বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

আধুনিক যুগের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ লেখক

মোট প্রশ্ন৭,৬৪৬এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

আধুনিক যুগের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ লেখক

PrepBank · পাতা ৩১ / ৭৭ · ৩,০০১৩,১০০ / ৭,৬৪৬

৩,০০১.
সাঁওতাল বিদ্রোহ নিয়ে তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. ক) অরণ্যবহ্নি
  2. খ) একটি কালো মেয়ের কথা
  3. গ) কালিন্দা
  4. ঘ) রসকলি
সঠিক উত্তর:
ক) অরণ্যবহ্নি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) অরণ্যবহ্নি
ব্যাখ্যা
সাঁওতাল বিদ্রোহ নিয়ে তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস 'অরণ্যবহ্নি'। 
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯৬৬ খ্রিষ্টাব্দে।

'একটি কালো মেয়ের কথা' - তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত স্বাধীনতা সংগ্রাম নিয়ে রচিত উপন্যাস। 
'কালিন্দা' - নদীর বুকে উৎপন্ন চর কে কেন্দ্র করে তৈরি বিবাদ নিয়ে রচিত উপন্যাস। 
'রসকলি' - তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত ছোটগল্প। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,০০২.
দীনেশচন্দ্র সেন কোন বিশ্ববিদ্যালয় হতে ডি.লিট ডিগ্রী লাভ করেন?
  1. কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়
  2. বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়
  3. মাদ্রাজ বিশ্ববিদ্যালয়
  4. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
সঠিক উত্তর:
কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়
ব্যাখ্যা
• দীনেশচন্দ্র সেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় হতে ডি.লিট ডিগ্রী লাভ করেন।

দীনেশচন্দ্র সেন:
- তিনি ১৮৬৬ সালের ৩ নভেম্বর জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি পল্লী অঞ্চলে ঘুরে ঘুরে প্রাচীন বাংলা পুঁথি ও লোককথা সংগ্রহ করেন।
- তাঁর সংগৃহীত পুঁথি থেকে উপকরণ সংগ্রহ করে 'বঙ্গভাষা ও সাহিত্য' রচনা করেন।
- 'বঙ্গভাষা ও সাহিত্য' বাংলা সাহিত্যের সুশৃঙ্খল ও তথ্যসমৃদ্ধ ধারাবাহিক প্রথম ইতিহাসমূলক গ্রন্থ।
- তাঁর রচিত একটি গবেষণামূলক গ্রন্থ - 'বঙ্গসাহিত্য পরিচয়'।
- তিনি 'মৈমনসিংহ-গীতিকা' (১৯২৩) ও 'পূর্ববঙ্গ গীতিকা (১৯২৬)' সম্পাদনা করে আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জন করেন।
- তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় হতে ডি.লিট ডিগ্রী (১৯২১), জগত্তারিণী স্বর্ণপদক (১৯৩১), ও ভারত সরকার কর্তৃক রায় বাহাদুর (১৯২১) লাভ করেন।
- ১৯৩৯ সালের ২০ নভেম্বর বেহালায় তাঁর মৃত্যু হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,০০৩.
'সীতার বনবাস' নাটকটি রচনা করেছেন -
  1. দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  2. গিরিশচন্দ্র ঘোষ
  3. দীনবন্ধু মিত্র
  4. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
গিরিশচন্দ্র ঘোষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গিরিশচন্দ্র ঘোষ
ব্যাখ্যা
- 'সীতার বনবাস' নাটকটি রচনা করেছেন - গিরিশচন্দ্র ঘোষ। 
- নাটকটি ১৯৮১ সালে প্রকাশিত হয়। 

গিরিশচন্দ্র ঘোষ:

- তিনি নাট্যকার, নাট্যপরিচালক, মঞ্চাভিনেতা ছিলেন।
- ১৮৪৪ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি কলকাতার বাগবাজারে তাঁর জন্ম।
- তিনি প্রথমে হেয়ার স্কুল এবং পরে ওরিয়েন্টাল সেমিনারিতে অধ্যয়ন করেন।
- কিন্তু বাল্যকালে পিতামাতার মৃত্যু হলে গিরিশচন্দ্র লেখাপড়ার প্রতি অনেকটা অমনোযোগী হয়ে ওঠেন।
- ১৮৬২ সালে পাইকপাড়া স্কুল থেকে এন্ট্রান্স পরীক্ষায় অকৃতকার্য হলে এখানেই তাঁর প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সমাপ্তি ঘটে।
- অবশ্য পরবর্তী জীবনে তিনি বন্ধু ব্রজবিহারী সোমের প্রভাবে প্রচুর পড়াশোনা করেন।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম:
• নাটক:
- আগমনী
- অভিমন্যুবধ
- সীতার বনবাস 
- সীতাহরণ
- পাণ্ডবের অজ্ঞাতবাস 
- প্রফুল্ল 
- জনা 
- বলিদান 
- সিরাজদ্দৌলা
- মীরকাশিম 
- ছত্রপতি শিবাজী
- শঙ্করাচার্য

উৎস:
১) বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
২) বাংলাপিডিয়া।
৩,০০৪.
কোনটি সেলিম আল দীন রচিত উপন্যাস?
  1. অমৃত উপাখ্যান
  2. জুলান
  3. যৈবতী কন্যার মন
  4. বাসন
সঠিক উত্তর:
অমৃত উপাখ্যান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অমৃত উপাখ্যান
ব্যাখ্যা

• ‘অমৃত উপাখ্যান’ উপন্যাস: 
- সেলিম আল দীন তাঁর ‘অমৃত উপাখ্যান’ উপন্যাসে ব্যক্তিগত জীবনের এক ঘটনাচিত্র উপস্থাপন করেছেন।

- তিনি বলেন, ‘কখনও আত্মজীবনীতে আমার ব্যক্তিগত প্রসঙ্গের লুপ্ত অংশগুলো যদি প্রকাশিত হয় তবে এ গল্পের উৎসাভাস পাঠকরা পাবেন নিশ্চয়ই’। আবার লেখক এই উপন্যাসকে ‘উপাখ্যানের লক্ষণযুক্ত’ বলে মনে করেছেন। এজন্যই তিনি তাঁর এই উপন্যাসের শুরুতেই বলেছেন, ‘উপাখ্যান হচ্ছে বিকেলের আলোয় মর্ত-পৃথিবীর উল্টা ছায়া। আঁধারের পাঁচ আঙ্গুল’। একই সঙ্গে তিনি আরও বলেছেন, ‘উপাখ্যান হলো-বলতে বলতে মধ্যরাতে-কালীগঙ্গার ঢালুতীর-নেশাকর ধোঁয়া বাস্তবে মিশে গুপীযন্ত্রের সাথে হাত ধরাধরি করে নাচে’।

- মনজুরুল হাসান হাসু এবং এলিজার প্রেম কাহিনি ‘অমৃত উপাখ্যান’ উপন্যাসটির মূল উপজীব্য।

উপন্যাসের কাহিনি সংক্ষেপ-
এই উপন্যাসের অন্যতম চরিত্র হাসান একজন টেলিভিশন প্রডিউসার বা প্রযোজক। নবীন প্রযোজক হিসেবে বিতর্ক অনুষ্ঠান, আলোচনা অনুষ্ঠান প্রযোজনা করাই তার কাজ। একদিন টেলিভিশন স্টুডিওতে এক বিতর্ক অনুষ্ঠান ক্যামেরায় ধারণ করার সময় এলিজা চুপচাপ বসেছিল দর্শকসারিতে। ক্যামেরাম্যান কৌতূহলবশত এলিজাকে একাধিকবার ক্লোজশটে ধারণ করে। প্যানেলে বসে এলিজার সেই দৃশ্য হাসান অবলোকন করে আনন্দ মনে। শুধু তাই নয়, ক্যামেরার ক্লোজশটে মেয়েটির ছবি দেখার পর হাসানের মনে ‘এক অনামা নীলবর্ণ নদী রেখা’ তৈরি হয়।

অতঃপর শহরের একটি গানের দোকানে ক্যাসেটে গান রেকর্ডিং করতে গিয়ে হাসান ও এলিজার মধ্যে পরিচয় হয়। এই পরিচয় থেকেই ক্রমে তাদের মধ্যে রোমান্টিক প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। শেষ পর্যন্ত এলিজার আত্মহত্যার মধ্যদিয়ে এর কাহিনি সমাপ্ত হয়।

প্রেমের এই দৃশ্যপটের সঙ্গে হাসানের কল্পনা ও জীবন বাস্তবতার বিচিত্র ঘটনা এবং নানা চরিত্রের আশা-আকাঙ্ক্ষা এবং সুখ ও দুঃখ চিত্রিত হয়েছে অমৃত উপাখ্যান উপন্যাসটিতে। 

------------------------
সেলিম আল দীন রচিত নাট্যগ্রন্থগুলো হলো:
- সর্প বিষয়ক গল্প ও অন্যান্য,
- বাসন,
- কেরামতমঙ্গল,
- কীর্তন খোলা,
- হাতহদাই,
- জুলান,
- শকুন্তলা,
- মুনতাসীর ফ্যান্টাসি,
- জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন,
- চাকা,
- যৈবতী কন্যার মন,
- হরগজ,
- নিমজ্জন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; ‘অমৃত উপাখ্যান’ উপন্যাস এবং বাংলাপিডিয়া।

৩,০০৫.
‘ইতল বিতল’ শিশুতোষ গ্রন্থটি কার রচনা?
  1. আহসান হাবীব
  2. নীলিমা ইব্রাহিম
  3. সুফিয়া কামাল
  4. ফররুখ আহমেদ
সঠিক উত্তর:
সুফিয়া কামাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুফিয়া কামাল
ব্যাখ্যা
‘ইতল বিতল’ শিশুতোষ গ্রন্থ: 
- সুফিয়া কামালের একগুচ্ছ ছড়া নিয়ে 'ইতল বিতল' প্রথমবার প্রকাশিত হয় ১৯৬৫ সালে।
- চট্টগ্রাম থেকে বইটি প্রকাশ করেন সৈয়দ মোঃ শফি, তাঁর শিশু সাহিত্য বিতানের মাধ্যমে।
- ছড়াগুলোর সাথে ছবি ও প্রচ্ছদ এঁকেছিলেন তখন তরুণ, আজ প্রখ্যাত শিল্পী হাশেম খান।

⇒ সুফিয়া কামাল:
- 'জননী সাহসিকা' হিসেবে খ্যাত সুফিয়া কামাল ছিলেন মূলত কবি।
- সুফিয়া কামাল বাংলাদেশের একজন প্রথিতযশা কবি, লেখিকা ও নারী আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ।
- তিনি বরিশালের শায়েস্তাবাদে মামার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তার পৈতৃক নিবাস কুমিল্লায়।
- 'বেগম' (১৯৪৭) পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন তিনি।
- তাঁর রচিত প্রথম গল্প ‘সৈনিক বধূ’। রচনা হয় ১৯২৩ সালে। গ্রন্থটি বরিশালের ‘তরুণ’ পত্রিকায় প্রকাশ পায়।

• তার রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সাঁঝের মায়া,
- উদাত্ত পৃথিবী,
- অভিযাত্রিক,
- মায়া কাজল ইত্যাদি।

• গল্পগ্রন্থ:
- কেয়ার কাঁটা।

• শিশুতোষ গল্প:
- ইতল বিতল,
- নওল কিশোরের দরবারে।

• ডায়েরি: একাত্তরের ডায়েরী। 
• আত্মজীবনী: একালে আমাদের কাল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং ‘ইতল বিতল’ গ্রন্থ।
৩,০০৬.
'কপিল দাস মুর্মুর শেষ কাজ' গল্পে কপিলদাস একজন-
  1. ক) চাকমা
  2. খ) মারমা
  3. গ) সাওতাল
  4. ঘ) খাসিয়া
সঠিক উত্তর:
গ) সাওতাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সাওতাল
ব্যাখ্যা
'কপিল দাস মুর্মুর শেষ কাজ' গল্পটি শওকত আলীর ‘লেলিহান সাধ' (১৯৭৭) গ্রন্থ থেকে সংকলন করা হয়েছে।
- কপিলদাস মুর্মু এক বৃদ্ধ সাঁওতাল।
- ভূমির অধিকার নিয়ে সাঁওতালদের রয়েছে রক্তে রঞ্জিত গৌরবােজ্জ্বল ঐতিহ্য।
- মাটির কাছাকাছি থাকা এই প্রবীণের এই অনিঃশেষ সংগ্রামশীলতার নান্দনিক রূপায়ণ ঘটেছে এই গল্পে। 

কথাসাহিত্যিক শওকত আলীর বিখ্যাত উপন্যাস: 
- ওয়ারিশ,
- প্রদোষে প্রাকৃতজন,
- দক্ষিণায়নের দিন,
- পিঙ্গল আকাশ,
- কুলায় কালস্রোত,
- যাত্রা (মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস),
- পূর্বরাত্রি পূর্বদিন,
- যেতে চাই,
- বাসর মধুচন্দ্রিমা,
- উত্তরের ক্ষেপ,
- দলিল,
- হিসাবনিকাশ।

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক সাহিত্যপাঠ (২০২০-২১ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,০০৭.
বিধ্বস্ত নীলিমা’র কবি কে?
  1. ক) শামসুর রাহমান
  2. খ) হাসান হাফিজুর রহমান
  3. গ) শহীদ কাদরী
  4. ঘ) সৈয়দ শামসুল হক
সঠিক উত্তর:
ক) শামসুর রাহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) শামসুর রাহমান
ব্যাখ্যা

বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান ও একজন নাগরিক কবি ছিলেন শামসুর রহমান (১৯২৯-২০০৬)।
শামসুর রহমানের কাব্যগ্রন্থ:
- রৌদ্র করোটিতে,
- বিধ্বস্ত নীলিমা,
- নিরালোকে দিব্যরথ,
- নিজ বাসভূমে,
- বন্দী শিবির থেকে,
- ফিরিয়ে নাও ঘাতক কাঁটা,
- শূন্যতায় তুমি শোকসভা,
- ইকারুসের আকাশ,
- উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ,
- বুক তার বাংলাদেশের হৃদয়,
- শুনি হৃদয়ের ধ্বনি,
- অন্ধকার থেকে আলোয় ইত্যাদি।

শামসুর রহমান রচিত আত্মস্মৃতি গ্রন্থ:
- স্মৃতির শহর,
- কালের ধুলোয় লেখা।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর ও লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

৩,০০৮.
বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম উপন্যাস কত সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশ পায়?
  1.  ১৮৫৫ সালে
  2.  ১৮৫৬ সালে
  3.  ১৮৫৮ সালে
  4.  ১৮৬৮ সালে
সঠিক উত্তর:
 ১৮৫৮ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
 ১৮৫৮ সালে
ব্যাখ্যা

• 'আলালের ঘরের দুলাল' উপন্যাস:
- 'আলালের ঘরের দুলাল' বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম উপন্যাস। প্যারীচাঁদ মিত্রের প্রথম গ্রন্থ 'আলালের ঘরের দুলাল'।
- 'আলালের ঘরের দুলাল' উপন্যাসটি ১৮৫৮ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশ পায়।
- উপন্যাসটিতে দেশীয় বন্ধ্যা শিক্ষা ব্যবস্থা, পাশ্চাত্য সভ্যতার অন্ধ অনুকরণ, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিশৃঙ্খলা নিয়ে লেখক তাঁর অভিমত প্রকাশ করেছেন।
- ধনী বাবুরামের পুত্র মতিলাল কুসঙ্গে পড়ে এবং শিক্ষার ব্যাপারে পিতার অবহেলা তাকে অধঃপতনে নিয়ে যায়। পিতার মৃত্যুর পর মতিলাল তার বাবার প্রাপ্ত সব সম্পত্তি নষ্ট করে ফেলে।
- উপন্যাসটিতে সর্বাপেক্ষা উল্লেখযোগ্য চরিত্র হলো মোকাজান মিয়া বা ঠকচাচা। এছাড়াও চরিত্রে রয়েছে, বাবুরাম, বাবুরামের পুত্র মতিলাল, ধূর্ত উকিল বটলর, অর্থলোভী বাঞ্ছারাম, তোষামোদকারী বক্রেশ্বর ইত্যাদি।

-----------------
• প্যারীচাঁদ মিত্র:
- তিনি ছিলেন লেখক, সাংবাদিক, সংস্কৃতিসেবী, ব্যবসায়ী। ১৮১৪ সালের ২২ জুলাই কলকাতায় তাঁর জন্ম।
- তাঁর ছন্দনাম  “টেকচাঁদ ঠাকুর”।
- ১৮২৭ সালে তিনি হিন্দু কলেজে ভর্তি হন এবং খ্যাতিমান শিক্ষক হেনরি ডিরোজিওর তত্ত্বাবধানে থেকে শিক্ষা সম্পন্ন করেন।
- বাংলা উপন্যাস রচনার পথিকৃৎ প্যারীচাঁদ মিত্র। সাহিত্যক্ষেত্রে প্যারীচাঁদের সর্বশ্রেষ্ঠ কৃতিত্ব আলালের ঘরের দুলাল যা বাংলা সাহিত্যের প্রথম উপন্যাস হিসেবে খ্যাত।

তাঁর উপন্যাস সমূহ:
- আধ্যাত্রিকা,
- অভেদী।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩,০০৯.
"আদবকায়দা শিক্ষা; স্ত্রীশিক্ষা"- গ্রন্থ কে রচনা করেন?
  1. বেগম রোকেয়া 
  2. সুফিয়া কামাল
  3. সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী
  4. ড. লুৎফুর রহমান 
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী
ব্যাখ্যা

সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী: 
- সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী লেখক, বাগ্মী এবং কৃষক নেতা।
- তিনি সিরাজগঞ্জ জেলায় জন্মগ্রহণ করেন (এ কারণেই তিনি তাঁর নামের সঙ্গে ‘সিরাজী’ উপাধি যুক্ত করেন)।
- সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী ১৮৮০ খ্রিস্টাব্দে সিরাজগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন।

তিনি "আদবকায়দা শিক্ষা; স্ত্রীশিক্ষা"- নামক গ্রন্থ রচনা করেন। এসব গ্রন্থে সমাজ ও সংসারের অভীপ্সিত উন্নতি ও কল্যাণ যে শিক্ষা ও স্বাধীনতা আনয়ন কর্মতে পারে তা বুক্ত হয়েছে। 

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ: 
- অনল প্রবাহ, 
- আকাঙ্ক্ষা, 
- উচ্ছ্বাস, 
- উদ্বোধন, 
- নব উদ্দীপনা, 
- স্পেন বিজয় কাব্য, 
- সঙ্গীত সঞ্জীবনী। 

তাঁর রচিত উপন্যাস: 
- রায়নন্দিনী, 
- তারাবাঈ, 
- ফিরোজা বেগম, 
- নূরুদ্দীন। 

তাঁর রচিত  প্রবন্ধ:
- স্বজাতি প্রেম,
- তুর্কি নারী জীবন, 
- স্পেনীয় মুসলমান সভ্যতা। 

ভ্রমণ কাহিনী: 
 -তুরস্ক ভ্রমণ। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া।

৩,০১০.
'বুদ্ধিবৃত্তির নতুন বিন্যাস'- প্রবন্ধটির রচয়িতা কে?
  1. আহমদ শরীফ
  2. আহমদ ছফা
  3. এস. ওয়াজেদ আলী
  4. আবুল ফজল
সঠিক উত্তর:
আহমদ ছফা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আহমদ ছফা
ব্যাখ্যা
• 'বুদ্ধিবৃত্তির নতুন বিন্যাস'- প্রবন্ধটির রচয়িতা: আহমদ ছফা। 
------------------  
আহমদ ছফা:
- তিনি ৩০শে জুন, ১৯৪৩ সালে গাছবাড়িয়া, চট্টগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত চিন্তাবিদ ও সাহিত্যিক ছিলেন।
- তিনি 'উত্থানপর্ব' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- তিনি ২০০১ সালের ২৮ জুলাই মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- গাভী বিত্তান্ত,
- ওঙ্কার,
- অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী,
- সূর্য তুমি সাথী, 
- একজন আলী কেনানের উত্থান পতন,
- মরণ বিলাস, 
- বিহঙ্গ পুরাণ। 

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- জাগ্রত বাংলাদেশ,
- বুদ্ধিবৃত্তির নতুন বিন্যাস,
- বাঙালি মুসলমানের মন,
- সাম্প্রতিক বিবেচনা: বুদ্ধিবৃত্তির নতুন বিন্যাস,
- সিপাহী যুদ্ধের ইতিহাস,
- যদ্যপি আমার গুরু।

• তাঁর রচিত কবিতা গ্রন্থ:
- জল্লাদ সময়,
- দুঃখের দিনের দোহা ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ:
- গো হাকিম,
- দোলা আমার কনকচাঁপা।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- নিহত নক্ষত্র।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৩,০১১.
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত কোন পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন?
  1. ক) সংবাদ প্রভাকর
  2. খ) সংবাদ প্রভাতী
  3. গ) পূর্বাশা
  4. ঘ) স্বদেশ
সঠিক উত্তর:
ক) সংবাদ প্রভাকর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সংবাদ প্রভাকর
ব্যাখ্যা
• ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত একজন বাঙালি কবি ও সাহিত্যিক এবং সাংবাদিক ।
- তিনি ‘সংবাদ প্রভাকর’ এর সম্পাদক।
- ১৮৩৯ সাল থেকে এটি দৈনিক পত্রিকায় হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
- বাংলা সাহিত্যে যুগ সন্ধিকাল ১৭৬০ থেকে ১৮৬০ খ্রিস্টাব্দ।
- বাংলা সাহিত্যে ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত যুগসন্ধিকালের কবি হিসেবে পরিচিত।
• ঈশ্বরচন্দ্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কীর্তি হলো ভারতচন্দ্র রায়, রামপ্রসাদ সেন, নিধুগুপ্ত, হরু ঠাকুর ও কয়েকজন কবিয়ালের লুপ্তপ্রায় জীবনী উদ্ধার করে প্রকাশ করা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৩,০১২.
বাংলা ভাষার নিজস্ব বাগ্‌ধারা ও ধ্বনি সহযোগে নতুন ছন্দসৃষ্টি করেন কে?
  1. বিহারীলাল চক্রবর্তী
  2. সুকুমার রায় 
  3. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  4. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
সঠিক উত্তর:
সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা

• সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত:
- সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত ছিলেন কবি ও ছান্দসিক।কলকাতার নিকটবর্তী নিমতা গ্রামে ১৮৮২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- সত্যেন্দ্রনাথ ছিলেন ভারতী পত্রিকাগোষ্ঠীর অন্যতম বিশিষ্ট কবি।
- বাংলা ভাষার নিজস্ব বাগ্‌ধারা ও ধ্বনি সহযোগে নতুন ছন্দসৃষ্টি তাঁর কবিপ্রতিভার মৌলিক কীর্তি। এজন্য তিনি 'ছন্দের জাদুকর' ও ' ছন্দোরাজ' নামে সাধারণ্যে পরিচিত।
- ১৯১৮ সালে ভারতী পত্রিকার বৈশাখ সংখ্যায় ছন্দ সম্পর্কিত তাঁর প্রসিদ্ধ রচনা 'ছন্দ-সরস্বতী' প্রকাশিত হয়।
- সত্যেন্দ্রনাথ একাধিক ছদ্মনামে কাব্যচর্চা করতেন, যেমন নবকুমার, কবিরত্ন, অশীতিপর শর্মা, ত্রিবিক্রম বর্মণ, কলমগীর ইত্যাদি।
- ১৯২২ সালের ২৫শে ফেব্রুয়ারি তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর মৃত্যুর পর রচিত 'সত্যেন-প্রয়াণ' কবিতা কাজী নজরুল ইসলাম লিখেন।

তাঁর রচিত বিখ্যাত কাব্য:
- সবিতা,
- সন্ধিক্ষণ,
- বেণু ও বীণা,
- কুহু ও কেকা,
- অভ্র আবীর,
- হসন্তিকা,
- বেলা শেষের গান,
- বিদায় আরতি,
- কাব্যসঞ্চয়ন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৩,০১৩.
'সাতটি তারার ঝিকিমিকি' গ্রন্থটি কোন প্রকার সাহিত্য?
  1. গল্পগ্রন্থ
  2. কাব্যগ্রন্থ
  3. নাটক
  4. প্রবন্ধ
সঠিক উত্তর:
গল্পগ্রন্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গল্পগ্রন্থ
ব্যাখ্যা

• 'সাতটি তারার ঝিকিমিকি' শিশু-কিশোর গল্পগ্রন্থ রচনা করেন - জাহানারা ইমাম

জাহানারা ইমাম:
- জাহানারা ইমাম 'শহীদ জননী' হিসেবে খ্যাত।
- তিনি ক্র্যাক প্লাটুনের সদস্য শহীদ শফি ইমাম রুমীর মা।
- তিনি ১৯৯২ সালে ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন ও একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটি’র আহবায়ক হন।
- জাহানারা ইমাম ১৯৭১-এর স্বাধীনতাবিরোধী চক্রের বিরুদ্ধে গণ-আদালত গড়ে তোলেন।

তাঁর রচিত কয়েকটি গ্রন্থ:
- সাতটি তারার ঝিকিমিকি,
- অন্যজীবন,
- বুকের ভিতর আগুন,
- নাটকের অবসান,
- নিঃসঙ্গ পাইন,
- ক্যানসারের সঙ্গে বসবাস,
- প্রবাসের দিনগুলি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৩,০১৪.
মোহিতলাল মজুমদার রচিত কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. কবি শ্রীমধূদন
  2. কাব্য সঞ্চয়ন
  3. হেমন্ত গোধূলী
  4. সন্ধিক্ষণ
সঠিক উত্তর:
হেমন্ত গোধূলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হেমন্ত গোধূলী
ব্যাখ্যা
• মোহিতলাল মজুমদার : 
- কবি, প্রাবন্ধিক, সাহিত্যসমালোচক। 
- ১৮৮৮ সালের ২৬ অক্টোবর নদীয়ার কাচঁড়াপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পৈতৃক নিবাস হুগলির বলাগড়ে।
- পেশায় তিনি একজন অধ্যাপক ছিলেন।
- তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেন।
- তিনি তাঁর সমালোচনামূলক প্রবন্ধগুলিতে ‘কৃত্তিবাস ওঝা’, ‘সব্যসাচী’, ‘শ্রী সত্যসুন্দর দাস’ ইত্যাদি ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন।
- তিনি মৃত্যুবরণ করেন ২৬ জুলাই ১৯৫২ সালে। 

• তাঁর প্রকশিত কাব্যগ্রন্থ :
- স্বপন,
- বিস্ময়,
- স্মরগল,
- হেমন্ত গোধূলী,

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ গ্রন্থ : 
- আধুনিক বাংলা সাহিত্য,
- সাহিত্যকথা,
- বিচিত্র কথা,
- কবি শ্রীমধূদন,

• সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত রচিত কাব্যগ্রন্থ :
- সন্ধিক্ষণ ,
- কাব্য সঞ্চয়ন

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা , ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,০১৫.
'বঙ্গভাষা ও সাহিত্য' গ্রন্থের রচয়িতা-
  1. ক) হুমায়ুন আজাদ
  2. খ) হুমায়ুন কবির
  3. গ) দীনেশচন্দ্র সেন
  4. ঘ) জসীমউদ্দীন
সঠিক উত্তর:
গ) দীনেশচন্দ্র সেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) দীনেশচন্দ্র সেন
ব্যাখ্যা

- দীনেশচন্দ্র সেন রচিত গ্রন্থ 'বঙ্গভাষা ও সাহিত্য'।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৮৯৬ সালে।
- এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম ইতিহাস গ্রন্থ।
- 'বাংলা সাহিত্যের কথা' প্রবন্ধের ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ।
- বাংলা ভাষার ইতিবৃত্ত প্রবন্ধের ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস গ্রন্থের রচয়িতা সুকুমার সেন।

উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

৩,০১৬.
'সাত ভাই চম্পা' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. বিষ্ণু দে
  2. প্রেমেন্দ্র মিত্র
  3. অমিয় চক্রবর্তী
  4. বুদ্ধদেব বসু
সঠিক উত্তর:
বিষ্ণু দে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিষ্ণু দে
ব্যাখ্যা
• 'সাত ভাই চম্পা' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা- বিষ্ণু দে। 
- কাব্যটি ১৯৪৪ সালে প্রকাশিত হয়। 
--------------- 
বিষ্ণু দে:
- তিনি ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক, চিত্রসমালোচক ও শিল্পানুরাগী।
- ১৯০৯ সালের ১৮ জুলাই  কলকাতার পটলডাঙ্গায় তাঁর জন্ম।
- তাঁর পিতা অবিনাশচন্দ্র দে ছিলেন অ্যাটর্নি।
- বিষ্ণু দে ত্রিশোত্তর বাংলা কবিতার নব্যধারার আন্দোলনের প্রধান পাঁচজন কবির অন্যতম ছিলেন।
- তিনি মার্কসবাদী চেতনায় উদ্বুদ্ধ ছিলেন।
 
তাঁর সাহিত্যকর্ম:
কাব্যগ্রন্থ:
- উর্বশী ও আর্টেমিস,
- চোরাবালি,
- সাত ভাই চম্পা,
- স্মৃতি সত্তা ভবিষ্যত ইত্যাদি।
 
উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
 
৩,০১৭.
সুকান্ত ভট্টাচার্যের জীবিতাবস্থায় প্রকাশিত একমাত্র গ্রন্থ -
  1. গীতিগুচ্ছ
  2. ছাড়পত্র
  3. হরতাল
  4. আকাল
সঠিক উত্তর:
আকাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আকাল
ব্যাখ্যা
আকাল:
- ‘আকাল' (১৯৪৩) একটি সংকলন। পঞ্চাশের মন্বন্তর এই সংকলনের কবিতাগুলির মূল প্রেরণা।
- বিভিন্ন পত্রিকা থেকে সংকলন ও সম্পাদনা করে এই কবিতাগুচ্ছের একটি মূল্যবান ভূমিকা লিখেছিলেন সুকান্ত ভট্টাচার্য।
- ১৯৬৬ সালে সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের ভূমিকাসহ এর নতুন সংস্করণ প্রকাশিত হয়।
- এটি ছিল সুকান্তের জীবিতাবস্থায় প্রকাশিত একমাত্র গ্রন্থ।

সুকান্ত ভট্টাচার্য:
- তিনি ছিলেন মার্কসবাদী ভাবধারায় বিশ্বাসী এবং প্রগতিশীল চেতনার অধিকারী তরুণ কবি।
- ১৯২৬ সালের ১৫ আগস্ট কলকাতায় মাতুলালয়ে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল গোপালগঞ্জ জেলার কোটালিপাড়ায়।
- সুকান্ত ভট্টাচার্য কমিউনিস্ট পার্টির পত্রিকা দৈনিক স্বাধীনতা-র (১৯৪৫) ‘কিশোর সভা’ বিভাগ সম্পাদনা করতেন।
- সুকান্তের সাহিত্য-সাধনার মূল ক্ষেত্র ছিল কবিতা। সাধারণ মানুষের জীবনসংগ্রাম, যন্ত্রণা ও বিক্ষোভ তাঁর কবিতার প্রধান বিষয়বস্তু।
- তাঁর রচনাকর্মে গণমানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার বাণীসহ শোষণহীন এক নতুন সমাজ গড়ার অঙ্গীকার উচ্চারিত হয়েছে।
- ‘এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাবো আমি' - সুকান্ত ভট্টাচার্যের বিখ্যাত উক্তি।
- তিনি ২৯শে বৈশাখ, ১৩৫৪; ১৩ই মে, ১৯৪৭ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ:
- ছাড়পত্র,
- ঘুম নেই,
- পূর্বাভাস,
- মিঠে কড়া,
- অভিযান,
- হরতাল,
- গীতিগুচ্ছ।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
৩,০১৮.
'বেঙ্গলি ফোনেটিক রিডার' কার রচনা?
  1. ক) সানাউল হক
  2. খ) শহীদুল্লাহ কায়সার
  3. গ) শহীদ কাদরী
  4. ঘ) সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
ঘ) সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় (১৮৯০-১৯৭৭): শিক্ষাবিদ, ভাষাবিজ্ঞানী ও সাহিত্যিক।
- সুনীতিকুমার ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ে বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় ৩৮০টিরও বেশি গ্রন্থ রচনা করেন।
- তাঁর বিখ্যাত রচনা হলো ''অরিজিন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অব দি বেঙ্গলি ল্যাংগুয়েজ '' (১৯২৬)।

তাঁর অন্যান্য উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ হলো:
- Bengali Phonetic Reader (১৯২৮),
- বাংলা ভাষাতত্ত্বের ভূমিকা (১৯২৯),
- পশ্চিমের যাত্রী (১৯৩৮),
- ভারতের ভাষা ও ভাষা সমস্যা (১৯৪৪),
- সরল ভাষা প্রকাশ বাঙ্গালা ব্যাকরণ (১৯৪৫),
- ভারত সংস্কৃতি (১৯৫৭),
- সংস্কৃতি কী (১৯৬১),
- Languages and Literatures of Modern India (১৯৬৩),
- World Literature and Tagore (১৯৭১)।

সোর্সঃ বাংলাপিডিয়া।

৩,০১৯.
‘যুদ্ধপূর্ব বাঙলাদেশ’ - প্রবন্ধগ্রন্থ রচনা করেন কে?
  1. বদরুদ্দীন উমর
  2. হাসান হাফিজুর রহমান
  3. আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
  4. সৈয়দ শামসুল হক
সঠিক উত্তর:
বদরুদ্দীন উমর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বদরুদ্দীন উমর
ব্যাখ্যা

‘যুদ্ধপূর্ব বাঙলাদেশ’ প্রবন্ধগ্রন্থ:
- ‘যুদ্ধপূর্ব বাঙলাদেশ’ বদরুদ্দীন উমর রচিত ও সম্পাদিত প্রবন্ধগ্রন্থ।
- যে প্রবন্ধগুলি এই সংকলনের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে সেগুলি সবই ১৯৭০ সালের ফেব্রুয়ারী থেকে ১৯৭১ সালের মার্চ পর্যন্ত সাপ্তাহিক 'গণশক্তি' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিলো।
- তখন 'গণশক্তি'র ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক হিসেবে বদরুদ্দীন উমর পত্রিকাটি সম্পাদনার যাবতীয় দায়িত্ব পালন করতেন।
- 'যুদ্ধোত্তর বাঙলাদেশ' নামে মুজিব আমলে লিখিত রাজনৈতিক প্রবন্ধগুলির যে সংকলন ইতিপূর্বে প্রকাশিত হয়েছে সেগুলির সাথে 'যুদ্ধপূর্ব বাঙলাদেশ' নামক এই সংকলনের প্রবন্ধগুলি মিলিয়ে পাঠ করলে চিন্তার ধারাবাহিকতা সহজেই বোঝা যাবে।

বদরুদ্দীন উমর:
- বদরুদ্দীন উমর ১৯৩১ সালের ২০শে ডিসেম্বর পশ্চিম বঙ্গের বর্ধমানে জন্ম গ্রহণ করেন। তিনি মূলত অধ্যাপক এবং রাজনীতিক।
- তিনি ‘সংস্কৃতি’ সাময়িকী সম্পাদনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং ‘যুদ্ধপূর্ব বাঙলাদেশ’ প্রবন্ধগ্রন্থ।

৩,০২০.
শওকত ওসমান রচিত উপন্যাস-  
  1. পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা
  2. ক্রীতদাসের হাসি
  3. তস্কর লস্কর
  4. কাঁকর মণি
সঠিক উত্তর:
ক্রীতদাসের হাসি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্রীতদাসের হাসি
ব্যাখ্যা

শওকত ওসমান রচিত উপন্যাস- ' ক্রীতদাসের হাসি'। 

• 'ক্রীতদাসের হাসি':
- 'ক্রীতদাসের হাসি’ উপন্যাসে শওকত ওসমান স্বৈরাচারী শাসকের অধীনে মানুষের দুঃখ-কষ্ট, অধিকারহীনতা ও সমাজের অন্ধকার বাস্তবতাকে তুলে ধরেছেন।
- আইয়ুব খানের দমনমূলক শাসনব্যবস্থাকে ব্যঙ্গ করেই উপন্যাসটি নির্মিত।
- উপন্যাসটির প্রধান চরিত্র- হাবসি ক্রীতদাস তাতারী, মেহেরজান, এবং আব্বাসীয় খলিফা হারুন-অর-রশিদ।
- এ উপন্যাসে লেখক তাতারীর হাসি এবং মেহেরজানের সঙ্গে তার সম্পর্কের মধ্য দিয়ে সমাজের শোষণ ও বঞ্চনার প্রতীকী উপস্থাপন করেছেন।
--------------------------------------
শওকত ওসমান:
- শওকত ওসমান ছিলেন এক বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক ও প্রাবন্ধিক।  
- তিনি ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর আসল নাম ছিল শেখ আজিজুর রহমান।
- নাটক, গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ, রসাত্মক লেখা থেকে শুরু করে শিশু-কিশোর সাহিত্যে পর্যন্ত তাঁর অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য। 

• তাঁর সাহিত্যকর্মের মধ্যে উল্লেখযোগ্য উপন্যাসগুলো হলো:
- জননী;
- ক্রীতদাসের হাসি।

• তাঁর মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস:   
- জাহান্নাম হইতে বিদায়;
- দুই সৈনিক;
- নেকড়ে অরণ্য;
- জলাঙ্গী।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য নাটক:
- আমলার মামলা;
- পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা;
- তস্কর লস্কর;
- কাঁকর মণি।

• শওকত ওসমান এর বিখ্যাত গল্প হল: জন্ম যদি তব বঙ্গে;
• আর তাঁর ভাষা আন্দোলনভিত্তিক উপন্যাস : আর্তনাদ।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া।

৩,০২১.
সৈয়দ শামসুল হক রচিত উপন্যাস -
  1. জোহরা
  2. নীড় সন্ধানী
  3. দ্বিতীয় দিনের কাহিনী
  4. নিশুতি রাতের গাথা
সঠিক উত্তর:
দ্বিতীয় দিনের কাহিনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বিতীয় দিনের কাহিনী
ব্যাখ্যা
'দ্বিতীয় দিনের কাহিনী' উপন্যাস:
- সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হকের মুক্তিযুদ্ধের উপন্যাস 'দ্বিতীয় দিনের কাহিনী'। এটি প্রকাশিত হয় ১৯৮৪ সালে।
- মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী আর্থসামাজিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতাকে চমৎকারভাবে চিহ্নিত করেছেন তিনি।
- বাঙালি জাতিসত্তার আত্মপরিচয়, সংগ্রাম, স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষার কথা পরম মমতায় তুলে ধরেছেন এ উপন্যাসে।
- একজন প্রধান শিক্ষক তাহের উদ্দীন খন্দকারের আত্মোপলব্ধি, অন্বেষণ ও স্মৃতিচারণার মধ্য দিয়ে উঠে আসে মুক্তিযুদ্ধে জলেশ্বরীর দুর্বার ভূমিকার কথা।
- বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে থাকা জলেশ্বরীর সন্তানদের মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়ার বিষয়টিও উঠে আসে তাহেরের স্মৃতিচারণায়।

অন্যদিকে,
আনোয়ার পাশা রচিত উপন্যাস - নিশুতি রাতের গাথা, নীড় সন্ধানী।
মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক রচিত উপন্যাস - জোহরা।

সৈয়দ শামসুল হক রচিত উপন্যাস:
- নিষিদ্ধ লোবান,
- নীল দংশন,
- দ্বিতীয় দিনের কাহিনী,
- আয়না বিবির পালা,
- খেলারাম খেলে যা,
- তুমি সেই তরবারী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,০২২.
'বেলা অবেলা কালবেলা' এর লেখক কে?
  1. ক) সুকান্ত ভট্টাচার্য
  2. খ) জীবনানন্দ দাশ
  3. গ) কাজী নজরুল ইসলাম
  4. ঘ) সমরেশ মজুমদার
সঠিক উত্তর:
খ) জীবনানন্দ দাশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) জীবনানন্দ দাশ
ব্যাখ্যা
'বেলা অবেলা কালবেলা' গ্রন্থটি লিখেছেন জীবনানন্দ দাশ।
• জীবনানন্দ দাশ:
- ১৮৯৯ সালে বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জীবনানন্দ দাশের কবিতাকে “চিত্ররূপময়” কবিতা বলে আখ্যায়িত করেছেন।
- তাঁকে বলা হয়ে থাকে- ধূসরতার কবি, তিমির হননের কবি, নির্জনতার কবি, রূপসী বাংলার কবি।
- তাঁর রচিত প্রবন্ধ গ্রন্থ- “কবিতার কথা”
- ‘কবিতার কথা’ প্রবন্ধের একটি বিখ্যাত উক্তি: “সকলেই কবি নন, কেউ কেউ কবি”
- “বনলতা সেন” তাঁর একটি বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ।
- “বনলতা সেন” কবিতার উপর আডগার এলেন পো এর প্রভাব রয়েছে।
- জীবনানন্দের মৃত্যুর পর প্রকাশিত হয় “রূপসী বাংলা” এবং “বেলা অবেলা কালবেলা” নামক কাব্য।

জীবনানন্দ দাশের উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ -
- ধূসর পাণ্ডুলিপি,
- বনলতা সেন,
- ঝরা পালক,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- বেলা অবেলা কালবেলা ইত্যাদি।


উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,০২৩.
'বঙ্গ আমার জননী আমার'- দেশাত্মবোধক গানটির রচয়িতা কে?
  1. ক) জাহানারা ইমাম
  2. খ) দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  3. গ) রফিক আজাদ
  4. ঘ) হুমায়ুন কবির
সঠিক উত্তর:
খ) দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
ব্যাখ্যা
'বঙ্গ আমার জননী আমার'- দেশাত্মবোধক গানটির রচয়িতা: 'দ্বিজেন্দ্রলাল রায়'। 
- পরাধীন ভারতে বাঙালিদের মধ্যেই যেমন প্রথম বিপ্লবীর জন্ম হয়েছিল, তেমনি বাঙালির কণ্ঠেই প্রথম জলদমন্দ্র ধ্বনিত হয়েছিল দ্বিজেন্দ্রলালের ‘বঙ্গ আমার জননী আমার’ গানের মধ্য দিয়ে।

• দ্বিজেন্দ্রলাল রায়:

- দ্বিজেন্দ্রলাল রায় (১৮৬৩-১৯১৩) কবি, নাট্যকার, গীতিকার। ১৮৬৩ সালের ১৯ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের  নদীয়া জেলার কৃষ্ণনগরে তাঁর জন্ম। 
- দ্বিজেন্দ্রলাল কৈশোরেই কাব্যচর্চা শুরু করেন। ছাত্রজীবনে তাঁর আর্য্যগাথা (১ম ভাগ, ১৮৮২) এবং বিলেতে থাকাকালে Lyrics of Ind (১৮৮৬) কাব্য প্রকাশিত হয়। ১৯০৩ সাল পর্যন্ত তিনি মূলত কাব্যই রচনা করেন এবং এ সময় পর্যন্ত তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ বারোটি।

দ্বিজেন্দ্রলালের উলে­খযোগ্য কয়েকটি গ্রন্থ হলো:
• কাব্য:
- আর্য্যগাথা,
- আলেখ্য,
- ত্রিবেণী।

• নকশা-প্রহসন:
- একঘরে,
- সমাজ-বিভ্রাট ও কল্কি অবতার,
- ত্র্যহস্পর্শ,
- প্রায়শ্চিত্ত,
- পুনর্জন্ম।

• পৌরাণিক নাটক:
- পাষাণী,
- সীতা,
- ভীষ্ম।

• সামাজিক নাটক:
- পরপারে,
- বঙ্গনারী।

"বঙ্গ আমার জননী আমার"- কবিতা,
------------- দ্বিজেন্দ্রলাল রায়। 

বঙ্গ আমার জননী আমার
ধাত্রী আমার, আমার দেশ
কেন গো মা তোর শুস্ক নয়ন?
কেন গো মা তোর রুক্ষ কেশ?
কেন গো মা তোর ধুলায় আসন?
কেন গো মা তোর মলিন বেশ?
.
শত কোটি সন্তান যার
ডাকে উপচে আমার দেশ।
কিসের দুঃখ, কিসের দৈন্য,
কিসের লজ্জা, কিসের ক্লেশ?
শত কোটি মিলিত কণ্ঠে
ডাকে যখন আমার দেশ।।
.
উদিল যেখানে বৌদ্ধ আত্মা
মুক্ত করিতে মোক্ষ দ্বার,
আজিও জুড়িয়া অর্ধ জগৎ
ভক্তি প্রণতঃ চরণে যার।
অশোক যাহার কীর্তি ছায়িল
গান্ধার হতে জলধি শেষ
তুই কিনা মা গো তাদের জননী?
তুই কিনা মা গো তাদের দেশ।।

একদা যাহার বিজয় সেনানী
হেলায় লঙ্কা করিল জয়
একদা যাহার অর্ণবপোত
ভ্রমিল ভারত সাগরময়।
সন্তান যার তিব্বততীর
জাপানে গঠিল উপনীদেশ
তার কি না ধুলায় আসন,
তার কি না এই চ্ছিন বেশ?
.
উদিল যেখানে মোরজ মন্ত্রে
নিমাই কণ্ঠে মধুর ও তান
ন্যায়ের বিধান দিল রঘুমনি,
চন্ডীদাসও গাইল গান
যুদ্ধ করিল প্রতাপাদিত্য
তুই কিনা সেই ধন্য দেশ,
ধন্য আমরা যদি এ শিরায়
রহে যদি তাদের রক্ত লেশ।।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,০২৪.
"ভালো আছি, ভালো থেকো আকাশের ঠিকানায় চিঠি লিখো" - বিখ্যাত এই গানটির গীতিকার কে?
  1. ক) খান আতাউর রহমান
  2. খ) রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  3. গ) আপেল মাহমুদ
  4. ঘ) নজরুল ইসলাম বাবু
সঠিক উত্তর:
খ) রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
ব্যাখ্যা
- "ভালো আছি ভালো থেকো আকাশের ঠিকানায় চিঠি লিখ" - রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহর লিখা একটি গান। 

রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ(১৯৫৬-১৯৯১):
কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহর জন্ম বরিশালে, ১৯৫৬ সালের ১৬ অক্টোবর।
- পৈতৃক নিবাস বাগেরহাট জেলার মংলা থানার অন্তর্গত সাহেবের মেঠ গ্রাম।
- তাঁর প্রকৃত নাম শেখ মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ; ‘রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ’ নামটি তিনি নিজে গ্রহণ করেন।
- ছাত্রজীবনেই তাঁর দুটি কাব্য—উপদ্রুত উপকূল (১৯৭৯) ও ফিরে চাই স্বর্ণগ্রাম (১৯৮১) প্রকাশিত হয়।
- তাঁর কবিতায় বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষা প্রতিফলিত হয়েছে।

তথ্যসূত্র:- বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,০২৫.
‘হোসেনের শৃঙ্খল নিয়ম’ এর সাথে কোন নামটি জড়িত?
  1. মোতাহের হোসেন চৌধুরী 
  2. কাজী মোতাহার হোসেন
  3. আবুল হোসেন 
  4. সেলিনা হোসেন 
সঠিক উত্তর:
কাজী মোতাহার হোসেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাজী মোতাহার হোসেন
ব্যাখ্যা

কাজী মোতাহার হোসেন ও ‘হোসেনের শৃঙ্খল নিয়ম’:
তিনি ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিসটিক্যাল ইনস্টিটিউট থেকে ১৯৩৮ সালে  পরিসংখ্যান বিষয়ে ডিপ্লোমা এবং একই সঙ্গে  কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গণিত শাস্ত্রে এম.এ ডিগ্রি লাভ করেন।
- ‘পরীক্ষণ প্রকল্প’ (Design of Experiments) শীর্ষক অভিসন্দর্ভের জন্য তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৫১ সালে পরিসংখ্যান শাস্ত্রে পিএইচ.ডি ডিগ্রি অর্জন করেন। কাজী মোতাহার হোসেনের ‘পরীক্ষণ প্রকল্প’ শীর্ষক অভিসন্দর্ভ পরিসংখ্যান গবেষণায় এক নতুন পদ্ধতির প্রবর্তন করে, যা ‘হোসেনের শৃঙ্খল নিয়ম’ (Husain’s Chain Rule) নামে পরিচিত।
----------------------

তাঁর উলেখযোগ্য প্রকাশনাসমূহ হচ্ছে:
- সঞ্চয়ন,
- নজরুল কাব্য পরিচিত,
- সে পথ লক্ষ্য কর,
- সিম্পোজিয়াম গণিত শাস্ত্রের ইতিহা,
- আলোক বিজ্ঞান।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং বাংলাপিডিয়া।

৩,০২৬.
মুহম্মদ আবদুল হাই রচিত গ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) বাংলা ভাষার ও সাহিত্য
  2. খ) বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস
  3. গ) সাহিত্য কথা
  4. ঘ) বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত
সঠিক উত্তর:
ঘ) বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত
ব্যাখ্যা
পাঠ্যপুস্তকের অভাব দূর করার জন্য মুহম্মদ আবদুল হাই সৈয়দ আলী আহসানের সঙ্গে যৌথভাবে রচনা করেন বাংলা বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত (আধুনিক যুগ, ১৯৬৮)। 
- অপরদিকে আহমদ শরীফ, মনসুরউদ্দীন, আনিসুজ্জামান ও আনোয়ার পাশার সহযোগে মধ্যযুগের পুথি, লোকসাহিত্য এবং আধুনিক যুগের গদ্য ও পদ্য গ্রন্থের সংকলন ও সম্পাদনা প্রকাশ করেন।
- গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৬৪ সালে। 
- এই গ্রন্থ রচনার জন্য তিনি সমালোচিত হত। 
- এই গ্রন্থে সম্প্রদায়গত দৃষ্টিভঙ্গির প্রয়োগ ঘটেছে। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,০২৭.
"সংস্কৃতি কথা" প্রবন্ধটি কার রচনা?
  1. আহমদ শরীফ
  2. কাজী আবদুল ওদুদ
  3. মােতাহের হােসেন চৌধুরী
  4. মোহাম্মদ লুত্‌ফর রহমান
সঠিক উত্তর:
মােতাহের হােসেন চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মােতাহের হােসেন চৌধুরী
ব্যাখ্যা
• "সংস্কৃতি কথা":
সংস্কৃতির পূর্বাপর বিশ্লেষণে মােতাহের হােসেন চৌধুরী কোনাে দুঃসাধ্য পথের যাত্রী নন। তাঁর কাছে সংস্কৃতিই জীবন। অর্থাৎ, যত উন্নত সংস্কৃতি তত উন্নত জীবন। যেখানে থাকবে প্রেম, সৌন্দর্য ও আনন্দ। মােতাহের হােসেনের এ বিষয়ক বিস্তারিত চিন্ত-চেতনার পরিচয় আছে তার 'সংস্কৃতি-কথা’ শীর্ষক বহুখ্যাত প্রবন্ধটিতে।

এখানে তিনি বলেছেন-
একশ্রেণির মানুষ শিক্ষিত, অশিক্ষিত নির্বিশেষে কালচার বা সংস্কৃতি অর্থে সংকীর্ণ চিত্তে কেবল নাচ, গান, সাহিত্য, শিল্প, সিনেমা, থিয়েটার প্রভৃতিতে বিবেচনা করেন। তারা জানতে চেষ্টা করেন না যে, সংস্কৃতি কথাটি আরাে ব্যাপক ও গভীর তাৎপর্য বহন করে। মােতাহের হােসেন মনে করেন, চিত্তগঠনের যাবতীয় উপাদানই সংস্কৃতি।

মােতাহের হােসেন চৌধুরীর মতে, যারা সাংস্কৃতিবান তাঁদের জীবনে বাইরের কোনাে আদেশ-নিষেধের প্রয়ােজন হয় না। তাঁরা আদেশপন্থী নন-অনুপ্রেরণাপন্থী। এসব বিষয়াদি বিবেচনায় তিনি ঘােষণা করেন, সংস্কৃতি শিক্ষিত, মার্জিত মানুষের ধর্ম। শিক্ষিত মানুষ প্রেম, সৌন্দর্য ও আনন্দের পূজারি-যা তারা গ্রহণ করে সংস্কৃতি থেকে। আর সাধারণ মানুষ বিষয়গুলাে পায় বা সন্ধান কর ধর্মের মধ্যে। তিনি ধর্মকে বাইরে থেকে গ্রহণের ঘােরবিরােধী। কেননা বাইরের ধর্মকে যারা গ্রহণ করে তারা আল্লাকে জীবনপ্রেরণারূপে পায় না, ঠোটের বুলি রূপে পায়।

উৎস: "সংস্কৃতি কথা" প্রবন্ধ।
৩,০২৮.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম ট্রাজেডি নাটকের রচয়িতা কে?
  1. যোগেন্দ্রচন্দ্র গুপ্ত
  2. তারাচরণ শিকদার
  3. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  4. রামনারায়ণ তর্করত্ন
সঠিক উত্তর:
যোগেন্দ্রচন্দ্র গুপ্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যোগেন্দ্রচন্দ্র গুপ্ত
ব্যাখ্যা
১৮৫২ সালে বাংলা সাহিত্যের প্রথম মৌলিক নাটক 'ভদ্রার্জুন' প্রকাশিত হয়।
- নাটকটির রচয়িতা - তারাচরণ শিকদার। এটি একটি কমেডি নাটক।

১৮৫২ সালেই প্রকাশিত হয় প্রথম ট্রাজেডি নাটক। এর নাম - কীর্তিবিলাস
- কীর্তিবিলাসের রচয়িতা - যোগেন্দ্রচন্দ্র গুপ্ত

১৮৬১ সালে প্রকাশিত হয় - বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ট্রাজেডি
- এর নাম - কৃষ্ণকুমারী। রচয়িতা - মাইকেল মধুসূদন দত্ত

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, ড. হুমায়ুন আজাদ।
৩,০২৯.
মুনীর চৌধুরী রচিত 'মীর মানস' কোন জাতীয় গ্রন্থ?
  1. নাটক
  2. উপন্যাস
  3. প্রবন্ধ
  4. গল্পগ্রন্থ
  5. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
প্রবন্ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রবন্ধ
ব্যাখ্যা
• 'মীর মানস':
- মুনীর চৌধুরী রচিত - প্রবন্ধগ্রন্থ।
- গ্রন্থটি ১৯৬৫ সালে প্রকাশিত হয়।
- গ্রন্থটির জন্য তিনি 'দাউদ পুরস্কার' (১৯৬৫) লাভ করেন।
------------------- 
• মুনীর চৌধুরী:
- ১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর মানিকগঞ্জ শহরে তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্য সমালোচক ও বাগ্মী।
- তিনি শিক্ষা ও পেশাগত জীবনে বামপন্থী রাজনীতি ও প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
- ঢাকার প্রগতি লেখক ও শিল্পী সংঘ, কমিউনিস্ট পার্টি, ভাষা আন্দোলন ইত্যাদির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। 
- ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত বিজয়ের দুদিন আগে ১৪ ডিসেম্বর তিনি পাকবাহিনীর সহযোগীদের দ্বারা অপহৃত ও নিহত হন।

• তাঁর রচিত প্রধান নাটক:
- রক্তাক্ত প্রান্তর,
- চিঠি,
- কবর,
- দণ্ডকারণ্য,
- পলাশী ব্যারাক ও অন্যান্য।

• তাঁর রচিত অনুবাদ নাটক:
- কেউ কিছু বলতে পারে না,
- রূপার কৌটা,
- মুখরা রমণী বশীকরণ।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- মীর মানস,
- তুলনামূলক সমালোচনা,
- বাংলা গদ্যরীতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৩,০৩০.
সৈয়দ মুস্তফা সিরাজের গ্রন্থ কোনটি?
  1. রহু চণ্ডালের হাড়
  2. কৈবর্ত খণ্ড
  3. ফুল বউ
  4. অলীক মানুষ
সঠিক উত্তর:
অলীক মানুষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অলীক মানুষ
ব্যাখ্যা

• "অলীক মানুষ" উপন্যাস:
- "অলীক মানুষ" সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ রচিত একটি বিখ্যাত বাংলা উপন্যাস। এটি উনিশ-বিশ শতকের পটভূমিতে একটি মুসলিম পীর পরিবারের জীবন নিয়ে লেখা, যেখানে লৌকিক ও অলৌকিক ঘটনার মিশ্রণ ঘটেছে।
- উপন্যাসটি কোলাজ পদ্ধতিতে লেখা হয়েছে, যেখানে বিভিন্ন ঘটনার বিবরণ, মিথ ও কিংবদন্তী, এমনকি ব্যক্তিগত ডায়েরি ও সংবাদপত্রের কাটিংও ব্যবহার করা হয়েছে।
- এই উপন্যাসে বাঙালি হিন্দু-মুসলিম জীবনের একটি অনাবিষ্কৃত দিক তুলে ধরা হয়েছে।‘অলীক মানুষ’ বইয়ের প্রাপ্ত পুরস্কার গুলির নাম ও সালঃ
- ভুয়ালকা পুরস্কার - ১৯৯০।
- বঙ্কিম স্মৃতি পুরস্কার - ১৯৯৪।
- সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার - ১৯৯৪।
- সুরমা চৌধুরী মেমোরিয়াল আন্তর্জাতিক সাহিত্য পুরস্কার - ২০০৮।

উৎস: "অলীক মানুষ" উপন্যাস।

৩,০৩১.
​ ​আহমদ ছফা রচিত উপন্যাস নয় কোনটি?
  1. সূর্য তুমি সাথী
  2. অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী
  3. যদ্যপি আমার গুরু
  4. গাভী বিত্তান্ত 
সঠিক উত্তর:
যদ্যপি আমার গুরু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যদ্যপি আমার গুরু
ব্যাখ্যা

• 'যদ্যপি আমার গুরু' স্মৃতিচারণমূলক গ্রন্থ:
​- 'যদ্যপি আমার গুরু' বাংলাদেশের অগ্রণী চিন্তাবিদ ও কথাসাহিত্যিক আহমদ ছফা রচিত একটি বিখ্যাত স্মৃতিচারণমূলক গ্রন্থ।
- দীর্ঘ স্মৃতিচারণ মূলক রচনাটি ১৯৯৮ খ্রিষ্টাব্দে বই আকারে প্রকাশের আগে দৈনিক বাংলাবাজার পত্রিকার সাহিত্য পাতায় প্রায় চার মাস ধারাবাহিক ভাবে প্রকাশিত হয়েছিল।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কিংবদন্তি জাতীয় অধ্যাপক আবদুর রাজ্জাকের সাথে লেখকের বিভিন্ন বিষয়ে কথোপকথনসমূহের বিবরণ পাওয়া যায় এই গ্রন্থে।
- লেখক দীর্ঘ ২৭ বছর ধরে রাজ্জাক স্যারের সান্নিধ্য লাভ করেছেন।

​আহমদ ছফা রচিত উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
- সূর্য তুমি সাথী,
- উদ্ধার,
- একজন আলী কেনানের উত্থান পতন,
- অলাতচক্র,
- ওঙ্কার,
- গাভী বিত্তান্ত,
- অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী,
- পুষ্পবৃক্ষ ও
- বিহঙ্গ পুরাণ।

উৎস: 'যদ্যপি আমার গুরু' আহমদ ছফা এবং বাংলাপিডিয়া।

৩,০৩২.
'ঈশ্বরের প্রতিদ্বন্দ্বী' শওকত ওসমান রচিত কী ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. উপন্যাস
  2. গল্পগ্রন্থ
  3. প্রবন্ধগ্রন্থ
  4. নাটক
সঠিক উত্তর:
গল্পগ্রন্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গল্পগ্রন্থ
ব্যাখ্যা
• 'ঈশ্বরের প্রতিদ্বন্দ্বী' গল্পগ্রন্থ:
- নয়টি ছোট গল্পের অনন্য সংকলন এই ঈশ্বরের প্রতিদ্বন্দ্বী বইটি। প্রথম গল্প ঈশ্বরের প্রতিদ্বন্দ্বী গল্পের নামে বইয়ের নামকারণ করা হয়েছে।
- প্রতিটা গল্পই বিষয়গত দিক থেকে অনন্য। শওকত ওসমানের শৈল্পিক লিখনের প্রতিচ্ছবি প্রতিটি গল্প।

অন্যান্য গল্পগুলো হলো:
- কুটিলা ভবেৎ,
- শিবগঞ্জের মেলা,
- অনন্ত বাসর,
- ভূবন পাগলার সমস্যা,
- জনপদে,
- নিদয়-নিদয়া,
- কোন মৌন এবং
- স্বৈরণী। 

-----------------
• শওকত ওসমান:

- শওকত ওসমান (১৯১৭-১৯৯৮) ছিলেন কথাসাহিত্যিক ও প্রাবন্ধিক।
- ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান; ‘শওকত ওসমান’ তাঁর সাহিত্যিক নাম।

উপন্যাস ও গল্প রচয়িতা হিসেবেই শওকত ওসমানের মুখ্য পরিচয়; তবে প্রবন্ধ, নাটক, রম্যরচনা, স্মৃতিকথা ও শিশুতোষ গ্রন্থও তিনি রচনা করেছেন। বিদেশি ভাষার অনেক উপন্যাস, ছোটগল্প ও নাটক তিনি বাংলা ভাষায় অনুবাদ করেছেন। গ্রন্থ সম্পাদনার ক্ষেত্রেও তিনি কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য কয়েকটি রচনা হলো:

• উপন্যাস:
জননী, ক্রীতদাসের হাসি, সমাগম, চৌরসন্ধি, রাজা উপাখ্যান, জাহান্নম হইতে বিদায়, দুই সৈনিক, নেকড়ে অরণ্য, পতঙ্গ পিঞ্জর, আর্তনাদ, রাজপুরুষ। 

• গল্পগ্রন্থ:
জুনু আপা ও অন্যান্য গল্প, মনিব ও তাহার কুকুর, ঈশ্বরের প্রতিদ্বন্দ্বী। 

• প্রবন্ধগ্রন্থ:
ভাব ভাষা ভাবনা, সংস্কৃতির চড়াই উৎরাই, মুসলিম মানসের রূপান্তর। 

• নাটক:
আমলার মামলা, পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা। 

• শিশুতোষ গ্রন্থ: 
ওটেন সাহেবের বাংলো, মস্কুইটোফোন, ক্ষুদে সোশালিস্ট, পঞ্চসঙ্গী।  

• স্মৃতিকথামূলক গ্রন্থ:
স্বজন সংগ্রাম, কালরাত্রি খন্ডচিত্র, অনেক কথন, গুড বাই জাস্টিস মাসুদ, মুজিবনগর, অস্তিত্বের সঙ্গে সংলাপ, সোদরের খোঁজে স্বদেশের সন্ধানে, মৌলবাদের আগুন নিয়ে খেলা, আর এক ধারাভাষ্য ইত্যাদি। 

• অনূদিত গ্রন্থ:
নিশো, লুকনিতশি, বাগদাদের কবি, টাইম মেশিন, পাঁচটি কাহিনী (লিও টলস্টয়, ১৯৫৯), স্পেনের ছোটগল্প, পাঁচটি নাটক (মলিয়ার, ১৯৭২), ডাক্তার আব্দুল্লাহর কারখানা, পৃথিবীর রঙ্গমঞ্চে মানুষ, সন্তানের স্বীকারোক্তি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং 'ঈশ্বরের প্রতিদ্বন্দ্বী' গল্পগ্রন্থ।
৩,০৩৩.
মুসলিম রচিত প্রথম বাংলা গদ্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) তোহফা
  2. খ) বিষাদ সিন্ধু
  3. গ) রত্নবতী
  4. ঘ) জমিদার দর্পণ
সঠিক উত্তর:
গ) রত্নবতী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) রত্নবতী
ব্যাখ্যা
 • বাংলা সাহিত্যে মুসলিম রচিত প্রথম গদ্যগ্রন্থ 'রত্নবতী'। 

মীর মশাররফ হোসেন রচিত প্রথম গ্রন্থ 'রত্নবতী' (১৮৬৯)।
- এটি মুসলমান সাহিত্যিক রচিত প্রথম বাংলা উপন্যাস।
- বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী' (১৮৬৫) প্রকাশের চার বছর পর 'রত্নবতী' উপন্যাস প্রকাশিত হয়।
- লেখকের নাম পৃষ্ঠায় 'কৌতুকাবহ উপন্যাস' বলে উল্লেখ করেছেন। 
- প্রকৃতপক্ষে এটি রূপকথা জাতীয় শিক্ষামূলক একটি দীর্ঘ গল্প। 

- 'তোহফা' আলাওল রচিত নীতি কাব্য।
- 'বিষাদ সিন্ধু' (১৮৮৫-১৮৯১) মীর মশাররফ হোসেনের একটি ইতিহাস আশ্রিত উপন্যাস।
- ‘জমীদার দর্পণ’ (১৮৭৩) নাটকের রচয়িতা মীর মশাররফ হোসেন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,০৩৪.
আবু ইসহাক রচিত গল্পগ্রন্থ হলো-
  1. ক) জাল
  2. খ) পদ্মার পলিদ্বীপ
  3. গ) মহাপতঙ্গ
  4. ঘ) জয়ধ্বনি
সঠিক উত্তর:
গ) মহাপতঙ্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) মহাপতঙ্গ
ব্যাখ্যা

আবু ইসহাক (১৯২৬-২০০৩): কথাসাহিত্যিক, অভিধান-প্রণেতা৷

- আবু ইসহাকের প্রথম উপন্যাস 'সূর্য দীঘল বাড়ি'।
- তার দ্বিতীয় উপন্যাস পদ্মার পলিদ্বীপ (১৯৮৬); এ উপন্যাসে পদ্মার বুকে জেগে-ওঠা চরের শ্রমজীবী মানুষের জীবন-সংগ্রামের কথা আছে।
- তাঁর তৃতীয় উপন্যাস জাল। এটি গোয়েন্দা জাতীয় উপন্যাস।
- তাঁর প্রকাশিত গল্পগ্রন্থ দুটি - হারেম (১৯৬২) ও মহাপতঙ্গ (১৯৬৩)।
- তাঁর রচিত একমাত্র নাটক জয়ধ্বনি।

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

উল্লেখ্য, বাংলাপিডিয়াতে 'মহাপতঙ্গ' গল্পটিকে 'মহাপাত্র' হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

৩,০৩৫.
হরপ্রসাদ শাস্ত্রী রচিত উপন্যাস ও প্রবন্ধগুলো কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হতো?
  1. ভারতী 
  2. বঙ্গদর্শন
  3. তত্ত্ববোধিনী 
  4. সংবাদ প্রভাকর 
সঠিক উত্তর:
বঙ্গদর্শন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বঙ্গদর্শন
ব্যাখ্যা

• হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর উপন্যাস ও প্রবন্ধগুলো মূলত বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকায় প্রকাশিত হতো, যেখানে তিনি 'মজলিস'-এর সদস্য হিসেবে এবং পরে একজন প্রধান লেখক হিসেবে প্রায় ৩০টি রচনা লেখেন। 

----------------------
• হরপ্রসাদ শাস্ত্রী:

- হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ছিলেন প্রাচ্যবিদ্যা বিশারদ, এবং সংস্কৃতের পন্ডিত। হরপ্রসাদ ভট্টাচার্য (শাস্ত্রী)-র জন্ম ২২ অগ্রহায়ণ ১২৬০/ ৬ ডিসেম্বর ১৮৫৩। এ পরিবারের আদি নিবাস ছিল খুলনা জেলার কুমিরা গ্রামে। 

- ১৮৭১ সালে এন্ট্রান্স, ১৮৭৩ সালে ফার্স্ট আর্টস, ১৮৭৬ সালে বি.এ এবং ১৮৭৭ সালে সংস্কৃতে অনার্স পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। অতঃপর হরপ্রসাদ এম.এ ডিগ্রি ও ‘শাস্ত্রী’ উপাধি অর্জন করেন।

- তিনি বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন চর্যাপদের আবিষ্কারক। তিনি 'হাজার বছরের পুরান বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা' নামে 'চর্যাপদ' সম্পাদনা ও প্রকাশ করেন।

- হরপ্রসাদের সারাজীবনের গবেষণায় রাজকৃষ্ণের ইতিহাসতত্ত্ব সম্পর্কিত গূঢ় চিন্তাভাবনা প্রভাব বিস্তার করেছে। রাজকৃষ্ণই হরপ্রসাদকে বঙ্কিমচন্দ্রের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন এবং তাঁর ছাত্র বয়সের গবেষণা নিবন্ধ ‘ভারত মহিলা’ ১২৮২ বঙ্গাব্দের বঙ্গদর্শন পত্রিকার মাঘ-ফাল্গুন-চৈত্র তিন সংখ্যায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়। বঙ্গদর্শন-এর ‘মজলিস’-এর কনিষ্ঠ সদস্য হরপ্রসাদ এরপরে এই পত্রিকার অন্যতম প্রধান লেখক হয়ে ওঠেন। উপন্যাস ও বিচিত্র বিষয়ে প্রবন্ধ মিলিয়ে তাঁর প্রায় ৩০টি রচনা বঙ্গদর্শন-এ প্রকাশিত হয় এবং বাংলা সাহিত্যে স্থায়ী প্রতিষ্ঠা পায়।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- কাঞ্চনমালা ও
- বেণের মেয়ে।

তাঁর রচিত অন্যান্য গ্রন্থ-
- হাজার বছরের পুরান বাঙ্গালা ভাষার বৌদ্ধগান ও দোহা,
- প্রাচীন বাংলার গৌরব,
- মেঘদূত ব্যাখ্যা,
- ভারত মহিলা,
- বাঙ্গালা ব্যাকরণ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩,০৩৬.
আবু জাফর শামসুদ্দীন রচিত ত্রয়ী উপন্যাস নয় কোনটি?
  1. ভাওয়ালগড়ের উপাখ্যান
  2. সংকর সংকীর্তন
  3. দেয়াল
  4. পদ্মা মেঘনা যমুনা
সঠিক উত্তর:
দেয়াল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দেয়াল
ব্যাখ্যা
⇒ আবু জাফর শামসুদ্দীন রচিত ত্রয়ী উপন্যাস হলো ভাওয়ালগড়ের উপাখ্যান, পদ্মা মেঘনা যমুনা, সংকর সংকীর্তন। তিনটি উপন্যাসের যোগসূত্র একটি পরিবার।

অন্যদিকে,
• দেয়াল (উপন্যাস):
আবু জাফর শামসুদ্দীন-এর ‘দেয়াল’ (১৯৮৬) উপন্যাসটির সূচনা ঘটেছে পঁচিশে মার্চের ভয়াল কালরাত্রির নারকীয় গণহত্যার বর্ণনা দিয়ে। সারা জীবন পাকিস্তানি আদর্শের ধ্বজাধারী আবদুল্লাহর স্ত্রী ও কিশোরী কন্যার বলাৎকারের মাধ্যমে সে যে মর্মান্তিক অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছিল তার উন্মোচন ও উদ্ভাসন হয়েছে এতে। 

================
⇒ আবু জাফর শামসুদ্দীন:
• আবু জাফর শামসুদ্দীন (১৯১১-১৯৮৮): সাংবাদিক, সাহিত্যিক। ‘অল্পদর্শী’ ছদ্মনামে দৈনিক সংবাদে ‘বৈহাসিকের পার্শ্বচিন্তা’ শীর্ষক সাপ্তাহিক কলাম লিখে তিনি বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।
• উপন্যাস রচনার মধ্য দিয়ে আবু জাফরের সাহিত্যিক জীবন শুরু হয়।
•  তাঁর প্রথম উপন্যাস ‘পরিত্যক্ত স্বামী’ প্রকাশিত হয় ১৯৪৭ সালে।

তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা হলো-
• উপন্যাস:
- ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান,
- পদ্মা মেঘনা যমুনা,
- সংকর সংকীর্তন,
- প্রপঞ্চ,
- পরিত্যক্ত স্বামী,
- দেয়াল।

• গল্পগ্রন্থ:
- জীবন,
- রাজেন ঠাকুরের তীর্থযাত্রা, 
- ল্যাংড়ী। 

• প্রবন্ধ:
- চিন্তার বিবর্তন ও পূর্ব পাকিস্তানী সাহিত্য,
- Sociology of Bengal Politics, 
- সোচ্চার উচ্চারণ,
- লোকায়ত সমাজ ও বাঙ্গালী সংস্কৃতি ইত্যাদি।

• তাঁর অনুবাদগ্রন্থ:
- শিল্পীর সাধনা ও
- পার্ল বাকের সেরা গল্প।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; লাইভ এমসিকিউ লেকচার; বাংলাপিডিয়া এবং যুগান্তর পত্রিকা রিপোর্ট।
৩,০৩৭.
'সেই দিন সেই মাঠ' কবিতাটি জীবনানন্দের কোন কাব্যগ্রন্থভুক্ত?
  1. ক) ঝরাপালক
  2. খ) বনলতা সেন
  3. গ) রূপসী বাংলা
  4. ঘ) মহাপৃথিবী
সঠিক উত্তর:
গ) রূপসী বাংলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) রূপসী বাংলা
ব্যাখ্যা
‘সেই দিন এই মাঠ' জীবনানন্দের ‘রূপসী বাংলা’ কাব্যগ্রন্থভুক্ত প্রথম কবিতা।

• ‘রূপসী বাংলা’ প্রকাশিত হয় কবির মৃত্যুর পর, ১৯৫৭ সালে । গ্রন্থটি উৎসর্গ করা হয় 'আবহমান বাংলা, বাঙালী'কে।

•স্বচ্ছ, সুন্দর, শান্ত ও স্নিগ্ধ রোম্যান্টিক কবিতার স্রষ্টা জীবনান্দ দাশ স্মরণীয় ও বরণীয়। তাঁর নিসর্গবিষয়ক কবিতা বিশ শতকের ষাটের দশকের বাঙালির জাতিসত্তা বিকাশের আন্দোলন ও ১৯৭১ - এর মুক্তিযুদ্ধে তীব্রভাবে এদেশের সংগ্রামী জনতাকে অনুপ্রণিত করেছে।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো:
- ঝরাপালক
- ধূসর পাণ্ডুলিপি
- বনলতা সেন
- মহাপৃথিবী
- তিমির
- সাতটি তারার মালা
- বেলা অবেলা কালবেলা
- রূপসী বাংলা

উৎস:  বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,০৩৮.
'প্রদীপ ও পতঙ্গ' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. ক) আল মাহমুদ
  2. খ) আবুল হাসান
  3. গ) আবু ইসহাক
  4. ঘ) আবুল ফজল
সঠিক উত্তর:
ঘ) আবুল ফজল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) আবুল ফজল
ব্যাখ্যা
প্রদীপ ও পতঙ্গ, চৌচির, রাঙা প্রভাত - উপন্যাস তিনটির রচয়িতা আবুল ফজল।
মাটির পৃথিবী, মৃতের আত্মহত্যা - তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ।
কায়েদে আজম, প্রগতি, স্বয়ম্বরা ইত্যাদি তাঁর রচিত নাটক।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৩,০৩৯.
'সারেং বৌ' উপন্যাসের রচয়িতা কে? 
  1. সেলিনা হোসেন
  2. সৈয়দ মুজতবা আলী
  3. শহীদ কাদরী 
  4. শহীদুল্লা কায়সার
সঠিক উত্তর:
শহীদুল্লা কায়সার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শহীদুল্লা কায়সার
ব্যাখ্যা

'সারেং বৌ'- উপন্যাসের রচয়িতা- শহীদুল্লা কায়সার।
-------------------------------------
• শহীদুল্লা কায়সার:
- শহীদুল্লা কায়সার একজন কথাসাহিত্যিক, সাংবাদিক ও লেখক।
- তিনি ১৯২৭ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ফেনী জেলার মজুপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম ছিল আবু নাঈম মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ।
- ১৯৪৯ সালে ঢাকার সাপ্তাহিক ‘ইত্তেফাক’ পত্রিকায় তাঁর সাংবাদিক জীবন শুরু হয়।
- তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬২) এবং আদমজী সাহিত্য পুরস্কার (১৯৬২) লাভ করেন।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে:
- ‘সারেং বৌ’,
- ‘সংশপ্তক’,
- ‘কৃষ্ণচূড়া মেঘ’,
- ‘তিমির বলয়’,
- ‘দিগন্তে ফুলের আগুন’,
- ‘সমুদ্র ও তৃষ্ণা’,
- ‘চন্দ্রভানের কন্যা’,
- ‘কবে পোহাবে বিভাবরী’ (এবং অসমাপ্ত রচনা)।
------------------------------------------
• 'সারেং বৌ’ সম্পর্কিত তথ্য:
- 'সারেং বৌ’ শহীদুল্লা কায়সারের একটি বিখ্যাত উপন্যাস
- এটি বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের সাধারণ মানুষের জীবন তুলে ধরে।
- গল্পের মূল চরিত্র- সারেং কদম এবং তার স্ত্রী নবিতুন।
- উপন্যাসে তাদের প্রেম, বিচ্ছেদ, দুঃখ-কষ্ট এবং প্রতিকূল পরিস্থিতির মোকাবেলার গল্প বলা হয়েছে।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া।

৩,০৪০.
'মুসলিম সাহিত্য-সমাজ' এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন কে?
  1. আবুল হাসান
  2. আবদুল মান্নান সৈয়দ
  3. এ. এফ. এম আবদুল হক
  4. বর্ণিত সবাই
সঠিক উত্তর:
এ. এফ. এম আবদুল হক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এ. এফ. এম আবদুল হক
ব্যাখ্যা
• 'মুসলিম সাহিত্য-সমাজ' এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন - এ. এফ. এম আবদুল হক

মুসলিম সাহিত্য-সমাজ:
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুসলিম হল ইউনিয়ন কক্ষে বাংলা ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌র সভাপতিত্বে ১৯২৬ সালের ১৯ জানুয়ারি 'মুসলিম সাহিত্য-সমাজ' প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৩৮ সাল পর্যন্ত এর কার্যক্রম চলে।
- প্রতিষ্ঠানের সাথে সংশ্লিষ্ট ছিলেন - আবুল হুসেন, এ. এফ. এম আবদুল হক, মোতাহের হোসেন চৌধুরী, কাজী আবদুল ওদুদ, কাজী মোতাহার হোসেন, আবদুল কাদির, আবুল ফজল, কাজী আনোয়ারুল কাদির প্রমুখ।

- মুসলিম সাহিত্য-সমাজের মূলমন্ত্র ছিল 'বুদ্ধির মুক্তি'।
- বুদ্ধির মুক্তি বলতে তাঁরা বুঝাতেন অন্ধ সংস্কার ও শাস্ত্রানুগত্য থেকে মানুষের বিচারবুদ্ধিকে মুক্তি দান। সংগঠনটি যে নবজাগরণের আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে সমাজকর্ম ও সাহিত্যচর্চায় ব্রতী হয়, তার মূলে ছিল তুর্কি জাতি প্রতিষ্ঠায় মুস্তফা কামাল পাশার উদ্যম, ভারতের নবজাগরণে বিভিন্ন মণিষীর প্রয়াস এবং মানবতার উদ্বোধনে সর্বকালের চিন্তাচেতনার সংযোগ।

- জ্ঞানের শিখা জ্বালাবার জন্য সংগঠনটি ১৯২৭ সালে 'শিখা' নামে একটি বার্ষিক মুখপত্র প্রকাশ করে।
- শিখার মোট পাঁচটি সংখ্যা প্রকাশিত হয়েছিল।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি ও বাণিজ্য বিভাগের অধ্যাপক আবুল হুসেন ছিলেন 'শিখা' পত্রিকার প্রথম সংখ্যার সম্পাদক।
- দ্বিতীয় ও তৃতীয় সংখ্যা কাজী মোতাহার হোসেন, চতুর্থ সংখ্যা মোহাম্মদ আবদুর রশিদ এবং পঞ্চম সংখ্যা আবুল ফজল সম্পাদনা করেন।
- শিখার মুখবাণী ছিল -‘জ্ঞান যেখানে সীমাবদ্ধ, বুদ্ধি সেখানে আড়ষ্ট, মুক্তি সেখানে অসম্ভব’।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৩,০৪১.
চাকমা অঞ্চলের নর নারীর জীবন কাহিনী তুলে ধরা হয়েছে কোন উপন্যাসে?
  1. কাশবনের কন্যা
  2. উত্তর পুরুষ
  3. পোকা মাকরের ঘর বসতি
  4. কর্ণফুলি
সঠিক উত্তর:
কর্ণফুলি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্ণফুলি
ব্যাখ্যা

কর্ণফুলি উপন্যাসটি আলাউদ্দিন আল আজাদের শ্রেষ্ঠ উপন্যাস। এটি অঞ্চলভিত্তিক জীবনের রূপায়নভিত্তিক উপন্যাস। এ উপন্যাসে চাকমা অঞ্চলের নর নারীর জীবন কাহিনী তুলে ধরা হয়েছে। চাকমা অঞ্চলের ভাষাও এতে ব্যবহৃত হয়েছে।
উপন্যাসের প্রধান চরিত্র হল- আদিবাসী রাঙ্গামিলা, জলি, রমজান, ইসমাইল।
- এই উপন্যাসের জন্য তিনি ইউনেস্কো পুরস্কার পান।

 তাঁর উপন্যাস সমূহ:
- তেইশ নম্বর তৈলচিত্র (১৯৬০)
- শীতের শেষরাত বসন্তের প্রথম দিন (১৯৬২)
- কর্ণফুলী (১৯৬২)
- ক্ষুধা ও আশা (১৯৬৪)
- খসড়া কাগজ (১৯৮৬)- শ্যাম ছায়ার সংবাদ (১৯৮৬)
- জ্যোৎস্নার অজানা জীবন (১৯৮৬)
- যেখানে দাঁড়িয়ে আছি (১৯৮৬)
- স্বাগতম ভালোবাসা (১৯৯০)
- অপর যোদ্ধারা (১৯৯২)
- পুরানা পল্টন (১৯৯২)
- অন্তরীক্ষে বৃক্ষরাজি (১৯৯২)
- প্রিয় প্রিন্স (১৯৯৫)
- ক্যাম্পাস (১৯৯৪)
- অনূদিত অন্ধকার (১৯৯১)
- স্বপ্নশীলা (১৯৯২)
- কালো জ্যোৎস্নায় চন্দ্রমল্লিকা (১৯৯৬)
- বিশৃঙ্খলা 

উৎস: বাংলাপিডিয়া; উচ্চ মাধ্যমিক সাহিত্যপাঠ (২০২০-২১ সংস্করণ)।

৩,০৪২.
কোন পত্রিকায় লেখার মাধ্যমে শরৎচন্দ্রের খ্যাতি চারদিকে ছড়িয়ে পরে?
  1. ক) ভারতী
  2. খ) মুখ ও মুখোশ
  3. গ) প্রথম আলো
  4. ঘ) প্রগতি
সঠিক উত্তর:
ক) ভারতী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ভারতী
ব্যাখ্যা
ভারতী পত্রিকায় বড়দিদি উপন্যাস লেখার মাধ্যমে শরৎচন্দ্রের সাহিত্যের খ্যাতি চারদিকে ছড়িয়ে পরে।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
৩,০৪৩.
'নামহীন গোত্রহীন' হাসান আজিজুল হক রচিত-
  1. উপন্যাস
  2. গল্পগ্রন্থ
  3. নাটক
  4. প্রবন্ধগ্রন্থ
সঠিক উত্তর:
গল্পগ্রন্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গল্পগ্রন্থ
ব্যাখ্যা
• হাসান আজিজুল হক:
- হাসান আজিজুল হক ১৯৩৯ সালে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- হাসান আজিজুল হক মূলত কথাসাহিত্যিক হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- আগুনপাখি,
- সাবিত্রী উপাখ্যান,
- শিউলি,
- বৃত্তায়ন।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- আমরা অপেক্ষা করেছি
- আত্মজা ও একটি করবী গাছ,
- নামহীন গোত্রহীন,
- পাতালে হাসপাতালে,
- সমুদ্রের স্বপ্ন,
- শীতের অরণ্য,
- জীবন ঘষে আগুন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,০৪৪.
শান্তিপুর মাসিক সাহিত্য পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক ছিলেন-
  1. বদরুদ্দীন ওমর
  2. মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক
  3. বিজন ভট্টাচার্য
  4. মীর মশাররফ হোসেন
সঠিক উত্তর:
মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক
ব্যাখ্যা
• মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক:
• মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক ছিলেন একজন কবি ও সাংবাদিক। পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার শান্তিপুরের বাউইগাছি গ্রামে তাঁর জন্ম। 

• মোজাম্মেল হক কলকাতা থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক সময় পত্রিকায় প্রথম সাংবাদিকতার কাজ শুরু করেন; পরে শান্তিপুর রামনগর ভার্নাকুলার স্কুলে দ্বিতীয় শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। এর এক বছর পর ১৮৮৭ সালে তিনি শান্তিপুর জুনিয়র জুবলি মাদ্রাসার শিক্ষক নিযুক্ত হন। তামাচিকা বঙ্গ বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবেও তিনি চাকরি করেন।

• মোজাম্মেল হক 'লহরী' (১৮৯৯), মোসলেম ভারত (১৯২০) ও শান্তিপুর মাসিক সাহিত্য পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক ছিলেন। চল্লিশ বছর যাবৎ তিনি শান্তিপুর মিউনিসিপ্যালিটির কমিশনার ও কিছুকাল ভাইস-চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া তিনি ত্রিশ বছর নদীয়া জেলা বোর্ডের শিক্ষা কমিটির সদস্য, বিশ বছর অবৈতনিক ম্যাজিস্ট্রেট ও কিছুকাল বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য সমিতির (১৯১১) সহসভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৩,০৪৫.
শহীদ কাদরীর সর্বশেষ প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. আমার চুম্বনগুলো পৌঁছে দাও
  2. কোথাও কোনো ক্রন্দন নেই
  3. গোধূলির গান
  4. তোমাকে অভিবাদন প্রিয়তমা
সঠিক উত্তর:
গোধূলির গান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গোধূলির গান
ব্যাখ্যা

শহীদ কাদরীর সর্বশেষ প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ- 'গোধূলির গান'। 
------------------------------------- 
• শহীদ কাদরী:
- শহীদ কাদরী ছিলেন বাংলাদেশের একজন প্রখ্যাত কবি ও লেখক।
- কবি শহীদ কাদরী ১৯৪২ সালের ১৪ আগস্ট কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ১৯৪৭-পরবর্তী বাংলা কবিতায় নাগরিক জীবন ও আধুনিকতার নতুন রূপ প্রবর্তন করেন
- শহীদ কাদরী তার সাহিত্যকর্মের জন্য বাংলা একাডেমি পুরস্কার এবং একুশে পদক লাভ করেছেন।
- তিনি ২০১৬ সালের ২৮ আগস্ট ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর প্রধান কাব্যগ্রন্থগুলো হলো:
- উত্তরাধিকার;
- তোমাকে অভিবাদন প্রিয়তমা;
- কোথাও কোনো ক্রন্দন নেই।
- আমার চুম্বনগুলো পৌঁছে দাও। 

তাঁর শেষ কাব্যগ্রন্থ ‘গোধূলির গান’ তাঁর মৃত্যুর পর ২০১৭ সালে প্রকাশিত হয়।
- এই গ্রন্থটি তাঁর প্রয়াণের পর পাণ্ডুলিপি থেকে প্রকাশ করা হয়।  

উৎস: 
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
প্রথম আলো পত্রিকা। 

৩,০৪৬.
’নবান্ন’ নাটকের রচয়িতা কে?
  1. মামুনুর রশীদ 
  2. বিজন ভট্টাচার্য
  3. মীর মশাররফ হোসেন
  4. মুনীর চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
বিজন ভট্টাচার্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিজন ভট্টাচার্য
ব্যাখ্যা

• বিজন ভট্টাচার্য:
- তিনি ছিলেন নাট্যকার, অভিনেতা।
- ফরিদপুর জেলার খানখানাপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা ক্ষীরোদবিহারী ভট্টাচার্য ছিলেন একজন স্কুলশিক্ষক। 
- তিনি ছিলেন নবনাট্য আন্দোলনের পথিকৎ।
 - তিনিই প্রথম বাংলা রঙ্গমঞ্চকে  পুরাণ ও ইতিহাসের রোম্যান্টিক প্রভাব থেকে মুক্ত করেন।
- তাঁর প্রথম নাটক আগুন (১৯৪৩) নাট্যভারতীতে অভিনীত হয়।
- তাঁর রচিত নাটকের উপজীব্য: সমাজের নিচের তলার মানুষের জীবনচিত্র।
- তিনি নাট্য রচনায় মার্কসবাদকে প্রাধান্য দেন।

• তাঁর রচিত অন্য নাটক:
- নবান্ন,
- জনপদ,
- কলঙ্ক,
- মরাচাঁদ,
- অবরোধ,
- গোত্রান্তর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৩,০৪৭.
'আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি আমি কি ভুলিতে পারি।' এ গানের প্রথম সুরকার কে?
  1. আবদুল গাফফার চৌধুরী
  2. আসাদ চৌধুরী
  3. আলতাফ মাহমুদ
  4. আবদুল লতিফ
সঠিক উত্তর:
আবদুল লতিফ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবদুল লতিফ
ব্যাখ্যা
• আবদুল গাফফার চৌধুরীর অমর-কর্ম হচ্ছে ভাষা আন্দোলনের শহিদের স্মরণে রচিত (একুশের গান) শিরোনামের  গান: আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো /একুশে ফেব্রুয়ারী/ আমি কি ভুলিতে পারি।
• হাসান হাফিজুর রহমান সম্পাদিত ‘একুশে ফেব্রুয়ারী’ (১৯৫৩) সংকলন গ্রন্থে গানটি প্রথম প্রকাশিত হয়।
• গানটির প্রথম সুরকার আবদুল লতিফ। সেই সুর পরিবর্তন করে আলতাফ মাহমুদ পরে এর সুরারোপ করেন। সেটি এখন বলবৎ আছে।
• ‘রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’ বলতে বোঝানো হয়েছে- যে একুশে ফেব্রুয়ারিতে বহু মানুষের রক্ত ঝরেছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞেসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,০৪৮.
‘যে তুমি হরণ করো’ কাব্যগ্রন্থটি কার রচনা?
  1. ক) আবুল হাসান
  2. খ) আবুল হুসেন
  3. গ) আল মাহমুদ
  4. ঘ) আহমদ ছফা
সঠিক উত্তর:
ক) আবুল হাসান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) আবুল হাসান
ব্যাখ্যা
- আবুল হাসানের প্রকৃত নাম আবুল হোসেন মিয়া
- আবুল হাসান তাঁর সাহিত্যিক নাম।
- তিনি একজন সৃষ্টিশীল কবি হিসেবে খ্যাত।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- যে তুমি হরণ করাে (১৯৭৪),
- রাজা যায় রাজা আসে (১৯৭২),
- পৃথক পালঙ্ক (১৯৭৫)।
- তার মৃত্যুর পরে প্রকাশিত কাব্যনাট্য 'ওরা কয়েকজন' (১৯৮৮);
- গল্প সংকলন: আবুল হাসান গল্প সংগ্রহ (১৯৯০)।


উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,০৪৯.
'বাঙ্গালীর ইতিহাস' গ্রন্থটির লেখক কে?
  1. অধ্যাপক আবুল কাশেম
  2. নীহাররঞ্জন রায়
  3. নীরদচন্দ্র চৌধুরী
  4. আহমদ ছফা
সঠিক উত্তর:
নীহাররঞ্জন রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নীহাররঞ্জন রায়
ব্যাখ্যা
• নীহাররঞ্জন রায় 'বাঙ্গালীর ইতিহাস' গ্রন্থটি লিখেছেন। 

• নীহাররঞ্জন রায়: 
- নীহাররঞ্জন রায়, ভারতের শেষ বহুশাস্ত্রজ্ঞদের মধ্যে অন্যতম একজন।
- মানব অভিজ্ঞতার রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক দিকগুলির মধ্যে সমন্বয় সাধনে নীহাররঞ্জন রায় এর প্রয়াস পরিণতি লাভ করেছে তাঁর প্রধান সাহিত্যকর্ম বাঙ্গালীর ইতিহাস গ্রন্থে।
-------------------------------- 
• ‘বাঙ্গালীর ইতিহাস’ গ্রন্থ: 
- তাঁর প্রধান সাহিত্যকর্ম ‘বাঙ্গালীর ইতিহাস’ গ্রন্থ।
- এই ক্লাসিক সৃষ্টি রাজনৈতিক পরিভাষায় ইতিহাস বিশ্লেষণ থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক পরিবর্তনের সূচনা ঘটায় এবং তা সাধারণ মানুষকে ইতিহাসবিদদের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু করে তোলে।
- গ্রন্থটির সাহিত্যমূল্যের ক্ষেত্রেও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়।
- ‘ভারত ছাড়’ আন্দোলনকালে ১৯৪২ সালে তিনি কারাবন্দি হন এবং জেলখানায়ই ‘বাঙ্গালীর ইতিহাস’ রচনার কাজ শুরু করেন।
- বার্মাতেই তাঁর মনে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর অবিচ্ছিন্নতার ধারণা দৃঢ়বদ্ধ হয়, যা পূর্ণ পরিণতি লাভ করে ১৯৪৯ সালে প্রকাশিত তাঁর বাঙ্গালীর ইতিহাস গ্রন্থে।

তাঁর রচিত গ্রন্থ:
- Maurya and Sunga Art, 
- বাঙ্গালীর ইতিহাস, 
- Nationalism in India, 
- Idea and Image of Indian Art.

তাঁর অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ রচনা হচ্ছে:
- Mughal Court Painting,
- The Sikh Gurus and the Sikh Society,
- Dutch Activities in the East (সম্পাদিত, ১৯৪৬),
- An Approach to Indian Art,

উৎস: বাংলাপিডিয়া
৩,০৫০.
বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত (আধুনিক যুগ) গ্রন্থটি কার রচনা?
  1. মুহম্মদ এনামুল হক
  2. মুহম্মদ আবদুল হাই
  3. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্
  4. সুনিতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
মুহম্মদ আবদুল হাই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুহম্মদ আবদুল হাই
ব্যাখ্যা
• বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত (আধুনিক যুগ) যৌথভাবে লিখেছেন মুহম্মদ আবদুল হাই ও সৈয়দ আলী আহসান।

উল্লেখ্য, 
- অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ও একই নামে একটি বিখ্যাত গ্রন্থ লিখেছেন।

------------------
• মুহম্মদ আবদুল হাই:
- মুহম্মদ আবদুল হাই একজন শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক, গবেষক, ভাষাবিজ্ঞানী।
-তিনি ২৬ নভেম্বর ১৯১৯ সালে মুর্শিদাবাদের রাণীনগর থানার মরিচা গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- তাঁর রচিত গ্রন্থ ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব (১৯৬৪)।

• মুহম্মদ আবদুল হাই রচিত গ্রন্থ:
- সাহিত্য ও সংস্কৃতি,
- তোষামোদ ও রাজনীতির ভাষা,
- ভাষা ও সাহিত্য,
- ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব,
- বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত প্রভৃতি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,০৫১.
বীরভূমের 'কাহার' সম্প্রদায় নিয়ে লেখা উপন্যাস কোনটি?
  1. অভিযান
  2. কবি
  3. হাসুলীবাঁকের উপকথা
  4. কালিন্দী
সঠিক উত্তর:
হাসুলীবাঁকের উপকথা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাসুলীবাঁকের উপকথা
ব্যাখ্যা
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় বিংশ শতাব্দীর একজন বিশিষ্ট বাঙালি কথাসাহিত্যিক ছিলেন। তিনি পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার লাভপুর গ্রামের এক জমিদার পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।

তার রচিত বিখ্যাত উপন্যাস:
- ধাত্রীদেবতা,
- কালিন্দী,
- গণদেবতা,
- পঞ্চগ্রাম,
- কবি,
- হাঁসুলী বাঁকের উপকথা,
- সপ্তপদী,
- আরোগ্য নিকেতন,
- চাপাডাঙ্গার বউ,
- একটি কালো মেয়ের কথা (সর্বশেষ উপন্যাস)।

- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত 'হাসুলীবাঁকের উপকথা' উপন্যাসে বীরভূমের কাহার সম্প্রদায়ের জীবন, তাদের সংস্কৃতি, ধর্মবিশ্বাস, আচার-আচরণ তুলে ধরা হয়েছে।
- 'কবি' উপন্যাসে ডোম সম্প্রদায়ের এক ছেলের কবি হয়ে যাওয়া চিত্রিত করা হয়েছে।
- 'অভিযান' উপন্যাসে ট্যাকসি ড্রাইভারদের জীবন আর কালিন্দী উপন্যাসে জমিদার বাড়ির কাহিনি বিধৃত হয়েছে।

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং সাহিত্য সাময়িকী।
৩,০৫২.
’বাংলা সনেট’ রচনাবলি সম্পাদনা করেন কে?
  1. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  2. আবুল ফজল
  3. আবদুল কাদির
  4. আবুল মনসুর
সঠিক উত্তর:
আবদুল কাদির
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবদুল কাদির
ব্যাখ্যা
’বাংলা সনেট’ রচনাবলি সম্পাদনা করেন- আবদুল কাদির।

• আবদুল কাদির:
- তিনি ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক, ছন্দসিক, সম্পাদক।
- ১৯০৬ সালের ১ জুন  কুমিল্লা জেলার আড়াইসিধা গ্রামে তাঁর জন্ম। 
- মুসলিম সাহিত্য সমাজের (১৯২৬) মাধ্যমে ঢাকায় যে বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন সংঘটিত হয়, আবদুল কাদির ছিলেন তার অন্যতম উদ্যোক্তা।
- সংগঠনের মুখপত্র বার্ষিক শিখা (১৯২৭) পত্রিকার তিনি প্রকাশক ও লেখক ছিলেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য কবিতা:
- দিলরুবা (১৯৩৩),
- উত্তর বসন্ত (১৯৬৭),

• প্রবন্ধগ্রন্থ:
- কবি নজরুল (১৯৭০),
- ছন্দসমীক্ষণ (১৯৭৯),
- কাজী আবদুল ওদুদ (১৯৭৬),
- বাংলা ছন্দের ইতিবৃত্ত (১৯৮৫),
- যুগকবি নজরুল (১৯৮৬) ইত্যাদি।

• আবদুল কাদির বেশসংখ্যক রচনাবলি সম্পাদনার কৃতিত্ব অর্জন করেন,
যেমন:
- কাব্যমালঞ্চ (যুগ্মভাবে, ১৯৪৫),
- এয়াকুব আলী চৌধুরী রচনাবলী ,
- নজরুল রচনাবলী (৫ খণ্ড, ১৯৬৬-১৯৮৪),
- শিরাজী রচনাবলী ,
- কাজী ইমদাদুল হক রচনাবলী ,
- আবুল হুসেন রচনাবলী,
- লুৎফর রহমান রচনাবলী,
- রোকেয়া রচনাবলী,
- বাংলা সনেট (১৯৭৪) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,০৫৩.
শহীদুল্লা কায়সার রচিত 'সারেং বৌ' গ্রন্থটির মূল উপজীব্য বিষয় কী?
  1. দরিদ্র গ্রামীণ জীবন
  2. নৌকা ভ্রমণ
  3. সমুদ্র উপকূলের নাবিকদের জীবন কাহিনী
  4. অফিস জীবন
সঠিক উত্তর:
সমুদ্র উপকূলের নাবিকদের জীবন কাহিনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমুদ্র উপকূলের নাবিকদের জীবন কাহিনী
ব্যাখ্যা
'সারেং বৌ' উপন্যাস:
- শহীদুল্লা কায়সার রচিত বিখ্যাত উপন্যাস 'সারেং বৌ' (১৯৬২)।
- বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জীবন সংগ্রামের কথা বর্ণিত হয়েছে এই উপন্যাসে
- উপন্যাসের প্রধার চরিত্র: কদম সারেং এবং তাঁর স্ত্রী নবিতুন।

শহীদুল্লাহ কায়সার:
- ১৯২৭ সালের ১৬ই ফেব্রুয়ারি ফেনিতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পুরো নাম ছিল আবু নঈম মহাম্মদ শহীদুল্লাহ। তিনি ও জহির রায়হান উভয় সহোদর।
- 'পেশোয়ার থেকে তাসখন্দ' তাঁর ভ্রমণবৃত্তান্তমূলক গ্রন্থ। শহীদুল্লাহ কায়সার রচিত স্মৃতিকথামূলক গ্রন্থ রাজবন্দীর রোজনমাচা।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- সারেং বৌ
- সংশপ্তক
- কৃষ্ণচূড়া মেঘ
- তিমির বলয়
- দিগন্তে ফুলের আগুন
- সমুদ্র ও তৃষ্ণা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,০৫৪.
নিচের কোনটি আবু ইসহাক রচিত নাটক-
  1. ক) স্মৃতিবিচিত্রা
  2. খ) মহাপাত্র
  3. গ) জাল
  4. ঘ) জয়ধ্বনি
সঠিক উত্তর:
ঘ) জয়ধ্বনি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) জয়ধ্বনি
ব্যাখ্যা
- আবু ইসহাক রচিত নাটক হচ্ছে- জয়ধ্বনি।  

আবু ইসহাক:
- তাঁর জন্ম শরিয়তপুর জেলার শিরঙ্গল গ্রামে, ১৯২৬ সালের ১ নভেম্বর। 
- কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত নবযুগ পত্রিকায় আবু ইসহাকের ‘অভিশাপ’ নামে একটি গল্প প্রকাশিত হয়।
- বিশ্বযুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, দেশবিভাগ প্রভৃতি পরপর চারটি বড় ঐতিহাসিক ঘটনার পটভূমিতে তিনি রচনা করেন সূর্য দীঘল বাড়ী। 

- তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম: 
উপন্যাস:
- সূর্য দীঘল বাড়ী
- পদ্মার পলিদ্বীপ
- জাল 
 গল্পগ্রন্থ:
- দুটিতহারেম ও
- মহাপাত্র। 
নাটক:
- জয়ধ্বনি। 
স্মৃতিচারণমূলক রচনা:
- স্মৃতিবিচিত্রা। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 
৩,০৫৫.
‘গৌড়ীয় ব্যাকরণ’ কবে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৮৩৩ সালে
  2. ১৮২৬ সালে
  3. ১৮১৮ সালে
  4. ১৮১৯ সালে
সঠিক উত্তর:
১৮৩৩ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮৩৩ সালে
ব্যাখ্যা
গৌড়ীয় ব্যাকরণ:
- ‘গৌড়ীয় ব্যাকরণ’ বাঙালি রচিত প্রথম বাংলা ব্যাকরণ।
- এটি রাজা রামমোহন রায় কর্তৃক বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম ব্যাকরণ, গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৮৩৩ খ্রিষ্টাব্দে। এটি তাঁর সর্বশেষ গ্রন্থ।
- এর আগে তিনি ইংরেজিতে Bengali Grammar in the English Language নামের একটি ব্যাকরণ গ্রন্থ রচনা করেন।
- সর্বমোট বারোটি অধ্যায়ে এটি বিন্যস্ত। প্রথম অধ্যায়ে ধ্বনি, বর্ণ, উচ্চারণ, শব্দ, অক্ষর প্রভৃতি সম্পর্কে দৃষ্টান্তসহ আলোচনা করা হয়েছে।
- গ্রন্থে বাংলা ভাষার স্বকীয় উচ্চারণ-পদ্ধতি সম্পর্কে রামমোহন কিছু মৌলিক বক্তব্য উপস্থাপন করেছেন।
- পরবর্তী অধ্যায়গুলিতে ব্যাখ্যা করা হয়েছে বাংলা ভাষার লিঙ্গ, প্রত্যয়, পদান্বয়, বাক্যরীতি, ছন্দ ইত্যাদি।
- মোটামুটিভাবে গৌড়ীয় ব্যাকরণে রয়েছে বাংলা ভাষার ধ্বনি ও রূপগত বৈশিষ্ট্যের বৈয়াকরণিক বিশ্লেষণ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৩,০৫৬.
‘রসকলি' - গল্প রচনা করেন কে?
  1. হাসান হাফিজুর রহমান
  2. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. হুমায়ুন আজাদ
  4. হাসান আজিজুল হক
সঠিক উত্তর:
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়:
- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়, একজন কথাসাহিত্যিক, রাজনীতিবিদ।
- তিনি ১৮৯৮ সালে পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলায় এক জমিদারবংশে জন্ম গ্রহণ করেন।
- তারাশঙ্করের প্রথম গল্প ‘রসকলি’ সেকালের বিখ্যাত পত্রিকা কল্লোল-এ প্রকাশিত হয়।
- তারাশঙ্করের ত্রয়ী উপন্যাস- ধাত্রীদেবতা, গণদেবতা, পঞ্চগ্রাম। 

তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস: 
- চৈতালি ঘূর্ণি, 
- ধাত্রীদেবতা, 
- কালিন্দী, 
- জলসাঘর, 
- কবি, 
- হাঁসুলি বাঁকের উপকথা, 
- গণদেবতা, 
- আরগ্য, 
- নিকেতন, 
- পঞ্চপুণ্ডলী, 
- রাধা ইত্যাদি। 

তাঁর প্রসিদ্ধ  ছোটগল্প:
- রসকলি, 
- বেদেনী, 
- ডাকহরকরা।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩,০৫৭.
'কেরি সাহেবের মুন্সী' উপন্যাসের লেখক কে?
  1. রামরাম বসু
  2. প্রমথনাথ বিশী
  3. রাজশেখর বসু
  4. অন্নদাশঙ্কর রায়
সঠিক উত্তর:
প্রমথনাথ বিশী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রমথনাথ বিশী
ব্যাখ্যা
• 'কেরী সাহেবের মুন্সী'- উপন্যাসটির রচয়িতা 'প্রমথনাথ বিশী'।
- প্রকাশিত হয় ১৯৪৫ সালে।
- ১৭৯৩ থেকে ১৮১৩ সালের ইতিহাস এর কাঠামো।
- গ্রন্থটির মূল প্রেক্ষাপট হলো উইলিয়ম কেরি ও রামরাম বসুর পারস্পরিক সম্পর্ক এবং অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষভাগের কলকাতা শহরের ইতিহাস ও ইংরেজ-বাঙালি সম্পর্কের জটিল সাংস্কৃতিক সম্পর্ক।
--------------------- 
প্রমথনাথ বিশী: 
- ১৯০১ সালের ১১ জুন নাটোরের জোয়াড়ি গ্রামে জমিদার পরিবারে তাঁর জন্ম।
- প্রমথনাথ ১৯১০ সালে শান্তিনিকেতনের ব্রহ্মবিদ্যালয়ে শিক্ষাজীবন শুরু করেন।
- ১৯৫০ সালে প্রমথনাথ কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগে যোগদান করেন।
- কেরী সাহেবের মুন্সী ও লালকেল্লা তাঁর দুটি শ্রেষ্ঠ উপন্যাস।
- ১৯৮৫ সালের ১০ মে কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত উপন্যাস ও গল্পের মধ্যে উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ হলো:
- জোড়াদিঘির চৌধুরী পরিবার, 
- কেশবতী,
- গল্পের মতো গল্প,
- ডাকিনী,
- ব্রহ্মার হাসি,
- সিন্ধুদেশের প্রহরী,
- চলন বিল,
- অলৌকিক,
- কেরী সাহেবের মুন্সী।

উল্লেখ্য,
রামরাম বসু ‘কেরী সাহেবের মুন্সি’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। কারণ রামরাম বসু উইলিয়াম কেরীকে বাংলা ভাষা শেখান। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,০৫৮.
'সমুদ্র বাসর' উপন্যাসটির রচয়িতা কে?
  1. অদ্বৈত মল্লবর্মণ
  2. শামসুদ্‌দীন আবুল কালাম
  3. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
শামসুদ্‌দীন আবুল কালাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শামসুদ্‌দীন আবুল কালাম
ব্যাখ্যা
শামসুদ্‌দীন আবুল কালাম এর প্রকৃত নাম আবুল কালাম শামসুদ্দীন।
তার রচিত কয়েকটি উপন্যাসঃ
- আলমগড়ের উপকথা,
- কাশবনের কন্যা,
- কাঞ্চনমালা,
- জায়জঙ্গল,
- সমুদ্র বাসর,
- কাঞ্চনগ্রাম।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
৩,০৫৯.
বাঙালি মুসলমান কবিদের মধ্যে প্রথম সনেট ও মহাকাব্য রচয়িতার নাম -
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. আহসান হাবীব
  3. কায়কোবাদ
  4. ফররুখ আহমদ
সঠিক উত্তর:
কায়কোবাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কায়কোবাদ
ব্যাখ্যা
• কায়কোবাদ:
- ১৮৫৭ সালে ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার আগলা পূর্বপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম কাজেম আল কোরেশী।
- ‘কায়কোবাদ’ তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম।
- বাঙালি মুসলমান কবিদের মধ্যে প্রথম সনেট ও মহাকাব্য রচয়িতা কায়কোবাদ।
- মাত্র তেরো বছর বয়সে তাঁর প্রথম কাব্য 'বিরহবিলাপ' প্রকাশিত হয়।
 
• তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ: 
- অশ্রুমালা (গীতিকাব্য),
- মহাশ্মশান (মহাকাব্য),
- শিবমন্দির,
- অমিয়ধারা,
- শ্মশান-ভস্ম,
- মহরম শরীফ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,০৬০.
'তোমার জন্য অন্ত্যর্মিল' কাব্যের কবি -
  1. হুমায়ুন আজাদ
  2. বুদ্ধদেব বসু
  3. মহাদেব সাহা
  4. সৈয়দ শামসুল হক
সঠিক উত্তর:
মহাদেব সাহা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মহাদেব সাহা
ব্যাখ্যা
মহাদেব সাহার রচিত কাব্য, 'তোমার জন্য অন্ত্যর্মিল'। ১৯৯৬ সালে প্রকাশিত হয়।
তাঁর অন্যান্য কাব্য হলো :
-এই গৃহ এই সন্ন্যাস
- মানব এসেছি কাছে
- কী সুন্দর অন্ধ
- ফুল কই শুধুই অস্ত্রের উল্লাস
- আমি ছিন্নভিন্ন
- ভুলি নাই তোমাকে রুমাল
- অন্তহীন নৃত্যের মহড়া।

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,০৬১.
'নামহীন গোত্রহীন' গ্রন্থ কে রচনা করেছেন? 
  1. সৈয়দ শামসুল হক
  2. হাসান আজিজুল হক
  3. শওকত ওসমান
  4. শওকত আলী
সঠিক উত্তর:
হাসান আজিজুল হক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাসান আজিজুল হক
ব্যাখ্যা

" নামহীন গোত্রহীন" হাসান আজিজুল হক রচিত গল্পগ্রন্থ।

• হাসান আজিজুল হক:

- তিনি মূলত কথাসাহিত্যিক হিসেবে পরিচিত।
- তিনি ১৯৩৯ সালের ২রা ফেব্রুয়ারি, যবগ্রাম, বর্ধমান, পশ্চিমবঙ্গে জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৯৬০ সাল থেকে লেখক হিসেবে নিজেকে তৈরি করার সিদ্ধান্ত নিয়ে সক্রিয় সাহিত্যচর্চার আরম্ভ। 
- রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শনশাস্ত্র বিভাগে অধ্যাপনা শেষে তিনি অবসর নিয়েছেন। 
- তিনি আদমজি সাহিত্য পুরস্কার, বাংলা একাডেমি পুরস্কার, আলাওল পুরস্কার, অগ্রণী পুরস্কার, আনন্দ পুরস্কার লাভ করেন।
- তাঁর গল্প ইংরেজি, হিন্দি, উর্দু, রুশ ও চেক ভাষায় অনূদিত হয়েছে।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- সমুদ্রের স্বপ্ন,
- সমুদ্রের স্বপ্ন শীতের অরণ্য,
- আত্মজা ও একটি করবী গাছ,
- জীবন ঘষে আগুন,
- নামহীন গোত্রহীন,
- পাতালে হাসপাতালে,
- আমরা অপেক্ষা করছি,
- রোদে যাবো,
- মা-মেয়ের সংসার,
- নির্বাচিত গল্প,
- রাঢ়বঙ্গের গল্প।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩,০৬২.
কোনটি শামসুদ্দীন আবুল কালাম উপন্যাস?
  1. অনেক দিনের আশা
  2. জলাঙ্গী
  3. সংশপ্তক
  4. কাশবনের কন্যা
সঠিক উত্তর:
কাশবনের কন্যা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাশবনের কন্যা
ব্যাখ্যা
• 'কাশবনের কন্যা' উপন্যাস:
- 'কাশবনের কন্যা' শামসুদ্দীন আবুল কালাম সবচেয়ে বিখ্যাত ও মিথিক্যাল উপন্যাস। প্রকাশিত হয় ১৯৫৪ সালে।
- গ্রামীণ বাংলার সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা, হাসিকান্না, স্বপ্নকে উপজীব্য করে উপন্যাসটি রচিত।
- প্রচ্ছদশিল্পী ছিলেন শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন। 'কাশবনের কন্যা' দ্বিতীয় মুদ্রণ করতে হয় প্রথম প্রকাশের মাত্র দুই বছর পরে এবং তৃতীয় মুদ্রণ হয় ১৯৬৮ সালে। 

• তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাসসমূহ হলো:
- আলমনগরের উপকথা,
- কাশবনের কন্যা,
- কাঞ্চনমালা,
- জায়মঙ্গল,
- কাঞ্চনগ্রাম।

• গল্পগ্রন্থ:  অনেক দিনের আশা, ঢেউ, পথ জানা নাই, দুই হৃদয়ের তীর, শাহের বানু।

অন্যদিকে, 
• 'সংশপ্তক' শহীদুল্লাহ কায়সারের একটি উপন্যাস। 
• শওকত ওসমানের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস 'জলাঙ্গী'। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং 'কাশবনের কন্যা' উপন্যাস।
৩,০৬৩.
চারণকবি হিসেবে বিখ্যাত কে?
  1. ক) আলাওল
  2. খ) চন্দ্রাবতী
  3. গ) মুকুন্দদাস
  4. ঘ) মুক্তারাম চক্রবর্তী
সঠিক উত্তর:
গ) মুকুন্দদাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) মুকুন্দদাস
ব্যাখ্যা

চারণকবি মুকুন্দদাস (১৮৭৮ - ১৯৩৪):
- জন্ম গ্রহণ করেন অধুনা বাংলাদেশের ঢাকা জেলার বিক্রমপুরের বানারি গ্রামে।
- ১৯০২ - ১৯০৩ মধ্যে তাঁর রচিত শতাধিক গান “সাধন সংগীত” নামে প্রকাশিত হয়। সেই কাব্যগ্রন্থের গানে তিনি “মুকুন্দ” ভণিতা দিয়েছিলেন।
-  ১৯০৫ সালে লর্ড কার্জনের বাংলাকে ভাগ করার প্রচেষ্টা ব্যর্থ করতে বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনের সময়কালে মুকুন্দদাস স্বদেশী যাত্রার মাধ্যমে ব্রিটিশ বিরোধী ভাবনাকে প্রচার করেন এবং চারণকবি মুকুন্দাস নামে খ্যাত হন। সেই  কারণে তিনি ব্রিটিশ সরকারের চক্ষ্মুশূল হয়ে দেশদ্রোহিতার অভিযোগে কারাবরণ করেন।
- তার সম্পর্কে বলা হয়ে থাকে - গান গেয়েই তিনি ব্রিটিশ সরকারের ভিত কাঁপিয়ে দিয়েছিলেন।

মুকুন্দদাসের কয়েকটি বিখ্যাত গানঃ
- ‘হাসি হাসি পরব ফাঁসি/দেখবে জগৎ বাসী/একবার বিদায় দে মা ঘুরে আসি।’ (বিপ্লবী ক্ষুদিরামের ফাঁসির পর রচিত)
- 'ছেড়ে দেও কাঁচের চুড়ি বঙ্গনারী' (স্বদেশী আন্দোলন বিশেষ করে বিদেশী পন্য বর্জনের সময়)
- ‘ভয় কি মরণে থাকিতে সন্তানে
মাতঙ্গী মেতেছে আজ সমর রঙ্গে।'

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া ও বাংলা-কবিতা ব্লগ।

৩,০৬৪.
'মুকুল' নামে ছোটদের ম্যাগাজিনের সম্পাদনা করেন-
  1. আব্দুল্লাহ আল-মুতী
  2. আব্দুল হাই
  3. এস ওয়াজেদ আলি
  4. কাজী আব্দুল ওদুদ
সঠিক উত্তর:
আব্দুল্লাহ আল-মুতী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আব্দুল্লাহ আল-মুতী
ব্যাখ্যা

'মুকুল' নামে ছোটদের ম্যাগাজিনের সম্পাদনা করেন আব্দুল্লাহ আল-মুতী শরফুদ্দিন।
- এছাড়াও তিনি বাংলা একাডেমি প্রকাশিত বিজ্ঞান বিশ্বকোষ-এর প্রধান সম্পাদক ছিলেন।

-----------------------
• আব্দুল্লাহ আল-মুতী শরফুদ্দিন:
- জনপ্রিয় বিজ্ঞান লেখক আব্দুল্লাহ আল-মুতী শরফুদ্দিন ১৯৩০ সালের ১ জানুয়ারি সিরাজগঞ্জ জেলার ফুলবাড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান শিক্ষা প্রদানের ক্ষেত্রে আল-মুতী শরফুদ্দিনের অবদান অসামান্য।
- তিনি এদেশে বিজ্ঞানকে ছোটদের মধ্যে জনপ্রিয় করার পথিকৃৎ। তাঁর প্রকাশিত বিজ্ঞান, পরিবেশ ও শিক্ষাবিষয়ক বইয়ের সংখ্যা ২৮।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত বইয়ের নাম 'এসো বিজ্ঞানের রাজ্যে'।

তার রচিত উল্লেখযোগ্য বইগুলো মধ্যে রয়েছে -
- আবিষ্কারের নেশায়
- বিজ্ঞান ও মানুষ,
- সাগরের রহস্যপুরী,
- তারার দেশের হাতছানি,
- বিজ্ঞানের বিস্ময় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৩,০৬৫.
বৃহৎবঙ্গ কে রচনা করেন?
  1. ক) ড. দীনেশচন্দ্র সেন
  2. খ) দীনবন্ধু মিত্র
  3. গ) চন্দ্রকুমার দে
  4. ঘ) কাজী নজরুল ইসলাম
সঠিক উত্তর:
ক) ড. দীনেশচন্দ্র সেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ড. দীনেশচন্দ্র সেন
ব্যাখ্যা
ড. দীনেশচন্দ্র সেন গ্রাম বাংলার বিভিন্ন পুঁথি সংগ্রহ করে ‘বঙ্গভাষা ও সাহিত্য’ - রচনা করেন। এটি ১৮৯৬ সালে প্রকাশিত হয়। ‘বৃহৎবঙ্গ’ হচ্ছে সুপ্রাচীনকাল হতে পলাশীর যুদ্ধ পর্যন্ত সময়ের রাজনৈতিক, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ইতিহাস নিয়ে তার রচিত আরেকটি গ্রন্থ। তার সম্পাদিত গীতিকা ‘ময়মনসিংহ গীতিকা’ ও ‘পূর্ববঙ্গ গীতিকা’।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
৩,০৬৬.
কোনটি সৈয়দ আলী আহসান রচিত প্রবন্ধ-গবেষণাগ্রন্থ?
  1. উচ্চারণ
  2. আমার প্রতিদিনের শব্দ
  3. একক সন্ধ্যায় বসন্ত
  4. পদ্মাবতী
সঠিক উত্তর:
পদ্মাবতী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পদ্মাবতী
ব্যাখ্যা
• সৈয়দ আলী আহসান রচিত প্রবন্ধ-গবেষণাগ্রন্থ - পদ্মাবতী

সৈয়দ আলী আহসান:

- তিনি মূলত শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক ছিলেন।
- তিনি ১৯২২ সালের ২৬শে মার্চ মাগুরা জেলার আলোকদিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৯৩৭ সালে আর্মানীটোলা স্কুলে অধ্যয়নকালে স্কুল ম্যাগাজিনে সৈয়দ আলী আহসানের ‘The Rose’ নামে একটি ইংরেজি কবিতা প্রকাশিত হয়।
- রাজশাহী ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
- ১৯৬৭ সালে তিনি কবিতার জন্য বাংলা একাডেমি পুরস্কার, ১৯৮৩ সালে একুশে পদক এবং ১৯৮৭ সালে স্বাধীনতা পদক লাভ করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- অনেক আকাশ,
- একক সন্ধ্যায় বসন্ত,
- সহসা সচকিত,
- উচ্চারণ,
- আমার প্রতিদিনের শব্দ,
- সমুদ্রেই যাবো।

তাঁর রচিত প্রবন্ধ-গবেষণাগ্রন্থ:
- কবিতার কথা,
- নজরুল ইসলাম,
- রবীন্দ্র কাব্যবিচারের ভূমিকা,
- কবিতার কথা ও অন্যান্য বিবেচনা,
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস,
- পদ্মাবতী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,০৬৭.
'অমৃত উপাখ্যান' উপন্যাসের রচয়িতা-
  1. ক) সেলিনা হোসেন
  2. খ) সৈয়দ শামসুল হক
  3. গ) সুফিয়া কামাল
  4. ঘ) সেলিম আল দীন
সঠিক উত্তর:
ঘ) সেলিম আল দীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সেলিম আল দীন
ব্যাখ্যা
'অমৃত উপাখ্যান' উপন্যাসের রচয়িতা- সেলিম আল দীন। নিগ্রো সাহিত্য তাঁর রচিত প্রবন্ধ। উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৩,০৬৮.
‘লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে’ কী জাতীয় রচনা?
  1. ক) স্মৃতিকথা
  2. খ) দিনলিপি
  3. গ) প্রবন্ধ
  4. ঘ) উপন্যাস
সঠিক উত্তর:
গ) প্রবন্ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) প্রবন্ধ
ব্যাখ্যা
মেজর রফিকুল ইসলাম রচিত ‘লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে’ (১৯৮১) মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক একটি প্রবন্ধগ্রন্থ।
- গ্রন্থটি লেখকের মূল গ্রন্থ 'A Tale of Millions' (১৯৭৪) এর অনুবাদ ।

তাঁর অন্যান্য মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রবন্ধগ্রন্থ:
১.  শেখ মুজিব ও স্বাধীনতা সংগ্রাম
2. একটি ফুলকে বাঁচাব বলে

উৎস: লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে, মেজর রফিকুল ইসলাম
৩,০৬৯.
'জীবন এতো ছোট ক্যানে?'- বিখ্যাত সংলাপটি কার রচনা?
  1. শরৎচন্দ্র চট্রোপাধ্যায়
  2. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 
  4. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

• 'জীবন এতো ছোট ক্যানে?'- সংলাপটি তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত 'কবি' উপন্যাসের অন্তর্ভুক্ত।
 
• 'কবি' উপন্যাস:

- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস 'কবি' (১৯৪১)। এটি তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ উপন্যাস। 
- এই উপন্যাসটি ডোম সম্প্রদায়ের একজন যুবকের কবি রূপে প্রতিষ্ঠা এবং দুটি নারীর সঙ্গে তার সম্পর্ক বিষয়ক কাহিনী বর্ণিত হয়েছে।
- এই উপন্যাসের 'জীবন এতো ছোট ক্যানে?'- সংলাপটি ক্ল্যাসিক মর্যাদা পেয়েছে। 

----------------
• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়:
- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়, একজন কথাসাহিত্যিক, রাজনীতিবিদ। তিনি ১৮৯৮ সালে পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলায় এক জমিদারবংশে জন্ম গ্রহণ করেন।
- তারাশঙ্করের প্রথম গল্প ‘রসকলি’ সেকালের বিখ্যাত পত্রিকা কল্লোল-এ প্রকাশিত হয়।
- তারাশঙ্করের ত্রয়ী উপন্যাস- ধাত্রীদেবতা, গণদেবতা, পঞ্চগ্রাম।

• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস:
- চৈতালি ঘূর্ণি,
- ধাত্রীদেবতা,
- কালিন্দী,
- কবি,
- হাঁসুলি বাঁকের উপকথা,
- গণদেবতা,
- আরগ্য,
- নিকেতন,
- পঞ্চপুণ্ডলী,
- রাধা ইত্যাদি।

• তাঁর প্রসিদ্ধ ছোটগল্প:
- রসকলি,
- বেদেনী,
- ডাকহরকরা।

• তাঁর রচিত নাটক:
- দ্বীপান্তর,
- পথের ডাক,
- দুই পুরুষ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৩,০৭০.
হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর সম্পাদনায় প্রকাশিত ‘হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধ গান ও দোহা’ বইটি নিচের কোন বইয়ের আলোকে রচিত হয়েছিল?
  1. চর্যাপদ
  2. ডাকার্ণব ও দোহাকোষ
  3. চর্যাপদ, ডাকার্ণব ও শূন্যপূরাণ
  4. ডাকার্ণব, দোহাকোষ ও চর্যাপদ
সঠিক উত্তর:
ডাকার্ণব, দোহাকোষ ও চর্যাপদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডাকার্ণব, দোহাকোষ ও চর্যাপদ
ব্যাখ্যা

১৯০৭ সালে পণ্ডিত মহামহোপাধ্যায় হরপ্রাসাদ শাস্ত্রী নেপালের রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে আবিষ্কার করে নিয়ে আসেন কয়েকটি অপরিচিত বই।
বইগুলোর একটি - চর্যাপদ। এর সাথে আরো দুটি বই হচ্ছে - ডাকার্ণব ও দোহাকোষ।
এই তিনটি গ্রন্থকে মিলিয়ে একসাথে হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর সম্পাদনায় ১৯১৬ সালে ‘হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধ গান ও দোহা’ নামে প্রকাশিত হয়।

উল্লেখ্য, চর্যাপদ বাংলা সাহিত্যের আদি নিদর্শন। এর অন্য নাম - চর্য্যাচর্য্যবিনিশ্চিয় বা চর্য্যাশ্চর্য্যবিনিশ্চয়

উৎসঃ লাল নীল দীপাবলি, ড. হুমায়ুন আজাদ।

৩,০৭১.
বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলনের সাথে যুক্ত ছিলেন না-
  1. ক) আবুল হুসেন
  2. খ) আব্দুল কাদির
  3. গ) আবুল ফজল
  4. ঘ) আব্দুল হাকিম
সঠিক উত্তর:
ঘ) আব্দুল হাকিম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) আব্দুল হাকিম
ব্যাখ্যা
বিংশ শতাব্দীর বিশ ও ত্রিশের দশকে ঢাকায় প্রতিষ্ঠিত মুসলিম সাহিত্য সমাজ বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলনের সূত্রপাত করেন। এর প্রধান উদ্যোক্তা ছিলেন আব্দুল কাদির, আবুল হুসেন, আবুল ফজল প্রমুখ। আব্দুল হাকিম এর সাথে যুক্ত ছিলেন না। (সূত্রঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা : ড. সৌমিত্র শেখর এবং রোর বাংলা মিডিয়া)
৩,০৭২.
‘প্রেমাংশুর রক্ত চাই’ কাব্যগ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. প্যারীচাঁদ মিত্র
  2. বিপ্রদাশ বড়ুয়া
  3. নির্মলেন্দু গুণ
  4. বালাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
নির্মলেন্দু গুণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নির্মলেন্দু গুণ
ব্যাখ্যা
⇒ নির্মলেন্দু গুণের ‘প্রেমাংশুর রক্ত চাই’ কাব্যগ্রন্থটি ১৯৭০সালে প্রকাশিত হয়।
• এই কাব্যগ্রন্থের মধ্যে মানুষের সমষ্টিগত বোধ, জাতিগত নির্যাতন ও নিষ্পেষণ এবং তার প্রতিবাদের চেতনার পরিচয় পাওয়া যায়।

 ⇒ নির্মলেন্দু গুণ: 
- নির্মলেন্দু গুণ ১৯৪৫ সালে নেত্রকোনার বারহাট্টার কাশবন গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- নির্মলেন্দু গুণ এর সম্পূর্ণ নাম ‘নির্মলেন্দু প্রকাশ গুণ চৌধুরী’।
- বাংলাদেশের কবিদের কবি বলা হয় নির্মলেন্দু গুণ কে। 
- তাঁকে  ১৯৮২ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।
- এছাড়া ১৯৮২ সালেই আলাওল সাহিত্য পুরস্কার, ২০০১ সালে একুশে পদক প্রদান করা হয়। 

নির্মলেন্দু গুণ রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো -
• প্রেমাংশুর রক্ত চাই,
• না প্রেমিক না বিপ্লবী,
• দীর্ঘ দিবস দীর্ঘ রজনী,
• ও বন্ধু আমার,
• চাষাভূষার কাব্য,
• পৃথিবীজোড়া গান,
• দূর হ দুঃশাসন,
• ইসক্রা,
• নেই কেন সেই পাখি,
• মুজিব-লেনিন-ইন্দিরা,
• শিয়রে বাংলাদেশ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর বাংলাপিডিয়া।
৩,০৭৩.
'শকুন্ত উপাখ্যান' সিকান্দার আবু জাফর রচিত একটি-
  1. ক) উপন্যাস
  2. খ) নাটক
  3. গ) ছোটগল্প
  4. ঘ) কবিতা
সঠিক উত্তর:
খ) নাটক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) নাটক
ব্যাখ্যা
সিকান্দার আবু জাফর একজন কবি, সঙ্গীত রচয়িতা, নাট্যকার ও সাংবাদিক ছিলেন।
তাঁর পূর্ণ নাম সৈয়দ আল্ হাশেমী আবু জাফর মুহম্মদ বখ্ত সিকান্দার।
তিনি ১৯১৯ সালের ১৯ মার্চ সাতক্ষীরা জেলার তেঁতুলিয়া গ্রামে  জন্মগ্রহণ করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- পূরবী,
- মাটি আর অশ্রু,
- জয়ের পথে,
- নবী কাহিনী,
- নতুন সকাল ইত্যাদি‌।

তাঁর রচিত নাটক:
- সিরাজউদ্দৌলা,
- শকুন্ত উপাখ্যান,
- মহাকবি আলাউল,
- মাকড়সা।

তাঁর রচিত কবিতা:
- প্রসন্ন প্রহর,
- বৈরীবৃষ্টিতে,
- তিমিরান্তক,
- বৃশ্চিকলগ্ন,
- কবিতা ইত্যাদি 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,০৭৪.
নিম্নের চারটি মধ্যে কোনটি ভিন্ন?
  1. রাইফেল রোটি আওরাত
  2. নীড় সন্ধানী
  3. নিশুতি রাতের গাথা
  4. নদী নিঃশেষিত হলে
সঠিক উত্তর:
নদী নিঃশেষিত হলে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নদী নিঃশেষিত হলে
ব্যাখ্যা
আনোয়ার পাশা রচিত উপন্যাস:
- নিশুতি রাতের গাথা,
- নীড় সন্ধানী ও
- রাইফেল রোটি আওরাত (মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক)।

অন্যদিকে,
আনোয়ার পাশা রচিত রচিত কাব্যগ্রন্থ - নদী নিঃশেষিত হলে

আনোয়ার পাশা:
- আনোয়ার পাশা বুদ্ধিজীবী, শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক।
- জন্ম ১৯২৮ সালের ১৫ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুরের ডাবকাই গ্রামে।

আনোয়ার পাশা রচিত রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- 'নদী নিঃশেষিত হলে',
- 'সমুদ্র শৃঙ্খলাতা উজ্জয়িনী' ও
- 'অন্যান্য কবিতা'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং লাইভ এমসিকিউ লেকচার -১৭।
৩,০৭৫.
'সুশিক্ষিত লোক মাত্রই স্বশিক্ষিত'- উক্তিটি প্রমথ চৌধুরী রচিত কোন গ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. ক) নানা-কথা
  2. খ) আমাদের শিক্ষা
  3. গ) বই পড়া
  4. ঘ) রায়তের কথা
সঠিক উত্তর:
গ) বই পড়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বই পড়া
ব্যাখ্যা
• 'সুশিক্ষিত লোক মাত্রই স্বশিক্ষিত' উক্তিটি প্রমথ চৌধুরীর 'বই পড়া' প্রবন্ধ থেকে নেওয়া হয়েছে।

• তাঁর অন্যান্য বিখ্যাত উক্তি:
- ‘ব্যাধিই সংক্রামক, স্বাস্থ্য নয়'
- 'যে জাতি মনে বড় নয়, সে জাতি জ্ঞানেও বড় নয়'।

• প্রমথ চৌধুরী:
- বাংলা সাহিত্যে চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তক হলেন প্রমথ চৌধুরী।
- তিনি বাংলা সাহিত্যে প্রথম বিদ্রুপাত্নক প্রবন্ধ রচনাকারী।
- প্রমথ চৌধুরীর সাহিত্যিক ছদ্মনাম ছিল বীরবল।
- 'বীরবলের হালখাতা' তাঁর প্রথম চলিত রীতিতে লিখিত গ্রন্থ। এটি ১৯০২ সালে প্রথম 'ভারতী' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- প্রমথ চৌধুরীর সম্পাদনায় প্রকাশিত সবুজপত্র পত্রিকা (১৯১৪) চলিত রীতি প্রবর্তনে মূল ভূমিকা পালন করে।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সনেট পঞ্চাশৎ,
- পদচারণ।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- চার ইয়ারী কথা,
- আহুতি,
- নীললোহিত ও
- গল্প সংগ্রহ। 

• তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- নানা-কথা,
- আমাদের শিক্ষা,
- রায়তের কথা,
- প্রবন্ধ সংগ্রহ,
- বীরবলের হালখাতা,
- তেল-নুন-লকড়ি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৩,০৭৬.
দেশবিভাগের নির্মম পরিণতি বর্ণিত হয়েছে সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ রচিত কোন গ্রন্থে?
  1. কাঁদো নদী কাঁদো
  2. একটি তুলসী গাছের কাহিনী
  3. চাঁদের অমাবস্যা
  4. তরঙ্গভঙ্গ
সঠিক উত্তর:
একটি তুলসী গাছের কাহিনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
একটি তুলসী গাছের কাহিনী
ব্যাখ্যা
⇒ 'একটি তুলসী গাছের কাহিনী' গল্প:
- প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর কালজয়ী সৃষ্টি একটি তুলসী গাছের কাহিনী।
- 'একটি তুলসী গাছের কাহিনী' গল্পটি “দুই তীর ও অন্যান্য গল্প “ গ্রন্থ থেকে নেয়া । 
- এই গ্রন্থের জন্য সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ ১৯৬৫ সালে আদমজী পুরস্কার পান ।
- দেশভাগের সময় কলকাতা থেকে কিছু মুসলমান এদেশে এসে একটি বাড়িতে আশ্রয় নেয়। এবং কিছু দিনের মধ্যে জানতে পারে বাড়িটি সংখ্যালঘু হিন্দুদের পরিত্যক্ত। এ বাড়ির লোকেরাও প্রাণভয়ে ভারকে পালিয়ে গেছে।
- বাড়িতে একটি তুলসী গাছ আবিষ্কার হয়। এরকম কাহিনি নিয়েই গল্পটি সামনের দিকে এগিয়ে চলেছে।
- এই গল্পে দেখা যায় দেশবিভাগের নির্মম পরিণতিতে সর্বস্বান্ত মানুষের মানবিক মূল্যবোধ ও পরিস্থিতির কাছে জিন্মি হবার চিত্র। 

=============
⇒ সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্:
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ ছিলেন একজন কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার। 
- তিন ১৯২২ সালের ১৫ আগস্ট চট্টগ্রামের ষোলশহরে সৈয়দ বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি ফেনি স্কুলের ছাত্রাবস্থায় ‘ভোরের আলো’ নামে হাতে লেখ পত্রিকার সম্পাদনা করেন।
- তাঁর প্রকাশিত প্রথম গল্প ‘হঠাৎ আলোর ঝলকানি’। এটি ঢাকা কলেজ ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়।
- ১৯৪৫ থেকে ১৯৪৭ পর্যন্ত কলকাতার ‘দৈনিক স্টেটসম্যান’ পত্রিকার সহকারী সম্পাদক হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করেন।
- তারঁ রচিত প্রথম উপন্যাস ‘লালসালু’ (১৯৪৮)।

• তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- চাঁদের অমাবস্যা,
- কাঁদো নদী কাঁদো।
- দি আগলি এশিয়ান।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- নয়নচারা,
- দুই তীর ও অন্যান্য গল্প।

• তাঁর রচিত নাটক:
- বহিপীর,
- তরঙ্গভঙ্গ,
- উজান মৃত্যু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,০৭৭.
'সংশপ্তক' উপন্যাস কবে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৯৫৫ সালে
  2. ১৯৬২ সালে
  3. ১৯৬৫ সালে
  4. ১৯৭১ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৬৫ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৬৫ সালে
ব্যাখ্যা
• ‘সংশপ্তক’ উপন্যাস:
- সংশপ্তক শহীদুল্লাহ কায়সারের একটি উপন্যাস।
- উপন্যাসটি ১৯৬৫ সালে প্রকাশিত হয়।
- এই উপন্যাসে তিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অব্যবহিত পূর্ববর্তীকাল থেকে বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের পূর্বকাল অবধি বাংলাদেশের সামাজিক, রাজনৈতিক পরিবর্তন ও রূপান্তর ধারণ করেছেন।
- তাই এই উপন্যাসকে মহাকাব্যিক উপন্যাস বলা হয়।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র: রাবেয়া খাতুন (রাবু), জাহেদ, সেকেন্দার, মালু, মহুরতি, রমজান ইত্যাদি।

⇒ শহীদুল্লা কায়সার: 
- শহীদুল্লা কায়সার একজন  কথাসাহিত্যিক, সাংবাদিক, লেখক। 
- তিনি ১৯২৭ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ফেনী জেলার মজুপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তাঁর প্রকৃত নাম আবু নাঈম মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ।  
- ১৯৪৯ সালে ঢাকার সাপ্তাহিক  ইত্তেফাক পত্রিকায় শহীদুল্লার সাংবাদিক জীবন শুরু হয়।
- শহীদুল্লা কায়সারের প্রধান উপন্যাস 'সারেং বউ'। এটি ১৯৬২ সালে প্রকাশিত হয়।
  
তাঁর রচিত উপন্যাসগুলো হলো:
- সারেং বৌ, 
- সংশপ্তক, 
- কৃষ্ণচূড়া মেঘ,
- তিমির বলয়, 
- দিগন্তে ফুলের আগুন,
- সমুদ্র ও তৃষ্ণা,
- চন্দ্রভানের কন্যা, 
- কবে পোহাবে বিভাবরী (অসমাপ্ত)।

স্মৃতিকথা:
- রাজবন্দীর রোজনামচা।

ভ্রমণবৃত্তান্ত:
- পেশোয়ার থেকে তাসখন্দ।

- শহীদুল্লা কায়সার  বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬২) এবং আদমজী সাহিত্য পুরস্কার (১৯৬২) লাভ করেন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,০৭৮.
আহমদ শরীফের সম্পাদনা কোনটি?
  1. ক) মুসলিম কবির পদসাহিত্য
  2. খ) রানী খালের সাঁকো
  3. গ) অন্ধকার সিড়ি
  4. ঘ) সৃষ্টিরহস্য
সঠিক উত্তর:
ক) মুসলিম কবির পদসাহিত্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) মুসলিম কবির পদসাহিত্য
ব্যাখ্যা
আহমদ শরীফ (১৯২১-১৯৯৯) একজন শিক্ষাবিদ, চিন্তাবিদ, লেখক এবং মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের অন্যতম গবেষক।
তাঁর রচিত প্রবন্ধ- বিচিত্র চিন্তা, স্বদেশ চিন্তা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি চিন্তা, স্বদেশ অন্বেষা, বিশ শতকের বাঙালি, কালের দর্পণের স্বদেশ, স্বদেশ চিন্তা, জিজ্ঞাসা ও অন্বেষা, জীবনে সমাজে সাহিত্যে, একালে নজরুল ইত্যাদি।
অধ্যাপক শরীফ মধ্যযুগের চল্লিশোর্ধ্ব কাব্যের পুথি সম্পাদনা করেছেন। সেসবের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো: আলাওলের তোহফা (১৯৫৮) ও সিকান্দরনামা (১৯৭৭), মুহম্মদ খানের সত্য-কলি-বিবাদ-সংবাদ (১৯৫৯), মুসলিম কবির পদসাহিত্য (১৯৬১), আফজল আলীর নসিহতনামা (১৯৬৯), বাউলতত্ত্ব (১৯৭৩), সৈয়দ সুলতানের নবীবংশ, রসুলচরিত (১৯৭৮) ইত্যাদি।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার এবং বাংলাপিডিয়া
৩,০৭৯.
সত্যেন সেন রচিত শিশুসাহিত্য গ্রন্থ কোনটি?
  1. আবোলতাবোল
  2. ব্যাঙের সমুদ্র দেখা
  3. বহুরূপী
  4. অভিযাত্রী
সঠিক উত্তর:
অভিযাত্রী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অভিযাত্রী
ব্যাখ্যা

• 'অভিযাত্রী' সত্যেন সেন রচিত শিশুসাহিত্য গ্রন্থ। 

-------------------
• সত্যেন সেন:

- সত্যেন সেন মূলত সাহিত্যিক ও রাজনীতিবিদ ছিলেন। সত্যেন সেন ১৯০৭ সালে বিক্রমপুরের সোনারঙ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ১৯৬৮ সালে 'উদীচী' নামে একটি সাংস্কৃতিক সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন।
- তিনি ১৯৭০ সালে উপন্যাসে বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন।

• তাঁর রচিত উপন্যাস হলো:
- ভোরের বিহঙ্গী,
- অভিশপ্ত নগরী,
- পাপের সন্তান,
- রুদ্ধদ্বার মুক্তপ্রাণ,
- অভিশপ্ত নগরী,
- পদচিহ্ন,
- আলবেরুনী,
- সাত নম্বর ওয়ার্ড ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত ইতিহাসগ্রন্থ হলো:
- মহাবিদ্রোহের কাহিনী,
- প্রতিরোধ সংগ্রামে বাংলাদেশ,
- বাংলাদেশের কৃষকের সংগ্রাম ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত শিশুসাহিত্য গ্রন্থ:
- পাতাবাহার,
- অভিযাত্রী ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
-----------------
• সুকুমার রায়ের শিশুতোষ সাহিত্য গুলো হলো
- আবোলতাবোল,
- হ-য-ব-র-ল,
- পাগলা দাশু,
- বহুরূপী,
- ব্যাঙের সমুদ্র দেখা,
- খাইখাই ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৩,০৮০.
‘নতুন দেশ নতুন চীন’- গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) আবুল কালাম শামসুদ্দীন
  2. খ) আবু জাফর শামসুদ্দীন
  3. গ) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
  4. ঘ) আবুল মনসুর আহমদ
সঠিক উত্তর:
ক) আবুল কালাম শামসুদ্দীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) আবুল কালাম শামসুদ্দীন
ব্যাখ্যা
আবুল কালাম শামসুদ্দীন (১৮৯৭-১৯৭৮) রচিত গ্রন্থ হলোঃ ত্রিস্রোতা, খরতরঙ্গ, দৃষ্টিকোণ, নতুন দেশ নতুন চীন, পলাশী থেকে পাকিস্তান, অতীত জীবনের স্মৃতি -১৯৬৮ (আত্মজীবনী)। তিনি মাসিক মোহাম্মদী পত্রিকা ও দৈনিক পাকিস্তান পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন। শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য – মোহসীনা নাজিলা।
৩,০৮১.
'হৈমন্তী' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) কালিদাস রায়
  2. খ) প্রেমেন্দ্র মিত্র
  3. গ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. ঘ) সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
সঠিক উত্তর:
ক) কালিদাস রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) কালিদাস রায়
ব্যাখ্যা
• 'হৈমন্তী' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কালিদাস রায়।  
- কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯২৪ খ্রিষ্টাব্দে। 

• রবীন্দ্রানুসারী কবিশেখর কালিদাস রায় ছিলেন একজন কবি ও সমালোচক। 
- কালিদাস ‘রসচক্র’ নামে একটি সাহিত্য সংসদ প্রতিষ্ঠা করেন এবং রবীন্দ্র-ভাবধারায় উজ্জীবিত হয়ে তিনি কাব্যচর্চা শুরু করেন।
- রোমান্টিকতা, প্রেম, পল্লিজীবন, সমাজ, ঐতিহ্যপ্রীতি এবং বৈষ্ণবভাব তাঁর কবিতার প্রধান বিষয়।
- তাঁর মোট কাব্যগ্রন্থ ১৯টি, তন্মধ্যে কুন্দ (১৯০৭) তাঁর প্রথম প্রকাশিত কাব্য।
- পর্ণপুট (১৯১৪),
- ঋতুমঙ্গল (১৯১৬),
- রসকদম (১৯২৩),
- লাজাঞ্জলি, ব্রজবেণু (১৯৪৫),
- চিত্তচিতা, পূর্ণাহুতি (১৯৬৮) ইত্যাদি তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ।

- ‘বেতালভট্ট’ ছদ্মনামে রচিত তাঁর রম্যরচনাগুলি পাঠকসমাজে খুবই সমাদৃত হয়েছে।

• সুধীন্দ্রনাথ দত্ত রচিত 'হৈমন্তী' কবিতাটি 'অর্কেস্ট্রা' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত। 
- ১৯৩৫ সালে প্রকাশিত কবির এই দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থে স্থান পেয়েছে মোট ২৫টি কবিতা।
• রবীন্দ্রনাথের সমাজসমস্যামূলক ছোটগল্পগুলির মধ্যে অন্যতম 'হৈমন্তী' 


উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,০৮২.
'আমার পূর্ব বাংলা' সৈয়দ আলী আহসানের কোন কাব্যগ্রন্থভুক্ত কবিতা?
  1. অনেক আকাশ
  2. আমার প্রতিদিনের শব্দ
  3. উচ্চারণ
  4. একক সন্ধ্যায় বসন্ত
সঠিক উত্তর:
একক সন্ধ্যায় বসন্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
একক সন্ধ্যায় বসন্ত
ব্যাখ্যা
• 'আমার পূর্ব বাংলা' সৈয়দ আলী আহসানের 'একক সন্ধ্যায় বসন্ত' কাব্যগ্রন্থভুক্ত কবিতা।
- গ্রন্থটি ১৯৬৪ সালে প্রকাশিত হয়।

আমার পূর্ব বাংলা,
- সৈয়দ আলী আহসান

আমার পূর্ব-বাংলা এক গুচ্ছ স্নিগ্ধ
অন্ধকারের তমাল
অনেক পাতার ঘনিষ্ঠতায়
একটি প্রগাঢ় নিকুঞ্জ
সন্ধ্যার উন্মেষের মতো
সরোবরের অতলের মতো
কালো-কেশ মেঘের সঞ্চয়ের মতো বিমুগ্ধ বেদনার শান্তি
আমার পূর্ব বাংলা বর্ষার অন্ধকারের অনুরাগ
হৃদয় ছুঁয়ে- যাওয়া
সিক্ত নীলাম্বরী।।

সৈয়দ আলী আহসান:
- তিনি ১৯২২ সালের ২৬শে মার্চ মাগুরা জেলার আলোকদিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি মূলত শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক ছিলেন। 
- ১৯৩৭ সালে আর্মানীটোলা স্কুলে অধ্যয়নকালে স্কুল ম্যাগাজিনে সৈয়দ আলী আহসানের ‘The Rose’ নামে একটি ইংরেজি কবিতা প্রকাশিত হয়।
- রাজশাহী ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
- ১৯৬৭ সালে তিনি কবিতার জন্য বাংলা একাডেমি পুরস্কার, ১৯৮৩ সালে একুশে পদক এবং ১৯৮৭ সালে স্বাধীনতা পদক লাভ করেন।
- ২০০২ সালের ২৫ জুলাই তাঁর বর্ণাঢ্য কর্মময় জীবনের অবসান ঘটে।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- অনেক আকাশ,
- একক সন্ধ্যায় বসন্ত,
- সহসা সচকিত,
- উচ্চারণ,
- আমার প্রতিদিনের শব্দ,
- সমুদ্রেই যাবো।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৩,০৮৩.
'নরকে লাল গোলাপ' নাটকটি কোন পটভূমিকায় রচিত?
  1. ক) দেশ বিভাগ
  2. খ) মুক্তিযুদ্ধ
  3. গ) জমিদারদের অত্যাচার
  4. ঘ) ভাষা অন্দোলন
সঠিক উত্তর:
খ) মুক্তিযুদ্ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মুক্তিযুদ্ধ
ব্যাখ্যা

• আলাউদ্দিন আল আজাদ নরসিংদী জেলার রায়পুরা থানার রামনগর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
• তাঁর বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের উপর লেখা বই 'ফেরারী ডায়েরী'।
• তাঁর মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক নাটক 'নরকে লাল গোলাপ'।
• তাঁর রচিত বিখ্যাত উপন্যাসঃ
- কর্ণফুলী,
- তেইশ নম্বর তৈলচিত্র,
- ক্ষুধা ও আশা,
- খসড়া কাগজ,
- বিশৃঙ্খলা,
- স্বপ্নশীলা,
- শীতের শেষ রাত বসন্তের প্রথম দিন ইত্যাদি।
• তাঁর 'কর্ণফুলী' উপন্যাস পাহাড় সমুদ্র ঘেরা একটি বিশেষ জনপদের উপন্যাস। আদিবাসী রাঙ্গামিলা, প্রেমিক দেওয়ানপুত্র (চাকমা), বাঙালি ইসমাইল, জলি, রমজান প্রমুখের জীবনযাপন ও প্রণয় এ উপন্যাসে বর্ণিত। উপজাতীয় জীবন কাহিনী নিয়ে রচিত চাকমাদের জীবন সংগ্রামের চিত্র এ উপন্যাসের উপজীব্য। এতে চাকমা ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও লাইভ এমসিকিউ লেকচার

৩,০৮৪.
কাজী ইমদাদুল হক রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) আঁখিজল
  2. খ) লতিকা
  3. গ) প্রবন্ধমালা
  4. ঘ) কামারের কাণ্ড
সঠিক উত্তর:
ঘ) কামারের কাণ্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) কামারের কাণ্ড
ব্যাখ্যা
কাজী ইমদাদুল হক রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ ‘নবী কাহিনী’ও ‘কামারের কাণ্ড'। ‘আঁখিজল’ ও ‘লতিকা’ হলো কাব্যগ্রন্থ। ‘প্রবন্ধমালা’ মোসলেম জগতে বিজ্ঞান চর্চা, ভূগোল শিক্ষা প্রনালী হলো প্রবন্ধ গ্রন্থ। রেফারেন্সঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য – মোহসীনা নাজিলা।
৩,০৮৫.
'বুলবুলিস্তান' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. গোলাম মোস্তফা
  2. আহসান হাবিব
  3. কায়কোবাদ
  4. ফররুখ আহমেদ
সঠিক উত্তর:
গোলাম মোস্তফা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গোলাম মোস্তফা
ব্যাখ্যা
গােলাম মােস্তফা যশাের জেলার শৈলকুপা থানার মনােহরপুর গ্রামে ১৮৯৭ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
কাব্য, উপন্যাস, জীবনী, অনুবাদ ইত্যাদি সাহিত্যের প্রায় সকল শাখায় তাঁর স্বচ্ছন্দ পদচারণা ছিল।
কাব্যচর্চার ক্ষেত্রেই ইসলামি ঐতিহ্য থেকে তিনি প্রেরণা লাভ করেছিলেন।
তিনি ১৯৬৪ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর প্রকাশিত কাব্য:
- রক্তরাগ,
- খােশরােজ,
- কাব্যকাহিনী,
- সাহারা,
- হাসনাহেনা 
- বুলবুলিস্তান,
- বনি আদম,
- তারানা ই পাকিস্তান 
- গীতি সঞ্চয়ন 

উপন্যাস:
- ভাঙ্গাবুক,
- রূপের নেশা,
- এক মন এক প্রাণ;

জীবনী :
-বিশ্বনবী,
- মরুদুলাল;
- ইসলাম ও জেহাদ 
- আমার চিন্তাধারা 

অনুবাদ :
- কালামে ইকবাল,
- আল কুরআন,
- শিকওয়া ও জওয়াবে শিকওয়া ইত্যাদি। 

[উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর , বাংলা সাহিত্য,নবম দশম শ্রেণি।]
৩,০৮৬.
কাজী আবদুল ওদুদ রচিত প্রবন্ধের সংকলন-
  1. দৃষ্টিকোণ
  2. শাশ্বত বঙ্গ
  3. নরকে অনন্ত ঋতু
  4. কালান্তর
সঠিক উত্তর:
শাশ্বত বঙ্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শাশ্বত বঙ্গ
ব্যাখ্যা
• কাজী আবদুল ওদুদ:
- তিনি একজন শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক, চিন্তাবিদ ছিলেন।
- তিনি ১৮৯৪ সালের ২৬ এপ্রিল ফরিদপুর জেলার পাংশা উপজেলার বাগমারা গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- কাজী আবদুল ওদুদ রচিত প্রবন্ধের সংকলন ‘শাশ্বত বঙ্গ’।
- এটি একটি সমাজ ও সাহিত্যবিষয়ক প্রবন্ধ গ্রন্থ।
- এটি ১৯৫১ সালে সংকলন করা হয়।
- 'শাশ্বতবঙ্গ’ এর প্রবন্ধগুলো ৬টি ভাগে বিভক্ত করা যায়।

উপন্যাস:
- নদীবক্ষে (১৯১৮)।

সমাজ ও সাহিত্যবিষয়ক প্রবন্ধ:
- শাশ্বতবঙ্গ (১৯৫১),
- কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ,
- নজরুল প্রতিভা।

অন্যদিকে, 
• আবুল কালাম শামসুদ্দীন রচিত প্রবন্ধ সংকলন: 'দৃষ্টিকোণ'। 
• হুমায়ুন আজাদের কিছু দীর্ঘ ও হ্রস্ব সামাজিক রাজনৈতিক প্রবন্ধের সংকলন ‘নরকে অনন্ত ঋতু’।
• রবীন্দ্রনাথের ভারতবর্ষীয় রাজনৈতিক সমস্যা বিষয়ক বিভিন্ন প্রবন্ধের সংকলন 'কালান্তর'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৩,০৮৭.
কার আদর্শে মুক্ত চিন্তক 'ইয়ংবেঙ্গল গোষ্ঠী' গড়ে উঠেছিল?
  1. ক) হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও
  2. খ) জোশুয়া মার্শম্যান
  3. গ) জর্জ আব্রাহাম গ্রিয়ারসন
  4. ঘ) জন ক্লার্ক মার্শম্যান
সঠিক উত্তর:
ক) হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও
ব্যাখ্যা

হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও হিন্দু কলেজের অধ্যাপক ছিলেন। হিন্দু কলেজের ছাত্রদের মধ্যে উনার প্রাভাব অনেক গভীর ছিলো।

তার উল্লেখযোগ্য শিষ্যরা ছিলো-
- কালীপ্রসাদ ঘোস
- রামতনু লাহিরী
- প্যারিচাঁদ মিত্র
- দক্ষিণারঞ্জন মিত্র
- হরচন্দ্র ঘোষ
- মাধব চন্দ্র মল্লিক
এই ছাত্রদের দলটিই 'ইয়ংবেঙ্গল' নামে পরিচিত ছিলো।

উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার ও বাংলাপিডিয়া।

৩,০৮৮.
মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক কোন উপন্যাসের মধ্য দিয়ে মুসলমান সমাজের বেদনাঘন চিত্র অঙ্কন করেছেন?
  1. আনোয়ারা
  2. জোহরা
  3. আবদুল্লাহ 
  4. গরীবের মেয়ে 
সঠিক উত্তর:
জোহরা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জোহরা
ব্যাখ্যা

• 'জোহরা' উপন্যাস:
- জোহরা উপন্যাসের রচয়িতা মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক।
- তিনি তাঁর জোহরা উপন্যাসের মধ্য দিয়ে মুসলমান সমাজের বেদনাঘন চিত্র অঙ্কন করেছেন। জোহরা উপন্যাসে সে আমলের মুসলমান সমাজের অন্যায় অনাচার রূপ দিয়েছেন।
- কন্যার মতামত অগ্রাহ্য করে আত্মীয় স্বজনেরা বিয়ে দিতে গিয়ে মেয়েদের জীবনে যে দুর্ভোগের সৃষ্টি করে তা-ই এ উপন্যাসের উপজীব্য।

অন্যদিকে, 
'গরীবের মেয়ে' মোহাম্মদ নজিবর রহমান রচিত একটি জনপ্রিয় উপন্যাস। 

• 'আনোয়ারা' উপন্যাস: 
মোহাম্মদ নজিবর রহমান এর জনপ্রিয় ও প্রথম উপন্যাস হচ্ছে আনোয়ারা। উপন্যাসটি ১৯১৪ সালে প্রকাশিত হয়। উপন্যাসটিতে মধ্যবিত্ত বিকাশের চিত্রের কথা তুলে ধরা হয়েছে।

• 'আবদুল্লাহ' উপন্যাস:
- কাজী ইমদাদুল হক বিখ্যাত 'আবদুল্লাহ' উপন্যাসটি রচনা করেন। ১৯৩৩ সালে এটি গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়। উপন্যাসটি রচনাকালীন সময়ে তার মৃত্যু হলে কাজী আনোয়ারুল কাদির ইমদাদুল হকের খসড়া অবলম্বন করে অসমাপ্ত উপন্যাসটি সমাপ্ত করেন।
- উপন্যাসটিতে চিত্রিত হয়েছে গ্রামীণ মুসলিম সমাজের পিরভক্তি, ধর্মীয় কুসংস্কার, পর্দাপ্রথা, সম্প্রদায়বিদ্বেষ ইত্যাদির বিরুদ্ধে মানবতাবাদী প্রতিবাদ।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩,০৮৯.
'পদ্মা মেঘনা যমুনা' উপন্যাসটি রচনা করেছেন -
  1. ক) আবু জাফর শামসুদ্দীন
  2. খ) আবু ইসহাক
  3. গ) জহির রায়হান
  4. ঘ) আল মাহমুদ
সঠিক উত্তর:
ক) আবু জাফর শামসুদ্দীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) আবু জাফর শামসুদ্দীন
ব্যাখ্যা
আবু জাফর শামসুদ্দীন ছিলেন ধর্মনিরপেক্ষতা, বাঙালি জাতীয়তাবাদ ও সমাজতান্ত্রিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় বিশ্বাসী একজন প্রগতীশীল লেখক ও সাংবাদিক৷
তার রচিত ত্রয়ী উপন্যাস হলো - 'ভাওয়ালগড়ের উপাখ্যান', 'পদ্মা মেঘনা যমুনা', 'সংকর সংকীর্তন'।
তার রচিত অন্যান্য উপন্যাস -
- দেয়াল
- পরিত্যাক্ত স্বামী।
তার লেখায় গণমানুষের সংগ্রাম ও উদার মানবতাবাদের দিকটিই মুখ্য৷
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
৩,০৯০.
কাজী মোতাহার হোসেন কত সালে জাতীয় অধ্যাপক মর্যাদায় ভূষিত হন?
  1. ১৯৭৪ সালে
  2. ১৯৭৫ সালে
  3. ১৯৭৬ সালে
  4. ১৯৭৭ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৭৫ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৭৫ সালে
ব্যাখ্যা
• কাজী মোতাহার হোসেন ১৯৭৫ সালে জাতীয় অধ্যাপক মর্যাদায় ভূষিত হন।

কাজী মোতাহার হোসেন: 
- তিনি ১৮৯৭ সালের ৩০ জুলাই কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী উপজেলার লক্ষ্মীপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- কাজী আবদুল ওদুদ, আবুল হুসেন, আবুল ফজল প্রমুখের সহযোগিতায় ১৯২৬ সালে তিনি ‘মুসলিম সাহিত্য সমাজ’ প্রতিষ্ঠা করেন। কাজী মোতাহার হোসেন অল্প কিছুকাল উক্ত সংগঠনের মুখপত্র 'শিখা' পত্রিকা সম্পাদনা করেন। 
- 'বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন' এর সাথে যুক্ত ছিলেন কাজী মোতাহার হোসেন।
- তিনি ছিলেন 'বাংলা একাডেমি' প্রতিষ্ঠার স্বপ্নদ্রষ্টাদের মধ্যে একজন।
- জাতীয় অধ্যাপক মর্যাদায় ভূষিত হন ১৯৭৫ সালে
- তিনি ১৯৮১ সালের ৯ই অক্টোবর ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর উলেখযোগ্য প্রকাশনা:
- সঞ্চয়ন,
- নজরুল কাব্য পরিচিতি,
- সে পথ লক্ষ্য করে,
- সিম্পোজিয়াম,
- গণিত শাস্ত্রের ইতিহাস,
- আলোক বিজ্ঞান।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৩,০৯১.
'জন্মই আমার আজন্ম পাপ' দাউদ হায়দার কর্তৃক রচিত -
  1. নাটক
  2. কাব্যগ্রন্থ
  3. প্রবন্ধগ্রন্থ
  4. উপন্যাস
সঠিক উত্তর:
কাব্যগ্রন্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাব্যগ্রন্থ
ব্যাখ্যা
• 'জন্মই আমার আজন্ম পাপ' দাউদ হায়দার কর্তৃক রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ। 
"মিছিলে তোমার মুখ, মায়ের চোখে, আমরা যেন খাঁচায় পোষা পাখি, কবিতার এলোমেলো ভেলা" - ইত্যাদি এই গ্রন্থের উল্লেখযোগ্যম কবিতা।

• দাউদ হায়দার:
১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি, পাবনার দোহার নামক স্থানে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তিনি মূলত লেখক।

• তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ:
- এই শাওনে এই পরবাসে,
- আমি ভাল আছি তুমি,
- পাথরের পুঁথি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,০৯২.
পঁচিশে মার্চের ভয়াল কালরাত্রির নারকীয় গণহত্যার বর্ণনা রয়েছে কোন উপন্যাসে?
  1. সংকর সংকীর্তন
  2. প্রপঞ্চ
  3. দেয়াল
  4. জীবন
সঠিক উত্তর:
দেয়াল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দেয়াল
ব্যাখ্যা

• দেয়াল (উপন্যাস):
আবু জাফর শামসুদ্দীন-এর 'দেয়াল' (১৯৮৬) উপন্যাসটির সূচনা ঘটেছে পঁচিশে মার্চের ভয়াল কালরাত্রির বিবোমিশাকর নারকীয় গণহত্যার বর্ণনা দিয়ে। সারা জীবন পাকিস্তানি আদর্শের ধ্বজাধারী আবদুল্লাহর স্ত্রী ও কিশোরী কন্যার বলাৎকারের মাধ্যমে সে যে মর্মন্তুদ অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছিল তার উন্মোচন ও উদ্ভাসন হয়েছে এতে।

------------------
• আবু জাফর শামসুদ্দীন রচিত উল্লেখযোগ্য উপন্যাসগুলো হলো-
- ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান,
- পদ্মা মেঘনা যমুনা,
- সংকর সংকীর্তন,
- প্রপঞ্চ,
- পরিত্যক্ত স্বামী,
- দেয়াল।
[আবু জাফর শামসুদ্দীন রচিত ত্রয়ী উপন্যাস হলো ভাওয়ালগড়ের উপাখ্যান, পদ্মা মেঘনা যমুনা, সংকর সংকীর্তন। তিনটি উপন্যাসের যোগসূত্র একটি পরিবার।]

উল্লেখ্য, 
- হুমায়ূন আহমেদ রচিত একটি উপন্যাস রয়েছে'দেয়াল' (২০১২) নামে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া এবং যুগান্তর পত্রিকা রিপোর্ট।

৩,০৯৩.
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর লেখা নাটক কোনটি?
  1. ক) কবর
  2. খ) বহিপীর
  3. গ) পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়
  4. ঘ) ওরা কদম আলী
সঠিক উত্তর:
খ) বহিপীর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বহিপীর
ব্যাখ্যা
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ একজন কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার।
- তিনি ১৯২২ সালের ১৫ আগস্ট চট্টগ্রামের ষোলশহরে সৈয়দ (ডেপুটি) বাড়িতে  জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬১), আদমজি পুরস্কার (১৯৬৫), একুশে পদক (১৯৮৩) লাভ করেন। 

সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌ রচিত সাহিত্যকর্ম:
গল্পগ্রন্থ:
- নয়নচারা,
- দুই তীর ও অন্যান্য গল্প।

নাটক:
- বহিপীর,
- সুড়ঙ্গ,
- তরঙ্গভঙ্গ,
- উজানে মৃত্যু ইত্যাদি।

উপন্যাস:
- লালসালু,
- চাঁদের অমাবস্যা,
- কাঁদো নদী কাঁদো,
- দি আগলি এশিয়ান ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
কবর - মুনির চৌধুরী রচিত ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক নাটক।
পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় - সৈয়দ শামসুল হকের লেখা মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে রচিত একটি কাব্যনাটক।
ওরা কদম আলী - মামুনুর রশীদ রচিত একটি নাটক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,০৯৪.
আমাদের সংগ্রাম চলবেই, জনতার সংগ্রাম চলবেই - গানটির রচয়িতা কে?
  1. ক) সানাউল হক
  2. খ) সিকান্দার আবু জাফর
  3. গ) সমর সেন
  4. ঘ) সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
সঠিক উত্তর:
খ) সিকান্দার আবু জাফর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সিকান্দার আবু জাফর
ব্যাখ্যা
সিকান্দার আবু জাফর - মাসিক “সমকাল” পত্রিকা সম্পাদনা করে বিখ্যাত হয়ে আছেন। তার রচিত বিখ্যাত্র গান - আমাদের সংগ্রাম চলবেই, জনতার সংগ্রাম চলবেই। তার রচিত বিখ্যাত নাটক - শকুন্ত উপাখ্যান, সিরাজউদৌলা, মহাকবি আলাওল ইত্যাদি। উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,০৯৫.
‘নির্মাল্য’ কাব্যগ্রন্থটি কার রচনা?
  1. কুসুমকুমারী দাশ
  2. জীবনানন্দ দাশ
  3. কামিনী রায়
  4. নির্মলেন্দু গুণ
সঠিক উত্তর:
কামিনী রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কামিনী রায়
ব্যাখ্যা
• কামিনী রায়: 
- কামিনী রায় কবি ও সমাজকর্মী।
- ১৮৬৪ সালের ১২ অক্টোবর বাকেরগঞ্জের বাসন্ডা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তাঁর পিতা চণ্ডীচরণ সেন ছিলেন একজন ঐতিহাসিক  উপন্যাস লেখক ও পেশায় বিচারক। 
-  তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ আলো ও ছায়া প্রকাশিত হয় ১৮৮৯ সালে। হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় এর ভূমিকা লিখে দেন।
- বাংলা সাহিত্যে অসাধারণ অবদানের জন্য তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগত্তারিণী পদক (১৯২৯) লাভ করেন।
- ১৯৩৩ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ হলো:
- নির্মাল্য,
- পৌরাণিকী,
- গুঞ্জন (শিশুকাব্য),
- ধর্ম্মপুত্র (অনুবাদ),
- মাল্য ও নির্মাল্য,
- অশোকসঙ্গীত (সনেট),
- অম্বা (নাটক)।

অন্যদিকে,
⇒ “আমাকে কী মাল্য দেবে, দাও” নির্মলেন্দু গুণ রচিত একটি কবিতা।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৩,০৯৬.
“বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত” গ্রন্থটির রচয়িতা -
  1. সৈয়দ আলী আহসান
  2. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  3. ড. অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. গোপাল হালদার
সঠিক উত্তর:
ড. অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ড. অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন - ড. অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়
তার গ্রন্থের নাম - 'বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত'। এটি ১৯৫৯ সালে প্রকাশিত হয়।
গ্রন্থটি পাঁচটি খন্ডে রচিত। তার বাংলা সাহিত্যের সম্পর্কিত আরো কয়েকটি গ্রন্থ রয়েছে।

বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত - নামে আরেকটি গ্রন্থ রয়েছে।
গ্রন্থটির যৌথ রচয়িতা - মুহম্মদ আবদুল হাই ও সৈয়দ আলী আহসান।

ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ - রচিত বাংলা সাহিত্য বিষয়ক গ্রন্থ - বাংলা সাহিত্যের কথা।
গোপাল হালদার রচিত গ্রন্থের নাম - বাংলা সাহিত্যের রূপরেখা (২ খন্ড)।

উৎসঃ বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৩,০৯৭.
কোনটি সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌ রচিত উপন্যাস?
  1. নয়নচারা
  2. উজানে মৃত্যু
  3. বহিপীর
  4. চাঁদের অমাবস্যা
সঠিক উত্তর:
চাঁদের অমাবস্যা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চাঁদের অমাবস্যা
ব্যাখ্যা

চাঁদের অমাবস্যা:
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌র 'চাঁদের অমাবস্যা' (১৯৬৪) উপন্যাসে আরেফ আলী নামের একজন স্কুল মাস্টারকে অবলম্বন করে মানুষের অন্তর জীবনের জটিলতা উল্লেখ প্রসঙ্গে সামন্ত-সমাজ প্রভাবিত গ্রামীণ জীবনের নানা অসঙ্গতি তুলে ধরেছেন।
- একটি অপরাধমূলক কাজের প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে আরেফের মনোগত ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া এই উপন্যাসের মূল প্রতিপাদ্য বিষয়।

সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌:
- ১৯২২ সালের ১৫ আগস্ট চট্টগ্রামের ষোলশহরে সৈয়দ (ডেপুটি) বাড়িতে তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার।
- পিতা সৈয়দ আহমদউল্লাহ ছিলেন সরকারি কর্মকর্তা।
- ফেনী হাইস্কুলে ছাত্র থাকাকালেই সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌র সাহিত্যচর্চার সূত্রপাত হয়। 
- এ সময় তিনি হাতে লেখা পত্রিকা 'ভোরের আলো' সম্পাদনা করেন।
- তাঁর প্রথম গল্প ‘হঠাৎ আলোর ঝলকানি’ ঢাকা কলেজ ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়। 
- তিনি ১৯৬১ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার, ১৯৬৫ সালে আদমজি পুরস্কার এবং ১৯৮৩ সালে একুশে পদক (মরণোত্তর) লাভ করেন।
- তিনি ১৯৭১ সালের ১০ই অক্টোবর, প্যারিসে মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- লালসালু,
- চাঁদের অমাবস্যা,
- কাঁদো নদী কাঁদো,
- দি আগলি এশিয়ান।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- নয়নচারা, 
- দুই তীর ও অন্যান্য গল্প।

• তাঁর রচিত নাটক:
- বহিপীর,
- তরঙ্গভঙ্গ,
- সুড়ঙ্গ,
- উজানে মৃত্যু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৩,০৯৮.
'মৃণালিনী' উপন্যাসের চরিত্র নিচের কোনটি?
  1. ক) অনুপমা
  2. খ) মনােরমা
  3. গ) নিরুপমা
  4. ঘ) বিনোদিনী
সঠিক উত্তর:
খ) মনােরমা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মনােরমা
ব্যাখ্যা
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৮৩৮-১৮৯৪) বর্তমান উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার নৈহাটি শহরের নিকটস্থ কাঁঠালপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁকে বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ঔপন্যাসিক এবং বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয়।
- তিনি 'বাংলার স্কট' ও 'সাহিত্য সম্রাট' নামে পরিচিত।

» তাঁর রচিত অন্যতম উপন্যাস - মৃণালিনী।
- এটি ১৮৬৯ সালে প্রকাশিত হয়। ত্রয়োদশ শতাব্দীর বাংলাদেশ এবং তুর্কি আক্রমণের পটভূমিতে উপন্যাসটি রচিত।
- মগধের রাজপুত্র হেমচন্দ্রের সঙ্গে মৃণালিনীর প্রণয় ও দেশরক্ষার জন্য হেমচন্দ্রের সংকল্প ও ব্যর্থতার সঙ্গে এক রহস্যময়ী নারী মনোরমার কাহিনী এ উপন্যাসের মূল কথাবস্তু।
- ঐতিহাসিক ঘটনার অন্তরালে হেমচন্দ্র - মৃণালিনী এবং পশুপতি - মনোরমার প্রেমকাহিনী এই উপন্যাসে প্রধান হয়ে উঠেছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, সৌমিত্র শেখর।
৩,০৯৯.
মুজিবনগর সরকারের মুখপত্র সাপ্তাহিক ‘জয়বাংলা’ পত্রিকার সম্পাদকমন্ডলীর সদস্য -
  1. ক) আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী
  2. খ) আব্দুল্লাহ আল মামুন
  3. গ) তোফায়েল আহমেদ
  4. ঘ) আব্দুল মান্নান সৈয়দ 
সঠিক উত্তর:
ক) আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী
ব্যাখ্যা
সাপ্তাহিক জয়বাংলা ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় মুজিবনগর থেকে প্রকাশিত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বাংলা সাপ্তাহিক মুখপত্র।
- পত্রিকাটি মূলত ছিল মুজিবনগরে প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের একটি প্রচার মাধ্যম।
- পত্রিকাটির লক্ষ্য ছিল একদিকে মুক্তিযুদ্ধের অগ্রগতি ও মুক্তিযোদ্ধাদের কৃতিত্ব জনসমক্ষে তুলে ধরা এবং অন্যদিকে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষে বিশ্বজনমত সৃষ্টি ও আন্তর্জাতিক সমর্থন লাভ।
- পত্রিকাটি প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের প্রকাশনা, তথ্য, বেতার ও চলচ্চিত্র বিভাগের ব্যবস্থাপনায় প্রকাশিত হয়। এই বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত আবদুল মান্নান এমএন-এর উপর পত্রিকাটির সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও প্রকাশনার দায়িত্ব ন্যস্ত ছিল। তিনি ছিলেন পত্রিকার সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি
- মোঃ জিল্লুর রহমান এমপি ছিলেন সম্পাদক মন্ডলীর উপদেষ্টা।

জয়বাংলা পত্রিকার সম্পাদক মন্ডলীর সদস্যগণ:
- আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী

- ইবনে গোলাম সামাদ,
- মাহবুব উল্লাহ চৌধুরী,
- আবদুর রাজ্জাক চৌধুরী,
- মোঃ সলিমুল্লাহ,
- আসাদ চৌধুরী,
- আবুল মঞ্জুর,
- মোহাম্মদ খালেদ,
- অনু ইসলাম।

- সাপ্তাহিক জয়বাংলা প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৭১ সালের ১১ মে (২৭ বৈশাখ ১৩৭৮)।
- জয়বাংলা পত্রিকার প্রথম সংখ্যায় মুদ্রিত হয় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষনা। 

[উৎস: বাংলাপিডিয়া ]
 
৩,১০০.
'চাষাভুষার কাব্য' গ্রন্থটি কার রচনা?
  1. বেগম রোকেয়া
  2. নির্মলেন্দু গুণ
  3. কাজী নজরুল ইসলাম
  4. জসীম উদ্‌দীন  
সঠিক উত্তর:
নির্মলেন্দু গুণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নির্মলেন্দু গুণ
ব্যাখ্যা

• 'চাষাভুষার কাব্য' কাব্যগ্রন্থ:
- 'চাষাভুষার কাব্য' বাংলা সাহিত্যের ষাট দশকের কবি নির্মলেন্দু গুণের একটি উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ, যা ১৯৮১ সালে প্রকাশিত হয়।
- এই বইয়ের কবিতাগুলোয় রাষ্ট্র, সমাজ, ধর্ম ও অর্থনীতির নানা বিভক্তি, সংঘাত এবং মানুষের মধ্যে তৈরি হওয়া দূরত্ব ও বিপন্নতার বাস্তব চিত্র তুলে ধরা হয়েছে
- এই কাব্যগ্রন্থে কবি গ্রামীণ, শ্রমজীবী মানুষের জীবন ও মাটির সঙ্গে তাদের গভীর সম্পর্ককে ফুটিয়ে তুলেছেন।

অন্যদিকে,
• 'চাষার দুক্ষু' নামক প্রবন্ধটি রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন রচিত।

----------------------
• নির্মলেন্দু গুণ:

- নির্মলেন্দু গুণ ১৯৪৫ সালে নেত্রকোনার বারহাট্টার কাশবন গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- নির্মলেন্দু গুণ এর সম্পূর্ণ নাম 'নির্মলেন্দু প্রকাশ গুণ চৌধুরী'।
- বাংলাদেশের কবিদের কবি বলা হয় নির্মলেন্দু গুণ কে।
- তাঁকে ১৯৮২ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারে ভূষিত করা হয়। এছাড়া ১৯৮২ সালেই আলাওল সাহিত্য পুরস্কার, ২০০১ সালে একুশে পদক প্রদান করা হয়।

নির্মলেন্দু গুণ রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো হলো:
- প্রেমাংশুর রক্ত চাই,
- না প্রেমিক না বিপ্লবী,
- বাংলার মাটি বাংলার জল,
- কবিতা অমীমাংসিত রমণী,
- দীর্ঘ দিবস দীর্ঘ রজনী,
- চৈত্রের ভালোবাসা,
- তার আগে চাই সমাজতন্ত্র,
- চাষাভুষার কাব্য,
- দূর হ দুঃশাসন,
- প্রথম দিনের সূর্য,
- নিরঞ্জনের পৃথিবী,
- নেই কেন সে পাখি,
- মুজিব-লেনিন-ইন্দিরা,
- চিরকালের বাঁশি,
- শিয়রে বাংলাদেশ,
- দুঃখ করো না, বাঁচো ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া; 'চাষাভুষার কাব্য'।