বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

মানবদেহ ও শারীরতত্ত্ব

মোট প্রশ্ন৮১৫এই পাতা১২প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

মানবদেহ ও শারীরতত্ত্ব

PrepBank · পাতা / · ৮০১৮১২ / ৮১৫

৮০১.
নিচের কোনটি শ্বেত রক্তকনিকার অংশ নয়?
  1. মনোসাইট
  2. বেসোফিল
  3. নিউট্রোফিল
  4. ক্রিয়েটিনিন
সঠিক উত্তর:
ক্রিয়েটিনিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্রিয়েটিনিন
ব্যাখ্যা
রক্ত:
- রক্ত এক ধরনের লাল বর্ণের তরল যোজক কলা।
- রক্তবাহিকার মাধ্যমে রক্ত মানব দেহের সর্বত্র সঞ্চালিত হয়।
- রক্ত সামান্য ক্ষারীয়।
- এর pH মাত্রা গড়ে ৭.৩-৭.৪।
- সজীব রক্তের তাপমাত্রা ৩৬° - ৩৮° সেলসিয়াস।
- অজৈব লবণের উপস্থিতিতে রক্ত লবণাক্ত।
- একজন পূর্ণাঙ্গ মানুষের দেহে গড়ে প্রায় ৫-৬ লিটার রক্ত থাকে, শরীরের মোট ওজনের প্রায় ৮%।

রক্তের উপাদান:
- মানব দেহের রক্ত প্রধানতঃ রক্তরস ও রক্ত কণিকা নিয়ে গঠিত।
- স্থিতি অবস্থায় কিছুক্ষণ রাখলে রক্ত দুই স্তরে বিভক্ত হয়ে পড়ে।
- উপরের হালকা হলুদ বর্ণের প্রায় ৫৫% যে অংশ থাকে তাকে রক্তরস বা প্লাজমা বলে এবং নিচের গাঢ়তর বাকি ৪৫% অংশকে রক্ত কণিকা (Blood corpuscles) বলে।
- প্রকৃতপক্ষে রক্ত কণিকাগুলো রক্ত রসে ভাসমান অবস্থায় থাকে এবং লোহিত রক্ত কণিকার উপস্থিতিতে রক্ত লাল দেখায়।


- শ্বেতকণিকার ধরনগুলো হলো দানাদার কোষ (নিউট্রোফিল, ইওসিনোফিল, বেসোফিল) ও অদানাদার কোষ (মনোসাইট ও লিম্ফোসাইট)।

অন্যদিকে,
- ক্রিয়েটিনিন রক্তরস বা প্লাজমার অংশ। 

তথ্যসূত্র - প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮০২.
রেটিনার প্রধান কাজ কী? 
  1. রক্ত সরবরাহ করা
  2. চোখকে আর্দ্র রাখা
  3. বস্তুর প্রতিবিম্ব তৈরি করা
  4. আলোর প্রতিফলন ঘটানো
সঠিক উত্তর:
বস্তুর প্রতিবিম্ব তৈরি করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বস্তুর প্রতিবিম্ব তৈরি করা
ব্যাখ্যা
রেটিনা (Retina): 
- চক্ষু গোলকের সবচেয়ে ভেতরের স্তর রেটিনা। 
- এ স্তরটি আলোক সংবেদী। 
- এতে আলোক সংবেদী কোষ (Photoreceptor) থাকে। 
- আলোক সংবেদী কোষগুলো রড ও কোণ কোষ নিয়ে গঠিত। 
- চোখে রড কোষের সংখ্যা প্রায় সত্তর লক্ষ। 
- কোণ কোষগুলো উজ্জ্বল আলোতে রঙিন বস্তু দর্শনের জন্য উপযোগী। 
- রড কোষগুলো অনুজ্জ্বল আলোতে দর্শনের উপযোগী। 
- রেটিনাতে বস্তুর প্রতিবিম্ব তৈরি হয়। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮০৩.
লিউকেমিয়ায় কোন রক্ত কণিকার সংখ্যা অত্যধিক হয়? 
  1. লোহিত রক্ত কণিকা 
  2. প্লাজমা 
  3. অনুচক্রিকা 
  4. শ্বেত রক্ত কণিকা 
সঠিক উত্তর:
শ্বেত রক্ত কণিকা 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শ্বেত রক্ত কণিকা 
ব্যাখ্যা

রক্ত ও এর অস্বাভাবিক অবস্থা: 
- রক্ত হলো প্রাণীদেহের একটি লাল বর্ণের, অস্বচ্ছ, লবণাক্ত এবং সামান্য ক্ষারধর্মী তরল যোজক টিস্যু। 
- একজন পূর্ণবয়স্ক সুস্থ মানুষের দেহে প্রায় ৫-৬ লিটার রক্ত থাকে, যা শরীরের মোট ওজনের প্রায় ৮%। 
- মানুষের রক্ত লোহিত রক্ত কণিকার উপস্থিতির কারণে লাল রঙের হয়। 
- রক্তের বিভিন্ন উপাদানের ভারসাম্য বিঘ্নিত হলে রক্তের অস্বাভাবিক অবস্থা তৈরি হয়। 

রক্তের বিভিন্ন অস্বাভাবিক অবস্থা: 
১। অ্যানিমিয়া: 
- লোহিত রক্ত কণিকার সংখ্যা বা হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ স্বাভাবিকের তুলনায় কমে গেলে অ্যানিমিয়া হয়। 

২। থ্যালাসেমিয়া: 
- থ্যালাসেমিয়া হলো বংশগত রক্তের রোগ, যা সাধারণত শিশু অবস্থায় শনাক্ত হয়। 
- এ রোগে হিমোগ্লোবিনের গঠনগত ত্রুটির কারণে লোহিত রক্ত কণিকা ভেঙে যায়, ফলে রক্তশূন্যতা সৃষ্টি হয়। 
- রোগীকে সাধারণত প্রতি ৩ মাস অন্তর রক্ত সঞ্চালন করতে হয়, তবে বয়স বাড়ার সাথে সাথে রক্তশূন্যতার হার কমতে পারে। 

৩। লিউকেমিয়া: 
- শ্বেত রক্ত কণিকার সংখ্যা অত্যধিক হারে বেড়ে গেলে (৫০,০০০-১,০০০,০০০) একে লিউকেমিয়া বা ব্লাড ক্যান্সার বলা হয়। 

৪। লিউকোসাইটোসিস: 
- শ্বেত রক্ত কণিকার সংখ্যা ২০,০০০-৩০,০০০ হলে একে লিউকোসাইটোসিস বলা হয়। 
- নিউমোনিয়া, হুপিং কাশি ইত্যাদি রোগে এটি হতে পারে। 

৫। পলিসাইথেমিয়া: 
- লোহিত রক্ত কণিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় বৃদ্ধি পেলে একে পলিসাইথেমিয়া বলে। 

৬। থ্রম্বোসাইটোসিস: 
- অনুচক্রিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় বেড়ে গেলে একে থ্রম্বোসাইটোসিস বলা হয়। 
- রক্তনালির অভ্যন্তরে রক্ত জমাট বাঁধাকে থ্রম্বোসিস বলা হয়। 
- হৃৎপিণ্ডের করোনারি রক্তনালিতে রক্ত জমাট বাঁধলে তাকে করোনারি থ্রম্বোসিস এবং মস্তিষ্কের রক্তনালিতে রক্ত জমাট বাঁধলে তাকে সেরিব্রাল থ্রম্বোসিস বলে। 

৭। পারপুরা: 
- অনুচক্রিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় কমে গেলে পারপুরা হয়। 
- ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হলে এ অবস্থা দেখা দিতে পারে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৮০৪.
পূর্ণবয়স্কদের স্বাভাবিক রক্তচাপ কত হয়?
  1. ৯০/৬০ mmHg
  2. ১২০/৫০ mmHg
  3. ১২০/৮০ mmHg
  4. ১৬০/১১০ mmHg
সঠিক উত্তর:
১২০/৮০ mmHg
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১২০/৮০ mmHg
ব্যাখ্যা
• পূর্ণবয়স্কদের স্বাভাবিক রক্তচাপ ১২০/৮০ mmHg। 

• রক্তচাপ (Blood Pressure):
- রক্তপ্রবাহের সময় ধমনির গায়ে যে চাপ সৃষ্টি হয়, তাকে রক্তচাপ বলে।

• হৃৎপিণ্ডের সংকোচন বা সিস্টোল অবস্থায় ধমনির গায়ে রক্তচাপের মাত্রা সর্বাধিক থাকে। একে সিস্টোলিক চাপ (Systolic Pressure) বলে।
-  হৃৎপিন্ডের (প্রকৃতপক্ষে নিলয়ের) প্রসারণ বা ডায়াস্টোল অবস্থায় রক্তচাপ সবচেয়ে কম থাকে। একে ডায়াস্টোলিক চাপ (Diastolic Pressure) বলে।

• চিকিৎসকদের মতে, পরিণত বয়সে একজন মানুষের আদর্শ রক্তচাপ (Blood pressure) সাধারণত ১২০/৮০ mmHg |
- রক্তের সিস্টোলিক (Systolic) চাপের আদর্শ মান ১২০ mmHg এর নিচে।
- রক্তের ডায়াস্টোলিক (Diastolic) চাপের আদর্শ মান ৮০ mmHg এর নিচে।

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
৮০৫.
এপিলেপসি রোগের আরেকটি পরিচিত নাম কী?
  1. স্ট্রোক
  2. ব্রঙ্কাইটিস
  3. মৃগী রোগ
  4. পক্ষাঘাত
সঠিক উত্তর:
মৃগী রোগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মৃগী রোগ
ব্যাখ্যা
এপিলেপসি (Epilepsy): 
- এপিলেপসি মস্তিষ্কের একটি রোগ, যাতে আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরে খিঁচুনি বা কাঁপুনি দিতে থাকে। 
- অনেক ক্ষেত্রে এই রোগে রোগীরা অজ্ঞান হয়ে পড়ে, এই রোগকে মৃগী রোগও বলা হয়। 
- অনেক ক্ষেত্রে এই রোগের কারণে আক্রান্ত ব্যক্তি হঠাৎ করেই সাময়িকভাবে কার্যক্ষমতা হারিয়ে ফেলে, শরীর কাঁপুনি ও খিঁচুনি দিতে দিতে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। 
- আগুন বা পানির সাথে এপিলেপসির লক্ষণ প্রকাশ পাওয়ার কোনো সম্পর্ক নেই। কিন্তু রোগাক্রান্ত অবস্থায় কোথাও পড়ে গেলে রোগী নিজ শক্তিতে উঠতে পারে না। এই কারণে এসব রোগীকে জলাশয় বা আগুন কিংবা অন্যান্য বিপজ্জনক বস্তু বা স্থান থেকে দূরে রাখতে হয়। 

- এপিলেপসির মূল কারণ এখনও সম্পূর্ণভাবে জানা যায়নি। 
- স্ট্রোকে আক্রান্ত রোগীদের মৃগী রোগ দেখা দেয়। 
- মাথায় আঘাতের কারণে ম্যানিনজাইটিস, এনসেফালাইটিস, জন্মগত মস্তিষ্কের বিকৃতি, টিউমার ইত্যাদি কারণেও এপিলেপসির উপসর্গ দেখা দেয়। 
- এপিলেপসি যেকোনো বয়সে হতে পারে। 
- কোনো কোনো এপিলেপসির কোনো দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতিকর প্রভাব নেই, আবার কোনোটা মস্তিষ্কের স্থায়ী ক্ষতি করতে পারে। 
- তাই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে এপিলেপসির ধরন নির্ণয় করে সেই অনুযায়ী চিকিৎসা করা প্রয়োজন। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৮০৬.
ত্বকের স্তর-
  1. ক) ১ টি
  2. খ) ২ টি
  3. গ) ৪ টি
  4. ঘ) ৭ টি
সঠিক উত্তর:
খ) ২ টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ২ টি
ব্যাখ্যা
ত্বকের দুইটি স্তর। অন্তঃত্বক এবং বহিঃত্বক।
উৎসঃ ষষ্ঠ শ্রেণীর বিজ্ঞান বোর্ড বই
৮০৭.
খাদ্যবস্তুকে পিচ্ছিল ও গিলতে সাহায্য করে কোনটি?
  1. এনজাইম
  2. মলটোজ
  3. মিউসিন
  4. ট্রিপসিন
সঠিক উত্তর:
মিউসিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মিউসিন
ব্যাখ্যা
লালা: 
- লালা একপ্রকার বর্ণহীন তরল পদার্থ।
- মুখের পেছনে অবস্থিত লালাগ্রন্থি থেকে লালা নিঃসৃত হয়।
- খাদ্য পরিপাকে লালার বিশেষ ভূমিকা আছে।
- লালাগ্রন্থি থেকে নিঃসৃত মিউসিন খাদ্যবস্তুকে পিচ্ছিল করে ও গিলতে সাহায্য করে
- লালায় এক ধরনের অনুঘটক বা এনজাইম থাকে।

এনজাইম: 
- এনজাইম হলো এমন একটি বস্তু, যা খাদ্যবস্তুর সাথে মিশে রাসায়নিক ক্রিয়ায় সাহায্য করে, কিন্তু ক্রিয়া-বিক্রিয়া শেষে নিজে অপরিবর্তিত থাকে। 
- নির্দিষ্ট তাপমাত্রা পর্যন্ত এনজাইম ভাল কাজ করে। 
• নির্দিষ্ট এনজাইম নির্দিষ্ট কাজ করে। 
যেমন- ট্রিপসিন এনজাইম শুধুমাত্র আমিষের উপর ক্রিয়া করে। 
- লালার এনজাইম শ্বেতসারকে পরিবর্তন করে শর্করায় (মলটোজ) পরিণত করে, এ কারণে শর্করা জাতীয় খাবার চিবানোর পর কিছুক্ষণ মুখে রাখলে মিষ্টি লাগে। 
- জিহ্বা খাদ্যবস্তু গিলতে সাহায্য করে। 
- মুখের শেষ প্রান্ত থেকে দুটি নল দেহের ভিতরের দিকে নেমে গেছে, এদের একটি অন্ননালী ও অন্যটি শ্বাসনালি। 
- শ্বাসনালির পেছনে নলের মতো অংশটিকে অন্ননালী বলে। এই নালি দিয়ে খাদ্য ও পানীয় পাকস্থলিতে পৌঁছায়। 

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।
৮০৮.
কোন অঙ্গাণুকে দেহের চালক বলা হয়?
  1. কান
  2. নাক
  3. চোখ
  4. মস্তিষ্ক
সঠিক উত্তর:
মস্তিষ্ক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মস্তিষ্ক
ব্যাখ্যা
সংবেদি অঙ্গ: 
- দেহের চালক হচ্ছে মস্তিষ্ক। 
- মস্তিষ্ককে মগজ বলা হয়, দেহের সব কাজই চলছে মস্তিষ্কের হুকুমে। 
- মস্তিষ্ক থাকে মাথার খুলির মধ্যে, খুলির মাঝখানে বসেই দেহের বাইরের ও ভিতরের কাজকর্ম চালায়। 
- চোখ, কান, নাক, ত্বক ও জিহ্বা বাইরের সকল খবরা-খবর জোগাড় করে মস্তিষ্ককে জানিয়ে দেয়। 

কান বা কর্ণ: 
- কান না থাকলে মানুষ শুনতে পেত না, কারণ কথা বলা শিখতে হয় শুনে শুনে। 
- মাথার দুই পাশে দুটো কান বা কর্ণ আছে। 
- কর্ণ বা কান শুনতে ও দেহের ভারসাম্য রক্ষার প্রধান অঙ্গ হিসেবেও কাজ করে। 
- কান তিনটি অংশে বিভক্ত। 
যথা- 
১। বহিঃকর্ণ: 
- পিনা, কর্ণকুহর ও কর্ণপটহ নিয়ে বহিঃকর্ণ গঠিত। 
(ক) পিনা: 
- এটি কানের বাইরের অংশ, মাংস ও কোমলাস্থি দিয়ে গঠিত। 
- শব্দ কর্ণকুহরে পাঠানো এর প্রধান কাজ। 
(খ) কর্ণকুহর: 
- পিনা একটি নালির সাথে যুক্ত, এ নালিটিকে কর্ণকুহর বলে। 
(গ) কর্ণপটহ: 
- কর্ণকুহর শেষ হয়েছে একটা পর্দায়, এ পর্দাটির নাম কর্ণপটহ বা টিমপেনিক পর্দা। 
- কর্ণপটহ বহিঃকর্ণের শেষ অংশ। 

২। মধ্যকর্ণ: 
- বহিঃকর্ণ ও অন্তঃকর্ণের মাঝখানে মধ্যকর্ণ অবস্থিত। 
- এটা একটা বায়ুপূর্ণ থলি যার মধ্যে ম্যালিয়াস, ইনকাস ও স্টেপিস নামে তিনটি ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র হাড় বা অস্থি রয়েছে। 
- অস্থিসমূহের মাধ্যমে শব্দ তরঙ্গ বা ঢেউ অন্তঃকর্ণে পৌঁছায়। 
- কানের সাথে গলার সংযোগের জন্য ইউস্টেশিয়ান টিউব নামে একটি নল আছে, এ নলটির কাজ হলো কর্ণপটহের বাইরের ও ভেতরের বায়ুর চাপ সমান রাখা। 

৩। অন্তঃকর্ণ: 
- এটি অডিটরি ক্যাপসুল অস্থির মধ্যে অবস্থিত। অন্তঃকর্ণ দুটি প্রধান প্রকোষ্ঠে বিভক্ত। 
(ক) ইউট্রিকুলাস ও (খ) স্যাকুলাস। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।
৮০৯.
কোন রক্তের গ্রুপকে সর্বজনীন দাতা বলা হয়?
  1. ক) ও পজেটিভ
  2. খ) এবি পজেটিভ
  3. গ) ও নেগেটিভ
  4. ঘ) এবি নেগেটিভ
সঠিক উত্তর:
গ) ও নেগেটিভ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ও নেগেটিভ
ব্যাখ্যা
 
ও নেগেটিভ - সর্বজনীন দাতা গ্রুপ।
এবি পজেটিভ - সর্বজনীন গ্রহীতা গ্রুপ।
সূত্রঃ www.thebloodcenter.org
৮১০.
দেহের রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে -
  1. হিমোগ্লোবিন 
  2. শ্বেত রক্তকণিকা 
  3. লোহিত রক্তকণিকা 
  4. অণুচক্রিকা 
সঠিক উত্তর:
অণুচক্রিকা 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অণুচক্রিকা 
ব্যাখ্যা
রক্তকণিকা: 
- মানুষের রক্তে ৩ ধরনের রক্তকণিকা রয়েছে। 
যথা - 
১. লোহিত রক্তকণিকা, 
২. শ্বেত রক্তকণিকা ও 
৩. অনুচক্রিকা। 

লোহিত রক্তকণিকা: 
- লোহিত রক্ত কণিকায় হিমোগ্লোবিন নামে একটি লৌহজাত যৌগ থাকে যার জন্য রক্ত লাল হয়। 
- লোহিত রক্ত কণিকায় নিউক্লিয়াস নেই। 
- এ কণিকা দেখতে অনেকটা বৃত্তের মতো দ্বি-অবতল। 
- লোহিত রক্ত কণিকার গড় আয়ু ১২০ দিন। 

শ্বেত রক্তকণিকা: 
- শ্বেত কণিকার নির্দিষ্ট কোনো আকার নেই। 
- এগুলো হিমোগ্লোবিনবিহীন এবং নিউক্লিয়াসযুক্ত বড় আকারের কোষ। 
- শ্বেত কণিকার গড় আয়ু ১ থেকে ১৫ দিন। 
- শ্বেত রক্ত কণিকাকে দেহের প্রহরী বলা হয়। 

অণুচক্রিকা: 
- অণুচক্রিকা হলো গোলাকার, ডিম্বাকার বা রড আকারের। 
- এতে নিউক্লিয়াস থাকে না। 
- অণুচক্রিকা দেহের রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে। 
- অনুচক্রিকার গড় আয়ু ৫ থেকে ১০দিন। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৮১১.
মানুষের করোটিক স্নায়ু কয় জোড়া?
  1. ১০ জোড়া
  2. ১২ জোড়া
  3. ১৪ জোড়া
  4. ১৫ জোড়া
সঠিক উত্তর:
১২ জোড়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১২ জোড়া
ব্যাখ্যা
মানুষের করোটিক স্নায়ু ১২ জোড়া।

• করোটিক স্নায়ু:
- যে সব স্নায়ু মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশ থেকে উৎপত্তি লাভ করে করোটিকার বিভিন্ন ছিদ্রপথে বের হয়ে দেহের বিভিন্ন অঙ্গে বিস্তৃত হয় তাদের করোটিক স্নায়ু বলে।
- মানুষের করোটিক স্নায়ু ১২ জোড়া।
- করোটিক স্নায়ুসমূহ সেনসরি বা সংবেদী, মটর বা আজ্ঞাবাহী/চেষ্টীয় এবং মিশ্র প্রকৃতির হয়ে থাকে।
- যে সকল স্নায়ু কোন সংবেদী অঙ্গ থেকে উদ্দীপনা বহন করে কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রে বা মস্তিষ্কে পৌঁছে দেয় তাদের সংবেদী স্নায়ু বলে।
যেমন- অলফ্যাক্টরি ও অপটিক স্নায়ু।
- আবার যে সব স্নায়ু কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের কোন নির্দেশ বহন করে নির্দিষ্ট অঙ্গে পৌঁছে দেয় তাদের চেষ্টীয় বা আজ্ঞাবাহী বা মোটর স্নায়ু বলে।
যেমন- অকুলোমোটর ও ট্রকলিয়ার স্নায়ু।
- কিছু স্নায়ু সংবেদী ও আজ্ঞাবাহী উভয় ধরনের কাজ করে, এদের মিশ্র স্নায়ু বলে।
যেমন- ফ্যাসিয়াল বা ট্রাইজেমিনাল স্নায়ু।

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮১২.
হাইপোগ্লাইসেমিয়া রোগ নিচের কোনটির অভাবে হয়? 
  1. ক্যালসিয়াম
  2. রক্তের গ্লুকোজ
  3. ইনসুলিন
  4. ভিটামিন-ই
সঠিক উত্তর:
রক্তের গ্লুকোজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রক্তের গ্লুকোজ
ব্যাখ্যা
হাইপোগ্লাইসেমিয়া রোগ: 
- ডায়াবেটিস আক্রান্তদের কাছে হাইপো (হাইপোগ্লাসেমিয়া) একটি প্রচলিত শব্দ, বিশেষ করে টাইপ-১ বা ইনসুলিন-নির্ভরশীল রোগীদের ক্ষেত্রে। 
- মূলত ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীদের বিশেষ করে ইনসুলিন নিতে হয় এমন রোগীদের হাইপোগ্লাইসেমিয়া দেখা দেয়। 
- রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে নিচে নেমে যাওয়াকে হাইপোগ্লাইসেমিয়া বলে। 
- স্বাভাবিক মাত্রা হলো খালি পেটে ৬.১ মিলিমোল প্রতি লিটারে এবং খাবারের ২ ঘণ্টা পর ৭.৮ মিলিমোল প্রতি লিটারে থাকা উচিত। 
- রক্তের শর্করা ঘন ঘন কমে গেলে বা বেশি হলে দেহ ও মনের ওপর বেশ চাপ সৃষ্টি হয়। 
- খুব বেশি হাইপোগ্লাইসেমিয়া হলে মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা হ্রাস পায়। 
- গ্লুকোজ  হচ্ছে আমাদের জীবনীশক্তি বা ফুয়েল, যা প্রতিটি কোষে শক্তি সরবরাহ করে। 
- এই গ্লুকোজ বিপজ্জনক মাত্রায় নেমে গেলে এক এক করে বিভিন্ন অঙ্গের কার্যক্রম কমে যেতে থাকে। বিশেষ করে মস্তিষ্কের একমাত্র জ্বালানি হচ্ছে গ্লুকোজ। 
- সে কারণে হাইপোগ্লাইসেমিয়া দীর্ঘ সময় চলতে থাকলে রোগী অচেতন হয়ে পড়েন, এমনকি মৃত্যুও হতে পারে। 

হাইপোগ্লাইসেমিয়া রোগের কারণ: 
- ইনসুলিন গ্রহণের মাত্রা বা ওষুধের মাত্রা বেশি এবং খাবার কম হলে, অর্থাৎ খাবার ও ওষুধের মধ্যে সমন্বয় না থাকলে। 
- সময় না মেনে দেরিতে খাবার খেলে। 
- দীর্ঘক্ষণ কঠোর ব্যায়াম করলে। 
- অসুস্থতার পর খাবার খেতে না পারলে বা খাবার কম খেলে। 
- অত্যধিক মদ্যপান করলে। 

উৎস: দৈনিক প্রথম আলো, সমকাল ও যুগান্তর পত্রিকা।