বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

মানবদেহ ও শারীরতত্ত্ব

মোট প্রশ্ন৮১৫এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

মানবদেহ ও শারীরতত্ত্ব

PrepBank · পাতা / · ১০১২০০ / ৮১৫

১০১.
মানবদেহের রক্তরসে কোন ধরনের অ্যান্টিবডি সর্বাধিক মাত্রায় থাকে? 
  1. IgE
  2. IgM
  3. IgG
  4. IgD
ব্যাখ্যা
অ্যান্টিবডি (Antibody): 
- অ্যান্টিবডি অ্যান্টিজেনের বিপরীত বস্তু বা নিজস্ব বস্তু বা কণিকা বা কোষ অথবা কোষগুচ্ছ। 
- অ্যান্টিবডি প্রধানত অ্যান্টিজেনের সাড়ায় দেহের B-লিম্ফোসাইট থেকে উৎপাদিত প্রোটিন জাতীয় পদার্থ। 
- এরা রক্তের প্লাজমা ও কলারসে বর্তমান থাকে। 
- এরা অ্যান্টিজেনের সাথে যুক্ত (combine) হতে পারে এবং ক্লোনাল নির্বাচন (colonal selection) দ্বারা উৎপাদিত হয় এবং দেহের প্রধান সৈনিক বা রক্ষণাবেক্ষণের হাতিয়ার হিসেবে কাজ করে। 
- অ্যান্টিবডিগুলো অনুপ্রবেশকারী বা বহিরাগত অ্যান্টিজেনকে ভক্ষণ করে, কখনো বিনষ্ট করে, কখনো মেরে ফেলে, কখনো বাইরে নিক্ষেপ করে। 
- অ্যান্টিজেন হচ্ছে non-self আর অ্যান্টিবডি হচ্ছে self বস্তু। 

অ্যান্টিবডির প্রকার: 
- মানবদেহের রক্তে পাঁচ রকমের ইমিউনোগ্লোবিউলিন অর্থাৎ অ্যান্টিবডি দেখা যায়। 
যথা- IgG, IgA, IgM, IgD ও IgE। 
- এগুলো মানবদেহের প্রতিরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। 
- পাঁচ প্রকার অ্যান্টিবডির মধ্যে IgG রক্তরসে সর্বাধিক মাত্রায় থাকে এবং IgD ও IgE সবচেয়ে কম পরিমাণে থাকে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০২.
শ্বেত রক্ত কণিকার প্রধান কাজ কী? 
  1. রোগজীবাণু ধ্বংস করা
  2. অক্সিজেন পরিবহন করা
  3. রক্ত জমাট বাঁধা
  4. হরমোন নিঃসরণ করা
ব্যাখ্যা
রক্ত কণিকা: 
- রক্তে তিন ধরনের কণিকা রয়েছে। 
যথা- 
ক. লোহিত রক্ত কণিকা: 
- লোহিত রক্ত কণিকার জন্য রক্তের রং লাল দেখায়, এর মধ্যে হিমোগ্লোবিন নামক একটি রঞ্জক পদার্থ থাকে। 
- হিমোগ্লোবিনের সাথে অক্সিজেন যুক্ত হয়ে দেহকোষে পৌঁছায়। 
- লোহিত রক্ত কণিকা উভঅবতল (উভয় পৃষ্ঠে খাদ আছে), চাকতির মতো গোলাকার কোষ। 
- পরিণত লোহিত রক্ত কণিকায় নিউক্লিয়াস থাকে না। 
- লোহিত রক্ত কণিকা যকৃত ও অস্থিমজ্জায় তৈরি হয়। 

খ. শ্বেত রক্ত কণিকা: 
- শ্বেত রক্ত কণিকা লোহিত রক্ত কণিকার চেয়ে আকারে কিছুটা বড়ো ও অনিয়মিত আকারের হয়। 
- এদের নিউক্লিয়াস আছে, প্লীহা ও অস্থিমজ্জায় এদের জন্ম। 
- দেহে কোনো রোগ-জীবাণু প্রবেশ করলে শ্বেত রক্ত কণিকা সেগুলোকে ধ্বংস করে। শ্বেত রক্ত কণিকা দেহের প্রহরীর মতো কাজ করে, তাই এদের সৈনিকের সাথে তুলনা করা হয়। 

গ. অণুচক্রিকা: 
- অণুচক্রিকা দেখতে গোলাকার বা বৃত্তের মতো। 
- এরা লোহিত রক্ত কণিকার চেয়ে আকারে ছোটো হয় ও নিউক্লিয়াস থাকে না, এরা গুচ্ছাকারে থাকে। 
- এদের উৎপত্তি লোহিত অস্থিমজ্জায়। 
- দেহের কোনো অংশ কেটে রক্তপাত ঘটলে অণুচক্রিকা রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে, এদের প্লেটলেটও বলে। 

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।
১০৩.
বিলিরুবিন তৈরী হয় কোনটি থেকে?
  1. লোহিত রক্তকণিকা
  2. শ্বেত রক্তকণিকা
  3. অনুচক্রিকা
  4. এনজাইম
ব্যাখ্যা
জন্ডিস: 
- জন্ডিস হলো ভাইরাস জনিত রোগ। 
- জন্ডিস হলে রক্তে বিলরুবিনের মাত্রা বেড়ে যায় ফলে ত্বক, চোখের সাদা অংশ হলুদ হয়ে যায়। 
- লোহিত রক্ত কণিকার অধিক ভাঙন কিংবা যকৃত বা পিত্তনালীর কোনো সমস্যার কারণে রক্তে বিলিরুবিনের পরিমাণ মাত্রাতিরিক্ত হয়ে যেতে পারে। 
- এই বিলিরুবিন তখন শরীরের বিভিন্ন অংশে জমা হতে থাকে। এ অবস্থাকে বলা হয় জন্ডিস। 
- বিলিরুবিন তৈরি হয় যকৃতে এবং অস্থিমজ্জায়। জমা হয় প্লীহাতে। 
- যকৃতের মধ্যে অবস্থিত প্লীহা বিলিরুবিন উৎপন্ন হওয়ার প্রধান স্থান হিসেবে স্বীকৃত। 
- যা কনজুগেশনের মাধ্যমে যকৃতে পৌঁছায়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং উচ্চ মাধ্যমিক প্রাণিবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
১০৪.
লোহিত কণিকা কোথায় উৎপন্ন হয়? 
  1. অস্থিমজ্জায়
  2. লিভারে
  3. প্লীহায়
  4. হৃৎপিণ্ডে
ব্যাখ্যা
রক্ত কণিকা: 
- রক্ত কণিকা তিন ধরনের থাকে। 
যেমন- 
ক. লোহিত কণিকা: 
- রক্তে লোহিত কণিকার সংখ্যা সবচেয়ে বেশি থাকে। 
- এক ঘন মিলিলিটার রক্তে পুরুষদের রক্তের ক্ষেত্রে প্রায় পঞ্চাশ লক্ষ এবং মহিলাদের রক্তে প্রায় পঁয়তাল্লিশ লক্ষ লোহিত কণিকা থাকে। 
- এটি অস্থিমজ্জায় উৎপন্ন হয় ও ১২০ দিন পর প্লীহায় বিনষ্ট হয়। 
- ব্যায়াম করলে লোহিত কণিকার সংখ্যাও বেড়ে যায় ও বেশি দিন বাঁচে। 
- এটি হিমোগ্লোবিনের সহায়তায় দেহের বিভিন্ন অংশে অক্সিজেন সরবরাহ করে এবং শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। 

খ. শ্বেত কণিকা: 
- আমাদের শরীরে রক্তে শ্বেত কণিকার সংখ্যা অনেক কম থাকে। 
- এক মিলিলিটার রক্তে ছয় থেকে আট হাজার শ্বেত কণিকা থাকে। 
- এরা বর্ণহীন ও নিউক্লিয়াসযুক্ত। 
- এরা সাধারণত ১২-১৩ দিন বেঁচে থাকে। 
- ব্যায়াম করলে এরা বেশিদিন বাঁচে ও সংখ্যা বেড়ে যায়। 
- শ্বেতকণিকা রক্তে প্রবেশকারী জীবাণুকে ঘিরে ধরে বিনষ্ট করে এবং দেহকে রক্ষা করে, ফলে শারীরিক সক্ষমতা মজবুত ও শক্তিশালী হয়। 

গ. অণুচক্রিকা: 
- অণুচক্রিকা দেখতে ডিম্বাকার ও বিভিন্ন আকৃতি বিশিষ্ট অনেকটা ডিসকের মতো দেখতে। 
- দেহের বৃহদাকার কোষ ভেঙ্গে অণুচক্রিকা সৃষ্টি হয়। 
- দেহের কোনো স্থানে ক্ষত হলে সেখানে ৩ মিনিটের মধ্যে রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে। 

উৎস: শারীরিক শিক্ষা, স্বাস্থ্যবিজ্ঞান ও খেলাধুলা, নবম-দশম শ্রেণি।
১০৫.
মানবদেহে রক্ত কণিকা তৈরি হয় কোথায়? 
  1. অস্থি মজ্জায়
  2. ফুসফুসে
  3. প্লীহায়
  4. হৃদপিণ্ডে
ব্যাখ্যা
রক্ত কণিকা: 
- শরীরের অস্থি মজ্জা থেকে রক্ত কণিকাগুলো প্রধানত তৈরি হয়। 
- শরীরের মধ্যে অস্থি মজ্জা দু'রকম। 
যথা- লাল অস্থি মজ্জা এবং হলুদ অস্থি মজ্জা। 
- শরীরের সমস্ত রক্ত কণিকাগুলো এ লাল অস্থি মজ্জা থেকে তৈরি হয়। এ প্রক্রিয়াকে বলে হেমাটোপয়েসিস। 
- একজন সুস্থ মানুষের দেহে তিন ধরনের রক্ত কণিকা থাকে। 
- রক্ত কণিকাগুলো মানব শরীরের অস্থি মজ্জায় তৈরি হয়। 
• লোহিত রক্ত কণিকা- যা শরীরে অক্সিজেন সরবরাহ করে। এতে হিমোগ্লোবিন থাকে। 
• শ্বেত রক্ত কণিকা- কোন বস্তু বা জীবণু রক্তে প্রবেশ করলে তা সহজে ধ্বংস করে। 
• অণুচক্রিকা- রক্তবাহী নালির ক্ষতি হলে রক্ত জমাট বাঁধায় সাহায্য করে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০৬.
"স্পাইনাল অ্যাক্সেসরি" করোটিক স্নায়ুর কাজ কী?
  1. ঘ্রাণ অনুভূতি মস্তিষ্কে পৌঁছায়
  2. মাথা ও কাঁধের সঞ্চালন
  3. অক্ষিগোলকের সঞ্চালন
  4. দর্শন অনুভূতি মস্তিষ্কে পৌঁছায়
ব্যাখ্যা

" স্পাইনাল অ্যাক্সেসরি" করোটিক স্নায়ুর মাধ্যমে মাথা ও কাঁধের সঞ্চালন সম্পূর্ণ হয়ে থাকে।

- স্পাইনাল অ্যাক্সেসরি করোটিক স্নায়ুর মাধ্যমে মাথা ও কাঁধের সঞ্চালন সম্পূর্ণ হয়।
- করোটিক স্নায়ু হলো মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশ থেকে উৎপত্তি হয়ে করোটিক স্নায়ু ছিদ্রপথ দিয়ে বের হয়ে দেহের বিভিন্ন অঙ্গে বিস্তৃত স্নায়ু।
- মানুষের ১২ জোড়া করোটিক স্নায়ু রয়েছে।
- করোটিক স্নায়ু মস্তিষ্ক, মুখ, ঘাড় এবং ধড়ের মধ্যে বৈদ্যুতিক সংকেত পাঠায়।
- করোটিক স্নায়ু আমাদের স্বাদ, গন্ধ, কথা শোনা এবং অনুভূতি অনুভব করতে সহায়তা করে।

কিছু করোটিক স্নায়ুর নাম ও কাজ:
- অলফ্যাক্টরি: ঘ্রাণ অনুভূতি মস্তিষ্কে পৌঁছায়।
- অপটিক: দর্শন অনুভূতি মস্তিষ্কে পৌঁছায়।
- অকুলোমোটর: অক্ষিগোলকের সঞ্চালন (মধ্যমস্তিষ্কের অঙ্কীয়দেশে অবস্থান)।
- ট্রকলিয়ার: অক্ষিগোলকের সঞ্চালন (মধ্যমস্তিষ্কের পৃষ্ঠ-পার্শ্বদেশে অবস্থান)।
- ট্রাইজেমিনাল: সংশ্লিষ্ট অঙ্গ থেকে সংবেদ মস্তিষ্কে প্রেরণ।
- অ্যাবডুসেন্স: অক্ষিগোলকের সঞ্চালন (পনস ও মেডুলার সংযোগস্থলের অঙ্কীয়দেশে অবস্থান)।
- ফ্যাসিয়াল: স্বাদ গ্রহণ, চর্বন, গ্রীবা সঞ্চালন।
- অডিটরি (অ্যাকাউস্টিক): শ্রবণ ও ভারসাম্য রক্ষা।
- গ্লসোফ্যারিঞ্জিয়াল: স্বাদ গ্রহণ, জিহ্বা ও গলবিলের সঞ্চালন।
- ভেগাস (নিউমোগ্যাস্ট্রিক): সংশ্লিষ্ট অঙ্গের কার্যকারিতা নিয়ন্ত্রণ।
- হাইপোগ্লোসাল: জিহ্বার সঞ্চালন।

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১০৭.
হৃৎপিণ্ডের সর্বাধিক পেশিবহুল অংশ কোনটি?
  1. ক) ডান অলিন্দ
  2. খ) ডান নিলয়
  3. গ) বাম অলিন্দ
  4. ঘ) বাম নিলয়
ব্যাখ্যা

ডান অলিন্দ হলো হৃৎপিণ্ডের সবচেয়ে কম পেশিবহুল অংশ আর বাম নিলয় হলো সর্বাধিক পেশিবহুল অংশ। ডান অলিন্দ মহাশিরার মাধ্যমে ফুসফুস ছাড়া দেহের অন্য সকল অঙ্গ থেকে অক্সিজেনরিক্ত রক্তগ্রহণ করে। বাম নিলয় মহাধমনির মাধ্যমে ফুসফুস ছাড়া দেহের অন্যান্য অংশে রক্ত পাম্প করে। দেহের প্রায় সমগ্র অংশে রক্ত পাম্প করতে হয় বলে বাম নিলয় হৃৎপিণ্ডের সবচেয়ে পেশিবহুল অংশ।

সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক প্রাণিবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

১০৮.
রেনাল ধমনি ও স্নায়ু বৃক্কে কোথায় দিয়ে প্রবেশ করে? 
  1. কর্টেক্স
  2. পেলভিস
  3. হাইলাম
  4. অ্যাড্রিনাল গ্রন্থি
ব্যাখ্যা
বৃক্কের বাহ্যিক গঠন: 
- প্রত্যেক বৃক্ক নিরেট, চাপা দেখতে অনেকটা শিম বীজ বা বাংলা "৫” সংখ্যার মতো এবং কালচে লাল রংয়ের। 
- একটি পরিণত বৃক্কের দৈর্ঘ্য ১০-১২ সেন্টিমিটার, প্রস্থ ৫-৬ সেন্টিমিটার এবং স্থূলত্ব ৩ সেন্টিমিটার। 
- একেকটির ওজন পুরুষে ১৫০-১৭০ গ্রাম এবং নারীদেহে ১৩০-১৫০ গ্রাম। 
- বৃক্কের বাইরের দিক উত্তল ও ভিতরের দিক অবতল। 
- অবতল অংশের ভাঁজকে হাইলাম (hilum) বলে। 
- হাইলামের মধ্য দিয়ে ইউরেটার ও রেনাল শিরা বহির্গত হয় এবং রেনাল ধমনি ও স্নায়ু বৃক্কে প্রবেশ করে। 
- বৃক্কে প্রবেশকারী রেনাল শিরা দেহের সবচেয়ে বড় শিরা। 
- সম্পূর্ণ বৃক্ক ক্যাপসুল (capsule) নামক তন্তুময় যোজক টিস্যুর সুদৃঢ় আবরণে বেষ্টিত। 
- বৃক্কের অগ্রপ্রান্তে অ্যাড্রিনাল গ্রন্থি (adrenal gland) টুপির মতো আচ্ছাদন তৈরি করে সংযুক্ত থাকে। 

বৃক্কের অন্তর্গঠন: 
- বৃক্কের লম্বচ্ছেদে তিনটি সুস্পষ্ট অংশ দেখা যায়। 
যেমন- বাইরে অবস্থিত অপেক্ষাকৃত গাঢ় অঞ্চলটি কর্টেক্স রেনাল ক্যাপসুল (cortex), মধ্যখানে হালকা লাল রঙের মেডুলা (medulla) এবং ভিতরে সাদাটে পেলভিস (pelvis)। 

উৎস: জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (গাজী আজমল)।
১০৯.
রক্তরসের প্রধান উপাদান কোনটি?
  1. প্রোটিন
  2. পানি 
  3. লোহিত রক্তকণিকা
  4. গ্লুকোজ
ব্যাখ্যা

- রক্তরস বা প্লাজমা হলো রক্তের বর্ণহীন তরল অংশ, এর গঠন বিশ্লেষণে দেখা যায় যে, এর প্রধান উপাদান হলো পানি। রক্তরসের প্রায় ৯০% থেকে ৯২% অংশই পানি দ্বারা গঠিত। এই বিপুল পরিমাণ পানির উপস্থিতির কারণেই রক্ত তার তরল অবস্থা বজায় রাখে এবং শরীরে বিভিন্ন উপাদান পরিবহনে সক্ষম হয়। 

রক্তরস (Plasma): 
- রক্তের বর্ণহীন তরল অংশকে রক্তরস বলে। 
- সাধারণত রক্তের শতকরা প্রায় ৫৫ ভাগ রক্তরস। 
- রক্তরসের প্রধান উপাদান পানি। 
- এছাড়া বাকি অংশে কিছু প্রোটিন, জৈবযৌগ ও সামান্য অজৈব লবণ দ্রবীভূত অবস্থায় থাকে। 
যেমন- প্রোটিন (যথা-অ্যালবুমিন, গ্লোবিউলিন ও ফাইব্রিনোজেন), গ্লুকোজ, ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র চর্বিকণা, খনিজ লবণ, ভিটামিন, হরমোন, এন্টিবডি, বর্জ্য পদার্থ (যেমন: কার্বন ডাই-অক্সাইড, ইউরিয়া, ইউরিক এসিড) ইত্যাদি। 
- এছাড়া রক্তরসে সামান্য পরিমাণে সোডিয়াম ক্লোরাইড, সোডিয়াম বাইকার্বোনেট ও অ্যামাইনো এসিড থাকে। 
- খাদ্য হিসেবে যা গ্রহণ করা হয় তা পরিপাক হয়ে অন্ত্রের গাত্রে শোষিত হয় এবং রক্তরসে মিশে দেহের সর্বত্র সঞ্চালিত হয়। এভাবে দেহকোষগুলো পুষ্টিকর দ্রব্যাদি গ্রহণ করে দেহের পুষ্টির সাধন এবং ক্ষয়পূরণ করে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১১০.
লেন্স ও কর্নিয়ার মধ্যবর্তী স্থানে থাকে -
  1. অ্যাকুয়াস হিউমার
  2. ভিট্রিয়াস হিউমার
  3. অ্যাকুয়া রিজিয়া
  4. রেটিনা
ব্যাখ্যা
অ্যাকুয়াস হিউমার (Aqueous humour):
লেন্স ও কর্নিয়ার মধ্যবর্তী স্থানে এক প্রকার স্বচ্ছ জলীয় পদার্থে ভর্তি থাকে। একে বলা হয় অ্যাকুয়াস হিউমার।
- অ্যাকুয়াস হিউমার আলাের প্রতিসরণে সাহায্য করে, চোখের সম্মুখ অংশের আকৃতি ঠিক রাখে এবং লেন্স ও কর্নিয়ায় পুষ্টি সরবরাহ করে।

ভিট্রিয়াস হিউমার (Vitreous humour):
লেন্স ও রেটিনার মধ্যবর্তী অংশে এক প্রকার জেলি জাতীয় পদার্থে পূর্ণ থাকে। একে বলা হয় ভিট্রিয়াস হিউমার।
- ভিট্রিয়াস হিউমার রেটিনার দিকে আলাের প্রতিসরণে সাহায্য করে ও চক্ষু গােলকের গােলাকার আকৃতি বজায় রাখে।

সুত্রঃ প্রাণিবিজ্ঞান, HSC Program, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১১.
অণুচক্রিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় বেড়ে যাওয়ার অবস্থাকে কী বলা হয়?
  1. পারপুরা 
  2. পলিসাইথিমিয়া 
  3. লিউকোসাইটোসিস 
  4. থ্রম্বোসাইটোসিস 
ব্যাখ্যা

রক্ত উপাদানের অস্বাভাবিক অবস্থা: 
- মানুষের রক্তের বিভিন্ন উপাদানের তারতম্য ঘটলে যে অবস্থার সৃষ্টি হয়, তাকে রক্তের অস্বাভাবিক অবস্থা বলা হয়। 
যেমন- 
১. পলিসাইথিমিয়া: 
- হিমোগ্লোবিনের মাত্রা এবং রক্তকোষের সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় অত্যাধিক বৃদ্ধি পাওয়া। 

২. অ্যানিমিয়া বা রক্তস্বল্পতা: 
- হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ স্বাভাবিক অবস্থার তুলনায় কমে যাওয়া। 

৩. পারপুরা: 
- ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হলে ত্বকের নিচে রক্তপাত হয়ে এ অবস্থা হতে পারে। এ অবস্থায় অণুচক্রিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় কমে যায়। 

৪. লিউকোসাইটোসিস: 
- শ্বেত কোষের সংখ্যা স্বাভাবিক অবস্থার মান থেকে বেড়ে যায়, তাকে লিউকোসাইটোসিস বলে। নিউমোনিয়া, হুপিং কাশি ইত্যাদি রোগে এ অবস্থা হয়। 

৫. থ্রম্বোসাইটোসিস: 
- এ অবস্থায় অণুচক্রিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় বেড়ে যায়। রক্তনালির অভ্যন্তরে রক্ত জমাট বেঁধে যাওয়াকে থ্রম্বোসিস বলে। হৃৎপিণ্ডের করোনারি রক্তনালির রক্ত জমাট বাঁধলে তাকে করোনারি থম্বোসিস এবং গুরু মস্তিষ্কের রক্তনালিকায় রক্ত জমাট বাঁধলে তাকে সেরিব্রাল থ্রম্বোসিস বলে। 

৬. লিউকেমিয়া: 
- নিউমোনিয়া, প্লেগ, কলেরা প্রভৃতি রোগে শ্বেত কোষের সংখ্যা বেড়ে যায়। কিন্তু যদি শ্বেত কোষের সংখ্যা সেসবের চাইতেও অত্যধিক হারে বেড়ে যায়, তাহলে তাকে লিউকেমিয়া বা ব্লাড ক্যান্সার বলে। লিউকেমিয়ার বেশ কিছু ধরন রয়েছে যেগুলো অনেকাংশে নিরাময়যোগ্য। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১১২.
অ্যানিমিয়া রোগে কোন রক্ত কণিকা স্বাভাবিকের তুলনায় কমে যায়? 
  1. লোহিত রক্ত কণিকা
  2. শ্বেত রক্ত কণিকা
  3. অনুচক্রিকা
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
রক্ত: 
- প্রাণীদেহের রক্ত এক ধরনের লাল বর্ণের অস্বচ্ছ, আন্তঃকোষীয় লবণাক্ত এবং খানিকটা ক্ষারধর্মী তরল যোজক টিস্যু। 
- একজন পূর্ণবয়স্ক সুস্থ মানুষের দেহে প্রায় ৫-৬ লিটার রক্ত থাকে, যা মানুষের দেহের মোট ওজনের প্রায় ৮%। মানুষ এবং অন্যান্য মেরুদণ্ডী প্রাণীদেহের রক্ত লাল রঙের। 
- মানুষের রক্তের বিভিন্ন উপাদানের তারতম্য ঘটলে যে অস্থার সৃষ্টি হয়, তাকে রক্তের অস্বাভাবিক অবস্থা বলা হয়। 
যেমন- 
১। অ্যানিমিয়া: 
- লোহিত রক্ত কণিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় কমে যাওয়া অথবা হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ স্বাভাবিকের তুলনায় কমে যাওয়া। 

২। লিউকেমিয়া: 
- নিউমোনিয়া, প্লেগ, কলেরা প্রভৃতি রোগে শ্বেত কণিকার সংখ্যা বেড়ে যায়। 
- কিন্তু যদি শ্বেত কণিকার সংখ্যা অত্যধিক হারে বেড়ে ৫০,০০০-১,০০০,০০০ হয়, তাহলে তাকে লিউকেমিয়া বা ব্লাড ক্যান্সার বলে। 

৩। থ্রম্বোসাইটোসিস: 
- থ্রম্বোসাইটোসিস রোগে অনুচক্রিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় বেড়ে যায়। 
- রক্তনালীর অভ্যন্তরে রক্ত জমাট বেঁধে যাওয়াকে থ্রম্বোসিস বলে। 
- হৃৎপিণ্ডের করোনারি রক্তনালিকায় রক্ত জমাট বাঁধলে তাকে করোনারি থ্রম্বোসিস বলে এবং মস্তিষ্কের রক্তনালিতে রক্ত জমাট বাঁধলে তাকে সেরিব্রাল থ্রম্বোসিস বলে। 

৪। লিউকোসাইটোসিস: 
- শ্বেত কণিকার সংখ্যা স্বাভাবিক অবস্থার মান থেকে বেড়ে যদি ২০,০০০-৩০,০০০ হয়, তাকে লিউকোসাইটোসিস বলে। 
- নিউমোনিয়া, হুপিং কাশি ইত্যাদি রোগে এ অবস্থা হয়। 

৫। থ্যালাসেমিয়া: 
- থ্যালাসেমিয়া একধরনের বংশগত রক্তের রোগ। 
- এ রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির রক্তের হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ কমে রক্তশূন্যতা সৃষ্টি হয়। 
- হিমোগ্লোবিনের অস্বাভাবিকতার কারণে লোহিত রক্ত কণিকা ভেঙ্গে যায়, ফলে রক্তশূন্যতা দেখা দেয়। 
- সাধারণত শিশু অবস্থায় এ থ্যালাসেমিয়া রোগটি শনাক্ত হয়। 
- এ রোগের জন্য রোগিকে প্রতি ৩ মাস অন্তর রক্ত সঞ্চালনের প্রয়োজন হয়। 
- তবে অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে রক্তশূন্যতার হার কমে যায়। 

৬। পারপুরা: 
- ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হলে এ অবস্থা হতে পারে। 
- এ অবস্থায় অনুচক্রিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় কমে যায়। 

৭। পলিসাইথিমিয়া: 
- লোহিত রক্ত কণিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় বৃদ্ধি পায়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১১৩.
হৃৎপিণ্ডকে আবৃতকারী পর্দার নাম কী?
  1. ক) মেনিনজেস
  2. খ) পেরিকার্ডিয়াম
  3. গ) এপিকার্ডিয়াম
  4. ঘ) এক্টোকার্ডিয়াম
ব্যাখ্যা
হৃৎপিণ্ডকে আবৃতকারী পর্দার নাম- পেরিকার্ডিয়াম।
মস্তিষ্ককে আবৃতকারী পর্দার নাম- মেনিনজেস।
হৃৎপিণ্ডের স্তর ৩টি। যথা- এপিকার্ডিয়াম, এন্ডোকার্ডিয়াম ও এক্টোকার্ডিয়াম।।
উৎসঃ প্রাণিবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
১১৪.
মানবদেহের প্রধান রেচন অঙ্গের একক কী?
  1. সাইনাস
  2. নিউরন
  3. নেফ্রন
  4. লোবিউল
ব্যাখ্যা
• রেচন:
- যে জৈবিক প্রক্রিয়ায় দেহে বিপাক ক্রিয়ায় উৎপন্ন নাইট্রোজেনঘটিত বর্জ্য পদার্থগুলো বের করে দেওয়া হয় তাকে রেচন বলা হয়। 

⇒ মানবদেহের রেচন অঙ্গ হলো কিডনি অথবা বৃক্ক।
⇒ বৃক্কের একক হলো নেফ্রন।

• শরীরের অতিরিক্ত পানি, লবণ এবং জৈব পদার্থগুলো সাধারণত রেচনের মাধ্যমে দেহ থেকে বের করে দিয়ে বৃক্ক দেহের শারীরবৃত্তীয় ভারসাম্য রক্ষা করে।
- দেহের এই বর্জ্য পদার্থগুলো শরীরে কোনো কারণে জমতে থাকলে নানা রকমের অসুখ দেখা দেয়, পরবর্তীতে মৃত্যু পর্যন্ত ঘটতে পারে।

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
১১৫.
মানব রক্তের স্বাভাবিক pH মাত্রা সাধারণত কত থাকে?
  1. ৪.৩-৫.৫
  2. ৫.৩-৬.০
  3. ৭.৩-৭.৪
  4. ৮.৫-৯.৪
ব্যাখ্যা
রক্ত: 
- রক্ত এক ধরনের লাল বর্ণের তরল যোজক কলা। 
- রক্তবাহিকার মাধ্যমে রক্ত মানব দেহের সর্বত্র সঞ্চালিত হয়। 
- রক্ত সামান্য ক্ষারীয়, রক্তের pH মাত্রা গড়ে ৭.৩-৭.৪ । 
- সজীব রক্তের তাপমাত্রা ৩৬-৩৮ সেলসিয়াস। 
- অজৈব লবণের উপস্থিতিতে রক্ত লবণাক্ত। 
- একজন পূর্ণাঙ্গ মানুষের দেহে গড়ে প্রায় ৫-৬ লিটার রক্ত থাকে, শরীরের মোট ওজনের প্রায় ৮%। 

- মানব দেহের রক্ত প্রধানত রক্তরস ও রক্ত কণিকা নিয়ে গঠিত। 
- স্থিতি অবস্থায় কিছুক্ষণ রাখলে রক্ত দুই স্তরে বিভক্ত হয়ে পড়ে। 
- উপরের হালকা হলুদ বর্ণের প্রায় ৫৫% যে অংশ থাকে তাকে রক্তরস বা প্লাজমা বলে এবং নিচের গাঢ়তর বাঁকি ৪৫% অংশকে রক্ত কণিকা বলে। 
- প্রকৃতপক্ষে রক্ত কণিকাগুলো রক্ত রসে ভাসমান অবস্থায় থাকে এবং লোহিত রক্ত কণিকার উপস্থিতিতে রক্ত লাল দেখায়। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১৬.
তরল যোজক টিস্যুর প্রধান কাজ কী? 
  1. ফুল উৎপন্ন করা
  2. খাদ্য উৎপাদন করা
  3. উদ্ভিদের শ্বসন পরিচালনা করা
  4. দেহের ভেতরে বিভিন্ন দ্রব্যাদি পরিবহন করা
ব্যাখ্যা
তরল যোজক টিস্যু: 
- তরল যোজক টিস্যুর মাতৃকা তরল। 
- মাতৃকায় বিভিন্ন ধরনের জৈব পদার্থ কলয়েড এবং দ্রবীভূত অবস্থায় থাকে। 
- তরল যোজক টিস্যুর প্রধান কাজ দেহের ভেতরে বিভিন্ন দ্রব্যাদি পরিবহন করা, রোগ প্রতিরোধ এবং রক্ত জমাট বাঁধায় বিশেষ ভূমিকা রাখা। 
- তরল যোজক টিস্যু দুই প্রকারের হয়।  
যথা- 
১। রক্ত: 
- রক্ত এক ধরনের ক্ষারীয়, ঈষৎ লবণাক্ত, লাল বর্ণের তরল যোজক টিস্যু। 
- রক্ত ধমনী, শিরা এবং কৈশিকনালির মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে অভ্যন্তরীণ পরিবহনে অংশ নেয়। 
- রক্তের প্রধান উপাদান দু'টি। যথা- রক্তরস এবং রক্ত কণিকা। 

২। লসিকা: 
- বিভিন্ন টিস্যুর মধ্যবর্তী স্থানে যে জলীয় পদার্থ জমা হয় তা কতগুলো ছোট নালীর মাধ্যমে সংগৃহীত হয়। 
- ছোট নালীগুলো মিলিত হয়ে আবার বৃহত্তর নালীতে পরিণত হয়। এভাবে যে নালিকাতন্ত্র গঠিত হয় তাকে লসিকাতন্ত্র বলা হয়। 
- নালীগুলোকে লসিকানালী এবং সংগৃহীত রসকে লসিকা বলা হয়। 
- লসিকার মধ্যে কিছু কোষও থাকে, এদেরকে লসিকা কোষ বলা হয়। 
- লসিকা ঈষৎ ক্ষারীয়, স্বচ্ছ এবং হলুদ বর্ণের তরল পদার্থ। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১৭.
মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর কোলেস্টেরল হিসেবে পরিচিত কোনটি? 
  1. LDL
  2. DDL
  3. HDL
  4. TDL
ব্যাখ্যা
কোলেস্টেরল: 
- কোলেস্টেরল এক বিশেষ ধরনের জটিল স্নেহ পদার্থ বা লিপিড এবং স্টেরয়েড এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ। 
- মানুষের প্রায় প্রত্যেক কোষ ও টিস্যুতে কোলেস্টেরল থাকে। 
- যকৃৎ এবং মগজে এর পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। 
- কোলেস্টেরল অন্যান্য স্নেহ পদার্থের সাথে মিশে রক্তে স্নেহের বাহক হিসেবে কাজ করে। 
- স্নেহ এবং প্রোটিনের যৌগকে লাইপোপ্রোটিন বলে। 
- স্নেহের পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে লাইপোপ্রোটিন দুই রকম- 
- উচ্চ ঘনত্ব বিশিষ্ট লাইপোপ্রোটিন (High Density Lipoprotein - HDL)। 
- নিম্ন ঘনত্ববিশিষ্ট লাইপোপ্রোটিন (Low Density Lipoprotein - LDL)। 
- রক্তে HDL-এর পরিমাণ বেশি থাকা শরীরের জন্য উপকারী। 
- রক্তে LDL-এর পরিমাণ বেশি থাকা শরীরের জন্য ক্ষতিকর। 
- LDL এর পরিমাণ 150 mg/dl এর বেশি হলে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত। 
- রক্তে কোলেস্টেরলের স্বাভাবিক পরিমাণ 100 - 200 mg/d. 
- রক্তে কোলেস্টেরলের আধিক্য হৃদরোগের আশঙ্কা বাড়ায়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১১৮.
সাধারণত রক্তের কত ভাগ রক্তরস থাকে?
  1. ৪৫ ভাগ 
  2. ৫৫ ভাগ 
  3. ৬৩ ভাগ 
  4. ৭৫ ভাগ 
ব্যাখ্যা
রক্ত (Blood): 
- রক্ত একটি অস্বচ্ছ, মৃদু ক্ষারীয় এবং লবণাক্ত তরল পদার্থ। 
- রক্ত হৃৎপিণ্ড, শিরা, উপশিরা, ধমনি, শাখা ধমনি এবং কৈশিকনালি পথে আবর্তিত হয়। 
- লোহিত রক্তকোষে হিমোগ্লোবিন নামক রঞ্জক পদার্থ থাকার কারণে রক্তের রং লাল দেখায়। 
- হাড়ের লাল অস্থিমজ্জাতে রক্তকোষের জন্ম হয়। 
- রক্ত এক ধরনের তরল যোজক কলা। 
- রক্তরস এবং কয়েক ধরনের রক্তকোষের সমন্বয়ে রক্ত গঠিত। 

রক্তরস (Plasma): 
- রক্তের বর্ণহীন তরল অংশকে রক্তরস বলে। 
- সাধারণত রক্তের শতকরা প্রায় ৫৫ ভাগ রক্তরস থাকে। 
- রক্তরসের প্রধান উপাদান পানি। 
- এছাড়া বাকি অংশে কিছু প্রোটিন, জৈব যৌগ ও সামান্য অজৈব লবণ দ্রবীভূত অবস্থায় থাকে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১১৯.
Which is the longest bone in the human body?
  1. Humerus
  2. Stapes
  3. Tibia
  4. Femur
  5. Radius 
ব্যাখ্যা
• মানবদেহের দীর্ঘতম হাড় হলো ফিমার।

• ফিমার (Femur):
-নিম্নবাহুর প্রথম অস্থিকে ফিমার বলা হয়।

এটি মানবদেহের সবচেয়ে দীর্ঘ এবং শক্তিশালী হাড়।।
- এর ঊর্ধ্বপ্রান্তে একটি গোল হেড (মস্তক), নেক (গ্রীবা) এবং ছোট ও বড় ট্রোক্যান্টার অবস্থিত।
- দেহটি শক্ত ও নলাকার। এর পশ্চাত্তল একটি অমসৃণ আলযুক্ত।
-নিম্নপ্রান্ত দুটি কন্ডাইলবিশিষ্ট। দুই কন্ডাইলের মাঝখানে থাকে আন্তঃকন্ডাইলার ছিদ্র, প্যাটেলার সংযোগী তল এবং দুপাশে একটি করে এপিকন্ডাইল নামে সামান্য উঁচু জায়গা।

তথ্যসূত্র:
- জীববিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, গাজী আজমল।
১২০.
কোনটি কঙ্কালতন্ত্রের কাজ নয়?
  1. দেহকাঠামো গঠন
  2. খনিজ লবণ সঞ্চয়
  3. লোহিত রক্তকণিকা পরিবহন
  4. গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ রক্ষা করা
ব্যাখ্যা
• লোহিত রক্তকণিকা পরিবহন করা কঙ্কালতন্ত্রের কাজ নয়, বরং লোহিত রক্তকণিকা উৎপন্ন করা কঙ্কালতন্ত্রের কাজ। 

• কঙ্কালতন্ত্র:
- ভ্রূণীয় মেসোডার্ম থেকে উদ্ভূত অস্থি ও তরুণাস্থি (কার্টিলেজ) নামক যোজক টিস্যু সমন্বয়ে গঠিত যে তন্ত্র দেহের কাঠামো সৃষ্টির মাধ্যমে দেহকে নির্দিষ্ট আকৃতি দান করে, দেহের ভার বহন করে, পেশি সংযোগের স্থান প্রদান করে এবং ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এমন অঙ্গসমূহ রক্ষা করে তাকে কঙ্কালতন্ত্র বলে।

• মানব কঙ্কালতন্ত্রের অধিকাংশই অস্থি নির্মিত। এছাড়া এ তন্ত্রে তরুণাস্থি, টেনডন ও লিগামেন্ট থাকে যারা কঙ্কালতন্ত্রের বিভিন্ন অংশকে সংযুক্ত করে।

• কঙ্কালতন্ত্রের কাজ:
→ কাঠামো প্রদান:
- কঙ্কাল মানুষের শরীরের কাঠামো তৈরি করে এবং এটিকে একটি নির্দিষ্ট আকার দেয়।  
→ সুরক্ষা:
- কঙ্কাল শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ যেমন- মস্তিষ্ক, হৃদপিণ্ড, ফুসফুস ইত্যাদি কে আঘাত থেকে রক্ষা করে।  
→ চলাচল ও নড়াচড়া:
- কঙ্কাল এবং পেশী একসাথে কাজ করে নড়াচড়া করতে সাহায্য করে।  
→ খনিজ লবণ সঞ্চয়:
- কঙ্কাল ক্যালসিয়াম এবং ফসফরাসের মতো খনিজ লবন সঞ্চয় করে।  
→ রক্তকণিকা উৎপাদন:
- অস্থিমজ্জা থেকে লোহিত রক্তকণিকা তৈরি হয়।   

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
১২১.
নিচের কোনটি স্নায়ুরোগ হিসেবে পরিচিত?
  1. অ্যজমা
  2. মায়োকার্ডাইটিস
  3. পারকিনসন
  4. উচ্চ রক্তচাপ
ব্যাখ্যা
স্নায়ুরোগ:

• স্নায়ুরোগ হল স্নায়ুতন্ত্রকে প্রভাবিত করে এমন যেকোনো অবস্থা।
• স্নায়ুতন্ত্র শরীরের একটি জটিল নেটওয়ার্ক যা মস্তিষ্ক এবং মেরুদণ্ড থেকে শরীরের বাকি অংশে বার্তা প্রেরণ এবং গ্রহণ করে।
• স্নায়ু রোগের ফলে বিভিন্ন ধরণের লক্ষণ দেখা দিতে পারে, যার মধ্যে রয়েছে:
- স্নায়ুতে ব্যথা, অসাড়তা, ঝিনঝিনি বা জ্বালাপোড়া;
- মাংসপেশীর দুর্বলতা বা পক্ষাঘাত;
- চলাফেরায় অসুবিধা;
- সমন্বয়ের অভাব;
- বক্তৃতা বা গিলে ফেলার সমস্যা;
- মূত্রাশয় বা অন্ত্রের নিয়ন্ত্রণ হারানো;
- সংবেদনশীলতা হ্রাস;
- জ্ঞান হারানো।

• স্ট্রোক, মাল্টিপল স্ক্লেরোসিস, পারকিনসন'স ডিজিজ, আলঝেইমার'স ডিজিজ, GBS, মেনিনজাইটিস প্রভৃতি স্নায়ুরোগ হিসাবে পরিচিত।
• হার্ট অ্যাটাক, হার্ট ফেইলিউর, উচ্চ রক্তচাপ, এনজাইনা, মায়োকার্ডাইটিস, এন্ডোকার্ডাইটিস ইত্যাদি হৃদরোগ হিসাবে পরিচিত।
• নিউমোনিয়া, অ্যজমা, সিওপিডি, ব্রঙ্কিয়েকটেসিস ইত্যাদি ফুসফুসের রোগ হিসাবে পরিচিত।


উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক প্রাণিবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি এবং The American Parkinson Disease Association (APDA)। 
১২২.
লালাগ্রন্থি থেকে নিঃসৃত এনজাইম কোনটি? 
  1. পেপসিন
  2. টায়ালিন
  3. ট্রিপসিন
  4. ল্যাকটোজ
ব্যাখ্যা
মুখবিবর: 
- মুখ পরবর্তী অংশটি মুখবিবর। 
- এর ভেতরে কয়েকটি অঙ্গ অবস্থিত। যেমন- দাঁত, মাড়ি, জিহবা, গাল ও তালু। 
- মুখ বিবরের ঊর্ধ্ব প্রাচীর তালুর অস্থি ও পেশি দিয়ে, সামনের প্রাচীর ঠোঁটের পেশি দিয়ে এবং পার্শ্ব প্রাচীর গালের পেশি দিয়ে গঠিত। 
- তালুর অগ্রভাগ অস্থিনির্মিত এবং শক্ত, পেছনের অংশ মাংসল ও নরম। 
- তালুর পেছনের অংশের মধ্যভাগ থেকে একটি অপেক্ষাকৃত সরু আলজিহবা মুখবিবরে ঝুলে থাকে। 
- মানুষের ঊর্ধ্ব ও নিম্ন চোয়াল দাঁতযুক্ত। 
- এছাড়া মুখবিবরে তিন জোড়া লালাগ্রন্থি থাকে। 
- নিম্নে চোয়ালের অস্থির সাথে জিহ্বাযুক্ত থাকে। 
- পৃষ্ঠতলের উপর থাকে স্বাদকোরক এগুলো বিভিন্ন রাসায়নিক বস্তুর প্রতি সংবেদনশীল। 
- জিহ্বার অগ্রভাগ মিষ্টি, দুই পার্শ্ব নোনা, পশ্চাৎ ভাগের দুই পার্শ্ব টক এবং পেছনের দিক তিক্ত স্বাদ গ্রহণ করে।

কাজ: 
- দাঁত খাদ্য দ্রব্যকে কাটা, ছেঁড়া ও পেষণে সাহায্য করে। 
- জিহ্বা খাদ্য দ্রব্যের স্বাদ গ্রহণ করে এবং পেষণের সময় লালারস মিশ্রিত করে খাদ্য দ্রব্যকে পিচ্ছিল করে পেছনে ঠেলে দেয়। 
- লালাগ্রন্থি থেকে নিঃসৃত “মিউসিন” খাদ্যকে পিচ্ছিল করে আর টায়ালিন ও মল্টেজ এনজাইম খাদ্য পরিপাকে সহায়তা করে

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২৩.
কোন করোটিক স্নায়ুটি শ্রবণ শক্তির সাথে যুক্ত?
  1. অডিটরি
  2. হাইপোগ্লোসাল
  3. অকিউলোমোটর
  4. অলফ্যাক্টরি
ব্যাখ্যা

• অডিটরি করোটিক স্নায়ুটি শ্রবণ শক্তির সাথে যুক্ত।

• করোটিক স্নায়ু:
- যে সব স্নায়ু মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশ থেকে উৎপত্তি লাভ করে করোটিকার বিভিন্ন ছিদ্রপথে বের হয়ে দেহের বিভিন্ন অঙ্গে বিস্তৃত হয় তাদের করোটিক স্নায়ু বলে।
- মানুষের করোটিক স্নায়ু ১২ জোড়া।
- করোটিক স্নায়ুসমূহ সেনসরি বা সংবেদী, মটর বা আজ্ঞাবাহী/চেষ্টীয় এবং মিশ্র প্রকৃতির হয়ে থাকে।
- যে সকল স্নায়ু কোন সংবেদী অঙ্গ থেকে উদ্দীপনা বহন করে কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রে বা মস্তিষ্কে পৌঁছে দেয় তাদের সংবেদী স্নায়ু বলে।
যেমন- অলফ্যাক্টরি ও অপটিক স্নায়ু।
- আবার যে সব স্নায়ু কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের কোন নির্দেশ বহন করে নির্দিষ্ট অঙ্গে পৌঁছে দেয় তাদের চেষ্টীয় বা আজ্ঞাবাহী বা মোটর স্নায়ু বলে।
যেমন- অকুলোমোটর ও ট্রকলিয়ার স্নায়ু।
- কিছু স্নায়ু সংবেদী ও আজ্ঞাবাহী উভয় ধরনের কাজ করে, এদের মিশ্র স্নায়ু বলে।
যেমন- ফ্যাসিয়াল বা ট্রাইজেমিনাল স্নায়ু।

• অলফ্যাক্টরি স্নায়ু:
-অগ্রমস্তিষ্কের অঙ্কীয়দেশ (অলফ্যাক্টরি লোবের শীর্ষদেশ) হতে উৎপন্ন হয়ে নাসিকা গহবরের মিউকাস পর্যন্ত বিস্তৃত হয়।
- এটি সংবেদী স্নায়ু এবং মস্তিষ্কে ঘ্রাণের অনুভূতি পৌঁছায়। 

• অডিটরি:
- এটি মেডুলা অবলংগাটার পার্শ্বদেশ হতে উৎপত্তি লাভ করে অন্যকর্ণে বিস্তৃত হয়।
- অডিটরি স্নায়ু সংবেদী প্রকৃতির। এটি শ্রবণ ও ভারসাম্য রক্ষার অনভূতি মস্তিষ্কে বহন করে।

• অকিউলোমোটর:
- চেষ্টীয় বা মোটর (Motor) স্নায়ু।
- এটি চোখের গোলকের সঞ্চালন নিয়ন্ত্রণ করে। এছাড়াও চোখের পাতার নড়াচড়া এবং চোখের পিউপিল বা মণির সংকোচন-প্রসারণে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

• অপটিক:
- অপটিক করোটিক স্নায়ুটি দৃষ্টিশক্তির সাথে যুক্ত।

• হাইপোগ্লোসাল:
- হাইপোগ্লোসাল করোটিক স্নায়ুটি জিভের গতির সাথে যুক্ত।

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১২৪.
মানুষের প্রতি ১০০ মিলিলিটার রক্তে কত গ্রাম হিমোগ্লোবিন থাকে?
  1. ২৪
  2. ২২
  3. ১৬
  4. ২০
ব্যাখ্যা
মানুষের রক্ত:
- মানুষের রক্তে pH ৭.৪।
- রক্ত হচ্ছে প্লাজমা ও প্লাজমায় ভাসমান বিভিন্ন কোষীয় উপাদানে গঠিত জটিল তরল টিস্যু।
- মানুষের দেহে প্রায় ৫ থেকে ৬ লিটার রক্ত থাকে।
- মানুষের প্রতি ১০০ মিলিলিটার রক্তে ১৬ গ্রাম হিমোগ্লোবিন থাকে।
- রক্ত মানুষের দেহের ৮%।
- রক্তের তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

- রক্তে ৩ ধরনের রক্তকণিকা থাকে।
যথা:
- লোহিত রক্তকণিকা,
- শ্বেত রক্তকণিকা এবং
- অণুচক্রিকা।

তথ্যসূত্র - জীববিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (গাজী আজমল)।
১২৫.
রক্তে হিমোগ্লোবিনের স্বাভাবিক মাত্রা কত হওয়া উচিত?
  1. ৮–১০ গ্রাম/ডেসিলিটার
  2. ১২–১৬ গ্রাম/ডেসিলিটার
  3. ১৮–২২ গ্রাম/ডেসিলিটার
  4. ২৫–৩০ গ্রাম/ডেসিলিটার
ব্যাখ্যা

◉ রক্তে হিমোগ্লোবিনের স্বাভাবিক মাত্রা— ১২–১৬ গ্রাম/ডেসিলিটার। 

হিমোগ্লোবিন: 
- হিমোগ্লোবিন হলো লোহিত রক্তকণিকায় (RBC) বিদ্যমান একটি প্রোটিন, যা শরীরের টিস্যুগুলোতে অক্সিজেন সরবরাহের দায়িত্ব পালন করে।
- পর্যাপ্ত টিস্যু অক্সিজেনেশন নিশ্চিত করতে রক্তে যথেষ্ট হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বজায় রাখা জরুরি।
- রক্তে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ গ্রাম প্রতি ডেসিলিটার (g/dl) এককে প্রকাশ করা হয়।

- স্বাভাবিক হিমোগ্লোবিন মাত্রা:
পুরুষ: ১৪–১৮ g/dl; 
মহিলা: ১২–১৬ g/dl; 

- স্বাভাবিকের চেয়ে কম হিমোগ্লোবিনের মাত্রা থাকলে তাকে অ্যানিমিয়া (রক্তাল্পতা) বলা হয়।
- রক্তে লাল কণিকার সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বেশি হলে তাকে এরিথ্রোসাইটোসিস বলা হয়, যার ফলে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি হয়।

উৎস: National Library of Medicine ওয়েবসাইট। 

১২৬.
রিকেটস রোগের ফলে ক্ষতিগ্রস্থ হয় নিচের কোনটি?
  1. ক) যকৃত
  2. খ) মস্তিষ্ক
  3. গ) হাড়
  4. ঘ) কিডনি
ব্যাখ্যা

রিকেটস (Rickets)
- ভিটামিন 'ডি' এর অভাবে এ রােগ হয়। অন্ত্রে ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস শােষণ, দাঁত ও হাড় গঠন প্রভৃতি শারীরবৃত্তীয় কাজে এই ভিটামিন প্রয়ােজন।
- সুতরাং, রিকেটস্‌ রোগের ফলে হাড়ের গঠন ব্যাহত হয়।
- দুধ, মাখন, ডিম, কডলিভার তল ও হাঙ্গরের তেলে প্রচুর ভিটামিন "ডি' পাওয়া যায়।
- সূর্যের অতি বেগুনি রশ্মির প্রভাবে মানুষের ত্বকে জমা থাকা কোলেস্টেরল থেকেও এটি তৈরি হয়, তবে সেক্ষেত্রে ভিটামিন ডি তৈরির শেষ ধাপটি সংঘটিত হয় কিডনিতে।

১২৭.
নিচের কোনটি রেচন পদার্থ?
  1. ক) কার্বন ডাই অক্সাইড
  2. খ) অ্যামোনিয়া
  3. গ) ক্লোরিন
  4. ঘ) আয়োডিন
ব্যাখ্যা

রক্তরসের প্রায় ৯০% পানি, বাকি ১০% দ্রবীভূত অবস্থায় থাকে, যা বিভিন্ন রকমের জৈব এবং অজৈব পদার্থ।
অজৈব পদার্থগুলাের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের খনিজ পদার্থের আয়ন, যেমন: সােডিয়াম, পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম, ক্লোরিন, ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস, লৌহ, আয়ােডিন এবং O2, CO2, এবং N2 জাতীয় গ্যাসীয় পদার্থ।
জৈব পদার্থের মধ্যে আছেঃ
১. খাদ্যসার: গ্লুকোজ, অ্যামিনাে এসিড, স্নেহপদার্থ, ভিটামিন ইত্যাদি।
২ রেচন পদার্থ: ইউরিয়া, ইউরিক এসিড, অ্যামােনিয়া, ক্রিয়েটিনিন ইত্যাদি।

উৎসঃ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি

১২৮.
গর্ভাবস্থায় নিম্নের কোন ঔষধটি অত্যাবশ্যকীয়?
  1. ক) কৃমির ওষুধ
  2. খ) বমির ওষুধ
  3. গ) ফলিক এসিড
  4. ঘ) এন্টাসিড
ব্যাখ্যা
গর্ভাবস্থায় ফলিক এসিড গ্রহন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
গর্ভাবস্থায় ফলিক এসিড নিউরাল টিউব ডিফেক্ট (NTD) যেমন- স্পাইনাল কর্ড (Spina Bifida) ও ব্রেইনের (anencephaly) জন্মগত ত্রুটি প্রতিরােধে সাহায্য করে।
নিউরাল টিউব হলাে ভূনের একটি অংশ যা থেকে মেরুদণ্ড ও মস্তিষ্কের গঠন হয়।
১২৯.
মানবদেহে কয় জোড়া সেক্স ক্রোমোজোম থাকে?
  1. ২২ জোড়া
  2. ২৩ জোড়া
  3. ১ জোড়া
  4. ২ জোড়া
ব্যাখ্যা
মানবদেহের প্রতিটি কোষে ২৩ জোড়া বা ৪৬টি ক্রোমোসোম থাকে। এ ২৩ জোড়া ক্রোমোসোমের মধ্যে ২২ জোড়া ক্রোমোসোমকে বলা হয় অটোসোম। অটোসোম দেহের নানা প্রকার গঠন প্রণালি ও জৈবিক কাজ নিয়ন্ত্রণ করে।
লিঙ্গ নির্ধারণে এদের কোনও ভূমিকা নেই। অপর এক জোড়া ক্রোমোসোমকে বলা হয় সেক্স ক্রোমোসোম বা লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোসোম।

সূত্রঃ জীববিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩০.
কোন ধমনী মানবদেহের পাকস্থলী ও যকৃতে রক্ত সরবরাহ করে?
  1. ফ্রেনিক
  2. ভার্টিব্রাল
  3. সিলিয়াক
  4. ইলিয়াক
ব্যাখ্যা
সাবক্লেভিয়াল ধমনি: 
- সাবক্লেভিয়াল ধমনি দেহের প্রতিপাশে ফুসফুসের উপরে থেকে বিভিন্ন শাখায় বিভক্ত হয়ে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে রক্ত সরবরাহ করে। 
- এটি শরীরের গুরুত্বপূর্ণ ধমনীর একটি, যা সারা শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গে রক্ত পৌঁছাতে সাহায্য করে। 
যেমন- 
⇒ আন্তঃম্যামারি ধমনি: স্তনগ্রন্থি, বক্ষীয় প্রাচীর ও পেরিকার্ডিয়ামে রক্ত সরবরাহ করে। 
⇒ থাইরোসার্ভিকাল ধমনি: থাইরয়েড গ্রন্থি, ল্যারিংক্স ও ঘাড়ের পেশিতে রক্ত সরবরাহ করে। 
⇒ সার্ভিকাল ধমনি: অক্সিপুটের পেশিতে রক্ত সরবরাহ করে। 
⇒ ভার্টিব্রাল ধমনি: মেরুদণ্ডের রক্ত সরবরাহ করে। 
সিলিয়াক ধমনি: পাকস্থলী ও যকৃতে রক্ত সরবরাহ করে। 
⇒ ফ্রেনিক ধমনি: ডায়াফ্রামে রক্ত সরবরাহ করে। 
⇒ বৃক্কীয় ধমনি: বৃক্কে রক্ত সরবরাহ করে। 
⇒ মেসেন্টেরিক ধমনি: অন্ত্রের বিভিন্ন অংশে রক্ত সরবরাহ করে। 
⇒ জনন ধমনি: গোনাডে (যেমন: ডিম্বাশয় বা অন্ডকোষ) রক্ত সরবরাহ করে। 
⇒ ইলিয়াক ধমনি: পেলভিস অঞ্চল, উরু, পা ইত্যাদি অংশে রক্ত সরবরাহ করে। 
 
উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩১.
কোন লাইপোপ্রোটিন শরীরের জন্য ক্ষতিকর? 
  1. LDL
  2. HDL
  3. DDL
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা

কোলেস্টেরল: 
- কোলেস্টেরল এক বিশেষ ধরনের জটিল স্নেহ পদার্থ বা লিপিড এবং স্টেরয়েড -এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ। 
- মানুষের প্রায় প্রত্যেক কোষ এবং টিস্যুতে কোলেস্টেরল থাকে। 
- যকৃত এবং মগজে এর পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। 
- কোলেস্টেরল অন্যান্য স্নেহ পদার্থের সাথে মিশে রক্তে স্নেহের বাহক হিসেবে কাজ করে। 
- স্নেহ এবং প্রোটিনের যৌগকে লাইপোপ্রোটিন বলে। 
- স্নেহের পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে লাইপোপ্রোটিন দুই রকম। 
যথা- 
১। উচ্চ ঘনত্ব বিশিষ্ট লাইপোপ্রোটিন (High Density Lipoprotein-HDL) এবং 
২। নিম্ন ঘনত্ব বিশিষ্ট লাইপোপ্রোটিন (Low Density Lipoprotein-LDL)। 

- রক্তের LDL-এর পরিমাণের বৃদ্ধির সাথে কোলেস্টেরলের আধিক্যের সম্পর্ক আছে। 
- রক্তে LDL-এর পরিমাণ বেশি থাকা শরীরের জন্য ক্ষতিকর। 
- রক্তে HDL -এর পরিমাণ বেশি থাকা শরীরের জন্য উপকারী। 
- রক্তে কোলেস্টেরলের স্বাভাবিক পরিমাণ ১০০-২০০ mg/dl। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১৩২.
মানবদেহের কোন অঙ্গাণুতে ঐচ্ছিক পেশি থাকে?
  1. জিহ্বায়
  2. চোখে
  3. গলবিলে
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
ঐচ্ছিক বা কঙ্কাল বা অমসৃণ বা রৈখিক পেশি: 
- যেসব পেশি স্নায়ুবিক অথবা হরমোন উদ্দীপনায় উদ্দীপ্ত হয়ে কর্মতৎপর হয় অর্থাৎ যেসব পেশি স্বেচ্ছায় সংকুচিত ও প্রসারিত হয়ে দেহ সঞ্চালনের মুখ্য ভূমিকা পালন করে তাদের ঐচ্ছিক পেশি বলে। 
- এসব পেশি কঙ্কালের সাথে আটকে থাকে বলে এদেরকে কঙ্কাল পেশি বলে। 
- এসকল পেশির কোষগুলো তন্তুর মতো, তাই এদেরকে পেশিতন্ত্র বলে। 
- প্রতিটি পেশিকোষ এন্ডোমাইসিয়াম নামক যোজক কলার আবরণে আবৃত। 
- কোষগুলো বিক্ষিপ্ত না থেকে গুচ্ছাকারে বান্ডল সৃষ্টি করে। 
- এ গুচ্ছাকার বান্ডলকে ফ্যাসিকুলাস বলে। এ বান্ডলগুলো পেরিমাইসিয়াম আবরণে আবৃত থাকে। 
- পেশিকোষগুলো নলাকার লম্বা। দৈর্ঘ্যে ১-৪০ মিলিমিটার, প্রস্থে ০.০১-০.১০ মিলিমিটার হয়। 

- কোষগুলো সারকোলেমা নামক আবরণে আবৃত থাকে। 
- এদের সাইটোপ্লাজমকে সারকোপ্লাজম বলে। 
- কোষের অভ্যন্তরে অসংখ্য ডিম্বাকার নিউক্লিয়াস থাকে। 
- প্রতিটি পেশিকোষের অভ্যন্তরে কতকগুলো অতিসূক্ষ্ম তন্তু বা মায়োফাইব্রিল পাওয়া যায়। 
- প্রধানতঃ অ্যাকটিন ও মায়োসিন নামক প্রোটিন দিয়ে মায়োফাইব্রিল গঠিত। 
- বিভিন্ন অস্থির সাথে, চোখে, জিহ্বায়, গলবিল ইত্যাদিতে ঐচ্ছিক পেশি থাকে। 
- ঐচ্ছিক পেশির সংকোচন প্রসারণে প্রাণীরা স্থানান্তরিত হয় এবং ইচ্ছানুসারে অঙ্গ সঞ্চালন করতে পারে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩৩.
হিমোগ্লোবিন কী করে? 
  1. রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে 
  2. শরীরকে সংক্রমণ থেকে রক্ষা করে 
  3. খাদ্য হজমে সাহায্য করে 
  4. অক্সিজেনের সাথে যুক্ত হয়ে অক্সিজেন পরিবহন করে
ব্যাখ্যা

রক্ত: 
- প্রাণীদেহের রক্ত এক ধরনের লাল বর্ণের অস্বচ্ছ, আন্তঃকোষীয় লবণাক্ত এবং খানিকটা ক্ষারধর্মী তরল যোজক টিস্যু। 
- একজন পূর্ণবয়স্ক সুস্থ মানুষের দেহে প্রায় ৫-৬ লিটার রক্ত থাকে, যা মানুষের দেহের মোট ওজনের প্রায় ৮%। 
- মানুষ এবং অন্যান্য মেরুদণ্ডী প্রাণীদেহের রক্ত লাল রঙের। 
- রক্তের রসে লাল রঙের হিমোগ্লোবিন নামে লৌহ-ঘটিত প্রোটিন জাতীয় পদার্থ থাকায় রক্তের রঙ লাল হয়। 
- হিমোগ্লোবিন অক্সিজেনের সাথে যুক্ত হয়ে অক্সিহিমোগ্লোবিন যৌগ গঠন করে অক্সিজেন পরিবহন করে। 
- কিছু পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইড হিমোগ্লোবিনের সাথে যুক্ত হয়ে ফুসফুসে পরিবাহিত হয়, তবে কার্বন ডাই-অক্সাইডের সিংহভাগ বাইকার্বনেট আয়ন হিসেবে রক্ত দ্বারা ফুসফুসে পরিবাহিত হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১৩৪.
নিচের কোনটি মানবদেহের লোহিত রক্তকণিকার কাজ?
  1. অধিক পরিমাণ CO2 বহন করে
  2. অক্সিজেন পরিবহন
  3. রক্ত জমাট বাঁধা
  4. হরমোন নিঃসরণ
ব্যাখ্যা
লোহিত রক্তকণিকা:
- মানবদেহের রক্তরসে ভাসমান গোল, দ্বি-অবতল চাকতির মতো, নিউক্লিয়াসবিহীন কিন্তু অক্সিজেনবাহী হিমোগ্লোবিনযুক্ত, লাল বর্ণের কণিকাকে লোহিত রক্তকণিকা (Red Blood Corpuscles, RBC) বলে। 

• লোহিত কণিকার কাজ:
(i) লোহিত কণিকার হিমোগ্লোবিন ফুসফুস থেকে দেহকোষে অধিকাংশ O2 এবং সামান্য পরিমাণ CO2 পরিবহন করে।
(ii) রক্তের ঘনত্ব ও সান্দ্রতা (viscocity) রক্ষা করে।
(iii) এগুলোর হিমোগ্লোবিন ও অন্যান্য অন্তঃকোষীয় বস্তু বাফাররূপে রক্তে অম্ল-ক্ষারের সাম্য রক্ষা করে।
(iv) প্লাজমাঝিল্লিতে অ্যান্টিজেন প্রোটিন সংযুক্ত থাকে যা মানুষের ব্লাড গ্রুপ নির্ণয়ে সহায়তা করে।
(v) এসব কণিকা রক্তে বিলিরুবিন ও বিলিভার্ডিন উৎপন্ন করে।
(vi) লোহিত রক্তকণিকা এনজাইমরূপী নাইট্রিক অক্সাইড উৎপাদন করতে পারে যা এন্ডোথেলিয়াল কোষের L-arginine-এর মতো ব্যবহৃত হয়।
(vii) এগুলো হাইড্রোজেন সালফাইড গ্যাস উৎপাদন করে যা রক্তনালির সঙ্কোচনের জন্য সংকেত প্রদান করে।
(viii) এগুলো অনেকসময় দেহের অনাক্রম্যতায় সাড়াপ্রদান (immune response) করে। ব্যাকটেরিয়ায় আক্রান্ত হলে লোহিত রক্তকণিকার হিমোগ্লোবিন থেকে এক ধরনের মুক্ত আয়ন সৃষ্টি হয় যা জীবাণুর কোষপ্রাচীর ভেঙ্গে দিয়ে একে ধ্বংস করে।
(ix) এগুলো পটাসিয়াম বাইকার্বোনেট হিসেবে কোষ-টিস্যু থেকে ফুসফুসে সামান্য পরিমাণে CO₂ পরিবহন করে।

তথ্যসূত্র:
- জীববিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী; গাজী আজমল।
১৩৫.
দেহের প্রতিরক্ষণ ও আত্মরক্ষায় সাহায্য করে-
  1. ক) অনুচক্রিকা
  2. খ) লোহিত কণিকা
  3. গ) শ্বেতকণিকা
  4. ঘ) রক্তরস
ব্যাখ্যা
দেহের প্রতিরক্ষন ও আত্মরক্ষায় সাহায্য করে শ্বেতকণিকা।
- এরা দেহের আকার পরিবর্তনের মাধ্যমে ফ্যাগোসাইটসিস প্রক্রিয়ায় জীবাণু ধ্বংস করে।
- অন্যদিকে অনুচক্রিকা রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে এবং লোহিত রক্ত কণিকা অক্সিজেন সমৃদ্ধ রক্ত পরিবহন করে।
১৩৬.
প্যানক্রিয়াস কোন হরমোন নির্গত করে যা রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ কমায়? 
  1. থাইরক্সিন 
  2. গ্লুকাগন 
  3. ইনসুলিন 
  4. অ্যাড্রিনালিন 
ব্যাখ্যা

ডায়াবেটিস রোগ: 
- বহুমূত্র রোগ বা ডায়াবেটিস মেলিটাস এক ধরনের বিপাকজনিত রোগ। 
- ইনসুলিনের অভাবে ডায়াবেটিস রোগ হয়। 
- প্যানক্রিয়াস থেকে ইনসুলিন নামক এক ধরনের হরমোন নির্গত হয়, যা রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণকে কমিয়ে দেয়। 
- অগ্ন্যাশয়ের আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহেন্স থেকে গ্লুকানল এবং ইনসুলিন নির্গত হয়। 
- ডায়াবেটিস রোগে ইনসুলিন ব্যবহৃত হয়। 
- কারো ডায়াবেটিস হলে প্যানক্রিয়াস যথেষ্ট ইনসুলিন নির্গত করতে পারে না, কিংবা শরীর ইনসুলিনকে ব্যবহার করতে পারে না যার কারণে গ্লুকোজের পরিমাণ বেড়ে যায়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১৩৭.
মানবদেহের দুইটি বৃক্কে সর্বমোট কতগুলো নেফ্রন থাকে?
  1. ৫-৬ লক্ষ
  2. ১০-১২ লক্ষ
  3. ১৫-১৬ লক্ষ
  4. ২০-২৪ লক্ষ
ব্যাখ্যা
• মানবদেহের দুইটি বৃক্কে সর্বমোট ২০-২৪ লক্ষ নেফ্রন থাকে। 

• বৃক্ক:
- বৃক্ক হলো মেরুদণ্ডী প্রাণীদের রেচন অঙ্গ, যা দেহের রেচন পদার্থ (যেমন ইউরিয়া) ছেঁকে মূত্র তৈরি করে এবং রক্ত পরিশোধন করে।

• বৃক্কের বাহ্যিক গঠন:
- প্রত্যেক বৃদ্ধ নিরেট, চাপা দেখতে অনেকটা শিম বীজের মতো এবং লালচে রংয়ের।
- একটি পরিণত বৃক্কের দৈর্ঘ্য ১০-১২ সেন্টিমিটার, প্রস্থ ৫-৬ সেন্টিমিটার এবং স্থূলত্ব ৩ সেন্টিমিটার।
- একেকটির ওজন পুরুষে ১৫০-১৭০ গ্রাম এবং নারীদেহে ১৩০-১৫০ গ্রাম।
- বৃক্কের বাইরের দিক উত্তল ও ভিতরের দিক অবতল। অবতল অংশের ভাঁজকে হাইলাম (hilum) বলে।

• নেফ্রন:
- বৃক্কের গাঠনিক ও কার্যকরী একককে নেফ্রন বলা হয়। 
- মানুষের প্রত্যেক বৃক্কে ১০-১২ লক্ষ নেফ্রন রয়েছে। 
- মানবদেহে দুইটি বৃক্কতে মোট ২০-২৪ লক্ষ নেফ্রন থাকে। 
- প্রতিটি নেফ্রন প্রায় ৩ সে.মি. লম্বা।

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
- জীববিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, গাজী আজমল।
১৩৮.
স্নায়ুতন্ত্রের কার্যকরী একককে কী বলা হয়?
  1. নিউরন 
  2. নেফ্রন 
  3. অ্যাক্সন 
  4. সেলুলার কোষ 
ব্যাখ্যা

স্নায়ুতন্ত্র: 
- স্নায়ুতন্ত্রের প্রধান অঙ্গ মস্তিষ্ক।
- স্নায়ুতন্ত্রের গঠন ও কার্যকরী একককে বলে নিউরন। 
- মস্তিষ্কের নিউরন থাকে ১০ মিলিয়ন। 
- মানুষের মস্তিষ্কের ওজন ১.৩৬ কেজি। 
- মস্তিষ্ককে আবৃতকারী পর্দার নাম মেনিনজেস। 
- মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ এবং রক্ত প্রবাহে বাধা পাওয়াকে বলে স্ট্রোক। 
- স্নায়ুকোষের এক-চতুর্থাংশ বা ২৫% ধ্বংস হয়ে গেলে মস্তিষ্কের ক্ষমতা লোপ পেতে থাকে। 
- স্নায়ুকোষ ধ্বংস হলে মস্তিষ্কের বিভিন্ন প্রকার রোগ যেমন স্মৃতিভ্রংশ, বুদ্ধিবৈকল্য ইত্যাদি হতে পারে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি এবং জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১৩৯.
মানব দেহে সর্বমোট কশেরুকার সংখ্যা কত?
  1. ২৯ টি
  2. ৩১ টি
  3. ৩২ টি
  4. ৩৩ টি
ব্যাখ্যা
• মেরুদন্ড:
- অ্যাটলাস অস্থি থেকে কক্কিক্স অস্থি পর্যন্ত বিস্তৃত দন্ডাকৃতির যে গঠন মানবদেহের কেন্দ্রীয় অক্ষ গঠন করে তাকে মেরুদন্ড বা শিরদাঁড়া বলে।
- ৩৩টি অসম আকৃতির সীমিত সঞ্চালনক্ষম অস্থিখন্ডক সমন্বয়ে মেরুদন্ড গঠিত।
- এ সকল অস্থিখন্ডককে কশেরুকা বলে।
- কশেরুকাগুলো কোমলাস্থি নির্মিত চাকতি দ্বারা পরস্পর যুক্ত থাকে।
- এদের সিমফাইসিস স্থির অবস্থায় বা চলমান অবস্থায় এটি দেহের ভারসাম্য রক্ষা করে।

• মানবদেহ সংক্রান্ত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:
- মানুষের শরীরে মোট হাড়ের সংখ্যা ২০৬ টি।
- করোটিতে অস্থির সংখ্যা ২৯ টি।
- মানবদেহে মোট কশেরুকার সংখ্যা ৩৩ টি।
- মানবেদেহে সাধারণত ক্রোমোজোম থাকে ২৩ জোড়া।
- মানবদেহের প্রতিটি কোষে ২৩ জোড়া বা ৪৬টি ক্রোমোজোম থাকে।
- এ ২৩ জোড়া ক্রোমোজোমের মধ্যে ২২ জোড়া ক্রোমোজোমকে বলা হয় অটোজোম।
- মানবদেহের রক্তে প্লাজমার পরিমাণ ৫৫%।
- মানবদেহের রক্তে রক্তকণিকার পরিমাণ ৪৫%।
- মানবদেহের স্বাভাবিক তাপমাত্রা ৩৭° সেলসিয়াস (৯৮.৬° ফারেনহাইট)।

[মানবদেহের স্বাভাবিক তাপমাত্রা ৯৮.৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট।
Medical Encyclopedia এবং আরো কিছু সোর্স অনুযায়ী -
মানবদেহের স্বাভাবিক তাপমাত্রা ৯৮.৬ ডিগ্রি ফারেনহাইট।এক্ষেত্রে, অপশনে ৯৮.৪ এবং ৯৮.৬ ডিগ্রি ফারেনহাইট দুটিই থাকলে - "৯৮.৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট" দাগাতে হবে।
আবার, ৯৮.৬ ডিগ্রি ফারেনহাইট থাকলে এর সাথে ৯৮.৪ ডিগ্রি বাদে অন্য কিছু থাকলে তখন -
"৯৮.৬ ডিগ্রি ফারেনহাইট" দাগাতে হবে।]

- মানবদেহের শতকরা ৭০ ভাগ পানি থাকে।
- মানবদেহে মোট ৩ প্রকারের অস্থিসন্ধি রয়েছে।

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৪০.
মানবদেহের ক্ষুদ্রান্ত কয়টি অংশে বিভক্ত?
  1. দুইটি
  2. তিনটি
  3. চারটি
  4. পাঁচটি
ব্যাখ্যা
ক্ষুদ্রান্ত্র
পাকস্থলির পাইলোরাস অংশের পর থেকে ইলিওকোলি পর্যন্ত প্রায় ৬-৭ মিটার লম্বা বিস্তৃত অংশ ক্ষুদ্রান্ত্র এটি আবার ৩ অংশে বিভক্ত,
যথা- ডিওডেনাম, জেজুনাম ও ইলিয়াম।
ডিওডেনামে মূলত: অগ্ন্যাশয়িক রসের এনজাইমের ক্রিয়া এবং জেজুনাম ও ইলিয়ামে আন্ত্রিক রসের এনজাইমের ক্রিয়ার পরিপাক ঘটে।

সূত্রঃ প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৪১.
What percentage of the human body is water?
  1. 35%
  2. 65%
  3. 55%
  4. 75%
ব্যাখ্যা
• সঠিক উত্তর: খ) 65% 

- মানবদেহের একটি বড় অংশই পানি দিয়ে গঠিত।
- গড়ে একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দেহে প্রায় ৬০% থেকে ৭০% পর্যন্ত পানি থাকে।
- তবে এটি বয়স, লিঙ্গ এবং শরীরের গঠনের উপর নির্ভর করে কিছুটা ভিন্ন হতে পারে।

উদাহরণস্বরূপ:
- শিশুদের শরীরে পানির পরিমাণ আরও বেশি (প্রায় ৭৫%) হতে পারে।
- বয়স বাড়ার সাথে সাথে শরীরের পানির পরিমাণ কিছুটা কমে যেতে পারে।

• মানবদেহের গঠন মূলত পানির ওপর নির্ভরশীল। আমাদের দেহের প্রায় ৬০-৭০% হলো পানি, যা বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে বিভিন্ন হারে থাকে।

• বিভিন্ন বয়স ও লিঙ্গ অনুযায়ী পানির পরিমাণ:
- নবজাতক (শিশু): ৭৫% পর্যন্ত।
- প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ: ৬০-৬৫%।
- প্রাপ্তবয়স্ক নারী: ৫৫-৬০%।
- বয়স্ক মানুষ: প্রায় ৫০-৫৫%।

- নারীদের শরীরে চর্বির পরিমাণ তুলনামূলক বেশি হওয়ায় পানির শতাংশ কিছুটা কম হয়।
- বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে দেহে পানির পরিমাণও কমে আসে।

• পানি আমাদের দেহে নিম্নোক্ত জায়গাগুলিতে থাকে:
- রক্তে: রক্তের প্রায় ৯০% পানি।
- মস্তিষ্ক ও হৃৎপিণ্ডে: প্রায় ৭৩%।
- ফুসফুসে: প্রায় ৮৩%।
- ত্বকে: প্রায় ৬৪%।
- পেশিতে ও কিডনিতে: প্রায় ৭৯%।
- হাড়ে: প্রায় ৩১%।

• পানির কাজ ও গুরুত্ব:
- দেহের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।
- বর্জ্য পদার্থ বের করে দেয় (মূত্র ও ঘাম হিসেবে)।
- রক্ত সঞ্চালন ও পুষ্টি পরিবহনে সহায়ক।
- অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের সঠিক কার্যক্ষমতা বজায় রাখে।
- হরমোন এবং এনজাইম সক্রিয় রাখতে সাহায্য করে।
- সবকিছু মিলিয়ে একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দেহে পানি থাকে প্রায় ৬৫%, যা তাকে সুস্থভাবে বেঁচে থাকতে সাহায্য করে।

তাই প্রশ্নে দেওয়া অপশনগুলোর মধ্যে সবচেয়ে সঠিক উত্তর হলো: খ) 65%

সূত্র: ব্রিটানিকা।

১৪২.
ত্বকের কোন স্তর অতিবেগুনি রশ্মি শোষণ করে?
  1. এপিডার্মিস
  2. হাইপোডার্মিস
  3. ডার্মিস
  4. সাবকিউটিস
ব্যাখ্যা

দেহের প্রতিরক্ষায় ত্বকের ভূমিকা: 
- ত্বক প্রথম স্তরের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলে। 
- ত্বক দেহকে সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি এবং প্রভাবে সৃষ্ট রোগ (ক্যান্সার) হতে দেহকে রক্ষা করে। ত্বকের এপিডার্মিসের কোষে মেলালিন (melanine) জাতীয় পদার্থ সৃষ্টি হয় যা অতিবেগুনি রশ্মি শোষণ করে। 
- ত্বক দেহের বাইরের স্তরে দৃঢ় ও কেরাটিনাইজড (keratinized) আবরণী তৈরি করে, যা দেহের সকল বাহ্যিক অংশকে আচ্ছাদিত করে এবং ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে একটি ফলপ্রসূ প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। 
- দেহত্বক ছিঁড়ে গেলে বা কেটে গেলে ত্বকে অবস্থিত হিস্টিওসাইট (ম্যাক্রোফেজ) জীবাণু ধ্বংস করে দেহকে প্রতিরক্ষা দান করে। 
- ঘাম ও তৈল গ্রন্থির নিঃসরণ ত্বকের উপরিভাগের pH-কে অম্লীয় (pH = 3-5) করে তোলে, ফলে অণুজীবসমূহ বেশি সময় ত্বকে বেঁচে থাকতে পারে না। - কিছু সংখ্যক উপকারী ব্যাকটেরিয়া ত্বকে অবস্থানকালে এসিড ও বিপাকীয় বর্জ্য নিঃসরণ করে, যা অণুজীবের সংখ্যাবৃদ্ধিকে বাঁধা দেয়। 
- ঘাম নিঃসৃত লবণ ও ফ্যাটি এসিডে অবস্থিত লাইসোজাইম (lysozyme) ব্যাকটেরিয়ার কোষ প্রাচীরকে ধ্বংস করে। 
- অশ্রুগ্রন্থি নিঃসৃতেও লাইসোজাইম থাকে যারা চোখে জীবাণুর সংক্রমণ প্রতিহত করে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৪৩.
মানুষের মুখবিবরে কতটি লালাগ্রন্থি থাকে? 
  1. দুইটি
  2. চারটি
  3. ছয়টি
  4. আটটি
ব্যাখ্যা
মুখবিবর: 
- মুখ পরবর্তী অংশটি মুখবিবর। 
- মুখ বিবরের ঊর্ধ্ব প্রাচীর তালুর অস্থি ও পেশি দিয়ে, সামনের প্রাচীর ঠোঁটের পেশি দিয়ে এবং পার্শ্ব প্রাচীর গালের পেশি দিয়ে গঠিত। 
- তালুর অগ্রভাগ অস্থিনির্মিত এবং শক্ত, পেছনের অংশ মাংসল ও নরম। 
- তালুর পেছনের অংশের মধ্যভাগ থেকে একটি অপেক্ষাকৃত সরু আলজিহবা মুখবিবরে ঝুলে থাকে। 
- মানুষের ঊর্ধ্ব ও নিম্ন চোয়াল দাঁতযুক্ত। 
এছাড়া মুখবিবরে তিন জোড়া বা ছয়টি লালাগ্রন্থি থাকে। 
- নিম্নে চোয়ালের অস্থির সাথে জিহ্বাযুক্ত থাকে। 
- পৃষ্ঠতলের উপর থাকে স্বাদকোরক এগুলো বিভিন্ন রাসায়নিক বস্তুর প্রতি সংবেদনশীল। 
- জিহ্বার অগ্রভাগ মিষ্টি, দুই পার্শ্ব নোনা, পশ্চাৎ ভাগের দুই পার্শ্ব টক এবং পেছনের দিক তিক্ত স্বাদ গ্রহণ করে। 

কাজ: 
- দাঁত খাদ্য দ্রব্যকে কাটা, ছেঁড়া ও পেষণে সাহায্য করে। 
- জিহ্বা খাদ্য দ্রব্যের স্বাদ গ্রহণ করে এবং পেষণের সময় লালারস মিশ্রিত করে খাদ্য দ্রব্যকে পিচ্ছিল করে পেছনে ঠেলে দেয়। 
- লালাগ্রন্থি থেকে নিঃসৃত “মিউসিন” খাদ্যকে পিচ্ছিল করে আর টায়ালিন ও মল্টেজ এনজাইম খাদ্য পরিপাকে সহায়তা করে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৪৪.
ডিপথেরিয়ায় মানবদেহের প্রধানত কোন অংশ আক্রান্ত হয়?
  1. ক) কান
  2. খ) নাক
  3. গ) গলা
  4. ঘ) পাকস্থলী
ব্যাখ্যা
ডিপথেরিয়ায় মানবদেহের প্রধানত গলার অংশ আক্রান্ত হয়। 

- ডিপথেরিয়া ব্যাকটেরিয়া ঘটিত মারাত্মক রোগ যা গলা ও নাকের মিউকাস মেমব্রেন বা শ্লেষ্মা ঝিল্লিতে প্রদাহ সৃষ্টি করে।
- Corynebacterium diphtheriae নামক ব্যাকটেরিয়া ডিপথেরিয়ার জন্য দায়ী।
- এই রোগে গলার নিম্নাংশে পুরু পর্দার আচ্ছাদন (ডিপথেরিক মেমব্রেন) পড়ে। ফলে শ্বাস নিতে কষ্ট হয়।
- এই রোগে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হওয়া, প্যারালাইসিস, কিডনি নষ্ট হতে পারে এবং রোগীর মৃত্যুও হতে পারে।

লক্ষণসমূহ-
১) ঠান্ডা লাগা। 
২) জ্বর। 
৩) গলায় প্রচন্ড ব্যাথা ও কাশি। 
৪) মুখ দিয়ে লালা বের হওয়া। 
৫) শ্বাস নিতে অসুবিধা। 
৬) খাবার গিলতে সমস্যা। 
৭) কথা বলার মধ্যে জড়তা। 
৮) নাক বন্ধ হয়ে যাওয়া। 
৯) দুর্বলতা। 
১০) প্রচন্ড মাথা ব্যথা। 

সূত্র- Centers for Disease Control and Prevention [লিঙ্ক]
১৪৫.
নিচের কোনটি কার্বন- ডাই- অক্সাইড সমৃদ্ধ রক্ত সংবহনে ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) হেপাটিক ধমনি
  2. খ) ফুসফুসীয় ধমনি
  3. গ) পালমােনারি শিরা
  4. ঘ) ফিমোরাল ধমনি
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা:
সাধারণত ধমনি সংবহনে অক্সিজেন সমৃদ্ধ রক্তের আধিক্য থাকে।
যেমন মহাধমনি, হেপাটিক বা যকৃত ধমনি, ফিমোরাল ধমনি ইত্যাদি প্রায় সকল ধমনি সংবহনেই অক্সিজেন সমৃদ্ধ রক্তের আধিক্য থাকের

কেবল ফুসফুসীয় ধমনির সংবহনে কার্বন- ডাই- অক্সাইড সমৃদ্ধ রক্তের আধিক্য থাকে।
- ফুসফুসীয় ধমনির উদ্ভব হয় ডান নিলয় থেকে।
- হৃদপিণ্ডের ডান নিলয়ের সংকোচনের ফলে কার্বন- ডাই- অক্সাইড সমৃদ্ধ রক্ত তথা অক্সিজেনরিক্ত রক্ত ফুসফুসীয় ধমনিতে প্রবেশ করে।

সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক প্রাণিবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

করােনারি ধমনি: অ্যাওর্টা অ্যাওর্টিক আর্চ গঠনের পূর্বেই ডান ও বাম করােনারি ধমনি উৎপন্ন করে। এরা অক্সিজেন যুক্ত রক্ত হৃদপেশীতে সরবরাহ করে।

ইনমিনেট ধমনি: এটি একটি খাটো ও মােটা ধমনি। এটি অভিন্ন ক্যারােটিড ধমনি ও ডান সাবক্লেভিয়ান ধমনিতে বিভক্ত।

পালমােনারী ধমনি: দেহ থেকে গৃহীত কার্বন-ডাই-অক্সাইড সমৃদ্ধ রক্ত অক্সিজেনময় হওয়ার জন্য ফুসফুসে বহন করে।

পালমােনারি শিরা: ফুসফুস থেকে অক্সিজেনময় রক্ত দেহে সরবরাহের জন্য হৃদপিন্ডে বহন করে।

সূত্রঃ প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৪৬.
শ্বেত রক্তকণিকা (লিউকোসাইট) সম্পর্কিত কোন বিবৃতিটি সঠিক নয়?
  1. শ্বেত রক্তকণিকায় নিউক্লিয়াস থাকে
  2. ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় জীবাণু ভক্ষণ করে
  3. মানবদেহে শ্বেত রক্তকণিকার সংখ্যা প্রতি ঘনমিলিমিটার রক্তে ৪ - ১১ হাজার 
  4. রক্তপ্রবাহে শ্বেত রক্তকণিকা সাধারণত মাইটোসিস প্রক্রিয়ায় বিভাজিত হয়
ব্যাখ্যা

শ্বেত রক্তকণিকা সাধারণত অস্থিমজ্জা (bone marrow) এবং লিম্ফয়েড অঙ্গাণু যেমন লিম্ফ নোড (lymph nodes) ও প্লীহা (spleen) -তে বিভাজিত হয়, রক্তপ্রবাহের মধ্যে নয়।

শ্বেত রক্তকণিকা:
- শ্বেত রক্তকণিকা ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় জীবাণু ধ্বংস করে।
- হিমোগ্লোবিন না থাকার কারণে এদের শ্বেত রক্তকণিকা বলে।
- ইংরেজিতে White Blood Cell বা WBC বলে।
- রক্তে এদের সংখ্যা RBC-এর তুলনায় অনেক কম। অ্যামিবার মতো দেহের আকারের পরিবর্তন করে।
- রক্ত জালিকার প্রাচীর ভেদ করে টিস্যুর মধ্যে প্রবেশ করতে পারে।
- শ্বেত কণিকাগুলো রক্তরসের মধ্য দিয়ে নিজেরাই চলতে পারে।
- দেহ বাইরের জীবাণু দ্বারা আক্রান্ত হলে, দ্রুত শ্বেত কণিকার সংখ্যা বৃদ্ধি ঘটে।
- মানবদেহে প্রতি ঘন মিলিমিটার রক্তে ৪ - ১১ হাজার (গড়ে ৭৫০০) শ্বেত রক্তকণিকা থাকে।

শ্বেত রক্তকণিকার বৈশিষ্ট্যসমূহ-
১. শ্বেত রক্তকণিকায় নিউক্লিয়াস আছে।
২. শ্বেত রক্তকণিকার আকার অনিয়মিত ও বড়।
৩. শ্বেত রক্তকণিকায় হিমোগ্লোবিন নেই।
৪. শ্বেত রক্তকণিকার সংখ্যা লোহিত রক্তকণিকার তুলনায় অনেক কম।
৫. শ্বেত রক্তকণিকার গড় আয়ু ১-১৫ দিন।

সূত্র: জীববিজ্ঞান ২য় পত্র (প্রাণিবিজ্ঞান), এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৪৭.
মানুষের দেহে করোটিক স্নায়ু সংখ্যা কতটি?
  1. ১২টি
  2. ২৪টি
  3. ৩১টি
  4. ৪৬টি
ব্যাখ্যা
করোটিক স্নায়ু: 
- যে সব স্নায়ু মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশ থেকে উৎপত্তি লাভ করে করোটিকার বিভিন্ন ছিদ্রপথে বের হয়ে দেহের বিভিন্ন অঙ্গে বিস্তৃত হয় তাদের করোটিক স্নায়ু বলে। 
- মানুষের করোটিক স্নায়ু ১২ জোড়া বা ২৪টি। 
- করোটিক স্নায়ুসমূহ সেনসরি বা সংবেদী, মটর বা আজ্ঞাবাহী/চেষ্টীয় এবং মিশ্র প্রকৃতির হয়ে থাকে। 
- যে সকল স্নায়ু কোন সংবেদী অঙ্গ থেকে উদ্দীপনা বহন করে কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রে বা মস্তিষ্কে পৌঁছে দেয় তাদের সংবেদী স্নায়ু বলে। 
যেমন- অলফ্যাক্টরি ও অপটিক স্নায়ু। 
- আবার যে সব স্নায়ু কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের কোন নির্দেশ বহন করে নির্দিষ্ট অঙ্গে পৌঁছে দেয় তাদের চেষ্টীয় বা আজ্ঞাবাহী বা মোটর স্নায়ু বলে। 
যেমন- অকুলোমোটর ও ট্রকলিয়ার স্নায়ু। 
- কিছু স্নায়ু সংবেদী ও আজ্ঞাবাহী উভয় ধরনের কাজ করে, এদের মিশ্র স্নায়ু বলে। 
যেমন- ফ্যাসিয়াল বা ট্রাইজেমিনাল স্নায়ু। 

অলফ্যাক্টরি স্নায়ু: 
- অগ্রমস্তিষ্কের অঙ্কীয়দেশ (অলফ্যাক্টরি লোবের শীর্ষদেশ) হতে উৎপন্ন হয়ে নাসিকা গহবরের মিউকাস পর্যন্ত বিস্তৃত হয়।
- এটি সংবেদী স্নায়ু এবং মস্তিষ্কে ঘ্রাণের অনুভূতি পৌঁছায়।

অন্যদিকে, 
- মানবদেহে সুষুম্না কাণ্ড থেকে ৩১ জোড়া বা ৬২টি সুষুম্না স্নায়ু উৎপন্ন হয়। 
- মানুষের জীবকোষে ক্রোমোজোম আছে ২৩ জোড়া বা ৪৬টি। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৪৮.
মানুষের স্পাইনাল কর্ডের দৈর্ঘ্য কত সেন্টিমিটার?
  1. ১৮ সে.মি.
  2. ৩০ সে.মি.
  3. ৪৫ সে.মি.
  4. ৬০ সে.মি.
ব্যাখ্যা
• সুষুম্না কান্ড:
- সুষুম্না কান্ড বা Spinal Cord কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের একটি অংশ।
- Spinal Cord বা স্নায়ু রজ্জু মস্তিষ্ক থেকে মেরুদন্ডের ভেতরে অবস্থিত।
- Spinal Cord প্রায় ১৮ ইঞ্চি বা ৪৫ সে.মি. লম্বা।
- এখান থেকে ৩১ জোড়া স্নায়ু (Spinal Nerve) উৎপন্ন হয়।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১৪৯.
​ইনসুলিন কোন অঙ্গ থেকে নির্গত হয়? 
  1. কিডনি 
  2. হার্ট 
  3. প্যানক্রিয়াস
  4. লিভার 
ব্যাখ্যা

বহুমূত্র রোগ: 
- বহুমূত্র রোগ বা ডায়াবেটিস মেলিটাস এক ধরনের বিপাকজনিত রোগ।
- ইনসুলিনের অভাবে ডায়াবেটিস রোগ হয়। 
- প্যানক্রিয়াস থেকে ইনসুলিন নামক এক ধরনের হরমোন নির্গত হয়, যা রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণকে কমিয়ে দেয়
- অগ্ন্যাশয়ের আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহেন্স থেকে গ্লুকানল এবং ইনসুলিন নির্গত হয়।
- ডায়াবেটিস রোগে ইনসুলিন ব্যবহৃত হয়।
- কারো ডায়াবেটিস হলে প্যানক্রিয়াস যথেষ্ট ইনসুলিন নির্গত করতে পারে না, কিংবা শরীর ইনসুলিনকে ব্যবহার করতে পারে না।
- যে কারণে গ্লুকোজের পরিমাণ বেড়ে যায়।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১৫০.
কোন ধমনি মেরুদণ্ডের রক্ত সরবরাহ করে?
  1. ইলিয়াক ধমনি
  2. ভার্টিব্রাল ধমনি
  3. সিলিয়াক ধমনি
  4. মেসেন্টেরিক ধমনি
ব্যাখ্যা
সাবক্লেভিয়াল ধমনি ও তার শাখা: 
- সাবক্লেভিয়াল ধমনি দেহের প্রতিপাশে ফুসফুসের উপর দিয়ে বিভিন্ন শাখায় বিভক্ত হয়ে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে রক্ত সরবরাহ করে। 
- এর শাখাগুলোর কাজ হলো বিভিন্ন অঙ্গের রক্ত সরবরাহ করা। 

প্রধান শাখাগুলোর রক্ত সরবরাহের অঞ্চলসমূহ: 
- আন্তঃম্যামারি ধমনি: স্তনগ্রন্থি, বক্ষীয় প্রাচীর ও পেরিকার্ডিয়ামে রক্ত সরবরাহ করে। 
- থাইরোসার্ভিকাল ধমনি: থাইরয়েড গ্রন্থি, ল্যারিংক্স ও ঘাড়ের পেশিতে রক্ত সরবরাহ করে। 
- সার্ভিকাল ধমনি: অক্সিপুটের পেশিতে রক্ত সরবরাহ করে। 
- ভার্টিব্রাল ধমনি: মেরুদণ্ডের রক্ত সরবরাহ করে। 
- সিলিয়াক ধমনি: পাকস্থলী ও যকৃতে রক্ত সরবরাহ করে। 
- ফ্রেনিক ধমনি: ডায়াফ্রামে রক্ত সরবরাহ করে। 
- বৃক্কীয় ধমনি: বৃক্কে রক্ত সরবরাহ করে। 
- মেসেন্টেরিক ধমনি: অন্ত্রের বিভিন্ন অংশে রক্ত সরবরাহ করে। 
- জনন ধমনি: গোনাডে রক্ত সরবরাহ করে। 
- ইলিয়াক ধমনি: পেলভিস অঞ্চল, উরু, পা ইত্যাদি অংশে রক্ত সরবরাহ করে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৫১.
মানুষের করোটিক স্নায়ুর সংখ্যা কতটি?
  1. ১২টি
  2. ২৪টি
  3. ৩১টি
  4. ৩৩টি
ব্যাখ্যা
• করোটিক স্নায়ু:
- যেসব স্নায়ু মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশ থেকে জোড়ায় জোড়ায় সৃষ্টি হয়ে করোটিকার বিভিন্ন ছিদ্রপথে বেরিয়ে দেহের বিভিন্ন অঙ্গে বিস্তৃত হয় সেগুলোকে করোটিক স্নায়ু বলে।
- মানুষের মস্তিষ্কে ১২ জোড়া অর্থাৎ ২৪টি করোটিক স্নায়ু আছে।
- সম্মুখ অংশ থেকে পরপর এদের রোমান সংখ্যা দিয়ে সূচিত করা হয়।
- মানবদেহে সুষুম্না কাণ্ড থেকে ৩১ জোড়া সুষুম্না স্নায়ু উৎপন্ন হয়।
- মানবদেহে সর্বমোট  ৩৩টি কশেরুকা রয়েছে।

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক প্রাণিবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
১৫২.
কোন অংশটি পেশি ও অস্থির মধ্যে সংযোগ স্থাপন করে?
  1. অস্থিবন্ধনী
  2. লিগামেন্ট
  3. টেনডন
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• টেনডন পেশি ও অস্থির মধ্যে সংযোগ স্থাপন করে।

• টেনডন:
- মাংসপেশির যে প্রান্তভাগ রজ্জুর মতো শক্ত হয়ে অস্থিগাত্রের সাথে সংযুক্ত হয় সেই শক্ত প্রান্তকে টেনডন বলা হয়।

• টেনডনের গঠন:
- টেনডন টিস্যু কোলাজেন দিয়ে তৈরি, যা শরীরের সবচেয়ে বেশি প্রোটিন। এই কোলাজেন ফাইবারগুলি স্থিতিস্থাপক, মজবুত এবং নমনীয়।
- টেনডনগুলো স্নায়ু এবং রক্তনালী নিয়ে গঠিত।
- টেনডন ঘন, শ্বেত তন্তুময় যোজক কলা দিয়ে গঠিত। 
- অস্থি বা পেশির তুলনায় টেনডনের ভেঙ্গে বা ছিরে যাওয়ার সম্ভাবনা অনেক কম, তবে যদি কোনোভাবে ছিঁড়ে যায় তাহলে সহজে জোড়া লাগে না।

• টেনডনের কাজ:
- অস্থি বা হাড়ের সাথে পেশী সংযুক্ত করতে সাহায্য করে।
- অস্থিবন্ধনী গঠনে সাহায্য করে। 
- চাপটানের বিরুদ্ধে যান্ত্রিক প্রতিরোধ গড়ে তোলে। 
- লাফ দেওয়ার সময়, দৌড়ানোর সময় পেশীতে আঘাত রোধ করে। সারা শরীর জুড়ে টেনডন পাওয়া যায়।
- অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে নড়াচড়া করতে সাহায্য করে।

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
১৫৩.
মানব শ্বাসতন্ত্রের প্রথম অংশের নাম কী? 
  1. ফুসফুস
  2. শ্বাসনালী
  3. নাসিকা
  4. গলবিল
ব্যাখ্যা

মানুষের শ্বাসতন্ত্রের প্রধান অংশসমূহের নাম:
- দেহের যে অঙ্গগুলো শ্বসন প্রক্রিয়ায় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে, সেগুলোকে একত্রে শ্বাসতন্ত্র বলে। 
- যে সকল অঙ্গগুলো নিয়ে মানব শ্বাসতন্ত্র গঠিত তা হলো- নাসারন্ধ্র ও নাসাপথ (Nasal cavity), গলবিল ও গলনালি (Pharynx), স্বরযন্ত্র (Larynx), শ্বাসনালি (Trachea), বায়ুনালি বা ব্রঙ্কাস (Bronchus), ফুসফুস (Lung) ও মধ্যচ্ছদা (Diaphragm) । 

নাসারন্ধ্র বা নাসাপথ: 
- মানব শ্বাসতন্ত্রের প্রথম অংশের নাম নাসিকা। 
- এটা মুখ গহ্বরে উপরে অবস্থিত একটি ত্রিকোণাকার গহ্বর, এর সাহায্যে কোন বস্তুর সুগন্ধ বা দুর্গন্ধ বোঝা যায়। 
- একটি বিশেষ ধরনের স্নায়ু এ অঙ্গকে উদ্দীপিত করে, ফলে গন্ধ পাওয়া যায়। 
- একটি পাতলা পর্দা দ্বারা এটি দু'ভাগে বিভক্ত। 
- ইহার সম্মুখ ভাগ লোম দ্বারা আবৃত ও পেছনের দিকের অংশ শ্লেষ্মা প্রস্তুতকারী পর্দা দ্বারা আবৃত। 
- শ্বাস-প্রশ্বাসের সময় বায়ুতে বিদ্যমান ধূলিকণা, রোগ জীবাণু ও আবর্জনা থাকলে তা এ লোম ও পর্দাতে আটকে যায়। 
- ফলে বায়ু ফুসফুসে প্রবেশের পূর্বে অনেকটা নির্মল হয়ে যায়। 
- এছাড়া শ্বসনের জন্য গৃহীত বায়ু নাসাপথ দিয়ে যাওয়ার সময় কিছুটা শুষ্ক ও আর্দ্র হয়। এর ফলে হঠাৎ ঠান্ডা বায়ু ফুসফুসে প্রবেশ করে কোন প্রকার ক্ষতি করতে পারে না। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৫৪.
হৃৎপিণ্ডের কোন প্রকোষ্ঠ থেকে অক্সিজেনসমৃদ্ধ রক্ত মহাধমনির মাধ্যমে দেহের কোষে সরবরাহ করা হয়? 
  1. ডান নিলয় 
  2. বাম নিলয়
  3. ডান অলিন্দ
  4. বাম অলিন্দ
ব্যাখ্যা

হৃৎপিণ্ড: 
- হৃৎপিণ্ড হলো রক্ত সংবহনতন্ত্রের অন্তর্গত একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ, যা পাম্পের মতো কাজ করে। 
- এটি নিরবিচারে সংকোচন ও প্রসারণের মাধ্যমে সারা দেহে রক্ত সঞ্চালন ঘটায়। 
- মানুষের হৃৎপিণ্ড বক্ষগহ্বরের কেন্দ্রে, ফুসফুস দুটির মাঝখানে এবং মধ্যচ্ছদার ঠিক ওপরে অবস্থান করে। 
- এর উপরের অংশটি প্রশস্ত এবং নিচের প্রান্তটি ছুঁচালো আকৃতির, যা নিচের দিকে অবস্থিত থাকে। 
- হৃৎপিণ্ডটি একটি দ্বিস্তর বিশিষ্ট পর্দা পেরিকার্ডিয়াম দ্বারা আবৃত থাকে। এই পর্দার দুই স্তরের মাঝে একটি তরল পদার্থ থাকে, যাকে পেরিকার্ডিয়াল ফ্লুইড বলা হয়। 
- এটি হৃৎপিণ্ডকে ঘর্ষণ থেকে রক্ষা করে এবং সংকোচনের সময় সহায়ক ভূমিকা পালন করে। 

- মানুষের হৃৎপিণ্ড চারটি প্রকোষ্ঠ নিয়ে গঠিত। 
- উপরের দুটি প্রকোষ্ঠকে বলা হয় ডান অলিন্দ ও বাম অলিন্দ (Atrium) এবং নিচের দুটি প্রকোষ্ঠকে বলা হয় ডান নিলয় ও বাম নিলয় (Ventricle)। 
- অলিন্দগুলোর প্রাচীর তুলনামূলকভাবে পাতলা, তবে নিলয়গুলোর প্রাচীর পুরু এবং অধিক পেশিবহুল, কারণ নিলয় থেকেই রক্ত শরীরের বিভিন্ন অংশে সরবরাহ করা হয়। 
- ডান অলিন্দের সঙ্গে দুটি বড় শিরা যুক্ত থাকে ঊর্ধ্ব মহাশিরা ও নিম্ন মহাশিরা, যা দেহের বিভিন্ন অংশ থেকে অক্সিজেনবিহীন রক্ত এনে দেয়। 
- ডান নিলয় থেকে ফুসফুসীয় ধমনি (Pulmonary artery) উৎপন্ন হয়, যা অক্সিজেন গ্রহণের জন্য রক্ত ফুসফুসে পাঠায়। অন্যদিকে, বাম নিলয় থেকে মহাধমনি (Aorta) উৎপন্ন হয়, যা অক্সিজেনসমৃদ্ধ রক্তকে দেহের প্রতিটি কোষে সরবরাহ করে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১৫৫.
মানবদেহের সবচেয়ে ক্ষুদ্রতম পেশী কোনটি?
  1. ট্রাইসেপ পেশী
  2. ডেল্টয়েড পেশী
  3. স্টেপিডিয়াস পেশী
  4. ম্যাসিয়েটর পেশী
ব্যাখ্যা
• স্টেপিডিয়াস পেশী (Stapedius muscle) হল মানবদেহের সবচেয়ে ক্ষুদ্রতম পেশী। এটি মধ্যকর্ণে অবস্থিত এবং স্টেপিস (stapes) নামক ক্ষুদ্র হাড়ের সঙ্গে সংযুক্ত।

অবস্থান: কানের মধ্যভাগে (middle ear) ।
দৈর্ঘ্য: মাত্র ১–১.৩ মিলিমিটার, যা এটিকে মানবদেহের সবচেয়ে ছোট পেশীতে পরিণত করে।
কাজ: এই পেশীটি স্টেপিস (stapes) নামক হাড়ের নড়াচড়া নিয়ন্ত্রণ করে। এটি উচ্চ শব্দের সময়  কানকে সুরক্ষা দেয়।
গুরুত্ব: শব্দ তরঙ্গের অতিরিক্ত কম্পন প্রতিহত করে শ্রবণ সংবেদনকে নিয়ন্ত্রণ করে। 

ট্রাইসেপ পেশী:
-  অবস্থান: বাহুর পিছনে (upper arm)। 
-  কাজ: বাহু সোজা করতে সাহায্য করে (extension)। 
-  আকার: বড় ও সুগঠিত পেশী। 
-  সবচেয়ে ক্ষুদ্র নয়, বরং একটি বৃহৎ ও শক্তিশালী পেশী। 

ডেল্টয়েড পেশী:
-  অবস্থান: কাঁধে ।
-  কাজ: বাহু উপরে ওঠানো, পাশে সরানো ইত্যাদি ।
-  এটা একাধিক পেশীতন্তু দ্বারা  গঠিত, বৃহৎ ও বহুমুখী কার্যক্ষম পেশী ।

• ম্যাসিয়েটর পেশী:
-  অবস্থান: চোয়ালের পাশে ।
-  কাজ: চিবানো এবং মুখ বন্ধ করার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
-  এটি মানবদেহের সবচেয়ে শক্তিশালী পেশীগুলোর একটি, কিন্তু ক্ষুদ্রতম নয়।

তথ্যসূত্র:
- জীববিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী; গাজী আজমল।
- Encyclopedia Britannica.
১৫৬.
ভয় পেলে শরীরের লোম খাড়া হয় কোন হরমোনের কারণে?
  1. অ্যাড্রেনালিন
  2. অক্সিটোসিন
  3. ডোপামিন
  4. ইনসুলিন
ব্যাখ্যা
• ভয় পেলে গায়ের লোম খাড়া হয়  অ্যাড্রেনালিন হরমোনের জন্য।

• কয়েকটি গুরত্বপূর্ণ হরমোন: 
- অক্সিটোসিন জরায়ুর পেশি সংকোচন ঘটিয়ে শিশুর জন্মের প্রক্রিয়ায় সাহায্য করে।
- ডোপামিন মস্তিষ্কে সুখ এবং সন্তুষ্টির অনুভূতি সৃষ্টি করে।

- থাইরক্সিন হরমোন মানুষের বৃদ্ধি এবং বিকাশে ভূমিকা রাখে। 
- ইনসুলিন এবং গ্লুকাগন গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণ এবং অন্যান্য শারীরবৃত্তীয় কাজে এ হরমোন দুটি গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা পালন করে।
- ক্যালসিটোনিন হরমোন রক্তে ক্যালসিয়ামের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে।
- জীবন রক্ষাকারী হরমোন অ্যালডোস্টেরন।
- শুক্রাশয় হতে টেসটোস্টেরন হরমোন নিঃসৃত হয়। 
- দাড়ি গোঁফ গজায় টেসটোস্টেরন  হরমোনের জন্য। 
- মহিলাদের রজঃচক্র নিয়ন্ত্রণ করে ইস্ট্রোজেন ও প্রজেস্টেরন হরমোন।

উৎস: Harvard Medical School ওয়েবসাইট।
১৫৭.
মস্তিষ্কের কোন অংশ দেহতাপ নিয়ন্ত্রণ করে?
  1. ক) সেরেব্রাম
  2. খ) থ্যালামাস
  3. গ) হাইপোথ্যালামাস
  4. ঘ) সেরেবেলাম
ব্যাখ্যা
সেরেব্রাম (অগ্রমস্তিষ্ক)
-  সংবেদী অঙ্গ থেকে আসা অনুভূতি গ্রহণ ও বিশ্লেষণ করে।
- চিন্তা, বুদ্ধি, ইচ্ছাশক্তি, উদ্ভাবনীশক্তি প্রভৃতি উন্নত মানসিক বোধের নিয়ন্ত্রণ করে।
- বিভিন্ন সহজাত প্রবৃত্তির নিয়ন্ত্রক হিসেবে কাজ করে।
- বাকশক্তিকে নিয়ন্ত্রণ করে।
- দেহের সব ঐচ্ছিক পেশির কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ করে।

থ্যালামাস (অগ্রমস্তিষ্ক)
- এটি সংজ্ঞাবহ স্নায়ুর রিলে স্টেশন হিসেবে কাজ করে।
- চাপ, স্পর্শ, যন্ত্রণা প্রভৃতি স্থূল অনুভূতির কেন্দ্র, আবেগের কেন্দ্র ও অভ্যন্তরীণ অঙ্গের নিয়ন্ত্রক কেন্দ্র হিসেবে কাজ কর
- মানুষের ব্যক্তিত্ব ও সামাজিক আচরণের প্রকাশ ঘটায়।
- ঘুমন্ত মানুষকে হঠাৎ জাগিয়ে তোলা ও পরিবেশ সম্বন্ধে সতর্ক করে তোলে। 

হাইপোথ্যালামাস (অগ্রমস্তিষ্ক)
- স্বয়ংক্রিয় স্নায়ুকেন্দ্রের কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে।
- দেহতাপ নিয়ন্ত্রণ করে।
- ক্ষুধা, তৃষ্ণা, ঘাম, ঘুম, রাগ, পীড়ন, ভালোলাগা, ঘৃণা, উদ্বেগ প্রভৃতির কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে

মেসেনসেফানল (মধ্যমস্তিষ্ক)
- অগ্র ও পশ্চাৎমস্তিষ্কের যোগসূত্র রচনা করে।
- দর্শন ও শ্রবণ তথ্যের সমন্বয় ঘটায় এবং প্রতিবেদন সৃষ্টি করে।

সেরেবেলাম (পশ্চাৎমস্তিষ্ক)
- ঐচ্ছিক চলাফেরাকে নিয়ণ করে।
- ঐচ্ছিক পেশির পেশিটান নিয়ন্ত্রণ করে।
- দেহের ভারসাম্য ও দেহভঙ্গি বজায় রাখে।
- চলাফেরার দিক নির্ধারণ করে।

সূত্র- জীববিজ্ঞান ২য়  পত্র(একাদশ -দ্বাদশ শ্রেণি) - গাজী আজমল ও গাজী আসমত ।
১৫৮.
কোনটি মানবদেহে প্রথম প্রতিরক্ষা স্তর হিসেবে কাজ করে?
  1. ত্বক
  2. বি-কোষ
  3. ম্যাক্রফেজ
  4. মাস্ট কোষ
ব্যাখ্যা
প্রতিরক্ষায় ত্বকের ভূমিকা: 
- মানবদেহে 'ত্বক' প্রথম স্তরের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলে। 
- ত্বক দেহকে সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি এবং প্রভাবে সৃষ্ট রোগ (ক্যান্সার) হতে দেহকে রক্ষা করে। 
- ত্বকের এপিডার্মিসের কোষে মেলালিন জাতীয় পদার্থ সৃষ্টি হয় যা অতিবেগুনি রশ্মি শোষণ করে। 
- ত্বক দেহের বাইরের স্তরে দৃঢ় ও কেরাটিনাইজড আবরণী তৈরি করে, যা দেহের সকল বাহ্যিক অংশকে আচ্ছাদিত করে এবং ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে একটি ফলপ্রসূ প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। 
- দেহত্বক ছিঁড়ে গেলে বা কেটে গেলে ত্বকে অবস্থিত হিস্টিওসাইট (ম্যাক্রোফেজ) জীবাণু ধ্বংস করে দেহকে প্রতিরক্ষা দান করে। 
- ঘাম ও তৈল গ্রন্থির নিঃসরণ ত্বকের উপরিভাগের pH-কে অম্লীয় (pH= 3-5) করে তোলে, ফলে অণুজীবসমূহ বেশি সময় ত্বকে বেঁচে থাকতে পারে না। 
- কিছু সংখ্যক উপকারী ব্যাকটেরিয়া ত্বকে অবস্থানকালে এসিড ও বিপাকীয় বর্জ্য নিঃসরণ করে, যা অণুজীবের সংখ্যাবৃদ্ধিকে বাঁধা দেয়। 
- ঘাম নিঃসৃত লবণ ও ফ্যাটি এসিডে অবস্থিত লাইসোজাইম ব্যাকটেরিয়ার কোষ প্রাচীরকে ধ্বংস করে। 
- অশ্রুগ্রন্থি নিঃসৃতেও লাইসোজাইম থাকে যারা চোখে জীবাণুর সংক্রমণ প্রতিহত করে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৫৯.
মানুষের করোটিক স্নায়ু কয় জোড়া?
  1. ৮ জোড়া
  2. ১০ জোড়া
  3. ১২ জোড়া
  4. ১৫ জোড়া
ব্যাখ্যা

- মানুষের করোটিক স্নায়ু ১২ জোড়া।

• করোটিক স্নায়ু:
- যে সব স্নায়ু মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশ থেকে উৎপত্তি লাভ করে করোটিকার বিভিন্ন ছিদ্রপথে বের হয়ে দেহের বিভিন্ন অঙ্গে বিস্তৃত হয় তাদের করোটিক স্নায়ু বলে।
- মানুষের করোটিক স্নায়ু ১২ জোড়া।
- করোটিক স্নায়ুসমূহ সেনসরি বা সংবেদী, মটর বা আজ্ঞাবাহী/চেষ্টীয় এবং মিশ্র প্রকৃতির হয়ে থাকে।
- যে সকল স্নায়ু কোন সংবেদী অঙ্গ থেকে উদ্দীপনা বহন করে কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রে বা মস্তিষ্কে পৌঁছে দেয় তাদের সংবেদী স্নায়ু বলে।
যেমন- অলফ্যাক্টরি ও অপটিক স্নায়ু।
- আবার যে সব স্নায়ু কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের কোন নির্দেশ বহন করে নির্দিষ্ট অঙ্গে পৌঁছে দেয় তাদের চেষ্টীয় বা আজ্ঞাবাহী বা মোটর স্নায়ু বলে।
যেমন- অকুলোমোটর ও ট্রকলিয়ার স্নায়ু।
- কিছু স্নায়ু সংবেদী ও আজ্ঞাবাহী উভয় ধরনের কাজ করে, এদের মিশ্র স্নায়ু বলে।
যেমন- ফ্যাসিয়াল বা ট্রাইজেমিনাল স্নায়ু।

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৬০.
একটি পূর্ণাঙ্গ ফুসফুসের বায়ু ধারণ ক্ষমতা কত লিটার?
  1. ৪ লিটার
  2. ৫ লিটার
  3. ৬ লিটার
  4. ৮ লিটার
ব্যাখ্যা
• একটি পূর্ণাঙ্গ ফুসফুসের বায়ু ধারণ ক্ষমতা ৬ লিটার।

• ফুসফুস (Lungs):
- ফুসফুস শ্বসনতন্ত্রের প্রধান অঙ্গ।
- বক্ষগহ্বরের ভিতর হৃৎপিণ্ডের দুই পাশে দুটি ফুসফুস অবস্থিত।
- মানুষের হালকা গোলাপী বর্ণের স্পঞ্জের মত নরম দুটি ফুসফুস থাকে।
- বাম ফুসফুসটি আকারে ছোট, দুই লোব বিশিষ্ট এবং ডান ফুসফুসটি আকারে বড় ও তিন লোব বিশিষ্ট।
- ফুসফুস দুই স্তর যুক্ত প্লিউরা পর্দা দ্বারা আবৃত থাকে।
- ভেতরের পর্দাকে ভিসেরাল প্লিউরা এবং বাইরের পর্দাকে প্যারাইটাল প্লিউরা বলে।
- ফুসফুসের বায়ু ধারণ ক্ষমতা ৬ লিটার।

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৬১.
হৃৎপিণ্ডের কোন স্তর পাম্পের মাধ্যমে রক্ত সঞ্চালনে সাহায্য করে? 
  1. এপিকার্ডিয়াম
  2. এন্ডোকার্ডিয়াম
  3. মায়োকার্ডিয়াম
  4. পেরিকার্ডিয়াম
ব্যাখ্যা

হৃৎপিণ্ড: 
- হৃৎপিণ্ড বক্ষগহ্বরের বাম দিকে দুই ফুসফুসের মাঝখানে অবস্থিত একটি মোচাকৃতির অঙ্গ। 
- এটা পেরিকার্ডিয়াম নামে দুই স্তরবিশিষ্ট একটি পাতলা পর্দা দ্বারা আবৃত। 
- হৃৎপিণ্ড হৃৎপেশি দ্বারা গঠিত, হৃৎপেশি এক ধরনের স্বাধীন অনৈচ্ছিক পেশি, যা কারো নিয়ন্ত্রণ ছাড়া নিজে নিজেই সংকোচন ও প্রসারণে সক্ষম। 
- প্রতি মিনিটে কম বেশি ৭২ বার হৃৎপিণ্ড সংকোচিত ও প্রসারিত হয়। 
- হৃৎপিণ্ড তিন সতরে গঠিত। 
যথা- ক. বাইরের স্তর বা এপিকার্ডিয়াম খ. মাঝের স্তর বা মায়োকার্ডিয়াম এবং গ. ভিতরের স্তর বা এন্ডোকার্ডিয়াম। 
- এদের মধ্যে মায়োকার্ডিয়ামই সবচেয়ে পুরু এবং এর সংকোচনের কারণে হৃৎপিণ্ড পাম্প করে রক্ত সঞ্চালন করে। 

- হৃৎপিণ্ড একটি চার প্রকোষ্ঠবিশিষ্ট ফাঁপা অঙ্গ। 
- হৃৎপিণ্ডের উপরের প্রকোষ্ঠ দুটির নাম ডান অলিন্দ ও বাম অলিন্দ এবং নিচের প্রকোষ্ঠ দুটি যথাক্রমে ডান ও বাম নিলয়। 
- অলিন্দে প্রাচীর পাতলা ও নিলয়ের প্রাচীর পুরু থাকে, বাম নিলয়ের প্রাচীর অধিকতর পুরু থাকে। 
- অলিন্দ ও নিলয় দুটি আলাদা প্রাচীর দ্বারা পৃথক থাকে, আয়তনে অলিন্দগুলো নিলয়ের চেয়ে আকারে ছোটো হয়। 
- ডান অলিন্দ ও ডান নিলয়ের মাঝে ডান অলিন্দ-নিলয় ছিদ্র থাকে, ঐ ছিদ্রপথে তিন কপাট বিশিষ্ট কপাটিকা থাকে। রক্ত এ ছিদ্রপথে অলিন্দ থেকে নিলয়ে প্রবেশ করতে পারে। 
- অনুরূপভাবে বাম অলিন্দ ও নিলয়ের দুই কপাট বিশিষ্ট মাঝে কপাটিকা থাকে, এক্ষেত্রেও বাম অলিন্দ থেকে রক্ত কেবল মাত্র নিলয়ে প্রবেশ করতে পারে। 
- এছাড়া মহাধমনি ও বাম নিলয়ের সংযোগস্থলে ও ফুসফুসীয় ধমনি এবং ডান নিলয়ের সংযোগস্থলে অর্ধচন্দ্রাকৃতির কপাটিকা রয়েছে, এ কপাটিকাগুলো রক্তের গতিপথ একদিকে নিয়ন্ত্রণ করে। 

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।

১৬২.
পালমোনারি শিরা কী ধরনের রক্ত পরিবহন করে?
  1. নাইট্রোজেনযুক্ত রক্ত
  2. কার্বন ডাই-অক্সাইডযুক্ত রক্ত
  3. অক্সিজেনযুক্ত রক্ত
  4. ইউরিয়াযুক্ত রক্ত
ব্যাখ্যা

পালমোনারি শিরা হলো একটি ব্যতিক্রমী শিরা, যা ফুসফুস থেকে গ্যাসীয় আদান-প্রদান শেষে অক্সিজেনযুক্ত রক্ত হৃৎপিণ্ডের বাম অলিন্দে পরিবহন করে।

• শিরা:
- যে সব রক্তনালীর মাধ্যমে সাধারণত কার্বন ডাই-অক্সাইডসমৃদ্ধ রক্ত দেহের বিভিন্ন অঙ্গ থেকে হৃৎপিণ্ডে বহন করে নিয়ে আসে, তাদের শিরা বলে।
- পালমোনারি শিরা এই নিয়মের ব্যতিক্রম এবং এটিই মানবদেহের একমাত্র শিরা যা বিশুদ্ধ বা অক্সিজেনযুক্ত রক্ত বহন করে।
- এই অক্সিজেনযুক্ত রক্তই পরে বাম নিলয় থেকে মহাধমনীর মাধ্যমে সারা দেহে সঞ্চালিত হয়।
- শিরার প্রাচীর ধমনির মতো ৩টি স্তরে গঠিত হলেও প্রাচীর বেশ পাতলা ও গহ্বর বড়।
- শিরায় কপাটিকা থাকায় শিরা দিয়ে রক্ত ধীরে ধীরে একমুখে প্রবাহিত হয়।
- ধমনি প্রান্তের কৌশিক জালিকাগুলো ক্রমশ একত্রিত হয়ে প্রথমে সূক্ষ্ম শিরা বা উপশিরা গঠন করে।
- উপশিরাগুলো পরস্পর মিলিত হয়ে পরে শিরা গঠন করে।
- কতগুলো শিরা মিলে মহাশিরা গঠন করে, এভাবে শিরা কৈশিক জালিকা থেকে শুরু হয় এবং হৃৎপিণ্ডে শেষ হয়।

• ধমনি:
- যে সব রক্তনালির মাধ্যমে রক্ত হৃদপিণ্ড থেকে দেহের বিভিন্ন অঙ্গে বাহিত হয়, তাকে ধমনি বা আর্টারি (Artery) বলে।
- ধমনির প্রাচীর পুরু এবং তিনটি স্তরে গঠিত, এদের গহ্বর (Lumen) ছোট।
- ধমনিতে কোনো কপাটিকা থাকে না, ফলে ধমনি দিয়ে রক্ত বেগে প্রবাহিত হয়।
- ধমনির স্পন্দন আছে।
- ধমনি দেহের বিভিন্ন অংশে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র শাখা-প্রশাখায় বিভক্ত হয়, এদের শাখা ধমনি (Arteriole) বলে। এগুলো ক্রমশ শাখা-প্রশাখায় বিভক্ত হয়ে অবশেষে সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম কৈশিক জালিকায় শেষ হয়। এভাবে ধমনি হৃদপিণ্ড থেকে শুরু হয়ে কৈশিক জালিকায় শেষ হয়।
- ধমনির মাধ্যমে হৃদপিণ্ড থেকে দেহের বিভিন্ন অংশ অক্সিজেনযুক্ত রক্ত পরিবাহিত হয়।
- তবে ব্যতিক্রম হলো পালমোনারি ধমনি যা কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2) যুক্ত রক্ত হৃদপিণ্ড থেকে ফুসফুসে নিয়ে আসে এবং Umbilical artery, CO2 যুক্ত রক্ত ভ্রূণ থেকে মাতৃদেহে নিয়ে আসে।

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৬৩.
ভার্টিব্রাল ধমনি রক্ত সরবরাহ করে- 
  1. বৃক্কে 
  2. ঘাড়ে 
  3. মেরুদণ্ডে 
  4. পাকস্থলীতে 
ব্যাখ্যা

সাবক্লেভিয়াল ধমনি: 
- মানবদেহের প্রতি পাশে ফুসফুসের উপর দিয়ে বিভিন্ন শাখায় বিভক্ত হয়ে বিভিন্ন অঙ্গে রক্ত বহন করে। 
যেমন- 
• জনন ধমনি: গোনাডে রক্ত সরবরাহ করে। 
• বৃক্কীয় ধমনি: বৃক্কে রক্ত সরবরাহ করে। 
• ফ্রেনিক ধমনি: ডায়াফ্রামে রক্ত সরবরাহ করে। 
• সার্ভিকাল ধমনি: অক্সিপুটের পেশিতে রক্ত বহন করে। 
ভার্টিব্রাল ধমনি: মেরুদণ্ডের রক্ত সরবরাহ করে। 
• সিলিয়াক ধমনি: পাকস্থলী ও যকৃতে রক্ত সরবরাহ করে। 
• মেসেন্টেরিক ধমনি: অন্ত্রের বিভিন্ন অংশে রক্ত সরবরাহ করে। 
• ইলিয়াক ধমনি: পেলভিস অঞ্চল, উরু, পা ইত্যাদি অংশে রক্ত সরবরাহ করে। 
• আন্তঃম্যামারি ধমনি: স্তনগ্রন্থি, বক্ষীয় প্রাচীর ও পেরিকার্ডিয়ামে রক্ত বহন করে। 
• থাইরোসার্ভিকাল ধমনি: থাইরয়েড গ্রন্থি, ল্যারিংক্স ও ঘাড়ের পেশিতে রক্ত বহন করে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৬৪.
মানবদেহের কোন অঙ্গ হতে পিত্তরস উৎপন্ন হয়?
  1. ক্ষুদ্রান্ত্র
  2. অগ্ন্যাশয়
  3. যকৃৎ
  4. পিত্তথলি
ব্যাখ্যা
• মানবদেহে যকৃৎ থেকে পিত্তরস উৎপন্ন হয়। 

• পিত্তরস (Bile) বা পিত্ত:
- যকৃত কোষ থেকে নিঃসৃত পিত্তরস হলদে-সবুজ, আঠালো, তিক্ত স্বাদধারী ক্ষারীয় তরল পদার্থ। এর pH মান 8 - 8.6 

• যকৃত কোষ (হেপাটোসাইট) অবিরাম পিত্ত ক্ষরণ করে এবং পিত্তথলিতে জমা রাখে।
- যকৃত কোষ স্টেরয়েড থেকে পিত্ত লবণ, যেমন-সোডিয়াম গ্লাইকোকোলেট (sodium glycocholate) ও সোডিয়াম টরোকোলেট (sodium taurocholate) সংশ্লেষ করে।
- পরিপাক অঙ্গ হিসেবে যকৃতের গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো পিত্ত উৎপাদন ও ক্ষরণ।

• পিত্তরসের কাজ-
- পিত্তরস চর্বিজাতীয় খাদ্যকে ইমালসিফিকেশন (emulsification) প্রক্রিয়ায় ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কণায় পরিণত করে।
- পিত্তলবণ চর্বি পরিপাককারী এনজাইম লাইপেজকে সক্রিয় করে পরিপাকে সাহায্য করে।
- পিত্তলবণ চর্বিতে দ্রবণীয় ভিটামিন A, D, E, K-কে শোষণে সহায়তা করে ইত্যাদি। 

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
- জীববিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, গাজী আজমল।
১৬৫.
মানুষের লালায় কোন এনজাইম থাকে?
  1. পেপসিন ও আইসোমলটেজ
  2. সুক্রেজ ও ল্যাকটেজ
  3. অ্যামাইলেজ ও মলটেজ
  4. টায়ালিন ও মলটেজ
ব্যাখ্যা
খাদ্য পরিপাকে বিভিন্ন তন্ত্রের গ্রন্থির ভূমিকাঃ
মানুষের মুখবিবরে কেবলমাত্র শর্করার পরিপাক ঘটে। মুখবিবরে লালাগ্রন্থি থেকে নিঃসৃত লালারস খাদ্য পরিপাকের রাসায়নিক কার্যক্রমে মূল ভূমিকা পালন করে।
মূলতঃ তিন ধরনের লালাগ্রন্থি থেকে নিঃসৃত লালারসের সাথে খাদ্যবস্তু মিশ্রিত হয়। লালারসে মিউসিন এবং দু’প্রকারের পরিপাকীয় এনজাইম; যথাঃ টায়ালিন ও মলটেজ থাকে।

যে সকল এনজাইম পরিপাকে অংশ নেয় সেগুলো হচ্ছে:
১. লালা রসে:টায়ালিন ও মলটেজ।
২. পাকস্থলি রসে: শর্করা পরিপাককারী কোন এনজাইম নেই।
৩. অগ্ন্যাশয় রসে: অ্যামাইলেজ ও মলটেজ।
৪. আন্ত্রিক রসে: অ্যামাইলেজ, মলটেজ, সুক্রেজ, ল্যাকটেজ, আইসোমলটেজ।

- মিউসিন: মিউসিন খাদ্য বস্তুর সাথে মিশ্রিত হয়ে খাদ্য বস্তুকে নরম ও পিচ্ছিল করে।
- টায়ালিন: টায়ালিন এনজাইম প্রধানত সিদ্ধ বা রন্ধণকৃত স্টার্চ, গ্লাইকোজেন ও ডেক্সট্রিন অণুকে হাইড্রোলাইসিস করে ক্ষুদ্রতর ডেক্সট্রিন, মলটোজ ও আইসোমলটোজে পরিণত করে।

সুত্রঃ প্রাণিবিদ্যা, এইচএসসি।

- পেপসিন পাওয়া যায় পাকস্থলিতে
- ট্রিপসিন পাওয়া যায় অগ্ন্যাশয় রসে।

উৎসঃ ব্রিটানিকা
১৬৬.
ফুসফুস আবৃত থাকে কোন পর্দা দ্বারা? 
  1. ডায়াফ্রাম
  2. প্লুরা
  3. পেরিকার্ডিয়াম
  4. আলভিওলাস
ব্যাখ্যা
ফুসফুস (Lung): 
- ফুসফুস শ্বসনতন্ত্রের প্রধান অঙ্গ। 
- বক্ষগহ্বরের ভিতর হৃৎপিণ্ডের দুই পাশে দুটি ফুসফুস অবস্থিত। 
- এটি স্পঞ্জের মতো নরম, কোমল ও হালকা লালচে রঙের। 
- ডান ফুসফুস তিন খণ্ডে এবং বাম ফুসফুস দুই খণ্ডে বিভক্ত। 
- ফুসফুস দুই ভাঁজবিশিষ্ট প্লুরা নামক পর্দা দিয়ে আবৃত। 
- দুই ভাঁজের মধ্যে এক প্রকার রস নির্গত হয়। ফলে শ্বাসক্রিয়া চলার সময় ফুসফুসের সাথে বক্ষগাত্রের কোনো ঘর্ষণ হয় না। 
- ফুসফুসে অসংখ্য বায়ুথলি বা বায়ুকোষ, সূক্ষ্ম সূক্ষ্ম শ্বাসনালি ও রক্তনালি থাকে। 
- বায়ুথলিগুলোকে বলে অ্যালভিওলাস (Alveolus)। 
- বায়ুথলিগুলো ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অণুক্লোম শাখাপ্রান্তে মৌচাকের মতো অবস্থিত। 
- নাসাপথ দিয়ে বায়ু সরাসরি বায়ুথলিতে যাতায়াত করতে পারে। 
- বায়ুথলি পাতলা আবরণী দিয়ে আবৃত এবং প্রতিটি বায়ুথলি কৈশিকনালিকা দিয়ে পরিবেষ্টিত। 
- বায়ু প্রবেশ করলে এগুলো বেলুনের মতো ফুলে ওঠে এবং পরে আপনা-আপনি সংকুচিত হয়। 
- বায়ুথলি ও কৈশিক নালিকার গাত্র এত পাতলা যে এর ভিতর দিয়ে গ্যাসীয় আদানপ্রদান ঘটে। 


উৎস:
 জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১৬৭.
দেহের প্রধান সৈনিক হিসেবে কাজ করে কোনটি? 
  1. রক্ত 
  2. অ্যান্টিজেন 
  3. প্রোটিন 
  4. অ্যান্টিবডি 
ব্যাখ্যা

অ্যান্টিবডি (Antibody): 
- অ্যান্টিবডি অ্যান্টিজেনের বিপরীত বস্তু বা নিজস্ব বস্তু বা কণিকা বা কোষ অথবা কোষগুচ্ছ। 
- অ্যান্টিবডি প্রধানত অ্যান্টিজেনের সাড়ায় দেহের B-লিম্ফোসাইট থেকে উৎপাদিত প্রোটিন জাতীয় পদার্থ। 
- এরা রক্তের প্লাজমা ও কলারসে বর্তমান থাকে। 
- এরা অ্যান্টিজেনের সাথে যুক্ত হতে পারে এবং ক্লোনাল নির্বাচন দ্বারা উৎপাদিত হয় এবং দেহের প্রধান সৈনিক বা রক্ষণাবেক্ষণের হাতিয়ার হিসেবে কাজ করে। 
- অ্যান্টিবডিগুলো অনুপ্রবেশকারী বা বহিরাগত অ্যান্টিজেনকে ভক্ষণ করে, কখনো বিনষ্ট করে, কখনো মেরে ফেলে, কখনো বাইরে নিক্ষেপ করে। 
- অ্যান্টিজেন হচ্ছে non-self আর অ্যান্টিবডি হচ্ছে self বস্তু। 

অ্যান্টিবডির প্রকার: 
- মানবদেহের রক্তে পাঁচ রকমের ইমিউনোগ্লোবিউলিন অর্থাৎ অ্যান্টিবডি দেখা যায়। 
যথা- IgG, IgA, IgM, IgD ও IgE। 
- এগুলো মানবদেহের প্রতিরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। 
- পাঁচ প্রকার অ্যান্টিবডির মধ্যে IgG রক্তরসে সর্বাধিক মাত্রায় থাকে এবং IgD ও IgE সবচেয়ে কম পরিমাণে থাকে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৬৮.
যকৃত থেকে কী নিঃসৃত হয়? 
  1. হরমোন
  2. লালা
  3. পাচক রস
  4. গাঢ় সবুজ বর্ণের পিত্তরস
ব্যাখ্যা
যকৃত (Liver): 
- যকৃত মানবদেহের সর্ববৃহৎ গ্রন্থি। 
- এটি মধ্যচ্ছদের নিচে, পাকস্থলীর ডান পাশে অবস্থিত। 
- যকৃতের রঙ গাঢ় বাদামি এবং এটি আকারে ত্রিকোণাকার। 
- যকৃতের নিচে কলস আকৃতির পিত্তথলি (Gallbladder) সংযুক্ত থাকে। 

যকৃতের কার্যাবলি: 
- যকৃত থেকে ক্ষারীয় প্রকৃতির গাঢ় সবুজ বর্ণের পিত্তরস নিঃসৃত হয়। 
- পিত্তরস পিত্তথলিতে জমা থাকে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পিত্তনালির মাধ্যমে ডিওডেনামে প্রবাহিত হয়। 
- পাচন প্রক্রিয়ায় সাহায্য করে। 
- রক্তের গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণ করে (গ্লাইকোজেন সংরক্ষণ ও মুক্তি)। 
- প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট ও ফ্যাট বিপাক ঘটায়। 
- দেহের বিষাক্ত পদার্থ অপসারণ করে (ডিটক্সিফিকেশন)। 
- রক্তে কোলেস্টেরল ও হরমোন নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে। 
- যকৃতে বিভিন্ন জৈব রাসায়নিক বিক্রিয়া সংঘটিত হয়, তাই একে "দেহের রসায়ন গবেষণাগার" বলা হয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৬৯.
স্নায়ু তন্ত্রের গাঠনিক একক কোনটি?
  1. নেফ্রন
  2. নিউরন
  3. ডেনড্রাইট
  4. সিনাপস
ব্যাখ্যা
স্নায়ু টিস্যু: 
- স্নায়ুতন্ত্র এক বিশেষ ধরনের টিস্যু দ্বারা গঠিত, এ বিশেষ ধরনের টিস্যুকে বলা হয় স্নায়ু টিস্যু। 
- এরা পরিবেশ থেকে উদ্দীপনা গ্রহণ করে দেহের ভেতরে পরিবাহিত করতে পারে এবং সে অনুযায়ী উপযুক্ত উদ্দীপনা সৃষ্টি করতে পারে। 
- স্নায়ু টিস্যু যে বিশেষ কোষ দ্বারা গঠিত তাকে স্নায়ু কোষ বা নিউরন বলা হয়, তাই নিউরন হলো স্নায়ু তন্ত্রের গাঠনিক একক। এটা ভ্রূণীয় এক্টোডার্ম জাত। 
- নিউরন বিভিন্ন ধরনের বাহ্যিক এবং অভ্যন্তরীণ উদ্দীপনা ও স্নায়ু তাড়না গ্রহণ করতে পারে এবং দেহের অভ্যন্তরে তা পরিবহন করতে পারে। 
- একটা পরিণত নিউরনের তিনটি অংশ থাকে। 
যথা- কোষদেহ, ডেনড্রাইট এবং অ্যাক্সন। 
- কোষ দেহ বহুভুজাকৃতি এবং নিউকিদ্বয়াসযুক্ত। কোষের সাইটোপ্লাজমে মাইটোকন্ড্রিয়া, গলগি বডি, রাইবোসোম, আন্তঃপ্লাজমীয় নালিকা ইত্যাদি অঙ্গাণু থাকে। তবে নিউরনের সাইটোপ্লাজমে সক্রিয় সেন্ট্রিয়োল থাকে না বলে নিউরন বিভাজিত হয় না। 

- কোষ দেহ থেকে একাধিক শাখা কোষ বের হয়। 
- এরা উদ্দীপনা বা স্নায়ু তাড়না নিউরনের (সেনসরি নিউরন) দেহের দিকে পরিবাহিত করে। 
- সাধারণত এরা অ্যাক্সন এর বিপরীত দিকে হয় এবং সংখ্যায় এক বা একাধিক থাকে। 
- নিউরনের কোষ দেহ থেকে একটা লম্বা তন্তু স্নায়ু উদ্দীপনা পরবর্তী নিউরনের ডেনড্রাইটের দিকে পরিবহন করে। 
- একটা নিউরনে একমাত্র অ্যাক্সন থাকে। 
- পর পর দু'টো নিউরনের প্রথমটার অ্যাক্সন এবং পরেরটার ডেনড্রাইটের মধ্যে একটা স্নায়ু সন্ধি গঠিত হয়। একে সাইন্যাপস বা সিনাপস বলা হয়।
- সিনাপস এর মধ্য দিয়েই একটা নিউরন থেকে স্নায়ু উদ্দীপনা পরবর্তী নিউরনে প্রবাহিত হয়। স্নায়ু তন্ত্রে এরা অবস্থান করে। প্রাণীর স্নায়ু তন্ত্রে অসংখ্য নিউরন থাকে।
- এরা উদ্দীপনা গ্রহণ করে উপযুক্ত প্রতিবেদন সৃষ্টি করে এবং তা বাস্তবায়ন করে, উচ্চতর প্রাণীতে স্মৃতি সংরক্ষণ করে ও দেহের বিভিন্ন অঙ্গের কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৭০.
হৃদপিণ্ডকে আচ্ছাদিত করা পাতলা ঝিল্লিটিকে কী বলা হয়?
  1. পেরিকার্ডিয়াম
  2. এন্ডোকার্ডিয়াম
  3. এপিকার্ডিয়াম
  4. মায়োকার্ডিয়াম
ব্যাখ্যা

হৃদপিণ্ডের আবরণ:
- হৃদপিণ্ড একটি দ্বিস্তরী পেরিকার্ডিয়াম নামক পাতলা ঝিল্লিতে আবৃত
- এর বাইরের স্তরটিকে প্যারাইটাল ও ভেতরেরটিকে ভিসেরাল বলে।
- স্তর দুটির মাঝে তরল পদার্থপূর্ণ পেরিকার্ডিয়াম গহ্বর থাকে যা হৃদপিণ্ডের সংকোচন ও নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
- পেরিকার্ডিয়াম হৃদপিণ্ডকে বাইরের আঘাত থেকে রক্ষা করে।
- হৃদপিণ্ডের স্পন্দন নিয়ন্ত্রণ করে।
- হৃদপিণ্ডকে সর্বদা সিক্ত রেখে শুষ্কতার হাত থেকে রক্ষা করে।

হৃদপিণ্ডের প্রাচীর:
- অনৈচ্ছিক পেশি দিয়ে গঠিত। এসব পেশিকে হৃদপেশী বা কার্ডিয়াক পেশি (Cardiac muscle) বলে।
- পেশিগুলো তিন স্তরবিশিষ্ট।
যেমন -
ক. এপিকার্ডিয়াম (Epicardium):
- এটি হৃদপ্রাচীরের সবচেয়ে বাইরের স্তর এবং যোজক কলায় তৈরি।
- এই স্তরে বিক্ষিপ্তভাবে চর্বি লেগে থাকে।

খ. মায়োকার্ডিয়াম (Myocardium):
- এটি হৃদপ্রাচীরে মধ্যবর্তী স্তর। স্তরটি পুরু, দৃঢ় প্রকৃতির এবং এগুলো হৃদপিণ্ডের সংকোচন প্রসারণে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে।

গ. এন্ডোকার্ডিয়াম (Endocardium):
- এটি হৃদপ্রাচীরের ভেতরের স্তর যা হৃদপিণ্ডের প্রকোষ্ঠের অন্তঃপ্রাচীর গঠন করে, হৃদকপাটিকাসমূহ ঢেকে রাখে এবং রক্তের সাথে হৃদপিণ্ডের অবিচ্ছিন্ন সংযোগ ঘটায়।

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৭১.
শ্বসনতন্ত্রের অঙ্গ নয় কোনটি?
  1. ইলিয়াম
  2. নাসিকা
  3. গলবিল
  4. ব্রংকাস
ব্যাখ্যা
শ্বসনতন্ত্র: 
- ফুসফুস হচ্ছে শ্বসনতন্ত্রের প্রধান অঙ্গ। 
- যে সকল অঙ্গ শ্বসনকার্য চালানোর কাজে অংশ নেয় তাদের একসাথে শ্বসনতন্ত্র বলে। 
- নাসিকা, গলবিল, স্বরযন্ত্র, শ্বাসনালি, ব্রংকাস, ফুসফুস ও মধ্যচ্ছদা এগুলো নিয়ে শ্বসনতন্ত্র গঠিত।
- এটি দুই খণ্ডে বিভক্ত এবং প্লুরা নাম পর্দা দ্বারা আবৃত।
- বাতাসের সঙ্গে অক্সিজেন ফুসফুসে প্রবেশ করে, পরে তা রক্তের মাধ্যমে পরিবহন হয়ে দেহের সব অঙ্গে পৌঁছায়। 

ক্ষুদ্রান্ত্র: 
- পাকস্থলির পাইলোরাস অংশের পর থেকে ইলিওকোলি পর্যন্ত প্রায় ৬-৭ মিটার লম্বা বিস্তৃত অংশই হচ্ছে ক্ষুদ্রান্ত্র। 
- এটি আবার ৩ অংশে বিভক্ত। যথা- 
• ডিওডেনাম, 
• জেজুনাম ও 
ইলিয়াম। 
- ডিওডেনামে মূলত অগ্ন্যাশয়িক রসের এনজাইমের ক্রিয়া ঘটে। 
- জেজুনাম ও ইলিয়ামে আন্ত্রিক রসের এনজাইমের ক্রিয়ার পরিপাক ঘটে। 
- ডিওডেনামে মূলত কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন ও লিপিডের পরিপাক ঘটে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৭২.
এইচআইভি ভাইরাস মানব দেহের কোনটিকে ধ্বংস করে?
  1. ক) লোহিত রক্তকণিকা
  2. খ) শ্বেত রক্তকণিকা
  3. গ) অনুচক্রিকা
  4. ঘ) প্লাজমা
ব্যাখ্যা

মানবদেহে এইচআইভি এর আক্রমণে এইডস রােগ হয়।
এইডস রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির রক্তের শ্বেতকনিকা ধ্বংস হয়। ফলে দেহের রােগ প্রতিরােধ ক্ষমতা লােপ পায়।
এইচআইভি সংক্রমণের সর্বশেষ পর্যায়ে হলাে এইডস। মানব দেহে এইচআইভি ভাইরাস প্রবেশ করার ৬ মাস থেকে ১০ বছরের মধ্যে শরীরে এইডসের লক্ষণ প্রকাশ পায়। এইডস রােগের কোন নির্দিষ্ট লক্ষণ নেই।

১৭৩.
হৃৎপিণ্ডকে বেষ্টিত করে কোন পর্দা?
  1. পেরিকার্ডিয়াম
  2. মিসেন্ট্রিয়াম
  3. মেনিনজেস 
  4. প্লুরা
ব্যাখ্যা

হৃৎপিণ্ড: 
- হৃৎপিণ্ড রক্ত সংবহনতন্ত্রের অন্তর্গত এক ধরনের পাম্প। 
- হৃৎপিণ্ড অনবরত সংকুচিত ও প্রসারিত হয়ে সারা দেহে রক্ত সঞ্চালন ঘটায়। 
- মানুষের হৃৎপিণ্ড বক্ষগহ্বরে ফুসফুস দুটির মাঝখানে এবং মধ্যচ্ছদার ওপরে অবস্থিত। 
- হৃৎপিণ্ডের প্রশস্ত প্রান্তটি উপরের দিকে এবং ছুঁচালো প্রান্তটি নিচের দিকে বিন্যস্ত থাকে। 
- হৃৎপিণ্ডটি দ্বিস্তরী পেরিকার্ডিয়াম পর্দা দিয়ে বেস্টিত থাকে। 
- উভয় স্তরের মাঝে পেরিকার্ডিয়াল ফ্লুইড থাকে, যেটি হৃৎপিণ্ডকে সংকোচনে সাহায্য করে। 

- মানুষের হৃৎপিণ্ড চারটি প্রকোষ্ঠ নিয়ে গঠিত। 
- উপরের প্রকোষ্ঠ দুটিকে যথাক্রমে ডান এবং বাম অলিন্দ (Atrium) এবং নিচের প্রকোষ্ঠ দুটিকে যথাক্রমে  ডান  এবং বাম নিলয় ( Ventricles) বলে। - দুটি অলিন্দের ভেতরকার প্রাচীর পাতলা কিন্তু নিলয় দুটির প্রাচীর পুরু এবং পেশিবহুল। 
- ডান অলিন্দের সঙ্গে একটি ঊর্ধ্ব মহাশিরা এবং একটি নিম্ন মহাশিরা যুক্ত থাকে। 
- বাম নিলয়ের সঙ্গে চারটি পালমোনারি শিরা যুক্ত থাকে। ডান নিলয় থেকে ফুসফুসীয় ধমনি এবং বাম নিলয় থেকে মহাধমনি উৎপত্তি হয়েছে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১৭৪.
‘জেজুনাম’ নিচের কোনটির অংশ?
  1. ক্ষুদ্রান্ত্র
  2. বৃহদন্ত্র
  3. শ্বসনতন্ত্র
  4. ব্রংকাস
ব্যাখ্যা
ক্ষুদ্রান্ত্র:
- পাকস্থলির পাইলোরাস অংশের পর থেকে ইলিওকোলি পর্যন্ত প্রায় ৬-৭ মিটার লম্বা বিস্তৃত অংশই হচ্ছে ক্ষুদ্রান্ত্র। 
- এটি আবার ৩ অংশে বিভক্ত। যথা:
(i) ডিওডেনাম,
(ii) জেজুনাম ও 
(iii) ইলিয়াম।
- ডিওডেনামে মূলত অগ্ন্যাশয়িক রসের এনজাইমের ক্রিয়া ঘটে।
- জেজুনাম ও ইলিয়ামে আন্ত্রিক রসের এনজাইমের ক্রিয়ার পরিপাক ঘটে।
- ডিওডেনামে মূলত কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন ও লিপিডের পরিপাক ঘটে।

বৃহদন্ত্র:
- পৌষ্টিকনালির শেষোক্ত বৃহৎ নলাকার অংশ যা ক্ষুদ্রান্ত্রের পর থেকে প্রায় ২ মিটার লম্বা মলাশয় পর্যন্ত বিস্তৃত। - বৃহদন্ত্র তিনটি অংশে বিভক্ত। যথা:
(i) সিকাম,
(ii) কোলন ও 
(iii) মলাশয়।

শ্বসনতন্ত্র:
- ফুসফুস হচ্ছে শ্বসনতন্ত্রের প্রধান অঙ্গ ৷
- যে সকল অঙ্গ শ্বসনকার্য চালানোর কাজে অংশ নেয় তাদের একসাথে শ্বসনতন্ত্র বলে।
- নাসিকা, গলবিল, স্বরযন্ত্র, শ্বাসনালি, ব্রংকাস, ফুসফুস ও মধ্যচ্ছদা এগুলো নিয়ে শ্বসনতন্ত্র গঠিত।
- এটি দুই খণ্ডে বিভক্ত এবং প্লুরা নাম পর্দা দ্বারা আবৃত। বাতাসের সঙ্গে অক্সিজেন ফুসফুসে প্রবেশ করে। পরে তা রক্তের মাধ্যমে পরিবহন হয়ে দেহের সব অঙ্গে পৌঁছায়।
- ব্রংকাস শ্বসনতন্ত্রের একটি অংশ।

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৭৫.
লসিকায় কোন উপাদানের পরিমাণ সবেচেয়ে বেশি? 
  1. প্রোটিন
  2. কার্বোহাইড্রেট
  3. পানি
  4. স্নেহ পদার্থ
ব্যাখ্যা
লসিকা: 
- এক ধরনের পরিবর্তিত ঈষৎ ক্ষারধর্মী স্বচ্ছ কলারস যা লসিকা নালির ভেতর দিয়ে পরিবাহিত হয়ে দেহের সকল কোষকে সিক্ত করে। 
- এতে লোহিত রক্ত কণিকা ও অণুচক্রিকা অনুপস্থিত কিন্তু শ্বেত কণিকার সংখ্যা অত্যাধিক। 
- লসিকায় ৯৪% পানি ও ৬% কঠিন পদার্থ থাকে। 
যেমন- প্রোটিন, স্নেহ পদার্থ, কার্বোহাইড্রেট, নাইট্রোজেনযুক্ত পদার্থ, ফসফরাস, সোডিয়াম, ক্লোরাইড, কিছু এনজাইম ও অ্যান্টিবডি। 
- মানুষের দেহে লসিকার পরিমাণ ১-২ লিটার। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৭৬.
মানবকোষে অক্সিজেন পরিবহন হয় কোনটির মাধ্যমে? 
  1. ফুসফুস
  2. হৃৎপিণ্ড
  3. যকৃত 
  4. রক্ত 
ব্যাখ্যা
• মানবদেহে রক্ত সংবহন (Blood Circulation in human body):
- রক্ত জীবনীশক্তির মূল।
- রক্তনালির মধ্য দিয়ে রক্ত দেহের সর্বত্র প্রবাহিত হয় এবং কোষে অক্সিজেন ও খাদ্য উপাদান সরবরাহ করে।
- ফলে দেহের সব কোষ সজীব এবং সক্রিয় থাকে। যে তন্ত্রের মাধ্যমে রক্ত প্রতিনিয়ত দেহের বিভিন্ন অঙ্গ ও অংশে চলাচল করে, তাকে রক্ত সংবহনতন্ত্র বলে।
- এ তন্ত্রে প্রবাহিত রক্তের মাধ্যমেই খাদ্য, অক্সিজেন এবং রক্তের বর্জ্য পদার্থ দেহের এক স্থান থেকে অন্য স্থানে পরিবাহিত হয়।
- মানবদেহে রক্তপ্রবাহ কেবল হৃৎপিণ্ড এবং রক্তনালিগুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে, কখনো এর বাইরে আসে না।
- এ ধরনের সংবহনতন্ত্রকে বদ্ধ সংবহনতন্ত্র (Close circulatory system) বলা হয়।
- সারা দেহে রক্ত একবার সম্পূর্ণ পরিভ্রমণের জন্য মাত্র এক মিনিট বা তার চেয়েও কম সময় লাগে।

উৎস: জীববিজ্ঞান, ৯ম-১০ম শ্রেণি।
১৭৭.
উচ্চ রক্তচাপ হয় -
  1. ক) সিস্টোলিক চাপ ১২০ মিলিমিটার পারদের নিচে
  2. খ) ডায়াস্টোলিক চাপ ৮০ মিলিমিটার পারদের নিচে
  3. গ) ক ও খ
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

উচ্চ রক্তচাপ (High blood pressure or hypertension): উচ্চ রক্তচাপকে নীরব ঘাতক হিসেবে গণ্য করা হয়। সম্প্রতি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার রিপাের্টে বলা হয়েছে 2020 সালের মধ্যে স্ট্রোক ও করােনরি ধমনির রােগ হবে বিশ্বের এক নম্বর মরণব্যাধি এবং দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলােতে এর প্রকোপ ছড়িয়ে পড়বে মহামারী আকারে। হৃদ্‌রােগ এবং স্ট্রোকের অন্যতম প্রধান কারণ হলাে উচ্চ রক্তচাপ।
উচ্চ রক্তচাপ কী? রক্ত চলাচলের সময় রক্তনালিগাত্রে যে চাপ সৃষ্টি হয়, তাকে রক্তচাপ বলে। আর স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি রক্তচাপকে উচ্চ রক্তচাপ বলা হয়। একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের ক্ষেত্রে সাধারণত সিস্টোলিক চাপ ১২০ মিলিমিটার পারদের নিচে এবং ডায়াস্টোলিক চাপ ৮০ মিলিমিটার পারদের নিচের মাত্রাকে কাক্ষিত মাত্রা হিসেবে ধরা হয়। আর এই রক্তচাপ যখন মাত্রাতিরিক্ত হয় তখনই আমরা তাকে উচ্চ রক্তচাপ বলে থাকি।
উৎস: নবম দশম শ্রেণি,জীববিজ্ঞান

১৭৮.
রক্ত কোন ধরনের টিস্যু? 
  1. স্নায়ু টিস্যু 
  2. পেশী টিস্যু 
  3. তরল যোজক টিস্যু 
  4. আবরণী টিস্যু 
ব্যাখ্যা

রক্ত: 
- রক্ত এক ধরনের ক্ষারীয়, ঈষৎ লবণাক্ত এবং লালবর্ণের তরল যোজক টিস্যু। 
- ধমনি, শিরা ও কৈশিকনালির মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে রক্ত অভ্যন্তরীণ পরিবহনে অংশ নেয়। 
- উষ্ণ রক্তবাহী প্রাণীর দেহে রক্ত তাপমাত্রার ভারসাম্য রক্ষা করে। 
- রক্তের উপাদান দুটি- রক্তরস (55%) এবং রক্তকোষ (45%)। 

- রক্তরস (Plasma) রক্তের তরল অংশ, এর রং ঈষৎ হলুদাভ। এর প্রায় 91-92% অংশ পানি এবং ৪-9% অংশ জৈব ও অজৈব পদার্থ। এসব রক্তরসের ভিতর বিভিন্ন ধরনের প্রোটিন এবং বর্জ্য পদার্থ থাকে। 

- রক্তকোষ তিন ধরনের, যথা- লোহিত রক্তকোষ (Erythrocyte বা Red blood cells বা RBC), শ্বেত রক্তকোষ (Leukocyte বা white blood cells বা WBC) এবং অণুচক্রিকা (Thrombocytes বা Blood platelet)। 
- লোহিত রক্তকোষ হিমোগ্লোবিন নামে একটি লৌহজাত যৌগ থাকে, যার জন্য রক্ত লাল হয়। হিমোগ্লোবিন অক্সিজেনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে একটি অক্সিহিমোগ্লোবিন যৌগ গঠন করে এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে অক্সিজেন পরিবহন করে। 
- শ্বেত রক্তকোষ জীবাণু ধ্বংস করে দেহের প্রকৃতিগত আত্মরক্ষায় অংশ নেয়। মানবদেহে বেশ কয়েক ধরনের শ্বেত রক্তকোষ থাকে। 
- অণুচক্রিকা রক্ত জমাট বাঁধায় অংশ নেয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১৭৯.
মানব দেহের রক্তের গ্রুপিংয়ের জন্য দায়ী হচ্ছে:
  1. লোহিত রক্ত কণিকা
  2. বিলিভার্জিন
  3. এন্টিবডি
  4. অ্যান্টিজেন
ব্যাখ্যা
[রক্তের গ্রুপ নির্ধারণের ক্ষেত্রে অ্যান্টিজেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, কারণ এগুলি রক্তের লোহিত রক্ত কণিকার উপর উপস্থিত থাকে এবং এন্টিবডির সাথে প্রতিক্রিয়া করে। বিভিন্ন অ্যান্টিজেনের উপস্থিতি রক্তের গ্রুপ যেমন A, B, AB, বা O নির্ধারণ করে।]

- মানুষের লোহিত রক্ত কণিকায় 'A' এবং 'B' নামক দু'ধরনের অ্যান্টিজেন (Antigen) এবং রক্ত রসে 'a' ও 'b' দু'ধরনের অ্যান্টিবডি (Antibodies) থাকে।
- অ্যান্টিজেন এক প্রকারের পদার্থ যা কোন জীবদেহে প্রবেশ করানোর ফলে ঐ জীবদেহে অ্যান্টিবডি তৈরি হয় এবং অ্যান্টিবডি হলো এক প্রকারের পদার্থ যা জীবদেহে রোগের বিরুদ্ধে কাজ করে।
- অ্যান্টিজেন ও অ্যান্টিবডির উপস্থিতির উপর ভিত্তি করে মানুষের রক্তকে বিভিন্ন গ্রুপে ভাগ করা হয় যাকে রক্তের গ্রুপ বলে।
- বিজ্ঞানী কার্লল্যান্ড স্টেইনার ১৯০১ সালে মানুষের রক্তের শ্রেণিবিন্যাস করে তা 'A', 'B', 'O' এবং ‘AB' এ চারটি গ্রুপের নামকরণ করেন।
- আজীবন মানুষের রক্তের গ্রুপ একই রকম থাকে যা পরিবর্তন হয় না।
- অতএব রক্তে বিভিন্ন অ্যান্টিজেন ও অ্যান্টিবডির উপস্থিতির উপর ভিত্তি করে রক্তের গ্রুপকে চিহ্নিত করা যায়।
- নিম্নের ছকে রক্তের গ্রুপের অ্যান্টিবডি ও অ্যান্টিজেনের উপস্থিতি দেখানো হলো -

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৮০.
মানুষের হৃদপিণ্ডের প্রকোষ্ঠের প্রসারণকে বলে-
  1. সিস্টোল
  2. স্ফিগমোম্যানোমিটার
  3. পেরিকার্ডিয়াম
  4. ডায়াস্টোল
ব্যাখ্যা
মানুষের হৃৎপিণ্ড (Heart): 

• একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দেহে প্রতি মিনিটে হৃৎপিণ্ড সংকুচিত ও প্রসারিত হয় ৭০ থেকে ৮০ বার এবং গড় হিসাবে ৭৫ বার। (হৃদচক্রের হার- ০.৮ সেকেন্ড)
• পূর্ণ বয়স্ক মানুষের হৃৎপিণ্ডের ওজন প্রায় ২৫০-৩৫০ গ্রাম।
• হৃৎপিণ্ড ৩ স্তর বিশিষ্ট পেশি দ্বারা গঠিত। যথা: এপিকার্ডিয়াম, মায়োকার্ডিয়াম এবং এন্ডোকার্ডিয়াম।
• পেরিকার্ডিয়াম নামের পর্দার/ ঝিল্লির আবরণে ঢাকা থাকে পুরো হৃৎপিণ্ড।
• মানুষের হৃৎপিণ্ডে প্রকোষ্ঠের সংখ্যা চারটি।
• হৃদপিণ্ডের প্রকোষ্ঠের প্রসারণকে বলে- ডায়াস্টোল এবং সংকোচনকে বলে- সিস্টোল।

• প্রবাহমান রক্ত রক্তনালীর গায়ে যে পার্শ্বচাপ দেয় তাকে রক্তচাপ বলে। রক্তচাপ ২ প্রকার। যথা:
১. সিস্টোলিক রক্তচাপ (১১০-১৪০ মি.মি. পারদ)
২. ডায়াস্টোলিক রক্তচাপ (৬০-৯০ মি.মি. পারদ)

• একজন পূর্ণবয়স্ক সুস্থ ব্যক্তির সিস্টোলিক চাপ ১২০ মি.মি. পারদ এবং ডায়াস্টোলিক চাপ ৮০ মি.মি. পারদ। একে ১২০/৮০ রূপে প্রকাশ করা হয়।
• মানবদেহের রক্তচাপ (Blood Pressure) নির্ণায়ক যন্ত্রের নাম- স্ফিগমোম্যানোমিটার।

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। 
১৮১.
অণুচক্রিকা মূলত কোথায় উৎপন্ন হয়?
  1. হৃৎপিণ্ড
  2. ত্বক 
  3. লিভার 
  4. অস্থিমজ্জা
ব্যাখ্যা

অণুচক্রিকা: 
- ইংরেজিতে এদেরকে প্লাটিলেট (Platelet) বলে।
- অণুচিক্রকা আকারে ছোট, বর্তুলাকার ও বর্ণহীন, এরা গুচ্ছাকারে থাকে। 
- অণুচক্রিকা মূলত অস্থিমজ্জার মধ্যে উৎপন্ন হয়। 
- অণুচক্রিকাগুলোর গড় আয়ু ৫-১০ দিন। 
- পরিণত মানবদেহে প্রতি ঘন মিলিমিটার রক্তে অণুচক্রিকার সংখ্যা প্রায় আড়াই লাখ। 
- অণুচক্রিকা রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে। 
- কোন রক্তবাহী নালির ক্ষতি হলে এরা অনতিবিলম্বে থ্রোম্বোপ্লাষ্টিন নামক এক প্রকার রাসায়নিক দ্রব্য নিঃসরণ করে, যা রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৮২.
ডায়াস্টোল (Diastole) কী বোঝায়?
  1. হৃৎপিণ্ডের প্রসারণ
  2. হৃৎপিণ্ডের রক্ত সঞ্চালন
  3. হৃৎপিণ্ডের সংকোচন
  4. ধমনীতে রক্তের চাপ বৃদ্ধি 
ব্যাখ্যা

- ডায়াস্টোল বলতে হৃৎপিণ্ডের পেশীগুলোর শিথিলকরণ বা প্রসারণের পর্যায়কে বোঝায়, যে সময়ে হৃৎপিণ্ডের প্রকোষ্ঠগুলি রক্তে পূর্ণ হয়। এই পর্যায় চলাকালীন ধমনীতে রক্তচাপ সবচেয়ে কম থাকে, যা ডায়াস্টোলিক চাপ নামে পরিচিত। 

হৃৎপিণ্ড (Heart): 
- মানুষের রক্ত সঞ্চালন ব্যবস্থার মূল অংশ হলো হৃৎপিণ্ড, ধমনি, শিরা এবং কৈশিক জালিকা। 
- হৃৎপিণ্ড অবিরাম সংকোচিত ও প্রসারিত হয়ে রক্তকে ধমনি ও শিরার মাধ্যমে সারা দেহে প্রেরণ করে। 
- হৃৎপিণ্ডের সংকোচন ও প্রসারণ একটি নির্দিষ্ট ছন্দে ঘটে, যা রক্ত সঞ্চালনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। 
- সিস্টোল (Systole) হলো হৃৎপিণ্ডের সংকোচন পর্যায়, যখন রক্ত অলিন্দ থেকে ভেন্ট্রিকলে অথবা ভেন্ট্রিকল থেকে ধমনিতে প্রবাহিত হয়। 
- ডায়াস্টোল (Diastole) হলো হৃৎপিণ্ডের প্রসারণ পর্যায়, যখন হৃৎপিণ্ড রক্ত গ্রহণের জন্য আলগা হয়ে যায়। 
- সিস্টোলের সময় হৃৎপিণ্ডের চাপ সবচেয়ে বেশি থাকে, যা সিস্টোলিক চাপ নামে পরিচিত। 
- অলিন্দে যখন সিস্টোল হয়, তখন ভেন্ট্রিকল ডায়াস্টোল অবস্থায় থাকে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১৮৩.
স্নায়ু টিস্যু যে বিশেষ কোষ দ্বারা গঠিত তাকে কী বলা হয়?
  1. অ্যাক্সন
  2. নিউরন
  3. ডেনড্রাইট
  4. সাইন্যাপস
ব্যাখ্যা
স্নায়ু টিস্যু: 
- স্নায়ুতন্ত্র এক বিশেষ ধরনের টিস্যু দ্বারা গঠিত, এ বিশেষ ধরনের টিস্যুকে বলা হয় স্নায়ু টিস্যু। 
- এরা পরিবেশ থেকে উদ্দীপনা গ্রহণ করে দেহের ভেতরে পরিবাহিত করতে পারে এবং সে অনুযায়ী উপযুক্ত উদ্দীপনা সৃষ্টি করতে পারে। 
- স্নায়ু টিস্যু যে বিশেষ কোষ দ্বারা গঠিত তাকে স্নায়ু কোষ বা নিউরন বলা হয়, তাই নিউরন হলো স্নায়ু তন্ত্রের গাঠনিক একক। 
- এটা ভ্রূণীয় এক্টোডার্ম জাত। 
- নিউরন বিভিন্ন ধরনের বাহ্যিক এবং অভ্যন্তরীণ উদ্দীপনা ও স্নায়ু তাড়না গ্রহণ করতে পারে এবং দেহের অভ্যন্তরে তা পরিবহন করতে পারে। 
- একটা পরিণত নিউরনের তিনটি অংশ থাকে। 
যথা- কোষদেহ, ডেনড্রাইট এবং অ্যাক্সন। 
- কোষ দেহ বহুভুজাকৃতি এবং নিউকিদ্বয়াসযুক্ত। 
- কোষের সাইটোপ্লাজমে মাইটোকন্ড্রিয়া, গলগি বডি, রাইবোসোম, আন্তঃপ্লাজমীয় নালিকা ইত্যাদি অঙ্গাণু থাকে। তবে নিউরনের সাইটোপ্লাজমে সক্রিয় সেন্ট্রিয়োল থাকে না বলে নিউরন বিভাজিত হয় না।
- কোষ দেহ থেকে একাধিক শাখা কোষ বের হয়। এরা উদ্দীপনা বা স্নায়ু তাড়না নিউরনের (সেনসরি নিউরন) দেহের দিকে পরিবাহিত করে।

- সাধারণত এরা অ্যাক্সন এর বিপরীত দিকে হয় এবং সংখ্যায় এক বা একাধিক থাকে।
- নিউরনের কোষ দেহ থেকে একটা লম্বা তন্তু স্নায়ু উদ্দীপনা পরবর্তী নিউরনের ডেনড্রাইটের দিকে পরিবহন করে।
- একটা নিউরনে একমাত্র অ্যাক্সন থাকে।
- পর পর দু'টো নিউরনের প্রথমটার অ্যাক্সন এবং পরেরটার ডেনড্রাইটের মধ্যে একটা স্নায়ু সন্ধি গঠিত হয়, একে সাইন্যাপস বা সিনাপস বলা হয়।
- সিনাপস এর মধ্য দিয়েই একটা নিউরন থেকে স্নায়ু উদ্দীপনা পরবর্তী নিউরনে প্রবাহিত হয়।
- স্নায়ু তন্ত্রে এরা অবস্থান করে। প্রাণীর স্নায়ু তন্ত্রে অসংখ্য নিউরন থাকে।
- উদ্দীপনা গ্রহণ করে উপযুক্ত প্রতিবেদন সৃষ্টি করে এবং তা বাস্তবায়ন করে, উচ্চতর প্রাণীতে স্মৃতি সংরক্ষণ করে ও দেহের বিভিন্ন অঙ্গের কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৮৪.
মানবদেহের শতকরা পানির পরিমান কত?
  1. ক) ৬০-৮০%
  2. খ) ৬৫-৮৫%
  3. গ) ৬০-৯০%
  4. ঘ) ৬০-৭৫%
ব্যাখ্যা

পৃথিবীতে যত প্রকার তরল পদার্থ পাওয়া যায়, পানি তার মধ্যে সবচেয়ে সহজলভ্য।
মানবদেহে শতকরা ৬০-৭৫% ভাগ পানি
মাছ, মাংস, শাক-সবজি প্রভৃতিতে শতকরা ৬০-৯০ ভাগ পানি থাকে।
পৃথিবীপৃষ্ঠের শতকরা ৭৫ ভাগই পানি দ্বারা গঠিত।
লক্ষণীয় ব্যাপার হলো, এর মধ্যে ব্যবহার উপযোগী পানি মাত্র শতকরা ১ ভাগ।
উৎসঃ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। পৃষ্ঠা - ৩৫।

উল্লেখ্য, জীববিজ্ঞান বোর্ড বই ২০২০ অনুসারে, ৫০ - ৬৫%।
মূল পরীক্ষায় অপশন দেখে নিজের বিবেচনা থেকে উত্তর করবেন।

১৮৫.
হৃৎপিণ্ডের উপরের দুটি প্রকোষ্ঠকে কী বলা হয়? 
  1. শিরা
  2. অলিন্দ
  3. নিলয়
  4. ধমনি
ব্যাখ্যা
হৃৎপিণ্ড: 
- হৃৎপিণ্ড হলো রক্ত সংবহনতন্ত্রের অন্তর্গত একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ, যা পাম্পের মতো কাজ করে। 
- এটি নিরবিচারে সংকোচন ও প্রসারণের মাধ্যমে সারা দেহে রক্ত সঞ্চালন ঘটায়। 
- মানুষের হৃৎপিণ্ড বক্ষগহ্বরের কেন্দ্রে, ফুসফুস দুটির মাঝখানে এবং মধ্যচ্ছদার ঠিক ওপরে অবস্থান করে। 
- এর উপরের অংশটি প্রশস্ত এবং নিচের প্রান্তটি ছুঁচালো আকৃতির, যা নিচের দিকে অবস্থিত থাকে। 
- হৃৎপিণ্ডটি একটি দ্বিস্তর বিশিষ্ট পর্দা পেরিকার্ডিয়াম দ্বারা আবৃত থাকে। এই পর্দার দুই স্তরের মাঝে একটি তরল পদার্থ থাকে, যাকে পেরিকার্ডিয়াল ফ্লুইড বলা হয়। 
- এটি হৃৎপিণ্ডকে ঘর্ষণ থেকে রক্ষা করে এবং সংকোচনের সময় সহায়ক ভূমিকা পালন করে। 

- মানুষের হৃৎপিণ্ড চারটি প্রকোষ্ঠ নিয়ে গঠিত। 
- উপরের দুটি প্রকোষ্ঠকে বলা হয় ডান অলিন্দ ও বাম অলিন্দ (Atrium)। 
- নিচের দুটি প্রকোষ্ঠকে বলা হয় ডান নিলয় ও বাম নিলয় (Ventricle)। 
- অলিন্দগুলোর প্রাচীর তুলনামূলকভাবে পাতলা, তবে নিলয়গুলোর প্রাচীর পুরু এবং অধিক পেশিবহুল, কারণ নিলয় থেকেই রক্ত শরীরের বিভিন্ন অংশে সরবরাহ করা হয়। 
- ডান অলিন্দের সঙ্গে দুটি বড় শিরা যুক্ত থাকে ঊর্ধ্ব মহাশিরা ও নিম্ন মহাশিরা, যা দেহের বিভিন্ন অংশ থেকে অক্সিজেনবিহীন রক্ত এনে দেয়। 
- ডান নিলয় থেকে ফুসফুসীয় ধমনি (Pulmonary artery) উৎপন্ন হয়, যা অক্সিজেন গ্রহণের জন্য রক্ত ফুসফুসে পাঠায়। 
- অন্যদিকে, বাম নিলয় থেকে মহাধমনি (Aorta) উৎপন্ন হয়, যা অক্সিজেনসমৃদ্ধ রক্তকে দেহের প্রতিটি কোষে সরবরাহ করে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১৮৬.
BMI( Body Mass Index) এর আদর্শমান কত?
  1. ২০.৫ - ২৫
  2. ২০ - ২৪.৯
  3. ১৮ - ২৬
  4. ১৮.৫ - ২৪.৯
ব্যাখ্যা
• বিএমআই (BMI): 
- বডি মাস ইনডেক্স (BMI- Body Mass Index) মানবদেহের গড়ন ও চর্বির একটি সূচক নির্দেশ করে ।
- অর্থাৎ কোন নির্দিষ্ট বয়সে সুস্থ জীবন যাপনের জন্য শরীরের দৈর্ঘ্যের সাথে চর্বির পরিমাণগত সম্পর্ক নির্দেশ করে।

• বিএমআই (BMI) মান নির্ণয় :
বিএমআই = দেহের ওজন (Kg)/দেহের উচ্চতা (মিটার)২

• মান নির্দেশিকা:
- কম ওজন = <18.5;
- স্বাভাবিক ওজন = 18.5-24.9;
- অতিরিক্ত ওজন = 25-29.9;
- স্থূলতা = BMI 30 বা তার বেশি।

উৎস: National Heart, Lung, and Blood Institute,USA.
১৮৭.
অলফ্যাক্টরি স্নায়ু কোন ধরনের স্নায়ু? 
  1. মিশ্র
  2. সংবেদী
  3. অসংবেদী
  4. আজ্ঞাবাহী
ব্যাখ্যা
করোটিক স্নায়ু: 
- যে সব স্নায়ু মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশ থেকে উৎপত্তি লাভ করে করোটিকার বিভিন্ন ছিদ্রপথে বের হয়ে দেহের বিভিন্ন অঙ্গে বিস্তৃত হয় তাদের করোটিক স্নায়ু বলে। 
- মানুষের করোটিক স্নায়ু ১২ জোড়া। 
- করোটিক স্নায়ুসমূহ সেনসরি বা সংবেদী, মটর বা আজ্ঞাবাহী/চেষ্টীয় এবং মিশ্র প্রকৃতির হয়ে থাকে। 
- যে সকল স্নায়ু কোন সংবেদী অঙ্গ থেকে উদ্দীপনা বহন করে কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রে বা মস্তিষ্কে পৌঁছে দেয় তাদের সংবেদী স্নায়ু বলে। 
যেমন- অলফ্যাক্টরি ও অপটিক স্নায়ু। 
- আবার যে সব স্নায়ু কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের কোন নির্দেশ বহন করে নির্দিষ্ট অঙ্গে পৌঁছে দেয় তাদের চেষ্টীয় বা আজ্ঞাবাহী বা মোটর স্নায়ু বলে। 
যেমন- অকুলোমোটর ও ট্রকলিয়ার স্নায়ু। 
- কিছু স্নায়ু সংবেদী ও আজ্ঞাবাহী উভয় ধরনের কাজ করে, এদের মিশ্র স্নায়ু বলে। 
যেমন- ফ্যাসিয়াল বা ট্রাইজেমিনাল স্নায়ু। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৮৮.
শ্বেত রক্তকণিকা কোন প্রক্তিয়ার মাধ্যমে জীবাণুর বিরুদ্ধে কাজ করে এবং তাকে গ্রাস করে?
  1. ফটোসিন্থেসিস 
  2. অসমোসিস
  3. ডিফিউশন
  4. ফ্যাগোসাইটোসিস
ব্যাখ্যা

• শ্বেত রক্তকণিকা দেহের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তারা দেহে প্রবেশ করা জীবাণু, ব্যাকটেরিয়া বা ক্ষতিকর কণার বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষা গড়ে তোলে। শ্বেত রক্তকণিকা জীবাণুকে শনাক্ত করে তার দিকে অগ্রসর হয় এবং একটি বিশেষ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাকে গ্রাস করে ধ্বংস করে। এই প্রক্রিয়াটির নাম ফ্যাগোসাইটোসিস। ফ্যাগোসাইটোসিসে শ্বেত রক্তকণিকা জীবাণুকে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে নিজের ভেতরে নিয়ে যায় এবং এনজাইমের সাহায্যে তাকে ভেঙে ফেলে। ফটোসিন্থেসিস উদ্ভিদের খাদ্য তৈরির প্রক্রিয়া, অসমোসিস ও ডিফিউশন হলো পদার্থ পরিবহনের প্রক্রিয়া, কিন্তু জীবাণু গ্রাস করার কাজটি শুধুমাত্র ফ্যাগোসাইটোসিসের মাধ্যমেই হয়। তাই সঠিক উত্তর হলো ঘ) ফ্যাগোসাইটোসিস।
 
শ্বেত রক্ত কণিকা: 
- শ্বেত কণিকার নির্দিষ্ট কোনো আকার নেই। এইগুলো হিমোগ্লোবিনবিহীন এবং নিউক্লিয়াসযুক্ত বড় আকারের কোষ। 
- শ্বেত কণিকার গড় আয়ু ১-১৫ দিন। 
- হিমোগ্লোবিন না থাকার কারণে এদের শ্বেত রক্তকণিকা বলে, ইংরেজিতে এই কণিকাকে White Blood Cell বা WBC বলে। 
- রক্তে এদের সংখ্যা RBC-এর তুলনায় অনেক কম। 
- এরা অ্যামিবার মতো দেহের আকারের পরিবর্তন করে। 
- শ্বেত রক্ত কণিকা ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় জীবাণুকে ধ্বংস করে। 
- রক্ত জালিকার প্রাচীর ভেদ করে টিস্যুর মধ্যে প্রবেশ করতে পারে। 
- শ্বেত কণিকাগুলো রক্তরসের মধ্য দিয়ে নিজেরাই চলতে পারে। 
- দেহ বাইরের জীবাণু দ্বারা আক্রান্ত হলে, দ্রুত শ্বেত কণিকার সংখ্যার বৃদ্ধি ঘটে। 
- মানবদেহে প্রতি ঘন মিলিমিটার রক্তে ৪-১০ হাজার শ্বেত রক্তকণিকা থাকে। শিশু ও অসুস্থ মানবদেহে এর সংখ্যা বেড়ে যায়। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৮৯.
পলিসাইথেমিয়া বলতে কি বুঝায়?
  1. লোহিত রক্ত কণিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় কমে যাওয়া
  2. শ্বেত রক্ত কণিকার সংখ্যা অত্যধিক বেড়ে যাওয়া
  3. শ্বেত রক্ত কণিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় কমে যাওয়া
  4. লোহিত রক্ত কণিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় বেড়ে যাওয়া
ব্যাখ্যা

রক্ত উপাদানের অস্বাভাবিক অবস্থা

মানুষের রক্তের বিভিন্ন উপাদানের তারতম্য ঘটলে যে অবস্থার সৃষ্টি হয়, তাকে রক্তের অস্বাভাবিক অবস্থা বলা হয়। যেমন:-
১. অ্যানিমিয়া: লোহিত কণিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় কমে যায় অথবা হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ স্বাভাবিক অবস্থার তুলনায় কমে যায়।
২. পলিসাইথিমিয়া: লোহিত রক্ত কণিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় বৃদ্ধি পায়।
৩. লিউকোসাইটোসিস: শ্বেত কণিকার সংখ্যা স্বাভাবিক অবস্থার মান থেকে বেড়ে যদি ১ ঘন মি.লি. রক্তে ২০,০০০- ৩০,০০০ হয়।
৪. লিউকেমিয়া: নিউমোনিয়া, প্লেগ, কলেরা, প্রভৃতি রোগে শ্বেত কণিকার সংখ্যা বেড়ে যায়। কিন্তু যদি শ্বেত কণিকার সংখ্যা অত্যাধিক হারে বেড়ে ১ ঘন মি.লি. রক্তে ৫০,০০০-১,০০০,০০০ হয়, তাহলে তাকে লিউকেমিয়া বা ব্লাড ক্যান্সার বলে।
সূত্রঃ প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়

১৯০.
মস্তিষ্ক কোন তন্ত্রের অংশ? 
  1. স্নায়ুতন্ত্র
  2. রেচনতন্ত্র
  3. শ্বসনতন্ত্র
  4. পরিপাকতন্ত্র
ব্যাখ্যা
স্নায়ুটিস্যু বা নার্ভটিস্যু: 
- প্রাণী দেহের যে কলা উদ্দীপনায় সাড়া দিয়ে উপযুক্ত প্রতিবেদন সৃষ্টি করতে পারে তাকে স্নায়ুটিস্যু বা নার্ভটিস্যু বলে। 
যেমন- মস্তিষ্ক, সুষুম্না কাণ্ড ইত্যাদি। 
- স্নায়ুটিস্যুর একক হচ্ছে স্নায়ুকোষ বা নিউরন। 
- মস্তিষ্ক অসংখ্য স্নায়ুকোষ বা নিউরন দিয়ে তৈরি। 
- প্রতিটি নিউরন তিনটি অংশ নিয়ে গঠিত। 
যথা- (ক) কোষদেহ (খ) ডেনড্রন এবং (গ) অ্যাক্সন। 

স্নায়ুটিস্যুর কাজ: 
• দেহের বিভিন্ন ইন্দ্রিয় ও সংবেদন গ্রহণকারী অঙ্গ থেকে গৃহীত উদ্দীপনা মস্তিষ্কে প্রেরণ করে। 
• দেহের কার্যকর অংশ এ উদ্দীপনায় সাড়া দেয়। 
যেমন- মশা কামড়ালে এ অনুভূতি মস্তিষ্কে পাঠায়, মস্তিষ্ক হাতকে এ কথা জানায় তখন হাত মশা মারার চেষ্টা করে। 
• উদ্দীপনা বা ঘটনাকে স্মৃতিতে ধারণ করে। 
• দেহের বিভিন্ন শারীরবৃত্তীয় কাজের মধ্যে সমন্বয় সাধন করে। 

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।
১৯১.
চোখের কোনটি মস্তিষ্কে দর্শনের অনুভূতি জাগায়?
  1. চোখের মণি
  2. আইরিস
  3. রেটিনা
  4. কর্ণিয়া
ব্যাখ্যা
• রেটিনা:
- রেটিন হলো চক্ষু লেন্সের পেছনের দিকে অবস্থিত অক্ষিগোলকের ভিতরের পৃষ্টে গোলাপী রঙের ইষদচ্ছ আলোকসংবেদন আবরণ।
- রেটিনা রড ও কোণ নামক কতগুলি স্নায়ুতন্ত্র দ্বারা গঠিত ।
- রেটিনার ওপর আলো পড়লে তা স্নায়ুতন্ত্রে এক প্রকার উত্তেজনা সৃষ্টি করে ফলে মস্তিষ্কে দর্শনের অনুভূতি জাগে
- রেটিনা ক্যামেরার ফিল্মের মতো কাজ করে, ফটোরেসেপ্টরের মাধ্যমে চিত্রটি ক্যাপচার করে।
- রেটিনার কাজ হলো:
১) বস্তুর প্রতিবিম্ব গঠন করা।
২) আলোক গ্রাহক হিসেবে কাজ করে উজ্জ্বল আলোতে দেখতে সাহায্য করে ।

- মানব চোখের লেন্সটি উভ উত্তল বা দ্বি উত্তল।
- কোনো বস্তু হতে আলোক রশ্মি চোখের লেন্স দ্বারা প্রতিসরিত হয়ে রেটিনায় বিম্ব গঠন করে।
- রেটিনায় গঠিত বিম্বটি হয় সদ, উল্টো ও খর্বিত।
- রেটিনা আলোক শক্তিকে তড়িৎ শক্তিতে পরিণত করে।
- মানুষের চোখে রেটিনা ও চক্ষুলেন্সের মধ্যবর্তী স্থান ভিট্রিয়াস হিউমার নামক জেলী জাতীয় পদার্থ দ্বারা পূর্ণ থাকে। 

উৎস:
১. জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। [২০১৯ সংস্করণ]
২. পদার্থ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৯২.
মানুষের শরীরের রক্তের গ্রুপ কয়টি?
  1. চারটি
  2. পাঁচটি
  3. তিনটি
  4. দুইটি
ব্যাখ্যা
- মানুষের রক্তের গ্রুপকে ৪ ভাগে ভাগ করা যায়। 
যথা- O, A, B এবং AB। 

রক্তের গ্রুপ: 
- লোহিত রক্ত কণিকার প্লাজমা মেমব্রেনে অবস্থিত বিভিন্ন অ্যান্টিজেনের উপস্থিতির ভিত্তিতে রক্তের শ্রেণীবিন্যাসকে 'রক্ত গ্রুপ' বলে। 
- রক্ত কণিকায় আ্যান্টিজেনের উপস্থিত ও অনুপস্থিতির উপর নির্ভর করে রক্তের যে শ্রেণীবিন্যাস, তা ব্লাড গ্রুপ নামে পরিচিত। 
- মানুষের রক্তে A ও B এ দু'ধরনের আ্যান্টিজেন থাকতে পারে। 

O রক্তের গ্রুপ: 
- O গ্রুপের রক্তের কণিকা ঝিল্লিতে কোন অ্যান্টিজেন নাই। 
- O রক্তের গ্রুপের লোকেরা সাধারণত সর্বজনীন রক্ত দাতা হিসাবে পরিচিত এবং শুধুমাত্র O রক্তের গ্রুপ থেকে রক্ত ​​গ্রহণ করতে পারে। 

AB রক্তের গ্রুপ: 
- AB রক্তের গ্রুপে A ও B দুটি অ্যান্টিজেন থাকে। 
- AB রক্তের গ্রুপকে সর্বজনীন গ্রহীতা বলা হয় কারণ সব গ্রুপের রক্ত এটি গ্রহণ করতে পারে এবং শুধুমাত্র AB রক্তের গ্রুপের ব্যক্তিদের রক্ত ​​দান করতে পারে। 

A রক্তের গ্রুপ: 
- A রক্তের গ্রুপে A অ্যান্টিজেন থাকে। 
- A রক্তের গ্রুপের ব্যক্তি শুধুমাত্র A এবং O রক্তের গ্রুপ থেকে রক্ত ​​গ্রহণ করতে পারে এবং টাইপ A এবং AB ব্যক্তিদের দান করতে পারে। 

B রক্তের গ্রুপ: 
- B রক্তের গ্রুপে B অ্যান্টিজেন থাকে। 
- B রক্তের গ্রুপের ব্যক্তি শুধুমাত্র B এবং O রক্তের গ্রুপ থেকে রক্ত ​​গ্রহণ করতে পারে এবং B এবং AB গ্রুপের ব্যক্তিদের রক্ত ​​দান করতে পারে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৯৩.
হৃৎপিণ্ডের উপরের দুটি প্রকোষ্ঠকে কী বলা হয়? 
  1. নিলয় 
  2. অলিন্দ 
  3. ফুসফুসীয় ধমনি 
  4. মহাধমনি 
ব্যাখ্যা

হৃৎপিণ্ড (Heart): 
- হৃৎপিণ্ড রক্ত সংবহনতন্ত্রের অন্তর্গত একরকমের পাম্প। 
- হৃৎপিণ্ড অনবরত সংকুচিত ও প্রসারিত হয়ে সারা দেহে রক্ত সঞ্চালন ঘটায়। 
- মানুষের হৃৎপিণ্ড বক্ষগহ্বরে ফুসফুস দুটির মাঝখানে এবং মধ্যচ্ছদার ওপরে অবস্থিত। 
- হৃৎপিণ্ডের প্রশস্ত প্রান্তটি ওপরের দিকে এবং ছুঁচালো প্রান্তটি নিচের দিকে বিন্যস্ত থাকে। 
- হৃৎপিণ্ডটি দ্বিস্তরী পেরিকার্ডিয়াম পর্দা দিয়ে বেষ্টিত থাকে। 
- উভয় স্তরের মাঝে পেরিকার্ডিয়াল ফ্লুইড থাকে, যেটি হৃৎপিণ্ডকে সংকোচনে সাহায্য করে। 

- মানুষের হৃৎপিণ্ড চারটি প্রকোষ্ঠ নিয়ে গঠিত। 
- উপরের প্রকোষ্ঠ দুটিকে যথাক্রমে ডান এবং বাম অলিন্দ (Atrium) এবং নিচের প্রকোষ্ঠ দুটিকে যথাক্রমে ডান ও বাম নিলয় (Ventricles) বলে। 
- দুটি অলিন্দের ভেতরকার প্রাচীর পাতলা কিন্তু নিলয় দুটির প্রাচীর পুরু এবং পেশিবহুল। 
- ডান অলিন্দের সঙ্গে একটি ঊর্ধ্ব মহাশিরা এবং একটি নিম্ন মহাশিরা যুক্ত থাকে বাম নিলয়ের সঙ্গে চারটি পালমোনারি শিরা যুক্ত থাকে। 
- ডান নিলয় থেকে ফুসফুসীয় ধমনি এবং বাম নিলয় থেকে মহাধমনি উৎপত্তি হয়েছে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১৯৪.
মানুষের হৃদপিণ্ডের উপরের দুটি প্রকোষ্ঠকে কী বলে?
  1. ক) অলিন্দ
  2. খ) নিলয়
  3. গ) এন্ডোকার্ডিয়াম
  4. ঘ) এপিকার্ডিয়াম
ব্যাখ্যা
- মানুষের হৃদপিণ্ড ৪ প্রকোষ্ঠ বিশিষ্ট।
- উপরে দুই পাশে দুইটি অলিন্দ এবং নিচে দুই পাশে দুইটি নিলয়।
- হৃদপিণ্ডের স্তর ৩টি।
যথা- এপিকার্ডিয়াম, মায়োকার্ডিয়াম ও এন্ডোকার্ডিয়াম।
- হৃদপিণ্ডের বাইরের আবরণকে পেরিকার্ডিয়াম বলে।

উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১৯৫.
মানুষের মস্তিষ্কে কত জোড়া করোটিক স্নায়ু আছে?
  1. ক) পাঁচ
  2. খ) সাত
  3. গ) বারো
  4. ঘ) একত্রিশ
ব্যাখ্যা
মানুষের মস্তিষ্কে বারো জোড়া করোটিক স্নায়ু আছে।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী।
১৯৬.
পুরুষ প্রজননতন্ত্রের মুখ্য জনন অঙ্গ কোনটি?
  1. পুরুষাঙ্গ
  2. শুক্রাশয়
  3. এপিডিডাইমিস
  4. ক্ষেপণ নালি
ব্যাখ্যা
• পুরুষ প্রজননতন্ত্রের মুখ্য জনন অঙ্গ হলো শুক্রাশয়। 

• পুরুষ প্রজনন অঙ্গ:
- যেসব অঙ্গের সমন্বয়ে প্রধানত শুক্রাণু তৈরি, সঞ্চয় ও পরিবহন সম্পন্ন হয় সেগুলোকে পুরুষ প্রজনন অঙ্গ বলা হয়।

• পুরুষ জনন অঙ্গ ২ ধরনের।
যথা-
- মুখ্য জনন অঙ্গ: পুরুষ প্রজননতন্ত্রের যে অঙ্গ শুক্রাণু উৎপন্ন করে তাকে মুখ্য জনন অঙ্গ বলা হয়। 
- আনুষঙ্গিক জনন অঙ্গ: যে সব অঙ্গ শুক্রাণু সঞ্চয় ও পরিবহনের কাজে নিয়োজিত সেগুলোকে আনুষঙ্গিক জনন অঙ্গ বলে। 

• শুক্রাশয় হচ্ছে মুখ্য জননাঙ্গ।
- এর কারণ হলো শুক্রাশয় থেকে শুক্রাণু উৎপন্ন হয়। 

অন্যদিকে,
•  আনুষঙ্গিক জনন অঙ্গ সমূহ হলো- 
- এপিডিডাইমিস,
- ভাস ডিফারেন্স (Vas deferens) বা শুক্রনালি,
- সেমিনাল ভেসিকল,
- ক্ষেপন নালি,
- ইউরেথ্রা,
- বহিঃযৌনাঙ্গ,
- জনন গ্রন্থি। 

তথ্যসূত্র:
- জীববিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, গাজী আজমল।
১৯৭.
মানবদেহের দেহকোষে অটোজোম থাকে কতটি? 
  1. ০২ টি
  2. ২২ টি
  3. ৪৪ টি
  4. ৪৬ টি
ব্যাখ্যা
ক্রোমোজোম: 
- মানবদেহের দেহকোষে ২৩ জোড়া বা ৪৬টি ক্রোমোজোম থাকে। 
- এই ২৩ জোড়া ক্রোমোজোমের মধ্যে ২২ জোড়া বা ৪৪টি ক্রোমোজোমকে বলা হয় অটোজোম। 
- অটোজোম দেহের নানা প্রকার গঠন প্রণালী ও জৈবিক কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। 
- লিঙ্গ নির্ধারণে অটোজোমের কোনো ভূমিকা নেই। 
- অন্য এক জোড়া ক্রোমোজোমকে বলা হয় সেক্স-ক্রোমোজোম যা মানবদেহে লিঙ্গ নির্ধারণ করে থাকে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১৯৮.
অণুচক্রিকা (Platelet) মূল উৎপাদন কেন্দ্র কোনটি?
  1. হৃৎপিণ্ড
  2. অস্থিমজ্জা 
  3. লিভার 
  4. লোমকোষ 
ব্যাখ্যা

• অণুচক্রিকা বা প্লেটলেট রক্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান, যা রক্ত জমাট বাঁধা ও ক্ষত সারাতে সহায়তা করে। প্লেটলেট মূলত অস্থিমজ্জা থেকে উৎপন্ন হয়। অস্থিমজ্জায় বিশেষ ধরণের বৃহৎ কোষ থাকে, যাকে মেগাকারিওসাইট বলা হয়। মেগাকারিওসাইটের সাইটোপ্লাজমের ক্ষুদ্র অংশগুলো ছিঁড়ে ছিঁড়ে রক্তে প্রবেশ করলে এগুলোই প্লেটলেট হিসেবে পরিচিত হয়। সুতরাং, অণুচক্রিকার উৎপাদনের প্রধান কেন্দ্র হলো অস্থিমজ্জা। অন্য অপশনগুলো—হৃৎপিণ্ড, লিভার বা লোমকোষ—প্লেটলেট উৎপাদনের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত নয়। অস্থিমজ্জা ছাড়া শরীরের অন্যান্য অংশ প্লেটলেট তৈরি করতে পারে না, তাই এটি রক্তের স্বাভাবিক কার্যক্রম ও ক্ষত নিরাময়ে অপরিহার্য।

- সঠিক উত্তর: খ) অস্থিমজ্জা।
 
অণুচক্রিকা: 
- ইংরেজিতে এদেরকে প্লাটিলেট (Platelet) বলে।
- অণুচিক্রকা আকারে ছোট, বর্তুলাকার ও বর্ণহীন, এরা গুচ্ছাকারে থাকে। 
- অস্থিমজ্জার মধ্যে অণুচক্রিকা উৎপন্ন হয়। 
- অণুচক্রিকাগুলোর গড় আয়ু ৫-১০ দিন। 
- পরিণত মানবদেহে প্রতি ঘন মিলিমিটার রক্তে অণুচক্রিকার সংখ্যা প্রায় আড়াই লাখ। 
- অণুচক্রিকা রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে। 
- কোন রক্তবাহী নালির ক্ষতি হলে এরা অনতিবিলম্বে থ্রোম্বোপ্লাষ্টিন নামক এক প্রকার রাসায়নিক দ্রব্য নিঃসরণ করে, যা রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৯৯.
মানুষের স্থায়ী দাঁত কয় ধরনের হয়ে থাকে?
  1. ক) তিন
  2. খ) চার
  3. গ) পাঁচ
  4. ঘ) দুই
ব্যাখ্যা
মানুষের স্থায়ী চার ধরনের দাঁত রয়েছে।

যথা-
১. কর্তন দাঁত- এই দাঁত দিয়ে খাবার কেটে টুকরো টুকরো করা হয়। 
২. ছেদন দাঁত- খাবার ছেঁড়া হয়।
৩. অগ্রপেষণ দাঁত- এই ধরনের দাঁত দিয়ে চর্বণ, পেষণ, উভয়ের কাজ করা হয়। 
৪. পেষণ দাঁত- এই দাঁত খাদ্যবস্তু চর্বণ ও পেষণের কাজ করে। 

সূত্র: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। 
২০০.
মানুষের হৃৎপিণ্ডে কতটি প্রকোষ্ঠ থাকে?
ব্যাখ্যা

মানুষের হৃৎপিণ্ড চারটি প্রকোষ্ঠ নিয়ে গঠিত।

হৃৎপিণ্ড:
- হৃৎপিণ্ড রক্ত সংবহনতন্ত্রের অন্তর্গত এক ধরনের পাম্প।
- হৃৎপিণ্ড অনবরত সংকুচিত ও প্রসারিত হয়ে সারা দেহে রক্ত সঞ্চালন ঘটায়।
- মানুষের হৃৎপিণ্ড বক্ষগহ্বরে ফুসফুস দুটির মাঝখানে এবং মধ্যচ্ছদার ওপরে অবস্থিত।
হৃৎপিণ্ডটি দ্বিস্তরী পেরিকার্ডিয়াম পর্দা দিয়ে বেস্টিত থাকে।
- মানুষের হৃৎপিণ্ড চারটি প্রকোষ্ঠ নিয়ে গঠিত। 
- ওপরের প্রকোষ্ঠ দুটিকে যথাক্রমে ডান এবং বাম অলিন্দ (Atrium) এবং নিচের প্রকোষ্ঠ দুটিকে যথাক্রমে ডান এবং বাম নিলয় (Ventricles) বলে।
- দুটি অলিন্দের ভেতরকার প্রাচীর পাতলা কিন্তু নিলয় দুটির প্রাচীর পুরু এবং পেশিবহুল।
- ডান অলিন্দের সঙ্গে একটি ঊর্ধ্ব মহাশিরা এবং একটি নিম্ন মহাশিরা যুক্ত থাকে।
- বাম নিলয়ের সঙ্গে চারটি পালমোনারি শিরা যুক্ত থাকে।
- ডান নিলয় থেকে ফুসফুসীয় ধমনি এবং বাম নিলয় থেকে মহাধমনি উৎপত্তি হয়েছে।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।