বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

আধুনিক যুগের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ লেখক

মোট প্রশ্ন৭,৬৪৬এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

আধুনিক যুগের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ লেখক

PrepBank · পাতা / ৭৭ · ১০১২০০ / ৭,৬৪৬

১০১.
বাংলা সাহিত্যে 'পঞ্চপাণ্ডব' কাকে বলা হয়?
  1. ক) ৫ জন যোদ্ধাকে
  2. খ) ৫ জন সমালোচককে
  3. গ) ৫ জন নাট্যকারকে
  4. ঘ) ৫ জন কবিকে
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৫ জন কবিকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৫ জন কবিকে
ব্যাখ্যা
বাংলা সাহিত্যে তিরিশের দশকের ৫ জন বিখ্যাত কবিকে পঞ্চপাণ্ডব বলা হয়।
- কিন্তু তারা রবীন্দ্র কাব্যধারার বিরোধী কাব্যচর্চা করলেও অমিয় চক্রবর্তী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একান্ত সচিব ছিলেন।
- তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাথে বহু দেশ ভ্রমণও করেছেন।
তাঁরা হলেন-
- জীবনানন্দ দাশ,
- সুধীন্দ্রনাথ দত্ত,
- অমিয় চক্রবর্তী,
- বুদ্ধদেব বসু ও
- বিষ্ণু দে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০২.
বাংলায় সেন রাজত্বকাল ও তুর্কি আক্রমণের অব্যবহিত পূর্ব সময়ের প্রেক্ষাপটে নিচের কোন উপন্যাসটি রচিত?
  1. পিঙ্গল আকাশ
  2. কুলায় কালস্রোত
  3. প্রদোষে প্রাকৃতজন
  4. ওয়ারিশ
সঠিক উত্তর:
প্রদোষে প্রাকৃতজন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রদোষে প্রাকৃতজন
ব্যাখ্যা

প্রদোষে প্রাকৃতজন (১৯৮৪) উপন্যাস এর লেখক শওকত আলী।
- সেন রাজাদের রাজত্বকাল এবং তুর্কি আক্রমণের অব্যবহিত পূর্ব সময়ের পটভূমিতে এই কাহিনী রচিত।
- অত্যাচারী সামন্তবর্গের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে অন্ত্যজ হিন্দু ও বৌদ্ধের দল।
- বাংলার গণমানুষ এই উপন্যাসে সামষ্টিকভাবে নায়ক করা হয়েছে; কোনো একক নায়ক নেই।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (ড. সৌমিত্র শেখর)

১০৩.
'দেশে বিদেশে' কোন জাতীয় রচনা?
  1. ক) ভ্রমণকাহিনী
  2. খ) কাব্য
  3. গ) উপন্যাস
  4. ঘ) নাটক
সঠিক উত্তর:
ক) ভ্রমণকাহিনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ভ্রমণকাহিনী
ব্যাখ্যা
- 'দেশে বিদেশে' সৈয়দ মুজতবা আলী রচিত ভ্রমণকাহিনী
- কাবুল শহরে অবস্থান ও ভ্রমণ করে যে বিচিত্র অভিজ্ঞতা লাভ করেছে তা এই গ্রন্থে তুলে ধরেছেন।

• সৈয়দ মুজতবা আলী:
-  তিনি ১৯০৪ সালে পিতার কর্মস্থল শ্রীহট্ট (সিলেট) জেলার করিমগঞ্জে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল হবিগঞ্জের উত্তরসুর গ্রামে।
- সৈয়দ মুজতবা আলী 'দেশে-বিদেশে' গ্রন্থের মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যাঙ্গনে প্রথম প্রবেশ ও প্রতিষ্ঠা লাভ করেন।
- কাবুলে অবস্থানের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও অন্তরঙ্গ উপলব্ধির ফসল 'দেশে-বিদেশে' ভ্রমণকাহিনী।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- অবিশ্বাস্য।
- শবনম।

• তাঁর রচিত রম্য-রচনা:
- পঞ্চতন্ত্র।
- ময়ূরকণ্ঠী।

• তাঁর রচিত ছোটগল্প:
- চাচা-কাহিনী।
- টুনি মেম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১০৪.
কোনটি শওকত ওসমান রচিত ভাষা আন্দোলনভিত্তিক উপন্যাস?
  1. যাপিত জীবন
  2. অলাতচক্র
  3. আর্তনাদ
  4. নিরন্তর ঘণ্টাধ্বনি
সঠিক উত্তর:
আর্তনাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আর্তনাদ
ব্যাখ্যা

ভাষা আন্দোলনভিত্তিক উপন্যাস 'আর্তনাদ'। এটি শওকত ওসমান রচনা করেন। উপন্যাসটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত হয়।

-------------------
• শওকত ওসমান:
- শওকত ওসমান কথাসাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক।১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
-তাঁর প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান; 'শওকত ওসমান' তাঁর সাহিত্যিক নাম।
- 'জাহান্নম হইতে বিদায়' শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস।

শওকত ওসমান রচিত কয়েকটি উপন্যাস-
- ক্রীতদাসের হাসি,
- রাজা উপাখ্যান,
- দুই সৈনিক,
- নেকড়ে অরণ্য,
- জলাঙ্গী,
- বনি আদম,
- জননী,
- চৌরসন্ধি।

অন্যদিকে, 
• সেলিনা হোসেন রচিত উপন্যাস-  'যাপিত জীবন' ও 'নিরন্তর ঘণ্টাধ্বনি'।
• 'অলাতচক্র' আহমদ ছফা রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১০৫.
শহীদুল্লা কায়সারের প্রকৃত নাম কী?
  1. সৈয়দ শহীদুল্লাহ মোহাম্মদ
  2. মোহাম্মদ আযহার শহীদুল্লাহ
  3. মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ কায়সার
  4. আবু নাঈম মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ
সঠিক উত্তর:
আবু নাঈম মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবু নাঈম মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ
ব্যাখ্যা
কথাসাহিত্যিক, সাংবাদিক, লেখক শহীদুল্লা কায়সার ১৯২৭ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ফেনী জেলার মজুপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম আবু নাঈম মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ।
- পিতা মাওলানা মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহ ছিলেন ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ।
- প্রখ্যাত চলচ্চিত্রকার ও লেখক জহির রায়হান তাঁর অনুজ।

তাঁর রচিত উপন্যাস সমূহ
- সারেং বৌ
- সংশপ্তক 
- কৃষ্ণচূড়া মেঘ
- তিমির বলয়
- দিগন্তে ফুলের আগুন
- সমুদ্র ও তৃষ্ণা
- চন্দ্রভানের কন্যা
- কবে পোহাবে বিভাবরী (অসমাপ্ত)

> ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের শেষলগ্নে তিনি পাকিস্তান সেনাবাহিনী ও তার স্থানীয় সহযোগী আল-বদরের হাতে অপহৃত হন। ধারণা করা হয় যে, অপহরণকারীদের হাতে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর।
১০৬.
মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার রচিত গ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. ক) বেদান্ত সার
  2. খ) বেদান্ত চন্দ্রিকা
  3. গ) প্রবোধ চন্দ্রিকা
  4. ঘ) রাজাবলি
সঠিক উত্তর:
ক) বেদান্ত সার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) বেদান্ত সার
ব্যাখ্যা
ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের বাংলা বিভাগের অন্যতম পন্ডিত হলেন মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার । তার রচিত গ্রন্থ হলঃ বত্রিশ সিংহাসন, হিতোপদেশ, রাজাবলি, প্রবোধ চন্দ্রিকা, বেদান্ত চন্দ্রিকা। রাজা রামমোহন রচিত গ্রন্থ বেদান্ত সার। রেফারেন্সঃ বাংলা পিডিয়া।
১০৭.
'পদ্মার পলিদ্বীপ' উপন্যাসটির রচয়িতা কে?
  1. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. বেগম রোকেয়া
  3. সুফিয়া কামাল
  4. আবু ইসহাক
সঠিক উত্তর:
আবু ইসহাক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবু ইসহাক
ব্যাখ্যা
• 'পদ্মার পলিদ্বীপ' উপন্যাসটির স্রষ্টা - আবু ইসহাক

আবু ইসহাক:
- তিনি ১৯২৬ সালের ১ নভেম্বর শরিয়তপুর জেলার শিরঙ্গল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন কথাসাহিত্যিক, অভিধান-প্রণেতা।
- কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত 'নবযুগ' পত্রিকায় আবু ইসহাকের ‘অভিশাপ’ নামে একটি গল্প প্রকাশিত হয়।
- তিনি সমকালীন বাংলা ভাষার অভিধান (২ খন্ড, ১৯৯৩, ১৯৯৮) রচনা করে বাংলা কোষগ্রন্থের পরিধিকে বাড়িয়ে তুলেছেন।
- সাহিত্যকর্মে অবদানের জন্য আবু ইসহাক ‘বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার’ (১৯৬৩), ‘সুন্দরবন সাহিত্য পদক’ (১৯৮১), ‘বাংলাদেশ লেখিকা সংঘ সাহিত্য পদক’ (১৯৯০), ‘একুশে পদক’ (১৯৯৭), ‘স্বাধীনতা পদক’ (মনণোত্তর, ২০০৪) এবং ‘শিশু একাডেমি পদক’ (মরণোত্তর, ২০০৬) লাভ করেন।
- ২০০৩ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- সূর্য-দীঘল বাড়ী,
- পদ্মার পলিদ্বীপ,
- জাল।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- হারেম,
- মহাপতঙ্গ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১০৮.
'মানব-বন্দনা' কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. ক) জীবন-বন্দনা
  2. খ) কনকাঞ্জলি
  3. গ) এষা
  4. ঘ) প্রদীপ
সঠিক উত্তর:
ঘ) প্রদীপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) প্রদীপ
ব্যাখ্যা
'মানব-বন্দনা' কবিতাটি অক্ষয়কুমার বড়াল এর 'প্রদীপ' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।

বড়াল, অক্ষয়কুমার (১৮৬০-১৯১৯)  উনিশ শতকের বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি।
- তাঁর প্রথম কবিতা 'রজনীর মৃত্যু' বঙ্গদর্শন কবিতায় প্রকাশিত হয়। 
- তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'প্রদীপ'।

অক্ষয়কুমার কাব্য ও নাটক মিলে অনেকগুলি গ্রন্থ রচনা করেছেন।
তাঁর মধ্যে প্রধান কয়েকটি:
- প্রদীপ (১৮৮৪),
- কনকাঞ্জলি (১৮৮৫),
- ভুল (১৮৮৭),
- শঙ্খ (১৯১০),
- এষা (১৯১২),
- চন্ডীদাস (১৯১৭) ইত্যাদি।
তাঁর সম্পাদিত গ্রন্থগুলির মধ্যে রাজকৃষ্ণ রায়ের কবিতা (১৮৮৭) এবং গিরীন্দ্রমোহিনী দাসীর অশ্রুমালা (১৮৮৭) উল্লেখযোগ্য।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা সাহিত্য (২০২০ সংস্করণ) এবং বাংলাপিডিয়া।
১০৯.
'উটপাখি' গল্পের রচয়িতা কে?
  1. অন্নদাশঙ্কর রায়
  2. সৈয়দ শামসুল হক
  3. শঙ্খ ঘোষ
  4. হাসান আজিজুল হক
সঠিক উত্তর:
হাসান আজিজুল হক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাসান আজিজুল হক
ব্যাখ্যা
হাসান আজিজুল হক ১৯৩৯ খ্রিস্টাব্দে ২ ফেব্রুয়ারি বর্তমান ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার যবগ্রামে এক সম্ভ্রান্ত এবং একান্নবর্তী  পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।

'আত্মজা ও একটি করবী গাছ' গ্রন্থের রচিয়তা হাসান আজিজুল হক। এই গ্রন্থটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৬৭ সালে।
এই গ্রন্থে মোট আটটি গল্প রয়েছে।
যথা -
- আত্মজা ও একটি করবী গাছ,
- পরবাসী,
- সারাদুপুর,
- অন্তর্গত নিষাদ,
- মারী,
- উটপাখি,
- সুখের সন্ধানে,
- আমৃত্যু আজীবন
 
তার অন্যান্য গল্পগ্রন্থ-
- আমরা অপেক্ষা করেছি
- নামহীন গোত্রহীন
- সমুদ্রের স্বপ্ন
- শীতের অরণ্য
- জীবন ঘষে আগুন

হাসান আজিজুল হক রচিত উপন্যাস:
- আগুনপাখি,
- সাবিত্রী উপাখ্যান,
- শিউলি,
- বৃত্তায়ন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১০.
'আর্য্যগাথা' গীতসংকলনটি কার রচনা?
  1. কামিনী রায়
  2. দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  3. হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. কালীপ্রসন্ন সিংহ
সঠিক উত্তর:
দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
ব্যাখ্যা
• 'আর্য্যগাথা' গীতসংকলন:
দ্বিজেন্দ্রলাল রায় খুব অল্পবয়স থেকেই গান রচনা করতেন এবং নিজেই সুর দিয়ে গাইতেন। বিলেত যাওয়ার আগে মাত্র সতেরো বছর বয়সের মধ্যে লেখা একশো আটটি গান নিয়ে তাঁর প্রথম গীতসংকলন আর্য্যগাথা (প্রথম ভাগ) ১৮৮২ সালে প্রকাশিত হয়।

কিশোর বয়সে লেখা এ গানগুলিতে প্রকৃতির মনোরম সৌন্দর্য ও লাবণ্য, জগতের শোক-জরাজাত দুঃখাবসন্নতা, ঈশ্বরভক্তি এবং স্বদেশপ্রেম প্রকাশ পেয়েছে।

• এ পর্বের একটি গান হলো:
‘গগনভূষণ তুমি জনগণমনোহারী!/
কোথা যাও নিশানাথ, হে নীল নভোবিহারী!।’

--------------------------
• দ্বিজেন্দ্রলাল রায় ও তাঁর সঙ্গীতশিক্ষা:
দ্বিজেন্দ্রলালের সঙ্গীতশিক্ষার হাতেখড়ি পিতার নিকট। তিনি ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতে প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করেন পিতার নিকট থেকে। তারপর বিলেতে থাকা অবস্থায় তিনি পাশ্চাত্য  সঙ্গীত শিক্ষার মাধ্যমে তাঁর সঙ্গীতপ্রতিভাকে শানিত করেন, যা পরবর্তীকালে বাংলা গানের ক্ষেত্রে নতুন নতুন ধারা উদ্ভাবনে সহায়ক হয়।

উনিশ শতকের শেষদিকে এবং বিশ শতকের প্রথমদিকে বাংলা গানের আধুনিকীকরণে যে পঞ্চ গীতিকবি বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখেন, দ্বিজেন্দ্রলাল তাঁদের অন্যতম। রবীন্দ্রযুগে বাংলা কাব্যসঙ্গীতে বিভিন্ন ধারা প্রয়োগ ও  আধুনিক গান রচনায় তিনি ছিলেন একজন সার্থক রূপকার। নাটক রচনা ও পরিচালনায় তাঁর অসামান্য অবদান থাকলেও তিনি সঙ্গীতকার হিসেবেও সুপরিচিত ছিলেন। বিভিন্ন বিষয়ে তিনি প্রায় পাঁচশত গান রচনা করেন। প্রথমদিকে তাঁর গান ‘দ্বিজুবাবুর গান’ নামে পরিচিতি ছিল; পরবর্তীকালে তা ‘দ্বিজেন্দ্রগীতি’ নামে পরিচিত হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 
১১১.
সতীনাথ ভাদুড়ী কোন উপন্যাসের জন্য রবীন্দ্র পুরস্কার লাভ করেন?
  1. পালামৌ
  2. জাগরী
  3. ভোরের বিহঙ্গী
  4. ঢোঁড়াইচরিত মানস
সঠিক উত্তর:
জাগরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জাগরী
ব্যাখ্যা
'জাগরী' উপন্যাস:
- এটি সতীনাথ ভাদুড়ী রচিত উপন্যাস।
- ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত জাগরী উপন্যাসের মাধ্যমে তিনি প্রভূত খ্যাতি অর্জন করেন।
- সতীনাথ ভাদুড়ী ১৯৫০ সালে এই উপন্যাসের জন্য রবীন্দ্র পুরস্কার লাভ করেন।
- এটি রাজনৈতিক উপন্যাস হিসেবে বাংলা সাহিত্যে এর একটি বিশেষ স্থান আছে।

সতীনাথ ভাদুড়ী:
- তিনি কথাশিল্পী, রাজনীতিক ছিলেন।
- তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম ‘চিত্রগুপ্ত’।
- ১৯০৬ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর বিহারে পিতার কর্মস্থল পূর্ণিয়ায় তাঁর জন্ম।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- জাগরী,
- ঢোঁড়াইচরিত মানস।

অন্যদিকে,
- 'পালামৌ' ভ্রমণকাহিনিটি লিখছেন - সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।
- 'ভোরের বিহঙ্গী' উপন্যাসটির রচয়িতা - সত্যেন সেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১২.
নীলিমা ইব্রাহীমের বিখ্যাত গ্রন্থটির নাম—
  1. ক) আমি বাঙ্গালি বলছি
  2. খ) আমি বীরাঙ্গনা বলছি
  3. গ) বীরাঙ্গনার গাথা
  4. ঘ) বাঙ্গালি জীবনে রমনী
সঠিক উত্তর:
খ) আমি বীরাঙ্গনা বলছি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) আমি বীরাঙ্গনা বলছি
ব্যাখ্যা
'আমি বীরাঙ্গনা বলছি' নীলিমা ইব্রাহিম রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রবন্ধ গবেষণাগ্রন্থ।
- গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৯৫ সালে।
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলার যেসব নারী কোনো না কোনোভাবে হানাদার পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে দিনের পর দিন পাশবিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, সেসব যুদ্ধাহত কয়েকজনের সত্যকাহিনীনির্ভর জীবন ইতিহাস 'আমি বীরাঙ্গনা বলছি'। 
- যাদের দুঃখ কাহিনী বর্ণনা করা হয়েছে তাঁরা হলেন - তারা ব্যানার্জি, মেহেরজান, রীনা, শেফা, ময়না, ফাতেমা, মীনা। 
- তবে লেখকের বর্ণনাতে এই কাহিনী কেবল সাতজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে নি তা হয়ে উঠেছে দু লক্ষ মা-বোনের প্রতিনিধি।
- বইটিতে আলোচনা করা হয়েছে বঙ্গবন্ধুর মহিমাময় ভূমিকা, হানাদার বাহিনী ও রাজাকারদের অপকীর্তি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১৩.
সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী রচিত কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) তারা- বাঈ
  2. খ) অনল প্রবাহ
  3. গ) রায়নন্দিনী
  4. ঘ) স্বজাতি প্রেম
সঠিক উত্তর:
খ) অনল প্রবাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) অনল প্রবাহ
ব্যাখ্যা
'অনল প্রবাহ'- সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী রচিত 'কাব্যগ্রন্থ'।  

'অনল প্রবাহ'
কাব্যগ্রন্থ
- এটি তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ এবং প্রকাশিত হওয়ার সাথে সাথে ব্রিটিশ সরকার তা বাজেয়াপ্ত করেছিল।
- প্রথম সংস্করণে কবিতা ছিল মাত্র নয়টি।
- এগুলোর মধ্যে: অনল প্রবাহ, তুর্যধ্বনি, মূর্চ্ছনা, বীর-পূজা, অভিভাষণ, মরক্কো সংকটে উল্লেখযোগ্য। 

তাছাড়া,
তারা- বাঈ, রায়নন্দিনী- সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী রচিত উপন্যাস।
স্বজাতি প্রেম-  সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী রচিত প্রবন্ধ। 

সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী
- সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী লেখক, বাগ্মী এবং কৃষক নেতা।
- তিনি সিরাজগঞ্জ জেলায় জন্মগ্রহণ করেন (এ কারণেই তিনি তাঁর নামের সঙ্গে ‘সিরাজী’ উপাধি যুক্ত করেন)।
- সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী ১৮৮০ খ্রিস্টাব্দে সিরাজগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ
- অনল প্রবাহ
- আকাঙ্ক্ষা
- উচ্ছ্বাস 
- উদ্বোধন
- নব উদ্দীপনা
- স্পেন বিজয় কাব্য
- সঙ্গীত সঞ্জীবনী 
- প্রেমাঞ্জলি 

তাঁর রচিত উপন্যাস 
- রায়নন্দিনী
- তারাবাঈ
- ফিরোজা বেগম
- নূরুদ্দীন 

তাঁর রচিত  প্রবন্ধ 
- স্বজাতি প্রেম 
- তুর্কি নারী জীবন 
- স্পেনীয় মুসলান সভ্যতা 

ভ্রমণ কাহিনী: 
 -তুরস্ক ভ্রমণ  

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া। 
১১৪.
'আমি পুড়েছি জ্বালা ও আগুনে' গ্রন্থের রচয়িতা-
  1. ক) দীনেশচন্দ্র সেন
  2. খ) জাহানারা ইমাম
  3. গ) দাউদ হায়দার
  4. ঘ) গোলাম মোস্তফা
সঠিক উত্তর:
গ) দাউদ হায়দার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) দাউদ হায়দার
ব্যাখ্যা
দাউদ হায়দার একজন বাংলাদেশী বাঙালী কবি, লেখক ও সাংবাদিক, যিনি ১৯৭৪ খ্রিষ্টাব্দে দেশ থেকে নির্বাসনের পর বর্তমানে জার্মানীতে নির্বাসিত জীবন যাপন করছেন। তিনি একজন আধুনিক কবি যিনি সত্তর দশকের কবি হিসাবে চিহ্নিত। তার একটি বিখ্যাত কাব্যের নাম 'জন্মই আমার আজন্ম পাপ'। এছাড়াও তাঁর অন্যান্য প্রকাশিত গ্রন্থ- সংগস অব ডেস্পায়ার, এই শাওনে এই পরবাসে, বানিশম্যান্ট, আমি পুড়েছি জ্বালা ও আগুনে, এলোন ইন ডার্কনেস অ্যান্ড আদার পোয়েমস, অবসিডিয়ান।
১১৫.
'রানার' কবিতাটির রচয়িতা কে?
  1. ক) কাজী নজরুল ইসলাম
  2. খ) যতীন্দ্রমোহন বাগচী
  3. গ) সুকান্ত ভট্টাচার্য
  4. ঘ) বন্দে আলী মিয়া
সঠিক উত্তর:
গ) সুকান্ত ভট্টাচার্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সুকান্ত ভট্টাচার্য
ব্যাখ্যা
শ্রমজীবী মানুষদের নিয়ে ‘রানার’ কবিতাটি লিখেছেন সুকান্ত ভট্টাচার্য। এ কবিতাটি মূলত ডাক হরকরাদের নিয়ে লেখা। উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
১১৬.
কোন উপন্যাসের মাধ্যমে হুমায়ুন আজাদ ঔপন্যাসিক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন?
  1. অলৌকিক ইস্টিমার
  2. জ্বলো চিতাবাঘ
  3. সবকিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে
  4. ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইল
সঠিক উত্তর:
ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইল
ব্যাখ্যা

'ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইল' উপন্যাস:
- হুমায়ুন আজাদ রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাস- 'ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইল' (১৯৯৪)।
- এই উপন্যাস প্রকাশের মধ্য দিয়ে হুমায়ুন আজাদ ঔপন্যাসিক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন
- এই উপন্যাসের প্রধান চরিত্র রাশেদকে উপন্যাসটি উৎসর্গ করা হয়।

হুমায়ুন আজাদ:
- হুমায়ুন আজাদ একজন কবি, ঔপন্যাসিক, গল্পকার, গবেষক, ভাষাবিজ্ঞানী।
- তিনি বিক্রমপুরের রাড়িখালে ১৯৪৭ সালের ২৮ এপ্রিল জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৯৮৩ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ জ্বলো চিতাবাঘ।

হুমায়ুন আজাদ রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- অলৌকিক ইস্টিমার,
- জ্বলো চিতাবাঘ,
- যতোই গভীরে যাই মধু,
- যতোই উপরে যাই নীল,
- সবকিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে,
- কাফনে মোড়া অশ্রুবিন্দু ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১১৭.
“স্বাধীনতা-হীনতায় কে বাঁচিতে চায় হে,
কে বাঁচিতে চায়?
দাসত্ব শৃঙ্খল বল কে পরিবে পায় হে,
কে পরিবে পায়।।”
- বিখ্যাত পঙক্তি টি কোন কাব্যের অন্তর্গত?
  1. পৌষপার্বণ
  2. পদ্মিনী উপাখ্যান
  3. শূরসুন্দরী
  4. কাঞ্চীকাবেরী
সঠিক উত্তর:
পদ্মিনী উপাখ্যান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পদ্মিনী উপাখ্যান
ব্যাখ্যা

রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত 'পদ্মিনী উপাখ্যান' নামক এক আখ্যায়িকা কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত 'স্বাধিনতা' কবিতা। 
- এ কবিতার বিখ্যাত পঙক্তি - “স্বাধীনতা হীনতায় কে বাঁচিতে চায় হে, কে বাঁচিতে চায়?
দাসত্ব শৃঙ্খল বল কে পরিবে পায় হে, কে পরিবে পায়?”
- এটি প্রকাশিত হয় ১৮৫৮ সালে। 
- তিনি কাব্যের কাহিনী আরোহন করেছেন টডের রাজস্থান কাহিনী নামক বই থেকে। 

কবির উল্লেখযোগ্য অন্যান্য গ্রন্থগুলো হলো:
- পদ্মিনী উপাখ্যান (১৮৫৮)
- কর্মদেবী(১৮৬২)
- শূরসুন্দরী(১৮৬৮)
- কাঞ্চীকাবেরী(১৮৭৯)
- ভেক-মূষিকের যুদ্ধ(১৮৫৮),
- হোমারের কাব্যের অনুবাদ।[৩]
- নীতি কুসুমাঞ্জলি (১৮৭২)

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ; বাংলাপিডিয়া।

১১৮.
'তিতাস একটি নদীর নাম' উপন্যাসটি কে রচনা করেছেন?
  1. আবুল কালাম শামসুদ্দীন
  2. অদ্বৈত মল্লবর্মণ
  3. আব্দুল্লাহ আল মুতী
  4. আবু ইসহাক
সঠিক উত্তর:
অদ্বৈত মল্লবর্মণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অদ্বৈত মল্লবর্মণ
ব্যাখ্যা
• 'তিতাস একটি নদীর নাম' উপন্যাসটির রচয়িতা- 'অদ্বৈত মল্লবর্মণ'।

• 'তিতাস একটি নদীর নাম' উপন্যাস:
- উপন্যাসটির রচয়িতা- অদ্বৈত মল্লবর্মণ।
- উপন্যাসটি গ্রন্থাকারে ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত হয়।
- এ উপন্যাসে তিতাস নামক নদীতীরের ধীবর ( জেলে ও মৎসজীবী) সমাজের রীতি- নীতি, ধর্ম- সংস্কার উৎসব ও জীবনযাপনের কাহিনি বর্ণিত।
- ঋত্বিক ঘোটক উপন্যাসটি চলচ্চিত্রায়ণ করেন ১৯৭৩ সালে।
- উপন্যাসটির কেন্দ্রীয় চরিত্র কোনো মানুষ নয় একটি নদী, নাম 'তিতাস'।
- উপন্যাসে কিশোর, সুবল, অনন্ত, তিলক, বাসন্তী ও মনমালী চরিত্রের মাধ্যমে লেখক কাহিনী রূপ দিয়েছেন।

• অদ্বৈত মল্লবর্মণ:
- ১৯১৪ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার গোকর্ণ গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা:
- নয়া বসত,
- রামধনু,
- দু রঙা প্রজাপতি,
- সাদা হাওয়া,
- দলবেঁধে,
- সাগরতীর্থে,
- রাঙামাটি ইত্যাদি ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১১৯.
'লালসালু' উপন্যাস কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৯৫৮
  2. ১৯৩৮
  3. ১৯৪৮
  4. ১৯২৮
  5. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
১৯৪৮
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৪৮
ব্যাখ্যা
• 'লালসালু' উপন্যাস: 
- উপন্যাসটি ১৯৪৮ সালে কলকাতা থেকে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
- এই উপন্যাসের বিষয়বস্তু হচ্ছে, ধর্ম নিয়ে ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থকারীদের স্বরূপ উন্মোচন এবং নারী জাগরণের প্রেক্ষাপটে সমাজচেতনা। 
- উপন্যাসে জমিলা বিদ্রোহিণী প্রতিবাদের প্রতীক।
- লালসালু একটি বহুমাত্রিক ও কালোত্তীর্ণ উপন্যাস
- এই উপন্যাসের চরিত্র গুলো: মজিদ, খালেক, ব্যাপারি, জমিলা, রহিমা, আমেনা, আক্কাস, তাহেরে বাপ, হাসুনির মা।
- উপন্যাসটি 'Tree Without Roots' নামে অনূদিত হয়ে (১৯৬৭) সালে খ্যাতি অর্জন করে।
---------------------- 
 সৈয়দ ওয়ালিউল্লাহ:
- তিনি একাধারে কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার ছিলেন।
- ১৯২২ সালের ১৫ আগস্ট চট্টগ্রামের ষোলশহরে সৈয়দ (ডেপুটি) বাড়িতে তাঁর জন্ম।
-  আনন্দ মোহন কলেজ থেকে ডিস্টিংকশনসহ বি.এ (১৯৪৩) পাস করেন।
-  তিনি হাতে লেখা পত্রিকা ভোরের আলো  সম্পাদনা করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- লালসালু,
- চাঁদের অমাবস্যা,
- কাঁদো নদী কাঁদো।

গল্পগ্রন্থ:
- নয়নচারা,
- দুই তীর।

নাটক: 
- বহিপীর,
- তরঙ্গভঙ্গ, 
- সুড়ঙ্গ।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞেসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া। 
১২০.
'হুতোম প্যাঁচার নকশা' উপন্যাসটি কোন জাতীয়?
  1. ক) ঐতিহাসিক
  2. খ) রোমান্টিক
  3. গ) রাজনৈতিক
  4. ঘ) ব্যঙ্গরসাত্মক
সঠিক উত্তর:
ঘ) ব্যঙ্গরসাত্মক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ব্যঙ্গরসাত্মক
ব্যাখ্যা
 কালীপ্রসন্ন সিংহ রচিত 'হুতোম প্যাঁচার নকশা' মূলত ব্যঙ্গরসাত্মক সামাজিক উপন্যাস।
- ঊনবিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগে কলকাতাবাসী ধনীসমাজের ব্যঙ্গরসাত্মক চিত্র এই গ্রন্থে অঙ্কিত হয়েছে।
- হুতোম প্যাঁচার নকশা তাঁর শ্রেষ্ঠ মৌলিক রচনা। এতে কলকাতার সামাজিক ব্যঙ্গচিত্র অঙ্কন করা হয়েছে এবং কলকাতার কথ্য ভাষাকে প্রথম সাহিত্যে স্থান দেওয়া হয়েছে
- সমসাময়িকদের মধ্যে কালীপ্রসন্ন শিল্পসংস্কৃতির একজন মহান পৃষ্ঠপোষক, বিধবাবিবাহের একনিষ্ঠ প্রবক্তা, অনন্যসাধারণ সমাজনীতিবিদ ও দেশপ্রেমিক সাংবাদিক হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
- নাটক,  প্রহসন,  উপন্যাস, নকশা, প্রবন্ধ ও অনুবাদ মিলে তাঁর গ্রন্থসংখ্যা নয়।
- ইংরেজিতে দি ক্যালকাটা পুলিশ অ্যাক্ট-ও (১৮৬৬) তাঁর রচনা।
- প্রজন্ম পরম্পরায় তিনি তাঁর অসাধারণ সাহিত্যকর্ম  হুতোম প্যাঁচার নকশা (১৮৬২) এবং পুরাণসংগ্রহ (মহাভারত থেকে পৌরাণিক গল্পের সংগ্রহ, ১৮৬০-১৮৬৬)-এর জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। । 
- নীলকরদের নিপীড়নমূলক আচরণ উদ্ঘাটনে অবদানের জন্য  রেভারেন্ড জেমস লং-কেও তাঁরা সংবর্ধিত করেন। দীনবন্ধু মিত্রের নীলদর্পণ (১৮৬০) নাটক অনুবাদের অভিযোগে জেমস লঙের এক মাসের কারাদন্ড ও এক হাজার টাকা জরিমানা হলে (২৪ জুলাই ১৮৬১) কালীপ্রসন্ন তা পরিশোধ করেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
১২১.
'ছাড়পত্র' কাব্যগ্রন্থটি কার রচনা?
  1. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  2. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  3. সুকুমার রায়
  4. সুকান্ত ভট্টাচার্য
সঠিক উত্তর:
সুকান্ত ভট্টাচার্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুকান্ত ভট্টাচার্য
ব্যাখ্যা

'ছাড়পত্র' কাব্যগ্রন্থটি সুকান্ত ভট্টাচার্য এর রচনা।
-----------------------------------------------
ছাড়পত্র:
- ছাড়পত্র কাব্যগ্রন্থটি সুকান্ত ভট্টাচার্যের রচিত।
- এটি তার মৃত্যুর পর ১৯৪৮ সালে প্রকাশিত হয়।
- এই কাব্যগ্রন্থের কবিতাগুলো তিনি ১৯৪৩ থেকে ১৯৪৭ সালের মধ্যে রচনা করেছিলেন।
- গ্রন্থটি মূলত মার্কসবাদী চেতনা দ্বারা প্রভাবিত এবং গণমানুষের দুঃখ-কষ্ট, শোষণ ও সাম্প্রদায়িক সহিংসতার বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়ার প্রকাশ ঘটায়।
- এছাড়াও এতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ এবং ১৯৪৩ সালের দুর্ভিক্ষের প্রতিফলনও দেখা যায়।
- 'ছাড়পত্র' কাব্যগ্রন্থটি সুকান্তকে বিদ্রোহী কবি হিসেবে পরিচিতি দেয়।
- এই কাব্যগ্রন্থটির উল্লেখযোগ্য কবিতাগুলোর মধ্যে আছে:
- ‘আঠারো বছর বয়স’,
- ‘বোধন’,
- ‘মজুরদের ঝড়’,
- ‘ঠিকানা’,
- এবং ‘কলম’।
---------------------------------------------------------
সুকান্ত ভট্টাচার্য:
- সুকান্ত ভট্টাচার্য ১৯২৬ জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি কিশোর কবি, মাকর্সবাদী কবি এবং মানবতার কবি হিসেবে পরিচিত।
- তাঁর কাব্যে পৃথিবীর মানুষের, শোষিত মানুষের জীবন-যন্ত্রণা, বিক্ষোভ ও বিদ্রোহের কথা উচ্চারিত হয়েছে।
- নজরুলের পরে সুকান্তের কবিতায় সবচেয়ে বেশি বিদ্রোহের বাণী লক্ষ্য করা যায়।
- সুকান্ত ভট্টাচার্য ১৯৪৭ সালের ১৩ মে মাত্র ২০ বছর বয়সে যক্ষ্মা রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন।

• সুকান্ত ভট্টাচার্য রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো:
- পূর্বাভাস,
- ঘুম নেই,
- ছাড়পত্র,
- অভিযান।

উৎস: 
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া।

১২২.
'কাফেলা' নাটকের রচয়িতা কে?
  1. ক) ইব্রাহিম খাঁ
  2. খ) এস ওয়াজেদ আলী
  3. গ) আহমদ ছফা
  4. ঘ) আলাউদ্দিন আল আজাদ
সঠিক উত্তর:
ক) ইব্রাহিম খাঁ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ইব্রাহিম খাঁ
ব্যাখ্যা
ইব্রাহীম খাঁ রচিত নাটক- কাফেলা, আনোয়ার পাশা, কামাল পাশা, ভিস্তি বাদশা, ঋণ পরিশোধ। তাঁর রচিত ভ্রমণ কাহিনী- ইস্তাম্বুল যাত্রীর পত্র, পাকিস্তানের পথে ঘাটে, নয়া চীনে এক চক্কর। গল্পগ্রন্থ- সোনার শিকল, আলু বোখরা, দাদুর আসর। এবং উপন্যাস- বৌ বেগম।
উৎসঃ শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা।
১২৩.
দক্ষিণারঞ্জন মিত্রের সংগৃহীত রূপকথার সংকলন নয়-
  1. ক) ঠানদিদির থলে
  2. খ) দাদামাশয়ের ঝুলি
  3. গ) ঠাকুরমার ঝুলি
  4. ঘ) ঠাকুরদাদার ঝুলি
সঠিক উত্তর:
খ) দাদামাশয়ের ঝুলি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) দাদামাশয়ের ঝুলি
ব্যাখ্যা

• দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার মূলত শিশুসাহিত্যিক ও লোকসংগ্রাহক ছিলেন।
• তাঁর শিশুতোষ কল্পকাহিনী হলো রূপকথা।
• তাঁর সংগৃহীত রূপকথার সংকলনটি ৪টি খণ্ডে প্রকাশিত হয়। যথা:
১. ঠাকুরমার ঝুলি,
২. ঠাকুরদাদার ঝুলি,
৩. ঠানদিদির থলে ও
৪. দাদামাশয়ের থলে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

১২৪.
‘ওঙ্কার’ উপন্যাস অবলম্বনে বাংলা কোন চলচ্চিত্র টি নির্মিত?
  1. ক) মাটির ময়না
  2. খ) চিত্রা নদীর পাড়ে
  3. গ) লালসালু
  4. ঘ) বাঙলা
সঠিক উত্তর:
ঘ) বাঙলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) বাঙলা
ব্যাখ্যা
• আহমদ ছফা ছিলেন একজন প্রতিবাদী লেখক, প্রগতিপন্থি সাহিত্যকর্মী ও সংগঠক।

• ঊনসত্তরের গণ আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে রচিত তাঁর উপন্যাস ওঙ্কার। এই উপন্যাসের নায়ক আবু নসরের বোবা মেয়েকে বিয়ে করে। আবু নসরের সঙ্গে আইয়ুব খানের সম্পর্ক থাকায় সে এক ধরনের ক্ষমতা লাভ করে। আর এই ঘটনার সূত্র ধরে উপন্যাসটির কাহিনী গতি লাভ করেছে। 
- এটি মূলত ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানের পটভূমিতে লেখা হয়েছে।
- ‘ওঙ্কার’ উপন্যাস অবলম্বনে ‘বাঙলা’ চলচ্চিত্র টি নির্মিত হয়েছে।

 তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
• সূর্য তুমি সাথী (প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস),
• একজন আলী কেনানের উত্থান-পতন, 
• মরণবিলাস, 
• গাভী বিত্তান্ত (বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিকে কেন্দ্র করে রচিত উপন্যাস), 
• অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী, 
• পুষ্প বৃক্ষ এবং বিহঙ্গ পুরাণ ইত্যাদি।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১২৫.
‘উত্তম পুরুষ’ উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. শওকত ওসমান
  2. জহির রায়হান
  3. শহীদুল্লা কায়সার
  4. রশীদ করিম
সঠিক উত্তর:
রশীদ করিম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রশীদ করিম
ব্যাখ্যা
উত্তম পুরুষ:
- রশীদ করীমের এই উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৬১ সালে।
- উপন্যাসের প্রধান চরিত্র শাকেরকে ঘিরে সেলিনা, অণিমা, শেখর, মুশতাক, সলিল, চন্দ্রা, নিহার ভাবি, শিশির এ রকম অসংখ্য চরিত্র আবর্তিত হয়েছে।
- এদের মনস্তাত্ত্বিক জটিলতায় কোথাও কোথাও শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতির উদ্ভব ঘটেছে।
- আধুনিক মননশীলতা, পরিশীলতা, আঙ্গিক, অভিজ্ঞতার নির্লিপ্ত বর্ণনায় পাঠকের পাঠতৃষ্ণার নিবারণ হয়।

রশীদ করীম:
- তিনি ১৪ই আগস্ট, ১৯২৫ সালে কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৭২), একুশে পদক (১৯৮৪), লেখিকা সংঘ পুরস্কার (১৯৯১), জনকণ্ঠ পুরস্কার (২০০১) পুরস্কার লাভ করেন।
- তিনি ২০১১ সালের ২৬শে নভেম্বর মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- উত্তমপুরুষ,
- প্রসন্ন পাষাণ,
- আমার যত গ্লানি,
- সোনার পাথর বাটি,
- বড়ই নিঃসঙ্গ,
- লান্সবাক্স ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১২৬.
'কুহু ও কেকা' কাব্যগ্রন্থটির রচয়িতা-
  1. বিহারীলাল চক্রবর্তী
  2. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  3. সিকান্দার আবু জাফর
  4. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
সঠিক উত্তর:
সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা
• 'কুহু ও কেকা' কাব্যগ্রন্থটির রচয়িতা- সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত। 

• সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত: 
- সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত কবি ও ছান্দসিক।
- কলকাতার নিকটবর্তী নিমতা গ্রামে ১৮৮২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
-  সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত বাংলা সাহিত্য 'ছন্দের জাদুকর' বা 'ছন্দের রাজা' হিসেবে খ্যাত।
• সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের কিছু ছদ্মনাম হলো: নবকুমার, কবিরত্ন, অশীতিপর শর্মা, ত্রিবিক্রম বর্মণ, কলমগীর।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সবিতা,
- সন্ধিক্ষণ,
- বেণু ও বীণা,
- কুহু ও কেকা,
- তুলির লিখন,
- হোমশিখা,
- অভ্র-আবীর,
- হসন্তিকা,
- বেলা শেষের গান,
- বিদায় আরতি ইত্যাদি।‌

• তাঁর রচিত অনুবাদকাব্য:
- তীর্থ রেণু,
- মণি মঞ্জুষা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া, মানুষ জাতি- কবিতা।
১২৭.
কোনটি আবু ইসহাক রচিত গোয়েন্দা ভিত্তিক উপন্যাস?
  1. ক) মুক্তি
  2. খ) জাল
  3. গ) যাত্রা
  4. ঘ) চৌচির
সঠিক উত্তর:
খ) জাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) জাল
ব্যাখ্যা
জাল
- আবু ইসহাক রচিত গোয়েন্দা ভিত্তিক উপন্যাস 'জাল'।
- উপন্যাসটি বাস্তব ঘটনা অবলম্বনে রচিত।
- ১৯৫০ সালে সরকারি কর্মকর্তা থাকাকালীন সময়ে 'জাল নোট' এর কয়েকটা মামলার তদন্তের ভার পড়েছিলো লেখকের ওপর।
- সেই অভিজ্ঞতাকে ভিত্তি করেই তাঁর 'জাল' উপন্যাসটি রচিত।

• তাঁর রচিত সামাজিক উপন্যাস:
- সূর্য দীঘল বাড়ী ও
- পদ্মার পলিদ্বীপ।

অন্যদিকে,
• 'যাত্রা' শওকত আলী রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।
• 'মুক্তি' উপন্যাসের রচয়িতা আবু জাফর শামসুদ্দীন।
•'চৌচির' উপন্যাসের রচয়িতা আবুল ফজল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখ ও বাংলাপিডিয়া।
১২৮.
অমিয় চক্রবর্তীর প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ-
  1. ক) আগমনী
  2. খ) কবিতাবলী
  3. গ) পারস্যে
  4. ঘ) লাল মেঘ
সঠিক উত্তর:
খ) কবিতাবলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কবিতাবলী
ব্যাখ্যা
- অমিয় চক্রবর্তী (১৯০১-১৯৮৬): পশ্চিমবঙ্গের হুগলীর শ্রীরামপুরে তাঁর জন্ম।
- অমিয় চক্রবর্তী তাঁর জীবনের প্রথম দিকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নিকট-সান্নিধ্যে এসেছিলেন।
- তিনি রবীন্দ্রনাথের ব্যক্তিগত সচিব ছিলেন এবং তাঁর সঙ্গে বহুদেশে ভ্রমণ করেছেন।
- তিরিশের পঞ্চকবির মধ্যে তিনি অন্যতম একজন।
- অমিয় চক্রবর্তী রচিত বাংলাদেশ কবিতাটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের পেক্ষাপটে রচিত।

• অমিয় চক্রবর্তীর কাব্যগ্রন্থ:
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ ‘কবিতাবলী’ (১৯২৪-২৫)।
- তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থের সংখ্যা ১৫৷


• তাঁর অন্যান্য গ্রন্থ:
- উপহার 
- খসড়া 
- এক মুঠো 
- মাটির দেয়াল 
- অভিজ্ঞান বসন্ত 
- পারাপার 
- পালাবদল 
- ঘরে ফেরার দিন 
- হারানো অর্কিড 
- পুষ্পিত ইমেজ 
- অমরাবতী
- অনিঃশেষ
- নতুন কবিতা ইত্যাদি।


উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১২৯.
'পূর্ব-পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা' অনবদ্য গ্রন্থটি কার রচনা?
  1. সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী
  2. সৈয়দ মুজতবা আলী
  3. শহীদ কাদরী
  4. সৈয়দ আলী আহসান
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ মুজতবা আলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ মুজতবা আলী
ব্যাখ্যা

• সৈয়দ মুজতবা আলী:
- তিনি ছিলেন  শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক। ১৯০৪ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর পিতার কর্মস্থল শ্রীহট্ট (সিলেট) জেলার করিমগঞ্জে তিনি জন্মগ্রহণ করেন, কিন্তু তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল মৌলভীবাজারের উত্তরসুর গ্রামে।
- তিনি বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯২৬ সালে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।
- সৈয়দ মুজতবা আলী 'দেশে-বিদেশে' গ্রন্থের মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যাঙ্গনে প্রথম প্রবেশ ও প্রতিষ্ঠা লাভ করেন। কাবুলে অবস্থানের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও অন্তরঙ্গ উপলব্ধির ফসল এই গ্রন্থখানি।
- তাঁর একটি অনবদ্য গ্রন্থ 'পূর্ব-পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা'।
- তিনি কাজী নজরুল ইসলামের 'রুবাইয়াৎ-ই-ওমর খৈয়াম' গ্রন্থের ভূমিকা লিখেন।
- ১৯৭৪ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- অবিশ্বাস্য,
- শবনম।

• তাঁর রচিত ছোটগল্পগ্রন্থ:
- চাচা-কাহিনী,
- টুনি মেম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৩০.
‘ ভাষা ও সাহিত্য’- এর রচয়িতা কে?
  1. ক) আহমদ শরীফ
  2. খ) আবদুল হাই
  3. গ) আহমদ ছফা
  4. ঘ) আবুল কালাম শামসুদ্দীন
সঠিক উত্তর:
খ) আবদুল হাই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) আবদুল হাই
ব্যাখ্যা
মুহাম্মদ আবদুল হাই সাহিত্য ও সংস্কৃতি (১৯৫৪), বিলেতে সাড়ে সাত শ’দিন (১৯৫৮), তোষামোদ ও রাজনীতির ভাষা (১৯৫৯), ভাষা ও সাহিত্য (১৯৬০), ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব (১৯৬৪) প্রভৃতি গ্রন্থ রচনা করেন। উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।
১৩১.
সুকান্ত ভট্টাচার্যের জীবিতাবস্থায় প্রকাশিত গ্রন্থ কোনটি?
  1. পূর্বাভাস
  2. ছাড়পত্র
  3. আকাল
  4. মিঠেকড়া
সঠিক উত্তর:
আকাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আকাল
ব্যাখ্যা
• আকাল:
- ‘আকাল' (১৯৪৩) একটি সংকলন।
- পঞ্চাশের মন্বন্তর এই সংকলনের কবিতাগুলির মূল প্রেরণা।
- এটি ছিল সুকান্তের জীবিতাবস্থায় প্রকাশিত একমাত্র গ্রন্থ।
- বিভিন্ন পত্রিকা থেকে সংকলন ও সম্পাদনা করে এই কবিতাগুচ্ছের একটি মূল্যবান ভূমিকা লিখেছিলেন সুকান্ত ভট্টাচার্য।
- ১৯৬৬ সালে সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের ভূমিকাসহ এর নতুন সংস্করণ প্রকাশিত হয়।
------------------------------------

• সুকান্ত ভট্টাচার্য:
- তিনি মার্কসবাদী ভাবধারায় বিশ্বাসী এবং প্রগতিশীল চেতনার অধিকারী তরুণ কবি।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল ফরিদপুর জেলার কোটালিপাড়ায়।
- তাঁর পিতা নিবারণচন্দ্র ভট্টাচার্য কলকাতায় পুস্তক ব্যবসা করতেন।
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ, তেতাল্লিশের মন্বন্তর, ফ্যাসিবাদী আগ্রাসন ও সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা প্রভৃতির বিরুদ্ধে তিনি কলম ধরেন।
- ১৯৪৪ সালে তিনি কমিউনিস্ট পার্টির সদস্যপদ লাভ করেন এবং একই বছর 'আকাল' নামক একটি সংকলনগ্রন্থ তাঁর সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়।

• তাঁর রচিত গ্রন্থ:
- ছাড়পত্র।
- পূর্বাভাস।
- মিঠেকড়া।
- অভিযান।
- ঘুম নেই।
- হরতাল।
- গীতিগুচ্ছ প্রভৃতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৩২.
"আঠারো শতকের বাংলা চিঠি" গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. আবু ইসহাক
  2. এস ওয়াজেদ আলি
  3. আনিসুজ্জামান
  4. আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
সঠিক উত্তর:
আনিসুজ্জামান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আনিসুজ্জামান
ব্যাখ্যা
আনিসুজ্জামান:
- লেখক আনিসুজ্জামান এর প্রকৃত নাম এ.টি.এম. আনিসুজ্জামান।
- ১৯৬২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে 'ইংরেজি আমলের বাংলা সাহিত্যে বাঙালি মুসলমানের চিন্তাধারা' শিরোনামে ডক্টরেট লাভ করেন। এই গবেষণাপত্রকে তিনি ‘মুসলিম মানস ও বাংলা সাহিত্য' (১৯৬৪) নামে গ্রন্থরূপ দেন।
- তিনি রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০০৫ সালে সম্মানিক ডি.লিট. পান। এছাড়াও ২০১৪ সালে ভারত সরকারের পদ্মভূষণ লাভ করেন।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের নাম:
- স্বরূপের সন্ধানে,
- আঠারো শতকের বাংলা চিঠি,
- বাঙালি নারী: সাহিত্য ও সমাজে,
- কাল নিরবধি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩৩.
‘সাত ভাই চম্পা’ কী ধরনের গ্রন্থ?
  1. কাব্যগ্রন্থ
  2. গল্পগ্রন্থ
  3. প্রবন্ধগ্রন্থ
  4. উপন্যাস
সঠিক উত্তর:
কাব্যগ্রন্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাব্যগ্রন্থ
ব্যাখ্যা

• ‘সাত ভাই চম্পা’ বিষ্ণু দে রচিত - কাব্যগ্রন্থ

বিষ্ণু দে:
- ১৯০৯ সালের ১৮ জুলাই কলকাতার পটলডাঙ্গায় তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক, চিত্রসমালোচক ও শিল্পানুরাগী।
- বিষ্ণু দে ত্রিশোত্তর বাংলা কবিতার নব্যধারার আন্দোলনের প্রধান পাঁচজন কবির অন্যতম ছিলেন।
- তিনি মার্কসবাদী চেতনায় উদ্বুদ্ধ ছিলেন।
- তাঁর কবিতায় টি.এস. এলিয়টের কবিতার প্রভাব রয়েছে।
- বিষ্ণু দে ‘পরিচয়’ পত্রিকায় (১৯৩১ থেকে ১৯৪৭ পর্যন্ত) সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন এবং তাঁর প্রকাশিত অপর পত্রিকা হচ্ছে ‘সাহিত্যপত্র’ (১৯৪৮)।
- ১৯৮২ সালের ৩ ডিসেম্বর তিনি কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত প্রধান কাব্যগ্রন্থ:
- উর্বশী ও আর্টেমিস,
- চোরাবালি,
- স্মৃতি সত্তা ভবিষ্যৎ,
- সাত ভাই চম্পা,
- সেই অন্ধকার চাই,
- তুমি শুধু পঁচিশে বৈশাখ,
- রবিকরোজ্জ্বল নিজদেশ।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৩৪.
'হে অরণ্য কথা কও' বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত একটি-
  1. ক) উপন্যাস
  2. খ) গল্পগ্রন্থ
  3. গ) ভ্রমণকাহিনী
  4. ঘ) নাটক
সঠিক উত্তর:
গ) ভ্রমণকাহিনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ভ্রমণকাহিনী
ব্যাখ্যা
হে অরণ্য কথা কও, অভিযাত্রিক, বনে-পাহাড়ে বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত ভ্রমণকাহিনী।
তাঁর রচিত উপন্যাস- পথের পাঁচালী, অপরাজিত, দৃষ্টিপ্রদীপ, আরণ্যক, আদর্শ হিন্দু হোটেল, বিপিনের সংসার, দেবযান, ইছামতি, অশনিসংকেত ইত্যাদি।
উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।
১৩৫.
কোনটি আহসান হাবীবের রচিত উপন্যাস?
  1. অরণ্যের দিনরাত্রি 
  2. বিধ্বস্ত নীলিমা
  3. অরণ্য নীলিমা
  4. আরণ্যক
সঠিক উত্তর:
অরণ্য নীলিমা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অরণ্য নীলিমা
ব্যাখ্যা

• 'অরণ্য নীলিমা' উপন্যাস:
- আহসান হাবীবের রচিত 'অরণ্য নীলিমা' উপন্যাসটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৬২ সালে।
- উদীয়মান মুসলমান মধ্যবিত্ত বাঙালি সমাজের প্রতিনিধি এক তরুণ চিত্রশিল্পী ও তাঁর স্ত্রীর মনোজাগতিক সংকটক এ উপন্যাসের উপজীব্য বিষয়।

অন্যদিকে, 
• 'অরণ্যের দিনরাত্রি' সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় রচিত বিখ্যাত উপন্যাস। পরে সত্যজিৎ রায় এটির উপর চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন।
• "বিধ্বস্ত নীলিমা" হল শামসুর রাহমানের একটি বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ, যা ১৯৬৭ সালে প্রকাশিত হয়।
• 'আরণ্যক' বিখ্যাত কথাসাহিত্যিক বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত চতুর্থ উপন্যাস। ১৯৩৯ সালে এটি গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।

--------------------
• তাঁর অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- ছায়াহরিণ,
- সারা দুপুর,
- আশায় বসতি,
- মেঘ বলে চৈত্রে যাবো,
- দুহাতে দুই আদিম পাথর,
- প্রেমের কবিতা,
- বিদীর্ণ দর্পণে মুখ ইত্যাদি।

• তাঁর দুটি বিশিষ্ট উপন্যাস হলো-
- অরণ্য নীলিমা ও
- রাণীখালের সাঁকো।

এছাড়া তাঁর কয়েকটি উল্লেখযোগ্য শিশুতোষ গ্রন্থ:
- জ্যোৎস্না রাতের গল্প,
- বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর,
- ছুটির দিন দুপুরে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

১৩৬.
'যা চলে গেছে তার জন্য শোক বৃথা বরং জাতির হৃতগৌরব উদ্ধারের প্রচেষ্টাই মুখ্য'-এই বাণীটি কার রচনা?
  1. রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ
  2. শহীদুল্লা কায়সার
  3. সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী
  4. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী
ব্যাখ্যা

• 'অনল প্রবাহ' কাব্য:
- সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী রচিত মুসলিম জাগরণমূলক কাব্য 'অনল প্রবাহ' প্রকাশিত হয় ১৯০০ সালে।
- 'যা চলে গেছে তার জন্য শোক বৃথা বরং জাতির হৃতগৌরব উদ্ধারের প্রচেষ্টাই মুখ্য'-এই বাণীতে মুসলমানদের দুরবস্থা ও অধঃপতন ব্যক্ত করে ইংরেজদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ ও রোষ প্রকাশ করা হয়েছে এই কাব্যটিতে।
- 'অনল প্রবাহে' কবি হেমচন্দ্ৰ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘ভারত ভিক্ষা’, ‘ভারত বিলাপ' ইত্যাদি কবিতার সুস্পষ্ট প্রভাব আছে।
- ১৩১৫ বঙ্গাব্দে (১৯০৮) পরিবর্তিত ও পরিবর্ধিত দ্বিতীয় সংস্করণ বের হয়।
- প্রথম সংস্করণে কবিতা ছিল মাত্র নয়টি।
- এগুলো হচ্ছে : অনল-প্রবাহ, তুর্যধ্বনি, মূর্ছনা, বীর-পূজা, অভিভাষণ : ছাত্রগণের প্রতি, মরক্কো-সঙ্কটে, আমীর- আগমনে, দীপনা, আমীর-অভ্যর্থনা।
- বইটির বর্ধিত সংস্করণ প্রকাশিত হলে তৎকালীন বাংলার সরকার এটি বাজেয়াপ্ত করে এবং তাঁর প্রতি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।
- সিরাজী তখন ফরাসি অধিকৃত চন্দননগরে গিয়ে ৮ মাস আত্মগোপন করে থাকেন।
- পরে আত্মসমর্পণ করলে বৃটিশ সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ প্রচারের অভিযোগে তাঁকে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়।

--------------------
সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী রচিত উপন্যাস:
- রায়নন্দিনী,
- তারাবাঈ,
- ফিরোজা বেগম।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- স্বজাতি প্রেম,
- তুর্কি নারী জীবন,
- স্পেনীয় মুসলান সভ্যতা।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- অনল প্রবাহ,
- উচ্ছ্বাস,
- উদ্বোধন,
- স্পেন বিজয় কাব্য ইত্যাদি।

• ভ্রমণ কাহিনি: তুরস্ক ভ্রমণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৩৭.
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের জীবনালেখ্য নিয়ে রচিত নাটক -
  1. শেখ মুজিব: তাকে যেমন দেখেছি
  2. কালবেলা
  3. মাইলপোষ্ট
  4. শেষ নবাব
সঠিক উত্তর:
শেষ নবাব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শেষ নবাব
ব্যাখ্যা
বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রতিভভাবান নাট্যকার - সাঈদ আহমদ
১৯৫৪ সালে লন্ডনে স্যামুয়েল ব্যাকেটের নাটক দেখে সাঈদ আহমদ এই ধরনের নাটকের প্রতি আকৃষ্ট হন এবং বাংলায় অ্যাবসার্ডধর্মী নাটকের প্রচলন করেন।

তার রচিত উল্লেখযোগ্য নাটকঃ কালবেলা, মাইলপোস্ট, তৃষ্ণায়, প্রতিদিন একদিন, শেষ নবাব

- ১৯৭৫ সালে অ্যাবসার্ডধারার বাইরে এসে দেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থা নিয়ে রচনা করেন - 'প্রতিদিন একদিন' নাটক।
- বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে তার লেখা নাটক 'শেষ নবাব'। এটি তার শেষ নাটকও।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩৮.
হুমায়ুন আজাদের রচনা কোনটি?
  1. শঙ্খনীল কারাগার
  2. নুরজাহান
  3. লাল নীল দীপাবলি
  4. হিমু
সঠিক উত্তর:
লাল নীল দীপাবলি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লাল নীল দীপাবলি
ব্যাখ্যা
• হুমায়ুন আজাদ রচিত বাংলা সাহিত্য বিষয়ক গ্রন্থ- ‘লাল নীল দীপাবলি।

অন্যদিকে, 
• বাংলাদেশের জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক হুমায়ুন আহমেদ রচিত উপন্যাস - শঙ্খনীল কারাগার।
• দ্বিজেন্দ্রলাল রায় রচিত বিখ্যাত ঐতিহাসিক নাটক- নূরজাহান
• বাংলাদেশের জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলন -এর সুদীর্ঘ উপন্যাস 'নূরজাহান'।

• 'হিমু সিরিজ এর রচয়িতা- হুমায়ূন আহমেদ।
- 'হিমু সিরিজ':
- ময়ূরাক্ষী, দরজার ওপাশে, হিমু , পারাপার, এবং হিমু , হিমুর হাতে কয়েকটি নীল পদ্ম, হিমুর দ্বিতীয় প্রহর, হিমুর রূপালী রাত্রি , একজন হিমু কয়েকটি ঝিঁঝিঁ পোকা, তোমাদের এই নগরে, সে আসে ধীরে, চলে যায় বসন্তের দিন, হিমু মামা, আঙুল কাটা জগলু, হলুদ হিমু কালো র‌্যাব, আজ হিমুর বিয়ে, হিমু রিমান্ডে, হিমুর একান্ত সাক্ষাৎকার ও অন্যান্য, হিমুর মধ্যদুপুর, হিমুর বাবার কথামালা , হিমুর নীল জোছনা, হিমু এবং একটি রাশিয়ান পরী, হিমুর আছে জল, হিমু এবং হার্ভার্ড পিএইচ.ডি বল্টু ভাই প্রভৃতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।

১৩৯.
"প্রভাতফেরী, প্রভাতফেরী আমায় নেবে সঙ্গে, বাংলা আমার বচন, আমি জন্মেছি এই বঙ্গে।" কবিতাংশটি কোন কবিতার?
  1. প্রভাতফেরী
  2. একুশে ফেব্রুয়ারি
  3. একুশের কবিতা
  4. জন্ম তব বঙ্গে
সঠিক উত্তর:
একুশের কবিতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
একুশের কবিতা
ব্যাখ্যা

বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন নিয়ে তার বিখ্যাত কবিতা: একুশের কবিতা

একুশের কবিতা
আল মাহমুদ

ফেব্রুয়ারির একুশ তারিখ
দুপুর বেলার অক্ত
বৃষ্টি নামে, বৃষ্টি কোথায় ?
বরকতের রক্ত।

হাজার যুগের সূর্যতাপে
জ্বলবে এমন লাল যে,
সেই লোহিতেই লাল হয়েছে
কৃষ্ণচূড়ার ডাল যে !

প্রভাতফেরীর মিছিল যাবে
ছড়াও ফুলের বন্যা
বিষাদগীতি গাইছে পথে
তিতুমীরের কন্যা।

চিনতে না কি সোনার ছেলে
ক্ষুদিরামকে চিনতে ?
রুদ্ধশ্বাসে প্রাণ দিলো যে
মুক্ত বাতাস কিনতে ?


পাহাড়তলীর মরণ চূড়ায়
ঝাঁপ দিল যে অগ্নি,
ফেব্রুয়ারির শোকের বসন
পরলো তারই ভগ্নী।

প্রভাতফেরী, প্রভাতফেরী
আমায় নেবে সঙ্গে,
বাংলা আমার বচন, আমি
জন্মেছি এই বঙ্গে।

• আল মাহমুদ:
- তিনি ১৯৩৬ সালের ১১ই জুলাই ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার মোড়াইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ।
- তিনি একজন প্রথিতযশা কবি।
- স্বাধীনতা উত্তরকালে তিনি 'দৈনিক গণকন্ঠ' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- তাঁর প্রকাশিত শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ 'সোনালী কাবিন' (১৯৭৩)।

• তাঁর রচিত প্রধান কাব্যগ্রন্থ:
- লোক লোকান্তর,
- সোনালী কাবিন,
- কালের কলস,
- অদৃষ্টবাদীদের রান্নাবান্না,
- পাখির কাছে ফুলের কাছে,
- দোয়েল ও দয়িতা,
- দ্বিতীয় ভাঙন,
- বখতিয়ারের ঘোড়া,
- প্রেমের কবিতা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও একুশে কবিতা।

১৪০.
'কুঁচবরণ কন্যা' - গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. বন্দে আলী মিয়া
  2. নির্মলেন্দু গুণ
  3. প্রেমেন্দ্র মিত্র
  4. বিজন ভট্টাচার্য
সঠিক উত্তর:
বন্দে আলী মিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বন্দে আলী মিয়া
ব্যাখ্যা

• 'কুঁচবরণ কন্যা' শিশুতোষ গ্রন্থের রচয়িতা - বন্দে আলী মিয়া। 

বন্দে আলী মিয়া
- বন্দে আলী মিয়া সাহিত্যিক, সাংবাদিক, চিত্রকর।
- তিনি ১৯০৬ সালের ১৫ ডিসেম্বর পাবনা জেলার রাধানগর গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তিনি কিছুদিন ইসলাম দর্শন পত্রিকায় সাংবাদিক হিসেবে কাজ করার পর কলকাতা কর্পোরেশন স্কুলে শিক্ষকতা করেন।
- দেশ-বিভাগের পর তিনি ঢাকা ও রাজশাহী বেতার কেন্দ্রে চাকরি করেন।
- বন্দে আলী মিয়া রচিত ‘রুপকথা’ এ শিশুতোষ গ্রন্থ।
- বন্দে আলী মিয়া কবিতা, উপন্যাস, নাটক, জীবনী, শিশুসাহিত্য প্রভৃতি মাধ্যমে গ্রন্থ রচনা করেন।

বন্দে আলী মিয়া রচিত কাব্য:
- ময়নামতীর চর,
- অনুরাগ,
- পদ্মানদীর চর,
- মধুমতীর চর,
- ধরিত্রী;

বন্দে আলী মিয়া রচিত উপন্যাস: 
- বসন্ত জাগ্রত দ্বারে,
- শেষ লগ্ন,
- অরণ্য গোধূলি,
- নীড়ভ্রষ্ট।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৪১.
'সূর্য দীঘল বাড়ী' উপন্যাসে কোন কোন ঐতিহাসিক ঘটনার পেক্ষাপট আলোচিত হয়েছে?
  1. সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ও মুক্তিযুদ্ধ
  2. দেশবিভাগ ও ভাষাআন্দোলন
  3. বিশ্বযুদ্ধ ও দুর্ভিক্ষ
  4. দুর্ভিক্ষ ও উনসত্তুরের গণঅভ্যুত্থান
সঠিক উত্তর:
বিশ্বযুদ্ধ ও দুর্ভিক্ষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশ্বযুদ্ধ ও দুর্ভিক্ষ
ব্যাখ্যা
• 'সূর্য দীঘল বাড়ী' উপন্যাস:
- আবু ইসহাক রচিত একটি সামাজিক উপন্যাস।
- ১৯৫৫সালে উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়।
- বাংলাদেশের গ্রাম জীবনের বিশ্বস্ত দলিল এই গ্রন্থ।
- বিশ্বযুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, দেশবিভাগ প্রভৃতি পরপর চারটি বড় ঐতিহাসিক ঘটনার পটভূমিতে তিনি রচনা করেন 'সূর্য দীঘল বাড়ী'।
- জয়গুন এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র।

• উপন্যাসের অন্যান্য চরিত্র:
- হাসু,
- মায়মুন,
- শাফি,
- ডা. রমেশ চক্রবর্তী,
-মোরল গদু ইত্যাদি।

---------------------
• আবু ইসহাক:
- আবু ইসহাক কথাসাহিত্যিক, অভিধান-প্রণেতা। জন্ম শরিয়তপুর জেলার শিরঙ্গল গ্রামে, ১৯২৬ সালের ১ নভেম্বর।
- কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত নবযুগ পত্রিকায় আবু ইসহাকের ‘অভিশাপ’ নামে একটি গল্প প্রকাশিত হয়।
- পরে কলিকাতার সওগাত, আজাদ প্রভৃতি পত্রিকায় তাঁর বিভিন্ন রচনা প্রকাশিত হয়।
- আবু ইসহাকের দ্বিতীয় উপন্যাস পদ্মার পলিদ্বীপ (১৯৮৬); এ উপন্যাসে পদ্মার বুকে জেগে-ওঠা চরের শ্রমজীবী মানুষের জীবন-সংগ্রামের কথা আছে।
- ২০০৩ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়।

• আবু ইসহাক রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- পদ্মার পলিদ্বীপ,
- জাল।

• গল্পগ্রন্থ:
- হারেম,
- মহাপতঙ্গ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৪২.
হুমায়ুন কবিরের প্রকৃত নাম ছিল-
  1. হুমায়ুন জহিরউদ্দিন আমির
  2. হুমায়ুন কবির আমির-ই-জহিরউদ্দিন
  3. হুমায়ুন জহিরউদ্দিন কবির
  4. হুমায়ুন জহিরউদ্দিন আমির-ই-কবির
সঠিক উত্তর:
হুমায়ুন জহিরউদ্দিন আমির-ই-কবির
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হুমায়ুন জহিরউদ্দিন আমির-ই-কবির
ব্যাখ্যা
হুমায়ুন কবির:
- তিনি একাধারে রাজনীতিবিদ, লেখক, দার্শনিক।
- ১৯০৬ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি ফরিদপুর জেলার কোমরপুর গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তাঁর প্রকৃত নাম হুমায়ুন জহিরউদ্দিন আমির-ই-কবির।
- ১৯৪৬ সালে হুমায়ুন কবির কংগ্রেস সভাপতি মাওলানা আবুল কালাম আজাদএর আমন্ত্রণে তাঁর একান্ত সচিবরূপে যোগদান করেন।
- ১৯৫৬ সালে তিনি ভারতীয় রাজ্যসভার সদস্য নির্বাচিত হন।
- তিনি 'চতুরঙ্গ' পত্রিকা সম্পাদনা করে স্মরণীয় হয়ে আছেন।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম:
• কাব্যগ্রন্থ:
- স্বপ্নসাধ
- সাথী
- অষ্টাদশী।

• উপন্যাস:
- নদী ও নারী।

• প্রবন্ধগ্রন্থ:
- ইমানুয়েল কান্ট
- শরৎ সাহিত্যের মূলতত্ত্ব
- বাংলার কাব্য
- মার্কসবাদ
- নয়া ভারতের শিক্ষা
- শিক্ষক ও শিক্ষার্থী
- মিরজা আবু তালিব খান
- দিল্লী-ওয়াশিংটন-মস্কো ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৪৩.
'শাশ্বত বঙ্গ' কাজী আবদুল ওদুদ রচিত একটি-
  1. ক) উপন্যাস
  2. খ) প্রবন্ধ
  3. গ) গল্পগ্রন্থ
  4. ঘ) নাটক
সঠিক উত্তর:
খ) প্রবন্ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) প্রবন্ধ
ব্যাখ্যা
কাজী আবদুল ওদুদ একজন বাঙালি প্রাবন্ধিক, বিশিষ্ট সমালোচক, নাট্যকার ও জীবনীকার ছিলেন। তাঁর রচিত উপন্যাস- আজাদ, নদীবক্ষে। প্রবন্ধ- শাশ্বত বঙ্গ, সমাজ ও সাহিত্য, হিন্দু-মুসলমান বিরোধ, পথ ও বিপথ (নাটক), এবং তার সম্পাদনায় প্রকাশিত জনপ্রিয় বাংলা অভিধান- ব্যবহারিক শব্দকোষ। উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।
১৪৪.
সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় রচিত বিখ্যাত গ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) অরিজিন এন্ড ডেভেলপমেন্ট অফ বেঙ্গলি ল্যাঙ্গুয়েজ
  2. খ) সরল ভাষা প্রকাশ বাঙ্গালা ব্যাকরণ
  3. গ) বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস
  4. ঘ) ক ও খ উভয়ই
সঠিক উত্তর:
ঘ) ক ও খ উভয়ই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ক ও খ উভয়ই
ব্যাখ্যা
সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় রচিত বিখ্যাত গ্রন্থ - অরিজিন এন্ড ডেভেলপমেন্ট অফ বেঙ্গলি ল্যাঙ্গুয়েজ, সরল ভাষা প্রকাশ বাঙ্গালা ব্যাকরণ, বাংলা ভাষাতত্ত্বের ভূমিকা।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর
১৪৫.
আবুল মনসুর আহমদ রচিত রাজনীতি বিষয়ক গ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) বিশ্ব রাজনীতির একশ বছর
  2. খ) শেরে বাংলা থেকে বঙ্গবন্ধু
  3. গ) মুলধারা ৭১
  4. ঘ) বাংলাদেশের রাজনৈতিক জটিলতা
সঠিক উত্তর:
খ) শেরে বাংলা থেকে বঙ্গবন্ধু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) শেরে বাংলা থেকে বঙ্গবন্ধু
ব্যাখ্যা
আবুল মনসুর আহমদ রচিত রাজনীতি বিষয়ক গ্রন্থ- 'শেরে বাংলা থেকে বঙ্গবন্ধু'
- প্রকাশিত হয় ১৯৭২ খিষ্টাব্দে। 
- আবুল মনসুর আহমদ রচিত রাজনীতি বিষয়ক আরেকটি গ্রন্থ হলো: 'আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর' (১৯৬৯) 

অন্যদিকে, 
বিশ্ব রাজনীতির একশ বছর - ড. তারেক শামসুর রেহমান
মুলধারা ৭১ - মঈদুল হাসান
বাংলাদেশের রাজনৈতিক জটিলতা - আহমদ ছফা 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪৬.
'কৃষ্ণপক্ষ' গল্পগ্রন্থের রচয়িতা -
  1. আবদুল কাদির
  2. আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী
  3. আবদুর রাজ্জাক
  4. হুমায়ূন আহমেদ
সঠিক উত্তর:
আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী
ব্যাখ্যা
কৃষ্ণপক্ষ:
- 'কৃষ্ণপক্ষ' আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী রচিত প্রথম গল্পগ্রন্থ।
- এটি ১৯৫৯ সালে প্রকাশিত হয়।

আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী:
- তিনি ১৯৩৪ সালের ১২ই ডিসেম্বর বরিশালের উলানিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন। 
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থের নাম 'ডানপিটে শওকত' (১৯৫৩)। এটি একটি শিশুতোষ গ্রন্থ।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত গল্পগ্রন্থের নাম 'কৃষ্ণপক্ষ' (১৯৫৯)।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত উপন্যাসের নাম 'চন্দ্রদ্বীপের উপাখ্যান' (১৯৬০)।
- তিনি ভাষা আন্দোলনের শহিদের স্মরণে 'আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো / একুশে ফেব্রুয়ারি / আমি কি ভুলিতে পারি।' গানটি রচনা করেন।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনভিত্তিক 'পলাশী থেকে ধানমন্ডি' চলচ্চিত্রের কাহিনি রচনা করে তিনি খ্যাতি অর্জন করেন।

তাঁর রচিত অন্যান্য গল্পগ্রন্থ:
- সম্রাটের ছবি,
- সুন্দর হে সুন্দর।

অভিসম্বন্ধ: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; 'কৃষ্ণপক্ষ' গল্পগ্রন্থ, আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী।
১৪৭.
কোনটি জীবনানন্দ দাশের কাব্যগ্রন্থ নয়?
  1. ক) ঝরা পালক
  2. খ) মহাপৃথিবী
  3. গ) ৭টি তারার তিমির
  4. ঘ) নিজ বাসভূমে
সঠিক উত্তর:
ঘ) নিজ বাসভূমে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) নিজ বাসভূমে
ব্যাখ্যা
- উল্লেখিত অপশনগুলোর মধ্যে নিজ বাসভূমে হচ্ছে শামসুর রাহমান রচিত কাব্য।
- বাকি অপশনগুলো জীবনানন্দ দাশের কাব্যগ্রন্থ।

• ঝরাপালক (১৯২৭) জীবনানন্দ দাশের প্রথম কাব্যগ্রন্থ।
তার অন্যান্য কাব্যগ্রন্থঃ-- ধূসর পান্ডুলিপি, বনলতা সেন, মহাপৃথিবী, সাতটি তারার তিমির, রূপসী বাংলা, বেলা অবেলা কালবেলা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪৮.
'মাটির দেয়াল' কাব্যগ্রন্থটি রচনা করেন কে?
  1. হুনায়ুন আজাদ
  2. অমিয় চক্রবর্তী
  3. আনোয়ার পাশা
  4. আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
সঠিক উত্তর:
অমিয় চক্রবর্তী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অমিয় চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
অমিয় চক্রবর্তী:
- তিনি ছিলেন কবি, গবেষক ও শিক্ষাবিদ। তিরিশের পঞ্চকবির মধ্যে তিনি অন্যতম একজন।
- ১০ এপ্রিল, ১৯০১ পশ্চিমবঙ্গের হুগলীর শ্রীরামপুরে তাঁর জন্ম।
- তিনি পাটনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি.এ পাস (১৯২১) করে শান্তিনিকেতনের গবেষণা বিভাগে যোগদান করেন।
- পরে তিনি রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন (১৯২৬-১৯৩৩)।
- তিনি 'বাংলাদেশ' কবিতাটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রেক্ষাপটে রচনা করেন।
- বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে ‘দেশিকোত্তম’ (১৯৬৩) এবং ভারত সরকার ‘পদ্মভূষণ’ (১৯৭০) উপাধিতে ভূষিত করেন।
- ১৯৮৬ সালের ১২জুন শান্তিনিকেতনে তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- খসড়া,
- এক মুঠো,
- মাটির দেয়াল,
- অভিজ্ঞান বসন্ত,
- অনিঃশেষ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৪৯.
কোনটি কাব্যগ্রন্থ নয়?
  1. ক) সাধের আসন
  2. খ) পুনশ্চ
  3. গ) প্রেমাংশুর রক্ত চাই
  4. ঘ) দিবারাত্রির কাব্য
সঠিক উত্তর:
ঘ) দিবারাত্রির কাব্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) দিবারাত্রির কাব্য
ব্যাখ্যা
• মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাস: দিবারাত্রির কাব্য (১৯৩৫)।
- এর প্রধান চরিত্র- হেরম্ব ও আনন্দ।

অন্যদিকে,
বিহারীলাল চক্রবর্তীর শেষ কাব্য গ্রন্থ ‘সাধের আসন’।
'পুনশ্চ' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ।
নির্মলেন্দু গুণের বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ - প্রেমাংশুর রক্ত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর।
১৫০.
'সাত সাগরের মাঝি' কাব্যের মূল উপজীব্য কী?
  1. ইসলামের ইতিহাস ও ঐতিহ্য
  2. বাংলার লোকজ সংস্কৃতি ও রীতিনীতি
  3. কারবালা যুদ্ধের করুণ ইতিহাস
  4. ইসলামী রেনেসাঁ আন্দোলন
সঠিক উত্তর:
ইসলামের ইতিহাস ও ঐতিহ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইসলামের ইতিহাস ও ঐতিহ্য
ব্যাখ্যা
• 'সাত সাগরের মাঝি' কাব্যগ্রন্থ:
- মুসলিম জাগরণের কবি ফররুখ আহমদ রচিত প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ 'সাত সাগরের মাঝি' ১৯৪৪ সালে প্রকাশিত হয়।

- ফররুখ আহমদ রচিত প্রধান কাব্যগ্রন্থ 'সাত সাগরের মাঝি' কাব্যের মূল উপজীব্য হলো- ইসলামের ইতিহাস ও ঐতিহ্য। মূলত মুসুমানদের জাগরণের লক্ষ্যে তিনি এ গ্রন্থের কবিতাগুলো লিখেছেন।

- সেজন্য কবি ত্যাগ করেছেন বঙ্গীয় শব্দ ও অনুষঙ্গ, গ্রহণ করেছেন আরব্য উপন্যাস, ইরান- আরবের সংস্কৃতি ও পুরাণকথা।
- 'সাত সাগরের মাঝি' কাব্যগ্রন্থে মোট ১৯ টি কবিতা আছে।
- সাত সাগরের মাঝি নামে একটি কবিতা আছে গ্রন্থের সর্বশেষে।
- অন্যান্য উল্লেখযোগ্য কবিতা: সিন্দাবাদ, পাঞ্জেরি, লাশ, আউলাদ, দরিয়ার শেষরাত্রি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৫১.
স্বদেশী আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে রচিত উপন্যাস-
  1. ধাত্রীদেবতা
  2. সপ্তপদী
  3. গণদেবতা
  4. পঞ্চগ্রাম
সঠিক উত্তর:
সপ্তপদী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সপ্তপদী
ব্যাখ্যা

সপ্তপদী উপন্যাসের রচয়িতা তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়।
১৯৪২ সালে গান্ধিজীর স্বদেশী আন্দোলনের সময়কাল এই উপন্যাসের পটভূমি। কৃষ্ণেন্দু এই উপন্যাসের নায়ক। কৃষ্ণেন্দু বাঙালি হিন্দু ছেলে, তরুণ মেধাবী ছাত্র এবং অসামান্য প্রতিভাধর ফুটবল খেলোয়ার। নায়িকা রিনা ব্রাউন সুন্দরী এবং মেধাবী ক্রিশ্চিয়ান মেয়ে। দুই বিপরীত ধর্মের তরুণ প্রেমের উপাখ্যান এটি।

- তাঁর ত্রয়ী উপন্যাসঃ
• ধাত্রীদেবতা,
• গণদেবতা ও
• পঞ্চগ্রাম।

- এছাড়াও তাঁর অন্যান্য উপন্যাসঃ
• আরোগ্য নিকেতন,
• চাপাডাঙ্গার বউ,
• একটি কালো মেয়ের কথা,
• হাঁসুলী বাঁকের উপকথা,
• কবি,
• কালিন্দী,
• চৈতালি ঘূর্ণি ইত্যাদি।

- হাঁসুলী বাঁকের উপকথা তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত একটি আঞ্চলিক উপন্যাস।
- একটি কালো মেয়ের কথা উপন্যাসটি রচিত বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে নিয়ে।

উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার এবং বাংলাপিডিয়া।

১৫২.
সৈয়দ শামসুল হক রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস-
  1. ক) নিষিদ্ধ লোবান
  2. খ) নেকড়ে অরণ্য
  3. গ) যাত্রা
  4. ঘ) একটি কালো মেয়ের কথা
সঠিক উত্তর:
ক) নিষিদ্ধ লোবান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) নিষিদ্ধ লোবান
ব্যাখ্যা
- 'নিষিদ্ধ লোবান' সৈয়দ শামসুল হকের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক একটি উপন্যাস। 
- এটি ১৯৯০ সালে প্রকাশিত হয়। 
- এই উপন্যাস অবলম্বনে 'গেরিলা' চলচ্চিত্রটি নির্মিত হয়।

সৈয়দ শামসুল হক: 
- তিনি ১৯৩৫ সালের ২৭শে ডিসেম্বর কুঁডিগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- সৈয়দ শামসুল হককে সব্যসাচী লেখক বলা হয়ে থাকে।
- তিনি একজন প্রখ্যাত বাংলাদেশী সাহিত্যিক।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম:
কাব্যনাট্য:
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় 
- নুরুলদীনের সারা জীবন 
- এখানে এখন ইত্যাদি। 

প্রবন্ধ:
- হৃৎকলমের টানে। 

উপন্যাস:
- দেয়ালের দেশ (প্রথম উপন্যাস)
- অনুপম দিন 
- এক মহিলার ছবি 
- খেলারাম খেলে যা
- তুমি সেই তরবারি
- ত্রাহি 
- সীমানা ছাড়িয়ে,
- নীল দংশন
- বৃষ্টি ও বিদ্রোহীগণ ইত্যাদি। 

গল্পগ্রন্থ: 
- তাস 
- শীত বিকেল 
- আনন্দের মৃত্যু 
- প্রাচীন বংশের নিঃস্ব সন্তান ইত্যাদি। 

অন্যদিকে,
• ‘নেকড়ে অরণ্য’ শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস
• 'যাত্রা' শওকত আলী রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।
• ‘একটি কালো মেয়ের কথা’ তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত সর্বশেষ ও বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে কেন্দ্র করে রচিত উপন্যাস।

উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (ড. সৌমিত্র শেখর) এবং বাংলাপিডিয়া।
১৫৩.
সৈয়দ মুজতবা আলীর পৈতৃক নিবাস কোন জেলায় ছিল?
  1. ময়মনসিংহ
  2. মৌলভীবাজার
  3. শেরপুর
  4. সিলেট
সঠিক উত্তর:
মৌলভীবাজার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মৌলভীবাজার
ব্যাখ্যা
• সৈয়দ মুজতবা আলীর পৈতৃক নিবাস মৌলভীবাজার জেলায় ছিল।

সৈয়দ মুজতবা আলী:
- ১৯০৪ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর পিতার কর্মস্থল শ্রীহট্ট (সিলেট) জেলার করিমগঞ্জে তিনি জন্মগ্রহণ করেন, কিন্তু তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল মৌলভীবাজারের উত্তরসুর গ্রামে।
- তিনি ছিলেন  শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক।
- তিনি বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯২৬ সালে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।
- সৈয়দ মুজতবা আলী 'দেশে-বিদেশে' গ্রন্থের মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যাঙ্গনে প্রথম প্রবেশ ও প্রতিষ্ঠা লাভ করেন। কাবুলে অবস্থানের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও অন্তরঙ্গ উপলব্ধির ফসল এই গ্রন্থখানি।
- তিনি কাজী নজরুল ইসলামের 'রুবাইয়াৎ-ই-ওমর খৈয়াম' গ্রন্থের ভূমিকা লিখেন।
- ১৯৭৪ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- অবিশ্বাস্য,
- শবনম।

তাঁর রচিত রম্য-রচনা:
- পঞ্চতন্ত্র,
- ময়ূরকণ্ঠী।

তাঁর রচিত ছোটগল্পগ্রন্থ:
- চাচা-কাহিনী,
- টুনি মেম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৫৪.
মুক্তিযুদ্ধের বিখ্যাত গান ‘আমাদের সংগ্রাম চলবেই, জনতার সংগ্রাম চলবেই’ - এর রচয়িতা কে?
  1. নজরুল ইসলাম বাবু
  2. আবদুল লতিফ
  3. গোবিন্দ হালদার
  4. সিকান্দার আবু জাফর
সঠিক উত্তর:
সিকান্দার আবু জাফর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিকান্দার আবু জাফর
ব্যাখ্যা
সিকান্‌দার আবু জাফর:
- তিনি ছিলেন সাহিত্যিক, সাংবাদিক।
- ১৯১৯ সালের ১৯ মার্চ সাতক্ষীরা জেলার তেঁতুলিয়া গ্রামে তাঁর জন্ম। তাঁদের আদি নিবাস ছিল পাকিস্তানের পেশোয়ারে।
- তাঁর পূর্ণ নাম সৈয়দ আল্ হাশেমী আবু জাফর মুহম্মদ বখ্ত সিকান্দার । 
- আবু জাফর ১৯৫০ সালে  কলকাতা থেকে ঢাকায় আসেন এবং বিভিন্ন সময়ে দৈনিক নবযুগ, ইত্তেফাক, সংবাদ ও মিল্লাত পত্রিকায় সাংবাদিকতা করেন। 
- তিনি মাসিক 'সমকাল' পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক (১৯৫৭-১৯৭০) ছিলেন।
- তাঁর রচিত ‘আমাদের সংগ্রাম চলবেই, জনতার সংগ্রাম চলবেই’ গানটি মুক্তিযুদ্ধের সময় জনগণকে বিশেষভাবে অনুপ্রাণিত করেছিল।
-  তিনি নাটকে বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬৬) এবং একুশে পদক (১৯৮৪, মরণোত্তর) লাভ করেন। 
- ১৯৭৫ সালের ৫ আগস্ট ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয় এবং বনানী কবরস্থানে তিনি সমাহিত হন। 

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- পূরবী,
- মাটি আর অশ্রু,
- নবী কাহিনী, 
- জয়ের পথে,
- নতুন সকাল ইত্যাদি। 

তাঁর রচিত কবিতা:
- প্রসন্ন প্রহর,
- বৈরীবৃষ্টিতে,
- তিমিরান্তক,
- বৃশ্চিকলগ্ন,
- কবিতা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া। 
১৫৫.
ধানকন্যা'র লেখক -
  1. আলাউদ্দিন আল আজাদ
  2. আবদুর রাজ্জাক
  3. আশরাফ সিদ্দিকী
  4. বন্দে আলী মিয়া
সঠিক উত্তর:
আলাউদ্দিন আল আজাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আলাউদ্দিন আল আজাদ
ব্যাখ্যা
• ধানকন্যা'র লেখক - আলাউদ্দিন আল আজাদ
- এটি তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ।
- গ্রন্থটি ১৯৫১ সালে প্রকাশিত হয়।

আলাউদ্দিন আল আজাদ:
- তিনি ৬ মে, ১৯৩২ সালে, নরসিংদী জেলার রায়পুরা থানার রামনগর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি ছিলেন  শিক্ষাবিদ, কবি, কথাশিল্পী, প্রাবন্ধিক, শিশুসাহিত্যিক, গবেষক, সাহিত্য-সমালোচক। 
- বিশ শতকের পঞ্চাশের দশকে সাহিত্যক্ষেত্রে তাঁর আবির্ভাব। 
- নগরজীবনের কৃত্রিমতা, রাজনীতিক সংগ্রাম, নিপীড়ন, প্রতারণা তিনি তাঁর কথাসাহিত্যের বিষয়বস্তু করেছেন।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থের নাম 'জেগে আছি' (১৯৫০)। এটি একটি গল্পগ্রন্থ।
- 'স্মৃতিস্তম্ভ' কবিতাটি লেখার জন্য তিনি জনপ্রিয়। এটি 'মানচিত্র' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।
- তাঁর 'তেইশ নম্বর তৈলচিত্র' উপন্যাসটি 'বসুন্ধরা' নামে চলচ্চিত্রায়িত হয়ে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করে।
- তিনি ২০০৯ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- জেগে আছি,
- ধানকন্যা,
- মৃগনাভি,
- অন্ধকার সিঁড়ি,
- যখন সৈকত,
- আমার রক্ত স্বপ্ন আমার,
- জীবনজমিন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৫৬.
নিচের কোন সাহিত্যিক আততায়ীর হাতে ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন?
  1. আবুল হাসান
  2. হুমায়ুন কবির
  3. সোমেন চন্দ
  4. কল্যাণ মিত্র
সঠিক উত্তর:
সোমেন চন্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সোমেন চন্দ
ব্যাখ্যা
• সোমেন চন্দ:
- তিনি ছিলেন মূলত সাহিত্যিক ও রাজনীতিবিদ।
- ১৯২০ সালের ২৪ মে বালিয়া গ্রাম, পলাশ, নরসিংদীতে তাঁর জন্ম।
- তাঁর পূর্ণ নাম সোমেন্দ্র কুমার চন্দ।
- তিনি ঢাকার প্রগতি লেখক সংঘের প্রতিষ্ঠাতা।
- তাঁর বিখ্যাত ছোটগল্প 'ইঁদুর' পৃথিবীর বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়েছে।
- ঔপন্যাসিক হুমায়ূন আহমেদ জানিয়েছেন, 'ইঁদুর' গল্প পড়েই তিনি কথাসাহিত্য রচনার অনুপ্রেরণা লাভ করেন।
- তিনি ৮ই মার্চ, ১৯৪২ সালে ঢাকায় ফ্যাসিবাদ সমর্থকদের হাতে ছুরিকাহত হয়ে নিহত হন।

তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ:
- সংকেত ও অন্যান্য গল্প,
- বনস্পতি ও অন্যান্য গল্প,
- সোমেন চন্দের গল্পগুচ্ছ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৫৭.
‘ক্রন্দসী’ কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  2. জীবনানন্দ দাস
  3. কায়কোবাদ
  4. অমিয় চক্রবর্তী
সঠিক উত্তর:
সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা
• ‘ক্রন্দসী’ সুধিন্দ্রনাথ দত্ত রচিত কাব্যগ্রন্থ।
- গ্রন্থটি ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত হয়।

⇒ সুধীন্দ্রনাথ দত্ত:
• সুধীন্দ্রনাথ দত্ত (১৯০১-১৯৬০) ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক ও পত্রিকা সম্পাদক। ১৯০১ সালের ৩০ অক্টোবর কলকাতার হাতীবাগানে তাঁর জন্ম।
• ১৯৩১ সাল থেকে দীর্ঘ বারো বছর তিনি পরিচয় পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন। প্রমথ চৌধুরীর সবুজপত্রের সঙ্গেও তাঁর সম্পৃক্ততা ছিল।
• সুধীন্দ্রনাথ কর্মজীবনের পাশাপাশি সাহিত্যচর্চাও করেছেন। আধুনিক মনন ও বৈশ্বিক চেতনার কারণে তিনি বাংলা কাব্যে স্বতন্ত্র স্থান লাভ করেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলি:
⇒ কাব্য:  
• তন্বী,
• অর্কেস্ট্রা,
• ক্রন্দসী,
• উত্তরফাল্গুনী,
• সংবর্ত,
• দশমী।

⇒ গদ্যগ্রন্থ:
• স্বগত ,
• কুলায় ও কালপুরুষ।
এছাড়া প্রতিধ্বনি (১৯৫৪) নামে তাঁর একটি অনুবাদগ্রন্থও আছে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা সৌমিত্র শেখর।
১৫৮.
নুরুল মোমেনের 'নেমেসিস' নাটকটি প্রথম কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
  1. সমকাল
  2. শনিবারের চিঠি
  3. স্বাক্ষর
  4. পূর্বাশা
সঠিক উত্তর:
শনিবারের চিঠি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শনিবারের চিঠি
ব্যাখ্যা
• 'নেমেসিস' নাটক:
- নুরুল মোমেনের 'নেমেসিস' নাটক শনিবারের চিঠি পত্রিকায় প্রকাশিত হয় ১৯৪৫ সালে। গ্রন্থরূপে প্রকাশিত হয় ১৯৪৮ সালে।
- নাটকটি পঞ্চাশ-দশকের মন্বন্তরের পটভূমিতে রচিত। এর রচনাশৈলী ও পরিকল্পনা অভিনব।
- একটি মাত্র চরিত্রের মাধ্যমে দীর্ঘ সংলাপের ভিতর দিয়ে পুরো নাট্যকাহিনি বিবৃত হয়েছে যার মধ্যে একটি পরিপূর্ণ ছবি পরিস্ফুট হয়ে ওঠে। ফলে নাটকটি নাট্যামোদীদের কাছে বিশেষভাবে প্রশংসিত হয় এবং এ নাটকের মাধ্যমে তিনি বাংলা নাট্যসাহিত্যে অধিষ্ঠিত হন।

উল্লেখ্য, 
• নুরুল মোমেনের প্রথম নাটক 'রূপান্তর' ১৯৪২ সালে ঢাকা বেতার-এ প্রচারিত হয়। তিনি নিজে নাটকটি পরিচালনা করেন। ১৯৪৭ সালে নাটকটি গ্রন্থরূপে প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৫৯.
'আব্দুল্লাহ্’ উপন্যাসের রচয়িতা-
  1. ক) অদ্বৈত মল্লবর্মণ
  2. খ) কাজী ইমদাদুল হক
  3. গ) অন্নদাশঙ্কর রায়
  4. ঘ) আল মাহমুদ
সঠিক উত্তর:
খ) কাজী ইমদাদুল হক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কাজী ইমদাদুল হক
ব্যাখ্যা

• কাজী ইমদাদুল হক রচিত বিখ্যাত উপন্যাস 'আব্দুল্লাহ্'।
• তাঁর রচিত কাব্যঃ আঁখিজল ও লতিকা।
• প্রবন্ধমালা তাঁর রচিত প্রবন্ধ।
• নবীকাহিনী তাঁর রচিত শিশুতোষগ্রন্থ।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১৬০.
গিরিশচন্দ্র সেনের 'তত্ত্বরত্নমালা' গ্রন্থটি কোন ভাষার গ্রন্থ থেকে সংকলিত হয়েছে?
  1. আরবি 
  2. হিন্দি 
  3. ফারসি 
  4. সংস্কৃত 
সঠিক উত্তর:
ফারসি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফারসি 
ব্যাখ্যা

• তত্ত্বরত্নমালা:
- গিরিশচন্দ্রের উল্লেখযোগ্য আরেকটি গ্রন্থ হলো তত্ত্বরত্নমালা।
- এটি শেখ ফরীদুদ্দীন আত্তারের মানতেকুত্তায়েব ও মওলানা জালালউদ্দীন রূমীর মসনবী শরীফ নামক প্রখ্যাত ফারসি গ্রন্থদ্বয় থেকে সংকলিত।
- এতে নীতিকথা ও শিক্ষণীয় বিষয় ছোট ছোট গল্পের আকারে রসাত্মকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

------------------------
• গিরিশচন্দ্র সেন:

- গিরিশচন্দ্র সেন ছিলেন ধর্মবেত্তা ও অনুবাদক। নরসিংদী জেলার পাঁচদোনা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তিনি 'সুলভ সমাচার' ও 'বঙ্গবন্ধু' পত্রিকার সহযোগী সম্পাদক এবং 'মাসিক মহিলা' পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
- কেশবচন্দ্র সেন ও বিজয়কৃষ্ণ গোস্বামীর প্রভাবে ১৮৭১ সালে তিনি ব্রাহ্মধর্মে দীক্ষিত হন।
- কুরআনের বঙ্গানুবাদ বাংলা সাহিত্যে তাঁর সর্বশ্রেষ্ঠ কীর্তি। বাংলা ভাষায় প্রথম কুরআন শরীফের পূর্ণাঙ্গ অনুবাদ করেন তিনি।
- সকলের নিকট তিনি 'ভাই গিরিশচন্দ্র' নামে পরিচিত ছিলেন।

তাঁর রচিত গ্রন্থ:
• তাপসমালা:
- গিরিশচন্দ্রের বিখ্যাত গ্রন্থ তাপসমালা।
- এটি ৯৬ জন ওলি-আউলিয়ার জীবনচরিত, যা শেখ ফরীদুদ্দীন আত্তারের ফারসি ভাষায় রচিত তাজকেরাতুল আওলিয়ার ভাবাদর্শে রচিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৬১.
'বিলেতে সাড়ে সাত'শ দিন' ভ্রমণকাহিনির রচয়িতা কে?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. মুহম্মদ আবদুল হাই
  3. দীনবন্ধু মিত্র
  4. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
সঠিক উত্তর:
মুহম্মদ আবদুল হাই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুহম্মদ আবদুল হাই
ব্যাখ্যা
• 'বিলেতে সাড়ে সাত'শ দিন' ভ্রমণকাহিনির রচয়িতা - মুহম্মদ আবদুল হাই। গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৬৮ সালে।

মুহম্মদ আবদুল হাই:
- মুহম্মদ আবদুল হাই একজন শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক, গবেষক, ভাষাবিজ্ঞানী।
- তিনি ২৬ নভেম্বর ১৯১৯ সালে মুর্শিদাবাদের রাণীনগর থানার মরিচা গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- তাঁর রচিত গ্রন্থ ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব (১৯৬৪)।

মুহাম্মদ আবদুল হাই রচিত গ্রন্থ:
- সাহিত্য ও সংস্কৃতি,
- তোষামোদ ও রাজনীতির ভাষা,
- ভাষা ও সাহিত্য,
- ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব ,
- বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত প্রভৃতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৬২.
‘হুলিয়া’ কবিতাটি কার রচনা?
  1. হুমায়ুন আজাদ
  2. নির্মলেন্দু গুণ
  3. শহীদ কাদরী
  4. মহাদেব সাহা
সঠিক উত্তর:
নির্মলেন্দু গুণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নির্মলেন্দু গুণ
ব্যাখ্যা
• ‘হুলিয়া’ কবিতাটির রচয়িতা: নির্মলেন্দু গুণ। 
------------------- 
• 'নির্মলেন্দু গুণ': 
- ২১ জুন ১৯৪৫, কাশবন, নেত্রকোনায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর ডাকনাম রতন।
- তিনি মূলত একজন কবি ছিলেন।
- তাকে বাংলাদেশের কবিদের কবি বলা হয়।

তাঁর কাব্যগ্রন্থ গুলো:
- প্রেমাংশুর রক্ত চাই,
- না প্রেমিক না বিপ্লবি,
- বাঙলার মাটি বাংলার জ্বল,
- চাষাভূষার কাব্য,
- মুজিব লেলিন ইন্দিরা,
- হুলিয়া।

কবিতা:
- হুলিয়া,
- স্বাধীনতা,
- এই শব্দটি কিভাবে আমাদের হলো।

উপন্যাস:
- কালো মেলা,
- বাবা যখন ছোট্ট ছিলেন।

ভ্রমণ কাহিনি:
- ভলগার তীরে,
- গীনসাবার্গের সঙ্গে,
- আমেরিকায় জুয়াখেলার স্মৃতি,
- ভ্রমি দেশে দেশে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও ড. সৌমিত্র শেখর।
১৬৩.
নিচের কোনটি স্মৃতিকথা?
  1. ক) বৌ-বেগম
  2. খ) আনোয়ার পাশা
  3. গ) বাতায়ন
  4. ঘ) উস্তাদ
সঠিক উত্তর:
গ) বাতায়ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বাতায়ন
ব্যাখ্যা
ইব্রাহিম খাঁ রচিত নাটক ‘ আনোয়ার পাশা’, বৌ-বেগম' – উপন্যাস, ‘উস্তাদ’- গল্পগ্রন্থ, , ‘বাতায়ন’ হলো স্মৃতিকথা। রেফারেন্সঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য – মোহসীনা নাজিলা।
১৬৪.
ঢাকায় মুসলিম সাহিত্য সমাজ গঠন করেন -
  1. আল মাহমুদ
  2. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. আবুল হাসান
  4. আবুল হুসেন
সঠিক উত্তর:
আবুল হুসেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবুল হুসেন
ব্যাখ্যা
আবুল হুসেন:
- আবুল হুসেন একজন প্রাবন্ধিক, চিন্তাবিদ, সমাজ সংস্কারক ছিলেন।
- আবুল হুসেন মুসলমান সমাজে আধুনিক শিক্ষা ও জ্ঞানের আলো বিস্তারের উদ্দেশ্যে লেখনী পরিচালনা করেন।
- আবুল হুসেন ছিলেন 'শিখা' পত্রিকার প্রথম বর্ষের সম্পাদক।
- ঢাকায় যে বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন হয় তাতে আবুল হুসেনই নেতৃত্ব দেন।
- তিনি ঢাকায় মুসলিম সাহিত্য সমাজ (১৯২৬) গঠন এবং এর মুখপত্র শিখা সম্পাদনা ও প্রকাশ করে এ আন্দোলনকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেন।
- কাজী আবদুল ওদুদ, কাজী মোতাহার হোসেন, মুহম্মদ শহীদুল্লাহ ও আবুল ফজল তাঁকে এ কাজে সাহায্য করেন।

তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থের নাম:
- বাংলার বলশী,
- মুসলিম কালচার ও
- বাঙালি মুসলমানদের শিক্ষা সমস্যা ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
১৬৫.
আহসান হাবীবের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. সারাদুপুর
  2. ছায়া হরিণ
  3. রাত্রিশেষে
  4. মেঘ বলে চৈত্রে যাবো
সঠিক উত্তর:
রাত্রিশেষে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাত্রিশেষে
ব্যাখ্যা

• আহসান হাবীব:
- আহসান হাবীব একজন কবি ও সাংবাদিক।
- তিনি ১৯১৭ সালের ২ ফেব্রুয়ারি পিরোজপুর জেলার শংকরপাশা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

•  তাঁর প্রকাশিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'রাত্রিশেষে' (১৯৪৭)।
- প্রকাশ: এপ্রিল, ১৯৪৭; কলকাতার কমরেড পাবলিশার্স থেকে।
- এই কাব্যগ্রন্থে প্রহর, প্রান্তিক, প্রতিভাস ও পদক্ষেপ এই চারটি ভাগে কবিতাগুলো বিন্যস্ত।

• আহসান হাবীব এর শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থের নাম 'সারাদুপুর'।
- ১৯৬৪ সালে ঢাকা থেকে 'সারা দুপুর' প্রকাশিত হয়।
- কাব্যগ্রন্থটিতে মোট কবিতার সংখ্যা ২৬। কাব্যভাষা, ঐতিহ্যান্বেষণ ও বক্তব্য প্রকাশে কবি এখানে পরিপক্ক।

আহসান হাবীব রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ-
- রাত্রিশেষ (প্রথম প্রকাশিত),
- মেঘ বলে চৈত্রে যাবো,
- দু'হাতে দুই আদিম পাথর,
- ছায়া হরিণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৬৬.
'মধুর চেয়েও আছে মধুর সে আমার এই দেশের মাটি খাঁটি সোনার চেয়ে খাঁটি'। - কবিতায় এই অংশ বিশেষের রচয়িতা-
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান
  3. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  4. নির্মলেন্দু গুণ
সঠিক উত্তর:
সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা
• 'মধুর চেয়ে আছে মধুর
সে এই আমার দেশের মাটি
আমার দেশের পথের ধূলা
খাঁটি সোনার চাইতে খাঁটি।'-  কবিতাংশটুকুর রচয়িতা - সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত। 

------------------------
• সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত: 
- সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত কবি ও ছান্দসিক।
- কলকাতার নিকটবর্তী নিমতা গ্রামে ১৮৮২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
-  সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত বাংলা সাহিত্য 'ছন্দের জাদুকর' বা 'ছন্দের রাজা' হিসেবে খ্যাত।
- সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের কিছু ছদ্মনাম হলো: নবকুমার, কবিরত্ন, অশীতিপর শর্মা, ত্রিবিক্রম বর্মণ, কলমগীর।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সবিতা,
- সন্ধিক্ষণ,
- বেণু ও বীণা,
- কুহু ও কেকা,
- তুলির লিখন,
- হোমশিখা,
- অভ্র-আবীর,
- হসন্তিকা,
- বেলা শেষের গান,
- বিদায় আরতি ইত্যাদি।‌

• তাঁর রচিত অনুবাদকাব্য:
- তীর্থ রেণু,
- মণি মঞ্জুষা।

----------------------
কবিতা: খাঁটি সোনা, 
কবি: সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত।

"মধুর চেয়ে আছে মধুর
সে এই আমার দেশের মাটি
আমার দেশের পথের ধূলা
খাঁটি সোনার চাইতে খাঁটি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।
১৬৭.
চণ্ডীদাসের বিখ্যাত উক্তি - 'সবার উপরে মানুষ সত্য, তাহার উপরে নাই।', সৈয়দ শামসুল হকের কোন গ্রন্থে রয়েছে?
  1. তুমি সেই তরবারী
  2. পরানের গহীন ভিতর
  3. হৃৎকলমের টানে
  4. শ্রেষ্ঠ কিশোর কবিতা
সঠিক উত্তর:
শ্রেষ্ঠ কিশোর কবিতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শ্রেষ্ঠ কিশোর কবিতা
ব্যাখ্যা
শ্রেষ্ঠ কিশোর কবিতা:
- ছোটদের জন্যে সৈয়দ শামসুল হকের নির্বাচিত ছড়াকবিতা নিয়ে প্রকাশিত গ্রন্থ 'শ্রেষ্ঠ কিশোর কবিতা'।
- 'আমার পরিচয়' কবিতাটি এই গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।

আমার পরিচয়

আমি জন্মেছি বাংলায়, আমি বাংলায় কথা বলি,
আমি বাংলার আলপথ দিয়ে হাজার বছর চলি।
চলি পলিমাটি কোমলে আমার চলার চিহ্ন ফেলে ।
তেরোশত নদী শুধায় আমাকে কোথা থেকে তুমি এলে?

আমি তো এসেছি চর্যাপদের অক্ষরগুলো থেকে।
আমি তো এসেছি সওদাগরের ডিঙার বহর থেকে।
আমি তো এসেছি কৈবর্তের বিদ্রোহী গ্রাম থেকে।
আমি তো এসেছি পালযুগ নামে চিত্রকলার থেকে।

এসেছি বাঙালি পাহাড়পুরের বৌদ্ধবিহার থেকে।
এসেছি বাঙালি জোড়বাংলার মন্দির-বেদি থাক।
এসেছি বাঙালি বরেন্দ্রভূমে সোনা মসজিদ থেকে।
এসেছি বাঙালি আউল বাউল মাটির দেউল থেকে।

আমি তো এসেছি সার্বভৌম বারো ভূঁইয়ার থেকে।
আমি তো এসেছি কমলার দিঘি মহুয়ার পালা থেকে।
আমি তো এসেছি তিতুমীর আর হাজী শরীয়ত থেকে।
আমি তো এসেছি গীতাঞ্জলি ও অগ্নিবীণার থেকে।

এসেছি বাঙালি ক্ষুদিরাম আর সূর্য সেনের থেকে।
এসেছি বাঙালি জয়নুল আর অবন ঠাকুর থেকে।
এসেছি বাঙালি রাষ্ট্রভাষার লাল রাজপথ থেকে।
এসেছি বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর থেকে।

আমি যে এসেছি জয়বাংলার বজ্রকণ্ঠ থেকে।
আমি যে এসেছি একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ থেকে।
এসেছি আমার পেছনে হাজার চরণচিহ্ন ফেলে।
শুধাও আমাকে, এতদূর তুমি কোন প্রেরণায় এলে?

তবে তুমি বুঝি বাঙালি জাতির বীজমন্ত্রটি শোনো নাই-
'সবার উপরে মানুষ সত্য, তাহার উপরে নাই।'

সৈয়দ শামসুল হক: 
- তিনি ১৯৩৫ সালের ২৭শে ডিসেম্বর কুড়িগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত লেখক হিসেবে সমধিক পরিচিত।
- মানুষের জটিল জীবনপ্রবাহ এবং মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ তাঁর সাহিত্যকর্মের মূল প্রবণতা।
- তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার, আদমজি সাহিত্য পুরস্কার, একুশে পদক ইত্যাদি লাভ করেন।
- তিনি ২০১৬ সালের ২৭শে সেপ্টেম্বর ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত কবিতা:
- একদা এক রাজ্যে,
- বৈশাখে রচিত পঙ্‌ক্তিমালা,
- পরানের গহীন ভিতর,
- বেজান শহরের জন্য কোরাস,
- কাননে কাননে তোমারই সন্ধানে,
- আমি জন্মগ্রহণ করিনি ইত্যাদি।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- এক মহিলার ছবি,
- অনুপম দিন,
- সীমানা ছাড়িয়ে,
- খেলারাম খেলে যা,
- নীল দংশন,
- স্তব্ধতার অনুবাদ,
- বৃষ্টি ও বিদ্রোহীগণ,
- ত্রাহি,
- তুমি সেই তরবারী,
- অন্য এক আলিখান,
- এক মুঠো জন্মভূমি,
- আলোর জন্য,
- রাজার সুন্দরী।

তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- হৃৎকলমের টানে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৬৮.
'হাঁসুলী বাঁকের উপকথা' কোন ধরনের উপন্যাস?
  1. ঐতিহাসিক উপন্যাস
  2. আঞ্চলিক উপন্যাস
  3. রাজনৈতিক উপন্যাস
  4. মহাকাব্যিক উপন্যাস
সঠিক উত্তর:
আঞ্চলিক উপন্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আঞ্চলিক উপন্যাস
ব্যাখ্যা

'হাঁসুলী বাঁকের উপকথা' উপন্যাস:
- 'হাঁসুলী বাঁকের উপকথা' তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত একটি আঞ্চলিক উপন্যাস।
- উপন্যাসটি ১৯৪৭ সালে প্রকাশিত হয়।

-  উপন্যাসে বীরভূমের 'কাহার' সম্প্রদায়ের জীবন, তাদের সংস্কৃতি, ধর্মবিশ্বাস, আচার-আচরণ, লোককথা আন্তরিকতার সাথে তুলে ধরা হয়েছে।

- একদিকে এই সম্প্রদায়ের আত্মবিরোধ, পরিবর্তন ও বিলুপ্তি যেমন কাহিনির একটি প্রধান ধারা, আরেকটি ধারা হলো প্রাচীন সমাজের সঙ্গে নতুন পরিবর্তমান জগতের সংঘাত।

-----------------------
আঞ্চলিক উপন্যাস:
কোনো বিশেষ অঞ্চলের মানুষের জীবনযাপন পদ্ধতি, তাদের হাসি-কান্না এমনকি তাদের আচরণ ও উচ্চারণ অবিকৃত ভঙ্গিতে যে-সকল উপন্যাসে স্থান পায় সেগুলোকে আঞ্চলিক উপন্যাস বলা যায়।
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'আরণ্যক'; তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'হাঁসুলি বাঁকের উপকথা'; সতীনাথ ভাদুড়ির 'ঢোঁড়াই চরিত মানস'; দেবেশ রায়ের 'তিস্তাপারের বৃত্তান্ত'; আলাউদ্দীন আল আজাদের 'কর্ণফুলী'; অদ্বৈত মল্লবর্মণের 'তিতাস একটি নদীর নাম' প্রভৃতি আঞ্চলিক উপন্যাস হিসেবে বিশেষভাবে পরিচিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং উচ্চমাধ্যমিক বাংলা প্রথম পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৬৯.
‘সরীসৃপ’ গল্পগ্রন্থের রচয়িতা -
  1. ক) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. খ) মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. গ) বিষ্ণু দে
  4. ঘ) আবুল ফজল
সঠিক উত্তর:
খ) মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
‘সরীসৃপ’ গল্পগ্রন্থের রচয়িতা মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়। তার রচিত আরো কয়েকটি গল্পগ্রন্থ- অতসী মামী ও অন্যান্য গল্প, প্রাগৈতিহাসিক, মিহি ও মোটা কাহিনী, বৌ, সমুদ্রের স্বাদ, ভেজাল, আজ কাল পরশুর গল্প, ছোট বকুল্পুরের যাত্রী, আত্মহত্যার অধিকার। [সূত্র: LiveMCQ লেকচার]
১৭০.
'শাশ্বত বঙ্গ' কাজী আবদুল ওদুদ রচিত একটি-
  1. ক) গল্পগ্রন্থ
  2. খ) নাটক
  3. গ) উপন্যাস
  4. ঘ) প্রবন্ধ
সঠিক উত্তর:
ঘ) প্রবন্ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) প্রবন্ধ
ব্যাখ্যা

• কাজী আবদুল ওদুদ একজন বাঙালি প্রাবন্ধিক, বিশিষ্ট সমালোচক, নাট্যকার ও জীবনীকার ছিলেন।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- আজাদ,
- নদীবক্ষে।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- শাশ্বত বঙ্গ,
- সমাজ ও সাহিত্য,
- হিন্দু-মুসলমান বিরোধ।

• তাঁর অন্যান্য গ্রন্থ:
- মির পরিবার (গল্প),
- পথ ও বিপথ (নাটক) এবং
- তাঁর সম্পাদনায় প্রকাশিত জনপ্রিয় বাংলা অভিধান: ব্যবহারিক শব্দকোষ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

১৭১.
'এখনও ক্রীতদাস' নাটকের রচয়িতা কে?
  1. আসকার ইবনে শাইখ
  2. মামুনুর রশীদ
  3. আবদুল্লাহ আল মামুন
  4. আনিস চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
আবদুল্লাহ আল মামুন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবদুল্লাহ আল মামুন
ব্যাখ্যা
• 'এখনও ক্রীতদাস' নাটকের রচয়িতা: 'আবদুল্লাহ আল মামুন'। 
------------------------------
• 'এখনও ক্রীতদাস': 
- আব্দুল্লাহ আল মামুন রচিত মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী কাহিনি নিয়ে রচিত নাটক 'এখনও ক্রীতদাস।'
- এই নাটকে ঢাকা শহরে 'গলাচিপা বস্তির যুদ্ধাহত পঙ্গু মুক্তিযোদ্ধা বাক্কা মিয়াঁর পরিবারের মধ্য দিয়ে
প্রকাশ পেয়েছে মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী বাংলাদেশের নিম্নবর্গের মানুষের অসহায় জীবন যাপনের ইতিবৃত্ত। 
- পুরুষতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থায় নারীদের উপর নির্যাতনের চিহ্নও তলে ধরা হয়েছে। 
----------------------
• আবদুল্লাহ আল মামুন:
- আবদুল্লাহ আল মামুন একজন নাট্যকার ও নাট্যাভিনেতা হিসেবে পরিচিত।
- তাঁর একক চরিত্র নির্ভর নাটক হলো 'কোকিলারা'।
- ‘শপথ’ (১৯৬৪) তাঁর প্রকাশিত প্রথম নাটক।

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য নাটক:
- শপথ (প্রথম প্রকাশিত),
- সুবচন নির্বাসনে,
- এখন দুঃসময়,
- এবার ধরা দাও,
- শাহজাদীর কাল নেকাব,
- চারদিকে যুদ্ধ,
- এখনো ক্রীতদাস,
- কোকিলারা,
- মেরাজ ফকিরের মা ইত্যাদি।

 উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৭২.
"রানার ছুটেছে তাই ঝুমঝুম
ঘন্টা রাজছে রাতে রানার
চলেছে খবরের বোঝা হাতে" - কবিতাংশটুকুর রচয়িতা কে?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  3. কাজী নজরুল ইসলাম
  4. জীবনানন্দ দাশ
সঠিক উত্তর:
সুকান্ত ভট্টাচার্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুকান্ত ভট্টাচার্য
ব্যাখ্যা
রানার
– সুকান্ত ভট্টাচার্য

রানার ছুটেছে তাই ঝুম্‌ঝুম্
ঘন্টা বাজছে রাতে
রানার চলেছে খবরের বোঝা হাতে,
রানার চলেছে, রানার !
রাত্রির পথে পথে চলে কোনো নিষেধ জানে না মানার ।
দিগন্ত থেকে দিগন্তে ছোটে রানার-
কাজ নিয়েছে সে নতুন খবর আনার।

'রানার' কবিতা:
- সুকান্ত ভট্টাচার্য রচিত 'ছাড়পত্র' কাব্যগ্রন্থের একটি কবিতা 'রানার'।
- 'রানার' কবিতাটি কবি শ্রমজীবী মানুষদের নিয়ে লিখেছেন।
- ডাক হরকারাকে (যারা প্রাপকের কাছে প্রেরিতের চিঠিপত্র পৌঁছে দেয়) কবি রানার বলেছেন।

সুকান্ত ভট্টাচার্য:
- তিনি ছিলেন মার্কসবাদী ভাবধারায় বিশ্বাসী এবং প্রগতিশীল চেতনার অধিকারী তরুণ কবি।
- ১৯২৬ সালের ১৫ আগস্ট কলকাতায় মাতুলালয়ে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল গোপালগঞ্জ জেলার কোটালিপাড়ায়।
- সুকান্ত ভট্টাচার্য কমিউনিস্ট পার্টির পত্রিকা দৈনিক স্বাধীনতা-র (১৯৪৫) ‘কিশোর সভা’ বিভাগ সম্পাদনা করতেন।
- সুকান্ত ভট্টাচার্যের সাহিত্য-সাধনার মূল ক্ষেত্র ছিল কবিতা। সাধারণ মানুষের জীবনসংগ্রাম, যন্ত্রণা ও বিক্ষোভ তাঁর কবিতার প্রধান বিষয়বস্তু।
- তাঁর রচনাকর্মে গণমানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার বাণীসহ শোষণহীন এক নতুন সমাজ গড়ার অঙ্গীকার উচ্চারিত হয়েছে।
- ‘এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাবো আমি' - সুকান্ত ভট্টাচার্যের বিখ্যাত উক্তি।
- তিনি ২৯শে বৈশাখ, ১৩৫৪; ১৩ই মে, ১৯৪৭ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ:
- ছাড়পত্র,
- ঘুম নেই,
- পূর্বাভাস,
- মিঠে কড়া,
- অভিযান,
- হরতাল,
- গীতিগুচ্ছ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৭৩.
‘অনেক সূর্যের আশা’ সরদার জয়েনউদ্‌দীন রচিত কোন ধরনের সাহিত্য রচনা?
  1. নাটক 
  2. গল্পগ্রন্থ 
  3. উপন্যাস 
  4. প্রবন্ধ
সঠিক উত্তর:
উপন্যাস 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপন্যাস 
ব্যাখ্যা

• ‘অনেক সূর্যের আশা’ উপন্যাস:
- ‘অনেক সূর্যের আশা’ দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের পটভূমিতে সরদার জয়েনউদ্‌দীন রচিত একটি উপন্যাস। ‘অনেক সূর্যের আশা’ উপন্যাস তাঁকে খ্যাতি ও প্রতিষ্ঠা দিয়েছে।
- 'অনেক সূর্যের আশা' উপন্যাসের কাহিনি পরিব্যাপ্ত হয়েছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ থেকে ১৯৫১ সাল পর্যন্ত। কবি রহমতের স্মৃতিকথার মধ্য দিয়ে দেশভাগ ও দেশবিভাগোত্তর পূর্ব বাংলার সামাজিক-রাজনৈতিক পরিস্থিতি উন্মোচিত হয়েছে।

- দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের সময় নিদারুণ অর্থনৈতিক সংকট মানবাত্মাকে চরম বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দিয়েছিলো। এর ফলশ্রুতি-এক মুঠো আহার না পেয়ে মানুষ নিজের ইজ্জত খোলাম-কুচির মতো বিকিয়েছিলো, পশুর চেয়েও নিম্ন স্তরে নেমে গিয়েছিলো তার নৈতিক ধর্ম। সেসব দিনের অনেক ঘটনা চাক্ষুষ দেখবার দুর্ভাগ্য লেখকের হয়েছিল; সেগুলো আঘাত করেছে তাঁর মানসপটে, হৃদয়ে। এ উপন্যাস সেসব মনোবেদনারই জীবন্ত চেতনা বা ভাষারূপ।

------------------------
• সরদার জয়েনউদ্‌দীন:
- সরদার জয়েনউদ্‌দীন মূলত কথাসাহিত্যিক ছিলেন। ১৯১৮ সালে পাবনা জেলার কামারহাটি গ্রামের এক কৃষক পরিবারে তাঁর জন্ম।
- প্রকৃত নাম মুহম্মদ জয়েনউদ্‌দীন বিশ্বাস ।
- সরদার জয়েনউদ্‌দীন ছিলেন একজন জনপ্রিয় কথাশিল্পী।
- তাঁর প্রথম গল্পগ্রন্থ ‘নয়ন ঢুলি’ প্রকাশিত হয় ১৯৫২ সালে এবং এর মাধ্যমেই তিনি ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন।
- সরদার জয়েনউদ্‌দীনের রচনায় গণমানুষের কল্যাণ ও মুক্তিচিন্তার পাশাপাশি সমকালীন সমাজ ও রাজনীতিবিষয়ক ঘটনাবলিও প্রাধান্য পেয়েছে।
- সাহিত্যে অবদানের জন্য তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬৭) এবং কথাসাহিত্যে আদমজি সাহিত্য পুরস্কার (১৯৬৭) লাভ করেন।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- আদিগন্ত,
- অনেক সূর্যের আশা,
- বেগম শেফালী মির্জা,
- রোদের ঢেউ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৭৪.
‘নেকড়ে অরণ্য’ শওকত ওসমানের রচিত কোন ধরনের রচনা?
  1. উপন্যাস
  2. গল্প
  3. প্রবন্ধ
  4. কবিতা
সঠিক উত্তর:
উপন্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপন্যাস
ব্যাখ্যা

‘নেকড়ে অরণ্য’ শওকত ওসমানের রচিত একটি  মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস। 

শওকত ওসমান:
- তিনি জন্মগ্রহণ করেন ২ জানুয়ারি ১৯১৭ সালে, পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে।
- তিনি একজন  কথাসাহিত্যিক ও প্রাবন্ধিক।
- তাঁর প্রকৃত নাম হচ্ছে  শেখ আজিজুর রহমান।
- উপন্যাস ও গল্প রচনায় তিনি বিশেষভাবে সুপরিচিত, তবে প্রবন্ধ, নাটক, রম্যরচনা, স্মৃতিকথা ও শিশুতোষ গ্রন্থও তিনি লিখেছেন।
- উল্লেখযোগ্য উপন্যাস: ‘জননী’ এবং ‘ক্রীতদাসের হাসি’। 
- ১৯৯৮ সালে ১৮ই মে তিনি মারা যান। 

তাঁর প্রাপ্ত পুরস্কার গুলোর মধ্যে রয়েছে:
- বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬২),
- আদমজি সাহিত্য পুরস্কার (১৯৬৬),
- একুশে পদক (১৯৮৩),
- ফিলিপস পুরস্কার (১৯৯১),
- স্বাধীনতা দিবস পুরস্কার (১৯৯৭)। 

তাঁর উপন্যাসগুলো হলো:
- জননী,
- ক্রীতদাসের হাসি,
- সমাগম,
- চৌরসন্ধি,
- রাজা উপাখ্যান,
- জাহান্নাম হইতে বিদায়,
- দুই সৈনিক,
- নেকড়ে অরণ্য,
- পতঙ্গ,
- পিঞ্জর। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া। 

১৭৫.
সংস্কৃত মহাভারতের বাংলা গদ্যানুবাদ করেন কে?
  1. কালীপ্রসন্ন সিংহ
  2. গিরিশচন্দ্র ঘোষ
  3. চণ্ডীচরণ মুনশী
  4. প্যারীচাঁদ মিত্র
সঠিক উত্তর:
কালীপ্রসন্ন সিংহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কালীপ্রসন্ন সিংহ
ব্যাখ্যা

• কালীপ্রসন্ন সিংহ:
- তিনি ছিলেন একাধারে সংগঠক, সাংবাদিক, লেখক, সমাজকর্মী।
- বাংলা সাহিত্যে 'হুতোমী বাংলা' রীতির প্রবর্তক কালীপ্রসন্ন সিংহ।
- কালীপ্রসন্ন সিংহ মাত্র তেরো বছর বয়সে 'বিদ্যোৎসাহিনী সভা' প্রতিষ্ঠা করেন।
- বিদ্যোৎসাহিনী সভাতে সদস্যরা প্রতি সপ্তাহে মিলিত হয়ে নিয়মিত প্রবন্ধ উপস্থাপন ও আলোচনা করতেন।

তাঁর রচিত বিখ্যাত দুইটি গ্রন্থ:
• হুতোম প্যাঁচার নকশা:
- হুতোম প্যাঁচার নকশা তাঁর শ্রেষ্ঠ মৌলিক রচনা।
- এতে কলকাতার সামাজিক ব্যঙ্গচিত্র অঙ্কন করা হয়েছে এবং কলকাতার কথ্য ভাষাকে প্রথম সাহিত্যে স্থান দেওয়া হয়েছে।
- বাংলা গদ্যের উন্নয়নে হুতোম প্যাঁচার নকশা মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত।

• সংস্কৃত মহাভারতের গদ্য-অনুবাদ:
- সতেরো খণ্ডে সংস্কৃত মহাভারতের বাংলা গদ্যানুবাদও তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ সাহিত্যকীর্তি।
- এটি বাংলা সাহিত্যের একটি অনন্য দৃষ্টান্ত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৭৬.
আবুল মনসুর আহমদ রচিত রাজনীতিবিষয়ক গ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) পলাশী থেকে পাকিস্তান
  2. খ) শেরে বাংলা থেকে বঙ্গবন্ধু
  3. গ) পলাশী থেকে ধানমণ্ডি
  4. ঘ) শেখ মুজিবঃ তাঁকে যেমন দেখেছি
সঠিক উত্তর:
খ) শেরে বাংলা থেকে বঙ্গবন্ধু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) শেরে বাংলা থেকে বঙ্গবন্ধু
ব্যাখ্যা
আবুল মনসুর আহমদ (১৮৯৮-১৯৭৯): সাংবাদিক, আইনজীবী, রাজনীতিবিদ, সাহিত্যিক। তিনি আওয়ামীলীগের প্রতিষ্ঠাতা নেতা (১৯৫৩-৫৮ সাল পর্যন্ত সহ-সভাপতি) এবং যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী ইশতেহারের ২১ দফার অন্যতম প্রণেতা। তাঁর রচিত রাজনীতিবিষয়ক গ্রন্থ: আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর (১৯৬৯), শেরে বাংলা থেকে বঙ্গবন্ধু (১৯৭২)।
‘পলাশী থেকে ধানমণ্ডি’ (২০০৭) নামে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনভিত্তিক চলচ্চিত্র নির্মাণ করে খ্যাতি অর্জন করেন আবদুল গাফফার চৌধুরী। আবুল কালাম শামসুদ্দীন রচিত ‘পলাশী থেকে পাকিস্তান’ (ইতিহাস বিষয়ক গ্রন্থ, ১৯৬৮)। আবুল ফজল রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ ‘শেখ মুজিবঃ তাঁকে যেমন দেখেছি (১৯৭৮)।
[সূত্রঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর]
১৭৭.
স্বর্ণকুমারী দেবী রচিত প্রথম উপন্যাস -
  1. মালতী
  2. দীপনির্বাণ
  3. মেবার রাজ
  4. বিচিত্রা
সঠিক উত্তর:
দীপনির্বাণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দীপনির্বাণ
ব্যাখ্যা

• স্বর্ণকুমারী দেবী:
- তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এর ভগ্নী।
- আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম বাঙালি মহিলা ঔপন্যাসিক।
- স্বর্ণকুমারী দীর্ঘ ত্রিশ বছর মাসিক ভারতী পত্রিকার লেখক ও সম্পাদক হিসেবে খ্যাতি লাভ করেন।
- তিনি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের কন্যা এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বড় বোন ছিলেন।
- তাঁর রচিত প্রথম উপন্যাস 'দীপনির্বাণ'।
- সম্ভবত তার সবচেয়ে সেরা গ্রন্থ কাহাকে (১৮৯৮)। এ গ্রন্থটি The Unfinished Song নামে ইংরেজিতে অনূদিত হয়।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- দীপ নির্বাণ,
- মেবার রাজ,
- মালতী,
- বিদ্রোহ,
- বিচিত্রা,
- স্বপ্নবাণী,
- মিলনরাত্রি।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- গাঁথা,
- কবিতা ও গান।

তাঁর রচিত নাটক:
- বসন্ত উৎসব,
- দেব কৌতুক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৭৮.
'বাবু বৃত্তান্ত' আত্মজীবনীটি লিখেছেন কে?
  1. ক) সিকান্দার আবু জাফর
  2. খ) শামসুর রাহমান
  3. গ) সমর সেন
  4. ঘ) রণেশ দাশ
সঠিক উত্তর:
গ) সমর সেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সমর সেন
ব্যাখ্যা
সমর সেন বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগের নাগরিক কবি হিসেবে পরিচিত।
তিনি রবীন্দ্রনাথের কাব্যধারার বিপরীতে কাব্য রচনা করেন।
সমর সেন  কবি, সাহিত্যিক।
তিনি ১৯১৬ সালের ১০ অক্টোবর কলকাতার বাগবাজারে জন্ম গ্রহণ করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ গুলো হলো-
- কয়েকটি কবিতা,
- গ্রহণ ও অন্যান্য কবিতা,
- নানাকথা,
- খোলাচিঠি,
- তিন পুরুষ,
- সমর সেনের কবিতা

তাঁর রচিত গদ্যগ্রন্থ
- বাবু বৃত্তান্ত (আত্মজীবনী)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৭৯.
'শাশ্বত বঙ্গ' এর লেখক কে?
  1. কাজী মোতাহার হোসেন
  2. কাজী ইমদাদুল হক
  3. এস ওয়াজেদ আলী
  4. কাজী আবদুল ওদুদ
সঠিক উত্তর:
কাজী আবদুল ওদুদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাজী আবদুল ওদুদ
ব্যাখ্যা
• শাশ্বত বঙ্গ:
- কাজী আবদুল ওদুদ রচিত ‘শাশ্বত বঙ্গ’ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য এবং বাঙালির সাংস্কৃতিক ইতিহাসের বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য একটি গ্রন্থ।
- একটি কবিতাসহ ৭৫টি প্রবন্ধ নিয়ে সংকলিত হয় এ গ্রন্থ।
- গ্রন্থটি প্রথম প্রকাশিত হয় বাংলা ১৩৫৮ সনে, কলকাতা থেকে।
- কাজী আবদুল ওদুদ রচিত নবর্পয্যায় (১ম ও ২য় খণ্ড), রবীন্দ্রকাব্য পাঠ, সমাজ ও সাহিত্য, হিন্দু-মুসলমানের বিরোধ, আজকার কথা, নজরুল প্রতিভা, স্বাধীনতা-দিনের উপহার প্রভৃতি গ্রন্থের নির্বাচিত প্রবন্ধ এবং অপ্রকাশিত কিছু প্রবন্ধ নিয়ে গ্রন্থ আকারে ‘শাশ্বত বঙ্গ’ সংকলিত হয়।

--------------------------------
কাজী আবদুল ওদুদ:
- কাজী আবদুল ওদুদ একজন শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক, চিন্তাবিদ।
- তিনি ১৮৯৪ সালের ২৬ এপ্রিল ফরিদপুর জেলার পাংশা উপজেলার বাগমারা গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- আধুনিক বাংলা সাহিত্যের ধারায় কাজী আবদুল ওদুদের প্রধান পরিচয় চিন্তাশীল লেখক হিসেবে। তবে তাঁর লেখালেখি শুরু হয় কথাসাহিত্যের মাধ্যমে।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ মীর পরিবার পাঁচটি গল্পের সংকলন।
- এরপর তিনি তিনটি গল্প রচনা করেন যা পরবর্তী সময়ে তরুণ (১৯৪৮) গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত হয়।
- নদীবক্ষে ও আজাদ (১৯৪৮) তাঁর দু’টি উপন্যাস।
- নাটকও রচনা করেন দু’টি ‘পথ ও বিপথ’ (১৯৩৯) এবং ‘মানব-বন্ধু’। মানব-বন্ধু পরবর্তীকালে তরুণ গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৮০.
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের প্রতিষ্ঠিত পত্রিকা কোনটি?
  1. সংবাদ প্রভাকর
  2. দিকদর্শন
  3. বঙ্গদর্শন
  4. তত্ত্ববোধিনী
সঠিক উত্তর:
সংবাদ প্রভাকর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সংবাদ প্রভাকর
ব্যাখ্যা
• 'সংবাদ প্রভাকর' পত্রিকা:
- 'সংবাদ প্রভাকর' পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত।
- তিনি ১৮৩১ সালে সংবাদ প্রভাকর (সাপ্তাহিক) পত্রিকা প্রতিষ্ঠা করেন। কিছুদিনের মধ্যেই বন্ধ হয়ে যায় কিন্তু ১৮৩৬ সালে পুনর্বার ছাপা হয়।
- ১৮৩৯ সালে বাংলা ভাষায় প্রথম দৈনিক পত্রিকা হিসেবে প্রকাশিত হয়।সংবাদ প্রকাশের পাশাপাশি এই পত্রিকায় সাহিত্যচর্চাও হতো।
- 'বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়', 'দীনবন্ধু মিত্রের' প্রাথমিক রচনাগুলোও সংবাদ প্রভাকরেই প্রথম প্রকাশিত হতো।

অন্যদিকে, 
• জন ক্লার্ক মার্শম্যান কর্তৃক 'দিকদর্শন' প্রথম বাংলা সাময়িকপত্রটি ১৮১৮ সালে শ্রিরামপুর মিশন থেকে প্রকাশিত হয়।
• ১৮৭২ সালে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কর্তৃক 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকাটি প্রথম প্রকাশিত হয়।
• ১৮৪৩ সালের ১৬ আগস্ট দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের পৃষ্ঠপোষকতায় ও অক্ষয়কুমার দত্তের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৮১.
ভাষা আন্দোলনের প্রথম সংকলন 'একুশে ফেব্রুয়ারি' গ্রন্থের সম্পাদক কে ছিলেন?
  1. হাসান হাফিজুর রহমান
  2. সৈয়দ শামসুল হক
  3. আবু বকর সিদ্দিক
  4. সরদার ফজলুল করিম
সঠিক উত্তর:
হাসান হাফিজুর রহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাসান হাফিজুর রহমান
ব্যাখ্যা
• 'একুশে ফেব্রুয়ারী' সংকলন:
- ১৯৫৩ সালে হাসান হাফিজুর রহমানের সম্পাদনায় ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে প্রথম সাহিত্য সংকলন 'একুশে ফেব্রুয়ারী' প্রকাশিত হয়।
- এই সংকলনে স্থান পেয়েছিল একুশের প্রবন্ধ, গল্প, কবিতা, গান, নকশা ও ইতিহাস।
- ১৯৫৩ সালে 'পুথিপত্র' থেকে এটি প্রকাশ করেন বিশিষ্ট বামপন্থী রাজনৈতিককর্মী মোহাম্মদ সুলতান। 
- 'আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো /একুশে ফেব্রুয়ারী/ আমি কি ভুলিতে পারি'  গানটি প্রথম এ গ্রন্থে সংকলিত হয়
- এটি প্রকাশের তিন সপ্তাহের মধ্যে তৎকালীন পাকিস্তান সরকার সংকলনটি বাজেয়াপ্ত করে। 
 
--------------------
• হাসান হাফিজুর রহমান:
- হাসান হাফিজুর রহমান ১৯৩২ সালে জামালপুরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর সম্পাদনায় প্রকাশিত ভাষা আন্দোলন নিয়ে প্রথম সংকলন গ্রন্থ “একুশে ফেব্রুয়ারি”। এটি ১৯৫৩ সালে প্রকাশিত হয়। 
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র - এর সম্পাদকও তিনি।
 
• হাসান হাফিজুর রহমান রচিত প্রবন্ধ:
- আধুনিক কবি ও কবিতা, 
- মূল্যবোধের জন্য, 
- সাহিত্য প্রসঙ্গ, 
- আলোকিত গহ্বর ইত্যাদি।
 
• হাসান হাফিজুর রহমান রচিত কাব্যগ্রন্থ: 
- বিমুখ প্রান্তর,
- প্রতিবিম্ব,
- আর্ত শব্দাবলী,
- অন্তিম শহরের মতো,
- যখন উদ্যত সঙ্গীন,
- ভবিতব্যের বাণিজ্য তরী,
- শোকার্ত তরবারী ইত্যাদি।
 
• হাসান হাফিজুর রহমান রচিত গল্প:
- আরো দুটি মৃত্যু। 
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৮২.
ইলা মিত্রকে নিয়ে সেলিনা হোসেনের উপন্যাসের নাম-
  1. ক) অরণ্য বহ্নি
  2. খ) কাঁটাতারে প্রজাপতি
  3. গ) নিরন্তর ঘণ্টাধ্বনি
  4. ঘ) ওঙ্কার
সঠিক উত্তর:
খ) কাঁটাতারে প্রজাপতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কাঁটাতারে প্রজাপতি
ব্যাখ্যা
- সেলিনা হোসেনের 'কাঁটাতারে প্রজাপতি' উপন্যাসে ইলা মিত্রের কথা উল্লেখ্য করা হয়েছে।

'কাঁটাতারে প্রজাপতি'

- উপন্যাসটি নাচোলের তে-ভাগা আন্দোলনের শিল্পরূপ।
- এ উপন্যাসে ইলা মিত্রের মতো ইতিহাসের পাত্র-পাত্রীর পাশাপাশি উঠে এসেছে আরো অনেক সাধারণ জন আনন্দ-বেদনা, আশা-নিরাশা, সফলতা-ব্যর্থতা নিয়ে
যাদের প্রত্যেকে একেজন পরিপূর্ণ মানুষ।
- ইতিহাসের বিচারে তেভাগা আন্দোলন হয়তো কাঙ্ক্ষিত পরিণতি অর্জন করতে সকল নি. কিন্তু এ এক অমোঘ সত্য যে কখনো শেষ হয় না জনগণের শক্তি ও সংগ্রাম।
 
সেলিনা হোসেন
- তিনি ১৯৪৭ সালের ১৪ জুন রাজশাহী শহরে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি মূলত একজন কথাশিল্পী
- অবরুদ্ধ সমাজে মুক্তচিন্তা ও মানুষের মুক্তির আকুতি তার উপন্যাসের প্রধান আলোচ্য বিষয়।
- তিনি ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২২ সাল থেকে বাংলা একাডেমির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।

তাঁর রচিত কয়েকটি বিখ্যাত উপন্যাস হচ্ছে -
- হাঙ্গর নদী গ্রেনেড,
- জলোচ্ছ্বাস,
- নীল ময়ূরের যৌবন,
- পোকা মাকড়ের ঘরবসতি,
- নিরন্তর ঘন্টাধ্বনি,
- আগষ্টের একরাত,
- খুন ও ভালোবাসা,
- কাঁটাতারের প্রজাপতি,
- গায়ত্রী সন্ধ্যা,
- অপেক্ষা,
- গেরিলা ও বীরাঙ্গনা,
- ঘুমকাতুরে ঈশ্বর,
- পূর্ণছবির মগ্নতা,
- ভালোবাসা প্রীতিলতা,
- কালকেতু ও ফুল্লরা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং কাঁটাতারে প্রজাপতি, সেলিনা হোসেন।
১৮৩.
"খোয়াবনামা" উপন্যাসের প্রেক্ষাপট কোনটি?
  1. পাকিস্তান আন্দোলন
  2. ১৯৪৩-এর মন্বন্তর
  3. তেভাগা আন্দোলন
  4. সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
ব্যাখ্যা

"খোয়াবনামা" উপন্যাস:
- আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের একটি বিখ্যাত উপন্যাস,
- ১৯৪৩-এর মন্বন্তর, পাকিস্তান আন্দোলন, দেশভাগ এবং তেভাগা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে রচিত এ উপন্যাস।
- এই উপন্যাসে, গ্রামীণ জীবন, কৃষক সমাজের সংগ্রাম, এবং দেশভাগের ফলে সৃষ্ট সংকট ও সাম্প্রদায়িক বিভাজন ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। 

আখতারুজ্জামান ইলিয়াস: 
- তিনি ছিলেন বাংলাদেশী ছোটগল্পকার, ঔপন্যাসিক, এবং অধ্যাপক। 
- তাঁর পূর্ণনাম আখতারুজ্জামান মুহম্মদ ইলিয়াস।
- ১৯৪৩ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি গাইবান্ধা জেলার গোটিয়া গ্রামে মাতুলালয়ে তাঁর জন্ম।

তঁর রচিত উপন্যাস:
- চিলেকোঠার সেপাই,
- খােয়াবনামা।

তাঁর রচিত ছােটগল্প:
- অন্য ঘরে অন্য স্বর ,
- খোয়ারি ,
- দুধভাতে উৎপাত ,
- দোজখের ওম।
- রেইনকোট।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৮৪.
'নকশী কাঁথার মাঠ' কাব্যের নায়িকা-
  1. ক) রুপা
  2. খ) সাজু
  3. গ) টুনি
  4. ঘ) রুপাই
সঠিক উত্তর:
খ) সাজু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সাজু
ব্যাখ্যা
• 'নকশী কাঁথার মাঠ' কাব্যের নায়িকা - সাজু
- জসীম উদদীনের বিখ্যাত কাহিনিকাব্য - নকশী কাঁথার মাঠ।
- ১৯২৯ সালে নকশী কাঁথার মাঠ কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয়।
- এটি ইংরেজিতে অনুবাদ করেন ই. এম. মিলফোর্ড।
- ইংরেজি অনুবাদের নাম - The Field of Embroidered Quilt.
- নকশী কাঁথার মাঠ কাব্যোপন্যাসটি রূপাই ও সাজু নামক দুই গ্রামীণ যুবক-যুবতীর অবিনশ্বর প্রেমের করুণ কাহিনী। এই দুজনই ছিলেন বাস্তব চরিত্র।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া। 
১৮৫.
সামরিক শাসক আইয়ুব খানের সমালােচনা করে রূপক-প্রতীকের আশ্রয়ে লেখা উপন্যাস কোনটি?
  1. আর্তনাদ
  2. বনী আদম
  3. ক্রীতদাসের হাসি
  4. দুই সৈনিক
সঠিক উত্তর:
ক্রীতদাসের হাসি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্রীতদাসের হাসি
ব্যাখ্যা

• "ক্রীতদাসের হাসি" উপন্যাস:
শওকত ওসমানের কালােত্তীর্ণ উপন্যাস ক্রীতদাসের হাসি। এটি একটি প্রতিকাশ্রয়ী উপন্যাস। উপন্যাসটি ১৯৬২ সালে প্রকাশিত হয়। উপন্যাসে তৎকালীন সামরিক শাসক আইয়ুব খানের সমালােচনা করা হয়েছিল রূপক-প্রতীকের আশ্রয়ে।

- বাগদাদের বাদশা হারুন অর রশিদ অত্যাচারী। সে ক্রীতদাস তাতারি ও বাঁদি মেহেরজানের প্রণয়ে বাধা সৃষ্টি এবং তাতারিকে গৃহবন্দি ও অত্যাচার করে।
- তাতারি আমৃত্যু বাদশা হারুনের নির্যাতনের প্রতিবাদ করে যায়।
- এখানে তাতারি বাঙালি জনতার এবং বাদশা হারুন আইয়ুব খানের প্রতীক তাতারির হাসি উপন্যাসে বাঙালির স্বাধীনতার প্রতীক হয়ে উঠেছে।
- এটি শওকত ওসমানের সর্বশ্রেষ্ঠ উপন্যাস বলে স্বীকৃত। এই গ্রন্থ রচনার জন্য তাঁকে আদমজি পুরস্কার দেয়া হয় ১৯৬৬ সালে।

-------------------------
• শওকত ওসমান:
- শওকত ওসমান কথাসাহিত্যিক ও প্রাবন্ধিক।
- ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান; ‘শওকত ওসমান’ তাঁর সাহিত্যিক নাম।
- ‘নেকড়ে অরণ্য’ - শওকত ওসমান রচিত উপন্যাস। মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে রচিত নেকড়ে অরণ্য গ্রন্থে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী কর্তৃক বাংলার নরনারীর নির্যাতনের করুণ বিবরণ আছে।
- তাঁর জননী ও ক্রীতদাসের হাসি উপন্যাস দুটি প্রশংসিত হয়েছে।
- জননীতে সামাজিক জীবন ও ক্রীতদাসের হাসিতে রাজনৈতিক জীবনের কিছু অন্ধকার দিক উন্মোচিত হয়েছে।
- 'জাহান্নম হইতে বিদায়' শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।

• শওকত ওসমান রচিত কয়েকটি উপন্যাস-
- ক্রীতদাসের হাসি,
- সমাগম,
- রাজা উপাখ্যান,
- দুই সৈনিক,
- নেকড়ে অরণ্য,
- পতঙ্গ পিঞ্জর,
- রাজসাক্ষী,
- জলাঙ্গী,
- পুরাতন খঞ্জর,
- বনি আদম,
- জননী,
- চৌরসন্ধি,

• শওকত ওসমান রচিত নাটক-
- তস্কর নস্কর,
- পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা,
- আমলার মামলা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ও বাংলাপিডিয়া।

১৮৬.
‘হুইটম্যানের কবিতা’ বাংলায় অনুবাদ করেন-
  1. ক) সৈয়দ আলী আহসান
  2. খ) সিকান্দার আবু জাফর
  3. গ) হাসান হাফিজুর রহমান
  4. ঘ) হুমায়ুন আজাদ
সঠিক উত্তর:
ক) সৈয়দ আলী আহসান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সৈয়দ আলী আহসান
ব্যাখ্যা
সৈয়দ আলী আহসান রচিত অনুবাদ গ্রন্থঃ হুইটম্যানের কবিতা, ইডিপাস ইত্যাদি। তার অন্যান্য কাব্যঃ অনেক আকাশ, একক সন্ধ্যায় বসন্ত, সহসা সচকিত, উচ্চারণ, সমুদ্রেই যাবো ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর
১৮৭.
'কাশবনের কন্যা' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. শামসুদ্দীন আবুল কালাম
  2. শওকত ওসমান
  3. আবুল কালাম শামসুদ্দীন
  4. শওকত আলী
সঠিক উত্তর:
শামসুদ্দীন আবুল কালাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শামসুদ্দীন আবুল কালাম
ব্যাখ্যা

'কাশবনের কন্যা' উপন্যাস:
- শামসুদ্দীন আবুল কালাম রচিত উপন্যাস ‘কাশবনের কন্যা’। 
- উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৫৪ সালে।
- শামসুদ্দীন আবুল কালামের 'কাশবনের কন্যা' উপন্যাসে গ্রামকে এমনভাবে তুলে আনা হয়েছে যে, দুঃখ দারিদ্রতা থাকলেও গ্রামেই সুখের স্বর্গ, সমস্ত বিশ্বাসের আধার।
- উপন্যাসে বরিশাল অঞ্চলের ভূপ্রকৃতি, লোকজীবন, গ্রামীণ দিগন্ত চিত্রায়িত হয়েছে।
- এই উপন্যাসের চরিত্র সমূহ: সিকদার, হোসেন, জোবেদা, মেহেরজান ইত্যাদি।

শামসুদ্দীন আবুল কালাম:
- শামসুদ্দীন আবুল কালাম ১৯২৬ খ্রিস্টাব্দের আগস্ট মাসে বরিশালের নলছিটি থানার কামদেবপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- শামসুদ্দীন বরিশাল জেলা স্কুল থেকে ম্যাট্রিক (১৯৪১), ব্রজমোহন কলেজ থেকে আই.এ (১৯৪৩) এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি.এ (১৯৪৬) পাস করেন।

তাঁর রচনাসমূহ হলো:
• গল্পগ্রন্থ:
- অনেক দিনের আশা,
- ঢেউ,
- পথ জানা নাই,
- দুই হৃদয়ের তীর,
- শাহের বানু।

• উপন্যাস:
- আলমনগরের উপকথা,
- কাশবনের কন্যা,
- কাঞ্চনমালা,
- জায়মঙ্গল,
- কাঞ্চনগ্রাম,
- পুঁই ডালিমের কাব্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞেসা; বাংলাপিডিয়া।

১৮৮.
আধুনিক যুগের কোন সাহিত্যিককে 'অবক্ষয়' যুগের কবিও কে?
  1. বুদ্ধদেব বসু
  2. সজনীকান্ত দাস
  3. অদ্বৈত মল্লবর্মণ
  4. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
ব্যাখ্যা

• যুগসন্ধির কাল:
- ১২০১-১৮০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সময়টাকে বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগ হিসেবে ধরা হয়।
- আর ১৮০১ খ্রিস্টাব্দ - বর্তমান হচ্ছে আধুনিক যুগ।

- এর মধ্যে ১৭৬০ থেকে ১৮৬০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত এই শত বছরের সময়কে বাংলা সাহিত্যের 'যুগসন্ধির কাল' বলা হয়। মধ্যযুগের শেষ ও আধুনিকযুগের সূচনালগ্নের এই শত বছরে চলেছে একটি নীরব প্রস্তুতি। এই প্রস্তুরি প্রধান পুরোহিত ছিলেন কবি ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত।
- ১৭৬০ থেকে ১৮৬০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সময়কে 'যুগসন্ধির কাল' বা 'যুগসন্ধিক্ষণ' বা 'অবক্ষয় যুগ' বলা হয়ে থাকে।

- মধ্যযুগের শেষ প্রতিনিধি ভারতচন্দ্র এবং আধুনিক যুগের প্রথম পুরুষ মাইকেল মধুসূদন, এই দুই মনীষীর মধ্যবর্তীকালে ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের আবির্ভাব।
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তে মধ্যে মধ্যযুগের কাব্য বৈশিষ্ট্য ও আধুনিক যুগের সূচনা বৈশিষ্ট্য সমানভাবে লক্ষ্য করা যায় বলে তাঁকে যুগসন্ধির কবি বা 'অবক্ষয় যুগ' এর কবি বলা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া।

১৮৯.
মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন ইউনেস্কোতে কর্মরত কোন সাহিত্যিক বাংলাদেশের পক্ষে বিশ্ব জনমত গড়ার ক্ষেত্রে কাজ করেন?
  1. ক) সৈয়দ ওয়ালিউল্লাহ্‌
  2. খ) দীনবন্ধু মিত্র
  3. গ) শামসুর রহমান
  4. ঘ) আহমেদ শরীফ
সঠিক উত্তর:
ক) সৈয়দ ওয়ালিউল্লাহ্‌
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সৈয়দ ওয়ালিউল্লাহ্‌
ব্যাখ্যা
সৈয়দ ওয়ালিউল্লাহ্‌ মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন ইউনেস্কোতে কর্মরত ছিলেন এবং বাংলাদেশের পক্ষে বিশ্ব জনমত গড়ে তোলার ক্ষেত্রে কাজ করেন।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
১৯০.
Buddhist Mystic Songs এর সঙ্গে কার নাম জড়িত?
  1. ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  2. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্
  3. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
  4. সুকুমার সেন
সঠিক উত্তর:
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা:
- Buddhist Mystic Songs চর্যাপদের ইংরেজি অনুবাদ।
- এটি ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ অনুবাদ ও সম্পাদনা করেন।
- প্রকাশিত হয় ১৯৬০ সালে। এই গ্রন্থে ৫০ টি পদ রয়েছে।
উৎস : Buddhist Mystic Songs.

১৯১.
নির্মলেন্দু গুণের জন্মস্থান কোথায়?
  1. কিশোরগঞ্জ
  2. নেত্রকোনা
  3. ময়মনসিংহ
  4. সুনামগঞ্জ
সঠিক উত্তর:
নেত্রকোনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নেত্রকোনা
ব্যাখ্যা

নির্মলেন্দু গুণ:
- নির্মলেন্দু গুণ ১৯৪৫ সালে নেত্রকোনার বারহাট্টার কাশবন গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।


- তিনি মূলত একজন কবি ছিলেন।
- তাঁকে বাংলাদেশের কবিদের কবি বলা হয়।
- তাঁর ডাকনাম ছিলো রতন। 
- তাঁর কবিতায় প্রেম, বিপ্লব, গ্রামীণ মানুষের জীবন, সমাজ-বাস্তবতা ও রাজনৈতিক চেতনা প্রকাশ পেয়েছে।
- নির্মলেন্দু গুণকে ১৯৮২ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।
- সেই বছরই তিনি আলাওল সাহিত্য পুরস্কারও পান।
- ২০০১ সালে তাঁকে একুশে পদক প্রদান করা হয়।

কাব্যগ্রন্থ:
- প্রেমাংশুর রক্ত চাই,
- না প্রেমিক না বিপ্লবি,
- চাষাভূষার কাব্য,
- মুজিব লেলিন ইন্দিরা,
- হুলিয়া। 

অনুবাদ কবিতা:
- রক্ত আর ফুলগুলি,
- তোহু,
- রাজনৈতিক কবিতা। 

উল্লেখযোগ্য ছোটগল্প:
- অন্তর্জাল,
- আপনদলের মানুষ। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

১৯২.
সৈয়দ আলী আহসান রচিত কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. অনল প্রবাহ
  2. আকাঙ্ক্ষা
  3. একক সন্ধ্যায় বসন্ত
  4. স্পেন বিজয় কাব্য
সঠিক উত্তর:
একক সন্ধ্যায় বসন্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
একক সন্ধ্যায় বসন্ত
ব্যাখ্যা
• সৈয়দ আলী আহসান:
- তিনি মূলত শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক ছিলেন। তিনি ১৯২২ সালের ২৬শে মার্চ মাগুরা জেলার আলোকদিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৯৩৭ সালে আর্মানীটোলা স্কুলে অধ্যয়নকালে স্কুল ম্যাগাজিনে সৈয়দ আলী আহসানের 'The Rose' নামে একটি ইংরেজি কবিতা প্রকাশিত হয়।
- রাজশাহী ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
- ১৯৬৭ সালে তিনি কবিতার জন্য বাংলা একাডেমি পুরস্কার, ১৯৮৩ সালে একুশে পদক এবং ১৯৮৭ সালে স্বাধীনতা পদক লাভ করেন।
- ২০০২ সালের ২৫ জুলাই তাঁর বর্ণাঢ্য কর্মময় জীবনের অবসান ঘটে।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- অনেক আকাশ,
- একক সন্ধ্যায় বসন্ত,
- সহসা সচকিত,
- উচ্চারণ,
- আমার প্রতিদিনের শব্দ,
- সমুদ্রেই যাবো।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ-গবেষণাগ্রন্থ:
- কবিতার কথা,
- নজরুল ইসলাম,
- রবীন্দ্র কাব্যবিচারের ভূমিকা,
- কবিতার কথা ও অন্যান্য বিবেচনা,
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস,
- পদ্মাবতী।

• তাঁর রচিত আত্মজীবনী:
- আমার সাক্ষ্য।

অন্যদিকে, 
সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- অনল প্রবাহ,
- আকাঙ্ক্ষা,
- স্পেন বিজয় কাব্য ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
১৯৩.
কোন উপন্যাসে গ্রাম্য মুসলমান সমাজের করুণচিত্র অঙ্কিত হয়েছে?
  1. ক) আনোয়ারা
  2. খ) জোহরা
  3. গ) বিষবৃক্ষ
  4. ঘ) পথের পাঁচালী
সঠিক উত্তর:
খ) জোহরা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) জোহরা
ব্যাখ্যা
মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক (১৮৬০-১৯৩৩)

মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক ১৮৬০ সালে নদীয়ার শান্তিপুরের বাউইগাছি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি কবি ও গদ্যশিল্পী।

- তিনি 'শান্তিপুরের কবি' নামে পরিচিত।
- কলকাতা থেকে প্রকাশিত 'সময়' পত্রিকায় কিছুকাল সাংবাদিকতা করেন।
- বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ তাকে ‘কাব্যকণ্ঠ' উপাধি দেয়।

উপন্যাস
- দরাফখান গাজী (১৯১৯)
- জোহরা (১৯২৯)।
(গ্রাম্য মুসলমান সমাজের এক করুণচিত্র এই উপন্যাসে অঙ্কিত হয়েছে। কন্যার মতামত অগ্রাহ্য করে আত্মীয়স্বজনেরা বিয়ে দিতে গিয়ে কন্যার জীবনে যে দুর্ভোগের সৃষ্টি করে তা-ই এ গ্রন্থের উপজীব্য।)
- রঙ্গিলাবাঈ

কাব্য
- কুসুমাঞ্জলি (১৮৮১)
- অপূর্ব দর্শন (১৮৮৫)
- প্রেমহার (১৮৯৮)
- হযরত মুহম্মদ (১৯০৩)
- জাতীয় ফোয়ারা (১৯১২)
- ইসলাম সংগীত (১৯২৩)।

জীবনীগ্রন্থ
- মহর্ষি মনসুর (১৮৯৬)
- ফেরদৌসি চরিত (১৮৯৮)
- বড়পীর চরিত
- তাপস কাহিনী (১৯০৪, এতে সাতজন প্রখ্যাত আওলিয়ার জীবনকাহিনি রয়েছে)
- টিপু সুলতান (১৯৩১)।

গদ্যগ্রন্থ
- শাহনামা (১৯০৯, ফেরদৌসির শাহনামার প্রথমাংশের গদ্যানুবাদ)
- হাতেমতাই (১৯১৯)।

সম্পাদিত পত্রিকা
- লহরী (১৯০০)। শান্তিপুর থেকে প্রকাশিত মাসিক কবিতা পত্রিকা। এর প্রধান লেখক ছিলেন ডি.এল. রায়।
- মোসলেম ভারত (১৯২০)। এ পত্রিকার মাধ্যমে কাজী নজরুল ইসলাম ব্যাপকভাবে সাহিত্যচর্চা শুরু করেন।


তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
১৯৪.
'চিলেকোঠার সেপাই' উপন্যাসটি কার রচনা?
  1. আহমদ ছফা
  2. আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
  3. হুমায়ূন আহমদ
  4. আনোয়ার পাশা
সঠিক উত্তর:
আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
ব্যাখ্যা
'চিলেকোঠার সেপাই' উপন্যাস:
• 'চিলেকোঠার সেপাই' ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত একটি মহাকাব্যিক উপন্যাস।
• 'চিলেকোঠার সেপাই' ১৯৮০-এর দশকের শুরুতে 'রোববার' নামের সাপ্তাহিক পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয় এবং ১৯৮৬/৮৭ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।

• কোনো বাড়ির চিলেকোঠায় বাস করেও স্বাধীনতার লক্ষ্যে গড়ে ওঠা বৃহত্তর আন্দোলনের জোয়ারে একজন সাধারণ মানুষের মিলতে সক্ষম হওয়ার গল্প এটি। একটি বিশেষ সময়ে জনজীবনের সমগ্রতাকে, বিশেষ করে গ্রাম ও শহরের প্রতিটি কোণের মানুষকে লেখক এ উপন্যাসে অত্যন্ত সুচারুভাবে উপস্থাপন করতে সক্ষম হয়েছেন।

• এ উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র ওসমান গণি দেশবিভাগের কারণে উদ্বাস্তু হয়ে ঢাকায় আসে।
• ওসমানের বাবা থেকে যান ভারতে, বাবা বেঁচে আছে কি না তা-ও জানে না সে। সবকিছু থেকে সে এতটাই বিচ্ছিন্ন আর ছিন্নমূল যে ঢাকার ঘিঞ্জি গলির মধ্যে এক বাড়ির চিলেকোঠায় বাস করাই তার জন্য যথাযথ হয়।

উপন্যাসের অন্যান্য চরিত্র:
- আনোয়ার,
- আলাউদ্দিন,
- আলতাফ,
- হাড্ডি খিজির,
- রানু প্রমুখ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৯৫.
‘মাটির দেয়াল’ কাব্যগ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. জীবনানন্দ দাশ
  2. অমিয় চক্রবর্তী
  3. শামসুর রাহমান
  4. সুফিয়া কামাল
সঠিক উত্তর:
অমিয় চক্রবর্তী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অমিয় চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
• ‘মাটির দেয়াল’ কাব্যগ্রন্থটির রচয়িতা - অমিয় চক্রবর্তী।

অমিয় চক্রবর্তী:

- ১০ এপ্রিল, ১৯০১ পশ্চিমবঙ্গের হুগলীর শ্রীরামপুরে তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন কবি, গবেষক ও শিক্ষাবিদ।
- তিরিশের পঞ্চকবির মধ্যে তিনি অন্যতম একজন।
- তিনি পাটনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি.এ পাস (১৯২১) করে শান্তিনিকেতনের গবেষণা বিভাগে যোগদান করেন।
- পরে তিনি রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন (১৯২৬-১৯৩৩)।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত বই 'কবিতাবলী' (১৯২৪-২৫)।
- তাঁর কাব্যগ্রন্থের সংখ্যা ১৫।
- তিনি 'বাংলাদেশ' কবিতাটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রেক্ষাপটে রচনা করেন।
- তাছাড়া ইংরেজি ভাষায় রচিত তাঁর ৯টি বই রয়েছে।
- কবিতার জন্য তিনি বহু পুরস্কার ও সম্মাননা পেয়েছেন। উল্লেখযোগ্য পুরস্কার: ইউনেস্কো পুরস্কার (১৯৬০), ভারতীয় ন্যাশনাল একাডেমি পুরস্কার।
- বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে ‘দেশিকোত্তম’ (১৯৬৩) এবং ভারত সরকার ‘পদ্মভূষণ’ (১৯৭০) উপাধিতে ভূষিত করেন।
- ১৯৮৬ সালের ১২জুন শান্তিনিকেতনে তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- খসড়া,
- এক মুঠো,
- মাটির দেয়াল,
- অভিজ্ঞান বসন্ত,
- অনিঃশেষ ইত্যাদি।

তাঁর রচিত গদ্যরচনা:
- চলো যাই,
- সাম্প্রতিক,
- পুরবাসী,
- পথ অন্তহীন ইত্যাদি।

অভিসম্বন্ধ: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৯৬.
“স্মৃতির মিনার ভেঙেছে তোমার? ভয় কি বন্ধু, আমরা এখনো চারকোটি পরিবার”- পঙ্‌ক্তিদ্বয়ের রচয়িতা কে?
  1. আবুল ফজল
  2. আবুল কালাম শামসুদ্দীন
  3. অমিয় চক্রবর্তী
  4. আলাউদ্দিন আল আজাদ
সঠিক উত্তর:
আলাউদ্দিন আল আজাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আলাউদ্দিন আল আজাদ
ব্যাখ্যা
• 'স্মৃতিস্তম্ভ' কবিতা:
- 'স্মৃতিস্তম্ভ' কবিতাটির রচয়িতা আলাউদ্দিন আল আজাদ।
- কবিতাটি তাঁর 'মানচিত্র' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।
- 'স্মৃতিস্তম্ভ' কবিতাটি ৫২ এর ভাষা আন্দোলনে শহীদদের স্মরণে ঢাকায় নির্মিত প্রথম শহীদ মিনার ভাঙার প্রতিবাদে লেখা।
- মহান একুশে নিয়ে এটি তাঁর একটি বিখ্যাত কবিতা।

কবিতার কিছু অংশ নিম্নরূপ-

স্মৃতিস্তম্ভ
আলাউদ্দিন আল আজাদ

স্মৃতির মিনার ভেঙেছে তোমার? ভয় কি বন্ধু,
আমরা এখনো চারকোটি পরিবার
খাড়া রয়েছি তো ! যে-ভিত কখনো কোনো রাজন্য
পারেনি ভাঙতে...

--------------------
আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত সাহিত্যকর্মগুলো হলো:
• উপন্যাস:
- তেইশ নম্বর তৈলচিত্র,
- কর্ণফুলী,
- ক্ষুধা ও আশা,
- খসড়া কাগজ।

• কাব্যগ্রন্থ:
- মানচিত্র,
- ভোরের নদীর মোহনায় জাগরণ।

• গল্পগ্রন্থ:
- জেগে আছি,
- মৃগনাভি,
- ধানকন্যা,
- যখন সৈকত,
- অন্ধকার সিঁড়ি,
- জীবনজামিন,
- আমার রক্ত স্বপ্ন আমার।

উৎস: স্মৃতিস্তম্ভ, আলাউদ্দিন আল আজাদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, আলাউদ্দিন আল আজাদ জীবন সাহিত্য, সম্পাদনা সিকদার আবুল বাশার।
১৯৭.
নিচের কোনটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম গদ্যগ্রন্থ?
  1. ক) কথোপকথন
  2. খ) ইতিহাসমালা
  3. গ) রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র
  4. ঘ) কৃপার শাস্ত্রের অর্থভেদ
সঠিক উত্তর:
ঘ) কৃপার শাস্ত্রের অর্থভেদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) কৃপার শাস্ত্রের অর্থভেদ
ব্যাখ্যা
• বাংলা সাহিত্যের প্রথম গদ্যগ্রন্থ- কৃপার শাস্ত্রের অর্থভেদ।
- 'কৃপার শাস্ত্রের অর্থভেদ' গ্রন্থটি রচনা করেন - মনোএল দা আসসাম্পসাঁউ।
- মনোএল দা আসসুম্পসাঁউ একজন পর্তুগিজ। মনোএল দা আসসুম্পসাঁউ এর আগে কেউ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ লেখেনি।
- ১৭৪৩ সালে মনোএল দা আসসুম্পসাঁউ দুটি বাংলা গ্রন্থ রচনা ও মুদ্রণ করেন।
- তাঁর রচিত গ্রন্থ দুটি হলো: কৃপা শাস্ত্রের অর্থভেদ।
- ভোকাবুলিরও এম ইদিওমা বেনগল্লা ই পোর্তুগিজ।
- এর মধ্যে ভোকাবুলিরও এম ইদিওমা বেনগল্লা ই পোরতুগিজ গ্রন্থে একটি অধ্যায়ে মনোএল দা আসসুম্পসাঁউ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ সংযোজন করেন।
- তাই তিনি বাংলা ভাষার প্রথম ব্যাকরণ রচয়িতা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
১৯৮.
ইংরেজদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ ও রোষ প্রকাশ পেয়েছে নিচের কোন কাব্যে?
  1. অনল প্রবাহ
  2. উদ্বোধন
  3. উচ্ছ্বাস
  4. স্পেন বিজয় কাব্য 
সঠিক উত্তর:
অনল প্রবাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনল প্রবাহ
ব্যাখ্যা

'অনল প্রবাহ' কাব্য:
• সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী রচিত মুসলিম জাগরণমূলক কাব্য 'অনল প্রবাহ' প্রকাশিত হয় ১৯০০ সালে।
• 'যা চলে গেছে তার জন্য শোক বৃথা বরং জাতির হৃতগৌরব উদ্ধারের প্রচেষ্টাই মুখ্য'-এই বাণীতে মুসলমানদের দুরবস্থা ও অধঃপতন ব্যক্ত করে ইংরেজদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ ও রোষ প্রকাশ করা হয়েছে এই কাব্যটিতে।

• 'অনল প্রবাহে' কবি হেমচন্দ্ৰ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘ভারত ভিক্ষা’, ‘ভারত বিলাপ' ইত্যাদি কবিতার সুস্পষ্ট প্রভাব আছে।
• ১৩১৫ বঙ্গাব্দে (১৯০৮) পরিবর্তিত ও পরিবর্ধিত দ্বিতীয় সংস্করণ বের হয়। প্রথম সংস্করণে কবিতা ছিল মাত্র নয়টি।
• প্রথম সংস্করণে কবিতাগুলো হচ্ছে: অনল-প্রবাহ, তুর্যধ্বনি, মূর্ছনা, বীর-পূজা, অভিভাষণ-ছাত্রগণের প্রতি, মরক্কো-সঙ্কটে, আমীর- আগমনে, দীপনা, আমীর-অভ্যর্থনা।

• বইটির বর্ধিত সংস্করণ প্রকাশিত হলে তৎকালীন বাংলার সরকার এটি বাজেয়াপ্ত করে এবং তাঁর প্রতি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।
• সিরাজী তখন ফরাসি অধিকৃত চন্দননগরে গিয়ে ৮ মাস আত্মগোপন করে থাকেন। পরে আত্মসমর্পণ করলে বৃটিশ সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ প্রচারের অভিযোগে তাঁকে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়।

----------------------
সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী রচিত অন্যান্য সাহিত্যকর্মগুলো হলো-
• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- রায়নন্দিনী,
- তারাবাঈ,
- ফিরোজা বেগম।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- স্বজাতি প্রেম,
- তুর্কি নারী জীবন,
- স্পেনীয় মুসলান সভ্যতা।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- অনল প্রবাহ,
- উচ্ছ্বাস,
- উদ্বোধন,
- স্পেন বিজয় কাব্য ইত্যাদি।

• ভ্রমণ কাহিনি: তুরস্ক ভ্রমণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৯৯.
‘মগের মুলুক’ - কাব্যটির রচয়িতা কে?
  1. সরদার জয়েনউদ্‌দীন
  2. শামসুজ্জামান খান
  3. নির্মলেন্দু গুণ
  4. গোবিন্দচন্দ্র দাস
সঠিক উত্তর:
গোবিন্দচন্দ্র দাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গোবিন্দচন্দ্র দাস
ব্যাখ্যা

• ‘মগের মুলুক’ ব্যঙ্গকাব্যটির রচয়িতা - গােবিন্দচন্দ্র দাস

গােবিন্দচন্দ্র দাস:
- গােবিন্দচন্দ্র দাস ১৮৫৫ সালের ১৬ জানুয়ারি ঢাকা জেলার ভাওয়ালের জয়দেবপুরে এক দরিদ্র পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা সাহিত্যের 'স্বভাব কবি' হচ্ছেন গােবিন্দচন্দ্র দাস।
- রবীন্দ্রনাথের সমকালে আধুনিক গীতিকবিতার ধারায় কবিতা রচনা করেই গোবিন্দচন্দ্র খ্যাত হন।
- তাঁর প্রথমা পত্নী সারদাসুন্দরীর মৃত্যুর প্রায় সাত বছর পর তিনি দ্বিতীয়বার দারপরিগ্রহ করেন।
- কিন্তু কবিতার মাধ্যমে তিনি তাঁর প্রথমা পত্নীকে অমর করে রেখেছেন।

তাঁর কাব্যগ্রন্থ:
- প্রেম ও ফুল,
- কুঙ্কুম,
- কস্তুরী,
- চন্দন,
- ফুলরেণু (সনেট),
- বৈজয়ন্তী,
- শোক ও সান্ত্বনা,
- শোকোচ্ছ্বাস ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২০০.
নয়নচারা কোন শ্রেণির রচনা?
  1. ক) গল্প
  2. খ) উপন্যাস
  3. গ) কাব্য
  4. ঘ) নাটক
সঠিক উত্তর:
ক) গল্প
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) গল্প
ব্যাখ্যা
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌ রচিত গল্পগ্রন্থঃ নয়নচারা, দুই তীর ও অন্যান্য গল্প। নাটকঃ বহিপীর, সুড়ঙ্গ, তরঙ্গভঙ্গ, উজানে মৃত্যু ইত্যাদি। উপন্যাসঃ লালসালু, চাঁদের অমাবস্যা, কাঁদো নদী কাঁদো, দি আগলি এশিয়ান ইত্যাদি। উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।