বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

পশ্চিম বঙ্গের গুরুত্বপূর্ণ লেখক

মোট প্রশ্ন১৯০এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

পশ্চিম বঙ্গের গুরুত্বপূর্ণ লেখক

PrepBank · পাতা / · ১০০ / ১৯০

.
বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম নিয়ে রচিত তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাস কোনটি?
  1. অরণ্যবহ্নি
  2. আরগ্য নিকেতন
  3. একটি কালো মেয়ের কথা
  4. চৈতালি ঘূর্ণি
সঠিক উত্তর:
একটি কালো মেয়ের কথা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
একটি কালো মেয়ের কথা
ব্যাখ্যা
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়:
- তিনি ১৮৯৮ সালে পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলায় এক জমিদারবংশে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন কথাসাহিত্যিক, রাজনীতিবিদ।
- তাঁর রচিত প্রথম গল্প ‘রসকলি’ সেকালের বিখ্যাত পত্রিকা কল্লোল-এ প্রকাশিত হয়।
- তাঁর রচিত ত্রয়ী উপন্যাস - ধাত্রীদেবতা, গণদেবতা, পঞ্চগ্রাম। 
- আদিবাসী সাঁওতাল বিদ্রোহ নিয়ে তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাস 'অরণ্যবহ্নি' (১৯৬৬)।
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম নিয়ে রচিত তাঁর উপন্যাসের নাম 'একটি কালো মেয়ের কথা' (১৯৭১)।
- তিনি 'পদ্মশ্রী' ও 'পদ্মভূষণ' উপাধি লাভ করেন।
- ১৯৭১ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর তাঁর মৃত্যু হয়। 

তাঁর রচিত উপন্যাস: 
- চৈতালি ঘূর্ণি, 
- ধাত্রীদেবতা, 
- কালিন্দী, 
- কবি, 
- হাঁসুলী বাঁকের উপকথা, 
- গণদেবতা, 
- আরগ্য নিকেতন, 
- পঞ্চপুণ্ডলী, 
- রাধা ইত্যাদি। 

তাঁর রচিত গল্প:
- রসকলি, 
- বেদেনী, 
- ডাকহরকরা,
- জলসাঘর,
- অগ্রদানী। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
.
'মোনাদি' শওকত ওসমান রচিত কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. সমাগম
  2. জলাঙ্গী
  3. পতঙ্গ পিঞ্জর
  4. জননী
সঠিক উত্তর:
জননী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জননী
ব্যাখ্যা
জননী:
- সন্তানের মঙ্গলাকাঙ্ক্ষা ও নিরাপত্তার জন্য একজন মা (গোপনে) যে কোনো পথ অবলম্বন করতে পারে শওকত ওসমানের 'জননী' (১৯৬১) উপন্যাসে সে কথাই ব্যক্ত।
- পটভূমি পশ্চিমবঙ্গের মহেশডাঙ্গা। 
- দরিয়া-বিবি সেই পল্লি-জননী যে সন্তান মোনাদিকে আর্থিক সহায়তা দেবার জন্য ইয়াকুবের শয্যাসঙ্গিনী হয়। 
- ইয়াকুবের ঔরষে তার গর্ভে সন্তান এলে ওই গৰ্ভস্থ সন্তানকেও দরিয়া অসীম মমতায় সকল ভ্রূকুটি সহ্য করে নিরাপদে জন্মদানের মাধ্যমে আদর্শ জননীর দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। 
- এই মূলকাহিনির পাশাপাশি উপন্যাসে এসেছে মুসলিম সমাজের শরিয়তি দ্বন্দ্ব, বিত্তবানের স্বার্থপরতা, গ্রামের দরিদ্র মানুষের পারস্পরিক ঝগড়া ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির নিদর্শন।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র: দরিয়া-বিবি, আজহার, মোনাদি, ইয়াকুব, চন্দ্রকোটাল প্রমুখ।

শওকত ওসমান:
- তিনি ছিলেন কথাসাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক।
- ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
- তাঁর প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান
- উপন্যাস ও গল্প রচয়িতা হিসেবেই শওকত ওসমানের মুখ্য পরিচয়; তবে প্রবন্ধ, নাটক, রম্যরচনা, স্মৃতিকথা ও শিশুতোষ গ্রন্থও তিনি রচনা করেছেন। 
- তাঁর 'জননী' ও 'ক্রীতদাসের হাসি' উপন্যাস দুটি প্রশংসিত হয়েছে। জননীতে সামাজিক জীবন ও ক্রীতদাসের হাসিতে রাজনৈতিক জীবনের কিছু অন্ধকার দিক উন্মোচিত হয়েছে। 
- তিনি  বাংলা একাডেমি পুরস্কার, আদমজি সাহিত্য পুরস্কার, একুশে পদক, ফিলিপস পুরস্কার লাভ করেন।
- তিনি ১৯৯৮ সালের ১৪ই মে মৃত্যুবরণ করেন ।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- ক্রীতদাসের হাসি, 
- সমাগম, 
- চৌরসন্ধি, 
- রাজা উপাখ্যান,
- পতঙ্গ পিঞ্জর,
- রাজসাক্ষী,
- পুরাতন খঞ্জর।

তাঁর রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস:
- জাহান্নম হইতে বিদায়, 
- দুই সৈনিক, 
- নেকড়ে অরণ্য, 
- জলাংগী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
.
মৌলিক নাটক 'আগমনী' এর রচয়িতা কে?
  1. ক) হুমায়ুন আহমেদ
  2. খ) মমতাজ উদ্দিন আহমেদ
  3. গ) গিরিশচন্দ্র ঘোষ
  4. ঘ) দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
সঠিক উত্তর:
গ) গিরিশচন্দ্র ঘোষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) গিরিশচন্দ্র ঘোষ
ব্যাখ্যা
• গিরিশচন্দ্র ঘোষ:
- ১৮৪৪ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি কলকাতার বাগবাজারে তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন নাট্যকার, নাট্যপরিচালক, মঞ্চাভিনেতা।
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের প্রভাবে তিনি প্রথমে গান ও কবিতা লিখতে শুরু করেন এবং পরে নাট্যমঞ্চের সঙ্গে যুক্ত হলে নাটকও লিখতে থাকেন।
- ১৮৬৭ সালে বাগবাজার সখের যাত্রাদল-প্রযোজিত মধুসূদনের শর্মিষ্ঠা নাটকের গীতিকার হিসেবে গিরিশচন্দ্র নাট্যজগতে প্রবেশ করেন।
- দীনবন্ধু মিত্রের সধবার একাদশী নাটকে তিনি নিমচাঁদ চরিত্রে অভিনয় করেন।
- প্রেমভক্তি, স্বদেশপ্রেম ও সমকালীন সামাজিক সমস্যা গিরিশচন্দ্রের নাটকের বিষয়বস্ত্ত।
-  মধুসূদনের চৌদ্দ মাত্রার অমিত্রাক্ষর ছন্দকে ভেঙ্গে তিনি অভিনয়ের উপযোগী ছোট ছোট ছত্রে বিন্যস্ত করেন।
- তাঁর নামানুসারে এ ছন্দের নাম হয় ‘গৈরিশ ছন্দ’। 
- তাঁর রচিত প্রথম মৌলিক নাটক 'আগমনী' (১৮৭৭)।
- পৌরাণিক, ঐতিহাসিক ও সামাজিক বিষয় নিয়ে রচিত তাঁর নাটকের সংখ্যা মোট ৮০।

- সেগুলির মধ্যে জনপ্রিয় কয়েকটি হলো:
- অভিমন্যুবধ,  
- সীতার বনবাস,  
- সীতাহরণ,  
- পান্ডবের অজ্ঞাতবাস,  
- প্রফুল্ল,  
- আবু হোসেন,  
- সিরাজদ্দৌলা,  
- মীরকাশিম,  
- শঙ্করাচার্য,  
- বিল্বমঙ্গল ঠাকুর ইত্যাদি।

- প্রেমভক্তি, স্বদেশপ্রেম ও সমকালীন সামাজিক সমস্যা গিরিশচন্দ্রের নাটকের বিষয়বস্তু।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
.
"আমি রোমান্টিক কবি নই, মার্কসিস্ট" - বিখ্যাত উক্তিটি কার?
  1. ক) সমর সেন
  2. খ) মহাদেব সাহা
  3. গ) সুকান্ত ভট্টাচার্য
  4. ঘ) কাজি নজরুল ইসলাম
সঠিক উত্তর:
ক) সমর সেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সমর সেন
ব্যাখ্যা
"আমি রোমান্টিক কবি নই, মার্কসিস্ট" - উক্তিটি কবি সমর সেন-এর। 
- এর মাধ্যমে  তিনি মার্কসবাদের প্রতি তাঁর প্রবল আকর্ষণ ঘোষণা করেন। নাগরিক জীবনের স্বভাব, অভাব ও অসঙ্গতির বিদ্রূপাত্মক চিত্রায়ণ ঘটেছে তাঁর কবিতায়। আলোর জন্য অনাবিল অস্থিরতা থেকেই তিনি অন্ধকারময় জীবনের বিবিধ বিপর্যয়ে বিক্ষুব্ধ হয়েছেন, যদিও তাঁর এ ক্ষোভের প্রকাশ কখনও খুব তীব্র হয়নি। তাঁর বিদ্রূপের ভাষা তীক্ষ্ণ, ভঙ্গি মর্মান্তিক, লক্ষ্যভেদী। মধ্যবিত্তের প্রতিনিধি হিসেবেই তিনি স্বশ্রেণীর স্বরূপ উন্মোচনে স্বাতন্ত্র্যের স্বাক্ষর রেখেছেন।

মার্কসিস্ট কবি হিসেবে সমর সেন (১৯১৬-৮৭) স্বল্প সময়ে বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেছিলেন।
- সমর সেনের জন্ম কলকাতায়। 
- সাম্যবাদী কবি সমর সেন মাত্র দেড় দশক কবিতা রচনা করেন 
- তিনি কবিতা লেখা ক্ষান্ত দিলেন এই বলে যে- 'এখন আর কবিতা লিখে হবে না; তরবারি চাই, যুদ্ধ করতে হবে। "

তাঁর প্রকাশিত কাব্যের নাম:
- কয়েকটি কবিতা 
- গ্রহণ
- নানা কথা
- খোলা চিঠি
- তিনপুরুষ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
.
কোনটি তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত ত্রয়ী উপন্যাসের অন্তর্ভূক্ত নয়?
  1. ক) ধাত্রী দেবতা
  2. খ) গণদেবতা
  3. গ) পঞ্চগ্রাম
  4. ঘ) সূর্যদেবতা
সঠিক উত্তর:
ঘ) সূর্যদেবতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সূর্যদেবতা
ব্যাখ্যা
তারাশঙ্কর বন্দোপাধ্যায় রচিত ত্রয়ী উপন্যাস:
- ধাত্রী দেবতা (১৯৩৯)
- গণদেবতা (১৯৪৩)
- পঞ্চগ্রাম  (১৯৪৪)

এই তিনটি মূলত একই স্বরে বাঁধা। 
- কারণ শিবনাথ নামক এক ভারতীয় জাতীয়তাবাদী চরিত্রকে অবলম্বন করে তিনটি উপন্যাস বিকশিত হয়েছে। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
.
'লৌহকপাট' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. আনোয়ার পাশা
  2. জরাসন্ধ
  3. আবুল হোসেন
  4. মনোজ বসু
সঠিক উত্তর:
জরাসন্ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জরাসন্ধ
ব্যাখ্যা
• জরাসন্ধ: 
- জরাসন্ধের আসল নাম চারুচন্দ্র চক্রবর্তী (১৯০২-৮১)।
- তিনি কারাগারের কাহিনি লিখে একসময় পাঠক সমাজকে মুগ্ধ করে রেখেছিলেন।
- কারাগারের জীবন, রাজনীতি, বাস্তুহারা সমস্যা, সমাজের দুর্বিষহ বেকারত্ব প্রভৃতি নিয়ে তাঁর সাহিত্য রূপায়িত হয়ে উঠেছে।
- জরাসন্ধের জন্ম বাংলাদেশের ফরিদপুর জেলার ব্রাহ্মণপাড়া গ্রামে।
- অর্থনীতি বিষয় নিয়ে কলকাতা প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বি এ অনার্স পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন।
- বেঙ্গল সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ১৯৩০ সালে কারাবিভাগের চাকরিতে যোগদান করেন। 

• তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাসগুলো হল :
- লৌহকপাট (৪খণ্ড),
- মসিরেখা,
- ন্যায়দণ্ড,
- মল্লিকা,
- মহাশ্বেতার ডায়েরি, 
- মানসকন্যা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
.
'যাত্রা' প্রবন্ধগ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. শওকত আলী
  2. শওকত ওসমান
  3. সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. সত্যেন সেন
সঠিক উত্তর:
সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• 'যাত্রা' প্রবন্ধগ্রন্থটির রচয়িতা - সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
উল্লেখ্য, শওকত আলী রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস - যাত্রা। 

সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- পশ্চিমবঙ্গের চবিবশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন সাংবাদিক, লেখক, পণ্ডিত।
- পিতা যাদবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ছিলেন পূর্ববর্তী স্বদেশী ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেটদের একজন।
- একজন স্বশিক্ষিত ব্যক্তি হিসেবে তিনি ইংরেজি সাহিত্য, বিজ্ঞান, ইতিহাস ও আইনে বিশেষ ব্যুৎপত্তি লাভ করেন। 
- প্রতিভার স্বীকৃতিস্বরূপ সরকার তাঁকে ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট পদে নিয়োগ করে। 
- তাঁর অনুজ সাহিত্যসম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ও ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট ছিলেন।
- তিনি বাংলা সাপ্তাহিক পত্রিকা ‘ভ্রমর’ সম্পাদনা করেন। অতঃপর তিনি ‘বঙ্গদর্শন’- এর সম্পাদক হিসেবে যোগ দেন।
- তিনি 'Bengal Ryots: Their Rights and Liabilities' (১৮৬৪) গ্রন্থ লিখে প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাসগ্রন্থ:
- কণ্ঠমালা,
- মাধবীলতা।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- রামেশ্বরের অদৃষ্ট।

তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- যাত্রা

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
.
শওকত ওসমানের “আর্তনাদ” উপন্যাসটি কিসের পটভূমিতে রচিত? 
  1. ভাষা আন্দোলন
  2. স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন
  3. গ্রামীণ জীবন
  4. গোয়েন্দা কাহিনী 
সঠিক উত্তর:
ভাষা আন্দোলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভাষা আন্দোলন
ব্যাখ্যা

শওকত ওসমানের “আর্তনাদ” উপন্যাসটি  ভাষা আন্দোলনের পটভূমিতে রচিত।

• “আর্তনাদ”:
- ঔপন্যাসিক শওকত ওসমানের আর্তনাদ (১৯৮৫) উপন্যাসটি ভাষা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রচিত হয়েছে। 
- এতে পূর্ব পাকিস্তানের স্বাধীনচেতা বাঙালি মধ্যবিত্ত ও পশ্চিম পাকিস্তানের ধর্মনির্ভর শাসকগোষ্ঠীর আদর্শিক দ্বন্দ্ব ফুটে উঠেছে।
- একুশের চেতনার মধ্য দিয়ে সমাজের ভাঙন ও নতুন চেতনার উদয় উপন্যাসে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
- উপন্যাসের কাহিনী পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের ভিন্ন চিন্তাধারা, ধর্মীয় রক্ষণশীলতা বনাম প্রগতিশীলতার দ্বন্দ্ব এবং এর ফলে সৃষ্ট সামাজিক ও রাজনৈতিক অস্থিরতা ঘিরে আবর্তিত হয়েছে।
- উপন্যাসটি একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের ভিত্তিপ্রস্তর হিসেবে কাজ করে।
--------------------------------------------
শওকত ওসমান:
- শওকত ওসমান ছিলেন এক বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক ও প্রাবন্ধিক।  
- তিনি ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর আসল নাম ছিল শেখ আজিজুর রহমান।
- নাটক, গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ, রসাত্মক লেখা থেকে শুরু করে শিশু-কিশোর সাহিত্যে পর্যন্ত তাঁর অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য।
- সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে বিশেষ অবদানের জন্য তিনি বহু পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন- 
- বাংলা একাডেমি পুরস্কার,
- আদমজী সাহিত্য পুরস্কার,
- পাকিস্তান সরকারের প্রেসিডেন্ট পুরস্কার,
- একুশে পদক,
- মাহবুবউল্লাহ ফাউন্ডেশন পুরস্কার,
- মুক্তধারা সাহিত্য পুরস্কার,
- স্বাধীনতা দিবস।
- দীর্ঘ দিন সাহিত্যচর্চার পর তিনি ১৯৯৮ সালে ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
দৈনিক জনকন্ঠ;
বাংলাপিডিয়া। 

.
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রথম প্রকাশিত ছোটগল্প কোনটি?
  1. বেদেনী
  2. রসকলি
  3. ডাকহরকরা
  4. কালিন্দী
সঠিক উত্তর:
রসকলি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রসকলি
ব্যাখ্যা

তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রথম প্রকাশিত ছোটগল্প রসকলি।

• ‘রসকলি’:
- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘রসকলি’ গল্পটি বীরভূমের গ্রামীণ জীবনের প্রকৃতি, লোকবিশ্বাস ও কুসংস্কারের বাস্তব ছবি তুলে ধরে।
- গল্পের কেন্দ্রেই রয়েছে রসকলি নামের তরুণী, যার একাকিত্ব, ভালোবাসার আকাঙ্ক্ষা ও সমাজের কঠোর রীতিনীতির সঙ্গে তার মানসিক টানাপোড়েন ফুটে ওঠে।
- সহজ-সরল গ্রামের জীবনের আড়ালে থাকা মানসিক দ্বন্দ্ব ও সামাজিক জটিলতাই গল্পের প্রধান শক্তি। 
---------------------------------------

• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়:
- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় (১৮৯৮–১৯৭১) ছিলেন বাংলা কথাসাহিত্যের এক গুরুত্বপূর্ণ লেখক।
- পাশাপাশি তিনি রাজনীতিতেও যুক্ত ছিলেন।
- পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার লাভপুরের জমিদার পরিবারে এই সাহিত্যিকের জন্ম।
- সাধারণ মানুষের জীবন, যেমন বেদে, পটুয়া, লাঠিয়াল, চৌকিদার, বাগদী, বোষ্টম, ডোম প্রভৃতি সমাজের প্রান্তিক শ্রেণীর বাস্তব জীবনচিত্র তিনি গল্পে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে তুলে ধরেছেন।
- তাঁর প্রথম গল্প ছিল ‘রসকলি’, যা প্রকাশিত হয়েছিল কল্লোল পত্রিকায়।
তাঁর উল্লেখযোগ্য গল্প:
- ‘রসকলি’,
- ‘বেদেনী’,
- ‘ডাকহরকরা'।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
- চৈতালী ঘূর্ণি,
- জলসাঘর,
- ধাত্রীদেবতা,
- কালিন্দী,
- গণদেবতা,
- পঞ্চগ্রাম,
- কবি,
- হাঁসুলি বাঁকের উপকথা,
- আরোগ্য নিকেতন—ইত্যাদি।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া।

১০.
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্মস্থান কোথায়?
  1. কুষ্টিয়া
  2. বীরভূম
  3. কলকাতা
  4. কালিন্দী
সঠিক উত্তর:
বীরভূম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বীরভূম
ব্যাখ্যা
• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়:
১৮৯৮ সালে পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলায় এক জমিদারবংশে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন কথাসাহিত্যিক, রাজনীতিবিদ।

- তাঁর রচিত প্রথম গল্প ‘রসকলি’ সেকালের বিখ্যাত পত্রিকা কল্লোল-এ প্রকাশিত হয়।
- তাঁর রচিত ত্রয়ী উপন্যাস - ধাত্রীদেবতা, গণদেবতা, পঞ্চগ্রাম। 
- আদিবাসী সাঁওতাল বিদ্রোহ নিয়ে তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাস 'অরণ্যবহ্নি' (১৯৬৬)।
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম নিয়ে রচিত তাঁর উপন্যাসের নাম 'একটি কালো মেয়ের কথা' (১৯৭১)।
- তিনি 'পদ্মশ্রী' ও 'পদ্মভূষণ' উপাধি লাভ করেন।
- ১৯৭১ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর তাঁর মৃত্যু হয়।

উল্লেখ্য,
• প্রথম জীবনে কিছু কবিতা লিখলেও কথাসাহিত্যিক হিসেবেই তারাশঙ্করের প্রধান খ্যাতি। বীরভূম-বর্ধমান অঞ্চলের মাটি ও মানুষ, বিভিন্ন পেশাজীবী মানুষের জীবনচিত্র, স্বাধীনতা আন্দোলন, যুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ, অর্থনৈতিক বৈষম্য, ব্যক্তির মহিমা ও বিদ্রোহ, সামন্ততন্ত্র-ধনতন্ত্রের দ্বন্দ্বে ধনতন্ত্রের বিজয় ইত্যাদি তাঁর উপন্যাসের বিষয়বস্তু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর , বাংলাপিডিয়া।
১১.
সমাচার দর্পণ পত্রিকা কার সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়?
  1. ক) জন ক্লার্ক মার্শম্যান
  2. খ) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  3. গ) গঙ্গাকিশোর রায়
  4. ঘ) জর্জ আব্রাহাম গ্রিয়ারসন
সঠিক উত্তর:
ক) জন ক্লার্ক মার্শম্যান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) জন ক্লার্ক মার্শম্যান
ব্যাখ্যা
‘সমাচার দর্পণ' বাংলা ভাষার অন্যতম প্রাচীন সাপ্তাহিক সংবাদপত্র। এটি ১৮১৮ সালের মে মাসে জর্জ ক্লার্ক মার্শম্যানের সম্পাদনায় শ্রীরামপুর মিশন থেকে প্রথম প্রকাশিত হয়।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
১২.
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত সম্পাদিত পত্রিকার নাম-   
  1. মোসলেম ভারত
  2. লহরি 
  3. সওগাত
  4. সংবাদ প্রভাকর
সঠিক উত্তর:
সংবাদ প্রভাকর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সংবাদ প্রভাকর
ব্যাখ্যা

‘সংবাদ প্রভাকর’ পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা ও সম্পাদক ছিলেন ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত।

ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত:
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত ছিলেন একজন কবি ও সাংবাদিক।
- ১২১৮ বঙ্গাব্দের ২৫ ফাল্গুন (মার্চ ১৮১২) পশ্চিমবঙ্গের চবিবশ পরগনা জেলার কাঞ্চনপল্লী বা কাঁচড়াপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে মধ্যযুগ ও আধুনিক যুগের মিলনকারী কবি হিসেবে পরিচিত।
- 'ভ্রমণকারী বন্ধু' ছিল তাঁর ছদ্মনাম।
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত ছিলেন যুগসন্ধিক্ষণের কবি (১৭৬১ – ১৮৬০)।
- তাকে যুগসন্ধিক্ষণের  কবি বলা হয় কারণ তার রচনায় মধ্যযুগের সাহিত্যরীতি ও বিষয়বস্তু যেমন ছিল, তেমনি আধুনিক যুগের প্রভাবও ছিল স্পষ্ট।
- তিনি ছিলেন দুই যুগের মেলবন্ধনের প্রতীক।
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত ১৮৩১ সালে সংবাদ প্রভাকর নামক সাপ্তাহিক পত্রিকা প্রকাশ শুরু করেন।
- অল্পদিনের মধ্যেই এটি বন্ধ হলেও ১৮৩৬ সালে পুনরায় প্রকাশিত হয়।
- পরবর্তীতে ১৮৩৯ সালে ‘সংবাদ প্রভাকর’ বাংলা ভাষার প্রথম দৈনিক পত্রিকায় পরিণত হয়।
- এছাড়া ‘সংবাদ প্রভাকর’ ছাড়াও ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত সংবাদ রত্নাবলী, পাষণ্ডপীড়ন ও সংবাদ সাধুরঞ্জন প্রভৃতি পত্রিকাও সম্পাদনা করেছিলেন।
--------------------- 
অন্যদিকে, 
- ‘সওগাত’ পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন- মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন।
- 'মোসলেম ভারত' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন মুহাম্মদ মোজাম্মেল হক,।
- ‘লহরি' পত্রিকার ও সম্পাদক ছিলেন- মুহাম্মদ মোজাম্মেল হক

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
লাল নীল দীপাবলী বা বাঙলা সাহিত্যের জীবনী – হুমায়ুন আজাদ।

১৩.
সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়কে 'ভাষাচার্য' উপাধি দিয়েছেন কে?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. ড. মুহাম্মাদ শহিদুল্লাহ 
  4. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী 
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা

সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়কে ভাষাচার্য উপাধি দিয়েছেন- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। 
---------------------------------------------- 
• সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়:
- সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় ছিলেন একজন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, ভাষাবিজ্ঞানী ও সাহিত্যিক।
- তিনি ১৮৯০ সালের ২৬ অক্টোবর পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া জেলার শিবপুরে জন্মগ্রহণ করেন।
- ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি নিয়ে তিনি বিস্তর গবেষণা করেছেন।
- ভাষা নিয়ে তাঁর গবেষণা ও সাহিত্যকর্মে মুগ্ধ হয়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁকে ভাষাচার্য উপাধিতে ভূষিত করেন।
- তাছাড়া, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর শেষের কবিতা উপন্যাসে সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের প্রশংসা করেছেন। 

• তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- ‘Origin and Development of the Bengali Language; 
- Bengali Phonetic Reader;
- বাংলা ভাষাতত্ত্বের ভূমিকা;
- পশ্চিমের যাত্রী;
- ভারতের ভাষা ও ভাষা সমস্যা;
- সরল ভাষা প্রকাশ বাঙ্গালা ব্যাকরণ;
- ভারত সংস্কৃতি;
- সংস্কৃতি কী;
- রবীন্দ্রসঙ্গমে,
- ইউরোপ ভ্রমণ,
- Languages and Literatures of Modern India;
- World Literature and Tagore;
- দ্বীপময় ভারত ও শ্যামদেশ। 

উৎস: 
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া। 

১৪.
শওকত ওসমান রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ কোনটি?
  1. পূর্বরাত্রি পূর্বদিন
  2. পঞ্চতন্ত্র
  3. পঞ্চসঙ্গী
  4. পাতালে হাসপাতালে
সঠিক উত্তর:
পঞ্চসঙ্গী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পঞ্চসঙ্গী
ব্যাখ্যা
• শওকত ওসমান রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ - পঞ্চসঙ্গী

অন্যদিকে,
• শওকত আলী রচিত উপন্যাস - পূর্বরাত্রি পূর্বদিন।
• সৈয়দ মুজতবা আলী রচিত রম্য-রচনা - পঞ্চতন্ত্র।
• হাসান আজিজুল হক রচিত গল্পগ্রন্থ - পাতালে হাসপাতালে।

শওকত ওসমান:
- তিনি ছিলেন কথাসাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক।
- ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
- তাঁর প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান
- উপন্যাস ও গল্প রচয়িতা হিসেবেই শওকত ওসমানের মুখ্য পরিচয়; তবে প্রবন্ধ, নাটক, রম্যরচনা, স্মৃতিকথা ও শিশুতোষ গ্রন্থও তিনি রচনা করেছেন। 
- তাঁর 'জননী' ও 'ক্রীতদাসের হাসি' উপন্যাস দুটি প্রশংসিত হয়েছে। জননীতে সামাজিক জীবন ও ক্রীতদাসের হাসিতে রাজনৈতিক জীবনের কিছু অন্ধকার দিক উন্মোচিত হয়েছে। 
- তিনি  বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬২), আদমজি সাহিত্য পুরস্কার (১৯৬৬), একুশে পদক (১৯৮৩), ফিলিপস পুরস্কার (১৯৯১), স্বাধীনতা দিবস পুরস্কার (১৯৯৭) লাভ করেন।
- তিনি ১৯৯৮ সালের ১৪ই মে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ:
- ওটেন সাহেবের বাংলো,
- মস্কুইটোফোন,
- ক্ষুদে সোশালিস্ট,
- পঞ্চসঙ্গী,
- তারা দুই জন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৫.
বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়ের সাহিত্যিক ছদ্মনাম -
  1. কমলাকান্ত
  2. পরশুরাম
  3. বনফুল
  4. বীরবল
সঠিক উত্তর:
বনফুল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বনফুল
ব্যাখ্যা
• বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়ের সাহিত্যিক ছদ্মনাম - বনফুল

অন্যদিকে,
• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের সাহিত্যিক ছদ্মনাম - কমলাকান্ত।
• রাজশেখর বসুর সাহিত্যিক ছদ্মনাম - পরশুরাম।
• প্রমথ চৌধুরীর সাহিত্যিক ছদ্মনাম - বীরবল।

বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়:
- তিনি ১৮৯৯ সালের ১৯ জুলাই বিহারের পূর্ণিয়া জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন কবি, কথাশিল্পী, নাট্যকার, প্রবন্ধকার।
- বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় কর্মজীবন শুরু করেন কলকাতার একটি বেসরকারি ল্যাবরেটরিতে নিয়োগ লাভের মধ্য দিয়ে।
- স্কুলে পড়ার সময়ে তিনি ‘বনফুল’ ছদ্মনামে কবিতা রচনা করেন।
- সম্পাদনা করেন 'বিকাশ' (১৯১৫) নামে হাতে-লেখা একটি সাহিত্যপত্রিকা।
- তাঁর কবিতার প্রধান বিষয় নিসর্গ চেতনা, প্রেম ও আত্ম-উপলব্ধি।
- ১৯৭৯ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- বনফুলের কবিতা,
- অঙ্গারপর্ণী,
- চতুর্দশী, 
- আহবনীয়,
- করকমলেষু,
- বনফুলের ব্যঙ্গ কবিতা,
- নতুন বাঁকে ইত্যাদি।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- তৃণখণ্ড,
- জঙ্গম (তিন খণ্ড),
- অগ্নি, 
- ডানা (তিন খণ্ড),
- স্থাবর,
- অগ্নীশ্বর,
- হাটেবাজারে,
- ত্রিবর্ণ,
- ভুবনসোম,
- প্রচ্ছন্ন মহিমা, 
- উদয় অস্ত ইত্যাদি। 

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- বনফুলের গল্প, 
- বিন্দু বিসর্গ, 
- অদৃশ্যলোকে,
- তন্বী,  
- অনুগামিনী,
- দূরবীণ,
- মণিহারী, 
- বহুবর্ণ,
- বনফুলের নতুন গল্প ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৬.
'গীতাঙ্কুর' গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  2. পঞ্চানন কর্মকার
  3. প্যারীচাঁদ মিত্র
  4. প্রেমেন্দ্র মিত্র
সঠিক উত্তর:
প্যারীচাঁদ মিত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্যারীচাঁদ মিত্র
ব্যাখ্যা
• 'গীতাঙ্কুর' গ্রন্থটির রচয়িতা - প্যারীচাঁদ মিত্র
- এটি ১৮৬১ সালে প্রকাশিত হয়।

প্যারীচাঁদ মিত্র:
- ১৮১৪ সালের ২২ জুলাই কলকাতায় তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন লেখক, সাংবাদিক, সংস্কৃতিসেবী, ব্যবসায়ী।
- তাঁর ছদ্মনাম 'টেকচাঁদ ঠাকুর'।
- ১৮২৭ সালে তিনি হিন্দু কলেজে ভর্তি হন এবং খ্যাতিমান শিক্ষক হেনরি ডিরোজিওর তত্ত্বাবধানে থেকে শিক্ষা সম্পন্ন করেন।
- কলকাতা পাবলিক লাইব্রেরির ডেপুটি লাইব্রেরিয়ান হিসেবে ১৮৩৬ সালে প্যারীচাঁদ মিত্রের কর্মজীবন শুরু হয়।
- বাংলা উপন্যাস রচনার পথিকৃৎ প্যারীচাঁদ মিত্র।
- সাহিত্যক্ষেত্রে প্যারীচাঁদ মিত্রের সর্বশ্রেষ্ঠ কৃতিত্ব 'আলালের ঘরের দুলাল', যা বাংলা সাহিত্যের প্রথম উপন্যাস হিসেবে খ্যাত।
- তিনি ২৩ নভেম্বর, ১৮৮৩ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্ম:
- মদ খাওয়া বড় দায়, জাত থাকার কি উপায়,
- অভেদী,
- আধ্যাত্মিকা,
- The Zamindar and Royats,
- যৎকিঞ্চিৎ,
- রামারঞ্জিকা,
- বামাতোষিণী,
- গীতাঙ্কুর,
- কৃষিপাঠ,
- ডেভিড হেয়ারের জীবনচরিত ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১৭.
‘এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য ক'রে যাব আমি'- উক্তিটি সুকান্ত ভট্টাচার্যের কোন গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. অভিযান
  2. ছাড়পত্র
  3. পূর্বাভাস
  4. হরতাল
সঠিক উত্তর:
ছাড়পত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ছাড়পত্র
ব্যাখ্যা
• ‘এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য ক'রে যাব আমি' - সুকান্ত ভট্টাচার্যের 'ছাড়পত্র' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।
- এটি 'ছাড়পত্র' কাব্যগ্রন্থের নাম কবিতা 'ছাড়পত্র' এর উক্তি।

ছাড়পত্র,
--- সুকান্ত ভট্টাচার্য

যে শিশু ভূমিষ্ঠ হল আজ রাত্রে
তার মুখে খবর পেলুম:
সে পেয়েছে ছাড়পত্র এক, নতুন বিশ্বের দ্বারে তাই ব্যক্ত করে অধিকার
জন্মমাত্র সুতীব্র চিৎকারে।
খর্বদেহ নিঃসহায়, তবু তার মুষ্টিবদ্ধ হাত
উত্তোলিত, উদ্ভাসিত
কী এক দুর্বোধ্য প্রতিজ্ঞায়।
সে ভাষা বোঝে না কেউ,
কেউ হাসে, কেউ করে মৃদু তিরস্কার।
আমি কিন্তু মনে মনে বুঝেছি সে ভাষা।
পেয়েছি নতুন চিঠি আসন্ন যুগের—
পরিচয়-পত্র পড়ি ভূমিষ্ঠ শিশুর
অস্পষ্ট কুয়াশাভরা চোখে।
এসেছে নতুন শিশু, তাকে ছেড়ে দিতে হবে স্থান;
জীর্ণ পৃথিবীতে ব্যর্থ, মৃত আর ধ্বংসস্তূপ-পিঠে
চলে যেতে হবে আমাদের।
চলে যাব—তবু আজ যতক্ষণ দেহে আছে প্রাণ
প্রাণপণে পৃথিবীর সরাব জঞ্জাল,
এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য ক'রে যাব আমি
নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার।
অবশেষে সব কাজ সেরে
আমার দেহের রক্তে নতুন শিশুকে
করে যাব আশীর্বাদ,
তারপর হব ইতিহাস ॥

------------------------
সুকান্ত ভট্টাচার্য:
- ১৯২৬ সালের ১৫ আগস্ট কলকাতায় মাতুলালয়ে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন মার্কসবাদী ভাবধারায় বিশ্বাসী এবং প্রগতিশীল চেতনার অধিকারী তরুণ কবি।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল গোপালগঞ্জ জেলার কোটালিপাড়ায়। 
- সুকান্ত ভট্টাচার্য কমিউনিস্ট পার্টির পত্রিকা দৈনিক স্বাধীনতা-র (১৯৪৫) ‘কিশোর সভা’ বিভাগ সম্পাদনা করতেন।
- সুকান্ত ভট্টাচার্যের সাহিত্য-সাধনার মূল ক্ষেত্র ছিল কবিতা। সাধারণ মানুষের জীবনসংগ্রাম, যন্ত্রণা ও বিক্ষোভ তাঁর কবিতার প্রধান বিষয়বস্তু।
- তাঁর রচনাকর্মে গণমানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার বাণীসহ শোষণহীন এক নতুন সমাজ গড়ার অঙ্গীকার উচ্চারিত হয়েছে।
- ‘এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য ক'রে যাব আমি' - সুকান্ত ভট্টাচার্যের বিখ্যাত উক্তি।
- তিনি ২৯শে বৈশাখ, ১৩৫৪; ১৩ই মে, ১৯৪৭ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ:
- ছাড়পত্র,
- ঘুম নেই,
- পূর্বাভাস,
- মিঠে কড়া,
- অভিযান,
- হরতাল,
- গীতিগুচ্ছ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৮.
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের ত্রয়ী উপন্যাস এর অন্তর্ভুক্ত কোনটি?
  1. গণদেবতা
  2. ধাত্রীদেবতা
  3. পঞ্চগ্রাম
  4. সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
ব্যাখ্যা
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়:
- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়, একজন কথাসাহিত্যিক, রাজনীতিবিদ।
- তিনি ১৮৯৮ সালে পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলায় এক জমিদারবংশে জন্ম গ্রহণ করেন।

• তারাশঙ্করের ত্রয়ী উপন্যাস:
- ধাত্রীদেবতা,
- গণদেবতা,
- পঞ্চগ্রাম।

• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস:
- চৈতালি ঘূর্ণি,
- ধাত্রীদেবতা,
- কালিন্দী,
- কবি,
- হাঁসুলি বাঁকের উপকথা,
- গণদেবতা,
- আরগ্য,
- নিকেতন,
- পঞ্চপুণ্ডলী,
- রাধা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৯.
কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের পৈতৃক নিবাস কোথায়?
  1. ঢাকা
  2. গোপালগঞ্জ
  3. মুন্সিগঞ্জ
  4. নারায়ণগঞ্জ
সঠিক উত্তর:
গোপালগঞ্জ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গোপালগঞ্জ
ব্যাখ্যা
• কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের পৈতৃক নিবাস - গোপালগঞ্জ

সুকান্ত ভট্টাচার্য:
- ১৯২৬ সালের ১৫ আগস্ট কলকাতায় মাতুলালয়ে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল গোপালগঞ্জ জেলার কোটালিপাড়ায়। 
- তিনি ছিলেন মার্কসবাদী ভাবধারায় বিশ্বাসী এবং প্রগতিশীল চেতনার অধিকারী তরুণ কবি।
- সুকান্ত ভট্টাচার্য কমিউনিস্ট পার্টির পত্রিকা দৈনিক স্বাধীনতা-র (১৯৪৫) ‘কিশোর সভা’ বিভাগ সম্পাদনা করতেন।
- সুকান্তের সাহিত্য-সাধনার মূল ক্ষেত্র ছিল কবিতা। সাধারণ মানুষের জীবনসংগ্রাম, যন্ত্রণা ও বিক্ষোভ তাঁর কবিতার প্রধান বিষয়বস্তু।
- তাঁর রচনাকর্মে গণমানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার বাণীসহ শোষণহীন এক নতুন সমাজ গড়ার অঙ্গীকার উচ্চারিত হয়েছে।
- ‘এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাবো আমি' - সুকান্ত ভট্টাচার্যের বিখ্যাত উক্তি।
- তিনি ২৯শে বৈশাখ, ১৩৫৪; ১৩ই মে, ১৯৪৭ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ:
- ছাড়পত্র,
- ঘুম নেই,
- পূর্বাভাস,
- মিঠে কড়া,
- অভিযান,
- হরতাল,
- গীতিগুচ্ছ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২০.
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. অশনি সংকেত
  2. আদর্শ হিন্দু হোটেল
  3. চাঁদের পাহাড়
  4. সবকটি
সঠিক উত্তর:
সবকটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবকটি
ব্যাখ্যা
⇒ বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়:
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় ১৮৯৪ সালে চব্বিশ পরগনায় মুরারিপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা কথা সাহিত্যের সবচেয়ে জনপ্রিয় শিল্পী।
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের রচিত শেষ উপন্যাস ‘ইছামতী’ প্রকাশিত হয় ১৯৫০ সালে।
- মানুষের জীবনের কথা এই উপন্যাসের মূল উপজীব্য।
- ‘ইছামতী’ উপন্যাসের জন্য তিনি রবীন্দ্র পুরস্কার (১৯৪৯) লাভ করেন।
- ১৯৫০ সালের ১লা সেপ্টেম্বর তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

⇒ তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ: 

• উপন্যাস:
- পথের পাঁচালী, 
- অপরাজিত, 
- অশনি সংকেত
- আরণ্যক, 
- আদর্শ হিন্দু হোটেল
- দেবযান, 
- ইছামতী, 
- দৃষ্টি প্রদীপ,  
- চাঁদের পাহাড়।  

• ছোটগল্প:
- মেঘমল্লার,  
- মৌরীফুল,  
- যাত্রাবদল,  
- কিন্নরদল ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২১.
ত্রিশের দশকের রবীন্দ্রকাব্যধারার বিরোধী খ্যাতিমান কবিদের অন্যতম ছিলেন কে?
  1. সত্যেন সেন
  2. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  3. সুকুমার রায়
  4. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
সঠিক উত্তর:
সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা
সুধীন্দ্রনাথ দত্ত:
- তিনি ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক ও পত্রিকা সম্পাদক। 
- ১৯০১ সালের ৩০ অক্টোবর কলকাতার হাতীবাগানে তাঁর জন্ম।
- ত্রৈমাসিক 'পরিচয়' পত্রিকা সম্পাদনা করে তিনি অমর হয়ে আছেন।
- সুধীন্দ্রনাথ দত্ত ছিলেন ত্রিশের দশকের রবীন্দ্রকাব্যধারার বিরোধী খ্যাতিমান কবিদের অন্যতম।
- ফরাসি কবি মালার্মের প্রতীকী কাব্যাদর্শ তিনি অনুসরণ করেন।
- 'তন্বী' কাব্যগ্রন্থ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে উৎসর্গ করেন।
- ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য, মননশীলতা ও নাগরিক বৈদগ্ধ্য তাঁর কাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য।
- বাংলা কবিতায় তিনি দর্শনচিন্তার নান্দনিক প্রকাশ ঘটান।
- তিনি বাংলা গদ্যের আধুনিক রূপেরও প্রবর্তক।
- ১৯৬০ সালে কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- তন্বী,
- অর্কেষ্ট্রা,
- ক্রন্দসী,
- উত্তরফাল্গুনী,
- সংবর্ত,
- প্রতিদিন,
- দশমী।

তাঁর দুটি প্রবন্ধগ্রন্থ:
- স্বগত,
- কুলায় ও কালপুরুষ।

তাঁর রচিত অনুবাদ-কাব্যগ্রন্থ:
- প্রতিধ্বনি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২২.
'গঙ্গা' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. ক) তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. খ) অন্নদাশঙ্কর রায়
  3. গ) সত্যজিৎ রায়
  4. ঘ) সমরেশ বসু
সঠিক উত্তর:
ঘ) সমরেশ বসু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সমরেশ বসু
ব্যাখ্যা
'গঙ্গা' উপন্যাসটি সমরেশ বসুর অন্যতম শ্রেষ্ঠ রচনা।
- এটি ১৯৫৭ সালে প্রকাশিত।
- গঙ্গার পটভূমি একটাই, জল-জাল-জেলে; বিশেষত অবিভক্ত ২৪ পরগনা জেলার মৎস্যজীবী সম্প্রদায়ের (মাছমারা) জীবনসংগ্রামের কাহিনি। গঙ্গা উপন্যাসের চরিত্রগুলো সামনে অতটা উজ্জ্বল হয়ে ধরা দেয়নি।
- সমরেশ বসুর মূল বিষয় চরিত্র চিত্রণ নয়, মূল বিষয় জেলেজীবন।
- জেলেজীবনের সংগ্রাম চিত্রণ করতে যা যা প্রয়োজন, তা করেছেন। চরিত্রের ক্ষেত্রেও তাই।
- এখানে মোটা দাগে যারা রয়েছে: সাইদার নিবারণ, নিবারণের ছোট ভাই পাঁচু ও ছেলে বিলাস, বশীর, সয়ারাম, পাচী (ছায়া), রসিক, দুলাল; অপরদিকে অমর্তের বউ, দামিনী, হিমি, হিমির সখী আতর, মহাজন ব্রজেন ঠাকুর প্রমুখ।
- আপাতদৃষ্টিতে এই উপন্যাসের নায়ক-নায়িকা হলো বিলাস ও হিমি। কিন্তু সব চরিত্র যার ছায়া অবলম্বনে, তিনি হলো নিবারণ। সেদিক থেকে নিবারণ হলো কেন্দ্রীয় চরিত্র।

উৎসঃ 'গঙ্গা' উপন্যাস ও সাহিত্য সাময়িকী।
২৩.
বিহারীলাল চক্রবর্তী সম্পাদিত পত্রিকা নয় কোনটি?
  1. অবলাবান্ধব
  2. অবোধ বন্ধু
  3. পূর্ণিমা
  4. সাহিত্য সংক্রান্তি
সঠিক উত্তর:
অবলাবান্ধব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অবলাবান্ধব
ব্যাখ্যা
• বিহারীলাল চক্রবর্তী সম্পাদিত পত্রিকা নয় - অবলাবান্ধব
- এটি দ্বারকানাথ গঙ্গোপাধ্যায় সম্পাদিত পত্রিকা।

বিহারীলাল চক্রবর্তী:
- তিনি ১৮৩৫ সালে নিমতলা, কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি আধুনিক বাংলা গীতিকবিতার অন্যতম পুরোধা এবং রবীন্দ্রনাথের কাব্যগুরু হিসেবে পরিচিত।
- তিনি বাংলা সাহিত্যের আধুনিক গীতিকবিতার স্রষ্টা।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর 'সারদা মঙ্গল' কাব্য পড়ে তাঁকে 'ভোরের পাখি' বলে আখ্যায়িত করেন।
- তাঁর শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ 'সারদা মঙ্গল'।
- তাঁর শেষ কাব্যগ্রন্থ 'সাধের আসন'। একে 'সারদা মঙ্গল' কাব্যের পরিশিষ্ট বলা হয়।
- তিনি ১৮৯৪ সালের ২৪ মে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- স্বপ্নদর্শন,
- সঙ্গীত শতক,
- বন্ধু-বিয়োগ,
- প্রেম প্রবাহিণী,
- নিসর্গ সন্দর্শন,
- বঙ্গসুন্দরী,
- সারদা মঙ্গল,
- নিসর্গ সঙ্গীত,
- মায়াদেবী,
- দেবরাণী,
- বাউল বিংশতি,
- সাধের আসন।

তাঁর সম্পাদিত পত্রিকা:
- পূর্ণিমা,
- সাহিত্য সংক্রান্তি,
- অবোধ বন্ধু

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২৪.
বাংলা গানে সর্বপ্রথম ঠুমরি আমদানি করেন কে?
  1. ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. খ) অতুলপ্রসাদ সেন
  3. গ) লালন শাহ
  4. ঘ) সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
সঠিক উত্তর:
খ) অতুলপ্রসাদ সেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) অতুলপ্রসাদ সেন
ব্যাখ্যা
• অতুলপ্রসাদ সেন: 
- অতুলপ্রসাদ সেন ছিলেন একজন কবি, গীতিকার, গায়ক।
- তিনি ১৮৭১ সালে ঢাকায়  জন্মগ্রহণ করেন। 
- অতুল প্রসাদ সেন সুরকার ও গীতিকার হিসাবে সঙ্গীত ভুবনে অনন্য স্থান দখল করে আছেন।
- তাঁর অপূর্ব সৃষ্টি, ‘মোদের গরব, মোদের আশা, আ মরি বাংলা ভাষা।’
- তাঁর রচিত গানের সংখ্যা প্রায় ২০০টি।
- তিনি বাংলা গানে সর্বপ্রথম ঠুমরি আমদানি করেন।
 -তাঁর লেখা গানের সংকলন - 'কয়েকটি গান ও গীতিপুঞ্জ'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
২৫.
'কাকাবাবু' চরিত্রের স্রষ্টা কে?
  1. ক) সমরেশ বসু
  2. খ) সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
  3. গ) রাজশেখর বসু
  4. ঘ) সুকুমার রায়
সঠিক উত্তর:
খ) সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় তাঁর উপন্যাসে 'কাকাবাবু' নামে একটি অনন্য চরিত্র সৃষ্টি করেছেন। 
- এই চরিত্র অবলম্বনে অনেকগুলো উপন্যাস রচিত হয়েছে। 
- বাংলা সাহিত্যে 'কাকাবাবু' একটি উল্লেখযোগ্য সৃষ্টি। 
- শিশু কিশোরদের কাছে 'কাকাবাবু' সিরিজের উপন্যাসগুলো বিশেষ আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছিল। 
- এই সিরিজের কোন কোন উপন্যাস চলচ্চিত্রে রূপান্তরিত হয়েছে। 
- 'কাকাবাবু' সিরিজের উপনাস: 'সবুজ দ্বীপের রাজা', 'কাকাবাবু ও সিন্দুক রহস্য', 'কাকাবাবু ও বজ্রগামা', 'সন্তু কোথায় কাকাবাবু কোথায়', 'বিজয় নগরেরহীরে', 'জঙ্গলের মধ্যে এক হোটেল'  ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক।
২৬.
ব্যতিক্রম কোনটি?
  1. উভশৃঙ্গ
  2. চৌরসন্ধি
  3. পুরাতন খঞ্জর
  4. রাজসাক্ষী
সঠিক উত্তর:
উভশৃঙ্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উভশৃঙ্গ
ব্যাখ্যা
• ব্যতিক্রম - উভশৃঙ্গ
- এটি শওকত ওসমান রচিত গল্পগ্রন্থ।
- বাকিগুলো শওকত ওসমান রচিত উপন্যাস।

শওকত ওসমান:
- ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি ছিলেন কথাসাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক।
- তাঁর প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান।
- উপন্যাস ও গল্প রচয়িতা হিসেবেই শওকত ওসমানের মুখ্য পরিচয়; তবে প্রবন্ধ, নাটক, রম্যরচনা, স্মৃতিকথা ও শিশুতোষ গ্রন্থও তিনি রচনা করেছেন। 
- তাঁর 'জননী' ও 'ক্রীতদাসের হাসি' উপন্যাস দুটি প্রশংসিত হয়েছে। জননীতে সামাজিক জীবন ও ক্রীতদাসের হাসিতে রাজনৈতিক জীবনের কিছু অন্ধকার দিক উন্মোচিত হয়েছে। 
- তিনি  বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬২), আদমজি সাহিত্য পুরস্কার (১৯৬৬), একুশে পদক (১৯৮৩), ফিলিপস পুরস্কার (১৯৯১), স্বাধীনতা দিবস পুরস্কার (১৯৯৭) লাভ করেন।
- তিনি ১৯৯৮ সালের ১৪ই মে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- ক্রীতদাসের হাসি, 
- সমাগম, 
- চৌরসন্ধি
- রাজা উপাখ্যান,
- পতঙ্গ পিঞ্জর,
- রাজসাক্ষী,
- পুরাতন খঞ্জর

তাঁর রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস:
- জাহান্নম হইতে বিদায়, 
- দুই সৈনিক, 
- নেকড়ে অরণ্য, 
- জলাংগী।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- পিঁজরাপোল, 
- জুনু আপা ও অন্যান্য গল্প,
- প্রস্তর ফলক, 
- উভশৃঙ্গ
- শ্রেষ্ঠ গল্প,
- জন্ম যদি তব বঙ্গে,
- ঈশ্বরের প্রতিদ্বন্দ্বী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২৭.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহাকাব্যিক উপন্যাস কোনটি?
  1. ক) সত্যাসত্য
  2. খ) বিষাদ-সিন্ধু
  3. গ) চিলেকোঠার সেপাই
  4. ঘ) গোরা
সঠিক উত্তর:
ক) সত্যাসত্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সত্যাসত্য
ব্যাখ্যা
অন্নদাশঙ্কর রায় একজন ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, কবি, চিন্তাবিদ। 
- তিনি উনিশ শতকের বাঙালি রেনেসাঁ ঐতিহ্যের শেষ বুদ্ধিজীবী হিসেবে অভিহিত।

বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহাকাব্যিক উপন্যাস 'সত্যাসত্য'। 
'সত্যাসত্য' ছয় খন্ডে ছয়টি নামে প্রকাশিত হয়। 
যথাক্রমে-
- যার যেথা দেশ (১৯৩২),
- অজ্ঞাতবাস (১৯৩৩),
- কলঙ্কবতী (১৯৩৪),
- দুঃখমোচন (১৯৩৬),
- মর্ত্যের স্বর্গ (১৯৪০),
- অপসরণ (১৯৪২)।

অন্নদাশঙ্কর রায় রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- অসমাপিকা,
- আগুন নিয়ে খেলা,
- পুতুল নিয়ে খেলা,
- সত্যাসত্য ইত্যাদি। 

[উৎস: বাংলাপিডিয়া]
২৮.
'তৃণাঙ্কুর' আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থের রচয়িতা -
  1. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. বুদ্ধদেব বসু
  4. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
সঠিক উত্তর:
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়: 
- তিনি ১৮৯৪ সালের ১২ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁচরাপাড়ার নিকটবর্তী ঘোষপাড়া-মুরারিপুর গ্রামে মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত ঔপন্যাসিক।
- ১৩২৮ বঙ্গাব্দের (১৯২১) মাঘ প্রবাসীতে প্রথম গল্প ‘উপেক্ষিতা’ প্রকাশের মধ্য দিয়ে বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাহিত্যিক জীবন শুরু হয়। 
- হেমন্তকুমার গুপ্তের সঙ্গে যৌথভাবে তিনি 'দীপক' (১৯৩২) পত্রিকা সম্পাদনা করেন।
- বাংলা কথাসাহিত্যে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের পরে বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ই সর্বাপেক্ষা জনপ্রিয় সাহিত্যিকের মর্যাদা পেয়েছেন।
- তাঁর শ্রেষ্ঠ রচনা 'পথের পাঁচালী'। প্রথম রচিত এই উপন্যাসের মাধ্যমেই তিনি বিপুল খ্যাতি অর্জন করেন। 'অপরাজিত', পথের পাঁচালীরই পরবর্তী অংশ।
- তাঁর রচিত আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ 'তৃণাঙ্কুর' (১৯৪৩)।
- 'ইছামতী' উপন্যাসের জন্য বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় মরণোত্তর ‘রবীন্দ্র-পুরস্কার’ (১৯৫১) লাভ করেন।
- ১৯৫০ সালে ব্যারাকপুরের ঘাটশিলায় তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- পথের পাঁচালী,
- অপরাজিত, 
- অশনি সংকেত,
- আরণ্যক,
- আদর্শ হিন্দু হোটেল,
- দেবযান, 
- ইছামতী,
- দৃষ্টি প্রদীপ, 
- অনুবর্তন ইত্যাদি।

তাঁর রচিত ছোটগল্পগ্রন্থ:
- মেঘমল্লার, 
- মৌরীফুল, 
- যাত্রাবদল, 
- কিন্নরদল ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২৯.
সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের বহুল প্রচলিত 'মেথর' কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. সবিতা
  2. বেণু ও বীণা
  3. কুহু ও কেকা
  4. অভ্র আবীর
সঠিক উত্তর:
কুহু ও কেকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুহু ও কেকা
ব্যাখ্যা
কুহু ও কেকা:
- এটি সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত রচিত কাব্যগ্রন্থ।
- এটি ১৯২২ সালে প্রকাশিত হয়।
- বহুল প্রচলিত 'মেথর' কবিতাটি এই কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।
- এই কাব্যগ্রন্থের উল্লেখযোগ্য অন্যান্য কবিতাগুলো: মধুমাসে, সহজিয়া, অকারণ, গ্রীষ্মের সুর, দরদী, ঝোড়ো হাওয়ায় ইত্যাদি।

সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত:
- তিনি ছিলেন কবি ও ছান্দসিক। 
- কলকাতার নিকটবর্তী নিমতা গ্রামে ১৮৮২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
- পিতা রজনীনাথ দত্ত ছিলেন কলকাতার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী এবং পিতামহ অক্ষয়কুমার দত্ত  ছিলেন তত্ত্ববোধিনী পত্রিকার সম্পাদক।
- সত্যেন্দ্রনাথ ছিলেন ভারতী পত্রিকাগোষ্ঠীর অন্যতম বিশিষ্ট কবি। 
-  বাংলা ভাষার নিজস্ব বাগধারা ও ধ্বনি সহযোগে নতুন ছন্দসৃষ্টি তাঁর কবিপ্রতিভার মৌলিক কীর্তি। এজন্য তিনি ‘ছন্দের জাদুকর’ ও ‘ছন্দোরাজ’ নামে সাধারণ্যে পরিচিত। 
- ১৯১৮ সালে ভারতী পত্রিকার বৈশাখ সংখ্যায়  ছন্দ সম্পর্কিত তাঁর প্রসিদ্ধ রচনা ‘ছন্দ-সরস্বতী’ প্রকাশিত হয়। 
- সত্যেন্দ্রনাথ একাধিক ছদ্মনামে কাব্যচর্চা করতেন, যেমন নবকুমার, কবিরত্ন, অশীতিপর শর্মা, ত্রিবিক্রম বর্মণ, কলমগীর ইত্যাদি।
- ১৯২২ সালের ২৫শে ফেব্রুয়ারি তাঁর মৃত্যু হয়।
- তাঁর মৃত্যুর পর রচিত 'সত্যেন-প্রয়াণ' কবিতা কাজী নজরুল ইসলাম লিখেন।

তাঁর রচিত বিখ্যাত কাব্য:
- সবিতা, 
- সন্ধিক্ষণ, 
- বেণু ও বীণা, 
- কুহু ও কেকা,
- অভ্র আবীর, 
- হসন্তিকা, 
- বেলা শেষের গান, 
- বিদায় আরতি, 
- কাব্যসঞ্চয়ন।

তাঁর রচিত অনুবাদকাব্য:
-  তীর্থরেণু, 
- মণি মঞ্জুষা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া এবং কুহু ও কেকা কাব্যগ্রন্থ।
৩০.
Who has written the famous novel 'Pather Panchali'?
  1. ক) Satyjit Ray
  2. খ) Bibhutibhushan Bandyopadhyay
  3. গ) Chintha Lakshmi Smhaarachchi
  4. ঘ) K. Roy and Margaret Chatterjee
সঠিক উত্তর:
খ) Bibhutibhushan Bandyopadhyay
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) Bibhutibhushan Bandyopadhyay
ব্যাখ্যা
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিখ্যাত উপন্যাস পথের পাঁচালী।
এই উপন্যাসের দ্বিতীয় খন্ড অপরাজিত ১৯৩১ সালে প্রকাশিত হয়।
পথের পাঁচালী উপন্যাস নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন সত্যজিৎ রায়।

প্রধান চরত্রিগুলো হলো :
- অপু
- সর্বজায়া
- হরিহর
- অপর্ণা

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
৩১.
'মার্কসবাদী' কবি বলা হয় কাকে?
  1. শামসুর রাহমান
  2. বিষ্ণু দে
  3. বুদ্ধদেব বসু
  4. নির্মলেন্দু গুণ
সঠিক উত্তর:
বিষ্ণু দে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিষ্ণু দে
ব্যাখ্যা
• বিষ্ণু দে- কে 'মার্কসবাদী' কবি বলা হয়। 
------------- 
বিষ্ণু দে:
- তিনি ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক, চিত্রসমালোচক ও শিল্পানুরাগী।
- ১৯০৯ সালের ১৮ জুলাই  কলকাতার পটলডাঙ্গায় তাঁর জন্ম।
- তাঁর পিতা অবিনাশচন্দ্র দে ছিলেন অ্যাটর্নি।
- বিষ্ণু দে ত্রিশোত্তর বাংলা কবিতার নব্যধারার আন্দোলনের প্রধান পাঁচজন কবির অন্যতম ছিলেন।
- তিনি মার্কসবাদী চেতনায় উদ্বুদ্ধ ছিলেন।
- বিষ্ণু দে মার্কসীয় তত্ত্বকে জীবনাবেগ ও শিল্পসম্মত করে রচনায় উপস্থাপনার ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জন করেন।
 
তাঁর সাহিত্যকর্ম:
কাব্যগ্রন্থ:
- উর্বশী ও আর্টেমিস,
- চোরাবালি,
- সাত ভাই চম্পা,
- স্মৃতি সত্তা ভবিষ্যত ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
শামসুর রাহমান, বুদ্ধদেব বসুকে -নাগরিক কবি বলা হয়।
নির্মলেন্দু গুণ কে -কবিদের কবি বলা হয়।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
৩২.
দীনবন্ধু মিত্রের রচনা কোনটি?
  1. কবিতার কথা
  2. চতুর্দশপদী কবিতাবলী
  3. দ্বাদশ কবিতা
  4. শেষের কবিতা
সঠিক উত্তর:
দ্বাদশ কবিতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বাদশ কবিতা
ব্যাখ্যা
• দীনবন্ধু মিত্রের রচনা - দ্বাদশ কবিতা
- এটি তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ।
- গ্রন্থটি ১৮৭২ সালে প্রকাশিত হয়।

দীনবন্ধু মিত্র: 
- ১৮৩০ সালে পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার চৌবেড়িয়া গ্রামে এক দরিদ্র পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- রায়বাহাদুর দীনবন্ধু মিত্র একজন নাট্যকার ছিলেন।
- তাঁর পিতৃদত্ত নাম গন্ধর্বনারায়ণ। 
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের অনুপ্রেরণায় কবিতা লিখতেন।
- তিনি কলেজে পড়ার সময়ই ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের সংস্পর্শে গিয়ে 'সংবাদ প্রভাকর', 'সংবাদ সাধুরঞ্জন' প্রভৃতি পত্রিকায় কবিতা লিখতে শুরু করেন।
- তবে নাটক ও প্রহসন লিখেই তিনি সর্বাধিক খ্যাতি অর্জন করেন।
- 'নীলদর্পণ' তাঁর শ্রেষ্ঠ নাটক এবং শ্রেষ্ঠ রচনাও।
- ১৮৭৩ সালের ১ নভেম্বর তাঁর অকাল মৃত্যু ঘটে।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- দ্বাদশ কবিতা,
- সুরধুনী কাব্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৩৩.
সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কোন গ্রন্থ লিখে প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন?
  1. Bengal Ryots
  2. Bengal Ryots: Their Rights
  3. Bengal Ryots: Their Liabilities
  4. Bengal Ryots: Their Rights and Liabilities
সঠিক উত্তর:
Bengal Ryots: Their Rights and Liabilities
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Bengal Ryots: Their Rights and Liabilities
ব্যাখ্যা
সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- তিনি ছিলেন সাংবাদিক, লেখক, পণ্ডিত।
- পশ্চিমবঙ্গের চবিবশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে তাঁর জন্ম।
- পিতা যাদবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ছিলেন পূর্ববর্তী স্বদেশী ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেটদের একজন।
- একজন স্বশিক্ষিত ব্যক্তি হিসেবে তিনি ইংরেজি সাহিত্য, বিজ্ঞান, ইতিহাস ও আইনে বিশেষ ব্যুৎপত্তি লাভ করেন। 
- প্রতিভার স্বীকৃতিস্বরূপ সরকার তাঁকে ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট পদে নিয়োগ করে। 
 - তাঁর অনুজ সাহিত্যসম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ও ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট ছিলেন। 
- তিনি বাংলা সাপ্তাহিক পত্রিকা ‘ভ্রমর’ সম্পাদনা করেন। অতঃপর তিনি ‘বঙ্গদর্শন’- এর সম্পাদক হিসেবে যোগ দেন।
- তিনি 'Bengal Ryots: Their Rights and Liabilities' (১৮৬৪) গ্রন্থ লিখে প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাসগ্রন্থ:
- কণ্ঠমালা,
- মাধবীলতা।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- রামেশ্বরের অদৃষ্ট।

তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- যাত্রা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৩৪.
সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়-এর 'কেউ কথা রাখেনি' কবিতায় “চন্দ্রভূক অমাবস্যা” দ্বারা কী বোঝানো হয়েছে?
  1. মানসিক শূন্যতা
  2. প্রাচুর্যের দিন 
  3. দীর্ঘ সময়ের প্রতীক্ষা
  4. পূজার আয়োজন
সঠিক উত্তর:
দীর্ঘ সময়ের প্রতীক্ষা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দীর্ঘ সময়ের প্রতীক্ষা
ব্যাখ্যা

• সঠিক উত্তর: গ) দীর্ঘ সময়ের প্রতীক্ষা।

ব্যাখ্যা:
• “চন্দ্রভূক অমাবস্যা” সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘কেউ কথা রাখেনি’ কবিতায় একটি অত্যন্ত শক্তিশালী রূপক। এটি কবির সৃষ্ট এক কাব্যিক শব্দবন্ধ, যা জ্যোতির্বিদ্যা ও পুরাণের উপাদানকে গভীর আবেগের সঙ্গে মিশিয়ে দিয়েছে।

• চন্দ্রভূক: সংস্কৃত জাত শব্দ, যার অর্থ — "যে চাঁদকে ভক্ষণ করে"। এটি রাহু-কে নির্দেশ করে, যা পুরাণ অনুযায়ী  চাঁদকে গ্রাস করে (যেমন চন্দ্রগ্রহণে)।
• অমাবস্যা: চাঁদহীন রাত, অন্ধকার, অভাব, শেষ — এই সবের প্রতীক।

অর্থাৎ, “চন্দ্রভূক অমাবস্যা” হলো এমন অমাবস্যা যেখানে চাঁদ শুধু নেই, তা-ই নয় বরং তা গ্রাস করা হয়েছে — অর্থাৎ আশা নিঃশেষিত, প্রত্যাশা ধ্বংসপ্রাপ্ত।

কবিতার প্রেক্ষাপট:
“কেউ কথা রাখেনি, তেত্রিশ বছর কাটলো, কেউ কথা রাখেনি
ছেলেবেলায় এক বোষ্টুমী তার আগমনী গান হঠাৎ থামিয়ে বলেছিল
শুক্লা দ্বাদশীর দিন অন্তরাটুকু শুনিয়ে যাবে,
তারপর কত চন্দ্রভূক অমাবস্যা চলে গেলো, কিন্তু সেই বোষ্টুমী আর এলোনা
পঁচিশ বছর প্রতীক্ষায় আছি। "

• এখানে কথক বহু বছর ধরে একটি প্রতিশ্রুতির জন্য অপেক্ষা করছে — যে প্রতিশ্রুতি পূরণ হয়নি। অর্থাৎ, বোষ্টুমীর প্রতিশ্রুত গানের অন্তরা শোনার জন্য কবি অপেক্ষা করছেন, কিন্তু অনেক অমাবস্যা (অর্থাৎ অনেক মাস বা বছর) পার হয়ে গেলেও সে আসেনি। প্রতিটি অমাবস্যা যেন আশাকে আরও গ্রাস করে ফেলছে, অন্ধকারকে আরও ঘন করে তুলছে।

• রূপকটি কবিতার মূল থিমের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত: যেখানে শৈশব থেকে যৌবন পর্যন্ত (তেত্রিশ বছর) একের পর এক প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের মধ্যে দীর্ঘ-নিষ্ফল প্রতীক্ষা এবং তার ফলে জমে ওঠা নিরাশা প্রকাশ পেয়েছে। এই “চন্দ্রভূক অমাবস্যা” দ্বারা কবি সেই অন্ধকার, নিরাশা ও দীর্ঘ প্রতীক্ষার বার্তা দিচ্ছেন। প্রতিটি অমাবস্যা যেন আশাকে গ্রাস করে ফেলছে — তবুও সে অপেক্ষা করে যাচ্ছে। এটি কেবল মানসিক শূন্যতা" নয়, কারণ শূন্যতার চেয়ে এখানে সময়ের দীর্ঘ যাত্রা ও প্রতীক্ষার ব্যর্থতা বেশি গুরুত্বপূর্ণ — যেখানে প্রতিটি চক্র আলোর পরিবর্তে আরও অন্ধকার নিয়ে আসে, তবু কথক অপেক্ষা করে যান।

• এই পঙ্‌ক্তিতে স্পষ্টভাবে দীর্ঘকাল ধরে প্রতীক্ষা করেও কিছু না পাওয়ার বেদনা প্রকাশ পেয়েছে। তাই এখানে “চন্দ্রভূক অমাবস্যা” রূপক হিসেবে দীর্ঘকালীন প্রতীক্ষা নির্দেশ করছে।

উৎস: 'কেউ কথা রাখেনি' কবিতা সাহিত্য পাঠ।

৩৫.
'ছন্দ সরস্বতী’ কার রচনা?
  1. সুকুমার রায়
  2. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. সত্যেন্দনাথ দত্ত
  4. শওকত ওসমান
সঠিক উত্তর:
সত্যেন্দনাথ দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সত্যেন্দনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা
ছন্দের যাদুকর সত্যেন্দনাথ দত্ত
- সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত ১৮৮২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি কলকাতার অদূরে নিমতা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা শব্দের সঙ্গে আরবি-ফার্সি শব্দের সমন্বিত ব্যবহার দ্বারা বাংলা কাব্যভাষার শক্তি বৃদ্ধির প্রাথমিক কৃতিত্ব তারই।
- মাত্র চল্লিশ বছর বয়সে ১৯২২ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি তারিখে কবি সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত পরলোকগমন করেন।

♦♦ সাহিত্যকর্ম: 
- ১৯১৮ সালে সত্যেন্দ্রনাথের ছন্দ-সম্পর্কিত প্রসিদ্ধ রচনা ‘ছন্দ সরস্বতী’ ভারতী পত্রিকায় প্রকাশিত হলে চারদিকে তাঁর খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে। 
- সাহিত্যে ছন্দের কারুকাজ, শব্দ ও ভাষা যথোপযুক্ত ব্যবহারের কৃতিত্বের জন্য রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কবি সত্যেন্দ্রনাথ দত্তকে ‘ছন্দের যাদুকর’ নামে আখ্যায়িত করেন। 

♦ কাব্যগ্রন্থ: 
- সবিতা,
- সন্ধিক্ষণ,
- বেণু ও বীণা,
- কুহু ও কেকা,
- তুলির লিখন, 
- অভ্র-আবীর, 
- বেলা শেষের গান ইত্যাদি।

♦ অনুবাদ:
- তীর্থ সলীল,
- তীর্থ রেণু, 
- ফুলের ফসল ইত্যাদি।  

তথ্যসূত্র - ১. যুগান্তর,
২. বাংলাপিডিয়া।
৩৬.
'আঠারো বছর বয়স' কবিতাটি সুকান্ত ভট্টাচার্যের কোন কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত হয়েছে?
  1. ছাড়পত্র
  2. পূর্বাভাস
  3. অভিযান
  4. হরতাল
সঠিক উত্তর:
ছাড়পত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ছাড়পত্র
ব্যাখ্যা
আঠারো বছর বয়স:
- কবিতাটি সুকান্ত ভট্টাচার্যের 'ছাড়পত্র' কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত হয়েছে।
- কবিতাটির স্তবক সংখ্যা আট।
- কবিতাটি মাত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত।
- কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের ধারণায় সব অন্যায়ের বিরুদ্ধাচরণ করে ১৮ বছর বয়স।
- কবিতার মূল বৈশিষ্ট্য:
• যৌবনের উদ্দীপনা,
• সাহসিকতা,
• দুর্বার গতি।

সুকান্ত ভট্টাচার্য:
- তিনি ছিলেন মার্কসবাদী ভাবধারায় বিশ্বাসী এবং প্রগতিশীল চেতনার অধিকারী তরুণ কবি।
- ১৯২৬ সালের ১৫ আগস্ট কলকাতায় মাতুলালয়ে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল ফরিদপুর জেলার কোটালিপাড়ায়। 
- সুকান্ত ভট্টাচার্য কমিউনিস্ট পার্টির পত্রিকা দৈনিক স্বাধীনতা-র (১৯৪৫) ‘কিশোর সভা’ বিভাগ সম্পাদনা করতেন।
- সুকান্তের সাহিত্য-সাধনার মূল ক্ষেত্র ছিল কবিতা। সাধারণ মানুষের জীবনসংগ্রাম, যন্ত্রণা ও বিক্ষোভ তাঁর কবিতার প্রধান বিষয়বস্তু।
- তাঁর রচনাকর্মে গণমানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার বাণীসহ শোষণহীন এক নতুন সমাজ গড়ার অঙ্গীকার উচ্চারিত হয়েছে।
- ‘এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাবো আমি' - সুকান্ত ভট্টাচার্যের বিখ্যাত উক্তি।
- তিনি ২৯শে বৈশাখ, ১৩৫৪; ১৩ই মে, ১৯৪৭ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ:
- ছাড়পত্র,
- ঘুম নেই,
- পূর্বাভাস,
- অভিযান,
- হরতাল,
- গীতিগুচ্ছ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৩৭.
কোনটি শুদ্ধ?
  1. অসম্ভবের পায়ে (উপন্যাস)
  2. আরো দুটি মৃত্যু (গল্পগ্রন্থ)
  3. মাল্যবান (প্রবন্ধগ্রন্থ)
  4. শিউলি (গল্পগ্রন্থ)
সঠিক উত্তর:
আরো দুটি মৃত্যু (গল্পগ্রন্থ)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আরো দুটি মৃত্যু (গল্পগ্রন্থ)
ব্যাখ্যা
আরো দুটি মৃত্যু:
- হাসান হাফিজুর রহমান রচিত গল্পগ্রন্থ
- এটি ১৯৭০ সালে প্রকাশিত হয়।

অন্যদিকে,
অসম্ভবের পায়ে:
- রফিক আজাদ রচিত কাব্যগ্রন্থ
- এটি ১৯৭৩ সালে প্রকাশিত হয়।

মাল্যবান:
- জীবনানন্দ দাশ রচিত উপন্যাস
- এটি ১৯৭৩ সালে প্রকাশিত হয়।

শিউলি:
- হাসান আজিজুল হক রচিত উপন্যাস
- এটি ২০০৬ সালে প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৮.
সুকান্ত ভট্টাচার্যের সাহিত্য-সাধনার মূল ক্ষেত্র কী ছিল?
  1. উপন্যাস
  2. কবিতা
  3. গল্প
  4. ছড়া
সঠিক উত্তর:
কবিতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কবিতা
ব্যাখ্যা
সুকান্ত ভট্টাচার্য:
- তিনি ছিলেন মার্কসবাদী ভাবধারায় বিশ্বাসী এবং প্রগতিশীল চেতনার অধিকারী তরুণ কবি।
- ১৯২৬ সালের ১৫ আগস্ট কলকাতায় মাতুলালয়ে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল গোপালগঞ্জ জেলার কোটালিপাড়ায়। 
- সুকান্ত ভট্টাচার্য কমিউনিস্ট পার্টির পত্রিকা দৈনিক স্বাধীনতা-র (১৯৪৫) ‘কিশোর সভা’ বিভাগ সম্পাদনা করতেন।
- সুকান্ত ভট্টাচার্যের সাহিত্য-সাধনার মূল ক্ষেত্র ছিল কবিতা। সাধারণ মানুষের জীবনসংগ্রাম, যন্ত্রণা ও বিক্ষোভ তাঁর কবিতার প্রধান বিষয়বস্তু।
- তাঁর রচনাকর্মে গণমানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার বাণীসহ শোষণহীন এক নতুন সমাজ গড়ার অঙ্গীকার উচ্চারিত হয়েছে।
- ‘এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাবো আমি' - সুকান্ত ভট্টাচার্যের বিখ্যাত উক্তি।
- তিনি ২৯শে বৈশাখ, ১৩৫৪; ১৩ই মে, ১৯৪৭ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ:
- ছাড়পত্র,
- ঘুম নেই,
- পূর্বাভাস,
- মিঠে কড়া,
- অভিযান,
- হরতাল,
- গীতিগুচ্ছ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৩৯.
কোনটি ঠিক নয়?
  1. অন্তিম শরের মতো (প্রবন্ধগ্রন্থ)
  2. পল্লীবধূ  (নাটক)
  3. রোদে যাবো (গল্পগ্রন্থ)
  4. সশস্ত্র সুন্দর (কাব্যগ্রন্থ)
সঠিক উত্তর:
অন্তিম শরের মতো (প্রবন্ধগ্রন্থ)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অন্তিম শরের মতো (প্রবন্ধগ্রন্থ)
ব্যাখ্যা
অন্তিম শরের মতো:
- হাসান হাফিজুর রহমান রচিত কবিতাগ্রন্থ
- এটি ১৯৬৮ সালে প্রকাশিত হয়।

অন্যদিকে,
পল্লীবধূ:
- জসীম উদ্‌দীন রচিত নাটক
- এটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত হয়।

রোদে যাবো:
- হাসান আজিজুল হক রচিত গল্পগ্রন্থ
- এটি ১৯৯৫ সালে প্রকাশিত হয়।

সশস্ত্র সুন্দর:
- রফিক আজাদ রচিত কাব্যগ্রন্থ
- এটি ১৯৮২ সালে প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪০.
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত গল্প নয় কোনটি?
  1. অগ্রদানী
  2. বেদেনী
  3. রসকলি
  4. রাধা
সঠিক উত্তর:
রাধা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাধা
ব্যাখ্যা
• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত গল্প নয় - রাধা
- এটি তাঁর রচিত উপন্যাস।

তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়:
- তিনি ১৮৯৮ সালে পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলায় এক জমিদারবংশে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন কথাসাহিত্যিক, রাজনীতিবিদ।
- তাঁর রচিত প্রথম গল্প ‘রসকলি’ সেকালের বিখ্যাত পত্রিকা কল্লোল-এ প্রকাশিত হয়।
- তাঁর রচিত ত্রয়ী উপন্যাস - ধাত্রীদেবতা, গণদেবতা, পঞ্চগ্রাম। 
- আদিবাসী সাঁওতাল বিদ্রোহ নিয়ে তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাস 'অরণ্যবহ্নি' (১৯৬৬)।
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম নিয়ে রচিত তাঁর উপন্যাসের নাম 'একটি কালো মেয়ের কথা' (১৯৭১)।
- তিনি 'পদ্মশ্রী' ও 'পদ্মভূষণ' উপাধি লাভ করেন।
- ১৯৭১ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর তাঁর মৃত্যু হয়। 

তাঁর রচিত উপন্যাস: 
- চৈতালি ঘূর্ণি, 
- ধাত্রীদেবতা, 
- কালিন্দী, 
- কবি, 
- হাঁসুলী বাঁকের উপকথা, 
- গণদেবতা, 
- আরগ্য নিকেতন, 
- পঞ্চপুণ্ডলী, 
- রাধা ইত্যাদি। 

তাঁর রচিত গল্প:
- রসকলি
- বেদেনী
- ডাকহরকরা,
- জলসাঘর,
- অগ্রদানী। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৪১.
হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'আশাকানন' কোন জাতীয় গ্রন্থ?
  1. আখ্যান কাব্য
  2. খণ্ড কবিতার সংকলন
  3. মহাকাব্য
  4. রূপক কাব্য
সঠিক উত্তর:
রূপক কাব্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রূপক কাব্য
ব্যাখ্যা
হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়:
- কবি, আইনজীবী হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়ে জন্ম ১৮৩৮ সালের ১৭ এপ্রিল হুগলির গুলিটা গ্রামে মাতামহের বাড়িতে।
- হেমচন্দ্রের প্রধান পরিচয় একজন দেশপ্রেমিক কবি হিসেবে।
- হিন্দু জাতীয়তাবাদের আদর্শে তিনি তাঁর রচনায় দেশপ্রেমকে তুলে ধরেন।
- ১৮৭২ সালের জুলাই মাসে এডুকেশন গেজেট-এ তাঁর ‘ভারতসঙ্গীত’ কবিতাটি প্রকাশিত হলে ব্রিটিশ সরকার তাঁর প্রতি রুষ্ট হন, এমনকি পত্রিকার সম্পাদক ভূদেব মুখোপাধ্যায়কেও এজন্য জবাবদিহি করতে হয়।
- হেমচন্দ্রের প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'চিন্তাতরঙ্গিণী' ১৮৬১ সালে প্রকাশিত হয়।
- কিন্তু তাঁর শ্রেষ্ঠ রচনা হচ্ছে 'বৃত্রসংহার' (২ খণ্ড, ১৮৭৫-৭৭) মহাকাব্য। মহাভারতের কাহিনি অবলম্বনে রচিত এ কাব্যে মূলত সমসাময়িক সমাজের অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায়ের জয় ঘোষিত হয়েছে।
- ১৯০৩ সালের ২৪ মে  খিদিরপুরে নিঃসহায় ও নিঃস্ব অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্য:
- বীরবাহু কাব্য (আখ্যান কাব্য),
- আশাকানন (রূপক কাব্য),
- কবিতাবলী (খণ্ড কবিতার সংকলন),
- ছায়াময়ী,
- দশমহাবিদ্যা,
- চিত্তবিকাশ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৪২.
'অগ্রদানী' গল্পের রচয়িতা কে?
  1. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. হাসান আজিজুল হক
  3. হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. হুমায়ুন কবির
সঠিক উত্তর:
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• 'অগ্রদানী' গল্পের রচয়িতা - তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়

অগ্রদানী:
- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের গল্পগুলোর একটি 'অগ্রদানী'।
- গরিব পূর্ণ চক্রবর্তী রাজভোগের আশায় কৌশলে নিজপুত্রকে তুলে দেয় শ্যামাদাস জমিদারের হাতে।
- কিন্তু সেই পুত্রের অকাল মৃত্যু হলে তার শ্রাদ্ধে পিণ্ডভক্ষণ কালে লোভী চক্রবর্তী তার ভুল বুঝতে পারে।
- কিন্তু নিয়তির শাস্তির হাত থেকে সে রক্ষা পায় না। এরকম কাহিনিতে গল্পটি রচিত হয়েছে।
- গল্পটিতে প্রথম প্রকাশিত হয় ১৩৪৩ বঙ্গাব্দের চৈত্র সংখ্যা 'প্রবাসী' পত্রিকায়। পরে 'রসকলি' গল্পগ্রন্থে ১৯৩৮ সালে স্থান পায়।

তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়:
- তিনি ১৮৯৮ সালে পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলায় এক জমিদারবংশে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন কথাসাহিত্যিক, রাজনীতিবিদ।
- তাঁর রচিত প্রথম গল্প ‘রসকলি’ সেকালের বিখ্যাত পত্রিকা কল্লোল-এ প্রকাশিত হয়।
- তাঁর রচিত ত্রয়ী উপন্যাস - ধাত্রীদেবতা, গণদেবতা, পঞ্চগ্রাম। 
- আদিবাসী সাঁওতাল বিদ্রোহ নিয়ে তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাস 'অরণ্যবহ্নি' (১৯৬৬)।
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম নিয়ে রচিত তাঁর উপন্যাসের নাম 'একটি কালো মেয়ের কথা' (১৯৭১)।
- তিনি 'পদ্মশ্রী' ও 'পদ্মভূষণ' উপাধি লাভ করেন।
- ১৯৭১ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর তাঁর মৃত্যু হয়। 

তাঁর রচিত গল্প:
- রসকলি, 
- বেদেনী, 
- ডাকহরকরা,
- জলসাঘর,
- অগ্রদানী। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৪৩.
বাংলা রাজনৈতিক কবিতার ইতিহাসে সুকান্ত ভট্টাচার্য রচিত কোন গ্রন্থটি স্মরণীয়?
  1. অভিযান
  2. ঘুম নেই
  3. ছাড়পত্র
  4. পূর্বাভাস
সঠিক উত্তর:
ছাড়পত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ছাড়পত্র
ব্যাখ্যা
ছাড়পত্র:
- 'ছাড়পত্র' (১৯৪৭) কবির মৃত্যুর তিনমাস পর প্রকাশিত হয়।
- এটি বাংলা রাজনৈতিক কবিতার ইতিহাসে একটি স্মরণীয় গ্রন্থ
- এই গ্রন্থের অনেক কবিতা বলিষ্ঠ উচ্চারণে এবং মৌলিক চিত্রকল্প সৃষ্টিতে অসামান্য।
- 'এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাবো আমি / নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার' - এই পঙ্‌ক্তিগুলো কাব্যটিকে মহিমান্বিত করেছে।

সুকান্ত ভট্টাচার্য:
- তিনি ছিলেন মার্কসবাদী ভাবধারায় বিশ্বাসী এবং প্রগতিশীল চেতনার অধিকারী তরুণ কবি।
- ১৯২৬ সালের ১৫ আগস্ট কলকাতায় মাতুলালয়ে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল গোপালগঞ্জ জেলার কোটালিপাড়ায়। 
- সুকান্ত ভট্টাচার্য কমিউনিস্ট পার্টির পত্রিকা দৈনিক স্বাধীনতা-র (১৯৪৫) ‘কিশোর সভা’ বিভাগ সম্পাদনা করতেন।
- সুকান্ত ভট্টাচার্যের সাহিত্য-সাধনার মূল ক্ষেত্র ছিল কবিতা। সাধারণ মানুষের জীবনসংগ্রাম, যন্ত্রণা ও বিক্ষোভ তাঁর কবিতার প্রধান বিষয়বস্তু।
- তাঁর রচনাকর্মে গণমানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার বাণীসহ শোষণহীন এক নতুন সমাজ গড়ার অঙ্গীকার উচ্চারিত হয়েছে।
- 'এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাবো আমি' - সুকান্ত ভট্টাচার্যের বিখ্যাত উক্তি।
- তিনি ২৯শে বৈশাখ, ১৩৫৪; ১৩ই মে, ১৯৪৭ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ:
- ছাড়পত্র,
- ঘুম নেই,
- পূর্বাভাস,
- মিঠে কড়া,
- অভিযান,
- হরতাল,
- গীতিগুচ্ছ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৪৪.
সারদামঙ্গল কাব্যের রচয়িতা কে?
  1. ক) দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  2. খ) সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  3. গ) সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  4. ঘ) বিহারীলাল চক্রবর্তী
সঠিক উত্তর:
ঘ) বিহারীলাল চক্রবর্তী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) বিহারীলাল চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
• বিহারীলাল চক্রবর্তী, (১৮৩৫-১৮৯৪) আধুনিক বাংলা গীতিকবিতার অন্যতম পুরোধা এবং রবীন্দ্রনাথের কাব্যগুরু হিসেবে পরিচিত।

বিহারীলালের রচনাবলির মধ্যে:
- স্বপ্নদর্শন,
- সঙ্গীতশতক,
- বন্ধুবিয়োগ,
- প্রেমপ্রবাহিণী,
- নিসর্গসন্দর্শন,
- বঙ্গসুন্দরী,
- সারদামঙ্গল,
- নিসর্গসঙ্গীত,
- মায়াদেবী,
- দেবরাণী,
- বাউলবিংশতি,
- সাধের আসন এবং
- ধূমকেতু  উল্লেখযোগ্য।

• ‘সারদামঙ্গল’ কাব্য বিহারীলালের শ্রেষ্ঠ রচনা। এটি আধুনিক বাংলা সাহিত্যের একটি স্তম্ভস্বরূপ। এর মাধ্যমেই তিনি উনিশ শতকের গীতিকবিদের গুরুস্থানীয় হয়েছেন। রবীন্দ্রনাথ এ কাব্যটি পড়ে নানাভাবে প্রভাবিত হয়েছেন এবং বিহারীলালকে আখ্যায়িত করেছেন ‘ভোরের পাখি’ বলে।

• বিহারীলাল কাব্যচর্চার পাশাপাশি পত্রিকা সম্পাদনার কাজও করেছেন। তাঁর সম্পাদিত পত্রিকা: পূর্ণিমা, সাহিত্য-সংক্রান্তি, অবোধবন্ধু প্রভৃতি। এসব পত্রিকায় অন্যদের রচনার পাশাপাশি তাঁর নিজের রচনাও প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়া  ভারতী,  সোমপ্রকাশ, কল্পনা  প্রভৃতি পত্রিকায়ও তাঁর রচনা প্রকাশিত হয়েছে। বিহারীলাল ১৮৯৪ সালের ২৪ মে মৃত্যুবরণ করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৪৫.
শেকসপীয়রের 'ম্যাকবেথ' নাটকের বাংলা অনুবাদ করেন কে?
  1. কাজী মোতাহার হোসেন
  2. গিরিশচন্দ্র ঘোষ
  3. গোলাম মোস্তফা
  4. হাসান হাফিজুর রহমান
সঠিক উত্তর:
গিরিশচন্দ্র ঘোষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গিরিশচন্দ্র ঘোষ
ব্যাখ্যা
• শেকসপীয়রের 'ম্যাকবেথ' নাটকের বাংলা অনুবাদ করেন - গিরিশচন্দ্র ঘোষ

গিরিশচন্দ্র ঘোষ:
- ১৮৪৪ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি কলকাতার বাগবাজারে তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন নাট্যকার, নাট্যপরিচালক, মঞ্চাভিনেতা।
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের প্রভাবে তিনি প্রথমে গান ও কবিতা লিখতে শুরু করেন এবং পরে নাট্যমঞ্চের সঙ্গে যুক্ত হলে নাটকও লিখতে থাকেন।
- ১৮৬৭ সালে বাগবাজার সখের যাত্রাদল-প্রযোজিত মধুসূদনের 'শর্মিষ্ঠা' নাটকের গীতিকার হিসেবে গিরিশচন্দ্র নাট্যজগতে প্রবেশ করেন।
- দীনবন্ধু মিত্রের 'সধবার একাদশী' প্রহসনে তিনি 'নিমচাঁদ' চরিত্রে অভিনয় করেন।
- প্রেমভক্তি, স্বদেশপ্রেম ও সমকালীন সামাজিক সমস্যা গিরিশচন্দ্রের নাটকের বিষয়বস্তু।
- মধুসূদনের চৌদ্দ মাত্রার অমিত্রাক্ষর ছন্দকে ভেঙ্গে তিনি অভিনয়ের উপযোগী ছোট ছোট ছত্রে বিন্যস্ত করেন।
- তাঁর নামানুসারে এ ছন্দের নাম হয় ‘গৈরিশ ছন্দ’। 
- তিনি শেকসপীয়রের 'ম্যাকবেথ' (১৮৯৩) নাটকের বাংলা অনুবাদ করেন এবং বঙ্কিমচন্দ্রের 'মৃণালিনী', 'বিষবৃক্ষ' ও 'দুর্গেশনন্দিনী' উপন্যাস, মধুসূদনের  'মেঘনাদবধ কাব্য' ও নবীনচন্দ্রের 'পলাশীর যুদ্ধ' কাব্যের নাট্যরূপ দেন।
-  ১৯১২ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি এ মহান অভিনেতা ও নাট্যকার কলকাতায় পরলোক গমন করেন। 

 • তাঁর রচিত নাটক:
- আগমনী,
- অভিমন্যুবধ, 
- সীতার বনবাস,
- সীতাহরণ,
- পাণ্ডবের অজ্ঞাতবাস,
- প্রফুল্ল,
- জনা,
- বলিদান,
- সিরাজদ্দৌলা,
- মীরকাশিম,
- ছত্রপতি শিবাজী,
- শঙ্করাচার্য,
- বিল্বমঙ্গল ঠাকুর। 

তাঁর রচিত প্রহসন:
- যামিনী চন্দ্রমাহীনা,
- গোপন চুম্বন,
- ভোটমঙ্গল,
- বেল্লিক বাজার ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৪৬.
সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম নয় কোনটি?
  1. নীল উপাধ্যায়
  2. নীল লোহিত
  3. নীল উপাখ্যান
  4. সনাতন পাঠক
সঠিক উত্তর:
নীল উপাখ্যান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নীল উপাখ্যান
ব্যাখ্যা
• 'নীল উপাখ্যান' - সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম নয়।  

• সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম: 
- নীল উপাধ্যায়,
- নীল লোহিত,
- সনাতন পাঠক।

⇒ সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়:
- সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় কবি ও উপন্যাসিক হিসেবে পশ্চিমবঙ্গের সাহিত্যে একটি শ্রেষ্ঠত্বের আসন লাভ করেছিলেন।
- তবে কবি হিসেবে তাঁর পরিচিতির চেয়ে ঔপন্যাসিক হিসেবে বেশি খ্যাতিলাভ করেছিলেন।
- সমকালীন জীবনের চিত্র ফুটিয়ে তুলতে তিনি বিশেষ কৃতিত্বের পরিচয় দিয়ে গেছেন।
- সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের জন্ম বর্তমান বাংলাদেশের ফরিদপুর জেলায়। 
- কবিতা দিয়ে তাঁর সাহিত্য সাধনা শুরু।
- তাঁর প্রথম কবিতা 'একটি চিঠি' প্রকাশিত হয়েছিল 'দেশ' পত্রিকায় ১৯৫১ সালে।
- তাঁর রচিত ছোটগল্প 'খাঁচা' প্রথম প্রকাশিত হয় রমাপদ চৌধুরী সম্পাদিত 'ইন্দানীং' পত্রিকায়।
- তাঁর প্রথম উপন্যাস 'আত্মপ্রকাশ ১৯৬৪ সালে প্রকাশিত হয়।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থগুলো হলো:
- একা এবং কয়েকজন,
- হঠাৎ নীরার জন্য,
- ভোর বেলার উপহার,
- সেই মুহূর্তে নীরা,
- কায়দাটা শিখে নেবে' ইত্যাদি ।

• সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের উপন্যাসগুলো হল:
- আত্মপ্রকাশ,
- ছায়া দর্শন,
- অন্য জীবনের স্বাদ,
- স্বপ্ন সম্ভব,
- সুনীলের সাতদিন,
- বাণী ও অবিনাশ,
- প্রথম আলো।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
৪৭.
‘হাঁসুলি বাঁকের উপকথা’–র পটভূমি কোন নদীকে ঘিরে গড়ে উঠেছে? 
  1. কোপাই
  2. পবন
  3. দামোদর
  4. অজয়
সঠিক উত্তর:
কোপাই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোপাই
ব্যাখ্যা

‘হাঁসুলি বাঁকের উপকথা’–র পটভূমি কোপাই নদীকে ঘিরে গড়ে উঠেছে।
----------------------------------------
হাঁসুলি বাঁকের উপকথা:
- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত হাঁসুলি বাঁকের উপকথা  ১৯৫১সালে প্রকাশিত একটি বিখ্যাত আঞ্চলিক উপন্যাস।
- উপন্যাসটি কোপাই নদীর তীরে বাঁশবাঁদি গ্রামের কাহার সমাজের জীবনচিত্র নিয়ে রচিত।
- এতে গ্রামীণ জীবনের দারিদ্র্য, জমিদারী ব্যবস্থার বৈষম্য এবং যন্ত্রসভ্যতার আগমনে প্রাচীন কৃষিনির্ভর জীবনের টানাপোড়ন স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
- কাহারদের লোকবিশ্বাস, সংস্কার, উৎসব, শিকার, সঙ্গীত—এসবই লেখক গভীর বাস্তবতায় চিত্রিত করেছেন।
- উপন্যাসটি প্রথমে ১৩৫৩ সালের শারদীয় আনন্দবাজারে ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয় এবং পরে গ্রন্থাকারে বের হয়।
- বইটি উৎসর্গ করা হয় কবিশেখর কালিদাস রায়কে।
----------------------------------------------
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়:
- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় (১৮৯৮–১৯৭১) ছিলেন বাংলা কথাসাহিত্যের গুরুত্বপূর্ণ লেখক।
- পাশাপাশি তিনি রাজনীতিতেও যুক্ত ছিলেন।
- পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার লাভপুরের জমিদার পরিবারে এই সাহিত্যিকের জন্ম।
- সাধারণ মানুষের জীবন, যেমন বেদে, পটুয়া, লাঠিয়াল, চৌকিদার, বাগদী, বোষ্টম, ডোম প্রভৃতি সমাজের প্রান্তিক শ্রেণীর বাস্তব জীবনচিত্র তিনি গল্পে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে তুলে ধরেছেন।
- তাঁর প্রথম গল্প ছিল ‘রসকলি’, যা প্রকাশিত হয়েছিল কল্লোল পত্রিকায়।
• তাঁর উল্লেখযোগ্য গল্প:
- ‘রসকলি’,
- ‘বেদেনী’,
- ‘ডাকহরকরা'।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
- চৈতালী ঘূর্ণি,
- জলসাঘর,
- ধাত্রীদেবতা,
- কালিন্দী,
- গণদেবতা,
- পঞ্চগ্রাম,
- কবি,
- হাঁসুলি বাঁকের উপকথা,
- আরোগ্য নিকেতন—ইত্যাদি।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া।

৪৮.
পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন কে?
  1. ক) ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  2. খ) অন্নদাশঙ্কর রায়
  3. গ) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  4. ঘ) অমিয় চক্রবর্তী
সঠিক উত্তর:
গ) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
ব্যাখ্যা
• ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর:
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৮৩৯ সালে সংস্কৃত কলেজ ঈশ্বরচন্দ্রকে ‘বিদ্যাসাগর’ উপাধি প্রদান করে।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ বেতালপঞ্চবিংশতি।

কয়েকটি বিখ্যাত গ্রন্থের নাম :
- শকুন্তলা, 
- সীতার বনবাসের, 
- ভ্রান্তিবিলাস ইত্যাদি।

• ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত শিক্ষামূলক গ্রন্থ:
- আখ্যান মঞ্জরী,
- বোধোদয়,
- বর্ণপরিচয়,
- কথামালা ইত্যাদি।

• অন্যদিকে:
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত পশ্চিমবঙ্গের চবিবশ পরগনা জেলার কাঞ্চনপল্লী বা কাঁচড়াপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- অন্নদাশঙ্কর রায় ওড়িশার দেশীয় রাজ্য ঢেঙ্কানালের এক শাক্ত পরিবারে অন্নদাশঙ্কর রায়ের জন্ম।
- অমিয় চক্রবর্তী পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার শ্রীরামপুরে জন্মগ্রহণ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪৯.
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত ছোটগল্প কোনটি?
  1. কালের যাত্রা
  2. ভিন্নযাত্রা
  3. যাত্রা
  4. যাত্রাবদল
সঠিক উত্তর:
যাত্রাবদল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যাত্রাবদল
ব্যাখ্যা
• বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত ছোটগল্প - যাত্রাবদল

বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়: 
- তিনি ১৮৯৪ সালের ১২ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁচরাপাড়ার নিকটবর্তী ঘোষপাড়া-মুরারিপুর গ্রামে মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত ঔপন্যাসিক।
- ১৩২৮ বঙ্গাব্দের (১৯২১) মাঘ প্রবাসীতে প্রথম গল্প ‘উপেক্ষিতা’ প্রকাশের মধ্য দিয়ে বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাহিত্যিক জীবন শুরু হয়। 
- হেমন্তকুমার গুপ্তের সঙ্গে যৌথভাবে তিনি 'দীপক' (১৯৩২) পত্রিকা সম্পাদনা করেন।
- বাংলা কথাসাহিত্যে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের পরে বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ই সর্বাপেক্ষা জনপ্রিয় সাহিত্যিকের মর্যাদা পেয়েছেন।
- তাঁর শ্রেষ্ঠ রচনা 'পথের পাঁচালী'। প্রথম রচিত এই উপন্যাসের মাধ্যমেই তিনি বিপুল খ্যাতি অর্জন করেন। 'অপরাজিত', পথের পাঁচালীরই পরবর্তী অংশ।
- 'ইছামতী' উপন্যাসের জন্য বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় মরণোত্তর ‘রবীন্দ্র-পুরস্কার’ (১৯৫১) লাভ করেন। 
- ১৯৫০ সালে ব্যারাকপুরের ঘাটশিলায় তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত ছোটগল্প:
- মেঘমল্লার, 
- মৌরীফুল, 
- যাত্রাবদল
- কিন্নরদল ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত নাটক - কালের যাত্রা।
• শওকত আলী রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস - যাত্রা।

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৫০.
কিশোর কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য মারা যান-
  1. ক) ট্রাম দুর্ঘটনায়
  2. খ) নিওমোনিয়া রোগে
  3. গ) ছুরিকাঘাতে
  4. ঘ) যক্ষ্মা রোগে
সঠিক উত্তর:
ঘ) যক্ষ্মা রোগে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) যক্ষ্মা রোগে
ব্যাখ্যা
• বাংলা সাহিত্যের কিশোর কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য (১৯২৬-১৯৪৭) মার্কসবাদী ভাবধারায় বিশ্বাসী এবং প্রগতিশীল চেতনার অধিকারী ছিলেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল বর্তমান গোপালগঞ্জ জেলার কোটালীপাড়া উপজেলার উনশিয়া গ্রামে।
- মাত্র ২০ বছর ৯ মাস বয়সে যক্ষ্মা রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ: 
- ছাড়পত্র,
- ঘুম নেই,
- পূর্বাভাস,
- মিঠেকড়া,
- অভিযান,
- হরতাল,
- গীতিগুচ্ছ ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫১.
কোনটি সুকুমার রায় রচিত শিশুতোষ সাহিত্য?
  1. কল্পতরু
  2. কল্পদ্রুম
  3. তথ্যকল্পদ্রুম
  4. শব্দকল্পদ্রুম
সঠিক উত্তর:
শব্দকল্পদ্রুম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শব্দকল্পদ্রুম
ব্যাখ্যা
• সুকুমার রায় রচিত শিশুতোষ সাহিত্য - শব্দকল্পদ্রুম

সুকুমার রায়:
- ১৮৮৭ সালের ৩০ অক্টোবর কলকাতায় তাঁর জন্ম। তাঁদের আদি নিবাস ছিল কিশোরগঞ্জ জেলার মসুয়ায়।
- তিনি ছিলেন শিশুসাহিত্যিক।
- বিখ্যাত শিশুসাহিত্যিক, সঙ্গীতজ্ঞ ও যন্ত্রকুশলী  উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী  তাঁর পিতা এবং অস্কারপ্রাপ্ত  চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায়  তাঁর পুত্র।
- তিনি সুগায়ক ও সুঅভিনেতা হিসেবে খ্যাত ছিলেন।
- তিনি ১৯২৩ সালের ১০ই সেপ্টেম্বর মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত শিশুতোষ সাহিত্য:
- আবোল তাবোল,
- হ-য-ব-র-ল,
- পাগলা দাশু,
- বহুরূপী,
- খাই খাই,
- অবাক জলপান,
- শব্দকল্পদ্রুম,
- ঝালাপালা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• ইন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস - কল্পতরু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া; কল্পতরু, ইন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়।
৫২.
স্বর্ণকুমারী দেবী সম্পাদিত পত্রিকার নাম কী?
  1. ক) ভারতী
  2. খ) ভারতবর্ষ
  3. গ) বিচিত্রা
  4. ঘ) মাসিক
সঠিক উত্তর:
ক) ভারতী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ভারতী
ব্যাখ্যা
স্বর্ণকুমারী দেবী ১৮৭৭ সালে ভারতী পত্রিকা সম্পাদনা করেছেন।
- তিনি ছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বোন। 
- তিনি ছিলেন আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহিলা ঔপন্যাসিক। 

তাঁর রচিত উপন্যাস সমূহ -
- দীপ নির্বাণ
- মেবার রাজা
- মালতী
- বিচিত্রা
- বিদ্রোহ
- মিলনরাত্রী
- স্বপ্নবানী

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫৩.
বিদ্যে বোঝাই বাবুমশাই চড়ি শখের বোটে
মাঝিরে কন, বলতে পারিস সূর্যি কেন ওঠে?
-এই উদ্ধৃতাংশটুকু কোন কবির রচনা?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. সুকুমার রায়
  3. ফররুখ আহমদ
  4. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
সঠিক উত্তর:
সুকুমার রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুকুমার রায়
ব্যাখ্যা
• বিদ্যে বোঝাই বাবুমশাই চড়ি শখের বোটে
মাঝিরে কন, বলতে পারিস সূর্যি কেন ওঠে? - এই উদ্ধৃতাংশটুকু সুকুমার রায়ের রচনা।
- এটি তাঁর 'জীবনের হিসাব' কবিতার অংশ।

জীবনের হিসাব
সুকুমার রায়

বিদ্যে বোঝাই বাবু মশাই চড়ি শখের বোটে
মাঝিরে কন, “বলতে পারিস সূর্যি কেন ওঠে?
চাঁদটা কেন বাড়ে কমে? জোয়ার কেন আসে?”
বৃদ্ধ মাঝি অবাক হয়ে ফেলফেলিয়ে হাসে,
বাবু বলেন, “সারা জীবন মরলিরে তুই খাটি,
জ্ঞান বিনা তোর জীবনটা যে চারি আনাই মাটি!”

সুকুমার রায়:
- ১৮৮৭ সালের ৩০ অক্টোবর কলকাতায় তাঁর জন্ম।
- তাঁদের আদি নিবাস ছিল কিশোরগঞ্জ জেলার মসুয়ায়।
- তিনি ছিলেন শিশুসাহিত্যিক।
- বিখ্যাত শিশুসাহিত্যিক, সঙ্গীতজ্ঞ ও যন্ত্রকুশলী উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী তাঁর পিতা এবং অস্কারপ্রাপ্ত চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায় তাঁর পুত্র।
- তিনি সুগায়ক ও সুঅভিনেতা হিসেবে খ্যাত ছিলেন।
- তিনি ১৯২৩ সালের ১০ই সেপ্টেম্বর মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত শিশুতোষ সাহিত্য:
- আবোল তাবোল,
- হ-য-ব-র-ল,
- পাগলা দাশু,
- বহুরূপী,
- খাই খাই,
- অবাক জলপান,
- শব্দকল্পদ্রুম,
- ঝালাপালা ইত্যাদি।

অভিসম্বন্ধ: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া; 'জীবনের হিসাব' কবিতা, সুকুমার রায়।
৫৪.
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ইছামতী উপন্যাসটি কোন বিদ্রোহের পটভূমিতে রচিত?
  1. সিপাহী বিদ্রোহ
  2. নীল বিদ্রোহ 
  3. তিতুমীরের বিদ্রোহ
  4.  চট্টগ্রাম বিদ্রোহ 
সঠিক উত্তর:
নীল বিদ্রোহ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নীল বিদ্রোহ 
ব্যাখ্যা

বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ইছামতী উপন্যাসটি নীল বিদ্রোহের পটভূমিতে রচিত।

• ইছামতী উপন্যাস:
-
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের শেষ উপন্যাস ইছামতী ১৯৫০ সালের ১৫ জানুয়ারি মিত্রালয় প্রকাশনা থেকে প্রকাশিত হয়।
- ইছামতী উপন্যাসে উনিশ শতকের বাংলার নীলচাষ, নীল বিদ্রোহ এবং সাধারণ মানুষের জীবনের পরিবর্তন চিত্রায়িত হয়েছে।
- উপন্যাসে ইছামতী নদীর তীরবর্তী গ্রামের জীবন, প্রকৃতি ও কৃষিভিত্তিক সমাজ থেকে শিল্পভিত্তিক পুঁজিবাদের দিকে পরিবর্তনের প্রভাব দেখানো হয়েছে।
- এই উপন্যাসের চরিত্রদের মাধ্যমে লেখক সাধারণ মানুষের জীবনের সংগ্রাম, আবেগ এবং সামাজিক মনস্তত্ত্ব গভীরভাবে উপস্থাপন করেছেন।
- ইছামতী' উপন্যাসের প্রধান চরিত্র:
• ভবানী বাড়ুয্যে, 
• অশোক এবং
• নীলা।
---------------------------------------------
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়:
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় (১৮৯৪-১৯৫০) একজন প্রখ্যাত ভারতীয় বাঙালি কথাসাহিত্যিক।
- তিনি অসংখ্য কালজয়ী উপন্যাস ও গল্প রচনা করেছেন।
- তাঁর লেখায় প্রকৃতি, গ্রামীণ জীবন এবং মানুষের মানসিকতার গভীর প্রকাশ পাওয়া যায়।
- বিভূতিভূষণের সাহিত্য গ্রামীণ সমাজের জীবনের বাস্তব চিত্র ফুটিয়ে তোলে।
- জীবনের শেষ সময়ে তিনি ইছামতী উপন্যাসের জন্য মরণোত্তর রবীন্দ্র পুরস্কার লাভ করেন, যা তাঁর সাহিত্যিক প্রতিভার একটি উৎকৃষ্ট প্রমাণ।

• তাঁর বিখ্যাত ত্রয়ী উপন্যাস —
- পথের পাঁচালী,
- অপরাজিত, ও
- অপুর সংসার।
- পথের পাঁচালী অবলম্বনে সত্যজিৎ রায় নির্মিত চলচ্চিত্রটি আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জন করে।

• তাঁর অন্যান্য উল্লেখযোগ্য উপন্যাস হলো:
- ইছামতী,
- আরণ্যক,
- চাঁদের পাহাড়,
- আদর্শ হিন্দু হোটেল ও
- অশনি সংকেত।

• বিভূতিভূষণের গল্প:
- মৌরিফুল।

• তাঁর আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ হলো:
- স্মৃতির রেখা ও
- অভিযাত্রিক।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া। 

৫৫.
বাংলা সাহিত্যে ‘পরাবাস্তবের কবি’ হিসেবে পরিচিত কে?
  1. আবদুল কাদির
  2. আবদুল মান্নান সৈয়দ
  3. আবুল হাসান
  4. আবু জাফর শামসুদ্দীন
সঠিক উত্তর:
আবদুল মান্নান সৈয়দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবদুল মান্নান সৈয়দ
ব্যাখ্যা
• বাংলা সাহিত্যে ‘পরাবাস্তবের কবি’ হিসেবে পরিচিত - আবদুল মান্নান সৈয়দ

পরাবাস্তব কবিতা:
- প্রথম কবিতার বই 'জন্মান্ধ কবিতাগুচ্ছ' (১৯৬৮) প্রকাশের পরও দীর্ঘসময় বলা যেতে পারে সারাজীবনই তিনি পরাবাস্তবতায় আচ্ছন্ন ছিলেন সেটি বোঝা যায় ‘পরাবাস্তব কবিতা' (১৯৮২) নামেই আবদুল মান্নান সৈয়দ একটি কবিতার বই বের করেছিলেন।
- হাসান হাফিজুর রহমানকে উৎসর্গ করা বইটির প্রকাশকাল ০৩ আগস্ট ১৯৮২।
- পরাবাস্তব কবিতাও যে একটি বিশেষ আসন করে নিতে পারে কবিতায় বাংলাদেশে কবি আবদুল মান্নান সৈয়দই সেটা প্রথম প্রমাণ করেছেন।
- আধুনিক কবিতার কবি হিসেবে সব শর্তের, সব সীমায় তাঁকে আঁটকানোর পরেও কবিতা নিয়ে ভাবনাশ্রয়ী গুণীজনেরা তাঁকে ‘পরাবাস্তবের কবি’ বলেছেন। সেকারণেই আবদুল মান্নান সৈয়দ তার সময়ের এবং এখনো  অন্যদের থেকে আলাদা।

আবদুল মান্নান সৈয়দ:
- তিনি ১৯৪৩ সালের ৩ আগস্ট পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি প্রথম জীবনে 'অশোক সৈয়দ' ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন।
- তিনি বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার (১৯৮১), নজরুল পুরস্কার (১৯৯৮), নজরুল পদক (২০০১) ইত্যাদি পদক ও পুরস্কার লাভ করেন।
- তিনি ২০১০ সালের ৫ই সেপ্টেম্বর মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- জন্মান্ধ কবিতাগুচ্ছ,
- জ্যোৎস্না রৌদ্রের চিকিৎসা,
- ও সংবেদ ও জলতরঙ্গ,
- কবিতা কোম্পানি প্রাইভেট লিমিটেড,
- পরাবাস্তব কবিতা,
- পার্কস্ট্রিটে একরাত্রি,
- মাছ সিসিজ,
- সকল প্রশংসা তাঁর,
- নীরবতা গভীরতা দুই বোন বলে কথা ইত্যাদি।

 উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২. দৈনিক ইনকিলাব,
রিপোর্ট প্রকাশের তারিখ: ৫ আগস্ট, ২০১৬।
৫৬.
“বন্যেরা বনে সুন্দর শিশুরা মাতৃক্রোড়ে।”—উক্তিটি কোন গ্রন্থ থেকে নেওয়া?
  1. হুতোম প্যাঁচার নকশা
  2. পালামৌ
  3. বিচিত্র চিন্তা
  4. পাখির বাসা 
সঠিক উত্তর:
পালামৌ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পালামৌ
ব্যাখ্যা

“বন্যেরা বনে সুন্দর শিশুরা মাতৃক্রোড়ে”—এই অমর উক্তিটি সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত ভ্রমণকাহিনি ‘পালামৌ’ গ্রন্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
------------------------------------------------------
• সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
-  সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৮৩৪–১৮৮৯) ছিলেন একজন প্রখ্যাত সাংবাদিক, লেখক ও পণ্ডিত।
- তাঁর জন্ম পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে।
- তিনি একজন স্বশিক্ষিত মানুষ ছিলেন।
- নিজের উদ্যোগে অধ্যয়নের মাধ্যমে ইংরেজি সাহিত্য, বিজ্ঞান, ইতিহাস ও আইন বিষয়ে তিনি বিশেষ পারদর্শিতা অর্জন করেন
- সাহিত্যক্ষেত্রে তাঁর অবদান গুরুত্বপূর্ণ।

- তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে:
• যাত্রা সমালোচনা,
• কণ্ঠমালা,
• রামেশ্বরের অদৃষ্ট,
• মাধবীলতা,
• দামিনী, প্রভৃতি। 
----------------------------------------------
‘পালামৌ’ সম্পর্কিত কিছু তথ্য:
- 'পালামৌ’ সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ ভ্রমণকাহিনী।
- ‘পালামৌ’ ১২৮৭ থেকে ১২৮৯ বঙ্গাব্দে বঙ্গদর্শন পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়।
- পালামৌ বিহারের একটি স্থান।
- বিহারে অবস্থানকালে নিজের ভ্রমণ-অভিজ্ঞতা অবলম্বনে সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এই ভ্রমণকাহিনি রচনা করেন।
- এই রচনাতেই তিনি অমর বাক্য সৃষ্টি করেন - “বন্যেরা বনে সুন্দর শিশুরা মাতৃক্রোড়ে।”
---------------------------------------------------------------------
অন্যদিকে,
• কালীপ্রসন্ন সিংহ রচিত হুতোম প্যাঁচার নকশা একটি ব্যঙ্গরচনা।
• বিচিত্র চিন্তা- আহমদ ছফা রচিত প্রবন্ধ। 
• পাখির বাসা- ফররুখ আহমেদ রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ। 

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 
বাংলাপিডিয়া।

৫৭.
বন্যেরা বনে সুন্দর, শিশুরা মাতৃক্রোড়ে”- এ উক্তিটির প্রকৃত তাৎপর্য হচ্ছে -
  1. ক) বনের পশু বনে থাকতেই ভালোবাসে
  2. খ) প্রকৃতির রূপ সৌন্দর্য আদি ও অকৃত্রিম
  3. গ) আদিবাসী মানুষ অরণ্য জনপদে বাস করে
  4. ঘ) জীবমাত্রই স্বাভাবিক অবস্থানে সুন্দর
সঠিক উত্তর:
ঘ) জীবমাত্রই স্বাভাবিক অবস্থানে সুন্দর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) জীবমাত্রই স্বাভাবিক অবস্থানে সুন্দর
ব্যাখ্যা
''বন্যেরা বনে সুন্দর, শিশুরা মাতৃক্রোড়ে''
- চমৎকার এ কথাটি সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় লিখেছিলেন 'পালামৌ' নামের ভ্রমণকাহিনীতে।
এর মূলভাব হলো সৌন্দর্য্য সর্বত্র বিকশিত হয় না । প্রাকৃতিক নিয়মে যার যথা স্থান সেখানেই তার সৌন্দর্য ফুটে উঠে।

- 'পালামৌ' সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের শ্রেষ্ঠ রচনা। 
- ছোটনাগপুরের আদিম গিরিদরী অরণ্যানী ও আরণ্যক পশু ও মানব লেখকের বর্ণনাগুণে উচ্চ সাহিত্যমূল্য লাভ করে।
- ''বন্যেরা বনে সুন্দর, শিশুরা মাতৃক্রোড়ে'' এই গ্রন্থের যুগোত্তীর্ণ বাক্য।
- এই বাক্য সৃষ্টির মাধ্যমে লেখক স্মরনীয় হয়ে থাকবেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫৮.
'রৈবতক', 'কুরুক্ষেত্র' ও 'প্রভাস' এই ত্রয়ী কাব্যের রচয়িতা কে?
  1. ক) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. খ) নবীনচন্দ্র সেন
  3. গ) বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. ঘ) হেমচন্দ্র
সঠিক উত্তর:
খ) নবীনচন্দ্র সেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) নবীনচন্দ্র সেন
ব্যাখ্যা

কবি নবীনচন্দ্র সেন ১৮৪৭ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামের নোয়াপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রথম কাব্যসংকলন 'অবকাশরঞ্জিনী' প্রকাশিত হয় ১৮৭১ সালে।
- ১৮৭৫ সালে তাঁর 'পলাশীর যুদ্ধ' মহাকাব্য প্রকাশিত হলে তিনি ব্রিটিশ সরকারের রোষানলে পড়েন। 
- 'রৈবতক (১৮৮৭)', 'কুরুক্ষেত্র (১৮৯৩)' ও 'প্রভাস (১৮৯৬)' কাব্যত্রয়ী নবীনচন্দ্রের কবিপ্রতিভার শ্রেষ্ঠ প্রকাশ। এগুলির নায়ক  কৃষ্ণ এবং এতে যথাক্রমে কৃষ্ণের আদি, মধ্য ও অন্তলীলা বর্ণিত হয়েছে। নবীনচন্দ্রের এই তিনটি কাব্যও মহাকাব্যের লক্ষণাক্রান্ত। কাহিনীর বিশালতা এবং বহুমুখী বৈচিত্র্যের কারণে গ্রন্থত্রয়ের কাব্যবন্ধন অনেকটা শিথিল ও দুর্বল।

নবীনচন্দ্রের আরও কয়েকটি উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- আমার জীবন,
- খৃস্ট,
- ক্লিওপেট্রা,
- ভানুমতী,
- প্রবাসের পত্র ইত্যাদি।

কাব্যানুবাদ: ভগবদ্গীতা ও চন্ডীর

আত্মজীবনী: আমার জীবন 

আরও কিছু লেখকের ত্রয়ী উপন্যাস: 

⇒ বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়: 'আনন্দমঠ', 'দেবী চৌধুরানী' ও 'সীতারাম'
⇒ বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়: 'পথের পাঁচালি;, 'অপরাজিতা' ও 'কাজল'
⇒ মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়: 'পুতুল নাচের ইতিকথা', 'সহরবাসের ইতিকথা' ও 'ইতিকথার পরের কথা'
⇒ সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় : 'সেই সময়', 'প্রথম আলো' ও 'পূর্ব-পশ্চিম'
⇒ সমরেশ মজুমদার: 'উত্তরাধিকার', 'কালবেলা' ও 'কালপুরুষ'  

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।

৫৯.
শওকত ওসমানের 'জননী' উপন্যাসের ইংরেজি অনুবাদ করেন কে?
  1. ওসমান কামাল
  2. ওসমান জামাল
  3. কবীর চৌধুরী
  4. হুমায়ুন কবির
সঠিক উত্তর:
ওসমান জামাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ওসমান জামাল
ব্যাখ্যা
• শওকত ওসমানের 'জননী' উপন্যাসের ইংরেজি অনুবাদ করেন - ওসমান জামাল
- এটির নাম ইংরেজিতেও 'জননী' রাখা হয়েছে।
- এটি ১৯৯৩ সালে অক্সফোর্ড থেকে প্রকাশিত হয়।

শওকত ওসমান:
- তিনি ছিলেন কথাসাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক।
- ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
- তাঁর প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান
- উপন্যাস ও গল্প রচয়িতা হিসেবেই শওকত ওসমানের মুখ্য পরিচয়; তবে প্রবন্ধ, নাটক, রম্যরচনা, স্মৃতিকথা ও শিশুতোষ গ্রন্থও তিনি রচনা করেছেন। 
- তাঁর 'জননী' ও 'ক্রীতদাসের হাসি' উপন্যাস দুটি প্রশংসিত হয়েছে। জননীতে সামাজিক জীবন ও ক্রীতদাসের হাসিতে রাজনৈতিক জীবনের কিছু অন্ধকার দিক উন্মোচিত হয়েছে। 
- তিনি  বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬২), আদমজি সাহিত্য পুরস্কার (১৯৬৬), একুশে পদক (১৯৮৩), ফিলিপস পুরস্কার (১৯৯১), স্বাধীনতা দিবস পুরস্কার (১৯৯৭) লাভ করেন।
- তিনি ১৯৯৮ সালের ১৪ই মে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- ক্রীতদাসের হাসি, 
- সমাগম, 
- চৌরসন্ধি, 
- রাজা উপাখ্যান,
- পতঙ্গ পিঞ্জর,
- রাজসাক্ষী,
- পুরাতন খঞ্জর।

তাঁর রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস:
- জাহান্নম হইতে বিদায়, 
- দুই সৈনিক, 
- নেকড়ে অরণ্য, 
- জলাংগী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৬০.
'কবি' উপন্যাসটির রচয়িতা -
  1. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. হাসান আজিজুল হক
  3. হুমায়ুন আজাদ
  4. হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• 'কবি' উপন্যাসটির রচয়িতা - তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়

কবি:
- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস 'কবি'।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯৪২ খ্রিষ্টাব্দে ।
- এই উপন্যাসে ডোম সম্প্রদায়ের একজন যুবকের কবি রূপে প্রতিষ্ঠা এবং দুটি নারীর সঙ্গে তার সম্পর্ক বিষয়ক কাহিনি বর্ণিত হয়েছে।
- এই উপন্যাসের 'জীবন এতো ছোট ক্যানে? ' সংলাপটি ক্ল্যাসিক মর্যাদা পেয়েছে। 

উল্লেখ্য, 'কবি' নামে হুমায়ূন আহমেদেরও একটি উপন্যাস রয়েছে।

তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়:
- তিনি ১৮৯৮ সালে পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলায় এক জমিদারবংশে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন কথাসাহিত্যিক, রাজনীতিবিদ।
- তাঁর রচিত প্রথম গল্প ‘রসকলি’ সেকালের বিখ্যাত পত্রিকা কল্লোল-এ প্রকাশিত হয়।
- তাঁর রচিত ত্রয়ী উপন্যাস - ধাত্রীদেবতা, গণদেবতা, পঞ্চগ্রাম। 
- আদিবাসী সাঁওতাল বিদ্রোহ নিয়ে তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাস 'অরণ্যবহ্নি' (১৯৬৬)।
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম নিয়ে রচিত তাঁর উপন্যাসের নাম 'একটি কালো মেয়ের কথা' (১৯৭১)।
- তিনি 'পদ্মশ্রী' ও 'পদ্মভূষণ' উপাধি লাভ করেন।
- ১৯৭১ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর তাঁর মৃত্যু হয়। 

তাঁর রচিত উপন্যাস: 
- চৈতালি ঘূর্ণি, 
- ধাত্রীদেবতা, 
- কালিন্দী, 
- কবি
- হাঁসুলী বাঁকের উপকথা, 
- গণদেবতা, 
- পঞ্চগ্রাম,
- আরগ্য নিকেতন, 
- পঞ্চপুণ্ডলী, 
- রাধা ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৬১.
'বাবরের প্রার্থনা' কাব্যগ্রন্থের লেখক কে?
  1. শঙ্খ ঘােষ
  2. গোলাম মোস্তফা
  3. রফিক আজাদ
  4. দাউদ হায়দার
সঠিক উত্তর:
শঙ্খ ঘােষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শঙ্খ ঘােষ
ব্যাখ্যা
• শঙ্খ ঘোষ
- শঙ্খ ঘোষ পশ্চিমবঙ্গের সাহিত্যের একজন খ্যাতিমান কবি।
- সাহিত্য সমালোচক হিসেবেও তিনি বিশেষ গুরুত্বের অধিকারী।
- একজন রবীন্দ্র বিশেষজ্ঞ হিসেবে তাঁর কৃতিত্ব রয়েছে।
- তাঁর প্রকৃত নাম চিত্তপ্রিয় ঘোষ, কিন্তু শঙ্খ ঘোষ নামেই তিনি পরিচিত। 

• তাঁর কাব্যগ্রন্থগুলো হল:
→ দিনগুলি রাতগুলি (১৯৫৬),
→ নিহিত পাতাল ছায়া (১৯৬৭),
→ এখন সময় নয় (১৯৬৭),
→ আদিম লতা গুন্যময় (১৯৭২),
→ মূর্খ বড়ো, সামাজিক নয় (১৯৭৫), 
→ মুখ ঢেকে যায় বিজ্ঞাপনে (১৯৮৪),
→ বন্ধুরা মাতি তরজায় (১৯৮৪),
→ বহুল দেবতা বহুল স্বর (১৯৮৬), 
→ বাবরের প্রার্থনা (১৯৭৬)
→ ধুম লেগেছে হৃদ কমলে (১৯৮৭) ইত্যাদি।

- তিনি 'বাবরের প্রার্থনা' নামক কাব্যগ্রন্থের জন্য ভারতের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সাহিত্য পুরস্কার সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার লাভ করেন।

সূত্র: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস - মাহবুবুল আলম। 
৬২.
শওকত ওসমান রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. রাজা উপাখ্যান
  2. রাজার সুন্দরী
  3. রোদে যাবো
  4. রৌদ্র করোটিতে
সঠিক উত্তর:
রাজা উপাখ্যান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজা উপাখ্যান
ব্যাখ্যা
• শওকত ওসমান রচিত উপন্যাস - রাজা উপাখ্যান

অন্যদিকে,
• সৈয়দ শামসুল হক রচিত উপন্যাস - রাজার সুন্দরী।
• হাসান আজিজুল হক রচিত গল্পগ্রন্থ - রোদে যাবো।
• শামসুর রাহমান রচিত কাব্য - রৌদ্র করোটিতে।

শওকত ওসমান:
- তিনি ছিলেন কথাসাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক।
- ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
- তাঁর প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান
- উপন্যাস ও গল্প রচয়িতা হিসেবেই শওকত ওসমানের মুখ্য পরিচয়; তবে প্রবন্ধ, নাটক, রম্যরচনা, স্মৃতিকথা ও শিশুতোষ গ্রন্থও তিনি রচনা করেছেন। 
- তাঁর 'জননী' ও 'ক্রীতদাসের হাসি' উপন্যাস দুটি প্রশংসিত হয়েছে। জননীতে সামাজিক জীবন ও ক্রীতদাসের হাসিতে রাজনৈতিক জীবনের কিছু অন্ধকার দিক উন্মোচিত হয়েছে। 
- তিনি  বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬২), আদমজি সাহিত্য পুরস্কার (১৯৬৬), একুশে পদক (১৯৮৩), ফিলিপস পুরস্কার (১৯৯১), স্বাধীনতা দিবস পুরস্কার (১৯৯৭) লাভ করেন।
- তিনি ১৯৯৮ সালের ১৪ই মে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- ক্রীতদাসের হাসি, 
- সমাগম, 
- চৌরসন্ধি, 
- রাজা উপাখ্যান,
- পতঙ্গ পিঞ্জর,
- রাজসাক্ষী,
- পুরাতন খঞ্জর।

তাঁর রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস:
- জাহান্নম হইতে বিদায়, 
- দুই সৈনিক, 
- নেকড়ে অরণ্য, 
- জলাংগী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৬৩.
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় কোন গ্রন্থের জন্য মরণোত্তর ‘রবীন্দ্র-পুরস্কার' লাভ করেন?
  1. আরণ্যক
  2. ইছামতী
  3. পথের পাঁচালী
  4. মেঘমল্লার
সঠিক উত্তর:
ইছামতী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইছামতী
ব্যাখ্যা
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়: 
- তিনি ১৮৯৪ সালের ১২ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁচরাপাড়ার নিকটবর্তী ঘোষপাড়া-মুরারিপুর গ্রামে মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত ঔপন্যাসিক।
- ১৩২৮ বঙ্গাব্দের (১৯২১) মাঘ প্রবাসীতে প্রথম গল্প ‘উপেক্ষিতা’ প্রকাশের মধ্য দিয়ে বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাহিত্যিক জীবন শুরু হয়। 
- হেমন্তকুমার গুপ্তের সঙ্গে যৌথভাবে তিনি 'দীপক' (১৯৩২) পত্রিকা সম্পাদনা করেন।
- বাংলা কথাসাহিত্যে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের পরে বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ই সর্বাপেক্ষা জনপ্রিয় সাহিত্যিকের মর্যাদা পেয়েছেন।
- তাঁর শ্রেষ্ঠ রচনা 'পথের পাঁচালী'। প্রথম রচিত এই উপন্যাসের মাধ্যমেই তিনি বিপুল খ্যাতি অর্জন করেন। 'অপরাজিত', পথের পাঁচালীরই পরবর্তী অংশ।
- 'ইছামতী' উপন্যাসের জন্য বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় মরণোত্তর ‘রবীন্দ্র-পুরস্কার’ (১৯৫১) লাভ করেন। 
- ১৯৫০ সালে ব্যারাকপুরের ঘাটশিলায় তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- পথের পাঁচালী,
- অপরাজিত, 
- অশনি সংকেত,
- আরণ্যক,
- আদর্শ হিন্দু হোটেল,
- দেবযান, 
- ইছামতী,
- দৃষ্টি প্রদীপ, 
- অনুবর্তন ইত্যাদি।

তাঁর রচিত ছোটগল্প:
- মেঘমল্লার, 
- মৌরীফুল, 
- যাত্রাবদল, 
- কিন্নরদল ইত্যাদি। 

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৬৪.
'সরীসৃপ' মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি -
  1. ছোটগল্প
  2. নাটক
  3. উপন্যাস
  4. ভ্রমণ কাহিনী
সঠিক উত্তর:
ছোটগল্প
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ছোটগল্প
ব্যাখ্যা
• মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়:
-  মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় কথাসাহিত্যিক।
- ১৯০৮ খ্রিস্টাব্দের ২৯ মে বিহারের সাঁওতাল পরগনার দুমকা শহরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল ঢাকা জেলার বিক্রমপুরের নিকট মালবদিয়া গ্রামে। 
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রকৃত নাম প্রবোধকুমার, ‘মানিক’ তাঁর ডাকনাম।
- স্নাতক শ্রেণিতে অধ্যয়নের সময় বিচিত্রা পত্রিকায় তাঁর প্রথম গল্প ‘অতসী মামী’ প্রকাশিত হয়। 
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় জীবনের প্রথম পর্বে মনোবিজ্ঞানী ফ্রয়েড, ইয়ুং, অ্যাডলার প্রমুখ দ্বারা প্রভাবিত হলেও পরবর্তী সময়ে তিনি মার্কসবাদে দীক্ষা নেন।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য কয়েকটি উপন্যাস:
→ জননী,
→ দিবারাত্রির কাব্য,
→ পদ্মানদীর মাঝি,
→ পুতুলনাচের ইতিকথা,
→ শহরতলী,
→ চিহ্ন,
→ চতুষ্কোণ,
→ সার্বজনীন,
→ আরোগ্য প্রভৃতি;

• তাঁর উল্লেখযোগ্য কয়েকটি ছোটগল্প:
→ অতসী মামী ও অন্যান্য গল্প,
→ প্রাগৈতিহাসিক,
সরীসৃপ,
→ সমুদ্রের স্বাদ,
→ হলুদ পোড়া,
→ আজ কাল পরশুর গল্প,
→ মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের শ্রেষ্ঠ গল্প,
→ ফেরিওয়ালা ইত্যাদি।

• পদ্মানদীর মাঝি ও পুতুলনাচের ইতিকথা  উপন্যাস দুটি তাঁর বিখ্যাত রচনা।
• এ দুটির মাধ্যমেই তিনি সর্বাধিক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।
• পদ্মানদীর মাঝি চলচ্চিত্রায়ণ হয়েছে।
• ১৯৫৬ খ্রিস্টাব্দের ৩ ডিসেম্বর কলকাতায় তাঁর মৃত্যু।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া।
৬৫.
'ধুম লেগেছে হৃদ কমলে' কাব্যগ্রন্থের কবি -
  1. কালীপ্রসন্ন ঘোষ
  2. গিরিশচন্দ্র ঘোষ
  3. শঙ্খ ঘোষ
  4. সুবোধ ঘোষ
সঠিক উত্তর:
শঙ্খ ঘোষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শঙ্খ ঘোষ
ব্যাখ্যা
• 'ধুম লেগেছে হৃদ কমলে'র কবি - শঙ্খ ঘোষ

শঙ্খ ঘোষ: 
- শঙ্খ ঘোষ পশ্চিমবঙ্গের সাহিত্যের একজন খ্যাতিমান কবি।
- সাহিত্য সমালোচক হিসেবেও তিনি বিশেষ গুরুত্বের অধিকারী।
- একজন রবীন্দ্র বিশেষজ্ঞ হিসেবে তাঁর কৃতিত্ব রয়েছে।
- তাঁর প্রকৃত নাম চিত্তপ্রিয় ঘোষ, কিন্তু শঙ্খ ঘোষ নামেই তিনি পরিচিত। 
- তিনি 'বাবরের প্রার্থনা' নামক কাব্যগ্রন্থের জন্য ভারতের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সাহিত্য পুরস্কার 'সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার' লাভ করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- দিনগুলি রাতগুলি (১৯৫৬),
- নিহিত পাতাল ছায়া (১৯৬৭),
- এখন সময় নয় (১৯৬৭),
- আদিম লতা গুল্মময় (১৯৭২),
- মূর্খ বড়ো, সামাজিক নয় (১৯৭৫), 
- মুখ ঢেকে যায় বিজ্ঞাপনে (১৯৮৪),
- বন্ধুরা মাতি তরজায় (১৯৮৪),
- বহুল দেবতা বহুল স্বর (১৯৮৬), 
- বাবরের প্রার্থনা (১৯৭৬)
- ধুম লেগেছে হৃদ কমলে (১৯৮৭) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৬৬.
“The Origin and Development of the Bengali Language” গ্রন্থটির রচয়িতা কে?”
  1. অমর্ত্য সেন
  2. ড. মুহাম্মাদ শহীদুল্লাহ 
  3. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  4. রাজা রামমোহন রায় 
সঠিক উত্তর:
সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

“The Origin and Development of the Bengali Language” গ্রন্থটির রচয়িতা- সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়। 
---------------------------------------
• সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়:
- সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় ছিলেন একজন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, ভাষাবিজ্ঞানী ও সাহিত্যিক।
- তিনি ১৮৯০ সালের ২৬ অক্টোবর পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া জেলার শিবপুরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি লন্ডনে ধ্বনিতত্ত্ব, ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষাতত্ত্ব এবং প্রাকৃত, ফারসি, প্রাচীন আইরিশ, গোথিকসহ বিভিন্ন ভাষা অধ্যয়ন করেন।
- ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি নিয়ে তিনি বিস্তর গবেষণা করেছেন।
- ভাষা নিয়ে তাঁর গবেষণা ও সাহিত্যকর্মে মুগ্ধ হয়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁকে ভাষাচার্য উপাধিতে ভূষিত করেন।
- সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় সবচেয়ে বেশি খ্যাতিলাভ করেছেন “The Origin and Development of the Bengali Language” গ্রন্থ রচনার মধ্য দিয়ে।
- বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় তিনি ৩৮০টিরও বেশি গ্রন্থ রচনা করেন।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- ‘Origin and Development of the Bengali Language; 
- Bengali Phonetic Reader;
- বাংলা ভাষাতত্ত্বের ভূমিকা;
- পশ্চিমের যাত্রী;
- ভারতের ভাষা ও ভাষা সমস্যা;
- সরল ভাষা প্রকাশ বাঙ্গালা ব্যাকরণ;
- ভারত সংস্কৃতি;
- সংস্কৃতি কী;
- রবীন্দ্রসঙ্গমে,
- ইউরোপ ভ্রমণ,
- Languages and Literatures of Modern India;
- World Literature and Tagore;
- দ্বীপময় ভারত ও শ্যামদেশ। 
----------------------------------------------------- 
‘The Origin and Development of the Bengali Language’:
- এই গ্রন্থটি অধ্যাপক সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের একটি মৌলিক গবেষণা।
- এতে বাংলা ভাষার উৎপত্তি, বিবর্তন, ধ্বনি ও রূপতত্ত্ব, বাক্য গঠন আলোচনা করা হয়েছে।
- পাশাপাশি ইন্দো-আর্য ভাষা পরিবারের সঙ্গে তুলনামূলক বিশ্লেষণও আলোচনা করা হয়েছে।
- তিনি প্রমাণ করেছেন যে বাংলা ভাষা সরাসরি সংস্কৃত থেকে উদ্ভূত নয়।
- বরং এটি প্রাচীন গৌড়ীয় প্রাকৃত থেকে বিকশিত হয়েছে, যা প্রাচীন কথ্য ভারতীয় আর্য ভাষার একটি শাখা।
- গ্রন্থে বলা হয়েছে, সপ্তম শতাব্দীর দিকে গৌড়ীয় অপভ্রংশ থেকেই বাংলা ভাষার আধুনিক রূপের বিকাশ শুরু হয়।

উৎস: 
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া। 

৬৭.
’মস্কোতে কয়েকদিন‘ ভ্রমণকাহিনীর রচয়িতা কে?
  1. অন্নদাশঙ্কর রায়
  2. তারাশঙ্কর বন্দোপাধ্যায়
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. সুফিয়া কামাল
সঠিক উত্তর:
তারাশঙ্কর বন্দোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তারাশঙ্কর বন্দোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
’মস্কোতে কয়েকদিন‘ ভ্রমণকাহিনীর রচয়িতা ⎯ তারাশঙ্কর বন্দোপাধ্যায়। 
উল্লেখ্য,
- অন্নদাশঙ্কর রায় রচিত বিখ্যাত ভ্রমণকাহিনী ⎯ পথে প্রবাসে ও ইউরোপের চিঠি।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত বিখ্যাত ভ্রমণকাহিনী ⎯ রাশিয়ার চিঠি, য়ুরোপ প্রবাসীর পত্র, জাপান যাত্রী, জাভা যাত্রার পত্র, পারসো।
- সুফিয়া কামাল রচিত বিখ্যাত ভ্রমণকাহিনী ⎯ সোভিয়েতের দিনগুলি।


• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়:
- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়, একজন কথাসাহিত্যিক, রাজনীতিবিদ।
- তিনি ১৮৯৮ সালে পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলায় এক জমিদারবংশে জন্ম গ্রহণ করেন।
- তারাশঙ্করের প্রথম গল্প ‘রসকলি’ সেকালের বিখ্যাত পত্রিকা কল্লোল-এ প্রকাশিত হয়।
- তারাশঙ্করের ত্রয়ী উপন্যাস- ধাত্রীদেবতা, গণদেবতা, পঞ্চগ্রাম।

• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস: 
- চৈতালি ঘূর্ণি, 
- ধাত্রীদেবতা, 
- কবি, 
- হাঁসুলি বাঁকের উপকথা, 
- গণদেবতা, 
- আরগ্য, 
- নিকেতন, 
- পঞ্চপুণ্ডলী, 
- রাধা ইত্যাদি। 

• তাঁর প্রসিদ্ধ ছোটগল্প:
- রসকলি, 
- বেদেনী, 
- ডাকহরকরা। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৬৮.
'আরণ্যক' উপন্যাসের লেখক কে?
  1. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. প্যারীচাঁদ মিত্র
  4. ফররুখ আহমদ
সঠিক উত্তর:
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
‘আরণ্যক’ উপন্যাস:
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত বিখ্যাত উপন্যাস ‘আরণ্যক’।
- ভাগলপুরের নিকটবর্তী বনঞ্চলের নিম্নবিত্ত মানুষের জীবন নিয়ে রচিত হয়েছে আরণ্যক উপন্যাস।

 প্রধান চরিত্রগুলো হলো:
- ভানুমতী,
- বনোয়ারী,
- দোবরু,
- বুদ্ধু সিংহ।

--------------------------
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়:
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় ১৮৯৪ খ্রিস্টাব্দের ১২ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁচরাপাড়ার নিকটবর্তী ঘোষপাড়া-মুরারিপুর গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম।
- ১৩২৮ বঙ্গাব্দের (১৯২১) মাঘ প্রবাসীতে প্রথম গল্প ‘উপেক্ষিতা’ প্রকাশের মধ্য দিয়ে বিভূতিভূষণের সাহিত্যিক জীবন শুরু হয়।
- বাংলা কথাসাহিত্যে শরৎচন্দ্রের পরে বিভূতিভূষণই সর্বাপেক্ষা জনপ্রিয় সাহিত্যিকের মর্যাদা পেয়েছেন।
- হেমন্তকুমার গুপ্তের সঙ্গে যৌথভাবে তিনি দীপক (১৯৩২) পত্রিকা সম্পাদনা করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- পথের পাঁচালী,
- অপরাজিত,
- অশনি সংকেত,
- আরণ্যক,
- আদর্শ হিন্দু হোটেল,
- দেবযান,
- ইছামতী,
- দৃষ্টি প্রদীপ ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
৬৯.
বাংলা চলতি ভাষার প্রয়োগে লিখিত প্রথম উপন্যাস গ্রন্থ 'আলালের ঘরে দুলাল' এর রচয়িতা কে?
  1. ক) মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
  2. খ) প্রমথ চৌধুরী
  3. গ) প্রেমেন্দ্র মিত্র
  4. ঘ) টেকচাঁদ ঠাকুর
সঠিক উত্তর:
ঘ) টেকচাঁদ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) টেকচাঁদ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
বাংলা চলতি ভাষার প্রয়োগে লিখিত প্রথম উপন্যাস গ্রন্থ 'আলালের ঘরে দুলাল' এর রচয়িতা প্যারীচাঁদ মিত্র। 
- টেকচাঁদ ঠাকুর প্যারীচাঁদ মিত্রের ছদ্মনাম এবং এই নামেই তিনি উপন্যাসটি লিখেন। 
- 'আলালের ঘরে দুলাল' প্যারীচাঁদ মিত্রের প্রথম গ্রন্থ। 
- উপন্যাসটি 'মাসিক পত্রিকায়'য় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়ে ১৮৫৮ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়। 
- এ গ্রন্থের গদ্যে লেখক সচেতনভাবে চলতি ভাষা প্রয়োগ করেছেন। 

তাঁর অন্যান্য উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্মের মধ্যে রয়েছে 
- মদ খাওয়া বড় দায় জাত থাকার কি উপায় (১৮৫৯),
- রামারঞ্জিকা (১৮৬০),
- কৃষিপাঠ (১৮৬১),
- ডেভিড হেয়ারের জীবনচরিত (১৮৭৮) এবং
- বামাতোষিণী (১৮৮১)।

ইংরেজি গ্রন্থের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে:
- A Biographical Sketch of David Hare (১৮৭৭),
- The Spiritual Stray Leaves (১৮৭৯),
- Stray Thought of Spiritualism (১৮৭৯),
- Life of Dewan Ramkamal Sen (১৮৮০) এবং
- Life of Coles Worthy Grant (১৮৮১)।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ এবং  বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭০.
বাংলা ভাষার প্রথমগ্রন্থ 'চর্যাপদ' উদ্ধার করেন-
  1. বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ
  2. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
  3. দীনেশচন্দ্র সেন
  4. চন্দ্রকুমার দে
সঠিক উত্তর:
হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
ব্যাখ্যা
হরপ্রসাদ শাস্ত্রী:
- তিনি ছিলেন প্রাচ্যবিদ্যা বিশারদ এবং সংস্কৃতের পণ্ডিত।
- হরপ্রসাদ ভট্টাচার্য (শাস্ত্রী)-র জন্ম ৬ ডিসেম্বর, ১৮৫৩ সালে নৈহাটি, পশ্চিমবঙ্গে। এ পরিবারের আদি নিবাস ছিল খুলনা জেলার কুমিরা গ্রামে।
- তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ও সংস্কৃত বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ছিলেন।
- তিনি বাংলা ভাষার প্রথমগ্রন্থ 'চর্যাপদ' নেপালের রাজদরবার গ্রন্থাগার থেকে উদ্ধার করেন। 
- তিনি ১৮৯৮-তে 'মহামহোপাধ্যায় এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক ডি.লিট (১৯২৭) লাভ করেন।
- ১৯৩১ সালের ১৭ নভেম্বর তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- বাল্মীকির জয়,
- মেঘদূত,
- কাঞ্চন মালা (উপন্যাস),
- হাজার বছরের পুরান বাঙ্গালা ভাষার বৌদ্ধগান ও দোহা,
- বেণের মেয়ে (উপন্যাস),
- প্রাচীন বাংলার গৌরব,
- বৌদ্ধধর্ম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৭১.
অন্নদাশঙ্কর রায় রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. কঙ্কাবতী
  2. কামিনী কাঞ্চন
  3. বিনুর বই
  4. পথে প্রবাসে
সঠিক উত্তর:
কঙ্কাবতী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কঙ্কাবতী
ব্যাখ্যা
• অন্নদাশঙ্কর রায় রচিত উপন্যাস - কঙ্কাবতী
- উপন্যাসটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত হয়।

অন্নদাশঙ্কর রায়:
- তিনি ১৯০৪ সালের ১৫ মার্চ ভারতের উড়িষ্যা প্রদেশের ঢেঙ্কানলে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, কবি, চিন্তাবিদ। 
- তিনি উনিশ শতকের বাঙালি রেনেসাঁ ঐতিহ্যের শেষ বুদ্ধিজীবী হিসেবে অভিহিত।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত লেখার নাম 'তিনটি প্রশ্ন' (প্রবাসী', ১৯২০)।
- তাঁর প্রথম উপন্যাসের নাম 'অসমাপিকা' (১৯৩০)।
- তাঁর প্রথম কবিতাগ্রন্থের নাম 'রাখী' (১৯৩২)।
- তিনি ২৮ শে অক্টোবর, ২০০২ সালে কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত প্রধান উপন্যাস:
- যার যথা দেশ,
- অজ্ঞাতবাস,
- কঙ্কাবতী,
- দুঃখমোচন,
- মর্তের স্বর্গ,
- অপসরণ। 

তাঁর রচিত প্রধান প্রবন্ধগ্রন্থ:
- তারুণ্য,
- ইশারা,
- জীবনশিল্পী,
- বিনুর বই,
- আধুনিকতা,
- জীয়ন কাটি,
- প্রত্যয় ইত্যাদি।

তাঁর রচিত প্রধান ছোটগল্প:
- প্রকৃতির পরিহাস,
- মন পবন,
- যৌবন জ্বালা,
- কামিনী কাঞ্চন ইত্যাদি।

তাঁর রচিত ভ্রমনকাহিনি:
- পথে প্রবাসে,
- ইউরোপের চিঠি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৭২.
শওকত ওসমানের রচনা কোনটি?
  1. কাঞ্চনগ্রাম
  2. ক্রীতদাসের হাসি
  3. কুলায় কালস্রোত
  4. কোথাও কোন ক্রন্দন নেই
সঠিক উত্তর:
ক্রীতদাসের হাসি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্রীতদাসের হাসি
ব্যাখ্যা
ক্রীতদাসের হাসি:
- শওকত ওসমানের 'ক্রীতদাসের হাসি' (১৯৬২) উপন্যাসটিতে প্রতীকাশ্রয়ে তৎকালীন পাকিস্তানিদের বিরূপ শাসনের সমালোচনা করা হয়েছে।
- বাগদাদের বাদশা হারুন অর রশিদ অত্যাচারী। সে ক্রীতদাস তাতারি ও বাঁদি মেহেরজানের প্রণয়ে বাধা সৃষ্টি এবং তাতারিকে গৃহবন্দি ও অত্যাচার করে। 
- তাতারি আমৃত্যু বাদশা হারুনের নির্যাতনের প্রতিবাদ করে যায়। 
- এখানে তাতারি বাঙালি জনতার এবং বাদশা হারুন আইয়ুব খানের  প্রতীক। 
- তাতারির হাসি উপন্যাসে বাঙালির স্বাধীনতার প্রতীক হয়ে উঠেছে। 
- এটি শওকত ওসমানের সর্বশ্রেষ্ঠ উপন্যাস বলে স্বীকৃত।

শওকত ওসমান:
- ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন কথাসাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক।
- তাঁর প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান
- উপন্যাস ও গল্প রচয়িতা হিসেবেই শওকত ওসমানের মুখ্য পরিচয়; তবে প্রবন্ধ, নাটক, রম্যরচনা, স্মৃতিকথা ও শিশুতোষ গ্রন্থও তিনি রচনা করেছেন। 
- তাঁর 'জননী' ও 'ক্রীতদাসের হাসি' উপন্যাস দুটি প্রশংসিত হয়েছে। জননীতে সামাজিক জীবন ও ক্রীতদাসের হাসিতে রাজনৈতিক জীবনের কিছু অন্ধকার দিক উন্মোচিত হয়েছে। 
- তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার, আদমজি সাহিত্য পুরস্কার, একুশে পদক, ফিলিপস পুরস্কার লাভ করেন।
- তিনি ১৯৯৮ সালের ১৪ই মে মৃত্যুবরণ করেন ।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- ক্রীতদাসের হাসি
- সমাগম, 
- চৌরসন্ধি, 
- রাজা উপাখ্যান,
- পতঙ্গ পিঞ্জর,
- রাজসাক্ষী,
- পুরাতন খঞ্জর।

তাঁর রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস:
- জাহান্নম হইতে বিদায়, 
- দুই সৈনিক, 
- নেকড়ে অরণ্য, 
- জলাংগী।

অন্যদিকে,
• শামসুদ্‌দীন আবুল কালাম রচিত উপন্যাস - কাঞ্চনগ্রাম।
• শওকত আলী রচিত উপন্যাস - কুলায় কালস্রোত।
• শহীদ কাদরী রচিত কাব্যগ্রন্থ - কোথাও কোন ক্রন্দন নেই।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৭৩.
কালীপ্রসন্ন সিংহ বাংলা সাহিত্যে কোন রীতির প্রবর্তক?
  1. কালী বাংলা
  2. টেকচাঁদী বাংলা
  3. ভারতী বাংলা
  4. হুতোমী বাংলা
সঠিক উত্তর:
হুতোমী বাংলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হুতোমী বাংলা
ব্যাখ্যা
• কালীপ্রসন্ন সিংহ বাংলা সাহিত্যে 'হুতোমী বাংলা' রীতির প্রবর্তক।

কালীপ্রসন্ন সিংহ:
- তিনি ১৮৪০ সালে কলকাতার জোড়াসাঁকোয় জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি বাংলা সাহিত্যে 'হুতোমী বাংলা' রীতির প্রবর্তক।
- তিনি 'হুতোম প্যাঁচা' ছদ্মনামে পরিচিত।
- তিনি ১৮৭০ সালে কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত বিখ্যাত গ্রন্থ: 
- হুতোম প্যাঁচার নকশা।
- সংস্কৃত মহাভারতের গদ্য-অনুবাদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৭৪.
‘সাজাহান’ নাটকের রচয়িতা কে?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  3. দীনবন্ধু মিত্র
  4. দ্বিজেন্দ্রলাল রায়  
সঠিক উত্তর:
দ্বিজেন্দ্রলাল রায়  
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বিজেন্দ্রলাল রায়  
ব্যাখ্যা

‘সাজাহান’ নাটকটি রচনা করেন দ্বিজেন্দ্রলাল রায়।

• সাজাহান নাটক সম্পর্কিত কিছু তথ্য: 
- দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের সাজাহান এক ঐতিহাসিক পারিবারিক ট্র্যাজেডিকে কেন্দ্র করে রচিত।
- সাজাহান প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯০৯ সালে।
- মোগল সাম্রাজ্যের পটভূমিতে রচিত এই নাটকটি তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ কীর্তি হিসেবে পরিচিত।

- নাটকটিতে দেখা যায়- জীবনের শেষ দিকে সম্রাট সাজাহান একদিকে স্ত্রী মমতাজের মৃত্যুশোকে ভেঙে পড়েছেন। অন্যদিকে নিজের ছেলেদের ক্ষমতার লড়াইয়ে তিনি অসহায় হয়ে পড়েন। আওরঙ্গজেব ক্ষমতা দখল করে পিতাকে কারাবন্দি করে। আর দারা–সুজাদের সঙ্গে তার রাজনৈতিক সংঘাত আরও ঘনীভূত হয়। এসব ঘটনার মধ্যে সাজাহানের পুত্রস্নেহ, অহং, আত্মমর্যাদা ও মানসিক যন্ত্রণা নাটকে স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে। ইতিহাসের প্রেক্ষাপটে মানুষের স্বভাব, দুর্বলতা ও সম্পর্কের জটিল দিকগুলোকে তুলে ধরায় নাটকটি আরও জীবন্ত হয়ে উঠেছে। তাঁর বিখ্যাত দেশাত্মবোধক গান “ধনধান্যে পুষ্পে ভরা” প্রথম ব্যবহৃত হয় তাঁর ঐতিহাসিক নাটক ‘সাজাহান’-এ।
---------------------------------------------
• দ্বিজেন্দ্রলাল রায়:
-  দ্বিজেন্দ্রলাল রায় বাংলা সাহিত্য ও সংগীতের এক বহুমুখী প্রতিভা।
- ১৮৬৩ সালের ১৯ জুলাই, নদিয়ার কৃষ্ণনগরে তাঁর জন্ম।
- তাঁর বাবা কার্তিকেয়চন্দ্র রায় ছিলেন গায়ক ও সাহিত্যিক, তাই ছোটবেলা থেকেই শিল্প-সাহিত্যের পরিবেশে মানুষ হন দ্বিজেন্দ্রলাল।
- কবি, নাট্যকার ও গীতিকার—এই তিন পরিচয়েই তিনি সমানভাবে খ্যাত।
- বাংলা সংগীতে তিনি সৃষ্টি করেন ‘দ্বিজেন্দ্রগীতি’ নামে এক স্বতন্ত্র ধারা, যার মধ্যে দেশপ্রেম, প্রকৃতির সৌন্দর্য আর মধুর সুরেলা অনুভূতি মিলেমিশে আছে।
- তিনি প্রায় ৫০০ গান লিখেছেন; “ধনধান্য পুষ্পভরা” তার অন্যতম শ্রেষ্ঠ রচনা।
- তাঁর হাসির গানও বিশেষ জনপ্রিয়, যার জন্য তিনি ‘হাসির গানের রাজা’ নামে পরিচিত। 
- হাসির গানের রাজা’ 'D.L. Ray' নামেও পরিচিত ছিলেন।
- তিনিই প্রথম বাংলা ভাষায় প্যারোডি গান রচনা করেন।
- নাট্যসাহিত্যেও তাঁর অবদান অনবদ্য।
- ‘তাঁর রচিত ঐতিহাসিক ও পৌরাণিক নাটক:
সাজাহান’,
• ‘চন্দ্রগুপ্ত’,
• ‘নুরজাহান’,
• ‘তারাবাঈ’,
• ‘একঘরে’।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া। 

৭৫.
প্রখ্যাত শিশুসাহিত্যিক সুকুমার রায় সম্পর্কে কোন তথ্যটি সঠিক নয়?
  1. তাঁর আদিনিবাস বর্তমান কিশোরগঞ্জ জেলায়।
  2. তিনি ননসেন্স ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা।
  3. 'হ য ব র ল' এবং 'খাই-খাই' তাঁর রচিত শিশুসাহিত্য।
  4. তিনি 'সন্দেশ'পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন।
সঠিক উত্তর:
তিনি 'সন্দেশ'পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তিনি 'সন্দেশ'পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন।
ব্যাখ্যা
সুকুমার রায়
- উপমহাদেশের একজন প্রখ্যাত শিশুসাহিত্যিক ও ভারতীয় সাহিত্যে "ননসেন্স ছড়া"র প্রবর্তক। 
- তাঁর জন্ম হয় ৩০ অক্টোবর ১৮৮৭ সালে কলকাতায়।
- তাঁর আদিনিবাস বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলার কিশোরগঞ্জ মহকুমার (বর্তমান কিশোরগঞ্জ জেলা) কটিয়াদি উপজেলার মসূয়া গ্রামে।
- বিখ্যাত শিশুসাহিত্যিক, সঙ্গীতজ্ঞ ও যন্ত্রকুশলী  উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী তাঁর পিতা এবং অস্কারপ্রাপ্ত  চলচ্চিত্রকার  সত্যজিৎ রায় তাঁর পুত্র।
- 'সন্দেশ'পত্রিকার সম্পাদক থাকাকালীন তার লেখা ছড়া, গল্প ও প্রবন্ধ আজও বাংলা শিশুসাহিত্যে মাইলফলক হয়ে আছে। 
- 'সন্দেশ'পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন তাঁর পিতা উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী।
- প্রেসিডেন্সী কলেজে পড়বার সময় তিনি ননসেন্স ক্লাব নামে একটি সংঘ গড়ে তুলেছিলেন। 
- এই ক্লাবের মুখপাত্র সাড়ে-বত্রিশ-ভাজা পত্রিকাতেই তার আবোল-তাবোল ছড়ার চর্চা শুরু।
- ১৯২৩ খ্রিষ্টাব্দে কালাজ্বরে (লেইশ্মানিয়াসিস) আক্রান্ত হয়ে মাত্র পঁয়ত্রিশ বছর বয়সে সুকুমার রায় মৃত্যুবরণ করেন।

রচনাবলি: 
- আবোল তাবোল, 
- পাগলা দাশু, 
- হেশোরাম হুশিয়ারের ডায়েরি, 
- খাই-খাই, 
- অবাক জলপান, 
- লক্ষ্মণের শক্তিশেল, 
- ঝালাপালা ও অনান্য নাটক, 
- হ য ব র ল, 
- শব্দ কল্প দ্রুম ইত্যাদি।

তথ্যসূত্র - ১.বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
২. বাংলাপিডিয়া।
৭৬.
'পাগলা দাশু' গল্পগ্রন্থটি রচনা করেন কে?
  1. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
  2.  সুকুমার রায়
  3. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  4. সুকুমার সেন
সঠিক উত্তর:
 সুকুমার রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
 সুকুমার রায়
ব্যাখ্যা

'পাগলা দাশু' গল্পগ্রন্থ:
- পাগলা দাশু সুকুমার রায়ের সৃষ্টি একটি কল্পিত ও হাস্যরসাত্মক চরিত্র।
- এই গল্পগ্রন্থটি মূলত শিশুদের জন্য লেখা।
- এই গল্পগুলোতে স্কুলজীবনকে কেন্দ্র করে দাশু নামের এক দুষ্টু, অদ্ভুত কিন্তু অত্যন্ত বুদ্ধিমান ছেলের নানা কাণ্ডকারখানা তুলে ধরা হয়েছে।
- তার অস্বাভাবিক চিন্তাভাবনা, বিচিত্র পরিকল্পনা ও অবাস্তব আচরণ বন্ধু ও শিক্ষকদের বিস্মিত করে এবং পাঠকের মনে গভীর হাস্যরসের জন্ম দেয়।
- দাশুর এসব কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে সুকুমার রায় প্রচলিত সামাজিক নিয়ম ও ভাবনাকে সূক্ষ্ম ব্যঙ্গের মাধ্যমে উপস্থাপন করেছেন। -
- কল্পনা ও সৃজনশীলতায় ভরপুর এই গল্পগুলো শিশুদের আনন্দ দেওয়ার পাশাপাশি তাদের ভাবনার জগৎকে উন্মুক্ত করে।
- ‘পাগলা দাশু’ বাংলা শিশু সাহিত্যে একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় ও গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র হিসেবে স্থান করে নিয়েছে।

সুকুমার রায়:
- সুকুমার রায় জন্মগ্রহণ করেন ১৮৮৭ সালের ৩০ অক্টোবর কলকাতায়।
- তাঁর পিতা ছিলেন বিখ্যাত শিশুসাহিত্যিক উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী,
- আর তাঁর পুত্র ছিল সত্যজিৎ রায়- বিশ্বখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা।
- তিনি বাংলা শিশুসাহিত্যের ইতিহাসে ‘ননসেন্স ছড়া’- এর জনক হিসেবে অমর।

• তাঁর বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ হলো:
- ‘আবোল তাবোল’ ও
- ‘খাই খাই’।

উৎস: 
বাংলাপিডিয়া; 
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৭৭.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাব্যগুরু হিসেবে পরিচিত কে?
  1. অমিয় চক্রবর্তী
  2. বিহারীলাল চক্রবর্তী
  3. বুদ্ধদেব বসু
  4. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
সঠিক উত্তর:
বিহারীলাল চক্রবর্তী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিহারীলাল চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
বিহারীলাল চক্রবর্তী:
- তিনি ১৮৩৫ সালে নিমতলা, কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি আধুনিক বাংলা গীতিকবিতার অন্যতম পুরোধা এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাব্যগুরু হিসেবে পরিচিত
- তিনি বাংলা সাহিত্যের আধুনিক গীতিকবিতার স্রষ্টা।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর 'সারদা মঙ্গল' কাব্য পড়ে তাঁকে 'ভোরের পাখি' বলে আখ্যায়িত করেন।
- তাঁর শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ 'সারদা মঙ্গল'।
- তাঁর শেষ কাব্যগ্রন্থ 'সাধের আসন'। একে 'সারদা মঙ্গল' কাব্যের পরিশিষ্ট বলা হয়।
- তিনি ১৮৯৪ সালের ২৪ মে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- স্বপ্নদর্শন,
- সঙ্গীত শতক,
- বন্ধু-বিয়োগ,
- প্রেম প্রবাহিণী,
- নিসর্গ সন্দর্শন,
- বঙ্গসুন্দরী,
- সারদা মঙ্গল,
- নিসর্গ সঙ্গীত,
- মায়াদেবী,
- দেবরাণী,
- বাউল বিংশতি,
- সাধের আসন।

অভিসম্বন্ধ: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৭৮.
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত ‘১৯৭১’ উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র কোনটি?
  1. ছায়া
  2. মায়া
  3. নাজমা
  4. সালমা
সঠিক উত্তর:
নাজমা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাজমা
ব্যাখ্যা
• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত ‘১৯৭১’ উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র - নাজমা

• '১৯৭১' উপন্যাস:
- আমাদের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে জীবনের শেষবেলায় কলম ধরেন বাংলা ভাষার অন্যতম কথাসাহিত্যিক তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়।
- আবেগ ও বাস্তবতার শব্দ মিশেলে তিনি উপস্থাপন করেন ‘১৯৭১’ উপন্যাস।
- তারাশঙ্কর তাঁর ‘১৯৭১’ উপন্যাসে তুলে ধরেছেন একাত্তরের গ্রামীণ জীবনের চিত্র।
- উপন্যাসের কেন্দ্রীয় নাজমা নামের একটি কালো মেয়ে এই উপন্যাসে হয়ে উঠেছে একাত্তরে হাজার নারীর প্রতীক।
- সেই সঙ্গে সহচরিত্র - রহিম, মি. সেন ও ছায়ার মাধ্যমে সময়ের মুখ খুলে দিয়েছে এ কথাশিল্পী। যার পরতে পরতে রয়েছে হৃদয়ছোঁয়া মা-মাটি-মানুষের ভালোবাসা।

• '১৯৭১' উপন্যাসের দুটি অংশ। যথা:
- সুতপার তপস্যা,
- একটি কালো মেয়ের কথা।
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুর পূর্বে যখন ‘সুতপার তপস্যা’ এবং ‘একটি কালো মেয়ের কথা’ বই দুটি প্রকাশের আলোচনা হচ্ছিল তখন তিনি গুরুতর অসুস্থ অবস্থার মধ্যেই বলেন, ‘দুটো বই এক হয়ে বেরোবে, তার নাম হবে - ১৯৭১’।

তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়:
- তিনি ১৮৯৮ সালে পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলায় এক জমিদারবংশে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন কথাসাহিত্যিক, রাজনীতিবিদ।
- তাঁর রচিত প্রথম গল্প ‘রসকলি’ সেকালের বিখ্যাত পত্রিকা কল্লোল-এ প্রকাশিত হয়।
- তাঁর রচিত ত্রয়ী উপন্যাস - ধাত্রীদেবতা, গণদেবতা, পঞ্চগ্রাম। 
- আদিবাসী সাঁওতাল বিদ্রোহ নিয়ে তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাস 'অরণ্যবহ্নি' (১৯৬৬)।
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম নিয়ে রচিত তাঁর উপন্যাসের নাম 'একটি কালো মেয়ের কথা' (১৯৭১)।
- তিনি 'পদ্মশ্রী' ও 'পদ্মভূষণ' উপাধি লাভ করেন।
- ১৯৭১ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর তাঁর মৃত্যু হয়। 

তাঁর রচিত উপন্যাস: 
- চৈতালি ঘূর্ণি, 
- ধাত্রীদেবতা, 
- কালিন্দী, 
- কবি, 
- হাঁসুলী বাঁকের উপকথা, 
- গণদেবতা, 
- আরগ্য নিকেতন, 
- পঞ্চপুণ্ডলী, 
- রাধা ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া; ডেইলি স্টার পত্রিকা রিপোর্ট।
৭৯.
'স্বাধীনতা হীনতায় কে বাঁচিতে চায়?'- চরণটির রচয়িতা কে?
  1. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  2. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  3. হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. রঙ্গলাল সেন
সঠিক উত্তর:
রঙ্গলাল সেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রঙ্গলাল সেন
ব্যাখ্যা
• 'স্বাধীনতা হীনতায় কে বাঁচিতে চায়?'- চরণটির রচয়িতা = রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায়
[প্রশ্নে 'সেন' দেওয়া আছে, যেটি ভুল।]

পদ্মিনী উপাখ্যান:
- রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রথম ও প্রধান সাহিত্যকীর্তি 'পদ্মিনী উপাখ্যান' ১৮৫৮ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত হয়।
- এটি ইংরেজি কাব্যাদর্শের অনুসরণে টডের 'Annals and Antiquities of Rajasthan' - এর কাহিনি অবলম্বনে রচিত ঐতিহাসিক রোমান্সধর্মী কাব্য। 
- ‘স্বাধীনতা হীনতায় কে বাঁচিতে চায় হে, কে বাঁচিতে চায়?
দাসত্বশৃঙ্খল বল কে পরিবে পায় হে, কে পরিবে পায়।’ - পদ্মিনী উপাখ্যানে তাঁর এই উক্তি পরবর্তীকালে স্বাধীনতা সংগ্রামের বিপ্লবীদের বীজমন্ত্র হিসেবে কাজ করেছে।

রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায়: 
- কবি, সাংবাদিক রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায়য়ের জন্ম ১৮২৭ সালে পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার বাকুলিয়া গ্রামে। 
- ছাত্রাবস্থায় ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের 'সংবাদ প্রভাকর' পত্রিকায় তাঁর কবিতা প্রকাশিত হয়। 
- তিনি নিজে  কলকাতা থেকে মাসিক রস সাগর (১৮৫২) (পরিবর্তিত নাম সংবাদ সাগর) ও সাপ্তাহিক বার্তাবহ (১৮৫৬) সম্পাদনা করেন। 
- এডুকেশন গেজেট পত্রিকা (১৮৫৫) প্রকাশিত হলে তিনি তার সহসম্পাদক নিযুক্ত হন। 
- ১৮৮৭ সালের ১৩ মে তাঁর মৃত্যু হয়।
 
তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্য: 
- কর্মদেবী, 
- শূরসুন্দরী,
- কাঞ্চী কাবেরী। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৮০.
'তন্বী' গল্পগ্রন্থ রচনা করেন কে?
  1. অমিয় চক্রবর্তী
  2. বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়
  3. বুদ্ধদেব বসু
  4. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
সঠিক উত্তর:
বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
তন্বী:
- এটি বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় রচিত গল্পগ্রন্থ।
- গ্রন্থটি ১৯৪৯ সালে প্রকাশিত হয়।

উল্লেখ্য, 'তন্বী' নামে সুধীন্দ্রনাথ দত্তের কাব্যগ্রন্থ রয়েছে।

বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়:
- তিনি ১৮৯৯ সালের ১৯ জুলাই বিহারের পূর্ণিয়া জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন কবি, কথাশিল্পী, নাট্যকার, প্রবন্ধকার।
- বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় কর্মজীবন শুরু করেন কলকাতার একটি বেসরকারি ল্যাবরেটরিতে নিয়োগ লাভের মধ্য দিয়ে।
- স্কুলে পড়ার সময়ে তিনি ‘বনফুল’ ছদ্মনামে কবিতা রচনা করেন।
- সম্পাদনা করেন 'বিকাশ' (১৯১৫) নামে হাতে-লেখা একটি সাহিত্যপত্রিকা।
- তাঁর কবিতার প্রধান বিষয় নিসর্গ চেতনা, প্রেম ও আত্ম-উপলব্ধি।
- ১৯৭৯ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- বনফুলের গল্প, 
- বিন্দু বিসর্গ, 
- অদৃশ্যলোকে,
- তন্বী,  
- অনুগামিনী,
- দূরবীণ,
- মণিহারী, 
- বহুবর্ণ,
- বনফুলের নতুন গল্প ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৮১.
'প্রার্থী' কবিতাটি সুকান্ত ভট্টাচার্যের কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. ঘুম নেই
  2. ছাড়পত্র
  3. পূর্বাভাস
  4. মিঠে কড়া
সঠিক উত্তর:
ছাড়পত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ছাড়পত্র
ব্যাখ্যা
'প্রার্থী' কবিতা:
- 'প্রার্থী' কবিতা সুকান্ত ভট্টাচার্যের 'ছাড়পত্র' (১৯৪৭) কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।
- 'প্রার্থী' কবিতায় সূর্যের জন্য প্রতীক্ষার সঙ্গে ধানকাটার অপেক্ষায় থাকা কৃষকের চঞ্চল চোখের তুলনা করা হয়েছে।
- এই তুলনা করার মধ্যে সুকান্ত ভট্টাচার্যের কবিতার সঙ্গে শ্রমজীবী কৃষক-শ্রমিকের সম্পৃক্ত করা মানসিকতা প্রকাশ পেয়েছে।

সুকান্ত ভট্টাচার্য:
- তিনি ছিলেন মার্কসবাদী ভাবধারায় বিশ্বাসী এবং প্রগতিশীল চেতনার অধিকারী তরুণ কবি।
- ১৯২৬ সালের ১৫ আগস্ট কলকাতায় মাতুলালয়ে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল গোপালগঞ্জ জেলার কোটালিপাড়ায়। 
- সুকান্ত ভট্টাচার্য কমিউনিস্ট পার্টির পত্রিকা দৈনিক স্বাধীনতা-র (১৯৪৫) ‘কিশোর সভা’ বিভাগ সম্পাদনা করতেন।
- সুকান্ত ভট্টাচার্যের সাহিত্য-সাধনার মূল ক্ষেত্র ছিল কবিতা। সাধারণ মানুষের জীবনসংগ্রাম, যন্ত্রণা ও বিক্ষোভ তাঁর কবিতার প্রধান বিষয়বস্তু।
- তাঁর রচনাকর্মে গণমানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার বাণীসহ শোষণহীন এক নতুন সমাজ গড়ার অঙ্গীকার উচ্চারিত হয়েছে।
- ‘এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাবো আমি' - সুকান্ত ভট্টাচার্যের বিখ্যাত উক্তি।
- তিনি ২৯শে বৈশাখ, ১৩৫৪; ১৩ই মে, ১৯৪৭ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ:
- ছাড়পত্র,
- ঘুম নেই,
- পূর্বাভাস,
- মিঠে কড়া,
- অভিযান,
- হরতাল,
- গীতিগুচ্ছ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৮২.
ড. সুকুমার সেন রচিত গ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) ইসলামি বাংলা সাহিত্য
  2. খ) বাংলা ভাষার পুরাবৃত্ত
  3. গ) ভারতীয় অনার্য সাহিত্য
  4. ঘ) বাংলা সাহিত্যে পদ্য
সঠিক উত্তর:
ক) ইসলামি বাংলা সাহিত্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ইসলামি বাংলা সাহিত্য
ব্যাখ্যা
• ড. সুকুমার সেন 'ইসলামি বাংলা সাহিত্য' (১৩৫৮) বইটি রচনা করেন।
- বইটিতে বাংলা সাহিত্যে মুসলিম অবদানের সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেওয়া হয়েছে।
- ড. সুকুমার সেন 'বাঙ্গালা সাহিত্যের কথা' (১৯৩৯) এবং চার খন্ডে 'বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস' (১৯৪০) রচনা করেছেন। 

তাঁর অন্যান্য রচনা: 
- ভাষার ইতিবৃত্ত
- বাংলা স্থান নাম
- বাংলায় নারীর ভাষা
- বাংলা সাহিত্যে গদ্য 
- ভারতীয় আর্য সাহিত্যের 
- ভারত কথার গ্রন্থিমোচন
- রামকথার প্রাক ইতিহাস
- বটতলার ছাপা ও ছবি
- বনফুলের ফুলবন 
- কলকাতার কাহিনি ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক।
৮৩.
‘প্রথম আলো' উপন্যাসের লেখক কে?
  1. মতিউর রহমান
  2. সৈয়দ শামসুল হক
  3. সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
  4. হুমায়ূন আহমেদ
সঠিক উত্তর:
সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়:
- সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় কবি ও উপন্যাসিক হিসেবে পশ্চিমবঙ্গের সাহিত্যে একটি শ্রেষ্ঠত্বের আসন লাভ করেছিলেন।
- তবে কবি হিসেবে তাঁর পরিচিতির চেয়ে ঔপন্যাসিক হিসেবে বেশি খ্যাতিলাভ করেছিলেন।
- সমকালীন জীবনের চিত্র ফুটিয়ে তুলতে তিনি বিশেষ কৃতিত্বের পরিচয় দিয়ে গেছেন।
- সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের জন্ম বর্তমান বাংলাদেশের ফরিদপুর জেলায়। 
- কবিতা দিয়ে তাঁর সাহিত্য সাধনা শুরু।
- তাঁর প্রথম কবিতা 'একটি চিঠি' প্রকাশিত হয়েছিল 'দেশ' পত্রিকায় ১৯৫১ সালে।
- তাঁর রচিত ছোটগল্প 'খাঁচা' প্রথম প্রকাশিত হয় রমাপদ চৌধুরী সম্পাদিত 'ইন্দানীং' পত্রিকায়।
- তাঁর প্রথম উপন্যাস 'আত্মপ্রকাশ ১৯৬৪ সালে প্রকাশিত হয়।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্য গ্রন্থগুলো হল:
- একা এবং কয়েকজন',
- 'হঠাৎ নীরার জন্য',
- 'ভোর বেলার উপহার',
- 'সাদা পৃষ্ঠা', 'তোমার সঙ্গে',
- 'সেই মুহূর্তে নীরা',
- 'কায়দাটা শিখে নেবে' ইত্যাদি ।

• সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের উপন্যাসগুলো হল:
- 'আত্মপ্রকাশ',
- 'ছায়া দর্শন',
- 'অন্য জীবনের স্বাদ',
- 'স্বপ্ন সম্ভব',
- 'সুনীলের সাতদিন',
- 'বাণী ও অবিনাশ',
- 'প্রথম আলো'।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক। 
৮৪.
"হারিয়ে গেছে- হারিয়ে গেছে, ওরে!
হারিয়ে গেছে বোল্-বলা সেই বাঁশি,"- পঙক্তিটির রচয়িতা কে? 
  1. ক) সৈয়দ শামসুল হক
  2. খ) সুকান্ত ভট্টাচার্য
  3. গ) সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  4. ঘ) সৈয়দ আলী আহসান
সঠিক উত্তর:
গ) সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা
আলোচ্য পঙক্তিটির রচয়িতা সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত। 
- কবিতাটি নিম্নরূপ-

ছিন্ন মুকুল
– সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত

সবচেয়ে যে ছোট্ট পিঁড়িখানি
সেইখানি আর কেউ রাখে না পেতে,
ছোট থালায় হয় নাকো ভাত বাড়া,
জল ভরে না ছোট্ট গেলাসেতে;
বাড়ির মধ্যে সবচেয়ে যে ছোট
খাবার বেলায় কেউ ডাকে না তাকে,
সবচেয়ে যে শেষে এসেছিল
তারি খাওয়া ঘুচেছে সব আগে।

সবচেয়ে যে অল্পে ছিল খুশি
খুশি ছিল ঘেঁষাঘেঁষির ঘরে,
সেই গেছে হায়, হাওয়ার সঙ্গে মিশে
দিয়ে গেছে জায়গা খালি করে।
ছেড়ে গেছে পুতুল, পুঁতির মালা,
ছেড়ে গেছে মায়ের কোলের দাবি;
ভয়-তরাসে ছিলো যে সবচেয়ে
সেই খুলেছে আঁধার ঘরের চাবি।

হারিয়ে গেছে- হারিয়ে গেছে, ওরে!
হারিয়ে গেছে বোল্-বলা সেই বাঁশি, (সংক্ষিপ্ত)

উৎস: ছিন্ন মুকুল,  সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
৮৫.
আইয়ুব খানের স্বৈরশাসনকে ব্যঙ্গ করে রচিত উপন্যাস-
  1. তস্কর লস্কর
  2. জলাঙ্গী
  3. ক্রীতদাসের হাসি
  4. আর্তনাদ 
সঠিক উত্তর:
ক্রীতদাসের হাসি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্রীতদাসের হাসি
ব্যাখ্যা

• আইয়ুব খানের স্বৈরশাসনকে ব্যঙ্গ করে রচিত উপন্যাস - 'ক্রীতদাসের হাসি'।
- এটি একটি রূপকভিত্তিক উপন্যাস, যেখানে শওকত ওসমান প্রতীকী ভঙ্গিতে ১৯৫৮ সালের আইয়ুব খানের সামরিক শাসনের পরিস্থিতি তুলে ধরেছেন।

∗ 'ক্রীতদাসের হাসি':
- 'ক্রীতদাসের হাসি’ উপন্যাসে শওকত ওসমান স্বৈরাচারী শাসকের অধীনে মানুষের দুঃখ-কষ্ট, অধিকারহীনতা ও সমাজের অন্ধকার বাস্তবতাকে তুলে ধরেছেন।
- আইয়ুব খানের দমনমূলক শাসনব্যবস্থাকে ব্যঙ্গ করেই উপন্যাসটি নির্মিত।
- উপন্যাসটির প্রধান চরিত্র- হাবসি ক্রীতদাস তাতারী, মেহেরজান, এবং আব্বাসীয় খলিফা হারুন-অর-রশিদ। 
- এ উপন্যাসে লেখক তাতারীর হাসি এবং মেহেরজানের সঙ্গে তার সম্পর্কের মধ্য দিয়ে সমাজের শোষণ ও বঞ্চনার প্রতীকী উপস্থাপন করেছেন। 
--------------------------------------------
∗ শওকত ওসমান:
- শওকত ওসমান ছিলেন এক বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক ও প্রাবন্ধিক। 
- তিনি ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর আসল নাম ছিল শেখ আজিজুর রহমান।
- নাটক, গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ, রসাত্মক লেখা থেকে শুরু করে শিশু-কিশোর সাহিত্যে পর্যন্ত তাঁর অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য।

তাঁর সাহিত্যকর্মের মধ্যে উল্লেখযোগ্য উপন্যাসগুলো হলো -
- জননী;
- ক্রীতদাসের হাসি।

• তাঁর মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস:   
- জাহান্নম হইতে বিদায়;
- দুই সৈনিক;
- নেকড়ে অরণ্য;
- জলাঙ্গী।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য নাটক:
- আমলার মামলা;
- পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা;
- তস্কর লস্কর;
- কাঁকর মণি।
- শওকত ওসমান এর বিখ্যাত গল্প হল: জন্ম যদি তব বঙ্গে।
- আর তাঁর ভাষা আন্দোলনভিত্তিক উপন্যাস: আর্তনাদ।

উৎস: 
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া।

৮৬.
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত কোন পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন?
  1. ক) সংবাদ প্রভাকর
  2. খ) সংবাদ প্রভাতী
  3. গ) পূর্বাশা
  4. ঘ) স্বদেশ
সঠিক উত্তর:
ক) সংবাদ প্রভাকর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সংবাদ প্রভাকর
ব্যাখ্যা
• ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত একজন বাঙালি কবি ও সাহিত্যিক এবং সাংবাদিক ।
- তিনি ‘সংবাদ প্রভাকর’ এর সম্পাদক।
- ১৮৩৯ সাল থেকে এটি দৈনিক পত্রিকায় হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
- বাংলা সাহিত্যে যুগ সন্ধিকাল ১৭৬০ থেকে ১৮৬০ খ্রিস্টাব্দ।
- বাংলা সাহিত্যে ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত যুগসন্ধিকালের কবি হিসেবে পরিচিত।
• ঈশ্বরচন্দ্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কীর্তি হলো ভারতচন্দ্র রায়, রামপ্রসাদ সেন, নিধুগুপ্ত, হরু ঠাকুর ও কয়েকজন কবিয়ালের লুপ্তপ্রায় জীবনী উদ্ধার করে প্রকাশ করা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৮৭.
শওকত ওসমানের 'বনি আদম' উপন্যাসটি কোন সাহিত্য সাময়িকীতে প্রথম প্রকাশিত হয়?
  1. দৈনিক আজাদ
  2. দৈনিক নবযুগ
  3. ক্রান্তি
  4. কবিতা
সঠিক উত্তর:
দৈনিক আজাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দৈনিক আজাদ
ব্যাখ্যা
শওকত ওসমান:
- তিনি ছিলেন কথাসাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক।
- ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
- তাঁর প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান
- উপন্যাস ও গল্প রচয়িতা হিসেবেই শওকত ওসমানের মুখ্য পরিচয়; তবে প্রবন্ধ, নাটক, রম্যরচনা, স্মৃতিকথা ও শিশুতোষ গ্রন্থও তিনি রচনা করেছেন। 
- শওকত ওসমানের উপন্যাস 'বনি আদম' ১৯৪৬ সালে দৈনিক আজাদের সাহিত্য সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়।
- তাঁর 'জননী' ও 'ক্রীতদাসের হাসি' উপন্যাস দুটি প্রশংসিত হয়েছে। জননীতে সামাজিক জীবন ও ক্রীতদাসের হাসিতে রাজনৈতিক জীবনের কিছু অন্ধকার দিক উন্মোচিত হয়েছে। 
- তিনি  বাংলা একাডেমি পুরস্কার, আদমজি সাহিত্য পুরস্কার, একুশে পদক, ফিলিপস পুরস্কার লাভ করেন।
- তিনি ১৯৯৮ সালের ১৪ই মে মৃত্যুবরণ করেন ।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- ক্রীতদাসের হাসি, 
- সমাগম, 
- বনি আদম,
- চৌরসন্ধি, 
- রাজা উপাখ্যান,
- পতঙ্গ পিঞ্জর,
- রাজসাক্ষী,
- পুরাতন খঞ্জর।

তাঁর রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস:
- জাহান্নম হইতে বিদায়, 
- দুই সৈনিক, 
- নেকড়ে অরণ্য, 
- জলাংগী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৮৮.
সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত'র মৃত্যুর পর রচিত 'সত্যেন-প্রয়াণ' কবিতা কে লিখেন?
  1. অমিয় চক্রবর্তী
  2. কাজী ইমদাদুল হক
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. কাজী নজরুল ইসলাম
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত:
- তিনি ছিলেন কবি ও ছান্দসিক। 
- কলকাতার নিকটবর্তী নিমতা গ্রামে ১৮৮২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
- পিতা রজনীনাথ দত্ত ছিলেন কলকাতার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী এবং পিতামহ অক্ষয়কুমার দত্ত  ছিলেন তত্ত্ববোধিনী পত্রিকার সম্পাদক।
- সত্যেন্দ্রনাথ ছিলেন ভারতী পত্রিকাগোষ্ঠীর অন্যতম বিশিষ্ট কবি। 
-  বাংলা ভাষার নিজস্ব বাগধারা ও ধ্বনি সহযোগে নতুন ছন্দসৃষ্টি তাঁর কবিপ্রতিভার মৌলিক কীর্তি। এজন্য তিনি ‘ছন্দের জাদুকর’ ও ‘ছন্দোরাজ’ নামে সাধারণ্যে পরিচিত। 
- ১৯১৮ সালে ভারতী পত্রিকার বৈশাখ সংখ্যায়  ছন্দ সম্পর্কিত তাঁর প্রসিদ্ধ রচনা ‘ছন্দ-সরস্বতী’ প্রকাশিত হয়। 
- সত্যেন্দ্রনাথ একাধিক ছদ্মনামে কাব্যচর্চা করতেন, যেমন নবকুমার, কবিরত্ন, অশীতিপর শর্মা, ত্রিবিক্রম বর্মণ, কলমগীর ইত্যাদি।
- ১৯২২ সালের ২৫শে ফেব্রুয়ারি তাঁর মৃত্যু হয়।
- তাঁর মৃত্যুর পর রচিত 'সত্যেন-প্রয়াণ' কবিতা কাজী নজরুল ইসলাম লিখেন।

তাঁর রচিত বিখ্যাত কাব্য:
- সবিতা, 
- সন্ধিক্ষণ, 
- বেণু ও বীণা, 
- কুহু ও কেকা,
- অভ্র আবীর, 
- হসন্তিকা, 
- বেলা শেষের গান, 
- বিদায় আরতি, 
- কাব্যসঞ্চয়ন।

তাঁর রচিত অনুবাদকাব্য:
-  তীর্থরেণু, 
- মণি মঞ্জুষা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া
৮৯.
অন্নদাশঙ্কর রায় কোন ছদ্মনামে লিখতেন?
  1. লীলাময় রায়
  2. হুতোম পেঁচা
  3. পরশুরাম
  4. অপরাজিতা দেবী
সঠিক উত্তর:
লীলাময় রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লীলাময় রায়
ব্যাখ্যা
অন্নদাশঙ্কর রায়
- অন্নদাশঙ্কর রায় (১৯০৪-২০০২) একজন স্বনামধন্য বাঙালি কবি, লেখক এবং  ছড়াকার।
- তিনি 'লীলাময় রায়' ছদ্মনামে লিখতেন।
- পথে প্রবাসে ও ইউরোপের চিঠি তাঁর রচিত দুইটি ভ্রমণ কাহিনী।
- অন্নদাশঙ্কর রায়ের প্রথম কবিতাগ্রন্থ রাখী (১৯৩২)।
- তাঁর প্রথম উপন্যাস অসমাপিকা (১৯৩০)।
- ১৯২৭ সালে অন্নদাশঙ্কর রায় ইন্ডিয়ান সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় প্রথমস্থান অধিকার করেন।
 - বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে সবচেয়ে বিখ্যাত, বহুলপঠিত, শ্রুত ও উদ্ধৃত 'বঙ্গবন্ধু' কবিতাটি লিখেছেন লেখক ও কবি অন্নদাশঙ্কর রায়

অন্যদিকে, 
- হুতোম পেঁচা - কালীপ্রসন্ন সিংহ।
- পরশুরাম - রাজশেখর বসু।
- অপরাজিতা দেবী - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।

উৎস: ১.বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
৯০.
‘অশনি সংকেত’ - উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক
  2. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. বদরুদ্দীন ওমর
  4. সত্যজিৎ রায়
সঠিক উত্তর:
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
‘অশনি সংকেত’: 
- উপন্যাসের রচয়িতা বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়।
- এর পটভূমি দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের বিষম ফল ১৩৫০ বঙ্গাব্দের দুর্ভিক্ষ।
- আর এই দুর্ভিক্ষের করাল গ্রাস গ্রাম বাংলায় কীভাবে বিস্তার লাভ করেছে তার নিখুঁত বর্ণনা দিয়ে বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচনা করেন এই উপন্যাসটি।
- এটা প্রথম প্রকাশ হয় ১৯৫৯ সালে।
- তবে পুস্তকাকারে প্রকাশের ১৯৪৪-৪৬ সাল পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে মাসিক মাতৃভূমি পত্রিকায় প্রকাশিত।

বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়: 
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় ১৮৯৪ খ্রিস্টাব্দের ১২ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁচরাপাড়ার নিকটবর্তী ঘোষপাড়া-মুরারিপুর গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম।
- ১৩২৮ বঙ্গাব্দের (১৯২১) মাঘ প্রবাসীতে প্রথম গল্প ‘উপেক্ষিতা’ প্রকাশের মধ্য দিয়ে বিভূতিভূষণের সাহিত্যিক জীবন শুরু হয়। 
- বাংলা কথাসাহিত্যে শরৎচন্দ্রের পরে বিভূতিভূষণই সর্বাপেক্ষা জনপ্রিয় সাহিত্যিকের মর্যাদা পেয়েছেন।
- হেমন্তকুমার গুপ্তের সঙ্গে যৌথভাবে তিনি দীপক (১৯৩২) পত্রিকা সম্পাদনা করেন।

- তাঁর সাহিত্যকর্ম: 
উপন্যাস:
- পথের পাঁচালী,
- অপরাজিত, 
- অশনি সংকেত,
- আরণ্যক,
- আদর্শ হিন্দু হোটেল,
- দেবযান,
- ইছামতী,
- দৃষ্টি প্রদীপ ইত্যাদি।

ছোটগল্প:
- মেঘমল্লার, 
- মৌরীফুল, 
- যাত্রাবদল, 
- কিন্নরদল ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
৯১.
‘আলালের ঘরের দুলাল’ -এর লেখক কে?
  1. মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
  2. প্যারীচাঁদ মিত্র
  3. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  4. উইলিয়াম কেরী
সঠিক উত্তর:
প্যারীচাঁদ মিত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্যারীচাঁদ মিত্র
ব্যাখ্যা
আলালের ঘরের দুলাল:
- প্যারীচাঁদ মিত্রের প্রথম গ্রন্থ 'আলালের ঘরের দুলাল।'
- সাহিত্যক্ষেত্রে প্যারীচাঁদ মিত্রের সর্বশ্রেষ্ঠ কৃতিত্ব 'আলালের ঘরের দুলাল', যা বাংলা সাহিত্যের প্রথম উপন্যাস হিসেবে খ্যাত।
- রচনারীতি ও ভাষাগত দিক থেকে এ উপন্যাস বাংলা সাহিত্যে নতুন ধারার সূচনা করে।
- এ উপন্যাসে প্যারীচাঁদ মিত্র প্রথমবারের মতো বাংলা সাহিত্যের প্রচলিত গদ্যরীতির নিয়ম ভেঙ্গে চলিত ভাষারীতি প্রয়োগ করেন।
- সাধারণ মানুষের মুখে ব্যবহৃত কথ্য ভাষা 'আলালের ঘরের দুলাল' উপন্যাসের এক বিশেষ বৈশিষ্ট্য। 

প্যারীচাঁদ মিত্র:
- ১৮১৪ সালের ২২ জুলাই কলকাতায় তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন লেখক, সাংবাদিক, সংস্কৃতিসেবী, ব্যবসায়ী।
- তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম 'টেকচাঁদ ঠাকুর'।
- ১৮২৭ সালে তিনি হিন্দু কলেজে ভর্তি হন এবং খ্যাতিমান শিক্ষক হেনরি ডিরোজিওর তত্ত্বাবধানে থেকে শিক্ষা সম্পন্ন করেন।
- বাংলা উপন্যাস রচনার পথিকৃৎ প্যারীচাঁদ মিত্র।
- তিনি ২৩শে নভেম্বর, ১৮৮৩ সালে মৃত্যবরণ করেন।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্ম:  
- মদ খাওয়া বড় দায় জাত থাকার কি উপায়,
- রামারঞ্জিকা,
- কৃষিপাঠ,
- যৎকিঞ্চিৎ,
- অভেদী,
- আধ্যাত্মিকা,
- গীতাঙ্কুর,
- ডেভিড হেয়ারের জীবনচরিত এবং 
- বামাতোষিণী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাস, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৯২.
'দুর্মর' সুকান্ত ভট্টাচার্যের কোন কাব্যগ্রন্থভুক্ত কবিতা?
  1. অভিযান
  2. ছাড়পত্র
  3. পূর্বাভাস
  4. হরতাল
সঠিক উত্তর:
পূর্বাভাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পূর্বাভাস
ব্যাখ্যা
• 'দুর্মর' সুকান্ত ভট্টাচার্যের পূর্বাভাস কাব্যগ্রন্থভুক্ত কবিতা।
- 'পূর্বাভাস' কাব্যগ্রন্থের শেষ কবিতা 'দুর্মর' তেভাগা আন্দোলনের পটভূমিকায় লেখা।

দুর্মর,
- সুকান্ত ভট্টাচার্য

হিমালয় থেকে সুন্দরবন, হঠাৎ বাংলাদেশ
কেঁপে কেঁপে ওঠে পদ্মার উচ্ছ্বাসে,
সে কোলাহলে রুদ্ধস্বরের আমি পাই উদ্দেশ
জলে ও মাটিতে ভাঙনের বেগ আসে।

হঠাৎ নিরীহ মাটিতে কখন
জন্ম নিয়েছে সচেতনতার দান,
গত আকালের মৃত্যুকে মুছে
আবার এসেছে বাংলাদেশের প্রাণ।

“হয় দান নয় প্রাণ” এ শব্দে
সারা দেশ দিশাহারা,
একবার মরে ভুলে গেছে আজ
মৃত্যুর ভয় তারা।

সাবাস, বাংলাদেশ, এ পৃথিবী
অবাক তাকিয়ে রয়ঃ
জ্বলে পুড়ে-মরে ছারখার
তবু মাথা নোয়াবার নয়।

এবার লোকের ঘরে ঘরে যাবে
সোনালী নয়কো, রক্তে রঙিন দান,
দেখবে সকলে সেখানে জ্বলছে
দাউ দাউ করে বাংলাদেশের প্রাণ।।

সুকান্ত ভট্টাচার্য:
- ১৯২৬ সালের ১৫ আগস্ট কলকাতায় মাতুলালয়ে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন মার্কসবাদী ভাবধারায় বিশ্বাসী এবং প্রগতিশীল চেতনার অধিকারী তরুণ কবি।
- তাঁকে কিশোরকবি বলা হয়।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল ফরিদপুর জেলার কোটালিপাড়ায়। 
- সুকান্ত ভট্টাচার্য কমিউনিস্ট পার্টির পত্রিকা দৈনিক স্বাধীনতা-র (১৯৪৫) ‘কিশোর সভা’ বিভাগ সম্পাদনা করতেন।
- সুকান্তের সাহিত্য-সাধনার মূল ক্ষেত্র ছিল কবিতা। সাধারণ মানুষের জীবনসংগ্রাম, যন্ত্রণা ও বিক্ষোভ তাঁর কবিতার প্রধান বিষয়বস্তু।
- তাঁর রচনাকর্মে গণমানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার বাণীসহ শোষণহীন এক নতুন সমাজ গড়ার অঙ্গীকার উচ্চারিত হয়েছে।
- ‘এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাবো আমি' - সুকান্ত ভট্টাচার্যের বিখ্যাত উক্তি।
- তিনি ২৯শে বৈশাখ, ১৩৫৪; ১৩ই মে, ১৯৪৭ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- ছাড়পত্র,
- ঘুম নেই,
- পূর্বাভাস,
- অভিযান,
- মিঠেকড়া,
- হরতাল,
- গীতিগুচ্ছ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া; সুকান্ত সমগ্র, সুকান্ত ভট্টাচার্য; পূর্বাভাস, সুকান্ত ভট্টাচার্য।
৯৩.
শওকত ওসমান কত সালে একুশে পদক লাভ করেন?
  1. ১৯৬২
  2. ১৯৬৬
  3. ১৯৭৩
  4. ১৯৮৩
সঠিক উত্তর:
১৯৮৩
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৮৩
ব্যাখ্যা
শওকত ওসমান:
- তিনি ছিলেন কথাসাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক।
- ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
- তাঁর প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান
- উপন্যাস ও গল্প রচয়িতা হিসেবেই শওকত ওসমানের মুখ্য পরিচয়; তবে প্রবন্ধ, নাটক, রম্যরচনা, স্মৃতিকথা ও শিশুতোষ গ্রন্থও তিনি রচনা করেছেন। 
- তাঁর 'জননী' ও 'ক্রীতদাসের হাসি' উপন্যাস দুটি প্রশংসিত হয়েছে। জননীতে সামাজিক জীবন ও ক্রীতদাসের হাসিতে রাজনৈতিক জীবনের কিছু অন্ধকার দিক উন্মোচিত হয়েছে। 
- তিনি  বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬২), আদমজি সাহিত্য পুরস্কার (১৯৬৬), একুশে পদক (১৯৮৩), ফিলিপস পুরস্কার (১৯৯১), স্বাধীনতা দিবস পুরস্কার (১৯৯৭) লাভ করেন।
- তিনি ১৯৯৮ সালের ১৪ই মে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- ক্রীতদাসের হাসি, 
- সমাগম, 
- চৌরসন্ধি, 
- রাজা উপাখ্যান,
- পতঙ্গ পিঞ্জর,
- রাজসাক্ষী,
- পুরাতন খঞ্জর।

তাঁর রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস:
- জাহান্নম হইতে বিদায়, 
- দুই সৈনিক, 
- নেকড়ে অরণ্য, 
- জলাংগী।

তাঁর রচিত গল্প:
- পিঁজরাপোল, 
- জুনু আপা ও অন্যান্য গল্প,
- প্রস্তর ফলক, 
- উভশৃঙ্গ, 
- শ্রেষ্ঠ গল্প,
- জন্ম যদি তব বঙ্গে,
- ঈশ্বরের প্রতিদ্বন্দ্বী ইত্যাদি।

তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- সংস্কৃতির চড়াই উৎরাই,
- মুসলিম মানসের রূপান্তর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।
৯৪.
“সত্যেন্দ্রনাথ দত্তকে কোন সাহিত্যিক ছন্দের জাদুকর উপাধিতে অভিহিত করেছেন?  
  1. উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. সত্যজিৎ রায় 
  4. সুকুমার রায়
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা

“সত্যেন্দ্রনাথ দত্তকে ছন্দের জাদুকর উপাধিতে অভিহিত করা হয়"। 
-------------------------------------------
• সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত:
- সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত ছিলেন বিংশ শতাব্দীর একজন প্রসিদ্ধ বাঙালি কবি ও ছড়াকার।
- সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের জন্ম ১৮৮২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি কলকাতার কাছে নিমতা গ্রামে।
- পেশায় তিনি কবি, ছড়াকার এবং অনুবাদক ছিলেন।
- তাঁর সাহিত্যিক শক্তির মূল বৈশিষ্ট্য হলো:
• ছন্দের অসাধারণ দক্ষতা, 
• ভাষার গভীর বোঝাপড়া এবং
• জ্ঞান-বিজ্ঞান ও ঐতিহ্য বিষয়ক পাণ্ডিত্য।
- তিনি তাঁর কবিতায় ছন্দের কারুকার্যের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত ছিলেন।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁকে ‘ছন্দের জাদুকর’ উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে:
- ‘কুহু ও কেকা’,
- ‘বেণু ও বীণা’,
-‘পালকির গান',
- ‘ফুলের ফসল’।

উৎস: 
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া।

৯৫.
‘বাংলাদেশ' অমিয় চক্রবর্তী রচিত কোন ধরনের রচনা? 
  1. উপন্যাস
  2. কবিতা
  3. কাব্যগ্রন্থ 
  4. গান 
সঠিক উত্তর:
কবিতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কবিতা
ব্যাখ্যা

‘বাংলাদেশ' অমিয় চক্রবর্তী রচিত একটি কবিতা। 

• অমিয় চক্রবর্তী:
- অমিয় চক্রবর্তী (১০ এপ্রিল, ১৯০১ – ১২ জুন, ১৯৮৬) ছিলেন একজন বিশিষ্ট কবি, গবেষক ও শিক্ষাবিদ।
- তিনি পশ্চিমবঙ্গের হুগলীর শ্রীরামপুরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি পঞ্চপান্ডবদের মধ্যের একজন।
- অমিয় চক্রবর্তী পাটনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি.এ. (১৯২১) পাস করে শান্তিনিকেতনের গবেষণা বিভাগে যোগ দেন।
- পরে ১৯২৬–১৯৩৩ সাল পর্যন্ত তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাহিত্য সচিব হিসেবে কাজ করেন।  
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ হলো কবিতাবলী এবং তিনি মোট ১৫টি কাব্যগ্রন্থ রচনা করেছেন।
- অমিয় চক্রবর্তীর ইংরেজি ভাষায় ৯টি বই প্রকাশিত হয়েছে।
-  বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে ‘দেশিকোত্তম’ (১৯৬৩) এবং ভারত সরকার ‘পদ্মভূষণ’ (১৯৭০) উপাধিতে ভূষিত করেছে।
- তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ কবিতা রচনা করেন যা তাঁর অনিঃশেষ কাব্যগ্রন্থে সংকলিত আছে।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে:
- খসড়া,
- অনিঃশেষ
- এক মুঠো,
- মাটির দেয়াল,
- অভিজ্ঞান বসন্ত ইত্যাদি। 

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া।

৯৬.
হাসান আজিজুল হক রচিত গল্পগ্রন্থ -
  1. অপ্রকাশের ভার
  2. অসীমান্তিক
  3. জীবন ঘষে আগুন
  4. বৃত্তায়ন
সঠিক উত্তর:
জীবন ঘষে আগুন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জীবন ঘষে আগুন
ব্যাখ্যা
• হাসান আজিজুল হক রচিত গল্পগ্রন্থ - জীবন ঘষে আগুন
- এটি ১৯৭৩ সালে প্রকাশিত হয়।

হাসান আজিজুল হক:
- তিনি ১৯৩৯ সালের ২রা ফেব্রুয়ারি, যবগ্রাম, বর্ধমান, পশ্চিমবঙ্গে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত কথাসাহিত্যিক হিসেবে পরিচিত।
- ১৯৬০ সাল থেকে লেখক হিসেবে নিজেকে তৈরি করার সিদ্ধান্ত নিয়ে সক্রিয় সাহিত্যচর্চার আরম্ভ। 
- রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শনশাস্ত্র বিভাগে অধ্যাপনা শেষে তিনি অবসর নিয়েছেন। 
- তিনি আদমজি সাহিত্য পুরস্কার, বাংলা একাডেমি পুরস্কার, আলাওল পুরস্কার, অগ্রণী পুরস্কার, আনন্দ পুরস্কার লাভ করেন।
- তাঁর গল্প ইংরেজি, হিন্দি, উর্দু, রুশ ও চেক ভাষায় অনূদিত হয়েছে।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- সমুদ্রের স্বপ্ন শীতের অরণ্য,
- আত্মজা ও একটি করবী গাছ,
- জীবন ঘষে আগুন,
- নামহীন গোত্রহীন,
- পাতালে হাসপাতালে,
- আমরা অপেক্ষা করছি,
- রোদে যাবো,
- মা-মেয়ের সংসার,
- নির্বাচিত গল্প,
- রাঢ়বঙ্গের গল্প।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বৃত্তায়ন,
- শিউলি,
- আগুনপাখি,
- সাবিত্রী উপাখ্যান।

তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- কথাসাহিত্যের কথকতা,
- অপ্রকাশের ভার,
- অতলের আঁধি,
- ছড়ানো ছিটানো,
- কথা লেখা কথা।

তাঁর রচিত সম্পাদনা:
- জি.সি. দেব রচনাবলী,
- অসীমান্তিক

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও 'আগুনপাখি' উপন্যাস, হাসান আজিজুল হক।
৯৭.
ড. সুকুমার সেন বাংলার গদ্যরীতির কয়টি স্তর নির্দেশ করেছেন?
  1. ক) ২টি
  2. খ) ৩টি
  3. গ) ৪টি
  4. ঘ) ৫টি
সঠিক উত্তর:
গ) ৪টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ৪টি
ব্যাখ্যা
• ১৫৫৫ সালে আসামরাজকে লেখা কোচবিহারের রাজার একটি পত্রকে বাংলা গদ্যের প্রাপ্ত প্রাচীনতম নিদর্শন বলে মনে করা হয়।
• ষোল শতক থেকে গদ্যরীতির সূচনা হলেও উনিশ শতকের পূর্ব পর্যন্ত এই সুদীর্ঘ সময়ে প্রয়োজনের মধ্যে তা সীমাবদ্ধ থাকে।
• পশ্চাতে খ্রিষ্টান পসরা সাজিয়ে আগত পর্তুগিজ পাদ্রিদের হাতেই বাংলা গদ্যের ব্যাপক ব্যবহারের সূত্রপাত হয়।

• ড. সুকুমার সেন বাংলার গদ্যরীতির চারটি স্তর নির্দেশ করেছেন। যথা:
১. সূচনা: ষোল শতক-১৮০০ সালের পুর্ব পর্যন্ত।
২. উন্মেষ: ১৮০০-১৮৪৭ সালের পুর্ব পর্যন্ত।
৩. অভ্যুদয়: ১৮৪৭-১৮৬৫ সালের পুর্ব পর্যন্ত।
৪. পরিণতি ১৮৬৫ থেকে বর্তমান কাল পর্যন্ত।


উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৯৮.
'ইউরোপের চিঠি' ভ্রমণকাহিনীর রচয়িতা -
  1. অন্নদাশঙ্কর রায়
  2. নির্মলেন্দু গুণ
  3. সৈয়দ শামসুল হক
  4. শামসুর রাহমান
সঠিক উত্তর:
অন্নদাশঙ্কর রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অন্নদাশঙ্কর রায়
ব্যাখ্যা
অন্নদাশঙ্কর রায়: 
- অন্নদাশঙ্কর রায় একজন স্বনামধন্য বাঙালি কবি, লেখক এবং সেই সাথে বিশিষ্ট ছড়াকারও।
- তিনি 'লীলাময় রায়' ছদ্মনামে লিখতেন।
- পথে প্রবাসে ও ইউরোপের চিঠি তাঁর রচিত দুইটি ভ্রমণ কাহিনী।
-  অন্নদাশঙ্কর রায়ের প্রথম কবিতাগ্রন্থ রাখী (১৯৩২)। 
- তাঁর প্রথম উপন্যাস অসমাপিকা (১৯৩০)।
- ১৯২৭ সালে অন্নদাশঙ্কর রায় ইন্ডিয়ান সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় প্রথমস্থান অধিকার করেন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৯৯.
'ন হন্যতে' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. ক) নীহাররঞ্জন গুপ্ত
  2. খ) মৈত্রেয়ী দেবী
  3. গ) কমলকুমার মজুমদার
  4. ঘ) আশালতা দেবী
সঠিক উত্তর:
খ) মৈত্রেয়ী দেবী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মৈত্রেয়ী দেবী
ব্যাখ্যা
'ন হন্যতে' উপন্যাসের রচয়িতা মৈত্রেয়ী দেবী। 
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ঘনিষ্ঠ সানিধ্য লাভের জন্য তিনি বিশেষ খ্যাতিমান। 
- তাঁর সবচেয়ে খ্যাতিমান উপন্যাস। 
- এটি ১৯৭৪ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়। 
- 'ন হন্যতে' উপন্যাসে বাস্তবধর্মী  এবং সময়কালীন অনেক ব্যাক্তিত্বের প্রসঙ্গে এতে তুলে ধরা হয়েছে। 
- এ উপন্যাসের অমৃতা চরিত্রের মধ্য দিয়ে মৈত্রেয়ী দেবীর জীবন খুঁজে পাওয়া যায়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক।
১০০.
হাসান আজিজুল হক রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গ্রন্থ কোনটি?
  1. একাত্তর করতলে ছিন্নমাথা
  2. একাত্তরের ডায়েরি
  3. একাত্তরের ঢাকা
  4. একাত্তরের দিনগুলি
সঠিক উত্তর:
একাত্তর করতলে ছিন্নমাথা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
একাত্তর করতলে ছিন্নমাথা
ব্যাখ্যা
একাত্তর করতলে ছিন্নমাথা:
- কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হক রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গ্রন্থ 'একাত্তর করতলে ছিন্নমাথা'
- তাঁর দেখা একাত্তরের ভাষ্য শুরু করেছেন নিস্পৃহ নিরাবেগ ভঙ্গিতে।
- বইয়ের সূচনাবাক্যে তিনি লিখেছেন: 'আমার জানা ছিল না যে পানিতে ভাসিয়ে দিলে পুরুষের লাশ চিৎ হয়ে ভাসে আর নারীর লাশ ভাসে উপুড় হয়ে। এই জ্ঞান আমি পাই '৭১ সালের মার্চ মাসের একেবারে শেষে।'
- জীবনের নিষ্ঠুরতার বর্ণনায় এমনি অসাধারণ সংযমী শিল্পদৃষ্টির প্রকাশ আমাদের এক লহমায় দাঁড় করিয়ে দেয় কঠিন সত্যরূপের মুখোমুখি। শক্তিমান লেখকের সংহত জীবনদৃষ্টি এমনিভাবেই পরতে পরতে উদ্ভাসিত হয়েছে এই গ্রন্থে।
- একান্ত ব্যক্তিগত ছোট-বড় সাধারণ অভিজ্ঞতাসমূহ শিল্পের পুণ্যস্পর্শে তিনি করে তুলেছেন সর্বকালীন ও সর্বজনীন। 

হাসান আজিজুল হক:
- তিনি ১৯৩৯ সালের ২রা ফেব্রুয়ারি, যবগ্রাম, বর্ধমান, পশ্চিমবঙ্গে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত কথাসাহিত্যিক হিসেবে পরিচিত।
- ১৯৬০ সাল থেকে লেখক হিসেবে নিজেকে তৈরি করার সিদ্ধান্ত নিয়ে সক্রিয় সাহিত্যচর্চার আরম্ভ।
- রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শনশাস্ত্র বিভাগে অধ্যাপনা শেষে তিনি অবসর নিয়েছেন। 
- তিনি আদমজি সাহিত্য পুরস্কার, বাংলা একাডেমি পুরস্কার, আলাওল পুরস্কার, অগ্রণী পুরস্কার, আনন্দ পুরস্কার লাভ করেন।
- তাঁর গল্প ইংরেজি, হিন্দি, উর্দু, রুশ ও চেক ভাষায় অনূদিত হয়েছে।

তাঁর রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গ্রন্থ:
- একাত্তর করতলে ছিন্নমাথা

অন্যদিকে,
• সুফিয়া কামালের স্মৃতিকথামূলক গ্রন্থ - একাত্তরের ডায়েরি।
• সেলিনা হোসেনের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রবন্ধগ্রন্থ - একাত্তরের ঢাকা।
• জাহানারা ইমামের দিনপঞ্জিরূপে লেখা মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গ্রন্থ - একাত্তরের দিনগুলি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; একাত্তর করতলে ছিন্নমাথা, হাসান আজিজুল হক।