বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

আধুনিক যুগের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ লেখক

মোট প্রশ্ন৭,৬৪৬এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

আধুনিক যুগের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ লেখক

PrepBank · পাতা ৪২ / ৭৭ · ৪,১০১৪,২০০ / ৭,৬৪৬

৪,১০১.
আধুনিক বাংলা গীতিকাব্যের প্রথম ও প্রধান কবি ছিলেন-
  1. সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
  2. বিহারীলাল চক্রবর্তী
  3. নির্মলেন্দু গুণ
  4. অতুলপ্রসাদ সেন
সঠিক উত্তর:
বিহারীলাল চক্রবর্তী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিহারীলাল চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা

• বিহারীলাল চক্রবর্তী:
- বিহারীলাল চক্রবর্তী আধুনিক বাংলা গীতিকবিতার অন্যতম পুরোধা এবং রবীন্দ্রনাথের কাব্যগুরু হিসেবে পরিচত।
- তিনি আধুনিক বাংলা গীতিকাব্যের প্রথম ও প্রধান কবি।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিহারীলাল চক্রবর্তীকে 'ভোরের পাখি' উপাধিতে আখ্যায়িত করেন।
- বিহারীলাল চক্রবর্তীর প্রথম সার্থক গীতিকবিতা 'বঙ্গসুন্দরী'।
- তার শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ: সারদা মঙ্গল।

বিহারীলাল চক্রবর্তী রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- স্বপ্নদর্শন,
- সঙ্গীতশতক,
- বঙ্গসুন্দরী,
- নিসর্গ সন্দর্শন,
- বন্ধু বিয়োগ,
- সারদা মঙ্গল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৪,১০২.
'দেশে বিদেশে' ভ্রমণ কাহিনিটি কার রচনা?
  1. সৈয়দ মুজতবা আলী
  2. সৈয়দ আলী আহসান
  3. সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. সৈয়দ শামসুল হক
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ মুজতবা আলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ মুজতবা আলী
ব্যাখ্যা
⇒ 'দেশে বিদেশে' ভ্রমণকাহিনি: 
- 'দেশে বিদেশে' ভ্রমণকাহিনির রচয়িতা সৈয়দ মুজতবা আলী।
- এটি সৈয়দ মুজতবা আলীর প্রথম গ্রন্থ। 
- ভ্রমণ কাহিনিটি আফগানিস্তানের কাবুল শহর নিয়ে লেখা।

===========
⇒ সৈয়দ মুজতবা আলী: 
- ১৯০৪ সালে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি  কাজী নজরুল ইসলামের 'রুবাইয়াৎ- ই- ওমর খৈয়াম' গ্রন্থের ভূমিকা লিখেন।  
- ১৯৭৪ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
- 'দেশে বিদেশে' তাঁর রচিত বিখ্যাত ভ্রমণ কাহিনি।
- 'দেশে বিদেশে' সৈয়দ মুজতবা আলীর প্রথম গ্রন্থ। 
- 'দেশে বিদেশে' ভ্রমণ কাহিনীটি আফগানিস্তানের কাবুল শহর নিয়ে লেখা।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম: 
• উপন্যাস:
- অবিশ্বাস্য।
- শবনম।

• ছোটগল্প:
- চাচা-কাহিনী।
- টুনি মেম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,১০৩.
সিকান্দার আবু জাফর রচিত নাটক কোনটি?
  1. শকুন্ত উপাখ্যান
  2. প্রসন্ন শহর
  3. নবী কাহিনী
  4. মাটি আর অশ্রু
সঠিক উত্তর:
শকুন্ত উপাখ্যান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শকুন্ত উপাখ্যান
ব্যাখ্যা
• সিকান্দার আবু জাফর:
- তাঁর পূর্ণ নাম সৈয়দ আল্ হাশেমী আবু জাফর মুহম্মদ বখ্ত সিকান্দার।
- ১৯১৯ সালের ১৯ মার্চ সাতক্ষীরা জেলার তেঁতুলিয়া গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তিনি মাসিক সমকাল পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা-সম্পাদক (১৯৫৭-১৯৭০) ছিলেন।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- প্রসন্ন শহর;
- তিমিরান্তিক;
- বৈরী বৃষ্টিতে;
- বৃশ্চিক-লগ্ন।

• তাঁর রচিত নাটক:
- সিরাজ-উদ-দৌলা;
- মহাকবি আলাউল।
- শকুন্ত উপাখ্যান;

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- মাটি আর অশ্রু;
- জয়ের পথে;
- নবী কাহিনী;
- পূরবী।

• তাঁর কয়েকটি অনূদিত গ্রন্থ:
- যাদুর কলস;
- সেন্ট লুইয়ের সেতু ইত্যাদি।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২. বাংলাপিডিয়া।
৪,১০৪.
কোনটি গোলাম মোস্তফা রচিত গদ্যগ্রন্থ?
  1. রক্তরাগ
  2. বুলবুলিস্তান
  3. ইসলাম ও কমিউনিজম
  4. বনি আদম
সঠিক উত্তর:
ইসলাম ও কমিউনিজম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইসলাম ও কমিউনিজম
ব্যাখ্যা

গোলাম মোস্তফা:
- ১৮৯৭ সালে যশোর (বর্তমান ঝিনাইদহ) জেলার শৈলকুপা উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে তাঁর জন্ম।
- ১৯৪৯ সালে গঠিত পূর্ববঙ্গ সরকারের ভাষা সংস্কার কমিটির সচিব হিসেবে তিনি কাজ করেন।
- সাহিত্য-সংস্কৃতিতে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি যশোর সংঘ কর্তৃক 'কাব্য সুধাকর' (১৯৫২) এবং পাকিস্তান সরকার কর্তৃক 'সিতারা-ই-ইমতিয়াজ' (১৯৬০) উপাধি লাভ করেন।

গোলাম মোস্তফা রচিত রচিত গদ্যগ্রন্থ:
- বিশ্বনবী,
- ইসলাম ও জেহাদ,
- ইসলাম ও কমিউনিজম,
- আমার চিন্তাধারা।

গোলাম মোস্তফা রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- রক্তরাগ,
- খোশরোজ,
- কাব্যকাহিনী,
- গীতি সঞ্চয়ন,
- সাহারা,
- হাসনাহেনা,
- বুলবুলিস্তান,
- বনি আদম ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৪,১০৫.
প্রমথ চৌধুরী রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. আত্মকথা
  2. আমাদের শিক্ষা
  3. সনেট পঞ্চাশৎ
  4. নানাচর্চা
সঠিক উত্তর:
সনেট পঞ্চাশৎ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সনেট পঞ্চাশৎ
ব্যাখ্যা
• 'সনেট পঞ্চাশৎ' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা প্রমথ চৌধুরী।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯১৩ খ্রিষ্টাব্দে। 

⇒ প্রমথ চৌধুরী:
- প্রমথ চৌধুরী সাহিত্যিক, বাংলা চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তক।
- তিনি ১৮৬৮ সালের ৭ আগষ্ট যশোরে জন্মগ্রহণ করেন। 
- প্রমথ চৌধুরীর সাহিত্যিক ছদ্মনাম 'বীরবল।'
- প্রমথ চৌধুরী রচিত 'বীরবলের হালখাতা' ১৯০২ সালে ভারতী পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়। এই গ্রন্থে তিনি প্রথম চলিত রীতির প্রয়োগ ঘটান।
- বাংলা কাব্য সাহিত্যে তিনিই প্রথম ইতালীয় সনেটের প্রবর্তন করেন।
- তিনি 'সবুজপত্র' পত্রিকাটি সম্পাদনা করেন। 

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সনেট পঞ্চাশৎ,
- পদচারণ। 

• তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- তেল নুন লকড়ি,
- বীরবলের হালখাতা,
- নানাকথা,
- আমাদের শিক্ষা,
- রায়তের কথা,
- নানাচর্চা,
- আত্মকথা,
- প্রবন্ধসংগ্রহ ইত্যাদি।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- চার ইয়ারী কথা,
- আহুতি,
- নীললোহিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৪,১০৬.
সৈয়দ মুজতবা আলী রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. পঞ্চতন্ত্র 
  2. চাচা-কাহিনী
  3. ময়ূরকণ্ঠী 
  4. শবনম
সঠিক উত্তর:
শবনম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শবনম
ব্যাখ্যা

সৈয়দ মুজতবা আলী রচিত উপন্যাস: শবনম।
-----------------------------------------------
• শবনম:
- সৈয়দ মুজতবা আলীর শবনম একটি প্রেমের উপন্যাস।
- এই উপন্যাসটি আফগানিস্তানে কর্মরত এক বাঙালি যুবক মজনুন ও আফগান রাজ পরিবারের মেয়ে শবনমের নিষিদ্ধ ও বেদনাদায়ক প্রেমকাহিনীকে কেন্দ্র করে রচিত।
- রাজনৈতিক পরিবর্তন ও সামাজিক বাস্তবতার কারণে তাঁদের সম্পর্ক শেষ পর্যন্ত বিচ্ছেদের পথে চলে যায়।
- উপন্যাসে আফগানিস্তানের তৎকালীন রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সাংস্কৃতিক চিত্র ফুটে উঠেছে।
- এবং এতে ফার্সি ও উর্দু কবিতার প্রাচুর্য লক্ষ্য করা যায়।
-------------------------------------------
সৈয়দ মুজতবা আলী:
- সৈয়দ মুজতবা আলী ছিলেন একজন শিক্ষাবিদ ও প্রখ্যাত সাহিত্যিক।
- তিনি ১৩ সেপ্টেম্বর ১৯০৪ সালে পিতার কর্মস্থল শ্রীহট্ট (বর্তমান সিলেট) জেলার করিমগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন, যদিও পৈতৃক নিবাস ছিল হবিগঞ্জের উত্তরসুর গ্রামে।
- তাঁর পিতা সৈয়দ সিকন্দর আলী সাব-রেজিস্ট্রার ছিলেন।
- সৈয়দ মুজতবা আলী প্রায় ত্রিশটি গ্রন্থ রচনা করেছেন।
- যার মধ্যে উপন্যাস, গল্প, প্রবন্ধ ও ভ্রমণকাহিনী রয়েছে।

- তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে আছে:
• ভ্রমণকাহিনী:
- দেশে-বিদেশে;
- জলে-ডাঙায়।

 • উপন্যাস:
- অবিশ্বাস্য;
- শবনম।

• রম্যরচনা:
- পঞ্চতন্ত্র;
- ময়ূরকণ্ঠী।

• ছোটগল্প সংকলন:
- চাচা-কাহিনী;
- টুনি মেম।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া।

৪,১০৭.
মোহাম্মদ মোজাম্মেল হককে ‘কাব্যকণ্ঠ’ উপাধিতে ভূষিত করে কোন প্রতিষ্ঠান?
  1. কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়
  2. বাংলা একাডেমি
  3. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
  4. বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ
সঠিক উত্তর:
বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ
ব্যাখ্যা
• মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক:
- কবি, সাংবাদিক মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক (১৮৬০-১৯৩৩) পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার শান্তিপুরের বাউইগাছি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- 'শান্তিপুরের কবি' হিসেবে পরিচিত মোজাম্মেল হক মুসলিম জীবনাদর্শ, ইসলামের নবজাগরন ইত্যাদি অবলম্বনে কাব্য রচনা করলেও জীবনী ও উপন্যাস রচনায় বৈশিষ্ট্য দেখিয়েছেন।
- মোজাম্মেল হক 'লহরী' , 'মোসলেম ভারত' ও 'শান্তিপুর মাসিক সাহিত্য পত্রিকা'র সম্পাদক ও প্রকাশক ছিলেন।
- মোজাম্মেল হক ছিলেন মূলত কবি, তবে তাঁর গদ্যরচনাও আছে।
- তিনি বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ কর্তৃক ‘কাব্যকণ্ঠ’ উপাধিতে ভূষিত হন।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- জোহরা,
- দরাফ খান গাজী।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- কুসুমাঞ্জলি,
- অপূর্ব দর্শন,
- প্রেমহার,
- জাতীয় ফোয়ারা,
- ইসলাম সংগীত,
- হযরত মুহম্মদ ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত গদ্যগ্রন্থ:
- মহর্ষি মনসুর,
- ফেরদৌসি চরিত ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,১০৮.
ডোম সম্প্রদায়ের একজন যুবকের কবিরূপে প্রতিষ্ঠার কাহিনি উল্লেখ রয়েছে কোন উপন্যাসে?
  1. নিকেতন
  2. আরোগ্য
  3. কালিন্দী
  4. কবি
সঠিক উত্তর:
কবি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কবি
ব্যাখ্যা

• 'কবি' উপন্যাস:
- 'কবি' একটি বহুল আলোচিত বাংলা উপন্যাস। এটির রচয়িতা বাংলাভাষার প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়। 
- কাহিনির বিবেচনায় এটি একটি সামাজিক উপন্যাস।
- ডোম সম্প্রদায়ের একজন যুবক কবিরূপে প্রতিষ্ঠা এবং দুটি নারীর সঙ্গে তার সম্পর্ক বিষয়ক উপন্যাস।

তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস:
- চৈতালি ঘূর্ণি,
- ধাত্রীদেবতা,
- কালিন্দী,
- কবি,
- হাঁসুলি বাঁকের উপকথা,
- গণদেবতা,
- আরোগ্য,
- নিকেতন,
- পঞ্চপুণ্ডলী,
- রাধা ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৪,১০৯.
কোনটি ঠিক?
  1. গোরা (নাট্যগ্রন্থ)
  2. বিদ্রোহী (কাব্যগ্রন্থ)
  3. পথের দাবী (উপন্যাস)
  4. কাত্তরের দিনগুলি (উপন্যাস)
সঠিক উত্তর:
পথের দাবী (উপন্যাস)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পথের দাবী (উপন্যাস)
ব্যাখ্যা
"পথের দাবী" উপন্যাস:
• 'পথের দাবী' শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস। এটি প্রকাশিত হয় ১৯২৬ সালে।

• এটি স্বদেশী বিপ্লবীদের হাতে হাতে থাকতো। কাহিনির পটভূমিকা ব্রহ্মদেশ। কারো এক গুপ্ত বিপ্লবী দলের নায়ক সব্যসাচী এই উপন্যাসের প্রধান চরিত্র। কারো মতে সব্যসাচী চরিত্রে বিপ্লবী রাসবিহারী বসুর ছায়াপাত ঘটেছে। নিঃসন্দেহে এই কাহিনিতে ব্রিটিশ শাসনের তীব্র সমালোচনা এবং সশস্ত্র বিপ্লবকে আন্তরিক সমর্থন আছে।

• গ্রন্থটি প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ হয়। নান্দনিক মানদণ্ডে 'পথের দাবী' উৎকৃষ্ট সাহিত্য কিনা এ নিয়ে প্রশ্ন থাকতে পারে। কিন্তু ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতা সংগ্রামে এ উপন্যাস উদ্দীপকের ভূমিকা রাখে।

• আমি বিপ্লবী, ভারতের স্বাধীনতাই আমার একমাত্র কাম্য, আমার একটি মাত্র সাধনা।'- এই বক্তব্য ছিল উপন্যাসের শেষে। ভারতীয় রাজনৈতিক আন্দোলনের ইতিহাসে এই গ্রন্থ বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।

• 'বঙ্গবাণী' পত্রিকায় ১৩২৯-এর ফাল্গুন সংখ্যা থেকে 'পথের দাবী' ধারাবাহিকরূপে প্রকাশিত হয়।

অন্যদিকে, 
- জাহানারা ইমাম রচিত 'একাত্তরের দিনগুলি' শীর্ষক দিনপঞ্জির আকারে রচিত মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে স্মৃতিচারণমূলক গ্রন্থ।
- কাজী নজরুল ইসলামের 'বিদ্রোহী' একটি কবিতা। কবিতাটি ২২শে পৌষ ১৩২৮ (৬ জানুয়ারি, ১৯২২) 'সাপ্তাহিক বিজলী' পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়।
- রবীনাথ ঠাকুর রচিত উপন্যাস 'গোরা' (১৯১০)। উপন্যাসের নায়ক গোরা সিপাহী বিদ্রোহের সময় নিহত এক আইরিশ দম্পতির সন্তান।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,১১০.
'অশনি সংকেত' উপন্যাসের রচয়িতা -
  1. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. বেগম রোকেয়া
সঠিক উত্তর:
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
'অশনি সংকেত' উপন্যাস:
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস।
- এর পটভূমি দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের বিষময় ফল ১৩৫০ বঙ্গাব্দের দুর্ভিক্ষ।
- আর এই দুর্ভিক্ষের করাল গ্রাস গ্রাম বাংলায় কীভাবে বিস্তার লাভ করেছে তার নিখুঁত বর্ণনা দিয়ে বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচনা করেন এই উপন্যাসটি। এটা প্রথম প্রকাশ হয় ১৯৫৯ সালে।
- তবে পুস্তকাকারে প্রকাশের ১৯৪৪-৪৬ সাল পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে মাসিক মাতৃভূমি পত্রিকায় প্রকাশিত।
- 'অশনি সংকেত'র পটভূমি বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বগ্রাম বারাকপুর ও তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চল ও বনগ্রাম মহকুমা শহর।

বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়:
- তিনি ১৮৯৪ সালের ১২ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁচরাপাড়ার নিকটবর্তী ঘোষপাড়া-মুরারিপুর গ্রামে মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত ঔপন্যাসিক।
- ১৩২৮ বঙ্গাব্দের (১৯২১) মাঘ প্রবাসীতে প্রথম গল্প ‘উপেক্ষিতা’ প্রকাশের মধ্য দিয়ে বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাহিত্যিক জীবন শুরু হয়।
- হেমন্তকুমার গুপ্তের সঙ্গে যৌথভাবে তিনি 'দীপক' (১৯৩২) পত্রিকা সম্পাদনা করেন।
- বাংলা কথাসাহিত্যে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের পরে বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ই সর্বাপেক্ষা জনপ্রিয় সাহিত্যিকের মর্যাদা পেয়েছেন।
- তাঁর শ্রেষ্ঠ রচনা 'পথের পাঁচালী'। প্রথম রচিত এই উপন্যাসের মাধ্যমেই তিনি বিপুল খ্যাতি অর্জন করেন। 'অপরাজিত', পথের পাঁচালীরই পরবর্তী অংশ।
- 'ইছামতী' উপন্যাসের জন্য বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় মরণোত্তর ‘রবীন্দ্র-পুরস্কার’ (১৯৫১) লাভ করেন।
- ১৯৫০ সালে ব্যারাকপুরের ঘাটশিলায় তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- পথের পাঁচালী,
- অপরাজিত,
- অশনি সংকেত,
- আরণ্যক,
- আদর্শ হিন্দু হোটেল,
- দেবযান,
- ইছামতী,
- দৃষ্টি প্রদীপ,
- অনুবর্তন ইত্যাদি।

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৪,১১১.
“Uncle Tom's Cabin”-এর সাথে তুলনা করা হয় কোন নাটককে?
  1. ক) জমিদার দর্পণ
  2. খ) নীল দর্পণ
  3. গ) মানচিত্র
  4. ঘ) পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়
সঠিক উত্তর:
খ) নীল দর্পণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) নীল দর্পণ
ব্যাখ্যা
দীনবন্ধু মিত্র ১৮৬০ সালে ‘নীল দর্পণ’ নাটক রচনা করেন।
নাটকের বাস্তবতা, চরিত্রগুলোর স্বাভাবিকতা গুণের জন্য অনেকেই একে Uncle Tom’s Cabin এর সাথে তুলনা করেন।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
৪,১১২.
‘প্রাণের বান্ধবরে বুড়ি হইলাম তাের কারণে’-গানটির গীতকার কে?
  1. ক) শাহ আবদুল করিম
  2. খ) গৌরিপ্রসন্ন মজুমদার
  3. গ) কুদ্দুস বয়াতি
  4. ঘ) শেখ ওয়াহিদ
সঠিক উত্তর:
ঘ) শেখ ওয়াহিদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) শেখ ওয়াহিদ
ব্যাখ্যা
'বুড়ি হইলাম তর কারণে', 'আমার মাটির গাছে লাউ ধইরাছে'_এমন অসংখ্য জনপ্রিয় গানের স্রষ্টা গীতিকবি মুক্তিযোদ্ধা শেখ ওয়াহিদুর রহমান।

ওয়াহিদের রচিত গানের সংখ্যা দেড় হাজারের অধিক।
তার গানের বিষয়বস্তু, পরমতত্ত্ব, দেহতত্ত্ব, প্রেমতত্ত্ব, গুরুতত্ত্ব, আঞ্চলিক গান, পল্লীগীতি, মুর্শিদি, ভাটিয়ালি, মারফতি, পদাবলি, কীর্তন। আঞ্চলিক গান রচনায় তিনি ছিলেন বিশেষ আগ্রহী। সিলেটের আঞ্চলিক ভাষায় রচিত তার গানের সংখ্যা শতাধিক। ‘পরাণের বন্ধুরে/ বুড়ি হইলাম তোর কারণে’ এবং ‘আমার মাটির গাছে লাউ ধরেছে/লাউটা বড় সোহাগী/লাউয়ের পিছে লাগছে বৈরাগী’ তার এ গান দুটি বিপুল জনপ্রিয়তা পেয়েছে।


সুত্রঃ কালের কণ্ঠ এবং সাপ্তাহিক পত্রিকা
৪,১১৩.
'আঞ্চলিক ভাষার অভিধান' সম্পাদনা করেন কে?
  1. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
  2. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  3. ফররুখ আহমদ
  4. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
ব্যাখ্যা

ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ:
- ১৮৮৫ সালের ১০ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার পেয়ারা গ্রামে তাঁর জন্ম। 
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ ভারতীয় উপমহাদেশের একজন স্মরণীয় বাঙালি ব্যক্তিত্ব, বহুভাষাবিদ, বিশিষ্ট শিক্ষক ও দার্শনিক ছিলেন।
- তিনি 'জ্ঞানতাপস' হিসেবে অধিক পরিচিত।
- তাঁকে 'চলিষ্ণু অভিধান' বলা হয়।
- ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপট জাতিসত্তা সম্পর্কে ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহর বিখ্যাত উক্তি- ''আমরা হিন্দু বা মুসলমান যেমন সত্য, তার চেয়ে বেশি সত্য আমরা বাঙালি।''
- ১৯৫৯ সালে প্রকাশিত 'বাঙ্গালা ভাষার ইতিবৃত্ত' রচনা করেন ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ।

তাঁর ভাষা ও সাহিত্যবিষয়ক উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ: 
- ভাষা ও সাহিত্য, 
- বাঙ্গালা ব্যাকরণ, 
- বাংলা সাহিত্যের কথা, 
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস ইত্যাদি।
- এছাড়া তিনি বাংলা একাডেমির 'আঞ্চলিক ভাষার অভিধান' সম্পাদনা করেন

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৪,১১৪.
মুসলিম বাংলার প্রথম শিশুপত্রিকা কোনটি?
  1. আঙুর
  2. স্বাক্ষর
  3. কবিতা
  4. স্বদেশ
সঠিক উত্তর:
আঙুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আঙুর
ব্যাখ্যা
• ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্:
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ (১৮৮৫-১৯৬৯) ভারতীয় উপমহাদেশের একজন স্মরণীয় বাঙালি ব্যক্তিত্ব, বহুভাষাবিদ, বিশিষ্ট শিক্ষক ও দার্শনিক ছিলেন। তিনি ১৮৮৫ সালের ১০ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার পেয়ারা গ্রামে তাঁর জন্ম।

- তিনি 'জ্ঞানতাপস' হিসেবে অধিক পরিচিত। তাঁকে 'চলিষ্ণু অভিধান' বলা হয়।

- ১৯৫৫-৫৮ সাল পর্যন্ত তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ও সংস্কৃত বিভাগে অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ইমেরিটাস নিযুক্ত হন।

- ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ে শহীদুল্লাহ্ বহু মননশীল ও জ্ঞানগর্ভ প্রবন্ধ নানা পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে এবং এ সংক্রান্ত বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা তিনি সম্পাদনা করেন। আল এসলাম পত্রিকার সহকারী সম্পাদক ও বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকার যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে তিনি যোগ্যতার পরিচয় দেন।

- তাঁরই সম্পাদনা ও প্রকাশনায় মুসলিম বাংলার প্রথম শিশুপত্রিকা 'আঙুর' আত্মপ্রকাশ করে। এছাড়াও তিনি ইংরেজি মাসিক পত্রিকা দি পীস, বাংলা মাসিক সাহিত্য পত্রিকা বঙ্গভূমি এবং পাক্ষিক তকবীর সম্পাদনা করেন।

- ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপট জাতিসত্তা সম্পর্কে ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহর বিখ্যাত উক্তি- "আমরা হিন্দু বা মুসলমান যেমন সত্য, তার চেয়ে বেশি সত্য আমরা বাঙালি।"

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,১১৫.
'বহুভাষাবিদ পণ্ডিত' বলতে কার নাম প্রথমে মনে আসে?
  1. শেক্সপিয়র
  2. আলবার্টো মোরাভিয়া
  3. চেখভ
  4. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্
সঠিক উত্তর:
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্
ব্যাখ্যা
• ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্:
• ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ (১৮৮৫-১৯৬৯) ভারতীয় উপমহাদেশের একজন স্মরণীয় বাঙালি ব্যক্তিত্ব, বহুভাষাবিদ, বিশিষ্ট শিক্ষক ও দার্শনিক ছিলেন। তিনি ১৮৮৫ সালের ১০ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার পেয়ারা গ্রামে তাঁর জন্ম।
• তিনি 'জ্ঞানতাপস' হিসেবে অধিক পরিচিত। তাঁকে 'চলিষ্ণু অভিধান' বলা হয়।
• ১৯৫৫-৫৮ সাল পর্যন্ত তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ও সংস্কৃত বিভাগে অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ইমেরিটাস নিযু্ক্ত হন।
• ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ে শহীদুল্লাহ্ বহু মননশীল ও জ্ঞানগর্ভ প্রবন্ধ নানা পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে এবং এ সংক্রান্ত বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা তিনি সম্পাদনা করেন। আল এসলাম পত্রিকার সহকারী সম্পাদক ও বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকার যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে তিনি যোগ্যতার পরিচয় দেন।
• তাঁরই সম্পাদনা ও প্রকাশনায় মুসলিম বাংলার প্রথম শিশুপত্রিকা আঙুর আত্মপ্রকাশ করে। এছাড়াও তিনি ইংরেজি মাসিক পত্রিকা দি পীস, বাংলা মাসিক সাহিত্য পত্রিকা বঙ্গভূমি এবং পাক্ষিক তকবীর সম্পাদনা করেন।
• ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপট জাতিসত্তা সম্পর্কে ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহর বিখ্যাত উক্তি- ''আমরা হিন্দু বা মুসলমান যেমন সত্য, তার চেয়ে বেশি সত্য আমরা বাঙালি।''

তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলি হলো:
- সিন্দবাদ সওদাগরের গল্প,
- ভাষা ও সাহিত্য,
- বাঙ্গালা ব্যাকরণ,
- দীওয়ান-ই-হাফিজ,
- শিকওয়াহ ও জওয়াব-ই-শিকওয়াহ,
- রুবাইয়াত-ই-উমর খয়্যাম,
- Essays on Islam,
- আমাদের সমস্যা,
- পদ্মাবতী,
- বাংলা সাহিত্যের কথা (২ খণ্ড),
- বিদ্যাপতি শতক,
- বাংলা আদব কী তারিখ,
- বাঙ্গালা ভাষার ইতিবৃত্ত,
- কুরআন শরীফ,
- অমরকাব্য,
- সেকালের রূপকথা ইত্যাদি।

• তাঁর সম্পাদিত আঞ্চলিক ভাষার অভিধান এক বিশেষ কীর্তি। মুহম্মদ আবদুল হাই -এর সঙ্গে তাঁর যুগ্ম-সম্পাদনায় রচিত Traditional Culture in East Pakistan (১৯৬১) একখানা উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ।

অন্যদিকে,
• উইলিয়াম শেক্সপিয়ার ছিলেন একজন ইংরেজ নাট্যকার, কবি এবং অভিনেতা।
• আলবার্টো মোরাভিয়া ছিলেন একজন ইতালীয় সাংবাদিক, ছোট গল্প লেখক এবং ঔপন্যাসিক।
• আন্তন পাভলোভিচ চেখভ ছিলেন একজন রুশ চিকিৎসক, নাট্যকার ও ছোটগল্পকার। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,১১৬.
আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ রচিত কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. আমার দুঃখিনী বর্ণমালা
  2. লাশ আমরা রাখব কোথায়
  3. আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি
  4. বাতাসে লাশের গন্ধ
সঠিক উত্তর:
আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি
ব্যাখ্যা
• 'আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি' কাব্যগ্রন্থ:
- 'আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি' আবু জাফর ওবায়দুল্লাহর একটি কাব্যগ্রন্থ। গ্রন্থটি  প্রকাশিত হয় ১৯৮১ সালে।
- গ্রন্থটিতে মোট ৩৯টি কবিতা স্থান পেয়েছে। বাঙালি জাতিসত্তার মৃত্তিকামূলে শিকড় সঞ্চার করে এ কাব্যগ্রন্থে কবি ঐক্যবদ্ধ চেতনায় সাহসী মানুষের সম্ভাবনার ছবি এঁকেছেন।
- এই কাব্যগ্রন্থের নাম কবিতা হচ্ছে 'আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি'। 

------------
আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি
- আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ

আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি।
আমি আমার পূর্বপুরুষের কথা বলছি-
তাঁর করতলে পলিমাটির সৌরভ ছিলো
তাঁর পিঠে রক্তজবার মতো ক্ষত ছিলো।
তিনি অতিক্রান্ত পাহাড়ের কথা বলতেন
অরণ্য এবং শ্বাপদের কথা বলতেন
পতিত জমি আবাদের কথা বলতেন
তিনি কবি এবং কবিতার কথা বলতেন।

-------------
তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থগুলো হলো:
- কখনো রং কখনো সুর,
- কমলের চোখ,
- আমি কিংবদন্তির কথা বলছি,
- সহিষ্ণু প্রতীক্ষা,
- প্রেমের কবিতা,
- নির্বাচিত কবিতা প্রভৃতি।

অন্যদিকে, 
• 'আমার দুঃখিনী বর্ণমালা' ও 'লাশ আমরা রাখব কোথায়' শামসুর রাহমান রচিত কবিতা। 
• রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ রচিত কবিতা ‘বাতাসে লাশের গন্ধ’। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,১১৭.
অন্নদাশঙ্কর রায় রচিত উপন্যাস -
  1. বিনুর বই
  2. প্রকৃতির পরিহাস
  3. অপসরণ
  4. জীবনশিল্পী
সঠিক উত্তর:
অপসরণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপসরণ
ব্যাখ্যা
• অন্নদাশঙ্কর রায় রচিত উপন্যাস - অপসরণ।

• অপসরণ:
- অন্নদাশঙ্কর রায় রচিত উপন্যাস 'অপসরণ'।
- উপন্যাসটি ১৯৪২ সালে প্রকাশিত হয়।
- ভারতবর্ষ থেকে ইউরোপ পর্যন্ত প্রসারিত পটভূমিতে রচিত এপিকধর্মী এই উপন্যাস ছয়টি তত্ত্বপ্রধান ও বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত তবে কিছুটা কৃত্রিম।
---------------------  
• অন্নদাশঙ্কর রায়:
- তিনি ১৯০৪ সালের ১৫ মার্চ ভারতের উড়িষ্যা প্রদেশের ঢেঙ্কানলে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, কবি, চিন্তাবিদ। 
- তিনি উনিশ শতকের বাঙালি রেনেসাঁ ঐতিহ্যের শেষ বুদ্ধিজীবী হিসেবে অভিহিত।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত লেখার নাম 'তিনটি প্রশ্ন' (প্রবাসী', ১৯২০)।
- তাঁর প্রথম উপন্যাসের নাম 'অসমাপিকা' (১৯৩০)।
- তাঁর প্রথম কবিতাগ্রন্থের নাম 'রাখী' (১৯৩২)।
- তিনি ২৮ শে অক্টোবর, ২০০২ সালে কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত প্রধান উপন্যাস:
- যার যথা দেশ,
- অজ্ঞাতবাস,
- কঙ্কাবতী,
- দুঃখমোচন,
- মর্তের স্বর্গ,
- অপসরণ। 

• তাঁর রচিত প্রধান প্রবন্ধগ্রন্থ:
- তারুণ্য,
- ইশারা,
- জীবনশিল্পী,
- বিনুর বই,
- আধুনিকতা,
- জীয়ন কাটি,
- প্রত্যয় ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত প্রধান কবিতা:
- রাখী,
- কালের শাসন,
- কামনা পঞ্চবিংশতি,
- নূতনা রাধা,
- লিপি,
- জার্নাল,
- ক্রীডো ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত প্রধান ছোটগল্প:
- প্রকৃতির পরিহাস,
- মন পবন,
- যৌবন জ্বালা,
- কামিনী কাঞ্চন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৪,১১৮.
শামসুর রাহমান রচিত কোন কবিতাটি মুক্তিযুদ্ধ নির্ভর?
  1. ক) তুমি বলেছিলে
  2. খ) টানাপোড়েন
  3. গ) ভালোবাসা তুমি
  4. ঘ) আসাদের শার্ট
সঠিক উত্তর:
ক) তুমি বলেছিলে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) তুমি বলেছিলে
ব্যাখ্যা
শামসুর রাহমান রচিত 'তুমি বলেছিলে' কবিতাটি মুক্তিযুদ্ধ নির্ভর।  

• ‘তুমি বলেছিলে’ কবিতার ভাবার্থ: 
- ‘তুমি বলেছিলে’ কবিতায় বর্বর হানাদার বাহিনীর অত্যাচারের কাহিনি বর্ণিত হয়েছে নিঃসংকোচে।
- নয়াবাজার, ঘরবাড়ি, দোকানপাট, মসজিদ, মন্দির, মানচিত্র, পুরনো দলিল ইত্যাদি ঘাতকের হাত থেকে রেহাই পায়নি।
- একে-একে তারা সব ধ্বংস করেছে। ঘাতকদের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য শহর ছেড়ে পালাচ্ছে সবাই দিকবিদিক।
- বনপোড়া হরিণী যেমন বন থেকে পালায়, তেমনি নবজাতককে বুকে নিয়ে উদ্ভ্রান্ত জননী শহর ছেড়ে পালাচ্ছে।

তুমি বলেছিলে – কবিতা
শামসুর রাহমান
----------------
দাউ দাউ পুড়ে যাচ্ছে নতুন বাজার।
পুড়ছে দোকান-পাট, কাঠ,
লোহা-লক্কড়ের স্তূপ, মসজিদ এবং মন্দির।
দাউ দাউ পুড়ে যাচ্ছে নতুন বাজার।

বিষম পুড়ছে চতুর্দিকে ঘর-বাড়ি।
পুড়ছে টিয়ের খাঁচা, রবীন্দ্র রচনাবলি, মিষ্টান্ন ভাণ্ডার,
মানচিত্র, পুরনো দলিল।
মৌচাকে আগুন দিলে যেমন সশব্দে
সাধের আশ্রয় ত্যাগী হয়
মৌমাছির ঝাঁক,
তেমনি সবাই
পালাচ্ছে শহর ছেড়ে দিগ্বিদিক। নবজাতককে
বুকে নিয়ে উদ্ভ্রান্ত জননী
বনপোড়া হরিণীর মত যাচ্ছে ছুটে।
অদূরে গুলির শব্দ, রাস্তা চষে জঙ্গী জীপ। আর্ত
শব্দ সবখানে। আমাদের দু’জনের
মুখে খরতাপ। আলিঙ্গনে থরো থরো
তুমি বলেছিলে,
’আমাকে বাঁচাও এই বর্বর আগুন থেকে, আমাকে বাঁচাও,
আমাকে লুকিয়ে ফেলো চোখের পাতায়
বুকের অতলে কিংবা একান্ত পাঁজরে
আমাকে নিমেষে শুষে নাও
চুম্বনে চুম্বনে।’

উল্লেখ্য, 
শামসুর রাহমানের মুক্তিযুদ্ধের কবিতার মধ্যে বহুল প্রচারিত দুটো কবিতা হচ্ছে ‘তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা’ এবং ‘স্বাধীনতা তুমি’। 

উৎস: কালি ও কলম (মাসিক পত্রিকা)। তুমি বলেছিলে – কবিতা, শামসুর রাহমান। 
৪,১১৯.
আবদুল্লাহ উপন্যাসে মূলত কোন বিষয়গুলো প্রতিফলিত হয়েছে?
  1. ব্রিটিশ শাসনের নৃশংসতা
  2. গ্রামীণ মুসলিম সমাজের কুসংস্কার ও বিভেদ
  3. কৃষক বিদ্রোহ
  4. হিন্দু-মুসলমান সম্প্রীতি
সঠিক উত্তর:
গ্রামীণ মুসলিম সমাজের কুসংস্কার ও বিভেদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ্রামীণ মুসলিম সমাজের কুসংস্কার ও বিভেদ
ব্যাখ্যা

• কাজী ইমদাদুল হকের 'আবদুল্লাহ' উপন্যাসের 'তৎকালীন মুসলিম মধ্যবিত্ত সমাজের চিত্র' অঙ্কিত হয়েছে।

• 'আবদুল্লাহ' উপন্যাস:
- 'আবদুল্লাহ' কাজী ইমদাদুল হক রচিত একটি উপন্যাস।
- এটি মোসলেম ভারত পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হতো। ১৯৩৩ সালে এটি গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসটি রচনাকালীন সময়ে কাজী ইমদাদুল হকের মৃত্যু হলে, কাজী আনোয়ারুল কাদির ইমদাদুল হকের খসড়া অবলম্বন করে অসমাপ্ত উপন্যাসটি সমাপ্ত করেন।

- উপন্যাসটিতে চিত্রিত হয়েছে গ্রামীণ মুসলিম সমাজের পিরভক্তি, ধর্মীয় কুসংস্কার, পর্দাপ্রথা, সম্প্রদায়বিদ্বেষ ইত্যাদির বিরুদ্ধে মানবতাবাদী প্রতিবাদ৷

- শিল্পের বিচারে 'আবদুল্লাহ্‌' উৎকৃষ্ট উপন্যাস নয়, তবে বাংলার সামাজিক বিবর্তনের, বিশেষ করে বাঙালি মুসলমানের অগ্রযাত্রার সম্ভাবনা ও প্রতিবন্ধকতা সুচারুভাবে ফুটে উঠায় গ্রন্থটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব আছে। 

----------------------------
• কাজী ইমদাদুল হক: 
 - কাজী ইমদাদুল হক ১৮৮২ সালে খুলনা জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। 
- 'আবদুল্লাহ' উপন্যাসের লেখক হিসেবেই তাঁর সমধিক পরিচিতি।
- আবদুল্লাহ উপন্যাস রচনা করেই তিনি ঔপন্যাসিক হিসেবে খ্যাতি লাভ করেন। 
- বাঙালি মুসলমান সমাজের কল্যাণসাধন ছিল ইমদাদুল হকের সাহিত্য সাধনার মূল লক্ষ্য।
- তিনি বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকা (১৯১৮) প্রকাশনা কমিটির সভাপতি ছিলেন। 

 তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থসমূহ:
- আঁখিজল, 
- মোসলেম জগতে বিজ্ঞান চর্চা,
- ভূগোল শিক্ষা প্রণালী (দু ভাগ),
- নবীকাহিনী (প্রবন্ধমালা), 
- কামারের কান্ড,
- আবদুল্লাহ। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৪,১২০.
কোনটি নির্মলেন্দু গুণের কাব্যগ্রন্থ?
  1. বাংলার মাটি বাংলার জল
  2. তবক দেওয়া পান
  3. চুনিয়া আমার আর্কেডিয়া
  4. রৌদ্র প্রতিধ্বনি
সঠিক উত্তর:
বাংলার মাটি বাংলার জল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাংলার মাটি বাংলার জল
ব্যাখ্যা
• ‘বাংলার মাটি বাংলার জল’ নির্মলেন্দু গুণ রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ।

উল্লেখ্য
• 'বাংলার মাটি বাংলার জল' নামে সৈয়দ শামসুল হক রচিত একটি কাব্যনাট্য রয়েছে।
• 'বাংলার মাটি, বাংলার জল' নামে সনেটটি রচনা করেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

অন্যদিকে,
• রফিক আজাদের তৃতীয় কাব্যগ্রন্থ ‘চুনিয়া আমার আর্কেডিয়া’।

----------------------
• নির্মলেন্দু গুণ:
- নির্মলেন্দু গুণ ১৯৪৫ সালে নেত্রকোনার বারহাট্টার কাশবন গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- নির্মলেন্দু গুণ এর সম্পূর্ণ নাম ‘নির্মলেন্দু প্রকাশ গুণ চৌধুরী’।
- বাংলাদেশের কবিদের কবি বলা হয় নির্মলেন্দু গুণ কে।
- তাঁকে ১৯৮২ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।
- এছাড়া ১৯৮২ সালেই আলাওল সাহিত্য পুরস্কার, ২০০১ সালে একুশে পদক প্রদান করা হয়।

নির্মলেন্দু গুণ রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো হলো:
- প্রেমাংশুর রক্ত চাই,
- না প্রেমিক না বিপ্লবী,
- বাংলার মাটি বাংলার জল,
- কবিতা অমীমাংসিত রমণী,
- দীর্ঘ দিবস দীর্ঘ রজনী,
- চৈত্রের ভালোবাসা,
- তার আগে চাই সমাজতন্ত্র,
- চাষাভুষার কাব্য,
- দূর হ দু্ঃশাসন,
- প্রথম দিনের সূর্য,
- নিরঞ্জনের পৃথিবী,
- নেই কেন সে পাখি,
- মুজিব-লেনিন-ইন্দিরা,
- চিরকালের বাঁশি,
- শিয়রে বাংলাদেশ,
- দুঃখ করো না, বাঁচো ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,১২১.
কাজী ইমদাদুল হকের শিশুতোষ গ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) আঁখিজল
  2. খ) নবীকাহিনী
  3. গ) প্রবন্ধমালা
  4. ঘ) আবদুল্লাহ
সঠিক উত্তর:
খ) নবীকাহিনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) নবীকাহিনী
ব্যাখ্যা
- কাজী ইমদাদুল হক একজন শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক।
- তিনি ১৮৮২ সালের ৪ নভেম্বর খুলনা জেলার গোদাইপুর গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- তিনি কবিতা, উপন্যাস, প্রবন্ধ, শিক্ষা ও নীতিমূলক শিশুসাহিত্য রচনায় খ্যাতি অর্জন করেন।
- ১৯২০ সালের মে মাসে ইমদাদুল হকের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় শিক্ষাবিষয়ক মাসিক পত্রিকা ‘শিক্ষক’।
- উপন্যাস- ‘আবদুল্লাহ’ (১৯২৬ সালের ২০ মার্চ কাজী ইমদাদুল হক মৃত্যুবরণ করলে অধ্যাপক কাজী আনােয়ারুল কাদির মূল লেখকের খসড়া অবলম্বনে অসমাপ্ত উপন্যাসটির ১১টি পরিচ্ছেদ রচনা করেন এবং উপন্যাসটি ১৯৩৩ সালে প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসটিতে চিত্রিত হয়েছে গ্রামীণ মুসলিম সমাজের পিরভক্ত, ধর্মীয় কুসংস্কার, পর্দাপ্রথা, আশরাফ-আতরাফ বৈষম্য, হীন স্বার্থপরতা সম্প্রদায়বিদ্বেষ ইত্যাদির বিরুদ্ধে মানবতাবাদী প্রতিবাদ।

কাব্য- আঁখিজল (১৯০০), লতিকা।
প্রবন্ধ- প্রবন্ধমালা (১৯১৮)।
শিশুতোষ গ্রন্থ- নবীকাহিনী (১৯১৭)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,১২২.
‘অভিশপ্ত নগরী' উপন্যাসটি কার রচনা?
  1. সত্যের সেন
  2. যতীন্দ্রমোহন বাগচী
  3. সমরেশ বসু
  4. রণেশ দাশগুপ্ত
সঠিক উত্তর:
সত্যের সেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সত্যের সেন
ব্যাখ্যা
⇒ ‘অভিশপ্ত নগরী' উপন্যাস:
• বাইবেলের ‘বুক অব দ্য প্রফেট: যেরেমিয়া খণ্ড' অবলম্বনে অভিশপ্ত নগরী (১৯৬৭) রচিত।
• বাংলাদেশের বাংলা সাহিত্যে সত্যেন সেনই প্রথম ব্যক্তিত্ব যিনি বাইবেলের কোনো কাহিনিকে আশ্রয় করে উপন্যাস রচনা করেন। তবে এটা কোন ধর্মকথার প্রলম্বিত রূপ নয়।
• বাইবেলের কাহিনিকে আশ্রয় করে রাজতন্ত্র ও পুরোহিততন্ত্রের মধ্যে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব এবং সেই দ্বন্দ্বে মেহনতি মানুষের প্রতিবাদ ও বিদ্রোহ রূপায়ণে সত্যেন সেন সফল।
• উপন্যাসে যেরেমিয়া, রাজা যিহোয়াকিম, নেবুকাডনাজার প্রমুখ ঐতিহাসিক চরিত্রের উল্লেখ আছে। জীবনের প্রবহমাণ ধারা রূপ দিতে গিয়ে মহাকাব্যিক ভাষারীতি ও অলঙ্কার গৃহীত হয়েছে এই উপন্যাসে।

==========
• সত্যেন সেন:
- সত্যেন সেন ১৯০৭ সালে বিক্রমপুরের সোনারঙ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি মূলত সাহিত্যিক ও রাজনীতিবিদ ছিলেন। 
- তিনি ১৯৬৮ সালে 'উদীচী' নামে একটি সাংস্কৃতিক সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন। 
- তিনি ১৯৭০ সালে উপন্যাসে বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন। 

• তাঁর রচিত উপন্যাস হলো:
- ভোরের বিহঙ্গী, 
- অভিশপ্ত নগরী,
- পাপের সন্তান,
- রুদ্ধদ্বার মুক্তপ্রাণ,
- পদচিহ্ন,
- আলবেরুনী,
- সাত নম্বর ওয়ার্ড ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত ইতিহাসগ্রন্থ হলো: 
- মহাবিদ্রোহের কাহিনী,
- প্রতিরোধ সংগ্রামে বাংলাদেশ,
- বাংলাদেশের কৃষকের সংগ্রাম ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত শিশুসাহিত্য গ্রন্থ:
- পাতাবাহার,
- অভিযাত্রী ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,১২৩.
গৌড়ীয় বাংলা ব্যাকরণ রচনা করেন কে?
  1. ইশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  2. রামনারায়ণ তর্করত্ন
  3. রাজা রামমোহন রায়
  4. রামরাম বসু
সঠিক উত্তর:
রাজা রামমোহন রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজা রামমোহন রায়
ব্যাখ্যা

রাজা রামমোহন রায় ১৮৩৩ সালে বাংলা প্রথম ব্যাকরণ (গৌড়ীয় ব্যাকরণ) গ্রন্থ রচনা করেন ।
এটি কোন বাঙালি রচিত প্রথম বাংলা ব্যাকরণ ।

রাজা রামমোহন রায় ছিলেন একাধারে সমাজ, শিক্ষা ও ধর্ম সংস্কারক ।
সতীদাহ প্রথা নিষিদ্ধকরণে তিনি জোর প্রচারণা চালান ।

তার রচিত অন্যান্য গ্রন্থ:
- বেদান্ত গ্রন্থ
- বেদান্তসার
- পথ্য প্রদান
- গোস্বামীর সহিত বিচার ( সতীদাহ প্রথার অযৌক্তিকতা প্রসঙ্গে)

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ( ড. সৌমিত্র শেখর)

৪,১২৪.
মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক প্রথম উপন্যাস কোনটি?
  1. নিষিদ্ধ লোবান
  2. রাইফেল রোটি আওরাত
  3. রেইনকোর্ট
  4. ওঙ্কার
সঠিক উত্তর:
রাইফেল রোটি আওরাত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাইফেল রোটি আওরাত
ব্যাখ্যা

• 'রাইফেল রোটি আওরাত' উপন্যাস:
- আনোয়ার পাশা রচিত 'রাইফেল রোটি আওরাত' একটি মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস।
- উপন্যাসটির রচনাকাল ১৯৭১ সালের এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত। মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক প্রথম উপন্যাস এটি।
- আনোয়ার পাশা রচিত 'রাইফেল রোটি আওরাত' উপন্যাসটি ১৯৭৩ সালে প্রকাশিত হয়।
- অধ্যাপক সুদীপ্ত শাহীন এই উপন্যাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র।

এই উপন্যাসের অন্যান্য চরিত্রগুলো হচ্ছে: 
​- ড. খালেক, 
​- ড. মালেক, 
​- ছাবেদ আলী,
​- হাসমত, 
​- জামাল সাহেব প্রমুখ।

অন্যদিকে, 
- নিষিদ্ধ লোবান' (১৯৮১)- মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে সৈয়দ শামসুল হক রচিত অন্যতম একটি উপন্যাস। 
- রেইনকোর্ট- আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক একটি গল্প।
- ওঙ্কার উপন্যাসটি মূলত ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের পটভূমিতে লেখা হয়েছে। আহমদ ছফা রচিত ওঙ্কার উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৭৫ সালে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৪,১২৫.
আহমদ ছফা রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) তানিয়া
  2. খ) গো হাকিম
  3. গ) সূর্য তুমি সাথী
  4. ঘ) গাভী বিত্তান্ত
সঠিক উত্তর:
খ) গো হাকিম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) গো হাকিম
ব্যাখ্যা
'গো হাকিম' আহমদ ছফা রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ।
- তাঁর অপর একটি শিশুতোষ গ্রন্থ - দোলা আমার কনক চাঁপা।

• আহমদ ছফা রচিত উপন্যাস:
- সূর্য তুমি সাথী,
- ওঙ্কার,
- মরণবিলাস,
- গাভী বিত্তান্ত,
- অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী,
- বিহঙ্গ পুরাণ,
- একজন আলী কেনানের উত্থান-পতন।

তানিয়া - অনুবাদ গ্রন্থ

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,১২৬.
১৯৪৬ খ্রিষ্টাব্দে সংঘটিত সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার প্রেক্ষাপটে রচিত নাটক কোনটি?
  1. মানুষ
  2. কবর
  3. দণ্ডকারণ্য
  4. মুখরা রমণী বশীকরণ
সঠিক উত্তর:
মানুষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মানুষ
ব্যাখ্যা
মানুষ' নাটক:
• 'মানুষ' (১৯৪৭) এক দৃশ্য বিশিষ্ট মুনীর চৌধুরী রচিত নাটক। ১৯৪৬ খ্রিষ্টাব্দে সংঘটিত সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার প্রেক্ষাপটে নাটকটি রচিত।
• মানুষ নাটকের চরিত্রাবলি: ফরিদ, জুলেখা, বাবা, মা, ডাক্তার।

কাহিনি সংক্ষেপ:
এক হিন্দু তরুণ ডাক্তার আত্মরক্ষার জন্য এক মুসলিম বাড়িতে প্রবেশ করে। সে বাড়িতে একজন অসুস্থ, অন্য একজন দাঙ্গায় মারা গেছে। ডাক্তার রোগীকে চিকিৎসা দেয়। এ সময় হিন্দু ডাক্তারের খোঁজে মুসলিম দাঙ্গাকারীরা ঘরে প্রবেশ করে। তখন গৃহকর্ত্রী মশারির নিচে অসুস্থ সন্তানের পাশে ডাক্তারকে আড়াল করে তার জীবন রক্ষা করে। এভাবেই মানুষ বা মানবতা বড় হয়ে দেখা দেয়।

অন্যদিকে,
• 'কবর' নাটকের পটভূমি হলো ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন
• ‘দণ্ডকারণ্য’ পৌরাণিক আবহে রচিত নাটক।
• ‘মুখরা রমণী বশীকরণ’ শেক্সপিয়রের গ্রন্থের অনুবাদকৃত একটি কমেডি নাটক।

-------------------------
• মুনীর চৌধুরী:

- মুনীর চৌধুরী ছিলেন একজন বাংলাদেশি শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্য সমালোচক ও বাগ্মী।
- ১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর মানিকগঞ্জ শহরে তাঁর জন্ম।
- মুনীর চৌধুরী শিক্ষা ও পেশাগত জীবনে বামপন্থী রাজনীতি ও প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
- ‘মুনীর অপটিমা’ তাঁর উদ্ভাবিত বাংলা টাইপ-রাইটিং।

মুনীর চৌধুরীর মৌলিক নাটক:
- রক্তাক্ত প্রান্তর,
- চিঠি,
- কবর,
- মানুষ,
- দণ্ডকারণ্য।

অনুবাদ নাটক:
- কেউ কিছু বলতে পারে না,
- রূপার কৌটা ও
- মুখরা রমণী বশীকরণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,১২৭.
“চাচা কাহিনীর” লেখক কে?
  1. ক) সৈয়দ শামসুল হক
  2. খ) মুজতবা আলী
  3. গ) শওকত ওসমান
  4. ঘ) ফররুখ আহমেদ
সঠিক উত্তর:
খ) মুজতবা আলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মুজতবা আলী
ব্যাখ্যা

- সৈয়দ মুজতবা আলী একজন বাঙালি সাহিত্যিক ও শিক্ষাবিদ।
গ্রন্থাকারে তাঁর মোট ত্রিশটি উপন্যাস, গল্প, প্রবন্ধ ও ভ্রমণকাহিনী প্রকাশিত হয়েছে। সেগুলির মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হলো:

ভ্রমণ কাহিনীঃ
- দেশে বিদেশে
- জলে ডাঙ্গায়

রম্যরচনাঃ
- পঞ্চতন্ত্র,
- ময়ূরকণ্ঠী

ছোটগল্পঃ
- চাচা কাহিনী,
- টুনি মেম।

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া এবং লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

৪,১২৮.
'সিরাজাম মুনীরা'- কোন ভাষায় রচিত গ্রন্থ?
  1. ক) বাংলা
  2. খ) ফারসি
  3. গ) আরবি
  4. ঘ) উর্দু
সঠিক উত্তর:
ক) বাংলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) বাংলা
ব্যাখ্যা
- 'সিরাজাম মুনীরা'- বাংলা ভাষায় রচিত।

• ফররুখ আহমদ:

- তিনি ১৯১৮ সাল মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানায় জন্মগ্রহণ করেন। 
- ১৯৪৪ সালে কলকাতার দুর্ভিক্ষের পটভূমিতে ‘লাশ’ কবিতা লিখে তিনি প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন। 
- তিনি ছিলেন মুসলিম পুনর্জাগরণবাদী কবি।
- তাঁর কাব্যের মৌলিক প্রবণতা মুসলিম সংস্কৃতির গৌরবকীর্তন ও জাতীয় চেতনার পুনর্জাগরণ।
- পাকিস্তানবাদ, ইসলামিক আদর্শ ও আরব-ইরানের ঐতিহ্য তাঁর কবিতায় উজ্জ্বলভাবে ফুটে উঠেছে।
- বাংলা ভাষায় আরবি-ফারসি শব্দের প্রয়োগনৈপুণ্য এবং বিষয়বস্ত্ত ও আঙ্গিকের অভিনবত্বে তাঁর কবিতা এক বিশেষ মর্যাদা লাভ করেছে।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্য:
- সাত সাগরের মাঝি 
- সিরাজাম মুনিরা
- নৌফেল ও হাতেম 
- মুহূর্তের কবিতা
- হাতেমতায়ী 
- হাবেদা মরুর কাহিনী  ইত্যাদি।

• তাঁর শিশুতোষ রচনা:
- পাখির বাসা 
- হরফের ছড়া 
- ছড়ার আসর  ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,১২৯.
'বাংলাদেশ কথা কয়' গ্রন্থটির সম্পাদনা করেন-
  1. ক) আবুল কালাম শামসুদ্দীন
  2. খ) আবুল মনসুর আহমদ
  3. গ) আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
  4. ঘ) আবু জাফর শামসুদ্দীন
সঠিক উত্তর:
গ) আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
ব্যাখ্যা

• 'বাংলাদেশ কথা কয়' গ্রন্থটির সম্পাদনা করেন আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী।
• তাঁর রচিত উপন্যাসঃ
- চন্দ্রদ্বীপের উপাখ্যান,
- নাম না জানা ভোর,
- নীল যমুনা,
- শেষ রাত্রির চাঁদ।
• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থঃ
- কৃষ্ণপক্ষ,
- সম্রাটের ছবি,
- সুন্দর হে সুন্দর।
• তাঁর রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ- ডানপিটে শওকত।
• 'আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো/ একুশে ফেব্রুয়ারী/ আমি কি ভুলিতে পারি' তাঁর রচিত কালজয়ী গান।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৪,১৩০.
সুধীন্দ্রনাথ দত্ত কোন দশকের কবি ছিলেন?
  1. বিশের দশক
  2. তিরিশের দশক
  3. চল্লিশের দশক
  4. আশির দশক
সঠিক উত্তর:
তিরিশের দশক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তিরিশের দশক
ব্যাখ্যা

সুধীন্দ্রনাথ দত্ত:
- তিনি ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক ও পত্রিকা সম্পাদক।
- ১৯০১ সালের ৩০ অক্টোবর কলকাতার হাতীবাগানে তাঁর জন্ম।
- ত্রৈমাসিক 'পরিচয়' পত্রিকা সম্পাদনা করে তিনি অমর হয়ে আছেন।

উল্লেখ্য,
- সুধীন্দ্রনাথ দত্ত ছিলেন ত্রিশের দশকের রবীন্দ্রকাব্যধারার বিরোধী খ্যাতিমান কবিদের অন্যতম।
- ফরাসি কবি মালার্মের প্রতীকী কাব্যাদর্শ তিনি অনুসরণ করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- তন্বী,
- অর্কেষ্ট্রা,
- উত্তরফাল্গুনী,
- সংবর্ত ইত্যাদি।

তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- স্বগত,
- কুলায় ও কালপুরুষ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৪,১৩১.
অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামানের রচিত গ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. ক) কাল নিরবধি 
  2. খ) আঠারো শতকের বাংলা চিঠি
  3. গ) বাঙালি নারী: সাহিত্য ও সমাজে
  4. ঘ) হারানো অর্কিড
সঠিক উত্তর:
ঘ) হারানো অর্কিড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) হারানো অর্কিড
ব্যাখ্যা
লেখক আনিসুজ্জামান  এর প্রকৃত নাম এ.টি.এম. আনিসুজ্জামান।
- ১৯৬২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে 'ইংরেজি আমলের বাংলা সাহিত্যে বাঙালি মুসলমানের চিন্তাধারা' শিরোনামে ডক্টরেট লাভ করেন। 
তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের নাম:
- স্বরূপের সন্ধানে 
- আঠারো শতকের বাংলা চিঠি 
- বাঙালি নারী: সাহিত্য ও সমাজে 
- কাল নিরবধি 

- 'হারানো অর্কিড' অমিয় চক্রবর্তীর কাব্যগ্রন্থ

[উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর]
৪,১৩২.
"উত্তরাধিকার" কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. সুফিয়া কামাল
  2. নির্মলেন্দু গুণ
  3. অন্নদাশঙ্কর রায়
  4. শহীদ কাদরী
সঠিক উত্তর:
শহীদ কাদরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শহীদ কাদরী
ব্যাখ্যা

- শহীদ কাদরী স্বাধীন বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় একজন আধুনিক কবি।
বাংলা কবিতার পঞ্চাশ দশকের সর্বোচ্চ সম্ভাবনা ও সাফল্য দেখা যায় তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ উত্তরাধিকারে।
তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো হলো-
- উত্তরাধিকার (প্রথম),
- তোমাকে অভিবাদন প্রিয়তমা,
- কোথাও কোনো ক্রন্দন নেই,
- আমার চুম্বনগুলো পৌঁছে দাও।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৪,১৩৩.
'নুরুল হুদা' আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত কোন গল্পের চরিত্র?
  1. খোঁয়ারি
  2. রেইনকোট
  3. দোজখের ওম
  4. দুধেভাতে উৎপাত
সঠিক উত্তর:
রেইনকোট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রেইনকোট
ব্যাখ্যা

• 'রেইনকোট' ছোটগল্প:
- আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত 'রেইনকোট' একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ছোটগল্প।
- রেইনকোট ছোটগল্পটিতে মনস্তাত্ত্বিক ব্যাপার থাকলেও এটি মূলত প্রতীকী গল্প। 'রেইনকোট' গল্পটি ১৯৯৫ সালে প্রকাশিত হয়।
- মুক্তিযোদ্ধা শ্যালকের রেইনকোট গায়ে দিয়ে ভীতু প্রকৃতির নুরুল হুদার মধ্যে সঞ্চারিত হয় যে উষ্ণতা, সাহস ও দেশপ্রেম-তারই ব্যঞ্জণাময় প্রকাশ ঘটেছে এ গল্পে।
- এটি লেখকের সর্বশেষ গল্পগ্রন্থ 'জাল স্বপ্ন স্বপ্নের জাল' (১৯৯৭) গ্রন্থে সংকলিত হয়।
- 'জাল স্বপ্ন স্বপ্নের জাল' আক্তারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত সংকলনের বিভিন্ন গল্পে পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষভাবে মুক্তিযুদ্ধ এবং যুদ্ধ-পরবর্তী রাজনৈতিক এবং সামাজিক বাস্তবতার চিত্র ফুটে উঠেছে।

অন্যদিকে,
• আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত গল্পগ্রন্থ- খোঁয়ারি (১৯৮২), দুধেভাতে উৎপাত (১৯৮৫) ও দোজখের ওম (১৯৮৯)। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৪,১৩৪.
'তীর্থসলিল' সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের কোন ধরণের রচনা? 
  1. নাটক
  2. অনুবাদকাব্য
  3. উপন্যাস
  4. প্রবন্ধ
সঠিক উত্তর:
অনুবাদকাব্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুবাদকাব্য
ব্যাখ্যা

• 'তীর্থসলিল' সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের একটি অনুবাদকাব্য। 

সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত:
- সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত ছিলেন একজন কবি ও ছান্দসিক।
- তিনি ১৮৮২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি কলকাতার নিকটবর্তী নিমতা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা রজনীনাথ দত্ত ছিলেন কলকাতার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী এবং পিতামহ অক্ষয়কুমার দত্ত ছিলেন তত্ত্ববোধিনী পত্রিকার সম্পাদক।
- সত্যেন্দ্রনাথ ছিলেন ভারতী পত্রিকাগোষ্ঠীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কবি।
- বাংলা ভাষার নিজস্ব বাগধারা ও ধ্বনি ব্যবহার করে নতুন ছন্দ সৃষ্টিই তাঁর কবিপ্রতিভার মূল কীর্তি।
- এজন্য তাঁকে সাধারণভাবে 'ছন্দের জাদুকর' ও 'ছন্দের রাজা' নামে পরিচিতি দেওয়া হয়েছে।
- ১৯১৮ সালে ভারতী পত্রিকার বৈশাখ সংখ্যায় তাঁর ছন্দ সম্পর্কিত প্রসিদ্ধ রচনা ছন্দ-সরস্বতী প্রকাশিত হয়।
- সত্যেন্দ্রনাথ একাধিক ছদ্মনামে কাব্যচর্চা করতেন, যেমন নবকুমার, কবিরত্ন, অশীতিপর শর্মা, ত্রিবিক্রম বর্মণ, কলমগীর ইত্যাদি।
- তিনি ১৯২২ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি মৃত্যুবরণ করেন।
- তাঁর মৃত্যুতে কাজী নজরুল ইসলাম সত্যেন-প্রয়াণ কবিতা রচনা করেন।

প্রধান কাব্যগ্রন্থ:
- সবিতা,
- সন্ধিক্ষণ,
- বেণু ও বীণা,
- কুহু ও কেকা,
- অভ্র আবীর,
- হসন্তিকা,
- বেলা শেষের গান,
- বিদায় আরতি,
- কাব্যসঞ্চয়ন। 

অনুবাদকাব্য:
- তীর্থসলিল,
- তীর্থরেণু,
- মণি মঞ্জুষা। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস মাহবুবুল আলম। 

৪,১৩৫.
'আলালী রীতি'র প্রবর্তক কে?
  1. ক) বীরবল
  2. খ) টেকচাঁদ ঠাকুর
  3. গ) কালীপ্রসন্ন সিংহ
  4. ঘ) প্রেমেন্দ্র মিত্র
সঠিক উত্তর:
খ) টেকচাঁদ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) টেকচাঁদ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
'আলালী রীতি'র প্রবর্তক প্যারীচাঁদ মিত্র
- টেকচাঁদ ঠাকুর তাঁর ছদ্মনাম।
- সাহিত্যক্ষেত্রে প্যারীচাঁদের সর্বশ্রেষ্ঠ কৃতিত্ব আলালের ঘরের দুলাল যা বাংলা সাহিত্যের প্রথম  উপন্যাস হিসেবে খ্যাত।
- রচনারীতি ও ভাষাগত দিক থেকে এ উপন্যাস বাংলা সাহিত্যে নতুন ধারার সূচনা করে।
- এ উপন্যাসে প্যারীচাঁদ প্রথমবারের মতো বাংলা সাহিত্যের প্রচলিত গদ্যরীতির নিয়ম ভেঙ্গে চলিত ভাষারীতি প্রয়োগ করেন।
- সাধারণ মানুষের মুখে ব্যবহূত কথ্য ভাষা আলালের ঘরের দুলাল উপন্যাসের এক বিশেষ বৈশিষ্ট্য।

তাঁর উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্ম
- আলালের ঘরের দুলাল (১৮৫৭),
- মদ খাওয়া বড় দায় জাত থাকার কি উপায় (১৮৫৯),
- রামারঞ্জিকা (১৮৬০), কৃষিপাঠ (১৮৬১),
- ডেভিড হেয়ারের জীবনচরিত (১৮৭৮) এবং
- বামাতোষিণী (১৮৮১)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,১৩৬.
'লালসালু' উপন্যাসটি কত সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৯৪৪ সালে 
  2. ১৯৪৮ সালে 
  3. ১৯৫৯ সালে 
  4. ১৯৫৩ সালে 
সঠিক উত্তর:
১৯৪৮ সালে 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৪৮ সালে 
ব্যাখ্যা

'লালসালু' উপন্যাস:
• 'লালসালু' সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ রচিত উপন্যাস। ১৯৪৮ সালে কলকাতা থেকে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত।

• উপন্যাসে রূপায়িত হয়েছে অসংখ্য গ্রামীণ মানুষের জীবন। নোয়াখালি অঞ্চল থেকে মজিদ নামের একটি কূটচরিত্র গারোপাহাড়ি অঞ্চলে গিয়ে সেই এলাকার মানুষকে ধর্মের নামে কীভাবে শোষণ করে, সেই বাস্তব চিত্র আছে উপন্যাসটিতে।

• ধর্ম ব্যবসায়ী মজিদ অর্থ ও প্রভাব বৃদ্ধির সঙ্গে অল্পবয়সী দ্বিতীয় স্ত্রী গ্রহণ করে। সে গ্রামের মোড়লদেরও প্রভাবিত করে। পাশের গ্রামে অন্য পিরের আগমন হলে, নিজের দাপট খর্ব হবে বিবেচনায়, তাকে মারধর দিয়ে উচ্ছেদ করে। তবে স্বল্পবয়সী স্ত্রী জমিলা কর্তৃক মজিদ লাঞ্ছিত হয়। উপন্যাসে জমিলা বিদ্রোহিণী, প্রতিবাদের প্রতীক।

• 'লালসালু'র একটি বহুমাত্রিক ও কালোত্তীর্ণ উপন্যাস। ঔপন্যাসিক ধর্মব্যবসায়ীদের উপলক্ষ করে লিখেছেন: 'খোদার এলেমে বুক ভরে না তলায় পেট শূন্য বলে।'
• উপন্যাসটি 'Tree Without Roots' নামে ইংরেজিতে অনূদিত হয়ে (১৯৬৭) খ্যাতি অর্জন করে।
• ওয়ালীউল্লাহর পত্নী অ্যান মেরির 'লালসালু'র ফরাসি অনুবাদের নাম- ল্য অরবরে সামস মায়েমে (১৯৬১)।

উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- মজিদ,
- খালেক ব্যাপারি,
- জমিলা,
- রহিমা,
- আমেনা,
- আক্কাস,
- তাহেরের বাপ,
- হাসুনির মা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং 'লালসালু' উপন্যাস।

৪,১৩৭.
'কাঞ্চনগ্রাম' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. ক) শামসুদ্দিন আবুল কালাম
  2. খ) হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
  3. গ) শহীদুল্লাহ কায়সার
  4. ঘ) সৈয়দ শামসুল হক
সঠিক উত্তর:
ক) শামসুদ্দিন আবুল কালাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) শামসুদ্দিন আবুল কালাম
ব্যাখ্যা
'কাঞ্চনগ্রাম' উপন্যাসের রচয়িতা- শামসুদ্দিন আবুল কালাম। তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাস- জায়জঙ্গল, দুই মহল, আলমনগরের উপকথা, কাশবনের কন্যা, নবান্ন, জায়জঙ্গল, সমুদ্রবাসর ও কাঞ্চনমালা ইত্যাদি।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৪,১৩৮.
'শবনম' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. সৈয়দ মুজতবা আলী
  2. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
  3. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. মীর মশাররফ হোসেন
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ মুজতবা আলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ মুজতবা আলী
ব্যাখ্যা
• 'শবনম' উপন্যাসের রচয়িতা সৈয়দ মুজতবা আলী।

• সৈয়দ মুজতবা আলী:

- তিনি ছিলেন শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক।
- ১৯০৪ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর পিতার কর্মস্থল শ্রীহট্ট (সিলেট) জেলার করিমগঞ্জে তিনি জন্মগ্রহণ করেন, কিন্তু তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল মৌলভীবাজারের উত্তরসুর গ্রামে।
- তিনি কাজী নজরুল ইসলামের 'রুবাইয়াৎ-ই-ওমর খৈয়াম' গ্রন্থের ভূমিকা লিখেন।
- ১৯৭৪ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- অবিশ্বাস্য,
- শবনম।

• তাঁর রচিত রম্য-রচনা:
- পঞ্চতন্ত্র,
- ময়ূরকণ্ঠী।

• তাঁর রচিত ছোটগল্পগ্রন্থ:
- চাচা-কাহিনী,
- টুনি মেম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৪,১৩৯.
‘ভেড়াকান্ত' চরিত্রটি মীর মশাররফ হোসেন রচিত কোন আত্মজীবনীমূলক রচনার অন্তর্ভুক্ত?
  1. আমার জীবনী
  2. উদাসীন পথিকের মনের কথা
  3. গাজী মিয়াঁর বস্তানী
  4. কুলসুম জীবনী
সঠিক উত্তর:
গাজী মিয়াঁর বস্তানী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গাজী মিয়াঁর বস্তানী
ব্যাখ্যা
♦ গাজী মিয়াঁর বস্তানী:
- 'গাজী মিয়াঁর বস্তানী' মীর মশাররফ হোসেনের কর্মজীবন নির্ভর আত্মজীবনীমূলক রচনা।
- লেখক ব্যঙ্গের মাধ্যমে সমাজের অন্যায়, অনাচার, সামাজিক দুর্নীতি এবং সেই সমাজভুক্ত মানুষগুলাের নৈতিক অধঃপতন, মনুষ্যত্ব ও হৃদয়হীন আচরণ তুলে ধরেছেন এ গ্রন্থে।
- লেখক নিজেকে ‘ভেড়াকান্ত' নামে উল্লেখ করেছেন।
- তাছাড়া আলকাতরা সান্যাল, কটা পেস্কার, জয়ঢাক, ছিড়িয়া খাতুন, অরাজকপুর, নচ্ছারপুর, জমদ্বারগ্রাম ইত্যাদি নামচয়নের মধ্যেও লেখকের ব্যঙ্গের তীব্রতা লক্ষ করা যায়।

⇒ মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- মশাররফ হোসেন ছাত্রাবস্থায় সংবাদ প্রভাকর ও কুমারখালির গ্রামবার্তা প্রকাশিকা-র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন।
- তিনি আজিজননেহার ও হিতকরী নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- মীর মশাররফ ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম:
• নাটক:
- বসন্তকুমারী, 
- জমীদার দর্পণ, 
- বেহুলা গীতাভিনয়,
- টালা অভিনয়।

• উপন্যাস:
- বিষাদ-সিন্ধু।

• আত্মজীবনীমূলক রচনা:
- উদাসীন পথিকের মনের কথা, 
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী,
- আমার জীবনী,
- কুলসুম জীবনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,১৪০.
"আমার পূর্ব বাংলা" কবিতাটির লেখক কে?
  1. শামসুর রাহমান
  2. সৈয়দ আলী আহসান
  3. হাসান হাফিজুর রহমান
  4. আহসান হাবীব
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ আলী আহসান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ আলী আহসান
ব্যাখ্যা
• সৈয়দ আলী আহসানের একটি বিখ্যাত কবিতা - ‘আমার পূর্ব বাংলা'।

• সৈয়দ আলী আহাসান:
- সৈয়দ আলী আহাসান বাংলাদেশে একজন খ্যাতনামা সাহিত্যিক, কবি, সাহিত্য সমালোচক, অনুবাদক প্রাবন্ধিক ও শিক্ষাবিদ ছিলেন।
- তিনি বাংলাদেশের জাতীয় অধ্যাপক ছিলেন।
- তিনি বাংলাদেশের জাতীয় সংগীতের ইংরেজি অনুবাদক।
- 'বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত' (আধুনিক যুগ) প্রবন্ধগ্রন্থের রচয়িতা সৈয়দ আলী আহসান। তিনি মুহম্মদ আবদুল হাইয়ের সাথে একত্রে গ্রন্থটি প্রকাশ করেন।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- অনেক আকাশ,
- একক সন্ধ্যায় বসন্ত,
- সহসা সচকিত,
- আমার প্রতিদিনের শব্দ,
- চাহার দরবেশ ও অন্যান্য কবিতা,
- সমুদ্রেই যাব,
- রজনীগন্ধা ইত্যাদি।

আমার পূর্ব বাংলা- কবিতার অংশবিশেষ;
সৈয়দ আলী আহসান

আমার পূর্ব-বাংলা এক গুচ্ছ স্নিগ্ধ/ অন্ধকারের তমাল
অনেক পাতার ঘনিষ্ঠতায়/ একটি প্রগাঢ় নিকুঞ্জ
নিকুঞ্জের তমাল কনক-লতায় ঘেরা
রাশি রাশি ধান মাটি আর পানির/ কেমন নিশ্চেতন করা গন্ধ
কত দশা বিরহিণীর- এক দুই তিন/ দশটি (বৈষ্ণব কবিতায় বর্ণিত রাধার বিরহের দশটি অবস্থার প্রতি কবি ইঙ্গিত করেছেন।)

উল্লেখ্য,
কবিতাটি লেখকের ''একক সন্ধ্যায় বসন্ত'' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, আমার পূর্ব বাংলা- কবিতা, বাংলাপিডিয়া।
৪,১৪১.
‘জীবনক্ষুধা’ উপন্যাসের লেখক কে?
  1. আবুল মনসুর আহমদ
  2. হাসান আজিজুল হক
  3. আলাউদ্দিন আল আজাদ 
  4. আল মাহমুদ 
সঠিক উত্তর:
আবুল মনসুর আহমদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবুল মনসুর আহমদ
ব্যাখ্যা

• ‘জীবনক্ষুধা’ উপন্যাস:
- আবুল মনসুর আহমদের ‘জীবনক্ষুধা’ রচনার দিক থেকে প্রথম হলেও প্রকাশের দিক থেকে তাঁর দ্বিতীয় উপন্যাস।
- হালিম চরিত্রের মাধ্যমে লেখক এ উপন্যাসে বাঙালি মুসলমান সম্প্রদায়ের জীবনের উচ্চাকাঙ্ক্ষা এবং উচ্চাশার স্বরূপ ফুটিয়ে তুলেছেন।
- উচ্চবিত্ত হওয়ার স্বপ্নে বিভোর হয়ে এক তরুণের আদর্শচ্যুতির বর্ণনার পাশাপাশি একটা সময়ের বাঙালি মুসলমান সমাজের ধারাবাহিক গল্প এখানে বর্ণিত হয়েছে।

------------------------
• আবুল মনসুর আহমদ:
- আবুল মনসুর আহমদ সাংবাদিক, আইনজীবী, রাজনীতিবিদ, সাহিত্যিক।
- ১৮৯৮ সালে ময়মনসিংহে জন্মগ্রহণ করেন।
- আবুল মনসুর আহমদ বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন দলীয় রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকলেও বিদ্রুপাত্মক রচনার লেখক হিসেবেই তিনি সমধিক পরিচিত।

• আবুল মনসুর আহমেদ রচিত গল্পগ্রন্থ:
- ফুড কনফারেন্স
- আয়না,
- আসমানী পর্দা।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- সত্য মিথ্যা,
- জীবনক্ষুধা,
- আবে হায়াত।

আত্মচরিত: আত্মকথা। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং প্রথম আলো রিপোর্টস। 

৪,১৪২.
মামুনুর রশীদ রচিত নাটক - 
  1. ওরা কদম আলী
  2. চারদিকে যুদ্ধ
  3. এখনো ক্রীতদাস
  4. কোকিলারা
সঠিক উত্তর:
ওরা কদম আলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ওরা কদম আলী
ব্যাখ্যা

'ওরা কদম আলী' নাটক:
- প্রখ্যাত নাট্যকার মামুনুর রশীদ রচিত নাটক ওরা কদম আলী। ১৯৭৮ সালে নাটকটি প্রকাশিত হয়।
- শোষিত- নিপীড়িত, বঞ্চিত মানুষের সংগ্রামের রূপকার হিসেবে রচিত 'ওরা কদম আলী' নাটক।
- গরিব ও মেহনতি মানুষের ব্যাক্তিক প্রতিবাদ সামষ্টিক রূপ কিভাবে পরিগ্রহ করে কদম আলী নামের একটি বোবা চরিত্রের মধ্যে দিয়ে এ নাটকে তা দেখানো হয়েছে।

অন্যদিকে,
আব্দুল্লাহ আল মামুন রচিত বিখ্যাত নাটক - চারদিকে যুদ্ধ, এখনো ক্রীতদাস, কোকিলারা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া।

৪,১৪৩.
"একটি কথার দ্বিধাথরথর চুড়ে
ভর করেছিল সাতটি অমরাবতী" কোন কাব্যের অন্তর্গত?
  1. ক) অর্কেস্ট্রা
  2. খ) ক্রন্দসী
  3. গ) শাশ্বতী
  4. ঘ) তন্বী
সঠিক উত্তর:
গ) শাশ্বতী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) শাশ্বতী
ব্যাখ্যা
‘অর্কেস্ট্রা’ (১৯৩৫) কাব্যগ্রন্থের ‘শাশ্বতী’ কবিতায় সুধীন্দ্রনাথ দত্ত উক্ত উক্তিটি ব্যক্ত করেছেন।

কবিতাটি নিম্নরূপ-

একদা এমনই বাদলশেষের রাতে—
মনে হয় যেন শত জনমের আগে—
সে এসে সহসা হাত রেখেছিল হাতে,
চেয়েছিল মুখে সহজিয়া অনুরাগে ;
সে-দিনও এমনই ফসলবিলাসী হাওয়া
মেতেছিল তার চিকুরের পাকা ধানে ;
অনাদি যুগের যত চাওয়া, যত পাওয়া
খুঁজেছিল তার আনত দিঠির মানে |
একটি কথার দ্বিধাথরথর চুড়ে
ভর করেছিল সাতটি অমরাবতী ; (সংক্ষিপ্ত)

- সুধীন্দ্রনাথ দত্ত বাংলা কবিতায় আধুনিকতাবাদী পঞ্চপান্ডবের একজন। 

সুধীন্দ্রনাথ দত্ত রচিত কাব্যগ্রন্থ
- তন্বী (১৯৩০), 
- অর্কেস্ট্রা (১৯৩৫), 
- ক্রন্দসী (১৯৩৭),
- উত্তরফাল্গুনী (১৯৪০),
- সংবর্ত (১৯৫০), 
- দশমী (১৯৫৬);
- প্রতিদিন (১৯৫৪)

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,১৪৪.
সবচেয়ে কম বয়সে কোন লেখক বাংলা একাডেমি পুরস্কার পান?
  1. শওকত আলী
  2. সেলিনা হােসেন
  3. আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
  4. সৈয়দ শামসুল হক
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ শামসুল হক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ শামসুল হক
ব্যাখ্যা
প্রশ্নে উল্লেখিত লেখক-সাহিত্যিকদের মধ্যে -
• শওকত আলী:
- জন্ম - ১৯৩৬ সালে।
- বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ - ১৯৬৮ সালে (৩২ বছর বয়সে)।

• সেলিনা হােসেন:
- জন্ম - ১৯৪৭ সালে।
- বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ - ১৯৮০ সালে (৩৩ বছর বয়সে)।

• আখতারুজ্জামান ইলিয়াস:
- জন্ম - ১৯৪৩ সালে।
- বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ - ১৯৮২ সালে (৩৯ বছর বয়সে)।

• সৈয়দ শামসুল হক:
- জন্ম - ১৯৩৫ সালে।
- বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ - ১৯৬৬ সালে (৩১ বছর বয়সে)।

সুতরাং, সৈয়দ শামসুল হক সবচেয়ে কম বয়সে বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেছেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলা একাডেমি ওয়েবসাইট।
৪,১৪৫.
'নবান্ন' নাটকের বিষয়বস্তু কী?
  1. ক) পঞ্চাশের মন্বন্তর
  2. খ) মুক্তিযুদ্ধ
  3. গ) স্বাধীন বাংলার গ্রামীণ জীবন
  4. ঘ) দেশ ভাগ
সঠিক উত্তর:
ক) পঞ্চাশের মন্বন্তর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) পঞ্চাশের মন্বন্তর
ব্যাখ্যা
• বিজন ভট্টাচার্য রচিত নবান্ন' একটি নাটক।
- 'নবান্ন' নাটকের বিষয়বস্তু পঞ্চাশের মন্বন্তর।

• বিজন ভট্টাচার্য:
- তিনি ছিলেন নাট্যকার, অভিনেতা।
- ফরিদপুর জেলার খানখানাপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি নবনাট্য আন্দোলনের প্রধান পুরোহিত ছিলেন। এই আন্দোলনকে 'থার্ড থিয়েটার' নামেও অভিহিত করা হয়।
- তাঁর পিতা ক্ষীরোদবিহারী ভট্টাচার্য ছিলেন একজন স্কুলশিক্ষক।
- তিনি নাটক রচনায় মার্কসবাদকে প্রাধান্য দেন।
- বিজন ভট্টাচার্য অসহযোগ আন্দোলনে যোগ দিয়ে কারাবরণ করেন।
- কলকাতার আশুতোষ কলেজ ও রিপন কলেজে অধ্যয়নকালে তিনি জাতীয় আন্দোলনে যোগ দেন এবং মহিষবাথানে লবণ সত্যাগ্রহ আন্দোলনে সম্পৃক্ত হন।
- নবনাট্য আন্দোলনের অন্যতম সৈনিক বিজন ভট্টাচার্য গণজীবনের সংগ্রাম ও দুঃখ-দুর্দশা, শোষণ-বঞ্চনা, প্রগতিশীল চিন্তা ও সমাজবোধ নিয়ে নাটক রচনা করে এবং এ ক্ষেত্রে তিনি স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য ও বিপুল খ্যাতি অর্জন করেন।
- ১৯৪৬ সালের দাঙ্গার পটভূমিকায় তিনি রচনা করেন জীয়নকন্যা নাটক। এছাড়া তাঁর আরও দুটি নাটক হলো মরাচাঁদ ও কলঙ্ক।

• 'নবান্ন' নাটকের বিষয়বস্তু:
- নবান্ন পঞ্চাশের মন্বন্তরের পটভূমিকায় কৃষক জীবনের দুঃখ দুর্দশা ও জীবন সংগ্রামের কাহিনি অবলম্বনে রচিত নাটক।
- নবনাট্য আন্দোলনের পথিকৃৎ বিজন ভট্টাচার্য এই নাটকের মাধ্যমে বাংলা নাট্যধারায় অবদান রাখেন।
- পঞ্চাশের মন্বন্তর, সমকালীন জাতীয় আন্দোলন, মেহনতি মানুষের চাহিদা ইত্যাদি প্রেক্ষাপটে গ্রামীণ কৃষক সমাজের দুঃখ-দুর্দশা, তাদের সংগ্রাম, সফলতা- ব্যর্থতা নাটকের মূল সুর।

• তাঁর রচিত বিখ্যাত নাটক:
- নবান্ন,
- জনপদ,
- কলঙ্ক,
- মরাচাঁদ,
- অবরোধ,
- গোত্রান্তর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৪,১৪৬.
‘যদু মুখুজ্জে’ বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. আদর্শ হিন্দু হোটেল
  2. আরণ্যক
  3. পথের পাঁচালী
  4. অনুবর্তন
সঠিক উত্তর:
অনুবর্তন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুবর্তন
ব্যাখ্যা
⇒ 'অনুবর্তন' উপন্যাস:
- প্রকৃতি ও মানব জীবন সত্তার ঔপন্যাসিক বিভূতিভূষণ বন্দোপাধ্যায় রচিত 'অনুবর্তন' উপন্যাসে ব্যক্তি অভিজ্ঞতার রূপায়ন ঘটেছে।
- এ উপন্যাসের অন্যতম চরিত্র হচ্ছে- যদু মুখুজ্জে।
- এখানে গ্রামীণ মানুষের দলাদলি ও স্বার্থপ্রিয়তা উপন্যাসের মূল উপজীব্য বিষয়। 
- অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র গুলো হচ্ছে - ক্ষেত্র বাবু, নারান বাবু, ছাত্র চুনি।
- এর মধ্যে যদু মুখুজ্জে নিজে ভালো খেয়ে বেঁচে থাকার জন্য স্ত্রীর প্রতি অবিচার করে, ছাত্রদের জন্য বরাদ্দ অর্থ আত্মসাৎ করে, আবার নিজের পাপের জন্য ভগবানের কাছে ক্ষমাও চান। শেষে তার ট্র্যাজিক মৃত্যু ঘটে। বিভূতিভূষণের শ্রেষ্ঠ চরিত্র এই যদু মুখুজ্জে।

==============
⇒ বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়: 
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় ১৮৯৪ খ্রিস্টাব্দের ১২ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁচরাপাড়ার নিকটবর্তী ঘোষপাড়া-মুরারিপুর গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম।
- ১৩২৮ বঙ্গাব্দের (১৯২১) মাঘ প্রবাসীতে প্রথম গল্প ‘উপেক্ষিতা’ প্রকাশের মধ্য দিয়ে বিভূতিভূষণের সাহিত্যিক জীবন শুরু হয়। 
- বাংলা কথাসাহিত্যে শরৎচন্দ্রের পরে বিভূতিভূষণই সর্বাপেক্ষা জনপ্রিয় সাহিত্যিকের মর্যাদা পেয়েছেন।
- হেমন্তকুমার গুপ্তের সঙ্গে যৌথভাবে তিনি দীপক (১৯৩২) পত্রিকা সম্পাদনা করেন।

তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ হলো: 
• উপন্যাস:
- পথের পাঁচালী,
- অপরাজিত, 
- অশনি সংকেত,
- আরণ্যক,
- আদর্শ হিন্দু হোটেল,
- দেবযান,
- ইছামতী,
- দৃষ্টি প্রদীপ, 
- বিপিনের সংসার, 
- চাঁদের পাহাড়, 
- দম্পতি ইত্যাদি।

• ছোটগল্প:
- মেঘমল্লার, 
- মৌরীফুল, 
- যাত্রাবদল, 
- কিন্নরদল ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং 'অনুবর্তন' উপন্যাস; বাংলাপিডিয়া।
৪,১৪৭.
'বেণু ও বীণা' কবিতাটি কার লেখা?
  1. ক) সুকুমার রায়
  2. খ) সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  3. গ) সেলিনা হোসেন
  4. ঘ) সমরেশ বসু
সঠিক উত্তর:
খ) সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা
সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত ১৮৮২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি কলকাতার নিকটবর্তী নিমতা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি 'ছন্দের রাজা' ও 'ছন্দের জাদুকর' হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
- তিনি একাধিক ছদ্মনামে কাব্যচর্চা করতেন। যেমন নবকুমার, কবিরত্ন, অশীতিপর শর্মা, ত্রিবিক্রম বর্মণ, কলমগীর ইত্যাদি। 

তাঁর রচিত বিখ্যাত কাব্যগুলো:  
- সবিতা 
- সন্ধিক্ষণ 
- বেণু ও বীণা 
- কাব্য সঞ্চয়ন  
- কুহ ও কেকা 
- অভ্র-আবীর 
- হসন্তিকা 
- বেলা শেষের গান 
- বিদায় আরতি 

তাঁর রচিত অনুবাদকাব্য:
- তীর্থ রেণু
- মণি মঞ্জুষা

সূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া
৪,১৪৮.
মহাভারত অনুবাদ করেন-
  1. ক) কামিনী রায়
  2. খ) কালীপ্রসন্ন সিংহ
  3. গ) গিরিশচন্দ্র সেন
  4. ঘ) কুসুমকুমারী দাশ
সঠিক উত্তর:
খ) কালীপ্রসন্ন সিংহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কালীপ্রসন্ন সিংহ
ব্যাখ্যা
কালীপ্রসন্ন সিংহের সবচেয়ে বড় কীর্তি হল তাঁর সম্পাদনায় আঠারো পর্ব মহাভারত গদ্য আকারে বাংলায় অনুবাদ করা হয়েছে যা এখনও ব্যাপকভাবে পঠিত এবং প্রকাশিত হয়। এই অনুবাদটি ১৮৫৮ থেকে ১৮৬৬ এর ভিতরে প্রকাশিত হয়েছিল। তিনি তাঁর রচিত মহাভারত অনুবাদটি মহারানী ভিক্টোরিয়া কে উৎসর্গ করেছিলেন। উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৪,১৪৯.
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'অরণ্যবহ্নি’ উপন্যাসটি কোন পেক্ষাপটে রচিত?
  1. সাঁওতাল বিদ্রোহ
  2. স্বাধীনতা সংগ্রাম
  3. জেলে জীবন
  4. চর কেন্দ্রিক বিবাদ
সঠিক উত্তর:
সাঁওতাল বিদ্রোহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাঁওতাল বিদ্রোহ
ব্যাখ্যা
⇒ তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়:
• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় (১৮৯৮-১৯৭১) একজন কথাসাহিত্যিক ও রাজনীতিবিদ। ১৮৯৮ সালের ২৩ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার লাভপুর গ্রামে এক জমিদারবংশে তাঁর জন্ম।
• তারাশঙ্করের প্রথম গল্প ‘রসকলি’ সেকালের বিখ্যাত পত্রিকা কল্লোল-এ প্রকাশিত হয়। এছাড়া কালিকলম, বঙ্গশ্রী,  শনিবারের চিঠি,  প্রবাসী, পরিচয় প্রভৃতি প্রথম শ্রেণির পত্র-পত্রিকায় তাঁর লেখা প্রকাশিত হয়। 
• প্রথম জীবনে কিছু কবিতা লিখলেও কথাসাহিত্যিক হিসেবেই তারাশঙ্করের প্রধান খ্যাতি। বীরভূম-বর্ধমান অঞ্চলের মাটি ও মানুষ, বিভিন্ন পেশাজীবী মানুষের জীবনচিত্র, স্বাধীনতা আন্দোলন, যুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ, অর্থনৈতিক বৈষম্য, ব্যক্তির মহিমা ও বিদ্রোহ, সামন্ততন্ত্র-ধনতন্ত্রের দ্বন্দ্বে ধনতন্ত্রের বিজয় ইত্যাদি তাঁর উপন্যাসের বিষয়বস্তু।

তারাশঙ্কর প্রায় দুইশত গ্রন্থ রচনা করেন সেগুলির মধ্যে:
- চৈতালী ঘূর্ণি,
- ধাত্রীদেবতা,
- কালিন্দী,
- গণদেবতা,
- পঞ্চগ্রাম,
- কবি,
- হাঁসুলি বাঁকের উপকথা,
- আরোগ্য নিকেতন ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। 

- সাঁওতাল বিদ্রোহ নিয়ে তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস 'অরণ্যবহ্নি’। এটি প্রকাশিত হয় ১৯৬৬ খ্রিষ্টাব্দে।
- 'একটি কালো মেয়ের কথা' - তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত স্বাধীনতা সংগ্রাম নিয়ে রচিত উপন্যাস।
- 'কালিন্দী’ - নদীর বুকে উৎপন্ন চর কে কেন্দ্র করে তৈরি বিবাদ নিয়ে রচিত উপন্যাস।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,১৫০.
'বিদীর্ণ দর্পণে মুখ' কাব্যগ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. ক) আহসান হাবীব
  2. খ) দীনবন্ধু মিত্র
  3. গ) অন্নদাশঙ্কর রায়
  4. ঘ) আহমদ ছফা
সঠিক উত্তর:
ক) আহসান হাবীব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) আহসান হাবীব
ব্যাখ্যা
আহসান হাবীব রচিত কাব্যগ্রন্থ- রাত্রিশেষ (তাঁর প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ), ছায়াহরিণ, সারা দুপুর, আশায় বসতি, মেঘ বলে চৈত্রে যাবো, দু'হাতে দুই আদিম পাথর, প্রেমের কবিতা, বিদীর্ণ দর্পণে মুখ ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,১৫১.
'মহাপৃথিবী' কাব্যগ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. ক) জসীমউদ্‌দীন
  2. খ) জীবনানন্দ দাশ
  3. গ) ফররুখ আহমদ
  4. ঘ) বুদ্ধদেব বসু
সঠিক উত্তর:
খ) জীবনানন্দ দাশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) জীবনানন্দ দাশ
ব্যাখ্যা
'মহাপৃথিবী' কাব্যগ্রন্থটির রচয়িতা- 'জীবনানন্দ দাশ'

জীবনানন্দ দাশ 
- জীবনানন্দ দাস ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন। 
- জীবনানন্দ দাশকে “ধূসরতার কবি” বলা হয়।
- কবি জীবনানন্দ দাশের একমাত্র প্রবন্ধ গ্রন্থ ‘কবিতার কথা’।
- এই গ্রন্থের বিখ্যাত উক্তি হলো, ‘সকলেই কবি নন, কেউ কেউ কবি।’

জীবনানন্দ দাশ রচিত কাব্যগ্রন্থ-
- ঝরাপালক,
- ধূসর পাণ্ডুলিপি,
- বনলতা সেন,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- রূপসী বাংলা,
- বেলা অবেলা কালবেলা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,১৫২.
কোনটি মুহম্মদ এনামুল হকের রচনা?
  1. ভাষার ইতিবৃত্ত
  2. আধুনিক ভাষাতত্ত্ব
  3. মনীষা মঞ্জুষা
  4. বাংলাদেশের আঞ্চলিক ভাষার অভিধান
সঠিক উত্তর:
মনীষা মঞ্জুষা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মনীষা মঞ্জুষা
ব্যাখ্যা
• ‘মনীষা মঞ্জুষা’ ড. মুহম্মদ এনামুল হক রচিত সাহিত্য বিষয়ক একটি প্রবন্ধ।

অন্যদিকে,
• 'ভাষার ইতিবৃত্ত' রচনা করেন সুকুমার সেন।
• ‘আধুনিক ভাষাতত্ত্ব’ ড. আবুল কালাম মনজুর মোরশেদ রচিত ভাষা ও সাহিত্য বিষয়ক গ্রন্থ।
• আঞ্চলিক ভাষার অভিধান বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের উপভাষার একটি সংকলন গ্রন্থ। ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহর সম্পাদনায় ১৯৬৫ সালে এটি প্রথম প্রকাশিত হয়।

-------------------------------
• মুহম্মদ এনামুল হক:
- মুহম্মদ এনামুল হক ছিলেন গবেষক, সাহিত্যিক ও শিক্ষাবিদ।
- বাংলা ভাষা ও সাহিত্য গবেষণায় তিনি অন্যতম প্রধান পন্ডিত ব্যক্তি।
- ১৯০২ সালের ২০ সেপ্টেম্বর বর্তমান চট্টগ্রাম জেলার ফটিকছড়ি উপজেলার বখৎপুর গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে এনামুল হক জন্মগ্রহণ করেন।
- এনামুল হকের সাহিত্যকর্মের বৈশিষ্ট্য হলো সত্যানুসন্ধান ও গবেষণা। 
- তিনি প্রাচীন ও মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের লুপ্তপ্রায় পাণ্ডুলিপির সন্ধান দেন।
- অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ সম্পর্কে চেতনা জাগরণই তাঁর সাহিত্যসাধনার মূল প্রেরণা। সাহিত্যের ইতিহাস সন্ধানের ক্ষেত্রে তাঁর অবদান উল্লেখযোগ্য।

তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থাবলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
- আরাকান রাজসভায় বাঙ্গালা সাহিত্য (গবেষণামূলক, আব্দুল করিম সাহিত্যবিশারদের সঙ্গে যৌথভাবে রচিত),
- বঙ্গে সূফীপ্রভাব (গবেষণামূলক), 
- বাঙলা ভাষার সংস্কার (ভাষাতত্ত্বমূলক),
- মুসলিম বাঙলা সাহিত্য (গবেষণামূলক) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং ‘মনীষা মঞ্জুষা’ গ্রন্থ।
৪,১৫৩.
বাংলা ভাষায় প্রথম আর্থ-সামাজিক রাজনৈতিক বিষয়ে নাটক লেখেন -
  1. মুনীর চৌধুরী
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. মীর মোশাররফ হোসেন
  4. দীনবন্ধু মিত্র
সঠিক উত্তর:
দীনবন্ধু মিত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দীনবন্ধু মিত্র
ব্যাখ্যা
- দীনবন্ধু মিত্র ১৮৬০ সালে রচনা করেন নীল দর্পণ নাটক।
- এটি বাংলা ভাষার অন্যতম প্রাথমিক আর্থ সামাজিক রাজনৈতিক নাটক।

- মীর মশাররফ হোসেন ১৮৭২-৭৩ সালে রচনা করেন জমিদার দর্পণ নাটক, এই নাটক রচনায় দীন বন্ধু মিত্রের নীল দর্পণ নাটকের প্রভাব রয়েছে।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং মুনির চৌধুরী উক্ত দুজনের আরো পরে নাটক রচনা করেন।

তাই উপরিউক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায় দীন বন্ধু মিত্রই প্রথম বাংলা ভাষায় আর্থ-সামাজিক রাজনৈতিক বিষয়ে নাটক লেখেন।
৪,১৫৪.
'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থটি কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ক) ১৯২১
  2. খ) ১৯২২
  3. গ) ১৯২৩
  4. ঘ) ১৯২৪
সঠিক উত্তর:
খ) ১৯২২
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ১৯২২
ব্যাখ্যা
- 'অগ্নিবীণা' কাজী নজরুল ইসলাম এর একটি কাব্যগ্রন্থ।
- এটি ১৯২২ সালে প্রকাশিত হয়।

• কাজী নজরুল ইসলাম:
- বাংলা সাহিত্যে বিদ্রোহী কবি হিসেবে তাঁর খ্যাতি ও গুরুত্ব অনেক।
- তাঁর সর্বস্বপণ ছিল দেশপ্রেম ও শোষণবিরোধিতা।

• তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- অগ্নিবীণা (১৯২২ সালে প্রকাশিত)।
- বিষের বাঁশি।
- দোলনচাঁপা।
- ভাঙার গান।
- সাম্যবাদী।
- সর্বহারা।
- ফণি-মনসা।
- জিঞ্জির।
- সন্ধ্যা।
- প্রলয় শিখা।
- মরু ভাস্কর।
- নতুন চাঁদ।
- চক্রবাক।
- সিন্ধু হিন্দোল ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত গানের বই:
- বুলবুল, চোখের চাতক, চন্দ্রবিন্দু, সুরসাকী, জুলফিকার, বনগীতি, গুলবাগিচা, গানের মালা ও গীতি শতদল ইত্যাদি। 

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,১৫৫.
‘বঙ্গভাষা ও সাহিত্য’ ইতিহাসমূলক গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. মুহম্মদ আবদুল হাই
  2. সুকুমার সেন
  3. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্
  4. দীনেশচন্দ্র সেন
সঠিক উত্তর:
দীনেশচন্দ্র সেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দীনেশচন্দ্র সেন
ব্যাখ্যা
• বঙ্গভাষা ও সাহিত্য:
- 'বঙ্গভাষা ও সাহিত্য' (১৮৯৬) দীনেশচন্দ্র সেন রচিত বাংলা সাহিত্যের সুশৃঙ্খল ও তথ্যসমৃদ্ধ ধারাবাহিক প্রথম ইতিহাসমূলক গ্রন্থ।
- বঙ্গভাষা ও বঙ্গলিপির উৎপত্তি, সংস্কৃত-প্রাকৃত ও বাংলার সম্পর্ক, প্রাচীন বাংলা সাহিত্য, মধ্যযুগের ধর্মগোষ্ঠী ও তাদের সাথে সাহিত্যের যোগ ইত্যাদি বিষয়ের মনোজ্ঞ
বিবিরণ লিপিবদ্ধ আছে এই গ্রন্থে।
- এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম ইতিহাসগ্রন্থ যেখানে সাহিত্য ও সমাজের গূঢ় সম্পর্কের ইঙ্গিত দেয়া হয়।

-------------------------
• দীনেশচন্দ্র সেন:
- তিনি ১৮৬৬ সালের ৩ নভেম্বর মাতুলালয়, বগজুড়ি গ্রাম, ঢাকা জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি পল্লী অঞ্চলে ঘুরে ঘুরে প্রাচীন বাংলা পুঁথি ও লোককথা সংগ্রহ করেন।
- তাঁর সংগৃহীত পুঁথি থেকে উপকরণ সংগ্রহ করে 'বঙ্গভাষা ও সাহিত্য' রচনা করেন।
- 'বঙ্গভাষা ও সাহিত্য' বাংলা সাহিত্যের সুশৃঙ্খল ও তথ্যসমৃদ্ধ ধারাবাহিক প্রথম ইতিহাসমূলক গ্রন্থ।
- তাঁর রচিত একটি গবেষণামূলক গ্রন্থ - 'বঙ্গসাহিত্য পরিচয়' (১৯১৪)।
- তিনি 'মৈমনসিংহ-গীতিকা' (১৯২৩) ও 'পূর্ববঙ্গ গীতিকা (১৯২৬)' সম্পাদনা করে আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জন করেন।
- ১৯৩৯ সালের ২০ নভেম্বর বেহালায় তাঁর মৃত্যু হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,১৫৬.
আবুল হাসানের মৃত্যুর পর প্রকাশিত কাব্যনাট্য কোনটি?
  1. পৃথক পালঙ্ক
  2. রাজা যায় রাজা আসে
  3. ওরা কয়েকজন
  4. যে তুমি হরণ করো
সঠিক উত্তর:
ওরা কয়েকজন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ওরা কয়েকজন
ব্যাখ্যা
• আবুল হাসানের মৃত্যুর পর প্রকাশিত কাব্যনাট্য - ওরা কয়েকজন।

আবুল হাসান:
- আবুল হাসানের প্রকৃত নাম আবুল হোসেন মিয়া।
- তাঁর সাহিত্যিক নাম আবুল হাসান।
- তিনি পেশায় সাংবাদিক ছিলেন।
- ১৯৪৭ সালের ৪ আগস্ট গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গীপাড়ার বর্ণি গ্রামে মাতুলালয়ে তাঁর জন্ম।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- রাজা যায় রাজা আসে,
- যে তুমি হরণ করো,
- পৃথক পালঙ্ক।

তাঁর প্রকাশিত গল্প সংকলন:
- 'আবুল হাসান গল্প সংগ্রহ'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,১৫৭.
'দু রঙা প্রজাপতি'- রচনার রচয়িতা কে?
  1. ক) আলাউদ্দিন আল আজাদ
  2. খ) আবু জাফর শামসুদ্দীন
  3. গ) অদ্বৈত মল্লবর্মণ
  4. ঘ) আনোয়ার পাশা
সঠিক উত্তর:
গ) অদ্বৈত মল্লবর্মণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) অদ্বৈত মল্লবর্মণ
ব্যাখ্যা
অদ্বৈত মল্লবর্মণ (১৯১৪-১৯৫১)
- সাংবাদিক, ঔপন্যাসিক।
- ১৯১৪ সালের ১ জানুয়ারি  ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার গোকর্ণ গ্রামে এক দরিদ্র জেলে পরিবারে তাঁর জন্ম।
- ছোটোবেলায় পিতামাতাকে হারিয়ে অদ্বৈতের জীবন চরম দারিদ্রে্যর মধ্যে অতিবাহিত হয়।

• স্কুলে ছাত্র থাকা অবস্থায়ই অদ্বৈত লিখতে শুরু করেন। তাঁর গল্প, কবিতা ও প্রবন্ধ এ সময় থেকেই সুধীসমাজের প্রশংসা অর্জন করে।
- চল্লিশের দশকে  মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়,  বুদ্ধদেব বসু প্রমুখ সম্পাদিত ‘এক পয়সায় একটি’ শীর্ষক ধারাবাহিকে লিখে তিনি পাঠকসমাজে বিশেষ পরিচিতি লাভ করেন। - তাঁর একমাত্র উপন্যাস তিতাস একটি নদীর নাম মাসিক মোহাম্মদীতে প্রথম ধারাবাহিকভাবে (১৯৪৫-৪৭) প্রকাশিত হয়।
- এ উপন্যাসের জন্যই তিনি সাহিত্যজগতে ব্যাপক খ্যাতি অর্জন করেন। এতে তিনি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও সুগভীর অন্তর্দৃষ্টি দিয়ে তিতাস নদীর তীরবর্তী জেলেদের - সংগ্রামী জীবনের কথা বাস্তবসম্মতভাবে তুলে ধরেন। ১৯৭৩ সালে ঋত্বিক ঘটকের পরিচালনায় উপন্যাসটি চলচ্চিত্রে রূপায়িত হয়।
এ ছাড়াও,
- নয়া বসত,
- রামধনু,
- দু রঙা প্রজাপতি,
- সাদা হাওয়া,
- দলবেঁধে,
- সাগরতীর্থে,
- রাঙামাটি ইত্যাদি তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা।

 • তিনি অনেক শিশুপাঠ্য কবিতাও রচনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,১৫৮.
'শীতের অরণ্য' গল্পের রচয়িতা কে?
  1. জাহানারা ইমাম
  2. হুমায়ুন কবির
  3. হাসান আজিজুল হক
  4. কায়কোবাদ
সঠিক উত্তর:
হাসান আজিজুল হক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাসান আজিজুল হক
ব্যাখ্যা
• 'শীতের অরণ্য' গল্পের রচয়িতা - হাসান আজিজুল হক।

• হাসান আজিজুল হক:

- হাসান আজিজুল হক ১৯৩৯ সালে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলায় জন্মগ্রহণ করেন ।
- হাসান আজিজুল হক মূলত কথাসাহিত্যিক হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
- তিনি ১৯৬৭ সালে আদমজী সাহিত্য পুরস্কার, ১৯৭০ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার, ১৯৯৯ সালে একুশে পদক, ২০১৯ সালে স্বাধীনতা পদক লাভ করেন।
- ১৫ নভেম্বর ২০২১ সালে, হাসান আজিজুল হক মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত গল্প:
- নামহীন গ্রোত্রহীন,
- শীতের অরণ্য,
- আত্মজা ও একটি করবী গাছ,
- আমরা অপেক্ষা করছি,
- পাতালে হাসপাতালে,
- জীবন ঘষে আগুন ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- আগুনপাখি,
- সাবিত্রী উপাখ্যান,
- শামুক,
- শিউলি,
- বৃত্তায়ন ইত্যাদি।

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,১৫৯.
কোনটি জহির রায়হান রচিত উপন্যাস?
  1. আরেক ফাল্গুন
  2. তৃষ্ণা
  3. কয়েকটি মৃত্যু
  4. সবকটি
সঠিক উত্তর:
সবকটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবকটি
ব্যাখ্যা
জহির রায়হান
- জহির রায়হান ছিলেন একজন প্রখ্যাত বাংলাদেশি কথাশিল্পী এবং চলচ্চিত্র পরিচালক।
- তিনি ১৯৩৫ সালে তৎকালীন নোয়াখালী জেলায় (বর্তমান ফেনি) জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম- মোহাম্মদ জহিরুল্লাহ।
- ১৯৭২ সালের ৩০ জানুয়ারি তাঁর বড় ভাই বুদ্ধিজীবী শহীদুল্লা কায়সারকে ঢাকার মিরপুরে খুঁজতে গিয়ে তিনি আর কখনোই ফিরে আসেননি।

♦♦ সাহিত্যে অবদান
- ১৩৬২ বঙ্গাব্দে তাঁর প্রথম গল্পসংগ্রহ ‘সূর্যগ্রহণ’ প্রকাশিত হয়।
- তার রচিত প্রথম উপন্যাস শেষ বিকেলের মেয়ে ১৯৬০ সালে প্রকাশিত হয়।
- তিনি ১৯৬৪ সালে ‘হাজার বছর ধরে’ উপন্যাসের জন্য আদমজী সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন।

♦ উপন্যাস:
- হাজার বছর ধরে,
- আরেক ফাল্গুন,
- বরফ গলা নদী,
- আর কতদিন,
- শেষ বিকেলের মেয়ে,
- তৃষ্ণা,
- কয়েকটি মৃত্যু।

উৎস: ১. সাহিত্য পাঠ (একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি),
২. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর,
৩. বাংলাপিডিয়া।
৪,১৬০.
কোনটি সঠিক?
  1. পুতুল নাচের ইতিকথা (উপন্যাস)
  2. ওঙ্কার (ছোটগল্প)
  3. যে অরণ্যে আলো নেই (প্রবন্ধ)
  4. মেঘনাদবধ (নাটক)
সঠিক উত্তর:
পুতুল নাচের ইতিকথা (উপন্যাস)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পুতুল নাচের ইতিকথা (উপন্যাস)
ব্যাখ্যা
• 'পুতুল নাচের ইতিকথা' উপন্যাস:
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাস 'পুতুল নাচের ইতিকথা'।
- 'পুতুল নাচের ইতিকথা' উপন্যাস সম্পর্কে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন- "সাহিত্যিকেরও বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি থাকা প্রয়োজন।"
- এই উপন্যাসে সেই বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রয়োগ আছে।
- এই উপন্যাসে 'পুতুল' বলতে সেসকল মানুষকে বোঝানো হয়েছে যারা চারিত্রিক দৃঢ়তা নিয়ে দাড়াতে পারে না; পুতুলের মতো অন্যের অল্প ধাক্কাতেই চালিত হয়।
- ‘শরীর! শরীর! তোমার মন নাই, কুসুম?’ উক্তিটি উপন্যাসে ডাক্তার শশী কুসুমকে উদ্দেশ্য করে বলে।

উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র
- শশী,
- কুসুম,
- গোপাল,
- সেনদিদি,
- যাদব পণ্ডিত ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• ‘ওঙ্কার’ উপন্যাস:
- ‘ওঙ্কার’ উপন্যাসটি মূলত ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের পটভূমিতে লেখা হয়েছে।
- আহমদ ছফা রচিত ওঙ্কার উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৭৫ সালে। 
- আহমদ ছফা রচিত এই উপন্যাসের নায়ক, আবু নসরের বোবা মেয়েকে বিয়ে করে। আবু নসরের সঙ্গে আইয়ুব খানের সম্পর্ক থাকায় সে এক ধরনের ক্ষমতা লাভ করে। আর এই ঘটনার সূত্র ধরে উপন্যাসটির কাহিনী গতি লাভ করেছে।
- ওঙ্কার উপন্যাস অবলম্বনে 'বাঙলা' চলচ্চিত্র নির্মিত হয়।

------------------
• 'যে অরণ্যে আলো নেই' নাটক:
- 'যে অরণ্যে আলো নেই' নীলিমা ইব্রাহীমের মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিকায় রচিত একটি নাটক।
- নাটকটি ১৯৭৪ সালে প্রকাশিত হয়।

------------------
• 'মেঘনাদবধ' কাব্য:
- মধুসূদনের দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ 'মেঘনাদবধ কাব্য' বাংলা সাহিত্যের প্রথম এবং শ্রেষ্ঠ মহাকাব্য।
- মাইকেল মধুসূদন দত্তের অমর মহাকাব্য 'মেঘনাদবধ কাব্য'।
- সংস্কৃত মহাকাব্য 'রামায়ণ' এর ক্ষুদ্র ভগ্নাংশ কাহিনি অবলম্বন করে মধুসূদন দত্ত ১৮৬১ সালের জুন মাসে 'মেঘনাদবধ কাব্য' রচনা করেন এবং ১৮৬১ সালেই গ্রন্থটি প্রকাশিত হয়।
- ১৮৫৭ সালে সংঘটিত সিপাহি বিপ্লবের স্বাধীনতামন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে রাবণকে নায়ক এবং রামকে খলনায়ক করে মধুসূদন দত্ত এটি রচনা করেন।
- নয় সর্গে রচিত মেঘনাদবধ কাব্যে বর্ণিত আছে- মোট তিন দিন দুই রাতের ঘটনা।
- কাব্যের সর্গগুলো হলো: অভিষেক, অস্ত্রলাভ, সমাগম, অশোক বন, উদ্যোগ, বধ, শক্তিনির্ভেদ, প্রেতপুরী, সংস্ক্রিয়া।

• কাব্যের কয়েকটি প্রধান চরিত্র হলো:
- রাবণ,
- মেঘনাদ,
- লক্ষ্মণ,
- রাম,
- প্রমীলা,
- বিভীষণ,
- সীতা,
- সরমা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৪,১৬১.
'মানবজীবন, মহৎজীবন, উন্নতজীবন' প্রভৃতি গ্রন্থের রচয়িতা -
  1. মুহম্মদ আবদুল হাই
  2. মোহাম্মদ লুৎফর রহমান
  3. এয়াকুব আলী চৌধুরী
  4. প্রমথ চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
মোহাম্মদ লুৎফর রহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মোহাম্মদ লুৎফর রহমান
ব্যাখ্যা
• 'মানবজীবন' গ্রন্থটির রচয়িতা- মোহাম্মদ লুৎফর রহমান। 

মোহাম্মদ লুৎফর রহমান:
- ১৮৮৯ সালে মাগুরা জেলার অন্তর্গত পারনান্দুয়ালি গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ‘ডাক্তার মোহাম্মদ লুৎফর রহমান’ হিসেবে পরিচিত।
- কলকাতায় মোহাম্মদ লুৎফর রহমান পতিতা নারীদের সামাজিক পুনর্বাসনের লক্ষ্যে ‘নারীতীর্থ’ (১৯২২) নামে একটি সংগঠন গড়ে তোলেন।
- এ সংগঠনের কার্যনির্বাহক কমিটির সভাপতি ছিলেন বেগম রোকেয়া (১৮৮০-১৯৩৬)। লুৎফর রহমান ছিলেন এর সম্পাদক।
- ‘নারীতীর্থ’-এর মুখপত্র নারীশক্তি তাঁর সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় বাংলা ১৩২৯ সনে। এ মাসিক পত্রিকাটির মোট ছয়টি সংখ্যা বেরিয়েছিল।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম:
- মহৎ জীবন, 
- মানবজীবন,
- সত্য জীবন, 
- উচ্চ জীবন, 
- ধর্ম জীবন, 
- মহাজীবন, 
- যুবকজীবন, 
- সরলা, 
- পথহারা, 
- রায়হান, 
- প্রীতি-উপহার, 
- বাসর-উপহার ।

শিশুকিশোর গ্রন্থ:
- ছেলেদের মহত্ত্বকথা, 
- ছেলেদের কারবালা, 
- রানী হেলেন। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৪,১৬২.
‘বাংলা সাহিত্যের ইতিকথা’ গ্রন্থের লেখক কে?
  1. গোপাল হায়দার
  2. সুকুমার
  3. ভূদেব চৌধুরী
  4. দীনেশ চন্দ্র সেন
সঠিক উত্তর:
ভূদেব চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভূদেব চৌধুরী
ব্যাখ্যা

⇒ 'বাংলা সাহিত্যের ইতিকথা' ভূদেব চৌধুরী:
• 'বাংলা সাহিত্যের ইতিকথা' হলো বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস নিয়ে ভূদেব চৌধুরী রচিত একটি গ্রন্থ।
• এটি প্রথম প্রকাশ হয়েছিল অনেক আগে, এরপর বিভিন্ন সংস্করণ প্রকাশিত হয়েছে।
• লেখকের চিন্তাভাবনা ও পরিকল্পনা সংস্করণ থেকে সংস্করণে ক্রমশ পরিণত হয়েছে। একই পরিকল্পনার ক্রমিক বিন্যাস ক্রমশ পরিণতি পেতে চেয়েছে, ‘বাংলা সাহিত্যের ইতিকথা'র দ্বিতীয়, তৃতীয় এবং চতুর্থ পর্যায় রচনা ও প্রকাশের মাধ্যমে।
• বইটি বাংলা সাহিত্যের ঐতিহ্য রক্ষা ও প্রাচীন আধুনিক সাহিত্যের তুলনা নিয়ে আলোচনা করে।

উৎস: 'বাংলা সাহিত্যের ইতিকথা' ভূদেব চৌধুরী।

৪,১৬৩.
শওকত ওসমানের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাস নয় কোনটি?
  1. নেকড়ে অরণ্য
  2. ক্রীতদাসের হাসি
  3. জাহান্নম হইতে বিদায়
  4. জলাংগী
সঠিক উত্তর:
ক্রীতদাসের হাসি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্রীতদাসের হাসি
ব্যাখ্যা
• "ক্রীতদাসের হাসি" উপন্যাস:
- শওকত ওসমানের কালোত্তীর্ণ উপন্যাস ক্রীতদাসের হাসি। এটি একটি প্রতিকাশ্রয়ী উপন্যাস। উপন্যাসটি ১৯৬২ সালে প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসে তৎকালীন সামরিক শাসক আইয়ুব খানের সমালোচনা করা হয়েছিল রূপক-প্রতীকের আশ্রয়ে।

- বাগদাদের বাদশা হারুনর রশিদ অত্যাচারী। সে ক্রীতদাস তাতারি ও বাঁদি মেহেরজানের প্রণয়ে বাধা সৃষ্টি এবং তাতারিকে গৃহবন্দি ও অত্যাচার করে। তাতারি আমৃত্যু বাদশা হারুনের নির্যাতনের প্রতিবাদ করে যায়।এখানে তাতারি বাঙালি জনতার এবং বাদশা হারুন আইয়ুব খানের প্রতীক তাতারির হাসি উপন্যাসে বাঙালির স্বাধীনতার প্রতীক হয়ে উঠেছে।

- এটি শওকত ওসমানের সর্বশ্রেষ্ঠ উপন্যাস বলে স্বীকৃত। এই গ্রন্থ রচনার জন্য তাঁকে আদমজি পুরস্কার দেয়া হয় ১৯৬৬ সালে।

শওকত অসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস:
- জাহান্নম হইতে বিদায়,
- দুই সৈনিক,
- নেকড়ে অরণ্য,
- জলাংগী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,১৬৪.
উইলিয়াম কেরি রচিত কাব্যগ্রন্থ কোনটি? 
  1. বত্রিশ সিংহাসন
  2. হিতোপদেশ
  3. লিপিমালা
  4. ইতিহাসমালা
সঠিক উত্তর:
ইতিহাসমালা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইতিহাসমালা
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: ঘ) ইতিহাসমালা

ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ:
- ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ইংরেজ কর্মচারীদের দেশীয় ভাষায় শিক্ষাদানের উদ্দেশ্যে ১৮০০ সালে কলকাতায় ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ প্রতিষ্ঠা করা হয়।
- এই কলেজে ১৮০১ সালে বাংলা বিভাগ প্রবর্তিত হলে অধ্যক্ষ হিসেবে আসেন শ্ররিামপুর মিশনের পাদরি এবং বাইবেলের অনুবাদক উইলিয়াম কেরি। তিনি তাঁর অধীনস্ত দু-জন পণ্ডিত এবং ছয় জন সহকারী পণ্ডিতের সহযোগিতায় বাংলা গদ্যে কলেজের পাঠোপযোগী পুস্তক রচনায় আত্মনিয়োগ করেন।
- তাঁদের এই প্রচেষ্টার ফলাফল দিয়েই বাংলা গদ্যের অনুশীলনে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের ভূমিকা নিরূপণ করা হয়।

ফোর্ট উইলিয়ামের পর্বে ১৮০১ থেকে ১৮১৫ সালের লেখক ও কাব্যগ্রন্থ:
- কেরি রচিত: কথোপকথন (১৮০১); ইতিহাসমালা (১৮১২)।
- রামরাম বসু রচিত: রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র (১৮০১); লিপিমালা (১৮০২)।
- গোলোকথান শর্মা রচিত: হিতোপদেশ (১৮০২)।
- মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার রচিত: বত্রিশ সিংহাসন (১৮০২); হিতোপদেশ (১৮০৮); রাজাবলি (১৮০৮); প্রবোধচন্দ্রিকা (১৮৩৩)।
- তারিণীচরণ মিত্র রচিত: ওরিয়েন্টাল ফেবুলিস্ট (১৮০৩)।
- রাজীবলোচন মুখোপাধ্যায় রচিত: মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্র রায়স্য চরিত্রং (১৮০৫)।
- চণ্ডীচরণ মুন্শী রচিত: তোতা ইতিহাস (১৮০৫)।
- হরপ্রসাদ রায় রচিত: পুরুষ পরীক্ষা (১৮১৫)।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৪,১৬৫.
নিচের কোনটি ইব্রাহীম খাঁ রচিত গ্রন্থ?
  1. ইউরোপের চিঠি
  2. ইস্তাম্বুল যাত্রীর পত্র
  3. পথে প্রবাসে
  4. ইউরোপ প্রবাসীর পত্র
সঠিক উত্তর:
ইস্তাম্বুল যাত্রীর পত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইস্তাম্বুল যাত্রীর পত্র
ব্যাখ্যা
• ইব্রাহীম খাঁ:
- ইব্রাহীম খাঁ ১৮৯৪ সালে টাঙ্গাইল জেলার শাবাজ নগর গ্রামে এক মধ্যবিত্ত কৃষক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক। 
- একজন কৃতবিদ্য লেখক হিসেবেও ইব্রাহীম খাঁর খ্যাতি ছিল।
-তাঁর স্মৃতিকথা 'বাতায়ন' সমকালের মুসলিম সমাজের একটি বিশস্ত দলিল হিসেবে বিবেচিত।
-তিনি ব্রিটিশ আমলে 'খান সাহেব' ও 'খান বাহাদুর' এবং পাকিস্তান আমলে 'সিতারা-ই-ইমতিয়াজ' উপাধি লাভ করেন।
- নাটকে অবদানের জন্য তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬৩) এবং সাহিত্যের জন্য একুশে পদক (১৯৭৬) লাভ করেন।
- ১৯৭৮ সালের ২৯ মার্চ ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়।

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- কামাল পাশা,
- আনোয়ার পাশা,
- ঋণ পরিশোধ,
- আলু বোখরা,
- ইস্তাম্বুল যাত্রীর পত্র,
- ব্যাঘ্র মামা,
- বেদুঈনদের দেশে।

অন্যদিকে,
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ভ্রমন কাহিনী - ’ইউরোপ প্রবাসীর পত্র’।

• অন্নদাশঙ্কর রায় রচিত ভ্রমণকাহিনী:
- ইউরোপের চিঠি,
- পথে প্রবাসে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,১৬৬.
'আকাল' কাব্যগ্রন্থটি সম্পাদনা করেন কে?
  1. নির্মলেন্দু গুণ
  2. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  3. প্রমথ চৌধুরী
  4. বিহারীলাল চক্রবর্তী
সঠিক উত্তর:
সুকান্ত ভট্টাচার্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুকান্ত ভট্টাচার্য
ব্যাখ্যা

সুকান্ত ভট্টাচার্য:
- তিনি ছিলেন মার্কসবাদী ভাবধারায় বিশ্বাসী এবং প্রগতিশীল চেতনার অধিকারী তরুণ কবি।
- সুকান্ত ভট্টাচার্য কলকাতায় মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন ১৯২৬ সালের ১৫ আগস্ট।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল ফরিদপুর জেলার কোটালিপাড়ায়।
- রবীন্দ্রোত্তর বাংলা কবিতার বৈপ্লবিক ভাবধারাটি যাঁদের সৃষ্টিশীল রচনায় সমৃদ্ধ হয়েছে, সুকান্ত তাঁদের অন্যতম।
- তাঁর কাব্যে বিশ্বের মানুষ এবং শোষিত মানুষের জীবনযাত্রা, যন্ত্রণা, বিক্ষোভ এবং বিদ্রোহের অনুভূতি ফুটে উঠেছে।
- সুকান্ত ফ্যাসিবাদবিরোধী লেখক ও শিল্পিসঙ্ঘের পক্ষে আকাল (১৯৪৪) নামে একটি কাব্যগ্রন্থ সম্পাদনা করেন।
- তিনি মাত্র ২০ বছর ৯ মাস বয়সে, ১৩ মে ১৯৪৭ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

• তার উল্লেখযোগ্য গ্রন্থসমূহ:
- ছাড়পত্র,
- পূর্বাভাস,
- মিঠেকড়া,
- অভিযান,
- ঘুম নেই,
- হরতাল,
- গীতিগুচ্ছ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।

৪,১৬৭.
'কাশবনের কন্যা' উপন্যাসের রচয়িতা -
  1. ক) শামসুদ্দীন আবুল কালাম
  2. খ) সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
  3. গ) শামসুর রাহমান
  4. ঘ) সিকান্দার আবু জাফর
সঠিক উত্তর:
ক) শামসুদ্দীন আবুল কালাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) শামসুদ্দীন আবুল কালাম
ব্যাখ্যা
'কাশবনের কন্যা' উপন্যাসের রচয়িতা - শামসুদ্দীন আবুল কালাম। 

• কথাসাহিত্যিক শামসুদ্দীন আবুল কালাম ১৯২৬ খ্রিস্টাব্দের আগস্ট মাসে বরিশালের নলছিটি থানার কামদেবপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম ‘আবুল কালাম শামসুদ্দীন’
- শামসুদ্দীনের মুখ্য পরিচয় একজন কথাশিল্পী হিসেবে।
- তিনি অনেক গল্প ও  উপন্যাস রচনা করেছেন।

তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাস-
- কাশবনের কন্যা
- আলমনগরের উপকথা,
- জায়জঙ্গল,
- সমুদ্রবাসর,
- কাঞ্চনগ্রাম ও
- কাঞ্চনমালা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,১৬৮.
টডের 'Annals of Rajasthan' থেকে কাহিনীর অংশ নিয়ে রচিত কাব্য কোনটি?
  1. ক) পদ্মাবতী
  2. খ) পদ্মিনী উপাখ্যান
  3. গ) নীতিকুসুমাঞ্জলি
  4. ঘ) কনকাঞ্জলি
সঠিক উত্তর:
খ) পদ্মিনী উপাখ্যান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) পদ্মিনী উপাখ্যান
ব্যাখ্যা
রঙ্গলালের প্রথম ও প্রধান সাহিত্যকীর্তি পদ্মিনী উপাখ্যান ১৮৫৮ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত হয়।
- এটি ইংরেজি কাব্যাদর্শের অনুসরণে টডের Annals of Rajasthan-এর কাহিনী অবলম্বনে রচিত ঐতিহাসিক রোমান্সধর্মী কাব্য।
- পদ্মিনী উপাখ্যানে তাঁর বিখ্যাত উক্তি পরবর্তীকালে স্বাধীনতা সংগ্রামের বিপ্লবীদের বীজমন্ত্র হিসেবে কাজ করেছে।

সেটি হচ্ছে - 
স্বাধীনতাহীনতায়     কে বাঁচিতে চায় হে,
             কে বাঁচিতে চায়?
দাসত্ব শৃঙ্খল বল       কে পরিবে পায় হে,
           কে পরিবে পায়?

রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায়, (১৮২৭-১৮৮৭):
- কবি, সাংবাদিক রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্ম পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার বাকুলিয়ায়।

তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্য হচ্ছে:
- কর্মদেবী (১৮৬২),
- শূরসুন্দরী (১৮৬৮) ও
- কাঞ্চী কাবেরী (১৮৭৯)।
- তিনি কালিদাসের ঋতুসংহার ও কুমারসম্ভব-এর পদ্যানুবাদ (১৮৭২) করেন।
- তাঁর নীতিকুসুমাঞ্জলি (১৮৭২) সংস্কৃত নীতি ও তত্ত্বমূলক কবিতার অপর পদ্যানুবাদ। তিনি ভেক-মুষিকের যুদ্ধ নামে হোমারের কাব্যেরও অনুবাদ করেন।
- তাঁর কলিকাতা কল্পলতা  গ্রন্থকে কলকাতা সম্পর্কে প্রথম ইতিহাসমূলক রচনা বলে মনে করা হয়। এতে কলকাতার ইতিহাস বর্ণিত হয়েছে।
- তিনি মুকুন্দরামের কবিকঙ্কণ চন্ডী সম্পাদনা করে প্রকাশ করেন (১৮৮২)। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,১৬৯.
রোহিনী কোন উপন্যাসের নায়িকা?
  1. কৃষ্ণকান্তের উইল
  2. চোখের বালি
  3. গৃহদাহ
  4. পথের পাঁচালী
সঠিক উত্তর:
কৃষ্ণকান্তের উইল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কৃষ্ণকান্তের উইল
ব্যাখ্যা
• 'কৃষ্ণকান্তের উইল' উপন্যাস:
- এটি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় অন্যতম শ্রেষ্ঠ এবং সমকালে বিতর্কিত উপন্যাস।
- এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র বিধবা নারী রোহিনীকে অবলম্বন করে বঙ্কিমচন্দ্র নিজেই শিল্পবোধ ও নৈতিক আদর্শের দ্বন্ধে জড়িয়ে পড়েন।
- ঔপন্যাসিকের জীবদ্দশায় এই গ্রন্থের চারটি সংস্করণ হয়।

• উপন্যাসটির প্রধান চরিত্রগুলো হলো:
- রোহিনী,
- গোবিন্দলাল,
- ভ্রমর।

----------------------------------
• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- তিনি পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে ১৮৩৮ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
- 'সম্বাদ প্রভাকর' পত্রিকায় কবিতা লিখে সাহিত্যচর্চায় আত্মনিয়োগ করেন।
- তাঁর রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থের নাম- 'ললিতা তথা মানস'।
- তাকে বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয়।
- উপন্যাসের প্লট,চরিত্রের গঠন ,বিবর্তন, পরিবর্তন ও পরিব্যাপ্তিতে অনুসরণ করতেন তিনি।

• তাঁর রচিত গুরুত্বপূর্ণ উপন্যাস:
- দুর্গেশনন্দিনী,
- কপালকুন্ডলা,
- বিষবৃক্ষ,
- মৃণালিণী,
- রজনী,
- আনন্দমঠ,
- দেবী চৌধুরানী,
- সীতারাম,
- কৃষ্ণকান্তের উইল।

• তাঁর রচিত গুরুত্বপূর্ণ প্রবন্ধ:
- লোকরহস্য,
- কমলাকান্তের দপ্তর,
- বিবিধ সমালোচনা,
- সাম্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম; বাংলাপিডিয়া।
৪,১৭০.
মুহম্মদ আবদুল হাই রচিত ধ্বনিবিজ্ঞান বিষয়ক গ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) ধ্বনিবিজ্ঞানের কথা
  2. খ) সাহিত্য ও ধ্বনিবিজ্ঞান
  3. গ) আধুনিক বাংলা ধ্বনিবিজ্ঞান
  4. ঘ) ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব
সঠিক উত্তর:
ঘ) ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব
ব্যাখ্যা
• মুহম্মদ আবদুল হাই রচিত ধ্বনিবিজ্ঞান বিষয়ক গ্রন্থের নাম- ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব।

• ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব:
- বাংলা ভাষার ধ্বনির গঠন, উচ্চারণ ও ব্যবহারবিধি সংক্রান্ত বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা-বিশে­ষণ দিয়ে রচিত 
- তাঁর ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব গ্রন্থটি মুহম্মদ আবদুল হাইকে  আন্তর্জাতিক খ্যাতি দান করে।
- ভাষাতত্ত্বের মৌলিক বিষয় নিয়ে এরূপ উচ্চমানসম্পন্ন গবেষণাগ্রন্থ দুই বাংলার মধ্যে তিনি প্রথম রচনা করেন। 
- ধ্বনিবিজ্ঞানী হিসেবে গ্রন্থটি তাঁকে খ্যাতির শীর্ষে পৌঁছে  দেয়।

মুহম্মদ আবদুল হাই:
- মুহম্মদ আবদুল হাই একজন শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক, গবেষক, ভাষাবিজ্ঞানী।
- তিনি ২৬ নভেম্বর ১৯১৯ সালে মুর্শিদাবাদের রাণীনগর থানার মরিচা গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- তাঁর রচিত গ্রন্থ ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব (১৯৬৪)।

 • মুহাম্মদ আবদুল হাই রচিত গ্রন্থ:
- সাহিত্য ও সংস্কৃতি,
- তোষামোদ ও রাজনীতির ভাষা,
- ভাষা ও সাহিত্য,
- ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব,
- বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত প্রভৃতি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,১৭১.
'বাংলাদেশের আঞ্চলিক ভাষার অভিধান' কে সম্পাদনা করেন?
  1. মুহাম্মদ এনামুল হক
  2. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  3. সুনীতি কুমার চট্রোপাধ্যায়
  4. রামমোহন রায়
সঠিক উত্তর:
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
ব্যাখ্যা
'বাংলাদেশের আঞ্চলিক ভাষার অভিধান':
- ১৯৬৫ সালে এটি প্রথম প্রকাশিত হয়।
- বাংলাদেশের আঞ্চলিক ভাষাসমূহের সংকলন-জাতীয় গ্রন্থ এটিই প্রথম।

ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ:
- ১৮৮৫ সালের ১০ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের চবিবশ পরগনা জেলার পেয়ারা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তিনি একাধারে শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও ভাষাতত্ত্ববিদ ছিলেন।
- তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তুলনামূলক ভাষাতত্ত্বে এম.এ (১৯১২) পাস করেন। দুবছর পর তিনি বি.এল (১৯১৪) ডিগ্রিও অর্জন করেন।
- ১৯২৬ সালে শহীদুল্লাহ্ উচ্চশিক্ষা গ্রহণের জন্য ইউরোপ যান।
- মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ ছিলেন বহুভাষাবিদ এবং ভাষাবিজ্ঞানের ক্ষেত্রে তিনি স্বচ্ছন্দে বিচরণ করেছেন।
- তিনি ১৮টি ভাষা জানতেন; ফলে বিভিন্ন ভাষায় সংরক্ষিত জ্ঞানভান্ডারে তিনি সহজেই প্রবেশ করতে পেরেছিলেন।

তার উল্লেখযোগ্য রচনা কর্ম হলো:
- বাংলা সাহিত্যের কথা,
- ভাষা ও সাহিত্য,
- বাংলা ভাষার ইতিবৃত্ত।

উৎস: 
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,১৭২.
'চিলেকোঠার সেপাই' উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র কোনটি?
  1. বছির
  2. তপু
  3. ওসমান 
  4. রায়হান
সঠিক উত্তর:
ওসমান 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ওসমান 
ব্যাখ্যা

'চিলেকোঠার সেপাই':
- 'চিলেকোঠার সেপাই' ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত একটি মহাকাব্যিক উপন্যাস।
- কোনো বাড়ির চিলেকোঠায় বাস করেও স্বাধীনতার লক্ষ্যে গড়ে ওঠা বৃহত্তর আন্দোলনের জোয়ারে একজন সাধারণ মানুষের মিলতে সক্ষম হওয়ার গল্প এটি।
- একটি বিশেষ সময়ে জনজীবনের সমগ্রতাকে, বিশেষ করে গ্রাম ও শহরের প্রতিটি কোণের মানুষকে লেখক এ উপন্যাসে অত্যন্ত সুচারুভাবে উপস্থাপন করতে সক্ষম হয়েছেন।
- 'চিলেকোঠার সেপাই' ১৯৮০-এর দশকের শুরুতে 'রোববার' নামের সাপ্তাহিক পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয় এবং ১৯৮৬/৮৭ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।

- এ উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র ওসমান গণি ওরফে রঞ্জু দেশবিভাগের কারণে উদ্বাস্তু হয়ে ঢাকায় আসে।
- ওসমানের বাবা থেকে যান ভারতে, বাবা বেঁচে আছে কি না তা-ও জানে না সে। সবকিছু থেকে সে এতটাই বিচ্ছিন্ন আর ছিন্নমূল যে ঢাকার ঘিঞ্জি গলির মধ্যে এক বাড়ির চিলেকোঠায় বাস করাই তার জন্য যথাযথ হয়।
অন্যান্য চরিত্র:
- আনোয়ার
- আলাউদ্দিন
- আলতাফ
- হাড্ডি খিজির
- রানু প্রমুখ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৪,১৭৩.
'বালক অপু' কোন উপন্যাসের প্রধান চরিত্র? 
  1. পথের দাবী 
  2. বড়দিদি
  3. পথের পাঁচালী
  4. পোস্টমাস্টার
সঠিক উত্তর:
পথের পাঁচালী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পথের পাঁচালী
ব্যাখ্যা

• 'পথের পাঁচালী' উপন্যাস:
- 'পথের পাঁচালী' বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত একটি জনপ্রিয় বাংলা উপন্যাস। উপন্যাসটি ১৯২৯ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসটি 'বিচিত্রা' পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসের পটভূমিতে আছে বাংলাদেশের গ্রাম ও তার পরিচিত মানুষের জীবন।
- এতে একটি শিশুর চৈতন্যের জাগরণ, মানুষ ও প্রকৃতির সঙ্গে তার পরিচয় বর্ণিত হয়েছে।
- উপন্যাসের তিনটি ভাগ। বল্লালী বালাই, আমআঁটির ভেঁপু, অক্রূর সংবাদ।
- 'পথের পাঁচালী'র নায়ক বালক অপু।
- 'পথের পাঁচালী' ও 'অপরাজিত' উপন্যাস অবলম্বনে সত্যজিৎ রায় চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন।

উপন্যাসটির প্রধান চরিত্রগুলো হলো: 
- অপু,
- দুর্গা,
- ইন্দির ঠাকরুন,
- সর্বজয়া।

অন্যদিকে, 
------------------
• 'পথের দাবী' উপন্যাসের রচয়িতা হলেন প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (Sarat Chandra Chattopadhyay)। ১৯২৬ সালে প্রকাশিত এই বিখ্যাত বাংলা উপন্যাসটি ভারতের ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে বিপ্লবীদের সংগ্রাম নিয়ে রচিত। এই উপন্যাসের প্রধান চরিত্র সব্যসাচী। 

• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের 'বড়দিদি' (১৯১৩) উপন্যাসের প্রধান চরিত্র হলো আত্মত্যাগী ও সংযত বিধবা মাধবী (বড়দিদি) এবং অন্যমনস্ক যুবক সুরেন্দ্রনাথ। জমিদার বাড়ির প্রেক্ষাপটে রচিত এই উপন্যাসের অন্যান্য উল্লেখযোগ্য চরিত্রের মধ্যে রয়েছে মাধবীর পিতা ব্রজরাজ, ছোট বোন উমা এবং সুরেনের বিমাতা। 

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কালজয়ী ছোটগল্প 'পোস্টমাস্টার'-এর প্রধান চরিত্র কলকাতার এক যুবক পোস্টমাস্টার এবং বারো-তেরো বছরের অনাথ গ্রাম্য বালিকা রতন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং 'পথের পাঁচালী' উপন্যাস। 

৪,১৭৪.
'একক সন্ধ্যায় বসন্ত' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) সুফিয়া কামাল
  2. খ) শামসুর রাহমান
  3. গ) সৈয়দ আলী আহসান
  4. ঘ) হুমায়ুন আজাদ
সঠিক উত্তর:
গ) সৈয়দ আলী আহসান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সৈয়দ আলী আহসান
ব্যাখ্যা
একক সন্ধ্যায় বসন্ত, অনেক আকাশ, সহসা সচকিত, আমার প্রতিদিনের শব্দ, সমুদ্রেই যাব, রজনীগন্ধা, চাহার দরবেশ ও অন্যান্য কবিতা ইত্যাদি সৈয়দ আলী আহসান রচিত কাব্যগ্রন্থ।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৪,১৭৫.
সৈয়দ ওয়লীউল্লাহর লেখা নাটক কোনটি?
  1. কবর
  2. বহিপীর
  3. ওরা কদম আলী 
  4. লাল সালু
সঠিক উত্তর:
বহিপীর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বহিপীর
ব্যাখ্যা

• "বহিপীর" - সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর রচিত একটি নাটক।

অন্য অপশনগুলো:
ক) কবর = মুনীর চৌধুরীর ভাষা আন্দোলনভিত্তিক বিখ্যাত নাটক।
গ) ওরা কদম আলী = মামুনুর রশীদের নাটক।
ঘ) লাল সালু = সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর উপন্যাস (নাটক নয়)।
------------------
• 'বহিপীর' নাটক সম্পর্কিত কিছু তথ্য:
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ আধুনিক বাংলা সাহিত্যের কথাসাহিত্যিক ও নাট্যকার।'বহিপীর' সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ রচিত সামাজিক নাটক।
- ১৯৫৫ সালে 'বহিপীর' রচিত এবং নাটকটি ১৯৬৫ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
- নাটকটি গড়ে উঠেছে বহিপীরের সর্বগ্রাসী স্বার্থ ও নতুন দিনের প্রতীক এক বালিকার বিদ্রোহের কাহিনীকে কেন্দ্র করে।
- নাটকের এই কেন্দ্রীয় চরিত্রটির নাম অনুসারেই নাটকের নামকরণ করা হয়েছে বহিপীর। এখানে ধর্মকে ভণ্ডবহিপীর ব্যক্তিস্বার্থে ব্যবহার করে।

উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- বহিপীর,
- তাহেরা,
- হাতেম,
- আমেনা,
- হাশেম।

​উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

৪,১৭৬.
"গোলাপের কাঁটা" কবিতার রচয়িতা কে?
  1. সুফিয়া কামাল
  2. অসীম সাহা
  3. শক্তি চট্টোপাধ্যায়
  4. সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
অসীম সাহা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অসীম সাহা
ব্যাখ্যা
অসীম সাহা:
- একজন বাংলাদেশী কবি ও ঔপন্যাসিক।
- বাংলা সাহিত্যে সামগ্রিক অবদানের জন্য তিনি ২০১২ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন।
- বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে অবদানের জন্য ২০১৯ সালে বাংলাদেশ সরকার তাকে দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা একুশে পদকে ভূষিত করে।

তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্য:
- গোলাপের কাঁটা
- তোমার মুখের মতো চাঁদ
- দুঃখ আছে কতো রকম
- ফ্লাড
- শহরে, এই বৃষ্টিতে
- নিসর্গের খুন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা কবিতা ব্লগ ও পত্রিকা রিপোর্ট।

উল্লেখ্য,
- কেয়ার কাঁটা নামে সুফিয়া কামালের একটি কাব্য রয়েছে।
৪,১৭৭.
'তিতাস একটি নদীর নাম' কোন ধরনের উপন্যাস?
  1. আত্মজৈবনিক উপন্যাস
  2. রূপক উপন্যাস
  3. আঞ্চলিক উপন্যাস
  4. মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস
সঠিক উত্তর:
আঞ্চলিক উপন্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আঞ্চলিক উপন্যাস
ব্যাখ্যা

• "তিতাস একটি নদীর নাম" উপন্যাস:
- 'তিতাস একটি নদীর নাম' অদ্বৈত মল্লবর্মণ রচিত একটি আঞ্চলিক উপন্যাস।
- এটি প্রথম মাসিক 'মোহাম্মদী' পত্রিকায় প্রকাশিত হয় এবং লেখকের মৃত্যুর পর ১৯৫৬ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়। 

- ৪ খণ্ডে বিন্যাস্ত এই উপন্যাসে কুমিল্লা জেলার তিতাস নামক নদীতীরের ধীবর সমাজের রীতিনীতি, ধর্ম-সংস্কার, উৎসব ও জীবনযাপনের অনবদ্য কাহিনি তুলে ধরা হয়েছে।
- ১৯৭৩ সালে ঋত্বিক ঘটক এর কাহিনি অবলম্বন করে একই নামে চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন।
- উপন্যাসের প্রধান নারী চরিত্র বাসন্তী এবং প্রধান পুরুষ চরিত্র কিশোর। উপন্যাসে কিশোর, সুবল, অনন্ত, তিলক, কিশোর, বাসন্তী ও করমালীর চরিত্রের মাধ্যমে লেখক কাহিনি রূপ দিয়েছেন। 

উপন্যাসটির কিছু উক্তি:
• 'মনের মত মানুস পাইলাম না।' উক্তিটি জনৈক মালো যুবক। 
• 'তোমার আমার ঘরই নাই, তার আবার মানুষ।'- করমালীর উক্তি। 

------------------
• অদ্বৈত মল্লবর্মণ:
- অদ্বৈত মল্লবর্মণ ছিলেন সাংবাদিক ও ঔপন্যাসিক। তিনি ১৯১৪ সালের ১ জানুয়ারি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার গোকর্ণ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি 'ত্রিপুরা' পত্রিকায় সাংবাদিকতা দিয়ে কর্মজীবন শুরু করেন।
- তিনি 'মোহাম্মদী' পত্রিকায় বেনামে কবিতা লিখতেন।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা:
- নয়া বসত,
- রামধনু,
- দু রঙা প্রজাপতি,
- সাদা হাওয়া,
- দলবেঁধে,
- সাগরতীর্থে,
- রাঙামাটি ইত্যাদি।

তথ্যসূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া এবং 'তিতাস একটি নদীর নাম' অদ্বৈত মল্লবর্মণ। 

৪,১৭৮.
বিষ্ণু দে রচিত কাব্যগ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. সাত ভাই চম্পা
  2. নাম রেখেছি কোমল গান্ধার
  3. রুচি ও প্রগতি
  4. তুমি শুধু পঁচিশে বৈশাখ
সঠিক উত্তর:
রুচি ও প্রগতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রুচি ও প্রগতি
ব্যাখ্যা
⇒ ‘রুচি ও প্রগতি’ বিষ্ণু দে রচিত প্রবন্ধ।
- এটি আর্ট, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য বিষয়ক প্রবন্ধ।

⇒ বিষ্ণু দে:

- তিনি ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক, চিত্রসমালোচক ও শিল্পানুরাগী।
- ১৯০৯ সালের ১৮ জুলাই  কলকাতার পটলডাঙ্গায় তাঁর জন্ম।
- তাঁর পিতা অবিনাশচন্দ্র দে ছিলেন অ্যাটর্নি।
- বিষ্ণু দে ত্রিশোত্তর বাংলা কবিতার নব্যধারার আন্দোলনের প্রধান পাঁচজন কবির অন্যতম ছিলেন।
- তিনি মার্কসবাদী চেতনায় উদ্বুদ্ধ ছিলেন।
- তাঁর কবিতায় টি.এস এলিয়টের কবিতার প্রভাব রয়েছে।
- বিষ্ণু দে ‘পরিচয়’ পত্রিকায় (১৯৩১ থেকে ১৯৪৭ পর্যন্ত) সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। এবং তাঁর প্রকাশিত অপর পত্রিকা হচ্ছে ‘সাহিত্যপত্র’।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো হল:
- উর্বশী ও আর্টেমিস,
- চোরাবালি,
- সাত ভাই চম্পা,
- নাম রেখেছি কোমল গান্ধার,
- তুমি শুধু পঁচিশে বৈশাখ ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- রুচি ও প্রগতি,
- সাহিত্যের ভবিষ্যৎ,
- রবীন্দ্রনাথ ও শিল্প সাহিত্যে আধুনিকতার সমস্যা।

• অনুবাদ সাহিত্য:
- এলিয়টের কবিতা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৪,১৭৯.
‘ময়ূরকণ্ঠী’ এর রচয়িতা -
  1. ক) মুহম্মদ আব্দুল হাই
  2. খ) সৈয়দ মুজতবা আলী
  3. গ) মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  4. ঘ) অন্নদাশংকর রায়
সঠিক উত্তর:
খ) সৈয়দ মুজতবা আলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সৈয়দ মুজতবা আলী
ব্যাখ্যা
‘ময়ূরকণ্ঠী’ হলো সৈয়দ মুজতবা আলী এর একটি রম্যরচনা। তার রচিত আরেকটি উল্লেখযোগ্য রম্যরচনা ‘পঞ্চতন্ত্র’। [সূত্র: লাইভ এমসিকিউ লেকচার]
৪,১৮০.
আবুল ফজল রচিত 'রেখাচিত্র' গ্রন্থটি কোন জাতীয় রচনা?
  1. প্রবন্ধ
  2. ভ্রমণকাহিনী
  3. দিনিলিপি
  4. রম্যরচনা
সঠিক উত্তর:
দিনিলিপি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দিনিলিপি
ব্যাখ্যা
• ‘রেখাচিত্র’ আবুল ফজল রচিত একটি  - দিনলিপি। 

আবুল ফজল:

- তিনি ১লা জুলাই, ১৯০৩ সালে চট্টগ্রাম জেলার সাতকানিয়া উপজেলার অন্তর্গত কেঁওচিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত সাহিত্যিক।
- মুসলিম সাহিত্য সমাজের অন্যতম কর্ণধার হিসেবে 'বুদ্ধির মুক্তি' আন্দোলন গড়ে তোলেন।
- এ আন্দোলনের মুখপত্র 'শিখা' পত্রিকা।
- তিনি 'শিখা' পত্রিকার ৫ম সংখ্যা সম্পাদনা করেন।
- তিনি মুক্তবুদ্ধির চিরসজাগ প্রহরী নামে আখ্যায়িত হন।
- তিনি 'রেখাচিত্র' গ্রন্থের জন্য আদমজি পুরস্কার (১৯৬৬) লাভ করেন।
- তিনি ১৯৮৩ সালের ৪ঠা মে মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- চৌচির,
- প্রদীপ ও পতঙ্গ,
- রাঙ্গা প্রভাত।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- মাটির পৃথিবী,
- মৃতের আত্মহত্যা।

• তাঁর রচিত আত্মকাহিনি ও দিনলিপি:
- রেখাচিত্র।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,১৮১.
কবি আবুল হাসানের মৃত্যুর পর প্রকাশিত কাব্যনাট্য কোনটি?
  1. ক) ওরা কয়েকজন
  2. খ) রাজা যায় রাজা আসে
  3. গ) পৃথক পালঙ্ক
  4. ঘ) যে তুমি হরণ করো
সঠিক উত্তর:
ক) ওরা কয়েকজন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ওরা কয়েকজন
ব্যাখ্যা
• আবুল হাসান:
-  আবুল হাসান(১৯৪৭-১৯৭৫)  কবি, সাংবাদিক। ১৯৪৭ সালের ৪ আগস্ট  গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গীপাড়ার বর্ণি গ্রামে মাতুলালয়ে তাঁর জন্ম। 
- আবুল হাসানের প্রকৃত নাম আবুল হোসেন মিয়া। 
- তাঁর সাহিত্যিক নাম আবুল হাসান। 
- তিনি পেশায় সাংবাদিক ছিলেন।
- তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজিতে অনার্স নিয়ে বিএ শ্রেণীতে ভর্তি হন, কিন্তু পরীক্ষা শেষ না করেই ১৯৬৯ সালে দৈনিক ইত্তেফাকের বার্তাবিভাগে যোগদান করেন।
- তিনি গণবাংলা (১৯৭২-৭৩) এবং দৈনিক জনপদ-এ (১৯৭৩-৭৪) সহকারী সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- রাজা যায় রাজা আসে,
- যে তুমি হরণ করো,
- পৃথক পালঙ্ক।

- তাঁর মৃত্যুর পর প্রকাশিত কাব্যনাট্য ওরা কয়েকজন
- তাঁর প্রকাশিত গল্প সংকলন: 'আবুল হাসান গল্প সংগ্রহ'। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,১৮২.
সুকুমার রায় রচিত কবিতার বই কোনটি?
  1. চলচ্চিত্তচঞ্চরী
  2. পাগলা দাশু
  3. হযবরল
  4. আবোল তাবোল
সঠিক উত্তর:
আবোল তাবোল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবোল তাবোল
ব্যাখ্যা
• সুকুমার রায়:
- শিশুসাহিত্যিক সুকুমার রায় ১৮৮৭ সালে কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন।
- বিখ্যাত শিশুসাহিত্যিক, সঙ্গীতজ্ঞ ও যন্ত্রকুশলী উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী হলো সুকুমার রায়ের পিতা।
- সুকুমার রায়ের পুত্র অস্কারপ্রাপ্ত চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায়।
- তাঁদের আদি নিবাস ছিল ময়মনসিংহ জেলার মসুয়ায়।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্মগলো হলো:
• কবিতার বই:
- আবোল তাবোল,
- খাই খাই।

• গল্প: হযবরল।
• গল্প সংকলন: পাগলা দাশু।
• নাটক: চলচ্চিত্তচঞ্চরী।

এছাড়া তার অন্যান্য রচনার মধ্যে রয়েছে-
- অবাক জলপান,
- লক্ষণের শক্তিশেল',
- হেশোরাম হুশিয়ারের ডায়েরী,
- ঝালাপালা ও অন্যান্য নাটক এবং
- বহুরূপী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; 'হ-য-ব-র-ল' গ্রন্থের ভূমিকা এবং 'পাগলা দাশু' গল্পগ্রন্থের ভূমিকা।
৪,১৮৩.
'কাশবনের কন্যা' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. ক) শামসুদ্দীন আবুল কালাম
  2. খ) হুমায়ুন আহমেদ
  3. গ) হাসান আজিজুল হক
  4. ঘ) শওকত ওসমান
সঠিক উত্তর:
ক) শামসুদ্দীন আবুল কালাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) শামসুদ্দীন আবুল কালাম
ব্যাখ্যা
'কাশবনের কন্যা' উপন্যাসের রচয়িতা শামসুদ্দীন আবুল কালাম। এই উপন্যাসের দুই চরিত্র- হোসেন ও সিকদার। আলমনগরের উপকথা, জীবন কাব্য, কাঞ্চনমালা, কাঞ্চনগ্রাম, নবান্ন, যার সাথে যার, জায়জঙ্গল, সমুদ্রবাসর, মনের মতো ঠাঁই, দুই মহল ইত্যাদি তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাস।
উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।
৪,১৮৪.
“একদিন শ্রাবণের শেষাশেষি নিরাক পড়েছে।” — সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত ‘লালসালু’ উপন্যাসে ‘নিরাক-পড়া’ দ্বারা কী নির্দেশ করা হয়েছে?
  1. ডাকাতের অতর্কিত আক্রমণ
  2. দুর্ভিক্ষের পদধ্বনি
  3. ঝড় আসার পূর্বাভাস
  4. বাতাসশূন্য স্তব্ধ পরিবেশ
সঠিক উত্তর:
বাতাসশূন্য স্তব্ধ পরিবেশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাতাসশূন্য স্তব্ধ পরিবেশ
ব্যাখ্যা

 "লালসালু" উপন্যাস:
• 'লালসালু' সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত 'লালসালু'র একটি বহুমাত্রিক ও কালোত্তীর্ণ উপন্যাস। ১৯৪৮ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।

• এই উপন্যাসে একদিকে যেমন বাংলার গ্রামজীবনের বাস্তব প্রকৃতি ধরা পড়েছে তার সৌন্দর্য, মাধুর্য ও কঠোরতা নিয়ে; তেমনই রূপায়িত হয়েছে অসংখ্য গ্রামীণ মানুষের জীবন। সাধারণ মানুষের সরলতাকে কিভাবে ধর্ম ব্যবসার উপাদানরূপে ব্যবহার করা হয় তা লালসালু উপন্যাসের মূল উপজীব্য বিষয়। 

• নোয়াখালি অঞ্চল থেকে মজিদ নামের একটি কূটচরিত্র গারোপাহাড়ি অঞ্চলে গিয়ে সেই এলাকার মানুষকে ধর্মের নামে কীভাবে শোষণ করে, সেই বাস্তব চিত্র আছে উপন্যাসটিতে। ধর্ম ব্যবসায়ী মজিদ অর্থ ও প্রভাব বৃদ্ধির সঙ্গে অল্পবয়সী দ্বিতীয় স্ত্রী গ্রহণ করে। সে গ্রামের মোড়লদেরও প্রভাবিত করে। পাশের গ্রামে অন্য পিরের আগমন হলে, নিজের দাপট খর্ব হবে বিবেচনায়, তাকে মারধর দিয়ে উচ্ছেদ করে। তবে স্বল্পবয়সী স্ত্রী জমিলা কর্তৃক মজিদ লাঞ্ছিত হয়। উপন্যাসে জমিলা বিদ্রোহিণী, প্রতিবাদের প্রতীক।

• ঔপন্যাসিক ধর্মব্যবসায়ীদের উপলক্ষ করে লিখেছেন: 'খোদার এলেমে বুক ভরে না তলায় পেট শূন্য বলে।'
• উপন্যাসটি 'Tree Without Roots' নামে ইংরেজিতে অনূদিত হয়ে (১৯৬৭) খ্যাতি অর্জন করে।
• ওয়ালীউল্লাহর পত্নী অ্যান মেরির 'লালসালু'র ফরাসি অনুবাদের নাম- ল্য অরবরে সামস মায়েমে (১৯৬১)।
--------------------
উপন্যাসের কিছু অংশবিশেষ:
একদিন শ্রাবণের শেষাশেষি - নিরাক পড়েছে। হাওয়াশূন্য স্তব্ধতায় মাঠপ্ৰান্তর আর বিস্তৃত ধান ক্ষেত নিথর, কোথাও একটু কম্পন নেই। আকাশে মেঘ নেই। তামাটে নীলাভ রঙ দিগন্ত পর্যন্ত স্থির হয়ে আছে।

ব্যাখ্যা:
উপন্যাসের অংশবিশেষে বলা হয়েছে—

“হাওয়াশূন্য স্তব্ধতায় মাঠপ্রান্তর আর বিস্তৃত ধানক্ষেত নিথর, কোথাও একটু কম্পন নেই।”
এখানে—
- বাতাস নেই;
- প্রকৃতি সম্পূর্ণ স্থির;
-  নড়াচড়া নেই।

অতএব ‘নিরাক-পড়া’ বলতে নিস্তব্ধ, বাতাসশূন্য পরিবেশকেই বোঝানো হয়েছে।

সঠিক উত্তর - ঘ) বাতাসশূন্য স্তব্ধ পরিবেশ।
-----------------
• উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- মজিদ,
- খালেক ব্যাপারি,
- জমিলা,
- রহিমা,
- আমেনা,
- আক্কাস,
- তাহেরের বাপ,
- হাসুনির মা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং বাংলাপিডিয়া।

৪,১৮৫.
"ধর্ম ও সত্যের জয়, অধর্মের পরাজয় ও নায়িকার স্বামীনিষ্ঠা" তুলে ধরা হয়েছে কোন উপন্যাসে?
  1. তুর্কি নারী জীবন 
  2. আনোয়ারা
  3. সুলতানার স্বপ্ন 
  4. জীবনের শিল্প 
সঠিক উত্তর:
আনোয়ারা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আনোয়ারা
ব্যাখ্যা

• মোহাম্মদ নজিবর রহমান:
- তিনি সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরের চরবেলতৈল এ জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত ছিলেন ঔপন্যাসিক।
- তাঁর জনপ্রিয় ও প্রথম উপন্যাস হচ্ছে আনোয়ারা। উপন্যাসটি ১৯১৪ সালে প্রকাশিত হয়।

• 'আনোয়ারা' উপন্যাস:
- মোহাম্মদ নজিবর রহমান এর জনপ্রিয় ও প্রথম উপন্যাস হচ্ছে আনোয়ারা।
- উপন্যাসটি ১৯১৪ সালে প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসটিতে মধ্যবিত্ত বিকাশের চিত্রের কথা তুলে ধরা হয়েছে।
- এ উপন্যাসের প্রতিপাদ্য ধর্ম ও সত্যের জয়, অধর্মের পরাজয় ও আনোয়ারার স্বামীনিষ্ঠা।
- উপন্যাসের প্রধান চরিত্র: আনোয়ারা, নুরুল এসলাম, খাদেম, আজিমুল্লা, গোলাপ জান ইত্যাদি।

• নজিবর রহমান রচিত উল্লেখযোগ্য উপন্যাস: 
- প্রেমের সমাধি,
- পরিণাম,
- চাঁদতারা বা হাসান গঙ্গা বাহমনি,
- দুনিয়া আর চাই না,
- গরীবের মেয়ে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা

৪,১৮৬.
নিচের কোনটি বিষ্ণু দে রচিত কাব্যগ্রন্থ?
  1. ময়নামতীর চর
  2. পদ্মানদীর চর
  3. মধুমতীর চর
  4. সন্দ্বীপের চর
সঠিক উত্তর:
সন্দ্বীপের চর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সন্দ্বীপের চর
ব্যাখ্যা

•  'সন্দ্বীপের চর' কাব্যগ্রন্থটির রচয়িতা -  বিষ্ণু দে।

অন্যদিকে,
বন্দে আলী মিয়া রচিত কাব্য:
- ময়নামতীর চর,
- পদ্মানদীর চর,
- মধুমতীর চর,

• বিষ্ণু দে:
- তিনি ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক, চিত্রসমালোচক ও শিল্পানুরাগী।
- ১৯০৯ সালের ১৮ জুলাই কলকাতার পটলডাঙ্গায় তাঁর জন্ম।
- বিষ্ণু দে ত্রিশোত্তর বাংলা কবিতার নব্যধারার আন্দোলনের প্রধান পাঁচজন কবির অন্যতম ছিলেন।
- তিনি মার্কসবাদী চেতনায় উদ্বুদ্ধ ছিলেন।
- বিষ্ণু দে ‘পরিচয়’ পত্রিকায় (১৯৩১ থেকে ১৯৪৭ পর্যন্ত) সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। এবং তাঁর প্রকাশিত অপর পত্রিকা হচ্ছে ‘সাহিত্যপত্র’।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- উর্বশী ও আর্টেমিস,
- চোরাবালি,
- সাত ভাই চম্পা,
- নাম রেখেছি কোমল গান্ধার,
- তুমি শুধু পঁচিশে বৈশাখ ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- রুচি ও প্রগতি,
- সাহিত্যের ভবিষ্যৎ,
- রবীন্দ্রনাথ ও শিল্প সাহিত্যে আধুনিকতার সমস্যা।

• অনুবাদ সাহিত্য:
- এলিয়টের কবিতা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৪,১৮৭.
‘ক্রীতদাসের হাসি' উপন্যাসটির রচয়িতা কে?
  1. ক) শওকত ওসমান
  2. খ) আবুল ফজল
  3. গ) আবু জাফর শামসুদ্দীন
  4. ঘ) সত্যেন সেন
সঠিক উত্তর:
ক) শওকত ওসমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) শওকত ওসমান
ব্যাখ্যা
• ক্রীতদাসের হাসি:
- শওকত ওসমানের কালােত্তীর্ণ উপন্যাস - ক্রীতদাসের হাসি।
- এটি একটি প্রতিকাশ্রয়ী উপন্যাস। উপন্যাসটি ১৯৬২ সালে প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসে তৎকালীন সামরিক শাসক আয়ুব খানের সমালােচনা করা হয়েছিল রূপক-প্রতীকের আশ্রয়ে।
- বাগদাদের বাদশা হারুন অর রশিদ অত্যাচারী। সে ক্রীতদাস তাতারি ও বাঁদি মেহেরজানের প্রণয়ে বাধা সৃষ্টি এবং তাতারিকে গৃহবন্দি ও অত্যাচার করে।
- তাতারি আমৃত্যু বাদশা হারুনের নির্যাতনের প্রতিবাদ করে যায়।
- এখানে তাতারি বাঙালি জনতার এবং বাদশা হারুন আইয়ুব খানের প্রতীক তাতারির হাসি উপন্যাসে বাঙালির স্বাধীনতার প্রতীক হয়ে উঠেছে।
- এটি শওকত ওসমানের সর্বশ্রেষ্ঠ উপন্যাস বলে স্বীকৃত। এই গ্রন্থ রচনার জন্য তাঁকে আদমজি পুরস্কার দেয়া হয় ১৯৬৬ সালে।

তাঁর মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বিখ্যাত উপন্যাস:
- জাহান্নম হইতে বিদায়,
- দুই সৈনিক,
- নেকড়ে অরণ্য,
- জলাঙ্গী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,১৮৮.
হাসান হাফিজুর রহমান কতসালে জন্মগ্রহণ করেন?
  1. ক) ১৯৩০
  2. খ) ১৯৩২
  3. গ) ১৯৩৩
  4. ঘ) ১৯৩৫
সঠিক উত্তর:
খ) ১৯৩২
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ১৯৩২
ব্যাখ্যা
হাসান হাফিজুর রহমান:
- তিনি ১৯৩২ সালের ১৪ জুন জামালপুর শহরে মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার কুলকান্দি গ্রামে।
- ১৯৫২ সালে সাপ্তাহিক বেগম পত্রিকায় সহকারী সম্পাদক হিসেবে তিনি কর্মজীবন শুরু করেন।
- পরবর্তীতে সওগাত (১৯৫৩), ইত্তেহাদ (১৯৫৫-১৯৫৭), পাকিস্তান  (১৯৬৫) এবং স্বাধীনতার পর দৈনিক বাংলা পত্রিকায় কাজ করেন।
- ১৯৭২ সালের জানুয়ারি মাসে তিনি দৈনিক বাংলার সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি নির্বাচিত হন।
- ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে তিনি সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন এবং এ বছরই তাঁর বিখ্যাত কবিতা ‘অমর একুশে’ রচিত হয়।
- ১৯৫৩ সালে তাঁর সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় ভাষা আন্দোলনের ওপর প্রথম সংকলন গ্রন্থ একুশে ফেব্রুয়ারী।
- হাসান হাফিজুর রহমান ব্যক্তিগত জীবনে ছিলেন একজন কমিউনিস্ট। বাঙালি জাতীয়তাবাদ ও বাঙালি সংস্কৃতির প্রতি তাঁর আজীবন অনুরাগ ছিল।
- ১৯৫৪ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাহিত্য সম্পাদক নির্বাচিত হন এবং ডাকসুর মাসিক ম্যাগাজিন Spectra সম্পাদনা করেন।
- হাসান হাফিজুর রহমানের সম্পাদনায় ১৬ খন্ডে বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধ: দলিলপত্র (১৯৮২-৮৩) প্রকাশিত হয়।
- ১৯৮৩ সালের ১ এপ্রিল মস্কো সেন্ট্রাল ক্লিনিক্যাল হাসপাতালে তাঁর জীবনাবসান ঘটে।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- আধুনিক কবি ও কবিতা, 
- মূল্যবোধের জন্য, 
- সাহিত্য প্রসঙ্গ, 
- আলোকিত গহ্বর ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- আর্ত শব্দাবলী,
- অন্তিম শহরের মতো,
- যখন উদ্যত সঙ্গীন,
- ভবিতব্যের বাণিজ্য তরী,
- শোকার্ত তরবারি ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত গল্প:
- আরো দুটি মৃত্যু। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৪,১৮৯.
বিহারীলাল চক্রবর্তী রচিত কাব্যগ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. সারদা মঙ্গল
  2. বঙ্গসুন্দরী
  3. প্রেম প্রবাহিণী
  4. কালিকামঙ্গল
সঠিক উত্তর:
কালিকামঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কালিকামঙ্গল
ব্যাখ্যা
• কালিকামঙ্গল বিহারীলাল চক্রবর্তী রচিত কাব্যগ্রন্থ নয়।

- কালিকামঙ্গল কাব্যের আদি কবি- কবি কঙ্ক।
- এছাড়া সাবিরিদ খান ও রমাপদ সেন কালিকা মঙ্গল কাব্য রচনা করেছেন।

• বিহারীলাল চক্রবর্তী:

- তিনি ১৮৩৫ সালে নিমতলা, কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি আধুনিক বাংলা গীতিকবিতার অন্যতম পুরোধা এবং রবীন্দ্রনাথের কাব্যগুরু হিসেবে পরিচিত।
- তিনি বাংলা সাহিত্যের আধুনিক গীতিকবিতার স্রষ্টা।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর 'সারদা মঙ্গল' কাব্য পড়ে তাঁকে 'ভোরের পাখি' বলে আখ্যায়িত করেন।
- তাঁর শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ 'সারদা মঙ্গল'।
- তাঁর শেষ কাব্যগ্রন্থ 'সাধের আসন'। একে 'সারদা মঙ্গল' কাব্যের পরিশিষ্ট বলা হয়।
- তিনি ১৮৯৪ সালের ২৪ মে মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- স্বপ্নদর্শন,
- সঙ্গীত শতক,
- বন্ধু-বিয়োগ,
- প্রেম প্রবাহিণী,
- নিসর্গ সন্দর্শন,
- বঙ্গসুন্দরী,
- সারদা মঙ্গল,
- নিসর্গ সঙ্গীত,
- মায়াদেবী,
- দেবরাণী,
- বাউল বিংশতি,
- সাধের আসন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৪,১৯০.
'বিশ শতকের বাঙালি' প্রবন্ধগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. আহমদ শরীফ
  2. দীনেশচন্দ্র সেন
  3. সুকুমার সেন
  4. গোপাল হালদার
সঠিক উত্তর:
আহমদ শরীফ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আহমদ শরীফ
ব্যাখ্যা
•'বিশ শতকের বাঙালি' প্রবন্ধটির রচয়িতা: 'আহমদ শরীফ।

• আহমদ শরীফ:
- একজন শিক্ষাবিদ, চিন্তাবিদ, লেখক এবং বাংলা সাহিত্যের অন্যতম গবেষক।
- তিনি ১৯২১ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম জেলায় পটিয়া উপজেলায় সুচক্রদণ্ডী গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- বাংলা একাডেমি সংক্ষিপ্ত বাংলা অভিধান এর সম্পাদক আহমদ শরীফ।
- তাঁর বাঙালী ও বাঙলা সাহিত্য (দুখন্ড ১৯৭৮, ১৯৮৩) মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস গ্রন্থের মর্যাদা লাভ করেছে। এটি তাঁর শ্রেষ্ঠ রচনা।

• আহমদ শরীফ রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- বিশ শতকের বাঙালি,
- বিচিত্র চিন্তা,
- স্বদেশ অন্বেষা,
- স্বদেশ চিন্তা,
- বাঙালী ও বাঙলা সাহিত্য,
- সাহিত্য সংস্কৃতি চিন্তা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।
৪,১৯১.
'রুদ্ধদ্বার মুক্তপ্রাণ' উপন্যাসটি কে লিখেছেন?
  1. ক) সৈয়দ শামসুল হক
  2. খ) সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  3. গ) সত্যেন সেন
  4. ঘ) শামসুর রাহমান
সঠিক উত্তর:
গ) সত্যেন সেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সত্যেন সেন
ব্যাখ্যা
'রুদ্ধদ্বার মুক্তপ্রাণ' উপন্যাসটি সত্যেন সেন রচিত। প্রকাশিত হয় ১৯৭৩ সালে।

সত্যেন সেন রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- ভোরের বিহঙ্গী, ‌
- অভিশপ্ত নগরী,
- পাপের সন্তান,
- সাত নম্বর ওয়ার্ড,
- পদচিহ্ন,
- আলবেরুনী ইত্যাদি ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,১৯২.
'বাংলার লোকসাহিত্য' গ্রন্থটির লেখক কে?
  1. দীনেশচন্দ্র সেন
  2. আশুতোষ ভট্টাচার্য
  3. জসীম উদ্‌দীন
  4. আশরাফ সিদ্দিকী
সঠিক উত্তর:
আশুতোষ ভট্টাচার্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আশুতোষ ভট্টাচার্য
ব্যাখ্যা
• আশুতোষ ভট্টাচার্য: 
- ১৯০৯ সালে কিশোরগঞ্জ জেলার ঝালুয়া গ্রামে মাতুলালয়ে তাঁর জন্ম।
- একজন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন লোকসংস্কৃতিবিদ হিসেবেই আশুতোষের প্রধান পরিচয়।
- তিনি মধ্যযুগের বাংলা মঙ্গলকাব্য এবং আধুনিক যুগের বাংলা নাটকের ইতিহাস রচনা করেও খ্যাতি অর্জন করেন।
- ১৯৮৪ সালের ১৯ মার্চ কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

• তাঁর তিনটি মৌলিক গ্রন্থ:
- বাংলা মঙ্গলকাব্যের ইতিহাস,
- বাংলা নাট্যসাহিত্যের ইতিহাস (১ম ও ২য় খণ্ড: ১৯৫৫ ও ১৯৬১)
- এবং বাংলা সামাজিক নাটকের বিবর্তন (১৯৬৪)। 

বাংলা লোকসাহিত্য সম্পর্কেও তাঁর একাধিক গবেষণাগ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে,
যথা:
বাংলার লোকসাহিত্য (৬ খণ্ড, ১৯৫৪-১৯৭২),
বাংলার লোকশ্রুতি (১৯৬০),
বঙ্গীয় লোকসঙ্গীত রত্নাকর (৪ খণ্ড ১৯৬৬-৬৭),
বাংলার লোকনৃত্য (২ খণ্ড ১৯৭৬, ১৯৮২),
বাংলার লোকসংস্কৃতি (১৯৭৯),
Chhau Dance of Purulia (১৯৭২),
The Sun and the Serpentlore of Bengal (১৯৭৭),
Folklore of Bengal (১৯৭৮) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৪,১৯৩.
'আমরা হিন্দু বা মুসলমান যেমন সত্য, তার চেয়ে বেশি সত্য আমরা বাঙালি।' – এই উক্তিটি কার?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. নির্মলেন্দু গুণ
  3. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  4. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্
ব্যাখ্যা
• ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্:
• ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ (১৮৮৫-১৯৬৯) ভারতীয় উপমহাদেশের একজন স্মরণীয় বাঙালি ব্যক্তিত্ব, বহুভাষাবিদ, বিশিষ্ট শিক্ষক ও দার্শনিক ছিলেন। তিনি ১৮৮৫ সালের ১০ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার পেয়ারা গ্রামে তাঁর জন্ম।
• তিনি 'জ্ঞানতাপস' হিসেবে অধিক পরিচিত। তাঁকে 'চলিষ্ণু অভিধান' বলা হয়।
• ১৯৫৫-৫৮ সাল পর্যন্ত তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ও সংস্কৃত বিভাগে অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ইমেরিটাস নিযু্ক্ত হন।
• ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ে শহীদুল্লাহ্ বহু মননশীল ও জ্ঞানগর্ভ প্রবন্ধ নানা পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে এবং এ সংক্রান্ত বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা তিনি সম্পাদনা করেন। আল এসলাম পত্রিকার সহকারী সম্পাদক ও বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকার যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে তিনি যোগ্যতার পরিচয় দেন।
• তাঁরই সম্পাদনা ও প্রকাশনায় মুসলিম বাংলার প্রথম শিশুপত্রিকা আঙুর আত্মপ্রকাশ করে। এছাড়াও তিনি ইংরেজি মাসিক পত্রিকা দি পীস, বাংলা মাসিক সাহিত্য পত্রিকা বঙ্গভূমি এবং পাক্ষিক তকবীর সম্পাদনা করেন।

• ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপট জাতিসত্তা সম্পর্কে — ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহর বিখ্যাত উক্তি — ''আমরা হিন্দু বা মুসলমান যেমন সত্য, তার চেয়ে বেশি সত্য আমরা বাঙালি।''

তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলি হলো:
- সিন্দবাদ সওদাগরের গল্প,
- ভাষা ও সাহিত্য,
- বাঙ্গালা ব্যাকরণ,
- দীওয়ান-ই-হাফিজ,
- শিকওয়াহ ও জওয়াব-ই-শিকওয়াহ,
- রুবাইয়াত-ই-উমর খয়্যাম,
- Essays on Islam,
- আমাদের সমস্যা,
- পদ্মাবতী,
- বাংলা সাহিত্যের কথা (২ খণ্ড),
- বিদ্যাপতি শতক,
- বাংলা আদব কী তারিখ,
- বাঙ্গালা ভাষার ইতিবৃত্ত,
- কুরআন শরীফ,
- অমরকাব্য,
- সেকালের রূপকথা ইত্যাদি।

• তাঁর সম্পাদিত আঞ্চলিক ভাষার অভিধান এক বিশেষ কীর্তি। মুহম্মদ আবদুল হাই -এর সঙ্গে তাঁর যুগ্ম-সম্পাদনায় রচিত Traditional Culture in East Pakistan (১৯৬১) একখানা উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,১৯৪.
আবু ইসহাক সৃষ্ট ‘জয়গুণ’ চরিত্রটি কোন উপন্যাসে পাওয়া যায়?
  1. লালসালু
  2. পদ্মার পলিদ্বীপ
  3. সারেং বৌ
  4. সূর্য দীঘল বাড়ী
সঠিক উত্তর:
সূর্য দীঘল বাড়ী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সূর্য দীঘল বাড়ী
ব্যাখ্যা
'সূর্য দীঘল বাড়ী' উপন্যাস:
- এটি আবু ইসহাক রচিত একটি সামাজিক উপন্যাস।
- ১৯৫৫সালে উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়।
- বাংলাদেশের গ্রাম জীবনের বিশ্বস্ত দলিল এই গ্রন্থ।
- বিশ্বযুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, দেশবিভাগ প্রভৃতি পরপর চারটি বড় ঐতিহাসিক ঘটনার পটভূমিতে তিনি রচনা করেন 'সূর্য দীঘল বাড়ী'
- 'জয়গুন' এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র।
- উপন্যাসের অন্যান্য চরিত্র: হাসু, মায়মুন, শাফি, ডা. রমেশ চক্রবর্তী, মোরল গদু ইত্যাদি।

আবু ইসহাক: 
- আবু ইসহাক কথাসাহিত্যিক, অভিধান-প্রণেতা। জন্ম শরিয়তপুর জেলার শিরঙ্গল গ্রামে, ১৯২৬ সালের ১ নভেম্বর। 
- কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত নবযুগ পত্রিকায় আবু ইসহাকের ‘অভিশাপ’ নামে একটি গল্প প্রকাশিত হয়।
- পরে কলিকাতার সওগাত, আজাদ প্রভৃতি পত্রিকায় তাঁর বিভিন্ন রচনা প্রকাশিত হয়। 
- আবু ইসহাকের দ্বিতীয় উপন্যাস পদ্মার পলিদ্বীপ (১৯৮৬); এ উপন্যাসে পদ্মার বুকে জেগে-ওঠা চরের শ্রমজীবী মানুষের জীবন-সংগ্রামের কথা আছে।
- ২০০৩ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়। 

• কথাসাহিত্যিক আবু ইসহাক রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- পদ্মার পলিদ্বীপ,
- জাল।

• গল্পগ্রন্থ:
- হারেম,
- মহাপতঙ্গ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,১৯৫.
নিচের কোনটি ভ্রমণকাহিনী?
  1. ঘরে ফেরার দিন
  2. পথে প্রবাসে
  3. ডানপিঠে শওকত
  4. যাদের দেখেছি
সঠিক উত্তর:
পথে প্রবাসে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পথে প্রবাসে
ব্যাখ্যা

• অন্নদাশঙ্কর রায়ের ভ্রমণকাহিনীঃ
- পথে প্রবাসে,
- ইউরোপের চিঠি।
• 'ঘরে ফেরার দিন' অমিয় চক্রবর্তীর কাব্যগ্রন্থ।
• ডানপিঠে শওকত আবদুল গাফ্ফার চৌধুরীর শিশুতোষ গ্রন্থ।
• যাদের দেখেছি পল্লীকবি জসীমউদ্দীনের আত্মকথা।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার ও বাংলাপিডিয়া।

৪,১৯৬.
'স্টপ জেনোসাইড' প্রামাণ্যচিত্রের মূল বিষয়বস্তু কী?
  1. ক) ভাষা আন্দোলন
  2. খ) মুক্তিযুদ্ধ
  3. গ) ৬৯ এর গনভ্যুত্থান
  4. ঘ) দুর্ভিক্ষ
সঠিক উত্তর:
খ) মুক্তিযুদ্ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মুক্তিযুদ্ধ
ব্যাখ্যা
'স্টপ জেনোসাইড' প্রামাণ্যচিত্রের মূল বিষয়বস্তু- 'মুক্তিযুদ্ধ'  
- জহির রায়হান বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্থানি হানাদার বাহিনীর গণহত্যার যে প্রামাণ্যচিত্র তৈরি করেছিলেন তার নাম 'স্টপ জেনোসাইড'।

জহির রায়হান 
- জহির রায়হান ১৯৩৫ সালে তিনি ফেনী জেলার মজিপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ছাত্রজীবনেই তিনি লেখালেখিতে আগ্রহ প্রকাশ করেন।
- তাঁর প্রথম পরিচালিত ছবি- 'কখনো আসে নি' 

তাঁর রচিত উপন্যাস হচ্ছে 
- শেষ বিকেলের মেয়ে,
- হাজার বছর ধরে,
- আরেক ফাল্গুন,
- বরফ গলা নদী এবং
- আর কত দিন।

তাঁর নির্মিত বিভিন্ন চলচ্চিত্র হলো:
- সোনার কাজল,
- কাঁচের দেয়াল,
- বেহুলা,
- জীবন থেকে নেয়া,
- আনোয়ারা,
- সঙ্গম এবং
- বাহানা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,১৯৭.
'কবর' নাটকটি প্রথম মঞ্চস্থ হয় কত সালে?
  1. ক) ১৯৫২
  2. খ) ১৯৫৩
  3. গ) ১৯৫৪
  4. ঘ) ১৯৫৫
সঠিক উত্তর:
খ) ১৯৫৩
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ১৯৫৩
ব্যাখ্যা
'কবর' (১৯৫৩) মুনীর চৌধুরী রচিত একুশের পটভূমিতে রচিত প্রথম বাংলা নাটক। 
- বাংলা ভাষা আন্দোলনের পক্ষে কাজ করার অভিযোগে মুনীর চৌধুরীকে ১৯৫২ সালে পাকিস্তান সরকার আটক ও জেলে প্রেরণ করে। 
- জেলে থাকা অবস্থায় তিনি লেখেন এই নাটক ও ১৯৫৩ সালে কারান্তরালে রাজবন্দিরা তাতে অভিনয় করেন ।
- এ নাটকে মুনীর চৌধুরী কোন নারী চরিত্র রাখেন নি। 
-------------

মুনীর চৌধুরী (১৯২৫-১৯৭১)
- মুনীর চৌধুরী সমকালীন জাতীয় আন্দোলনের সঙ্গেও নিজেকে সম্পূর্ণরূপে সম্পৃক্ত করেছিলেন।
- ১৯৭১ সালের মার্চে  বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যে অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দিয়েছিলেন, তার সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে তিনি পাকিস্তান সরকারের দেওয়া সিতারা-ই-ইমতিয়াজ (১৯৬৬) খেতাব বর্জন করেন।
- মুনীর চৌধুরী মঞ্চ, বেতার, টেলিভিশন এবং চলচ্চিত্র মাধ্যমে নাট্যকার, নির্দেশক, অভিনেতা ও সংগঠকের ভূমিকা পালন করেন।
- তাঁর একটি বিশেষ কীর্তি বাংলা টাইপ রাইটারের কি-বোর্ড (১৯৬৫) উদ্ভাবন, যা ‘মুনীর অপটিমা’ নামে পরিচিত।

তাঁর উল্লেখযোগ্য নাটক-
- কবর (১৯৬৬),
- চিঠি (১৯৬৬), 
- দন্ডকারণ্য (১৯৬৬)
- পলাশী ব্যারাক  ও অন্যান্য  (১৯৬৯)
- কেউ কিছু বলতে পারে না (১৯৬৭),
- রূপার কৌটা (১৯৬৯),
- মুখরা রমণী বশীকরণ (১৯৭০) ইত্যাদি 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,১৯৮.
আবুল হোসেন রচিত স্মৃতিকথা কোনটি?
  1. ক) রেখাচিত্র
  2. খ) লেখকের রোজনামচা
  3. গ) আত্মকথা
  4. ঘ) আমর এই ছোট ভুবন
সঠিক উত্তর:
ঘ) আমর এই ছোট ভুবন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) আমর এই ছোট ভুবন
ব্যাখ্যা
আবুল মনসুর আহমদ রচিত আত্মজীবনী – ‘আত্মকথা’ (১৯৭৮)। ‘রেখাচিত্র’ ও ‘লেখকের রোজনামচা’ রচয়িতা হলেন আবুল ফজল। ‘আমার এই ছোট ভুবন’ হলো আবুল হোসেনের স্মৃতিকথা। রেফারেন্সঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য – মোহসীনা নাজিলা।
৪,১৯৯.
আখতারুজ্জামান ইলিয়াস কোন উপন্যাসের জন্য ‘সাদত আলী আখন্দ' পুরস্কার লাভ করেন?
  1. চিলেকোঠার সেপাই,
  2. অন্য ঘরে অন্য স্বর
  3. দোজখের ওম
  4. খোয়াবনামা
সঠিক উত্তর:
খোয়াবনামা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খোয়াবনামা
ব্যাখ্যা
'খোয়াবনামা' উপন্যাস:
- ঐতিহাসিক উপাদান নির্ভর উপন্যাস 'খোয়াবনামা' এর রচয়িতা আখতারুজ্জামান ইলিয়াস।
- গ্রাম বাংলার নিম্নবিত্ত শ্রমজীবী মানুষের জীবনলেখ্যসহ ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ, আসামের ভূমিকম্প, তেভাগা আন্দোলন , ১৯৪৩ সালের- এর মন্বন্তর, পাকিস্তান আন্দোলন , সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ইত্যাদি ঐতিহাসিক উপাদান নিপুনভাবে উপস্থিত করা হয়েছে।
- তিনি ১৯৯৫ সালে 'খোয়াবনামা' উপন্যাসের জন্য ‘সাদত আলী আখন্দ' পুরস্কার’ ও ১৯৯৬ সালে কলকাতার ‘আনন্দ পুরস্কার’ লাভ করেন।

আখতারুজ্জামান ইলিয়াস:

- আখতারুজ্জামান ইলিয়াস কথাসাহিত্যিক ছিলেন।
- তাঁর পূর্ণনাম আখতারুজ্জামান মুহম্মদ ইলিয়াস।
- এদেশের প্রগতিশীল ও মানবতাবাদী সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক আন্দোলনের প্রতিও তাঁর পরোক্ষ সমর্থন ছিল।
- তাঁর লেখায় সমাজবাস্তবতা ও কালচেতনা গভীরভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।

তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ হলো:
উপন্যাস:
- চিলেকোঠার সেপাই,
- খােয়াবনামা।
(এই দুটি হলো তার মহাকাব্যোচিত উপন্যাস)

গল্পগ্রন্থ:
- অন্য ঘরে অন্য স্বর,
- খোয়ারি,
- দুধভাতে উৎপাত,
- দোজখের ওম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।
৪,২০০.
কোন কাব্যের জন্য বিহারীলাল চক্রবর্তী 'ভোরের পাখি' উপাধিতে ভূষিত হন?
  1. নিসর্গ সন্দর্শন
  2. বাউল বিংশতি
  3. সারদামঙ্গল
  4. দেবরাণী
সঠিক উত্তর:
সারদামঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সারদামঙ্গল
ব্যাখ্যা
• বিহারীলাল চক্রবর্তী রচিত 'সারদামঙ্গল' কাব্য পড়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁকে 'ভোরের পাখি' উপাধিতে ভূষিত করেন।

• বিহারীলাল চক্রবর্তী:

- তিনি ১৮৩৫ সালে নিমতলা, কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি আধুনিক বাংলা গীতিকবিতার অন্যতম পুরোধা এবং রবীন্দ্রনাথের কাব্যগুরু হিসেবে পরিচিত।
- তিনি বাংলা সাহিত্যের আধুনিক গীতিকবিতার স্রষ্টা।
- তাঁর শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ 'সারদা মঙ্গল'।
- তাঁর শেষ কাব্যগ্রন্থ 'সাধের আসন'। একে 'সারদা মঙ্গল' কাব্যের পরিশিষ্ট বলা হয়।
- তিনি ১৮৯৪ সালের ২৪ মে মৃত্যুবরণ করেন।

• বিহারীলাল চক্রবর্তী রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- স্বপ্নদর্শন,
- সঙ্গীত শতক,
- বন্ধু-বিয়োগ,
- প্রেম প্রবাহিণী,
- নিসর্গ সন্দর্শন,
- বঙ্গসুন্দরী,
- সারদামঙ্গল,
- নিসর্গ সঙ্গীত,
- মায়াদেবী,
- দেবরাণী,
- বাউল বিংশতি,
- সাধের আসন।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২. বাংলাপিডিয়া।