বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

আধুনিক যুগের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ লেখক

মোট প্রশ্ন৭,৬৪৬এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

আধুনিক যুগের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ লেখক

PrepBank · পাতা / ৭৭ · ১০০ / ৭,৬৪৬

.
‘বড় প্রেম শুধু কাছেই টানে না, দূরেও ঠেলিয়া দেয়’- উক্তিটি কোন বিখ্যাত গ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. ক) শ্রীকান্ত
  2. খ) শেষের পরিচয়
  3. গ) দেবদাস
  4. ঘ) শেষের কবিতা
ব্যাখ্যা
"বড় প্রেম শুধু কাছেই টানে না দূরেও ঠেলিয়া দেয়" উক্তিটি শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের আত্মজৈবনিক উপন্যাস 'শ্রীকান্ত' থেকে নেয়া হয়েছে।  
- শ্রীকান্ত উপন্যাসটি ৪টি খণ্ডে প্রকাশিত হয়।
- প্রথম খণ্ড মাসিক 'ভারতবর্ষে' (১৯১৬-১৭) 'শ্রীকান্তের ভ্রমণ কাহিনি নামে প্রকাশ পায়। 
- লেখকের নাম মুদ্রিত হয় 'শ্রীশ্রীকান্ত শর্মা'।
- ২য় ও ৩য় খণ্ডও মাসিক 'ভারতবর্ষে' প্রকাশিত হয়।
- তবে ৪র্থ খণ্ড প্রকাশিত হয় 'বিচিত্র' পত্রিকায়।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র - শ্রীকান্ত, ইন্দ্রনাথ, রাজলক্ষ্মী, অন্নদিদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
.
প্রমথ চৌধুরী রচিত 'তেল নুন লকড়ি' কী জাতীয় গ্রন্থ?
  1. ক) কাব্যগ্রন্থ
  2. খ) উপন্যাস
  3. গ) গল্প
  4. ঘ) প্রবন্ধগ্রন্থ
ব্যাখ্যা
• তেল নুন লকড়ি - প্রমথ চৌধুরীর একটি প্রবন্ধগ্রন্থ। 
- বাংলা গদ্যে চলিত রীতির প্রবর্তক ও বিদ্রূপাত্মক প্রাবন্ধিক হলো প্রমথ চৌধুরী।
- প্রমথ চৌধুরীর সাহিত্যিক ছদ্মনাম 'বীরবল।'

• প্রমথ চৌধুরী প্রবন্ধগ্রন্থ:
- নানা কথা,
- আমাদের শিক্ষা,
- রায়তের কথা,
- প্রবন্ধ সংগ্রহ,
- বীরবলের হালখাতা,
- তেল-নুন-লকড়ি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
.
হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়ের মহাকাব্য 'বৃত্রসংহার' কত খণ্ডে রচিত?
  1. ক) দুই
  2. খ) তিন
  3. গ) চার
  4. ঘ) পাঁচ
ব্যাখ্যা
হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত মহাকাব্য হলো বৃত্রসংহার।
কাব্যটি ১৮৭৫-১৮৭৭ সময়ে রচিত হয় যা দুই খন্ডে বিভক্ত। প্রথম খণ্ডে সর্গ রয়েছে, ১-১১ পর্যন্ত। দ্বিতীয় খণ্ডে সর্গ সংখ্যা ১২-১৫।
মহাভারতের কাহিনী অবলম্বনে রচিত এ কাব্যে মূলত সমসাময়িক সমাজের অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায়ের জয় ঘোষিত হয়েছে। একসময় বাংলাদেশে কাব্যটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল এবং কবি হিসেবে হেমচন্দ্রের যা খ্যাতি তা মূলত এ কাব্যের জন্যই।

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।
.
‘বন্ধুবিয়োগ’ কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা -
  1. বিহারীলাল চক্রবর্তী
  2. হুমায়ূন আহমেদ
  3. জহির রায়হান
  4. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• ‘বন্ধুবিয়োগ’ বিহারীলাল চক্রবর্তী রচিত একটি - কাব্যগ্রন্থ।
- কাব্যগ্রন্থটি ১৮৭০ সালে প্রকাশিত হয়।

বিহারীলাল চক্রবর্তী:
- বিহারীলাল চক্রবর্তী আধুনিক বাংলা গীতিকবিতার অন্যতম পুরোধা এবং রবীন্দ্রনাথের কাব্যগুরু হিসেবে পরিচিত।
- বাংলা গীতিকবিতার জনক হিসেবে পরিচিত বিহারীলাল চক্রবর্তী। তিনি আধুনিক বাংলা গীতিকাব্যের প্রথম ও প্রধান কবি।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিহারীলাল চক্রবর্তীকে 'ভোরের পাখি' উপাধিতে আখ্যায়িত করেন।
- বিহারীলাল চক্রবর্তীর প্রথম সার্থক গীতিকবিতা ‘বঙ্গসুন্দরী’। তার শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ: সারদা মঙ্গল।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সারদামঙ্গল (এটি তাঁর শ্রেষ্ঠ রচনা),
- স্বপ্নদর্শন,
- সঙ্গীত শতক,
- বঙ্গসুন্দরী,
- নিসর্গ সন্দর্শন,
- বন্ধুবিয়োগ,
- সাধের আসন,
- ধুমকেতু ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
.
'পথের দাবী' উপন্যাসটি একটি -
  1. ক) মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস
  2. খ) সামাজিক উপন্যাস
  3. গ) রাজনৈতিক উপন্যাস
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
⇒ শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- কথাশিল্পী শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হুগলি জেলার দেবানন্দপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর কৈশোর ও প্রথম যৌবন কাটে ভাগলপুরে মাতুলালয়ে। 
-  শরৎচন্দ্রের প্রথম উপন্যাস বড়দিদি (১৯০৭)  ভারতী পত্রিকায় প্রকাশিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সাহিত্যজগতে তাঁর খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে।
- দেবদাস, পল্লী সমাজ ও দত্তা তাঁর রচিত উপন্যাস।

• পথের দাবী:
• 'পথের দাবী' শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস। এটি প্রকাশিত হয় ১৯২৬ সালে।
• এটি স্বদেশী বিপ্লবীদের হাতে হাতে থাকতো। কাহিনির পটভূমিকা ব্রহ্মদেশ। কারো এক গুপ্ত বিপ্লবী দলের নায়ক সব্যসাচী এই উপন্যাসের প্রধান চরিত্র। কারো মতে সব্যসাচী চরিত্রে বিপ্লবী রাসবিহারী বসুর ছায়াপাত ঘটেছে। নিঃসন্দেহে এই কাহিনিতে ব্রিটিশ শাসনের তীব্র সমালোচনা এবং সশস্ত্র বিপ্লবকে আন্তরিক সমর্থন আছে।

- গ্রন্থটি প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ হয়। নান্দনিক মানদণ্ডে ‘পথের দাবী' উৎকৃষ্ট সাহিত্য কিনা এ নিয়ে প্রশ্ন থাকতে পারে। কিন্তু ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতা সংগ্রামে এ উপন্যাস উদ্দীপকের ভূমিকা রাখে।
- ‘আমি বিপ্লবী, ভারতের স্বাধীনতাই আমার একমাত্র কাম্য,আমার একটি মাত্র সাধনা।' আমার একটিমাত্র এই বক্তব্য ছিল উপন্যাসের শেষে। ভারতীয় রাজনৈতিক আন্দোলনের ইতিহাসে এই গ্রন্থ বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।

- 'বঙ্গবাণী' পত্রিকায় ১৩২৯-এর ফাল্গুন সংখ্যা থেকে 'পথের দাবী’  ধারাবাহিকরূপে প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর।
.
সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়কে ‘ভাষাচার্য’ উপাধি দেন কে?
  1. মুহম্মদ এনামুল হক
  2. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
ব্যাখ্যা
সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়:
- তিনি ছিলেন বাংলা ভাষার শ্রেষ্ঠ ভাষাবিজ্ঞানী।
-  ১৮৯০ সালের ২৬ অক্টোবর পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া জেলার শিবপুরে তাঁর জন্ম। 
- ভাষা বিষয়ে সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের বিখ্যাত গ্রন্থ হলো ‘অরিজিন এণ্ড ডেভেলপমেন্ট অফ বেঙ্গলি ল্যাঙ্গুয়েজ’।
- শেষের কবিতা উপন্যাসে সুনীতিকুমারের স্বীকৃতি আছে।
- ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়কে 'ভাষাচার্য' উপাধি দেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
- ১৯৭৭ সালের ২৯ মে কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়। 

তাঁর রচিত বিখ্যাত গ্রন্থ:
- বেঙ্গলি ফোনেটিক রিডার্স,
- বাংলা ভাষাতত্ত্বের ভূমিকা,
- সরল ভাষা প্রকাশ বাঙ্গালা ব্যাকরণ,
- ল্যাঙ্গুয়েজ এণ্ড লিটারেচর অফ মডার্ন ইন্ডিয়া।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
.
সাঁওতাল বিদ্রোহ নিয়ে তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাস কোনটি?
  1. অভিযান
  2. অরণ্যবহ্নি
  3. চৈতালি ঘূর্ণি
  4. গণদেবতা
ব্যাখ্যা
• অরণ্যবহ্নি:
- 'অরণ্যবহ্নি' তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস।
- উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৬৬ খ্রিষ্টাব্দে।
- আদিবাসী সাঁওতাল বিদ্রোহ নিয়ে তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় উপন্যাসটি রচনা করেন ।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:

- একটি কালো মেয়ের কথা,
- অরণ্যবহ্নি
- চৈতালি ঘূর্ণি,
- ধাত্রীদেবতা,
- কালিন্দী,
- অভিযান,
- পঞ্চগ্রাম,
- যতিভঙ্গ
- কবি,
- হাঁসুলী বাঁকের উপকথা,
- গণদেবতা,
- আরগ্য নিকেতন,
- পঞ্চপুণ্ডলী,
- রাধা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
.
হাসন রাজার গানে কিসের প্রাধান্য ছিলো?
  1. ক) আধ্যাত্মিকতা
  2. খ) জীবনবোধ
  3. গ) বিদ্রোহ
  4. ঘ) ইহজাগতিকতা
ব্যাখ্যা
লালন শাহ এবং হাসন রাজার গানে আধ্যাত্মিকতার প্রাধান্য থাকলেও ইহজাগতিকতা প্রাধান্য পেতো আব্দুল করিমের গানে।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
.
'তরঙ্গভঙ্গ' সৈয়দ ওয়ালীওল্লাহ রচিত কোন ধরনের সাহিত্য?
  1. উপন্যাস
  2. গল্প
  3. কাব্যনাট্য
  4. নাটক
ব্যাখ্যা
'তরঙ্গভঙ্গ' নাটক:
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর পাশ্চাত্যরীতি অনুসারী এবসার্ডধর্মী অস্তিত্ববাদী একটি নাটক 'তরঙ্গভঙ্গ'।
- অভাব-দারিদ্র্যের পরিপ্রেক্ষিতে সাধারণ মানুষের জীবনসংগ্রাম, ঘাত-প্রতিঘাত এ নাটকে প্রতিফলিত হয়েছে।
- এ নাটকে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রগুলো হচ্ছে- বাদী মৌলবি আব্দুস সাত্তার, সাক্ষী মতলুব আলী।
- এ নাটকের একটি সংলাপ 'ভেবেছিলেন জজ সাহেব ঘুমিয়েছিল? না, জজ কখনো ঘুমান না।'

নাটকের কাহিনি সংক্ষেপ-
মৌলবি আবদুল সাত্তার নেওলাপুরী বিচারকের কাছে দরিদ্র চব্বিশ-পঁচিশ বছর বয়সী গৃহবধূ আমেনার বিরুদ্ধে শিশু স্বামী হত্যার অভিযোগ আমেনা অভাবের তাড়নায় অসুস্থ স্বামী কুতুব শেখকে চিকিৎসা করাতে না পেরে সে ধুতরার বিষ পান করিয়ে স্বামী হত্যা করে। আর চারটি শিশুর আহার সংস্থান করতে না পেরে ছোটটিকেও সে মেরে ফেলে। বিচারক এর বিচার করতে বসেন।

-----------
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত অন্যান্য নাটক:
- বহিপীর,
- সুড়ঙ্গ,
- তরঙ্গভঙ্গ,
- উজানে মৃত্যু ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং 'তরঙ্গভঙ্গ' নাটক।
১০.
চন্ডীচরণ মুন্সী কে?
  1. শ্রীরামপুর মিশনের লিপিকর
  2. ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের পণ্ডিত
  3. কেরী সাহেবের মুন্সী গ্রন্থের রচয়িতা
  4. সমাচার চন্দ্রিকা পত্রিকার সম্পাদক
ব্যাখ্যা
• চণ্ডীচরণ মুনশী ছিলেন ব্রিটিশ ভারতের একজন বাঙ্গালি লেখক এবং ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের বাংলা ভাষার অন্যতম অধ্যাপক।
- তাঁর রচিত একটি উপাখ্যান 'তোতা ইতিহাস'। গ্রন্থটি ১৮০৫ সালে প্রকাশিত হয়।
- এটি ফরাসি সাহিত্য থেকে অনুবাদকৃত। যা বাংলা গদ্য সাহিত্যের অন্যতম আদি নিদর্শন।

অন্যদিকে, 
➝ কেরী সাহেবের মুন্সী'- উপন্যাসটির রচয়িতা - প্রমথনাথ বিশী।
➝ কেরী সাহেবের মুন্সী বলা হয় রামরাম বসুকে। কারণ রামরাম বসু উইলিয়াম কেরীকে বাংলা ভাষা শেখান। 
➝ 'সমাচার চন্দ্রিকা' পত্রিকার সম্পাদক - ভবানীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
১১.
'নূরলদীনের সারাজীবন' নাটকে নূরলদীনের বাড়ি কোথায়?
  1. কুড়িগ্রাম
  2. নীলফামারী
  3. রংপুর
  4. পঞ্চগড়
ব্যাখ্যা
'নূরলদীনের সারাজীবন' কাব্যনাট্য:
- “নুরুলদীনের সারাজীবন” সৈয়দ শামসুল হক রচিত কাব্যনাট্য।
- রংপুরের কৃষক বিদ্রোহের নেতা নূরলদীনের সামন্তবাদ বিরােধী সংগ্রাম অবলম্বনে রচিত নাটক- নূরলদীনের সারাজীবন (১৯৮২)।
- ব্রিটিশ বিরােধী আন্দোলনের নায়ক নূরলদীনের অবিস্মরণীয় আহবান- ‘জাগাে বাহে, কোনঠে সবাই'। ১৪ টি দৃশ্যে কাব্যনাটকটি রচিত।

সৈয়দ শামসুল হক:
- সৈয়দ শামসুল হক ১৯৩৫ সালে কুড়িগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত লেখক হিসেবে সমধিক পরিচিত।

তাঁর রচিত কাব্যনাট্য:
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়।
- নূরুলদীনের সারাজীবন।
- এখানে এখন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১২.
‘স্বামীর কাছে স্ত্রীর অহংকার সাজে না’ বক্তব্যটি শরৎচন্দ্রের কোন গল্পগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. বিরাজ বৌ
  2. মেজদিদি
  3. ছবি
  4. অরক্ষণীয়া
ব্যাখ্যা
⇒ ‘মেজদিদি’ গল্পের সংকলন:
- ‘মেজদিদি' হচ্ছে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘মেজদিদি', 'দর্পচূর্ণ' ও ‘আঁধারে আলো' এই তিনটি গল্পের সংকলন।
- ‘মেজদিদি’ গল্পের সংকলনটি প্রকাশিত হয় ১৯১৫ সালে।
- 'মেজদিদি' শরৎচন্দ্রের অন্যতম জনপ্রিয় রচনাগুলোর মধ্যে একটি।
- এই গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত তিনটি গল্পই চলচ্চিত্রায়িত হয়েছে।
- এই গ্রন্থে নারীর মহত্ত্বের পাশাপাশি ‘স্বামীর কাছে স্ত্রীর অহংকার সাজে না' এই বক্তব্যও প্রকাশিত।

⇒ শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়: 
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হুগলি জেলার দেবানন্দপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
- শরৎচন্দ্রের প্রথম উপন্যাস বড়দিদি (১৯০৭)  ভারতী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের  প্রথম প্রকাশিত গল্পের নাম 'মন্দির'।
- তিনি 'মন্দির' গল্পের জন্য ১৯০৩ সালে কুন্তলীন সাহিত্য পুরষ্কার লাভ করেন। 
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস হলো 'পথের দাবী' যা ১৯২৬ সালে প্রকাশিত হয়।
- এটি ব্রিটিশ সরকার বাজেয়াপ্ত করেছিল।

তাঁর রচিত বিখ্যাত উপন্যাস: 
- দেনা-পাওনা,
- বড়দিদি,
- বিরাজ-বৌ,
- পণ্ডিতমশাই,
- পরিণীতা,
- চন্দ্রনাথ,
- দেবদাস,
- চরিত্রহীন,
- গৃহদাহ,
- পথের দাবী,
- শেষ প্রশ্ন,
- শেষের পরিচয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।
১৩.
বাঙালির মুক্তির চেতনায় উজ্জীবন মূলক নাটক কোনটি?
  1. বন্দী শিবির থেকে
  2. নূরলদীনের সারাজীবন
  3. পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়
  4. নেকড়ে অরণ্য
ব্যাখ্যা
• পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়:
- এটি সৈয়দ শামসুল হক রচিত মুক্তযুদ্ধের কাব্যনাটক।
- বাঙালির মুক্তির চেতনায় উজ্জীবন মূলক নাটক।
- নাটকটিতে ১৯৭১ সালের বাংলাদেশ শত্রু মুক্ত হওয়ার সময়কালে একটি প্রত্যন্ত গ্রামের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় মূলত মুক্তিযোদ্ধাদের আগমনের পদধ্বনি।

অন্যদিকে,
• রংপুরের কৃষক বিদ্রোহের নেতা নুরলদীনের সামন্তবাদ বিরােধী সংগ্রাম অবলম্বনে রচিত নাটক- নূরলদীনের সারাজীবন (১৯৮২)। ব্রিটিশ বিরােধী আন্দোলনের নায়ক নূরলদীনের অবিস্মরণীয় আহবান- ‘জাগাে বাহে, কোনঠে সবাই'।

• ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় শামসুর রাহমার রচিত ‘বন্দী শিবির থেকে’ কাব্যের প্রতিটি শব্দ সাত কোটি বাঙালির আকাঙ্ক্ষার স্মারকে পরিণত হয়েছে। ‘বন্দী শিবির থেকে’ কাব্যটি জাতীয়তাবাদী চেতনার বিচিত্র প্রবণতাকে ধারণ করে চব্বিশ বছর ধরে গড়ে ওঠা বাঙালি জাতীয়তাবাদী চেতনার প্রতিকল্প হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে হয়ে উঠেছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনারও দলিল। 

• শওকত ওসমানের  মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস 'নেকড়ে অরণ্য'।

--------------------------
• সৈয়দ শামসুল হক: 
- তিনি ১৯৩৫ সালে কুড়িগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত লেখক হিসেবে সমধিক পরিচিত।

• তাঁর রচিত কাব্যনাট্য:
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়।
- নূরলদীনের সারাজীবন।
- এখানে এখন।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- তাস।
- শীত বিকেল।
- আনন্দের মৃত্যু।
- প্রাচীন বংশের নিঃস্ব সন্তান।
- জলেশ্বরীর গল্পগুলো।

• সৈয়দ শামসুল হক রচিত কবিতা:
- একদা এক রাজ্যে।
- বৈশাখে রচিত পঙ্‌ক্তিমালা।
- পরানের গহীন ভিতর।
- বেজান শহরের জন্য কোরাস।
- কাননে কানে তোমারই সন্ধানে।
- আমি জন্মগ্রহণ করিনি ইত্যাদি।

• সৈয়দ শামসুল হকের প্রবন্ধ: 
- হৃৎকলমের টানে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪.
"পরের কারণে স্বার্থে দিয়া বলি/ এ জীবন মন সকলি দাও, তার মত সুখ কোথাও কি আছে?/ আপনার কথা ভুলিয়া যাও।" কবিতাংশটির রচয়িতা কে?
  1. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  2. সুকুমার বড়ুয়া
  3. কামিনী রায়
  4. কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
"পরের কারণে স্বার্থে দিয়া বলি/ এ জীবন মন সকলি দাও, তার মত সুখ কোথাও কি আছে?/ আপনার কথা ভুলিয়া যাও।"- কবিতাংশটি কামিনী রায় রায় রচিত সুখ কবিতার অংশ।
'সুখ' কবিতা কামিনী রায় রচিত আলো ও ছায়া কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।

• কামিনী রায়:

- কামিনী রায় কবি ও সমাজকর্মী।
- ১৮৬৪ সালের ১২ অক্টোবর বাকেরগঞ্জের বাসন্ডা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তাঁর পিতা চণ্ডীচরণ সেন ছিলেন একজন ঐতিহাসিক উপন্যাস লেখক ও পেশায় বিচারক।
- তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ আলো ও ছায়া প্রকাশিত হয় ১৮৮৯ সালে। হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় এর ভূমিকা লিখে দেন।

• কামিনী রায়ের কাব্যগ্রন্থ:
- আলো ও ছায়া,
- নির্মাল্য,
- পৌরাণিকী,
- গুঞ্জন,
- মাল্য ও নির্মাল্য,
- অশোক সংগীত,
- অম্বা,
- দীপ ও ধূপ,
- জীবনপথে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৫.
পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ অবলম্বনে রচিত নাটক কোনটি?
  1. দণ্ডকারণ্য
  2. মহাশ্মশান
  3. রক্তাক্ত প্রান্তর
  4. বিষাদসিন্ধু
ব্যাখ্যা
‘রক্তাক্ত প্রান্তর’ নাটক:
- মুনীর চৌধুরী রচিত 'রক্তাক্ত প্রান্তর' রচিত হয়েছে মহাকবি কায়কোবাদের 'মহাশ্মশান' গ্রন্থের কাহিনি থেকে।
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' মুনীর চৌধুরীর প্রথম পূর্ণাঙ্গ মৌলিক নাটক।
- পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের (১৭৬১) ঘটনা অবলম্বনে তিন অঙ্ক বিশিষ্ট নাটকটি রচিত।
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' ঐতিহাসিক নাটক নয়, এটি ইতিহাস-আশ্রিত নাটক।
- ‘মানুষ মরে গেলে পচে যায়। বেঁচে থাকলে বদলায়।' রক্তাক্ত প্রান্তর নাটকের একটি জনপ্রিয় উক্তি। নাটকে উক্তিটি বলেছেন নবাব সুজাউদ্দৌলা।
প্রধান চরিত্রগুলো হলো: ইব্রাহিম কার্দি, জোহরা, হিরণবালা ইত্যাদি।

মুনীর চৌধুরী:
- মুনীর চৌধুরী ছিলেন একজন বাংলাদেশি শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্য সমালোচক ও বাগ্মী।
- ১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর মানিকগঞ্জ শহরে তাঁর জন্ম।
- মুনীর চৌধুরী শিক্ষা ও পেশাগত জীবনে বামপন্থী রাজনীতি ও প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

মুনীর চৌধুরীর মৌলিক নাটক:
- রক্তাক্ত প্রান্তর,
- চিঠি,
- কবর,
- দণ্ডকারণ্য।

অনুবাদ নাটক:
- কেউ কিছু বলতে পারে না,
- রূপার কৌটা ও
- মুখরা রমণী বশীকরণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৬.
‘নেমেসিস’ নাটকটি কোন ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে রচিত?
  1. বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ
  2. দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ
  3. ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন
  4. ভাষা আন্দোলন
ব্যাখ্যা
'নেমেসিস' নাটক:
- 'নেমেসিস' নুরুল মোমেন রচিত শ্রেষ্ঠ নাটক।
- ১৯৩৯-৪৩ সালের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে নুরুল মোমেন ১৯৪৪ সালে নাটকটি লেখেন এবং ‘শনিবারের চিঠি’ পত্রিকায় তা প্রকাশিত হয়।
- নাটকটি গ্রন্থাকারে প্রকাশ পায় ১৯৪৮ সালে।
- নাটকটি স্কুল মাস্টার সুরজিত নন্দী নামের এক চরিত্র বিশিষ্ট নাটক। এক চরিত্র বিশিষ্ট এমন নাটক বাংলা সাহিত্যে কম বলে ‘নেমেসিস’ উল্লেখযোগ্য।
- এ নাটকে সমকালীন দুর্ভিক্ষ, মজুতদারদের পিশাচবৃত্তি ও নিরন্নদের হাহাকারের বাস্তব চিত্র ফুটে উঠেছে।
- 'নেমেসিস' নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্রের নাম- সুরজিত নন্দী। 

নুরুল মোমেন: 
- নুরুল মোমেন এর জন্ম ফরিদপুর জেলার আলফাডাঙ্গায় ১৯০৬ সালে।
- নুরুল মোমেনের প্রথম নাটক রূপান্তর ১৯৪২ সালে ঢাকা বেতার-এ প্রচারিত হয়। তিনি নিজে নাটকটি পরিচালনা করেন। ১৯৪৭ সালে নাটকটি গ্রন্থরূপে প্রকাশিত হয়।
- তাঁর 'নেমেসিস' নাটকটি প্রথম শনিবারের চিঠি পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। 'নেমেসিস' নাটকটি পঞ্চাশ-দশকের মন্বন্তরের পটভূমিতে রচিত।
- নুরুল মোমেন রচিত প্রথম রম্যগ্রন্থ 'বহুরূপা'। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।
১৭.
'আলো ও ছায়া' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. কামিনী রায়
  3. কায়কোবাদ
  4. জাহানারা ইমাম
ব্যাখ্যা

'আলো ও ছায়া':
- এটি কামিনী রায়ের প্রথম কাব্যগ্রন্থ।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৮৮৯ সালে। 

কামিনী রায়:
-  ১৮৬৪ সালের ১২ অক্টোবর বাকেরগঞ্জের বাসন্ডা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তাঁর পিতা চণ্ডীচরণ সেন ছিলেন একজন ঐতিহাসিক  উপন্যাস লেখক ও পেশায় বিচারক। 
- কামিনী রায় মাত্র আট বছর বয়স থেকে কবিতা লেখা শুরু করেন।

কামিনী রায় রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- আলো ও ছায়া,
- নির্মাল্য,
- পৌরাণিক,
- গুঞ্জন,
- মাল্য ও নির্মাল্য ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

১৮.
'আবোল-তাবোল' কার লেখা?
  1. উপেন্দ্রকিশোর রায় চৌধুরী
  2. দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
  3. সুকুমার রায়
  4. সত্যজিৎ রায়
ব্যাখ্যা
• 'আবোল-তাবোল' শিশুতোষ কবিতার বইয়ের রচয়িতা - সুকুমার রায়।

• সুকুমার রায়:
- শিশুসাহিত্যিক সুকুমার রায় ১৮৮৭ সালে কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন।
- বিখ্যাত শিশুসাহিত্যিক, সঙ্গীতজ্ঞ ও যন্ত্রকুশলী উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী হলো সুকুমার রায়ের পিতা।
- সুকুমার রায়ের পুত্র অস্কারপ্রাপ্ত চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায়।
- তাঁদের আদি নিবাস ছিল ময়মনসিংহ জেলার মসুয়ায়।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্মগলো হলো:
• কবিতার বই:
- আবোল তাবোল,
- খাই খাই।

• গল্প: হযবরল।
• গল্প সংকলন: পাগলা দাশু।
• নাটক: চলচ্চিত্তচঞ্চরী।

এছাড়া তার অন্যান্য রচনার মধ্যে রয়েছে-
- অবাক জলপান,
- লক্ষণের শক্তিশেল',
- হেশোরাম হুশিয়ারের ডায়েরী,
- ঝালাপালা ও অন্যান্য নাটক এবং
- বহুরূপী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; ‘হ-য-ব-র-ল’ গ্রন্থের ভূমিকা।
১৯.
নুরুল মোমেনের 'নেমেসিস' নাটকটি কোন পটভূমিতে রচিত?
  1. ছিয়াত্তরের মন্বন্তরের 
  2. কৃষক বিদ্রোহের 
  3. পঞ্চাশ-দশকের মন্বন্তরের
  4. জমিদারি শোষণের 
ব্যাখ্যা

• 'নেমেসিস' নাটক:
- নুরুল মোমেনের 'নেমেসিস' নাটক শনিবারের চিঠি পত্রিকায় প্রকাশিত হয় ১৯৪৫ সালে। গ্রন্থরূপে প্রকাশিত হয় ১৯৪৮ সালে।
- নাটকটি পঞ্চাশ-দশকের মন্বন্তরের পটভূমিতে রচিত। এর রচনাশৈলী ও পরিকল্পনা অভিনব।
- একটি মাত্র চরিত্রের মাধ্যমে দীর্ঘ সংলাপের ভিতর দিয়ে পুরো নাট্যকাহিনি বিবৃত হয়েছে যার মধ্যে একটি পরিপূর্ণ ছবি পরিস্ফুট হয়ে ওঠে। ফলে নাটকটি নাট্যামোদীদের কাছে বিশেষভাবে প্রশংসিত হয় এবং এ নাটকের মাধ্যমে তিনি বাংলা নাট্যসাহিত্যে অধিষ্ঠিত হন।

---------------
• নুরুল মোমেন: 
- নুরুল মোমেন এর জন্ম ফরিদপুর জেলার আলফাডাঙ্গায় ১৯০৬ সালে।
- নুরুল মোমেনের প্রথম নাটক ‘রূপান্তর’ ১৯৪২ সালে ঢাকা বেতার-এ প্রচারিত হয়।তিনি নিজে নাটকটি পরিচালনা করেন। ১৯৪৭ সালে নাটকটি গ্রন্থরূপে প্রকাশিত হয়।
- তাঁর 'নেমেসিস' নাটকটি প্রথম শনিবারের চিঠি পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। নেমেসিস' নাটকটি পঞ্চাশ-দশকের মন্বন্তরের পটভূমিতে রচিত।
- নুরুল মোমেন রচিত প্রথম রম্যগ্রন্থ 'বহুরূপা'। ১৯৪৮ সালে ‘বহুরূপা’ নামক রম্যরচনাটি প্রকাশিত হয়।

নুরুল মোমেন রচিত অন্যান্য রম্যগ্রন্থ হলো:
- নরসুন্দর,
- হিংটিং ছট (প্রথম ও দ্বিতীয় খণ্ড)।

নুরুল মোমেন রচিত বিখ্যাত নাটকসমূহ:
- নেমেসিস,
- যদি এমন হতো,
- নয়া খান্দান, 
- আলোছায়া,
- আইনের অন্তরালে, 
- শতকরা আশি, 
- রূপলেখা, 
- যেমন ইচ্ছা তেমন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২০.
‘একা মোর গানের তরী’- গানটির রচয়িতা কে?
  1. ক) ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  2. খ) অতুলপ্রসাদ সেন
  3. গ) ইব্রাহিম খাঁ
  4. ঘ) অমিয় চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
অতুলপ্রসাদ সেন এর রচিত গানের সংখ্যা প্রায় ২০৬ টি। এর মধ্য অনেক জনপ্রিয় কিছু গান রয়েছে। যেমনঃ মিছে তুই ভাবিস মন, সবারে বাস রে ভাল, একা মোর গানের তরী, মোদের গরব মোদের আশা, আ মরি বাংলা ভাষা ইত্যাদি।রেফারেন্সঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য – মোহসীনা নাজিলা।
২১.
টেলিভিশনে প্রচারিত সেলিম আল দীনের প্রথম নাটক কোনটি?
  1. ক) মুনতাসীর ফ্যান্টাসি 
  2. খ) ঘুম নেই
  3. গ) হাতহদাই 
  4. ঘ) হরগজ
ব্যাখ্যা
প্রদত্ত প্রশ্নের সঠিক উত্তর: ঘুম নেই।
১৯৭০ সালে বাংলাদেশ টেলিভিশনে এই নাটক প্রচারিত হয়। প্রযোজক-আতিকুল হক চৌধুরী।

মুনতাসির ফ্যান্টাসি: বিশ শতকের আশির দশকের স্বৈরশাসকের শাসন নিয়ে লিখিত।
হাত হদাই- নোয়াখালীর আঞ্চলিক ভাষায় রচিত।
হরগজ- মানিকগঞ্জ জেলার হরগজ নামক স্থানে ১৯৮৯ সালে সংগঠিত প্রলয়সদৃশ টর্নেডোর অভিজ্ঞতা নিয়ে লিখিত নাটক।
বাংলা ভাষার একমাত্র নাট্যবিষয়ক কোষগ্রন্থ বাংলা নাট্যকোষ সংগ্রহ, সংকলন, প্রণয়ন ও সম্পাদন করেন সেলিম আল দীন। 

সেলিম আল দীনের কয়েকটি নাট্যগ্রন্থ:
- সর্প বিষয়ক গল্প ও অন্যান্য
- হরগজ
- বাসন
- কেরামতমঙ্গল
- কীর্তন খোলা
- হাতহদাই
- মুনতাসীর ফ্যান্টাসি
- চাকা,
- যৈবতী কন্যার মন,
- বনপাংশু,
- একটি মারমা রূপকথা,
- নিমজ্জন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া।
২২.
'তিতাস একটি নদীর নাম' উপন্যাসের পটভূমি কী?
  1. নদী ভাঙন
  2. নদী পাড়ের কৃষকদের জীবন
  3. ধীবর সমাজের রীতিনীতি
  4. জমিদারদের শোষণ
ব্যাখ্যা
-অদ্বৈত মল্লবর্মণের বিখ্যাত উপন্যাস 'তিতাস একটি নদীর নাম'।
- এ উপন্যাসে কুমিল্লা জেলার তিতাস নামক নদীতীরের ধীবর (জেলে) সমাজের রীতিনীতি, ধর্ম-সংস্কার, উৎসব ও জীবনযাপনের অনবদ্য কাহিনি তুলে ধরা হয়েছে।
- উপন্যাসটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৩৫২ বঙ্গাব্দে, মোহাম্মদী পত্রিকায়।
- গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয় ১৯৫৬ সালে।
- ১৯৭৩ সালে ঋত্বিক ঘটক এ উপন্যাস অবলম্বনে চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
২৩.
সেলিম আল দীন এর অসম্পূর্ন নাটক কোনটি?
  1. ক) জুলান
  2. খ) হাড়-হাড্ডি
  3. গ) পুত্র
  4. ঘ) নিমজ্জন
ব্যাখ্যা
সেলিম আল দীন এর অসম্পূর্ন নাটক - হাড়-হাড্ডি
- এই নাটকের পরিকল্পনার মাত্র এক তৃতীয়াংশ তিনি লিখেছিলেন। সেটাই সমাপ্ত করার আগেই তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

সেলিম আল দীন
-  তিনি ১৯৪৮ খ্রিষ্টাব্দের ১৮ই নভেম্বর তৎকালীন নোয়াখালি জেলার সোনাগাজির সেনেরখিল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- সেলিম আল দীন কবিতাই লিখতেন। কিন্তু ১৯৭২ খ্রিষ্টাব্দে তাঁর রচিত 'নীল শয়তান : তাহিতি ইত্যাদি' নাটকটি টেলিভিশন ও বেতারে প্রচার হলে তাঁর নাট্যরচনার কথা জানাজানি হয়।
- একই বছর ডাকসু মঞ্চস্থ করে 'জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন' এবং নাট্য প্রতিযোগিতাতেও নাটকটি প্রথম পুরস্কার পায়।
- ১৯৭৩ খ্রিষ্টাব্দে ডাকসু নাট্যচক্র তাঁর লেখা 'এক্সপ্লোসিভ ও মূল সমস্যা' মঞ্চস্থ করলে নাট্যকার হিসেবে সেলিম আল দীন সবার পরিচিতি পান।

তাঁর অন্যান্য নাট্যগ্রন্থসমূহ:
নাট্যগ্রন্থ: 
- কীর্তন খোলা 
- মুনতাসীর ফ্যান্টাসি
- চাকা যৈবতী কন্যার মন
- বনপাংশু
- হরগজ
- হাতহদাই
- নিমজ্জন

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর।
২৪.
সৈয়দ মুজতবা আলীর সাহিত্যজগতে প্রবেশ ঘটে কোন গ্রন্থের মাধ্যমে?
  1. শবনম
  2. দেশে-বিদেশে
  3. অবিশ্বাস্য
  4. টুনি মেম
ব্যাখ্যা
• সৈয়দ মুজতবা আলী:
- তিনি ছিলেন  শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক।
- ১৯০৪ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর পিতার কর্মস্থল শ্রীহট্ট (সিলেট) জেলার করিমগঞ্জে তিনি জন্মগ্রহণ করেন, কিন্তু তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল মৌলভীবাজারের উত্তরসুর গ্রামে।
- তিনি বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯২৬ সালে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।
- সৈয়দ মুজতবা আলী 'দেশে-বিদেশে' গ্রন্থের মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যাঙ্গনে প্রথম প্রবেশ ও প্রতিষ্ঠা লাভ করেন। কাবুলে অবস্থানের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও অন্তরঙ্গ উপলব্ধির ফসল এই গ্রন্থখানি।
- তাঁর একটি অনবদ্য গ্রন্থ 'পূর্ব-পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা'।
- তিনি কাজী নজরুল ইসলামের 'রুবাইয়াৎ-ই-ওমর খৈয়াম' গ্রন্থের ভূমিকা লিখেন।
- ১৯৭৪ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- অবিশ্বাস্য,
- শবনম।

• তাঁর রচিত ছোটগল্পগ্রন্থ:
- চাচা-কাহিনী,
- টুনি মেম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২৫.
নিচের কোনটি কাব্যগ্রন্থ?
  1. কবিতা
  2. কয়েকটি কবিতা
  3. কবিতার কথা
  4. বাঙলার কাব্য
ব্যাখ্যা
• 'কয়েকটি কবিতা' সমর সেনের একটি কাব্যগ্রন্থ।  
---------------- 
সমর সেন:
- সমর সেন ১৯১৬ সালের ১০ই অক্টোবর কলকাতার বাগবাজার এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি মূলত কবি ছিলেন। 
- তাঁকে আধুনিক যুগের নাগরিক কবি বলা হয়। 
- তিনি রবীন্দ্রনাথের কাব্যধারার বিপরীতে কবিতা লিখতেন।
- তিনি ১৯৮৭ সালের ২৩শে আগস্ট মৃত্যুবরণ করেন। 

তাঁর কয়েকটি কাব্যগ্রন্থ: 
- কয়েকটি কবিতা
- গ্রহণ ও অন্যান্য কবিতা 
- নানাকথা 
- খোলাচিঠি
- তিন পুরুষ
- সমর সেনের কবিতা ইত্যাদি।

গদ্যগ্রন্থ:
- বাবু বৃত্তান্ত। 

অন্যদিকে,
• জীবনানন্দ দাশ ‘কবিতার কথা’ নামে প্রবন্ধ গ্রন্থ রচনা করেছেন।
• সাহিত্য পত্রিকা 'কবিতা' এর সম্পাদক ছিলেন বুদ্ধদেব বসু।
• বাংলার কাব্য- হুমায়ুন কবির রচিত -হাজার বছরের বাংলা কাব্য বিভিন্ন সময়ে সামাজিক-সাংস্কৃতিক যেসব পটভূমি দিয়ে নিয়ন্ত্রিত হয়েছিলো এদের কালানুক্রমিক আলোচনা ও বিশ্লেষণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
২৬.
'বিরহ বিলাপ' কাব্যগ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. সুফিয়া কামাল
  2. গিরিশচন্দ্র ঘোষ
  3. কায়কোবাদ
  4. গোলাম মোস্তফা
ব্যাখ্যা

• আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম কবি কায়কোবাদ।
• তাঁর প্রকৃত নাম কাজেম আল কোরেশী।
• কায়কোবাদ তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম।
• তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ- বিরহ বিলাপ (১৮৭০)।
• মাত্র তের বছর বয়সে তাঁর এই কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয়।
• তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থঃ
- মহাশ্মশান (মহাকাব্য),
- কুসুম কানন,
- অশ্রুমালা,
- শিবমন্দির,
- অমিয়ধারা,
- শ্মশানভষ্ম,
- মহররম শরীফ ইত্যাদি।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

২৭.
‘উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ’ কাব্যগ্রন্থটির রচয়িতা -
  1. ক) আহসান হাবীব
  2. খ) শামসুর রাহমান
  3. গ) গোলাম মোস্তফা
  4. ঘ) ফররুখ আহমদ
ব্যাখ্যা
বাংলা সাহিত্যের আধুনিক কবিদের মধ্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি - শামসুর রাহমান।
তার রচিত উল্লেখযোগ্য কয়েকটি কাব্যগ্রন্থ হচ্ছে -
প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে, রৌদ্র করোটিতে, বিধ্বস্ত নীলিমা, বন্দী শিবির থেকে, নিরালোকে দিব্যরথ, নিজ বাসভূমে, দুঃসময়ের মুখোমুখি, ফিরিয়ে নাও ঘাতক কাঁটা, এক ধরনের অহংকার, শূন্যতার শোকসভা, বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে, প্রতিদিন ঘরহীন ঘরে, ইকারুসের আকাশ, উদ্ভট উটের পিঠে চলছে স্বদেশ, এক ফোঁটা কেমন অনল, দেশদ্রোহী হতে ইচ্ছে করে, অবিরল জলাভূমি, বুক তাঁর বাংলাদেশের হৃদয় ইত্যাদি।
তাঁর রচিত আত্মস্মৃতি - কালের ধুলোয় লেখা ও স্মৃতির শহর।
শামসুর রাহমানের উপন্যাস - অক্টোপাস, অদ্ভূত আঁধার এক, নিয়ত মন্তাজ, এলো সে অবেলায়।
তার রচিত কয়েকটি শিশু-কিশোর সাহিত্য - এলাটিং বেলাটিং, ধান ভানলে কুঁড়ো দেব, গোলাপ ফুটে খুকীর হাতে, আমের কুঁড়ি জামের কুঁড়ি ইত্যাদি।
[সূত্রঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার]
২৮.
আলাউদ্দিন আল আজাদ এর কোন উপন্যাস অবলম্বনে 'বসুন্ধরা' চলচ্চিত্রটি নির্মিত হয়েছে?
  1. কর্ণফুলী
  2. শ্যামল ছায়ার সংবাদ
  3. তেইশ নম্বর তৈলচিত্র
  4. শীতের শেষরাত বসন্তের প্রথমদিন
ব্যাখ্যা

• 'তেইশ নম্বর তৈলচিত্র' উপন্যাস:
- আলাউদ্দিন আল আজাদের বিখ্যাত উপন্যাস তেইশ নম্বর তৈলচিত্র।
- তেইশ নম্বর তৈলচিত্র (পরিচালক: সুভাষ দত্ত) উপন্যাস অবলম্বনে বসুন্ধরা চলচ্চিত্রটি নির্মিত হয়েছে।
- নির্মিত চলচ্চিত্রটি ১৯৭৭ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করে।

----------------------------
• আলাউদ্দিন আল আজাদ:
- তিনি একাধারে শিক্ষাবিদ, কবি, কথাশিল্পী, প্রাবন্ধিক, শিশুসাহিত্যিক, গবেষক, সাহিত্য-সমালোচক ছিলেন।
- জন্ম ৬ মে ১৯৩২ সালে, নরসিংদী জেলার রায়পুর থানার রামনগর গ্রামে।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে অনার্সসহ স্নাতক (১৯৫৩) ও স্নাতকোত্তর (১৯৫৪)।
-তেইশ নম্বর তৈলচিত্র উপন্যাসটির বিষয়বস্তু অবলম্বনে বসুন্ধরা নামে চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন প্রখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক সুভাষ দত্ত।

তাঁর উল্লেখযোগ্য গল্পগন্থ:
- জেগে আছি,
- ধানকন্যা,
- জীবন জমিন প্রভৃতি।

তাঁর উপন্যাস:
- তেইশ নম্বর তৈলচিত্র,
- কর্ণফুলী,
- শীতের শেষরাত বসন্তের প্রথমদিন,
- ক্ষুধা ও আশা,
- শ্যামল ছায়ার সংবাদ।

নাটক:
- ধন্যবাদ,
- নিঃশব্দ যাত্রা,
- নরকে লাল গোলাপ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাস, এবং বাংলাপিডিয়া।

২৯.
প্রথম বাংলা 'থিসরাস' বা সমার্থক শব্দের অভিধান সংকলনের নাম কী?
  1. যথাশব্দ
  2. রত্নমালা
  3. অভিধান
  4. সংসদ সমার্থশব্দকোষ
ব্যাখ্যা
- ১৯৭৪ সালে বাংলা একাডেমি প্রকাশ করে মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান প্রণীত বাংলা ভাষার 'থিসরাস' বা সমার্থক শব্দের অভিধান যথাশব্দ
- ১৯৭৬ সালে কলকাতায় বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ-এর বার্ষিক সম্মিলনীর সভাপতির ভাষণে সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘বাঙ্গলা ভাষা, শব্দকোষ, সাহিত্য প্রভৃতি সব দিকেই বহু অনুসন্ধান ও গবেষণা হইয়াছে, ভালো অভিধানও বাহির হইয়াছে এবং আরও হইতেছে। কিন্তু ইংরেজি Roget's Thesaurus-এর মত বৈজ্ঞানিক ও দার্শনিক বিচারশৈলী অনুসারে, বিভিন্ন প্রকারের দ্যোতনার শব্দের বিশেষ কার্য্যকর অভিধান ছিল না। বাঙ্গালি সাহিত্যিক ও সাহিত্যরসিকের পক্ষে “যথাশব্দ” অভিধানখানি এইরূপ একখানি অপরিহার্য্য পুস্তকরূপে এখন দেখা দিল।’

উল্লেখ্য, যথাশব্দ সংকলনটি প্রথম ভাব অভিধান সংকলনও বটে।
এছাড়াও তিনি বাংলা ভাষার প্রথম ধর্ম অভিধান 'যার যা ধর্ম' সংকলন করেন।

‘‘রজে-র থিসরাসের বিষয় এবং শব্দবিন্যাসের ধরনকে প্রায় অবিকল ব্যবহার করে, বাংলা ভাষায় প্রথম থিসরাস ছাপা হয়েছে ‘যথাশব্দ’।
- ১৯৭৪ সালে ঢাকার বাংলা একাডেমী থেকে প্রকাশিত এই অভিধানের সঙ্কলক মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান।
- মুহাম্মদ হাবিবুর রহমানের আগে প্রাণতোষ ঘটক একটি ছোট আকারের সমার্থশব্দ-সঙ্কলন করেছিলেন— নাম ‘রত্নমালা’ (আশ্বিন ১৩৬২; ১৯৫৫)। এই গ্রন্থের বিন্যাস বিষয়ভিত্তিক নয়— বর্ণনাক্রমিক।
- আরও একটি বাংলা-ইংরেজি দ্বিভাষিক থিসরাস তথা ‘অভিধান’ প্রকাশিত হয়েছে— মণিমঞ্জুষা ( বৈশাখ ১৩৯৩; ১৯৮৬), সঙ্কলক ড. জগন্নাথ চক্রবর্তী। এই অভিধানের বিন্যাস বিষয়ানুযায়ী নয়— বর্ণানুক্রমিক।’’
- এ সব তথ্য স্বয়ং অশোক মুখোপাধ্যায় তাঁর ‘সংসদ সমার্থশব্দকোষ’ (ডিসেম্বর ১৯৮৬)-এর ভূমিকায় জানিয়েছিলেন।

উৎসঃ প্রথম আলো আর্কাইভ ও আনন্দবাজার সম্পাদকীয়।
৩০.
সৈয়দ শামসুল হকের 'নূরলদীনের সারাজীবন' কাব্যনাটকে 'নিলক্ষার নীল' - পদবন্ধটি প্রকাশ করেছে -
  1. ক) অনন্ত নক্ষত্রবীথি
  2. খ) দৃষ্টিসীমা অতিক্রমী আকাশ
  3. গ) বিষাক্ত পৃথিবী
  4. ঘ) নীল জ্যোৎস্না
ব্যাখ্যা

‘নিলক্ষা আকাশ নীল, হাজার হাজার তারা ঐ নীলে অগণিত আর
নিচে গ্রাম, গঞ্জ, হাট, জনপদ, লোকালয়, আছে ঊনসত্তর হাজার।’

সৈয়দ শামসুল হকের সাড়াজাগানো ‘নূরলদীনের সারাজীবন’ কবিতাটির শুরুর লাইন এই দুটি। আর শেষে রয়েছে সেই গভীর উচ্চারণ ‘জাগো বাহে কোনঠে সবায়।’ রংপুরের কৃষক বিদ্রোহে নেতৃত্ব দেওয়া নূরলদীন ছিলেন স্বাধীনতাকামী একজন কৃষক, ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতাসংগ্রামের প্রাণপুরুষ। তাঁর আসল নাম ছিল নূরুউদ্দীন মোহাম্মদ বাকের জং।

কবিতার প্রথম দুই লাইন পড়ে বুঝা যায় যে নিলক্ষার নীল পদবন্ধটি দৃষ্টিসীমা অতিক্রমী আকাশকেই উল্লেখ করছে। 

৩১.
'বিশ্বনবী' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) ফররুখ আহমেদ
  2. খ) গোলাম মোস্তফা
  3. গ) আবুল ফজল
  4. ঘ) মীর মশাররফ হোসেন
ব্যাখ্যা
- 'বিশ্বনবী' গ্রন্থের রচয়িতা- গোলাম মোস্তফা।
-
তাঁর বিশ্বনবী গ্রন্থখানি বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল।
- এতে তিনি হযরত মুহাম্মদ (স.)-কে ঐতিহাসিক মহামানব হিসেবে মূল্যায়ন করেছেন। 

গোলাম মোস্তফা
:
- যশোর (বর্তমান ঝিনাইদহ) জেলার শৈলকুপা উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে ১৮৯৭ সালে তাঁর জন্ম। 
- গোলাম মোস্তফা পাকিস্তানি আদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন এবং ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময় উর্দুর প্রতি সমর্থন জ্ঞাপন করেন।
- ১৯৪৯ সালে গঠিত পূর্ববঙ্গ সরকারের ভাষা সংস্কার কমিটির সচিব হিসেবে তিনি কাজ করেন।
- সাহিত্য-সংস্কৃতিতে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি যশোর সংঘ কর্তৃক ‘কাব্য সুধাকর’ (১৯৫২) এবং পাকিস্তান সরকার কর্তৃক ‘সিতারা-ই-ইমতিয়াজ’ (১৯৬০) উপাধি লাভ করেন।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম:
কাব্যগ্রন্থ:
- রক্তরাগ
- খোশরোজ
- কাব্য-কাহিনী 
- সাহারা 
- হাস্নাহেনা 
- বুলবুলিস্তান
- তারানা-ই-পাকিস্তান 
- বনিআদম 
- গীতিসঞ্চালন। 
অনুবাদ কাব্য:
- মুসাদ্দাস-ই-হালী
- কালামে ইকবাল 
- শিকওয়া ও জওয়াব-ই-শিকওয়া। 
গদ্যগ্রন্থ:
- বিশ্বনবী
- ইসলাম ও কমিউনিজম 
- ইসলাম ও জেহাদ 
- আমার চিন্তাধারা 
- পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 
৩২.
'আনোয়ার পাশা' নাটকটির রচয়িতা কে?
  1. ক) মুনীর চৌধুরী
  2. খ) কাজী নজরুল ইসলাম
  3. গ) ইব্রাহিম খাঁ
  4. ঘ) সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
ব্যাখ্যা
• প্রিন্সিপাল ইব্রাহীম খাঁ, (১৮৯৪-১৯৭৮)  শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক।  
• টাঙ্গাইল জেলার শাবাজ নগর গ্রামে এক মধ্যবিত্ত কৃষক পরিবারে তাঁর জন্ম। 
• ১৯৭৮ সালের ২৯ মার্চ ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়। 
• উল্লেখযোগ্য নাটক-- 
- কামাল পাশা
- আনোয়ার পাশা
- কাফেলা
- ঋণ পরিশোধ

• ভ্রমন কাহিনী--
- নয়া চীনে এক চক্কর 
- ইস্তাম্বুল যাত্রীর পত্র

• উপন্যাস --
- বৌ-বেগম
- লক্ষ্মীছাড়া

• গল্পগ্রন্থ--
- সোনার শিকল
-  দাদুর আসর
- ওস্তাদ
- মানুষ

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (ড সৌমিত্র শেখর) ও বাংলাপিডিয়া।
৩৩.
মুনীর চোধুরী রচিত ‘দন্ডকারণ্য’ গ্রন্থে কয়টি নাটক রয়েছে?
  1. ক) ৫
  2. খ) ৩
  3. গ) ২
  4. ঘ) ৪
ব্যাখ্যা

মুনীর চৌধুরীর উল্লেখযোগ্য নাটক:
- রক্তাক্ত প্রান্তর (১৯৬২): পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের কাহিনী এর মূল উপজীব্য। এতে তিনি যুদ্ধবিরোধী মনোভাব প্রকাশ করেন। নাটকটির জন্য তিনি ১৯৬২ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার পান,
- চিঠি (১৯৬৬),
- কবর (রচনাকাল ১৯৫৩, প্রকাশকাল ১৯৬৬) পূর্ববাংলার প্রথম প্রতিবাদী নাটক, নাটকটির পটভূমি হলো ১৯৫২ এর ভাষা আন্দোলন.
- দণ্ডকারণ্য (১৯৬৬): রূপকাশ্রয়ী নাটক।
- পলাশী ব্যারাক ও অন্যান্য (১৯৬৯)।
- মানুষ(১৯৪৭): ১৯৪৬ সালের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার কাহিনী এর মূল উপজীব্য।
- নষ্ট ছেলে(১৯৫০): রাজনৈতিক চেতনাসমৃদ্ধ নাটক।

দণ্ডকারণ্য(১৯৬৬): তিনটি নাটকের সমন্বয়।
যথা:
- দণ্ড
- দণ্ডধর
- দন্ডকারণ্য

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য ও জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।

৩৪.
আবুল ফজল রচিত 'রেখাচিত্র' গ্রন্থটি কোন জাতীয় রচনা?
  1. রম্যরচনা
  2. দিনিলিপি
  3. ভ্রমণকাহিনী
  4. প্রবন্ধ
ব্যাখ্যা
• ‘রেখাচিত্র’ আবুল ফজল রচিত একটি দিনলিপি। 

• আবুল ফজল: 
- ১৯০৩ সালে চট্টগ্রাম জেলায় তাঁর জন্ম। 
- তিনি মুসলিম সাহিত্য সমাজের অন্যতম কর্ণধার হিসেবে 'বুদ্ধির মুক্তি' আন্দোলন গড়ে তোলেন। 
- এ আন্দোলনের মুখপত্র শিখা পত্রিকা। 
- “দুর্দিনের দিনলিপি” - ১৯৭২ সালে প্রকাশিত হয়।
- এটি তার মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ের রোজনামচা।
- মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাক সেনাদের হাত থেকে বাঁচার জন্য আত্মগোপন করেন এবং সে সময় তিনি এই ডায়রি লিখেন।
- ‘রেখাচিত্র’ আবুল ফজল রচিত একটি দিনিলিপি। 
- আবুল ফজল  উপন্যাস,  ছোটগল্প, নাটক, আত্মকথা, ধর্ম, ভ্রমণকাহিনী ইত্যাদি বিষয়ে বহু গ্রন্থ রচনা করেন।

•  তাঁর প্রধান কয়েকটি রচনাবলি হলো:
- চৌচির, 
- প্রদীপ ও পতঙ্গ, 
- মাটির পৃথিবী, 
- বিচিত্র কথা, 
- রাঙ্গা প্রভাত, 
- রেখাচিত্র, 
- মৃতের আত্মহত্যা প্রভৃতি।

• ‘রেখাচিত্র’ (১৯৬৬) আবুল ফজল রচিত একটি দিনিলিপি।
- তিনি রেখাচিত্রের জন্য আদমজি পুরস্কার (১৯৬৬) লাভ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া। 
৩৫.
‘বাদশা হারুন ও মেহেরজান’ শওকত ওসমান রচিত কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. জাহান্নম হইতে বিদায়
  2. ক্রীতদাসের হাসি
  3. রাজা উপাখ্যান
  4. রাজসাক্ষী
ব্যাখ্যা
⇒ ক্রীতদাসেরে হাসি:
- এটি শওকত ওসমানের প্রতীকাশ্রয়ী উপন্যাস।
- উপন্যাসটিতে প্রতীকাশ্রয়ে তৎকালীন পাকিস্তানীদের বিরূপ শাসন ও সামরিক শাসক আইয়ুব খানের সমালোচনা করা হয়েছিল। 
- উপন্যাসটির গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি চরিত্র হলো: বাদশা হারুন, বেগম জুবাইদা, তাতারী, মেহেরজান।

⇒ শওকত ওসমান: 
- শওকত ওসমান কথাসাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক ছিলেন।
- ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান; ‘শওকত ওসমান’ তাঁর সাহিত্যিক নাম।
- 'জাহান্নম হইতে বিদায়' শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস। 

তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- জননী,
- জাহান্নম হইতে বিদায়,
- দুই সৈনিক,
- সমাগম,
- চৌরসন্ধি, 
- রাজা উপাখ্যান, 
- নেকড়ে অরণ্য, 
- পতঙ্গ পিঞ্জর, 
- রাজসাক্ষী, 
- জলাংগী, 
- পুরাতন খঞ্জর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৬.
'চতুরঙ্গ' পত্রিকার প্রধান উদ্যোক্তা ছিলেন- 
  1. হুমায়ুন আজাদ 
  2. প্রেমেন্দ্র মিত্র
  3. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত 
  4. হুমায়ুন কবির
ব্যাখ্যা

• 'চতুরঙ্গ' পত্রিকা:
- 'চতুরঙ্গ' পত্রিকা সম্পাদনা করে হুমায়ুন কবির স্মরণীয় হয়ে আছেন।
- বাংলা সাময়িকপত্রের ইতিহাসে ত্রৈমাসিক ‘চতুরঙ্গ’ অবিস্মরণীয় নাম। ‘চতুরঙ্গ’-এর প্রথম সংখ্যা (আশ্বিন ১৩৪৫) বের হয় ১৯৩৮ খ্ৰীষ্টাব্দের শেষ দিকে, অক্টোবর মাসে। তবে উদ্যোগ শুরু হয়েছিল বছরের প্রথম দিকেই।

- ঐ ঐতিহাসিক উদ্যোগের প্রধান তিন কলাকুশলী হুমায়ুন কবির (১৯০৬-১৯৬৯), বুদ্ধদেব বসু (১৯০৮-১৯৭৪), আতাউর রহমান। তবে প্রথম থেকেই হুমায়ুন কবিরই ছিলেন প্রধান উদ্যোক্তা। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া এবং 'চতুরঙ্গ' পত্রিকা।

৩৭.
"পথের পাঁচালী" উপন্যাসের চরিত্র কোনটি
  1. বিমলা
  2. সরলা
  3. দুর্গা
  4. শর্মিলা
ব্যাখ্যা
• "পথের পাঁচালী" উপন্যাস:
- 'পথের পাঁচালী' (১৯২৯) বিভূতিভূষণের প্রথম উপন্যাস এবং অনেকের মতে শ্রেষ্ঠ উপন্যাস। প্রথম রচিত এই উপন্যাসের মাধ্যমেই তিনি বিপুল খ্যাতি অর্জন করেন। উপন্যাসটি প্রথম প্রকাশিত হয় 'বিচিত্রা' পত্রিকায়। গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয় সজনীকান্ত দাসের রঞ্জন প্রকাশালয়, কলকাতা থেকে।

- এই কাহিনির পটভূমিতে আছে বাংলাদেশের গ্রাম ও তার পরিচিত, মানুষের জীবন। এর প্রধান অংশই হলো একটি শিশুর চৈতন্যের জাগরণ, মানুষ ও প্রকৃতির সঙ্গে তার পরিচয়। প্রত্যেকটি আপাততুচ্ছ বিষয় ও ঘটনা নিয়ে আসে রহস্য ও সৌন্দর্যের আভাস, সবই মূল্যবান ও আনন্দময়।

- এর তিনটি ভাগ: বল্লালী বালাই, আমআঁটির ভেঁপু, অক্রুর সংবাদ।'পথের পাঁচালী'র নায়ক বালক অপু। উপন্যাসের দ্বিতীয় খণ্ড 'অপরাজিত' (১৯৩১)। দ্বিতীয় অংশে অপুর কৈশোর ও যৌবনের কাহিনি বর্ণিত হয়েছে। 'পথের পাঁচালী' ও 'অপরাজিত' অবলম্বনে সত্যজিৎ রায় চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন।
- পথের পাঁচালী উপন্যাসটি ভারতীয় বিভিন্ন ভাষাসহ ইংরেজি ও ফরাসি ভাষায় অনূদিত হয়েছে।

'পথের পাঁচালী'র উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো-
- অপু,
- দুর্গা,
- ইন্দির ঠাকরুন,
- সর্বজয়া।

অন্যদিকে, 
• রবীন্দ্রনাথের 'ঘরে-বাইরে' উপন্যাসের চরিত্র- নিখিলেশ, বিমলা, সন্দীপ, চন্দ্রনাথ, মেজরাণী। 
• রবীন্দ্রনাথের 'মালঞ্চ' উপন্যাসের চরিত্র- আদিত্য, নীরজা, সরলা। 
• রবীন্দ্রনাথের 'দুইবোন' উপন্যাসের চরিত্র- শর্মিলা, উর্মিমালা, শশাঙ্ক। 

উৎস: "পথের পাঁচালী" উপন্যাস এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৮.
'অমৃত কুম্ভের সন্ধানে' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. ক) তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. খ) সমর সেন
  3. গ) সমরেশ বসু
  4. ঘ) দীনেশ্চন্দ্র সেন
ব্যাখ্যা
• 'অমৃত কুম্ভের সন্ধানে' উপন্যাসের রচয়িতা সমরেশ বসু। 
- ১৯৫৫ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত হয়। 
- এ উপন্যাসের মধ্য দিয়ে 'কালকূট' ছদ্মনামে সমরেশ বসুর উপন্যাস রচনার সূত্রপাত। 

• তাঁর অন্যান্য উপন্যাস হলো:
- গঙ্গা
- উত্তরঙ্গ
- জগদ্দল
- বিবর
- প্রজাপতি

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৯.
শহীদুল্লাহ কায়সারের প্রকৃত নাম কী?
  1. আবু নাঈম মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ
  2. আবু নাসের মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ
  3. মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ আবু নায়েম
  4. আবু আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ শহীদ
ব্যাখ্যা
শহীদুল্লাহ কায়সারের প্রকৃত নাম আবু নাঈম মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ। 

শহীদুল্লাহ কায়সার (১৯২৭-১৯৭১):
- কথাসাহিত্যিক, সাংবাদিক, লেখক শহীদুল্লাহ কায়সারের জন্ম ১৯২৭ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ফেনী জেলার মজুপুর গ্রামে।
-  তাঁর প্রকৃত নাম আবু নাঈম মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ।
- পিতা মাওলানা মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহ ছিলেন ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ।
- প্রখ্যাত চলচ্চিত্রকার ও লেখক  জহির রায়হান তাঁর অনুজ।
- পান্না কায়সার তাঁর সহধর্মিণী।
- ছাত্রজীবনে তিনি বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত সমাজতান্ত্রিক রাজনীতির চর্চা করতেন।
- ১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর পূর্ব পাকিস্তানের গণতান্ত্রিক ধারার সকল আন্দোলনের সঙ্গে তিনি যুক্ত ছিলেন।
- বামপন্থী রাজনীতির সমর্থক হিসেবে তিনি শ্রমিক-জনতার দুঃখ-দুর্দশা লাঘবের জন্য সক্রিয় সংগ্রামের ওপর গুরুত্ব দিতেন।
-  ১৯৫২-র  ভাষা আন্দোলন-এ তিনি অত্যন্ত সাহসী ভূমিকা পালন করেন এবং ৩জুন গ্রেফতার হয়ে প্রায় সাড়ে তিন বছর কারাভোগ করেন। 
- শহীদুল্লা কায়সারের প্রধান  উপন্যাস সারেং বউ (১৯৬২)-এ মানুষ ও তার অস্তিত্বের সংগ্রামের কথা বর্ণিত হয়েছে।

তাঁর অন্যান্য উপন্যাস
- সংশপ্তক (১৯৬৫),
- কৃষ্ণচূড়া মেঘ,
- তিমির বলয়,
- দিগন্তে ফুলের আগুন,
- সমুদ্র ও তৃষ্ণা,
- চন্দ্রভানের কন্যা,
- কবে পোহাবে বিভাবরী (অসমাপ্ত) ।

- রাজবন্দীর রোজনামচা (১৯৬২) ও পেশোয়ার থেকে তাসখন্দ (১৯৬৬) তাঁর স্মৃতিকথা ও ভ্রমণবৃত্তান্ত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪০.
কোন লেখকের উপাধি 'সাহিত্যরত্ন'?
  1. মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক
  2. আবুল হোসেন
  3. গোবিন্দচন্দ্র দাস
  4. মোহাম্মদ নজিবর রহমান
ব্যাখ্যা
মোহাম্মদ নজিবর রহমান:
- মোহাম্মদ নজিবর রহমান ছিলেন মূলত ঔপন্যাসিক।
- তিনি আনুমানিক ১৮৬০ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৯২৩ সালের ১৮ অক্টোবর রায়গঞ্জের হাটি কুমরুল গ্রামে তাঁর মৃত্যু হয়।
- নজিবর রহমান ইসমাইল হোসেন সিরাজীর প্রত্যক্ষ অনুপ্রেরণায় সাহিত্যকর্মে ব্রত হন।
- নজিবর রহমান তাঁর উপন্যাসে গ্রামীণ মুসলিম পরিবারের অন্তরঙ্গ ছবি তুলে ধরতে সক্ষম হন।
- সাহিত্যে অবদানের জন্য তিনি ‘সাহিত্যরত্ন’ উপাধি লাভ করেন। 
- প্রথম সামাজিক উপন্যাস আনোয়ারা লিখে তিনি বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। 
- তাঁর জনপ্রিয় উপন্যাসের নাম ‘আনোয়ারা’।

তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাসগুলো হলো:
- চাঁদতারা বা হাসান গঙ্গা বাহমনি।
- পরিণাম
- গরীবের মেয়ে
- দুনিয়া আর চাই না ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
৪১.
'বিশ্বনবী' গদ্য গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. মাওলানা আকরাম খাঁ
  2. গোলাম মোস্তফা
  3. কাজী নজরুল ইসলাম
  4. সৈয়দ আলী আহসান 
ব্যাখ্যা

• ‘বিশ্বনবী’:
- বাংলা সাহিত্যে সীরাতচর্চার ইতিহাসে কবি গোলাম মোস্তফার ‘বিশ্বনবী’ একটি মাইলফলক গ্রন্থ। নবীজী হযরত মুহাম্মদ (স.)এর জীবন আদর্শ সহজ ও প্রাঞ্জল ভাষায়, কাব্যধর্মী গদ্যের অনন্য গাঁথুনিতে এ গ্রন্থে প্রকাশ পেয়েছে ।

- কবি গোলাম মোস্তফা ‘বিশ্বনবী’ গ্রন্থে নবীজী র জন্ম থেকে শুরু করে সামগ্রিক জীবন তথা দাওয়াত, সংগ্রাম, হিজরত, মদীনায় রাষ্ট্রগঠন, জিহাদ, শান্তি-নীতি, বিদেশনীতি, পরিবার, সমাজ, বিদায় হজ্জ ও ইন্তেকাল — সবকিছু ধারাবাহিকভাবে তুলে ধরোছেন। পাশাপাশি সংযুক্ত দ্বিতীয় খণ্ডে নানাবিধ সংশয়ের তথ্য ও যুক্তিনির্ভর জবাব দিয়েছেন জোরালো ভাবে।

---------------------
• গোলাম মোস্তফা:

- গোলাম মোস্তফা (১৮৯৭-১৯৬৪) কবি ও লেখক। যশোর (বর্তমান ঝিনাইদহ) জেলার শৈলকুপা উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে তাঁর জন্ম। তাঁর পিতা গোলাম রববানী এবং পিতামহ কাজী গোলাম সরোয়ার দুজনেই ছিলেন লোককবি।

- গোলাম মোস্তফা পাকিস্তানি আদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন এবং ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময় উর্দুর প্রতি সমর্থন জ্ঞাপন করেন। ১৯৪৯ সালে গঠিত পূর্ববঙ্গ সরকারের ভাষা সংস্কার কমিটির সচিব হিসেবে তিনি কাজ করেন। তিনি গদ্য ও পদ্য রচনায় সমান দক্ষ ছিলেন, তবে কবি হিসেবেই তাঁর মুখ্য পরিচয় ছিল।

- তাঁর বিশ্বনবী গ্রন্থখানি বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল। এতে তিনি হযরত মুহাম্মদ (স.)-কে ঐতিহাসিক মহামানব হিসেবে মূল্যায়ন করেছেন।
গোলাম মোস্তফার কাব্যের উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো সহজ ও শিল্পসম্মত প্রকাশভঙ্গি এবং ছন্দোলালিত্য।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো হলো:
- রক্তরাগ,
- খোশরোজ,
- কাব্য-কাহিনী,
- সাহারা,
- হাসনাহেনা,
- বুলবুলিস্তান, 
- তারানা-ই-পাকিস্তান,
- বনি আদম,
- গীতিসঞ্চালন ইত্যাদি।

তাঁর গদ্যরচনার মধ্যে রয়েছে-
- বিশ্বনবী,
- ইসলাম ও কমিউনিজম,
- ইসলাম ও জেহাদ,
- আমার চিন্তাধারা,
- পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা ইত্যাদি প্রধান।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;  ‘বিশ্বনবী’ গ্রন্থ এবং বাংলাপিডিয়া।

৪২.
জজ আব্রাহাম গ্রিয়াসন ছিলেন একজন-
  1. রাজনীতিবিদ
  2. ভাষাতাত্ত্বিক
  3. সাংবাদিক
  4. নাট্যকার
ব্যাখ্যা
• জর্জ আব্রাহাম গ্রিয়াসন:
- তিনি আয়ারল্যান্ডের ডাবলিনে ১৮৫১ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত প্রাচ্যতত্ত্ববিদ ও ভাষাতাত্ত্বিক।
- ভারতীয় ভাষা শিক্ষা ও অনুশীলনে বিশেষভাবে উৎসাহী ছিলেন।
- তিনি ১৯৪১ সালে মৃত্যবরণ করেন।

• তাঁর সম্পাদিত গ্রন্থ:
- The Kashmiri Ramayana,
- Comprising the Sriramavataracarita and the Lava-Kusayuddha Caritra of Divakara Prakasa Bhatta,
- হিন্দি কবি মালিক মুহাম্মদ জায়সীর 'পদুমাবৎ'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪৩.
ঢাকায় মুসলিম সাহিত্য সমাজ গঠন করেন -
  1. আবুল হাসান
  2. আবুল হুসেন
  3. আবু ইসহাক
  4. আবুল ফজল
ব্যাখ্যা
আবুল হুসেন একজন প্রাবন্ধিক, চিন্তাবিদ, সমাজ সংস্কারক ছিলেন।
• আবুল হুসেন মুসলমান সমাজে আধুনিক শিক্ষা ও জ্ঞানের আলো বিস্তারের উদ্দেশ্যে লেখনী পরিচালনা করেন।
• আবুল হুসেন ছিলেন শিখা পত্রিকার প্রথম বর্ষের সম্পাদক।
• তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থের নামঃ
- বাংলার বলশী,
- মুসলিম কালচার ও
- বাঙালি মুসলমানদের শিক্ষা সমস্যা ইত্যাদি।
• বাংলার বলশী গ্রন্থে তিনি কৃষকদের দুঃখ দুর্দশা চিহ্নিত করে তাদের মুক্তির পথ নির্দেশ করেন।
• মননশীল প্রবন্ধকার হিসেবে তিনি কৃষক-সমাজের দুঃখ-দুর্দশার মুক্তির পথ নির্দেশ করেন তাঁর 'বাংলার বলশী' গ্রন্থের প্রবন্ধসমূহে।
• রুশবিপ্লবের প্রেরণায় অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি ‘কৃষকের আর্তনাদ’, ‘কৃষকের দুর্দশা’ ও ‘কৃষি বিপ্লবের সূচনা’ নামক প্রবন্ধ রচনা করেন।
• ঢাকায় যে বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন হয় তাতে আবুল হুসেনই নেতৃত্ব দেন।
• তিনি ঢাকায় মুসলিম সাহিত্য সমাজ (১৯২৬) গঠন এবং এর মুখপত্র শিখা সম্পাদনা ও প্রকাশ করে এ আন্দোলনকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেন।
• কাজী আবদুল ওদুদ, কাজী মোতাহার হোসেন, মুহম্মদ শহীদুল্লাহ ও আবুল ফজল তাঁকে এ কাজে সাহায্য করেন।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪৪.
’খােয়াবনামা’ গ্রন্থের লেখক কে?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. প্রমথ চৌধুরী
  3. আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
  4. বুদ্ধদেব বসু
ব্যাখ্যা

আখতারুজ্জামান ইলিয়াস:
- আখতারুজ্জামান ইলিয়াস (১৯৪৩-১৯৯৭) কথাসাহিত্যিক।
- তাঁর পূর্ণনাম আখতারুজ্জামান মুহম্মদ ইলিয়াস।
- আখতারুজ্জামান ইলিয়াস বাংলাদেশ লেখক শিবিরের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
- এদেশের প্রগতিশীল ও মানবতাবাদী সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক আন্দোলনের প্রতিও তাঁর পরোক্ষ সমর্থন ছিল।
- তাঁর লেখায় সমাজবাস্তবতা ও কালচেতনা গভীরভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।

তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ হলো:
• উপন্যাস:
- চিলেকোঠার সেপাই,
- খােয়াবনামা।
(এই দুটি হলো তার মহাকাব্যোচিত উপন্যাস)

• ছােটগল্প:
- অন্য ঘরে অন্য স্বর,
- খোয়ারি,
- দুধভাতে উৎপাত,
- দোজখের ওম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৪৫.
ধীবর সমাজের নিষ্ঠুর জীবন সংগ্রামের দুঃখ-দুর্দশা নিয়ে রচিত উপন্যাস-
  1. ক) হাসলী বাঁকের উপকথা
  2. খ) তিতাস একটি নদীর নাম
  3. গ) পুতুল নাচের ইতিকথা
  4. ঘ) একটি কালো মেয়ের কথা
ব্যাখ্যা
- 'তিতাস একটি নদীর নাম' উপন্যাসের রচয়িতা অদ্বৈত মল্লবর্মণ। এটি ৪ খণ্ডে রচিত।
- এটিতে মৎস্যজীবী মানুষের জীবন কাহিনী বা ধীবর সমাজের নিষ্ঠুর জীবন সংগ্রামের দুঃখ-দুর্দশার সাধারণ কাহিনীকে তুলে ধরা হয়েছে‌।
- ঋত্বিক ঘটকের পরিচালনায় ১৯৭৩ সালে উপন্যাসটিকে চলচ্চিত্রে রূপায়িত করা হয়।

উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৪৬.
'কাল নিরবধি' - গ্রন্থটি রচনা করেন কে?
  1. অমিয় চক্রবর্তী
  2. আনিসুজ্জামান
  3. অন্নদাশঙ্কর রায়
  4. আবুল কালাম শামসুদ্দীন
ব্যাখ্যা

আনিসুজ্জামান:
- লেখক আনিসুজ্জামান এর প্রকৃত নাম এ.টি.এম. আনিসুজ্জামান।
- ১৯৬২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে 'ইংরেজি আমলের বাংলা সাহিত্যে বাঙালি মুসলমানের চিন্তাধারা' শিরোনামে ডক্টরেট লাভ করেন। এই গবেষণাপত্রকে তিনি ‘মুসলিম মানস ও বাংলা সাহিত্য' (১৯৬৪) নামে গ্রন্থরূপ দেন।
- তিনি রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০০৫ সালে সম্মানিক ডি.লিট. পান।
- এছাড়াও ২০১৪ সালে ভারত সরকারের পদ্মভূষণ লাভ করেন।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের নাম:
- স্বরূপের সন্ধানে,
- আঠারো শতকের বাংলা চিঠি,
- বাঙালি নারী: সাহিত্য ও সমাজে,
- কাল নিরবধি

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৪৭.
'অশনি সংকেত' উপন্যাসের কাহিনীতে কোন অঞ্চলের প্রভাব রয়েছে?
  1. ঘাটশিলা ও বিহার
  2. বারাকপুর ও বনগ্রাম
  3. ঢাকা ও বিক্রমপুর
  4. মুর্শিদাবাদ ও নদীয়া
ব্যাখ্যা

'অশনি সংকেত' উপন্যাস: 
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস।
- এর পটভূমি দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের বিষময় ফল ১৩৫০ বঙ্গাব্দের দুর্ভিক্ষ।
- আর এই দুর্ভিক্ষের করাল গ্রাস গ্রাম বাংলায় কীভাবে বিস্তার লাভ করেছে তার নিখুঁত বর্ণনা দিয়ে বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচনা করেন এই উপন্যাসটি।
- এটা প্রথম প্রকাশ হয় ১৯৫৯ সালে।
- তবে পুস্তকাকারে প্রকাশের ১৯৪৪-৪৬ সাল পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে মাসিক মাতৃভূমি পত্রিকায় প্রকাশিত।
- 'অশনি সংকেত'র পটভূমি বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বগ্রাম বারাকপুর ও তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চল ও বনগ্রাম মহকুমা শহর

বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস:
- পথের পাঁচালী,
- অপরাজিত, 
- অশনি সংকেত,
- আরণ্যক,
- আদর্শ হিন্দু হোটেল,
- দেবযান, 
- ইছামতী,
- দৃষ্টি প্রদীপ, 
- অনুবর্তন ইত্যাদি।

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৪৮.
'তিতাস একটি নদীর নাম' কী জাতীয় রচনা?
  1. উপন্যাস
  2. গল্প
  3. স্মৃতিকথা
  4. প্রবন্ধ
ব্যাখ্যা
'তিতাস একটি নদীর নাম'  অদ্বৈত মল্লবর্মণ রচিত একটি উপন্যাস।
- উপন্যাসটি ১৩৫২ বঙ্গাব্দে ১৯৫৬ সালে 'মোহাম্মদী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। 
- জেলে ও মৎসজীবীদের অন্ত্যজ জীবন নিয়ে রচিত।  
- সাংবাদিক, ঔপন্যাসিক অদ্বৈত মল্লবর্মণ এর জন্ম ১৯১৪ সালের ১ জানুয়ারি  ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার গোকর্ণ গ্রামে এক দরিদ্র জেলে পরিবারে।
-  তিনি  মোহাম্মদী,  আজাদ,  নবযুগ, কৃষক,  যুগান্তর প্রভৃতি পত্রিকায়ও সাংবাদিকতা করেন।

তাঁর কিছু উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- নয়াবসত,
- রামধনু,
- সাদা হাওয়া ইত্যাদি 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪৯.
'আঞ্চলিক ভাষার অভিধান' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  2. খ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. গ) মোতাহার হোসেন চৌধুরী
  4. ঘ) প্রমথ চৌধুরী
ব্যাখ্যা
ভাষা ও সাহিত্য, বাঙ্গালা ব্যাকরণ, বাংলা সাহিত্যের কথা, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, বাঙ্গালা ভাষার ইতিবৃত্ত, আঞ্চলিক ভাষার অভিধান ও বুদ্ধিস্ট মিস্টিক সংস ইত্যাদি ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ রচিত গবেষণামূলক গ্রন্থ। আমাদের সমস্যা, বাংলা আদব কী তারিখ এগুলো তাঁর প্রবন্ধগ্রন্থ।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৫০.
“সাত নম্বর ওয়ার্ড” - কার রচনা?
  1. ক) সত্যেন সেন
  2. খ) শামসুজ্জামান খান
  3. গ) সমর সেন
  4. ঘ) সেলিনা হোসেন
ব্যাখ্যা
বাইবেলের কাহিনী অবলম্বন করে বাংলা সাহিত্যে উপন্যাস রচনাকারী প্রথম লেখক - সত্যেন সেন। তার শ্রেষ্ঠ দুটি রচনা - অভিশপ্ত নগরী ও পাপের সন্তান। অন্যান্য উপন্যাস - ভোরের হিহঙ্গী, রুদ্ধদ্বার মুক্তপ্রাণ, পদচিহ্ন, বিদ্রোহী কৈবর্ত, আল বেরুনী (জীবনীভিত্তিক), সাত নম্বর ওয়ার্ড, উত্তরণ, মা ইত্যাদি। উৎসঃ মোহসীনা নাজিলা রচিত শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য।
৫১.
নিচের গ্রন্থগুলির মধ্যে কোনটি কাব্যগ্রন্থ নয়?
  1. কথা ও কাহিনী
  2. রাত্রি শেষ
  3. হাজার বছর ধরে
  4. চোখের চাতক
ব্যাখ্যা
⇒ হাজার বছর ধরে:
- আবহমান বাংলার জীবন ও জনপদ জহির রায়হান রচিত 'হাজার বছর ধরে' (১৯৬৪) উপন্যাসের মূল প্রতিপাদ্য। 
- 'টুনি' চরিত্রের দেখা পাওয়া যায় জহির রায়হান রচিত 'হাজার বছর ধরে' উপন্যাসে।
- এই উপন্যাসের নায়িকা 'টুনি' একমাত্র জীবন্ত চরিত্র।
- আর সবাই যেন মৃত ও বিবর্ণ। 

⇒ জহির রায়হান:
- জহির রায়হান ১৯৩৫ সালে তিনি ফেনী জেলার মজিপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- জহির রায়হান একাধারে চলচ্চিত্র নির্মাতা ও লেখক ছিলেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম মোহাম্মদ জহিরুল্লাহ।
- ‘হাজার বছর ধরে’ উপন্যাসের জন্য তিনি আদমজি সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন।
- উপন্যাসের জন্য ১৯৭২ সালে তাঁকে বাংলা একাডেমি পুরস্কার প্রদান করা হয়।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- শেষ বিকেলের মেয়ে,
- আরেক ফাল্গুন,
- বরফ গলা নদী,
- আর কত দিন,
- কয়েকটি মৃত্যু।

• তাঁর পরিচালিত ছবিগুলো হলো:
- কখনো আসেনি ( প্রথম পরিচালিত ছবি),
- সোনার কাজল,
- কাঁচের দেয়াল,
- বেহুলা,
- জীবন থেকে নেয়া,
- আনোয়ারা,
- সঙ্গম,
- বাহানা।

অন্যদিকে,
- 'কথা ও কাহিনী' (১৯০০) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ। 
- কবি আহসান হাবীবের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ 'রাত্রিশেষে'। উল্লেখ্য অপশনে রাত্রি শেষ দেয়া আছে।
- 'চোখের চাতক' কাজী নজরুল ইসলামের সংগীত বিষয়ক গ্রন্থ বা গীতিকাব্য। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫২.
'কুঁচবরণ কন্যা' শিশুতোষ গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. প্রমথ চৌধুরী
  2. বন্দে আলী মিয়া
  3. মোতাহের হোসেন চৌধুরী
  4. প্রেমেন্দ্র মিত্র
ব্যাখ্যা

• শিশুতোষ গ্রন্থ 'কুঁচবরণ কন্যা' এর রচয়িতা - বন্দে আলী মিয়া

বন্দে আলী মিয়া:
- সাহিত্যিক, সাংবাদিক, চিত্রকর বন্দে আলী মিয়া ১৯০৬ সালের ১৫ ডিসেম্বর পাবনা জেলার রাধানগর গ্রামে জন্মগ্রহন করেন।
- বন্দে আলী মিয়া কবিতা,  উপন্যাস, নাটক, জীবনী,  শিশুসাহিত্য প্রভৃতি মাধ্যমে গ্রন্থ রচনা করেন।
- তাঁর রচনায় বাংলার মানুষ, সমাজ ও প্রকৃতির প্রতিফলন ঘটেছে।

তাঁর অন্যান্য শিশুসাহিত্য:
- চোর জামাই,
- মেঘকুমারী,
- বাঘের ঘরে ঘোগের বাসা,
- সোনার হরিণ,
- শিয়াল পন্ডিতের পাঠশালা,
- কুঁচবরণ কন্যা,
- সাত রাজ্যের গল্প।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৫৩.
'বাঙালি মুসলমানের মন' কার লেখা?
  1. আহমেদ শরীফ
  2. আহমদ ছফা
  3. আনিসুজ্জামান
  4. আবুল ফজল
ব্যাখ্যা

আহমদ ছফা:
- আহমদ ছফা ছিলেন একজন প্রতিবাদী লেখক, প্রগতিপন্থি সাহিত্যকর্মী ও সংগঠক।
- আহমদ ছফা ৩০শে জুন, ১৯৪৩ সালে গাছবাড়িয়া, চট্টগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত ছিলেন চিন্তাবিদ ও সাহিত্যিক।
- তিনি স্বদেশ পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন। ১৯৭০ সালের গোড়ার দিকে আহমদ ছফার সম্পাদনায় সাহিত্য পত্রিকা ‘স্বদেশ’ প্রকাশিত হয়েছিল। মাত্র তিন সংখ্যা প্রকাশের পর পত্রিকাটির প্রকাশনা বন্ধ হয়ে যায়।

• বাঙালি মুসলমানের মন:
- রচয়িতা: আহমদ ছফা।
- প্রথম প্রকাশ: ১৯৮১ সাল।

• আহমদ ছফা রচিত উপন্যাস:
- গাভী বিত্তান্ত,
- ওঙ্কার,
- অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- বুদ্ধিবৃত্তির নতুন বিন্যাস,
- বাঙালি মুসলমানের মন,
- সাম্প্রতিক বিবেচনা: বুদ্ধিবৃত্তির নতুন বিন্যাস,
- সিপাহী যুদ্ধের ইতিহাস।

কবিতা গ্রন্থ:
- জল্লাদ সময়,
- দুঃখের দিনের দোহা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং বাংলাপিডিয়া।

৫৪.
'নবীন মাধব' কোন নাটকের চরিত্র?
  1. ক) ডাকঘর
  2. খ) জমিদার দর্পণ
  3. গ) সাজাহান
  4. ঘ) নীলদর্পণ
ব্যাখ্যা

- 'নীলদর্পণ' (১৮৬০) নাটকের রচয়িতা দীনবন্ধু মিত্র।
- নাটকটিতে তিনি বাংলার কৃষকদের উপর ব্রিটিশ নীলকরদের নিষ্ঠুর অত্যাচারের স্বরূপ ফুটিয়ে তুলেছেন।

- এই নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্রঃ
• গোলক বসু,
• নবীন মাধব,
• রাইচরণ,
• তোরপ,
• সাবিত্রী,
• সরলতা,
• ক্ষেত্রমণি প্রমুখ।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর

৫৫.
'একাত্তরের ডায়রী' কে লিখেছেন?
  1. ক) জাহানারা ইমাম
  2. খ) কামিনী রায়
  3. গ) সুফিয়া কামাল
  4. ঘ) নীলিমা ইব্রাহিম
ব্যাখ্যা
বেগম সুফিয়া কামালের জন্ম ১৯১১ সালের ২০ জুন বরিশালের শায়েস্তাবাদে এক অভিজাত পরিবারে। 
- তাঁর পৈত্রিক নিবাস কুমিল্লায়।

তাঁর প্রকাশিত কবিতা:
- সাঁঝের মায়া
- মায়া কাজল 
- মন ও জীবন 
- উদাত্ত পৃথিবী
- অভিযাত্রিক 
- মোর যাদুদের সমাধি পরে ইত্যাদি।

তাঁর প্রকাশিত গল্প: 
- কেয়ার কাঁটা 

তাঁর শিশুতোষ গ্রন্থ:
- ইতল বিতল
- নওল কিশোরের দরবারে 

তাঁর আত্মজীবনী:
- একালে আমাদের কাল

তাঁর ডায়েরি:
- একাত্তরের ডায়রী

সূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া
৫৬.
হেমচন্দ্র বন্দোপাধ্যায় রচিত চিন্তাতরঙ্গিণী একটি-
  1. ক) উপন্যাস
  2. খ) মহাকাব্য
  3. গ) কাব্যগ্রন্থ
  4. ঘ) নাটক
ব্যাখ্যা
- হেমচন্দ্র বন্দোপাধ্যায় মূলত মহাকব্যের কবি ছিলেন।
-  মধুসূদনের পরবর্তী কাব্য রচয়িতাদের মধ্যে ইনি সে সময় সবচেয়ে খ্যাতিমান ছিলেন।

হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় এর রচিত কাব্যগ্রন্থ গুলো হলো-
- বীরবাহু
- আশাকানন
- ছায়াময়ী
- দশমহাবিদ্যা
- চিত্তবিকাশ
- চিন্তাতরঙ্গিণী

- তার রচিত মহাকাব্য - বৃত্রসংহার।

• ‘চিন্তাতরঙ্গিণী’ কাব্যগ্রন্থটি প্রতিবেশী এক বন্ধুর আত্মহত্যার ঘটনা অবলম্বনে রচিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫৭.
'চলিষ্ণু অভিধান' বলা হয়—
  1. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়কে
  2. আব্দুল হাইকে
  3. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্-কে
  4. কাজী আবদুল ওদুদকে
ব্যাখ্যা
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্:
• ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ (১৮৮৫-১৯৬৯) ভারতীয় উপমহাদেশের একজন স্মরণীয় বাঙালি ব্যক্তিত্ব, বহুভাষাবিদ, বিশিষ্ট শিক্ষক ও দার্শনিক ছিলেন। তিনি ১৮৮৫ সালের ১০ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার পেয়ারা গ্রামে তাঁর জন্ম।
• তিনি 'জ্ঞানতাপস' হিসেবে অধিক পরিচিত। তাঁকে 'চলিষ্ণু অভিধান' বলা হয়।
• ১৯৫৫-৫৮ সাল পর্যন্ত তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ও সংস্কৃত বিভাগে অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ইমেরিটাস নিযু্ক্ত হন।
• ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ে শহীদুল্লাহ্ বহু মননশীল ও জ্ঞানগর্ভ প্রবন্ধ নানা পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে এবং এ সংক্রান্ত বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা তিনি সম্পাদনা করেন। আল এসলাম পত্রিকার সহকারী সম্পাদক ও বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকার যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে তিনি যোগ্যতার পরিচয় দেন।
• তাঁরই সম্পাদনা ও প্রকাশনায় মুসলিম বাংলার প্রথম শিশুপত্রিকা আঙুর আত্মপ্রকাশ করে। এছাড়াও তিনি ইংরেজি মাসিক পত্রিকা দি পীস, বাংলা মাসিক সাহিত্য পত্রিকা বঙ্গভূমি এবং পাক্ষিক তকবীর সম্পাদনা করেন।
• ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপট জাতিসত্তা সম্পর্কে ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহর বিখ্যাত উক্তি- ''আমরা হিন্দু বা মুসলমান যেমন সত্য, তার চেয়ে বেশি সত্য আমরা বাঙালি।''

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫৮.
শওকত ওসমান রচিত নাটক কোনটি?
  1. পিঁজরাপোল
  2.  জন্ম যদি তব বঙ্গে
  3. আমলার মামলা
  4. পতঙ্গ পিঞ্জর
ব্যাখ্যা

• 'আমলার মামলা' - শওকত ওসমান রচিত একটি নাটক। নাটকটি ১৯৪৯ সালে প্রকাশিত হয়।

শওকত ওসমান:
- শওকত ওসমান কথাসাহিত্যিক ও প্রাবন্ধিক।
- ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান; ‘শওকত ওসমান’ তাঁর সাহিত্যিক নাম।
- ‘নেকড়ে অরণ্য’ শওকত ওসমান রচিত উপন্যাস। মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে রচিত নেকড়ে অরণ্য গ্রন্থে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী কর্তৃক বাংলার নরনারীর নির্যাতনের করুণ বিবরণ আছে।
- তাঁর জননী ও ক্রীতদাসের হাসি উপন্যাস দুটি প্রশংসিত হয়েছে।
- জননীতে সামাজিক জীবন ও ক্রীতদাসের হাসিতে রাজনৈতিক জীবনের কিছু অন্ধকার দিক উন্মোচিত হয়েছে।
- 'জাহান্নম হইতে বিদায়' শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস।

• শওকত ওসমান রচিত কয়েকটি উপন্যাস-
- ক্রীতদাসের হাসি,
- সমাগম,
- রাজা উপাখ্যান,
- দুই সৈনিক,
- নেকড়ে অরণ্য,
- পতঙ্গ পিঞ্জর,
- রাজসাক্ষী,
- জলাঙ্গী,
- পুরাতন খঞ্জর,
- বনি আদম,
- জননী।

শওকত ওসমান রচিত গল্পগ্রন্থ-
- ঈশ্বরের প্রতিদ্বন্দী,
- পিঁজরাপোল,
- জন্ম যদি তব বঙ্গে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৫৯.
আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ রচিত সর্বশেষ কাব্যগ্রন্থ-
  1. ক) সাতনরী হার
  2. খ) আমি কিংবদন্তির কথা বলছি
  3. গ) কখনো রং কখনো সুর
  4. ঘ) মসৃণ কৃষ্ণ গোলাপ
ব্যাখ্যা
সাতনরী হার আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ। আমি কিংবদন্তির কথা বলছি তার সর্বাধিক জননন্দিত কাব্যগ্রন্থ ও মসৃন কৃষ্ণ গোলাপ তার সর্বশেষ কাব্যগ্রন্থ। উৎস: শীকর, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।
৬০.
'বন্যেরা বনে সুন্দর, শিশুরা মাতৃক্রোড়ে' উক্তিটি কোথা থেকে গৃহীত?
  1. ক) কন্ঠমালা
  2. খ) পালামৌ
  3. গ) মাধবীলতা
  4. ঘ) যাত্রা
ব্যাখ্যা
সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৩৪ খ্রিষ্টাব্দে ব্রিটিশ ভারতের বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির অন্তর্গত উত্তর চব্বিশ পরগণা জেলার নৈহাটি শহরের নিকটস্থ কাঁটালপাড়া গ্রামে এক ব্রাহ্মণ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি সাহিত্যসম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এর ছোট ভাই।

তাঁর রচিত উপন্যাসগ্রন্থ: 
- কন্ঠমালা
- মাধবীলতা

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- রামেশ্বরের অদৃষ্ট

তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- যাত্রা 

তাঁর রচিত ভ্রমণকাহিনি:
- পালামৌ
- ১২৮৭ থেকে ১২৮৯ বঙ্গাব্দের 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকায় প্রথম এই ভ্রমণকাহিনি প্রকাশ হয়।
- 'বন্যেরা বনে সুন্দর, শিশুরা মাতৃক্রোড়ে' উক্তিটি 'পালামৌ' ভ্রমণকাহিনি থেকে গৃহীত।

সূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
৬১.
'আত্মজা ও একটি করবী গাছ' হাসান আজিজুল হক রচিত- 
  1. উপন্যাস 
  2. কাব্যগ্রন্থ 
  3. গল্পগ্রন্থ 
  4. প্রবন্ধগ্রন্থ 
ব্যাখ্যা
হাসান আজিজুল হক মূলত কথাসাহিত্যিক।
তার প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্যে
উপন্যাস:
- আগুনপাখি,
- সাবিত্রী উপাখ্যান,
- শিউলি,
- বৃত্তায়ন।

গল্পগ্রন্থ:
- আমরা অপেক্ষা করেছি
- আত্মজা ও একটি করবী গাছ,
- নামহীন গোত্রহীন,
- পাতালে হাসপাতালে,
- সমুদ্রের স্বপ্ন,
- শীতের অরণ্য,
- জীবন ঘষে আগুন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।
৬২.
“উদাত্ত পৃথিবী” কার রচিত কাব্যগ্রন্থ?
  1. ক) সুফিয়া কামাল
  2. খ) স্বর্ণকুমারী দেবী
  3. গ) শওকত আলী
  4. ঘ) সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
ব্যাখ্যা

সুফিয়া কামাল রচিত কাব্যগ্রন্থঃ
- সাঁঝের মায়া,
- মায়া কাজল,
- শান্তি ও প্রার্থনা,
- মন ও জীবন,
- উদাত্ত পৃথিবী,
- অভিযাত্রিক,
- মৃত্তিকার ঘ্রাণ,
- মোর জাদুদের সমাধি পরে।

গল্পঃ
- কেয়ার কাঁটা।

আত্মজীবনীঃ
- একালে আমাদের কাল।

স্মৃতিকথা/ ডায়েরীঃ
- একাত্তরের ডায়েরী।

উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

৬৩.
'একুশের গান' কবিতায় কোন প্রত্যয় ব্যক্ত হয়েছে?
  1. ক) জাতির জাগ্রত প্রতিরোধ
  2. খ) জাতির ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস
  3. গ) জাতির প্রতিবাদ
  4. ঘ) জাতির সংগ্রামী চেতনা
ব্যাখ্যা
১৯৫৩ খ্রিষ্টাব্দে হাসান হাফিজুর রহমান সম্পাদিত 'একুশে ফেব্রুয়ারি' সংকলনে ‘একুশের গান' প্ৰথম ছাপা হয়।
এখানে ১৯৫২ খ্রিষ্টাব্দে সংঘটিত ভাষা-আন্দোলনে বাঙালি ছাত্র-জনতার আত্মোৎসর্গকে স্মরণ করা হয়েছে।
ভাষা-আন্দোলনের রক্তদান কিছুতেই বিস্মৃত হওয়া যায় না এবং  অন্যায়ভাবে গুলিবর্ষণকারী তৎকালীন পাকিস্তানি শোষকদের বিরুদ্ধে বাঙালি জাতির জাগ্রত প্রতিরোধ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত হয়েছে।

হাসান হাফিজুর রহমান রচিত প্রবন্ধ:
- আধুনিক কবি ও কবিতা 
- মূল্যবোধের জন্য 
- সাহিত্য প্রসঙ্গ 
- আলোকিত গহ্বর ইত্যাদি।

• হাসান হাফিজুর রহমান রচিত কাব্যগ্রন্থঃ
- বিমুখ প্রান্তর,
- প্রতিবিম্ব,
- আর্ত শব্দাবলী,
- অন্তিম শহরের মতো,
- যখন উদ্যত সঙ্গীন,
- ভবিতব্যের বাণিজ্য তরী,
- শোকার্ত তরবারি ইত্যাদি।

• হাসান হাফিজুর রহমান রচিত গল্প:
- আরো দুটি মৃত্যু 

উৎস: সাহিত্য কণিকা (অষ্টম শ্রেণি), বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬৪.
বাংলা সাহিত্যে প্রথম পত্রকাব্য-
  1. ক) মেঘনাদবধ
  2. খ) ব্রজাঙ্গনা
  3. গ) পদ্মাবতী
  4. ঘ) বীরাঙ্গনা
ব্যাখ্যা
- বাংলা সাহিত্যে বীরাঙ্গনা কাব্যটি প্রথম পত্রকাব্য
- এটি মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচনা করেন।

• মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- তিনি বাংলা সাহিত্যের মহাকবি, নাট্যকার, বাংলাভাষার সনেট প্রবর্তক, অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক।
- ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তাঁর পিতা রাজনারায়ণ দত্ত ছিলেন কলকাতার একজন প্রতিষ্ঠিত উকিল এবং তাঁর মাতার নাম জাহ্নবী দেবী।
- ইংরেজিতে 'মাইকেল' (michael) শব্দটি হিব্রু 'মিখাইল' (mikha'el) শব্দ থেকে এসেছে।
- Timothy Penpoem ছদ্মনামে তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ The Captive Ladie এবং দ্বিতীয় গ্রন্থ Visions of the Past প্রকাশিত হয়।
- তিনি ১৮৪৩ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি মাত্র ১৯ বছর বয়সে খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণ করেন।
- ১৮৪৮ সালের ৩১ শে জুলাই মধুসূদন দত্ত রেবেকা মেকটাভিসকে বিয়ে করেন।

• বীরাঙ্গনা পত্রকাব্য:
- বাংলা সাহিত্যে 'বীরাঙ্গনা' কাব্যটি প্রথম পত্রকাব্য।
- এটি ১৮৬২ সালে প্রকাশিত হয়।
- রোমান কবি পাবলিসাস ওভিডিয়াস ন্যাসো সংক্ষেপে ওভিদের 'হেরোইদাইদ্‌স' কাব্যের অনুসরণে এটি রচিত।
- এই কাব্যে মোট ১১টি পত্র রয়েছে।
- কাব্যে জনা, কৈকেয়ী, তারা প্রমুখ পৌরাণিক নারী তাদের স্বামী বা প্রেমিকদের নিকট নিজেদের কামনা-বাসনা ও চাওয়া-পাওয়ার কথা নির্ভীকচিত্তে প্রকাশ করে।
- কাব্যটিতে নারী চরিত্রে এরূপ দৃঢ়তার প্রকাশ বাংলা সাহিত্যে মধুসূদনের আগে আর কারও রচনায় প্রত্যক্ষ করা যায় না।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৬৫.
‘মুনতাসীর ফ্যান্টাসী’ নাটকের প্রেক্ষাপট কী?
  1. ক) গণঅভ্যুত্থান
  2. খ) স্বৈরশাসন
  3. গ) জাদুবাস্তবতা
  4. ঘ) মহাজনের নিষ্ঠুরতা
ব্যাখ্যা
ব্যাখ্যা :
সেলিম আল দীন রচিত ‘মুনতাসীর ফ্যান্টাসী’ নাটকের প্রেক্ষাপট আশির দশকের স্বৈরশাসন।
- এটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত হয়।
উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
৬৬.
আল মাহমুদ রচিত কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. কাবিলের বোন
  2. চেহারার চতুরঙ্গ
  3. ডাহুকী
  4. বখতিয়ারের ঘোড়া
ব্যাখ্যা

আল মাহমুদ:
- তিনি ১৯৩৬ সালের ১১ই জুলাই ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার মোড়াইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ।
- তিনি একজন প্রথিতযশা কবি।
- স্বাধীনতা উত্তরকালে তিনি 'দৈনিক গণকণ্ঠ' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- তাঁর প্রকাশিত শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ 'সোনালী কাবিন' (১৯৭৩)।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- লোক লোকান্তর,
- সোনালী কাবিন,
- কালের কলস,
- অদৃষ্টবাদীদের রান্নাবান্না,
- পাখির কাছে ফুলের কাছে,
- দোয়েল ও দয়িতা,
- দ্বিতীয় ভাঙন,
- বখতিয়ারের ঘোড়া,
- প্রেমের কবিতা ইত্যাদি।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- কাবিলের বোন,
- চেহারার চতুরঙ্গ,
- উপমহাদেশ,
- ডাহুকী,
- আগুনের মেয়ে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

৬৭.
শহীদুল্লা কায়সার কত সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন?
  1. ১৯৬২ সালে
  2. ১৯৬১ সালে
  3. ১৯৬৫ সালে
  4. ১৯৬৩ সালে
ব্যাখ্যা
- শহীদুল্লা কায়সার একজন  কথাসাহিত্যিক, সাংবাদিক, লেখক। 
- তিনি ১৯২৭ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ফেনী জেলার মজুপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তাঁর প্রকৃত নাম আবু নাঈম মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ।  তাঁর রচিত উপন্যাসগুলো হলো:
- সারেং বৌ 
- সংশপ্তক 
- কৃষ্ণচূড়া মেঘ,
- তিমির বলয়, 
- দিগন্তে ফুলের আগুন,
- সমুদ্র ও তৃষ্ণা,
- চন্দ্রভানের কন্যা, 
- কবে পোহাবে বিভাবরী (অসমাপ্ত)
- শহীদুল্লা কায়সার  বাংলা একাডেমী পুরস্কার (১৯৬২)এবং  আদমজী সাহিত্য পুরস্কার (১৯৬২) লাভ করেন। 

[উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।]
৬৮.
হুমায়ুন কবির সম্পাদিত পত্রিকা কোনটি?
  1. ক) চতুরঙ্গ
  2. খ) সমকাল
  3. গ) নয়া সড়ক
  4. ঘ) স্বদেশ
ব্যাখ্যা
হুমায়ুন কবির সম্পাদিত বিখ্যাত ত্রৈমাসিক সাহিত্য পত্রিকা “চতুরঙ্গ” ১৯৩৯ সাল থেকে ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত প্রকাশিত হয়।
তাঁর রচিত বিখ্যাত উপন্যাস - নদী ও নারী।
১৯৩২ সালে বারোমাসি নামে একটি মাসিক পত্রিকা তিনি সম্পাদনা করেন।
১৯৫৭ সালে প্রকাশিত, সিকান্‌দার আবু জাফর সম্পাদিত মাসিক সাহিত্যপত্র 'সমকাল'।
আবু জাফর শামসুদ্দীন ও মোহাম্মদ নাসির আমির যৌথ সম্পাদনায় ১৯৪৮ সালে প্রকাশিত বার্ষিক সাহিত্য পত্র 'নয়া সড়ক।'
১৯৬৯ সালে প্রকাশিত, আহমদ ছফা সম্পাদিত পত্রিকা 'স্বদেশ।'

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
৬৯.
'সূর্য দীঘল বাড়ী' উপন্যাসের পটভূমি-
  1. ২য় বিশ্বযুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, দেশবিভাগ
  2. ভাষা আন্দোলন, গণঅভ্যুত্থান, মুক্তিযুদ্ধ
  3. ফকির সন্ন্যাসী আন্দোলন, সিপাহী বিদ্রোহ
  4. স্বদেশী আন্দোলন, কৃষক বিদ্রোহ
ব্যাখ্যা

• সূর্য দীঘল বাড়ী:
• 'সূর্য দীঘল বাড়ী' আবু ইসহাক রচিত একটি সামাজিক উপন্যাস।
- ১৯৫৫সালে উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়।
- বাংলাদেশের গ্রাম জীবনের বিশ্বস্ত দলিল এই গ্রন্থ।
- বিশ্বযুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, দেশবিভাগ প্রভৃতি পরপর চারটি বড় ঐতিহাসিক ঘটনার পটভূমিতে তিনি রচনা করেন 'সূর্য দীঘল বাড়ী'
- জয়গুন এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র।
- উপন্যাসের অন্যান্য চরিত্র: হাসু, মায়মুন, শাফি, ডা. রমেশ চক্রবর্তী, মোরল গদু ইত্যাদি।
 
• কথাসাহিত্যিক আবু ইসহাক রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- পদ্মার পলিদ্বীপ,
- জাল,

গল্পগ্রন্থ:
- হারেম,
- মহাপতঙ্গ,

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৭০.
"আমি রোমান্টিক কবি নই, মার্কসিস্ট" - বিখ্যাত উক্তিটি কার?
  1. ক) সমর সেন
  2. খ) মহাদেব সাহা
  3. গ) সুকান্ত ভট্টাচার্য
  4. ঘ) কাজি নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
"আমি রোমান্টিক কবি নই, মার্কসিস্ট" - উক্তিটি কবি সমর সেন-এর। 
- এর মাধ্যমে  তিনি মার্কসবাদের প্রতি তাঁর প্রবল আকর্ষণ ঘোষণা করেন। নাগরিক জীবনের স্বভাব, অভাব ও অসঙ্গতির বিদ্রূপাত্মক চিত্রায়ণ ঘটেছে তাঁর কবিতায়। আলোর জন্য অনাবিল অস্থিরতা থেকেই তিনি অন্ধকারময় জীবনের বিবিধ বিপর্যয়ে বিক্ষুব্ধ হয়েছেন, যদিও তাঁর এ ক্ষোভের প্রকাশ কখনও খুব তীব্র হয়নি। তাঁর বিদ্রূপের ভাষা তীক্ষ্ণ, ভঙ্গি মর্মান্তিক, লক্ষ্যভেদী। মধ্যবিত্তের প্রতিনিধি হিসেবেই তিনি স্বশ্রেণীর স্বরূপ উন্মোচনে স্বাতন্ত্র্যের স্বাক্ষর রেখেছেন।

মার্কসিস্ট কবি হিসেবে সমর সেন (১৯১৬-৮৭) স্বল্প সময়ে বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেছিলেন।
- সমর সেনের জন্ম কলকাতায়। 
- সাম্যবাদী কবি সমর সেন মাত্র দেড় দশক কবিতা রচনা করেন 
- তিনি কবিতা লেখা ক্ষান্ত দিলেন এই বলে যে- 'এখন আর কবিতা লিখে হবে না; তরবারি চাই, যুদ্ধ করতে হবে। "

তাঁর প্রকাশিত কাব্যের নাম:
- কয়েকটি কবিতা 
- গ্রহণ
- নানা কথা
- খোলা চিঠি
- তিনপুরুষ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
৭১.
'আদর্শ হিন্দু হোটেল' উপন্যাসটির রচয়িতা কে?
  1. তারাশংকর বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. বন্দে আলী মিয়া
  4. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
ব্যাখ্যা
• আদর্শ হিন্দু হোটেল:
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস 'আদর্শ হিন্দু হোটেল'। 
- বিভূতিভূষণের বাস্তব অভিজ্ঞতার মানুষ, আদর্শ হিন্দু হোটেল উপন্যাসের প্রধান চরিত্র হাজারি ঠাকুরের অপূর্ণ স্বাদ ও আকাঙ্খাকেই উপন্যাসে রূপদানের প্রয়াস করা হয়েছে।
- নিজের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলস্বরূপ নিজে যেমন প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন তেমনিভাবে লাভ করেছেন মানুষের ভালোবাসা। 
- উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৪০ সালে।
-----------------------
• বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়:
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় ১৮৯৪ সালে চব্বিশ পরগনায় মুরারিপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা কথা সাহিত্যের সবচেয়ে জনপ্রিয় শিল্পী।
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের রচিত শেষ উপন্যাস ‘ইছামতী’ প্রকাশিত হয় ১৯৫০ সালে।
- মানুষের জীবনের কথা এই উপন্যাসের মূল উপজীব্য।
- ‘ইছামতী’ উপন্যাসের জন্য তিনি রবীন্দ্র পুরস্কার (১৯৪৯) লাভ করেন।
- ১৯৫০ সালের ১লা সেপ্টেম্বর তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

- তাঁর রচিত গ্রন্থ: 
• উপন্যাস:
- পথের পাঁচালী, 
- অপরাজিত, 
- অশনি সংকেত, 
- আরণ্যক, 
- আদর্শ হিন্দু হোটেল, 
- দেবযান, 
- ইছামতী, 
- দৃষ্টি প্রদীপ,  
- চাঁদের পাহাড়।  

• ছোটগল্প:
- মেঘমল্লার,  
- মৌরীফুল,  
- যাত্রাবদল,  
- কিন্নরদল ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭২.
'ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. ক) আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
  2. খ) আবুল কালাম শামসুদ্দীন
  3. গ) আবু জাফর শামসুদ্দীন
  4. ঘ) আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
ব্যাখ্যা
ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান, পদ্মা মেঘনা যমুনা ও সংকর সংকীর্তন - এই তিনটি উপন্যাসকে আবু জাফর শামসুদ্দীনের ত্রয়ী উপন্যাস বলা হয়।
দেয়াল, পরিত্যক্ত স্বামী, মুক্তি ও প্রপঞ্চ - তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাস।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৭৩.
সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত রচিত কাব্যগ্রন্থ নয় -
  1. ভয়াবহ সেই দিনগুলিতে
  2. বিদায় আরতি
  3. বেলা শেষের গান
  4. বেণু ও বীণা
ব্যাখ্যা
সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত:
- তিনি ছিলেন কবি ও ছান্দসিক।
- কলকাতার নিকটবর্তী নিমতা গ্রামে ১৮৮২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা ভাষার নিজস্ব বাগ্‌ধারা ও ধ্বনি সহযোগে নতুন ছন্দসৃষ্টি তাঁর কবিপ্রতিভার মৌলিক কীর্তি। এজন্য তিনি ‘ছন্দের জাদুকর’ ও ‘ছন্দোরাজ’ নামে সাধারণ্যে পরিচিত।
- ১৯১৮ সালে ভারতী পত্রিকার বৈশাখ সংখ্যায় ছন্দ সম্পর্কিত তাঁর প্রসিদ্ধ রচনা ‘ছন্দ-সরস্বতী’ প্রকাশিত হয়।
- সত্যেন্দ্রনাথ একাধিক ছদ্মনামে কাব্যচর্চা করতেন, যেমন - নবকুমার, কবিরত্ন, অশীতিপর শর্মা, ত্রিবিক্রম বর্মণ, কলমগীর ইত্যাদি।

সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- বেণু ও বীণা,
- বেলা শেষের গান,
- বিদায় আরতি

অন্যদিকে,
- জসীম উদ্‌দীন রচিত কাব্যগ্রন্থ - ভয়াবহ সেই দিনগুলিতে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।
৭৪.
'যুদ্ধজয়ের গল্প' - ছোটগল্পটির রচয়িতা কে?
  1. শওকত আলী
  2. সৈয়দ শামসুল হক
  3. বিপ্রদাশ বড়ুয়া
  4. মুনীর চৌধুরী
ব্যাখ্যা
• 'যুদ্ধজয়ের গল্প'  ছোটগল্পটির রচয়িতা - বিপ্রদাশ বড়ুয়া

বিপ্রদাশ বড়ুয়া:
- তিনি ১৯৪০ খ্রিষ্টাব্দে ২০ সেপ্টেম্বরে চট্রগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলাদেশ শিশু একাডেমির সহকারী পরিচালক হিসেবে অবসরগ্রহণ করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- অচেনা, 
- ভয় ভালোবাসা নির্বাসন,
- মুক্তিযোদ্ধারা,
- শ্রামণ গৌতম ইত্যাদি।

তাঁর রচিত ছোটগল্প:
- যুদ্ধজয়ের গল্প,
- গাঙচিল,
- স্বপ্নমিছিল,
- আমি মুক্তিযুদ্ধ সমর্থন করি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭৫.
আবুল মনসুর আহমদের কোন গ্রন্থের ভূমিকা কাজী নজরুল ইসলাম লিখেছিলেন?
  1. আসমানী পর্দা
  2. ফুড কনফারেন্স 
  3. আয়না
  4. নায়েবে নবী
ব্যাখ্যা

• 'আয়না' গল্পগ্রন্থ:
- বাংলা সাহিত্যে ব্যঙ্গরচনার জগতে আবুল মনসুর আহমদের 'আয়না' একটি কালজয়ী গল্পগ্রন্থ।
- ১৯৩৫ সালে প্রকাশিত এই অবিস্মরণী ব্যঙ্গ গল্প-গ্রন্থের ভূমিকায় কাজী নজরুল ইসলাম লিখেছিলেন-

'এমনি আয়নায় শুধু মানুষের বাইরের প্রতিচ্ছবিই দেখা যায় কিন্তু আমার বন্ধু শিল্পী আবুল মনসুর যে আয়না তৈরী করেছেন, তাতে মানুষের অন্তরের রূপ ধরা পড়েছে। যে-সমস্ত মানুষ হরেক রকমে মুখোশ পরে আমাদের সমাজে অবাধে বিচরণ করছে, আবুল মনসুরের আয়নার ভেতরে তাদের স্বরূপ-মূর্তি বন্য ভীষণতা নিয়ে ফুটে উঠেছে।......

এর অন্তর্ভুক্ত গল্পগ্রন্থসমূহ:
- হুযুর কেবলা,
- গো দেওতা কা দেশ,
- নায়েবে নবী,
- লীডরে কওম,
- মুজাহেদীন,
- বিদ্রোহী সংঘ,
- ধর্মরাজ্য।

---------------------
আবুল মনসুর আহমেদ রচিত সাহিত্যকর্মগুলো হলো -
• ব্যঙ্গরচনা:
- আয়না,
- ফুড কনফারেন্স,
- গালিভারের সফরনামা। 

• স্মৃতিকথা:
- আত্মকথা (১৯৭৮, আত্মজীবনী),
- আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর,
- শেরে বাংলা হইতে বঙ্গবন্ধু।

• উপন্যাস:
- সত্যমিথ্যা,
- জীবন ক্ষুধা,
- আবে-হায়াৎ। 

অন্যান্য রচনা
- বাংলাদেশের কালচার,
- আসমানী পর্দা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৭৬.
নিচের কোনটি আল মাহমুদের উপন্যাস?
  1. ক) সোনালী কাবিন
  2. খ) পানকৌড়ির রক্ত
  3. গ) কালের কলস
  4. ঘ) কাবিলের বোন
ব্যাখ্যা
লোক লোকান্তর, কালের কলস, সোনালী কাবিন, পাখির কাছে ফুলের কাছে, অদৃষ্টবাদীদের রান্নাবান্না ইত্যাদি আল মাহমুদ রচিত কাব্যগ্রন্থ। ডাহুকী, উপমহাদেশ, আগুনের মেয়ে, চেহারার চতুরঙ্গ, কাবিলের বোন ইত্যাদি তাঁর রচিত উপন্যাস এবং পানকৌড়ির রক্ত, সৌরভের কাছে পরাজিত, গন্ধবণিক, ময়ূরীর মুখ তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭৭.
ঢাকা মুসলিম সাহিত্য সমাজ কোন সালে প্রতিষ্ঠিত হয়?
  1. ১৯২৬
  2. ১৯২৭
  3. ১৯২৮
  4. ১৯৩১
ব্যাখ্যা
মুসলিম সাহিত্য-সমাজ: 
- ঢাকা ইন্টারমিডিয়েট কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন যুক্তিবাদী ও প্রগতিশীল শিক্ষক ও ছাত্রের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠন।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুসলিম হল ইউনিয়ন কক্ষে বাংলা ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর সভাপতিত্বে ১৯২৬ সালের ১৯ জানুয়ারি মুসলিম সাহিত্য-সমাজ প্রতিষ্ঠিত হয়।
- সংগঠনটির পরিচালনার দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি ও বাণিজ্য বিভাগের অধ্যাপক আবুল হুসেন, মুসলিম হলের ছাত্র এ.এফ.এম আবদুল হক, ঢাকা ইন্টারমিডিয়েট কলেজের ছাত্র আবদুল কাদির প্রমুখের ওপর। তারাই ছিলেন প্রথম কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য।
- নেপথ্যে থেকে দায়িত্ব পালন করতেন ঢাকা ইন্টারমিডিয়েট কলেজের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক কাজী আবদুল ওদুদ ও যুক্তিবিদ্যার অধ্যাপক কাজী আনোয়ারুল কাদীর।

- মুসলিম সাহিত্য সমাজের মুখপাত্র শিখা পত্রিকা প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯২৭ সালে।
- এই পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন আবুল হোসেন।
- এই পত্রিকার স্লোগান ছিলো - 'জ্ঞান যেখানে সীমাবদ্ধ, বুদ্ধি সেখানে আড়ষ্ট, মুক্তি সেখানে অসম্ভব'।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৭৮.
‘বাংলা ভাষার উদ্ভব ও বিকাশ’ গ্রন্থের রচয়িতার নাম-
  1. ক) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  2. খ) বিদ্যাপতি
  3. গ) ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  4. ঘ) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় ইংরেজিতে একটি বই লিখেন 'বাঙলা ভাষার উৎপত্তি ও বিকাশ' নামে।
- ইংরেজিতে এই গ্রন্থটির নাম হলো : 'The Origin and Development of the Bengali Language'।
- সংক্ষেপে এটিকে বলা হয় ODBL এবং এটি ১৯২৬ সালে প্রকাশিত।

উৎস : লাল নীল দীপাবলী, হুমায়ুন আজাদ।
৭৯.
‘ঘরে তার প্রিয়া এক শয্যায় বিনিদ্র রাত জাগে’ - পঙক্তিটি কার রচনা?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. জীবনানন্দ দাশ
  4. সুকান্ত ভট্টাচার্য
ব্যাখ্যা

কিশোর কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য রচিত ছাড়পত্র কাব্যের বিখ্যাত কবিতা রানার থেকে পঙক্তিটি নেওয়া হয়েছে।
সুকান্তের কাব্য গ্রন্থ :
- ছাড়পত্র
- ঘুম নেই
- পূর্বাভাস
- অভিযান
- গীতিগুচ্ছ

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।

৮০.
নিচের কোনটি সৈয়দ শামসুল হকের উপন্যাস নয়?
  1. ক) অনুমপ দিন
  2. খ) দেয়ালের দেশ
  3. গ) খেলারাম খেলে যা
  4. ঘ) আমার যত গ্লানি
ব্যাখ্যা
রশীদ করীমের উপন্যাস 'আমার যত গ্লানি' (১৯৭৩)। 'অনুমপ দিন', 'দেয়ালের দেশ', 'খেলারাম খেলে যা' (১৯৭৯) সৈয়দ শামসুল হকের উপন্যাস। উৎস: শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা।
৮১.
'কয়েকটি কবিতা' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. সমর সেন
  2. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  3. বুদ্ধদেব বসু
  4. অমিয় চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
• 'কয়েকটি কবিতা' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা - সমর সেন।

সমর সেন:

- তিনি ১৯১৬ সালের ১০ অক্টোবর কলকাতার বাগবাজারে জন্মগ্রহণ করেন।
- প্রথিতযশা গবেষক দীনেশচন্দ্র সেন তাঁর পিতামহ।
- তিনি মূলত কবি ছিলেন। তাঁকে আধুনিক যুগের নাগরিক কবি বলা হয়।
- ‘Frontier’ (ফ্রন্টিয়ার) ও ‘নাও’ পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন।
- ‘আমি রোমান্টিক কবি নই, আমি মার্ক্সিস্ট’ - এভাবেই তিনি মার্কসবাদের প্রতি তাঁর প্রবল আকর্ষণ ঘোষণা করেন।

তাঁর রচিত বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ:
- কয়েকটি কবিতা,
- গ্রহণ ও অন্যান্য কবিতা,
- নানাকথা,
- খোলাচিঠি,
- তিন পুরুষ,
- সমর সেনের কবিতা।

তাঁর রচিত গদ্যগ্রন্থ:
- বাবু বৃত্তান্ত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৮২.
নারী জাগরণের পথিকৃৎ কে?
  1. কবি সুফিয়া কামাল
  2. সানজিদা খাতুন
  3. কামিনি রায়
  4. বেগম রোকেয়া
ব্যাখ্যা
• বেগম রোকেয়া:
- নারী জাগরণের পথিকৃৎ বেগম রোকেয়ার জন্ম ৯ই ডিসেম্বর, ১৮৮০, পায়রাবন্দ গ্রাম, রংপুরে।
- বাংলাদেশের নারী আন্দোলনের ইতিহাসে বেগম রোকেয়ার অবদান চিরঅম্লান।
- মুসলমান মেয়েদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি এবং তাদের অধিকার আদায়ের জন্য ১৯১৬ সালে বেগম রোকেয়া প্রতিষ্ঠা করেন আঞ্জুমান খাওয়াতিনে ইসলাম বা মুসলিম মহিলা সমিতি।

রোকেয়ার উলেখযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে:
- মতিচূর,
- Sultana’s Dream,
- পদ্মরাগ,
- অবরোধবাসিনী ।
এছাড়া আছে অসংখ্য প্রবন্ধ, ছোটগল্প, কবিতা, ব্যঙ্গাত্মক রচনা ও অনুবাদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮৩.
‘সংস্কৃত-যন্ত্র’ ছাপাখানা প্রতিষ্ঠা করেন কে?
  1. উইলিয়াম কেরি
  2. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  3. রাজা রামমোহন রায়
  4. মদনমোহন তর্কালঙ্কার
ব্যাখ্যা
• মদনমোহন তর্কালঙ্কার:
- মদনমোহন তর্কালঙ্কার ছিলেন একজন কবি ও সমাজসেবক।
- পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার বিল্বগ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পারিবারিক উপাধি ‘চট্টোপাধ্যায়’ হলেও প্রাপ্ত উপাধি ‘তর্কালঙ্কার’ হিসেবেই তিনি সুপরিচিত।
- মদনমোহন বিদ্যাসাগরের সহযোগিতায় ‘সংস্কৃত-যন্ত্র’ (১৮৪৭) নামে একটি ছাপাখানা প্রতিষ্ঠা করেন।
- সেখান থেকে ভারতচন্দ্রের অন্নদামঙ্গল কাব্যটি সর্বপ্রথম গ্রন্থাকারে মুদ্রিত হয়।

তাঁর মৌলিক কাব্যগ্রন্থ:
- রসতরঙ্গিণী,
- বাসবদত্তা।

তাঁর বিখ্যাত একটি কবিতা হলো:

পাখি-সব করে রব
মদনমোহন তর্কালঙ্কার।

পাখী-সব করে রব, রাতি পোহাইল।
কাননে কুসুমকলি, সকলি ফুটিল।।
রাখাল গরুর পাল, ল’য়ে যায় মাঠে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া
৮৪.
'আদর্শ হিন্দু হোটেল' উপন্যাসটির রচয়িতা কে?
  1. ক) সৈয়দ মুজতবা আলী
  2. খ) তারাশংকর বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. গ) সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
  4. ঘ) বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় 
১৮৯৪ খ্রিস্টাব্দের ১২ সেপ্টম্বর পশ্চিমবঙ্গের চবিবশ পরগনা জেলার কাঁচরাপাড়ার নিকটবর্তী ঘোষপাড়া-মুরারিপুর গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম। তাঁর পৈতৃক নিবাস ওই জেলারই ব্যারাকপুর গ্রামে। পিতা মহানন্দ বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন সংস্কৃত পন্ডিত; পান্ডিত্য ও কথকতার জন্য তিনি ‘শাস্ত্রী’ উপাধিতে ভূষিত হন।
- ১৩২৮ বঙ্গাব্দের (১৯২১) মাঘ প্রবাসীতে প্রথম গল্প ‘উপেক্ষিতা’ প্রকাশের মধ্য দিয়ে বিভূতিভূষণের সাহিত্যিক জীবন শুরু হয়।

তাঁর অন্যান্য উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ হলো:
- অপরাজিত,
- মেঘমল্লার,
- মৌরীফুল,
- যাত্রাবদল,
- চাঁদের পাহাড়,
- কিন্নরদল,
- আরণ্যক,
- ইছামতী,
- মরণের ডঙ্কা বাজে,
- স্মৃতির রেখা,
- দেবযান,
- হীরামানিক জ্বলে,
- উৎকর্ণ,
- হে অরণ্য কথা কও।

• আদর্শ হিন্দু হোটেল:
- 'আদর্শ হিন্দু হোটেল' উপন্যাসটির রচয়িতা বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়।
- বিভূতিভূষণের বাস্তব অভিজ্ঞতার মানুষ, আদর্শ হিন্দু হোটেল উপন্যাসের প্রধান চরিত্র হাজারি ঠাকুরের অপূর্ণ স্বাদ ও আকাঙ্খাকেই উপন্যাসে রূপদানের প্রয়াস করা হয়েছে।
- নিজের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলস্বরূপ নিজে যেমন প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন তেমনিভাবে লাভ করেছেন মানুষের ভালোবাসা। 
- উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৪০ সালে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮৫.
আবুল কালাম শামসুদ্দীন রচিত গ্রন্থ কোনটি?
  1. পলাশী থেকে পাকিস্তান
  2. সাগরতীর্থে
  3. সাদা হাওয়া
  4. রাঙামাটি
ব্যাখ্যা
• আবুল কালাম শামসুদ্দীন:
- আবুল কালাম শামসুদ্দীন একজন সাংবাদিক ও সাহিত্যিক।
- ১৮৯৭ সালের ৩ নভেম্বর  ময়মনসিংহ জেলার ত্রিশালে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।।
- তিনি ১৯১৯ সালে ঢাকা কলেজ থেকে আইএ পাস করার পর কলকাতার রিপন কলেজে বিএ শ্রেণিতে ভর্তি হন।
- ১৯২২ সালে মাসিক  মোহাম্মদী পত্রিকার সহযোগী সম্পাদক হিসেবে তাঁর সাংবাদিক জীবন শুরু হয়।
- ১৯৪৯ সালে পূর্ববঙ্গ সরকারের ভাষা-কমিটির সদস্য হন। 
-  ২৩ ফেব্রুয়ারি  ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হোস্টেল প্রাঙ্গণে প্রথমবার যে  শহীদ মিনার নির্মিত হয়, আবুল কালাম শামসুদ্দীন তার উদ্বোধন করেন।

• তাঁর রচিত কয়েকটি উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- কচি পাতা (শিশুসাহিত্য)
- ত্রিস্রোতা (অনুবাদ),
- পোড়োজমি বা অনাবাদী জমি,
- দৃষ্টিকোণ (প্রবন্ধ সংকলন),
- ইলিয়ড (বঙ্গানুবাদ),
- পলাশী থেকে পাকিস্তান (ইতিহাস)
- অতীত দিনের স্মৃতি ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• অদ্বৈত মল্লবর্মণ রচিত গ্রন্থ:
- সাগরতীর্থে,
- সাদা হাওয়া,
- রাঙামাটি।


উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮৬.
'গ্রানাডার শেষ বীর' উপন্যাসটির রচয়িতা -
  1. ক) ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  2. খ) আবুল মনসুর
  3. গ) এস ওয়াজেদ আলি
  4. ঘ) ইব্রাহীম খাঁ
ব্যাখ্যা
• এস ওয়াজেদ আলি
- শেখ ওয়াজেদ আলি একজন প্রাবন্ধিক, গল্পলেখক ও ভ্রমণকাহিনী রচয়িতা।
- তিনি ১৮৯০ সালে পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার  শণ্ঠীরামপুর মহকুমার বড় তাজপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- এস ওয়াজেদ আলির প্রথম প্রবন্ধ ’অতীতের বোঝা’ ১৯১৯ সালে প্রমথ চৌধুরী সম্পাদিত সবুজপত্র পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- ১৯৩২ সালে গুলিস্তাঁ নামে একটি বাংলা মাসিক সাহিত্য পত্রিকা সম্পাদনা ও প্রকাশ করেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্মের মধ্যে রয়েছে:

প্রবন্ধ
- জীবনের শিল্প, 
- প্রাচ্য ও প্রতীচ্য, 
- ভবিষ্যতের বাঙালী,
- আকবরের রাষ্ট্র সাধনা, 
- মুসলিম সংস্কৃতির আদর্শ।

উপন্যাস
- গ্রানাডার শেষ বীর।

ভ্রমণকাহিনী
- পশ্চিম ভারত, 
- মোটর যোগে রাঁচী সফর প্রভৃতি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
৮৭.
'হাতেমতায়ী' কাব্যগ্রন্থটির রচয়িতা?
  1. ক) আবুল মনসুর আহমদ
  2. খ) নীলিমা ইব্রাহিম
  3. গ) জীবনানন্দ দাশ
  4. ঘ) ফররুখ আহমদ
ব্যাখ্যা
'হাতেমতায়ী' কাব্যগ্রন্থটির রচয়িতা- ফররুখ আহমদ। 

ফররুখ আহমদ
- তিনি ১৯১৮ সাল মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানায় জন্মগ্রহণ করেন। 
- ১৯৪৪ সালে কলকাতার দুর্ভিক্ষের পটভূমিতে ‘লাশ’ কবিতা লিখে তিনি প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন। 
- হাতেমতায়ী একটি ফররুখ আহমদ এর কাহিনিকাব্য।
- নৌফেল ও হাতেম ফররুখ আহমদ এর কাব্যনাট্য। 
- সাত সাগরের মাঝি ফররুখ আহমদ এর প্রথম প্রকাশিত কাব্য। 

তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্য
- সাত সাগরের মাঝি 
- সিরাজাম মুনিরা
- নৌফেল ও হাতেম 
- মুহূর্তের কবিতা
- হাতেমতায়ী 
- হাবেদা মরুর কাহিনী  ইত্যাদি।

তাঁর শিশুতোষ রচনা
- পাখির বাসা 
- হরফের ছড়া 
- ছড়ার আসর  ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৮৮.
কোন দুটি রচনা একই শ্রেণির?
  1. ক) গীতাঞ্জলি ও বিষাদ-সিন্ধু
  2. খ) অগ্নিবীণা ও শ্রীকান্ত
  3. গ) নীলদর্পণ ও ডাকঘর
  4. ঘ) লালসালু ও বলাকা
ব্যাখ্যা

অপশন-(ক):
'গীতাঞ্জলি' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা একটি কাব্যগ্রন্থ।
'বিষাদ-সিন্ধু' মীর মশাররফ হোসেনের ঐতিহাসিক উপন্যাস।

অপশন-(খ):
'অগ্নিবীণা' কবি কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম কাব্যগ্রন্থ।
'শ্রীকান্ত' শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত একটি জীবনচরিত মূলক উপন্যাস।

অপশন-(গ):
'নীল দর্পণ' হল দীনবন্ধু মিত্র রচিত একটি বাংলা নাটক।
'ডাকঘর' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নাটক।

অপশন-(ঘ):
'লালসালু' সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত একটি উপন্যাস।
'বলাকা' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গতিচেতনা বিষয়ক কাব্য।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।

৮৯.
নিচের কোনটি সেলিনা হোসেন রচিত ত্রয়ী উপন্যাস?
  1. গায়ত্রী সন্ধ্যা
  2. যাপিত জীবন
  3. চাঁদবেনে
  4. হাঙর নদী গ্রেনেড
ব্যাখ্যা
♦ ‘গায়ত্রী সন্ধ্যা' উপন্যাস:
• গায়ত্রী সন্ধ্যা' সেলিনা হোসেন রচিত একটি ত্রয়ী উপন্যাস।
• গ্রন্থটি একই শিরোনামে ৩টি পটভূমিতে ৩টি খণ্ডে প্রকাশিত হয়।
• সেলিনা হোসেন রচিত 'গায়ত্রী সন্ধ্যা' উপন্যাসের পটভূমি ১৯৪৭ থেকে ১৯৭৫ পর্যন্ত সময়।
• দীর্ঘ আটাশ বছরের অর্থ- সামাজিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক পটভূমিতে রচিত হয়েছে এ উপন্যাস।

• এই আটাশ বছর সময়ের মধ্যে সংঘটিত হয়েছে নানা ঘটনা।যেমন-
⇒ ১৯৪৭ সালে বৃটিশ ভারত দ্বিজাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে লাভ করেছিল স্বাধীনতা। ধোপে টেকেনি এ স্বাধীনতার আদর্শগত ভিত্তি।
⇒ ১৯৭১ সালে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে জয়ী হয়ে বাঙালি অর্জন করে একটি পতাকা, জাতীয় সঙ্গীত এবং স্বাধীন ভূখণ্ড। এ জাতিকে স্বাধীনতার স্বপ্নে অনুপ্রাণিত করেছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
⇒ ১৯৭৫ সালে তাঁর নৃশংস হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে পট-পরিবর্তন হয় ইতিহাসের। শুরু হয় বাঙালির - উল্টো যাত্রা। 'গায়ত্রী সন্ধ্যা' উপন্যাস এই সময়ের শিল্পিত শব্দরূপ। 

কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন উপন্যাসের ভূমিকায় লেখেন-
একটি স্বপ্নের ঘোরে আমি 'গায়ত্রী সন্ধ্যা' ত্রয়ী উপন্যাসটি লিখি। এর অখণ্ড প্রকাশের প্রুফ দেখার সময় বারবারই মনে হয়েছে কীভাবে লিখলাম।
স্বপ্ন ছিল একটি ট্রিলজি লেখার। বড় পটভূমি নিয়ে কাজ করব এমন তাগিদ ছিল নিজের ভেতরে। কতটা হয়েছে সেটা সময় বিচার করবে। আমি আমার সাধ্যমতো চেষ্টা করেছি, এটুকু আমার সান্ত্বনা। 

সেলিনা হোসেন:
- সেলিনা হোসেন খ্যাতিমান কথাসাহিত্যিক।
- সেলিনা হোসেন ১৪ই জুন ১৯৪৭ সালে রাজশাহীতে জন্মগ্রহণ করেন।
- রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিষয়ে স্নাতক সম্মান ও স্নাতকোত্তর লাভ করেন।
- অসাম্প্রদায়িক জীবনবোধ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, নারীমুক্তি তাঁর কথাসাহিত্যের মূলগত আখ্যান।
- সাহিত্যক্ষেত্রে অসাধারণ অবদানের জন্য তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার, আলাওল সাহিত্য পুরস্কার ও ফিলিপ্স সাহিত্য পুরস্কারসহ অনেক পুরস্কার ও সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন।

• তাঁর রচিত উপন্যাসসমূহের মধ্যে উল্লেখযোগ্য:
- হাঙর নদী গ্রেনেড,
- মগ্ন চৈতন্যে শিস,
- যাপিত জীবন,
- চাঁদবেনে,
- পোকামাকড়ের ঘরবসতি,
- গায়ত্রী সন্ধ্যা,
- দীপান্বিতা ইত্যাদি।

 • গল্পগ্রন্থ:
- উৎস থেকে নিরন্তর,
- খোলকরতাল,
- মুক্তিযুদ্ধের গল্প ইত্যাদি;

• শিশু-কিশোর উপযোগ্য রচনা:
- সাগর,
- বাংলা একাডেমী গল্পে বর্ণমালা,
- বর্ণমালার গল্প,
- জ্যোৎস্নার রঙে আঁকা ছবি,
- চাঁদের বুড়ির পান্তা ইলিশ ইত্যাদি। 

অভিসম্বন্ধ: বাংলা সাহিত্য, নবম-দশম শ্রেণি এবং ‘গায়ত্রী সন্ধ্যা' উপন্যাস সেলিনা হোসেন।
৯০.
'বখতিয়ারের ঘোড়া' আল মাহমুদ রচিত কোন ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. নাটক 
  2. উপন্যাস 
  3. কাব্যগ্রন্থ
  4. গল্পগ্রন্থ 
ব্যাখ্যা

• 'বখতিয়ারের ঘোড়া' কবি আল মাহমুদ রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ। 

-------------------
• আল মাহমুদ:

- প্রথিতযশা কবি আল মাহমুদ ১৯৩৬ সালের ১১ই জুলাই ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার মোড়াইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ।
- স্বাধীনতা উত্তরকালে তিনি 'দৈনিক গণকণ্ঠ' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- তাঁর প্রকাশিত শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ 'সোনালী কাবিন' (১৯৭৩)।

• তাঁর রচিত প্রধান কাব্যগ্রন্থ:
- লোক লোকান্তর,
- সোনালী কাবিন,
- কালের কলস,
- অদৃষ্টবাদীদের রান্নাবান্না,
- পাখির কাছে ফুলের কাছে,
- দোয়েল ও দয়িতা,
- দ্বিতীয় ভাঙন,
- বখতিয়ারের ঘোড়া,
- প্রেমের কবিতা ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত প্রধান উপন্যাস:
- কাবিলের বোন,
- চেহারার চতুরঙ্গ,
- উপমহাদেশ,
- ডাহুকী,
- আগুনের মেয়ে ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত প্রধান গল্পগ্রন্থ:
- পানকৌড়ির রক্ত,
- ময়ূরীর মুখ,
- গন্ধবণিক,
- সৌরভের কাছে পরাজিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৯১.
সৈয়দ শামসুল হক কোন জেলায় জন্মগ্রহণ করেন?
  1. বরিশাল
  2. কুড়িগ্রাম
  3. ঢাকা
  4. চট্টগ্রাম
ব্যাখ্যা
• সৈয়দ শামসুল হক: 
- তিনি ১৯৩৫ সালে কুড়িগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত লেখক হিসেবে সমধিক পরিচিত।
- তাঁর জীবনের প্রথম মঞ্চনাটক- ‘পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়’।
- ‘নূরলদীনের সারাজীবন’ তাঁর মঞ্চসফল অপর একটি নাটক।
- তাঁর রচিত ‘রক্ত গোলাপ’ উপন্যাস বাংলা সাহিত্যে প্রথম জাদুবাস্তবতা নিয়ে আসে পাঠকের কাছে। 

• তাঁর রচিত কাব্যনাট্য:
- নুরুলদীনের সারাজীবন।
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়।
- এখানে এখন।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- তাস।
- শীত বিকেল।
- আনন্দের মৃত্যু।
- প্রাচীন বংশের নিঃস্ব সন্তান।
- জলেশ্বরীর গল্পগুলো।

• সৈয়দ শামসুল হক রচিত কাব্য:
- একদা এক রাজ্যে।
- বৈশাখে রচিত পঙ্‌ক্তিমালা।
- পরানের গহীন ভিতর।
- বেজান শহরের জন্য কোরাস।
- কাননে কানে তোমারই সন্ধানে।
- আমি জন্মগ্রহণ করিনি ইত্যাদি।

• সৈয়দ শামসুল হকের প্রবন্ধ:
- হৃৎকলমের টানে। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৯২.
“ভালো আছি, ভালো থেকো” গানের রচয়িতা কে?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. জয় গোস্বামী
  3. রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ
  4. কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা

“ভালো আছি, ভালো থেকো” গানের রচয়িতা- রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ।

→ রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ:
- রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ (১৯৫৬-১৯৯১) ছিলেন একজন প্রতিবাদী ও রোমান্টিক কবি, গীতিকার এবং সাহিত্যিক।
- তিনি তার প্রতিবাদী চেতনা ও প্রেমিকাভঙ্গির জন্য বিশেষভাবে পরিচিত।
- তার প্রকৃত নাম শেখ মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ।
- পরে তিনি ‘রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ’ রূপে গ্রহণ করেন।
- তিনি ১৬ অক্টোবর ১৯৫৬ সালে বরিশাল জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল বাগেরহাট জেলার মোংলা উপজেলার সাবেড়হাট গ্রামে।
 মাত্র ৩৫ বছর বয়সে ২১ জুন ১৯৯১ সালে তাঁর মৃত্যু ঘটে।
- স্বল্পায়ু জীবনে তিনি একাধিক কাব্যগ্রন্থ এবং অসংখ্য গান রচনা করেছেন।

• রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহর উল্লেখযোগ্য কবিতা হলো:
- ‘বাতাসে লাশের গন্ধ’,
- ‘উপদ্রুত উপকূলে’,
- ‘ফিরে চাই স্বর্ণগ্রাম’,
- ‘মানুষের মানচিত্র’,
- ‘ছোবল’,
- ‘দিয়েছিলে সকল আকাশ’,
- ‘মৌলিক মুখোশ’ ইত্যাদি।

- এছাড়া, তিনি ‘ভালো আছি ভালো থেকো’সহ অর্ধশতাধিক গান রচনা করেছেন ও সুর দিয়েছেন।
- তার কাব্যনাট্য ‘বিষ বিরিক্ষের বীজ’ও উল্লেখযোগ্য।

উৎস: 
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া।

৯৩.
‘যে তুমি হরণ করো’ কাব্যগ্রন্থটি কার রচনা?
  1. আবুল হাসান
  2. আল মাহমুদ
  3. আহমদ ছফা
  4. আবুল হুসেন
ব্যাখ্যা
•  ‘যে তুমি হরণ করো’ আবুল হাসান রচিত কাব্যগ্রন্থ।
- কাব্যগ্রন্থটি ১৯৭৪ সালে প্রকাশিত হয়।

আবুল হাসান:

- আবুল হাসানের প্রকৃত নাম আবুল হোসেন মিয়া
- আবুল হাসান তাঁর সাহিত্যিক নাম।
- তিনি একজন সৃষ্টিশীল কবি হিসেবে খ্যাত।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- যে তুমি হরণ করাে,
- রাজা যায় রাজা আসে,
- পৃথক পালঙ্ক।
• তার মৃত্যুর পরে প্রকাশিত কাব্যনাট্য 'ওরা কয়েকজন' (১৯৮৮);
• গল্প সংকলন: আবুল হাসান গল্প সংগ্রহ (১৯৯০)।


উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯৪.
সারদামঙ্গল কাব্য কয়টি সর্গে বিভক্ত?
  1. তিনটি
  2. চারটি
  3. পাঁচটি
  4. ছয়টি
ব্যাখ্যা
• সারদামঙ্গল কাব্য:
- কবি বিহারীলাল চক্রবর্তীর সর্বশ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ 'সারদামঙ্গল' (১৮৭৯)।
- এই কাব্যগ্রন্থটি প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল 'আর্যদর্শন' পত্রিকায়। আখ্যানকাব্য হলেও এর আখ্যানবস্তু সামান্যই। মূলত গীতিকবিতাধর্মী কাব্য এটি।

- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এই কাব্য সম্পর্কে লিখেছেন, "সূর্যাস্ত কালের সুবর্ণমণ্ডিত মেঘমালার মত সারদামঙ্গলের সোনার শ্লোকগুলি বিবিধরূপের আভাস দেয়। কিন্তু কোন রূপকে স্থায়ীভাবে ধারণ করিয়া রাখে না। অথচ সুদূর সৌন্দর্য স্বর্গ হইতে একটি অপূর্ণ পূরবী রাগিণী প্রবাহিত হইয়া অন্তরাত্মাকে ব্যাকুল করিয়া তুলিতে থাকে।"

- এটি পাঁচটি সর্গে বিভক্ত। ভোরের পাখি খ্যাত রোমান্টিক কবি বিহারীলাল প্রিয়তমার মধ্যে দেবী সারদাকে অন্বেষণ করেছেন।
- এটি আধুনিক বাংলা সাহিত্যের একটি স্তম্ভস্বরূপ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং 'সারদামঙ্গল'কাব্য।
৯৫.
সৈয়দ মুজতবা আলীর পৈতৃক নিবাস কোন জেলায়?
  1. বরিশাল
  2. ঝালকাঠি
  3. নরসিংদী
  4. হবিগঞ্জ
ব্যাখ্যা
• সৈয়দ মুজতবা আলী:
- সৈয়দ মুজতবা আলী, (১৯০৪-১৯৭৪) শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক।
- ১৯০৪ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর পিতার কর্মস্থল শ্রীহট্ট (সিলেট) জেলার করিমগঞ্জে তিনি জন্মগ্রহণ করেন,
- কিন্তু তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল হবিগঞ্জের উত্তরসুর গ্রামে।
- গ্রন্থাকারে তাঁর মোট ত্রিশটি উপন্যাস, গল্প, প্রবন্ধ ও ভ্রমণকাহিনী প্রকাশিত হয়েছে।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- অবিশ্বাস্য,
- শবনম,
- শত্রু-ইয়ার।

• তাঁর রচিত ভ্রমণকাহিনি:
- দেশে-বিদেশে,
- জলে-ডাঙায়।

• তাঁর রচিত রম্যরচনা:
- পঞ্চতন্ত্র,
- ময়ূরকণ্ঠী।

• ছোটগল্প:
- চাচা-কাহিনী,
- টুনি মেম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯৬.
সৈয়দ শামসুল হক রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কাব্যনাট্য-
  1. নূরলদীনের সারা জীবন
  2. এখানে এখন
  3. একদা এক রাজ্যে
  4. পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়
ব্যাখ্যা

• পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় সৈয়দ শামসুল হক রচিত একটি কাব্যনাট্য |
- এখানে মুক্তিযুদ্ধকে মহাকাব্যিক ব্যঞ্জনায় তুলে ধরা হয়েছে। 
- নাটকটিতে ১৯৭১ সালের বাংলাদেশ শত্রু মুক্ত হওয়ার সময়কালে একটি প্রত্যন্ত গ্রামের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় মূলত মুক্তিযোদ্ধাদের আগমনের পদধ্বনি |

সৈয়দ শামসুল হক

- সৈয়দ শামসুল হক বাংলাদেশের একজন প্রখ্যাত সাহিত্যিক।
- তিনি ১৯৩৫ সালের ২৭ ডিসেম্বর কুড়িগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর বিখ্যাত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কাব্যনাট্য হলো পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়।

প্রধান কাব্যনাট্য:
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়,
- নূরলদীনের সারা জীবন,
- এখানে এখন। 

কবিতা:
- একদা এক রাজ্যে,
- বৈশাখে রচিত পঙ্ক্তিমালা,
- পরানের গহীন ভিতর,
- বেজান শহরের জন্য কোরাস,
- কাননে কাননে তোমারই সন্ধানে,
- আমি জন্মগ্রহণ করিনি ইত্যাদি। 

উপন্যাস:
- এক মহিলার ছবি,
- অনুপম দিন,
- সীমানা ছাড়িয়ে,
- খেলারাম খেলে যা,
- নীল দংশন,
- স্তব্ধতার অনুবাদ,
- বৃষ্টি ও বিদ্রোহীগণ,
- ত্রাহি,
- তুমি সেই তরবারী,
- অন্য এক আলিখান,
- এক মুঠো জন্মভূমি,
- আলোর জন্য,
- রাজার সুন্দরী। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

৯৭.
'আমি কোন আগন্তুক নই' কবিতাটি আহসান হাবীবের কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. ক) দু'হাতে দুই আদিম পাথর
  2. খ) ছায়াহরিণ
  3. গ) মেঘ বলে চৈত্রে যাব
  4. ঘ) আশায় বসতি
ব্যাখ্যা
আহসান হাবীব (১৯১৭-১৯৮৫): কবি ও সাংবাদিক।
'আমি কোন আগন্তুক নই' কবিতাটি তাঁর 'দু'হাতে দুই আদিম পাথর' (১৯৮০) কাব্যগ্রন্থের শেষ কবিতা৷ এই কবিতাতে শহুরে মানুষের গ্রামে ফেরার কথা আছে৷
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর৷
৯৮.
কোনটি ব্যতিক্রম?
  1. উজানে মৃত্যু
  2. তরঙ্গভঙ্গ
  3. নয়নচারা
  4. সুড়ঙ্গ
ব্যাখ্যা
• ব্যতিক্রম - নয়নচারা
- এটি সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌ রচিত গল্পগ্রন্থ।

সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌:
- ১৯২২ সালের ১৫ আগস্ট চট্টগ্রামের ষোলশহরে সৈয়দ (ডেপুটি) বাড়িতে তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার।
- পিতা সৈয়দ আহমদউল্লাহ ছিলেন সরকারি কর্মকর্তা।
- ফেনী হাইস্কুলে ছাত্র থাকাকালেই সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌র সাহিত্যচর্চার সূত্রপাত হয়। 
- এ সময় তিনি হাতে লেখা পত্রিকা 'ভোরের আলো' সম্পাদনা করেন।
- তাঁর প্রথম গল্প ‘হঠাৎ আলোর ঝলকানি’ ঢাকা কলেজ ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়। 
- তিনি ১৯৬১ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার, ১৯৬৫ সালে আদমজি পুরস্কার এবং ১৯৮৩ সালে একুশে পদক (মরণোত্তর) লাভ করেন।
- তিনি ১৯৭১ সালের ১০ই অক্টোবর, প্যারিসে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- নয়নচারা
- দুই তীর ও অন্যান্য গল্প।

তাঁর রচিত নাটক:
- বহিপীর,
- তরঙ্গভঙ্গ,
- সুড়ঙ্গ,
- উজানে মৃত্যু

অন্যদিকে,
বাকিগুলো তাঁর রচিত নাটক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৯৯.
‘আমৃত্যু তাঁর জীবনানন্দ’ কী ধরনের গ্রন্থ?
  1. ক) প্রবন্ধ
  2. খ) কাব্যগ্রন্থ
  3. গ) ছোটো গল্প
  4. ঘ) স্মৃতিকথা
ব্যাখ্যা
শামসুর রহমান রচিত উপন্যাস- অক্টোপাস, অদ্ভুত আঁধার এক, নিয়ত মন্তাজ, এলো সে অবেলায়। তার প্রবন্ধঃ আমৃত্যু তাঁর জীবনানন্দ।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর
১০০.
'হাজারি ঠাকুর' বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. অপরাজিত
  2. আদর্শ হিন্দু হোটেল
  3. আরণ্যক
  4. চাঁদের পাহাড়
ব্যাখ্যা
• "আদর্শ হিন্দু হোটেল" উপন্যাস:
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস 'আদর্শ হিন্দু হোটেল'। উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৪০ সালে।
- বিভূতিভূষণের বাস্তব অভিজ্ঞতার মানুষ, আদর্শ হিন্দু হোটেল উপন্যাসের প্রধান চরিত্র হাজারি ঠাকুরের অপূর্ণ স্বাদ ও আকাঙ্ক্ষাকেই উপন্যাসে রূপদানের প্রয়াস করা হয়েছে।
- উপন্যাসের চরিত্র হাজারি ঠাকুর নিজের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলস্বরূপ নিজে যেমন প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন তেমনিভাবে লাভ করেছেন মানুষের ভালোবাসা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।