বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

আধুনিক শিক্ষা ও শিক্ষা ব্যবস্থা সংক্রান্ত বিষয়

মোট প্রশ্ন১৪৬এই পাতা৪৫প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

আধুনিক শিক্ষা ও শিক্ষা ব্যবস্থা সংক্রান্ত বিষয়

PrepBank · পাতা / · ১০১১৪৫ / ১৪৬

১০১.
বাংলাদেশ সরকার কত সালে প্রাথমিক শিক্ষা জাতীয়করণ করে?
  1. ১৯৭২ সালে
  2. ১৯৭৩ সালে
  3. ১৯৭৪ সালে
  4. ১৯৭৫ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৭৩ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৭৩ সালে
ব্যাখ্যা
প্রাথমিক শিক্ষা:
- স্বাধীনতা অর্জনের পর ১৯৭৩ সালে সরকার প্রাথমিক শিক্ষা জাতীয়করণ করে।
- প্রথম দফায় জাতীয়করণ করা হয় ৩৬০১৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

⇒ ১ জানুয়ারী, ১৯৯৩ থেকে সারাদেশে বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা আইন কার্যকর হয়।
- ১৯৭৪ সালে কুদরাত-এ-খুদা প্রণীত ‘বাংলাদেশ শিক্ষা কমিশন' ১৯৮৩ সালের মধ্যে প্রথম শ্রেণি থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষাকে সর্বজনীন, বাধ্যতামূলক ও অবৈতনিক প্রাথমিক শিক্ষার সুপারিশ করে।
- ১৯৮১ সালে পৃথক প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ১৯৯০ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারী বাংলাদেশে বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা আইন পাস হয়।
- অন্যদিকে এ আইনের যথাযথ বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণের জন্য প্রথমে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে ২১ আগস্ট, ১৯৯০ ইং ‘বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা আইন বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ কোস/সেল প্রতিষ্ঠা করা হয়।
- পরবর্তীতে ৩১ নভেম্বর, ১৯৯২ ইং তারিখে এর নামকরণ করা হয় ‘বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ইউনিট'।
- তার পূর্বে ১ জানুয়ারি, ১৯৯২ সালে প্রাথমিকভাবে ৬৮ টি উপজেলায় এই আইন চালু হয়।

উৎস: প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ওয়েবসাইট।
১০২.
'জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক' প্রণয়নের সাথে জড়িত প্রতিষ্ঠান কোনটি?
  1. NTRCA
  2. NAEM
  3. NCTB
  4. BANBEIS
সঠিক উত্তর:
NCTB
উত্তর
সঠিক উত্তর:
NCTB
ব্যাখ্যা

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (NCTB):
- বাংলাদেশের শিক্ষার সাথে সংশ্লিষ্ট অন্যতম বৃহৎ জাতীয় প্রতিষ্ঠান জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (NCTB)।
- ১৯৭২ সাল থেকে ১৯৭৭ সাল পর্যন্ত স্কুল টেকস্টবুক বোর্ড কর্তৃক ১ম শ্রেণি থেকে ১০ম শ্রেণির সকল পাঠ্যপুস্তক সংশোধন, পরিমার্জন ও পুনর্লিখন এবং সেই সাথে একটি নবজাত রাষ্ট্রের জনসাধারণের প্রয়োজনীয় জ্ঞাতব্য বিষয় আধুনিক ধ্যান-ধারণার আলোকে পাঠ্যপুস্তকে সন্নিবেশ করা হয়।
- ১৯৭৮-৭৯ সালে টেক্সটবুক বোর্ড নতুন শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যসূচি অনুযায়ী পাঠ্যপুস্তক প্রণয়নের উদ্যোগ গ্রহণ করে।
- ১৯৮৩ সালের মধ্যে ১০ম শ্রেণি পর্যন্ত প্রচলিত পাঠ্যপুস্তকের স্থলে মানসম্পন্ন পাঠ্যপুস্তক প্রণয়ন ও বিতরণের কাজ সম্পন্ন করে।
- ১৯৮৩ সালে “The National Curriculum & Textbook Board Ordinance 1983 (Ordinance no. LVII of 1983)”  মাধ্যমে স্কুল টেকস্টবুক বোর্ড ও জাতীয় শিক্ষাক্রম উন্নয়ন কেন্দ্রকে একীভূতকরণের  মাধ্যমে বর্তমান জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড প্রতিষ্ঠিত হয়।  
- সংবিধান (পঞ্চদশ সংশোধন) আইন ২০১১ অনুযায়ী বোর্ডের কার্যক্রমকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা ও  যুগপোযোগী করার  জন্য গত ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৮ তারিখে মহান জাতীয় সংসদে “The National Curriculum & Textbook Board Ordinance 1983 (Ordinance no. LVII of 1983)”  সংশোধন ও রহিতক্রমে ‘জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড আইন ২০১৮’ বিলটি পাশ হয়।

উৎস: NCTB এর ওয়েবসাইট।

১০৩.
উপ-মহাদেশীয়দের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম মুসলিম উপাচার্য কে?
  1. ড. সৈয়দুর রহমান 
  2. ড. ওসমান গণি
  3. স্যার এ. এফ. রহমান
  4. ড. মাহমুদ হাসান
সঠিক উত্তর:
স্যার এ. এফ. রহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্যার এ. এফ. রহমান
ব্যাখ্যা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়:
- উপ-মহাদেশীয়দের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম মুসলমান উপাচার্য ছিলেন স্যার এ. এফ. রহমান।
উল্লেখ্য,
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের প্রাচীনতম, সর্ববৃহৎ এবং উপমহাদেশের অন্যতম প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান।
- ১৯২০ সালে ভারতীয় বিধানসভায় গৃহীত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আইনবলে ১৯২১ সালের ১ জুলাই আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম শুরু হয়।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় গঠিত কমিশনের নাম ছিলো নাথান কমিশন।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপাচার্য হন স্যার ফিলিপ জোসেফ হার্টজ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

১০৪.
জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. রাজশাহী 
  2. ঢাকা
  3. ময়মনসিংহ 
  4. গাজীপুর
সঠিক উত্তর:
ময়মনসিংহ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ময়মনসিংহ 
ব্যাখ্যা

জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি (নেপ):
- জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি ময়মনসিংহে অবস্থিত।
- এটি সর্বপ্রথম জুনিয়র ট্রেনিং কলেজ (জেটিসি) হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৬৯ সালে।
- মহান স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে জুনিয়র ট্রেনিং কলেজ (জেটিসি)গুলো রূপান্তরিত হয়ে কলেজ অব এডুকেশন নামে যাত্রা শুরু করে।
- ১৯৭৮ সালে ময়মনসিংহস্থ কলেজ অব এডুকেশনটি "মৌলিক শিক্ষা একাডেমি" (Academy for Fundamental Education) নামে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ১৯৮৫ সালে এর নামকরণ করা হয় ‘‘জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি (নেপ)"।
- এই একাডেমি স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনা করে ২০০৪ সালের ১ অক্টোবর থেকে।

উৎস: নেপ ওয়েবসাইট।

১০৫.
সারাদেশে বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা আইন কার্যকর হয় কত সালে?
  1. ১৯৯০ সালে
  2. ১৯৯১ সালে
  3. ১৯৯২ সালে
  4. ১৯৯৩ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৯৩ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৯৩ সালে
ব্যাখ্যা

প্রাথমিক শিক্ষা:
- স্বাধীনতা অর্জনের পর ১৯৭৩ সালে বঙ্গবন্ধু সরকার প্রাথমিক শিক্ষা জাতীয়করণ করে।
- ১৯৭৪ সালে কুদরাত-এ-খুদা প্রণীত 'বাংলাদেশ শিক্ষা কমিশন' ১৯৮৩ সালের মধ্যে প্রথম শ্রেণি থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষাকে সর্বজনীন, বাধ্যতামূলক ও অবৈতনিক প্রাথমিক শিক্ষার সুপারিশ করে।
- ১৯৮১ সালে পৃথক প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ১৯৯০ সালে বাংলাদেশে বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা আইন পাস হয়।
- ১৯৯২ সালে প্রাথমিকভাবে ৬৮টি উপজেলায় এই আইন চালু হয়।
- ১ জানুয়ারী, ১৯৯৩ সালে সারাদেশে বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা আইন কার্যকর হয়।
- ১৯৯২ সালে শিক্ষা মন্ত্রণালয় অধীনে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিভাগ প্রতিষ্ঠা করা হয়।

তথ্যসূত্র - প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ওয়েবসাইট।

১০৬.
প্রাথমিক শিক্ষার উদ্দেশ্য কয়টি?
  1. ৪টি
  2. ১৩টি
  3. ১৭টি
  4. ১৯টি
সঠিক উত্তর:
১৩টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৩টি
ব্যাখ্যা
প্রাথমিক শিক্ষার পরিমার্জিত লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ১৩টি 
প্রাথমিক শিক্ষার লক্ষ্য শিশুর শারীরিক, মানসিক, সামাজিক, নৈতিক, মানবিক, নান্দনিক, আধ্যাত্মিক ও আবেগিক বিকাশ সাধন এবং তাদের দেশাত্ববোধে, বিজ্ঞানমনস্কতায়, সৃজনশীলতায় ও উন্নত জীবনের স্বপ্নদর্শনে উদ্বুদ্ধ করা।
প্রাথমিক শিক্ষার উদ্দেশ্য:
১. আল্লাহ তা'য়ালা/সৃষ্টিকর্তার প্রতি বিশ্বাস ও শিশুর মধ্যে নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধ সৃষ্টি করা এবং সকল ধর্ম ও ধর্মাবলম্বীদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া।
২. শেখার প্রতি ইতিবাচক মনোভাব সৃষ্টির মাধ্যমে শিশুর কল্পনা-শক্তি, সৃজনশীলতা ও নান্দনিকবোধের উন্মেষে সহায়তা করা।
৩. বিজ্ঞানের নীতি-পদ্ধতি ও প্রযুক্তির জ্ঞান অর্জন, সমস্যা সমাধানে তার ব্যবহার এবং বিজ্ঞানমনস্ক ও অনুসন্ধিৎসু করে গড়ে তুলতে সহায়তা করা।
৪. ভাষা ও যোগাযোগ দক্ষতার বিকাশ এবং নিজেকে প্রকাশ করতে সহায়তা করা।
৫. গাণিতিক ধারণা, যৌক্তিক চিন্তা ও সমস্যা সমাধানের যোগ্যতা অর্জনে সহায়তা করা।
৬. সামাজিক ও সুনাগরিক হওয়ার গুণাবলি এবং বিশ্বজনীন দৃষ্টিভঙ্গি অর্জনে সহায়তা করা।
৭. ভালো-মন্দের পার্থক্য অনুধাবনের মাধ্যমে সঠিক পথে চলতে উদ্বুদ্ধ করা।
৮. অন্যকে অগ্রাধিকার দেওয়া, পরমতসহিষ্ণুতা, ত্যাগের মনোভাব ও মিলেমিশে বাস করার মানসিকতা সৃষ্টি করা।
৯. প্রতিকূলতা মোকাবেলার মাধ্যমে শিশুর আত্মবিশ্বাস সৃষ্টি করা।
১০. নিজের কাজ নিজে করার মাধ্যমে শ্রমের মর্যাদা উপলব্ধি ও আত্মমর্যাদা বিকাশে সহায়তা করা।
১১. প্রকৃতি, পরিবেশ ও বিশ্বজগৎ সম্পর্কে জানতে ও ভালবাসতে সহায়তা করা এবং পরিবেশ সংরক্ষণে উদ্বুদ্ধ করা।
১২. নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাপনে সচেষ্ট করা।
১৩. জাতীয় ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, দেশপ্রেম ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ করার মাধ্যমে বাংলাদেশকে ভালোবাসতে সাহায্য করা।


উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন (লিংক) ।
১০৭.
বাংলাদেশের প্রথম শিক্ষা কমিশনের নাম কী?
  1. কুদরত-ই-খুদা শিক্ষা কমিশন
  2. হান্টার কমিশন
  3. শরীফ শিক্ষা কমিশন
  4. কবির চৌধুরী শিক্ষা কমিশন
সঠিক উত্তর:
কুদরত-ই-খুদা শিক্ষা কমিশন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুদরত-ই-খুদা শিক্ষা কমিশন
ব্যাখ্যা

• কুদরত ই খুদা শিক্ষা কমিশন:
- জাতীয় শিক্ষা কমিশন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও বিজ্ঞানী ড. কুদরাত-ই-খুদাকে চেয়ারম্যান করে ১৯৭২ সালের ২৬ জুলাই গঠিত হয়।
- বাংলাদেশের প্রথম শিক্ষা কমিশন ‘জাতীয় শিক্ষা কমিশন’।
- ১৯৭২ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর কমিশনের কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
- চেয়ারম্যানের নামানুসারে এই কমিশন কুদরত-ই-খুদা কমিশন নামেও পরিচিতি পায়।
- কমিশন প্রশ্নমালার আকারে শিক্ষিত এলিট শ্রেণীর লোকদের নিকট থেকে মতামত গ্রহণ করে,
-  কমিশন ১৯৭৪ সালের ৩০ মে সরকারের নিকট রিপোর্ট পেশ করে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

১০৮.
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ২০২৪ সালের বার্ষিক প্রাথমিক বিদ্যালয় শুমারি অনুযায়ী, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা কত? [সেপ্টেম্বর, ২০২৫]
  1. ৬০,৫৬৭ টি
  2. ৬২,৫৬৭ টি
  3. ৬৫,৫৬৭ টি
  4. ৬৭,৫৬৭ টি
সঠিক উত্তর:
৬৫,৫৬৭ টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৬৫,৫৬৭ টি
ব্যাখ্যা

বার্ষিক প্রাথমিক বিদ্যালয় শুমারি, ২০২৪:
- প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ২০২৪ সালের বার্ষিক প্রাথমিক বিদ্যালয় শুমারি (এপিএসসি) প্রতিবেদনে ২০২০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বিদ্যালয়, শিক্ষার্থীর সংখ্যা ওঠানামাসহ প্রাথমিক শিক্ষার নানা চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।

• মোট প্রাথমিক বিদ্যালয়- ১,১৮,৬০৭;
• সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়- ৬৫,৫৬৭;
• মোট শিক্ষার্থী- ২,০১,৮৩,০৪৮;
• সরকারি বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী- ১,০৬,২০,০৬৬;
• মোট শিক্ষক- ৭,০৭,২১৬;
• সরকারি বিদ্যালয়ে শিক্ষক- ৩,৮৩,৬২৪;
• শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত- ১:২৮;
• ঝরে পড়ার হার- ১৬.২৫%;
• বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থী- ১,০২,৬৫৬।

তথ্যসূত্র- পত্রিকা রিপোর্ট। [link]

১০৯.
বাংলাদেশে কারিগরি শিক্ষাবোর্ড কতটি?
  1. ১টি
  2. ২টি
  3. ৩টি
  4. ৫টি
সঠিক উত্তর:
১টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১টি
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড একটি রয়েছে। 

- তৎকালিন পূর্ব পাকিস্তানে কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহের নিয়ন্ত্রণ, পরীক্ষা পরিচালনা ও সনদপত্র প্রদানের জন্য ১৯৫৪ সালে তদানিন্তন বাণিজ্য ও শিল্প বিভাগ-এর Vide Resolution No. 188-Ind. Dated 27-01-54 মোতাবেক “ইস্ট পাকিস্তান বোর্ড অব এক্সামিনেশন ফর টেকনিক্যাল এডুকেশন” নামে একটি বোর্ড স্থাপিত হয়।
- উদ্দেশ্য ছিল দেশের কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের সংগঠন পরিচালন, তদারিক, নিয়ন্ত্রন এবং উন্নয়নের দায়িত্ব পালন, পরীক্ষা পরিচালনা, নিয়ন্ত্রন ও বোর্ড কর্তৃক গৃহীত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ব্যক্তিবর্গকে ডিপ্লোমা/সাটির্ফিকেট প্রদান।
- অতঃপর ক্রমবর্ধমান চাহিদার প্রেক্ষিতে এবং ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং ও ট্রেড পর্যায়ের পাঠ্যক্রম প্রণয়ন, উন্নয়ন, নিয়ন্ত্রণ, সনদপত্র প্রদান, পরিদর্শন ও মূল্যায়নের জন্য একটি সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান স্থাপনের প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হয়।
- ফলে ১৯৬৭ সালের ৭ মার্চ গেজেট নং -১৭৫ এল.এ. প্রকাশিত এবং ১ নং সংসদীয় আইনের বলে “ইস্ট পাকিস্তান টেকনিক্যাল এডুকেশন বোর্ড“ নামে একটি প্রতিষ্ঠান স্থাপিত হয়, যার বর্তমান নাম বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড।

উৎস: বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড এর ওয়েবসাইট।  
১১০.
কুদরত-ই-খুদা কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, মাধ্যমিক শিক্ষার মেয়াদ কোন শ্রেণী থেকে কোন শ্রেণী পর্যন্ত?
  1. ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণী
  2. ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণী
  3. অষ্টম থেকে দশম শ্রেণী
  4. নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণী
সঠিক উত্তর:
নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণী
ব্যাখ্যা

কুদরত-ই-খুদা কমিশন:
- ‘জাতীয় শিক্ষা কমিশন' বাংলাদেশের প্রথম শিক্ষা কমিশন।
- এই কমিশন গঠিত হয় ১৯৭২ সালের ২৬ জুলাই।
- এই কমিশনের চেয়ারম্যান ছিলেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও বিজ্ঞানী ড. কুদরাত-ই-খুদা।
- তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ১৯৭২ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর এই কমিশন কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
- এই কমিশন 'কুদরত-ই-খুদা কমিশন' নামেও পরিচিতি পায় চেয়ারম্যানের নামানুসারে।
- সরকারের নিকট রিপোর্ট পেশ করে এই কমিশন ১৯৭৪ সালের ৩০ মে।
- এই কমিশনের মতে প্রাথমিক শিক্ষার মেয়াদ হবে প্রথম থেকে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত মোট আট বছর।
- মাধ্যমিক শিক্ষার মেয়াদ হবে নবম শ্রেণী থেকে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত মোট চার বছর।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

১১১.
জাতীয় শিক্ষা নীতি–২০১০ অনুযায়ী, প্রাথমিক শিক্ষার স্তর কোন শ্রেণি পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে?  
  1. চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত 
  2. পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত
  3. অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত
  4. দশম শ্রেণি পর্যন্ত  
সঠিক উত্তর:
অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত
ব্যাখ্যা

• জাতীয় শিক্ষানীতি - ২০১০:
- জাতীয় শিক্ষানীতি–২০১০ অনুযায়ী প্রাথমিক শিক্ষার মেয়াদ পূর্বের পাঁচ বছর থেকে বাড়িয়ে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। 
- এর সঙ্গে এক বছরের প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা যুক্ত করা হয়েছে। 
- নীতিতে প্রথম থেকে অষ্টম শ্রেণিকে প্রাথমিক ও নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণিকে মাধ্যমিক স্তর হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।
- নীতিতে বলা হয়, প্রাথমিক শিক্ষাকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত সম্প্রসারণ করে একটি সমন্বিত স্তর গঠনের পাশাপাশি ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণিতে বৃত্তিমূলক ও তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। 
- যদিও অবকাঠামোসহ বিভিন্ন কারণে এটি সম্পূর্ণভাবে বাস্তবায়িত হয়নি;
- তবে সরকার ধীরে ধীরে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিচ্ছে।

তথ্যসূত্র: প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। 

১১২.
কুদরাত-ই-খুদা শিক্ষা কমিশন শিক্ষার্থীদের কোন শ্রেণি পর্যন্ত বিনামূল্যে এবং বাধ্যতামূলক শিক্ষা দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন?
  1. অষ্টম শ্রেণি
  2. সপ্তম শ্রেণি
  3. ষষ্ঠ শ্রেণি
  4. পঞ্চম শ্রেণি
সঠিক উত্তর:
অষ্টম শ্রেণি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অষ্টম শ্রেণি
ব্যাখ্যা

• ড. কুদরত-ই-খুদার শিক্ষা কমিশন:
- ১৯৭২ সালের ২৬ জুলাই সরকার প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ ড. কুদরত-ই-খুদার নেতৃত্বে জাতীয় শিক্ষা কমিশন গঠন করেন।
- ১৯৭২ সালের ২৬ জুলাই, সরকার ড. কুদরাত-ই-খুদার নেতৃত্বে জাতীয় শিক্ষা কমিশন গঠন করে।
- কমিশন ১৯৮৩ সালের মধ্যে প্রচলিত প্রাথমিক শিক্ষা প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত বাধ্যতামূলক করার সুপারিশ করে।
- এছাড়া, কমিশন ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষা অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব দেয়।
- ১৯৭৩ সালে জারি হওয়া ‘প্রাথমিক শিক্ষা অর্ডিন্যান্স’ এবং ১৯৭৪ সালের প্রাথমিক বিদ্যালয় অধিগ্রহণ আইন বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষার দিক পরিবর্তন করে।
- এই আইন অনুসারে, পর্যায়ক্রমে ৩৬,১৬৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয় সরকারি প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়।
- প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১,৫৭,৭৪২ জন শিক্ষক সরকারি কর্মচারী হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হন।

তথ্যসূত্র: প্রাথমিক শিক্ষা, বিএড, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১১৩.
বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার স্তর কয়টি?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৫টি
সঠিক উত্তর:
৩টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩টি
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা:
- বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা তিন স্তরবিশিষ্ট। সেগুলো হলো:
• প্রাথমিক শিক্ষা,
• মাধ্যমিক শিক্ষা এবং
• উচ্চশিক্ষা বা বিশ্ববিদ্যালয় স্তর।
- সরকারি-বেসরকারি বিদ্যালয়গুলো পরিচালিত হয় ৫ বছর মেয়াদী প্রাথমিক শিক্ষা।
- ৭ বছর মেয়াদী মাধ্যমিক  (এর মধ্যে ২ বছর মেয়াদী উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়)।
- বাংলাদেশে তৃতীয় পর্যায়ে অর্থাৎ বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষা ৩ থেকে ৫ বছর মেয়াদি।
- উচ্চশিক্ষার মাধ্যমে একজন শিক্ষার্থী তার পছন্দমত বিষয়ে স্নাতক / স্নাতকোত্তর অথবা ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করতে পারে।
- শিক্ষা মন্ত্রণালয় হলো শিক্ষার জন্য রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ দফতর। 

উৎস: বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা, bangladesh.gov.bd.

১১৪.
স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম শিক্ষা কমিশন কার নেতৃত্বে গঠিত হয়?
  1. ড. মনিরুজ্জামান মিঞা
  2. ড. কুদরাত-ই-খুদা
  3. মোহাম্মদ আকরম খান
  4. আতাউর রহমান খান
সঠিক উত্তর:
ড. কুদরাত-ই-খুদা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ড. কুদরাত-ই-খুদা
ব্যাখ্যা
কুদরত-ই-খুদা শিক্ষা কমিশন:
- ড. কুদরাত-ই-খুদার নেতৃত্বে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম শিক্ষা কমিশন গঠিত হয়।

⇒ সম্পদের সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে মানবসম্পদের উন্নয়নে শিক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
- দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র ছয় মাসের মধ্যে স্বাধীন দেশের উপযোগী শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।
- এই লক্ষ্যে বিশিষ্ট বিজ্ঞানী ড. মুহাম্মদ কুদরাত-ই-খুদার নেতৃত্বে ১৯৭২ সালের ২৬ জুলাই শিক্ষা কমিশন গঠন করা হয়।

এছাড়াও,
- শিক্ষা ক্ষেত্রে জরুরি ভিত্তিতে ৯০০ কলেজ ভবন ও ৪০০ হাইস্কুল পুননির্মাণ করা হয়।
- প্রথমবারের মতো সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়কে সরকারিকরণ করা হয়।
- মুক্তিযুদ্ধের সময় শিক্ষকদের পাওনা ৯ মাসের বকেয়া বেতন পরিশোধ করা হয়।
- সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়সমূহে স্বায়ত্তশাসন প্রদানের জন্য জাতীয় সংসদে ১৯৭৩ সালের বিশ্ববিদ্যালয় আইন পাস করেন।

অন্যদিকে,
- মওলানা আকরম খাঁ শিক্ষা কমিশন (১৯৪৯) প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থার পুনর্মূল্যায়ন এবং শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার ও পুনর্বিন্যাসের ক্ষেত্রে সুপারিশ পেশ করার জন্য ১৯৪৯ সালে পাকিস্তানে প্রথম শিক্ষা কমিশন গঠিত হয়।
- আতাউর রহমান খান শিক্ষা কমিশন (১৯৫৭) পূর্ব পাকিস্তান সরকার প্রদেশে শিক্ষার সার্বিক সংস্কার সুপারিশের জন্য ১৯৫৭ সালের জানুয়ারি মাসে আতাউর রহমান খানকে চেয়ারম্যান করে একটি শিক্ষা কমিশন নিয়োগ করে।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
১১৫.
বর্তমানে দেশে নিরক্ষরতার হার কত? [সেপ্টেম্বর, ২০২৫]
  1. প্রায় ১২ শতাংশ
  2. প্রায় ১৭ শতাংশ
  3. প্রায় ২২ শতাংশ
  4. প্রায় ২৮ শতাংশ
সঠিক উত্তর:
প্রায় ২২ শতাংশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রায় ২২ শতাংশ
ব্যাখ্যা

নিরক্ষরতার হার:
- অর্থনৈতিক, সামাজিক, রাজনৈতিক নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতা থেকে মুক্তির অন্যতম উপায় হলো সাক্ষরতা অর্জন করা।
- বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা-২০২৪ অনুযায়ী দেশের সাত বছর ও তদূর্ধ্ব জনগোষ্ঠীর মধ্যে বর্তমানে সাক্ষরতার হার ৭৭ দশমিক ৯ শতাংশ।
- অর্থাৎ দেশে সাত বছর ও তদূর্ধ্ব জনগোষ্ঠীর মধ্যে প্রায় ২২ শতাংশ এখনো নিরক্ষর।

উল্লেখ্য,
- বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এই সাক্ষরতার সংজ্ঞায় ভিন্নতা থাকলেও ১৯৬৭ সালে ইউনেসকো সর্বজনীন একটা সংজ্ঞা নির্ধারণ করে।
- তখন শুধু কেউ নাম লিখতে পারলেই তাকে সাক্ষর বলা হতো।
- পরবর্তী সময়ে প্রায় প্রতি দশকেই এই সংজ্ঞায় পরিবর্তন এসেছে এবং ১৯৯৩ সালের একটি সংজ্ঞায় ব্যক্তিকে সাক্ষর হওয়ার জন্য তিনটি শর্ত পূরণ করতে হয়। শর্ত তিনটি হচ্ছে—
১. ব্যক্তি নিজ ভাষায় সহজ ও ছোট বাক্য পড়তে পারবে;
২. ব্যক্তি নিজ ভাষায় সহজ ও ছোট বাক্য লিখতে পারবে এবং
৩. ব্যক্তি দৈনন্দিন জীবনের সাধারণ হিসাব-নিকাশ করতে পারবে।

তথ্যসূত্র: প্রথম আলো। [link]

১১৬.
বর্তমানে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (DPE)-র মহাপরিচালক কে?[ ডিসেম্বর, ২০২৫]
  1. আবু নূর মোঃ শামসুজ্জামান
  2. মোঃ আবুল কাশেম
  3. সৈয়দ আমানুল হক
  4. মোঃ কামরুল ইসলাম
সঠিক উত্তর:
আবু নূর মোঃ শামসুজ্জামান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবু নূর মোঃ শামসুজ্জামান
ব্যাখ্যা

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর:
- DPE-এর পূর্ণরূপ: প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (Directorate of Primary Education).
- এটি বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়ন, তদারকি ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা একটি সরকারি সংস্থা।
- প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (DPE) ১৯৮১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।
 - এর মূল কাজের মধ্যে রয়েছে—
• দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোকে পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ করা,
• শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ প্রদান,
• প্রাথমিক শিক্ষা বিষয়ক নীতি ও কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা, এবং
• প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন ও সম্প্রসারণে বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ ও সম্পাদন করা।
- প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের (DPE) বর্তমান মহাপরিচালক হলেন আবু নূর মোঃ শামসুজ্জামান।

উৎস: প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ওয়েবসাইট।

১১৭.
জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০ অনুযায়ী প্রাথমিক শিক্ষায় শিক্ষক ও শিক্ষার্থী অনুপাত কত?
  1. ১ : ৩০
  2. ১ : ৪০
  3. ১ : ৫০
  4. ১ : ৬০
সঠিক উত্তর:
১ : ৩০
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১ : ৩০
ব্যাখ্যা

জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০ অনুযায়ী,
শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত:
- প্রাথমিক শিক্ষায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অনুপাত হবে ১ : ৩০। এ লক্ষ্য পর্যায়ক্রমে ২০১৮ সালের মধ্যে অর্জন করা হবে।
এছাড়াও,
- মাধ্যমিক শিক্ষায় শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত পর্যায়ক্রমে ২০১৮ সালের মধ্যে ১ : ৩০ এ উন্নীত করা হবে।

• জাতীয় শিক্ষা নীতি- ২০১০:
- স্বাধীনতার পরপরই একটি শিক্ষানীতি প্রণয়নের জন্য প্রখ্যাত বিজ্ঞানী ও শিক্ষাবিদ ড. কুদরাত এ খুদার নেতৃত্বে দেশের প্রথম শিক্ষা কমিশন গঠন করা হয়েছিল। 
- উক্ত কমিশন ব্যাপক পরীক্ষা নিরীক্ষা করে ১৯৭৪ সালে গণমুখী আধুনিক এবং বিজ্ঞানভিত্তিক একটি শিক্ষানীতি প্রণয়ন করে।
- আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিবর্তন এবং সময়ের প্রয়োজনে এটি সংশোধন ও পরিমার্জন করা হয়েছে।
- সর্বশেষ ২০১০ সালে জাতীয় অধ্যাপক কবীর চৌধুরীর নেতৃত্বে একটি শিক্ষানীতি প্রণয়ন করা হয়।
- এই শিক্ষানীতির মূল উদ্দেশ্য হলো জনমুখী উন্নয়ন ও প্রগতিশীল নেতৃত্বদানে উপযোগী মানবতাবাদী, মননশীল, যুক্তিবাদী, কুসংস্কারমুক্ত, অসম্প্রদায়িক ও দেশপ্রেমিক নাগরিক গড়ে তোলা।

উৎস: জাতীয় শিক্ষা নীতি- ২০১০।

১১৮.
সারা দেশে প্রাথমিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক আইন কবে চালু করা হয়?
  1. ১৯৯১ সালে
  2. ১৯৯২ সালে
  3. ১৯৯৪ সালে
  4. ১৯৯৩ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৯৩ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৯৩ সালে
ব্যাখ্যা

• জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি:
- ১৯৭৪ সালে দেশে প্রাথমিক শিক্ষা আইন জারি হয়।
- জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি (নেপ) ময়মনসিংহ জেলায় অবস্থিত।
- এটি ১৯৭৮ সালে 'মৌলিক শিক্ষা একাডেমি' নামে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ১৯৮৫ সালে এটির নামকরণ করা হয় 'জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি'।
- এখানে প্রাথমিক শিক্ষা সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও কর্মকর্তা- কর্মচারীদের প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়।
- এই প্রতিষ্ঠান প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষার প্রশ্নপত্র প্রণয়ন করে থাকে।
- ১৯৯০ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা আইন প্রণীত হয়।
- এই আইনের অধীনে ১৯৯২ সালের ১ জানুয়ারি দেশের ৬৮টি উপজেলায়।
- ১ জানুয়ারি ১৯৯৩ সারা দেশে বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা আইন চালু হয়।

তথ্যসূত্র: জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি ওয়েবসাইট, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ও দৈনিক প্রথম আলো। 

১১৯.
ভারতীয় উপমহাদেশের প্রথম শিক্ষা কমিশন কোনটি?
  1. স্যাডলার কমিশন
  2. হান্টার কমিশন
  3. নাথান কমিশন
  4. রিপন কমিশন
সঠিক উত্তর:
হান্টার কমিশন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হান্টার কমিশন
ব্যাখ্যা
প্রথম শিক্ষা কমিশন: 
- ভারতীয় উপমহাদেশের প্রথম শিক্ষা কমিশন হলো হান্টার কমিশন,
- এটি ১৮৮২ সালে স্যার উইলিয়াম হান্টারকে প্রধান করে গঠিত হয়।
- এই কমিশনে মোট সাতজন সদস্য ছিলেন এবং এটি ব্রিটিশ ভাইসরয় লর্ড রিপনের আমলে গঠিত হয়েছিল।

উল্লখ্য
- লর্ড লিটনের পদত্যাগের পর লর্ড রিপন ভারতের ভাইসরয় নিযুক্ত হন।
- তার শাসনকাল ছিল ১৮৮০ থেকে ১৮৮৪ সাল।
- তিনি সাম্রাজ্যবাদী নীতির বিরোধী ছিলেন এবং ভারতবাসীর আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে উদারনীতি গ্রহণ করেন।  

সূত্র: বাংলাপিডিয়া ও একাদশ-দ্বাদশ শ্রেনির ইতিহাস বই, অধ্যাপক মোঃ গোলাম মোস্তফা।
১২০.
জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি (নেপ) কোথায় অবস্থিত?
  1. ঢাকা
  2. কুমিল্লা
  3. ময়মনসিংহ
  4. রাজশাহী
সঠিক উত্তর:
ময়মনসিংহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ময়মনসিংহ
ব্যাখ্যা

জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি:
-  ১৯৭৪ সালে দেশে প্রাথমিক শিক্ষা আইন জারি হয়।
- জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি (নেপ) ময়মনসিংহ জেলায় অবস্থিত।
- এটি ১৯৭৮ সালে 'মৌলিক শিক্ষা একাডেমি' নামে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ১৯৮৫ সালে এটির নামকরণ করা হয় 'জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি'।
- এখানে প্রাথমিক শিক্ষা সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়।
- এই প্রতিষ্ঠান প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষার প্রশ্নপত্র প্রণয়ন করে থাকে।
- ১৯৯০ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা আইন প্রণীত হয়।
- এই আইনের অধীনে ১৯৯২ সালের ১ জানুয়ারি দেশের ৬৮টি উপজেলায় এবং ১ জানুয়ারি ১৯৯৩ সারা দেশে বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা আইন চালু হয়।

তথ্যসূত্র - জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি ওয়েবসাইট, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ও দৈনিক প্রথম আলো, ০১ নভেম্বর ২০১৪।

১২১.
স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম শিক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান কে ছিলেন?
  1. শামসুল হক
  2. এস এম শরীফ
  3. কুদরত-এ-খুদা
  4. কবির চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
কুদরত-এ-খুদা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুদরত-এ-খুদা
ব্যাখ্যা
কুদরত-ই-খুদা শিক্ষা কমিশন:
- বাংলাদেশের প্রথম শিক্ষা কমিশনের নাম কুদরত-ই-খুদা শিক্ষা কমিশন।
- কমিশনের নাম: জাতীয় শিক্ষা কমিশন, যা কুদরত-ই-খুদা শিক্ষা কমিশন নামেও পরিচিত।
- গঠন তারিখ: ২৬ জুলাই, ১৯৭২।
- চেয়ারম্যান: ড. কুদরত-ই-খুদা।
- উদ্বোধন: প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক ২৪ সেপ্টেম্বর, ১৯৭২।
- কমিশনের কার্যপ্রণালী: প্রশ্নমালার মাধ্যমে মতামত সংগ্রহ ও তা বিশ্লেষণ করে শিক্ষাব্যবস্থার পুনর্বিন্যাসের সুপারিশ প্রণয়ন।
- রিপোর্ট পেশ: ৩০ মে, ১৯৭৪।
- এই কমিশন স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম শিক্ষা ব্যবস্থা পুনর্গঠনের রূপরেখা প্রদান করে।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া।
১২২.
সারা দেশে সর্বজনীন প্রাথমিক শিক্ষা কত সালে প্রবর্তিত হয়েছে?
  1. ১৯৮২ সাল
  2. ১৯৮০ সাল
  3. ১৯৯০ সাল
  4. ১৯৯২ সাল
সঠিক উত্তর:
১৯৮০ সাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৮০ সাল
ব্যাখ্যা
• সর্বজনীন শিক্ষা :
- সর্বজনীন শব্দের অর্থ সকলের জন্য।
- কাজেই সকলের জন্য যে কল্যাণকর শিক্ষা তা-ই সর্বজনীন শিক্ষা।
- কোন শিক্ষা ব্যবস্থাকে আমরা তখনই সর্বজনীন বলব, যখন কোন সমাজ বা দেশের ধর্ম, বর্ণ, ধনী, দরিদ্র নির্বিশেষে যা সকল নাগরিকের জন্য তা হবে সমভাবে গ্রহণযোগ্য ও কল্যাণকর। 
- ধর্ম, বর্ণ, ধনী, দরিদ্র নির্বিশেষে বাংলাদেশের ৬-১০ বছর বয়সী সকল শিশুর জন্য সারা দেশে সর্বজনীন প্রাথমিক শিক্ষা ১৯৮০ সাল থেকে প্রবর্তিত হয়েছে।

উৎস : স্কুল অব এডুকেশন, সিএড প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১২৩.
বর্তমানে বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষার প্রান্তিক যোগ্যতা কয়টি?
  1. ২৬টি
  2. ২৫টি
  3. ২৯টি
  4. ২৭টি
সঠিক উত্তর:
২৯টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৯টি
ব্যাখ্যা

- প্রাথমিক শিক্ষাস্তরের জন্য মোট ২৯টি প্রান্তিক যোগ্যতা নির্ধারণ করা হয়েছে। 

প্রাথমিক শিক্ষার প্রান্তিক যোগ্যতা: 

- বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষা স্তর শেষে শিশুর যে সকল যোগ্যতা অর্জন করা সম্ভব, তাকে প্রান্তিক যোগ্যতা বলা হয়।
- প্রথম শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত নির্ধারিত শিক্ষাক্রম সফলভাবে সমাপ্ত করলে শিক্ষার্থীরা এসব যোগ্যতা অর্জন করে।
- যেকোনো যোগ্যতা অর্জনের প্রক্রিয়া প্রথম শ্রেণি থেকে শুরু হয়ে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত চলমান থাকে।
- তবে কিছু প্রান্তিক যোগ্যতা নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্যের কারণে ভিন্ন পর্যায়ে শুরু বা শেষ হতে পারে।
- পাঁচ বছর মেয়াদী প্রাথমিক শিক্ষা শেষে শিশু যে যোগ্যতাগুলো অর্জন করবে বলে আশা করা হয়, সেটিই প্রাথমিক শিক্ষার প্রান্তিক যোগ্যতা।

সূত্র: শিক্ষাবিজ্ঞান ও বাংলাদেশ শিক্ষা: আবদুল মালেক। 

১২৪.
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম মহিলা ডীন কে ছিলেন?
  1. বেগম আজিজুন্নেছা
  2. ডঃ নীলিমা ইব্রাহিম
  3. ডঃ আমিনা রহমান
  4. ডঃ তাজমেরী ইসলাম
সঠিক উত্তর:
বেগম আজিজুন্নেছা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বেগম আজিজুন্নেছা
ব্যাখ্যা
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়: 
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের প্রাচীনতম, সর্ববৃহৎ এবং উপমহাদেশের অন্যতম প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান যা 'প্রাচ্যের অক্সফোর্ড' নামে পরিচিত।
- ১৯২১ সালের ১ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম শুরু হয়।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় গঠিত কমিশনের নাম ছিলো 'নাথান কমিশন'। 
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপাচার্য ছিলেন স্যার ফিলিপ জোসেফ হার্টজ। 
- উপ-মহাদেশীয়দের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ভাইস চেন্সেলর ছিলেন স্যার এ. এফ. রহমান।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম মহিলা ডীন ছিলেন বেগম আজিজুন্নেছা।
- বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন চলাকালীন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর ছিলেন ড. সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন।
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ছিলেন বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট। 
১২৫.
বাংলাদেশে বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা আইন পাস হয় কত সালে?
  1. ১৯৮১ সালে
  2. ১৯৯০ সালে
  3. ১৯৯২ সালে
  4. ১৯৯৩ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৯০ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৯০ সালে
ব্যাখ্যা

প্রাথমিক শিক্ষা:
- স্বাধীনতা অর্জনের পর ১৯৭৩ সালে প্রাথমিক শিক্ষা জাতীয়করণ হয়।
- ১৯৮১ সালে পৃথক প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ১৯৯০ সালে বাংলাদেশে বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা আইন পাস হয়।
- ১৯৯২ সালে প্রাথমিকভাবে ৬৮টি উপজেলায় এই আইন চালু হয়।
- ১৯৯২ সালে শিক্ষা মন্ত্রণালয় অধীনে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিভাগ প্রতিষ্ঠা করা হয়।
- ১ জানুয়ারী, ১৯৯৩ সালে সারাদেশে বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা আইন কার্যকর হয়।

উৎস: প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ওয়েবসাইট।

১২৬.
'নায়েম' নিচের কোনটির সাথে সম্পর্কিত?
  1. অর্থনীতি
  2. শিক্ষা
  3. বৈদেশিক মুদ্রা
  4. ব্যক্তি সম্পর্কিত
সঠিক উত্তর:
শিক্ষা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শিক্ষা
ব্যাখ্যা

জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমি (নায়েম):
- NAEM- এর পূর্ণরুপ: National Academy for Educational Management.
- বাংলাদেশের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা ক্ষেত্রে একটি উৎকৃষ্ট কেন্দ্র জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমি (নায়েম)।
- এটি শিক্ষার উৎকর্ষ সাধনে কাজ করে যাচ্ছে।
- শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধির লক্ষ্যে ১৯৫৯ খ্রিষ্টাব্দে এডুকেশন এক্সটেনশন সেন্টার (EEC) প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ১৯৯২ খ্রিষ্টাব্দে এটিকে জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমি (নায়েম)-এ রূপান্তর করা হয়।
- মূল লক্ষ্য: মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ দক্ষ, যোগ্য ও সৃজনশীল শিক্ষক এবং শিক্ষা প্রশাসক গড়ে তোলার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটিকে একটি অনন্য প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান বা 'সেন্টার অফ এক্সিলেন্স' (Centre of Excellence)-এ পরিণত করা।
- মানব সম্পদ উন্নয়নের লক্ষ্যে মানসম্পন্ন প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে শিক্ষা প্রশাসন, শিখন-শেখানো কার্যক্রম ও শিক্ষা গবেষণা পরিচালনার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
- নায়েমের চূড়ান্ত লক্ষ্য হচ্ছে শিক্ষা ক্ষেত্রে জাতীয় ও বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য শিক্ষক এবং শিক্ষা প্রশাসনের কর্মকর্তাগণকে জ্ঞান, পেশাগত দক্ষতা, ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি ও নেতৃত্বের গুণাবলি দ্বারা সমৃদ্ধ করা।

উৎস: নায়েম ওয়েবসাইট।

১২৭.
প্রাথমিক শিক্ষার উদ্দেশ্য নয় কোনটি?
  1. সৃষ্টিকর্তার প্রতি বিশ্বাস ও শিশুর মধ্যে নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধ সৃষ্টি করা।
  2. ভাষা ও যোগাযোগ দক্ষতার বিকাশ করতে সহায়তা করা।
  3. ভালো-মন্দের পার্থক্য অনুধাবনের মাধ্যমে সঠিক পথে চলতে উদ্বুদ্ধ করা।
  4. অনিরাপদ ও অস্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাপনে সচেষ্ট করা।
সঠিক উত্তর:
অনিরাপদ ও অস্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাপনে সচেষ্ট করা।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনিরাপদ ও অস্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাপনে সচেষ্ট করা।
ব্যাখ্যা

অনিরাপদ ও অস্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাপনে সচেষ্ট করা - প্রাথমিক শিক্ষার উদ্দেশ্য নয়। 

প্রাথমিক শিক্ষার উদ্দেশ্য:
১. আল্লাহতায়ালা/সৃষ্টিকর্তার প্রতি বিশ্বাস ও শিশুর মধ্যে নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধ সৃষ্টি করা এবং সকল ধর্ম ও ধর্মাবলম্বীদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া।
২. শেখার প্রতি ইতিবাচক মনোভাব সৃষ্টির মাধ্যমে শিশুর কল্পনাশক্তি, সৃজনশীলতা ও নান্দনিক বোধের উন্মেষে সহায়তা করা।
৩. বিজ্ঞানের নীতি-পদ্ধতি ও প্রযুক্তির জ্ঞান অর্জন, সমস্যা সমাধানে তার ব্যবহার এবং বিজ্ঞানমনস্ক ও অনুসন্ধিৎসু করে গড়ে তুলতে সহায়তা করা।
৪. ভাষা ও যোগাযোগ দক্ষতার বিকাশ এবং নিজেকে প্রকাশ করতে সহায়তা করা।
৫. গাণিতিক ধারণা, যৌক্তিক চিন্তা ও সমস্যা সমাধানের যোগ্যতা অর্জনে সহায়তা করা।
৬. সামাজিক ও সুনাগরিক হওয়ার গুণাবলি এবং বিশ্বজনীন দৃষ্টিভঙ্গি অর্জনে সহায়তা করা।
৭. ভালো-মন্দের পার্থক্য অনুধাবনের মাধ্যমে সঠিক পথে চলতে উদ্বুদ্ধ করা।
৮. অন্যকে অগ্রাধিকার দেওয়া, পরমতসহিষ্ণুতা, ত্যাগের মনোভাব ও মিলেমিশে বাস করার মানসিকতা সৃষ্টি করা।
৯. প্রতিকূলতা মোকাবিলার মাধ্যমে শিশুর আত্মবিশ্বাস সৃষ্টি করা।
১০. নিজের কাজ নিজে করার মাধ্যমে শ্রমের মর্যাদা উপলব্ধি ও আত্মমর্যাদা বিকাশে সহায়তা করা।
১১. প্রকৃতি, পরিবেশ ও বিশ্বজগৎ সম্পর্কে জানতে ও ভালোবাসতে সহায়তা করা এবং পরিবেশ সংরক্ষণের উদ্বুদ্ধ করা।
১২. নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাপনে সচেষ্ট করা।
১৩. জাতীয় ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি দেশপ্রেম ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্ধুদ্ধকরার মাধ্যমে বাংলাদেশকে ভালোবাসতে সাহায্য করা।

সূত্র: প্রাথমিক শিক্ষাক্রম-২০১১, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড। 

১২৮.
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিভাগ কবে প্রতিষ্ঠিত হয়?
  1. ১৯৯০ সালে
  2. ১৯৯১ সালে
  3. ১৯৯২ সালে
  4. ১৯৯৩ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৯২ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৯২ সালে
ব্যাখ্যা

প্রাথমিক শিক্ষা:
- প্রাথমিক শিক্ষা জাতীয়করণ হয় ১৯৭৩ সালে স্বাধীনতা অর্জনের পর।
- পৃথক প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৮১ সালে।
- বাংলাদেশে বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা আইন পাস হয় ১৯৯০ সালে।
- প্রাথমিকভাবে ১৯৯২ সালে ৬৮টি উপজেলায় এই আইন চালু হয়।
- শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিভাগ প্রতিষ্ঠা করা হয় ১৯৯২ সালে।
- সারাদেশে বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা আইন কার্যকর হয় ১ জানুয়ারী, ১৯৯৩ সালে।

উৎস: প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ওয়েবসাইট।

১২৯.
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় কে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন?
  1. নওয়াব আবদুল লতিফ
  2. স্যার সৈয়দ আহমেদ
  3. নওয়াব স্যার সলিমুল্লাহ
  4. খাজা নাজিমুদ্দিন
সঠিক উত্তর:
নওয়াব স্যার সলিমুল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নওয়াব স্যার সলিমুল্লাহ
ব্যাখ্যা
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও নওয়াব স্যার সলিমুল্লাহ:

নওয়াব স্যার সলিমুল্লাহর ভূমিকা:
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য নওয়াব স্যার সলিমুল্লাহ বিশেষ ভূমিকা পালন করেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য ঢাকার রমনা এলাকায় নিজের জমি দান করেন।

বঙ্গভঙ্গের পর:
বঙ্গভঙ্গের পরে ঢাকায় ‘সর্বভারতীয় মুসলিম শিক্ষা সম্মেলন’ এবং ‘পূর্ববঙ্গ ও আসাম প্রাদেশিক শিক্ষা সমিতির’ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়, যা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা আরও জোরদার করে।

সরকারের ওপর চাপ:
নওয়াব সলিমুল্লাহ ১৯০৫ সাল থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য সরকারের ওপর চাপ দিচ্ছিলেন।

লর্ড হার্ডিঞ্জের আগমন:
১৯১২ সালের ২৯ জানুয়ারি লর্ড হার্ডিঞ্জ ঢাকায় এসে তিন দিন অবস্থান করেন। ৩১ জানুয়ারি, নওয়াব সলিমুল্লাহর নেতৃত্বে ১৯ সদস্যের একটি মুসলিম প্রতিনিধি দল বড়লাটের সঙ্গে দেখা করে এবং পূর্ববঙ্গের মুসলমানদের স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য একটি মানপত্র প্রদান করে।

সরকারি সুপারিশ:
১৯১২ সালের ২ ফেব্রুয়ারি ভারত সরকার একটি ইশতেহার জারি করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সুপারিশ ঘোষণা করে।

শিক্ষার সূচনা:
১৯২১ সাল থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে পাঠদান শুরু হয়।

তথ্যসূত্র:
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ওয়েবসাইট, 
- বাংলাপিডিয়া।
১৩০.
কুদরত-ই-খুদা শিক্ষা কমিশন কর্তৃক প্রণীত রিপোর্ট পেশ করা হয় কবে?   
  1. ১২ সেপ্টেম্বর, ১৯৭২ সাল  
  2. ১২ জুন, ১৯৭৩ সাল
  3. ৩০ মে, ১৯৭৪ সাল
  4. ১৬ জুলাই, ১৯৭৪ সাল 
সঠিক উত্তর:
৩০ মে, ১৯৭৪ সাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩০ মে, ১৯৭৪ সাল
ব্যাখ্যা

• বাংলাদেশের প্রথম শিক্ষা কমিশন:
- বাংলাদেশের প্রথম শিক্ষা কমিশনের নাম - কুদরত-ই-খুদা শিক্ষা কমিশন।
- জাতীয় শিক্ষা কমিশন (১৯৭২) বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও বিজ্ঞানী ড. কুদরাত-ই-খুদাকে চেয়ারম্যান করে ১৯৭২ সালের ২৬ জুলাই গঠিত হয় বাংলাদেশের প্রথম শিক্ষা কমিশন ‘জাতীয় শিক্ষা কমিশন'।
- ১৯৭২ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর কমিশনের কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী।
- চেয়ারম্যানের নামানুসারে এই কমিশন কুদরত-ই-খুদা কমিশন নামেও পরিচিতি পায়।
- কমিশন প্রশ্নমালার আকারে শিক্ষিত এলিট শ্রেণীর লোকদের নিকট থেকে মতামত গ্রহণ করে, এবং ঐসব মতামত সতর্কতার সঙ্গে যাচাই বাছাই করে প্রণীত রিপোর্টে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার পুনর্বিন্যাসের সুপারিশ করে।
- কমিশন ১৯৭৪ সালের ৩০ মে সরকারের নিকট রিপোর্ট পেশ করে।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া। 

১৩১.
জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০ এ শিক্ষার কয়টি উদ্দেশ্য নির্ধারণ করা হয়েছে?
  1. ২০
  2. ২৫
  3. ৩০
  4. ৩৫
সঠিক উত্তর:
৩০
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩০
ব্যাখ্যা

• জাতীয় শিক্ষা নীতি- ২০১০:
- স্বাধীনতার পরপরই একটি শিক্ষানীতি প্রণয়নের জন্য প্রখ্যাত বিজ্ঞানী ও শিক্ষাবিদ ড. কুদরাত এ খুদার নেতৃত্বে দেশের প্রথম শিক্ষা কমিশন গঠন করা হয়েছিল।
- উক্ত কমিশন ব্যাপক পরীক্ষা নিরীক্ষা করে ১৯৭৪ সালে গণমুখী আধুনিক এবং বিজ্ঞানভিত্তিক একটি শিক্ষানীতি প্রণয়ন করে।
- আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিবর্তন এবং সময়ের প্রয়োজনে এটি সংশোধন ও পরিমার্জন করা হয়েছে।
- সর্বশেষ ২০১০ সালে জাতীয় অধ্যাপক কবীর চৌধুরীর নেতৃত্বে একটি শিক্ষানীতি প্রণয়ন করা হয়।
- এই শিক্ষানীতির মূল উদ্দেশ্য হলো জনমুখী উন্নয়ন ও প্রগতিশীল নেতৃত্বদানে উপযোগী মানবতাবাদী, মননশীল, যুক্তিবাদী, কুসংস্কারমুক্ত, অসম্প্রদায়িক ও দেশপ্রেমিক নাগরিক গড়ে তোলা।

শিক্ষার উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য:
- এই শিক্ষানীতি সংবিধানের নির্দেশনা অনুযায়ী দেশে গণমুখী, সুলভ, সুসম, সর্বজনীন, সুপরিকল্পিত, বিজ্ঞানমনস্ক এবং মানসম্পন্ন শিক্ষাদানে সক্ষম শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার ভিত্তি ও কৌশল হিসেবে কাজ করবে।
- এই আলোকে শিক্ষার ৩০টি নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য, লক্ষ্য ও নীতিগত তাগিদ নেয়া হয়েছে।

উৎস: সমাজকর্ম প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৩২.
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে?
  1. ১৯১১ সালে
  2. ১৯২১ সালে
  3. ১৯৩১ সালে
  4. ১৯৪১ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯২১ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯২১ সালে
ব্যাখ্যা
• ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়:
- ১৯২১ সালের ১ জুলাই পূর্ববঙ্গের প্রথম বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম শুরু হয়।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় নাথান কমিশন গঠিত হয়।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কোনো স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় প্রতিষ্ঠিত হয় নি। রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে একটি সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে ভারত সরকারের ওপর চাপ প্রয়োগ করা হলে বঙ্গভঙ্গ রদের রাজকীয় ক্ষতিপূরণ হিসেবে এ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপাচার্য নিয়োগপ্রাপ্ত হন স্যার পি জে হার্টজ।
- ২০২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার শতবর্ষ পূর্ণ হয়।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া।
১৩৩.
জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০ অনুযায়ী প্রাথমিক শিক্ষা কোন শ্রেণি পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে?
  1. পঞ্চম শ্রেণি
  2. ষষ্ঠ শ্রেণি
  3. সপ্তম শ্রেণি
  4. অষ্টম শ্রেণি
সঠিক উত্তর:
অষ্টম শ্রেণি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অষ্টম শ্রেণি
ব্যাখ্যা

প্রাথমিক শিক্ষার মেয়াদ ও বাস্তবায়ন:
- প্রাথমিক শিক্ষার মেয়াদ পাঁচ বছর থেকে বৃদ্ধি করে আট বছর অর্থাৎ অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত সম্প্রসারণ করা হবে।
- এটি বাস্তবায়নে দু’টি বিষয় হলো অবকাঠামোগত আবশ্যকতা মেটানো এবং প্রয়োজনীয়সংখ্যক উপযুক্ত শিক্ষকের ব্যবস্থা করা।
- ২০১১-১২ অর্থ বছর থেকে প্রাথমিক শিক্ষায় ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত চালু করার জন্য অনতিবিলম্বে নিম্নলিখিত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে:
১. প্রথম থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত প্রাথমিক শিক্ষার নতুন শিক্ষাক্রম, পাঠ্যপুস্তক এবং শিক্ষক নির্দেশিকা প্রণয়ন করা;
২. প্রাথমিক পর্যায়ের সকল শিক্ষকের জন্য শিক্ষাক্রম বিস্তারসহ শিখন-শেখানো কার্যক্রমের ওপর ফলপ্রসূ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা;
৩. শিক্ষা প্রশাসন ও ব্যবস্থাপনার প্রয়োজনীয় পুনর্বিন্যাস করা। প্রাথমিক শিক্ষার এই পুনর্বিন্যাসের জন্য প্রাথমিক পর্যায়ের সকল বিদ্যালয়ের ভৌত সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি এবং শিক্ষকের  সংখ্যা বাড়ানো হবে। যথাযথ পদ্ধতি অনুসরণ করে আট বছরব্যাপী প্রাথমিক শিক্ষা বাস্তবায়ন ২০১৮এর মধ্যে ছেলে-মেয়ে, আর্থ-সামাজিক অবস্থা এবং জাতিসত্তা নির্বিশেষে পর্যায়ক্রমে সারা দেশের সকল শিশুর জন্য নিশ্চিত করা হবে।

উৎস: সমাজকর্ম ১ম পত্র (এইচএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৩৪.
বাংলাদেশের সর্বশেষ কার্যকর শিক্ষা কমিশন কোনটি? 
  1. এম. এ. বারী শিক্ষা কমিশন
  2. মনিরুজ্জামান মিয়া শিক্ষা কমিশন
  3. শামসুল হক শিক্ষা কমিশন
  4. কবির চৌধুরী শিক্ষা কমিশন
সঠিক উত্তর:
কবির চৌধুরী শিক্ষা কমিশন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কবির চৌধুরী শিক্ষা কমিশন
ব্যাখ্যা

শিক্ষা কমিশন:
- বাংলাদেশের সর্বশেষ ও কার্যকর শিক্ষা কমিশন হলো কবির চৌধুরী শিক্ষা কমিশন, ২০০৯।
- এটি মূলত জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০ প্রণয়নের জন্য গঠিত হয়েছিল এবং বর্তমানে দেশের মূল শিক্ষা রূপরেখা হিসেবে বিবেচিত।
- এই কমিশন ২০০১ সালের এম. এ. বারী শিক্ষা কমিশনের সুপারিশগুলো পর্যালোচনা ও পরিমার্জন করে ২০১০ সালের শিক্ষানীতির প্রস্তাব প্রস্তুত করে;
- যা ২০১০ সালের ৭ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদে পাস হয়।
- পরে, ২০১১ সালের ২৮ জুন, ওই সময়ের শিক্ষামন্ত্রীকে আহ্বায়ক করে ‘জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০ বাস্তবায়ন ও মনিটরিং কেন্দ্রীয় কমিটি’ গঠন করা হয়।

উল্লেখ্য,
• বাংলাদেশের পূর্ববর্তী গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা কমিশন ও কমিটিগুলো হলো:
- কুদরাত-এ-খুদা শিক্ষা কমিশন, ১৯৭২।
- শামসুল হক শিক্ষা কমিটি, ১৯৭৬।
- কাজী জাফর আহমেদ শিক্ষা কমিশন, ১৯৭৮।
- মজিদ খান শিক্ষা কমিশন, ১৯৮৩।
- মফিজউদ্দীন আহমদ শিক্ষা কমিশন, ১৯৮৭।
- শামসুল হক শিক্ষা কমিশন, ১৯৯৭।
- এম. এ. বারী শিক্ষা কমিশন, ২০০১
- মনিরুজ্জামান মিয়া শিক্ষা কমিশন, ২০০৩।
- কবির চৌধুরী শিক্ষা কমিশন, ২০০৯।

উৎস: প্রথম আলো, সেপ্টেম্বর, ২০২৪।

১৩৫.
প্রাথমিক শিক্ষার জন্য উপবৃত্তি প্রকল্প প্রথম চালু হয় কত সালে?
  1. ১৯৯৩ সালে 
  2. ১৯৯৯ সালে 
  3. ২০০২ সালে 
  4. ২০০৯ সালে 
সঠিক উত্তর:
১৯৯৯ সালে 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৯৯ সালে 
ব্যাখ্যা

উপবৃত্তি:
- দারিদ্রপীড়িত শিশুদের স্কুলগমন নিশ্চিত করার জন্য সরকার ১৯৯৩ সালে শিক্ষার জন্য খাদ্য কর্মসূচী (FFE) চালু করে।
- ১৯৯৯ সালে পৌর এলাকা বাদে অবশিষ্ট ৭৩% এলাকার প্রাথমিক বিদ্যালয়কে প্রকল্পভুক্ত করে মাসিক ২৫ টাকা হারে উপবৃত্তি প্রদান প্রকল্প চালু করা হয়।
- ২০০২-২০০৭: পূর্বের দুটি প্রকল্প একীভূত করে প্রাথমিক শিক্ষার জন্য উপবৃত্তি প্রকল্প চালু।
- পরবর্তীতে এক বছর মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয় যা ২০০৮ সালে শেষ হয়।
- প্রাথমিক শিক্ষার জন্য উপবৃত্তি প্রদান প্রকল্প (২য় পর্যায়) ২০০৯ সালে চালু হয়ে জুন ২০১৫ সালে সমাপ্তির পর প্রকল্পের ৩য় পর্যায়ের কার্যক্রম জুলাই ২০১৫ থেকে শুরু হয়ে জুন ২০২১-এ সমাপ্ত হয়।
- নির্দিষ্ট দারিদ্র্য ম্যাপের সীমারেখা আবদ্ধ না রেখে প্রাথমিক শিক্ষার জন্য উপবৃত্তি প্রদান প্রকল্প (৩য় পর্যায়)-এ সরকার সমগ্র দেশকে প্রকল্প এলাকা ঘোষণা করেন।

• উপবৃত্তির হারের বিবরণ:
- প্রাক-প্রাথমিক: মাসিক ৭৫ টাকা।
- ১ম-৫ম শ্রেণি: এক শিক্ষার্থী ১৫০ টাকা, দুই শিক্ষার্থী ৩০০ টাকা।
- ৬ষ্ঠ-৮ম শ্রেণি: এক শিক্ষার্থী ২০০ টাকা, দুই শিক্ষার্থী ৪০০ টাকা।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন। [লিঙ্ক]

১৩৬.
১৯৬২ সালে কোন শিক্ষা কমিশনের রিপোর্ট বিরোধী আন্দোলন হয়?
  1. সামসুল হক কমিশন
  2. শরিফ কমিশন
  3. কুদরত-ই-খুদা কমিশন
  4. মনিরুজ্জামান কমিশন
সঠিক উত্তর:
শরিফ কমিশন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শরিফ কমিশন
ব্যাখ্যা

• শরিফ শিক্ষা কমিশন:
- পাকিস্তানের তৎকালীন শাসক আইয়ুব খান শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কারের উদ্দেশ্যে ১৯৫৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর একটি শিক্ষা কমিশন গঠন করেন।
- তদানীন্তন শিক্ষা সচিব এস.এম. শরীফকে সভাপতি করে মোট ১১ সদস্যবিশিষ্ট এ কমিশন গঠিত হয়। পরবর্তীতে এটি ‘শরীফ কমিশন’ নামে পরিচিতি লাভ করে।
- কমিশন ১৯৫৯ সালের ২৬ আগস্ট তাদের সুপারিশ জমা দেয়। সুপারিশগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য:ঃ
- বি.এ পাস কোর্সকে দুই বছর থেকে বাড়িয়ে তিন বছর করার প্রস্তাব।
- স্কুল ও কলেজের সংখ্যা সীমিত রাখার সুপারিশ।
- শিক্ষা ব্যয়ের প্রায় ৮০% অভিভাবকদের বহন করার বিধান।
- ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে ডিগ্রি পর্যায় পর্যন্ত ইংরেজি ভাষাকে বাধ্যতামূলক করার সুপারিশ।
- কমিশনের এই রিপোর্টের বিরুদ্ধে ছাত্রসমাজ বিক্ষুব্ধ হয়।
- ঢাকা কলেজে সর্বপ্রথম আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে।
- ঐ কলেজের ছাত্ররা 'ডিগ্রি স্টুডেন্টস ফোরাম' নামক একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠা করে।
- এই সংগঠনের নামে ঢাকা শহরের অন্যান্য কলেজের ছাত্ররা আন্দোলন পরিচালনা করে। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা আন্দোলনে যোগ দেয়। তখন সংগঠনের নাম পরিবর্তন করে করা হয় 'ইস্ট পাকিস্তান স্টুডেন্টস ফোরাম'।
- এক পর্যায়ে আন্দোলনের নেতৃত্ব ছাত্রলীগ ও ছাত্র ইউনিয়নের যৌথ নেতৃত্বের হাতে চলে যায়।
- ১৭ সেপ্টেম্বর, ১৯৬২ হরতাল আহ্বান করা হয়।
- হরতালের দিন ছাত্র জনতা মিলিতভাবে রাস্তায় নেমে পড়ে।
- মিছিলে গুলিবর্ষণ করা হলে বাবুল, বাসকন্টাক্টর গোলাম মোস্তফা ও গৃহভৃত্য ওয়াজিউল্লাহ নিহত হয়। আহত

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়

১৩৭.
জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত মানুষ বাস্তব অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যে অভিজ্ঞতা অর্জন করে তা হলো-
  1. উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা
  2. পারিবারিক শিক্ষা
  3. অনানুষ্ঠানিক শিক্ষা
  4. আনুষ্ঠানিক শিক্ষা
সঠিক উত্তর:
অনানুষ্ঠানিক শিক্ষা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনানুষ্ঠানিক শিক্ষা
ব্যাখ্যা

অনানুষ্ঠানিক শিক্ষা:
- অনানুষ্ঠানিক শিক্ষা এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা যেখানে জীবনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত জ্ঞান অর্জন হয়।
- যেখানে প্রত্যেক ব্যক্তিই তার প্রাত্যহিক জীবনের কর্ম ও অভিজ্ঞতা থেকে মূল্যবোধ, দৃষ্টিভঙ্গি, আচার, আচরণ জ্ঞান ও দক্ষতার উন্নয়ন ও বৃদ্ধিসাধন করে।
- এই শিক্ষা ব্যবস্থায় মূলত স্থান কাল পাত্র নির্দিষ্ট করা থাকে না এবং এই ব্যবস্থায় কোন নির্দিষ্ট পদ্ধতি ও কাঠামোগত কোন সংগঠনের প্রয়োজন হয় না।

তথ্যসূত্র - স্কুল অব এগ্রিকালচার এন্ড রুরাল ডেভেলপমেন্ট, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৩৮.
শিক্ষা বিভাগের ট্রেনিংয়ের শীর্ষ প্রতিষ্ঠান কোনটি?
  1. বিয়াম
  2. নায়েম
  3. টিটিসি
  4. ইউজিসি
সঠিক উত্তর:
নায়েম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নায়েম
ব্যাখ্যা
• নায়েম:
- দেশের শিক্ষা বিভাগের ট্রেনিংয়ের শীর্ষ প্রতিষ্ঠান - নায়েম।
-পূর্ণরুপ - National Academy for Educational Management (NAEM) 
- এটি ১৯৫৯ সালে স্থাপিত হয়। 
- এটির অবস্থান ঢাকার নিউমার্কেটে ঢাকা কলেজের পাশে।
- এখানে সর্বস্তরের শিক্ষক ও শিক্ষা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়।

সূত্র: নায়েম ওয়েবসাইট।
১৩৯.
প্রাক্‌-প্রাথমিকের প্রত্যেক শিক্ষার্থীর মাসিক উপবৃত্তি কত টাকা?
  1. ৫০ টাকা
  2. ৭৫ টাকা
  3. ১৫০ টাকা
  4. ৩০০ টাকা
সঠিক উত্তর:
৭৫ টাকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৭৫ টাকা
ব্যাখ্যা
প্রাথমিকে উপবৃত্তি:
- প্রাথমিক শিক্ষার বিস্তার ও মান উন্নয়নের লক্ষ্যে ১৯৯৩ সালে শিক্ষার জন্য খাদ্য কর্মসূচি এবং ১৯৯৯ সালে প্রাথমিক শিক্ষার জন্য উপবৃত্তি প্রদান প্রকল্প চালু করা হয়।
- ২০০২ সালে দুটি কর্মসূচিকে একীভূত করে প্রাথমিক শিক্ষার জন্য উপবৃত্তি প্রকল্প চালু করে সরকার।
- উপবৃত্তি প্রকল্পের সুফল বিবেচনায় ২০০৮ সালে পুনরায় প্রাথমিক শিক্ষার জন্য উপবৃত্তি প্রকল্প (২য় পর্যায়) গ্রহণ করা হয়।
- এ প্রকল্পে তৃতীয় পর্যায়ে সুবিধাভোগী শিক্ষার্থীর লক্ষ্যমাত্রা ১ কোটি ৩০ লক্ষ নির্ধারণ করা হয়।
- পরবর্তীতে দুই দফায় প্রকল্পটির মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২১ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়।
-  প্রাক্‌-প্রাথমিকের প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে মাসিক ৭৫ টাকা উপবৃত্তি দিচ্ছে সরকার।
- প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়া প্রত্যেক শিক্ষার্থী মাসিক ১৫০ টাকা এবং এক পরিবারে ২ জন শিক্ষার্থী থাকলে ২ জন মিলে পায় ৩০০ টাকা।
- এ ছাড়া কোনো পরিবারে ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণিতে পড়া একজন শিক্ষার্থী থাকলে উপবৃত্তি দেওয়া হয় মাসে ২০০ টাকা।
- আর দুজন শিক্ষার্থী থাকলে উপবৃত্তি মিলে মাসে ৪০০ টাকা।
- এখন ১ কোটি ৪০ লাখ শিক্ষার্থীকে উপবৃত্তি দিচ্ছে সরকার।
- বাংলাদেশ ব্যাংক অনুমোদিত এমএফএস প্রতিষ্ঠানগুলো হলো বিকাশ, রকেট, এমক্যাশ, উপায়, ট্যাপ, মাই ক্যাশ, টেলিক্যাশ, ওকে ওয়ালেট ও ইসলামিক ওয়ালেট। এর বাইরে ডাক বিভাগের নগদ সেবা দিচ্ছে।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
১৪০.
ব্যানবেইস এর প্রধান কাজ কী?
  1. শিক্ষকদের বেতন নির্ধারণ
  2. শুধুমাত্র শিক্ষার্থী ভর্তি করা
  3. কেবল বিদ্যালয় স্থাপন করা
  4. শিক্ষাতথ্য সংগ্রহ, সংরক্ষণ, বিতরণ ও প্রচার
সঠিক উত্তর:
শিক্ষাতথ্য সংগ্রহ, সংরক্ষণ, বিতরণ ও প্রচার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শিক্ষাতথ্য সংগ্রহ, সংরক্ষণ, বিতরণ ও প্রচার
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশ শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরো (ব্যানবেইস):
- BANBEIS এর পূর্ণরূপ: Bangladesh Bureau of Educational Information and Statistics (BANBEIS).
- দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান সংগ্রহ, সংরক্ষণ, বিতরণ ও প্রচারের একমাত্র সরকারি সংস্থা।
- প্রতিষ্ঠিত স্বাধীন বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে, ড. মুহাম্মদ কুদরত-এ-খুদা শিক্ষা কমিশনের ১৯৭৪ সালের সুপারিশ অনুযায়ী।
- ১৯৭৬-৭৭ অর্থবছরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংযুক্ত দপ্তর হিসেবে কার্যক্রম শুরু।
- ধারাবাহিক শিক্ষাতথ্য সংগ্রহ ও সরবরাহ করে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থার কাছে সমাদৃত।
- বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান কার্যক্রম ছাড়াও শিক্ষা সেক্টরে আই.সি.টি. প্রশিক্ষন ও আই.সি.টি. শিক্ষার প্রসারে ব্যাপক ভূমিকা রাখছে।

উৎস: ব্যানবেইস ওয়েবসাইট।

১৪১.
'প্রাথমিক শিক্ষার উপবৃত্তি প্রকল্প' এর অধীনে ৬ষ্ঠ-৮ম শ্রেণির একজন শিক্ষার্থীর মাসিক উপবৃত্তির পরিমাণ কত?
  1. ২৫০ টাকা
  2. ২০০ টাকা
  3. ১৫০ টাকা
  4. ৩০০ টাকা
সঠিক উত্তর:
২০০ টাকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২০০ টাকা
ব্যাখ্যা

প্রাথমিকে উপবৃত্তি:
- দারিদ্রপীড়িত শিশুদের স্কুল গমন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকার ১৯৯৩ সালে শিক্ষার জন্য খাদ্য কর্মসূচী (FFE) গ্রহণ করে।
- (FFE) কর্মসূচীর সাফল্য বিবেচনায় সরকার ১৯৯৯ সালে পৌর এলাকা বাদে অবশিষ্ট ৭৩% এলাকার প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে প্রকল্পভুক্ত করে ছাত্র-ছাত্রীকে মাসিক ২৫.০০ টাকা হারে প্রাথমিক শিক্ষার জন্য উপবৃত্তি প্রদান প্রকল্প চালু করা হয়।
- উভয় প্রকল্পের সুফল বিবেচনায় ২০০২ সালে প্রকল্প দুইটি একীভূত করে প্রাথমিক শিক্ষার জন্য উপবৃত্তি প্রকল্প (২০০২-২০০৭) চালু করা হয়।
- পরবর্তীতে এক বছর মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয় যা ২০০৮ সালে শেষ হয়।
- প্রাথমিক শিক্ষার জন্য উপবৃত্তি প্রদান প্রকল্প (২য় পর্যায়) ২০০৯ সালে চালু হয়ে জুন ২০১৫ সালে সমাপ্তির পর প্রকল্পের ৩য় পর্যায়ের কার্যক্রম জুলাই ২০১৫ থেকে শুরু হয়ে জুন ২০২১-এ সমাপ্ত হয়।
- নির্দিষ্ট দারিদ্র্য ম্যাপের সীমারেখা আবদ্ধ না রেখে প্রাথমিক শিক্ষার জন্য উপবৃত্তি প্রদান প্রকল্প (৩য় পর্যায়)-এ সরকার সমগ্র দেশকে প্রকল্প এলাকা ঘোষণা করেন।

⇒ সুবিধাভোগী প্রত্যেক শিক্ষার্থী মাসিক নিম্নোক্ত হারে উপবৃত্তি প্রাপ্য হবে:
• প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণি: প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণির জন্য প্রত্যেক শিক্ষার্থী মাসিক ৭৫ (পঁচাত্তর) টাকা হারে উপবৃত্তির অর্থ প্রাপ্য হবে।
• প্রথম-পঞ্চম শ্রেণি: কোনো পরিবারের একজন শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করলে মাসিক ১৫০ (একশত পঞ্চাশ) টাকা, দুইজন শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করলে মাসিক ৩০০ (তিনশত) টাকা হারে উপবৃত্তির অর্থ প্রাপ্য হবে।
• ৬ষ্ঠ-৮ম শ্রেণি: যে সকল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৬ষ্ঠ থেকে ৮ম শ্রেণি চালু রয়েছে সে সকল বিদ্যালয়ে কোন পরিবারের একজন শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করলে মাসিক ২০০ (দুইশত) টাকা, দুইজন শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করলে মাসিক ৪০০ (চারশত) টাকা হারে উপবৃত্তির অর্থ প্রাপ্য হবে।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন। [link]

১৪২.
উপমহাদেশে শিক্ষা বিস্তারের জন্য উডের ডেসপ্যাস কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৮৫০ সালে
  2. ১৮৫৪ সালে
  3. ১৮৫৭ সালে
  4. ১৮৫৯ সালে
সঠিক উত্তর:
১৮৫৪ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮৫৪ সালে
ব্যাখ্যা

উডের ডেসপ্যাস: 
- ইংরেজ আমলের শিক্ষা ক্ষেত্রের একটি দলিল হল উডের শিক্ষা ডেসপ্যাস।
- ১৮৫৪ সালে এ উপমহাদেশে শিক্ষা বিস্তারের জন্য এই ডেসপ্যাসটি প্রকাশিত হয়।
- এই ডেসপ্যাসের সুবাদে ১৮৫৫ সালে এদেশে ৫টি বিভাগে শিক্ষা বিভাগ প্রতিষ্ঠিত হয়।
- এ শিক্ষা বিভাগের প্রধান ছিলেন জন শিক্ষা পরিচালক, ইংরেজিতে বলা হতো Director of Public Instruction (DPI)।
- এ পদটি ১৯৮০ সন পর্যন্ত বাংলাদেশেও চলে আসছিল।
- এর অধীনে ছিলেন কিছু পরিদর্শক।
- এ ডেসপ্যাসে প্রাথমিক শিক্ষার উপর বেশি জোর দেওয়া হয়।
- ফলে পরবর্তীতে বহু প্রাথমিক বিদ্যালয় ও নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়।
- এর পাশাপাশি শিক্ষা প্রশিক্ষণের জন্য ১৮৫৭ সালে ঢাকায় এবং ১৮৬৯ সালে চট্টগ্রামে নরমাল স্কুল প্রতিষ্ঠিত হয় যা বর্তমানে টিচার্স ট্রেনিং কলেজ নামে পরিচিত।

সূত্র: বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

১৪৩.
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ কে?
  1. মহাপরিচালক, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর
  2. সচিব, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়
  3. উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার
  4. জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার
সঠিক উত্তর:
মহাপরিচালক, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মহাপরিচালক, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর
ব্যাখ্যা

⇒ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ মহাপরিচালক, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর:
- DPE-এর পূর্ণরূপ: প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (Directorate of Primary Education).
- এটি বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়ন, তদারকি ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা একটি সরকারি সংস্থা।
- প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (DPE) ১৯৮১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।

⇒ এর মূল কাজের মধ্যে রয়েছে:
• দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোকে পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ করা,
• শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ প্রদান,
• প্রাথমিক শিক্ষা বিষয়ক নীতি ও কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা, এবং
• প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন ও সম্প্রসারণে বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ ও সম্পাদন করা।
• প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের (DPE) বর্তমান মহাপরিচালক হলেন আবু নূর মোঃ শামসুজ্জামান।

উল্লেখ্য:
- ২০২২ সালের পরিপত্র অনুযায়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার হলেও ২০২৫ সালের পরিপত্র অনুযায়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ মহাপরিচালক, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর।

তথ্যসূত্র - প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ওয়েবসাইট।

১৪৪.
বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষা অর্থায়নের প্রধান উৎস কোনটি?
  1. ছাত্র বেতন
  2. বৈদেশিক সাহায্য
  3. সরকারি অর্থ বরাদ্দ
  4. স্থানীয় সাহায্যে
সঠিক উত্তর:
সরকারি অর্থ বরাদ্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সরকারি অর্থ বরাদ্দ
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষায় অর্থায়নের উৎস: 
• সরকারি অর্থ বরাদ্দ: সরকারি অর্থ বরাদ্দই প্রাথমিক শিক্ষা অর্থায়নের প্রধান উৎস। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সমূহের যাবতীয় ব্যয় সরকারি অর্থে মেটানো হয়। এ ছাড়া রেজিস্ট্রার্ড বেসরকারি প্রাথমিক স্কুল, স্যাটেলাইট স্কুল, ইবতেদায়ি মাদ্রাসা প্রভৃতির শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতনের একটি উল্লেখযোগ্য অংশও সরকারি অর্থ দ্বারা পরিশোধ করা হয়।

• স্থানীয় সাহায্য: স্থানীয় বিত্তশালী ব্যক্তি, স্থানীয় শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিবর্গের দান, স্থানীয় ভাবে চাঁদা আদায় ইত্যাদি অর্থায়নের উৎস হিসেবে ধরা হয়। প্রাথমিক ভাবে স্কুল স্থাপন করার সময় এই উৎসের অবদান অনস্বীকার্য। তাছাড়া বেসরকারি পর্যায়ে অবস্থিত বিদ্যালয়সমূহের জন্যও এ ধরনের অর্থায়ন ও সহযোগিতা অস্বীকার করার কোন উপায় নেই

• অপ্রকাশিত উৎস: পিতা-মাতা কর্তৃক শিশুদের পোশাক পরিচ্ছদ ও কাগজ কলমের জন্য খরচ ইত্যাদি অপ্রকাশিত উৎস হিসেবে গণ্য করা যায়।

• বিদেশি সাহায্য: আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহের অর্থ সাহায্য যা সরকারি উন্নয়ন বাজেট বরাদ্দের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত থাকে, একটি উল্লেখখযোগ্য অর্থায়নের উৎস।

সূত্র: স্কুল অব এডুকেশন, এমএড, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

১৪৫.
মানব সম্পদ উন্নয়নের উদ্দেশ্য কী?
  1. দেশীয় প্রাকৃতিক সম্পদ বৃদ্ধি করা
  2. কর্মক্ষম জনশক্তিকে শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তি জ্ঞানে উন্নত করা
  3. কেবল চাকরির ব্যবস্থা করা
  4. শুধুমাত্র স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা
সঠিক উত্তর:
কর্মক্ষম জনশক্তিকে শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তি জ্ঞানে উন্নত করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্মক্ষম জনশক্তিকে শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তি জ্ঞানে উন্নত করা
ব্যাখ্যা

মানব সম্পদ উন্নয়ন:
- মানব সম্পদ উন্নয়ন দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ ও অপরিহার্য উপাদান।
- মানব সম্পদ ছাড়া অন্যান্য উন্নয়ন উপাদান অর্থহীন হয়ে পড়ে।
- উদ্দেশ্য: কর্মক্ষম জনশক্তিকে উপযুক্ত শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তি জ্ঞানে উন্নত বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে সমৃদ্ধ করা।
- উৎপাদনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে মানুষের কর্মদক্ষতা ও সুপ্ত প্রতিভা বিকশিত করা হলো মানব সম্পদ উন্নয়নের মূল লক্ষ্য।

• মানব সম্পদ উন্নয়ন উপায়:
- শিক্ষা,
- প্রশিক্ষণ,
- আধুনিক প্রযুক্তি ও
- স্বাস্থ্যসেবা। 

উৎস: i) শিক্ষা এবং উন্নয়ন, স্কুল অব এডুকেশন, এমএড প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
          ii) অর্থনীতি ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।