বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

ছন্দ ও অলঙ্কার

মোট প্রশ্ন৬২এই পাতা৬২প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ছন্দ ও অলঙ্কার

PrepBank · পাতা / · ৬২ / ৬২

.
অমিত্রাক্ষর ছন্দের ইংরেজী প্রতিশব্দ-
  1. সনেট
  2. লিমেরিক
  3. ব্লাংকভার্স
  4. এপিক
সঠিক উত্তর:
ব্লাংকভার্স
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্লাংকভার্স
ব্যাখ্যা

• অমিত্রাক্ষর ছন্দ:
- 'অমিত্রাক্ষর' ছন্দের বৈশিষ্ট্য হলো এর অন্ত্যমিল বা অন্ত্যানুপ্রাস নেই।
- অমিত্রাক্ষর ছন্দ ইংরেজি হচ্ছে Blank verse।
- উনিশ শতকে অমিত্রাক্ষর ছন্দ প্রবর্তনের মধ্য দিয়ে মাইকেল মধুসূদন দত্তের হাতে এ ছন্দের সুরমুক্তি ঘটে।
- অর্থাৎ, 'অমিত্রাক্ষর ছন্দ’ প্রকৃত পক্ষে বাংলা অক্ষরবৃত্ত ছন্দের নব সংস্করণ।
- তিনি 'পদ্মাবতী' নাটকে (দ্বিতীয় অঙ্ক দ্বিতীয় গর্ভাঙ্কে) প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করেন।
- উৎপত্তির বিচারে যে ছন্দটিকে খাঁটি বাংলা অর্থাৎ 'তদ্ভব ছন্দ' নামে আখ্যায়িত করা হয়, তাকেই প্রচলিত ভাষায় বলা হয় অক্ষরবৃত্ত ছন্দ।
- অক্ষরবৃত্ত ছন্দ বাংলা কাব্যের প্রধান ছন্দ। অক্ষরবৃত্ত ছন্দকে তানপ্রধান ছন্দও বলে।
- পয়ার হচ্ছে অক্ষরবৃত্ত ছন্দের ৮/৬ মাত্রার বৈশিষ্ট্যপূর্ণ একটি শ্রেণিবিভাগ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড হায়াৎ মামুদ এবং বাংলাপিডিয়া; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

.
উৎপত্তির বিচারে 'অক্ষরবৃত্ত' কোন ধরনের শব্দ?
  1. সংস্কৃত ছন্দ
  2. তদ্ভব ছন্দ
  3. অর্ধতৎসম ছন্দ
  4. হিন্দি ছন্দ
সঠিক উত্তর:
তদ্ভব ছন্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তদ্ভব ছন্দ
ব্যাখ্যা
• অক্ষরবৃত্ত ছন্দ:
- উৎপত্তির বিচারে যে ছন্দটিকে খাঁটি বাংলা অর্থাৎ 'তদ্ভব ছন্দ' নামে আখ্যায়িত করা হয়, তাকেই প্রচলিত ভাষায় বলা হয় অক্ষরবৃত্ত ছন্দ।
- অক্ষরবৃত্ত ছন্দ বাংলা কাব্যের প্রধান ছন্দ।
- অক্ষরবৃত্ত ছন্দকে তানপ্রধান ছন্দও বলে।
- পয়ার হচ্ছে অক্ষরবৃত্ত ছন্দের ৮/৬ মাত্রার বৈশিষ্ট্যপূর্ণ একটি শ্রেণিবিভাগ।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলাপিডিয়া।
.
প্রায়ই বাংলা কবিতা পাঠ করার সময় পর্বের প্রথম অক্ষরের উপর একটা আলাদা জোর দিয়ে পড়তে হয়। এই অতিরিক্ত জোর দিয়ে পাঠ করা বা আবৃত্তি করাকেই বলা হয় - 
  1. শ্বাসাঘাত
  2. স্তবক
  3. মাত্রা
  4. অক্ষর
সঠিক উত্তর:
শ্বাসাঘাত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শ্বাসাঘাত
ব্যাখ্যা

শ্বাসাঘাত: 
প্রায়ই বাংলা কবিতা পাঠ করার সময় পর্বের প্রথম অক্ষরের উপর একটা আলাদা জোর দিয়ে পড়তে হয়। এই অতিরিক্ত জোর দিয়ে পাঠ করা বা আবৃত্তি করাকেই বলা হয় শ্বাসাঘাত বা প্রস্বর।
যেমন-
আমরা আছি ∣ হাজার বছর ∣ ঘুমের ঘোরের ∣ গাঁয়ে ∣∣
আমরা ভেসে ∣ বেড়াই স্রোতের ∣ শেওলা ঘেরা ∣ নায়ে ∣∣ (রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর)

এখানে,
প্রতিটি পর্বের প্রথম অক্ষরই একটু ঝোঁক দিয়ে, জোর দিয়ে পড়তে হয়। এই অতিরিক্ত ঝোঁক বা জোরকেই শ্বাসাঘাত বলে।

স্তবক:
অনেকগুলো চরণ নিয়ে একটি স্তবক গঠিত হয়। সাধারণত, একটি স্তবকে একটি ভাব প্রকাশিত হয়।

মাত্রা:
একটি অক্ষর উচ্চারণে যে সময় প্রয়োজন হয়, তাকে মাত্রা বলে।

অক্ষর:
(বাগযন্ত্রের) স্বল্পতম প্রয়াসে বা এক ঝোঁকে শব্দের যে অংশটুকু উচ্চারিত হয়, তাকে অক্ষর বা দল বলে। এই অক্ষর অনেকটাই ইংরেজি Syllable-র মত।
যেমন- 'বিদ্যালয়’ শব্দে ৩ টি অক্ষর রয়েছে (বিদ্‌ + দা + লয়)।
 
উৎস: ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ।

.
যে ছন্দের মূল পর্বের মাত্রা সংখ্যা চার, তাকে কী বলা হয়?
  1. স্বরবৃত্ত
  2. মাত্রাবৃত্ত
  3. অক্ষরবৃত্ত
  4. অমিত্রাক্ষর
সঠিক উত্তর:
স্বরবৃত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বরবৃত্ত
ব্যাখ্যা
• স্বরবৃত্ত ছন্দ:
- স্বরবৃত্ত ছন্দের বহুল প্রচলিত নাম ছড়ার ছন্দ, লৌকিক ছন্দ, লোকছন্দ, মেয়েলি ছন্দ।
- এটাকে প্রাকৃত বাংলা ছন্দও বলা হয়।
- প্রাচীন ছড়াগুলো স্বরবৃত্তে রচিত।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একে ছড়া ছন্দ বা লোকছন্দ বলেছেন।
- এর ভাব লঘু ও চপল।

স্বরবৃত্ত ছন্দের বৈশিষ্ট্য:
- দ্রুত লয়ের ছন্দ।
- এই ছন্দের মূল পর্ব বা পূর্ণ পর্ব চার মাত্রাবিশিষ্ট।
- মুক্তাক্ষর এবং বদ্ধাক্ষর উভয়ই একমাত্র বিশিষ্ট,পর্বগুলো ছোট ৪ মাত্রা বিশিষ্ট।

উৎস : ভাষা-শিক্ষা, ড হায়াৎ মামুদ, বাংলাপিডিয়া, প্রাচ্য সাহিত্য সমালোচনা তত্ত্ব ও অলংকার শাস্ত্র, প্রফেসর ড. ধীরেন্দ্রনাথ তরফদার।
.
'সীমার মাঝে অসীম তুমি বাজাও আপন সুর'- এখানে কী ধরনের অলঙ্কারের প্রয়োগ ঘটেছে?
  1. অসঙ্গতি
  2. বিভাবনা অলঙ্কার
  3. বিরোধাভাস অলঙ্কার
  4. বিষম অলঙ্কার
সঠিক উত্তর:
বিরোধাভাস অলঙ্কার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিরোধাভাস অলঙ্কার
ব্যাখ্যা
• 'সীমার মাঝে অসীম তুমি বাজাও আপন সুর'- এখানে 'বিরোধাভাস অলঙ্কার' এর প্রয়োগ ঘটেছে। 

• বিরোধাভাস অলঙ্কার:  
- যদি দুটি বস্তুর মধ্যে আপাত বিরোধ দেখা যায়, ওই বিরোধে যদি কাব্যে চমৎকারিত্ব বা উৎকর্ষের সৃষ্টি হয় তবে তাকে বিরোধাভাস অলঙ্কার বলে।
যেমন :
‘সীমার মাঝে অসীম তুমি বাজাও আপন সুর।'
---------রবীন্দ্রনাথ

(সীমার মধ্যে অসীমের স্থিতি আপাত বিরোধের চিন্তা। কিন্তু অসীম ঈশ্বর সীমিত বিশ্বেও বিরাজমান।
সুতরাং বিরোধ এখানে যথার্থ নয়, কাব্যে চারুত্ব দান করার জন্য। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
.
মুক্তাক্ষরের উচ্চারণের সময় মুখ কেমন থাকে?  
  1. বন্ধ
  2. আংশিক বন্ধ
  3. খোলা
  4. সংকুচিত
সঠিক উত্তর:
খোলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খোলা
ব্যাখ্যা

মুক্তাক্ষর উচ্চারণের সময় মুখ খোলা থাকে।
------------------
• মুক্তাক্ষর:
- অযুগ্ন বা মুক্ত স্বরান্ত ধ্বনিকে মুক্তাক্ষর বলে। 
- একে স্বরান্ত অক্ষরও বলা হয়।
- মুক্তাক্ষর বা মুক্তদল হলো ছন্দের সেই অংশ যা বাক্যের মূল ছন্দের বাইরে থাকে।
- এটি সাধারণত বাক্যের শুরুতে অবস্থান করে।
- মুক্তদল ছন্দের মূল অংশের (বদ্ধাক্ষরের) আগে আসে।
- মুক্তাক্ষরের মাত্রা সাধারণত এক মাত্রা।
- মুক্তাক্ষর হলো ছন্দের সূচনাকারী একমাত্রা। 
- এটি ছন্দের বাকি অংশের সঙ্গে মিলিয়ে বাক্যের গতি ও ছন্দ নির্ধারণে সহায়তা করে।
- যখন মূল বদ্ধাক্ষর (ছন্দের প্রধান অংশ) শুরু হয়, তখন মুক্তাক্ষরের উপস্থিতি বাকি ছন্দের জন্য প্রারম্ভিক তাল ও সমন্বয় তৈরি করে।
- ফলে পুরো বাক্যের ছন্দ এবং গতি সুষম ও স্বাভাবিকভাবে প্রবাহিত হয়।
- মুক্তাক্ষর অংশের ব্যবহার- ছন্দকে স্বতন্ত্র ও প্রাথমিক রূপ প্রদান করে, যাতে মূল ছন্দের প্রবাহ সুন্দরভাবে প্রকাশ পায়।
- উদাহরণস্বরূপ, “কবির কণ্ঠে হে বন্ধু বাজে সুর”–এখানে "হে বন্ধু" অংশটি শুরুতে মুক্তদল হিসেবে বসে, যা বাক্যের বাকি ছন্দকে সুন্দরভাবে সূচনা দেয়।

উৎস:
বাংলা কবিতার ছন্দ বিশ্লেষণ;
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।

.
কোন ছন্দকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 'ছড়ার ছন্দ' বলেছেন?
  1. মাত্রাবৃত্ত ছন্দ
  2. স্বরবৃত্ত ছন্দ
  3. অক্ষরবৃত্ত ছন্দ
  4. অমিত্রাক্ষর ছন্দ
সঠিক উত্তর:
স্বরবৃত্ত ছন্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বরবৃত্ত ছন্দ
ব্যাখ্যা
বিভিন্ন প্রকার ছন্দ:
১. স্বরবৃত্ত ছন্দকে লৌকিক ছন্দ বলে। রবীন্দ্রনাথ এটিকে 'ছড়ার ছন্দ' বলেছেন।
২. মাত্রাবৃত্ত ছন্দকে ধ্বনিপ্রধান ছন্দ বলে।
৩. অক্ষরবৃত্ত ছন্দকে তানপ্রধান বলে।
৪. পয়ার ছন্দে অন্তমিল থাকে।
৫. অমিত্রাক্ষর ছন্দে অন্তমিল থাকে না।

উৎস : ভাষা-শিক্ষা, ড হায়াৎ মামুদ, বাংলাপিডিয়া, প্রাচ্য সাহিত্য সমালোচনা তত্ত্ব ও অলংকার শাস্ত্র, প্রফেসর ড. ধীরেন্দ্রনাথ তরফদার।
.
উৎপত্তির বিচারে 'মাত্রাবৃত্ত ছন্দ' হলো -
  1. খাঁটি বাংলা ছন্দ
  2. তৎসম ছন্দ
  3. তদ্ভব ছন্দ
  4. দেশি ছন্দ
সঠিক উত্তর:
তৎসম ছন্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তৎসম ছন্দ
ব্যাখ্যা
⇒ মাত্রাবৃত্ত ছন্দ:
উৎপত্তির বিচারে এ ছন্দ “তৎসম' বা 'অর্ধতৎসম ছন্দ'; যে ছন্দে প্রাচীন সংস্কৃত ও প্রাকৃত ছন্দের অনেক লক্ষণ অথবা অন্তত কিছুটা লক্ষণও বর্তমান আছে তাকেই বলা হয় 'মাত্রাবৃত্ত ছন্দ'।

অন্যদিকে,
⇒ অক্ষরবৃত্ত ছন্দ:
উৎপত্তির বিচারে যে ছন্দটিকে খাঁটি বাংলা অর্থাৎ 'তদ্ভব ছন্দ' নামে আখ্যায়িত করা হয়, তাকেই প্রচলিত ভাষায় বলা হয় অক্ষরবৃত্ত ছন্দ।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড.হায়াৎ মামুদ।
.
'গুরু কাছে লব গুরু দুখ।' - এখানে কী ধরনের অলংকারের প্রয়োগ হয়েছে?
  1. যমক
  2. শ্লেষ
  3. ধ্বন্যুক্তি
  4. পুনরুক্তবদাভাস
সঠিক উত্তর:
যমক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যমক
ব্যাখ্যা
যমক:
- যমক শব্দের অর্থ 'যুগ্ম'।
- একই শব্দ বা প্রায় একই রকম উচ্চার্য শব্দ যদি নির্দিষ্টক্রমে দুই বা তার বেশিবার আলাদা, আলাদা অর্থে বসে, তবে সে অলঙ্কার হবে যমক।
যথা -
'গুরু কাছে লব গুরু দুখ।'
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
→ ১ম গুরু = পুরোহিত।
→ ২য় গুরু = কঠিন / বড়।

অন্যদিকে,
শ্লেষ:
চরণে একটিমাত্র শব্দ একাধিক অর্থ প্রকাশ করলে এবং পাঠকও যদি একাধিক অর্থেই তাকে গ্রহণ করে তবে তাকে শ্লেষ বলে।
যথা -
'মধুহীন করোনা মা তব মনঃ কোকনদে।'
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত
(এখানে 'মধুহীন' বলতে মিষ্টিহীন ও মধুসূদনহীন-এ দুই অর্থ প্রকাশিত)

ধ্বন্যুক্তি:
- ধ্বনির উচ্চারণে যদি বিষয়বস্তুকে দৃশ্যমান করা যায়, এমন অলঙ্কার।
- অর্থাৎ কবিতার চরণে ধ্বনিরূপ দিয়ে যদি অর্থের অবতারণা করা যায় তবে তাকে ধ্বন্যুক্তি বলে।
যেমন -
'বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর
বাজছে বাদল গামুর-গুমুর।
টাপুর-টুপুর গামুর-গুমুর
গামুর-গুমুর টাপুর-টুপুর।
ঝাপুর-ঝুপুর ছাপুর-ছুপুর
ছাপুর-ছুপুর ছাপুর-ঝুপুর।'
- অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
(এখানে শব্দ দিয়ে এমন ধ্বনিসৃজন হয়েছে, যেন দেখা যাচ্ছে বৃষ্টি হচ্ছে।)

পুনরুক্তবদাভাস:
- একই চরণে একার্থক একাধিক শব্দ যদি বিভিন্নরূপে ব্যবহৃত হয় কিন্তু বিশ্লেষণে যদি সেই পুনরাবৃত্তির বিভিন্ন অর্থ প্রতীয়মান হয় তাহলে তাকে পুনরুক্তবদাভাস বলা হয়।
- বাংলা সাহিত্যে এর দৃষ্টান্ত অল্প।
যেমন -
'নিশীথ রাতে একা বসে গান গাই।'
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
(এখানে নিশীথ ও রাত একার্থ হলেও নিশীথ 'গভীর' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।) 'তনু দেহটি সাজাব তব আমার আভরণে।' -রবীন্দ্রনাথ (এখানে তনু ও দেহ একার্থ হলেও তনু 'ছিপছিপে' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।)

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০.
সনেটের শেষ ছয় পঙ্‌ক্তিকে কী বলা হয়?
  1. ষঠক
  2. ষট্ক 
  3. স্ঠক
  4. ষষ্ঠক
সঠিক উত্তর:
ষট্ক 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ষট্ক 
ব্যাখ্যা

• সনেট (Sonnet): 
- গীতিকবিতার যে রূপটি চৌদ্দ চরণ এবং চৌদ্দ মাত্রার সমন্বয়ে গঠিত হয় তাকে চতুর্দশপদী কবিতা বা সনেট বলে ।
- কবিতাগুলো ১৪টি চরণে সংগঠিত হয়। 
- একটি আদর্শ সনেটের দুটি অংশ থাকে। যেমন: অষ্টক ও ষটক। 
-  প্রথম ৮ চরণকে অষ্টক (Octave) এবং শেষ ৬ চরণকে ষট্ক (Sestet) বলা হয়।
- সনেটের জনক - ইতালীয় কবি পেত্রার্ক। 
- বাংলা ভাষায় প্রথম সনেট রচনা করেন - মাইকেল মধুসূদন দত্ত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১১.
'দেশের যত নদীর ধারা জল না, ওরা অশ্রুধারা' - এই উক্তিটি নিচের কোন পারিভাষিক অলংকার দ্বারা শোভিত?
  1. অপহ্নুতি
  2. যমক
  3. অর্থোন্নতি
  4. অভিযোজন
সঠিক উত্তর:
অপহ্নুতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপহ্নুতি
ব্যাখ্যা

• 'অপহ্নুতি' অলঙ্কার: 
প্রকৃতকে অর্থাৎ উপমেয়কে নিষেধ করে করে বা গোপন করে অপ্রকৃতকে অর্থাৎ উপমানকে প্রতিষ্ঠা করলে, সেখানে ‘অপহ্নুতি’ অলঙ্কার হয়।
এখানে সাধারণতঃ দু’ভাবে এ নিষেধ হয়ে থাকে-
- প্রথমত: না, নহে, নয় প্রভৃতি না সূচক অব্যয় ব্যবহার করে;
- দ্বিতীয়ত: ব্যাজ, ছল, ছলনা, ছদ্ম প্রভৃতি সত্য গোপনকারী শব্দ প্রয়োগ করে।
প্রথম ক্ষেত্রে উপমান ও উপমেয় পৃথক বাক্যে আর দ্বিতীয়  ক্ষেত্রে উপমানও উপমেয় একই বাক্যে অবস্থান করে থাকে।

কয়েকটি উদাহরণ দ্বারা বিষয়টি স্পষ্ট করা যাচ্ছে। যেমন-
(ক) “মেয়ে ত নয়, হলদে পাখির ছা,” - জসীম উদ্দীন 
এখানে উপমেয়- ‘মেয়ে’; উপমান- ‘ছা’; না সূচক অব্যয়- ‘নয়'; ‘নয়’ অব্যয় ব্যবহার করে উপমেয়কে নিষেধ করা হয়েছে এবং উপমানকেই এখানে প্রতিষ্ঠিত করা। হয়েছে।
সুতরাং এটি ‘অপহূতি’ অলঙ্কার হয়েছে। 

(খ) “তারাই আজি নিঃস্ব দেশে, কাঁদছে হয়ে অন্ন হারা; 
দেশের যত নদীর ধারা জল না, ওরা অশ্রু ধারা।”
- নজরুল ইসলাম
উদাহরণে উপমেয়- ‘জল’; উপমান- ‘অশ্রু’ । কবি এখানে ‘না’ সূচক অব্যয় ‘না’ ব্যবহার করে উপমেয়কে অস্বীকার করে উপমানকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
সুতরাং এখানে ‘অপহূতি’ অলঙ্কার সৃষ্টি করা হয়েছে।
 
(গ) “নীর বিন্দু যত
দেখিতে কুসুম-দলে, হে সুধাংশু নিধি, 
অভাগীর অশ্রু বিন্দু কহিনু তােমারে।”
- মধুসূদন দত্ত।
এখানে উপমেয়- ‘নীর বিন্দু'; উপমান- ‘অশ্রু বিন্দু’; ‘না’ সূচক অব্যয় সরাসরি ব্যবহার করা না হলেও ব্যঞ্জনায় তা বােধগম্য হচ্ছে।
তাই এখানে ‘অপহূতি’ অলঙ্কার হয়েছে। 

(ঘ) “নারী নহ, কাব্য তুমি, তােমা 'পরে কবির প্রসাদ",
- বুদ্ধদেব বসু
এখানে উপমেয়- 'নারী'; উপমান- ‘কাব্য'; ‘না’ সূচক অব্যয়-’নহ’ দ্বারা উপমেয়কে অস্বীকার করে উপমান- ‘কাব্য’কে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।
সুতরাং ‘অপহ্নুতি’ অলঙ্কার হয়েছে। সুতরাং এখানে ‘অপহূতি’ অলঙ্কার হয়েছে।

উৎস: প্রাচ্য সাহিত্য সমালোচনা তত্ত্ব ও অলঙ্কার শাস্ত্র [রূপত্তত্ব, রসতত্ত্ব, অলঙ্কার ও ছন্দ] : প্রফেসর ড. ধীরেন্দ্রনাথ তরফদার।

১২.
কোন ছন্দের ভাব ললিত মধুর?
  1. অমিত্রাক্ষর
  2. মাত্রাবৃত্ত
  3. অক্ষরবৃত্ত
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
মাত্রাবৃত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাত্রাবৃত্ত
ব্যাখ্যা
⇒ মাত্রাবৃত্ত ছন্দ: 
- এ ছন্দ ধ্বনি-প্রধান।
- ছন্দে ছয় মাত্রার পর্বই অধিক। 
- চার, পাঁচ, সাত, আট মাত্রার পর্বও এ ছন্দে পাওয়া যায়।
- এ ছন্দে সাধুভাষা বা সাধু ক্রিয়ার ব্যবহার বেশি হয়।
- এ ছন্দে স্বরবৃত্তের মতো ধ্বনি সংকোচন নেই, আছে ধ্বনি বিস্তার।
- এ ছন্দের ভাব ললিত মধুর।
- এ ছন্দের উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য এর গীতিপ্রবণতা বা সুরনিষ্ঠতা।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৩.
মাইকেল মধুসূদন দত্ত প্রবর্তিত অমিত্রাক্ষর ছন্দ বাংলা কোন ছন্দের নব-রূপ?
  1. মাত্রাবৃত্ত ছন্দ
  2. অক্ষরবৃত্ত ছন্দ
  3. স্বরবৃত্ত ছন্দ
  4. বর্ণবৃত্ত
সঠিক উত্তর:
অক্ষরবৃত্ত ছন্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অক্ষরবৃত্ত ছন্দ
ব্যাখ্যা
• অমিত্রাক্ষর ছন্দ:
- উনিশ শতকে অমিত্রাক্ষর ছন্দ প্রবর্তনের করেন মাইকেল মধুসূদন দত্ত।
- 'অমিত্রাক্ষর' ছন্দের বৈশিষ্ট্য হলো এর অন্ত্যমিল বা অন্ত্যানুপ্রাস নেই।
- অমিত্রাক্ষর ছন্দ ইংরেজি হচ্ছে Blank verse।
- 'অমিত্রাক্ষর ছন্দ' প্রকৃত পক্ষে বাংলা অক্ষরবৃত্ত ছন্দের নব সংস্করণ।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত 'পদ্মাবতী' নাটকে (দ্বিতীয় অঙ্ক দ্বিতীয় গর্ভাঙ্কে) প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করেন।

অক্ষরবৃত্ত:
- উৎপত্তির বিচারে যে ছন্দটিকে খাঁটি বাংলা অর্থাৎ 'তদ্ভব ছন্দ' নামে আখ্যায়িত করা হয়, তাকেই প্রচলিত ভাষায় বলা হয় অক্ষরবৃত্ত ছন্দ।
- অক্ষরবৃত্ত ছন্দ বাংলা কাব্যের প্রধান ছন্দ।
- অক্ষরবৃত্ত ছন্দকে তানপ্রধান ছন্দও বলে।
- পয়ার হচ্ছে অক্ষরবৃত্ত ছন্দের ৮/৬ মাত্রার বৈশিষ্ট্যপূর্ণ একটি শ্রেণিবিভাগ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড হায়াৎ মামুদ; বাংলাপিডিয়া; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪.
উৎপত্তির বিচারে খাঁটি বাংলা ছন্দ বলা হয় কোনটিকে?
  1. মাত্রাবৃত্ত ছন্দ
  2. অক্ষরবৃত্ত ছন্দ
  3. স্বরবৃত্ত ছন্দ
  4. খ ও গ
সঠিক উত্তর:
অক্ষরবৃত্ত ছন্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অক্ষরবৃত্ত ছন্দ
ব্যাখ্যা
• অক্ষরবৃত্ত ছন্দ:
উৎপত্তির বিচারে যে ছন্দটিকে আমরা খাঁটি বাংলা অর্থাৎ 'তদ্ভব ছন্দ' নামে আখ্যায়িত করেছি, তাকেই প্রচলিত ভাষায় বলা হয় অক্ষরবৃত্ত ছন্দ।

যে ছন্দে শব্দের আদিতে ও মধ্যে যুগ্মধ্বনি থাকলে তা সংশ্লিষ্ট উচ্চারণে এক-মাত্রা এবং শেষে যুগ্মধ্বনি থাকলে বিশ্লিষ্ট উচ্চারণে দুই মাত্রা ধরা হয়, সে ছন্দকে অক্ষরবৃত্ত ছন্দ বলা হয়।

- এ ছন্দে অক্ষর উচ্চারণের ধ্বনি আচ্ছন্ন করে একটি অতিরিক্ত তান বা সুরের তরঙ্গ সৃষ্টি হয়। ফলে যুক্তাক্ষরবিহীন ও যুক্তাক্ষরবহুল সব চরণই এ ছন্দে দেখা যায়।
- মন্দর বা ধীর লয় বা গতির এ ছন্দ সাধারণত দুই পর্বের হয় এবং ৬, ৮ ও ১০ মাত্রার পর্বই এ ছন্দে বেশি দেখা যায়। বৈচিত্র্যপূর্ণ নানা ছন্দ এ ছন্দের অন্তর্ভুক্ত।

যেমন:
মরিতে চাহিনা আমি । সুন্দর ভুবনে,
মানবের মাঝে আমি । বাঁচিবারে চাই,
এই সূর্যকরে এই । পুষ্পিত কাননে,
জীবন্ত হৃদয় মাঝে । যদি স্থান পাই।

উপর্যুক্ত চরণগুলোর মাত্রাসংখ্যা যথাক্রমে ৮ + ৬ = ১৪ মাত্রার। প্রতি চরণে পর্ব সংখ্যা দুটি করে।

অন্যদিকে, 
• মাত্রাবৃত্ত ছন্দ:
উৎপত্তির বিচারে যে ছন্দকে আমরা বলেছি 'তৎসম' বা 'অর্ধতৎসম ছন্দ', যে ছন্দে প্রাচীন সংস্কৃত ও প্রাকৃত ছন্দের অনেক লক্ষণ অথবা অন্তত কিছুটা লক্ষণও বর্তমান আছে তাকেই বলা হয় 'মাত্রাবৃত্ত ছন্দ'।

• স্বরবৃত্ত ছন্দ:
এই ছন্দের একটি অতি প্রচলিত নাম 'ছড়ার ছন্দ' বা 'লৌকিক ছন্দ / লোকছন্দ'। প্রাচীন ছড়াগুলো এই ছন্দে রচিত এবং এই ছন্দ মূলত লোকজীবনে নিত্যব্যবহৃত কথ্যভাষা-আশ্রিত বলেই এরূপ নামকরণের সার্থকতা স্বীকার করা চলে। রবীন্দ্রনাথও অনেক সময় একে 'ছড়ার ছন্দ' বা 'লোকছন্দ' নামে অভিহিত করেছেন।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৫.
যে ছন্দেরমূল পর্ব বা পূর্ণ পর্বের মাত্রা সংখ্যা চার, তাকে কী বলা হয়?
  1. অমিত্রাক্ষর
  2. অক্ষরবৃত্ত
  3. মাত্রাবৃত্ত
  4. স্বরবৃত্ত
সঠিক উত্তর:
স্বরবৃত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বরবৃত্ত
ব্যাখ্যা
• স্বরবৃত্ত ছন্দ:
- স্বরবৃত্ত ছন্দের বহুল প্রচলিত নাম ছড়ার ছন্দ, লৌকিক ছন্দ, লোকছন্দ, মেয়েলি ছন্দ।
- এটাকে প্রাকৃত বাংলা ছন্দও বলা হয়।
- প্রাচীন ছড়াগুলো স্বরবৃত্তে রচিত।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একে ছড়া ছন্দ বা লোকছন্দ বলেছেন।
- এর ভাব লঘু ও চপল।

• স্বরবৃত্ত ছন্দের বৈশিষ্ট্য:
- দ্রুত লয়ের ছন্দ।
- এই ছন্দের মূল পর্ব বা পূর্ণ পর্ব চার মাত্রাবিশিষ্ট।
- মুক্তাক্ষর এবং বদ্ধাক্ষর উভয়ই একমাত্র বিশিষ্ট,পর্বগুলো ছোট ৪ মাত্রা বিশিষ্ট।

উৎস : ভাষা-শিক্ষা, ড হায়াৎ মামুদ, বাংলাপিডিয়া, প্রাচ্য সাহিত্য সমালোচনা তত্ত্ব ও অলংকার শাস্ত্র, প্রফেসর ড. ধীরেন্দ্রনাথ তরফদার।
১৬.
মুক্তাক্ষর এবং বদ্ধাক্ষর এক মাত্রার গণনা করা হয় কোন ছন্দে?
  1. স্বরবৃত্ত
  2. মাত্রাবৃত্ত
  3. অক্ষরবৃত্ত
  4. পায়রাবৃত্ত
সঠিক উত্তর:
স্বরবৃত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বরবৃত্ত
ব্যাখ্যা

• স্বরবৃত্ত ছন্দ:
- স্বরবৃত্ত ছন্দের বহুল প্রচলিত নাম ছড়ার ছন্দ, লৌকিক ছন্দ, লোকছন্দ, মেয়েলি ছন্দ।
- এটাকে প্রাকৃত বাংলা ছন্দও বলা হয়।
- প্রাচীন ছড়াগুলো স্বরবৃত্তে রচিত।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একে ছড়া ছন্দ বা লোকছন্দ বলেছেন।

• স্বরবৃত্ত ছন্দের বৈশিষ্ট্য:
- স্বরবৃত্ত ছন্দে মুক্তাক্ষর এবং বদ্ধাক্ষর এক মাত্রার গণনা করা হয়।
- এই ছন্দের মূল পর্ব বা পূর্ণ পর্ব চার মাত্রাবিশিষ্ট।
- এর ভাব লঘু ও চপল।

উৎস : ভাষা-শিক্ষা, ড হায়াৎ মামুদ, বাংলাপিডিয়া।

১৭.
বাংলা কাব্যে ব্যবহৃত প্রাচীনতম ছন্দ কোনটি?
  1. স্বরবৃত্ত ছন্দ
  2. অক্ষরবৃত্ত ছন্দ
  3. অমিত্রাক্ষর ছন্দ
  4. মাত্রাবৃত্ত ছন্দ
সঠিক উত্তর:
মাত্রাবৃত্ত ছন্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাত্রাবৃত্ত ছন্দ
ব্যাখ্যা
• ছন্দ:
কাব্যের গতিসৌন্দর্য বিধায়ক একটি স্বতঃস্ফূর্ত নির্মাণকৌশল। হাজার বছর ধরে বিচিত্র আবেগ, অনুভূতি ও বিষয়ভাবনা দ্বারা পরিপুষ্ট বাংলা কাব্যের গতিময় নান্দনিক সৌন্দর্য সৃষ্টির উদ্দেশ্যে কবিরা বহুবিধ ছন্দের নির্মাণ ও বিকাশ সাধন করেছেন।

• মাত্রাবৃত্ত ছন্দ:
• মাত্রাবৃত্ত ছন্দ বাংলা কাব্যে ব্যবহৃত অন্যতম প্রাচীন ছন্দ।
• অক্ষরবৃত্তের প্রভাব থেকে রবীন্দ্রনাথ একে মুক্ত করে এতে এক নতুন রীতি প্রবর্তন করেন, যে কারণে মাত্রাবৃত্তকে কেউ কেউ রবীন্দ্রনাথেরই সৃষ্টি বলে মনে করেন।
• এ ছন্দ চর্যাপদে  প্রথম লক্ষিত হয়। মূলত মাত্রাবৃত্ত একটি সর্বভারতীয় ছন্দ এবং সংস্কৃত ও প্রাকৃতের সময় থেকেই এটি ভারতবর্ষে প্রচলিত।
• বাংলা ভাষায় এটি প্রবেশ করেছে  প্রাকৃত ও  অপভ্রংশ কবিতা এবং সংস্কৃত কাব্য  গীতগোবিন্দম্-এর মাধ্যমে। রবীন্দ্রনাথও স্বীকার করেছেন যে, এ ছন্দের সৃষ্টি হয়েছে সংস্কৃত ছন্দকে বাংলায় ভেঙে নিয়ে।

• অন্যান্য বাংলা ছন্দের তুলনায় মাত্রাবৃত্ত একটি দুর্বল ছন্দ; কেননা পর্বদৈর্ঘ্য অনুযায়ী চার, পাঁচ, ছয় বা সাত মাত্রার এ ছন্দে স্বাভাবিকভাবেই দুর্বল উচ্চারণভঙ্গি ফুটে ওঠে এবং এতে শক্তি বা সুরের স্বাভাবিক প্রকাশ না হয়ে কেবল মাত্রারই প্রাধান্য প্রতিফলিত হয়। এজন্যই এ ছন্দকে মাত্রাবৃত্ত ছন্দ বলা হয়।
• বাংলা সাহিত্যে এ ছন্দকে ধ্বনিপ্রধান, বিস্তারপ্রধান, সরল কলামাত্রিক ইত্যাদি নামেও অভিহিত করা হয়।
• চর্যাপদে মাত্রাবৃত্ত ছন্দের প্রথম প্রকাশ পরিলক্ষিত হলেও সেখানে তা একেবারেই সাধারণ ও প্রাথমিক পর্যায়ের। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৮.
বাংলা সাহিত্যে অর্থালংকার কত প্রকার?
  1. দুই
  2. তিন
  3. পাঁচ
  4. ছয়
সঠিক উত্তর:
পাঁচ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাঁচ
ব্যাখ্যা

অর্থালংকার:
⇒ অর্থের বৈচিত্র্য ও সৌন্দর্য - বিধায়ক অলঙ্কারকে বলা হয় অর্থালঙ্কার। অর্থালংকারে শব্দধ্বনি গৌণ, তার অর্থই প্রধান। এজন্য অর্থ ঠিক রেখে শব্দ বদলে দিলেও অর্থালংকারের কোনো পরিবর্তন হয় না।

⇒ অর্থালংকার প্রধানত ৫ প্রকার :
যথা :
- সাদৃশ্যমূলক।
- বিরোধমূলক।
- শৃঙ্খলামূলক।
- ন্যায়মূলক।
- গূঢ়ার্থমূলক।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।

১৯.
প্রাচীন ছড়াগুলো রচিত হয় কোন ছন্দে?
  1. অক্ষরবৃত্ত ছন্দে
  2. স্বরবৃত্ত ছন্দে
  3. মাত্রাবৃত্ত ছন্দে
  4. অমিত্রাক্ষর ছন্দে
সঠিক উত্তর:
স্বরবৃত্ত ছন্দে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বরবৃত্ত ছন্দে
ব্যাখ্যা
বাংলা ছন্দ তিন রকমের।
যথা:
- অক্ষরবৃত্ত,
- মাত্রাবৃত্ত এবং
- স্বরবৃত্ত।

• অক্ষরবৃত্ত ছন্দ:
- উৎপত্তির বিচারে যে ছন্দটিকে খাঁটি বাংলা অর্থাৎ 'তদ্ভব ছন্দ' নামে আখ্যায়িত করা হয়, তাকেই প্রচলিত ভাষায় বলা হয় অক্ষরবৃত্ত ছন্দ।
- অক্ষরবৃত্ত ছন্দ বাংলা কাব্যের প্রধান ছন্দ।
- অক্ষরবৃত্ত ছন্দকে তানপ্রধান ছন্দও বলে।
- পয়ার হচ্ছে অক্ষরবৃত্ত ছন্দের ৮/৬ মাত্রার বৈশিষ্ট্যপূর্ণ একটি শ্রেণিবিভাগ।

-------------------
• মাত্রাবৃত্ত ছন্দ:
- উৎপত্তির বিচারে এ ছন্দ 'তৎসম' বা 'অর্ধতৎসম ছন্দ'।
- যে ছন্দে প্রাচীন সংস্কৃত ও প্রাকৃত ছন্দের অনেক লক্ষণ অথবা অন্তত কিছুটা লক্ষণও বর্তমান আছে তাকেই বলা হয় 'মাত্রাবৃত্ত ছন্দ'।
- বাংলা সাহিত্যে এ ছন্দকে ধ্বনিপ্রধান, বিস্তারপ্রধান, সরল কলামাত্রিক ইত্যাদি নামেও অভিহিত করা হয়।

---------------------
• স্বরবৃত্ত ছন্দ:
বাংলা ভাষা ও বাঙালির ধ্বনি উচ্চারণ প্রক্রিয়ার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ ছন্দ হচ্ছে স্বরবৃত্ত ছন্দ। এর কারণ, বাংলা শব্দ স্বভাবগতভাবেই হলন্ত বা ব্যঞ্জনান্ত উচ্চারণ প্রক্রিয়াবিশিষ্ট, যাকে রবীন্দ্রনাথ বলেছেন ‘হসন্তের ছাঁচ’। এ বৈশিষ্ট্য স্বরবৃত্ত ছন্দে রক্ষিত হয়েছে। চলিত বা প্রাকৃত বাংলার স্বভাব রক্ষা করে এ ছন্দের উদ্ভব ও বিকাশ ঘটেছে। ফলে এ ছন্দকে সাধু বাংলার বাইরে বাউল গানে, লোককথায় ও ছড়ায় খুঁজে পাওয়া যায়।

উচ্চারণে দ্রুততা ও সবলতা স্বরবৃত্ত ছন্দের প্রধান বৈশিষ্ট্য। প্রতি পর্বের প্রথমে প্রবল শ্বাসাঘাত যেমন এ ছন্দের দ্রুততার প্রধান কারণ, তেমনি শ্বাসাঘাতের শক্তিই একে করে তুলেছে সবল ও প্রাণবান। আবার স্বরবৃত্ত ছন্দের প্রধান পর্ব যেহেতু চার মাত্রার এবং তার পরেই থাকে একটি ক্ষুদ্র পর্ব, সেজন্যও এ ছন্দ দ্রুত উচ্চারিত হয়।

স্বরবৃত্ত ছন্দের বহুল প্রচলিত নাম ছড়ার ছন্দ, লৌকিক ছন্দ, লোকছন্দ, মেয়েলি ছন্দ। এটাকে প্রাকৃত বাংলা ছন্দও বলা হয়। প্রাচীন ছড়াগুলো স্বরবৃত্তে রচিত। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একে ছড়া ছন্দ বা লোকছন্দ বলেছেন। এর ভাব লঘু ও চপল।

স্বরবৃত্ত ছন্দের বৈশিষ্ট্য
- দ্রুত লয়ের ছন্দ।
- এই ছন্দের মূল পর্ব বা পূর্ণ পর্ব চার মাত্রাবিশিষ্ট।
- মুক্তাক্ষর এবং বদ্ধাক্ষর উভয়ই একমাত্র বিশিষ্ট,পর্বগুলো ছোট ৪ মাত্রা বিশিষ্ট।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড হায়াৎ মামুদ এবং বাংলাপিডিয়া; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২০.
‘বিস্তারপ্রধান’ নামে অভিহিত করা হয় কোন ছন্দকে?
  1. অক্ষরবৃত্ত ছন্দ
  2. স্বরবৃত্ত ছন্দ
  3. মাত্রাবৃত্ত ছন্দ
  4. অমিত্রাক্ষর ছন্দ
সঠিক উত্তর:
মাত্রাবৃত্ত ছন্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাত্রাবৃত্ত ছন্দ
ব্যাখ্যা
• ছন্দ:
কাব্যের গতিসৌন্দর্য বিধায়ক একটি স্বতঃস্ফূর্ত নির্মাণকৌশল। হাজার বছর ধরে বিচিত্র আবেগ, অনুভূতি ও বিষয়ভাবনা দ্বারা পরিপুষ্ট বাংলা কাব্যের গতিময় নান্দনিক সৌন্দর্য সৃষ্টির উদ্দেশ্যে কবিরা বহুবিধ ছন্দের নির্মাণ ও বিকাশ সাধন করেছেন।
 
• মাত্রাবৃত্ত ছন্দ:
• মাত্রাবৃত্ত ছন্দ বাংলা কাব্যে ব্যবহৃত অন্যতম প্রাচীন ছন্দ।
• অক্ষরবৃত্তের প্রভাব থেকে রবীন্দ্রনাথ একে মুক্ত করে এতে এক নতুন রীতি প্রবর্তন করেন, যে কারণে মাত্রাবৃত্তকে কেউ কেউ রবীন্দ্রনাথেরই সৃষ্টি বলে মনে করেন।
• এ ছন্দ চর্যাপদে  প্রথম লক্ষিত হয়। মূলত মাত্রাবৃত্ত একটি সর্বভারতীয় ছন্দ এবং সংস্কৃত ও প্রাকৃতের সময় থেকেই এটি ভারতবর্ষে প্রচলিত।
• বাংলা ভাষায় এটি প্রবেশ করেছে  প্রাকৃত ও  অপভ্রংশ কবিতা এবং সংস্কৃত কাব্য  গীতগোবিন্দম্-এর মাধ্যমে। রবীন্দ্রনাথও স্বীকার করেছেন যে, এ ছন্দের সৃষ্টি হয়েছে সংস্কৃত ছন্দকে বাংলায় ভেঙে নিয়ে।
 
• অন্যান্য বাংলা ছন্দের তুলনায় মাত্রাবৃত্ত একটি দুর্বল ছন্দ; কেননা পর্বদৈর্ঘ্য অনুযায়ী চার, পাঁচ, ছয় বা সাত মাত্রার এ ছন্দে স্বাভাবিকভাবেই দুর্বল উচ্চারণভঙ্গি ফুটে ওঠে এবং এতে শক্তি বা সুরের স্বাভাবিক প্রকাশ না হয়ে কেবল মাত্রারই প্রাধান্য প্রতিফলিত হয়। এজন্যই এ ছন্দকে মাত্রাবৃত্ত ছন্দ বলা হয়।
• বাংলা সাহিত্যে এ ছন্দকে ধ্বনিপ্রধান, বিস্তারপ্রধান, সরল কলামাত্রিক ইত্যাদি নামেও অভিহিত করা হয়।
• চর্যাপদে মাত্রাবৃত্ত ছন্দের প্রথম প্রকাশ পরিলক্ষিত হলেও সেখানে তা একেবারেই সাধারণ ও প্রাথমিক পর্যায়ের। 
 
উৎস: বাংলাপিডিয়া।
২১.
'হে বঙ্গ ভান্ডারে তব বিবিধ রতন' কবিতাংশটি কোন ছন্দে লেখা?
  1. মাত্রাবৃত্ত
  2. স্বরবৃত্ত
  3. অক্ষরবৃত্ত
  4. লৌকিক ছন্দ
সঠিক উত্তর:
অক্ষরবৃত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অক্ষরবৃত্ত
ব্যাখ্যা

হে বঙ্গ ভাণ্ডারে তব বিবিধ রতন
তা সবে অবোধ আমি অবহেলা করি- কবিতার চরণদ্বয় অক্ষরবৃত্ত ছন্দে রচিত।

অক্ষরবৃত্ত ছন্দ:
অক্ষরবৃত্ত ছন্দে বদ্ধস্বর কখনো একমাত্রা এবং কখনো দুই মাত্রা বহন করে। অর্থাৎ পর্বে মাত্রা গণনা রীতি কোথাও স্বরবৃত্তের আবার কোথাও মাত্রাবৃত্তের মতো বাহিত হয়। বদ্ধস্বর যদি শব্দের প্রথমে বা মাঝে থাকে তবে তা  একমাত্রা সুরের তরঙ্গ সৃষ্টি করে। মন্থর বা ধীর লয় বা গতির এ ছন্দ সাধারণত দু্ পর্বের হয় এবং ৬, ৮ ও ১০ মাত্রার পর্বই এ ছন্দে বেশি দেখা যায়।

মাইকেল মধুসূদন দত্তের ‘বঙ্গভাষা’ কবিতাটি অক্ষরবৃত্ত ছন্দে লেখা। কবিতাটির অংশ বিশেষ-
হে বঙ্গ ভাণ্ডারে তব বিবিধ রতন
তা সবে অবোধ আমি অবহেলা করি

মাত্রা বিশ্লেষণ:
হে বঙ্ গ ভান্ ডারে কব / বি বি ধ র তন / = ৮+৬ = ১৪
তা স বে অ বোধ আ মি / অ ব হে লা ক রি / = ৮+৬ = ১৪

কবিতাটিতে যুক্তাক্ষরে একমাএা করে আছে। বদ্ধক্ষার শব্দের শুরুতেও আছে আবার শব্দের শেষেও আছে।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।

২২.
ছড়ার ছন্দকে কী বলে?
  1. স্বরবৃত্ত
  2. মাত্রাবৃত্ত
  3. অক্ষরবৃত্ত
  4. গদ্যছন্দ
সঠিক উত্তর:
স্বরবৃত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বরবৃত্ত
ব্যাখ্যা
স্বরবৃত্ত ছন্দ:
- স্বরবৃত্ত ছন্দের বহুল প্রচলিত নাম ছড়ার ছন্দ, লৌকিক ছন্দ, লোকছন্দ, মেয়েলি ছন্দ।
- এটাকে প্রাকৃত বাংলা ছন্দও বলা হয়।
- প্রাচীন ছড়াগুলো স্বরবৃত্তে রচিত।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একে ছড়া ছন্দ বা লোকছন্দ বলেছেন।
- এর ভাব লঘু ও চপল।

স্বরবৃত্ত ছন্দের বৈশিষ্ট্য:
- দ্রুত লয়ের ছন্দ।
- এই ছন্দের মূল পর্ব বা পূর্ণ পর্ব চার মাত্রাবিশিষ্ট।
- মুক্তাক্ষর এবং বদ্ধাক্ষর উভয়ই একমাত্র বিশিষ্ট,পর্বগুলো ছোট ৪ মাত্রা বিশিষ্ট।

উদাহরণ-
খোকন খোকন/ ডাক পাড়ি
খোকন মোদের/ কার বাড়ি।

অন্যদিকে,
অক্ষরবৃত্ত ছন্দ:
- উৎপত্তির বিচারে যে ছন্দটিকে খাঁটি বাংলা অর্থাৎ 'তদ্ভব ছন্দ' নামে আখ্যায়িত করা হয়, তাকেই প্রচলিত ভাষায় বলা হয় অক্ষরবৃত্ত ছন্দ।

মাত্রাবৃত্ত ছন্দ:
- উৎপত্তির বিচারে এ ছন্দ“তৎসম' বা 'অর্ধতৎসম ছন্দ'; যে ছন্দে প্রাচীন সংস্কৃত ও প্রাকৃত ছন্দের অনেক লক্ষণ অথবা অন্তত কিছুটা লক্ষণও বর্তমান আছে তাকেই বলা হয় 'মাত্রাবৃত্ত ছন্দ'।

উৎস : ভাষা-শিক্ষা, ড হায়াৎ মামুদ; বাংলাপিডিয়া; প্রাচ্য সাহিত্য সমালোচনা তত্ত্ব ও অলংকার শাস্ত্র, প্রফেসর ড. ধীরেন্দ্রনাথ তরফদার।
২৩.
বাংলা সাহিত্যে ছন্দ কত প্রকার?
  1. ২ প্রকার
  2. ৪ প্রকার
  3. ৫ প্রকার
  4. ৩ প্রকার
সঠিক উত্তর:
৩ প্রকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩ প্রকার
ব্যাখ্যা
• ছন্দ: 
- কাব্যের গতিসৌন্দর্য বিধায়ক একটি স্বতঃস্ফূর্ত নির্মাণকৌশল।
- হাজার বছর ধরে বিচিত্র আবেগ, অনুভূতি ও বিষয়ভাবনা দ্বারা পরিপুষ্ট বাংলা কাব্যের গতিময় নান্দনিক সৌন্দর্য সৃষ্টির উদ্দেশ্যে কবিরা বহুবিধ ছন্দের নির্মাণ ও বিকাশ সাধন করেছেন।
 
• এর প্রধান শাখা হচ্ছে তিনটি:
- মাত্রাবৃত্ত, স্বরবৃত্ত ও অক্ষরবৃত্ত।
 
• অক্ষরবৃত্ত ছন্দ: 
- উৎপত্তির বিচারে যে ছন্দটিকে খাঁটি বাংলা অর্থাৎ 'তদ্ভব ছন্দ' নামে আখ্যায়িত করা হয়, তাকেই প্রচলিত ভাষায় বলা হয় অক্ষরবৃত্ত ছন্দ।
- অক্ষরবৃত্ত ছন্দ বাংলা কাব্যের প্রধান ছন্দ।
- অক্ষরবৃত্ত ছন্দকে তানপ্রধান ছন্দও বলে।
- পয়ার হচ্ছে অক্ষরবৃত্ত ছন্দের ৮/৬ মাত্রার বৈশিষ্ট্যপূর্ণ একটি শ্রেণীবিভাগ।
• মাত্রাবৃত্ত ছন্দ: 
- উৎপত্তির বিচারে এ ছন্দ 'তৎসম' বা 'অর্ধতৎসম ছন্দ'।
- যে ছন্দে প্রাচীন সংস্কৃত ও প্রাকৃত ছন্দের অনেক লক্ষণ অথবা অন্তত কিছুটা লক্ষণও বর্তমান আছে তাকেই বলা হয় 'মাত্রাবৃত্ত ছন্দ'।
- বাংলা সাহিত্যে এ ছন্দকে ধ্বনিপ্রধান, বিস্তারপ্রধান, সরল কলামাত্রিক ইত্যাদি নামেও অভিহিত করা হয়।
 
• স্বরবৃত্ত ছন্দ:
- যে ছন্দে স্বরধ্বনির সংখ্যার উপর পর্বের মাত্রা সংখ্যা নির্ভরশীল, তাকে স্বরবৃত্ত ছন্দ বলে।
- উচ্চারণে দ্রুততা ও সবলতা স্বরবৃত্ত ছন্দের প্রধান বৈশিষ্ট্য। 
- চলিত বা প্রাকৃত বাংলার স্বভাব রক্ষা করে এ ছন্দের উদ্ভব ও বিকাশ ঘটেছে। ফলে এ ছন্দকে সাধু বাংলার বাইরে বাউল গানে, লোককথায় ও ছড়ায় খুঁজে পাওয়া যায়।
 
উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড.হায়াৎ মামুদ, বাংলাপিডিয়া।
২৪.
'সুরলোকে বেজে ওঠে / শঙ্ক
  নরলোকে বাজে জয় / ডঙ্ক
  এল মহাজন্মের / লগ্ন।' এটি কোন ছন্দে রচিত?
  1. স্বরবৃত্ত
  2. মাত্রাবৃত্ত
  3. অক্ষরবৃত্ত
  4. অমিত্রাক্ষর
সঠিক উত্তর:
মাত্রাবৃত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাত্রাবৃত্ত
ব্যাখ্যা
• 'সুরলোকে বেজে ওঠে / শঙ্ক 
নরলোকে বাজে জয় / ডঙ্ক 
এল মহাজন্মের / লগ্ন।' এটি মাত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত।

মাত্রাবৃত্ত ছন্দ:
- যে ছন্দে যুগ্মধ্বনি সর্বদা বিশ্লিষ্ট ভঙ্গিতে উচ্চারিত হয়ে দুমাত্রার মর্যাদা পায় এবং অযুগ্মধ্বনি একমাত্রা বলে গণনা করা হয় তাকে মাত্রাবৃত্ত ছন্দ বলে।
- মাত্রাবৃত্ত ছন্দ ধ্বনি-প্রধান।
- মাত্রাবৃত্ত ছন্দে ছয় মাত্রার পর্বই অধিক।
- চার, পাঁচ, সাত, আট মাত্রার পর্বও এ ছন্দে পাওয়া যায়।
যেমন - 
'সুরলোকে বেজে ওঠে / শঙ্ক (৮ + ৩)
নরলোকে বাজে জয় / ডঙ্ক (৮ + ৩)
এল মহাজন্মের / লগ্ন।' (৮ + ৩)
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২৫.
শব্দের অলংকার ধ্বনিগত ও অর্থগতভাবে কয় ভাগে ভাগ করা যায়?
  1. দুই
  2. তিন
  3. চার
  4. পাঁচ
সঠিক উত্তর:
দুই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুই
ব্যাখ্যা
অলংকারের প্রকারভেদ-
ভাষার অলংকার তার শব্দের ওপর নির্ভরশীল, শব্দের আছে দুটো দিক- বাইরের উচ্চারণে সে ধ্বনি, আর ভেতরে সে অর্থময়। অর্থাৎ বাইরে তার ধ্বনি- যা শোনা যায়। আর অন্তরে তার অর্থ- যা বোঝা যায়। শব্দের এই বৈশিষ্ট্যের পরিপ্রেক্ষিতে অলংকারকে ধ্বনিগত ও অর্থগতভাবে দু ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা:
১. শব্দাললার এবং
২. অর্থালঙ্কার।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড হায়াৎ মামুদ। 
২৬.
'হৃদয় মাঝে মেঘ উদয় করি, নয়নের মাঝে ঝড়িল বারি', এখানে কী ধরনের অলংকারের প্রয়োগ হয়েছে?
  1. বিষম
  2. বিরোধাভ্যাস
  3. অসংগতি
  4. বিভাবনা
সঠিক উত্তর:
অসংগতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অসংগতি
ব্যাখ্যা

- সঠিক উত্তর - অসংগতি।

অসঙ্গতি অলঙ্কার:
-  কার্য এবং কারণের ঘটনাস্থান যদি ভিন্ন হয় অর্থাৎ একস্থানে কারণ ঘটেছে এবং অপর স্থানে তার ফল দেখা যাচ্ছে, তখন তাক অসঙ্গতি অলঙ্কার বলে।
যেমন: 
- 'হৃদয় মাঝে মেঘ উদয় করি, নয়নের মাঝে ঝড়িল বারি’ 
( আকাশ মেঘে কালো হয়েছে, জল ঝরছে নয়ন হতে)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২৭.
'সোনার পাখি ছিল / সোনার খাঁচাটিতে বনের পাখি ছিল / বনে।' - কোন ছন্দে রচিত?
  1. অমিত্রাক্ষর
  2. মাত্রাবৃত্ত
  3. স্বরবৃত্ত
  4. অক্ষরবৃত্ত
সঠিক উত্তর:
মাত্রাবৃত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাত্রাবৃত্ত
ব্যাখ্যা
মাত্রাবৃত্ত ছন্দ:
- যে ছন্দে যুগ্মধ্বনি সর্বদা বিশ্লিষ্ট ভঙ্গিতে উচ্চারিত হয়ে দুমাত্রার মর্যাদা পায় এবং অযুগ্মধ্বনি একমাত্রা বলে গণনা করা হয় তাকে মাত্রাবৃত্ত ছন্দ বলে।
- মাত্রাবৃত্ত ছন্দ ধ্বনি-প্রধান।
- মাত্রাবৃত্ত ছন্দে ছয় মাত্রার পর্বই অধিক।
- চার, পাঁচ, সাত, আট মাত্রার পর্বও এ ছন্দে পাওয়া যায়।
যেমন - 
'সোনার পাখি ছিল / সোনার খাঁচাটিতে (৭+৭)
বনের পাখি ছিল / বনে।' (৭+২)
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২৮.
স্বরান্ত অক্ষরকে কী বলে?
  1. একাক্ষর
  2. যুক্তাক্ষর
  3. বদ্ধাক্ষর
  4. মুক্তাক্ষর
সঠিক উত্তর:
মুক্তাক্ষর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুক্তাক্ষর
ব্যাখ্যা
• মুক্তাক্ষর:
- যখন একটি অক্ষরে একটিই বর্ণ থাকে, তখন তাকে মুক্তাক্ষর বলে।
- অযুগ্ন বা মুক্ত স্বরান্ত ধ্বনিকে মুক্তাক্ষর বলে।
- একে স্বরান্ত অক্ষরও বলা হয়।
যেমন:
'ভালোবাসা ভালো না ।এখানে (ভা) (লো) (বা) (সো) (ভা) (লো) (না) এই সবগুলোই (৭টি) মুক্তাক্ষর।

• বদ্ধাক্ষর:
- ব্যঞ্জনধ্বনি বা অর্ধস্বরধ্বনির মাধ্যমে যে সব অক্ষরের সমাপ্তি ঘটে তাকে বদ্ধাক্ষর বলে।
- বদ্ধ অর্থ্যাৎ যুগ্মাস্বরান্ত বা ব্যঞ্জনান্ত ধ্বনিকে বদ্ধাক্ষর বলে।
যেমন: 'কাল দিনরাত হরতাল। [এখানে (কাল) (দিন) (রাত) (হর) (তাল্) এই সবগুলোই (৫টি) বদ্ধাক্ষর।]
বদ্ধাক্ষর (-) চিহ্ন দিয়ে বোঝানো হয়।

উৎস: বাংলা কবিতার ছন্দ বিশ্লেষণ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
২৯.
মুক্তাক্ষর বা মুক্তদল ছন্দের কোন স্থানে থাকে? 
  1. শেষে
  2. শুরুতে
  3. মাঝখানে
  4. সব স্থানে
সঠিক উত্তর:
শুরুতে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শুরুতে
ব্যাখ্যা

মুক্তাক্ষর বা মুক্তদল সাধারণত ছন্দের শুরুতে থাকে।

• মুক্তাক্ষর:
- অযুগ্ন বা মুক্ত স্বরান্ত ধ্বনিকে মুক্তাক্ষর বলে। 
- একে স্বরান্ত অক্ষরও বলা হয়।
- মুক্তাক্ষর বা মুক্তদল হলো ছন্দের সেই অংশ যা বাক্যের মূল ছন্দের বাইরে থাকে।
- এটি সাধারণত বাক্যের শুরুতে অবস্থান করে।
- মুক্তদল ছন্দের মূল অংশের (বদ্ধাক্ষরের) আগে আসে।
- মুক্তাক্ষরের মাত্রা সাধারণত এক মাত্রা।
- মুক্তাক্ষর হলো ছন্দের সূচনাকারী একমাত্রা। 
- এটি ছন্দের বাকি অংশের সঙ্গে মিলিয়ে বাক্যের গতি ও ছন্দ নির্ধারণে সহায়তা করে।
- যখন মূল বদ্ধাক্ষর (ছন্দের প্রধান অংশ) শুরু হয়, তখন মুক্তাক্ষরের উপস্থিতি বাকি ছন্দের জন্য প্রারম্ভিক তাল ও সমন্বয় তৈরি করে।
- ফলে পুরো বাক্যের ছন্দ এবং গতি সুষম ও স্বাভাবিকভাবে প্রবাহিত হয়।
- মুক্তাক্ষর অংশের ব্যবহার- ছন্দকে স্বতন্ত্র ও প্রাথমিক রূপ প্রদান করে, যাতে মূল ছন্দের প্রবাহ সুন্দরভাবে প্রকাশ পায়।
- উদাহরণস্বরূপ, “কবির কণ্ঠে হে বন্ধু বাজে সুর”–এখানে "হে বন্ধু" অংশটি শুরুতে মুক্তদল হিসেবে বসে, যা বাক্যের বাকি ছন্দকে সুন্দরভাবে সূচনা দেয়।

উৎস:
বাংলা কবিতার ছন্দ বিশ্লেষণ;
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।

৩০.
অক্ষরবৃত্ত ছন্দকে বলা হয়-
  1. তানপ্রধান
  2. ধ্বনিপ্রধান
  3. ধ্বনিমাত্রিক
  4. কলাবৃত্ত
সঠিক উত্তর:
তানপ্রধান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তানপ্রধান
ব্যাখ্যা
• অক্ষরবৃত্ত ছন্দ: 
- উৎপত্তির বিচারে যে ছন্দটিকে খাঁটি বাংলা অর্থাৎ 'তদ্ভব ছন্দ' নামে আখ্যায়িত করা হয়, তাকেই প্রচলিত ভাষায় বলা হয় অক্ষরবৃত্ত ছন্দ।
- অক্ষরবৃত্ত ছন্দ বাংলা কাব্যের প্রধান ছন্দ।
- অক্ষরবৃত্ত ছন্দকে তানপ্রধান ছন্দও বলে।
- পয়ার হচ্ছে অক্ষরবৃত্ত ছন্দের ৮/৬ মাত্রার বৈশিষ্ট্যপূর্ণ একটি শ্রেণীবিভাগ।

অক্ষরবৃত্ত ছন্দের বৈশিষ্ট্য-

১. অক্ষরবৃত্ত ছন্দের মূল পর্ব দুটি- আট ও ছয় মাত্রার। 
২. এ-ছন্দে শব্দের আদি ও মধ্যের যুগ্মধ্বনি ঠাসা বা সংশ্লিষ্ট উচ্চারণে এক মাত্রার এবং শেষের যুগ্মধ্বনি বিশ্লিষ্ট উচ্চারণে দুই মাত্রার।
৩. এ-ছন্দে সাধুভাষা বা সাধু ক্রিয়াপদেরই ব্যবহার বেশি।
8. এ-ছন্দে লয় ধীর বা মধ্যম।
৫. এ-ছন্দের চরণস্থ পর্বসমূহে অক্ষর ধ্বনিকে আচ্ছন্ন করে একটা অতিরিক্ত সুরের তান বা তরঙ্গ নিয়ত প্রবহমান।
৬. এ-ছন্দ যেহেতু অক্ষর-সর্বষ; তাই, এর অক্ষর গুনে মাত্রা ঠিক করলেই চলে।
৭. এ-ছন্দে আদি ও মধ্যের যুগ্মধ্বনি বা বদ্ধাক্ষর চার জায়গায় (কথ্য-ক্রিয়াপদে, নির্দেশক প্রত্যয়যুক্ত শব্দে, সমাসবদ্ধ পদে, তৎসম ও তদ্ভব শব্দে) দ্বিমাত্রিক।
৮. এ-ছন্দে তানের প্রবাহে এর অন্তর্গত যুক্ত-ব্যঞ্জনের মাত্রা সংকুচিত হয়ে এক মাত্রার হয়।
৯. এ-ছন্দের ভাব ও ভাষা গভীর, গম্ভীর, বিপুল এবং বিশাল।
১০. এ-ছন্দের প্রধান বৈশিষ্ট্য এর অসাধারণ শোষণশক্তি যার ফলে যুক্তাক্ষরবিহীন পর্বকে যুক্তাক্ষরবহুল করলেও এর মাত্রা-সংখ্যার কোনো তারতম্য হয় না।

অন্যদিকে,
⇒ মাত্রাবৃত্ত ছন্দকে বলা হয়- ধ্বনিপ্রধান, ধ্বনিমাত্রিক, কলাবৃত্ত।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড হায়াৎ মামুদ।
৩১.
সাহিত্যে অলঙ্কার প্রধানত কত প্রকার?
  1. দুই প্রকার
  2. তিন প্রকার
  3. চার প্রকার
  4. ছয় প্রকার
সঠিক উত্তর:
দুই প্রকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুই প্রকার
ব্যাখ্যা
• অলঙ্কার:
কাব্যকে সৌন্দর্যমণ্ডিতও সহৃদয়হৃদয়সংবেদ্য করার জন্য কবি যেসব কৌশল অবলম্বন করেন, তাকে অলঙ্কার বলে।
সাহিত্যে অলঙ্কার প্রধানত দুই প্রকার।
 যথা:
১. শব্দালঙ্কার এবং
২. অর্থালঙ্কার।

শব্দালংকার:
শব্দের ধ্বনিরূপকে আশ্রয় করে যে অলংকারের সৃষ্টি হয় তাকে বলা হয় শব্দালংকার। শব্দালংকারের নানা শ্রেণিবিভাগ রয়েছে। তন্মধ্যে প্রধান বিভাগগুলো হলো: অনুপ্রাস, যমক, শ্লেষ ও বক্রোক্তি।

অর্থালঙ্কার:
- যে অলঙ্কার একান্তভাবে শব্দের অর্থের উপর নির্ভর করে; অর্থ-প্রকাশক শব্দ বা শব্দাবলিকে পরিবর্তিত করে সেখানে সমার্থক অন্য শব্দ বসিয়ে দিলেও যে অলঙ্কার অক্ষুণ্ণ থাকে তাকে অর্থালঙ্কার বলে।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩২.
খাঁটি বাংলা ছন্দ বলা হয় কোনটিকে?
  1. অক্ষরবৃত্ত
  2. মাত্রাবৃত্ত
  3. স্বরবৃত্ত
  4. ত্রিপদী
সঠিক উত্তর:
অক্ষরবৃত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অক্ষরবৃত্ত
ব্যাখ্যা
• বাংলা ছন্দ তিন রকমের।
যথা:
- অক্ষরবৃত্ত,
- মাত্রাবৃত্ত এবং
- স্বরবৃত্ত।

• অক্ষরবৃত্ত ছন্দ:
উৎপত্তির বিচারে যে ছন্দটিকে খাঁটি বাংলা অর্থাৎ 'তদ্ভব ছন্দ' নামে আখ্যায়িত করা হয়, তাকেই প্রচলিত ভাষায় বলা হয় অক্ষরবৃত্ত ছন্দ।
অক্ষরবৃত্ত ছন্দ বাংলা কাব্যের প্রধান ছন্দ।
অক্ষরবৃত্ত ছন্দকে তানপ্রধান ছন্দও বলে।
পয়ার হচ্ছে অক্ষরবৃত্ত ছন্দের ৮/৬ মাত্রার বৈশিষ্ট্যপূর্ণ একটি শ্রেণীবিভাগ।

• মাত্রাবৃত্ত ছন্দ:
উৎপত্তির বিচারে এ ছন্দ 'তৎসম' বা 'অর্ধতৎসম ছন্দ'।
যে ছন্দে প্রাচীন সংস্কৃত ও প্রাকৃত ছন্দের অনেক লক্ষণ অথবা অন্তত কিছুটা লক্ষণও বর্তমান আছে তাকেই বলা হয় 'মাত্রাবৃত্ত ছন্দ'।
বাংলা সাহিত্যে এ ছন্দকে ধ্বনিপ্রধান, বিস্তারপ্রধান, সরল কলামাত্রিক ইত্যাদি নামেও অভিহিত করা হয়।

• স্বরবৃত্ত ছন্দ:
বাংলা ভাষা ও বাঙালির ধ্বনি উচ্চারণ প্রক্রিয়ার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ ছন্দ হচ্ছে স্বরবৃত্ত ছন্দ। এর কারণ, বাংলা শব্দ স্বভাবগতভাবেই হলন্ত বা ব্যঞ্জনান্ত উচ্চারণ প্রক্রিয়াবিশিষ্ট, যাকে রবীন্দ্রনাথ বলেছেন 'হসন্তের ছাঁচ'। এ বৈশিষ্ট্য স্বরবৃত্ত ছন্দে রক্ষিত হয়েছে। চলিত বা প্রাকৃত বাংলার স্বভাব রক্ষা করে এ ছন্দের উদ্ভব ও বিকাশ ঘটেছে। ফলে এ ছন্দকে সাধু বাংলার বাইরে বাউল গানে, লোককথায় ও ছড়ায় খুঁজে পাওয়া যায়।

উচ্চারণে দ্রুততা ও সবলতা স্বরবৃত্ত ছন্দের প্রধান বৈশিষ্ট্য। প্রতি পর্বের প্রথমে প্রবল শ্বাসাঘাত যেমন এ ছন্দের দ্রুততার প্রধান কারণ, তেমনি শ্বাসাঘাতের শক্তিই একে করে তুলেছে সবল ও প্রাণবান। আবার স্বরবৃত্ত ছন্দের প্রধান পর্ব যেহেতু চার মাত্রার এবং তার পরেই থাকে একটি ক্ষুদ্র পর্ব, সেজন্যও এ ছন্দ দ্রুত উচ্চারিত হয়।
স্বরবৃত্ত ছন্দের বহুল প্রচলিত নাম ছড়ার ছন্দ, লৌকিক ছন্দ, লোকছন্দ, মেয়েলি ছন্দ। এটাকে প্রাকৃত বাংলা ছন্দও বলা হয়। প্রাচীন ছড়গুলো স্বরবৃত্তে রচিত। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একে ছড়া ছন্দ বা লোকছন্দ বলেছেন। এর ভাব লঘু ও চপল।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড হায়াৎ মামুদ এবং বাংলাপিডিয়া; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৩.
"চুল তার কবেকার অন্ধকার বিদিশার নিশা" - পঙক্তিটি  কোন অলঙ্কার দ্বারা গঠিত?
  1. যমক  
  2. শব্দালঙ্কার
  3. সরল অনুপ্রাস
  4. অনুপ্রাস
সঠিক উত্তর:
অনুপ্রাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুপ্রাস
ব্যাখ্যা

- "চুল তার কবেকার অন্ধকার বিদিশার নিশা" পঙক্তিটি  অনুপ্রাস অলঙ্কার দ্বারা গঠিত।

• অনুপ্রাস: 
- একই রকম বর্ণ বা বর্ণসমষ্টি বারবার ব্যবহৃত হয়ে যে শব্দসাম্য সৃষ্টি করে তাকে অনুপ্রাস বলে।
- অনুপ্রাস অলংকার সাধারণত বাংলা সাহিত্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধ্বনিগত অলংকার, যার প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো একটি নির্দিষ্ট ব্যঞ্জনবর্ণ বা বর্ণগুচ্ছের বারবার পুনরাবৃত্তি, যা কবিতার বা গদ্যের শ্রুতিমাধুর্য এবং সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে।
- চুল তার কবেকার অন্ধকার বিদিশার নিশা" - এখানে 'অন্ধকার' এবং 'নিশা' শব্দ দুটির মধ্যে একই ধরনের ধ্বনি বা ধ্বনিগুচ্ছের ('ন' ধ্বনি) পুনরাবৃত্তির মাধ্যমে শব্দের মধ্যে এক ধরনের মাধুর্য সৃষ্টি হয়েছে, যা অনুপ্রাস অলংকারের বৈশিষ্ট্য।

• প্রয়োগের ধরন অনুযায়ী অনুপ্রাস বিভিন্ন প্রকারের হয়, যেমন:
- বৃত্ত্যনুপ্রাস: একটি ব্যঞ্জনধ্বনি একাধিকবার ধ্বনিত হলে।
- ছেকানুপ্রাস: দুই বা ততোধিক ব্যঞ্জনধ্বনি যুক্ত বা বিযুক্তভাবে একই ক্রমে মাত্র দু'বার ধ্বনিত হলে।
- আদ্যানুপ্রাস: শব্দের শুরুতে একই ধ্বনির মিল থাকলে।
- অন্ত্যানুপ্রাস: পঙক্তির শেষে একই ধ্বনির মিল থাকলে।
- লাটানুপ্রাস: একই শব্দ বা বাক্য পরপর একাধিকবার ব্যবহৃত হলে, কিন্তু অন্বয় বা অর্থ ভিন্ন হলে। 

অন্যদিকে, 
- যমক:
- যমক হল শব্দালঙ্কারের একটি প্রকারভেদ।
-যমক এমন এক ধরনের অলঙ্কার যেখানে একই শব্দ একই স্বরধ্বনিসহ একাধিকবার ব্যবহৃত হয়ে ভিন্ন ভিন্ন অর্থ প্রকাশ করে।
- যেমন: 'ভারত, ভারত খ্যাত আপনার গুণে'।

- শব্দালঙ্কার:
- চুল তার কবেকার অন্ধকার বিদিশার নিশা" - এই পঙক্তিটি অনুপ্রাস নামক শব্দালঙ্কারের একটি উদাহরণ।
- শব্দের ধ্বনি প্রকাশে যে অলঙ্কার গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে তাই শব্দালঙ্কার, শব্দের ধ্বনিরূপের আশ্রয়ে এর সৃষ্টি। 
- শব্দালঙ্কারের  বৈশিষ্ট্য এই যে সৃষ্ট শব্দের ধ্বনিরূপ পালটে গেলে বা বদলে দিলে এর অঙ্গহানি ঘটে।
- যেমন: বাঘের বিক্রমসম মাঘের রজনী। 

- সরল অনুপ্রাস:
- একটি বা দুইটি বর্ণ বারবার ধ্বনিত হলে তাকে বলে সরল অনুপ্রাস, এটি অনুপ্রাস এর একটি প্রকারভেদ।
- এর উদাহরণ: ঝুলিছে ঝলি ঝালরে মুকুতা।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া।

৩৪.
‘কে বলে ঈশ্বর গুপ্ত ব্যাপ্ত চরাচর, / যাহার প্রভায় প্রভা পায় প্রভাকর।’ - ‍এখানে কী জাতীয় অলঙ্কার ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. উপমা
  2. বক্রোক্তি
  3. যমক
  4. শ্লেষ
সঠিক উত্তর:
শ্লেষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শ্লেষ
ব্যাখ্যা
• ‘কে বলে ঈশ্বর গুপ্ত ব্যাপ্ত চরাচর, / যাহার প্রভায় প্রভা পায় প্রভাকর।’ - ‍এখানে শ্লেষ অলঙ্কার ব্যবহৃত হয়েছে?।

শ্লেষ:
একটি শব্দ একবার মাত্র ব্যবহৃত হয়ে বিভিন্ন অর্থ প্রকাশ করলে তাকে শ্লেষ অলঙ্কার বলে। 
যেমন -
কে বলে ঈশ্বর গুপ্ত ব্যাপ্ত চরাচর, / যাহার প্রভায় প্রভা পায় প্রভাকর।

⇒ এখানে সমগ্র বাক্যের দুটি অর্থ।
- এক অর্থে ঈশ্বর চরাচরে ব্যাপ্ত, তাঁর আলোকে সূর্য আলোকিত হয়। 
- অন্য অর্থে যাঁর প্রতিভায় ‘সংবাদ প্রভাকর' পত্রিকা উজ্জ্বলরূপে প্রকাশিত হয় সেই ঈশ্বর গুপ্তকে অখ্যাতনামা কে বলবে? তাঁর খ্যাতি চরাচরে ব্যাপ্ত। 
এটা শ্লেষ অলঙ্কার।
যেমন -
→ আছিলাম একাকিনী বসিয়া কাননে। / আনিলা তোমার স্বামী বাঁধি নিজ গুণে।। 

⇒ এখানে ‘গুণে' অর্থ -
১. ধনুকের ছিলায়, 
২. স্বভাবের উৎকর্ষে।

অন্যদিকে,
উপমা:
- একই বাক্যে সাধারণ ধর্মবিশিষ্ট দুই ভিন্ন জাতয়ি পদার্থের মধ্যে সাদৃশ্য করা হলে তাকে উপমা বলে। 
- উপমার চারটি অঙ্গ। যথা:
১. উপমেয়: যাকে তুলনা করা হয়।
২. উপমান: যার সঙ্গে তুলনা করা হয়।
৩. সাধারণ ধর্ম: যে বৈশিষ্ট্যের জন্য তুলনা দেওয়া হয়।
৪. সাদৃশ্যবাচক শব্দ: মতো, সম, হেন, সদৃশ, প্রায়, ন্যায় ইত্যাদি।
যেমন -
→ ‘পদ্মের কলিকাসম ক্ষুদ্র তব মুষ্টিখানি।’
এ বাক্যে উপমেয় - মুষ্টি; উপমান - পদ্মের কলিকা; সাধারণ ধর্ম - ক্ষুদ্র; সাদৃশ্যমূলক শব্দ - সম।

বক্রোক্তি:
- রচনার সৌন্দর্য প্রকাশের জন্য বক্রতা বা মনোহর ভঙ্গি দ্বারা উক্তি সম্পন্ন হলে তাকে বক্রোক্তি বলে। সোজাসুজি না বলে বাঁকাভাবে কোনো বক্তব্য প্রকাশ পেলে তা হয় বক্রোক্তি। 
যেমন -
→ গৌরী সেনের আবার টাকার অভাব কী। 
এখানে টাকার অভাব নেই ভাবটি বাঁকাভাবে ব্যক্ত হয়েছে।
- বক্রোক্তি দুই ধরনের।যথা:
১. শ্লেষ বক্রোক্তি ও 
২. কাকু বক্রোক্তি।

যমক:
- একই শব্দ একই স্বরধ্বনিসমেত একই ক্রমানুসারে ভিন্ন ভিন্ন অর্থে একাধিকবার ব্যবহৃত হলে তাকে যমক অলঙ্কার বলে।
- যমক শব্দের অর্থ যুগ্ম।
- এতে একই শব্দ বা প্রায় এক রকমের উচ্চার্য শব্দ দু বার বা বেশি বার উচ্চারিত হয়।
- শব্দের অর্থও আলাদা হতে হবে।
যেমন -
→ মাটির ভয়ে রাজ্য হবে মাটি / দিবস রাতি রহিলে আমি বন্ধ।
→ ভারত ভারত খ্যাত আপনার গুণে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩৫.
‘ছড়ার ছন্দ ও লোকছন্দ’ বলা হয় কোন ছন্দকে?
  1. অক্ষরবৃত্ত ছন্দ
  2. মাত্রাবৃত্ত ছন্দ
  3. পয়ার ছন্দ
  4. স্বরবৃত্ত ছন্দ
সঠিক উত্তর:
স্বরবৃত্ত ছন্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বরবৃত্ত ছন্দ
ব্যাখ্যা
• স্বরবৃত্ত ছন্দ:
- স্বরবৃত্ত ছন্দের বহুল প্রচলিত নাম ছড়ার ছন্দ, লৌকিক ছন্দ, লোকছন্দ, মেয়েলি ছন্দ।
- এটাকে প্রাকৃত বাংলা ছন্দও বলা হয়।
- প্রাচীন ছড়াগুলো স্বরবৃত্তে রচিত।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একে ছড়া ছন্দ বা লোকছন্দ বলেছেন।
- এর ভাব লঘু ও চপল।

স্বরবৃত্ত ছন্দের বৈশিষ্ট্য:
- দ্রুত লয়ের ছন্দ।
- এই ছন্দের মূল পর্ব বা পূর্ণ পর্ব চার মাত্রাবিশিষ্ট।
- মুক্তাক্ষর এবং বদ্ধাক্ষর উভয়ই একমাত্র বিশিষ্ট,পর্বগুলো ছোট ৪ মাত্রা বিশিষ্ট।

---------------------------
• অক্ষরবৃত্ত ছন্দ:
- উৎপত্তির বিচারে যে ছন্দটিকে খাঁটি বাংলা অর্থাৎ 'তদ্ভব ছন্দ' নামে আখ্যায়িত করা হয়, তাকেই প্রচলিত ভাষায় বলা হয় অক্ষরবৃত্ত ছন্দ।

• মাত্রাবৃত্ত ছন্দ:
- উৎপত্তির বিচারে এ ছন্দ“তৎসম' বা 'অর্ধতৎসম ছন্দ'; যে ছন্দে প্রাচীন সংস্কৃত ও প্রাকৃত ছন্দের অনেক লক্ষণ অথবা অন্তত কিছুটা লক্ষণও বর্তমান আছে তাকেই বলা হয় 'মাত্রাবৃত্ত ছন্দ'।

• পয়ার ছন্দ:
- পয়ার হচ্ছে অক্ষরবৃত্ত ছন্দের ৮/৬ মাত্রার বৈশিষ্ট্যপূর্ণ একটি শ্রেণীবিভাগ।
- এটি মধ্যযুগীয় বাংলা কাব্যের প্রধান ছন্দোরীতিও বটে।
- মধ্যযুগে পয়ার ছন্দেই রামায়ণ ও মহাভারতের বঙ্গানুবাদ এবং মঙ্গলকাব্যসমূহ রচিত হয়েছে।
- মাইকেল মধুসূদনের চতুদর্শপদী কবিতাবলির ছন্দও প্রচলিত পয়ার ছন্দেরই এক নতুন রূপ।

উৎস : ভাষা-শিক্ষা, ড হায়াৎ মামুদ; বাংলাপিডিয়া; প্রাচ্য সাহিত্য সমালোচনা তত্ত্ব ও অলংকার শাস্ত্র, প্রফেসর ড. ধীরেন্দ্রনাথ তরফদার।
৩৬.
চতুর্দশপদী কবিতার ক্ষেত্রে ষষ্ঠকে থাকে-
  1. উপসংহার
  2. ভাবের প্রবর্তনা
  3. মাত্রাবৃত্ত ছন্দ
  4. ভাবের পরিণতি
সঠিক উত্তর:
ভাবের পরিণতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভাবের পরিণতি
ব্যাখ্যা
• চতুর্দশপদী কবিতার ক্ষেত্রে ষষ্ঠকে থাকে- ভাবের পরিণতি। 
-------------------
• সনেট (Sonnet):
- চতুর্দশপদী (Sonnet) হল এক ধরনের কবিতা যার প্রথম উদ্ভব হয় মধ্যযুগে ইতালিতে।
- এর বৈশিষ্ট হল যে এই কবিতাগুলো ১৪টি চরণে সংগঠিত এবং প্রতিটি চরণে সাধারণভাবে মোট ১৪টি করে অক্ষর থাকবে।
- এর প্রথম আট চরণের স্তবককে অষ্টক এবং পরবর্তী ছয় চরণের স্তবককে ষষ্টক বলে।
- অষ্টকে মূলত ভাবের প্রবর্তনা এবং ষষ্ঠকে ভাবের পরিণতি থাকে।
- বাংলায় চতুর্দশপদী কবিতার জনক - মাইকেল মধুসূদন দত্ত।
- বাংলা সাহিত্যের প্রথম সনেট সংকলন চতুর্দশপদী কবিতাবলী। এটি প্রকাশিত হয় ১৮৬৬ সালে।
- ইতালীয় কবি পেত্রার্ক ও শেক্সপিয়ারের অনুকরণে এসব সনেট রচনা করেন মাইকেল মধুসূদন দত্ত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩৭.
নিচের কোনটিকে লোকছন্দ বলা হয়? 
  1. স্বরবৃত্ত ছন্দ
  2. অক্ষরবৃত্ত ছন্দ
  3. মাত্রাবৃত্ত ছন্দ
  4.  মুক্তক ছন্দ
সঠিক উত্তর:
স্বরবৃত্ত ছন্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বরবৃত্ত ছন্দ
ব্যাখ্যা

• স্বরবৃত্ত ছন্দ:
- স্বরবৃত্ত ছন্দের বহুল প্রচলিত নাম ছড়ার ছন্দ, লৌকিক ছন্দ, লোকছন্দ, মেয়েলি ছন্দ।
- এটাকে প্রাকৃত বাংলা ছন্দও বলা হয়।
- প্রাচীন ছড়াগুলো স্বরবৃত্তে রচিত। এর ভাব লঘু ও চপল।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একে ছড়া ছন্দ বা লোকছন্দ বলেছেন।

স্বরবৃত্ত ছন্দের বৈশিষ্ট্য:
- দ্রুত লয়ের ছন্দ।
- এই ছন্দের মূল পর্ব বা পূর্ণ পর্ব চার মাত্রাবিশিষ্ট।
- মুক্তাক্ষর এবং বদ্ধাক্ষর উভয়ই একমাত্র বিশিষ্ট,পর্বগুলো ছোট ৪ মাত্রা বিশিষ্ট।

উদাহরণ- 
খোকন খোকন/ ডাক পাড়ি 
খোকন মোদের/ কার বাড়ি। 

অন্যদিকে,
---------------------------
• অক্ষরবৃত্ত ছন্দ:
- উৎপত্তির বিচারে যে ছন্দটিকে খাঁটি বাংলা অর্থাৎ 'তদ্ভব ছন্দ' নামে আখ্যায়িত করা হয়, তাকেই প্রচলিত ভাষায় বলা হয় অক্ষরবৃত্ত ছন্দ।

• মাত্রাবৃত্ত ছন্দ:
- উৎপত্তির বিচারে এ ছন্দ“তৎসম' বা 'অর্ধতৎসম ছন্দ'; যে ছন্দে প্রাচীন সংস্কৃত ও প্রাকৃত ছন্দের অনেক লক্ষণ অথবা অন্তত কিছুটা লক্ষণও বর্তমান আছে তাকেই বলা হয় 'মাত্রাবৃত্ত ছন্দ'।

• মুক্তক ছন্দ:
- ছেদ অনুসারে পর্ব গঠিত হয়, প্রবহমানতা, অন্ত্যমিল ও অর্থবিভাগ-ভিত্তিক পঙ্‌ক্তি সৃষ্টি হয় যে ছন্দে তাকে মুক্তক ছন্দ বলে।

উৎস : ভাষা-শিক্ষা, ড হায়াৎ মামুদ; বাংলাপিডিয়া; প্রাচ্য সাহিত্য সমালোচনা তত্ত্ব ও অলংকার শাস্ত্র, প্রফেসর ড. ধীরেন্দ্রনাথ তরফদার।

৩৮.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 'লোকছন্দ' বলে আখ্যায়িত করেছেন কোন ছন্দকে?
  1. মাত্রাবৃত্ত ছন্দ
  2. স্বরবৃত্ত ছন্দ
  3. অক্ষরবৃত্ত ছন্দ
  4. অমিত্রাক্ষর ছন্দ
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
স্বরবৃত্ত ছন্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বরবৃত্ত ছন্দ
ব্যাখ্যা
• স্বরবৃত্ত ছন্দ:
- স্বরবৃত্ত ছন্দের বহুল প্রচলিত নাম ছড়ার ছন্দ, লৌকিক ছন্দ, লোকছন্দ, মেয়েলি ছন্দ।
- এটাকে প্রাকৃত বাংলা ছন্দও বলা হয়। প্রাচীন ছড়াগুলো স্বরবৃত্ত ছন্দ রচিত।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একে ছড়া ছন্দ বা লোকছন্দ বলেছেন।
- এর ভাব লঘু ও চপল।

স্বরবৃত্ত ছন্দের বৈশিষ্ট্য:
- দ্রুত লয়ের ছন্দ।
- এই ছন্দের মূল পর্ব বা পূর্ণ পর্ব চার মাত্রাবিশিষ্ট।
- মুক্তাক্ষর এবং বদ্ধাক্ষর উভয়ই একমাত্র বিশিষ্ট, পর্বগুলো ছোট ৪ মাত্রা বিশিষ্ট।

উদাহরণ-
খোকন খোকন/ ডাক পাড়ি খোকন মোদের/ কার বাড়ি।

অন্যদিকে,
• অক্ষরবৃত্ত ছন্দ:
উৎপত্তির বিচারে যে ছন্দটিকে খাঁটি বাংলা অর্থাৎ 'তদ্ভব ছন্দ' নামে আখ্যায়িত করা হয়, তাকেই প্রচলিত ভাষায় বলা হয় অক্ষরবৃত্ত ছন্দ।

• মাত্রাবৃত্ত ছন্দ:
উৎপত্তির বিচারে এ ছন্দ"তৎসম' বা 'অর্ধতৎসম ছন্দ'; যে ছন্দে প্রাচীন সংস্কৃত ও প্রাকৃত ছন্দের অনেক লক্ষণ অথবা অন্তত কিছুটা লক্ষণও বর্তমান আছে তাকেই বলা হয় 'মাত্রাবৃত্ত ছন্দ'।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড হায়াৎ মামুদ এবং বাংলাপিডিয়া।
৩৯.
‘মাটির ভয়ে রাজ্য হবে মাটি / দিবস রাতি রহিলে আমি বন্ধ।’ - ‍এখানে কোন প্রকার অলঙ্কার ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. উপমা
  2. বক্রোক্তি
  3. যমক
  4. শ্লেষ
সঠিক উত্তর:
যমক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যমক
ব্যাখ্যা
• ‘মাটির ভয়ে রাজ্য হবে মাটি / দিবস রাতি রহিলে আমি বন্ধ।’ - ‍এখানে যমক অলঙ্কার ব্যবহৃত হয়েছে?।

যমক:
- একই শব্দ একই স্বরধ্বনিসমেত একই ক্রমানুসারে ভিন্ন ভিন্ন অর্থে একাধিকবার ব্যবহৃত হলে তাকে যমক অলঙ্কার বলে।
- যমক শব্দের অর্থ যুগ্ম।
- এতে একই শব্দ বা প্রায় এক রকমের উচ্চার্য শব্দ দু বার বা বেশি বার উচ্চারিত হয়।
- শব্দের অর্থও আলাদা হতে হবে।
যেমন -
মাটির ভয়ে রাজ্য হবে মাটি / দিবস রাতি রহিলে আমি বন্ধ।
→ ভারত ভারত খ্যাত আপনার গুণে।

অন্যদিকে,
উপমা:
- একই বাক্যে সাধারণ ধর্মবিশিষ্ট দুই ভিন্ন জাতয়ি পদার্থের মধ্যে সাদৃশ্য করা হলে তাকে উপমা বলে। 
- উপমার চারটি অঙ্গ। যথা:
১. উপমেয়: যাকে তুলনা করা হয়।
২. উপমান: যার সঙ্গে তুলনা করা হয়।
৩. সাধারণ ধর্ম: যে বৈশিষ্ট্যের জন্য তুলনা দেওয়া হয়।
৪. সাদৃশ্যবাচক শব্দ: মতো, সম, হেন, সদৃশ, প্রায়, ন্যায় ইত্যাদি।
যেমন -
→ ‘পদ্মের কলিকাসম ক্ষুদ্র তব মুষ্টিখানি।’
এ বাক্যে উপমেয় - মুষ্টি; উপমান - পদ্মের কলিকা; সাধারণ ধর্ম - ক্ষুদ্র; সাদৃশ্যমূলক শব্দ - সম।

বক্রোক্তি:
- রচনার সৌন্দর্য প্রকাশের জন্য বক্রতা বা মনোহর ভঙ্গি দ্বারা উক্তি সম্পন্ন হলে তাকে বক্রোক্তি বলে। সোজাসুজি না বলে বাঁকাভাবে কোনো বক্তব্য প্রকাশ পেলে তা হয় বক্রোক্তি। 
যেমন -
→ গৌরী সেনের আবার টাকার অভাব কী। 
এখানে টাকার অভাব নেই ভাবটি বাঁকাভাবে ব্যক্ত হয়েছে।
- বক্রোক্তি দুই ধরনের।যথা:
১. শ্লেষ বক্রোক্তি ও 
২. কাকু বক্রোক্তি।

শ্লেষ:
একটি শব্দ একবার মাত্র ব্যবহৃত হয়ে বিভিন্ন অর্থ প্রকাশ করলে তাকে শ্লেষ অলঙ্কার বলে। 
যেমন -
→ কে বলে ঈশ্বর গুপ্ত ব্যাপ্ত চরাচর, / যাহার প্রভায় প্রভা পায় প্রভাকর।

⇒ এখানে সমগ্র বাক্যের দুটি অর্থ।
- এক অর্থে ঈশ্বর চরাচরে ব্যাপ্ত, তাঁর আলোকে সূর্য আলোকিত হয়। 
- অন্য অর্থে যাঁর প্রতিভায় ‘সংবাদ প্রভাকর' পত্রিকা উজ্জ্বলরূপে প্রকাশিত হয় সেই ঈশ্বর গুপ্তকে অখ্যাতনামা কে বলবে? তাঁর খ্যাতি চরাচরে ব্যাপ্ত। 
এটা শ্লেষ অলঙ্কার।
যেমন -
→ আছিলাম একাকিনী বসিয়া কাননে। / আনিলা তোমার স্বামী বাঁধি নিজ গুণে।। 

⇒ এখানে ‘গুণে' অর্থ -
১. ধনুকের ছিলায়, 
২. স্বভাবের উৎকর্ষে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪০.
সনেটের প্রথম অংশকে কী বলে?
  1. অষ্টক
  2. ষষ্টক
  3. ষষ্ঠী
  4. ত্রিপদী
সঠিক উত্তর:
অষ্টক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অষ্টক
ব্যাখ্যা

• সনেট (Sonnet): 
- গীতিকবিতার যে রূপটি চৌদ্দ চরণ এবং চৌদ্দ মাত্রার সমন্বয়ে গঠিত হয় তাকে চতুর্দশপদী কবিতা বা সনেট বলে ।
- কবিতাগুলো ১৪টি চরণে সংগঠিত হয়। 
- একটি আদর্শ সনেটের দুটি অংশ থাকে। যেমন: অষ্টক ও ষটক। 
- প্রথম ৮ চরণকে অষ্টক (Octave) এবং শেষ ৬ চরণকে ষটক (Sestet) বলা হয়।
- সনেটের জনক - ইতালীয় কবি পেত্রার্ক। 
- বাংলা ভাষায় প্রথম সনেট রচনা করেন - মাইকেল মধুসূদন দত্ত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৪১.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ছড়া ছন্দ বা লোকছন্দ বলেছেন কোনটিকে?
  1. পয়ার ছন্দ
  2. মাত্রাবৃত্ত ছন্দ
  3. স্বরবৃত্ত ছন্দ
  4. অক্ষরবৃত্ত
সঠিক উত্তর:
স্বরবৃত্ত ছন্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বরবৃত্ত ছন্দ
ব্যাখ্যা
• স্বরবৃত্ত ছন্দ:
- স্বরবৃত্ত ছন্দের বহুল প্রচলিত নাম ছড়ার ছন্দ, লৌকিক ছন্দ, লোকছন্দ, মেয়েলি ছন্দ।
- এটাকে প্রাকৃত বাংলা ছন্দও বলা হয়।প্রাচীন ছড়াগুলো স্বরবৃত্তে রচিত।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একে ছড়া ছন্দ বা লোকছন্দ বলেছেন।
- এর ভাব লঘু ও চপল।

স্বরবৃত্ত ছন্দের বৈশিষ্ট্য:
- দ্রুত লয়ের ছন্দ।
- এই ছন্দের মূল পর্ব বা পূর্ণ পর্ব চার মাত্রাবিশিষ্ট।
- মুক্তাক্ষর এবং বদ্ধাক্ষর উভয়ই একমাত্র বিশিষ্ট, পর্বগুলো ছোট ৪ মাত্রা বিশিষ্ট।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড হায়াৎ মামুদ, বাংলাপিডিয়া, প্রাচ্য সাহিত্য সমালোচনা তত্ত্ব ও অলংকার শাস্ত্র, প্রফেসর ড. ধীরেন্দ্রনাথ তরফদার।
৪২.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 'সংস্কৃত ভাঙা ছন্দ' নামকরণ করেছিলেন কোন ছন্দের?
  1. স্বরবৃত্ত ছন্দের
  2. মাত্রাবৃত্ত ছন্দের
  3. ত্রিপদী ছন্দের
  4. পয়ার ছন্দের
সঠিক উত্তর:
মাত্রাবৃত্ত ছন্দের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাত্রাবৃত্ত ছন্দের
ব্যাখ্যা
• মাত্রাবৃত্ত:
- এই নামটি দিয়েছেন প্রবোধ চন্দ্র সেন, হালে, এর নোতুন নামকরণ করেছেন-কলাবৃত্ত।
- রবীন্দ্রনাথ এর নাম দিয়েছেন-সংস্কৃত ভাঙা ছন্দ।
- অমূল্যধন এর নাম দিয়েছেন-ধ্বনি প্রধান ছন্দ।

উৎস: 'ছন্দ ও অলঙ্কার' ড. অজয় কুমার চক্রবর্তী।
৪৩.
'পয়ার' ছন্দ কোন শ্রেণির অন্তর্গত?
  1. স্বরবৃত্ত
  2. মাত্রাবৃত্ত
  3. অক্ষরবৃত্ত
  4. চতুর্দশপদী
সঠিক উত্তর:
অক্ষরবৃত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অক্ষরবৃত্ত
ব্যাখ্যা
• অক্ষরবৃত্ত ছন্দ:
- উৎপত্তির বিচারে যে ছন্দটিকে খাঁটি বাংলা অর্থাৎ 'তদ্ভব ছন্দ' নামে আখ্যায়িত করা হয়, তাকেই প্রচলিত ভাষায় বলা হয় অক্ষরবৃত্ত ছন্দ।
 
মাত্রাবৃত্ত ছন্দ:
- উৎপত্তির বিচারে এ  ছন্দ“তৎসম' বা 'অর্ধতৎসম ছন্দ'; যে ছন্দে প্রাচীন সংস্কৃত ও প্রাকৃত ছন্দের অনেক লক্ষণ অথবা অন্তত কিছুটা লক্ষণও বর্তমান আছে তাকেই বলা হয় 'মাত্রাবৃত্ত ছন্দ'।

• পয়ার ছন্দ:
- পয়ার হচ্ছে অক্ষরবৃত্ত ছন্দের ৮/৬ মাত্রার বৈশিষ্ট্যপূর্ণ একটি শ্রেণীবিভাগ।
- এটি মধ্যযুগীয় বাংলা কাব্যের প্রধান ছন্দোরীতিও বটে।
- মধ্যযুগে পয়ার ছন্দেই রামায়ণ ও মহাভারতের বঙ্গানুবাদ এবং মঙ্গলকাব্যসমূহ রচিত হয়েছে।
- মাইকেল মধুসূদনের চতুদর্শপদী কবিতাবলির ছন্দও প্রচলিত পয়ার ছন্দেরই এক নতুন রূপ।

উৎস : ভাষা-শিক্ষা, ড হায়াৎ মামুদ, বাংলাপিডিয়া, প্রাচ্য সাহিত্য সমালোচনা তত্ত্ব ও অলংকার শাস্ত্র, প্রফেসর ড. ধীরেন্দ্রনাথ তরফদার।
৪৪.
অযুগ্ম স্বরান্ত ধ্বনিকে কী বলে? 
  1. মুক্তাক্ষর
  2. একাক্ষর
  3. বদ্ধাক্ষর
  4. যুক্তাক্ষর
সঠিক উত্তর:
মুক্তাক্ষর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুক্তাক্ষর
ব্যাখ্যা

• অক্ষর (Syllable):
বাগযন্ত্রের ক্ষুদ্রতম প্রয়াসে উচ্চারিত ধ্বনি বা শব্দাংশের নাম অক্ষর (Syllable)। অক্ষর দু প্রকার।
যথা: মুক্তাক্ষর ও বদ্ধাক্ষর।

• মুক্তাক্ষর:
যখন একটি অক্ষরে একটিই বর্ণ থাকে, তখন তাকে মুক্তাক্ষর বলে। অযুগ্ম  বা মুক্ত স্বরান্ত ধ্বনিকে মুক্তাক্ষর বলে। একে স্বরান্ত অক্ষরও বলা হয়।
যেমন: 'ভালোবাসো যদি বলিবে না কেন?'
এখানে, (ভা) (লো) (বা) (সো) (য) (দি) (ব) (লি) (বে) (না) (কে) (ন) এই সবগুলোই (১২টি) মুক্তাক্ষর।
মুক্তাক্ষর U চিহ্ন দিয়ে বোঝানো হয়।
- মুক্তাক্ষর উচ্চারণের শেষে মুখ খোলা থাকে, ফলে অক্ষর উচ্চারণ করে ও তাকে প্রয়োজন মতো প্রলম্বিত করা চলে।
যেমন: অপরিচিত।

• বদ্ধাক্ষর:
ব্যঞ্জনধ্বনি বা অর্ধস্বরধ্বনির মাধ্যমে যে সব অক্ষরের সমাপ্তি ঘটে তাকে বদ্ধাক্ষর বলে।
বদ্ধ অর্থ্যাৎ যুগ্মাস্বরান্ত বা ব্যঞ্জনান্ত ধ্বনিকে বদ্ধাক্ষর বলে।
যেমন: 'সোম বার দিনরাত হরতাল।
এখানে, (সোম) (বার) (দিন) (রাত) (হর) (তাল্) এই সবগুলোই (৬টি) বদ্ধাক্ষর।
বদ্ধাক্ষর (-) চিহ্ন দিয়ে বোঝানো হয়।

উৎস: বাংলা কবিতার ছন্দ বিশ্লেষণ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৪৫.
স্বরান্ত অক্ষরকে কী বলে ?
  1.  একাক্ষর
  2.  মুক্তাক্ষর
  3.  বদ্ধাক্ষর
  4.  যুক্তাক্ষর
সঠিক উত্তর:
 মুক্তাক্ষর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
 মুক্তাক্ষর
ব্যাখ্যা

অক্ষর (Syllable):
- বাগযন্ত্রের ক্ষুদ্রতম প্রয়াসে উচ্চারিত ধ্বনি বা শব্দাংশের নাম অক্ষর (Syllable)।  
- অক্ষর দু প্রকার। 
যথা: মুক্তাক্ষর ও বদ্ধাক্ষর।

মুক্তাক্ষর:
- যখন একটি অক্ষরে একটিই বর্ণ থাকে, তখন তাকে মুক্তাক্ষর বলে।
- অযুগ্ন বা মুক্ত স্বরান্ত ধ্বনিকে মুক্তাক্ষর বলে। একে স্বরান্ত অক্ষরও বলা হয়।
যেমন: ‘ভালোবাসো যদি বলিবে না কেন?’
এখানে (ভা) (লো) (বা) (সো) (য) (দি) (ব) (লি) (বে) (না) (কে) (ন) এই সবগুলোই (১২টি) মুক্তাক্ষর। 

- মুক্তাক্ষর U চিহ্ন দিয়ে বোঝানো হয়।
- মুক্তাক্ষর উচ্চারণের শেষে মুখ খোলা থাকে, ফলে অক্ষর উচ্চারণ করে ও তাকে প্রয়োজন মতো প্রলম্বিত করা চলে। 
যেমন: অপরিচিত। 

বদ্ধাক্ষর:
- ব্যঞ্জনধ্বনি বা অর্ধস্বরধ্বনির মাধ্যমে যে সব অক্ষরের সমাপ্তি ঘটে তাকে বদ্ধাক্ষর বলে।
- বদ্ধ অর্থ্যাৎ যুগ্মাস্বরান্ত বা ব্যঞ্জনান্ত ধ্বনিকে বদ্ধাক্ষর বলে। 
- যেমন : 'সোম বার দিনরাত হরতাল।
- এখানে (সোম্) (বার্) (দিন্) (রাত) (হর্) (তাল্) এই সবগুলোই (৬টি) বদ্ধাক্ষর। 

বদ্ধাক্ষর ( - ) চিহ্ন দিয়ে বোঝানো হয়। 

উৎস: বাংলা কবিতার ছন্দ বিশ্লেষণ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা

৪৬.
মাইকেল মধুসূদন দত্ত প্রবর্তিত অমিত্রাক্ষর ছন্দ বাংলা কোন ছন্দের নব-রূপ?
  1. স্বরবৃত্ত
  2. মাত্রাবৃত্ত
  3. অক্ষরবৃত্ত
  4. ত্রিপদী
সঠিক উত্তর:
অক্ষরবৃত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অক্ষরবৃত্ত
ব্যাখ্যা

• অমিত্রাক্ষর ছন্দ:
- উনিশ শতকে অমিত্রাক্ষর ছন্দ প্রবর্তনের করেন মাইকেল মধুসূদন দত্ত।
- 'অমিত্রাক্ষর' ছন্দের বৈশিষ্ট্য হলো এর অন্ত্যমিল বা অন্ত্যানুপ্রাস নেই।
- অমিত্রাক্ষর ছন্দ ইংরেজি হচ্ছে Blank verse।

- 'অমিত্রাক্ষর ছন্দ' প্রকৃত পক্ষে বাংলা অক্ষরবৃত্ত ছন্দের নব সংস্করণ।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত 'পদ্মাবতী' নাটকে (দ্বিতীয় অঙ্ক দ্বিতীয় গর্ভাঙ্কে) প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করেন।

• 'অক্ষরবৃত্ত' ছন্দ:
- উৎপত্তির বিচারে যে ছন্দটিকে খাঁটি বাংলা অর্থাৎ 'তদ্ভব ছন্দ' নামে আখ্যায়িত করা হয়, তাকেই প্রচলিত ভাষায় বলা হয় অক্ষরবৃত্ত ছন্দ।
- অক্ষরবৃত্ত ছন্দ বাংলা কাব্যের প্রধান ছন্দ।
- অক্ষরবৃত্ত ছন্দকে তানপ্রধান ছন্দও বলে।
- পয়ার হচ্ছে অক্ষরবৃত্ত ছন্দের ৮/৬ মাত্রার বৈশিষ্ট্যপূর্ণ একটি শ্রেণিবিভাগ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড হায়াৎ মামুদ; বাংলাপিডিয়া; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৪৭.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর স্বরবৃত্ত ছন্দকে কী নামে উল্লেখ করেছেন?
  1. ধ্বনিপ্রধান ছন্দ
  2. লোকছন্দ 
  3. অমিত্রাক্ষর ছন্দ
  4. পায়রা ছন্দ
সঠিক উত্তর:
লোকছন্দ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লোকছন্দ 
ব্যাখ্যা
• স্বরবৃত্ত ছন্দ:
- স্বরবৃত্ত ছন্দের বহুল প্রচলিত নাম ছড়ার ছন্দ, লৌকিক ছন্দ, লোকছন্দ, মেয়েলি ছন্দ।
- এটাকে প্রাকৃত বাংলা ছন্দও বলা হয়।
- প্রাচীন ছড়াগুলো স্বরবৃত্তে রচিত।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একে ছড়া ছন্দ বা লোকছন্দ বলেছেন।
- এর ভাব লঘু ও চপল।

স্বরবৃত্ত ছন্দের বৈশিষ্ট্য:
- দ্রুত লয়ের ছন্দ।
- এই ছন্দের মূল পর্ব বা পূর্ণ পর্ব চার মাত্রাবিশিষ্ট।
- মুক্তাক্ষর এবং বদ্ধাক্ষর উভয়ই একমাত্র বিশিষ্ট,পর্বগুলো ছোট ৪ মাত্রা বিশিষ্ট।

উৎস : ভাষা-শিক্ষা, ড হায়াৎ মামুদ, বাংলাপিডিয়া, প্রাচ্য সাহিত্য সমালোচনা তত্ত্ব ও অলংকার শাস্ত্র, প্রফেসর ড. ধীরেন্দ্রনাথ তরফদার।
৪৮.
যে ছন্দের মূল পর্বের মাত্রা সংখ্যা চার তাকে বলা হয়-
  1. স্বরবৃত্ত
  2. মাত্রাবৃত্ত 
  3. অমিত্রাক্ষর
  4. অক্ষরবৃত্ত
সঠিক উত্তর:
স্বরবৃত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বরবৃত্ত
ব্যাখ্যা

• স্বরবৃত্ত ছন্দ:
- বাংলা ভাষা ও বাঙালির ধ্বনি উচ্চারণ প্রক্রিয়ার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ ছন্দ হচ্ছে স্বরবৃত্ত ছন্দ। এর কারণ, বাংলা শব্দ স্বভাবগতভাবেই হলন্ত বা ব্যঞ্জনান্ত উচ্চারণ প্রক্রিয়াবিশিষ্ট, যাকে রবীন্দ্রনাথ বলেছেন ‘হসন্তের ছাঁচ’। এ বৈশিষ্ট্য স্বরবৃত্ত ছন্দে রক্ষিত হয়েছে। চলিত বা প্রাকৃত বাংলার স্বভাব রক্ষা করে এ ছন্দের উদ্ভব ও বিকাশ ঘটেছে। ফলে এ ছন্দকে সাধু বাংলার বাইরে বাউল গানে, লোককথায় ও ছড়ায় খুঁজে পাওয়া যায়।

- উচ্চারণে দ্রুততা ও সবলতা স্বরবৃত্ত ছন্দের প্রধান বৈশিষ্ট্য। প্রতি পর্বের প্রথমে প্রবল শ্বাসাঘাত যেমন এ ছন্দের দ্রুততার প্রধান কারণ, তেমনি শ্বাসাঘাতের শক্তিই একে করে তুলেছে সবল ও প্রাণবান। আবার স্বরবৃত্ত ছন্দের প্রধান পর্ব যেহেতু চার মাত্রার এবং তার পরেই থাকে একটি ক্ষুদ্র পর্ব, সেজন্যও এ ছন্দ দ্রুত উচ্চারিত হয়।

- স্বরবৃত্ত ছন্দের বহুল প্রচলিত নাম ছড়ার ছন্দ, লৌকিক ছন্দ, লোকছন্দ, মেয়েলি ছন্দ। এটাকে প্রাকৃত বাংলা ছন্দও বলা হয়। প্রাচীন ছড়গুলো স্বরবৃত্তে রচিত। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একে ছড়া ছন্দ বা লোকছন্দ বলেছেন। এর ভাব লঘু ও চপল।

স্বরবৃত্ত ছন্দের বৈশিষ্ট্য
- দ্রুত লয়ের ছন্দ।
- এই ছন্দের মূল পর্ব বা পূর্ণ পর্ব চার মাত্রাবিশিষ্ট।
- মুক্তাক্ষর এবং বদ্ধাক্ষর উভয়ই একমাত্র বিশিষ্ট,পর্বগুলো ছোট ৪ মাত্রা বিশিষ্ট।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড হায়াৎ মামুদ এবং বাংলাপিডিয়া।

৪৯.
যে ছন্দের মূল পর্বের মাত্রা সংখ্যা চার, তাকে বলা হয়-
  1. স্বরবৃত্ত
  2. পয়ার
  3. মাত্রাবৃত্ত
  4. অক্ষরবৃত্ত
সঠিক উত্তর:
স্বরবৃত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বরবৃত্ত
ব্যাখ্যা
• স্বরবৃত্ত ছন্দ:
বাংলা ভাষা ও বাঙালির ধ্বনি উচ্চারণ প্রক্রিয়ার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ ছন্দ হচ্ছে স্বরবৃত্ত ছন্দ। এর কারণ, বাংলা শব্দ স্বভাবগতভাবেই হলন্ত বা ব্যঞ্জনান্ত উচ্চারণ প্রক্রিয়াবিশিষ্ট, যাকে রবীন্দ্রনাথ বলেছেন ‘হসন্তের ছাঁচ’। এ বৈশিষ্ট্য স্বরবৃত্ত ছন্দে রক্ষিত হয়েছে। চলিত বা প্রাকৃত বাংলার স্বভাব রক্ষা করে এ ছন্দের উদ্ভব ও বিকাশ ঘটেছে। ফলে এ ছন্দকে সাধু বাংলার বাইরে বাউল গানে, লোককথায় ও ছড়ায় খুঁজে পাওয়া যায়।

উচ্চারণে দ্রুততা ও সবলতা স্বরবৃত্ত ছন্দের প্রধান বৈশিষ্ট্য। প্রতি পর্বের প্রথমে প্রবল শ্বাসাঘাত যেমন এ ছন্দের দ্রুততার প্রধান কারণ, তেমনি শ্বাসাঘাতের শক্তিই একে করে তুলেছে সবল ও প্রাণবান। আবার স্বরবৃত্ত ছন্দের প্রধান পর্ব যেহেতু চার মাত্রার এবং তার পরেই থাকে একটি ক্ষুদ্র পর্ব, সেজন্যও এ ছন্দ দ্রুত উচ্চারিত হয়।

স্বরবৃত্ত ছন্দের বহুল প্রচলিত নাম ছড়ার ছন্দ, লৌকিক ছন্দ, লোকছন্দ, মেয়েলি ছন্দ। এটাকে প্রাকৃত বাংলা ছন্দও বলা হয়। প্রাচীন ছড়গুলো স্বরবৃত্তে রচিত। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একে ছড়া ছন্দ বা লোকছন্দ বলেছেন। এর ভাব লঘু ও চপল।

স্বরবৃত্ত ছন্দের বৈশিষ্ট্য
- দ্রুত লয়ের ছন্দ।
- এই ছন্দের মূল পর্ব বা পূর্ণ পর্ব চার মাত্রাবিশিষ্ট।
- মুক্তাক্ষর এবং বদ্ধাক্ষর উভয়ই একমাত্র বিশিষ্ট,পর্বগুলো ছোট ৪ মাত্রা বিশিষ্ট।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড হায়াৎ মামুদ এবং বাংলাপিডিয়া।
৫০.
কোন ছন্দটি প্রাকৃত বাংলা ছন্দ হিসেবে পরিচিত?
  1. মাত্রাবৃত্ত ছন্দ
  2. স্বরবৃত্ত ছন্দ
  3. পয়ার ছন্দ
  4. অক্ষরবৃত্ত ছন্দ
সঠিক উত্তর:
স্বরবৃত্ত ছন্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বরবৃত্ত ছন্দ
ব্যাখ্যা
স্বরবৃত্ত ছন্দ:
- স্বরবৃত্ত ছন্দের বহুল প্রচলিত নাম ছড়ার ছন্দ, লৌকিক ছন্দ, লোকছন্দ, মেয়েলি ছন্দ।
- এটাকে প্রাকৃত বাংলা ছন্দও বলা হয়।
- প্রাচীন ছড়াগুলো স্বরবৃত্তে রচিত।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একে ছড়া ছন্দ বা লোকছন্দ বলেছেন।
- এর ভাব লঘু ও চপল।

স্বরবৃত্ত ছন্দের বৈশিষ্ট্য:
- দ্রুত লয়ের ছন্দ।
- এই ছন্দের মূল পর্ব বা পূর্ণ পর্ব চার মাত্রাবিশিষ্ট।
- মুক্তাক্ষর এবং বদ্ধাক্ষর উভয়ই একমাত্র বিশিষ্ট,পর্বগুলো ছোট ৪ মাত্রা বিশিষ্ট।

বিভিন্ন প্রকার ছন্দ:
১. স্বরবৃত্ত ছন্দকে লৌকিক ছন্দ বলে। রবীন্দ্রনাথ এটিকে 'ছড়ার ছন্দ' বলেছেন।
২. মাত্রাবৃত্ত ছন্দকে ধ্বনিপ্রধান ছন্দ বলে।
৩. অক্ষরবৃত্ত ছন্দকে তানপ্রধান বলে।
৪. পয়ার ছন্দে অন্তমিল থাকে।
৫. অমিত্রাক্ষর ছন্দে অন্তমিল থাকে না।
------------
অক্ষরবৃত্ত ছন্দ:
- উৎপত্তির বিচারে যে ছন্দটিকে খাঁটি বাংলা অর্থাৎ 'তদ্ভব ছন্দ' নামে আখ্যায়িত করা হয়, তাকেই প্রচলিত ভাষায় বলা হয় অক্ষরবৃত্ত ছন্দ।
 
মাত্রাবৃত্ত ছন্দ:
- উৎপত্তির বিচারে এ  ছন্দ“তৎসম' বা 'অর্ধতৎসম ছন্দ'; যে ছন্দে প্রাচীন সংস্কৃত ও প্রাকৃত ছন্দের অনেক লক্ষণ অথবা অন্তত কিছুটা লক্ষণও বর্তমান আছে তাকেই বলা হয় 'মাত্রাবৃত্ত ছন্দ'।

পয়ার ছন্দ:
- পয়ার হচ্ছে অক্ষরবৃত্ত ছন্দের ৮/৬ মাত্রার বৈশিষ্ট্যপূর্ণ একটি শ্রেণীবিভাগ।
- এটি মধ্যযুগীয় বাংলা কাব্যের প্রধান ছন্দোরীতিও বটে।
- মধ্যযুগে পয়ার ছন্দেই রামায়ণ ও মহাভারতের বঙ্গানুবাদ এবং মঙ্গলকাব্যসমূহ রচিত হয়েছে।
- মাইকেল মধুসূদনের চতুদর্শপদী কবিতাবলির ছন্দও প্রচলিত পয়ার ছন্দেরই এক নতুন রূপ।

উৎস : ভাষা-শিক্ষা, ড হায়াৎ মামুদ, বাংলাপিডিয়া, প্রাচ্য সাহিত্য সমালোচনা তত্ত্ব ও অলংকার শাস্ত্র, প্রফেসর ড. ধীরেন্দ্রনাথ তরফদার।
৫১.
উচ্চারণে দ্রুততা ও সবলতা কোন ছন্দের বৈশিষ্ট্য?
  1. অক্ষরবৃত্ত
  2. অমিত্রাক্ষর
  3. মাত্রাবৃত্ত
  4. স্বরবৃত্ত
সঠিক উত্তর:
স্বরবৃত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বরবৃত্ত
ব্যাখ্যা
• উচ্চারণে দ্রুততা ও সবলতা স্বরবৃত্ত ছন্দের বৈশিষ্ট্য।

স্বরবৃত্ত:
 - উচ্চারণে দ্রুততা ও সবলতা স্বরবৃত্ত ছন্দের প্রধান বৈশিষ্ট্য।
- প্রতি পর্বের প্রথমে প্রবল শ্বাসাঘাত যেমন এ ছন্দের দ্রুততার প্রধান কারণ, তেমনি শ্বাসাঘাতের শক্তিই একে করে তুলেছে সবল ও প্রাণবান।
- আবার স্বরবৃত্ত ছন্দের প্রধান পর্ব যেহেতু চার মাত্রার এবং তার পরেই থাকে একটি ক্ষুদ্র পর্ব, সেজন্যও এ ছন্দ দ্রুত উচ্চারিত হয়।
- স্বরবৃত্ত ছন্দের পর্বের এ স্থিতিস্থাপক গুণ বাংলা কাব্যে বিভিন্ন সময়ে পরিলক্ষিত হয়েছে।
- দ্রুততা ও প্রবল শ্বাসাঘাতের জন্যই স্বরবৃত্ত ছন্দ অধিকতর প্রাণবন্ত এবং কথ্যভাষার উপযোগী হয়ে উঠেছে।

অর্থাৎ, শ্বাসাঘাতপ্রধান ছন্দ হলো স্বরবৃত্ত ছন্দ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৫২.
"ভুলোক দুলোক গোলোক ছাড়িয়া।" - পঙক্তিটি  কোন অলঙ্কার দ্বারা গঠিত?
  1. গুচ্ছানুপ্রাস
  2. অন্ত্যানুপ্রাস
  3. ছেকানুপ্রাস
  4. সরল অনুপ্রাস 
সঠিক উত্তর:
গুচ্ছানুপ্রাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গুচ্ছানুপ্রাস
ব্যাখ্যা

"ভুলোক দুলোক গোলোক ছাড়িয়া।" - পঙক্তিটি  গুচ্ছানুপ্রাস অলঙ্কার দ্বারা গঠিত। 
-----------------------------------------
• অলঙ্কার:
- কাব্যের সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য যা দ্বারা কাব্যকে সাজানো হয়, তাই অলঙ্কার।
- অলঙ্কারকে ধ্বনি ও অর্থগতভাবে ২ভাবে ভাগ করা যায়:
• শব্দালঙ্কার;
• অর্থালঙ্কার। 

• শব্দালঙ্কারকে আবার ৪ভাবে ভাগ করা যায়:
- অনুপ্রাস;
- যমক;
- শ্লেষ;
- বক্রোক্তি। 
----------------------------------
অনুপ্রাস:
- একই রকম বর্ণ বা বর্ণসমষ্টি বারবার ব্যবহৃত হয়ে যে শব্দসাম্য সৃষ্টি করে তাকে অনুপ্রাস বলে।
- অনুপ্রাস অলংকার সাধারণত বাংলা সাহিত্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধ্বনিগত অলংকার, যার প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো একটি নির্দিষ্ট ব্যঞ্জনবর্ণ বা বর্ণগুচ্ছের বারবার পুনরাবৃত্তি, যা কবিতার বা গদ্যের শ্রুতিমাধুর্য এবং সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে।
- যেমন:
- চুল তার কবেকার অন্ধকার বিদিশার নিশা" - এখানে 'অন্ধকার' এবং 'নিশা' শব্দ দুটির মধ্যে একই ধরনের ধ্বনি বা ধ্বনিগুচ্ছের ('ন' ধ্বনি) পুনরাবৃত্তির মাধ্যমে শব্দের মধ্যে এক ধরনের মাধুর্য সৃষ্টি হয়েছে, যা অনুপ্রাস অলংকারের বৈশিষ্ট্য।

• প্রয়োগের ধরন অনুযায়ী অনুপ্রাস বিভিন্ন প্রকারের হয়, যেমন: গুচ্ছানুপ্রাস। 

গুচ্ছানুপ্রাস:
- ব্যঞ্জনবর্ণের গুচ্ছ বা একাধিক ব্যঞ্জনবর্ণ একই ক্রমে অনুক্রমবার ধ্বনিত হলে।
- যেমন :
 ক. ভুলোক দুলোক গোলোক ছাড়িয়া।
 খ. না মানে শাসন ব্যসন অশন আসন যত।
------------------------------------ 
• অনুপ্রাসের কিছু প্রকারভেদ- 

অন্ত্যানুপ্রাস: 
- কবিতার এক চরণের শেষে যে শব্দ ধ্বনি থাকে অন্য চরণের শেষে তার পুনরাবৃত্তি হলে।
- যেমন :
ক. সকালে উঠিয়া আমি মনে মনে বলি,
খ. সারাদিন আমি যেন ভাল হয়ে চলি।

ছেকানুপ্রাস:
- দুই বা ততোধিক ব্যঞ্জনধ্বনি সংযুক্ত বা বিযুক্ত অবস্থায় ক্রমানুসারে দুবার আবৃত্ত হলে।
- যেমন :
ক. ওরে বিজয় ওরে বিজয় মোর।
খ. এখনি অমন বন্ধ করো না পাখা।

 • সরল অনুপ্রাস: 
- একটি বা দুটি বর্ণ একাধিকবার ধ্বনিত হলে সরল অনুপ্রাস।
- যেমন :
ক. কানে কুসুম কলি সকলি ফুটিল।
খ. কেতকী কেশরে কেশপাশ কর সুরভি।

উৎস:
ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াত মামুদ; 
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

৫৩.
সাহিত্যে অলঙ্কার প্রধানত কত প্রকার?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা

• অলঙ্কার:
কাব্যকে সৌন্দর্যমণ্ডিতও সহৃদয়হৃদয়সংবেদ্য করার জন্য কবি যেসব কৌশল অবলম্বন করেন, তাকে অলঙ্কার বলে।
সাহিত্যে অলঙ্কার প্রধানত দুই প্রকার।
 যথা:
১. শব্দালঙ্কার এবং
২. অর্থালঙ্কার।

শব্দালংকার:
শব্দের ধ্বনিরূপকে আশ্রয় করে যে অলংকারের সৃষ্টি হয় তাকে বলা হয় শব্দালংকার। শব্দালংকারের নানা শ্রেণিবিভাগ রয়েছে। তন্মধ্যে প্রধান বিভাগগুলো হলো: অনুপ্রাস, যমক, শ্লেষ ও বক্রোক্তি।

অর্থালঙ্কার:
- যে অলঙ্কার একান্তভাবে শব্দের অর্থের উপর নির্ভর করে; অর্থ-প্রকাশক শব্দ বা শব্দাবলিকে পরিবর্তিত করে সেখানে সমার্থক অন্য শব্দ বসিয়ে দিলেও যে অলঙ্কার অক্ষুণ্ণ থাকে তাকে অর্থালঙ্কার বলে।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫৪.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ছড়া ছন্দ বা লোকছন্দ বলেছেন কোনটিকে?
  1. স্বরবৃত্ত ছন্দ
  2. মাত্রাবৃত্ত ছন্দ
  3. পয়ার ছন্দ
  4. অক্ষরবৃত্ত
সঠিক উত্তর:
স্বরবৃত্ত ছন্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বরবৃত্ত ছন্দ
ব্যাখ্যা

• স্বরবৃত্ত ছন্দ:
- স্বরবৃত্ত ছন্দের বহুল প্রচলিত নাম ছড়ার ছন্দ, লৌকিক ছন্দ, লোকছন্দ, মেয়েলি ছন্দ।
- এটাকে প্রাকৃত বাংলা ছন্দও বলা হয়।প্রাচীন ছড়াগুলো স্বরবৃত্তে রচিত।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একে ছড়া ছন্দ বা লোকছন্দ বলেছেন।
- এর ভাব লঘু ও চপল।

স্বরবৃত্ত ছন্দের বৈশিষ্ট্য:
- দ্রুত লয়ের ছন্দ।
- এই ছন্দের মূল পর্ব বা পূর্ণ পর্ব চার মাত্রাবিশিষ্ট।
- মুক্তাক্ষর এবং বদ্ধাক্ষর উভয়ই একমাত্র বিশিষ্ট, পর্বগুলো ছোট ৪ মাত্রা বিশিষ্ট।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড হায়াৎ মামুদ, বাংলাপিডিয়া, প্রাচ্য সাহিত্য সমালোচনা তত্ত্ব ও অলংকার শাস্ত্র, প্রফেসর ড. ধীরেন্দ্রনাথ তরফদার।

৫৫.
তানপ্রধান বা ধীর লয়ের ছন্দ বলা হয়-
  1. অক্ষরবৃত্ত ছন্দকে
  2. স্বরবৃত্ত ছন্দকে
  3. মাত্রাবৃত্ত ছন্দকে
  4. ক ও খ
সঠিক উত্তর:
অক্ষরবৃত্ত ছন্দকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অক্ষরবৃত্ত ছন্দকে
ব্যাখ্যা
• অক্ষর বৃত্ত:
অক্ষরবৃত্ত ছন্দকে তানপ্রধান বা ধীর লয়ের ছন্দ বলা হয়। প্রবোধচন্দ্র এর নাম দিয়েছেন "মিশ্রকলাবৃত্ত” ছন্দ এবং রবীন্দ্রনাথ এর নামকরণ করেছেন "সাধু-বাংলার ছন্দ"।

এই ছন্দের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে-
ক) স্বরের হ্রস্ব বা দীর্ঘ' বিচারের কোনো অবকাশ নেই।
খ) অক্ষরবৃত্তে প্রতিটি অন-র একমাত্রার। তবে রবীন্দ্রনাথ একথা স্বীকার করেন ন।
গ) যদি কোনো শব্দের শেষে হলন্ত বা ব্যঞ্জনান্ত অক্ষর থাকে তাহ'লে দু'মাত্রার হবে, তবে সর্বত্র এ নীতিও অনুসৃত হয়নি। হলন্ত অক্ষরকে একমাত্রা ধরে উচ্চারণ করতে গেলে উচ্চারণ কিছু দ্রুত হওয়া দরকার। কিন্তু তাতে স্বর-গাম্ভীর্য' কমে আসে, এবং এটা হওয়া সম্ভব নয়, কারণ এতে স্বাভাবিক উচ্চারণের বিরোধী হয়ে পড়ে, সুতরাং পয়ার জাতীয় ছন্দে অন্তিম হলন্ত অক্ষরকে একমাত্রা না ধরে দুমাত্রা ধরাই উচিত।
ঘ) এই ছন্দে অক্ষর-ধানির চেয়ে সুরের প্রবাহ চরণের মধ্যে বিচিত্র ভাবে প্রকাশ লাভকরে।
ঙ) এই ছন্দে যেমন যুক্তাক্ষর বজিত চরণ রচনা করা যায় তেমনি যুক্তাক্ষর-বহুল চরণ রচনা করতে কোনো বাধার সৃষ্টি হয় না।
চ) হ্রস্ব দীর্ঘস্বরের যেমন সংকোচন-প্রসারণ ঘটে তেমনি যুগ্মধ্বনিতেও সংকোচন-প্রসারণ ঘটে।
ছ) এই ছন্দের তানপ্রবাহের জন্যে লঘুগুর অক্ষরের মধ্যে একটা সামঞ্জস্যও দেখতে পাওয়া যায়।
জ) এই ছন্দে স্থৈর্য ও গতি পাশাপাশি থাকার ফলে কিছুটা গতি মন্থরতা এসেছে।
ক) গাম্ভীর্য' ও সংযম বেশি থাকায় এই ছন্দে শুধু কবিতা নয় মহাকাব্যও রচিত 'হ'তে পারে।
অমিত্রাক্ষর ছন্দের জন্য অক্ষরবৃত্তের রূপকল্পই বিশেষ ভাবে গ্রহণযোগ্য।

উৎস: 'ছন্দ ও অলঙ্কার' ড. অজয় কুমার চক্রবর্তী।
৫৬.
কোন ছন্দে ছয় মাত্রার চাল বা প্রয়োগ বেশি?
  1. অমিত্রাক্ষর
  2. অক্ষরবৃত্ত
  3. মাত্রাবৃত্ত
  4. কোনটি নয়
সঠিক উত্তর:
মাত্রাবৃত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাত্রাবৃত্ত
ব্যাখ্যা
• ছয় মাত্রার চাল বা প্রয়োগ বেশি - মাত্রাবৃত্ত ছন্দে। 

মাত্রাবৃত্ত ছন্দ: 
- এ ছন্দ ধ্বনি-প্রধান।
- ছন্দে ছয় মাত্রার পর্বই অধিক। 
- চার, পাঁচ, সাত, আট মাত্রার পর্বও এ ছন্দে পাওয়া যায়।
- এ ছন্দে সাধুভাষা বা সাধু ক্রিয়ার ব্যবহার বেশি হয়।
- এ ছন্দে স্বরবৃত্তের মতো ধ্বনি সংকোচ নেই, আছে ধ্বনি বিস্তার।
- এ ছন্দের ভাব ললিত মধুর।
- এ ছন্দের উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য এর গীতিপ্রবণতা বা সুরনিষ্ঠতা।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৫৭.
উৎপত্তির বিচারে অক্ষরবৃত্ত ছন্দ-
  1. খাঁটি বাংলা ছন্দ
  2. দেশি ছন্দ
  3. তৎসম ছন্দ
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
খাঁটি বাংলা ছন্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খাঁটি বাংলা ছন্দ
ব্যাখ্যা
অক্ষরবৃত্ত ছন্দ:
- উৎপত্তির বিচারে যে ছন্দটিকে খাঁটি বাংলা অর্থাৎ 'তদ্ভব ছন্দ' নামে আখ্যায়িত করা হয়, তাকেই প্রচলিত ভাষায় বলা হয় অক্ষরবৃত্ত ছন্দ।

অক্ষরবৃত্ত ছন্দের বৈশিষ্ট্য-
১. অক্ষরবৃত্ত ছন্দের মূল পর্ব দুটি- আট ও ছয় মাত্রার। 
২. এ-ছন্দে শব্দের আদি ও মধ্যের যুগ্মধ্বনি ঠাসা বা সংশ্লিষ্ট উচ্চারণে এক মাত্রার এবং শেষের যুগ্মধ্বনি বিশ্লিষ্ট উচ্চারণে দুই মাত্রার।
৩. এ-ছন্দে সাধুভাষা বা সাধু ক্রিয়াপদেরই ব্যবহার বেশি।
8. এ-ছন্দে লয় ধীর বা মধ্যম।
৫. এ-ছন্দের চরণস্থ পর্বসমূহে অক্ষর ধ্বনিকে আচ্ছন্ন করে একটা অতিরিক্ত সুরের তান বা তরঙ্গ নিয়ত প্রবহমান।
৬. এ-ছন্দ যেহেতু অক্ষর-সর্বষ; তাই, এর অক্ষর গুনে মাত্রা ঠিক করলেই চলে।
৭. এ-ছন্দে আদি ও মধ্যের যুগ্মধ্বনি বা বদ্ধাক্ষর চার জায়গায় (কথ্য-ক্রিয়াপদে, নির্দেশক প্রত্যয়যুক্ত শব্দে, সমাসবদ্ধ পদে, তৎসম ও তদ্ভব শব্দে) দ্বিমাত্রিক।
৮. এ-ছন্দে তানের প্রবাহে এর অন্তর্গত যুক্ত-ব্যঞ্জনের মাত্রা সংকুচিত হয়ে এক মাত্রার হয়।
৯. এ-ছন্দের ভাব ও ভাষা গভীর, গম্ভীর, বিপুল এবং বিশাল।
১০. এ-ছন্দের প্রধান বৈশিষ্ট্য এর অসাধারণ শোষণশক্তি যার ফলে যুক্তাক্ষরবিহীন পর্বকে যুক্তাক্ষরবহুল করলেও এর মাত্রা-সংখ্যার কোনো তারতম্য হয় না।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড হায়াৎ মামুদ।
৫৮.
'লোকছন্দ' কোন ছন্দের প্রচলিত নাম?
  1. স্বরবৃত্ত ছন্দ
  2. অক্ষরবৃত্ত ছন্দ
  3. পয়ার ছন্দ
  4. মাত্রাবৃত্ত ছন্দ
সঠিক উত্তর:
স্বরবৃত্ত ছন্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বরবৃত্ত ছন্দ
ব্যাখ্যা
• স্বরবৃত্ত ছন্দ:
- স্বরবৃত্ত ছন্দের বহুল প্রচলিত নাম ছড়ার ছন্দ, লৌকিক ছন্দ, লোকছন্দ, মেয়েলি ছন্দ। এটাকে প্রাকৃত বাংলা ছন্দও বলা হয়।
- প্রাচীন ছড়াগুলো স্বরবৃত্তে রচিত।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একে ছড়া ছন্দ বা লোকছন্দ বলেছেন।
- এর ভাব লঘু ও চপল।

স্বরবৃত্ত ছন্দের বৈশিষ্ট্য:
- দ্রুত লয়ের ছন্দ।
- এই ছন্দের মূল পর্ব বা পূর্ণ পর্ব চার মাত্রাবিশিষ্ট।
- মুক্তাক্ষর এবং বদ্ধাক্ষর উভয়ই একমাত্র বিশিষ্ট, পর্বগুলো ছোট ৪ মাত্রা বিশিষ্ট।

অন্যদিকে, 
• অক্ষরবৃত্ত ছন্দ:  উৎপত্তির বিচারে যে ছন্দটিকে খাঁটি বাংলা অর্থাৎ 'তদ্ভব ছন্দ' নামে আখ্যায়িত করা হয়, তাকেই প্রচলিত ভাষায় বলা হয় অক্ষরবৃত্ত ছন্দ।

• মাত্রাবৃত্ত ছন্দ: উৎপত্তির বিচারে এ ছন্দ তৎসম' বা 'অর্ধতৎসম ছন্দ'; যে ছন্দে প্রাচীন সংস্কৃত ও প্রাকৃত ছন্দের অনেক লক্ষণ অথবা অন্তত কিছুটা লক্ষণও বর্তমান আছে তাকেই বলা হয় 'মাত্রাবৃত্ত ছন্দ'।

• পয়ার ছন্দ: পয়ার হচ্ছে অক্ষরবৃত্ত ছন্দের ৮/৬ মাত্রার বৈশিষ্ট্যপূর্ণ একটি শ্রেণীবিভাগ। এটি মধ্যযুগীয় বাংলা কাব্যের প্রধান ছন্দোরীতিও বটে। মধ্যযুগে পয়ার ছন্দেই রামায়ণ ও মহাভারতের বঙ্গানুবাদ এবং মঙ্গলকাব্যসমূহ রচিত হয়েছে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড হায়াৎ মামুদ; বাংলাপিডিয়া এবং প্রাচ্য সাহিত্য সমালোচনা তত্ত্ব ও অলংকার শাস্ত্র, প্রফেসর ড. ধীরেন্দ্রনাথ তরফদার।
৫৯.
নিচের কোনটি তানপ্রধান ছন্দ?
  1. অক্ষরবৃত্ত
  2. মাত্রাবৃত্ত
  3.  স্বরবৃত্ত
  4. লোকছন্দ
সঠিক উত্তর:
অক্ষরবৃত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অক্ষরবৃত্ত
ব্যাখ্যা
• বাংলা ছন্দ তিন রকমের।
যথা:
- অক্ষরবৃত্ত,
- মাত্রাবৃত্ত এবং
- স্বরবৃত্ত।

• অক্ষরবৃত্ত ছন্দ:
- উৎপত্তির বিচারে যে ছন্দটিকে খাঁটি বাংলা অর্থাৎ 'তদ্ভব ছন্দ' নামে আখ্যায়িত করা হয়, তাকেই প্রচলিত ভাষায় বলা হয় অক্ষরবৃত্ত ছন্দ।
- অক্ষরবৃত্ত ছন্দ বাংলা কাব্যের প্রধান ছন্দ।
- অক্ষরবৃত্ত ছন্দকে তানপ্রধান ছন্দও বলে।
- পয়ার হচ্ছে অক্ষরবৃত্ত ছন্দের ৮/৬ মাত্রার বৈশিষ্ট্যপূর্ণ একটি শ্রেণিবিভাগ।

-------------------
• মাত্রাবৃত্ত ছন্দ:
- উৎপত্তির বিচারে এ ছন্দ 'তৎসম' বা 'অর্ধতৎসম ছন্দ'।
- যে ছন্দে প্রাচীন সংস্কৃত ও প্রাকৃত ছন্দের অনেক লক্ষণ অথবা অন্তত কিছুটা লক্ষণও বর্তমান আছে তাকেই বলা হয় 'মাত্রাবৃত্ত ছন্দ'।
- বাংলা সাহিত্যে এ ছন্দকে ধ্বনিপ্রধান, বিস্তারপ্রধান, সরল কলামাত্রিক ইত্যাদি নামেও অভিহিত করা হয়।

---------------------
• স্বরবৃত্ত ছন্দ:
বাংলা ভাষা ও বাঙালির ধ্বনি উচ্চারণ প্রক্রিয়ার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ ছন্দ হচ্ছে স্বরবৃত্ত ছন্দ। এর কারণ, বাংলা শব্দ স্বভাবগতভাবেই হলন্ত বা ব্যঞ্জনান্ত উচ্চারণ প্রক্রিয়াবিশিষ্ট, যাকে রবীন্দ্রনাথ বলেছেন ‘হসন্তের ছাঁচ’। এ বৈশিষ্ট্য স্বরবৃত্ত ছন্দে রক্ষিত হয়েছে। চলিত বা প্রাকৃত বাংলার স্বভাব রক্ষা করে এ ছন্দের উদ্ভব ও বিকাশ ঘটেছে। ফলে এ ছন্দকে সাধু বাংলার বাইরে বাউল গানে, লোককথায় ও ছড়ায় খুঁজে পাওয়া যায়।

উচ্চারণে দ্রুততা ও সবলতা স্বরবৃত্ত ছন্দের প্রধান বৈশিষ্ট্য। প্রতি পর্বের প্রথমে প্রবল শ্বাসাঘাত যেমন এ ছন্দের দ্রুততার প্রধান কারণ, তেমনি শ্বাসাঘাতের শক্তিই একে করে তুলেছে সবল ও প্রাণবান। আবার স্বরবৃত্ত ছন্দের প্রধান পর্ব যেহেতু চার মাত্রার এবং তার পরেই থাকে একটি ক্ষুদ্র পর্ব, সেজন্যও এ ছন্দ দ্রুত উচ্চারিত হয়।

স্বরবৃত্ত ছন্দের বহুল প্রচলিত নাম ছড়ার ছন্দ, লৌকিক ছন্দ, লোকছন্দ, মেয়েলি ছন্দ। এটাকে প্রাকৃত বাংলা ছন্দও বলা হয়। প্রাচীন ছড়গুলো স্বরবৃত্তে রচিত। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একে ছড়া ছন্দ বা লোকছন্দ বলেছেন। এর ভাব লঘু ও চপল।

স্বরবৃত্ত ছন্দের বৈশিষ্ট্য
- দ্রুত লয়ের ছন্দ।
- এই ছন্দের মূল পর্ব বা পূর্ণ পর্ব চার মাত্রাবিশিষ্ট।
- মুক্তাক্ষর এবং বদ্ধাক্ষর উভয়ই একমাত্র বিশিষ্ট,পর্বগুলো ছোট ৪ মাত্রা বিশিষ্ট।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড হায়াৎ মামুদ এবং বাংলাপিডিয়া; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬০.
'তুমি তো ভারি বোকা।'- এখানে 'তো' ব্যবহার_______।
  1. সম্বোধনসূচক
  2. অলংকারসূচক
  3. অনুজ্ঞাসূচক
  4. পরামর্শ দেওয়া
সঠিক উত্তর:
অলংকারসূচক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অলংকারসূচক
ব্যাখ্যা
• 'তুমি তো ভারি বোকা।'- এখানে 'তো' ব্যবহার অলংকারসূচক

অলংকার:
- অলংকার শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ - যার দ্বারা ভূষিত করা হয় বা সজ্জিত করা হয়।
- নারীদেহকে সুন্দর ও সৌন্দর্যমণ্ডিত করবার জন্যে যেমন কানে দুল, গলায় হার, নাকে নোলক, হাতে চুড়ি, পায়ে মল ইত্যাদি অলংকার দ্বারা সজ্জিত করা হয়, তেমনি সাহিত্যের অঙ্গসৌষ্ঠবকে বৃদ্ধি করবার জন্যও বিভিন্ন অলংকার ব্যবহৃত হয়।
- সুতরাং, কাব্যের সৌন্দর্যকে বৃদ্ধি করবার জন্যে যা দ্বারা কাব্যকে সজ্জিত করা হয় তাই অলংকার।
- অলংকারের কাজ সৌন্দর্যবর্ধন, আকর্ষণ সৃষ্টি করা এবং আবেগের প্রশান্তির দ্যোতনা আনয়ন।

• ‘তুমি তো ভারি বোকা।’ - প্রদত্ত বাক্যে ‘তো’ শব্দটি বাক্যের সৌন্দর্যবর্ধন, আকর্ষণ সৃষ্টি এবং আবেগের প্রশান্তির দ্যোতনা আনয়ন করেছে।
অতএব প্রদত্ত বাক্যে ‘তো’ অলংকারসূচক শব্দ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ।
৬১.
ছন্দ কত প্রকার?
  1. চার প্রকার
  2. দুই প্রকার
  3. তিন প্রকার
  4. এক প্রকার
সঠিক উত্তর:
তিন প্রকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তিন প্রকার
ব্যাখ্যা
• বাংলা ছন্দ তিন রকমের।
যথা:
- অক্ষরবৃত্ত,
- মাত্রাবৃত্ত এবং
- স্বরবৃত্ত।

• অক্ষরবৃত্ত ছন্দ:
- উৎপত্তির বিচারে যে ছন্দটিকে খাঁটি বাংলা অর্থাৎ 'তদ্ভব ছন্দ' নামে আখ্যায়িত করা হয়, তাকেই প্রচলিত ভাষায় বলা হয় অক্ষরবৃত্ত ছন্দ।
- অক্ষরবৃত্ত ছন্দ বাংলা কাব্যের প্রধান ছন্দ।
- অক্ষরবৃত্ত ছন্দকে তানপ্রধান ছন্দও বলে।
- পয়ার হচ্ছে অক্ষরবৃত্ত ছন্দের ৮/৬ মাত্রার বৈশিষ্ট্যপূর্ণ একটি শ্রেণীবিভাগ।

-------------------
• মাত্রাবৃত্ত ছন্দ:
- উৎপত্তির বিচারে এ ছন্দ 'তৎসম' বা 'অর্ধতৎসম ছন্দ'।
- যে ছন্দে প্রাচীন সংস্কৃত ও প্রাকৃত ছন্দের অনেক লক্ষণ অথবা অন্তত কিছুটা লক্ষণও বর্তমান আছে তাকেই বলা হয় 'মাত্রাবৃত্ত ছন্দ'।
- বাংলা সাহিত্যে এ ছন্দকে ধ্বনিপ্রধান, বিস্তারপ্রধান, সরল কলামাত্রিক ইত্যাদি নামেও অভিহিত করা হয়।

---------------------
• স্বরবৃত্ত ছন্দ:
বাংলা ভাষা ও বাঙালির ধ্বনি উচ্চারণ প্রক্রিয়ার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ ছন্দ হচ্ছে স্বরবৃত্ত ছন্দ। এর কারণ, বাংলা শব্দ স্বভাবগতভাবেই হলন্ত বা ব্যঞ্জনান্ত উচ্চারণ প্রক্রিয়াবিশিষ্ট, যাকে রবীন্দ্রনাথ বলেছেন ‘হসন্তের ছাঁচ’। এ বৈশিষ্ট্য স্বরবৃত্ত ছন্দে রক্ষিত হয়েছে। চলিত বা প্রাকৃত বাংলার স্বভাব রক্ষা করে এ ছন্দের উদ্ভব ও বিকাশ ঘটেছে। ফলে এ ছন্দকে সাধু বাংলার বাইরে বাউল গানে, লোককথায় ও ছড়ায় খুঁজে পাওয়া যায়।

উচ্চারণে দ্রুততা ও সবলতা স্বরবৃত্ত ছন্দের প্রধান বৈশিষ্ট্য। প্রতি পর্বের প্রথমে প্রবল শ্বাসাঘাত যেমন এ ছন্দের দ্রুততার প্রধান কারণ, তেমনি শ্বাসাঘাতের শক্তিই একে করে তুলেছে সবল ও প্রাণবান। আবার স্বরবৃত্ত ছন্দের প্রধান পর্ব যেহেতু চার মাত্রার এবং তার পরেই থাকে একটি ক্ষুদ্র পর্ব, সেজন্যও এ ছন্দ দ্রুত উচ্চারিত হয়।

স্বরবৃত্ত ছন্দের বহুল প্রচলিত নাম ছড়ার ছন্দ, লৌকিক ছন্দ, লোকছন্দ, মেয়েলি ছন্দ। এটাকে প্রাকৃত বাংলা ছন্দও বলা হয়। প্রাচীন ছড়গুলো স্বরবৃত্তে রচিত। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একে ছড়া ছন্দ বা লোকছন্দ বলেছেন। এর ভাব লঘু ও চপল।

স্বরবৃত্ত ছন্দের বৈশিষ্ট্য
- দ্রুত লয়ের ছন্দ।
- এই ছন্দের মূল পর্ব বা পূর্ণ পর্ব চার মাত্রাবিশিষ্ট।
- মুক্তাক্ষর এবং বদ্ধাক্ষর উভয়ই একমাত্র বিশিষ্ট,পর্বগুলো ছোট ৪ মাত্রা বিশিষ্ট।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড হায়াৎ মামুদ এবং বাংলাপিডিয়া; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬২.
'ছড়ার ছন্দ' নামে পরিচিত ছন্দ কোনটি?
  1. অক্ষরবৃত্ত ছন্দ
  2. মাত্রাবৃত্ত ছন্দ
  3. স্বরবৃত্ত ছন্দ
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
স্বরবৃত্ত ছন্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বরবৃত্ত ছন্দ
ব্যাখ্যা
• স্বরবৃত্ত ছন্দ:
- স্বরবৃত্ত ছন্দের বহুল প্রচলিত নাম ছড়ার ছন্দ, লৌকিক ছন্দ, লোকছন্দ, মেয়েলি ছন্দ।
- এটাকে প্রাকৃত বাংলা ছন্দও বলা হয়। প্রাচীন ছড়াগুলো স্বরবৃত্তে রচিত।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একে ছড়া ছন্দ বা লোকছন্দ বলেছেন।
- এর ভাব লঘু ও চপল।

স্বরবৃত্ত ছন্দের বৈশিষ্ট্য:
- দ্রুত লয়ের ছন্দ।
- এই ছন্দের মূল পর্ব বা পূর্ণ পর্ব চার মাত্রাবিশিষ্ট।
-  মুক্তাক্ষর এবং বদ্ধাক্ষর উভয়ই একমাত্র বিশিষ্ট, পর্বগুলো ছোট ৪ মাত্রা বিশিষ্ট।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড হায়াৎ মামুদ এবং  বাংলাপিডিয়া।