PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন
আধুনিক যুগের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ লেখক
আধুনিক যুগের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ লেখক
PrepBank · পাতা ২৬ / ৭৭ · ২,৫০১–২,৬০০ / ৭,৬৪৬
উত্তর
ব্যাখ্যা
- তিনি ছিলেন প্রাচ্যবিদ ও বৈয়াকরণিক।
- তিনিই প্রথম বৈয়াকরণিক যিনি বাংলা ব্যাকরণ রচনায় উদাহরণ ব্যবহার করে বাংলা পাঠ ও বাংলা লিপি ব্যবহার করেন।
- এর আগে পর্তুগিজ ধর্মযাজকরা রোমান অক্ষরে অতি সাধারণভাবে বাংলা ব্যাকরণ ও অভিধান রচনার চেষ্টা করেন।
- কিন্তু নিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতিতে হ্যালহেডই প্রথম বাংলা ব্যাকরণ রচনা করেন।
- তাঁর রচিত A Grammar of the Bengal Language গ্রন্থটি ১৭৭৮ সালে প্রকাশিত হয়।
- ওয়ারেন হেস্টিংসের অনুরোধে হ্যালহেড এটি রচনা করেন।
- ১৭৪৩ সালে লিসবন শহর থেকে গ্রন্থটি প্রকাশিত হয়। গ্রন্থটি মূলত এদেশে খ্রিস্টধর্ম প্রচারের সুবিধার জন্যই সংকলিত হয়েছিল।
কয়েকটি ব্যাকরণ গ্রন্থ:
• Manuel da Assumpção - 'Vocabulario idioma em Bengalla e portuguez dividido em duas Partes' (১৭৪৩)
• ব্রাসি হ্যালহেড - ' A Grammar of the Bengal Language' (১৭৭৮)।
• উইলিয়াম কেরি - 'A Grammar of the Bengali Language' (১৮০১)
• দীনেশচন্দ্র সেন - History of Bengali Language and Literature
• ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় - Origin and Development of Bengali Language’ (ODBL)
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
উত্তর
ব্যাখ্যা
মুনীর চৌধুরী ছিলেন একজন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, এবং সাহিত্যসমালোচক। তিনি ১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর মানিকগঞ্জ শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তবে তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল নোয়াখালী জেলায়। তিনি তাঁর অসাধারণ প্রতিভার মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেছেন এবং ভাষা আন্দোলনসহ বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক ঘটনা তাঁর সাহিত্যকর্মে প্রভাব ফেলেছে।
জীবনের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা:
জন্ম ও পৈতৃক নিবাস: মুনীর চৌধুরীর জন্ম মানিকগঞ্জে হলেও, তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল নোয়াখালীতে।
১৯৫২ ভাষা আন্দোলন: ভাষা আন্দোলনের পটভূমিতে তিনি কারাবন্দী অবস্থায় ১৯৫৩ সালে "কবর" নাটকটি রচনা করেন, যা তাঁর অন্যতম বিখ্যাত সাহিত্যকর্ম।
বাংলা টাইপরাইটার উদ্ভাবন:
১৯৬৫ সালে মুনীর চৌধুরী কেন্দ্রীয় বাঙলা উন্নয়ন বোর্ডের উদ্যোগে বাংলা টাইপরাইটারের জন্য একটি উন্নতমানের কী-বোর্ড উদ্ভাবন করেন, যার নাম ছিল "মুনীর অপ্টিমা"।
-----------------------
রচিত নাটকসমূহ:
মুনীর চৌধুরী অনেক মৌলিক ও অনুবাদ নাটক রচনা করেছেন, যা বাংলা নাট্যসাহিত্যে অমূল্য সংযোজন হিসেবে বিবেচিত।
মৌলিক নাটক:
"কবর" (১৯৫৩): এটি ভাষা আন্দোলনের পটভূমিতে লেখা একটি বিশেষ নাটক, যা বাংলা নাটকের ইতিহাসে এক বিশেষ স্থান দখল করে আছে।
"রক্তাক্ত প্রান্তর": পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের উপর ভিত্তি করে লেখা।
"মানুষ": ১৯৪৬ সালের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার ঘটনা উপজীব্য।
"নষ্ট ছেলে": একটি রাজনৈতিক চেতনাসমৃদ্ধ নাটক।
"পলাশী ব্যারাক ও অন্যান্য": রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে রচিত নাটক।
"দণ্ডকারণ্য": তিনটি নাটকের সমন্বয়ে রচিত।
"রাজার জন্মদিন": একটি চমৎকার নাট্যকর্ম যা রাজনীতি ও সামাজিক প্রেক্ষাপট নিয়ে লেখা।
---------------------
অনুবাদ নাটক:
"কেউ কিছু বলতে পারে না" (১৯৬৯): জর্জ বার্নার্ড শর-এর "You never can tell" নাটকের বাংলা অনুবাদ।
"রূপার কৌটা" (১৯৬৯): জন গলজ্ওয়র্দির "The Silver Box" নাটকের বাংলা অনুবাদ।
"মুখরা রমণী বশীকরণ" (১৯৭০): উইলিয়াম শেক্স্পিয়ারের "Taming of the Shrew" নাটকের বাংলা অনুবাদ।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর, সাহিত্যপাঠ একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (২০২০-২১ সংস্করণ)।
উত্তর
ব্যাখ্যা
শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক, গবেষক, ভাষাবিজ্ঞানী মুহম্মদ আবদুল হাইয়ের জন্ম ২৬ নভেম্বর ১৯১৯ সালে মুর্শিদাবাদের রাণীনগর থানার মরিচা গ্রামে।
- বাংলা ভাষার ব্যাকরণকে সর্বোচ্চ সহজ সরলভাবে উদ্ভাসিত করেন। শিক্ষাক্ষেত্রে অবদান রাখেন।
-১৯৬২ সালে যখন তিনি অধ্যাপক পদে নিয়োগ লাভ করেন, তখন বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির অঙ্গনে ছিল এক দুঃসময়। গবেষণার ক্ষেত্র প্রস্ত্তত ও প্রসারের লক্ষ্যে তিনি সাহিত্য পত্রিকা (১৯৫৭) প্রকাশ করেন। উচ্চমানের জন্য খুব দ্রুত পত্রিকাটি আন্তর্জাতিক খ্যাতি লাভ করে। আবদুল হাই এ পত্রিকাটি সম্পাদনার পাশাপাশি নিরলসভাবে নিজের গবেষণাও চালিয়ে যান।
তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ:
- সাহিত্য ও সংস্কৃতি (১৯৫৪),
- বিলেতে সাড়ে সাত শ’দিন (১৯৫৮),
- তোষামোদ ও রাজনীতির ভাষা (১৯৫৯),
- ভাষা ও সাহিত্য (১৯৬০),
- ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব (১৯৬৪) প্রভৃতি ।
পাঠ্যপুস্তকের অভাব দূর করার জন্য মুহম্মদ আবদুল হাই সৈয়দ আলী আহসানের সঙ্গে যৌথভাবে রচনা করেন বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত (আধুনিক যুগ, ১৯৬৮)।
উৎস: বাংলাপিডিয়া।
উত্তর
ব্যাখ্যা
- জীবনানন্দ দাশকে ধূসরতার কবি বলা হয়।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জীবনানন্দ দাশের কবিতাকে চিত্ররূপময় কবিতা বলেছেন।
জীবনানন্দ দাশ রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- ঝরাপালক (প্রথম প্রকাশিত),
- ধূসর পান্ডুলিপি,
- বনলতা সেন,
- রূপসী বাংলা,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- বেলা অবেলা কালবেলা ইত্যাদি
• ‘রূপসী বাংলা’ ১৯৫৭ সালে প্রকাশিত হয়। কবিতাগুলির গঠন সনেটের। এদের বিষয় বাংলার গ্রাম-প্রিকৃতি, নদীনালা, পশু-পাখি, উৎসব, অনুষ্ঠান। এ কাব্যের একটি বিখ্যাত হলো-
‘আবার আসিব ফিরে ধানসিঁড়িটির তীরে এই বাংলায়’
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
উত্তর
ব্যাখ্যা
- "আগুন নিয়ে খেলা" অন্নদাশঙ্কর রায়ের প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস। উপন্যাসটি ১৯৩০ সালে প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসে একদিন গল্প শুরু হয়েছে, তারপর গল্প পিছিয়ে গিয়েছে একদিন একদিন করে। এইভাবে ছদিনের কাহিনি নিয়ে এই উপন্যাসটি রচিত।
- যারা বর্তমানের ভালোলাগাতেই বিশ্বাস করে, সম্পর্কের স্থায়িত্বে বিশ্বাস করে না, তেমন দুটি তরুণ-তরুণীর কাহিনি এই উপন্যাসে বর্ণিত হয়েছে। প্রেমের উপন্যাস কিন্তু এ-উপন্যাসে প্রেমের কোনো পরিণতি নেই, শুধু একসঙ্গে চলার আনন্দ আছে, কিন্তু চলার শেষে কোথাও পৌঁছনো নেই। যেন দুটি পাখি পাশাপাশি কলকল করে উড়ে চলার পরে যে-যার-মতো উড়ে গেল খোলা আকাশে।
উপন্যাসের ছয়টি দিনের কাহিনিগুলো হলো:
- শেষের দিন,
- তার আগের দিন.
- তারও আগের দিন,
- আরও আগের দিন,
- সব আগের দিন,
- শেষের দিনের শেষ।
অন্যদিকে,
• 'আগুন পাখি' দেশভাগের সময়ের পটভূমিতে হাসান আজিজুল হক রচিত উপন্যাস।
• ‘আগুনের মেয়ে’ উপন্যাসের রচয়িতা আল মাহমুদ
• 'আগুনডানা মেয়ে' উপন্যাসের রচয়িতা সাদাত হোসাইন।
উৎস: "আগুন নিয়ে খেলা" উপন্যাস অন্নদাশঙ্কর রায় এবং বাংলাপিডিয়া।
উত্তর
ব্যাখ্যা
• আমার একাত্তর:
- এই গ্রন্থে লেখক বলেছেন- আমি মুক্তিযুদ্ধের সময়কার একটা খণ্ডচিত্র অঙ্কন করেছি। তাতে আমাদের গৌরবের কথা আছে, শুভাকাঙ্ক্ষীদের সহায়তার কথা আছে, নিজেদের কিছু ত্রুটি-বিচ্যুতির কথাও আছে।
- ১৯৯৬ এর এপ্রিল থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে ‘আমার একাত্তর’ ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়েছিল ভোরের কাগজ পত্রিকায়।
• আনিসুজ্জামান:
- তিনি ১৯৩৭ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগণা জেলার বসিরহাটে জন্মগ্রহণ করেন।
- জাতীয় অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান এর প্রকৃত নাম এ.টি.এম. আনিসুজ্জামান।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এমিরিটাস প্রফেসর ছিলেন (বাংলা বিভাগ)।
- ১৯৬২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে 'ইংরেজি আমলের বাংলা সাহিত্যে বাঙালি মুসলমানের চিন্তাধারা' শিরোনামে ডক্টরেট লাভ করেন।
- তাঁর এই গবেষণা পত্রকে তিনি 'মুসলিম মানস ও বাংলা সাহিত্য' (১৯৬৪) নামে গ্রন্থরূপ দেন।
- বাংলাদেশ সরকার ২০১৮ সালের ১৯ জুন তাকে জাতীয় অধ্যাপক হিসেবে নিযোগ দেন।
- মৃত্যুর পূর্বে তিনি বাংলা একাডেমির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছিলেন।
- গত ১৪ মে ২০২০ জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান ৮৩ বছর বয়সে মারা যান।
• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের নাম:
- স্বরূপের সন্ধানে (প্রবন্ধ),
- আঠারো শতকের বাংলা চিঠি (প্রবন্ধগ্রন্থ),
- কাল নিরবধি (স্মৃতিকথা)।
• অন্যান্য অপশন আলোচনা:
'সত্যের সন্ধান' আরজ আলী মাতুব্বর রচিত গ্রন্থ।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
উত্তর
ব্যাখ্যা
• ২৪ মে ১৯২০ সালে নরসিংদী জেলার পলাশ উপজেলার বালিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন সোমেন চন্দ।
• তিনি মূলত সাহিত্যিক ও রাজনীতিবিদ ছিলেন।
• তাঁর রচিত গল্প-
- ইঁদুর,
- দাঙ্গা,
- সংকেত,
- স্বপ্ন,
- বনস্পতি ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
উত্তর
ব্যাখ্যা
- দেশ বিভাগের ফলে সৃষ্ট ব্যক্তিচরিত্রের নৈতিক স্খলন সাম্প্রদায়িকতা এবং সংশ্লিষ্ট কারণে সৃষ্ট চরম হতাশা ও দারিদ্র্য, উত্তেজক পরিস্থিতি ইত্যাদি বিষয় নিয়ে রচিত হয় 'আত্মজা ও একটি করবী গাছ', 'পরবাসী', 'সারাদুপুর', 'অন্তর্গত নিষাদ', 'মারী', 'উটপাখি', 'সুখের সন্ধানে', 'আমৃত্যু আজীবন' এই আটটি গল্প।
- হাসান আজিজুল হকের এই আটটি গল্পের সমাহারে সমৃদ্ধ 'আত্মজা ও একটি করবী গাছ' গ্রন্থটি।
- বইটি প্রথম প্রকাশিত হয়েছে ১৯৬৭ সালে।
- বাংলাদেশের বাংলা ছোটগল্পের ধারায় এই গল্পগ্রন্থটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
• হাসান আজিজুল হক:
- তিনি ১৯৩৯ সালের ২রা ফেব্রুয়ারি, যবগ্রাম, বর্ধমান, পশ্চিমবঙ্গে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত কথাসাহিত্যিক হিসেবে পরিচিত।
- ১৯৬০ সাল থেকে লেখক হিসেবে নিজেকে তৈরি করার সিদ্ধান্ত নিয়ে সক্রিয় সাহিত্যচর্চার আরম্ভ।
- রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শনশাস্ত্র বিভাগে অধ্যাপনা শেষে তিনি অবসর নিয়েছেন।
- তিনি আদমজি সাহিত্য পুরস্কার, বাংলা একাডেমি পুরস্কার, আলাওল পুরস্কার, অগ্রণী পুরস্কার, আনন্দ পুরস্কার লাভ করেন।
- তাঁর গল্প ইংরেজি, হিন্দি, উর্দু, রুশ ও চেক ভাষায় অনূদিত হয়েছে।
• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- সমুদ্রের স্বপ্ন শীতের অরণ্য,
- আত্মজা ও একটি করবী গাছ,
- জীবন ঘষে আগুন,
- নামহীন গোত্রহীন,
- পাতালে হাসপাতালে,
- আমরা অপেক্ষা করছি,
- রোদে যাবো,
- মা-মেয়ের সংসার,
- নির্বাচিত গল্প,
- রাঢ়বঙ্গের গল্প।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও 'আগুনপাখি' উপন্যাস, হাসান আজিজুল হক।
উত্তর
ব্যাখ্যা
• ‘রক্তাক্ত প্রান্তর’ নাটক:
- মুনীর চৌধুরী রচিত 'রক্তাক্ত প্রান্তর' রচিত হয়েছে মহাকবি কায়কোবাদের 'মহাশ্মশান' গ্রন্থের কাহিনি থেকে।
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' মুনীর চৌধুরীর প্রথম পূর্ণাঙ্গ মৌলিক নাটক।
- পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের (১৭৬১) ঘটনা অবলম্বনে তিন অঙ্ক বিশিষ্ট নাটকটি রচিত।
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' ঐতিহাসিক নাটক নয়, এটি ইতিহাস-আশ্রিত নাটক।
- ‘মানুষ মরে গেলে পচে যায়। বেঁচে থাকলে বদলায়।' রক্তাক্ত প্রান্তর নাটকের একটি জনপ্রিয় উক্তি। নাটকে উক্তিটি বলেছেন নবাব সুজাউদ্দৌলা।
- চরিত্র: ইব্রাহিম কার্দি, জোহরা, হিরণবালা ইত্যাদি।
-------------------
মুনীর চৌধুরী:
- মুনীর চৌধুরী ছিলেন একজন বাংলাদেশি শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্য সমালোচক ও বাগ্মী।
- ১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর মানিকগঞ্জ শহরে তাঁর জন্ম।
- মুনীর চৌধুরী শিক্ষা ও পেশাগত জীবনে বামপন্থী রাজনীতি ও প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
মুনীর চৌধুরীর মৌলিক নাটক:
- রক্তাক্ত প্রান্তর,
- চিঠি,
- কবর,
- দণ্ডকারণ্য।
অনুবাদ নাটক:
- কেউ কিছু বলতে পারে না,
- রূপার কৌটা ও
- মুখরা রমণী বশীকরণ।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
উত্তর
ব্যাখ্যা
• আনোয়ার পাশা:
- আনোয়ার পাশা বুদ্ধিজীবী, শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক।
- জন্ম ১৯২৮ সালের ১৫ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুরের ডাবকাই গ্রামে।
- মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সিনিয়র লেকচারার ছিলেন।
- ১৯৭১ সালের ১৪ই ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোয়ার্টার্স থেকে পাক হানাদার বাহিনীর অনুগত আলবদর সদস্যরা তাঁকে ঢাকার মিরপুরের বধ্যভূমিতে নিয়ে গিয়ে হত্যা করে।
- তিনি একজন শহীদ বুদ্ধিজীবী।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জামে মসজিদের পাশে তাঁকে সমাহিত করা হয়।
• আনোয়ার পাশা রচিত উপন্যাস:
- নিশুতি রাতের গাথা,
- নীড় সন্ধানী ও
- রাইফেল রোটি আওরাত (মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক)
• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- 'নদী নিঃশেষিত হলে',
- 'সমুদ্র শৃঙ্খলাতা উজ্জয়িনী' ও
- 'অন্যান্য কবিতা'।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং বাংলাপিডিয়া।
উত্তর
ব্যাখ্যা
• কবি, নাট্যকার, গীতিকার।
• ১৮৬৩ সালের ১৯ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার কৃষ্ণনগরে তাঁর জন্ম।
• দ্বিজেন্দ্রলাল ১৯০৫ সালে কলকাতায় ‘পূর্ণিমা মিলন’ নামে একটি সাহিত্যিক সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন।
• তাঁর রচিত জনপ্রিয় দেশাত্মবোধক গানগুলির মধ্যে ‘বঙ্গ আমার জননী আমার’, ‘ধনধান্য পুষ্প ভরা’ ইত্যাদি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
⇒ দ্বিজেন্দ্রলালের উলেখযোগ্য কয়েকটি গ্রন্থ হলো:
⇒ কাব্য:
• আর্য্যগাথা,
- প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ।
• Lyrics of Ind (ইংরেজি).
⇒ সামাজিক নাটক:
• পরপারে,
• বঙ্গনারী;
• সমাজ-বিভ্রাট,
• কল্কি অবতার,
• ত্র্যহস্পর্শ,
• প্রায়শ্চিত্ত,
• পুনর্জন্ম।
⇒ ঐতিহাসিক নাটক:
• তারাবাই,
• প্রতাপসিংহ,
• দুর্গাদাস,
• মেবার পতন,
• নূরজাহান,
• সাজাহান,
• চন্দ্রগুপ্ত।
- ঐতিহাসিক নাটক রচনার জন্য তিনি যশস্বী হয়ে আছেন।
⇒ রোমান্টিক পৌরাণিক নাটক:
• চন্দ্রগুপ্ত ও
• সিংহল বিজয়।
⇒ পৌরাণিক নাটক:
• পাষাণী,
• সীতা,
• ভীষ্ম।
⇒ ১৯১৩ সালের ১৭ মে কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
উত্তর
ব্যাখ্যা
- সৈয়দ মুজতবা আলীর প্রথম গ্রন্থ।
- গ্রন্থটি ১৯৪৯ সালে প্রকাশিত হয়।
- নিজে বিভিন্ন দেশে বিশেষত কাবুলে অবস্থান ও ভ্রমণ করে যে বিচিত্র অভিজ্ঞতা লাভ করেছেন, তার পরিচয় আছে এই গ্রন্থে।
- এর ভাষা সহজ, উপস্থাপনায় সাবলীলতা ও আড্ডার মেজাজ আছে।
- রাজনৈতিক ঝোড়ো হাওয়া, সাধারণ মানুষের জীবন, সাংস্কৃতিক জীবনের নানা পরিচয়, অপরিচিত দেশের নানা বৈশিষ্ট্য সব ফুটে উঠেছে এক অপূর্ব আন্তরিক ভঙ্গিতে।
- গ্রন্থটির রচনাশৈলী অসাধারণ বলে প্রথম গ্রন্থেই মুজতবা আলী পাঠকহৃদয় জয় করেন।
• সৈয়দ মুজতবা আলী:
- তিনি ছিলেন শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক।
- ১৯০৪ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর পিতার কর্মস্থল শ্রীহট্ট (সিলেট) জেলার করিমগঞ্জে তিনি জন্মগ্রহণ করেন, কিন্তু তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল মৌলভীবাজারের উত্তরসুর গ্রামে।
- তিনি বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯২৬ সালে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।
- সৈয়দ মুজতবা আলী 'দেশে বিদেশে' গ্রন্থের মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যাঙ্গনে প্রথম প্রবেশ ও প্রতিষ্ঠা লাভ করেন। কাবুলে অবস্থানের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও অন্তরঙ্গ উপলব্ধির ফসল এই গ্রন্থখানি।
- তিনি কাজী নজরুল ইসলামের 'রুবাইয়াৎ-ই-ওমর খৈয়াম' গ্রন্থের ভূমিকা লিখেন।
- ১৯৭৪ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়।
• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- অবিশ্বাস্য,
- শবনম।
• তাঁর রচিত রম্য-রচনা:
- পঞ্চতন্ত্র,
- ময়ূরকণ্ঠী।
• তাঁর রচিত ছোটগল্পগ্রন্থ:
- চাচা-কাহিনী,
- টুনি মেম।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
উত্তর
ব্যাখ্যা
- কারও মতে এই যুগের পরিধি ১৭৬০ থেকে ১৮৩০ সাল অর্থাৎ ঈশ্বর গুপ্তের আবির্ভাব-পূর্বকাল পর্যন্ত।
- মধ্যুযুগের শেষ ও আধুনিকযুগের শুরুর এই সময়কে 'অবক্ষয় যুগ' বলা হয়েছে।
উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক।
উত্তর
ব্যাখ্যা
প্যারীচাঁদ মিত্র:
- ১৮১৪ সালের ২২ জুলাই কলকাতায় তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন লেখক, সাংবাদিক, সংস্কৃতিসেবী, ব্যবসায়ী।
- তাঁর ছন্দনাম “টেকচাঁদ ঠাকুর”।
তাঁর উপন্যাস সমূহ:
- আলালের ঘরে দুলাল,
- আধ্যাত্নিকা,
- অভেদী।
তাঁর একমাত্র প্রহসন:
- মদ খাওয়া বড় দায়-জাত থাকার কি উপায়।
উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও ড. সৌমিত্র শেখর।
উত্তর
ব্যাখ্যা
উত্তর
ব্যাখ্যা
- উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৪২ সালে।
⇒ বুদ্ধদেব বসু:
- বুদ্ধদেব বসু ছিলেন তিরিশের দশকের একজন সাহিত্যিক, সমালোচক, সম্পাদক।
- ১৯০৮ সালের ৩০ নভেম্বর কুমিল্লায় জন্ম। তাঁর পরিবারের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের মালখানগরে।
- শুধু কবিতা নয়, বাংলা সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় বুদ্ধদেবের স্বচ্ছন্দ বিচরণ ছিল।
- তিনি রোম্যান্টিক কবিচেতনার অধিকারী ছিলেন; তবে পরবর্তীকালে তিনি আবেগ অপেক্ষা মননশীলতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
- মননশীল প্রবন্ধ ও সাহিত্য-সমালোচনায় তিনি সূক্ষ্ম বুদ্ধিবৃত্তির পরিচয় দিয়েছেন।
- তাঁর গদ্যশৈলীতে আছে ব্যক্তিত্বের ছাপ। পদ্যগদ্য মিলিয়ে তাঁর গ্রন্থসংখ্যা শতাধিক।
- রবীন্দ্রনাথের পর বাংলা সাহিত্যে তাঁকে সব্যসাচী লেখক বলা হয়।
- বাংলা কাব্যের পঞ্চপাণ্ডদের একজন বুদ্ধদেব বসু।
• বুদ্ধদেব বসু রচিত গল্প গ্রন্থগুলো হলো:
- অভিনয়, অভিনয় নয়,
- রেখাচিত্র,
- হাওয়া বদল ইত্যাদি।
• হাওয়ার গান বুদ্ধদেব বসু রচিত একটি কবিতা।
• বুদ্ধদেবের উপন্যাস:
- তিথিডোর,
- সাড়া,
- সানন্দা,
- লালমেঘ,
- পরিক্রমা,
- কালো হাওয়া,
- নির্জন স্বাক্ষর,
- নীলাঞ্জনার খাতা ইত্যাদি।
অন্যদিকে,
- ‘ভোরের হাওয়া’ কাজী জহিরুল ইসলাম রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া; বাংলা সাহিত্য, অষ্টম শ্রেণি।
উত্তর
ব্যাখ্যা
• আব্দুল কাদির ছিলেন মুসলিম সাহিত্য সমাজ থেকে প্রকাশিত শিখা পত্রিকার প্রকাশক ও লেখক (১৯২৭)। • তাঁর রচিত কবিতা:
- দিলরুবা,
- উত্তর বসন্ত।
• তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- বাংলা কাব্যের ইতিহাস: মুসলিম সাধনার ধারা,
- কবি নজরুল,
- লোকায়ত সাহিত্য।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
উত্তর
ব্যাখ্যা
• হিন্দি কবি মালিক মুহাম্মদ জায়সীর 'পদুমাবৎ' জর্জ আব্রাহাম গ্রিয়ারসন এর সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়।
জর্জ আব্রাহাম গ্রিয়ারসন:
- তিনি আয়ারল্যান্ডের ডাবলিনে ১৮৫১ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত প্রাচ্যতত্ত্ববিদ ও ভাষাতাত্ত্বিক।
- ভারতীয় ভাষা শিক্ষা ও অনুশীলনে বিশেষভাবে উৎসাহী ছিলেন।
কাশ্মিরি ভাষা সম্পর্কে তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- Essays on Kashmiri Grammar.
- A Manual of the Kashmiri Language.
- A Dictionary of the Kashmiri Language.
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
উত্তর
ব্যাখ্যা
- আহমদ ছফা প্রকাশ করনে তাঁর দ্বিতীয় উপন্যাস 'ওঙ্কার'। ওঙ্কার উপন্যাসটি মূলত উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের পটভূমিতে লেখা হয়েছে। আহমদ ছফা রচিত ওঙ্কার উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৭৫ সালে।
- যে গণঅভ্যুত্থানের ভেতর দিয়ে বাঙালি জাতি জেগে উঠেছিলো 'ওঙ্কার' উপন্যাসটি তারই একটি প্রতীকী প্রকাশ। এ উপন্যাসে একটি মাত্র চরিত্রের নাম পাওয়া যায়। কেন আহমদ ছফা অন্য কোনো চরিত্রের নাম দেন নি সেটি গবেষণার বিষয়। আহমদ ছফা তাঁর উপন্যাসসমূহে এক ধরনের তাত্ত্বিক প্রবাহ বজায় রেখেছেন। সেই প্রবাহের অংশ হিসেবেই 'ওঙ্কার' উপন্যাসের কাহিনী তিনি সাজিয়েছেন।
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের যে ভিত্তি ষাটের দশকের শিক্ষা আন্দোলন, ছয় দফার আন্দোলনের ভেতর দিয়ে গড়ে উঠছিলো সেই আন্দোলনটি চূড়ান্ত রূপ পায় ঊনসত্তরের গনঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে। সমগ্র বাংলাদেশ সেই আন্দোলনে জেগে উঠেছিলো। শ্লোগানে শ্লোগানে মুখরিত হয়ে উঠেছিলো গ্রাম, শহর, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। ঢাকা শহরের প্রতিটি অলিগলি, সড়ক তখন ছিলো শ্লোগানে মুখর। সেই অবস্থাটি সাধারণ মানুষকে যেভাবে নাড়া দিয়েছিলো, যেভাবে মানুষ স্বাধীনতার দাবীতে ক্রমে ক্রমে উচ্চকিত হয়ে উঠছিলো, সকলের মাঝে তখন জেগে উঠেছিলো স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্ন, আহমদ ছফা তাকেই আশ্রয় করেছেন নিজের উপন্যাসের কাহিনির জন্য।
- আহমদ ছফা রচিত এই উপন্যাসের নায়ক, আবু নসরের বোবা মেয়েকে বিয়ে করে। আবু নসরের সঙ্গে আইয়ুব খানের সম্পর্ক থাকায় সে এক ধরনের ক্ষমতা লাভ করে। আর এই ঘটনার সূত্র ধরে উপন্যাসটির কাহিনি গতি লাভ করেছে।
- ওঙ্কার উপন্যাস অবলম্বনে 'বাঙলা' চলচ্চিত্র নির্মিত হয়।
উৎস: 'ওঙ্কার' উপন্যাস এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
উত্তর
ব্যাখ্যা
- শহীদ কাদরী রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ হচ্ছে উত্তরাধিকার।
- বাংলা কবিতা আধুনিকতার চূড়ান্তমুখী হয় তাঁর এ কাব্যগ্রন্থের মাধ্যমে।
- এতে ৪০টি কবিতা অন্তর্ভূক্ত আছে।
শহীদ কাদরী:
- স্বাধীন বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় আধুনিক কবি।
- কলকাতার পার্কস্ট্রিটে ১৯৪২ সালে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- মৃত্যুর পর তাঁর ইচ্ছে অনুসারে ঢাকাতে সমাধিস্থ করা হয়।
তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- উত্তরাধিকার,
- তোমাকে অভিবাদন প্রিয়তমা,
- কোথাও কোন ক্রন্দন নেই,
- আমার চুম্বনগুলো পৌছে দাও।
উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া
উত্তর
ব্যাখ্যা
মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার (আনু. ১৭৬২-১৮১৯): তিনি ছিলেন একজন সংস্কৃত পন্ডিত, ভাষাবিদ, লেখক।
- তৎকালীন ওড়িষা প্রদেশের মেদিনীপুর জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। নাটোর-রাজের দরবারে লেখাপড়া শিখে তিনি সংস্কৃত পন্ডিতে পরিণত হন।
- তিনি উনিশ শতকের প্রথম ভালো বাংলা গদ্য লেখক হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন।
ফোর্ট উইলিয়াম কলেজে থাকার সময়ে তিনি যেসব গ্রন্থ রচনা করেন, সেগুলো হচ্ছে:
- বত্রিশ সিংহাসন (১৮০২),
- হিতোপদেশ (১৮০৮),
- রাজাবলী (১৮০৮) এবং
- প্রবোধচন্দ্রিকা (১৮১৩ সালে লিখিত, কিন্তু ১৮৩৩ সালে প্রকাশিত)।
- এছাড়া পরে ১৮১৭ সালে তিনি লেখেন বেদান্তচন্দ্রিকা। এসব গদ্য প্রায় সবই অনুবাদমূলক; তা সত্ত্বেও তাঁর রচনা-রীতির কারণে অনেকটা মৌলিক রূপ লাভ করেছে।
উৎস: লাল নীল দীপাবলি, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং আনন্দবাজার পত্রিকা আর্কাইভ।
উত্তর
ব্যাখ্যা
- সৈয়দ শামসুল হক রচিত কাব্যনাট্য নুরুলদীনের সারা জীবন।
- রংপুরের কৃষক বিদ্রোহের নেতা নুরুলদীনের সামন্তবাদ বিরােধী সংগ্রাম অবলম্বনে রচিত নাটক- নূরলদীনের সারাজীবন (১৯৮২)।
- ব্রিটিশ বিরােধী আন্দোলনের নায়ক নুরুলদীনের অবিস্মরণীয় আহবান- ‘জাগাে বাহে, কোনঠে সবাই'।
- ১৪ টি দৃশ্যে কাব্যনাটকটি রচিত।
• সৈয়দ শামসুল হক:
- তিনি ১৯৩৫ সালে কুড়িগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত লেখক হিসেবে সমধিক পরিচিত।
• তাঁর রচিত কাব্যনাট্য:
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়,
- নুরুলদীনের সারাজীবন,
- এখানে এখন।
• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- তাস,
- শীত বিকেল,
- আনন্দের মৃত্যু,
- প্রাচীন বংশের নিঃস্ব সন্তান,
- জলেশ্বরীর গল্পগুলো।
• সৈয়দ শামসুল হক রচিত কবিতা:
- একদা এক রাজ্যে,
- বৈশাখে রচিত পঙ্ক্তিমালা,
- পরানের গহীন ভিতর,
- বেজান শহরের জন্য কোরাস,
- কাননে কানে তোমারই সন্ধানে,
- আমি জন্মগ্রহণ করিনি ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
উত্তর
ব্যাখ্যা
হাসান হাফিজুর রহমান:
- ১৯৩২ সালের ১৪ জুন জামালপুর শহরে মাতুলালয়ে তাঁর জন্ম। তাঁর পৈতৃক নিবাস জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার কুলকান্দি গ্রামে।
- ১৯৫২ সালে সাপ্তাহিক বেগম পত্রিকায় সহকারী সম্পাদক হিসেবে তিনি কর্মজীবন শুরু করেন। পরে সওগাত (১৯৫৩), ইত্তেহাদ (১৯৫৫-১৯৫৭), পাকিস্তান (১৯৬৫) এবং স্বাধীনতার পর দৈনিক বাংলা পত্রিকায় কাজ করেন।
- ১৯৭৮ সালে তথ্য ও বেতার মন্ত্রণালয়ের অধীন ‘মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস প্রকল্প’-এর পরিচালক নিযুক্ত হন।
- ১৯৪৬ সালে স্কুলে পড়া অবস্থায় তাঁর প্রথম রচনা একটি ছোটগল্প ‘অশ্রুভেজা পথ চলতে’ সওগাত পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- ১৯৪৯ সালে সোনার বাংলা পত্রিকায় প্রকাশিত হয় তাঁর প্রথম কবিতা।
- ১৯৫৩ সালে তাঁর সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় ভাষা আন্দোলনের ওপর প্রথম সংকলন গ্রন্থ 'একুশে ফেব্রুয়ারী'।
- হাসান হাফিজুর রহমানের সম্পাদনায় ১৬ খন্ডে বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধ: দলিলপত্র (১৯৮২-৮৩) প্রকাশিত হয়।
- তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম:
কাব্যগ্রন্থ:
- বিমুখ প্রান্তর
- সীমান্ত শিবিরে
- আর্ত শব্দাবলী
- যখন উদ্যত সঙ্গীন
- দক্ষিণের জানালা
- প্রতিবিম্ব
- শোকার্ত তরবারী
- আমার ভেতরের বাঘ ইত্যাদি।
প্রবন্ধগ্রন্থ:
- আধুনিক কবি ও কবিতা
- মূল্যবোধের জন্যে
- সাহিত্য প্রসঙ্গ
গল্পগ্রন্থ:
- আরো দুটি মৃত্যু।
উৎস: বাংলাপিডিয়া।
উত্তর
ব্যাখ্যা
• "চন্দ্রভানের কন্যা" হল প্রখ্যাত সাহিত্যিক শহীদুল্লা কায়সার-এর একটি উল্লেখযোগ্য উপন্যাস।
--------------------
• শহীদুল্লা কায়সার:
- শহীদুল্লা কায়সার একজন কথাসাহিত্যিক, সাংবাদিক ও লেখক।
- তিনি ১৯২৭ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ফেনী জেলার মজুপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম আবু নাঈম মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ।
- ১৯৪৯ সালে ঢাকার সাপ্তাহিক ইত্তেফাক পত্রিকায় শহীদুল্লার সাংবাদিক জীবন শুরু হয়।
- শহীদুল্লা কায়সার বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬২) এবং আদমজী সাহিত্য পুরস্কার (১৯৬২) লাভ করেন।
শহীদুল্লা কায়সার রচিত উপন্যাস:
- সারেং বৌ,
- সংশপ্তক,
- কৃষ্ণচূড়া মেঘ,
- তিমির বলয়,
- দিগন্তে ফুলের আগুন,
- সমুদ্র ও তৃষ্ণা,
- চন্দ্রভানের কন্যা,
- কবে পোহাবে বিভাবরী (অসমাপ্ত)।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
উত্তর
ব্যাখ্যা
• 'বইপড়া' প্রবন্ধের রচয়িতা প্রমথ চৌধুরী।
• এটি তাঁর 'প্রবন্ধ সংগ্রহ' গ্রন্থে সংকলিত হয়েছে।
• এই প্রবন্ধের কিছু বিখ্যাত উক্তি হলো-
- ‘যে জাতি যত নিরানন্দ সে জাতি তত নির্জীব।’
- ‘যে জাতি মনে বড় নয়, সে জাতি জ্ঞানেও বড় নয়।’
- ‘যে জাতির জ্ঞানের ভাণ্ডার শূন্য সে জাতির ধনের ভাঁড়েও ভবানী।’
⇒ প্রমথ চৌধুরী:
- প্রমথ চৌধুরী সাহিত্যিক, বাংলা চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তক।
- তিনি ১৮৬৮ সালের ৭ আগষ্ট যশোরে জন্মগ্রহণ করেন।
- প্রমথ চৌধুরীর সাহিত্যিক ছদ্মনাম 'বীরবল।'
- প্রমথ চৌধুরী রচিত 'বীরবলের হালখাতা' ১৯০২ সালে ভারতী পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়। এই গ্রন্থে তিনি প্রথম চলিত রীতির প্রয়োগ ঘটান।
- বাংলা কাব্য সাহিত্যে তিনিই প্রথম ইতালীয় সনেটের প্রবর্তন করেন।
- তিনি 'সবুজপত্র' পত্রিকাটি সম্পাদনা করেন।
• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সনেট পঞ্চাশৎ,
- পদচারণ।
• তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- তেল নুন লকড়ি,
- বীরবলের হালখাতা,
- নানাকথা,
- আমাদের শিক্ষা,
- রায়তের কথা,
- নানাচর্চা,
- আত্মকথা,
- প্রবন্ধসংগ্রহ ইত্যাদি।
তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- চার ইয়ারী কথা,
- আহুতি,
- নীললোহিত।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
উত্তর
ব্যাখ্যা
-----------------------
• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়:
- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়, একজন কথাসাহিত্যিক, রাজনীতিবিদ।
- তিনি ১৮৯৮ সালে পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলায় এক জমিদারবংশে জন্ম গ্রহণ করেন।
- তারাশঙ্করের প্রথম গল্প 'রসকলি' সেকালের বিখ্যাত পত্রিকা কল্লোল-এ প্রকাশিত হয়।
- তারাশঙ্করের ত্রয়ী উপন্যাস- ধাত্রীদেবতা, গণদেবতা, পঞ্চগ্রাম।
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস:
- চৈতালি ঘূর্ণি,
- ধাত্রীদেবতা,
- কালিন্দী,
- কবি,
- হাঁসুলি বাঁকের উপকথা,
- গণদেবতা,
- আরোগ্য নিকেতন,
- পঞ্চপুণ্ডলী,
- রাধা ইত্যাদি।
তাঁর প্রসিদ্ধ ছোটগল্প:
- রসকলি,
- বেদেনী,
- ডাকহরকরা।
তাঁর রচিত নাটক:
- দ্বীপান্তর,
- পথের ডাক,
- দুই পুরুষ।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
উত্তর
ব্যাখ্যা
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত উপন্যাস 'লালসালু'। এটি ১৯৪৮ সালে প্রকাশিত হয়।
- লালসালু উপন্যাসটি Tree Without Roots (১৯৬৭) নামে ইংরেজিতে অনূদিত হয়।
- 'লালসালু' একটি বহুমাত্রিক ও কালোত্তীর্ণ উপন্যাস। ধর্ম নিয়ে ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থকারীদের স্বরূপ উন্মোচন এবং নারী জাগরণের প্রেক্ষাপটে সমাজচেতনা এই উপন্যাসের মূল বিষয়।
- লালসালু উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র: মজিদ, জমিল, আমেন, খালেক ব্যাপার, রহিম, আক্কাচ, তাহেরের বাপ, হাসুনির মা ইত্যাদি।
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত উপন্যাস:
- কাঁদো নদী কাঁদো,
- লালসালু,
- চাঁদের অমাবস্যা।
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত নাটক:
- বহিপীর,
- তরঙ্গভঙ্গ,
- সুড়ঙ্গ,
- উজানে মৃত্যু।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
উত্তর
ব্যাখ্যা
- মুনীর চৌধুরী উইলিয়াম শেক্সপিয়রের The Taming of The Shrew (টেমিং অব দি শ্রু ) অনুবাদ করেন 'মুখরা রমণী বশীকরণ' নামে (১৯৭০)। এটি পাঁচ অঙ্ক বিশিষ্ট কমেডি। ।
- পদুয়া নামক স্থানের এক ধনী ব্যাপ্তিস্তার দুই কন্যা ক্যাথেরিনা ও বিয়াঙ্কা। ক্যাথেরিনা খুবই মুখরা নারী, বিয়াঙ্কা সুন্দরী। ভেরােনা নামক স্থানের যুবক পেট্রুশিও ক্যাথেরিনার দর্প চূর্ণ করে তার পাণিগ্রহণ করে।
- মুনীর চৌধুরী নিজেই বলেছেন :কাহিনিটি স্থুল। কিন্তু এতে যে হাস্যরস আছে তা সতেজ, সরস ও উপভােগ্য।
মুনীর চৌধুরী:
- মুনীর চৌধুরী ছিলেন একজন বাংলাদেশি শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্য সমালোচক ও বাগ্মী।
- ১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর মানিকগঞ্জ শহরে তাঁর জন্ম।
- মুনীর চৌধুরী শিক্ষা ও পেশাগত জীবনে বামপন্থী রাজনীতি ও প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
মুনীর চৌধুরীর মৌলিক নাটক:
- রক্তাক্ত প্রান্তর,
- চিঠি,
- কবর,
- দণ্ডকারণ্য।
অনুবাদ নাটক:
- কেউ কিছু বলতে পারে না,
- রূপার কৌটা ও
- মুখরা রমণী বশীকরণ।
উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
উত্তর
ব্যাখ্যা
• আবদুল মান্নান সৈয়দের একটি বিখ্যাত উপন্যাস "পোড়ামাটির কাজ"। এই উপন্যাসটি ১৯৮২ সালে প্রকাশিত হয়েছিল।
-----------------------
• আবদুল মান্নান সৈয়দ:
- তিনি ১৯৪৩ সালের ৩ আগস্ট পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি প্রথম জীবনে 'অশোক সৈয়দ' ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন।
- তিনি বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার (১৯৮১), নজরুল পুরস্কার (১৯৯৮), নজরুল পদক (২০০১) ইত্যাদি পদক ও পুরস্কার লাভ করেন।
- তিনি ২০১০ সালের ৫ই সেপ্টেম্বর মৃত্যুবরণ করেন।
• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- পরিপ্রেক্ষিতের দাস-দাসী,
- শ্রাবস্তীর দিনরাত্রি,
- অ-তে অজগর,
- পোড়ামাটির কাজ,
- ক্ষুধা প্রেম আগুন.
• তাঁর রচিত ছোটগল্প:
- সত্যের মতো বদমাশ,
- চলো যাই পরোক্ষে,
- মৃত্যুর অধিক লাল ক্ষুধা,
- নেকড়ে হায়েনা আর তিন পরী ইত্যাদি।
• তাঁর রচিত স্মৃতিকথা:
- স্মৃতির নোটবুক।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
উত্তর
ব্যাখ্যা
- মুস্তাফা মনোয়ার বাংলাদেশের একজন গুণী - চিত্রশিল্পী।
- চিত্রশিল্পে স্বতঃস্ফূর্ত পদচারণ ও বাংলাদেশে নতুন শিল্প আঙ্গিক পাপেটের বিকাশে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য।
- গুণী এই শিল্পী জন্মেছিলেন ১৯৩৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর মাগুরা জেলা মহকুমার শ্রীপুর থানার অন্তর্গত নাকোল গ্রামে মাতুলালয়ে।
- মুস্তাফা মনোয়ার টেলিভিশন নাটকে অতুলনীয় কৃতিত্ব প্রদর্শন করেন।
- দ্বিতীয় সাফ গেমসের মিশুক নির্মাণ এবং ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পেছনের লাল রঙের সূর্যের প্রতিরূপ স্থাপনাসহ শিল্পের নানা পরিকল্পনায় তাঁর সৃজনী ও উদ্ভাবনী প্রতিভার স্বাক্ষর রাখেন।
- শিশু প্রতিভা বিকাশের লক্ষ্যে ১৯৭২ সালে বিটিভি থেকে প্রচারিত জনপ্রিয় ‘নতুন কুঁড়ির’ রূপকার তিনি।
- ১৯৭৩ সালে মুস্তাফা মনোয়ার ‘রক্তকরবী’ নাটক তৈরি করেছিলেন।
- তিনি ২০০৪ সালে শিল্পকলায় অবদানের জন্য একুশে পদকে ভূষিত হন।
- ১৯৯০ সালে টিভি নাটকের জন্য পান টেনাশিনাস পদক।
- চারুশিল্পে বিশেষ অবদানের জন্য ১৯৯২ সালে বাংলাদেশ চারুশিল্পী সংসদ পুরস্কারে ভূষিত হন তিনি।
উৎস: ১৬ জুন, ২০২৩, কালের কন্ঠ।
উত্তর
ব্যাখ্যা
• ‘ভবিষ্যতের বাঙালি’ প্রবন্ধ গ্রন্থটির রচয়িতা এস ওয়াজেদ আলি।
- এই গ্রন্থে তিনি সাম্প্রদায়িকতা মুক্ত দেশ গঠনের লক্ষ্যে হিন্দু-মুসলমানের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
------------------------
• এস ওয়াজেদ আলি:
- এস ওয়াজেদ আলি একজন প্রাবন্ধিক, গল্পলেখক ও ভ্রমণকাহিনী রচয়িতা।
- তিনি ১৮৯০ সালে পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার শণ্ঠীরামপুর মহকুমার বড় তাজপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- এস ওয়াজেদ আলির প্রথম প্রবন্ধ ’অতীতের বোঝা’ ১৯১৯ সালে প্রমথ চৌধুরী সম্পাদিত সবুজপত্র পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- ১৯৩২ সালে গুলিস্তাঁ নামে একটি বাংলা মাসিক সাহিত্য পত্রিকা সম্পাদনা ও প্রকাশ করেন।
তাঁর উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্মের মধ্যে রয়েছে:
প্রবন্ধ:
- জীবনের শিল্প,
- প্রাচ্য ও প্রতীচ্য,
- ভবিষ্যতের বাঙালী,
- আকবরের রাষ্ট্র সাধনা,
- মুসলিম সংস্কৃতির আদর্শ।
উপন্যাস:
- গ্রানাডার শেষ বীর।
ভ্রমণকাহিনী:
- পশ্চিম ভারত,
- মোটর যোগে রাঁচী সফর প্রভৃতি।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
উত্তর
ব্যাখ্যা
• "পূর্বাভাস" একটি বিখ্যাত বাংলা কাব্যগ্রন্থ, যা সুকান্ত ভট্টাচার্য লিখেছেন। এটি মূলত কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের একটি উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ, যেখানে সমাজের প্রতিচ্ছবি এবং নিপীড়িত মানুষের কষ্টের দিকটি তুলে ধরা হয়েছে।
-------------------
• সুকান্ত ভট্টাচার্য:
- 'কিশোর কবি' সুকান্ত ভট্টাচার্য ১৯২৬ জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি কিশোর কবি, মাকর্সবাদী কবি এবং মানবতার কবি।
- তাঁর কাব্যে পৃথিবীর মানুষের, শোষিত মানুষের জীবন-যন্ত্রণা, বিক্ষোভ ও বিদ্রোহের কথা উচ্চারিত হয়েছে।
- নজরুলের পরে সুকান্তের কবিতায় সবচেয়ে বেশি বিদ্রোহের বাণী লক্ষ্য করা যায়।
সুকান্ত ভট্টাচার্য রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো:
- পূর্বাভাস,
- ঘুম নেই,
- ছাড়পত্র,
- অভিযান।
অন্যদিকে,
• ছায়া হরিণ, সারাদুপুর, আশায় বসতি আহসান হাবীব রচিত কাব্যগ্রন্থ।
উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
উত্তর
ব্যাখ্যা
• কবি, নাট্যকার, গীতিকার।
• দ্বিজেন্দ্রলাল ১৯০৫ সালে কলকাতায় ‘পূর্ণিমা মিলন’ নামে একটি সাহিত্যিক সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন।
• তাঁর রচিত জনপ্রিয় দেশাত্মবোধক গানগুলির মধ্যে ‘বঙ্গ আমার জননী আমার’, ‘ধনধান্য পুষ্প ভরা’ ইত্যাদি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
⇒ দ্বিজেন্দ্রলালের উলেখযোগ্য কয়েকটি গ্রন্থ হলো:
⇒ সামাজিক নাটক:
• পরপারে,
• বঙ্গনারী;
• সমাজ-বিভ্রাট,
• কল্কি অবতার,
• ত্র্যহস্পর্শ,
• প্রায়শ্চিত্ত,
• পুনর্জন্ম।
⇒ ঐতিহাসিক নাটক:
• তারাবাই,
• প্রতাপসিংহ,
• দুর্গাদাস,
• মেবার পতন,
• নূরজাহান,
• সাজাহান,
• চন্দ্রগুপ্ত।
- ঐতিহাসিক নাটক রচনার জন্য তিনি যশস্বী হয়ে আছেন।
⇒ রোমান্টিক পৌরাণিক নাটক:
• চন্দ্রগুপ্ত ও
• সিংহল বিজয়।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
উত্তর
ব্যাখ্যা
বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা এডভোকেট নূরুল কাদির রচিত বই - ''দুশো ছেষট্টি দিনে স্বাধীনতা''।
এছাড়া -
মেজর রফিকুল ইসলাম -- প্রতিরোধের প্রথম প্রহর
গাজী সাইফুল হাসান -- দ্যা ট্যাংক ব্যাটল অব শিরোমণি
কাজী ফজলুর রহমান -- দিনলিপি একাত্তর
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া
উত্তর
ব্যাখ্যা
- অতুলপ্রসাদ সেন ছিলেন একজন কবি, গীতিকার ও গায়ক।
- তিনি ১৮৭১ সালে ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা সঙ্গীতে তিনি সর্বপ্রথম ঠুমরি ধারার আমদানি করেন।
- তিনি সুরকার ও গীতিকার হিসেবে বাংলা সঙ্গীত জগতে অনন্য স্থান দখল করেন।
- তাঁর রচিত জনপ্রিয় গান ‘মোদের গরব, মোদের আশা, আ মরি বাংলা ভাষা’ ষাটের দশকে পূর্ব বাংলার বাঙালি জাতীয়তাবাদী আন্দোলনকারীদের মনে উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছিল। তাঁর রচিত গানের সংখ্যা প্রায় ২০০টি।
তাঁর গানের সংকলন:
- কয়েকটি গান ও গীতিগুঞ্জ।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
উত্তর
ব্যাখ্যা
- প্যারীচাঁদ মিত্রের প্রথম গ্রন্থ 'আলালের ঘরের দুলাল'।
- আলালের ঘরের দুলাল উপন্যাসটি ১৮৫৮ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশ পায়।
- উপন্যাসটিতে দেশীয় বন্ধ্যা শিক্ষা ব্যবস্থা, পাশ্চাত্য সভ্যতার অন্ধ অনুকরণ, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিশৃঙ্খলা নিয়ে লেখক তাঁর অভিমত প্রকাশ করেছেন।
- ধনী বাবুরামের পুত্র মতিলাল কুসঙ্গে পড়ে এবং শিক্ষার ব্যাপারে পিতার অবহেলা তাকে অধঃপতনে নিয়ে যায়।
- পিতার মৃত্যুর পর মতিলাল তার বাবার প্রাপ্ত সব সম্পত্তি নষ্ট করে ফেলে।
- উপন্যাসটিতে সর্বাপেক্ষা উল্লেখযোগ্য চরিত্র হলো মোকাজান মিয়া বা ঠকচাচা।
- এছাড়াও চরিত্রে রয়েছে, বাবুরাম, বাবুরামের পুত্র মতিলাল, ধূর্ত উকিল বটলর, অর্থলোভী বাঞ্ছারাম, তোষামোদকারী বক্রেশ্বর ইত্যাদি।
প্যারীচাঁদ মিত্র:
- ১৮১৪ সালের ২২ জুলাই কলকাতায় তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন লেখক, সাংবাদিক, সংস্কৃতিসেবী, ব্যবসায়ী।
- তাঁর ছন্দনাম “টেকচাঁদ ঠাকুর”।
- ১৮২৭ সালে তিনি হিন্দু কলেজে ভর্তি হন এবং খ্যাতিমান শিক্ষক হেনরি ডিরোজিওর তত্ত্বাবধানে থেকে শিক্ষা সম্পন্ন করেন।
- বাংলা উপন্যাস রচনার পথিকৃৎ প্যারীচাঁদ মিত্র।
- সাহিত্যক্ষেত্রে প্যারীচাঁদের সর্বশ্রেষ্ঠ কৃতিত্ব আলালের ঘরের দুলাল যা বাংলা সাহিত্যের প্রথম উপন্যাস হিসেবে খ্যাত।
- রচনারীতি ও ভাষাগত দিক থেকে এ উপন্যাস বাংলা সাহিত্যে নতুন ধারার সূচনা করে।
- প্যারীচাঁদ মিত্রকে বাংলা সাহিত্যের প্রথম ঔপন্যাসিক বলা হয়ে থাকে।
- তাই তাকে, বাংলা সাহিত্যধারার প্রতিষ্ঠাতা পুরুষ বলা হয়।
তাঁর উপন্যাস সমূহ:
- আলালের ঘরে দুলাল,
- আধ্যাত্নিকা,
- অভেদী।
তাঁর একমাত্র প্রহসন:
- মদ খাওয়া বড় দায়-জাত থাকার কি উপায়।
উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৩) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
উত্তর
ব্যাখ্যা
উত্তর
ব্যাখ্যা
- 'লালসালু' উপন্যাসটি সর্বপ্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৪৮ সালে।
- এ উপন্যাসে গ্রামবাংলার এক চতুর ধর্মব্যবসায়ী ধর্মপ্রবণ মুসলিম সমাজে এক কল্পিত মাযারকে পুঁজি করে কীভাবে প্রতিষ্ঠা পায় এবং শেষে তাঁরই কিশোরী স্ত্রী জমিলা কীভাবে তাকে আশঙ্কাগ্রস্ত করে তোলে, তারই আলেখ্য চিত্রিত হয়েছে। স্বল্প পরিসরে গ্রামীণ পটভূমিকায় লেখক ধর্মান্ধতার স্বরূপ উন্মোচন করতে সক্ষম হন।
- ১৯৬০ সালে পাকিস্তান লেখক সংঘ কর্তৃক করাচি থেকে উপন্যাসটির উর্দু অনুবাদ প্রকাশিত হয়।
- একই বছর প্যারিস থেকে ফরাসি অনুবাদ প্রকাশিত হয়।
- ১৯৬৭ সালে লন্ডন থেকে ইংরেজি অনুবাদ (Tree Without Roots) প্রকাশিত হয়।
উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক বাংলা সহপাঠ (২০২০-২১ সংস্করণ)।
উত্তর
ব্যাখ্যা
- তাঁর বিশ্বনবী গ্রন্থখানি বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল।
- এতে তিনি হযরত মুহাম্মদ (স.) কে ঐতিহাসিক মহামানব হিসেবে মূল্যায়ন করেছেন।
• গোলাম মোস্তফা:
- যশোর (বর্তমান ঝিনাইদহ) জেলার শৈলকুপা উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে ১৮৯৭ সালে তাঁর জন্ম।
- গোলাম মোস্তফা পাকিস্তানি আদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন এবং ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময় উর্দুর প্রতি সমর্থন জ্ঞাপন করেন।
- ১৯৪৯ সালে গঠিত পূর্ববঙ্গ সরকারের ভাষা সংস্কার কমিটির সচিব হিসেবে তিনি কাজ করেন।
- সাহিত্য-সংস্কৃতিতে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি যশোর সংঘ কর্তৃক ‘কাব্য সুধাকর’ (১৯৫২) এবং পাকিস্তান সরকার কর্তৃক ‘সিতারা-ই-ইমতিয়াজ’ (১৯৬০) উপাধি লাভ করেন।
তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম:
• কাব্যগ্রন্থ:
- রক্তরাগ,
- খোশরোজ,
- কাব্য-কাহিনী,
- সাহারা,
- হাসনাহেনা,
- বুলবুলিস্তান,
- তারানা-ই-পাকিস্তান,
- বনিআদম,
- গীতিসঞ্চালন।
• অনুবাদ কাব্য:
- মুসাদ্দাস-ই-হালী,
- কালামে ইকবাল,
- শিকওয়া ও জওয়াব-ই-শিকওয়া।
• গদ্যগ্রন্থ:
- বিশ্বনবী,
- ইসলাম ও কমিউনিজম,
- ইসলাম ও জেহাদ,
- আমার চিন্তাধারা,
- পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা।
উৎস: বাংলাপিডিয়া; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
উত্তর
ব্যাখ্যা
• 'দেশে বিদেশে' ভ্রমণকাহিনি:
- দেশে বিদেশে হচ্ছে কথাসাহিত্যিক সৈয়দ মুজতবা আলী রচিত একটি ভ্রমণকাহিনি, যা ১৯২৭ থেকে ১৯২৯ সালের আফগানিস্তান ভ্রমণের উপর রচিত।
- এটি ১৯৪৮ সালের মার্চ মাস থেকে ধারাবাহিকভাবে ‘দেশ’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল।
- এটি সৈয়দ মুজতবা আলীর প্রকাশিত প্রথম বই।
- ভ্রমণ কাহিনিটি আফগানিস্তানের কাবুল শহর নিয়ে লেখা। একটি ভ্রমণলিপি হওয়া সত্ত্বেও এটি আফগানিস্তানের লিখিত ইতিহাসের একটি অনবদ্য দলিল।
---------------------
• সৈয়দ মুজতবা আলী:
- ১৯০৪ সালে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি কাজী নজরুল ইসলামের 'রুবাইয়াৎ- ই- ওমর খৈয়াম' গ্রন্থের ভূমিকা লিখেন।
- ১৯৭৪ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
- 'দেশে বিদেশে' তাঁর রচিত বিখ্যাত ভ্রমণ কাহিনি।
- 'দেশে বিদেশে' সৈয়দ মুজতবা আলীর প্রথম গ্রন্থ।
- 'দেশে বিদেশে' ভ্রমণ কাহিনীটি আফগানিস্তানের কাবুল শহর নিয়ে লেখা।
তাঁর রচিত উপন্যাস:
- অবিশ্বাস্য।
- শবনম।
• তাঁর রচিত ছোটগল্প:
- চাচা-কাহিনী।
- টুনি মেম।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
উত্তর
ব্যাখ্যা
- 'মতিচূর' রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের উদ্দেশ্যমূলক প্রবন্ধগ্রন্থ।
- ঘৃতপক্ক মিষ্টান্ন বিশেষকে বলা হয় মতিচূর। রোকেয়ার গ্রন্থের রচনাগুলোও অনেকটা সুস্বাদু মিষ্টান্নের মতোই।
- 'মতিচূর' গ্রন্থের দুটি খণ্ডে মোট প্রবন্ধের সংখ্যা ১৭টি।
- প্রথম খণ্ডের অন্তর্ভুক্ত ৭টি প্রবন্ধের নাম-'পিপাসা', 'স্ত্রীজাতির অবনতি', 'নিরীহ বাঙালি', 'অর্ধাঙ্গী', 'সুগৃহিণী', 'বোরকা' ও 'গৃহ'।
- দ্বিতীয় খণ্ডে ১০টি প্রবন্ধ সংকলিত হয়েছে।
⇒ বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন:
- বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন একজন খ্যাতিমান বাঙালি সাহিত্যিক, সমাজ সংস্কারক এবং নারী জাগরণ ও নারীর অধিকার আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ।
- তাঁকে মুসলিম নারী জাগরণের অগ্রদূত হিসেবে গণ্য করা হয়।
- রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন ৯ই ডিসেম্বর ১৮৮০ সালে রংপুর জেলায় পায়রাবন্দ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- স্বামীর প্রেরণায় তিনি সাহিত্যচর্চা শুরু করেন। সমকালীন মুসলমান সমাজে প্রচলিত কুসংস্কারের বিরুদ্ধে তিনি লেখনী ধারণ করেন।
- সাখাওয়াত মেমোরিয়াল গার্লস স্কুল ও আনজুমান -ই- খাওয়াতীন -ই- ইসলাম প্রতিষ্ঠা করে তিনি মুসলমান নারীদের শিক্ষা ও সংস্কৃতির পথে অগ্রসর হতে সাহায্য করেন।
তাঁর উলেখযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে:
- মতিচূর (প্রবন্ধ)
- Sultana’s Dream (নকশাধর্মী রচনা),
- পদ্মরাগ (উপন্যাস),
- অবরোধবাসিনী (নকশাধর্মী গদ্যগ্রন্থ) প্রভৃতি।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
উত্তর
ব্যাখ্যা
'অমৃত কুম্ভের সন্ধানে' উপন্যাস:
- ১৯৫৫ সালে প্রকাশিত 'অমৃত কুম্ভের সন্ধানে' উপন্যাসের মধ্য দিয়ে 'কালকূট' ছদ্মনামে সমরেশ বসুর উপন্যাস রচনার সূত্রপাত।
- একই সঙ্গে তিনি মার্কসবাদ থেকে ঝুঁকলেন অধ্যাত্মবাদের দিকে।
- প্রতি বছর প্রয়াগের ত্রিবেণী সঙ্গমে যে কুম্ভমেলা হয় এবং সেখানে ভারতবর্ষের সকল স্তরের মানুষের যে সমাবেশ ঘটে, সেই মিলনমেলাই উপন্যাসটির বিষয়বস্তু।
- আর তাতে অভিব্যক্ত হয়েছে মানুষের বিশ্বাসের সংকট থেকে উত্তরণের আকুতি।
সমরেশ বসু:
- সমরেশ বসু ১১ই ডিসেম্বর ১৯২৪ সালে রাজানগর গ্রাম, বিক্রমপিুর-মন্সিগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ‘কালকূট’ ছদ্মনামে লিখতেন
- তাঁর উপন্যাসের মূল বিষয় ব্রাত্যজীবন, সমাজের বিকৃতরূপ উন্মোচন ইত্যাদি।
- অশ্লীলতার অভিযোগে তাঁর প্রজাপ্রতি উপন্যাসের বিরুদ্ধে মামিলা হয়। তবে অশ্লীলতা আছে বলে বিচারে প্রমাণিত হয় নি।
- তিনি ১৯৫৫ সালে আনন্দ পুরস্কার ও ১৯৮০ সালে একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন।
তাঁর গ্রন্থ সমূহের নাম:
- গঙ্গা,
- প্রজাপতি,
- বিবর,
- শ্রীমতী ক্যাফে,
- বিটি রোডের ধারে,
- দেখি নাই ফিরে ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
উত্তর
ব্যাখ্যা
সৈয়দ মুজতবা আলী:
- ১৯০৪ সালে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি কাজী নজরুল ইসলামের 'রুবাইয়াৎ- ই- ওমর খৈয়াম' গ্রন্থের ভূমিকা লিখেন।
- 'দেশে বিদেশে' তাঁর রচিত বিখ্যাত ভ্রমণ কাহিনি।
- 'দেশে বিদেশে' ভ্রমণ কাহিনিটি আফগানিস্তানের কাবুল শহর নিয়ে লেখা।
তাঁর রচিত উপন্যাস:
- অবিশ্বাস্য।
- শবনম।
তাঁর রচিত ছোটগল্প:
- চাচা-কাহিনী।
- টুনি মেম।
তাঁর রচিত রম্যরচনা:
- পঞ্চতন্ত্র,
- ময়ূরকণ্ঠী,
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
উত্তর
ব্যাখ্যা
- সৈয়দ শামসুল হকের 'নূরলদীনের সারা জীবন' কাব্যনাট্যে এই উক্তিটি রয়েছে।
'নূরলদীনের সারা জীবন' কাব্যনাট্য:
- সৈয়দ শামসুল হক রচিত কাব্যনাট্য নূরলদীনের সারা জীবন।
- রংপুরের কৃষক বিদ্রোহের নেতা নূরলদীনের সামন্তবাদ বিরােধী সংগ্রাম অবলম্বনে রচিত নাটক- নূরলদীনের সারাজীবন (১৯৮২)।
- ব্রিটিশ বিরােধী আন্দোলনের নায়ক নূরলদীনের অবিস্মরণীয় আহবান- ‘জাগাে বাহে, কোনঠে সবাই'।
- ১৪ টি দৃশ্যে কাব্যনাটকটি রচিত।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
উত্তর
ব্যাখ্যা
• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় বিংশ শতাব্দীর একজন বিশিষ্ট বাঙালি কথাসাহিত্যিক ছিলেন।
• তিনি পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার লাভপুর গ্রামের এক জমিদার পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
• তাঁর রচিত উপন্যাসঃ
• বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে নিয়ে রচিত তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাস- 'একটি কালো মেয়ের কথা'।
• এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র নাজমা নামের একটি কালো মেয়ে। এটি তাঁর সর্বশেষ উপন্যাস।
• 'হাঁসুলী বাঁকের উপকথা' তাঁর একটি আঞ্চলিক উপন্যাস।
- তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাসঃ
- চৈতালি ঘূর্ণি,
- আরোগ্য নিকেতন,
- সপ্তপদী,
- কবি,
- পঞ্চগ্রাম,
- গণদেবতা,
- ধাত্রীদেবতা ইত্যাদি।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
উত্তর
ব্যাখ্যা
• হাসান হাফিজুর রহমান রচিত কাব্যগ্রন্থঃ
- বিমুখ প্রান্তর (প্রথম প্রকাশিত),
- প্রতিবিম্ব,
- আর্ত শব্দাবলী,
- অন্তিম শহরের মতো,
- যখন উদ্যত সঙ্গীন ও
- শোকার্ত তরবারি ইত্যাদি।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
উত্তর
ব্যাখ্যা
----------------------------
• ইস্তাম্বুল যাত্রীর পত্র:
- 'ইস্তাম্বুল যাত্রীর পত্র' ইবরাহীম খাঁর কেবল ভ্রমণকাহিনিই নয়, এটি তাঁর অন্যতম সাহিত্যকীর্তিও।
- তিনি ১৯৫১ সালের ২২ আগস্ট করাচী থেকে ইস্তাম্বুল যাত্রা করেন।
- সহযাত্রী ছিলেন মৌলভী তমিজুদ্দীন খাঁ ও মৌলভী খোন্দকার আলী আফজাল-এঁরা তিনজনই বাঙালি।
- তাঁরা আন্তঃপার্লামেন্টারি মতবিনিময় কার্যক্রমের অংশ হিসাবে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের প্রতিনিধি দলের সদস্য হয়ে মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ ভ্রমণ করেন।
- তাঁরা মধ্যপ্রাচ্যের পথে প্রথমেই গেলেন বছরা; তারপর বৈরুত, আলোপ্পো, খালেদার মাজার দেখলেন, আরবী গান শুনলেন এবং আঙ্কারার পথে যাত্রা করলেন।
- এরপর এলেন ইস্তাম্বুলে, নিকোশিয়া, কায়রো, জেদ্দা, মক্কা, মদীনা, দামেশক, তেহরান ইত্যাদি ভ্রমণশেষে তাঁরা ১৯৫১ সালের ৪ অক্টোবর করাচী এসে তাঁদের সফর শেষ করেন।
- এই 'ইস্তাম্বুল যাত্রীর পত্র' গ্রন্থটি আলোচনা করতে গিয়ে দেওয়ান মোহাম্মদ আজরফ ইবরাহীম খাঁকে 'অভিনব ভ্রমণকাহিনির প্রবর্তক' হিসাবে আখ্যায়িত করেছেন।
---------------------
• ইব্রাহীম খাঁ:
- ইব্রাহীম খাঁ ১৮৯৪ সালে টাঙ্গাইল জেলার শাবাজ নগর গ্রামে এক মধ্যবিত্ত কৃষক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক। নাটক, গল্প, উপন্যাস, শিশুসাহিত্য, ভ্রমণকাহিনি ও স্মৃতিকথা মিলে তাঁর গ্রন্থসংখ্যা ২১টি।
- তাঁর স্মৃতিকথা 'বাতায়ন' সমকালের মুসলিম সমাজের একটি বিশস্ত দলিল হিসেবে বিবেচিত।
- তিনি ব্রিটিশ আমলে ‘খান সাহেব’ ও ‘খান বাহাদুর’ এবং পাকিস্তান আমলে ‘সিতারা-ই-ইমতিয়াজ’ উপাধি লাভ করেন।
- নাটকে অবদানের জন্য তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬৩) এবং সাহিত্যের জন্য একুশে পদক (১৯৭৬) লাভ করেন।
- ১৯৭৮ সালের ২৯ মার্চ ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়।
• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- কামাল পাশা,
- আনোয়ার পাশা,
- ঋণ পরিশোধ,
- আলু বোখরা,
- ইস্তাম্বুল যাত্রীর পত্র,
- ব্যাঘ্র মামা,
- বেদুঈনদের দেশে।
উৎস: বাংলাপিডিয়া; 'ইস্তাম্বুল যাত্রীর পত্র', ইবরাহীম খাঁ।
উত্তর
ব্যাখ্যা
- এটি আবু ইসহাক রচিত একমাত্র নাটক।
- 'জয়ধ্বনি' নাটকটি বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের পটভূমিকায় রচিত। সঙ্গত কারণে বেশ কয়েকটি দৃশ্যে রূপকের আশ্রয় নেওয়া হয়েছে। - তাই নাটকটির বেশ কিছু দৃশ্য মঞ্চে প্রদর্শন করা সম্ভব হলেও সম্পূর্ণটা মঞ্চস্থ করা অত্যন্ত দুরূহ বা প্রায় অসম্ভব।
আবু ইসহাক:
- তিনি ১৯২৬ সালের ১ নভেম্বর শরিয়তপুর জেলার শিরঙ্গল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন কথাসাহিত্যিক, অভিধান-প্রণেতা।
তাঁর রচিত উপন্যাস:
- সূর্য-দীঘল বাড়ী,
- পদ্মার পলিদ্বীপ,
- জাল।
তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- হারেম,
- মহাপতঙ্গ।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
উত্তর
ব্যাখ্যা
আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি:
- 'আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি' আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ রচিত - কাব্যগ্রন্থ।
- গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৮১ সালে। গ্রন্থটিতে কবিতা রয়েছে ৩৯টি কবিতা।
- এই কাব্যগ্রন্থের নাম কবিতায় আছে 'আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি' লাইনটি।
আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- কখনো রং কখনো সুর,
- আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি,
- কমলের চোখ,
- সহিষ্ণু প্রতীক্ষা,
- বৃষ্টি ও সাহসী পুরুষের জন্য প্রার্থনা।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।
উত্তর
ব্যাখ্যা
- হাস্যরসাত্মক গল্পের সমাহারে আবুল মনসুর আহমদ রচিত গল্পগ্রন্থ 'আয়না' ১৯৩৫ সালে প্রকাশিত হয়েছে।
- হুযুর কেবলা, গো-দেওতা-কা দেশ, নায়েবে নবী, লীডরে কওম, মুজাহেদীন, বিদ্রোহী সংঘ, ধর্মরাজ্য-এই সাতটি গল্প রয়েছে বইটির মধ্যে।
- যার মধ্যে 'বিদ্রোহী সংঘ' ছাড়া বাকি সবগুলো গল্পেই ধর্মান্ধ ও ধর্মব্যবসায়ী কয়েকটি চরিত্রকে তীব্র ব্যঙ্গবাণে জর্জরিত করা হয়েছে।
- 'বিদ্রোহী সংঘ' গল্পে ঢাকার 'মুসলিম সাহিত্য সমাজ' কে ব্যঙ্গ করে বলা হয়েছে যে, তারা আত্মিক স্বাধীনতা বা আনন্দের জন্য উচ্চকণ্ঠ, কিন্তু দেশের পরাধীনতা নিয়ে মৌনব্রত পালন করে।
- 'আয়না' গ্রন্থের মুখবন্ধ লিখেছেন কাজী নজরুল ইসলাম। তিনি লিখেছেন: 'যে-সমস্ত মানুষ হরেক রকমের মুখোশ পরে আমাদের সমাজে অবাধে বিচরণ করছে, আবুল মনসুরের আয়নার ভেতরে তাদের স্বরূপ-মূর্তি বন্য ভীষণতা নিয়ে ফুটে উঠেছে।'
• আবুল মনসুর আহমদ:
- তিনি ময়মনসিংহের ধানিখোলা গ্রামে ১৮৯৮ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি একাধারে সাহিত্যিক, সাংবাদিক ও রাজনীতিবিদ ছিলেন।
- খেলাফত, অসহযোগ ও স্বরাজ আন্দোলনের সাথে যুক্ত ছিলেন।
- তিনি আওয়ামীলীগের প্রতিষ্ঠাতা সহ-সভাপতি ছিলেন।
- যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভার স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন।
- তিনি ১৯৭৯ সালে মৃত্যুবরণ করেন।
• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- সত্যমিথ্যা,
- জীবনক্ষুধা ও
- আবে হায়াত।
• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- আয়না,
- ফুড কনফারেন্স,
- আসমানী পর্দা।
• তাঁর রচিত রাজনীতি বিষয়ক গ্রন্থ:
- আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর,
- শেরেবাংলা থেকে বঙ্গবন্ধু।
• তাঁর রচিত স্মৃতিকথা:
- আত্মকথা।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
উত্তর
ব্যাখ্যা
- 'নেমেসিস' নুরুল মোমেন রচিত শ্রেষ্ঠ নাটক।
- ১৯৩৯-৪৩ সালের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে নুরুল মোমেন ১৯৪৪ সালে নাটকটি লেখেন এবং ‘শনিবারের চিঠি’ পত্রিকায় তা প্রকাশিত হয়।
- নাটকটি গ্রন্থাকারে প্রকাশ পায় ১৯৪৮ সালে।
- নাটকটি স্কুল মাস্টার সুরজিত নন্দী নামের এক চরিত্র বিশিষ্ট নাটক।
- এ নাটকে সমকালীন দুর্ভিক্ষ, মজুতদারদের পিশাচবৃত্তি ও নিরন্নদের হাহাকারের বাস্তব চিত্র ফুটে উঠেছে।
- 'নেমেসিস' নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্রের নাম সুরজিত নন্দী, নৃপেন বোস, সুলতা, অসীম, অমল বাবু, ইয়াকুব ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
উত্তর
ব্যাখ্যা
অন্যদিকে,
• জসীমউদ্দীন রচিত ভ্রমণকাহিনি ‘চলে মুসাফির’।
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ভ্রমণকাহিনি হলো: জাভা যাত্রার পত্র, জাপান যাত্রী, ইউরোপ-যাত্রীর ডায়ারি, রাশিয়ার চিঠি, পারস্যে।
• 'পশ্চিমের যাত্রী' (১৯৩৮) সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় রচিত ভ্রমণ কাহিনি।
------------------
• নির্মলেন্দু গুণ:
- নির্মলেন্দু গুণ ১৯৪৫ সালে নেত্রকোনার বারহাট্টার কাশবন গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- নির্মলেন্দু গুণ এর সম্পূর্ণ নাম ‘নির্মলেন্দু প্রকাশ গুণ চৌধুরী’।
- বাংলাদেশের কবিদের কবি বলা হয় নির্মলেন্দু গুণ কে।
- তাঁকে ১৯৮২ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।
- এছাড়া ১৯৮২ সালেই আলাওল সাহিত্য পুরস্কার, ২০০১ সালে একুশে পদক প্রদান করা হয়।
নির্মলেন্দু গুণ রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো-
• প্রেমাংশুর রক্ত চাই,
• না প্রেমিক না বিপ্লবী,
• দীর্ঘ দিবস দীর্ঘ রজনী,
• ও বন্ধু আমার,
• চাষাভূষার কাব্য,
• পৃথিবীজোড়া গান,
• দূর হ দুঃশাসন,
• ইসক্রা,
• নেই কেন সেই পাখি,
• মুজিব-লেনিন-ইন্দিরা,
• শিয়রে বাংলাদেশ ইত্যাদি।
তাঁর রচিত ভ্রমণ কাহিনি:
- ভলগার তীরে,
- গীনসাবার্গের সঙ্গে,
- আমেরিকায় জুয়াখেলার স্মৃতি,
- ভ্রমি দেশে দেশে।
তাঁর রচিত কিশোর উপন্যাস:
- কালো মেলা,
- বাবা যখন ছোট্ট ছিলেন।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
উত্তর
ব্যাখ্যা
‘তিথিডোর’ হল বুদ্ধদেব বসুর একটি উজ্জ্বল ঔপন্যাসিক সৃষ্টি, যা ১৯৪৯ সালে প্রকাশিত হয়।
উপন্যাসটির বৈশিষ্ট্য:
• বিষয় ও মৌলিকতা: তিথিডোর বাংলা উপন্যাসের ধারায় স্মরণীয় নির্মাণ, যেখানে বাস্তব-জীবনপ্রীতি এবং পরিবার-সংলগ্নতার পরিচয় পাওয়া যায়।
• কাল ও প্রেক্ষাপট: এই উপন্যাসটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন পরিবর্তনমুখী সমাজের প্রেক্ষাপটে রচিত।
• প্রেম-আখ্যান: সত্যেন ও স্বাতীর প্রেম-আখ্যানের মাধ্যমে চল্লিশের দশকের মধ্যবিত্ত সমাজজীবনের চিত্র ফুটে উঠেছে।
• চরিত্র নির্মাণ: বুদ্ধদেব বসু এখানে চরিত্রের অন্তঃবাস্তবতার রূপকার; তবে এখানে জীবনের বহিরঙ্গ রূপকেও শিল্পিত করেছেন।
====================
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ছিলেন একজন প্রখ্যাত ঔপন্যাসিক, সাংবাদিক এবং বাংলার নবজাগরণের অন্যতম প্রধান পুরুষ। তিনি ১৮৩৮ সালে চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন এবং বাংলা উপন্যাসের জনক হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন।
কর্ম ও রচনা:
• প্রথম উপন্যাস: তাঁর প্রথম উপন্যাস 'রাজমোহনস ওয়াইফ', যা ইংরেজিতে রচিত।
• প্রথম সার্থক বাংলা উপন্যাস: 'দুর্গেশনন্দিনী', প্রকাশিত হয় ১৮৬৫ সালে।
• কাব্যগ্রন্থ: 'ললিতা তথা মানস' (১৮৫৬) হল তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ।
• দ্বিতীয় বাংলা উপন্যাস: 'কপালকুণ্ডলা', প্রকাশিত হয় ১৮৬৬ সালে।
• ত্রয়ী উপন্যাস: 'আনন্দমঠ', 'দেবী চৌধুরানী' এবং 'সীতারাম'।
তাঁর রচিত উপন্যাস:
• কপালকুণ্ডলা,
• মৃণালিনী,
• বিষবৃক্ষ,
• ইন্দিরা,
• যুগলাঙ্গুরীয়,
• চন্দ্রশেখর,
• রাধারানী,
• রজনী,
• কৃষ্ণকান্তের উইল,
• রাজসিংহ।
উৎস:
• বাংলাপিডিয়া,
• বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
উত্তর
ব্যাখ্যা
- গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৬৮ সালে।
• মুহম্মদ আবদুল হাই:
- মুহম্মদ আবদুল হাই একজন শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক, গবেষক, ভাষাবিজ্ঞানী।
- তিনি ২৬ নভেম্বর ১৯১৯ সালে মুর্শিদাবাদের রাণীনগর থানার মরিচা গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- তাঁর রচিত গ্রন্থ 'ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব' (১৯৬৪)।
• মুহাম্মদ আবদুল হাই রচিত গ্রন্থ:
- সাহিত্য ও সংস্কৃতি,
- তোষামোদ ও রাজনীতির ভাষা,
- ভাষা ও সাহিত্য,
- ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব ,
- বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত প্রভৃতি।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
উত্তর
ব্যাখ্যা
- তিনি মূলত প্রাবন্ধিক ও অধ্যাপক।
- তিনি লেখক সংঘ পুরস্কার, বাংলা একাডেমি পুরস্কার, লেখিকা সংঘ পুরস্কার, একুশে পদক, ঋষিজ পদক লাভ করেন।
তাঁর রচিত প্রবন্ধ-গবেষণা:
- অন্বেষা,
- দ্বিতীয় ভুবন,
- নিরাশ্রয় গৃহী,
- আরণ্যক দৃশ্যাবলী,
- অনতিক্রান্তবৃত্ত ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
উত্তর
ব্যাখ্যা
- ১৮৩০ সালে খেতাবসর্বস্ব মুগল সম্রাট দ্বিতীয় আকবর (১৮০৬-১৮৩৭) রামমোহন রায়কে ‘রাজা’ উপাধিতে ভূষিত করেন এবং তাঁর পক্ষে ব্রিটিশ রাজ ও পার্লামেন্টে ওকালতি করার জন্য ইংল্যান্ডে পাঠান।
- রামমোহন রায় কলকাতায় ২০ আগস্ট, ১৮২৮ সালে প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুরের সহায়তায় 'ব্রাহ্মসমাজ' স্থাপন করেন।
- রাজা রামমোহন রায় শিব প্রসাদ রায় ছদ্মনামে একটি মাসিক পত্রিকা প্রকাশ করতেন।
- তিনি প্রায় ৩০ টি গ্রন্থ রচনা করেন।
তাঁর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো-
- বেদান্তগ্রন্থ,
- বেদান্ত সার,
- পথ্য প্রদান,
- ভট্টাচার্যের সহিত বিচার,
- গোস্বামীর সহিত বিচার,
- সহমরন বিষয়ক প্রবর্তক ও নিবর্তকের সম্বাদ,
- গৌড়ীয় ব্যাকরণ ইত্যাদি।
- বিঃদ্রঃ মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার রচিত গ্রন্থ বেদান্ত চন্দ্রিকা।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
উত্তর
ব্যাখ্যা
বিশ শতকের পঞ্চাশের দশকে সাহিত্যক্ষেত্রে তাঁর আবির্ভাব। নগরজীবনের কৃত্রিমতা, রাজনীতিক সংগ্রাম, নিপীড়ন, প্রতারণা তিনি তাঁর কথাসাহিত্যের বিষয়বস্তু করেছেন।
ষাটের দশকে রচিত তাঁর উপন্যাস, তেইশ নম্বর তৈলচিত্র (১৯৬০) ও কর্ণফুলী (১৯৬২) ব্যাপক সাড়া জাগায়। 'তেইশ নম্বর তৈলচিত্র' উপন্যাসটির বিষয়বস্তু অবলম্বনে 'বসুন্ধরা' নামে চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন প্রখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক সুভাষ দত্ত। এ চলচ্চিত্রটি দেশে-বিদেশে ব্যাপক প্রশংসিত হয়।
তাঁর অন্যান্য উপন্যাসের মধ্যে শীতের শেষরাত বসন্তের প্রথমদিন (১৯৬২), ক্ষুধা ও আশা (১৯৬৪), শ্যামল ছায়ার সংবাদ (১৯৮৬) উল্লেখযোগ্য।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।
উত্তর
ব্যাখ্যা
- সুকান্ত ভট্টাচার্যের ‘আঠারো বছর বয়স’ কবিতাটি ছাড়পত্র কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত হয়েছে।
- এই কবিতাটি মাত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত।
তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ-
- ঘুম নেই, পূর্বাভাস,
- মিঠেকড়া,
- অভিযান,
- হরতাল,
- গীতিগুচ্ছ (সঙ্গীত) ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা -ড. সৌমিত্র শেখর।
উত্তর
ব্যাখ্যা
• নির্মলেন্দু গুণ:
- নির্মলেন্দু গুণ ১৯৪৫ সালে নেত্রকোনার বারহাট্টার কাশবন গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- নির্মলেন্দু গুণ এর সম্পূর্ণ নাম ‘নির্মলেন্দু প্রকাশ গুণ চৌধুরী’।
- বাংলাদেশের কবিদের কবি বলা হয় নির্মলেন্দু গুণ কে।
- তাঁকে ১৯৮২ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।
- এছাড়া ১৯৮২ সালেই আলাওল সাহিত্য পুরস্কার, ২০০১ সালে একুশে পদক প্রদান করা হয়।
⇒ নির্মলেন্দু গুণ রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো হলো:
- প্রেমাংশুর রক্ত চাই,
- না প্রেমিক না বিপ্লবী,
- বাংলার মাটি বাংলার জল,
- কবিতা অমীমাংসিত রমণী,
- দীর্ঘ দিবস দীর্ঘ রজনী,
- চৈত্রের ভালোবাসা,
- তার আগে চাই সমাজতন্ত্র,
- চাষাভুষার কাব্য,
- দূর হ দু্ঃশাসন,
- প্রথম দিনের সূর্য,
- নিরঞ্জনের পৃথিবী,
- নেই কেন সে পাখি,
- মুজিব-লেনিন-ইন্দিরা,
- চিরকালের বাঁশি,
- শিয়রে বাংলাদেশ,
- দুঃখ করো না, বাঁচো ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
উত্তর
ব্যাখ্যা
১৮৯৮ সালের ২৩ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার লাভপুর গ্রামে এক জমিদারবংশে তাঁর জন্ম।
তার সাহিত্যকর্ম নিম্নরূপঃ
উপন্যাসঃ
- চৈতালী ঘূর্ণি (১৯৩২),
- ধাত্রীদেবতা (১৯৩৯),
- কালিন্দী (১৯৪০),
- গণদেবতা (১৯৪৩),
- পঞ্চগ্রাম (১৯৪৪),
- কবি (১৯৪৪),
- হাঁসুলি বাঁকের উপকথা (১৯৪৭),
- আরোগ্য নিকেতন (১৯৫৩) ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য
ছোটগল্পঃ
- ‘রসকলি’,
- ‘বেদেনী’,
- ডাকহরকরা তাঁর প্রসিদ্ধ ছোটগল্প।
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় এর ছোট গল্পগুচ্ছ - অতসী মামী, প্রাগৈতিহাসিক, সরীসৃপ, আজ কাল পরশুর গল্প, ছোটবকুল্পুরের যাত্রী ইত্যাদি।
উত্তর
ব্যাখ্যা
• 'সংস্কৃতি কথা' প্রবন্ধগ্রন্থ:
- মোতাহের হোসেন চৌধুরীর মৃত্যুর পর সিকান্দার আবু জাফরের সমকাল প্রকাশনী কতৃক প্রকাশিত প্রবন্ধগ্রন্থ 'সংস্কৃতি কথা'।
- ত্রিশটি প্রবন্ধ একত্রিত করে 'সংস্কৃতি কথা' শিরোনামে তাঁর প্রথম গ্রন্থ প্রকাশিত হয়।
- গ্রন্থটির দ্বিতীয় সংস্করণ বের করে বাংলা একাডেমি ১৯৭০ সালে।
• মোতাহের হোসেন চৌধুরী:
- শিক্ষাবিদ, লেখক মোতাহের হোসেন চৌধুরীর জন্ম নোয়াখালী জেলার কাঞ্চনপুর গ্রামে।
- মোতাহের হোসেনের প্রবন্ধের গদ্যশৈলীতে প্রমথ চৌধুরীর এবং মননে রবীন্দ্রনাথের প্রভাব লক্ষ্য করা যায়।
- তিনি বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলনের সাথে যুক্ত ছিলেন।
- ‘সংস্কৃতি কথা’ তাঁর রচিত প্রধান প্রবন্ধ গ্রন্থ।
- 'সুখ' বার্ট্রান্ড রাসেলের Conquest of Happiness গ্রন্থের এবং 'সভ্যতা' ক্লাইভ বেল-এর Civiliszation গ্রন্থের ভাবানুবাদ গ্রন্থ।
- মুক্তবুদ্ধিচর্চার প্রবক্তা, উদার মানবতাবাদী ও মননশীল প্রবন্ধকার হিসেবে মোতাহের হোসেন চৌধুরীর বিশেষ খ্যাতি আছে।
• তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- আমাদের দৈন্য,
- আদেশপন্থী ও অনুপ্রেরণাপন্থী,
- মুসলমান সাহিত্যিকদের চিন্তাধারা।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
উত্তর
ব্যাখ্যা
• ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ:
- শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও ভাষাতত্ত্ববিদ মুহম্মদ শহীদুল্লাহর জন্ম ১৮৮৫ সালের ১০ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের চবিবশ পরগনা জেলার পেয়ারা গ্রামে।
- ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলনে শহীদুল্লাহ্ অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। তিনিই প্রথম উর্দুর পরিবর্তে বাংলাকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা করার যৌক্তিক দাবি জানান।
- আল এসলাম পত্রিকার সহকারী সম্পাদক (১৯১৫) ও বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকার যুগ্ম সম্পাদক (১৯১৮-২১) হিসেবে তিনি যোগ্যতার পরিচয় দেন।
- তাঁরই সম্পাদনা ও প্রকাশনায় মুসলিম বাংলার প্রথম শিশুপত্রিকা আঙুর (১৯২০) আত্মপ্রকাশ করে।
- এছাড়াও তিনি ইংরেজি মাসিক পত্রিকা দি পীস (১৯২৩), বাংলা মাসিক সাহিত্য পত্রিকা বঙ্গভূমি (১৯৩৭) এবং পাক্ষিক তকবীর (১৯৪৭) সম্পাদনা করেন।-
- মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন ও মধ্যযুগের ইতিহাস রচনাসহ বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের বহু জটিল সমস্যার সমাধান করেন। বাংলা লোকসাহিত্যের প্রতিও তিনি বিশেষ অনুরাগী ছিলেন। গবেষণাগ্রন্থের পাশাপাশি তিনি সাহিত্য এবং শিশুসাহিত্যের অনেক মৌলিক গ্রন্থও রচনা করেন।
- তিনি বেশ কয়েকটি গ্রন্থ অনুবাদ ও সম্পাদনাও করেন।
- তিনি ১৩ জুলাই ১৯৬৯ সালে মৃতুবরণ করেন।
• তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলি হলো:
- সিন্দবাদ সওদাগরের গল্প (১৯২২),
- ভাষা ও সাহিত্য (১৯৩১),
- বাঙ্গালা ব্যাকরণ (১৯৩৬),
- দীওয়ান-ই-হাফিজ (১৯৩৮),
- শিকওয়াহ ও জওয়াব-ই-শিকওয়াহ (১৯৪২),
- রুবাইয়াত-ই-উমর খয়্যাম (১৯৪২),
- আমাদের সমস্যা (১৯৪৯),
- পদ্মাবতী (১৯৫০),
- বাংলা সাহিত্যের কথা (২ খন্ড ১৯৫৩, ১৯৬৫),
- বিদ্যাপতি শতক (১৯৫৪), বাংলা আদব কী তারিখ (১৯৫৭),
- বাঙ্গালা ভাষার ইতিবৃত্ত (১৯৫৯), কুরআন শরীফ (১৯৬৩),
- তাঁর Buddhist Mystic Songs (১৯৬০) গ্রন্থটি চর্যাপদের অনুবাদ ও সম্পাদনা কর্ম।
- মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ ছিলেন বহুভাষাবিদ এবং ভাষাবিজ্ঞানের ক্ষেত্রে তিনি স্বচ্ছন্দে বিচরণ করেছেন। তিনি ১৮টি ভাষা জানতেন; ফলে বিভিন্ন ভাষায় সংরক্ষিত জ্ঞানভান্ডারে তিনি সহজেই প্রবেশ করতে পেরেছিলেন।
অন্যদিকে,
• ‘মুসলিম বাঙলা সাহিত্য' এর রচয়িতা মুহম্মদ এনামুল হক।
• 'বাংলা সাহিত্যের ইতিকথা'- ভূদেব চৌধুরী।
উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
২. বাংলাপিডিয়া।
উত্তর
ব্যাখ্যা
ব্রজাঙ্গনা রাধা কৃষ্ণের প্রেম বিষয়ক গীতিকাব্য।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত বীরাঙ্গনা বাংলা সাহিত্যের প্রথম পত্রকাব্য
- তিলোত্তমা সম্ভব অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্য গ্রন্থ।
- মেঘনাদবধ কাব্য কবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত কর্তৃক অমিত্রাক্ষর ছন্দে লেখা একটি মহাকাব্য।
- বাংলাভাষার সনেট প্রবর্তক,অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক হলে মাইকেল মধুসূদন দত্ত।
[উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর]
উত্তর
ব্যাখ্যা
- জন ক্লার্ক মার্শম্যান ছিলেন মিশনারি, ইতিহাসবিদ ও সাংবাদিক। তিনি জশুয়া মার্শম্যান ও হান্নাহ্ শেফার্ড দম্পতির প্রথম পুত্র।
- তিনি ১৭৯৪ সালে ব্রডমিড, ইংল্যান্ডে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি শ্রীরামপুর মিশনে শিক্ষা গ্রহণ করেন। তিনি বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের উন্নতিতে প্রায় ত্রিশ বছর অবদান রাখেন।
- ১৮১২ সাল থেকে জন ক্লার্ক মার্শম্যান শ্রীরামপুর মিশনে তাঁর কর্মতৎপরতা শুরু করেন। মিশনারি কাজে বাস্তব প্রশিক্ষণ গ্রহণের জন্য তিনি ইতালি, রোম ও গ্রিস ভ্রমণ করেন। ১৮১৮ সালে তিনি শ্রীরামপুর মিশনারি প্রেসে যোগ দেন এবং একই বছর 'সমাচার দর্পণ' পত্রিকায় কাজ শুরু করেন। ১৮৪১ সাল পর্যন্ত তিনি এই পত্রিকা পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন।
- ১৮১৮ সাল থেকে ১৮২৭ সাল পর্যন্ত মার্শম্যান প্রভাবশালী পত্রিকা 'Friend of India' (মাসিক ও ত্রৈমাসিক) সম্পাদনা ও প্রকাশ করেন।
- এছাড়াও তিনি ১৮৩৩ সালে সরকারের অনুবাদক এবং ১৮৪০ সালে 'Government Gazette' এর সম্পাদকের দায়িত্ব লাভ করেন।
তাঁর সম্পাদিত পত্রিকা:
- দিগদর্শন,
- সমাচার দর্পণ,
- ফ্রেন্ড অব ইন্ডিয়া,
- গভর্নমেন্ট গেজেট।
উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
উত্তর
ব্যাখ্যা
কথাসাহিত্যিক শামসুদ্দীন আবুল কালাম গ্রামীণ মানুষের ভাষাভঙ্গি, মনোভঙ্গি ও রুচিকে যথাযথভাবে সাহিত্যরুপে দানে সচেষ্ঠ হয়েছেন।
তিনি গ্রামীণ মানুষের জীবনদর্শনের সারসত্যকে রূপায়ন করেছেন তার কথাসাহিত্যে।
কাশবনের কন্যা - উপন্যাসে গ্রাম ও গ্রামীন মানুষের চিত্র তুলে ধরেছেন।
বিশেষ করে নিম্ন বর্গের শ্রমজীবী মানুষ (উপন্যাসঃ আলমগড়ের উপকথা) ও তাদের জীবন ছিল তার সাহিত্যের মূল উপজীব্য।
তার রচিত কয়েকটি গল্পগ্রন্থঃ
শাহেরবানু, পথ জানা নেই, অনেক দিনের আশা।
তার কয়েকটি উপন্যাসঃ কাশবনের কন্যা, কাঞ্চনমালা, সমুদ্রবাসর।
সুত্রঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (ড. সৌমিত্র শেখর)
উত্তর
ব্যাখ্যা
-পুর্নাঙ্গভাবে বাংলা ভাষায় কোরআন শরীফ প্রথম অনুবাদ করেন গিরিশচন্দ্র সেন।
- বাঙালি মুসলিমদের জন্য মুসলিম ধর্মগ্রন্থ, বাংলা অনুবাদ,ও মহা পুরুষদের জীবনী রচনার জন্য তিনি বিখ্যাত হয়ে আছেন।
উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম, শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য- মোহসীনা নাজিলা, বাংলাপিডিয়া।
উত্তর
ব্যাখ্যা
- কায়কোবাদ রচিত ‘অশ্রুমালা’ একটি গীতিকাব্য, যা ১৮৮৫ সালে প্রকাশিত হয়।
- এই কাব্যগ্রন্থের মূল সুর প্রেম।
- তবে প্রকৃতির প্রতি আকর্ষণবোধও এ কাব্যে খুব লক্ষ করা যায়।
• কায়কোবাদ:
- আধুনিক বাংলা মহাকাব্য ধারার শেষ কবি কায়কোবাদ।
- ১৮৫৭ সালে ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার আগলা গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা শাহামতউল্লাহ আল কোরেশী ছিলেন ঢাকার জেলা-জজ আদালতের উকিল।
- তাঁর প্রকৃত নাম মোহাম্মদ কাজেম আল কোরেশী।
- ‘কায়কোবাদ’ তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম।
- মাত্র তেরো বছর বয়সে তাঁর প্রথম কাব্য ‘বিরহবিলাপ’ প্রকাশিত হয়।
• তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- কুসুম কানন,
- মহাশ্মশান (পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ (১৭৬১) অবলম্বনে কাব্যটি রচিত),
- শিব মন্দির,
- অমিয়ধারা,
- শ্মশান ভস্ম,
- মহরম শরীফ।
• কবির মৃত্যুর পর প্রকাশিত হয় কাব্য:
- প্রেমের ফুল,
- প্রেমের বাণী,
- প্রেম পারিজাত,
- মন্দাকিনী ধারা,
- গওছপাকের প্রেমের কুঞ্জ।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
উত্তর
ব্যাখ্যা
• মীর মশাররফ হোসেনের উল্লেখযোগ্য উপন্যাস :
- রত্মাবতী,
- বিষাদসিন্ধু,
- উদাসীন পথিকের মনের কথা,
-গাজী মিয়ার বস্তানী।
• তাঁর রচিত নাটক:
- বসন্তকুমারী;
-জমিদার দর্পণ।
• আত্নজীবনীমূলক গ্রন্থ:
- আমার জীবনী,
- কুলসুমের জীবনী।
• এছাড়াও,
- দীনবন্ধু মিত্র রচনা করেন- নীল দর্পন।
- মাইকেল মদুসূদন দত্ত রচনা করেন- কৃষ্ণকুমারী।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
উত্তর
ব্যাখ্যা
• "সংস্কৃতির ভাঙা সেতু" প্রবন্ধগ্রন্থ:
- আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের মৃত্যুর পরে প্রকাশিত তাঁর একমাত্র প্রবন্ধগ্রন্থ "সংস্কৃতির ভাঙা সেতু"-তে পাঠক তাঁর প্রতিভার সেই অন্যদিকটির সঙ্গে পরিচিত হতে পারবেন। গল্প-উপন্যাসের মতো এক্ষেত্রেও তিনি ছিলেন এক স্বল্পপ্রজ লেখক।
- আখতারুজ্জামান ইলিয়াস 'সংস্কৃতির ভাঙা সেতু' প্রবন্ধগ্রন্থে 'সংস্কৃতির ভাঙা সেতু' নামে যে প্রবন্ধটি লিখেছেন তা বাংলাদেশের ভঙ্গুর ও ক্ষয়ে পড়া সমাজ-সময়ের ডকুমেন্টেশন এবং তা যেকোনো রাষ্ট্রের চিত্র হতে পারে।
--------------
⇒ আখতারুজ্জামান ইলিয়াস:
- আখতারুজ্জামান ইলিয়াস (১৯৪৩-১৯৯৭) কথাসাহিত্যিক।
- তাঁর পূর্ণনাম আখতারুজ্জামান মুহম্মদ ইলিয়াস।
- আখতারুজ্জামান ইলিয়াস বাংলাদেশ লেখক শিবিরের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
- এদেশের প্রগতিশীল ও মানবতাবাদী সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক আন্দোলনের প্রতিও তাঁর পরোক্ষ সমর্থন ছিল।
- তাঁর লেখায় সমাজবাস্তবতা ও কালচেতনা গভীরভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।
তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ হলো:
• উপন্যাস:
- চিলেকোঠার সেপাই,
- খােয়াবনামা।
(এই দুটি হলো তার মহাকাব্যোচিত উপন্যাস)
• ছােটগল্প:
- অন্য ঘরে অন্য স্বর,
- খোয়ারি,
- দুধভাতে উৎপাত,
- দোজখের ওম।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া।
উত্তর
ব্যাখ্যা
- গ্রন্থটি ১৯৬২ সালে প্রকাশিত হয়।
শহীদুল্লা কায়সার (১৯২৭-১৯৭১)
- কথাসাহিত্যিক, সাংবাদিক, লেখক শহীদুল্লা কায়সার ১৯২৭ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ফেনী জেলার মজুপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম আবু নাঈম মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ।
- ১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর পূর্ব পাকিস্তানের গণতান্ত্রিক ধারার সকল আন্দোলনের সঙ্গে তিনি যুক্ত ছিলেন।
- বামপন্থী রাজনীতির সমর্থক হিসেবে তিনি শ্রমিক-জনতার দুঃখ-দুর্দশা লাঘবের জন্য সক্রিয় সংগ্রামের ওপর গুরুত্ব দিতেন।
- ১৯৫২-র ভাষা আন্দোলন-এ তিনি অত্যন্ত সাহসী ভূমিকা পালন করেন এবং ৩জুন গ্রেফতার হয়ে প্রায় সাড়ে তিন বছর কারাভোগ করেন। ১৯৫৫ সালে তিনি পুনরায় গ্রেফতার ও কারারুদ্ধ হন। ১৯৫৮ সালের ১৪ অক্টোবর সামরিক শাসক কর্তৃক তিনি পুনরায় গ্রেফতার হন এবং প্রায় চার বছর কারাভোগের পর ১৯৬২ সালের সেপ্টেম্বরে মুক্তি লাভ করেন।
- শহীদুল্লা কায়সারের প্রধান উপন্যাস সারেং বউ (১৯৬২)-এ মানুষ ও তার অস্তিত্বের সংগ্রামের কথা বর্ণিত হয়েছে।
তাঁর অন্যান্য উপন্যাস-
- সংশপ্তক (১৯৬৫),
- কৃষ্ণচূড়া মেঘ,
- তিমির বলয়,
- দিগন্তে ফুলের আগুন,
- সমুদ্র ও তৃষ্ণা,
- চন্দ্রভানের কন্যা,
- কবে পোহাবে বিভাবরী (অসমাপ্ত)
- তাঁর ভ্রমণবৃত্তান্ত- পেশোয়ার থেকে তাসখন্দ (১৯৬৬)
'রাজবন্দীর জবানবন্দী' - কাজী নজরুল ইসলামের প্রবন্ধ।
'কারাগারের রোজনামচা' - বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের স্মৃতিকথামূলক রচনা
'শয়তানের জবানবন্দি' - হলো আরজ আলী মাতুব্বরের রচনা।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
উত্তর
ব্যাখ্যা
- বাংলা ভাষায় ভ্রমণ সাহিত্যের প্রথম রচয়িতা হলো সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।
- তাঁর রচিত স্মৃতিচারণামূলক ভ্রমণ কাহিনি হচ্ছে 'পালামৌ'।
- এটি ছোট নাগপুরের আদিম গিরিদরী অরণ্যানী ও আরণ্যক পশু এবং মানব লেখকের বর্ণনাগুণে উচ্চ সাহিত্যমূল্য লাভ করে।
• 'পালামৌ'-এর কয়েকটি বাক্য মনোহর ও প্রবাদপ্রমিত হয়ে উঠেছে এগুলো হলো:
- ‘বন্যেরা বনে সুন্দর, শিশুরা মাতৃক্রোড়ে।’
- ‘মানুষ্য বৃদ্ধ না হইলে সুন্দর হয় না।’
- ‘যে হারে, সেই রাগে।’
- ‘যাহার ভাগ্য কঠিন পাষাণ, পাষাণই তাহার অবলম্বন।’ - তিনি এই বাক্যগুলো সৃষ্টি করে স্মরণীয় হয়ে আছেন।
-------------------------
• সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৩৪ সালের ২৭শে জুন ব্রিটিশ ভারতের বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির নৈহাটির কাঁঠালপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি 'Bengal Ryots : Thier Rights and Liabilities' নামের গ্রন্থ লিখে প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন।
- তিনি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন ১২৮৪ থেকে ১২৮৯ বঙ্গাব্দ পর্যন্ত।
- আর তিনি সম্পাদনা করেন 'ভ্রমর' নামের মাসিক পত্রিকাটি।
• তাঁর রচিত উপন্যাসগ্রন্থ:
- কণ্ঠমালা,
- মাধবীলতা,
- জলপ্রতাপ চাঁদ ইত্যাদি।
• গল্পগ্রন্থ:
- রামেশ্বরের অদৃষ্ট।
• প্রবন্ধগ্রন্থ:
- যাত্রা।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
উত্তর
ব্যাখ্যা
- ১৯৫৩ সালে তাঁর সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় ভাষা আন্দোলনের ওপর প্রথম সংকলন গ্রন্থ একুশে ফেব্রুয়ারী।
- ১৯৪৯ সালে সোনার বাংলা পত্রিকায় প্রকাশিত হয় তাঁর প্রথম কবিতা।
- তিনি যৌথভাবে সম্পাদনা করেন উত্তর বঙ্গের মেয়েলী গীত এবং এককভাবে বাংলায় অনুবাদ করেন হোমারের ওডিসি।
- হাসান হাফিজুর রহমানের সম্পাদনায় ১৫ খন্ডে বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধ: দলিলপত্র প্রকাশিত হয় (১৯৮২-১৯৮৩)।
হাসান হাফিজুর রহমান:
- ১৯৩২ সালের ১৪ জুন জামালপুর শহরে মাতুলালয়ে তাঁর জন্ম।
- পৈতৃক নিবাস জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার কুলকান্দি গ্রামে।
- ১৯৫২ সালে সাপ্তাহিক বেগম পত্রিকায় সহকারী সম্পাদক হিসেবে তিনি কর্মজীবন শুরু করেন। পরে সওগাত, ইত্তেহাদ, পাকিস্তান এবং স্বাধীনতার পর দৈনিক বাংলা পত্রিকায় কাজ করেন।
তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম:
- বিমুখ প্রান্তর
- আধুনিক কবি ও কবিতা
- সীমান্ত শিবিরে
- আরো দুটি মৃত্যু
- মূল্যবোধের জন্যে
- যখন উদ্যত সঙ্গীন
- সাহিত্য প্রসঙ্গ
- দক্ষিণের জানালা
- প্রতিবিম্ব
- বজ্রে চেরা আঁধার আমার
- শোকার্ত তরবারী
- আমার ভেতরের বাঘ ইত্যাদি।
উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (ড. সৌমিত্র শেখর)।
উত্তর
ব্যাখ্যা
• ওয়াজেদ আলী:
- প্রাবন্ধিক, গল্পলেখক ও ভ্রমণকাহিনী রচয়িতা।
- লেখক হিসেবে গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ, রম্যরচনা ও ভ্রমণকাহিনী রচনায় তিনি খ্যাতি অর্জন করেন।
• তাঁর প্রবন্ধ:
- জীবনের শিল্প,
- প্রাচ্য ও প্রতীচ্য,
- ভবিষ্যতের বাঙালী,
- আকবরের রাষ্ট্র সাধনা,
- মুসলিম সংস্কৃতির আদর্শ;
• তাঁর গল্প:
- গুলদাস্তা ,
- মাশুকের দরবার,
- বাদশাহী গল্প ,
- গল্পের মজলিশ;
• তাঁর উপন্যাস:
- গ্রানাডার শেষ বীর;
• ভ্রমণকাহিনী:
- পশ্চিম ভারত,
- মোটর যোগে রাঁচী সফর প্রভৃতি।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
উত্তর
ব্যাখ্যা
• শওকত ওসমান:
- তিনি ছিলেন কথাসাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক।
- ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান ।
- উপন্যাস ও গল্প রচয়িতা হিসেবেই শওকত ওসমানের মুখ্য পরিচয়; তবে প্রবন্ধ, নাটক, রম্যরচনা, স্মৃতিকথা ও শিশুতোষ গ্রন্থও তিনি রচনা করেছেন।
- তাঁর 'জননী' ও 'ক্রীতদাসের হাসি' উপন্যাস দুটি প্রশংসিত হয়েছে। জননীতে সামাজিক জীবন ও ক্রীতদাসের হাসিতে রাজনৈতিক জীবনের কিছু অন্ধকার দিক উন্মোচিত হয়েছে।
- তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬২), আদমজি সাহিত্য পুরস্কার (১৯৬৬), একুশে পদক (১৯৮৩), ফিলিপস পুরস্কার (১৯৯১), স্বাধীনতা দিবস পুরস্কার (১৯৯৭) লাভ করেন।
- তিনি ১৯৯৮ সালের ১৪ই মে মৃত্যুবরণ করেন।
• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- ক্রীতদাসের হাসি,
- সমাগম,
- চৌরসন্ধি,
- রাজা উপাখ্যান,
- পতঙ্গ পিঞ্জর,
- রাজসাক্ষী,
- পুরাতন খঞ্জর।
• মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস:
- জাহান্নম হইতে বিদায়,
- দুই সৈনিক,
- নেকড়ে অরণ্য,
- জলাংগী।
• গল্প:
- পিঁজরাপোল,
- জুনু আপা ও অন্যান্য গল্প,
- প্রস্তর ফলক,
- উভশৃঙ্গ,
- শ্রেষ্ঠ গল্প,
- জন্ম যদি তব বঙ্গে,
- ঈশ্বরের প্রতিদ্বন্দ্বী ইত্যাদি।
• প্রবন্ধ:
- সংস্কৃতির চড়াই উৎরাই,
- মুসলিম মানসের রূপান্তর।
• নাটক:
- তস্কর ও লস্কর,
- পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা,
- আমলার মামলা।
অন্যদিকে,
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত নাটক - তরঙ্গভঙ্গ;
মামুনুর রশীদ রচিত নাটক রচিত নাটক - ওরা কদম আলী।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
উত্তর
ব্যাখ্যা
উৎস: শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা।
উত্তর
ব্যাখ্যা
- মূলত বিজ্ঞান লেখক হিসেবে তিনি পরিচিত।
- তিনি ‘মুকুল’ নামে ছোটদের ম্যাগাজিনের সম্পাদনার দায়িত্ব পালন করেছেন।
- তিনি এদেশে বিজ্ঞানকে ছোটদের মধ্যে জনপ্রিয় করার পথিকৃৎ।
- তাঁর প্রকাশিত বিজ্ঞান, পরিবেশ ও শিক্ষা বিষয়ক বইয়ের সংখ্যা ২৮।
- আবদুল্লাহ আল-মুতী প্রকাশিত প্রথম বইয়ের নাম ‘এসো বিজ্ঞানের রাজ্যে।’
তার রচিত উল্লেখযোগ্য বইগুলো মধ্যে রয়েছে -
- বিজ্ঞান ও মানুষ,
- এ যুগের বিজ্ঞান,
- বিপন্ন পরিবেশ,
- বিজ্ঞান-জিজ্ঞাসা,
- সাগরের রহস্যপুরী,
- মেঘ বৃষ্টি রোদ এবং
- পরিবেশের সংকট ঘনিয়ে আসছে।
- তারার দেশের হাতছানি
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
উত্তর
ব্যাখ্যা
• নুরুল মোমেন:
- তাঁর জন্ম ফরিদপুর জেলার আলফাডাঙ্গায় ১৯০৬ সালে।
- তিনি মূলত নাট্যকার ছিলেন।
- নুরুল মোমেনের প্রথম নাটক 'রূপান্তর' ১৯৪২ সালে ঢাকা বেতার-এ প্রচারিত হয়।
- তাঁর রচিত শ্রেষ্ঠ নাটক নেমসিস।
- তাঁর 'নেমেসিস' নাটকটি প্রথম শনিবারের চিঠি পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- 'নেমেসিস' নাটকটি পঞ্চাশ-দশকের মন্বন্তরের পটভূমিতে রচিত।
- ১৯৪৮ সালে তাঁর ’বহুরূপা‘ নামে একটি রম্যরচনা প্রকাশিত হয়।
• নুরুল মোমেন রচিত বিখ্যাত নাটকসমূহ:
- নেমেসিস,
- যদি এমন হতো,
- নয়া খান্দান,
- আলোছায়া,
- আইনের অন্তরালে,
- শতকরা আশি,
- রুপান্তর;
- যেমন ইচ্ছা তেমন।
অন্যদিকে,
• যোগেন্দ্র চন্দ্র গুপ্ত রচিত নাটক- কীর্তিবিলাস।
• মাইকেল মধুসূদন রচিত নাটক- মায়াকানন।
• মুনীর চৌধুরী রচিত নাটক- রূপার কৌটা ।
উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
উত্তর
ব্যাখ্যা
• তিনি ১৯১৯ সালে তেঁতুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতরচয়িতা, নাট্যকার ও সাংবাদিক।
তাঁর রচিত গ্রন্থাবলি:
কবিতা:
- প্রসন্ন প্রহর
- বৈরীবৃষ্টিতে
- তিমিরান্তক
- কবিতা
- বৃশ্চিকলগ্ন
উপন্যাস:
- মাটি আর অশ্রু
- জয়ের পথে
- পূরবী
- নবী কাহিনী
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর
উত্তর
ব্যাখ্যা
শওকত ওসমান
- ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম 'শেখ আজিজুর রহমান'।
তাঁর রচিত নাটক:
- তস্কর লস্কর
- পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা
- আমলার মামলা
- কাঁকর মণি
- বাগদাদের কবি
তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কয়েকটি বিখ্যাত উপন্যাস:
- জননী (প্রথম প্রকাশিত)
- চৌরসন্ধি,
- সমাগম,
- রাজা উপাখ্যান,
- পতঙ্গ পিঞ্জর,
- রাজসাক্ষী,
- পুরাতন খঞ্জর,
- বনি আদম ইত্যাদি।
- দুই সৈনিক
- নেকড়ে অরণ্য
- জলাঙ্গী
- জাহান্নাম হইতে বিদায়
তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- ঈশ্বরের প্রতিদ্বন্দী,
- পিঁজরাপোল,
- জন্ম যদি তব বঙ্গে ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
উত্তর
ব্যাখ্যা
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিখ্যাত উপন্যাস 'কবি'। ডোম সম্প্রদায়ের একজন যুবকের কবি রূপে প্রতিষ্ঠা এবং দুটি নারীর সঙ্গে তার সম্পর্ক বিষয়ক উপন্যাস।
• এই উপন্যাসের প্রধান চরিত্র হচ্ছে — 'নিতাইচরণ'।
• উপন্যাসের ক্লাসিক সংলাপ:
- 'এই খেদ আমার মনে, ভালবেসে মিটলোনা সাধ, কুলালোনা এই জীবনে। হায়! জীবন এতো ছোট ক্যানে? এই ভুবনে।
তারাশঙ্কর বন্দোপাধ্যায়:
- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় একজন কথাসাহিত্যিক, রাজনীতিবিদ ছিলেন।
- তিনি ১৮৯৮ সালে পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলায় এক জমিদারবংশে জন্ম গ্রহণ করেন।
- তারাশঙ্করের প্রথম গল্প ‘রসকলি’ সেকালের বিখ্যাত পত্রিকা কল্লোল-এ প্রকাশিত হয়।
- তারাশঙ্করের ত্রয়ী উপন্যাস- ধাত্রীদেবতা, গণদেবতা, পঞ্চগ্রাম।
- তাঁর সাহিত্যকর্ম:
উপন্যাস:
- চৈতালি ঘূর্ণি,
- ধাত্রীদেবতা,
- কালিন্দী,
- কবি,
- হাঁসুলি বাঁকের উপকথা,
- গণদেবতা,
- আরগ্য,
- নিকেতন,
- পঞ্চপুণ্ডলী,
- রাধা ইত্যাদি।
ছোটগল্প:
- রসকলি,
- বেদেনী,
- ডাকহরকরা।
উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
উত্তর
ব্যাখ্যা
উত্তর
ব্যাখ্যা
- নয়নচারা,
- দুই তীর ও অন্যান্য গল্প।
নাটক:
- বহিপীর,
- সুড়ঙ্গ,
- তরঙ্গভঙ্গ,
- উজানে মৃত্যু ইত্যাদি।
উপন্যাস:
- লালসালু,
- চাঁদের অমাবস্যা,
- কাঁদো নদী কাঁদো,
- দি আগলি এশিয়ান ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর।
উত্তর
ব্যাখ্যা
• রেইনকোট ছোটগল্পটিতে মনস্তাত্ত্বিক ব্যাপার থাকলেও একটি মূলত প্রতীকী গল্প ৷
• ‘রেইনকোট’ গল্পটি ১৯৯৫ সালে প্রকাশিত হয়।
• মুক্তিযোদ্ধা শ্যালকের রেইনকোট গায়ে দিয়ে ভীতু প্রকৃতির নুরুল হুদার মধ্যে সঞ্চারিত হয় যে উষ্ণতা, সাহস ও দেশপ্রেম - তারই ব্যঞ্জণাময় প্রকাশ ঘটেছে এ গল্পে৷
• এটি লেখকের সর্বশেষ গল্পগ্রন্থ 'জাল স্বপ্ন স্বপ্নের জাল' (১৯৯৭) গ্রন্থে সংকলিত হয়।
• 'জাল স্বপ্ন স্বপ্নের জাল' আক্তারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত সংকলনের বিভিন্ন গল্পে পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষভাবে মুক্তিযুদ্ধ এবং যুদ্ধ-পরবর্তী রাজনৈতিক এবং সামাজিক বাস্তবতার চিত্র ফুটে উঠেছে।
• এই গ্রন্থে পাঁচটি গল্প সংকলিত হয়েছে:
- প্রেমের গপ্পো,
- ফোঁড়া,
- জাল স্বপ্ন, স্বপ্নের জাল,
- কান্না,
- রেইনকোট।
উৎস: সাহিত্য পাঠ, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির বোর্ডবই ।
উত্তর
ব্যাখ্যা
• খোন্দকার শামসুদ্দীন মোহাম্মদ সিদ্দিকী:
- খোন্দকার শামসুদ্দীন মোহাম্মদ সিদ্দিকী (১৮০৮-১৮৭০) উনিশ শতকের প্রথম মুসলমান গদ্যলেখক।
- পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার সর্বমঙ্গল গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা খোন্দকার গোলাম ফরিদ ছিলেন একজন পীর।
- সুফি সাধক ও তত্ত্বজ্ঞানী হিসেবে তাঁর খ্যাতি ছিল।
- তিনি ফকিরিমতে বহু লোককে দীক্ষিত করেন।
- শামসুদ্দীন নিজেও এ ধারার অনুসারী ছিলেন।
- তাঁর রচিত দুখানি গ্রন্থ হলো ভাবলাভ (১৮৫৩) ও উচিৎ শ্রবণ অর্থাৎ পারমার্থিক ভাব (১৮৬০)।
- প্রথমটি পদ্যে এবং দ্বিতীয়টি গদ্য-পদ্যের মিশ্রণে রচিত সুফিতত্ত্বের গ্রন্থ।
- শামসুদ্দীনের গদ্যের ভাষা আধুনিক, কিন্তু আড়ষ্ট। তবে তাঁর কবিতার ভাষা শুদ্ধ, প্রাঞ্জল ও অর্থবহ।
- বিশেষত গানের আঙ্গিকে রচিত কবিতায় তাঁর সৃজনশীল শক্তির পরিচয় পাওয়া যায়।
- ‘আমার প্রাণ-প্রেয়সী সরদ শশী হাস্যবদনী/ দীর্ঘনাসি কুটিলকেশী মৃগনয়নী/ জিজ্ঞাসিলে কেহে তুমি, কৈলাস অনুগত আমি/ যাবে কোথা জিজ্ঞাসিল আবার কামিনী।’ তাঁর উচিৎ শ্রবণ গ্রন্থের এই গানে গজলের প্রভাব আছে।
উৎস: বাংলাপিডিয়া।
উত্তর
ব্যাখ্যা
গ্রন্থাকারে তাঁর মোট ত্রিশটি উপন্যাস, গল্প, প্রবন্ধ ও ভ্রমণকাহিনী প্রকাশিত হয়েছে। সেগুলির মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হলো:
ভ্রমণ কাহিনীঃ
- দেশে বিদেশে
- জলে ডাঙ্গায়
রম্যরচনাঃ
- পঞ্চতন্ত্র,
- ময়ূরকণ্ঠী
ছোটগল্পঃ
- চাচা কাহিনী,
- টুনি মেম।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া এবং লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
উত্তর
ব্যাখ্যা
উত্তর
ব্যাখ্যা
- উপন্যাসটি প্রকৃতপক্ষে নাগরিক মধ্যবিত্তের জীবন জটিলতার এক বিশ্বস্ত দলিল।
⇒ রশীদ করীম:
• রশীদ করীম (১৯২৫-২০১১) বাংলাদেশের প্রথিতযশা ঔপন্যাসিক। তিনি কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন।
• তাঁর রচিত প্রথম উপন্যাস ‘উত্তম পুরুষ’।
• রশীদ করীমের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস ‘আমার যত গ্লানি’ (১৯৭৩)।
রশীদ করীম রচিত সাহিত্যকর্ম:
- উত্তমপুরুষ,
- প্রষন্ন পাষাণ,
- আমার যত গ্লানি,
- সোনার পাথর বাটি,
- বড়ই নিঃসঙ্গ ইত্যাদি।
• প্ৰবন্ধ
- আর এক দৃষ্টিকোণ,
- মনের গহীনে তোমার মুরতিখানি।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
উত্তর
ব্যাখ্যা
- তিনি ছিলেন কবি ও ছান্দসিক।
- কলকাতার নিকটবর্তী নিমতা গ্রামে ১৮৮২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা ভাষার নিজস্ব বাগধারা ও ধ্বনি সহযোগে নতুন ছন্দসৃষ্টি তাঁর কবিপ্রতিভার মৌলিক কীর্তি। এজন্য তিনি ‘ছন্দের জাদুকর’ ও ‘ছন্দোরাজ’ নামে সাধারণ্যে পরিচিত।
- ১৯১৮ সালে ভারতী পত্রিকার বৈশাখ সংখ্যায় ছন্দ সম্পর্কিত তাঁর প্রসিদ্ধ রচনা ‘ছন্দ-সরস্বতী’ প্রকাশিত হয়।
- সত্যেন্দ্রনাথ একাধিক ছদ্মনামে কাব্যচর্চা করতেন, যেমন নবকুমার, কবিরত্ন, অশীতিপর শর্মা, ত্রিবিক্রম বর্মণ, কলমগীর ইত্যাদি।
তাঁর রচিত কাব্য:
- বেণু ও বীণা,
- কুহু ও কেকা,
- অভ্র আবীর,
- হসন্তিকা,
- কাব্যসঞ্চয়ন।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
উত্তর
ব্যাখ্যা
পরবর্তীতে আবদুল্লাহ আল মামুন নাট্যরূপ প্রদান করেন এবং যা বাংলাদেশ টেলিভিশনে সম্প্রচারিত হয়।
সংশপ্তক নাটকটি বাংলাদেশে টিভি নাটকের অন্যতম জনপ্রিয় নাটক হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
‘সংশপ্তক’ শব্দটি মূলত মহাভারত থেকে নেয়া। ‘সংশপ্তক’ শব্দটির অর্থ হচ্ছে, যে সৈনিকেরা জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করে এবং পালিয়ে আসে না।
উল্লেখযোগ্য চরিত্রঃ রমযান, হুরমতি।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
উত্তর
ব্যাখ্যা
- গ্রন্থটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত হয়।
- গ্রন্থটি ১৯৫৭ সালে অকাদেমী পুরস্কার ও ১৯৫৮ সালে রবীন্দ্রপুরস্কার লাভ করে।
---------------------
• প্রেমেন্দ্র মিত্র:
- প্রেমেন্দ্র মিত্র একাধারে কবি, কথাসাহিত্যিক, সাংবাদিক, সম্পাদক।
- তাঁর জন্ম ১৯০৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে কাশিতে।
- তিনি কল্লোল পত্রিকার একজন নিয়মিত লেখক ছিলেন।
- প্রেমেন্দ্র মিত্র কলকাতার সাউথ সাবার্বন স্কুল থেকে ম্যাট্রিক (১৯২০) পাস করে সাহিত্য-সাধনায় মনোযোগী হয়ে ওঠেন।
• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- পঞ্চশর,
- বেনামী বন্দর,
- পুতুল ও প্রতিমা,
- অফুরন্ত,
- ধূলিধূসর,
- জলপায়রা,
- মৃত্তিকা ইত্যাদি।
• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- পাঁক,
- কুয়াশা,
- মিছিল,
- উপনয়ন ,
- আগামীকাল,
- প্রতিশোধ,
- প্রতিধ্বনি ফেরে,
- অন্য এক নাম,
- পা বাড়ালেই রাস্তা ইদ্যাদি।
• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- প্রথমা,
- সম্রাট,
- ফেরারী ফৌজ,
- সাগর থেকে ফেরা,
- হরিণ চিতা চিল,
- এখনো মেঘ ইত্যাদি।
উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও ড. সৌমিত্র শেখর।
উত্তর
ব্যাখ্যা
- শঙ্খ ঘোষের আসল নাম চিত্তপ্রিয় ঘোষ। তার বাবা মণীন্দ্রকুমার ঘোষ এবং মা অমলা ঘোষ। ১৯৩২ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের বর্তমান চাঁদপুর জেলায় তাঁর জন্ম।
- তিনি ২০২১ সালের ২০ এপ্রিল মৃত্যবরণ করেন।
তার উল্লেখযোগ্য কবিতার বই:
- মুখ ঢেকে যায় বিজ্ঞাপনে
- চুপ করো, শব্দহীন হও
- সবিনয় নিবেদন
- বুক পেতে শুয়ে আছি ঘাসের উপরে চক্রবালে
- হওয়া
উৎস: প্রথম আলো ও বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট।
উত্তর
ব্যাখ্যা
- তাঁর জন্ম ফরিদপুর জেলার আলফাডাঙ্গায় ১৯০৬ সালে।
- তিনি মূলত নাট্যকার ছিলেন।
- নুরুল মোমেনের প্রথম নাটক 'রূপান্তর' ১৯৪২ সালে ঢাকা বেতার-এ প্রচারিত হয়।
- তাঁর রচিত শ্রেষ্ঠ নাটক নেমসিস।
- তাঁর 'নেমেসিস' নাটকটি প্রথম শনিবারের চিঠি পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- 'নেমেসিস' নাটকটি ঊনপঞ্চাশের মন্বন্তর পটভূমিতে রচিত।
- ১৯৪৮ সালে তাঁর ’বহুরূপা‘ নামে একটি রম্যরচনা প্রকাশিত হয়।
• নুরুল মোমেন রচিত বিখ্যাত নাটকসমূহ:
- নেমেসিস,
- যদি এমন হতো,
- নয়া খান্দান,
- আলোছায়া,
- আইনের অন্তরালে,
- শতকরা আশি,
- রুপান্তর;
- যেমন ইচ্ছা তেমন।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং বাংলাপিডিয়া, সংশ্লিষ্ট বই।
উত্তর
ব্যাখ্যা
- একজন কবি ও সাংবাদিক।
- তিনি ১৯১৭ সালের ২ ফেব্রুয়ারি পিরোজপুর জেলার শংকরপাশা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
• তাঁর প্রকাশিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ রাত্রিশেষে (১৯৪৭)।
- প্রকাশ: এপ্রিল, ১৯৪৭; কলকাতার কমরেড পাবলিশার্স থেকে।
- এই কাব্যগ্রন্থে প্রহর, প্রান্তিক, প্রতিভাস ও পদক্ষেপ এই চারটি ভাগে কবিতাগুলো বিন্যস্ত।
- মোট কবিতার সংখ্যা - ২৮।
আহসান হাবীব রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- মেঘ বলে চৈত্রে যাবো,
- দু'হাতে দুই আদিম পাথর,
- ছায়া হরিণ।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
উত্তর
ব্যাখ্যা
রামচন্দ্র বিদ্যাবাগীশ (জন্ম: ১৭৮৬ - মৃত্যু: ২ মার্চ ১৮৪৫) একজন আভিধানিক এবং পণ্ডিত। তিনি ব্রাহ্মসমাজের সাথে যুক্ত ছিলেন।
- রামচন্দ্র বিদ্যাবাগীশের আদি নিবাস নদীয়ার পালপাড়ায়।
- ১৮১৮ খ্রিষ্টাব্দে তিনি বাংলা ভাষার প্রথম অভিধান সঙ্কলন করেন।
- ১৮৩০ খ্রিষ্টাব্দে তিনি রামমোহনের বিপক্ষে যোগ দিলেও পরবর্তীকালে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের আগে হিন্দু বিধবা বিবাহ প্রস্তাব সমর্থন এবং বহুবিবাহের বিরুদ্ধে নিজমত নীতিদর্শন বক্তৃতামালায় দৃঢ়তার সাথে প্রকাশ করেন।
- ১৮২৯ খ্রিষ্টাব্দে রামমোহন রায় বিলেত গেলে দীর্ঘ ১০ বছর তার অসাধারণ পাণ্ডিত্য এবং বিষ্ণু চক্রবর্তীর সঙ্গীতের জন্যই ব্রাহ্মসমাজের অস্তিত্ব বজায় ছিল।
উৎসঃ শিক্ষক বাতায়ন (বাংলাদেশের সরকারি ওয়েবসাইট)।
উত্তর
ব্যাখ্যা
কবিতাটি নিম্নরূপ-
হে মহাজীবন
হে মহাজীবন, আর এ কাব্য নয়
এবার কঠিন, কঠোর গদ্যে আনো,
পদ-লালিত্য-ঝংকার মুছে যাক
গদ্যের কড়া হাতুড়িকে আজ হানো।
প্রয়ােজন নেই কবিতার স্নিগ্ধতা—
কবিতা তােমায় দিলাম আজকে ছুটি,
ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী গদ্যময়ঃ
পূর্ণিমা-চাঁদ যেন ঝল্সানাে রুটি।।
- 'ছাড়পত্র' কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৪৭ সালে।
ছাড়পত্র কাব্যগ্রন্থের উল্লেখযোগ্য কবিতাগুলো হলো -
- ছাড়পত্র,
- আঠারো বছর বয়স,
- রানার,
- হে মহাজীবন।
সুকান্ত ভট্টাচার্য রচিত কাব্যগ্রন্থ গুলো হল:
- পূর্বাভাস,
- হরতাল,
- ঘুম নেই,
- ছাড়পত্র,
- অভিযান।
উৎস: মাধ্যমিক বাংলা সাহিত্য (২০২০ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
উত্তর
ব্যাখ্যা
- তিনি ছিলেন মার্কসবাদী ভাবধারায় বিশ্বাসী এবং প্রগতিশীল চেতনার অধিকারী তরুণ কবি।
- ১৯২৬ সালের ১৫ আগস্ট কলকাতায় মাতুলালয়ে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল গোপালগঞ্জ জেলার কোটালিপাড়ায়।
- সুকান্ত ভট্টাচার্য কমিউনিস্ট পার্টির পত্রিকা দৈনিক স্বাধীনতা-র (১৯৪৫) 'কিশোর সভা' বিভাগ সম্পাদনা করতেন।
- সুকান্ত ভট্টাচার্যের সাহিত্য-সাধনার মূল ক্ষেত্র ছিল কবিতা। সাধারণ মানুষের জীবনসংগ্রাম, যন্ত্রণা ও বিক্ষোভ তাঁর কবিতার প্রধান বিষয়বস্তু।
- তাঁর রচনাকর্মে গণমানুষের আশা-আকাঙক্ষার বাণীসহ শোষণহীন এক নতুন সমাজ গড়ার অঙ্গীকার উচ্চারিত হয়েছে।
- 'এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাবো আমি' সুকান্ত ভট্টাচার্যের বিখ্যাত উক্তি।
- তিনি ২৯শে বৈশাখ, ১৩৫৪; ১৩ই মে, ১৯৪৭ সালে মৃত্যুবরণ করেন।
• তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ:
- ছাড়পত্র,
- ঘুম নেই,
- পূর্বাভাস,
- মিঠে কড়া,
- অভিযান,
- হরতাল,
- গীতিগুচ্ছ।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
উত্তর
ব্যাখ্যা
- ১৮১৪ সালের ২২ জুলাই কলকাতায় তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন লেখক, সাংবাদিক, সংস্কৃতিসেবী, ব্যবসায়ী।
- তাঁর ছন্দনাম “টেকচাঁদ ঠাকুর”।
- ১৮২৭ সালে তিনি হিন্দু কলেজে ভর্তি হন এবং খ্যাতিমান শিক্ষক হেনরি ডিরোজিওর তত্ত্বাবধানে থেকে শিক্ষা সম্পন্ন করেন।
- বাংলা উপন্যাস রচনার পথিকৃৎ প্যারীচাঁদ মিত্র।
- সাহিত্যক্ষেত্রে প্যারীচাঁদের সর্বশ্রেষ্ঠ কৃতিত্ব আলালের ঘরের দুলাল যা বাংলা সাহিত্যের প্রথম উপন্যাস হিসেবে খ্যাত।
- রচনারীতি ও ভাষাগত দিক থেকে এ উপন্যাস বাংলা সাহিত্যে নতুন ধারার সূচনা করে।
- প্যারীচাঁদ মিত্রকে বাংলা সাহিত্যের প্রথম ঔপন্যাসিক বলা হয়ে থাকে।
- তাই তাকে, বাংলা সাহিত্যধারার প্রতিষ্ঠাতা পুরুষ বলা হয়।
তাঁর উপন্যাস সমূহ:
আলালের ঘরে দুলাল,
- আধ্যাত্নিকা,
- অভেদী।
তাঁর একমাত্র প্রহসন:
- মদ খাওয়া বড় দায়-জাত থাকার কি উপায়।
উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৩) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
উত্তর
ব্যাখ্যা
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস।
- এর পটভূমি দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের বিষময় ফল ১৩৫০ বঙ্গাব্দের দুর্ভিক্ষ।
- আর এই দুর্ভিক্ষের করাল গ্রাস গ্রাম বাংলায় কীভাবে বিস্তার লাভ করেছে তার নিখুঁত বর্ণনা দিয়ে বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচনা করেন এই উপন্যাসটি।
- এটা প্রথম প্রকাশ হয় ১৯৫৯ সালে।
- তবে পুস্তকাকারে প্রকাশের ১৯৪৪-৪৬ সাল পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে মাসিক মাতৃভূমি পত্রিকায় প্রকাশিত।
- 'অশনি সংকেত'র পটভূমি বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বগ্রাম বারাকপুর ও তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চল ও বনগ্রাম মহকুমা শহর।
উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।