  1. ক) প্রেমাংশুর রক্ত চাই
  2. খ) নিশিকাব্য
  3. গ) চাষাভুষার কাব্য
  4. ঘ) আনন্দ উদ্যান
সঠিক উত্তর:
গ) চাষাভুষার কাব্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) চাষাভুষার কাব্য
ব্যাখ্যা
কবিদের কবি নির্মলেন্দু গুণ এর বিখ্যাত একটি কবিতা ‘স্বাধীনতা এই শব্দটি কীভাবে আমাদের হলো ‘চাষাভুষার কাব্য’ হতে নেওয়া হয়েছে । কবিতার পটভূমি হলো বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ই মার্চের ভাষণ। রেফারেন্সঃ বাংলা প্রথম পত্র নবম ও দশম শ্রেণীর বোর্ড বই।
৪,৯৬৫.
কোনটি শওকত আলী রচিত ত্রয়ী উপন্যাসের অন্তর্গত?
  1. উপরে ছাপ
  2. উত্তরের খেপ
  3. কুলায় কালস্রোত
  4. পিঙ্গল আকাশ
সঠিক উত্তর:
কুলায় কালস্রোত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুলায় কালস্রোত
ব্যাখ্যা

শওকত আলী:
- তিনি ১৯৩৬ সালের ১২ই জানুয়ারি, দিনাজপুরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস ‘যাত্রা’।
- তাঁর রচিত ত্রয়ী উপন্যাস - দক্ষিণায়নের দিন, কুলায় কালস্রোত, পূর্বরাত্রি পূর্বদিন।
- তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬৮), আলাওল সাহিত্য পুরস্কার (১৯৮৯), একুশে পদক (১৯৯০) লাভ করেন।
- তিনি ২০১৮ সালের ২৫শে জানুয়ারি মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- পিঙ্গল আকাশ
- যাত্রা, 
- প্রদোষে প্রাকৃতজন, 
- দক্ষিণায়নের দিন, 
- কুলায় কালস্রোত, 
- পূর্বরাত্রি পূর্বদিন, 
- যেতে চাই, 
- ওয়ারিশ, 
- বাসর মধুচন্দ্রিমা, 
- উত্তরের খেপ
- হিসাবনিকাশ, 
- দলিল, 
- উপরে ছাপ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; পিঙ্গল আকাশ, শওকত আলী।

৪,৯৬৬.
বিহারীলাল চক্রবর্তী রচিত শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. বঙ্গসুন্দরী
  2. সাধের আসন
  3. নিসর্গ সন্দর্শন
  4. সারদামঙ্গল
সঠিক উত্তর:
সারদামঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সারদামঙ্গল
ব্যাখ্যা
'সারদামঙ্গল' কাব্যগ্রন্থ:
- বিহারীলালের শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ ‘সারদামঙ্গল' ১৮৭৯ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত।
- এটি পাঁচ সর্গে ত্রিপদী দীর্ঘ স্তবকময় লালিত্যপূর্ণ ভাষায় রচিত।
- কাব্যের প্রথম সর্গে কবির মনোজগতে এক কাব্যলক্ষ্মীর আবির্ভাব, দ্বিতীয় সর্গে হারানো আনন্দ লক্ষ্মীর উদ্দেশ্যে কবির মানসভ্রমণ, তৃতীয় সর্গে কবিচিত্তের দ্বন্দ্ব, চতুর্থ সর্গে হিমালয়ের উদার প্রশান্তির মধ্যে কবিচিত্তের আশ্বাস লাভ, পঞ্চম সর্গে হিমালয়ের পুণ্যভূমিতে কবির আনন্দ উপলব্ধির চিত্র পাওয়া যায়।
- ‘সারদামঙ্গল' কাব্য সম্পূর্ণরূপে জীবনরহিত, বিশেষ সৌন্দর্যধ্যান।
- শেলির মতো বিহারীলাল তাঁর প্রিয়তমার মধ্যে সারদাকে অন্বেষণ করেছেন এবং দীর্ঘ বিরহের পর হিমাদ্রিশিখরে ভাব-সম্মিলনের চিত্র অংকন করে কবি কাব্যের পরিসমাপ্তি টেনেছেন।

বিহারীলাল চক্রবর্তী:
- বিহারীলাল চক্রবর্তী আধুনিক বাংলা গীতিকবিতার অন্যতম পুরোধা এবং রবীন্দ্রনাথের কাব্যগুরু হিসেবে পরিচত।
- বাংলা গীতিকবিতার জনক হিসেবে পরিচিত বিহারীলাল চক্রবর্তী।
- তিনি আধুনিক বাংলা গীতিকাব্যের প্রথম ও প্রধান কবি।

বিহারীলাল চক্রবর্তী রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- স্বপ্নদর্শন,
- সঙ্গীত শতক,
- বঙ্গসুন্দরী,
- নিসর্গ সন্দর্শন,
- বন্ধু বিয়োগ,
- সারদা মঙ্গল,
- প্রেম প্রবাহিনী।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
৪,৯৬৭.
‘মানুষ মরে গেলে পচে যায়। বেঁচে থাকলে বদলায়।' - বিখ্যাত উক্তিটি কোন নাটকের অন্তর্ভুক্ত?
  1. চিঠি
  2. দণ্ডকারণ্য
  3. রক্তাক্ত প্রান্তর
  4. কবর
সঠিক উত্তর:
রক্তাক্ত প্রান্তর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রক্তাক্ত প্রান্তর
ব্যাখ্যা

• ‘রক্তাক্ত প্রান্তর’ নাটক: 
- মুনীর চৌধুরী রচিত 'রক্তাক্ত প্রান্তর' রচিত হয়েছে মহাকবি কায়কোবাদের 'মহাশ্মশান' গ্রন্থের কাহিনি থেকে।
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' মুনীর চৌধুরীর প্রথম পূর্ণাঙ্গ মৌলিক নাটক।
- পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের (১৭৬১) ঘটনা অবলম্বনে তিন অঙ্ক বিশিষ্ট নাটকটি রচিত।
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' ঐতিহাসিক নাটক নয়, এটি ইতিহাস-আশ্রিত নাটক। 
- ‘মানুষ মরে গেলে পচে যায়। বেঁচে থাকলে বদলায়।' রক্তাক্ত প্রান্তর নাটকের একটি জনপ্রিয় উক্তি।
- নাটকে উক্তিটি বলেছেন নবাব সুজাউদ্দৌলা।
- চরিত্র: ইব্রাহিম কার্দি, জোহরা, হিরণবালা ইত্যাদি।

• মুনীর চৌধুরী:
- মুনীর চৌধুরী ছিলেন একজন বাংলাদেশি শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্য সমালোচক ও বাগ্মী।
- ১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর মানিকগঞ্জ শহরে তাঁর জন্ম।
- মুনীর চৌধুরী শিক্ষা ও পেশাগত জীবনে বামপন্থী রাজনীতি ও প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

মুনীর চৌধুরীর মৌলিক নাটক: 
- রক্তাক্ত প্রান্তর,
- চিঠি,
- কবর,
- দণ্ডকারণ্য।

অনুবাদ নাটক:
- কেউ কিছু বলতে পারে না,
- রূপার কৌটা ও
- মুখরা রমণী বশীকরণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৪,৯৬৮.
‘আনন্দের মৃত্যু নেই’ গ্রন্থের লেখক কে?
  1. নির্মলেন্দু গুণ
  2. শহীদ কাদরী
  3. মহাদেব সাহা
  4. রফিক আজাদ
সঠিক উত্তর:
মহাদেব সাহা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মহাদেব সাহা
ব্যাখ্যা

কবি মহাদেব সাহার প্রবন্ধের গ্রন্থ ‘আনন্দের মৃত্যু নেই’। বইটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিষয়ক।
মহাদেব সাহার কাব্যগ্রন্থ হলো :
- এই গৃহ এই সন্ন্যাস,
- মানব এসেছি কাছে,
- কী সুন্দর অন্ধ,
- তোমার পায়ের শব্দ,
- ফুল কই শুধু অস্ত্রের উল্লাস।
উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর

৪,৯৬৯.
আবুল হুসেন কোন পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন?
  1. সওগাত
  2. শিখা
  3. মোসলেম ভারত
  4. সমাচার সভারাজেন্দ্র
সঠিক উত্তর:
শিখা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শিখা
ব্যাখ্যা

আবুল হুসেন:
- আবুল হুসেন মুসলমান সমাজে আধুনিক শিক্ষা ও জ্ঞানের আলো বিস্তারের উদ্দেশ্যে লেখনী পরিচালনা করেন।
- ​তিনি ঢাকার 'মুসলিম সাহিত্যসমাজ' (১৯২৬) এর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা। 
​- সাহিত্য-সমাজের মুখপত্র পত্রিকার নাম 'শিখা' (১৯২৭-৩১)। তিনি এ পত্রিকার প্রথম বর্ষের সম্পাদক ছিলেন৷

তার রচিত গ্রন্থ:
- বাংলার বলশী।
- বাঙালি মুসলমানদের শিক্ষা সমস্যা।
- মুসলিম কালচার।

​অন্যদিকে,
​​'মোস্‌লেম ভারত' পত্রিকা ১৯২০ সালে প্রকাশিত হয়।
- মোজাম্মেল হক এটির প্রথম সম্পাদক ছিলেন।

​- 'সমাচার সভারাজেন্দ্র' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন শেখ আলিমুল্লাহ ।

'সওগাত' (মাসিক) পত্রিকা ১৯১৮ সালে প্রকাশিত হয়।
- মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন এটির প্রথম সম্পাদক ছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া।

৪,৯৭০.
'কেন পান্থ ক্ষান্ত হও হেরি দীর্ঘ পথ
উদ্যম বিহনে কার পুরে মনোরথ?'- পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা-
  1. ক) ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  2. খ) সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  3. গ) কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার
  4. ঘ) কামিনী রায়
সঠিক উত্তর:
গ) কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার
ব্যাখ্যা
"কেন পান্থ ক্ষান্ত হও হেরি দীর্ঘ পথ
উদ্যম বিহনে কার পুরে মনোরথ" পঙক্তিদ্বয় কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার এর 'সদ্ভাবশতক' কাব্যগ্রন্থের 'দুঃখ বিনা সুখ হয় না' কবিতা থেকে নেয়া হয়েছে।

কবিতাটি নিম্নরূপ- 

কি কারণ, দীন! তব মলিন বদন ?
যতন করহ লাভ হইবে রতন।
কেন পান্থ! ক্ষান্ত হও হেরে দীর্ঘ পথ ?
উদ্যম বিহনে কার পূরে মনােরথ ?
কাঁটা হেরি ক্ষান্ত কেন কমল তুলিতে,
দুঃখ বিনা সুখ লাভ হয় কি মহীতে?
মনে ভেবে বিষম-ইন্দ্রিয়-রিপু-ভয়,
হাফেজ! বিমুখ কেন করিতে প্রণয়?
-----------------------
কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার (১৮৩৪-১৯০৭):  
সাহিত্যিক, সাংবাদিক কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদারের জন্ম ১৮৩৪ সালের ১০ জুন  খুলনা জেলার সেনহাটি গ্রামে এক  বৈদ্য পরিবার। 
-  ঈশ্বর গুপ্তের উৎসাহে সংবাদ সাধুরঞ্জন ও  সংবাদ প্রভাকর পত্রিকায় তাঁর লেখা প্রকাশিত হয়।
- কৃষ্ণচন্দ্রের বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ সদ্ভাবশতক প্রকাশিত হয় ১৮৬১ সালে।
- নীতি ও উপদেশমূলক এ কাব্যটি পারস্য কবি হাফিজ ও সাদীর কাব্যাদর্শে রচিত।
- তাঁর কবিতার অনেক পঙক্তি প্রবাদবাক্যস্বরূপ।
যেমন: ‘চিরসুখী জন ভ্রমে কি কখন ব্যথিত বেদন বুঝিতে পারে’ ইত্যাদি।
- এ পঙক্তিধারী কবিতাটি এক সময় স্কুলপাঠ্য বইয়ের অন্তর্ভুক্ত ছিল।

উৎস: 'দুঃখ বিনা সুখ হয় না', কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,৯৭১.
রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার কবি নন কে?
  1. কোরেশী মাগন ঠাকুর
  2. শুকুর মাহমুদ
  3. সৈয়দ সুলতান
  4. নওয়াজিশ খান
সঠিক উত্তর:
শুকুর মাহমুদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শুকুর মাহমুদ
ব্যাখ্যা
• রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার কবি নন- শুকুর মাহমুদ। 
- শুকুর মাহমুদ নাথ সাহিত্য ধারার একজন কবি। 

-----------------
• রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারা:

- 'রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান' মূলত মুসলিম চরিত্রনির্ভর ও প্রণয় সংক্রান্ত বিষয়বস্তু নিয়ে লিখিত সাহিত্যকর্ম।
- অনুবাদ সাহিত্য মধ্যযুগের একটি সাহিত্য ধারা। মুসলমান সাহিত্যিকদের অনুবাদকৃত সাহিত্যের নাম 'রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান'।

এই ধারার কয়েকজন কবি হচ্ছেন:
- শাহ মুহম্মদ সগীর,
- সৈয়দ সুলতান,
- নওয়াজিশ খান, 
- আবদুল হাকিম,
- আলাওল,
- কোরেশী মাগন ঠাকুর প্রমুখ।

'রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান' অনুবাদ সাহিত্যসমূহ হলো:
- ইউসুফ-জোলেখা,
- লায়লী মজনু,
- মধুমালতী,
- গুলে বকাওলী,
- চন্দ্রাবতী,
- পদ্মাবতী
সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,৯৭২.
কোনটি কাব্যগ্রন্থ?
  1. ক) কবিতা
  2. খ) কাব্য পরিক্রমা
  3. গ) কয়েকটি কবিতা
  4. ঘ) বাঙলার কাব্য
সঠিক উত্তর:
গ) কয়েকটি কবিতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) কয়েকটি কবিতা
ব্যাখ্যা
সমর সেন:
তার কাব্যগ্রন্থগুলো হচ্ছে -
- কয়েকটি কবিতা (১৯৩৭),
- গ্রহণ (১৯৪০),
- নানা কথা (১৯৪২),
- খোলা চিঠি (১৯৪৩) এবং
- তিন পুরুষ (১৯৪৪)।
- তার কবিতাসংগ্রহ 'সমর সেনের কবিতা' ১৯৫৪ সালে প্রকাশিত হয়।
- তিনি 'কবিতা' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য - ড সৌমিত্র শেখর
৪,৯৭৩.
আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে, কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে'- পঙক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. ক) কামিনী রায়
  2. খ) কুসুমকুমারী দাশ
  3. গ) কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার
  4. ঘ) গোবিন্দচন্দ্র দাস
সঠিক উত্তর:
খ) কুসুমকুমারী দাশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কুসুমকুমারী দাশ
ব্যাখ্যা
- আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে, কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে'- পঙক্তিটির রচয়িতা কুসুমকুমারী দাশ

• কুসুমকুমারী দাশ:
- শিশুদের জন্যে তিনি 'কবিতা মুকুল' নামে একটি পুস্তিকা রচনা করেন।
- তাঁর গদ্যগ্রন্থের নাম- পৌরাণিক আখ্যায়িকা।
- তাঁর কবিতা প্রকাশিত হত 'প্রবাসী, ব্রহ্মবাদী, মুকুল প্রভৃতি পত্রিকায়।
- কুসুমকুমারী দাশ হলেন জীবনানন্দ দাশের মাতা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
৪,৯৭৪.
কোনটি দ্বিজেন্দ্রলাল রায় রচিত প্রহসন?
  1. একঘরে
  2. পরপারে
  3. রানা প্রতাপসিংহ
  4. তারাবাই
সঠিক উত্তর:
একঘরে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
একঘরে
ব্যাখ্যা

• "একঘরে" প্রহসন:
- "একঘরে" হলো দ্বিজেন্দ্রলাল রায় রচিত একটি ব্যঙ্গাত্মক প্রহসন বা সামাজিক লঘু রসাশ্রয়ী নাটক, যা ১৯০৩ সালে লেখা হয়েছিল এবং ১৮৯৭ সালে প্রকাশিত হয়।
- এই নাটকটি তৎকালীন সমাজের বিভিন্ন সম্প্রদায়, যেমন নব্য হিন্দু, ব্রাহ্ম, গোঁড়া, পণ্ডিত এবং বিলাতফেরতদের নিয়ে বিদ্রুপ করে লেখা। দ্বিজেন্দ্রলাল রায় নিজে যখন বিলেত থেকে ফিরেছিলেন, তখন তাকে সমাজ একঘরে করে দিয়েছিল; এই অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি এই প্রহসনটি রচনা করেন। 

----------------------
• দ্বিজেন্দ্রলাল রায়:

- দ্বিজেন্দ্রলাল রায় (১৮৬৩-১৯১৩) কবি, নাট্যকার, গীতিকার। ১৮৬৩ সালের ১৯ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার কৃষ্ণনগরে তাঁর জন্ম।
- দ্বিজেন্দ্রলাল কৈশোরেই কাব্যচর্চা শুরু করেন। ছাত্রজীবনে তাঁর আর্য্যগাথা (১ম ভাগ, ১৮৮২) এবং বিলেতে থাকাকালে Lyrics of Ind (১৮৮৬) কাব্য প্রকাশিত হয়। ১৯০৩ সাল পর্যন্ত তিনি মূলত কাব্যই রচনা করেন এবং এ সময় পর্যন্ত তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ বারোটি।

দ্বিজেন্দ্রলালের উল্লেখযোগ্য কয়েকটি গ্রন্থ হলো:
• কাব্য:
- আর্য্যগাথা,
- আলেখ্য,
- ত্রিবেণী।

• নকশা-প্রহসন:
- একঘরে,
- সমাজ-বিভ্রাট ও কল্কি অবতার,
- এ্যহস্পর্শ,
- প্রায়শ্চিত্ত,
- পুনর্জন্ম।

• পৌরাণিক নাটক:
- পাষাণী,
- সীতা,
- ভীষ্ম।

• সামাজিক নাটক:
- পরপারে,
- বঙ্গনারী।

• ঐতিহাসিক নাটক:
- তারাবাই,
- রানা প্রতাপসিংহ,
- মেবার-পতন,
- নূরজাহান,
- সাজাহান,
- চন্দ্রগুপ্ত।

• প্রবন্ধগ্রন্থ: কালিদাস ও ভবভূতি প্রভৃতি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া; "একঘরে" প্রহসন এবং  বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৪,৯৭৫.
'কাশবনের কন্যা' কোন ধরনের সাহিত্য?
  1. কাব্যগ্রন্থ
  2. উপন্যাস
  3. গল্পগ্রন্থ
  4. নাটক
সঠিক উত্তর:
উপন্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপন্যাস
ব্যাখ্যা
'কাশবনের কন্যা' উপন্যাস:
- শামসুদ্দীন আবুল কালামের 'কাশবনের কন্যা' (১৯৫৪) উপন্যাসে গ্রামকে এমনভাবে তুলে আনা হয়েছে যে, দুঃখ- উ দারিদ্র্য থাকলেও গ্রামই সুখের স্বর্গ, সমস্ত বিশ্বাসের আধার।
- উপন্যাসে বরিশাল অঞ্চলের ভূপ্রকৃতি, লোকজীবন, গ্রামীণ দিগন্ত ফটোগ্রাফিকভাবে চিত্রায়িত।
- সিকদার, হোসেন, জোবেদা, মেহেরজান প্রমুখের মুখের আঞ্চলিক কথা, লোকসঙ্গীত, প্রচলিত লোকবচন ইত্যাদির ব্যবহার উপন্যাসটিকে সুখপাঠ্য ও বিশ্বস্ত করেছে।
- 'কাশবনের কন্যা' গুরুত্বপূর্ণ এ জন্য যে, এ উপন্যাসে ঔপন্যাসিক রোম্যান্টিক মনোভঙ্গিতে এমন এক গ্রাম, গ্রামের মানুষ ও পরিবেশ তুলে এনেছেন, যা দুঃখ অতিক্রমকারী, সুখস্বপ্ন আশা সঞ্চারী।

শামসুদ্‌দীন আবুল কালাম:
- ১৯২৬ সালের আগস্ট মাসে বরিশালের নলছিটি থানার কামদেবপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন কথাসাহিত্যিক। তাঁর প্রকৃত নাম আবুল কালাম শামসুদ্দীন।
- তিনি ইতালির রোম শহরে স্থায়ীভাবে অবস্থান করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৪,৯৭৬.
মহাকাব্যিক উপন্যাস নয় কোনটি?
  1. ক) সংশপ্তক
  2. খ) গায়ত্রী সন্ধা
  3. গ) আগুন পাখি
  4. ঘ) জাহান্নাম হইতে বিদায়
সঠিক উত্তর:
ঘ) জাহান্নাম হইতে বিদায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) জাহান্নাম হইতে বিদায়
ব্যাখ্যা

যে উপন্যাসের ব্যাপ্তি ও পরিধি মহাকাব্যের মতো বিশাল ও ব্যাপক, যে উপন্যাসে ভাষা ও দ্বন্দ্বে মহাকাব্যের ব্যঞ্জনা থাকে তাকে মহাকাব্যিক উপন্যাস বলে।
যেমন :
- সেলিনা হোসেনের গায়ত্রী সন্ধ্যা 
- মীর মশাররফ হোসেনের বিষাদ-সিন্ধু
- শহীদুল্লাহ কায়সারের সংশপ্তক
- হাসান আজিজুল হকের আগুন পাখি
- আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের চিলে কোঠার সেপাই
 
জাহান্নাম হইতে বিদায় শওকত ওসমানের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।

উৎস : সাহিত্য বিষয়ক সাময়িকী। 

৪,৯৭৭.
নিচের কোনটি শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত 'মহেশ' গল্পের চরিত্র?
  1. আমেনা
  2. রমেশ
  3. বেণী
  4. রমা
সঠিক উত্তর:
আমেনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আমেনা
ব্যাখ্যা
• 'আমেনা' শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত 'মহেশ' গল্পের চরিত্র।

• মহেশ:

- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের সার্থক ছােটগল্প ‘মহেশ'।
- এটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯২৬ সালে।
- এ গল্পে 'মহেশ' একটি ষাঁড়ের নাম।
 
• গল্পের চরিত্র:
- গফুর, আমেনা,
- মহেশ, তর্করত্ন,
- জমিদার শিববাবু প্রমুখ।

• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:

- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হুগলি জেলার দেবানন্দপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- শরৎচন্দ্রের প্রথম উপন্যাস বড়দিদি (১৯০৭) ভারতী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের প্রথম প্রকাশিত গল্পের নাম 'মন্দির'।
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় 'মন্দির' গল্পের জন্য ১৯০৩ সালে কুন্তলীন সাহিত্য পুরষ্কার লাভ করেন।
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস হলো 'পথের দাবী' যা ১৯২৬ সালে প্রকাশিত হয়।
- এটি ব্রিটিশ সরকার বাজেয়াপ্ত করেছিল।
- বার্মায় বসবাসকালে তাঁর অঙ্কিত ‘মহাশ্বেতা’ অয়েল পেইন্টিং একটি বিখ্যাত চিত্রকর্ম।
- ১৯৩৮ সালের ১৬ই জানুয়ারি কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

• তাঁর রচিত ছোটগল্প:
- মহেশ,
- বিলাসী,
- সতী,
- মামলার ফল ইত্যাদি।

• অন্যান্য অপশন আলোচনা:
- রমেশ, বেণী, রমা শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত 'পল্লীসমাজ' উপন্যাসের চরিত্র।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৯৭৮.
'ছোটদের পাকিস্তান' শিশুতোষ গ্রন্থটি কার রচনা?
  1. গোলাম মোস্তফা 
  2. ফররুখ আহমদ
  3. আহসান হাবীব
  4. বন্দে আলী মিয়া 
সঠিক উত্তর:
আহসান হাবীব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আহসান হাবীব
ব্যাখ্যা

'ছোটদের পাকিস্তান' আহসান হাবীব রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ। 
-​ গ্রন্থটি ১৯৫৪ সালে প্রকাশিত হয়। 

​-------------------
​• আহসান হাবীব:
- আহসান হাবীব ছিলেন মূলত কবি ও সাংবাদিক। ১৯১৭ সালের ২ ফেব্রুয়ারি পিরোজপুর জেলার শংকরপাশা গ্রামে তাঁর জন্ম। 
​- আহসান হাবীব আধুনিক কাব্যধারার কবি ছিলেন। তাঁর কাব্যচর্চার শুরু বাল্যকাল থেকেই। 
​- সপ্তম শ্রেণীতে অধ্যয়নকালে ১৯৩৩ সালে স্কুল ম্যাগাজিনে তাঁর প্রথম লেখা একটি প্রবন্ধ ‘ধর্ম’ প্রকাশিত হয়। ১৯৩৪ সালে তাঁর প্রথম কবিতা ‘মায়ের কবর পাড়ে কিশোর’ ছাপা হয় পিরোজপুর গভর্নমেন্ট স্কুল ম্যাগাজিনে। তখন তিনি দশম শ্রেণীর ছাত্র। 
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ - রাত্রিশেষে। রাত্রিশেষ প্রকাশিত হয় ১৯৪৭ সালে।
- ১৯৬১ সালে বাংলা একাডেমি এবং ১৯৭৮ সালে একুশে পদক লাভ করেন।

আহসান হাবীব রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- রাত্রিশেষ (প্রথম প্রকাশিত),
- মেঘ বলে চৈত্রে যাবো,
- দু'হাতে দুই আদিম পাথর,
- ছায়া হরিণ,
- দু'হাতে দুই আদিম পাথর,
- বিদীর্ণ দর্পণে মুখ।

শিশুতোষ গ্রন্থ:
- ছোটদের পাকিস্তান,
- ছুটির দিন দুপুরে,
- বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৪,৯৭৯.
‘বাংলাদেশ’ নামক কবিতাটির রচয়িতা কে?
  1. ক) আবুল ফজল
  2. খ) আমিয় চক্রবর্তী
  3. গ) আহসান হাবীব
  4. ঘ) সৈয়দ আলী আহসান
সঠিক উত্তর:
খ) আমিয় চক্রবর্তী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) আমিয় চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
‘বাংলাদেশ’ কবিতাটি আমিয় চক্রবর্তী রচিত ‘অনিঃশেষ’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত। এটি অক্ষরবৃত্ত ছন্দে রচিত। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রেক্ষাপটে রচিত হয়েছে কবিতাটি। [সূত্র: LiveMCQ লেকচার]
৪,৯৮০.
'কারে দেখাবো মনের দুঃখ গো আমি বুক চিরিয়া, অন্তরে তুষেরই অনল জ্বলে গইয়া গইয়া' গানটির রচয়িতা-
  1. উস্তাদ আলাউদ্দিন
  2. রাধারমণ দত্ত
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. লালন ফকির
সঠিক উত্তর:
রাধারমণ দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাধারমণ দত্ত
ব্যাখ্যা

- 'কারে দেখাবো মনের দুঃখ' গানটি হল রাধারমন দত্তের গাওয়া।
- তিনি নিজেই গানটির কথা লিখেছেন।
- গানটি কভার করেছেন সইফ জোহান।

কারে দেখাবো মনের দুঃখ গো আমি বুক চিরিয়া
অন্তরে তুষেরই অনল জ্বলে গইয়া গইয়া

ঘর বাঁধিলাম প্রাণবন্ধের সনে
কত কথা ছিল‌ মনে গো
ভাঙ্গিলো আদরের জোড়া
কোনজন বাদী হইয়া
জ্বলে গইয়া গইয়া

কারে দেখাবো মনের দুঃখ গো আমি বুক চিরিয়া
অন্তরে তুষেরই অনল জ্বলে গইয়া গইয়া

কথা ছিল সঙ্গে নিবো গো আমায়
সঙ্গে আমায় নাহি নিলো গো
রাধারমন ভবে রইলো
জিতে মরা হইয়া
জ্বলে গইয়া গইয়া

কারে দেখাবো মনের দুঃখ গো আমি বুক চিরিয়া
অন্তরে তুষেরই অনল জ্বলে গইয়া গইয়া।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।

৪,৯৮১.
'খোলাচিঠি' কাব্যগ্রন্থটি কার রচনা?
  1. সানাউল হক
  2. শামসুজ্জামান খান
  3. সমর সেন
  4. বিষ্ণু দে
সঠিক উত্তর:
সমর সেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমর সেন
ব্যাখ্যা
• সমর সেন রচিত কাব্যগ্রন্থ 'খোলাচিঠি'।

• সমর সেন:

- তিনি ১৯১৬ সালের ১০ অক্টোবর কলকাতার বাগবাজারে জন্মগ্রহণ করেন।
- প্রথিতযশা গবেষক দীনেশচন্দ্র সেন তাঁর পিতামহ।
- তিনি মূলত কবি ছিলেন। তাঁকে আধুনিক যুগের নাগরিক কবি বলা হয়।
- ‘Frontier’ (ফ্রন্টিয়ার) ও ‘নাও’ পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন।
- ‘আমি রোমান্টিক কবি নই, আমি মার্ক্সিস্ট’ - এভাবেই তিনি মার্কসবাদের প্রতি তাঁর প্রবল আকর্ষণ ঘোষণা করেন।
- তাঁর কবিতায় নগর জীবনের ক্লেদ ও গ্লানি, মধ্যবিত্ত জীবনের সংকট, সংশয়, নীতিহীনতা ও আত্মকেন্দ্রিকতা এবং সংগ্রামী গণচেতনা বলিষ্ঠভাবে রূপায়িত হয়েছে।
- তিনি রুশ সাহিত্যের একজন দক্ষ অনুবাদক ছিলেন।
- ১৯৮৭ সালের ২৩ আগস্ট তাঁর মৃত্যু হয়।

• তাঁর রচিত বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ:
- কয়েকটি কবিতা,
- গ্রহণ ও অন্যান্য কবিতা,
- নানাকথা,
- খোলাচিঠি,
- তিন পুরুষ,
- সমর সেনের কবিতা।

• তাঁর রচিত গদ্যগ্রন্থ:
- বাবু বৃত্তান্ত।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
২. বাংলাপিডিয়া।
৪,৯৮২.
আবুল হুসেন রুশবিপ্লবের প্রেরণায় অনুপ্রাণিত হয়ে যে প্রবন্ধটি রচনা করেন -
  1. ক) মুসলিম কালচার
  2. খ) বাংলার বলশী
  3. গ) কৃষকের দুর্দশা
  4. ঘ) বাঙালি মুসলমানদের শিক্ষা সমস্যা
সঠিক উত্তর:
গ) কৃষকের দুর্দশা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) কৃষকের দুর্দশা
ব্যাখ্যা
আবুল হুসেন একজন প্রাবন্ধিক, চিন্তাবিদ, সমাজ সংস্কারক ছিলেন।
 আবুল হুসেন মুসলমান সমাজে আধুনিক শিক্ষা ও জ্ঞানের আলো বিস্তারের উদ্দেশ্যে লেখনী পরিচালনা করেন।
আবুল হুসেন ছিলেন 'শিখা' পত্রিকার প্রথম বর্ষের সম্পাদক।

 তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থের নামঃ
- বাংলার বলশী,
- মুসলিম কালচার ও
- বাঙালি মুসলমানদের শিক্ষা সমস্যা ইত্যাদি।

- বাংলার বলশী গ্রন্থে তিনি কৃষকদের দুঃখ দুর্দশা চিহ্নিত করে তাদের মুক্তির পথ নির্দেশ করেন।
- মননশীল প্রবন্ধকার হিসেবে তিনি কৃষক-সমাজের দুঃখ-দুর্দশার মুক্তির পথ নির্দেশ করেন তাঁর 'বাংলার বলশী' গ্রন্থের প্রবন্ধসমূহে।
- রুশবিপ্লবের প্রেরণায় অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি ‘কৃষকের আর্তনাদ’, ‘কৃষকের দুর্দশা’ ও ‘কৃষি বিপ্লবের সূচনা’ নামক প্রবন্ধ রচনা করেন।
- ঢাকায় যে বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন হয় তাতে আবুল হুসেনই নেতৃত্ব দেন।
- তিনি ঢাকায় মুসলিম সাহিত্য সমাজ (১৯২৬) গঠন এবং এর মুখপত্র শিখা সম্পাদনা ও প্রকাশ করে এ আন্দোলনকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেন।
- কাজী আবদুল ওদুদ, কাজী মোতাহার হোসেন, মুহম্মদ শহীদুল্লাহ ও আবুল ফজল তাঁকে এ কাজে সাহায্য করেন।

[উৎসঃ বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।]
৪,৯৮৩.
ত্রিশোত্তর বাংলা কবিতার নব্যধারার আন্দোলনের কবি ছিলেন কে?
  1. বিষ্ণু দে
  2. প্রমথ চৌধুরী
  3. নির্মলেন্দু গুণ
  4. জসীমউদ্‌দীন
সঠিক উত্তর:
বিষ্ণু দে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিষ্ণু দে
ব্যাখ্যা
• বিষ্ণু দে:
- তিনি ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক, চিত্রসমালোচক ও শিল্পানুরাগী।
- ১৯০৯ সালের ১৮ জুলাই কলকাতার পটলডাঙ্গায় তাঁর জন্ম।
- তাঁর পিতা অবিনাশচন্দ্র দে ছিলেন অ্যাটর্নি।
- বিষ্ণু দে ত্রিশোত্তর বাংলা কবিতার নব্যধারার আন্দোলনের প্রধান পাঁচজন কবির অন্যতম ছিলেন।
- তিনি মার্কসবাদী চেতনায় উদ্বুদ্ধ ছিলেন।
- তাঁর কবিতায় টি.এস এলিয়টের কবিতার প্রভাব রয়েছে।
- বিষ্ণু দে ‘পরিচয়’ পত্রিকায় (১৯৩১ থেকে ১৯৪৭ পর্যন্ত) সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। এবং তাঁর প্রকাশিত অপর পত্রিকা হচ্ছে ‘সাহিত্যপত্র’।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো হল:
- উর্বশী ও আর্টেমিস,
- চোরাবালি,
- সাত ভাই চম্পা,
- সাহিত্যের ভবিষ্যৎ,
- নাম রেখেছি কোমল গান্ধার,
- তুমি শুধু পঁচিশে বৈশাখ ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- রুচি ও প্রগতি,
- সাহিত্যের ভবিষ্যৎ,
- রবীন্দ্রনাথ ও শিল্প সাহিত্যে আধুনিকতার সমস্যা।

• অনুবাদ সাহিত্য:
- এলিয়টের কবিতা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।
৪,৯৮৪.
'শেষ বিকেলের মেয়ে' কী ধরনের রচনা?
  1. ক) ছোট গল্প
  2. খ) নাটক
  3. গ) উপন্যাস
  4. ঘ) কবিতা
সঠিক উত্তর:
গ) উপন্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) উপন্যাস
ব্যাখ্যা

জহির রায়হান (১৯৩৫-১৯৭২) প্রখ্যাত বাংলাদেশী কথাশিল্পী এবং চলচ্চিত্র পরিচালক।
তার প্রকৃত নাম মোহাম্মদ জহিরুল্লাহ।
- তৃষ্ণা,
- শেষ বিকেলের মেয়ে,
- হাজার বছর ধরে,
- আরেক ফাল্গুন,
- বরফ গলা নদী,
- আর কত দিন,
- কয়েকটি মৃত্যু ইত্যাদি তাঁর রচিত উপন্যাস।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।

৪,৯৮৫.
ভাষা আন্দোলনের প্রথম সাহিত্য সংকলন-
  1. ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস
  2. পিপাসা
  3. শহীদ মিনার
  4. একুশে ফেব্রুয়ারি
সঠিক উত্তর:
একুশে ফেব্রুয়ারি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
একুশে ফেব্রুয়ারি
ব্যাখ্যা
• ১৯৫৩ সালের মার্চ মাসে  প্রকাশিত হয় অমর একুশের প্রথম সাহিত্য সংকলন 'একুশে ফেব্রুয়ারি ’।
- সম্পাদনা করেন হাসান হাফিজুর রহমান ।
- প্রকাশক ছিলেন অন্যতম ভাষা সৈনিক মুহাম্মদ সুলতান।
- সংকলনটিতে স্থান পেয়েছিল প্রবন্ধ , গল্প,কবিতা, গান, নকশা ও ইতিহাস

অন্যদিকে,
- বশীর আল হেলালের রচিত গ্রন্থ 'ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস,
- রফিকুল ইসলামের রচিত গ্রন্থ 'শহীদ মিনার' 
--------------------------------------------------------
• হাসান হাফিজুর রহমান:
- ১৯৩২ সালের ১৪ জুন জামালপুর শহরে মাতুলালয়ে তাঁর জন্ম।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার কুলকান্দি গ্রামে।
- ১৯৫২ সালে সাপ্তাহিক বেগম পত্রিকায় সহকারী সম্পাদক হিসেবে তিনি কর্মজীবন শুরু করেন।
- পরে সওগাত (১৯৫৩), ইত্তেহাদ (১৯৫৫-১৯৫৭), পাকিস্তান (১৯৬৫) এবং স্বাধীনতার পর দৈনিক বাংলা পত্রিকায় কাজ করেন।
- ১৯৭৮ সালে তথ্য ও বেতার মন্ত্রণালয়ের অধীন 'মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস প্রকল্প'-এর পরিচালক নিযুক্ত হন।
১৯৪৬ সালে স্কুলে পড়া অবস্থায় তাঁর প্রথম রচনা একটি ছোটগল্প 'অশ্রুভেজা পথ চলতে' সওগাত পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- ১৯৪৯ সালে সোনার বাংলা পত্রিকায় প্রকাশিত হয় তাঁর প্রথম কবিতা।
- ১৯৫৩ সালে তাঁর সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় ভাষা আন্দোলনের ওপর প্রথম সংকলন গ্রন্থ 'একুশে ফেব্রুয়ারী'।
- হাসান হাফিজুর রহমানের সম্পাদনায় ১৬ খন্ডে বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধ: দলিলপত্র (১৯৮২-৮৩) প্রকাশিত হয়।

•  তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- বিমুখ প্রান্তর
- সীমান্ত শিবিরে
- আর্ত শব্দাবলী
- যখন উদ্যত সঙ্গীন
- দক্ষিণের জানালা
- শোকার্ত তরবারী
- আমার ভেতরের বাঘ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৯৮৬.
নিচের কোনটি সুকান্ত ভট্টাচার্যের কাব্যগ্রন্থ নয়?
  1. ক) ছাড়পত্র
  2. খ) পূর্বাভাস
  3. গ) মিঠেকড়া
  4. ঘ) কয়েকটি কবিতা
সঠিক উত্তর:
ঘ) কয়েকটি কবিতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) কয়েকটি কবিতা
ব্যাখ্যা
• সুকান্ত ভট্টাচার্য (১৯২৬-১৯৪৭) মার্কসবাদী ভাবধারায় বিশ্বাসী একজন তরুণ কবি।
- সুকান্ত ভট্টাচার্য কমিউনিস্ট পার্টির পত্রিকা দৈনিক স্বাধীনতা-র (১৯৪৫) ‘কিশোর সভা’ বিভাগ সম্পাদনা করতেন।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা :
- ছাড়পত্র (১৯৪৭),
- পূর্বাভাস (১৯৫০),
- মিঠেকড়া (১৯৫১),
- অভিযান (১৯৫৩),
- ঘুম নেই (১৯৫৪),
- হরতাল (১৯৬২),
- গীতিগুচ্ছ (১৯৬৫) প্রভৃতি।

• "কয়েকটি কবিতা" (১৯৩৭) কাব্যগ্রন্থটির লেখক সমর সেন (১৯১৬-৮৭)।
• তিনি মার্কসবাদী কবি হিসাবে বিখ্যাত ছিলেন।

সূত্র: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৪,৯৮৭.
'কাব্যভূষণ ও বিদ্যাভূষণ' কার উপাধি?
  1. শেখ ফজলুল করিম
  2. কাজেম আল কোরায়েশী
  3. মালাধর বসু
  4. মোহাম্মদ নজিবর রহমান
সঠিক উত্তর:
কাজেম আল কোরায়েশী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাজেম আল কোরায়েশী
ব্যাখ্যা
- 'কাজেম আল কোরেশী / কায়কোবাদ' এর উপাধি   - 'কাব্যভূষণ ও বিদ্যাভূষণ'। 

• অন্যদিকে: 
- 'মোহাম্মদ নজিবর রহমান' এর উপাধি- সাহিত্যরত্ন।  
- 'মালাধর বসু' এর উপাধি- গুণরাজ খান।  
-------------------------------- 
• কায়কোবাদ:
- ১৮৫৭ সালে ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার আগলা গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম মোহাম্মদ কাজেম আল কোরেশী।
- ‘কায়কোবাদ’ তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম।
- বাঙালি মুসলমান কবিদের মধ্যে প্রথম সনেট ও মহাকাব্য রচয়িতা কায়কোবাদ।
- মাত্র তেরো বছর বয়সে তাঁর প্রথম কাব্য 'বিরহবিলাপ' প্রকাশিত হয়।
- বাংলা কাব্যসাহিত্যে অসাধারণ অবদানের জন্য নিখিল ভারত সাহিত্য সংঘ তাঁকে ‘কাব্যভূষণ’, ‘বিদ্যাভূষণ ও ‘সাহিত্যরত্ন’ উপাধিতে ভূষিত করে।
 
• তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ: 
- অশ্রুমালা।
- মহাশ্মশান (পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ (১৭৬১) অবলম্বনে কাব্যটি রচিত)।
- শিবমন্দির।
- অমিয়ধারা।
- শ্মশান-ভস্ম।
- মহরম শরীফ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৪,৯৮৮.
'ভবিষ্যতের বাঙালি' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. এস ওয়াজেদ আলি
  2. আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
  3. মোহাম্মহ লুৎফর রহমান
  4. মোতাহের হোসেন চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
এস ওয়াজেদ আলি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এস ওয়াজেদ আলি
ব্যাখ্যা
'ভবিষ্যতের বাঙালি' গ্রন্থের রচয়িতা এস ওয়াজেদ আলি।
- এই বইটির জন্য তিনি বিখ্যাত হন।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯৪৩ সালে।
- এই বইতে অসাম্প্রদায়িকতা মুক্ত দেশ গড়ার লক্ষ্যে হিন্দু মুসলমানের ঐক্যবদ্ধকরণের কথা বলা হয়েছে। 
-----------------

এস ওয়াজেদ আলি(১৮৯০-১৯৫১)  
প্রাবন্ধিক, গল্পলেখক ও ভ্রমণকাহিনী রচয়িতা এস ওয়াজেদ আলি ১৮৯০ সালের ৪ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার  শণ্ঠীরামপুর মহকুমার বড় তাজপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- এস ওয়াজেদ আলির প্রথম প্রবন্ধ ’অতীতের বোঝা’ ১৯১৯ সালে প্রমথ চৌধুরী সম্পাদিত সবুজপত্র পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- এস ওয়াজেদ আলী ১৯১৯ সালে Bulletin of the Indian Rationalistic Society নামে একটি ইংরেজি জার্নাল এবং ১৯৩২ সালে গুলিস্তাঁ নামে একটি বাংলা মাসিক সাহিত্য পত্রিকা সম্পাদনা ও প্রকাশ করেন।
- ১৯২৫ সালে তাঁর ছোটোগল্প ’রাজা’ ইসলাম দর্শন এ প্রকাশিত হয়। 
- লেখক হিসেবে গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ, রম্যরচনা ও ভ্রমণকাহিনী রচনায় তিনি খ্যাতি অর্জন করেন।
তাঁর উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্মের মধ্যে রয়েছে:
প্রবন্ধ
- জীবনের শিল্প (১৯৪১),
- প্রাচ্য ও প্রতীচ্য (১৯৪৩),
- ভবিষ্যতের বাঙালী (১৯৪৩),
- আকবরের রাষ্ট্র সাধনা (১৯৪৯),
- মুসলিম সংস্কৃতির আদর্শ;
গল্প
- গুলদাস্তা (১৯২৭),
- মাশুকের দরবার (১৯৩০),
- বাদশাহী গল্প (১৯৪৪),
- গল্পের মজলিশ (১৯৪৪);
উপন্যাস
- গ্রানাডার শেষ বীর (১৯৪০);
ভ্রমণকাহিনী
- পশ্চিম ভারত (১৯৪৮),
- মোটর যোগে রাঁচী সফর (১৯৪৯) প্রভৃতি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,৯৮৯.
বাংলাদেশের জাতীয় সংগীতের ইংরেজি অনুবাদ করেছেন কে?
  1. কবি আব্দুস সাত্তার
  2. আলাউদ্দিন আল আজাদ
  3. সৈয়দ আলী আহসান
  4. রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ আলী আহসান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ আলী আহসান
ব্যাখ্যা
সৈয়দ আলী আহসান:
-  ১৯২০ সালে মাগুরা জেলার আলোকদিয়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
-  তাঁর পিতা সৈয়দ আলী হামেদ ছিলেন একজন স্কুল ইন্সপেক্টর।
- তিনি কর্মজীবনে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও করাচি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেছেন।
- তিনি বাংলাদেশের জাতীয় সংগীতের ইংরেজি অনুবাদক।
- রাজশাহী ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

তাঁর রচিত প্রবন্ধ-গবেষণাগ্রন্থ:
- কবিতার কথা, 
- নজরুল ইসলাম, 
- রবীন্দ্র কাব্যবিচারের ভূমিকা, 
- কবিতার কথা ও অন্যান্য বিবেচনা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,৯৯০.
ইসমাইল হোসেন সিরাজীর কোন কাব্যটি বাজেয়াপ্ত হয়?
  1. 'অনল প্রবাহ'
  2. 'আকাঙ্ক্ষা'
  3. 'উদ্বোধন'
  4. 'নব উদ্দীপনা'
সঠিক উত্তর:
'অনল প্রবাহ'
উত্তর
সঠিক উত্তর:
'অনল প্রবাহ'
ব্যাখ্যা
• ইসমাইল হোসেন সিরাজীর 'অনল প্রবাহ' গ্রন্থটি ব্রিটিশ সরকার কর্তৃক বাজেয়াপ্ত হয়েছিল।

• 'অনল প্রবাহ' কাব্যের পরিচয়:
- সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী রচিত মুসলিম জাগরণমূলক কাব্য 'অনল প্রবাহ' প্রকাশিত হয় ১৯০০ সালে।
- 'যা চলে গেছে তার জন্য শোক বৃথা বরং জাতির হৃতগৌরব উদ্ধারের প্রচেষ্টাই মুখ্য'-এই বাণীতে মুসলমানদের দুরবস্থা ও অধঃপতন ব্যক্ত করে ইংরেজদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ ও রোষ প্রকাশ করা হয়েছে এই কাব্যটিতে।
- 'অনল প্রবাহে' কবি হেমচন্দ্ৰ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘ভারত ভিক্ষা’, ‘ভারত বিলাপ' ইত্যাদি কবিতার সুস্পষ্ট প্রভাব আছে।
- ১৩১৫ বঙ্গাব্দে (১৯০৮) পরিবর্তিত ও পরিবর্ধিত দ্বিতীয় সংস্করণ বের হয়।
- প্রথম সংস্করণে কবিতা ছিল মাত্র নয়টি।
- এগুলো হচ্ছে : অনল-প্রবাহ, তুর্যধ্বনি, মূর্ছনা, বীর-পূজা, অভিভাষণ : ছাত্রগণের প্রতি, মরক্কো-সঙ্কটে, আমীর- আগমনে, দীপনা, আমীর-অভ্যর্থনা।
- বইটির বর্ধিত সংস্করণ প্রকাশিত হলে তৎকালীন বাংলার সরকার এটি বাজেয়াপ্ত করে এবং তাঁর প্রতি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।
- সিরাজী তখন ফরাসি অধিকৃত চন্দননগরে গিয়ে ৮ মাস আত্মগোপন করে থাকেন।
- পরে আত্মসমর্পণ করলে বৃটিশ সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ প্রচারের অভিযোগে তাঁকে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়।
-----------------------

• সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী:
- সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী লেখক, বাগ্মী এবং কৃষক নেতা।
- তিনি সিরাজগঞ্জ জেলায় জন্মগ্রহণ করেন (এ কারণেই তিনি তাঁর নামের সঙ্গে ‘সিরাজী’ উপাধি যুক্ত করেন)।
- সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী ১৮৮০ খ্রিস্টাব্দে সিরাজগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন।

• তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ: 
- অনল প্রবাহ
- আকাঙ্ক্ষা
- উচ্ছ্বাস 
- উদ্বোধন
- নব উদ্দীপনা
- স্পেন বিজয় কাব্য
- সঙ্গীত সঞ্জীবনী 
- প্রেমাঞ্জলি 

• তাঁর রচিত উপন্যাস:

- রায়নন্দিনী,
- তারাবাঈ,
- ফিরোজা বেগম,
- নূরুদ্দীন।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ: 
- স্বজাতি প্রেম,
- তুর্কি নারী জীবন, 
- স্পেনীয় মুসলান সভ্যতা। 

• ভ্রমণ কাহিনী: 
 - তুরস্ক ভ্রমণ। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৪,৯৯১.
'মজিদ' 'আমেনা' ও 'জমিলা' চরিত্রগুলো কোন উপন্যাসের?
  1. ক) সারেং বৌ
  2. খ) লালসালু
  3. গ) পল্লীসমাজ
  4. ঘ) চরিত্রহীন
সঠিক উত্তর:
খ) লালসালু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) লালসালু
ব্যাখ্যা

- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত বহুমাত্রিক ও কালোত্তীর্ণ উপন্যাস 'লালসালু'।
- ধর্ম নিয়ে ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থকারীদের স্বরূপ উন্মোচন এবং নারী জাগরণের পেক্ষাপটে সমাজচেতনা এই উপন্যাসের মূল বিষয়।
- এই উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র- মজিদ, জমিলা, আমেনা, খালেক ব্যাপারী, রহিমা, আক্কাস, তাহেরের বাপ, হাসুনির মা ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৪,৯৯২.
কোনটি গােবিন্দচন্দ্র দাস রচিত সনেট সংকলন?
  1. অশোক সংগীত
  2. সনেট পঞ্চশৎ
  3. চতুর্দশপদী কবিতাবলী
  4. ফুলরেণু
সঠিক উত্তর:
ফুলরেণু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফুলরেণু
ব্যাখ্যা
• ‘ফুলরেণু’ গােবিন্দচন্দ্র দাস রচিত সনেট সংকলন/কাব্যগ্রন্থ।

---------------------
• গােবিন্দচন্দ্র দাস:

- গােবিন্দচন্দ্র দাস ১৮৫৫ সালে গাজীপুর জেলার জয়দেবপুরে এক দরিদ্র পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- ‘ভাওয়ালের কবি’ হিসেবে গোবিন্দচন্দ্র দাসের পরিচয়।
- বাংলা সাহিত্যের স্বভাবকবি হচ্ছেন গােবিন্দচন্দ্র দাস।
- রবীন্দ্রনাথের সমকালে আধুনিক গীতিকবিতার ধারায় কবিতা রচনা করেই গোবিন্দচন্দ্র খ্যাত হন।
- তাঁর কবিতায় পূর্ববঙ্গের প্রাকৃতিক শোভা, বস্ত্তনিষ্ঠতা এবং গভীর পত্নিপ্রেম ফুটে উঠেছে।
- তাঁর প্রথমা পত্নী সারদাসুন্দরীর মৃত্যুর প্রায় সাত বছর পর তিনি দ্বিতীয়বার দারপরিগ্রহ করেন। কিন্তু কবিতার মাধ্যমে তিনি তাঁর প্রথমা পত্নীকে অমর করে রেখেছেন।

• তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ:
- প্রসূন,
- প্রেম ও ফুল,
- কুঙ্কুম,
- কস্তুরী,
- চন্দন,
- ফুলরেণু (সনেট),
- বৈজয়ন্তী,
- শোক ও সান্ত্বনা,
- শোকোচ্ছ্বাস (১৯১০) ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• ‘চতুর্দশপদী কবিতাবলী’ মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত ১০২টি সনেট এর সংকলন।
• প্রমথ চৌধুীর মূলত গদ্যশিল্পী হলেও সনেট লেখায় পারদর্শিতা দেখিয়েছে। ‘সনেট পঞ্চশৎ’ তাঁর উল্লেখযোগ্য সনেট কাব্যগ্রন্থ।
• কামিনী রায়ের সনেট সংগ্রহ ‘অশোক সংগীত’।

উৎস: বাংলাপিডিয়া; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম।
৪,৯৯৩.
'পারস্য প্রতিভা' গ্রন্থের লেখক কে?
  1. এস ওয়াজেদ আলী
  2. মোহাম্মদ বরকতুল্লাহ
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ 
সঠিক উত্তর:
মোহাম্মদ বরকতুল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মোহাম্মদ বরকতুল্লাহ
ব্যাখ্যা

• 'পারস্য প্রতিভা' গ্রন্থের রচয়িতা - 'মোহাম্মদ বরকতুল্লাহ'।
- এই বইয়ের প্রবন্ধগুলো ১৯১৮ থেকে ১৯২২ সালের মধ্যে লেখা হয়েছিল।
- ১৯২৪ সালে এর প্রথম খণ্ড এবং ১৯৩২ সালে দ্বিতীয় খণ্ড প্রকাশিত হয়।

• মোহাম্মদ বরকতুল্লাহ: 
- ১৮৯৮ সালের ২ মার্চ পাবনা জেলার শাহজাদপুরের ঘোড়াশালে তাঁর জন্ম। ১৯৭৪ সালের ২ নভেম্বর ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়।
- আধুনিক বাঙালি মুসলমান লেখকদের মধ্যে তিনিই সর্বপ্রথম দার্শনিক ভাবনাসমৃদ্ধ প্রবন্ধ রচনায় আত্মনিয়োগ করেন।
- দর্শনের বিভিন্ন দুরূহ বিষয় সাবলীল বাংলা গদ্যে প্রকাশ করে তিনি প্রতিষ্ঠা লাভ করেন।
- তিনি প্রবন্ধ সাহিত্যে বাংলা একাডেমী পুরস্কার (১৯৬০), নয়া জাতির স্রষ্টা হযরত মুহম্মদ গ্রন্থের জন্য দাউদ পুরস্কার (১৯৬৩) লাভ করেন

তাঁর গ্রন্থসমূহের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
- পারস্য প্রতিভা (২ খণ্ড ১৯২৪, ১৯৩২),
- মানুষের ধর্ম্ম,
- কারবালা ও ইমামবংশের ইতিবৃত্ত,
- নয়া জাতির স্রষ্টা হযরত মুহম্মদ,
- বাংলা সাহিত্যে মুসলিম ধারা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৪,৯৯৪.
'ভবিষ্যতের বাঙালি' প্রবন্ধের রচয়িতা কে?
  1. আহমদ শরীফ
  2. গাফ্ফার চৌধুরী
  3. আহমদ ছফা
  4. এস ওয়াজেদ আলী
সঠিক উত্তর:
এস ওয়াজেদ আলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এস ওয়াজেদ আলী
ব্যাখ্যা
ভবিষ্যতের বাঙালি, প্রাচ্য ও প্রতিষ্ঠিত, জীবনের গল্প ইত্যাদি প্রবন্ধের রচয়িতা এস ওয়াজেদ আলী।
তাঁর রচিত ঐতিহাসিক উপন্যাস গ্রানাডার শেষ বীর। তাঁর বিখ্যাত ভ্রমণকাহিনী- মোটরযোগে রাঁচি সফর।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৯৯৫.
'কস্যচিৎ উপযুক্ত ভাইপো' ছদ্মনামে কে লিখতেন?
  1. ক) অন্নদাশঙ্কর রায়
  2. খ) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  3. গ) কামিনী রায়
  4. ঘ) কালীপ্রসন্ন সিংহ
সঠিক উত্তর:
খ) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
ব্যাখ্যা
হুতোম পেঁচা ছদ্মনামে লিখতেন কালীপ্রসন্ন সিংহ৷
অন্নদাশঙ্কর রায় - লীলাময় রায়;
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর - কস্যচিৎ উপযুক্ত ভাইপো;
কামিনী রায় - জনৈক বঙ্গমহিলা।

[উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।]
৪,৯৯৬.
‘একুশের গান’ কবিতার রচয়িতা কে?
  1. জসীমউদ্দীন
  2. সুফিয়া কামাল
  3. আব্দুল গাফফার চৌধুরী
  4. সুকান্ত
সঠিক উত্তর:
আব্দুল গাফফার চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আব্দুল গাফফার চৌধুরী
ব্যাখ্যা
আবদুল গাফফার চৌধুরীর অমর-কর্ম হচ্ছে ভাষা আন্দোলনের শহিদের স্মরণে রচিত (একুশের গান) শিরোনামের গান: আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো /একুশে ফেব্রুয়ারী/ আমি কি ভুলিতে পারি।
→ হাসান হাফিজুর রহমান সম্পাদিত ‘একুশে ফেব্রুয়ারী’ (১৯৫৩) সংকলন গ্রন্থে গানটি প্রথম প্রকাশিত হয়।
→ গানটির প্রথম সুরকার আবদুল লতিফ। সেই সুর পরিবর্তন করে আলতাফ মাহমুদ পরে এর সুরারোপ করেন। সেটি এখন বলবৎ আছে।
→ ‘রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’ বলতে বোঝানো হয়েছে- যে একুশে ফেব্রুয়ারিতে বহু মানুষের রক্ত ঝরেছে।

আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী:
- ১৯৩৪ সালের ১২ই ডিসেম্বর বরিশালে জন্ম গ্রহণ করেন।
- আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি -গানের রচয়িতা আবদুল গাফফার চৌধুরী।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- চন্দ্রদ্বীপের উপাখ্যান (প্রথম),
- নাম না জানা ভোর,
- নীল যমুনা ও
- শেষ রাত্রির চাঁদ।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- কৃষ্ণপক্ষ,
- সুন্দর হে সুন্দর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞেসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৯৯৭.
'কোথাও কোনো ক্রন্দন নেই' কাব্যগ্রন্থটি কার?
  1. ক) শামসুর রাহমান
  2. খ) সত্যেন সেন
  3. গ) সুফিয়া কামাল
  4. ঘ) শহীদ কাদরী
সঠিক উত্তর:
ঘ) শহীদ কাদরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) শহীদ কাদরী
ব্যাখ্যা

• শহীদ কাদরী স্বাধীন বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় আধুনিক কবি।
• বাংলা কবিতার পঞ্চাশের দশকের সর্বোচ্চ সম্ভাবনা ও সাফল্য দেখা যায় তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ উত্তরাধিকারে।
• তাঁর কাব্যগ্রন্থগুলো হলোঃ
- উত্তরাধিকার (প্রথম প্রকাশিত),
- তোমাকে অভিবাদন প্রিয়তমা,
- কোথাও কোনো ক্রন্দন নেই,
- আমার চুম্বনগুলো পৌঁছে দাও।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৪,৯৯৮.
সৈয়দ শামসুল হক রচিত গল্পগ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. আনন্দের মৃত্যু
  2. তাস
  3. শীত বিকেল
  4. সমুদ্রের স্বপ্ন শীতের অরণ্য
সঠিক উত্তর:
সমুদ্রের স্বপ্ন শীতের অরণ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমুদ্রের স্বপ্ন শীতের অরণ্য
ব্যাখ্যা
• সৈয়দ শামসুল হক রচিত গল্পগ্রন্থ নয় - সমুদ্রের স্বপ্ন শীতের অরণ্য।
- এটি হাসান আজিজুল হক রচিত গল্পগ্রন্থ।

সৈয়দ শামসুল হক: 
- তিনি ১৯৩৫ সালের ২৭শে ডিসেম্বর কুড়িগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত লেখক হিসেবে সমধিক পরিচিত।
- মানুষের জটিল জীবনপ্রবাহ এবং মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ তাঁর সাহিত্যকর্মের মূল প্রবণতা।
- তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার, আদমজি সাহিত্য পুরস্কার, একুশে পদক ইত্যাদি লাভ করেন।
- তিনি ২০১৬ সালের ২৭শে সেপ্টেম্বর ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- তাস,
- শীত বিকেল,
- আনন্দের মৃত্যু,
- প্রাচীন বংশের নিঃস্ব সন্তান,
- জলেশ্বরীর গল্পগুলো।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৯৯৯.
ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ, আসামের ভূমিকম্প, তেভাগা আন্দোলন ইত্যাদি ঐতিহাসিক ঘটনার পেক্ষাপটে রচিত গ্রন্থ কোনটি?
  1. দোজখের ওম
  2. খোয়ারি
  3. দুধভাতে উৎপাত
  4. খোয়াবনামা
সঠিক উত্তর:
খোয়াবনামা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খোয়াবনামা
ব্যাখ্যা

• 'খোয়াবনামা' উপন্যাস:
- ঐতিহাসিক উপাদান নির্ভর উপন্যাস 'খোয়াবনামা' এর রচয়িতা আখতারুজ্জামান ইলিয়াস।

- গ্রাম বাংলার নিম্নবিত্ত শ্রমজীবী মানুষের জীবনালেখ্যসহ ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ, আসামের ভূমিকম্প, তেভাগা আন্দোলন, ১৯৪৩-এর মন্বন্তর, পাকিস্তান আন্দোলন ও সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ইত্যাদি ঐতিহাসিক উপাদান এ উপন্যাসে নিপুণভাবে উপস্থিত করা হয়েছে। এই উপাদানসমূহ অবলম্বন করে বাঙালির তথা মানবজীবনের সংগ্রামও এগিয়ে যাওয়াই উপন্যাসটির বিষয়।

​- তিনি ১৯৯৫ সালে 'খোয়াবনামা' উপন্যাসের জন্য 'সাদত আলী আখন্দ পুরস্কার' ও ১৯৯৬ সালে কলকাতার 'আনন্দ পুরস্কার' লাভ করেন।

​-----------------------
আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত গ্রন্থসমূহ হলো:
• উপন্যাস:
- চিলেকোঠার সেপাই,
- খোয়াবনামা।
(এই দুটি হলো তার মহাকাব্যোচিত উপন্যাস)

• গল্পগ্রন্থ:
- অন্য ঘরে অন্য স্বর,
- খোয়ারি,
- দুধভাতে উৎপাত,
- দোজখের ওম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৫,০০০.
‘একালের পান্তাবুড়ি’ কী ধরনের রচনা?
  1. ক) গল্প
  2. খ) প্রবন্ধ
  3. গ) রূপকথা
  4. ঘ) উপন্যাস
সঠিক উত্তর:
ক) গল্প
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) গল্প
ব্যাখ্যা
বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নারী ঔপন্যাসিক সেলিনা হোসেনের উল্লেখযোগ্য উপন্যাসঃ জলোচ্ছ্বাস, হাঙর নদী গ্রেনেড (মুক্তিযুদ্ধের সত্য ঘটনা অবলম্বনে রচিত), যাপিত জীবন, নীল ময়ূরের যৌবন, নিরন্তর ঘণ্টাধ্বনি, পোকামাকড়ের ঘরবসতি ইত্যাদি। গল্পঃ উৎস থেকে নিরন্তর, পরজন্ম, মানুষটি, মতিজানের মেয়েরা, অনূঢ়া পুর্ণিমা, একালের পান্তাবুড়ি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর