বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলাদেশ বিষয়াবলি

মোট প্রশ্ন৩০,৮৩২এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলাদেশ বিষয়াবলি

PrepBank · পাতা ৮৮ / ৩০৬ · ৮,৭০১৮,৮০০ / ৩০,৮৩২

৮,৭০১.
বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য সমিতি গঠিত হয় কবে?
  1. ক) ১৯০৬ সালে
  2. খ) ১৯১১ সালে
  3. গ) ১৯১৬ সালে
  4. ঘ) ১৯২৬ সালে
ব্যাখ্যা
বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য সমিতি ১৯১১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী, ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্, মোহাম্মদ এয়াকুব আলী চৌধুরী, মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক প্রমুখের উদ্যোগে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়। ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সমিতির প্রথম সম্পাদক মনোনীত হন।

সমিতির উদ্যোগে মোট সাতটি সাহিত্য সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ১৯৪৩ সালের ৮-৯ মে সমিতির সপ্তম ও শেষ বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকা ও সাহিত্যিক নামে এর দুটি মুখপত্র ছিল।
(তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া)
৮,৭০২.
মুরং বা ম্রো নৃগোষ্ঠী বাস কোন জেলায়?
  1. ক) সিলেট
  2. খ) বান্দরবান
  3. গ) নেত্রকোনা
  4. ঘ) দিনাজপুরে
ব্যাখ্যা
• মুরং বা ম্রো:
- ম্রো একটি আদিবাসী জনগোষ্ঠী।
- পার্বত্য চট্টগ্রামের বান্দরবান জেলার বিভিন্ন এলাকায় এদের অধিক সংখ্যক বসতি রয়েছে।
- এরা ম্রোরা, ম্রু ও মুরং নামেও পরিচিত।
- ম্রোদের নিজস্ব ভাষা থাকলেও পূর্বে বর্ণমালা ছিল না। ইদানীং ম্রোদের নিজস্ব বর্ণমালা তৈরি হয়েছে।

- ম্রোরা তিব্বতী-বর্মী গ্রুপের একটি বিশেষ ভাষায় কথা বলে।
- বতর্মানে এদের নিজস্ব ভাষায় ও বর্ণমালায় তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পাঠ্যবই প্রণীত হয়েছে।
-ম্রোরা নিজেদেরকে ‘মারুচা’ বলে অভিহিত করে থাকেন। ম্রো ভাষায় ‘মারু’ শব্দের অর্থ মানুষ।
- ম্রো সমাজ পিতৃতান্ত্রিক। পিতা পরিবারের প্রধান।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া।
৮,৭০৩.
বাংলাদেশের সংবিধানের কোন সংশোধনীর মাধ্যমে উপ-রাষ্ট্রপতি পদে প্রত্যক্ষ নির্বাচনের বিধান চালু করা হয়?
  1. ৪র্থ সংশোধনী
  2. ৭ম সংশোধনী
  3. ৬ষ্ঠ সংশোধনী
  4. ৯ম সংশোধনী
ব্যাখ্যা

◉ ১৯৮৯ সালে গৃহীত ৯ম সংশোধনীর মাধ্যমে  উপরাষ্ট্রপতি পদে জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচনের বিধান চালু করা হয়।

নবম সংশোধনী আইন:
- সংবিধান আইন, ১৯৮৯ (নবম সংশোধনী) পাস হয় ১৯৮৯ সালের জুলাই মাসে।
- এই সংশোধনী দ্বারা রাষ্ট্রের উপ-রাষ্ট্রপতি পদে প্রত্যক্ষ নির্বাচনের বিধান করা হয়; রাষ্ট্রপতির পদে একই ব্যক্তির দায়িত্ব পালন পর পর দুই মেয়াদের মধ্যে সীমাবদ্ধ করা হয় (প্রতি মেয়াদকাল ৫ বছর)।
- এই সংশোধনীতে আরও বলা হয় যে, শূন্যতা সৃষ্টি হলে একজন উপ-রাষ্ট্রপতি নিয়োগ করা যেতে পারে, তবে সেই নিয়োগের পক্ষে জাতীয় সংসদের অনুমোদন আবশ্যক হবে।

এছাড়াও, 
প্রথম সংশোধনী: সংবিধানের প্রথম সংশোধনী আনা হয় ১৯৭৩ সালের জুলাই মাসে।
দ্বিতীয় সংশোধনী: ১৯৭৩ সালের ২২ সেপ্টেম্বর দ্বিতীয় সংশোধনী আনা হয়।
তৃতীয় সংশোধনী: মূলত ভারত ও বাংলাদেশের সীমানা নির্ধারণী একটি চুক্তি বাস্তবায়ন করার জন্য ১৯৭৪ সালের ২৩ নভেম্বর এ সংশোধনী আনা হয়।
চতুর্থ সংশোধনী: ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি এ সংশোধনীর মাধ্যমেই বাংলাদেশের শাসন ব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটানো হয়।
পঞ্চম সংশোধনী: জাতীয় সংসদে এ সংশোধনী আনা হয় ১৯৭৯ সালের ৬ এপ্রিল।
ষষ্ঠ সংশোধনী: ১৯৮১ সালের ১০ জুলাই এ সংশোধনী আনা হয়। 
সপ্তম সংশোধনী: ১৯৮৬ সালের ১১ নভেম্বর জাতীয় সংসদে সপ্তম সংশোধনী আনা হয়।
অষ্টম সংশোধনী: ১৯৮৮ সালের ৯ জুন সংবিধানে অষ্টম সংশোধনী আনা হয়। 
নবম সংশোধনী: নবম সংশোধনী আনা হয় ১৯৮৯ সালের ১১ জুলাই। 
দশম সংশোধনী: ১৯৯০ সালের ১২ জুন দশম সংশোধনী বিল পাস হয়। 
একাদশ সংশোধনী: গণঅভ্যুত্থানে এইচ এম এরশাদের পতনের পর বিচারপতি মো. সাহাবুদ্দিনের দায়িত্ব গ্রহণ নিয়ে ১৯৯১ সালে এ সংশোধনী পাস হয়। 
দ্বাদশ সংশোধনী: ১৯৯১ সালের এ সংশোধনীর মাধ্যমে ১৭ বছর পর দেশে পুনরায় সংসদীয় সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়।
ত্রয়োদশ সংশোধনী: ১৯৯৬ সালের ২৬ মার্চ এ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা চালু করা হয়।
চতুর্দশ সংশোধনী: ২০০৪ সালের ১৬ মে এ সংশোধনী আনা হয়। 
পঞ্চদশ সংশোধনী: ২০১১ সালের ৩০ জুন এ সংশোধনী আনা হয়। 
ষোড়শ সংশোধনী: উচ্চ আদালতের বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা আইন প্রণেতাদের হাতে ফিরিয়ে দিতে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধন পাস হয় ২০১৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর।
সপ্তদশ সংশোধনী: ২০১৮ সালের ২৯ জানুয়ারি আনা হয় সপ্তদশ সংশোধনী। 

উৎস:
১। বাংলাদেশের সংবিধান, আরিফ খান।
২। বাংলাপিডিয়া। 

৮,৭০৪.
কার শাসনামলে বিখ্যাত সুফি ব্যক্তিত্ব হযরত শাহ জালাল বাংলায় আসেন?
  1. ক) রুকনুদ্দিন কায়কাউস
  2. খ) আলাউদ্দিন আলী শাহ
  3. গ) নাসিরউদ্দিন মাহমুদ শাহ
  4. ঘ) শামসুদ্দিন ফিরোজ শাহ
ব্যাখ্যা
শাহ জালাল (রঃ) বাংলার একজন প্রখ্যাত সুফি দরবেশ।
-সুলতান শামসুদ্দিন ফিরোজ শাহের শাসনামলে হযরত শাহ জালাল ৩৬০ জন সাথী ও মুরিদ নিয়ে বাংলায় আসেন।
-শামসুদ্দিন ফিরোজ শাহের সিলেট অভিযানে হযরত শাহ জালাল মুসলমান সৈন্যবাহিনীর সঙ্গে যোগ দেন। মুসলমান সৈন্যরা জয়লাভ করে। গৌর গোবিন্দ দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান এবং সিলেট মুসলমানদের শাসনাধীন হয়।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।
৮,৭০৫.
সম্প্রতি ইউক্রেনে রাশিয়ার গোলার আঘাতে ক্ষতিগ্রস্থ হওয়া বাংলাদেশি জাহাজটির নাম কী?
  1. বাংলার বাণী
  2. বাংলার সমৃদ্ধি
  3. বাংলার গৌরব
  4. বাংলার দূত
ব্যাখ্যা
গত ৩ মার্চ ২০২২ ইউক্রেনের অলিভিয়া বন্দরে আটকে পড়া বাংলাদেশি বাণিজ্যিক জাহাজ বাংলার সমৃদ্ধি রাশিয়ার গোলার আঘাতে ক্ষতিগ্রস্থ হয়।
এতে জাহাজটির থার্ড ইঞ্জিনিয়ার হাদিসুর রহমান মারা যান। জাহাজটিতে মোট ২৯জন নাবিক ছিলেন। ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে জাহাজটি অলিভিয়া বন্দরে যুদ্ধের কারণে আটকে ছিলো।

(তথ্যসূত্র: ডয়েচভেলে)
৮,৭০৬.
ছয়দফা আন্দোলন ছিল বাঙালির -
  1. ক) রাজনৈতিক মুক্তির আন্দোলন
  2. খ) সামাজিক আন্দোলন
  3. গ) শিক্ষা মুক্তির আন্দোলন
  4. ঘ) অর্থনৈতিক মুক্তির আন্দোলন
ব্যাখ্যা
ছয়দফা দাবি
- ছয়দফা দাবিকে বাঙালির ‘মুক্তিসনদ' বলা হয়।
- ছয়দফা আন্দোলনের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় শাসক গোষ্ঠীর শোষণ ও অবিচারের বিরুদ্ধে বাঙালি ঐক্যবদ্ধ হয়।
- ভাষার দাবিতে হয় ভাষা আন্দোলন।
- ছাত্রদের দাবি ভিত্তিক হয় শিক্ষা আন্দোলন।
- ছয়দফার আন্দোলন ছিল বাঙালির অর্থনৈতিক মুক্তির আন্দোলন।
- কিন্তু ছয়দফার আন্দোলনের নেতৃত্ব দিলেন বঙ্গবন্ধু এবং তাঁর সংগঠন আওয়ামী লীগ।
- এ আন্দোলনের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু জাতীয় নেতায় পরিণত হন।
- ১৯৬৯ সালের গণআন্দোলনের সময় ঘোষিত ১১ দফা দাবির মধ্যে ৬ দফা দাবিসমূহ অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
- ১৯৭০ এর নির্বাচনে আওয়ামী লীগ যে নির্বাচনী মেনিফেস্টো প্রচার করে তাতে ছয়দফা দাবিগুলি সন্নিবেশিত করা হয়।
- বঙ্গবন্ধু ছয়দফাকে নির্বাচনী ম্যান্ডেট হিসেবে ঘোষণা করেন। 

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,৭০৭.
ভারতীয় উপমহাদেশে ইউরোপীয়দের মধ্যে সর্বপ্রথমে কারা আগমন করেছিলো?
  1. ক) ইংরেজ
  2. খ) দিনেমার
  3. গ) ফরাসি
  4. ঘ) পর্তুগিজ
ব্যাখ্যা
১৪৯৮ সালে পর্তুগিজ নাবিক ভাস্কো দা গামা উত্তমাশা অন্তরীপ হয়ে ইউরোপ থেকে ভারতবর্ষে আসার জলপথ আবিষ্কার করেন। এরপর থেকে বিভিন্ন ইউরোপীয় শক্তি বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে ভারতবর্ষে পাড়ি জমাতে শুরু করে।

এদের মধ্যে পতুর্গিজরা সবার আগে আসে। পর্তুগিজরা ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে বাণিজ্য কুঠি গড়ে তোলে। কিন্তু অন্যান্য ইউরোপীয় শক্তিসমূহের সাথে প্রতিযোগিতায় টিকতে না পেরে পতুর্গিজরা ভারতবর্ষ ত্যাগ করতে বাধ্য হয়।

পর্তুগিজদের পর ইংরেজ (ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি-১৬০০ সালে), ওলন্দাজ (ডাচ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি-১৬০২ সালে), দিনোমার (ডেনিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি-১৬২০ সালে), ফরাসি (ফরাসি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি-১৬৬৪ সালে) প্রভৃতি ইউরোপীয় শক্তি ভারতে আগমন করে।
এদের মধ্যে ভারতীয় উপমহাদেশে সবার শেষে আগমন করে ফরাসিরা।

(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
৮,৭০৮.
গ্র্যান্ডমাস্টার খেতাব অর্জনকারী বাংলাদেশি দাবাড়ু -
  1. নিয়াজ মোরশেদ
  2. জিয়াউর রহমান
  3. এনামুল হোসেন রাজীব
  4. বর্ণিত সবাই
ব্যাখ্যা
দাবায় বাংলাদেশের গ্র্যান্ড মাস্টার:
- গ্র্যান্ড মাস্টার দাবার সর্বোচ্চ খেতাব।
- এটি দাবার আন্তর্জাতিক সংগঠন ‘ফিদে’র তরফ থেকে দেওয়া হয়।
- একজন দাবারুকে ফিদে মাস্টার খেতাব পেতে হলে কমপক্ষে ২৩০০ রেটিং থাকতে হয়।

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশ থেকে পাঁচজন দাবাড়ু গ্র্যান্ড মাস্টার সম্মাননা অর্জন করেছেন।
- বাংলাদেশের প্রথম গ্র্যান্ডমাস্টার নিয়াজ মোরশেদ। ১৯৮৭ সালে ২১ বছর বয়সে উপমহাদেশের প্রথম গ্র্যান্ডমাস্টার খেতাব অর্জন করেন নিয়াজ মোরশেদ। তিনি ছিলেন দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম ও এশিয়ার পঞ্চম গ্র্যান্ড মাস্টার।
- দাবায় বাংলাদেশের দ্বিতীয় গ্র্যান্ড মাস্টার জিয়াউর রহমান। ২০০২ সালে দ্বিতীয় গ্র্যান্ডমাস্টার হন জিয়াউর রহমান। তিনি বাংলাদেশি দাবাড়ুদের মধ্যে সর্বোচ্চ ফিদে রেটিং অর্জন করেছিলেন।
- ২০০৬ সালে রিফাত বিন সাত্তার ৩য় গ্র্যান্ড মাস্টার।
- ২০০৭ সালে আবদুল্লাহ আল রাকিব ৪র্থ গ্র্যান্ড মাস্টার।
- সর্বশেষ ২০০৮ সালে ৫ম গ্র্যান্ড মাস্টার এনামুল হোসেন রাজীব

⇒ তবে তারও আগে ১৯৮৫ সালে রানী হামিদ আন্তর্জাতিক মহিলা মাস্টার খেতাব পান।

উৎস: i) কালের কন্ঠ।
ii) প্রথম আলো।
৮,৭০৯.
'বাষট্টির শিক্ষা আন্দোলন' সংঘটিত হয় কোন শিক্ষা কমিশনের বিরুদ্ধে?
  1. বদরুদ্দিন শিক্ষা কমিশন
  2. করিম উদ্দিন শিক্ষা কমিশন
  3. নূর খান শিক্ষা কমিশন
  4. শরীফ শিক্ষা কমিশন
ব্যাখ্যা
বাষট্টির শিক্ষা আন্দোলন:
- ১৭ সেপ্টেম্বর জাতীয় শিক্ষা দিবস।
- ১৯৬২-এর সেপ্টেম্বরে আরেকটি আন্দোলন হয়, যা বাষট্টির শিক্ষা আন্দোলন' নামে অভিহিত।
- শরীফ শিক্ষা কমিশনের রিপোর্ট প্রকাশিত হলে ছাত্রলীগ ও ছাত্র ইউনিয়নের যৌথ নেতৃত্বে ছাত্র আন্দোলন শুরু হয়।
- 'বাষট্টির শিক্ষা আন্দোলন' সংঘটিত হয় শরীফ শিক্ষা কমিশনের বিরুদ্ধে।
- ১৫ আগস্ট থেকে ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রতিদিন বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
- ১৭ সেপ্টেম্বর হরতাল পালনকালে পুলিশের গুলিতে বাবুল, গোলাম মোস্তফা, ওয়াজিউল্লাহ প্রমুখ নিহত হন এবং আহত হয় প্রায় আড়াইশ জন।
- এ আন্দোলনের ফলে সরকার শরীফ কমিশনের সুপারিশ স্থগিত রাখে।
- এ আন্দোলনের গুরুত্ব এ যে, এ সময় থেকে ছাত্ররাই আইয়ুব বিরোধী আন্দোলনে প্রধান শক্তিতে পরিণত হয়।
- তখন থেকে আজ পর্যন্ত ছাত্র সম্প্রদায় প্রতি বছর ১৭ সেপ্টেম্বর শিক্ষা দিবস রূপে পালন করে আসছে।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
৮,৭১০.
বাংলাদেশে ক্ষুদ্র ঋণের জনক কে?
  1. ফজলে হাসান আবেদ
  2. ড. মুহাম্মদ ইউনুস
  3. ড. আখতার হামিদ খান
  4. স্যার ফজলে হোসেন
ব্যাখ্যা

ক্ষুদ্র ঋণ:
- বাংলাদেশের ক্ষুদ্র ঋণের জনক ড. মুহাম্মদ ইউনুস।

⇒ বহু পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর মুহাম্মদ ইউনুসের প্রতিষ্ঠিত গ্রামীণ ব্যাংক বিশেষ আইনবলে যাত্রা শুরু করে ১৯৮৩ সালে।
- এ গ্রামীণ ব্যাংকের মাধ্যমে বহুমাত্রিক সামাজিক ও অর্থনৈতিক বিপ্লবের সূচনা হয়।
- এ জন্য ২০০৬ সালে গ্রামীণ ব্যাংকের সঙ্গে যৌথভাবে শান্তিতে নোবেল পুরস্কারও পান ড. মুহাম্মদ ইউনুস।

উল্লেখ্য,
- ক্ষুদ্রঋণের মূল ধারণাটি হচ্ছে, দরিদ্র ব্যক্তিদের কিছু টাকা ঋণ দেওয়া।
- সেই টাকায় তাঁরা ছোট আকারে ব্যবসা শুরু করবেন। ব্যবসার মুনাফা থেকে ঋণের টাকা ফেরত দেবেন প্রতিষ্ঠানকে।
- প্রতিষ্ঠান আবার ওই টাকা ঋণ দেবে অন্য কাউকে।
- এভাবেই বিষয়টি দারিদ্র্য বিমোচনে ভূমিকা রাখবে।

তথ্যসূত্র - প্রথম আলো ও বিবিসি বাংলা পতিকার রিপোর্ট।

৮,৭১১.
ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর কালচারাল একাডেমি কোথায় অবস্থিত?
  1. ময়মনসিংহ
  2. বান্দরবান
  3. নেত্রকোণা
  4. ঢাকা
ব্যাখ্যা
ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর কালচারাল একাডেমি:

- ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর কালচারাল একাডেমি নেত্রকোণা জেলার বিরিশিরিতে অবস্থিত।
- ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর কালচারাল একাডেমি ১৯৭৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- এটি সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণাধীণ একটি সংবিধিবদ্ধ স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠান।
- প্রতিষ্ঠানটি মূল দুটি শাখার মাধ্যমে তার কাজ সম্পাদন করে থাকে।
- একটি সাংস্কৃতিক শাখা এবং অন্যটি গবেষণা শাখা।
- এ ছাড়াও রয়েছে একটি ছোট্ট নৃ-তাত্ত্বিক মিউজিয়াম এবং লাইব্রেরী।
- বৃহত্তর ময়মনসিংহের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীয়দের বিলীয়মান সংস্কৃতি সংরক্ষণ, অবিরত চর্চার মাধ্যমে তা ধরে রাখা এবং সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠীকে সংস্কৃতি-সচেতন হতে সহায়তা করা এবং উন্নয়নে প্রতিষ্ঠানটি কাজ করে থাকে।

তথ্যসূত্র - ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর কালচারাল একাডেমি ওয়েবসাইট।
৮,৭১২.
'তারামন বিবি' কে?
  1. ক) ব্যাংকের একজন পরিচালক
  2. খ) একজন বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা
  3. গ) জারিগান গায়িকা
  4. ঘ) নাটকের একটি চরিত্র
ব্যাখ্যা
তারামন বিবি
- বাংলাদেশের দুইজন বীর প্রতীক খেতাব প্রাপ্ত নারী মুক্তিযোদ্ধার একজন কুড়িগ্রামের তারামন বিবি।
- মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি কুড়িগ্রাম জেলায় নিজ গ্রাম শংকর মাধবপুরে ছিলেন। 
- তিনি ১১ নং সেক্টরে যুদ্ধ করেছেন যার সেক্টর কমান্ডার ছিলেন আবু তাহের বীর উত্তম।
- তারামন মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন মুহিব হাবিলদার নামে এক মুক্তিযোদ্ধার উৎসাহে। 
- তারামনের বয়স যখন মাত্র ১৩ কিংবা ১৪ তখন তিনিই তারামনকে ক্যাম্পে রান্নাবান্নার জন্য নিয়ে আসেন।
- কিন্তু পরবর্তীতে তারামনের সাহস ও শক্তির পরিচয় পেয়ে মুহিব হাবিলদার তাকে অস্ত্র চালনা শেখানো শুরু করেন।
- তারামন রাইফেল ও স্টেনগান চালানো শিখেছিলেন।
- তিনি ১১ নম্বর সেক্টরে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সৈনিকদের সঙ্গে কুড়িগ্রাম জেলার নদী-তীরবর্তী অঞ্চল মোহনগঞ্জ, তারাবর, কোদালকাটি ও গাইবান্ধা জেলার ফুলছড়িতে অগ্রবর্তী দলের হয়ে কয়েকটি সশস্ত্র যুদ্ধে বীরত্বের সাথে অংশগ্রহণ করেন।
- ১৯৭৩ সালে তৎকালীন বঙ্গবন্ধুর সরকার মুক্তিযুদ্ধে তারামন বিবির সাহসীকতা ও বীরত্ব পূর্ণ অবদানের জন্য তাঁকে “বীর প্রতীক” উপাধিতে ভূষিত করেন। 
- কিন্তু এরপর ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত তাঁকে খুঁজে বের করা সম্ভব হয়নি। 
- ১৯৯৫ সালে ময়মনসিংহের একজন গবেষক প্রথম তাঁকে খুঁজে বের করেন এবং নারী সংগঠনগুলো তাঁকে ঢাকায় নিয়ে আসেন। 
- ১৯৯৫ সালের ১৯শে ডিসেম্বর এক অনাড়ম্বর পরিবেশে আনুষ্ঠানিক ভাবে তারামন বিবিকে বীরত্বের পুরস্কার তাঁর হাতে তুলে দেয়া হয়।

উৎস: মুক্তিযোদ্ধা তারামন বিবি বীর প্রতীক, kurigram.gov.bd.
৮,৭১৩.
প্রতিনিধিত্বমূলক গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় 'বিকল্প সরকার' বলতে কী বােঝায়?
  1. ক্যাবিনেট
  2. বিরােধী দল
  3. সুশীল সমাজ
  4. লােকপ্রশাসন বিভাগ
ব্যাখ্যা
বিকল্প সরকার:
- প্রতিনিধিত্বশীল গণতন্ত্রে 'বিকল্প সরকার' বলা হয় বিরোধী দলকে।
- উন্নত রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে বিরোধী দলও সরকারি দলের ন্যায় গঠন করে- ছায়া মন্ত্রিসভা।
- সরকার যেন স্বৈরাচারি ও দুর্নীতিপরায়ণ না হয় সেজন্যে বিরোধী দল ছায়া সরকার বা বিকল্প সরকারের ভূমিকা পালনের মাধ্যমে সরকারের উপর চাপ সৃষ্টি করে থাকে।
- বর্তমান সময়ে গণতন্ত্রের অপর নাম হল দলীয় শাসন।

সূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৮,৭১৪.
ঢাকা মেট্রোরেল প্রকল্পের সার্বিক তত্ত্বাবধানে রয়েছে কোন সংস্থা?
  1. ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ
  2. বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন সংস্থা
  3. ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড
  4. সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তর
ব্যাখ্যা
মেট্রোরেল:
- ঢাকা মেট্রোরেল প্রকল্প বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠানের নাম Dhaka Mass Transit Company Limited.

উল্লেখ্য,
⇒ এর দৈর্ঘ্য ১২৯ কি.মি.।
- বাংলাদেশে প্রথম মেট্রোরেল চালু হয় ২৮ ডিসেম্বর, ২০২২ তারিখে।
- মেট্রোরেল জনসাধারণের জন্য চালু হয় ২৯ ডিসেম্বর, ২০২২ তারিখে।
- মেট্রোরেলের প্রথম চালক মরিয়ম আফিজা।
- এশিয়ার মধ্যে ২২তম দেশ হিসেবে মেট্রোরেল সিস্টেম চালু হয়েছে বাংলাদেশে।
- প্রথম পর্যায়ের মেট্রোরেল চলাচলের লাইন নম্বর ছিল- ম্যাস র‍্যাপিড ট্রানজিট লাইন ৬ (MRT Line-6)।

গুরুত্বপূর্ণ তথ্য-
- বাংলাদেশের মেট্রোরেলের লোগোর ডিজাইনার- আলী আহসান নিশান।
- মেট্রোরেলের পরিচালনা ব্যবস্থার নাম - কমিউনিকেশন বেজড ট্রেন কন্ট্রোল সিস্টেম।
- মেট্রোরেলের কোচগুলোর নির্মাতা জাপানের কাওয়াসাকি-মিতসুবিশি কনসোর্টিয়াম।
- ঢাকা মেট্রোরেল প্রকল্পে অর্থায়ন করেছে- জাইকা ও বাংলাদেশ সরকার।
- মেট্রোরেল উদ্বোধন উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক ৫০ টাকা মূল্যমানের স্মারক নোট চালু করেছে।
- মেট্রোরেলের জন্য গঠিত পুলিশের বিশেষ ইউনিটের নাম - এমআরটি পুলিশ।

উৎস: i) Dhaka Metro Mass Rapid Transit System - Railway Technology.
ii) বিবিসি বাংলা।
৮,৭১৫.
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কোন কমিশন গঠিত হয়?
  1. ক) সাইমন কমিশন
  2. খ) নাথান কমিশন
  3. গ) ক্রিপস কমিশন
  4. ঘ) মর্লি মিন্টো কমিশন
ব্যাখ্যা
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের প্রাচীনতম, সর্ববৃহৎ এবং উপমহাদেশের অন্যতম প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান।
- ১৯২০ সালে ভারতীয় বিধানসভায় গৃহীত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আইনবলে ১৯২১ সালের ১ জুলাই আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম শুরু হয়।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় গঠিত কমিশনের নাম ছিলো নাথান কমিশন।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপাচার্য হন স্যার ফিলিপ জোসেফ হার্টজ।
- উপ-মহাদেশীদের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ভাইস চেন্সেলর হলেন স্যার এ. এফ. রহমান।

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।
৮,৭১৬.
মুজিবনগর সরকারের শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন কে?
  1. তাজউদ্দীন আহমদ
  2. এ এইচ এম কামরুজ্জামান
  3. এম মনসুর আলী
  4. খন্দকার মোশতাক আহমদ
ব্যাখ্যা
• মুজিবনগর সরকারের কাঠামো ছিল নিম্নরূপ: 
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান- রাষ্ট্রপতি।
- সৈয়দ নজরুল ইসলাম- উপরাষ্ট্রপতি (রাষ্ট্রপতি পাকিস্তানে অন্তরীণ থাকার কারণে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা, দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনের দায়িত্বপ্রাপ্ত)। 
- তাজউদ্দীন আহমদ- প্রধানমন্ত্রীএবং প্রতিরক্ষা, তথ্য, সম্প্রচার ও যোগাযোগ, অর্থনৈতিক বিষয়াবলি, পরিকল্পনা বিভাগ, শিক্ষা, স্থানীয় সরকার, স্বাস্থ্য, শ্রম, সমাজকল্যাণ, সংস্থাপন এবং অন্যান্য যেসব বিষয় কারও ওপর ন্যস্ত হয়নি তার দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী। 
- খন্দকার মোশতাক আহমদ- মন্ত্রী, পররাষ্ট্র, আইন ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। 
- এম মনসুর আলী- মন্ত্রী, অর্থ, শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়
- এ এইচ এম কামরুজ্জামান- মন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র, সরবরাহ, ত্রাণ ও পুনর্বাসন এবং কৃষি মন্ত্রণালয়।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া।
৮,৭১৭.
মুজিবনগর সরকারের উপরাষ্ট্রপতি কে ছিলেন?
  1. এএইচএম কামারুজ্জামান
  2. সৈয়দ নজরুল ইসলাম
  3. তাজউদ্দিন আহমদ
  4. বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
ব্যাখ্যা
- ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল অস্থায়ী প্রবাসী/মুজিবনগর সরকার গঠিত হয়। ১৭ এপ্রিল এই সরকার শপথ গ্রহণ করে।
মুজিবনগর সরকারের মন্ত্রীসভা:
- রাষ্ট্রপতি : বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
- উপরাষ্ট্রপতি ও ভারপ্রাপ্ত (অস্থায়ী) রাষ্ট্রপতি : সৈয়দ নজরুল ইসলাম। অর্থাৎ, তিনি বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি।
- প্রধানমন্ত্রী : তাজউদ্দিন আহমদ। তিনি বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী। 
- স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রী : এএইচএম কামারুজ্জামান (পুরো নাম - আবুল হাসানাত মুহাম্মদ কামারুজ্জান)
- অর্থ ও বাণিজ্যমন্ত্রী : ক্যাপ্টেন এম. মনসুর আলী
- পররাষ্ট্র ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী : খন্দকার মুশতাক আহমেদ।
(সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
৮,৭১৮.
আমাদের দেশে কাদের চরম দারিদ্র্য বোঝানো হয়?
  1. ক) যারা ১৭০০ কিলোক্যালরি বা তার সমপরিমাণ খাবার খায় তাদের
  2. খ) যারা ১৮০৫ কিলোক্যালরি বা তার সমপরিমাণ খাবার খায় তাদের
  3. গ) যারা ২০০০ কিলোক্যালরি বা তার সমপরিমাণ খাবার খায় তাদের
  4. ঘ) যারা ২৫০০ কিলোক্যালরি বা তার সমপরিমাণ খাবার খায় তাদের
ব্যাখ্যা
চরম দারিদ্র্য:
- চরম দারিদ্র্য হলো সবচেয়ে গুরুতর ধরনের দারিদ্র্য, যাকে জাতিসংঘ (UN) দ্বারা সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে 'খাদ্য, নিরাপদ পানীয় জল, স্যানিটেশন সুবিধা, স্বাস্থ্য, আশ্রয়, শিক্ষা এবং তথ্যসহ মৌলিক মানবিক চাহিদাগুলির গুরুতর বঞ্চনার দ্বারা চিহ্নিত একটি অবস্থা'।
- দারিদ্র্যতাকে আবার অনেকেই ক্যালরি গ্রহনের মাধ্যমে ব্যাখ্যা করেছেন। 
- একটি নির্দিষ্ট স্তরের নিচে ক্যালরি গ্রহিতারাই দরিদ্র।
-  FAO, BBS এর গবেষনা অনুযায়ী যারা ২২০০ ক্যালরী শক্তির খাদ্য পায় না তারাই দরিদ্র।
- বাংলদেশে সামর্থ্যের অভাবে দৈনিক ২১২২ কিলোক্যালরীর কম খাদ্য গ্রহণকারীদের অবস্থান ‘দারিদ্র্য সীমার নিচে’ ধরা হয়।
- বাংলাদেশে কমপক্ষে দৈনিক ১৮০৫ কিলোক্যালরী গ্রহণকে দারিদ্র্য রেখা-২ বলা হয় এবং যারা এর নিচে অবস্থান করে তাদেরকে চরম দারিদ্র্য বলা হয়।

[যেহেতু অপশনে ১৮০৫ এর নিচে শুধু ১৭০০ ক্যালরি আছে, সে হিসেবে অপশন (ক) অধিক যুক্তিযুক্ত উত্তর।]


উৎস: অর্থনীতি, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,৭১৯.
মহামান্য রাষ্ট্রপতি কর্তৃক প্রধান বিচারপতি নিয়োগের ক্ষেত্রে কার সুপারিশ আবশ্যক হয়?
  1. আইনমন্ত্রী
  2. স্পিকার
  3. এটর্নি জেনারেল
  4. উপরের কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
মহামান্য রাষ্ট্রপতি কর্তৃক প্রধান বিচারপতি নিয়োগের ক্ষেত্রে উপরের কারো সুপারিশ আবশ্যক নয়।

সুপ্রীম কোর্টের বিচারক নিয়োগ:
- বাংলাদেশ সংবিধানের ৯৫ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী,
(১) প্রধান বিচারপতি রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিযুক্ত হবেন এবং প্রধান বিচারপতির সাথে পরামর্শ করে রাষ্ট্রপতি অন্যান্য বিচারককে নিয়োগদান করবেন।
(২) কোনো ব্যক্তি বাংলাদেশের নাগরিক না হলে, এবং
(ক) সুপ্রীম কোর্টে অন্যূন দশ বৎসরকাল এ্যাডভোকেট না থাকলে; অথবা
(খ) বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় সীমানার মধ্যে অন্যূন দশ বৎসর কোনো বিচার বিভাগীয় পদে অধিষ্ঠান না করে থাঢ়লে; অথবা
(গ) সুপ্রীমকোর্টের বিচারক পদে নিয়োগলাভের জন্য আইনের দ্বারা নির্ধারিত যোগ্যতা না থাকলে; তিনি বিচারকপদে নিয়োগ লাভের যোগ্য হইবেন না।

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশ সংবিধানের ৯৪ নং ধারা অনুযায়ী প্রধান বিচারপতি ও অন্যান্য বিচারপতিদেরকে নিয়োগের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শক্রমে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পাদন করে থাকেন।
- বর্তমানে দেশের প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান।

⇒ রাষ্ট্রপতি:
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের চতুর্থ ভাগের ৪৮ (৩) নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, এই সংবিধানের ৫৬ অনুচ্ছেদের (৩) দফা অনুসারে কেবল প্রধানমন্ত্রী ও ৯৫ অনুচ্ছেদের (১) দফা অনুসারে প্রধান বিচারপতি নিয়োগের ক্ষেত্র ব্যতীত রাষ্ট্রপতি তাঁর অন্য সকল দায়িত্ব পালনে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী কার্য করবেন।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
৮,৭২০.
ইলিয়াস শাহ কোন দেশের অধিবাসী ছিলেন?
  1. জর্ডান
  2. ইরাক
  3. ইরান
  4. সিরিয়া
ব্যাখ্যা

ইলিয়াস শাহের সিংহাসন লাভ ও রাজ্য বিস্তার:
- ইলিয়াস শাহী সুলতানগণ বাংলাদেশে প্রায় ১২২ বছর শাসন করেন। 
- এ বংশের প্রতিষ্ঠাতা সুলতান শামসুদ্দীন ইলিয়াস শাহ্ সর্বপ্রথম বাংলার বিভিন্ন অংশ একত্র করেন। 
- এর আগে কোন মুসলমান সুলতান সমগ্র বাংলাদেশকে একত্রো করতে পারেননি। তাই এ আমল থেকেই সমগ্র বাংলাদেশ 'বাঙ্গালা' নামে পরিচিত হয় এবং অধিবাসীরা পরিচিত হয় 'বাঙালি' নামে। 
- ইলিয়াস শাহ ইরানের অধিবাসী ছিলেন।
- ইলিয়াস লখনৌতির শাসনকর্তা আলী মুবারকের ধাত্রীমাতার পুত্র ছিলেন।
- পরে আলী মুবারক বাংলাদেশে চলে আসেন এবং অল্প দিনের মধ্যেই লখনৌতির শাসনকর্তা কদর খানের প্রধান সেনাপতি হন।
- ইলিয়াস শাহ যখন সিংহাসনে বসেন তখন পূর্ব ও দক্ষিণ বঙ্গ তার রাজ্যের বাইরে ছিল।
- তিনি প্রথমে সাতগাও দখল করেন।
- এরপর ১৩৫০ খ্রিস্টাব্দে নেপাল আক্রমণ করেন ও প্রচুর ধন-সম্পদ লাভ করেন।
- ইলিয়াস শাহ ১৩৫২ খ্রিস্টাব্দে সোনারগাও অধিকার করে সারা বাংলাদেশের সুলতান হন।
- ঐতিহাসিক শামস-ই-সিরাজ আফীফ তাঁকে 'শাহ-ই-বাঙ্গালাহ' ও 'সুলতান-ই- বাঙ্গালাহ' উপাধিতে ভূষিত করেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা,এসএসসি প্রোগ্রাম,বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮,৭২১.
বার ভূইয়ার অন্যতম 'বাহাদুর গাজি' কোন অঞ্চলের জমিদার ছিলেন?
  1. ক) বিক্রমপুর
  2. খ) চন্দ্রদ্বীপ
  3. গ) সোনারগাঁও
  4. ঘ) ভাওয়াল
ব্যাখ্যা
মুঘল আমলে পূর্ববঙ্গের জমিদারগণ ‘বারোভূঁইয়া’ নামে পরিচিত ছিলো।
এদের নেতা ছিলেন ঈসা খান। ঈসা খান সোনারগাঁওয়ের জমিদার ছিলেন। তার মৃত্যুর পর তারপুত্র মুসা খান সোনারগাঁওয়ের জমিদার হন।
অন্যদিকে,
- বিক্রমপুরের জমিদার : চাঁদ রায় ও কেদার রায়
- চন্দ্রদ্বীপের জমিদার : পরমানন্দ রায়
- ভাওয়ালের জমিদার : বাহাদুর গাজি।
(সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
৮,৭২২.
একটি দেশের অভ্যন্তরে দেশি বা বিদেশি নাগরিকদের দ্বারা প্রতি বছর উৎপাাদিত সকল দ্রব্য ও সেবার মোট আর্থিক মূল্য হচ্ছে -
  1. মোট দেশজ উৎপাদন
  2. মোট জাতীয় উৎপাদন
  3. মাথাপিছু আয়
  4. নেট জাতীয় উৎপাদন
ব্যাখ্যা
মোট দেশজ উৎপাদন (Gross Domestic Product: GDP)
- একটি দেশের অভ্যন্তরে দেশি বা বিদেশি নাগরিকদের দ্বারা প্রতি বছর উৎপাাদিত সকল দ্রব্য ও সেবার মোট আর্থিক মূল্য হচ্ছে মোট দেশজ উৎপাদন (GDP)।
- জিডিপি হিসাব করা হয় মূলত একটি দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির শক্তি বা সামর্থ্য বোঝার জন্য।
- তবে দেশের কোনো ব্যক্তি যদি বিদেশে কাজ করে অথবা কোনো কোম্পানি যদি বিদেশে ব্যবসা করে দেশে টাকা পাঠায় সেই আয় মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদন হিসেবে পরিগণিত হবে না অর্থাৎ জিডিপিতে অন্তর্ভুক্ত হবে না।
- মূলত জিডিপি হচ্ছে একটি দেশের অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের আর্থিক মূল্য।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, অষ্টম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৮,৭২৩.
পদ্মাসেতু কোন দুই জেলাকে সংযুক্ত করেছে?
  1. ক) ঢাকা, ফরিদপুর
  2. খ) মুন্সিগঞ্জ, শরীয়তপুর
  3. গ) মুন্সিগঞ্জ, ফরিদপুর
  4. ঘ) মুন্সিগঞ্জ, বরিশাল
ব্যাখ্যা
পদ্মা সেতু:
- পদ্মা সেতুর উদ্বোধন হয় - ২৫ জুন, ২০২২।
- যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়- ২৬ জুন, ২০২২ সালে।
- উদ্বোধন করেন- শেখ হাসিনা সেতুটির দৈর্ঘ্য ৬.১৫ কিলোমিটার। পদ্মা সেতুর আয়ুষ্কাল ১০০ বছর।
- পদ্মা সেতু নির্মাণে মোট ব্যয় হয়েছে ৩০ হাজার ১৯৩ কোটি টাকা।
- পদ্মা সেতু দিয়ে দেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে যাতায়াত সহজ হবে, সময়ও কমবে।
- সেতুটি মুন্সিগঞ্জের মাওয়া, লৌহজংকে শরীয়তপুরের জাজিরা প্রান্তের সঙ্গে সংযুক্ত করেছে।
- চলাচল সহজ করার পাশাপাশি অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে পদ্মা সেতু। - সমীক্ষা অনুযায়ী, পদ্মা সেতু প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ১.২৩ শতাংশ হারে মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) বৃদ্ধি পাবে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জিডিপি বাড়বে ২ দশমিক ৩ শতাংশ।

উৎস: প্রথম আলো, the daily star।
৮,৭২৪.
What was the name of the military operation carried out by the Pakistani army on the night of 25 March 1971?
  1. Operation Searchlight 
  2. Operation Jackpot
  3. Operation Kilo Flight 
  4. Operation Clean Heart
ব্যাখ্যা

 • অপারেশন সার্চ লাইট:
-  মুক্তিযুদ্ধের প্রধান বৈশিষ্ট্য গণহত্যা। 
-  পাকিস্তানী বাহিনী পরিকল্পিতভাবে গণহত্যা শুরু করে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাত্রিতে। 
-  বাঙালিকে শক্তির সাহায্যে দমন করার পরিকল্পনার নাম তারা দিয়েছিল 'অপারেশন সার্চ লাইট'।
-  বাঙালিদের দমন করার জন্য ৩ ব্যাটালিয়ন সৈন্য 'অপারেশন সার্চ লাইটে' অংশগ্রহণ করে।
-  রাত ১১ টার দিকে অপারেশন শুরু হয়। 
-  এই অপারেশনের লক্ষ্য ছিল গণহত্যা ও অগ্নিসংযোগ। ঐ রাতে পুরো ঢাকা শহর আক্রান্ত হয়।
-  সে রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক ও ছাত্রদের হত্যা করে জগন্নাথ হল, রোকেয়া হলসহ বিভিন্ন জায়গায় গণকবর দেয়া হয়।
-  সে রাতে ৭ জন শিক্ষক শহিদ হয়েছিলেন। শাঁখারি বাজার, তাঁতিবাজার, নয়াবাজার পুড়িয়ে দেয়া হয়। সে রাতে পাকিস্তানী বাহিনী ঢাকা শহরে দশ হাজারের বেশি মানুষকে হত্যা করেছিল।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮,৭২৫.
১৯৭৬ সালে স্থানীয় শাসন অর্ডিন্যান্সে কত ধরনের গ্রামীণ স্থানীয় সরকার গঠনের বিধান রাখা হয়?
ব্যাখ্যা

⇒ বাংলাদেশে স্থানীয় সরকার ১৯৭২ সালে জারিকৃত রাষ্ট্রপতির ৭নং আদেশে আওয়ামী লীগ সরকার বিদ্যমান সকল স্থানীয় সরকার কমিটি ভেঙে দেয়। এসব অবলুপ্ত কমিটির কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সরকার কিছু কমিটি নিয়োগ করে। অধিকন্তু ইউনিয়ন কাউন্সিল ও জেলা কাউন্সিল যথাক্রমে ইউনিয়ন পঞ্চায়েত (পরবর্তী সময়ে ইউনিয়ন পরিষদ) ও জেলা বোর্ডে (পরবর্তী সময়ে জেলা পরিষদ) রূপান্তরিত হয়। অবশ্য থানা কাউন্সিল ও বিভাগীয় কাউন্সিলের ক্ষেত্রে এ ধরনের কোনো কমিটি নিয়োগ করা হয় নি।

⇒ ১৯৭৫ সালের জানুয়ারি মাসে চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে ১৯৭২ সালের সংবিধানে ব্যাপক পরিবর্তন ঘটানো হয় এবং স্থানীয় সংস্থা সম্পর্কিত বিধানাবলি অকেজো হয়ে পড়ে। অবশ্য নির্দিষ্ট কিছুসংখ্যক স্থানীয় সংস্থা গঠনের বিধান রাখা হয়, তবে এর অধিকাংশই নির্বাচনভিত্তিক নয়। শেখ মুজিবের হত্যা এবং আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের (আগস্ট ১৯৭৫) ফলে স্থানীয় সরকার সম্পর্কিত উন্নয়ন প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে বাধাগ্রস্ত হয়।

১৯৭৬ সালে জেনারেল জিয়াউর রহমানের নতুন সরকার স্থানীয় সরকার অধ্যাদেশ জারি করে। এতে তিন ধরনের গ্রামীণ স্থানীয় সরকার গঠনের বিধান রাখা হয়,
যথা,
- ইউনিয়ন পরিষদ, 
- থানা পরিষদ।
- জেলা পরিষদ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৮,৭২৬.
বাংলাদেশ কত সালে প্রথম বিশ্ব অলিম্পিক গেমসে অংশগ্রহন করেছে?
  1. ১৯৮২ সালে
  2. ১৯৮৪ সালে
  3. ১৯৮৫ সালে
  4. ১৯৮৭ সালে
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশ অলিম্পিক এসোসিয়েশন:
- বাংলাদেশ অলিম্পিক সংস্থা (Bangladesh Olympic Association - BOA) বাংলাদেশের জাতীয় অলিম্পিক কমিটি.
- এটি আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির (IOC) স্বীকৃতিপ্রাপ্ত। 
- প্রতিষ্ঠিত হয়: ১৯৭৬ সালে।
- বিশ্ব অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশানের সদস্যপদ লাভ করে: ১৯৮০ সালে।
- সদর দপ্তর: পুরানা পল্টন, ঢাকা। 
- বর্তমান সভাপতি: জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান।

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশ প্রথম বিশ্ব অলিম্পিক গেমসে অংশগ্রহন করেছে ১৯৮৪ সালে।

উৎস: Bangladesh Olympic Association ওয়েবসাইট।

৮,৭২৭.
কোন কোন অঞ্চল নিয়ে বঙ্গ জনপদ বিস্তৃত ছিল?
  1. চট্টগ্রাম, সিলেট, কুমিল্লা
  2. ঢাকা, ফরিদপুর, বরিশাল
  3. রাজশাহী, রংপুর, দিনাজপুর
  4. খুলনা, যশোর, সাতক্ষীরা
ব্যাখ্যা

- বঙ্গ জনপদ বিস্তৃত ছিল- ঢাকা, ফরিদপুর ,  বরিশাল অঞ্চল নিয়ে।

বঙ্গ:

→ বঙ্গ  বাংলার একটি সুপ্রাচীন মানব-বসতির স্থান বা জনপদ, যা  চৌদ্দ শতকে মুসলমান শাসনামলে পরিবর্তিত রূপে বাঙ্গালাহ হিসেবে পরিচিত হয়ে ওঠে। 
→ ঐতরেয় আরণ্যক-এ সর্বপ্রথম মগধের সাথে বঙ্গ নামক একটি জনগোষ্ঠীর কথা উল্লিখিত হয়েছে।
→ মহাকবি কালীদাসের রঘুবংশ কাব্যে আছে বঙ্গের অবস্থান ও সীমানা সম্পর্কিত কিছু তথ্য।
→ তিনি 
ভাগীরথী ও পদ্মার স্রোত মধ্যবর্তী এলাকায় যে ত্রিভুজাকৃতি ব-দ্বীপ সৃষ্টি হয়েছে তাকেই বঙ্গদের অঞ্চল বলেছেন।
→ আর এ অঞ্চলই সম্ভবত টলেমির ‘গঙ্গরিডাই’।
→ প্রাচীন শিলালিপিতে বঙ্গের দুটি অঞ্চলের নাম পাওয়া যায়। একটি বিক্রমপুর বঙ্গ অন্যটি নাব্য বঙ্গ। বর্তমানে নাব্য বলে কোনো জায়গা নেই। অনুমান করা যায় ঢাকা-ফরিদপুর-বরিশাল এলাকা নাব্য বঙ্গের অন্তর্ভুক্ত ছিল।
→ বাংলায় মুসলমান শাসনামলের প্রাথমিক পর্যায়ে ‘বঙ্গ’ বলে বাংলার দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব অংশকেই বুঝানো হতো।
 → সুতরাং বঙ্গের এই ভৌগোলিক পরিচিতি হিন্দু ও বৌদ্ধ যুগ পেরিয়ে মুসলিম যুগের প্রাথমিক পর্যায়েতো বটেই, সম্ভবত ‘বাঙ্গালাহ’ নামের বিকাশ পর্যন্তই ছিল।

অন্যদিকে,
- হরিকেল জনপদের অন্তর্ভুক্ত ছিল- সিলেট, পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চল।
- বর্তমান বগুড়া, রংপুর, রাজশাহী ও দিনাজপুর এলাকা নিয়ে এ পুণ্ড্র জনপদটির সৃষ্টি হয়েছিল।
- প্রাচীন ত্রিপুরা বা বর্তমান কুমিল্লা ও নোয়াখালী অঞ্চলই নিয়েই ছিল প্রাচীন সমতট জনপদ।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮,৭২৮.
মুক্তিযুদ্ধকালে কাদেরিয়া বাহিনী কোন অঞ্চলে সক্রিয় ছিল?
  1. টাঙ্গাইল
  2. ময়মনসিংহ
  3. বরিশাল
  4. পাবনা
ব্যাখ্যা

আঞ্চলিক বাহিনী:
- সেক্টর এলাকার বাইরে আঞ্চলিক পর্যায়ে যেসব বাহিনী গড়ে উঠে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে,
- কাদেরিয়া বাহিনী (টাঙ্গাইল)।
- আফসার ব্যাটালিয়ন (ভালুকা, ময়মনসিংহ)।
- বাতেন বাহিনী (টাঙ্গাইল)।
- হেমায়েত বাহিনী (গোপালগঞ্জ, বরিশাল)।
- হালিম বাহিনী (মানিকগঞ্জ)।
- আকবর বাহিনী (মাগুরা)।
- লতিফ মীর্জা বাহিনী (সিরাজগঞ্জ, পাবনা)।
- জিয়া বাহিনী (সুন্দরবন)।
- এছাড়া ছিল ঢাকার গেরিলা দল, যা 'ক্র্যাক প্লাটুন' নামে পরিচিত।
- ঢাকা শহরের বড় বড় স্থাপনা, বিদ্যুৎ কেন্দ্র, হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল, ব্যাংক ও টেলিভিশন ভবনে বোমা বিস্ফোরণ ঘটায় ঢাকার গেরিলারা।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, অষ্টম শ্রেণি।

৮,৭২৯.
সর্বপ্রথম সিলেটের হরিপুরে গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার করে কোন কোম্পানি?
  1. হোয়াইট হল পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন
  2. বার্মা অয়েল কোম্পানি
  3. টার্নার মরিসন অ্যান্ড কোম্পানি
  4. শেল অয়েল কোম্পানি
ব্যাখ্যা
₻ গ্যাসক্ষেত্র
-  বাংলাদেশের প্রধান খনিজ সম্পদ হলো প্রাকৃতিক গ্যাস।
- ১৯৫৫ সালে বার্মা অয়েল কোম্পানি এদেশে সর্বপ্রথম সিলেটের হরিপুরে গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার করে।
- ১৯৫৭ সাল থেকে গ্যাসের উৎপাদন শুরু হয়।
- দেশে বর্তমানে আবিষ্কৃত গ্যাসক্ষেত্রের সংখ্যা ২৯ টি।
- বাংলাদেশের অন্যান্য খনিজ সম্পদের মধ্যে কয়লা, চুনাপাথর, কঠিন শিলা, গন্ধক, খনিজ তেল প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য।

সূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় : নবম-দশম শ্রেণী এবং পেট্রোবাংলা, প্রথম আলো।
৮,৭৩০.
কোন সংশোধনীর ফলে ১৯৭৫ সালের 'ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ' সাংবিধানিক বৈধতা পায়?
  1. নবম সংশোধনী
  2. সপ্তম সংশোধনী
  3. ষষ্ঠ সংশোধনী
  4. পঞ্চম সংশোধনী
ব্যাখ্যা
• পঞ্চম সংশোধনী:
- ১৯৭৯ সালে জাতীয় সংসদে অনুমোদিত হয় - পঞ্চম সংশোধনী আইন।
- এই আইন দ্বারা সংবিধানের চতুর্থ তফসিল সংশোধন করা হয়।
- ১৯৭৯ সালের ৯ এপ্রিল পর্যন্ত যে সকল সামরিক বিধি, সংবিধান সংশোধন সহ বিভিন্ন অধ্যাদেশ জারি করা হয় সেগুলো সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনী হিসেবে কাজ করা হয় ।
- এই সংশোধনীর মাধ্যমে বাঙালি জাতীয়তাবাদের পরিবর্তে বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ প্রবর্তিত হয় এবং সংবিধানের শুরুতে বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম সন্নিবেশিত হয় ।
- পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে প্রথম বারের মতো বাহাত্তরের সংবিধানের মূলনীতি থেকে সরে আসে।
- রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি সংশোধন করায় এই সংশোধনীকে 'First distortion of Constitution' বলা হয়।
- এই সংশোধনীর ফলে ১৯৭৫ সালের 'ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ' সাংবিধানিক বৈধতা পায়।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধানের ইতিহাস - আরিফ খান।
৮,৭৩১.
চট্টগ্রামে বাংলাদেশ টেলিভিশনের একটি নতুন পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্র স্থাপিত হয় কত সালে?
  1. ক) ১৯৯৪ সালে
  2. খ) ১৯৯৫ সালে
  3. গ) ১৯৯৬ সালে
  4. ঘ) ১৯৯৭ সালে
ব্যাখ্যা
- চট্টগ্রামে বাংলাদেশ টেলিভিশনের একটি নতুন পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্র স্থাপিত হয় ১৯৯৬ সালে।

বাংলাদেশ টেলিভিশন-
- বাংলাদেশ টেলিভিশনের যাত্রা শুরু হয় ১৯৬৪ সালের ২৫শে ডিসেম্বর।
- তৎকালীন ডি আই টি ভবনের (বর্তমানে রাজউক কার্যালয়) দুটি কক্ষে মাত্র ৩ ঘন্টা চলতো এর সম্প্রচার কার্যক্রম।
- ১৯৬৭ সালে তৎকালীন পাকিস্তান টেলিভিশন কর্পোরেশন ও ১৯৭২ সালে রাষ্ট্রপতির আদেশে (পি.ও নং-১১৫) বাংলাদেশ টেলিভিশন নামে রাষ্ট্রীয় টিভি চ্যানেলে পরিণত হয়।
- ৬ই মার্চ ১৯৭৫ সাল হতে রামপুরা টিভি ভবনে নতুন আঙ্গিকে শুরু হয় বিটিভির সম্প্রচার কার্যক্রম।
- ১৯৮০ সালে শুরু হয় বিটিভির রঙিন সম্প্রচার। 
- বিটিভি, বিটিভি ওয়ার্ল্ড, বিটিভি চট্টগ্রাম কেন্দ্র ও সংসদ বাংলাদেশ টেলিভিশনের অনুষ্ঠান ০১ জুলাই ২০১৯ থেকে বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইটের মাধ্যমে বহির্বিশ্বে সম্প্রচার কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ টেলিভিশন অফিসিয়াল ওয়েবসাইট।
৮,৭৩২.
কোনটি উন্নত জাতের টমেটো?
  1. গোল্ডেন ক্রস
  2. মিন্টু
  3. সিন্দুরী
  4. শুকতারা
ব্যাখ্যা

উন্নত জাতের টমেটো হল মিন্টু।
- বাহার, মানিক, রতন, ঝুমকা সিঁদুর ইত্যাদি উন্নত জাতের টমেটো।
- সিন্দুরী হল উন্নত জাতের আলু।
- শুকতারা হলো উন্নত জাতের বেগুন।
- গোল্ডেন ক্রস উন্নত জাতের বাঁধাকপি।

উৎস: ais.gov.bd

৮,৭৩৩.
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে জনগণের সেবা করাকে প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিযুক্ত ব্যক্তিদের কর্তব্য হিসাবে আখ্যায়িত করা হয়েছে?
  1. ২০নং 
  2. ১৯(১)নং 
  3. ২১নং 
  4. ২২নং 
ব্যাখ্যা

অনুচ্ছেদ: ২১ - নাগরিক ও সরকারী কর্মচারীদের কর্তব্য: 
(১) সংবিধান ও আইন মান্য করা, শৃঙ্খলা রক্ষা করা, নাগরিকদায়িত্ব পালন করা এবং জাতীয় সম্পত্তি রক্ষা করা প্রত্যেক নাগরিকের কর্তব্য৷  
(২) সকল সময়ে জনগণের সেবা করার চেষ্টা করা প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিযুক্ত প্রত্যেক ব্যক্তির কর্তব্য। 

অন্যদিকে,
- ১৯(১) নং অনুচ্ছেদ : সকল নাগরিকের জন্যে সুযোগের সমতা নিশ্চিত করিতে রাষ্ট্র সচেষ্ট হইবেন।
- ২২ নং অনুচ্ছেদ : নির্বাহী বিভাগ হইতে বিচার বিভাগের পৃথকীকরণ।
- ২০ নং অনুচ্ছেদ : অধিকার ও কর্তব্যরূপে কর্ম

সূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান। 

৮,৭৩৪.
'দরিদ্রহীন বিশ্বের অভিমুখে' কার লেখা আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ?
  1. ফজলে হাসান আবেদ
  2. ড. মুহাম্মদ ইউনূস
  3. আবদুল হামিদ খান ভাসানী
  4. এ. কে. ফজলুল হক
ব্যাখ্যা
ড. মুহাম্মদ ইউনূস:
- ড. মুহাম্মদ ইউনূস বাংলাদেশি নোবেল পুরস্কার বিজয়ী ব্যাংকার ও অর্থনীতিবিদ।
- তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের একজন শিক্ষক ছিলেন।
- তিনি ক্ষুদ্রঋণ নামক অর্থনৈতিক ব্যবস্থার জনক হিসেবে সমাদৃত।
- অধ্যাপক ইউনূস গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা।
- মুহাম্মদ ইউনূস এবং তার প্রতিষ্ঠিত গ্রামীণ ব্যাংক যৌথভাবে ২০০৬ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার লাভ করেন।
- তিনি প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে এই পুরস্কার লাভ করেন।
- ড. ইউনূস বিশ্ব খাদ্য পুরস্কারসহ আরও জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পুরস্কার লাভ করেছেন।
- 'দরিদ্রহীন বিশ্বের অভিমুখে' তাঁর লেখা আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ।

উল্লেখ্য,
- মুহাম্মদ ইউনূস ১৯৯৬ সালে সাবেক প্রধান বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমানের নেতৃত্বে গঠিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
- তিনি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন।
- ড. ইউনুসকে ২০২৪ সালে বাংলাদেশ সরকারের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান করা হয়।
- ১৯৭৮ সাল থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ড. ইউনূস জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সহ প্রায় ১৪৫টি পুরস্কার অর্জন করেছেন।
- তিনি স্বাধীনতা পুরস্কার লাভ করেন ১৯৮৭ সালে।

তথ্যসূত্র - ইউনূস সেন্টার।
৮,৭৩৫.
বরেন্দ্র জনপদ বলতে কোনটি বোঝায়?
  1. উত্তরবঙ্গ
  2. দক্ষিণবঙ্গ
  3. পূর্ববঙ্গ
  4. পশ্চিমবঙ্গ
ব্যাখ্যা
জনপদ:
বরেন্দ্র:
- উত্তরবঙ্গের জনপদ বরেন্দ্র।
- রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ, নাটোর, বগুড়া, রংপুর, দিনাজপুর এবং ভারতের মালদহ, মুর্শিদাবাদের কিছু অংশ, দার্জিলিং ও কোচবিহার এক সময় এ জনপদের আওতায় ছিল।
পুণ্ড্র:
- প্রাচীন বাংলার জনপদগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো পুণ্ড্র।
- এ অঞ্চলের রাজধানী পুণ্ড্রনগর।
- এর বর্তমান নাম মহাস্থানগড়।
গৌঢ়:
- পাল রাজাদের আমলে গৌঢ়ের নাম-ডাক ছিল।
- অনেকের মতে, ভারতের মালদহ, মুর্শিদাবাদ, বীরভূম ও বর্ধমানের কিছু অংশ আগে গৌঢ়ের অন্তর্ভুক্ত ছিল।
বঙ্গ:
- বৃহত্তম ঢাকা ও ময়মনসিংহ, কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা, ফরিদপুর আগে বঙ্গ জনপদের অধীনে ছিল।
সমতট:
- অনেকের মতে, বর্তমানের কুমিল্লা ও নোয়াখালী একসময় সমতট নামে পরিচিত ছিল।
- কুমিল্লা শহর থেকে ১২ মাইল দূরে বড় কামতা এ জনপদের রাজধানী ছিল।
হরিকেল:
- শ্রীহট্ট (সিলেট) থেকে চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার পর্যন্ত হরিকেল জনপদের সীমানা ছিল।

উৎস: ২৯ আগস্ট, ২০১৭, কালের কন্ঠ।
৮,৭৩৬.
বঙ্গবন্ধু টানেল' উদ্বোধন উপলক্ষে বাংলাদেশ ব্যাংক কত টাকার মূল্যমানের স্মারক নোট মুদ্রণ করেছে?
  1. ১০ টাকার
  2. ২০ টাকার
  3. ৫০ টাকার
  4. ১০০ টাকার
ব্যাখ্যা
৫০ টাকার স্মারক নোট:
- 'বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেল' উদ্বোধন উপলক্ষে ৫০ টাকার মূল্যমানের স্মারক নোট মুদ্রণ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, 'বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেল' উদ্বোধন উপলক্ষে বাংলাদেশ ব্যাংক একটি ৫০ টাকা মূল্যমান স্মারক নোট মুদ্রণ করেছে।
- প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২৮ অক্টোবর, ২০২৩ তারিখে টানেলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্মারক নোটটি আনুষ্ঠানিকভাবে অবমুক্ত করেন।
- ২৯ অক্টোবর, ২০২৩ থেকে এ স্মারক নোট বাংলাদেশ ব্যাংকের মতিঝিল অফিসের পাশাপাশি চট্টগ্রাম অফিসে এবং পরবর্তীতে অন্যান্য শাখা অফিস ও টাকা জাদুঘর থেকে পাওয়া যায়।
- বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার স্বাক্ষরিত ১৩০ মি.মি. x ৬০ মি.মি. পরিমাপের এ স্মারক নোটের সম্মুখভাগের বামপাশে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রতিকৃতি ও ডানপাশে টানেলের সম্মুখ অংশের ছবি সংযোজন করা হয়েছে।

উৎস: অক্টোবর ২৫, ২০২৩, দ্য ডেইলি স্টার বাংলা।
৮,৭৩৭.
১৯৬৬ সালের ৬ দফার কয়টি দফা অর্থনীতি বিষয়ক ছিল?
  1. ৪ টি
  2. ৩ টি
  3. ২ টি
  4. ১ টি
ব্যাখ্যা
ছয় দফায় অর্থনীতি বিষয়ক দফা:
অর্থনৈতিক বিষয়ক দফা ছিল তিনটি। এগুলো হলো: 
- তৃতীয় দফা: মুদ্রা বা অর্থ-সম্বন্ধীয় ক্ষমতা,
- চতুর্থ দফা: রাজস্ব, কর বা শুল্ক সম্বন্ধীয় ক্ষমতা,
- পঞ্চম দফা: বৈদেশিক বাণিজ্য বিষয়ক ক্ষমতা।

• ছয় দফা গুলো হলো:
- প্রথম দফা: প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন,
- দ্বিতীয় দফা: কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা,
- তৃতীয় দফা: মুদ্রা বা অর্থ-সম্বন্ধীয় ক্ষমতা,
- চতুর্থ দফা: রাজস্ব, কর বা শুল্ক সম্বন্ধীয় ক্ষমতা,
- পঞ্চম দফা: বৈদেশিক বাণিজ্য বিষয়ক ক্ষমতা এবং
- ষষ্ঠ দফা: আঞ্চলিক সেনাবাহিনী গঠনের ক্ষমতা।


উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
৮,৭৩৮.
ওয়ান হানড্রেড পোর্টস ২০২৫' তালিকায় চট্টগ্রাম বন্দরের অবস্থান কত?
  1. ৬০তম
  2. ৭৮তম
  3. ৬৮তম
  4. ৫৮তম
ব্যাখ্যা

'ওয়ান হানড্রেড পোর্টস ২০২৫' তালিকা:
- ২০২৪ সালে বিশ্বের বিভিন্ন বন্দরের কনটেইনার পরিবহনের সংখ্যা হিসাব করে 'ওয়ান হানড্রেড পোর্টস ২০২৫' তালিকা প্রকাশ করেছে লন্ডনভিত্তিক শিপিং-বিষয়ক বিশ্বের সবচেয়ে পুরোনো সংবাদমাধ্যম লয়েডস লিস্ট।
- বৈশ্বিক তালিকায় চট্টগ্রাম বন্দরের নতুন অবস্থান এখন ৬৮তম।
- ২০২৪ সালে এই বন্দর ৩২ লাখ ৭৫ হাজার একক কনটেইনার পরিবহন করেছে।
লয়েডস লিস্টের ক্রমতালিকা অনুযায়ী, গত বছর চট্টগ্রাম বন্দরের অবস্থান ছিল ৬৭তম।

উল্লেখ্য,
- তালিকায় শীর্ষে রয়েছে চীনের সাংহাই বন্দর।
- ২০২৪ সালে বন্দরটি দিয়ে ৫ কোটি ১৫ লাখ একক কনটেইনার পরিবহন হয়েছে।
- তালিকায় সবার শেষে, অর্থাৎ ১০০তম স্থানে রয়েছে চিলির সান অন্তোনিও বন্দর।

উৎস: প্রথম আলো পত্রিকা নিউজ।লিঙ্ক]

৮,৭৩৯.
বাংলাদেশের সংবিধানের ১৪২ নং অনুচ্ছেদের বিষয়বস্তু কী?
  1. সংবিধান সংশোধনের পদ্ধতি
  2. জরুরি অবস্থার ঘোষণা
  3. ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী বিধানাবলী
  4. আন্তর্জাতিক চুক্তি
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের সংবিধান:
- বাংলাদেশের সংবিধানের ১৪২ নং অনুচ্ছেদের মূল বিষয়বস্তু হলো সংবিধান সংশোধনের পদ্ধতি।
- এই অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সংবিধান সংশোধন করতে হলে জাতীয় সংসদের মোট সদস্যসংখ্যার কমপক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের ভোটের প্রয়োজন হয়। 

⇒ ১৪২ নং অনুচ্ছেদ:
- এই সংবিধানে যা বলা হয়েছে, তা সত্ত্বেও—
(ক) সংসদের আইন দিয়ে এই সংবিধানের যেকোনো অংশ যোগ করা, বদলানো, নতুন করে লেখা বা বাদ দেওয়ার মাধ্যমে সংশোধিত হতে পারবে:
তবে শর্ত আছে যে,
(অ) এমন সংশোধনির জন্য আনা কোনো বিলের পুরো শিরোনামে এই সংবিধানের কোনো অংশ সংশোধন করা হবে বলে স্পষ্টভাবে উল্লেখ না থাকলে সেই বিলটি আলোচনার জন্য গ্রহণ করা যাবে না;
(আ) সংসদের মোট সদস্য সংখ্যার অন্তত দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে পাস না হলে এমন কোনো বিল রাষ্ট্রপতির কাছে সম্মতির জন্য পাঠানো যাবে না;
(খ) উপরোক্ত উপায়ে কোনো বিল পাস হয়ে সম্মতির জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো হলে, পাঠানোর সাত দিনের মধ্যে তিনি সেই বিলে সম্মতি দিতে হবে, এবং তিনি তা করতে না পারলে সেই সময়ের শেষে তিনি সম্মতি দিয়েছেন বলে গণ্য হবে।]

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।

৮,৭৪০.
মুক্তিযুদ্ধকালীন ভারতের রাষ্ট্রপতি কে ছিলেন?
  1. ভেঙ্কট গিডি
  2. ইন্দিরা গান্ধী
  3. সুভাষ রায়
  4. শরণ সিং
ব্যাখ্যা
বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ:
- বঙ্গবন্ধু বাঙালির মুক্তিসংগ্রামের মহান নেতা। 
- মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানে বন্দি থাকলেও তার নামেই ন’মাস মুক্তিযুদ্ধ চলে।
- মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনাকারী মুজিবনগর সরকারও বঙ্গবন্ধুকে প্রধান করেই গঠন (১৭ এপ্রিল, ১৯৭১) করা হয়েছিল।
- পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু ঢাকার মাটিতে পা রাখেন।
- এর আগে ৮ জানুয়ারি খবর আসে বঙ্গবন্ধু পাকিস্তান থেকে মুক্তি পেয়ে খুব ভোরে লন্ডন যান।
- ৯ জানুয়ারি টেলিফোনে ইন্দিরা গান্ধী বঙ্গবন্ধুকে অভিনন্দন জানান এবং অনুরোধ করেন ঢাকার পথে যেন তিনি দিল্লিতে যাত্রাবিরতি করেন। 
- রাষ্ট্রপতি শ্রী ভরাহগিরি ভেঙ্কট গিরি তখন বঙ্গবন্ধুকে আলিঙ্গন করছিলেন এবং প্রধানমন্ত্রী শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধী তাকে স্বাগত জানাচ্ছিলেন।
- তখন ২১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুকে অভিনন্দন জানানো হচ্ছিল।
- নয়াদিল্লির পালাম বিমানবন্দরে বঙ্গবন্ধুকে স্বাগত জানিয়ে প্রদত্ত ভাষণে প্রেসিডেন্ট ভিভি গিরি বলেন, ‘মহোদয়, এই ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে দেশের প্রধান হিসেবে আপনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন এ অঞ্চলে স্থায়ী ও অটুট শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা ও সম্ভাবনা জোরদার ও সুনিশ্চিত করবে।’
- ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি বিকালে বঙ্গবন্ধু লন্ডন দিল্লি হয়ে প্রাণের শহর ঢাকায় ফিরে আসেন বেলা ১টা ৪১ মিনিটে। 

উৎস: ১০ জানুয়ারি ২০২১, যুগান্তর। [link]
৮,৭৪১.
বৈদেশিক বাণিজ্যে নিচের কোন দেশটির সাথে বাংলাদেশের বাণিজ্য উদ্বৃত্ত বিদ্যমান?
  1. ভারত
  2. যুক্তরাষ্ট্র
  3. চীন
  4. সিঙ্গাপুর
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশের সার্বিক বৈদেশিক বাণিজ্যে ঘাটতি বিদ্যমান।
- গত ২০১৯-২০ অর্থবছরে বাণিজ্য ভারসাম্যে ঘাটতি ছিলো ১৭.৮৫৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
- তবে কয়েকটি দেশের সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈদেশিক বাণিজ্যে বাংলাদেশের উদ্বৃত্ত রয়েছে।
এগুলোর মধ্যে:
- প্রথম : জার্মানি (৪.২৩ বি. ড.)
- দ্বিতীয় : যুক্তরাষ্ট্র (৩.৭ বি. ড.)
- তৃতীয় : যুক্তরাজ্য (২.৯ বি. ড.)।
অন্যদিকে,
-- বাংলাদেশের সাথে সবচেয়ে বেশি বাণিজ্য ঘাটতি বিদ্যমান চীনের সাথে। দ্বিতীয় সর্বাধিক ভারতের সাথে।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশ ব্যাংক এবং বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা-২০২০)
৮,৭৪২.
চীন বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় কবে? 
  1. ৩১ আগস্ট, ১৯৭৫ সালে
  2. ১১ আগস্ট, ১৯৭৬ সালে
  3. ১ আগস্ট, ১৯৭৫ সালে
  4. ২৩ আগস্ট, ১৯৭৬ সালে
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশকে প্রথম স্বীকৃতি প্রদানকারী দেশসমূহ:
- বাংলাদেশকে প্রথম স্বীকৃতি দিয়েছে ভুটান।
- ভুটান ৬ ডিসেম্বর, ১৯৭২ সালে প্রথম দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিল।
- ভুটানের পর একই দিনে ভারত বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিয়েছিল।
- চীন বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়- ৩১ আগস্ট, ১৯৭৫ সালে। 
---------------------------------------
• স্বীকৃতি প্রদানকারী দেশসমূহ:
- স্বাধীনতার পর বিভিন্ন দেশ পর্যায়ক্রমে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে।

• আরব বিশ্বের মধ্যে প্রথম বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদানকারী দেশ ছিল- ইরাক। 
• অনারব মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে প্রথম স্বীকৃতি দেয়- ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়া- একই দিনে, ১৯৭২ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি। 
• ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে প্রথম স্বীকৃতি দেয়- পূর্ব জার্মানি।
• আফ্রিকার দেশগুলোর মধ্যে সবার আগে সেনেগাল বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়।
• সমাজতান্ত্রিক দেশ হিসেবে প্রথম বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদানকারী দেশ ছিল- পোল্যান্ড।
• দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশে প্রথম স্বীকৃতি প্রদান করে- ভেনিজুয়েলা।
• উত্তর আমেরিকার দেশগুলোর মধ্যে প্রথম স্বীকৃতি দেয়- বার্বাডোস।
• ওশেনিয়া অঞ্চলে প্রথম বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়- টোঙ্গা।

• মহাশক্তিগুলোর মধ্যে সোভিয়েত ইউনিয়ন (রাশিয়া) বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে ২৪ জানুয়ারি ১৯৭২।
• যুক্তরাষ্ট্র স্বাধীন বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় ৪ এপ্রিল ১৯৭২। অপরদিকে ।
• পাকিস্তান বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় ২২ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৪।

উৎস: BBC News ও দৈনিক জনকণ্ঠ পত্রিকা [লিঙ্ক]। 

৮,৭৪৩.
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে ধর্ম নিরপেক্ষতা ও ধর্মীয় স্বাধীনতার উল্লেখ রয়েছে?
  1. অনুচ্ছেদ ১০
  2. অনুচ্ছেদ ১১
  3. অনুচ্ছেদ ১২
  4. অনুচ্ছেদ ১৩
ব্যাখ্যা

অনুচ্ছেদ:
- অনুচ্ছেদ ১০ - সমাজতন্ত্র ও শোষণমুক্তি।
- অনুচ্ছেদ ১১ - গণতন্ত্র ও মানবাধিকার।
- অনুচ্ছেদ ১২ - ধর্ম নিরপেক্ষতা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা।
- অনুচ্ছেদ ১৩ - মালিকানার নীতি।
- অনুচ্ছেদ ১৪ - কৃষক ও শ্রমিকের মুক্তি।
- অনুচ্ছেদ ১৫ - মৌলিক প্রয়োজনের ব্যবস্থা।
- অনুচ্ছেদ ১৬ - গ্রামীণ উন্নয়ন ও কৃষি বিপ্লব।
- অনুচ্ছেদ ১৭ - অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষা।
- অনুচ্ছেদ ১৮ - জনস্বাস্থ্য ও নৈতিকতা।
- অনুচ্ছেদ ১৮(ক) - পরিবেশ ও জীব-বৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও উন্নয়ন।
- অনুচ্ছেদ ১৯ - সুযোগের সমতা।
- অনুচ্ছেদ ২০ - অধিকার ও কর্তব্যরূপে কর্ম।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান।

৮,৭৪৪.
চীন কত তারিখে বাংলাদেশকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসাবে স্বীকৃতি প্রদান করেছে?
  1. ১৬ আগস্ট, ১৯৭৪
  2. ৩১ আগস্ট, ১৯৭৪
  3. ১৬ আগস্ট, ১৯৭৫
  4. ৩১ আগস্ট, ১৯৭৫
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি:
- বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর আনুষ্ঠানিকভাবে মোট ১৫০টি দেশ স্বীকৃতি প্রদান করে। 
- ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের পর বাংলাদেশকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসাবে সর্বপ্রথম ভুটান স্বীকৃতি প্রদান করে।
- ভুটান ও ভারত উভয় দেশই বাংলাদেশকে ১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর স্বীকৃতি দিয়েছিল। 
- সর্বশেষ দেশ হিসেবে চীন বাংলাদেশকে ১৯৭৫ সালের ৩১ আগস্ট স্বীকৃতি প্রদান করে

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।

৮,৭৪৫.
শিক্ষা আন্দোলন হয় কত সালে?
  1. ১৯৫৬ সালে
  2. ১৯৫৮ সালে
  3. ১৯৬০ সালে
  4. ১৯৬২ সালে
ব্যাখ্যা
• বাষট্টির শিক্ষা আন্দোলন:
- ১৯৬১ সালের শেষ দিকে পূর্ব পাকিস্তানে আইয়ুব বিরোধী আন্দোলন শুরু হয়।
- ১৯৬২ সালের ৩০ জানুয়ারি সোহরাওয়ার্দীকে দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রের অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়।
- এই খবর পূর্ব পাকিস্তানে ছড়িয়ে পড়লে ছাত্ররা সরকারবিরোধী প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে।
- গণতন্ত্র পুনরুজ্জীবনের লক্ষ্যে পরিচালিত আন্দোলন দমনে আইয়ুব সরকার গ্রেফতার নির্যাতন চালালে ছাত্র গণআন্দোলন তীব্র আকার ধারণ করে।
- এ অবস্থায় আইয়ুব খান ১৯৬২ সালের ১ মার্চ একটি সংবিধান ঘোষণা করেন।
- সংবিধানে কেন্দ্র ও প্রদেশের মন্ত্রীসভা ও গভর্ণরের ক্ষমতা সংকোচিত করা হয়।
- প্রেসিডেন্টের হাতে সকল ক্ষমতা কেন্দ্রিভূত করা হয়।
- বিচার বিভাগের ক্ষমতাও খর্ব করা হয়।
- এর প্রতিবাদে পূর্ব পাকিস্তানের ছাত্রসমাজ বিক্ষোভ-সমাবেশ ও ক্লাস বর্জন করে।
- আন্দোলন প্রতিহত করার জন্য আইয়ুব খান ও পূর্ব বাংলার গভর্নর মোনায়েম খান ছাত্রদের ওপর কঠোর দমন নীতি চালান।
- ১৯৬২ সালের আগস্ট মাসে শরীফ কমিশনের শিক্ষাসংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ পেলে ছাত্র আন্দোলন নতুন রূপলাভ করে।
- এ আন্দোলন 'বাষট্টির শিক্ষা আন্দোলন' নামে পরিচিত।
- ১৫ আগস্ট থেকে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত প্রতিদিন বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
- ১৭ সেপ্টেম্বর হরতাল চলাকালে পুলিশের গুলিতে কয়েকজন ছাত্র নিহত এবং কয়েক শত আহত হয়।
- ৮ জুন সামরিক আইন স্থগিত করে দলীয় রাজনীতির অধিকার ফিরিয়ে দেয়া হয়।

উৎস: ইতিহাস ১ম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,৭৪৬.
e-TIN কী?
  1. অটোমেটেড পেমেন্ট গেটওয়ে
  2. অটোমেটেড পেমেন্ট সিস্টেম
  3. করদাতার পরিচিতি নম্বর
  4. মূল্য সংযোজন কর নম্বর
ব্যাখ্যা
e-TIN: 
- করদাতা  হিসেবে রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া দ্রুত  ও সহজতর করতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ই-টিআইএন  (e-TIN) রেজিস্ট্রেশন পদ্ধতি  প্রবর্তন করেছিল।
- ই-টিআইএন (e-TIN) মানে ইলেকট্রনিক ট্যাক্স আইডেনটিফিকেশন নাম্বার। 
- এটি আয়কর নিবন্ধনের আধুনিক সংস্করণ।
- এটি ১২ ডিজিটের ১টি নম্বর।
- e-TIN করদাতার পরিচিতি নম্বর। 
- একজন করদাতাকে সহজে, ঘরে বসে অনলাইনে নিবন্ধন পেতে এই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

উৎস: NBR ওয়েবসাইট।
৮,৭৪৭.
দেশের তৃতীয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্ক কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) কক্সবাজার
  2. খ) হবিগঞ্জ
  3. গ) গাজীপুর
  4. ঘ) মৌলভীবাজার
ব্যাখ্যা
- মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার লাঠিটিলায় দেশের তৃতীয় সাফারি পার্ক স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
- লাঠিটিলায় ৫,৬৩১ একর জায়গাজুড়ে এ সংরক্ষিত বনের নাম হবে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্ক’। 
- এ বনাঞ্চলে ২০৯ প্রজাতির প্রাণী এবং ৬০৩ ধরনের উদ্ভিদ প্রজাতি রয়েছে। 
- ১৯৯৯ সালে কক্সবাজারের ডুলাহাজারায় দেশের প্রথম সাফারি পার্ক তৈরি করা হয়।
- দ্বিতীয়টি তৈরি হয় ২০১৩ সালে গাজীপুরে।
- এ দুটি সাফারি পার্কের নামকরণও করা হয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে।
 উৎস : পত্রিকা রিপোর্ট। 
৮,৭৪৮.
ভারতের মুঘল আমলে ‘দীন-ই-ইলাহি’ নামে নতুন ধর্মমত প্রবর্তন করেছিলেন কে?
  1. সম্রাট বাবর
  2. সম্রাট হুমায়ুন
  3. সম্রাট আকবর
  4. সম্রাট জাহাঙ্গীর
ব্যাখ্যা

◉ দীন-ই-ইলাহি (Din-i-Ilahi) ছিল মুঘল সম্রাট আকবরের প্রবর্তিত একটি ধর্মমত, যা তিনি ১৫৮২ খ্রিষ্টাব্দে প্রচলন করেন।

সম্রাট আকবর:
- তৃতীয় মোগল সম্রাট অবুল ফতেহ জালাল উদ্দিন মোহাম্মদ আকবর।
- পিতা হুমায়ুনের মৃত্যুর পর ১৫৫৬ সালে সিংহাসনে বসেন আকবর।
- তখন তাঁর বয়স ছিল ১৩ বছর।
- তাঁর শাসনামলে রাজনৈতিক, সামরিক ও অর্থনৈতিকভাবে মোগল সাম্রাজ্যের ভিত্তি সুদৃঢ় হয়।
- আকবর সঙ্গীতপ্রিয় ও সঙ্গীতপিপাসু ছিলেন।
- আকবরের দরবারে জ্ঞানী, গুণী, বিদ্যান, বুদ্ধিমান ব্যক্তিদের কদর ও প্রাধান্য ছিল।
- তার দরবারে ভারতীয়, ইরানী তুরানী, কাশ্মীরি গায়ক ছিলেন।
- বিখ্যাত ইতিহাসবিদ আবুল ফজলের তথ্য মতে, আকবরের দরবারে ৩৬ জন গায়ক ছিলেন।
- আইন-ই-আকবরী মুঘল সম্রাট আকবরের (১৫৫৬-১৬০৫) দরবারের ঐতিহাসিক আবুল ফজল কর্তৃক রচিত আকবরনামা গ্রন্থের তৃতীয় খন্ড।
- সম্রাট আকবরের শাসনামলে 'বাংলার বারো ভুঁইয়ার' অভ্যুত্থান ঘটে।
- ভারতের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ সঙ্গীতজ্ঞ তানসেন সম্রাট আকবরের দরবারের সবচেয়ে প্রতিভাবান বুদ্ধিজীবী এবং শিল্পী ছিলেন।

⇒ সম্রাট আকবর সমন্বয়বাদী চিন্তার ধারক-বাহক ছিলেন।

উল্লেখ্য,
- কৃষিকাজের সুবিধার্থে মুগল সম্রাট আকবর বাংলা সন প্রবর্তন করেন।
- এটি কার্যকর হয় সম্রাট আকবরের সিংহাসন-আরোহণের সময় থেকে।
- নতুন সনটি প্রথমে ‘ফসলি সন’ নামে পরিচিত ছিল, পরে তা বঙ্গাব্দ নামে পরিচিত হয়।

এছাড়াও,
- ১৫৮২ সালে আকবর ‘দীন-ই-ইলাহি’ ধর্মের প্রবর্তন করেন।
- তিনি 'জিজিয়া কর' রহিত করেন।

উৎস:
i) ইতিহাস ১ম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii)ইতিহাস, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮,৭৪৯.
ঐতিহাসিক ৬-দফাকে কিসের সাথে তুলনা করা হয়?
  1. ক) বিল অব রাইটস
  2. খ) ম্যাগনাকার্টা
  3. গ) পিটিশন অব রাইটস
  4. ঘ) মুখ্য আইন
ব্যাখ্যা
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অর্থনৈতিক বৈষম্য থেকে মুক্তির জন্য ১৯৬৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে অনুষ্ঠিত বিরোধী দলগুলোর সম্মেলনে ঐতিহাসিক ছয় দফা কর্মসূচি পেশ করেন।
- এ কর্মসূচিকে বাংলার জনগণ ম্যাগনাকার্টা হিসেবে গ্রহণ করে। স্বয়ং বঙ্গবন্ধু এ ছয় দফাকে পূর্ব পাকিস্তানের 'বাঁচার দাবি' বলে অভিহিত করেন।
উৎসঃ পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৮,৭৫০.
কোনটি সাংবিধানিক পদ?
  1. ক) গভর্নর, বাংলাদেশ ব্যাংক
  2. খ) চেয়ারম্যান, দুর্নীতি দমন কমিশন 
  3. গ) চেয়ারম্যান, ঢাকা শিক্ষাবোর্ড 
  4. ঘ) মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সাংবিধানিক পদসমূহঃ
- রাষ্ট্রপতি,
- প্রধানমন্ত্রী, 
- স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার, 
- মন্ত্রিসভার সদস্যগণ, 
- সংসদ সদস্য, 
- নির্বাচন কমিশনার,
- সরকারি কর্মকমিশনের সদস্য, 
- মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক ইত্যাদি।

• অপরদিকে,
- জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান, 
- দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান,
• বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ইত্যাদি সাংবিধানিক পদ নয়।
৮,৭৫১.
কোন গভর্নর জেনারেল রাজস্ব আদায়ের জন্য দশসালা বন্দোবস্ত চালু করেন?
  1. ক) লর্ড ক্যানিং
  2. খ) ওয়ারেন হেস্টিংস
  3. গ) লর্ড কর্নওয়ালিস
  4. ঘ) লর্ড ডালহৌসী
ব্যাখ্যা
ওয়ারেন হেস্টিংস রাজস্ব আদায়ের জন্য পাঁচসালা বন্দোবস্ত ও একসালা বন্দোবস্ত চালু করেন। কিন্তু, এই ব্যবস্থাগুলো প্রয়োজনীয় রাজস্ব আদায়ে ব্যর্থ হয়।
১৭৮৬ সালে লর্ড কর্নওয়ালিসকে ভারতের গভর্নর জেনারেল ও সেনাপ্রধানের দায়িত্ব দিয়ে পাঠানাে হয়।
-তিনি ১৭৮৯ সালে দশসালা বন্দোবস্ত চালু করেন।
-১৭৯৩ সালের ২২শে মার্চ কর্নওয়ালিস দশসালা বন্দোবস্তকে চিরস্থায়ী বলে ঘােষণা করেন।
উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, ৯ম-১০ম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৮,৭৫২.
বাংলাদেশের প্রথম বাংলা সবাক চলচ্চিত্র ‘মুখ ও মুখোশ’ মুক্তি লাভ করে কবে?
  1. ১৯৫৫ সালে
  2. ১৯৫৬ সালে
  3. ১৯৫৭ সালে
  4. ১৯৫৮ সালে
ব্যাখ্যা

‘মুখ ও মুখোশ’:
- বাংলাদেশের প্রথম বাংলা সবাক চলচ্চিত্র ‘মুখ ও মুখোশ’।
- দিনটি ছিল ১৯৫৬ সালের ৩ আগস্ট।
- বাংলাদেশে চলচ্চিত্রটির প্রথম প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয় রূপমহল প্রেক্ষাগৃহে।
- চলচ্চিত্রটির দৈর্ঘ্য ছিল ৯৯ মিনিট।
- চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন পূর্ণিমা সেন, সাইফুদ্দিন, বিনয় বিশ্বাস, আবদুল জব্বার খান, ইনাম আহমেদ, জহরত আরা।
- চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেন আবদুল জব্বার খান। 
- সংগীত পরিচালক ছিলেন সমর দাস।
- গান করেন মাহবুবা হাসনাত ও আবদুল আলীম।
- নৃত্য পরিচালনা করেন গওহর জামিল।
- চিত্রগ্রাহক ছিলেন মুরারী মোহন জামান।

তথ্যসূত্র - জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও প্রথম আলো পত্রিকার রিপোর্ট।

৮,৭৫৩.
'হান্টার কমিশন' গঠন করেন কে?
  1. লর্ড ক্যানিং
  2. লর্ড লিটন
  3. লর্ড রিপন
  4. লর্ড কার্জন
ব্যাখ্যা
• 'হান্টার কমিশন'
- ১৮৫৪ খ্রিস্টাব্দে উডের ডেসপ্যাচে প্রাথমিক ও দেশজ শিক্ষার উন্নতির জন্য বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল।
- কিন্তু এই ডেসপ্যাচের ভাবধারা কে অবহেলা করে প্রাথমিক ও দেশজ শিক্ষার উপর গুরুত্ব না দিয়ে শুধু উচ্চশিক্ষা ও সরকারি স্কুল কলেজগুলিতে গুরুত্ব দেওয়া হয়। - এর ফলে প্রাথমিক শিক্ষার উন্নতি একেবারেই হয় না। তাই সরকার প্রথমে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার উন্নতি সম্পর্কে চিন্তা ভাবনা করেন।

•হান্টার কমিশন গঠন:-
- এই পরিস্থিতিতে তৎকালীন ভাইসরয় লর্ড রিপন ১৮৮২ খ্রিস্টাব্দের ৩রা ফেব্রুয়ারি ২০ জন সদস্য নিয়ে একটি শিক্ষা কমিশন গঠন করেন।
- এটি প্রথম "ভারতীয় শিক্ষা কমিশন” নামে পরিচিত।
- এই কমিশন স্যার উইলিয়াম উইলসন হান্টারের নেতৃত্বে গঠিত হয়েছিল বলে একে "হান্টার কমিশন” বলা হয়।
- স্যার উইলিয়াম উইলসন হান্টার ছিলেন এই কমিশনের সভাপতি।
- অন্যান্য সদস্যরা হলেন- আনন্দমোহন বসু, কে.টি. তেলাং, ভূদেব মুখোপাধ্যায়, স্যার সৈয়দ আহমদ খান প্রমুখ।
- প্রাথমিক শিক্ষা ও নিরক্ষরতা বিষয়ে এই কমিশনকে বিশেষভাবে বিচার করার কথা বলা হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৮,৭৫৪.
১৯৫৪ সালের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের প্রতীক কী ছিল?
  1. তারকা
  2. চাঁদ
  3. নৌকা
  4. হারিকেন
ব্যাখ্যা
১৯৫৪ সালের নির্বাচন:
- ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে বিভিন্ন দলের প্রার্থীদের ব্যালট বাক্সে ব্যবহারের জন্য সরকার চূড়ান্তরূপে মোট ২৪টি প্রতীক নির্দিষ্ট করেন।
- নির্বাচনে মুসলিম লীগ 'হারিকেন' প্রতীক এবং যুক্তফ্রন্ট 'নৌকা' প্রতীক গ্রহণ করে।
- ভোট দেওয়ার জন্য ভোটারকে পাঁচ মাইলের বেশি হাঁটতে না হয় সেদিকে লক্ষ রেখে বুথ প্রতিষ্ঠা করা হয়।
- গেজেটেড অফিসার, কলেজের প্রফেসর, হাই স্কুল ও হাইমাদরাসার প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকদের প্রিসাইডিং অফিসার নিযুক্ত করা হয়।
- কোনো ভোটার যাতে একবারের বেশি ভোট দিতে না পারে সেজন্য ভোটদান কালে তার আঙুলে অমোচনীয় (যা সহজে ওঠেনা) কালির ছাপ দেওয়ার বিধান করা হয়।
- ভোটগ্রহণ ৮ মার্চ থেকে ১২ মার্চ পর্যন্ত ৫ দিনে সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
- নির্বাচন কমিশনার ছিলেন মো. আজফার।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,৭৫৫.
কোন মুঘল সুবাদার সন্দ্বীপ ও চট্টগ্রাম অধিকার করে আরাকানি জলদস্যুদের সম্পূর্ণরূপে উৎখাত করেন-
  1. ক) কাসিম খান জুয়িনী
  2. খ) মীর জুমলা
  3. গ) শাহ সুজা
  4. ঘ) শায়েস্তা খান
ব্যাখ্যা
মীরজুমলার মৃত্যুর পর শায়েস্তা খান বাংলার সুবাদার নিযুক্ত হন। তাঁর সুবাদারী শাসনকাল দুপর্বে বিভক্ত ছিল। প্রথম দফায় ১৬৬৪ থেকে ১৬৭৮ খ্রি: পর্যন্ত এবং শেষে ১৬৭৯ থেকে ১৬৮৮ খ্রি: পর্যন্ত তিনি বাংলার সুবাদার ছিলেন।
শায়েস্তা খানের কীর্তিঃ
-সন্দ্বীপ ও চট্টগ্রাম অধিকার করে আরাকানি জলদস্যুদের সম্পূর্ণরূপে উৎখাত করেন।
-চট্টগ্রাম জয় করে এর নাম রাখেন ইসলামাবাদ।
-তিনি বাংলা থেকে ইংরেজদের বিতাড়িত করেন।
-তাঁর আমলে নির্মিত স্থাপত্য কর্মের মধ্যে ছােট কাটারা, লালবাগ কেল্লা, বিবি পরির সমাধিসৌধ, হােসেনী দালান, সফি খানের মসজিদ, বুড়িগঙ্গার মসজিদ, চক মসজিদ প্রভৃতি উল্লেখযােগ্য।
উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, ৯ম-১০ম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ) এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি(উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)।
৮,৭৫৬.
বাংলাদেশের সরকারি কর্মকমিশনের দায়িত্ব নিয়ে আলোচনা হয়েছে সংবিধানের -
  1. ১৩৮ নং অনুচ্ছেদে
  2. ১৩৯ নং অনুচ্ছেদে
  3. ১৪০ নং অনুচ্ছেদে
  4. ১৪১ নং অনুচ্ছেদে
ব্যাখ্যা

নবম – অধ্যায়ঃ বাংলাদেশের কর্মবিভাগ

প্রথম পরিচ্ছেদ – কর্মবিভাগ

অনুচ্ছেদ নং -- বর্ণনা
অনুচ্ছেদ – ১৩৩ -- নিয়োগ ও কর্মের শর্তাবলী
অনুচ্ছেদ – ১৩৪  -- কর্মের মেয়াদ
অনুচ্ছেদ – ১৩৫ -- অসামরিক সরকারী কর্মচারীদের বরখাস্ত প্রভৃতি
অনুচ্ছেদ - ১৩৬ -- কর্মবিভাগ-পুনর্গঠন

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ - সরকারী কর্ম কমিশন

অনুচ্ছেদ নং -- বর্ণনা
অনুচ্ছেদ – ১৩৭ -- কমিশন-প্রতিষ্ঠা
অনুচ্ছেদ – ১৩৮ -- সদস্য-নিয়োগ
অনুচ্ছেদ – ১৩৯ -- পদের মেয়াদ
অনুচ্ছেদ – ১৪০ -- কমিশনের দায়িত্ব
অনুচ্ছেদ - ১৪১ -- বার্ষিক রিপোর্ট

উৎসঃ Live MCQ স্পেশাল PDF (সিভিল সার্ভিস এবং মুজিব বর্ষ)
৮,৭৫৭.
তমদ্দুন মজলিশ প্রতিষ্ঠায় অধ্যাপক আবুল কাশেমের অগ্রণী সহযোগীদের মধ্যে ছিলেন-
  1. ক) দেওয়ান মোহাম্মদ আজরফ
  2. খ) অধ্যাপক এ.এস.এম নূরুল হক ভূঁইয়া
  3. গ) শাহেদ আলী
  4. ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা
- 'তমদ্দুন মজলিস' ইসলামী আদর্শাশ্রয়ী একটি সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠন।
- দেশে ইসলামী আদর্শ ও ভাবধারা সমুন্নত করার প্রত্যয় নিয়ে ভারত বিভাগের অব্যবহিত পরেই ঢাকায় গড়ে উঠে এই সংগঠনটি।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আবুল কাশেমের উদ্যোগে ১৯৪৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর সংগঠনটি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং নামকরণ হয় পাকিস্তান তমদ্দুন মজলিশ।
- তমদ্দুন মজলিশ প্রতিষ্ঠায় অধ্যাপক আবুল কাশেমের অগ্রণী সহযোগীদের মধ্যে ছিলেন দেওয়ান মোহাম্মদ আজরফ, অধ্যাপক এ.এস.এম নূরুল হক ভূঁইয়া, শাহেদ আলী, আবদুল গফুর, বদরুদ্দীন উমর, হাসান ইকবাল এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কতিপয় সিনিয়র ছাত্র।
- প্রফেসর আবুল কাশেম ছিলেন পাকিস্তান তমদ্দুন মজলিশের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক।

- তমদ্দুন মজলিশের মুখপত্র ছিলো - সাপ্তাহিক সৈনিক পত্রিকা। এটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৪৮ সালের ১৪ নভেম্বর (২৮ কার্তিক ১৩৫৫)। শুরুতে সৈনিক পত্রিকার সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি ছিলেন শাহেদ আলী এবং পরে সভাপতি হন আবদুল গফুর।

১৯৪৭ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর "পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু?" শিরোনামে বাংলা ভাষার পক্ষে তমদ্দুন মজলিশ একটি পুস্তিকা প্রকাশ করে।

তথ্যসূত্র:- স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র (প্রথম খন্ড), পৃষ্ঠা - ৪৯ ও বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া।
৮,৭৫৮.
বাংলাদেশের সংবিধানে প্রস্তাবনার চতুর্থ ভাগের বিষয়বস্তু কোনটি?
  1. গনপরিষদে সংবিধান গৃহীত হওয়ার নিশ্চয়তা
  2. সংবিধানের প্রাধান্য অক্ষুন্ন রাখা
  3. শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা
  4. মূলনীতি গ্রহণ
ব্যাখ্যা
প্রস্তাবনা:
- সংবিধান গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর গণপরিষদে গৃহীত হয়।
- সংবিধান কার্যকর হয় ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭২ সালে।
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানে মোট ১৫৩ টি অনুচ্ছেদ আছে।
- সংবিধানের ভাগ বা অধ্যায় আছে ১১টি।
- তফসিল আছে ৭টি।
- মূলনীতি আছে ৪টি।
- বাংলাদেশের সংবিধানে ১টি প্রস্তাবনা রয়েছে।
- বাংলাদেশের সংবিধানে প্রস্তাবনার ৫টি ভাগ রয়েছে।
• ১ম- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা।
• ২য়- মূলনীতি গ্রহণ (অঙ্গীকার)।
• ৩য়- শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা (অঙ্গীকার)।
• ৪র্থ- সংবিধানের প্রাধান্য অক্ষুন্ন রাখা (ঘোষণা)।
• ৫ম- গনপরিষদে সংবিধান গৃহীত হওয়ার নিশ্চয়তা।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান।
৮,৭৫৯.
’জুলাই শহীদ স্মৃতি ভবন' কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থিত?
  1. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
  2. বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়
  3. সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়
  4. খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়
ব্যাখ্যা

• জুলাই শহিদ স্মৃতি ভবন:
- জুলাই শহিদ স্মৃতি ভবন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থিত।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের আবাসনের জন্য নবনির্মিত ‘জুলাই শহিদ স্মৃতি ভবন’ ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ শনিবার উদ্বোধন করা হয়েছে।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান প্রধান অতিথি হিসেবে এই ভবনটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
- উল্লেখ্য, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের ১১- তলা বিশিষ্ট ‘জুলাই শহিদ স্মৃতি ভবন’-এর ২৫২ টি কক্ষে ১ হাজার ৮জন শিক্ষার্থীর আবাসনের ব্যবস্থা রয়েছে।উল্লেখ্য,
- জুলাই ৩৬ গেইট - সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে।
- ‘শহীদ মীর মুগ্ধ তোরণ- খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়।

তথ্যসূত্র: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ওয়েবসাইট ও পত্রিকা প্রতিবেদন।

৮,৭৬০.
বাংলাদেশের প্রথম ট্যানারি স্থাপিত হয় কোথায়?
  1. নারায়ণগঞ্জে
  2. ঢাকায়
  3. গাজীপুরে
  4. সাভারে
ব্যাখ্যা

ট্যানারি শিল্প:
- ট্যানারি শিল্প বলতে চামড়া পাকা করা বা প্রক্রিয়াজাত করা হয়, এমন কোনো শিল্প প্রতিষ্ঠানকে বোঝায়।
- ট্যানারিতে পশুর কাঁচা চামড়া পাকা করার পর জুতা, ব্যাগ, স্যুটকেস, বেল্ট, মানিব্যাগ, জ্যাকেট ইত্যাদি উৎপাদনের উপযোগী চামড়া তৈরি করা হয়।
- এ অঞ্চলে ১৯৪০ সালে নারায়ণগঞ্জে প্রথম ট্যানারি স্থাপন করেন রণদাপ্রসাদ সাহা।
- পরবর্তীকালে ট্যানারিটি ঢাকার হাজারীবাগে স্থানান্তর করা হয়।
- এই ট্যানারিকে কেন্দ্র করেই হাজারীবাগ এলাকায় অনেক ট্যানারি গড়ে ওঠে।
- দেশ বিভাগের আগ পর্যন্ত পূর্ববঙ্গে উৎপাদিত সব কাঁচা চামড়া পশ্চিম বাংলায় বিশেষত কলকাতায় রপ্তানি হতো।
- ২০১৭ সালে ট্যানারি শিল্প জনবহুল হাজারীবাগ এলাকা থেকে সাভারে নিজস্ব শিল্পনগরীতে স্থানান্তর করা হয়।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) BBC. 

৮,৭৬১.
বাংলাদেশে উৎপাদিত প্রধান মাছ কোনটি?
  1. ক) চিংড়ি
  2. খ) রুই
  3. গ) ইলিশ
  4. ঘ) পাঙ্গাস
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশে উৎপাদিত মাছের মধ্যে পরিমাণে সর্বাধিক হলো ইলিশ মাছ। ২০১৮-২০১৯ সময়ে ইলিশ মাছ উৎপাদনের পরিমাণ ছিলো ৫.৩২ লক্ষ মেট্রিক টন যা দেশের মোট উৎপাদিত মাছের প্রায় ১২.১৫ ভাগ। ইলিশ মাছ উৎপাদনে বাংলাদেশ বিশ্বে প্রথম।
(সূত্র: কৃষি পরিসংখ্যান গ্রন্থ-২০১৯)
৮,৭৬২.
বাঙালি মুসলিম নারী আন্দোলনের পথিকৃৎ কাকে বলা হয়?
  1. ক) মাদার তেরেসা
  2. খ) বেগম রোকেয়া
  3. গ) সুলতানা রাজিয়া
  4. ঘ) বেগম ফয়জুন্নেসা
ব্যাখ্যা
মুসলিম নারী মুক্তি আন্দোলনের আগ্রদূত হলেন বেগম রোকেয়া। সমাজের কুসংস্কার, নারী সমাজের অবহেলা ও বঞ্চনার করুণ চিত্র তিনি তাঁর গ্রন্থ অবরোধ বাসিনী, পদ্মরাগ, মতিচুর, সুলতানার স্বপ্ন প্রভৃতিতে ফুটিয়ে তুলেছেন। বেগম রোকেয়া নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য ১৯১৬ খ্রিস্টাব্দে কোলকাতায় আঞ্জুমানে খাওয়াতিনে ইসলাম (মুসলিম মহিলা সমিতি) প্রতিষ্ঠা করেন। সূত্র- বোর্ড বইঃনবম-দশম শ্রেণি।
৮,৭৬৩.
‘‘হাইড্রলিক রিসার্চ ল্যাবরেটরী’’ কোথায় অবস্থিত ছিল?
  1. ভারত
  2. ভুটান
  3. ঢাকা
  4. মালদ্বীপ
ব্যাখ্যা
নদী গবেষণা ইনস্টিটিউটঃ
নদী মাতৃক এ বাংলাদেশ একটি অতি জটিল পলিভরণকৃত ব-দ্বীপ।
- অসংখ্য বিনুনি শাখা প্রশাখা সহ গঙ্গা-পদ্মা, ব্রহ্মপুত্র-যমুনা ও মেঘনা এ ৩টি অন্যতম প্রধান ও সুবৃহৎ আন্তর্জাতিক নদীমালা কর্তৃক বাহিত পলিতে গঠিত এ বাংলাদেশ।
- এতদবিষয়ে গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে তৎকালীন সরকার ১৯৪৮ সালে ঢাকার গ্রীণরোডে প্রায় ১২ একর জমির উপর ‘‘হাইড্রলিক রিসার্চ ল্যাবরেটরী’’ নামে একটি গবেষণাগার স্থাপন করে।
- স্বাধীনতা উত্তরকালে ব্যাপক বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও গবেষণার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে বাংলাদেশ সরকার ১৯৭৮ সালে নদী গবেষণা ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করে এবং ‘‘হাইড্রলিক রিসার্চ ল্যাবরেটরী’’ প্রতিষ্ঠানটি ইহার সহিত একীভূত করে।
- ১৯৮৯ সালে ফরিদপুর শহরের উপকন্ঠে ৮৬ একর জমির উপর এক মনোরম পরিবেশে নদী গবেষণা ইনষ্টিটিউট প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠিত হয়।
- পরবর্তীতে পানি সম্পদ সেক্টরে বহুমুখী গবেষণা কার্যক্রম উত্তরোত্তর বৃদ্ধির লক্ষ্যে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার ১৯৯০ সনের ৫৩নং আইন বলে নদী গবেষণা ইনস্টিটিউট কেএকটি সংবিধিবদ্ধ স্বায়ত্ব-শাসিত সংস্থা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে এবং বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিয়ন্ত্রণাধীন হতে আলাদা করে সরাসরি পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ন্যস্ত করে।

উৎসঃ বাংলাদেশ নদী গবেষণা ইনস্টিটিউট ও ফরিদপুর জেলা ওয়েবসাইট।
৮,৭৬৪.
স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম ছাত্র গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হন-
  1. শেখ হাসিনা
  2. জেনারেল এরশাদ 
  3. খন্দকার মুশতাক
  4. বেগম খালেদা জিয়া
ব্যাখ্যা

• ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থান:
- স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম ছাত্র গণ-অভ্যুত্থানে ৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর এরশাদ ক্ষমতাচ্যুত হন।

- ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ জেনারেল এরশাদ বাংলাদেশের দ্বিতীয়বার সামরিক শাসন শুরু করেন।
- এরশাদের শাসনকালে দেশ আর্থ-সামাজিক-রাজনৈতিকভাবে দুর্যোগপূর্ণ অবস্থার মধ্যে থাকে।
- এরশাদের সামরিক শাসনের অবসানের জন্য দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রাম চলতে থাকে।
- বহু মানুষ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে প্রাণ দেন।
- ১৯৯০ সালের ডিসেম্বর মাসে সাধারণ মানুষ, রাজনৈতিক দল ও সামাজিক সংগঠনের সফল গণঅভ্যুত্থানে সামরিক শাসন অবসান ঘটে।
- গণঅভ্যুত্থান হঠাৎ ঘটে নি; এরশাদের শাসনের প্রথম থেকেই বিরোধী কার্যক্রম চলতে থাকে।
- ১৯৮২ সালের শেষ থেকে ছাত্র সমাজ সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ শুরু করে।
- শিক্ষানীতি বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে বুদ্ধিজীবীরা সক্রিয় ভূমিকা রাখেন।
- ১৯৮৩ সালে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ১৫ দলীয় জোট ও বিএনপির নেতৃত্বে ৭ দলীয় জোট গঠিত হয়।
- বিভিন্ন পেশাজীবী ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনও আন্দোলনে অংশ নেন।
- ১৯৮৭ সালে সরকারের পদত্যাগ ও নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন প্রবল হলেও এরশাদ ক্ষমতায় থাকেন।
- ১৯৯০ সালের শুরু থেকে রাজনৈতিক দলগুলো মিছিল, মিটিং ও হরতাল চালায়।
- সারাদেশের ছাত্র, বুদ্ধিজীবী, পেশাজীবী ও সামাজিক সংগঠন আন্দোলনে সক্রিয় থাকে।
- ছাত্র সমাজের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কারণে সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্য আন্দোলনকে শক্তিশালী করে।
- ১৯ নভেম্বর ১৯৯০ সালে সরকার পতনের লক্ষ্যে ৮, ৭ ও ৫ দলীয় জোট যৌথ ঘোষণা প্রদান করে।
- ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর এরশাদ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরে বাধ্য হন। এরশাদের ক্ষমতা ত্যাগের মধ্যে দিয়ে ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থানের সফল পরিসমাপ্তি ঘটে।

উৎস: বাংলাদেশের রাজনৈতিক উন্নয়ন, বাংলাদেশ উন্মুক্তবিশ্ববিদ্যালয়।

৮,৭৬৫.
‘বর্ষাকাল’ কৃষির কোন মৌসুমের অন্তর্গত?
  1. খরিপ-১
  2. খরিপ-২
  3. রবি মৌসুম
  4. ক ও খ
ব্যাখ্যা
কৃষিক্ষেত্রে মৌসুম:
- ফসল উৎপাদনের জন্য সারাবছরকে দুইটি মৌসুমে ভাগ করা যায়।
- যথা:
i) রবি মৌসুম:
- শীতকালীন শস্যকে বলে রবি শস্য।
- কার্তিক থেকে ফাল্গুন হচ্ছে রবি মৌসুম।
- কম তাপমাত্রায় বপন করা হয়।

ii) খরিপ মৌসুম:
- চৈত্র থেকে ভাদ্র মাস পর্যন্ত সময়কে খরিপ মৌসুম বলে।
- খরিপ মৌসুমকে আবার দুই ভাগে ভাগ করা হয়।
- যথা: খরিপ-১ বা গ্রীষ্মকাল এবং খরিপ- ২ বা বর্ষাকাল।

⇒ খরিফ-১ মৌসুম:
- যে মৌসুমের সময় সীমা এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত বিস্তৃত থেকে তাকে খরিপ-১ মৌসুম বা গ্রীষ্মকালীন মৌসুম বলে।
- এ মৌসুমে উৎপন্ন ফসলগুলোকে খরিফ-১ শস্য বলে।
- যেমন- আউশ ধান, পাট, কাউন, ভুট্টা, তিল, মিষ্টি কুমড়া, কচু ও ঝিঙ্গা ইত্যাদি ।

⇒ খরিফ-২ মৌসুম:
- যে মৌসুমের সময়সীমা জুলাই মাস থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত বিস্তৃত থাকে তাকে খরিফ-২ মৌসুম বা বর্ষা মৌসুম বলে।
- যেমন- আমন ধান, ভুট্টা, মাষকলাই, বর্ষাকালীন সবজি ইত্যাদি ।

উৎস: কৃষি শিক্ষা, নবম- দশম শ্রেণি।
৮,৭৬৬.
বাংলাদেশে প্রথম ভ্যাট (VAT) চালু হয় কত সালে?
  1. ১ জুলাই, ১৯৯১
  2. ১ জুলাই, ১৯৯০
  3. ১ জুলাই, ১৯৯৬
  4. ১ জুন, ১৯৯১
ব্যাখ্যা

• মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট):
- বাংলাদেশ সরকারের আয়ের সবচেয়ে বড় খাত হলো মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট)।
- বাংলাদেশে প্রথম ভ্যাট (VAT- Value Added Tax মূল্য সংযোজন কর) চালু হয় — ১ জুলাই, ১৯৯১ সালে।
- ভ্যাট বা মূসক একটি পরোক্ষ কর।
- ভ্যাট থেকে বাংলাদেশ সরকারের সর্বোচ্চ রাজস্ব আয় হয়।

• বাংলাদেশের সরকারি রাজস্ব আয়ের প্রধান খাত সমূহ:
- প্রথম : মূল্য সংযোজন কর,
- দ্বিতীয় : আয়কর, 
- তৃতীয় : সম্পূরক শুল্ক, 
- চতুর্থ : আমদানি শুল্ক।

উৎস: এনবিআরের ওয়েবসাইট।

৮,৭৬৭.
২০২০ সালে রেমিট্যান্স আহরণে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান কততম?
  1. ক) ষষ্ঠ
  2. খ) সপ্তম
  3. গ) অষ্টম
  4. ঘ) নবম
ব্যাখ্যা
- বিশ্বব্যাংক প্রকাশিত রিপোর্ট অনুসারে ২০২০ সালে রেমিট্যান্স আহরণে বিশ্বের শীর্ষ দেশসমূহ:
- প্রথম : ভারত
- দ্বিতীয় : চীন
- তৃতীয় : মেক্সিকো
- চতুর্থ : ফিলিপাইন
- পঞ্চম : মিশর
- ষষ্ঠ : পাকিস্তান
- সপ্তম : ফ্রান্স
- অষ্টম : বাংলাদেশ।
(তথ্যসূত্র: বিশ্বব্যাংক ওয়েবসাইট)

উল্লেখ্য,
নিম্ন ও মধ্য আয়ের দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান - সপ্তম।
৮,৭৬৮.
বর্তমানে বেজার অনুমোদনপ্রাপ্ত অর্থনৈতিক অঞ্চল কতটি?
  1. ক) ৫৫টি
  2. খ) ৬৮টি
  3. গ) ৭৭টি
  4. ঘ) ৮৮টি
ব্যাখ্যা
বর্তমানে বেজা বা বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের অনুমোদনপ্রাপ্ত অর্থনৈতিক অঞ্চলের সংখ্যা ৮৮টি। এর মধ্যে সরকারি ৫৯টি এবং বেসরকারি ২৯টি। সর্ববৃহৎ অর্থনৈতিক অঞ্চল হলো চট্টগ্রাম ও ফেনী জেলায় নির্মাণাধীন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্প নগরী।
(সূত্র: বেজা ওয়েবসাইট)
৮,৭৬৯.
ঐতিহাসিক ছয় দফার পঞ্চম দফা কোনটি?
  1. রাজস্ব
  2. বৈদেশিক মুদ্রা
  3. শুল্কনীতি
  4. প্রতিরক্ষা
ব্যাখ্যা
ছয় দফা:
- প্রথম দফা (শাসনতান্ত্রিক কাঠামো ও রাষ্ট্রীয় প্রকৃতি)।
- দ্বিতীয় দফা (কেন্দ্রিয় ও প্রাদেশিক সরকারের ক্ষমতা)।
- তৃতীয় দফা (মুদ্রা ও অর্থবিষয়ক)।
- চতুর্থ দফা (রাজস্ব ও শুল্কনীতি বিষয়ক)।
- পঞ্চম দফা (বৈদেশিক মুদ্রা ও বাণিজ্য)।
- ষষ্ঠ দফা (প্রতিরক্ষা বিষয়ক)।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
৮,৭৭০.
কে দেশবন্ধু নামে খ্যাত?
  1. সি আর দাশ
  2. হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
  3. মহাত্মা গান্ধী
  4. হাজী মোহাম্মদ মুহসীন
ব্যাখ্যা
চিত্তরঞ্জন দাশ:
- উপমহাদেশের রাজনীতিতে গভীর নিষ্ঠা ও দেশপ্রেমের জন্য চিত্তরঞ্জন দাশকে দেশবন্ধু আখ্যা দেওয়া হয়।
- তিনি সি আর দাশ নামেও পরিচিত।

⇒ একজন বিলেত ফেরত ব্যরিস্টার হওয়া সত্ত্বেও ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে ছিল তাঁর অনঢ় অবস্থান।
- তিনি রাজনৈতিক জীবনের শুরু থেকেই ইংরেজ ঔপনিবেশিক শাসনকে মেনে নিতে পারেননি।
- অসহযোগ আন্দোলন চলাকালে মহাত্মা গান্ধীর ডাকে সাড়া দিয়ে তিনি লাভজনক আইনজীবির পেশা পরিত্যাগ করে রাজনৈতিক কর্মকান্ডে আরও বেশি সোচ্চার হয়ে দেশপ্রেমের অমোঘ স্বাক্ষর রাখেন। '
- বেঙ্গল প্যাক্ট' দেশবন্ধুর অসাম্প্রদায়িক চিত্তের অনন্য উদাহরণ।

⇒ চিত্তরঞ্জন দাস বাংলার বহু রাজনৈতিক নেতার রাজনৈতিক গুরু।
- তাদের মধ্যে সুভাষচন্দ্র বসু, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, বিধানচন্দ্র রায়, শরৎচন্দ্র বসু, যতীন্দ্রমোহন সেনগুপ্ত প্রভৃতি ব্যক্তিবর্গ উল্লেখযোগ্য।
- একসময় তিনি কংগ্রেস নেতাদের সঙ্গে মতবিরোধের কারণে 'স্বরাজ দল' নামের একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন।
- এই স্বরাজ দলের প্রার্থী হিসেবেই ১৯২৪ সালে কলকাতা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রথম মেয়র নির্বাচিত হন।
- এ সময়ে তিনি নারী শিক্ষা, বিধবা বিবাহ ইত্যাদির পক্ষে অনেক কাজ করেন।
- বাংলার এই বলিষ্ঠ নেতা মাত্র ৫৫ বছর বয়সে ১৯২৫ সালের জুন মাসে মারা যান।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) ইতিহাস ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,৭৭১.
TIN এর পূর্ণরূপ -
  1. ক) ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল নেটওয়্যার
  2. খ) ট্যাকস ইনডেকস নাম্বার
  3. গ) ট্যাকস পেয়ার আইডেন্টিফিকেশন নাম্বার
  4. ঘ) ট্রান্স অব ইনফরমেশন
ব্যাখ্যা
TIN: Taxpayer Identification Number.
৮,৭৭২.
কোন নদীকে বঙ্গবন্ধুর জন্ম শতবার্ষিকী উপলক্ষে ‘বঙ্গবন্ধু মৎস্য হেরিটেজ’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে?
  1. ক) হালদা
  2. খ) মধুমতি
  3. গ) পুরাতন কুমার
  4. ঘ) পদ্মা
ব্যাখ্যা

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ ‍মুজিবুর রহমানের জন্ম শতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট দেশের একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদীকে ‘বঙ্গবন্ধু মৎস্য হেরিটেজ’ হিসেবে ঘোষণা করেছে।

সূত্র: লাইভ এমসিকিউ সাম্প্রতিক সমাচার।

৮,৭৭৩.
'ফিশার ভিলেজ' কোন দুটি জেলায় অবস্থিত?
  1. শরীয়তপুর ও নেত্রকোনা
  2. মুন্সিগঞ্জ ও শরীয়তপুর
  3. ফরিদপুর ও বরিশাল
  4. খুলনা ও কিশোরগঞ্জ
ব্যাখ্যা
২১ জুন ২০২১ সালে, শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার ‘হাইলসার’ গ্রাম ও নেত্রকোনার ‘দক্ষিণ বিশিউড়া’ গ্রামকে ‘ফিশার ভিলেজ’ হিসেবে ঘোষণা করে পরিপত্র জারি করা হয়।
সোর্স: দৈনিক পত্রিকা
৮,৭৭৪.
কোনটি রাষ্ট্রের ঐচ্ছিক কার্যাবলি?
  1. সেনাবাহিনী গঠন
  2. বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা প্রবর্তন
  3. বাজেট প্রণয়ন
  4. মুদ্রাস্ফীতি রোধ
ব্যাখ্যা
• রাষ্ট্রের ঐচ্ছিক কার্যাবলি : 
 - সরকার বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা প্রবর্তন।
 - নারী শিক্ষার ওপর গুরুত্বসহ বয়স্ক শিক্ষার ব্যবস্থা করা
 - হাসপাতাল,
- দাতব্য চিকিৎসালয়,
- শিশুসদন,
- মাতৃমঙ্গল কেন্দ্র স্থাপন।
- পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্র স্থাপন।
 - জনস্বাস্থ্য রক্ষায় বিশুদ্ধ পানীয়জলের সুব্যবস্থা।
- পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা,
- রোগ প্রতিরোধক ,
- প্রতিষেধক টিকা প্রদান,
 - যৌতুক ও বর্ণ বা গোত্রপ্রথা দূরীকরণ,
- বাল্যবিবাহ রোধ,
- জেন্ডার সমতা প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- উৎপাদন ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ,
- কৃষিতে ভর্তুকি প্রদান,
- সার, বীজ, কীটনাশক সরবরাহ, সেচের ব্যবস্থা করা,
- খাদ্য গুদামজাতকরণ
- দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, যথা: রাস্তাঘাট, সেতু, সড়ক, রেলপথ, নৌ-চলাচল, বিমান যোগাযোগ।
- গ্রামীণ উন্নয়ন, কালোবাজারি রোধ,
- খাদ্যে ভেজাল প্রতিরোধ,
- নারী ও শিশু পাচার রোধ।

• রাষ্ট্রের অপরিহার্য বা মুখ্য কার্যাবলি :
- সেনাবাহিনী গঠন,
- বাজেট প্রণয়ন,
- মুদ্রাস্ফীতি রোধ।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম ও দশম শ্রেণি।
৮,৭৭৫.
বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের নতুন কোচ হিসেবে চন্ডিকা হাথুরুসিংহে দায়িত্ব পালন করবেন -
  1. ক) ওয়ানডে ফরম্যাটে
  2. খ) টেস্ট ফরম্যাটে
  3. গ) টি-টোয়েন্টিতে
  4. ঘ) তিন ফরম্যাটেই
ব্যাখ্যা
• জাতীয় ক্রিকেট দলের কোচ:
- বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের কোচ হিসেবে আবারও ফিরছেন চন্ডিকা হাথুরুসিংহে
- চন্ডিকা হাথুরুসিংহের বাংলাদেশ জাতীয় দলের নতুন কোচ।
- দুই বছরের চুক্তিতে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের কোচ হবেন হাথুরুসিংহে। 
- দুই বছরের চুক্তি কার্যকর হবে ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ থেকে।
- অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলস দলের সহকারী কোচের দায়িত্বে ছিলেন হাথুরুসিংহে।
- প্রথম যেবার বাংলাদেশের কোচ হয়েছিলেন, সেবারও নিউ সাউথ ওয়েলসের সহকারী কোচের দায়িত্ব ছেড়েই এসেছিলেন।
- ২০১৪ সালের মে মাসে শুরু হয় বাংলাদেশের কোচ হিসেবে তাঁর প্রথম মেয়াদ। স্থায়ী হয়েছিলেন প্রায় ৩ বছর।
- তিন ফরম্যাটেই দায়িত্ব নেবেন দক্ষিণ আফ্রিকার রাসেল ডমিঙ্গোর স্থলাভিষিক্ত হওয়া হাথুরু।

তথ্যসূত্র: দৈনিক প্রথম আলো।
৮,৭৭৬.
যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভা কে বাতিল করেছিলেন?
  1. ইস্কান্দার মির্জা
  2. গোলাম মোহাম্মদ
  3. লিয়াকত আলী খান
  4. খাজা নাজিমুদ্দিন
ব্যাখ্যা

যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভা বাতিল:
- যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে ২১ ফেব্রুয়ারি শহীদ দিবস ও ছুটি পালন, শহীদ মিনার নির্মাণ, বর্ধমান হাউসকে বাংলা একাডেমিতে রূপান্তর করা হবে।
- সে সময় 'নিউ ইয়র্ক টাইমস্' পত্রিকার সংবাদদাতা কালাহানকে দেওয়া ফজলুল হকের তথাকথিত সাক্ষাৎকার কেন্দ্রীয় সরকারকে বিচলিত করে তোলে। পত্রিকায় প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী ফজলুল হক পূর্ববাংলার স্বাধীনতা ঘোষণার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। মুখ্যমন্ত্রী ফজলুল হক নানা চেষ্টা করেও কেন্দ্রীয় সরকারকে বোঝাতে ব্যর্থ হন।
- কেন্দ্রীয় সরকারের গভর্নর জেনারেল গোলাম মোহাম্মদ '৫৪ সালের ৩০মে ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনের ৯২(ক) ধারা বলে যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভা বরখাস্ত এবং পূর্ববাংলায় গভর্নরের শাসন ঘোষণা করেন। এভাবে মাত্র ৫৬ দিনের মাথায় যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভার অবসান ঘটে।

• যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভা বাতিলের প্রধান কারণসমূহ:
- কেন্দ্রের ষড়যন্ত্র: মুসলিম লীগের শোচনীয় পরাজয় ও ক্ষমতা হারানোর পর থেকেই কেন্দ্রীয় সরকার এই জনপ্রিয় সরকারকে সরানোর ষড়যন্ত্র করে।
- আদমজী জুট মিল দাঙ্গা: ১৫ মে মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণের পর, ১৬ মে আদমজী জুট মিলে বাঙালি ও অ-বাঙালি শ্রমিকদের মধ্যে ভয়াবহ দাঙ্গা বেধে যায়, যা সরকারকে দুর্বল করে দেয়।
- ফজলুল হকের বক্তব্য: ফজলুল হককে দাঙ্গার জন্য দায়ী করা হয় এবং তিনি দেশভাগের বিরোধী বলে গুজব ছড়ানো হয়।
- ৯২(ক) ধারা: ৩০ মে পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল মালিক গোলাম মোহাম্মদ যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভা ভেঙে দিয়ে প্রদেশে ৯২(ক) ধারা বা গভর্নরের শাসন জারি করেন।
- গ্রেপ্তার: মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়া এ. কে. ফজলুল হককে গৃহবন্দী করা হয় এবং শেখ মুজিবুর রহমানসহ বহু নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়। 

উৎস: i) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) বাংলাদেশের রাজনৈতিক উন্নয়ন, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮,৭৭৭.
আওয়ামী লীগের নির্বাচনি প্রতীক হিসেবে বঙ্গবন্ধু কবে ‘নৌকা’ পছন্দ করেন?
  1. ক) ২৩ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯
  2. খ) ৩১ মার্চ ১৯৬৯
  3. গ) ০৫ সেপ্টেম্বর ১৯৭০
  4. ঘ) ১৭ অক্টোবর ১৯৭০
ব্যাখ্যা
- ১৯৭০ সালের ৭ ডিসেম্বর পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের ও ১৭ ডিসেম্বর প্রাদেশিক পরিষদের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
- আওয়ামী লীগ দলীয় সভায় ১৯৭০ সালের ১ এপ্রিল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার সিদ্ধান্ত গৃহিত এবং একই বছরের ১৭ অক্টোবর বঙ্গবন্ধু আওয়ামী লীগের দলীয় নির্বাচনি প্রতীক হিসেবে ‘নৌকা’ পছন্দ করেন।
- জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ১৬৭টি এবং প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে পূর্ব পাকিস্তানে ২৯৮টি আসন লাভ করে।
(তথ্যসূত্র: অসমাপ্ত আত্মজীবনী এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্ব সভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
৮,৭৭৮.
সংবিধান অনুযায়ী বাংলাদেশের নাগরিকদের 'বাংলাদেশী' হিসেবে পরিচয়ের স্বীকৃতি কোন অনুচ্ছেদে রয়েছে?
  1. অনুচ্ছেদে- ৬(১)
  2. অনুচ্ছেদে- ৭(১)
  3. অনুচ্ছেদে- ৬(২)
  4. অনুচ্ছেদে- ৭(২)
ব্যাখ্যা

• নাগরিকত্ব:
- ৬(১) বাংলাদেশের নাগরিকত্ব আইনের দ্বারা নির্ধারিত ও নিয়ন্ত্রিত হবে। 
- ৬(২) বাংলাদেশের জনগণ জাতি হিসাবে বাঙালী এবং নাগরিকগণ বাংলাদেশী বলিয়া পরিচিত হবেন।

অন্যদিকে,
- ৭(১) প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ; এবং জনগণের পক্ষে সেই ক্ষমতার প্রয়োগ কেবল এই সংবিধানের অধীন ও কর্তৃত্বে কার্যকর হবে৷ 
 - ৭(২) জনগণের অভিপ্রায়ের পরম অভিব্যক্তিরূপে এই সংবিধান প্রজাতন্ত্রের সর্বোচ্চ আইন এবং অন্য কোন আইন যদি এই সংবিধানের সহিত অসমঞ্জস হয়, তাহা হইলে সেই আইনের যতখানি অসামঞ্জস্যপূর্ণ, ততখানি বাতিল হবে৷

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ সংবিধান।

৮,৭৭৯.
বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সার কারখানার নাম কী?
  1. ঘোড়াশাল পলাশ ইউরিয়া সার কারখানা
  2. শাহজালাল ফার্টিলাইজার কোম্পানী লিমিটেড
  3. চট্রগ্রাম ইউরিয়া সার কারখানা
  4. যমুনা ফার্টিলাইজার কোম্পানী লিমিটেড
ব্যাখ্যা
সার কারখানা:
- বর্তমানে দেশের সবচেয়ে বড় সার কারখানার নাম - ঘোড়াশাল পলাশ ইউরিয়া সার কারখানা।
- দক্ষিণ এশিয়ার সর্ববৃহৎ নরসিংদীর ‘ঘোড়াশাল-পলাশ ইউরিয়া সার কারখানা’।
- এটি ১২ নভেম্বর, ২০২৩ উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। 
- এই সার কারখানা থেকে বছরে উৎপাদন হবে প্রায় ১০ লাখ মেট্রিক টন ইউরিয়া সার।

উৎস: ইত্তেফাক পত্রিকা রিপোর্ট।
৮,৭৮০.
সংবিধান সংশোধনে ক্ষমতাসীন দল বিরোধী দলকে তখনই পাশ কাটাতে পারে যখন নিজ দলের সাংসদ সংখ্যা হয়-
  1. ক) ১/২ অংশ
  2. খ) ২/৩ অংশ
  3. গ) ১/৩ অংশ
  4. ঘ) ৩/৪ অংশ
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী সংবিধান সংশোধনের জন্য ২/৩ অংশ সংসদ সদস্যের ভোটের প্রয়োজন। তাই সংবিধান সংশোধনে ক্ষমতাসীন দল বিরোধী দলকে তখনই পাশ কাটাতে পারে যখন নিজ দলের সাংসদ সংখ্যা হয় ২/৩ অংশ।
উৎসঃ বাংলাদেশের সংবিধান।
৮,৭৮১.
কত তারিখ থেকে বাজারে খোলা সয়াবিন তেল বিক্রয় নিষিদ্ধ হচ্ছে?
  1. ক) ০১ আগস্ট ২০২৩
  2. খ) ০১ অক্টোবর ২০২৩
  3. গ) ০১ জানুয়ারি ২০২৪
  4. ঘ) ০১ মার্চ ২০২৪
ব্যাখ্যা
- বিক্রির সময় ওজনে কম দেওয়া, ভেজাল বন্ধ ও পুষ্টির মান বজায় রাখতে চলতি বছরের ১ আগস্ট, ২০২৩ থেকে খোলা সয়াবিন তেল বিক্রির অনুমতি দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।
- সম্প্রতি শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় আগামী আগস্ট মাসের শুরু থেকে এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে সম্মত হয়েছে।
- 'প্রাথমিকভাবে শুধু সয়াবিন তেলের ক্ষেত্রে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে অন্যান্য ভোজ্যতেলের ক্ষেত্রেও একই নিষেধাজ্ঞা আসবে।'

তথ্যসূত্র: ডেইলি স্টার (২৬ জুলাই, ২০২৩)।
৮,৭৮২.
প্রথম স্বাধীনতা পদক লাভ করেন-
  1. ক) শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন
  2. খ) মাওলানা ভাসানী
  3. গ) কাজী নজরুল ইসলাম
  4. ঘ) উপরের সবাই
ব্যাখ্যা
স্বাধীনতা পদক বাংলাদেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা বা পদক। এটি ১৯৭৭ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান চালু করেন। ১৯৭৭ সালে মোট ১০ জন ব্যক্তিকে স্বাধীনতা পদক প্রদান করা হয়। তারা হলেনঃ মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী (জনসেবা), কাজী নজরুল ইসলাম (সাহিত্য), শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন (চারুকলা), ড. মোকাররম হোসেন খন্দকার (বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি), মাহবুব আলম চাষী (পল্লী উন্নয়ন), বিগ্রেডিয়ার মাহমুদুর রহমান (চিকিৎসা), ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী (জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ), রুনা লায়লা (সংগীত), হাবিলদার মোস্তাক আহমেদ (ক্রীড়া) এবং এনায়েত করিম (জনসেবা)। (সূত্রঃ মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ওয়েবসাইট)
৮,৭৮৩.
গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্য কোনটি অতি আবশ্যক?
  1. সুশীল সমাজ
  2. চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী
  3. বিরোধী দল
  4. সামাজিক সংগঠন
ব্যাখ্যা

বিরোধী দল:
- একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্য বিরোধী দল অতি আবশ্যক।
- কোন রাষ্ট্রে যদি শক্তিশালী বিরোধী দল না থাকে তাহলে সে রাষ্ট্র স্বৈরাচারী রাষ্ট্রে পরিণত হবার আশঙ্কা থাকে।
- সরকারকে সর্বদা বিরোধী দলের দাবির প্রতি সহনশীল হতে হবে।
- আবার বিরোধী দল অহেতুক রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি না করার ব্যাপারে সতর্ক থাকবে।
- বস্তুতঃ বিরোধী দল ছাড়া রাজনৈতিক ব্যবস্থাই অচল হয়ে পড়ে।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮,৭৮৪.
'বাংলাদেশ জনসংখ্যা নীতি ২০২৫' প্রক্ষেপণ অনুযায়ী ২০৬১ সালে বাংলাদেশের জনসংখ্যা হবে- 
  1. ২১ কোটি
  2. ২৬ কোটি
  3. ৩২ কোটি
  4. ৩৬ কোটি
ব্যাখ্যা

'বাংলাদেশ জনসংখ্যা নীতি ২০২৫:
- ২৪ জুলাই ২০২৫ সালে 'বাংলাদেশ জনসংখ্যা নীতি ২০২৫' প্রকাশ করেছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়।
- রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বিশ্ব জনসংখ্যা দিবসের এক অনুষ্ঠানে এই নতুন জনসংখ্যা নীতি প্রকাশ করা হয়।
- প্রতিবছর ১১ জুলাই জনসংখ্যা দিবস পালন কর হলেও অনিবার্য কারণে মন্ত্রণালয় গতকাল এই দিবস পালন করেছে।
- এর আগে জনসংখ্যা নীতি ছিল ২০১২ সালের।

- এই নীতির প্রক্ষেপণ অনুযায়ী, বাংলাদেশের জনসংখ্যা ২০৬১ সালের পর আর বাড়বে না।
- তখন দেশের জনসংখ্যা হবে ২১ কোটি।
- ২০৬২ সাল থেকে জনসংখ্যা বৃদ্ধি ঋণাত্মক হবে এবং মোট জনসংখ্যা কমতে থাকবে।
- ২০০৫ সাল থেকে বাংলাদেশ জনসংখ্যার লভ্যাংশের যে সুযোগ পেয়ে আসছে তা অব্যাহত থাকবে ২০৬১ সাল পর্যন্ত।
- তখন সমাজে প্রবীণ মানুষের হার অনেক বেশি থাকবে।

- মানবাধিকার, ন্যায্যতা ও সামাজিক অন্তর্ভুক্তি, জেন্ডার সমতা, বৈষম্যহীনতা, স্বেচ্ছা সম্মতি ও অবহিত পছন্দ, তথ্য প্রাপ্তি, গোপনীয়তা, সেবার মান ও অংশীদারত্ব–অংশগ্রহণকে ২০২৫ সালের জনসংখ্যা নীতির মূল ভিত্তি হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।

উৎস: বাংলাদেশ জনসংখ্যা নীতি ২০২৫ ও প্রথম আলো।

৮,৭৮৫.
হাজী শরীয়তউল্লাহ কোথায় জন্মগ্রহণ করেন?
  1. শরিয়তপুর জেলা
  2. মাদারীপুর জেলা
  3. ভোলা জেলা
  4. বরিশাল জেলা
ব্যাখ্যা

• ফরায়েজি আন্দোলন:
- ফরায়েজি আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা হাজী শরীয়তউল্লাহ ।
- তিনি বৃহত্তর ফরিদপুরের (বর্তমান মাদারীপুর জেলা) শাসশাইল গ্রামে ১৭৮২ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি দীর্ঘ বিশ বছর মক্কায় অবস্থান করেন।
- সেখানে তিনি ইসলাম ধর্মের ওপর লেখাপড়া করে অগাধ পাণ্ডিত্য অর্জন করেন।
- দেশে ফিরে তিনি বুঝতে পারেন যে,বাংলার মুসলমানরা ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা থেকে অনেক দূরে সরে গেছে।
- তাদের মধ্যে অনৈসলামিক রীতিনীতি, কুসংস্কার,অনাচার প্রবেশ করেছে।
- ইসলাম ধর্মকে কুসংস্কার আর অনাচারমুক্ত করতে তিনি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হন।
- এই প্রতিজ্ঞার বশবর্তী হয়ে উনিশ শতকের প্রথমার্ধে তিনি এক ধর্মীয়-সামাজিক সংস্কার আন্দোলনের সূত্রপাত করেন।
- হাজী শরীয়তউল্লাহর এই ধর্মীয় সংস্কার আন্দোলনের নামই 'ফরায়েজি আন্দোলন'।
-  তিনি বাংলা তথা ভারতবর্ষে ব্রিটিশ শাসন মেনে নিতে পারেননি।
- তিনি ইংরেজ রাজত্বকে সমালোচনার চোখে দেখতেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৮,৭৮৬.
চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত প্রবর্তন করা হয় কত সালে?
  1. ১৭৫৭ সালে
  2. ১৮৫৭ সালে
  3. ১৭৯৩ সালে
  4. ১৯০৫ সালে
ব্যাখ্যা
চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত:
- ইংরেজ ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানি ছিল একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান।
- এমতাবস্থায় লর্ড ওয়ারেন হেস্টিংসকে কোম্পানির গভর্নর জেনারেল করে পাঠানো হয়।
- তিনি বাংলায় দ্বৈত শাসনের অবসান ঘটান।
- অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করার জন্য জমিদারদের সাথে 'পাঁচসালা ভূমি বন্দোবস্ত করেন।
- তিনি ১৭৭৭ সালে 'একসালা বন্দোবস্ত' করেন।
- ১৭৮৬ সালে লর্ড কর্নওয়ালিশকে গভর্নর জেনারেল নিয়োগ করা হয়।
- 'দশসালা বন্দোবস্ত' করেন লর্ড কর্নওয়ালিশ।
- ১৭৯০ সালে তিনি 'দশসালা বন্দোবস্ত' প্রবর্তন করেন।
- কর্নওয়াশি ১৭৯৩ সালের ২২ মার্চ 'দশসালা বন্দোবস্ত'কে 'চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত' বলে ঘোষণা করেন।

অপরদিকে,
- ১৭৭২ খ্রিস্টাব্দে গভর্নর জেনারেল ওয়ারেন হেস্টিংস পাঁচসালা বন্দোবস্ত প্রবর্তন করেন।
- পাঁচসালা বন্দোবস্তের মূল লক্ষ্য ছিল রাজস্ব আদায় করা।
- জমি বন্দোবস্তের নির্দিষ্ট সময়সীমা থাকায় জমিদাররা অর্থ আদায়ের জন্য কৃষকদের প্রতি চরম নির্যাতন মূলক ব্যবস্থা নিতো।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,৭৮৭.
অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৩ অনুযায়ী জিডিপিতে কৃষি খাতের অবদান কত?
  1. ১০.৩৪%
  2. ১১.২০%
  3. ১২.১৬%
  4. ১৩.৫৭%
ব্যাখ্যা
অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৩:
- বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যা: ১৬৯.৮৩ মিলিয়ন।
- জনসংখ্যা বৃদ্ধির স্বাভাবিক হার: ১.৩%।
- মাথাপিছু জাতীয় আয়: ২,৭৬৫ মার্কিন ডলার।
- মাথাপিছু জিডিপি: ২,৬৫৭ মার্কিন ডলার।
- মোট রপ্তানি আয়: ৩৪,৯৬৬ মিলিয়ন ডলার।
- মোট আমদানি ব্যয়: ৪৬,৭৯৪ মিলিয়ন ডলার।
- স্থির মূল্যে জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার: ৬.০৩%।
- মূল্যস্ফীতি: ৯.২৪%।
- সাক্ষরতার হার (৭ বছর +) ৭৬.৪%।
- দারিদ্র্যের হার ১৮.৭%।
- চরম দারিদ্র্যের হার: ৫.৬%।
- সার্বিকভাবে জিডিপি ১৯টি খাত নিয়ে গঠিত।
- এ ১৯টি খাতের মধ্যে ৬টি খাত আবার উপখাতে বিভক্ত।
- এই ১৯টি খাত ৩টি বৃহৎ খাতের অন্তর্ভুক্ত।
- জিডিপিতে বিভিন্ন খাতে অবদান -
• কৃষি: ১১.২০%।
• শিল্প: ৩৭.৫৬%।
• সেবা: ৫১.২৪%।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৩।
৮,৭৮৮.
'জালাল উদ্দিন মুহাম্মদ' কোন মুঘল সম্রাটের নাম ছিল?
  1. বাবর
  2. হুমায়ুন
  3. আকবর
  4. জাহাঙ্গীর
ব্যাখ্যা
- পিতা সম্রাট হুমায়ুনের মৃত্যুর পর মাত্র ১৩ বছর বয়সে জালাল উদ্দিন মুহাম্মদ আকবর নাম ধারণ করে দিল্লির মুঘল সিংহাসনে আরোহণ করেন।
- মধ্যযুগের মুসলিম শাসকদের মধ্যে সাম্রাজ্যের সংগঠক ও বিজেতা হিসেবে সম্রাট আকবর অনন্য স্থান দখল করে আছেন।
- ইতিপূর্বে সুলতানি আমলে একমাত্র আলাউদ্দীন খলজী সর্বভারতীয় সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
- সম্রাট আকবর ১৫৬১ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১৬০১ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত তাঁর রাজ্য জয় ও সাম্রাজ্য বিস্তৃতি নীতি অব্যাহত রাখেন।
- এ সময়ের মধ্যে তিনি উত্তরে হিমালয় থেকে দক্ষিণে কৃষ্ণা নদী এবং পশ্চিমে হিন্দুকুশ থেকে পূর্বে ব্রহ্মপুত্র পর্যন্ত এক বিশাল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

উৎস: ইতিহাস প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,৭৮৯.
জনসংখ্যায় বাংলাদেশের সবচেয়ে ছোট বিভাগ কোনটি?
  1. ক) সিলেট
  2. খ) ময়মনসিংহ
  3. গ) বরিশাল
  4. ঘ) খুলনা
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশে এর বিভাগ সমূহ:

- বাংলাদেশে মোট ৮টি বিভাগ রয়েছে।
- এর মধ্যে আয়তনে সবচেয়ে ছোট বিভাগ ময়মনসিংহ।
- এর আয়তন ১০,৫৫২ বর্গ কিমি।
- আয়তনে সবচেয়ে বড় বিভাগ চট্টগ্রাম ৩৩,৯০৪ বর্গ কিমি ।
- জনসংখ্যায় সবচেয়ে বড় বিভাগ ঢাকা এবং সবচেয়ে ছোট বরিশাল বিভাগ।
- সবচেয়ে বেশি জেলা রয়েছে ঢাকা বিভাগে ১৩টি।
- সবচেয়ে কম ৪টি করে জেলা রয়েছে সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগে।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৮,৭৯০.
ষষ্ঠ জাতীয় সংসদের মেয়াদ ছিল কতদিন?
  1. ক) ১০ দিল
  2. খ) ৩০ দিন
  3. গ) ২১ দিন
  4. ঘ) ১২ দিন
ব্যাখ্যা

ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ (১৯ মার্চ ১৯৯৬ - ৩০ মার্চ ১৯৯৬) ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের নিয়ে গঠিত হয়।
-  ১৯৯৬ সালের ১৯ মার্চ থেকে ৩০শে মার্চ পর্যন্ত এই সংসদের মেয়াদ ছিলো মাত্র ১২ দিন।
- অধিকাংশ প্রধান বিরোধী রাজনৈতিক দল নির্বাচনটি বর্জন করেছিল।

উৎস: বাংলাপিডিয়া

৮,৭৯১.
দেশে বন আচ্ছাদিত ভূমির পরিমাণ দেশের মোট আয়তনের -
  1. ১২.৭%
  2. ১৪.০১%
  3. ১৬.৩%
  4. ১৮.৫%
ব্যাখ্যা
দেশে বন আচ্ছাদিত ভূমির পরিমাণ:
- বর্তমানে বাংলাদেশে বৃক্ষ আচ্ছাদিত ভূমির পরিমাণ দেশের মোট আয়তনের ২২ দশমিক ৩৭ শতাংশ।
- আর বন আচ্ছাদিত ভূমির পরিমাণ মোট আয়তনের ১৪ দশমিক শূন্য ১ শতাংশ।
- দেশে সংরক্ষিত বনভূমির পরিমাণ ৯১ হাজার ৩৮১ দশমিক ৮৯ একর।
- সংরক্ষিত বনভূমি চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, নীলফামারী, নওগাঁ ও নোয়াখালী জেলায় অবস্থিত।
- দেশে বর্তমানে বনভূমির পরিমাণ ২৫ লাখ ৭৫ হাজার হেক্টর।

উৎস: ২ নভেম্বর ২০২৩, প্রথম আলো। [link]
৮,৭৯২.
মুসলিম লীগের প্রতিষ্ঠাতা কে?
  1. ক) নাবাব সলিমুল্লাহ
  2. খ) মাওলানা ভাসানী
  3. গ) সৈয়দ আমীর আলী
  4. ঘ) মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ
ব্যাখ্যা
উত্তর :  নাবাব সলিমুল্লাহ

- নবাব স্যার সলিমুল্লাহ, ওরফে খাজা সলিমুল্লাহ কেবল বাঙালি মুসলমানের নবজাগরণের অগ্রদূতই ছিলেন না, ছিলেন সর্বভারতীয় মুসলিম সমাজের মহানায়ক। 
- ১৮৬৬ খ্রিস্টাব্দে ঢাকার নবাব পরিবারে জন্মগ্রহণকারী এই মহান শিক্ষাবিদ, সমাজসেবক ও রাজনীতিক নবাব পরিবারের গণ্ডি থেকে বেরিয়ে এসে রাজনীতির মাঠে সক্রিয় হয়েছিলেন।
-১৯০৬ সালে ঢাকায় তার উদ্যোগে আয়োজিত মুসলিম শিক্ষা সম্মেলন ছিল বাঙালি মুসলমান সমাজের শিক্ষা ও জ্ঞান বিস্তারের প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ গড়ে তোলার এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ। 
- মুসলিম লীগ  ১৯০৬ সালের ডিসেম্বর মাসে প্রতিষ্ঠিত একটি রাজনৈতিক দল।
- শুরুতে আগা খান এবং চূড়ান্ত পর্যায়ে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ কর্তৃক পরিচালিত এ দলটি মুসলিম জাতীয়তাবাদের পক্ষে জনসমর্থন তৈরিতে এবং অবশেষে ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান সৃষ্টির ক্ষেত্রে মূল ভূমিকা পালন করে।
- সলিমুল্লাহ ছিলেন নিখিল ভারত মুসলিম লীগ গঠনের অন্যতম আহ্বায়ক এবং তার প্রস্তাবে ১৯০৬ খ্রিস্টাব্দের ৩০ ডিসেম্বর ঢাকার শাহবাগে ভারতীয় মুসলিম নেতাদের এক সভায় মুসলিম লীগ গঠিত হয়। 

সূত্র: বাংলাপিডিয়া।
৮,৭৯৩.
নিম্নের কোন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী দিনাজপুর অঞ্চলে বাস করে?
  1. রাজবংশী
  2. সাঁওতাল
  3. হাজং
  4. ক ও খ
ব্যাখ্যা
⇒ সাঁওতাল:
- সাঁওতাল বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ আদিবাসী জনগোষ্ঠী।
- তাদের বাসস্থান মূলত রাজশাহী, দিনাজপুর, রংপুর ও বগুড়া জেলায়।
- সাঁওতালরা অস্ট্রিক ভাষাভাষী আদি-অস্ট্রেলীয় (প্রোটো-অস্ট্রালয়েড) জনগোষ্ঠীর বংশধর।
- তাদের বছর শুরু হয় ফাল্গুন মাসে।
- সাঁওতালদের প্রধান উৎসব সোহরাই।
- সাওতালদের সমাজ হলো পিতৃতান্ত্রিক।
- সাঁওতালদের নিজস্ব ভাষা আছে কিন্তু লেখ্য বর্ণমালা নেই।

⇒ রাজবংশী:
- রাজবংশী বাংলাদেশে বসবাসরত একটি আদিবাসী জনগোষ্ঠী।
- এরা বৈষ্ণব ধর্মাবলম্বী। 
- বাংলাদেশে এদের বসবাস প্রধানত রংপুর, দিনাজপুর ও রাজশাহী এবং অতি অল্পসংখ্যায় বগুড়া ও ময়মনসিংহ জেলায়।
- রাজবংশীরা মূলত কৃষিজীবী, তবে মাছধরা এবং মাছ বিক্রয় এদের অন্যতম পেশা।
- পিতাই পরিবারের প্রধান।
- খরা, অনাবৃষ্টি উপলক্ষে অনুষ্ঠিত ‘হুদুমা’ পূজা রাজবংশীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় অনুষ্ঠান।
- রাজবংশীদের কোন লেখ্য ভাষা বা বর্ণমালা নেই। 

⇒ হাজং:
- হাজং বাংলাদেশের একটি আদিবাসী জনগোষ্ঠী।
- ময়মনসিংহ জেলার পর্বত সংলগ্ন ভূমিতে হাজংদের বসবাস।
- এদের কিছুসংখ্যক শেরপুর, সিলেট ও নেত্রকোনা অঞ্চলেও বাস করে।
- বাংলাদেশে বসবাসকারী হাজংদের প্রধান ভাষা বাংলা।
- তবে হাজংদের নিজস্ব ভাষা রয়েছে।
- হাজং ভাষার নিজস্ব কোনো বর্ণমালা নেই।
- হাজংরা ভাষার লিখিত রূপ দিতে অসমীয়া বর্ণমালা ব্যবহার করে।
- হাজংরা সনাতন ধর্মাবলম্বী।
- হাজং সমাজ পিতৃতান্ত্রিক।
 
উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতি: সপ্তম শ্রেণি।
৮,৭৯৪.
বিহিত মুদ্রা কি?
  1. ক) কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্তৃক প্রচলিত মুদ্রা
  2. খ) বিদেশ থেকে আগত মুদ্রা
  3. গ) অর্থ মন্ত্রনালয়ের কর্তৃক প্রচিলিত মুদ্রা
  4. ঘ) কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্তৃক বাতিলকৃত মুদ্রা
  5. ঙ) বাণিজ্যিক ব্যাংক কর্তৃক প্রচলিত মুদ্রা
ব্যাখ্যা


উৎসঃ অর্থনীতি, এসএসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
৮,৭৯৫.
জীবনঢুলী চলচ্চিত্রের বিষয়বস্তু কী?
  1. ভাষা আন্দোলন
  2. দুর্ভিক্ষ
  3. চুকনগর গণহত্যা
  4. রায়েরবাজার গণহত্যা
ব্যাখ্যা
জীবনঢুলী চলচ্চিত্রের বিষয়বস্তু চুকনগর গণহত্যা।

জীবনঢুলী:

- এটি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে নির্মিত একটি চলচ্চিত্র।
- 'জীবনঢুলী'র পরিচালক ছিলেন তানভীর মোকাম্মেল।
- ‘জীবনঢুলী’ নির্মিত হয়েছে ২০১৩ সালে।
- জীবনঢুলী নিম্নবর্গের একটি হিন্দু ঢাকি ও তার পরিবারের ১৯৭১ সালের অভিজ্ঞতার কাহিনি।
- ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলার সময় নিম্নবর্ণের এক ঢাকি জীবনকৃষ্ণ দাস ও তাঁর পরিবারের অভিজ্ঞতার গল্প বলা হয়েছে ‘জীবনঢুলী’ ছবিতে।
- বাংলাদেশ সরকারের অনুদানপ্রাপ্ত ছবিটিতে চুকনগর গণহত্যাকে তুলে ধরা হয়েছে।

উল্লেখ্য,
- খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার আটলিয়া ইউনিয়নের চুকনগর বাজার।
- ১৯৭১ সালের ২০ মে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী সেখানে এক নৃশংস গণহত্যা চালায়।
- ইতিহাসে তা ‘চুকনগর গণহত্যা’ নামে পরিচিতি।

উৎস: i) ১৯ জানুয়ারি ২০১৪, প্রথম আলো।
        ii) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৮,৭৯৬.
মুক্তিযুদ্ধের সময় রাজশাহী কোন সেক্টরের অধীনে ছিল?
  1. ৬নং সেক্টর
  2. ৭নং সেক্টর
  3. ৮নং সেক্টর
  4. ৯নং সেক্টর
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধে সেক্টরসমূহ:
- মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার সুবিধার্থে সমগ্র বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরের অধীনে ৬৪টি সাব-সেক্টরে ভাগ করা হয়।

• ১নং সেক্টর: চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলা এবং নোয়াখালি জেলার মুহুরী নদীর পূর্বাংশের সমগ্র এলাকা নিয়ে গঠিত। এ সেক্টরের হেডকোয়ার্টার ছিল হরিনাতে। সেক্টর প্রধান ছিলেন প্রথমে মেজর জিয়াউর রহমান এবং পরে মেজর রফিকুল ইসলাম।

• ২নং সেক্টর: ঢাকা, কুমিল্লা, ফরিদপুর এবং নোয়াখালি জেলার অংশ নিয়ে গঠিত। এ সেক্টরের বাহিনী গঠিত হয় ৪- ইস্টবেঙ্গল এবং কুমিল্লা ও নোয়াখালির ইপিআর বাহিনী নিয়ে। আগরতলার মেলাঘরে ছিল এ সেক্টরের সদরদপ্তর। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন প্রথমে মেজর খালেদ মোশাররফ এবং পরে মেজর এ.টি.এম হায়দার।

• ৩নং সেক্টর: উত্তরে চূড়ামনকাঠি (শ্রীমঙ্গলের নিকট) থেকে সিলেট এবং দক্ষিণে ব্রাহ্মণবাড়ীয়ার সিঙ্গারবিল পর্যন্ত এলাকা নিয়ে গঠিত হয়। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর কে.এম শফিউল্লাহ এবং পরে মেজর এ.এন.এম নূরুজ্জামান।

• ৪নং সেক্টর: উত্তরে সিলেট জেলার হবিগঞ্জ মহকুমা থেকে দক্ষিণে কানাইঘাট থানা পর্যন্ত ১০০ মাইল বিস্তৃত সীমান্ত এলাকা নিয়ে গঠিত। সিলেটের ইপিআর বাহিনীর সৈন্যদের সঙ্গে ছাত্র মুক্তিযোদ্ধাদের সমন্বয়ে এ সেক্টর গঠিত হয়। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর চিত্তরঞ্জন দত্ত এবং পরে ক্যাপ্টেন এ রব। হেডকোয়ার্টার ছিল প্রথমে করিমগঞ্জ এবং পরে আসামের মাসিমপুরে।

• ৫নং সেক্টর: সিলেট জেলার দুর্গাপুর থেকে ডাউকি (তামাবিল) এবং জেলার পূর্বসীমা পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকা নিয়ে গঠিত। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর মীর শওকত আলী। হেড কোয়ার্টার ছিল বাঁশতলাতে।

• ৬নং সেক্টর: সমগ্র রংপুর জেলা এবং দিনাজপুর জেলার ঠাকুরগাঁও মহকুমা নিয়ে গঠিত। প্রধানত রংপুর ও দিনাজপুরের ইপিআর বাহিনী নিয়ে এই সেক্টর গঠিত হয়। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন উইং কমান্ডার এম খাদেমুল বাশার।

• ৭নং সেক্টর: রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া এবং দিনাজপুর জেলার দক্ষিণাংশ নিয়ে গঠিত হয়। ইপিআর সৈন্যদের নিয়ে এই সেক্টর গঠিত হয়। এই বাহিনী ক্যাপ্টেন গিয়াস ও ক্যাপ্টেন রশিদের নেতৃত্বে রাজশাহীতে প্রাথমিক অভিযান পরিচালনা করে। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর নাজমুল হক এবং পরে সুবেদার মেজর এ. রব ও মেজর কাজী নূরুজ্জামান।

• ৮নং সেক্টর: এপ্রিল মাসে এই সেক্টরের অপারেশনাল এলাকা ছিল কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা, বরিশাল, ফরিদপুর ও পটুয়াখালী জেলা। মে মাসের শেষে অপারেশন এলাকা সঙ্কুচিত করে কুষ্টিয়া, যশোর ও খুলনা জেলা, সাতক্ষীরা মহকুমা এবং ফরিদপুরের উত্তরাংশ নিয়ে এই সেক্টর পুনর্গঠিত হয়। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর আবু ওসমান চৌধুরী এবং পরে মেজর এম.এ মঞ্জুর।

• ৯নং সেক্টর: বরিশাল ও পটুয়াখালি জেলা এবং খুলনা ও ফরিদপুর জেলার অংশবিশেষ নিয়ে গঠিত। এই সেক্টরের হেড কোয়ার্টার ছিল বশিরহাটের নিকটবর্তী টাকিতে। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর এম.এ জলিল এবং পরে মেজর এম.এ মঞ্জুর ও মেজর জয়নাল আবেদীন।

• ১০নং সেক্টর: নৌ-কমান্ডো বাহিনী নিয়ে এই সেক্টর গঠিত হয়। এই বাহিনী গঠনের উদ্যোক্তা ছিলেন ফ্রান্সে প্রশিক্ষণরত পাকিস্তান নৌবাহিনীর আট জন বাঙালি নৌ-কর্মকর্তা।

• ১১নং সেক্টর: টাঙ্গাইল জেলা এবং কিশোরগঞ্জ মহকুমা ব্যতীত সমগ্র ময়মনসিংহ জেলা নিয়ে গঠিত। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর এম. আবু তাহের। মেজর তাহের যুদ্ধে গুরুতর আহত হলে স্কোয়াড্রন লীডার হামিদুল্লাহকে সেক্টরের দায়িত্ব দেয়া হয়। মহেন্দ্রগঞ্জ ছিল সেক্টরের হেডকোয়ার্টার।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
৮,৭৯৭.
মুক্তিযুদ্ধকালীন কয়টি বিগ্রেড ফোর্স গঠন করা হয়?
  1. ৩ টি
  2. ৭ টি
  3. ১০ টি
  4. ৬৪ টি
ব্যাখ্যা
- যুদ্ধ পরিচালনার সুবিধার্থে মুজিবনগর সরকার ১৯৭১ সালের ১১ এপ্রিল সমগ্র বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করে।
- এসব সেক্টরকে আবার ৬৪টি সাব সেক্টরে ভাগ করা হয়। এছাড়া তিনটি বিগ্রেড ফোর্স গঠন করা হয়।
- ১০ নং সেক্টর ছিল একমাত্র নৌ সেক্টর যেখানে কোন নিয়মিত কমান্ডার ছিলো না।
-কর্নেল আতাউল গনি ওসমানী তিনটি ব্রিগেড আকারের ফোর্স গঠন করেন।
- যেগুলোর নামকরণ করা হয় তাদের অধিনায়কদের নামের অদ্যাংশ দিয়ে।
-যা এস ফোর্স, কে ফোর্স, জেড ফোর্স নামে পরিচিত।

(সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
৮,৭৯৮.
প্রথম আদমশুমারিতে বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যা ছিলো কত?
  1. ক) ৭.৩৬ কোটি
  2. খ) ৭.৬৪ কোটি
  3. গ) ৮.১৫ কোটি
  4. ঘ) ৮.৯৯ কোটি
ব্যাখ্যা
বিভিন্ন আদমশুমারিতে বাংলাদেশর জনসংখ্যা:
- প্রথম আদমশুমারি ১৯৭৪ : ৭.৬৪ কোটি
- দ্বিতীয় আদমশুমারি ১৯৮১ : ৮.৯৯ কোটি
- তৃতীয় আদমশুমারি ১৯৯১ : ১১.১৫ কোটি
- চতুর্থ আদমশুমারি ২০০১ : ১২.৯৩ কোটি
- পঞ্চম আদমশুমারি ২০১১ : ১৫.২৫ কোটি।

১৯৬১ সালের আদমশুমারি : ৫.৫২ কোটি।

(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো ওয়েবসাইট)
৮,৭৯৯.
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্য অনুসারে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি কত?
  1. ৭৫৯ কোটি ডলার
  2. ৯৫০ কোটি ডলার
  3. ৮৬৯ কোটি ডলার
  4.  ৯০০ কোটি ডলার
ব্যাখ্যা

• ২০২৪-২৫ অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্র রপ্তানি:
- দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের প্রধান গন্তব্য যুক্তরাষ্ট্র। 
- কোনো কোনো বছর জার্মানি শীর্ষস্থানে ছিল। 

- যুক্তরাষ্ট্রে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রপ্তানির পরিমাণ ৮৬৯ কোটি ডলার, যা দেশের মোট রপ্তানির ১৮ শতাংশ। 
- এর আগের অর্থবছরের চেয়ে রপ্তানি বাড়ে ১৪ শতাংশ। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৭৬০ কোটি ডলার।
- ২০২৪-২৫ অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি তালিকায় প্রধান পণ্যের মধ্যে রয়েছে তৈরি পোশাকের ওভেন, অর্থাৎ শার্ট-প্যান্ট জাতীয় পোশাক।
- ওভেন পোশাকের রপ্তানি ছিল ৪৯৫ কোটি ডলার। 
- দেশটিতে বাংলাদেশের মোট রপ্তানিতে ওভেনের অংশ ২৭ শতাংশ।
- তৈরি পোশাকের নিট ক্যাটেগরির পণ্য অর্থাৎ গেঞ্জি ও সোয়েটার জাতীয় পণ্যের রপ্তানির পরিমাণ ছিল ২৬০ কোটি ডলার।
- নিটওয়্যারে অংশ ১২ শতাংশ। 

তথ্যসূত্র: রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো।  (LINK)

৮,৮০০.
প্রথম মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক চলচ্চিত্র কোনটি?
  1. হাঙ্গর নদী গ্রেনেড
  2. ওরা এগারো জন
  3. গেরিলা
  4. সংগ্রাম
ব্যাখ্যা
ওরা এগারো জন:
- প্রথম মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক চলচ্চিত্র 'ওরা এগারো জন'।
- 'ওরা এগারো জন' চলচ্চিত্রটি প্রযোজনা করেন মাসুদ পারভেজ সোহেল রানা।
- বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা ওরা ১১ জন চলচ্চিত্রে মুক্তিযোদ্ধাদের দিয়ে অভিনয় করিয়েছিলেন নির্মাতা-প্রযোজক।
- “ওরা এগারো জন” চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেন চাষী নজরুল ইসলাম।
- একাত্তরে ১১টি সেক্টরে মুক্তিযুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছিলেন বাঙালিরা। বিষয়টি মাথায় রেখেই সিনেমার নাম রাখা হয়েছে ওরা ১১ জন।
- পরিচালক হিসেবে চাষী নজরুল ইসলামের প্রথম সিনেমা ছিল এটি।
- ওরা ১১ জন-এর শুটিং হয়েছিল জয়দেবপুরে।
- চিত্রগ্রাহক ছিলেন আবদুস সামাদ।
- ওরা ১১ জন সিনেমা শুরু হয় সাইফুল ইসলামের কণ্ঠে রবীন্দ্রসংগীত 'ও আমার দেশের মাটি' দিয়ে।

তথ্যসূত্র - জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও দৈনিক প্রথম আলো, ১৩ আগস্ট ২০২২।