বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলাদেশ বিষয়াবলি

মোট প্রশ্ন৩০,৮৩২এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলাদেশ বিষয়াবলি

PrepBank · পাতা / ৩০৬ · ১০০ / ৩০,৮৩২

.
কোনটি বঙ্গবন্ধু রচিত গ্রন্থ নয়?
  1. ক) অসমাপ্ত আত্মজীবনী
  2. খ) কারাগারের রোজনামচা
  3. গ) আমার স্বপ্ন, আমার সংগ্রাম
  4. ঘ) আমার দেখা নয়াচীন
ব্যাখ্যা
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রচিত দ্বিতীয় আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ হলো কারাগারের রোজনামচা।
- এটি ২০১৭ সালে বঙ্গবন্ধুর ৯৭তম জন্মবার্ষিকীতে বাংলা একাডেমি প্রকাশ করে।
- এই গ্রন্থটি মূলত একটি ডায়রি যা বঙ্গবন্ধু ১৯৬৬-১৯৬৮ সময়ে কারাগারে বন্দিবস্থায় লিখেছিলেন।
- এর ভূমিকা লিখেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নামকরণ করেন শেখ রেহেনা।
- প্রচ্ছদ ও নকশা করেন তারিক সুজাত। তবে প্রচ্ছদে ব্যবহৃত বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি অঙ্কন করেন শিল্পী রাসেল কান্তি দাশ।

“আমার দেখা নয়াচীন” জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর চীন ভ্রমণের উপর লেখা গ্রন্থ।
- এই গ্রন্থটি তার প্রকাশিত তৃতীয় গ্রন্থ।
- ০২ ফেব্রুয়ারী ২০২০ বাংলা একাডেমি এটি প্রকাশ করে।
- ১৯৫২ সালের সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসে বিশ্ব শান্তি সম্মেলনে যোগ দিতে নয়া চীন যান বঙ্গবন্ধু।
- তার এ সফরের অভিজ্ঞতাই এ গ্রন্থে বর্ণনা করা হয়েছে।

অসমাপ্ত আত্মজীবনী শেখ মুজিবুর রহমানের আত্মজীবনী সংকলন।
- ২০১২ সালের জুনে এ বইটি প্রকাশিত হয়।
- ২০০৪ সালে শেখ মুজিবুর রহমানের লেখা চারটি খাতা আকস্মিকভাবে তাঁর কন্যা বর্তমান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তগত হয়।

- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বেশ কয়েকটি গ্রন্থের রচয়িতা।
- তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে:-
১। ‘‘শেখ মুজিব আমার পিতা’’,
২। ওরা টোকাই কেন?,
৩। বাংলাদেশে স্বৈরতন্ত্রের জন্ম’’,
৪। দারিদ্র্য বিমোচন, কিছু ভাবনা’’,
৫। ‘‘আমার স্বপ্ন, আমার সংগ্রাম’’,
৬। আমরা জনগণের কথা বলতে এসেছি’’,
৭। ‘‘সামরিকতন্ত্র বনাম গণতন্ত্র’’,
৮। ‘‘সাদা কালো’’,
৯। ‘‘সবুজ মাঠ পেরিয়ে’’,
১০।মুজিব বাংলার, বাংলা মুজিবের,
১১। Miles to Go, The Quest for Vision-2021 (two volumes) ইত্যাদি।

তথ্যসূত্র:- প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় , কারাগারের রোজনামচা , অসমাপ্ত আত্মজীবনী , আমার দেখা নয়াচীন।
.
বাংলাদেশে বর্তমানে মোট কতটি শিক্ষাবোর্ড রয়েছে?  [মার্চ, ২০২৬]
  1. ৮টি
  2. ১০টি
  3. ১১টি
  4. ১২টি
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের শিক্ষাবোর্ড:
- বাংলাদেশে বর্তমানে শিক্ষাবোর্ডের সংখ্যা ১১টি। যথা-

১. মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড, ঢাকা : দেশের প্রথম শিক্ষাবোর্ড; প্রতিষ্ঠাকাল- ১৯২১। 
২. মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড, রাজশাহী : প্রতিষ্ঠাকাল- ১৯৬২
৩. মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড, কুমিল্লা : প্রতিষ্ঠাকাল- ১৯৬২। 
৪. মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড, যশোর : প্রতিষ্ঠাকাল- ১৯৬২। 
৫. মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড, চট্টগ্রাম : প্রতিষ্ঠাকাল- ১৯৯৫। 
৬. মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড, বরিশাল : প্রতিষ্ঠাকাল- ১৯৯৯। 
৭. মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড, সিলেট : প্রতিষ্ঠাকাল- ১৯৯৯। 
৮. মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড, দিনাজপুর : প্রতিষ্ঠাকাল- ২০০৬। 
৯. মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড, ময়মনসিংহ : দেশের সর্বশেষ শিক্ষাবোর্ড; প্রতিষ্ঠাকাল- ২০১৬। 
১০. বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ড, ঢাকা : প্রতিষ্ঠাকাল - ১৯৭৯। 
১১. বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষাবোর্ড, ঢাকা : প্রতিষ্ঠাকাল - ১৯৬৭।  [ব্যাখ্যা আপডেট - মার্চ, ২০২৬]

উৎস: শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

.
পানিপথের ২য় যুদ্ধ কার কার মধ্যে সংঘঠিত হয়?
  1. বাবর বনাম ইব্রাহিম লোদী
  2. বৈরাম খাঁ বনাম হিমু
  3. আহমদ শাহ আবদালি বনাম মারাঠা
  4. হিমু বনাম মারাঠা
ব্যাখ্যা

পানিপথের দ্বিতীয় যুদ্ধ: 
- ১৫৫৬ খ্রিস্টাব্দে পানিপথের দ্বিতীয় যুদ্ধে আকবর আফগান শাসক আদিল শাহ সুরের সেনাপতি হিমুকে পরাস্ত করেন।
- মুঘল শাসনের ইতিহাসে পানিপথের দ্বিতীয় যুদ্ধ ছিল চূড়ান্ত মীমাংসাত্মক যুদ্ধ।
- এই যুদ্ধে জয়ের ফলে ভারতে মুঘল শক্তি স্থায়ীভাবে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ভারতে আফগানদের আধিপত্যের অবসান হয়।
- এর ফলে মুঘল সাম্রাজ্যের প্রকৃত ভিত্তি দৃঢ়ভাবে স্থাপিত হয় এবং মুঘল সাম্রাজ্য বিস্তারের পথ প্রশস্ত হয়।

অন্যদিকে,
- পানি পথের প্রথম যুদ্ধ: বাবর বনাম ইব্রাহিম লোদী।
- পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ: আহমদ শাহ আবদালি বনাম মারাঠা।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা , নবম-দশম শ্রেণি।

.
ময়মনসিংহ জেলার পূর্ব নাম-
  1. ক) জালালাবাদ
  2. খ) ইসলামাবাদ
  3. গ) নাসিরাবাদ
  4. ঘ) সিংহগ্রাম
ব্যাখ্যা
মোগল আমলে মোমেনশাহ নামে একজন সাধক ছিলেন, তাঁর নামেই মধ্যযুগে অঞ্চলটির নাম হয় মোমেনশাহী। ষোড়শ শতাব্দীতে বাংলার স্বাধীন সুলতান সৈয়দ আলাউদ্দিন হোসেন শাহ তাঁর পুত্র সৈয়দ নাসির উদ্দিন নসরত শাহ'র জন্য এ অঞ্চলে একটি নতুন রাজ্য গঠন করেছিলেন, সেই থেকেই নসরতশাহী বা নাসিরাবাদ নামের সৃষ্টি। নাসিরাবাদ নাম পরিবর্তন হয়ে ময়মনসিংহ হয় একটি ভুলের কারণে। বিশ টিন কেরোসিন বুক করা হয়েছিল বর্জনলাল এন্ড কোম্পানীর পক্ষ থেকে নাসিরাবাদ রেল স্টেশনে। এই মাল চলে যায় রাজপুতনার নাসিরাবাদ রেল স্টেশনে। এ নিয়ে অনেক দুর্ভোগ পোহাতে হয়। পরবর্তীতে আরো কিছু বিভ্রান্তি ঘটায় রেলওয়ে স্টেশনের নাম পরিবর্তন করে ময়মনসিংহ রাখা হয়। সেই থেকে নাসিরাবাদের পরিবর্তে ময়মনসিংহ ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
উৎসঃ ময়মনসিংহ জেলার সরকারি ওয়েবসাইট
.
বাংলাদেশের সংবিধান অনুসারে, মন্ত্রিসভার সদস্যদের নিয়োগ কে করে থাকেন?
  1. প্রধানমন্ত্রী
  2. রাষ্ট্রপতি
  3. সুপ্রিমকোর্ট
  4. জাতীয় সংসদ
ব্যাখ্যা
মন্ত্রিসভার সদস্যদের নিয়োগ:
⇒ সংবিধানের ৫৬নং অনুচ্ছেদের ২নং দফা অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি কর্তৃক প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার অন্যান্য সদস্যদের নিয়োগ দান করে থাকেন।
- ৫৬ (৩)নং দফা অনুযায়ী, যে সংসদ-সদস্য সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের আস্থাভাজন বলিয়া রাষ্ট্রপতির নিকট প্রতীয়মান হইবেন, রাষ্ট্রপতি তাঁহাকে প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ করিবেন।

- মন্ত্রীসভা প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছাধীন থাকে।
- মন্ত্রিসভার সদস্য সংখ্যা নির্ধারণ, দপ্তর বন্টন, নিয়োগ ও অব্যাহতি প্রভৃতি প্রধানমন্ত্রীর হাতে ন্যস্ত।
- প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করলে মন্ত্রিসভাও ভেঙে যায়।
- মন্ত্রিসভার সদস্যগণ একক ও যৌথভাবে জাতীয় সংসদের নিকট দায়ী থাকেন। মন্ত্রিসভার সদস্যগণ জাতীয় সংসদের সদস্যদের থেকে নিয়োগ দেওয়া হয়। তবে মন্ত্রিসভার এক-দশমাংশ সদস্য সাংসদ নয় এমন ব্যক্তিদের মধ্য থেকে নিয়োগ দেওয়া যায়।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান ও পৌরনীতি ও নাগরিকতা : নবম-দশম শ্রেণি।
.
বাংলাদেশে প্রথমবারের মত ব্লক-৮ এ বাণিজ্যিক গ্যাসের সন্ধান পাওয়া গেছে কোথায়?
  1. জামালপুর-১
  2. সিলেট-১
  3. হবিগঞ্জ-১
  4. পিরোজপুর-১
ব্যাখ্যা

⇒ জামালপুর-১ কূপে বাংলাদেশে প্রথমবারের মত ব্লক-৮ এ বাণিজ্যিক গ্যাসের সন্ধান পাওয়া গেছে।
- পেট্রোবাংলা থেকে ২০২৫-২৬ সালের মধ্যে ৫০টি ও ২০২৬-২৮ সালের মধ্যে ১০০টি কূপ খনন ও ওয়ার্কওভার কর্মপরিকল্পনাসহ দেশের বিভিন্ন ব্লকে অনুসন্ধান ও নতুন কূপ খনন কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
- এরই অংশ হিসেবে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন এন্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স) থেকে জামালপুর-১ অনুসন্ধান
কূপ খননের মাধ্যমে দেশে প্রথমবারের মত ব্লক-৮ এ বাণিজ্যিক গ্যাসের সন্ধান পাওয়া গেছে।
- জামালপুর স্ট্রাকচারে গ্যাসের রিজার্ভের পরিমাণ ও বিস্তৃতি মূল্যায়নের লক্ষ্যে আরও দুটি (একটি উন্নয়ন ও একটি অনুসন্ধান) কূপ খননের
পরিকল্পনা গ্রহণ করত: তদানুযায়ী ডিপিপি প্রণয়নের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

তথ্যসূত্র - যুগান্তর পত্রিকার রিপোর্ট।

.
বাংলাদেশ সর্বপ্রথম কোন আন্তর্জাতিক সংস্থার সদস্যপদ লাভ করে?
  1. কমনওয়েলথ
  2. জাতিসংঘ
  3. বিশ্বব্যাংক
  4. আরবলীগ
ব্যাখ্যা
- স্বাধীনতা লাভের পর বাংলাদেশ প্রথম কোন বৈশ্বিক সংস্থা হিসেবে ১৯৭২ সালের ১৮ এপ্রিল কমনওয়েলথের সদস্যপদ লাভ করে।
- অন্যদিকে বাংলাদেশ বিশ্ব খাদ্য ও কৃষি সংস্থার সদস্যপদ লাভ করে ১৯৭৩ সালের ১২ নভেম্বর।
- বিশ্বব্যাংকের সদস্যপদ লাভ করে ১৭ আগস্ট ১৯৭২।
- জাতিসংঘের সদস্যপদ লাভ করে ১৯৭৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর।

উৎসঃ সংস্থাগুলোর ওয়েবসাইট।
.
বাংলাদেশে আবিষ্কৃত গ্যাস ক্ষেত্র কয়টি? ( মে - ২০২৫)
  1. ২৯ টি
  2. ২৫ টি
  3. ২৭ টি
  4. ৩২ টি
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশে আবিষ্কৃত গ্যাস ক্ষেত্র - ২৯ টি।
- দেশের ২৯তম গ্যাসক্ষেত্রের নাম, ইলিশা-১ ।
- পেট্রোবাংলার সর্বশেষ প্রাক্কলন অনুযায়ী অনুযায়ী প্রাথমিক মোট মজুদ গ্যাসের পরিমাণ- ৪০.৫৩ ট্রিলিয়ন ঘনফুট।
- মোট স্থাপিত বিদ্যুত উৎপাদন ক্ষমতা : ২৬,৮৪৪ মেগাওয়াট ( ৩০ এপ্রিল ২০২৪ পর্যন্ত)।

উৎস: অর্থনৈতিক সমীক্ষা-২০২৪ এবং The Daily Star Bangla.
.
বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ কোম্পানি লিমিটেডের নতুন উদ্বোধন করা ওটিটি কলিং সেবার নাম কী?
  1. ক) হ্যালো
  2. খ) আপন
  3. গ) কথোপকথন
  4. ঘ) আলাপ
ব্যাখ্যা
৪ এপ্রিল ২০২১ বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ কোম্পানি লিমিটেডের (BTCL) উদ্বোধন করা নতুন OTT (Over The Top) কলিং সেবার নাম - আলাপ (Alaap)।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ সাম্প্রতিক সমাচার মে-জুন, ২০২১।
১০.
ব্রিটিশ ভারতে প্রথম ‘পাবলিক সার্ভিস কমিশন’ স্থাপিত হয় কবে?
  1. ক) ১৮৩৩ সালে
  2. খ) ১৮৫৮ সালে
  3. গ) ১৯২৬ সালে
  4. ঘ) ১৯৩৯ সালে
ব্যাখ্যা
ব্রিটিশ ভারতে ১৯২৬ সালের ১ অক্টোবর প্রথম ‘পাবলিক সার্ভিস কমিশন’ স্থাপিত হয়।
চেয়ারম্যান সহ এই কমিশনের সদস্য ছিলো পাঁচজন। প্রথম চেয়ারম্যান ছিলেন স্যার রস বার্কার।
১৯৩৭ সালের ১ এপ্রিল এই কমিশন ‘ফেডারেল পাবলিক সার্ভিস কমিশন’ এবং ১৯৫০ সালের ২৬ জানুয়ারি ‘ইউনিয়ন পাবলিক সার্ভিস কমিশন’ নামে আত্মপ্রকাশ করে।
এর আগে ১৮৫৪ সালে ব্রিটিশ ভারতের জন্যে লন্ডনে একটি পাবলিক সার্ভিস কমিশন প্রতিষ্ঠা করা হয়।
(সূত্র: Union Public Service Commission ওয়েবসাইট)
১১.
'রাজবংশী' ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীর বসবাস নেই কোন জেলায়?
  1. বান্দরবান
  2. রংপুর
  3. দিনাজপুর
  4. রাজশাহী
ব্যাখ্যা
রাজবংশী:

- রাজবংশী বাংলাদেশে বসবাসরত একটি আদিবাসী জনগোষ্ঠী।
- হিমালয় অঞ্চল বা ব্রহ্মপুত্র উপত্যকা থেকে আগত রাজবংশীরা খর্বকায়, চ্যাপ্টা নাক, উঁচু চোয়ালবিশিষ্ট এক মিশ্র জনগোষ্ঠীর মানুষ।
- এরা বৈষ্ণব ধর্মাবলম্বী। বর্তমানে এদের কেউ কেউ মুসলমান, কেউবা খ্রিস্টান।
- বাংলাদেশে এদের বসবাস প্রধানত রংপুর, দিনাজপুর ও রাজশাহী এবং অতি অল্পসংখ্যায় বগুড়া ও ময়মনসিংহ জেলায়।
- রাজবংশীরা মূলত কৃষিজীবী, তবে মাছধরা এবং মাছ বিক্রয় এদের অন্যতম পেশা। মেয়েরা কুটির শিল্পের কাজে দক্ষ।
- পিতাই পরিবারের প্রধান।
- রাজবংশীদের কোন লেখ্য ভাষা বা বর্ণমালা নেই।
- এদের ভাষা স্থানিক তথা আঞ্চলিক ভাষার এক মিশ্ররূপ।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
১২.
মঙ্গলপাণ্ডে কোন ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের সাথে জড়িত ছিলেন?
  1. নীল বিদ্রোহ
  2. সিপাহী বিদ্রোহ
  3. ভারত ছাড়ো আন্দোলন
  4. স্বদেশী আন্দোলন
ব্যাখ্যা

সিপাহি বিদ্রোহ:
- সিপাহি বিদ্রোহকে ভারতের প্রথম স্বাধীনতা সংগ্রাম বলা হয়।
- ১৮৫৭ সালের ২৯শে মার্চ পশ্চিমবঙ্গের ব্যারাকপুরে মঙ্গলপাণ্ডে নামে এক সিপাহী কর্তৃক গুলি বর্ষণের মাধ্যমে এই বিদ্রোহের সূত্রপাত ঘটে।
- দ্রুত এই বিদ্রোহ ছড়িয়ে পড়ে মিরাট, কানপুর, পাঞ্জাব, উত্তর প্রদেশ, মধ্য প্রদেশ, বিহার, বাংলাসহ ভারতের প্রায় সর্বত্র। বাংলাদেশের ঢাকা, চট্টগ্রাম, যশোর, সিলেট, কুমিল্লা, পাবনা, রংপুর, দিনাজপুর, রাজশাহী এই বিদ্রোহে শামিল হয় ।
- পরবর্তীতে তা ভারতবর্ষের উত্তর ও পূর্বাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এই বিদ্রোহ ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়।
- তবে এ বিদ্রোহের ফলে ভারতে কোম্পানির শাসনের অবসান ঘটে।
- ভারতের শাসনভার ব্রিটিশ সরকার সরাসরি তার হাতে নিয়ে নেয়।

তথ্যসূত্র- বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৩.
সতীদাহ প্রথা বিলুপ্ত হয় কত সালে?
  1. ১৮২৬ খ্রিস্টাব্দে
  2. ১৮২৭ খ্রিস্টাব্দে
  3. ১৮২৮ খ্রিস্টাব্দে
  4. ১৮২৯ খ্রিস্টাব্দে
ব্যাখ্যা
সামাজিক সংস্কার:

- সংস্কারপন্থী বাঙালি নেতা ও শিক্ষিত শ্রেণির উদারবাদীদের সহযোগিতায় ইংরেজ শাসকরা সামাজিক ধর্মীয় অনেক অমানবিক প্রথা কুসংস্কার দূর করতে সক্ষম হন।
- লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক, রাজা রামমোহন রায়, প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুরের মতো উদারপন্থী হিন্দু নেতৃবর্গ এবং সদর নিজামত আদালতের জজদের অকুণ্ঠ সমর্থনে ১৮২৯ খ্রিস্টাব্দে ডিসেম্বরে সতীদাহ প্রথা রহিত করতে সক্ষম হন।
- স্বামীর মৃত্যুর পর কোনো বিধবাকে স্বামীর সঙ্গে মরতে বাধ্য করলে তা আইনত দণ্ডনীয় বলে আইন জারি করা হয়।
- লর্ড এলেনবরা-এর সময়ে ১৮৪৩ খ্রিস্টাব্দে দাস প্রথা উচ্ছেদ করা হয়।
- লর্ড ডালহৌসি পণ্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের সহায়তায় হিন্দু বিধবা বিবাহ আইন পাস করে বিধবা বিবাহের প্রচলন করেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৪.
আমদানি ও সরবরাহের ক্ষেত্রে মূসক হার কত?
  1. ১২%
  2. ১৫%
  3. ১৭%
  4. ১৮%
ব্যাখ্যা
মূল্য সংযোজন কর:
- মূল্য সংযোজন কর (মূসক) হচ্ছে কোন পণ্য বা সেবার ক্ষেত্রে তার উৎপাদন ও বণ্টনের প্রতিটি পর্যায় শেষে সংযোজিত মূল্যের ওপর শতকরা হারের কর।
- মূল্য সংযোজন কর বা Value Added Tax (VAT) হলো এক প্রকার পরোক্ষ কর।
- বাংলাদেশে ১৯৯১ সালের ১ জুলাই থেকে ভ্যাট বা মূসক চালু হয়। 
- ২০১২ সালে এটি সংশোধন করে মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন-২০১২ পাশ হয় যা ১ জুলাই, ২০১৯ থেকে কার্যকর হয়।
- সকল পন্য ও সেবার উপর ১৫% মূল্য সংযোজন কর আরোপ হয়।
- আমদানি ও সরবরাহের ক্ষেত্রে মূল্য সংযোজন কর ১৫%। 
- পন্য বা সেবার সর্বশেষ ভোক্তা মূল্য সংযোজন কর দাতা।
- রপ্তানির ক্ষেত্রে মূল্য সংযোজন কর ০%।

উৎস: জাতীয় রাজস্ব বোর্ড। [link]
১৫.
স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা প্রথম কোথায় উত্তোলন করা হয়?
  1. রেসকোর্স ময়দান
  2. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে
  3. শহীদ মিনার
  4. সোহরাওয়ার্দী উদ্যান
ব্যাখ্যা

• জাতীয় পতাকা:
- পতাকা বিধি (১৯৭২) অনুসারে জাতীয় পতাকার রং গাঢ় সবুজ এবং সবুজ অংশের মাঝখানে একটি লাল বৃত্ত।
- আয়তাকার এই পতাকার অনুপাত হচ্ছে অনুপাত: ১০:৬ (৫:৩)।
- লাল বৃত্তের ব্যাসার্ধ হবে পতাকার মোট দৈর্ঘ্যের এক-পঞ্চমাংশ।
- প্রথম অবস্থায় পতাকার কেন্দ্রস্থলে বাংলাদেশের মানচিত্র খচিত ছিল।
- বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার এই রূপটি ১৯৭২ সালের ১৭ জানুয়ারি সরকারিভাবে গৃহীত হয়। 

উল্লেখ্য
- ২ মার্চ, ১৯৭১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় ছাত্র জনতার সমাবেশে তৎকালীন ঢাকসুর ভিপি আ.স.ম আব্দুর রব স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা প্রথম উত্তোলন করেছিল।
- ২৩ মার্চ ১৯৭১, বঙ্গবন্ধুর বাসভবনে শেখ মুজিবুর রহমান প্রথম স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা আনুষ্ঠানিক উত্তোলন করেন এবং একই দিনে সারা বাংলাদেশে উত্তোলিত হয়েছিল।
- বাংলাদেশের বাহিরে প্রথম উত্তোলন হয় কলকাতাস্থ পাকিস্তানের ডেপুটি হাইকমিশনারে।
- সংবিধানের ৪নং অনুচ্ছেদের জাতীয় পতাকার কথা বলা হয়েছে।
- ২রা মার্চ বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা দিবস।

উৎস: i) স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাস।
ii) ২ মার্চ, ২০২২, প্রথম আলো।

১৬.
ব্রিশাইল কী?
  1. উচ্চ ফলনশীল ধান
  2. উচ্চ ফলনশীল পাট
  3. উচ্চ ফলনশীল গম
  4. উচ্চ ফলনশীল তরমুজ
ব্যাখ্যা
ব্রিশাইল:
- ব্রিশাইল হচ্ছে - উচ্চ ফলনশীল ধান।
- মৌসুম - আমন।
- এর উচ্চতা - ১২৫ সেমি.।
- জীবনকার - ১৪৫ দিন।
- জাতের বৈশিষ্ট্যসমূহ - চাল মাঝারি মোটা ও সাদা।

এছাড়াও আরো কিছু উচ্চ ফলনশীল ধানের নাম হচ্ছে -
- চান্দিনা, মালা, বিপ্লব, আশা, সুফলা, প্রগতি, মুক্তা, ময়না, গাজী, মোহিনী প্রভৃতি।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট।
১৭.
‘বেগম রোকেয়া পদক’ প্রদান করা হয় —
  1. সাহিত্যে অবদানের জন্য
  2. মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য
  3. নারী উন্নয়নে অবদানের জন্য
  4. ভাষা আন্দোলনে অবদানের জন্য
ব্যাখ্যা
বেগম রোকেয়া পদক-২০২৪:
- সমাজ, নারীশিক্ষা ও নারীর ক্ষমতায়নে অসামান্য অবদানের জন্য চারজন নারীকে বেগম রোকেয়া পদক-২০২৪ দেওয়া হয়েছে।
- প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এই নারীদের বা তাঁদের প্রতিনিধিদের হাতে পদক তুলে দেন।
- বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের ১৪৪তম জন্ম ও ৯২তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে এ পদক বিতরণ করেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
- মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় বেগম রোকেয়া দিবস ২০২৪ উদ্‌যাপন ও বেগম রোকেয়া পদক বিতরণের জন্য অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে।
- পুরস্কারপ্রাপ্ত নারীদের প্রত্যেককে একটি করে স্বর্ণপদক, একটি সার্টিফিকেট ও চার লাখ টাকার চেক দেওয়া হয়েছে।

পদকজয়ীরা হলেন -
১) পারভীন হাসান, তিনি বাংলাদেশের একজন শিক্ষাবিদ এবং অধিকার কর্মী। তিনি ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের চেয়ারপার্সন এবং কেন্দ্রীয় মহিলা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য।
২) তাসলিমা আখতার, তিনি একজন বাংলাদেশি শ্রমিক ও নারী অধিকারকর্মী এবং আলোকচিত্রী।
৩) রাণী হামিদ, তিনি একজন বাংলাদেশী দাবাড়ু। তিনি বাংলাদেশের প্রথম মহিলা আন্তর্জাতিক দাবা মাস্টার।
৪) শিরিন পারভিন হক, তিনি একজন নারী অধিকার কর্মী। তিনি নারী অধিকার সংগঠন নারীপক্ষের প্রতিষ্ঠাতা।

নীতিমালা অনুসারে নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান ও গৌরবজ্জ্বল ভূমিকার জন্য 'বেগম রোকেয়া পদক' প্রদান করা হয়:
(ক) নারী শিক্ষা;
(খ) নারী অধিকার;
(গ) নারীর আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন;
(ঘ) সাহিত্য ও সংস্কৃতির মাধ্যমে নারী জাগরণ;
(ঙ) পল্লী উন্নয়ন;
(চ) সরকার কর্তৃক নির্ধারিত অন্য কোন ক্ষেত্রে।

উৎস: আজকের পত্রিকা ও চ্যানেল আই অনলাইন (৯ ডিসেম্বর ২০২৪) ।
The Daily Star বাংলা (ডিসেম্বর ৯, ২০২৪)।
বেগম রোকেয়া পদক (সংশোধিত) নীতিমালা ২০১৭
১৮.
১৯৫৪ সালের পূর্ব বাংলার প্রাদেশিক সরকার নির্বাচনে বিরোধী দলের জোট কোনটি?
  1. যুক্তপার্টি
  2. অ্যালায়েন্স ফর বাংলা
  3. যুক্তফ্রন্ট
  4. যুক্তমোর্চ
ব্যাখ্যা
• যুক্তফ্রন্ট গঠনের পটভূমি:
- ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে পূর্ব বাংলার রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মুসলিম লীগ ছিল পুরাতন ও বড় দল।
- এছাড়া পূর্ব বাংলার প্রাদেশিক সরকার পরিচালনা করত মুসলিম লীগ।
- ফলে ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে সদ্য প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দলগুলো মুসলিম লীগকে পরাজিত করার কৌশল হিসেবে জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচন করার পরিকল্পনা নেয়।
- এরই পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৫৩ সালের ১৪ই নভেম্বর ময়মনসিংহে অনুষ্ঠিত আওয়ামী মুসলিম লীগের কাউন্সিলে 'যুক্তফ্রন্ট' গঠনের সিদ্ধান্ত হয়।

• যুক্তফ্রন্ট মূলত পাঁচটি বিরোধী রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে গঠিত হয়।
১. মওলানা ভাসানীর নেতৃত্বাধীন আওয়ামী মুসলিম লীগ,
২. শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের কৃষক-শ্রমিক পার্টি,
৩. মওলানা আতাহার আলীর নেজামে ইসলাম পার্টি,
৪. হাজী দানেশের বামপন্থি গণতন্ত্রী দল ও
৫. খিলাফত-ই-রাব্বানি।

• নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের প্রতীক ছিল 'নৌকা'।
- যুক্তফ্রন্টের ২১ দফা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করা হয়।
- পূর্ব বাংলার গণমানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষাকে সামনে রেখে প্রণীত এই ২১ দফা কর্মসুচির মুখ্য রচয়িতা ছিলেন আবুল মনসুর আহমদ। 

 উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
১৯.
জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ অনুযায়ী,  জনসংখ্যার দিক দিয়ে সবচেয়ে বড় উপজাতি -
  1. চাকমা
  2. মারমা
  3. ত্রিপুরা
  4. সাঁওতাল
ব্যাখ্যা
• জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২:
- জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ অনুযায়ী, দেশের ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর জনসংখ্যা ১৬ লাখ ৫০ হাজার ১৫৯।
 -জনশুমারিতে দেশের ৫০টি জাতিসত্তার জনসংখ্যা তুলে ধরা হয়।
- ২০২২ সালে জনশুমারিতে উপজাতির সংখ্যা উল্লেখ করা হয় - ৫০ টি। উপজাতির মানুষের সংখ্যা - ১৬,৫০,১৫৯ জন।
- নারী উপজাতির সংখ্যা - ৮,২৫,৪০৮ জন। পুরুষ উপজাতির সংখ্যা - ৮,২৪,৭৫১ জন।

এছাড়াও,
- জনসংখ্যার দিক দিয়ে সবচেয়ে বড় উপজাতি - চাকমা।
- চাকমা উপজাতির সংখ্যা - ৪,৮৩,২৯৯ জন।
- চাকমা বসবাস করে - রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান, কক্সবাজার।
- জনসংখ্যা দিক দিয়ে দ্বিতীয়- মারমা।
- মারমা উপজাতি জনসংখ্যা - ২, ২৪, ২৬২ জন।
- জনসংখ্যা দিক দিয়ে তৃতীয় স্থানে - ত্রিপুরা।
- ত্রিপুরা উপজাতি সংখ্যা - ১,৫৬,৫৭৮ জন।
- চতুর্থ স্থানে - সাঁওতাল।
- সাঁওতাল উপজাতি সংখ্যা - ১২৯,৪৯ জন।

উৎস: জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ রিপোর্ট এবং প্রথম আলো পত্রিকা রিপোর্ট।
২০.
Mahasthangarh is located on the bank of which river?
  1. ক) Mahananda
  2. খ) Karatoya
  3. গ) Brahmaputra
  4. ঘ) Jamuna
ব্যাখ্যা
মহাস্থানগড়: 

- মহাস্থানগড় করতোয়া নদীর তীরে অবস্থিত।
- পূর্বে মহাস্থানগড়ের নাম ছিল পুণ্ড্রবর্ধন বা পুণ্ড্রনগর।
- বগুড়া শহর হতে ১৫ কিঃমিঃ দূরে পুন্ড্রবর্ধনের প্রশাসনিক কেন্দ্রবিন্দু ছিল এই মহাস্থানগড়।
- মহাস্থানগড় সমগ্র বাংলার সর্বপ্রধান ও সর্বপ্রাচীন এ দূর্গনগরী ।
- সমগ্র বাংলার সর্বপ্রধান ও সর্বপ্রাচীন এ দূর্গ নগরী ইটের বেষ্টনী প্রাচীর দ্বারা সুরক্ষিত যা উত্তর দক্ষিনে ১৫২৫ মিঃদীর্ঘ এবং পূর্ব পশ্চিমে ১৩৭০মিঃ প্রশস্থ ও চতুপার্শ্বস্থ সমতল ভূমি হতে ৫মিঃ উচু।
- কয়েক শতাব্দী পর্যন্ত এ স্থান পরাক্রমশালী মৌর্য , গুপ্ত এবং পাল শাসকবর্গের প্রাদেশিক রাজধানী ও পরবর্তীকালে হিন্দু সমান্ত রাজাগণের রাজধানী ছিল।
- বিখ্যাত চীনা পরিব্রাজক হুয়েন সাঙ ভারতবর্ষ ভ্রমণকালে (৬৩৯-৬৪৫) পুন্ড্রনগর পরিদর্শন করেন।

তথ্যসূত্র - বগুড়া জেলা অফিসিয়াল ওয়েবসাইট।
২১.
নির্বাচন কমিশনাররা সাধারণত কত বছরের জন্য নিয়োগপ্রাপ্ত হন?
  1. ৩ বছর
  2. ৪ বছর
  3. ৫ বছর
  4. ৬ বছর
ব্যাখ্যা

নির্বাচন কমিশন: 
- সংবিধানের সপ্তম ভাগে নির্বাচন কমিশন প্রতিষ্ঠা, নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব কর্তব্য এবং ক্ষমতা সম্পর্কে বিস্তারিত অনুচ্ছেদ রয়েছে।
- অনুচ্ছেদ ১১৮ অনুযায়ী প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং অনধিক চার জন নির্বাচন কমিশনার লইয়া বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশন গঠিত হবে।
- নির্বাচন কমিশনের গঠন কেমন হবে তার নির্দিষ্ট কোন আইন নেই।
- এ বিষয়টি রাষ্ট্রপতির এখতিয়ারাধীন।
- রাষ্ট্রপতি সাধারণত রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে আলাপ আলোচনা করে সার্চ কমিটি গঠন করেন।
- এ সার্চ কমিটি নির্বাচন কমিশনের জন্য যোগ্য সদস্য নির্বাচিত করে।
- রাষ্ট্রপতি তাদের মধ্য থেকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ করেন।
- তাঁরা সাধারণত ৫ বছরের জন্য নিয়োগপ্রাপ্ত হন। (১১৮ এর ৩ নং অনুচ্ছেদ)
- নির্বাচন কমিশনারগণ রাষ্ট্রপতিকে উদ্দেশ্য করে লিখিত স্বীয় স্বাক্ষরযুক্ত পত্রের মাধ্যমে পদত্যাগ করতে পারেন।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা দ্বিতীয় বর্ষ, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২২.
নিচের কোনটি খোলা বাজারে ন্যায্যমূল্যে পণ্য-দ্রব্য বিক্রি করে থাকে?
  1. ক) বিএডিসি
  2. খ) টিসিবি
  3. গ) বিএসটিআই
  4. ঘ) বিসিক
ব্যাখ্যা
Trading Corporation of Bangladesh (TCB) খোলা বাজারে সরকারের পক্ষ থেকে ন্যায্যমূল্যে বিভিন্ন পণ্য-দ্রব্যাদি বিক্রি করে থাকে। এছাড়াও বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির সরবরাহ ও মূল্য পর্যবেক্ষণ করা, চাহিদা ও যোগানের মধ্যে সামঞ্জস্য রেখে আপদকালীন সময়ের জন্য বিভিন্ন পণ্য মজুদ করা, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী পণ্য আমদানি করা ইত্যাদি কার্যাদিও টিসিবি করে থাকে।

টিসিবি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি প্রতিষ্ঠান যা ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।

(তথ্যসূত্র: টিসিবি ওয়েবসাইট)
২৩.
ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে গঙ্গা নদীর পানি বন্টন বিষয়ে স্বাক্ষরিত চুক্তির মেয়াদকাল কত বছর?
  1. ক) ২৫ বছর
  2. খ) ২০ বছর
  3. গ) ৩০ বছর
  4. ঘ) ৪০ বছর
ব্যাখ্যা
- ১৯৯৬ সালের ১২ ডিসেম্বর ভারতের নয়াদিল্লির হায়দ্রাবাদ হাউসে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে গঙ্গা নদীর পানি বন্টন বিষয়ে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
- এ চুক্তির মেয়াদকাল ৩০ বছর (২০২৬ সালে শেষ হবে)।
- চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশ ৩৫ হাজার কিউসেক পানি প্রাপ্তির বিধান থাকলেও বাস্তবে তা হয়নি।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া
২৪.
গোল আলু আমাদের দেশে প্রথম কোন দেশ থেকে আনা হয়?
  1. ক) আমেরিকা থেকে
  2. খ) নেদারল্যান্ডস থেকে
  3. গ) পোল্যান্ড থেকে
  4. ঘ) ইউক্রেন থেকে
ব্যাখ্যা
- ব্রিটিশ গভর্নর ওয়ারেন হেস্টিংস-এর মাধ্যমে উপমাহাদেশে হল্যান্ড বা নেদারল্যান্ডস থেকে আলু চাষের বিস্তার হয়।
- গত কয়েক দশকে কয়েক ডজন উচ্চফলনশীল আলুর জাত বাংলাদেশে আনা হয় এবং সাধারণ চাষাবাদের জন্য অবমুক্ত করার পূর্বে স্থানীয় পরিবেশে পরীক্ষামূলকভাবে যাচাই করা হয়।
- অতঃপর বেশকটি জাত চাষাবাদের জন্য অবমুক্ত করা হয়।
- জাতগুলির ফলনশীলতার সুষ্ঠু মূল্যায়ন এবং অন্যান্য বৈশিষ্ট্য বিবেচনা করে বর্তমানে প্রায় ৩৬টি উফশী জাত চাষাবাদের জন্য দেশে অবমুক্ত করা হয়েছে।
- অবশ্য, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (BADC) কৃষকদের মধ্যে বিতরণের জন্য প্রতি বছর প্রায় ২০০ মে টন আলুবীজ আমদানি করে।
- উফশী জাতের বীজআলু উৎপাদনের জন্য বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (BARI) পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে একটি খামার প্রতিষ্ঠা করেছে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া
২৫.
'বিজু' কোন নৃগোষ্ঠীর সবচেয়ে বড় উৎসব?
  1. লুসাই
  2. ত্রিপুরা
  3. মারমা
  4. চাকমা
ব্যাখ্যা
চাকমা:
- চাকমা বাংলাদেশের বৃহত্তম আদিবাসী জনগোষ্ঠী।
- তারা নিজেদেরকে চাঙমা বলে।
- পার্বত্য চট্টগ্রামের মধ্য ও উত্তরাঞ্চলেই তাদের প্রধান বসতি।
- চাকমাদের শতকরা ৯০ জনেরও বেশি রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলায় কেন্দ্রীভূত।
- ভারতের অরুণাচল, মিজোরাম ও ত্রিপুরা রাজ্যে চাকমাদের কিছু বসতি রয়েছে।
- চাকমারা মূলত ছিল মধ্য মায়ানমার ও আরাকান এলাকার অধিবাসী।
- এই জনগোষ্ঠীর বর্ষবরণ উৎসব বিজু নামে পরিচিত।
- চাকমা ভাষার নিজস্ব লিপি থাকলেও এ লিপি আজকাল আর ব্যবহার করা হয় না।
- চাকমা ভাষা এখন সাধারণত বাংলা লিপিতেই লেখা হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া, পরিসংখ্যান ব্যুরোর ওয়েবসাইট ও দৈনিক কালের কন্ঠ, ০৪ এপ্রিল, ২০১৭।
২৬.
ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্য 'কাটারিভোগ' ধানের জন্য প্রসিদ্ধ জেলা কোনটি?
  1. নওগাঁ
  2. দিনাজপুর
  3. বগুড়া
  4. রাজশাহী
ব্যাখ্যা
কাটারিভোগ ধান:
- কাটারিভোগ বাংলাদেশের একটি সুগন্ধি চাল।
- ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্য হিসেবে স্বীকৃত 'কাটারিভোগ' ধানের জন্য প্রসিদ্ধ জেলা হলো দিনাজপুর।
- দিনাজপুর জেলার উর্বর মাটি ও অনুকূল জলবায়ুর কারণে এখানকার কাটারিভোগ চালের বিশেষ সুগন্ধ ও স্বাদ রয়েছে।
- কৃষকেরা মূলত আমন মৌসুমে এই ধান চাষ করে থাকে।
- কাটারিভোগ চালের খ্যাতির জন্য দিনাজপুর জেলা সারাদেশে বিশেষভাবে পরিচিত।

এছাড়াও,
- 'হরিধান' মূলত বাংলাদেশের ঝিনাইদহ জেলায় আবাদ হয়।
- 'কালিজিরা' ধান মূলত বাংলাদেশের চট্টগ্রামের মিরসরাই আবাদ হয়।
- 'বালাম' ধান মূলত বাংলাদেশের বরিশাল ও পটুয়াখালী অঞ্চলে আবাদ হয়।
- 'চিনিগুড়া' ধান মূলত বাংলাদেশের কুমিল্লা জেলায় আবাদ হয়।
- 'বিরই' ধান মূলত বাংলাদেশের ময়মনসিংহ অঞ্চলে আবাদ হয়।

সূত্র- কৃষি তথ্য সার্ভিস এবং দিনাজপুর জেলা ওয়েবসাইট, পত্রিকা রিপোর্ট।
২৭.
বাংলাদেশের কোন চলচ্চিত্রে প্রথম জাতীয় সংগীত চিত্রায়ন করা হয়?
  1. ক) জীবন থেকে নেয়া
  2. খ) আমার বাংলাদেশ
  3. গ) হালদা নদী
  4. ঘ) কাঁচের দেয়াল
ব্যাখ্যা
জহির রায়হান ১৯৭০ সালে তার বিখ্যাত "জীবন থেকে নেওয়া” সিনামাতে গানটির চিত্রায়ন করেন।

• জাতীয় সঙ্গীত:

 -রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে প্রথম ৪ চরণ বাজানো হয়।
- বঙ্গভঙ্গের প্রেক্ষাপটে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত 'আমার সোনার বাংলা 'কবিতার প্রথম ১০ চরণকে বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত হিসেবে ঘোষণা করা হয় এবং তা গৃহীত  হয় ১৯৭২ সালের ১৩ জানুয়ারি।
- ১৯০৬ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কর্তৃক রচিত ‘আমার সোনার বাংলা’ শীর্ষক সঙ্গীতটি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত হিসেবে গৃহীত হয়।
- জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের বিধান অনুযায়ী কণ্ঠে গাইতে গেলে দশ চরণ আর যন্ত্র সঙ্গীতে বাজাতে গেলে চার চরণ পর্যন্ত বাজাতে হবে।
-  বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত "আমার সোনার বাংলা" এর রচয়িতা ও সুরকার রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

অন্যদিকে,
- ১৩১২ বঙ্গাব্দে 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকার আশ্বিন সংখ্যায় গানটি প্রথম প্রকাশিত হয়।।
- বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনের প্রেক্ষিতে গানটি রচিত হয়েছিল।
- পল্টন ময়দানে ঘোষিত স্বাধীনতার ইসতেহারে (১৯৭১ সালের ৩ মার্চ) জাতীয় সঙ্গীত হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
- ১৩ জানুয়ারি, ১৯৭২ মন্ত্রীসভার প্রথম বৈঠকে এ গানটির প্রথম দশ লাইন জাতীয় সঙ্গীত হিসেবে নির্বাচিত হয়।
- সংবিধানের ৪ (১) অনুচ্ছেদে 'আমার সোনার বাংলা' গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত রূপে ঘোষিত হয়েছে।
- এটি মূলত ২৫ চরণ বিশিষ্ট একটি কবিতা। এ কবিতার প্রথম ১০ চরণ বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
২৮.
’চিত্রা নদীর পাড়ে’ চলচ্চিত্রটি কোন প্রেক্ষাপটে নির্মিত হয়েছে? 
  1. মুক্তিযুদ্ধ
  2. দেশ ভাগ  
  3. ভাষা আন্দোলন
  4. গণঅভ্যুত্থান
ব্যাখ্যা

- ’চিত্রা নদীর পাড়ে’ চলচ্চিত্রটি দেশ ভাগ নিয়ে নির্মিত হয়েছে।
- ১৯৪৭ সালের দেশবিভাগ তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে হিন্দুদের জীবনী।
- চিত্রা নদীর পাড়ে তানভীর মোকাম্মেল ১৯৯৮ সালের নির্মিত চলচ্চিত্র।
- এটি ১৯৯৯ সালে ৭টি ক্যাটাগরিতে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করে।

অন্যদিকে,
• তানভীর মোকাম্মেল বিখ্যাত কয়েকটি চলচ্চিত্র:
- নদীর নাম মধুমতী, লালসালু, লালন, রাবেয়া, জীবনঢুলী ও রূপসা নদীর বাঁকে।

অন্যদিকে,
- আবার তোরা মানুষ হ: খান আতাউর রহমান পরিচালিত এই চলচ্চিত্রটি যুদ্ধ-পরবর্তী সামাজিক চিত্র তুলে ধরে।
- মাটির ময়না ২০০২ সালের বাংলাদেশি বাংলা যুদ্ধভিত্তিক নাট্য চলচ্চিত্র।
- মেঘের অনেক রং ১৯৭৬ সালে নির্মিত বাংলাদেশী বাংলা ভাষার চলচ্চিত্র।
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেছেন হারুনর রশিদ।

উৎস: প্রথম আলো। 

২৯.
বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকারের কতটি মন্ত্রণালয় ছিল?
  1. ১১টি
  2. ১২টি
  3. ১৩টি
  4. ১৪টি
ব্যাখ্যা
মুজিব নগর সরকার:

- ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল গঠিত হয় মুজিব নগর সরকার। 
- ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল গঠিত মুজিব নগর সরকার শপথ গ্রহন করেন।
- মুজিবনগর সরকারের তথা প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের সদর দপ্তর ছিল কলকাতার ৮নং থিয়েটার রোড।
- সরকারকে নীতি নির্ধারণী পরামর্শ ও সহযোগিতার জন্য ৯ সদস্যের একটি উপদেষ্টা কাউন্সিল গঠন করা হয়।
- বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকারের ১২টি মন্ত্রণালয়। (বিভাগ ও মন্ত্রণালয় মোট ১৫টি)।
- রাষ্ট্রপতি ও মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
- শপথ পাঠ করান অধ্যাপক ইউসুফ আলী।
- উপ-রাষ্ট্রপতি এবং অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ছিলেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম।
- প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী ছিলেন তাজউদ্দিন আহমদ।
- পররাষ্ট্র, আইন ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন খন্দকার মোশতাক আহমেদ।
- অর্থ, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন এম. মনসুর আলী।
- স্বরাষ্ট্র, ত্রান ও পুনর্বাসন মন্ত্রনালয়ের দায়িত্বে ছিলেন এ এইচ এম কামরুজ্জামান।
- মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি ছিলেন এম.এ.জি ওসমানী।
- চিফ অব স্টাফ ছিলেন কর্নেল আবদুর রব।

তথ্যসূত্র- বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩০.
অ্যালমন্ড ও পাওয়েল চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীকে কী হিসেবে অভিহিত করেন?
  1. ক) লবি গোষ্ঠী
  2. খ) স্বার্থকামী গোষ্ঠী
  3. গ) স্বেচ্ছামূলক গোষ্ঠী
  4. ঘ) বেসরকারি গোষ্ঠী
ব্যাখ্যা
- অধ্যাপক অ্যালমন্ড ও পাওয়েল চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীকে এক ধরনের ‘স্বার্থকামী গোষ্ঠী’ হিসেবে অভিহিত করেন।
অন্যদিকে,
- অধ্যাপক মাইরন উহনার চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীকে এক ধরনের স্বেচ্ছামূলক সংগঠিত গোষ্ঠী হিসেবে অভিহিত করেন।
- অধ্যাপক ফাইনার চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীকে লবি হিসেবে অভিহিত করেন।
(তথ্যসূত্র: রাষ্ট্রবিজ্ঞান : স্নাতক শ্রেণী)
৩১.
সংবিধানের ২৮(২) অনুচ্ছেদের বিষয়বস্তু কী?
  1. সকল নাগরিকের চাকুরি লাভের সুযোগ
  2. সর্বস্তরে নারী-পুরুষের সমান অধিকার
  3. সুপ্রীম কোর্ট প্রতিষ্ঠা
  4. রাষ্ট্রপতির অভিসংশন
ব্যাখ্যা

• সংবিধান: 
- সংবিধানের ২৮ (২) নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্র ও গণজীবনের সর্বস্তরে নারী-পুরুষ সমান অধিকার লাভ করবেন।

এছাড়াও -
- রাষ্ট্রপতির অভিসংশন - ৫২ নং অনুচ্ছেদ।
- সুপ্রিম কোর্টের গঠন - ৯৪ নং অনুচ্ছেদ।

সূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান।

৩২.
‘Point of Order’ - বলতে বুঝায় -
  1. ক) সরকারি ঘোষণা
  2. খ) এক প্রকার আপত্তি
  3. গ) সরকারি ইশতেহার
  4. ঘ) কোনটি নয়
ব্যাখ্যা

- Point of Order - হলো এক প্রকার আপত্তি। নিয়ম বহির্ভূত কোনো কিছু হলে এর জন্য অনির্ধারিত আলোচনার দাবি জানানোকে Point of Order বলে।
- সরকারি ঘোষণা বা ইশতেহারকে গেজেট বলে। কিন্তু সংসদ কার্যপ্রণালী বিধি অনুযায়ী গেজেট মানে দাঁড়ায় বাংলাদেশ গেজেট।

তথ্যসূত্র- Merriam Webster ডিকশনারী।

৩৩.
'অপরাজেয় বাংলা' ভাস্কর্যটি কোথায় অবস্থিত?
  1. রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে
  2. চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে
  3. জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে
  4. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে
ব্যাখ্যা

অপরাজেয় বাংলা:
- অপরাজেয় বাংলা বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মরণে নিবেদিত একটি ভাস্কর্য যা তিনজন মুক্তিযোদ্ধাকে চিত্রায়ণ করেছে।
- এটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবনের সামনে অবস্থিত।
- অপরাজেয় বাংলা নির্মাণ করেন মুক্তিযোদ্ধা ভাস্কর সৈয়দ আব্দুল্লাহ খালিদ।
- এর নাম দিয়েছিলেন মুক্তিযোদ্ধা ও সাংবাদিক সালেহ চৌধুরী।
- ১৯৭৩ সালে ভাস্কর্যটি তৈরি করা শুরু হয়।
- ১৯৭৯ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসে অপরাজেয় বাংলা উদ্বোধন করা হয়।
- ৬ ফুট বেদির উপর নির্মিত এর উচ্চতা ১২ ফুট, প্রস্থ ৮ ফুট ও ব্যাস ৬ ফুট।
- এই ভাস্কর্যটিতে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ছাত্রসমাজসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের অংশগ্রহণের দৃশ্য তুলে ধরা হয়েছে।
- বেদিতে দাঁড়ানো তিন মুক্তিযোদ্ধার প্রতিচ্ছবি যেন অন্যায় ও বৈষম্য দূর করে দেশে সাম্য প্রতিষ্ঠার গান গাইছে।

তথ্যসূত্র - জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও দৈনিক যুগান্তর, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯।

৩৪.
বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান কোন বিমানটি ছিনিয়ে আনতে গিয়ে শহীদ হন?
  1. পাক-৯১
  2. ম্যাক-১৭
  3. টি-৩৩
  4. এম-২৯
ব্যাখ্যা
বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান:
- বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান টি-৩৩ বিমানটি ছিনিয়ে আনতে গিয়ে শহীদ হন।
- ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান ঢাকার ১৯৪১ সালের ২৯ নভেম্বর জন্মগ্রহণ করেন।
- ঢাকা কলেজিয়েট স্কুলে তিনি প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণ করেন।
- তিনি ১৯৬৩ সালের জুন মাসে কমিশন লাভ করেন। কর্মস্থল ছিল পশ্চিম পাকিস্তানের রিসালপুর।
- এর পরের বছর পেশোয়ারে জেট পাইলট নিযুক্ত হবার পূর্বে করাচিতে জেট কনভার্সন কোর্স সাফল্যের সঙ্গে সম্পন্ন করেন।
- ২০ আগস্ট সকালে করাচির মশরুর বিমানঘাঁটি থেকে পাইলট অফিসার মিনহাজ রশীদের টি-৩৩ বিমান নিয়ে উড়বার শিডিউল ছিল।
- মতিউর ছিলেন তার প্রশিক্ষক।
- টি-৩৩ বিমানের সাংকেতিক নাম ছিল ব্লু বার্ড।
- প্রশিক্ষণকালে মতিউর বিমানটির নিয়ন্ত্রণ নিজ হাতে নিতে চেয়েছিলেন, কিন্তু পারেন নি।
- বিমানটি বিধ্বস্ত হয় ভারতীয় সীমান্তের কাছে থাট্টায়।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
৩৫.
বঙ্গ জনপদের কোন দুটি অঞ্চল প্রাচীন শিলালিপিতে উল্লেখ রয়েছে?
  1. গৌড় এবং রাঢ়
  2. বিক্রমপুর এবং নাব্য
  3. পুণ্ড্র এবং সমতট
  4. কলিঙ্গ এবং অঙ্গ
ব্যাখ্যা

বঙ্গ জনপদ :
- বঙ্গ একটি অতি প্রাচীন জনপদ।
- বর্তমান বাংলাদেশের পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব দিকে বঙ্গ জনপদ নামে একটি অঞ্চল গড়ে উঠেছিল।
- অনুমান করা হয়, এখানে বঙ্গ বলে একটি জাতি বাস করতো। তাই জনপদটি পরিচিত 'বঙ্গ' নামে।
- প্রাচীন শিলালিপিতে বঙ্গের দুটি অঞ্চলের নাম পাওয়া যায়-একটি বিক্রমপুর ও আরেকটি নাব্য।
- ধারণা করা হয়, ফরিদপুর, বাখেরগঞ্জ ও পটুয়াখালির নিচু জলাভূমি এ নব্য অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত।
- বঙ্গ রাজ্যে পাঁচজন রাজার নাম পাওয়া যায়। তারা হলেন ধর্মাদীপ্ত, দ্বাদশাদীপ্ত, সুধন্যাদীপ্ত, গোপচন্দ্র এবং সমাচার দেব।

• সমতট:
- পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব বাংলায় বঙ্গের পাশাপাশি সমতটের অবস্থান।
- সমতটের রাজধানী বড় কামতা এবং দেবপর্বত কুমিল্লার লালমাই পাহাড়ে অবস্থিত।
- গঙ্গা-ভাগীরথীর পূর্ব তীর থেকে শুরু করে মেঘনার মোহনা পর্যন্ত সমুদ্রকূলবর্তী এলাকা এবং বর্তমান ভারতের ত্রিপুরার প্রাচীন অংশই সমতট। 

• পুণ্ড্র:
- বর্তমান বগুড়া, রংপুর, রাজশাহী ও দিনাজপুর এলাকা নিয়ে এ পুণ্ড্র জনপদটির সৃষ্টি হয়েছিল।
- রাজধানীর নাম ছিল পুণ্ড্রনগর। পরবর্তীকালে এর নাম হয় মহাস্থানগড়। মহাস্থানগড় প্রাচীন পুঞ্জ নগরীর ধ্বংসাবশেষ বলে পণ্ডিতেরা মনে করেন। 

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।

৩৬.
অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের থ্রি - জিরো তত্ত্বের অন্তর্ভুক্ত নয়-
  1. বেকারত্ব
  2. নেট কার্বন নিঃসরণ
  3. ক্ষুধা
  4. দারিদ্র্য
ব্যাখ্যা

 • জিরো ক্ষুধা থ্রি - জিরো তত্ত্বে নেই।

• থ্রি - জিরো তত্ত্বে:
- অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের টেকসই উন্নয়নের 'থ্রি-জিরো' তত্ত্ব ।
- থ্রি-জিরো তত্ত্ব' আর্থিক স্বাধীনতা, কর্মঠ জনশক্তি তৈরি এবং পরিবেশ উন্নয়নে বর্তমান পৃথিবীতে সবচেয়ে জনপ্রিয় ও কার্যকর একটি মডেল।
- এটি একটি সামাজিক ও অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি, যা তিনটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য অর্জনের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। 

⇒ সেগুলো হচ্ছে-
• জিরো দারিদ্র্য,
• জিরো বেকারত্ব,
• জিরো নেট কার্বন নিঃসরণ। 

উল্লেখ্য,
- সম্প্রতি আজারবাইজানের রাজধানী বাকুতে অনুষ্ঠিত বৈশ্বিক জলবায়ু সম্মেলনে বাসযোগ্য নিরাপদ পৃথিবী ও নতুন সভ্যতা গড়ে তুলতে ‘থ্রি জিরো’ তত্ত্বকে বৃহৎ পরিসরে তুলে ধরেছেন অধ্যাপক ইউনূস।

উৎস: The Business Standard.

৩৭.
বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ গণহত্যাটি কোথায় হয়?
  1. আসামদিয়া
  2. মোহাম্মদপুর বিধবা পল্লী
  3. চুকনগর
  4. রায়ের বাজার
ব্যাখ্যা
চুকনগর গণহত্যা:
- মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় গণহত্যা ছিল চুকনগর গণহত্যা।
- চুকনগর ছিল খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার আটলিয়া ইউনিয়নের একটি গ্রাম।
- মুক্তিযুদ্ধের সময় ১৯৭১ সালের ২০মে মাত্র এক প্লাটুন পাকিস্তানি সেনা ৪ ঘণ্টায় ব্রাশফায়ার করে হত্যা করে অন্তত ১২ হাজার নিরীহ মানুষকে।
- প্রকৃতপক্ষে এই গণহত্যায় এরচেয়ে বেশি মানুষ নিহত হয়েছিলেন।
-  চুকনগরের পাশে ভদ্রা নদীর পানিতে লাশ ভাসিয়ে দেওয়ায় নিহতের প্রকৃত সংখ্যা পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে -
- মুক্তিযুদ্ধে ঢাকার মধ্যে সবচেয়ে বেশি নৃশংসতা দেখেছে মিরপুর।
- একক শহর হিসেবে দেখলে মুক্তিযুদ্ধে সবচেয়ে বেশি বধ্যভূমির সন্ধান পাওয়া যায় চট্টগ্রামে। 
- মুক্তিযুদ্ধে গণহত্যায় নৃশংসতার তালিকা করলে প্রথম দিকে থাকবে নীলফামারীর গোলাহাট গণহত্যা বা অপারেশন খরচাখাতা। 

উৎস: মার্চ ২৫, ২০২২, দ্য ডেইলি স্টার বাংলা। 
৩৮.
বাংলাদেশে সর্বপ্রথম অর্গানিক চায়ের চাষ শুরু করে-
  1. শিলোয়া টি ফ্যাক্টরী
  2. ইস্পাহানি গ্রুপ
  3.  মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ
  4. কাজী এন্ড কাজী টি
ব্যাখ্যা

- বাংলাদেশে ২০০০ সালের দিকে পঞ্চগড় জেলার তেতুঁলিয়ায় সর্বপ্রথম অর্গানিক চায়ের চাষ শুরু হয়।
- বেসরকারি প্রতিষ্ঠান কাজী এন্ড কাজী টি এস্টেটের মাধ্যমে তেতুঁলিয়ায় প্রথম অর্গানিক চায়ের চাষ শুরু হয়।
- বর্তমানে পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর প্রভৃতি জেলায় ক্ষুদ্র ও বৃহৎ পরিসরে অর্গানিক চায়ের চাষ হচ্ছে।

উল্লেখ্য,
- অর্গানিক চা হলো সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে উৎপাদিত চা।
- অর্থাৎ অর্গানিক চা চাষে রাসায়নিক সার বা কীটনাশক ব্যবহৃত হয় না।


উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন, চা গবেষণা ইনস্টিটিউট এবং প্রথম আলো।
৩৯.
২০২৫ সালের 'গ্লোবাল জেন্ডার গ্যাপ রিপোর্ট’ অনুযায়ী লিঙ্গসমতায় বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান  কততম?
  1. ১৮তম
  2. ২২তম
  3. ২৪তম
  4. ২৮তম
ব্যাখ্যা

World Economic Forum প্রকাশিত ২০২৫ সালের 'গ্লোবাল জেন্ডার গ্যাপ রিপোর্ট' অনুযায়ী, লিঙ্গ সমতায় বাংলাদেশের অবস্থান বিশ্বে ২৪তম এবং এটি দক্ষিণ এশিয়ায় শীর্ষস্থানে রয়েছে।

Global Gender Gap Report-2025:
- প্রকাশক: World Economic Forum.
- প্রকাশের সময়কাল: জুন, ২০২৫।
- মূলত চারটি মাপকাঠির ভিত্তিতে এই প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়। এগুলো হলো: অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ ও সুযোগ, শিক্ষাগত অর্জন, স্বাস্থ্য ও আয়ু, রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন।

⇒ Global Gender Gap Report-2025 অনুযায়ী শীর্ষ দেশ:
১. আইসল্যান্ড,
২. ফিনল্যান্ড,
৩. নরওয়ে,
৪. যুক্তরাজ্য,
৫. নিউজিল্যান্ড।

উল্লেখ্য,
- সর্বনিম্ন অবস্থানে আছে পাকিস্তান (১৪৮তম)।

উৎস: World Economic Forum ওয়েবসাইট।

৪০.
বাংলাদেশ সরকারের বিভাগ কয়টি?
  1. ২ টি
  2. ৩ টি
  3. ৫ টি
  4. ৪ টি
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশ সরকারের তিনটি বিভাগ:
সেগুলো হচ্ছে:
- নির্বাহীবিভাগ
- আইনবিভাগ ও
- বিচারবিভাগ।

• নির্বাহী বিভাগ
- নির্বাহীবিভাগকে শাসনবিভাগও বলা হয়ে থাকে।
এটি মূলত রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিপরিষদ নিয়ে গঠিত।

• বিচার বিভাগ:
- বাংলাদেশের বিচার বিভাগ সুপ্রিম কোর্ট, অধস্তন আদালত এবং বিশেষট্রাইব্যুনাল নিয়ে গঠিত।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম ও দশম শ্রেণি বোর্ড বই।
৪১.
'চেতনায় নজরুল' স্মৃতিস্তম্ভটি কোথায় অবস্থিত?
  1. কুমিল্লা
  2. ময়মনসিংহ
  3. গাজীপুর
  4. ঢাকা
ব্যাখ্যা
'চেতনায় নজরুল' স্মৃতিস্তম্ভ:
- 'চেতনায় নজরুল' স্মৃতিস্তম্ভটি কুমিল্লায় অবস্থিত।

⇒ ১৯২১ সালের এপ্রিলে প্রথমবারের মতো কুমিল্লায় এসেছিলেন বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম। এরপর বিভিন্ন সময় তিনি কুমিল্লায় এসেছেন। এখানে বসেই সৃষ্টিশীল নানা গান, কবিতা লিখেছেন। তিনি ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে ‘আনন্দময়ীর আগমনে’ কবিতা লিখে কুমিল্লাতেই গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। এভাবেই কুমিল্লার সঙ্গে এক অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল জাতীয় কবির।
- কুমিল্লা শিল্পকলা একাডেমির সামনে নির্মিত হয় ‘চেতনায় নজরুল’ স্মৃতিস্তম্ভ।
- জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামকে নিয়ে গবেষণা ও চর্চার করতে প্রতিষ্ঠিত হয় কবি নজরুল ইন্সটিটিউট কেন্দ্র, কুমিল্লা। 

উৎস: প্রথম আলো।
৪২.
বাংলাদেশ 'গুম বিষয়ক আন্তর্জাতিক কনভেনশন' স্বাক্ষর করে কবে?
  1. ২৯ আগস্ট, ২০২৪
  2. ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৪
  3. ৩০ জানুয়ারি, ২০২৫
  4. ৩১ জানুয়ারি, ২০২৫
ব্যাখ্যা

• গুম বিষয়ক আন্তর্জাতিক কনভেনশন:
- গুমবিরোধী সনদটি ২০০৬ সালের ডিসেম্বরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে গৃহীত হয়। 
- ৩২টি দেশ এটি অনুস্বাক্ষর করার পরে ২০১০ সালে তা বাস্তবায়ন শুরু হয়।
- সামগ্রিকভাবে এই সনদের লক্ষ্য গুম বন্ধের পাশাপাশি এই অপরাধের জন্য দায়মুক্তি বন্ধ করা, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ও ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের সহায়তা দেওয়া। 

- ‘ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন ফর দ্য প্রোটেকশন অব অল পারসন্স ফ্রম এনফোর্সড ডিসেপিয়ারেন্স’ (আইসিপিপিইডি) শীর্ষক আন্তর্জাতিক কনভেনশনে বাংলাদেশের পক্ষভুক্ত হওয়ার বিষয়ে কার্যক্রম গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। 
- গুম বিষয়ক আন্তর্জাতিক কনভেনশনে সই করে বাংলাদেশের পক্ষে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

⇒ ২৯ আগস্ট ২০২৪ রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন ও প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় যমুনায় উপদেষ্টামণ্ডলীর সভা চলাকালে কনভেনশনে সই করেন ড. ইউনূস।

তথ্যসূত্র: প্রথম আলো এবং জাতিসংঘ ওয়েবসাইট।

৪৩.
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সেক্টরগুলোর মধ্যে কোন খাতে কর্মসংস্থান সবচেয়ে কম?
  1. ক) শিল্প খাত
  2. খ) সেবা খাত
  3. গ) কৃষি খাত
  4. ঘ) অভিবাসী
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা-২০২১ অনুযায়ী,
- জিডিপিতে কৃষি খাতের অবদান ১৩.৪৭ শতাংশ।
- কৃষি খাতে নিয়োজিত জনগোষ্ঠী ৪০.৬ শতাংশ।
- জিডিপিতে শিল্প খাতের অবদান ৩৪.৯৯ শতাংশ।
- শিল্প খাতে নিয়োজিত জনগোষ্ঠী ২০.৪ শতাংশ।
- জিডিপিতে সেবা খাতের অবদান ৫১.৫৩ শতাংশ।
- সেবা খাতে নিয়োজিত জনগোষ্ঠী ৩৯.০ শতাংশ।

৪৪.
কত সালে বাংলাদেশ টেলিভিশন রাষ্ট্রীয় টিভি চ্যানেলে পরিণত হয়?
  1. ১৯৭১ সালে
  2. ১৯৭২ সালে
  3. ১৯৭৩ সালে
  4. ১৯৭৪ সালে
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশ টেলিভিশন:
​- বাংলাদেশ টেলিভিশন বাংলাভাষায় বিশ্বের প্রথম টেলিভিশন। 
​- ১৯৬৪ সালের ২৫শে ডিসেম্বর একটি পাইলট প্রকল্প হিসেবে এর যাত্রা শুরু হয়। 
​- ১৯৭২ সালে রাষ্ট্রপতির আদেশে (পি.ও নং-১১৫) বাংলাদেশ টেলিভিশন নামে রাষ্ট্রীয় টিভি চ্যানেলে পরিণত হয়।
​- ১৯৭৫ সালের ৯ই ফেব্রুয়ারি বিটিভি স্থানান্তরিত হয় রামপুরার নিজস্ব টিভি ভবনে।
​- ১৯৮০ সালে শুরু হয় বিটিভির রঙিন সম্প্রচার। 
​- বর্তমানে সম্প্রচার সুবিধার জন্য রয়েছে ১৪টি উপকেন্দ্র/রিলে কেন্দ্র।

​উল্লেখ্য,
- ​বিটিভির অনুষ্ঠান বর্হিবিশ্বে সম্প্রচার শুরু করার লক্ষ্যে ১১ এপ্রিল ২০০৪ সালে বিটিভি ওয়ার্ল্ড নামে বিটিভির আরেকটি নতুন চ্যানেল চালু করা হয়। 
​- এছাড়া ২০১২ সালের ৫ নভেম্বর থেকে বিটিভির অনুষ্ঠান টেরিস্ট্রিয়ালের পাশাপাশি স্যাটেলাইটের মাধ্যমে ২৪ ঘণ্টা সম্প্রচার করা হচ্ছে। 
​- ২০১৩ সাল থেকে আইপিটিভি, মোবাইল টিভি ও ওয়েবটিভি এর মাধ্যমেও বিটিভির অনুষ্ঠানমালা দেশে ও বিদেশে দেখার সুযোগ পাচ্ছেন দর্শকরা।

উৎস: বাংলাদেশ টেলিভিশন ওয়েবসাইট।

৪৫.
বর্তমানে বীর প্রতীক খেতাব পাওয়া মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা কত জন?
  1. ৪২৪ জন
  2. ৬৮ জন
  3. ১৭৫ জন
  4. ১৭৪ জন
ব্যাখ্যা
• বীরত্বসূচক খেতাব:
- বীরত্বসূচক খেতাব  বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে অসম সাহসিকতা প্রদর্শন এবং আত্মত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধাদের প্রদত্ত খেতাব।
- ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় মুক্তিবাহিনীর সদস্যদের বীরত্ব ও সাহসিকতাপূর্ণ কাজের স্বীকৃতিদান এবং তাদের মধ্যে আত্মত্যাগের প্রেরণা সৃষ্টির লক্ষে বীরত্বসূচক খেতাব প্রদানের একটি প্রস্তাব মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি  এম এ জি ওসমানী মে মাসের প্রথমদিকে মুজিবনগর সরকারের মন্ত্রিপরিষদে উপস্থাপন করেন।
- ১৬ মে মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে বীরত্বসূচক খেতাবের প্রস্তাবটি অনুমোদিত হয়।
- এ পরিকল্পে চার পর্যায়ের খেতাব প্রদানের বিধান ছিল: (ক) সর্বোচ্চ পদ, (খ) উচ্চ পদ, (গ) প্রশংসনীয় পদ, (ঘ) বীরত্বসূচক প্রশংসাপত্র।
- ১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর পূর্বে নির্বাচিত সকল মুক্তিযোদ্ধার নামসহ মোট ৬৭৬ জন মুক্তিযোদ্ধাকে নিম্নোক্ত খেতাব প্রদান করা হয়:
- বীরশ্রেষ্ঠ - ৭ জন, 
- বীর উত্তম - ৬৮ জন, 
- বীর বিক্রম - ১৭৫ জন, 
- বীর প্রতীক- ৪২৬ জন। 

এছাড়াও,
- তাদের মধ্যে খেতাবপ্রাপ্ত চারজন ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকায় গত ৬ জুন ২০২১ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় তাদের খেতাব বাতিল করে।
এরা হলেন:
- লে. কর্নেল শরিফুল হক ডালিম (বীর উত্তম) [সেনাবাহিনী], 
- লে. কর্নেল নূর চৌধুরী (বীর বিক্রম), 
- লে. এ এম রাশেদ চৌধুরী (বীর প্রতীক), 
- নায়েক সুবেদার মোসলেম উদ্দিন খান (বীর প্রতীক)। 

• বর্তমানে (২০২১ সালের পরবর্তীতে) মুক্তিযুদ্ধের খেতাবধারীর সংখ্যা - মোট ৬৭২ জন।
- বীরশ্রেষ্ঠ - ৭ জন,
- বীর উত্তম - ৬৭ জন, 
- বীর বিক্রম - ১৭৪ জন, 
- বীর প্রতীক - ৪২৪ জন। 

সূত্র: বাংলাপিডিয়া এবং প্রথম আলো রিপোর্ট।
৪৬.
কোন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব 'বাংলার বাঘ' নামে পরিচিতি লাভ করেন?
  1. শেখ মুজিবুর রহমান
  2. এ.কে. ফজলুল হক
  3. আবদুল হামিদ খান ভাসানী
  4. স্যার সলিমুল্লাহ
ব্যাখ্যা
এ.কে. ফজলুল হক:
- অবিভক্ত বাংলার প্রথম মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন এ.কে. ফজলুল হক।

⇒ শেরে বাংলা এ.কে. ফজলুল হক ছিলেন একজন রাজনীতিবিদ ও জননেতা।
- তিনি ১৮৭৩ সালের ২৯ অক্টোবর বরিশাল জেলার বানরীপাড়া থানার চাখার গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৯১৬ সালে লক্ষ্ণৌ শহরে লীগ কংগ্রেসের যুক্ত অধিবেশনে তিনি যে প্রস্তাব উত্থাপন করেন, তাই বিখ্যাত ‘লক্ষ্ণৌ চুক্তি’ নামে অভিহিত হয়।
- ১৯২৫ সালে তিনি বাংলার মন্ত্রী সভার সদস্য মনোনীত হন।
- ১৯২৭ সালে তিনি কৃষক-প্রজা পার্টি নামে একটি রাজনৈতিক দল গঠন করেন।
- তিনি কলকাতার মেয়র হোন ১৯৩৫ সালে।

⇒ ১৯৪০ সালে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর সভাপতিত্বে লাহোরে অনুষ্ঠিত নিখিল ভারত মুসলিম লীগের অধিবেশনে জ্বালাময়ী বক্তৃতায় প্রথম পাকিস্তান প্রস্তাব পেশ করেন।
- তাঁর বক্তৃতায় মুগ্ধ হয়ে পাঞ্জাববাসীরা তাঁকে উপাধি দেয় শের-ই-বঙ্গাল অর্থাৎ 'বাংলার বাঘ'।
- সে থেকে তিনি শের-ই-বাংলা নামেই পরিচিত।

⇒ ১৯৫৪ সালে দেশের সাধারণ নির্বাচনে তিনি ‘যুক্তফ্রন্ট’ দলের নেতৃত্ব দিয়ে বিপুল ভোটাধিক্যে জয়লাভ করে পূর্ব পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হন।
- ১৯৫৬ সাল থেকে ১৯৫৮ সাল পর্যন্ত তিনি পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন।
- বাংলার নয়নমণি শের-এ-বাংলা এ. কে ফজলুল হক ১৯৬২ সালের ২৭ এপ্রিল প্রায় ৮৯ বছর বয়সে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৪৭.
বাংলাদেশের কোন জেলা চায়ের জন্য বিখ্যাত?
  1. ঢাকা
  2. বগুড়া
  3. ভোলা
  4. সিলেট
ব্যাখ্যা
⇒ সিলেট জেলাটি চায়ের জন্য প্রসিদ্ধ।

সিলেট:
- সিলেট জেলা ১৭৭২ সালের ১৭ মার্চ প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ১৮৭৪ সাল পর্যন্ত এ জেলা ঢাকা বিভাগের অন্তর্ভুক্ত ছিল
- সিলেট জেলার উত্তরে ভারতের খাসিয়া, জৈন্তিয়া পাহাড় (ভারতের মেঘালয় রাজ্য), দক্ষিণে মৌলভীবাজার জেলা, পূর্বে ভারতের কাছাড় ও করিমগঞ্জ জেলা (ভারতের আসাম রাজ্য) ও পশ্চিমে সুনামগঞ্জ এবং হবিগঞ্জ জেলা।
- আয়তন: ৩.৪৫২.০৭ বর্গ কি.মি বা ১৩৩২.০০ বর্গমাইল।
- ১৯৮৩ ৮৪ সালে বৃহত্তর সিলেট জেলাকে ৪টি নতুন জেলায় বিভক্ত করা হয় এবং ১৯৯৫ সালের ১ আগস্ট সিলেট বিভাগের সৃষ্টি হয়।
- সুরমা-কুশিয়ারা নদীবেষ্টিত এ জেলায় রয়েছে অনেক হাওর-বিল, ছোট বড় টিলা কানন। রয়েছে দেশের সর্ববৃহৎ হাওর হাকালুকির অংশ বিশেষ।
- সিলেট জেলা প্রাকৃতিক গ্যাস, তেল, চুনাপাথর, কঠিন শিলা, বালুসহ অন্যান্য প্রাকৃতিক সম্পদে অনন্য একটি জেলা।
- বাণিজ্যিক ভাবে চা উৎপাদনের জন্যে ১৮৪৭ খ্রিষ্টাব্দে সিলেট শহরের এয়ারপোর্ট রোডের কাছে মালনীছড়া চা বাগান প্রতিষ্ঠিত হয়।

তথ্যসূত্র - সিলেট জেলা ওয়েবসাইট।
৪৮.
‘আমি পূর্ব পাকিস্তানের মাটি চাই, মানুষ চাই না’-উক্তিটি কে করেন?
  1. জেনারেল টিক্কা খান
  2. ইয়াহিয়া খান
  3. আইয়ুব খান
  4. রাও ফরমান আলী
ব্যাখ্যা
জেনারেল টিক্কা খান:
- জেনারেল টিক্কা খান পাকিস্তান সেনাবাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় কম্যান্ডের অধিনায়ক।
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলন দমনের উদ্দেশ্যে ১৯৭১ সালে ঢাকায় সামরিক অভিযান ও নৃশংস হত্যাযজ্ঞ পরিচালনার জন্য তিনি ‘বাংলাদেশের কসাই’ হিসেবে পরিচিত।
- ১৯৬২ সালে তিনি মেজর জেনারেল পদে পদোন্নতি লাভ করেন।
- ১৯৬৯ সালে লেফটেন্যান্ট জেনারেল পদে উন্নীত হন।
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে টিক্কা খানকে পূর্বাঞ্চলীয় কম্যান্ড-এর দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
- ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের পর পাকিস্তানের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জুলফিকার আলী ভুট্টো তাঁকে জেনারেল পদে উন্নীত করেন ।
- ১৯৭২ সালের ৩ মার্চ তাঁকে সেনাবাহিনী প্রধান নিয়োগ করা হয়।

উল্লেখ্য,
- ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ দিবাগত রাতে পাক-হানাদার বাহিনী ‘অপারেশন সার্চ লাইট’-এর নামে নিরস্ত্র বাঙালির উপর নির্বিচারে চালায় বিশ্ব ইতিহাসের নৃশংসতম গণহত্যা।
- পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর তৎকালীন পাকিস্তানে পোড়া মাটি নীতি বাস্তবায়নে জেনারেল টিক্কা খান বলেছিলেন, ‘আমি পূর্ব পাকিস্তানের মাটি চাই, মানুষ চাই না’।
- ফলশ্রুতিতে বাঙালি জাতির জীবনে নেমে আসে বিভীষিকাময় ভয়াল কালরাত্রি।
- ২৫শে মার্চ পাক-হানাদার বাহিনী স্বাধীনতাকামী বাঙালির উপর হিংস্র দানবের মতো ঝাঁপিয়ে পড়লে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ২৬শে মার্চের প্রথম প্রহরে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন।

উৎস: i) বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ ওয়েবসাইট।
ii) বাংলাপিডিয়া।
৪৯.
মুক্তিযুদ্ধের সময় কয়টি ব্রিগেড ফোর্স গঠন করা হয়?
  1. ৩টি
  2. ৫টি
  3. ৭টি
  4. ১১টি
ব্যাখ্যা
ব্রিগেড ফোর্স:

- মুক্তিযুদ্ধের সময় ৩টি ব্রিগেড ফোর্স গঠন করা হয়।
- “জেড” ফোর্স, “কে” ফোর্স, “এস” ফোর্স নিয়ে ৩টি ব্রিগেড ফোর্স।
- জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে জেড ফোর্স।
- ‘জেড ফোর্স’ নামে পরিচিত নিয়মিত বাহিনীর প্রথম ব্রিগেডটি জুলাই মাসে গঠিত হয়।
- ব্রিগেডটি ১ম, ৩য় ও ৮ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট নিয়ে গঠিত হয়।
- কে.এম.সফিউল্লাহর নেতৃত্বে এস ফোর্স।
- ‘এস ফোর্স’ নামে পরিচিত দ্বিতীয় নিয়মিত ব্রিগেডটি অক্টোবরে গঠিত হয়।
- ব্রিগেডটি দ্বিতীয় ও একাদশ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সৈনিকদের নিয়ে অক্টোবরে গঠিত হয়।
- খালেদ মোশারফের নেতৃত্বে কে ফোর্স।
- ‘কে ফোর্স’ গঠিত হয় ৪র্থ, ৯ম ও ১০ম ইস্ট বেঙ্গলের সদস্যদের নিয়ে।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া ও বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৫০.
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় মানচিত্র খচিত বাংলাদেশের পতাকা প্রথম কবে উত্তোলন করা হয়?
  1. ৩ জানুয়ারি ১৯৭১
  2. ২ মার্চ ১৯৭১
  3. ৩ মার্চ ১৯৭১
  4. ২৩ মার্চ ১৯৭১
ব্যাখ্যা
- মানচিত্র খচিত বাংলাদেশের লাল সবুজের পতাকা ১৯৭১ সালের ২রা মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় তৎকালীন ডাকসু ভিপি আ স ম রব প্রথম উত্তোলন করেন।
- ১৯৭১ সালের ২৩শে মার্চ ধানমণ্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর বাসভবনসহ দেশের সর্বত্র পাকিস্তানের পতাকা’র পরিবর্তে লাল-সবুজের পতাকা উড়ানো হয়।
- ১৯৭২ সালের ১৭ জানুয়ারি মানচিত্র ব্যতীত বাংলাদেশের বর্তমান জাতীয় পতাকা গৃহীত হয়।
- এটির ডিজাইনার ছিলেন পটুয়া কামরুল হাসান।
- পূর্বে ব্যবহৃত মানচিত্র খচিত পতাকাটি ১৯৭০ সালের ৬ জুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান জহুরুল হক হলের ১১৬ নং কক্ষে নিউক্লিয়াসের সদস্যরা তৈরি করে।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী এবং প্রথম আলো)
৫১.
অপরাজেয় বাংলা কি?
  1. চিত্রকর্ম
  2. ভাস্কর্য
  3. ম্যুরাল চিত্র
  4. মিনার
ব্যাখ্যা
অপরাজেয় বাংলা:

- অপরাজেয় বাংলা বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মরণে নিবেদিত একটি ভাস্কর্য যা তিনজন মুক্তিযোদ্ধাকে চিত্রায়ণ করেছে।
- এটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবনের সামনে অবস্থিত।
- নির্মাণ করেন মুক্তিযোদ্ধা ভাস্কর সৈয়দ আব্দুল্লাহ খালিদ।
- এর নাম দিয়েছিলেন মুক্তিযোদ্ধা ও সাংবাদিক সালেহ চৌধুরী।
- ১৯৭৩ সালে ভাস্কর্যটি তৈরি করা শুরু হয়।
- ১৯৭৯ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসে অপরাজেয় বাংলা উদ্বোধন করা হয়।
- ৬ ফুট বেদির উপর নির্মিত এর উচ্চতা ১২ ফুট, প্রস্থ ৮ ফুট ও ব্যাস ৬ ফুট।
- এই ভাস্কর্যটিতে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ছাত্রসমাজসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের অংশগ্রহণের দৃশ্য তুলে ধরা হয়েছে।
- বেদিতে দাঁড়ানো তিন মুক্তিযোদ্ধার প্রতিচ্ছবি যেন অন্যায় ও বৈষম্য দূর করে দেশে সাম্য প্রতিষ্ঠার গান গাইছে।

তথ্যসূত্র - দৈনিক যুগান্তর, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯।
৫২.
কোনটি বাংলার আদি অধিবাসীদের ভাষা?
  1. নেগ্রিটো
  2. অস্ট্রিক
  3. সেমেটিক
  4. বৈদিক ভাষা
ব্যাখ্যা
বাংলা ভাষা: 
- অস্ট্রিক ছিল বাংলার আদি অধিবাসীদের ভাষা।
- এ ভাষা আর্যদের আগমনের পর ধীরে ধীরে হারিয়ে যায়।
- আর্যদের ভাষার নাম প্রাচীন বৈদিক ভাষা। পরবর্তীকালে এ ভাষাকে সংস্কার করা হয়।
- পুরনো ভাষাকে সংস্কার করা হয়েছে বলে এ ভাষার নাম হয় সংস্কৃত ভাষা।
- প্রাচীন যুগে আর্যদের যে ভাষায় বৈদিক গ্রন্থ রচিত হয়েছিল স্থানভেদে এবং সময়ের বিবর্তনে তার অনেক পরিবর্তন ঘটে।
- সংস্কৃত থেকে প্রাকৃত এবং প্রাকৃত থেকে অপভ্রংশ ভাষার উৎপত্তি হয়।
- অপভ্রংশ ভাষা থেকে অষ্টম বা নবম শতকে বাংলা ভাষার সৃষ্টি হয়।
- যেমন: কৃষ্ণ > কানু > কানাই।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই। 
৫৩.
নিচের কোনটিতে চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর অধিক মাত্রায় প্রভাব দেখা যায়?
  1. শাসন বিভাগে
  2. জাতীয় কল্যাণে
  3. রাজনৈতিক দলে
  4. আইন বিভাগে
ব্যাখ্যা
শাসন বিভাগের উপর চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর প্রভাব অধিক মাত্রায় প্রভাব দেখা যায়।

চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর প্রভাব:
- চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী আইন পরিষদকে প্রভাবিত করে থাকে।
- চাপ প্রয়োগকারী সংস্থার নেতৃবৃন্দ আইন পরিষদের গুরুত্বপূর্ণ সদস্যদের কাছে তাদের দাবি দাওয়া তুলে ধরে এবং তাদের অনুকূলে আইন পাশ করার ব্যবস্থা করে। 
- স্বার্থকামী গোষ্ঠীগুলো মন্ত্রিপরিষদকেও প্রভাবিত করে। 
- এমন কি প্রয়োজনে প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির মধ্যে যোগাযোগ স্থাপনের মাধ্যমে শাসন বিভাগের কাজকর্ম নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। 

উৎস:  রাষ্টবিজ্ঞান-৩, স্নাতক শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৪.
বাংলা ভাষার প্রথম সাময়িকপত্র কোনটি?
  1. ক) দিগদর্শন
  2. খ) সমাচার দর্পণ
  3. গ) রঙ্গপুর বার্তাবহ
  4. ঘ) সংবাদ প্রভাকর
ব্যাখ্যা
- বাংলা ভাষার প্রথম সাময়িকপত্র হলো দিগদর্শন।
- শ্রীরামপুরের ব্যাপ্টিস্ট মিশনারিদের উদ্যোগে ১৮১৮ সালের এপ্রিল মাসে জন ক্লার্ক মার্শম্যানের সম্পাদনায় দিগদর্শন সাময়িকপত্র প্রকাশিত হয়।
- দিগদর্শনের মোট ২৬টি সংখ্যা প্রকাশিত হয়। ১৮২১ সালের পরে এটি বন্ধ হয়ে যায়।
- দিগ্দর্শন প্রকাশিত হওয়ার একমাস পর (২৩ মে, ১৮১৮) জন ক্লার্ক মার্শম্যানের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় সমাচার দর্পণ সাময়িকী।
- রঙ্গপুর বার্তাবহ (১৮৪৭ সাল) বাংলাদেশ ভূখণ্ড থেকে প্রকাশিত প্রথম সংবাদপত্র।
- সংবাদ প্রভাকর বাংলা ভাষার প্রথম দৈনিক পত্রিকা।
(সূত্র: বাংলাপিডিয়া)
৫৫.
দেশের প্রথম বৃহৎ বেসরকারি কয়লা ভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎ প্রকল্প কোনটি?
  1. এসএস পাওয়ার প্ল্যান্ট
  2. জেকিজে পাওয়ার প্ল্যান্ট
  3. একে পাওয়ার প্ল্যান্ট
  4. এস&এম পাওয়ার প্ল্যান্ট
ব্যাখ্যা
এসএস পাওয়ার প্ল্যান্ট:
- দেশের প্রথম বৃহৎ বেসরকারি কয়লা ভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎ প্রকল্প এসএস পাওয়ার প্ল্যান্ট। 
- দেশি-বিদেশি অর্থায়নে  এটিই দেশের প্রথম বৃহৎ বেসরকারি কয়লা ভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎ প্রকল্প। 
- বঙ্গোপসাগরের কূল ঘেঁষে বাঁশখালীর গন্ডামারা এলাকায় স্থাপিত এসএস পাওয়ার প্ল্যান্ট।
- চীনা প্রতিষ্ঠান সেপকো থ্রি’র যৌথ উদ্যোগে ২.৬ বিলিয়ন ইউএস ডলার অর্থাৎ ২৮ হাজার কোটিরও বেশি টাকা ব্যয়ে তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মাণ হয়েছে।
-  এসএস পাওয়ার প্ল্যান্টটি নির্মাণ করেছে দেশের অন্যতম শিল্পগোষ্ঠী এস আলম গ্রুপ।
- প্রকল্পটিতে এস. আলমের অংশীদারিত্বের পরিমাণ ৭০ শতাংশ এবং বাকি ৩০ শতাংশের মালিকানায় রয়েছে চীনা কোম্পানি সেপকো থ্রি ও এইচটিজি। 
- এর সক্ষমতা ১৩২০ মেগাওয়াট।
- অন্যান্য পাওয়ার প্ল্যান্টের তুলনায় এসএস পাওয়ার প্ল্যান্টে সাশ্রয়ে বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে।

উল্লেখ্য,
- বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ও এসএস পাওয়ারের মধ্যে চুক্তি সইয়ের পর ২০১৬ সালে এস এস পাওয়ার প্ল্যান্টের কাজ যৌথভাবে উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং চীনের রাষ্ট্রপতি শি জিনপিং।
- এরপর কার্যক্রম শুরুর পর অন্যান্য বিদ্যুৎ প্রকল্পের তুলনায় খুব দ্রুতই সফলভাবে বাণিজ্যিক উৎপাদনে এসেছে এসএস পাওয়ার প্ল্যান্ট।

উৎস: ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৩, যুগান্তর।
৫৬.
২০২৫ সালের বাংলা একাডেমি পুরস্কারে বিজ্ঞান শাখায় পুরস্কার পেয়েছেন কে?
  1. রেজাউর রহমান
  2. সলিমুল্লাহ খান
  3. মুহম্মদ শাহজাহান মিয়া
  4. মাসুদ খান
ব্যাখ্যা

বাংলা একাডেমি:   
- বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার সমসাময়িক জীবিত লেখকদের মৌলিক অবদানের স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য প্রদান করা হয়।
- পুরস্কারের মাধ্যমে শিক্ষা ও সংস্কৃতির উন্নয়ন এবং অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়।
- এই পুরস্কার বাংলা সাহিত্যের ১০টি শাখায় প্রদান করা হয়।
- ২০২৫ সালের বাংলা একাডেমি পুরস্কার (মূলত ২০২৪ সালের জন্য) ২৯ জানুয়ারি, ২০২৫ ঘোষণা করা হয়েছে।
- ২০২৫ সালের বাংলা একাডেমি পুরস্কারে বিজ্ঞান শাখায় পুরস্কার পেয়েছেন- রেজাউর রহমান।

উল্লেখ্য,
• বাংলা একাডেমি ২০২৪ এর পুরস্কারপ্রাপ্তরা:
- কবিতা: মাসুদ খান।
- নাটক ও নাট্যসাহিত্য: শুভাশিস সিনহা।
- প্রবন্ধ/গদ্য: সলিমুল্লাহ খান।
- অনুবাদ: জি এইচ হাবীব।
- গবেষণা: মুহম্মদ শাহজাহান মিয়া।
- ফোকলোর: সৈয়দ জামিল আহমেদ।

উৎস: বাংলা একাডেমি অফিসিয়াল ওয়েবসাইট।

৫৭.
২০২৫–২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি হবে -
  1. ৩.৮ শতাংশ
  2. ৪.৮ শতাংশ
  3. ৫.২ শতাংশ
  4. ৫.৮ শতাংশ
ব্যাখ্যা

২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি:
- ২০২৫–২৬ অর্থবছর বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ৪.৮ শতাংশ হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্বব্যাংক।

⇒ ৭ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট অক্টোবর সংস্করণ প্রকাশ করেছে।
- প্রতিবেদনে জিডিপি প্রবৃদ্ধির এই পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
- বিশ্বব্যাংক বলছে, রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও ব্যবসায় খরচ বেশি হওয়ায় এ দেশে বেসরকারি বিনিয়োগ বেশ কম। এখনো অর্থনীতিতে বেশ কয়েকটি চ্যালেঞ্জ আছে বলে মনে করে বিশ্বব্যাংক। চ্যালেঞ্জগুলো হলো—বিনিয়োগে ভাটা, কর্মসংস্থানে ঘাটতি, ঝুঁকিপূর্ণ ব্যাংক খাত, উচ্চ খেলাপি ঋণ ও দুর্বল রাজস্ব আদায়।
- বিশ্বব্যাংক আরও বলছে, গত কয়েক মাস ধরে মূল্যস্ফীতি কমলেও এখনো তা অনেক বেশি। গত আগস্টে মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৩ শতাংশ। দারিদ্র্য বেড়ে যাওয়া নিয়ে বিশ্বব্যাংক বলেছে, দারিদ্র্য বেড়েছে, কর্মসংস্থান সংকুচিত হয়েছে।

উৎস: প্রথম আলো।

৫৮.
২০২২ সালের জনশুমারিতে কোন পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে?
  1. ডি-জুরে
  2. হাইব্রিড
  3. মোডিফাইড ডি-ফ্যাক্টো
  4. মোডিফাইড ডি-জুরে
ব্যাখ্যা

জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২:
- বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (BBS) জনশুমারি পরিচালনা করে।
- ষষ্ঠ জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ অনুষ্ঠিত হয় : ১৫-২১ জুন ২০২২ সালে।
- এটি দেশের প্রথম ডিজিটাল শুমারি।
- জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ এর তথ্য সংগ্রহে যে পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে -  CAPI.
- CAPI এর পূর্ণরূপ - Computer Assisted Personal Interviewing.
- গণনায় যে পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে-  মোডিফাইড ডি-ফ্যাক্টো (Modified De-facto) পদ্ধতি।
- মোট জনসংখ্যা: ১৬ কোটি ৯৮ লাখ ২৮ হাজার ৯১১ জন।
- সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ জেলা- ঢাকা (১০০৬৭ জন)।
- সবচেয়ে কম ঘনবসতিপূর্ণ জেলা- রাঙ্গামাটি (১০৬ জন)।

তথ্যসূত্র - পরিসংখ্যান ব্যুরোর ওয়েবসাইট।

৫৯.
মূল্য সংযোজন কর চালু হয় কত সালে?
  1. ১৯৯০ সালে
  2. ১৯৯১ সালে
  3. ১৯৯২ সালে
  4. ১৯৯৩ সালে
ব্যাখ্যা
মূল্য সংযোজন কর:
- মূল্য সংযোজন কর (মূসক) হচ্ছে কোন পণ্য বা সেবার ক্ষেত্রে তার উৎপাদন ও বণ্টনের প্রতিটি পর্যায় শেষে সংযোজিত মূল্যের ওপর শতকরা হারের কর।
- বাংলাদেশে মূল্য সংযোজন কর একটি পরোক্ষ কর।
- ১৯৯০ সনের মধ্য জুনের কিছু আগে মূল্য সংযোজন কর আইন ১৯৯০ (খসড়া) তৈরি করা হয়।
- মূল্য সংযোজন কর চালু হয় ১ জুলাই ১৯৯১ সালে।
- সকল পন্য ও সেবার উপর ১৫% মূল্য সংযোজন কর আরোপ হয়।
- আমদানি ও সরবরাহের ক্ষেত্রে মূল্য সংযোজন কর ১৫%।
- পন্য বা সেবার সর্বশেষ ভোক্তা মূল্য সংযোজন কর দাতা।
- রপ্তানির ক্ষেত্রে মূল্য সংযোজন কর ০%।

তথ্যসূত্র- জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, বাংলাদেশ ওয়েবসাইট ও বাংলাপিডিয়া।
৬০.
দেশের বর্তমানে মোট ইউনিয়ন সংখ্যা -
  1. ক) ৪৫৩৭টি
  2. খ) ৫৫৩৩টি
  3. গ) ৫১৭৭টি
  4. ঘ) ৪৮৩৭টি
ব্যাখ্যা
বগুড়ার গাবতলী উপজেলা নেপালতলী ও সোনারায় ইউনিয়ন ভেঙ্গে নতুন ইউনিয়ন গঠন করা হয়েছে, যার নাম সুখানপুকুর। দেশের বর্তমানে মোট ইউনিয়ন সংখ্যা - ৪৫৩৭টি।
৬১.
৬ষ্ঠ আদমশুমারি অনুযায়ী কোন জেলায় স্বাক্ষরতার হার বেশি?
  1. পিরোজপুর
  2. চুয়াডাঙ্গা
  3. রাজশাহী
  4. কুমিল্লা
ব্যাখ্যা

- ৬ষ্ঠ আদমশুমারি বা 'জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২' অনুযায়ী, পিরোজপুর জেলায় স্বাক্ষরতার হার বেশি। 

• জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২:

- মোট জনসংখ্যা: ১৬,৯৮,২৮,৯১১ জন।
- জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার: ১.১২%।
- জনসংখ্যার ঘনত্ব: ১,১১৯ জন।

উল্লেখ্য,
- সাক্ষরতার হার: ৭৪.৮০%।
- পুরুষ সাক্ষরতার হার: ৭৬.৭১%।
- নারী সাক্ষরতার হার: ৭২.৯৪%।

⇒ সাক্ষরতার হার সবচেয়ে বেশি ঢাকা বিভাগে।
- সাক্ষরতার হার সবচেয়ে কম ময়মনসিংহ বিভাগে।
- সাক্ষরতার হার সবচেয়ে বেশি পিরোজপুর জেলায়।
- সাক্ষরতার হার সবচেয়ে কম জামালপুর জেলায়।

তথ্যসূত্র: জনশুমারি ও গৃহগণনা চূড়ান্ত রিপোর্ট ২০২২।

৬২.
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র 'সংগ্রাম'-এর পরিচালক কে?
  1. সুভাষ মুখোপাধ্যায়
  2. হারুনর রশীদ
  3. চাষী নজরুল ইসলাম
  4. নারায়ণ ঘোষ মিতা
ব্যাখ্যা
সংগ্রাম (১৯৭৩):
- মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র সংগ্রাম।
- এটি নির্মাণ করেন চাষী নজরুল ইসলাম।
- এর গল্প নেওয়া হয়েছে সেক্টর কমান্ডার মেজর খালেদ মোশাররফের ডায়েরি থেকে।
- এতে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট ও অন্যান্য বাহিনীর বীরত্বগাথা চিত্রিত হয়েছে।
- এই চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন সুচন্দা, খসরু।

উৎস: প্রথম আলো।
৬৩.
বাংলার প্রথম স্বাধীন নবাব কে ছিলেন?
  1. শশাঙ্ক
  2. মুর্শিদ কুলি খান
  3. সিরাজউদ্দৌলা
  4. আব্বাস আলী মীর্জা
ব্যাখ্যা
• বাংলার প্রথম স্বাধীন নবাব ছিলেন — নবাব মুর্শিদ কুলি খান।

নবাব মুর্শিদ কুলি খান:
- মুর্শিদ কুলি খান (১৭০০-১৭২৭) বাংলায় নবাবী শাসনের প্রতিষ্ঠাতা।
- সম্রাট আওরঙ্গজেবের পর কোনো কোনো সুবা স্বাধীন হয়ে যায়।
- বাংলাও এর ব্যতিক্রম ছিল না।
- বিশেষ করে মুর্শিদকুলী খানের সময় থেকে বাংলায় নবাবী আমলের সূচনা হয়।
- সম্রাট আওরঙ্গজেব তাঁকে কর তলব খান উপাধি দিয়ে ১৭০০ খ্রিস্টাব্দে বাংলার দিওয়ান নিযুক্ত করেন।
- বাংলার প্রথম স্বাধীন নবাব মুর্শিদ কুলি খান দায়িত্ব গ্রহণ করে।
- তিনি ঢাকা বাংলার রাজধানী মুর্শিদাবাদে স্থানান্তর করেন ১৭১৭ সালে।
- তিনি অতিরিক্ত রাজস্ব ধার্য না করে সঠিক ব্যবস্থাপনার দ্বারা রাজস্বের পরিমাণ বৃদ্ধি করেন।
- সিরাজউদ্দৌলা ছিলেন বাংলা বিহার উড়িষ্যার শেষ স্বাধীন নবাব।

অন্যদিকে -
- নবাব সিরাজউদ্দৌলা ছিলেন বাংলা-বিহার-ওড়িশার শেষ স্বাধীন নবাব।
- আলীবর্দী খান (১৬৭৬-১৭৫৬) বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার নওয়াব (১৭৪০-১৭৫৬)।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশবিদ্যালয়।
         ii) বাংলাপিডিয়া।
৬৪.
নিচের কোন জেলায় 'পাংখোয়া' ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে?
  1. হবিগঞ্জ
  2. সিলেট
  3. রাঙামাটি
  4. রংপুর
ব্যাখ্যা
পাংখোয়া:
- পাংখোয়া বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত আদিবাসী জনগোষ্ঠীর মধ্যে পাংখোয়া অন্যতম।
- পার্বত্য রাঙামাটি জেলার সাজেক উপত্যকা থেকে বান্দরবানের রুমা পর্যন্ত এবং পাশ্ববর্তী ভারতের মিজোরাম রাজ্য সংলগ্ন সীমান্ত এলাকায় পাংখোয়া জাতির বসবাস রয়েছে।
- পাংখোয়া জনগোষ্ঠী নিজেদের ধর্মবিশ্বাসে বৌদ্ধ।
- প্রকৃতি উপাসনাও পাংখোয়া সমাজে প্রচলিত।
- তাদের সৃষ্টিকর্তার নাম ‘পত্যেন’।
- তাদের প্রধান উপাস্য দেবতার নাম ‘খোজিং’।
- খোজিং পূজা শ্রাবণ মাসে অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে।
- এই পূজা পাংখোয়া সমাজে সবচেয়ে বড় উৎসব হিসেবে বিবেচিত হয়।
- পাংখোয়া সমাজে পিতাই পরিবারের প্রধান।
- পিতার মৃত্যুর পর পুত্রসন্তানরা পারিবারিক বিষয়-আশয়ের উত্তরাধিকারী হয়ে থাকে।
- পাংখোয়া জনগোষ্ঠী দুটো গোত্রে বিভক্ত পাংখোয়া ও ভানজাঙ।
- ধর্মীয় বিশ্বাস, সামাজিক আচার-অনুষ্ঠান ও পূজাপার্বণ নিয়ে পাংখোয়াদের নিজস্ব সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে।
- পাংখোয়া জনগোষ্ঠীতেই মৃতদেহ কবর দেওয়ার রীতি প্রচলিত।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
৬৫.
এপ্রিল মাসে বাংলাদেশে মোট কত ডলার রেমিট্যান্স এসেছে? [মে, ২০২৫]
  1. ১৫০ কোটি ২০ লাখ
  2. ১৭৫ কোটি ২০ লাখ
  3. ২৫০ কোটি ২০ লাখ
  4. ২৭৫ কোটি ২০ লাখ
ব্যাখ্যা
প্রবাসী আয় (রেমিট্যান্স):
- বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এপ্রিলে দেশে এসেছে ২৭৫ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স।
- দেশীয় মুদ্রায় (প্রতি ডলার ১২২ টাকা হিসাবে) যার পরিমাণ ৩৩ হাজার ৫৭৪ কোটি টাকা।
- এটি মাস হিসেবে সর্বোচ্চ দ্বিতীয় রেমিট্যান্স বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
- এই মাসে প্রতিদিন গড়ে দেশে এসেছে ৯ কোটি ১৭ লাখ ডলার রেমিট্যান্স।
- গট বছরের একই মাসের তুলনায় যা প্রায় ৭১ কোটি ডলার বা ৩৪ দশমিক ৬৪ শতাংশ বেশি।
- সব মিলিয়ে চলতি অর্থবছরের ১০ মাসে রেমিট্যান্স বেড়েছে ২৮ দশমিক ৩০ শতাংশ। 

উল্লেখ্য,
- গত মার্চে দেশে এসেছে ৩২৮ কোটি ৯৯ লাখ ৮০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স।
- যা দেশের ইতিহাসে যেকোনো এক মাসে সর্বোচ্চ।
- আর তৃতীয় সর্বোচ্চ ২৬৪ কোটি ডলার এসেছে গত ডিসেম্বর মাসে।

তথ্যসূত্র- পত্রিকা রিপোর্ট। [LINK]
৬৬.
বর্তমানে দেশে কতটি সমুদ্র বন্দর রয়েছে? [নভেম্বর,২০২৫]
  1. ৪টি 
  2. ৫টি 
  3. ৩টি 
  4. ২টি
ব্যাখ্যা

- বর্তমানে বাংলাদেশে ৩টি সমুদ্র বন্দর রয়েছে: চট্টগ্রাম, মংলা এবং পায়রা। 

• পায়রা বন্দর: 
- বাংলাদেশের তৃতীয় সমুদ্র বন্দর পায়রা।
- পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া উপজেলার রাবনাবাদ চ্যানেলের তীরে অবস্থিত।
- ১৩ আগস্ট ২০১৬ সালে সীমিত পরিসরে পায়রা বন্দরের কার্যক্রম শুরু হয়।
- সেপ্টেম্বর ২০১৯ থেকে নিয়মিতভাবে কয়লা ও অন্যান্য পণ্যবাহী জাহাজ এই বন্দরে আগমন করছে।
- নেদারল্যান্ডসভিত্তিক প্রতিষ্ঠান রয়েল হাসকনিংডিএইচভি এর মাধ্যমে বন্দরের মাস্টার প্ল্যান প্রস্তুত হয়েছে।
- রাবনাবাদ চ্যানেলে মূল খনন (ক্যাপিটাল ড্রেজিং) চলছে।
- চ্যানেলটি -১০.৫ মিটার চার্ট ডাটাম (CD) পর্যন্ত গভীর করা হবে,
- যাতে প্যানামাক্স (PANAMAX) আকারের জাহাজ ভিড়তে পারে।

• চট্টগ্রাম বন্দর বাংলাদেশের প্রধান সামুদ্রিক বন্দর।
- এটি কর্ণফুলী নদীর মোহনায় অবস্থিত।
- ইংরেজ শাসনের প্রথম দিকে ইংরেজ ও দেশীয় ব্যবসায়ীরা বার্ষিক এক টাকা সেলামির বিনিময়ে নিজ ব্যয়ে কর্ণফুলি নদীতে কাঠের জেটি নির্মাণ করেন।
- ১৮৬০ খ্রিস্টাব্দে প্রথম দুটি অস্থায়ী জেটি নির্মিত হয়।

• মোংলা বন্দর ১৯৫৪ সালের ২০শে জুন মোংলা বন্দর নামকরন করা হয়।
- ১৯৮৭ সালের মার্চ মাসে এটি নাম পরিবর্তনপূর্বক "মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ” হিসেবে যাত্রা শুরু করে।
- এটি দেশের দ্বিতীয় সমুদ্র বন্দর।

- উল্লেখ্য মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণাধীন রয়েছে।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন

৬৭.
অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৪ অনুযায়ী প্রাথমিক পণ্য হিসেবে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আমদানি করা হয় কোনটি?
  1. তুলা
  2. গম
  3. তৈলবীজ
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
প্রাথমিক পণ্য আমদানি:
- প্রাথমিক পণ্যগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আমদানি করা হয় - তুলা।
- প্রাথমিক পণ্য হিসেবে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আমদানি করা হয়- গম।
- প্রাথমিক পণ্য হিসেবে তৃতীয় সর্বোচ্চ আমদানি করা হয় - তৈলবীজ।

তথ্যসূত্র - অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৪।
৬৮.
চন্দ্রদ্বীপ প্রাচীনকালে কোন অঞ্চলে অবস্থিত ছিল?
  1. রাঢ় ও বঙ্গের মাঝামাঝি
  2. বরেন্দ্র ও সমতটের মধ্যে
  3. বলেশ্বর ও মেঘনার মধ্যবর্তী স্থানে
  4. পদ্মা ও যমুনার মধ্যখানে
ব্যাখ্যা
- চন্দ্রদ্বীপ এটি ছিল বর্তমান দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ জনপদ, বিশেষ করে বরিশাল কেন্দ্রিক।

জনপদ: 
প্রাচীন যুগে বাংলা কোন একক বা অখন্ড রাজ্য/রাষ্ট্র ছিল না।
- বাংলার বিভিন্ন অংশ তখন অনেকগুলো ছোট ছোট অঞ্চলে বিভক্ত ছিল।
যেমন- পুণ্ড্র, বরেন্দ্র, বঙ্গ, সমতট, চন্দ্রদ্বীপ, হরিকেল, রাঢ় ইত্যাদি।

চন্দ্রদ্বীপ
- বর্তমান বরিশাল জেলা ছিল চন্দ্রদ্বীপের মূল ভূখন্ড ও প্রাণকেন্দ্র।
- মধ্যযুগে চন্দ্রদ্বীপ বেশ সমৃদ্ধ ছিল।
- এ প্রাচীন জনপদটি (চন্দ্রদ্বীপ) বলেশ্বর ও মেঘনার মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত ছিল।

সূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি ও বাংলাপিডিয়া।
৬৯.
বিবিএসের রিপোর্ট অনুসারে দেশে ১৫-৫৯ বছর বয়সী জনসংখ্যার হার কত শতাংশ?
  1. ৫৭.৪০ শতাংশ
  2. ৫৯.৭৫ শতাংশ
  3. ৬৩.৩০ শতাংশ
  4. ৬৫.২২ শতাংশ
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর সর্বশেষ SVRS Report-2019 অনুসারে বাংলাদেশে বিভিন্ন বয়সী জনসংখ্যার হার:
- ১৫-৫৯ বয়সী : ৬৩.৩ শতাংশ
- ১৫-৪৯ বয়সী : ৫৪.৬ শতাংশ।
- ০-১৪ বয়সী : ২৮.৫ শতাংশ
- ৬০ বছর ও উর্ধ্বে : ৮.২ শতাংশ।
(সূত্রঃ বিবিএস SVRS Report-2019)
৭০.
‘পিকিং মানুষ’ বলা হত কাদের?
  1. ক) প্রচীন গ্রীকদের
  2. খ) প্রাচীন আরব্যদের
  3. গ) আদি চৈনিকদের
  4. ঘ) আদি মিশরিদের
ব্যাখ্যা
চীনের আদি মানুষ
- ১৯২৯ খ্রিস্টাব্দে চীনে প্রাগৈতিহাসিক যুগের মানুষের মাথার খুলি পাওয়া গেছে।
- চীনের রাজধানী পিকিং-এর (বর্তমান বেইজিং) কাছে এই খুলি পাওয়া যায়।
- এরাই চীনের আদিম মানুষ; যাদেরকে ‘পিকিং মানুষ’ বলা হয়।
- এ থেকে ধারণা করা হয় যে নবােপলীয় যুগ বা নতুন পাথরের যুগে চীনে মানুষের বসবাস ছিল।
- চীনের আদিবাসিরা হােয়াংহাে ও ইয়াংসি নদীর দুই পাড়েই বাস করত।
- পরে তারা বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়ে। এদের এক অংশ চাষাবাদ করতাে, অপর অংশটি যাযাবর জীবনে অভ্যস্ত ছিল। যে অংশটি নদীর তীরে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করে তারা ঘরবাড়ি তৈরি করে ধীরে ধীরে সভ্য জাতিতে পরিণত হতে থাকে।
- এরা কৃষিকাজের পাশাপাশি পশু পালনও করতাে। এরাই প্রাচীন চীনা সভ্যতার স্রষ্টা।
- এই সভ্যতার স্রষ্টাদের রেশমের কাপড়, চাকাযুক্ত গাড়ি, মাটির তৈরি জিনিসপত্র, তামা ও ব্রোঞ্জের অস্ত্র-শস্ত্র তৈরি করার বিদ্যা জানা ছিল।
- তারা কৃষি কাজের জন্য লাঙ্গল ব্যবহার করত। কৃষি জমিতে পানি সেচের জন্য তারা খাল কেটে নদী থেকে জমিতে পানি সরবরাহ করত।
- চীনের আদি মানুষরা নগর নির্মাণ করে উঁচু দেয়াল দিয়ে তাকে সুরক্ষিত রাখত, যাতে যাযাবরদের আক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।
- এরা এক ধরণের দিনপঞ্জি বা ক্যালেন্ডারও তৈরি করেছিল। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭১.
যে জায়গায় বিমান রাখা হয় তাকে কী বলে?
  1. ক) Arsenal
  2. খ) Hangar
  3. গ) Aerodrome
  4. ঘ) Runway
ব্যাখ্যা
• Runway - বিমান উড্ডয়নের জন্য বিশেষভাবে তৈরি রাস্তা
• Arsenal - অস্ত্র বাঁ গোলাবারুদ সম্ভার
• Aerodrome বাঁ airdrome - ছোট বিমানবন্দর, বিমান ঘাঁটি
• Hangar - যেখানে বিমান রাখা হয়, বিমানের গ্যারাজ
Source: Oxford & Merriam-webster Dictionary
৭২.
ন্যাপ (NAPE) কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) ঢাকায়
  2. খ) ময়মনসিংহে
  3. গ) রাজশাহীতে
  4. ঘ) কুমিল্লায়
ব্যাখ্যা
• ন্যাপ (NAPE) ময়মনসিংহে অবস্থিত। 

• জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি (নেপ) সর্বপ্রথম ১৯৬৯ সনে জুনিয়র ট্রেনিং কলেজ (জেটিসি) হিসেবে ময়মনসিংহে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর এখানে ২ বৎসর মেয়াদি ইন্টারমিডিয়েট ইন এডুকেশন (আই এড) কোর্স পরিচালিত হয়। 
- ময়মনসিংহ ছাড়াও ঢাকা, চট্টগ্রাম, ফেনী, রংপুর ও যশোরে অনুরূপ আরো পাঁচটি জুনিয়র ট্রেনিং কলেজ (জেটিসি) স্থাপিত হয়।
- মহান স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে জুনিয়র ট্রেনিং কলেজ (জেটিসি)গুলো রূপান্তরিত হয়ে কলেজ অব এডুকেশন নামে যাত্রা  শুরু করে। 
- প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের পেশাগত প্রশিক্ষণ প্রদানের লক্ষ্যে বার্ষিক প্রশিক্ষণ পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করেন।
- প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার অভীক্ষাপদ প্রণয়ন ও যোগ্যতাভিত্তিক প্রশ্নপত্র প্রণয়ন করে।
- প্রাথমিক শিক্ষার বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত করে তার সমাধানের জন্য গবেষণা পরিচালনা করে।

সূত্র:  জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি (নেপ)। 
৭৩.
গারোরা অধিক সংখ্যায় বসবাস করে -
  1. ক) সিলেটে
  2. খ) জামালপুরে
  3. গ) ময়মনসিংহে
  4. ঘ) বান্দরবানে
ব্যাখ্যা
• গারো:
- বাংলাদেশে বসবাসকারী একটি নৃগোষ্ঠী।
- গারোরা টাংগাইল, জামালপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, সুনামগঞ্জ, সিলেট, গাজীপুর জেলায় বাস করে। 
- তবে ময়মনসিংহ জেলার হালুয়াঘাট, ধোবাউড়া, নেত্রকোনা জেলার দুর্গাপুর, কলমাকান্দা, শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ী, ঝিনাইগাতী, টাঙ্গাইল জেলার মধুপুর উপজেলায় এরা অধিক সংখ্যায় বসবাস করে।
- গারোদের আদি বাসভূমি বর্তমান চীনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের সিন-কিয়াং প্রদেশ।

- এদের সংখ্যা প্রায় দেড় লক্ষ।
- গারোদের সমাজ ব্যবস্থা মাতৃতান্ত্রিক।
- সমগ্র গারোসমাজ ১৩টি দলে বিভক্ত।

- একই উপগোত্রের মধ্যে বিবাহ গারো সমাজে নিষিদ্ধ।
- গারোরা নিজেদের আচিক্ মান্দে (পাহাড়ের মানুষ) বলে পরিচয় দিতে পছন্দ করে।
- গারোদের প্রধান খাদ্য ভাত।
- বর্তমানে গারোদের শতকরা নিরানব্বইজনই খ্রিস্টধর্মে বিশ্বাসী।
- তাদের প্রধান উৎসব- ওয়ানগালা।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া।
৭৪.
ফরাসি পর্যটক ফ্রাঁসোয়া বার্নিয়ার ভারতের কোন শাসনকালীন সময়ে এসেছিলেন?
  1. পাল আমলে
  2. মুঘল আমল
  3. গুপ্ত আমলে
  4. সেন আমলে
ব্যাখ্যা

ফ্রাঁসোয়া বার্নিয়ার:
- ফ্রাঁসোয়া বার্নিয়ার ছিলেন একজন ফরাসি চিকিৎসক এবং ভ্রমণকারী।
- তিনি ১৬৫৬ ও ১৬৬৮ সালের মধ্যে ভারত ও বাংলাদেশ সফর করেছিলেন। 
- মুঘল শাসনামলে তিনি ভারতে এসেছিলেন।
- মুঘল আমলে প্রায় ১২ বছর তিনি ভারতে ছিলেন।
- হিন্দুস্থানের সম্রাট, আমীর ওমরাহ থেকে সকল শ্রেণির মানুষের জীবন, সামাজিক ও ধর্মীয় রীতি-নীতি, এমন কি সতীদাহ পর্যন্ত নিজের চোখে দেখেছেন।

উল্লেখ্য,
- সম্রাট শাহজাহান এর পুত্রদের মধ্যে উত্তরাধিকার যুদ্ধে দারাকে বন্দি করে কুচকাওয়াজ সহকারে অসম্মানজনকভাবে রাস্তা দিয়ে যখন নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, বার্নিয়ার সেই সময় দিল্লিতে অবস্থান করছিলেন। 
- বার্নিয়ারের মূল ভ্রমণবৃত্তান্ত ফরাসি ভাষায় লিখিত ও প্রকাশিত।
- Travels in The Mogul Empire, AD 1656-68 শিরোনামে আরচিবল্ড কনস্টেবল (Archibald Constable) পুস্তকটি ১৮৯১ সালে ইংরেজিতে অনুবাদ করেন ও ইংল্যান্ড থেকে প্রকাশ করেন।
- সেই সময় থেকে বাংলাসহ বিভিন্ন ভাষায় পুস্তকটি অনূদিত হয়েছে। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৭৫.
রাখাইন জনগোষ্ঠী প্রধানত বাংলাদেশের কোন অঞ্চলে বসবাস করে?
  1. কক্সবাজার
  2. রাজশাহী
  3. রংপুর
  4. দিনাজপুর
ব্যাখ্যা
রাখাইন: 
- রাখাইন হলো বাংলাদেশে বসবাসরত একটি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী, এরা মূলত আরাকান (বর্তমান রাখাইন রাজ্য, মিয়ানমার) থেকে অভিবাসিত হয়ে এদেশে বসতি গড়ে তোলে। তারা প্রথমে উপকূলীয় জেলা কক্সবাজার ও পটুয়াখালীতে এসে বসবাস শুরু করে।
- বর্তমানে এদের প্রধান আবাসভূমি কক্সবাজার, পটুয়াখালী ও বরগুনা জেলায় হলেও রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি এবং চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলাতেও ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রাখাইন বসতি রয়েছে।

উল্লেখ্য, 
- রাখাইনরা মূলত কৃষিনির্ভর। কৃষি ও প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর নির্ভর করেই তারা জীবিকা নির্বাহ করে থাকে। তাদের রয়েছে নিজস্ব ভাষা ও সংস্কৃতি। রাখাইন ভাষার আঞ্চলিক দুটি প্রচলিত নাম হলো ‘র‌্যামরা’ ও ‘মারৌও’।
- রাখাইনদের বর্ষবরণ উৎসবকে বলা হয় ‘সাংগ্রাং পোয়ে’ বা জলকেলি উৎসব। 

সূত্র: ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সনদ ও বাংলাপিডিয়া।
৭৬.
FAO পরিসংখ্যান বর্ষপঞ্জি ২০২৩ অনুযায়ী, চাল উৎপাদনে বাংলাদেশের অবস্থান -
  1. প্রথম
  2. দ্বিতীয়
  3. তৃতীয়
  4. চতুর্থ
ব্যাখ্যা
জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) বিশ্ব খাদ্য ও কৃষিবিষয়ক বার্ষিক পরিসংখ্যান পুস্তিকা-২০২৩ প্রকাশ করে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী - 
→ বিশ্বের খাদ্য আমদানিকারক দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান - তৃতীয়।
→ চাল উৎপাদনে বাংলাদেশের অবস্থান - তৃতীয়।
→ বিশ্বে খাদ্য আমদানিতে শীর্ষ দেশ - চীন।
→ খাদ্য আমদানিতে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে - ফিলিপাইন।
→ খাদ্য রপ্তানিতে শীর্ষ দেশ হচ্ছে - যুক্তরাষ্ট্র।
→ চাল রপ্তানিতে শীর্ষ দেশ – ভারত।

তথ্যসূত্র: জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) ওয়েবসাইট।
৭৭.
বাংলাদেশ পরিকল্পনা কমিশনের চেয়ারপারসন কে?
  1. মাননীয় প্রধানমন্ত্রী
  2. মাননীয় অর্থমন্ত্রী
  3. মাননীয় পরিকল্পনা মন্ত্রী
  4. মাননীয় আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী
ব্যাখ্যা
পরিকল্পনা কমিশন:
- বাংলাদেশের সংবিধান (অনুচ্ছেদ-১৫) অনুযায়ী পরিকল্পিত উন্নয়নের মাধ্যমে দেশের সকল অঞ্চলের সকল নাগরিকের দ্রুত জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন নিশ্চিত করা রাষ্ট্রীয় দায়িত্বের অন্তর্ভুক্ত।
- জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ৩১ জানুয়ারী ১৯৭২ সনে ‘‘বাংলাদেশ পরিকল্পনা কমিশন’’ প্রতিষ্ঠা করেন।
- প্রাপ্ত সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহারের মাধ্যমে সকল জনগণের দ্রুত জীবনযাত্রার মান উন্নয়নই হচ্ছে উন্নয়ন পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য।
- এই কমিশন গঠিত হয় একজন চেয়ারম্যান, একজন ডেপুটি চেয়ারম্যান এবং তিন জন সদস্য সমন্বয়ে।
- পরিকল্পনা মন্ত্রী পদাধিকার বলে কমিশনের চেয়ারম্যান নিযুক্ত হন।
- পরিকল্পনা কমিশনের সকল প্রশাসনিক ও নির্বাহী কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ‘‘পরিকল্পনা বিভাগ’’ প্রতিষ্ঠা করা হয়।
- বর্তমানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এ কমিশনের চেয়ারপার্সন।

উৎস: পরিকল্পনা কমিশন ওয়েবসাইট।
৭৮.
মানব সম্পদ উন্নয়নের জন্য নিচের কোনটি অপরিহার্য?
  1. অধিক অর্থ
  2. ভোগবাদী সংস্কৃতি
  3. শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

মানব সম্পদ উন্নয়ন:
- মানব সম্পদ উন্নয়ন একটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ এবং অপরিহার্য উপাদান।
- মানব সম্পদ ছাড়া উন্নয়নের অন্যান্য উপাদান অর্থহীন হয়ে পড়ে।
- শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, আধুনিক প্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে মানব সম্পদকে অধিকতর দক্ষ ও উৎপাদনশীল করা যায়।
- কাজেই কর্মক্ষম জনশক্তিকে উপযুক্ত শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তি জ্ঞানে উন্নত বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে সমৃদ্ধ করার প্রক্রিয়াকে 'মানব সম্পদ উন্নয়ন' বলা যায়। 
- সুতরাং উৎপাদনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে মানুষের কর্মদক্ষতা সুষ্ঠুভাবে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে মানুষের অন্তর্নিহিত কর্মগুণ, সুপ্ত প্রতিভা, উন্নত ও বিকশিত করে তোলাই হল 'মানব সম্পদ উন্নয়ন'।

উৎস:
i) শিক্ষা এবং উন্নয়ন, স্কুল অব এডুকেশন, এমএড প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) অর্থনীতি ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭৯.
রাষ্ট্রপতি নির্দিষ্ট মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগে পদত্যাগ করতে চাইলে কার নিকট তা জানাতে হবে?
  1. ক) স্পিকার
  2. খ) প্রধানমন্ত্রী
  3. গ) চিপ হুইপ
  4. ঘ) মন্ত্রী পরিষদ সচিব
ব্যাখ্যা
• মেয়াদ শেষ হওয়ার কারণে রাষ্ট্রপতির পদ শূণ্য হলে মেয়াদ শেষ হওয়ার ৬০-৯০ দিনের মধ্যে রাষ্ট্রপতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
• কিন্তু মৃত্যু, পদত্যাগ বা অপাসরণ জনিত কারণে রাষ্ট্রপতির পদ শূণ্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে তা পূরণের জন্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
• বাংলাদেশ সংবিধানের ৫০ অনুচ্ছেদে বলা আছে যে, রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব গ্রহণের দিন থেকে ৫ বছর মেয়াদে স্বপদে আসীন থাকবেন এবং
• মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার পরও পরবর্তী রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত তিনি স্বপদে বহাল থাকবেন।
• কিন্তু রাষ্ট্রপতি দুটি মেয়াদের অধিককাল এই পদে থাকতে পারবেন না, তা ধারাবাহিক হোক বা নাই হোক।
• রাষ্ট্রপতি নির্দিষ্ট মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগে পদত্যাগ করতে চাইলে তাকে সংসদের স্পিকার বরাবর লিখিতভাবে তা জানাতে হবে।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান।
৮০.
নিচের কোন এলাকা নাব্য বঙ্গের অন্তর্ভুক্ত ছিল?
  1. কুমিল্লা
  2. সিলেট
  3. চট্টগ্রাম
  4. ফরিদপুর
ব্যাখ্যা

বঙ্গ:
- বঙ্গ একটি প্রাচীন জনপদ।
- ঐতরেয় আরণ্যক গ্রন্থে একটি উপজাতির নাম হিসেবে বঙ্গের প্রথম উল্লেখ পাওয়া যায়।
- ভাগীরথী ও পদ্মার স্রোত মধ্যবর্তী এলাকায় যে ত্রিভুজাকৃতি ব-দ্বীপ সৃষ্টি হয়েছে তাকেই বঙ্গদের অঞ্চল বলা হয়।
- প্রাচীন শিলালিপিতে বঙ্গের দুটি অঞ্চলের নাম পাওয়া যায়।
- একটি বিক্রমপুর বঙ্গ অন্যটি নাব্য বঙ্গ।
- ঢাকা-ফরিদপুর-বরিশাল এলাকা নাব্য বঙ্গের অন্তর্ভুক্ত ছিল।
- বাংলায় মুসলমান শাসনামলের প্রাথমিক পর্যায়ে 'বঙ্গ' বলে বাংলার দক্ষিণ ও দক্ষিণপূর্ব অংশকেই বুঝানো হতো। 
- মধ্যযুগের বিখ্যাত মুঘল ঐতিহাসিক আবুল ফজল রচিত আইন-ই-আকবরী গ্রন্থে পাওয়া যায় যে, বঙ্গদেশের উত্তরকালীন নাম বঙ্গাল । 

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮১.
বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি কয়টি বিভাগ নিয়ে গঠিত?
  1. ৩টি
  2. ৪টি
  3. ৫টি
  4. ৬টি
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি:
- এটি বাংলাদেশে সংস্কৃতিচর্চার একমাত্র জাতীয় প্রতিষ্ঠান।
- বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ প্রতিষ্ঠান।
- ১৯৭৪ সালে ১৯ ফেব্রুয়ারি একটি বিশেষ আইন দ্বারা এটি প্রতিষ্ঠিত হয়।
- একাডেমির প্রথম মহাপরিচালক ছিলেন ড. মুস্তাফা নূর-উল ইসলাম।
- সাংস্কৃতিক কার্যক্রম বিস্তৃত করার লক্ষ্যে দেশের ৬৪টি জেলায় জেলা শিল্পকলা একাডেমি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।

⇒ বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি ছয়টি বিভাগ নিয়ে গঠিত।
- বিভাগগুলো হলো:
• চারুকলা বিভাগ,
• নাট্যকলা ও চলচ্চিত্র বিভাগ,
• সংগীত নৃত্য ও আবৃত্তি বিভাগ,
• গবেষনা ও প্রকাশনা বিভাগ,
• প্রশিক্ষণ বিভাগ,
• প্রযোজনা বিভাগ।
- ছয়টি বিভাগ পরিচালিত হয় ছয় জন পরিচালকের দায়িত্বে।

- একাডেমির সর্বোচ্চ নির্বাহী কর্মকর্তা হচ্ছেন মহাপরিচালক।
- সরকার কর্তৃক নিযুক্ত এই মহাপরিচালকই সার্বিক প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করেন।
- বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির বর্তমান মহাপরিচালক ড. সৈয়দ জামিল আহমেদ। (ডিসেম্বর, ২০২৪)

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি ওয়েবসাইট।
৮২.
'ভোটের আগে ভাত চাই' স্লোগানে কোন দল সত্তরের নির্বাচন বর্জন করেছিল?
  1. ন্যাপ ( ভাসানী )
  2. ন্যাপ ( মুজাফফর )
  3. নেজাম ই ইসলাম
  4. আওয়ামী লীগ
ব্যাখ্যা
সত্তরের নির্বাচন 

♦ নির্বাচন কমিশন 
- ১৯৬৯ সালে পাকিস্তান সুপ্রিম কোর্টের বাঙালি বিচারপতি আব্দুস সাত্তার এর নেতৃত্বে একটি নির্বাচন কমিশন গঠিত হয়।
- এই কমিশনের অধীনেই ১৯৭০ সালের জাতীয় পরিষদ এবং প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
- এটি ছিল অবিভক্ত পাকিস্তানের প্রথম এবং শেষ সাধারণ নির্বাচন।
- নির্বাচনে মোট ২৪ টি রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করে।
- " ভোটের আগে ভাত চাই " স্লোগানে জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি বা ন্যাপ ( ভাসানী ) এই নির্বাচন বর্জন করে।

♦ জাতীয় পরিষদ নির্বাচন ও ফলাফল
-  ১৯৭০ সালের ৭ ডিসেম্বর পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
- সমগ্র পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের আসন সংখ্যা ছিল ৩১৩ টি, যার মধ্যে পূর্ব পাকিস্তানের আসন সংখ্যা ছিল ১৬৯ টি ( ৭টি সংরক্ষিত মহিলা আসন সহ )।
- এই নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে আওয়ামী লীগ জাতীয় পরিষদে ১৬৯ টি আসনের মধ্যে ১৬৭ টি আসন লাভ করে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। 
- ময়মনসিংহ ও রাঙ্গামাটিতে দুটি আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী বিজয়ী হয়।

♦ প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচন ও ফলাফল
- ১৯৭০ সালের ১৭ ডিসেম্বর প্রাদেশিক পরিষদের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
- এই নির্বাচনে ৫ টি প্রাদেশিক পরিষদে ২১টি সংরক্ষিত মহিলা আসন সহ মোট ৬২১টি আসনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
- পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদে নৌকা প্রতীক নিয়ে আওয়ামী লীগ ৩১০ টি আসনের ( ১০টি সংরক্ষিত মহিলা আসন সহ ) মধ্যে ২৯৮ টিতে জয়লাভ করে।

♦ জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিতকরণ
- সত্তরের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করলেও ইয়াহিয়া খান ক্ষমতা হস্তান্তরে গড়িমসি শুরু করে।
- তিনি ৩ মার্চ,১৯৭১ এ অনুষ্ঠাতব্য জাতীয় পরিষদের অধিবেশন ১ মার্চ স্থগিত করেন।

তথ্যসূত্র- বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি। বাংলাপিডিয়া।
৮৩.
প্রাচীন বাংলায় বিজয়া দশমীর দিনে কোন উৎসব পালিত হতো?
  1. আকাশপ্রদীপ
  2. শাবোরৎসব
  3. ভাইফোঁটা
  4. অক্ষয় তৃতীয়া
ব্যাখ্যা

• প্রাচীন বাংলার আচার-অনুষ্ঠান, উৎসব ও রীতি-নীতি:
- প্রাচীন বাংলায় পূজা-পার্বণ ও আমোদ-প্রমোদের প্রচুর ব্যবস্থা ছিল।
- উমা অর্থাৎ দুর্গার অর্চনা উপলক্ষে বরেন্দ্রে বিপুল উৎসব হতো।
- প্রাচীন বাংলায় বিজয়া দশমীর দিন 'শাবোরৎসব' নামে একপ্রকার নৃত্যগীতের অনুষ্ঠান হতো।
- হোলাকা বা বর্তমানকালের 'হোলি' ছিল তখন অন্যতম প্রধান উৎসব।
- স্ত্রী-পুরুষ সকলে এতে যোগদান করতো।
- ভাইফোঁটা, আকাশপ্রদীপ, জন্মাষ্টমী, অক্ষয় তৃতীয়া, দশহরা,গঙ্গাস্নান, মহাঅষ্টমীতে ব্রহ্মপুত্রস্নান ইত্যাদি অনুষ্ঠান সেকালেও প্রচলিত ছিল।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা-৯ম-১০ম, শ্রেণি।

৮৪.
জাতীয় শিক্ষানীতি-২০১০ অনুযায়ী প্রাথমিক শিক্ষার মেয়াদ কোন শ্রেণি পর্যন্ত?
  1. ষষ্ঠ শ্রেণি
  2. সপ্তম শ্রেণি
  3. অষ্টম শ্রেণি
  4. দশম শ্রেণি
ব্যাখ্যা

জাতীয় শিক্ষানীতি-২০১০:

• প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা:
- শিশুদের জন্য আনুষ্ঠানিক শিক্ষা শুরু করার আগে শিশুর অন্তর্নিহিত অপার বিস্ময়বোধ, অসীম কৌতুহল, আনন্দবোধ ও অফুরন্ত উদ্যমের মতো সর্বজনীন মানবিক বৃত্তির সুষ্ঠু বিকাশ এবং প্রয়োজনীয় মানসিক ও দৈহিক প্রস্তুতিগ্রহণের পরিবেশ তৈরি করা প্রয়োজন। - কাজেই ৫+ বছর বয়স্ক শিশুদের জন্য প্রাথমিকভাবে এক বছর মেয়াদি প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা চালু করা হবে।
- পরবর্তীকালে তা ৪+ বছর বয়স্ক শিশু পর্যন্ত সম্প্রসারিত করা হবে। 

• প্রাথমিক শিক্ষার মেয়াদ ও বাস্তবায়ন :
- প্রাথমিক শিক্ষার মেয়াদ পাঁচ বছর থেকে বৃদ্ধি করে আট বছর অর্থাৎ অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত সম্প্রসারন করা হবে।
- এটি বাস্তবায়নে দু'টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো অবকাঠামোগত আবশ্যকতা মেটানো এবং প্রয়োজনীয়সংখ্যক উপযুক্ত শিক্ষকের ব্যবস্থা করা

• ২০১১-১২ অর্থ বছর থেকে প্রাথমিক শিক্ষায় ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত চালু করার জন্য অনতিবিলম্বে নিম্নলিখিত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে:
- প্রথম থেকে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত প্রাথমিক শিক্ষার নতুন শিক্ষাক্রম, পাঠ্যপুস্তক এবং শিক্ষক নির্দেশিকা প্রণয়ন করা:
- প্রাথমিক পর্যায়ের সকল শিক্ষকের জন্য শিক্ষাক্রম বিস্তারসহ শিখন-শেখানো কার্যক্রমের ওপর ফলপ্রসূ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা;
- শিক্ষা প্রশাসন ও ব্যবস্থাপনার প্রয়োজনীয় পুনর্বিন্যাস করা।

উৎস: জাতীয় শিক্ষানীতি-২০১০।

৮৫.
তুলার একটি উন্নত জাত হলো-
  1. ক) ডায়মন্ড
  2. খ) রূপালি
  3. গ) সোনালি
  4. ঘ) ইরাটম
ব্যাখ্যা
- রূপালি হলো তুলার একটি জাত।

• তুলার অন্যান্য জাতসমূহের মধ্যে রয়েছে:
- রূপালি-১
- সিভি-১২
- সিভি-১৩
- ডিএম-১
- পাহাড়ি তুলা-১,২ প্রভৃতি।

অন্যদিকে,
- ডায়মন্ড - আলুর জাত
- সোনালি - সরিষার জাত
- ইরাটম - উন্নত জাতের ধান।

তথ্যসূত্র: কৃষি তথ্য সার্ভিস ওয়েবসাইট
৮৬.
১৯৪৭ সালে উপমহাদেশ বিভক্তি কালে পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে নিরূপিত সীমারেখার নাম কী?
  1. ক) ৩৮ অক্ষরেখা
  2. খ) ম্যাকনামারা লাইন
  3. গ) বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত রেখা
  4. ঘ) র‍্যাডক্লিফ লাইন
ব্যাখ্যা
• র‌্যাডক্লিফ লাইন:
- ১৯৪৭ সালে উপমহাদেশের বিভক্তির সময় পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে নিরূপিত সীমারেখা-র‌্যাডক্লিফ লাইন। 
- স্যার সিরিল র‌্যাডক্লিফের নেতৃত্বে একটি কমিশন সীমানা চিহ্নিতকরণের কাজ সমাপ্ত করে ১৯৪৭ সালের ১৭ আগস্ট।
- তাঁর নামানুসারে চার লাখ ৫০ হাজার বর্গকিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এই সীমান্তরেখার নাম হয় 'র‌্যাডক্লিফ লাইন'।
- তাকে কাগজে কলমে ব্রিটিশ শাসিত ভারতকে ভাগ করতে মাত্র পাঁচ সপ্তাহ সময় দেয়া হয়েছিলো।
- সীমানা নির্ধারণের ত্রুটির কারণে দুই দেশের মোট ১৬২টি ছিটমহলের অধিবাসী গৃহবন্দি অবস্থায় পড়ে যায়।
- এর মধ্যে বাংলাদেশ সীমানার মধ্যে ভারতের ছিটমহল রয়েছে ১১১টি, যার মোট ভূমির পরিমাণ ১৭ হাজার একর; আর ভারতের অভ্যন্তরে বাংলাদেশের ছিটমহল রয়েছে ৫১টি, যার ভূমির পরিমাণ প্রায় ১০ হাজার একর। 
- ব্রিটিশ শাসিত ভারতকে ভাগ করার জন্য পুরস্কার স্বরুপ দেশে ফিরে তিনি ব্রিটিশ সরকারের কাছ থেকে নাইট উপাধি পান।

উৎস: বি্বিসি বাংলা নিউজ এবং কালেরকন্ঠ পত্রিকা রিপোর্ট, বাংলাপিডিয়া।
৮৭.
আন্তর্জাতিক উদরাময় রোগ গবেষণা কেন্দ্রের বাংলাদেশ সদর দপ্তর কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) আগারগাঁও, ঢাকা
  2. খ) মহাখালীতে, ঢাকা
  3. গ) মিরপুর, ঢাকা
  4. ঘ) কেরানীগঞ্জ, ঢাকা
ব্যাখ্যা
• ICDDR,B:
- ICDDR,B এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার হলো -  ওরস্যালাইন।
- আইসিডিডিআর.বি (ICDDR,B/আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ) ঢাকা শহরের মহাখালীতে অবস্থিত চিকিৎসাবিষয়ক গবেষণা এবং সেবা প্রদানকারী আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান।
- আনুষ্ঠানিকভাবে এটির আন্তর্জাতিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ১৯৭৯ সালে।
- ICDDR,B এর পূর্ণরূপ হচ্ছে (International Centre for Diarrhoeal Disease Research, Bangladesh).
-  ICDDR,B এর সদর দপ্তর ঢাকার মহাখালীতে অবস্থিত।

উৎস:  আইসিডিডিআরবি এর ওয়েবসাইট এবং বাংলাপিডিয়া।
৮৮.
বাংলাদেশের সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে 'রাষ্ট্রপতি-পদের মেয়াদ' এর উল্লেখ রয়েছে?
  1. অনুচ্ছেদ ৫০
  2. অনুচ্ছেদ ৫১
  3. অনুচ্ছেদ ৫২
  4. অনুচ্ছেদ ৫৩
ব্যাখ্যা
অনুচ্ছেদ:
- অনুচ্ছেদ ৫০ - রাষ্ট্রপতি-পদের মেয়াদ।
- অনুচ্ছেদ ৫১ - রাষ্ট্রপতির দায়মুক্তি।
- অনুচ্ছেদে ৫২ - রাষ্ট্রপতির অভিশংসনের বিষয়টি সংবিধানে উল্লেখ করা হয়েছে।
- অনুচ্ছেদ ৫৩ - অসামর্থ্যের কারণে রাষ্ট্রপতির অপসারণ।
- অনুচ্ছেদ ৫৪ - অনুপস্থিতি প্রভৃতির-কালে রাষ্ট্রপতি-পদে স্পীকার।
- অনুচ্ছেদ ৫৫ - মন্ত্রিসভা।
- অনুচ্ছেদ ৫৬ - মন্ত্রিগণ।
- অনুচ্ছেদ ৫৭ - প্রধানমন্ত্রীর পদের মেয়াদ।
- অনুচ্ছেদ ৫৮ - অন্যান্য মন্ত্রীর পদের মেয়াদ।
- অনুচ্ছেদ ৫৯ - স্থানীয় শাসন।
- অনুচ্ছেদ ৬০ - স্থানীয় শাসন-সংক্রান্ত প্রতিষ্ঠানের ক্ষমতা।
- অনুচ্ছেদ ৬১ - সর্বাধিনায়কতা।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান।
৮৯.
বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট ম্যাচে অধিনায়ক কে ছিলেন?
  1. গাজী আশরাফ হোসেন
  2. নাইমুর রহমান দুর্জয়
  3. আকরাম খান
  4. আমিনুল ইসলাম বুলবুল
ব্যাখ্যা

টেস্টে প্রথম:
- প্রথম টেস্ট ম্যাচে বাংলাদেশের অধিনায়ক ছিলেন নাইমুর রহমান দুর্জয়।
- ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশ প্রথম টেস্ট ম্যাচ খেলে।
- বাংলাদেশ প্রথম টেস্ট ম্যাচ জয় পায় জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে।
- প্রথম টেস্ট উইকেট শিকার করেছেন নাইমুর রহমান।
- প্রথম হাফ সেঞ্চুরি করেন হাবিবুল বাশার।
- প্রথম সেঞ্চুরি করেন আমিনুল ইসলাম বুলবুল।
- প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি: মুশফিকুর রহিম।
- প্রথম ৫ উইকেট শিকার করেন নাইমুর রহমান।
- প্রথম ১০০ উইকেট মোহাম্মদ রফিকের।
- প্রথম ব্যক্তিগত হাজার রান সংগ্রাহক হাবিবুল বাশার।
- একমাত্র ১০ উইকেট’ শিকার করেন এনামুল হক জুনিয়র।

তথ্যসূত্র - ক্রিক ইনফো ওয়েবসাইট ও দৈনিক প্রথম আলো, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮।

৯০.
সংবিধান অনুসারে অধ্যাদেশ জারি করতে পারেন কে?
  1. স্পিকার
  2. রাষ্ট্রপতি
  3. প্রধানমন্ত্রী
  4. জাতীয় সংসদ
ব্যাখ্যা
- সংসদ ভেঙে যাওয়া অবস্থায় এবং সংসদ অধিবেশনকাল ব্যতীত সময়ে জরুরি প্রয়োজনে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক আইনের ন্যায় কার্যকর যে আদেশ জারি করেন তা ‘অধ্যাদেশ’ নামে পরিচিত।
- বাংলাদেশ সংবিধানের ৯৩ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি অধ্যাদেশ জারি করে থাকেন।
- এই অধ্যাদেশ জারির পরবর্তীতে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে অধ্যাদেশটি উপস্থাপন করতে হয় এবং উপস্থাপনের ৩০ দিনের মধ্যে সংসদ এটি অনুমোদন না করলে ৩০ দিন পর এই অধ্যাদেশ অকার্যকর হয়ে যায়।
(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ সংবিধান)
৯১.
কার উদ্যোগে বেঙ্গল প্যাক্ট সম্পাদিত হয়?
  1. ক) শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী
  2. খ) চিত্তরঞ্জন দাশ
  3. গ) সুভাষচন্দ্র বসু
  4. ঘ) চিত্তরঞ্জন দত্ত
ব্যাখ্যা
- সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও ঐক্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ১৯২৩ সালের ডিসেম্বরে বাংলার হিন্দু ও মুসলিম নেতাদের মধ্যে ‘বেঙ্গল প্যাক্ট’ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
- এ চুক্তি সম্পাদনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাস
- মুসলমানদের পক্ষে আব্দুল করিম, মুজিবুর রহমান, আকরম খাঁ, মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী, শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী প্রমুখ প্রতিনিধিত্ব করেন।
- ১৯২৫ সালে চিত্তরঞ্জন দাসের মৃত্যু হলে বেঙ্গল প্যাক্ট তার গুরুত্ব হারায়।

(তথ্যসূত্রঃ বাংলাপিডিয়া)
৯২.
মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় বাহিনী মিলে ‘যৌথ কমান্ড’ গঠন করে কত তারিখে?
  1. ১৯৭১ সালের ২৫শে নভেম্বর
  2. ১৯৭১ সালের ২১শে মার্চ
  3. ১৯৭১ সালের ২০শে নভেম্বর
  4. ১৯৭১ সালের ২১শে নভেম্বর
ব্যাখ্যা
• মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় বাহিনী মিলে ‘যৌথ কমান্ড’ গঠন করে ১৯৭১ সালের ২১শে নভেম্বর। 

- বিশ্ব ইতিহাসে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ খুবই তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা ।
- বাংলাদেশ হচ্ছে তৃতীয় বিশ্বের মধ্যে প্রথম দেশ, যে দেশ সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জন করেছে।
- মুক্তিযুদ্ধের শুরু থেকেই ভারত আমাদের নানাভাবে সাহায্য-সহযোগিতা করেছে।
- বিশেষভাবে ১৯৭১ সালের ২১শে নভেম্বর মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় বাহিনী মিলে ‘যৌথ কমান্ড’ গঠন ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।
- পাকিস্তান ৩রা ডিসেম্বর ভারত আক্রমণ করলে যুদ্ধের তীব্রতা বৃদ্ধি পায়।
- ৬-১৬ই ডিসেম্বর মুক্তিবাহিনীর সঙ্গে ভারতের সেনা, নৌ, বিমানবাহিনীও পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধে যোগ দেয় ৷

সূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা ৯ম-১০ম শেণি। 
৯৩.
ছয়দফার পঞ্চম দফাটি কী ছিল? 
  1. প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন
  2. বৈদেশিক বাণিজ্য বিষয়ক ক্ষমতা
  3. কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা
  4. আঞ্চলিক সেনাবাহিনী গঠনের ক্ষমতা
ব্যাখ্যা
ছয় দফা:

•দফা গুলো হলো:-
- প্রথম দফা: প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন,
- দ্বিতীয় দফা: কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা,
- তৃতীয় দফা: মুদ্রা বা অর্থ-সম্বন্ধীয় ক্ষমতা,
- চতুর্থ দফা: রাজস্ব, কর বা শুল্ক সম্বন্ধীয় ক্ষমতা,
- পঞ্চম দফা: বৈদেশিক বাণিজ্য বিষয়ক ক্ষমতা এবং
- ষষ্ঠ দফা: আঞ্চলিক সেনাবাহিনী গঠনের ক্ষমতা।

পঞ্চম দফায় বৈদেশিক বাণিজ্য ব্যাপারে শাসনতান্ত্রিক বিধানের সুপারিশ করা হয়- 
১. দুই অঞ্চলের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের পৃথক পৃথক হিসাব রাখিতে হইবে।
২. পূর্ব পাকিস্তানের অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রা পূর্ব পাকিস্তানের এখতিয়ার এবং পশ্চিম পাকিস্তানের অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রা পশ্চিম পাকিস্তানের এখতিয়ারে থাকিবে।
৩. ফেডারেশনের প্রয়োজনীয় বিদেশী মুদ্রা দুই অঞ্চল হইতে সমানভাবে অথবা শাসনতন্ত্রে নির্ধারিত হারাহারি মতে আদায় হইবে।
৪. দেশজাত দ্রব্যাদি বিনাশুল্কে উভয় অঞ্চলের মধ্যে আমদানি রফতানি চলিবে।
৫. ব্যবসায়-বাণিজ্য সম্বন্ধে বিদেশের সঙ্গে চুক্তি সম্পাদনের, বিদেশে ট্রেড মিশন স্থাপনের এবং আমদানি-রফতানি করিবার অধিকার আঞ্চলিক সরকারের হাতে ন্যস্ত করিয়া শাসনতান্ত্রিক বিধান করিতে হইবে।


উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৪.
বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের সিংহভাগ আসে কোন খাত থেকে?
  1. চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য
  2. তৈরি পোশাক
  3. কৃষিপণ্য
  4. পাট ও পাটজাত পণ্য
ব্যাখ্যা
২০২০-২০২১ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট রপ্তানির পরিমাণ ৩৮.৭৫৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
রপ্তানি আয়ে বিভিন্ন পণ্যের অবদান:
- প্রথম : তৈরি পোশাক (৩১.৪৫ বিলিয়ন ডলার)
- দ্বিতীয় : পাট ও পাটজাত পণ্য (১১৬১.৪৮ মিলিয়ন ডলার)
- তৃতীয় : কৃষিপণ্য (১০২৮.১৪ মিলিয়ন ডলার)
- চতুর্থ : চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য (৯৪১.৬৭ মিলিয়ন ডলার)।

(তথ্যসূত্র: রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো ওয়েবসাইট)
৯৫.
বিজিবির সদর দপ্তর কোথায় অবস্থিত?
  1. টুঙ্গিপাড়া
  2. পিলখানা
  3. কাশিমপুর
  4. মিরপুর
ব্যাখ্যা
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ 
- বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) বীরত্ব ও ঐতিহ্যের গৌরবমন্ডিত এক সুশৃঙ্খল আধা-সামরিক বাহিনী।
- বাংলাদেশের সীমান্ত সুরক্ষা, চোরাচালান প্রতিরোধ, নারী ও শিশু এবং মাদক পাচার প্রতিরোধসহ অভ্যন্তরীণ শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার কাজে বিজিবি 'অতন্দ্র প্রহরী'র দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে।
- বিজিবির সদর দপ্তর পিলখানায়। 
- ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি ঘটেছিল বিডিআর বিদ্রোহ।
-  ঢাকার পিলখানায় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদরদপ্তরে বিদ্রোহের ঘটনায় ৫৭ সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জন নিহত হন।
- দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোড়ন তোলে ওই ঘটনা। 
- বিডিআরের দরবার হল থেকে সূচনা হওয়া ওই বিদ্রোহের ইতি ঘটে নানা ঘটন-অঘটনের মধ্য দিয়ে পরদিন।
- সেই বিদ্রোহের পর সীমান্ত রক্ষা বাহিনী বিডিআরের নাম বদলে যায়, পরিবর্তন আসে পোশাকেও।
- এ বাহিনীর নাম এখন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বা বিজিবি।

উৎস: বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ এর ওয়েবসাইট।  
৯৬.
বর্তমানে বাংলাদেশে বসবাসকারী উপজাতির সংখ্যা-
  1. ক) ৪৭টি
  2. খ) ৪৮টি
  3. গ) ৪৯টি
  4. ঘ) ৫০টি
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশে বসবাসকারী উপজাতির সংখ্যা- ৫০ টি। তবে আদিবাসী ফোরামের মতে ৪৫টি এবং আদমশুমারি-২০১১ অনুসারে ২৭টি। বর্তমানে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান আইন, ২০১০ এর ধারা ১৯ এর প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সরকার ১৯ মার্চ ২০১৯ সালে উক্ত আইনের তফসিলে ২৭টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর স্থলে ৫০ টি গেজেট আকারে প্রকাশ করে।
৯৭.
সম্প্রতি [ফেব্রুয়ারি, ২০২৫], ‘পাসপোর্ট প্রদানের ক্ষেত্রে পুলিশ ভেরিফিকেশনের প্রয়োজনীয়তা শিথিলকরণ’ সংক্রান্ত পরিপত্র জারি করেছে-
  1. পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
  2. স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
  3. জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়
  4. আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়
ব্যাখ্যা
'পুলিশ ভেরিফিকেশন শিথিলকরণ' পরিপত্র:
- ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ তারিখে ‘পাসপোর্ট প্রদানের ক্ষেত্রে পুলিশ ভেরিফিকেশনের প্রয়োজনীয়তা শিথিলকরণ’ পরিপত্র জারি করা হয়।
- স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগ কর্তৃক এই পরিপত্র জারি করা হয়।
- এতে বলা হয়েছে, জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যের (এনআইডি) ভিত্তিতে আবেদনকারীকে পাসপোর্ট দেবে সরকার।
- পরিপত্রে আরও বলা হয়েছে, বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিক এবং অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য পাসপোর্টের নতুন আবেদনের ক্ষেত্রে অনলাইনে যাচাইকৃত জন্মনিবন্ধন সনদের তথ্যের ভিত্তিতে আবেদনকারীকে পুলিশ ভেরিফিকেশন ছাড়াই পাসপোর্ট দেওয়া হবে।
- পাসপোর্ট পুনঃ ইস্যুর ক্ষেত্রে বিদ্যমান পাসপোর্টের সঙ্গে মৌলিক তথ্যের পরিবর্তন হলে জাতীয় পরিচয়পত্রে প্রদত্ত তথ্য দিয়ে পাসপোর্ট ইস্যু করা যাবে।

উল্লেখ্য,
- পরিপত্র জারির আগে জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পাসপোর্ট করার ক্ষেত্রে পুলিশ ভেরিফিকেশনের বিধান বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছিলেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
- আবেদনকারীর ভোগান্তি কমানোর পাশাপাশি যথাসময়ে পাসপোর্টপ্রাপ্তি নিশ্চিত করতে অন্তর্বর্তী সরকার পুলিশ ভেরিফিকেশন ব্যবস্থা তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

তথ্যসূত্র- স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট। [Link]
৯৮.
শৈত্য বেশী হলে ফলন বৃদ্ধি পায় কোন ফসলের?
  1. ক) ধান
  2. খ) পাট
  3. গ) গোল আলু
  4. ঘ) আখ
ব্যাখ্যা
শৈত্য সহিষ্ণু ফসল
• বাংলাদেশে নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত শীতকাল। শীতকালে দেশের চরম সর্বনিম্ন তাপমাত্রা জানুয়ারি বা
ফেব্রুয়ারি মাসে হয়ে থাকে।
• শীতকালে সর্বোচ্চ তাপমাত্রার গড় ২৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে ২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রার গড় ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস হয়ে থাকে।
• আমাদের দেশে শৈত্য বেশি পড়লে এবং শৈত্যতা দীর্ঘস্থায়ী হলে শীতকালীন ফসল, যেমন - গোলআলু ও গমের ফলন ভালো হয়।

তথ্যসূত্র:- কৃষি শিক্ষা, এস এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৯.
৩৯ নং অনুচ্ছেদে বর্ণনা করা হয়েছে-
  1. ক) সমাবেশের স্বাধীনতা
  2. খ) সংগঠনের স্বাধীনতা
  3. গ) চলাফেরার স্বাধীনতা
  4. ঘ) চিন্তা, বিবেক ও বাক স্বাধীনতা
ব্যাখ্যা
সংবিধানের ৩৯ নং অনুচ্ছেদে চিন্তা ও বিবেক এবং বাক স্বাধীনতার কথা বলা হয়েছে। ৩৯ (২) (খ) উপ-দফায় সংবাদপত্রের স্বাধীনতার কথা বলা হয়েছে। সংবিধানের ৩৬, ৩৭ এবং ৩৮ নং অনুচ্ছেদে যথাক্রমে চলাফেরা, সমাবেশ এবং সংগঠনের স্বাধীনতা বিবৃত করা হয়েছে। (সূত্রঃ বাংলাদেশ সংবিধান)
১০০.
তমুদ্দিন মজলিসের উদ্যোগে গঠিত প্রথম রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ এর আহবায়ক ছিলেন-
  1. অধ্যাপক আবুল কাশেম
  2. অধ্যাপক নুরুল হক ভূইয়া
  3. কাজী গোলাম মাহবুব
  4. ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ
ব্যাখ্যা

 ভাষা আন্দোলন:
• ১৯৪৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর:
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক আবুল কাশেমের উদ্যোগে ভাষা আন্দোলনের প্রথম সংগঠন তমদ্দুন মজলিস প্রতিষ্ঠিত হয়। এটি আন্দোলনের ভিত্তি স্থাপন করে।

• ১৯৪৭ সালের ডিসেম্বর:
- তমদ্দুন মজলিসের উদ্যোগে গঠিত প্রথম রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ-এর আহ্বায়ক হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নুরুল হক ভূঞা।
- এটি আন্দোলনের প্রথম সংগঠিত পদক্ষেপ।

• ১৯৪৮ সালের ফেব্রুয়ারি:
- রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের পুনর্গঠন (দ্বিতীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ) হলে এর আহ্বায়ক মনোনীত হন শামসুল আলম।
- এই পুনর্গঠন আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করে।

• ১৯৫২ সালের ৩১ জানুয়ারি:
- (স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র অনুসারে) মাওলানা ভাসানীর সভাপতিত্বে একটি গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হয়, যা আন্দোলনের চূড়ান্ত পর্যায়ের সূচনা করে।

• ১৯৫২ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি:
- বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক দলের সর্বদলীয় সভায় কাজী গোলাম মাহবুবকে আহ্বায়ক করে সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়। আওয়ামী মুসলিম লীগের কার্যালয়ে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়, যাতে আবদুল মতিন, অলি আহাদ, গোলাম মাহবুব প্রমুখের জোরালো ভূমিকা ছিল।

• ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি:
- আমতলার ছাত্রসভায় সভাপতিত্ব করেন গাজীউল হক। এই সভায় সরকারের ঘোষিত ১৪৪ ধারা ভঙ্গের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়, যা ভাষা শহীদদের রক্তাক্ত সংগ্রামের সূচনা করে।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা , নবম-দশম শ্রেণী, বাংলাপিডিয়া।