বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

পদার্থের অবস্থা, রাসায়নিক গঠন ও পরিবর্তন (বিক্রিয়া) এবং পর্যায়বৃত্ত ধর্ম

মোট প্রশ্ন৭৬৮এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

পদার্থের অবস্থা, রাসায়নিক গঠন ও পরিবর্তন (বিক্রিয়া) এবং পর্যায়বৃত্ত ধর্ম

PrepBank · পাতা / · ১০০ / ৭৬৮

.
H+ সংকেত দ্বারা কোন কণিকা বুঝায়? 
  1. নিউট্রন 
  2. ইলেকট্রন 
  3. পজিট্রন 
  4. প্রোটন 
সঠিক উত্তর:
প্রোটন 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রোটন 
ব্যাখ্যা

- H+ সংকেত দ্বারা মৌলিক কণিকা প্রোটনকে বুঝায়, এটি পরমাণুর নিউক্লিয়াস বা কেন্দ্রে থাকে। 

পরমাণুর মৌলিক কণিকাসমূহ: 

- যে সব সূক্ষ্ম কণিকা দ্বারা পরমাণু গঠিত তাদেরকে মৌলিক কণিকা বলা হয়। 
- পরমাণুর মৌলিক কণিকাগুলো হলো- ১. ইলেকট্রন, ২. প্রোটন ও ৩. নিউট্রন। 

প্রোটন (Proton): 
- ইলেকট্রনের মত প্রোটনও সকল মৌলের পরমাণুর একটি সাধারণ মূল কণিকা। 
- এটি পরমাণুর নিউক্লিয়াস বা কেন্দ্রে থাকে। 
- হাইড্রোজেন পরমাণু থেকে একটি ইলেকট্রন অপসারণ করলে যে ধনাত্মক বিদ্যুৎবাহী কণা পাওয়া যায় তাকেই প্রোটন বলা হয়। 
- প্রোটনের সংকেত H+ । 
- প্রোটনের ভর প্রায় হাইড্রোজেনের ভরের সমান। 
- প্রোটনের আসল ভর 1.67×10-24 g ও আধান 1.60× 10-19 C । 
- প্রোটনের আপেক্ষিক ভর 1 একক। 
- প্রোটনের আরেকটি সংকেত P । 
- প্রোটনের আপেক্ষিক আধান +1 । 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
জারণ-বিজারণ বিক্রিয়ার ক্ষেত্রে নিচের কোনটি সঠিক?
  1. জারণ বিক্রিয়ায় ইলেকট্রনের বর্জন ঘটে
  2. জারক পদার্থ ইলেক্ট্রন গ্রহণ করে
  3. জারণ - বিজারণ বিক্রিয়া একটি যুগপৎ বিক্রিয়া
  4. উপরের সবকয়টি সঠিক
সঠিক উত্তর:
উপরের সবকয়টি সঠিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবকয়টি সঠিক
ব্যাখ্যা
জারণ-বিজারণ বিক্রিয়া:

- জারণ বিক্রিয়ায় ইলেকট্রনের বর্জন ঘটে এবং বিজারণে গ্রহণ হয়।
- যে বিক্রিয়ক ইলেকট্রন গ্রহণ করে তাকে জারক (Oxidant) এবং যে বিক্রিয়ক ইলেকট্রন বর্জন করে তাকে বিজারক (Reductant) বলে।
-  জারক ইলেক্ট্রন গ্রহণ করে অন্যকে জারিত করে এবং নিজে বিজারিত হয়, বিজারক ইলেক্ট্রন ত্যাগ করে অন্যকে বিজারিত করে এবং নিজে জারিত হয়।

- জারণ - বিজারণ বিক্রিয়া একটি যুগপৎ বিক্রিয়া।

• জারণ অর্ধবিক্রিয়া: Na → Na+ + e (ইলেকট্রন দান বা জারণ);
• বিজারণ অর্ধবিক্রিয়া: Cl + e → Cl- (ইলেকট্রন গ্রহণ বা বিজারণ); 

এই দুই অর্ধবিক্রিয়াকে যোগ করলে জারণ-বিজারণ বিক্রিয়া পাওয়া যায়।
• জারণ-বিজারণ বিক্রিয়া: Na + Cl  → NaCl

উৎস: নবম-দশম শ্রেণীর রসায়ন বোর্ড বই। 
.
দহন কোন ধরনের বিক্রিয়ার অন্তর্ভুক্ত?
  1. সংযোজন
  2. বিয়োজন
  3. প্রতিস্থাপন
  4. জারণ-বিজারণ
সঠিক উত্তর:
জারণ-বিজারণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জারণ-বিজারণ
ব্যাখ্যা
• দহন বিক্রিয়া জারণ-বিজারণ বিক্রিয়ার অন্তর্ভুক্ত। 

• দহন বিক্রিয়া:
- কোনো মৌল বা যৌগকে বাতাসের অক্সিজেনের উপস্থিতিতে পুড়িয়ে তার উপাদান মৌলের অক্সাইডে পরিণত করার প্রক্রিয়াকে দহন বিক্রিয়া বলে।

• দহন বিক্রিয়ার উদাহরণ:
CH4(g) + 2O2(g) → CO2 (g) + 2H2O(g) + তাপ

- দহন বিক্রিয়ায় সব সময় তাপ উৎপন্ন হয়। এই প্রক্রিয়ায় ইলেকট্রন এর আদান-প্রদান ঘটে। 
- দহন বিক্রিয়ার প্রতিক্ষেত্রেই অক্সিজেন ইলেকট্রন গ্রহণ করে অপর যৌগ বা মৌল ইলেকট্রন ত্যাগ করে।
সুতরাং দহন বিক্রিয়া জারণ-বিজারণ বিক্রিয়ার অন্তর্ভুক্ত।

অন্যদিকে,
• সংযোজন বিক্রিয়া: যে জারণ-বিজারণ বিক্রিয়ায় দুই বা ততোধিক রাসায়নিক পদার্থ পরস্পরের সাথে যুক্ত হয়ে একটিমাত্র উৎপাদ উৎপন্ন করে তাকে সংযোজন বিক্রিয়া বলে।
- যেমন: 2FeCl2(aq) + Cl2(g) → FeCl3(aq)

• বিয়োজন বিক্রিয়া: যে বিক্রিয়ায় একটি যৌগ ভেঙে একাধিক যৌগ বা মৌলে উৎপন্ন হয় তাকে বিয়োজন বিক্রিয়া বলা হয়।
- যেমন: PCl5 →  PCl3 + Cl2

• প্রতিস্থাপন বিক্রিয়া: কোনো অধিক সক্রিয় মৌল বা যৌগমূলক অপর কোনো কম সক্রিয় মৌল বা যৌগমূলককে প্রতিস্থাপন করে নতুন যৌগ উৎপন্ন করার প্রক্রিয়াকে প্রতিস্থাপন বিক্রিয়া বলে।
- যেমন: Zn(s) + H2SO4 (l) →ZnSO4(aq) + H2(g)

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক রসায়ন, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
.
নিষ্ক্রিয় গ্যাসগুলোর সাধারণ বৈশিষ্ট্য কী?
  1. অত্যন্ত সক্রিয়
  2. যোজনী স্তর পূর্ণ
  3. ধাতব ধর্ম প্রদর্শন করে
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
যোজনী স্তর পূর্ণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যোজনী স্তর পূর্ণ
ব্যাখ্যা
• নিষ্ক্রিয় গ্যাস (Inert Gases) বা নোবেল গ্যাস (Noble Gases) পর্যায় সারণীর ১৮তম গ্রুপের মৌল।
-  এগুলোর সাধারণ বৈশিষ্ট্য হলো যোজনী স্তর পূর্ণ (Full Valence Shell), যা এদেরকে রাসায়নিকভাবে নিষ্ক্রিয় করে তোলে।

• নিষ্ক্রিয় গ্যাসের বৈশিষ্ট্য:
- যোজনী স্তর পূর্ণ:
- এদের সর্ববহিঃস্থ শেলে ইলেকট্রন সংখ্যা পূর্ণ থাকে। ফলে এদের যোজনী স্তর পূর্ণ থাকে। 
উদাহরণ: নিয়ন (Ne) এর ইলেকট্রন বিন্যাস: 1s22s22p6 (৮টি যোজনী ইলেকট্রন)।

• রাসায়নিক নিষ্ক্রিয়তা:
- যোজনী স্তর পূর্ণ থাকায় এরা সাধারণত রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশ নেয় না।
- ব্যতিক্রম: ভারী নিষ্ক্রিয় গ্যাস (যেমন: Xe, Kr) কিছু বিশেষ অবস্থায় ফ্লোরিন বা অক্সিজেনের সাথে বিক্রিয়া করে।

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক রসায়ন, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
.
স্বল্প দ্রবণীয় দ্রবের উদাহরণ কোনটি?
  1. অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট
  2. ক্যালসিয়াম কার্বনেট
  3. পটাসিয়াম নাইট্রেট
  4. সোডিয়াম ক্লোরাইড
সঠিক উত্তর:
ক্যালসিয়াম কার্বনেট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্যালসিয়াম কার্বনেট
ব্যাখ্যা

দ্রব (Solute):
- দুটি উপাদানের সমন্বয়ে উৎপন্ন দ্রবণে যে উপাদানটির আপেক্ষিক পরিমাণ কম থাকে এবং যে উপাদানটি অপর উপাদানের মধ্যে দ্রবীভূত থাকে তাকে দ্রব বলা হয়।
- খাদ্য লবণকে পানিতে দ্রবীভূত করে যে দ্রবণ প্রস্তুত করা হয় তাতে খাদ্য লবণ দ্রব।
একইভাবে,
- চিনির জলীয় দ্রবণে চিনি দ্রব।
- দ্রাবকের মধ্যে দ্রবের দ্রবীভূত হওয়ার ক্ষমতা অনুযায়ী দ্রবকে দুটি ভাগে ভাগ করা হয়।
যথা-
১। স্বল্প দ্রবণীয় দ্রব:
- এ ধরনের দ্রব দ্রাবকের মধ্যে খুবই সামান্য পরিমাণে দ্রবীভূত হয়ে সম্পৃক্ত দ্রবণ উৎপন্ন করে।
- সাধারণ তাপমাত্রায় যেসব লবণের দ্রাব্যতা 0.01 গ্রাম অণু/লিটার বা 001 mol.L-1 এর চেয়ে কম তাদের স্বল্প দ্রবণীয় দ্রব বলা হয়।
যেমন-
• সিলভার ক্লোরাইড (AgCl),
• সিলভার ব্রোমাইড (AgBr),
• সিলভার আয়োডাইড (AgI),
• সিলভার কার্বনেট (Ag2CO3),
ক্যালসিয়াম কার্বনেট (CaCO3),
• ক্যালসিয়াম ফ্লোরাইড (CaF2),
• ক্যালসিয়াম সালফেট (CaSO4),
• ক্যালসিয়াম হাইড্রক্সাইড Ca(OH)2,
• লেড ক্লোরাইড (PbCl2) ইত্যাদি।

২। অতিমাত্রায় দ্রবণীয় দ্রব:
- বেশ কিছু দ্রব আছে যারা পানিতে সম্পূর্ণভাবে দ্রবীভূত হয়ে যায়।
- এদের দ্রাব্যতা গুণ অনেক বেশি হওয়ায় এরা দ্রবণে সম্পূর্ণভাবে আয়নিত অবস্থায় থাকে।
- এ জাতীয় দ্রবের আণবিক অবস্থা ও আয়নিক অবস্থার মধ্যে কোনো সাম্যাবস্থা বিরাজ করে না।
যেমন-
সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl),
• সোডিয়াম নাইট্রেট (NaNO3),
• পটাসিয়াম ক্লোরাইড (KCI),
পটাসিয়াম নাইট্রেট (KNO3),
• অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইড (NH4CI),
অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট (NH4NO3) ইত্যাদি।

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
মৌলের নিউট্রন সংখ্যা কত?
  1. 19
  2. 20
  3. 39
  4. 58
সঠিক উত্তর:
20
উত্তর
সঠিক উত্তর:
20
ব্যাখ্যা
পারমাণবিক সংখ্যা ও ভর সংখ্যা লেখার নিয়ম: 
- কোন মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা (Z) যত তার নিউক্লিয়াসে ঠিক ততটি প্রোটন থাকে। 
- যদি কোন পরমাণুর পারমাণবিক সংখ্যা Z হয়, তবে সেই পরমাণুতে Z সংখ্যক প্রোটন ও Z সংখ্যক ইলেকট্রন আছে। 
- পরমাণুর ভর সংখ্যা যদি A হয়, তবে নিউট্রনের সংখ্যা = A - Z. 
- কোন মৌলের পরমাণুর পারমাণবিক সংখ্যা, ভর সংখ্যা নিম্ন রীতিতে দেখানো হয়। 

এখানে, 
X = মৌলের প্রতীক। 
Z = মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা। এটি প্রতীকের বাম পার্শ্বে পাদদেশে বসে। 
A = পরমাণুর ভর সংখ্যা। এটি প্রতীকের বাম পার্শ্বে শীর্ষদেশে বসে। এটি প্রোটন ও নিউট্রনের সংখ্যা যাকে নিউক্লিয়ন সংখ্যাও বলা হয়। 

পটাশিয়াম (K) মৌলের নিউট্রন সংখ্যা নির্ণয়: 

- পটাশিয়াম মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা 19 এবং 
- নিউক্লিয়ন সংখ্যা বা পারমাণুর ভর সংখ্যা 39 
অতএব, পটাশিয়ামের নিউট্রন সংখ্যা হবে = 39 - 19 = 20

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
বোরের পরমাণু মডেল কোন মূল ধারণার উপর ভিত্তি করে উদ্ভাবিত? 
  1. পাউলির বর্জন সূত্র
  2. প্লাঙ্কের কোয়ান্টাম তত্ত্ব
  3. আরহেনিয়াসের তড়িৎ বিযোজন তত্ত্ব
  4. ডাল্টনের পারমাণবিক তত্ত্ব
সঠিক উত্তর:
প্লাঙ্কের কোয়ান্টাম তত্ত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্লাঙ্কের কোয়ান্টাম তত্ত্ব
ব্যাখ্যা

• বোরের পরমাণু মডেল মূলত প্লাঙ্কের কোয়ান্টাম তত্ত্ব এর উপর ভিত্তি করে উদ্ভাবিত। প্লাঙ্ক দেখিয়েছিলেন যে তাপীয় বিকিরণ নির্দিষ্ট পরিমাণের শক্তি “কোয়ান্টাম” আকারে নিঃসৃত হয়। এই ধারণা ব্যবহার করে নীলস বোর ১৯১৩ সালে হাইড্রোজেন পরমাণুর জন্য একটি নতুন মডেল প্রস্তাব করেন। বোরের মডেল অনুযায়ী, ইলেকট্রন নির্দিষ্ট স্থির কক্ষপথে সূর্যের চারপাশে ঘুরতে পারে এবং এই কক্ষপথে অবস্থান করার সময় কোনো বিকিরণ নিঃসৃত হয় না। শুধুমাত্র ইলেকট্রন যখন একটি কক্ষপথ থেকে অন্য কক্ষপথে স্থানান্তরিত হয়, তখনই নির্দিষ্ট পরিমাণ শক্তি আলো বা ফোটনের আকারে নির্গত হয়। এটি কোয়ান্টাইজড শক্তির ধারণাকে পরমাণুর মধ্যে প্রয়োগ করার প্রথম পদক্ষেপ ছিল। তাই বোরের মডেল প্লাঙ্কের কোয়ান্টাম তত্ত্ব দ্বারা প্রভাবিত।

- সঠিক উত্তর: খ) প্লাঙ্কের কোয়ান্টাম তত্ত্ব। 

• বোরের পরমাণু মডেল (Bohr's Atomic Model):
- বোরের পরমাণু মডেল মূলত প্লাঙ্কের কোয়ান্টাম তত্ত্ব এর ধারণার উপর ভিত্তি করে উদ্ভাবিত হয়।
- নিউক্লিয়াসের চারপাশে ইলেকট্রনের কক্ষপথের শক্তি নির্দিষ্ট কোয়ান্টাম সংখ্যার (quantum number) মান অনুসারে নির্ধারিত হয়।
- ইলেকট্রন নির্দিষ্ট কক্ষপথে ঘুরে এবং সেই কক্ষপথের মধ্যে অবস্থান পরিবর্তনের সময় নির্দিষ্ট পরিমাণ শক্তি গ্রহণ বা বিকিরণ করে।
- এটি পরমাণুর স্থায়িত্ব এবং তার বিকিরণ রশ্মি বর্ণনায় সহায়ক হয়েছে।
- বোরের মডেল ক্লাসিক্যাল বৈদ্যুতিক তত্ত্বের সীমাবদ্ধতা দূর করতে সাহায্য করেছে এবং পরমাণুর কোয়ান্টাইজড প্রকৃতি প্রকাশ করেছে।

সূত্র: রসায়ন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, ড. সরোজ কান্তি সিংহ হাজারী ও অধ্যাপক হারাধন নাগ। 

.
কোনো পদার্থে ঘনীভবন প্রক্রিয়া ঘটলে তাপের কোন পরিবর্তনটি ঘটে?
  1. তাপের শোষন
  2. তাপের নির্গমন
  3. তাপের কোন পরিবর্তন ঘটে না।
  4. তাপ নির্গত হয় না
সঠিক উত্তর:
তাপের নির্গমন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তাপের নির্গমন
ব্যাখ্যা
• ঘনীভবন হল একটি তাপগতীয় প্রক্রিয়া যেখানে গ্যাস অবস্থায় থাকা কোন পদার্থ তাপ হ্রাসের কারণে তরল অবস্থায় পরিণত হয়।

-  এটি সাধারণত তাপমাত্রা হ্রাসের ফলে ঘটে, যখন গ্যাসের কণাগুলির গতির পরিমাণ কমে যায় এবং তারা একে অপরকে আকর্ষণ করে,
 ফলে তরল অবস্থায় রূপান্তরিত হয়। 

এটি একটি তাপোৎপাদী প্রক্রিয়া (Exothermic process), অর্থাৎ এই প্রক্রিয়ায় তাপের নির্গমন হয়। 

-  যখন গ্যাস তরল অবস্থায় পরিবর্তিত হয়, তখন তার আণবিক শক্তি কমে যায় এবং তাপ মুক্ত হয়।

-  এই মুক্ত তাপ পরিবেশে ছড়িয়ে পড়ে এবং তা তাপমাত্রার বৃদ্ধি ঘটায়।


তথ্যসূত্র:
- রসায়ন, ৯ম ও ১০ম শ্রেণী।
.
পানিকে রাসায়নিকভাবে ভাঙলে কোন মৌলগুলো পাওয়া যায়? 
  1. হিলিয়াম ও নাইট্রোজেন 
  2. কার্বন ও অক্সিজেন 
  3. হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন 
  4. নাইট্রোজেন ও ফসফরাস 
সঠিক উত্তর:
হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন 
ব্যাখ্যা

মৌলিক পদার্থ: 
- যে পদার্থকে ভাঙলে সেই পদার্থ ছাড়া অন্য কোনো পদার্থ পাওয়া যায় না তাকে মৌলিক পদার্থ বা মৌল বলে। 
যেমন- নাইট্রোজেন, ফসফরাস, কার্বন, অক্সিজেন, হিলিয়াম, ক্যালসিয়াম, আর্গন, ম্যাগনেসিয়াম, সালফার ইত্যাদি। 
- এই পর্যন্ত ১১৮ টি মৌল আবিষ্কৃত হয়েছে যেগুলোর মধ্যে ৯৮টি মৌল প্রকৃতিতে পাওয়া যায়, বাকি মৌলগুলো গবেষণাগারে তৈরি করা হয়েছে যেগুলোকে কৃত্রিম মৌল বলে। 

যৌগিক পদার্থ: 
- মৌলিক পদার্থকে ভাঙলে শুধু ঐ পদার্থই পাওয়া যাবে। 
- যে সকল পদার্থকে ভাঙলে দুই বা দুইয়ের অধিক মৌল পাওয়া যায় তাদেরকে যৌগ বা যৌগিক পদার্থ বলে। 
যেমন- পানিকে যদি ভাঙা হয় (অর্থাৎ রাসায়নিকভাবে বিশ্লেষণ করা যায়) তবে কিন্তু দুটি ভিন্ন মৌল হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন পাওয়া যাবে। আবার, লেখার চককে যদি ভাঙা যায় তাহলে সেখানে ক্যালসিয়াম, কার্বন ও অক্সিজেন এ তিনটি মৌল পাওয়া যাবে। 
- যৌগের মধ্যে মৌলসমূহের সংখ্যার অনুপাত সব সময় একই থাকে। 
যেমন- পানিকে রাসায়নিকভাবে বিশ্লেষণ করা হলে সব সময় দুই ভাগ হাইড্রোজেন এবং এক ভাগ অক্সিজেন পাওয়া যাবে অর্থাৎ পানিতে
হাইড্রোজেন ও অক্সিজেনের পরমাণুর সংখ্যার অনুপাত 2: 1 । 
- যৌগের ধর্ম কিন্তু মৌলসমূহের ধর্ম থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। 
যেমন- সাধারণ তাপমাত্রায় হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন গ্যাসীয় কিন্তু এদের থেকে উৎপন্ন যৌগ পানি সাধারণ তাপমাত্রায় তরল। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

১০.
নিচের কোন পদার্থ সাধারণত বিজারক হিসেবে ব্যবহৃত হয়? 
  1. হাইড্রোজেন 
  2. অক্সিজেন
  3. ক্লোরিন 
  4. ব্রোমিন 
সঠিক উত্তর:
হাইড্রোজেন 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাইড্রোজেন 
ব্যাখ্যা

- হাইড্রোজেন সাধারণত বিজারক হিসেবে ব্যবহৃত হয় কারণ এটি ইলেকট্রন ত্যাগ করে। বিজারক পদার্থ অন্য পদার্থকে বিজারিত করে এবং নিজে জারিত হয়। অন্যদিকে অক্সিজেন, ক্লোরিন এবং ব্রোমিন ইলেকট্রন গ্রহণ করে, তাই এরা জারক পদার্থ। 

বিজারক পদার্থ (Reductant): 
- জারণ-বিজারণ বিক্রিয়ার ক্ষেত্রে যে বিক্রিয়ক ইলেকট্রন দান করে তাকে বিজারক বলে অর্থাৎ বিজারক পদার্থ ইলেকট্রন দাতা। 
- বিজারক ইলেকট্রন দান করার পর নিজে জারিত হয়। 
- যে পদার্থের ইলেকট্রন দান করার প্রবণতা যত বেশি, সে পদার্থ তত বেশি বিজারকধর্মী হয়। 
যেমন- হাইড্রোজেন (H), লিথিয়াম (Li), সোডিয়াম (Na), পটাশিয়াম (K), রুবিডিয়াম (Rb) প্রত্যেকেই তীব্র বিজারক। এছাড়াও ম্যাগনেসিয়াম (Mg), ক্যালসিয়াম (Ca), সালফার ডাই-অক্সাইড (SO2), হাইড্রোজেন সালফাইড (H2S), হাইড্রোজেন পারক্সাইড (H2O2) প্রভৃতি বিজারক পদার্থ। 

জারক পদার্থ (Oxidant): 
- জারণ-বিজারণ বিক্রিয়ার ক্ষেত্রে যে বিক্রিয়ক ইলেকট্রন গ্রহণ করে তাকে জারক বলে অর্থাৎ জারক পদার্থ ইলেকট্রন গ্রহীতা। 
- জারক ইলেকট্রন গ্রহণের পর নিজে বিজারিত হয়। 
- যে পদার্থের ইলেকট্রন গ্রহণের প্রবণতা যত বেশি, সে পদার্থ তত বেশি জারকধর্মী হয়। 
যেমন- সালফার ডাই-অক্সাইড (SO2), অক্সিজেন (O), ক্লোরিন (Cl), ব্রোমিন (Br), নাইট্রিক এসিড (HNO3), সালফিউরিক এসিড (H2SO4), হাইড্রোজেন পারক্সাইড (H2O2)ইত্যাদি জারক পদার্থ। 

উল্লেখ্য, 
- সালফার ডাই-অক্সাইড (SO2) একই সাথে জারক এবং বিজারক হিসেবে কাজ করে। 
- হাইড্রোজেন পারক্সাইড (H2O2) সচরাচর জারকের মত ব্যবহার করলেও অম্লীয় বা ক্ষারীয় দ্রবণে বিজারক হিসেবে কাজ করে। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং নেতাজি সুভাষ মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, পশ্চিমবঙ্গ, ইন্ডিয়া।

১১.
নিচের কোন মৌলিক কণিকার সংখ্যা কখনো সমান কিংবা কখনো বেশি থাকে? 
  1. ইলেকট্রন 
  2. নিউট্রন 
  3. প্রোটন 
  4. পজিট্রন 
সঠিক উত্তর:
নিউট্রন 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিউট্রন 
ব্যাখ্যা

মৌলিক কণিকা: 
- যে সব সূক্ষ্ম কণিকা দ্বারা পরমাণু গঠিত তাদেরকে মৌলিক কণিকা বলা হয়। 
- পরমাণুর মৌলিক কণিকাগুলো হলো- ১. ইলেকট্রন, ২. প্রোটন ও ৩. নিউট্রন। 
- ইলেকট্রন, প্রোটন ও নিউট্রন এই তিনটি কণিকাকে পরমাণুর স্থায়ী কণিকাও বলা হয়। 
- পরমাণুর কণিকাগুলো বিভিন্ন সংখ্যায় একত্রিত হয়ে ভিন্ন ভিন্ন পরমাণু সৃষ্টি করে। 
- মৌলিক কণিকাগুলোর আধান এবং ক্ষেত্রবিশেষে ভর খুব সামান্য। 
- স্বাভাবিক অবস্থায় পরমাণুর প্রোটন ও ইলেকট্রনের সংখ্যা সমান থাকে। 
- কিন্তু নিউট্রন সংখ্যা কখনো সমান আবার কখনো বেশি থাকে। 
- পরমাণুর কেন্দ্রে নিউক্লিয়াস থাকে, আর প্রোটন ও নিউট্রন এই নিউক্লিয়াসের মধ্যে অবস্থান করে। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১২.
সাধারণ হাইড্রোজেন পরমাণুর অভ্যন্তরে কোন কণিকাগুলো বিদ্যমান?
  1. ১ টি প্রোটন ও ১ টি নিউট্রন
  2. ১ টি ইলেকট্রন, ১ টি প্রোটন ও ১ টি নিউট্রন
  3. ১ টি ইলেকট্রন ও ১ টি নিউট্রন
  4. ১ টি ইলেকট্রন ও ১ টি প্রোটন 
সঠিক উত্তর:
১ টি ইলেকট্রন ও ১ টি প্রোটন 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১ টি ইলেকট্রন ও ১ টি প্রোটন 
ব্যাখ্যা

- সাধারণ হাইড্রোজেন পরমাণুতে কোনো নিউট্রন থাকে না। হাইড্রোজেনের পারমাণবিক সংখ্যা ১, যার অর্থ এতে একটি প্রোটন রয়েছে। একটি নিরপেক্ষ পরমাণুতে প্রোটন এবং ইলেকট্রনের সংখ্যা সমান থাকে, তাই এতে একটি ইলেকট্রনও থাকে। 

পরমাণুর মূল কণিকা: 

- ঊনিশ শতকের শেষ দশকে পরমাণু অবিভাজ্য এ ধারণাটির বিলুপ্তি ঘটে এবং পরমাণু কতগুলো অতিসূক্ষ্ম কণিকার সমষ্টি বলে প্রমাণিত হয়, এসব অতিসূক্ষ্ম কণিকাকে আর বিভাজন করা যায় না এবং এরা মূল উপাদান হিসেবে সব পরমাণুতেই থাকে। এদেরকে পরমাণুর মূল কণিকা বলা হয়। 
- পরমাণুর মূল কণিকা কয়েক ধরনের হয়। 
যেমন- 
• স্থায়ী মূল কণিকা: 
- ইলেকট্রন, প্রোটন ও নিউট্রন এই তিনটি মূল কণিকা সব মৌলের পরমাণুতে থাকে, তাই এগুলোকে স্থায়ী মূল কণিকা বলা হয়। 
- শুধুমাত্র হাইড্রোজেন পরমাণুতে শুধু ১ টি ইলেকট্রন ও ১ টি প্রোটন আছে, এতে কোনো নিউট্রন নেই। 

• অস্থায়ী মূল কণিকা: 
- কিছু কিছু মূল কণিকা কোন কোন মৌলের পরমাণুতে অস্থায়ীভাবে খুব স্বল্প সময়ের জন্য বিরাজ করে। এগুলোকে অস্থায়ী মূল কণিকা বলা হয়। 
- অস্থায়ী মূলকনিকার সংখ্যা প্রায় ১০০। 
- নিউট্রিনো, অ্যান্টি নিউট্রিনো, পজিট্রন, মেসন প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য অস্থায়ী মূলকণিকা। 

• কম্পোজিট কণিকা: 
- স্থায়ী ও অস্থায়ী মূলকণিকা ছাড়াও আরও এক প্রকার কণিকা পরমাণুতে থাকে, যাদেরকে কম্পোজিট কণিকা বলা হয়। 
- আলফা কণিকা ও ডিউটেরন কণিকা ইত্যাদি কম্পোজিট কণিকার উদাহরণ। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৩.
নিচের কোন পদার্থের আন্তঃআণবিক আকর্ষণ শক্তি সবচেয়ে বেশি?
  1. হাইড্রোজেন
  2. বরফ
  3. পানি
  4. জলীয় বাষ্প
সঠিক উত্তর:
বরফ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বরফ
ব্যাখ্যা
আন্তঃআণবিক আকর্ষণ শক্তি:

• যে আকর্ষণ শক্তির জন্যে কোনো পদার্থের কণাগুলো একে অপরের সাথে যুক্ত থাকে তাকে আন্তঃআণবিক আকর্ষণ শক্তি বলে। অপরদিকে, আন্তঃআণবিক আকর্ষণ শক্তির কারণে কণাগুলোর মধ্যবর্তী দুরত্বকে আন্তঃআণবিক দুরত্ব বলে।
• কঠিন পদার্থের আন্তঃআণবিক আকর্ষণ শক্তি সবচেয়ে বেশি। 

• পদার্থের বিভিন্ন অবস্থা:

কঠিন অবস্থা:     

- নির্দিষ্ট আকার ও আয়তন আছে।
- এ পদার্থের অণুগুলোর মধ্যে আন্তঃআণবিক আকর্ষণ সবচেয়ে বেশি।
- উদাহরণ: লোহা, বরফ, কাঠ ইত্যাদি               

তরল অবস্থা:
- নির্দিষ্ট আকার নেই কিন্তু আয়তন আছে।
- এ পদার্থের অণুগুলোর মধ্যে আন্তঃআণবিক আকর্ষণ কঠিন থেকে কম কিন্তু বায়বীয় থেকে বেশি।
-  উদাহরণ: পানি, কেরোসিন ইত্যাদি।       

বায়বীয় অবস্থা:
- নির্দিষ্ট আকার ও আয়তন নেই।
-  এ পদার্থের অণুগুলোর মধ্যে আন্তঃআণবিক আকর্ষণ সবচেয়ে কম।
-  উদাহরণ: অক্সিজেন, হাইড্রোজেন ইত্যাদি।

উৎস: নবম-দশম শ্রেণি, রসায়ন।
১৪.
পরমাণুর অস্থায়ী মূল কণিকা নয় কোনটি?
  1. মেসন
  2. নিউট্রিনো
  3. অ্যান্টি নিউট্রিনো
  4. নিউট্রন
সঠিক উত্তর:
নিউট্রন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিউট্রন
ব্যাখ্যা
• নিউট্রন পরমাণুর অস্থায়ী মূল কণিকা নয় , এটি পরমাণুর স্থায়ী মূল কণিকা। 

• পরমাণু ও পরমাণুর মূল কণিকা:
- পরমাণু কতগুলো অতিসূক্ষ্ম কণিকার সমষ্টি। এ সব অতিসূক্ষ্ম কণিকাকে আর বিভাজন করা যায় না এবং এরা মূল উপাদান হিসেবে সব পরমাণুতেই থাকে। এদেরকে পরমাণুর মূল কণিকা বলা হয়।

• পরমাণুর মূল কণিকা তিন ধরনের।
যথা:
- স্থায়ী মূল কণিকা,
- অস্থায়ী মূল কণিকা,
- কম্পোজিট কণিকা।

•  স্থায়ী মূল কণিকা:
- যে সব মূল কণিকা স্থায়ীভাবে সকল মৌলের পরমাণুতেই উপস্থিত থাকে তাদেরকে স্থায়ী মূল কণিকা বলে।
- উদাহরণ- ইলেকট্রন, প্রোটন ও নিউট্রন।
- শুধুমাত্র হাইড্রোজেন পরমাণুতে ১ টি ইলেকট্রন ও ১ টি প্রোটন আছে।  এতে কোন নিউট্রন নেই।

• অস্থায়ী মূল কণিকা:
- যে সকল কণিকা কোনো কোনো মৌলের পরমাণুতে ক্ষণস্থায়ীভাবে অবস্থান করে তাকে অস্থায়ী মূল কণিকা(Temporary Core Particle) বলা হয়। 
- উদাহরণ- নিউট্রিনো, অ্যান্টি নিউট্রিনো, পজিট্রন, মেসন ইত্যাদি। 

• কম্পোজিট কণিকা (Composite particles):
- স্থায়ী ও অস্থায়ী মূলকণিকা ছাড়াও আরও এক প্রকার কণিকা পরমাণুতে থাকে, যাদেরকে কম্পোজিট কণিকা বলা হয়।
- উদাহরণ- আলফা কণিকা, ডিউটেরন কণিকা। 

তথ্যসূত্র:
- রসায়ন ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৫.
কোন মৌলের পরমাণু স্বাধীন বা মুক্ত অবস্থায় থাকতে পারে?
  1. অক্সিজেন
  2. হাইড্রোজেন
  3. নাইট্রোজেন
  4. হিলিয়াম
সঠিক উত্তর:
হিলিয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হিলিয়াম
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর : ঘ) হিলিয়াম

• পরমাণু:

- মৌলিক পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণা যা রাসয়নিক বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে তাকে পরমাণু বলে। 

• পরমাণুর বৈশিষ্ট্য: 
১. পরমাণু মৌলিক পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণা বা একক। 
২. সাধারণত পরমাণু স্বাধীনভাবে মুক্ত অবস্থায় থাকতে পারে না, তবে কিছু কিছু মৌলিক পদার্থের পরমাণু স্বাধীনভাবে থাকতে পারে। যেমন- হিলিয়াম, নিয়ন, আর্গন ইত্যাদি। 
৩. পরমাণু সরাসরি রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে। 
৪. একমাত্র হাইড্রোজেন ছাড়া সকল পদার্থের পরমাণু তিনটি কণা দিয়ে তৈরি। সেগুলো হচ্ছে ইলেকট্রন, প্রোটন এবং নিউট্রন। এই কণাগুলোকে পরমাণুর সাংগঠনিক (fundamental) বা মৌলিক কণা বলে।
৫. পরমাণুর কেন্দ্রে বা নিউক্লিয়াসে প্রোটন ও নিউট্রন থাকে এবং ইলেকট্রন নিউক্লিয়াসকে ঘিরে ঘুরতে থাকে। 


♦ নিষ্ক্রিয় গ্যাস (Noble Gases) মৌলগুলোর পরমাণু স্বাধীন বা মুক্ত অবস্থায় থাকতে পারে। এদের সর্বশেষ শক্তিস্তরে ইলেকট্রন বিন্যাস পূর্ণ থাকায় এরা অন্য কোনো পরমাণুর সাথে বিক্রিয়া করে না বা অণু গঠন করে না। যেমন: হিলিয়াম, নিয়ন, আর্গন, ক্রিপ্টন, জেনন  এবং রেডন।  
 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

১৬.
নিলস বোরের পরমাণু মডেলের নাম কী?
  1. ক) সোলার মডেল
  2. খ) লুনার মডেল
  3. গ) কিশমিশ পুডিং মডেল
  4. ঘ) কোয়ান্টাম মডেল
সঠিক উত্তর:
ঘ) কোয়ান্টাম মডেল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) কোয়ান্টাম মডেল
ব্যাখ্যা

থমসনের পরমাণু মডেলের নাম - কিশমিশ পুডিং মডেল
রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেলের নাম - সৌর মডেল
বোরের পরমাণু মডেলের নাম - কোয়ান্টাম মডেল৷

উৎসঃ পদার্থবিজ্ঞান, ২য় পত্র, ১১শ-১২শ শ্রেণি, ড. শাহজাহান তপন

১৭.
কোন পদার্থ আর্দ্রতা শোষণ করতে পারে?
  1. HCl
  2. HNO3
  3. H2O
  4. K2Cr2O7
সঠিক উত্তর:
K2Cr2O7
উত্তর
সঠিক উত্তর:
K2Cr2O7
ব্যাখ্যা

• আর্দ্রতা শোষণ: এটি এমন প্রক্রিয়া যেখানে একটি পদার্থ বায়ু থেকে জলীয় বাষ্প শোষণ করে।

K2Cr2O7 (পটাসিয়াম ডাইক্রোমেট):
- এটি একটি হাইজ্রোস্কোপিক যৌগ, অর্থাৎ এটি বাতাস থেকে আর্দ্রতা শোষণ করতে পারে।
- এই প্রক্রিয়ায় যৌগটি পানির সাথে মিশে গলে যেতে পারে।
- HNO3 (নাইট্রিক এসিড): সাধারণত সোনা গলাতে ব্যবহার করা হয়, আর্দ্রতা শোষণ প্রশ্নের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়।
- HCl (হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড): গ্যাস আকারে থাকে, আর্দ্রতা শোষণ প্রশ্নের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়।
- H₂O (পানি): এটি নিজেই পানি, শোষণ করার অর্থ নেই।

সুতরাং, আর্দ্রতা শোষণ করতে পারে K2Cr2O7

তথ্যসূত্র: NCTB মধ্যমিক রসায়ন।    

১৮.
তরল পদার্থের ক্ষেত্রে সঠিক কোনটি? 
  1. নির্দিষ্ট আকার আছে, আয়তন নেই 
  2. নির্দিষ্ট আকার ও আয়তন উভয়ই নেই 
  3. নির্দিষ্ট আকার নেই, নির্দিষ্ট আয়তন আছে 
  4. অণুগুলোর মধ্যে পারস্পরিক আকর্ষণ নেই 
সঠিক উত্তর:
নির্দিষ্ট আকার নেই, নির্দিষ্ট আয়তন আছে 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নির্দিষ্ট আকার নেই, নির্দিষ্ট আয়তন আছে 
ব্যাখ্যা

কঠিন পদার্থ: 
- কঠিন পদার্থের নির্দিষ্ট আকার ও আয়তন উভয়ই থাকে। 
- কঠিন পদার্থের অণুগুলোর মধ্যে পারস্পরিক আকর্ষণ বল খুবই তীব্র। 
যেমন- ইট, কাঠ, লোহা, সোনা, রূপা, কয়লা, চাল, গম ইত্যাদি। 

তরল পদার্থ: 
- তরল পদার্থের কোনো নির্দিষ্ট আকার নেই, তবে নির্দিষ্ট আয়তন আছে। 
- একে যখন যে পাত্রে রাখা যায় সে পাত্রের আয়তন ধারণ করে। 
- পানিকে কলসীতে রাখলে কলসীর আকার, বোতলে রাখলে বোতলের আকার, গ্লাসে রাখলে গ্লাসের আকার ধারণ করে। 
যেমন- দুধ, পানি, অ্যালকোহল, কেরোসিন তেল, নারিকেল তেল, সয়াবিন তেল ইত্যাদি এ সকল তরল পদার্থ। 

গ্যাসীয় পদার্থ: 
- গ্যাসীয় পদার্থের নির্দিষ্ট আকার বা আয়তন নেই, তবে এর নির্দিষ্ট ওজন আছে। 
- এধরনের পদার্থকে যে পাত্রেই রাখা হোক না কেন সে পাত্রকে পূর্ণ করে রাখে। 
- যে পাত্রে গ্যাসীয় উপাদানকে রাখা হয় সে পাত্রের আয়তনই তার আয়তন, সে পাত্রের আকারই তার আকার।
যেমন- অক্সিজেন, নাইট্রোজেন, হাইড্রোজেন, কার্বন ডাই-অক্সাইড, অ্যামোনিয়া ইত্যাদি সকলেই গ্যাসীয় পদার্থ। 
- গ্যাসীয় পদার্থের অণুগুলোর মধ্যে পারস্পরিক আকর্ষণ নেই বললেই চলে। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৯.
কোন পরীক্ষার মাধ্যমে প্রমাণিত হয় যে মহাবিশ্বে ইথারের কোনো অস্তিত্ব নেই?
  1. ক) বোর-রাদারফোর্ড পরীক্ষা
  2. খ) হকিং-বোস পরীক্ষা
  3. গ) মাইকেলসন-মােরলে পরীক্ষা
  4. ঘ) আইনস্টাইন-হাইজেনবার্গ পরীক্ষা
সঠিক উত্তর:
গ) মাইকেলসন-মােরলে পরীক্ষা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) মাইকেলসন-মােরলে পরীক্ষা
ব্যাখ্যা

অ্যালবার্ট মাইকেলসন ও এডওয়ার্ড মােরলে ১৮৮৭ খ্রিস্টাব্দে ইথারের অস্তিত্ব নির্ণয়ের জন্য একটি বিখ্যাত পরীক্ষা সম্পাদন করেন।
এটি মাইকেলসন-মােরলে পরীক্ষা নামে সুপরিচিত।
এই পরীক্ষার মাধ্যমে প্রমাণিত হয় যে, মহাবিশ্বে ইথারের কোনাে অস্তিত্ব নেই।
উৎসঃ পদার্থবিজ্ঞান, ২য় পত্র, ১১শ-১২শ শ্রেণি, ড. শাহজাহান তপন

২০.
একটি পরমাণুর প্রধান শক্তিস্তরে সর্বোচ্চ ইলেকট্রন থাকতে পারে- 
  1. n2
  2. 2n2
  3. 2n
  4. 3n2
সঠিক উত্তর:
2n2
উত্তর
সঠিক উত্তর:
2n2
ব্যাখ্যা

শক্তিস্তর: 
- বোর মডেলে যে শক্তিস্তরের কথা বলা হয়েছে তাকে প্রধান শক্তিস্তর বলা হয়। 
- একটি পরমাণুর প্রধান শক্তি স্তরের সর্বোচ্চ ইলেকট্রন ধারণ ক্ষমতা 2n2,(যেখানে, n = 1, 2, 3, 4 ইত্যাদি)।
- এ সূত্রানুসারে, 
• প্রথম বা K শক্তিস্তরে সর্বোচ্চ ইলেকট্রন থাকতে পারে, 2n2 
= ( 2 x 12) টি, 
= 2 টি। 

• দ্বিতীয় বা L শক্তিস্তরে সর্বোচ্চ ইলেকট্রন থাকতে পারে, 2n2 
= ( 2 x 22) টি, 
= 8 টি। 

• তৃতীয় বা M শক্তিস্তরে সর্বোচ্চ ইলেকট্রন থাকতে পারে, 2n2 
= ( 2 x 32) টি, 
= 18 টি। 

• চতুর্থ বা N শক্তিস্তরে সর্বোচ্চ ইলেকট্রন থাকতে পারে, 2n2
= ( 2 x 42) টি,
= 32 টি। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

২১.
নিচের কোন পদার্থটি ঊর্ধ্বপাতিত হয় না?
  1. বেজয়িক এসিড
  2. আয়োডিন
  3. নিশাদল
  4. বেনজিন
সঠিক উত্তর:
বেনজিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বেনজিন
ব্যাখ্যা
• বেনজিন ঊর্ধ্বপাতিত হয় না।
- কারণ এটি কঠিন নয়, বরং একটি উদ্বায়ী তরল, যা গরম করলে বাষ্পে পরিণত হয়।

• ঊর্ধ্বপাতন:

- যে প্রক্রিয়ায় কোন কঠিন পদার্থকে তাপ প্রদান করা হলে সেগুলো তরলে পরিণত না হয়ে সরাসরি বাষ্পে পরিণত হয়, সেই প্রক্রিয়াকে ঊর্ধ্বপাতন বলে।
যেমন -
• বেজয়িক এসিড,
• নিশাদল (NH4CI),
• কপূর (C10H16O),
• ন্যাপথলিন (C10H8),
• কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO₂),
• আয়োডিন (I2),
• অ্যালুমিনিয়াম ক্লোরাইড (AICI₃)।
- এই পদার্থগুলোকে তাপ প্রদান করা হলে সেগুলো তরলে পরিণত না হয়ে সরাসরি বাষ্পে পরিণত হয়।
- এই পদার্থগুলোকে ঊর্ধ্বপাতিত পদার্থ বলা হয়।

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
২২.
হাইড্রোজেন পরমাণুতে কোন কণিকা নেই? 
  1. প্রোটন
  2. নিউট্রন 
  3. ইলেকট্রন 
  4. কোনোটিই নয় 
সঠিক উত্তর:
নিউট্রন 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিউট্রন 
ব্যাখ্যা

পরমাণুর মূল কণিকা: 
- ঊনিশ শতকের শেষ দশকে পরমাণু অবিভাজ্য এ ধারণাটির বিলুপ্তি ঘটে এবং পরমাণু কতগুলো অতিসূক্ষ্ম কণিকার সমষ্টি বলে প্রমাণিত হয়। এসব অতিসূক্ষ্ম কণিকাকে আর বিভাজন করা যায় না এবং এরা মূল উপাদান হিসেবে সব পরমাণুতেই থাকে। এদেরকে পরমাণুর মূল কণিকা বলা হয়। 
- পরমাণুর মূল কণিকা কয়েক ধরনের। 
যেমন- 
স্থায়ী মূল কণিকা: 
- ইলেকট্রন, প্রোটন ও নিউট্রন এই তিনটি মূল কণিকা সব মৌলের পরমাণুতে থাকে বলে এগুলোকে স্থায়ী মূল কণিকা বলা হয়। 
- শুধুমাত্র হাইড্রোজেন পরমাণুতে শুধু ১ টি ইলেকট্রন ও ১ টি প্রোটন আছে, এতে কোনো নিউট্রন নেই। 

অস্থায়ী মূল কণিকা: 
- কিছু কিছু মূল কণিকা কোন কোন মৌলের পরমাণুতে অস্থায়ীভাবে খুব স্বল্প সময়ের জন্য বিরাজ করে। এগুলোকে অস্থায়ী মূল কণিকা বলা হয়। 
- অস্থায়ী মূলকনিকার সংখ্যা প্রায় ১০০। 
- নিউট্রিনো, অ্যান্টি নিউট্রিনো, পজিট্রন, মেসন প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য অস্থায়ী মূলকণিকা। 

কম্পোজিট কণিকা: 
- স্থায়ী ও অস্থায়ী মূলকণিকা ছাড়াও আরও এক প্রকার কণিকা পরমাণুতে থাকে, যাদেরকে কম্পোজিট কণিকা বলা হয়। 
- আলফা কণিকা ও ডিউটেরন কণিকা ইত্যাদি কম্পোজিট কণিকার উদাহরণ। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৩.
নন-রেডক্স বিক্রিয়ার প্রধান বৈশিষ্ট্য কী?
  1. ইলেকট্রন স্থানান্তর ঘটে
  2. শুধুমাত্র অক্সিডেশন ঘটে
  3. জারণ সংখ্যা পরিবর্তিত হয়
  4. জারণ সংখ্যা অপরিবর্তিত থাকে
সঠিক উত্তর:
জারণ সংখ্যা অপরিবর্তিত থাকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জারণ সংখ্যা অপরিবর্তিত থাকে
ব্যাখ্যা

নন-রেডক্স বিক্রিয়া: 
- নন-রেডক্স বিক্রিয়ার ক্ষেত্রে বিক্রিয়ার সময় মৌলের পরমাণুতে ইলেকট্রনের দান বা গ্রহণ ঘটে না। 
- এক বা একাধিক বিক্রিয়ক বিক্রিয়া করে উৎপাদে পরিণত হওয়ার সময় বিক্রিয়ক অণুতে বর্তমান মৌল সমূহের মধ্যে কোনো মৌলের পরমাণুতেই যদি ইলেকট্রন দান বা গ্রহণ না ঘটে তবে তাকে নন-রেডক্স বিক্রিয়া বলে। 
- পরমাণুতে ইলেকট্রনের দান বা গ্রহণ না ঘটার কারণে বিক্রিয়া শেষে কোনো বিক্রিয়ক বা উৎপাদ মৌলের পরমাণুর জারণ সংখ্যার হ্রাস বা বৃদ্ধি ঘটে না। 
- ইলেকট্রনের দান বা গ্রহণ ঘটে না এরূপ বিক্রিয়াকে দুই শ্রেণিতে ভাগ করা যায়। 
যথা- প্রশমন বিক্রিয়া এবং অধঃক্ষেপ বিক্রিয়া। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৪.
এরোপ্লেন ও ডুবুরিদের কাছে যে নিষ্ক্রিয় গ্যাস প্রয়োজন তা হলো-
  1. হিলিয়াম
  2. অক্সিজেন
  3. নাইট্রোজেন
  4. হাইড্রোজেন
সঠিক উত্তর:
হিলিয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হিলিয়াম
ব্যাখ্যা
হিলিয়াম: 
১। অত্যন্ত হালকা এবং অদাহ্য গ্যাস হওয়ায় পর্যবেক্ষণ বেলুন এবং উড়োজাহাজে হিলিয়াম গ্যাস ব্যবহার করা হয়। 
২। রক্তে নাইট্রোজেনের তুলনায় হিলিয়াম কম দ্রবীভূত হয়। এজন্য গভীর সমুদ্রে ডুবুরিরা বাতাসের পরিবর্তে অক্সিজেন এবং হিলিয়াম গ্যাসের মিশ্রণ শ্বাসকার্যের জন্য ব্যবহার করেন। যদি বাতাস ব্যবহার করা হয় তাহলে সমুদ্রের গভীরে উচ্চ চাপে রক্তের মধ্যে নাইট্রোজেন দ্রবীভূত হয় এবং সমুদ্র পৃষ্ঠে উঠে আসার সাথে সাথে রক্ত থেকে নাইট্রোজেন গ্যাস বুদবুদ আকারে বের হয়ে আসে যা প্রচন্ড ব্যথার সৃষ্টি করে। 
৩। যেসব ধাতু সহজে জারিত হয় সেগুলি গলানো এবং ঝালাই করার জন্য হিলিয়াম গ্যাসের নিষ্ক্রিয় আবহাওয়া সৃষ্টি করা হয়। 
৪। বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতিতে যেখানে অতি নিম্ন তাপমাত্রার প্রয়োজন হয় সেখানে তরল হিলিয়াম ব্যবহার করা হয়। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৫.
নিচের কোনটি পদার্থের অবস্থা বিবেচনা করা হয় না?
  1. কঠিন
  2. তরল
  3. প্লাজমা
  4. ভয়েড
সঠিক উত্তর:
ভয়েড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভয়েড
ব্যাখ্যা

• পদার্থের অবস্থা: 
- কঠিন, তরল এবং গ্যাস এই তিনটি ভিন্ন অবস্থার বাইরেও পদার্থের চতুর্থ আরেকটি অবস্থা আছে যার নাম প্লাজমা। 
- অণু কিংবা পরমাণুর নিউক্লিয়াসে যে কয়টি পজিটিভ চার্জের প্রোটন থাকে তার বাইরের ঠিক সেই কয়টি নেগেটিভ চার্জের ইলেকট্রন থাকে। সে কারণে একটা অণু কিংবা পরমাণুর সম্মিলিত চার্জ শূন্য। 
- বিশেষ অবস্থায় অণু কিংবা পরমাণুকে আয়নিত করে ফেলা যায়, কিছু পরমাণুর এক বা একাধিক ইলেকট্রনকে মুক্ত করে ফেলা যায়, তখন আলাদা আলাদাভাবে পরমাণুগুলো আর চার্জ নিরপেক্ষ থাকে না। ইলেকট্রন এবং আয়নের এক ধরনের মিশ্রণ তৈরি হয়। এটি যদিও গ্যাসের মতো থাকে কিন্তু গ্যাসের সব ধর্ম এর জন্য সত্যি নয়। 
যেমন- গ্যাসের কোনো নির্দিষ্ট আকার নেই কিন্তু চৌম্বক ক্ষেত্র দিয়ে প্লাজমার নির্দিষ্ট আকার তৈরি করে ফেলা যায়। 

- প্রচণ্ড তাপ দিয়ে গ্যাসকে প্লাজমা করা যায়, শক্তিশালী বৈদ্যুতিক ক্ষেত্র প্রয়োগ করেও প্লাজমা করা যায়।
- আমাদের ঘরে টিউবলাইটের ভেতর প্লাজমা তৈরি হয়, নিয়ন লাইটের যে উজ্জ্বল বিজ্ঞাপন দেখা যায় সেগুলোর ভেতরেও প্লাজমা থাকে।
- বজ্রপাত হলে যে বিজলির আলো দেখা যায় সেটিও প্লাজমা আবার দূর নক্ষত্রের মাঝে যে পদার্থ সেটিও প্লাজমা অবস্থায় আছে।
- বর্তমানে ফিশন পদ্ধতিতে ভারী নিউক্লিয়াসকে ভেঙে নিউক্লিয়ার শক্তি ব্যবহার করা হয়।
- হালকা নিউক্লিয়াসকে একত্র করে ফিউশান পদ্ধতিতে শক্তি তৈরি করার জন্য প্লাজমা ব্যবহার করার চেষ্টা করা হয় এবং এটি এখন পদার্থবিজ্ঞানের গবেষণায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র।

• ভয়েড:
- পদার্থের কণার মধ্যে ফাঁকা স্থান থাকাকে ভয়েড বা Void বলা হয়।
- প্রত্যেক পদার্থের কণার মধ্যে ছোট বা বড় পরিমাণে ভয়েড (শূন্যস্থান) থাকে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২৬.
 নিচের কোনটির স্থিতিস্থাপকতা সবচেয়ে কম?
  1. রাবার
  2. ইস্পাত
  3. হীরা
  4. পিতল
সঠিক উত্তর:
রাবার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাবার
ব্যাখ্যা

প্রদত্ত অপশনসমূহের মধ্যে রাবার সবচেয়ে কম স্থিতিস্থাপক।

স্থিতিস্থাপকতা:
- বল প্রয়োগ যদি কোনো বস্তুর আকার বা আয়তন বা উভয়েরই পরিবর্তন ঘটে অর্থাৎ বস্তু বিকৃত হয় তাহলে প্রযুক্ত বল সরিয়ে নিলে যে ধর্মের ফলে বিকৃত বস্তু আগের আকার ও আয়তন ফিরে পায় তাকে স্থিতিস্থাপকতা বলে।
- যে বস্তুর বাঁধা দেওয়ার ক্ষমতা বেশি তার স্থিতিস্থাপকতাও বেশি হবে।
- লোহা ও রাবারের মধ্যে বাঁধা দেওয়ার ক্ষমতা লোহার বেশি তাই লোহা রাবারের চেয়ে বেশি স্থিতিস্থাপক।

স্থিতিস্থাপক সীমা:
- বাহ্যিক বলের একটি নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত প্রত্যেক বস্তুই পূর্ণ স্থিতিস্থাপক।
- এই সীমাকে বস্তুটির উপাদানের স্থিতিস্থাপক সীমা বলা হয়।
- বিভিন্ন পদার্থের স্থিতিস্থাপক সীমা বিভিন্ন।
- যেমন- ইস্পাতের স্থিতিস্থাপক সীমা খুব বেশি আবার রাবারের খুব কম।

অপশনসমূহ:
- ইস্পাত: ইস্পাত রাবারের চেয়ে অনেক বেশি স্থিতিস্থাপক।
- হীরা: হীরা পৃথিবীর সবচেয়ে কঠিন এবং অত্যন্ত স্থিতিস্থাপক একটি পদার্থ।
- পিতল: পিতল একটি সংকর ধাতু যা ইস্পাত এবং হীরার চেয়ে কম স্থিতিস্থাপক হলেও রাবারের চেয়ে অনেক বেশি স্থিতিস্থাপক।

উৎস: পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. শাহজাহান তপন)।

২৭.
কোনটি কলয়েডধর্মী না?”
  1. ক) পানি
  2. খ) স্টার্চ
  3. গ) সেলুলোজ
  4. ঘ) জিলেটিন
সঠিক উত্তর:
ক) পানি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) পানি
ব্যাখ্যা
উদ্ভিদদেহের কলয়েডধর্মী পদার্থের (স্টার্চ, সেলুলোজ, জিলেটিন) পানি শোষণের প্রক্রিয়াকে ইমবাইবিশন বলে।
উৎসঃ অষ্টম শ্রেণীর বিজ্ঞান বোর্ড বই
২৮.
কোন পদার্থটি কঠিন অবস্থা থেকে তরলে রূপান্তরিত হলে আয়তনে হ্রাস পায়?
  1. মোম
  2. তামা
  3. বরফ
  4. ক ও খ
সঠিক উত্তর:
বরফ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বরফ
ব্যাখ্যা
(ক) কিছু কিছু পদার্থ কঠিন অবস্থা থেকে তরল অবস্থায় রূপান্তরের সময় আয়তন বৃদ্ধি পায় যেমন মোম, তামা ইত্যাদি।
চাপ বাড়ালে ঐসব পদার্থের গলনাঙ্ক বেড়ে যায়। অর্থাৎ বেশি তাপমাত্রায় গলে।

(খ) কিছু কিছু পদার্থ কঠিন অবস্থা থেকে তরল অবস্থায় রূপান্তরের সময় আয়তন হ্রাস পায় যেমন লোহা, বরফ, বিসমাথ ইত্যাদি। চাপ বাড়ালে ঐসব পদার্থের গলনাঙ্ক কমে যায়।
অর্থাৎ এরা কম তাপমাত্রায় গলে। 

সূত্রঃ পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৯.
কোন মৌলিক পদার্থের পারমাণবিক সংখ্যা ২৬?
  1. ক) ক্লোরিন
  2. খ) পটাশিয়াম
  3. গ) ক্যালসিয়াম
  4. ঘ) আয়রন
সঠিক উত্তর:
ঘ) আয়রন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) আয়রন
ব্যাখ্যা

ক্লোরিনের পারমাণবিক সংখ্যা 17
পটাশিয়ামের পারমাণবিক সংখ্যা 19
ক্যালসিয়ামের পারমাণবিক সংখ্যা 20
আয়রনের পারমাণবিক সংখ্যা 26

উৎসঃ পদার্থবিজ্ঞান, ২য় পত্র, ১১শ-১২শ শ্রেণি, ড. শাহজাহান তপন

৩০.
কোন পদ্ধতিতে গ্যাস পাইপের ছিদ্র দিয়ে গ্যাস বাইরে বের হয়ে যায়? 
  1. পাতন
  2. ব্যাপন
  3. নিঃসরণ
  4. ঊর্ধ্বপাতন
সঠিক উত্তর:
নিঃসরণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিঃসরণ
ব্যাখ্যা
নিঃসরণ: 
- কোনো নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় বাহ্যিক চাপের প্রভাবে পাত্রের সূক্ষ্ম ছিদ্রপথ দিয়ে কোনো উপাদানের উচ্চ চাপ অঞ্চল থেকে নিম্ন চাপ অঞ্চলে একমুখী বের হওয়ার প্রক্রিয়াকে নিঃসরণ বলা হয়। 
যেমন: রিক্সার চাকা থেকে বাতাস বের হয়ে যাওয়া, গ্যাসের পাইপের ছিদ্র দিয়ে গ্যাস বের হয়ে যাওয়া ইত্যাদি হলো নিঃসরণ। 

ব্যাপন: 
- অসম ঘনত্ব বিশিষ্ট একটি গ্যাস বা তরল অপর গ্যাস বা তরলের মধ্যে স্বাভাবিক ও স্বতঃস্ফুর্তভাবে অণু প্রবেশকে ব্যাপন বলে। 
- ঘরের মশা, আরশোলা, পিঁপড়া মারার ক্ষেত্রে আমরা যে অ্যারোসল ব্যবহার করি তা ব্যাপন প্রক্রিয়ায় চারদিকে গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। 
- প্রতিটি ক্ষেত্রে উচ্চ ঘনত্বের অঞ্চল থেকে নিম্ন ঘনত্বের অঞ্চলে উপাদানের পরিব্যাপ্তি ঘটেছে। 
- রাতের বেলা ঘরের কোনে হাসনাহেনা ফুল ফুটলে তার সুবাসও ব্যাপন প্রক্রিয়ায় চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। 
- গ্যাসীয় পদার্থের ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় যে গ্যাসের আণবিক ভর যত বেশি তার ব্যাপনের হার তত কম। আর যে গ্যাসের আণবিক ভর যত কম তার ব্যাপনের হার তত অধিক। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩১.
কোনো যৌগিক পদার্থের ১ মোল অণু বলতে কতটি অণুকে বুঝায়?
  1. 6.023×10 - 17
  2. 6.023×1017
  3. 6.023×10 - 23
  4. 6.023×1023
সঠিক উত্তর:
6.023×1023
উত্তর
সঠিক উত্তর:
6.023×1023
ব্যাখ্যা
অ্যাভোগাড্রো সংখ্যা:  
- রাসায়নিক পদার্থ পরিমাপের এসআই একক হচ্ছে মোল। 
- কোনো উপাদানের যে পরিমাণের মধ্যে অ্যাভোগেড্রো সংখ্যক অণু, পরমাণু বা আয়ন থাকে, সেই পরিমাণকে পদার্থের মোল বলে। 
- পদার্থের পারমাণবিক ভর অথবা আণবিক ভরকে গ্রাম এককে প্রকাশ করলে যে সংখ্যা মান পাওয়া যায় তার মধ্যে অ্যাভোগেড্রো সংখ্যক পরমাণু বা অণু বর্তমান থাকে। 
- অ্যাভোগেড্রো সংখ্যার মান 6.023×1023। 
- কোনো পদার্থের ১ মোল বলতে সেই পরিমাণ পদার্থকে বুঝায় যার মধ্যে ঐ পদার্থের উপাদান কণিকার সংখ্যা 6.023×1023। 
- কোনো মৌলিক বা যৌগিক পদার্থের ১ মোল অণু বলতে 6.023×1023 টি অণুকে বুঝায়। 
- আবার একইভাবে কোনো মৌলিক পদার্থের ১ মোল পরমাণু বলতে 6.023×1023 টি পরমাণু বুঝায়। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩২.
ইউরোনিয়ামের পারমাণবিক সংখ্যা -
  1. ৯২
  2. ৮৯
  3. ৯৮
  4. ৯০
সঠিক উত্তর:
৯২
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৯২
ব্যাখ্যা
পারমাণবিক সংখ্যা:
- কোন মৌলের একটি পরমাণুর নিউক্লিয়াসে যতটি প্রোটন থাকে; প্রোটনের সে সংখ্যাকে ঐ মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা বা প্রোটন সংখ্যা বলা হয়।
- প্রোটন সংখ্যাকে সাধারণত Z দ্বারা প্রকাশ করা হয়।
যেমন- সোডিয়াম পরমাণুর নিউক্লিয়াসে 11টি প্রোটন আছে। তাই সোডিয়ামের পারমাণবিক সংখ্যা হল, Z= 11।
তদ্রুপ, ক্লোরিনের পারমাণবিক সংখ্যা হল, Z = 17
- মৌলের ধর্ম এর পারমাণবিক সংখ্যার উপর নির্ভর করে।
- রাসায়নিক বিক্রিয়ার সময় পরমাণুর সর্ববহিস্থ শক্তিস্তরের ইলেকট্রনসমূহ অংশগ্রহণ করে এবং ইলেকট্রনের সংখ্যার পরিবর্তন ঘটে; কিন্তু প্রোটন সংখ্যা বা পারমাণবিক সংখ্যার কোন পরিবর্তন ঘটে না। 

অন্যদিকে, 
- ইউরোনিয়ামের (U) পারমাণবিক সংখ্যা  ৯২। 
- অ্যাক্টিনিয়ামের (Ac) পারমাণবিক সংখ্যা  ৮৯। 
- ক্যালিফোর্নিয়ামের (Cf) পারমাণবিক সংখ্যা  ৯৮।  
- থোরিয়ামের (Th) পারমাণবিক সংখ্যা ৯০।

উৎস: রসায়ন বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং রসায়ন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (হাজারী নাগ)। 
৩৩.
অকেলাসিত পদার্থ কোনটি? 
  1. চিনি
  2. কাঁচ
  3. মাইকা
  4. কোয়ার্টজ
সঠিক উত্তর:
কাঁচ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাঁচ
ব্যাখ্যা
কেলাসিত পদার্থ: 
- যে সকল কঠিন বস্তুর অণু ও পরমাণুগুলো নির্দিষ্ট ও নিয়মিত ভাবে সুসজ্জিত থাকে, তাকে কেলাসিত কঠিন বস্তু বলে। 
- কেলাসিত কঠিন বস্তুর কয়েকটি উদাহরণ হলো- কোয়ার্টজ, মাইকা, চিনি, তামা, সোডিয়াম ক্লোরাইড ইত্যাদি। 

কেলাসিত পদার্থর বৈশিষ্ট্য: 
১. কেলাসিত পদার্থতে অণু বা পরমাণুগুলো নির্দিষ্ট ক্রমে সুসজ্জিত থাকে। 
২. কেলাসিত পদার্থগুলো সমতল তল দ্বারা আবদ্ধ থাকে। 
৩. কেলাসিত পদার্থ হলো অসমসত্ত্বক। কেলাসিত পদার্থের ভৌত ধর্ম অর্থাৎ‍ তাপীয় পরিবাহিতা, তড়িৎ পরিবাহিতা, সঙ্কোচনশীলতা ইত্যাদি বিভিন্ন দিকে বিভিন্ন। 
৪. কেলাসিত পদার্থগুলো সুষম রাসায়নিক যৌগ দিয়ে গঠিত। 
৫. কেলাসিত পদার্থের নির্দিষ্ট গলনাঙ্ক আছে অর্থাৎ নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় হঠাৎ তরলে রূপান্তরিত হয়। 

অকেলাসিত পদার্থ: 
- যে সকল কঠিন বস্তুর অণু ও পরমাণুগুলো অনির্দিষ্ট ও অনিয়মিত ভাবে সজ্জিত থাকে তাকে অকেলাসিত কঠিন বস্তু বলে। 
- অকেলাসিত কঠিন বস্তুর কয়েকটি উদাহরণ হলো- কাঁচ, রবার, সালফার ইত্যাদি। 

উৎস: পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৪.
পেট্রোলের আগুন পানি দ্বারা নেভানো যায় না, কারণ-
  1. পেট্রোলের সাথে পানি মিশে যায়
  2. পেট্রোল পানির সাথে মিশে না
  3. পেট্রোল পানির চেয়ে হালকা
  4. খ ও গ উভয়ই ঠিক
সঠিক উত্তর:
খ ও গ উভয়ই ঠিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ ও গ উভয়ই ঠিক
ব্যাখ্যা
- পেট্রোল একধরনের প্রাকৃতিক হাইড্রোকার্বন যা পানির চেয়ে অনেক হালকা। 
- এজন্য পেট্রোলের আগুনে পানি দিলে পানি নিচে চলে যায় এবং তা পেট্রোলের সাথে মিশে না। 
- পেট্রোল উপরে উঠে আগুন জ্বলতেই থাকে। 
- পেট্রোলের আগুনে পানি ঢেলে দিলে পেট্রোলের আগুনের উত্তাপ অনেক বেশি হওয়ায় পানি বিশ্লিষ্ট হয়ে যায়। তাই পানি দ্বারা পেট্রােলের আগুন নেভানো যায় না।
৩৫.
মানব শরীরে মোট কত ধরনের মৌল আছে? 
  1. ৩৩ 
  2. ১৬ 
  3. ২৬ 
  4. ৫০ 
সঠিক উত্তর:
২৬ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৬ 
ব্যাখ্যা

মৌলিক পদার্থ: 
- যে পদার্থকে ভাঙলে সেই পদার্থ ছাড়া অন্য কোনো পদার্থ পাওয়া যায় না তাকে মৌলিক পদার্থ বা মৌল বলে। 
যেমন- সোনা, রূপা বা লোহা ইত্যাদি বিশুদ্ধ পদার্থকে যতই ভাঙ হউক না কেন সেখানে তাদের ক্ষুদ্রতর কণা ছাড়া আর কিছুই পাওয়া যাবে না। 
উদাহরণ- নাইট্রোজেন, ফসফরাস, কার্বন, অক্সিজেন, হিলিয়াম, ক্যালসিয়াম, আর্গন, ম্যাগনেসিয়াম ও সালফার ইত্যাদি। 
- এই পর্যন্ত ১১৮ টি মৌল আবিষ্কৃত হয়েছে যার মধ্যে ৯৮ টি মৌল প্রকৃতিতে পাওয়া যায়, বাকি মৌলগুলো গবেষণাগারে তৈরি করা হয়েছে যেগুলোকে কৃত্রিম মৌল বলা হয়। 
- মানব শরীরে মোট ২৬ ধরনের ভিন্ন ভিন্ন মৌল আছে। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

৩৬.
গ্লুকোজের স্থূল সংকেত কোনটি?
  1. CH2O
  2. C6H10O6
  3. C6H12O5
  4. C6H12O6
সঠিক উত্তর:
CH2O
উত্তর
সঠিক উত্তর:
CH2O
ব্যাখ্যা
সংকেত (Formula):  
- দুই বা ততোধিক মৌলের নির্দিষ্ট সংখ্যক পরমাণু রাসায়নিকভাবে সংযুক্ত হয়ে যৌগিক অণু গঠন করে। 
- যৌগের অণুর মধ্যে বিভিন্ন মৌলের প্রতীক ও তাদের পরমাণু সংখ্যার সাহায্যে যৌগের সংক্ষিপ্ত প্রকাশকেই যৌগের সংকেত বলা হয়। 
যেমন- পানির একটি অণুর ক্ষেত্রে দুটি হাইড্রোজেন পরমাণু ও একটি অক্সিজেন পরমাণু মিলিত হয়ে একটি পানির অণু গঠন করে। সুতরাং পানির সংকেত H2O. 
- রসায়নে অনেক ধরনের সংকেতের ব্যবহার আছে। 
যেমন- 
১। রাসায়নিক সংকেত (Chemical Formula): 
- যৌগিক অণুর ক্ষেত্রে দেখা যায় দুই বা ততোধিক মৌল বা মূলক ওদের যোজ্যতার বিপরীত অণুপাতে যুক্ত হয়ে অণুগঠন করে। 
যেমন- Al মৌলটির যোজ্যতা 3 এবং O মৌলটির যোজ্যতা 2, সুতরাং Al এর 2টি পরমাণু O এর 3 তিনটি পরমাণুর সাথে যুক্ত হয়ে অ্যালুমিনিয়াম অক্সাইড উৎপন্ন করবে। অ্যালুমিনিয়াম অক্সাইডের রাসায়নিক সংকেত Al2O3
- যৌগের অণুতে মৌল ও যৌগমূলকের যোজ্যতাভিত্তিক সংকেতকে রাসায়নিক সংকেত বলা হয়। 

২। আণবিক সংকেত (Molecular Formula): 
- কোনো অণুর মধ্যে বিভিন্ন মৌলের পরমাণুর সঠিক সংখ্যা প্রকাশের মাধ্যমে যে সংকেত প্রকাশ করা হয় তাকে আণবিক সংকেত বলা হয়। 
যেমন- অক্সিজেনের আনিবক সংকেত O2, পানির আণবিক সংকেত H2O, গ্লুকোজের আণবিক সংকেত C6H12O6

৩। স্থূল সংকেত (Empirical Formula): 
- কোনো যৌগের অণুতে বিভিন্ন মৌলের পরমাণুর প্রকৃত সংখ্যাকে প্রকাশ না করে কেবল ওদের ক্ষুদ্রতম অণুপাতকে প্রকাশ করা হয়, তখন ওই সংকেতকে ওই যৌগের স্থূল সংকেত বলা হয়। 
যেমন- গ্লুকোজ এর আণবিক সংকেত C6H12O6
- C, H ও O পরমাণুর প্রকৃত সংখ্যার অণুপাত 6 : 12 : 6 হলেও ক্ষুদ্রতম অণুপাত 1 : 2 : 1. সুতরাং গ্লুকোজের স্থূল সংকেত CH2O

৪। গাঠনিক সংকেত (Structural Formula): 
- মৌলিক ও যৌগিক পদার্থের অণুর মধ্যে বিভিন্ন পরমাণু পরস্পরের সাথে যেভাবে সংযুক্ত থাকে তা যে সংকেত এর মাধ্যমে দেখানো হয় তাকে ওই অণুর গাঠনিক সংকেত বলা হয়। 
যেমন- পানি (H2O) অণুর গাঠনিক সংকেত H-O-H, হাইড্রোজেন (H2) অণুর গাঠনিক সংকেত H-H ইত্যাদি। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৭.
কোনটি নিষ্ক্রিয় মৌল না?
  1. ক) He
  2. খ) Fe
  3. গ) Ne
  4. ঘ) Xe
সঠিক উত্তর:
খ) Fe
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) Fe
ব্যাখ্যা
He, Ne, Ar, Kr, Xe, Rn, Og এই সাতটি মৌল নিষ্ক্রিয় গ্রুপভুক্ত।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর রসায়ন বোর্ড বই
৩৮.
প্রাচুর্যতার ভিত্তিতে ভূত্বকে কোন মৌলিক পদার্থ সবচেয়ে বেশি পরিমাণে রয়েছে?
  1. অক্সিজেন
  2. নাইট্রোজেন
  3. আয়রন
  4. সিলিকন
সঠিক উত্তর:
অক্সিজেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অক্সিজেন
ব্যাখ্যা
• ভূত্বকের প্রধান উপাদান বা সবচেয়ে বেশি পরিমাণে পাওয়া যায় অক্সিজেন।

• প্রাচুর্যতার ভিত্তিতে ভূত্বকে বিভিন্ন মৌলিক পদার্থের পরিমাণ:

- ভূত্বকে অক্সিজেনের পরিমাণ - ৪২.৭%, 
- সিলিকনের পরিমাণ - ২৭.৭%,
- অ্যালুমিনিয়ামের পরিমাণ - ৮.১%,
- লোহা বা আয়রনের পরিমাণ - ৫.১%, 
- ক্যালসিয়ামের পরিমাণ - ৩.৭%
- সোডিয়ামের পরিমাণ - ২.৮%,
- পটাসিয়ামের পরিমাণ - ২.৬% এবং
- ম্যাগনেসিয়ামের পরিমাণ- ২.১%।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৩৯.
গাছের পাতা হলুদ হওয়া কোন ধরনের পরিবর্তন?
  1. ভৌত পরিবর্তন
  2. রাসায়নিক পরিবর্তন
  3. জৈব রাসায়নিক পরিবর্তন
  4. সাময়িক পরিবর্তন
সঠিক উত্তর:
রাসায়নিক পরিবর্তন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাসায়নিক পরিবর্তন
ব্যাখ্যা

পদার্থের পরিবর্তন: 
- পরিবেশে সব সময় পদার্থের দুই প্রকারের পরিবর্তন ঘটে।
- একটি হলো ভৌত পরিবর্তন ও অপরটি হলো রাসায়নিক পরিবর্তন।

ভৌত পরিবর্তন: 
- যে পরিবর্তনের ফলে কোন পদার্থের অভ্যন্তরীণ রাসায়নিক গঠনের কোন পরিবর্তন না ঘটে শুধু বাহ্যিক অবস্থার পরিবর্তন ঘটে তাকে ভৌত পরিবর্তন বলে। যেমন:
• পানিকে তাপ দিয়ে বাষ্পে পরিণত করা,
• লবণ পানিতে দ্রবীভূত হওয়া,
• বরফ গলে পানি হওয়া,
• তাপ দ্বারা মোম গলানো ইত্যাদি।

রাসায়নিক পরিবর্তন:  
- যে পরিবর্তনের ফলে পদার্থের অণুর গঠনের পরিবর্তন হয় অর্থাৎ সম্পূর্ণ নতুন পদার্থে পরিণত হয়, তাকে রাসায়নিক পরিবর্তন বলে। যেমন: 
• লোহায় মরিচা ধরা,
• দুধ থেকে দই হওয়া,
• গাছের পাতা হলুদ হওয়া,
• উদ্ভিদ, মানুষ ও অন্যান্য প্রাণীর বৃদ্ধি,
• ফল পেকে লাল বা হলুদ হওয়া ইত্যাদি।

উৎস:
১. রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি [২০১৭ সংস্করণ]।
২. রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

৪০.
কোনটি ওয়াটার গ্যাস নামে পরিচিত?
  1. হাইড্রোজেন + কার্বন-মনোঅক্সাইড
  2. হাইড্রোজেন + কার্বন-ডাই-অক্সাইড
  3. মিথেন + হাইড্রোজেন
  4. পানি + কার্বন-ডাই-অক্সাইড
সঠিক উত্তর:
হাইড্রোজেন + কার্বন-মনোঅক্সাইড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাইড্রোজেন + কার্বন-মনোঅক্সাইড
ব্যাখ্যা
• ওয়াটার গ্যাস হলো একটি গ্যাসীয় মিশ্রণ যা হাইড্রোজেন (H₂) এবং কার্বন-মনোঅক্সাইড (CO) দ্বারা গঠিত।

• ওয়াটার গ্যাস:

- এটি সাধারণত কোক বা কোলে স্টিম (বাষ্প) দ্বারা উত্তপ্ত করে প্রস্তুত করা হয়।
- এই প্রতিক্রিয়ার মাধ্যমে কোক বা কাঠের কার্বন গ্যাসের সাথে প্রতিক্রিয়া করে কার্বন-মনোঅক্সাইড এবং হাইড্রোজেন উৎপন্ন করে, যা ওয়াটার গ্যাস হিসেবে পরিচিত।
• রাসায়নিক সমীকরণ:
C (s) + H2O (স্টিম) → CO + H2(ওয়াটার গ্যাস)।

উল্লেখ্য,
কার্বন মনোক্সাইড (CO) খুব বিষাক্ত গ্যাস, এটি নীরব ঘাতক গ্যাস নামে পরিচিত এবং স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। 

উৎস: ব্রিটানিকা।
৪১.
কম্পোজিট কণিকা কোনটি? 
  1. নিউট্রিনো 
  2. ডিউটেরন 
  3. ইলেকট্রন 
  4. প্রোটন 
সঠিক উত্তর:
ডিউটেরন 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডিউটেরন 
ব্যাখ্যা

কণিকা: 
- মৌলিক পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণা, সাধারণত যার স্বাধীন অস্তিত্ব নেই, কিন্তু ক্ষুদ্রতম একক রূপে সরাসরি রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করতে পারে, তাকে পরমাণু বলে।
- প্রত্যেক মৌলের প্রতীক দ্বারা ঐ মৌলের পরমাণুকে বোঝানো হয়। 
যেমন- H দ্বারা হাইড্রোজেনের পরমাণু বোঝায়। 
- মূল উপাদানরূপে যে সব অতি সূক্ষ্ম কণিকা দ্বারা পরমাণু গঠিত, তাদেরকে পরমাণুর মূল কণিকা বলা হয়। 
- পরমাণুর মূল কণিকা কয়েক প্রকার হতে পারে। 
যথা- 
১। স্থায়ী মূল কণিকা: 
- যে সব মূল কণিকা সব মৌলের পরমাণুতে থাকে, তাদেরকে স্থায়ী মূল কণিকা বলে। স্থায়ী মূল কণিকা তিনটি। 
যেমন: ইলেকট্রন, প্রোটন ও নিউট্রন। 
 
২। অস্থায়ী মূল কণিকা: 
- যে সব মূল কণিকা কোন কোন মৌলের পরমাণুতে খুবই অল্প সময়ের জন্য অস্থায়ীভাবে থাকে, তাদেরকে অস্থায়ী মূল কণিকা বলে। 
যেমন: পাইওন, মিউওন, নিউট্রিনো, মেসন প্রভৃতি। 
- অস্থায়ী মূল কণিকাগুলো সৃষ্টির সঙ্গে সঙ্গে অন্য কণিকায় পরিণত হয়। 
 
৩। কম্পোজিট কণিকা: 
- স্থায়ী মূল কণিকা ও অস্থায়ী মূল কণিকা ব্যতিত আরও এক শ্রেণীর ভারী কণিকা বিভিন্ন পরমাণু থেকে পাওয়া যায়, এদেরকে যৌগিক কণা বা কম্পোজিট কণিকা বলে। 
যেমন: আলফা কণিকা, ডিউটেরন কণা। 
 
উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন প্রথম পত্র, হাজারী নাগ।

৪২.
ড্রাই আইস কী? 
  1. হিমায়িত ভারি পানি
  2. হিমায়িত অক্সিজেন
  3. হিমায়িত কার্বন ডাই-অক্সাইড
  4. হিমায়িত কার্বন মনো-অক্সাইড
সঠিক উত্তর:
হিমায়িত কার্বন ডাই-অক্সাইড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হিমায়িত কার্বন ডাই-অক্সাইড
ব্যাখ্যা
ড্রাই আইস: 
- শুষ্ক বরফ (Dry ice) হলো হিমায়িত কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2)। 
- শুষ্ক বরফের উর্দ্ধপাতন ঘটে, অর্থাৎ এটি তার কঠিন অবস্থান থেকে সরাসরি গ্যাসীয় অবস্থায় পরিণত হয়। 
- "শুষ্ক বরফ" আসলে কঠিন হিমায়িত কার্বন ডাই-অক্সাইড, যা -78.5° C তাপমাত্রায় (বা -109.3° ফারেনহাইট) পরমানন্দ (sublimation) প্রক্রিয়ার মাধ্যমে গ্যাসে পরিণত হয়। 
- এ কারণে এর নাম 'শুষ্ক বরফ' বা 'ড্রাই আইস'। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং ব্রিটানিকা।
৪৩.
তরল পদার্থের প্রসারণ বলতে বোঝায়- 
  1. আয়তন প্রসারণ
  2. ক্ষেত্রফল প্রসারণ
  3. দৈর্ঘ্য প্রসারণ
  4. পৃষ্ঠতল প্রসারণ
সঠিক উত্তর:
আয়তন প্রসারণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আয়তন প্রসারণ
ব্যাখ্যা
তরল পদার্থের প্রসারণ: 
- তরল পদার্থের দৈর্ঘ্য বা ক্ষেত্রফল কিছুই নেই, শুধু তরল পদার্থের আয়তন আছে। 
- তরল পদার্থের প্রসারণ বলতে তার আয়তন প্রসারণকেই বোঝায়। 
- তরল পদার্থের প্রসারণ মাপার সময় একটু সতর্ক থাকতে হয় কারণ তরল পদার্থকে সব সময়ই কোনো পাত্রে রাখতে হয়। কাজেই প্রসারণ সহগ মাপতে চাইলে যখন তরলটিকে উত্তপ্ত করার চেষ্টা করা হয়, তখন স্বাভাবিকভাবে পাত্রটিও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং পাত্রটিরও একটি প্রসারণ হয়। কাজেই পাত্রে তরল যে প্রসারণ দেখা যায় সেটা সত্যিকারের প্রসারণ না, সেটা হচ্ছে আপাত প্রসারণ। 
- কাজেই প্রকৃত প্রসারণ বের করতে হলে পাত্রের প্রসারণের ব্যাপারটা সব সময়ই মনে রাখতে হবে। 
- সাধারণত তরলের প্রসারণ কঠিন পদার্থের প্রসারণ থেকে বেশি হয়। যদি তা না হতো তাহলে আপাত প্রসারণটি হয়তো দেখা যেত না, মনে হতো আপাত সংকোচন। 
- তরল পদার্থের প্রসারণের সবচেয়ে সহজ উদাহরণ হচ্ছে থার্মোমিটার। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪৪.
নিচের কোন মৌলটির ইলেকট্রন আসক্তির মান সবচেয়ে বেশি? 
  1. Be
  2. Ca
  3. Ra
  4. Mg
সঠিক উত্তর:
Be
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Be
ব্যাখ্যা
ইলেকট্রন আসক্তি: 
- গ্যাসীয় অবস্থায় কোনো মৌলের এক মোল গ্যাসীয় পরমাণুতে এক মোল ইলেকট্রন প্রবেশ করিয়ে এক মোল ঋণাত্মক আয়নে পরিণত করতে যে শক্তি নির্গত হয়, তাকে ঐ মৌলের ইলেকট্রন আসক্তি বলে। 
- ইলেকট্রন আসক্তি একটি পর্যায়বৃত্ত ধর্ম। 
- একই পর্যায়ের বামের মৌলের পারমাণবিক ব্যাসার্ধ বেশি এবং ডানের মৌলের পারমাণবিক ব্যাসার্ধ কম। 
- পারমাণবিক ব্যাসার্ধ কমলে ইলেকট্রন আসক্তির মান বাড়ে এবং পারমাণবিক ব্যাসার্ধ বাড়লে ইলেকট্রন আসক্তির মান কমে। 
যেমন- 
- Be, Ca, Sr, Ba, Mg এবং Ra মৌলগুলো পর্যায় সারণির ২ নং গ্রুপ-এর মৌল। এই মৌলগুলোর মধ্যে Be এর পারমাণবিক ব্যাসার্ধের মান সবচেয়ে কম, এর জন্য Be এর ইলেকট্রন আসক্তির মান সবচেয়ে বেশি। আবার Ra এর পারমাণবিক ব্যাসার্ধের মান সবচেয়ে বেশি, এর জন্য Ra ইলেকট্রন আসক্তি সবচেয়ে কম। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৪৫.
সাধারণত হাইড্রোজেন বলতে হাইড্রোজেনের কোন আইসোটোপকে বোঝায়?
  1. প্রোটিয়াম
  2. ডিউটেরিয়াম
  3. ট্রিটিয়াম
  4. হাইড্রোজেন-৪
সঠিক উত্তর:
প্রোটিয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রোটিয়াম
ব্যাখ্যা
• সাধারণত হাইড্রোজেন বলতে হাইড্রোজেনের প্রথম আইসোটোপ প্রোটিয়ামকেই বোঝায়।

• আইসোটোপ:
- যে সকল পরমাণুর প্রোটন সংখ্যা সমান কিন্তু ভরসংখ্যা ও নিউট্রন সংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে একে অপরের আইসোটোপ বলে। 

• হাইড্রোজেনের সাতটি আইসোটোপ (1H, 2H, 3H, 4H, 5H, 6H এবং 7H) আছে।
- এর মধ্যে শুধু তিনটি প্রকৃতিতে পাওয়া যায়, অন্যগুলোকে ল্যাবরেটরিতে প্রস্তুত করা হয়।

• সাধারণভাবে হাইড্রোজেন বলতে প্রোটিয়ামকেই (1H) বোঝায়। 


তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক রসায়ন, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
৪৬.
মিথেনের দহন কোন ধরনের পরিবর্তন? 
  1. রাসায়নিক পরিবর্তন
  2. ভৌত পরিবর্তন 
  3. ভৌত ও রাসায়নিক পরিবর্তন উভয়ই 
  4. জৈব পরিবর্তন
সঠিক উত্তর:
রাসায়নিক পরিবর্তন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাসায়নিক পরিবর্তন
ব্যাখ্যা

- পরিবেশে সবসময় নানা ধরনের পরিবর্তন ঘটছে।  
- একটুকরা লোহাকে খোলা অবস্থায় বাতাসে কিছুদিন রেখে দিলে তার উপর এক প্রকার আবরণ পড়ে, এটিকে মরিচা বলে। আবার তাপদিলে বরফ গলে পানি হয় ও পানি এক সময়ে আরো তাপে বাষ্পে পরিণত হয়। 
- পরিবেশে সব সময় পদার্থের দুই প্রকারের পরিবর্তন ঘটে। 
যেমন- একটি হলো ভৌত পরিবর্তন ও অপরটি হলো রাসায়নিক পরিবর্তন। 
১। ভৌত পরিবর্তন (Physical Change): 
- ভৌত পরিবর্তনে কোনো নতুন অণু বা পরমাণুর সৃষ্টি হয় না, বরং পদার্থের অবস্থা (যেমন- ভৌত অবস্থা, বৈদ্যুতিক অবস্থা বা চৌম্বক অবস্থা) পরিবর্তিত হয়। 
যেমন- 
ইস্পাতের চুম্বকত্ব: 
- ইস্পাতকে চুম্বক দ্বারা ঘর্ষণ করলে এটি একসময় লোহাকে আকর্ষণ করার ক্ষমতা পায়, তবে এতে ইস্পাতের গঠন বা উপাদানে কোনো পরিবর্তন হয় না, শুধুমাত্র তার চৌম্বক অবস্থার পরিবর্তন ঘটে। 

লবণ দ্রবণ: 
- খাবার লবণ পানিতে দ্রবীভূত হয়ে দ্রবণ তৈরি হলে এবং পরে উত্তপ্ত করলে পানি বাষ্পীভূত হয়ে যায়, এবং শুধু লবণই অবশিষ্ট থাকে। এতে লবণের গঠন বা সংযোগে কোনো পরিবর্তন ঘটছে না, কেবল অবস্থার পরিবর্তন হচ্ছে।

অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইডের পরিবর্তন: 
- তাপে অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইড বাষ্পীভূত হয়ে শীতল স্থানে জমা হয়, তবে এতে কোনো নতুন উপাদান তৈরি হচ্ছে না, শুধুমাত্র অবস্থার পরিবর্তন হচ্ছে। 

২। রাসায়নিক পরিবর্তন (Chemical Change): 
- রাসায়নিক পরিবর্তনে পদার্থের পরমাণু বা আণবিক গঠন পরিবর্তিত হয় এবং নতুন পদার্থের সৃষ্টি হয়।
যেমন- 
জ্বালানি পুড়ানোর মাধ্যমে রাসায়নিক পরিবর্তন: 
- কয়লা, কাঠ, প্রাকৃতিক গ্যাস, কেরোসিন ইত্যাদি পুড়িয়ে তাপ, আলো এবং CO2 গ্যাস উৎপন্ন হয়। এই পরিবর্তনে কার্বন (C) ও অক্সিজেন (O2) একত্রিত হয়ে নতুন পদার্থ CO2 সৃষ্টি করে, এবং এতে তাপশক্তির পরিবর্তন ঘটে। 

উদ্ভিদের সালোকসংশ্লেষণ: 
- উদ্ভিদ সূর্যালোকের উপস্থিতিতে CO2 ও পানি গ্রহণ করে, এবং ক্লোরোফিলের সাহায্যে স্টার্চ বা সেলুলোজ উৎপন্ন করে। সালোকসংশ্লেষণ একটি রাসায়নিক পরিবর্তন, কারণ নতুন পদার্থের সৃষ্টি হয়। 

মিথেনের দহন: 
- মিথেন (CH4) ও অক্সিজেন (O2) জ্বালালে CO2 ও পানির (H2O) সৃষ্টি হয়, এতে মূল পদার্থের গঠন পরিবর্তিত হয়ে নতুন পদার্থের সৃষ্টি হয় যা রাসায়নিক পরিবর্তনের উদাহরণ। 

শরীরের পুষ্টি প্রক্রিয়া: 
- দেহে খাবার খাওয়ার পর পাকস্থলী ও অন্ত্রের মাধ্যমে খাবারের রাসায়নিক পরিবর্তন ঘটে, যা শক্তি ও পুষ্টি প্রদান করে। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৭.
নীচের কোনটি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিকারক?
  1. কার্বন-ডাই-অক্সাইড
  2. কার্বন মনোক্সাইড
  3. অক্সিজেন
  4. অ্যামোনিয়া
সঠিক উত্তর:
কার্বন মনোক্সাইড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কার্বন মনোক্সাইড
ব্যাখ্যা
• কার্বন মনোক্সাইড:
- দূষিত বাতাসে কার্বন মনোক্সাইড গ্যাসটি মানবদেহে রক্তের অক্সিজেন পরিবহন ক্ষমতা নষ্ট করে।
- কার্বন মনোক্সাইড ইংরেজিতে Carbon Monoxide (রাসায়নিক সংকেত: CO) হল একপ্রকার রঙ, গন্ধ এবং স্বাদহীন গ্যাস, যার ঘনত্ব বাতাসের তুলনায় কিছুটা কম।
- এক পরমাণু কার্বন ও এক পরমাণু অক্সিজেন যুক্ত হয়ে এক অণু কার্বন মনোক্সাইড গঠন করে।
- আন্তর্জাতিকভাবে এটি বিষাক্ত গ্যাস হিসেবে চিহ্নিত।

• কার্বন মনোক্সাইড বিষক্রিয়ায় মানবদেহে যে সকল সমস্যা দেখা দিতে পারে:
- দুর্বলতা,
- বমি বমি ভাব,
- মাথা ঘোরানো,
- ক্লান্তি,
- ক্ষুধা,
- মাথা ব্যাথা,
- অজ্ঞান হওয়া,
- খিঁচুনি ইত্যাদি। 

উৎস: Centers of Disease Control and Prevention website.
৪৮.
  1. ক) 17
  2. খ) 35
  3. গ) 18
  4. ঘ) 52
সঠিক উত্তর:
গ) 18
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) 18
ব্যাখ্যা

কোন পরমাণুতে ভরসংখ্যা = প্রােটন+নিউট্রন সংখ্যা, যা A দিয়ে প্রকাশ করা হয়।
যেহেতু, ভরসংখ্যা হলাে প্রােটন সংখ্যা ও নিউট্রন সংখ্যার যােগফল, কাজেই ভরসংখ্যা থেকে প্রােটন সংখ্যা বাদ দিলে পরমাণুর নিউট্রন সংখ্যা পাওয়া যাবে।

এখানে, Cl- এর ভরসংখ্যা 35 এবং প্রােটন সংখ্যা 17।
সুতরাং, নিউট্রন সংখ্যা = 35 - 17 = 18।

উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর। রসায়ন বাের্ড বই।

৪৯.
মৌলিক পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণা যা রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে তাকে বলা হয় - 
  1. অণু
  2. নিউট্রন
  3. ইলেকট্রন
  4. পরমাণু
সঠিক উত্তর:
পরমাণু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরমাণু
ব্যাখ্যা

• পরমাণু:
- মৌলিক পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণা যা রাসয়নিক বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে তাকে পরমাণু বলে।

• পরমাণুর বৈশিষ্ট্যসমূহ:
১. পরমাণু মৌলিক পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণা বা একক।
২. সাধারণত পরমাণু স্বাধীনভাবে মুক্ত অবস্থায় থাকতে পারে না, তবে কিছু কিছু মৌলিক পদার্থের পরমাণু স্বাধীনভাবে থাকতে পারে।
যেমন- হিলিয়াম, নিয়ন, আর্গন ইত্যাদি।
৩. পরমাণু সরাসরি রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে।
৪. একটি পরমাণুকে ভাঙলে ওই মৌলের আর কোন অস্তিত্বই থাকে না।

• অণু:
- মৌলিক বা যৌগিক পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণা ঐ পদার্থের ধর্মাবলী অক্ষুন্ন রেখে স্বাধীনভাবে অবস্থান করতে পারে তাকে অণু বলে। দুই বা ততোধিক পরমাণু পরস্পরের সাথে রাসায়নিক বন্ধন-এর মাধ্যমে যুক্ত হয়ে অণু গঠন করে।

• ইলেকট্রন:
ইলেকট্রন একটি অধঃ-পরমাণু মৌলিক কণা যা একটি ঋণাত্মক তড়িৎ আধান বহন করে।

• নিউট্রন:
- নিউট্রন আধানহীন (Neutral) বা চার্জ নিরপেক্ষ কণা।

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

৫০.
মোমের জ্বলনের সময় কোন গ্যাসের উৎপত্তি হয়?
  1. সালফার ডাই-অক্সাইড
  2. হাইড্রোজেন
  3. কার্বন ডাই-অক্সাইড
  4. অক্সিজেন
সঠিক উত্তর:
কার্বন ডাই-অক্সাইড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কার্বন ডাই-অক্সাইড
ব্যাখ্যা

মোমের তিন অবস্থা: 
- মোম হলো বিভিন্ন হাইড্রোকার্বনের মিশ্রণ। 
- হাইড্রোজেন এবং কার্বন মিলে গঠিত জৈব যৌগই হলো হাইড্রোকার্বন। 
- মোমের প্রজ্বলনে মোমের কঠিন, তরল এবং গ্যাসীয় এই তিনটি অবস্থাই দেখা যায়। 
- মোম বাতিতে মোমের মধ্যে একটি সুতা থাকে। এ সুতাতে আগুন জ্বালালে সুতার চারদিকে হাইড্রোকার্বন অণুগুলো তাপে গলে তরলে পরিণত হয়। অর্থাৎ, কঠিন অবস্থা থেকে তরল অবস্থায় পরিণত হয়। ঐ তরল মোম আগুনের তাপে প্রথমে বাষ্পে পরিণত হয়।
- অতপর ঐ বাষ্পীয় মোম বাতাসের অক্সিজেনের সাথে বিক্রিয়া করে কার্বন ডাই-অক্সাইড, জলীয় বাষ্প, আলো এবং তাপ উৎপন্ন করে।
- তরল মোমের কিছু অংশ ঠান্ডা হলে আবার কঠিন মোমে পরিণত হয়। 
অর্থাৎ, তাপের প্রভাবে মোমের কঠিন, তরল ও গ্যাসীয় এই তিন অবস্থারই অস্তিত্ব পাওয়া যায়। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

৫১.
ব্যাপন প্রক্রিয়াটি কোন ধরনের প্রক্রিয়া? 
  1. জৈব প্রক্রিয়া
  2. শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া
  3. ভৌত প্রক্রিয়া
  4. রাসায়নিক প্রক্রিয়া 
সঠিক উত্তর:
ভৌত প্রক্রিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভৌত প্রক্রিয়া
ব্যাখ্যা
ব্যাপন (Diffusion): 
- ঘরের এক কোণে কিছু সুগন্ধি ঢেলে দিলে তার সুগন্ধ সারা ঘরে ছড়িয়ে যায়, কারণ এর ক্ষুদ্র কণা বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে। আবার, এক গ্লাস পানিতে কিছু চিনি ছেড়ে দিলে কিছুক্ষণের মধ্যেই গ্লাসের পানি মিষ্টি হয়ে যায়। এক্ষেত্রে চিনির অণু পানিতে ছড়িয়ে পুরো পানিকে মিষ্টি স্বাদযুক্ত করে তোলে, এই প্রক্রিয়াকে ব্যাপন বলে। 
- ব্যাপন একটি ভৌত প্রক্রিয়া (Physical process)। 
- যে প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কোনো দ্রব্যের অণু বেশি ঘনত্বের এলাকা থেকে কম ঘনত্বের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে, তাকে ব্যাপন প্রক্রিয়া বলে। 
- একই তাপমাত্রা ও বায়ুমণ্ডলীয় চাপে কোনো পদার্থের বেশি ঘনত্ববিশিষ্ট দ্রবণ থেকে কম ঘনত্বের দ্রবণের দিকে দ্রাবকের ব্যাপিত হওয়ার প্রচ্ছন্ন ক্ষমতাকে ব্যাপন চাপ বলে। 
- একই বায়ু চাপে কোনো একটি দ্রবণ ও দ্রাবকের ব্যাপন চাপের পার্থক্যকে ব্যাপন চাপ ঘাটতি (Diffusion pressure deficit) বলে। 
- পাতার মেসোফিল টিস্যুতে এই ব্যাপন চাপ ঘাটতির ফলে পানির ঘাটতি আছে, এমন কোষ পাশের কোষ থেকে পানি টেনে নেয়। 
- এক কথায় উদ্ভিদের পানি শোষণে ব্যাপনের গুরুত্ব অপরিসীম। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৫২.
নিউট্রনের বৈশিষ্ট্য কোনটি? 
  1. ঋণাত্মক আধানযুক্ত 
  2. ধনাত্মক আধানযুক্ত 
  3. আধানহীন 
  4. সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
আধানহীন 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আধানহীন 
ব্যাখ্যা

মৌলিক কণিকা: 
- যে সব সূক্ষ্ম কণিকা দ্বারা পরমাণু গঠিত তাদেরকে মৌলিক কণিকা বলা হয়।  
- পরমাণুর মধ্যে তিনটি মৌলিক কণিকা থাকে। 
যেমন: ইলেকট্রন, প্রোটন ও নিউট্রন। 

নিউট্রন: 
- নিউট্রন আধানহীন বা চার্জ নিরপেক্ষ কণা। 
- বিজ্ঞানী চ্যাডউইক ১৯৩২ সালে নিউট্রন আবিষ্কার করেন। 
- ইহার ভর প্রায় প্রোটনের ভরের সমান। 
- একমাত্র হাইড্রোজেন পরমাণু ছাড়া সকল পরমাণুর নিউক্লিয়াসে নিউট্রন বিদ্যমান। 
- নিউট্রনের প্রতীক হচ্ছে n. 
- নিউট্রনের আসল ভর 1.675 × 10-24 g. 
- আপেক্ষিক আধান শূন্য। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫৩.
পানির কয়টি অবস্থা রয়েছে?
  1. দুইটি
  2. তিনটি
  3. চারটি
  4. পাঁচটি
সঠিক উত্তর:
তিনটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তিনটি
ব্যাখ্যা
পদার্থের অবস্থা: 
- রোদে ফেলে রাখা একখন্ড বরফ লক্ষ্য করেলে দেখা যায় বরফর খন্ড গলতে থাকে এবং এর চারিদিকে পানি গড়িয়ে পড়ে। 
- আর কিছুক্ষণের মধ্যে পানি বাস্প হয়ে উড়ে যেতেও দেখা যায়। 
- এই বরফ, পানি আর পানি বাষ্প তিনটিই আসলে পানির তিনটি অবস্থা যা কঠিন, তরল ও বায়বীয়। 
- সকল পদার্থেরই কঠিন, তরল ও বায়বীয় এই তিনটি অবস্থা হতে পারে। 
- পদার্থেরই কঠিন, তরল ও বায়বীয় এই তিনটি অবস্থা নির্ভর করে তাপ বা তাপমাত্রার উপর। 
- তাপ একটি শক্তি। 
- কঠিন পদার্থে তাপ প্রয়োগ করলে তাপমাত্রা বাড়ে, এবং একসময় তা তরলে রূপান্তরিত হয়, তরল পদার্থের তাপমাত্রা বাড়ালে এক পর্যায়ে তা বায়বীয় অবস্থা প্রাপ্ত হয়। বিপরীতভাবে তাপমাত্রা কমালে বায়বীয় পদার্থ তরল হয়। 
যেমন- মেঘ থেকে বৃষ্টি হয়। 
- তরল পদার্থের তাপমাত্রা কমলে এক সময় কঠিন হয়। 
যেমন- শীত প্রধান এলাকায় পানি জমে বরফ হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৪.
নিচের কোনটি বিজারক পদার্থ নয়? 
  1. লিথিয়াম 
  2. অক্সিজেন
  3. ম্যাগনেসিয়াম 
  4. পটাশিয়াম 
সঠিক উত্তর:
অক্সিজেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অক্সিজেন
ব্যাখ্যা

- লিথিয়াম, পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম সবই ইলেকট্রন দান করে, তাই এ পদার্থগুলো বিজারক। কিন্তু অক্সিজেন ইলেকট্রন গ্রহণ করে, তাই এটি জারক। 

বিজারক পদার্থ: 
- জারণ-বিজারণ বিক্রিয়ার ক্ষেত্রে যে বিক্রিয়ক ইলেকট্রন দান করে তাকে বিজারক বলে অর্থাৎ বিজারক পদার্থ ইলেকট্রন দাতা। 
- বিজারক ইলেকট্রন দান করার পর নিজে জারিত হয়। 
- যে পদার্থের ইলেকট্রন দান করার প্রবণতা যত বেশি, সে পদার্থ তত বেশি বিজারকধর্মী হয়। 
যেমন- হাইড্রোজেন (H), লিথিয়াম (Li), সোডিয়াম (Na), পটাশিয়াম (K), রুবিডিয়াম (Rb) প্রত্যেকেই তীব্র বিজারক। 
- এছাড়াও ম্যাগনেসিয়াম (Mg), ক্যালসিয়াম (Ca), H2S, H2O2, SO2 প্রভৃতি বিজারক পদার্থ। 

জারক পদার্থ: 
- জারণ-বিজারণ বিক্রিয়ার ক্ষেত্রে যে বিক্রিয়ক ইলেকট্রন গ্রহণ করে তাকে জারক বলে অর্থাৎ জারক পদার্থ ইলেকট্রন গ্রহীতা। 
- জারক ইলেকট্রন গ্রহণের পর নিজে বিজারিত হয়। 
- যে পদার্থের ইলেকট্রন গ্রহণের প্রবণতা যত বেশি, সে পদার্থ তত বেশি জারকধর্মী হয়। 
যেমন- অক্সিজেন (O2), ক্লোরিন (Cl2), ফ্লোরিন (F2), H2SO4, HNO3, H2O2, SO2 ইত্যাদি জারক পদার্থ। 

উল্লেখ্য, 
- H2O2 সচরাচর জারকের মত ব্যবহার করলেও অম্লীয় বা ক্ষারীয় দ্রবণে বিজারক হিসেবে কাজ করে। 
- SO2 একই সাথে জারক এবং বিজারক হিসেবে কাজ করে। 

উৎস: নেতাজি সুভাষ মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, পশ্চিমবঙ্গ, ইন্ডিয়া এবং রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫৫.
নিষ্ক্রিয় গ্যাস কয়টি?
  1. ৫টি
  2. ৬টি
  3. ৭টি
  4. ৮টি
সঠিক উত্তর:
৭টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৭টি
ব্যাখ্যা
• নিষ্ক্রিয় গ্যাস:
- পর্যায় সারণির 18 নং গ্রুপের মৌলসমূহকে নিষ্ক্রিয় গ্যাস (Inert Gases) বলা হয়।
- নিষ্ক্রিয় গ্যাস ৭টি।

• মৌলগুলো হলো:
- হিলিয়াম (He),
- নিয়ন (Ne),
- আর্গন (Ar),
- ক্রিপ্টন (Kr),
- জেনন (Xe),
- রেডন (Rn) এবং
- ওগানেসন (Og)।

- এগুলোর মধ্যে প্রথম ৬টি প্রকৃতিতে প্রাপ্ত।
- ওগানেসন (Og) পরীক্ষাগারে তৈরি এবং তেজস্ক্রিয়।
- এই মৌলগুলোর সবচেয়ে বাইরের শক্তিস্তরে প্রয়োজনীয় ইলেকট্রন দিয়ে পূর্ণ থাকে বলে এরা ইলেকট্রন বিনিময় বা ভাগাভাগি করে কোনো যৌগ গঠন করতে চায় না।
- রাসায়নিক বন্ধন গঠন বা রাসায়নিক বিক্রিয়ায় এরা নিষ্ক্রিয় থাকে বলে এদেরকে নিষ্ক্রিয় মৌল বা নিষ্ক্রিয় গ্যাস বলে।
- নিষ্ক্রিয় গ্যাসগুলো সাধারণ তাপমাত্রায় গ্যাস হিসেবে থাকে।

উৎস: রসায়ন, ৯ম-১০ম শ্রেণি।
৫৬.
কোন গ্রুপের মৌলগুলোকে নোবেল গ্যাস বলা হয়?
  1. গ্রুপ ১৭
  2. গ্রুপ ১৮
  3. গ্রুপ ২
  4. গ্রুপ ১
সঠিক উত্তর:
গ্রুপ ১৮
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ্রুপ ১৮
ব্যাখ্যা
• নিষ্ক্রিয় গ্যাস:
- পর্যায় সারণির যেসব মৌলের পরমাণু সমূহ ইলেকট্রন আদান, প্রদান বা শেয়ারের মাধ্যমে বন্ধন গঠন করে না তাদেরকে নিষ্ক্রিয় গ্যাস বলা হয়। 
- যৌগ গঠন না করার বৈশিষ্ট্যের কারণে এদেরকে নোবেল গ্যাস বলা হয়। 

• পর্যায় সারণির গ্রুপ ১৮ এর মৌল গুলোকে বলা হয় নিষ্ক্রিয় গ্যাস।
• এ গ্রুপের মৌল গুলো হল -
- হিলিয়াম (He),
- নিয়ন (Ne), 
- আর্গন (Ar), 
- ক্রিপটন (Kr), 
- জেনন (Xe), 
- রেডন (Rn), 
- ওগানেসন (Og)।

• গ্রুপ ১৮ এর মৌল অর্থাৎ নিষ্ক্রিয় গ্যাস গুলোকে বলা হয় নোবেল গ্যাস।

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক রসায়ন; ৯ম ও ১০ম শ্রেণী।

৫৭.
পানির ঘনত্ব কত?
  1. 1 kgm-3
  2. 1000 gm-3
  3. 1000 kgm-3
  4. 100 kgcm-3
সঠিক উত্তর:
1000 kgm-3
উত্তর
সঠিক উত্তর:
1000 kgm-3
ব্যাখ্যা
ঘনত্ব: 
- বস্তুর একক আয়তনের ভরকে তার উপাদানের ঘনত্ব বলে। 
- গাণিতিকভাবে বলা যায়, V আয়তনের কোন বস্তুর ভর m হলে ঐ বস্তুর ঘনত্ব, ρ = m/V . 
- বস্তুর ভরকে m দ্বারা, আয়তনকে V দ্বারা এবং ঘনত্বকে ρ [গ্রীক অক্ষর রো] অথবা d অথবা D অক্ষর দ্বারা প্রকাশ করা হয়। 
- ঘনত্বের একক কিলোগ্রাম প্রতি ঘনমিটার, সংক্ষেপে কিলোগ্রাম/ঘনমিটার (kg/m3)। ব্যবহারিক বা প্রায়োগিক ক্ষেত্রে ঘনত্বের একক গ্রাম প্রতি ঘন সেন্টিমিটার সংক্ষেপে গ্রাম/সিসি (g/cc অথবা gcm-3) বহুল প্রচলিত। এটি S.I এককের উপগুণিতক। 
- ভরের মাত্রাকে আয়তনের মাত্রা দিয়ে ভাগ করলে ঘনত্বের মাত্রা পাওয়া যায়। 
যেমন- [ρ] = ML-3

- তাপমাত্রার পরিবর্তন হলে একই বস্তুর আয়তন পরিবর্তন হয়, তাই ঘনত্বেরও পরিবর্তন হয়। 
- পরীক্ষা করে দেখা গেছে, পানির ঘনত্ব সব চেয়ে বেশি হয় 4° C তাপমাত্রায়। 
- 4° C থেকে তাপমাত্রা বাড়লেও পানির ঘনত্ব কমে যায়, 4° C থেকে তাপমাত্রা কমলেও পানির ঘনত্ব কমে যায়। 
- কেবল মাত্র 4° C তাপমাত্রায় 1 ঘনমিটার পানির ভর 1000 কিলোগ্রাম হয়। 
- তাই পানির ঘনত্ব 1000 kgm-3 অথবা 1gm/cc

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৮.
কোন পরমাণুতে নিউট্রন নেই? 
  1. হাইড্রোজেন 
  2. হিলিয়াম
  3. ডিউটেরিয়াম
  4. ইউরেনিয়াম 
সঠিক উত্তর:
হাইড্রোজেন 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাইড্রোজেন 
ব্যাখ্যা
• হাইড্রোজেন (H) পরমাণু:
- হাইড্রোজেন মৌলের প্রতীক H।
-  সংকেত- H2
- হাইড্রোজেনের পারমাণবিক সংখ্যা ১ এবং ভর সংখ্যাও ১।
- একটি হাইড্রোজেন পরমাণু বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, এখানে কেন্দ্রের বাইরে কক্ষপথে ১টি ইলেকট্রন এবং কেন্দ্রে ১টি প্রোটন অবস্থান করে।
- হাইড্রোজেন (প্রোটিয়াম) পরমাণুর কেন্দ্রে কোনো নিউট্রন থাকে না।
- তবে হাইড্রোজেনের অন্য দুটি আইসোটোপ- ডিউটেরিয়াম ও ট্রিটিয়াম এর ক্ষেত্রে যথাক্রমে ১টি ও ২টি করে নিউট্রন পরমাণুর কেন্দ্রে অবস্থান করে।
- হাইড্রোজেন পরমাণু বলতে স্বাভাবিকভাবে প্রোটিয়াম কেই বোঝায়।

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৫৯.
একটি গ্লাসে পানি ভর্তি করে তার উপর কাগজ রেখে উল্টিয়ে দিলে কাগজটি পড়ে যায় না। এর মূল কারণ কী?
  1. পানির চৌম্বকীয় শক্তি
  2. বায়ুমণ্ডলীয় চাপের তারতম্য
  3. পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ শক্তি
  4. কাগজের আঠালো ধর্ম
সঠিক উত্তর:
বায়ুমণ্ডলীয় চাপের তারতম্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বায়ুমণ্ডলীয় চাপের তারতম্য
ব্যাখ্যা

◉ যখন একটি গ্লাসে পানি ভর্তি করে তার মুখে কাগজ রেখে উল্টানো হয়, তখন কাগজটি পড়ে যায় না। এর মূল কারণ হলো বায়ুমণ্ডলীয় চাপ (Atmospheric Pressure)।

বায়ুমণ্ডলীয় চাপ: 
- বায়ুমণ্ডলের চাপ বাড়লে পারদ স্তম্ভের উচ্চতা বেড়ে যায়, আবার চাপ কমলে পারদ স্তম্ভের উচ্চতা কমে যায়। এভাবে পারদ স্তম্ভের উচ্চতা ব্যবহার করে বায়ুমণ্ডলীয় চাপ পরিমাপ করা যায়। 
- পৃথিবীর সর্বত্র বায়ুমণ্ডলীয় চাপ সমান নয়, আবার একই স্থানে সবসময় বায়ুমণ্ডলীয় চাপও সমান থাকে না। 
- স্থান ও সময় ভেদে বায়ুমণ্ডলের চাপ বিভিন্ন হয়। এ কারণে বায়ুতে উপস্থিত জলীয় বাষ্পের ঘনত্ব, বায়ু প্রবাহের দিক তাপমাত্রা প্রভাবিত হয়। 
- তাই কোন স্থানের বায়ুমণ্ডলের চাপের সাথে আবহাওয়ার পরিবর্তন হয়। 
- চাপ পরিমাপ যন্ত্র বা ব্যারোমিটারের সাহায্যে বায়ুমণ্ডলীয় চাপ পরিমাপ করে কোন স্থানের আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেয়া যায়। 

যেমন- 
• কোনো স্থানে ব্যারোমিটারে পারদ স্তম্ভের উচ্চতা ধীরে ধীরে কমতে থাকলে বুঝা যায় বায়ুতে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ ধীরে ধীরে বাড়ছে। কারণ জলীয় বাষ্প বায়ু থেকে হালকা। এক্ষেত্রে ঐস্থানে বা এলাকায় বৃষ্টি পাতের সম্ভাবনা। 
• যদি কোনো স্থানে পারদ স্তম্ভের উচ্চতা হঠাৎ খুব কমে যায় তাহলে বুঝতে হবে চারিদিকে বায়ুমণ্ডলের চাপ সহসা কমে গেছে এবং নিম্ন চাপের সৃষ্টি হয়েছে। তখন পার্শ্ববর্তী উচ্চ চাপের এলাকা থেকে বায়ু প্রবল বেগে ঐ স্থানে ছুটে আসবে। সুতরাং ঐ স্থানে দ্রুত ঝড়ের সম্ভাবনা। 
• ব্যারোমিটারের পারদ স্তম্ভের উচ্চতা ধীরে ধীরে বাড়তে থাকলে বুঝতে হবে ঐ স্থানে বা এলাকায় বায়ুমণ্ডলের জলীয় বাষ্প অপসারিত হয়ে শুষ্ক বাতাস বৃদ্ধি পাচ্ছে, সুতরাং আবহাওয়া শুষ্ক ও পরিষ্কার থাকবে। এভাবে ব্যারোমিটারের পাঠ দেখে আহাওয়ার পূর্বাভাস দেয়া হয়। 

Science Museum Group-এর ব্যাখ্যা অনুযায়ী:
গ্লাস উল্টানোর পর কাগজের নিচে বাইরের বায়ুমণ্ডলীয় চাপ পানি ও কাগজকে উপরের দিকে ঠেলে ধরে রাখতে সক্ষম হয়, যার ফলে পানি বের হয় না। 

উৎস:
১। পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২। The Science Museum Group.

৬০.
কোন অধাতু সাধারণ তাপমাত্রায় কঠিন থাকে?
  1. ব্রোমিন
  2. আয়োডিন
  3. ক্লোরিন
  4. পারদ
সঠিক উত্তর:
আয়োডিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আয়োডিন
ব্যাখ্যা
• আয়োডিন একটি অধাতু যা সাধারণ তাপমাত্রায় কঠিন অবস্থায় থাকে।

অন্যদিকে,
- পারদ একটি ধাতু যা সাধারণ তাপমাত্রায় তরল অবস্থায় থাকে।
- ক্লোরিন একটি অধাতু যা সাধারণ তাপমাত্রায় গ্যাস।
- ব্রোমিন হলো একমাত্র অধাতু, যা সাধারণ তাপমাত্রা ও চাপ এ তরল অবস্থায় থাকে।

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৬১.
নিচের কোন তথ্যটি ভুল?
  1. গ্রাফাইট বিদ্যুৎ সুপরিবাহী।
  2. সিলিকন বিদ্যুৎ অর্ধ-পরিবাহী।
  3. হীরক বিদ্যুৎ অপরিবাহী।
  4. কার্বনের রূপভেদ আছে, কিন্তু সিলিকনের নাই
সঠিক উত্তর:
কার্বনের রূপভেদ আছে, কিন্তু সিলিকনের নাই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কার্বনের রূপভেদ আছে, কিন্তু সিলিকনের নাই
ব্যাখ্যা
- কার্বন ও সিলিকন উভয়েই অধাতু।
- উভয় মৌলের বহুরূপতা আছে।
- সিলিকনের দানাদার ও অদানাদার দুটি রূপভেদ আছে।
-  কার্বনের অনেক রূপভেদের মধ্যে হীরক, গ্রাফাইট প্রধান রূপভেদ।

অন্যদিকে,
- গ্রাফাইট বিদ্যুৎ সুপরিবাহী।
- সিলিকন বিদ্যুৎ অর্ধ-পরিবাহী।
- হীরক বিদ্যুৎ অপরিবাহী।
উপরের সবগুলো তথ্যই সঠিক।
 
উৎস: রসায়ন ১ম পত্র, একাদশ - দ্বাদশ শ্রেণি।
৬২.
৪র্থ শেলে সর্বোচ্চ ইলেকট্রন ধারণ ক্ষমতা কত?
  1. 2
  2. 8
  3. 32
  4. 18
সঠিক উত্তর:
32
উত্তর
সঠিক উত্তর:
32
ব্যাখ্যা
বোর তত্ত্বের উপর ভিত্তি করে ইলেকট্রন বিন্যাসের নিয়ম: 
- বোর তত্ত্বানুসারে ইলেকট্রনসমূহ তাদের নিজ নিজ শক্তি অনুযায়ী নিউক্লিয়াসের চারিদিকে কতগুলো অনুমোদিত কক্ষপথ বা শক্তিস্তরে পরিভ্রমণ করে, এইরূপ শক্তিস্তরকে প্রধান শক্তিস্তর বলে। 
- প্রত্যেক পরমাণুতে একাধিক প্রধান শক্তিস্তর বিদ্যমান। 
- প্রধান শক্তিস্তরগুলোকে n দ্বারা চিহ্নিত করা হয়। n = ১ হলে ১ম শক্তিস্তর বা K- শেল যা নিউক্লিয়াসের সবচেয়ে কাছে অবস্থান করে। পরবর্তী উচ্চতর শক্তিস্তরগুলো যথাক্রমে ২য় শক্তিস্তর বা L- শেল, ৩য় শক্তিস্তর বা M- শেল, ৪র্থ শক্তিস্তর বা N- শেল ইত্যাদি। 
- নিউক্লিয়াস থেকে পরবর্তী শেলগুলোর দুরত্ব ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পেতে থাকে। 
- নিউক্লিয়াসের সবচেয়ে নিকটতম শেলটি সবচেয়ে কম শক্তিসম্পন্ন। 
- দুরত্ব যত বাড়ে, শেল তত শক্তি সম্পন্ন হয়। 
- ইলেকট্রন সর্বদা কম শক্তিসম্পন্ন স্তরে অবস্থান করে। তবে, শক্তি শোষণের মাধ্যমে উচ্চ শক্তি সম্পন্ন স্তরে যেতে পারে। 
- প্রতিটি শেলে সর্বাধিক 2n2 সংখ্যক ইলেকট্রন (n = 1, 2, 3......) থাকতে পারে। 
• ১ম শেলে (K- শেল) অর্থাৎ n = 1 শেলে সর্বোচ্চ ইলেকট্রন ধারণ ক্ষমতা = 2n2 = 2 × (1)2 = 2 টি, 
• ২য় শেলে (L- শেল) অর্থাৎ n = 2 শেলে সর্বোচ্চ ইলেকট্রন ধারণ ক্ষমতা = 2n2 = 2 × (2)2 = 8 টি, 
• ৩য় শেলে (M- শেল) অর্থাৎ n = 3 শেলে সর্বোচ্চ ইলেকট্রন ধারণ ক্ষমতা = 2n2 = 2 × (3)2 = 18 টি এবং 
৪র্থ শেলে (N- শেল) অর্থাৎ n = 4 শেলে সর্বোচ্চ ইলেকট্রন ধারণ ক্ষমতা = 2n2 = 2 × (4)2 = 32 টি । 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৩.
পর্যায় সারণিতে বাম থেকে ডানে গেলে পরমাণুর আকারে কী পরিবর্তন হয়?
  1. বৃদ্ধি পায়
  2. হ্রাস পায়
  3. অপরিবর্তিত থাকে
  4. প্রথমে বৃদ্ধি পায় পরে হ্রাস পায়
সঠিক উত্তর:
হ্রাস পায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হ্রাস পায়
ব্যাখ্যা
• পর্যায় সারণিতে বাম থেকে ডানে গেলে পরমাণুর আকার হ্রাস পায়। 

• পর্যায় সারণি:

- যে সারণির মাধ্যমে মৌলিক পদার্থগুলোকে তাদের পারমাণবিক সংখ্যা (atomic number) এবং ভৌত ও রাসায়নিক ধর্মের ভিত্তিতে কতকগুলো ছকে সাজানো হয় তাকে পর্যায় সারণি বলা হয়। 

• পর্যায় সারণিতে ৭ টি পর্যায় ও ১৮ টি গ্রুপ রয়েছে। 
- পর্যায় সারণিতে একই পর্যায়ে বাম থেকে ডানে গেলে মৌলের ইলেকট্রন সংখ্যা বৃদ্ধি পেলেও বহিঃস্থ স্তর সংখ্যা একই থাকে।
- এর ফলে যেসব পরিবর্তন হয় তা নিম্নরূপ:
→ পারমাণবিক ব্যাসার্ধ:
- পারমাণবিক সংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে নিউক্লিয়াসের চার্জ বাড়ে, যা ইলেকট্রন ঘনত্বকে নিউক্লিয়াসের দিকে আকর্ষণ করে এবং এর ফলে পারমাণবিক ব্যাসার্ধ হ্রাস পায়।  
- ফলে পরমাণুর আকার হ্রাস পায়। 
→ ধাতব ধর্ম:
- একই পর্যায়ে বাম থেকে ডানে গেলে ধাতব ধর্ম হ্রাস পায়, কারণ পরমাণুগুলোর ইলেকট্রন ত্যাগ করার প্রবণতা হ্রাস পায়।  
→ অধাতব ধর্ম:
- অধাতব ধর্ম বৃদ্ধি পায়, কারণ পরমাণুগুলোর ইলেকট্রন গ্রহণ করার প্রবণতা বৃদ্ধি করে।  
→ তড়িৎ ঋণাত্মকতা:
- তড়িৎ ঋণাত্মকতা বৃদ্ধি পায়, কারণ পরমাণুগুলোর ইলেকট্রনকে নিজের দিকে আকর্ষণ করার প্রবণতা বাড়ে।  
→ ইলেকট্রন আসক্তি:
- ইলেকট্রন আসক্তি বাড়ে, কারণ পরমাণুগুলো সহজে একটি অতিরিক্ত ইলেকট্রন গ্রহণ করতে পারে। 

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক রসায়ন, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
৬৪.
আধুনিক পর্যায় সারণিতে মোট কতটি গ্রুপ আছে? 
  1. ৭ 
  2. ৮ 
  3. ১৮
  4. ২০ 
সঠিক উত্তর:
১৮
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮
ব্যাখ্যা

আধুনিক পর্যায় সারণি: 
- ১৯১৪ সালে বিজ্ঞানী বোর মৌলের পরমাণুর ইলেকট্রন বিন্যাসের ভিত্তিতে বিস্তৃত আকারে একটি পর্যায় সারণি তৈরি করেন। এটি দীর্ঘ পর্যায় সারণি বা বোরের সারণি নামেও পরিচিত।
- বোরের পর্যায় সারণিকে আধুনিক পর্যায় সারণি বলা হয়। 
- মৌলের পরমাণুর ইলেকট্রন বিন্যাসই পর্যায় সারণির মূল ভিত্তি। 
- আধুনিক পর্যায় সারণির মৌলগুলোকে পর্যায় ও গ্রুপ বরাবর ভাগ করা হয়েছে। 
- সমগ্র আধুনিক পর্যায় সারণিকে ৭টি পর্যায় ও ১৮টি গ্রুপ হিসেবে ভাগ করা রয়েছে। 
- প্রতিটি পর্যায়ের বাম দিক থেকে গ্রুপ-১ এর মৌল দিয়ে শুরু করে গ্রুপ-১৮ তে গিয়ে শেষ হয়েছে। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬৫.
স্বর্ণপাতের উপর আলফা কণার বিক্ষেপণের মাধ্যমে পরমাণুতে নিউক্লিয়াসের উপস্থিতি প্রমাণ করেন কে?
  1. রাদারফোর্ড
  2. জন ডাল্টন
  3. নিলস বোর
  4. ডেমোক্রিটাস
সঠিক উত্তর:
রাদারফোর্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাদারফোর্ড
ব্যাখ্যা
পরমাণুর মৌলিক ধারণা: 
- সর্বপ্রথম খ্রিষ্টপূর্ব ৪৬০ অব্দে গ্রিক দার্শনিক লুসিপাস এবং ডেমোক্রিটাস হামান দিস্তার সাহায্যে পদার্থকে অতি সূক্ষ্ম কণায় পরিণত করেন। 
- তিনি এ সূক্ষ্ম কণার নাম দেন অ্যাটমা যার অর্থ অবিভাজ্য অর্থাৎ পদার্থ অতি সূক্ষ্ম অসংখ্য কণার সমন্বয়ে গঠিত। 
- প্রায় একই সময়ে ভারতের বিজ্ঞানী আচার্য কণাদ ডেমোক্রিটাসের মতবাদকে সমর্থন করেন। 
- ১৮০৩ সালে ব্রিটিশ স্কুল শিক্ষক জন ডাল্টন বলেন পরমাণু অবিভাজ্য একে সৃষ্টি বা ধ্বংস করা যায় না।  
- ১৮০৮ সালে জন ডাল্টন প্রস্তাব করেন যে, মৌলিক পদার্থগুলো অবিভাজ্য। যা অতিশয় ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র কণার সমন্বয়ে গঠিত, এ ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র কণাকে পরমাণু বলে। 
- পরবর্তীতে ১৮৯৮ সালে জোসেফ জন থমসন পরমাণুর গঠন সম্পর্কে প্রস্তাব করেন যে, পরমাণু একটি গোলক বিশেষ যার সবদিকে সমানভাবে ধনাত্মক আধান বিস্তৃত। 
- ইলেকট্রনসমূহ এ গোলকের অভ্যন্তরে এমনভাবে সজ্জিত থাকে যে, গোলকের কেন্দ্রের প্রতি এদের আকর্ষণ এবং বিকর্ষণ পরস্পর সমান। 
- ১৯০৪ সালে থমসন তাঁর প্রস্তাবিত পরমাণুর গঠন সম্পর্কিত ধারণাকে আরও উন্নত করেন এবং বলেন যে, “পরমাণু ইলেকট্রনের সমন্বয়ে গঠিত যা স্থিতিস্থাপক গোলকের স্যুপে অবস্থিত ধনাত্মক চার্জকে প্রশমিত করে, যা Plum Pudding Model নামে পরিচিত। 
- ১৯১১ সালে বিজ্ঞানী আর্নেস্ট রাদারফোর্ড বলেন যে, পরমাণু বিভাজ্য, একে বিভাজিত করলে ইলেকট্রন, প্রোটন, নিউট্রন ইত্যাদি কণিকা পাওয়া যায়। 
- বিজ্ঞানী আর্নেস্ট রাদারফোর্ড স্বর্ণপাতের উপর α-কণার বিক্ষেপণের মাধ্যমে পরমাণুতে নিউক্লিয়াসের উপস্থিতি প্রমাণ করেন। 
- সর্বশেষ ১৯১৩ সালে নিলস বোর রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেলের আরও উৎকর্ষ সাধন করেন। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৬.
উদ্ভিদের সালোকসংশ্লেষণ এক ধরনের -
  1. জারণ বিজারণ বিক্রিয়া
  2. বিজারণ বিক্রিয়া
  3. জারণ বিক্রিয়া
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
জারণ বিজারণ বিক্রিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জারণ বিজারণ বিক্রিয়া
ব্যাখ্যা
সালোকসংশ্লেষণ
- যে জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় সবুজ উদ্ভিদ শর্করা জাতীয় খাদ্য তৈরি করে তাকে বলা হয় সালোকসংশ্লেষণ।
- এটি একটি শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া। 
- সজীব উদ্ভিদ কোষস্থ ক্লোরোফিল সূর্যের আলোকশক্তিকে ATP এবং NADPH+H' নামক রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে এবং ঐ রাসায়নিক শক্তিকে কাজে লাগিয়ে CO2 বিজারণের মাধ্যমে শর্করা জাতীয় খাদ্য প্রস্তুত করে ও উপজাত হিসেবে O2 নির্গত করে।
- এ প্রক্রিয়ায় দরকার হয় কার্বন ডাইঅক্সাইড, পানি, সূর্যালোক এবং ক্লোরোফিল। উৎপন্ন হয় শর্করা (গ্লুকোজ)। এ বিক্রিয়ায় উপজাত দ্রব্য হিসেবে অক্সিজেন ও পানি উৎপন্ন হয়।
- সূর্যালোকের দরকার হয় মূল শক্তির জন্য এবং ক্লোরোফিল দরকার হয় সূর্য শক্তিকে শোষণ করে রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরের জন্য। সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় সবুজ উদ্ভিদে তৈরিকৃত খাদ্য উদ্ভিদ নিজে বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় বিপাকীয় প্রক্রিয়া সম্পাদন করতে ব্যবহার করে এবং অবশিষ্ট খাদ্য ফল, মূল, কান্ড অথবা পাতায় সঞ্চিত হয়।
- পাতার মেসোফিল টিস্যু সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার প্রধান স্থান।
- সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় পানি জারিত হয় এবং কাবন ডাইঅক্সাইড বিজারিত হয়। তাই একে একটি জারণ বিজারণ বিক্রিয়া বলা হয়। 

সূত্র: জীববিজ্ঞান ১ম পত্র(উদ্ভিদবিজ্ঞান), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
৬৭.
নিচের কোন মৌলটির প্রতীক এদের ল্যাটিন নাম থেকে নেয়া হয় নি?
  1. ক) I
  2. খ) Au
  3. গ) Pb
  4. ঘ) Fe
সঠিক উত্তর:
ক) I
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) I
ব্যাখ্যা
গোল্ডের প্রতীক Au নেয়া হয়েছে ল্যাটিন Aurum থেকে, লেড এর প্রতীক Pb নেয়া হয়েছে ল্যাটিন Plumbum থেকে।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর রসায়ন বোর্ড বই
৬৮.
পরমাণু আধান নিরপেক্ষ হওয়ার কারণ কী? 
  1. নিউট্রন সংখ্যা বেশি 
  2. প্রোটন সংখ্যা ইলেকট্রনের চেয়ে বেশি 
  3. ইলেকট্রনের ভর খুব কম 
  4. প্রোটন ও ইলেকট্রনের সংখ্যা সমান 
সঠিক উত্তর:
প্রোটন ও ইলেকট্রনের সংখ্যা সমান 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রোটন ও ইলেকট্রনের সংখ্যা সমান 
ব্যাখ্যা

মৌলিক কণিকা: 
- যে সব সূক্ষ্ম কণিকা দ্বারা পরমাণু গঠিত তাদেরকে মৌলিক কণিকা বলা হয়। 
- পরমাণুর মধ্যে তিনটি মৌলিক কণিকা থাকে। 
যেমন- ১। ইলেকট্রন, ২। প্রোটন ও ৩। নিউট্রন। 
- পরমাণুর কেন্দ্রে নিউক্লিয়াস থাকে। 
- আর পরমাণুর নিউক্লিয়াসে প্রোটন ও নিউট্রন অবস্থান করে। 
- ইলেকট্রন নিউক্লিয়াসের বাহিরে থাকে এবং তার চারদিকে ঘূর্ণায়মান থাকে।‌ 
- পরমাণু আধান নিরপেক্ষ, কারণ একটি পরমাণুতে যতটি প্রোটন আছে ততটি ইলেকট্রনও আছে। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬৯.
অক্সিজেনের যোজ্যতা কত?
  1. 1
  2. 2
  3. 3
  4. 4
সঠিক উত্তর:
2
উত্তর
সঠিক উত্তর:
2
ব্যাখ্যা

• অক্সিজেনের যোজ্যতা হলো 2। অর্থাৎ, এটি সর্বাধিক দুটি একক বা সমমানের বন্ধন তৈরি করতে পারে।

• যোজ্যতা:
- যোজ্যতা হলো একটি মৌলের ক্ষমতা কতটি হাইড্রোজেন বা অন্যান্য এক-ভ্যালেন্সি পরমাণুর সঙ্গে বন্ধন তৈরি করতে পারে তা নির্দেশ করে।
- এটি মৌলের রাসায়নিক প্রতিক্রিয়াশীলতা বোঝার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
- পারমাণবিক সংখ্যা 8 → ইলেকট্রন বিন্যাস: 1s2 2s2 2p4.
- সর্বশেষ কক্ষপথে ৬টি ইলেকট্রন আছে। 
- সর্বশেষ কক্ষপথে (৮ ইলেকট্রন) পেতে আরও ২টি ইলেকট্রন দরকার। 
- তাই অক্সিজেন সর্বাধিক ২টি বন্ধন তৈরি করতে সক্ষম।

উদাহরণ:
- H2O: প্রতিটি হাইড্রোজেন অক্সিজেনের সঙ্গে একটি একক বন্ধন তৈরি করেছে → মোট ২টি বন্ধন।
- O2: দুটি অক্সিজেন পরমাণুর মধ্যে দ্বিগুণ বন্ধন (double bond) আছে।

উৎস:
- NCTB, রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

৭০.
ইলেক্ট্রনের আপেক্ষিক ভর -
  1. ক) 9.11 × 10-31 kg
  2. খ) 9.11 × 10-28 kg
  3. গ) 1.6 × 10-19 kg
  4. ঘ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ঘ) কোনটিই নয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
- ইলেকট্রনের ভর =  9.11 × 10-31 kg
- এই ভর প্রোটন ও নিউট্রনের তুলনায় ১৮৪০ গুণ কম। তাই ইলেকট্রনের আপেক্ষিক ভর 0 ধরা হয়।
- ইলেক্ট্রনের চার্জ = 1.60217662 × 10-19 coulombs অথবা,  - 1.6 × 10-19 C
- ইলেকট্রন আবিষ্কার করেন জে জে থমসন।

উৎসঃ রসায়ন বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি।
৭১.
কোনটি মৌলিক গ্যাসের অণু হিসেবে পরিচিত?
  1. H2O
  2. O3
  3. N2
  4. NH3
সঠিক উত্তর:
N2
উত্তর
সঠিক উত্তর:
N2
ব্যাখ্যা

রাসায়নিক বন্ধন: 
- পদার্থ মাত্রই অসংখ্য পরমাণুর এক সাথে অণু হিসেবে আবদ্ধ থাকার একটি স্থায়ী অবস্থা। তবে নিষ্ক্রিয় গ্যাসগুলো এক পরমাণুক অনুরূপে প্রকৃতিতে স্থায়ীরূপে অবস্থান করে। 
- চারিপার্শ্বের বায়ুতে যে নাইট্রোজেন অক্সিজেন, হাইড্রোজেন, ক্লোরিন ইত্যাদি গ্যাসগুলো আছে এরা প্রত্যেকেই মৌলিক গ্যাস অণু। 
- মৌলিক গ্যাসের অণুগুলো দ্বিপরমাণুক অণু। যেমন- N2, O2, H2, F2, Cl2 ইত্যাদি। 

- ওজোন (O3), ফসফরাস (P4), সালফার (S8) এরাও মৌলিক অণু কিন্তু বহু পরমাণুক অণু। আবার পানি (H2O), খাবার লবণ (NaCl) কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2), মিথেন (CH4), অ্যামোনিয়া (NH3), অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইড (NH4Cl) প্রভৃতি যৌগের অণুতে ভিন্ন ভিন্ন মৌলের পরমাণু মিলে অণুগঠন করেছে। 
- একই ধরনের দুই বা ততোধিক পরমাণু একত্রে মিলিত হয়ে মৌলের একটি অণু সৃষ্টি করে এবং ভিন্ন ধরনের দুই বা ততোধিক পরমাণুর সংযোজনের ফলে যৌগের অণু উৎপন্ন করে। 
- সব অণুর মধ্যেই পরমাণুগুলো এক বিশেষ আকর্ষন বলের দ্বারা পরস্পর পরস্পরের সাথে যুক্ত থাকে। 
- এভাবে একই বা ভিন্ন ভিন্ন মৌলের দুই বা ততোধিক পরমাণু মিলিত হয়ে রাসায়নিক বন্ধনের সৃষ্টি হয়। 
- আবার একই মৌলের অসংখ্য পরমাণু পরস্পর যুক্ত হয়েও রাসায়নিক বন্ধন সৃষ্টি করতে পারে। যেমন- ধাতব বন্ধন। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭২.
কোন প্রক্রিয়ায় গ্যাস পাত্রের ভেতরে ও বাইরে একই বায়ু চাপ থাকে? 
  1. ব্যাপন 
  2. অভিস্রবণ 
  3. নিঃসরণ 
  4. প্রস্বেদন 
সঠিক উত্তর:
ব্যাপন 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাপন 
ব্যাখ্যা
ব্যাপন: 
- উচ্চ ঘনত্বের স্থান থেকে নিম্ন ঘনত্বের স্থানে কোন কঠিন, তরল বা গ্যাসীয় পদার্থের স্বতঃস্ফূর্ত ও সমভাবে পরিব্যাপ্ত হওয়ার প্রক্রিয়াকে ব্যাপন বলে। 
- ফুলের সুগন্ধ ও H2S গ্যাসের দুর্গন্ধ বাতাসে ব্যাপন প্রক্রিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। 
- পদার্থের কণা বা অণুসমূহের ইতস্তত স্বতঃস্ফূর্ত চলাচলের কারণে ব্যাপন প্রক্রিয়া ঘটে। 
- ব্যাপন হল সাধারণ সমবায়ুচাপে অণুসমূহের স্বতঃস্ফূর্ত মন্থর প্রক্রিয়া। 
- ব্যাপন প্রক্রিয়ায় গ্যাস পাত্রের ভেতরে ও বাইরে একই বায়ু চাপ থাকে। 

নিঃসরণ: 
- বাহ্যিক উচ্চ চাপের প্রভাবে পাত্রের সরু ছিদ্রপথে কোন গ্যাসের সজোরে একমুখী বের হওয়াকে নিঃসরণ বলে। 
- গাড়ীর চাকার টিউবের ছিদ্র পথে নিঃসরণ প্রক্রিয়ায় বাতাস বের হয়ে পড়ে। 
- গ্যাস পাত্রের ভেতরে ও বাইরে চাপের পার্থক্যের কারণে নিঃসরণ প্রক্রিয়া ঘটে। 
- নিঃসরণ হল অধিক চাপের প্রভাবে গ্যাসীয় দ্রুত প্রক্রিয়া। 
- নিঃসরণের বেলায় গ্যাস পাত্রের ভেতরে অধিক চাপ এবং বাইরে কম চাপ বা ভ্যাকুয়াম অবস্থা থাকে। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (হাজারী নাগ)।
৭৩.
কোন ধরনের পদার্থ যেকোনো পাত্রের পুরো আয়তন দখল করে?
  1. কঠিন
  2. তরল 
  3. বায়বীয় 
  4. পলিমার
সঠিক উত্তর:
বায়বীয় 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বায়বীয় 
ব্যাখ্যা

- বায়বীয় বা গ্যাসীয় পদার্থের নির্দিষ্ট কোনো আকার বা আয়তন নেই, একে যে কোনো পাত্রে রাখলে এটি সেই পাত্রের পুরো আয়তন দখল করে নেয়। বায়বীয় পদার্থের অণুগুলোর মধ্যে আকর্ষণ বল অত্যন্ত কম এবং গতিশক্তি অনেক বেশি থাকে, ফলে অণুগুলো সবদিকে ছড়িয়ে পড়ে এবং বদ্ধ পাত্রের পুরো জায়গা জুড়ে অবস্থান করে। 

পদার্থ: 
- যে বস্তুর নির্দিষ্ট ভর আছে এবং জায়গা দখল করে তাকে পদার্থ বলে। 
- কক্ষ তাপমাত্রায় কোনো কোনো পদার্থ কঠিন, তরল এবং বায়বীয় এই তিন অবস্থায় থাকতে পারে। 

কঠিন পদার্থ: 
- কঠিন পদার্থের নির্দিষ্ট ভর, নির্দিষ্ট আকার এবং নির্দিষ্ট আয়তন থাকে। 
যেমন- ইট, কাঠ, পাথর, মোবাইল ফোন, শুষ্ক ব্যাটারি, বই, গ্লাস, প্লেট ইত্যাদি। 
- সব পদার্থের কণাগুলোর মধ্যেই এক ধরনের আকর্ষণ বল থাকে। একে আন্তঃকণা আকর্ষণ বল বলা হয়। 
- কঠিন পদার্থের কণাগুলোর মধ্যে আন্তঃকণা আকর্ষণ বল সবচেয়ে অনেক বেশি। এ কারণে কঠিন পদার্থের কণাগুলো খুব কাছাকাছি এবং নির্দিষ্ট অবস্থানে থাকে। 

তরল পদার্থ: 
- তরল পদার্থের নির্দিষ্ট ভর ও নির্দিষ্ট আয়তন আছে কিন্তু নির্দিষ্ট কোনো আকার নেই। 
যেমন- দুধ, সরিষার তৈল, পানি, পারদ, কেরোসিন তৈল, সয়াবিন তৈল, তরল পানীয়, ফলের জুস, অ্যালকোহল ইত্যাদি। 
- তরল পদার্থকে যে পাত্রে রাখা হয় তরল পদার্থ সেই পাত্রের আকার ধারণ করে। 
- তরলের কণাগুলো কঠিনের পদার্থের কণাগুলোর চেয়ে তুলনামূলকভাবে বেশি দূরত্বে থাকায় এদের মধ্যে আন্তঃকণা আকর্ষণ বল কঠিনের চেয়ে কম হয়। 

বায়বীয় পদার্থ: 
- গ্যাসীয় বা বায়বীয় পদার্থের নির্দিষ্ট ভর আছে কিন্তু নির্দিষ্ট আকার কিংবা নির্দিষ্ট আয়তন নেই। 
যেমন- অক্সিজেন, কার্বন ডাই-অক্সাইড, হাইড্রোজেন, নাইট্রোজেন, অ্যামোনিয়া ইত্যাদি। 
- যেকোনো পরিমাণ গ্যাসীয় পদার্থ যেকোনো আয়তনের পাত্রে রাখলে গ্যাসীয় পদার্থ সেই পাত্রের পুরো আয়তন দখল করে। 
- গ্যাসীয় পদার্থের কণাগুলো কঠিন ও তরলের চেয়ে বেশি দূরে দূরে অবস্থান করে বলে এদের আন্তঃকণা আকর্ষণ বল খুবই কম। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

৭৪.
প্রোটিয়ামের নিউট্রন সংখ্যা কত?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা
- হাইড্রোজেনের আইসোটোপ প্রোটিয়ামের নিউট্রন সংখ্যা হচ্ছে শূন্য (০)। 

আইসোেটাপ: 
- যে সকল পরমাণুর প্রোটন সংখ্যা সমান কিন্তু ভরসংখ্যা ও নিউট্রন সংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে একে অপরের আইসোটোপ বলে। 
- নিচের টেবিলে দেখানো তিনটি পরমাণুরই প্রোটন সংখ্যা সমান। 
- কাজেই তারা একে অপরের আইসোটোপ। 
- হাইড্রোজেনের সাতটি আইসোটোপ (1H, 2H, 3H, 4H, 5H, 6H এবং 7H) আছে। 
- এর মধ্যে শুধু তিনটি প্রকৃতিতে পাওয়া যায়, অন্যগুলোকে ল্যাবরেটরিতে প্রস্তুত করা হয়। 


উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৭৫.
এখন পর্যন্ত আবিষ্কৃত মোট মৌলিক পদার্থের সংখ্যা কত?
  1. ১১৬ টি
  2. ১১৭ টি
  3. ১১৮ টি
  4. ১১৯ টি
সঠিক উত্তর:
১১৮ টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১১৮ টি
ব্যাখ্যা
• এখন পর্যন্ত আবিষ্কৃত মৌলিক পদার্থের সংখ্যা ১১৮ টি। 

• মৌলিক পদার্থ:
- যে পদার্থকে ভাঙলে সেই পদার্থ ছাড়া অন্য কোনো পদার্থ পাওয়া যায় না তাকে মৌলিক পদার্থ বা মৌল বলে।
-  কিছু মৌলের উদাহরণ হলো নাইট্রোজেন, ফসফরাস, কার্বন, অক্সিজেন, হিলিয়াম, ক্যালসিয়াম, আর্গন, ম্যাগনেসিয়াম, সালফার ইত্যাদি।
- এ পর্যন্ত 118টি মৌল আবিষ্কৃত হয়েছে।
- এগুলোর মধ্যে 9৪টি মৌল প্রকৃতিতে পাওয়া যায়।
- বাকি মৌলগুলো গবেষণাগারে তৈরি করা হয়েছে। এগুলোকে কৃত্রিম মৌল বলে।

উৎস: রসায়ন, নবম - দশম শ্রেণি।
৭৬.
নিচের কোনটি অবস্থান্তর মৌল নয়?
  1. লোহা
  2. তামা
  3. সোডিয়াম
  4. ক্রোমিয়াম
সঠিক উত্তর:
সোডিয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সোডিয়াম
ব্যাখ্যা

• পর্যায় সারণির গ্রুপ-৩ থেকে গ্রুপ-১২ এর মৌলগুলোকে অবস্থান্তর মৌল বলে। সোডিয়াম (Na) এর অবস্থান গ্রুপ-১ এ হওয়ায় এটি অবস্থান্তর মৌল নয়।

• অবস্থান্তর মৌল:
- অবস্থান্তর মৌল হলো সেই ধাতু যাদের d-অরবিটাল আংশিকভাবে পূর্ণ থাকে।
- সাধারণত এগুলো ডি-ব্লক মৌল হিসেবে পরিচিত, যা পিরিয়ডিক টেবিলের গ্রুপ ৩ থেকে ১২ এ থাকে।
- অবস্থান্তর মৌল বিভিন্ন অক্সিডেশন স্টেটে থাকতে পারে এবং তাদের যৌগ রঙিন হয়।

• বৈশিষ্ট্য:
- উচ্চ ঘনত্ব এবং উচ্চ গলনাঙ্ক।
- রঙিন যৌগ গঠন এবং ক্যাটালিস্ট হিসেবে ব্যবহার করা যায়।
- বিভিন্ন অক্সিডেশন স্টেটে প্রবেশ করতে সক্ষম।

• উদাহরণ:
- লোহা (Fe): ইলেকট্রন বিন্যাস 3d6 4s2 → অবস্থান্তর মৌল।
- তামা (Cu): ইলেকট্রন বিন্যাস 3d10 4s1 → অবস্থান্তর মৌল।
- ক্রোমিয়াম (Cr): ইলেকট্রন বিন্যাস 3d5 4s1 → অবস্থান্তর মৌল।

উৎস:
- NCTB, রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি। 

৭৭.
পর্যায় সারণীর কোন মৌলসমূহ রঙিন যৌগ গঠন করে?
  1. ক্ষারধাতুসমূহ
  2. অবস্থান্তর মৌল
  3. নিষ্ক্রিয় গ্যাসসমূহ
  4. হ্যালোজেন গ্রুপের মৌল
সঠিক উত্তর:
অবস্থান্তর মৌল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অবস্থান্তর মৌল
ব্যাখ্যা
অবস্থান্তর মৌল: 
- পর্যায় সারণির ৩নং গ্রুপ থেকে ১২নং গ্রুপের মৌলসমূহকে অবস্থান্তর মৌল বলে। 

অবস্থান্তর মৌলসমূহের বৈশিষ্ট্য: 
- পরিবর্তনশীল যোজ্যতা প্রদর্শন করে।
- রঙিন যৌগ গঠন করে
- জটিল যৌগ গঠন করে।
- প্রভাবকরূপে ক্রিয়া করে।
- প্যারাচুম্বকীয় ধর্ম প্রদর্শন করে। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৭৮.
তীব্র তড়িৎ বিশ্লেষ্যের একটি উদাহরণ নয় কোনটি?
  1. ইথানয়িক এসিড
  2. সালফিউরিক এসিড
  3. সোডিয়াম ক্লোরাইড
  4. কপার সালফেট
সঠিক উত্তর:
ইথানয়িক এসিড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইথানয়িক এসিড
ব্যাখ্যা
তড়িৎ বিশ্লেষ্য: 
- যেসব পদার্থ কঠিন অবস্থায় বিদ্যুৎ পরিবহণ করে না কিন্তু গলিত বা দ্রবীভূত অবস্থায় বিদ্যুৎ পরিবহণ করে এবং বিদ্যুৎ পরিবহনের সাথে সাথে ঐ পদার্থের রাসায়নিক পরিবর্তন ঘটায় তাদেরকে তড়িৎ বিশ্লেষ্য পদার্থ বলে। 
- তড়িৎ বিশ্লেষ্য পদার্থ গলিত বা দ্রবীভূত অবস্থায় আয়নিত হয় থাকে। 
- এই আয়নের মাধ্যমে তড়িৎ বিশ্লেষ্য পদার্থ বিদ্যুৎ পরিবহণ করে। 
- আয়নিক যৌগ এবং কিছু পোলার সমযোজী যৌগ গলিত বা দ্রবীভূত অবস্থায় তড়িৎ বিশ্লেষ্য পরিবাহী হয়। 
যেমন- সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl), কপার সালফেট (CuSO4), সালফিউরিক এসিড (H2SO4), ইথানয়িক এসিড (CH3COOH) ইত্যাদি গলিত বা দ্রবীভূত অবস্থায় বিদ্যুৎ পরিবহণ করে। 

- তড়িৎ বিশ্লেষ্য আবার দুই প্রকার। 
যথা- 
১। তীব্র তড়িৎ বিশ্লেষ্য: 
- যে সকল তড়িৎ বিশ্লেষ্য দ্রবণে বা গলিত অবস্থায় সম্পূর্ণরূপে আয়নিত হয় তাদেরকে তীব্র তড়িৎ বিশ্লেষ্য বলে। 
যেমন- সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl), কপার সালফেট (CuSO4), সালফিউরিক এসিড (H2SO4) ইত্যাদি। 

২। মৃদু তড়িৎ বিশ্লেষ্য: 
- যে সকল তড়িৎ বিশ্লেষ্য দ্রবণে খুব অল্প পরিমাণে আয়নিত হয় থাকে তাদেরকে মৃদু তড়িৎ বিশ্লেষ্য বলে। 
যেমন- অ্যামোনিয়াম হাইড্রোক্সাইড, ইথানয়িক এসিড (CH3COOH) ইত্যাদি। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৭৯.
যে মৌল বা যৌগ ইলেকট্রন দান করে তাকে বলে-
  1. ক) জারক
  2. খ) বিজারণ
  3. গ) জারণ
  4. ঘ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ঘ) কোনটিই নয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

যে মৌল বা যৌগ ইলেকট্রন দান করে তাকে বিজারক বলে।
যেমন- সকল ধাতু, হাইড্রোজেন।
ইলেকট্রন দান বা বর্জনের প্রক্রিয়াকে বলা হয় জারন।

আবার যে মৌল বা যৌগ ইলেকট্রন গ্রহণ করে তাকে জারক বলে।
যেমন- অক্সিজেন, ক্লোরিন, ফ্লোরিন, ব্রোমিন, আয়োডিন, পটাশিয়াম ইত্যাদি।
ইলেকট্রন গ্রহণের উক্ত প্রক্রিয়াকে বলে বিজারন।

উৎস: রসায়ন বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৮০.
পানিকে জীবাণুমুক্ত করার সবচেয়ে সহজ উপায় -
  1. ক) ফুটানো
  2. খ) ক্লোরিনেশন
  3. গ) ছাঁকন
  4. ঘ) থিতানো
সঠিক উত্তর:
খ) ক্লোরিনেশন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ক্লোরিনেশন
ব্যাখ্যা

পানি বিশুদ্ধ করার কয়েকটি উপায় আছে৷ এরমধ্যে অন্যতম হলো ক্লোরিনেশন, ফুটানো, থিতানো এবং ছাঁকন৷
এদের মধ্যে পানিকে জীবাণুমুক্ত করার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো ক্লোরিনেশন৷
উৎসঃ রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি

৮১.
কোনটি শুষ্ক বরফের উপাদান? 
  1. PH3
  2. H2O
  3. CO2
  4. NH3
সঠিক উত্তর:
CO2
উত্তর
সঠিক উত্তর:
CO2
ব্যাখ্যা
- শুষ্ক বরফ( Dry ice ) হলো কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2) এর কঠিন রূপ। 
- শুষ্ক বরফের উর্দ্ধপাতন হয়, যার অর্থ এটি তার কঠিন রূপ থেকে সরাসরি তার গ্যাসীয় অবস্থায় চলে যায়। 
- "শুষ্ক বরফ" আসলে কঠিন হিমায়িত কার্বন ডাই অক্সাইড, যা ঠাণ্ডা -78.5 °C (-109.3° ফারেনহাইট) তাপমাত্রায় পরমানন্দ বা গ্যাসে পরিণত হয়। 
- তাই এর নাম 'শুষ্ক বরফ' বা 'ড্রাই আইস'। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং ব্রিটানিকা।
৮২.
H2O এর আপেক্ষিক আনবিক ভর কত?
  1. 16
  2. 19
  3. 22
  4. 18
সঠিক উত্তর:
18
উত্তর
সঠিক উত্তর:
18
ব্যাখ্যা

• H2O এর আপেক্ষিক আনবিক ভর: 
- পানির অণুতে ২ পরমাণু হাইড্রোজেন ও ১ পরমাণু অক্সিজেন রয়েছে। 
- হাইড্রোজেনের আপেক্ষিক পারমাণবিক ভর 1 এবং অক্সিজেনের আপেক্ষিক পারমাণবিক ভর 16. 
সুতরাং, H2O এর আপেক্ষিক আনবিক ভর = {(1 × 2) + (16 × 1)}
∴ H2O এর আপেক্ষিক আনবিক ভর = 18. 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮৩.
বরফের গলনাংক কত ডিগ্রি সেলসিয়াস? 
  1. ২৫° সেলসিয়াস
  2. ৪° সেলসিয়াস
  3. ০° সেলসিয়াস
  4. ১০০° সেলসিয়াস
সঠিক উত্তর:
০° সেলসিয়াস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
০° সেলসিয়াস
ব্যাখ্যা
পানি: 
- বিশুদ্ধ পানি স্বাদহীন, গন্ধহীর আর বর্ণহীন। 
- পানির ঘনত্ব তাপমাত্রার ওপরে নির্ভর করে। 
- পানির ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি ৪° সেলসিয়াস তাপমাত্রায়। 
- আর সেটি হচ্ছে ১ গ্রাম/ সি.সি বা ১০০০ কেজি/মিটার কিউব। 
অর্থাৎ, ১ সি.স. পানির ভর হলো ১ গ্রাম বা ১ কিউবিক মিটার পানির ভর হলো ১০০০ কেজি। 

- যে তাপমাত্রায় বরফ গলে যায়, সেটিই হচ্ছে বরফের গলনাংক। 
- বরফের গলনাংক ০° সেলসিয়াস। 
- অন্যদিকে বায়ুমণ্ডলীয় চাপে যে তাপমাত্রায় তরল পদার্থ বাষ্পে পরিণত হয়, তাকে স্ফুটনাংক বলে। 
- আর পানির স্ফুটনাংক ১০০° সেলসিয়াস। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৮৪.
কার্বন-১৪ তে কয়টি নিউট্রন রয়েছে?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা
কার্বন(C)
- কার্বন একটি বহুরূপী মৌল।
- পারমাণবিক সংখ্যা বা প্রোটন সংখ্যা ৬।

- ভরসংখ্যা = পারমাণবিক সংখ্যা বা প্রোটন সংখ্যা + নিউট্রন সংখ্যা।
- কার্বন-১৪ আইসোটোপে কার্বনের ভরসংখ্যা ১৪।
- কার্বন-১৪ আইসোটোপে নিউট্রন সংখ্যা = ১৪-৬ টি = ৮টি।

- কার্বনের ৩টি আইসোটোপ রয়েছে।
১. কার্বন-১২,
২.কার্বন-১৩,
৩.কার্বন-১৪।

উৎস: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, পদার্থ বিজ্ঞান।
৮৫.
কোনটি অতিমাত্রায় দ্রবণীয় দ্রব? 
  1. NaNO3
  2. CaCO
  3.  PbCl2 
  4. AgBr 
সঠিক উত্তর:
NaNO3
উত্তর
সঠিক উত্তর:
NaNO3
ব্যাখ্যা

দ্রব (Solute): 
- দুটি উপাদানের সমন্বয়ে উৎপন্ন দ্রবণে যে উপাদানটির আপেক্ষিক পরিমাণ কম থাকে এবং যে উপাদানটি অপর উপাদানের মধ্যে দ্রবীভূত থাকে তাকে দ্রব বলা হয়। 
- খাদ্য লবণকে পানিতে দ্রবীভূত করে যে দ্রবণ প্রস্তুত করা হয় তাতে খাদ্য লবণ দ্রব, আবার চিনির জলীয় দ্রবণে চিনি দ্রব। 
- দ্রাবকের মধ্যে দ্রবের দ্রবীভূত হওয়ার ক্ষমতা অনুযায়ী দ্রবকে দুটি ভাগে ভাগ করা হয়। 
যথা- 
১। স্বল্প দ্রবণীয় দ্রব: 
- এ ধরনের দ্রব দ্রাবকের মধ্যে খুবই সামান্য পরিমাণে দ্রবীভূত হয়ে সম্পৃক্ত দ্রবণ উৎপন্ন করে। 
- সাধারণ তাপমাত্রায় যেসব লবণের দ্রাব্যতা 0.01 গ্রাম অণু/লিটার বা 001 mol.L-1 এর চেয়ে কম তাদের স্বল্প দ্রবণীয় দ্রব বলা হয়। 
যেমন - সিলভার ক্লোরাইড (AgCl), সিলভার ব্রোমাইড (AgBr), সিলভার আয়োডাইড (AgI), সিলভার কার্বনেট (Ag2CO3), ক্যালসিয়াম কার্বনেট (CaCO3),  ক্যালসিয়াম ফ্লোরাইড (CaF2), ক্যালসিয়াম সালফেট (CaSO4), ক্যালসিয়াম হাইড্রক্সাইড Ca(OH)2, লেড ক্লোরাইড (PbCl2) ইত্যাদি স্বল্প দ্রবণীয় দ্রব। 

২। অতিমাত্রায় দ্রবণীয় দ্রব: 
- বেশ কিছু দ্রব আছে যারা পানিতে সম্পূর্ণভাবে দ্রবীভূত হয়ে যায়। 
- এদের দ্রাব্যতা গুণ অনেক বেশি হওয়ায় এরা দ্রবণে সম্পূর্ণভাবে আয়নিত অবস্থায় থাকে। 
- এ জাতীয় দ্রবের আণবিক অবস্থা ও আয়নিক অবস্থার মধ্যে কোনো সাম্যাবস্থা বিরাজ করে না। 
যেমন- সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl), সোডিয়াম নাইট্রেট (NaNO3), পটাশিয়াম ক্লোরাইড (KCI), পটাশিয়াম নাইট্রেট (KNO3), অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইড (NH4Cl), অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট (NH4NO3) ইত্যাদি অতিমাত্রায় দ্রবণীয় দ্রব। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮৬.
ব্যাপন প্রক্রিয়ায় পদার্থ সাধারণত কোন দিক দিয়ে ছড়িয়ে পড়ে?
  1. নিম্ন ঘনমাত্রার স্থান থেকে উচ্চ ঘনমাত্রার স্থানে
  2. উচ্চ ঘনমাত্রার স্থান থেকে নিম্ন ঘনমাত্রার স্থানে
  3. সমান ঘনমাত্রার স্থান থেকে যেকোনো দিকে
  4. মহাকর্ষের দিক বরাবর
সঠিক উত্তর:
উচ্চ ঘনমাত্রার স্থান থেকে নিম্ন ঘনমাত্রার স্থানে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উচ্চ ঘনমাত্রার স্থান থেকে নিম্ন ঘনমাত্রার স্থানে
ব্যাখ্যা

ব্যাপন প্রক্রিয়ায় পদার্থ সাধারণত উচ্চ ঘনমাত্রার স্থান থেকে নিম্ন ঘনমাত্রার স্থানে ছড়িয়ে পড়ে।   

ব্যাপন (Diffusion)
- কোনো মাধ্যমে কঠিন, তরল ও বায়বীয় পদার্থের স্বতঃস্ফূর্ত ও সমানভাবে ছড়িয়ে পড়ার প্রক্রিয়াকে ব্যাপন বলে।
- ব্যাপন প্রক্রিয়ায় কঠিন, তরল কিংবা বায়বীয় পদার্থ উচ্চ ঘনমাত্রার স্থান থেকে নিম্ন ঘনমাত্রার স্থানের দিকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ছড়িয়ে পড়ে।
- উদাহরণ: ঘরের এক কোণে কোনো একটি সুগন্ধির শিশির মুখ খুলে রাখলে কিছুক্ষণের মধ্যে সারা ঘরে সুগন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। এটি ব্যাপন প্রক্রিয়ার উদাহরণ।
- যে পদার্থের ছড়িয়ে পড়তে সময় কম লাগে সেই পদার্থের ব্যাপন হার বেশি এবং যে পদার্থের ছড়িয়ে পড়তে সময় বেশি লাগে সেই পদার্থের ব্যাপন হার কম।
- যে পদার্থের আণবিক ভর বেশি সে পদার্থের ব্যাপন হার কম।

উৎস: রসায়ন- ৯ম-১০ম শ্রেণি। 

৮৭.
বায়ু কোন ধরনের পদার্থ? 
  1. মিশ্র পদার্থ 
  2. কঠিন পদার্থ 
  3. মৌলিক পদার্থ 
  4. যৌগিক পদার্থ 
সঠিক উত্তর:
মিশ্র পদার্থ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মিশ্র পদার্থ 
ব্যাখ্যা

মিশ্র পদার্থ: 
- যে মিশ্রণে একের অধিক পদার্থ বিদ্যমান থাকে তাকে বলা হয় মিশ্র পদার্থ। 
- বায়ু এক ধরনের মিশ্র পদার্থ যেখানে নাইট্রোজেন, অক্সিজেন, জলীয়বাষ্পসহ অন্যান্য পদার্থ থাকে। 
- বায়ু এমন একটি মিশ্র পদার্থ যেখানে মৌলিক ও যৌগিক উভয় ধরনের পদার্থ রয়েছে। 

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।

৮৮.
পানি কোন তাপমাত্রায় বরফে পরিণত হয়?
  1. ০ °C
  2. ৪ °C
  3. ৩৯ °C
  4. ১০০ °C
সঠিক উত্তর:
০ °C
উত্তর
সঠিক উত্তর:
০ °C
ব্যাখ্যা
পানি: 
- পানির ঘনত্ব তাপমাত্রার উপর নির্ভর করে। 
- ৪°C সেলসিয়াস তাপমাত্রায় পানির ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি। 
০°C তাপমাত্রায় পানি বরফে পরিণত হয়। 
- ১০০°C সেলসিয়াস তাপমাত্রায় পানি বাষ্পে পরিণত হয়। 
- এই তাপমাত্রায় পানির ঘনত্ব ১গ্রাম/সি.সি. বা ১০০০ কেজি/মিটার৩। 
- ১ কিউবিক মিটার পানির ভর হলো ১০০০ কেজি। 
- প্রমাণ চাপে অর্থাৎ ৭৬০ মি মি পারদ চাপে পানি ১০০° সেলসিয়াস তাপমাত্রায় পানি বাষ্পে পরিণত হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি; বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ব্রিটানিকা।
৮৯.
নিচের কোন তথ্যটি সঠিক নয়?
  1. ভরসংখ্যা = প্রোটন সংখ্যা + নিউট্রন সংখ্যা
  2. নিউক্লিয়ন সংখ্যা = প্রোটন সংখ্যা + নিউট্রন সংখ্যা
  3. নিউট্রন সংখ্যা= ভরসংখ্যা + পারমাণবিক সংখ্যা
  4. নিউট্রন সংখ্যা= ভরসংখ্যা - পারমাণবিক সংখ্যা
সঠিক উত্তর:
নিউট্রন সংখ্যা= ভরসংখ্যা + পারমাণবিক সংখ্যা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিউট্রন সংখ্যা= ভরসংখ্যা + পারমাণবিক সংখ্যা
ব্যাখ্যা
ভরসংখ্যা/ নিউক্লিয়ন সংখ্যা:

- কোনো মৌলের একটি পরমাণুর নিউক্লিয়াসের মধ্যে অবস্থিত প্রোটন এবং নিউট্রনের মোট সংখ্যাকে ভরসংখ্যা বা নিউক্লিয়ন সংখ্যা বলে।
- অর্থাৎ, ভরসংখ্যা = প্রোটন সংখ্যা + নিউট্রন সংখ্যা।
- ভরসংখ্যাকে 'A' অক্ষর দিয়ে প্রকাশ করা হয়।

ভর সংখ্যা এবং পারমাণবিক সংখ্যার মধ্যে সম্পর্ক:

- কোনো মৌলের পরমাণুতে যদি P সংখ্যক প্রোটন এবং N সংখ্যক নিউট্রন থাকে, তাহলে, 
- পরমাণুটির ভরসংখ্যা (A) = প্রোটন সংখ্যা (P) + নিউট্রন সংখ্যা (N)
- যেহেতু, প্রোটন সংখ্যা (P) = পারমাণবিক সংখ্যা (Z)
- অতএব, ভরসংখ্যা (A) = পারমাণবিক সংখ্যা (Z) + নিউট্রন সংখ্যা (N)
- অর্থাৎ, A = Z + N
- বা, Z = A - N

উৎস: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি রসায়ন ১ম পত্র।
৯০.
নিউট্রনের প্রকৃত ভর কত?
  1. ৯.১০৮৫ x ১০-২৮ গ্রাম
  2. ১.৬৭৫ x ১০-২৪ গ্রাম
সঠিক উত্তর:
১.৬৭৫ x ১০-২৪ গ্রাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১.৬৭৫ x ১০-২৪ গ্রাম
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা:
একটি নিউট্রনের আপেক্ষিক ভর ১, আপেক্ষিক আধান ০, প্রকৃত ভর ১.৬৭৫ x ১০-২৪ গ্রাম, প্রকৃত চার্জ ০ কুলম্ব এবং অবস্থান হলো পরমাণুর নিউক্লিয়াসে।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

৯১.
কোনটি হ্যালোজেন গ্রুপের মৌল নয়?
  1. F
  2. Br
  3. Cl
  4. O
সঠিক উত্তর:
O
উত্তর
সঠিক উত্তর:
O
ব্যাখ্যা
হ্যালোজেন: 
- পর্যায় সারণির 17 তম গ্রুপের মৌলগুলো হ্যালোজেন নামে পরিচিত। 
- F, Cl, Br, I ও At এ পাঁচটি মৌল এ গ্রুপের মৌল। 
- হ্যালোজেন শব্দের অর্থ লবণ গঠনকারী। 
- এরা প্রত্যেকেই অতিশয় সক্রিয় ও তড়িৎ ঋণাত্মক মৌল। 
- প্রত্যেকের সর্ববহি:স্থ শক্তিস্তরে 7টি করে ইলেকট্রন বর্তমান থাকায় অতিরিক্ত একটি ইলেকট্রন লাভ করার প্রবণতা যথেষ্ঠ  থাকে। 
- প্রত্যেকেই একটি মাত্র ইলেকট্রনকে গ্রহণ করে হ্যালাইড আয়নে পরিণত হয়। 
- হাইড্রোজেনের সাথে যুক্ত হয়ে হাইড্রোজেন হ্যালাইড যৌগ গঠন করে। 
- হাইড্রোজেন হ্যালাইড পানিতে দ্রবীভূত হয়ে এসিডে পরিণত হয়। 
- এরা তীব্র জারক। 

অন্যদিকে, 
- অক্সিজেন (O) হ্যালোজেন গ্রুপের মৌল নয়, এটি গ্রুপ-16 এর মৌল

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯২.
জারণ-বিজারণ একটি -
  1. প্রশমন বিক্রিয়া
  2. সংযোজন বিক্রিয়া
  3. বিয়োজন বিক্রিয়া
  4. যুগপৎ বিক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
যুগপৎ বিক্রিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যুগপৎ বিক্রিয়া
ব্যাখ্যা
- জারণ বিক্রিয়ায় ইলেকট্রনের বর্জন ঘটে এবং বিজারণে গ্রহণ হয়।
- যে বিক্রিয়ক ইলেকট্রন গ্রহণ করে তাকে জারক (Oxidant) এবং যে বিক্রিয়ক ইলেকট্রন বর্জন করে তাকে বিজারক (Reductant) বলে।
- জারক অন্যকে জারিত করে এবং নিজে বিজারিত হয়, বিজারক অন্যকে বিজারিত করে এবং নিজে জারিত হয়।
- জারণ বিক্রিয়া একটি যুগপৎ বিক্রিয়া।

• জারণ অর্ধবিক্রিয়া Na0 → Na+ + e (ইলেকট্রন দান বা জারণ)
• বিজারণ অর্ধবিক্রিয়াCl0 + e → Cl- (ইলেকট্রন গ্রহণ বা বিজারণ)

এই দুই অর্ধবিক্রিয়াকে যোগ করলে জারণ-বিজারণ বিক্রিয়া পাওয়া যায়।
• জারণ-বিজারণ বিক্রিয়া: Na0 + Cl0 → Na+ + Cl- → NaCl

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণী।
৯৩.
শুষ্ক বরফের প্রধান রাসায়নিক উপাদান কোনটি?
  1. CO2
  2. N2
  3. H20
  4. CH4
সঠিক উত্তর:
CO2
উত্তর
সঠিক উত্তর:
CO2
ব্যাখ্যা

শুষ্ক বরফ হলো কার্বন ডাই অক্সাইডের (CO2) কঠিন রূপ।
- শুষ্ক বরফের উর্দ্ধপাতন হয়, যার অর্থ এটি তার কঠিন রূপ থেকে সরাসরি তার গ্যাসীয় অবস্থায় চলে যায়।
- শুষ্ক বরফের তাপমাত্রা অত্যন্ত কম, প্রায় - 78.5°C বা - 109.3°F।
- এর নাম "শুষ্ক বরফ" কারণ এটি তরল হয় না এবং কোনো জলীয় অবশেষ রাখে না।
-  এটি বিভিন্ন ক্ষেত্রে হিমায়ন বা শীতলকারক হিসেবে ব্যবহৃত হয়, যেমন খাদ্য ও চিকিৎসা সামগ্রী পরিবহন এবং সংরক্ষণ।
- শুষ্ক বরফ থেকে নির্গত কার্বন ডাই অক্সাইড গ্যাস কোনো গন্ধ বা রঙ সৃষ্টি করে না, তবে এটি বাতাসের চেয়ে ভারী হওয়ায় নিচের দিকে অবস্থান করে।
- মঞ্চের অনুষ্ঠানে এটি কৃত্রিম ধোঁয়া বা কুয়াশা তৈরির জন্য ব্যবহৃত হয়।
- শুষ্ক বরফকে খোলা জায়গায় ব্যবহার করা উচিত নয় কারণ এটি বাতাসের অক্সিজেনকে প্রতিস্থাপন করতে পারে এবং দম বন্ধ হওয়ার কারণ হতে পারে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং ব্রিটানিকা।

৯৪.
নিচের কোনটি ক্যালসিয়ামের ইলেকট্রন বিন্যাস? 
  1. 2, 8, 10
  2. 2, 8, 2
  3. 2, 8, 8, 2
  4. 2, 8, 8, 1
সঠিক উত্তর:
2, 8, 8, 2
উত্তর
সঠিক উত্তর:
2, 8, 8, 2
ব্যাখ্যা
- ক্যালসিয়ামের পারমাণবিক সংখ্যা = ২০। 
∴ প্রথম শক্তিস্তর(K) এ ইলেকট্রন আছে = ২ টি। 
- ২য় শক্তিস্তর(L) এ ইলেকট্রন আছে = ৮ টি। 
- ৩য় শক্তিস্তর(M) এ ইলেকট্রন আছে = ৮ টি। 
- ৪র্থ শক্তিস্তর(N) এ ইলেকট্রন আছে = ২ টি। 
ক্যালসিয়ামের ইলেকট্রন বিন্যাস 2, 8, 8, 2 । 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৫.
আদর্শ গ্যাসের জন্য কোন সমীকরণটি সঠিক? 
  1. PV = nK
  2. PV = K
  3. P = nRT
  4. PV = nRT
সঠিক উত্তর:
PV = nRT
উত্তর
সঠিক উত্তর:
PV = nRT
ব্যাখ্যা
আদর্শ গ্যাস (Ideal Gas): 
- যে গ্যাসসমূহ সকল তাপমাত্রা ও চাপে বয়েলের সূত্র, চার্লসের সূত্র, অ্যাভোগাড্রোর সূত্র তথা আদর্শ গ্যাস সমীকরণ PV = nRT কে মেনে চলে তাদেরকে আদর্শ গ্যাস বলে
- প্রকৃতপক্ষে কোনো গ্যাসই সম্পূর্ণরূপে গ্যাস সূত্রসমূহ তথা PV = nRT সমীকরণ মেনে চলে না।
- আদর্শ গ্যাস হলো একটি কাল্পনিক গ্যাস।
- স্থির তাপমাত্রায় আদর্শ গ্যাসের অভ্যন্তরীণ শক্তি আয়তনের উপর নির্ভর করে না। 

আদর্শ গ্যাসের বৈশিষ্ট্য: 
- আদর্শ গ্যাসে নিচের উল্লিখিত বৈশিষ্ট্যসমূহ বর্তমান থাকে- 
১. স্থির তাপমাত্রায় গ্যাসের চাপ ও আয়তনের গুণফল একটি ধ্রুবক। অর্থাৎ PV = K. তাই এক্ষেত্রে যদি স্থির তাপমাত্রায় চাপ বনাম PV এর লেখ অঙ্কন করা যায় তবে তা একটি সরলরেখা হবে। 
২. আদর্শ গ্যাস সকল তাপমাত্রা ও চাপে PV = nRT সমীকরণ মেনে চলে। 
৩. স্থির তাপমাত্রায় আদর্শ গ্যাসের অভ্যন্তরীণ শক্তি এর আয়তনের উপর নির্ভরশীল নয়। অর্থাৎ স্থির তাপমাত্রায় আদর্শ গ্যাসের আয়তনের পরিবর্তন হলেও এদের অভ্যন্তরীণ শক্তির কোনো পরিবর্তন ঘটে না। 
৪. চাপ অপরিবর্তিত রেখে গ্যাসের তাপমাত্রা 0°C হতে -273.15°C কমালে গ্যাসের আয়তন শূন্য হয়। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৬.
খাবার লবণে কোন ধরনের রাসায়নিক বন্ধন থাকে?
  1. সমযোজী বন্ধন
  2. আয়নিক বন্ধন
  3. ধাতব বন্ধন
  4. ভ্যান্ডার-ওয়ালস বন্ধন
সঠিক উত্তর:
আয়নিক বন্ধন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আয়নিক বন্ধন
ব্যাখ্যা

• খাবার লবণে উপস্থিত রাসায়নিক বন্ধন আয়নিক প্রকৃতির। 

• আয়নিক বন্ধন:
- ইলেকট্রন আদান-প্রদানের মাধ্যমে গঠিত ক্যাটায়ন এবং অ্যানায়নসমূহ যে আকর্ষণ বল দ্বারা যৌগের বল দ্বারা যৌগের অণুতে আবদ্ধ থাকে তাকে আয়নিক বন্ধন বলে। 
 
• আয়নিক বন্ধনের বৈশিষ্ট্য:
- ধাতুগুলোর আয়নিকরণ শক্তির মান অনেক কম হওয়ায় এরা অতি সহজেই সর্বশেষ শক্তিস্তরের এক বা একাধিক ইলেকট্রন ত্যাগ করে ধনাত্মক আধানবিশিষ্ট আয়ন বা ক্যাটায়নে পরিণত হয়।
- আবার অধাতুগুলোর ইলেকট্রন আসক্তির মান বেশি হওয়ায় এরা সহজেই সর্বশেষ শক্তিস্তরে এক বা একাধিক ইলেকট্রন গ্রহণ করে ঋণাত্মক আধানবিশিষ্ট আয়ন বা অ্যানায়নে পরিণত হয়।
- এভাবে সৃষ্ট বিপরীত আধানের ক্যাটায়ন ও অ্যানায়নের মধ্যে স্থির বৈদ্যুতিক আকর্ষণ বল বা ইলেকট্রোস্ট্যাটিক বল কাজ করে। এই আকর্ষণ বলটিই আয়নিক বন্ধন।

NaCl (সোডিয়াম ক্লোরাইড)-এ একটি আয়নিক বন্ধন থাকে, কারণ:
- Na (সোডিয়াম) একটি ধাতু, যা ইলেকট্রন ত্যাগ করে ধনাত্মক আয়ন (Na+) তৈরি করে।
- Cl (ক্লোরিন) একটি অধাতু, যা সেই ইলেকট্রন গ্রহণ করে ঋণাত্মক আয়ন (Cl-) তৈরি করে।
- ধনাত্মক ও ঋণাত্মক আয়নের মধ্যে বৈদ্যুতিক আকর্ষণ বা আয়নিক বল দ্বারা গঠিত হয় আয়নিক বন্ধন।
Na → Na+ + e-
Cl + e- → Cl- 
Na + Cl → Na+ + Cl- = NaCl

অন্যদিকে,
সমযোজী বন্ধন: এটি গঠিত হয় যখন দুইটি অধাতু ইলেকট্রন শেয়ারের মাধ্যমে বন্ধন তৈরি করে।
ধাতব বন্ধন: এটি সাধারণত কেবল দুইটি ধাতব পরমাণুর মধ্যে হয়ে থাকে।  
ভ্যান্ডার-ওয়ালস বন্ধন: এটি একটি দুর্বল আন্তঃআণবিক আকর্ষণ। এটি আয়নিক বন্ধনের মত শক্তিশালী বন্ধন নয়।

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক রসায়ন; ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।

৯৭.
পর্যায় সারণির গ্রুপ-11 এর মৌলগুলোকে কী বলা হয়?
  1. অধাতু
  2. মুদ্রা ধাতু
  3. ক্ষার ধাতু
  4. মৃৎক্ষার ধাতু
সঠিক উত্তর:
মুদ্রা ধাতু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুদ্রা ধাতু
ব্যাখ্যা
ক্ষার ধাতু: 
- পর্যায় সারণিতে হাইড্রোজেন ব্যতীত গ্রুপ-1 এ অবস্থিত মৌলসমূহকে ক্ষার ধাতু (alkali metal) বলা হয়। 
যেমন- Li, Na, K, Rb এর প্রত্যেকেই ক্ষার ধাতু। 
- এদের বিশেষ ধর্ম হলো এরা প্রত্যেকেই পানির সাথে বিক্রিয়া করে হাইড্রোজেন গ্যাস ও ক্ষার উৎপন্ন করে থাকে। 
- এরা প্রত্যেকেই একটি মাত্র ইলেকট্রনকে দান করে ধনাত্মক একযোজী আয়নে পরিণত হয় এবং আয়নিক বন্ধনের মাধ্যমে যৌগ গঠন করে। 

মৃৎক্ষার ধাতু: 
- পর্যায় সারণিতে গ্রুপ-2 এ অবস্থিত মৌলগুলোকে মৃৎক্ষার ধাতু (alkaline earth metal) বলা হয়। 
যেমন- Be, Mg, Ca, Sr প্রত্যেকেই মৃৎক্ষার ধাতু। 
- এরাও ক্ষার ধাতুর মতো তড়িৎ ধনাত্মক মৌল, দুটি করে ইলেকট্রনকে দান করে দ্বিধনাত্মক আয়নে পরিণত হয়। 
- অক্সিজেনের সাথে যুক্ত হয়ে অক্সাইড যৌগ গঠন করে, এদের অক্সাইড সমূহ পানিতে দ্রবীভূত হয়ে ক্ষারীয় দ্রবন উৎপন্ন করে। 
- মৃৎক্ষার ধাতুর মৌলগুলো বিভিন্ন যৌগ হিসেবে মাটিতে থাকে বলে এদের এরূপ নামকরণ করা হয়েছে। 

মুদ্রা ধাতু: 
- পর্যায় সারণির গ্রুপ-11 এর মাত্র তিনটি মৌলকে মুদ্রা ধাতু বলে। 
যেমন- কপার বা তামা (Cu), রূপা (Ag) ও সোনা (Au)। 
- এ মৌল তিনটির ধাতব উজ্জ্বলতা এক কথায় অসাধারণ। 
- বর্তমানেও বাজারে ধাতব মুদ্রা প্রচলিত আছে, তবে এগুলো সংকর ধাতুর তৈরি। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৮.
আন্তর্জাতিক রসায়ন ও ফলিত রসায়ন সংস্থা (IUPAC) কতটি মৌল শনাক্ত করেছে?
  1. 112
  2. 108
  3. 118
  4. 120
সঠিক উত্তর:
118
উত্তর
সঠিক উত্তর:
118
ব্যাখ্যা

আন্তর্জাতিক রসায়ন ও ফলিত রসায়ন সংস্থা (IUPAC) 118 টি মৌল শনাক্ত করেছে।

আন্তর্জাতিক রসায়ন ও ফলিত রসায়ন সংস্থা (IUPAC)
 - আন্তর্জাতিক রসায়ন ও ফলিত রসায়ন সংস্থা (International Union of Pure and Applied Chemistry বা সংক্ষেপে IUPAC) এখন পর্যন্ত 118টি মৌলিক পদার্থকে শনাক্ত করেছে।
 - IUPAC সংস্থাটি আন্তর্জাতিকভাবে রসায়ন ও ফলিত রসায়নের বিভিন্ন নিয়মকানুন দেখাশোনা করে এবং নিয়ন্ত্রণ করে, যেমন কোন নিয়ম গ্রহণযোগ্য এবং কোনটি বর্জনযোগ্য।
 - 118টি মৌলের মধ্যে বেশির ভাগ মৌলই প্রকৃতিতে পাওয়া যায় এবং বাকি কিছু মৌল ল্যাবরেটরিতে তৈরি করা হয়েছে।
 - ল্যাভয়সিয়ে মাত্র 33টি মৌল নিয়ে ছক তৈরির কাজ শুরু করেছিলেন।
 - মেন্ডেলিফ 63টি আবিষ্কৃত মৌল এবং 4টি অনাবিষ্কৃত মৌল নিয়ে পর্যায় সারণি নামে যে ছকটি তৈরি করেছিলেন, তা বর্তমানে 118টি মৌলের আধুনিক পর্যায় সারণি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

উৎস: রসায়ন- ৯ম-১০ম শ্রেণি। 

৯৯.
অ্যাভোগাড্রো সংখ্যার মান কোনটি? 
  1. 6.023×10 - 23
  2. 602.3×1023
  3. 6.023×1023
  4. 60.23×10 - 23
সঠিক উত্তর:
6.023×1023
উত্তর
সঠিক উত্তর:
6.023×1023
ব্যাখ্যা
অ্যাভোগাড্রো সংখ্যা: 
- অ্যাভোগাড্রো সংখ্যার মান 6.023×1023
- রাসায়নিক পদার্থ পরিমাপের এসআই একক হচ্ছে মোল। 
- কোনো উপাদানের যে পরিমাণের মধ্যে অ্যাভোগেড্রো সংখ্যক অণু, পরমাণু বা আয়ন থাকে, সেই পরিমাণকে পদার্থের মোল বলে। 
- পদার্থের পারমাণবিক ভর অথবা আণবিক ভরকে গ্রাম এককে প্রকাশ করলে যে সংখ্যা মান পাওয়া যায় তার মধ্যে অ্যাভোগেড্রো সংখ্যক পরমাণু বা অণু বর্তমান থাকে। 
- অ্যাভোগেড্রোর এ সংখ্যার মান 6.023×1023। 
- কোনো পদার্থের ১ মোল বলতে সেই পরিমাণ পদার্থকে বুঝায় যার মধ্যে ঐ পদার্থের উপাদান কণিকার সংখ্যা 6.023×1023। 
- কোনো মৌলিক বা যৌগিক পদার্থের ১ মোল অণু বলতে 6.023×1023 টি অণুকে বুঝায়। 
- আবার একইভাবে কোনো মৌলিক পদার্থের ১ মোল পরমাণু বলতে 6.023×1023 টি পরমাণু বুঝায়। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০০.
ধাতুর সাধারণ বৈশিষ্ট্য কোনটি?
  1. তাপ ও বিদ্যুৎ অপরিবাহী
  2. নমনীয়
  3. ভঙ্গুর
  4. অনুজ্জ্বল
সঠিক উত্তর:
নমনীয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নমনীয়
ব্যাখ্যা
• ধাতুর সাধারণ বৈশিষ্ট্য বলতে এমন কিছু গুণ বোঝানো হয় যা বেশিরভাগ ধাতব পদার্থে দেখা যায়। 

• ধাতুর সাধারণ বৈশিষ্ট্য:
- নমনীয়তা (Malleability) – চাপ প্রয়োগ করলে ধাতুকে পাত বা বিভিন্ন আকারে গড়া যায়।
- তাপ ও বিদ্যুৎ পরিবাহী (Conductivity) – ধাতু তাপ ও বিদ্যুৎ পরিবহন করে। (উদাহরণ: তামা, রূপা)
- উজ্জ্বলতা (Luster) – অধিকাংশ ধাতু চকচকে বা উজ্জ্বল হয়।
-  প্রসারণযোগ্যতা (Ductility) – ধাতুকে প্রসারিত করে তারে পরিণত করা যায়।

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক রসায়ন, ৯ম ও ১০ম শ্রেণী।