বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

Hindu Law

মোট প্রশ্ন২০৪এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

Hindu Law

PrepBank · পাতা / · ১০০ / ২০৪

.
হিন্দু আইনে 'প্রতিনিধিত্ব মতবাদ' কাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য?
  1. জীবিত পুত্রদের ক্ষেত্রে
  2. শুধুমাত্র বিধবা স্ত্রীর ক্ষেত্রে
  3. মৃত ব্যক্তির পুত্র এবং কন্যার ক্ষেত্রে
  4. মৃত ব্যক্তির পুত্র, পৌত্র ও প্রপৌত্রের ক্ষেত্রে
সঠিক উত্তর:
মৃত ব্যক্তির পুত্র, পৌত্র ও প্রপৌত্রের ক্ষেত্রে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মৃত ব্যক্তির পুত্র, পৌত্র ও প্রপৌত্রের ক্ষেত্রে
ব্যাখ্যা
→ হিন্দু আইনে মৃতের সম্পত্তির উত্তরাধীকার বিষয়ে দুই ধরনের উত্তরাধীকার পদ্ধতি চালু আছে:
(ক) মিতক্ষরা পদ্ধতি
(খ) দায়ভাগ পদ্ধতি।

বাংলাদেশে বসবাসরত হিন্দু ধর্মীয় লোকজন মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি বণ্টনের ক্ষেত্রে দায়ভাগ পদ্ধতি অনুসরণ করেন। দায়ভাগ মূলত জীমূতবাহন রচিত হিন্দু ধর্মীয় সম্পত্তির উত্তরাধীকার বিষয়ক আইন গ্রন্থ। এ আইনগ্রন্থ অনুযায়ী, যারা মৃত ব্যক্তির আত্মার কল্যানের জন্য পিণ্ডদানের অধিকারী, কেবলমাত্র তারাই মৃত ব্যক্তির সপিণ্ড এবং যোগ্য উত্তরাধিকারী হিসেবে মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি পেয়ে থাকেন। মিতক্ষরা পদ্ধতি অনুসারে জন্ম হওয়ামাত্রই যেমন একজন পুত্র সন্তান পূর্ব পুরুষের সম্পত্তিতে পিতার সমান অংশীদারী হন, দায়ভাগ আইনে তেমনটা হয় না।

- হিন্দু দায়ভাগ মতবাদ অনুসারে- শুধুমাত্র পুত্র, পৌত্র (যার বাবা মৃত), প্রপৌত্র (যার বাবা ও পিতামহ দুজনই মৃত) উত্তরাধিকারী হিসেবে থাকলে, পৌত্রিক পূর্বপুরুষের সম্পত্তিতে 'প্রতিনিধিত্ব মতবাদ' বা Doctrine of Representation প্রযোজ্য হবে। নারীদের ক্ষেত্রে এ নীতি প্রযোজ্য নয়।
.
হিন্দু আইনে দত্তক গ্রহণের প্রধান উদ্দেশ্য কী?
  1. সম্পত্তি হস্তান্তর
  2. অভিভাবকত্ব প্রতিষ্ঠা
  3. পিন্ডদান ও বংশ রক্ষা
  4. বিবাহের বৈধতা প্রমাণ
সঠিক উত্তর:
পিন্ডদান ও বংশ রক্ষা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পিন্ডদান ও বংশ রক্ষা
ব্যাখ্যা

⇒ হিন্দু আইনে দত্তক গ্রহণের প্রাথমিক উদ্দেশ্য হলো ধর্মীয় কর্তব্য (পিণ্ডদান) এবং পারিবারিক বংশধারা রক্ষা করা। 
১) ধর্মীয় কারণ – পিণ্ডদান:
- শাস্ত্রমতে পুত্রহীন ব্যক্তির আত্মার মুক্তি অসম্ভব।
- দত্তক পুত্র মৃত পিতার জন্য পিণ্ডদান করে এবং তিন পুরুষ (পুত্র, পৌত্র, প্রপৌত্র) পর্যন্ত এই কর্তব্য পালন করে।
২) পার্থিব কারণ – বংশ রক্ষা:
- পারিবারিক নাম, ঐতিহ্য ও সম্পত্তির ধারাবাহিকতা বজায় রাখা।
- বংশধারা টিকিয়ে রাখা হিন্দু সমাজে গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক কর্তব্য।

.
Factum Valet মতবাদের অর্থ কী?
  1. যা করা উচিত, তা করা হলে তা বৈধ
  2. যা করা উচিত নয়, তা করা হলে তা অবৈধ
  3. যা করা উচিত নয়, তা করা হলে তা বৈধ
  4. যা করা উচিত, তা করা হলে তা অবৈধ
সঠিক উত্তর:
যা করা উচিত নয়, তা করা হলে তা বৈধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যা করা উচিত নয়, তা করা হলে তা বৈধ
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: গ) যা করা উচিত নয়, তা করা হলে তা বৈধ।
→ Factum Valet একটি আইনি নীতি যা বলে, "যা করা উচিত নয়, তা করা হলে তা বৈধ বলে গণ্য হবে," যদি প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা বা বিধি অনুসরণ করা হয়। অর্থাৎ, কিছু নির্দিষ্ট বিধি বা নির্দেশনাবলী অমান্য করা হলেও, যদি সেই কাজটি যথাযথ ধর্মীয় বা আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে করা হয়, তবে সেই কাজটি বৈধ হিসেবে গণ্য হতে পারে।

এই নীতি মূলত নির্দেশাত্মক বিধান (Directory provisions) এর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, যেখানে আইনের সুপারিশ অনুসরণ না করেও, কাজটি একটি শর্তসাপেক্ষে বৈধ হতে পারে।

হিন্দু আইনে Factum Valet মতবাদ: 
- Factum Valet হল হিন্দু দায়ভাগা আইনের একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতি, যা ল্যাটিন প্রবচন "Quod fieri non debet factum valet"-এর উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে।
- এই প্রবচনের অর্থ হলো, "যা করা উচিত নয়, তা করা হয়ে গেলে তা বৈধ বলে গণ্য হবে।" এই নীতিটি হিন্দু আইনে ব্যাপকভাবে প্রযোজ্য এবং এটি নির্দিষ্ট আইনি বিধান লঙ্ঘন করেও কৃতকার্যকে বৈধতা দেয়।

আইনের বিধানের প্রকারভেদ:
আইনের বিধানগুলিকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়:
নির্দেশাত্মক বিধান (Directory Provision):
- এই বিধানগুলি সুপারিশমূলক বা নির্দেশমূলক। এগুলি মানা বাঞ্ছনীয়, তবে এগুলি লঙ্ঘন করলে কৃতকার্য অবৈধ হয় না।
অবশ্য পালনীয় বিধান (Mandatory Provision):
- এই বিধানগুলি বাধ্যতামূলক। এগুলি লঙ্ঘন করলে কৃতকার্য অবৈধ বলে গণ্য হয় এবং তা বৈধ করা যায় না।
Factum Valet নীতি নির্দেশাত্মক বিধানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। অর্থাৎ, নির্দেশাত্মক বিধান লঙ্ঘন করে কোনো কাজ করা হলে, তা বৈধ বলে গণ্য হয়।
.
হিন্দুদের আর্য বিবাহে কনের পিতা বরের কাছ থেকে কী গ্রহণ করতেন?
  1. পণ
  2. জমি
  3. গাভী
  4. অলঙ্কার
সঠিক উত্তর:
গাভী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গাভী
ব্যাখ্যা
⇒ আর্য বিবাহের ক্ষেত্রে কনের পিতা বরের কাছ থেকে এক বা দুই জোড়া গাভী গ্রহণ করতেন।
- এই ধরনের বিবাহে পণ হিসেবে গাভী গ্রহণ করা হতো, যা সমাজে একটি সাধারণ ও সম্মানজনক প্রথা ছিল।
- এই বিবাহের মাধ্যমে কনের পিতা কিছু সামান্য পণ হিসেবে গাভী গ্রহণ করতেন, তবে এটি কোনো অত্যধিক মূল্য ছিল না এবং সামাজিকভাবে এটি গ্রহণযোগ্য ছিল।

⇒ দায়ভাগ ও মিতাক্ষরা অনুসারে হিন্দুদের মধ্যে আট প্রকার বিবাহ প্রচলিত ছিল, যার প্রথম চারটি সামাজিকভাবে অনুমোদিত এবং অবশিষ্ট চারটি অননুমোদিত।
আট প্রকার বিবাহ হলো:
অনুমোদিত ৪ প্রকার:
ব্রাহ্ম: সর্বোত্তম পদ্ধতি, যাতে অলঙ্কারে সজ্জিতা কন্যাকে শিক্ষিত ও চরিত্রবান বরের হাতে তুলে দেয়া হতো; এক্ষেত্রে বরের নিকট থেকে কোন পণ নেয়া হতো না;
দৈব: এ ধরনের বিবাহে যজ্ঞ সম্পাদনকারী পুরোহিতের নিকট কন্যা সম্প্রদান করা হতো;
আর্য: এ বিবাহে কনের পিতা বরের নিকট থেকে এক বা দুই জোড়া গাভী গ্রহণ করতেন;
প্রজাপত্য: এ বিবাহে কনের পিতা বরের নিকট থেকে কোন পণ গ্রহণ ছাড়াই কন্যা দান করতেন এবং তাদের আশীর্বাদ করতেন যাতে তারা পারস্পরিক বিশ্বাস ও সুখের সঙ্গে দাম্পত্য জীবন যাপন করতে পারে।
অননুমোদিত ৪ প্রকার:
অসুর: এ বিবাহে বর পিতা অথবা অভিভাবকের নিকট থেকে মূল্য দিয়ে কনেকে ক্রয় করত;
রাক্ষস: এ বিবাহে কন্যার আত্মীয়দের প্রহার করে রোরুদ্যমান কন্যাকে তুলে নেয়া হতো;
গন্ধর্ব: বর ও কনের পরস্পরের পরিচয় ও সম্মতিতে এ বিবাহ অনুষ্ঠিত হতো;
পৈশাচ: নিকৃষ্টতম বিবাহ; এতে কন্যার প্রেমিক (কন্যার সম্মতি ব্যতিরেকে) নিদ্রিত অবস্থায় অথবা মদোম্মত্ত বা উম্মত্ত কন্যার সঙ্গে সঙ্গত হতো।
.
কত সালে 'বিবাহিতা হিন্দু নারীর পৃথক বাসস্থান এবং ভরণপোষণ আইন' প্রণীত হয়?
  1. ১৯৫৬
  2. ১৯৩৭
  3. ১৯৪৬
  4. ১৯৫৫
সঠিক উত্তর:
১৯৪৬
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৪৬
ব্যাখ্যা
বিবাহিতা হিন্দু নারীর পৃথক বাসস্থান এবং ভরণপোষণ আইনটি ১৯৪৬ সালের।

এই আইনে বিবাহিতা হিন্দু নারী বিচ্ছেদ ছাড়াও, স্বামী হতে পৃথক থাকতে পারে। উক্ত আইনে উল্লেখিত ক্ষেত্রসমূহে স্ত্রী স্বামী হতে পৃথক থেকেও স্বামীর নিকট হতে ভরণ-পোষণের অধিকার পেতে পারে। ক্ষেত্রগুলো হলো-

⇒ স্বামী যদি দুরারোগ্য কুষ্ঠ, সিফলিস ইত্যাদি সংক্রামক ব্যাধিতে আক্রান্ত হয় এবং এই সমস্ত ব্যাধি যদি স্ত্রীর নিকট হতে সংক্রামিত না হয়;
if he (husband) is suffering from any loathsome disease not contracted from her;

⇒ স্বামী যদি স্ত্রীর প্রতি নিষঠুর আচরণ করে এবং নিষ্ঠুরতা যদি এই প্রকারের হয় যে স্বামীগৃহে তার জীবনাশংকা থাকে;
if he is gulity of such cruelty towards her as renders it unsafe or undesirable for her to live with him;

⇒ স্বামী যদি গৃহে কোন উপ-পত্নী রেখে তার সাথে বসবাস করতে থাকে;
if he keeps a concubine in the house or habitually resides with a concubine;

⇒ স্বামী যদি ধর্মান্তর হয়;
if he ceases to be a Hindu by conversion to another religion;

⇒ স্বামী যদি স্ত্রীর অনুমতি ব্যতিরেকে তাকে পরিত্যাগ করে;
if he is guilty of desertion, that is to say, of abandoning her without her consent or against her wish;

⇒ স্বামী যদি পুনরায় বিবাহ করে;
if he marries again; এবং

⇒ অন্য কোন যুক্তিসঙ্গত কারণে।
for any other justifiable cause
.
'Succession per capita' অর্থ কি?
  1. প্রতিনিধিত্ব মতবাদ
  2. অংশপিছু উত্তরাধিকার
  3. মাথাপিছু উত্তরাধিকার
  4. প্রতিনিধিত্ব উত্তরাধিকার
সঠিক উত্তর:
মাথাপিছু উত্তরাধিকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাথাপিছু উত্তরাধিকার
ব্যাখ্যা
• দায়ভাগ মতবাদ নিম্নোক্ত নীতিগুলিকে স্বীকৃতি দেয়ঃ

(ক) প্রতিনিধিত্ব মতবাদ (Doctrine of representation): প্রতিনিধিত্ব মতবাদ অনুসারে পুত্র, পৌত্র যার পিতা মারা গিয়েছে, তারা সকলেই পিতৃপক্ষীয় সম্পত্তিতে উত্তরাধিকারীত্ব লাভ করে, কারণ পৌত্র তার পিতার এবং প্রপৌত্র তার পিতা ও পিতামহ উভয়েরই প্রতিনিধিত্ব করে।

খ) অংশপিছু উত্তরাধিকার (Sucssession per stripes): যেখানে প্রতিনিধিত্ব মতবাদ প্রয়োগ করা হয় এবংউত্তরাধিকারীগণ মৃত ব্যক্তির স্থলবর্তীরুপে অংশপ্রাপ্ত হন সেখানে এরুপে স্থলবর্তীরুপে অংশ পাওয়াকে অংশপিছু উত্তরাধিকার বলে।

(গ) মাথাপিছু উত্তরাধিকার (Succession per capita): মৃত ব্যক্তির সম্পত্তিতে তার উত্তরাধিকারগণের সমান অংশ সম্পত্তি প্রাপ্ত হওয়াকে মাথাপিছু উত্তরাধিকার বলে।
.
হিন্দু আইনে কয় ধরনের উত্তরাধিকার পদ্ধতি চালু রয়েছে?
  1. এক
  2. দুই
  3. তিন
  4. চার
সঠিক উত্তর:
দুই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুই
ব্যাখ্যা
• হিন্দু আইন হিন্দুদের ধর্মীয় এবং ব্যক্তিগত আইন। এ আইন যারা জন্মসূত্রে হিন্দু, হিন্দু ধর্মে দীক্ষিত, হিন্দু পিতা মাতার অবৈধ সন্তান এবং যে ক্ষেত্রে পিতা খ্রীষ্টান এবং মাতা হিন্দু সেই ক্ষেত্রে অবৈধ সন্তান যদি মায়ের কাছে হিন্দু আচার অনুযায়ী লালিত পালিত হয়, তবে এসব ক্ষেত্রে হিন্দু আইন প্রযোজ্য।
 
বাংলাদেশ, ভারত এবং পাকিস্তানে হিন্দুদের মধ্যে দু’ধরনের উত্তরাধিকার পদ্ধতি চালু রয়েছে। যথা-
১- দায়ভাগ পদ্ধতি এবং
২- মিতাক্ষরা পদ্ধতি।
 
দায়ভাগ পদ্ধতি বাংলাদেশ এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও আসামে প্রচলিত আছে। ভারতের অন্যান্য প্রদেশ এবং পাকিস্তানে মিতাক্ষরা পদ্ধতি প্রযোজ্য হয়ে থাকে। যদিও বাংলাদেশ এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গে দায়ভাগ মতবাদ প্রযোজ্য, কিন্তু যে সকল ক্ষেত্রে দায়ভাগ এবং মিতাক্ষরার মধ্যে কোন বিরোধ নেই, সেই সকল ক্ষেত্রে এই অঞ্চলেও মিতাক্ষর মতবাদ প্রয়োগ করা হয়।
.
হিন্দুদের বিবাহে কোন অনুষ্ঠানগুলো অপরিহার্য?
  1. দান ও ভিক্ষা
  2. যজ্ঞ ও সপ্তপদী
  3. দত্তহোম ও অর্চনা
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
যজ্ঞ ও সপ্তপদী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যজ্ঞ ও সপ্তপদী
ব্যাখ্যা

হিন্দু বিবাহে অবশ্য পালনীয় অনুষ্ঠান:
বাংলাদেশে হিন্দুদের বিবাহে নানা প্রকার অনুষ্ঠান দৃষ্ট হয়। বর্ণ এবং স্থানভেদে এইগুলির পার্থক্যও লক্ষ করা যায়। কিন্তু দুইটি অনুষ্ঠান পালন বিবাহ ব্রাহ্ম মতেই হউক অথবা আসুর মতেই হউক অপরিহার্য। যথা:
(১) যজ্ঞ অথবা কুশণ্ডিকা: ইহার অর্থ পবিত্র যজ্ঞাগ্নির সম্মুখে শাস্ত্রীয় নির্দেশ মত বেদমন্ত্র পঠন।

(২) সপ্তপদী:`
ইহার অর্থ বর এবং কন্যার যজ্ঞাগ্নির চারিদিকে যুগ্মভাবে সাত কদম হাঁটা। এই অনুষ্ঠানের সময় বর কন্যাকে যুগ্মভাবে পুরোহিতের মাধ্যমে কতিপয় বেদমন্ত্র পাঠ করিতে হয়, বাংলায় যাহার সারমর্ম বর কন্যার যুগ্মভাবে পবিত্র যজ্ঞাগ্নির সম্মুখে দাম্পত্যজীবনে পরস্পরের প্রতি পরস্পরের দায়িত্ব এবং কর্তব্য বিষয়ে অঙ্গীকার। সপ্তপদী হওয়া মাত্র বিবাহ আইন সম্পন্ন হইয়া যায় দানে অথবা পণে অর্থাৎ ব্রাহ্ম অথবা আসুর যে কোন মতেই বিবাহ হউক না কেন এই দুইটি অনুষ্ঠান অবশ্য পালন করিতে হইবে।

.
"হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন আইন, ২০১২" এর অধীনে কোন বয়সের কম হিন্দু পুরুষের বিবাহ নিবন্ধনযোগ্য নয়?
  1. ১৮ বছর
  2. ২০ বছর
  3. ২১ বছর
  4. ২২ বছর
সঠিক উত্তর:
২১ বছর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২১ বছর
ব্যাখ্যা
হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন আইন, ২০১২: ধারা ৫: হিন্দু বিবাহ নিবন্ধনের ক্ষেত্রে বিধি-নিষেধ-
অন্য কোন আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, ২১ (একুশ) বৎসরের কম বয়স্ক কোন হিন্দু পুরুষ বা ১৮ (আঠার) বৎসরের কম বয়স্ক কোন হিন্দু নারী বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হইলে উহা এই আইনের অধীন নিবন্ধনযোগ্য হইবে না।
১০.
হিন্দু দায়ভাগ মতবাদ অনুযায়ী, নারীদের মধ্যে সপিণ্ড কারা?
  1. স্ত্রী, কন্যা, মাতা, বোন, পিতার মাতা
  2. স্ত্রী, কন্যা, মাতা, বোন, পিতার মাতার মাতা
  3. স্ত্রী, কন্যা, মাতা, পিতার মাতা, পিতার পিতার মাতা
  4. স্ত্রী, কন্যা, মাতা, বোন, মাতার মাতা
সঠিক উত্তর:
স্ত্রী, কন্যা, মাতা, পিতার মাতা, পিতার পিতার মাতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্ত্রী, কন্যা, মাতা, পিতার মাতা, পিতার পিতার মাতা
ব্যাখ্যা

হিন্দু উত্তরাধিকার আইন:
বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের সম্পত্তি বণ্টন হয়ে থাকে দায়ভাগ মতবাদ অনুসারে। এই মতবাদ অনুসারে উত্তরাধিকার নির্ণয় করতে যে নীতি অনুসরণ করা হয়, তা হলো মৃত ব্যক্তির আত্মার কল্যাণে আধ্যাত্মিক নীতি (ডকট্রিন অব স্পিরিচুয়াল বিলিফ)। হিন্দুধর্মাবলম্বী কোনো মানুষ মারা গেলে মৃত ব্যক্তির আত্মার সদ্‌গতির জন্য শেষকৃত্য সম্পন্ন করতে হয়। শেষকৃত্যের তিনটি ধাপ আছে।
১. পিণ্ডদান;
২. পিণ্ডলেপ ও
৩. জলদান।
মৃত ব্যক্তির শ্রাদ্ধে যে ব্যক্তি পিণ্ডদানের অধিকারী, তাকে বলা হয় ‘সপিণ্ড’। সপিণ্ডরাই মৃত ব্যক্তির সম্পত্তির প্রধানতম অধিকারী। মাতৃকুল ও পিতৃকুলের ঊর্ধ্বতন তিন পুরুষ, পুত্র ও কন্যার অধস্তন তিন পুরুষ এবং ঊর্ধ্বতন মাতৃ ও পিতৃকূলের ছয় পুরুষ—তাঁরা হলেন পুরুষ সপিণ্ড।

আর নারী সপিণ্ড পাঁচজন। তাঁরা হলেন: ১. বিধবা স্ত্রী; ২. কন্যা; ৩. মাতা; ৪. পিতার মাতা ও ৫. পিতার পিতার মাতা। পিতৃকুলের সপিণ্ডরা জীবিত থাকলে মাতৃকুলের সপিণ্ডরা সম্পত্তি পান না।

১১.
দায়ভাগা মতবাদ অনুসারী যৌথ পরিবারের কর্তা নিম্নের কোন ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে?
  1. সম্পত্তি হস্তান্তর করা
  2. ঋণ গ্রহণ করা
  3. হিসাব প্রদান করা
  4. উল্লিখিত সব
সঠিক উত্তর:
উল্লিখিত সব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উল্লিখিত সব
ব্যাখ্যা
• দায়ভাগা মতবাদ অনুসারী যৌথ পরিবারের কর্তাদের ক্ষমতা:
পরিবারে তার বিশ্বস্ত ভূমিকার কারণে, কর্তা পরিবার এবং এর ব্যবসার সাধারণ কল্যাণের জন্য সিদ্ধান্ত নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। তার সৎ ভূমিকায়, একজন কর্তা পুরো পরিবারের পক্ষে সিদ্ধান্ত নেন এবং ক্ষমতা ভোগ করেন যা তাকে অনুমতি দেয়:
 
১. চুক্তিতে প্রবেশ করা;
২. পারিবারিক উদ্দেশ্যে ঋণ নেওয়া;
৩. ঋণ স্বীকার করা;
৪. সালিশের জন্য বিষয় উল্লেখ করা;
৫. মামলা পরিচালনা করা;
৬. যৌথ পরিবারের সম্পত্তি বিচ্ছিন্ন করা;
৭. স্যুট ইত্যাদিতে ব্যবসার প্রতিনিধিত্ব করা;
৮. সম্পত্তি হস্তান্তর করা;
৯. হিসাব প্রদান করা।
১২.
হিন্দু বিবাহ নিবন্ধক কার তত্ত্বাবধান ও নিয়ন্ত্রণে দাপ্তরিক দায়িত্ব সম্পন্ন করেন?
  1. মহাপরিদর্শক
  2. জেলা ম্যাজিস্ট্রেট
  3. উপজেলা নির্বাহী অফিসার
  4. জেলা রেজিস্ট্রার
সঠিক উত্তর:
জেলা রেজিস্ট্রার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জেলা রেজিস্ট্রার
ব্যাখ্যা

হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন আইন, ২০১২ এর ধারা ১৩- তত্ত্বাবধান, নিয়ন্ত্রণ, ইত্যাদি:
(১) প্রত্যেক হিন্দু বিবাহ নিবন্ধক সংশ্লিষ্ট জেলার জেলা রেজিস্ট্রারের তত্ত্বাবধান ও নিয়ন্ত্রণে থাকিয়া তাহার দাপ্তরিক ও অর্পিত দায়িত্ব সম্পন্ন করিবেন।
(২) হিন্দু বিবাহ নিবন্ধকগণের উপর মহাপরিদর্শক, নিবন্ধন এর সাধারণ তত্ত্বাবধানের ক্ষমতা থাকিবে। 
(৩) জেলা রেজিস্ট্রার তাহার স্থানীয় অধিক্ষেত্র এলাকায় যে কোন সময় যে কোন হিন্দু বিবাহ নিবন্ধকের কার্যালয় পরিদর্শন করিতে পারিবেন। 

ব্যাখ্যাঃ এই ধারার উদ্দেশ্য পূরণকল্পে “মহাপরিদর্শক” অর্থ Registration Act, 1908 এর অধীন নিযুক্ত মহাপরিদর্শক নিবন্ধন, বা তদকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন কর্মকর্তা।

১৩.
দেবোত্তর সম্পত্তি কী?
  1. যে সম্পত্তি ব্যক্তি মালিকানায় থাকে
  2. যে সম্পত্তি সরকারি কাজে ব্যবহৃত হয়
  3. যে সম্পত্তি পৈতৃক সূত্রে প্রাপ্ত হয়
  4. যে সম্পত্তি মন্দির ও দেবতার উদ্দেশ্যে দান করা হয়
সঠিক উত্তর:
যে সম্পত্তি মন্দির ও দেবতার উদ্দেশ্যে দান করা হয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যে সম্পত্তি মন্দির ও দেবতার উদ্দেশ্যে দান করা হয়
ব্যাখ্যা
মন্দির নির্মাণ করে তাতে দেবমূর্তি প্রতিষ্ঠা করে পূজা-অর্চনার ব্যয় নির্বাহের জন্য সম্পত্তি দান করলে তা সাধারণত 'দেবোত্তর সম্পত্তি' বলে পরিচিতি পায়। আইনের দৃষ্টিতে এ রকম বিগ্রহ বা দেবতার মূর্তি একটি বৈধ আইনি সত্তা বা জুডিশিয়াল পারসন। এ রকম সম্পত্তির আইনি মালিক ওই বিগ্রহই। কারণ তার উদ্দেশে সেটি দান করা।

- মন্দিরে প্রতিষ্ঠিত দেবতার নিত্য পূজা- অর্চনার কাজে যিনি নিয়োজিত থাকেন তিনিই সেবায়েত। একজন সেবায়েত দেবতা বা বিগ্রহের যাবতীয় বিষয়ের কার্যনির্বাহীও বটে।দেবতা সম্পত্তির মালিক হলেও কার্যত সম্পত্তি পরিচালনায় সম্পূর্ণ অক্ষম। সেজন্য দেবতার পক্ষে তদীয় সম্পত্তি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য একজন উপযুক্ত পরিচালকের প্রয়োজন। আর সে দায়িত্ব ন্যস্ত থাকে সেবায়েতের উপর।

- দেবোত্তর সম্পত্তির সেবায়েত কে হবেন আর তার উত্তরাধিকার কারা হবেন, কোন নিয়মে হবেন তা সাধারণত অর্পণনামা বা উৎসর্গপত্রে লেখা থকে। সেবায়েত দেবতার বিরুদ্ধে কাজ করলে বা তার দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে তাকে প্রয়োজনে আদালত কর্তৃক অপসারণ করে অন্য সেবায়েত নিয়োগ করা যায়।
১৪.
সেবায়েত কোন ধরনের সম্পত্তি রক্ষণাবেক্ষণ করেন?
  1. বিধবার সম্পত্তি
  2. দেবোত্তর সম্পত্তি
  3. নাবালকের সম্পত্তি
  4. ক ও গ
সঠিক উত্তর:
দেবোত্তর সম্পত্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দেবোত্তর সম্পত্তি
ব্যাখ্যা
• মন্দির নির্মাণ করে তাতে দেবমূর্তি প্রতিষ্ঠা করে পূজা-অর্চনার ব্যয় নির্বাহের জন্য সম্পত্তি দান করলে তা সাধারণত 'দেবোত্তর সম্পত্তি' বলে পরিচিতি পায়। আইনের দৃষ্টিতে এ রকম বিগ্রহ বা দেবতার মূর্তি একটি বৈধ আইনি সত্তা বা জুডিশিয়াল পারসন। এ রকম সম্পত্তির আইনি মালিক ওই বিগ্রহই। কারণ তার উদ্দেশে সেটি দান করা।

দেবোত্তর দুই রকমের হয়। যখন কোনো পরিবারের কোনো ব্যক্তি পারিবারিক গৃহদেবতার পূজা-অর্চনার জন্য কোনো সম্পত্তি দান করে যান, তখন তাকে 'ব্যক্তিগত বা পারিবারিক দেবোত্তর' বলা হয়। কারণ তখন বিগ্রহের সেবা ও পূজার দায়িত্ব তার বংশধরদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে।
অপরদিকে, সর্বসাধারণের জন্য অনুরূপ দান সম্পন্ন হলে এটি 'সর্বজনীন দেবোত্তর' সম্পত্তি হিসেবে পরিগণিত হয়। কারণ এতে কোনো একক ব্যক্তি বা পরিবারের স্বার্থ বা দায়দায়িত্ব থাকে না। সে অবস্থায় এটি সাধারণের সম্পত্তি হিসেবে পরিগণিত হয়। যেমন, রাজধানীর ঢাকেশ্বরী মন্দির।

মন্দিরে প্রতিষ্ঠিত দেবতার নিত্য পূজা- অর্চনার কাজে যিনি নিয়োজিত থাকেন তিনিই সেবায়েত। একজন সেবায়েত দেবতা বা বিগ্রহের যাবতীয় বিষয়ের কার্যনির্বাহীও বটে। দেবতা সম্পত্তির মালিক হলেও কার্যত সম্পত্তি পরিচালনায় সম্পূর্ণ অক্ষম। সেজন্য দেবতার পক্ষে তদীয় সম্পত্তি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য একজন উপযুক্ত পরিচালকের প্রয়োজন। আর সে দায়িত্ব ন্যস্ত থাকে সেবায়েতের উপর।

দেবোত্তর সম্পত্তির সেবায়েত কে হবেন আর তার উত্তরাধিকার কারা হবেন, কোন নিয়মে হবেন তা সাধারণত অর্পণনামা বা উৎসর্গপত্রে লেখা থকে। সেবায়েত দেবতার বিরুদ্ধে কাজ করলে বা তার দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে তাকে প্রয়োজনে আদালত কর্তৃক অপসারণ করে অন্য সেবায়েত নিয়োগ করা যায়।
১৫.
মিতাক্ষরা ও দায়ভাগ মতবাদ কোন উৎসের অন্তর্ভুক্ত?
  1. শ্রুতি
  2. স্মৃতি
  3. প্রথা
  4. ব্যাখ্যা বা নিবন্ধ
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা বা নিবন্ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা বা নিবন্ধ
ব্যাখ্যা
• হিন্দু আইনের মূল উৎস চারটি। এগুলো হলো—
১) শ্রুতি (Shruti) – এটি হিন্দু ধর্মের মৌলিক ভিত্তি। বেদসমূহ (ঋগ্বেদ, যজুর্বেদ, সামবেদ, অথর্ববেদ) শ্রুতি শাস্ত্রের অন্তর্ভুক্ত।
২) স্মৃতি (Smriti) – প্রাচীন ঋষিদের লিপিবদ্ধ করা সামাজিক ও ধর্মীয় বিধি-নিষেধ, যেমন মনুস্মৃতি, যাজ্ঞবল্ক্য স্মৃতি, নারদ স্মৃতি, পরাশর স্মৃতি ইত্যাদি।
৩) ব্যাখ্যা বা নিবন্ধ (Commentaries and Digests) – বিভিন্ন স্মৃতি ও শাস্ত্রের ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ। এর দুটি প্রধান মতবাদ হলো মিতাক্ষরা মতবাদ ও দায়ভাগ মতবাদ।
৪) প্রথা (Custom) – দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত রীতিনীতি, যা আইনি স্বীকৃতি পেয়েছে। এটি তিন ধরনের— স্থানীয় প্রথা, শ্রেণি প্রথা ও পারিবারিক প্রথা।

এছাড়া, আধুনিক সময়ে আদালতের রায়, বিধিবদ্ধ আইন ও সুবিচার হিন্দু আইনের আধুনিক উৎস হিসেবে বিবেচিত হয়।
১৬.
প্রথাকে আইনের মর্যাদা পেতে হলে কোন শর্তগুলি পূর্ণ করতে হবে?
  1. অবশ্যই সুপ্রাচীন, সুনিশ্চিত, যুক্তিযুক্ত এবং সুপ্রমাণিত হতে হবে
  2. নৈতিকতা বিরোধী অথবা সাধারণ নিয়মের পরিপন্থি হতে পারবে না
  3. আইনসভা কর্তৃক নিষিদ্ধ ঘোষিত হবেনা
  4. সবগুলো উপাদানই থাকতে হবে
সঠিক উত্তর:
সবগুলো উপাদানই থাকতে হবে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলো উপাদানই থাকতে হবে
ব্যাখ্যা
⇒ প্রথাকে আইনের মর্যাদা পেতে হলে তা অবশ্যই সুপ্রাচীন, সুনিশ্চিত, যুক্তিযুক্ত এবং সুপ্রমাণিত হতে হবে, এটি নৈতিকতা বিরোধী অথবা সাধারণ নিয়মের পরিপন্থি হতে পারবে না, এবং এটি আইনসভা কর্তৃক নিষিদ্ধ ঘোষিত হবেনা।
অর্থাৎ সঠিক উত্তর: ঘ) সবগুলো উপাদানই থাকতে হবে।


⇒ প্রথা (Customs):
প্রথা হলো এমন একটি নিয়ম বা রীতি যা একটি বিশেষ পরিবার, শ্রেণী, বা অঞ্চলে অনেক দিন ধরে প্রচলিত এবং আইনের মর্যাদা অর্জন করেছে। প্রথা এবং লিখিত আইনের মধ্যে বিরোধ হলে, প্রথা বেশি শক্তিশালী হতে পারে। একটি বিখ্যাত মামলায় বলা হয়েছে, "প্রথার প্রমাণ আইন থেকে বেশি শক্তিশালী হতে পারে।"
কিছু পণ্ডিত ব্যক্তির মতে, প্রথা একসময় হিন্দু ধর্মশাস্ত্রের অংশ ছিল, কিন্তু পরে লিখিত আকারে স্মৃতিশাস্ত্রে তা রাখা হয়নি, তবে তা সমাজে চালু রয়েছে।

⇒ প্রথা তিন প্রকার:
স্থানীয় প্রথা: যা কোনো নির্দিষ্ট স্থানে বা অঞ্চলে প্রচলিত।
শ্রেণি প্রথা: যা হিন্দু সমাজের কোনো নির্দিষ্ট শ্রেণি বা সম্প্রদায়ে প্রচলিত।
পারিবারিক প্রথা: যা কোনো বিশেষ পরিবারে দীর্ঘদিন ধরে চালু রয়েছে।

⇒ আইনের মর্যাদা পেতে প্রথার শর্ত:
সুপ্রাচীন, সুনিশ্চিত, যুক্তিযুক্ত এবং সুপ্রমাণিত হতে হবে: প্রথাটি অনেক পুরনো এবং প্রমাণিত হতে হবে।
নৈতিকতা বিরোধী বা সাধারণ নিয়মের পরিপন্থি না হওয়া: প্রথাটি সমাজের নৈতিকতার বিরুদ্ধে বা আইন বিরোধী হতে পারবে না।
আইনসভা কর্তৃক নিষিদ্ধ না হওয়া: প্রথাটি যদি কোনো আইন দ্বারা নিষিদ্ধ হয়, তবে তা আইনের মর্যাদা পাবে না।
অব্যাহতভাবে চালু থাকতে হবে: প্রথাটি দীর্ঘকাল ধরে চালু থাকতে হবে এবং হঠাৎ বন্ধ হওয়া উচিত নয়।
১৭.
'যদু' নামক একজন হিন্দু মৃতা বড় কন্যার এক দৌহিত্র এবং ছোট মৃতা কন্যার দিকের দুই দোহিত্র এবং পিতাকে রেখে মারা গেল। এক্ষেত্রে দায়ভাগ মতবাদ অনুসারে পিতা সম্পত্তির কত অংশ পাবে?
  1. ১/৪ অংশ
  2. ১/৩ অংশ
  3. ১/২ অংশ
  4. কোনো অংশ পাবে না
সঠিক উত্তর:
কোনো অংশ পাবে না
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোনো অংশ পাবে না
ব্যাখ্যা

⇒ এক্ষেত্রে পিতা কিছু পাবে না, কারণ পিতার স্থান সপিন্ডদের তালিকায় দৌহিত্রের পরে।  তাই তিন দৌহিত্র মাথাপিছু নিয়মে প্রত্যেকে সমান অংশ পাবে। অর্থাৎ ১/৩ অংশ করে পাবে। উল্লেখ্য, হিন্দু উত্তরাধিকার আইনে মৃত ব্যক্তির পুত্র, পৌত্র, প্রপৌত্র, বিধবা স্ত্রী, কন্যা ও দৌহিত্র কেউই জীবিত না থাকেন, তাহলে মৃত ব্যক্তির পিতা সম্পত্তির উত্তরাধিকার হবেন।

হিন্দু উত্তরাধিকার আইন:
বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের সম্পত্তি বণ্টন হয়ে থাকে দায়ভাগ মতবাদ অনুসারে। এই মতবাদ অনুসারে উত্তরাধিকার নির্ণয় করতে যে নীতি অনুসরণ করা হয়, তা হলো মৃত ব্যক্তির আত্মার কল্যাণে আধ্যাত্মিক নীতি (ডকট্রিন অব স্পিরিচুয়াল বিলিফ)। হিন্দুধর্মাবলম্বী কোনো মানুষ মারা গেলে মৃত ব্যক্তির আত্মার সদ্‌গতির জন্য শেষকৃত্য সম্পন্ন করতে হয়। শেষকৃত্যের তিনটি ধাপ আছে। ১. পিণ্ডদান; ২. পিণ্ডলেপ ও ৩. জলদান।

সপিণ্ড:
মৃত ব্যক্তির শ্রাদ্ধে যে ব্যক্তি পিণ্ডদানের অধিকারী, তাকে বলা হয় ‘সপিণ্ড’। সপিণ্ডরাই মৃত ব্যক্তির সম্পত্তির প্রধানতম অধিকারী। মাতৃকুল ও পিতৃকুলের ঊর্ধ্বতন তিন পুরুষ, পুত্র ও কন্যার অধস্তন তিন পুরুষ এবং ঊর্ধ্বতন মাতৃ ও পিতৃকূলের ছয় পুরুষ—তাঁরা হলেন পুরুষ সপিণ্ড। আর নারী সপিণ্ড পাঁচজন। তাঁরা হলেন: ১. বিধবা স্ত্রী; ২. কন্যা; ৩. মাতা; ৪. পিতার মাতা ও ৫. পিতার পিতার মাতা। পিতৃকুলের সপিণ্ডরা জীবিত থাকলে মাতৃকুলের সপিণ্ডরা সম্পত্তি পান না।

নিম্ন তালিকা অনুসারে সপিণ্ডগণ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সম্পত্তির উত্তরাধিকার হবেন (প্রথম ২০ জন):
১. পুত্র, ২. পুত্রের পুত্র, ৩, পুত্রের পুত্রের পুত্র, ৪. স্ত্রী (পুত্রের স্ত্রী/পুত্রের পুত্রের স্ত্রী/পুত্রের পুত্রের পুত্রের স্ত্রী) ৫. কন্যা, ৬. কন্যার পুত্র, ৭. পিতা, ৮, মাতা, ৯, ভ্রাতা, সহোদর ভ্রাতা না থাকলে বৈমাত্রেয় ভ্রাতা, ১০ ভ্রাতুস্পুত্র, সহোদর না থাকলে বৈমাত্রেয় ভ্রাতার পুত্র, ১১. ভ্রাতুষ্পুত্রের পুত্র, সহোদর ভ্রাতা না থাকলে বৈমাত্রেয় ভ্রাতার পুত্রের পুত্র, ১২. বোনের পুত্র, ১৩. পিতার পিতা, ১৪. পিতার মাতা, ১৫, পিতার ভ্রাতা, ১৬ পিতার ভ্রাতার পুত্র, ১৭. পিতার ভ্রাতা পুত্রের পুত্র, ১৮. পিতার ভগ্নীয় পুত্র, ১৯, পিতার পিতার পিতা, ২০ পিতার পিতার মাতা।

১৮.
হিন্দু আইনে পিতার মাতা এবং পিতার পিতার মাতা কী হিসেবে গণ্য হন?
  1. ট্রাস্টি
  2. নারী সপিণ্ড
  3. পুরুষ সপিণ্ড
  4. দূর সম্পর্কের আত্মীয়
সঠিক উত্তর:
নারী সপিণ্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নারী সপিণ্ড
ব্যাখ্যা
⇒ বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের সম্পত্তি বণ্টন দায়ভাগ মতবাদ অনুসারে হয়ে থাকে। এই মতবাদ অনুযায়ী, উত্তরাধিকার নির্ধারণের সময় মৃত ব্যক্তির আত্মার কল্যাণের জন্য আধ্যাত্মিক নীতি (ডকট্রিন অব স্পিরিচুয়াল বিলিফ) অনুসরণ করা হয়। হিন্দু ধর্মাবলম্বী একজন ব্যক্তি মারা গেলে, তার আত্মার সদ্‌গতি কামনা করে শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হয়। শেষকৃত্যের তিনটি প্রধান ধাপ রয়েছে:
১. পিণ্ডদান
২. পিণ্ডলেপ
৩. জলদান

⇒ মৃত ব্যক্তির শ্রাদ্ধে যে ব্যক্তি পিণ্ডদান করতে পারেন, তাকে ‘সপিণ্ড’ বলা হয়। সপিণ্ডরা মৃত ব্যক্তির সম্পত্তির প্রধান অধিকারী হিসেবে গণ্য হন। সপিণ্ডের মধ্যে মাতৃকুল ও পিতৃকুলের ঊর্ধ্বতন তিন পুরুষ, পুত্র ও কন্যার অধস্তন তিন পুরুষ এবং ঊর্ধ্বতন মাতৃ ও পিতৃকূলের ছয় পুরুষ—এরা পুরুষ সপিণ্ড হিসেবে পরিচিত। নারী সপিণ্ডের মধ্যে পাঁচটি ব্যক্তি অন্তর্ভুক্ত হন, যাঁরা হলেন:
১. বিধবা স্ত্রী
২. কন্যা
৩. মাতা
৪. পিতার মাতা
৫. পিতার পিতার মাতা।

⇒ পিতার মাতা এবং পিতার পিতার মাতা নারী সপিণ্ড হিসেবে গণ্য হন। সপিণ্ডরা মৃত ব্যক্তির শ্রাদ্ধ ও পিণ্ডদান প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে, এবং এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে, তারা মৃত ব্যক্তির সম্পত্তির প্রধান অধিকারীও হয়ে থাকেন। নারী সপিণ্ডের মধ্যে এই দুইজন অন্তর্ভুক্ত হন।
১৯.
হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন আইন, ২০১২ অনুযায়ী, হিন্দু বিবাহ নিবন্ধক হিসাবে নিয়োগ পাওয়ার জন্য যোগ্যতা কিভাবে নির্ধারিত হবে?
  1. বিধি দ্বারা
  2. আদালত দ্বারা
  3. সরকারি গেজেট দ্বারা
  4. জেলা রেজিস্ট্রার দ্বারা
সঠিক উত্তর:
বিধি দ্বারা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিধি দ্বারা
ব্যাখ্যা
⇒ হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন আইন, ২০১২ এর ধারা ৪(৩) অনুযায়ী, হিন্দু বিবাহ নিবন্ধক হিসাবে নিয়োগ পাওয়ার জন্য যোগ্যতা, অধিক্ষেত্র এবং অন্যান্য বিষয়াদি বিধি দ্বারা নির্ধারিত হবে।
- অর্থাৎ, সরকারের প্রণীত বিধির মাধ্যমে এই যোগ্যতা এবং অন্যান্য শর্তাবলী নির্ধারিত হবে, যা হিন্দু বিবাহ নিবন্ধক নিয়োগের জন্য প্রযোজ্য।

⇒ হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন আইন, ২০১২ ধারা ৪ বিবাহ নিবন্ধক নিয়োগ: 
 (১) এই আইনের অধীন হিন্দু বিবাহ নিবন্ধনের উদ্দেশ্যে, সরকার, সিটি কর্পোরেশন এলাকার ক্ষেত্রে তদ্কর্তৃক সময় সময় নির্ধারিত এলাকা, এবং সিটি কর্পোরেশন বহির্ভূত এলাকার ক্ষেত্রে প্রতিটি উপজেলা এলাকায় একজন ব্যক্তিকে হিন্দু বিবাহ নিবন্ধক হিসেবে নিয়োগ প্রদান করিবে। 
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন নিয়োগপ্রাপ্ত কোন ব্যক্তি এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, হিন্দু বিবাহ নিবন্ধক হিসাবে অভিহিত হইবেন। 
(৩) হিন্দু বিবাহ নিবন্ধক হিসেবে নিয়োগ প্রাপ্তির যোগ্যতা, অধিক্ষেত্র, হিন্দু বিবাহ নিবন্ধক কর্তৃক আদায়যোগ্য ফিস এবং তৎসংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়াদি বিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে।
২০.
হিন্দু আইনের দায়ভাগ মতবাদ অনুসারে নারী সপিণ্ড কয়জন?
  1. ৩ জন
  2. ৪ জন
  3. ৭ জন
  4. ৫ জন
সঠিক উত্তর:
৫ জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৫ জন
ব্যাখ্যা
⇒ বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের সম্পত্তি বণ্টন হয়ে থাকে দায়ভাগ মতবাদ অনুসারে। এই মতবাদ অনুসারে উত্তরাধিকার নির্ণয় করতে যে নীতি অনুসরণ করা হয়, তা হলো মৃত ব্যক্তির আত্মার কল্যাণে আধ্যাত্মিক নীতি (ডকট্রিন অব স্পিরিচুয়াল বিলিফ)। হিন্দু ধর্মাবলম্বী কোনো মানুষ মারা গেলে মৃত ব্যক্তির আত্মার সদ্‌গতির জন্য শেষকৃত্য সম্পন্ন করতে হয়। শেষকৃত্যের তিনটি ধাপ আছে-
১. পিণ্ডদান;
২. পিণ্ডলেপ ও
৩. জলদান।

⇒ মৃত ব্যক্তির শ্রাদ্ধে যে ব্যক্তি পিণ্ডদানের অধিকারী, তাকে বলা হয় ‘সপিণ্ড’। সপিণ্ডরাই মৃত ব্যক্তির সম্পত্তির প্রধানতম অধিকারী। মাতৃকুল ও পিতৃকুলের ঊর্ধ্বতন তিন পুরুষ, পুত্র ও কন্যার অধস্তন তিন পুরুষ এবং ঊর্ধ্বতন মাতৃ ও পিতৃকূলের ছয় পুরুষ— তাঁরা হলেন পুরুষ সপিণ্ড। আর নারী সপিণ্ড পাঁচজন।
-তাঁরা হলেন:
১. বিধবা স্ত্রী;
২. কন্যা;
৩. মাতা;
৪. পিতার মাতা ও
৫. পিতার পিতার মাতা।
২১.
দত্তক গ্রহণের পর যদি দত্তকী পিতার স্বাভাবিক পুত্র জন্মগ্রহণ করে, তবে হিন্দু উত্তরাধিকার আইনে দত্তকী পুত্র সম্পত্তির কত ভাগ পান?
  1. অর্ধেক
  2. ১/৩ অংশ
  3. ১/৪ অংশ
  4. ১/৬ অংশ
সঠিক উত্তর:
১/৩ অংশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১/৩ অংশ
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশে হিন্দু উত্তরাধিকার আইনে দত্তকী পুত্র (Adopted Son) সাধারণত দত্তক গ্রহণকারী পিতার স্বাভাবিক পুত্রের মতোই সম্পত্তির অধিকারী হন। তবে এই অধিকারে কিছু বিশেষ ব্যতিক্রম ও মতপার্থক্য রয়েছে:

১. স্বাভাবিক পুত্র থাকলে:

যদি দত্তক গ্রহণের পর দত্তকী পিতার নিজস্ব (স্বাভাবিক) পুত্র জন্মগ্রহণ করে, তাহলে দত্তকী পুত্র দত্তকী পিতার সম্পত্তির তিন ভাগের এক ভাগ (১/৩) উত্তরাধিকার সূত্রে পান। তবে, শুদ্র শ্রেণির দত্তকী পুত্র দত্তকী পিতার সম্পত্তিতে সমান অংশ পাওয়ার অধিকারী হন।

২. স্বাভাবিক পুত্র না থাকলে:
যদি দত্তকী পুত্র ছাড়া দত্তকী পিতার আর কোনো পুত্র না থাকে, তাহলে দত্তকী পুত্রই সম্পত্তির পূর্ণ উত্তরাধিকারী হিসেবে বিবেচিত হন।

২২.
নিম্নের কোন পরিস্থিতিতে বিবাহিতা হিন্দু নারী পৃথক বাস করেও স্বামীর নিকট ভরণপোষণ পাওয়ার অধিকারী হবেন?
  1. স্বামী যদি ধর্মান্তর হয়
  2. স্বামী যদি পুনরায় বিবাহ করে
  3. স্বামী যদি দুরারোগ্য সংক্রামক ব্যাধিতে আক্রান্ত হন
  4. উল্লিখিত সকল কারণে
সঠিক উত্তর:
উল্লিখিত সকল কারণে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উল্লিখিত সকল কারণে
ব্যাখ্যা

• ১৯৪৬ সালের "বিবাহিতা নারীর পৃথক বাসস্থান এবং ভরণপোষণ" আইন এর ধারা ২ অনুযায়ী, নিম্নলিখিত কারণে বিবাহিতা হিন্দু নারী স্বামী হতে পৃথক থেকেও স্বামীর নিকট হতে ভরণ-পোষণ পাওয়ার অধিকারিণী-

⇒ স্বামী যদি ধর্মান্তর হয়;
⇒ স্বামী যদি পুনরায় বিবাহ করে;
⇒ স্বামী যদি স্ত্রীর অনুমতি ব্যতিরেকে তাকে পরিত্যাগ করে;
⇒ স্বামী যদি দুরারোগ্য কুষ্ঠ, সিফলিস ইত্যাদি সংক্রামক ব্যাধিতে আক্রান্ত হয় এবং এই সমস্ত ব্যাধি যদি স্ত্রীর নিকট হতে সংক্রামিত না হয়;
⇒ স্বামী যদি স্ত্রীর প্রতি নিষঠুর আচরণ করে এবং নিষ্ঠুরতা যদি এই প্রকারের হয় যে স্বামীগৃহে তার জীবনাশংকা থাকে;
⇒ স্বামী যদি গৃহে কোন উপ-পত্নী রেখে তার সাথে বসবাস করতে থাকে; এবং
⇒ অন্য কোন যুক্তিসঙ্গত কারণে।
২৩.
দায়ভাগ মতবাদ অনুসারে উত্তরাধিকারী কয় প্রকার?
  1. ৫৩ প্রকার
  2. ৩ প্রকার
  3. ৫ প্রকার
  4. ৮ প্রকার
সঠিক উত্তর:
৩ প্রকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩ প্রকার
ব্যাখ্যা
দায়ভাগ মতবাদ অনুসারে উত্তরাধিকারী ৩ প্রকার:

ক- সপিণ্ড,
খ- সকুল্য ও
গ- সমানোদক।

সপিণ্ড:
যে সকল ব্যক্তি মৃত ব্যক্তির আত্নার কল্যাণের জন্য পিণ্ডদান করেন এবং মৃত ব্যক্তি জীবিত থাকলে যাদের মৃত্যুতে তিনি পিণ্ডদানের যোগ্য ছিলেন তারা সবাই পরস্পরের সপিণ্ড। পুরুষ সপিণ্ডর সংখ্যা ৪৮জন এবং মহিলা সপিণ্ডর সংখ্যা ৫ জন মিলে সর্বমোট ৫৩ জন সপিণ্ড হবে।

সকুল্য:
প্রপিতামহের উর্ধ্বতন ৩ পুরুষ সকুল্য নামে পরিচিত। সপিণ্ড-র ৫৩ জনের কেউ বিদ্যমান না থাকলে সকুল্যগন সম্পত্তির উত্তরাধিকার লাভ করে। সকুল্যেও মোট সংখ্যা ৩৩ জন সকলেই পুরুষ।

সমানোদক:
সকুল্যের উর্ধ্বতন ৭ পুরুষকে সমানোদক বলে। সপিণ্ড ও সকুল্যের কেউ বিদ্যমান না থাকলে সমানোদকগন উত্তরাধিকার লাভ করে। সমানোদকদের সংখ্যা ১৪৭ জন। এরা সকলেই পুরুষ।
২৪.
নারী সপিণ্ডের মধ্যে কোন ব্যক্তিরা অন্তর্ভুক্ত?
  1. কন্যা, বোন, মাতা, মায়ের বোন, পিতার বোন
  2. পুত্রবধূ, কন্যা, মাতা, ভাইয়ের স্ত্রী, দিদি
  3. মাতা, মায়ের মা, স্ত্রী, কন্যা, বোন
  4. বিধবা স্ত্রী, কন্যা, মাতা, পিতার মাতা, পিতার পিতার মাতা
সঠিক উত্তর:
বিধবা স্ত্রী, কন্যা, মাতা, পিতার মাতা, পিতার পিতার মাতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিধবা স্ত্রী, কন্যা, মাতা, পিতার মাতা, পিতার পিতার মাতা
ব্যাখ্যা
⇒ মৃত ব্যক্তির শ্রাদ্ধে যে ব্যক্তি পিণ্ডদানের অধিকারী, তাকে বলা হয় ‘সপিণ্ড’। সপিণ্ডরাই মৃত ব্যক্তির সম্পত্তির প্রধানতম অধিকারী। মাতৃকুল ও পিতৃকুলের ঊর্ধ্বতন তিন পুরুষ, পুত্র ও কন্যার অধস্তন তিন পুরুষ এবং ঊর্ধ্বতন মাতৃ ও পিতৃকূলের ছয় পুরুষ— তাঁরা হলেন পুরুষ সপিণ্ড। আর নারী সপিণ্ড পাঁচজন। তাঁরা হলেন:
১. বিধবা স্ত্রী;
২. কন্যা;
৩. মাতা;
৪. পিতার মাতা ও
৫. পিতার পিতার মাতা।
২৫.
১৯৪৬ সালের "বিবাহিতা নারীর পৃথক বাসস্থান এবং ভরণপোষণ" আইন অনুযায়ী কোন ক্ষেত্রে স্ত্রী স্বামীর নিকট থেকে ভরণপোষণ পেতে পারবেন না?
  1. স্বামী ধর্মান্তর হলে
  2. স্বামী স্ত্রীর বর্তমানে পুনরায় বিবাহ করলে
  3. স্ত্রী ধর্মান্তরিত হলে
  4. স্বামী স্ত্রীর অনুমতি ছাড়া তাকে পরিত্যাগ করলে
সঠিক উত্তর:
স্ত্রী ধর্মান্তরিত হলে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্ত্রী ধর্মান্তরিত হলে
ব্যাখ্যা

১৯৪৬ সালের "বিবাহিতা নারীর পৃথক বাসস্থান এবং ভরণপোষণ" আইন অনুযায়ী নিম্নলিখিত কারণে বিবাহিতা হিন্দু নারী স্বামী হতে পৃথক থেকেও স্বামীর নিকট হতে ভরণ-পোষণ পাওয়ার অধিকারিণী -
- স্বামী যদি দুরারোগ্য কুষ্ঠ, সিফলিস ইত্যাদি সংক্রামক ব্যাধিতে আক্রান্ত হয় এবং এই সমস্ত ব্যাধি যদি স্ত্রীর নিকট হতে সংক্রামিত না হয়,
- স্বামী যদি স্ত্রীর প্রতি নিষ্ঠুর আচরণ করে এবং নিষ্ঠুরতা যদি এই প্রকারের হয় যে স্বামীগৃহে তার জীবনাশঙ্কা থাকে;
- স্বামী যদি গৃহে কোন উপ-পত্নী রেখে তার সাথে বসবাস করতে থাকে;
- স্বামী যদি ধর্মান্তর হয়,
- স্বামী যদি স্ত্রীর অনুমতি ব্যতিরেকে তাকে পরিত্যাগ করে,
- স্বামী যদি স্ত্রীর বর্তমানে পুনরায় বিবাহ করে,
এই ধরনের অন্যান্য যৌক্তিকতাপূর্ণ কারণে।

তবে নিম্নলিখিত কারণে স্ত্রী স্বামীর নিকট হতে আইনত ভরণপোষণ পেতে পারে না-
- স্ত্রী যদি অসৎ চরিত্রের অথবা অসতী হয়,
- স্ত্রী যদি অন্য ধর্মে ধর্মান্তরিত হয়,
- স্ত্রী যদি আইনসংগত কারণ ব্যতীত স্বামীর সাথে স্ত্রীরূপে বসবাস করতে অনিচ্ছুক হয়।

২৬.
হিন্দু আইনানুযায়ী 'দান' এর ক্ষেত্রে নিম্নের কোনটি সঠিক নয়?
  1. বৈধ দান প্রত্যাহারযোগ্য নয়
  2. দানের বিষয়বস্তুর দখল হস্তান্তরিত হতে হবে
  3. দাতা সম্পত্তির আয় জীবনস্বত্বে রাখতে পারেন
  4. মৃত্যুর আশঙ্কায় কৃত দান অবৈধ
সঠিক উত্তর:
মৃত্যুর আশঙ্কায় কৃত দান অবৈধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মৃত্যুর আশঙ্কায় কৃত দান অবৈধ
ব্যাখ্যা
দান: 
দান হলো এমন এক ধরনের হস্তান্তর পদ্ধতি যার মাধ্যমে স্বীয় মালিকানা স্বত্বের অবসান ঘটায় এবং অন্য ব্যক্তির বরাবরে মালিকানা স্বত্ব সৃষ্টি করে। দানসূত্রে সম্পত্তি হস্তান্তরের জন্য কোনরকম পণের প্রয়োজন হয় না এবং যার বরাবরে দান সৃষ্টি করা হয় সে দানের বিষয়বস্ত গ্রহণ করার সাথে সাথেই দান কাজ সম্পন্ন হয়। দান হস্তান্তর  করে যে ব্যক্তি তাকে দাতা এবং দান গ্রহণ করে যে ব্যক্তি তাকে দান গ্রহীতা বলা হয়। স্থাবর বা অস্থাবর উভয় প্রকার সম্পত্তি দান করা যেতে পারে। এক্ষেত্রে ঐ সম্পত্তিতে দাতার স্বত্ব লোপ পায় এবং গ্রহীতার স্বত্ব অর্জিত হয়। এভাবে স্বত্ব দখলের হস্তান্তরকে দান বলা যেতে পারে।

হিন্দু আইনে দানের বৈধতা নিম্নরূপ:
ক) বৈধ দান প্রত্যাহারযোগ্য নয়: এটি সঠিক। একবার দান করা হলে তা প্রত্যাহার করা যাবে না।
খ) দানের বিষয়বস্তুর দখল হস্তান্তরিত হতে হবে: এটিও সঠিক। দানগ্রহীতাকে বিষয়বস্তুর দখল দিতে হবে।
গ) দাতা সম্পত্তির আয় জীবনস্বত্বে রাখতে পারেন: এটাও সঠিক। দানকারী জীবিত থাকা পর্যন্ত সেই সম্পত্তির আয় রাখতে পারেন।
ঘ) মৃত্যুর আশঙ্কায় কৃত দান অবৈধ: 
এটি সঠিক নয়। হিন্দু আইনে মৃত্যুর আশঙ্কায় করা দানকেও বৈধ মেনে নেওয়া হয়। 

অতএব, হিন্দু আইনানুযায়ী দানের ক্ষেত্রে ‘ঘ) মৃত্যুর আশঙ্কায় কৃত দান অবৈধ’ - এটি সঠিক নয়।
২৭.
নারী সপিণ্ড নয় কে?
  1. কন্যা
  2. মাতা
  3. বোন
  4. পিতার পিতার মাতা
সঠিক উত্তর:
বোন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বোন
ব্যাখ্যা
• 'বোন'- সপিণ্ড নয়।

⇒ বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের সম্পত্তি বণ্টন হয়ে থাকে দায়ভাগ মতবাদ অনুসারে। এই মতবাদ অনুসারে উত্তরাধিকার নির্ণয় করতে যে নীতি অনুসরণ করা হয়, তা হলো মৃত ব্যক্তির আত্মার কল্যাণে আধ্যাত্মিক নীতি (ডকট্রিন অব স্পিরিচুয়াল বিলিফ)। হিন্দু ধর্মাবলম্বী কোনো মানুষ মারা গেলে মৃত ব্যক্তির আত্মার সদ্‌গতির জন্য শেষকৃত্য সম্পন্ন করতে হয়। শেষকৃত্যের তিনটি ধাপ আছে-
১. পিণ্ডদান;
২. পিণ্ডলেপ ও
৩. জলদান।

• মৃত ব্যক্তির শ্রাদ্ধে যে ব্যক্তি পিণ্ডদানের অধিকারী, তাকে বলা হয় ‘সপিণ্ড’। সপিণ্ডরাই মৃত ব্যক্তির সম্পত্তির প্রধানতম অধিকারী। মাতৃকুল ও পিতৃকুলের ঊর্ধ্বতন তিন পুরুষ, পুত্র ও কন্যার অধস্তন তিন পুরুষ এবং ঊর্ধ্বতন মাতৃ ও পিতৃকূলের ছয় পুরুষ— তাঁরা হলেন পুরুষ সপিণ্ড। আর নারী সপিণ্ড পাঁচজন। তাঁরা হলেন:
১. বিধবা স্ত্রী;
২. কন্যা;
৩. মাতা;
৪. পিতার মাতা ও
৫. পিতার পিতার মাতা।
২৮.
নিচের কোন শ্রেণিটি দায়ভাগ পদ্ধতির প্রথম শ্রেণির উত্তরাধিকার?
  1. সহদেব
  2. সাকুল্য
  3. সপিণ্ড
  4. সমানোদক
সঠিক উত্তর:
সপিণ্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সপিণ্ড
ব্যাখ্যা
⇒ দায়ভাগ পদ্ধতিতে উত্তরাধিকার তিনটি শ্রেণিতে বিভক্ত:
১) সপিণ্ড (প্রথম ও নিকটতম শ্রেণি),
২) সাকুল্য (দ্বিতীয় শ্রেণি),
৩) সমানোদক (তৃতীয় ও দূরবর্তী শ্রেণি)।
→  দায়ভাগ পদ্ধতি (Dayabhaga School) অনুসারে, হিন্দু উত্তরাধিকার আইনে যে ব্যক্তি মৃত ব্যক্তির আত্মার শান্তির জন্য পিণ্ডদান করতে পারে, তাকে সপিণ্ড বলা হয়। সপিণ্ডগণই হলেন এই পদ্ধতির প্রথম শ্রেণির উত্তরাধিকারী।
→  দায়ভাগ পদ্ধতিতে উত্তরাধিকারী নির্ধারণ করা হয় মূলত ধর্মীয় দায়িত্ব পালনের ভিত্তিতে। মৃত ব্যক্তিকে যে আত্মীয় পিণ্ড দিতে পারেন, তিনিই প্রথম উত্তরাধিকারী। এই জন্যই সপিণ্ডগণ প্রথম শ্রেণির উত্তরাধিকারী।
→  সপিণ্ড হলো প্রথম শ্রেণির উত্তরাধিকার, যারা মৃত ব্যক্তির সরাসরি রক্তের সম্পর্কে আবদ্ধ (যেমন: পুত্র, কন্যা, স্ত্রী, পিতা, মাতা ইত্যাদি)। এরা মৃতের শ্রাদ্ধে পিণ্ডদানের অধিকারী এবং সম্পত্তির প্রধান দাবিদার।
→  সাকুল্য (দ্বিতীয় শ্রেণি) ও সমানোদক (তৃতীয় শ্রেণি) তুলনামূলকভাবে দূরবর্তী আত্মীয়দের অন্তর্ভুক্ত।
→  সহদেব একটি ব্যক্তিগত নাম বা বিভ্রান্তিকর অপশন (এই প্রসঙ্গে প্রাসঙ্গিক নয়)।
সুতরাং, সঠিক উত্তর গ) সপিণ্ড।
২৯.
হিন্দু আইনে কোন বিবাহ পদ্ধতিকে সর্বোত্তম বিবাহ বলা হয়?
  1. দৈব
  2. ব্রাহ্ম
  3. আর্য
  4. গন্ধর্ব
সঠিক উত্তর:
ব্রাহ্ম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্রাহ্ম
ব্যাখ্যা
• দায়ভাগ ও মিতাক্ষরা অনুসারে হিন্দুদের মধ্যে আট প্রকার বিবাহ প্রচলিত ছিল, যার প্রথম চারটি সামাজিকভাবে অনুমোদিত এবং অবশিষ্ট চারটি অননুমোদিত। আট প্রকার বিবাহ হলো:

অনুমোদিত ৪ প্রকার:
ব্রাহ্ম: সর্বোত্তম পদ্ধতি, যাতে অলঙ্কারে সজ্জিতা কন্যাকে শিক্ষিত ও চরিত্রবান বরের হাতে তুলে দেয়া হতো; এক্ষেত্রে বরের নিকট থেকে কোন পণ নেয়া হতো না;
দৈব: এ ধরনের বিবাহে যজ্ঞ সম্পাদনকারী পুরোহিতের নিকট কন্যা সম্প্রদান করা হতো;
আর্য: এ বিবাহে কনের পিতা বরের নিকট থেকে এক বা দুই জোড়া গাভী গ্রহণ করতেন;
প্রজাপত্য: এ বিবাহে কনের পিতা বরের নিকট থেকে কোন পণ গ্রহণ ছাড়াই কন্যা দান করতেন এবং তাদের আশীর্বাদ করতেন যাতে তারা পারস্পরিক বিশ্বাস ও সুখের সঙ্গে দাম্পত্য জীবন যাপন করতে পারে।
 
অননুমোদিত ৪ প্রকার:
অসুর: এ বিবাহে বর পিতা অথবা অভিভাবকের নিকট থেকে মূল্য দিয়ে কনেকে ক্রয় করত;
রাক্ষস: এ বিবাহে কন্যার আত্মীয়দের প্রহার করে রোরুদ্যমান কন্যাকে তুলে নেয়া হতো;
গন্ধর্ব: বর ও কনের পরস্পরের পরিচয় ও সম্মতিতে এ বিবাহ অনুষ্ঠিত হতো;
পৈশাচ: নিকৃষ্টতম বিবাহ; এতে কন্যার প্রেমিক (কন্যার সম্মতি ব্যতিরেকে) নিদ্রিত অবস্থায় অথবা মদোম্মত্ত বা উম্মত্ত কন্যার সঙ্গে সঙ্গত হতো।
৩০.
হিন্দু ধর্মের প্রাচীনতম উৎস বেদ কত ভাগে বিভক্ত?
  1. দুই
  2. তিন
  3. চার
  4. ছয়
সঠিক উত্তর:
চার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চার
ব্যাখ্যা
বেদ বা শ্রুতি:
- বেদ হল হিন্দু ধর্মের প্রাচীনতম এবং মৌলিক ধর্মগ্রন্থ।
- এটি ঐশ্বরিক জ্ঞানের উৎস হিসেবে বিবেচিত হয়।
- প্রাচীনকালে দেবতাদের প্রদত্ত জ্ঞান, যা ঋষিগণ শুনেছিলেন এবং পরবর্তীকালে মহর্ষি কৃষ্ণদ্বৈপায়ন সংকলন করেন, তাই বেদ নামে পরিচিত।
- বেদ চার ভাগে বিভক্ত—
১) ঋগ্বেদ
২) যজুর্বেদ
৩) সামবেদ
৪) অথর্ববেদ
- এই চারটি বেদ একত্রে "শ্রুতি শাস্ত্র" নামে পরিচিত এবং এগুলো হিন্দু আইনের মূল ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত।
৩১.
'Factum valet' নীতি পরিশুদ্ধ করে-
  1. নির্দেশসূচক বিধান অমান্যকরণ
  2. মৌলিক নীতি অমান্যকরণ
  3. লেনদেনের উপাদান অমান্যকরণ
  4. উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
নির্দেশসূচক বিধান অমান্যকরণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নির্দেশসূচক বিধান অমান্যকরণ
ব্যাখ্যা
⇒ Quod fieri non debet factum valet (বিধিমত যা অকর্তব্য, তা করা হলে বিধিসম্মত বলে ধরা হয়) এই প্রবচনের উপর ভিত্তি করে factum valet মতবাদের উৎপত্তি হয়েছে। ফ্যাকটাম ভ্যালেট হিন্দু দায়ভাগা আইনের একটি নীতি। হিন্দু আইনে এই মতবাদ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মতবাদ হিসেবে পরিচিত। যে কাজ করা উচিৎ নয় বা করা হয়েছে, তাকে বৈধ হিসেবে গণ্য করার নীতি ‘factum valet’ নামে পরিচিত।

আইনের বিধানগুলোকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়-
- নির্দেশাত্মক বিধান (Directory provision of law), 
- অবশ্য পালনীয় বিধান (mandatory provision of law) বলা হয়।

অবশ্য পালনীয় বিধান অমান্য করলে সেই কাজটি বেআইনী বলে গণ্য হবে এবং অন্য কোন সূত্র প্রয়োগ করে তা বৈধ করা যায় না। তবে আইনের সুপারিশমূলক/নির্দেশাত্মক বিধান উপেক্ষা করেও কোন একটি কাজ করা হলে, এরূপ কৃত কার্যকে আইনতঃ সিদ্ধ বলে গ্রহণ করাকে ফ্যাকটাম ভ্যালেট নীতি বলা হয়। অর্থাৎ ‘directory’ নির্দেশের পরিপন্থী কাজ অনুচিত হলেও উক্ত কাজকে সরাসরি বেআইনী বলা যায় না। হিন্দু আইনে অনুরূপ কাজ factum valet নীতি অনুযায়ী বৈধ করা যায়।

যেমন- হিন্দু ধর্ম মতে অভিভাবকের সম্মতি ছাড়া কোন বিয়ে হতে পারে না। কিন্তু অনুরূপ বিধান লংঘন করে কোন বিয়ে হয়ে গেলে তা ফ্যাকটাম ভ্যালেট নীতি অনুযায়ী বৈধ গণ্য হয়ে থাকে। একইভাবে শাস্ত্রীয় বিধান অনুসারে কোন ব্যক্তি তার একমাত্র সন্তানকে দত্তক দিতে পারেন না। কিন্তু ঐ বিধি উপক্ষো করে যদি কেউ তার একমাত্র পুত্রকে দত্তক দিয়েই ফেলেন তাহলে তা অসিদ্ধ বলে বিবেচিত হয় না। তবে উভয়ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় অনুষ্ঠানাদি পালন করতে হয়। এছাড়াও ফ্যাক্টাম ভ্যালেট নীতির কারণে এক বা একাধিক স্ত্রী থাকা সত্তেও একজন হিন্দু পুনরায় বিবাহ করতে পারে।
৩২.
বিধবার সম্পত্তি হস্তান্তর করা যায় না, তবে কোন ক্ষেত্রে হস্তান্তর করা যায়?
  1. ধর্মীয় উদ্দেশ্যে
  2. যেকোনো প্রয়োজনে
  3. ব্যক্তিগত প্রয়োজনে
  4. পরিবারের অনুমতিতে
সঠিক উত্তর:
ধর্মীয় উদ্দেশ্যে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধর্মীয় উদ্দেশ্যে
ব্যাখ্যা
→ বিধবার সম্পত্তিতে মহিলার কোনো একচ্ছত্র মালিকানা নেই, এবং তিনি ইচ্ছামতো তা বিক্রি বা হস্তান্তর করতে পারেন না।
- অর্থাৎ বিধবার সম্পত্তি সাধারণত হস্তান্তর করা যায় না, তবে কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে, যেমন ধর্মীয় উদ্দেশ্যে, বিধবার সম্পত্তি হস্তান্তর করা যেতে পারে।
- এছাড়া, আইনগত প্রয়োজনে এবং সম্পত্তির হিতার্থে বা মঙ্গলে তা হস্তান্তর করা সম্ভব।
-তবে ব্যক্তিগত প্রয়োজনে বা পরিবারের অনুমতিতে বিধবার সম্পত্তি হস্তান্তর করা যায় না।
৩৩.
'Doctrine of Survivorship' কোন মতবাদে প্রযোজ্য?
  1. দায়ভাগ মতবাদে
  2. মিতাক্ষরা মতবাদে
  3. ক ও খ উভয় মতবাদে
  4. কোনো মতবাদেই নয়
সঠিক উত্তর:
মিতাক্ষরা মতবাদে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মিতাক্ষরা মতবাদে
ব্যাখ্যা
• দায়ভাগ উত্তরাধিকাররূপে সম্পত্তি প্রাপ্তির শুধু একটাই নিয়ম স্বীকার করে আর তা হলো উত্তরাধিকার সূত্র। যেমন, 'ক' এবং 'খ' দুই ভাই এবং তাহারা এজমালী পরিবারভুক্ত। অতএব তাদের পারিবারিক সম্পত্তিতে 'ক' এর আট আনা অংশ এবং 'খ' এর বাকী আট আনা অংশ। তদবস্থায় বাংলাদেশে 'ক' একটি পুত্র সন্তান রেখে মারা গেলে তার আট আনা অংশ তার পুত্র উত্তরাধিকার সূত্রে পাবে। ভাই 'খ' 'ক' এর ত্যাজ্যবিত্তের কোন অংশ পাইবে না। পিতার মৃত্যুতে এইভাবে পুত্রের সম্পত্তি পাওয়াকে বলা যায় উত্তরাধিকার সূত্রে সম্পত্তি পাওয়া। একে বলে 'Doctrine of successionship'

অপরপক্ষে মিতাক্ষরা সম্পত্তি প্রাপ্তির ক্ষেত্রে দুইটি নিয়ম মেনে চলে। যেমন মিতাক্ষরা শাসিত অঞ্চলে 'ক' এবং 'খ' দুই ভাই এবং তাহারা যৌথ পরিবারভুক্ত। তাদের পূর্বপুরুষের নিকট হতে প্রাপ্ত সম্পত্তি আছে ২০ বিঘা। পরে 'ক' ওকালতি করে নিজ নামে আরও ৩০ বিঘা জমি অর্জন করে এক পুত্র রেখে মারা গেলেন। এই অবস্থায় 'ক' এর স্বোপার্জিত ৩০ বিঘা জমি তার পুত্র উত্তরাধিকার সূত্রে পাবে আর পূর্ব পুরুষাগত ২০ বিঘা জমিতে 'ক' এর অংশ যৌথ পরিবারের উত্তরজীবী (Surviving members) 'ক' এর পুত্র এবং ভাই 'খ' এর উপর সমান অংশে বর্তাইবে। এই নিয়মকেই বলা হয় উত্তরজীবী সূত্রে সম্পত্তি পাওয়া বা Doctrine of Survivorship
৩৪.
একজন দায়ভাগ মতবাদের অনুসারী হিন্দু ব্যক্তি পিতা, ভাই, ভাইয়ের পুত্র এবং কন্যার পুত্র কে রেখে মারা যায়। এক্ষেত্রে সমুদয় সম্পত্তি কে পাবে?
  1. পিতা
  2. ভাই
  3. কন্যার পুত্র
  4. ভাই এবং ভাইয়ের পুত্র অর্ধেক করে পাবে
সঠিক উত্তর:
কন্যার পুত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কন্যার পুত্র
ব্যাখ্যা
• নিম্নে প্রথম ১০ জন সপিণ্ডগণের তালিকা ক্রমানুসারে দেওয়া হলঃ
১) পুত্র;
২) পুত্রের পুত্র;
৩) পুত্রের পুত্রের পুত্র;
৪) স্ত্রী, পুত্রের স্ত্রী, পুত্রের পুত্রের স্ত্রী, পুত্রের পুত্রের পুত্রের স্ত্রী।(বিধবা);
৫) কন্যা;
৬) কন্যার পুত্র;
৭) পিতা;
8) মাতা;
৯) ভাই, সহোদর ভাই না থাকলে বৈমাত্রেয় ভাই;
১০) ভাই এর পুত্র, সহোদর ভাই না থাকলে বৈমাত্রেয় ভাই এর পুত্র।

তালিকা অনুযায়ী, কন্যার পুত্রের অবস্থান ৬ষ্ঠ এবং পিতা, ভাই ও ভাইয়ের পুত্র যথাক্রমে ৭ম, ৯ম এবং ১০ অবস্থানে আছে। এক্ষেত্রে কন্যার পুত্র অগ্রগণ্য হবে এবং সমুদয় সম্পত্তি পাবে এবং বাকিরা বঞ্চিত হবে।
৩৫.
হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন বিধিমালা, ২০১৩ এর বিধি-৫(১) অনুযায়ী, হিন্দু বিবাহ নিবন্ধক হওয়ার জন্য ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা কী?
  1. স্নাতক পাস
  2. এসএসসি (SSC) পাস
  3. এইচএসসি (HSC) পাস
  4. কোনো শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রয়োজন নেই
সঠিক উত্তর:
এইচএসসি (HSC) পাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এইচএসসি (HSC) পাস
ব্যাখ্যা

⇒ হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন বিধিমালা, ২০১৩ এর বিধি- ৫(১) অনুযায়ী, প্রার্থীর এইচএসসি (HSC) পাস হতে হবে, বয়স ২৫–৫০ বছরের মধ্যে হতে হবে, সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দা হতে হবে, এবং হিন্দু সনাতন ধর্মাবলম্বী হতে হবে। সবগুলো শর্ত পূরণ না করলে তিনি যোগ্য হবেন না।

-হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন আইন, ২০১২-এর ৪(১) ধারার বিধান অনুসারে,
এই আইনের অধীন হিন্দু বিবাহ নিবন্ধনের উদ্দেশ্যে, সরকার, সিটি কর্পোরেশন এলাকার ক্ষেত্রে তৎকর্তৃক সময় সময় নির্ধারিত এলাকা, এবং সিটি কর্পোরেশন বহির্ভূত এলাকার ক্ষেত্রে প্রতিটি উপজেলা এলাকায় একজন ব্যক্তিকে হিন্দু বিবাহ নিবন্ধক হিসেবে নিয়োগ প্রদান করিবে।
-হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন আইন, ২০১২-এর ধারা ৪(৩) ধারার বিধান অনুসারে, হিন্দু বিবাহ নিবন্ধক হিসেবে নিয়োগ প্রাপ্তির যোগ্যতা, অধিক্ষেত্র, হিন্দু বিবাহ নিবন্ধক কর্তৃক আদায়যোগ্য ফিস এবং তৎসংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়াদি বিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে।

হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন বিধিমালা, ২০১৩ এর বিধি-৫ প্রার্থীদের যোগ্যতা, ইত্যাদি- (১) কোনো ব্যক্তি হিন্দু বিবাহ নিবন্ধক হিসাবে নিয়োগ পাইবার
যোগ্য হইবেন না, যদি-
- তিনি সরকার কর্তৃক স্বীকৃত কোনো বোর্ড হইতে এইচ, এস, সি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না হন;
- তাহার বয়স কমপক্ষে পঁচিশ এবং অনূর্ধ্ব পঞ্চাশ বৎসর না হয়;
- তিনি সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দা না হন;
- তিনি হিন্দু সনাতন ধর্মাবলম্বী না হন।
(২) উপ-ধারা (১) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, হিন্দু বিবাহ নিবন্ধক নিয়োগের ক্ষেত্রে কাব্যতীর্থ বা ব্যাকরণতীর্থদের অগ্রাধিকার প্রদান করা হইবে।

৩৬.
হিন্দু আইনে 'সপ্রতিবন্ধ দায়' কাকে বলে?
  1. যেখানে জন্মসূত্রে সম্পত্তির অধিকার জন্মায়
  2. যেখানে সম্পত্তি লাভ নির্ভর করে অন্যের মৃত্যুর উপর
  3. যেখানে সহ-উত্তরাধিকারীর জীবিত অবস্থায় অধিকার তৈরি হয়
  4. যেখানে দত্তকসূত্রে সম্পত্তির অধিকার জন্মায়
সঠিক উত্তর:
যেখানে সম্পত্তি লাভ নির্ভর করে অন্যের মৃত্যুর উপর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যেখানে সম্পত্তি লাভ নির্ভর করে অন্যের মৃত্যুর উপর
ব্যাখ্যা

সপ্রতিবন্ধ দায় (Obstructed heritage):
যখন একজনের মৃত্যুর পর মৃত ব্যক্তির সম্পত্তিতে অপরের উত্তরাধিকার অথবা উত্তরজীবীসূত্রে অধিকার জন্মায় তখন ইহাকে সপ্রতিবন্ধ দায় বলা যাইতে পারে। এইক্ষেত্রে অপ্রতিবন্ধ দায়ের ন্যায় জন্মসূত্রে সম্পত্তিতে অধিকার জন্মায় না। অর্থাৎ যেখানে একজনের সম্পত্তি পাওয়া অপরের মৃত্যুর উপর নির্ভরশীল তাহাকেই বলা যায় সপ্রতিবন্ধ দায়। এইক্ষেত্রে একজনের অস্তিত্ব অপরের সম্পত্তি পাওয়ার বাধা সৃষ্টি করে। বাধা অপসারিত হইলে পরে অন্যের উপর মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি বর্তায়। এইভাবে প্রতিবন্ধকতা অপসারিত হওয়ার পর সম্পত্তি পাওয়াকে বলা হয় সপ্রতিবন্ধ দায়।

যেমন- মিতাক্ষরা মতে পিতা পৃথক সম্পত্তি রাখিয়া মারা গেলে পুত্র পিতার পৃথক সম্পত্তি উত্তরাধিকার সূত্রে পায় অথবা কোন সহ-উত্তরাধিকারী মারা গেলে অন্যান্য সহ-উত্তরাধিকারীগণ মৃত ব্যক্তির অংশ উত্তরজীবী সূত্রে পায়।

অপ্রতিবন্ধ দায় এবং সপ্রতিবন্ধ দায়, এই দুইটি শব্দেরই প্রয়োগ মিতাক্ষরা আইনে দৃষ্ট হয়। দায়ভাগ মতে এই পার্থক্যের সুযোগ নাই, কারণ দায়ভাগ মতে উত্তরাধিকার লাভের সূত্র একটাই এবং তাহা সর্বদাই সপ্রতিবন্ধ দায়।

৩৭.
হিন্দু বিবাহ নিবন্ধক তার দায়িত্ব পালনে কোন অসদাচরণের জন্য দায়ী হলে, তার নিয়োগ অনধিক কত বছরের জন্য স্থগিত বা বাতিল করা যায়?
  1. তিন বছরের
  2. দুই বছরের
  3. চার বছরের
  4. পাঁচ বছরের
সঠিক উত্তর:
দুই বছরের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুই বছরের
ব্যাখ্যা
• হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন আইন, ২০১২

ধারা ১৪- নিয়োগ স্থগিত বা বাতিলকরণ


সরকারের নিকট যদি সন্তোষজনকভাবে এই মর্মে প্রতীয়মান হয় যে, কোন হিন্দু বিবাহ নিবন্ধক তাহার দায়িত্ব পালনে কোন অসদাচরণের জন্য দায়ী অথবা তাহার কর্তব্য পালনে অসমর্থ বা শারীরিকভাবে অক্ষম, তাহা হইলে, সরকার লিখিত আদেশ দ্বারা, তাহার নিয়োগ অনধিক দুই বৎসরের জন্য স্থগিত বা বাতিল করিতে পারিবে: 
তবে শর্ত থাকে, হিন্দু বিবাহ নিবন্ধককে যথাযথ কারণ দর্শানোর সুযোগ প্রদান না করিয়া অনুরুপ কোন আদেশ প্রদান করা যাইবে না।
৩৮.
Factum Valet নীতি প্রয়োগের জন্য কোনটি প্রয়োজন?
  1. সরকারি অনুমোদন
  2. ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন
  3. আদালতের অনুমতি
  4. সামাজিক অনুমোদন
সঠিক উত্তর:
ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন
ব্যাখ্যা
→ Factum Valet নীতি অনুযায়ী, আইন বা শাস্ত্রীয় বিধান ভঙ্গ করা হলেও, তা বৈধ হিসেবে গৃহীত হতে পারে যদি সংশ্লিষ্ট ধর্মীয় বা প্রয়োজনীয় অনুষ্ঠানাদি যথাযথভাবে পালন করা হয়।
- Factum Valet নীতি অনুযায়ী, কিছু আইন বা বিধি যা অনুসরণ করা আবশ্যক বা নির্দেশনারূপে দেওয়া থাকে, সেগুলি যদি অমান্য করা হয়, তবে সেই কাজটি অদ্বিতীয়ভাবে অবৈধ বা বেআইনি বলে গণ্য করা হয় না। এর পরিবর্তে, কাজটি বৈধ হিসেবে গৃহীত হতে পারে, যদি এটি যথাযথ ধর্মীয় বা প্রয়োজনীয় অনুষ্ঠানাদি অনুসরণ করে সম্পাদিত হয়।

Factum Valet নীতির মূল দৃষ্টিকোণ:
Directory Provision vs. Mandatory Provision: আইনের বিধান দুটি ভাগে বিভক্ত করা যায়—একটি হল নির্দেশাত্মক বিধান (Directory provisions) এবং অন্যটি হল অবশ্য পালনীয় বিধান (Mandatory provisions)।

নির্দেশাত্মক বিধান: এগুলি আইনের সুপারিশমূলক বিধান, যার অমান্য করলেও কাজটি বৈধ হতে পারে। Factum Valet নীতি এই বিধানেই প্রয়োগ হয়।
অবশ্য পালনীয় বিধান: এগুলি আইনের কঠোর বিধান, যার অমান্য করা হলে কাজটি বেআইনি হিসেবে গণ্য হয় এবং তা আর বৈধ করা যায় না।

ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন: Factum Valet নীতির প্রয়োগের জন্য, কাজটি বিধি অনুযায়ী অদ্বিতীয় হলেও, যদি সেই কাজটি সম্পাদন করার জন্য প্রয়োজনীয় ধর্মীয় বা আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানগুলি যথাযথভাবে পালন করা হয়, তাহলে কাজটি বৈধ বলে গণ্য করা হয়।

Factum Valet নীতির শর্ত
এই নীতি প্রয়োগের জন্য কিছু শর্ত পূরণ করতে হয়:
- প্রয়োজনীয় ধর্মীয় অনুষ্ঠান ও রীতি পালন করতে হবে।
- কৃতকার্য অবৈধ বা নিষিদ্ধ হওয়া উচিত নয়।
- নির্দেশাত্মক বিধান লঙ্ঘন করে কাজটি করা হলে তা বৈধ হবে, কিন্তু অবশ্য পালনীয় বিধান লঙ্ঘন করলে তা বৈধ হবে না।

Factum Valet নীতির উদাহরণ:
হিন্দু আইনে এই নীতির বেশ কিছু প্রয়োগ দেখা যায়:
বিবাহ সংক্রান্ত:
- হিন্দু ধর্মমতে, অভিভাবকের সম্মতি ছাড়া বিবাহ হওয়া উচিত নয়। কিন্তু যদি কোনো বিবাহ অভিভাবকের সম্মতি ছাড়াই হয়ে যায়, তবে Factum Valet নীতি অনুযায়ী সেই বিবাহ বৈধ বলে গণ্য হয়।
দত্তক গ্রহণ সংক্রান্ত:
- হিন্দু শাস্ত্রমতে, কোনো ব্যক্তি তার একমাত্র সন্তানকে দত্তক দিতে পারেন না। কিন্তু যদি কেউ এই বিধান লঙ্ঘন করে একমাত্র পুত্রকে দত্তক দেন, তবে Factum Valet নীতি অনুযায়ী সেই দত্তক বৈধ বলে গণ্য হয়।
বহু বিবাহ সংক্রান্ত:
- হিন্দু আইনে একাধিক স্ত্রী থাকা সত্ত্বেও যদি কোনো ব্যক্তি পুনরায় বিবাহ করে, তবে Factum Valet নীতি অনুযায়ী সেই বিবাহ বৈধ বলে গণ্য হয়।
৩৯.
একটি প্রথাকে আইনের মর্যাদা পেতে হলে কোনটি প্রয়োজন?
  1. সুপ্রাচীন
  2. যুক্তিসঙ্গত
  3. নৈতিকতা বিরোধী নয়
  4. উল্লিখিত সব
সঠিক উত্তর:
উল্লিখিত সব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উল্লিখিত সব
ব্যাখ্যা

• প্রথা (Customs):
ইহা এমন একটি নিয়ম বা রীতি যাহা একটি বিশেষ পরিবারে অথবা শ্রেণীতে অথবা অঞ্চলবিশেষে বহুকাল প্রচলিত হইবার দরুন আইনের যোগ্যতা অর্জন করেছে। স্মৃতি এবং প্রথার মধ্যে বিরোধ উপস্থিত হলে আইনত প্রতিষ্ঠিত প্রথা স্মৃতির চেয়েও শক্তিশালী; হিন্দু আইনের এই নীতিগত প্রশ্নটির মীমাংসা হয় কালেক্টার, মাদুরা বনাম মুট্টুরামলিঙ্গ মামলায় প্রিভি কাউন্সিলে (12 Μ.Ι. Α. 379) তাহাতে বলা হয়- "Clear proof of usage will out weigh the written texts of the law" অর্থাৎ আইনত প্রতিষ্ঠিত প্রথা হিন্দু ধর্মশাস্ত্র অনুযায়ী লিখিত বিধান হইতেও অধিক শক্তিশালী।

• একটি প্রথাকে আইনের মর্যাদা পেতে হলে, তার মধ্যে নিম্নলিখিত উপাদানগুলি অবশ্যই থাকতে হবে-

(ক) প্রথাটি অবশ্যই সুপ্রাচীন, সুনিশ্চিত, যুক্তিযুক্ত এবং সুপ্রমাণিত হতে হবে।

(খ) ইহা নৈতিকতা বিরোধী অথবা সাধারণ নিয়মের (opposed to public policy) পরিপন্থী হলে চলবে না।

(গ) ইহা আইনসভা কর্তৃক কোন আইন দ্বারা নিষিদ্ধ ঘোষিত হইলে চলবে না। যেমন একসময়ে হিন্দুদের মধ্যে সতীদাহ প্রথা চালু ছিল। কিন্তু পরবর্তীকালে লর্ড বেন্টিংকের সময় রাজা রামমোহন রায় প্রমুখ মহানুভব ব্যক্তিদের উদ্যোগে আইনসভা কর্তৃক উহা নিষিদ্ধ ঘোষিত হয়।

(ঘ) প্রথাটিকে অবশ্য স্মরণাতীত কাল হইতে আরম্ভ হইয়া নিরবচ্ছিন্নভাবে চালু থাকতে হবে।

৪০.
'Reversioner' বলতে কী বোঝায়?
  1. মাথাপিছু উত্তরাধিকারী
  2. ভাবী উত্তরাধিকারী
  3. পূর্ববর্তী উত্তরাধিকারী
  4. অংশপিছু উত্তরাধিকারী
সঠিক উত্তর:
ভাবী উত্তরাধিকারী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভাবী উত্তরাধিকারী
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশ, ভারত এবং পাকিস্তানে হিন্দুদের মধ্যে দু’ধরনের উত্তরাধিকার পদ্ধতি চালু রয়েছে। যথা- দায়ভাগ পদ্ধতি এবং মিতাক্ষরা পদ্ধতি। দায়ভাগ পদ্ধতি বাংলাদেশ এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও আসামে প্রচলিত আছে। দায়ভাগ মতে পিন্ডদানের অধিকারী ব্যক্তি মাত্রই মৃত ব্যক্তির উত্তরাধিকারী। যারা পিন্ড দিতে পারে তারাই মৃত ব্যক্তির ত্যাজ্য সম্পত্তির ওয়ারিশ বলা হয়। ভারতের অন্যান্য প্রদেশ এবং পাকিস্তানে মিতাক্ষরা পদ্ধতি প্রযোজ্য হয়ে থাকে।
 
উত্তরাধিকারীদের অধিকারের স্বাভাবিকভাবে পুত্রই পিতার সমগ্র সম্পত্তির একক উত্তরাধিকারী হয়। পুত্র একাধিক হলে তারা সকলে মিলে পিতার সম্পত্তিতে উত্তরাধিকার পায়। যে পুত্র মৃত তার পুত্র অর্থাত্‍ পৌত্র উত্তরাধিকার পায়। পুত্র, পৌত্র এবং প্রপৌত্র যেহেতু সমভাবে পিন্ড দেবার অধিকারী তাই তারা উত্তরাধিকারী হয়। কিন্তু পুত্র জীবিত থাকলে তার পুত্র অর্থাত্‍ পৌত্র পিন্ড দিতে পারেনা। এবং সে কারণে পুত্রের জীবমানে পৌত্র উত্তরাধিকার পায়না। প্রপৌত্রের ক্ষেত্রে ও একই কথা।
 
• বিধবাদের কথা বলা যায় যে, আগে পুত্র, পৌত্র প্রভৃতি থাকলে বিধবা আর কোন উত্তরাধিকার পেত না। বর্তমানে অর্থাত্‍‍ ১৯৩৭ সনের সম্পত্তির উপর হিন্দু নারীর অধিকার আইন পাস হবার পর বিধবাবৃন্দ জীবন স্বত্ব উত্তরাধিকার পায়। 

উত্তরাধিকার সূত্রে পুরুষ যে সম্পত্তি পায় তাতে সে সম্পূর্ণ মালিকানা অর্জন করে। কিন্তু মহিলা শুধু জীবন স্বত্ব পায়। এদের মৃত্যূর পর যার সম্পত্তি তারা পেয়েছিল তার নিকটবর্তী সপিন্ডদের নিকট চলে যায়। এ সকল নিকটবর্তী সপিন্ডদের ভাবী উত্তরাধিকারী (Reversioner) বলা হয়।
৪১.
"Clear proof of usage will out weigh the written texts of the law"- This statement was made in this case -
  1. Krishnayya v. Narayana, (1909)
  2. Lata Singh v. State of Uttar Pradesh, (2006)
  3. Collector of Madura v. Moottoo Ramalinga (1868)
  4. Danial Latifi and another v. Union of India (2001)
সঠিক উত্তর:
Collector of Madura v. Moottoo Ramalinga (1868)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Collector of Madura v. Moottoo Ramalinga (1868)
ব্যাখ্যা

• Collector of Madura v. Moottoo Ramalinga Sathupathi, 12 MIA 397 (1868):

ঘটনা (Facts):
রামনাদ জমিদারের (Zamindar) কোনও বৈধ উত্তরাধিকারী না থাকায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর পর সম্পত্তি তার স্ত্রী রানি পার্বতীবার্ধিনী-এর নামে চলে আসে। রানি পার্বতীবার্ধিনী তার স্বামীর সপিন্ডদের সম্মতি নিয়ে একটি ছেলে দত্তক গ্রহণ করেন। তবে স্বামীর অনুমতি ছিল না। মাদুরা কালেক্টর জমিদারের মৃত্যুর খবর জানতে পেরে জানিয়ে দেন যে, জমিদারকে কোনও বৈধ উত্তরাধিকারী নেই। ব্রিটিশ আইনের অধীনে, যদি কোনও জমিদার উত্তরাধিকারী ছাড়া মারা যায়, তার স্ত্রী মৃত্যুর পর জমিদারী সরকার দখল করবে। এটি “Doctrine of Lapse” নামে পরিচিত। রানি পার্বতীবার্ধিনীর মৃত্যুর পর, দত্তক ছেলে নিজের অধিকার দাবি করে এবং দত্তকের বৈধতা ঘোষণা করার জন্য মামলা করেন।

মূল সমস্যা (Issues):
একজন বিধবা কি স্বামীর অনুমতি ছাড়াই, শুধুমাত্র সপিন্ডদের সম্মতিতে দত্তক গ্রহণ করতে পারে কি না?

প্রিভি কাউন্সিল (Privy Council)-এর রায়:
- আদালত বিভিন্ন হিন্দু আইন, ঐতিহাসিক সূত্র এবং প্রথার আলোকে বিষয়টি বিবেচনা করেন।
- হিন্দু আইনে প্রথা (Custom) একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস।
- আদালত উল্লেখ করেন “হিন্দু আইনের অধীনে, স্পষ্ট প্রমাণিত প্রথা হিন্দু আইনের লিখিত ধারা বা স্মৃতি থেকে অধিক প্রাধান্য পায়।”

৪২.
হিন্দু আইনে কোনো সম্পত্তি দেবোত্তর হিসেবে স্বীকৃতি পেতে হলে কী করতে হবে?
  1. মন্দির নির্মাণ করতে হবে 
  2. শেবাইত নিয়োগ করতে হবে
  3. দেবতার পূজা বা ধর্মীয় কাজে স্থায়ীভাবে উৎসর্গ করতে হবে
  4. আদালতের অনুমতি নিতে হবে 
সঠিক উত্তর:
দেবতার পূজা বা ধর্মীয় কাজে স্থায়ীভাবে উৎসর্গ করতে হবে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দেবতার পূজা বা ধর্মীয় কাজে স্থায়ীভাবে উৎসর্গ করতে হবে
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: গ) দেবতার পূজা বা ধর্মীয় কাজে স্থায়ীভাবে উৎসর্গ করতে হবে। 

⇒ হিন্দু আইনে কোনো সম্পত্তি 'দেবোত্তর' বা 'দেবত্ত্ব' হিসেবে স্বীকৃতি পেতে হলে সেই সম্পত্তি স্পষ্টভাবে কোনো দেবতা (যাকে আইনি ব্যক্তি ধরা হয়) বা ধর্মীয় কাজের জন্য স্থায়ীভাবে উৎসর্গ করতে হবে। এটি একটি 'endowment' (স্থায়ী দান) যা সম্পত্তির মালিকানা দেবতার নামে ন্যস্ত করে এবং তা শুধুমাত্র ধর্মীয় উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হবে বলে স্থির করে।

প্রধান বৈশিষ্ট্য:
স্থায়ী উৎসর্গ: সম্পত্তি দেবতার নামে চিরস্থায়ীভাবে দান করতে হবে। এটি আর ব্যক্তিগত সম্পত্তি থাকে না।
ধর্মীয় উদ্দেশ্য: উৎসর্গের একমাত্র উদ্দেশ্য দেবতার পূজা, সেবা বা অন্যান্য ধর্মীয় কাজ হওয়া আবশ্যক।
দলিল বা প্রমাণ: উৎসর্গ সাধারণত একটি 'অর্পণনামা' (Deed of Dedication) বা অন্যান্য লিখিত দলিলের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়। তবে মৌখিক উৎসর্গও প্রমাণ সাপেক্ষে গ্রহণযোগ্য হতে পারে।
শেবাইত নিয়োগ: শেবাইত নিয়োগ একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থাপনাগত পদক্ষেপ, কিন্তু এটি দেবোত্তর হওয়ার প্রাথমিক শর্ত নয়। উৎসর্গ ছাড়া শুধু শেবাইত নিয়োগ করলে সম্পত্তি দেবোত্তর হয় না।

- অর্থাৎ হিন্দু আইনে (বিশেষ করে দেবত্তর বা debutter property-এর ক্ষেত্রে) একটি সম্পত্তি দেবত্ত্ব/দেবোত্তর হিসেবে গণ্য হওয়ার জন্য প্রধান ও অপরিহার্য শর্ত হলো সম্পত্তিটি দেবতার পূজা, সেবা বা ধর্মীয় উদ্দেশ্যে স্থায়ীভাবে উৎসর্গ (dedication) করা হয়েছে।
- এটি ছাড়া শুধুমাত্র মন্দির নির্মাণ করা বা শেবাইত নিয়োগ করা দিয়ে দেবত্তর সম্পত্তি সৃষ্টি হয় না।

৪৩.
একজন হিন্দু ব্যক্তি 'ক' তার স্ত্রী এবং দুই পুত্র রেখে মারা গেল। তার রেখে যাওয়া সম্পত্তি -
  1. সমান তিন অংশে ভাগ হবে এবং এক অংশ বিধবা স্ত্রী পাবে ও বাকী অংশ দুই পুত্র তুল্যাংশে পাবে
  2. সমান দুই অংশে ভাগ হবে এবং দুই পুত্র এক অংশ করে পাবে
  3. সমান তিন অংশে ভাগ হবে এবং দুই অংশ বিধবা স্ত্রী পাবে ও বাকী এক অংশ দুই পুত্র তুল্যাংশে পাবে
  4. সমুদয় সম্পত্তি বিধবা স্ত্রী পাবে
সঠিক উত্তর:
সমান তিন অংশে ভাগ হবে এবং এক অংশ বিধবা স্ত্রী পাবে ও বাকী অংশ দুই পুত্র তুল্যাংশে পাবে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমান তিন অংশে ভাগ হবে এবং এক অংশ বিধবা স্ত্রী পাবে ও বাকী অংশ দুই পুত্র তুল্যাংশে পাবে
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশ, ভারত এবং পাকিস্তানে হিন্দুদের মধ্যে দু’ধরনের উত্তরাধিকার পদ্ধতি চালু রয়েছে। যথা- দায়ভাগ পদ্ধতি এবং মিতাক্ষরা পদ্ধতি। দায়ভাগ পদ্ধতি বাংলাদেশ এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও আসামে প্রচলিত আছে। দায়ভাগ মতে পিন্ডদানের অধিকারী ব্যক্তি মাত্রই মৃত ব্যক্তির উত্তরাধিকারী। যারা পিন্ড দিতে পারে তারাই মৃত ব্যক্তির ত্যাজ্য সম্পত্তির ওয়ারিশ বলা হয়। ভারতের অন্যান্য প্রদেশ এবং পাকিস্তানে মিতাক্ষরা পদ্ধতি প্রযোজ্য হয়ে থাকে।

উত্তরাধিকারীদের অধিকারের স্বাভাবিকভাবে পুত্রই পিতার সমগ্র সম্পত্তির একক উত্তরাধিকারী হয়। পুত্র একাধিক হলে তারা সকলে মিলে পিতার সম্পত্তিতে উত্তরাধিকার পায়। যে পুত্র মৃত তার পুত্র অর্থাত্‍ পৌত্র উত্তরাধিকার পায়। পুত্র, পৌত্র এবং প্রপৌত্র যেহেতু সমভাবে পিন্ড দেবার অধিকারী তাই তারা উত্তরাধিকারী হয়। কিন্তু পুত্র জীবিত থাকলে তার পুত্র অর্থাত্‍ পৌত্র পিন্ড দিতে পারে না। এবং সে কারণে পুত্রের জীবমানে পৌত্র উত্তরাধিকার পায়না। প্রপৌত্রের ক্ষেত্রেও একই কথা।

বিধবাদের কথা বলা যায় যে, আগে পুত্র, পৌত্র প্রভৃতি থাকলে বিধবা আর কোন উত্তরাধিকার পেত না। বর্তমানে অর্থাত্‍‍ ১৯৩৭ সনের সম্পত্তির উপর হিন্দু নারীর অধিকার আইন পাস হবার পর বিধবাবৃন্দ জীবন স্বত্ব উত্তরাধিকার পায়। এ আইন পাস হবার পর, বিধবা এক পুত্রের সমান অংশ জীবন স্বত্ব পায়। পুত্র, পৌত্র, প্রপৌত্র কেউ না থাকলে মৃত স্বামীর সমস্ত সম্পত্তি তার বিধবা জীবন স্বত্বে পায়। বৈধ প্রয়োজনে বিধবার সম্পত্তি হস্তান্তর করতে পারে। মৃতের বিধবা যেভাবে সম্পত্তি পায় মৃতের পুত্রের বিধবা বা তার পৌত্রের বিধবা বা প্রপৌত্রের বিধবা একইভাবে সম্পত্তি পায়।

অর্থাৎ 'ক' এর সম্পত্তি সমান তিন অংশে ভাগ হবে ৷ বিধবা স্ত্রী পাবে এক অংশ এবং বাকী অংশ দুই পুত্র তুল্যাংশে পাবে।
৪৪.
হিন্দু আইনে দত্তক নেয়ার বিধান সাধারণত কোন কারণে প্রচলিত?
  1. ধর্মীয় কারণ
  2. পার্থিব কারণ
  3. আইনগত কারণ
  4. ক এবং খ
সঠিক উত্তর:
ক এবং খ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক এবং খ
ব্যাখ্যা
• অন্যের পুত্রকে হিন্দু আইনের বিধান অনুযায়ী নিজ পুত্ররূণে গ্রহণ করাকে দত্তক গ্রহণ বলা যাইতে পারে। সুপ্রাচীন রোমান আইনে দত্তক নেওয়ার বিধান প্রচলিত ছিল। কিন্তু বর্তমানে হিন্দু আইন ব্যতীত অন্য কোন আইনে দত্তক নেওয়ার বিধান চালু নাই।

দত্তক গ্রহণের উদ্দেশ্য:
প্রধান দুইটি কারণে হিন্দু আইনে দত্তক নেওয়ার বিধান প্রচলিত। একটি ধর্মীয় কারণ আর অপরটি বলা যেতে পারে পার্থিব কারণ। মুনিবর বশিষ্ট সাবধান বাণী উচ্চারণ করিয়া গিয়াছেন "পুত্রহীনদের স্বর্গে কোন স্থান নাই।" একজন মৃত ব্যক্তি তার নিম্নতন তিন পুরুষ অর্থাৎ পুত্র, পৌত্র এবং প্রপৌত্র হইতে সরাসরি পিণ্ড পাওয়ার অধিকারী। যার পুত্র, পৌত্র এবং প্রপৌত্র নাই মৃত্যুর পর তার আত্মা এইভাবে পিণ্ড পাওয়ার আশা করতে পারে না। এসব বিবেচনাকে ধর্মীয় কারণ হিসাবে উল্লেখ করা যেতে পারে।

পক্ষান্তরে প্রত্যেক মানুষই নিজ বংশের ধারাবাহিকতা চালু রাখতে চায়। প্রায় সকল মানুষই চায় যে মৃত্যুর পরও তার পুত্র পৌত্রাদির মাধ্যমে তার নাম এই পৃথিবীতে আরও কিছুদিন থাকুক। এইসব বিবেচনাকে পার্থিব কারণ হিসাবে গণ্য করা যেতে পারে।
৪৫.
নিচের কোনটি অনুমোদিত হিন্দু বিবাহের অন্তর্ভুক্ত?
  1. আর্য
  2. গন্ধর্ব
  3. অসুর
  4. পৈশাচ
সঠিক উত্তর:
আর্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আর্য
ব্যাখ্যা
• দায়ভাগ ও মিতাক্ষরা অনুসারে,
হিন্দুদের মধ্যে আট প্রকার বিবাহ প্রচলিত ছিল, যার প্রথম চারটি সামাজিকভাবে অনুমোদিত এবং অবশিষ্ট চারটি অননুমোদিত। আট প্রকার বিবাহ হলো:

অনুমোদিত ৪ প্রকার:
ব্রাহ্ম: সর্বোত্তম পদ্ধতি, যাতে অলঙ্কারে সজ্জিতা কন্যাকে শিক্ষিত ও চরিত্রবান বরের হাতে তুলে দেয়া হতো; এক্ষেত্রে বরের নিকট থেকে কোন পণ নেয়া হতো না;
দৈব: এ ধরনের বিবাহে যজ্ঞ সম্পাদনকারী পুরোহিতের নিকট কন্যা সম্প্রদান করা হতো;
আর্য: এ বিবাহে কনের পিতা বরের নিকট থেকে এক বা দুই জোড়া গাভী গ্রহণ করতেন;
প্রজাপত্য: এ বিবাহে কনের পিতা বরের নিকট থেকে কোন পণ গ্রহণ ছাড়াই কন্যা দান করতেন এবং তাদের আশীর্বাদ করতেন যাতে তারা পারস্পরিক বিশ্বাস ও সুখের সঙ্গে দাম্পত্য জীবন যাপন করতে পারে।
 
অননুমোদিত ৪ প্রকার:
অসুর: এ বিবাহে বর পিতা অথবা অভিভাবকের নিকট থেকে মূল্য দিয়ে কনেকে ক্রয় করত;
রাক্ষস: এ বিবাহে কন্যার আত্মীয়দের প্রহার করে রোরুদ্যমান কন্যাকে তুলে নেয়া হতো;
গন্ধর্ব: বর ও কনের পরস্পরের পরিচয় ও সম্মতিতে এ বিবাহ অনুষ্ঠিত হতো;
পৈশাচ: নিকৃষ্টতম বিবাহ; এতে কন্যার প্রেমিক (কন্যার সম্মতি ব্যতিরেকে) নিদ্রিত অবস্থায় অথবা মদোম্মত্ত বা উম্মত্ত কন্যার সঙ্গে সঙ্গত হতো।
৪৬.
একজন হিন্দু ০১ পুত্র, ০১ কন্যা, ০১ মৃত পুত্রের পুত্র এবং ০১ মৃত কন্যার পুত্র রেখে মারা যান। পুত্রের অংশ-
  1. ১/৩
  2. ১/২
  3. ১/৪
সঠিক উত্তর:
১/২
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১/২
ব্যাখ্যা
এখানে, হিন্দু দায়ভাগ মতবাদ অনুযায়ী পুত্র ও মৃত পুত্রের পুত্র সমপরিমাণ সম্পত্তি পাবে। অর্থাৎ, ১/২ অংশ করে পাবে। কারণ, তারা সপিণ্ডের তালিকায় যথাক্রমে ১ ও ২ নং অবস্থানে রয়েছে।

হিন্দু দায়ভাগ মতবাদ অনুসারে-
মৃত ব্যক্তির পুত্র, পৌত্র, প্রপৌত্র এবং বিধবা স্ত্রী না থাকলে, কন্যারা উত্তরাধিকারী হিসেবে সম্পত্তি পাবে। তবে সম্পত্তি পেলেও উক্ত সম্পত্তির শুধুমাত্র জীবনস্বত্ব (Life Interest) ভোগ করতে পারবে। মৃত্যুর পর উক্ত সম্পত্তি ছেলে উত্তরাধিকারীর নিকট চলে যাবে।
৪৭.
বিবাহিতা মহিলার উত্তরাধিকার সূত্র ব্যতীত অন্য যে কোন ভাবে কোন সম্পত্তি অর্জন কী হিসেবে গণ্য হবে?
  1. স্ত্রীধন
  2. সীমিত স্ত্রীধন
  3. স্বামীর সম্পত্তি
  4. দানকৃত সম্পত্তি
সঠিক উত্তর:
স্ত্রীধন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্ত্রীধন
ব্যাখ্যা

স্ত্রীধন:
যে সমস্ত সম্পত্তিতে মহিলাদের চূড়ান্ত মালিকানা রহিয়াছে অর্থাৎ যে সকল সম্পত্তিতে মহিলাগণ সম্পূর্ণ স্বত্বের অধিকারিণী তাহাকে বলা যায় স্ত্রীধন। ঐ সকল সম্পত্তি মহিলারা তাহাদের ইচ্ছানুযায়ী ভোগ-দখল, দান, বিক্রয়, উইল ইত্যাদি করিতে পারেন, তাহাতে কাহারও আইনত বাধা দেওয়ার কিছুই থাকে না।

- সকল মতেই একজন মহিলা কুমারী অবস্থায় উত্তরাধিকার সূত্র ব্যতীত অন্য যে কোন ভাবেই কোন সম্পত্তি অর্জন করুন না কেন তাহা তাহার স্ত্রীধন বলিয়া গণ্য হইবে।

- অনুরূপভাবে সকল মতেই বিধবা উত্তরাধিকার সূত্র ব্যতীত অন্য যে কোন ভাবেই কোন সম্পত্তি অর্জন করুন না কেন তাহা তাহার স্ত্রীধন হিসাবে গণ্য হইবে।

- একজন মহিলা বিবাহিতা অবস্থায় উত্তরাধিকার সূত্র ব্যতীত অন্য যে কোন ভাবে কোন সম্পত্তি অর্জন করুন না কেন তাহাও তাহার স্ত্রীধন হিসাবে গণ্য হইবে। যেমন বিবাহ উপলক্ষ্যে স্ত্রী যে সমস্ত যৌতুকাদি পাইয়া থাকেন অথবা বিবাহিতা অবস্থায় আত্মীয়দের নিকট হইতে কোন সম্পত্তি দানসূত্রে পাইলে তাহাও স্ত্রীধন হিসাবে গণ্য হইবে।

তবে ব্যতিক্রম এই যে বাংলাদেশে বিবাহিতা অবস্থায় অনাত্মীয় ব্যক্তির নিকট হইতে দানসূত্রে কোন কিছু পাইলে, স্বামীর নিকট হইতে দানসূত্রে স্থাবর সম্পত্তি পাইলে অথবা বিবাহিতা অবস্থায় কৌশলগত শিল্পকলার মাধ্যমে কোন সম্পত্তি অর্জিত হইলে ঐ সকল সম্পত্তি স্বামীর জীবিতকাল পর্যন্ত সীমিত অর্থে স্ত্রীধনরূপে গণ্য করা যাইতে পারে। স্বামীর জীবদ্দশায় উক্ত তিন প্রকারের সম্পত্তিতে বিবাহিতা মহিলার পূর্ণ কর্তৃত্ব থাকে না এবং স্বামীর অনুমতি ব্যতীত নিজের ইচ্ছামত দান বিক্রয় ইত্যাদি করা যায় না। স্বামী মারা গেলে অবশ্য ঐ সকল সম্পত্তি সম্পূর্ণ স্ত্রীধনরূপে গণ্য হইবে। অর্থাৎ উক্ত তিন রকমে প্রাপ্ত সম্পত্তিকে স্বামীর জীবদ্দশায় পুরাপুরি স্ত্রীধনরূপে গণ্য না করিয়া বরং সীমিত অর্থে স্ত্রীধনরূপে গণ্য করা যাইতে পারে।

- যদি কোন মহিলার ভরণপোষণের জন্য মাসহারা বাবদ কোন অর্থ অথবা সম্পত্তি দেওয়া হয়, তবে তাহা সমস্ত মতপন্থী অনুযায়ীই স্ত্রীধনরূপে গণ্য।

- স্ত্রীধন দ্বারা অর্জিত সম্পত্তিও স্ত্রীধন হইবে। স্ত্রীধনের বিনিময়ে আপোষ মীমাংসায় অন্য কোন সম্পত্তি পাওয়া গেলে তাহাও স্ত্রীধন হইবে।

৪৮.
বিধবার সম্পত্তিতে মহিলার কী ধরনের স্বার্থ থাকে?
  1. কোন স্বার্থ থাকে না
  2. একচ্ছত্র মালিকানা
  3. জীবন-স্বত্ব বা সীমিত স্বার্থ
  4. সম্পূর্ণ হস্তান্তরের অধিকার
সঠিক উত্তর:
জীবন-স্বত্ব বা সীমিত স্বার্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জীবন-স্বত্ব বা সীমিত স্বার্থ
ব্যাখ্যা
→ সঠিক উত্তর: গ) জীবন-স্বত্ব বা সীমিত স্বার্থ

⇒ বিধবার সম্পত্তিতে মহিলার জীবন-স্বত্ব বা সীমিত স্বার্থ থাকে।
- অর্থাৎ, তিনি সম্পত্তির একচ্ছত্র মালিকানা লাভ করেন না, বরং তার উপর একটি সীমিত অধিকার থাকে।
- এটি হলো জীবনকালীন অধিকার, যার মাধ্যমে তিনি সম্পত্তি ব্যবহার করতে পারেন, তবে সম্পত্তি বিক্রি বা সম্পূর্ণভাবে হস্তান্তর করতে পারেন না।
- এই অধিকারটি শুধুমাত্র তার জীবনের জন্য এবং সম্পত্তি শেষ হওয়ার পর তা অন্য উত্তরাধিকারীদের কাছে চলে যায়।

অন্যদিকে, একচ্ছত্র মালিকানা বা সম্পূর্ণ হস্তান্তরের অধিকার বিধবার সম্পত্তিতে মহিলার থাকে না, কারণ তিনি শুধু জীবনকালীন ব্যবহার করতে পারেন, সম্পূর্ণ মালিকানা বা হস্তান্তরের অধিকার তার নেই।
৪৯.
হিন্দু আইনে উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে কন্যাদের মধ্যে অগ্রাধিকার পাবে-
  1. বিধবা কন্যা
  2. পুত্রবর্তী কন্যা
  3. সন্তানহীন কন্যা
  4. অবিবাহিত কন্যা
সঠিক উত্তর:
অবিবাহিত কন্যা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অবিবাহিত কন্যা
ব্যাখ্যা
⇒ বাংলাদেশ, ভারত এবং পাকিস্তানে হিন্দুদের মধ্যে দু’ধরনের উত্তরাধিকার পদ্ধতি চালু রয়েছে। যথা- দায়ভাগ পদ্ধতি এবং মিতাক্ষরা পদ্ধতি। দায়ভাগ পদ্ধতি বাংলাদেশ এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও আসামে প্রচলিত আছে। দায়ভাগ মতে পিন্ডদানের অধিকারী ব্যক্তি মাত্রই মৃত ব্যক্তির উত্তরাধিকারী। যারা পিন্ড দিতে পারে তারাই মৃত ব্যক্তির ত্যাজ্য সম্পত্তির ওয়ারিশ বলা হয়। ভারতের অন্যান্য প্রদেশ এবং পাকিস্তানে মিতাক্ষরা পদ্ধতি প্রযোজ্য হয়ে থাকে।

উত্তরাধিকার সম্পর্কিত কিছু সাধারণ নিয়ম-

(১) পুত্র পিতার সমগ্র সম্পত্তির একক উত্তরাধিকারী;
(২) পুত্র একাধিক হলে সমান হারে সম্পত্তি পাবে; 
(৩) পুত্র মারা গিয়ে থাকলে পৌত্র উত্তরাধিকারী হবে (পিতার অংশ পাবে);
(৪) বিধবা স্ত্রী এক পুত্রের সমান অংশ ‘জীবন স্বত্ব পাবে। (সম্পত্তিতে হিন্দু নারীদের অধিকার আইনের ৩(১) ধারা);
(৫) একাধিক বিধবা স্ত্রী থাকলে সকলে একত্রে এক পুত্রের সমান সম্পত্তি পাবে;
(৬) মৃতের বিধবা পুত্রবধূ/প্রপৌত্রবধূ থাকলে সে এক পুত্রের সমান ‘জীবন স্বত্ত্ব’ পাবে;
(৭) কন্যার পূর্বের কোন উত্তরাধিকারী না থাকলে কন্যা পিতার সম্পত্তি পাবে;
(৮) কন্যাদের মধ্যে ‘কুমারী কন্যার’ দাবি প্রথম এবং সে-ই সব সম্পত্তি পাবে;
(৯) কুমারী কন্যা না থাকলে পুত্রবর্তী কন্যা উত্তরাধিকারী হবে;
(১০) বন্ধ্যাকন্যা, বিধবা কন্যা, সন্তানহীন কন্যা এবং যে সব কন্যার শুধু কন্যা সন্তান আছে তারা উত্তরাধিকারী হবে না। তবে এরূপ কন্যাদের মধ্যে যে, কোন দত্তকপুত্র গ্রহণ করেছে সে বঞ্চিত হবে না।
৫০.
একজন হিন্দু ব্যক্তির মৃত্যুর পর তার উত্তরাধিকারী হিসেবে একজন পুত্র, একজন কন্যা এবং একজন মৃত পুত্রের পুত্র রয়েছে। কন্যা কত অংশ পাবে?
  1. ১/২ অংশ
  2. ১/৩ অংশ
  3. ২/৩ অংশ
  4. কোন অংশ পাবে না
সঠিক উত্তর:
কোন অংশ পাবে না
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোন অংশ পাবে না
ব্যাখ্যা
এখানে প্রতিনিধিত্বের নীতি (Doctrine of Representation) অনুসারে,
মৃত পুত্রের পুত্র (পৌত্র) তার পিতার অংশের প্রতিনিধিত্ব করবে। অর্থাৎ, মৃত পুত্রের পুত্র তার পিতার উত্তরাধিকারী হয়ে, পিতার অংশটি গ্রহণ করবে। এ ক্ষেত্রে, জীবিত পুত্র এবং মৃত পুত্রের পুত্রের (পৌত্র) অংশ সমানভাবে ভাগ হবে। তাই, জীবিত পুত্র এবং মৃত পুত্রের পুত্রের মধ্যে ১/২ অংশ করে ভাগ হবে। কন্যা কোন অংশ পাবে না।

উল্লেখ্য, হিন্দু দায়ভাগ মতবাদ অনুসারে-
মৃত ব্যক্তির পুত্র, পৌত্র, প্রপৌত্র এবং বিধবা স্ত্রী না থাকলে, কন্যারা উত্তরাধিকারী হিসেবে সম্পত্তি পাবে। তবে সম্পত্তি পেলেও উক্ত সম্পত্তির শুধুমাত্র জীবনস্বত্ব (Life Interest) ভোগ করতে পারবে। মৃত্যুর পর উক্ত সম্পত্তি ছেলে উত্তরাধিকারীর নিকট চলে যাবে।
৫১.
হিন্দু আইন অনুসারে, অন্যের পুত্রকে নিজ পুত্ররূপে গ্রহণ করাকে কী বলে?
  1. পিণ্ড বণ্টন
  2. বংশ স্থাপন
  3. সন্তান দান
  4. দত্তক গ্রহণ
সঠিক উত্তর:
দত্তক গ্রহণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দত্তক গ্রহণ
ব্যাখ্যা

⇒ অন্যের পুত্রকে হিন্দু আইনের বিধান অনুযায়ী নিজ পুত্ররূণে গ্রহণ করাকে দত্তক গ্রহণ বলা যাইতে পারে। সুপ্রাচীন রোমান আইনে দত্তক নেওয়ার বিধান প্রচলিত ছিল। কিন্তু বর্তমানে হিন্দু আইন ব্যতীত অন্য কোন আইনে দত্তক নেওয়ার বিধান চালু নাই।
অর্থাৎ হিন্দু আইনে দত্তক গ্রহণ বলতে বোঝায় কোনো ব্যক্তির দ্বারা অন্যের পুত্রকে আইনগতভাবে নিজ পুত্ররূপে গ্রহণ করা।

দত্তক গ্রহণের উদ্দেশ্য:
- প্রধান দুইটি কারণে হিন্দু আইনে দত্তক নেওয়ার বিধান প্রচলিত। একটি ধর্মীয় কারণ আর অপরটি বলা যেতে পারে পার্থিব কারণ। মুনিবর বশিষ্ট সাবধান বাণী উচ্চারণ করিয়া গিয়াছেন "পুত্রহীনদের স্বর্গে কোন স্থান নাই।" একজন মৃত ব্যক্তি তার নিম্নতন তিন পুরুষ অর্থাৎ পুত্র, পৌত্র এবং প্রপৌত্র হইতে সরাসরি পিণ্ড পাওয়ার অধিকারী। যার পুত্র, পৌত্র এবং প্রপৌত্র নাই মৃত্যুর পর তার আত্মা এইভাবে পিণ্ড পাওয়ার আশা করতে পারে না। এসব বিবেচনাকে ধর্মীয় কারণ হিসাবে উল্লেখ করা যেতে পারে।
- পক্ষান্তরে প্রত্যেক মানুষই নিজ বংশের ধারাবাহিকতা চালু রাখতে চায়। প্রায় সকল মানুষই চায় যে মৃত্যুর পরও তার পুত্র পৌত্রাদির মাধ্যমে তার নাম এই পৃথিবীতে আরও কিছুদিন থাকুক। এইসব বিবেচনাকে পার্থিব কারণ হিসাবে গণ্য করা যেতে পারে।

৫২.
হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন আইন, ২০১২ অনুযায়ী, নিচের কোনটি হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন সংক্রান্ত ফিসের অন্তর্ভুক্ত?
  1. বিবাহ নিবন্ধন ফিস
  2. নিবন্ধন বহি পরিদর্শন ফিস
  3. প্রতিলিপি সরবরাহ ফিস
  4. উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

⇒ হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন আইন, ২০১২ এর ৭ ধারা অনুযায়ী, সরকার সময়ে সময়ে বিধি দ্বারা তিন ধরনের ফিস নির্ধারণ করতে পারে—
হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন ফিস – বিবাহ নিবন্ধনের সময় প্রদেয় ফিস।
নিবন্ধন বহি পরিদর্শন ফিস – নিবন্ধন রেকর্ড দেখতে হলে প্রদেয় ফিস।
প্রতিলিপি সরবরাহ ফিস – নিবন্ধনের কপি সংগ্রহ করতে হলে প্রদেয় ফিস।

অর্থাৎ হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন আইন, ২০১২ এর ধারা ৭ এ নিবন্ধন ফিস, পরিদর্শন ফিস ও প্রতিলিপি ফিস - তিনটিরই উল্লেখ আছে।
যেহেতু আইন অনুযায়ী এই তিনটি ফিসই নিবন্ধন সংক্রান্ত, তাই সঠিক উত্তর "ঘ) উপরের সবগুলো"।

৫৩.
হিন্দু আইনে শ্রুতি কী হিসেবে বিবেচিত হয়?
  1. রাষ্ট্রীয় আইনের উৎস
  2. আধুনিক আইনের উৎস
  3. প্রাচীনতম ও পবিত্র উৎস
  4. সামাজিক রীতিনীতির উৎস
সঠিক উত্তর:
প্রাচীনতম ও পবিত্র উৎস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রাচীনতম ও পবিত্র উৎস
ব্যাখ্যা

⇒ হিন্দু আইনে শ্রুতি (বেদ) হলো সবচেয়ে প্রাচীন এবং পবিত্র উৎস হিসেবে বিবেচিত।
- শ্রুতি শব্দটি এসেছে সংস্কৃত শব্দ "শ্রু" থেকে, যার অর্থ "যা শোনা গেছে"।
- হিন্দু বিশ্বাস অনুযায়ী, বেদগুলো (ঋক্বেদ, যজুর্বেদ, সামবেদ ও অথর্ববেদ) দেবতাদের দ্বারা ঋষিদের কাছে প্রকাশিত হয়েছিল, অর্থাৎ এগুলো অপৌরুষেয় (মানুষের দ্বারা রচিত নয়)।
- এ কারণে শ্রুতিকে হিন্দু ধর্ম ও আইনের মূল ভিত্তি হিসেবে গণ্য করা হয়, যা ধর্ম, নৈতিকতা, এবং আইনগত নির্দেশনার অলঙ্ঘনীয় উৎস।

৫৪.
এক হিন্দু ব্যক্তি একজন জীবিত পুত্র, দুইজন কন্যা এবং এক মৃত পুত্রের পুত্র রেখে মারা যান। পুত্রের অংশ-
  1. সম্পূর্ণ অংশ
  2. ১/৩ অংশ
  3. ১/২ অংশ
  4. ২/৩ অংশ
সঠিক উত্তর:
১/২ অংশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১/২ অংশ
ব্যাখ্যা
• এখানে, প্রতিনিধিত্বের নীতি অনুযায়ী পুত্র ও মৃত পুত্রের পুত্র সমপরিমাণ সম্পত্তি পাবে। মৃত পুত্রের পুত্র, তার পিতার অংশের প্রতিনিধিত্ব করবে। অর্থাৎ, জীবিত পুত্র এবং মৃত পুত্রের পুত্র ১/২ অংশ করে পাবে।

উল্লেখ্য, হিন্দু দায়ভাগ মতবাদ অনুসারে-
মৃত ব্যক্তির পুত্র, পৌত্র, প্রপৌত্র এবং বিধবা স্ত্রী না থাকলে, কন্যারা উত্তরাধিকারী হিসেবে সম্পত্তি পাবে। তবে সম্পত্তি পেলেও উক্ত সম্পত্তির শুধুমাত্র জীবনস্বত্ব (Life Interest) ভোগ করতে পারবে। মৃত্যুর পর উক্ত সম্পত্তি ছেলে উত্তরাধিকারীর নিকট চলে যাবে।
৫৫.
হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন আইন, ২০১২ কাদের জন্য প্রযোজ্য?
  1. বাংলাদেশে বসবাসকারী হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের জন্য
  2. বাংলাদেশের সকল হিন্দু ধর্মাবলম্বী নাগরিকের জন্য
  3. বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশের বাইরে অবস্থানকারী সকল হিন্দু ধর্মাবলম্বী বাংলাদেশী নাগরিকের জন্য
  4. খ এবং গ
সঠিক উত্তর:
বাংলাদেশে বসবাসকারী হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের জন্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাংলাদেশে বসবাসকারী হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের জন্য
ব্যাখ্যা
• হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন আইন, ২০১২ এর ধারা ১ এ দেয়া আছে-

(১) এই আইন হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন আইন, ২০১২ নামে অভিহিত হইবে। 
(২) ইহা নাগরিকত্ব নির্বিশেষে বাংলাদেশে বসবাসরত সকল হিন্দু ধর্মাবলম্বীর জন্য প্রযোজ্য হইবে। 
(৩) সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, যে তারিখ নির্ধারণ করিবে সেই তারিখে ইহা কার্যকর হইবে।
৫৬.
পৈশাচ বিবাহকে কী বলা হয়?
  1. সর্বোত্তম বিবাহ
  2. নিকৃষ্টতম বিবাহ
  3. ধর্মীয়ভাবে পবিত্র বিবাহ
  4. সামাজিকভাবে অনুমোদিত বিবাহ
সঠিক উত্তর:
নিকৃষ্টতম বিবাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিকৃষ্টতম বিবাহ
ব্যাখ্যা
→ পৈশাচ বিবাহকে "নিকৃষ্টতম বিবাহ" বলা হয়। এটি একটি অত্যন্ত অশুদ্ধ এবং অমর্যাদাপূর্ণ বিবাহ, যেখানে কন্যার সম্মতি ছাড়া অথবা সে যখন নিদ্রিত, মদোম্মত্ত বা উম্মত্ত অবস্থায় থাকে, তখন তাকে জোরপূর্বক বিয়ে করা হয়। এটি সমাজে এবং ধর্মীয়ভাবে একেবারেই অগ্রহণযোগ্য এবং নিন্দনীয় বিবাহের একটি ধরন।

⇒ হিন্দু সমাজে দায়ভাগ ও মিতাক্ষরা অনুযায়ী আট প্রকার বিবাহ প্রচলিত ছিল, যার মধ্যে প্রথম চারটি সামাজিকভাবে গ্রহণযোগ্য এবং পরবর্তী চারটি অবৈধ বা অননুমোদিত ছিল।
- এই বিবাহের প্রকারভেদ নিম্নরূপ:
অনুমোদিত ৪ প্রকার বিবাহ:
- ব্রাহ্ম বিবাহ: এটি সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ বিবাহ পদ্ধতি, যেখানে একটি অলঙ্কৃত, শিক্ষিত এবং চরিত্রবান কন্যাকে কোনও পণ ছাড়াই, ব্রাহ্মণ পুরুষের হাতে তুলে দেয়া হতো।
- দৈব বিবাহ: এই বিবাহে, কন্যাকে যজ্ঞ সম্পাদনকারী পুরোহিতের কাছে প্রদান করা হতো।
- আর্য বিবাহ: এই পদ্ধতিতে, কনের পিতা বরের কাছ থেকে এক বা দুটি গাভী গ্রহণ করতেন, যা পণ হিসেবে ছিল।
- প্রজাপত্য বিবাহ: এখানে, কনের পিতা বরের কাছ থেকে কোনো পণ না নিয়ে কন্যা প্রদান করতেন এবং তাদের আশীর্বাদ দিতেন যাতে তারা সুখী দাম্পত্য জীবন কাটাতে পারেন।
অননুমোদিত ৪ প্রকার বিবাহ:
- অসুর বিবাহ: এই বিবাহে বর কনের পিতা বা অভিভাবকের কাছ থেকে কন্যাকে টাকা দিয়ে ক্রয় করতেন।
- রাক্ষস বিবাহ: এই ধরনের বিবাহে, কন্যার আত্মীয়দের মারধর করে এবং তারা বিরোধী অবস্থায় থাকলেও, বর কন্যাকে জোরপূর্বক নিয়ে আসতেন।
- গন্ধর্ব বিবাহ: এটি একটি সম্মতিপূর্ণ বিবাহ, যেখানে বর এবং কনে পরস্পরের সম্মতি ও অভ্যন্তরীণ ইচ্ছায় বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতেন।
- পৈশাচ বিবাহ: এটি ছিল সবচেয়ে নিকৃষ্ট বিবাহ, যেখানে কন্যার সম্মতি ছাড়াই, মদ্যপ বা নিদ্রিত অবস্থায় কন্যার সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করা হতো।
৫৭.
হিন্দু দায়ভাগা মতবাদ অনুসারে সপিণ্ডের সংখ্যা কত?
  1. ৪৭
  2. ৫৩
  3. ৪৩
  4. ৩৩
সঠিক উত্তর:
৫৩
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৫৩
ব্যাখ্যা
⇒ বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের সম্পত্তি বণ্টন হয়ে থাকে দায়ভাগ মতবাদ অনুসারে। এই মতবাদ অনুসারে উত্তরাধিকার নির্ণয় করতে যে নীতি অনুসরণ করা হয়, তা হলো মৃত ব্যক্তির আত্মার কল্যাণে আধ্যাত্মিক নীতি (ডকট্রিন অব স্পিরিচুয়াল বিলিফ)। হিন্দু ধর্মাবলম্বী কোনো মানুষ মারা গেলে মৃত ব্যক্তির আত্মার সদ্‌গতির জন্য শেষকৃত্য সম্পন্ন করতে হয়। শেষকৃত্যের তিনটি ধাপ আছে-
১. পিণ্ডদান;
২. পিণ্ডলেপ ও
৩. জলদান।
মৃত ব্যক্তির শ্রাদ্ধে যে ব্যক্তি পিণ্ডদানের অধিকারী, তাকে বলা হয় ‘সপিণ্ড’। পুরুষ সপিণ্ডর সংখ্যা ৪৮ জন এবং মহিলা সপিণ্ডর সংখ্যা ৫ জন মিলে সর্বমোট ৫৩ জন সপিণ্ড হবে।
নিম্নে প্রথম ২০ জন সপিন্ডগণের তালিকা ক্রমানুসারে দেওয়া হল।।
১) পুত্র;
২) পুত্রের পুত্র;
৩) পুত্রের পুত্রের পুত্র;
৪) স্ত্রী, পুত্রের স্ত্রী, পুত্রের পুত্রের স্ত্রী, পুত্রের পুত্রের পুত্রের স্ত্রী।(বিধবা);
৫) কন্যা;
৬) কন্যার পুত্র;
৭) পিতা;
৮) মাতা;
৯) ভাই, সহোদর ভাই না থাকলে বৈমাত্রেয় ভাই;
১০) ভাই এর পুত্র, সহোদর ভাই না থাকলে বৈমাত্রেয় ভাই এর পুত্র;
১১) ভাই এর পুত্রের পুত্র, সহোদর ভাই না থাকলে বৈমাত্রেয় ভাই এর পুত্রের পুত্র;
১২) বোনের পুত্র;
১৩) পিতার পিতা;
১৪) পিতার মাতা;
১৫) পিতার ভাই;
১৬) পিতার ভাইয়ের পুত্র;
১৭) পিতার ভাইয়ের পুত্রের পুত্র;
১৮) পিতার বোনের পুত্র;
১৯) পিতার পিতার পিতা;
২০) পিতার পিতার মাতা।
৫৮.
হিন্দু দায়ভাগা আইন অনুযায়ী নিম্নের কোন ব্যক্তি সপিণ্ড?
  1. বোন-এর পুত্র
  2. ভাই-এর পুত্র
  3. পুত্র
  4. সকলেই
সঠিক উত্তর:
সকলেই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সকলেই
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের সম্পত্তি বণ্টন হয়ে থাকে দায়ভাগ মতবাদ অনুসারে। এই মতবাদ অনুসারে উত্তরাধিকার নির্ণয় করতে যে নীতি অনুসরণ করা হয়, তা হলো মৃত ব্যক্তির আত্মার কল্যাণে আধ্যাত্মিক নীতি (ডকট্রিন অব স্পিরিচুয়াল বিলিফ)। হিন্দু ধর্মাবলম্বী কোনো মানুষ মারা গেলে মৃত ব্যক্তির আত্মার সদ্‌গতির জন্য শেষকৃত্য সম্পন্ন করতে হয়। শেষকৃত্যের তিনটি ধাপ আছে-
১. পিণ্ডদান;
২. পিণ্ডলেপ ও
৩. জলদান।

• মৃত ব্যক্তির শ্রাদ্ধে যে ব্যক্তি পিণ্ডদানের অধিকারী, তাকে বলা হয় ‘সপিণ্ড’। পুরুষ সপিণ্ডর সংখ্যা ৪৮ জন এবং মহিলা সপিণ্ডর সংখ্যা ৫ জন মিলে সর্বমোট ৫৩ জন সপিণ্ড হবে।

নিম্নে প্রথম ২০ জন সপিন্ডগণের তালিকা ক্রমানুসারে দেওয়া হলঃ

১) পুত্র;
২) পুত্রের পুত্র;
৩) পুত্রের পুত্রের পুত্র;
৪) স্ত্রী, পুত্রের স্ত্রী, পুত্রের পুত্রের স্ত্রী, পুত্রের পুত্রের পুত্রের স্ত্রী।(বিধবা);
৫) কন্যা;
৬) কন্যার পুত্র;
৭) পিতা;
8) মাতা;
৯) ভাই, সহোদর ভাই না থাকলে বৈমাত্রেয় ভাই;
১০) ভাই এর পুত্র, সহোদর ভাই না থাকলে বৈমাত্রেয় ভাই এর পুত্র;
১১) ভাই এর পুত্রের পুত্র, সহোদর ভাই না থাকলে বৈমাত্রেয় ভাই এর পুত্রের পুত্র;
১২) বোনের পুত্র;
১৩) পিতার পিতা;
১৪) পিতার মাতা;
১৫) পিতার ভাই;
১৬) পিতার ভাইয়ের পুত্র;
১৭) পিতার ভাইয়ের পুত্রের পুত্র;
১৮) পিতার বোনের পুত্র;
১৯) পিতার পিতার পিতা;
২০) পিতার পিতার মাতা।
৫৯.
হিন্দু আইনে নিচের কোন সম্পত্তি স্ত্রীধন হিসেবে গন্য হবে না?
  1. নারীর স্বোপার্জিত আয় বা সম্পদ
  2. উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত সম্পত্তি
  3. আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে প্রাপ্ত দান বা উপহার
  4. বিবাহের সময় পিতা কর্তৃক প্রদত্ত যৌতুক
সঠিক উত্তর:
উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত সম্পত্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত সম্পত্তি
ব্যাখ্যা
- হিন্দু প্রচলিত আইনে সম্পত্তিতে নারীর পূর্ণ অধিকার থাকবে কেবলমাত্র স্ত্রীধনের উপর।
- স্ত্রীধন হচ্ছে নারীর স্বোপার্জিত আয় বা সম্পদ, বিবাহের সময় পিতা কর্তৃক প্রদত্ত যৌতুক অথবা দান বা উপহার।
- নারীকে যে সমস্ত সম্পত্তি দান বা উপহার দেয়া হয় তা তাদের আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকেই আসে।
- এই সম্পত্তি নারী ইচ্ছামত হস্তান্তর করতে পারে এবং তার মৃত্যুর পর তার নিজস্ব উত্তরাধিকারীর উপর এই সম্পত্তির অধিকার বর্তায়।
- এই দানের বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে দাতাদের ইচ্ছার উপর নির্ভরশীল।

- কোন হিন্দু স্ত্রী উত্তরাধিকারসূত্রে তার স্বামীর নিকট হতে যে সম্পত্তি অর্জন করে তা বিধবার সম্পত্তি নামে পরিচিত। স্ত্রীধন এবং বিধবার সম্পত্তি এক না। স্ত্রীধনের সাথে বিধবার সম্পত্তির পার্থক্য হলো এই যে বিধবার সম্পত্তি বলতে শুধুমাত্র উত্তরাধিকারসূত্রে কোন নারী যে সম্পত্তি স্বামীর নিকট থেকে পেয়ে থাকে কিন্তু উত্তরাধিকার সম্পত্তি স্ত্রীধনের অন্তর্ভুক্ত না।
-স্ত্রীধনের উপর মহিলার একচ্ছত্র মালিকানা থাকে এবং সে যেমন প্রয়োজন তেমনভাবে হস্তান্তর করতে পারে। কিন্তু বিধবার সম্পত্তির ক্ষেত্রে নারী শুধুমাত্র সীমিত স্বার্থ অর্জন [Limited Interest] করে বা শুধুমাত্র জীবন-স্বত্ব অর্জন [Life Interest] করে।

- হিন্দু আইনে উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত সম্পত্তি স্ত্রীধন হিসেবে গন্য হবে না।
৬০.
হিন্দু স্মৃতির মধ্যে কোনটি সবচেয়ে প্রাচীন?
  1. মনুস্মৃতি
  2. যাজ্ঞবল্ক্য স্মৃতি
  3. নারদ স্মৃতি
  4. পরাশর স্মৃতি
সঠিক উত্তর:
মনুস্মৃতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মনুস্মৃতি
ব্যাখ্যা
স্মৃতি:
স্মৃতি হল প্রাচীনকালের সামাজিক, নৈতিক ও আইনগত বিধান, যা প্রাথমিকভাবে গুরু-শিষ্য পরম্পরায় মুখে মুখে প্রচারিত হতো এবং পরবর্তীকালে গ্রন্থাকারে লিপিবদ্ধ করা হয়।
হিন্দু আইনে উল্লেখযোগ্য স্মৃতিগুলোর মধ্যে রয়েছে—
১) মনুস্মৃতি
২) যাজ্ঞবল্ক্য স্মৃতি
৩) নারদ স্মৃতি
৪) পরাশর স্মৃতি
স্মৃতিগুলোর মাধ্যমে হিন্দু সমাজের আচরণবিধি, অপরাধ ও শাস্তির নীতিমালা নির্ধারিত হয়।

⇒ মনুস্মৃতি হিন্দু স্মৃতিগুলোর মধ্যে প্রাচীনতম ও সর্বাধিক প্রভাবশালী।
-এটি মনু ঋষির নামানুসারে রচিত এবং হিন্দু সামাজিক, নৈতিক ও আইনগত বিধানগুলোর প্রাথমিক ভিত্তি হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

বাকি অপশন গুলোর মধ্যে:
- যাজ্ঞবল্ক্য স্মৃতি – এটি মনুস্মৃতির পরবর্তী এবং মূলত মিতাক্ষরা মতবাদের ভিত্তি হিসেবে পরিচিত।
- নারদ স্মৃতি – এটি মূলত ধর্ম, শাস্তি ও বিচারব্যবস্থা সংক্রান্ত বিধান নিয়ে লেখা এবং তুলনামূলকভাবে পরে রচিত।
- পরাশর স্মৃতি – এটি প্রধানত কালচক্র অনুযায়ী ধর্মীয় বিধানের পরিবর্তন সম্পর্কিত এবং তুলনামূলকভাবে পরে রচিত।

সুতরাং, হিন্দু স্মৃতির মধ্যে সবচেয়ে প্রাচীন হলো "মনুস্মৃতি"।
৬১.
প্রথা থেকে কোনটি আইনের মর্যাদা পাওয়ার জন্য উপযুক্ত নয়?
  1. যে প্রথাটি সুপ্রাচীন এবং সুনিশ্চিত
  2. যে প্রথাটি নৈতিকতা বিরোধী
  3. যে প্রথাটি আইনসভা কর্তৃক নিষিদ্ধ হয়নি
  4. যে প্রথাটি প্রাচীনকাল থেকে বর্তমান পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্নভাবে চালু রয়েছে
সঠিক উত্তর:
যে প্রথাটি নৈতিকতা বিরোধী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যে প্রথাটি নৈতিকতা বিরোধী
ব্যাখ্যা
⇒ প্রথা আইনের মর্যাদা পেতে হলে, তার মধ্যে কয়েকটি শর্ত থাকতে হবে। একটি প্রথা যদি নৈতিকতা বিরোধী হয় বা সাধারণ সমাজিক নিয়মের পরিপন্থি হয়, তবে সেটি আইনের মর্যাদা পেতে সক্ষম হবে না।
- অর্থাৎ, সমাজের সাধারণ ভালবাসা ও নৈতিকতার বিরুদ্ধে যেসব প্রথা চলে, তা আইনি স্বীকৃতি লাভ করবে না।
- উদাহরণস্বরূপ, সতীদাহ প্রথা, যা এক সময় হিন্দু সমাজে প্রচলিত ছিল, তা আইনে নিষিদ্ধ হয়ে গেছে কারণ এটি সমাজের নৈতিকতার বিরুদ্ধে ছিল।

⇒ প্রথা হলো এমন একটি নিয়ম বা রীতি যা একটি বিশেষ পরিবার, শ্রেণী, বা অঞ্চলে অনেক দিন ধরে প্রচলিত এবং আইনের মর্যাদা অর্জন করেছে। প্রথা এবং লিখিত আইনের মধ্যে বিরোধ হলে, প্রথা বেশি শক্তিশালী হতে পারে।
⇒ আইনের মর্যাদা পেতে প্রথার শর্ত:
- সুপ্রাচীন, সুনিশ্চিত, যুক্তিযুক্ত এবং সুপ্রমাণিত হতে হবে: প্রথাটি অনেক পুরনো এবং প্রমাণিত হতে হবে।
- নৈতিকতা বিরোধী বা সাধারণ নিয়মের পরিপন্থি না হওয়া: প্রথাটি সমাজের নৈতিকতার বিরুদ্ধে বা আইন বিরোধী হতে পারবে না।
- আইনসভা কর্তৃক নিষিদ্ধ না হওয়া: প্রথাটি যদি কোনো আইন দ্বারা নিষিদ্ধ হয়, তবে তা আইনের মর্যাদা পাবে না।
- অব্যাহতভাবে চালু থাকতে হবে: প্রথাটি দীর্ঘকাল ধরে চালু থাকতে হবে এবং হঠাৎ বন্ধ হওয়া উচিত নয়।
৬২.
নিচের কোন কারণে হিন্দু স্ত্রী স্বামীর কাছ থেকে আইনি ভরণপোষণ পাওয়ার অধিকার হারাবেন?
  1. স্বামী দ্বিতীয় বিয়ে করলে
  2. স্ত্রী নিজে অন্য ধর্ম গ্রহণ করলে
  3. স্বামী ধর্ম পরিবর্তন করলে
  4. স্বামী স্ত্রীর প্রতি নিষ্ঠুর আচরণ করলে
সঠিক উত্তর:
স্ত্রী নিজে অন্য ধর্ম গ্রহণ করলে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্ত্রী নিজে অন্য ধর্ম গ্রহণ করলে
ব্যাখ্যা
• ১৯৪৬ সালের "বিবাহিতা নারীর পৃথক বাসস্থান এবং ভরণপোষণ" আইন এর ধারা ২ অনুযায়ী,
নিম্নলিখিত কারণে বিবাহিতা হিন্দু নারী স্বামী হতে পৃথক থেকেও স্বামীর নিকট হতে ভরণ-পোষণ পাওয়ার অধিকারিণী -
 
⇒ স্বামী যদি দুরারোগ্য কুষ্ঠ, সিফলিস ইত্যাদি সংক্রামক ব্যাধিতে আক্রান্ত হয় এবং এই সমস্ত ব্যাধি যদি স্ত্রীর নিকট হতে সংক্রামিত না হয়;
⇒ স্বামী যদি স্ত্রীর প্রতি নিষঠুর আচরণ করে এবং নিষ্ঠুরতা যদি এই প্রকারের হয় যে স্বামীগৃহে তার জীবনাশংকা থাকে;
⇒ স্বামী যদি গৃহে কোন উপ-পত্নী রেখে তার সাথে বসবাস করতে থাকে;
⇒ স্বামী যদি ধর্মান্তর হয়;
⇒ স্বামী যদি স্ত্রীর অনুমতি ব্যতিরেকে তাকে পরিত্যাগ করে;
⇒ স্বামী যদি পুনরায় বিবাহ করে; এবং
⇒ অন্য কোন যুক্তিসঙ্গত কারণে।

তবে নিম্নলিখিত কারণে স্ত্রী স্বামীর নিকট হতে আইনত ভরণপোষণ পেতে পারে না-
- স্ত্রী যদি অসৎ চরিত্রের অথবা অসতী হয়,
- স্ত্রী যদি অন্য ধর্মে ধর্মান্তরিত হয়,
- স্ত্রী যদি আইনসঙ্গত কারণ ব্যতীত স্বামীর সাথে স্ত্রীরূপে বসবাস করতে অনিচ্ছুক হয়।
৬৩.
দত্তক গ্রহণের প্রথা কোন প্রাচীন আইনব্যবস্থায় প্রচলিত ছিল?
  1. গ্রিক আইন
  2. রোমান আইন
  3. মিশরীয় আইন
  4. ব্যাবিলনীয় আইন
সঠিক উত্তর:
রোমান আইন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রোমান আইন
ব্যাখ্যা
⇒ দত্তক গ্রহণের প্রথা প্রাচীন বিশ্বের বিভিন্ন সমাজে প্রচলিত থাকলেও এটি বিশেষভাবে রোমান আইন-এ স্বীকৃত ছিল।
- রোমান সাম্রাজ্যে দত্তক গ্রহণ একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক ও আইনি প্রক্রিয়া হিসেবে বিবেচিত হতো।
- রোমান আইনে দত্তক নেওয়ার মূল উদ্দেশ্য ছিল উত্তরাধিকার নিশ্চিত করা এবং পরিবারে একজন যোগ্য উত্তরসূরির ব্যবস্থা করা।
- এটি কেবল পারিবারিক কাঠামো বজায় রাখার জন্যই নয়, বরং রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থ সংরক্ষণের জন্যও ব্যবহৃত হতো।

হিন্দু আইনের মতো রোমান আইনের দত্তক গ্রহণের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নিয়ম-কানুন ছিল।
রোমান সমাজে যদি কোনো ব্যক্তির প্রকৃত সন্তান না থাকত, তবে তিনি দত্তক নিয়ে উত্তরাধিকারী নির্ধারণ করতে পারতেন।
ফলে, দত্তকপ্রাপ্ত ব্যক্তি দত্তকদাতা পিতার নামে পরিচিত হতেন এবং তার সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হতেন।

অন্যদিকে, গ্রিক, মিশরীয় বা ব্যাবিলনীয় আইনে দত্তক গ্রহণের তেমন কোনো সুস্পষ্ট বিধান দেখা যায় না।
তাই রোমান আইনই দত্তক প্রথার একটি সুস্পষ্ট ভিত্তি তৈরি করেছে, যা পরবর্তীকালে বিভিন্ন আইনব্যবস্থায় প্রভাব ফেলেছে।
৬৪.
হিন্দু দায়ভাগ আইনানুযায়ী সপিণ্ড হিসাবে অগ্রগণ্য কে?
  1. বোনের পুত্র
  2. ভাইয়ের পুত্র
  3. কন্যার পুত্র
  4. ভাই
সঠিক উত্তর:
কন্যার পুত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কন্যার পুত্র
ব্যাখ্যা
হিন্দু আইনে মৃতের সম্পত্তির উত্তরাধীকার বিষয়ে দুই ধরনের উত্তরাধীকার পদ্ধতি চালু আছে:

(ক) মিতক্ষরা পদ্ধতি
(খ) দায়ভাগ পদ্ধতি।

বাংলাদেশে বসবাসরত হিন্দু ধর্মীয় লোকজন মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি বণ্টনের ক্ষেত্রে দায়ভাগ পদ্ধতি অনুসরণ করেন। দায়ভাগ মূলত জীমূতবাহন রচিত হিন্দু ধর্মীয় সম্পত্তির উত্তরাধীকার বিষয়ক আইন গ্রন্থ। এ আইনগ্রন্থ অনুযায়ী, যারা মৃত ব্যক্তির আত্মার কল্যানের জন্য পিণ্ডদানের অধিকারী, কেবলমাত্র তারাই মৃত ব্যক্তির সপিণ্ড এবং যোগ্য উত্তরাধিকারী হিসেবে মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি পেয়ে থাকেন। মিতক্ষরা পদ্ধতি অনুসারে জন্ম হওয়ামাত্রই যেমন একজন পুত্র সন্তান পূর্ব পুরুষের সম্পত্তিতে পিতার সমান অংশীদারী হন, দায়ভাগ আইনে তেমনটা হয় না।

নিম্নে মোট ৫৩ জন সপিন্ডগণের তালিকা ক্রমানুসারে দেওয়া হলঃ

১) পুত্র
২) পুত্রের পুত্র
৩) পুত্রের পুত্রের পুত্র
৪) স্ত্রী, পুত্রের স্ত্রী, পুত্রের পুত্রের স্ত্রী, পুত্রের পুত্রের পুত্রের স্ত্রী।(বিধবা)
৫) কন্যা
৬) কন্যার পুত্র
৭) পিতা
8) মাতাদ
৯) ভাই, সহোদর ভাই না থাকলে বৈমাত্রেয় ভাই।
১০) ভাই এর পুত্র, সহোদর ভাই না থাকলে বৈমাত্রেয় ভাই এর পুত্র।
১১) ভাই এর পুত্রের পুত্র, সহোদর ভাই না থাকলে বৈমাত্রেয় ভাই এর পুত্রের পুত্র।
১২) বোনের পুত্র
১৩) পিতার পিতা
১৪) পিতার মাতা
১৫) পিতার ভাই
১৬) পিতার ভাইয়ের পুত্র
১৭)পিতার ভাইয়ের পুত্রের পুত্র
১৮) পিতার বোনের পুত্র
১৯) পিতার পিতার পিতা
২০) পিতার পিতার মাতা
২১) পিতার পিতার ভাই
২২) পিতার পিতার ভাইয়ের পুত্র
২৩) পিতার পিতার ভাইয়ের পুত্রের পুত্র
২৪) পিতার পিসির পুত্র
২৫) পুত্রের কন্যার পুত্র

উল্লিখিত প্রশ্নে  হিন্দু দায়ভাগ আইনানুযায়ী সপিণ্ড হিসাবে অগ্রগণ্য হলেন কন্যার পুত্র। 
৬৫.
সপিণ্ডের মধ্যে নারী সপিণ্ডের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত নয় কে?
  1. বিধবা স্ত্রী
  2. পিতার মাতা
  3. পিতার বোন
  4. পিতার পিতার মাতা
সঠিক উত্তর:
পিতার বোন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পিতার বোন
ব্যাখ্যা
⇒ নারী সপিণ্ডের তালিকায় পিতার বোন অন্তর্ভুক্ত নয়, কারণ নারী সপিণ্ডের মধ্যে নির্দিষ্ট কিছু সম্পর্কের ব্যক্তিরাই অন্তর্ভুক্ত হন।
সপিণ্ড বলতে সেই ব্যক্তিদের বোঝানো হয় যারা মৃত ব্যক্তির শ্রাদ্ধ এবং শেষকৃত্য প্রক্রিয়ায় পিণ্ডদান করতে সক্ষম।
- নারী সপিণ্ডের মধ্যে ৫টি সম্পর্ক রয়েছে, যেমন:
১) বিধবা স্ত্রী
২) কন্যা
৩) মাতা
৪) পিতার মাতা
৫) পিতার পিতার মাতা
→ পিতার বোন এই তালিকায় নেই, কারণ পিতার বোন পিণ্ডদানকারী হিসেবে বিবেচিত হন না।
- এটি মূলত ঐতিহ্যগত হিন্দু আইনে প্রথাগত নির্ধারণ।
৬৬.
দায়ভাগমতে কে, কাকে ভরণপোষণ করতে আইনত বাধ্য নয়?
  1. পিতা, অবিবাহিতা কন্যাকে
  2. সন্তান, পিতামাতাকে
  3. পিতা, সাবালক পুত্রকে
  4. যৌথ পরিবারের কর্তা, সকল পুরুষ সদস্যদের
সঠিক উত্তর:
পিতা, সাবালক পুত্রকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পিতা, সাবালক পুত্রকে
ব্যাখ্যা
• হিন্দু আইনে কোন কোন ব্যক্তি ভরণপোষণ পাওয়ার অধিকারী জানা অত্যাবশ্যক। নিম্নে তাদের তালিকা দেয়া হলো:

⇒ একজন হিন্দুর কোন সম্পত্তি না থাকলেও সে তার নাবালক পুত্র, অবিবাহিতা কন্যা এবং পিতামাতার ভরণপোষণ করতে আইনত বাধ্য।
-(দায়ভাগমতে পিতা সাবালক পুত্রকে ভরণপোষণ করতে আইনত বাধ্য নয়।)

⇒ কর্তা যৌথ পরিবারের সকল পুরুষ, তাদের স্ত্রীগণ এবং সন্তানাদির ভরণপোষণ করতে আইনত বাধ্য।

⇒ একজন মৃত ব্যক্তি যাদের ভরণপোষণ করতে আইনত বাধ্য ছিল, মৃত ব্যক্তির উত্তরাধিকারীও মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি হতে তাদের ভরণপোষণ করতে আইনত বাধ্য।

⇒ বিবাহ না হওয়া পর্যন্ত পিতা তার কন্যা সন্তানের ভরণপোষণে বাধ্য। পিতার অবর্তমানে কন্যার ভরণপোষণ পিতৃ সম্পত্তি হতেই চলতে থাকবে।

⇒ অক্ষমতা বা অযোগ্যতা হেতু কেউ পৈতৃক সম্পত্তির অধিকারে বঞ্চিত থাকলে তাকে এবং তার পরিবারবর্গকে অক্ষম ব্যক্তির পিতা এবং পিতার অবর্তমানে পিতার উত্তরাধিকারী যথাযোগ্য ভরণপোষণ দিতে বাধ্য।
৬৭.
হিন্দু আইন অনুসারে নিচের কোনটি প্রাচীনতম ও সর্বাধিক প্রভাবশালী স্মৃতি?
  1. মনুস্মৃতি
  2. নারদ স্মৃতি
  3. পরাশর স্মৃতি
  4. যাজ্ঞবল্ক্য স্মৃতি
সঠিক উত্তর:
মনুস্মৃতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মনুস্মৃতি
ব্যাখ্যা

⇒ স্মৃতি হলো হিন্দু আইনের দ্বিতীয় প্রধান উৎস (শ্রুতির পরে), যা মূলত মানবজাতির ঐশ্বরিক নির্দেশাবলীর প্রতিফলন।
- হিন্দু আইন অনুসারে, বিভিন্ন স্মৃতি শাস্ত্র বিদ্যমান, যেমন: মনুস্মৃতি, নারদ স্মৃতি, পরাশর স্মৃতি, যাজ্ঞবল্ক্য স্মৃতি। 

মনুস্মৃতি:
- প্রাচীনতম এবং সবচেয়ে প্রভাবশালী স্মৃতি হিসেবে বিবেচিত।
- সমাজ, ধর্ম, আইন ও নৈতিকতার বিভিন্ন নিয়ম এতে সংকলিত।
- এটি হিন্দু সমাজে আইনি, সামাজিক ও পারিবারিক আচরণের মূল নির্দেশিকা হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।
- অন্যান্য স্মৃতিগুলোও গুরুত্বপূর্ণ, তবে মানুষের জীবন ও পারিবারিক আইন সম্পর্কিত বিধানগুলোতে মনুস্মৃতি সর্বাধিক প্রভাবশালী।
- অর্থাৎ মনুস্মৃতি হিন্দু আইনের প্রাচীনতম ও সর্বাধিক প্রভাবশালী স্মৃতি শাস্ত্র।

৬৮.
হিন্দু আইনে নিম্নলিখিত কোন ক্ষেত্রে পৃথক অবস্থায় স্বামী হতে স্ত্রীর ভরণ-পোষণের অধিকার পেতে পারে?
  1. স্বামী যদি ধর্মান্তর গ্রহণ করে
  2. স্বামী যদি স্ত্রীর বর্তমানে পুনরায় বিবাহ করে
  3. স্বামী যদি স্ত্রীর প্রতি নিষঠুর আচরণ করে এবং নিষ্ঠুরতা যদি এই প্রকারের হয় যে স্বামীগৃহে তার জীবনাশংকা থাকে
  4. উল্লিখিত সবগুলো
সঠিক উত্তর:
উল্লিখিত সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উল্লিখিত সবগুলো
ব্যাখ্যা
⇒ বিবাহিতা হিন্দু নারীর পৃথক বাসস্থান এবং ভরণপোষণ আইনটি ১৯৪৬ সালের।
১৯৪৬ সালের "বিবাহিতা নারীর পৃথক বাসস্থান এবং ভরণপোষণ" আইন অনুযায়ী নিম্নলিখিত কারণে বিবাহিতা হিন্দু নারী স্বামী হতে পৃথক থেকেও স্বামীর নিকট হতে ভরণ-পোষণ পাওয়ার অধিকারিণী -
- স্বামী যদি দুরারোগ্য কুষ্ঠ, সিফলিস ইত্যাদি সংক্রামক ব্যাধিতে আক্রান্ত হয় এবং এই সমস্ত ব্যাধি যদি স্ত্রীর নিকট হতে সংক্রামিত না হয়,
- স্বামী যদি স্ত্রীর প্রতি নিষ্ঠুর আচরণ করে এবং নিষ্ঠুরতা যদি এই প্রকারের হয় যে স্বামীগৃহে তার জীবনাশংকা থাকে;
- স্বামী যদি গৃহে কোন উপ-পত্নী রেখে তার সাথে বসবাস করতে থাকে;
- স্বামী যদি ধর্মান্তর গ্রহণ করে,
- স্বামী যদি স্ত্রীর অনুমতি ব্যতিরেকে তাকে পরিত্যাগ করে,
- স্বামী যদি স্ত্রীর বর্তমানে পুনরায় বিবাহ করে,
এই ধরনের অন্যান্য যৌক্তিকতাপূর্ণ কারণে।
 
তবে নিম্নলিখিত কারণে স্ত্রী স্বামীর নিকট হতে আইনত ভরণপোষণ পেতে পারে না-
 
- স্ত্রী যদি অসৎ চরিত্রের অথবা অসতী হয়,
- স্ত্রী যদি অন্য ধর্মে ধর্মান্তরিত হয়,
- স্ত্রী যদি আইনসঙ্গত কারণ ব্যতীত স্বামীর সাথে স্ত্রীরূপে বসবাস করতে অনিচ্ছুক হয়।
--------------------------------------------
এই আইনে বিবাহিতা হিন্দু নারী বিচ্ছেদ ছাড়াও, স্বামী হতে পৃথক থাকতে পারে। উক্ত আইনে উল্লেখিত ক্ষেত্রসমূহে স্ত্রী স্বামী হতে পৃথক থেকেও স্বামীর নিকট হতে ভরণ-পোষণের অধিকার পেতে পারে। ক্ষেত্রগুলো হলো-
⇒ স্বামী যদি দুরারোগ্য কুষ্ঠ, সিফলিস ইত্যাদি সংক্রামক ব্যাধিতে আক্রান্ত হয় এবং এই সমস্ত ব্যাধি যদি স্ত্রীর নিকট হতে সংক্রামিত না হয়;
if he (husband) is suffering from any loathsome disease not contracted from her;
⇒ স্বামী যদি স্ত্রীর প্রতি নিষঠুর আচরণ করে এবং নিষ্ঠুরতা যদি এই প্রকারের হয় যে স্বামীগৃহে তার জীবনাশংকা থাকে;
if he is gulity of such cruelty towards her as renders it unsafe or undesirable for her to live with him;
⇒ স্বামী যদি গৃহে কোন উপ-পত্নী রেখে তার সাথে বসবাস করতে থাকে;
if he keeps a concubine in the house or habitually resides with a concubine;
⇒ স্বামী যদি ধর্মান্তর হয়;
if he ceases to be a Hindu by conversion to another religion;
⇒ স্বামী যদি স্ত্রীর অনুমতি ব্যতিরেকে তাকে পরিত্যাগ করে;
if he is guilty of desertion, that is to say, of abandoning her without her consent or against her wish;
⇒ স্বামী যদি পুনরায় বিবাহ করে;
if he marries again; এবং
⇒ অন্য কোন যুক্তিসঙ্গত কারণে।
for any other justifiable cause
৬৯.
একই ছেলেকে দুই ব্যক্তি দত্তক গ্রহণ করলে দত্তকটি হবে-
  1. বাতিলযোগ্য
  2. বৈধ
  3. অবৈধ
  4. নির্দিষ্ট চুক্তিতে বৈধ
সঠিক উত্তর:
অবৈধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অবৈধ
ব্যাখ্যা
⇒ Who can be adopted
 the Hindu child can be adopted by the following conditions:
1. The child should be Hindu.
2. The child has not been adopted before.
3. The child should not be married.
4. The age of the child must be below 15 years.
 
উল্লিখিত শর্ত অনুযায়ী বলতে পারি যে একই ছেলেকে দুই ব্যক্তি দত্তক গ্রহণ করলে দত্তকটি অবৈধ হবে।
৭০.
হিন্দু আইনে অনুমোদিত বিবাহ কত প্রকার?
  1. ৩ প্রকার
  2. ৪ প্রকার
  3. ২ প্রকার
  4. ৫ প্রকার
সঠিক উত্তর:
৪ প্রকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪ প্রকার
ব্যাখ্যা
দায়ভাগ ও মিতাক্ষরা অনুসারে হিন্দুদের মধ্যে আট প্রকার বিবাহ প্রচলিত ছিল, যার প্রথম চারটি সামাজিকভাবে অনুমোদিত এবং অবশিষ্ট চারটি অননুমোদিত। আট প্রকার বিবাহ হলো:

অনুমোদিত ৪ প্রকার:

ব্রাহ্ম: সর্বোত্তম পদ্ধতি, যাতে অলঙ্কারে সজ্জিতা কন্যাকে শিক্ষিত ও চরিত্রবান বরের হাতে তুলে দেয়া হতো; এক্ষেত্রে বরের নিকট থেকে কোন পণ নেয়া হতো না;
দৈব: এ ধরনের বিবাহে যজ্ঞ সম্পাদনকারী পুরোহিতের নিকট কন্যা সম্প্রদান করা হতো;
আর্য: এ বিবাহে কনের পিতা বরের নিকট থেকে এক বা দুই জোড়া গাভী গ্রহণ করতেন;
প্রজাপত্য: এ বিবাহে কনের পিতা বরের নিকট থেকে কোন পণ গ্রহণ ছাড়াই কন্যা দান করতেন এবং তাদের আশীর্বাদ করতেন যাতে তারা পারস্পরিক বিশ্বাস ও সুখের সঙ্গে দাম্পত্য জীবন যাপন করতে পারে।
 
অননুমোদিত ৪ প্রকার:

অসুর: এ বিবাহে বর পিতা অথবা অভিভাবকের নিকট থেকে মূল্য দিয়ে কনেকে ক্রয় করত;
রাক্ষস: এ বিবাহে কন্যার আত্মীয়দের প্রহার করে রোরুদ্যমান কন্যাকে তুলে নেয়া হতো;
গন্ধর্ব: বর ও কনের পরস্পরের পরিচয় ও সম্মতিতে এ বিবাহ অনুষ্ঠিত হতো;
পৈশাচ: নিকৃষ্টতম বিবাহ; এতে কন্যার প্রেমিক (কন্যার সম্মতি ব্যতিরেকে) নিদ্রিত অবস্থায় অথবা মদোম্মত্ত বা উম্মত্ত কন্যার সঙ্গে সঙ্গত হতো।
৭১.
হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন বিধিমালা, ২০১৩ অনুযায়ী হিন্দু বিবাহ নিবন্ধক হিসেবে প্রার্থীর বয়সসীমা কত?
  1. ২০ থেকে ৪৫ বছর
  2. ২৫ থেকে ৫০ বছর
  3. ১৮ থেকে ৫৫ বছর
  4. ২১ থেকে ৬০ বছর
সঠিক উত্তর:
২৫ থেকে ৫০ বছর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৫ থেকে ৫০ বছর
ব্যাখ্যা

⇒ হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন বিধিমালা, ২০১৩ এর বিধি- ৫(১) অনুযায়ী, প্রার্থীর HSC পাস হতে হবে, বয়স ২৫–৫০ বছরের মধ্যে হতে হবে, সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দা হতে হবে, এবং হিন্দু সনাতন ধর্মাবলম্বী হতে হবে। সবগুলো শর্ত পূরণ না করলে তিনি যোগ্য হবেন না।

⇒ হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন আইন, ২০১২-এর ৪(১) ধারার বিধান অনুসারে,
এই আইনের অধীন হিন্দু বিবাহ নিবন্ধনের উদ্দেশ্যে, সরকার, সিটি কর্পোরেশন এলাকার ক্ষেত্রে তৎকর্তৃক সময় সময় নির্ধারিত এলাকা, এবং সিটি কর্পোরেশন বহির্ভূত এলাকার ক্ষেত্রে প্রতিটি উপজেলা এলাকায় একজন ব্যক্তিকে হিন্দু বিবাহ নিবন্ধক হিসেবে নিয়োগ প্রদান করিবে।
⇒ হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন আইন, ২০১২-এর ধারা ৪(৩) ধারার বিধান অনুসারে, হিন্দু বিবাহ নিবন্ধক হিসেবে নিয়োগ প্রাপ্তির যোগ্যতা, অধিক্ষেত্র, হিন্দু বিবাহ নিবন্ধক কর্তৃক আদায়যোগ্য ফিস এবং তৎসংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়াদি বিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে।

⇒ হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন বিধিমালা, ২০১৩ এর বিধি-৫ প্রার্থীদের যোগ্যতা, ইত্যাদি- (১) কোনো ব্যক্তি হিন্দু বিবাহ নিবন্ধক হিসাবে নিয়োগ পাইবার
যোগ্য হইবেন না, যদি-
- তিনি সরকার কর্তৃক স্বীকৃত কোনো বোর্ড হইতে এইচ, এস, সি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না হন;
- তাহার বয়স কমপক্ষে পঁচিশ এবং অনূর্ধ্ব পঞ্চাশ বৎসর না হয়;
- তিনি সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দা না হন;
- তিনি হিন্দু সনাতন ধর্মাবলম্বী না হন।
(২) উপ-ধারা (১) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, হিন্দু বিবাহ নিবন্ধক নিয়োগের ক্ষেত্রে কাব্যতীর্থ বা ব্যাকরণতীর্থদের অগ্রাধিকার প্রদান করা হইবে।

উল্লেখ্য যে, আইনে শুধু একজন ব্যক্তির কথা বলা হয়েছে, সেই সাথে উল্লেখ করেছে যোগ্যতা বিধি অনুসারে নির্ধারিত হবে।তাই বিধিমালা অনুসারে, অপশন 'গ' উত্তর হিসেবে নেয়া হয়েছে।

৭২.
হিন্দু বিবাহ অনুষ্ঠানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আচার বা রীতি হিসাবে কোনটি বিবেচিত হয়?
  1. মালা বদল
  2. সপ্তপদী
  3. অঞ্জলি
  4. কন্যা সম্প্রদান
সঠিক উত্তর:
সপ্তপদী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সপ্তপদী
ব্যাখ্যা
সপ্তপদী: 
একটি হিন্দু বিবাহ অনুষ্ঠানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আচার বা রীতি হিসাবে বিবেচিত হয়। এটি বাঙালি সমাজে সাতপাক নামে পরিচিত। যা নব-দম্পতি যজ্ঞকুন্ডের অগ্নিকে সাক্ষী রেখে সাতপাক একসাথে প্রদিক্ষণ করার মাধ্যমে সম্পূর্ণ হয়। সপ্তম পদক্ষেপ নেওয়ার পরে দম্পতির বিবাহ অপ্রতিরোধ্য বলে বিবেচিত হয়।

সপ্তপদী একটি প্রাচীন আচার যা বৈদিক যুগের । আগুনের পবিত্র বেদীর প্রদক্ষিণ একটি আচার যা দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে ভিন্নভাবে সম্পাদিত হয় । কিছু অঞ্চলে, দম্পতি সাতবার বেদির চারপাশে ঘুরে বেড়ায়। অন্যান্য অঞ্চলে, দম্পতি একটি একক প্রদক্ষিণ সম্পূর্ণ করতে সাতটি পদক্ষেপ নেয়। প্রতিটি ধাপে দম্পতি বিভিন্ন শপথও নিতে পারে, যার বিষয়বস্তু অঞ্চলভেদে ভিন্ন হয়।

এছাড়া-
মালা বদল: কন্যা ও বর মালাবদল করেন। এই রীতির অর্থ হচ্ছে দুজন একে অন্যকে জীবনসঙ্গী হিসাবে মেনে নিলেন।
সম্প্রদান: কন্যার পিতা কন্যাকে জামাতার হাতে সম্প্রদান করেন বেদমন্ত্রে। বরও জানান যে তিনি কন্যার ভরণপোষণের দায়িত্ব নিলেন।
অঞ্জলি: কন্যা ও বর খৈ অগ্নাহুতি দেন। প্রচলিত বাংলায় একে বলে খৈ পোড়া। বৈদিক যুগে মানুষ নানা ধরনের শক্তির উপাসনা করতেন। অগ্নিও তাদের মধ্যে অন্যতম।
৭৩.
উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে দায়ভাগ মতবাদ কোন নীতিকে স্বীকৃতি দেয়?
  1. Doctrine of representation
  2. Succession per stripes
  3. Succession per capita
  4. উল্লিখিত সবগুলো
সঠিক উত্তর:
উল্লিখিত সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উল্লিখিত সবগুলো
ব্যাখ্যা
⇒ দায়ভাগ মতবাদ নিম্নোক্ত নীতিগুলিকে স্বীকৃতি দেয়ঃ

(ক) প্রতিনিধিত্ব মতবাদ (Doctrine of representation):
প্রতিনিধিত্ব মতবাদ অনুসারে পুত্র, পৌত্র যার পিতা মারা গিয়েছে, তারা সকলেই পিতৃপক্ষীয় সম্পত্তিতে উত্তরাধিকারীত্ব লাভ করে, কারণ পৌত্র তার পিতার এবং প্রপৌত্র তার পিতা ও পিতামহ উভয়েরই প্রতিনিধিত্ব করে।

(খ) অংশপিছু উত্তরাধিকার (Succssession per stripes):
যেখানে প্রতিনিধিত্ব মতবাদ প্রয়োগ করা হয় এবং উত্তরাধিকারীগণ মৃত ব্যক্তির স্থলবর্তীরুপে অংশ প্রাপ্ত হন সেখানে এরুপে স্থলবর্তীরুপে অংশ পাওয়াকে অংশপিছু উত্তরাধিকার বলে।

(গ) মাথাপিছু উত্তরাধিকার (Succession per capita):
মৃত ব্যক্তির সম্পত্তিতে তার উত্তরাধিকারগণের সমান অংশ সম্পত্তি প্রাপ্ত হওয়াকে মাথাপিছু উত্তরাধিকার বলে।
৭৪.
What is the primary nature of marriage under Hindu law?
  1. A civil contract
  2. A temporary union
  3. A social agreement
  4. A sacred sacrament
সঠিক উত্তর:
A sacred sacrament
উত্তর
সঠিক উত্তর:
A sacred sacrament
ব্যাখ্যা

⇒ হিন্দু আইন ও ঐতিহ্য অনুসারে, বিবাহকে প্রধানত একটি ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক বন্ধন হিসেবে গণ্য করা হয়, কোনো সাধারণ দেওয়ানী চুক্তি নয়। নিচের দিকগুলি লক্ষণীয়:
১. ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান:
হিন্দু বিবাহে সপ্তপদী (সাত পাক), হোমযজ্ঞ, মন্ত্রোচ্চারণ ইত্যাদি ধর্মীয় রীতির মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। এটি শুধু আইনি নিবন্ধন নয়, বরং একটি পবিত্র ধর্মীয় কর্তব্য (ধর্ম)।
২. জন্মজন্মান্তরের বন্ধন:
হিন্দু বিশ্বাস অনুযায়ী, বিবাহের বন্ধন শুধু এই জন্মের জন্য সীমিত নয়, বরং এটি পূর্বজন্ম ও পরজন্মেও বিস্তৃত। এজন্যই একে "অবিচ্ছেদ্য" বলা হয়।
৩. কর্তব্য ও ধর্মের অংশ:
হিন্দু শাস্ত্রে বিবাহকে একটি ধর্মীয় কর্তব্য হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে, বিশেষ করে গ্রিহস্থাশ্রম (গৃহস্থ জীবন) পালনের জন্য। এটি পারিবারিক ও সামাজিক দায়িত্ব পূরণের পথ।
৪. চুক্তি নয়:
অন্যান্য কিছু ব্যক্তিগত আইন (যেমন মুসলিম আইনে বিবাহ একটি দেওয়ানী চুক্তি) এর বিপরীতে, হিন্দু বিবাহ চুক্তির বৈশিষ্ট্য বহন করে না। তাই এটি ক) দেওয়ানী চুক্তি সঠিক উত্তর হতে পারে না।
৫. তালাকের অনুপস্থিতি:
ঐতিহ্যগত হিন্দু আইনে তালাকের কোনও স্থান নেই, যা প্রমাণ করে এটি কোনো অস্থায়ী বা সামাজিক চুক্তি নয়। বাংলাদেশে হিন্দু বিবাহ এখনো আইনত অবিচ্ছেদ্য হিসেবে স্বীকৃত।

অর্থাৎ হিন্দু বিবাহের মূল বৈশিষ্ট্য হলো এর পবিত্র, ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক প্রকৃতি, যা একে "পবিত্র বন্ধন" বা Sacrament করে তোলে। এজনই সঠিক উত্তর ঘ) A sacred sacrament।

৭৫.
হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন আইন, ২০১২ অনুসারে কখন বিয়ে নিবন্ধন করা যাবে না?
  1. বিবাহের পক্ষগণ যদি মানসিকভাবে অসুস্থ হয়
  2. বর ও কনে উভয়ের বয়স ১৮ বছরের কম হলে
  3. বর ও কনের বয়স যথাক্রমে ২১ ও ১৮ বছরের কম হলে
  4. কোনটি নয়
সঠিক উত্তর:
বর ও কনের বয়স যথাক্রমে ২১ ও ১৮ বছরের কম হলে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বর ও কনের বয়স যথাক্রমে ২১ ও ১৮ বছরের কম হলে
ব্যাখ্যা
• ধারা ৫- হিন্দু বিবাহ নিবন্ধনের ক্ষেত্রে বিধি-নিষেধ

অন্য কোন আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, ২১ (একুশ) বৎসরের কম বয়স্ক কোন হিন্দু পুরুষ বা ১৮ (আঠার) বৎসরের কম বয়স্ক কোন হিন্দু নারী বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হইলে উহা এই আইনের অধীন নিবন্ধনযোগ্য হইবে না।
৭৬.
হিন্দু আইনে Factum Valet নীতিটির প্রবর্তক কে?
  1. মনু
  2. নারদ
  3. জীমূতবাহন
  4. যাজ্ঞবল্ক্য
সঠিক উত্তর:
জীমূতবাহন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জীমূতবাহন
ব্যাখ্যা

⇒ হিন্দু আইনে ফ্যাক্টাম ভ্যালেট (Factum valet] নীতিটির প্রবর্তক হলো জীমুতবাহন।
- Factum valet quod fieri non debuit অর্থ হলো উচিৎ নয় এমন কোন কাজ কেউ করে ফেললে সেটাকে অবৈধ গণ্য করা হবে না।
- এটা বর্তমানে দায়ভাগ এবং মিতাক্ষর উভয় মতবাদে স্বীকৃত নীতি।
- এই নীতির আলোকে আদালত হিন্দু আইনের কতিপয় ক্ষেত্রে এটি প্রয়োগ করে।
- যেমন অভিভাবকের সম্মতি ছাড়া একটি বিয়ে অনুষ্ঠিত হলো।
- বিয়ের ক্ষেত্রে অভিভাবকের সম্মতি বিধি মোতাবেক একটি দিক নির্দেশক পন্থা মাত্র, সম্মতি ছাড়া বিয়ে হলে সেটি অবৈধ হবে না।

৭৭.
'Factum valet quod fieri non debuit' অর্থ কী?
  1. ভুল করে কোনো কাজ সম্পন্ন হলে তা অবৈধ হবে
  2. নির্ধারিত নিয়মে কাজটি সম্পন্ন হলে তা বৈধ হবে
  3. কোনো কাজ সম্পন্ন হয়ে গেলে তা বৈধ হয়ে যাবে
  4. ভুল করে কোনো কাজ সম্পন্ন হলে আইন অনুযায়ী কাজটি অবৈধ হবে
সঠিক উত্তর:
কোনো কাজ সম্পন্ন হয়ে গেলে তা বৈধ হয়ে যাবে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোনো কাজ সম্পন্ন হয়ে গেলে তা বৈধ হয়ে যাবে
ব্যাখ্যা
• হিন্দু আইনে ফ্যাক্টাম ভ্যালেট (Factum valet] নীতিটির প্রবর্তক হলো জীমুতবাহন।

Factum valet quod fieri non debuit অর্থ হলো উচিৎ নয় এমন কোন কাজ কেউ করে ফেললে সেটাকে অবৈধ গণ্য করা হবে না। এটা বর্তমানে দায়ভাগ এবং মিতাক্ষর উভয় মতবাদে স্বীকৃত নীতি। এই নীতির আলোকে আদালত হিন্দু আইনের কতিপয় ক্ষেত্রে এটি প্রয়োগ করে।
যেমন- অভিভাবকের সম্মতি ছাড়া একটি বিয়ে অনুষ্ঠিত হলো। বিয়ের ক্ষেত্রে অভিভাবকের সম্মতি বিধি মোতাবেক একটি দিক নির্দেশক পন্থা মাত্র, সম্মতি ছাড়া বিয়ে হলে সেটি অবৈধ হবে না।
৭৮.
কোন হিন্দু বিবাহ নিবন্ধক তার দায়িত্ব পালনে কোন অসদাচরণের জন্য দায়ী হলে, সরকার তার নিয়োগ অনধিক কত বছরের জন্য স্থগিত করতে পারে?
  1. ৫ বছরের জন্য
  2. ৩ বছরের জন্য
  3. ১ বছরের জন্য
  4. ২ বছরের জন্য
সঠিক উত্তর:
২ বছরের জন্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২ বছরের জন্য
ব্যাখ্যা
হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন আইন, ২০১২: ধারা ১৪- বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা:

সরকারের নিকট যদি সন্তোষজনকভাবে এই মর্মে প্রতীয়মান হয় যে, কোন হিন্দু বিবাহ নিবন্ধক তাহার দায়িত্ব পালনে কোন অসদাচরণের জন্য দায়ী অথবা তাহার কর্তব্য পালনে অসমর্থ বা শারীরিকভাবে অক্ষম, তাহা হইলে, সরকার লিখিত আদেশ দ্বারা, তাহার নিয়োগ অনধিক দুই বৎসরের জন্য স্থগিত বা বাতিল করিতে পারিবে: 
 
তবে শর্ত থাকে, হিন্দু বিবাহ নিবন্ধককে যথাযথ কারণ দর্শানোর সুযোগ প্রদান না করিয়া অনুরুপ কোন আদেশ প্রদান করা যাইবে না। 
৭৯.
নিমাই মারা গেছেন এবং তার পুত্র, পৌত্র, প্রপৌত্র, বিধবা স্ত্রী, কন্যা, দৌহিত্র কেউই জীবিত নেই। তার পিতা এবং মাতা জীবিত আছেন। দায়ভাগ মতবাদে এই ক্ষেত্রে সম্পত্তির অধিকার কী হবে?
  1. পিতা পূর্ণ স্বত্ব পাবেন
  2. পিতা জীবনস্বত্ব পাবেন
  3. মাতা সম্পত্তির জীবনস্বত্ব পাবেন
  4. পিতা এবং মাতা উভয়ে পূর্ণ স্বত্ব পাবেন
সঠিক উত্তর:
পিতা পূর্ণ স্বত্ব পাবেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পিতা পূর্ণ স্বত্ব পাবেন
ব্যাখ্যা

উত্তর: ক) পিতা পূর্ণ স্বত্ব পাবেন।

দায়ভাগ মতবাদে উত্তরাধিকারের ক্রম:

দায়ভাগ মতবাদে সম্পত্তির উত্তরাধিকারের ক্রম নির্ধারিত। প্রথমে পুত্র, পৌত্র, প্রপৌত্র, বিধবা স্ত্রী, কন্যা, এবং দৌহিত্র (কন্যার পুত্র) সম্পত্তির অধিকারী হন।
এই সকল উত্তরাধিকারী জীবিত না থাকলে, পরবর্তী অগ্রাধিকার পান মৃত ব্যক্তির পিতা। পিতা জীবিত থাকলে তিনি সম্পত্তির পূর্ণ স্বত্ব পান।
পিতা জীবিত না থাকলে তবেই মাতা সম্পত্তির অধিকারী হন, এবং তিনি জীবনস্বত্ব (life interest) পান, অর্থাৎ তিনি জীবদ্দশায় সম্পত্তি ভোগ করতে পারেন, কিন্তু তা বিক্রি বা হস্তান্তর করতে পারেন না।
পিতা এবং মাতার পরে ক্রমানুসারে সহোদর ভাই, বৈমাত্রেয় ভাই, ভাইয়ের পুত্র, ভাইয়ের পুত্রের পুত্র, বোনের পুত্র, পিতামহ, পিতামহী, এবং পিতার ভাই সম্পত্তির অধিকারী হন।

এই ঘটনায় প্রয়োগ:
নিমাইয়ের কোনো পুত্র, পৌত্র, প্রপৌত্র, বিধবা স্ত্রী, কন্যা, বা দৌহিত্র জীবিত নেই। তাই এই সকল অগ্রাধিকারের উত্তরাধিকারী বাদ পড়েন। নিমাইয়ের পিতা জীবিত আছেন। দায়ভাগ মতবাদ অনুসারে, পিতা এই পর্যায়ে সম্পত্তির প্রধান উত্তরাধিকারী হিসেবে বিবেচিত হন এবং তিনি সম্পত্তির পূর্ণ স্বত্ব পাবেন। যেহেতু পিতা জীবিত আছেন, মাতা এই ক্ষেত্রে সম্পত্তির অধিকার পাবেন না, কারণ পিতার অগ্রাধিকার মাতার চেয়ে বেশি।

৮০.
স্ত্রীধন বলতে কি বোঝায়?
  1. উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া স্ত্রীর সম্পত্তি
  2. উপহার হিসেবে স্ত্রীর প্রাপ্ত সম্পত্তি
  3. স্ত্রীর নিজস্ব অর্জিত সম্পত্তি
  4. খ ও গ
সঠিক উত্তর:
খ ও গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ ও গ
ব্যাখ্যা
স্ত্রীর স্বোপার্জিত কিংবা উপহার হিসেবে প্রাপ্ত সম্পত্তি হচ্ছে স্ত্রীধন। তারা এ ধন নিজের ইচ্ছামতো বিক্রয় অথবা দান করতে পারে। উপার্জনের উৎস অনুযায়ী স্ত্রীধন চার প্রকার। স্ত্রীধনের উত্তরাধিকারও ভিন্ন ধরনের এবং তা কন্যাদের অধিকতর উত্তরাধিকার ক্ষমতা প্রদান করে।

স্ত্রীধনের প্রকৃতি অনুযায়ী তার উত্তরাধিকারক্রম এরূপ:

ক. শুল্ক (কন্যাপণ): ভাই, মা, পিতা ও স্বামী;

খ. যৌতুক (বিবাহকালে প্রাপ্ত উপহার): অবাগ্দত্তা কন্যা, বাগ্দত্তা কন্যা, বিবাহিতা কন্যা যার পুত্র রয়েছে কিংবা পুত্রসম্ভবা, বন্ধ্যা বিবাহিতা কন্যা এবং নিঃসন্তান বিধবা কন্যা সমান অংশে; পুত্র, দৌহিত্র, পৌত্র, প্রপৌত্র, সতীন পুত্র, সতীন পৌত্র, সতীন প্রপৌত্র। উপর্যুক্তদের অভাবে স্ত্রীলোকের যৌতুক সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হবে স্বামী, ভাই, মা, বাবা;

গ. অন্বাধেয় (বিবাহোত্তরকালে পিতৃদত্ত): এক্ষেত্রে উত্তরাধিকারক্রম প্রায় যৌতুকের মতোই, তবে পার্থক্য হলো- বিবাহিতা কন্যাদের চেয়ে পুত্ররা অগ্রাধিকার পায় এবং নিঃসন্তান অবস্থায় মৃত স্ত্রীলোকের ক্ষেত্রে উত্তরাধিকারী হয় তার ভাই, মা, পিতা, স্বামী;

ঘ. অযৌতুক (বিবাহের পূর্বে বা পরে আত্মীয়গণ কর্তৃক প্রদত্ত; বিবাহের পূর্বে পিতৃদত্ত): এ ক্ষেত্রে পুত্র এবং কুমারী কন্যারা সমান অংশীদার; বিবাহিত পুত্রবতী অথবা পুত্রসম্ভবা কন্যা, পৌত্র, দৌহিত্র, বন্ধ্যা বিবাহিতা কন্যা এবং নিঃসন্তান বিধবা কন্যা।

উপযুক্তদের অভাবে অযৌতুক স্ত্রীধনের উত্তরাধিকারীরা হলো: ভাই, মা, পিতা, স্বামী, দেবর, স্বামীর ভ্রাতুষ্পুত্র, বোনপো, স্বামীর ভাগিনেয়, নিজের ভ্রাতুষ্পুত্র, জামাতা, স্বামীর সপিন্ড, সকুল্য ও সমানোদক, পিতার জ্ঞাতি।
৮১.
কোন ক্ষেত্রে বিবাহিতা হিন্দু নারী স্বামী হতে পৃথক থেকেও, স্বামীর নিকট হতে ভরণ-পোষণের অধিকার পেতে পারে?
  1. স্বামী ধর্মান্তর হলে
  2. স্বামী পুনরায় বিবাহ করলে
  3. স্ত্রীর প্রতি নিষঠুর আচরণ করলে
  4. উল্লিখিত সকল ক্ষেত্রে
সঠিক উত্তর:
উল্লিখিত সকল ক্ষেত্রে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উল্লিখিত সকল ক্ষেত্রে
ব্যাখ্যা
• বিবাহিতা হিন্দু নারীর পৃথক বাসস্থান এবং ভরণপোষণ আইনটি ১৯৪৬ সালের। এই আইনে বিবাহিতা হিন্দু নারী বিচ্ছেদ ছাড়াও, স্বামী হতে পৃথক থাকতে পারে। উক্ত আইনে উল্লেখিত ক্ষেত্রসমূহে স্ত্রী স্বামী হতে পৃথক থেকেও স্বামীর নিকট হতে ভরণ-পোষণের অধিকার পেতে পারে। ক্ষেত্রগুলো হলো-

⇒ স্বামী যদি দুরারোগ্য কুষ্ঠ, সিফলিস ইত্যাদি সংক্রামক ব্যাধিতে আক্রান্ত হয় এবং এই সমস্ত ব্যাধি যদি স্ত্রীর নিকট হতে সংক্রামিত না হয়;
if he (husband) is suffering from any loathsome disease not contracted from her;

⇒ স্বামী যদি স্ত্রীর প্রতি নিষঠুর আচরণ করে এবং নিষ্ঠুরতা যদি এই প্রকারের হয় যে স্বামীগৃহে তার জীবনাশংকা থাকে;
if he is gulity of such cruelty towards her as renders it unsafe or undesirable for her to live with him;

⇒ স্বামী যদি গৃহে কোন উপ-পত্নী রেখে তার সাথে বসবাস করতে থাকে;
if he keeps a concubine in the house or habitually resides with a concubine;

⇒ স্বামী যদি ধর্মান্তর হয়;
if he ceases to be a Hindu by conversion to another religion;

⇒ স্বামী যদি স্ত্রীর অনুমতি ব্যতিরেকে তাকে পরিত্যাগ করে;
if he is guilty of desertion, that is to say, of abandoning her without her consent or against her wish;

⇒ স্বামী যদি পুনরায় বিবাহ করে;
if he marries again; এবং

⇒ অন্য কোন যুক্তিসঙ্গত কারণে।
for any other justifiable cause
৮২.
হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে কয় প্রকার অনুমোদিত বিবাহের প্রচলন আছে?
  1. ২ প্রকার
  2. ৪ প্রকার
  3. ৩ প্রকার
  4. ৫ প্রকার
সঠিক উত্তর:
৪ প্রকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪ প্রকার
ব্যাখ্যা
• দায়ভাগ ও মিতাক্ষরা অনুসারে হিন্দুদের মধ্যে আট প্রকার বিবাহ প্রচলিত ছিল, যার প্রথম চারটি সামাজিকভাবে অনুমোদিত এবং অবশিষ্ট চারটি অননুমোদিত।
আট প্রকার বিবাহ হলো:

অনুমোদিত ৪ প্রকার:

ব্রাহ্ম: সর্বোত্তম পদ্ধতি, যাতে অলঙ্কারে সজ্জিতা কন্যাকে শিক্ষিত ও চরিত্রবান বরের হাতে তুলে দেয়া হতো; এক্ষেত্রে বরের নিকট থেকে কোন পণ নেয়া হতো না;
দৈব: এ ধরনের বিবাহে যজ্ঞ সম্পাদনকারী পুরোহিতের নিকট কন্যা সম্প্রদান করা হতো;
আর্য: এ বিবাহে কনের পিতা বরের নিকট থেকে এক বা দুই জোড়া গাভী গ্রহণ করতেন;
প্রজাপত্য: এ বিবাহে কনের পিতা বরের নিকট থেকে কোন পণ গ্রহণ ছাড়াই কন্যা দান করতেন এবং তাদের আশীর্বাদ করতেন যাতে তারা পারস্পরিক বিশ্বাস ও সুখের সঙ্গে দাম্পত্য জীবন যাপন করতে পারে।
 
অননুমোদিত ৪ প্রকার:

অসুর: এ বিবাহে বর পিতা অথবা অভিভাবকের নিকট থেকে মূল্য দিয়ে কনেকে ক্রয় করত;
রাক্ষস: এ বিবাহে কন্যার আত্মীয়দের প্রহার করে রোরুদ্যমান কন্যাকে তুলে নেয়া হতো;
গন্ধর্ব: বর ও কনের পরস্পরের পরিচয় ও সম্মতিতে এ বিবাহ অনুষ্ঠিত হতো;
পৈশাচ: নিকৃষ্টতম বিবাহ; এতে কন্যার প্রেমিক (কন্যার সম্মতি ব্যতিরেকে) নিদ্রিত অবস্থায় অথবা মদোম্মত্ত বা উম্মত্ত কন্যার সঙ্গে সঙ্গত হতো।
৮৩.
যাজ্ঞবল্ক কর্তৃক সংকলিত 'যাজ্ঞবন্ধ্য সংহিতা' গ্রন্থ হিন্দু আইনের কোন উৎসের অন্তর্গত?
  1. প্রথা
  2. স্মৃতি
  3. শ্রুতি
  4. নিবন্ধ
সঠিক উত্তর:
স্মৃতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্মৃতি
ব্যাখ্যা
স্মৃতি:
- স্মৃতি অর্থ যা স্মরণে রাখা হয়েছিল, প্রাচীনকালে মানুষের পালনীয় ঐশ্বরিক নির্দেশাবলি যা আর্য ঋষিগণ গুরুশিষ্য-পরম্পরায় স্মরণে রেখেছিলেন এবং পরবর্তীকালে যা মুনিগণ পুস্তক আকারে সংকলন করেছিলেন, তা-ই সংহিতা বা স্মৃতিশাস্ত্র নামে পরিচিত।
- স্মৃতি সম্বন্ধীয় প্রধানত তিনটি গ্রন্থ হচ্ছে- 
ক. মনু কর্তৃক সংকলিত মনু সংহিতা;
খ. যাজ্ঞবল্ক কর্তৃক সংকলিত যাজ্ঞবন্ধ্য সংহিতা;
গ. নারদ কর্তৃক সংকলিত নারদ সংহিতা।

অর্থাৎ স্মৃতি বলতে বোঝায় প্রাচীনকালে আর্য ঋষিদের স্মরণে রাখা এবং পরবর্তীতে মুনিদের দ্বারা সংকলিত ঐশ্বরিক নির্দেশাবলি। এ ধরনের নির্দেশাবলি সংহিতা বা স্মৃতিশাস্ত্র নামে পরিচিত। স্মৃতিশাস্ত্রের প্রধান তিনটি গ্রন্থ হলো:
১. মনু সংহিতা (মনু কর্তৃক সংকলিত),
২. যাজ্ঞবল্ক্য সংহিতা (যাজ্ঞবল্ক কর্তৃক সংকলিত),
৩. নারদ সংহিতা (নারদ কর্তৃক সংকলিত)।
৮৪.
একজন হিন্দু লোক রাম মারা গেলেন। তিনি রেখে গেলেন ৪ কন্যা এবং মাতা। কন্যাদের মধ্যে একজন অবিবাহিতা, একজন বিবাহিতা ও পুত্রবতী, একজন বন্ধ্যা, একজন বিধবা, যার ২ কন্যাসন্তান আছে। এই ক্ষেত্রে কার সম্পত্তির দাবী সবার আগে থাকবে?
  1. মাতা
  2. বিধবা কন্যা
  3. অবিবাহিতা কন্যা 
  4. বিবাহিতা ও পুত্রবতী কন্যা
সঠিক উত্তর:
অবিবাহিতা কন্যা 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অবিবাহিতা কন্যা 
ব্যাখ্যা

⇒ এই ক্ষেত্রে অবিবাহিতা কন্যার দাবী সর্বাগ্রে, সুতরাং অবিবাহিতা কন্যা রামের সকল সম্পত্তি জীবনস্বত্বে পাইবে। অন্যান্য কন্যাগণ কোন অংশ পাবে না। মাতাও কিছু পাবে না। কারণ কন্যাদের স্থান ৫নং এবং মাতার স্থান ৮নং।

অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সপিণ্ডদের ক্রমিকানুসারে তালিকা:

১-৩ পুত্র, পৌত্র এবং প্রপৌত্র তাহারা স্থলবর্তী নিয়ম অনুসারে সর্বাগ্রে এবং এক সঙ্গে উত্তরাধিকারিত্বের দাবীদার। এই বিষয়ে একই নিয়ম মিতাক্ষরা আইনেও প্রযোজ্য।
সকল মতপন্থীদের মতেই ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয় এবং বৈশ্য পিতার অবৈধ সন্তান অর্থাৎ রক্ষিতার সন্তান কোন উত্তরাধিকারিত্ব দাবী করিতে পারে না। তবে সেইসব অবৈধ সন্তান পিতার ত্যাজ্যবিত্ত হইতে ভরণপোষণ পাওয়ার অধিকারী। শুদ্রের বেলায় দাসী অথবা রক্ষিতার অবৈধ পুত্র বৈধ পুত্রের ভাগ পাওয়ার অধিকারী। অর্থাৎ অবৈধ পুত্র বৈধ হইলে যে অংশ পাইত তাহার অর্ধেক পাইবে।

৪। বিধবা:
১৯৩৭ সালে সম্পত্তিতে হিন্দু নারীর অধিকার সংক্রান্ত আইন পাশ হওয়ার পর হইতে বিধবা একের অধিক হইলে সকলে একত্রে এক পুত্রের সমান অংশ জীবন স্বত্বে পাইবে। ১-৩ নং এর মধ্যে কেহ না থাকিলে স্বামীর ত্যাজ্যবিত্তে বিধবার জীবনস্বত্ব হইবে।

৫। কন্যা:
কন্যাদের মধ্যে অবিবাহিতা কন্যার দাবী প্রথম। পরে পুত্রবতী অথবা পুত্রসম্ভবা কন্যাদের দাবী। বন্ধ্যা কন্যা, পুত্র সন্তান হীনা বিধবা কন্যা এবং যে সব কন্যাদের কেবলমাত্র কন্যা সন্তান আছে তাহারা উত্তরাধিকার হইতে বঞ্চিত হইবে।

৬। দৌহিত্র: কন্যার পর কন্যার পুত্র সন্তানের দাবী।
৭। পিতা;
৮। মাতা;
৯। ভ্রাতা;
১০। ভ্রাতুষ্পুত্র।

৮৫.
কোন প্রক্রিয়া অনুযায়ী উত্তরাধিকারীগণ মৃত ব্যক্তির স্থলবর্তীরূপে সম্পত্তি প্রাপ্ত হন?
  1. উত্তরাধিকারী মনোনয়ন
  2. মাথাপিছু উত্তরাধিকার
  3. অংশপিছু উত্তরাধিকার
  4. কোনটি নয়
সঠিক উত্তর:
অংশপিছু উত্তরাধিকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অংশপিছু উত্তরাধিকার
ব্যাখ্যা
⇒ অংশপিছু উত্তরাধিকার (Succession per stirpes) হল এমন একটি প্রক্রিয়া যেখানে মৃত ব্যক্তির স্থলবর্তীরূপে (বা পরবর্তী প্রজন্মের সদস্যদের মাধ্যমে) উত্তরাধিকারীরা সম্পত্তি প্রাপ্ত হন।
- এর অর্থ হল, যখন কোনো ব্যক্তির মৃত্যু হয়, তখন তার উত্তরাধিকারীরা মৃত ব্যক্তির স্থান পূর্ণ করে সম্পত্তির অংশ ভাগ করে নেয়।
- এই প্রক্রিয়াতে, মৃত ব্যক্তির পুত্র, পৌত্র বা আরও নিচের প্রজন্ম তার পিতার বা পূর্বসূরীর উত্তরাধিকারী হিসেবে তাদের অংশ লাভ করে, এবং এটি প্রতিটি প্রজন্মের জন্য সমানভাবে ঘটে।
এটি প্রতিনিধিত্ব মতবাদ (Doctrine of representation) এর ভিত্তিতে কাজ করে, যেখানে পরবর্তী প্রজন্ম (যেমন পৌত্র) তাদের পূর্বসূরীদের (যেমন পিতা) স্থল পূর্ণ করে সম্পত্তি লাভ করে। এর ফলে, মৃত ব্যক্তির সন্তান বা পুত্র তাদের পূর্বপুরুষের প্রতিনিধিত্ব করে সম্পত্তির অংশ পায়।
তাহলে, অংশপিছু উত্তরাধিকার এমন একটি প্রক্রিয়া যেখানে মৃত ব্যক্তির উত্তরাধিকারীগণ তার স্থল বা অবস্থান থেকে অংশ গ্রহণ করে, এবং এটা প্রতিনিধিত্ব মতবাদ এর অধীনে চলে।
৮৬.
দায়ভাগ মতবাদ নিম্নলিখিত কোন এলাকায় প্রযোজ্য?
  1. বাংলাদেশ
  2. ভারতের পশ্চিমবঙ্গ
  3. পশ্চিমবঙ্গ ব্যতীত ভারতের অন্যান্য অংশে
  4. ক এবং খ উভয়
সঠিক উত্তর:
ক এবং খ উভয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক এবং খ উভয়
ব্যাখ্যা
• হিন্দু আইন হিন্দুদের ধর্মীয় এবং ব্যক্তিগত আইন। এ আইন যারা জন্মসূত্রে হিন্দু, হিন্দু ধর্মে দীক্ষিত, হিন্দু পিতা মাতার অবৈধ সন্তান এবং যে ক্ষেত্রে পিতা খ্রীষ্টান এবং মাতা হিন্দু সেই ক্ষেত্রে অবৈধ সন্তান যদি মায়ের কাছে হিন্দু আচার অনুযায়ী লালিত পালিত হয়, তবে এসব ক্ষেত্রে হিন্দু আইন প্রযোজ্য।

বাংলাদেশ, ভারত এবং পাকিস্তানে হিন্দুদের মধ্যে দু’ধরনের উত্তরাধিকার পদ্ধতি চালু রয়েছে। যথা-
১- দায়ভাগ পদ্ধতি এবং
২- মিতাক্ষরা পদ্ধতি।

দায়ভাগ পদ্ধতি বাংলাদেশ এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও আসামে প্রচলিত আছে। ভারতের অন্যান্য প্রদেশ এবং পাকিস্তানে মিতাক্ষরা পদ্ধতি প্রযোজ্য হয়ে থাকে। যদিও বাংলাদেশ এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গে দায়ভাগ মতবাদ প্রযোজ্য, কিন্তু যে সকল ক্ষেত্রে দায়ভাগ এবং মিতাক্ষরার মধ্যে কোন বিরোধ নেই, সেই সকল ক্ষেত্রে এই অঞ্চলেও মিতাক্ষর মতবাদ প্রয়োগ করা হয়।
৮৭.
'হিন্দু বিবাহ নিবন্ধকগণের উপর মহাপরিদর্শক, নিবন্ধন এর সাধারণ তত্ত্বাবধানের ক্ষমতা থাকিবে' হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন আইন, ২০১২ অনুযায়ী এই উদ্দেশ্য পূরণকল্পে “মহাপরিদর্শক” অর্থ কোন আইনের অধীন নিযুক্ত মহাপরিদর্শকে বুঝাবে?
  1. হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন আইন, ২০১২
  2. মুসলিম বিবাহ ও তালাক (রেজিষ্ট্রীকরণ) আইন, ১ঌ৭৪
  3. রেজিস্ট্রেশন আইন ১ঌ০৮
  4. হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন বিধিমালা, ২০১৩
সঠিক উত্তর:
রেজিস্ট্রেশন আইন ১ঌ০৮
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রেজিস্ট্রেশন আইন ১ঌ০৮
ব্যাখ্যা
হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন আইন, ২০১২ এর ১৩  ধারার বিধান তত্ত্বাবধান, নিয়ন্ত্রণ, ইত্যাদি:

(১) প্রত্যেক হিন্দু বিবাহ নিবন্ধক সংশ্লিষ্ট জেলার জেলা রেজিস্ট্রারের তত্ত্বাবধান ও নিয়ন্ত্রণে থাকিয়া তাহার দাপ্তরিক ও অর্পিত দায়িত্ব সম্পন্ন করিবেন।
 
(২) হিন্দু বিবাহ নিবন্ধকগণের উপর মহাপরিদর্শক, নিবন্ধন এর সাধারণ তত্ত্বাবধানের ক্ষমতা থাকিবে।
 
(৩) জেলা রেজিস্ট্রার তাহার স্থানীয় অধিক্ষেত্র এলাকায় যে কোন সময় যে কোন হিন্দু বিবাহ নিবন্ধকের কার্যালয় পরিদর্শন করিতে পারিবেন।
 
ব্যাখ্যাঃ এই ধারার উদ্দেশ্য পূরণকল্পে “মহাপরিদর্শক” অর্থ Registration Act, 1908 এর অধীন নিযুক্ত মহাপরিদর্শক নিবন্ধন, বা তদকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন কর্মকর্তা।
৮৮.
বাংলাদেশে প্রচলিত হিন্দু আইন অনুযায়ী, স্বাভাবিক পুত্র জন্মালে দত্তকী পুত্র দত্তকী পিতার ত্যাজ্যবিত্তের কত ভাগ পায়?
  1. সমান অংশ
  2. অর্ধেক
  3. ১/৩ অংশ
  4. কিছু পাবে না
সঠিক উত্তর:
১/৩ অংশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১/৩ অংশ
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশে হিন্দু আইন অনুযায়ী, যদি দত্তকী পুত্রের দত্তক গ্রহণকারী পিতার নিজস্ব (স্বাভাবিক) পুত্র জন্মগ্রহণ করে, তাহলে দত্তকী পুত্র তার দত্তকী পিতার সম্পত্তির তিন ভাগের এক ভাগ (১/৩) পায়।

বাংলাদেশে হিন্দু উত্তরাধিকার আইনে দত্তকী পুত্র (Adopted Son) সাধারণত দত্তক গ্রহণকারী পিতার স্বাভাবিক পুত্রের মতোই সম্পত্তির অধিকারী হন। তবে এই অধিকারে কিছু বিশেষ ব্যতিক্রম ও মতপার্থক্য রয়েছে:
১. স্বাভাবিক পুত্র থাকলে:
যদি দত্তক গ্রহণের পর দত্তকী পিতার নিজস্ব (স্বাভাবিক) পুত্র জন্মগ্রহণ করে, তাহলে দত্তকী পুত্র দত্তকী পিতার সম্পত্তির তিন ভাগের এক ভাগ (১/৩) উত্তরাধিকার সূত্রে পান।

২. স্বাভাবিক পুত্র না থাকলে:
যদি দত্তকী পুত্র ছাড়া দত্তকী পিতার আর কোনো পুত্র না থাকে, তাহলে দত্তকী পুত্রই সম্পত্তির পূর্ণ উত্তরাধিকারী হিসেবে বিবেচিত হন।

৩. বর্ণভেদে সম্পত্তির অংশের ভিন্নতা:
শুদ্র শ্রেণির দত্তকী পুত্র:
দত্তকী পিতার সম্পত্তিতে সমান অংশ পাওয়ার অধিকারী হন।

অন্যান্য বর্ণভুক্ত দত্তকী পুত্র:
দত্তকী পিতার ত্যাজ্যবিত্তের তিন ভাগের এক ভাগ (১/৩) পান।
৮৯.
নিম্নোক্তদের মধ্যে কে হিন্দু পিতার সম্পত্তিতে অগ্রাধিকারভিত্তিক দাবি করতে পারেন?
  1. বন্ধ্যা কন্যা
  2. বিধবা কন্যা
  3. অবিবাহিত কন্যা
  4. পুত্রবতী কন্যা
সঠিক উত্তর:
অবিবাহিত কন্যা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অবিবাহিত কন্যা
ব্যাখ্যা
সম্পত্তিতে হিন্দু নারীর অধিকার:
পিতা বা স্বামীর সম্পত্তিতে হিন্দু নারীদের একচ্ছত্র অধিকার নেই, জীবনস্বত্ব আছে। স্বামীর মৃত্যুর পর স্ত্রী তাঁর জীবদ্দশায় স্বামীর সম্পত্তি ভোগ করতে পারেন, এটাকে বলা হয় জীবনস্বত্ব। তবে এ সম্পত্তি তিনি কোনোভাবেই বিক্রি করতে পারেন না, অন্যের কাছে হস্তান্তরও করতে পারেন না। এমনকি নিজের সন্তানকেও দান করতে পারবেন না। তাঁর মৃত্যুর পর এটা বিধবা সম্পত্তি বা ‘উইডোজ এস্টেট’ হিসেবে মৃত স্বামীর পুরুষ উত্তরাধিকারের দখলে চলে যায়। দায়ভাগ মতবাদ অনুসারে কোনো ব্যক্তির মৃত্যুর পর তাঁর সম্পত্তির সম্পূর্ণ উত্তরাধিকার হন জীবিত পুত্র বা পুত্রেরা। পুত্রের উপস্থিতিতে কন্যা সম্পত্তি পান না। অর্থাৎ কন্যার অধিকার নির্ভর করবে পুত্র থাকা বা না থাকার ওপর।

১. কন্যা হিসেবে: মৃত ব্যক্তির পুত্র, পৌত্র, প্রপৌত্র ও স্ত্রী থাকলে কন্যা তাঁর পিতার সম্পত্তি পান না। তাঁদের কেউ না থাকলে মৃত ব্যক্তির কন্যাদের মধ্যে অবিবাহিত কন্যা ও পরে পুত্রবতী কন্যা সম্পত্তি পাবেন। তবে বিধবা কন্যা, বন্ধ্যা কন্যা ও যে কন্যার পুত্রসন্তান নেই, শুধু কন্যাসন্তান আছে, তিনি কিছু পাবেন না।

২. স্ত্রী (বিধবা) হিসেবে: সম্পত্তিতে হিন্দু মহিলার অধিকার আইন, ১৯৩৭ পাস হওয়ার পর মৃত ব্যক্তির বিধবা স্ত্রী এক পুত্রের সমান অংশ জীবনস্বত্ব পান।

৩. মা হিসেবে: মৃত ব্যক্তির স্ত্রী, পুত্র, কন্যা, দৌহিত্র ও পিতা জীবিত থাকলে মা কিছু পান না।

৪. বোন হিসেবে: কোনো অবস্থাতেই বোন তাঁর ভাইয়ের সম্পত্তি পান না।
৯০.
হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন আইন অনুসারে, হিন্দু বিবাহ নিবন্ধকের তত্ত্বাবধানের জন্য কোন প্রতিষ্ঠান বা কর্তৃপক্ষ দায়িত্বপ্রাপ্ত?
  1. জেলা প্রশাসন
  2. জেলা রেজিস্ট্রার
  3. পারিবারিক আদালত
  4. বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান (HBK) কল্যাণ ট্রাস্ট
সঠিক উত্তর:
জেলা রেজিস্ট্রার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জেলা রেজিস্ট্রার
ব্যাখ্যা

⇒ হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন আইন, ২০১২ এর ধারা ১৩(১) অনুযায়ী, হিন্দু বিবাহ নিবন্ধকের উপর জেলা রেজিস্ট্রার তত্ত্বাবধান এবং নিয়ন্ত্রণ করবে। জেলা রেজিস্ট্রার তার দপ্তরের অধীন হিন্দু বিবাহ নিবন্ধকের দায়িত্ব এবং কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।

⇒  হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন আইন, ২০১২ ধারা ১৩ তত্ত্বাবধান, নিয়ন্ত্রণ, ইত্যাদি:
(১) প্রত্যেক হিন্দু বিবাহ নিবন্ধক সংশ্লিষ্ট জেলার জেলা রেজিস্ট্রারের তত্ত্বাবধান ও নিয়ন্ত্রণে থাকিয়া তাহার দাপ্তরিক ও অর্পিত দায়িত্ব সম্পন্ন করিবেন। 
(২) হিন্দু বিবাহ নিবন্ধকগণের উপর মহাপরিদর্শক, নিবন্ধন এর সাধারণ তত্ত্বাবধানের ক্ষমতা থাকিবে। 
(৩) জেলা রেজিস্ট্রার তাহার স্থানীয় অধিক্ষেত্র এলাকায় যে কোন সময় যে কোন হিন্দু বিবাহ নিবন্ধকের কার্যালয় পরিদর্শন করিতে পারিবেন। 

ব্যাখ্যা: এই ধারার উদ্দেশ্য পূরণকল্পে “মহাপরিদর্শক” অর্থ Registration Act, 1908 এর অধীন নিযুক্ত মহাপরিদর্শক নিবন্ধন, বা তদকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন কর্মকর্তা।

৯১.
হিন্দু আইন অনুযায়ী দত্তক এর ক্ষেত্রে নিম্নের কোনটি সঠিক?
  1. যে-কেউ দত্তক দিতে পারে
  2. অবিবাহিত পুরুষ দত্তক নিতে পারে না
  3. অবিবাহিত মহিলা দত্তক নিতে পারে
  4. একজন বোবাকে দত্তক নেওয়া যায় না
সঠিক উত্তর:
একজন বোবাকে দত্তক নেওয়া যায় না
উত্তর
সঠিক উত্তর:
একজন বোবাকে দত্তক নেওয়া যায় না
ব্যাখ্যা
- হিন্দু আইন অনুযায়ী দত্তক এর ক্ষেত্রে বোবা (Dumb) ও বধির (Deaf) হলে দত্তক নেওয়া যায় না।
-[Surendra Narayan Sarbbadhikari vs. Bhola Nath Ray Chaudhuri (1994)

নিষিদ্ধ গোত্রভুক্ত হলে দত্তক নেওয়া যায় না।

⇒ Who can be adopted
 the Hindu child can be adopted by the following conditions:
1. The child should be Hindu.
2. The child has not been adopted before.
3. The child should not be married.
4. The age of the child must be below 15 years.
৯২.
হিন্দু আইন অনুযায়ী, কোন ধরনের বিবাহে বর কন্যার পিতাকে স্বেচ্ছায় উপঢৌকন প্রদান করে?
  1. ব্রাহ্ম বিবাহ
  2. দৈব বিবাহ
  3. আর্য বিবাহ
  4. প্রজাপত্য বিবাহ
সঠিক উত্তর:
আর্য বিবাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আর্য বিবাহ
ব্যাখ্যা
• দায়ভাগ ও মিতাক্ষরা অনুসারে হিন্দুদের মধ্যে আট প্রকার বিবাহ প্রচলিত ছিল, যার প্রথম চারটি সামাজিকভাবে অনুমোদিত এবং অবশিষ্ট চারটি অননুমোদিত। আট প্রকার বিবাহ হলো:

অনুমোদিত ৪ প্রকার:
ব্রাহ্ম: সর্বোত্তম পদ্ধতি, যাতে অলঙ্কারে সজ্জিতা কন্যাকে শিক্ষিত ও চরিত্রবান বরের হাতে তুলে দেয়া হতো; এক্ষেত্রে বরের নিকট থেকে কোন পণ নেয়া হতো না;
দৈব: এ ধরনের বিবাহে যজ্ঞ সম্পাদনকারী পুরোহিতের নিকট কন্যা সম্প্রদান করা হতো;
আর্য: এ বিবাহে কনের পিতা বরের নিকট থেকে এক বা দুই জোড়া গাভী গ্রহণ করতেন;
প্রজাপত্য: এ বিবাহে কনের পিতা বরের নিকট থেকে কোন পণ গ্রহণ ছাড়াই কন্যা দান করতেন এবং তাদের আশীর্বাদ করতেন যাতে তারা পারস্পরিক বিশ্বাস ও সুখের সঙ্গে দাম্পত্য জীবন যাপন করতে পারে।
 
অননুমোদিত ৪ প্রকার:
অসুর: এ বিবাহে বর পিতা অথবা অভিভাবকের নিকট থেকে মূল্য দিয়ে কনেকে ক্রয় করত;
রাক্ষস: এ বিবাহে কন্যার আত্মীয়দের প্রহার করে রোরুদ্যমান কন্যাকে তুলে নেয়া হতো;
গন্ধর্ব: বর ও কনের পরস্পরের পরিচয় ও সম্মতিতে এ বিবাহ অনুষ্ঠিত হতো;
পৈশাচ: নিকৃষ্টতম বিবাহ; এতে কন্যার প্রেমিক (কন্যার সম্মতি ব্যতিরেকে) নিদ্রিত অবস্থায় অথবা মদোম্মত্ত বা উম্মত্ত কন্যার সঙ্গে সঙ্গত হতো।
৯৩.
'M' তার ২ পুত্র 'A' ও 'B' এবং স্ত্রী 'K' কে রেখে মারা যায়। দায়ভাগ মতবাদ অনুযায়ী, 'K' সম্পত্তির কত অংশ পাবেন?
  1. ১/২ অংশ
  2. ১/৩ অংশ
  3. ১/৪ অংশ
  4. পুত্রদের দ্বারা বঞ্চিত হবেন
সঠিক উত্তর:
১/৩ অংশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১/৩ অংশ
ব্যাখ্যা
⇒ এখানে 'M' সম্পত্তি মোট তিন অংশে বিভক্ত হবে। দায়ভাগ মতবাদ অনুযায়ী, স্ত্রী এক পুত্রের সমান অংশ পাবে।

সম্পত্তির বণ্টন:
- পুত্র (A) পাবে ১/৩ অংশ।
- পুত্র (B) পাবে ১/৩ অংশ।
- স্ত্রী (K) পাবে ১/৩ অংশ।
৯৪.
দেবোত্তর সম্পত্তি যে রক্ষণাবেক্ষণ করেন, তাকে কী বলা হয়?
  1. মাহাতো
  2. সেবায়েত
  3. দেব রক্ষক
  4. সেবক
সঠিক উত্তর:
সেবায়েত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সেবায়েত
ব্যাখ্যা
• মন্দির নির্মাণ করে তাতে দেবমূর্তি প্রতিষ্ঠা করে পূজা-অর্চনার ব্যয় নির্বাহের জন্য সম্পত্তি দান করলে তা সাধারণত 'দেবোত্তর সম্পত্তি' বলে পরিচিতি পায়। আইনের দৃষ্টিতে এ রকম বিগ্রহ বা দেবতার মূর্তি একটি বৈধ আইনি সত্তা বা জুডিশিয়াল পারসন। এ রকম সম্পত্তির আইনি মালিক ওই বিগ্রহই। কারণ তার উদ্দেশে সেটি দান করা।

মন্দিরে প্রতিষ্ঠিত দেবতার নিত্য পূজা- অর্চনার কাজে যিনি নিয়োজিত থাকেন তিনিই সেবায়েত। একজন সেবায়েত দেবতা বা বিগ্রহের যাবতীয় বিষয়ের কার্যনির্বাহীও বটে। দেবতা সম্পত্তির মালিক হলেও কার্যত সম্পত্তি পরিচালনায় সম্পূর্ণ অক্ষম। সেজন্য দেবতার পক্ষে তদীয় সম্পত্তি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য একজন উপযুক্ত পরিচালকের প্রয়োজন। আর সে দায়িত্ব ন্যস্ত থাকে সেবায়েতের উপর।

দেবোত্তর সম্পত্তির সেবায়েত কে হবেন আর তার উত্তরাধিকার কারা হবেন, কোন নিয়মে হবেন তা সাধারণত অর্পণনামা বা উৎসর্গপত্রে লেখা থকে। সেবায়েত দেবতার বিরুদ্ধে কাজ করলে বা তার দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে তাকে প্রয়োজনে আদালত কর্তৃক অপসারণ করে অন্য সেবায়েত নিয়োগ করা যায়।
৯৫.
হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন আইন, ২০১২ অনুসারে বিবাহ নিবন্ধন করা-
  1. বাধ্যতামূলক
  2. ঐচ্ছিক
  3. আবশ্যক
  4. ক এবং গ
সঠিক উত্তর:
ঐচ্ছিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঐচ্ছিক
ব্যাখ্যা
হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন আইন, ২০১২ অনুসারে বিবাহ নিবন্ধন করা ঐচ্ছিক।

• হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন আইন, ২০১২ এর ধারা ৩ এ দেয়া আছে-

(১) অন্য কোন আইন, প্রথা ও রীতি-নীতিতে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, হিন্দু বিবাহের দালিলিক প্রমাণ সুরক্ষার উদ্দেশ্যে হিন্দু বিবাহ, বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে, নিবন্ধন করা যাইবে। 
 
(২) উপ-ধারা (১) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কোন হিন্দু বিবাহ এই আইনের অধীন নিবন্ধিত না হইলেও উহার কারণে কোন হিন্দু শাস্ত্র অনুযায়ী সম্পন্ন বিবাহের বৈধতা ক্ষুণ্ণ হইবে না।
৯৬.
কাদের জন্য 'হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন আইন, ২০১২' প্রযোজ্য?
  1. বাংলাদেশে বসবাসকারী হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের জন্য
  2. বাংলাদেশের সকল হিন্দু ধর্মাবলম্বী নাগরিকের জন্য
  3. বাংলাদেশের বাইরে অবস্থানকারী সকল হিন্দু ধর্মাবলম্বী বাংলাদেশি নাগরিকের জন্য
  4. খ এবং গ
সঠিক উত্তর:
বাংলাদেশে বসবাসকারী হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের জন্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাংলাদেশে বসবাসকারী হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের জন্য
ব্যাখ্যা
• হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন আইন, ২০১২ এর ধারা ১ এ দেয়া আছে-
(১) এই আইন হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন আইন, ২০১২ নামে অভিহিত হইবে। 
(২) ইহা নাগরিকত্ব নির্বিশেষে বাংলাদেশে বসবাসরত সকল হিন্দু ধর্মাবলম্বীর জন্য প্রযোজ্য হইবে। 
(৩) সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, যে তারিখ নির্ধারণ করিবে সেই তারিখে ইহা কার্যকর হইবে।
৯৭.
নিম্নের কোনটি হিন্দু আইনের আধুনিক উৎস হিসেবে বিবেচিত?
  1. স্মৃতি
  2. ব্যাখ্যা বা নিবন্ধ
  3. প্রথা
  4. আদালতের সিদ্ধান্ত বা নজির
সঠিক উত্তর:
আদালতের সিদ্ধান্ত বা নজির
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আদালতের সিদ্ধান্ত বা নজির
ব্যাখ্যা
হিন্দু আইনের মূল উৎস ৪টি। যথা-

(ক) বেদ বা শ্ৰুতিঃ অতি প্রাচীনকালে দেবতাগণ প্রত্যক্ষভাবে যা বলেছিলেন ও তৎকালে মুনিগণ যা শুনেছিলেন এবং পরবর্তীকালে যা মুনিবর কৃষ্ণদ্বৈপায়ন কর্তৃক সংকলিত হয় তাই বেদ। ঋক বেদ, যজু বেদ, সাম বেদ ও অথর্ব বেদ এই চারটি বেদকে একত্রে শ্রুতি শাস্ত্র বলা হয়। বেদ হচ্ছে হিন্দু ধর্মের মূল ভিত্তি।

(খ) স্মৃতিঃ প্রাচীনকালে মানুষের পালনীয় ঐশ্বরিক নির্দেশাবলি যা আর্য ঋষিগণ গুরু শিষ্য পরম্পরায় আবৃত্তি আকারে স্মরণে রেখেছিলেন, যা পরবর্তীকালে মুনিগণ গ্রন্থ আকারে সংকলিত করেন ইহাই স্মৃতি শাস্ত্ৰ বা সংহিতা নামে পরিচিত।

(গ) ব্যাখ্যা বা নিবন্ধঃ ধর্মীয় অনুশাসনে বিভিন্ন স্মৃতির মধ্যে জটিলতা দেখা দিলে ব্যাখ্যার উদ্ভব হয়। আঞ্চলিক রীতিনীতির সাথে সামঞ্জস্য রক্ষা করে পণ্ডিতগণ নিজেদের মতামত বা ব্যাখ্যা প্রদানের মাধ্যমে প্রাচীন আইনের সংশোধন করে থাকেন। ব্যাখ্যাসমূহের মধ্যে দুটি মতবাদই অনুসরণ করা হয়ে থাকে-
(১) মিতক্ষরা মতবাদ,
(২) দায়ভাগ মতবাদ।

(ঘ) প্রথাঃ ইহা এমন রীতি যা দেশ, অঞ্চল বা মহল্লায় প্রচলিত থাকাকালে আইনের যোগ্যতা অর্জন করেছে। আদালত কর্তৃক হিন্দু প্রথাকে তিন শ্রেণীতে ভাগ করা হয়েছে। যথা-
(১) স্থানীয় প্রথা
(২) শ্রেণী প্রথা
(৩) পারিবারিক প্রথা।

হিন্দু আইনের আধুনিক উৎসসমূহ:

(ক) আদালতের সিদ্ধান্ত বা নজির,
(খ) বিধিবদ্ধ আইন,
(গ) সুবিচার, ন্যায়পরায়ণতা।
৯৮.
হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন আইন, ২০১২-এর ৪(১) ধারার বিধান অনুসারে নিবন্ধক হিসাবে সরকার-
  1. যে কোন ব্যক্তিকে নিয়োগ করতে পারেন
  2. শুধু ব্রাহ্মণ ব্যক্তিকে নিয়োগ করতে পারেন
  3. শুধু হিন্দু ব্যক্তিকে নিয়োগ করতে পারেন
  4. উপরের কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
শুধু হিন্দু ব্যক্তিকে নিয়োগ করতে পারেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শুধু হিন্দু ব্যক্তিকে নিয়োগ করতে পারেন
ব্যাখ্যা
• হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন আইন, ২০১২-এর ৪(১) ধারার বিধান অনুসারে,

এই আইনের অধীন হিন্দু বিবাহ নিবন্ধনের উদ্দেশ্যে, সরকার, সিটি কর্পোরেশন এলাকার ক্ষেত্রে তদ্কর্তৃক সময় সময় নির্ধারিত এলাকা, এবং সিটি কর্পোরেশন বহির্ভূত এলাকার ক্ষেত্রে প্রতিটি উপজেলা এলাকায় একজন ব্যক্তিকে হিন্দু বিবাহ নিবন্ধক হিসেবে নিয়োগ প্রদান করিবে। 
 
৪(৩) ধারার বিধান অনুসারে,
হিন্দু বিবাহ নিবন্ধক হিসেবে নিয়োগ প্রাপ্তির যোগ্যতা, অধিক্ষেত্র, হিন্দু বিবাহ নিবন্ধক কর্তৃক আদায়যোগ্য ফিস এবং তৎসংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়াদি বিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে।

• হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন বিধিমালা, ২০১৩-এর ৫ রুলটিতে প্রার্থীর যোগ্যতা সম্পর্কে বলা আছে। রুল ৫ মোতাবেক হিন্দু বিবাহ নিবন্ধক হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার যোগ্য হতে হলে প্রার্থীকে-
ক) সরকার কর্তৃক স্বীকৃত বোর্ড হতে HSC পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে।
খ) কমপক্ষে ২৫ এবং অনূর্ধ্ব ৫০ বছর বয়স হতে হবে।
গ) সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দা হতে হবে।
ঘ) হিন্দু সনাতন ধর্মাবলম্বী হতে হবে (তবে, কাব্যতীর্থ/ব্যাকরণতীর্থ'রা অগ্রাধিকার পাবে।)

উল্লেখ্য যে, আইনে শুধুমাত্র একজন ব্যক্তির কথা বলা হয়েছে, সেই সাথে উল্লেখ করেছে যোগ্যতা বিধি অনুসারে নির্ধারিত হবে।তাই বিধিমালা অনুসারে, অপশন 'গ' উত্তর হিসেবে নেয়া হয়েছে।
৯৯.
কোন মামলায় "একমাত্র পুত্রকে দত্তক নেওয়া বৈধ" বলে রায় দেওয়া হয়?
  1. শ্রীবালুসু বনাম শ্রীবালুসু
  2. ভূবনময়ী বনাম রামকিশোর
  3. ঠাকুর বনাম ঠাকুর
  4. কালেক্টর মাদুরা বনাম মুট্টোরাম
সঠিক উত্তর:
শ্রীবালুসু বনাম শ্রীবালুসু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শ্রীবালুসু বনাম শ্রীবালুসু
ব্যাখ্যা
শ্রীবালুসু বনাম শ্রীবালুসু (1899) 22 Mad-308, 26 IA 113
এই মামলার বিবাদী মাদ্রাজ উপমতপন্থী হিন্দু আইনের আওতাভুক্ত কোন এক পিতার একমাত্র পুত্র ছিল। সেই অঞ্চলের এক বিধবা তাহার স্বামীর নিকটবর্তী সপিগুদের অনুমতি নিয়া উক্ত পিতার একমাত্র পুত্রকে দত্তক নেন। বিধবার মৃত স্বামীর ভাবী উত্তরাধিকারী এই মামলার বাদী উক্ত দত্তকের বৈধতা সম্পর্কে প্রশ্ন উত্থাপন করিয়া মামলা দায়ের করেন।

বিচার্য বিষয়:
১। স্বামীর অনুমতি ব্যতীত তাহার নিকটবর্তী সপিণ্ডদের সম্মতি নিয়া কোন বিধবা আইনত দত্তক নিতে পারে কিনা।
২। একমাত্র পুত্রকে দত্তক নেওয়া যায় কিনা।

রায়:
⇒ বিজ্ঞ প্রিভিকাউন্সিল সুপ্রাচীন ধর্মশাস্ত্রগুলি পর্যালোচনা করিয়া এই সিদ্ধান্তে উপনীত হন যে, মাদ্রাজ উপমতপন্থী অনুযায়ী স্বামীর মৃত্যুর পর নিকটবর্তী সপিগুদের অনুমতি স্বামীর অনুমতির ন্যায় গণ্য হইবে। অতএব প্রথম বিচার্য বিষয়টি বাদীর বিপক্ষে যাইবে।

⇒ বিজ্ঞ প্রিভি কাউন্সিল আরও সাব্যস্ত করেন যে, কোন কোন প্রাচীন মুনিঋষি একমাত্র পুত্রকে দত্তক দেওয়া বা নেওয়া সমর্থন করেন নাই সত্য, কিন্তু তাহাদের মতামত পড়িয়া বিজ্ঞ প্রিভি কাউন্সিলের এই ধারণাই জন্মে যে, বশিষ্ট সৌণক প্রমুখ মুনিগণ এই বিষয়ে যে মত দিয়েছেন তাহা নির্দেশক (recommendatory) ছিল, কোন অবস্থাতেই আদেশমূলক (mandatory) ছিল না। অতএব কেহ যদি সেই নির্দেশ উপেক্ষা করিয়া দত্তক নিয়া থাকে, তবে (Factum valet) নীতি অনুযায়ী ইহা বৈধ বিবেচিত হইবে।

⇒ নিম্ন আদালতে একমাত্র পুত্রকে দত্তক বৈধ সাব্যস্ত হয়। মাদ্রাজ হাইকোর্টে আপীলে নিম্ন আদালতের রায় বহাল থাকে। বাদী এই রায়ের অসম্মতিতে প্রিভিকাউন্সিলে আপীল দায়ের করে। প্রিভি কাউন্সিলে হাইকোর্টের রায় বহাল থাকে।
১০০.
অভিভাবকের সম্মতি ছাড়া বিবাহের ক্ষেত্রে ফ্যাক্টাম ভ্যালেট নীতি কীভাবে প্রয়োগ হয়?
  1. বিবাহটি অবৈধ বলে গণ্য হবে
  2.  বিবাহটি বৈধ বলে গৃহীত হবে
  3. বিবাহটি বাতিলযোগ্য হবে
  4. বিবাহটি শুধুমাত্র আদালতের অনুমোদন সাপেক্ষে বৈধ
সঠিক উত্তর:
 বিবাহটি বৈধ বলে গৃহীত হবে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
 বিবাহটি বৈধ বলে গৃহীত হবে
ব্যাখ্যা

হিন্দু আইনে ফ্যাক্টাম ভ্যালেট (Factum Valet) নীতিটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারণা, যা জীমুতবাহন কর্তৃক প্রবর্তিত। এই নীতির মূল বক্তব্য হলো: “Factum valet quod fieri non debuit”, অর্থাৎ, যে কাজটি করা উচিত ছিল না, কিন্তু সেটি সম্পন্ন হয়ে গেলে তাকে অবৈধ বলে গণ্য করা হবে না। এই নীতি হিন্দু আইনের দায়ভাগ এবং মিতাক্ষরা উভয় মতবাদে স্বীকৃত এবং এটি নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে আদালত কর্তৃক প্রয়োগ করা হয়। নিচে এই নীতির বিস্তারিত ব্যাখ্যা এবং প্রয়োগের ক্ষেত্রগুলো উল্লেখ করা হলো:

ফ্যাক্টাম ভ্যালেট নীতির তাৎপর্য:
এই নীতি এমন ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যেখানে কোনো কাজ নিয়ম বা বিধান লঙ্ঘন করে সম্পন্ন হয়েছে, কিন্তু তা সমাজে গ্রহণযোগ্য বা বাস্তব পরিস্থিতিতে স্বীকৃত হয়ে গেছে। এটি একটি ব্যবহারিক নীতি, যা আইনের কঠোরতাকে নমনীয় করে এবং সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য প্রয়োগ করা হয়। হিন্দু আইনে এই নীতি প্রধানত বিবাহ, দত্তক গ্রহণ এবং অন্যান্য সামাজিক ও পারিবারিক বিষয়ে প্রয়োগ হয়।

বিবাহের ক্ষেত্রে:
হিন্দু আইনে বিবাহের জন্য অভিভাবকের সম্মতি একটি নির্দেশক বিধান হিসেবে বিবেচিত হয়। যদি কোনো বিবাহ অভিভাবকের সম্মতি ছাড়া সম্পন্ন হয়, তবে ফ্যাক্টাম ভ্যালেট নীতির আলোকে সেই বিবাহকে অবৈধ বলে গণ্য করা হয় না, যদি অন্যান্য শর্ত (যেমন, বয়স, সম্প্রদায়, বিবাহযোগ্যতা) পূরণ হয়।