বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

আধুনিক যুগের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ লেখক

মোট প্রশ্ন৭,৬৪৬এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

আধুনিক যুগের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ লেখক

PrepBank · পাতা ২৩ / ৭৭ · ২,২০১২,৩০০ / ৭,৬৪৬

২,২০১.
বিহারীলাল চক্রবর্তীর প্রথম সার্থক গীতিকবিতা কোনটি?
  1. ক) সারদা মঙ্গল
  2. খ) সঙ্গীত
  3. গ) নিসর্গ
  4. ঘ) বঙ্গসুন্দরী
সঠিক উত্তর:
ঘ) বঙ্গসুন্দরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) বঙ্গসুন্দরী
ব্যাখ্যা
• বিহারীলাল চক্রবর্তী:
- বিহারীলাল চক্রবর্তী  আধুনিক বাংলা গীতিকবিতার অন্যতম পুরোধা এবং রবীন্দ্রনাথের কাব্যগুরু হিসেবে পরিচত।
- বাংলা গীতিকবিতার জনক হিসেবে পরিচিত বিহারীলাল চক্রবর্তী।
- তিনি আধুনিক বাংলা গীতিকাব্যের প্রথম ও প্রধান কবি।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিহারীলাল চক্রবর্তীকে 'ভোরের পাখি' উপাধিতে আখ্যায়িত করেন।
- বিহারীলাল চক্রবর্তীর প্রথম সার্থক গীতিকবিতা ‘বঙ্গসুন্দরী’
- তার শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ: সারদা মঙ্গল। 

বিহারীলাল চক্রবর্তী রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- স্বপ্নদর্শন,
- সঙ্গীত শতক,
- বঙ্গসুন্দরী,
- নিসর্গ সন্দর্শন,
- বন্ধু বিয়োগ,
- সারদা মঙ্গল,
- প্রেম প্রবাহিনী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২,২০২.
'ধীরে বহে বুড়িগঙ্গা' গ্রন্থটির কে লিখেছেন?
  1. আলমগীর কবির
  2. আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী
  3. আনিসুজ্জামান
  4. অদ্বৈত মল্লবর্মণ
সঠিক উত্তর:
আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী
ব্যাখ্যা
'ধীরে বহে বুড়িগঙ্গা': 
- আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরীর স্মৃতিচারণমূলক বই- 'ধীরে বহে বুড়িগঙ্গা'।
- এটি ৩ খণ্ডে প্রকাশিত হয়।
- এই বইগুলোতে তিনি চল্লিশ, পঞ্চাশ, ষাটের দশকের বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতার এক অনবদ্য ছবি এঁকেছেন।  
---------------- 
আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী:
- ১৯৩৪ সালের ১২ই ডিসেম্বর বরিশালে জন্ম গ্রহণ করেন। 
- আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি -গানের রচয়িতা আবদুল গাফফার চৌধুরী 

আবদুল গাফফার চৌধুরী রচিত উপন্যাস:
- চন্দ্রদ্বীপের উপাখ্যান (প্রথম),
- নাম না জানা ভোর,
- নীল যমুনা ও
- শেষ রাত্রির চাঁদ।

গল্পগ্রন্থ:
- কৃষ্ণপক্ষ,
- সুন্দর হে সুন্দর।

শিশুতোষ গ্রন্থ:
- ডানপিটে শওকত।

 তাঁর সম্পাদনা গ্রন্থ:
- বাংলাদেশ কথা কয়

উল্লেখ্য,
'ধীরে বহে মেঘনা' চলচ্চিত্রের পরিচালক আলমগীর কবির। এটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বিখ্যাত একটি চলচ্চিত্র যা ১৯৭৩ সালে মুক্তি পায়

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া, 'ধীরে বহে বুড়িগঙ্গা' গ্রন্থ।
২,২০৩.
অমিয় চক্রবর্তী কোন আন্দোলনের পটভূমিতে ‘বাংলাদেশ’ কবিতা রচনা করেন?
  1. কৃষক বিদ্রোহ
  2. স্বাধীনতা সংগ্রাম
  3. তেভাগা আন্দোলন
  4. ভাষা আন্দোলন
সঠিক উত্তর:
স্বাধীনতা সংগ্রাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বাধীনতা সংগ্রাম
ব্যাখ্যা
অমিয় চক্রবর্তী:
- তিনি ছিলেন কবি, গবেষক ও শিক্ষাবিদ।
- ১০ এপ্রিল, ১৯০১ পশ্চিমবঙ্গের হুগলীর শ্রীরামপুরে তাঁর জন্ম।
- তিরিশের পঞ্চকবির মধ্যে তিনি অন্যতম একজন।
- তিনি পাটনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি.এ পাস (১৯২১) করে শান্তিনিকেতনের গবেষণা বিভাগে যোগদান করেন।
- পরে তিনি রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন (১৯২৬-১৯৩৩)।
- তিনি 'বাংলাদেশ' কবিতাটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রেক্ষাপটে রচনা করেন।
- কবিতার জন্য তিনি বহু পুরস্কার ও সম্মাননা পেয়েছেন। উল্লেখযোগ্য পুরস্কার: ইউনেস্কো পুরস্কার (১৯৬০), ভারতীয় ন্যাশনাল একাডেমি পুরস্কার।
- বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে ‘দেশিকোত্তম’ (১৯৬৩) এবং ভারত সরকার ‘পদ্মভূষণ’ (১৯৭০) উপাধিতে ভূষিত করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- খসড়া,
- এক মুঠো,
- মাটির দেয়াল,
- অভিজ্ঞান বসন্ত,
- অনিঃশেষ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২,২০৪.
প্রখ্যাত লেখক হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়, কামিনী রায় রচিত কোন গ্রন্থের ভূমিকা লিখেছেন?
  1. ক) পৌরাণিকী
  2. খ) ধর্ম্মপুত্র
  3. গ) দীপ ও ধূপ
  4. ঘ) আলো ও ছায়া
সঠিক উত্তর:
ঘ) আলো ও ছায়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) আলো ও ছায়া
ব্যাখ্যা
কামিনী রায় ছিলেন কবি ও সমাজকর্মী।
তিনি ১৮৬৪ সালের ১২ অক্টোবর বাকেরগঞ্জের বাসন্ডা গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
তাঁর পিতা চন্ডীচরণ সেন ছিলেন একজন ঐতিহাসিক  উপন্যাস লেখক ও পেশায় বিচারক।

প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'আলো ও ছায়া' প্রকাশিত হয় ১৮৮৯ সালে;  হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় এর ভূমিকা লিখে দেন।

তাঁর অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ হলো:
- নির্মাল্য (১৮৯১),
- পৌরাণিকী (১৮৯৭),
- গুঞ্জন (শিশুকাব্য, ১৯০৫),
- ধর্ম্মপুত্র (অনুবাদ, ১৯০৭),
- মাল্য ও নির্মাল্য (১৯১৩),
- অশোকসঙ্গীত (সনেট, ১৯১৪),
- অম্বা (নাটক, ১৯১৫),
- বালিকা শিক্ষার আদর্শ (১৯১৮),
- ঠাকুরমার চিঠি (১৯২৪),
- দীপ ও ধূপ (১৯২৯),
- জীবনপথে (সনেট, ১৯৩০)।

তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগত্তারিণী পদক ১৯২৯ সালে  লাভ করেন।
তিনি ১৯৩৩ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর  মৃত্যুবরণ করেন। 

[উৎস: বাংলাপিডিয়া]
 
২,২০৫.
'পলাশী থেকে পাকিস্তান' সাহিত্যকর্মের রচয়িতা-
  1. ক) আবুল ফজল
  2. খ) আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
  3. গ) আহমদ শরীফ
  4. ঘ) আবুল কালাম শামসুদ্দীন
সঠিক উত্তর:
ঘ) আবুল কালাম শামসুদ্দীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) আবুল কালাম শামসুদ্দীন
ব্যাখ্যা
আবুল কালাম শামসুদ্দীন রচিত প্রধান সাহিত্যকর্ম- কচিপাতা, অনাবাদি জমি, দৃষ্টিকোণ, পলাশী থেকে পাকিস্তান, অতীত দিনের স্মৃতি ইত্যাদি। উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
২,২০৬.
‘ধাত্রীদেবতা, গণদেবতা ও পঞ্চগ্রাম’ ত্রয়ী উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. আবু জাফর শামসুদ্দীন
  4. সমরেশ মজুমদার
সঠিক উত্তর:
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়:
- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় একজন কথাসাহিত্যিক ও রাজনীতিবিদ।
- তিনি ১৮৯৮ সালে পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলায় এক জমিদারবংশে জন্ম গ্রহণ করেন।
- তারাশঙ্করের প্রথম গল্প ‘রসকলি’ সেকালের বিখ্যাত পত্রিকা কল্লোল-এ প্রকাশিত হয়।
- তারাশঙ্করের ত্রয়ী উপন্যাস- ধাত্রীদেবতা, গণদেবতা, পঞ্চগ্রাম। 

• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস: 
- চৈতালি ঘূর্ণি, 
- ধাত্রীদেবতা, 
- কালিন্দী, 
- কবি, 
- হাঁসুলি বাঁকের উপকথা, 
- গণদেবতা, 
- আরগ্য, 
- নিকেতন, 
- পঞ্চপুণ্ডলী, 
- রাধা ইত্যাদি। 

• তাঁর প্রসিদ্ধ  ছোটগল্প:
- রসকলি, 
- বেদেনী, 
- ডাকহরকরা। 

অন্যদিকে,
• আবু জাফর শামসুদ্দীন এর ত্রয়ী উপন্যাস- ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান, পদ্মা মেঘনা যমুনা এবং সংকর সংকীর্তন।
• মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়: 'পুতুল নাচের ইতিকথা', 'সহরবাসের ইতিকথা' ও 'ইতিকথার পরের কথা'।
• সমরেশ মজুমদার: 'উত্তরাধিকার', 'কালবেলা' ও 'কালপুরুষ’।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,২০৭.
শওকত আলীর ত্রয়ী উপন্যাসে কোন তিনটি উপন্যাস রয়েছে? 
  1. দক্ষিণায়নের দিন, প্রদোষে প্রাকৃতজন, যাত্রা
  2. দক্ষিণায়নের দিন, কুলায় কালস্রোত, পূর্বরাত্রি পূর্বদিন
  3. পূর্বরাত্রি পূর্বদিন, যাত্রা, প্রদোষে প্রাকৃতজন
  4. কুলায় কালস্রোত, যাত্রা, দক্ষিণায়নের দিন
সঠিক উত্তর:
দক্ষিণায়নের দিন, কুলায় কালস্রোত, পূর্বরাত্রি পূর্বদিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দক্ষিণায়নের দিন, কুলায় কালস্রোত, পূর্বরাত্রি পূর্বদিন
ব্যাখ্যা

• শওকত আলীর ত্রয়ী উপন্যাস সম্পর্কিত আলোচনা:
শওকত আলীর ট্রিলজি/ত্রয়ী উপন্যাস-  'দক্ষিণায়নের দিন', 'কুলায় কালস্রোত' এবং 'পূর্বরাত্রি পূর্বদিন'।
এ উপন্যাসগুলোতে দেখা যায়- শওকত আলীর ইতিহাসআশ্রয়ী রূপ। যেখানে শওকত আলী বর্ণনা করেছে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক সময়ের প্রেক্ষপট, মুক্তিযুদ্ধ, জাতীয়তাবাদী চরিত্রের প্রকাশ। শওকত আলী ছিলেন কালের সারথি। তার গল্প এবং উপন্যাসের ভাষায় বরাবরই তা দেখা যায়। সময়কে যিনি নিখুঁত বর্ণনায় এনে নানা ছাঁচে চরিত্রের দৃশ্যায়ন এঁকেছেন। যার কোনটিই কিন্তু কল্পিত ছিল না।

এই ত্রয়ী উপন্যাস সর্ম্পকে শওকত আলী এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, 'ষাটের দশকের মানুষের মধ্যে চিন্তাভাবনার যে পরিবর্তন আসছে, সেটাই 'দক্ষিণায়নের দিন' যার মানে হচ্ছে শীতকাল আসছে।
'কুলায় কালস্রোত' হচ্ছে - পরিবর্তন যেখানে আঘাত করছে। আর 'পূর্বরাত্রি পূর্বদিন' হচ্ছে- নতুন সময়টি আসার একেবারে আগের সময়টি। মূলত ষাটের দশকে আমাদের মধ্যবিত্ত এবং সমগ্র সমাজব্যবস্থায় একটা পরিবর্তন আসে। নতুন একটা চিন্তা-চেতনা দ্বারা আলোড়িত হয় পুরো সমাজ। ধ্যান-ধারণা চাল-চলন জীবনব্যবস্থায় একটা পরিবর্তনের সুর বেজে ওঠে। সেসবই উপন্যাসে আনতে চেয়েছি।'

উৎস: 'দ্য ডেইলি স্টার বাংলা' পত্রিকা রিপোর্ট; শওকত আলী রচনাসমগ্র।

২,২০৮.
‘কোন এক মাকে’- কবিতাটির লেখক কে?
  1. ক) আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
  2. খ) আবুল হোসেন
  3. গ) আবদুল কাদির
  4. ঘ) আবুল মনসুর আহমেদ
সঠিক উত্তর:
ক) আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
ব্যাখ্যা
আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ (১৯৩৪-২০০১) - তিনি পঞ্চাশ দশকের অন্যতম কবি হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন।
‘কোন এক মাকে’ তাঁর একটি বিখ্যাত কবিতা।
তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ- সাতনরী হার (১৯৫৫), কখনো রং কখনো সুর (১৯৭০), কমলের চোখ (১৯৭৪), আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি (১৯৮১), সহিষ্ণু প্রতীক্ষা (১৯৮২), বৃষ্টি ও সাহসী পুরুষের জন্য প্রার্থনা (১৯৮৩), আমার সময় (১৯৮৭), নির্বাচিত কবিতা (১৯৯১), আমার সকল কথা (১৯৯৩), খাঁচার ভিতর অচিন পাখি এবং মসৃণ কৃষ্ণগোলাপ (২০০২)।
উৎসঃলাইভ এমসিকিউ লেকচার এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
২,২০৯.
'বাঙালিকে কে বাঁচাবে' প্রবন্ধের রচয়িতা কে?
  1. ক) ইসমাইল হোসেন সিরাজী
  2. খ) শামসুর রাহমান
  3. গ) সৈয়দ শামসুল হক
  4. ঘ) সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
ঘ) সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী
ব্যাখ্যা
'বাঙালিকে কে বাঁচাবে' প্রবন্ধের রচয়িতা সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী।

তাঁর রচিত অন্যান্য প্রবন্ধঃ
- গণতন্ত্রের সন্ধানে
- অন্বেষা,
- দ্বিতীয় ভুবন,
- নিরাশ্রয় গৃহী,
- আরণ্যক দৃশ্যাবলী,
- স্বাধীনতা ও সংস্কৃতি, 
- নেতা জনতা ও রাজনীতি, ইত্যাদি।

বাবুলের বেড়ে ওঠা  তাঁর রচিত ছোটদের উপন্যাস।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,২১০.
সৈয়দ শামসুল হক রচিত গল্প কোনটি?
  1. আনন্দের মৃত্যু
  2. আমি জন্মগ্রহণ করিনি
  3. একদা এক রাজ্যে
  4. এখানে এখন
সঠিক উত্তর:
আনন্দের মৃত্যু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আনন্দের মৃত্যু
ব্যাখ্যা
• সৈয়দ শামসুল হক রচিত গল্প - আনন্দের মৃত্যু

সৈয়দ শামসুল হক: 
- তিনি ১৯৩৫ সালের ২৭শে ডিসেম্বর কুড়িগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত লেখক হিসেবে সমধিক পরিচিত।
- মানুষের জটিল জীবনপ্রবাহ এবং মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ তাঁর সাহিত্যকর্মের মূল প্রবণতা।
- তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার, আদমজি সাহিত্য পুরস্কার, একুশে পদক ইত্যাদি লাভ করেন।
- তিনি ২০১৬ সালের ২৭শে অক্টোবর ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত কাব্যনাট্য:
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়,
- নূরলদীনের সারাজীবন,
- এখানে এখন

তাঁর রচিত গল্প:
- তাস,
- শীত বিকেল,
- আনন্দের মৃত্যু,
- প্রাচীন বংশের নিঃস্ব সন্তান,
- জলেশ্বরীর গল্পগুলো।

তাঁর রচিত কবিতা:
- একদা এক রাজ্যে,
- বৈশাখে রচিত পঙ্‌ক্তিমালা,
- পরানের গহীন ভিতর,
- বেজান শহরের জন্য কোরাস,
- কাননে কাননে তোমারই সন্ধানে,
- আমি জন্মগ্রহণ করিনি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,২১১.
'আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি' গানটির সুরকার কে?
  1. ক) আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
  2. খ) আলতাফ মাহমুদ
  3. গ) আলাউদ্দিন আলী
  4. ঘ) সুবল দাস
সঠিক উত্তর:
খ) আলতাফ মাহমুদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) আলতাফ মাহমুদ
ব্যাখ্যা
আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি...... গানটির রচয়িতা সাংবাদিক ও লেখক আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী।
- গানটির প্রথম সুরকার ছিলেন আবদুল লতিফ
- বর্তমান সুরকার আলতাফ মাহমুদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,২১২.
‘সীমানা ছড়িয়ে’ উপন্যাসটির রচয়িতা কে?
  1. জহির রায়হান
  2. আনিস চৌধুরী
  3. সৈয়দ শামসুল হক
  4. সৈয়দ মুজতবা আলী
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ শামসুল হক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ শামসুল হক
ব্যাখ্যা
• সৈয়দ শামসুল হক:
- তিনি ১৯৩৫ সালে কুড়িগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত লেখক হিসেবে সমধিক পরিচিত।
- সীমানা ছাড়িয়ে (১৯৬৪) উপন্যাসের রচিয়তা তিনি। 

• তাঁর রচিত কাব্যনাট্য:
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়।
- নুরুলদীনের সারাজীবন।
- এখানে এখন।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- তাস।
- শীত বিকেল।
- আনন্দের মৃত্যু।
- প্রাচীন বংশের নিঃস্ব সন্তান।
- জলেশ্বরীর গল্পগুলো।

• সৈয়দ শামসুল হকের কবিতা:
- একদা এক রাজ্যে।
- বৈশাখে রচিত পঙ্‌ক্তিমালা।
- পরানের গহীন ভিতর।
- বেজান শহরের জন্য কোরাস।
- কাননে কানে তোমারই সন্ধানে।
- আমি জন্মগ্রহণ করিনি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
২,২১৩.
কোনটি সরদার জয়েন উদ্দিন রচিত উপন্যাস?
  1. আদিগন্ত
  2. অষ্টপ্রহর
  3. খরস্রোত
  4. নয়ান ঢুলি
সঠিক উত্তর:
আদিগন্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আদিগন্ত
ব্যাখ্যা
'আদিগন্ত' উপন্যাস:
- 'আদিগন্ত' সরদার জয়েন উদ্দিন রচিত একটি উপন্যাস
- প্রকাশিত হয় ১৯৫৯ খিষ্টাব্দে।
- সরলা ও মেহের বয়াতির প্রেমের কাহিনি বর্ণানার ভেতর দিয়ে পল্লিসমাজের জটগুলো অনাবৃতভাবে এতে প্রকাশিত হয়েছে।

সরদার জয়েনউদ্‌দীন:
- সরদার জয়েনউদ্দীন ১৯১৮ সালে ব্রিটিশ ভারতের (বর্তমান বাংলাদেশ) পাবনার সুজানগর উপজেলার কামারহাটিতে এক কৃষক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
- অনেক সূর্যের আশা,
- বেগম শেফালী মির্জা,
- রোদের ঢেউ,
- আদিগন্ত।

তাঁর রচিত ছোটগল্প:
- নয়ান ঢুলি,
- খরস্রোত
- বেলা ব্যানার্জীর প্রেম, 
- অষ্টপ্রহর। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,২১৪.
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌ রচিত "লালসালু" কোন ধরনের উপন্যাস?
  1. ঐতিহাসিক উপন্যাস
  2. রাজনৈতিক উপন্যাস
  3. মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস
  4. সামাজিক উপন্যাস
সঠিক উত্তর:
সামাজিক উপন্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সামাজিক উপন্যাস
ব্যাখ্যা
• "লালসালু" উপন্যাস:
- 'লালসালু' সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর প্রথম উপন্যাস। এটি প্রকাশিত হয় ১৯৪৮ সালে।
- প্রথম উপন্যাস হলেও আমরা একজন প্রতিভাবান লেখকের দুঃসাহসী প্রচেষ্টার সার্থক ফসল বলে বিবেচনা করতে পারি।
- লালসালু' একটি সামাজিক সমস্যামূলক উপন্যাস।
- নিরক্ষর দরিদ্র ও কুসংস্কারাচ্ছন্ন গ্রামবাসীর সরলতা ও ধর্ম বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে এক ভণ্ড ধর্মব্যবসায়ী তার জটিল, কুটিল ছলনাজাল বিস্তার করে কীভাবে নিজের শাসন ও শোষণের ভিত প্রতিষ্ঠিত করেছে, তারই চিত্র প্রতিফলিত হয়েছে 'লালসালু' উপন্যাসে।
-  উল্লেখযোগ্য চরিত্র: মজিদ, খালেক ব্যাপারি, জমিলা, রহিমা, আমেনা, আক্কাস, তাহেরের বাপ, হাসুনির মা।

• সামাজিক উপন্যাস:
- যে উপন্যাসে সামাজিক বিষয়াদি প্রাধান্য লাভ করে, তাকে সামাজিক উপন্যাস বলা হয়।
- সামাজিক রীতিনীতির সঙ্গে ব্যক্তি মানুষের দ্বন্দ্বের কাহিনিই প্রধান হয়ে থাকে এ জাতীয় উপন্যাসে।
যেমন- রবীন্দ্রনাথের 'চোখের বালি' কিংবা শরৎচন্দ্রের 'গৃহদাহ'। নজিবর রহমানের 'আনোয়ারা' ইত্যাদি।

• সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ:
- ১৯২২ সালের ১৫ আগস্ট চট্টগ্রামের ষোলশহরে সৈয়দ বাড়িতে তাঁর জন্ম।
- পিতা সৈয়দ আহমদ উল্লাহ ছিলেন সরকারি কর্মকর্তা।
- ফরাসি নাগরিক এ্যান মেরির সঙ্গে ওয়ালীউল্লাহ পরিণয়সূত্রে আবদ্ধ হন।
- মিসেস মেরি ওয়ালীউল্লাহর প্রথম উপন্যাস 'লালসালু' ফরাসি ভাষায় অনুবাদ করেন।
- পরবর্তীতে এটি Tree Without Roots নামে ইংরেজিতেও অনূদিত হয়।

• তাঁর রচিত নাটক:
- বহিপীর।
- তরঙ্গভঙ্গ।
- সুড়ঙ্গ।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- লালসালু।
- চাঁদের অমাবস্যা।
- কাঁদো নদী কাঁদো।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- নয়নচারা।
- দুই তীর ও অন্যান্য গল্প।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও লালসালু উপন্যাস।
২,২১৫.
'ময়নামতির চর' কাব্যগ্রন্থটি কে লিখেছেন?
  1. আহসান হাবিব
  2. বন্দে আলী মিয়া
  3. শামসুর রাহমান
  4. মোহাম্মদ নজিবর রহমান
সঠিক উত্তর:
বন্দে আলী মিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বন্দে আলী মিয়া
ব্যাখ্যা

• 'ময়নামতির চর' এর রচয়িতা বন্দে আলী মিয়া।

• বন্দে আলী মিয়া:
- বন্দে আলী মিয়া ১৯০৬ সালে পাবনা জেলায় জন্মগ্রহণ করেছেন। 
- তাঁর সম্পাদিত পত্রিকাগুলোর নাম: কিশোর পরাগ, শিশুবার্ষিকী, জ্ঞানের আলো। 
 
তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- ময়নামতির চর,  
- অনুরাগ, 
- পদ্মানদীর চর, 
- মধুমতীর চর, 
- ধরিত্রী। 
 
তাঁর রচিত শিশুতােষ গ্রন্থ:
- চোর জামাই,
- মৃগপরী, 
- ডাইনী বউ, 
- রূপকথা, 
- কুঁচবরণ কন্যা।
 
তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বসন্ত জাগ্রত দ্বারে,  
- শেষ লগ্ন, 
- অরণ্য গোধূলি, 
- নীড়ভ্রষ্ট। 
 
তাঁর রচিত নাটক: 
- মসনদ। 
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২,২১৬.
কোনটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস নয়?
  1. জীবন আমার বোন
  2. নীল দংশন
  3. যাত্রা
  4. পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়
সঠিক উত্তর:
পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়
ব্যাখ্যা

পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কাব্যনাট্য। 

পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়: 
- সৈয়দ শামসুল হক রচিত একটি কাব্যনাট্য
- নাটকটিতে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময়কালে একটি প্রত্যন্ত গ্রামের চিত্র এবং মুক্তিযোদ্ধাদের আগমনের পদধ্বনি মহাকাব্যিকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

সৈয়দ শামসুল হকের অন্যান্য কাব্যনাট্য:
- নুরুলদীনের সারাজীবন,
- এখানে এখন,
- গণনায়ক,
- বাংলার মাটি বাংলার জল, ইত্যাদি। 

অন্যদিকে,
- জীবন আমার বোন হচ্ছে মাহমুদুল হক রচিত একটি উপন্যাস।
- নীল দংশন সৈয়দ শামসুল হক রচিত একটি উপন্যাস।
- যাত্রা শওকত আলী রচিত একটি উপন্যাস।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

২,২১৭.
কোনটি বিহারীলাল চক্রবর্তী রচিত শেষ কাব্যগ্রন্থ?
  1. বঙ্গসুন্দরী
  2. সাধের আসন
  3. বন্ধুবিয়োগ
  4. সঙ্গীতশতক
সঠিক উত্তর:
সাধের আসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাধের আসন
ব্যাখ্যা
 ⇒ “সাধের আসন” কাব্যগ্রন্থ:
- বিহারীলাল চক্রবর্তীর শেষ কাব্যগ্রন্থ ‘সাধের আসন’ (১৮৮৯)।
- ‘সাধের আসন’কে ‘সারদামঙ্গল’ কাব্যের পরিশিষ্ট বলা যায়।
- কোনো এক সম্ভ্রান্ত বিবাহিত নারী কবির ‘সারদামঙ্গল’ কাব্য পাঠ করে নিজ হাতে একটি আসন বুনে কবিকে প্রশ্ন করেছিলেন , “তুমি কাকে ধ্যান কর?”। এর উত্তর স্বরূপ বিহারীলাল ‘সাধের আসন’ লিখেছিলেন।

⇒ বিহারীলাল চক্রবর্তী:
- বিহারীলাল চক্রবর্তী আধুনিক বাংলা গীতিকবিতার অন্যতম পুরোধা এবং রবীন্দ্রনাথের কাব্যগুরু হিসেবে পরিচিত।
- তিনি ১৮৩৫ সালের ২১ মে কলকাতায়  জন্মগ্রহণ করেন। 
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিহারীলাল চক্রবর্তীকে 'ভোরের পাখি' বলে আখ্যায়িত করেন।
- কারণ বিহারীলালই প্রথম বাংলায় ব্যক্তির আত্মলীনতা, ব্যক্তিগত অনুভূতি ও গীতোচ্ছ্বাস সহযোগে কবিতা রচনা করে বাংলা কবিতাকে নতুন এক প্রেরণা দান করেন। এ ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন প্রথম।এইজন্য রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাকে 'ভোরের পাখি' বলে আখ্যায়িত করেন।

বিহারীলাল চক্রবর্তীর কাব্যগ্রন্থ গুলো হলো:
- স্বপ্নদর্শন,
- সঙ্গীতশতক, 
- বন্ধুবিয়োগ,
- প্রেমপ্রবাহিণী,
- নিসর্গসন্দর্শন,
- বঙ্গসুন্দরী,
- সারদামঙ্গল,
- নিসর্গসঙ্গীত,
- মায়াদেবী,
- দেবরাণী,
- বাউলবিংশতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২,২১৮.
ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ ছিলেন প্রধানত-
  1. সাহিত্যিক
  2. ইসলাম প্রচারক
  3. ভাষাতত্ত্ববিদ
  4. সমাজ সংস্কারক
সঠিক উত্তর:
ভাষাতত্ত্ববিদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভাষাতত্ত্ববিদ
ব্যাখ্যা
• ড.মুহম্মদ শহীদুল্লাহ ছিলেন একাধারে ভাষাবিজ্ঞানী ও ভাষাতাত্ত্বিক, গবেষক, অনুবাদক, চিন্তাবিদ ও শিক্ষাবিদ। তবে তিনি ভাষাতত্ত্ববিদ হিসেবে বহুল পরিচিত।

⇒ ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্:

• ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ (১৮৮৫-১৯৬৯) ভারতীয় উপমহাদেশের একজন স্মরণীয় বাঙালি ব্যক্তিত্ব, বহুভাষাবিদ, বিশিষ্ট শিক্ষক ও দার্শনিক ছিলেন।  তিনি ১৮৮৫ সালের ১০ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার পেয়ারা গ্রামে তাঁর জন্ম।
• তিনি 'জ্ঞানতাপস' হিসেবে অধিক পরিচিত। তাঁকে 'চলিষ্ণু অভিধান' বলা হয়।
• ১৯৫৫-৫৮ সাল পর্যন্ত তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ও সংস্কৃত বিভাগে অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ইমেরিটাস নিযু্ক্ত হন।
• ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ে শহীদুল্লাহ্ বহু মননশীল ও জ্ঞানগর্ভ প্রবন্ধ নানা পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে এবং এ সংক্রান্ত বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা তিনি সম্পাদনা করেন। আল এসলাম পত্রিকার সহকারী সম্পাদক ও বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকার যুগ্ম সম্পাদক  হিসেবে তিনি যোগ্যতার পরিচয় দেন।
• তাঁরই সম্পাদনা ও প্রকাশনায় মুসলিম বাংলার প্রথম শিশুপত্রিকা আঙুর আত্মপ্রকাশ করে। এছাড়াও তিনি ইংরেজি মাসিক পত্রিকা দি পীস, বাংলা মাসিক সাহিত্য পত্রিকা বঙ্গভূমি এবং পাক্ষিক তকবীর সম্পাদনা করেন।
• ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপট জাতিসত্তা সম্পর্কে ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহর বিখ্যাত উক্তি- ''আমরা হিন্দু বা মুসলমান যেমন সত্য, তার চেয়ে বেশি সত্য আমরা বাঙালি।''

 তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলি হলো:
- সিন্দবাদ সওদাগরের গল্প,
- ভাষা ও সাহিত্য,
- বাঙ্গালা ব্যাকরণ,
- দীওয়ান-ই-হাফিজ,
- শিকওয়াহ ও জওয়াব-ই-শিকওয়াহ,
- রুবাইয়াত-ই-উমর খয়্যাম,
- Essays on Islam,
- আমাদের সমস্যা,
- পদ্মাবতী,
- বাংলা সাহিত্যের কথা (২ খণ্ড),
- বিদ্যাপতি শতক,
- বাংলা আদব কী তারিখ,
- বাঙ্গালা ভাষার ইতিবৃত্ত,
- কুরআন শরীফ,
- অমরকাব্য,
- সেকালের রূপকথা ইত্যাদি।

⇒ তাঁর সম্পাদিত আঞ্চলিক ভাষার অভিধান এক বিশেষ কীর্তি। মুহম্মদ আবদুল হাই -এর সঙ্গে তাঁর যুগ্ম-সম্পাদনায় রচিত Traditional Culture in East Pakistan (১৯৬১) একখানা উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,২১৯.
আদিবাসীদের জীবন কাহিনী নিয়ে রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. ক) মগ্ন চৈতন্যে শিস
  2. খ) কুহ ও কেকা
  3. গ) কাশবনের কন্যা
  4. ঘ) কর্ণফুলী
সঠিক উত্তর:
ঘ) কর্ণফুলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) কর্ণফুলী
ব্যাখ্যা
আলাউদ্দিন আল আজাদের 'কর্ণফুলী'  (১৯৬২)  পাহাড়-সমুদ্র ঘেরা একটি বিশেষ জনপদের উপন্যাস। 
- আদিবাসী রাঙামিলা, প্রেমিক দেওয়ানপুত্র(চাকমা), বাঙালি ইসমাইল, জলি, রমজান প্রমুখের জীবন যাপন ও প্রণয় উপন্যাসে বর্ণিত। 
- শিক্ষাবিদ, কবি, কথাশিল্পী, প্রাবন্ধিক, শিশুসাহিত্যিক, গবেষক, সাহিত্য-সমালোচক আলাউদ্দিন আল আজাদের জন্ম ৬ মে ১৯৩২ সালে, নরসিংদী জেলার রায়পুর থানার রামনগর গ্রামে।

তাঁর  উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ হচ্ছে:
গল্প:
- জেগে আছি (১৯৫০),
- ধানকন্যা (১৯৫১),
- জীবন জমিন (১৯৮৮)
উপন্যাস
- তেইশ নম্বর তৈলচিত্র (১৯৬০) 
- কর্ণফুলী (১৯৬২)
- শীতের শেষরাত বসন্তের প্রথমদিন (১৯৬২),
- ক্ষুধা ও আশা (১৯৬৪),
- শ্যামল ছায়ার সংবাদ (১৯৮৬) উল্লেখযোগ্য।
 নাটক
- মরক্কোর যাদুকর (১৯৫৯),
- মায়াবী প্রহর (১৯৬৩) ও
- ধন্যবাদ (১৯৬৫) 
- ধন্যবাদ (১৯৫১),
- নিঃশব্দ যাত্রা (১৯৭২),
- নরকে লাল গোলাপ (১৯৭২) প্রধান।
দুটি কাব্যনাট্য,
- ইহুদির মেয়ে (১৯৬২) ও
- রঙিন মুদ্রারাক্ষস (১৯৯৪)।


উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,২২০.
'বত্রিশ সিংহাসন' গ্রন্থটির রচয়িতা-
  1. ক) বিহারীলাল চক্রবর্তী
  2. খ) রামরাম বসু
  3. গ) মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
  4. ঘ) গোলকনাথ শর্মা
সঠিক উত্তর:
গ) মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
ব্যাখ্যা

• মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের বিখ্যাত পণ্ডিত ছিল।
• তিনি ফোর্ট উইলিয়াম যুগে সবচেয়ে বেশি গ্রন্থ রচনা করেন।
• তাঁর রচিত গ্রন্থ ছিল ৫ টি।
• তাঁর রচিত গ্রন্থগুলো হলোঃ
- বত্রিশ সিংহাসন,
- হিতোপদেশ,
- রাজাবলি,
- প্রবোধ চন্দ্রিকা ও
- বেদান্ত চন্দ্রিকা।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

২,২২১.
মুনীর চৌধুরীর ‘মুখরা রমনী বশীকরণ’ একটি -
  1. ক) উপন্যাস
  2. খ) ছোটগল্প
  3. গ) প্রবন্ধ
  4. ঘ) অনুবাদক নাটক
সঠিক উত্তর:
ঘ) অনুবাদক নাটক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) অনুবাদক নাটক
ব্যাখ্যা

মুনীর চৌধুরী উইলিয়াম শেক্সপিয়রের The Taming of The Shrew (টেমিং অব দি শ্রু ) অনুবাদ করেন 'মুখরা রমণী বশীকরণ' নামে (১৯৭০)। এটি পাঁচ অঙ্ক বিশিষ্ট কমেডি। ।
পদুয়া নামক স্থানের এক ধনী ব্যাপ্তিস্তার দুই কন্যা ক্যাথেরিনা ও বিয়াঙ্কা। ক্যাথেরিনা খুবই মুখরা নারী, বিয়াঙ্কা সুন্দরী। ভেরােনা নামক স্থানের যুবক পেট্রুশিও ক্যাথেরিনার দর্প চূর্ণ করে তার পাণিগ্রহণ করে। মুনীর চৌধুরী নিজেই বলেছেন :কাহিনিটি স্কুল। কিন্তু এতে যে হাস্যরস আছে তা সতেজ, সরস ও উপভােগ্য।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর

২,২২২.
'ভবিতব্যের বাণিজ্য তরী' কার রচিত গ্রন্থ?
  1. সৈয়দ মুজতবা আলী
  2. হাসান হাফিজুর রহমান
  3. সৈয়দ আলী আহসান
  4. মীর মশাররফ হোসেন
সঠিক উত্তর:
হাসান হাফিজুর রহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাসান হাফিজুর রহমান
ব্যাখ্যা
ভবিতব্যের বাণিজ্য তরী, বিমুখ প্রান্তর, আর্ত শব্দাবলী, অন্তিম শরের মতো, যখন উদ্যত সঙ্গীন, শোকার্ত তরবারি হাসান হাফিজুর রহমান রচিত কাব্যগ্রন্থ।
উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা এবং লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
২,২২৩.
বিখ্যাত 'নেমেসিস' নাটক কোন পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়?
  1. কল্লোল
  2. শনিবারের চিঠি
  3. ধূমকেতু
  4. পূর্বাশা
সঠিক উত্তর:
শনিবারের চিঠি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শনিবারের চিঠি
ব্যাখ্যা
• 'নেমেসিস':
- নুরুল মোমেনের শ্রেষ্ঠ নাটক 'নেমেসিস'।
- নাটকটি ১৯৪৪ সালে "শনিবারের চিঠি" পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- নাটকটি পঞ্চাশ-দশকের মন্বন্তরের পটভূমিতে রচিত।
- এর রচনাশৈলী ও পরিকল্পনা অভিনব।
- একটি মাত্র চরিত্রের মাধ্যমে দীর্ঘ সংলাপের ভিতর দিয়ে পুরো নাট্যকাহিনী বিবৃত হয়েছে যার মধ্যে একটি পরিপূর্ণ ছবি পরিস্ফুট হয়ে ওঠে।
- ফলে নাটকটি নাট্যামোদীদের কাছে বিশেষভাবে প্রশংসিত হয় এবং এ নাটকের মাধ্যমে তিনি বাংলা নাট্যসাহিত্যে অধিষ্ঠিত হন।
- নাটকটি গ্রন্থাকারে প্রকাশ পায় ১৯৪৮ সালে

• নুরুল মোমেন:
- নুরুল মোমেন এর জন্ম ফরিদপুর জেলার আলফাডাঙ্গায় ১৯০৬ সালে।
- নুরুল মোমেনের প্রথম নাটক 'রূপান্তর' ১৯৪২ সালে ঢাকা বেতার-এ প্রচারিত হয়।
- ১৯৪৭ সালে নাটকটি গ্রন্থরূপে প্রকাশিত হয়।
- নুরুল মোমেন রচিত প্রথম রম্যগ্রন্থ 'বহুরূপা'।
- ১৯৪৮ সালে 'বহুরূপা' নামক রম্যরচনাটি প্রকাশিত হয়।

• নুরুল মোমেন রচিত অন্যান্য রম্যগ্রন্থ হলো:
- নরসুন্দর,
-হিংটিং ছট (প্রথম ও দ্বিতীয় খণ্ড)।

• নুরুল মোমেন রচিত বিখ্যাত নাটকসমূহ:
- নেমেসিস,
- যদি এমন হতো,
- নয়া খান্দান,
- আলোছায়া,
- আইনের অন্তরালে,
- শতকরা আশি,
- রূপলেখা,
- যেমন ইচ্ছা তেমন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২,২২৪.
'দিলরুবা' ও 'উত্তর বসন্ত' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. আবুল হুসেন
  2. আবদুল কাদির
  3. আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
  4. কাজী আব্দুল ওদুদ
সঠিক উত্তর:
আবদুল কাদির
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবদুল কাদির
ব্যাখ্যা

• আবদুল কাদিরের মাত্র দুটি কাব্যগ্রন্থ দিলরুবা ও উত্তর বসন্ত বাংলা ভাষায় তাঁকে স্থায়ী আসন এনে দেয়। তাঁর কবিতা পাঠ করে রবীন্দ্রনাথ পর্যন্ত তাঁর উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেন।

------------------
• আবদুল কাদির:
- আবদুল কাদির (১৯০৬-১৯৮৪) ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক, ছন্দসিক, সম্পাদক।
- মুসলিম সাহিত্য সমাজের (১৯২৬) মাধ্যমে ঢাকায় যে বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন সংঘটিত হয়, আবদুল কাদির ছিলেন তার অন্যতম উদ্যোক্তা।
- সংগঠনের মুখপত্র বার্ষিক শিখা (১৯২৭) পত্রিকার তিনি প্রকাশক ও লেখক ছিলেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- দিলরুবা ও
- উত্তর বসন্ত।

তাঁর অন্যান্য গ্রন্থ:
- বাংলা কাব্যের ইতিহাস: মুসলিম সাধনার ধারা,
- কবি নজরুল,
- ছন্দসমীক্ষণ,
- বাংলা ছন্দের ইতিবৃত্ত,
- কাজী আব্দুল ওদুদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

২,২২৫.
আহমদ ছফা রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস -
  1. খেলাঘর
  2. পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়
  3. অলাতচক্র
  4. কালো ঘোড়া
সঠিক উত্তর:
অলাতচক্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অলাতচক্র
ব্যাখ্যা
• 'অলাতচক্র' উপন্যাস:
- 'অলাতচক্র' আহমদ ছফা রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।
- ১৯৮৫ সালে তৎকালীন 'নিপুণ' নামের একটি সাপ্তাহিক পত্রিকায় প্রথম মুদ্রিত হয়।
- এটি মূলত বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকেন্দ্রিক একটি উপন্যাস।
- এই উপন্যাসে লেখক মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে বাইরের দেশগুলোর অংশগ্রহণকে সমালোচকের দৃষ্টিতে গ্রহণ করেছেন।
- এই উপন্যাসের কয়েকটি চরিত্র: তায়েবা, জাহিদুল, দানিয়েল প্রমুখ।

আহমদ ছফা:
- আহমদ ছফা ছিলেন একজন প্রতিবাদী লেখক, প্রগতিপন্থি সাহিত্যকর্মী ও সংগঠক।
- আহমদ ছফা ৩০শে জুন, ১৯৪৩ সালে গাছবাড়িয়া, চট্টগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত ছিলেন চিন্তাবিদ ও সাহিত্যিক।
- তিনি স্বদেশ পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন। ১৯৭০ সালের গোড়ার দিকে আহমদ ছফার সম্পাদনায় সাহিত্য পত্রিকা ‘স্বদেশ’ প্রকাশিত হয়েছিল। মাত্র তিন সংখ্যা প্রকাশের পর পত্রিকাটির প্রকাশনা বন্ধ হয়ে যায়।

আহমদ ছফা রচিত উপন্যাস:
- গাভী বিত্তান্ত,
- ওঙ্কার,
- অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী,
- অলাতচক্র ইত্যাদি।

তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- বুদ্ধিবৃত্তির নতুন বিন্যাস,
- বাঙালি মুসলমানের মন,
- সাম্প্রতিক বিবেচনা,
- সিপাহী যুদ্ধের ইতিহাস।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাস, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,২২৬.
"মুখরা রমণী বশীকরণ" কী ধরনের রচনা?
  1. কবিতা 
  2. প্রবন্ধ
  3. ছোটগল্প
  4. অনুবাদ নাটক
সঠিক উত্তর:
অনুবাদ নাটক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুবাদ নাটক
ব্যাখ্যা

"মুখরা রমণী বশীকরণ" মুনীর চৌধুরী রচিত একটি অনুবাদ নাটক। 

মুনীর চৌধুরী
- মুনীর চৌধুরী ১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর মানিকগঞ্জ শহরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি একজন শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্য সমালোচক এবং বাগ্মী।
- শিক্ষা ও পেশাগত জীবনের পাশাপাশি তিনি বামপন্থী রাজনীতি ও প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
- ঢাকার প্রগতি লেখক ও শিল্পী সংঘ, কমিউনিস্ট পার্টি এবং ভাষা আন্দোলনের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন।
- ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত বিজয়ের মাত্র দুই দিন আগে, ১৪ ডিসেম্বর, তিনি পাকবাহিনীর সহযোগীদের দ্বারা অপহৃত ও নিহত হন।

নাটকসমূহ:
- রক্তাক্ত প্রান্তর, চিঠি, কবর, দণ্ডকারণ্য, পলাশী ব্যারাক, ইত্যাদি।

অনুবাদ নাটকসমূহ:
- কেউ কিছু বলতে পারে না, রূপার কৌটা, মুখরা রমণী বশীকরণ।

প্রবন্ধগ্রন্থ:
- মীর মানস, তুলনামূলক সমালোচনা, বাংলা গদ্যরীতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া।

২,২২৭.
'সত্যপীর' ছদ্মনামে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় কোন সাহিত্যিক কলাম লিখতেন?
  1. ক) সৈয়দ শামসুল হক
  2. খ) সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
  3. গ) সৈয়দ মুজতবা আলী
  4. ঘ) সৈয়দ আলী আহসান
সঠিক উত্তর:
গ) সৈয়দ মুজতবা আলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সৈয়দ মুজতবা আলী
ব্যাখ্যা
- 'সত্যপীর' ছদ্মনামে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় কলাম লিখতেন- সৈয়দ মুজতবা আলী। 

সৈয়দ মুজতবা আলী:
-  ১৯০৪ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর পিতার কর্মস্থল শ্রীহট্ট (সিলেট) জেলার করিমগঞ্জে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। কিন্তু তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল হবিগঞ্জের উত্তরসুর গ্রামে।
-  ১৯২৯ সালে ‘হুমবল্ট’ বৃত্তি নিয়ে তিনি জার্মানি গিয়ে বার্লিন ও বন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করেন। সেখানে তিনি দর্শন বিভাগে তুলনামূলক ধর্মশাস্ত্রে গবেষণা করে ১৯৩২ সালে ডি ফিল ডিগ্রি লাভ করেন।
- তিনি ১৯৩৪-৩৫ সালে মিশরের আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে মুসলিম ধর্মশাস্ত্র অধ্যয়ন করেন।
- তিনি বিশ্বভারতীর ইসলামের ইতিহাস বিভাগে রীডার (১৯৬১) হিসেবে যোগদান করে সেখান থেকেই ১৯৬৫ সালে অবসর গ্রহণ করেন। 
- তিনি সত্যপীর, রায়পিথোরা, ওমর খৈয়াম, টেকচাঁদ, প্রিয়দর্শী ইত্যাদি ছদ্মনামে আনন্দবাজার, দেশ, সত্যযুগ,  শনিবারের চিঠি, বসুমতী, হিন্দুস্থান স্ট্যান্ডার্ড প্রভৃতি পত্র-পত্রিকায় কলাম লিখতেন। এছাড়া  মোহাম্মদী, চতুরঙ্গ, মাতৃভূমি,  কালান্তর, আল-ইসলাহ্  প্রভৃতি সাময়িক পত্রেরও তিনি নিয়মিত লেখক ছিলেন।

তাঁর রচিত গ্রন্থ
উপন্যাস:
- অবিশ্বাস্য
- শবনম
- শহর-ইয়ার
- তুলনাহীন ইত্যাদি। 
ছোটগল্প:
- চাচা-কাহিনী
- টুনি মেম
রম্যরচনা:
- পঞ্চতন্ত্র
- ময়ূরকণ্ঠী
- বড়বাবু 
- কত না অশ্রুজল। 
ভ্রমণকাহিনী
- দেশে-বিদেশে 
- জলে-ডাঙায়। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 
২,২২৮.
কাজলা দিদি কবিতাটি কে রচনা করেন?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. মুহিব খান
  4. যতীন্দ্র মোহন বাগচী
সঠিক উত্তর:
যতীন্দ্র মোহন বাগচী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যতীন্দ্র মোহন বাগচী
ব্যাখ্যা
'কাজলা দিদি' কবিতা
- যতীন্দ্র মোহন বাগচী

বাঁশ-বাগানের মাথার উপর চাঁদ উঠেছে ওই,
মাগো আমার শোলক্-বলা কাজলা দিদি কই?
পুকুর ধারে লেবুর তলে,
থোকায় থোকায় জোনাক জ্বলে,
ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না, একলা জেগে রই,
মাগো আমার কোলের কাছে কাজলা দিদি কই?

যতীন্দ্রমোহন বাগচী:

- নদীয়া জেলার জমশেরপুর গ্রামে ১৮৭৮ খ্রিস্টাব্দের ২৭ নভেম্বর তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস হুগলি জেলার বলাগড় গ্রামে। ১৯০২ খ্রিস্টাব্দে তিনি কলকাতার ডাফ কলেজ থেকে বিএ পাস করেন।
- যতীন্দ্রমোহন অল্প বয়স থেকেই কাব্যচর্চা শুরু করেন।
- ভারতী, সাহিত্য প্রভৃতি বিখ্যাত পত্রিকায় তাঁর কবিতা প্রকাশিত হলে তিনি কবি হিসেবে প্রসিদ্ধি লাভ করেন।
- যতীন্দ্রমোহন ছিলেন রবীন্দ্রোত্তর যুগের শক্তিমান কবিদের অন্যতম।
- ‘কাজলাদিদি’ ও ‘অন্ধবন্ধু’ তাঁর এ ধরনের দুটি বিখ্যাত কবিতা।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ হলো:
- লেখা,
- রেখা,
- অপরাজিতা,
- নাগকেশর,
- জাগরণী,
- নীহারিকা,
- মহাভারতী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং ‘কাজলা দিদি’ কবিতা।
২,২২৯.
কোনটি সেলিম আল দীন রচিত নাটক?
  1. ক) নীল ময়ূরের যৌবন
  2. খ) বহিপীর
  3. গ) উজানের মৃত্যু
  4. ঘ) শকুন্তলা
সঠিক উত্তর:
ঘ) শকুন্তলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) শকুন্তলা
ব্যাখ্যা
সেলিম আল দীন বাংলা সাহিত্যের প্রতিথযশা নাট্যব্যক্তিত্ব।

সেলিম আল দীন রচিত নাটকগুলো হলো:
- সর্প বিষয়ক গল্প ও অন্যান্য,
- বাসন,
- কেরামতমঙ্গল,
- কীর্তন খোলা, 
- হাতহদাই,
- শকুন্তলা,
- মুনতাসীর ফ্যান্টাসি,
- জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন,
- চাকা, যৈবতী কন্যার মন,
- হরগজ, নিমজ্জন,
- একটি মারমা রূপকথা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,২৩০.
ভাষা-আন্দোলনভিত্তিক নাটক কোনটি?
  1. কোকিলারা
  2. বর্ণচোরা
  3. বিবাহ
  4. ওরা কদম আলী
সঠিক উত্তর:
বিবাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিবাহ
ব্যাখ্যা
• মমতাজউদদীন আহমদ: 
- মমতাজউদদীন আহমদ মূলত একজন বিখ্যাত নাট্যকার ছিলেন।
- ১৯৩৫ সালে পশ্চিমবঙ্গের মালদহে জন্মগ্রহণ করেন। 
- মুক্তিযুদ্ধোত্তর সমাজ বাস্তবতাকে অবলম্বন করে রচিত হয়েছে তাঁর নাট্যভুবন। আঙ্গিকগত পরীক্ষা-নিরীক্ষা নয়, বরং হাস্য-কৌতুকময় বিষয়বস্তুর মাধ্যমে জীবনের কোনো গভীরতর সত্যের সন্ধানই মমতাজউদদীন আহমদের নাট্যসাহিত্যের প্রধান প্রবণতা।
- ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা তাঁর নাটকে বহুমাত্রিক ব্যঞ্জনায় শিল্পিতা পেয়েছে। এ ধারায় তাঁর উল্লেখযোগ্য নাটকগুলো মধ্যে ‘বিবাহ’ ভাষা আন্দোলনের পটভূমিতে রচিত।

• তাঁর রচিত বিখ্যাত নাটক-
- স্বাধীনতা আমার স্বাধীনতা,
- কী চাহ শঙ্খচিল,
- হৃদয়ঘটিত ব্যাপার স্যাপার,
- প্রেম,
- বিবাহ সুটকেস,
- রাজা অনুস্বারের পালা,
- সাত ঘাটের কানাকড়ি,
- রাক্ষুসী,
- এই সেই কণ্ঠস্বর,
- পুত্র আমার পুত্র,
- হাস্য লাস্য ভাষ্য,
- ভালোবাসার দশ নাটক ইত্যাদি।

মমতাজউদ্দীন আহমেদ (১৯৩৫-২০১৯) রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কয়েকটি নাটক:
- বর্ণচোর,
- বকুলপুরের স্বাধীনতা,
- কী চাহ শঙ্খচিল,
- এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
•  ১৯৭৮ সালে 'ওরা কদম আলী' নাটকের মধ্য দিয়ে মামুনুর রশীদের আবির্ভাব ঘটে নাট্যকার হিসেবে। 
- বঞ্চিত, শোষিত  মানুষের শ্রেণি সংগ্রাম এর রূপকার হিসেবে বঞ্চিত, শোষিত মানুষের সংগ্রাম 'ওরা কদম আলী' নাটক সমকালীন বাংলা নাট্য-সাহিত্যের ধারায় যুক্ত করেছে নতুন মাত্রা। 
- গরীব ও মেহনতি মানুষের ব্যক্তিক প্রতিবাদ সামষ্টিক রূপ কিভাবে পরীগ্রহণ করে কদম আলী নামের এক বোবা চরিত্রের মধ্য দিয়ে এ নাটকে তা দেখানো হয়েছে। 

• আবদুল্লাহ আল-মামুনের কোকিলারা: যৌন-রাজনীতি ও নিম্নবর্গীয় নারীর এক
চিরায়ত আখ্যান।
- আবদুল্লাহ আল-মামুন রচিত কোকিলারা নাটকে মূলত কোকিলা নামক তিন জন নারীর গল্প বলা হয়েছে যারা একত্রে হয়ে উঠেছেন কোকিলারা। তিন জন নারীর জীবনের গল্প নিয়ে রচিত এই নাটকটি তিনটি আলাদা গল্পের মিশ্রণ হলেও এই তিন জন কোকিলা মিলেই যেমন হয়ে উঠেছেন 'কোকিলারা' তেমনিভাবে পুরুষতান্ত্রিক এই সমাজে এই তিন জন নারীর নির্যাতনের গল্পটাও প্রায় একই। এই

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং প্রথম আলো রিপোর্ট।
২,২৩১.
সৈয়দ মুজতবা আলীর প্রথম গ্রন্থ কোনটি?
  1. পঞ্চতন্ত্র
  2. শবনম
  3. চাচা-কাহিনী
  4. দেশে বিদেশে
সঠিক উত্তর:
দেশে বিদেশে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দেশে বিদেশে
ব্যাখ্যা
'দেশে বিদেশে' ভ্রমণকাহিনি:
- সৈয়দ মুজতবা আলী রচিত ভ্রমণকাহিনি 'দেশে বিদেশে' (১৯৪৯)। এটি সৈয়দ মুজতবা আলীর প্রথম গ্রন্থ।
- ভ্রমণকাহিনিটি আফগানিস্তানের কাবুল শহরে অবস্থানের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও অন্তরঙ্গ উপলব্ধির ফসল এই গ্রন্থখানি।

সৈয়দ মুজতবা আলী:
- ১৯০৪ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর পিতার কর্মস্থল শ্রীহট্ট (সিলেট) জেলার করিমগঞ্জে তিনি জন্মগ্রহণ করেন, কিন্তু তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল মৌলভীবাজারের উত্তরসুর গ্রামে।
- তিনি ছিলেন শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক।
- তিনি বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯২৬ সালে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।
- সৈয়দ মুজতবা আলী 'দেশে বিদেশে' গ্রন্থের মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যাঙ্গনে প্রথম প্রবেশ ও প্রতিষ্ঠা লাভ করেন। কাবুলে অবস্থানের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও অন্তরঙ্গ উপলব্ধির ফসল এই গ্রন্থখানি।
- তিনি কাজী নজরুল ইসলামের 'রুবাইয়াৎ-ই-ওমর খৈয়াম' গ্রন্থের ভূমিকা লিখেন।
- ১৯৭৪ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- অবিশ্বাস্য,
- শবনম

তাঁর রচিত রম্য-রচনা:
- পঞ্চতন্ত্র,
- ময়ূরকণ্ঠী।

তাঁর রচিত ছোটগল্পগ্রন্থ:
- চাচা-কাহিনী,
- টুনি মেম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২,২৩২.
জীবনানন্দ দাশ কত সালে জন্ম গ্রহণ করেন?
  1. ক) ১৮৯৯
  2. খ) ১৯০১
  3. গ) ১৯০৩
  4. ঘ) ১৯০৫
সঠিক উত্তর:
ক) ১৮৯৯
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ১৮৯৯
ব্যাখ্যা
- জীবনানন্দ দাশ  ১৮৯৯ সালে বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।

• জীবনানন্দ দাশ:
- জীবনানন্দ দাশ  ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতার নাম সত্যানন্দ দাশ।পেশায় ছিলেন একজন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক।
- জীবনানন্দ দাশের মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন কবি।
- গ্রামবাংলার নিসর্গ প্রকৃতি ও রূপকথা-পুরাণের জগৎ তাঁর কাব্যে হয়ে উঠেছে চিত্ররূপময়।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তার কবিতাকে ‘চিত্ররূপময় কবিতা’ বলেছেন।
- এছাড়াও তাকে ধূসরতার কবি,তিমির হননের কবি ,নির্জনতার কবি ও রূপসী বাংলার কবি বলা হয়ে থাকে।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো হল:
- ঝরাপালক।
- ধূসর পাণ্ডলিপি।
- বনলতা সেন।
- মহাপৃথিবী।
- সাতটি তারার তিমির।
- রূপসী বাংলা।
- বেলা অবেলা কালবেলা।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ-
- কবিতার কথা।
- ‘কবিতার কথা’  প্রবন্ধগ্রন্থে তাঁর একটি বিখ্যাত উক্তি- সকলেই কবি নন,কেউ কেউ কবি।

• তাঁর রচিত উপন্যাস-
- মাল্যবান।
- সতীর্থ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ।
২,২৩৩.
রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ রচিত কবিতা কোনটি?
  1. বাতাসে লাশের গন্ধ
  2. স্বাধীনতা, এই শব্দটি কীভাবে আমাদের হলো
  3. স্বাধীনতা তুমি
  4. গেরিলা
সঠিক উত্তর:
বাতাসে লাশের গন্ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাতাসে লাশের গন্ধ
ব্যাখ্যা
'বাতাসে লাশের গন্ধ' রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ একটি বিখ্যাত কবিতা। রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ ইতিহাস-সচেতন কবি।
- এই কবিতায় তাঁর সংগ্রামী চেতনা ধরা পড়ে। তাঁর এ সংগ্রামী চেতনা পাঠককে বর্তমানের নৈরাশ্য থেকে আশান্বিত করে তোলে ভবিষ্যতের দিকে।

'বাতাসে লাশের গন্ধ' কবিতায় তিনি বলেন:

আজো আমি বাতাসে লাশের গন্ধ পাই,
আজো আমি মাটিতে মৃত্যুর নগ্ননৃত্য দেখি,
ধর্ষিতার কাতর চিৎকার শুনি আজো আমি তন্দ্রার ভেতরে-
এ-দেশ কি ভুলে গেছে সেই দুঃস্বপ্নের রাত, সেই রক্তাক্ত সময়?

অন্যদিকে, 
• 'স্বাধীনতা, এই শব্দটি কীভাবে আমাদের হলো' কবিতার রচয়িতা নির্মলেন্দু গুণ। 
• 'স্বাধীনতা তুমি' শামসুর রাহমান রচিত কবিতা। 
• সৈয়দ শামসুল হক ‘গেরিলা’ শিরোনামে কবিতা লিখেছেন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২,২৩৪.
সুফিয়া কামাল সম্পর্কে কোন তথ্যটি সঠিক?
  1. ক) নারী আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ
  2. খ) তিনি রবীন্দ্র কাব্য ধারার 'গীতিকবিতা' রচনা করতেন
  3. গ) তিনি 'বেগম' পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন
  4. ঘ) সবকটি
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবকটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবকটি
ব্যাখ্যা

- সুফিয়া কামাল বাংলাদেশের একজন প্রথিতযশা কবি, লেখিকা ও নারী আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ।
- তাকে 'জননী সাহসিকা' বলা হয়।
- তিনি রবীন্দ্র কাব্য ধারার 'গীতিকবিতা' রচনা করতেন।
- তিনি 'বেগম' পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ 'সাঁঝের মায়া'।
- বেগম রোকেয়ার সামাজিক আদর্শ সুফিয়া কামালকে আজীবন প্রভাবিত করেছে। তিনি রোকেয়ার ওপর অনেক কবিতা রচনা করেন এবং তাঁর নামে 'মৃত্তিকার ঘ্রাণ' সংকলনটি উৎসর্গ করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থঃ
- সাঁঝের মায়া,
- মায়া কাজল,
- শান্তি ও প্রার্থনা,
- মন ও জীবন,
- উদাত্ত পৃথিবী,
- অভিযাত্রিক,
- মৃত্তিকার ঘ্রাণ,
- মোর জাদুদের সমাধি পরে।

গল্পঃ
- কেয়ার কাঁটা।

আত্মজীবনীঃ
- একালে আমাদের কাল।

স্মৃতিকথা/ ডায়েরীঃ
- একাত্তুরের ডায়েরী।

উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

২,২৩৫.
প্রবন্ধ-গবেষণাগ্রন্থ 'বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস' রচনা করেন কে?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  3. রামমোহন রায়
  4. সৈয়দ আলী আহসান
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ আলী আহসান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ আলী আহসান
ব্যাখ্যা
• প্রবন্ধ-গবেষণাগ্রন্থ 'বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস' রচনা করেন - সৈয়দ আলী আহসান।

সৈয়দ আলী আহসান:

- তিনি ১৯২২ সালের ২৬শে মার্চ মাগুরা জেলার আলোকদিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক ছিলেন।
- ১৯৩৭ সালে আর্মানীটোলা স্কুলে অধ্যয়নকালে স্কুল ম্যাগাজিনে সৈয়দ আলী আহসানের ‘The Rose’ নামে একটি ইংরেজি কবিতা প্রকাশিত হয়।
- রাজশাহী ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
- ১৯৬৭ সালে তিনি কবিতার জন্য বাংলা একাডেমি পুরস্কার, ১৯৮৩ সালে একুশে পদক এবং ১৯৮৭ সালে স্বাধীনতা পদক লাভ করেন।
- ২০০২ সালের ২৫ জুলাই তাঁর বর্ণাঢ্য কর্মময় জীবনের অবসান ঘটে।

তাঁর রচিত প্রবন্ধ-গবেষণাগ্রন্থ:
- কবিতার কথা,
- নজরুল ইসলাম,
- রবীন্দ্র কাব্যবিচারের ভূমিকা,
- কবিতার কথা ও অন্যান্য বিবেচনা,
- পদ্মাবতী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২,২৩৬.
'প্রভাত চিন্তা ', 'নিভূত চিন্তা', 'নিশীত চিন্তা' প্রভূতি গ্রন্থের রচয়িতা-
  1. ক) কালীপ্রসন্ন সিংহ
  2. খ) কালীপ্রসন্ন ঘোষ
  3. গ) কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার
  4. ঘ) এস ওয়াজেদ আলী
সঠিক উত্তর:
খ) কালীপ্রসন্ন ঘোষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কালীপ্রসন্ন ঘোষ
ব্যাখ্যা
কালীপ্রসন্ন ঘোষ (১৮৪৩-১৯১০):
 বাগ্মী, সাংবাদিক, লেখক, পন্ডিত কালীপ্রসন্ন ঘোষের জন্ম ১৮৪৩ সালের ২৩ জুলাই  ঢাকা জেলার বিক্রমপুরে ভরাকর গ্রামে
- কালীপ্রসন্ন ছিলেন পূর্ববঙ্গীয় ব্রাহ্মসমাজের একজন বিশিষ্ট সভ্য।
- তিনি ‘সাহিত্য-সমালোচনী সভা’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান গঠন করেন এবং তার মাধ্যমে সমকালীন সাহিত্যিকদের নানাভাবে সাহায্য করেন।
- তিনি  বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ-এর সদস্য (১৮৯৪) এবং সহসভাপতির (১৮৯৭-১৯০০) পদ অলঙ্কৃত করেন। 
- কালীপ্রসন্ন দর্শন ও সমাজ সম্পর্কে অনেক মূল্যবান প্রবন্ধ ও গ্রন্থ রচনা করেন।

তাঁর প্রবন্ধগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য:
- প্রভাত-চিন্তা (১৮৭৭),
- নিভৃত-চিন্তা (১৮৮৩),
- নারীজাতিবিষয়ক প্রস্তাব (১৮৯৬) ও
- নিশীথ-চিন্তা (১৮৯৬)। 

তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলি হচ্ছে:
- ভ্রান্তিবিনোদ (১৮৮১),
- প্রমোদলহরী (১৮৯৫),
- ভক্তির জয় (১৮৯৫),
- মা না মহাশক্তি (১৯০৫),
- জানকীর অগ্নিপরীক্ষা (১৯০৫),
- ছায়াদর্শন (১৯০৫) প্রভৃতি।

- এ ছাড়া সঙ্গীতমঞ্জরী (১৮৭২) নামে একখানা আধ্যাত্মিক সঙ্গীতসংগ্রহ এবং কোমল কবিতা (১৮৮৮) নামে একখানা শিশুপাঠ্য গ্রন্থও তিনি রচনা করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
২,২৩৭.
‘কোথায় স্বর্গ ? কোথায় নরক ? কে বলে তা বহুদূর ? মানুষের মাঝে স্বর্গ নরক - মানুষেতে সুরাসুর।’ - পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা কে ?
  1. ক) কাজী নজরুল ইসলাম
  2. খ) বেগম সুফিয়া কামাল
  3. গ) কালিদাস রায়
  4. ঘ) শেখ ফজলল করিম
সঠিক উত্তর:
ঘ) শেখ ফজলল করিম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) শেখ ফজলল করিম
ব্যাখ্যা
‘কোথায় স্বর্গ? কোথায় নরক? কে বলে তা বহুদূর?
মানুষেরি মাঝে স্বর্গ-নরক— মানুষেতে সুরাসুর।’
- কবিতাংশটি শেখ ফজলল করিমের রচনা।

তাঁর বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থের মধ্যে,
- তৃষ্ণা
- ভক্তি পুষ্পাঞ্জলি
- গাঁথা
- ভগ্নবীণা
- প্রেমের স্মৃতি
- পথ পাথেয় ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।

উৎস: বাংলা ভাষার ইতিহাস-মাহবুবুল আলম, বাংলাপিডিয়া।
২,২৩৮.
'আবোল-তাবোল' কার লেখা?
  1. ক) উপেন্দ্রকিশোর রায় চৌধুরী
  2. খ) দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
  3. গ) সুকুমার রায়
  4. ঘ) সত্যজিৎ রায়
সঠিক উত্তর:
গ) সুকুমার রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সুকুমার রায়
ব্যাখ্যা
সুকুমার রায়ের আরও কিছু উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্ম হল -
- আবোল-তাবোল,
- বহুরূপী,
- খাই খাই প্রভৃতি।
আবোল তাবোল তাঁর বিখ্যাত কবিতার বই।
সূত্রঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২,২৩৯.
"আমাদের ছোট গ্রাম মায়ের সমান,
আলো দিয়ে, বায়ু দিয়ে বাঁচাইছে প্রাণ।" - কবিতাংটুকু কার রচনা?
  1. আহসান হাবীব
  2. আল মাহমুদ 
  3. বন্দে আলী মিয়া
  4. কাজী কাদের নেওয়াজ 
সঠিক উত্তর:
বন্দে আলী মিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বন্দে আলী মিয়া
ব্যাখ্যা

• 'আমাদের ছোট গ্রাম মায়ের সমান,
আলো দিয়ে, বায়ু দিয়ে বাঁচাইছে প্রাণ।'- কবিতাংটুকুর রচয়িতা 'বন্দে আলী মিয়া'।
 
- কবিতাংটুকু বন্দে আলী মিয়া রচিত ‘আমাদের গ্রাম’ কবিতার অন্তর্ভুক্ত।

- কবিতার কিছু অংশ-বিশেষ:

আমাদের গ্রাম
- বন্দে আলী মিয়া

আমাদের ছোট গাঁয়ে ছোট ছোট ঘর,
থাকি সেথা সবে মিলে নাহি কেহ পর।
পাড়ার সকল ছেলে মোরা ভাই ভাই,
এক সাথে খেলি আর পাঠশালে যাই।
আমাদের ছোট গ্রাম মায়ের সমান,
আলো দিয়ে, বায়ু দিয়ে বাঁচাইছে প্রাণ।

• বন্দে আলী মিয়া: 
- বন্দে আলী মিয়া সাহিত্যিক, সাংবাদিক, চিত্রকর।
- তিনি ১৯০৬ সালের ১৫ ডিসেম্বর পাবনা জেলার রাধানগর গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তিনি কিছুদিন ইসলাম দর্শন পত্রিকায় সাংবাদিক হিসেবে কাজ করার পর কলকাতা কর্পোরেশন স্কুলে শিক্ষকতা করেন।
- দেশ-বিভাগের পর তিনি ঢাকা ও রাজশাহী বেতার কেন্দ্রে চাকরি করেন।
- বন্দে আলী মিয়া রচিত ‘রুপকথা’ এ শিশুতোষ গ্রন্থ।
- বন্দে আলী মিয়া কবিতা, উপন্যাস, নাটক, জীবনী, শিশুসাহিত্য প্রভৃতি মাধ্যমে গ্রন্থ রচনা করেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা হলো:
কাব্য
- ময়নামতীর চর,
- অনুরাগ,
- পদ্মানদীর চর,
- মধুমতীর চর,
- ধরিত্রী;

উপন্যাস: 
- বসন্ত জাগ্রত দ্বারে,
- শেষ লগ্ন,
- অরণ্য গোধূলি,
- নীড়ভ্রষ্ট।

নাটক: 
- মসনদ।

শিশুসাহিত্য: 
- চোর জামাই, 
- মেঘকুমারী, 
- বাঘের ঘরে ঘোগের বাসা, 
- সোনার হরিণ, 
- শিয়াল পন্ডিতের পাঠশালা, 
- কুঁচবরণ কন্যা, 
- সাত রাজ্যের গল্প।

উৎস: আমাদের গ্রাম কবিতা- বন্দে আলী মিয়া, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

২,২৪০.
'সূর্য-দীঘল বাড়ি' উপন্যাসের চরিত্র কোনটি?
  1. ক) জয়গুণ
  2. খ) জোহরা
  3. গ) শশী
  4. ঘ) টুনি
সঠিক উত্তর:
ক) জয়গুণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) জয়গুণ
ব্যাখ্যা
'সূর্য দীঘল বাড়ী' আবু ইসহাক রচিত একটি সামাজিক উপন্যাস
- ১৯৫৫সালে উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়। 
- বাংলাদেশের গ্রাম জীবনের বিশ্বস্ত দলিল এই গ্রন্থ। 
- বিশ্বযুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, দেশবিভাগ প্রভৃতি পরপর চারটি বড় ঐতিহাসিক ঘটনার পটভূমিতে তিনি রচনা করেন 'সূর্য দীঘল বাড়ী' 
- জয়গুন এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র।
- উপন্যাসের অন্যান্য চরিত্র: হাসু, মায়মুন, শাফি, ডা. রমেশ চক্রবর্তী, মোরল গদু ইত্যাদি। 

কথাসাহিত্যিক আবু ইসহাক রচিত অন্যান্য উপন্যাস: 
- পদ্মার পলিদ্বীপ
- জাল
গল্পগ্রন্থ:
- হারেম
- মহাপতঙ্গ

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,২৪১.
কোন কবি ‘ছন্দের জাদুকর’ নামে পরিচিত?
  1. ক) সুকুমার রায়
  2. খ) সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  3. গ) আল মাহমুদ
  4. ঘ) ভারতচন্দ্র
  5. ঙ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
খ) সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা
সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত “ছন্দের জাদুকর” এবং “ছন্দের রাজা” হিসেবে খ্যাত। উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
২,২৪২.
নিচের কোনটি ইব্রাহিম খাঁর গ্রন্থ নয়?
  1. ক) আনোয়ার পাশা
  2. খ) ইস্তাম্বুল যাত্রীর পত্র
  3. গ) কুঁচবরণ কন্যা
  4. ঘ) সোনার শিকল
সঠিক উত্তর:
গ) কুঁচবরণ কন্যা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) কুঁচবরণ কন্যা
ব্যাখ্যা
ইব্রাহীম খাঁ রচিত নাটক- আনোয়ার পাশা, ভ্রমণ কাহিনী- ইস্তাম্বুল যাত্রীর পত্র, গল্প- সোনার শিকল আর বন্দে আলী মিয়া রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ- কুঁচবরণ কন্যা। উৎসঃ শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা।
২,২৪৩.
ইসমাইল হোসেন সিরাজী রচিত গীতিকাব্য কোনটি?
  1. অনল-প্রবাহ
  2. প্রেম প্রবাহিনী
  3. কবিতা ও গান
  4. প্রদীপ
সঠিক উত্তর:
অনল-প্রবাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনল-প্রবাহ
ব্যাখ্যা

- ইসমাইল হোসেন সিরাজী রচিত গীতিকাব্য- 'অনল প্রবাহ’। 
--------------------------------------------------
• ইসমাইল হোসেন সিরাজী:
- ইসমাইল হোসেন সিরাজী ছিলেন একজন প্রখ্যাত বাঙালি লেখক, কবি, বাগ্মী ও কৃষক নেতা।
- তাঁর জন্ম ১৮৮০ সালে সিরাজগঞ্জ জেলায়।
- জন্মস্থানের সঙ্গে পরিচয় বজায় রাখতেই তিনি নিজের নামের সঙ্গে ‘সিরাজী’ উপাধি যুক্ত করেন।
- তিনি ব্রিটিশ শাসনবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।
- মুসলিম সমাজে নবজাগরণের অগ্রদূত হিসেবে তিনি পরিচিত।
- তাকে বাংলা সাহিত্যে প্রথম বিদ্রোহী কবি বলা হয়।
- সাহিত্যকর্মের দিক থেকেও তাঁর অবদান উল্লেখযোগ্য। 

• তাঁর কাব্যগ্রন্থগুলোর মধ্যে আছে:
- অনল-প্রবাহ,
- আকাঙ্ক্ষা,
- উচ্ছ্বাস,
- উদ্বোধন,
- নব উদ্দীপনা,
- স্পেন বিজয় কাব্য,
- সঙ্গীত সঞ্জীবনী ও
- প্রেমাঞ্জলি। 

• তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
- রায়নন্দিনী,
- তারাবাঈ,
- ফিরোজা বেগম,
- নূরুদ্দীন।
---------------------------------------------- 
‘অনল প্রবাহ’ নিয়ে কিছু কথা:
- অনল প্রবাহ হলো সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী রচিত একটি গীতিকাব্য।
- এই কাব্যটি তাঁর প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ। 
- সাহিত্য ও আন্দোলনের ক্ষেত্রে ইসমাইল হোসেন সিরাজী ছিলেন এক প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর।
- তাঁর কাব্যগ্রন্থ ‘অনল-প্রবাহ’ ব্রিটিশ সরকার বাজেয়াপ্ত করে।
- এ কারণে তিনি স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রথম দিকের কবিদের মধ্যে একজন হিসেবে কারাবরণ করেন।
---------------------------------------- 
অন্যদিকে, 
- বিহারীলাল চক্রবর্তী রচিত গীতিকাব্য- 'প্রেম প্রবাহিনী';
- স্বর্ণকুমারী দেবী রচিত গীতিকাব্য- 'কবিতা ও গান'।
- অক্ষয়কুমার বড়াল রচিত গীতিকাব্য- 'প্রদীপ'।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া।

২,২৪৪.
কোনটি শহীদ কাদরী রচিত কাব্যগ্রন্থ?
  1. পূর্বাভাস
  2. তোমাকে অভিবাদন প্রিয়তমা
  3. হরতাল
  4. ঘুম নেই
সঠিক উত্তর:
তোমাকে অভিবাদন প্রিয়তমা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তোমাকে অভিবাদন প্রিয়তমা
ব্যাখ্যা
শহীদ কাদরী:
- স্বাধীন বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় আধুনিক কবি।
- কলকাতার পার্কস্ট্রিটে ১৯৪২ সালে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- মৃত্যুর পর তাঁর ইচ্ছে অনুসারে ঢাকাতে সমাধিস্থ করা হয়।

শহীদ কাদরী রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- উত্তরাধিকার,
- তোমাকে অভিবাদন প্রিয়তমা,
- কোথাও কোন ক্রন্দন নেই,
- আমার চুম্বনগুলো পৌছে দাও।

অন্যদিকে,
সুকান্ত ভট্টাচার্য রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো - পূর্বাভাস, হরতাল, ঘুম নেই।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,২৪৫.
আহমদ ছফা রচিত উপন্যাস নয় কোনটি?
  1. ক) সূর্য তুমি সাথী
  2. খ) ওঙ্কার
  3. গ) গাভী বৃত্তান্ত
  4. ঘ) ভূমিপুত্র
সঠিক উত্তর:
ঘ) ভূমিপুত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ভূমিপুত্র
ব্যাখ্যা
আহমদ ছফা রচিত উপন্যাস- সূর্য তুমি সাথী, একজন আলী কেনানের উত্থান-পতন, মরণবিলাস, গাভী বিত্তান্ত, ওঙ্কার, অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী, পুষ্প বৃক্ষ এবং বিহঙ্গ পুরাণ ইত্যাদি।
অন্যদিকে ভূমিপুত্র উপন্যাসে রচয়িতা ইমদাদুল হক মিলন।
উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।
২,২৪৬.
‘কাফনে মোড়া অশ্রুবিন্দু’ কাব্যগ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. হাসান আজিজুল হক
  2. হুমায়ুন আজাদ
  3. রুদ্র মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ
  4. মহাদেব সাহা
সঠিক উত্তর:
হুমায়ুন আজাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হুমায়ুন আজাদ
ব্যাখ্যা
• ‘কাফনে মোড়া অশ্রুবিন্দু’ কাব্যগ্রন্থটির রচয়িতা : 'হুমায়ুন আজাদ'। 
---------------

• হুমায়ুন আজাদ ছিলেন মূলত লেখক ও অধ্যাপক।
- তিনি ১৯৪৭ সালের ২৮ এপ্রিল বিক্রমপুরের রাড়িখাল এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন।

হুমায়ুন আজাদ রচিত অন্যান্য উপন্যাস গুলো হলো:
- সবকিছু ভেঙে পড়ে,
- শুভব্রত তার সম্পর্কিত সুসমাচার,
- রাজনীতিবিদগণ,
- কবি অথবা দন্ডিত পুরুষ, 
- পাক সার জমিন সাদ বাদ ইত্যাদি। 

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- অলৌকিক ইস্টিমার
- জ্বলো চিতাবাঘ
- সবকিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে,
- যতোই গভীরে যাই মধু,
- যতোই উপরে যাই নীল,
- কাফনে মোড়া অশ্রুবিন্দু ইত্যাদি

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,২৪৭.
যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত কোন কাব্যগ্রন্থটি লিখেছেন?
  1. মরুশিখা
  2. বিস্ময়
  3. মরুসূর্য
  4. হসন্তিকা
সঠিক উত্তর:
মরুশিখা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মরুশিখা
ব্যাখ্যা
• যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত :
- আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি।
- তাঁর জন্ম পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার শান্তিপুরে।
- যতীন্দ্রনাথ ছিলেন একজন যুক্তিবাদী ও মননশীল লেখক
- তাঁর উপাধি ছিল- দুঃখবাদী কবি।


• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ :
- মরীচিকা (১৯২৩),
- মরুশিখা (১৯২৭),
- মরুমায়া (১৯৩০),
- কাব্য পরিমিতি (১৯৩১),
- সায়ম (১৯৪০),
- অনুপূর্বা (১৯৪৬),
- ত্রিযামা (১৯৪৮),
- নিশান্তিকা (১৯৫৭)

• অন্যদিকে,
• আ. ন. ম. বজলুর রশীদ রচিত কাব্যগ্রন্থ- মরুসূর্য
• সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত রচিত গ্রন্থ -  হসন্তিকা
• মোহিতলাল মজুমদার রচিত গ্রন্থ -  বিস্ময়,

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,২৪৮.
'সাতটি তারার ঝিকিমিকি' গ্রন্থের রচয়িতা-
  1. ক) জীবনানন্দ দাশ
  2. খ) জাহানারা ইমাম
  3. গ) সেলিনা হোসেন
  4. ঘ) আল মাহমুদ
সঠিক উত্তর:
খ) জাহানারা ইমাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) জাহানারা ইমাম
ব্যাখ্যা
প্রবাসের দিনগুলি, ক্যান্সারের সঙ্গে বসবাস, সাতটি তারার ঝিকিমিকি, গজ কচ্ছপ ইত্যাদি গ্রন্থের রচয়িতা জাহানারা ইমাম। উৎস: শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।
২,২৪৯.
'মাটির দেয়াল' কাব্যগ্রন্থটি রচনা করেন কে?
  1. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  2. জীবনানন্দ দাশ
  3. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  4. অমিয় চক্রবর্তী
সঠিক উত্তর:
অমিয় চক্রবর্তী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অমিয় চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
• 'মাটির দেয়াল' কাব্যগ্রন্থটির রচয়িতা অমিয় চক্রবর্তী।
- এটি ১৯৪২ সালে প্রকাশিত হয়।

• অমিয় চক্রবর্তী:
- ১০ এপ্রিল, ১৯০১ পশ্চিমবঙ্গের হুগলীর শ্রীরামপুরে তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন কবি, গবেষক ও শিক্ষাবিদ।
- তিরিশের পঞ্চকবির মধ্যে তিনি অন্যতম একজন।
- তিনি পাটনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি.এ পাস (১৯২১) করে শান্তিনিকেতনের গবেষণা বিভাগে যোগদান করেন।
- পরে তিনি রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন (১৯২৬-১৯৩৩)।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত বই 'কবিতাবলী' (১৯২৪-২৫)।
- তাঁর কাব্যগ্রন্থের সংখ্যা ১৫।
- তিনি 'বাংলাদেশ' কবিতাটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রেক্ষাপটে রচনা করেন।
- তাছাড়া ইংরেজি ভাষায় রচিত তাঁর ৯টি বই রয়েছে।
- কবিতার জন্য তিনি বহু পুরস্কার ও সম্মাননা পেয়েছেন। উল্লেখযোগ্য পুরস্কার: ইউনেস্কো পুরস্কার (১৯৬০), ভারতীয় ন্যাশনাল একাডেমি পুরস্কার।
- বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে ‘দেশিকোত্তম’ (১৯৬৩) এবং ভারত সরকার ‘পদ্মভূষণ’ (১৯৭০) উপাধিতে ভূষিত করেন।
- ১৯৮৬ সালের ১২জুন শান্তিনিকেতনে তাঁর মৃত্যু হয়।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- খসড়া,
- এক মুঠো,
- অভিজ্ঞান বসন্ত,
- অনিঃশেষ ইত্যাদি।

• তাঁর গদ্যরচনাগুলো হলো:
- চলো যাই,
- সাম্প্রতিক,
- পুরবাসী,
- পথ অন্তহীন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,২৫০.
'চাকা' নাটকের রচয়িতা কে?
  1. মমতাজউদদীন আহমদ
  2. সেলিম আল দীন
  3. সৈয়দ শামসুল হক
  4. আবদুল্লাহ আল মামুন
সঠিক উত্তর:
সেলিম আল দীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সেলিম আল দীন
ব্যাখ্যা
• সেলিম আল দীন: 
- সেলিম আল দীন বাংলা ভাষার আধুনিককাল পর্বের অন্যতম নাট্যকার।
- তিনি ১৯৪৯ সালের ১৮ আগস্ট সীমান্তবর্তী ফেনি জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- কর্মজীবনের শুরুতে তিনি বিজ্ঞাপন সংস্থা বিটপী’তে কপি রাইটারের পদে যোগদান করেন।
- ১৯৭৪ সালে জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন।
- দীর্ঘদিন বাংলা বিভাগে শিক্ষকতা করার পর ১৯৮৬ সালে তিনি নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগে যোগদান এবং উক্ত বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
- শিক্ষকতার পাশাপাশি এ দেশের নাট্যশিল্পকে বিশ্বনাট্য ধারার সঙ্গে সমপংক্তিতে সমাসীন করার লক্ষ্যে ১৯৮১-৮২ সালে তিনি এবং নাট্য-নির্দেশক নাসির উদ্দিন ইউসুফ সারাদেশব্যাপী গড়ে তোলেন বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটার।
- তাঁর রচিত হরগজ নাটকটি সুইডিশ ভাষায় অনূদিত হয়েছে এবং এ নাটকটি ভারতের রঙ্গকর্মী নাট্যদল কর্তৃক হিন্দি ভাষায় মঞ্চস্থ হয়েছে।
- সেলিম আল দীনের নাটক ভারতের যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়, রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাদেশের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যসূচির অন্তর্ভুক্ত।
- তাঁর প্রথম রেডিও নাটক বিপরীত তমসায় ১৯৬৯ সালে এবং প্রথম টেলিভিশন নাটক আতিকুল হক চৌধুরীর প্রযোজনায় লিব্রিয়াম (পরিবর্তিত নাম ঘুম নেই) প্রচারিত হয় ১৯৭০ সালে।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য নাটক ও নাট্যগ্রন্থ-
- জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন, 
- বাসন, 
- কেরামতমঙ্গল, 
- প্রাচ্য, 
- কিত্তনখোলা, 
- হাতহদাই, 
- যৈবতী কন্যার মন, 
- চাকা, 
- হরগজ, 
- একটি মারমা রূপকথা, 
- বনপাংশুল, 
- নিমজ্জন ইত্যাদি।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া। 
২,২৫১.
হাসান আজিজুল হক রচিত উপন্যাস -
  1. নামহীন গোত্রহীন
  2. জীবন ঘষে আগুন
  3. শীতের অরণ্য
  4. আগুনপাখি
সঠিক উত্তর:
আগুনপাখি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আগুনপাখি
ব্যাখ্যা
হাসান আজিজুল হক:
- তিনি মূলত কথাসাহিত্যিক হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
- তিনি ১৯৩৯ সালে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।

হাসান আজিজুল হক রচিত উপন্যাস:
- আগুনপাখি,
- সাবিত্রী উপাখ্যান,
- শিউলি,
- বৃত্তায়ন।

হাসান আজিজুল হক রচিত রচিত গল্পগ্রন্থ:
- আমরা অপেক্ষা করেছি
- আত্মজা ও একটি করবী গাছ,
- নামহীন গোত্রহীন,
- পাতালে হাসপাতালে,
- সমুদ্রের স্বপ্ন,
- শীতের অরণ্য,
- জীবন ঘষে আগুন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,২৫২.
'গণতন্ত্রের সন্ধানে' প্রবন্ধের রচয়িতা কে?
  1. ক) সৈয়দ শামসুল হক
  2. খ) সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  3. গ) সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. ঘ) সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
ঘ) সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী
ব্যাখ্যা
'গণতন্ত্রের সন্ধানে' প্রবন্ধের রচয়িতা সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী। অন্বেষা, দ্বিতীয় ভুবন, নিরাশ্রয় গৃহী, আরণ্যক দৃশ্যাবলী, স্বাধীনতা ও সংস্কৃতি, বাঙালিকে কে বাঁচাবে, নেতা জনতা ও রাজনীতি ইত্যাদি সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর প্রবন্ধ। বাবুলের বেড়ে ওঠা তাঁর রচিত ছোটদের উপন্যাস।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,২৫৩.
‘সুরজিত নন্দী’ নুরুল মোমেন রচিত কোন নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্র?
  1. নয়া খান্দান
  2. নেমেসিস
  3. বহুরূপা
  4. রূপলেখা
সঠিক উত্তর:
নেমেসিস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নেমেসিস
ব্যাখ্যা
• 'নেমেসিস' নাটক:
- 'নেমেসিস' নুরুল মোমেন রচিত শ্রেষ্ঠ নাটক।
- ১৯৩৯-৪৩ সালের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে নুরুল মোমেন ১৯৪৪ সালে নাটকটি লেখেন এবং ‘শনিবারের চিঠি’ পত্রিকায় তা প্রকাশিত হয়।
- নাটকটি গ্রন্থাকারে প্রকাশ পায় ১৯৪৮ সালে।
- নাটকটি স্কুল মাস্টার সুরজিত নন্দী নামের এক চরিত্র বিশিষ্ট নাটক। এক চরিত্র বিশিষ্ট এমন নাটক বাংলা সাহিত্যে কম বলে ‘নেমেসিস’ উল্লেখযোগ্য।
- এ নাটকে সমকালীন দুর্ভিক্ষ, মজুতদারদের পিশাচবৃত্তি ও নিরন্নদের হাহাকারের বাস্তব চিত্র ফুটে উঠেছে।
- 'নেমেসিস' নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্রের নাম- সুরজিত নন্দী।

--------------------
• নুরুল মোমেন:
- নুরুল মোমেন এর জন্ম ফরিদপুর জেলার আলফাডাঙ্গায় ১৯০৬ সালে।
- নুরুল মোমেনের প্রথম নাটক রূপান্তর ১৯৪২ সালে ঢাকা বেতার-এ প্রচারিত হয়। তিনি নিজে নাটকটি পরিচালনা করেন। ১৯৪৭ সালে নাটকটি গ্রন্থরূপে প্রকাশিত হয়।
- তাঁর 'নেমেসিস' নাটকটি প্রথম শনিবারের চিঠি পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। 'নেমেসিস' নাটকটি পঞ্চাশ-দশকের মন্বন্তরের পটভূমিতে রচিত।
- নুরুল মোমেন রচিত প্রথম রম্যগ্রন্থ 'বহুরূপা'।

• নুরুল মোমেন এর বিখ্যাত নাটক:
- যদি এমন হতো,
- নয়া খান্দান,
- আলোছায়া,
- আইনের অন্তরালে,
- শতকরা আশি,
- রূপলেখা,
- যেমন ইচ্ছা তেমন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।
২,২৫৪.
আবুল কালাম শামসুদ্দীন এর স্মৃতিচারণ মূলক গ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) স্মৃতিকথা
  2. খ) স্মৃতিনীড়
  3. গ) আমার স্মৃতিময় ছেলেবেলা
  4. ঘ) অতীত দিনের স্মৃতি
সঠিক উত্তর:
ঘ) অতীত দিনের স্মৃতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) অতীত দিনের স্মৃতি
ব্যাখ্যা
আবুল কালাম শামসুদ্দীন এর আত্মজীবনী ও স্মৃতিচারণ মূলক গ্রন্থ 'অতীত দিনের স্মৃতি'। 
- প্রকাশিত হয় ১৯৬৮ সালে। 
 
আবুল কালাম রচিত কয়েকটি উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- কচি পাতা (শিশুসাহিত্য)
- ত্রিস্রোতা (অনুবাদ, ১৯৩৯),
- পোড়োজমি বা অনাবাদী জমি (১৯৩৮),
- দৃষ্টিকোণ (প্রবন্ধ সংকলন, ১৯৬১),
- ইলিয়ড (বঙ্গানুবাদ, ১৯৬৭),
- পলাশী থেকে পাকিস্তান (ইতিহাস, ১৯৬৮) ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,২৫৫.
আল মাহমুদ রচিত বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ 'সোনালী কাবিন' কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৯৭৩ সালে
  2. ১৯৭০ সালে
  3. ১৯৭৫ সালে
  4. ১৯৭৭ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৭৩ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৭৩ সালে
ব্যাখ্যা
'সোনালি কাবিন' কাব্যগ্রন্থ:
- কাব্যগ্রন্থটি রচয়িতা আল মাহমুদ।
- আল মাহমুদ প্রকাশিত শ্রেষ্ঠ কাব্য গ্রন্থ 'সোনালী কাবিন'। কাব্যগ্রন্থটি ১৯৭৩ সালে প্রকাশিত হয়
- এই গ্রন্থে বিভিন্ন শিরোনামের কবিতার সঙ্গে ‘সোনালি কাবিন’ নামে চৌদ্দটি সনেটের সমন্বয়ে একটি দীর্ঘ কবিতাও অন্তর্ভুক্ত আছে। এটিকে একটি ক্ষুদ্র কাব্যগ্রন্থও বলা যেতে পারে।

আল মাহমুদ রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- লোক লোকান্তর,
- কালের কলস,
- সোনালী কাবিন,
- বখতিয়ারের ঘোড়া ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,২৫৬.
'পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়'- কাব্যনাট্যের রচয়িতা কে?
  1. ক) শওকত আলী
  2. খ) সৈয়দ শামসুল হক
  3. গ) শওকত ওসমান
  4. ঘ) মমতাজ উদ্দীন আহমদ
সঠিক উত্তর:
খ) সৈয়দ শামসুল হক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সৈয়দ শামসুল হক
ব্যাখ্যা
- 'পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়' হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কাব্যনাট্য
- সৈয়দ শামসুল হক এটি রচনা করেন।
- কাব্যনাট্যের উল্লেখযোগ্য চরিত্র: মাতব্বর, পির সাহেব, মাতব্বরের মেয়ে, পাইক, গ্রামবাসী, তরুণদল ও মুক্তিযোদ্ধারা।

• সৈয়দ শামসুল হক:
- তিনি ১৯৩৫ সালে কুড়িগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত লেখক হিসেবে সমধিক পরিচিত।

• তাঁর রচিত কাব্যনাট্য:
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়।
- নুরুলদীনের সারাজীবন।
- এখানে এখন।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- তাস।
- শীত বিকেল।
- আনন্দের মৃত্যু।
- প্রাচীন বংশের নিঃস্ব সন্তান।
- জলেশ্বরীর গল্পগুলো।

• সৈয়দ শামসুল হকের কবিতা:
- একদা এক রাজ্যে।
- বৈশাখে রচিত পঙ্‌ক্তিমালা।
- পরানের গহীন ভিতর।
- বেজান শহরের জন্য কোরাস।
- কাননে কানে তোমারই সন্ধানে।
- আমি জন্মগ্রহণ করিনি ইত্যাদি।
• সৈয়দ শামসুল হকের প্রবন্ধ: হৃৎকলমের টানে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
২,২৫৭.
'মদ খাওয়া বড় দায় জাত থাকার কি উপায়' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. প্যারীচাঁদ মিত্র
  2. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  4. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
প্যারীচাঁদ মিত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্যারীচাঁদ মিত্র
ব্যাখ্যা
• 'মদ খাওয়া বড় দায় জাত থাকার কি উপায়' - গ্রন্থের রচয়িতা প্যারীচাঁদ মিত্র।

প্যারীচাঁদ মিত্র:
- ১৮১৪ সালের ২২ জুলাই কলকাতায় তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন লেখক, সাংবাদিক, সংস্কৃতিসেবী, ব্যবসায়ী।
- তাঁর ছদ্মনাম “টেকচাঁদ ঠাকুর”।
- ১৮২৭ সালে তিনি হিন্দু কলেজে ভর্তি হন এবং খ্যাতিমান শিক্ষক হেনরি ডিরোজিওর তত্ত্বাবধানে থেকে শিক্ষা সম্পন্ন করেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্মের মধ্যে রয়েছে:
- আলালের ঘরের দুলাল,
- মদ খাওয়া বড় দায় জাত থাকার কি উপায়,
- আধ্যাত্মিকা। 

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,২৫৮.
নিচের কোনটি দীনবন্ধু মিত্র রচিত প্রহসন?
  1. ক) বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ
  2. খ) বিয়ে পাগলা বুড়ো
  3. গ) এর উপায় কি?
  4. ঘ) একেই কি বলে সভ্যতা?
সঠিক উত্তর:
খ) বিয়ে পাগলা বুড়ো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বিয়ে পাগলা বুড়ো
ব্যাখ্যা
- প্রদত্ত প্রশ্নের সঠিক উত্তর- বিয়ে পাগলা বুড়ো
- বিয়ে পাগলা বুড়ো প্রহসনে তিনি এক বৃদ্ধের পৌনঃপুনিক বিবাহের আকাঙ্ক্ষাজনিত চারিত্রিক অসঙ্গতি নিপুণ ব্যঙ্গের মাধ্যমে উপস্থাপন করেছেন।
- ১৮৭২ সালে নাটকটি প্রথম অভিনীত হয়।

• দীনবন্ধু মিত্র:
- দীনবন্ধু মিত্রের জনপ্রিয় কবিতা: সুরধুনী কাব্য (১ম ও ২য় খন্ড), দ্বাদশ কবিতা
- নীলকরদের অত্যাচারের কাহিনী নিয়ে দিনবন্ধু মিত্রের নাটক: নীল-দর্পণ (১৮৬০)
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত.১৮৬১ সালে A Native ছদ্মনামে Nil Darpan or The Indigo Planting Mirror নামে “নীল- দর্পণ” নাটকটি অনুবাদ করেন।
- ইশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর “নীল দর্পন” নাটকের অভিনয় দেখে মঞ্চে জুতা ছুড়ে মেরেছিলেন।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় “নীল দর্পন” নাটকটিকে uncle toms cabin এর সাথে তুলনা করেছেন।

• প্রদত্ত প্রশ্নের বাকি অপশনগুলো:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রহসন- বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ, একেই কি বলে সভ্যতা?
- ইওয়ংবেঙ্গলদের নিয়ে মধুসূদন দত্তের বিখ্যাত প্রহসন হচ্ছে: একেই কি বলে সভ্যতা?
- “এর উপায় কি?” প্রহসনটি মীর মশাররফ হোসেন রচনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
২,২৫৯.
'বাংলা একাডেমি সংক্ষিপ্ত বাংলা অভিধান' গ্রন্থের সম্পাদক ছিলেন-
  1. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  2. মুহম্মদ এনামুল হক
  3. মুহম্মদ আব্দুল হাই
  4. আহমদ শরীফ
সঠিক উত্তর:
আহমদ শরীফ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আহমদ শরীফ
ব্যাখ্যা
• 'বাংলা একাডেমি সংক্ষিপ্ত বাংলা অভিধান':
- বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ আহমদ শরীফ (১৯২১ - ১৯৯৯) 'বাংলা একাডেমি সংক্ষিপ্ত বাংলা অভিধান' সম্পাদনা করেন, যা ১৯৯২ সালের সেপ্টেম্বর প্রকাশিত হয়।
- ১৯৯২ সালে অভিধানটি প্রকাশিত হওয়ার পর বাংলা একাডেমী একটি বানাননীতি প্রণয়ন করে। অভিধানের দ্বিতীয় সংস্করণে বিষয়টি মনে রাখা হয়েছে।
- বর্তমান পরিমার্জিত সংস্করণের কাজেও প্রফেসর আহমদ শরীফ সর্বতোভাবে পরামর্শ ও উপদেশ দিয়ে অভিধানের কাজকে সহজ করেছেন। তবে এ সংস্করণের পরিমার্জনা, নতুন ভুক্তির সংযোজন ও তার অর্থ নির্ণয়, বিন্যাসগত ও পদক্রমের ত্রুটি দূরীকরণের কতিপয় কাজ সম্পন্ন করেছেন একাডেমীর জ্যেষ্ঠ পরিচালক শামসুজ্জামান খান ও তাঁর সহকর্মী সহযোগী সম্পাদকগণ।

অন্যদিকে,
 ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌ সম্পাদনা করেন 'আঞ্চলিক ভাষার অভিধান' (দুই খণ্ড)।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা একাডেমি সংক্ষিপ্ত বাংলা অভিধান।
২,২৬০.
মুনীর চৌধুরী রচিত মৌলিক নাটক?
  1. কেউ কিছু বলতে পারে না
  2. রূপার কৌটা 
  3. মুখরা রমণী বশীকরণ 
  4. রক্তাক্ত প্রান্তর
সঠিক উত্তর:
রক্তাক্ত প্রান্তর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রক্তাক্ত প্রান্তর
ব্যাখ্যা

 মুনীর চৌধুরী:
- শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্যসমালোচক মুনীর চৌধুরী ১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর মানিকগঞ্জ শহরে তাঁর জন্ম।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস নোয়াখালী জেলায়। 
- মুনীর চৌধুরী ১৯৫৩ সালে কারাবন্দী অবস্থায় কবর নাটকটি রচনা করেন।
- মুনীর চৌধুরী ১৯৬৫ সালে কেন্দ্রীয় বাঙলা উন্নয়ন বোর্ডের উদ্যোগে বাংলা টাইপরাইটারের জন্য উন্নতমানের কী-বোর্ড উদ্ভাবন করেন, যার নাম মুনীর অপ্‌টিমা।

তাঁর রচিত অনুবাদ নাটক:
- কেউ কিছু বলতে পারে না (১৯৬৯): জর্জ বার্নার্ড শর You never can tell-এর বাংলা অনুবাদ।
- রূপার কৌটা (১৯৬৯): জন গলজ্‌ওয়র্দির The Silver Box-এর বাংলা অনুবাদ।
- মুখরা রমণী বশীকরণ (১৯৭০): উইলিয়াম শেক্‌স্‌পিয়ারের Taming of the Shrew-এর বাংলা অনুবাদ।

তাঁর রচিত মৌলিক নাটক:
- রক্তাক্ত প্রান্তর: পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের কাহিনী এর মূল উপজীব্য।
- চিঠি।
- কবর (রচনাকাল ১৯৫৩, প্রকাশকাল ১৯৬৬) নাটকটির পটভূমি হলো ১৯৫২ এর ভাষা আন্দোলন।
- পলাশী ব্যারাক ও অন্যান্য।
- ‘মানুষ’ ১৯৪৬ সালের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার কাহিনী এর মূল উপজীব্য।
- ‘নষ্ট ছেলে’ রাজনৈতিক চেতনাসমৃদ্ধ নাটক।
- ‘দণ্ডকারণ্য’ তিনটি নাটকের সমন্বয়।
- রাজার জন্মদিন।
- পলাশী ব্যারাক ও অন্যান্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২,২৬১.
'একুশে ফেব্রুয়ারী' সংকলনটি সম্পাদনা করেন-
  1. আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী
  2. হাসান হাফিজুর রহমান
  3. অতুলপ্রসাদ সেন
  4. কাজী ইমদাদুল হক
সঠিক উত্তর:
হাসান হাফিজুর রহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাসান হাফিজুর রহমান
ব্যাখ্যা
 'একুশে ফেব্রুয়ারী' সংকলন: 
• ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারিতে বাংলা ভাষার জন্য ঢাকায় যে আত্মদান করা হয় তার স্মরণে ১৯৫৩ সালের মার্চ মাসে হাসান হাফিজুর রহমান 'একুশে ফেব্রুয়ারী' নামে একটি সাহিত্য সংকলন সম্পাদনা করেন।

• এর প্রকাশক ছিলেন মোহাম্মদ সুলতান। সম্পাদক ও প্রকাশক উভয়েই বামপন্থি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

• এই সংকলনে কবিতা, প্রবন্ধ, গল্প, গান, নকসহা, ইতিহাস শিরোনামে ৬টি বিভাগে মোট ২২ জন লেখক লিখেছেন। এই সংকলনেই প্রথম প্রকাশিত হয় আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী রচিত 'আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো' গানটি। প্রকাশের তিন সপ্তাহের মধ্যে পাকিস্তানের তৎকালীন সরকার সংকলনটি বাজেয়াপ্ত করে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,২৬২.
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস 'রাইফেল রোটি আওরাত' এর রচয়িতা-
  1. ক) আনোয়ার পাশা
  2. খ) আবু জাফর শামসুদ্দীন
  3. গ) শওকত ওসমান
  4. ঘ) আলাউদ্দীন আল আজাদ
সঠিক উত্তর:
ক) আনোয়ার পাশা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) আনোয়ার পাশা
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস 'রাইফেল রোটি আওরাত' এর রচয়িতা- 'আনোয়ার পাশা' 

• রাইফেল রােটি আওরাত
- 'রাইফেল রােটি আওরাত' (১৯৭৩), আনােয়ার পাশা রচিত একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।
- অধ্যাপক সুদীপ্ত শাহীন এই উপন্যাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র।
- এই উপন্যাসের অন্যান্য চরিত্রগুলাে হচ্ছে - ড. খালেক, ড. মালেক, ছাবেদ আলী, হাসমত, জামাল সাহেব প্রমুখ।
- উপন্যাসটি মুক্তিযুদ্ধকালীন রচিত এবং ১৯৭৩ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত।

আনোয়ার পাশা
- আনোয়ার পাশা বুদ্ধিজীবী, শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক।
- জন্ম ১৯২৮ সালের ১৫ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুরের ডাবকাই গ্রামে।

• আনোয়ার পাশা রচিত উপন্যাস: 
- নিশুতি রাতের গাথা,
- নীড় সন্ধানী ও
- রাইফেল রোটি আওরাত (মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক)

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ: 
- 'নদী নিঃশেষিত হলে',
- 'সমুদ্র শৃঙ্খলাতা উজ্জয়িনী' ও
- 'অন্যান্য কবিতা'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
২,২৬৩.
’মস্কোতে কয়েকদিন‘ ভ্রমণকাহিনীর রচয়িতা কে?
  1. অন্নদাশঙ্কর রায়
  2. তারাশঙ্কর বন্দোপাধ্যায়
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. সুফিয়া কামাল
সঠিক উত্তর:
তারাশঙ্কর বন্দোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তারাশঙ্কর বন্দোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
’মস্কোতে কয়েকদিন‘ ভ্রমণকাহিনীর রচয়িতা ⎯ তারাশঙ্কর বন্দোপাধ্যায়। 
উল্লেখ্য,
- অন্নদাশঙ্কর রায় রচিত বিখ্যাত ভ্রমণকাহিনী ⎯ পথে প্রবাসে ও ইউরোপের চিঠি।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত বিখ্যাত ভ্রমণকাহিনী ⎯ রাশিয়ার চিঠি, য়ুরোপ প্রবাসীর পত্র, জাপান যাত্রী, জাভা যাত্রার পত্র, পারসো।
- সুফিয়া কামাল রচিত বিখ্যাত ভ্রমণকাহিনী ⎯ সোভিয়েতের দিনগুলি।


• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়:
- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়, একজন কথাসাহিত্যিক, রাজনীতিবিদ।
- তিনি ১৮৯৮ সালে পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলায় এক জমিদারবংশে জন্ম গ্রহণ করেন।
- তারাশঙ্করের প্রথম গল্প ‘রসকলি’ সেকালের বিখ্যাত পত্রিকা কল্লোল-এ প্রকাশিত হয়।
- তারাশঙ্করের ত্রয়ী উপন্যাস- ধাত্রীদেবতা, গণদেবতা, পঞ্চগ্রাম।

• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস: 
- চৈতালি ঘূর্ণি, 
- ধাত্রীদেবতা, 
- কবি, 
- হাঁসুলি বাঁকের উপকথা, 
- গণদেবতা, 
- আরগ্য, 
- নিকেতন, 
- পঞ্চপুণ্ডলী, 
- রাধা ইত্যাদি। 

• তাঁর প্রসিদ্ধ ছোটগল্প:
- রসকলি, 
- বেদেনী, 
- ডাকহরকরা। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২,২৬৪.
আহসান হাবীব এর প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. বিদীর্ণ দর্পণে মুখ
  2. দু'হাতে দুই আদিম পাথর
  3. রাত্রিশেষে
  4. ছায়া হরিণ
সঠিক উত্তর:
রাত্রিশেষে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাত্রিশেষে
ব্যাখ্যা
আহসান হাবীব:
- তিনি ছিলেন মূলত কবি ও সাংবাদিক।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ - রাত্রিশেষে।
- ১৯৬১ সালে বাংলা একাডেমি এবং ১৯৭৮ সালে একুশে পদক লাভ করেন।
- আহসান হাবীবের প্রথম কবিতার বই রাত্রিশেষ প্রকাশিত হয় ১৯৪৭ সালে। 
- তাঁর ‘ছায়া হরিণ’ কাব্যগ্রন্থটি ১৯৬২ খ্রিষ্টাব্দে ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয়। 

আহসান হাবীব রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- রাত্রিশেষ (প্রথম প্রকাশিত),
- মেঘ বলে চৈত্রে যাবো,
- দু'হাতে দুই আদিম পাথর,
- ছায়া হরিণ,
- দু'হাতে দুই আদিম পাথর,
- বিদীর্ণ দর্পণে মুখ।

শিশুতােষ গ্রন্থ:
- ছােটদের পাকিস্তান,
- ছুটির দিন দুপুরে,
- বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,২৬৫.
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত ছোটগল্প-
  1. কালিন্দী
  2. ডাক-হরকরা
  3. রাধা
  4. ধাত্রীদেবতা
সঠিক উত্তর:
ডাক-হরকরা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডাক-হরকরা
ব্যাখ্যা
• 'ডাক-হরকরা' গল্প:
- ১৩৪৩ বঙ্গাব্দের কার্তিক সংখ্যা 'প্রবাসী' পত্রিকায় তারাশঙ্করের বিখ্যাত গল্প 'ডাক-হরকরা' প্রকাশিত হয়। ঐ বছর বৈশাখে তাঁর 'ছলনাময়ী' গল্পগ্রন্থ বেরোয়। 

- 'ডাক-হরকরা' গল্পটি তারাশঙ্করের অন্যতম শ্রেষ্ঠ গল্প। এর আগেই বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় (যেমন, পূর্ণিমা, কল্লোল, উপাসনা, কালি-কলম, উত্তরা নবশক্তি, ভারতবর্ষ, বঙ্গশ্রী, শনিবারের চিঠি দেশ, প্রবাসী প্রভৃতি) তাঁর ৫৩টি গল্প বেরিয়েছে।

- এদের মধ্যে 'রসকলি', 'রাইকমল', 'ডাইনীর বাঁশী', 'মেলা', 'আখড়াইয়ের দীঘি', 'নারী ও নাগিনী', 'তারিণী মাঝি'-র মতো বিখ্যাত ও জনপ্রিয় গল্পও আছে। 'ডাক হরকরা' গল্পটি প্রকাশের আগেই গল্পকার হিসেবে তারাশঙ্কর খ্যাতি ও জনপ্রিয়তা পেয়েছেন। ছোটগল্পের আর্ট তাঁর আয়ত্তে এসেছে।

---------------
• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস:
- চৈতালি ঘূর্ণি,
- ধাত্রীদেবতা,
- কালিন্দী,
- কবি,
- হাঁসুলি বাঁকের উপকথা,
- গণদেবতা,
- আরগ্য,
- নিকেতন,
- পঞ্চপুণ্ডলী,
- রাধা ইত্যাদি।

উৎস: 'ডাক-হরকরা' গল্প এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,২৬৬.
‘পদ্মা মেঘনা যমুনা’ আবু জাফর শামসুদ্দীন রচিত -
  1. ছোটগল্প
  2. প্রবন্ধ
  3. নাটক
  4. উপন্যাস
সঠিক উত্তর:
উপন্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপন্যাস
ব্যাখ্যা
• ‘পদ্মা মেঘনা যমুনা’ আবু জাফর শামসুদ্দীন রচিত - উপন্যাস।

আবু জাফর শামসুদ্দীন:

- আবু জাফর শামসুদ্দীন একজন  সাংবাদিক, সাহিত্যিক।
- তিনি ১৯১১ সালের ১২ মার্চ  ঢাকা জেলার গাজীপুরের দক্ষিণবাগ গ্রামে জন্ম। 

তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা হলো:
উপন্যাস:
- ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান, 
- পদ্মা মেঘনা যমুনা,
- সংকর সংকীর্তন,
- দেয়াল,
- পরিত্যক্ত স্বামী।

গল্পগ্রন্থ:
- জীবন,
- রাজেন ঠাকুরের তীর্থযাত্রা,
- ল্যাংড়ী।

প্রবন্ধ:
- চিন্তার বিবর্তন ও পূর্ব পাকিস্তানী সাহিত্য,
- Sociology of Bengal Politics,
- সোচ্চার উচ্চারণ,
- লোকায়ত সমাজ ও বাঙ্গালী সংস্কৃতি ইত্যাদি।

তাঁর অনুবাদগ্রন্থ
- শিল্পীর সাধনা ও
- পার্ল বাকের সেরা গল্প।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,২৬৭.
কোন উপন্যাসে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জীবন সংগ্রামের কথা বর্ণিত হয়েছে?
  1. ক) জলোচ্ছ্বাস
  2. খ) সংশপ্তক
  3. গ) টানাপোড়েন
  4. ঘ) সারেং বৌ
সঠিক উত্তর:
ঘ) সারেং বৌ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সারেং বৌ
ব্যাখ্যা
- শহীদুল্লাহ কায়সার একজন বাঙালি লেখক, সাংবাদিক ও বুদ্ধিজীবী ছিলেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম ছিল আবু নঈম মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ্।

- 'সারেং বৌ' (১৯৬২) তাঁর রচিত আরেকটি বিখ্যাত উপন্যাস।
- বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জীবন সংগ্রামের কথা বর্ণিত হয়েছে এই উপন্যাসে।

- 'সংশপ্তক' (১৯৬৫) তাঁর রচিত একটি বিখ্যাত উপন্যাস।
- এই উপন্যাসে তিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অব্যবহিত পূর্ববর্তীকাল থেকে বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের পূর্বকাল অবধি বাংলাদেশের সামাজিক, রাজনৈতিক পরিবর্তন  ও রূপান্তর ধারণ করেছেন।

- 'রাজবন্দীর রোজনামচা' তাঁর রচিত স্মৃতিকথা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
২,২৬৮.
'বিদীর্ণ দর্পণে মুখ' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. বিষ্ণু দে
  2. অন্নদাশঙ্কর রায়
  3. আহসান হাবীব
  4. জসীম উদ্‌দীন
সঠিক উত্তর:
আহসান হাবীব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আহসান হাবীব
ব্যাখ্যা
• 'বিদীর্ণ দর্পণে মুখ' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা আহসান হাবীব।
- এটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত হয়।

• আহসান হাবীব:
- তিনি ১৯১৭ সালে পিরোজপুর জেলার শঙ্করপাশা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত কবি ও সাংবাদিক ছিলেন।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থের নাম 'রাত্রিশেষ' (১৯৪৭)।
- তিনি ১৯৮৫ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

 • তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- মেঘ বলে চৈত্রে যাবো,
- দু'হাতে দুই আদিম পাথর,
- আশায় বসতি,
- ছায়া হরিণ,
- সারা দুপুর,
- প্রেমের কবিতা,
- বিদীর্ণ দর্পণে মুখ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,২৬৯.
শওকত ওসমান রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. বাগদাদের কবি
  2. রাজা উপাখ্যান
  3. তস্কর নস্কর
  4. আমলার মামলা
সঠিক উত্তর:
রাজা উপাখ্যান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজা উপাখ্যান
ব্যাখ্যা

শওকত ওসমান:
- ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন কথাসাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক। তাঁর প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান।
- উপন্যাস ও গল্প রচয়িতা হিসেবেই শওকত ওসমানের মুখ্য পরিচয়; তবে প্রবন্ধ, নাটক, রম্যরচনা, স্মৃতিকথা ও শিশুতোষ গ্রন্থও তিনি রচনা করেছেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- ক্রীতদাসের হাসি, 
- সমাগম, 
- চৌরসন্ধি, 
- রাজা উপাখ্যান,
- পতঙ্গ পিঞ্জর,
- রাজসাক্ষী,
- পুরাতন খঞ্জর।

তাঁর রচিত নাটক:
- আমলার মামলা,
- তস্কর নস্কর,
- বাগদাদের কবি,
- পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২,২৭০.
বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম নিয়ে তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের রচিত উপন্যাস-
  1. অরণ্যবহ্নি
  2. একটি কালো মেয়ের কথা
  3. চৈতালী ঘূর্ণি
  4. পঞ্চগ্রাম
সঠিক উত্তর:
একটি কালো মেয়ের কথা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
একটি কালো মেয়ের কথা
ব্যাখ্যা
• 'একটি কালো মেয়ের কথা' উপন্যাস:
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম নিয়ে রচিত তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাস- 'একটি কালো মেয়ের কথা'।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯৭১ খ্রিষ্টব্দে।
- এটি তাঁর সর্বশেষ উপন্যাস।

তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়:
- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়, একজন কথাসাহিত্যিক, রাজনীতিবিদ।
- তিনি ১৮৯৮ সালে পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলায় এক জমিদারবংশে জন্ম গ্রহণ করেন।
- তারাশঙ্করের প্রথম গল্প ‘রসকলি’ সেকালের বিখ্যাত পত্রিকা কল্লোল-এ প্রকাশিত হয়।
- তারাশঙ্করের ত্রয়ী উপন্যাস- ধাত্রীদেবতা, গণদেবতা, পঞ্চগ্রাম।

তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস:
- চৈতালি ঘূর্ণি,
- ধাত্রীদেবতা,
- কালিন্দী,
- কবি,
- হাঁসুলি বাঁকের উপকথা,
- গণদেবতা,
- আরগ্য,
- নিকেতন,
- পঞ্চপুণ্ডলী,
- রাধা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,২৭১.
কাজী নজরুল ইসলামের রচনাবলি প্রথম সম্পাদনা করেন-
  1. আনিসুজ্জামান
  2. আবদুল কাদির
  3. আবদুল হক
  4. রফিকুল ইসলাম
সঠিক উত্তর:
আবদুল কাদির
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবদুল কাদির
ব্যাখ্যা

কাজী নজরুল ইসলামের রচনাবলি প্রথম সম্পাদনা করেন-- আবদুল কাদির।

• আবদুল কাদির:
- তিনি ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক, ছন্দসিক, সম্পাদক।
- ১৯০৬ সালের ১ জুন  কুমিল্লা জেলার আড়াইসিধা গ্রামে তাঁর জন্ম। 
- মুসলিম সাহিত্য সমাজের (১৯২৬) মাধ্যমে ঢাকায় যে বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন সংঘটিত হয়, আবদুল কাদির ছিলেন তার অন্যতম উদ্যোক্তা।
- সংগঠনের মুখপত্র বার্ষিক শিখা (১৯২৭) পত্রিকার তিনি প্রকাশক ও লেখক ছিলেন।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য কবিতা:
- দিলরুবা (১৯৩৩),
- উত্তর বসন্ত (১৯৬৭),

• প্রবন্ধগ্রন্থ:
- কবি নজরুল (১৯৭০),
- ছন্দসমীক্ষণ (১৯৭৯),
- কাজী আবদুল ওদুদ (১৯৭৬),
- বাংলা ছন্দের ইতিবৃত্ত (১৯৮৫),
- যুগকবি নজরুল (১৯৮৬) ইত্যাদি।

• আবদুল কাদির বেশসংখ্যক রচনাবলি সম্পাদনার কৃতিত্ব অর্জন করেন,
যেমন:
- কাব্যমালঞ্চ (যুগ্মভাবে, ১৯৪৫),
- এয়াকুব আলী চৌধুরী রচনাবলী ,
- নজরুল রচনাবলী (৫ খণ্ড, ১৯৬৬-১৯৮৪),
- শিরাজী রচনাবলী ,
- কাজী ইমদাদুল হক রচনাবলী ,
- আবুল হুসেন রচনাবলী,
- লুৎফর রহমান রচনাবলী,
- রোকেয়া রচনাবলী,
- বাংলা সনেট (১৯৭৪) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২,২৭২.
'A Code of Gento Laws' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  2. ন্যাথানিয়েল ব্র্যাসি হ্যালহেড
  3. উইলিয়াম কেরি
  4. ড. দীনেশচন্দ্র সেন
সঠিক উত্তর:
ন্যাথানিয়েল ব্র্যাসি হ্যালহেড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ন্যাথানিয়েল ব্র্যাসি হ্যালহেড
ব্যাখ্যা
A Code of Gento Laws:
- হেস্টিংসের অনুরোধে তিনি এক বিশাল আইনগ্রন্থ রচনা করেন: A Code of Gento Laws।
- গ্রন্থটি ১৭৭৬ সালে লন্ডন থেকে প্রকাশিত হয়।
- এটি মূলত হিন্দু আইনশাস্ত্রের একটি সারসংকলন, যা এগারোজন ব্রাহ্মণ পণ্ডিত সংস্কৃত ভাষায় সংকলন করেন।
- পরে একজন মুন্সি এটি প্রথমে ফারসি ভাষায় অনুবাদ করেন এবং সেখান থেকে হ্যালহেড ইংরেজিতে অনুবাদ করেন।
- কাজেই এটি ছিল একটি ত্রি-স্তরীয় কাজ, যদিও প্রথম দুই স্তরের পণ্ডিতদের নাম গ্রন্থে উল্লিখিত হয়নি।
- পরবর্তী দশকে এ গ্রন্থটির কয়েকটি সংস্করণ প্রকাশিত হয়।
- ফরাসি ও জার্মান ভাষায়ও এর অনুবাদ হয়।
- এর মাধ্যমেই বয়স তিরিশে পৌঁছার আগেই হ্যালহেডের খ্যাতি ইউরোপে ছড়িয়ে পড়ে।
--------------------------------------------
- ন্যাথানিয়েল ব্র্যাসি হ্যালহেড:
- তিনি প্রাচ্যবিদ ও বৈয়াকরণিক।
- তিনিই প্রথম বৈয়াকরণিক যিনি বাংলা  ব্যাকরণ রচনায় উদাহরণ ব্যবহার করে বাংলা পাঠ ও  বাংলা লিপি ব্যবহার করেন।
- এর আগে পর্তুগিজ ধর্মযাজকরা রোমান অক্ষরে অতি সাধারণভাবে বাংলা ব্যাকরণ ও  অভিধান রচনার চেষ্টা করেন।
- কিন্তু নিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতিতে হ্যালহেডই প্রথম বাংলা ব্যাকরণ রচনা করেন।
- ১৭৫১ সালের ২৫ মে লন্ডনের এক উচ্চ মধ্যবিত্ত পরিবারে হ্যালহেডের জন্ম।
- তিনি ১৭৭২ সালে  কলকাতায় এসে পৌঁছান এবং ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিতে রাইটার হিসেবে প্রাথমিক পর্যায়ের চাকরি নেন।
- সাহিত্যিক গুণের অধিকারী হওয়ার কারণে হ্যালহেড অচিরেই গভর্নর Warren Hastings-এর বন্ধুতে পরিণত হন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
২,২৭৩.
১৯২১ সালে ভারত সরকার দীনেশচন্দ্র সেনকে কোন উপাধিতে ভূষিত করেন?
  1. বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসকার
  2. লোক-সাহিত্যবিশারদ
  3. বাংলার মিল্টন
  4. রায়বাহাদুর
সঠিক উত্তর:
রায়বাহাদুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রায়বাহাদুর
ব্যাখ্যা
• দীনেশচন্দ্র সেন:
- দীনেশচন্দ্র সেন ছিলেন শিক্ষাবিদ, গবেষক, লোক-সাহিত্যবিশারদ ও বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসকার।
- তাঁর জন্ম মাতুলালয়ে, ১৮৬৬ সালের ৩ নভেম্বর মানিকগঞ্জ জেলার বগজুরি গ্রামে।

- ১৮৯৬ সালে দীনেশচন্দ্রের পুথিসংগ্রহ, পুথিপাঠ এর সময় তাঁর কর্মজীবনে এবং গবেষণার ক্ষেত্রে একটি নতুন পর্বের সূচনা হয়। তিনি উপাচার্য স্যর আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ের আহবানে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হন।

- কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ‘রামতনু লাহিড়ী রিসার্চ ফেলোশিপ’ পেয়ে (১৯১৩) তিনি মৈমনসিংহ-গীতিকাসহ পূবর্ববঙ্গ-গীতিকা (চার খন্ড, ১৯২৩-১৯৩২) এবং এর ইংরেজি ভাষ্যে Eastern Bengal Ballads (চার খন্ড, ১৯২৩-১৯৩২) সংকলন ও সম্পাদনা করেন। বাংলাদেশের সমৃদ্ধ লোকসাহিত্য বিলুপ্তি থেকে উদ্ধার এবং এ সাহিত্য বিশ্ববাসীর সামনে উপস্থাপনের লক্ষ্যে গ্রন্থ প্রণয়নে তিনি অসাধারণ ভূমিকা পালন করেন।

- ১৯২০ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে 'বাংলা ভাষা ও সাহিত্য' নামে একটি নতুন বিভাগ খোলা হলে দীনেশচন্দ্র সেন এ বিভাগের প্রধান নিযুক্ত হন। বারো বছর তিনি যোগ্যতার সঙ্গে বিভাগীয় প্রধানের দায়িত্ব পালন করে ১৯৩২ সালে অবসর নেন।

- সাহিত্য ও গবেষণায় অবদানের জন্য দীনেশচন্দ্র সেন ১৯২১ সালে ভারত সরকার কর্তৃক 'রায়বাহাদুর' উপাধি পান।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- বঙ্গ-সাহিত্য পরিচয়,
- সরল বাঙ্গালা সাহিত্য,
- ঘরের কথা ও যুগসাহিত্য,
- বৃহৎ বঙ্গ (দুই খণ্ড),
-আশুতোষ-স্মৃতিকথা,
- বাংলার পুরনারী,
প্রাচীন বাঙ্গলা সাহিত্যে মুসলমানের অবদান।

অন্যদিকে, 
• বাংলার মিল্টন বলা হয় হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়কে। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
২,২৭৪.
কোনটি ইব্রাহিম খাঁর গ্রন্থ নয়?
  1. ক) আনোয়ার পাশা
  2. খ) ইস্তাম্বুল যাত্রীর গল্প
  3. গ) কুঁচবরণ কন্যা
  4. ঘ) সোনার শিকল
সঠিক উত্তর:
গ) কুঁচবরণ কন্যা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) কুঁচবরণ কন্যা
ব্যাখ্যা
ইব্রাহীম খাঁ রচিত নাটক - আনোয়ার পাশা, ভ্রমণ কাহিনী- ইস্তাম্বুল যাত্রীর পত্র, গল্প- সোনার শিকল আর বন্দে আলী মিয়া রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ- কুঁচবরণ কন্যা।
উৎসঃ শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা
২,২৭৫.
কোনটি ইব্রাহীম খাঁর গ্রন্থ নয়?
  1. ক) আনোয়ার পাশা
  2. খ) ইস্তাম্বুল যাত্রীর পথ
  3. গ) কুচবরণের কন্যে
  4. ঘ) সোনার শিকল
সঠিক উত্তর:
গ) কুচবরণের কন্যে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) কুচবরণের কন্যে
ব্যাখ্যা
• ইব্রাহীম খাঁ রচিত নাটক - আনোয়ার পাশা।
- ভ্রমণ কাহিনী- ইস্তাম্বুল যাত্রীর পত্র।
- গল্প - সোনার শিকল।

• অন্যদিকে,
বন্দে আলী মিয়া রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ- কুঁচবরণ কন্যা।

উৎস: শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা।
২,২৭৬.
'আবোলতাবোল' ছড়াগ্রন্থের রচয়িতা-
  1. ক) স্বর্ণকুমারী দেবী
  2. খ) সানাউল হক
  3. গ) সুফিয়া কামাল
  4. ঘ) সুকুমার রায়
সঠিক উত্তর:
ঘ) সুকুমার রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সুকুমার রায়
ব্যাখ্যা

• সুকুমার রায় একজন বাঙালি শিশু সাহিত্যিক ও ভারতীয় সাহিত্যে 'ননসেন্স রাইমের' প্রবর্তক।
• তিনি 'সন্দেশ' পত্রিকা সম্পাদনা করতেন।
• তাঁর উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্মঃ
- আবোলতাবোল (ছড়াগ্রন্থ),
- হ-য-ব-র-ল,
- পাগলা দাশু,
- বহুরূপী,
- ব্যাঙের সমুদ্র দেখা,
- খাইখাই, ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

২,২৭৭.
'যুদ্ধোত্তর বাংলাদেশ' প্রবন্ধ সংকলনটি কার রচনা?
  1. আল মাহমুদ
  2. আলাউদ্দিন আল আজাদ
  3. বদরুদ্দীন উমর
  4. এস ওয়াজেদ আলি
সঠিক উত্তর:
বদরুদ্দীন উমর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বদরুদ্দীন উমর
ব্যাখ্যা
যুদ্ধোত্তর বাংলাদেশ:
• বদরুদ্দীন উমরের এই সংকলনের অন্তর্ভুক্ত প্রবন্ধগুলি ১৯৭২ সালের প্রথম থেকে ১৯৭৪ সালের প্রথম দিক পর্যন্ত বাংলাদেশের বিভিন্ন সাপ্তাহিক ও দৈনিক পত্রিকাতে প্রকাশিত হয়েছিলো। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত হলেও এগুলির মধ্যে একটা ধারাবাহিকতা এবং ঐক্যসূত্র আছে।

লেখক জবানিতে-
সংকলনের প্রবন্ধগুলিতে আমি ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বরের পরবর্তী দুই বৎসরের সামাজিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক কতকগুলি সমস্যার পর্যালোচনা করেছি। এই পর্যালোচনার পরিধির মধ্যে অনেক গুরুত্বপূর্ণ সমস্যারই প্রয়োজনীয় আলোচনা সম্ভব হয় নি। সেদিক থেকে সংকলনটির অপূর্ণতা অনস্বীকার্য। কিন্তু তবু আশা করি যে, এই ক্ষুদ্র পরিসরে সংক্ষিপ্তভাবে যে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলির ওপর আলোচনা ও পর্যালোচনা এই প্রবন্ধগুলিতে করা হয়েছে তার থেকে পাঠকরা যুদ্ধোত্তর বাঙলাদেশের একটা সাধারণ ও সামগ্রিক চিত্রের সাথে পরিচিত হতে সক্ষম হবেন।

----------------
বদরুদ্দীন উমর প্রকাশিত গ্রন্থগুলো হলো:
- সাম্প্রদায়িকতা,
- সংস্কৃতির সাম্প্রদায়িকতা,
- সংস্কৃতির সংকট
- পূর্ব বাঙলার ভাষা আন্দোলন ও তৎকালীন রাজনীতি,
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ও উনিশ শতকের বাঙালী সমাজ,
-  যুদ্ধপূর্ব বাংলাদেশ,
- যুদ্ধোত্তর বাংলাদেশ,
- ভাষা আন্দোলন ও অন্যান্য প্রসঙ্গ,
- বঙ্গভঙ্গ ও সাম্প্রদায়িক রাজনীতি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং 'যুদ্ধোত্তর বাংলাদেশ' গ্রন্থ।
২,২৭৮.
'পথের পাঁচালী' উপন্যাসটি কার লেখা?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• 'পথের পাঁচালী' উপন্যাসের রচয়িতা- 'বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়'।

• 'পথের পাঁচালী' উপন্যাস:
- 'পথের পাঁচালী' বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত একটি জনপ্রিয় বাংলা উপন্যাস।
- উপন্যাসটি ১৯২৯ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসটি 'বিচিত্রা' পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসের পটভূমিতে আছে বাংলাদেশের গ্রাম ও তার পরিচিত মানুষের জীবন।
- এতে একটি শিশুর চৈতন্যের জাগরণ, মানুষ ও প্রকৃতির সঙ্গে তার পরিচয় বর্ণিত হয়েছে।
- উপন্যাসের তিনটি ভাগ। বল্লালী বালাই, আমআঁটির ভেঁপু, অক্রূর সংবাদ।
- 'পথের পাঁচালী'র নায়ক বালক অপু।

- এছাড়াও 'পথের পাঁচালী' ও 'অপরাজিত' উপন্যাস অবলম্বনে সত্যজিৎ রায় চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন।

উপন্যাসটির প্রধান চরিত্রগুলো হলো- 
- অপু,
- দুর্গা,
- ইন্দির ঠাকরুন,
- সর্বজয়া।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,২৭৯.
দেশভাগের প্রভাব ফুটে উঠেছে কোন গল্পে?
  1. ক) একটি তুলসী গাছের কাহিনী
  2. খ) দি আগলি এশিয়ান
  3. গ) নয়নচারা
  4. ঘ) দুই তীর ও অন্যান্য গল্প
সঠিক উত্তর:
ক) একটি তুলসী গাছের কাহিনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) একটি তুলসী গাছের কাহিনী
ব্যাখ্যা
প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর কালজয়ী সৃষ্টি একটি তুলসী গাছের কাহিনী।
- দেশভাগের সময়ে কলকাতা থেকে উদ্বাস্তুর মত একদল চাকরিজীবী পূর্ব বঙ্গে (বর্তমান : বাংলাদেশ) আসে। এসে একটি পরিত্যক্ত বাড়ি দখল করে। তারা ভাগ্যবান বলে একটি পরিত্যক্ত বাড়ি দখল করা এবং সেখানকার এক তুলসি গাছের কাহিনী নিয়ে রচিত হয় এই গ্লল্পটি।
- হঠাৎ আলোর ঝলকানি তাঁর প্রকাশিত প্রথম গল্প। যা তৎকালীন ঢাকা কলেজের ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ
- নয়নচারা
- দুই তীর ও অন্যান্য গল্প 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,২৮০.
’পানকৌড়ির রক্ত’ আল মাহমুদ রচিত একটি-
  1. গল্পগ্রন্থ
  2. উপন্যাস
  3. প্রবন্ধ
  4. নাটক
সঠিক উত্তর:
গল্পগ্রন্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গল্পগ্রন্থ
ব্যাখ্যা

• আল মাহমুদ:
- তিনি ১৯৩৬ সালের ১১ই জুলাই ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার মোড়াইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ।
- তিনি একজন প্রথিতযশা কবি।
- স্বাধীনতা উত্তরকালে তিনি 'দৈনিক গণকন্ঠ' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- তাঁর প্রকাশিত শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ 'সোনালী কাবিন' (১৯৭৩)।

• তাঁর রচিত প্রধান গল্পগ্রন্থ:
- পানকৌড়ির রক্ত,
- ময়ূরীর মুখ,
- গন্ধবণিক,
- সৌরভের কাছে পরাজিত।

তাঁর রচিত প্রধান কাব্যগ্রন্থ:
- লোক লোকান্তর,
- সোনালী কাবিন,
- কালের কলস,
- অদৃষ্টবাদীদের রান্নাবান্না,
- পাখির কাছে ফুলের কাছে,
- দোয়েল ও দয়িতা,
- দ্বিতীয় ভাঙন,
- বখতিয়ারের ঘোড়া,
- প্রেমের কবিতা ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত প্রধান উপন্যাস:
- কাবিলের বোন,
- চেহারার চতুরঙ্গ,
- উপমহাদেশ,
- ডাহুকী,
- আগুনের মেয়ে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২,২৮১.
বাংলা গদ্য সাহিত্য বিকাশে কোন প্রতিষ্ঠানটির বিশেষ অবদান রয়েছে?
  1. মুহসীন কলেজ
  2. ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ
  3. শ্রীরামপুর মিশন
  4. সংস্কৃত কলেজ
সঠিক উত্তর:
ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ
ব্যাখ্যা
ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ:
- বাংলা গদ্য বিকাশে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের বিশেষ অবদান রয়েছে।
- ইংরেজ সিভিলিয়ানদের ভারতীয় ভাষা ও বিভিন্ন বিষয়ে শিক্ষা দেওয়ার উদ্দেশ্যে কলকাতার লালবাজারে ১৮০০ সালে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ প্রতিষ্ঠা করা হয়।
- ইংরেজদের স্বার্থে প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠিত হলেও বাংলা গদ্য বিকাশে এই প্রতিষ্ঠানের বিশেষ অবদান রয়েছে।
- ফোর্ট উইলিয়ম কলেজ ফোর্ট উইলিয়মের অভ্যন্তরভাগে গভর্নর জেনারেল লর্ড ওয়েলেসলী কর্তৃক ১৮০০ সালে প্রতিষ্ঠিত প্রাচ্যবিষয়ক একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র।
- সুশিক্ষিত ও কুসংস্কারমুক্ত আমলাতন্ত্রের সহায়তায় কার্যকরভাবে ব্রিটিশ ভারত শাসনের এক পরিকল্পনা করেন লর্ড ওয়েলেসলী।
- ওয়েলেসলী উপনিবেশিক প্রশাসনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নবাগত অফিসারদেরকে প্রস্ত্তত করার জন্য প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ও নৈতিক প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করেন। এভাবে একটি ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের প্রয়োজনীয়তা থেকেই লর্ড ওয়েলেসলী ১৮০০ সালে কলকাতায় ফোর্ট উইলিয়ম কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন।
- উইলিয়াম কেরী ছিলেন ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ এর অধ্যক্ষ।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
২) বাংলাপিডিয়া।
২,২৮২.
আবু জাফর শামসুদ্দীনের ত্রয়ী উপন্যাসের অন্তর্ভুক্ত নয় কোনটি?
  1. ক) ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান
  2. খ) পদ্মা মেঘনা যমুনা
  3. গ) অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী
  4. ঘ) সংকর সংকীর্তন
সঠিক উত্তর:
গ) অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী
ব্যাখ্যা
আবু জাফর শামসুদ্দীনের ত্রয়ী উপন্যাস- ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান, পদ্মা মেঘনা যমুনা এবং সংকর সংকীর্তন। এছাড়াও তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাস- দেয়াল, পরিত্যক্ত স্বামী, প্রপঞ্চ ইত্যাদি।

অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী উপন্যাসের রচয়িতা আহমদ ছফা।

• আবু জাফর শামসুদ্দীন এর ত্রয়ী উপন্যাস:
- ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান,
- পদ্মা মেঘনা যমুনা এবং
- সংকর সংকীর্তন।
-------------------
• দেয়াল (উপন্যাস):
আবু জাফর শামসুদ্দীন-এর ‘দেয়াল’ (১৯৮৬) উপন্যাসটির সূচনা ঘটেছে পঁচিশে মার্চের ভয়াল কালরাত্রির নারকীয় গণহত্যার বর্ণনা দিয়ে।
সারা জীবন পাকিস্তানি আদর্শের ধ্বজাধারী আবদুল্লাহর স্ত্রী ও কিশোরী কন্যার বলাৎকারের মাধ্যমে সে যে মর্মান্তিক অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছিল তার উন্মোচন ও উদ্ভাসন হয়েছে এতে। 
------------------- 
• আবু জাফর শামসুদ্দীন:
আবু জাফর শামসুদ্দীন একজন  সাংবাদিক, সাহিত্যিক।
তিনি ১৯১১ সালের ১২ মার্চ  ঢাকা জেলার গাজীপুরের দক্ষিণবাগ গ্রামে জন্ম। 

তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা হলো:
উপন্যাস:
- ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান, 
- পদ্মা মেঘনা যমুনা,
- সংকর সংকীর্তন,
- দেয়াল,
- পরিত্যক্ত স্বামী।

গল্পগ্রন্থ:
- জীবন,
- রাজেন ঠাকুরের তীর্থযাত্রা,
- ল্যাংড়ী।

প্রবন্ধ:
- চিন্তার বিবর্তন ও পূর্ব পাকিস্তানী সাহিত্য,
- Sociology of Bengal Politics,
- সোচ্চার উচ্চারণ,
- লোকায়ত সমাজ ও বাঙ্গালী সংস্কৃতি ইত্যাদি।

তাঁর অনুবাদগ্রন্থ: 
- শিল্পীর সাধনা ও
- পার্ল বাকের সেরা গল্প।
------------
উল্লেখ্য,
হুমায়ুন আহমেদ রচিত সর্বশেষ উপন্যাস- দেয়াল (২০১২)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,২৮৩.
সৈয়দ শামসুল হকের মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস-
  1. ক) পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়
  2. খ) বিরতিহীন উৎসব
  3. গ) খেলারাম খেলে যা
  4. ঘ) নিষিদ্ধ লোবান
সঠিক উত্তর:
ঘ) নিষিদ্ধ লোবান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) নিষিদ্ধ লোবান
ব্যাখ্যা

- সৈয়দ শামসুল হক একজন প্রখ্যাত বাংলাদেশী সাহিত্যিক।
- তিনি কুড়িগ্রাম জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- 'নিষিদ্ধ লোবান' ও 'নীল দংশন' তাঁর মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।
- 'নিষিদ্ধ লোবান' উপন্যাস অবলম্বনে চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে। চলচ্চিত্রটির নাম গেরিলা।
- 'পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়' তাঁর মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কাব্যনাট্য।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

২,২৮৪.
নিচের কোনটি দীনেশচন্দ্র সেন রচিত গ্রন্থ নয়?
  1. ক) বৃহৎবঙ্গ
  2. খ) History of Bengali language and literature
  3. গ) বঙ্গভাষা ও সাহিত্য
  4. ঘ) চন্দ্রাবতী
সঠিক উত্তর:
ঘ) চন্দ্রাবতী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) চন্দ্রাবতী
ব্যাখ্যা
- প্রদত্ত প্রশ্নের সঠিক উত্তর চন্দ্রাবতী।
- ”চন্দ্রাবতী” কাব্যের রচয়িতা কোরেশী মাগন ঠাকুর।
- তবে “চন্দ্রাবতী” নামে মৈয়মনসিংহ গীতিকার একজন মহিলা কবি রয়েছেন যিনি প্রথম রামায়ণ বাংলায় অনুবাদ করেছিলেন।

• অন্যান্য অপশনগুলো:
 বৃহৎবঙ্গ, History of Bengali language and literature, বঙ্গভাষা ও সাহিত্য– দীনেশচন্দ্র সেন রচিত সাহিত্যকর্ম।
১৮৯৬ সালে প্রকাশিত “বঙ্গভাষা ও সাহিত্য”-বাঙ্গালা সাহিত্যের প্রথম ইতিহাস গ্রন্থ হিসেবে স্বীকৃত।
দীনেশচন্দ্রের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়— 'মৈয়মনসিংহ গীতিকা' (১৯২৩) এবং 'পূর্ববঙ্গ গীতিকা' (১৯২৬) ।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া।
২,২৮৫.
'নজরুল রচনাবলী'র প্রথম সংকলক ও সম্পাদক কে?
  1. আনিসুজ্জামান
  2. আব্দুল কাদির
  3. আব্দুল হাই
  4. আহমদ শরীফ
সঠিক উত্তর:
আব্দুল কাদির
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আব্দুল কাদির
ব্যাখ্যা

• 'নজরুল রচনাবলী'র প্রথম সংকলক ও সম্পাদক আব্দুল কাদির।

 আবদুল কাদির:
- আবদুল কাদির (১৯০৬–১৯৮৪) ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক, ছন্দবিদ ও সম্পাদক।
- তাঁর উপাধি ছিল ছান্দসিক কবি।
- কুমিল্লার আড়াইসিধা গ্রামে জন্ম নেওয়া এই সাহিত্যিক ১৯২৬ সালে ঢাকায় মুসলিম সাহিত্য সমাজের মাধ্যমে গড়ে ওঠা বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন–এর অন্যতম সংগঠক হিসেবে পরিচিত।
- তিনি সংগঠনের মুখপত্র ‘শিখা’ (১৯২৭) বার্ষিকীর প্রকাশক ও লেখক ছিলেন।

- তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে:
- দিলরুবা;
- উত্তর বসন্ত;
- কবি নজরুল;
- ছন্দসমীক্ষণ;
- কাজী আবদুল ওদুদ;
- বাংলা ছন্দের ইতিবৃত্ত।

 উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা  ও বাংলাপিডিয়া।

২,২৮৬.
'মগের মুল্লুক' নামক ব্যঙ্গকাব্যের রচয়িতা কে?
  1. দীনবন্ধু মিত্র
  2. গোবিন্দচন্দ্র দাস
  3. প্রেমেন্দ্র মিত্র
  4. নবীনচন্দ্র সেন
সঠিক উত্তর:
গোবিন্দচন্দ্র দাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গোবিন্দচন্দ্র দাস
ব্যাখ্যা
- 'মগের মুল্লুক' নামক ব্যঙ্গকাব্যের রচয়িতা গোবিন্দচন্দ্র দাস।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৮৯৩ খ্রিষ্টাব্দে। 

গোবিন্দচন্দ্র দাস:

-  গোবিন্দ চন্দ্র দাস কে ‘স্বভাব কবি’ বলা হয়।
- গোবিন্দচন্দ্র দাস  ১৮৫৫ সালের ১৬ জানুয়ারি  ঢাকা জেলার ভাওয়ালের জয়দেবপুরে জন্মগ্রহণ করেন।
- গোবিন্দচন্দ্র দাস ভাওয়ালের কবি হিসেবেও বিখ্যাত।
- রবীন্দ্রনাথের সমকালে আধুনিক গীতিকবিতার ধারায় কবিতা রচনা করেই গোবিন্দচন্দ্র খ্যাত হন।
- গোবিন্দ চন্দ্র দাস কে ‘স্বভাব কবি’ বলা হয়।

তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ হচ্ছে:
- প্রেম ও ফুল,
- কুঙ্কুম,
- কস্তুরী,
- চন্দন,
- ফুলরেণু্‌,
- বৈজয়ন্তী,
- শোক ও সান্ত্বনা ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও ড. সৌমিত্র শেখর।
২,২৮৭.
শামসুর রাহমান ছিলেন পেশায় একজন-
  1. ক) রাজনীতিবিদ
  2. খ) শিক্ষক
  3. গ) সাংবাদিক
  4. ঘ) ডাক্তার
সঠিক উত্তর:
গ) সাংবাদিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সাংবাদিক
ব্যাখ্যা

• আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান কবি শামসুর রাহমান।
তিনি একজন নাগরিক কবি ছিলেন।
পেশায় তিনি সাংবাদিক ছিলেন।
মুক্তিযুদ্ধকালে তিনি মজলুম আদিব (বিপন্ন লেখক) ছদ্মনামে লিখতেন।

• তাঁর রচিত উপন্যাস-
- অক্টোপাস,
- অদ্ভূত আঁধার এক,
- নিয়ত মন্তাজ,
- এলো সে অবেলায় ইত্যাদি।

উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

২,২৮৮.
রাজা রামমোহন রায় কত সালে 'গৌড়ীয় ব্যাকরণ' প্রকাশ করেন?
  1. ১৮০০ সালে
  2. ১৯০০ সালে
  3. ১৮১৫ সালে
  4. ১৮৩৩ সালে
সঠিক উত্তর:
১৮৩৩ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮৩৩ সালে
ব্যাখ্যা

গৌড়ীয় ব্যাকরণ:
- ‘গৌড়ীয় ব্যাকরণ’ বাঙালি রচিত প্রথম বাংলা ব্যাকরণ।
- এটি রাজা রামমোহন রায় কর্তৃক বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম ব্যাকরণ, গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৮৩৩ খ্রিষ্টাব্দে। এটি তাঁর সর্বশেষ গ্রন্থ।
- এর আগে তিনি ইংরেজিতে Bengali Grammar in the English Language নামের একটি ব্যাকরণ গ্রন্থ রচনা করেন।
- সর্বমোট বারোটি অধ্যায়ে এটি বিন্যস্ত।
- প্রথম অধ্যায়ে ধ্বনি, বর্ণ, উচ্চারণ, শব্দ, অক্ষর প্রভৃতি সম্পর্কে দৃষ্টান্তসহ আলোচনা করা হয়েছে।
- গ্রন্থে বাংলা ভাষার স্বকীয় উচ্চারণ-পদ্ধতি সম্পর্কে রামমোহন কিছু মৌলিক বক্তব্য উপস্থাপন করেছেন।
- পরবর্তী অধ্যায়গুলিতে ব্যাখ্যা করা হয়েছে বাংলা ভাষার লিঙ্গ, প্রত্যয়, পদান্বয়, বাক্যরীতি, ছন্দ ইত্যাদি।
- মোটামুটিভাবে গৌড়ীয় ব্যাকরণে রয়েছে বাংলা ভাষার ধ্বনি ও রূপগত বৈশিষ্ট্যের বৈয়াকরণিক বিশ্লেষণ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

২,২৮৯.
'লালসালু' উপন্যাস কোথা থেকে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়?
  1. ঢাকা
  2. রংপুর
  3. চট্টগ্রাম
  4. কলকাতা
সঠিক উত্তর:
ঢাকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঢাকা
ব্যাখ্যা

‘লালসালু’ উপন্যাস:
- ‘লালসালু’ সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ রচিত উপন্যাস। ১৯৪৮ সালে ঢাকার কমরেড পাবলিশার্স থেকে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত।
- এই উপন্যাসে একদিকে যেমন বাংলার গ্রামজীবনের বাস্তব প্রকৃতি ধরা পড়েছে তার সৌন্দর্য, মাধুর্য ও কঠোরতা নিয়ে; তেমনই রূপায়িত হয়েছে অসংখ্য গ্রামীণ মানুষের জীবন।
- নোয়াখালি অঞ্চল থেকে মজিদ নামের একটি কূটচরিত্র গারোপাহাড়ি অঞ্চলে গিয়ে সেই এলাকার মানুষকে ধর্মের নামে কীভাবে শোষণ করে, সেই বাস্তব চিত্র আছে উপন্যাসটিতে।
- ধর্ম ব্যবসায়ী মজিদ অর্থ ও প্রভাব বৃদ্ধির সঙ্গে অল্পবয়সী দ্বিতীয় স্ত্রী গ্রহণ করে। সে গ্রামের মোড়লদেরও প্রভাবিত করে। পাশের গ্রামে অন্য পিরের আগমন হলে, নিজের দাপট খর্ব হবে বিবেচনায়, তাকে মারধর দিয়ে উচ্ছেদ করে।
- তবে স্বল্পবয়সী স্ত্রী জমিলা কর্তৃক মজিদ লাঞ্ছিত হয়। উপন্যাসে জমিলা বিদ্রোহিণী, প্রতিবাদের প্রতীক।
- 'লালসালু'র একটি বহুমাত্রিক ও কালোত্তীর্ণ উপন্যাস।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র: মজিদ, খালেক ব্যাপারি, জমিলা, রহিমা, আমেনা, আক্কাস, তাহেরের বাপ, হাসুনির মা।
- ঔপন্যাসিক ধর্মব্যবসায়ীদের উপলক্ষ করে লিখেছেন: 'খোদার এলেমে বুক ভরে না তলায় পেট শূন্য বলে।'
- উপন্যাসটি 'Tree Without Roots' নামে ইংরেজিতে অনূদিত হয়ে (১৯৬৭) খ্যাতি অর্জন করে।
- ওয়ালীউল্লাহর পত্নী অ্যান মেরির ‘লালসালু'র ফরাসি অনুবাদের নাম- ল্য অরবরে সামস মায়েমে (১৯৬১)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, উচ্চ মাধ্যমিক বাংলা সহপাঠ এবং বাংলাপিডিয়া।

২,২৯০.
“পরানের গহীন ভিতর” কাব্যের লেখক কে?
  1. অসীম সাহা
  2. অরুণ বসু
  3. আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
  4. সৈয়দ শামসুল হক
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ শামসুল হক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ শামসুল হক
ব্যাখ্যা

‘পরানের গহীন ভিতর’ কাব্যের রচয়িতা সৈয়দ শামসুল হক।

- সৈয়দ শামসুল হক:
- সৈয়দ শামসুল হক ছিলেন বাংলাদেশের একজন প্রতিভাবান কবি, ঔপন্যাসিক, নাট্যকার ও ছোটগল্পকার।
- তিনি ১৯৩৫ সালে কুড়িগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা সাহিত্যে তার বহুমুখী অবদানের জন্য তাঁকে ‘সব্যসাচী লেখক’ হিসেবে সম্মানিত করা হয়।

- তাঁর প্রধান রচনা:
• তাঁর মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস - নিষিদ্ধ লোবান।
• তাঁর সবচেয়ে বিতর্কিত উপন্যাস - খেলারাম খেলদে দে।

• কাব্যনাট্য:
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় (মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক),
- নুরলদীনের সারাজীবন,
- এখানে এখন।

• গল্পগ্রন্থ:
- তাস,
- শীতের শেষ বিকেল,
- আনন্দের মৃত্যু,
- প্রাচীন বংশের নিঃস্ব সন্তান,
- জলেশ্বরীর গল্পগুলো (মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক)।

• কাব্যগ্রন্থ: 
- একদা এক রাজ্যে,
- বৈশাখে রচিত পঙ্‌ক্তিমালা, 
- পরানের গহীন ভিতর,
- বেজান শহরের জন্য কোরাস,
- কাননে কানে তোমারই সন্ধানে,
- আমি জন্মগ্রহণ করিনি ইত্যাদি।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া।

২,২৯১.
'ভাত দে হারামজাদা' কবিতার রচয়িতা কে? 
  1. রফিক আজাদ
  2. হুমায়ুন আজাদ
  3. দাউদ হায়দার
  4. হুমায়ুন কবির
সঠিক উত্তর:
রফিক আজাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রফিক আজাদ
ব্যাখ্যা
• রফিক আজাদ:
- রফিক আজাদ টাঙ্গাইল জেলার জাহিদগঞ্জের গুণীগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- রফিক আজাদের ডাক নাম ছিল 'জীবন'।
- বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত মাসিক সাহিত্য পত্রিকা 'উত্তরাধিকার' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- তাঁর বিখ্যাত কবিতা 'ভাত দে হারামজাদা'। এটি 'সীমাবদ্ধ জলে, সীমিত সবুজে' কাব্যগ্রন্থে সংকলিত।
- তিনি ২০১৬ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ:
- চুনিয়া আমার আর্কেডিয়া,
- অসম্ভবের পায়ে,
- কোনো খেদ নেই,
- হৃদয়ের কী বা দোষ,
- সীমাবদ্ধ জলে, সীমিত সবুজে,
- করো অশ্রুপাত,
- পাগলা গারদ থেকে প্রেমিকার চিঠি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,২৯২.
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌ রচিত 'লালসালু' উপন্যাসটির উপজীব্য কী?
  1. চাষী জীবনের করুণ চিত্র
  2. নারীর বন্দিদশার করুণ চিত্র
  3. ধর্ম নিয়ে ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থকারীদের স্বরূপ উন্মোচন
  4. ধর্মীয় মূল্যবোধ বিস্তারের চিত্র
সঠিক উত্তর:
ধর্ম নিয়ে ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থকারীদের স্বরূপ উন্মোচন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধর্ম নিয়ে ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থকারীদের স্বরূপ উন্মোচন
ব্যাখ্যা
লালসালু:
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত উপন্যাস।
- ১৯৪৮ সালে কলকাতা থেকে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত।
- এই উপন্যাসে একদিকে যেমন বাংলার গ্রামজীবনের বাস্তব প্রকৃতি ধরা পড়েছে তার সৌন্দর্য, মাধুর্য ও কঠোরতা নিয়ে; তেমনি রূপায়িত হয়েছে অসংখ্য গ্রামীণ মানুষের জীবন।
- নোয়াখালি অঞ্চল থেকে মজিদ নামের একটি কূটচরিত্র গারোপাহাড়ি অঞ্চলে গিয়ে সেই এলাকার মানুষকে ধর্মের নামে কীভাবে শোষণ করে, সেই বাস্তব চিত্র আছে উপন্যাসটিতে।
- উপন্যাসের মূলবিষয় ধর্ম নিয়ে ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থকারীদের স্বরূপ উন্মোচন এবং নারী জাগরণের প্রেক্ষাপটে সমাজচেতনা।
- এদেশে মজিদের মতো চরিত্র আজো গ্রামে ও শহরে প্রচুর। 
- তবে স্বল্পবয়সী স্ত্রী জমিলা কর্তৃক সে লাঞ্ছিত হয়, মাজারের গায়ে পা লেগে থাকে জমিলার।
- উপন্যাসে জমিলা বিদ্রোহিণী, প্রতিবাদের প্রতীক।
- বহুমাত্রিক ও উল্লেখযোগ্য চরিত্র: মজিদ, খালেক ব্যাপারি, জমিলা, রহিমা, আমেনা, আক্কাস, তাহেরের বাপ, হাসুনির মা।
- ঔপন্যাসিক ধর্মব্যবসায়ীদের উপলক্ষ্য করে লিখেছেন: 'খোদার এলেমে বুক ভরে না তলায় পেট শূন্য বলে।'
- উপন্যাসটি 'Tree Without Roots (১৯৬৭) নামে অনূদিত হয়ে খ্যাতি অর্জন করে।
- উপন্যাসটি ফরাসি ভাষায় অনূদিত হয়েছে।
- 'লালসালু'র ফরাসি অনুবাদের নাম - ল্য অরবরে সামস মায়েমেঁ (১৯৬১)।
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌র পত্নী 'অ্যান মেরি' উপন্যাসটির ফরাসি অনুবাদ করেন।

সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌:
- ১৯২২ সালের ১৫ আগস্ট চট্টগ্রামের ষোলশহরে সৈয়দ (ডেপুটি) বাড়িতে তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার।
- পিতা সৈয়দ আহমদউল্লাহ ছিলেন সরকারি কর্মকর্তা।
- ফেনী হাইস্কুলে ছাত্র থাকাকালেই সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌র সাহিত্যচর্চার সূত্রপাত হয়। 
- এ সময় তিনি হাতে লেখা পত্রিকা 'ভোরের আলো' সম্পাদনা করেন।
- তাঁর প্রথম গল্প ‘হঠাৎ আলোর ঝলকানি’ ঢাকা কলেজ ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়। 
- তিনি ১৯৬১ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার, ১৯৬৫ সালে আদমজি পুরস্কার এবং ১৯৮৩ সালে একুশে পদক (মরণোত্তর) লাভ করেন।
- তিনি ১৯৭১ সালের ১০ই অক্টোবর, প্যারিসে মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- লালসালু,
- চাঁদের অমাবস্যা,
- কাঁদো নদী কাঁদো,
- দি আগলি এশিয়ান।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২,২৯৩.
'আগুন নিয়ে খেলা' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. হাসান আজিজুল হক
  2. কাজী ইমদাদুল হক
  3. অন্নদাশঙ্কর রায়
  4. আল মাহমুদ
সঠিক উত্তর:
অন্নদাশঙ্কর রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অন্নদাশঙ্কর রায়
ব্যাখ্যা

• 'আগুন নিয়ে খেলা' উপন্যাস:
- 'আগুন নিয়ে খেলা' অন্নদাশঙ্কর রায় রচিত উপন্যাস।
- প্রথম প্রকাশ আশ্বিন ১৩৩৭, দ্বিতীয় সংস্করণ জ্যৈষ্ঠ ১৩৪৬, তৃতীয় সংস্করণ অগ্রহায়ণ ১৩৫২, চতুর্থ সংস্করণ মাঘ ১৩৫৭ এবং পঞ্চম সংস্করণ বৈশাখ ১৩৬৩।
- প্রচ্ছদপট শ্রীমতী লীলা রায়ের আঁকা। এ গ্রন্থের কপিরাইট শ্রীমতী লীলা রায়ের ছিল।
প্রকাশক শ্রীগোপালদাস মজুমদার। গ্রন্থটি ডি. এম. লাইব্রেরী, কর্নওয়ালিস স্টীট, কলিকাতা থেকে প্রকাশিত হয়। প্রকাশকালে গ্রন্থটির মূল্য ছিল তিন টাকা।

অন্নদাশঙ্কর রায় রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- অসমাপিকা,
- আগুন নিয়ে খেলা,
- পুতুল নিয়ে খেলা,
- সত্যাসত্য ইত্যাদি।

উল্লেখযোগ্য ভ্রমণকাহিনি:
- পথে প্রবাসে,
- ইউরোপের চিঠি।

অন্যদিকে, 
• 'আগুনের মেয়ে' উপন্যাসটি বিখ্যাত কবি ও লেখক আল মাহমুদের লেখা। 
• 'আগুনপাখি' বাঙালি লেখক হাসান আজিজুল হক কর্তৃক লিখিত একটি বাংলা উপন্যাস। উপন্যাসটি ২০০৬ সালে প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 'আগুন নিয়ে খেলা' অন্নদাশঙ্কর রায় এবং বাংলাপিডিয়া।

২,২৯৪.
'ধন ধান্য পুষ্প ভরা আমাদের এই বসুন্ধরা' গানটি দ্বিজেন্দ্রলাল রায় রচিত কোন নাটকের অন্তর্ভুক্ত?
  1. নূরজাহান
  2. চন্দ্রগুপ্ত
  3. তারাবাঈ
  4. সাজাহান
সঠিক উত্তর:
সাজাহান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাজাহান
ব্যাখ্যা

• 'সাজাহান' নাটক:
- নাটকটি মোগল সম্রাট সাজাহানের জীবন কাহিনি নিয়ে রচিত ঐতিহাসিক নাটক।
- 'সাজাহান' নাটককে বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ঐতিহাসিক নাটক হিসেবে ধরা হয় ।
- নাটকটি ১৯০৯ সালে প্রকাশিত হয়।
- সম্রাট সাজাহানকে নিয়ে দ্বিজেন্দ্রলালই সর্বপ্রথম নাটক রচনা করেন।
- 'ধন ধান্য পুষ্প ভরা আমাদের এই বসুন্ধরা' গানটির রচয়িতা দ্বিজেন্দ্রলাল রায়। গানটি তাঁর 'সাজাহান' নাটকে ছিল। । 

---------------
• দ্বিজেন্দ্রলাল রায়: 
- দ্বিজেন্দ্রলাল রায় কবি, নাট্যকার, গীতিকার।
- ১৮৬৩ সালের ১৯ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের  নদীয়া জেলার কৃষ্ণনগরে তাঁর জন্ম। 
- দ্বিজেন্দ্রলাল ১৯০৫ সালে কলকাতায় ‘পূর্ণিমা মিলন’ নামে একটি সাহিত্যিক সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন।
-  ছাত্রজীবনে তাঁর আর্য্যগাথা এবং বিলেতে থাকাকালে Lyrics of Ind (১৮৮৬) কাব্য প্রকাশিত হয়।
- ১৯০৩ সাল পর্যন্ত তিনি মূলত কাব্যই রচনা করেন এবং এ সময় পর্যন্ত তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ বারোটি।
- ১৯০৫ সালে  বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দেশে যে গণজাগরণমূলক গান রচনার প্রচলন শুরু হয়, তাতে দ্বিজেন্দ্রলালের অবদান ছিল অসামান্য। 
- দ্বিজেন্দ্রলাল রচিত জনপ্রিয় দেশাত্মবোধক গানগুলির মধ্যে ‘বঙ্গ আমার জননী আমার’, ‘ধনধান্যপুষ্পভরা’ ইত্যাদি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
- ১৯১৩ সালের ১৭ মে কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের ঐতিহাসিক নাটকগুলো হলো:
 - তারাবাঈ,
 - প্রতাপ-সিংহ,
 - দুর্গাদাস,
 - নূরজাহান,
 - মেবার পতন,
 - সাজাহান,
 - চন্দ্রগুপ্ত,
 - সিংহলবিজয় ইত্যাদি।

দ্বিজেন্দ্রলাল রায় রচিত সামাজিক নাটকগুলো হলো:
 - পরপারে,
 - বঙ্গনারী।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২,২৯৫.
নিচের কোনটি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাস নয়?
  1. ক) অনিল বাগচীর একদিন
  2. খ) আরেক ফাল্গুন
  3. গ) শ্যামল ছায়া
  4. ঘ) আগুনের পরশমণি
সঠিক উত্তর:
খ) আরেক ফাল্গুন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) আরেক ফাল্গুন
ব্যাখ্যা
- 'আরেক ফাল্গুন' মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাস নয়।
- বাঙালি জাতীয়তাবাদ আন্দোলন ও ১৯৫৫ সালে ২১শে ফেব্রুয়ারি পালনের অভিজ্ঞতায় এটি রচিত।
- জহির রায়হান 'আরেক ফাল্গুন' উপন্যাসটি রচনা করেন।

- অন্য অপশনগুলো মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাস।
- উপন্যাসগুলোর রচয়িতা হলেন হুমায়ূন আহমেদ।

• হুমায়ূন আহমেদ:
- তিনি একাধারে কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চলচ্চিত্র নির্মাতা, গীতিকার, শিক্ষক ছিলেন।
- হুমায়ূন আহমেদের জন্ম নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জে তাঁর মাতামহের বাড়িতে।
- তাঁর পৈত্রিক বাড়ি নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার কুতুবপুর গ্রাম।
- হুমায়ূন আহমেদের অনুজ মুহম্মদ জাফর ইকবাল শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং একজন জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক।
- ছাত্রজীবনে লেখা নন্দিত নরকে শিরোনামের নাতিদীর্ঘ উপন্যাসের মধ্য দিয়ে বাংলা সাহিত্যে হুমায়ূন আহমেদের আবির্ভাব।

• তাঁর রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাস:
- শ্যামল ছায়া।
- আগুনের পরশমণি।
- অনিল বাগচীর একদিন।
- জোছনা ও জননীর গল্প প্রভৃতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,২৯৬.
রুশ সাহিত্যের দক্ষ অনুবাদক কবি ছিলেন-
  1. সমর সেন
  2. সোমেন চন্দ
  3. সত্যেন সেন
  4. রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ
সঠিক উত্তর:
সমর সেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমর সেন
ব্যাখ্যা
• সমর সেন:
- তিনি ১৯১৬ সালের ১০ অক্টোবর কলকাতার বাগবাজারে জন্মগ্রহণ করেন।
- প্রথিতযশা গবেষক দীনেশচন্দ্র সেন তাঁর পিতামহ।
- তিনি মূলত কবি ছিলেন। তাঁকে আধুনিক যুগের নাগরিক কবি বলা হয়।
- ‘Frontier’ (ফ্রন্টিয়ার) ও ‘নাও’ পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন।
- ‘আমি রোমান্টিক কবি নই, আমি মার্ক্সিস্ট’ - এভাবেই তিনি মার্কসবাদের প্রতি তাঁর প্রবল আকর্ষণ ঘোষণা করেন।
- তাঁর কবিতায় নগর জীবনের ক্লেদ ও গ্লানি, মধ্যবিত্ত জীবনের সংকট, সংশয়, নীতিহীনতা ও আত্মকেন্দ্রিকতা এবং সংগ্রামী গণচেতনা বলিষ্ঠভাবে রূপায়িত হয়েছে।
- তিনি রুশ সাহিত্যের একজন দক্ষ অনুবাদক ছিলেন।

• তাঁর রচিত বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থগুলো:
- কয়েকটি কবিতা,
- গ্রহণ ও অন্যান্য কবিতা,
- নানাকথা,
- খোলাচিঠি,
- তিন পুরুষ,
- সমর সেনের কবিতা।

• তাঁর রচিত গদ্যগ্রন্থ:
- বাবু বৃত্তান্ত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২,২৯৭.
'মাল্য ও নির্মাল্য' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) কুসুমকুমারী দাশ
  2. খ) কামিনী রায়
  3. গ) জহির রায়হান
  4. ঘ) কায়কোবাদ
সঠিক উত্তর:
খ) কামিনী রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কামিনী রায়
ব্যাখ্যা
কামিনী রায়ের প্রথম কাব্যগ্রন্থ আলো ও ছায়া। এছাড়াও তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ- নির্মাল্য, মাল্য ও নির্মাল্য, পৌরাণিকী, অশোক সঙ্গীত, অম্বা, দীপ ও ধূপ, জীবন পথে, গুঞ্জন ইত্যাদি।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
২,২৯৮.
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'অরণ্যবহ্নি' উপন্যাসে কোন বিষয়টি প্রাধান্য পেয়েছে?
  1. বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ 
  2. সাঁওতাল বিদ্রোহ
  3. ডোম সম্প্রদায়ের জীবন কাহিনি
  4. ভাগলপুরের বনঞ্চলের নিম্নবিত্ত মানুষের জীবন
সঠিক উত্তর:
সাঁওতাল বিদ্রোহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাঁওতাল বিদ্রোহ
ব্যাখ্যা

• 'অরণ্যবহ্নি' উপন্যাস:
- অরণ্যবহ্নি হলো প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত একটি বিখ্যাত উপন্যাস। 
- উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৬৬ খ্রিষ্টাব্দে৷
- উপন্যাসটি ১৮৫৪-১৮৫৫ সালের ঐতিহাসিক সাঁওতাল বিদ্রোহকে কেন্দ্র করে লেখা হয়েছে, যেখানে সিধু ও কানুর নেতৃত্বে সাঁওতালদের ব্রিটিশ ও মহাজনদের শোষণ-নির্যাতনের বিরুদ্ধে সশস্ত্র সংগ্রামের চিত্র ফুটে উঠেছে।
- এটি শুধু একটি ঐতিহাসিক ঘটনা বর্ণনা করে না, বরং সাঁওতালদের জীবন, সংস্কৃতি এবং তাদের বিদ্রোহের পেছনের কারণ ও ফলাফলও তুলে ধরে।

-----------------------------
• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়:
- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন কথাসাহিত্যিক, রাজনীতিবিদ। তিনি ১৮৯৮ সালে পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলায় এক জমিদারবংশে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর রচিত প্রথম গল্প ‘রসকলি’ সেকালের বিখ্যাত পত্রিকা কল্লোল-এ প্রকাশিত হয়।
- তাঁর রচিত ত্রয়ী উপন্যাস - ধাত্রীদেবতা, গণদেবতা, পঞ্চগ্রাম। 
- আদিবাসী সাঁওতাল বিদ্রোহ নিয়ে তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাস 'অরণ্যবহ্নি' (১৯৬৬)।
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম নিয়ে রচিত তাঁর উপন্যাসের নাম 'একটি কালো মেয়ের কথা' (১৯৭১)।
- তিনি 'পদ্মশ্রী' ও 'পদ্মভূষণ' উপাধি লাভ করেন।
- ১৯৭১ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর তাঁর মৃত্যু হয়।

• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাসসমুহ: 
- চৈতালি ঘূর্ণি, 
- ধাত্রীদেবতা, 
- কালিন্দী, 
- কবি, 
- হাঁসুলী বাঁকের উপকথা, 
- গণদেবতা, 
- পঞ্চগ্রাম,
- আরগ্য নিকেতন, 
- পঞ্চপুণ্ডলী, 
- রাধা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 'কবি' উপন্যাস এবং বাংলাপিডিয়া।

২,২৯৯.
'খোঁয়ারি' ছোট গল্পগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) আহমদ ছফা
  2. খ) আলাউদ্দিন আল আজাদ
  3. গ) আনোয়ার পাশা
  4. ঘ) আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
সঠিক উত্তর:
ঘ) আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
ব্যাখ্যা
'খোঁয়ারি' ছোট গল্পগ্রন্থের রচয়িতা আখতারুজ্জামান ইলিয়াস।
তাঁর রচিত অন্যান্য ছোট গল্পগ্রন্থ - অন্য ঘরে অন্য স্বর, খোঁয়ারি, জাল স্বপ্ন, স্বপ্নের জাল, দুধভাতে উৎপাত, দোজখের ওম ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
২,৩০০.
কোন কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাব্যগুরু হিসেবে পরিচিত?
  1. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  2. নবীনচন্দ্র সেন
  3. কালীপ্রসন্ন সিংহ
  4. বিহারীলাল চক্রবর্তী
সঠিক উত্তর:
বিহারীলাল চক্রবর্তী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিহারীলাল চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
• বিহারীলাল চক্রবর্তী:
- তিনি ১৮৩৫ সালে নিমতলা, কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি আধুনিক বাংলা গীতিকবিতার অন্যতম পুরোধা
​- তিনি রবীন্দ্রনাথের কাব্যগুরু হিসেবে পরিচিত।
- তিনি বাংলা সাহিত্যের আধুনিক গীতিকবিতার স্রষ্টা।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর 'সারদা মঙ্গল' কাব্য পড়ে তাঁকে 'ভোরের পাখি' বলে আখ্যায়িত করেন।
- তাঁর শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ 'সারদা মঙ্গল'।
- তাঁর শেষ কাব্যগ্রন্থ 'সাধের আসন'। একে 'সারদা মঙ্গল' কাব্যের পরিশিষ্ট বলা হয়।
- তিনি ১৮৯৪ সালের ২৪ মে মৃত্যুবরণ করেন।

• বিহারীলাল চক্রবর্তী রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- স্বপ্নদর্শন,
- সঙ্গীত
- শতক,
- বঙ্গসুন্দরী,
- নিসর্গ
- সন্দর্শন,
- বন্ধু বিয়োগ,
- সারদা মঙ্গল।

উৎস:

১. বাংলাপিডিয়া।
২. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাস।