বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

Hindu Law

মোট প্রশ্ন২০৪এই পাতাপ্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

Hindu Law

PrepBank · পাতা / · ২০১২০৪ / ২০৪

২০১.
হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন আইন, ২০১২ অনুসারে ‘‘হিন্দু’’ অর্থ-
  1. বাংলাদেশে বসবাসকারী হিন্দু ধর্মাবলম্বী কোন ব্যক্তি
  2. বাংলাদেশের হিন্দু ধর্মাবলম্বী কোন নাগরিক
  3. মুসলিম ছাড়া বাংলাদেশে বসবাসকারী অনন্য কোন ধর্মাবলম্বী নাগরিক
  4. হিন্দু ধর্মাবলম্বী কোন ব্যক্তি
সঠিক উত্তর:
বাংলাদেশের হিন্দু ধর্মাবলম্বী কোন নাগরিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাংলাদেশের হিন্দু ধর্মাবলম্বী কোন নাগরিক
ব্যাখ্যা
⇒ হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন আইন, ২০১২ এর ২ ধারার বিধান: সংজ্ঞা: বিষয় বা প্রসঙ্গের পরিপন্থী কোন কিছু না থাকিলে, এই আইনে,-
 (ক) ‘‘হিন্দু’’ অর্থ বাংলাদেশের হিন্দু ধর্মাবলম্বী কোন নাগরিক;
২০২.
হিন্দু আইনে দত্তক গ্রহণের প্রধান উদ্দেশ্য কয়টি?
  1. ১টি
  2. ২টি
  3. ৩টি
  4. ৪টি
সঠিক উত্তর:
২টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২টি
ব্যাখ্যা
হিন্দু আইনে দত্তক গ্রহণ:
হিন্দু আইনের অধীনে অন্যের পুত্রকে নিজের পুত্র হিসেবে গ্রহণ করার প্রক্রিয়াকে দত্তক গ্রহণ বলা হয়। এটি একটি সুপ্রাচীন প্রথা, যা রোমান আইনেও প্রচলিত ছিল। তবে বর্তমানে হিন্দু আইন ছাড়া অন্যান্য আইনব্যবস্থায় দত্তক গ্রহণের তেমন কোনো বিধান নেই।
→ দত্তক গ্রহণের উদ্দেশ্য:- হিন্দু আইনে দত্তক গ্রহণের দুটি প্রধান উদ্দেশ্য রয়েছে—একটি ধর্মীয় এবং অপরটি পার্থিব।

(১) ধর্মীয় কারণ:
হিন্দু ধর্মশাস্ত্র মতে, পুত্রহীন ব্যক্তি মৃত্যুর পর স্বর্গ লাভ করতে পারে না। মুনি বশিষ্ঠ বলেছেন— "পুত্রহীনদের স্বর্গে কোনো স্থান নাই।"
একজন ব্যক্তি মৃত্যুর পর তার পুত্র, পৌত্র ও প্রপৌত্রের কাছ থেকে পিণ্ড (শ্রাদ্ধের অর্ঘ্য) লাভের অধিকারী হন। যদি কারও এই উত্তরাধিকারী না থাকে, তবে তিনি মৃত্যুর পর এ অধিকার থেকে বঞ্চিত হন। তাই ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে দত্তক গ্রহণের গুরুত্ব অপরিসীম।
(২) পার্থিব কারণ:
মানুষ তার বংশপরম্পরা বজায় রাখতে চায়। দত্তক নেওয়ার মাধ্যমে একজন ব্যক্তি নিশ্চিত করতে পারেন যে তার নাম ও বংশ পরবর্তী প্রজন্মে বহাল থাকবে। তার মৃত্যুর পর তার দত্তকপুত্র উত্তরাধিকার বহন করবে, যা পার্থিব দৃষ্টিকোণ থেকে গুরুত্বপূর্ণ।
২০৩.
দেবোত্তর সম্পত্তি যে রক্ষণাবেক্ষণ করেন, তাকে কী বলা হয়?
  1. সেবক
  2. মাহাতো
  3. সেবায়েত
  4. দেব রক্ষক
সঠিক উত্তর:
সেবায়েত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সেবায়েত
ব্যাখ্যা
⇒ মন্দির নির্মাণ করে তাতে দেবমূর্তি প্রতিষ্ঠা করে পূজা-অর্চনার ব্যয় নির্বাহের জন্য সম্পত্তি দান করলে তা সাধারণত 'দেবোত্তর সম্পত্তি' বলে পরিচিতি পায়। আইনের দৃষ্টিতে এ রকম বিগ্রহ বা দেবতার মূর্তি একটি বৈধ আইনি সত্তা বা জুডিশিয়াল পারসন। এ রকম সম্পত্তির আইনি মালিক ওই বিগ্রহই। কারণ তার উদ্দেশে সেটি দান করা।

- মন্দিরে প্রতিষ্ঠিত দেবতার নিত্য পূজা- অর্চনার কাজে যিনি নিয়োজিত থাকেন তিনিই সেবায়েত। একজন সেবায়েত দেবতা বা বিগ্রহের যাবতীয় বিষয়ের কার্যনির্বাহীও বটে। দেবতা সম্পত্তির মালিক হলেও কার্যত সম্পত্তি পরিচালনায় সম্পূর্ণ অক্ষম। সেজন্য দেবতার পক্ষে তদীয় সম্পত্তি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য একজন উপযুক্ত পরিচালকের প্রয়োজন। আর সে দায়িত্ব ন্যস্ত থাকে সেবায়েতের উপর।

- দেবোত্তর সম্পত্তির সেবায়েত কে হবেন আর তার উত্তরাধিকার কারা হবেন, কোন নিয়মে হবেন তা সাধারণত অর্পণনামা বা উৎসর্গপত্রে লেখা থকে। সেবায়েত দেবতার বিরুদ্ধে কাজ করলে বা তার দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে তাকে প্রয়োজনে আদালত কর্তৃক অপসারণ করে অন্য সেবায়েত নিয়োগ করা যায়।
২০৪.
হিন্দু আইন অনুসারে একজন হিন্দু ব্যক্তি তার সম্পত্তির কত অংশ উইল করতে পারে?
  1. অর্ধেক
  2. সম্পূর্ণ সম্পত্তি
  3. দুই-তৃতীয়াংশ
  4. এক-তৃতীয়াংশ
সঠিক উত্তর:
সম্পূর্ণ সম্পত্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সম্পূর্ণ সম্পত্তি
ব্যাখ্যা

⇒ হিন্দু আইনে উইল করার ক্ষেত্রে:
- হিন্দু আইন একজন ব্যক্তিকে তার সম্পূর্ণ সম্পত্তি উইল করার পূর্ণ স্বাধীনতা দেয়। উইলকারী চাইলে তার সমস্ত স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি যেকোনো ব্যক্তিকে উইল করতে পারেন।

⇒ হিন্দু আইন অনুসারে:
- উইলকারীর সম্পত্তির উপর পূর্ণ মালিকানা ও হস্তান্তরের অধিকার রয়েছে।
- উত্তরাধিকারীর সম্মতির প্রয়োজন নেই।
- উইলকারীর ইচ্ছাই চূড়ান্ত।

⇒ মুসলিম আইনের সাথে পার্থক্য:
- মুসলিম আইন: সর্বোচ্চ ১/৩ অংশ উইল করতে পারে (ওয়ারিশদের সম্মতি ছাড়া)।
- হিন্দু আইন: কোনো সীমাবদ্ধতা নেই, সম্পূর্ণ সম্পত্তি উইল করতে পারে।

⇒ উইল হচ্ছে নিজের অবর্তমানে কাউকে সম্পত্তি দিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা। তবে কোনো মুসলমান তাঁর দাফন-কাফনের ব্যয় ও দেনা পরিশোধের পর সম্পত্তির এক-তৃতীয়াংশের বেশি উইল করতে পারবে না। অর্থাৎ উইলের ক্ষেত্রে পুরো সম্পত্তি দিয়ে যেতে পারবেন না। যদি এক-তৃতীয়াংশের বেশি উইল করা হয়, তাহলে সে উইল কার্যকর করা যাবে না।
তবে সম্পত্তির উইলের ক্ষেত্রে অন্য ওয়ারিশদের অনুমতি নিয়ে এর বেশিও উইল করা যাবে। দান সঙ্গে সঙ্গে হস্তান্তর করতে হয়। উইল কার্যকর হয় মৃত্যুর পর। তবে নাবালক সন্তান থাকলে দানের ক্ষেত্রে সন্তান সাবালক হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে হস্তান্তর করতে হবে।

- একজন হিন্দু ব্যক্তিও তাঁর সম্পত্তি উইল করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে কোনো সুনির্দিষ্ট নিয়ম নেই। একজন হিন্দু ব্যক্তি তাঁর সমুদয় সম্পত্তি উইল করতে পারেন। হিন্দু সম্প্রদায়ের ক্ষেত্রে জেলা জজ আদালত থেকে উইলকারীর মৃত্যুর পর উইল প্রবেট করতে হয়। প্রবেট হচ্ছে আদালতের মাধ্যমে উইলের প্রমাণ। যেকোনো হেবা বা দান লিখিত আকারে হতে হবে তা রেজিস্ট্রি করে নিতে হবে।