বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

আধুনিক যুগের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ লেখক

মোট প্রশ্ন৭,৬৪৬এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

আধুনিক যুগের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ লেখক

PrepBank · পাতা ৩৮ / ৭৭ · ৩,৭০১৩,৮০০ / ৭,৬৪৬

৩,৭০১.
'সারদামঙ্গল' কাব্যের পরিশিষ্ট বলা যায় কোন কাব্যগ্রন্থ কে?
  1. স্বপ্নদর্শন
  2. সাধের আসন
  3. সঙ্গীতশতক
  4. নিসর্গসন্দর্শন
সঠিক উত্তর:
সাধের আসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাধের আসন
ব্যাখ্যা
"সাধের আসন" কাব্যগ্রন্থ:
- বিহারীলাল চক্রবর্তীর শেষ কাব্যগ্রন্থ 'সাধের আসন' (১৮৮৯)।
-'সাধের আসন'কে 'সারদামঙ্গল' কাব্যের পরিশিষ্ট বলা যায়।
- কোনো এক সম্ভ্রান্ত বিবাহিত নারী কবির 'সারদামঙ্গল' কাব্য পাঠ করে নিজ হাতে একটি আসন বুনে কবিকে প্রশ্ন করেছিলেন, "তুমি কাকে ধ্যান কর?"।
- এর উত্তর স্বরূপ বিহারীলাল 'সাধের আসন' লিখেছিলেন।

• বিহারীলাল চক্রবর্তী:
- বিহারীলাল চক্রবর্তী আধুনিক বাংলা গীতিকবিতার অন্যতম পুরোধা এবং রবীন্দ্রনাথের কাব্যগুরু হিসেবে পরিচিত।
- তিনি ১৮৩৫ সালের ২১ মে কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিহারীলাল চক্রবর্তীকে 'ভোরের পাখি' বলে আখ্যায়িত করেন।
- কারণ বিহারীলালই প্রথম বাংলায় ব্যক্তির আত্মলীনতা, ব্যক্তিগত অনুভূতি ও গীতোচ্ছ্বাস সহযোগে কবিতা রচনা করে বাংলা কবিতাকে নতুন এক প্রেরণা দান করেন। এ ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন প্রথম। এইজন্য রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাকে 'ভোরের পাখি' বলে আখ্যায়িত করেন।

• বিহারীলাল চক্রবর্তী কাব্যগ্রন্থ গুলো:
- স্বপ্নদর্শন,
- সঙ্গীতশতক
- বন্ধুবিয়োগ,
- প্রেমপ্রবাহিণী,
- নিসর্গসন্দর্শন,
- বঙ্গসুন্দরী,
- সারদামঙ্গল,
- নিসর্গসঙ্গীত,
- মায়াদেবী,
- দেবরাণী,
- বাউলবিংশতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৩,৭০২.
“জলে ডাঙ্গায়” কী ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. ক) ভ্রমণকাহিনী
  2. খ) ছোটগল্প
  3. গ) প্রবন্ধ
  4. ঘ) রম্য
সঠিক উত্তর:
ক) ভ্রমণকাহিনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ভ্রমণকাহিনী
ব্যাখ্যা

- সৈয়দ মুজতবা আলী একজন বাঙালি সাহিত্যিক ও শিক্ষাবিদ।
- তিনি ভ্রমণ কাহিনীর জন্য বিশেষভাবে জনপ্রিয়।
- 'দেশে বিদেশে' ও 'জলে ডাঙ্গায়' তাঁর রচিত বিখ্যাত ভ্রমণ কাহিনী।

তাঁর রচিত রম্যরচনাঃ
- পঞ্চতন্ত্র,
- ময়ূরকণ্ঠী,

তাঁর রচিত ছোটগল্পঃ
- চাচা কাহিনী,
- টুনি মেম। 

উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

৩,৭০৩.
'পূর্ণিমা মিলন' নামে সাহিত্যিক সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন কে? 
  1. বিষ্ণু দে
  2. দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  3. মানিক বন্ধ্যোপাধ্যায়
  4. অমিয় চক্রবর্তী
সঠিক উত্তর:
দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
ব্যাখ্যা

• দ্বিজেন্দ্রলাল রায়: 
- দ্বিজেন্দ্রলাল রায় কবি, নাট্যকার, গীতিকার।
- ১৮৬৩ সালের ১৯ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের  নদীয়া জেলার কৃষ্ণনগরে তাঁর জন্ম। 
- দ্বিজেন্দ্রলাল ১৯০৫ সালে কলকাতায় ‘পূর্ণিমা মিলন’ নামে একটি সাহিত্যিক সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন।
- ছাত্রজীবনে তাঁর আর্য্যগাথা এবং বিলেতে থাকাকালে ‘Lyrics of Ind’ (১৮৮৬) কাব্য প্রকাশিত হয়।
- ১৯০৩ সাল পর্যন্ত তিনি মূলত কাব্যই রচনা করেন এবং এ সময় পর্যন্ত তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ বারোটি।
- ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দেশে যে গণজাগরণমূলক গান রচনার প্রচলন শুরু হয়, তাতে দ্বিজেন্দ্রলালের অবদান ছিল অসামান্য। 
- দ্বিজেন্দ্রলাল রচিত জনপ্রিয় দেশাত্মবোধক গানগুলির মধ্যে ‘বঙ্গ আমার জননী আমার’, ‘ধন ধান্য পুষ্পভরা’ ইত্যাদি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
- ১৯১৩ সালের ১৭ মে কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের ঐতিহাসিক নাটকগুলো হলো:
 - তারাবাঈ,
 - প্রতাপ সিংহ,
 - দুর্গাদাস,
 - নূরজাহান,
 - মেবার পতন,
 - সাজাহান,
 - চন্দ্রগুপ্ত,
 - সিংহলবিজয় ইত্যাদি।

দ্বিজেন্দ্রলাল রায় রচিত সামাজিক নাটকগুলো হলো:
 - পরপারে,
 - বঙ্গনারী।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩,৭০৪.
আখতারুজ্জামান ইলিয়াস 'খোয়াবনামা' উপন্যাসের জন্য কোন পুরস্কার লাভ করেন?
  1. আলাওল সাহিত্য পুরস্কার
  2. বাংলা একাডেমি পুরস্কার
  3. সাদত আলী আখন্দ পুরস্কার
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
সাদত আলী আখন্দ পুরস্কার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাদত আলী আখন্দ পুরস্কার
ব্যাখ্যা
• 'খোয়াবনামা' উপন্যাস:
- ঐতিহাসিক উপাদান নির্ভর উপন্যাস 'খোয়াবনামা' এর রচয়িতা আখতারুজ্জামান ইলিয়াস।
- গ্রাম বাংলার নিম্নবিত্ত শ্রমজীবী মানুষের জীবনলেখ্যসহ ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ, আসামের ভূমিকম্প, তেভাগা আন্দোলন, ১৯৪৩ সালের-এর মন্বন্তর, পাকিস্তান আন্দোলন, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ইত্যাদি ঐতিহাসিক উপাদান নিপুনভাবে উপস্থিত করা হয়েছে।
- তিনি ১৯৯৫ সালে 'খোয়াবনামা' উপন্যাসের জন্য 'সাদত আলী আখন্দ পুরস্কার' ও ১৯৯৬ সালে কলকাতার 'আনন্দ পুরস্কার' লাভকরেন।

উল্লেখ্য, 
• বাংলা ভাষা ও বাংলা সাহিত্যে অবদানের জন্য তিনি ‘বাংলা একাডেমী পুরস্কার’ (১৯৮২)। 

------------
তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ হলো:
• উপন্যাস:
- চিলেকোঠার সেপাই,
- খোয়াবনামা।
(এই দুটি হলো তার মহাকাব্যোচিত উপন্যাস)। 

• গল্পগ্রন্থ:
- অন্য ঘরে অন্য স্বর,
- খোয়ারি,
- দুধভাতে উৎপাত,
- দোজখের ওম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৭০৫.
নিচের কোনটি আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের সাহিত্যকর্ম?
  1. খোঁয়ারি
  2. দোজখের ওম
  3. দুধভাতে উৎপাত
  4. উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
⇒ আখতারুজ্জামান ইলিয়াস: 
- পূর্ণনাম আখতারুজ্জামান মুহম্মদ ইলিয়াস। 

⇒ তাঁর উল্লেখযোগ্য ছোটগল্প:
• অন্য ঘরে অন্য স্বর,
• খোঁয়ারি,
• দুধভাতে উৎপাত,
• জাল স্বপ্ন স্বপ্নের জাল,  
• দোজখের ওম। 

⇒ উপন্যাস: 
• চিলেকোঠার সেপাই,   
• খোয়াবনামা। 
→ ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে রচিত আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের মহাকাব্যিক উপন্যাস ‘চিলেকোঠার সেপাই’।
- কেন্দ্রীয় চরিত্র: ওসমান।  
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া। 
৩,৭০৬.
‘আলালের ঘরের দুলাল’ উপন্যাসটি কার লেখা?
  1. ক) শরৎচন্দ্র চট্রোপাধ্যায়
  2. খ) শওকত ওসমান
  3. গ) প্যারীচাঁদ মিত্র
  4. ঘ) মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
গ) প্যারীচাঁদ মিত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) প্যারীচাঁদ মিত্র
ব্যাখ্যা
• প্যারীচাঁদ মিত্র: 
- প্যারীচাঁদ মিত্র ‘টেকচাঁদ ঠাকুর’ ছদ্মনামে সাহিত্য রচনা করতেন।
-  প্যারীচাঁদ মিত্র ২২শে জুলাই ১৮১৪ সালে জন্ম গ্রহণ করেন এবং ২৩শে নভেম্বর ১৮৮৩ সালে মৃত্যবরণ করেন।
- প্যারীচাঁদ বেঙ্গল টি কোম্পানি এবং ডারাং টি কোম্পানির ডিরেক্টর ছিলেন ।
- এছাড়া প্যারীচাঁদ মিত্র অ্যান্ড সন্স বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী ছিলেন।

• 'আলালের ঘরের দুলাল' উপন্যাস: 
- প্যারীচাঁদ মিত্রের প্রথম গ্রন্থ 'আলালের ঘরের দুলাল'।
- আলালের ঘরের দুলাল উপন্যাসটি ১৮৫৮ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশ পায়।
- উপন্যাসটিতে দেশীয় বন্ধ্যা শিক্ষা ব্যবস্থা, পাশ্চাত্য সভ্যতার অন্ধ অনুকরণ, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিশৃঙ্খলা নিয়ে লেখক তাঁর অভিমত প্রকাশ করেছেন।
- ধনী বাবুরামের পুত্র মতিলাল কুসঙ্গে পড়ে এবং শিক্ষার ব্যাপারে পিতার অবহেলা তাকে অধঃপতনে নিয়ে যায়।
- পিতার মৃত্যুর পর মতিলাল তার বাবার প্রাপ্ত সব সম্পত্তি নষ্ট করে ফেলে।
- উপন্যাসটিতে সর্বাপেক্ষা উল্লেখযোগ্য চরিত্র হলো মোকাজান মিয়া বা ঠকচাচা।
- এছাড়াও চরিত্রে রয়েছে, বাবুরাম, বাবুরামের পুত্র মতিলাল, ধূর্ত উকিল বটলর, অর্থলোভী বাঞ্ছারাম, তোষামোদকারী বক্রেশ্বর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া। 
৩,৭০৭.
মার্ক্সসিস্ট কবি হিসেবে খ্যাত ছিলেন-
  1. ক) অমিয় চক্রবর্তী
  2. খ) বুদ্ধদেব বসু
  3. গ) সমর সেন
  4. ঘ) বিষ্ণুদে
সঠিক উত্তর:
গ) সমর সেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সমর সেন
ব্যাখ্যা
মার্কসিস্ট কবি হিসেবে সমর সেন (১৯১৬-৮৭) স্বল্প সময়ে বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেছিলেন। 
"আমি রোমান্টিক কবি নই, মার্কসিস্ট" - বিখ্যাত উক্তিটি কবি সমর সেন-এর। 
- সমর সেনের জন্ম কলকাতায়। 
- সাম্যবাদী কবি সমর সেন মাত্র দেড় দশক কবিতা রচনা করেন 
- তিনি কবিতা লেখা ক্ষান্ত দিলেন এই বলে যে- 'এখন আর কবিতা লিখে হবে না; তরবারি চাই, যুদ্ধ করতে হবে। "

তাঁর প্রকাশিত কাব্যের নাম:
- কয়েকটি কবিতা 
- গ্রহণ
- নানা কথা
- খোলা চিঠি
- তিনপুরুষ ইত্যাদি

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক।
৩,৭০৮.
'শাশ্বত বঙ্গ' কাজী আবদুল ওদুদ রচিত-
  1. ক) গল্পগ্রন্থ
  2. খ) নাটক
  3. গ) উপন্যাস
  4. ঘ) প্রবন্ধ
সঠিক উত্তর:
ঘ) প্রবন্ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) প্রবন্ধ
ব্যাখ্যা

• কাজী আবদুল ওদুদ একজন বাঙালি প্রাবন্ধিক, বিশিষ্ট সমালোচক, নাট্যকার ও জীবনীকার ছিলেন।
• তাঁর রচিত প্রবন্ধঃ
- শাশ্বত বঙ্গ,
- সমাজ ও সাহিত্য,
- হিন্দু-মুসলমান বিরোধ।
• তাঁর রচিত উপন্যাসঃ
- আজাদ,
- নদীবক্ষে।
• তাঁর অন্যান্য গ্রন্থঃ
- মির পরিবার (গল্প),
- পথ ও বিপথ (নাটক) এবং
- তাঁর সম্পাদনায় প্রকাশিত জনপ্রিয় বাংলা অভিধানঃ ব্যবহারিক শব্দকোষ।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।

৩,৭০৯.
"জলে-ডাঙায়" ভ্রমণকাহিনির রচয়িতা কে?
  1. হাসান আজিজুল হক
  2. শহীদুল্লা কায়সার
  3. সৈয়দ মুজতবা আলী
  4. শওকত আলী
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ মুজতবা আলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ মুজতবা আলী
ব্যাখ্যা

'জলে ডাঙায়':
- 'জলে ডাঙায়' সৈয়দ মুজতবা আলী রচিত একটি ভ্রমণকাহিনি। 
-  'জলে ডাঙায়' মোটামুটিভাবে ছোটদের জন্যে লেখা, কিন্তু লেখার প্রসাদগুণে পাঠকও অনায়াসে লেখকের সঙ্গী হয়ে যান সিংহল থেকে মালদ্বীপ, ভূমধ্যসাগর থেকে আফ্রিকা, সুয়েজ খাল থেকে পিরামিডের রহস্যময়তায়। আর এভাবেই উপভোগ্য হয়ে ওঠে 'জলে ডাঙায়'।

• সৈয়দ মুজতবা আলী:
- সৈয়দ মুজতবা আলীশিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক। ১৯০৪ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর পিতার কর্মস্থল শ্রীহট্ট (সিলেট) জেলার করিমগঞ্জে তিনি জন্মগ্রহণ করেন, কিন্তু তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল হবিগঞ্জের উত্তরসুর গ্রামে।
গ্রন্থাকারে তাঁর মোট ত্রিশটি উপন্যাস, গল্প, প্রবন্ধ ও ভ্রমণকাহিনী প্রকাশিত হয়েছে।

সেগুলির মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হলো:
• উপন্যাস:
- অবিশ্বাস্য,
- শবনম,
- শহর-ইয়ার।

• ভ্রমণকাহিনি:
- দেশে-বিদেশে,
- জলে-ডাঙায়।

উৎস: 'জলে ডাঙায়' ভ্রমণকাহিনি এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩,৭১০.
‘হৃৎকলমের টানে’ - কার রচিত প্রবন্ধ গ্রন্থ?
  1. সৈয়দ শামসুল হক
  2. মীর মশাররফ হোসেন
  3. বিষ্ণু দে
  4. হাসান আজিজুল হক
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ শামসুল হক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ শামসুল হক
ব্যাখ্যা
• ‘হৃৎকলমের টানে’ - সৈয়দ শামসুল হক রচিত প্রবন্ধ গ্রন্থ।

সৈয়দ শামসুল হক:
- তিনি একজন প্রখ্যাত কবি, কথা-সাহিত্যিক, ও নাট্যকার।
- কবিতা, উপন্যাস, নাটক, ছোটগল্প, অনুবাদ তথা সাহিত্যের সকল শাখায় অনলস পদচারণার কারণে তিনি সর্বমহলে ‘সব্যসাচী’ লেখক হিসেবে পরিচিত।
- তিনি ১৯৩৫ সালে কুড়িগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

তাঁর রচিত কাব্যনাট্য:
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়,
- নুরুলদীনের সারাজীবন,
- এখানে এখন।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- তাস,
- শীত বিকেল,
- আনন্দের মৃত্যু,
- প্রাচীন বংশের নিঃস্ব সন্তান,
- জলেশ্বরীর গল্পগুলো।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- এক মহিলার ছবি,
- অনুপম দিন,
- খেলারাম খেলে যা,
- নীল দংশন,
- স্তব্ধতার অনুবাদ ইত্যাদি।

সৈয়দ শামসুল হকের প্রবন্ধ:
- হৃৎকলমের টানে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৭১১.
ঢাকায় মুসলিম সাহিত্য সমাজ গঠন করেন-
  1. ক) আহমদ শরীফ
  2. খ) আবুল হুসেন
  3. গ) মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  4. ঘ) আবুল হাসান
সঠিক উত্তর:
খ) আবুল হুসেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) আবুল হুসেন
ব্যাখ্যা

- আবুল হুসেন একজন প্রাবন্ধিক, চিন্তাবিদ, সমাজ সংস্কারক ছিলেন।
- তিনি মুসলমান সমাজে আধুনিক শিক্ষা ও জ্ঞানের আলো বিস্তারের উদ্দেশ্যে লেখনী পরিচালনা করেন।
- তিনি ছিলেন শিখা পত্রিকার প্রথম বর্ষের সম্পাদক।

• তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থের নাম:
- বাংলার বলশী,
- মুসলিম কালচার ও
- বাঙালি মুসলমানদের শিক্ষা সমস্যা ইত্যাদি।

- বাংলার বলশী গ্রন্থে তিনি কৃষকদের দু:খ দুর্দশা চিহ্নিত করে তাদের মুক্তির পথ নির্দেশ করেন।
- মননশীল প্রবন্ধকার হিসেবে তিনি কৃষক-সমাজের দু:খ-দুর্দশার মুক্তির পথ নির্দেশ করেন তাঁর 'বাংলার বলশী' গ্রন্থের প্রবন্ধসমূহে।
- রুশবিপ্লবের প্রেরণায় অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি ‘কৃষকের আর্তনাদ’, ‘কৃষকের দুর্দশা’ ও ‘কৃষি বিপ্লবের সূচনা’ নামক প্রবন্ধ রচনা করেন।

- ঢাকায় যে বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন হয় তাতে আবুল হুসেনই নেতৃত্ব দেন।
- তিনি ঢাকায় মুসলিম সাহিত্য সমাজ (১৯২৬) গঠন এবং এর মুখপত্র শিখা সম্পাদনা ও প্রকাশ করে এ আন্দোলনকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেন।
- কাজী আবদুল ওদুদ, কাজী মোতাহার হোসেন, মুহম্মদ শহীদুল্লাহ ও আবুল ফজল তাঁকে এ কাজে সাহায্য করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৩,৭১২.
নিচের কোনটি সঠিক?
  1. লোক লোকান্তর (উপন্যাস) আল মাহমুদ
  2. লোক লোকান্তর (প্রবন্ধ) আবু ইসহাক
  3. লোক লোকান্তর (কাব্যগ্রন্থ) আল মাহমুদ
  4. লোক লোকান্তর (গল্পগ্রন্থ) কাজী ইমদাদুল হক
সঠিক উত্তর:
লোক লোকান্তর (কাব্যগ্রন্থ) আল মাহমুদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লোক লোকান্তর (কাব্যগ্রন্থ) আল মাহমুদ
ব্যাখ্যা

• 'লোক-লোকান্তর' কাব্যগ্রন্থ:
- 'লোক-লোকান্তর' কাব্যগ্রন্থটির রচয়িতা- আল মাহমুদ।
- কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত লোক-লোকান্তর কবিতাটি কবির আত্মপরিচয়মূলক কবিতা। কবির উল্লেখযোগ্য সনেটের মধ্যে এটি একটি।

--------------------
আল মাহমুদ রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- লোক লোকান্তর,
- কালের কলস,
- সোনালী কাবিন,
- পাখির কাছে ফুলের কাছে,
- অদৃষ্টবাদীদের রান্নাবান্না ইত্যাদি।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- ডাহুকী,
- উপমহাদেশ,
- আগুনের মেয়ে,
- চেহারার চতুরঙ্গ,
- কাবিলের বোন ইত্যাদি।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- পানকৌড়ির রক্ত,
- সৌরভের কাছে পরাজিত,
- গন্ধবণিক,
- ময়ূরীর মুখ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 'লোক-লোকান্তর' কাব্যগ্রন্থ এবং বাংলাপিডিয়া।

৩,৭১৩.
'নবান্ন' নাটকের বিষয়বস্তু কী?
  1. ক) স্বাধীন বাংলার গ্রামীণ জীবন
  2. খ) পঞ্চাশের মন্বন্তর
  3. গ) দেশ ভাগ
  4. ঘ) মুক্তিযুদ্ধ
সঠিক উত্তর:
খ) পঞ্চাশের মন্বন্তর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) পঞ্চাশের মন্বন্তর
ব্যাখ্যা
- বিজন ভট্টাচার্য রচিত নবান্ন' একটি নাটক।
- 'নবান্ন' নাটকের বিষয়বস্তু পঞ্চাশের মন্বন্তর

• বিজন ভট্টাচার্য:
- তিনি ছিলেন নাট্যকার, অভিনেতা।
- ফরিদপুর জেলার খানখানাপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি নবনাট্য আন্দোলনের প্রধান পুরোহিত ছিলেন। এই আন্দোলনকে 'থার্ড থিয়েটার' নামেও অভিহিত করা হয়।
- তাঁর পিতা ক্ষীরোদবিহারী ভট্টাচার্য ছিলেন একজন স্কুলশিক্ষক।
- তিনি নাটক রচনায় মার্কসবাদকে প্রাধান্য দেন।
- বিজন ভট্টাচার্য অসহযোগ আন্দোলনে (১৯২০-২২) যোগ দিয়ে কারাবরণ করেন।
- কলকাতার আশুতোষ কলেজ ও রিপন কলেজে অধ্যয়নকালে তিনি জাতীয় আন্দোলনে (১৯৩১-৩২) যোগ দেন এবং মহিষবাথানে লবণ সত্যাগ্রহ আন্দোলনে সম্পৃক্ত হন।
- নবনাট্য আন্দোলনের অন্যতম সৈনিক বিজন ভট্টাচার্য গণজীবনের সংগ্রাম ও দুঃখ-দুর্দশা, শোষণ-বঞ্চনা, প্রগতিশীল চিন্তা ও সমাজবোধ নিয়ে নাটক রচনা করে এবং এ ক্ষেত্রে তিনি স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য ও বিপুল খ্যাতি অর্জন করেন।
- ১৯৪৬ সালের দাঙ্গার পটভূমিকায় তিনি রচনা করেন জীয়নকন্যা নাটক। এছাড়া তাঁর আরও দুটি নাটক হলো মরাচাঁদ ও কলঙ্ক।

• 'নবান্ন' নাটকের বিষয়বস্তু:
- নবান্ন পঞ্চাশের মন্বন্তরের পটভূমিকায় কৃষক জীবনের দুঃখ দুর্দশা ও জীবন সংগ্রামের কাহিনি অবলম্বনে রচিত নাটক।
- নবনাট্য আন্দোলনের পথিকৃৎ বিজন ভট্টাচার্য এই নাটকের মাধ্যমে বাংলা নাট্যধারায় অবদান রাখেন।
- পঞ্চাশের মন্বন্তর, সমকালীন জাতীয় আন্দোলন, মেহনতি মানুষের চাহিদা ইত্যাদি প্রেক্ষাপটে গ্রামীণ কৃষক সমাজের দুঃখ-দুর্দশা, তাদের সংগ্রাম, সফলতা- ব্যর্থতা নাটকের মূল সুর।

• তাঁর রচিত বিখ্যাত নাটক:
- নবান্ন,
- জনপদ,
- কলঙ্ক,
- মরাচাঁদ,
- অবরোধ,
- গোত্রান্তর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৩,৭১৪.
কাজী মোতাহার হোসেন কোন পত্রিকার মুখপত্র হিসেবে কাজ করেছেন?
  1. ক্রান্তি
  2. শিখা
  3. প্রগতি
  4. সাধনা
সঠিক উত্তর:
শিখা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শিখা
ব্যাখ্যা
• কাজী মোতাহার হোসেন:
- কাজী মোতাহার হোসেন (১৮৯৭-১৯৮১) ছিলেন একজন শিক্ষাবিদ, বিজ্ঞানী এবং সাহিত্যিক।
- ‘শিখা' পত্রিকার মুখপত্র হিসেবে কাজ করেছেন।
- তিনি ঢাকায় ‘মুসলিম সাহিত্য সমাজ' প্রতিষ্ঠায় অবদান রেখেছেন।
- 'বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন' এর সাথে যুক্ত ছিলেন কাজী মোতাহার হোসেন।
- কাজী আবদুল ওদুদ, সৈয়দ আবুল হুসেন, আবুল ফজল প্রমুখের সহযোগিতায় ১৯২৬ সালে তিনি ‘মুসলিম সাহিত্য সমাজ’ প্রতিষ্ঠা করেন। কাজী মোতাহার হোসেন অল্প কিছুকাল উক্ত সংগঠনের মুখপত্র শিখা পত্রিকা সম্পাদনা করেন। 
- অধ্যাপক হোসেন শিক্ষা ও গবেষণা ক্ষেত্রে তাঁর অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৬০ সালে তৎকালীন পাকিস্তান সরকার কর্তৃক ‘সিতারা-ই-ইমতিয়াজ’ খেতাবে ভূষিত হন।

তাঁর উলেখযোগ্য প্রকাশনাসমূহ হচ্ছে:
- সঞ্চয়ন,
- নজরুল কাব্য পরিচিত,
- সে পথ লক্ষ্য কর,
- সিম্পোজিয়াম গণিত শাস্ত্রের ইতিহা,
- আলোক বিজ্ঞান।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৭১৫.
বাংলাদেশে 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকটি কে রচনা করেছেন?
  1. ক) নুরুল মোমেন
  2. খ) আকসার সাইখ
  3. গ) মুনীর চৌধুরী
  4. ঘ) সিকান্দার আবু জাফর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সিকান্দার আবু জাফর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সিকান্দার আবু জাফর
ব্যাখ্যা
- সিকান্দার আবু জাফর রচিত 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকটি করুণ রসাত্মক।
- এক অপরিসীম যন্ত্রনাদগ্ধ পরিণতির মধ্য দিয়ে সমাপ্ত হয়েছে রচনাটি।
- ট্র্যাজেডি সদৃশ বেদনা বহতা এই নাটকে বিদ্যমান।
- নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্র সিরাজের ব্যক্তিত্ব ও প্রজ্ঞা একইভাবে ট্র্যাজিডির শিল্পমানকে স্পর্শ করেছে।


সিকান্দার আবু জাফর (১৯১৯-১৯৭৫):
সাহিত্যিক, সাংবাদিক সিকান্দার আবু জাফর এর পূর্ণ নাম সৈয়দ আল্ হাশেমী আবু জাফর মুহম্মদ বখ্ত সিকান্দার
- ১৯১৯ সালের ১৯ মার্চ সাতক্ষীরা জেলার তেঁতুলিয়া গ্রামে তাঁর জন্ম।
- আবু জাফর ১৯৫০ সালে কলকাতা থেকে ঢাকায় আসেন এবং বিভিন্ন সময়ে দৈনিক নবযুগ, ইত্তেফাক, সংবাদ ও মিল্লাত পত্রিকায় সাংবাদিকতা করেন।
- তিনি মাসিক সমকাল পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা-সম্পাদক (১৯৫৭-১৯৭০) ছিলেন।


তাঁর উল্লেখযোগ্য কয়েকটি গ্রন্থ:
উপন্যাস
- পূরবী,
- নতুন সকাল;


ছোটগল্প
- মাটি আর অশ্রু,
- কবিতা প্রসন্ন শহর,
- তিমিরান্তিক,
- বৈরী বৃষ্টিতে,
- বৃশ্চিক-লগ্ন,
- বাংলা ছাড়ো;


নাটক
- সিরাজ-উদ-দৌলা,
- মহাকবি আলাউল।


আবু জাফর অনুবাদক হিসেবেও খ্যাত ছিলেন। তাঁর কয়েকটি অনূদিত গ্রন্থ:
- যাদুর কলস,
- সেন্ট লুইয়ের সেতু,
- রুবাইয়াৎ : ওমর খৈয়াম  ইত্যাদি।


উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক সাহিত্যপাঠ (২০২০-২১ সংস্করণ)।
৩,৭১৬.
‘চাচা কাহিনী’ গ্রন্থের লেখক কে?
  1. ক) শওকত ওসমান
  2. খ) সৈয়দ মুজতবা আলী
  3. গ) সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
  4. ঘ) সৈয়দ শামসুল হক
সঠিক উত্তর:
খ) সৈয়দ মুজতবা আলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সৈয়দ মুজতবা আলী
ব্যাখ্যা
• 'চাচা- কাহিনী' সৈয়দ মুজতবা আলী রচিত একটি ছোটগল্প।

• সৈয়দ মুজতবা আলী
- সৈয়দ মুজতবা আলী একজন বাঙালি সাহিত্যিক ও শিক্ষাবিদ।
- ১৯০৪ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর পিতার কর্মস্থল শ্রীহট্ট (সিলেট) জেলার করিমগঞ্জে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি  কাজী নজরুল ইসলামের 'রুবাইয়াৎ- ই- ওমর খৈয়াম' গ্রন্থের ভূমিকা লিখেন।  
- সৈয়দ মুজতবা আলী 'দেশে-বিদেশে' গ্রন্থের মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যাঙ্গনে প্রথম প্রবেশ ও প্রতিষ্ঠা লাভ করেন।
- কাবুলে অবস্থানের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও অন্তরঙ্গ উপলব্ধির ফসল 'দেশে-বিদেশে' ভ্রমণকাহিনী।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- অবিশ্বাস্য।
- শবনম।

• তাঁর রচিত ছোটগল্প:
- চাচা-কাহিনী।
- টুনি মেম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৭১৭.
নুরুল মোমেন রচিত 'নেমেসিস' কোন জাতীয় রচনা?
  1. প্রবন্ধ
  2. উপন্যাস
  3. কাব্য
  4. নাটক
সঠিক উত্তর:
নাটক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাটক
ব্যাখ্যা
• নুরুল মোমেন রচিত 'নেমেসিস' একটি নাটক। 
------------------------
• 'নেমেসিস' নাটক:
- 'নেমেসিস' নুরুল মোমেন রচিত শ্রেষ্ঠ নাটক।
- ১৯৩৯-৪৩ সালের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে নুরুল মোমেন ১৯৪৪ সালে নাটকটি লেখেন এবং ‘শনিবারের চিঠি’ পত্রিকায় তা প্রকাশিত হয়।
- নাটকটি গ্রন্থাকারে প্রকাশ পায় ১৯৪৮ সালে।
- নাটকটি স্কুল মাস্টার সুরজিত নন্দী নামের এক চরিত্র বিশিষ্ট নাটক। এক চরিত্র বিশিষ্ট এমন নাটক বাংলা সাহিত্যে কম বলে ‘নেমেসিস’ উল্লেখযোগ্য।
- এ নাটকে সমকালীন দুর্ভিক্ষ, মজুতদারদের পিশাচবৃত্তি ও নিরন্নদের হাহাকারের বাস্তব চিত্র ফুটে উঠেছে।
- 'নেমেসিস' নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্রের নাম- সুরজিত নন্দী। 
-------------------- 
• নুরুল মোমেন: 
- নুরুল মোমেন এর জন্ম ফরিদপুর জেলার আলফাডাঙ্গায় ১৯০৬ সালে।
- নুরুল মোমেনের প্রথম নাটক রূপান্তর ১৯৪২ সালে ঢাকা বেতার-এ প্রচারিত হয়। তিনি নিজে নাটকটি পরিচালনা করেন। ১৯৪৭ সালে নাটকটি গ্রন্থরূপে প্রকাশিত হয়।
- তাঁর 'নেমেসিস' নাটকটি প্রথম শনিবারের চিঠি পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। 'নেমেসিস' নাটকটি পঞ্চাশ-দশকের মন্বন্তরের পটভূমিতে রচিত।
- নুরুল মোমেন রচিত প্রথম রম্যগ্রন্থ 'বহুরূপা'। 

• নুরুল মোমেন এর বিখ্যাত নাটক:
- যদি এমন হতো,
- নয়া খান্দান, 
- আলোছায়া,
- আইনের অন্তরালে, 
- শতকরা আশি, 
- রূপলেখা, 
- যেমন ইচ্ছা তেমন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।
৩,৭১৮.
বাঙালি মুসলমান রচিত প্রথম মহাকাব্য কোনটি?
  1. ক) বৃত্রসংহার
  2. খ) অনলপ্রবাহ
  3. গ) রৈবতক
  4. ঘ) মহাশ্মশান
সঠিক উত্তর:
ঘ) মহাশ্মশান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) মহাশ্মশান
ব্যাখ্যা
কায়কোবাদকে প্রথম বাঙালি মুসলমান মহাকাব্য রচয়িতা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
- 'মহাশ্মশান' কায়কোবাদের শ্রেষ্ঠ রচনা। এটি বাঙালি মুসলমান রচিত প্রথম মহাকাব্য।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯০৪ সালে।
- এর উপজীব্য ১৭৬১ সালে সংঘটিত পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ।
- মহাশ্মশান কাব্যের মোট তিনটি খন্ড রয়েছে এবং ৬০টি সর্গ আছে।

উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৩,৭১৯.
‘মরমী কবি’ বলা হয় কাকে?
  1. সুলতানা মিয়াজী
  2. হাছন রাজা
  3. আলাওল
  4. আলাউদ্দিন খাঁ
সঠিক উত্তর:
হাছন রাজা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাছন রাজা
ব্যাখ্যা
হাছন রাজা:
- ১২৬১ বঙ্গাব্দের ৭ পৌষ (১৮৫৪ সালের ২৪ জানুয়ারি) সিলেট জেলার সুনামগঞ্জে লক্ষ্মণশ্রী গ্রামের এক জমিদার পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন মরমি কবি, সাধক।
- তাঁর প্রকৃত নাম দেওয়ান হাসন রজা চৌধুরী।
- তিনি সহজ-সরল সুরে আঞ্চলিক ভাষায় প্রায় এক হাজার আধ্যাত্মিক গান রচনা করেন। 
- হাসন রাজা ছিলেন একজন ঐশীপ্রেমী এবং সেই প্রেমে মাতোয়ারা হয়েই তিনি গান রচনা করতেন।
- তিনি গানের ভণিতায় নিজেকে ‘পাগলা হাছন রাজা’, ‘উদাসী’, ‘দেওয়ানা’,  ‘বাউলা’ ইত্যাদি বলে অভিহিত করেছেন।
- তাঁর সম্পর্কে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একবার ভারতীয় দর্শন কংগ্রেসের অধিবেশনে সভাপতির ভাষণে বলেছিলেন, ‘পূর্ববঙ্গের একজন গ্রাম্য কবির গানে দর্শনের একটি বড় তত্ত্ব পাই সেটি এই যে, ব্যক্তিস্বরূপের সহিত সম্বন্ধসূত্রেই বিশ্ব সত্য।’
- তাঁর কয়েকটি বিখ্যাত গান -
• আঁখি মঞ্জিয়া দেখ রূপ রে,
• আগুন লাগাইয়া দিল কুনে, হাছন রাজার মনে,
• সোনা বন্ধে আমারে দেওয়ানা বানাইলো,
• নিশা লাগিল রে বাঁকা দুই নয়নে।
- উদাস হাছন (১৯০৭), শৌখিন বাহার, হাছন বাহার ইত্যাদি গ্রন্থে তাঁর গানগুলি সংকলিত হয়েছে।
- ১৯২২ সালের ৭ ডিসেম্বর তাঁর মৃত্যু হয়। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া; 'উদাস হাছন' গ্রন্থ।
৩,৭২০.
'নিগ্রো সাহিত্য' প্রবন্ধগ্রন্থের লেখক কে?
  1. শওকত ওসমান
  2. মুনীর চৌধুরী 
  3. সৈয়দ শামসুল হক
  4. সেলিম আল দীন
সঠিক উত্তর:
সেলিম আল দীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সেলিম আল দীন
ব্যাখ্যা

• সেলিম আল দীন:
- তিনি ছিলেন বাংলা ভাষার আধুনিককাল পর্বের অন্যতম নাট্যকার।
- তিনি ১৯৪৯ সালের ১৮ আগস্ট সীমান্তবর্তী ফেনি জেলার অন্তর্গত সোনাগাজী উপজেলার সেনেরখিল গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- নাট্যকার সেলিম আল দীনের প্রকৃত নাম মইনুদ্দিন আহমেদ ।
- ১৯৬৮ সালে কবি আহসান হাবিব সম্পাদিত ‘দৈনিক পাকিস্তান’ পত্রিকার সাহিত্য সাময়িকীতে আমেরিকার কালো মানুষদের নিয়ে তাঁর প্রথম বাংলা প্রবন্ধ 'নিগ্রো সাহিত্য' প্রকাশিত হয়।
- তাঁর প্রথম রেডিও নাটক 'বিপরীত তমসায়' ১৯৬৯ সালে এবং প্রথম টেলিভিশন নাটক আতিকুল হক চৌধুরীর প্রযোজনায় 'লিব্রিয়াম' (পরিবর্তিত নাম ঘুম নেই) প্রচারিত হয় ১৯৭০ সালে।
- ১৯৮৬ সালে তিনি নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগে যোগদান এবং উক্ত বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
- শিক্ষকতার পাশাপাশি এ দেশের নাট্যশিল্পকে বিশ্বনাট্য ধারার সঙ্গে সমপংক্তিতে সমাসীন করার লক্ষ্যে ১৯৮১-৮২ সালে তিনি এবং নাট্য-নির্দেশক নাসির উদ্দিন ইউসুফ সারাদেশব্যাপী গড়ে তোলেন 'বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটার'।
- বাংলাদেশের বিচিত্র শ্রমজীবী, পেশাজীবী, বাঙালি ও বাংলাদেশে বসবাসরত ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সমাজজীবন ও তাদের আবহমান কালের সংস্কৃতিকে তিনি তাঁর নাটকে মহাকাব্যিক ব্যাপ্তিদান করেছেন।
- ২০০৮ সালের ১৪ জানুয়ারি তাঁর মৃত্যু হয়।

• তাঁর রচিত নাটকগুলো হলো:

- সর্প বিষয়ক গল্প ও অন্যান্য,
- বাসন,
- কেরামতমঙ্গল,
- কীর্তন খোলা, 
- হাতহদাই,
- শকুন্তলা,
- মুনতাসীর ফ্যান্টাসি,
- জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন,
- চাকা,
- যৈবতী কন্যার মন,
- হরগজ,
- নিমজ্জন,

- একটি মারমা রূপকথা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩,৭২১.
'পাঠকের মৃত্যু'-এর রচয়িতা বনফুলের প্রকৃত নাম-
  1. রামেন্দ্রসুন্দর ত্রিবেদী
  2. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. বুদ্ধদেব বসু
  4. বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়:
• লেখক হিসেবে বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় হাজারেরও বেশি কবিতা, ৫৮৬টি ছোট গল্প, ৬০টি উপন্যাস, ৫টি নাটক, জীবনী ছাড়াও অসংখ্য প্রবন্ধ রচনা করেছেন। তার রচনাবলীসমগ্র ২২ খণ্ডে প্রকাশিত হয়েছে ।
• বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম 'বনফুল'।
• বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় নাটক রচনাতে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন। প্রহসন, একাঙ্কিকা, চিত্রনাট্য, নাটিকা ছাড়াও তিনি বিখ্যাত ব্যক্তিদের জীবনচরিত অবলম্বন করে নাটক রচনা করেন, যাতে পাওয়া যায় তাঁর সৃজনশীল প্রতিভার অপর একটি ভিন্ন রূপের পরিচয়।

• উনিশ শতকের দুই বিখ্যাত ব্যক্তিত্ব মাইকেল মধুসূদন দত্ত ও ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরকে নিয়ে লেখা তাঁর নাটক, শ্রীমধুসূদন (১৯৪০) ও বিদ্যাসাগর (১৯৪১)।
• বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় এ দুটি নাটকের মাধ্যমে জনসাধারণের মধ্যে এঁদের ব্যাপকভাবে ও যথার্থরূপে পরিচিত করিয়ে দেন।
• বাংলা সাহিত্যে বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়কে বলা যেতে পারে এ ধারার নাটক রচনার পথিকৃৎ।

• ‘পাঠকের মৃত্যু’ বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় রচিত গল্প।

তাঁর উল্লেখযোগ্য গল্পগ্রন্থ:
- বনফুলের গল্প,
- বিন্দুবিসর্গ,
- অদৃশ্যলোকে,
- তন্বী,
- অনুগামিনী,
- দূরবীণ,
- মণিহারী,
- বহুবর্ণ,
- বনফুলের নতুন গল্প প্রভৃতি।

উৎস: সাহিত্যপাঠ একাদশ দ্বাদশ ও আলিম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৭২২.
যুগসন্ধিকালের সময়সীমা ছিল-
  1. ৭০ বছর 
  2. ৮০ বছর 
  3. ১০০ বছর 
  4. ১৫০ বছর 
সঠিক উত্তর:
১০০ বছর 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১০০ বছর 
ব্যাখ্যা
• যুগসন্ধিকাল:
- ১৭৬০ থেকে ১৮৬০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত এই ১০০ বছরকে বাংলা সাহিত্যের যুগসন্ধিকাল ধরা হয়। উনিশ শতকের প্রথম থেকে বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগের সূত্রপাত।

- মধ্যযুগের শেষ ও আধুনিকযুগের সূচনালগ্নের এই শত বছরে চলেছে একটি নীরব প্রস্তুতি। এই প্রস্তুরি প্রধান পুরোহিত ছিলেন কবি ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত।

- এই যুগের প্রথম কবি ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত। তিনি যুগসন্ধিক্ষণের কবি হিসেবে পরিচিত। বাংলা সাহিত্যের মধ্য ও আধুনিক যুগের সন্ধিস্থলে দাঁড়িয়ে তিনি সব্যসাচীর মত দু হাতে দু দিকের নির্দেশ দিয়েছেন।

- মধ্যযুগের অবসানের পর এবং আধুনিক যুগের যথার্থ সূত্রপাতের পূর্বে কবি ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত কাব্য সাধনায় খ্যাতিলাভকরেন।

- মধ্যযুগের সর্বশেষ কবি রায়গুণাকর ভারতচন্দ্রের মৃত্যু ঘটে ১৭৬০ সালে, আবার আধুনিক যুগ স্বকীয় বৈশিষ্ট্য সহকারে প্রকাশ পায় মাইকেল মধুসূদন দত্তের কাব্যসৃষ্টির মাধ্যমে মোটামুটি ১৮৬০ সাল থেকে।  এই দুই যুগের মধ্যবর্তী সময়ে বাংলা কাব্যের ক্ষেত্রে তেমন কোন উৎকর্ষপূর্ণ সৃষ্টি বা সৃষ্টিসম্ভারের বৈচিত্র্য ও প্রাচুর্য পরিলক্ষিত হয় না।

- তখন বাংলা গদ্যরীতির উদ্ভবের কাল; সাহিত্যের যথার্থ বাহনের উপযোগিতা বাংলা গদ্য তখনও অর্জন করতে পারে নি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস মাহবুল আলম ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৭২৩.
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রথম উপন্যাস কোনটি?
  1. মেঘমল্লার
  2. পথের পাঁচালী
  3. যাত্রাবদল
  4. আদর্শ হিন্দু হোটেল
সঠিক উত্তর:
পথের পাঁচালী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পথের পাঁচালী
ব্যাখ্যা
• "পথের পাঁচালী" উপন্যাস:
- "পথের পাঁচালী" (১৯২৯) বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রথম উপন্যাস এবং অনেকের মতে শ্রেষ্ঠ উপন্যাস। প্রথম রচিত এই উপন্যাসের মাধ্যমেই তিনি বিপুল খ্যাতি অর্জন করেন।

- উপন্যাসটি প্রথম প্রকাশিত হয় 'বিচিত্রা' পত্রিকায়। গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয় সজনীকান্ত দাসের রঞ্জন প্রকাশালয়, কলকাতা থেকে।

- এই কাহিনির পটভূমিতে আছে বাংলাদেশের গ্রাম ও তার পরিচিত, মানুষের জীবন। । এর প্রধান অংশই হলো একটি শিশুর চৈতন্যের জাগরণ, মানুষ ও প্রকৃতির সঙ্গে তার পরিচয়। প্রত্যেকটি আপাততুচ্ছ বিষয় ও ঘটনা নিয়ে আসে রহস্য ও সৌন্দর্যের আভাস, সবই মূল্যবান ও আনন্দময়।

- এর তিনটি ভাগ: বল্লালী বালাই, আমআঁটির ভেঁপু, অক্রুর সংবাদ।

- 'পথের পাঁচালী'র নায়ক বালক অপু। উপন্যাসের দ্বিতীয় খণ্ড 'অপরাজিত' (১৯৩১)। দ্বিতীয় অংশে অপুর কৈশোর ও যৌবনের কাহিনি বর্ণিত হয়েছে।

- 'পথের পাঁচালী' ও 'অপরাজিত' অবলম্বনে সত্যজিৎ রায় চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন। পথের পাঁচালী উপন্যাসটি ভারতীয় বিভিন্ন ভাষাসহ ইংরেজি ও ফরাসি ভাষায় অনূদিত হয়েছে।

'পথের পাঁচালী উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হলো-
- অপু,
- দুর্গা,
- ইন্দির ঠাকরুন,
- সর্বজয়া।

------------------
তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাসসমূহ:
- পথের পাঁচালী,
- অপরাজিত,
- মেঘমল্লার (১৯৩১),
- অশনি সংকেত,
- যাত্রাবদল (১৯৩৪)
- আরণ্যক,
- আদর্শ হিন্দু হোটেল (১৯৪০),
- দেবযান,
- ইছামতী,
- দৃষ্টি প্রদীপ,
- চাঁদের পাহাড়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৭২৪.
'ভাষা প্রকাশ বাঙ্গালা ব্যাকরণ' গ্রন্থটির রচনাকার কে?
  1. ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  2. সুকুমার সেন
  3. ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ
  4. ড. মুহম্মদ এনামুল হক
সঠিক উত্তর:
ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• 'ভাষা প্রকাশ বাঙ্গালা ব্যাকরণ' গ্রন্থের রচয়িতা- সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়।

• সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়:

- ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় বাংলা ভাষার শ্রেষ্ঠ ভাষাবিজ্ঞানী।
- ১৯৩৬ সালে কলকাতার রয়েল এশিয়াটিক সোসাইটির ফেলো নির্বাচিত হন।
- তাঁর বিখ্যাত রচনা হলো অরিজিন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অব দি বেঙ্গলি ল্যাংগুয়েজ, দি (ওডিবিএল, ১৯২৬)।

• তাঁর রচিত গ্রন্থ:

- অরিজিন এন্ড ডেভলেপমেন্ট অব বেঙ্গলি ল্যাঙ্গুয়েজ,
- ভাষা প্রকাশ বাঙালা ব্যাকরণ,
- পশ্চিমের যাত্রী,
- বাংলা ভাষাতত্ত্বের ভূমিকা,
- ভারতের ভাষা ও ভাষা সমস্যা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৭২৫.
'জ্ঞানতাপস' নামে সমধিক পরিচিত ছিলেন-
  1. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্
  2. বদরুদ্দীন ওমর
  3.  মোতাহের হোসেন চৌধুরী
  4.  গোবিন্দচন্দ্র দাস
সঠিক উত্তর:
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্
ব্যাখ্যা

• ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্:
• ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ (১৮৮৫-১৯৬৯) ভারতীয় উপমহাদেশের একজন স্মরণীয় বাঙালি ব্যক্তিত্ব, বহুভাষাবিদ, বিশিষ্ট শিক্ষক ও দার্শনিক ছিলেন। তিনি ১৮৮৫ সালের ১০ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার পেয়ারা গ্রামে তাঁর জন্ম।
• তিনি 'জ্ঞানতাপস' হিসেবে অধিক পরিচিত। তাঁকে 'চলিষ্ণু অভিধান' বলা হয়।
• ১৯৫৫-৫৮ সাল পর্যন্ত তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ও সংস্কৃত বিভাগে অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ইমেরিটাস নিযু্ক্ত হন।
• ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ে শহীদুল্লাহ্ বহু মননশীল ও জ্ঞানগর্ভ প্রবন্ধ নানা পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে এবং এ সংক্রান্ত বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা তিনি সম্পাদনা করেন। আল এসলাম পত্রিকার সহকারী সম্পাদক ও বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকার যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে তিনি যোগ্যতার পরিচয় দেন।
• তাঁরই সম্পাদনা ও প্রকাশনায় মুসলিম বাংলার প্রথম শিশুপত্রিকা আঙুর আত্মপ্রকাশ করে। এছাড়াও তিনি ইংরেজি মাসিক পত্রিকা দি পীস, বাংলা মাসিক সাহিত্য পত্রিকা বঙ্গভূমি এবং পাক্ষিক তকবীর সম্পাদনা করেন।
• ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপট জাতিসত্তা সম্পর্কে ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহর বিখ্যাত উক্তি- ''আমরা হিন্দু বা মুসলমান যেমন সত্য, তার চেয়ে বেশি সত্য আমরা বাঙালি।''

তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলি হলো:
- সিন্দবাদ সওদাগরের গল্প,
- ভাষা ও সাহিত্য,
- বাঙ্গালা ব্যাকরণ,
- দীওয়ান-ই-হাফিজ,
- শিকওয়াহ ও জওয়াব-ই-শিকওয়াহ,
- রুবাইয়াত-ই-উমর খয়্যাম,
- Essays on Islam,
- আমাদের সমস্যা,
- পদ্মাবতী,
- বাংলা সাহিত্যের কথা (২ খণ্ড),
- বিদ্যাপতি শতক,
- বাংলা আদব কী তারিখ,
- বাঙ্গালা ভাষার ইতিবৃত্ত,
- কুরআন শরীফ,
- অমরকাব্য,
- সেকালের রূপকথা ইত্যাদি।

• তাঁর সম্পাদিত আঞ্চলিক ভাষার অভিধান এক বিশেষ কীর্তি। মুহম্মদ আবদুল হাই -এর সঙ্গে তাঁর যুগ্ম-সম্পাদনায় রচিত Traditional Culture in East Pakistan (১৯৬১) একখানা উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩,৭২৬.
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রথম গল্প ‘রসকলি’ কোন বিখ্যাত পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
  1. ক) কল্লোল
  2. খ) তত্ত্ববোধিনী
  3. গ) সবুজপত্র
  4. ঘ) বঙ্গদর্শন
সঠিক উত্তর:
ক) কল্লোল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) কল্লোল
ব্যাখ্যা
- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রথম গল্প ‘রসকলি’ বিখ্যাত কল্লোল পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। 

তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়:
- ১৮৯৮ সালের ২৩ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার লাভপুর গ্রামে এক জমিদারবংশে তাঁর জন্ম। 
- ১৯৭০ সালে তিনি বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ-এর সভাপতি নির্বাচিত হন।
- প্রথম জীবনে কিছু কবিতা লিখলেও কথাসাহিত্যিক হিসেবেই তারাশঙ্করের প্রধান খ্যাতি। 
- তারাশঙ্কর প্রায় দুশ গ্রন্থ রচনা করেন।

- তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম:
উপন্যাস:
- চৈতালী ঘূর্ণি 
- ধাত্রীদেবতা 
- কালিন্দী 
- গণদেবতা 
- পঞ্চগ্রাম 
- কবি 
- হাঁসুলি বাঁকের উপকথা 
- আরোগ্য নিকেতন ইত্যাদি।
গল্পগ্রন্থ:
-  বেদে,  
- পটুয়া,
- মালাকার,
- লাঠিয়াল,
- চৌকিদার,  
- বাগদী,
- বোষ্টম,  
- ডোম ইত্যাদি।
ছোটগল্প:
- রসকলি
- বেদেনী
- ডাকহরকরা। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৩,৭২৭.
'আনোয়ারা' উপন্যাসটির রচয়িতা-
  1. ক) মশাররফ হোসেন
  2. খ) নজিবর রহমান
  3. গ) মোজাম্মেল হক
  4. ঘ) নীলিমা ইব্রাহিম
সঠিক উত্তর:
খ) নজিবর রহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) নজিবর রহমান
ব্যাখ্যা

• মোহাম্মদ নজিবর রহমান সাহিত্যরত্ন রচিত উপন্যাসঃ
- আনোয়ারা,
- প্রেমের সমাধি,
- গরিবের মেয়ে,
- মেহেরুন্নিসা,
- পরিণাম,
- দুনিয়া আর চাই না,
- চাঁদতারা বা হাসন গঙ্গাবাহমতি ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।

৩,৭২৮.
'কিত্তনখোলা' নাটকটি কার রচনা?
  1. মামুনুর রশীদ
  2. নুরুল মোমেন
  3. সেলিম আল দীন
  4. মুনীর চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
সেলিম আল দীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সেলিম আল দীন
ব্যাখ্যা
• 'কিত্তনখোলা' নাটক:
- 'কিত্তনখোলা' নাটকটের রচয়িতা সেলিম আল দীন।
- জীবনঘনিষ্ঠ নাট্যকর্ম তাঁর 'কিত্তনখোলা'। 'কিত্তনখোলা' রচনার মধ্য দিয়ে সেলিম আল দীন বাংলা-নাট্যশিল্পকে নতুন রূপ দান করেন। মূলত, এ নাটকের মাধ্যমেই পাশ্চাত্য নাট্যরীতি পরিহারপূর্বক প্রাচ্যীয় রীতির প্রবর্তন শুরু হয়।
- 'কিত্তনখোলা' হয়ে ওঠেছে বাঙালির প্রান্তিক জনমানুষের প্রথাগত জীবনে স্থিত সাংস্কৃতিক আচার-আচরণের ইতিবৃত্ত।
- লেখকের ভাষায় কিত্তনখোলা পর্বে আমি মানিকগঞ্জের লোকায়ত জীবন-সংস্কৃতি এবং এর অপূর্ব নিসর্গের সাথে পরিচিত হই।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া এবং 'কিত্তনখোলা' নাটক।
৩,৭২৯.
বাংলা ভাষার প্রথম ব্যাকরণ রচিয়তা কে ?
  1. ক) নাথিলিয়েন ব্রাশি হ্যালহেড
  2. খ) ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  3. গ) মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  4. ঘ) মনোএল দা আসসুম্পসাঁউ
সঠিক উত্তর:
ঘ) মনোএল দা আসসুম্পসাঁউ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) মনোএল দা আসসুম্পসাঁউ
ব্যাখ্যা

মনোএল দা আসসুম্পসাঁউ একজন পর্তুগিজ। মনোএল দা আসসুম্পসাঁউ এর আগে কেউ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ লেখেনি।
১৭৪৩ সালে মনোএল দা আসসুম্পসাঁউ দুটি বাংলা গ্রন্থ রচনা ও মুদ্রণ করেন।
গ্রন্থ দুটি হলো :
- কৃপা শাস্ত্রের অর্থভেদ
- ভোকাবুলিরও এম ইদিওমা বেনগল্লা ই পোরতুগিজ
এর মধ্যে ভোকাবুলিরও এম ইদিওমা বেনগল্লা ই পোরতুগিজ গ্রন্থে একটি অধ্যায়ে মনোএল দা আসসুম্পসাঁউ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ সংযোজন করেন। তাই তিনি বাংলা ভাষার প্রথম ব্যাকরণ রচিয়তা।
[উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া]

৩,৭৩০.
কাজী ইমদাদুল হক রচিত আঁখিজল কি ধরণের গ্রন্থ?
  1. ক) কাব্যগ্রন্থ
  2. খ) উপন্যাস
  3. গ) প্রবন্ধ
  4. ঘ) শিশুতোষ গ্রন্থ
সঠিক উত্তর:
ক) কাব্যগ্রন্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) কাব্যগ্রন্থ
ব্যাখ্যা
- কাজী ইমদাদুল হক (১৮৮২-১৯২৬): শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক।
- ১৯২০ সালের মে মাসে ইমদাদুল হকের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় শিক্ষাবিষয়ক মাসিক পত্রিকা ‘শিক্ষক'।

তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের নাম:
কাব্য- আঁখিজল (১৯০০), লতিকা।
প্রবন্ধ- প্রবন্ধমালা (১৯১৮)।
শিশুতোষ গ্রন্থ- নবীকাহিনী (১৯১৭)।
উপন্যাস- ‘আবদুল্লাহ' (১৯২৬ সালের ২০ মার্চ কাজী ইমদাদুল হক মৃত্যুবরণ করলে অধ্যাপক কাজী আনোয়ারুল কাদির মূল লেখকের খসড়া অবলম্বনে অসমাপ্ত উপন্যাসটির ১১টি পরিচ্ছেদ রচনা করেন এবং উপন্যাসটি ১৯৩৩ সালে প্রকাশিত হয়)।


উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৭৩১.
কোনটি মোহাম্মদ নজিবর রহমান রচিত উপন্যাস?
  1. ফিরোজা বেগম
  2. আব্দুল্লাহ
  3. জোহরা
  4. গরীবের মেয়ে
সঠিক উত্তর:
গরীবের মেয়ে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গরীবের মেয়ে
ব্যাখ্যা

'গরীবের মেয়ে' মোহাম্মদ নজিবর রহমান রচিত উপন্যাস।
- উপন্যাসটি ১৯২৩ সালে প্রকাশিত হয়।
- তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস 'আনোয়ারা'।

নজিবর রহমান রচিত উল্লেখযোগ্য উপন্যাস;
- প্রেমের সমাধি
- পরিণাম
- চাঁদতারা বা হাসান গঙ্গা বাহমনি
- দুনিয়া আর চাই না
- মেহেরউন্নিসা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম।

৩,৭৩২.
নির্মলেন্দু গুণ রচিত ছোটগল্প কোনটি?
  1. চিরকালের বাঁশি
  2. অন্তর্জাল
  3. ইসক্রা
  4. নেই কেন সেই পাখি
সঠিক উত্তর:
অন্তর্জাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অন্তর্জাল
ব্যাখ্যা
• নির্মলেন্দু গুণ রচিত ছােটগল্প :
- আপনদলের মানুষ (১৯৭৬),
- অন্তর্জাল (২০০৫)।

• নির্মলেন্দু গুণ:
- তিনি ১৯৪৫ সালে নেত্রকোণার বারহাট্টার কাশবন গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর সম্পূর্ণ নাম নির্মলেন্দু প্রকাশ গুণ চৌধুরী। তাঁর ডাক নাম 'রতন' এবং প্রিয়জনেরা তাকে 'রতু' বলে ডাকেন।
- তাকে বাংলাদেশের কবিদের কবি বলা হয়। 
- তিনি ১৯৮২ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারে ভূষিত হন।
 
• তাঁর রচিত কাব্যগুলো হলো:
- প্রেমাংশুর রক্ত চাই, 
- না প্রেমিক না বিপ্লবী, 
- দীর্ঘ দিবস দীর্ঘ রজনী, 
- ও বন্ধু আমার, 
- নেই কেন সেই পাখি, 
- তার আগে চাই সমাজতন্ত্র, 
- চাষাভূষার কাব্য, 
- পৃথিবীজোড়া গান,
- চিরকালের বাঁশি, 
- ইসক্রা, 
- দূর হ দুঃশাসন।
- দুঃখ করো না, বাঁচো,
- শিয়রে বাংলাদেশ,
- মুজিব- লেনিন -ইন্দিরা ইত্যাদি।
 
• তাঁর রচিত ছোটগল্প:
- আপনদলের মানুষ,
- অন্তর্জাল।
 
• তাঁর রচিত কিশোর উপন্যাস:
- কালো মেলা,
- বাবা যখন ছোট্ট ছিলেন।
 
উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৭৩৩.
‘কোনো খেদ নেই’ রফিক আজাদ রচিত কোন ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. কাব্যগ্রন্থ
  2. শিশুতোষ গ্রন্থ
  3. প্রবন্ধগ্রন্থ
  4. আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ
সঠিক উত্তর:
আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ
ব্যাখ্যা
• রফিক আজাদের আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ ‘কোনো খেদ নেই’।

• রফিক আজাদ:
- রফিক আজাদ টাঙ্গাইল জেলার জাহিদগঞ্জের গুণীগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- রফিক আজাদের ডাক নাম ছিল 'জীবন'।
- কর্মজীবনে তিনি সাংবাদিকতা, শিক্ষকতা ও সরকারি চাকরিতে নিয়োজিত ছিলেন।
- বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত মাসিক সাহিত্য পত্রিকা 'উত্তরাধিকার' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- তাঁর বিখ্যাত কবিতা 'ভাত দে হারামজাদা'। এটি 'সীমাবদ্ধ জলে, সীমিত সবুজে' কাব্যগ্রন্থে সংকলিত।
- তিনি ২০১৬ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত বিখ্যাত রচনাসমূহ:
- চুনিয়া আমার আর্কেডিয়া,
- অসম্ভবের পায়ে,
- কোনো খেদ নেই,
- হৃদয়ের কী বা দোষ,
- সীমাবদ্ধ জলে, সীমিত সবুজে,
- প্রিয় শাড়িগুলো,
- অপর অরণ্যে,
- পরিকীর্ণ পানশালা আমার স্বদেশ,
- করো অশ্রুপাত,
- পাগলা গারদ থেকে প্রেমিকার চিঠি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৭৩৪.
মহাকবি কায়কোবাদের প্রথম কাব্যগ্রন্থ-
  1. ক) মহাশ্মশান
  2. খ) অশ্রুমালা
  3. গ) বিরহ বিলাপ
  4. ঘ) অমিয়ধারা
সঠিক উত্তর:
গ) বিরহ বিলাপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বিরহ বিলাপ
ব্যাখ্যা

আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম কবি - কায়কোবাদ। তার প্রকৃত নাম - কাজেম আল কোরেশী।
তার প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ - 'বিরহ-বিলাপ'
তার অন্যান্য রচনা -
মহাকাব্য - মহাশ্মশান (১৯০৫)
গীতিকাব্য - অশ্রুমালা (১৮৯৫)
এছাড়াও তিনি -
কুসুমকানন, শিবমন্দির, অমিয়ধারা ইত্যাদি কাব্যগ্রন্থ রচনা করেন।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৩,৭৩৫.
‘কিত্তনখােলা’ নাটকটির বিষয়-
  1. যন্ত্রণাদগ্ধ শহরজীবন
  2. স্নিগ্ধ-শ্যামল প্রকৃতির রূপ
  3. লোকায়ত জীবন-সংস্কৃতি
  4. দেশবিভাগজনিত জীবন যন্ত্রণা
সঠিক উত্তর:
লোকায়ত জীবন-সংস্কৃতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লোকায়ত জীবন-সংস্কৃতি
ব্যাখ্যা
• ‘কিত্তনখােলা’ নাটক:
- ‘কিত্তনখােলা’ নাটকটের রচয়িতা সেলিম আল দীন।
- জীবনঘনিষ্ঠ নাট্যকর্ম তাঁর ‘কিত্তনখোলা’। ‘কিত্তনখোলা’ রচনার মধ্য দিয়ে সেলিম আল দীন বাংলা-নাট্যশিল্পকে নতুন রূপ দান করেন। - মূলত, এ নাটকের মাধ্যমেই পাশ্চাত্য নাট্যরীতি পরিহারপূর্বক প্রাচ্যীয় রীতির প্রবর্তন শুরু হয়।
- ‘কিত্তনখোলা’ হয়ে ওঠেছে বাঙালির প্রান্তিক জনমানুষের প্রথাগত জীবনে স্থিত সাংস্কৃতিক আচার-আচরণের ইতিবৃত্ত।
- লেখকের ভাষায় - কিত্তনখোলা পর্বে আমি মানিকগঞ্জের লোকায়ত জীবন-সংস্কৃতি এবং এর অপূর্ব নিসর্গের সাথে পরিচিত হই।

-----------------------
• সেলিম আল দীন:
- সেলিম আল দীন ১৯৪৮ খ্রিষ্টাব্দের ১৮ই নভেম্বর তৎকালীন নোয়াখালি জেলার সোনাগাজির সেনেরখিল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- সেলিম আল দীন কবিতাই লিখতেন। কিন্তু ১৯৭২ খ্রিষ্টাব্দে তাঁর রচিত 'নীল শয়তান: তাহিতি ইত্যাদি' নাটকটি টেলিভিশন ও বেতারে প্রচার হলে তাঁর নাট্যরচনার কথা জানাজানি হয়।
- একই বছর ডাকসু মঞ্চস্থ করে 'জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন' এবং নাট্য প্রতিযোগিতাতেও নাটকটি প্রথম পুরস্কার পায়।
- ১৯৭৩ খ্রিষ্টাব্দে ডাকসু নাট্যচক্র তাঁর লেখা 'এক্সপ্লোসিভ ও মূল সমস্যা' মঞ্চস্থ করলে নাট্যকার হিসেবে সেলিম আল দীন সবার পরিচিতি পান।

সেলিম আল দীন রচিত নাট্যগ্রন্থ:
- সর্প বিষয়ক গল্প ও অন্যান্য,
- বাসন,
- কেরামতমঙ্গল,
- কিত্তনখোলা,
- হাতহদাই,
- শকুন্তলা,
- মুনতাসীর ফ্যান্টাসি,
- জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন,
- চাকা,
- যৈবতী কন্যার মন,
- হরগজ,
- নিমজ্জন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া এবং ‘কিত্তনখোলা’ নাটক।
৩,৭৩৬.
'সুবচন নির্বাসনে' আবদুল্লাহ আল মামুন রচিত একটি-
  1. ক) উপন্যাস
  2. খ) প্রবন্ধ
  3. গ) কাব্যগ্রন্থ
  4. ঘ) নাটক
সঠিক উত্তর:
ঘ) নাটক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) নাটক
ব্যাখ্যা
শপথ, সুবচন নির্বাসনে, এখন দুঃসময়, এবার ধরা দাও, শাহজাদীর কালো নেকাব, চারদিকে যুদ্ধ, কোকিলারা, এখনও ক্রীতদাস, মেরাজ ফকিরের মা - ইত্যাদি নাটকের রচয়িতা আবদুল্লাহ আল মামুন।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৭৩৭.
'আবু শরিয়া' ছদ্মনামে সাহিত্য রচনা করেছেন কোন লেখক?
  1. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
  2. কাজী নজরুল ইসলাম 
  3. সৈয়দ মুজতবা আলী
  4. মীর মশাররফ হোসেন 
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
ব্যাখ্যা

'আবু শরিয়া' (Abu Sharia) ছদ্মনামে সাহিত্য রচনা করেছেন বিখ্যাত ঔপন্যাসিক, গল্পকার ও কূটনীতিবিদ সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ। তিনি এই ছদ্মনামে ইংরেজিতে কিছু উপন্যাস ও উপন্যাসিকাও লিখেছেন, যেমন—'The Ugly Asian' (কদর্য এশীয়) এবং 'How Does One Cook Beans' (শিম কীভাবে রান্না করতে হয়)। 

---------------------
• ‘শিম কিভাবে রান্না করতে হয়’:

- ‘শিম কিভাবে রান্না করতে হয়’ সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ’র ইংরেজী ভাষায় লিখিত স্যাটায়ার ‘How does one cook beans' এর বাংলা অনুবাদ। - রচনাটির একটি subtitle বা উপশিরোনাম আছে, 'এক এশীয়র ফ্রান্স অভিযান'।
- আমাদের এশীয়দের চোখে ইয়োরোপীয়দের অনেক আচরণই অদ্ভুত, বেমানান এমনকি পাগলাটে মনে হয়। যে সুবিশাল ভৌগোলিক দূরত্ব এই দু অঞ্চলের মাঝে হাত পা মেলে শুয়ে আছে, তাতে করে সমাজ সংস্কৃতির এ পার্থ্যকটা থাকবে এটাই স্বাভাবিক। ইয়োরোপীয়দের দৈনন্দিন নানা আচার ব্যবহার এক ফ্রান্স বেড়াতে যাওয়া এশীয় যুবকের চোখে কেমন ঠেকে তা-ই মূলত ‘শিম কিভাবে রান্না করতে হয়’ ব্যঙ্গাত্নক রচনাটির উপজীব্য।
- ওয়ালীউল্লাহ্ এই লেখাটি আবু শরিয়া ছদ্মনামে লেখেন। শিবব্রত বর্মনের অনুবাদে লেখাটি প্রকাশ করেছে প্রথমা প্রকাশন।

সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত অন্যান্য সাহিত্যকর্মগুলো হলো- 
• নাটক:
- বহিপীর।
- তরঙ্গভঙ্গ।
- সুড়ঙ্গ।

 • উপন্যাস:
- লালসালু।
- চাঁদের অমাবস্যা। 
- কাঁদো নদী কাঁদো।

• গল্পগ্রন্থ:
- নয়নচারা।
- দুই তীর ও অন্যান্য গল্প।

অন্যদিকে, 
• কাজী নজরুল ইসলামের প্রধান ছদ্মনামগুলো হলো ধূমকেতু (তাঁর সম্পাদিত পত্রিকার নাম) এবং তাঁর ডাকনাম ছিল দুখু মিয়া, এছাড়াও তিনি নুরু, তারাখ্যাপা, খুদে, ওস্তাদ, ব্যাঙাচি ইত্যাদি নামেও পরিচিত ছিলেন, তবে ধূমকেতু ছদ্মনামটি তার সাহিত্যকর্মে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

• সৈয়দ মুজতবা আলীর বিখ্যাত ছদ্মনামগুলো হলো সত্যপীর, ওমর খৈয়াম, প্রিয়দর্শী, টেকচাঁদ এবং মুসাফির, যা তিনি 'দেশ', 'আনন্দবাজার', 'বসুমতী'সহ বিভিন্ন পত্রিকায় লেখালেখির সময় ব্যবহার করতেন।  

• মীর মশাররফ হোসেন যেসকল ছদ্মনামে সাহিত্য রচনা করেছেন- গৌড়তটবাসী মশা, গাজী মিয়াঁ এবং উদাসীন পথিক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; ‘শিম কিভাবে রান্না করতে হয়’ সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ এবং বাংলাপিডিয়া।

৩,৭৩৮.
অস্ট্রেলিয়ার ভ্রমণকাহিনি নিয়ে রচিত গ্রন্থ কোনটি?
  1. দেশে বিদেশে
  2. পশ্চিমের যাত্রী
  3. বন্দর থেকে বন্দরে
  4. পথে প্রবাসে
সঠিক উত্তর:
বন্দর থেকে বন্দরে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বন্দর থেকে বন্দরে
ব্যাখ্যা
• 'বন্দর থেকে বন্দরে':
- 'বন্দর থেকে বন্দরে' ভ্রমনকাহিনির রচয়িতা সানাউল হক।
- ভ্রমনকাহিনিটি ১৯৬৪ সালে প্রকাশিত হয়ে বেশ খ্যাতি লাভ করেছে।
- উনিশ শ পঞ্চাশের দশকের প্রথমে সানাউল হক জাহাজে করে অস্ট্রেলিয়া গিয়েছিলেন। সেই স্মৃতি থেকে লেখা ভ্রমণকাহিনি 'বন্দর থেকে বন্দরে'।

অন্যদিকে, 
• সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের "পশ্চিমের যাত্রী” নামে ইউরোপ-ভ্রমণের কথা, ১৩৪২ সালের "প্রবাসী” পত্রিকায় ও ১৩৪২-১৩৪৪ সালের "ভারতবর্ষ” পত্রিকায় ধারাবাহিক ভাবে প্রকাশিত হয়েছিল। প্রথম-চতুর্থ অধ্যায় পর্যন্ত “প্রবাসী” প্রকাশিত হয়। পুস্তকাকারে এই ভ্রমণ-কাহিনি পুনর্মুদ্রিত হয় ১৩৪৫ সালে। 

• 'দেশে বিদেশে' ভ্রমণকাহিনির রচয়িতা সৈয়দ মুজতবা আলী। ভ্রমণ কাহিনিটি আফগানিস্তানের কাবুল শহর নিয়ে লেখা।

• ১৯২৭ থেকে ১৯২৯ সালে 'বিচিত্রা' পত্রিকায় অন্নদাশঙ্কর রায়ের ইউরোপ ভ্রমণের অভিজ্ঞতা নিয়ে লেখা ভ্রমণকাহিনি 'পথে প্রবাসে' প্রকাশিত হয়। এই গ্রন্থে লন্ডন, ইংল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানিসহ ইউরোপ ভ্রমণের চমকপ্রদ বর্ণনা রয়েছে। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৭৩৯.
'আমার দেখা নয়াচীন' কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ২০২০ সালে
  2. ২০১২ সালে
  3. ২০১৭ সালে
  4. ২০১৮ সালে
সঠিক উত্তর:
২০২০ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২০২০ সালে
ব্যাখ্যা
আমার দেখা নয়াচীন:
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের লেখা তৃতীয় বই আমার দেখা নয়াচীন।
- প্রকাশিত হয় ২০২০ সালে।
- এই বইটিও কারাগারে রাজবন্দী থাকার সময়ে রচিত।
- বঙ্গবন্ধু ১৯৫২ সালের অক্টোবর মাসে চীনের পিকিংয়ে অনুষ্ঠিত এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় আঞ্চলিক শান্তি সম্মেলনে পাকিস্তানের প্রতিনিধি হিসেবে যোগ দেন।
- সে সময় নয়াচীন দেখার অভিজ্ঞতার আলোকে বইটি রচিত।

উৎস: ১৪ আগস্ট ২০২০, প্রথম আলো।
৩,৭৪০.
'আবদুল্লাহ' উপন্যাসটি কোন প্রেক্ষাপটে রচিত? 
  1. ধর্মীয় কুসংস্কার
  2. রাজনৈতিক আন্দোলন
  3. সামাজিক বৈষম্য
  4. অর্থনৈতিক সংকট
সঠিক উত্তর:
ধর্মীয় কুসংস্কার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধর্মীয় কুসংস্কার
ব্যাখ্যা

• 'আবদুল্লাহ' উপন্যাস:
- 'আবদুল্লাহ' কাজী ইমদাদুল হক রচিত একটি উপন্যাসটির।
- এটি মোসলেম ভারত পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হতো। ১৯৩৩ সালে এটি গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসটি রচনাকালীন সময়ে কাজী ইমদাদুল হকের মৃত্যু হলে, কাজী আনোয়ারুল কাদির ইমদাদুল হকের খসড়া অবলম্বন করে অসমাপ্ত উপন্যাসটি সমাপ্ত করেন।
- উপন্যাসটিতে চিত্রিত হয়েছে গ্রামীণ মুসলিম সমাজের পিরভক্তি, ধর্মীয় কুসংস্কার, পর্দাপ্রথা, সম্প্রদায়বিদ্বেষ ইত্যাদির বিরুদ্ধে মানবতাবাদী প্রতিবাদ৷
- শিল্পের বিচারে 'আবদুল্লাহ্‌' উৎকৃষ্ট উপন্যাস নয়, তবে বাংলার সামাজিক বিবর্তনের, বিশেষ করে বাঙালি মুসলমানের অগ্রযাত্রার সম্ভাবনা ও প্রতিবন্ধকতা সুচারুভাবে ফুটে উঠায় গ্রন্থটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব আছে।

•  কাজী ইমদাদুল হক:
- কাজী ইমদাদুল হক ১৮৮২ সালে খুলনা জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- 'আবদুল্লাহ' উপন্যাসের লেখক হিসেবেই তাঁর সমধিক পরিচিতি।
- আবদুল্লাহ উপন্যাস রচনা করেই তিনি ঔপন্যাসিক হিসেবে খ্যাতি লাভ করেন।
- বাঙালি মুসলমান সমাজের কল্যাণসাধন ছিল ইমদাদুল হকের সাহিত্য সাধনার মূল লক্ষ্য।
- তিনি বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকা (১৯১৮) প্রকাশনা কমিটির সভাপতি ছিলেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থসমূহ:
- আঁখিজল,
- মোসলেম জগতে বিজ্ঞান চর্চা,
- ভূগোল শিক্ষা প্রণালী (দু ভাগ),
- নবীকাহিনী ( প্রবন্ধমালা),
- কামারের কান্ড,
- আবদুল্লাহ।

তথ্যসূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 

৩,৭৪১.
অমিয় চক্রবর্তী রচিত কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. পথ অন্তহীন
  2. পুরবাসী
  3. সাম্প্রতিক
  4. মাটির দেয়াল
সঠিক উত্তর:
মাটির দেয়াল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাটির দেয়াল
ব্যাখ্যা
• অমিয় চক্রবর্তী রচিত কাব্যগ্রন্থ - মাটির দেয়াল

অমিয় চক্রবর্তী:

- অমিয় চক্রবর্তী (১৯০১-১৯৮৬): পশ্চিমবঙ্গের হুগলীর শ্রীরামপুরে তাঁর জন্ম।
- অমিয় চক্রবর্তী তাঁর জীবনের প্রথম দিকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নিকট-সান্নিধ্যে এসেছিলেন।
- তিনি রবীন্দ্রনাথের ব্যক্তিগত সচিব ছিলেন এবং তাঁর সঙ্গে বহুদেশে ভ্রমণ করেছেন।
- তিরিশের পঞ্চকবির মধ্যে তিনি অন্যতম একজন।
- তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থের সংখ্যা ১৫৷

তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ হলো:
- খসড়া,
- এক মুঠো,
- মাটির দেয়াল,
- অভিজ্ঞান বসন্ত,
- অনিঃশেষ ইত্যাদি।

তাঁর রচিত গদ্যরচনাগুলো হলো:
- চলো যাই,
- সাম্প্রতিক,
- পুরবাসী,
- পথ অন্তহীন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৭৪২.
সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত পালামৌ ভ্রমণকাহিনী কোন দেশ ভ্রমণের প্রেক্ষাপটে রচিত?
  1. ক) সিরিয়া
  2. খ) ইতালি
  3. গ) ভারত
  4. ঘ) তুরস্ক
সঠিক উত্তর:
গ) ভারত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ভারত
ব্যাখ্যা
সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত পালামৌ বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ভ্রমণ কাহিনী৷ পালামৌ ভারতের ঝাড়খণ্ড রাজ্যের একটি জেলা৷ এই জেলা ভ্রমণের অভিজ্ঞতা সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় তার পালামৌ গ্রন্থে তুলে ধরেছেন। এটি প্রথমে বঙ্গদর্শন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। (সূত্রঃ পালামৌ : সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়)
৩,৭৪৩.
'নবান্ন' নাটকটি রচনা করেন কে?
  1. বিজন ভট্টাচার্য
  2. সরদার জয়েনউদ্দিন
  3. নুরুল মোমেন
  4. প্রেমেন্দ্র মিত্র
সঠিক উত্তর:
বিজন ভট্টাচার্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিজন ভট্টাচার্য
ব্যাখ্যা

'নবান্ন' নাটক: 
- এটি বিজন ভট্টাচার্য রচিত নাটক।
- ‘নবান্ন' (১৯৪৪) পঞ্চাশের মন্বন্তরের পটভূমিকায় কৃষক জীবনের দুঃখ দুর্দশা ও জীবন সংগ্রামের কাহিনি অবলম্বনে রচিত নাটক।
- নবনাট্য আন্দোলনের পথিকৃৎ বিজন ভট্টাচার্য এই নাটকের মাধ্যমে বাংলা নাট্যধারায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।
- তাই এই নাটকটিকে বাংলা নাট্য আন্দোলনের ইতিহাসে যুগান্তকারী বলা চলে।
- অনেকে দীনবন্ধুর 'নীল-দর্পণে'র সঙ্গে এর তুলনা করেছেন।
- এ নাটকটি ভারতীয় গণনাট্য সঙ্ঘ ১৯৪৪ সালে প্রথম অভিনয় করেন।

বিজন ভট্টাচার্য:
-তিনি ছিলেন নাট্যকার, অভিনেতা।  
- ফরিদপুর জেলার খানখানাপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা ক্ষীরোদবিহারী ভট্টাচার্য ছিলেন একজন স্কুলশিক্ষক। 
- বিজন ভট্টাচার্য অসহযোগ আন্দোলনে (১৯২০-২২) যোগ দিয়ে কারাবরণ করেন।
 
তাঁর রচিত নাটক: 
- নবান্ন, 
- জনপদ, 
- কলঙ্ক,
- মরাচাঁদ,
- অবরোধ,
- গোত্রান্তর।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩,৭৪৪.
বাংলা সমবেত কণ্ঠ সংগীতের প্রবর্তক কে?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. নজিবর রহমান
  3. দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  4. মীর মোশাররফ হোসেন
সঠিক উত্তর:
দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
ব্যাখ্যা
দ্বিজেন্দ্রলাল রায়:
- তিনি একাধারে কবি, নাট্যকার, গীতিকার।
- ১৮৬৩ সালের ১৯ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের  নদীয়া জেলার কৃষ্ণনগরে তাঁর জন্ম।
- দ্বিজেন্দ্রলাল হুগলি কলেজ থেকে বিএ এবং  প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে ইংরেজি সাহিত্যে এমএ (১৮৮৪) পাস করেন।
- দ্বিজেন্দ্রলাল রচিত জনপ্রিয় দেশাত্মবোধক গানগুলির মধ্যে ‘বঙ্গ আমার জননী আমার’, ‘ধনধান্যপুষ্পভরা’ ইত্যাদি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
- উনিশ শতকের শেষদিকে এবং বিশ শতকের প্রথমদিকে বাংলা গানের আধুনিকীকরণে যে পঞ্চ গীতিকবি বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখেন, দ্বিজেন্দ্রলাল তাঁদের অন্যতম।
- রবীন্দ্রযুগে বাংলা কাব্যসঙ্গীতে বিভিন্ন ধারা প্রয়োগ ও  আধুনিক গান রচনায় তিনি ছিলেন একজন সার্থক রূপকার।

 উল্লেখযোগ্য কয়েকটি গ্রন্থ হলো:
- কাব্য আর্য্যগাথা,
- মন্দ্র,
- আলেখ্য,
- ত্রিবেণী।

প্রহসন: 
- একঘরে,
- সমাজ-বিভ্রাট ও কল্কি অবতার,
- ত্র্যহস্পর্শ,
- প্রায়শ্চিত্ত,
- পুনর্জন্ম।

ঐতিহাসিক নাটক:
- তারাবাই,
- রানা প্রতাপসিংহ,
- মেবার-পতন,
- নূরজাহান,
- সাজাহান,
- চন্দ্রগুপ্ত।

প্রবন্ধগ্রন্থ:
- কালিদাস
- ভবভূতি প্রভৃতি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
৩,৭৪৫.
'এক মন এক প্রাণ' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. ক) রাবেয়া খাতুন
  2. খ) গোলাম মোস্তফা
  3. গ) জহির রায়হান
  4. ঘ) জীবনানন্দ দাশ
সঠিক উত্তর:
খ) গোলাম মোস্তফা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) গোলাম মোস্তফা
ব্যাখ্যা
গোলাম মোস্তফা রচিত উপন্যাস সমূহ- রূপের নেশা, ভাঙাবুক ও এক মন এক প্রাণ। উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৩,৭৪৬.
নিচের কোনটি আত্মজীবনী মূলক গ্রন্থ?
  1. ক) পথে প্রবাসে
  2. খ) বিনুর বই
  3. গ) প্রত্যয়
  4. ঘ) আমরা
সঠিক উত্তর:
খ) বিনুর বই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বিনুর বই
ব্যাখ্যা

অন্নদাশঙ্কর রায়ের (১৯০৫ - ২০০২) আত্মজীবন তথা আত্মশিল্পমূলক রচনা বিনুর বই
এটি একটি প্রবন্ধ ধরনের গ্রন্থ।
এছাড়াও তার আরো কয়েকটি প্রবন্ধ গ্রন্থ হচ্ছে -
আধুনিকতা, তারুণ্য, জীবনশিল্পী, ইশারা, জীয়ন কাটি, প্রত্যয় ইত্যাদি।
‘পথে প্রবাসে’ – তার বিখ্যাত ভ্রমণ কাহিনি।
রেফারেন্সঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।

৩,৭৪৭.
স্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্র থেকে প্রচারিত ‘পিণ্ডির প্রলাপ’ কথিকার রচয়িতা ছিলেন কে?
  1. আবদুল গাফফার চৌধুরী
  2. তোয়াব খান
  3. সিকান্দার আবু জাফর
  4. এম আর আখতার মুকুল
সঠিক উত্তর:
তোয়াব খান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তোয়াব খান
ব্যাখ্যা
- স্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্র থেকে প্রচারিত ‘পিণ্ডির প্রলাপ’ কথিকার রচয়িতা ছিলেন তোয়াব খান।
স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে প্রচারিত অন্যান্য কথিকাসমূহ:
- চরমপত্র (এম আর আখতার মুকুল)
- জনতার সংগ্রাম (রণেশ দাশগুপ্ত, বিপ্রদাস বড়ুয়া প্রমুখ)
- পুতুল নাচের খেল (আবদুল গাফফার চৌধুরী)
- কাঠগড়ার আসামি (মুস্তাফিজুর রহমান)
- রক্তের অক্ষরে লিখি (মোহাম্মদ আবু জাফর)
- সাময়িকী (আবুল কাশেম সন্দ্বীপ)।
(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র : পঞ্চম খণ্ড)
৩,৭৪৮.
সৈয়দ মুজতবা আলী কত সালে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন?
  1. ১৯২৪
  2. ১৯২৫
  3. ১৯২৬
  4. ১৯২৭
সঠিক উত্তর:
১৯২৬
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯২৬
ব্যাখ্যা
সৈয়দ মুজতবা আলী:
- তিনি ছিলেন  শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক।
- ১৯০৪ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর পিতার কর্মস্থল শ্রীহট্ট (সিলেট) জেলার করিমগঞ্জে তিনি জন্মগ্রহণ করেন, কিন্তু তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল মৌলভীবাজারের উত্তরসুর গ্রামে।
- তিনি বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯২৬ সালে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।
- সৈয়দ মুজতবা আলী 'দেশে বিদেশে' গ্রন্থের মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যাঙ্গনে প্রথম প্রবেশ ও প্রতিষ্ঠা লাভ করেন। কাবুলে অবস্থানের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও অন্তরঙ্গ উপলব্ধির ফসল এই গ্রন্থখানি।
- তিনি কাজী নজরুল ইসলামের 'রুবাইয়াৎ-ই-ওমর খৈয়াম' গ্রন্থের ভূমিকা লিখেন।
- ১৯৭৪ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- অবিশ্বাস্য,
- শবনম।

তাঁর রচিত রম্য-রচনা:
- পঞ্চতন্ত্র,
- ময়ূরকণ্ঠী।

তাঁর রচিত ছোটগল্পগ্রন্থ:
- চাচা-কাহিনী,
- টুনি মেম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৩,৭৪৯.
'পৃথক পালঙ্ক' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা-
  1. ক) আব্দুল কাদির
  2. খ) আল মাহমুদ
  3. গ) আবুল হাসান
  4. ঘ) আবুল ফজল
সঠিক উত্তর:
গ) আবুল হাসান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) আবুল হাসান
ব্যাখ্যা
আবুল হোসেন মিয়ার সাহিত্যিক নাম আবুল হাসান। তিনি পেশায় সাংবাদিক ছিলেন। তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ- রাজা যায় রাজা আসে, যে তুমি হরণ করো, পৃথক পালঙ্ক। তাঁর মৃত্যুর পর প্রকাশিত কাব্যনাট্য- ওরা কয়েকজন।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৭৫০.
'মৌরীফুল' গল্পের রচয়িতা কে?
  1. ক) বুদ্ধদেব বসু
  2. খ) মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. গ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. ঘ) বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
ঘ) বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত গল্পগ্রন্থ- মেঘমল্লার, মৌরিফুল, যাত্রাবদল, মুখোশ ও মুখশ্রী, কিন্নরদল, বেণীগির ফুলবাড়ি, পুইমাচা ইত্যাদি।
উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা এবং লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৩,৭৫১.
আহমদ শরীফ রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) বিশ শতকের মেয়ে
  2. খ) বাঙালি মুসলমানের মন
  3. গ) বিশ শতকের বাঙালি
  4. ঘ) বুদ্ধিবৃত্তির নতুন বিন্যাস
সঠিক উত্তর:
গ) বিশ শতকের বাঙালি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বিশ শতকের বাঙালি
ব্যাখ্যা

• আহমদ শরীফ রচিত প্রবন্ধগ্রন্থঃ
- বিশ শতকের বাঙালি,
- বিচিত চিন্তা,
- স্বদেশ অন্বেষা,
- স্বদেশ চিন্তা,
- সাহিত্য সংস্কৃতি চিন্তা ইত্যাদি।
• বাঙালি মুসলমানের মন ও বুদ্ধিবৃত্তির নতুন বিন্যাস আহমদ ছফা রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৩,৭৫২.
নিচের কোন ছদ্মনামটি মোহিতলাল মজুমদার ব্যবহার করেন?
  1. ক) কৃত্তিবাস ওঝা
  2. খ) সব্যসাচী
  3. গ) শ্রী সত্যসুন্দর দাস
  4. ঘ) সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলোই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলোই
ব্যাখ্যা
- মোহিতলাল মজুমদার তাঁর সমালোচনামূলক প্রবন্ধগুলিতে ‘কৃত্তিবাস ওঝা’, ‘সব্যসাচী’, ‘শ্রী সত্যসুন্দর দাস’  ইত্যাদি ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন

মোহিতলাল মজুমদার:
- ১৮৮৮ সালের ২৬ অক্টোবর নদীয়ার কাচঁড়াপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস হুগলির বলাগড়ে।
- ১৯২৮ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা ও সংস্কৃত বিভাগে লেকচারার পদে যোগদান করেন এবং ১৯৪৪ সালে অবসরে যান।

তাঁর রচিত গ্রন্থ:
- স্বপন পসারী 
- স্মরগরল 
- আধুনিক বাংলা সাহিত্য 
- বাংলা কবিতার ছন্দ 
- কবি শ্রীমধুসূদন 
- সাহিত্য বিচার 
- বাংলা ও বাঙালী 
- কবি রবীন্দ্র ও রবীন্দ্রকাব্য ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 
৩,৭৫৩.
কোনটি হযরত মুহম্মদ (স) -এর জীবনী গ্রন্থ?
  1. ক) মরুমায়া
  2. খ) মরু ভাস্কর
  3. গ) মরুতীর্থ
  4. ঘ) মরু কুসুম
সঠিক উত্তর:
খ) মরু ভাস্কর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মরু ভাস্কর
ব্যাখ্যা
- মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর জীবনী নিয়ে মরুভাস্কর রচনা করেন।
- এর প্রকাশকাল ১৯৪১ সাল। 
- মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলী একজন মুসলিম স্বাতন্ত্রবাদী লেখক।

উল্লেখ্য,
- মহানবী স. এর জীবনীকাব্য 'মরু-ভাস্কর'এর রচয়িতা কাজী নজরুল ইসলাম।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
৩,৭৫৪.
‘নিষিদ্ধ সম্পাদকীয়’ কোন ধরণের রচনা?
  1. প্রবন্ধ
  2. কবিতা
  3. উপন্যাস
  4. পত্রিকা
সঠিক উত্তর:
কবিতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কবিতা
ব্যাখ্যা
• ‘নিষিদ্ধ সম্পাদকীয়’ কবিতা: 
- প্রখ্যাত কবি হেলাল হাফিজ তাঁর অনন্য সৃষ্টি ‘নিষিদ্ধ সম্পাদকীয়’ কবিতা মাধ্যমে যুগান্তকারী ভাবনা ও প্রতিবাদী চেতনার প্রতিফলন ঘটিয়েছেন।
- হেলাল হাফিজের প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'যে জলে আগুন জ্বলে' প্রকাশিত হয়েছিল ১৯৮৬ সালে।
- তারো ১৭ বছর আগে তার কবিতা 'নিষিদ্ধ সম্পাদকীয়' ব্যাপক আলোড়ন তৈরি করে।

নিষিদ্ধ সম্পাদকীয়- কবিতা,
- হেলাল হাফিজ (যে জলে আগুন জ্বলে)

এখন যৌবন যার মিছিলে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়
এখন যৌবন যার যুদ্ধে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়
মিছিলের সব হাত
কন্ঠ
পা এক নয়।

সেখানে সংসারী থাকে, সংসার বিরাগী থাকে,
কেউ আসে রাজপথে সাজাতে সংসার।

----------------------- 
• হেলাল হাফিজ:
- ১৯৪৮ সালের ৭ অক্টোবর নেত্রকোনায় জন্মগ্রহণ করেন।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রাবস্থায়ই তিনি দৈনিক পূর্বদেশে সার্বক্ষণিক সাংবাদিক হিসেবে যোগ দেন।
- 'যে জলে আগুন জ্বলে' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা- হেলাল হাফিজ। 

• তাঁর কাব্যগ্রন্থসমূহ-
- যে জলে আগুন জ্বলে (১৯৮৬)।
- কবিতা ৭১ (বাংলা ও ইংরেজি দুই ভাষায়, একুশে বইমেলা ২০১২)।
- বেদনাকে বলেছি কেঁদোনা (২০১৯)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৭৫৫.
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত কোন পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন?
  1. ক) লাঙল
  2. খ) স্বদেশ
  3. গ) পূর্বাশা
  4. ঘ) সংবাদ প্রভাকর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সংবাদ প্রভাকর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সংবাদ প্রভাকর
ব্যাখ্যা
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত একজন বাঙালি কবি ও সাহিত্যিক এবং সাংবাদিক ।
- তিনি ‘সংবাদ প্রভাকর’ এর সম্পাদক।
- ১৮৩৯ সাল থেকে এটি দৈনিক পত্রিকায় হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
- বাংলা সাহিত্যে যুগ সন্ধিকাল ১৭৬০ থেকে ১৮৬০ খ্রিস্টাব্দ।
- বাংলা সাহিত্যে ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত যুগসন্ধিকালের কবি হিসেবে পরিচিত।
• ঈশ্বরচন্দ্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কীর্তি হলো ভারতচন্দ্র রায়, রামপ্রসাদ সেন, নিধুগুপ্ত, হরু ঠাকুর ও কয়েকজন কবিয়ালের লুপ্তপ্রায় জীবনী উদ্ধার করে প্রকাশ করা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৩,৭৫৬.
নিচের কোনটি মহাকাব্য?
  1. ক) চিত্তবিকাশ
  2. খ) বৃত্রসংহার
  3. গ) আশাকানন
  4. ঘ) দশমহাবিদ্যা
সঠিক উত্তর:
খ) বৃত্রসংহার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বৃত্রসংহার
ব্যাখ্যা
- 'বৃত্রসংহার' হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত মহাকাব্য।
-  মহাভারতের কাহিনী অবলম্বনে রচিত হয়েছে এ কাব্যটি এবং এটি তাঁর শ্রেষ্ঠ রচনা।
- এতে মূলত সমসাময়িক সমাজের অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায়ের জয় ঘোষিত হয়েছে।
- 'বৃত্রসংহার' মহাকাব্যের প্রথম খণ্ড ১৮৭৫ ও দ্বিতীয় খণ্ড ১৮৭৭ সালে প্রকাশিত হয়।

• হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়:
- তিনি হুগলির গুলিটা গ্রামে ১৮৩৮ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
- কর্মজীবনে হেমচন্দ্র আইনজীবী হিসেবেই প্রতিষ্ঠা লাভ করেন।
-  হিন্দু জাতীয়তাবাদের আদর্শে তিনি তাঁর রচনায় দেশপ্রেমকে তুলে ধরেন।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- চিন্তাতরঙ্গিণী (হেমচন্দ্রের প্রথম কাব্যগ্রন্থ যা ১৮৬১ সালে প্রকাশিত হয়)।
- আশাকানন।
- ছায়াময়ী।
- দশমহাবিদ্যা।
- চিত্তবিকাশ।
- বীরবাহু কাব্য (এটি আখ্যানকাব্য যা ১৮৬৪ সালে প্রকাশিত হয়)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৩,৭৫৭.
বুদ্ধদেব বসু রচিত উপন্যাস নয় কোনটি?
  1. তিথিডোর
  2. পরিক্রমা
  3. কঙ্কাবতী
  4. সানন্দা
সঠিক উত্তর:
কঙ্কাবতী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কঙ্কাবতী
ব্যাখ্যা
⇒ ‘কঙ্কাবতী’ কবিতাগ্রন্থ:
- ‘কঙ্কাবতী’ বুদ্ধদেব বসুর তৃতীয় কাব্যগ্রন্থ/কবিতাগ্রন্থ।
- এই কাব্যের কবিতাগুলির রচনাকাল ১৯২৯-৩৪ এবং প্রধান বিষয় প্রেম।
- সংগীতময় ভাষা এবং উচ্চারণের সংক্ষেপের জন্য কাব্যগ্রন্থটি সমকালে বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল। 

• বুদ্ধদেব বসু:
- বুদ্ধদেব বসু একজন সাহিত্যিক, সমালোচক, সম্পাদক।
- তিনি ১৯০৮ সালের ৩০ নভেম্বর কুমিল্লায় জন্ম গ্রহণ করেন।
- বাংলা কাব্যের পঞ্চপাণ্ডবের অন্যতম বুদ্ধদেব বসু।

বুদ্ধদেব বসুর গল্প:
- অভিনয়,
- অভিনয় নয়,
- রেখাচিত্র,
- হাওয়া বদল ইত্যাদি।

বুদ্ধদেব রচিত উপন্যাস:
- তিথিডোর,
- সাড়া,
- সানন্দা,
- লালমেঘ,
- পরিক্রমা,
- কালো হাওয়া,
- নির্জন স্বাক্ষর,
- নীলাঞ্জনার খাতা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৭৫৮.
'সোনালী কাবিন' এর রচয়িতা কে?
  1. হাসান হাফিজুর রহমান
  2. আল মাহমুদ
  3. হুমায়ুন আজাদ
  4. শক্তি চট্টোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
আল মাহমুদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আল মাহমুদ
ব্যাখ্যা
• 'সোনালী কাবিন' কাব্যগ্রন্থ:
- 'সোনালী কাবিন' কাব্যগ্রন্থের রচিয়তা আল মাহমুদ।
- আল মাহমুদ প্রকাশিত শ্রেষ্ঠ কাব্য গ্রন্থ 'সোনালী কাবিন'
- সোনালী কাবিন কাব্য গ্রন্থটি ১৯৭৩ সালে প্রকাশিত হয়।
- এই গ্রন্থে বিভিন্ন শিরোনামের কবিতার সঙ্গে ‘সোনালি কাবিন’ নামে চৌদ্দটি সনেটের সমন্বয়ে একটি দীর্ঘ কবিতাও অন্তর্ভুক্ত আছে। এটিকে একটি ক্ষুদ্র কাব্যগ্রন্থও বলা যেতে পারে।

--------------------
• আল মাহমুদ:
- তিনি ১৯৩৬ সালের ১১ই জুলাই ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার মোড়াইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ।
- তিনি একজন প্রথিতযশা কবি।
- স্বাধীনতা উত্তরকালে তিনি 'দৈনিক গণকন্ঠ' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- তাঁর প্রকাশিত শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ 'সোনালী কাবিন' (১৯৭৩)।

আল মাহমুদ রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- লোক লোকান্তর,
- কালের কলস,
- সোনালী কাবিন,
- পাখির কাছে ফুলের কাছে,
- অদৃষ্টবাদীদের রান্নাবান্না ইত্যাদি ।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- ডাহুকী,
- উপমহাদেশ,
- আগুনের মেয়ে,
- চেহারার চতুরঙ্গ,
- কাবিলের বোন ইত্যাদি।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- পানকৌড়ির রক্ত,
- সৌরভের কাছে পরাজিত,
- গন্ধবণিক,
- ময়ূরীর মুখ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৭৫৯.
প্রমথ চৌধুরী রচিত 'বীরবলের হালখাতা’ প্রথম কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
  1. ভারতী
  2. সাধনা
  3. বঙ্গদূত
  4. সবুজপত্র
সঠিক উত্তর:
ভারতী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভারতী
ব্যাখ্যা
⇒ প্রমথ চৌধুরী:
• বাংলা ভাষার সাধু ও চলিত রূপের মধ্যে তুলনামূলক গবেষণা করেন প্রমথ চৌধুরী।
• বাংলা গদ্যে চলিত রীতির প্রবর্তক ও বিদ্রূপাত্মক প্রাবন্ধিক হলেন প্রমথ চৌধুরী।
- প্রমথ চৌধুরীর সাহিত্যিক ছদ্মনাম 'বীরবল।'
- প্রমথ চৌধুরী রচিত 'বীরবলের হালখাতা' ১৯০২ সালে ভারতী পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়। 
- এ গদ্য/প্রবন্ধ রচনায় তিনি প্রথম চলিত রীতির প্রয়োগ ঘটান।
- বাংলা কাব্যের সাহিত্যে তিনিই প্রথম ইতালীয় সনেটের প্রবর্তন করেন। 
- ‘তেল নুন লকড়ি’ প্রমথ চৌধুরীর একটি প্রবন্ধগ্রন্থ। 

• প্রমথ চৌধুরী প্রবন্ধগ্রন্থ:
- নানা কথা,
- আমাদের শিক্ষা,
- রায়তের কথা,
- প্রবন্ধ সংগ্রহ,
- বীরবলের হালখাতা,
- তেল নুন লকড়ি ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- চার ইয়ারী কথা,
- নীললোহিত ও
- আহুতি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৭৬০.
'অসমাপিকা' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. ক) অন্নদাশঙ্কর রায়
  2. খ) অদ্বৈত মল্লবর্মণ
  3. গ) আনোয়ার পাশা
  4. ঘ) ওয়াজেদ আলী
সঠিক উত্তর:
ক) অন্নদাশঙ্কর রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) অন্নদাশঙ্কর রায়
ব্যাখ্যা
'অসমাপিকা' উপন্যাসের রচয়িতা অন্নদাশঙ্কর রায়। এটি তাঁর রচিত প্রথম উপন্যাস।
তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাস গুলো হলো -
- যার যেথা দেশ,
- অজ্ঞাতবাস,
- কঙ্কাবতী,
- দুঃখমোচন,
- মর্তের স্বর্গ,
- অপসরণ ইত্যাদি।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৭৬১.
'পথে প্রবাসে' অন্নদাশংকর রচিত একটি-
  1. ক) উপন্যাস
  2. খ) ছোটগল্প
  3. গ) কাব্যগ্রন্থ
  4. ঘ) ভ্রমণকাহিনী
সঠিক উত্তর:
ঘ) ভ্রমণকাহিনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ভ্রমণকাহিনী
ব্যাখ্যা
অন্নদাশঙ্কর রায় একজন স্বনামধন্য বাঙালি কবি, লেখক এবং সেই সাথে বিশিষ্ট ছড়াকারও। অন্নদাশঙ্কর 'লীলাময় রায়' ছদ্মনামে লিখতেন। পথে প্রবাসে ও ইউরোপের চিঠি তাঁর রচিত দুইটি ভ্রমণ কাহিনী। এছাড়াও তাঁর রচিত উপন্যাস- অসমাপিকা (প্রথম উপন্যাস), আগুন নিয়ে খেলা, পুতুল নিয়ে খেলা, সত্যাসত্য ইত্যাদি। উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৩,৭৬২.
'মীর কাসিম' নাটকের রচয়িতা কে ছিলেন?
  1. ক) জহির রায়হান
  2. খ) জসীমউদ্‌দীন
  3. গ) গিরিশ্চন্দ্র ঘোষ
  4. ঘ) কামিনী রায়
সঠিক উত্তর:
গ) গিরিশ্চন্দ্র ঘোষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) গিরিশ্চন্দ্র ঘোষ
ব্যাখ্যা
গিরিশ্চন্দ্র ঘোষ অভিনেতা ও প্রতিভাশালী নাট্যকার ১৮৪৪ সালে জন্মগ্রহন করেন। মৃত্যুবরণ করেন ১৯১২ সালে।
তাঁর রচিত গীতিনাট্যগুলো হলো।
- মণিমালা,
- স্বপ্নের ফুল,
- আবু হোসেন প্রভৃতি।

ঐতিহাসিক নাটকগুলোর মধ্যে রয়েছে,
- সিরাজদ্দৌলা,
- মীর কাসিম,
- ছত্রপতি শিবাজী প্রভৃতি।

উৎস: বাংলা ভাষার ইতিহাস- মাহবুবুল আলম।
৩,৭৬৩.
'মুকুলমুঞ্জরা' নাটকের রচয়িতা কে?
  1. ক) কুসুমকুমারী দাশ
  2. খ) গিরিশচন্দ্র ঘোষ
  3. গ) কালীপ্রসন্ন সিংহ
  4. ঘ) জসীম উদদীন
সঠিক উত্তর:
খ) গিরিশচন্দ্র ঘোষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) গিরিশচন্দ্র ঘোষ
ব্যাখ্যা
গিরিশচন্দ্র ঘোষের উল্লেখযোগ্য নাটকগুলো হলো- প্রফুল্ল, মায়াবসান, বলিদান, রাবণবধ, সীতার বনবাস, লক্ষ্ণণ বর্জন, সীতাহরণ, পান্ডবের অজ্ঞাতবাস, জনা, চৈতন্যলীলা, বিল্বমঙ্গল ঠাকুর, শঙ্করাচার্য, মুকুলমুঞ্জরা, সিরাজদ্দৌলা, মীর কাসিম, ছত্রপতি শিবাজী।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।
৩,৭৬৪.
নাট্যকার সেলিম আল দীনের প্রকৃত নাম কী?
  1. মইনুদ্দিন আহমেদ
  2. আবদুল্লাহ আল দীন
  3. সেলিম মইনুদ্দিন
  4. মোহাম্মদ সেলিম মইনুদ্দিন
সঠিক উত্তর:
মইনুদ্দিন আহমেদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মইনুদ্দিন আহমেদ
ব্যাখ্যা
• সেলিম আল দীন:
- বাংলা ভাষার আধুনিককাল পর্বের অন্যতম নাট্যকার হলেন সেলিম আল দীন।
- তাঁর প্রকৃত নাম মইনুদ্দিন আহমেদ।
- তিনি ঢাকা থিয়েটারের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

• তাঁর রচিত নাটকগুলো হলো:
- সর্প বিষয়ক গল্প ও অন্যান্য,
- বাসন,
- কেরামতমঙ্গল,
- কীর্তন খোলা, 
- হাতহদাই,
- শকুন্তলা,
- মুনতাসীর ফ্যান্টাসি,
- জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন,
- চাকা,
- যৈবতী কন্যার মন,
- হরগজ, নিমজ্জন,
- একটি মারমা রূপকথা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৩,৭৬৫.
'আমার পরিচয়' কবিতাটি সৈয়দ শামসুল হকের কোন গ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে?
  1. পরানের গহীন ভিতর
  2. শ্রেষ্ঠ কবিতা
  3. শ্রেষ্ঠ কিশোর কবিতা
  4. আনন্দের মৃত্যু
সঠিক উত্তর:
শ্রেষ্ঠ কিশোর কবিতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শ্রেষ্ঠ কিশোর কবিতা
ব্যাখ্যা
শ্রেষ্ঠ কিশোর কবিতা:
- ছোটদের জন্যে সৈয়দ শামসুল হকের নির্বাচিত ছড়াকবিতা নিয়ে প্রকাশিত গ্রন্থ 'শ্রেষ্ঠ কিশোর কবিতা'।
- 'আমার পরিচয়' কবিতাটি এই গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।

আমার পরিচয়

আমি জন্মেছি বাংলায়, আমি বাংলায় কথা বলি,
আমি বাংলার আলপথ দিয়ে হাজার বছর চলি।
চলি পলিমাটি কোমলে আমার চলার চিহ্ন ফেলে ।
তেরোশত নদী শুধায় আমাকে কোথা থেকে তুমি এলে?

আমি তো এসেছি চর্যাপদের অক্ষরগুলো থেকে।
আমি তো এসেছি সওদাগরের ডিঙার বহর থেকে।
আমি তো এসেছি কৈবর্তের বিদ্রোহী গ্রাম থেকে।
আমি তো এসেছি পালযুগ নামে চিত্রকলার থেকে।

এসেছি বাঙালি পাহাড়পুরের বৌদ্ধবিহার থেকে।
এসেছি বাঙালি জোড়বাংলার মন্দির-বেদি থাক।
এসেছি বাঙালি বরেন্দ্রভূমে সোনা মসজিদ থেকে।
এসেছি বাঙালি আউল বাউল মাটির দেউল থেকে।

আমি তো এসেছি সার্বভৌম বারো ভূঁইয়ার থেকে।
আমি তো এসেছি কমলার দিঘি মহুয়ার পালা থেকে।
আমি তো এসেছি তিতুমীর আর হাজী শরীয়ত থেকে।
আমি তো এসেছি গীতাঞ্জলি ও অগ্নিবীণার থেকে।

এসেছি বাঙালি ক্ষুদিরাম আর সূর্য সেনের থেকে।
এসেছি বাঙালি জয়নুল আর অবন ঠাকুর থেকে।
এসেছি বাঙালি রাষ্ট্রভাষার লাল রাজপথ থেকে।
এসেছি বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর থেকে।

আমি যে এসেছি জয়বাংলার বজ্রকণ্ঠ থেকে।
আমি যে এসেছি একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ থেকে।
এসেছি আমার পেছনে হাজার চরণচিহ্ন ফেলে।
শুধাও আমাকে, এতদূর তুমি কোন প্রেরণায় এলে?

তবে তুমি বুঝি বাঙালি জাতির বীজমন্ত্রটি শোনো নাই-
'সবার উপরে মানুষ সত্য, তাহার উপরে নাই।'

সৈয়দ শামসুল হক: 
- তিনি ১৯৩৫ সালের ২৭শে ডিসেম্বর কুড়িগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত লেখক হিসেবে সমধিক পরিচিত।
- মানুষের জটিল জীবনপ্রবাহ এবং মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ তাঁর সাহিত্যকর্মের মূল প্রবণতা।
- তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার, আদমজি সাহিত্য পুরস্কার, একুশে পদক ইত্যাদি লাভ করেন।
- তিনি ২০১৬ সালের ২৭শে সেপ্টেম্বর ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।

 • তাঁর রচিত কাব্যনাট্য:
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়,
- নূরলদীনের সারাজীবন,
- এখানে এখন।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- তাস,
- শীত বিকেল,
- আনন্দের মৃত্যু,
- প্রাচীন বংশের নিঃস্ব সন্তান,
- জলেশ্বরীর গল্পগুলো।

তাঁর রচিত কবিতা:
- একদা এক রাজ্যে,
- বৈশাখে রচিত পঙ্‌ক্তিমালা,
- পরানের গহীন ভিতর,
- বেজান শহরের জন্য কোরাস,
- কাননে কাননে তোমারই সন্ধানে,
- আমি জন্মগ্রহণ করিনি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৭৬৬.
নিচের কোনটি সৈয়দ শামসুল হক রচিত কাব্যনাট্য নয়-
  1. ক) গণনায়ক
  2. খ) এখানে এখন
  3. গ) বাংলার মাটি বাংলার জল
  4. ঘ) দেয়ালের দেশ
সঠিক উত্তর:
ঘ) দেয়ালের দেশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) দেয়ালের দেশ
ব্যাখ্যা
দেয়ালের দেশ সৈয়দ শামসুল হক রচিত উপন্যাস। তাঁর রচিত কাব্যনাট্য গুলো হলো- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়, গণনায়ক, নুরুলদীনের সারাজীবন, এখানে এখন, বাংলার মাটি বাংলার জল ইত্যাদি। উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৩,৭৬৭.
কাজী মোতাহার হোসেন কোন পত্রিকার মুখপাত্র হিসেবে কাজ করেন?
  1. শিখা
  2. সাধনা
  3. কল্লোল
  4. প্রগতি
সঠিক উত্তর:
শিখা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শিখা
ব্যাখ্যা
• কাজী মোতাহার হোসেন: 
- ‘শিখা' পত্রিকার মুখপাত্র হিসেবে কাজ করেছেন।
- তিনি ঢাকায় ‘মুসলিম সাহিত্য সমাজ' প্রতিষ্ঠায় অবদান রেখেছেন।
- জাতীয় অধ্যাপক মর্যাদায় ভূষিত হন ১৯৭৫ সালে।
- 'বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন' এর সাথে যুক্ত ছিলেন কাজী মোতাহার হোসেন।
- কাজী আবদুল ওদুদ, সৈয়দ আবুল হুসেন, আবুল ফজল প্রমুখের সহযোগিতায় ১৯২৬ সালে তিনি ‘মুসলিম সাহিত্য সমাজ’ প্রতিষ্ঠা করেন। - কাজী মোতাহার হোসেন অল্প কিছুকাল উক্ত সংগঠনের মুখপত্র শিখা পত্রিকা সম্পাদনা করেন। 

• তাঁর উলেখযোগ্য প্রকাশনাসমূহ হচ্ছে:
- সঞ্চয়ন, 
- নজরুল কাব্য পরিচিতি, 
- সে পথ লক্ষ্য করে, 
- সিম্পোজিয়াম গণিত শাস্ত্রের ইতিহাস, 
- আলোক বিজ্ঞান। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৭৬৮.
'পূর্ণিমার চাঁদ যেন ঝলসানো রুটি' - উক্তিটি কার লেখায় পাওয়া যায়?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. বুদ্ধদেব বসু
  4. সুকান্ত ভট্টাচার্য
সঠিক উত্তর:
সুকান্ত ভট্টাচার্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুকান্ত ভট্টাচার্য
ব্যাখ্যা
আলোচ্য পঙক্তিটি কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য রচিত 'ছাড়পত্র' কাব্যগ্রন্থের 'হে মহাজীবন' কবিতার একটি লাইন।
           হে মহাজীবন
 হে মহাজীবন, আর এ কাব্য নয়
এবার কঠিন, কঠোর গদ্যে আনো,
পদ-লালিত্য-ঝংকার মুছে যাক
গদ্যের কড়া হাতুড়িকে আজ হানো।
প্রয়ােজন নেই কবিতার স্নিগ্ধতা—
কবিতা তােমায় দিলাম আজকে ছুটি,
ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী গদ্যময়ঃ
পূর্ণিমা-চাঁদ যেন ঝল‍্সানাে রুটি।।

- অভুক্ত, দরিদ্র, ক্ষুধার্ত মানুষের কাছে কাব্য কিংবা কবিতা অনর্থক। তাদের কাছে সবকিছুই গদ্য অর্থাৎ বাস্তবতা হলো ক্ষুধা মিটানোর অন্ন ছাড়া আর কিছুই নয়। এটাই এই পঙক্তির মূলভাব।
- সুকান্ত ভট্টাচার্য (১৫ই আগস্ট ১৯২৬ - ১৩ই মে ১৯৪৭) বাংলা সাহিত্যের মার্কসবাদী ভাবধারায় বিশ্বাসী এবং প্রগতিশীল চেতনার অধিকারী তরুণ কবি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা সাহিত্য (২০২০ সংস্করণ)।
৩,৭৬৯.
'জননী' উপন্যাসের লেখক কে?
  1. ক) আবুল ফজল
  2. খ) শওকত ওসমান
  3. গ) জহির রায়হান
  4. ঘ) আবুল মনসুর
সঠিক উত্তর:
খ) শওকত ওসমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) শওকত ওসমান
ব্যাখ্যা
জননী (১৯৫৮) শওকত ওসমান রচিত প্রথম উপন্যাস এবং প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ।
-,সন্তানের মঙ্গলাকাঙ্ক্ষা ও নিরাপত্তার জন্য একজন মা (গোপনে) যে কোনো পথ অবলম্বন করতে পারে শওকত ওসমানের জননী উপন্যাসে সে কথাই ব্যক্ত।

- শওকত ওসমান (১৯১৭-৯৮) বাংলাদেশের কথাসাহিত্যের সমকালমনস্ক এক জীবনবাদী কথাশিল্পী। সমাজ ও সময়ের কাছে দায়বদ্ধ থেকে তিনি আমৃত্যু লিখে গেছেন। তাঁর রচনায় আমাদের জাতীয় আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধ ভিন্ন এক শিল্পমাত্রা লাভ করেছে।
- মুক্তিযুদ্ধকে পটভূমি করে তিনি লিখেছেন চারটি উপন্যাস –
১. জাহান্নাম হইতে বিদায়,
২. দুই সৈনিক,
৩. নেকড়ে অরণ্য ও
৪. জলাংগী।

• জাহান্নাম হইতে বিদায় উপন্যাসটি ১৯৭১ সালের সেপ্টেম্বরে কলকাতা বসে লেখা। দেশ পত্রিকার শারদীয় সংখ্যায় প্রকাশের জন্য সম্পাদক সাগরময় ঘোষ তাড়া দিয়ে এটি লেখান। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে এটাই সম্ভবত প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা নিয়ে লেখা প্রথম উপন্যাস। এ-উপন্যাসে মুক্তিযুদ্ধের একেবারে প্রথমদিকের চালচিত্র উঠে এসেছে।

সুত্র: কালি ও কলম পত্রিকা।
৩,৭৭০.
‘লও তুমি যত পার, শাস্ত্রের সন্ধান’ কার লেখা?
  1. আব্দুল হাকিম
  2. শাহ গরীবুল্লাহ
  3. আলাওল
  4. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
ব্যাখ্যা

''লও তুমি যত পার, শাস্ত্রের সন্ধান'' উক্তিটি ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের |

- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তকে যুগসন্ধিক্ষণের কবি বলা হয় |
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত (৬ মার্চ ১৮১২ - ২৩ জানুয়ারি ১৮৫৯) ঊনবিংশ শতাব্দীর একজন বাঙালি কবি ও সাহিত্যিক এবং সাংবাদিক ।

- তিনি সংবাদ প্রভাকর এর সম্পাদক |
কিন্তু ব্যাপকার্থে তিনি ঊনবিংশ শতাব্দীর একজন কবি ও সাহিত্যিক।

- তাঁর হাত ধরেই বাংলা কবিতা জগত মধ্যযুগীয় সীমানা অতিক্রম করে আধুনিকতার পথে পা বাড়িয়েছিল।

- তিনি ''গুপ্ত কবি'' নামেও পরিচিত ছিলেন।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি (হুমায়ুন আজাদ)

৩,৭৭১.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম গীতিকবি কে?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. বিহারীলাল চক্রবর্তী 
  3. নবীনচন্দ্র সেন 
  4. গোলাম মোস্তফা 
সঠিক উত্তর:
বিহারীলাল চক্রবর্তী 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিহারীলাল চক্রবর্তী 
ব্যাখ্যা

• অন্তরের একান্ত আবেগ উচ্ছ্বাস যখন কাব্য ময় হয়ে বানীরুপ লাভ  করে তখন তাকে বলা হয় গীতি কবিতা।
- বিহারীলাল চক্রবর্তী বাংলা সাহিত্যের প্রথম গীতি-কবি হিসেবে পরিচিত।

• বিহারীলাল চক্রবর্তী:
- বিহারীলাল চক্রবর্তী বাংলা সাহিত্যের একজন কবি এবং গীতিকার ছিলেন। তিনি রবীন্দ্রনাথের কাব্যগুরু হিসেবে ও পরিচিত।
- ১৮৩৫ সালের ২১ মে কলকাতায় তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পূর্বপুরুষদের আদি নিবাস ছিল ফরাসডাঙ্গায় এবং তাঁদের আদি পারিবারিক পদবি ছিল ‘চট্টোপাধ্যায়’।
- বাংলা সাহিত্যে প্রথম বিহারীলাল গীতি কবিতা শুনিয়েছে বলে তাকে বাংলা গীতি কবিতার ভোরের পাখি বলা হয়।
- রবীন্দ্রনাথ তাকে এ উপাধি দিয়েছেন। 
- বিহারীলাল চক্রবর্তীকে 'ভোরের পাখি' বলা হয় কারণ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মনে করতেন যে তাঁর গীতিকবিতা বাংলা কবিতার নবজাগরণের সূচনা করেছিল, ঠিক যেমন ভোরের প্রথম পাখির ডাক নতুন দিনের আগমনী বার্তা বহন করে। তাঁর কাব্যধারা ছিল বিশুদ্ধ গীতিকাব্য।
- বিহারীলালের শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ সারদামঙ্গল।

∗ বিহারীলালের রচনাবলির মধ্যে রয়েছে:
- সঙ্গীতশতক;
- বন্ধুবিয়োগ;
 - প্রেমপ্রবাহিণী;
- নিসর্গসন্দর্শন;
- বঙ্গসুন্দরী;
- সারদামঙ্গল;
- নিসর্গসঙ্গীত;
- সাধের আসন,
- ধূমকেতু।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া।

৩,৭৭২.
‘দেশে বিদেশে’ ভ্রমণকাহিনি গ্রন্থে মূলত কোন শহরের বর্ণনা রয়েছে?
  1. কাবুল 
  2. তেহরান
  3. কায়রো
  4. বাগদাদ
সঠিক উত্তর:
কাবুল 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাবুল 
ব্যাখ্যা

• 'দেশে বিদেশে' ভ্রমণকাহিনির রচয়িতা-  সৈয়দ মুজতবা আলী।
- এটি সৈয়দ মুজতবা আলীর প্রথম গ্রন্থ। 
- ভ্রমণ কাহিনীটি আফগানিস্তানের কাবুল শহর নিয়ে লেখা।

• সৈয়দ মুজতবা আলী:
- তিনি ছিলেন  শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক।
- ১৯০৪ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর পিতার কর্মস্থল শ্রীহট্ট (সিলেট) জেলার করিমগঞ্জে তিনি জন্মগ্রহণ করেন, কিন্তু তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল মৌলভীবাজারের উত্তরসুর গ্রামে।
- তিনি বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯২৬ সালে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।
- সৈয়দ মুজতবা আলী 'দেশে-বিদেশে' গ্রন্থের মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যাঙ্গনে প্রথম প্রবেশ ও প্রতিষ্ঠা লাভ করেন। কাবুলে অবস্থানের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও অন্তরঙ্গ উপলব্ধির ফসল এই গ্রন্থখানি।
- তাঁর একটি অনবদ্য গ্রন্থ 'পূর্ব-পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা'।
- তিনি কাজী নজরুল ইসলামের 'রুবাইয়াৎ-ই-ওমর খৈয়াম' গ্রন্থের ভূমিকা লিখেন।
- ১৯৭৪ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- অবিশ্বাস্য,
- শবনম।

• তাঁর রচিত ছোটগল্পগ্রন্থ:
- চাচা-কাহিনী,
- টুনি মেম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৩,৭৭৩.
'আগুন পাখি' উপন্যাসটির রচয়িতা কে?
  1. নীলিমা ইব্রাহিম
  2. হাসান হাফিজুর রহমান
  3. রফিক আজাদ
  4. হাসান আজিজুল হক 
সঠিক উত্তর:
হাসান আজিজুল হক 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাসান আজিজুল হক 
ব্যাখ্যা
• 'আগুন পাখি' উপন্যাসটির রচয়িতা- 'হাসান আজিজুল হক'। 

• হাসান আজিজুল হক:
-  হাসান আজিজুল হক ১৯৩৯ সালে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলায় জন্মগ্রহণ করেন ।
- হাসান আজিজুল হক মূলত কথাসাহিত্যিক হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
- তিনি ১৯৬৭ সালে আদমজী সাহিত্য পুরস্কার, ১৯৭০ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার, ১৯৯৯ সালে একুশে পদক, ২০১৯ সালে স্বাধীনতা পদক লাভ করেন।
- ১৫ নভেম্বর ২০২১ সালে, হাসান আজিজুল হক মৃত্যুবরণ করেন।
- “আগুন পাখি” কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হকের একটি উল্লেখযোগ্য উপন্যাস।
- তাঁর একমাত্র কিশোর উপন্যাস- লাল ঘোড়া আমি।

• 'আগুন পাখি' উপন্যাস: 
- ‘আগুনপাখি’ হাসান আজিজুল হকের পৈতৃক নিবাস বর্ধমানের একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা ওই এলাকার মানুষের সংগ্রামী জীবন এবং বিভেদকামী রাজনীতি ও সাম্প্রদায়িকতার যথাযথ রূপায়ণ।
 - মেঝ বউ চরিত্রটি উপন্যাসের মূল এবং সমস্ত প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে সুসংবদ্ধতার প্রতীকে পরিণত।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- নামহীন গোত্রহীন, 
- সমুদ্রের স্বপ্ন, 
- আত্নজা ও একটি করবী গাছ, 
- শীতের অরণ্য, 
- জীবন ঘষে আগুন, 
- রোদে যাবো, 
- আমরা অপেক্ষা করছি,
- পাতালে হাসপাতালে।

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য উপন্যাস: 
- বৃত্তায়ন।
- শিউলি।
- আগুন পাখি।
- সাবিত্রী উপাখ্যান।

উৎস: বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় (একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি), বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৩,৭৭৪.
'স্বাধীনতা এ শব্দটি কীভাবে আমাদের হলো' কবিতার রচয়িতা কে?
  1. রুদ্র মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ
  2. নির্মলেন্দু গুণ
  3. শামসুর রহমান
  4. আল মাহমুদ
সঠিক উত্তর:
নির্মলেন্দু গুণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নির্মলেন্দু গুণ
ব্যাখ্যা
'স্বাধীনতা এ শব্দটি কীভাবে আমাদের হলো' কবিতাটি নির্মলেন্দু গুণের "চাষাভূষার কাব্য' এর অন্তর্গত। 
- বাংলাদেশের কবি সাহিত্যিক নির্মলেন্দু গুণের জন্ম ২১ জুন ১৯৪৫ সালে।
- তাকে বাংলাদেশের কবিদের কবি বলা হয়ে থাকে।

- ১৯৭০ সালে প্রথম কাব্যগ্রন্থ প্রেমাংশুর রক্ত চাই প্রকাশিত হবার পর জনপ্রিয়তা অর্জন করে।
এ-গ্রন্থের অন্তর্ভূত ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে লেখা হুলিয়া কবিতাটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে।

তাঁর উল্লেখযোগ্য কবিতা-
- মুজিব-লেনিন-ইন্দিরা
- প্রেমাংশুর রক্ত চাই (১৯৭০)
- না প্রেমিক না বিপ্লবী (১৯৭২)
- কবিতা, অমিমাংসিত রমণী (১৯৭৩)
- দীর্ঘ দিবস দীর্ঘ রজনী (১৯৭৪)
- চৈত্রের ভালোবাসা (১৯৭৫)
- ও বন্ধু আমার (১৯৭৫)
- আনন্দ কুসুম (১৯৭৬)
- বাংলার মাটি বাংলার জল (১৯৭৮)
- তার আগে চাই সমাজতন্ত্র (১৯৭৯)
- চাষাভুষার কাব্য (১৯৮১)
- অচল পদাবলী (১৯৮২)
- পৃথিবীজোড়া গান (১৯৮২)
- দূর হ দুঃশাসন (১৯৮৩)
- নির্বাচিতা (১৯৮৩)
- শান্তির ডিক্রি (১৯৮৪)
- ইসক্রা (১৯৮৪)
- প্রথম দিনের সূর্য প্রভৃতি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা সাহিত্য বই ও বাংলাপিডিয়া।
৩,৭৭৫.
কোনটি বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত গল্পগ্রন্থ?
  1. দেবযান
  2. দৃষ্টি প্রদীপ
  3. যাত্রাবদল
  4. চাঁদের পাহাড়
সঠিক উত্তর:
যাত্রাবদল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যাত্রাবদল
ব্যাখ্যা
• যাত্রাবদল:
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত গল্পগ্রন্থ- যাত্রাবদল।
- 'যাত্রাবদল' নামে এই গ্রন্থে একটি গল্পোও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

'যাত্রাবদল' গল্পগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৩৪ সালে। এর গল্পসমূহ হলো-
- ভণ্ডুলমামার বাড়ি,
- পেয়ালা,
- উইলের খেয়াল,
- কনে দেখা,
- সার্থকতা,
- একটি দিন,
- বাইশ বছর,
- বৈদ্যনাথ,
- ডানপিটে,
- যাত্রাবদল।

---------------------------
• বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়:
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় ১৮৯৪ সালে চব্বিশ পরগনায় মুরারিপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা কথা সাহিত্যের সবচেয়ে জনপ্রিয় শিল্পী।
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের রচিত শেষ উপন্যাস ‘ইছামতী’ প্রকাশিত হয় ১৯৫০ সালে।
- মানুষের জীবনের কথা এই উপন্যাসের মূল উপজীব্য।
- ‘ইছামতী’ উপন্যাসের জন্য তিনি রবীন্দ্র পুরস্কার (১৯৪৯) লাভ করেন।
- ১৯৫০ সালের ১লা সেপ্টেম্বর তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ:
• উপন্যাস:
- পথের পাঁচালী,
- অপরাজিত,
- অশনি সংকেত,
- আরণ্যক,
- আদর্শ হিন্দু হোটেল,
- দেবযান,
- ইছামতী,
- দৃষ্টি প্রদীপ,
- চাঁদের পাহাড়।

• তাঁর রচিত গল্পেগ্রন্থগুলো হলো:
- মেঘমল্লার,
- মৌরীফুল,
- যাত্রাবদল,
- জন্ম ও মৃত্যু,
- কিন্নর দল,
- বিধু মাস্টার,
- রূপহলুদ,
- কুশল পাহাড়ী
- নবাগত ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৭৭৬.
’একটি কালো মেয়ের কথা’-উপন্যাসের উপজীব্য কী?
  1. দেশভাগ
  2. মুক্তিযুদ্ধ
  3. ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান
  4. ভাষা আন্দোলন
সঠিক উত্তর:
মুক্তিযুদ্ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুক্তিযুদ্ধ
ব্যাখ্যা

• একটি কালো মেয়ের কথা:
- প্রকাশকালের বিবেচনায় বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের মতো একটি অপরিহার্য বিষয় নিয়ে লেখা প্রথম উপন্যাস হলো তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘একটি কালো মেয়ের কথা'।
- প্রকাশকাল: ১৯৭১ সালের  ১৩৭৮ বঙ্গাব্দ, উল্টোরথের পুজো সংখ্যা, নবকল্লোল।
- ডেভিড আর্মস্ট্রং ওরফে মনসুর আলীর জবানীতে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কালরাতের নৃশংসতা বর্ণনা অনুষঙ্গে উপন্যাসটির মূল প্রেক্ষাপটের সূচনা ঘটেছে।
- জীবনের সায়াহ্নে লেখকের দায়বোধ থেকে রোগশয্যাতে জর্জরিত অশান্ত ও উদ্বিগ্ন তারাশঙ্কর নাজমা নামক এক কালো মেয়েকে হাজারো নির্যাতিতা নারীর প্রতীকরূপে উপস্থাপন করে মুক্তিযুদ্ধের শুরুর পর্বের পাক হানাদারদের নৃশংসতা বিচিত্র করেছেন।
- এই উপন্যাসের নাম-চরিত্র/প্রধান চরিত্র নাজমা নামের একটি কালো মেয়ে।

• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়:
• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় বিংশ শতাব্দীর একজন বিশিষ্ট বাঙালি কথাসাহিত্যিক ছিলেন।
• তিনি পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার লাভপুর গ্রামের এক জমিদার পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- চৈতালী ঘূর্ণি,
- ধাত্রীদেবতা,
- কালিন্দী,
- গণদেবতা,
- পঞ্চগ্রাম,
- কবি,
- হাঁসুলি বাঁকের উপকথা,
- একটি কালো মেয়ের কথা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৩,৭৭৭.
'নবান্ন' নাটকের রচয়িতা -
  1. দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  2. মামুনুর রশীদ
  3. সেলিম আল দীন
  4. বিজন ভট্টাচার্য
সঠিক উত্তর:
বিজন ভট্টাচার্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিজন ভট্টাচার্য
ব্যাখ্যা
'নবান্ন' নাটক: 
- এটি বিজন ভট্টাচার্য রচিত নাটক।
- ‘নবান্ন' (১৯৪৪) পঞ্চাশের মন্বন্তরের পটভূমিকায় কৃষক জীবনের দুঃখ দুর্দশা ও জীবন সংগ্রামের কাহিনি অবলম্বনে রচিত নাটক।
- নবনাট্য আন্দোলনের পথিকৃৎ বিজন ভট্টাচার্য এই নাটকের মাধ্যমে বাংলা নাট্যধারায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।
- তাই এই নাটকটিকে বাংলা নাট্য আন্দোলনের ইতিহাসে যুগান্তকারী বলা চলে।
- অনেকে দীনবন্ধুর 'নীল-দর্পণে'র সঙ্গে এর তুলনা করেছেন।
- এ নাটকটি ভারতীয় গণনাট্য সঙ্ঘ ১৯৪৪ সালে প্রথম অভিনয় করেন।

বিজন ভট্টাচার্য:
-তিনি ছিলেন নাট্যকার, অভিনেতা।  
- ফরিদপুর জেলার খানখানাপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা ক্ষীরোদবিহারী ভট্টাচার্য ছিলেন একজন স্কুলশিক্ষক। 
- বিজন ভট্টাচার্য অসহযোগ আন্দোলনে (১৯২০-২২) যোগ দিয়ে কারাবরণ করেন।
 
তাঁর রচিত নাটক: 
- নবান্ন, 
- জনপদ, 
- কলঙ্ক,
- মরাচাঁদ,
- অবরোধ,
- গোত্রান্তর।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৭৭৮.
বার্ট্রান্ড রাসেলের ‘Conquest of Happiness’ গ্রন্থের ভাবানুবাদ করেন কে?
  1. ক) ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  2. খ) মোতাহের হোসেন চৌধুরী
  3. গ) মুনীর চৌধুরী
  4. ঘ) মীর মোশাররফ হোসেন
সঠিক উত্তর:
খ) মোতাহের হোসেন চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মোতাহের হোসেন চৌধুরী
ব্যাখ্যা

মোতাহের হোসেন চৌধুরী(১৯০৩-১৯৫৬) ছিলেন একজন শিক্ষাবিদ, লেখক। নোয়াখালী জেলার কাঞ্চনপুর গ্রামে তাঁর জন্ম।
মোতাহের হোসেনের প্রবন্ধের গদ্যশৈলীতে প্রমথ চৌধুরীর এবং মননে রবীন্দ্রনাথের প্রভাব লক্ষ্য করা যায়।
তিনি তাঁর রচনায় সংস্কৃতি, ধর্ম, মানবতাবোধ ও মানুষের জীবনাচরণের মৌলিক বিষয়গুলি সংজ্ঞায়িত ও উন্মোচিত করতে চেয়েছেন এবং বিচিত্র ও সুন্দরভাবে বাঁচার মধ্যে মহত্তম জীবনের সন্ধান করেছেন।

- তাঁর প্রধান প্রবন্ধ গ্রন্থ - সংস্কৃতি কথা (১৯৫৮)।
- দ্বিতীয় গ্রন্থ সুখ (১৯৬৫) বার্ট্রান্ড রাসেলের Conquest of Happiness গ্রন্থের এবং তৃতীয় গ্রন্থ সভ্যতা (১৯৬৫) ক্লাইভ বেল-এর Civilization গ্রন্থের ভাবানুবাদ।

১৯৫৬ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামে তাঁর মৃত্যু হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৩,৭৭৯.
মুনীর চৌধুরি ’কবর’ নাটকটি কোথায় রচনা করেন?
  1. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে
  2. লন্ডন
  3. মানিকগঞ্জে
  4. জেলাখানায়
সঠিক উত্তর:
জেলাখানায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জেলাখানায়
ব্যাখ্যা
• কবর:
- এটি ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক প্রথম নাটক।
- নাটকের রচয়িতা  মুনীর চৌধুরি
- 'কবর' নাটকের পটভূমি হলো ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন।
- জেলে বন্দি থাকা অবস্থায় ১৯৫৩ সালে বামপন্থী রণেশ দাশগুপ্ত জেলখানাতে ২১ ফেব্রুয়ারি উদযাপনের লক্ষে মুনীর চৌধুরীকে একটি নাটক লেখার অনুরোধ জানান।
- এই অনুরোধের ভিত্তিতে তিনি এ নাটকটি রচনা করেন।
- নাটকটিতে জেলের রাজবন্দিরা অভিনয় করেন।
- এ নাটকে মুনীর চৌধুরি কোনো নারী চরিত্র রাখেন নাই।
-------------------------------------------------
• মুনীর চৌধুরী:
- ১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর মানিকগঞ্জ শহরে তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্য সমালোচক ও বাগ্মী।
- ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত বিজয়ের দুদিন আগে ১৪ ডিসেম্বর তিনি পাকবাহিনীর সহযোগীদের দ্বারা অপহৃত ও নিহত হন।

• তাঁর রচিত প্রধান নাটক:
- রক্তাক্ত প্রান্তর,
- চিঠি,
- কবর,
- দণ্ডকারণ্য,
- পলাশী ব্যারাক ও অন্যান্য।

• তাঁর রচিত অনুবাদ নাটক:
- কেউ কিছু বলতে পারে না,
- রূপার কৌটা,
- মুখরা রমণী বশীকরণ।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- মীর মানস,
- তুলনামূলক সমালোচনা,
- বাংলা গদ্যরীতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৩,৭৮০.
বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম নিয়ে রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. চৈতালী ঘূর্ণি
  2. একটি কালো মেয়ের কথা
  3. হাঁসুলি বাঁকের উপকথা
  4. কালিন্দী
সঠিক উত্তর:
একটি কালো মেয়ের কথা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
একটি কালো মেয়ের কথা
ব্যাখ্যা

• 'একটি কালো মেয়ের কথা' উপন্যাস:
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম নিয়ে রচিত তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাস- 'একটি কালো মেয়ের কথা'।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯৭১ খ্রিষ্টব্দে। এটি তাঁর সর্বশেষ উপন্যাস।

- উপন্যাসের পট উন্মোচিত হয়েছে নাজমা নামের একটি কালো মেয়েকে নিয়ে সীমান্ত অতিক্রম কালে 'স্পাই' হিসেবে ধরা পড়া ডেভিড আর্মস্ট্রং-এর ভারতীয় পুলিশ-অফিসারের সামনে জবানবন্দি উপস্থাপনার মধ্য দিয়ে। এই নাজমাই পাকিস্তানি সশস্ত্র বাহিনীর তাঁবেদার এক পাঞ্জাবির বলাৎকারের শিকার হয়। নির্যাতিতা ও সন্তানহারা কালো মেয়ে নাজমা ১৯৭১-এর বাংলাদেশের প্রতিরূপক হয়ে উঠেছে উপন্যাসে।

---------------------
• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়:
- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় বিংশ শতাব্দীর একজন বিশিষ্ট বাঙালি কথাসাহিত্যিক ছিলেন।
- তিনি পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার লাভপুর গ্রামের এক জমিদার পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- চৈতালী ঘূর্ণি,
- ধাত্রীদেবতা,
- কালিন্দী,
- গণদেবতা,
- পঞ্চগ্রাম,
- কবি,
- হাঁসুলি বাঁকের উপকথা,
- একটি কালো মেয়ের কথা।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩,৭৮১.
'বড় প্রেম শুধু কাছেই টানে না- ইহা দূরেও ঠেলিয়া ফেলে।'- উক্তিটি শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত কোন উপন্যাসের?
  1. পরিণীতা
  2. দেবদাস
  3. শ্রীকান্ত
  4. চরিত্রহীন
সঠিক উত্তর:
শ্রীকান্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শ্রীকান্ত
ব্যাখ্যা
⇒ 'শ্রীকান্ত' উপন্যাস: 
- 'শ্রীকান্ত' উপন্যাসটি শরৎচন্দ্রের আত্মজৈবনিক উপন্যাস। উপন্যাসটি চারটি খণ্ডে রচিত।
- প্রথম খণ্ড মাসিক 'ভারতবর্ষে' (১৯১৬-১৭)' শ্রীকান্তের ভ্রমণ কাহিনি নামে প্রকাশিত হয়। 
- লেখকের নাম মুদ্রিত হয় 'শ্রী শ্রীকান্ত শর্মা'। 
- ২য় ও ৩য় খণ্ডও মাসিক 'ভারতবর্ষে' প্রকাশিত হয়। 
- তবে ৪র্থ খণ্ড প্রকাশিত হয় 'বিচিত্র' পত্রিকায়। 
- 'শ্রীকান্ত' উপন্যাসের বিখ্যাত কিশোর চরিত্র হচ্ছে- 'ইন্দ্রনাথ'। 

উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হলো: 
- শ্রীকান্ত,
- রাজলক্ষ্মী,
- অন্নদাদিদি,
- অভয়া,
- রোহিণী,
- কমললতা প্রমুখ।

এ উপন্যাসের বিখ্যাত কিছু উক্তি: 
- 'মধু থাকলেই মৌমাছি এসে জোটে তারা দেশ-বিদেশের বিচার করে না।'
- 'বড় প্রেম শুধু কাছেই টানে না- ইহা দূরেও ঠেলিয়া ফেলে।' (শ্রীকান্ত ও বাইজি রাজলক্ষ্মীর বিচ্ছেদের প্রসঙ্গে এই কথাটি বলা হয়েছে।)

===========
⇒ শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়: 
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়  ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হুগলি জেলার দেবানন্দপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
- শরৎচন্দ্রের প্রথম উপন্যাস বড়দিদি (১৯০৭) ভারতী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- তাঁঁর প্রথম প্রকাশিত গল্পের নাম 'মন্দির'।
- তিনি 'মন্দির' গল্পের জন্য ১৯০৩ সালে কুন্তলীন সাহিত্য পুরষ্কার লাভ করেন। 
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস হলো 'পথের দাবী' যা ১৯২৬ সালে প্রকাশিত হয়। এটি ব্রিটিশ সরকার বাজেয়াপ্ত করেছিল।

তাঁর রচিত বিখ্যাত উপন্যাসগুলো হলো :
- দেনা-পাওনা,
- বড়দিদি,
- বিরাজবৌ,
- পণ্ডিতমশাই,
- পরিণীতা,
- চন্দ্রনাথ,
- দেবদাস,
- চরিত্রহীন,
- গৃহদাহ,
- পথের দাবী,
- শেষ প্রশ্ন,
- শেষের পরিচয় ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, শরৎচন্দ্র রচনাবলী এবং 'শ্রীকান্ত' উপন্যাস।
৩,৭৮২.
‘বিশ্বনবী’ গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. ক) মীর মশারফ হোসেন
  2. খ) কাজী ইমদাদুল হক
  3. গ) আসকার ইবনে শাইখ
  4. ঘ) গোলাম মোস্তফা
সঠিক উত্তর:
ঘ) গোলাম মোস্তফা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) গোলাম মোস্তফা
ব্যাখ্যা
গোলাম মোস্তফা, (১৮৯৭-১৯৬৪)  কবি ও লেখক। যশোর (বর্তমান ঝিনাইদহ) জেলার শৈলকুপা উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে তাঁর জন্ম। তাঁর পিতা গোলাম রববানী এবং পিতামহ কাজী গোলাম সরোয়ার দুজনেই ছিলেন লোককবি।

• গোলাম মোস্তফা পাকিস্তানি আদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন এবং ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময় উর্দুর প্রতি সমর্থন জ্ঞাপন করেন। ১৯৪৯ সালে গঠিত পূর্ববঙ্গ সরকারের ভাষা সংস্কার কমিটির সচিব হিসেবে তিনি কাজ করেন। তিনি গদ্য ও পদ্য রচনায় সমান দক্ষ ছিলেন, তবে কবি হিসেবেই তাঁর মুখ্য পরিচয় ছিল।

- রক্তরাগ 
-খোশরোজ 
- কাব্য-কাহিনী
- সাহারা 
- হাস্নাহেনা
-  বুলবুলিস্তান 
- তারানা-ই-পাকিস্তান
- বনিআদম 
- গীতিসঞ্চালন ইত্যাদি তাঁর মৌলিক কাব্য ।

তাঁর গদ্যরচনার মধ্যে বিশ্বনবী (১৯৪২), ইসলাম ও কমিউনিজম (১৯৪৬), ইসলাম ও জেহাদ (১৯৪৭), আমার চিন্তাধারা (১৯৫২), পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা ইত্যাদি প্রধান। তাঁর বিশ্বনবী গ্রন্থখানি বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল। এতে তিনি হযরত মুহাম্মদ (স.)-কে ঐতিহাসিক মহামানব হিসেবে মূল্যায়ন করেছেন।
- গোলাম মোস্তফার কাব্যের উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো সহজ ও শিল্পসম্মত প্রকাশভঙ্গি এবং ছন্দোলালিত্য।

উৎস: বাংলাপিডিয়া
৩,৭৮৩.
বাংলা সাহিত্যে প্রথম উপন্যাস রচনা করেন কে?
  1. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. মীর মশাররফ হোসেন
  3. প্যারীচাঁদ মিত্র
  4. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
প্যারীচাঁদ মিত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্যারীচাঁদ মিত্র
ব্যাখ্যা
• বাংলা সাহিত্যে প্রথম উপন্যাস রচনা করেন- প্যারীচাঁদ মিত্র। 

• 'আলালের ঘরের দুলাল' উপন্যাস:

- প্যারীচাঁদ মিত্রের প্রথম গ্রন্থ 'আলালের ঘরের দুলাল।'
- সাহিত্যক্ষেত্রে প্যারীচাঁদ মিত্রের সর্বশ্রেষ্ঠ কৃতিত্ব 'আলালের ঘরের দুলাল', যা বাংলা সাহিত্যের প্রথম উপন্যাস হিসেবে খ্যাত।
- রচনারীতি ও ভাষাগত দিক থেকে এ উপন্যাস বাংলা সাহিত্যে নতুন ধারার সূচনা করে।
- এ উপন্যাসে প্যারীচাঁদ মিত্র প্রথমবারের মতো বাংলা সাহিত্যের প্রচলিত গদ্যরীতির নিয়ম ভেঙ্গে চলিত ভাষারীতি প্রয়োগ করেন।
- সাধারণ মানুষের মুখে ব্যবহৃত কথ্য ভাষা 'আলালের ঘরের দুলাল' উপন্যাসের এক বিশেষ বৈশিষ্ট্য।

------------------
প্যারীচাঁদ মিত্র:
• প্যারীচাঁদ মিত্র ১৮১৪ সালে কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন।
• তাকে বাংলা উপন্যাস রচনার পথিকৃৎ বলা হয় ৷
• তিনি টেকচাঁদ ঠাকুর ছদ্মনামে লিখতেন।
• তাঁর রচিত কথিত প্রথম উপন্যাসের নাম 'আলালের ঘরের দুলাল' (১৮৫৮)। ১৮৫৪ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ‘মাসিক পত্রিকা'য় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়ে ১৮৫৮ খ্রিষ্টাব্দে গ্রন্থাকারে প্রকাশ পায়।

• প্যারীচাঁদের অন্যান্য গ্রন্থ:
- ‘রামারঞ্জিকা' (১৮৬০) স্ত্রীশিক্ষামূলক গ্রন্থ।

• তাঁর প্রবন্ধ পুস্তক:
- 'কৃষিপাঠ' (১৮৬১),
- 'যৎকিঞ্চিৎ' (১৮৬৫),
- 'ডেবিড হেয়ারের জীবনচরিত' (১৮৭৮) প্রভৃতি।

• সংলাপপ্রধান গল্পমূলক রচনা:
- 'অভেদী' (১৮৭১),
- 'আধ্যাত্মিকা' (১৮৮০) ইত্যাদি গ্রন্থ সংলাপপ্রধান গল্পমূলক রচনা এবং মূলত নীতিবিষয়ক।

• 'এতদ্দেশীয় স্ত্রীলোকদিগের পূর্বাবস্থা' (১৮৭৮) গ্রন্থে প্রাচীন ভারতের নারীদের শিক্ষা ও মহত্ত্বের পরিচয় উপলক্ষে পৌরাণিক নারীচরিত্রের বর্ণনা দেওয়া হয়েছে।

• 'গীতাঙ্কুর' (৩য় সংস্করণ, ১৮৭০) ব্রহ্মবিষয়ক গানের সমষ্টি।
• 'বামাতোষিণী' (১৮৮১) প্যারীচাঁদ মিত্রের সর্বশেষ রচনা-নারীশিক্ষার উদ্দেশ্যে গ্রন্থটির রচিত।

অন্যদিকে,
• বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাসের রচয়িতা। 
• মুসলিম লেখকদের মধ্যে প্রথম উপন্যাস রচয়িতা - মীর মশাররফ হোসেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম।
৩,৭৮৪.
দীনবন্ধু মিত্রের সধবার একাদশী নাটকে নিমচাঁদ চরিত্রে অভিনয় করেন কোন সাহিত্যিক?
  1. ক) গিরিশচন্দ্র সেন
  2. খ) কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার
  3. গ) গিরিশচন্দ্র ঘোষ
  4. ঘ) গোবিন্দচন্দ্র দাস
সঠিক উত্তর:
গ) গিরিশচন্দ্র ঘোষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) গিরিশচন্দ্র ঘোষ
ব্যাখ্যা
- দীনবন্ধু মিত্রের সধবার একাদশী নাটকে নিমচাঁদ চরিত্রে অভিনয় করেন- গিরিশচন্দ্র ঘোষ
- দীনবন্ধু মিত্রের এই নাটকটি প্রকাশিত হয় ১৮৬৬ সালে। 
- এই নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র হলো- জীবনচন্দ্র, অটলবিহারী, নিমচাঁদ, কেনারাম, গিন্নী, কাঞ্চন ইত্যাদি। 

গিরিশচন্দ্র ঘোষ:
- ১৮৪৪ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি কলকাতার বাগবাজারে তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন নাট্যকার, নাট্যপরিচালক, মঞ্চাভিনেতা।
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের প্রভাবে তিনি প্রথমে গান ও কবিতা লিখতে শুরু করেন এবং পরে নাট্যমঞ্চের সঙ্গে যুক্ত হলে নাটকও লিখতে থাকেন।
- ১৮৬৭ সালে বাগবাজার সখের যাত্রাদল-প্রযোজিত মধুসূদনের শর্মিষ্ঠা নাটকের গীতিকার হিসেবে গিরিশচন্দ্র নাট্যজগতে প্রবেশ করেন।
- দীনবন্ধু মিত্রের সধবার একাদশী নাটকে তিনি নিমচাঁদ চরিত্রে অভিনয় করেন।
- প্রেমভক্তি, স্বদেশপ্রেম ও সমকালীন সামাজিক সমস্যা গিরিশচন্দ্রের নাটকের বিষয়বস্ত্ত।
-  মধুসূদনের চৌদ্দ মাত্রার অমিত্রাক্ষর ছন্দকে ভেঙ্গে তিনি অভিনয়ের উপযোগী ছোট ছোট ছত্রে বিন্যস্ত করেন।
- তাঁর নামানুসারে এ ছন্দের নাম হয় ‘গৈরিশ ছন্দ’। 

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম:
নাটক:
- আগমনী
- অভিমন্যুবধ
- সীতার বনবাস 
- সীতাহরণ
- পান্ডবের অজ্ঞাতবাস 
- প্রফুল্ল 
- জনা 
- বলিদান 
- সিরাজদ্দৌলা
- মীরকাশিম 
- ছত্রপতি শিবাজী 
- শঙ্করাচার্য
- বিল্বমঙ্গল ঠাকুর। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (ড. সৌমিত্র শেখর)।
৩,৭৮৫.
মুসলিম নারী সাহিত্যিক রচিত উপন্যাস-
  1. ক) পদ্মগোখরা
  2. খ) পদ্মরাগ
  3. গ) পদ্মাবতী
  4. ঘ) পদ্মাপুরাণ
সঠিক উত্তর:
খ) পদ্মরাগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) পদ্মরাগ
ব্যাখ্যা
⇒ 'পদ্মরাগ' উপন্যাস:
• বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন রচিত উপন্যাস 'পদ্মরাগ'। এটি ১৯২৪ সালে প্রকাশিত হয়।

⇒ তবে একে উপন্যাস না বলে উপন্যাসপম গদ্য-আখ্যায়িকা বলাই ভালো। কেননা উপন্যাসের গাঁথুনি এখানে নেই, শিল্প হিসেবেও অসফল। তবে ‘পদ্মরাগে’র মূল্য অন্যত্র।  প্রথমত কোনো মুসলিম নারীর রচনা; দ্বিতীয়ত মুসলিম সমাজের অন্তঃস্থিত ক্লেদকে এমনভাবে প্রকাশ করা হয়েছে যা কোনো হিন্দু লেখকের পক্ষে সম্ভব ছিল না ; তৃতীয়ত অসাম্প্রদায়িকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত আছে এ জন্যে।
এটি ১৯২৪ সালে প্রকাশিত হয়।
• ‘পদ্মরাগ’ গ্রন্থটি উৎসর্গ করা হয় রোকেয়ার জ্যেষ্ঠভ্রাতা আবুল আসাদ ইব্রাহিমকে।

-------------------------
রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন:
• নারী জাগরণের পথিকৃৎ বেগম রোকেয়ার জন্ম ৯ই ডিসেম্বর, ১৮৮০, পায়রাবন্দ গ্রাম, রংপুর।
- বাংলাদেশের নারী আন্দোলনের ইতিহাসে বেগম রোকেয়ার অবদান চিরঅম্লান।
- মুসলমান মেয়েদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি এবং তাদের অধিকার আদায়ের জন্য ১৯১৬ সালে
বেগম রোকেয়া প্রতিষ্ঠা করেন আঞ্জুমানে খাওয়াতীনে ইসলাম  বা মুসলিম মহিলা সমিতি। 
- 'Sultana’s Dream' গ্রন্থটি রোকেয়া নিজেই বাংলায় অনুবাদ করেন সুলতানার স্বপ্ন  নামে।
- এটি একটি প্রতীকী রচনা এবং এতে বর্ণিত Lady Land  বা নারীস্থান মূলত রোকেয়ারই স্বপ্নকল্পনার প্রতীক। 
 
 রোকেয়ার উলে­খযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে:
- মতিচূর (প্রবন্ধ, ২ খন্ড: ১ম খন্ড ১৯০৪, ২য় খন্ড ১৯২২),  
- Sultana’s Dream (নকশাধর্মী রচনা,
- পদ্মরাগ (উপন্যাস),
- অবরোধবাসিনী (নকশাধর্মী গদ্যগ্রন্থ, প্রভৃতি।
- এছাড়া আছে অসংখ্য প্রবন্ধ, ছোটগল্প, কবিতা, ব্যঙ্গাত্মক রচনা ও অনুবাদ।

অন্যদিকে,
'পদ্মগোখরা' কাজী নজরুল ইসলাম রচিত গল্প।
‘পদ্মাবতী’ কবি আলাওল রচিত গ্রন্থ।
এবং মঙ্গলকাব্যের অপর নাম ‘পদ্মাপুরাণ’।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৭৮৬.
সানাউল হক কোন দশকের কবি হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন?
  1. ত্রিশের দশকের
  2. চল্লিশের দশকের
  3. পঞ্চাশের দশকের
  4. ষাটের দশকের
সঠিক উত্তর:
চল্লিশের দশকের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চল্লিশের দশকের
ব্যাখ্যা

• সানাউল হক:
- সানাউল হক ছিলেন কবি, অনুবাদক, সংস্কৃতিকর্মী, সংগঠক, শিক্ষাবিদ। জন্ম ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার চাউরা গ্রামে, ১৯২৪ সালের ২৩ মে।
- সানাউল হকের প্রকৃত নাম আল মামুন সানাউল হক।
- চল্লিশের দশকের একজন খ্যাতিমান কবি হিসেবে সানাউল হক পরিচিতি লাভ করেন। 
- তাঁর মামা মোতাহের হোসেন চৌধুরী ছিলেন কবি ও লেখক। তাঁর সান্নিধ্য ও উৎসাহে সানাউল হক সাহিত্যচর্চায় অনুপ্রাণিত হন।

সানাউল হকের সাহিত্যকর্মগুলো হলো-
• নদী ও মানুষের কবিতা (১৯৫৬), সম্ভবা অনন্য (১৯৬২), সূর্য অন্যতর (১৯৬৩), বিচূর্ণ আর্শিতে (১৯৬৮), একটি ইচ্ছা সহস্র পালে (১৯৭৩), কাল সমকাল (১৯৭৫) প্রভৃতি কাব্যগ্রন্থে সানাউল হক মানবজীবন ও জগতের ছবি আঁকার চেষ্টা করেছেন। 

• তাঁর কবিতায় তাঁর ব্যক্তিত্বকে প্রত্যক্ষ করা যায়, যেখানে তিনি সমস্যা ও সম্ভাবনায় কখনও আশাহত, কখনও আনন্দিত। এরূপ কিছু কাব্যগ্রন্থ হলো- মধ্যে পদ্মিনী শঙ্খিনী (১৯৭৬), প্রবাসে যখন (১৯৮১), বিরাশির কবিতা (১৯৮২), উত্তীর্ণ পঞ্চাশ (১৯৮৪ প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য।

• তাঁর বন্দর থেকে বন্দরে (১৯৬৪) নামক অস্ট্রেলিয়া ভ্রমণ-কাহিনী বেশ খ্যাতি লাভ করেছে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 

৩,৭৮৭.
'আঞ্চলিক ভাষার অভিধান' সম্পাদনা করেন কে?
  1. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়  
  2. মুহম্মদ এনামুল হক
  3. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌
  4. সুকুমার সেন
সঠিক উত্তর:
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌
ব্যাখ্যা

• ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্:
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ ভারতীয় উপমহাদেশের একজন স্মরণীয় বাঙালি ব্যক্তিত্ব, বহুভাষাবিদ, বিশিষ্ট শিক্ষক ও দার্শনিক ছিলেন। ১৮৮৫ সালের ১০ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার পেয়ারা গ্রামে তাঁর জন্ম।

- তিনি 'জ্ঞানতাপস' হিসেবে অধিক পরিচিত। তাঁকে 'চলিষ্ণু অভিধান' বলা হয়।

- ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপট জাতিসত্তা সম্পর্কে ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহর বিখ্যাত উক্তি- "আমরা হিন্দু বা মুসলমান যেমন সত্য, তার চেয়ে বেশি সত্য আমরা বাঙালি।"

- ১৯৫৯ সালে প্রকাশিত 'বাঙ্গালা ভাষার ইতিবৃত্ত' রচনা করেন ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্।

- ​এছাড়া তিনি বাংলা একাডেমির 'আঞ্চলিক ভাষার অভিধান' সম্পাদনা করেন। ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর সম্পাদনায় ১৯৬৫ সালে বাংলা একাডেমি এটি প্রথম প্রকাশ করে। এটি বাংলা ভাষার প্রথম এবং অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক ভাষার অভিধান। 

​---------------
তাঁর ভাষা ও সাহিত্যবিষয়ক উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- ভাষা ও সাহিত্য,
- বাঙ্গালা ব্যাকরণ,
- বাংলা সাহিত্যের কথা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৩,৭৮৮.
'অ্যা গ্রামার অফ দ্যা বেঙ্গল ল্যাঙ্গুয়েজ' - গ্রন্থটি কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৭৫৮ সালে
  2. ১৭৭৮ সালে
  3. ১৭৭৯ সালে
  4. ১৭৬৮ সালে
সঠিক উত্তর:
১৭৭৮ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৭৭৮ সালে
ব্যাখ্যা

'অ্যা গ্রামার অফ দ্যা বেঙ্গল ল্যাঙ্গুয়েজ':
- ন্যাথানিয়েল ব্র্যাসি হ্যালহেড রচিত 'অ্যা গ্রামার অফ দ্যা বেঙ্গল ল্যাঙ্গুয়েজ' গ্রন্থটি ১৭৭৮ সালে প্রকাশিত হয়।
- গ্রন্থটি হুগলি থেকে প্রকাশিত হয়। এটি ইংরেজি ভাষায় রচিত পূর্ণাঙ্গ একটি বাংলা ব্যাকরণ।

ন্যাথানিয়েল ব্র্যাসি হ্যালহেড:
- ১৭৫১ সালের ২৫ মে লন্ডনের এক উচ্চ মধ্যবিত্ত পরিবারে হ্যালহেডের জন্ম।
- তিনি প্রাচ্যবিদ ও বৈয়াকরণিক ছিলেন।
-  তিনিই প্রথম বৈয়াকরণিক যিনি বাংলা ব্যাকরণ রচনায় উদাহরণ ব্যবহার করে বাংলা পাঠ ও বাংলা লিপি ব্যবহার করেন।
- এর আগে পর্তুগিজ ধর্মযাজকরা রোমান অক্ষরে অতি সাধারণভাবে বাংলা ব্যাকরণ ও অভিধান রচনার চেষ্টা করেন।
- কিন্তু নিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতিতে হ্যালহেডই প্রথম বাংলা ব্যাকরণ রচনা করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৩,৭৮৯.
'নয়নচারা' কোন শ্রেনীর রচনা?
  1. ক) উপন্যাস
  2. খ) কাব্য
  3. গ) গল্প
  4. ঘ) নাটক
সঠিক উত্তর:
গ) গল্প
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) গল্প
ব্যাখ্যা

সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌ রচিত গল্পগ্রন্থঃ নয়নচারা, দুই তীর ও অন্যান্য গল্প।
নাটকঃ বহিপীর, সুড়ঙ্গ, তরঙ্গভঙ্গ, উজানে মৃত্যু ইত্যাদি।
উপন্যাসঃ লালসালু, চাঁদের অমাবস্যা, কাঁদো নদী কাঁদো, দি আগলি এশিয়ান ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।

৩,৭৯০.
মুনীর চৌধুরীর 'রক্তাক্ত প্রান্তর' নাটকের চরিত্র নয় কোনটি?
  1. ক) জোহরা
  2. খ) ইব্রাহীম কার্দি
  3. গ) মারওয়ান
  4. ঘ) সুজাউদ্দৌলা
সঠিক উত্তর:
গ) মারওয়ান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) মারওয়ান
ব্যাখ্যা
• মারওয়ান চরিত্রটি রক্তাক্ত প্রান্তর নাটকের নয়। 

রক্তাক্ত প্রান্তর: 
• 'রক্তাক্ত প্রান্তর' (১৯৬২) মুনীর চৌধুরীর প্রথম পূর্ণাঙ্গ মৌলিক নাটক।
- পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের (১৭৬১) ঘটনা অবলম্বনে তিন অঙ্ক বিশিষ্ট এই নাটকটি রচিত।
- অবশ্য ইতিহাস থেকে তিনি কাহিনি গ্রহণ করেন নি, গ্রহণ করেছেন কায়কোবাদের ‘মহাশ্মশান' (১৯০৫) গ্রন্থ থেকে।
- ‘রক্তাক্ত প্রান্তর' ঐতিহাসিক নাটক নয়, ইতিহাস-আশ্রিত নাটক।
- এ নাটকে অনেক অনৈতিহাসিক চরিত্রের সমাবেশ আছে। আতা খাঁ, হিরণবালা, অমর চরিত্র ঐতিহাসিক নয় ।
- নাটকে আছে : প্রশিক্ষিত মুসলিম যোদ্ধা ইব্রাহিম কার্দি মুসলিম শিবিরে চাকরি না পেয়ে মারাঠাদের কর্তৃক সমাদৃত হয় এবং চাকরি পায়।
- যুদ্ধ শুরু হলে ইব্রাহিম কার্দির স্ত্রী জোহরা মনুবেগ ছদ্মনাম ধারণ করে এসে স্বামীকে মুসলিম শিবিরে ফিরিয়ে নিতে চেষ্টা করে।
- বিশ্বাসঘাতকতা হবে বিবেচনা করে ইব্রাহিম কার্দি স্ত্রীকে ফিরিয়ে দেয় এবং জীবন দিয়ে মারাঠাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে।
- অন্যদিকে জোহরা ধর্মের জন্য স্বামীসঙ্গ ত্যাগ করে, কিন্তু হিরণবালা মুসলিম প্রেমিককেই গ্রহণ করে। নাটকের নায়ক ইব্রাহিম কার্দি। তার জীবনের ট্র্যাজেডি নাটকটিকে ট্র্যাজিক করে তোলে ।
------------------------
মুনীর চৌধুরী:
- মুনীর চৌধুরী ছিলেন শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্যসমালোচক।
- ১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর মানিকগঞ্জ শহরে তাঁর জন্ম। তাঁর পৈতৃক নিবাস নোয়াখালী জেলায়।

তাঁর রচিত অনুবাদ নাটক:
- কেউ কিছু বলতে পারে না
- রূপার কৌটা
- মুখরা রমণী বশীকরণ। 

প্রবন্ধগ্রন্থ:
- মীর মানস
- তুলনামূলক সমালোচনা
- বাংলা গদ্যরীতি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৩,৭৯১.
ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের প্রধান পণ্ডিত মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার কয়টি গ্রন্থ প্রকাশ করেছিলেন?
  1. ক) ৩
  2. খ) ৪
  3. গ) ৫
  4. ঘ) ৬
সঠিক উত্তর:
গ) ৫
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ৫
ব্যাখ্যা
ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের প্রধান পণ্ডিত মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার ৫টি গ্রন্থ প্রকাশ করেছিলেন।
মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার উইলিয়াম কেরীর সুপারিশে তিনি ১৮০১ সালের ৪ মে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের বাংলা বিভাগের হেড-পন্ডিত নিযুক্ত হন।
- পরে ১৮০৫ সালে আবার কেরীর সুপারিশে তিনি বাংলার সঙ্গে সংস্কৃত বিভাগেরও হেড পন্ডিতের দায়িত্ব লাভ করেন।
- ১৮১৬ সালের জুলাই মাস পর্যন্ত তিনি এ কলেজে কাজ করেন।
- পরে কাজ করেন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির জজ-পন্ডিত হিসেবে।
- তিনি তাঁর অন্য বাঙালি সহকর্মীদের তুলনায় বেশি সংখ্যক গ্রন্থ রচনা করেছিলেন।
- ফোর্ট উইলিয়াম কলেজে থাকার সময়ে তিনি যেসব গ্রন্থ রচনা করেন, সেগুলি:
- বত্রিশ সিংহাসন (১৮০২),
- হিতোপদেশ (১৮০৮),
- রাজাবলী (১৮০৮)
-বেদান্তচন্দ্রিকা (১৮১৭) এবং
- প্রবোধচন্দ্রিকা (১৮১৩ সালে লিখিত, কিন্তু ১৮৩৩ সালে প্রকাশিত)। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৭৯২.
'এখনও ক্রীতদাস' আবদুল্লাহ আল মামুন রচিত কোন ধরনের রচনা?
  1. নাটক
  2. উপন্যাস
  3. প্রবন্ধ
  4. কাব্যগ্রন্থ
সঠিক উত্তর:
নাটক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাটক
ব্যাখ্যা
আবদুল্লাহ আল মামুন:
- তিনি মূলত নাট্যরচয়িতা এবং নাট্যাভিনেতা হিসেবে পরিচিত।
- তিনি ১৯৪৩ সালের ১২ জুলাই জামালপুর জেলা সদরের আমলা পাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত নাটক 'শপথ' (১৯৬৪)।

তাঁর রচিত নাটক:
- সুবচন নির্বাসনে,
- শাহজাদীর কাল নেকাব,
- এখনও ক্রীতদাস,
- কোকিলারা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৭৯৩.
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত আঞ্চলিক উপন্যাস-
  1. কবি
  2. পঞ্চগ্রাম
  3. চৈতালি ঘূর্ণি
  4. আরোগ্য নিকেতন
সঠিক উত্তর:
পঞ্চগ্রাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পঞ্চগ্রাম
ব্যাখ্যা
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়, একজন কথাসাহিত্যিক, রাজনীতিবিদ।
তিনি ১৮৯৮ সালের ২৩ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার লাভপুর গ্রামে এক জমিদারবংশে জন্ম গ্রহণ করেন।
তারাশঙ্করের প্রথম গল্প ‘রসকলি’ সেকালের বিখ্যাত পত্রিকা কল্লোল-এ প্রকাশিত হয়।

তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস
- চৈতালি ঘূর্ণি
- ধাত্রী দেবতা
- কালিন্দী
- কবি
- গণদেবতা
- আরগ্য
- নিকেতন
- পঞ্চপুণ্ডলী
- রাধা ইত্যাদি

তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত আঞ্চলিক উপন্যাস:
- হাঁসুলী বাঁকের উপকথা
- পঞ্চগ্রাম
- গণদেবতা 
- নাগিনী কন্যার কাহিনী 

তাঁর প্রসিদ্ধ  ছোটগল্প:
- রসকলি
- বেদেনী
- ডাকহরকরা

[উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর , বাংলাপিডিয়া]
৩,৭৯৪.
'Conquest of Happiness' গ্রন্থের ভাবানুবাদ কোনটি?
  1. সভ্যতা
  2. সুখ
  3. মানবধর্ম
  4. সংস্কৃতি কথা
সঠিক উত্তর:
সুখ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুখ
ব্যাখ্যা
• মোতাহের হোসেন চৌধুরী (১৯০৩-১৯৫৬):
মোতাহের হোসেন চৌধুরী একজন শিক্ষাবিদ এবং লেখক, যিনি নোয়াখালী জেলার কাঞ্চনপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর প্রবন্ধের গদ্যশৈলীতে প্রমথ চৌধুরী এবং মননে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রভাব স্পষ্ট। তিনি সংস্কৃতি, ধর্ম, মানবতাবোধ, এবং মানুষের জীবনাচরণ নিয়ে মৌলিক বিষয়গুলোকে উন্মোচিত করতে চেয়েছেন এবং বিচিত্র ও সুন্দরভাবে বাঁচার মাধ্যমে মহত্তম জীবনের সন্ধান করেছেন।

প্রধান গ্রন্থসমূহ: 
• 'সংস্কৃতি কথা' (১৯৫৮): এটি তাঁর প্রধান প্রবন্ধ গ্রন্থ।
• 'সুখ' (১৯৬৫): বার্ট্রান্ড রাসেলের Conquest of Happiness গ্রন্থের ভাবানুবাদ।
• 'সভ্যতা' (১৯৬৫): ক্লাইভ বেল-এর Civilisation গ্রন্থের ভাবানুবাদ।

বিশেষ খ্যাতি: 
• মোতাহের হোসেন চৌধুরী মুক্তবুদ্ধিচর্চার প্রবক্তা, উদার মানবতাবাদী, এবং মননশীল প্রবন্ধকার হিসেবে বিশেষ পরিচিতি অর্জন করেছেন।

উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধ:
• আমাদের দৈন্য, 
• আদেশপন্থী ও অনুপ্রেরণাপন্থী, 
• মুসলমান সাহিত্যিকদের চিন্তাধারা।

উৎস:
• বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর,
• বাংলাপিডিয়া।
৩,৭৯৫.
'ভ্রমণকারী বন্ধু' কার ছদ্মনাম?
  1. আবুল ফজল
  2. আবু ইসহাক
  3. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  4. আহমদ শরীফ
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
ব্যাখ্যা
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত:
- তিনি ১৮১২ সালে শিয়ালডাঙ্গা, কাঁচড়াপাড়া, পশ্চিমবঙ্গে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন কবি, সাংবাদিক।
- 'ভ্রমণকারী বন্ধু' ছিল তাঁর ছদ্মনাম।
- তিনি বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে যুগসন্ধির (মধ্যযুগ ও আধুনিক যুগের মিলনকারী) কবি হিসেবে পরিচিত। কারণ তিনি সমকালের সামাজিক ও ঐতিহাসিক বিষয় নিয়ে কবিতা রচনা করলেও তাঁর ভাষা, ছন্দ ও অলঙ্কার ছিলো মধ্যযুগীয়। ব্যঙ্গ-বিদ্রূপই ছিল তাঁর রচনার বিশেষত্ব।
- তিনি প্রথম বাংলা দৈনিক পত্রিকা ‘সংবাদ প্রভাকর’ সম্পাদনা করেন।
- তিনি ১৮৩১ সালে সংবাদ প্রভাকর (সাপ্তাহিক) পত্রিকা প্রতিষ্ঠা করেন এবং ১৮৩৯ সাল থেকে এটি দৈনিক পত্রিকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
- তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ কীর্তি হলো কবিয়ালদের লুপ্তপ্রায় জীবনী উদ্ধার করে প্রকাশ করা।
- তিনি 'সংবাদ প্রভাকর' ছাড়াও সংবাদ রত্নাবলী, পাষণ্ডপীড়ন ও সংবাদ সাধুরঞ্জন পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- তিনি ১৮৫৯ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ:
- রামপ্রসাদ সেন কৃত কালীকীর্তন,
- কবিবর ভারতচন্দ্র রায় ও তাঁর জীবনবৃত্তান্ত,
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত কাব্যসংগ্রহ,
- কালীপ্রসন্ন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত সংগ্রহ,
- মণিকৃষ্ণ গুপ্ত সম্পাদিত সংগ্রহ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া; লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৩,৭৯৬.
'দোয়েল ও দয়িতা' কাব্যগ্রন্থের কবি কে?
  1. অন্নদাশঙ্কর রায়
  2. আল মাহমুদ
  3. আলাউদ্দিন আল আজাদ
  4. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
সঠিক উত্তর:
আল মাহমুদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আল মাহমুদ
ব্যাখ্যা
• 'দোয়েল ও দয়িতা' কাব্যগ্রন্থের কবি - আল মাহমুদ
- গ্রন্থটি ১৯৯৭ সালে প্রকাশিত হয়।

আল মাহমুদ:
- তিনি ১৯৩৬ সালের ১১ই জুলাই ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার মোড়াইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ।
- তিনি একজন প্রথিতযশা কবি।
- স্বাধীনতা উত্তরকালে তিনি 'দৈনিক গণকন্ঠ' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- তাঁর প্রকাশিত শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ 'সোনালী কাবিন' (১৯৭৩)।

তাঁর রচিত প্রধান কাব্যগ্রন্থ:
- লোক লোকান্তর,
- সোনালী কাবিন,
- কালের কলস,
- অদৃষ্টবাদীদের রান্নাবান্না,
- পাখির কাছে ফুলের কাছে,
- দোয়েল ও দয়িতা,
- দ্বিতীয় ভাঙন,
- বখতিয়ারের ঘোড়া,
- প্রেমের কবিতা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৩,৭৯৭.
নুরুল মোমেন রচিত রম্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. শতকরা আশি
  2. যেমন ইচ্ছা তেমন
  3. নরসুন্দর
  4. আলোছায়া
সঠিক উত্তর:
নরসুন্দর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নরসুন্দর
ব্যাখ্যা
• ‘নরসুন্দর’ নুরুল মোমেন রচিত একটি রম্যগ্রন্থ।

------------------------
• নুরুল মোমেন:
- নুরুল মোমেন এর জন্ম ফরিদপুর জেলার আলফাডাঙ্গায় ১৯০৬ সালে।
- নুরুল মোমেনের প্রথম নাটক রূপান্তর ১৯৪২ সালে ঢাকা বেতার-এ প্রচারিত হয়। তিনি নিজে নাটকটি পরিচালনা করেন। ১৯৪৭ সালে নাটকটি গ্রন্থরূপে প্রকাশিত হয়।
- তাঁর 'নেমেসিস' নাটকটি প্রথম শনিবারের চিঠি পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। 'নেমেসিস' নাটকটি পঞ্চাশ-দশকের মন্বন্তরের পটভূমিতে রচিত।
- নুরুল মোমেন রচিত প্রথম রম্যগ্রন্থ 'বহুরূপা'।

• নুরুল মোমেন এর বিখ্যাত নাটক:
- যদি এমন হতো,
- নয়া খান্দান,
- আলোছায়া,
- আইনের অন্তরালে,
- শতকরা আশি,
- রূপলেখা,
- যেমন ইচ্ছা তেমন।

• তাঁর রচিত রম্যগ্রন্থগুলো হলো:
- বহুরূপা,
- নরসুন্দর,
- হিংটিং ছট।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।
৩,৭৯৮.
নিম্নলিখিত কোনটি সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর অনুবাদগ্রন্থ?
  1. ইডিপাস
  2. হুইটম্যানের কবিতা
  3. পার্ল বাকের সেরা গল্প
  4. এ্যারিস্টটলের কাব্যতত্ত্ব
সঠিক উত্তর:
এ্যারিস্টটলের কাব্যতত্ত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এ্যারিস্টটলের কাব্যতত্ত্ব
ব্যাখ্যা
• 'এ্যারিস্টটলের কাব্যতত্ত্ব'- সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর অনুবাদগ্রন্থ।

সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী:
- তিনি মূলত প্রাবন্ধিক ও অধ্যাপক।
- তিনি ১৯৩৬ সালের ২৩শে জুন বিক্রমপুরের বাড়ৈখালিতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি লেখক সংঘ পুরস্কার, বাংলা একাডেমি পুরস্কার, লেখিকা সংঘ পুরস্কার, একুশে পদক, ঋষিজ পদক লাভ করেন।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ-গবেষণা:
- অন্বেষা,
- দ্বিতীয় ভুবন,
- নিরাশ্রয় গৃহী,
- আরণ্যক দৃশ্যাবলী,
- অনতিক্রান্তবৃত্ত,
- শরৎচন্দ্র ও সামন্তবাদ,
- বঙ্কিমচন্দ্রের জমিদার ও কৃষক,
- স্বাধীনতা ও সংস্কৃতি,
- ঊনবিংশ শতাব্দীর বাংলা গদ্যের সামাজিক ব্যাকরণ ইত্যাদি।

• গল্প:
- ভালো মানুষের জগৎ।

• ছোটদের গল্প:
- দরজাটা খোলো।

• ছোটদের উপন্যাস:
- বাবুলের বেড়ে ওঠা।

• তাঁর রচিত অনুবাদগ্রন্থ:
- এ্যারিস্টটলের কাব্যতত্ত্ব,
- ইবসেনের বুনো হাঁস,
- হাউসম্যানের কাব্যের স্বভাব।

অন্যদিকে, 
- আবু জাফর শামসুদ্দীন রচিত অনুবাদ-কাব্য - পার্ল বাকের সেরা গল্প।
- সৈয়দ আলী আহসান চৌধুরী রচিত অনুবাদগ্রন্থ - ইডিপাস, হুইটম্যানের কবিতা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৭৯৯.
নিচের কোনটি ব্যতিক্রম?
  1. যাত্রা
  2. অলাতচক্র
  3. নিষিদ্ধ লোবান
  4. যুদ্ধ
সঠিক উত্তর:
যুদ্ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যুদ্ধ
ব্যাখ্যা

• মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে সেলিনা হোসেন রচিত উপন্যাস ‘যুদ্ধ’। নারী ঔপন্যাসিক রচিত উপন্যাস হওয়ায় ‘যুদ্ধ’ অপশনে উল্লেখিত অন্য গুলো থেকে ভিন্ন।

⇒ 'যুদ্ধ' উপন্যাস:
• 'যুদ্ধ' ১৯৭১ সালে সংঘটিত আমাদের মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে সেলিনা হোসেন রচিত উপন্যাস।
• লেখক এ উপন্যাসে যুদ্ধের বিভিন্ন মাত্রা অনুসন্ধানে তীক্ষ্ণ পর্যবেক্ষণ, মনন এবং কল্পনাশক্তির ব্যবহার করছেন। তিনি যুদ্ধের প্রেক্ষাপট নির্মাণ করেছেন ব্যক্তির বেঁচে থাকার সঙ্কট, মূল্যবোধের রূপান্তর, ধর্মীয় বিশ্বাসের অনুষঙ্গে আঘাত, মৃত্যু, স্বজন হারানোর বেদনার ভেতর দিয়ে।
• তিনি যুদ্ধের দেশীয় প্রেক্ষাপট নির্মাণ করেছেন একটি সেক্টরের সরাসরি যুদ্ধকে চিত্রিত করে এবং অগণিত মানুষের যুদ্ধে অংশগ্রহণ ও যুদ্ধ সম্পর্কিত দেশজ-ঐতিহ্য সংলগ্ন ভাবনার ভেতর দিয়ে।
• এ উপন্যাসে একটি চরিত্র আছে। যার কোনো নাম নেই। 'লোকটি' অভিধায় যে দেশের সর্বত্র ঘুরে বেড়ায়। অস্ত্রচালনার ট্রেনিং নেয়- যুদ্ধক্ষেত্রে যোদ্ধাদের পাশে পাশে থাকে । গ্রামে, গঞ্জে, শহরে, মানুষের বাড়িতে বাড়িতে ঘুরে বেড়ায়। পুরো উপন্যাস জুড়ে সে একটি প্রতীকী চরিত্র।

অন্যদিকে,
⇒ 'যাত্রা' উপন্যাস:
• শওকত আলীর রচিত 'যাত্রা' মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস। উপন্যাসটি ১৯৭৬সালে প্রকাশিত হয়।
• ১৯৭১ সালের ২৫মে মার্চের ভয়াল কালরাতে পাকিস্তানি বর্বর হানাদার বাহিনীর পৈশাচিক আক্রমণ থেকে প্রাণরক্ষার জন্য ঢাকাবাসীর অনিশ্চিত গন্তেব্যের দিকে ছুটে চলার কাহিনিই ‘যাত্রা’। প্রাত্যহিক দিনপঞ্জি বা ডায়েরির আদলে লেখা ‘যাত্রা’ উপন্যাসের কাহিনি, মার্চের শেষ সপ্তাহ থেকে এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত সময়কারের ঘটনার শিল্পরূপ।
• ‘যাত্রা’ উপন্যাসটির কেন্দ্রীয় চরিত্র: অধ্যাপক রায়হান ।

⇒ 'অলাতচক্র' উপন্যাস: 
- 'অলাতচক্র' আহমদ ছফা রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।
- ১৯৮৫ সালে তৎকালীন 'নিপুণ' নামের একটি সাপ্তাহিক পত্রিকায় প্রথম মুদ্রিত হয়। 
- এটি মূলত বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকেন্দ্রিক একটি উপন্যাস। 
- এই উপন্যাসে লেখক মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে বাইরের দেশগুলোর অংশগ্রহণকে সমালোচকের দৃষ্টিতে গ্রহণ করেছেন।
- এই উপন্যাসের কয়েকটি চরিত্র: তায়েবা, জাহিদুল, দানিয়েল প্রমুখ। 

⇒ ‘নিষিদ্ধ লোবান’ উপন্যাস:
• ‘নিষিদ্ধ লোবান’ সৈয়দ শামসুল হকের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস। 
• ‘নিষিদ্ধ লোবান' (১৯৮১) উপন্যাসে মুক্তিযুদ্ধে পাক হানাদার বাহিনী কর্তৃক নারী নির্যাতন, লিবিডো ক্রিয়া, লালসা ও রিরংসাবৃত্তির অভীপ্সা অভিব্যঞ্জিত হয়েছে।
• ‘নিষিদ্ধ লোবান' উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত চলচ্চিত্র ‘গেরিলা’।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; কালের কণ্ঠ রিপোট; ‘যুদ্ধ’ উপন্যাস সেলিনা হোসেন।

৩,৮০০.
‘ঢাকা মুসলিম সাহিত্য সমাজ’ কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল?
  1. ১৯২১ সালে
  2. ১৯২৬ সালে
  3. ১৯৫২ সালে
  4. ১৯৭১ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯২৬ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯২৬ সালে
ব্যাখ্যা

ঢাকা মুসলিম সাহিত্য সমাজ:
- ১৯২৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় 'ঢাকা মুসলিম সাহিত্য সমাজ'। ১৯৩৮ সাল পর্যন্ত এর কার্যক্রম চলে।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুসলিম হল ইউনিয়ন কক্ষে বাংলা ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর সভাপতিত্বে ১৯২৬ সালের ১৯ জানুয়ারি মুসলিম সাহিত্য-সমাজ প্রতিষ্ঠিত হয়।
- এ প্রতিষ্ঠানটির স্লোগান ছিলো - "জ্ঞান যেখানে সীমাবদ্ধ, বুদ্ধি সেখানে আড়ষ্ট, মুক্তি সেখানে অসম্ভব।"
- মুসলিম সাহিত্য-সমাজের মূলমন্ত্র ছিল 'বুদ্ধির মুক্তি'।
- প্রতিষ্ঠানের সাথে সংশ্লিষ্ট ছিলেন - আবুল হুসেন, মোতাহের হোসেন চৌধুরী, কাজী আবদুল ওদুদ, আবদুল কাদির, আবুল ফজল, আনোয়ারুল কাদির প্রমুখ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।