বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

মানবদেহ ও শারীরতত্ত্ব

মোট প্রশ্ন৮১৫এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

মানবদেহ ও শারীরতত্ত্ব

PrepBank · পাতা / · ১০০ / ৮১৫

.
নিচের কোনটি নিউরনের অংশ নয়?
  1. ক) কোষদেহ
  2. খ) সিন্যাপস
  3. গ) ডেনড্রাইট
  4. ঘ) অ্যাক্সন
ব্যাখ্যা
দেহের বিশেষ সংবেদী কোষ নিউরন বা স্নায়ুকোষগুলো একত্রে স্নায়ু টিস্যু গঠন করে৷ স্নায়ু টিস্যু অসংখ্য নিউরন দিয়ে গঠিত৷
একটি নিউরনের দুটি অংশ থাকে৷
যথাঃ কোষদেহ এবং প্রলম্বিত অংশ।
প্রলম্বিত অংশ দুধরনেরঃ ডেনড্রাইট এবং অ্যাক্সন।
পরপর দুটি নিউরনের সন্ধিস্থলে অর্থাৎ প্রথমটির অ্যাক্সন এবং পরেরটির ডেনড্রাইটের মধ্যে একটি স্নায়ুসন্ধি গঠিত হয়, তাকে সিন্যাপস (Synapse) বলে। সিন্যাপসের মধ্য দিয়েই একটি নিউরন থেকে উদ্দীপনা পরবর্তী নিউরনে পরিবাহিত হয়৷
উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
.
বিলিরুবিন কোথায় তৈরী হয়?
  1. প্লীহায়
  2. পিত্তথলিতে
  3. যকৃতে
  4. কিডনিতে
ব্যাখ্যা

- বিলিরুবিন তৈরি হয় যকৃতে ও অস্থিমজ্জায় এবং জমা হয় প্লীহাতে। 
- যকৃতের মধ্যে অবস্থিত প্লীহা বিলিরুবিন উৎপন্ন হওয়ার প্রধান স্থান হিসেবে স্বীকৃত যা কনজুগেশনের মাধ্যমে যকৃতে পৌঁছায়। 
- হিমগ্লোবিনের লৌহযুক্ত প্রস্থেটিক গ্রুপ ভেঙে যে সমস্ত বর্জ্য পদার্থ তৈরি হয় হলুদ বিলিরুবিন তাদের মধ্যে অন্যতম। 
- রক্তের বিলিরুবিন যকৃতে গ্লুকো-ইউরোনিক অ্যাসিডযুক্ত হয়ে জল দ্রাব্য হয় এবং পিত্তের মাধ্যমে ক্ষুদ্রান্ত্রে পৌঁছায়। 
- সেখানে ব্যাকটেরিয়া দ্বারা অর্ধেক বিলিরুবিন থেকে ইউরোবিলিনোজেন উৎপন্ন হয় যা অন্ত্র থেকে শোষিত হয়ে শেষে হলুদ ইউরোবিলিন হিসাবে মূত্রে পৌছায় বলে মূত্রের রং হলুদ হয়। 
- দেহে বিলিরুবিন বেশি হলে তাকে জন্ডিস বলে। 

উৎস: প্রাণীবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
মানুষের শ্বসন অঙ্গ কোনটি দ্বারা সংক্রমিত হতে পারে? 
  1. ছত্রাক
  2. ভাইরাস
  3. ব্যাকটেরিয়া
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
শ্বসন অঙ্গের সমস্যা: 
- মানুষের শ্বসন অঙ্গ ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস, ছত্রাক অথবা অন্য কোন এজেন্ট দ্বারা সংক্রমিত হতে পারে, যা নানা রকম রোগ সৃষ্টি করে। 
যেমন- 
সাইনুসাইটিস (Sinusitis): 
- আমাদের করোটি ও মুখমণ্ডলের অস্থিগুলোর ভেতরে কিছু বায়ুপূর্ণ ফাঁকা স্থান রয়েছে যেগুলোকে সাইনাস বলে। 
- মানুষের মুখমণ্ডলে ৪ জোড়া সাইনাস আছে। 
যথা- 
(ক) ম্যাক্সিলারি সাইনাস, 
(খ) ফ্রন্টাল সাইনাস, 
(গ) এথময়েড সাইনাস এবং 
(ঘ) স্কেনয়েড সাইনাস। 

- এসকল সাইনাস মিউকাস পর্দা দ্বারা আবৃত থাকে এবং পিচ্ছিল মিউকাস সৃষ্টির মাধ্যমে নাসিকা পথকে সিক্ত ও জীবাণুমুক্ত রাখে। 
- ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস বা ছত্রাক দ্বারা সাইনাস আক্রান্ত হলে যে প্রদাহের সৃষ্টি হয় তাকে সাইনুসাইটিস বলে। 
- সাইনুসাইটিস ৮ সপ্তাহের কম সময় থাকলে তাকে একিউট (Acute) সাইনুসাইটিস এবং ৩ মাসের অধিককাল থাকলে তাকে ক্রনিক (Chronic) সাইনুসাইটিস বলে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
হিস্টোলজিতে, রক্তকে কোন ধরনের টিস্যু হিসাবে শ্রেণীবদ্ধ করা হয়?
  1. আবরণী টিস্যু
  2. স্নায়ু টিস্যু
  3. যোজক টিস্যু
  4. পেশি টিস্যু
ব্যাখ্যা
• যোজক টিস্যু (Connective Tissue):
• যোজক বা কানেকটিভ টিস্যুতে মাতৃকার (Matrix) পরিমাণ তুলনামূলকভাবে বেশি এবং কোষের সংখ্যা কম।
• গঠন এবং কাজের ভিত্তিতে কানেকটিভ টিস্যু প্রধানত তিন ধরনের হয়। যথা-
(i) ফাইব্রাস যোজক টিস্যু;
(ii) স্কেলিটাল যোজক টিস্যু;
(iii) তরল যোজক টিস্যু। 

রক্ত: 
- রক্ত এক ধরনের ক্ষারীয়, ঈষৎ লবণাক্ত এবং লালবর্ণের তরল যোজক টিস্যু।
- ধমনি, শিরা ও কৈশিকনালির মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে রক্ত অভ্যন্তরীণ পরিবহনে অংশ নেয়।
- উষ্ণ রক্তবাহী প্রাণীর দেহে রক্ত তাপমাত্রার ভারসাম্য রক্ষা করে।
- রক্তের উপাদান দুটি- রক্তরস (৫৫%) এবং রক্তকণিকা (৪৫%)।
- রক্তরস (Plasma) রক্তের তরল অংশ, এর রং ঈষৎ হলুদাভ। এর প্রায় ৯১-৯২% অংশ পানি এবং ৮-৯% অংশ জৈব ও অজৈব পদার্থ।

উৎস: জীববিজ্ঞান, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
পিটুইটারী গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হরমোনের মূল কাজ কী? 
  1. ডিম্বাণু উৎপাদন হ্রাস
  2. স্নায়ুতন্ত্রের নিয়ন্ত্রণ
  3. জরায়ুর সংকোচন নিয়ন্ত্রণ
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
মানব প্রজননে হরমোন এর ভূমিকা: 
- হরমোন এক ধরনের জৈব রাসায়নিক পদার্থ যা নালিহীন গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হয়। 
- হরমোন নির্দিষ্ট অথচ স্বল্প মাত্রায় নিঃসৃত হয়ে নানাবিধ শারীরবৃত্তীয় কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। 
- নির্দিষ্ট মাত্রার চেয়ে বেশি বা কম নিঃসৃত হলে দেহের বিভিন্ন কাজের ব্যাঘাত ঘটে এবং দেহে নানা রকম অস্বাভাবিকতা দেখা দেয়। 
- মানব দেহে প্রজনন সংক্রান্ত হরমোনগুলো হলো- 

শুক্রাশয় এর অনাল গ্রন্থি: 
- এ অনাল গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হরমোনের নাম- টেস্টোস্টেরণ এবং অ্যান্ড্রোজেন। 
- এ হরমোন শুক্রাণু উৎপাদন করে। দাঁড়ি ও গোফ গজায়। গলার স্বর বদলায়। 

পিটুইটারী গ্রন্থি: 
- এ গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হরমোন হলো- (ক) বৃদ্ধি উদ্ধীপক হরমোন এবং (খ) উৎপাদক হরমোন। 
- এ হরমোন জনন গ্রন্থির বৃদ্ধি, ক্ষরণ ও কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। মাতৃদেহের স্তন দুগ্ধ ক্ষরণ নিয়ন্ত্রণ করে। জরায়ুর সংকোচন নিয়ন্ত্রণ করে। 

থাইরয়েড গ্রন্থি: 
- এ গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হরমোন হলো- থাইরক্সিন হরমোন। 
- এ হরমোন দৈহিক ও মানসিক বৃদ্ধি করে। যৌন লক্ষণ প্রকাশ ও বিপাকে সহায়তা করে। 

অ্যাড্রেনাল গ্রন্থি: 
- এ গুন্থি থেকে নিঃসৃত হরমোন হলো- অ্যাড্রানালিন হরমোন। 
- এ হরমোন যৌন অঙ্গের বৃদ্ধি করে। যৌন লক্ষণ প্রকাশে সহায়তা করে। 

ডিম্বাশয় এর অনাল গ্রন্থি: 
- এ অনাল গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হরমোন হলো- (ক) ইস্ট্রোজেন, (খ) প্রোজেস্টেরন এবং (গ) রিলাক্সিন। 
- এ হরমোন নারী সুলভ লক্ষণগুলো সৃষ্টি করে। ঋতুচক্র নিয়ন্ত্রণ করে। গর্ভাবস্থায় জরায়ু, ভ্রূণ ও অমরা ইত্যাদির বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করে। ডিম্বাণু উৎপাদনে বিশেষ ভূমিকা রাখে। 

অমরা গ্রন্থি: 
- অমরা থেকে নিঃসৃত হরমোন হলো- (ক) গোনাডোট্রপিক এবং (খ) প্রোজেস্টেরন। 
- এ হরমোন ডিম্বাশয়ের অনাল গ্রন্থিকে উত্তেজিত করে। স্তন গ্রন্থির বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
লোহিত রক্তকণিকা কোথায় তৈরি হয়?
  1. প্লীহা ও অস্থিমজ্জায়
  2. যকৃত ও অস্থিমজ্জায়
  3. হৃৎপিণ্ড ও অস্থিমজ্জায়
  4. কিডনি ও অস্থিমজ্জায়
ব্যাখ্যা
• ভ্রূণাবস্থায় এবং প্রাথমিক জীবনে লোহিত রক্তকণিকা যকৃতেও তৈরি হয়। ভ্রূণাবস্থায় প্লীহা-তেও লোহিত রক্তকণিকা তৈরি হয় - তবে, যকৃতের তুলনায় তা খুব অল্প পরিমাণ।
তাই, সঠিক উত্তর - খ) যকৃত ও অস্থিমজ্জায় - কারণ উভয় অঙ্গই লোহিত রক্তকণিকা তৈরিতে ভূমিকা রাখে, যদিও প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে অস্থিমজ্জাই প্রধান স্থান।

• রক্তসংবহন তন্ত্র:
- যে প্রক্রিয়ায় প্রাণিদেহে রক্ত পরিবহনের কাজ সম্পন্ন হয় তাকে সংবহন প্রক্রিয়া বলে।
- রক্ত, হৃৎপিণ্ড, ধমনি, শিরা এবং লসিকা ও লসিকাবাহী নালির সমন্বয়ে মানব দেহের সংবহনতন্ত্র গঠিত।
- যে তন্ত্রের মাধ্যমে দেহে রক্ত সঞ্চালিত হয় তাকে রক্ত সংবহনতন্ত্র বলে।
- হৃৎপিণ্ড, রক্ত ও রক্তবাহী নালির সমন্বয়ে রক্ত সংবহনতন্ত্র গঠিত।

• রক্ত ও রক্তের উপাদান:
- রক্ত ঘন লাল রঙের একটি তরল পদার্থ, এটি এক ধরনের তরল যোজক টিস্যু।
- রক্তের স্বাদ ক্ষারধর্মী।
- রক্তের উপাদান দুইটি।
- যথা: রক্তরস ও রক্তকণিকা।

• রক্তকণিকা:
- রক্তে তিন ধরনের কণিকা রয়েছে।
যথা-

ক. লোহিত রক্তকণিকা:
- লোহিত রক্তকণিকার জন্য রক্তের রং লাল দেখায়, এর মধ্যে হিমোগ্লোবিন নামক একটি রঞ্জক পদার্থ থাকে।
- হিমোগ্লোবিনের সাথে অক্সিজেন যুক্ত হয়ে দেহকোষে -পৌঁছায়।
- লোহিত রক্তকণিকা উভঅবতল (উভয় পৃষ্ঠে খাদ আছে), চাকতির মতো গোলাকার কোষ।
- পরিণত লোহিত রক্তকণিকায় নিউক্লিয়াস থাকে না।
- লোহিত রক্তকণিকা যকৃত ও অস্থিমজ্জায় তৈরি হয়।

খ. শ্বেত রক্ত কণিকা:
- শ্বেত রক্তকণিকা লোহিত রক্তকণিকার চেয়ে আকারে কিছুটা বড়ো ও অনিয়মিত আকারের হয়।
- এদের নিউক্লিয়াস আছে, প্লীহা ও অস্থিমজ্জায় এদের জন্ম।
- দেহে কোনো রোগ-জীবাণু প্রবেশ করলে শ্বেত রক্তকণিকা সেগুলোকে ধ্বংস করে।
- শ্বেত রক্তকণিকা দেহের প্রহরীর মতো কাজ করে, তাই এদের সৈনিকের সাথে তুলনা করা হয়।

গ. অণুচক্রিকা:
- অণুচক্রিকা দেখতে গোলাকার বা বৃত্তের মতো।
- এরা লোহিত রক্তকণিকার চেয়ে আকারে ছোটো হয় ও নিউক্লিয়াস থাকে না, এরা গুচ্ছাকারে থাকে।
- এদের উৎপত্তি লোহিত অস্থিমজ্জায়।
- দেহের কোনো অংশ কেটে রক্তপাত ঘটলে অণুচক্রিকা রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে, এদের প্লেটলেটও বলে।

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।
.
মানুষের দেহের শ্বেত ও লোহিত রক্তকণিকার অনুপাত কত?
  1. ১ : ৭০০
  2. ৭০০ : ১
  3. ১ : ৮০০
  4. ৮০০ : ১
ব্যাখ্যা
• শ্বেত রক্তকণিকা ও লোহিত কণিকা অনুপাত ১ : ৭০০।
- পূর্ণ বয়স্ক পুরুষের মানবদেহে অবস্থিত লোহিত রক্তকনিকার পরিমান প্রায় ৪৫ - ৫০ লাখ (প্রতি ঘন মিলিলিটারে)।
- অন্যদিকে, শ্বেত রক্তকনিকার পরিমান প্রায় ৪-১০ হাজার (প্রতি ঘন মিলিলিটারে)। 

• শ্বেতকণিকা:
- রক্তে বর্ণহীন, নিউক্লিয়াসযুক্ত এবং তুলনামূলকভাবে স্বল্পসংখ্যক ও বৃহদাকার যে কোষ দেখা যায় এবং যারা দেহকে সংক্রমণ থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে তাকে শ্বেতকণিকা বলে।
- শ্বেত রক্তকণিকা ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় জীবাণু ধ্বংস করে।
- শ্বেত রক্তকণিকার গড় আয়ু ১- ১৫ দিন।

• লোহিত রক্তকণিকা:
- মানুষের পরিণত লোহিত রক্তকণিকা গোল, দ্বিঅবতল, নিউক্লিয়াসবিহীন চাকতির মতো ও লাল বর্ণের।
- লোহিত রক্তকণিকার কাজ হিমোগ্লোবিন ফুস্ফুস থেকে দেহ কোষে O₂ এবং সামান্য CO₂ পরিবহন করে।
- এতে হিমোগ্লোবিন নামক রঞ্জক পদার্থ থাকার কারণে লাল বর্ণের হয়। এজন্য এদের Red Blood Cell বা RBC বলে।

উৎস: জীববিজ্ঞান- ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
.
স্নায়ুতন্ত্রের গঠন ও কার্য সম্পাদনের প্রধান একক কোনটি?
  1. নিউরোগ্লিয়া
  2. সাইন্যাপস
  3. নিউরন
  4. নেফ্রন
ব্যাখ্যা

• স্নায়ুতন্ত্রের গঠন ও কার্য সম্পাদনের প্রধান একক হলো নিউরন (গ)। নিউরন হলো একটি বিশেষায়িত স্নায়ুকোষ, যা উদ্দীপনা গ্রহণ, পরিবহন ও প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। এর প্রধান অংশ হলো ডেনড্রাইট, কোষদেহ এবং অ্যাক্সন। ডেনড্রাইট উদ্দীপনা গ্রহণ করে, কোষদেহ তা প্রক্রিয়াজাত করে এবং অ্যাক্সন সেই স্নায়ুবার্তা অন্য কোষে পৌঁছে দেয়। স্নায়ুতন্ত্রের সব কার্যকলাপ- যেমন চিন্তা, অনুভূতি, চলাচল ও প্রতিফল ক্রিয়া- নিউরনের মাধ্যমেই সম্পন্ন হয়। নিউরোগ্লিয়া সহায়ক কোষ, সাইন্যাপস সংযোগস্থল এবং নেফ্রন কিডনির একক, তাই সঠিক উত্তর নিউরন।
 
• স্নায়ুকলা (Nervous tissue):
- যে কলা দেহের সব ধরনের সংবেদন ও উদ্দীপনা গ্রহণ করে এবং তা পরিবহণের মাধ্যমে উদ্দীপনা অনুসারে উপযুক্ত প্রতিবেদন সৃষ্টি করে, সেটাই স্নায়ুটিস্যু বা স্নায়ুকলা। 
- বহুসংখ্যক স্নায়ুকোষ বা নিউরনের সমন্বয়ে স্নায়ুটিস্যু গঠিত।
- নিউরনই স্নায়ুতন্ত্রের গঠন এবং কার্যক্রমের একক।

• নিউরনের গঠন:
- প্রতিটি নিউরন দুটি অংশ নিয়ে গঠিত-কোষদেহ এবং প্রলম্বিত অংশ।

কোষদেহ (Cell body):
- প্লাজমামেমব্রেন, সাইটোপ্লাজম আর নিউক্লিয়াস নিয়ে গঠিত নিউরনের গোলাকার, তারকাকার, অথবা ডিম্বাকার অংশ কোষদেহ নামে পরিচিত। এখানে সাইটোপ্লাজমে মাইটোকন্ড্রিয়া, গলজিবস্তু, লাইসোজোম, চর্বি, গ্লাইকোজেন, রঞ্জক কণাসহ অসংখ্য নিসল দানা থাকে।

প্রলম্বিত অংশ:
- কোষদেহ থেকে সৃষ্ট শাখা-প্রশাখাকেই প্রলম্বিত অংশ বলে। প্রলম্বিত অংশ দুধরনের:

(i) ডেনড্রন:
- কোষদেহের চারদিকের শাখাযুক্ত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র প্রলম্বিত অংশকে ডেনড্রন বলে। ডেনড্রন থেকে যে শাখা বের হয় তাদের ডেনড্রাইট বলে। একটি নিউরনে ডেনড্রন সংখ্যা শূন্য থেকে শতাধিক পর্যন্ত হতে পারে। ডেনড্রাইট অন্য নিউরন থেকে স্নায়ু তাড়না গ্রহণ করে।

(ii) অ্যাক্সন (Axon):
- কোষদেহ থেকে উৎপন্ন বেশ লম্বা তন্তুর নাম অ্যাক্সন। এর চারদিকে পাতলা আবরণটিকে নিউরিলেমা বলে। নিউরিলেমা এবং অ্যাক্সনের মধ্যবর্তী অঞ্চলে স্নেহ পদার্থের একটি স্তর থাকে। একে মায়েলিন (Myelin) বলে।  

অপরদিকে,
- বৃক্কের গাঠনিক ও কার্যকারী একক হচ্ছে নেফ্রন।
- সাইন্যাপস হলো দুটি নিউরন বা একটি নিউরন ও অন্য কোনো কোষের (যেমন পেশী কোষ) সংযোগস্থল, যেখানে একটি নিউরন থেকে পরবর্তী কোষে স্নায়ু সংকেত বা তথ্য রাসায়নিক বা বৈদ্যুতিক উপায়ে প্রবাহিত হয়।
- নিউরোগ্লিয়া হলো স্নায়ুতন্ত্রের সহায়ক কোষ, যা নিউরনকে (স্নায়ুকোষ) ধরে রাখে, পুষ্টি যোগায়, সুরক্ষা দেয় এবং স্নায়ুতন্ত্রের সঠিক কার্যকারিতা নিশ্চিত করে।

উৎস: জীব বিজ্ঞান (নবম ও দশম শ্রেণি)।

.
কোনটি অগ্রমস্তিষ্কের অংশ?
  1. সেরেব্রাম
  2. সেরেবেলাম
  3. পনম
  4. কর্পোরা
ব্যাখ্যা

• সেরেব্রাম-  অগ্রমস্তিষ্কের অংশ।

অগ্রমস্তিষ্ক:
- অগ্রমস্তিষ্কের প্রধান অংশ গঠন করে।
- এটি তিন অংশে বিভক্ত। যথা-
(ক) সেরেব্রাম,
(খ) থ্যালামাস ও
(গ) হাইপোথ্যালামাস।

• সেরেব্রাম:
- মস্তিষ্কের সবচেয়ে বড় অংশ (মস্তিষ্কের প্রায় ৮০% গঠন করে)।
- প্রতিটি সেরেব্রাল হেমিস্ফিয়ার ৫টি খণ্ডে বিভক্ত। যথা- ফ্রন্টাল লোব, প্যারাইটাল লোব, অক্সিপিটাল লোব, টেম্পোরাল লোব ও লিম্বিক লোব।
- সেরেব্রাম বাকশক্তি, স্মৃতি শক্তি, চিন্তা, বুদ্ধি-বৃত্তি, সৃজনশীলতা, ইচ্ছা শক্তি, সহজাত প্রবৃত্তি, কর্মপ্রেরণা প্রভৃতির সাথে সংশ্লিষ্ট।
- সর্বোপরি মানুষের ঐচ্ছিক ক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে।

• থ্যালামাস:
- সেরেব্রাল হেমিস্ফিয়ারের নিচে দুটি ক্ষুদ্র ও ডিম্বাকৃতির থ্যালামাস থাকে যা ধূসর পদার্থ দিয়ে গঠিত।
- থ্যালামাস সংবেদী-উদ্দীপনা গ্রহণ করে এবং রিলে করে সেরেব্রামে পাঠায়।

• হাইপোথ্যালামাস:
- এটি থ্যালামাসের ঠিক নিচে ধূসর পদার্থ দিয়ে গঠিত।
- এটি অন্ততঃ এক ডজন পৃথক অঞ্চলে বিভক্ত থাকে।
- স্বয়ংক্রিয় স্নায়ুতন্ত্রের সকল কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ করে।
- ক্ষুধা, তৃষ্ণা, রাগ, ভাল লাগা, ভীতি, আবেগ প্রভৃতির কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে।
- পিটুইটারী গ্রন্থিও বিভিন্ন হরমোন নিঃসরণ করে।

অপশন আলোচনা:
ক) সেরেব্রাম — এটি অগ্রমস্তিষ্কের প্রধান ও সবচেয়ে বড় অংশ, তাই সঠিক উত্তর।
খ) সেরেবেলাম — এটি পশ্চাৎমস্তিষ্কের অংশ, অগ্রমস্তিষ্কের নয়।
গ) পনস (পনম) — এটি মধ্যমস্তিষ্ক/পশ্চাৎমস্তিষ্কের সংযোগকারী অংশ, অগ্রমস্তিষ্কের অংশ নয়।
ঘ) কর্পোরা (কর্পাস ক্যালোসাম বোঝালে) — এটি অগ্রমস্তিষ্কের ভেতরে সেরেব্রামের দুই অর্ধকে যুক্ত করে, তবে সাধারণ MCQ-তে একে সরাসরি অগ্রমস্তিষ্কের অংশ হিসেবে ধরা হয় না।
 
তথ্যসূত্র - প্রাণি বিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১০.
কোন জাতীয় বিপাকের বিপাকের ফলে নাইট্রোজেন ঘটিত বর্জ্য সৃষ্টি হয়?
  1. প্রোটিন
  2. কার্বোহাইড্রেট
  3. লিপিড
  4. ভিটামিন
ব্যাখ্যা

• প্রোটিন - জাতীয় খাদ্যের বিপাকের ফলে মানবদেহে নাইট্রোজেনঘটিত বর্জ্য সৃষ্টি হয়। 

• রেচন:
- বিপাকের ফলে সৃষ্ট নাইট্রোজেনঘটিত বর্জ্যপদার্থ যে প্রক্রিয়ায় দেহ থেকে দ্রুত ও নিয়মিত নিষ্কাশিত হয় তাকে রেচন বলা হয়। 

• বৃক্ক:
- মানবদেহের প্রধান রেচন অঙ্গকে বলা হয় বৃক্ক। 

• বৃক্কের কাজ:
- রক্ত থেকে নাইট্রোজেনযুক্ত বর্জ্য পদার্থ অপসারণ করা।
- দেহে ও রক্তে পানির ভারসাম্য রক্ষা করা।
- রক্তে বিভিন্ন লবণ, অম্ল ও ক্ষারের ভারসাম্য রক্ষা করা।
- হরমোন ও এনজাইম নিঃসরণ করা।
- দেহের রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করা।
- ভিটামিন ডি ও লোহিত রক্ত কণিকা উৎপাদনে অংশগ্রহণ করা।

• রেচনে বৃক্কের ভূমিকা:
- বৃক্ক প্রধানত নাইট্রোজেনঘটিত বর্জ্য পদার্থ দেহ থেকে নিষ্কাশন করে।
- আমিষ জাতীয় খাদ্য বিপাকের ফলে দেহে অ্যামোনিয়া, ইউরিয়া, ইউরিক এসিড, ক্রিয়েটিনিন ইত্যাদি নাইট্রোজেনঘটিত বর্জ্য সৃষ্টি হয়।
- এগুলো বিষাক্ত ও দেহের জন্য ক্ষতিকর। তাই এসব রেচন পদার্থ দেহ থেকে নিষ্কাশন করা অত্যাবশ্যক।
- বৃক্ক এসব রেচন পদার্থ দেহ থেকে অপসারণ করে দেহকে সুস্থ রাখে। 

তথ্যসূত্র:
- জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
- জীববিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, গাজী আজমল। 

১১.
যকৃৎ-এর ক্ষুদ্র একক লোবিউলে কী তৈরি হয়? 
  1. পিত্তরস 
  2. হিমোগ্লোবিন 
  3. ইনসুলিন 
  4. কোলেস্টেরল 
ব্যাখ্যা

যকৃৎ (Liver): 
- মধ্যচ্ছদার নিচে উদরগহ্বরের উপরে পাকস্থলীর ডান পাশে যকৃৎ অবস্থিত। 
- যকৃৎ মানবদেহের সবচেয়ে বড় গ্রন্থি। 
- যকৃৎ-এর রং লালচে খয়েরি। 
- যকৃতের ডান খণ্ডটি বাম খণ্ড থেকে আকারে কিছুটা বড়। 
- প্রকৃতপক্ষে চারটি অসম্পূর্ণ খণ্ড নিয়ে যকৃৎ গঠিত। প্রতিটি খণ্ড ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র লোবিউল দিয়ে তৈরি। প্রত্যেকটি লোবিউলে অসংখ্য কোষ থাকে যে কোষ পিত্তরস (bile) তৈরি করে। 
- পিত্তরস ক্ষারীয় গুণ সম্পন্ন। 
- যকৃতে বিভিন্ন রকম জৈব রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে, তাই একে রসায়ন গবেষণাগার বলা হয়। 
- যকৃতের নিচের অংশ পিত্তথলি বা পিত্তাশয় সংলগ্ন থাকে যেখানে পিত্তরস জমা হয়। এই পিত্তরস গাঢ় সবুজ বর্ণের এবং তিক্ত স্বাদবিশিষ্ট। 
- পিত্তথলি পিত্তনালির সাহায্যে অগ্ন্যাশয় নালির সাথে মিলিত হয়। এটি যকৃৎ-অগ্ন্যাশয় নালির মাধ্যমে ডিওডেনামে প্রবেশ করে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১২.
কোনটি রক্তবাহিকা নয় -
  1. ধমনি
  2. শিরা
  3. কৈশিক জালিকা
  4. কপাটিকা
ব্যাখ্যা
রক্ত সংবহনতন্ত্র গঠিত হয় রক্ত, হৃদপিণ্ড ও রক্ত জালিকা দিয়ে। 
হৃদপিণ্ড হৃদ পেশী দিয়ে তৈরি। 
রক্ত বাহিকা ৩ ধরনের - ধমনি, শিরা, কৈশিক জালিকা। 

রক্তকে রক্তবাহিকার ভিতর দিয়ে সঞ্চালনের জন্য হৃদপিণ্ড মানব ও অন্য প্রানিদেহে পাম্পের মত কাজ করে। 

[সূত্র - নবম-দশম শ্রেণি, বিজ্ঞান, বোর্ড বই]
১৩.
বৃক্কে অবস্থিত প্রতিটি নেফ্রনের দৈর্ঘ্য কত?
  1. ৩ সে.মি. (প্রায়)
  2. ৭ সে.মি. (প্রায়)
  3. ৯ সে.মি. (প্রায়)
  4. ১০ সে.মি. (প্রায়)
ব্যাখ্যা
• বৃক্কে অবস্থিত প্রতিটি নেফ্রনের দৈর্ঘ্য প্রায় ৩ সে.মি.।

• একটি নেফ্রনের গঠন:
- বৃক্কের লম্বচ্ছেদ অনুবীক্ষণ যন্ত্রে পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায় যে, এর ভেতরে অসংখ্য কুণ্ডলীকৃত সূক্ষ্ম নালিকা দেখা যায়।
- এদেরকে নেফ্রন বলে।
- নেফ্রন হলো বৃক্কের গাঠনিক ও কাজের একক।
- প্রচুর রক্তনালি ও কিছু যোজক কলাসহ প্রতিটি বৃক্কে প্রায় ১০ লক্ষ নেফ্রন থাকে।
- প্রতিটি নেফ্রনের দৈর্ঘ্য প্রায় ৩ সে.মি.।

• প্রতিটি নেফ্রনকে ৬টি অঞ্চলে ভাগ করা যায়। যথা-
১. রেনাল করপাসল,
২. নিকটবর্তী প্যাঁচানো নালিকা,
৩. হেনলির লুপের অবরোহন বাহু,
৪. হেনলির লুপের আরোহন বাহু,
৫. দূরবর্তী প্যাঁচানো নালিকা ও
৬. সংগ্রাহী নালিকা।

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৪.
মানুষের রক্তের গ্রুপকে কী দ্বারা শ্রেণিবিন্যাস করা হয়? 
  1. রক্তের চাপ ও গতির ভিত্তিতে 
  2. হরমোন ও এনজাইমের ভিত্তিতে
  3. রক্তের রঙ ও ঘনত্বের ভিত্তিতে
  4. অ্যান্টিজেন ও অ্যান্টিবডির উপস্থিতির ভিত্তিতে
ব্যাখ্যা
ব্লাড গ্রুপ বা রক্তের গ্রুপ: 
- অ্যান্টিজেন এবং অ্যান্টিবডির উপস্থিতির উপর ভিত্তি করে মানুষের রক্তকে বিভিন্ন গ্রুপে ভাগ করা যায়, একে ব্লাড গ্রুপ বলে। 
- বিজ্ঞানী কার্ল ল্যান্ডস্টেইনার 1901 সালে মানুষের রক্তের শ্রেণিবিন্যাস করে তা A, B, AB এবং O- এ চারটি গ্রুপের নামকরণ করেন। 
- সাধারণত একজন মানুষের রক্তের গ্রুপ আজীবন একই রকম থাকে। 
- নিচের সারণিতে রক্তের গ্রুপের অ্যান্টিবডি এবং অ্যান্টিজেনের উপস্থিতি দেখানো হলো- 

- গ্রুপ A: এ শ্রেণির রক্তে A অ্যান্টিজেন ও অ্যান্টি-B অ্যান্টিবডি (সংক্ষেপে b অ্যান্টিবডি) থাকে। 
- গ্রুপ B: এ শ্রেণির রক্তে B অ্যান্টিজেন ও অ্যান্টি-A অ্যান্টিবডি (সংক্ষেপে a অ্যান্টিবডি) থাকে। 
- গ্রুপ AB: এই শ্রেণির রক্তে A ও B অ্যান্টিজেন থাকে এবং কোনো অ্যান্টিবডি থাকে না। 
- গ্রুপ O: এ শ্রেণির রক্তে কোনো অ্যান্টিজেন থাকে না কিন্তু a ও b অ্যান্টিবডি থাকে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১৫.
পরিণত বয়সের আদর্শ রক্তচাপ কত?
  1. 90/60 mmHg
  2. 100/70 mmHg 
  3. 140/90 mmHg
  4. 120/80 mmHg
ব্যাখ্যা

- পরিণত বয়সের আদর্শ রক্তচাপ হলো 120/80 mmHg, যা সুস্থ প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য স্বাভাবিক সীমার মধ্যে ধরা হয়। 

রক্তচাপ (Blood Pressure): 
- রক্তপ্রবাহের সময় ধমনির গায়ে যে চাপ সৃষ্টি হয়, তাকে রক্তচাপ বলে। 
- হৃৎপিণ্ডের সংকোচন বা সিস্টোল অবস্থায় ধমনির গায়ে রক্তচাপের মাত্রা সর্বাধিক থাকে, একে সিস্টোলিক চাপ (Systolic Pressure) বলে। 
- হৃৎপিণ্ডের (প্রকৃতপক্ষে নিলয়ের) প্রসারণ বা ডায়াস্টোল অবস্থায় রক্তচাপ সবচেয়ে কম থাকে, একে ডায়াস্টোলিক চাপ (Diastolic Pressure) বলে। 

আদর্শ রক্তচাপ: 
- চিকিৎসকদের মতে, পরিণত বয়সে একজন মানুষের আদর্শ রক্তচাপ (Blood pressure) সাধারণত 120/80 mmHg মানের কাছাকাছি। 
- রক্তচাপকে দুটি সংখ্যায় উল্লেখ করা হয় যেখানে প্রথমটি উচ্চমান এবং দ্বিতীয়টি নিম্নমান। রক্তের উচ্চ চাপকে সিস্টোলিক (Systolic) চাপ বলে, যার আদর্শ মান 120 mmHg নিচে। নিম্নচাপকে ডায়াস্টোলিক (Diastolic) চাপ বলে, এই চাপটির আদর্শ মান 80 mmHg নিচে। এই চাপটি হৃৎপিণ্ডের দুটি বিটের মাঝামাঝি সময় রক্তনালিতে সৃষ্টি হয়। 
- দুই ধরনের রক্তচাপের পার্থক্যকে ধমনিঘাত বা নাড়িঘাত চাপ (Pulse pressure) বলা হয়। 
- সাধারণত সুস্থ অবস্থায় হাতের কব্জিতে রেট তথা হৃৎস্পন্দনের মান প্রতি মিনিটে 60-100 mmHg । 
- হাতের কব্জিতে হালকা করে চাপ দিয়ে ধরে পালস রেট বের করা যায়। 
- স্ফিগমোম্যানোমিটার (Sphygmomanometer) বা সংক্ষেপে বিপি যন্ত্রের সাহায্যে রক্তচাপ মাপা যায়। 
- এই যন্ত্র দিয়ে ডায়াস্টোলিক ও সিস্টোলিক চাপ দেখে রক্তচাপ নির্ণয় করা যায়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১৬.
মুখবিবরের লালাগ্রন্থি থেকে হজমে সাহায্যকারী উপাদান হিসেবে নিঃসৃত এনজাইম-
  1. ক) টায়ালিন
  2. খ) পেপসিন
  3. গ) রেনিন
  4. ঘ) লাইপেজ
ব্যাখ্যা
মুখবিবরের লালাগ্রন্থি থেকে হজমে সাহায্যকারী উপাদান হিসেবে নিঃসৃত এনজাইমটি হলো টায়ালিন।
টায়ালিন এনজাইম স্টার্চ, গ্লাইকোজেন, ডেক্সট্রিন অণুকে আর্দ্রবিশ্লিষ্ট করে প্রথমে দ্রবণীয় স্টার্চ এবং পরে ক্ষুদ্রতর ডেক্সট্রিন অণুতে পরিণত করে।
উৎসঃ প্রাণিবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
১৭.
অস্থি ও দাঁতের প্রধান খনিজ উপাদান কোনটি?
  1. ক্যালসিয়াম
  2. ক্লোরিন
  3. ফ্লুরাইড
  4. ম্যাগনেসিয়াম
ব্যাখ্যা

ক্যালসিয়াম:
- ক্যালসিয়াম (Ca) হলো অস্থি ও দাঁতের প্রধান খনিজ উপাদান।
- মানুষের শরীরের মোট ওজনের প্রায় ২% ক্যালসিয়াম দ্বারা গঠিত।
- শরীরে থাকা মোট খনিজ পদার্থের মধ্যে ক্যালসিয়ামের পরিমাণ সর্বাধিক।
- এটি ফসফরাস ও ম্যাগনেসিয়ামের সঙ্গে যুক্ত হয়ে ৯০% পরিমাণে অস্থি ও দাঁতে সংরক্ষিত থাকে।
- এছাড়া, রক্ত ও লসিকাতেও ক্যালসিয়াম বিদ্যমান।
- উদ্ভিজ্জ উৎস: ডাল, তিল, সয়াবিন, ফুলকপি, গাজর, লালশাক, পালংশাক, কচুশাক, কলমিশাক, বাঁধাকপি, ফল ইত্যাদি।
- প্রাণিজ উৎস: দুধ, ডিম, ছোট মাছ, শুঁটকি মাছ ইত্যাদি।

ক্যালসিয়ামের কার্যকারিতা:
- হাড় ও দাঁতের গঠন মজবুত করে।
- রক্ত সঞ্চালন ও হৃৎপিণ্ডের পেশির স্বাভাবিক সংকোচনে সহায়তা করে।
- স্নায়ু ও পেশির কার্যকারিতা বজায় রাখে।
- শিশুদের রিকেটস (Rickets)- এতে হাড় নরম ও বিকৃত হয়ে যায়।
- বয়স্ক নারীদের অস্টিওম্যালেসিয়া (Osteomalacia) – এতে হাড় দুর্বল ও ভঙ্গুর হয়ে যায়।
- দাঁত উঠতে দেরি হয় এবং রক্ত সঞ্চালনে সমস্যা দেখা দেয়।

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি। ব্রিটানিকা।

১৮.
Which of the following is not present in pancreatic juice? 
  1. Pepsin 
  2. Lipase
  3. Trypsin
  4. Amylase
  5. None of the them
ব্যাখ্যা

- অগ্ন্যাশয় রসে পেপসিন (Pepsin) থাকে না, পেপসিন পাকস্থলীর গ্যাস্ট্রিক গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হয় এবং এটি প্রোটিন হজমে সাহায্য করে। 

অগ্ন্যাশয়: 
- অগ্ন্যাশয় পাকস্থলির পেছনে এবং ডিওডেনামের দু'বাহুর মধ্যে প্রায় আড়াআড়িভাবে অবস্থিত একটি গুরুত্বপূর্ণ মিশ্র গ্রন্থি। 
- অগ্ন্যাশয়নালি পিত্তনালির সাথে মিলিত হয়ে যকৃত অগ্ন্যাশয়নালি গঠন করে ডিওডেনামে উন্মুক্ত হয়। 
- অগ্ন্যাশয়ে নালীযুক্ত ও নালিবিহীন উভয় প্রকার গ্রন্থি থাকে বলে একে মিশ্র গ্রন্থি বলা হয়। 
- নালিযুক্ত গ্রন্থির নিঃসৃত রসকে অগ্ন্যাশয় রস এবং নালিবিহীন গ্রন্থি থেকে ইনসুলিন ও গ্লুকাগন হরমোন তৈরি হয়। 
- অগ্ন্যাশয় রসে থাকে ট্রিপসিন, অ্যামাইলেজ ও লাইপেজ নামক উৎসেচক। 
- অগ্ন্যাশয় রস খাদ্য পরিপাকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, খাদ্যের পরিপাকে অম্ল ক্ষারের সাম্যতা, পানির সাম্যতা দেহ তাপ প্রভৃতি নিয়ন্ত্রণ করে, ইনসুলিন ও গ্লুকাগন রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৯.
রেটিনা ও চক্ষুলেন্সের মধ্যবর্তী স্থানে থাকে -
  1. ক) অ্যাকুয়াস হিউমার
  2. খ) কর্ণিয়া
  3. গ) ভিট্রিয়াস হিউমার
  4. ঘ) অ্যাকুয়া রিজিয়া
ব্যাখ্যা
অ্যাকুয়াস হিউমার (Aqueous humour):
লেন্স ও কর্নিয়ার মধ্যবর্তী স্থান এক প্রকার স্বচ্ছ জলীয় পদার্থে ভর্তি থাকে। একে বলা হয় অ্যাকুয়াস হিউমার।
- অ্যাকুয়াস হিউমার আলাের প্রতিসরণে সাহায্য করে, চোখের সম্মুখ অংশের আকৃতি ঠিক রাখে এবং লেন্স ও কর্নিয়ায় পুষ্টি সরবরাহ করে।

ভিট্রিয়াস হিউমার (Vitreous humour):
লেন্স ও রেটিনার মধ্যবর্তী অংশে এক প্রকার জেলি জাতীয় পদার্থে পূর্ণ থাকে। একে বলা হয় ভিট্রিয়াস হিউমার।
- ভিট্রিয়াস হিউমার রেটিনার দিকে আলাের প্রতিসরণে সাহায্য করে ও চক্ষু গােলকের গােলাকার আকৃতি বজায় রাখে।

সুত্রঃ প্রাণিবিজ্ঞান, HSC Program, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২০.
মানবদেহে প্রধানত কত প্রকার রক্ত কণিকা রয়েছে?
  1. দুই প্রকার
  2. তিন প্রকার
  3. চার প্রকার
  4. পাঁচ প্রকার
ব্যাখ্যা
রক্ত:
- রক্ত একটি অস্বচ্ছ তরল পদার্থ। 
- লোহিত রক্ত কণিকায় হিমোগ্লোবিন নামক রঞ্জক পদার্থ থাকার কারণে রক্তের রং লাল দেখায়। 
- এটি ক্ষারধর্মী, লবণাক্ত স্বাদযুক্ত পদার্থ। 
- সাধারণত হাড়ের লাল অস্থিমজ্জাতে রক্ত কণিকার জন্ম। 
- এটি রক্তরস ও রক্ত কণিকার সমন্বয়ে গঠিত।

রক্ত কণিকা:
- মানবদেহে তিন প্রকার রক্ত কণিকা দেখা যায়।
যথা- 
১। লোহিত রক্ত কণিকা, 
২। শ্বেত রক্ত কণিকা এবং 
৩। অণুচক্রিকা। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, ৯ম-১০ম শ্রেণী, NCTB.
২১.
ইনসুলিন কতটি অ্যামাইনো অ্যাসিডের সমন্বয়ে গঠিত ক্ষুদ্রাকার সরল প্রোটিন? 
  1. ৫০টি
  2. ৫১টি
  3. ৫২টি
  4. ৫৩টি
ব্যাখ্যা
ইনসুলিন: 
- ইনসুলিন একটি হরমোন। 
- ইহা অগ্ন্যাশয়ের Islets of langerhans এর বিটা কোষ থেকে নিঃসৃত হয় যা রক্তে বিদ্যমান গ্লুকোজকে দেহ কোষে প্রবেশে সাহায্য করে। 
- এর ফলে গ্লুকোজের উচ্চ মাত্রা হ্রাসপ্রাপ্ত হয়ে স্বাভাবিক মাত্রায় ফিরে আসে। 
- কোনো কারণে অগ্ন্যাশয় থেকে ইনসুলিন নিঃসৃত না হলে বা কম নিঃসৃত হলে অথবা নিঃসৃত ইনসুলিন অকার্যকর হলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বেড়ে যায় অর্থাৎ ডায়াবেটিস রোগ হয়। 

- এ অবস্থায় ডায়াবেটিক রোগীকে ইনসুলিন ইনজেকশন নিতে হয়। 
- ইনসুলিন ৫১টি অ্যামাইনো অ্যাসিড নিয়ে গঠিত ক্ষুদ্রাকার সরল প্রোটিন। 
- দুটি পলিপেপটাইড চেইন (২১টি অ্যামাইনো অ্যাসিড নিয়ে গঠিত চেইন A এবং ৩০টি অ্যামাইনো অ্যাসিড নিয়ে গঠিত চেইন B) দুটি ডাইসালফাইড বন্ডের মাধ্যমে সংযুক্ত হয়ে একটি ইনসুলিন অণু গঠন করে। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২২.
হিমোগ্লোবিন নামক রঞ্জক পদার্থ থাকে -
  1. লোহিত রক্তকণিকায়
  2. শ্বেত রক্তকণিকায়
  3. অণুচক্রিকায়
  4. প্লাজমায়
ব্যাখ্যা
হিমোগ্লোবিন এক ধরনের রঞ্জক পদার্থ।
লোহিত রক্ত কণিকায় এর উপস্থিতির কারণে রক্ত লাল দেখায়।
রক্তে উপযুক্ত পরিমাণে হিমোগ্লোবিন না থাকলে রক্ত স্বল্পতা বা রক্তশূন্যত দেখা দেয়।

[সূত্রঃ জীববিজ্ঞান ৯ম-১০ম শ্রেণি]
২৩.
খাদ্যে প্রোটিনের অভাবে কোন রোগ হয়? 
  1. স্কার্ভি
  2. বেরিবেরি
  3. রিকেটস
  4. কোয়াশিওরকর
ব্যাখ্যা

• কোয়াশিওরক হলো একটি প্রোটিন-অভাবজনিত রোগ, যা মূলত শিশুদের মধ্যে দেখা যায় যারা পর্যাপ্ত প্রোটিনযুক্ত খাদ্য খায় না।  

- প্রোটিন হলো মানবদেহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান।
- এটি কোষ গঠন, অঙ্গপ্রতঙ্গ বৃদ্ধি, অ্যান্টিবডি ও হরমোন উৎপাদন, এনজাইম কার্যক্রম, এবং শরীরের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কাজের জন্য অপরিহার্য।
- প্রোটিনের অভাব হলে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ এবং কোষ ঠিকভাবে কাজ করতে পারে না, এবং এর ফলে কিছু বিশেষ রোগ দেখা দেয়।

কোয়াশিওরকের প্রধান কারণ:
- খাদ্যতালিকায় প্রোটিনের ঘাটতি।
- শিশুদের বৃদ্ধি পর্যায়ে পর্যাপ্ত দুধ বা প্রোটিন সমৃদ্ধ খাদ্য না পাওয়া।

কোয়াশিওরকের লক্ষণসমূহ:
- পেশী কমজোরি হয়ে যায়।
- শিশুদের শরীরের বৃদ্ধি ও ওজন ঠিকমতো হয় না।
- এডিমা বা শরীরে পানি জমে পেট ফোলা দেখা দেয়।
- চুল সহজে ছিঁড়ে যায়, ত্বক শুষ্ক ও ক্ষীণ হয়ে যায়।
- রক্তে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ কমে।

তথ্যসূত্র:
- NCTB মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান বই।  

২৪.
জীবদেহে বিপাকীয় কাজের জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি প্রধানত কোন খাদ্য জারণের ফলে উৎপন্ন হয়?
  1. কার্বোহাইড্রেট
  2. প্রোটিন
  3. স্নেহজাতীয় খাদ্য
  4. ভিটামিন
ব্যাখ্যা

• জীবদেহে বিপাকীয় কাজের জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি প্রধানত কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাদ্য জারণের ফলে উৎপন্ন হয়।

• পুষ্টিগত গুরুত্ব (শর্করা/কার্বোহাইড্রেট):
- শর্করা দেহের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং তাপশক্তি উৎপাদনে প্রধান ভূমিকা রাখে।
- জীবদেহে বিপাকীয় (Metabolic) কাজ চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি কার্বোহাইড্রেট জারণে পাওয়া যায়।
- রক্তে অক্সিজেন কোষে পৌঁছে গ্লুকোজের সাথে বিক্রিয়া করে শক্তি নির্গত করে।
- এই শক্তিই দেহের বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় মূল শক্তির উৎস।
 
• গ্লাইকোজেন ও সেলুলোজ:
- গ্লাইকোজেন প্রাণীদেহে খাদ্যঘাটতি বা অধিক পরিশ্রমের সময় শক্তি সরবরাহ করে।
- সেলুলোজ একটি অপাচ্য শর্করা এবং আঁশযুক্ত খাদ্য।
- সেলুলোজ মলত্যাগে সহায়তা করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য রোধ করে।
 
• শর্করার অতিরিক্ত ও ঘাটতির প্রভাব:
- খাদ্যে শর্করার অভাবজনিত রোগ থেকে বাঁচতে প্রতিদিন প্রয়োজনীয় শর্করা গ্রহণ জরুরি।
- শর্করা চাহিদার তুলনায় বেশি হলে অতিরিক্ত অংশ মেদ হিসেবে জমা হয়।
- এতে স্থূলকায়তা এবং কখনো কখনো বহুমূত্র রোগ দেখা দিতে পারে।
- খাদ্যে প্রোটিন বা ফ্যাটের অভাব হলে শর্করা থেকে এগুলো সংশ্লেষ হতে পারে।
 
• খাদ্য ক্যালরি ও শক্তিমূল্য:
- খাদ্যের শক্তি ক্যালরি বা কিলোক্যালরি (kcal) এককে মাপা হয়।
- ১ ক্যালরি হলো ১ গ্রাম পানির তাপমাত্রা ১° সেলসিয়াস বাড়াতে প্রয়োজনীয় তাপশক্তি।
- ১০০০ ক্যালরি = ১ কিলোক্যালরি (Food Calorie).
- শর্করা ও প্রোটিনের শক্তিমূল্য প্রায় ৪ kcal/g.
- স্নেহজাতীয় খাদ্য (ফ্যাট)-এর শক্তিমূল্য সবচেয়ে বেশি, ৯ kcal/g.
- একজন পূর্ণবয়স্ক পুরুষের দৈনিক প্রায় ২৫০০ kcal এবং নারীর প্রায় ২০০০ kcal প্রয়োজন।
 
• অন্যান্য অপশন:
- প্রোটিন → দেহগঠন, বৃদ্ধি ও এন্টিবডি তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ।
- স্নেহজাতীয় খাদ্য → উচ্চ শক্তিমূল্যসম্পন্ন, সঞ্চিত শক্তির উৎস।
- ভিটামিন → শক্তি উৎপাদন নয়, দেহীয় কার্যাবলির সহায়ক।

উৎস: বিজ্ঞান, ৯ম-১০ম শ্রেণি। 

২৫.
চোখের লেন্সের ধরণ কোনটি?
  1. উত্তল
  2. অবতল
  3. দ্বি-উত্তল
  4.  দ্বি-অবতল
ব্যাখ্যা

মানুষের চোখের লেন্সটি হলো একটি দ্বি-উত্তল লেন্স, যা উভয় দিকেই উত্তল আকৃতির। 
- এই লেন্সটি অভিসারী লেন্স হিসেবে কাজ করে এবং আলোকরশ্মিকে প্রতিসারিত করে রেটিনার উপর ফোকাস করতে সাহায্য করে, যার ফলে আমরা কোনো বস্তুর স্পষ্ট প্রতিবিম্ব দেখতে পাই।

দ্বি-উত্তল লেন্স:
- দ্বি-উত্তল লেন্স হলো একটি বিশেষ ধরনের উত্তল লেন্স, যার উভয় পৃষ্ঠই বাইরের দিকে বক্রাকার বা উত্তল আকৃতির।
- এটি অভিসারী (converging) লেন্স হিসেবে পরিচিত, কারণ এটি এর মধ্য দিয়ে যাওয়া সমান্তরাল আলোকরশ্মিকে একটি নির্দিষ্ট বিন্দুতে (ফোকাস বিন্দুতে) একত্রিত করে।
- এর প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো, এটি এর মধ্য দিয়ে আপতিত সমান্তরাল আলোকরশ্মিকে প্রতিসরণের পর একটি বিন্দুতে মিলিত করে।
- এটি সাধারণত বাস্তব (real) এবং উল্টো (inverted) প্রতিবিম্ব তৈরি করে।
- রেটিনায় সৃষ্ট উল্টো প্রতিবিম্বের তথ্য অপটিক স্নায়ুর মাধ্যমে মস্তিষ্কে পৌঁছায়, এবং মস্তিষ্ক সেই সংকেতগুলোকে প্রক্রিয়াজাত করে সোজা করে দেখায়।

চোখে দ্বি-উত্তল লেন্সের কার্যকারিতা:
- চোখের লেন্স হলো একটি প্রাকৃতিক, নমনীয় এবং স্বচ্ছ দ্বি-উত্তল লেন্স। 
- এর মূল কাজ হলো বিভিন্ন দূরত্বে থাকা বস্তু থেকে আসা আলোকরশ্মিকে রেটিনার ওপর সঠিকভাবে ফোকাস করা, যাতে একটি স্পষ্ট প্রতিবিম্ব তৈরি হয়।

উপযোজন (Accommodation) প্রক্রিয়া:
- চোখের লেন্সের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো এর উপযোজন ক্ষমতা। এটি চোখের সিলিয়ারি পেশী দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়।
- দূরের বস্তু দেখার জন্য চোখের লেন্স পাতলা হয়ে যায়, যার ফলে ফোকাস দূরত্ব বেড়ে যায় এবং রেটিনার উপর স্পষ্ট প্রতিবিম্ব তৈরি হয়।
- আর কাছের বস্তু দেখার সময় লেন্সটি মোটা হয়ে যায়, যার কারণে ফোকাস দূরত্ব কমে যায় এবং রেটিনার উপর প্রতিবিম্ব সঠিকভাবে গঠিত হয়। এই প্রক্রিয়াটিই উপযোজন নামে পরিচিত।

উল্লেখ্য-
- উত্তল: এটি লেন্সের একটি সাধারণ প্রকার, কিন্তু চোখের লেন্সের সবচেয়ে সুনির্দিষ্ট ধরণ হলো দ্বি-উত্তল।
- অবতল: এটি একটি অপসারী লেন্স এবং এটি দৃষ্টি ত্রুটি (যেমন: মায়োপিয়া) সংশোধনের জন্য চশমায় ব্যবহৃত হয়, চোখে নয়।
- দ্বি-অবতল: এটি অবতল লেন্সের একটি প্রকারভেদ এবং এটিও সাধারণত চশমা ও কিছু বিশেষ আলোকীয় যন্ত্রে ব্যবহৃত হয়।

উৎস:
১। পদার্থ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২। জীববিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

২৬.
হিমোগ্লোবিন হলো- 
  1. Fat
  2. Antigen
  3. Platelet 
  4. Protein
ব্যাখ্যা
• হিমোগ্লোবিন:
- রক্তের রসে লাল রঙের হিমোগ্লোবিন নামে লৌহ-ঘটিত প্রোটিন জাতীয় পদার্থ দিয়ে গঠিত।
- হিমোগ্লোবিনথাকায় রক্তের রঙ লাল হয়।
- হিমোগ্লোবিন অক্সিজেনের সাথে যুক্ত হয়ে অক্সিহিমোগ্লোবিন যৌগ গঠন করে অক্সিজেন পরিবহন করে।
- তবে কিছু পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইড হিমোগ্লোবিনের সাথে যুক্ত হয়ে ফুসফুসে পরিবাহিত হয়, তবে কার্বন ডাই-অক্সাইডের
- সিংহভাগ বাইকার্বনেট আয়ন হিসেবে রক্ত দ্বারা ফুসফুসে পরিবাহিত হয়।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২৭.
হিমোগ্লোবিন প্রধানত কীভাবে অক্সিজেন পরিবহন করে? 
  1. সরাসরি কোষের মাধ্যমে
  2. বাইকার্বনেট আয়ন হিসেবে
  3. অক্সিহিমোগ্লোবিন যৌগ গঠন করে
  4. প্লাজমায় দ্রবীভূত অবস্থায়
ব্যাখ্যা

- হিমোগ্লোবিন অক্সিজেন পরিবহন করে অক্সিহিমোগ্লোবিন যৌগ গঠন করে, কারণ হিমোগ্লোবিন নামক প্রোটিন অক্সিজেনকে লোহিত রক্তকণিকায় ধরে রাখে এবং অক্সিহিমোগ্লোবিন নামক একটি যৌগ তৈরি করে, যা শরীরের বিভিন্ন অংশে অক্সিজেন পরিবহন করে এবং কোষে ছেড়ে দেয়।

রক্ত: 

- মানবদেহে রক্তের প্রধান উপাদান হলো রক্তরস এবং রক্তকণিকা। 
- রক্তে শতকরা ৫৫% হলো রক্তরস আর ৪৫% হলো রক্তকণিকা। 
- মানুষের শরীরের রক্তরসের ৯১ - ৯২% পানি এবং ৮ -৯% অংশ জৈব ও অজৈব পদার্থ। 
- প্রাণীদেহের রক্ত এক ধরনের লাল বর্ণের অস্বচ্ছ, আন্তঃকোষীয় লবণাক্ত এবং খানিকটা ক্ষারধর্মী তরল যোজক টিস্যু। 
- একজন পূর্ণবয়স্ক সুস্থ মানুষের দেহে প্রায় ৫-৬ লিটার রক্ত থাকে, যা মানুষের দেহের মোট ওজনের প্রায় ৮%। 
- মানুষ এবং অন্যান্য মেরুদণ্ডী প্রাণীদেহের রক্ত লাল রঙের। 
- রক্তের রসে লাল রঙের হিমোগ্লোবিন নামে লৌহ-ঘটিত প্রোটিন জাতীয় পদার্থ থাকায় রক্তের রঙ লাল হয়। 
- হিমোগ্লোবিন অক্সিজেনের সাথে যুক্ত হয়ে অক্সিহিমোগ্লোবিন যৌগ গঠন করে অক্সিজেন পরিবহন করে। 
- তবে কিছু পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইড হিমোগ্লোবিনের সাথে যুক্ত হয়ে ফুসফুসে পরিবাহিত হয়, তবে কার্বন ডাই-অক্সাইডের সিংহভাগ বাইকার্বনেট আয়ন হিসেবে রক্ত দ্বারা ফুসফুসে পরিবাহিত হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২৮.
কোনটিকে মস্তিষ্কের যোজক বলা হয়?
  1. পনস
  2. মেডুলা
  3. সেরিব্রাম
  4. সেরিবেলাম
ব্যাখ্যা
কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র: 
- কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের অংশ হলো মস্তিষ্ক ও মেরুরজ্জু। 
- মস্তিষ্ক হলো সমগ্র স্নায়ুতন্ত্রের চালক। 
- মানুষের মস্তিষ্ক করোটির মধ্যে সুরক্ষিত। 
- মস্তিষ্ক মেনিনজেস নামক পর্দা দ্বারা আবৃত। 
- মানুষের মস্তিষ্কের প্রধান অংশ তিনটি। 
যথা- (ক) গুরুমস্তিষ্ক (খ) মধ্যমস্তিষ্ক (গ) পশ্চাৎ বা লঘুমস্তিষ্ক। 

গুরুমস্তিষ্ক: 
- মস্তিষ্কের প্রধান অংশ হলো গুরুমস্তিষ্ক বা সেরিব্রাম। 
- এটা ডান ও বাম খণ্ডে বিভক্ত, এদের ডান ও বাম সেরিব্রাল হেমিস্ফিয়ার বলে। 
- মানব মস্তিষ্কে সেরিব্রাল হেমিস্ফিয়ার অধিকতর উন্নত ও সুগঠিত, এই দুইখণ্ড ঘনিষ্ঠভাবে স্নায়ুতন্তু দ্বারা সংযুক্ত। 
- এর উপরিভাগ ঢেউ তোলা ও ধূসর বর্ণের, দেখতে ধূসর বর্ণের হওয়ায় একে ধূসর পদার্থ বা গ্রে ম্যাটার বলে। 
- গুরুমস্তিষ্কের অন্তঃস্তরে কেবলমাত্র স্নায়ুতন্ত্র থাকে, স্নায়ুতন্তুর রং সাদা। 
- তাই মস্তিষ্কের ভিতরের স্তরের নাম শ্বেত পদার্থ বা হোয়াইট ম্যাটার। 
- শ্বেত পদার্থের ভিতর দিয়ে স্নায়ুতন্তু এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যায়। 
- ধূসর পদার্থের কয়েকটি স্তরে বিশেষ আকারে স্নায়ুকোষ দেখা যায়, এই স্নায়ুকোষগুলো গুরুমস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশে গুচ্ছ বেঁধে স্নায়ুকেন্দ্র সৃষ্টি করে। 
- এগুলো বিশেষ বিশেষ কর্মকেন্দ্র হিসেবে কাজ করে। 
- দর্শন, শ্রবণ, ঘ্রাণ, চিন্তা-চেতনা, স্মৃতি, জ্ঞান, বুদ্ধি, বিবেক ও পেশি চালনার ক্রিয়াকেন্দ্র গুরুমস্তিষ্কে অবস্থিত। 
- সেরিব্রামের নিচের অংশ হলো- থ্যালামাস ও হাইপোথ্যালামাস। 
- এগুলো ধূসর পদার্থের পুঞ্জ। 
- ক্রোধ, লজ্জা, গরম, শীত, নিদ্রা, তাপ সংরক্ষণ ও চলন এই অংশের কাজ। 

মধ্যমস্তিস্ক: 
- গুরুমস্তিষ্ক ও পনস-এর মাঝখানে মধ্যমস্তিষ্ক অবস্থিত। 
- মধ্যমস্তিষ্ক দৃষ্টিশক্তি, শ্রবণশক্তির সাথেও সম্পর্কযুক্ত। 

পশ্চাৎ বা লঘুমস্তিষ্ক: 
- লঘুমস্তিষ্ক গুরুমস্তিষ্কের নিচে ও পশ্চাতে অবস্থিত। 
- এটা গুরুমস্তিষ্কের চেয়ে আকারে ছোট। 
- দেহের ভারসাম্য রক্ষা করা পশ্চাৎ বা লঘুমস্তিষ্কের প্রধান কাজ। 
- এছাড়া লঘুমস্তিষ্ক কথা বলা ও চলাফেরা নিয়ন্ত্রণ করে। 
- এর তিনটি অংশ- গনস সেরিবেলাম: পনসের বিপরীতদিকে অবস্থিত খন্ডাংশটি হলো সেরিবেলাম। 
- এটা অনেকটা ঝুলন্ত অবস্থায় থাকে। 
- সেরিবেলাম ডান ও বাম দু'অংশে বিভক্ত। 

পনস: 
- পনস লঘুমস্তিষ্কের সামনে ও নিচে অবস্থিত। 
- পনসকে মস্তিষ্কের যোজক বলা হয়। 
- এটা গুরুমস্তিষ্ক, লঘুমস্তিষ্ক ও মধ্যমস্তিষ্ককে সুষুম্নাশীর্ষকের সাথে সংযোজিত করে। 

মেডুলা: 
- এটা মস্তিষ্কের নিচের অংশ। 
- সুষুম্নাশীর্ষক পনসের নিম্নভাগ থেকে মেরুরজ্জুর উপরিভাগ পর্যন্ত বিস্তৃত। 
অর্থাৎ, এটা মস্তিষ্ককে মেরুরজ্জুর সাথে সংযোজিত করে, এজন্য একে মস্তিষ্কের বোঁটা বলা হয়। 
- মস্তিষ্কের এ অংশ হৃৎস্পন্দন, খাদ্যগ্রহণ ও শ্বসন ইত্যাদি কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
২৯.
উরু, পা ইত্যাদি অংশে রক্ত সরবরাহ করে কোন ধমনী?
  1. ক) সিলিয়াক ধমনি
  2. খ) ইলিয়াক ধমনি
  3. গ) মেসেন্টেরিক ধমনি
  4. ঘ) ভার্টিব্রাল ধমনি
ব্যাখ্যা
সাবক্লেভিয়াল ধমনিঃ -
দেহের প্রতিপাশে ফুসফুসের উপর দিয়ে বিভিন্ন শাখায় বিভক্ত হয়ে বিভিন্ন অঙ্গে রক্ত বহন করে।
যেমন -

১. আন্তঃম্যামারি ধমনি: স্তনগ্রন্থি, বক্ষীয় প্রাচীর ও পেরিকার্ডিয়ামে রক্ত বহন করে।
২. থাইরোসার্ভিকাল ধমনি: থাইরয়েড গ্রন্থি, ল্যারিংক্স ও ঘাড়ের পেশিতে রক্ত বহন করে।
৩. সার্ভিকাল ধমনি: অক্সিপুটের পেশিতে রক্ত বহন করে।
৪. ভার্টিব্রাল ধমনি: মেরুদন্ডের রক্ত সরবরাহ করে।
৫. সিলিয়াক ধমনি: পাকস্থলী ও যকৃতে রক্ত সরবরাহ করে।
৬. ফ্রেনিক ধমনি: ডায়াফ্রামে রক্ত সরবরাহ করে।
৭. বৃক্কীয় ধমনি: বৃক্কে রক্ত সরবরাহ করে।
৮. মেসেন্টেরিক ধমনি: অন্ত্রের বিভিন্ন অংশে রক্ত সরবরাহ করে।
৯. জনন ধমনি: গোনাডে রক্ত সরবরাহ করে।
১০. ইলিয়াক ধমনি: পেলভিস অঞ্চল, উরু, পা ইত্যাদি অংশে রক্ত সরবরাহ করে।

উৎসঃ একাদশ - দ্বাদশ শ্রেণীর জীববিজ্ঞান (প্রাণিবিজ্ঞান) দ্বিতীয় পত্র বই (উন্মুক্ত)।
৩০.
স্ক্যাপুলার কোন অংশ হিউমেরাসের মস্তকের সঙ্গে সংলগ্ন থাকে?
  1. ক্ল্যাভিকল
  2. স্ক্যাপুলার কাঁটা
  3. অ্যাক্রোমিয়ন 
  4. গ্লিনয়েড গহ্বর 
ব্যাখ্যা

বক্ষ অস্থিচক্র (Pectoral girdle): 
- মানুষের দেহের দুই পাশে স্কন্ধ অঞ্চলে দুটি বক্ষ অস্থিচক্র অবস্থিত। 
- এরা পরস্পর থেকে পৃথকভাবে অবস্থান করে। 
- এদের একজোড়া ক্ল্যাভিকল ও একজোড়া স্ক্যাপুলা থাকে। 
- ক্ল্যাভিকল বাঁকা অস্থি, এ অস্থির কোন মজ্জাগহ্বর নেই। 
- প্রতিটি স্ক্যাপুলা প্রশস্ত চ্যাপ্টা ত্রিকোণাকার অস্থি। 
- এটি বক্ষ পিঞ্জরের উপরের প্রান্তের দু'পাশে অবস্থিত। 
- এর পশ্চাৎ তলে আনুভূমিকভাবে একটি কাঁটা থাকে একে স্ক্যাপুলার কাঁটা বলে। 
- স্ক্যাপুলার যে অংশে হিউমেরাসের মস্তক সংলগ্ন থাকে তাকে গ্লিনয়েড গহ্বর বলে। 
- স্ক্যাপুলার পার্শ্বীয় প্রান্তের বর্ধিত অংশকে অ্যাক্রোমিয়ন বলে। 
- বাহুর পেশিকে সংযোগ দেয়া ও হিউমেরাসকে সঞ্চালন করা বক্ষ অস্থিচক্রের প্রধান কাজ। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩১.
একজন প্রাপ্তবয়স্ক সুস্থ মানুষের ফুসফুস সর্বোচ্চ কত লিটার বায়ু ধারণ করতে পারে?
  1. ২ লিটার
  2. ৪ লিটার
  3. ৬ লিটার
  4. ৮ লিটার
ব্যাখ্যা

• একজন পূর্ণাঙ্গ ও সুস্থ মানুষের ফুসফুসের মোট বায়ু ধারণ ক্ষমতা (Total Lung Capacity) গড়ে প্রায় ৬ লিটার। 
- তবে ব্যক্তিভেদে, বিশেষ করে উচ্চতা, লিঙ্গ এবং শারীরিক সক্ষমতার ওপর ভিত্তি করে এই পরিমাণের কিছুটা কম-বেশি হতে পারে।

ফুসফুস (Lungs): 
- মানুষের হালকা গোলাপী বর্ণের স্পঞ্জের মত নরম দুটি ফুসফুস থাকে। 
- বাম ফুসফুসটি আকারে ছোট, দুই লোব বিশিষ্ট এবং ডান ফুসফুসটি আকারে বড় ও তিন লোব বিশিষ্ট। 
- ফুসফুস দুই স্তর যুক্ত প্লিউরা পর্দা দ্বারা আবৃত থাকে। 
- ভেতরের পর্দাকে ভিসেরাল প্লিউরা এবং বাইরের পর্দাকে প্যারাইটাল প্লিউরা বলে। 
- ফুসফুসের বায়ু ধারণ ক্ষমতা ৬ লিটার। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩২.
একটি পরিণত বৃক্কের দৈর্ঘ্য কত?
  1. ৫ - ৬ সেন্টিমিটার
  2. ১০ - ১২ সেন্টিমিটার
  3. ৩ - ৪ সেন্টিমিটার
  4. ১৫ - ১৭ সেন্টিমিটার
ব্যাখ্যা
• একটি পরিণত বৃক্কের দৈর্ঘ্য ১০ - ১২ সেন্টিমিটার।

• বৃক্কের গঠন ও কাজ:
- বৃক্ক মেরুদণ্ডী প্রাণীদের প্রধান রেচন অঙ্গ।
- মানুষের উদরগহ্বরের পশ্চাৎ মেরুদণ্ডের উভয় পাশে একটি করে মোট দুটি বৃক্ক থাকে।
- মানুষের প্রতিটি বৃক্কে ১০-১২ লাখ নেফ্রন থাকে।
- পূর্ণাঙ্গ মানুষের প্রতিটি বৃক্ক প্রায় ১১-১২ সে.মি. লম্বা, ৫-৬ সে.মি. প্রস্থ এবং ৩ সে.মি. পুরু হয়।
- পুরুষ মানুষের প্রতিটি বৃক্কের ওজন ১৫০-১৭০ গ্রাম এবং প্রতিটি মহিলা মানুষের বৃক্কের ওজন ১৩০-১৫০ গ্রাম।
- সজীব অবস্থায় বৃক্কের রং খয়েরি লাল।
- আকৃতিতে অনেকটা শীম বীজের মত।
- এর বাইরের দিক উত্তল এবং ভেতরের দিক অবতল।
- অবতল অংশের ভাঁজকে হাইলাম বলে।
- এর ভেতর দিয়ে ইউরেটার ও রেনাল শিরা বের হয় এবং রেনাল ধমনী ও স্নায়ু বৃক্কে প্রবেশ করে।
- সমগ্র বৃক্ক স্বচ্ছ, পাতলা পেরিটোনিয়াম ঝিল্লী দ্বারা আবৃত থাকে।

উৎস:
১. প্রাণীবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২. জীববিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, গাজী আজমল।
৩৩.
Which of the following is the longest bone in the human body?
  1. Humerus
  2. Stapes
  3. Femur
  4. Ulna
  5. Fibula
ব্যাখ্যা

• মানবদেহের দীর্ঘতম হাড় হলো ফিমার। একে Thigh Bone বলা হয়।

• ফিমার (Femur):
-নিম্নবাহুর প্রথম অস্থিকে ফিমার বলা হয়।

• এটি মানবদেহের সবচেয়ে দীর্ঘ এবং শক্তিশালী হাড়।।
- এর ঊর্ধ্বপ্রান্তে একটি গোল হেড (মস্তক), নেক (গ্রীবা) এবং ছোট ও বড় ট্রোক্যান্টার অবস্থিত।
- দেহটি শক্ত ও নলাকার। এর পশ্চাত্তল একটি অমসৃণ আলযুক্ত।
-নিম্নপ্রান্ত দুটি কন্ডাইলবিশিষ্ট। দুই কন্ডাইলের মাঝখানে থাকে আন্তঃকন্ডাইলার ছিদ্র, প্যাটেলার সংযোগী তল এবং দুপাশে একটি করে এপিকন্ডাইল নামে সামান্য উঁচু জায়গা।

উল্লেখ্য:
- Stapes: এটি কানের ভেতরে অবস্থিত মানবদেহের ক্ষুদ্রতম অস্থি (হাড়)।

তথ্যসূত্র:
- জীববিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, গাজী আজমল।

৩৪.
BMI কী নির্দেশ করে?
  1. মানব দেহের গড়ন ও চর্বির সূচক
  2. পেশি ও চর্বির সূচক
  3. উচ্চতা ও স্থূলতার সূচক
  4. শক্তি খরচের সূচক
ব্যাখ্যা
বিএমআই (BMI): 
- বডি মাস ইনডেক্স (BMI- Body Mass Index) মানবদেহের গড়ন ও চর্বির একটি সূচক নির্দেশ করে ।
- অর্থাৎ কোন নির্দিষ্ট বয়সে সুস্থ জীবন যাপনের জন্য শরীরের দৈর্ঘ্যের সাথে চর্বির পরিমাণগত সম্পর্ক নির্দেশ করে।
- শরীরের সুস্থতা ও স্থূলতার মান নির্ণয়ে এ মানদন্ড দুটি খুবই উপযোগী।

বিএমআই (BMI) মান নির্ণয়:
বিএমআই = দেহের ওজন (Kg)/দেহের উচ্চতা (মিটার)

মান নির্দেশিকা
- বিএমআই ১৮.৫ কিলোগ্রাম/(মিটার) এর নিচে হলে শরীরের ওজন কম, পরিমিত খাদ্য গ্রহণে ওজন বাড়াতে হবে।
- বিএমআই ১৮.৫-২৪.৯ কিলোগ্রাম/(মিটার) হলে সুস্বাস্থ্যের আদর্শ মান।
- বিএমআই ২৫-২৯.৯ কিলোগ্রাম/(মিটার) হলে শরীরের অতিরিক্ত ওজন, ব্যায়াম করে ওজন কমানো দরকার।
- বিএমআই ৩০-৩৪.৯ কিলোগ্রাম/(মিটার) হলে মোটা হওয়ার প্রথম স্তর, পরিমিত খাবার ও ব্যায়াম করা প্রয়োজন।
- বিএমআই ৩৫-৩৯.৯ কিলোগ্রাম/(মিটার) হলে মোটা হওয়ার দ্বিতীয় স্তর, পরিমিত খাবার ও ব্যায়াম করা প্রয়োজন।
- বিএমআই ৪০ কিলোগ্রাম/(মিটার) এর উপরে হলে অতিরিক্ত মোটাত্ব, মৃত্যু ঝুঁকির সম্ভাবনা, ডাক্তারের পরামর্শ প্রয়োজন।

সূত্র: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৫.
অগ্ন্যাশয় থেকে নির্গত চিনির বিপাক নিয়ন্ত্রণকারী হরমোন কোনটি? 
  1. মেলানিন
  2. থাইরোসিন
  3. ইনসুলিন
  4. এড্রিনালিন
ব্যাখ্যা
ডায়বেটিস: 
- বহুমূত্র রোগ বা ডায়াবেটিস মেলিটাস এক ধরনের বিপাকজনিত রোগ। 
- ইনসুলিনের অভাবে ডায়াবেটিস রোগ হয়। 
- প্যানক্রিয়াস থেকে ইনসুলিন নামক এক ধরনের হরমোন নির্গত হয়, যা রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণকে কমিয়ে দেয়। 
- অগ্ন্যাশয়ের আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহেন্স থেকে গ্লুকানল এবং ইনসুলিন হরমোন নির্গত হয় যা রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। 
- ডায়াবেটিস রোগে ইনসুলিন ব্যবহৃত হয়। 
- কারো ডায়াবেটিস হলে প্যানক্রিয়াস যথেষ্ট ইনসুলিন নির্গত করতে পারে না, কিংবা শরীর ইনসুলিনকে ব্যবহার করতে পারে না। 
- যে কারণে গ্লুকোজের পরিমাণ বেড়ে যায়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩৬.
মানুষের মুখবিবরে কত জোড়া লালাগ্রন্থি থাকে?
  1. এক 
  2. দুই 
  3. তিন 
  4. চার 
ব্যাখ্যা

মুখবিবর: 
- মুখ পরবর্তী অংশটি মুখবিবর। 
- মুখ বিবরের ঊর্ধ্ব প্রাচীর তালুর অস্থি ও পেশি দিয়ে, সামনের প্রাচীর ঠোঁটের পেশি দিয়ে এবং পার্শ্ব প্রাচীর গালের পেশি দিয়ে গঠিত। 
- তালুর অগ্রভাগ অস্থিনির্মিত এবং শক্ত, পেছনের অংশ মাংসল ও নরম। 
- তালুর পেছনের অংশের মধ্যভাগ থেকে একটি অপেক্ষাকৃত সরু আলজিহবা মুখবিবরে ঝুলে থাকে। 
- মানুষের ঊর্ধ্ব ও নিম্ন চোয়াল দাঁতযুক্ত, এছাড়া মুখবিবরে তিন জোড়া লালাগ্রন্থি থাকে। 
- নিম্নে চোয়ালের অস্থির সাথে জিহ্বাযুক্ত থাকে। 
- পৃষ্ঠতলের উপর থাকে স্বাদকোরক এগুলো বিভিন্ন রাসায়নিক বস্তুর প্রতি সংবেদনশীল। 
- জিহ্বার অগ্রভাগ মিষ্টি, দুই পার্শ্ব নোনা, পশ্চাৎ ভাগের দুই পার্শ্ব টক এবং পেছনের দিক তিক্ত স্বাদ গ্রহণ করে।
- দাঁত খাদ্য দ্রব্যকে কাটা, ছেঁড়া ও পেষণে সাহায্য করে। 
- জিহ্বা খাদ্য দ্রব্যের স্বাদ গ্রহণ করে এবং পেষণের সময় লালারস মিশ্রিত করে খাদ্য দ্রব্যকে পিচ্ছিল করে পেছনে ঠেলে দেয়। 
- লালাগ্রন্থি থেকে নিঃসৃত “মিউসিন” খাদ্যকে পিচ্ছিল করে আর টায়ালিন ও মল্টেজ এনজাইম খাদ্য পরিপাকে সহায়তা করে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৭.
মানবদেহের মস্তিষ্কের কোন গ্রন্থিতে বৃদ্ধির সঙ্গে জড়িত হরমোন উৎপন্ন হয়?
  1. থাইমাস
  2. থাইরয়েড
  3. পিটুইটারি
  4. এড্রেনাল
ব্যাখ্যা
- মানুষের বৃদ্ধি হরমোন (Human Growth Hormone, HGH) সাধারণভাবে সোমাটোট্রপিন (Somatotrophin) নামে পরিচিত। 
- এটি এক ধরনের পেপটাইড হরমোন যা প্রায় ২০০টি অ্যামিনো এসিডের সমন্বয়ে গঠিত। 
- মানবদেহের বৃদ্ধির সঙ্গে জড়িত এ হরমোন শরীরে স্বাভাবিকভাবেই উৎপন্ন হয়। 
- মানবদেহের মস্তিষ্কের পিটুইটারি গ্রন্থিতে বৃদ্ধির সঙ্গে জড়িত এই হরমোন উৎপন্ন হয়। 
- বিশেষজ্ঞদের মতে, ৩০ বছর বয়সের পরে বৃদ্ধি হরমোনের ক্ষরণ কমে যায়। 
- পরবর্তী প্রতি ১০ বছরে ক্ষরণ প্রায় ১৪% হারে হ্রাস পায়। 
- বৃদ্ধি হরমোন যত কমবে, শরীরে ততই বয়সের ছাপ বাড়বে। 
- এ সময় দেহে বৃদ্ধি হরমোন প্রয়োগ করলে বয়সের ছাপ মিলিয়ে যাবে কিংবা ছাপ পড়ার গতি কমে যাবে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৮.
অমরা (Placenta) কোন কাজের সঙ্গে সম্পর্কিত? 
  1. রেচন
  2. প্রজনন
  3. শ্বাসক্রিয়া
  4. খাদ্য হজম
ব্যাখ্যা
মানব প্রজননে হরমোনের ভূমিকা: 
- হরমোন এক ধরনের জৈব রাসায়নিক পদার্থ; যা নালিহীন গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হয়। 
- এটি রাসায়নিক দূত হিসেবে সরাসরি রক্তের মাধ্যমে দেহের বিভিন্ন অঙ্গে ছড়িয়ে পড়ে এবং দেহের বিভিন্ন বিপাকীয় ও শারীরবৃত্তীয় কাজ নিয়ন্ত্রণ করে এবং বিভিন্ন রাসায়নিক ক্রিয়া ঘটাতে সাহায্য করে। 
- হরমোন নির্দিষ্ট অথচ স্বল্পমাত্রায় নিঃসৃত হয়ে নানাবিধ শারীরবৃত্তীয় কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। 
- নির্দিষ্ট মাত্রার চেয়ে বেশি বা কম নিঃসরণ হলে দেহের বিভিন্ন কাজের ব্যাঘাত ঘটে এবং দেহে নানা রকম অস্বাভাবিকতা দেখা দেয়। 

- শরীরে নিম্নলিখিত গ্রন্থিগুলো প্রজনন-সংক্রান্ত হরমোন নিঃসরণ করে- 
(i) পিটুইটারি গ্রন্থি (Pituitary gland), 
(ii) থাইরয়েড গ্রন্থি (Thyroid gland), 
(iii) অ্যাড্রেনাল গ্রন্থি (Adrenal gland), 
(iv) শুক্রাশয়ের অনালগ্রন্থি (Testis), 
(v) ডিম্বাশয়ের অনালগ্রন্থি (Ovary) এবং 
(vi) অমরা (Placenta)। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩৯.
সাবক্লেভিয়াল ধমনির কোন শাখা মেরুদণ্ডে রক্ত সরবরাহ করে? 
  1. মেসেন্টেরিক ধমনি 
  2. সিলিয়াক ধমনি 
  3. ভার্টিব্রাল ধমনি 
  4. ইলিয়াক ধমনি 
ব্যাখ্যা

সাবক্লেভিয়াল ধমনি: 
- দেহের প্রতিপাশে ফুসফুসের উপর দিয়ে বিভিন্ন শাখায় বিভক্ত হয়ে বিভিন্ন অঙ্গে রক্ত বহন করে। 
যেমন- 
• বৃক্কীয় ধমনি: বৃক্কে রক্ত সরবরাহ করে। 
• জনন ধমনি: গোনাডে রক্ত সরবরাহ করে। 
• ফ্রেনিক ধমনি: ডায়াফ্রামে রক্ত সরবরাহ করে। 
ভার্টিব্রাল ধমনি: মেরুদণ্ডের রক্ত সরবরাহ করে। 
• সার্ভিকাল ধমনি: অক্সিপুটের পেশিতে রক্ত বহন করে। 
সিলিয়াক ধমনি: পাকস্থলী ও যকৃতে রক্ত সরবরাহ করে। 
মেসেন্টেরিক ধমনি: অন্ত্রের বিভিন্ন অংশে রক্ত সরবরাহ করে। 
ইলিয়াক ধমনি: পেলভিস অঞ্চল, উরু, পা ইত্যাদি অংশে রক্ত সরবরাহ করে।  
• আন্তঃম্যামারি ধমনি: স্তনগ্রন্থি, বক্ষীয় প্রাচীর ও পেরিকার্ডিয়ামে রক্ত বহন করে। 
• থাইরোসার্ভিকাল ধমনি: থাইরয়েড গ্রন্থি, ল্যারিংক্স ও ঘাড়ের পেশিতে রক্ত বহন করে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪০.
ফুসফুসের গঠনগত ও কার্যগত একক কোনটি? 
  1. অ্যালভিওলাস
  2. ট্র্যাকিয়া
  3. ব্রঙ্কিওল
  4. ব্রঙ্কাস
ব্যাখ্যা
অ্যালভিওলাস (Alveolus): 
- ফুসফুসের গঠনগত ও কার্যগত একক হলো অ্যালভিওলাস। 
- অ্যালভিওলাসগুলো ক্ষুদ্র বুদবুদ সদৃশ বায়ুকুঠুরী বিশেষ। 
- ডান ফুসফুসে ১০টি ও বাম ফুসফুসে ৮টি লোবিউল থাকে। 
- প্রতিটি লোবিউলে ৫০-৮০টি অ্যালভিওলি থাকে। 
- অ্যালভিওলাসের প্রাচীর চ্যাপ্টাকৃতির স্কোয়ামাস এপিথেলিয়াল কোষ দ্বারা গঠিত। 
- এতে কোলাজেন ও ইলাস্টিন তন্তু থাকে। 
- ফলে শ্বসনের সময় সংকোচন ও প্রসারণ সহজ হয়। 
- এছাড়া অ্যালভিওলার বায়ু ও প্রাচীরের কৈশিক জালিকার রক্তের মধ্যে যে গ্যাসীয় বিনিময় সম্পাদিত হয় তার মধ্যবর্তী বিভেদক পর্দাকে শ্বাসপর্দা বলে। 
- শ্বাসপর্দাটি দুটি কোষীয় স্তর ও দুটি ভিত্তিপর্দা নিয়ে গঠিত। 
- এদের মধ্যে একটি এপিথেলিয় আবরণী ও অপরটি এন্ডোথেলিয় আবরণী। 
- বায়ু ও রক্তের মধ্যবর্তী স্থানে এই মিহিপর্দার উপস্থিতি গ্যাসীয় বিনিময়কে সহজ করে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪১.
হৃদপ্রাচীরে মধ্যবর্তী স্তর কোনটি?
  1. পেরিকার্ডিয়াম
  2. এপিকার্ডিয়াম
  3. মায়োকার্ডিয়াম
  4. এন্ডোকার্ডিয়াম
ব্যাখ্যা
হৃদপিণ্ডের আবরণ: 
- হৃদপিণ্ড একটি দ্বিস্তরী পেরিকার্ডিয়াম নামক পাতলা ঝিল্লিতে আবৃত। 
- এর বাইরের স্তরটিকে প্যারাইটাল ও ভেতরেরটিকে ভিসেরাল বলে। 
- স্তর দুটির মাঝে তরল পদার্থপূর্ণ পেরিকার্ডিয়াম গহ্বর থাকে যা হৃদপিণ্ডের সংকোচন ও নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। 
- পেরিকার্ডিয়াল হৃদপিণ্ডকে বাইরের আঘাত থেকে রক্ষা করে। 
- হৃদপিণ্ডের স্পন্দন নিয়ন্ত্রণ করে। 
- হৃদপিণ্ডকে সর্বদা সিক্ত রেখে শুষ্কতার হাত থেকে রক্ষা করে। 

হৃদপিণ্ডের অন্তর্গঠন (Internal Structure): 
হৃদপিণ্ডের প্রাচীর: 
- অনৈচ্ছিক পেশি দিয়ে গঠিত। এসব পেশিকে হৃদপেশী বা কার্ডিয়াক পেশি (Cardiac muscle) বলে। 
- পেশিগুলো তিন স্তরবিশিষ্ট। 
যেমন - 
ক. এপিকার্ডিয়াম (Epicardium): 
- এটি হৃদপ্রাচীরের সবচেয়ে বাইরের স্তর এবং যোজক কলায় তৈরি। 
- এই স্তরে বিক্ষিপ্তভাবে চর্বি লেগে থাকে। 

খ. মায়োকার্ডিয়াম (Myocardium): 
- এটি হৃদপ্রাচীরে মধ্যবর্তী স্তর। 
- স্তরটি পুরু, দৃঢ় প্রকৃতির এবং এগুলো হৃদপিণ্ডের সংকোচন প্রসারণে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে। 

গ. এন্ডোকার্ডিয়াম (Endocardium): 
- এটি হৃদপ্রাচীরের ভেতরের স্তর যা হৃদপিণ্ডের প্রকোষ্ঠের অন্তঃপ্রাচীর গঠন করে, হৃদকপাটিকাসমূহ ঢেকে রাখে এবং রক্তের সাথে হৃদপিণ্ডের অবিচ্ছিন্ন সংযোগ ঘটায়। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪২.
মানুষের মস্তিষ্কে নিউরন রয়েছে প্রায় -
  1. ক) ১০০ মিলিয়ন
  2. খ) ১০০ বিলিয়ন
  3. গ) ১০০ ট্রিলিয়ন
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

মানুষের মস্তিষ্কে নিউরন রয়েছে প্রায় ১০০ বিলিয়ন এবং প্রতিটি নিউরন অন্য সাত থেকে দশ হাজার নিউরনের সাথে সিন্যাপস সংযোগ করে থাকে। নিউরনের প্রধান কাজ উদ্দীপনা বহন করা।
উৎস: নবম দশম শ্রেণি,জীববিজ্ঞান।

উৎসঃ একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির প্রাণিবিজ্ঞান বই (HSC programm), উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৩.
মায়োফাইব্রিল কোন ধরনের কোষে দেখা যায়?
  1. পেশি টিস্যু
  2. স্নায়ু টিস্যু
  3. তন্তুজ যোজক টিস্যু
  4. কঙ্কাল যোজক টিস্যু
ব্যাখ্যা
পেশি টিস্যু:
- ভ্রণীয় মেসোডার্ম থেকে উৎপন্ন বিশেষ ধরনের টিস্যুকে বলা হয় পেশি টিস্যু।
-এরা সংকোচন এবং প্রসারণশীল টিস্যু।
- এদের মাতৃকা প্রায় অনুপস্থিত।
- পেশি কোষগুলো সরু, লম্বা ও তন্তুময়। তন্তুগুলো মাকু আকৃতির।
- এ ধরনের তন্তুকে মায়োফাইব্রিলও বলা হয়।
- পেশি কোষের সাইটোপ্লাজমে এক বা একাধিক নিউক্লিয়াস থাকে।
- এদের কোষ পর্দাকে সারকোলেমা বলা হয়।
- আড়াআড়ি ডোরাযুক্ত মায়োফাইব্রিলকে বলা হয় ডোরাকাটা পেশি এবং ডোরাবিহীন মায়োফাইব্রিলকে বলা হয় মসৃণ পেশি।

কাজ:
- পেশি কোষ সংকুচিত এবং প্রসারিত হয়ে অঙ্গ সঞ্চালন, চলন ও অভ্যন্তরীণ পরিবহনে অংশ নেয়।

সূত্র: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৪.
মানবদেহের সবচেয়ে দীর্ঘতম কোষ হিসেবে নিচের কোনটি পরিচিত?
  1. অস্টিওব্লাস্ট
  2. শুক্রাণু
  3. নিউরন
  4. মলিকুলার কোষ
ব্যাখ্যা

নিউরন: 
- স্নায়ুতন্ত্রের প্রধান কেন্দ্র হলো মস্তিষ্ক। 
- স্নায়ুতন্ত্রের একক নিউরন, আর অসংখ্য নিউরন নিয়ে গঠিত হয়েছে মস্তিষ্ক। 
- প্রাণিদেহের যে তন্ত্র দেহের বিভিন্ন অঙ্গের মধ্যে সংযোগ রক্ষা করে, বিভিন্ন জৈবিক কার্যাবলির সমন্বয় সাধন করে এবং উদ্দীপনায় সাড়া দিয়ে উপযুক্ত প্রতিবেদন সৃষ্টির মাধ্যমে পরিবেশের মধ্যে সম্পর্ক রক্ষা করে, সে তন্ত্রকে স্নায়ুতন্ত্র বলে। 
- মানবদেহের সবচেয়ে দীর্ঘতম কোষ হলো নিউরন যা প্রায় 1.37 মিটার লম্বা। 

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

৪৫.
মানুষের গায়ের রং কোন উপাদানের উপর নির্ভর করে? 
  1. মেলানিন
  2. থায়ামিন
  3. ক্যারোটিন
  4. হিমোগ্লোবিন
ব্যাখ্যা
- মানুষের ত্বকে উপস্থিত মেলানোসাইট নামক কোষ মেলানিন নামক রঞ্জক পদার্থ উৎপন্ন করে যা গায়ের রঙ ফর্সা বা কালো হওয়ার জন্য দায়ী। 
- পিনিয়াল গ্রন্থি থেকে মেলাটোনিন নামক রাসায়নিক উৎপন্ন হতে পারে যা ঘুমের উপর প্রভাব বিস্তার করে। 
- মেলানিনের অনুপস্থিতিতে চামড়ায় কোন রঞ্জক পদার্থ থাকে না, ফলে চামড়া সাদা হয়। এটাই অ্যালবিনিজম নামে পরিচিত। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি এবং ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট।
৪৬.
মানবদেহের সবচেয়ে বড় গ্রন্থিটি হচ্ছে - 
  1. থাইরয়েড
  2. ত্বক
  3. যকৃত
  4. নিউরন
ব্যাখ্যা

• মানবদেহের সবচেয়ে বড় গ্রন্থি হলো যকৃত (গ)। এটি আমাদের শরীরের ডান দিকের উপরের অংশে অবস্থান করে এবং ওজন প্রায় ১.৫ কিলোগ্রামের কাছাকাছি হয়। যকৃত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে, যেমন রক্ত থেকে বিষাক্ত পদার্থ অপসারণ, হজমের জন্য পিত্ত (bile) তৈরি, প্রোটিন ও শর্করা সংরক্ষণ এবং রক্তের বিভিন্ন উপাদান নিয়ন্ত্রণ করা। এটি আমাদের দেহের মেটাবলিজম নিয়ন্ত্রণে সহায়ক এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ। অন্য গ্রন্থিগুলো যেমন থাইরয়েড, যা হরমোন উৎপাদন করে, বা নিউরন, যা স্নায়ুতন্ত্রের অংশ, সেগুলো যকৃতের তুলনায় আকারে ছোট। তাই বৃহত্তম গ্রন্থি হিসেবে যকৃতকে ধরা হয়।
 
• যকৃত:
- মধ্যচ্ছদার নিচে পাকস্থলীর ডানপাশে গাঢ় বাদামী বর্ণের ত্রিকোণাকার অঙ্গ।
- যকৃতের সাথে কলস আকৃতির পিত্তথলি সংযুক্ত থাকে।
- যকৃত থেকে নিঃসৃত পিত্তরস পিত্তথলিতে জমা থাকে।
- পিত্তরস ক্ষারীয় গুণসম্পন্ন গাঢ় সবুজ বর্ণের এবং তিক্ত স্বাদবিশিষ্ট।
- পিত্তনালির মাধ্যমে পিত্তরস যকৃত থেকে ডিওডেনামে আসে।
- যকৃতে বিভিন্ন রকম জৈব রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে, তাই একে রসায়ন গবেষণাগার বলা হয়।

• যকৃতের কাজ:
- যকৃত পিত্তরস তৈরি করে।
- ক্ষারীয় পিত্তরস পিত্তথলিতে জামা রাখে।
- পিত্তরসে কোন এনজাইম থাকে না, তাই যকৃত উদ্বৃত্ত গ্লুকোজ নিজ দেহে গ্লাইকোজেন হিসেবে সঞ্চিত রাখে।
- রক্তে গ্লুকোজের ঘাটতি হলে গ্লুকোজ সরবরাহ করে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে।
- পিত্তরস চর্বি জাতীয় খাদ্যকে ক্ষুদ্র দানায় পরিণত করে পরিপাকে সহায়তা করে।
- অতিরিক্ত অ্যামাইনো অ্যাসিড যকৃতে আসার পর রাসায়নিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ইউরিয়া, ইউরিক অ্যাসিড ও নাইট্রোজনজনিত বর্জ্য পদার্থ তৈরি করে এবং স্নেহ জাতীয় পদার্থ শোষণে সাহায্য করে।

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৭.
রক্তের হিমোগ্লোবিন তৈরীতে সাহায্য করে-
  1. ক) আয়োডিন
  2. খ) আয়রন
  3. গ) ম্যাগনেসিয়াম
  4. ঘ) ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস
ব্যাখ্যা
আয়রন রক্তের হিমোগ্লোবিন তৈরীতে সাহায্য করে। ফলে রক্তস্বল্পতা দূর হয়।
সূত্রঃ ৩৪তম বিসিএসের অনুরূপ প্রশ্ন।
৪৮.
ইকোকার্ডিওগ্রাফি করা হয় কোনটির সাহায্যে?
  1. ক) এক্স রে
  2. খ) আল্ট্রাসাউন্ড
  3. গ) ইলেকট্রোকার্ডিওগ্রাম
  4. ঘ) সিটি স্ক্যান
ব্যাখ্যা

ইকোকার্ডিওগ্রাফী কি
ইকোকার্ডিওগ্রাফী এক প্রকার পরীক্ষা পদ্ধতি যাতে আলট্রাসাউন্ড ওয়েভ ব্যবহার করে হার্টের বিভিন্ন অংশ দেখা হয়। আলট্রাসাউন্ড ওয়েভ হল অতি দ্রুত গতির শব্দ তরঙ্গ যা মানুষের কানে ধরা পড়ে না।
ইকোকার্ডিওগ্রাফিতে যন্ত্রের সাহায্যে হৃৎযন্ত্রের কার্যক্রমের গুণগত ও পরিমাণগত মূল্যায়ন করা যায়। শব্দের প্রতিফলনের নীতির ওপর ভিত্তি করে ইকোকার্ডিওগ্রাফি যন্ত্রের কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এখানে শব্দ তরঙ্গ ব্যবহার করা হয়। শব্দতরঙ্গ হচ্ছে যান্ত্রিক তরঙ্গ যা মাধ্যমের সংকোচন ও সম্প্রসারণের মাধ্যমে সঞ্চালিত হয়। আল্ট্রাসনোগ্রাফি যন্ত্রে শব্দের প্রতিধ্বনিকে ব্যবহার করা হয়। আল্ট্রাসনোগ্রাফি উচ্চ কম্পাঙ্কের শব্দের প্রতিফলনের উপর নির্ভরশীল। উচ্চ কম্পাঙ্কের শব্দ হৃৎপিন্ডের যখন শরীরের গভীরের কোনো অঙ্গ বা পেশি থেকে প্রতিফলিত হয় তখন প্রতিফলিত তরঙ্গের সাহায্যে ঐ অঙ্গের অনুরূপ একটি প্রতিবিম্ব মনিটরের পর্দায় গঠন করা হয়। এই প্রতিবিম্ব প্রতিফলিত তরঙ্গের দ্বিমাত্রিক ও ত্রিমাত্রিক প্রতিবিম্ব মনিটরে পর্যবেক্ষণ করা যায়।
সুত্রঃ এসএসসি পদার্থবিজ্ঞান, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৯.
১৯০১ সালে প্রথম মানবদেহের রক্তের শ্রেণিবিন্যাস করেন-
  1. লুই পাস্তুর
  2. জি. ল্যামেটার
  3. উইলিয়াম হার্ভে
  4. কার্ল ল্যান্ডস্টেইনার
ব্যাখ্যা
• ১৯০১ সালে প্রথম মানবদেহের রক্তের শ্রেণিবিন্যাস করেন কার্ল ল্যান্ডস্টেইনার।

• রক্তের গ্রুপ:
- লোহিত রক্ত কণিকার প্লাজমামেমব্রেনে অবস্থিত বিভিন্ন অ্যান্টিজেনের উপস্থিতির ভিত্তিতে রক্তের শ্রেণিবিন্যাসকে রক্ত গ্রুপ (Blood Group) বলে।
- আমেরিকার জীববিজ্ঞানী কার্ল ল্যান্ডস্টেইনার (Karl Landsteiner) ১৯০১ সালে মানুষের রক্তের শ্রেণিবিন্যাস করেন।
- রক্ত কণিকায় অ্যান্টিজেনের উপস্থিত ও অনুপস্থিতির উপর নির্ভর করে রক্তের যে শ্রেণিবিন্যাস করেন, তা ABO ব্লাড গ্রুপ নামে পরিচিত।
- অনেক সময় একে ল্যান্ডস্টেইনার এর ব্লাড গ্রুপ বলে।

• রক্ত গ্রুপের বৈশিষ্ট্য:

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫০.
কোন ধরনের রক্ত কণিকায় নিউক্লিয়াস পাওয়া যায়?
  1. ক) লোহিত রক্তকণিকায়
  2. খ) অনুচক্রিকায়
  3. গ) প্লাটিলেটে
  4. ঘ) শ্বেত রক্তকণিকায়
ব্যাখ্যা
নির্দিষ্ট আকারহীন শ্বেত রক্তকণিকা নিউক্লিয়াসযুক্ত বড় আকারের কোষ।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণী বিজ্ঞান বোর্ড বই
৫১.
দেহ সঞ্চালন তথা প্রত্যেক কাজ ও অনুভূতির কেন্দ্র হলাে
  1. ক) সেরিব্রাম
  2. খ) সেরিবেলাম
  3. গ) মেডুলা
  4. ঘ) হাইপোথ্যালামাস
ব্যাখ্যা

সেরিব্রাম হলাে প্রত্যেক অঙ্গ থেকে স্নায়ুতাড়না গ্রহণের এবং প্রত্যেক অঙ্গে স্নায়ুতাড়না প্রেরণের উচ্চতর কেন্দ্র। দেহ সঞ্চালন তথা প্রত্যেক কাজ ও অনুভূতির কেন্দ্র হলাে সেরিব্রাম। এটি আমাদের চিন্তা, চেতনা, জ্ঞান, স্মৃতি, ইচ্ছা, বাকশক্তি ও ঐচ্ছিক পেশির কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ করে।
কোন উদ্দীপকের প্রতি কী ধরনের সাড়া দিবে, সে সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করে। সকল প্রাণীর মধ্যে মানুষের অগ্রমস্তিষ্কের বিবর্তন সর্বাধিক অগ্রগামী এবং সবচেয়ে বিকশিত।
উৎস: নবম দশম শ্রেণি,জীববিজ্ঞান

৫২.
নিউমোনিয়া রোগটি কোন ব্যাকটেরিয়ার দ্বারা সংঘটিত হয়?
  1. Streptococcus pneumoniae 
  2. Mycobacterium tuberculosis
  3. Vibrio cholerae
  4. Clostridium tetani
ব্যাখ্যা

নিউমোনিয়া হলো ফুসফুসের সংক্রমণজনিত রোগ, যা শ্বাসপ্রশ্বাসে ব্যাধি সৃষ্টি করে।
- সবচেয়ে সাধারণ ব্যাকটেরিয়াজনিত নিউমোনিয়ার কারণ হলো Streptococcus pneumoniae, যা ফুসফুসের এ্যালভিওলি (Alveoli) তে সংক্রমণ ঘটায়।

এর লক্ষণ: কাশি, জ্বর, শ্বাসকষ্ট, বুকের ব্যথা।

অন্য ব্যাকটেরিয়ার প্রভাব:
Mycobacterium tuberculosis: ক্ষয় রোগ (Tuberculosis) ঘটায়।
Vibrio cholerae: কলেরা (ডায়রিয়া) সৃষ্টি করে।
Clostridium tetani: টিটানাস বা পেশীর সংকোচন ঘটায়।

তথ্যসূত্র: NCTB জীববিজ্ঞান বই, Britannica: [লিংক]

৫৩.
কোন প্রকোষ্ঠ থেকে ফুসফুসীয় ধমনি উৎপন্ন হয়? 
  1. বাম নিলয়
  2. ডান নিলয়
  3. বাম অলিন্দ
  4. ডান অলিন্দ
ব্যাখ্যা
হৃৎপিণ্ড: 
- হৃৎপিণ্ড হলো রক্ত সংবহনতন্ত্রের অন্তর্গত একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ, যা পাম্পের মতো কাজ করে। 
- এটি নিরবিচারে সংকোচন ও প্রসারণের মাধ্যমে সারা দেহে রক্ত সঞ্চালন ঘটায়। 
- মানুষের হৃৎপিণ্ড বক্ষগহ্বরের কেন্দ্রে, ফুসফুস দুটির মাঝখানে এবং মধ্যচ্ছদার ঠিক ওপরে অবস্থান করে। 
- এর উপরের অংশটি প্রশস্ত এবং নিচের প্রান্তটি ছুঁচালো আকৃতির, যা নিচের দিকে অবস্থিত থাকে। 
- হৃৎপিণ্ডটি একটি দ্বিস্তর বিশিষ্ট পর্দা পেরিকার্ডিয়াম দ্বারা আবৃত থাকে। এই পর্দার দুই স্তরের মাঝে একটি তরল পদার্থ থাকে, যাকে পেরিকার্ডিয়াল ফ্লুইড বলা হয়। 
- এটি হৃৎপিণ্ডকে ঘর্ষণ থেকে রক্ষা করে এবং সংকোচনের সময় সহায়ক ভূমিকা পালন করে। 

- মানুষের হৃৎপিণ্ড চারটি প্রকোষ্ঠ নিয়ে গঠিত। 
- উপরের দুটি প্রকোষ্ঠকে বলা হয় ডান অলিন্দ ও বাম অলিন্দ (Atrium)। 
- নিচের দুটি প্রকোষ্ঠকে বলা হয় ডান নিলয় ও বাম নিলয় (Ventricle)। 
- অলিন্দগুলোর প্রাচীর তুলনামূলকভাবে পাতলা, তবে নিলয়গুলোর প্রাচীর পুরু এবং অধিক পেশিবহুল, কারণ নিলয় থেকেই রক্ত শরীরের বিভিন্ন অংশে সরবরাহ করা হয়। 
- ডান অলিন্দের সঙ্গে দুটি বড় শিরা যুক্ত থাকে ঊর্ধ্ব মহাশিরা ও নিম্ন মহাশিরা, যা দেহের বিভিন্ন অংশ থেকে অক্সিজেনবিহীন রক্ত এনে দেয়। 
- ডান নিলয় থেকে ফুসফুসীয় ধমনি (Pulmonary artery) উৎপন্ন হয়, যা অক্সিজেন গ্রহণের জন্য রক্ত ফুসফুসে পাঠায়। 
- অন্যদিকে, বাম নিলয় থেকে মহাধমনি (Aorta) উৎপন্ন হয়, যা অক্সিজেনসমৃদ্ধ রক্তকে দেহের প্রতিটি কোষে সরবরাহ করে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৫৪.
লালা রসে কোন এনজাইমটি থাকে?
  1. টায়ালিন
  2. অ্যামাইলেজ
  3. সুক্রেজ
  4. ল্যাকটেজ
ব্যাখ্যা

• এনজাইম: 
- এনজাইম হলো এক ধরনের জৈব অনুঘটক, যা প্রোটিন দিয়ে গঠিত এবং জীবদেহের মধ্যে রাসায়নিক বিক্রিয়ার গতিকে ত্বরান্বিত করে, কিন্তু নিজে বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে অপরিবর্তিত থাকে, ফলে বারবার ব্যবহৃত হতে পারে।
- এটি হজম, শক্তি উৎপাদন, কোষের বৃদ্ধি ও বিপাকসহ প্রায় সমস্ত জৈবিক প্রক্রিয়া সম্পাদনের জন্য অপরিহার্য।

• খাদ্য পরিপাকে বিভিন্ন তন্ত্রের গ্রন্থির ভূমিকা: 
- মানুষের মুখবিবরে কেবলমাত্র শর্করার পরিপাক ঘটে। 
- মুখবিবরে লালাগ্রন্থি থেকে নিঃসৃত লালারস খাদ্য পরিপাকের রাসায়নিক কার্যক্রমে মূল ভূমিকা পালন করে।
- মূলত তিন ধরনের লালাগ্রন্থি থেকে নিঃসৃত লালারসের সাথে খাদ্যবস্তু মিশ্রিত হয়। লালারসে মিউসিন এবং দু'প্রকারের পরিপাকীয় এনজাইম; যথা- টায়ালিন ও মলটেজ থাকে।

যে সকল এনজাইম পরিপাকে অংশ নেয় সেগুলো হচ্ছে:
- লালা রসে: টায়ালিন ও মলটেজ।
- পাকস্থলি রসে: শর্করা পরিপাককারী কোন এনজাইম নেই।
- অগ্ন্যাশয় রসে: অ্যামাইলেজ ও মলটেজ।
- আন্ত্রিক রসে: অ্যামাইলেজ, মলটেজ, সুক্রেজ, ল্যাকটেজ, আইসোমলটেজ।

মিউসিন: মিউসিন খাদ্য বস্তুর সাথে মিশ্রিত হয়ে খাদ্য বস্তুকে নরম ও পিচ্ছিল করে।

টায়ালিন: টায়ালিন এনজাইম প্রধানত সিদ্ধ বা রন্ধণকৃত স্টার্চ, গ্লাইকোজেন ও ডেক্সট্রিন অণুকে হাইড্রোলাইসিস করে ক্ষুদ্রতর ডেক্সট্রিন, মলটোজ ও আইসোমলটোজে পরিণত করে যা পাকস্থলীতে অম্লীয় পরিবেশ সৃষ্টি হওয়া পর্যন্ত চলতে থাকে।

মলটেজ: ক্লোরিনের উপস্থিতিতে মলটেজ এনজাইম সামান্য পরিমাণ মলটোজের উপর ক্রিয়া করে গ্লুকোজে পরিণত করে।

উৎস: জীববিজ্ঞান (প্রাণিবিজ্ঞান) দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫৫.
মানুষের হৃৎপিণ্ডে মোট কয়টি প্রকোষ্ঠ থাকে?
  1. ৪টি 
  2. ৩টি 
  3. ২টি 
  4. ৫টি 
ব্যাখ্যা

- মানুষের হৃৎপিণ্ড একটি পেশীবহুল অঙ্গ যা চার (৪)টি প্রকোষ্ঠ বা কক্ষ নিয়ে গঠিত।

হৃৎপিণ্ড: 

- হৃৎপিণ্ড হলো রক্ত সংবহনতন্ত্রের অন্তর্গত একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ, যা পাম্পের মতো কাজ করে। এটি নিরবিচারে সংকোচন ও প্রসারণের মাধ্যমে সারা দেহে রক্ত সঞ্চালন ঘটায়। 
- মানুষের হৃৎপিণ্ড বক্ষগহ্বরের কেন্দ্রে, ফুসফুস দুটির মাঝখানে এবং মধ্যচ্ছদার ঠিক ওপরে অবস্থান করে। এর উপরের অংশটি প্রশস্ত এবং নিচের প্রান্তটি ছুঁচালো আকৃতির, যা নিচের দিকে অবস্থিত থাকে। 
- হৃৎপিণ্ডটি একটি দ্বিস্তর বিশিষ্ট পর্দা পেরিকার্ডিয়াম দ্বারা আবৃত থাকে। এই পর্দার দুই স্তরের মাঝে একটি তরল পদার্থ থাকে, যাকে পেরিকার্ডিয়াল ফ্লুইড বলা হয়। এটি হৃৎপিণ্ডকে ঘর্ষণ থেকে রক্ষা করে এবং সংকোচনের সময় সহায়ক ভূমিকা পালন করে। 

- মানুষের হৃৎপিণ্ড চারটি প্রকোষ্ঠ নিয়ে গঠিত। 
- উপরের দুটি প্রকোষ্ঠকে বলা হয় ডান অলিন্দ ও বাম অলিন্দ (Atrium)। নিচের দুটি প্রকোষ্ঠকে বলা হয় ডান নিলয় ও বাম নিলয় (Ventricle)। 
- অলিন্দগুলোর প্রাচীর তুলনামূলকভাবে পাতলা, তবে নিলয়গুলোর প্রাচীর পুরু এবং অধিক পেশিবহুল, কারণ নিলয় থেকেই রক্ত শরীরের বিভিন্ন অংশে সরবরাহ করা হয়। 
- ডান অলিন্দের সঙ্গে দুটি বড় শিরা যুক্ত থাকে ঊর্ধ্ব মহাশিরা ও নিম্ন মহাশিরা, যা দেহের বিভিন্ন অংশ থেকে অক্সিজেনবিহীন রক্ত এনে দেয়। 
- ডান নিলয় থেকে ফুসফুসীয় ধমনি (Pulmonary artery) উৎপন্ন হয়, যা অক্সিজেন গ্রহণের জন্য রক্ত ফুসফুসে পাঠায়। অন্যদিকে, বাম নিলয় থেকে মহাধমনি (Aorta) উৎপন্ন হয়, যা অক্সিজেনসমৃদ্ধ রক্তকে দেহের প্রতিটি কোষে সরবরাহ করে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৫৬.
ত্বকের কোন স্তর অতিবেগুনি রশ্মি শোষণ করে?
  1. হাইপোডার্মিস
  2. সাবকিউটেনিয়াস টিস্যু
  3. ডার্মিস
  4. এপিডার্মিস
ব্যাখ্যা

- ত্বকের বাইরের স্তর এপিডার্মিস শরীরকে অতিবেগুনি (UV) বিকিরণ থেকে রক্ষা করে, এই স্তরে থাকা মেলানিন (Melanin) নামক রঞ্জক UV রশ্মি শোষণ করে এবং ত্বকের গভীর স্তরগুলিকে ক্ষতি থেকে বাঁচায়। 

দেহের প্রতিরক্ষায় ত্বকের ভূমিকা: 
- ত্বক প্রথম স্তরের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলে। 
- ত্বক দেহকে সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি এবং প্রভাবে সৃষ্ট রোগ (ক্যান্সার) হতে দেহকে রক্ষা করে। ত্বকের এপিডার্মিসের কোষে মেলালিন (melanine) জাতীয় পদার্থ সৃষ্টি হয় যা অতিবেগুনি রশ্মি শোষণ করে। 
- ত্বক দেহের বাইরের স্তরে দৃঢ় ও কেরাটিনাইজড (keratinized) আবরণী তৈরি করে, যা দেহের সকল বাহ্যিক অংশকে আচ্ছাদিত করে এবং ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে একটি ফলপ্রসূ প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। 
- দেহত্বক ছিঁড়ে গেলে বা কেটে গেলে ত্বকে অবস্থিত হিস্টিওসাইট (ম্যাক্রোফেজ) জীবাণু ধ্বংস করে দেহকে প্রতিরক্ষা দান করে। 
- ঘাম ও তৈল গ্রন্থির নিঃসরণ ত্বকের উপরিভাগের pH-কে অম্লীয় (pH = 3-5) করে তোলে, ফলে অণুজীবসমূহ বেশি সময় ত্বকে বেঁচে থাকতে পারে না। - কিছু সংখ্যক উপকারী ব্যাকটেরিয়া ত্বকে অবস্থানকালে এসিড ও বিপাকীয় বর্জ্য নিঃসরণ করে, যা অণুজীবের সংখ্যাবৃদ্ধিকে বাঁধা দেয়। 
- ঘাম নিঃসৃত লবণ ও ফ্যাটি এসিডে অবস্থিত লাইসোজাইম (lysozyme) ব্যাকটেরিয়ার কোষ প্রাচীরকে ধ্বংস করে। 
- অশ্রুগ্রন্থি নিঃসৃতেও লাইসোজাইম থাকে যারা চোখে জীবাণুর সংক্রমণ প্রতিহত করে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫৭.
ডায়াবেটিস রোগের প্রধান কারণ কী? 
  1. রক্তে অক্সিজেনের অভাব 
  2. ভিটামিনের ঘাটতি
  3. ইনসুলিনের অভাব 
  4. অতিরিক্ত পানি পান 
ব্যাখ্যা

- ডায়াবেটিস রোগের প্রধান কারণ হচ্ছে- ইনসুলিনের অভাব। 

ডায়াবেটিস রোগ: 

- বহুমূত্র রোগ বা ডায়াবেটিস মেলিটাস এক ধরনের বিপাকজনিত রোগ। 
- ইনসুলিনের অভাবে ডায়াবেটিস রোগ হয়। 
- প্যানক্রিয়াস থেকে ইনসুলিন নামক এক ধরনের হরমোন নির্গত হয়, যা রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণকে কমিয়ে দেয়। 
- অগ্ন্যাশয়ের আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহেন্স থেকে গ্লুকানল এবং ইনসুলিন হরমোন নির্গত হয় যা রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। 
- ডায়াবেটিস রোগে ইনসুলিন ব্যবহৃত হয়। 
- কারো ডায়াবেটিস হলে প্যানক্রিয়াস যথেষ্ট ইনসুলিন নির্গত করতে পারে না, কিংবা শরীর ইনসুলিনকে ব্যবহার করতে পারে না, যে কারণে গ্লুকোজের পরিমাণ বেড়ে যায়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৫৮.
ইন্টারফেরন কোন ধরনের পদার্থ?
  1. প্রোটিন
  2. শর্করা
  3. চর্বি
  4. গ্লাইকোলিপিড
ব্যাখ্যা

• ইন্টারফেরন হল প্রোটিন ধরনের পদার্থ, যা আমাদের দেহের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এটি মূলত ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে কাজ করে। যখন কোনো কোষ ভাইরাস দ্বারা সংক্রমিত হয়, তখন সেই কোষ ইন্টারফেরন নিঃসরণ করে। নিঃসৃত ইন্টারফেরন আশেপাশের কোষগুলোকে সতর্ক করে এবং ভাইরাস প্রতিরোধী প্রোটিন উৎপাদন করতে প্ররোচিত করে। এভাবে এটি ভাইরাসের বৃদ্ধি ও সংক্রমণ রোধ করে। ইন্টারফেরন শুধুমাত্র ভাইরাস নয়, কিছু ব্যাকটেরিয়া ও টিউমার কোষের বিরুদ্ধেও কার্যকর। চিকিৎসা ক্ষেত্রেও ইন্টারফেরন বিভিন্ন রোগ যেমন হেপাটাইটিস, ক্যান্সার এবং কিছু অটোইমিউন রোগের চিকিৎসায় ব্যবহার করা হয়। সুতরাং, ইন্টারফেরন একটি প্রোটিন পদার্থ।

- সঠিক উত্তর: ক) প্রোটিন। 

• ইন্টারফেরন (Interferon):
- ইন্টারফেরন হলো একটি প্রোটিন যা মানুষের এবং প্রাণীর দেহে ভাইরাসের সংক্রমণের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে।
- এটি ভাইরাস সংক্রমণের সময় তৈরি হয় এবং কোষকে ভাইরাসের বিরুদ্ধে সুরক্ষা দেয়।
- ইন্টারফেরন মূলত প্রতিরোধ ক্ষমতা (Immune response) বৃদ্ধিতে কাজ করে।
- এটি কোনো শর্করা, চর্বি বা গ্লাইকোলিপিড নয়, বরং প্রোটিন।
- চিকিৎসা ও গবেষণায় ইন্টারফেরন ভাইরাসজনিত রোগ, ক্যান্সার এবং অন্যান্য রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়।

সুতরাং, ইন্টারফেরন হলো - প্রোটিন।  

সূত্র: জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, গাজী আজমল এবং গাজী আসমত। 

৫৯.
লোহিত রক্তকোষের গড় আয়ু কত দিন? 
  1. ৬০ দিন
  2. ১২০ দিন
  3. ১৮০ দিন
  4. ১৫০ দিন
ব্যাখ্যা

লোহিত রক্তকোষ: 
- মানবদেহে তিন ধরনের রক্তকণিকার মধ্যে লোহিত রক্তকোষের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। 
- এটি শ্বাসকার্যে অক্সিজেন পরিবহনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। 
- লাল অস্থিমজ্জায় লোহিত রক্তকোষ তৈরি হয়। 
- লোহিত রক্তকোষের গড় আয়ু ১২০ দিন। 
- মানুষের লোহিত রক্তকোষে নিউক্লিয়াস থাকে না এবং দেখতে অনেকটা দ্বি-অবতল বৃত্তের মতো। 
- পূর্ণবয়স্ক ব্যক্তির রক্তে লোহিত রক্তকোষ সংখ্যা প্রতি কিউবিক মিলিমিটারে প্রায় 50 লক্ষ। 

- লোহিত রক্তকোষ শ্বেত রক্তকোষের চেয়ে প্রায় ৫০০ গুণ বেশি। 
- পুরুষের তুলনায় নারীদের রক্তে লোহিত রক্তকোষ কম থাকে। 
- তুলনামূলকভাবে শিশুদের দেহে লোহিত রক্তকোষের পরিমাণ বেশি থাকে। 
- আমাদের জীবনের প্রতি মুহূর্তে লোহিত রক্তকোষ ধ্বংস হয়, আবার সমপরিমাণে তৈরিও হয়। 
- লোহিত রক্তকোষের হিমোগ্লোবিন অক্সিহিমোগ্লোবিন হিসেবে অক্সিজেন এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড পরিবহন করে। 

হিমোগ্লোবিন: 
- হিমোগ্লোবিন এক ধরনের রঞ্জক পদার্থ। 
- লোহিত রক্তকোষের উপস্থিতির কারণে রক্ত লাল দেখায়। 
- রক্তে প্রয়োজনীয় পরিমাণ হিমোগ্লোবিন না থাকলে রক্তস্বল্পতা বা রক্তশূন্যতা (anemia) দেখা দেয়। 
- বাংলাদেশের প্রায় দুই তৃতীয়াংশ জনগোষ্ঠী এ রোগে আক্রান্ত। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৬০.
মানুষের শরীরের রক্তের গ্রুপ কয়টি?
  1. দুইটি
  2. তিনটি
  3. চারটি
  4. পাঁচটি
ব্যাখ্যা
রক্তের গ্রুপ: 
- বিভিন্ন ব্যক্তির লোহিত রক্ত কণিকায় A এবং B নামক দুই ধরনের অ্যান্টিজেন (antigens) থাকে এবং রক্তরসে a ও b দু'ধরনের অ্যান্টিবডি (antibody) থাকে। 
- এই অ্যান্টিজেন এবং অ্যান্টিবডির উপস্থিতির উপর ভিত্তি করে মানুষের রক্তকে বিভিন্ন গ্রুপে ভাগ করা যায়, একে ব্লাড গ্রুপ বলে। 
- বিজ্ঞানী কার্ল ল্যান্ডস্টেইনার 1901 সালে মানুষের রক্তের শ্রেণিবিন্যাস করে তা A, B, AB এবং O- এ চারটি গ্রুপের নামকরণ করেন। 
- সাধারণত একজন মানুষের রক্তের গ্রুপ আজীবন একই রকম থাকে। 
- রক্তে বিভিন্ন অ্যান্টিজেন এবং অ্যান্টিবডির উপস্থিতির ভিত্তিতে ব্লাড গ্রুপকে এভাবে বর্ণনা করা যায়। 
যেমন- 
• গ্রুপ A: এ শ্রেণির রক্তে A অ্যান্টিজেন ও অ্যান্টি-B অ্যান্টিবডি (সংক্ষেপে b অ্যান্টিবডি) থাকে। 
• গ্রুপ B: এ শ্রেণির রক্তে B অ্যান্টিজেন ও অ্যান্টি-A অ্যান্টিবডি (সংক্ষেপে a অ্যান্টিবডি) থাকে। 
• গ্রুপ AB: এই শ্রেণির রক্তে A ও B অ্যান্টিজেন থাকে এবং কোনো অ্যান্টিবডি থাকে না। 
• গ্রুপ O: এ শ্রেণির রক্তে কোনো অ্যান্টিজেন থাকে না কিন্তু a ও b অ্যান্টিবডি থাকে। 
- O গ্রুপের রক্তবিশিষ্ট ব্যক্তি সব গ্রুপের রক্তের ব্যক্তিকে রক্ত দিতে পারে, এদের বলা হয় সর্বজনীন রক্তদাতা (universal donor)। 
- AB রক্তধারী ব্যক্তি যেকোনো ব্যক্তির রক্ত গ্রহণ করতে পারে, তাই তাকে সর্বজনীন রক্তগ্রহীতা (universal recipient) বলা হয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৬১.
সুষুম্নাকাণ্ড কোন তন্ত্রের অংশ?
  1. স্নায়ুতন্ত্রের
  2. কঙ্কালতন্ত্রের
  3. পরিপাকতন্ত্রের
  4. শ্বসনতন্ত্রের
ব্যাখ্যা

- স্নায়ুতন্ত্রের দুইটি প্রধান অংশ, কেন্দ্রীয় এবং প্রান্তীয় স্নায়ুতন্ত্র।
- কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের ভিতরে আছে মস্তিষ্ক এবং সুষুম্নাকান্ড।
- প্রান্তীয় স্নায়ুতন্ত্রের ভিতরে আছে করোটিক স্নায়ু এবং সুষুম্না স্নায়ু।
- সুষুম্নাকাণ্ড মেরুদণ্ডের অস্থি ও তরুণাস্থি নির্মিত কঙ্কাল আবরণে বেষ্টিত হয়ে অবস্থান করে।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক প্রাণিবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

৬২.
পিটুইটারি গ্রন্থির কোন হরমোনটি মূত্র নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণ করে?
  1. অক্সিটোসিন 
  2. ফলিকল-স্টিমুলেটিং হরমোন
  3. প্রোল্যাকটিন
  4. ভ্যাসোপ্রেসিন
ব্যাখ্যা

ভ্যাসোপ্রেসিন বা অ্যান্টি-ডাইইউরেটিক হরমোন (ADH) শরীরের পানির ভারসাম্য রক্ষা করে এবং মূত্র নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণ করে।

পিটুইটারি গ্রন্থি:
- পিটুইটারি গ্রন্থি হলো মানব মস্তিষ্কের নিচে অবস্থিত একটি ক্ষুদ্র, লালচে-ধূসর রঙের মটর-সদৃশ অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি।
- এটি অন্তঃক্ষরাতন্ত্রের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যার ওজন মাত্র ০.৫ গ্রাম।
- পিটুইটারি গ্রন্থিকে হরমোন সৃষ্টিকারী প্রধান গ্রন্থি বা নিয়ামক গ্রন্থি (Principal/Master gland) বলে।
- এটি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ হরমোন নিঃসরণ করে এবং অন্যান্য অন্তঃক্ষরা গ্রন্থির (যেমন থাইরয়েড, অ্যাড্রেনাল ও প্রজনন গ্রন্থি) কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করে।
- এটি হাইপোথ্যালামাসের সাথে সংযুক্ত থাকে।

• প্রধান অংশ ও হরমোনসমূহ:
- পিটুইটারি গ্রন্থিকে প্রধানত দুইটি অংশে ভাগ করা হয়। যথা:
১। অগ্র পিটুইটারি (Anterior Pituitary/Adenohypophysis):
- দেহের বৃদ্ধি, বিপাক এবং অন্যান্য গ্রন্থির কার্যকারিতা নিয়ন্ত্রণ করে।
- এর প্রধান হরমোনগুলো হলো:
- গ্রোথ হরমোন (GH): দেহের সামগ্রিক বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করে।
- থাইরয়েড-স্টিমুলেটিং হরমোন (TSH): থাইরয়েড গ্রন্থিকে উদ্দীপিত করে।
- অ্যাড্রেনোকর্টিকোট্রপিক হরমোন (ACTH): অ্যাড্রেনাল গ্রন্থিকে উদ্দীপিত করে।
- ফলিকল-স্টিমুলেটিং হরমোন (FSH) এবং লিউটিনাইজিং হরমোন (LH): এ দুটি হরমোনকে একত্রে গোনাডোট্রপিক হরমোন (GTH) বলা হয়, যা প্রজনন অঙ্গের কার্যকারিতা নিয়ন্ত্রণ করে।
- প্রোল্যাকটিন (Prolactin): দুগ্ধ উৎপাদনে সহায়তা করে।
- মেলানোসাইট স্টিমুলেটিং হরমোন (MSH): ত্বক ও চুলের বর্ণ নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে।

২। পশ্চাৎ পিটুইটারি (Posterior Pituitary/Neurohypophysis):
- এই অংশটি নিজে কোনো হরমোন তৈরি করে না, বরং হাইপোথ্যালামাস থেকে আসা দুটি গুরুত্বপূর্ণ হরমোন সংরক্ষণ করে ও প্রয়োজনে নিঃসরণ করে।
- হরমোন দুটি হলো:
- ভ্যাসোপ্রেসিন (Vasopressin): এটি অ্যান্টিডিউরেটিক হরমোন (ADH) নামেও পরিচিত, যা কিডনির মাধ্যমে মূত্র নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণ করে।
- অক্সিটোসিন (Oxytocin): এটি সন্তান প্রসবকালে জরায়ুর সংকোচন ঘটানো এবং দুগ্ধ নিঃসরণে সাহায্য করে।

উৎস: জীববিজ্ঞান, ২য় পত্র, একাদশ - দ্বাদশ শ্রেণি, গাজী আজমল, গাজী আসমত।

৬৩.
করোটিকার (Cranium) কাজ কী? 
  1. পেটের অঙ্গ সুরক্ষা
  2. মস্তিষ্ক আবৃত রাখা
  3. বুকের অঙ্গ সুরক্ষা
  4. হাত-পা সংযুক্ত করা
ব্যাখ্যা

অক্ষীয় কঙ্কাল: 
- কঙ্কালতন্ত্রের যে অস্থিগুলো দেহের অক্ষ রেখা বরাবর অবস্থান করে কোমল, নমনীয় অঙ্গগুলোকে ধারণ করে ও রক্ষা করে এবং দেহ কাণ্ডের গঠনগুলো সংযুক্ত করে অবলম্বন দান করে তাদের একত্রে অক্ষীয় কঙ্কাল বলে। 
- অক্ষীয় কঙ্কাল প্রধানতঃ তিনটি অংশ নিয়ে গঠিত।
যথা- (ক) করোটি, (খ) মেরুদণ্ড ও (গ) বক্ষপিঞ্জর। 
• করোটি (skull): 
- মুখমণ্ডলীয় ও করোটিকার অস্থি সমন্বয়ে গঠিত মাথার কঙ্কালিক গঠনকে করোটি বলে। 
- করোটিতে মোট ২৯টি অস্থি থাকে। 

করোটিকা (Cranium): 
- করোটির যে অংশ মস্তিষ্ক আবৃত করে রাখে তাকে করোটিকা বলে। 
- করোটিকা ছয় প্রকারের মোট আটটি অস্থিপাত নিয়ে গঠিত। 

• মেরুদণ্ড (Vertebral column): 
- অ্যাটলাস অস্থি থেকে কক্কিক্স অস্থি পর্যন্ত বিস্তৃত দণ্ডাকৃতির যে গঠন মানবদেহের কেন্দ্রীয় অক্ষ গঠন করে তাকে মেরুদণ্ড বা শিরদাঁড়া বলে। 
- ৩৩টি অসম আকৃতির সীমিত সঞ্চালনক্ষম অস্থিখণ্ডক সমন্বয়ে মেরুদণ্ড গঠিত, এ সকল অস্থিখণ্ডককে কশেরুকা (vertebra) বলে। 
- কশেরুকাগুলো কোমলাস্থি নির্মিত চাকতি দ্বারা পরস্পর যুক্ত থাকে। 
- এদের সিমফাইসিস স্থির অবস্থায় বা চলমান অবস্থায় এটি দেহের ভারসাম্য রক্ষা করে। 

• বক্ষপিঞ্জর (Thoracic cage): 
- বক্ষদেশীয় ১২টি কশেরুকার সঙ্গে ১২ জোড়া পশুকা যুক্ত হয়ে যে খাঁচার মত আকৃতি গঠন করে তাকে বক্ষপিঞ্জর বলে। 
- এই খাঁচার ভেতরের গহ্বরকে বক্ষগহ্বর বলে, এই গহ্বরে হৃদপিণ্ড ও ফুসফুস অবস্থান করে। 
- দু'পাশের পর্যুকাগুলো স্টার্নাম নামক অস্থির সাথে যুক্ত থাকে। 
- বুকের কেন্দ্রীয় সম্মুখ অংশে অবস্থিত চাপা অস্থিটির নাম স্টার্নাম। 
- এটি ৩টি অংশে বিভক্ত। 
যথা- উপরের ত্রিকোণাকার ম্যানুব্রিয়াম, মাঝের লম্বা দেহ এবং নিচের ক্ষুদ্র জিফয়েড প্রসেস। 
- স্টার্নাম বুকের খাঁচার সামনের অংশ গঠন করে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬৪.
Body Mass Index অনুযায়ী, মোটা হওয়ার দ্বিতীয় স্তরের মান কোনটি? 
  1. ২৫.০-২৯.৯
  2. ৩০.০-৩৪.৯
  3. ৩৫.০-৩৯.৯
  4. ৪০.০ -এর উপরে
ব্যাখ্যা
বিএমআই (Body Mass Index): 
- বিএমআই (Body Mass Index) মানবদেহের গড়ন ও চর্বির একটি সূচক নির্দেশ করে। 
- শরীরের সুস্থতা ও স্থূলতার মান নির্ণয়ে এটি খুবই উপযোগী। 
     বিএমআই = দেহের ওজন (কেজি)/দেহের উচ্চতা (মিটার)২ 

বিএমআই মান ⇒ করণীয়: 
• ১৮.৫ -এর নিচে ⇒ শরীরের ওজন কম। পরিমিত খাদ্যগ্রহণে ওজন বাড়াতে হবে। 
• ১৮.৫-২৪.৯ ⇒ এটি সুস্বাস্থ্যের জন্য আদর্শ মান। 
• ২৫.০-২৯.৯ ⇒ শরীরের ওজন অতিরিক্ত। ব্যায়াম করে অতিরিক্ত ওজন কমানো প্রয়োজন। 
• ৩০.০-৩৪.৯ ⇒ মোটা হওয়ার প্রথম স্তর। বেছে খাদ্যগ্রহণ ও ব্যায়াম করা প্রয়োজন। 
৩৫.০-৩৯.৯ ⇒ মোটা হওয়ার দ্বিতীয় স্তর। পরিমিত খাদ্য গ্রহন ও ব্যায়াম করা প্রয়োজন। 
• ৪০.০ -এর উপরে ⇒ অতিরিক্ত মোটাত্ব।মৃত্যুঝুঁকির আশঙ্কা। ডাক্তারের পরামর্শ প্রয়োজন। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৬৫.
গ্লুকাগন নিঃসৃত হয় কোন গ্রন্থি থেকে?
  1. ক) যকৃত
  2. খ) থাইরয়েড
  3. গ) অগ্ন্যাশয়
  4. ঘ) পিটুইটারি
ব্যাখ্যা
অগ্ন্যাশয়ের আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহেন্স থেকে গ্লুকানল এবং ইনসুলিন নির্গত হয়।
সূত্রঃ ৩৪তম বিসিএসের অনুরূপ প্রশ্ন।
৬৬.
মানুষের পরিপাক নালির গড় দৈর্ঘ্য কত?
  1. ৩–৪ মিটার
  2. ৫–৬ মিটার
  3. ৮–১০ মিটার
  4. ১২–১৫ মিটার
ব্যাখ্যা

- মানুষের পরিপাক নালি মুখ থেকে পায়ু পর্যন্ত বিস্তৃত একটি দীর্ঘ নালি বিশেষ, এর গড় দৈর্ঘ্য সাধারণত ৮-১০ মিটার হয়ে থাকে। প্রাপ্তবয়স্কদের পরিপাক নালী প্রায় ৩০ ফুট (প্রায় ৯ মিটার) লম্বা হতে পারে। 

পরিপাক নালি: 
- মানবদেহে পরিপাক ও পরিশোষণ পরিপাকতন্ত্রের মাধ্যমে সংগঠিত হয়। 
- পরিপাকতন্ত্র পরিপাক নালি ও পরিপাক গ্রন্থি নিয়ে গঠিত। 
- মানুষের পরিপাক নালি মুখ থেকে পায়ু পর্যন্ত ৮-১০ মিটার বিস্তৃত দীর্ঘ নালি বিশেষ যা কোথাও থলির ন্যায় স্ফীত আবার কোথাও কুণ্ডলীকৃত। 
- বিভিন্ন অংশ যেমন- মুখছিদ্র, মুখবিবর, গলবিল, অন্ননালি, পাকস্থলি, ক্ষুদ্রান্ত্র, বৃহদন্ত্র দ্বারা পরিপাক নালি গঠিত। 

ক্ষুদ্রান্ত: 
- পাকস্থলির পাইলোরাস অংশের পর থেকে ইলিওকোলি পর্যন্ত প্রায় ৬-৭ মিটার লম্বা বিস্তৃত অংশ ক্ষুদ্রান্ত। 
- এটি আবার ৩ অংশে বিভক্ত। যথা- ডিওডেনাম, জেজুনাম ও ইলিয়াম। 
- ডিওডেনামে মূলতঃ অগ্ন্যাশয় রসের এনজাইমের ক্রিয়া এবং জেজুনাম ও ইলিয়ামে আন্ত্রিক রসের এনজাইমের ক্রিয়ার পরিপাক ঘটে।

বৃহদন্ত্র: 
- পৌষ্টিকনালির শেষোক্ত বৃহৎ নলাকার অংশ যা ক্ষুদ্রান্ত্রের পর থেকে প্রায় ২ মিটার লম্বা মলাশয় পর্যন্ত বিস্তৃত। 
- বৃহদন্ত্র তিনটি অংশে বিভক্ত। যথা- সিকাম, কোলন ও মলাশয়। 
- সিকাম বৃহদন্ত্রের প্রথম, বড় স্ফীত ও গোলাকার থলের মতো অংশ। সিকাম থেকে একটি ক্ষুদ্র আঙ্গুল ও বন্ধ থলের ন্যায় প্রসারিত অংশকে অ্যাপেনডিক্স বলা হয়। এটি একটি নিষ্ক্রিয় অঙ্গ।

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬৭.
শ্বেত রক্ত কণিকা কোন প্রক্রিয়ায় জীবাণু ধ্বংস করে?
  1. থ্রম্বোপ্লাস্টিন
  2. অটোফ্যাগি
  3. সাইটোকাইনোসিস
  4. ফ্যাগোসাইটোসিস
ব্যাখ্যা
শ্বেত রক্ত কণিকা: 
- শ্বেত কণিকার নির্দিষ্ট কোনো আকার নেই। 
- এগুলো হিমোগ্লোবিনবিহীন এবং নিউক্লিয়াসযুক্ত বড় আকারের কোষ। 
- শ্বেত কণিকার গড় আয়ু ১-১৫ দিন। 
- হিমোগ্লোবিন না থাকার কারণে এদের শ্বেত রক্তকণিকা বলে। 
- ইংরেজিতে White Blood Cell বা WBC বলে। 
- রক্তে এদের সংখ্যা RBC-এর তুলনায় অনেক কম। 
- এরা অ্যামিবার মতো দেহের আকারের পরিবর্তন করে। 
শ্বেত রক্ত কণিকা ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় জীবাণুকে ধ্বংস করে। 
- রক্ত জালিকার প্রাচীর ভেদ করে টিস্যুর মধ্যে প্রবেশ করতে পারে। 
- শ্বেত কণিকাগুলো রক্তরসের মধ্য দিয়ে নিজেরাই চলতে পারে। 
- দেহ বাইরের জীবাণু দ্বারা আক্রান্ত হলে, দ্রুত শ্বেত কণিকার সংখ্যার বৃদ্ধি ঘটে। 
- মানবদেহে প্রতি ঘন মিলিমিটার রক্তে ৪-১০ হাজার শ্বেত রক্তকণিকা থাকে। 
- শিশু ও অসুস্থ মানবদেহে এর সংখ্যা বেড়ে যায়। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৮.
লোহিত রক্ত কণিকার গড় আয়ুষ্কাল কতদিন?
  1. ক) ১ মাস
  2. খ) ২ মাস
  3. গ) ৩ মাস
  4. ঘ) ৪ মাস
ব্যাখ্যা

রক্ত কণিকার মধ্যে লােহিত রক্ত কণিকার সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। এটি শ্বাসকার্যে অক্সিজেন পরিবহনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
লােহিত রক্ত কণিকায় নিউক্লিয়াস থাকে না, দেখতে অনেকটা বৃত্তের মতাে দ্বি-অবতল।
এর গড় আয়ু ১২০ দিন বা ৪ মাস।
লাল অস্থিমজ্জায় লােহিত রক্ত কণিকা তৈরি হয়।
সূত্র: জীববিজ্ঞান ৯ম-১০ম শ্রেণি

৬৯.
মানবদেহের রক্তে রক্তকণিকার শতকরা পরিমাণ -
  1. ৪৫%
  2. ৬৫%
  3. ৫৫%
  4. ৯১%
ব্যাখ্যা
মানবদেহ (রক্ত): 

• রক্ত এক ধরনের তরল যোজক কলা।
• রক্তের উপাদান প্রধানত দুইটি। যথা: রক্তরস (৫৫%) এবং রক্তকণিকা (৪৫%)। 
• রক্তের হালকা হলুদ বর্ণের তরল অংশকে রক্তরস বা প্লাজমা বলে।
• রক্তে ৩ ধরনের কণিকা রয়েছে। যথা- লোহিত রক্ত কণিকা, শ্বেত রক্ত কণিকা এবং অণুচক্রিকা।
• সাধারণত মানুষের শরীরের ওজনের ৮% রক্ত থাকে।
• একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের দেহে রক্তের পরিমাণ ৫-৬ লিটার । 
• রক্ত সামান্য ক্ষারীয়।
•  মানুষের রক্তের PH: 7.35 - 7.45।
• মানবদেহের স্বাভাবিক তাপমাত্রা ৩৭° সেলসিয়াস (৯৮.৬০ ফারেনহাইট)।

উৎস: জীববিজ্ঞান, একাদশ - দ্বাদশ শ্রেণি এবং ব্রিটানিকা।
৭০.
রক্তের লাল রং হওয়ার কারণ কী? 
  1. শ্বেতকণিকার সংখ্যা
  2. হিমোগ্লোবিনের উপস্থিতি
  3. অক্সিজেনের পরিমাণ
  4. কার্বন ডাই-অক্সাইডের উপস্থিতি
ব্যাখ্যা
রক্ত: 
- রক্ত এক ধরনের তরল যোজক কলা। 
- রক্তরস এবং কয়েক ধরনের রক্ত কণিকার সমন্বয়ে রক্ত গঠিত হয়। 
- মানুষ ও অন্যান্য মেরুদন্ডী প্রাণিদেহের রক্ত লাল রঙের হয়। 
- লোহিত রক্ত কণিকায় হিমোগ্লোবিন নামক লৌহঘটিত প্রোটিন জাতীয় পদার্থ থাকায় রক্তের রং লাল হয়। 
- হিমোগ্লোবিন অক্সিজেনের সাথে যুক্ত হয়ে অক্সিহিমোগ্লোবিন যৌগ গঠন করে অক্সিজেন পরিবহন করে। 

রক্তের কাজ: 
- রক্ত দেহের বিভিন্ন ধরনের কাজ করে থাকে। 
যথা- 
- খাদ্য পরিপাকের পর তার সারাংশ রক্তের সাথে মিশ্রিত হয়। রক্ত সেই খাদ্যসারকে দেহের সকল অংশে নিয়ে যায়। এভাবে জীবকোষগুলো পুষ্টি সাধন করে। 
- রক্তের লোহিত কণিকাস্থ হিমোগ্লোবিন অক্সিজেনকে ফুসফুস হতে দেহের বিভিন্ন কোষে পৌঁছায় এবং কোষগুলো হতে কার্বন ডাই-অক্সাইড বহন করে এনে ফুসফুসের মাধ্যমে বাইরে বের করে দেয়। 
- দেহের মধ্যে সর্বদাই দহনক্রিয়া সম্পাদিত হচ্ছে। তাতে বিভিন্ন অঙ্গের মধ্যে যে বিভিন্ন তাপমাত্রার সৃষ্টি হয়, তা রক্তের মাধ্যমে দেহের সর্বত্র পরিব্যাপ্ত হয় এবং এভাবে দেহে তাপের সমতা রক্ষা পায়। 
- নালীবিহীন গ্রন্থিগুলোতে অন্তঃনিসৃত রস সরাসরি রক্তে মিশে, এ রসকে হরমোন বলে। সঞ্চালিত রক্তের দ্বারা হরমোন প্রয়োজন অনুযায়ী দেহের বিভিন্ন অংশে সরবরাহ হয়। 
- রক্তের শ্বেতকণিকা ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় প্রবেশকৃত অবৈধ ক্ষতিকর জীবাণু ধ্বংস করে দেহকে রোগমুক্ত রাখে। 
- দেহের কোনো স্থান কেটে গেলে অণুচক্রিকা রক্ত জমাট বাঁধতে সহায়তা করে, ফলে রক্তপাত বন্ধ হয়। 
- রক্ত দেহের বিভিন্ন প্রকার দুষিত পদার্থ ও বর্জ্য উপাদান ফুসফুস, মূত্রাশয় ও ত্বকে নিয়ে আসে ও সেখান হতে তাদের নিষ্কাশন করতে সহায়তা করে। 

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭১.
কোন বিজ্ঞানী রক্ত-সঞ্চালন পদ্ধতি আবিষ্কার করেন?
  1. ক) আন নাফিস
  2. খ) ইবনে সিনা
  3. গ) উইলিয়াম হার্ভে
  4. ঘ) লুই পাস্তুর
ব্যাখ্যা
ব্রিটিশ বিজ্ঞানী উইলিয়াম হার্ভে ১৬২৮ সালে রক্ত-সঞ্চালন পদ্ধতি আবিষ্কার করেন।
সূত্রঃ ২৯তম বিসিএসের অনুরূপ প্রশ্ন।
৭২.
মানুষ (Homo sapiens) কোন শ্রেণীর প্রাণী?
  1. ত্রিস্তরী
  2. দ্বিস্তরী
  3. একস্তরী 
  4. স্তরবিহীন
ব্যাখ্যা

- ভ্রূণীয় বিকাশের স্তরের ওপর ভিত্তি করে মানুষকে ত্রিস্তরী (Triploblastic) প্রাণী বলা হয়। মানুষের ভ্রূণীয় অবস্থায় তিনটি স্তর যেমন- এক্টোডার্ম (Ectoderm - বহিঃস্তর), মেসোডার্ম (Mesoderm - মধ্যস্তর) এবং এন্ডোডার্ম (Endoderm - অন্তস্তর) পরিলক্ষিত হয়। এই তিনটি স্তর থেকেই পরবর্তীতে মানুষের দেহের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ও তন্ত্র গঠিত হয়। 

ভ্রূণীয় স্তর: 
- ভ্রূণীয় স্তরের উপর ভিত্তি করে প্রাণিজগতকে চার ভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
যথা- 
ক. একস্তরী প্রাণী: 
- এরা সরল ধরনের প্রাণী। 
- এদের দেহের কোষসমূহ একটি মাত্র স্তরে সজ্জিত। 
যেমন- স্কাইফা (Scypha gilatinosum)। 

খ. দ্বিস্তরী প্রাণী: 
- যে সকল প্রাণীর ভ্রূণের কোষগুলো বহিঃস্তর (Ectoderm) ও অন্তঃস্তর (Endoderm) নামক দুটি স্তরে সাজানো থাকে তাদেরকে দ্বিস্তরী প্রাণী বলে। 
যেমন- অরেলিয়া (Aurelia aurita)। 

গ. ত্রিস্তরী প্রাণী: 
- যে সকল প্রাণীর ভ্রূণের কোষগুলো বহিঃস্তর, মধ্যস্তর (Mesoderm) ও অন্তঃস্তর নামক তিনটি স্তরে সাজানো থাকে তাদেরকে ত্রিস্তরী প্রাণী বলে। 
যেমন- মানুষ (Homo sapiens)। 

ঘ. স্তরবিহীন প্রাণী: 
- যে সকল প্রাণীর দেহ একটিমাত্র কোষ দিয়ে গঠিত তাদেরকে স্তরবিহীন প্রাণী বলে। 
যেমন- অ্যামিবা (Amoeba proteus)। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭৩.
স্নায়ুকোষের কত শতাংশ ধ্বংস হলে মস্তিষ্কের ক্ষমতা লোপ পেতে থাকে?
  1. এক-দ্বিতীয়াংশ
  2. এক-তৃতীয়াংশ
  3. এক-চতুর্থাংশ
  4. এক-পঞ্চমাংশ
ব্যাখ্যা
স্নায়ুতন্ত্র: 
- স্নায়ুতন্ত্রের প্রধান অঙ্গ মস্তিষ্ক। 
- স্নায়ুতন্ত্রের গঠন ও কার্যকরী একক কে বলে নিউরন। 
- মস্তিষ্কের নিউরন থাকে ১০ মিলিয়ন। 
- মানুষের মস্তিষ্কের ওজন ১.৩৬ কেজি। 
- মস্তিষ্ককে আবৃতকারী পর্দার নাম মেনিনজেস। 
- মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ এবং রক্ত প্রবাহে বাধা পাওয়াকে বলে স্ট্রোক। 
- স্নায়ুকোষের এক-চতুর্থাংশ বা ২৫% ধ্বংস হয়ে গেলে মস্তিষ্কের ক্ষমতা লোপ পেতে থাকে। 
- স্নায়ুকোষ ধ্বংস হলে মস্তিষ্কের বিভিন্ন প্রকার রোগ যেমন স্মৃতিভ্রংশ, বুদ্ধিবৈকল্য ইত্যাদি হতে পারে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি এবং জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৭৪.
The largest gland in the human body, located in the upper right abdomen, is called:
  1. Thyroid gland
  2. Pancreas
  3. Kidney
  4. Liver
  5. Spleen
ব্যাখ্যা
• যকৃত: 
- যকৃত মানবদেহের সর্ববৃহৎ গ্রন্থি। 
- মধ্যচ্ছদার নিচে পাকস্থলীর ডানপাশে গাঢ় বাদামী বর্ণের ত্রিকোণাকার অঙ্গ। 
- যকৃতের সাথে কলস আকৃতির পিত্তথলি সংযুক্ত থাকে। 
- যকৃত থেকে নিঃসৃত পিত্তরস পিত্তথলিতে জমা থাকে। 
- পিত্তরস ক্ষারীয় গুণসম্পন্ন গাঢ় সবুজ বর্ণের এবং তিক্ত স্বাদবিশিষ্ট। 
- পিত্তনালির মাধ্যমে পিত্তরস যকৃত থেকে ডিওডেনামে আসে। 

- যকৃতে বিভিন্ন রকম জৈব রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে, তাই একে রসায়ন গবেষণাগার বলা হয়। 
- যকৃত পিত্তরস তৈরি করে। 
- ক্ষারীয় পিত্তরস পিত্তথলিতে জামা রাখে। 
- পিত্তরসে কোন এনজাইম থাকে না, তাই যকৃত উদ্বৃত্ত গ্লুকোজ নিজ দেহে গ্লাইকোজেন হিসেবে সঞ্চিত রাখে। 
- রক্তে গ্লুকোজের ঘাটতি হলে গ্লুকোজ সরবরাহ করে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। 

- পিত্তরস চর্বি জাতীয় খাদ্যকে ক্ষুদ্র দানায় পরিণত করে পরিপাকে সহায়তা করে। 
- অতিরিক্ত অ্যামাইনো অ্যাসিড যকৃতে আসার পর রাসায়নিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ইউরিয়া, ইউরিক অ্যাসিড ও নাইট্রোজনজনিত বর্জ্য পদার্থ তৈরি করে এবং স্নেহ জাতীয় পদার্থ শোষণে সাহায্য করে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৫.
নিচের কোনটি লসিকার কাজ নয়? 
  1. পুষ্টি সরবরাহ
  2. প্রজনন
  3. প্রোটিন পরিবহন
  4. দেহ রসের সংবহন
ব্যাখ্যা
- লসিকার কাজ নয়- প্রজনন। 

লসিকা: 
- এক ধরনের পরিবর্তিত ঈষৎ ক্ষারধর্মী স্বচ্ছ কলারস যা লসিকা নালির ভেতর দিয়ে পরিবাহিত হয়ে দেহের সকল কোষকে সিক্ত করে। 
- লসিকায় লোহিত রক্ত কণিকা ও অণুচক্রিকা অনুপস্থিত কিন্তু শ্বেত রক্ত কণিকার সংখ্যা অত্যাধিক। 
- লসিকায় ৯৪% পানি ও ৬% কঠিন পদার্থ থাকে। 
যেমন- প্রোটিন, স্নেহ পদার্থ, কার্বোহাইড্রেট, নাইট্রোজেনযুক্ত পদার্থ, ফসফরাস, সোডিয়াম, ক্লোরাইড, কিছু এনজাইম ও অ্যান্টিবডি। 
- মানুষের দেহে লসিকার পরিমাণ ১-২ লিটার। 

লসিকার কাজ: 
• প্রোটিন পরিবহন: কলার ফাঁকা স্থান থেকে প্রোটিন লসিকার মাধ্যমে রক্তে ফিরে আসে। 
• স্নেহ পরিবহন: যে সব স্নেহ কলা কৈশিক নালির বাধা অতিক্রমে অক্ষম সেগুলো লসিকার মাধ্যমে পরিবাহিত হয়।
• পুষ্টি সরবরাহ: দেহের যে সব কলা কোষে রক্ত পৌঁছাতে পারে না সেখানে লসিকা অক্সিজেন ও পুষ্টি সরবরাহ করে।
• শোষণ: স্নেহ পদার্থ অন্ত্র থেকে শোষিত হয়ে লসিকার মাধ্যমে প্রবাহিত হয়। 
• প্রতিরক্ষা: লসিকায় অবস্থিত প্রচুর শ্বেত কণিকা দেহের প্রতিরক্ষার কাজে নিয়োজিত থাকে। 
• প্রতিরোধ: B-লিম্ফোসাইট থেকে উৎপন্ন অ্যান্টিবডি দেহের প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। 
দেহ রসের সংবহন: রক্ত সংবহনের এক অংশ থেকে অন্য অংশে তরল পদার্থের পরিবহনে অংশ নেয়। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৬.
একটি সিন্টোল ও একটি ডায়াস্টোলের সমন্বয়ে একটি হৃদস্পন্দন সম্পন্ন করতে সময় লাগে-
  1. ০.৫ সেকেন্ড
  2. ০.৮ সেকেন্ড
  3. ০.২ সেকেন্ড
  4. ০.৪ সেকেন্ড
ব্যাখ্যা
হৃদস্পন্দন:
- একটি সিস্টোল ও একটি ডায়াস্টোলের সমন্বয়ে একটি হৃৎস্পন্দন সম্পন্ন হয় এবং
- একটি হৃদস্পন্দনে সময় লাগে প্রায় ০.৮ সেকেন্ড।
- একজন সুস্থ মানুষের হৃৎস্পন্দন প্রতি মিনিটে ৬০-১০০ বার হয়। এটাকে হার্ট-বিট বলা হয়।
- মানুষের হৃৎস্পন্দন শোনা যায় স্টেথোস্কোপ যন্ত্রের মাধ্যমে।

সূত্র: সাধারণ বিজ্ঞান, নবম - দশম শ্রেণি।
৭৭.
মানব দেহের স্বাভাবিক তাপমাত্রা কত?
  1. ক) ৯৮.৪° ফারেনহাইট
  2. খ) ৩৬.৯° ফারেনহাইট
  3. গ) ৩৯.৯° ফারেনহাইট
  4. ঘ) ৯৪.৯° ফারেনহাইট
ব্যাখ্যা
মানবদেহের স্বাভাবিক তাপমাত্রা হলো ৩৬.৯° সেলসিয়াস অর্থাৎ ৯৮.৪° ফারেনহাইট।
মানবদেহের তাপমাত্রা নির্ণয়ের জন্য ব্যবহৃত হয় ক্লিনিক্যাল থার্মোমিটার।

সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
৭৮.
মানবদেহে অটোসোমের সংখ্যা কত?
  1. ২২ জোড়া
  2. ২৬ জোড়া
  3. ২৩ জোড়া
  4. ১ জোড়া
ব্যাখ্যা

• মানুষের প্রতিটি দেহকোষে মোট ২৩ জোড়া (৪৬টি) ক্রোমোসোম থাকে। এর মধ্যে ২২ জোড়া ক্রোমোসোম নারী ও পুরুষের দেহে একই রকম এবং এগুলো দেহের সাধারণ বৈশিষ্ট্য বা দৈহিক গঠন নিয়ন্ত্রণ করে, যাদের অটোসোম বলা হয়।
- বাকি ১ জোড়া হলো সেক্স ক্রোমোসোম।

ক্রোমোজোম: 
- বংশগতির প্রধান উপাদান হচ্ছে ক্রোমোজোম। 
- এটি নিউক্লিয়াসের অন্যতম বস্তু। 
- Strasburger (১৮৭৫) নিউক্লিয়াসে ক্রোমোজোম আবিষ্কার করেন কিন্তু তিনি এর নামকরণ করেননি। 
- Weldeyer ১৮৮৮ সালে সর্বপ্রথম ক্রোমোজোম শব্দটি ব্যবহার করেন। 
- প্রত্যেক প্রজাতির নিউক্লিয়াসে একটি নির্দিষ্ট সংখ্যক ক্রোমোজোম থাকে। 
- মানবদেহের প্রতিটি কোষে ২৩ জোড়া বা ৪৬টি ক্রোমোজোম থাকে। 
- এ ২৩ জোড়া ক্রোমোজোমের মধ্যে ২২ জোড়া ক্রোমোসোমকে বলা হয় অটোসোম। 
- অটোসোম দেহের নানা প্রকার গঠন প্রণালি ও জৈবিক কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। 
- লিঙ্গ নির্ধারণে এদের কোনও ভূমিকা নেই। 
- অপর এক জোড়া ক্রোমোজোমকে বলা হয় সেক্স ক্রোমোসোম বা লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোসোম। 
- সন্তান ছেলে না মেয়ে হবে তা নির্ধারণ করে লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোজোম। 
- লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোজোম জোড়াকে X এবং Y নামে চিহ্নিত করা হয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭৯.
মানুষের মাথার চুলে স্বাভাবিকভাবে কোন প্রকার প্রাকৃতিক তেল উৎপন্ন হয়?
  1. সানফ্লাওয়ার অয়েল
  2. মিনারেল অয়েল
  3. সিবাম অয়েল
  4. গ্লিসারিন অয়েল
ব্যাখ্যা
প্রসাধনী: 
- বিভিন্ন ধরনের প্রসাধনীর মধ্যে pH মান নিয়ন্ত্রণ করা হয়। 
- শরীরের ত্বকের জন্য আদর্শ pH মান 5.5 । 
- ত্বকের pH মান 5.5 থেকে 6.5 এর মধ্যে থাকলে ত্বক বিভিন্ন এলার্জেন ও ব্যাকটেরিয়া আক্রমনকে প্রতিরোধ করতে পারে। 
- ত্বকের pH মান আদর্শ সীমার চেয়ে বেশি বা কম হলে ত্বকের কোমলতা ও সৌন্দর্য বিনষ্ট হয়। 
- মানুষের মাথার চুলে রয়েছে সেবাম (Sebum) নামক এক প্রকার প্রাকৃতিক তেল, এর pH মান হলো 5.0 । 
- চুলের পরিচর্যায় যে কোনো প্রকার স্যাম্পুর pH মান 5.5 এর কাছাকাছি থাকাই উচিত। 
- চুলের pH মান 6 এর উপর গেলে চুল মসৃণতা হারিয়ে ফেলে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮০.
নিচের কোন গ্রন্থি থেকে ইনসুলিন নির্গত হয়? 
  1. প্যারোটিড
  2. পিটুইটারি
  3. সাবম্যান্ডিবুলার
  4. আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহ্যান্স
ব্যাখ্যা
ডায়বেটিস: 
- বহুমূত্র রোগ বা ডায়াবেটিস মেলিটাস এক ধরনের বিপাকজনিত রোগ। 
- ইনসুলিনের অভাবে ডায়াবেটিস রোগ হয়। 
- প্যানক্রিয়াস থেকে ইনসুলিন নামক এক ধরনের হরমোন নির্গত হয়, যা রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণকে কমিয়ে দেয়। 
- অগ্ন্যাশয়ের আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহেন্স থেকে গ্লুকানল এবং ইনসুলিন হরমোন নির্গত হয় যা রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। 
- ডায়াবেটিস রোগে ইনসুলিন ব্যবহৃত হয়। 
- কারো ডায়াবেটিস হলে প্যানক্রিয়াস যথেষ্ট ইনসুলিন নির্গত করতে পারে না, কিংবা শরীর ইনসুলিনকে ব্যবহার করতে পারে না। 
- যে কারণে গ্লুকোজের পরিমাণ বেড়ে যায়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৮১.
নিচের কোনটি রক্তের প্লাজমা প্রোটিন নয়?
  1. ক) অ্যালবুমিন
  2. খ) ইউরিয়া
  3. গ) প্রোথ্রম্বিন
  4. ঘ) ফাইব্রিনোজেন
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা:
রক্তে জৈব পদার্থের ভিতরে প্লাজমা প্রোটিন এর পরিমাণ প্রায় ৭.৫%। প্লাজমা প্রোটিন এর মধ্যে অ্যালবুমিন, গ্লোবিউলিন, প্রোথ্রম্বিন, ফাইব্রিনোজেন প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য।
রক্তে বিদ্যমান নাইট্রোজেনঘটিত রেচন পদার্থের মধ্যে রয়েছে ইউরিয়া, ইউরিক এসিড, ক্রিয়েটিনিন, জ্যানথিন, অ্যামোনিয়া ইত্যাদি।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক প্রাণিবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

৮২.
মানুষের শিশু বয়সে যে দুধদাঁত বা অস্থায়ী দাঁত ওঠে, তার মোট সংখ্যা কত?
  1. ১২টি
  2. ১৬টি
  3. ১৮টি
  4. ২০টি 
ব্যাখ্যা

দাঁত (Tooth): 
- মাছ, সরিসৃপ এবং সমস্ত মেরুদন্ডী প্রাণির (স্তন্যপায়ী বাদে) দাঁত আজীবন অসংখ্যবার পড়তে ও উঠতে থাকে কিন্তু স্তন্যপায়ীদের (যেমন: মানুষ) দাঁত সারা জীবন মাত্র দুবার গজায়। 
- মানব শিশুদের অস্থায়ী দাঁত বা দুধদাঁতের সংখ্যা ২০ টি, যেগুলো পড়ে গিয়ে পরবর্তীতে ১৮ বছরের মধ্যে উপরে ও নিচের চোয়ালে ১৪-১৬ টি করে মোট ২৮-৩২ টি পর্যন্ত স্থায়ী দাঁত ওঠে। 
- মানুষের স্থায়ী দাঁত চার ধরনের। 
যেমন- 
১। কর্তন দাঁত (Incisor): এই দাঁত দিয়ে খাবার কেটে টুকরা করা হয়। 
২। ছেদন দাঁত (Canine): এই দাঁত দিয়ে খাবার ছেঁড়া হয়। 
৩। অগ্রপেষণ দাঁত (Premolar): এই দাঁত দিয়ে চর্বণ, পেষণ উভয় কাজ করা হয়। 
৪। পেষণ দাঁত (Molar): এই দাঁত খাদ্যবস্তু চর্বণ ও পেষণে ব্যবহৃত হয়। 

- মাড়ির সবচেয়ে পেছনের বা শেষের দাঁত দুটোকে আক্কেল দাঁত বলা হয়। 
- প্রতিটি প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের ৮ টি কর্তন দাঁত, ৪ টি ছেদন দাঁত, ৮ টি অগ্রপেষণ দাঁত, ৮ টি পেষণ দাঁত এবং ০-৪ টি আক্কেল দাঁত থাকে। 
- প্রতিটি দাঁতের তিনটি অংশ থাকে। 
১। মুকুট: মাড়ির উপরের অংশ, 
২। মূল: মাড়ির ভিতরের অংশ এবং 
৩।  গ্রীবা: দাঁতের মধ্যবর্তী অংশ। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৮৩.
নিচের কোন গ্রন্থিটি ইনসুলিন নিঃসরণ করে?
  1. অ্যাড্রেনালিন
  2. পিটুইটারি
  3. থাইম্যান
  4. অগ্ন্যাশয়
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• ইনসুলিন:
- ইনসুলিন একটি হরমোন।
- ইহা অগ্ন্যাশয়ের Islets of langerhans এর বিটা কোষ থেকে নিঃসৃত হয় যা রক্তে বিদ্যমান গ্লুকোজকে দেহ কোষে প্রবেশে সাহায্য করে।
- এর ফলে গ্লুকোজের উচ্চ মাত্রা হ্রাসপ্রাপ্ত হয়ে স্বাভাবিক মাত্রায় ফিরে আসে।
- কোন কারণে অগ্ন্যাশয় থেকে ইনসুলিন নিঃসৃত না হলে বা কম নিঃসৃত হলে অথবা নিঃসৃত ইনসুলিন অকার্যকর হলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বেড়ে যায় অর্থাৎ ডায়াবেটিস রোগ হয়।
- এ অবস্থায় ডায়াবেটিক রোগীকে ইনসুলিন ইনজেকশন নিতে হয়।
- বাংলাদেশে এ ধরনের রোগীর সংখ্যা লক্ষ লক্ষ।
- ইনসুলিন ৫১টি অ্যামাইনো অ্যাসিড নিয়ে গঠিত ক্ষুদ্রাকার সরল প্রোটিন।
- দুটি পলিপেপটাইড চেইন (২১টি অ্যামাইনো অ্যাসিড নিয়ে গঠিত চেইন-A এবং ৩০টি অ্যামাইনো অ্যাসিড নিয়ে গঠিত চেইন-B) দুটি ডাইসালফাইড বন্ডের মাধ্যমে সংযুক্ত হয়ে একটি ইনসুলিন অণু গঠন করে।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৪.
অক্সিজেন সমৃদ্ধ রক্ত পরিবহণ করে কোনটি?
  1. ক) কৈশিকনালী
  2. খ) শিরা
  3. গ) ধমনি
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
- যে সকল রক্তবাহী নালি হৃৎপিন্ড থেকে উৎপন্ন হয়ে দেহের বিভিন্ন অঙ্গে রক্ত বহন করে, তাকে ধমনি বলে। 
- ধমনির প্রাচীর পুরু গহ্বর ছোট এবং এর গহ্বরে কপাটিকা থাকে না।
- ধমনি অক্সিজেন সমৃদ্ধ রক্ত পরিবহন করে।

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি
৮৫.
অলিন্দের সম্প্রসারণের স্থিতিকাল কত?
  1. ০.৭ সেকেন্ড
  2. ০.৫ সেকেন্ড
  3. ০.১ সেকেন্ড
  4. ০.৩ সেকেন্ড
ব্যাখ্যা
হৃদচক্র: 
- হৃদপিণ্ডের সংকোচন ও প্রসারণের ফলে রক্ত দেহের অভ্যন্তরে গতিশীল থাকে। 
- এমনকি বিশ্রামরত অবস্থায়ও এর সংকোচন ও প্রসারণ চক্রাকারে চলতে থাকে। 
- হৃদপিণ্ডের প্রকোষ্ঠগুলোর সংকোচনকে সিস্টোল এবং সম্প্রসারণকে ডায়াস্টোল বলে। 
- এক বারের সিস্টোল ও ডায়াস্টোলকে একত্রে হৃদস্পন্দন বা হার্টবিট (Heart Beat) বলে। 
- একজন প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষের হৃদপিণ্ডের স্বাভাবিক স্পন্দনের হার প্রতি মিনিটে ৭০-৮০ বার, গড়ে ৭৫ বার। 
- হৃদপিণ্ডের প্রতি স্পন্দনে হৃদপিণ্ডের সংকোচন ও প্রসারণের যে চক্রাকার প্রক্রিয়ার পুনরাবৃত্তি ঘটে তাকে হৃদচক্র বা কার্ডিয়াক চক্র বলে। 
- কার্ডিয়াক চক্র চলাকালীন হৃদপিণ্ডের মধ্যে কিভাবে রক্ত সংবহন হয় তা পর্যায়ক্রমিক ৪টি দশায় সম্পন্ন হয়। 
যেমন- 
ক. অলিন্দের সংকোচন (Atrial diastole), 
খ. অলিন্দের সম্প্রসারণ (Atrial systole), 
গ. নিলয়ের সংকোচন (Ventricular systole) এবং 
ঘ. নিলয়ের সম্প্রসারণ (Ventricular diastole)। 

অলিন্দের সম্প্রসারণ: 
- অলিন্দের সম্প্রসারণের স্থিতি ০.৭ সেকেন্ড। 
- এ সময় অলিন্দ দুটি প্রসারিত অবস্থায় থাকে। 
- এতে ডান অলিন্দটি সুপিরিয়র ভেনাক্যাভা ও ইনফিরিয়র ভেনাক্যাভা এর মাধ্যমে এবং বাম অলিন্দটি পালমোনারি শিরার মাধ্যমে রক্ত গ্রহণ করে। 
- এ সময় অলিন্দ নিলয়ী কপাটিকাগুলো বন্ধ থাকে। 
- অলিন্দের প্রসারণ সমাপ্তি হওয়ার পরপরই আবার অলিন্দের সংকোচন প্রক্রিয়া শুরু হয়। 

অন্যদিকে, 
- অলিন্দের সংকোচনের স্থিতি ০.১ সেকেন্ড। 
- নিলয়ের সংকোচনের স্থিতি ০.৩ সেকেন্ড। 
- নিলয়ের সম্প্রসারণের স্থিতি ০.৫ সেকেন্ড। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৬.
রক্তে Platelet এর কাজ কী?
  1. অক্সিজেন পরিবহন করা
  2. রক্তের ঘনত্ব ও সান্দ্রতা রক্ষা করা
  3. রক্তের PH ঠিক রাখা
  4. রক্ত জমাট বাধতে সাহায্য করা
ব্যাখ্যা
• অণুচক্রিকার কাজ:
(i) অস্থায়ী প্লেটলেট প্লাগ (platelet plug) সৃষ্টির মাধ্যমে রক্তপাত বন্ধ করে।
(ii) রক্তজমাট ত্বরান্বিত করতে বিভিন্ন ক্লটিং ফ্যাক্টর (clotting factor) ক্ষরণ করে।
(iii) প্রয়োজন শেষে রক্তজমাট বিগলনে সাহায্য করে।
(iv) ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাস ধ্বংস করে।
(v) দেহের কোথাও ব্যথার সৃষ্টি হলে নিউট্রোফিল ও মনোসাইটকে আকৃষ্ট করতে রাসায়নিক পদার্থ ক্ষরণ করে।
(vi) রক্তবাহিকার এন্ডোথেলিয়ামের অন্তঃপ্রাচীর সুরক্ষার জন্য গ্রোথ-ফ্যাক্টর ক্ষরণ করে।
(vii) সেরোটনিন (serotonin) নামক রাসায়নিক পদার্থ ক্ষরণ করে রক্তপাত বন্ধের উদ্দেশে রক্তবাহিকাকে দ্রুত সঙ্কোচনে উদ্বুদ্ধ করে।
(viii) স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি অণুচক্রিকা থাকলে রক্তনালির ভিতরে অদরকারী রক্তজমাট সৃষ্টি, স্ট্রোক ও হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনাকে বাড়িয়ে দেয়।

অন্যদিকে,
- লোহিত রক্তকনিকার কাজ:
- অক্সিজেন পরিবহন করা।
- ঘনত্ব ও সান্দ্রতা রক্ষা করা
- রক্তের PH ঠিক রাখা

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৮৭.
মানবদেহের কোন অংশে বহিঃশ্বসন প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয়?
  1. রক্তনালিতে
  2. অগ্ন্যাশয়ে
  3. কোষের অভ্যন্তরে
  4. ফুসফুসের অ্যালভিওলাসে
ব্যাখ্যা

শ্বসন: 
- যে শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ায় প্রাণী বিরামহীনভাবে পরিবেশ থেকে অক্সিজেন (O2) গ্রহণ করে, সে অক্সিজেনের সাহায্যে কোষ মধ্যস্থ সরল খাদ্যকে জারিত করে খাদ্যস্থিত স্থিতিশক্তিকে গতিশক্তিতে রূপান্তর করে এবং এতে উৎপন্ন কার্বন ডাই-অক্সাইডকে (CO2) দেহ হতে ত্যাগ করে তাকে শ্বসন (Respiration) বলে।
- শ্বসনের দুইটি পর্যায় থাকে। 
যথা- ১। বহিঃশ্বসন (External respiration) ও ২। অন্তঃশ্বসন (Internal respiration)। 
- ফুসফুসের অ্যালভিওলাসের বায়ুর সাথে ফুসফুসীয় রক্ত জালিকার মধ্যে প্রশ্বাস ও নিশ্বাসের সময় যে গ্যাসীয় আদান প্রদান হয় তাকে বহিঃশ্বসন বলে। 
- অপরদিকে রক্তের মাধ্যমে অক্সিজেন (O2) দেহের কলাকোষে প্রবেশ করে কোষস্থ খাদ্যের সাথে বিক্রিয়া করে শক্তি, কার্বন ডাইঅক্সাইড (CO2) ও পানি উৎপাদন করার প্রক্রিয়াকে অন্তঃশ্বসন বলে। 
- এতে নিম্নের রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে- 
 
- যে সকল অঙ্গ সম্বিলিতভাবে দেহ ও প্রকৃতির মধ্যে শ্বসন গ্যাস (O2 ও CO2) বিনিময় প্রক্রিয়ায় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে তাদের সমষ্টিকে শ্বসনতন্ত্র বলে। 
- শ্বসনতন্ত্র রক্তে অক্সিজেন সরবরাহ করে এবং বিপাকে সৃষ্ট গ্যাসীয় বর্জ্য অপসারণ করে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮৮.
রক্ত দেহের বিভিন্ন অঙ্গ থেকে হৃৎপিন্ডে বহন করে নিয়ে আসে যে নালী তাকে কী বলে?
  1. ভেইন
  2. আর্টারি
  3. ক্যাপলারি
  4. নার্ভ
ব্যাখ্যা
• রক্তনালী:
- যেসব রক্তনালির মাধ্যমে রক্ত হৃৎপিণ্ড থেকে দেহের বিভিন্ন অংশে বাহিত হয়, তাকে ধমনি বা আর্টারি বলে।
- যে সব রক্তনালীর মাধ্যমে সাধারণত কার্বন ডাই-অক্সাইডসমৃদ্ধ রক্ত দেহের বিভিন্ন অঙ্গ থেকে হৃৎপিন্ডে বহন করে নিয়ে আসে, তাদের শিরা (Vein) বলে।
- ক্যাপিলারি হলো ক্ষুদ্র রক্তনালী যা আর্টারি ও ভেইনের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করে।

অন্যদিকে,
- নার্ভ হলো স্নায়ুতন্ত্রের অংশ, যা রক্তনালী নয় এবং রক্ত বহন করে না।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণী।
৮৯.
কোন পদার্থের উপস্থিতিতে মূত্রের রং হালকা হলুদ হয়?
  1. ইউরিয়া
  2. ক্রিয়েটিনিন
  3. ইউরোক্রোম
  4. অ্যামোনিয়া
ব্যাখ্যা
• ইউরোক্রোম নামক রঞ্জক পদার্থের উপস্থিতিতে মূত্রের রং হালকা হলুদ হয়। 

• মূত্র:
- নেফ্রনের রেনাল টিউবিউলসে গ্লোমেরুলার ফিলট্রেটের নির্বাচিত পুনঃশোষণের পর যে খড় বর্ণের, তীব্র ঝাঁঝালো গন্ধযুক্ত ও অম্লধর্মী তরল রেচন বর্জ্য মূত্রথলিতে জমা হয় তাকে মূত্র বলে।

• একজন সুস্থ মানুষ দৈনিক গড়ে ১.৫ লিটার মূত্র ত্যাগ করে।
- মূত্রের রাসায়নিক উপাদানের মধ্যে ৯৫% (৯৫-৯৭%) পানি এবং ৫% (৩-৫%) কঠিন পদার্থ। কঠিন পদার্থের মধ্যে জৈব ও অজৈব উপাদান রয়েছে।
- খাদ্যে তরল পদার্থের পরিমাণ বেশি থাকলে মূত্রের মাত্রা বৃদ্ধি পায় ও শরীরে ঘাম বেশি হলে মূত্রের পরিমাণ কমে যায়।
- খাদ্যের প্রকৃতিও অনেক সময় মূত্রের পরিমাণের পার্থক্য ঘটায়। লবণাক্ত খাবার সাধারণত মূত্রের পরিমাণ বাড়ায়।

• দেহে দৈনিক স্বাভাবিকের চেয়ে অতিরিক্ত মূত্র (> ২.৫ লিটার) উৎপাদিত হলে তাকে পলিউরিয়া (polyuria),
- মূত্রের পরিমাণ <৪০০ মি.লি. হলে অলিগোরিয়া (oliguria) এবং
- মূত্রের পরিমাণ<১০০ মি.লি. হলে অ্যানুরিয়া (anuria) বলে।
• কিছু দ্রব্য মূত্রের স্বাভাবিক প্রবাহকে বাড়িয়ে দেয়। এসব দ্রব্য ডাইইউরেটিকস (diuretics) বা মূত্রবর্ধক নামে পরিচিত। পানি, লবণাক্ত পানি, চা ও কফি এ ধরনের দ্রব্য।

• মূত্রের বৈশিষ্ট্য:
→ বর্ণ: স্বাভাবিক মূত্র হালকা হলুদ বা খড় বর্ণের (straw colour)। মূত্রে ইউরোক্রোম (urochrome) নামক রঞ্জক পদার্থ থাকায় মূত্রের রং হালকা হলুদ হয়। 
→ পরিমাণ: প্রাপ্ত বয়স্ক লোকের মূত্রের পরিমাণ ৫০০-২৫০০ মিলিলিটার। পানি পানের মাত্রা, খাদ্যের ধরন ইত্যাদির ওপর মূত্রের উৎপাদন নির্ভর করে।
→ আপেক্ষিক গুরুত্ব: মূত্রের স্বাভাবিক আপেক্ষিক গুরুত্ব ১.০১- ১.৫০।
→ বিক্রিয়া: তাজা মূত্র স্বচ্ছ ও হালকা অম্লধর্মী। মূত্রের গড় pH মান হচ্ছে প্রায় ৬.৫। 
→ গন্ধ: মূত্রের গন্ধ অনেকটা অ্যারোমেটিক (aromatic)। মূত্রে জৈবপদার্থ থাকার জন্য এমন গন্ধ হয়। এছাড়া দুর্গন্ধযুক্ত পদার্থ ইউরিনোড এর উপস্থিতির জন্য মূত্রে গন্ধ হয়।
- স্বাভাবিক মূত্রকে ফেলে রাখলে অ্যামোনিয়ার গন্ধ হয়। মূত্রের ইউরিয়া জীবাণুর সংস্পর্শে এসে অ্যামোনিয়ায় রূপান্তরিত হয়।

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি। 
- জীববিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, গাজী আজমল।
৯০.
বিলিরুবিন দেহের কোথায় তৈরি হয়? 
  1. যকৃতে
  2. প্লীহাতে
  3. কিডনিতে
  4. পিত্তথলিতে
ব্যাখ্যা
বিলিরুবিন: 
- বিলিরুবিন পুরোপুরি তৈরি হয় যকৃতে এবং অস্থিমজ্জায় এবং এটি জমা থাকে প্লীহাতে। 
- বিলিরুবিন এক ধরণের হলুদ রঙের পদার্থ, যা রক্তে উপস্থিত লাল রক্ত কনিকার ১২০ দিনের চক্র পূরণ হলে ভেঙ্গে তৈরি হয়। 
- বিলিরুবিনে বিলি থাকে, যেটা লিভারে তৈরি পাচক তরল পদার্থ এবং এটি গলব্লাডারে থাকে। 
- এটা খাবারকে হজম করতে এবং মল তৈরি হতে সাহায্য করে। 
- জন্ডিস হবার মূল কারণ হল রক্তে বিলিরুবিনের মাত্রা অধিক পরিমাণে বেড়ে যাওয়া। 
- যদি কোন কারণের ফলে বিলিরুবিন বিলির সাথে মিশতে না পারে কিংবা যখন লাল রক্ত কণিকা সামান্য থেকে কম পরিমাণে ভাঙতে শুরু করে, তখন রক্তে বিলিরুবিনের স্তর দ্রুত বাড়তে থাকে। আর এই ভাবে এটা অন্য অঙ্গে পৌঁছে সেখানে হলুদ ভাবের সৃষ্টি করে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং উচ্চ মাধ্যমিক প্রাণিবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৯১.
ইনসুলিনের প্রধান কাজ কী? 
  1. রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ বৃদ্ধি করা
  2. রক্তের গ্লুকোজ দেহকোষের প্রবেশে সাহায্য করা
  3. রক্তে গ্লুকোজকে ইউরিয়াতে রূপান্তর করা
  4. রক্তে গ্লুকোজকে গ্লাইকোজেনে রূপান্তর রোধ করা 
ব্যাখ্যা
ইনসুলিন: 
- ইনসুলিন একটি হরমোন। 
- ইনসুলিন অগ্ন্যাশয়ের Islets of langerhans এর বিটা কোষ থেকে নিঃসৃত হয় যা রক্তে বিদ্যমান গ্লুকোজকে দেহ কোষে প্রবেশে সাহায্য করে। 
- এর ফলে গ্লুকোজের উচ্চ মাত্রা হ্রাসপ্রাপ্ত হয়ে স্বাভাবিক মাত্রায় ফিরে আসে। 
- কোনো কারণে অগ্ন্যাশয় থেকে ইনসুলিন নিঃসৃত না হলে বা কম নিঃসৃত হলে অথবা নিঃসৃত ইনসুলিন অকার্যকর হলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বেড়ে যায় অর্থাৎ ডায়াবেটিস রোগ হয়। 
- এ অবস্থায় ডায়াবেটিক রোগীকে ইনসুলিন ইনজেকশন নিতে হয়। 
- ইনসুলিন ৫১টি অ্যামাইনো অ্যাসিড নিয়ে গঠিত ক্ষুদ্রাকার সরল প্রোটিন। 
- দুটি পলিপেপটাইড চেইন (২১টি অ্যামাইনো অ্যাসিড নিয়ে গঠিত চেইন A এবং ৩০টি অ্যামাইনো অ্যাসিড নিয়ে গঠিত চেইন B) দুটি ডাইসালফাইড বন্ডের মাধ্যমে সংযুক্ত হয়ে একটি ইনসুলিন অণু গঠন করে। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯২.
"প্যারাইটাল লোব" - নিচের কোন অঙ্গাণুর অংশবিশেষ?
  1. অগ্র মস্তিষ্ক
  2. মধ্য মস্তিষ্ক
  3. পশ্চাৎ মস্তিষ্ক
  4. যকৃত
ব্যাখ্যা
মস্তিষ্ক:
- কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের যে স্ফীত অংশ করোটির মধ্যে অবস্থান করে এবং মানবদেহের সকল কার্যাবলী নিয়ন্ত্রণ করে তাকে মস্তিষ্ক বলে।
- ভ্রূণীয় বিকাশের সময় এক্টোডার্ম থেকে সৃষ্ট নিউরাল টিউবের সামনের অংশ স্ফীত হয়ে মস্তিষ্ক গঠন করে।
- প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের মস্তিষ্কের আয়তন প্রায় ১৫০০ ঘন সেন্টিমিটার, গড় ওজন প্রায় ১.৩৬ কেজি এবং প্রায় ১০০ বিলিয়ন নিউরন থাকে।
- মস্তিষ্ক স্নায়ুতন্ত্রের সবচেয়ে বড় জটিল ও গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
- মানব মস্তিষ্ক ৩টি প্রধান অংশে বিভক্ত।
যথা- অগ্রমস্তিষ্ক, মধ্যমস্তিষ্ক ও পশ্চাৎ মস্তিষ্ক।

অগ্রমস্তিষ্ক:
- অগ্রমস্তিষ্ক মস্তিষ্কের প্রধান অংশ গঠন করে।
- এটি তিন অংশে বিভক্ত।
যথা- সেরেব্রাম, থ্যালামাস ও হাইপোথ্যালামাস।

সেরেব্রাম:
- মানব মস্তিষ্কের সবচেয়ে বড় অংশের নাম সেরেব্রাম।
- মস্তিষ্কের সবচেয়ে বড় অংশ (মস্তিষ্কের প্রায় ৮০% গঠন করে) এবং মস্তিষ্কের অন্যান্য অংশকে ঢেকে রাখে।
- দুটি সেরেব্রাল হেমিস্ফিয়ার সমন্বয়ে সেরেব্রাম গঠিত।
- খণ্ডদুটি ভেতরের দিকে কর্পাস ক্যালোসাম নামে চওড়া স্নাযুগুচ্ছ দিয়ে যুক্ত।
- প্রতিটি সেরেব্রাল হেমিস্ফিয়ার ৫টি খণ্ডে বিভক্ত।

যথা- ফ্রন্টাল লোব, প্যারাইটাল লোব, অক্সিপিটাল লোব, টেম্পোরাল লোব ও লিম্বিক লোব।
- সেরেবেলাম হলো পশ্চাৎমস্তিষ্কের সবচেয়ে বড় অংশ।

উৎস:
১) প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২) জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।
৯৩.
অস্থির কেন্দ্রস্থলে কোনটি থাকে?
  1. কলাজেন
  2. ল্যাকুনা
  3. মজ্জাগহ্বর
  4. কনড্রিন
ব্যাখ্যা

অস্থির গঠন: 
- ম্যাট্রিক্সের জৈব উপাদানের সাথে ক্যালসিয়াম কার্বোনেট ও ক্যালসিয়াম ফসফেট জাতীয় অজৈব লবণ জমা হয়ে যে দৃঢ় ও কঠিন ভারবাহী কলা সৃষ্টি হয় তাকে অস্থি বলে। 
- এটি মূলতঃ অস্থিকোষ ও ম্যাট্রিক্স দ্বারা গঠিত। 
- ম্যাট্রিক্স এর ৪০% জৈব পদার্থ ও ৬০% অজৈব পদার্থ। 
- অস্থিতে ৩ প্রকার অস্থিকোষ থাকে। 
যথা- অস্টিওসাইট, অস্টিওব্লাস্ট ও অস্টিওক্লাস্ট। 
- সকল অস্থিকলার চারদিকে পেরিঅস্টিয়াম নামক তন্ত্রময় আবরণ থাকে। 
- এন্ডোঅস্টিয়াম নামক অপর একটি আবরণ অস্থির মজ্জাগহ্বরকে অস্থি থেকে পৃথক করে রাখে। 
- অস্থির কেন্দ্রস্থলে মজ্জাগহ্বর থাকে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯৪.
হৃদপিণ্ডের প্রাথমিক রোগ নির্ণয়ে নিচের কোনটি সাহায্য করতে পারে?
  1. ক) ইইজি
  2. খ) ইসিজি
  3. গ) বায়োপসি
  4. ঘ) সিটি স্ক্যান
ব্যাখ্যা

- হৃদপিণ্ডের প্রাথমিক রোগ নির্ণয়ে ইসিজি সাহায্য করে।
- ইইজি সাধারণত মস্তিষ্কের মৃগীরোগ শনাক্তকরণে সাহায্য করে।
- কোনো টিউমার বা ক্যান্সার শনাক্তের জন্য বায়োপসি পরীক্ষার প্রয়োজন হয়।
- সিটি স্ক্যান এর সাহায্যে সাধারণত শরীরের বিভিন্ন স্থানের হাড়ের অবস্থা এবং মস্তিষ্কের স্ট্রোক নির্ণয়ে সাহায্য করে।

৯৫.
নিচের কোনটিকে "দেহের রসায়ন গবেষণাগার" বলা হয়?
  1.  যকৃত
  2. হৃদপিণ্ড
  3. মস্তিষ্ক
  4. পাকস্থলী
ব্যাখ্যা

যকৃতকে 'দেহের রসায়ন গবেষণাগার' বা 'জৈব রসায়নের কারখানা' বলার কারণ হলো এটি মানবদেহের প্রায় সকল প্রকার রাসায়নিক প্রক্রিয়া, সংশ্লেষণ এবং বিশোধন নিয়ন্ত্রণ করে। 

যকৃত (Liver):
- যকৃত মানবদেহের সর্ববৃহৎ গ্রন্থি।
- এটি মধ্যচ্ছদের নিচে, পাকস্থলীর ডান পাশে অবস্থিত।
- যকৃতের রঙ গাঢ় বাদামি এবং এটি আকারে ত্রিকোণাকার।
- যকৃতের নিচে কলস আকৃতির পিত্তথলি (Gallbladder) সংযুক্ত থাকে।

যকৃতের কার্যাবলি:
- যকৃত থেকে ক্ষারীয় প্রকৃতির গাঢ় সবুজ বর্ণের পিত্তরস নিঃসৃত হয়।
- পিত্তরস পিত্তথলিতে জমা থাকে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী -পিত্তনালির মাধ্যমে ডিওডেনামে প্রবাহিত হয়।
- পাচন প্রক্রিয়ায় সাহায্য করে।
- রক্তের গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণ করে (গ্লাইকোজেন সংরক্ষণ ও মুক্তি)।
- প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট ও ফ্যাট বিপাক ঘটায়।
- দেহের বিষাক্ত পদার্থ অপসারণ করে (ডিটক্সিফিকেশন)।
- রক্তে কোলেস্টেরল ও হরমোন নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে।
- যকৃতে বিভিন্ন জৈব রাসায়নিক বিক্রিয়া সংঘটিত হয়, তাই একে "দেহের রসায়ন গবেষণাগার" বলা হয়।

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯৬.
হৃদপিন্ডের প্রকোষ্ঠের সংখ্যা কত?
  1. 2
  2. 3
  3. 4
  4. 5
ব্যাখ্যা

মানুষের হৃদপিন্ডে ৪টি প্রকোষ্ঠ (chambers) থাকে, যা রক্ত প্রবাহের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

হৃদপিন্ড:
- মানুষের হৃদপিণ্ড একটি পেশিবহুল অঙ্গ যা রক্ত সংবহনতন্ত্রের মাধ্যমে সারা শরীরে রক্ত পাম্প করে।
- এটি চারটি প্রকোষ্ঠ বা চেম্বার নিয়ে গঠিত: দুটি অলিন্দ (atria) এবং দুটি নিলয় (ventricles)।
- উপরের দুটি ছোট প্রকোষ্ঠকে অলিন্দ (ডান অলিন্দ ও বাম অলিন্দ) বলা হয়, যা সারা শরীর থেকে রক্ত গ্রহণ করে।
- নিচের দুটি বড় ও পুরু প্রকোষ্ঠকে নিলয় (ডান নিলয় ও বাম নিলয়) বলা হয়, যা রক্ত পাম্প করে শরীরের বিভিন্ন অংশে পাঠায়।
- অলিন্দ এবং নিলয়ের মাঝে কপাটিকা (valve) থাকে যা রক্তকে একমুখী প্রবাহে সাহায্য করে।
- ডান অলিন্দ কার্বন ডাই অক্সাইড যুক্ত রক্ত গ্রহণ করে এবং ডান নিলয় থেকে তা ফুসফুসে পাম্প করে। বাম অলিন্দ ফুসফুস থেকে অক্সিজেন সমৃদ্ধ রক্ত গ্রহণ করে এবং বাম নিলয় থেকে তা শরীরের অন্যান্য অংশে পাঠায়।
- হৃদপিণ্ডের প্রকোষ্ঠের প্রসারণকে বলে- ডায়াস্টোল এবং সংকোচনকে বলে- সিস্টোল।
- প্রবাহমান রক্ত রক্তনালীর গায়ে যে পার্শ্বচাপ দেয় তাকে রক্তচাপ বলে।

রক্তচাপ ২ প্রকার। যথা:
১. সিস্টোলিক রক্তচাপ (১১০-১৪০ মি.মি. পারদ)
২. ডায়াস্টোলিক রক্তচাপ (৬০-৯০ মি.মি. পারদ)
- একজন পূর্ণবয়স্ক সুস্থ ব্যক্তির সিস্টোলিক চাপ ১২০ মি.মি. পারদ এবং ডায়াস্টোলিক চাপ ৮০ মি.মি. পারদ। একে ১২০/৮০ রূপে প্রকাশ করা হয়।
- মানবদেহের রক্তচাপ (Blood Pressure) নির্ণায়ক যন্ত্রের নাম-স্ফিগমোম্যানোমিটার।

উল্লেখ্য-
- মাছের হৃদপিণ্ডের প্রকোষ্ঠের সংখ্যা ২টি।
- উভচর প্রাণী এবং সরীসৃপদের (কুমির ব্যতীত) হৃদপিণ্ডের প্রকোষ্ঠের সংখ্যা ৩টি।

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৯৭.
দেহের সবচেয়ে লম্বা, ভারী ও শক্ত অস্থি কোনটি? 
  1. ফিমার
  2. ফিবুলা
  3. রেডিয়াস 
  4. হিউমেরাস
ব্যাখ্যা

ফিমার: 
- মানবদেহে ২০৬ টি অস্থি বিদ্যমান। 
- ফিমার হচ্ছে মানবদেহে সবচেয়ে বড় অস্থি। 
- ফিমার দেহের সবচেয়ে লম্বা, ভারী ও শক্ত অস্থি। 
- এর ঊর্ধ্ব প্রান্তে একটি গােল মস্তক, গ্রীবা ও ছােট-বড় ট্রোকেল্টার অবস্থিত। 
- নিম্নপ্রান্ত দুটি কল্ডাইল বিশিষ্ট। 
- ফিমারের মস্তক শ্রেণিচক্র অ্যাসিটামুলামের সাথে যুক্ত থাকে, এর প্রান্তে Patella নামক চ্যাপ্টা সিগময়েড় অস্থি থাকে। 
- তারপরে রয়েছে পর্যায়ক্রমে টিবিয়া, ফিবুলা, হিউমেরাস, আলনা, রেডিয়াস। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

৯৮.
অগ্রপদের সবচেয়ে বড় ও লম্বা অস্থি কোনটি?
  1. হিউমেরাস
  2. রেডিয়াস আলনা
  3. কারপাল
  4. ফ্যালানজেস
ব্যাখ্যা

- হিউমেরাস (Humerus):
- এটি অগ্রপদের সবচেয়ে বড় ও লম্বা অস্থি।
- হিউমেরাসের উপরের গোলাকার অংশকে মস্তক বলে।
- এখানে একটি বড় ও একটি ছোট টিউবারকল থাকে।
- হিউমেরাসের মধ্য অঞ্চলে ডেলটয়েড রিজ ও নিচের দিকে ট্রকলিয়া থাকে।

- রেডিয়াস ও আলনা (Radius & Ulna):
- হিউমেরাসের নিচের অস্থির নাম রেডিয়াস আলনা।
- আলনার উপরের প্রান্ত মোটা ও নিচের দিকে সরু। 
- আলনার উপরের অংশে একটা সাপের ফনার মত গঠন থাকে। এটিকে অলিক্রেনন প্রসেস বলে।

- কারপাল (Carpal) বা কার্পাস (Carpus): অস্থি মানুষের কব্জিতে দুই সারিতে আটখানা কারপাল অস্থি থাকে।
- এসকল অস্থি কব্জি নাড়াতে সাহায্য করে।

- মেটাকার্পাল (Metacarpal): করতল বা তালুতে পাঁচটি করে মেটাকারপাল অস্থি থাকে। মেটাকারপালের ৩টি অংশ থাকে।
 
- ফ্যালানজেস (Phalanges): আঙ্গুলের অস্থিগুলোকে ফ্যালানজেস বলে। বৃদ্ধাঙ্গুলে ২টি এবং অন্যান্য ৪টি আঙ্গুলে ৩টি করে মোট ১৪টি ফ্যালানজেস থাকে।

উৎস: জীববিজ্ঞান (প্রাণিবিজ্ঞান), এইচ এস সি, বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯৯.
কোনটি একটি মিশ্র করোটিক স্নায়ু? 
  1. অলফ্যাক্টরি
  2. অকুলোমোটর
  3. অপটিক
  4. ট্রাইজেমিনাল
ব্যাখ্যা
করোটিক স্নায়ু: 
- যে সব স্নায়ু মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশ থেকে উৎপত্তি লাভ করে করোটিকার বিভিন্ন ছিদ্রপথে বের হয়ে দেহের বিভিন্ন অঙ্গে বিস্তৃত হয় তাদের করোটিক স্নায়ু বলে। 
- মানুষের করোটিক স্নায়ু ১২ জোড়া। 
- করোটিক স্নায়ুসমূহ সেনসরি বা সংবেদী, মটর বা আজ্ঞাবাহী/চেষ্টীয় এবং মিশ্র প্রকৃতির হয়ে থাকে। 
- যে সকল স্নায়ু কোন সংবেদী অঙ্গ থেকে উদ্দীপনা বহন করে কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রে বা মস্তিষ্কে পৌঁছে দেয় তাদের সংবেদী স্নায়ু বলে। 
যেমন- অলফ্যাক্টরি ও অপটিক স্নায়ু। 
- আবার যে সব স্নায়ু কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের কোন নির্দেশ বহন করে নির্দিষ্ট অঙ্গে পৌঁছে দেয় তাদের চেষ্টীয় বা আজ্ঞাবাহী বা মোটর স্নায়ু বলে। 
যেমন- অকুলোমোটর ও ট্রকলিয়ার স্নায়ু। 
- কিছু স্নায়ু সংবেদী ও আজ্ঞাবাহী উভয় ধরনের কাজ করে, এদের মিশ্র স্নায়ু বলে। 
যেমন- ফ্যাসিয়াল বা ট্রাইজেমিনাল স্নায়ু। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০০.
অ্যান্টিবডি হিসেবে সর্বাধিক পরিমাণে দেহে কোনটি পাওয়া যায়?
  1. IgE
  2. IgG
  3. IgA
  4. IgD
ব্যাখ্যা
- অ্যান্টিবডি হিসেবে সর্বাধিক পরিমাণে দেহে পাওয়া যায়- IgG

অ্যান্টিবডি: 

- দেহের প্রতিরক্ষাতন্ত্র (immune system) থেকে উৎপন্ন এক ধরনের দ্রবণীয় গ্লাইকোপ্রোটিন যা রোগ-ব্যাধি সৃষ্টিকারী নির্দিষ্ট অ্যান্টিজেনকে (যেমন-ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া) ধ্বংস করে তাকে অ্যান্টিবডি বলে। 
- প্রত্যেকটি অ্যান্টিবডি হচ্ছে ইমিউনোগ্লোবিউলিন (সংক্ষেপে Ig) নামে বিশেষ ধরনের একেকটি প্রোটিন অণু। 
- শ্বেত রক্তকণিকার অন্যতম প্রধান কণিকা লিম্ফোসাইট। লিম্ফোসাইট দু'ধরনের: (১) T-কোষ ও (২) B-কোষ। 
- B-লিম্ফোসাইট কয়েক উপধরনে বিভক্ত যার একটি হচ্ছে প্লাজমা B-কোষ, সংক্ষেপে প্লাজমাকোষ নামে পরিচিত। 
- প্লাজমাকোষ থেকে অ্যান্টিবডি উৎপন্ন হয়। 
- প্রয়োজনে প্রত্যেক প্লাজমাকোষ প্রতি সেকেন্ডে কয়েক হাজার অ্যান্টিবডি উৎপন্ন করতে পারে। 
- মানুষের দেহে প্রায় ১০০ মিলিয়ন (১০ কোটি) ধরনের অ্যান্টিবডি উৎপন্ন হতে পারে। 

অ্যান্টিবডির প্রকারভেদ: 
- অ্যান্টিবডির গড়নে যে ভারী শৃঙ্খল রয়েছে তাতে অ্যামিনো এসিডের ক্রমের (sequence) ভিত্তিতে ভারী শৃঙ্খল ৫ ধরনের: γ-(gamma), α-(alpha), μ-(mu), €-(epsilon) এবং δ-(delta)। 
- এ পাঁচ ধরনের ভারী শৃঙ্খলবিশিষ্ট অ্যান্টিবডিগুলো নিচে বর্ণিত ৫টি শ্রেণিতে বিভক্ত। 
যেমন- 
১। ইমিউনোগ্লোবিউলিন A (IgA): 
- দেহের মোট Ig-র মধ্যে ১৫% হচ্ছে IgA । 
- এ ধরনের অ্যান্টিবডি মিউকাস ঝিল্লিতে আবৃত থাকে, যেমন-পরিপাক, জনন ও শ্বসনতন্ত্রে বিস্তৃত হয় এবং সেখানে রোগ সৃষ্টিকারী অনুজীর ও অণুকণাকে প্রশমিত করে। 
- মায়ের দুধেও IgA পাওয়া যায় এবং বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় শিশুদেছে স্থানান্তরিত হয়। 

২।  ইমিউনোগ্লোবিউলিন D (IgD): 
- দেহের মোট Ig-র মধ্যে ১%-এরও কম হচ্ছে IgD । 
- রক্ত, লসিকা ও লিফোসাইট B-কোষে এ lg পাওয়া যায়। 
- এর কাজ অজ্ঞাত হলেও বিজ্ঞানিদের ধারণা, IgD B-কোষকে সক্রিয়করণে ভূমিকা পালন করে। 

৩। ইমিউনোগ্লোবিউলিন E (IgE): 
- দেহের মোট ।g-র মধ্যে প্রায় ০.১% হচ্ছে IgE । 
- এটি দুর্লভ Ig । 
- B-কোষ, মাস্টকোষ ও বেসোফিলে এ Ig পাওয়া যায়। 
- হিস্টামিন ক্ষরণকে উদ্দীপ্ত করে এটি প্রদাহ সাড়া সক্রিয় করে। 
- বিভিন্ন অ্যালার্জিক সাড়া দানে (যেমন-সন্ধিবাতে) এ অ্যান্টিবডির ভূমিকা বেশ নেতিবাচক প্রমাণিত হয়েছে। 

৪। ইমিউনোগ্লোবিউলিন G (IgG): 
- দেহের মোট ইমিউনোগ্লোবিউলিনের (Ig) 75% IgG । 
- রক্ত, লসিকা, অন্ত্র ও টিস্যু তরলে এ Ig বিস্তৃত থাকে। 
- কমপ্লিমেন্ট সিস্টেমিক সক্রিয় করে এবং অনেক বিষাক্ত পদার্থকে প্রশমিত করে। 
- IgG ই একমাত্র অ্যান্টিবডি যা গর্ভাবস্থায় অমরা অতিক্রম করে মায়ের অর্জিত প্রতিরক্ষাকে ভ্রূণদেহে বাহিত করে। 

৫। ইমিউনোগ্লোবিউলিন M (IgM): 
- দেহের মোট IG-এর ৫-১০% IgM । 
- ABO ব্লাড গ্রুপের রক্তকণিকার অ্যান্টিবডি এ ধরনের। 
- IgM পাওয়া যায় রক্ত ও লসিকায়। 
- এটি কমপ্লিমেন্ট সিস্টেমকে সক্রিয় করে এবং বহিরাগত কোষকে পরস্পরের সঙ্গে আসঞ্জিত করে দেয়। 
- অধিকাংশ ব্যাকটেরিয়া ও কিছু ভাইরাসের বিরুদ্ধে স্পেসিফিক ইমিউন সাড়া দেয়ার ক্ষেত্রে IgG & IgM একত্রে কাজ করে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (গাজী আজমল)।