বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

আধুনিক শিক্ষা ও শিক্ষা ব্যবস্থা সংক্রান্ত বিষয়

মোট প্রশ্ন১৪৬এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

আধুনিক শিক্ষা ও শিক্ষা ব্যবস্থা সংক্রান্ত বিষয়

PrepBank · পাতা / · ১০০ / ১৪৬

.
বাংলাদেশে বর্তমানে মোট কতটি শিক্ষাবোর্ড রয়েছে?  [মার্চ, ২০২৬]
  1. ৮টি
  2. ১০টি
  3. ১১টি
  4. ১২টি
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের শিক্ষাবোর্ড:
- বাংলাদেশে বর্তমানে শিক্ষাবোর্ডের সংখ্যা ১১টি। যথা-

১. মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড, ঢাকা : দেশের প্রথম শিক্ষাবোর্ড; প্রতিষ্ঠাকাল- ১৯২১। 
২. মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড, রাজশাহী : প্রতিষ্ঠাকাল- ১৯৬২
৩. মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড, কুমিল্লা : প্রতিষ্ঠাকাল- ১৯৬২। 
৪. মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড, যশোর : প্রতিষ্ঠাকাল- ১৯৬২। 
৫. মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড, চট্টগ্রাম : প্রতিষ্ঠাকাল- ১৯৯৫। 
৬. মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড, বরিশাল : প্রতিষ্ঠাকাল- ১৯৯৯। 
৭. মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড, সিলেট : প্রতিষ্ঠাকাল- ১৯৯৯। 
৮. মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড, দিনাজপুর : প্রতিষ্ঠাকাল- ২০০৬। 
৯. মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড, ময়মনসিংহ : দেশের সর্বশেষ শিক্ষাবোর্ড; প্রতিষ্ঠাকাল- ২০১৬। 
১০. বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ড, ঢাকা : প্রতিষ্ঠাকাল - ১৯৭৯। 
১১. বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষাবোর্ড, ঢাকা : প্রতিষ্ঠাকাল - ১৯৬৭।  [ব্যাখ্যা আপডেট - মার্চ, ২০২৬]

উৎস: শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

.
জাতীয় শিক্ষানীতি-২০১০ অনুযায়ী প্রাথমিক শিক্ষার মেয়াদ কোন শ্রেণি পর্যন্ত?
  1. ষষ্ঠ শ্রেণি
  2. সপ্তম শ্রেণি
  3. অষ্টম শ্রেণি
  4. দশম শ্রেণি
ব্যাখ্যা

জাতীয় শিক্ষানীতি-২০১০:

• প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা:
- শিশুদের জন্য আনুষ্ঠানিক শিক্ষা শুরু করার আগে শিশুর অন্তর্নিহিত অপার বিস্ময়বোধ, অসীম কৌতুহল, আনন্দবোধ ও অফুরন্ত উদ্যমের মতো সর্বজনীন মানবিক বৃত্তির সুষ্ঠু বিকাশ এবং প্রয়োজনীয় মানসিক ও দৈহিক প্রস্তুতিগ্রহণের পরিবেশ তৈরি করা প্রয়োজন। - কাজেই ৫+ বছর বয়স্ক শিশুদের জন্য প্রাথমিকভাবে এক বছর মেয়াদি প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা চালু করা হবে।
- পরবর্তীকালে তা ৪+ বছর বয়স্ক শিশু পর্যন্ত সম্প্রসারিত করা হবে। 

• প্রাথমিক শিক্ষার মেয়াদ ও বাস্তবায়ন :
- প্রাথমিক শিক্ষার মেয়াদ পাঁচ বছর থেকে বৃদ্ধি করে আট বছর অর্থাৎ অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত সম্প্রসারন করা হবে।
- এটি বাস্তবায়নে দু'টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো অবকাঠামোগত আবশ্যকতা মেটানো এবং প্রয়োজনীয়সংখ্যক উপযুক্ত শিক্ষকের ব্যবস্থা করা

• ২০১১-১২ অর্থ বছর থেকে প্রাথমিক শিক্ষায় ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত চালু করার জন্য অনতিবিলম্বে নিম্নলিখিত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে:
- প্রথম থেকে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত প্রাথমিক শিক্ষার নতুন শিক্ষাক্রম, পাঠ্যপুস্তক এবং শিক্ষক নির্দেশিকা প্রণয়ন করা:
- প্রাথমিক পর্যায়ের সকল শিক্ষকের জন্য শিক্ষাক্রম বিস্তারসহ শিখন-শেখানো কার্যক্রমের ওপর ফলপ্রসূ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা;
- শিক্ষা প্রশাসন ও ব্যবস্থাপনার প্রয়োজনীয় পুনর্বিন্যাস করা।

উৎস: জাতীয় শিক্ষানীতি-২০১০।

.
বাংলাদেশের জাতীয় শিক্ষা নীতি- ২০১০ কার নেতৃত্বে প্রণীত হয়?
  1. প্রফেসর শামসুল হক
  2. অধ্যাপক কবীর চৌধুরী
  3. ড. কাজী খলিকুজ্জমান
  4. ড. মুহাম্মদ কুদরত-ই-খুদা
ব্যাখ্যা

জাতীয় শিক্ষা নীতি- ২০১০:
- স্বাধীনতার পরপরই একটি শিক্ষানীতি প্রণয়নের জন্য প্রখ্যাত বিজ্ঞানী ও শিক্ষাবিদ ড. কুদরাত এ খুদার নেতৃত্বে দেশের প্রথম শিক্ষা কমিশন গঠন করা হয়েছিল।
- উক্ত কমিশন ব্যাপক পরীক্ষা নিরীক্ষা করে ১৯৭৪ সালে গণমুখী আধুনিক এবং বিজ্ঞানভিত্তিক একটি শিক্ষানীতি প্রণয়ন করে।
- আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিবর্তন এবং সময়ের প্রয়োজনে এটি সংশোধন ও পরিমার্জন করা হয়েছে।
- সর্বশেষ ২০১০ সালে জাতীয় অধ্যাপক কবীর চৌধুরীর নেতৃত্বে একটি শিক্ষানীতি প্রণয়ন করা হয়।
- এই শিক্ষানীতির মূল উদ্দেশ্য হলো জনমুখী উন্নয়ন ও প্রগতিশীল নেতৃত্বদানে উপযোগী মানবতাবাদী, মননশীল, যুক্তিবাদী, কুসংস্কারমুক্ত, অসম্প্রদায়িক ও দেশপ্রেমিক নাগরিক গড়ে তোলা।
- এই শিক্ষানীতি সংবিধানের নির্দেশনা অনুযায়ী দেশে গণমুখী, সুলভ, সুসম, সর্বজনীন, সুপরিকল্পিত, বিজ্ঞানমনস্ক এবং মানসম্পন্ন শিক্ষাদানে সক্ষম শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার ভিত্তি ও কৌশল হিসেবে কাজ করবে।
- এই আলোকে শিক্ষার ৩০টি নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য, লক্ষ্য ও নীতিগত তাগিদ নেয়া হয়েছে।

উৎস: সমাজকর্ম প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
বাংলাদেশের প্রথম শিক্ষা কমিশনের নাম -
  1. মজিদ খান শিক্ষা কমিশন
  2. কবির চৌধুরী শিক্ষা কমিশন
  3. কুদরত-ই-খুদা শিক্ষা কমিশন
  4. শামসুল হক শিক্ষা কমিশন
ব্যাখ্যা

• জাতীয় শিক্ষা কমিশন:
- বাংলাদেশের প্রথম শিক্ষা কমিশন “জাতীয় শিক্ষা কমিশন” যা ২৬ জুলাই ১৯৭২ সালে গঠিত হয়।
- “জাতীয় শিক্ষা কমিশন” এর চেয়ারম্যান ছিলেন ড. কুদরত-ই-খুদা।
- ২৪ সেপ্টেম্বর ১৯৭২ সালে প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কমিশনের কার্যক্রম আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
- চেয়ারম্যানের নামানুসারে এই কমিশন কুদরত-ই-খুদা কমিশন নামেও পরিচিত।
- কমিশন ১৯৭৪ সালের ৩০ মে সরকারের নিকট রিপোর্ট পেশ করে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

.
সারা দেশে বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা আইন চালু হয় কত সালে?
  1. ১৯৯১ সালে
  2. ১৯৯২ সালে
  3. ১৯৯৪ সালে
  4. ১৯৯৩ সালে
ব্যাখ্যা

জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি:
- ১৯৭৪ সালে দেশে প্রাথমিক শিক্ষা আইন জারি হয়।
- জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি (নেপ) ময়মনসিংহ জেলায় অবস্থিত।
- এটি ১৯৭৮ সালে 'মৌলিক শিক্ষা একাডেমি' নামে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ১৯৮৫ সালে এটির নামকরণ করা হয় 'জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি'।
- এখানে প্রাথমিক শিক্ষা সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও কর্মকর্তা- কর্মচারীদের প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়।
- এই প্রতিষ্ঠান প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষার প্রশ্নপত্র প্রণয়ন করে থাকে।
- ১৯৯০ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা আইন প্রণীত হয়।
- এই আইনের অধীনে ১৯৯২ সালের ১ জানুয়ারি দেশের ৬৮টি উপজেলায়।
- ১ জানুয়ারি ১৯৯৩ সারা দেশে বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা আইন চালু হয়।

উৎস: জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি ওয়েবসাইট, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ও দৈনিক প্রথম আলো। 

.
বাংলাদেশের প্রথম শিক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান কে ছিলেন?
  1. মফিজউদ্দীন আহমদ
  2. প্রফেসর এম শামসুল হক
  3. ড. এম এ বারী
  4. ড. কুদরত-ই-খুদা
ব্যাখ্যা

জাতীয় শিক্ষা কমিশন:
- জাতীয় শিক্ষা কমিশন (১৯৭২) বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও বিজ্ঞানী ড. কুদরাত-ই-খুদাকে চেয়ারম্যান করে ১৯৭২ সালের ২৬ জুলাই গঠিত হয় বাংলাদেশের প্রথম শিক্ষা কমিশন ‘জাতীয় শিক্ষা কমিশন'।
- ১৯৭২ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর কমিশনের কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।
- চেয়ারম্যানের নামানুসারে এই কমিশন কুদরত-ই-খুদা কমিশন নামেও পরিচিতি পায়।
- কমিশন প্রশ্নমালার আকারে শিক্ষিত এলিট শ্রেণীর লোকদের নিকট থেকে মতামত গ্রহণ করে, এবং ঐসব মতামত সতর্কতার সঙ্গে যাচাই বাছাই করে প্রণীত রিপোর্টে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার পুনর্বিন্যাসের সুপারিশ করে।
- কমিশন ১৯৭৪ সালের ৩০ মে সরকারের নিকট রিপোর্ট পেশ করে।
- এই কমিশনের মতে প্রাথমিক শিক্ষার মেয়াদ হবে প্রথম থেকে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত মোট আট বছর এবং মাধ্যমিক শিক্ষার মেয়াদ হবে নবম শ্রেণী থেকে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত মোট চার বছর।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

.
জাতীয় শিক্ষানীতি-২০১০-এ কোন শ্রেণি পর্যন্ত মাধ্যমিক স্তর বিবেচিত হয়েছে?
  1. ষষ্ঠ-দশম শ্রেণি
  2. অষ্টম-দশম শ্রেণি
  3. নবম-দশম শ্রেণি
  4. নবম-দ্বাদশ শ্রেণি
ব্যাখ্যা
জাতীয় শিক্ষানীতি-২০১০ অনুযায়ী, নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত মাধ্যমিক স্তর বিবেচিত হয়েছে।

জাতীয় শিক্ষানীতি-২০১০:

- জাতীয় শিক্ষানীতি-২০১০ প্রণয়নে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানে বিধৃত সংশ্লিষ্ট নির্দেশনাসমূহ (সংযোজনী-১) বিবেচনায় রাখা হয়েছে। জাতিসংঘ শিশু অধিকার কনভেনশন, যেখানে প্রত্যেক সদস্য দেশে সকল শিশুর শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করার তাগিদ রয়েছে, সেটিও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। শিক্ষানীতির মূল উদ্দেশ্য মানবতার বিকাশ এবং জনমুখী উন্নয়ন ও প্রগতিতে নেতৃত্বদানের উপযোগী মননশীল, যুক্তিবাদী, নীতিবান, নিজের এবং অন্যান্য ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, কুসংস্কারমুক্ত, পরমতসহিষ্ণু, অসাম্প্রদায়িক, দেশপ্রেমিক এবং কর্মকুশল নাগরিক গড়ে তোলা। পাশাপাশি শিক্ষার মাধ্যমেই জাতিকে দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার বৈশিষ্ট্য ও দক্ষতা অর্জন করতে হবে। এই শিক্ষানীতি সংবিধানের নির্দেশনা অনুযায়ী দেশে গণমুখী, সুলভ, সুষম, সর্বজনীন, সুপরিকল্পিত, বিজ্ঞান মনস্ক এবং মানসম্পন্ন শিক্ষাদানে সক্ষম শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার ভিত্তি ও রণকৌশল হিসেবে কাজ করবে। 

উল্লেখ্য, 
- প্রাথমিক শিক্ষার মেয়াদ পাঁচ বছর থেকে বৃদ্ধি করে আট বছর অর্থাৎ অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত সম্প্রসারন করা হবে। এটি বাস্তবায়নে দু'টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো অবকাঠামোগত আবশ্যকতা মেটানো এবং প্রয়োজনীয়সংখ্যক উপযুক্ত শিক্ষকের ব্যবস্থা করা। প্রাথমিক স্তরের শেষ তিন শ্রেণীতে অর্থাৎ ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের জীবন পরিবেশের উপযোগী প্রাক-বৃত্তিমূলক এবং তথ্যপ্রযুক্তি শিক্ষা প্রদান করা হবে, যাতে যারা কোনো কারণে আর উচ্চতর পর্যায়ে পড়বে না এ শিক্ষার ফলে তাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ হতে পারে।
- নতুন শিক্ষা কাঠামোয় নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত মাধ্যমিক শিক্ষা স্তর হিসেবে বিবেচিত হবে। এই স্তরের শিক্ষাশেষে শিক্ষার্থীরা সামর্থ্য অনুযায়ী উচ্চশিক্ষার বিভিন্ন ধারায় যাবে, নয়তো অর্জিত বৃত্তিমূলক শিক্ষার ভিত্তিতে বা আরো বৃত্তিমূলক শিক্ষার মাধ্যমে জীবিকার্জনের পথে যাবে। 

উল্লেখ্য,
- 'জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০' অনুসারে প্রাথমিক শিক্ষা অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছিল বিগত আওয়ামী লীগ সরকার। তবে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নেই। রয়েছে শিক্ষক সংকট। নানান সংকটের মুখে সেই উদ্যোগ থেকে সরে এসেছে অন্তর্বর্তী সরকার। এজন্য আগামী ২০২৬ শিক্ষাবর্ষে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত থাকছে প্রাথমিক শিক্ষা। 

উৎস: i) জাতীয় শিক্ষানীতি-২০১০।
ii) দৈনিক ইত্তেফাক।
.
চতুর্থ প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি (পিইডিপি-৪) -তে সহায়তাকারী প্রতিষ্ঠান কোনটি?
  1. এডিবি
  2. জাইকা
  3. বিশ্বব্যাংক
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
Fourth Primary Education Development Program বা চতুর্থ প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি (পিইডিপি-৪) 
- পিইডিপি-৪ প্রোগ্রামের লক্ষ্য প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত সব শিশুকে একটি অন্তর্ভুক্তি ও সমতামূলক শিক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা। 
- কর্মসূচীটি শিক্ষার গুণগত মান জোরদার, শিক্ষায় প্রবেশাধিকার উন্নত করা এবং বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাপনার উন্নতির উপর দৃঢ় মনোযোগ দিয়ে পূর্ববর্তী কর্মসূচির অর্জনের উপর ভিত্তি করে গড়ে তুলবে।
- কর্মসূচি বাস্তবায়নে সহায়তা করবে জাইকা, এডিবি, বিশ্বব্যাংক সহ ৬টি সহযোগী সংস্থা ও বাংলাদেশ সরকার। 
- পাশাপাশি প্রাথমিক পর্যায়ে গণিত ও বিজ্ঞান শিক্ষার মানোন্নয়নে পিইডিপি-২ এবং পিইডিপি-৩ কর্মসূচিতে বাংলাদেশকে কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে জাইকা।
- পিইডিপি-৪ প্রকল্পের মেয়াদ জুলাই ২০১৮ থেকে জুন ২০২৫ পর্যন্ত।
- প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ৩৮ হাজার ২৯১ কোটি ৪৯ লাখ টাকা। 
- পিইডিপি-৪সহ বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় দেশের ২৪,৫৮৯ টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১,০৯,৯৮১ টি শ্রেণিকক্ষ নির্মাণের দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে।
- পিইডিপি-৪-এর  আওতায় ১,৬৫,১৭৪ জন শিক্ষক নিয়োগ ও পদায়ন করা হবে।
- এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, যাকে সংক্ষেপে আমরা ডিপিই বলে থাকি। 

তথ্য - প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ওয়েবসাইট।
.
বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা কয়টি স্তরে বিভক্ত?
  1. ৩টি
  2. ৪টি
  3. ৫টি
  4. ৬টি
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা
- বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা তিন স্তরবিশিষ্ট।
- সেগুল হলো: প্রাথমিক স্তর, মাধ্যমিক স্তর এবং উচ্চশিক্ষা বা বিশ্ববিদ্যালয় স্তর।
- সরকারি-বেসরকারি বিদ্যালয়গুলো পরিচালিত হয় ৫ বছর মেয়াদী প্রাথমিক, ৭ বছর মেয়াদী মাধ্যমিক (এর মধ্যে ২ বছর মেয়াদী উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়)।
- বাংলাদেশে তৃতীয় পর্যায়ে অর্থাৎ বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষা ৩ থেকে ৫ বছর মেয়াদি।
- শিক্ষা মন্ত্রণালয় হলো শিক্ষার জন্য রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ দফতর।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা, bangladesh.gov.bd.

১০.
ভারতীয় উপমহাদেশের প্রথম শিক্ষা কমিশনের নাম কী?
  1. মেকলে শিক্ষা কমিশন
  2. কার্জন শিক্ষা কমিশন
  3. স্যাডলার শিক্ষা কমিশন
  4. হান্টার শিক্ষা কমিশন
ব্যাখ্যা

প্রথম শিক্ষা কমিশন: 
- ভারতীয় উপমহাদেশের প্রথম শিক্ষা কমিশন হলো হান্টার শিক্ষা কমিশন।
- এটি ১৮৮২ সালে স্যার উইলিয়াম হান্টারকে প্রধান করে গঠিত হয়।
- এই কমিশনে মোট সাতজন সদস্য ছিলেন এবং এটি ব্রিটিশ ভাইসরয় লর্ড রিপনের আমলে গঠিত হয়েছিল।

উল্লখ্য, 
- লর্ড লিটনের পদত্যাগের পর লর্ড রিপন ভারতের ভাইসরয় নিযুক্ত হন।
- তার শাসনকাল ছিল ১৮৮০ থেকে ১৮৮৪ সাল।
- তিনি সাম্রাজ্যবাদী নীতির বিরোধী ছিলেন এবং ভারতবাসীর আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে উদারনীতি গ্রহণ করেন।  

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও একাদশ-দ্বাদশ শ্রেনির ইতিহাস বই, অধ্যাপক মোঃ গোলাম মোস্তফা।

১১.
‘জুলাই শহীদ স্মৃতি শিক্ষাবৃত্তি’ চালু হয়েছে কোথায়? [সেপ্টেম্বর, ২০২৫]
  1. বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে
  2. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে
  3. জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে
  4. চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে
ব্যাখ্যা

জুলাই শহীদ স্মৃতি শিক্ষাবৃত্তি:
- জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে ১ জুলাই থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়েছে ‘জুলাই শহীদ স্মৃতি শিক্ষাবৃত্তি’।
- জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে তরুণদের গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবছর এই বৃত্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
- এ বৃত্তির অধীনে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন, প্রান্তিক ও সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের এককালীন সহায়তা দেওয়া হবে।
- এ বছর ৭২৫টি প্রতিষ্ঠানের ২ হাজার ৪০ জন শিক্ষার্থী এ বৃত্তি পেয়েছেন।

উল্লেখ্য,
- জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন মোট শিক্ষার্থী ৩১ লাখ ৭০ হাজারের বেশি, যা দেশে উচ্চশিক্ষায় মোট শিক্ষার্থীর প্রায় ৭২ শতাংশ।
- জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন কলেজ আছে ২ হাজার ২৫৭টি।
- জুলাই গণ-অভ‍্যুত্থানে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত ৩২ জন শিক্ষার্থী শহীদ হয়েছেন।

তথ্যসূত্র- পত্রিকা রিপোর্ট। [link]

১২.
বর্তমান শিক্ষানীতির আলোকে বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষার মেয়াদকাল কত? 
  1. ৩ বছর
  2. ৫ বছর
  3. ৮ বছর
  4. ১০ বছর
ব্যাখ্যা

• প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়:
- 'জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০' অনুসারে প্রাথমিক শিক্ষা অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছিল বিগত সরকার।
- তবে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নেই।
- রয়েছে শিক্ষক সংকট। নানান সংকটের মুখে সেই উদ্যোগ থেকে সরে এসেছে অন্তর্বর্তী সরকার।
- এজন্য আগামী ২০২৬ শিক্ষাবর্ষে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত থাকছে প্রাথমিক শিক্ষা।
- প্রাথমিকে ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণিতে ভর্তি বন্ধে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। 
- বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে তা উপযোগী নয় বলে আপাতত প্রাথমিক শিক্ষার মেয়াদ ৫ বছরেই রাখার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া ও দৈনিক ইত্তেকাফ। (Link)

১৩.
জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (NCTB) কবে প্রতিষ্ঠিত হয়?
  1. ১৯৭২
  2. ১৯৮৩
  3. ২০১১
  4. ২০১৮
ব্যাখ্যা

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (NCTB):
- ১৯৭২–১৯৭৭: স্কুল টেক্সটবুক বোর্ড ১ম থেকে ১০ম শ্রেণির সকল পাঠ্যপুস্তক সংশোধন, পরিমার্জন ও পুনর্লিখন করে।
-এর লক্ষ্য ছিল রাষ্ট্রের জনসাধারণের জন্য প্রয়োজনীয় জ্ঞান আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গির আলোকে পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করা।
- ১৯৭৮–১৯৭৯: নতুন শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যসূচি অনুযায়ী নতুন পাঠ্যপুস্তক প্রণয়ন শুরু।
- ১৯৮৩: ১০ম শ্রেণি পর্যন্ত মানসম্পন্ন পাঠ্যপুস্তক প্রণয়ন ও বিতরণ সম্পন্ন।
- ১৯৮৩ সালে: The National Curriculum & Textbook Board Ordinance 1983 এর মাধ্যমে স্কুল টেক্সটবুক বোর্ড ও জাতীয় শিক্ষাক্রম উন্নয়ন কেন্দ্র একীভূত হয়ে NCTB প্রতিষ্ঠিত।
- ২০১৮ সালে: জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড আইন ২০১৮ দ্বারা ১৯৮৩ সালের আইন সংশোধন ও পুনর্বিন্যাস করা হয়।

• উদ্দেশ্য ও কার্যক্রম: 
- দেশের সকল স্কুলে পাঠ্যপুস্তক প্রণয়ন ও বিতরণ করা।
- শিক্ষাক্রম (Curriculum) পরিকল্পনা ও হালনাগাদ করা।
- শিক্ষার মান উন্নয়ন ও সময়োপযোগী শিক্ষাসংক্রান্ত নীতি বাস্তবায়ন।

উৎস: NCTB এর ওয়েবসাইট।

১৪.
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিভাগ সৃষ্টি করা হয় কত সালে?
  1. ১৯৭২ সালে
  2. ১৯৮১ সালে
  3. ১৯৯২ সালে
  4. ১৯৭৩ সালে
ব্যাখ্যা
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিভাগ সৃষ্টি হয়- ১৯৯২ সালে।

জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি:
- জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি (নেপ) ময়মনসিংহ জেলায় অবস্থিত।
-  ১৯৭৮ সালে মৌলিক শিক্ষা একাডেমি নামে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ১৯৮৫ সালে এটির নাম করণ করা হয় জাতীয়  প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি।
- এখানে  প্রাথমিক শিক্ষা সংশ্লিষ্ট  শিক্ষক  ও কর্মকর্তা কর্মচারীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

- এছাড়াও,
- প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (DPE) প্রতিষ্ঠিত হয় : ১ মার্চ ১৯৮১ সালে।
- প্রাথমিক ও গণ শিক্ষা মন্ত্রণালয় গঠন হয়: ২ জানুয়ারি ২০০৩ সালে।
- বেনবেইস তৈরী হয়: ১৯৭৭ সালে।

উৎস: জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি ওয়েবসাইট।
১৫.
মানব সম্পদ উন্নয়নের জন্য নিচের কোনটি অপরিহার্য?
  1. শিক্ষা
  2. প্রশিক্ষণ
  3. আধুনিক প্রযুক্তি
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

মানব সম্পদ উন্নয়ন:
- মানব সম্পদ উন্নয়ন একটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ এবং অপরিহার্য উপাদান।
- মানব সম্পদ ছাড়া উন্নয়নের অন্যান্য উপাদান অর্থহীন হয়ে পড়ে।
- শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, আধুনিক প্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে মানব সম্পদকে অধিকতর দক্ষ ও উৎপাদনশীল করা যায়।
- কাজেই কর্মক্ষম জনশক্তিকে উপযুক্ত শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তি জ্ঞানে উন্নত বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে সমৃদ্ধ করার প্রক্রিয়াকে 'মানব সম্পদ উন্নয়ন' বলা যায়। 
- সুতরাং উৎপাদনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে মানুষের কর্মদক্ষতা সুষ্ঠুভাবে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে মানুষের অন্তর্নিহিত কর্মগুণ, সুপ্ত প্রতিভা, উন্নত ও বিকশিত করে তোলাই হল 'মানব সম্পদ উন্নয়ন'।

উৎস: i) শিক্ষা এবং উন্নয়ন, স্কুল অব এডুকেশন, এমএড প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
         ii) অর্থনীতি ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৬.
বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা আইন পাস হয় কোন সালে?
  1. ১৯৯০
  2. ১৯৯১
  3. ১৯৯২
  4. ১৯৯৩
ব্যাখ্যা

প্রাথমিক শিক্ষা আইন:
- বাংলাদেশে বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা আইন পাস হয় ১৯৯০ সালে।
- ১৯৯২ সালের ১ জানুয়ারি প্রতি জেলার একটি করে থানায় পরীক্ষামূলকভাবে বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা প্রথমে চালু করা হয়।
- ১৯৯৩ সালের ১ জানুয়ারি থেকে সারাদেশে বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা আইন চালু হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া ও জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

১৭.
বাংলাদেশের প্রথম শিক্ষা কমিশনের নাম কী?
  1. মজিদ শিক্ষা কমিশন
  2. শামসুল হক শিক্ষা কমিশন
  3. কবির চৌধুরী শিক্ষা কমিশন
  4. কুদরত-ই-খুদা শিক্ষা কমিশন
ব্যাখ্যা
কুদরত ই খুদা শিক্ষা কমিশন:
- জাতীয় শিক্ষা কমিশন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও বিজ্ঞানী ড. কুদরাত-ই-খুদাকে চেয়ারম্যান করে ১৯৭২ সালের ২৬ জুলাই গঠিত হয়।
- বাংলাদেশের প্রথম শিক্ষা কমিশন ‘জাতীয় শিক্ষা কমিশন’।
- ১৯৭২ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর কমিশনের কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
- চেয়ারম্যানের নামানুসারে এই কমিশন কুদরত-ই-খুদা কমিশন নামেও পরিচিতি পায়।
- কমিশন প্রশ্নমালার আকারে শিক্ষিত এলিট শ্রেণীর লোকদের নিকট থেকে মতামত গ্রহণ করে,
-  কমিশন ১৯৭৪ সালের ৩০ মে সরকারের নিকট রিপোর্ট পেশ করে।

অপরদিকে,
- মজিদ খান শিক্ষা কমিশন:
- ১৯৮৩ সালে গঠিত হয় মজিদ খান শিক্ষা কমিশন।
- এই কমিশন  রিপোর্ট ব্যাপক প্রচারলাভ করে নি এবং এই কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের কোনো আনুষ্ঠানিক উদ্যোগও নেয়া হয় নি।
• শামসুল হক শিক্ষা কমিশন:
- বাংলাদেশ সরকার ১৯৯৭ সালের ১৪ জানুয়ারি জারীকৃত এক আদেশবলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর এম শামসুল হককে চেয়ারম্যান করে ৫৬ সদস্যের একটি শিক্ষা কমিশন গঠন করে।

• কবির চৌধুরী শিক্ষা কমিশন:
- ২০০০ সালের জাতীয় শিক্ষানীতিকে সময়োপযোগী করার লক্ষ্যে ২০০৯ সালে জাতীয় অধ্যাপক কবির চৌধুরীর নেতৃত্বে একটি ১৬ সদস্যের কমিটি গঠন করে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৮.
১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলনের কয় দফা দাবি ছিল?
  1. ১৪ দফা
  2. ১৮ দফা
  3. ২১ দফা
  4. ২২ দফা
ব্যাখ্যা
- ১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলনে ২২টি দফা ছিল।

৬২-র শিক্ষা আন্দোলন:
- ১৯৬২ সালের আগস্ট মাসে শরীফ কমিশন শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে একটি বৈষম্যমূলক প্রতিবেদন প্রকাশ করে।
- এই কমিশন পূর্ব পাকিস্তানের প্রতি পশ্চিম পাকিস্তানের বৈষম্যমূলক আচরণ বাড়িয়ে দেয়।
- ১৯৬১ সালের শেষ দিকে পূর্ব পাকিস্তানে আইয়ুব বিরোধী আন্দোলন শুরু হয়।
- গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন দমাতে আইয়ুব সরকার দমন-পীড়ন ও গ্রেপ্তার শুরু করে।
- এর ফলে ছাত্র আন্দোলন তীব্র আকার ধারণ করে।
- ১০ আগস্ট পূর্ব পাকিস্তান সরকার ১৪৪ ধারা জারি করলে ছাত্ররা ১৭ সেপ্টেম্বর হরতালের ডাক দেয়।
- ১৭ সেপ্টেম্বর হরতাল চলাকালে পুলিশের গুলিতে কয়েকজন ছাত্র নিহত এবং শতাধিক আহত হয়।
- এই ঘটনার স্মরণে ১৭ সেপ্টেম্বর 'শিক্ষা দিবস' হিসেবে পালিত হয়।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৯.
বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার স্তর নয় কোনটি?
  1. প্রাথমিক শিক্ষা
  2. উচ্চশিক্ষা
  3. মাধ্যমিক শিক্ষা
  4. নিম্ন-মাধ্যমিক শিক্ষা
ব্যাখ্যা

- 'নিম্ন-মাধ্যমিক শিক্ষা' শিক্ষা ব্যবস্থার স্তর নয়।

বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা:

- বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা তিন স্তরবিশিষ্ট।

• স্তরসমূহ:
- প্রাথমিক স্তর
- মাধ্যমিক স্তর
- উচ্চশিক্ষা/বিশ্ববিদ্যালয় স্তর

উল্লেখ্য,
- প্রাথমিক শিক্ষা: ৫ বছর মেয়াদি।
- মাধ্যমিক শিক্ষা: ৭ বছর মেয়াদি (এর মধ্যে ২ বছর উচ্চমাধ্যমিক)।
- বিশ্ববিদ্যালয়/উচ্চশিক্ষা: সাধারণত ৩–৫ বছর মেয়াদি।
- শিক্ষার জন্য রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ দফতর: শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

উৎস: বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা, bangladesh.gov.bd.

২০.
NAEM এর পূর্ণরূপ-
  1. National Academy for Educational Management
  2. National Authority for Education Monitoring
  3. National Association of Educational Ministries
  4. National Agency for Education and Management
ব্যাখ্যা
নায়েম(NAEM): 
- এর পূর্ণরূপ: National Academy for Educational Management.
- বাংলাদেশের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা ক্ষেত্রে একটি উৎকৃষ্ট কেন্দ্র।
- এটি শিক্ষার উৎকর্ষ সাধনে কাজ করে যাচ্ছে।
- নায়েমের চূড়ান্ত লক্ষ্য হচ্ছে শিক্ষা ক্ষেত্রে জাতীয় ও বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য শিক্ষক এবং শিক্ষা প্রশাসনের।
- শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধির লক্ষ্যে ১৯৫৯ খ্রিষ্টাব্দে এডুকেশন এক্সটেনশন সেন্টার প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ১৯৯২ খ্রিষ্টাব্দে এটিকে জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমি (নায়েম)-এ রূপান্তর করা হয়।

উৎস: নায়েম ওয়েবসাইট। 
২১.
জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি (নেপ) কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. ঢাকা
  2. গাজীপুর
  3. চট্টগ্রাম
  4. ময়মনসিংহ
ব্যাখ্যা

জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি:
-  ১৯৭৪ সালে দেশে প্রাথমিক শিক্ষা আইন জারি হয়।
- জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি (নেপ) ময়মনসিংহ জেলায় অবস্থিত।
- এটি ১৯৭৮ সালে 'মৌলিক শিক্ষা একাডেমি' নামে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ১৯৮৫ সালে এটির নামকরণ করা হয় 'জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি'।
- এখানে প্রাথমিক শিক্ষা সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়।
- এই প্রতিষ্ঠান প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষার প্রশ্নপত্র প্রণয়ন করে থাকে।
- ১৯৯০ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা আইন প্রণীত হয়।
- এই আইনের অধীনে ১৯৯২ সালের ১ জানুয়ারি দেশের ৬৮টি উপজেলায় এবং ১ জানুয়ারি ১৯৯৩ সারা দেশে বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা আইন চালু হয়।

তথ্যসূত্র - জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি ওয়েবসাইট, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ও দৈনিক প্রথম আলো, ০১ নভেম্বর ২০১৪।

২২.
বাংলাদেশে বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা আইন কবে পাশ করা হয়?
  1. ১৯৮৯
  2. ১৯৯০ 
  3. ১৯৯২
  4. ১৯৯৩
ব্যাখ্যা

• বাধ্যতামুলক প্রাথমিক শিক্ষা:
- দেশের সকল শিশুকে একটি ন্যূনতম স্তর পর্যন্ত শিক্ষিত করে তোলাই সর্বজনীন প্রাথমিক শিক্ষার লক্ষ্য।
- এই লক্ষ্য অর্জনের প্রধান উপায় হচ্ছে বাধ্যতামুলক প্রাথমিক শিক্ষা।
- এ অবস্থায় আইনের মাধ্যমে সকল শিশুকে বিদ্যালয়ে ভর্তি এবং নির্দিষ্ট সময়কাল পর্যন্ত শিক্ষা গ্রহণ বাধ্যতামূলক করা হয়।
- এ ধরনের শিক্ষা ব্যবস্থাকে বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা বলা হয়।
- ১৯৯০ সালে বাংলাদেশে বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা আইন সংসদে পাশ করা হয়
- এবং ১৯৯২ সালে প্রতি জেলায় একটি করে থানায় পরীক্ষামূলক ভাবে বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা চালু করা হয়।
- ১৯৯৩ সালে সারাদেশে তা সম্প্রসারণ করা হয়।

উৎস: বাংলাদেশ স্টাডিজ, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৩.
শিক্ষাদানের প্রথম ধাপ কোনটি?
  1. পাঠ পরিকল্পনা
  2. প্রশ্নোত্তর
  3. পর্যালোচনা
  4. মূল্যায়ন
ব্যাখ্যা

পাঠ পরিকল্পনা:
- শিক্ষাদানের প্রথম ধাপ হলো পাঠ পরিকল্পনা।
- এতে শিক্ষক পাঠের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য, বিষয়বস্তু, শিখন কৌশল ও সময় বণ্টন নির্ধারণ করেন।
- পরিকল্পনার মাধ্যমে শিক্ষার্থীর পূর্ব জ্ঞান, আগ্রহ ও শ্রেণির পরিবেশ বিবেচনা করা হয়।
- এটি শিক্ষককে আত্মবিশ্বাস দেয় এবং পাঠকে সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা প্রদান করে।
- প্রশ্নোত্তর, পর্যালোচনা ও মূল্যায়ন সবই পাঠ পরিকল্পনার পরবর্তী ধাপ।
- ভালো পরিকল্পনা থাকলে শিক্ষার্থীদের মনোযোগ ধরে রাখা সহজ হয়।

তথ্যসূত্র - শিক্ষাদানের নীতিমালা এবং শিক্ষাদানের পদ্ধতি, বাংলাদেশের উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৪.
২০১০ সালের জাতীয় শিক্ষানীতিতে কোন শ্রেণি পর্যন্ত প্রাথমিক শিক্ষার মেয়াদ সম্প্রসারনের উল্লেখ রয়েছে?
  1. ষষ্ঠ শ্রেণি
  2. সপ্তম শ্রেণি
  3. অষ্টম শ্রেণি
  4. দশম শ্রেণি
ব্যাখ্যা

জাতীয় শিক্ষানীতি-২০১০ :

• প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা:
- শিশুদের জন্য আনুষ্ঠানিক শিক্ষা শুরু করার আগে শিশুর অন্তর্নিহিত অপার বিস্ময়বোধ, অসীম কৌতুহল, আনন্দবোধ ও অফুরন্ত উদ্যমের মতো সর্বজনীন মানবিক বৃত্তির সুষ্ঠু বিকাশ এবং প্রয়োজনীয় মানসিক ও দৈহিক প্রস্তুতিগ্রহণের পরিবেশ তৈরি করা প্রয়োজন। 
- কাজেই ৫+ বছর বয়স্ক শিশুদের জন্য প্রাথমিকভাবে এক বছর মেয়াদি প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা চালু করা হবে।
- পরবর্তীকালে তা ৪+ বছর বয়স্ক শিশু পর্যন্ত সম্প্রসারিত করা হবে। 

• প্রাথমিক শিক্ষার মেয়াদ ও বাস্তবায়ন :
- প্রাথমিক শিক্ষার মেয়াদ পাঁচ বছর থেকে বৃদ্ধি করে আট বছর অর্থাৎ অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত সম্প্রসারন করা হবে। এটি বাস্তবায়নে দু'টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো অবকাঠামোগত আবশ্যকতা মেটানো এবং প্রয়োজনীয়সংখ্যক উপযুক্ত শিক্ষকের ব্যবস্থা করা
• ২০১১-১২ অর্থ বছর থেকে প্রাথমিক শিক্ষায় ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত চালু করার জন্য অনতিবিলম্বে নিম্নলিখিত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে:
- প্রথম থেকে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত প্রাথমিক শিক্ষার নতুন শিক্ষাক্রম, পাঠ্যপুস্তক এবং শিক্ষক নির্দেশিকা প্রণয়ন করা:
- প্রাথমিক পর্যায়ের সকল শিক্ষকের জন্য শিক্ষাক্রম বিস্তারসহ শিখন-শেখানো কার্যক্রমের ওপর ফলপ্রসূ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা;
- শিক্ষা প্রশাসন ও ব্যবস্থাপনার প্রয়োজনীয় পুনর্বিন্যাস করা।

উৎস: জাতীয় শিক্ষানীতি-২০১০।

২৫.
বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষার বাধ্যতামূলক আইন কত সালে পাস হয়?
  1. ১৯৮১
  2. ১৯৯০
  3. ১৯৯২
  4. ১৯৯৩
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশে প্রাথমিক শিক্ষা:
- ১৯৭৩: স্বাধীনতা অর্জনের পর প্রাথমিক শিক্ষা জাতীয়করণ করা হয়।
- ১৯৮১: পৃথক প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ১৯৯০: বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা আইন পাস হয়।
- ১৯৯২: আইন প্রাথমিকভাবে ৬৮টি উপজেলায় চালু হয় এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিভাগ প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ১ জানুয়ারি, ১৯৯৩: সারাদেশে বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা আইন কার্যকর হয়।

উৎস: প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (DPE) ওয়েবসাইট।

২৬.
বাংলাদেশে বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা আইন পাস হয়-
  1. ১৯৮৫ সালে
  2. ১৯৯১ সালে
  3. ১৯৯০ সালে
  4. ১৯৮৭ সালে
ব্যাখ্যা

বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা:
- বাংলাদেশে ১৯৮০ সালে সর্বজনীন প্রাথমিক শিক্ষা চালু করা হয়।
- সর্বজনীন প্রাথমিক শিক্ষাকে ফলপ্রসূ করার লক্ষ্যে সরকার দেশের ছয় থেকে দশ বছর বয়সী শিশুর জন্য পাঁচ বছরের প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণ বাধ্যতামূলক করেন।
- ১৯৯০ সালে সারা দেশে বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা আইন পাস করা হয়।
- ১৯৯২ সালে সীমিতভাবে এবং ১৯৯৩ সাল থেকে সারা দেশে বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা প্রবর্তন করা হয়।

উৎস: সিএড প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

২৭.
সহপাঠির অনুভূতি বুঝতে পারা কোন ধরনের লক্ষণ?
  1. ভাষাগত
  2. জ্ঞানগত
  3. আবেগগত
  4. ইচ্ছাগত
ব্যাখ্যা

- সহপাঠির অনুভূতি বুঝতে পারা হলো আবেগগত বুদ্ধিমত্তা।
- সহপাঠির অনুভূতি বুঝতে পারা মানে অন্যের মনের ভাব, দুঃখ, আনন্দ বা চাপ অনুভব করতে সক্ষম হওয়া।
- এটি সরাসরি আবেগ বা অনুভূতির সাথে সম্পর্কিত।
- এ ধরনের ক্ষমতাকে বলা হয় আবেগগত বুদ্ধিমত্তা (Emotional Intelligence)।
- আবেগগত বুদ্ধিমত্তার একটি প্রধান অংশ হলো সহানুভূতি।

তথ্যসূত্র - Harvard Division of Continuing Education.

২৮.
একজন বাংলাভাষী শিশুর প্রাথমিক শিক্ষায় প্রথম ধাপ কী?
  1. বাংলা ও গণিতের স্বাক্ষরতা
  2. বাংলা ও ইংরেজিতে দক্ষতা
  3. বাংলা ও আরবিতে দক্ষতা
  4. স্বাক্ষরতা
ব্যাখ্যা

⇒ একজন বাংলাভাষী শিশুর প্রাথমিক শিক্ষায় প্রথম ধাপ বাংলা ও গণিতের সাক্ষরতা।

- একজন বাংলাভাষী শিশুর জন্য প্রাথমিক শিক্ষার প্রথম ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো মাতৃভাষায় সাক্ষরতা অর্জন।
- এর মধ্যে প্রথমেই বাংলা ভাষায় পড়া-লেখা ও গণিতের মৌলিক সংখ্যাজ্ঞান গড়ে তোলা হয়।
- প্রথম শ্রেণি থেকেই শিশুকে বাংলা অক্ষর চেনা, শব্দ গঠন ও সহজ গণিতের ধারণা শেখানো হয়।
- এটি শিশুর মানসিক বিকাশ ও পরবর্তী শিক্ষার ভিত্তি তৈরি করে।
- ইংরেজি বা অন্য ভাষা পরে আসে, প্রথম ধাপে মাতৃভাষা ও গণিতকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়।
- এ কারণে বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষাক্রমে এটিই প্রথম ধাপ হিসেবে বিবেচিত।

তথ্যসূত্র - জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

২৯.
জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি (NAPE) নিচের কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. ঢাকা
  2. কুমিল্লা
  3. ময়মনসিংহ
  4. বগুড়া 
ব্যাখ্যা

• জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি:
- ইংরেজি নাম: National Academy for Primary Education (NAPE)
-  ১৯৭৪ সালে দেশে প্রাথমিক শিক্ষা আইন জারি হয়।
- জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি ময়মনসিংহ জেলায় অবস্থিত।
- এটি ১৯৭৮ সালে 'মৌলিক শিক্ষা একাডেমি' নামে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ১৯৮৫ সালে এটির নামকরণ করা হয় 'জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি'।
- এখানে প্রাথমিক শিক্ষা সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়।
- এই প্রতিষ্ঠান প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষার প্রশ্নপত্র প্রণয়ন করে থাকে।
- ১৯৯০ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা আইন প্রণীত হয়।
- এই আইনের অধীনে ১৯৯২ সালের ১ জানুয়ারি দেশের ৬৮টি উপজেলায় এবং ১ জানুয়ারি ১৯৯৩ সারা দেশে বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা আইন চালু হয়।

তথ্যসূত্র:  জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি ওয়েবসাইট, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ও দৈনিক প্রথম আলো, ০১ নভেম্বর ২০১৪।

৩০.
বাংলাদেশের প্রথম শিক্ষা কমিশন ড. কুদরত-ই-খুদা শিক্ষা কমিশন গঠিত হয় কবে?
  1. ১৬ জুলাই, ১৯৭১
  2. ২৬ জুলাই, ১৯৭১
  3. ১৬ জুলাই, ১৯৭২
  4. ২৬ জুলাই, ১৯৭২
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের প্রথম শিক্ষা কমিশন:
- বাংলাদেশের প্রথম শিক্ষা কমিশনের নাম - কুদরত-ই-খুদা শিক্ষা কমিশন।
- জাতীয় শিক্ষা কমিশন (১৯৭২) বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও বিজ্ঞানী ড. কুদরাত-ই-খুদাকে চেয়ারম্যান করে ১৯৭২ সালের ২৬ জুলাই গঠিত হয় বাংলাদেশের প্রথম শিক্ষা কমিশন ‘জাতীয় শিক্ষা কমিশন'।
- ১৯৭২ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর কমিশনের কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী।
- চেয়ারম্যানের নামানুসারে এই কমিশন কুদরত-ই-খুদা কমিশন নামেও পরিচিতি পায়।
- কমিশন প্রশ্নমালার আকারে শিক্ষিত এলিট শ্রেণীর লোকদের নিকট থেকে মতামত গ্রহণ করে, এবং ঐসব মতামত সতর্কতার সঙ্গে যাচাই বাছাই করে প্রণীত রিপোর্টে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার পুনর্বিন্যাসের সুপারিশ করে।
- কমিশন ১৯৭৪ সালের ৩০ মে সরকারের নিকট রিপোর্ট পেশ করে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৩১.
বাংলাদেশে ’শিক্ষার বিনিময়ে খাদ্য’ কর্মসূচি চালু হয় কবে?
  1. ১৯৯১ সাল
  2. ১৯৯৩ সাল
  3. ১৯৯২ সাল
  4. ১৯৯৫ সাল
ব্যাখ্যা

শিক্ষার বিনিময়ে খাদ্য' কর্মসূচি:
- দেশে দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাসরত পরিবারের শিশুদেরকে সহায়তা প্রদানের উদ্দেশ্যে ১৯৯৩-৯৪ অর্থ বছর থেকে শিক্ষার বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচি চালু করা হয়।
- ১৯৯৩ সালে 'শিক্ষার বিনিময়ে খাদ্য' কর্মসূচি চালু হয়।

অন্যদিকে -
- ১৯৭৪ সালে দেশব্যাপী চরম খাদ্যাভাব দেখা দিলে বিশেষ করে খাদ্যশস্যের উচ্চমূল্য এবং গ্রামীণ এলাকায় বেকারত্বের কারণে বৃহত্তর রংপুর জেলার মানুষ অনাহারের সম্মুখীন হলে সরকার ‘ফুড ফর ওয়ার্ক’ বা কাজের বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচি চালু করে। 

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৩২.
বাংলাদেশের প্রথম নিরক্ষর মুক্ত জেলা কোনটি?
  1. কুমিল্লা
  2. ময়মনসিংহ
  3. মাগুরা
  4. সিলেট
ব্যাখ্যা
মাগুরা: 
- বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের খুলনা বিভাগের একটি প্রশাসনিক ও সমৃদ্ধ জনপদের নাম মাগুরা।
- বাংলাদেশের প্রথম নিরক্ষরমুক্ত জেলা মাগুরা।
- ১৭৮৬ সালে ব্রিটিশ আমলে বাংলা প্রদেশের প্রথম গঠিত জেলা যশোর।
- ১৯৮৪ সালে দেশের প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের অংশ হিসেবে মাগুরাকে মহকুমা থেকে জেলায় উন্নীত করা হয়। 
- চারটি থানা সংবলিত এই জেলা। থানাগুলো হলো যথাক্রমে-মাগুরা সদর, শ্রীপুর, শালিখা ও মহম্মদপুর।
- যা দুটি সংসদীয় মাগুরা-১ ও মাগুরা-২ নির্বাচনী এলাকায় বিভক্ত।
- মুঘল যুগেই মাগুরার নামকরণ করা হয়।
- ১৮৫৯-৬০ সালের হাজরাপুরে নীলকুঠিকে কেন্দ্র করে নীল অভ্যুত্থান ইতিহাসের একটি মাইলফলক। 

এক নজরে জেলা মাগুরা
- আয়তন : ১০৩৮.৬৬ কিলোমিটার বা ৪১৫.৪৬৪ বর্গমাইল।
- জনসংখ্যা প্রায় ৮ লাখ ১৫ হাজার। এর মধ্যে পুরুষ ৫০.৫৬ শতাংশ, মহিলা ৪৯.৪৪ শতাংশ।
- অবস্থান : যশোর জেলা ও নড়াইল জেলার দক্ষিণে, রাজবাড়ী জেলার উত্তরে, ঝিনাইদহ জেলার পশ্চিমে ও ফরিদপুর জেলার পূর্বে মাগুরা জেলার অবস্থান।

নদ-নদী : জেলায় অনেকগুলো নদী রয়েছে।
- নদীগুলো হচ্ছে- গড়াই নদী, নবগঙ্গা নদী, ফটকি নদী, আলমখালী নদী, মধুমতী নদী, মুচিখালী নদী, মরাকুমার নদ, কুমার নদ, চিত্রা নদী, ভৈরব নদী, সিরাজপুর হাওর নদী বেগবতী নদী।

উৎস: মাগুরা জেলার ওয়েবসাইট।
৩৩.
বরেন্দ্র রিসার্চ সোসাইটি কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়? 
  1. ১৯৩৭
  2. ১৯৭২
  3. ১৯১০
  4. ১৯২১
ব্যাখ্যা

• বরেন্দ্র রিসার্চ সোসাইটি:
- বরেন্দ্র রিসার্চ সোসাইটি ১৯১০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। 
- এটি পূর্ববঙ্গের প্রথম জাদুঘর হিসেবে পরিচিত।
- প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন দিঘাপতিয়া রাজ পরিবারের বংশধর শরৎকুমার রায়, আইনজীবী ও ইতিহাসবিদ অক্ষয়কুমার মৈত্রেয় এবং ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ববিদ রামপ্রসাদ চন্দ্র।
- প্রতিষ্ঠার মূল উদ্দেশ্য ছিল বাংলার ঐতিহ্য ও নিদর্শন সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করা।
- এটি বাংলাদেশের প্রাচীনতম জাদুঘর হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ।

উল্লেখ্য, 
- বরেন্দ্র রিসার্চ সোসাইটি বিভিন্ন গবেষণা ও প্রকাশনা কার্যক্রম পরিচালনা করত, যার মধ্যে বার্ষিক প্রতিবেদন, মনোগ্রাফ, শিলালিপি ও সংস্কৃত পান্ডুলিপি অন্তর্ভুক্ত ছিল।
- তবে প্রতিষ্ঠাতাদের মৃত্যুর পর এবং ১৯৪৭ সালে দেশের বিভাজনের পর সোসাইটির কার্যক্রম ধীরে ধীরে কমে যায়।
- অবশেষে ১৯৬৩ সালে প্রতিষ্ঠানটি বিলুপ্ত হয়ে যায়।
- যদিও বরেন্দ্র জাদুঘর আজও গবেষণার ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক গৌরবের প্রতীক হিসেবে টিকে আছে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৩৪.
কত সালে প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের জন্য উপবৃত্তি প্রকল্প চালু করা হয়?
  1. ২০০১ সালে
  2. ২০০০ সালে
  3. ২০০২ সালে
  4. ২০০৩ সালে
ব্যাখ্যা

• প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের জন্য উপবৃত্তি প্রকল্প:
- চালু : ২০০২ সালে শিক্ষার জন্য খাদ্য কর্মসূচি (১৯৯৩) এবং প্রাথমিক শিক্ষার জন্য উপবৃত্তি (১৯৯৯) একীভূত করে সরকার দ্বারা চালু
- উদ্দেশ্য: প্রাথমিক শিক্ষার বিস্তার ও মান উন্নয়ন
- দ্বিতীয় পর্যায়: ২০০৮ সালে পুনরায় গ্রহণ
- সুবিধাভোগী শিক্ষার্থীর লক্ষ্য: তৃতীয় পর্যায়ে ১ কোটি ৩০ লাখ
- উপবৃত্তির পরিমাণ:
- প্রাক-প্রাথমিক: মাসিক ৭৫ টাকা
- প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি: মাসিক ১৫০ টাকা (দুই শিক্ষার্থী থাকলে ৩০০ টাকা)
- ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণি: মাসিক ২০০ টাকা (দুই শিক্ষার্থী থাকলে ৪০০ টাকা)
- বর্তমান সুবিধাভোগী: ১ কোটি ৪০ লাখ শিক্ষার্থী
- প্রদানের মাধ্যম: বাংলাদেশ ব্যাংক অনুমোদিত MFS প্রতিষ্ঠান (বিকাশ, রকেট, এমক্যাশ, উপায়, ট্যাপ, মাই ক্যাশ, টেলিক্যাশ, ওকে ওয়ালেট, ইসলামিক ওয়ালেট) এবং ডাক বিভাগের নগদ সেবা।

তথ্যসূত্র: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৩৫.
বাংলাদেশের বর্তমান শিক্ষানীতিতে প্রাথমিক শিক্ষার মেয়াদ কত বছর নির্ধারিত হয়েছে?
  1. ৩ বছর
  2. ৫ বছর
  3. ৮ বছর
  4. ১০ বছর
ব্যাখ্যা

• প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়:
- 'জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০' অনুসারে প্রাথমিক শিক্ষা অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছিল বিগত সরকার।
- তবে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নেই।
- রয়েছে শিক্ষক সংকট। নানান সংকটের মুখে সেই উদ্যোগ থেকে সরে এসেছে অন্তর্বর্তী সরকার।
- এজন্য আগামী ২০২৬ শিক্ষাবর্ষে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত থাকছে প্রাথমিক শিক্ষা।
- প্রাথমিকে ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণিতে ভর্তি বন্ধে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। 
- বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে তা উপযোগী নয় বলে আপাতত প্রাথমিক শিক্ষার মেয়াদ ৫ বছরেই রাখার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া ও দৈনিক ইত্তেকাফ।

৩৬.
বাংলাদেশের প্রথম শিক্ষা কমিশনের নাম কী?
  1. মজিদ খান শিক্ষা কমিশন
  2. শামসুল হক শিক্ষা কমিশন
  3. কবির চৌধুরী শিক্ষা কমিশন
  4. কুদরত-ই-খুদা কমিশন
ব্যাখ্যা

কুদরত-ই-খুদা শিক্ষা কমিশন:
- বাংলাদেশের প্রথম শিক্ষা কমিশনের নাম কুদরত-ই-খুদা শিক্ষা কমিশন।
- বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও বিজ্ঞানী ড. কুদরাত-ই-খুদাকে চেয়ারম্যান করে ১৯৭২ সালের ২৬ জুলাই গঠিত হয় বাংলাদেশের প্রথম শিক্ষা কমিশন 'জাতীয় শিক্ষা কমিশন'।
- ১৯৭২ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর কমিশনের কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
- চেয়ারম্যানের নামানুসারে এই কমিশন কুদরত-ই-খুদা কমিশন নামেও পরিচিতি পায়।
- কমিশন প্রশ্নমালার আকারে শিক্ষিত এলিট শ্রেণীর লোকদের নিকট থেকে মতামত গ্রহণ করে, এবং ঐসব মতামত সতর্কতার সঙ্গে যাচাই
বাছাই করে প্রণীত রিপোর্টে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার পুনর্বিন্যাসের সুপারিশ করে।
- কমিশন ১৯৭৪ সালের ৩০ মে সরকারের নিকট রিপোর্ট পেশ করে।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।

৩৭.
মাধ্যমিক শিক্ষা প্রশাসন ও ব্যবস্থাপনার সর্বোচ্চে কার অবস্থান রয়েছে?
  1. মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড
  2. মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর
  3. শিক্ষা মন্ত্রণালয়
  4. জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমি
ব্যাখ্যা

⇒ মাধ্যমিক শিক্ষা প্রশাসন ও ব্যবস্থাপনার সর্বোচ্চে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অবস্থান।

মাধ্যমিক শিক্ষা:
- মাধ্যমিক শিক্ষা প্রশাসন ও ব্যবস্থাপনার শীর্ষে রয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
- শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে রয়েছে একাধিক সংস্থা।
- কেন্দ্রীয় পর্যায়ে অবস্থিত এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বাংলাদেশের মাধ্যমিক শিক্ষা প্রশাসন ও ব্যবস্থাপনা সম্বন্ধীয় যাবতীয় কর্মকা- পরিচালিত হয়ে থাকে।
- এসব বিভিন্নমুখী দায়িত্ব পালন করে থাকে শিক্ষামন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ চার ধরনের বিশেষীকৃত সংস্থা।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৮.
দেশে প্রাথমিক শিক্ষা আইন জারি হয় হয় কবে?
  1. ১৯৭২ সালে
  2. ১৯৭৩ সালে
  3. ১৯৭৪ সালে
  4. ১৯৭৮ সালে
  5. ১৯৮১ সালে
ব্যাখ্যা
জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি:
- ১৯৭৪ সালে দেশে প্রাথমিক শিক্ষা আইন জারি হয়।
- জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি (নেপ) ময়মনসিংহ জেলায় অবস্থিত।
- এটি ১৯৭৮ সালে 'মৌলিক শিক্ষা একাডেমি' নামে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ১৯৮৫ সালে এটির নামকরণ করা হয় 'জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি'।
- এখানে প্রাথমিক শিক্ষা সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়।
- এই প্রতিষ্ঠান প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষার প্রশ্নপত্র প্রণয়ন করে থাকে।
- ১৯৯০ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা আইন প্রণীত হয়।
- এই আইনের অধীনে ১৯৯২ সালের ১ জানুয়ারি দেশের ৬৮টি উপজেলায় এবং ১ জানুয়ারি ১৯৯৩ সারা দেশে বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা আইন চালু হয়।

উৎস: জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি ওয়েবসাইট।
৩৯.
বাংলদেশের প্রথম শিক্ষা কমিশন কোনটি?
  1. কুদরত-ই-খুদা কমিশন
  2. মফিজ উদ্দিন কমিশন
  3. শাসসুল হক কমিশন
  4. মাজেদ খান কমিশন
ব্যাখ্যা

কুদরত-ই-খুদা শিক্ষা কমিশন:
- বাংলাদেশের প্রথম শিক্ষা কমিশনের নাম কুদরত-ই-খুদা শিক্ষা কমিশন।
- বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও বিজ্ঞানী ড. কুদরাত-ই-খুদাকে চেয়ারম্যান করে ১৯৭২ সালের ২৬ জুলাই গঠিত হয় বাংলাদেশের প্রথম শিক্ষা কমিশন 'জাতীয় শিক্ষা কমিশন'।
- ১৯৭২ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর কমিশনের কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।
- চেয়ারম্যানের নামানুসারে এই কমিশন কুদরত-ই-খুদা কমিশন নামেও পরিচিতি পায়।
- কমিশন প্রশ্নমালার আকারে শিক্ষিত এলিট শ্রেণীর লোকদের নিকট থেকে মতামত গ্রহণ করে, এবং ঐসব মতামত সতর্কতার সঙ্গে যাচাই
বাছাই করে প্রণীত রিপোর্টে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার পুনর্বিন্যাসের সুপারিশ করে।
- কমিশন ১৯৭৪ সালের ৩০ মে সরকারের নিকট রিপোর্ট পেশ করে।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।

৪০.
বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (বিকেএসপি) কোথায় অবস্থিত?
  1. গাজীপুর
  2. টঙ্গী
  3. সাভার
  4. মিরপুর
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (বিকেএসপি):
- বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (বিকেএসপি) দেশের একমাত্র ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যেখানে খেলাধুলার সাথে সাধারণ শিক্ষার সমন্বয় রয়েছে।
- ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশ সরকার জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের অধীনে প্রকল্প আকারে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব স্পোর্টস (বিআইএস) প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা করে।
- ১৯৮৩ সালে অধ্যাদেশের মাধ্যমে নাম পরিবর্তন করে বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (বিকেএসপি) রাখা হয়।
- ১৯৮৬ সাল থেকে নিয়মিত শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হয়।
- বিকেএসপি যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি বিধিবদ্ধ স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান।
- অবস্থান: রাজধানী ঢাকা থেকে প্রায় ৫০ কিমি উত্তর-পশ্চিমে, সাভারের জিরানী এলাকায়।
- আয়তন: ১১৯ একর জমির উপর প্রতিষ্ঠিত।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৪১.
বাংলাদেশের প্রথম শিক্ষা কমিশন- ড. কুদরত-ই-খুদা শিক্ষা কমিশন গঠিত হয় কবে?
  1. ১৬ জুন, ১৯৭২
  2. ২৬ জুন , ১৯৭২
  3. ১৬ জুলাই, ১৯৭২
  4. ২৬ জুলাই, ১৯৭২
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের প্রথম শিক্ষা কমিশন:
- বাংলাদেশের প্রথম শিক্ষা কমিশনের নাম - কুদরত-ই-খুদা শিক্ষা কমিশন।
- জাতীয় শিক্ষা কমিশন (১৯৭২) বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও বিজ্ঞানী ড. কুদরাত-ই-খুদাকে চেয়ারম্যান করে ১৯৭২ সালের ২৬ জুলাই গঠিত হয় বাংলাদেশের প্রথম শিক্ষা কমিশন ‘জাতীয় শিক্ষা কমিশন'।
- ১৯৭২ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর কমিশনের কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।
- চেয়ারম্যানের নামানুসারে এই কমিশন কুদরত-ই-খুদা কমিশন নামেও পরিচিতি পায়।
- কমিশন প্রশ্নমালার আকারে শিক্ষিত এলিট শ্রেণীর লোকদের নিকট থেকে মতামত গ্রহণ করে, এবং ঐসব মতামত সতর্কতার সঙ্গে যাচাই বাছাই করে প্রণীত রিপোর্টে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার পুনর্বিন্যাসের সুপারিশ করে।
- কমিশন ১৯৭৪ সালের ৩০ মে সরকারের নিকট রিপোর্ট পেশ করে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৪২.
বাংলাদেশে খাদ্যের বিনিময়ে শিক্ষা কর্মসূচি চালু হয় কোন সালে?
  1. ১৯৯৩ সাল
  2. ১৯৯০ সাল
  3. ১৯৯১ সাল
  4. ১৯৯৪ সাল
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের খাদ্যের বিনিময়ে শিক্ষা কর্মসূচি চালু হয়-  ১৯৯৩ সালে ।

খাদ্যের বিনিময়ে শিক্ষা কর্মসূচির সূচনা

- ১৯৯০-এর দশকের শুরুতে বাংলাদেশের শিক্ষা খাত গভীর সংকটে ছিল।
- দারিদ্র্য, সামাজিক কুসংস্কার এবং লিঙ্গবৈষম্যের কারণে লাখ লাখ শিশু, বিশেষ করে মেয়েরা, স্কুলের বাইরে থেকে যেত।
- এ বঞ্চনা বাল্যবিবাহ, উচ্চ জন্মহার এবং নারীর অশিক্ষার এক দুষ্টচক্রকে স্থায়ী করে তোলে, যা জাতীয় উন্নয়নে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়।

- ১৯৯৩ সালে বিএনপি সরকার ‘ফুড ফর এডুকেশন’ কর্মসূচি চালু করে, যা পরে নগদ সহায়তা পর্যন্ত সম্প্রসারিত হয়। 
- এই কর্মসূচির মূলনীতি ছিল দরিদ্র পরিবারগুলোকে খাদ্যশস্য বা নগদ অর্থ দেওয়ার শর্তে তাদের মেয়েসন্তানদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে পাঠানো। এ উদ্যোগ দরিদ্র পরিবারের জন্য শিক্ষার খরচ কমিয়ে দেয় এবং মেয়েসন্তানদের শিক্ষা গ্রহণে শক্তিশালী উৎসাহ সৃষ্টি করে।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন এবং প্রথম আলো।

৪৩.
বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের ক্যাডার সংখ্যা-
  1. ২৬
  2. ২৭
  3. ২৮
  4. ৩১
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের (BCS) ক্যাডার সংখ্যা — ২৬ টি। 

- বাংলাদেশ গেজেটে ১৩ নভেম্বর ২০১৮ তারিখে প্রকাশিত এস.আর.ও. নম্বর-৩৩৫-আইন/২০১৮ অনুযায়ী,
- বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (ইকোনমিক) ক্যাডারকে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (প্রশাসন) ক্যাডারের সাথে একীভূত করা হয়েছে।
- বর্তমানে ক্যাডার সংখ্যা ২৬টি।
----------------- 
বাংলাদেশ সরকারী কর্ম কমিশন:
- বাংলাদেশ সরকারী কর্ম কমিশন প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োগের জন্য উপযুক্ত এবং যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তি নির্বাচন করার ক্ষমতাপ্রাপ্ত একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান।
- প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন দেশে তার প্রতিরূপ সংস্থাসমূহের মতো প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিযুক্ত মানব সম্পদ পরিকল্পনায় উৎকর্ষ সাধনের পাশাপাশি জনপ্রশাসন ব্যবস্থাপনায় নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ভূমিকা পালন করছে।
- কর্ম কমিশন দেশব্যাপি প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে, প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োগ লাভের উপযুক্ত ব্যক্তি নির্বাচন করে।
- বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের ক্যাডার ২৬টি।

বিসিএস-এর ২৬টি ক্যাডারের নাম:
১. বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (প্রশাসন),
২. বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (কৃষি),
৩. বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (আনসার),
8. বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (নিরীক্ষা ও হিসাব),
৫. বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (সমবায়),
৬. বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (শুল্ক ও আবগারি),
৭. বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (পরিবার পরিকল্পনা),
৮. বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (মৎস্য),
৯. বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (খাদ্য),
১০. বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (পররাষ্ট্র),
১১. বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বন),
১২. বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (সাধারণ শিক্ষা),
১৩. বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (স্বাস্থ্য),
১৪. বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (তথ্য),
১৫. বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (পশু সম্পদ),
১৬. বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (পুলিশ),
১৭. বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (ডাক),
১৮. বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল),
১৯. বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (গণপূর্ত),
২০. বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (রেলওয়ে প্রকৌশল),
২১. বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (রেলওয়ে পরিবহন ও বাণিজ্যিক),
২২. বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (সড়ক ও জনপথ),
২৩. বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (পরিসংখ্যান),
২৪. বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (কর),
২৫. বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (কারিগরি শিক্ষা),
২৬. বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বাণিজ্য)।

উৎস: বাংলাদেশ সরকারী কর্ম কমিশন (bpsc.gov.bd)।
৪৪.
শিশু কীসের মাধ্যমে নেতৃত্বের গুণাবলি অর্জন করতে পারে?
  1. পরিবার
  2. প্রতিবেশী
  3. শিক্ষা প্রতিষ্ঠান
  4. খেলা ও পড়ার সাথি
ব্যাখ্যা

শিশুর সামাজিকীকরণের কতিপয় মাধ্যম ও এর গুরুত্ব বর্ণনা:-

• খেলা ও পড়ার সাথি: 
⇒ শিশুর সামাজিকীকরণে খেলা ও পড়ার সাথির ভূমিকা কম নয়।
- শিশু খেলা ও পড়ার সাথির সাথে মেলামেশা করে নেতৃত্বের গুণাবলি অর্জন করতে পারে।
- ভালো-মন্দ গুণাবলির সমালোচনা শুনে সমাজের কাঙ্ক্ষিত আচরণ শিখতে পারে।
- তবে মন্দ খেলা ও পড়ার সাথি অনেক সময় শিশুকে বিপথগামী করতে পারে।
- তাই খেলা ও পড়ার সাথি নির্বাচনে আমরা সচেতন হব।

এছাড়াও,
• শিক্ষা প্রতিষ্ঠান: 
⇒ শিশু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জ্ঞানার্জনের পাশাপাশি কতগুলো সামাজিক আদর্শও শিখে থাকে। এসব আদর্শ হচ্ছে-শৃঙ্খলাবোধ, দায়িত্ববোধ, নিয়মানুবর্তিতা, শ্রদ্ধাবোধ, সহযোগিতা, সহমর্মিতা, পারস্পরিক ভালোবাসা ইত্যাদি। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করে শিশু বৃহত্তর সমাজের

• প্রতিবেশী: 
⇒ আমাদের বাড়ির আশপাশে যারা বসবাস করেন তারা হলো আমাদের প্রতিবেশী। পাশাপাশি বাড়িগুলোর সমবয়সী শিশুদের নিয়ে একটি প্রতিবেশী দল গড়ে উঠতে পারে, যার মাধ্যমে আমরা পারস্পরিক সহযোগিতা, সহমর্মিতা, সমতা, ঐক্য প্রভৃতি বিষয়ে শিক্ষার্জন করতে পারি।

• পরিবার: 
⇒ শিশুর সামাজিকীকরণ শুরু হয় পরিবার থেকে। শিশুর চারিত্রিক গুণাবলি পারিবারিক পরিবেশে বিকশিত হয়। সহযোগিতা, সহিষ্ণুতা, সম্প্রীতি, ভ্রাতৃত্ববোধ, আত্মত্যাগ, ভালোবাসা প্রভৃতি সামাজিক গুণাবলি।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, বোর্ড বই।

৪৫.
স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম শিক্ষা কমিশন কার নেতৃত্বে গঠিত হয়?
  1. ড. আলমগীর মাহমুদ
  2. ড. মনিরুজ্জামান মিঞা
  3. ড. কুদরাত-ই-খুদা
  4. ড. আনিসুজ্জামান
ব্যাখ্যা

 - ড. কুদরাত-ই-খুদার নেতৃত্বে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম শিক্ষা কমিশন গঠিত হয়।

কুদরত-ই-খুদা শিক্ষা কমিশন:

⇒ সম্পদের সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে মানবসম্পদের উন্নয়নে শিক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
- দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র ছয় মাসের মধ্যে স্বাধীন দেশের উপযোগী শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।
- এই লক্ষ্যে বিশিষ্ট বিজ্ঞানী ড. মুহাম্মদ কুদরাত-ই-খুদার নেতৃত্বে ১৯৭২ সালের ২৬ জুলাই শিক্ষা কমিশন গঠন করা হয়।

এছাড়াও,
- শিক্ষা ক্ষেত্রে জরুরি ভিত্তিতে ৯০০ কলেজ ভবন ও ৪০০ হাইস্কুল পুননির্মাণ করা হয়।
- প্রথমবারের মতো সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়কে সরকারিকরণ করা হয়।
- মুক্তিযুদ্ধের সময় শিক্ষকদের পাওনা ৯ মাসের বকেয়া বেতন পরিশোধ করা হয়।
- সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়সমূহে স্বায়ত্তশাসন প্রদানের জন্য জাতীয় সংসদে ১৯৭৩ সালের বিশ্ববিদ্যালয় আইন পাস করেন।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।

৪৬.
'চারুকলা ইনস্টিটিউ' এর প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ কে ছিলেন?
  1. কামরুল হাসান
  2. জয়নুল আবেদিন
  3. এস এম সুলতান
  4. মুস্তফা মনোয়ার
ব্যাখ্যা
- জয়নুল আবেদিন (১৯১৪-১৯৭৬) আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন অসাধারণ প্রতিভাবান শিল্পী।
- ইনস্টিটিউট অব আর্টস অ্যান্ড ক্র্যাফ্টস প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বাংলাদেশে আধুনিক শিল্প আন্দোলনের তিনিই পুরোধা।
- ১৯৪৮ সালে ঢাকায় প্রতিষ্ঠিত এ প্রতিষ্ঠানের (বর্তমান চারুকলা ইনস্টিটিউ) তিনি ছিলেন প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ।
- ১৯৪৩ সালের দুর্ভিক্ষে জয়নুল আবেদিন ধারাবাহিকভাবে একাধিক চিত্র স্কেচ করেন।
- সস্তা প্যাকিং পেপারে চাইনিজ ইঙ্ক ও তুলির আচরে ‘দুর্ভিক্ষের রেখাচিত্র’ নামে পরিচিত জয়নুলের এ চিত্রকর্মে ফুটে উঠেছে শব-সওদাগরদের নিষ্ঠুরতা ও নৈতিক কলুষতা, সে সাথে নিপীড়িতের অমানবিক দুর্দশা। চিত্রকর্মগুলি জয়নুলকে ভারতব্যাপী খ্যাতি এনে দেয়।
- ‘দ্য রেবেল ক্রো’ (জলরং, ১৯৫১) এ ধারার সবচেয়ে উজ্জ্বল নিদর্শন।
- ‘দুই মহিলা’ (গোয়াশ, ১৯৫৩), ‘পাইন্যার মা’ (গোয়াশ, ১৯৫৩) ও ‘মহিলা’ (জলরং, ১৯৫৩) হলো এ আমলের উল্লেখযোগ্য চিত্রকর্ম।
- ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের বিজয়কে ভিত্তি করে অাঁকা ৬৫ ফুট দীর্ঘ স্ক্রল পেইন্টিং (চাইনিজ ইঙ্ক, জলরঙ ও মোম) ‘নবান্ন’ এবং ১৯৭০ সালের প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড়ে প্রাণ হারানো হাজারো মানুষের স্মৃতির উদ্দেশ্যে অাঁকা ৩০ ফুট দীর্ঘ ‘মনপুরা’ পেইন্টিংটির মাঝে তাঁর কর্মের বৈচিত্র্য লক্ষ করা যায়।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
৪৭.
শিশুর কোন আচরণটি সামাজিক বিকাশের উদাহরণ?
  1. পড়াশোনায় ভালো ফল করা
  2. ছবি আঁকায় পারদর্শীতা
  3. বন্ধুদের সাথে খেলাধুলা
  4. শ্রেণিকক্ষে নির্দেশ মেনে চলা
ব্যাখ্যা

সামাজিক বিকাশ:
- বন্ধুদের সাথে খেলাধুলা সামাজিক বিকাশের উদাহরণ।
- সামাজিক বিকাশ বলতে শিশুর অন্যদের সাথে সম্পর্ক গড়া, সহযোগিতা ও নিয়ম মেনে চলার দক্ষতা বোঝায়।
- বন্ধুদের সাথে খেলাধুলা এর সবচেয়ে স্বাভাবিক ও কার্যকর উদাহরণ, কারণ এতে শিশু পালা মেনে চলা, ভাগাভাগি ও দলগত কাজ শেখে।
- খেলার মাধ্যমে সহানুভূতি, যোগাযোগ ও মনমালিন্য সমাধানের ক্ষমতা বিকশিত হয়।

তথ্যসূত্র - জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও প্ররহম আলো পত্রিকার রিপোর্ট।

৪৮.
ভারতীয় উপমহাদেশের প্রথম শিক্ষা কমিশন কোনটি?
  1. কার্জন শিক্ষা কমিশন
  2. ভেলসলি কমিশন
  3. হান্টার কমিশন
  4. স্যাডলার শিক্ষা কমিশন
ব্যাখ্যা

হান্টার কমিশন:
- হান্টার কমিশন সরকারিভাবে ইন্ডিয়ান এডুকেশন কমিশন নামে পরিচিত।
- ভারতীয় উপমহাদেশের প্রথম শিক্ষা কমিশন হলো হান্টার কমিশন।
- গঠিত: ১৮৮২ সালে।
- প্রধান: স্যার উইলিয়াম হান্টার।
- অন্যান্য সদস্যগণ ছিলেন  আনন্দমোহন বসু, এ.ডব্লিউ ক্রফট্,  ভূদেব মুখোপাধ্যায়, মহারাজা যতীন্দ্রমোহন ঠাকুর, কাশীনাথ ত্রিম্বক তীলং এবং স্যার সৈয়দ আহমদ খান।

উল্লেখ্য,
- গঠিত হয়েছিল ব্রিটিশ ভাইসরয় লর্ড রিপনের আমলে।
- লর্ড রিপনের শাসনকাল: ১৮৮০–১৮৮৪।
- লর্ড রিপন ভারতবাসীর আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং উদারনীতিপ্রিয় ছিলেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও একাদশ-দ্বাদশ শ্রেনির ইতিহাস বই, অধ্যাপক মোঃ গোলাম মোস্তফা।

৪৯.
জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি (নেপ) কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. ঢাকা
  2. ময়মনসিংহ
  3. খুলনা
  4. রাজশাহী
ব্যাখ্যা

জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি:
- ১৯৭৪ সালে দেশে প্রাথমিক শিক্ষা আইন জারি হয়।
- জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি (নেপ) ময়মনসিংহ জেলায় অবস্থিত।
- এটি ১৯৭৮ সালে 'মৌলিক শিক্ষা একাডেমি' নামে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ১৯৮৫ সালে এটির নামকরণ করা হয় 'জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি'।
- এখানে প্রাথমিক শিক্ষা সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও কর্মকর্তা- কর্মচারীদের প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়।
- এই প্রতিষ্ঠান প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষার প্রশ্নপত্র প্রণয়ন করে থাকে।

উল্লেখ্য,
- ১৯৯০ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা আইন প্রণীত হয়।
- এই আইনের অধীনে ১৯৯২ সালের ১ জানুয়ারি দেশের ৬৮টি উপজেলায়।
- ১ জানুয়ারি ১৯৯৩ সারা দেশে বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা আইন চালু হয়।

তথ্যসূত্র: জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি ওয়েবসাইট, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ও দৈনিক প্রথম আলো। 

৫০.
বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা কয়টি স্তরবিশিষ্ট?
  1. ১টি
  2. ২টি
  3. ৩টি
  4. ৪টি
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা
- বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা তিন স্তরবিশিষ্ট।
- সেগুল হলো: প্রাথমিক স্তর, মাধ্যমিক স্তর এবং উচ্চশিক্ষা বা বিশ্ববিদ্যালয় স্তর।
- সরকারি-বেসরকারি বিদ্যালয়গুলো পরিচালিত হয় ৫ বছর মেয়াদী প্রাথমিক, ৭ বছর মেয়াদী মাধ্যমিক (এর মধ্যে ২ বছর মেয়াদী উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়)।
- বাংলাদেশে তৃতীয় পর্যায়ে অর্থাৎ বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষা ৩ থেকে ৫ বছর মেয়াদি।
- শিক্ষা মন্ত্রণালয় হলো শিক্ষার জন্য রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ দফতর।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা, bangladesh.gov.bd.

৫১.
স্কুল টেক্সটবুক বোর্ডের সাথে কোন প্রতিষ্ঠানের একীভূতকরণের মাধ্যমে NCTB গঠিত হয়?
  1. শিক্ষা বোর্ড
  2. বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন
  3. মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর
  4. জাতীয় শিক্ষাক্রম উন্নয়ন কেন্দ্র
ব্যাখ্যা

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি):
- এনসিটিবি বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ জাতীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
- ১৯৭২--১৯৭৭: ১ম–১০ম শ্রেণির পাঠ্যপুস্তক সংশোধন, পরিমার্জন ও পুনর্লিখন।
- স্বাধীনতা-উত্তর আধুনিক ধ্যান-ধারণা পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত।
- ১৯৭৮-১৯৭৯: নতুন শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যসূচি অনুযায়ী বই প্রণয়নের উদ্যোগ।
- ১৯৮৩: ১০ম শ্রেণি পর্যন্ত মানসম্পন্ন পাঠ্যপুস্তক প্রণয়ন ও বিতরণ সম্পন্ন।
- ১৯৮৩: “The National Curriculum & Textbook Board Ordinance, 1983 (Ordinance No. LVII of 1983)” জারি।
- ১৯৮৩: স্কুল টেক্সটবুক বোর্ড ও জাতীয় শিক্ষাক্রম উন্নয়ন কেন্দ্র একীভূত হয়ে বর্তমান NCTB প্রতিষ্ঠা লাভ করে।
- ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৮: ‘জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড আইন, ২০১৮’ জাতীয় সংসদে পাস।

উৎস: NCTB ওয়েবসাইট।

৫২.
বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় বর্তমানে কত স্তরের গ্রেডিং পদ্ধতি চালু রয়েছে?
  1. ৩ স্তর
  2. ৫ স্তর
  3. ৬ স্তর
  4. ৭ স্তর
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের গ্রেডিং পদ্ধতি 
- বাংলাদেশে শিক্ষার ক্ষেত্রে পরীক্ষা পদ্ধতির সর্বশেষ পদ্ধতি হলো  গ্রেডিং পদ্ধতি । 
- ২০০১ সালে ৬স্তর বিশিষ্ট গ্রেডিং পদ্ধতি  অনুমোদন ক্করা হয়। ২০০৩ সালে তা সংস্কার করা হয়।
- বর্তমানে দেশে ৭ স্তরের গ্রেডিং পদ্ধতি চালু রয়েছে।
- এস.এস.সি ও দাখিল পরীক্ষায় গ্রেড পদ্ধতি  প্রবর্তিত হয় ২০০১ সালে।
- এইচএসসি ও আলিম পরীক্ষায় প্রথম প্রবর্তিত হয় ২০০৩ সালে।
- গ্রেড পদ্ধতি কে বলা হয় GPA । 
- GPA = Grade Point Average.

মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক গ্রেডিং পদ্ধতি 
গ্রেড _________নম্বর 
১) এ+ = ৮০-১০০ (৫.০০ পয়েন্ট) 
২) এ = ৭০-৭৯ (৪.০০ পয়েন্ট) 
৩) এ- = ৬০-৬৯ (৩.৫০ পয়েন্ট)
৪) বি =  ৫০-৫৯ (৩.০০ পয়েন্ট)
৫) সি = ৪০-৪৯ (২.০০ পয়েন্ট)
৬) ডি = ৩৩-৩৯ (১.০০ পয়েন্ট)
৭) এফ = ০-৩২ (০.০০ পয়েন্ট) 
 
উৎস: শিক্ষা মন্ত্রানালয়ের ওয়েবসাইট। 
৫৩.
জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি (নেপ) সর্বপ্রথম কী নামে প্রতিষ্ঠিত হয়?
  1. কলেজ অব এডুকেশন
  2. জুনিয়র ট্রেনিং কলেজ (জেটিসি)
  3. জাতীয় শিক্ষা একাডেমি
  4. প্রাইমারি টিচার্স ইনস্টিটিউট
ব্যাখ্যা

নেপ:
- জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমিকে সংক্ষেপে নেপ বলা হয়।
- নেপ সর্বপ্রথম ১৯৬৯ সনে জুনিয়র ট্রেনিং কলেজ (জেটিসি) হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর এখানে ২ বৎসর মেয়াদি ইন্টারমিডিয়েট ইন এডুকেশন (আই এড) কোর্স পরিচালিত হয়।
- ময়মনসিংহ ছাড়াও ঢাকা, চট্টগ্রাম, ফেনী, রংপুর ও যশোরে অনুরূপ আরো পাঁচটি জুনিয়র ট্রেনিং কলেজ (জেটিসি) স্থাপিত হয়।
- জুনিয়র ট্রেনিং কলেজ (জেটিসি)গুলো রূপান্তরিত হয়ে কলেজ অব এডুকেশন নামে যাত্রা শুরু করে মহান স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে।
- ময়মনসিংহস্থ কলেজ অব এডুকেশনটি ১৯৭৮ সালে "মৌলিক শিক্ষা একাডেমি" (Academy for Fundamental Education) নামে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ১৯৮৫ সালে এর নামকরণ করা হয় ‘‘জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি (নেপ)"।
- ২০০৪ সালের ১ অক্টোবর থেকে একাডেমি স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনা করে।

 উৎস: নেপ ওয়েবসাইট।

৫৪.
'ভারতেশ্বরী হোমস' এর প্রতিষ্ঠাতা কে?
  1. পি সি সরকার
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. মাদার তেরেসা
  4. আর পি সাহা
ব্যাখ্যা
ভারতেশ্বরী হোমস:
• ধরন: নারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
• প্রতিষ্ঠাতা: রণদা প্রসাদ সাহা (আর পি সাহা)।
• নামকরণ: প্রতিষ্ঠাতার পিতামহী ভারতেশ্বরী দেবীর নামানুসারে।
• অবস্থান: টাঙ্গাইল জেলার মির্জাপুরে।
• প্রতিষ্ঠাকাল: ১৯৪৫ খ্রি.; উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত শিক্ষাক্রম বিদ্যমান।
• অর্জন/স্বীকৃতি: 'স্বাধীনতা পুরস্কার ২০২০'।
৫৫.
বাংলাদেশের প্রথম শিক্ষা কমিশনের নাম কী?
  1. কবির চৌধুরী শিক্ষা কমিশন
  2. শরীফ শিক্ষা কমিশন
  3. হান্টার কমিশন
  4. কুদরত-ই-খুদা শিক্ষা কমিশন
ব্যাখ্যা

কুদরত ই খুদা শিক্ষা কমিশন:
- জাতীয় শিক্ষা কমিশন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও বিজ্ঞানী ড. কুদরাত-ই-খুদাকে চেয়ারম্যান করে ১৯৭২ সালের ২৬ জুলাই গঠিত হয়।
- বাংলাদেশের প্রথম শিক্ষা কমিশন 'জাতীয় শিক্ষা কমিশন'।
- ১৯৭২ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর কমিশনের কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
- চেয়ারম্যানের নামানুসারে এই কমিশন কুদরত-ই-খুদা কমিশন নামেও পরিচিতি পায়।
- কমিশন প্রশ্নমালার আকারে শিক্ষিত এলিট শ্রেণীর লোকদের নিকট থেকে মতামত গ্রহণ করে,
- কমিশন ১৯৭৪ সালের ৩০ মে সরকারের নিকট রিপোর্ট পেশ করে।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।

৫৬.
বাংলাদেশের প্রথম শিক্ষা কমিশনের নাম কী?
  1. মজিদ শিক্ষা কমিশন
  2. শামসুল হক শিক্ষা কমিশন
  3. কবির চৌধুরী শিক্ষা কমিশন
  4. কুদরত-ই-খুদা শিক্ষা কমিশন
ব্যাখ্যা

• কুদরত-ই-খুদা শিক্ষা কমিশন:
- বাংলাদেশের প্রথম শিক্ষা কমিশনের নাম কুদরত-ই-খুদা শিক্ষা কমিশন।
- বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও বিজ্ঞানী ড. কুদরাত-ই-খুদাকে চেয়ারম্যান করে ১৯৭২ সালের ২৬ জুলাই গঠিত হয় বাংলাদেশের প্রথম শিক্ষা কমিশন ‘জাতীয় শিক্ষা কমিশন'।
- ১৯৭২ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর কমিশনের কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
- চেয়ারম্যানের নামানুসারে এই কমিশন কুদরত-ই-খুদা কমিশন নামেও পরিচিতি পায়।
- কমিশন প্রশ্নমালার আকারে শিক্ষিত এলিট শ্রেণীর লোকদের নিকট থেকে মতামত গ্রহণ করে, এবং ঐসব মতামত সতর্কতার সঙ্গে যাচাই বাছাই করে প্রণীত রিপোর্টে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার পুনর্বিন্যাসের সুপারিশ করে।
- কমিশন ১৯৭৪ সালের ৩০ মে সরকারের নিকট রিপোর্ট পেশ করে।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া। 

৫৭.
BNFE-এর পূর্ণরূপ কী? 
  1. Bangladesh National Formal Education.
  2. Bureau of National Formal Education.
  3. Bangladesh Non-Formal Examination.
  4. Bureau of Non-Formal Education.
ব্যাখ্যা

• উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো,(Bureau of Non-Formal Education-BNFE)
- ২০০৫ সালে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা অধিদপ্তর বিলুপ্ত হয় এবং উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো গঠন করা হয়।
- সবার জন্য শিক্ষা-র জাতীয় ও আন্তর্জাতিক লক্ষ্য পূরণের জন্য বাংলাদেশ সরকার ২০০৬ সালে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষানীতি প্রণয়ন করে। - এ শিক্ষানীতির সুদূরপ্রসারী উদ্দেশ্যাবলির মধ্যে রয়েছে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা সাব-সেক্টর তৈরি, শিক্ষাকে জাতীয় উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হিসেবে চিহ্নিতকরণ এবং চাহিদামূলক, অর্থ উপার্জনোপযোগী ও  যথার্থ উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা বাস্তবায়নের জন্য উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো ও সংশ্লিষ্ট সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে একটি অংশীদারি এবং সহযোগিতাপূর্ণ কর্মপদ্ধতি তৈরি করা।
- বাংলাদেশ সরকার ২০১৪ সালের মধ্যে দেশে শতভাগ সাক্ষরতা অর্জনের লক্ষ্য ঘোষণা করে। এ পরিপ্রেক্ষিতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো বেশ কয়েকটি প্রকল্প প্রস্তাব প্রণয়ন করে। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৫৮.
স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম শিক্ষা কমিশন কোনটি?
  1. মজিদ খান শিক্ষা কমিশন
  2. বাংলাদেশ জাতীয় শিক্ষা কমিশন
  3. জাতীয় শিক্ষা কমিশন
  4. শামসুল হক শিক্ষা কমিশন
ব্যাখ্যা

জাতীয় শিক্ষা কমিশন (১৯৭২):
- ‘জাতীয় শিক্ষা কমিশন’ বাংলাদেশের প্রথম শিক্ষা কমিশন।
- জাতীয় শিক্ষা কমিশন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও বিজ্ঞানী ড. কুদরাত-ই-খুদাকে চেয়ারম্যান করে ১৯৭২ সালের ২৬ জুলাই গঠিত হয়।
- ১৯৭২ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর কমিশনের কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
- চেয়ারম্যানের নামানুসারে এই কমিশন কুদরত-ই-খুদা কমিশন নামেও পরিচিতি পায়।
- কমিশন প্রশ্নমালার আকারে শিক্ষিত এলিট শ্রেণীর লোকদের নিকট থেকে মতামত গ্রহণ করে,
-  কমিশন ১৯৭৪ সালের ৩০ মে সরকারের নিকট রিপোর্ট পেশ করে।

অন্যদিকে,
- মজিদ খান শিক্ষা কমিশন ১৯৮৩ সালে গঠিত।
- বাংলাদেশ জাতীয় শিক্ষা কমিশন- বাংলাদেশ সরকার ১৯৮৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভাইস চ্যান্সেলর মফিজউদ্দীন আহমদকে প্রধান করে একটি শিক্ষা কমিশন নিয়োগ করে।
- শামসুল হক শিক্ষা কমিশন-  বাংলাদেশ সরকার ১৯৯৭ সালের ১৪ জানুয়ারি জারীকৃত এক আদেশবলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর এম শামসুল হককে চেয়ারম্যান করে ৫৬ সদস্যের একটি শিক্ষা কমিশন গঠন করে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৫৯.
নায়েম (NAEM)-এর পূর্ণরূপ কী?
  1. National Authority for Education Monitoring
  2. National Alliance for Education Management
  3. National Academy for Educational Management
  4. National Association for Education Management
ব্যাখ্যা

জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমি (NAEM):
- নায়েম বাংলাদেশের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা ক্ষেত্রে একটি উৎকৃষ্ট কেন্দ্র এবং এটি শিক্ষার উৎকর্ষ সাধনে কাজ করে যাচ্ছে।
- NAEM- এর পূর্ণরুপ: National Academy for Educational Management.
- শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধির লক্ষ্যে ১৯৫৯ খ্রিষ্টাব্দে এডুকেশন এক্সটেনশন সেন্টার (EEC) প্রতিষ্ঠিত হয়।
- একটি বিবর্তন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ১৯৯২ খ্রিষ্টাব্দে এটিকে জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমি (নায়েম)-এ রূপান্তর করা হয়।
- নায়েমের চূড়ান্ত লক্ষ্য হচ্ছে শিক্ষা ক্ষেত্রে জাতীয় ও বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য শিক্ষক এবং শিক্ষা প্রশাসনের কর্মকর্তাগণকে জ্ঞান, পেশাগত দক্ষতা, ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি ও নেতৃত্বের গুণাবলি দ্বারা সমৃদ্ধ করা।

উৎস: NAEM ওয়েবসাইট।

৬০.
নিম্নের কোন প্রতিষ্ঠানের মূল দায়িত্ব প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়নে কাজ করা?
  1. NAPE
  2. NCTB
  3. NAEM
  4. NICAR
ব্যাখ্যা
NAPE:
- NAPE-এর পূর্ণরূপ: National Academy for Primary Education.
- প্রশিক্ষণ ও গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষার প্রশিক্ষিত ও পেশাগত দক্ষতা সম্পন্ন মানবসম্পদ উন্নয়নের মাধ্যমে যোগ্যতাভিত্তিক প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করা এ সংস্থার প্রধান উদ্দেশ্য।

উল্লেখ্য,
- ১৯৬৯ সালে জুনিয়র ট্রেনিং কলেজ (জেটিসি) হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। সে সময় দুই বছর মেয়াদি ইন্টারমিডিয়েট ইন এডুকেশন (আইএড) কোর্স পরিচালিত হত।
- স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে জুনিয়র ট্রেনিং কলেজগুলো পরিবর্তন হয়ে কলেজ অব এডুকেশন নামে শুরু হয়।
- পরবর্তীতে ১৯৭৮ সালে ময়মনসিংহ কলেজ অব এডুকেশনে কশনে মৌলিক শিক্ষা একাডেমি (Academy for Fundamental Education) নামে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ১৯৮৫ সালে এর নামকরণ করা হয় জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি ও (National Academy for Primary Education)।
- ২০০৪ সালের ১লা অক্টোবর থেকে একাডেমি স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচালিত হয়।

⇒ নেপের প্রশাসনিক ব্যবস্থপনায় নির্বাহী কর্মকর্তা- একজন মহাপরিচালক।
- নেপ পরিচালনার জন্য ১৪ সদস্যের বোর্ড অব গভর্নরস রয়েছে।

অন্যদিকে,
• NAEM (National Academy for Educational Management) জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমি।
• NICAR (National Implementation Committee for Administrative Reform) প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি।

উৎস: সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইট।
৬১.
বাষট্টির শিক্ষা আন্দোলন কোন কমিশনের রিপোর্টকে কেন্দ্র করে ঘটে?
  1. সাইমন কমিশন
  2. শরিফ কমিশন
  3. কুদরত-ই-খুদা কমিশন
  4. আতাউর রহমান খান কমিশন
ব্যাখ্যা
বাষট্টির শিক্ষা আন্দোলন: 
- শরিফ কমিশনের রিপোর্টকে কেন্দ্র করে বাষট্টির শিক্ষা আন্দোলন ঘটে। 

- ১৯৫৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর আইয়ুব খানের সামরিক শাসনের পর শরিফ কমিশন গঠন হয়।
- কমিশনের প্রধান ছিলেন ড. এস এম শরিফ।
- ২৬ আগস্ট ১৯৫৯ তার প্রতিবেদন দাখিল হয়।
- প্রতিবেদনটির সুপারিশে উচ্চশিক্ষার সংকোচন এবং ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব ছিল।
- ছাত্ররা এই সুপারিশগুলিকে সাধারণ মানুষের শিক্ষার সুযোগ বন্ধ করার ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখে প্রতিবাদ জানায়।
- ১৯৬০ সালের প্রথম দিকে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে পূর্ব পাকিস্তানে তীব্র প্রতিক্রিয়া হয়।
- কিন্তু সামরিক শাসন থাকায় আন্দোলন ক্ষীণ ছিল।
- ১৯৬২ সালে সামরিক আইন প্রত্যাহারের পর শিক্ষা কমিশন প্রতিবেদন বিরোধী ছাত্র আন্দোলন শুরু হয়।
- ১৭ সেপ্টেম্বর হরতাল আহ্বান করা হয়।
- এদিন ছাত্ররা পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায়।
- পুলিশের গুলিতে মোস্তফা ও বাবুল নামে দুজন ঘটনাস্থলে নিহত হয় এবং পরদিন গুলিবিদ্ধ ওয়াজিউল্লাহ হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করে।
- আন্দোলনের মুখে সরকার কমিশন প্রতিবেদন বাস্তবায়ন স্থগিত ঘোষণা করে।
- এই আন্দোলন ছিল বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলনের এক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।

উৎস: প্রথম আলো (১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৫)। 
বাংলাপিডিয়া। 
৬২.
শরীফ শিক্ষা কমিশন কত সালে গঠিত হয়?
  1. ১৯৫৮ সালে
  2. ১৯৫৯ সালে
  3. ১৯৬০ সালে
  4. ১৯৬১ সালে
ব্যাখ্যা

শরীফ শিক্ষা কমিশন:
- ঔপনিবেশিক আমলে প্রবর্তিত শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার ও পূর্ণগঠনের যথাযোগ্য পন্থা সুপারিশ করার জন্য ১৯৫৮ সালে ৩০শে ডিসেম্বর জাতীয় শিক্ষা কমিশন গঠন করা হয়।
- এস.এম শরীফকে এ জাতীয় শিক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান নিযুক্ত করা হয়।
- তাঁর নামানুসারে এ কমিশন শরীফ কমিশন নামেও পরিচিত।
- এ কমিশন ১৯৫৯ সালের ডিসেম্বর মাসে সরকারের নিকট রিপোর্ট পেশ করেন।
- তবে শিক্ষা সম্পর্কে শরীফ কমিশনের প্রতিবেদন ১৯৬২ সালের সবার সামনে প্রকাশিত হলে প্রতিবাদের ঝড় উঠে।
- ভাষা আন্দোলনের বিয়োগান্তক স্মৃতি যখন এদেশবাসীর মনে তখনও উজ্জ্বল-ঠিক তখন 'উর্দুকে জনগণের ভাষায় পরিণত করার প্রস্তাব করে।
- আরবি এবং পরে রোমান বর্ণমালায় বা হরফে লিপিবদ্ধ করার প্রস্তাব বাঙালি জনগণ মেনে নিতে পারেনি।
- ছাত্র-শিক্ষক- বুদ্ধিজীবী-তথা সমগ্র বাঙালি জনগণই শরীফ কমিশনের সুপারিশ ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৬৩.
'NAEM' প্রতিষ্ঠানটি কোন বিষয়ের সাথে সম্পর্কিত?
  1. শিক্ষা
  2. ক্রীড়া
  3. জনসংখ্যা গবেষণা
  4. নদী বিষয়ক গবেষণা
ব্যাখ্যা
জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমি (NAEM):
- নায়েম বাংলাদেশের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা ক্ষেত্রে একটি উৎকৃষ্ট কেন্দ্র এবং এটি শিক্ষার উৎকর্ষ সাধনে কাজ করে যাচ্ছে।
- NAEM- এর পূর্ণরুপ: National Academy for Educational Management.
- শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধির লক্ষ্যে ১৯৫৯ খ্রিষ্টাব্দে এডুকেশন এক্সটেনশন সেন্টার (EEC) প্রতিষ্ঠিত হয়।
- একটি বিবর্তন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ১৯৯২ খ্রিষ্টাব্দে এটিকে জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমি (নায়েম)-এ রূপান্তর করা হয়।
- নায়েমের চূড়ান্ত লক্ষ্য হচ্ছে শিক্ষা ক্ষেত্রে জাতীয় ও বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য শিক্ষক এবং শিক্ষা প্রশাসনের কর্মকর্তাগণকে জ্ঞান, পেশাগত দক্ষতা, ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি ও নেতৃত্বের গুণাবলি দ্বারা সমৃদ্ধ করা।

উৎস: NAEMওয়েবসাইট।
৬৪.
বাংলাদেশের বর্তমান শিক্ষানীতিতে প্রাথমিক শিক্ষার মেয়াদ কত বছর পর্যন্ত গৃহীত হয়েছে?
  1. ৩ বছর
  2. ৫ বছর
  3. ৮ বছর
  4. ১০ বছর
ব্যাখ্যা
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়:
- 'জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০' অনুসারে প্রাথমিক শিক্ষা অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছিল বিগত সরকার।
- তবে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নেই।
- রয়েছে শিক্ষক সংকট। নানান সংকটের মুখে সেই উদ্যোগ থেকে সরে এসেছে অন্তর্বর্তী সরকার।
- এজন্য আগামী ২০২৬ শিক্ষাবর্ষে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত থাকছে প্রাথমিক শিক্ষা।
- প্রাথমিকে ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণিতে ভর্তি বন্ধে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। 
- বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে তা উপযোগী নয় বলে আপাতত প্রাথমিক শিক্ষার মেয়াদ ৫ বছরেই রাখার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও দৈনিক ইত্তেকাফ।
৬৫.
শিক্ষা বিভাগের ট্রেনিং এর শীর্ষ প্রতিষ্ঠান কোনটি?
  1. বিয়াম
  2. নায়েম
  3. ইউ.জি.সি
  4. কে.টি.সি
ব্যাখ্যা

নায়েম:
- দেশের শিক্ষা বিভাগের ট্রেনিংয়ের শীর্ষ প্রতিষ্ঠান - নায়েম।
- পূর্ণরূপ - National Academy for Educational Management (NAEM)
- এটি ১৯৫৯ সালে স্থাপিত হয়।
- এটির অবস্থান ঢাকার নিউমার্কেটে ঢাকা কলেজের পাশে।
- এখানে সর্বস্তরের শিক্ষক ও শিক্ষা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়।

তথ্যসূত্র - নায়েম ওয়েবসাইট।

৬৬.
বাংলাদেশের শিক্ষা বিভাগের প্রশিক্ষণের শীর্ষ প্রতিষ্ঠান কোনটি?
  1. টিটিসি
  2. পিএটিসি
  3. নায়েম
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা
NAEM:
- NAEM-এর পূর্ণরূপ: National Academy for Educational Management.
- দেশের শিক্ষা প্রশাসন ও ব্যবস্থাপনায় প্রশিক্ষণ ও গবেষণাভিত্তিক শীর্ষ প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত নায়েম ।
- শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন এই প্রতিষ্ঠানটি শিক্ষা ব্যবস্থাপনায় দক্ষ জনবল গড়ে তোলার লক্ষ্যে বিসিএস শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ প্রদান করে আসছে।

⇒ ১৯৫৯ সালে এটি এডুকেশন এক্সটেনশন (EEC) সেন্টার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।
- স্বাধীনতার পরে ১৯৭৫ সালে এ সংস্থা বাংলাদেশ শিক্ষা সম্প্রসারণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (BEERI) হিসেবে বাংলাদেশের কলেজ ও মাদ্রাসা শিক্ষক, প্রশাসক ও শিক্ষা কর্মকর্তাদের গবেষণা ও ব্যবস্থাপনা প্রশিক্ষণের দায়িত্ব নিয়োজিত ছিল।
- অতিরিক্ত ব্যয় হ্রাস ও কার্যকরী শিক্ষা ব্যবস্থাপনা উন্নয়নের লক্ষ্যে (NIEMR) ও বিরি (BEERI)-কে একীভূত করে ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট ফর এডুকেশনাল এ্যাডমিনিস্ট্রেশন এক্সটেনশন এন্ড রিচার্স (NIEAER) নামে অভিহিত করেন।
- নিয়েয়ারকে আবারও পরিবর্তন করে ১৯৯২ সালে জাতীয় ব্যবস্থাপনা একাডেমী (নায়েম) হিসাবে নামকরণ করা হয়।
- বর্তমানে এর প্রধান দায়িত্ব বিভিন্ন স্তরে শিক্ষার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহের প্রধানদের শিক্ষা প্রশাসন ও ব্যবস্থাপনা বিষয়ে স্বল্পকালীন প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে তাদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করা, মহাপরিচালক এই একাডেমির নির্বাহী প্রধান।

⇒ নায়েম এ চারটি বিভাগ রয়েছে।
- এ বিভাগগুলো হলো- পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগ, প্রশিক্ষণ ও বাস্তবায়ন বিভাগ, প্রশাসন ও অর্থ বিভাগ এবং গবেষণা ও তথ্যায়ন বিভাগ।
- নায়েমের প্রশাসনিক কাঠামোয় রয়েছেন ১৪ সদস্যের একটি বোর্ড অব গভর্র্নস, যার সভাপতি শিক্ষামন্ত্রী এবং সদস্য সচিব প্রতিষ্ঠানটির মহাপরিচালক। 

উৎস: i) বাংলাদেশের শিক্ষা, স্কুল অব এডুকেশন, এমএড প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৬৭.
কোন কমিশনের সুপারিশের প্রেক্ষিতে 'বাংলাদেশ শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরো (ব্যানবেইস)' প্রতিষ্ঠা করা হয়?
  1. এম.এ বারী শিক্ষা কমিশন
  2. শামসুল হক শিক্ষা কমিশন
  3. বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন
  4. ড. মুহাম্মদ কুদরত-এ-খুদা শিক্ষা কমিশন
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশ শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরো (ব্যানবেইস): 
- বাংলাদেশ শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরো (ব্যানবেইস) দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাপনায় শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান সংগ্রহ, সংরক্ষণ, বিতরণ ও প্রচারের একমাত্র সরকারি সংস্থা।
- ড. মুহাম্মদ কুদরত-এ-খুদা শিক্ষা কমিশনের ১৯৭৪ সালে প্রণীত সুপারিশের প্রেক্ষিতে স্বাধীন বাংলাদেশে পৃথক একটি শিক্ষাতথ্য সংস্থা হিসেবে ‘বাংলাদেশ শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরো (ব্যানবেইস)’ প্রতিষ্ঠা করা হয়।
- ১৯৭৬-৭৭ অর্থ বৎসরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংযুক্ত দপ্তর হিসাবে সংস্থাটি কাজ শুরু করে।
- পরবর্তীতে সংস্থাটি শিক্ষাক্ষেত্রে ধারাবাহিক উন্নয়নের সাথে সম্পৃক্ত হয়ে শিক্ষাতথ্য বিনির্মাণ ও সরবরাহ করে জাতীয় ও আন্তজার্তিক সংস্থাসমূহের কাছে সমাদৃত হয়েছে।
- বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান কার্যক্রম ছাড়াও শিক্ষা সেক্টরে আই.সি.টি. প্রশিক্ষন ও আই.সি.টি. শিক্ষার প্রসারে ব্যাপক ভূমিকা রাখছে।

উৎস: ব্যানবেইস ওয়েবসাইট।

৬৮.
কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বপ্রথম উপাচার্য কে ছিলেন?
  1. ড. এস ডি চৌধুরী
  2. ড. কাজী ফজলুর রহিম
  3. ড. ওসমান গণি
  4. অধ্যাপক মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়:
- বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের কৃষি বিষয়ক একটি উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
- এটি ময়মনসিংহ শহরে অবস্থিত।
- দেশের কৃষিশিক্ষা ও গবেষণার সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়৷ কৃষিবিজ্ঞানের সকল শাখা এর আওতাভূক্ত। 
-কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বপ্রথম উপাচার্য ছিলেন — ড. ওসমান গণি। 

উৎস:  বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ওয়েবসাইট।
৬৯.
স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম শিক্ষা কমিশন কোনটি?
  1. আকরাম খান কমিশন
  2. শরীফ শিক্ষা কমিশন
  3. সামসুল হক কমিশন
  4. কুদরত-ই-খুদা শিক্ষা কমিশন
ব্যাখ্যা

 কুদরত-ই-খুদা শিক্ষা কমিশন-১৯৭২:
- বাংলাদেশের প্রথম শিক্ষা কমিশনের নাম কুদরত-ই-খুদা শিক্ষা কমিশন।
- দেশের খ্যাতনামা শিক্ষাবিদ এবং বিজ্ঞানী কুদরত-ই-খুদা-কে প্রধান করে কুদরত-ই-খুদা শিক্ষা কমিশন ১৯৭২ সালে গঠন করা হয়।
- এই কমিশন ১৯৭২ সালে তাদের রির্পোট দাখিল করে।
- দেশের আর্থ-সামাজিক, রাজনৈতিক এবং সাংস্কৃতির উপর ভিত্তি করে এই রির্পোট প্রণয়ন করা হয়।
- এই কমিশনের সুপারিশের আলোকে জাতীয় শিক্ষাক্রম এবং সিলেবাস প্রণয়নের জন্য দেশের ৪৭ জন সুনামধন্য শিক্ষাবিদকে নিয়ে প্রফেসর সামছুল হুদা কে প্রধান করে ১৯৭৬ সালে একটি জাতীয় কমিটি গঠন করা হয়।
- এই কমিটি ১৯৭৬, ১৯৭৭ এবং ১৯৮৮ সালে মোট ৭টি ভলিউমে  রির্পোট সরকারের নিকট দাখিল করে।

তথ্যসূত্র - শিক্ষা মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।

৭০.
স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম শিক্ষা কমিশনের নাম কী?
  1. কুদরত-ই-খুদা শিক্ষা কমিশন
  2. শাহরিয়ার কবির শিক্ষা কমিশন
  3. আবদুল কাইয়ুম শিক্ষা কমিশন
  4. মজিদ খান শিক্ষা কমিশন
ব্যাখ্যা

→ বাংলাদেশের প্রথম শিক্ষা কমিশনের নাম কুদরত-ই-খুদা শিক্ষা কমিশন।

কুদরত-ই-খুদা শিক্ষা কমিশন:

- বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও বিজ্ঞানী ড. কুদরাত-ই-খুদাকে চেয়ারম্যান করে ১৯৭২ সালের ২৬ জুলাই গঠিত হয় বাংলাদেশের প্রথম শিক্ষা কমিশন ‘জাতীয় শিক্ষা কমিশন'।
- ১৯৭২ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর কমিশনের কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
- চেয়ারম্যানের নামানুসারে এই কমিশন কুদরত-ই-খুদা কমিশন নামেও পরিচিতি পায়।
- কমিশন প্রশ্নমালার আকারে শিক্ষিত এলিট শ্রেণীর লোকদের নিকট থেকে মতামত গ্রহণ করে, এবং ঐসব মতামত সতর্কতার সঙ্গে যাচাই বাছাই করে প্রণীত রিপোর্টে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার পুনর্বিন্যাসের সুপারিশ করে।
- কমিশন ১৯৭৪ সালের ৩০ মে সরকারের নিকট রিপোর্ট পেশ করে।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।

৭১.
'ইমেরিটাস অধ্যাপক' এর মেয়াদ কত বছর?
  1. পাঁচ বছর
  2. চার বছর
  3. আট বছর
  4. আজীবন
ব্যাখ্যা
ইমেরিটাস অধ্যাপক (Professor Emeritus):
- একজন পূর্ণ অধ্যাপক যখন তার গবেষণার দ্বারা অনেক খ্যাতি লাভ করেন তখন তাকে এ ধরনের উপাধি প্রদান করা হয়ে থাকে।
- এই উপাধি প্রদান করা হয় মূলত অবসরে পাওয়ার পর।
- অবসরে যাওয়ার পূর্বে অর্থাৎ চাকরিকালীন অবস্থায় এ ধরনের উপাধি প্রদান করা হয় না।
- এই ধরনের উপাধির মর্যাদাগত অবস্থান (Status) অধ্যাপকের চেয়ে উপরে হয়।
- কোনো বিশ্ববিদ্যালয় তাকে এই ধরনের পদবি প্রদান করে থাকে।
- অধ্যাপক এক্ষেত্রে উক্ত বিশ্ববিদ্যালয় পরিত্যাগ করে অন্য কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদান করতেও পারেন।
- তবে যে বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বারা তিনি এই উপাধি লাভ করেছেন সেই বিশ্ববিদ্যালয়ে তার নাম আমৃত্যু লেখা থাকবে Emeritus Faculty দের স্থলে।
- উল্লেখ্য এই পদকটিও আমৃত্যু ব্যবহার করা হয়।
- এরা নিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সারা জীবন আর্থিক সুবিধা পাবেন। 
- ড. আনিসুজ্জামান স্যার একই সাথে জাতীয় অধ্যাপক এবং ইমেরিটাস অধ্যাপক ছিলেন। 

উৎস: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট। 
৭২.
বাংলাদেশে শিক্ষাক্রম অনুসারে পাঠ্যপুস্তক ও অন্যান্য শিখন উপকরণ উন্নয়ন ও পরিমার্জন করে কোন প্রতিষ্ঠান?
  1. DPE
  2. NAPE
  3. NCTB
  4. NAEM
ব্যাখ্যা

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (NCTB):
- জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড NCTB নামে পরিচিত।
- এর পূর্ণরূপ National Curriculum & Textbook Board.
- বাংলাদেশের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান।

উল্লেখ্য,
- এনসিটিবি প্রাক-প্রাথমিক, প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষাক্রম উন্নয়ন ও পরিমার্জনের জন্য শীর্ষ প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করে। এটি জাতীয় শিক্ষাক্রম অনুসারে পাঠ্যপুস্তক ও অন্যান্য শিখন উপকরণ উন্নয়ন ও পরিমার্জন করে, এটি দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে আধুনিক ও যুগোপযোগী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

তথ্যসূত্র - NCTB ওয়েবসাইট।

৭৩.
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান উপাচার্য কে? (ডিসেম্বর, ২০২৫)
  1. ড. এ এস এম মকসুদ কামাল
  2. ড. মো. আখতারুজ্জামান
  3. ড. নিয়াজ আহমদ খান
  4. ড. এমাজউদ্দীন আহমদ
ব্যাখ্যা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়:
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের প্রাচীনতম, সর্ববৃহৎ এবং উপমহাদেশের অন্যতম প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান।
- ১৯২১ সালের ১ জুলাই আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম শুরু হয়।
- ঢাকার রমনা এলাকার প্রায় ৬০০ একর জমি নিয়ে এ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়।
- এর প্রাথমিক অবকাঠামোর বড় একটি অংশ গড়ে উঠে ঢাকা কলেজের শিক্ষকমণ্ডলী এবং কলেজ ভবনের (বর্তমান কার্জন হল) উপর ভিত্তি করে।
- ৩টি অনুষদ (কলা, বিজ্ঞান ও আইন), ১২টি বিভাগ, ৬০ জন শিক্ষক, ৮৪৭ জন ছাত্রছাত্রী এবং ৩টি আবাসিক হল নিয়ে এ প্রতিষ্ঠানটি শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করে।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান উপাচার্য ড. নিয়াজ আহমদ খান।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপাচার্য ছিলেন স্যার ফিলিপ জোসেফ হার্টগ।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বাঙ্গালী উপাচার্য ছিলেন স্যার এ.এফ রহমান।
- ২০২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার শতবর্ষ পূরণ করেছে।

তথ্যসূত্র - ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ওয়েবসাইট ও বাংলাপিডিয়া।

৭৪.
বাংলাদেশে শিক্ষাক্রম অনুসারে পাঠ্যপুস্তক ও অন্যান্য শিখন উপকরণ উন্নয়ন ও পরিমার্জন করে কোন প্রতিষ্ঠান?
  1. NAEM
  2. NCTB
  3. NAPE
  4. DPE
ব্যাখ্যা

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (NCTB): 
- জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড NCTB নামে পরিচিত
- এর পূর্ণরূপ National Curriculum & Textbook Board.
- বাংলাদেশের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান।

উল্লেখ্য, 
- এনসিটিবি প্রাক-প্রাথমিক, প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষাক্রম উন্নয়ন ও পরিমার্জনের জন্য শীর্ষ প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করে। এটি জাতীয় শিক্ষাক্রম অনুসারে পাঠ্যপুস্তক ও অন্যান্য শিখন উপকরণ উন্নয়ন ও পরিমার্জন করে, এটি দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে আধুনিক ও যুগোপযোগী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

সূত্র: NCTB ওয়েবসাইট। 

৭৫.
বাংলাদেশে বর্তমানে মোট কতটি শিক্ষাবোর্ড রয়েছে?  [ফেব্রুয়ারি, ২০২৬]
  1. ৮টি
  2. ৯টি
  3. ১০টি
  4. ১১টি
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের শিক্ষাবোর্ড:
- বাংলাদেশে বর্তমানে শিক্ষাবোর্ডের সংখ্যা ১১টি যথাঃ

১. মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড, ঢাকা : দেশের প্রথম শিক্ষাবোর্ড; প্রতিষ্ঠাকাল- ১৯২১। 
২. মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড, রাজশাহী : প্রতিষ্ঠাকাল- ১৯৬২
৩. মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড, কুমিল্লা : প্রতিষ্ঠাকাল- ১৯৬২। 
৪. মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড, যশোর : প্রতিষ্ঠাকাল- ১৯৬২। 
৫. মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড, চট্টগ্রাম : প্রতিষ্ঠাকাল- ১৯৯৫। 
৬. মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড, বরিশাল : প্রতিষ্ঠাকাল- ১৯৯৯। 
৭. মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড, সিলেট : প্রতিষ্ঠাকাল- ১৯৯৯। 
৮. মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড, দিনাজপুর : প্রতিষ্ঠাকাল- ২০০৬। 
৯. মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড, ময়মনসিংহ : দেশের সর্বশেষ শিক্ষাবোর্ড; প্রতিষ্ঠাকাল- ২০১৬। 
১০. বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ড, ঢাকা : প্রতিষ্ঠাকাল - ১৯৭৯। 
১১. বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষাবোর্ড, ঢাকা : প্রতিষ্ঠাকাল - ১৯৬৭।  [ব্যাখ্যা আপডেট - ফেব্রুয়ারি, ২০২৬]

উৎস: শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

৭৬.
মাধ্যমিক শিক্ষা প্রশাসন ও ব্যবস্থাপনার সর্বোচ্চে কার অবস্থান রয়েছে?
  1. জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমি
  2. শিক্ষা মন্ত্রণালয়
  3. মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর
  4. মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড
ব্যাখ্যা

- মাধ্যমিক শিক্ষা প্রশাসন ও ব্যবস্থাপনার সর্বোচ্চে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অবস্থান। 

মাধ্যমিক শিক্ষা: 
- মাধ্যমিক শিক্ষা প্রশাসন ও ব্যবস্থাপনার শীর্ষে রয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
- শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে রয়েছে একাধিক সংস্থা।
- কেন্দ্রীয় পর্যায়ে অবস্থিত এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বাংলাদেশের মাধ্যমিক শিক্ষা প্রশাসন ও ব্যবস্থাপনা সম্বন্ধীয় যাবতীয় কর্মকা- পরিচালিত হয়ে থাকে।
- এসব বিভিন্নমুখী দায়িত্ব পালন করে থাকে শিক্ষামন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ চার ধরনের বিশেষীকৃত সংস্থা।

সূত্র: বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

৭৭.
এসডিজি ৪ (SDG 4)–এর মূল লক্ষ্য কী?
  1. স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়ন
  2. মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা
  3. দারিদ্র্য বিমোচন
  4. পরিবেশ সংরক্ষণ
ব্যাখ্যা

♠ এসডিজি বা টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যগুলো:
-
SDG-এর পূর্ণরূপ হলো Sustainable Development Goals (টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা)।
- এতে মোট ১৭টি লক্ষ্য রয়েছে।
- এটি জাতিসংঘের একটি বৈশ্বিক লক্ষ্য যা ২০৩০ সালের মধ্যে সকল মানুষের জন্য শান্তি ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করার জন্য তৈরি করা হয়েছে।
- এসডিজি বা টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যগুলোর ৪ নম্বর লক্ষ্য হলো মানসম্মত শিক্ষা (Quality Education).
- এর মূল উদ্দেশ্য হলো : সবার জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং সমতাভিত্তিক মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা এবং জীবনব্যাপী শিক্ষার সুযোগ তৈরি করা।

উল্লেখ্য, 
-  এই লক্ষ্যের মধ্যে প্রধান বিষয়গুলো হলো:
• ২০৩০ সালের মধ্যে সব ছেলে-মেয়ের জন্য বিনামূল্যে, সমান ও মানসম্মত প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা নিশ্চিত করা।
•  শিশুর প্রাথমিক বিকাশ, যত্ন ও মানসম্মত প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষায় সকল শিশুর প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা।
•  নারী-পুরুষ সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা, যাতে তারা শিক্ষার মাধ্যমে উন্নত জীবন অর্জন করতে পারে।
• কর্মসংস্থান, ভালো চাকরি এবং উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় কারিগরি ও বৃত্তিমূলক দক্ষতা অর্জনে যুবক ও প্রাপ্তবয়স্কদের সংখ্যা বৃদ্ধি করা।
• লিঙ্গ বৈষম্য ও প্রতিবন্ধী, আদিবাসী ও ঝুঁকিপূর্ণ শিশুসহ দুর্বল জনগোষ্ঠীর শিক্ষায় সমান সুযোগ নিশ্চিত করা।
• সব যুবক ও প্রাপ্তবয়স্ককে সাক্ষরতা এবং মৌলিক গণিত দক্ষতা অর্জনে সহায়তা করা।
•  মানবাধিকার, লিঙ্গ সমতা, শান্তি ও অহিংসা, বিশ্ব নাগরিকত্ব এবং সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের ধারণা সম্পর্কিত শিক্ষার ব্যবস্থা করা।
• শিশু ও প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীর জন্য উপযোগী পরিবেশ তৈরি করা এবং যোগ্য শিক্ষকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা।
- এই সব লক্ষ্য অর্জনের মাধ্যমে সবাই উন্নত জীবন লাভ করতে পারবে এবং দেশের টেকসই উন্নয়নের ভিত্তি তৈরি হবে।

উৎস: Sustainable Development Official Website.

৭৮.
উডের ডেসপ্যাচ কবে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৮৫৩ সালে
  2. ১৮৫৪ সালে
  3. ১৮৫৫ সালে
  4. ১৮৫৭ সালে
ব্যাখ্যা

উডের ডেসপ্যাস: 
- উডের শিক্ষা ডেসপ্যাস ইংরেজ আমলের শিক্ষা ক্ষেত্রের একটি দলিল।
- উপমহাদেশে শিক্ষা বিস্তারের জন্য এই ডেসপ্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৮৫৪ সালে।
- এই ডেসপ্যাসের সুবাদে ১৮৫৫ সালে এদেশে ৫টি বিভাগে শিক্ষা বিভাগ প্রতিষ্ঠিত হয়।
- এ শিক্ষা বিভাগের প্রধান ছিলেন জন শিক্ষা পরিচালক, ইংরেজিতে বলা হতো Director of Public Instruction (DPI)।
- এ পদটি ১৯৮০ সন পর্যন্ত বাংলাদেশেও চলে আসছিল।
- এর অধীনে ছিলেন কিছু পরিদর্শক।
- এ ডেসপ্যাসে প্রাথমিক শিক্ষার উপর বেশি জোর দেওয়া হয়।
- ফলে পরবর্তীতে বহু প্রাথমিক বিদ্যালয় ও নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়।
- এর পাশাপাশি শিক্ষা প্রশিক্ষণের জন্য ১৮৫৭ সালে ঢাকায় এবং ১৮৬৯ সালে চট্টগ্রামে নরমাল স্কুল প্রতিষ্ঠিত হয় যা বর্তমানে টিচার্স ট্রেনিং কলেজ নামে পরিচিত।

উৎস: বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭৯.
সারাদেশে বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা আইন চালু হয় কত সালে?
  1. ১৯৯১ সালে
  2. ১৯৯২ সালে
  3. ১৯৯৩ সালে
  4. ১৯৯৪ সালে
ব্যাখ্যা

প্রাথমিক শিক্ষা আইন:
- বাংলাদেশে বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা আইন প্রণীত হয় ১৯৯০ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি।
- ১৯৯২ সালে ১ জানুয়ারি থেকে সারা দেশের ৬৮টি থানায় বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা প্রবর্তন করা হয়।
- ১৯৯৩ সালের ১ জানুয়ারি থেকে সারাদেশে বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা আইন চালু হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া এবং আইন মন্ত্রণালয়।

৮০.
বাংলাদেশের শিক্ষা দিবস কোন তারিখে পালিত হয়? 
  1. ১২ মে
  2. ১৬ জুলাই 
  3. ১৭ সেপ্টেম্বর
  4. ২১ নভেম্বর 
ব্যাখ্যা

• শিক্ষা দিবস:
- পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি আইয়ুব খান ১৯৫৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর শিক্ষানীতি প্রণয়নের জন্য একটি কমিশন গঠনের ঘোষণা দেন,যা ৫ জানুয়ারি ১৯৫৯ সালে কার্যকর হয়। 
- কমিশনের চেয়ারম্যান ছিলেন পশ্চিম পাকিস্তানের শিক্ষা বিভাগের সচিব এস এম শরীফ।
- পূর্ব পাকিস্তানের চারজন সদস্যসহ মোট ১১ জনের এই কমিশনকে জাতীয় শিক্ষা সংক্রান্ত কমিশন বা “শরিফ কমিশন” বলা হয়।
- ২৬ আগস্ট ১৯৫৯ কমিশন তাদের প্রতিবেদন জমা দেয়, যা ১৯৬২ সালে প্রকাশিত হয়।
- প্রতিবেদনে শিক্ষাকে পণ্য হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
- এবং বলা হয় যে জনগণের ঐতিহ্যগত শিক্ষা চিন্তাভাবনা পরিবর্তন করতে হবে। 
- এছাড়াও বাংলা বর্ণমালার পরিবর্তে রোমান বর্ণমালা, উর্দু ভাষা প্রয়োগ এবং ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে ইংরেজি বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব দেয়া হয়।
- প্রতিবেদনের বিরোধিতায় পূর্ব পাকিস্তানের ছাত্ররা আন্দোলন শুরু করে।
- ১৯৬২ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর পাকিস্তানি শাসন ও শিক্ষা নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে শহীদ হন ওয়াজিউল্লাহ, গোলাম মোস্তফা, বাবুল এবং অনেক অজ্ঞাতনামা ছাত্র।
- তাদের স্মরণে ১৭ সেপ্টেম্বর শিক্ষা দিবস হিসেবে পালন করা হয়।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা- নবম-দশম শ্রেণি (মাধ্যমিক)। 

৮১.
বাংলাদেশে সর্বজনীন প্রাথমিক শিক্ষা কোন বছরে শুরু করা হয়?
  1. ১৯৮৩ সাল
  2. ১৯৮০ সাল
  3. ১৯৭৯ সাল
  4. ১৯৮২ সাল
ব্যাখ্যা

• বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা:
- বাংলাদেশে ১৯৮০ সালে সর্বজনীন প্রাথমিক শিক্ষা চালু করা হয়।
- সর্বজনীন প্রাথমিক শিক্ষাকে ফলপ্রসূ করার লক্ষ্যে সরকার দেশের ছয় থেকে দশ বছর বয়সী শিশুর জন্য পাঁচ বছরের প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণ বাধ্যতামূলক করেন। 
- ১৯৯০ সালে সারা দেশে বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা আইন পাস করা হয়।
- ১৯৯২ সালে সীমিতভাবে এবং ১৯৯৩ সাল থেকে সারা দেশে বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা প্রবর্তন করা হয়। 

তথ্যসূত্র: সিএড প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

৮২.
'জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক' প্রণয়নের সাথে জড়িত প্রতিষ্ঠান কোনটি?
  1. NCTB
  2. BANBEIS
  3. NTRCA
  4. NAEM
ব্যাখ্যা
জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড:
- 'জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক' প্রণয়নের সাথে জড়িত প্রতিষ্ঠান জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (NCTB)।
- ১৯৭২ সাল থেকে ১৯৭৭ সাল পর্যন্ত স্কুল টেকস্টবুক বোর্ড কর্তৃক ১ম শ্রেণি থেকে ১০ম শ্রেণির সকল পাঠ্যপুস্তক সংশোধন, পরিমার্জন ও পুনর্লিখন এবং সেই সাথে একটি নবজাত রাষ্ট্রের জনসাধারণের প্রয়োজনীয় জ্ঞাতব্য বিষয় আধুনিক ধ্যান-ধারণার আলোকে পাঠ্যপুস্তকে সন্নিবেশ করা হয়।
- ১৯৭৮-৭৯ সালে টেক্সটবুক বোর্ড নতুন শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যসূচি অনুযায়ী পাঠ্যপুস্তক প্রণয়নের উদ্যোগ গ্রহণ করে।
- ১৯৮৩ সালের মধ্যে ১০ম শ্রেণি পর্যন্ত প্রচলিত পাঠ্যপুস্তকের স্থলে মানসম্পন্ন পাঠ্যপুস্তক প্রণয়ন ও বিতরণের কাজ সম্পন্ন করে। ১৯৮৩ সালে “The National Curriculum & Textbook Board Ordinance 1983 (Ordinance no. LVII of 1983)” মাধ্যমে স্কুল টেকস্টবুক বোর্ড ও জাতীয় শিক্ষাক্রম উন্নয়ন কেন্দ্রকে একীভূতকরণের মাধ্যমে বর্তমান জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড প্রতিষ্ঠিত হয়।
- সংবিধান (পঞ্চদশ সংশোধন) আইন ২০১১ অনুযায়ী বোর্ডের কার্যক্রমকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা ও যুগপোযোগী করার জন্য গত ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৮ তারিখে মহান জাতীয় সংসদে “The National Curriculum & Textbook Board Ordinance 1983 (Ordinance no. LVII of 1983)” সংশোধন ও রহিতক্রমে ‘জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড আইন ২০১৮’ বিলটি পাশ হয়।

তথ্যসূত্র - NCTB এর ওয়েবসাইট।
৮৩.
বাংলাদেশে স্বাধীন হওয়ার পর প্রথম শিক্ষা কমিশন কবে গঠিত হয়?
  1. ১৯৭১ সালে
  2. ১৯৭২ সালে
  3. ১৯৭৩ সালে
  4. ১৯৭৫ সালে
ব্যাখ্যা

প্রথম শিক্ষা কমিশন:
- বাংলাদেশের প্রথম শিক্ষা কমিশন ‘জাতীয় শিক্ষা কমিশন'।
- ১৯৭২ সালের ২৬ জুলাই গঠিত হয় এই কমিশন। 
- বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও বিজ্ঞানী ড. কুদরাত-ই-খুদা ছিলেন এই কমিশনের চেয়ারম্যান।
- ১৯৭২ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর কমিশনের কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী।
- চেয়ারম্যানের নামানুসারে এই কমিশন 'কুদরত-ই-খুদা কমিশন' নামেও পরিচিতি পায়।
- কমিশন ১৯৭৪ সালের ৩০ মে সরকারের নিকট রিপোর্ট পেশ করে।
- এই কমিশনের মতে প্রাথমিক শিক্ষার মেয়াদ হবে প্রথম থেকে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত মোট আট বছর।
- মাধ্যমিক শিক্ষার মেয়াদ হবে নবম শ্রেণী থেকে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত মোট চার বছর।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৮৪.
জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি (নেপ) কোথায় অবস্থিত?
  1. ঢাকা
  2. রাজশাহী
  3. ময়মনসিংহ
  4. চট্টগ্রাম
ব্যাখ্যা

জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি:
-  ১৯৭৪ সালে দেশে প্রাথমিক শিক্ষা আইন জারি হয়।
- জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি (নেপ) ময়মনসিংহ জেলায় অবস্থিত।
- এটি ১৯৭৮ সালে 'মৌলিক শিক্ষা একাডেমি' নামে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ১৯৮৫ সালে এটির নামকরণ করা হয় 'জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি'।
- এখানে প্রাথমিক শিক্ষা সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়।
- এই প্রতিষ্ঠান প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষার প্রশ্নপত্র প্রণয়ন করে থাকে।
- ১৯৯০ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা আইন প্রণীত হয়।
- এই আইনের অধীনে ১৯৯২ সালের ১ জানুয়ারি দেশের ৬৮টি উপজেলায় এবং ১ জানুয়ারি ১৯৯৩ সারা দেশে বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা আইন চালু হয়।

তথ্যসূত্র - জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি ওয়েবসাইট, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ও দৈনিক প্রথম আলো, ০১ নভেম্বর ২০১৪।

৮৫.
বাংলাদেশের শিক্ষা দিবস কোন তারিখে পালিত হয়? 
  1. ১২ মে
  2. ১৭ সেপ্টেম্বর
  3. ১৮ জুন
  4. ২১ আগষ্ট
ব্যাখ্যা

শিক্ষা দিবস:
- পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি আইয়ুব খান ১৯৫৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর শিক্ষানীতি প্রণয়নের জন্য একটি কমিশন গঠনের ঘোষণা দেন,যা ৫ জানুয়ারি ১৯৫৯ সালে কার্যকর হয়। 
- কমিশনের চেয়ারম্যান ছিলেন পশ্চিম পাকিস্তানের শিক্ষা বিভাগের সচিব এস এম শরীফ।
- পূর্ব পাকিস্তানের চারজন সদস্যসহ মোট ১১ জনের এই কমিশনকে জাতীয় শিক্ষা সংক্রান্ত কমিশন বা “শরিফ কমিশন” বলা হয়।
- ২৬ আগস্ট ১৯৫৯ কমিশন তাদের প্রতিবেদন জমা দেয়, যা ১৯৬২ সালে প্রকাশিত হয়।
- প্রতিবেদনে শিক্ষাকে পণ্য হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
- এবং বলা হয় যে জনগণের ঐতিহ্যগত শিক্ষা চিন্তাভাবনা পরিবর্তন করতে হবে। 
- এছাড়াও বাংলা বর্ণমালার পরিবর্তে রোমান বর্ণমালা, উর্দু ভাষা প্রয়োগ এবং ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে ইংরেজি বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব দেয়া হয়।
- প্রতিবেদনের বিরোধিতায় পূর্ব পাকিস্তানের ছাত্ররা আন্দোলন শুরু করে।
- ১৯৬২ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর পাকিস্তানি শাসন ও শিক্ষা নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে শহীদ হন ওয়াজিউল্লাহ, গোলাম মোস্তফা, বাবুল এবং অনেক অজ্ঞাতনামা ছাত্র।
- তাদের স্মরণে ১৭ সেপ্টেম্বর শিক্ষা দিবস হিসেবে পালন করা হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা- নবম-দশম শ্রেণি (মাধ্যমিক)।

৮৬.
বাংলাদেশের শিক্ষার কোন স্তরের সাথে PEDP-4 এর সম্পর্ক রয়েছে?
  1. প্রাথমিক শিক্ষা
  2. মাধ্যমিক শিক্ষা
  3. উচ্চ শিক্ষা
  4. ভিত্তিমূলক শিক্ষা
ব্যাখ্যা

- বাংলাদেশের শিক্ষার প্রাথমিক শিক্ষা স্তরের সাথে PEDP-4 এর সম্পর্ক রয়েছে। 

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি (পিইডিপি-৪)

- প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি (PEDP-4) হলো জুলাই ২০১৮ থেকে জুন ২০২৫ (শুরুতে ২০২৩ সালে মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিলো) পর্যন্ত মেয়াদে পরিচালিত একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প, এর প্রাক্কলিত ব্যয় ৩৮,২৯১.৪৯ কোটি টাকা। প্রকল্পটি চার বছর নয় মাসে মোট বরাদ্দের ৪৯.৪ শতাংশ অর্থ ব্যয় করতে সক্ষম হয়েছে, যা প্রায় ১৮,৫৩৭.০৬ কোটি টাকা। প্রকল্পের আওতায় দেশের ২৪,৫৮৯টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১,০৯,৯৮১টি শ্রেণিকক্ষ নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে, যার মধ্যে ৭৫,৪০৪টি নির্মাণ শেষ এবং ১৯,৯৫২টির কাজ চলমান। 

সূত্র: দৈনিক যুগান্তর। 

৮৭.
উপমহাদেশীয়দের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ভাইস চ্যান্সেলর-
  1. ড. রমেশচন্দ্র মজুমদার
  2. ড. মাহমুদ হাসান
  3. ড. সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন
  4. স্যার এ. এফ. রহমান
ব্যাখ্যা
• উপ-মহাদেশীয়দের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ভাইস চ্যান্সেলর ছিলেন - স্যার এ. এফ. রহমান।

• ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়:
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের প্রাচীনতম, সর্ববৃহৎ এবং উপমহাদেশের অন্যতম প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান।
- ১৯২০ সালে ভারতীয় বিধানসভায় গৃহীত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আইনবলে ১৯২১ সালের ১ জুলাই আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম শুরু হয়।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় গঠিত কমিশনের নাম ছিলো নাথান কমিশন।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপাচার্য হন স্যার ফিলিপ জোসেফ হার্টজ।
- উপ-মহাদেশীদের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ভাইস চ্যান্সেলর হলেন স্যার এ. এফ. রহমান।

অন্যদিকে,
- রমেশচন্দ্র মজুমদার : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ উপাচার্য। 
- ড. মাহমুদ হোসেন : পঞ্চম উপাচার্য (ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি জাকির হোসেনের ভাই)। 
- ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ছিলেন ড. সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন।
- মুক্তিযুদ্ধের সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ছিলেন বিচারপতি আবু সায়্যিদ চৌধুরী।

• উপাচার্যের সময়কাল:
১. স্যার পি. জে. হার্টগ (১৯২০ - ১৯২৫), 
২. অধ্যাপক জর্জ হ্যারি ল্যাংলি (১৯২৬ - ১৯৩৪), 
৩. স্যার এ. এফ. রাহমান (১৯৩৪ - ১৯৩৬), 
৪. অধ্যাপক রমেশচন্দ্র মজুমদার (১৯৩৭ - ১৯৪২), 
৫. অধ্যাপক মাহমুদ হাসান (১৯৪২ - ১৯৪৮), 
৬. অধ্যাপক সৈয়দ মোয়াজ্জেম হুসাইন (১৯৪৮ - ১৯৫৩)।

উৎস: বাংলাপিডিয়া, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ওয়েবসাইট।
৮৮.
বর্তমানে বাংলাদেশে কত ধরনের বিদ্যালয়ের মাধ্যমে সরকার প্রাথমিক শিক্ষার চাহিদা পূরণ করে চলেছে?
  1. ১০ ধরনের
  2. ১১ ধরনের
  3. ১৩ ধরনের
  4. ১৫ ধরনের
ব্যাখ্যা

বর্তমানে দেশে ১১ ধরনের বিদ্যালয়ের মাধ্যমে সরকার প্রাথমিক শিক্ষার চাহিদা পূরণ করে চলেছে।
যথা:
দেশে প্রাথমিক স্তরে দু'টি উপধারা রয়েছে। (১) সাধারণ ও (২) ধর্মীয় মাদরাসা শিক্ষা।

এ সব নিয়ে বাংলাদেশে প্রাথমিক শিক্ষা ক্ষেত্রে বর্তমানে ১১ (এগার) রকমের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। যথা:
১. সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়;
২. রেজিস্টার্ড বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়;
৩. রেজিস্টার্ড নয়, এমন বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়;
৪. মাধ্যমিক বিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট প্রাথমিক বিদ্যালয়;
৫. এবতেদায়ী মাদরাসা;
৬. দাখিল মাদরাসা ও সংশ্লিষ্ট এবতেদায়ী মাদরাসা;
৭. এন.জি.ও. স্কুল (যেমন- ব্রাক স্কুল);
৮. এক্সপেরিমেন্টাল স্কুল (প্রাথমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট সংলগ্ন ও শিক্ষক প্রশিক্ষণের জন্য ব্যবহৃত স্কুল- এ গুলো সরকারি);
৯. কিন্ডার গার্টেন স্কুল;
১০. স্যাটেলাইট স্কুল (প্রাথমিক বিদ্যালয় নেই এমন গ্রামে ১ম-৩য় শ্রেণি সম্বলিত স্কুল);
১১. কমিউনিটি স্কুল (এলাকাবাসীর অনুদানে একজন শিক্ষক বিশিষ্ট স্কুল)।

সূত্র: স্কুল অব এডুকেশন, এমএড, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

৮৯.
’জাতীয় শিক্ষানীতি-২০১০’ এর চেয়ারম্যান কে ছিলেন?
  1. অধ্যাপক কবীর চৌধুরী
  2. অধ্যাপক মুনীর চৌধুরী
  3. অধ্যাপক সলিমুল্লাহ
  4. অধ্যাপক ইকবাল কবির
ব্যাখ্যা

• জাতীয় শিক্ষা নীতি- ২০১০:
- স্বাধীনতার পরপরই একটি শিক্ষানীতি প্রণয়নের জন্য প্রখ্যাত বিজ্ঞানী ও শিক্ষাবিদ ড. কুদরাত এ খুদার নেতৃত্বে দেশের প্রথম শিক্ষা কমিশন গঠন করা হয়েছিল।
- উক্ত কমিশন ব্যাপক পরীক্ষা নিরীক্ষা করে ১৯৭৪ সালে গণমুখী আধুনিক এবং বিজ্ঞানভিত্তিক একটি শিক্ষানীতি প্রণয়ন করে।
- আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিবর্তন এবং সময়ের প্রয়োজনে এটি সংশোধন ও পরিমার্জন করা হয়েছে।
- সর্বশেষ ২০১০ সালে জাতীয় অধ্যাপক কবীর চৌধুরীর নেতৃত্বে একটি শিক্ষানীতি প্রণয়ন করা হয়।
- এই শিক্ষানীতির মূল উদ্দেশ্য হলো জনমুখী উন্নয়ন ও প্রগতিশীল নেতৃত্বদানে উপযোগী মানবতাবাদী, মননশীল, যুক্তিবাদী, কুসংস্কারমুক্ত, অসম্প্রদায়িক ও দেশপ্রেমিক নাগরিক গড়ে তোলা।

শিক্ষার উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য:
- এই শিক্ষানীতি সংবিধানের নির্দেশনা অনুযায়ী দেশে গণমুখী, সুলভ, সুসম, সর্বজনীন, সুপরিকল্পিত, বিজ্ঞানমনস্ক এবং মানসম্পন্ন শিক্ষাদানে সক্ষম শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার ভিত্তি ও কৌশল হিসেবে কাজ করবে।
- এই আলোকে শিক্ষার ৩০টি নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য, লক্ষ্য ও নীতিগত তাগিদ নেয়া হয়েছে।

উৎস: সমাজকর্ম প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯০.
জাতীয় অধ্যাপক নির্ধারণ কমিটির সভাপতি কে?
  1. রাষ্ট্রপতি
  2. প্রধানমন্ত্রী
  3. পিএসসি চেয়ারম্যান
  4. শিক্ষামন্ত্রী
ব্যাখ্যা
 ‘বাংলাদেশ জাতীয় অধ্যাপক নিয়োগ নীতিমালা-২০২৩’
- নীতিমালা অনুযায়ী চার সদসস্যের মনোনয়ন কমিটিতে চেয়ারম্যান থাকবেন শিক্ষামন্ত্রী।
- মনোনয়ন কমিটিতে অন্য দুই জন সদস্য থাকবেন প্রধানমন্ত্রী মনোনীত দুই জন মন্ত্রী।
- এছাড়া সদস্য হিসেবে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন উপাচার্য থাকবেন চার সদস্যের এই কমিটিতে।

নিয়োগ
- জাতীয় অধ্যাপক পদে নিয়োগের জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ মনোনয়ন কমিটির কাছে প্রতিটি পদের বিপরীতে তিন জন করে যোগ্য ব্যক্তির নাম প্রস্তাব করবে।
- মনোনয়ন কমিটি প্রস্তাবিত ব্যক্তিদের মধ্য থেকে জাতীয় অধ্যাপক পদে নিয়োগের জন্য মনোনয়ন দেবে। মহামান্য রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের জন্য এই মনোনয়ন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ পেশ করা হবে।
- রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পর মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ নিয়োগ পত্র জারি করবে।

নিয়োগের শর্ত
- উচ্চ যোগ্যতা সম্পন্ন প্রথিতযশা অধ্যাপক যিনি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে তার গবেষণা ও ব্যুৎপত্তির জন্য স্বীকৃতি লাভ করেছেন এবং জাতীয় ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রেখেছেন।
- এছাড়াও যিনি নিজেকে সক্রিয়ভাবে গবেষণায় রত রাখতে সক্ষম, সেই ধরনের অধ্যাপক এই পদের জন্য নির্বাচিত হবেন।
- একই সময়ে অনধিক চার জনকে জাতীয় অধ্যাপক পদে নিয়োগ করা যাবে।
- অনধিক ৭৫ বৎসর বয়স্ক যোগ্য অধ্যাপক জাতীয় অধ্যাপক পদের জন্য মনোনীত হবেন।
- তবে মনোনয়ন কমিটি বিশেষ যোগ্যতাসম্পন্ন অধ্যাপকের ক্ষেত্রে এই বয়সসীমা শিথিল করতে পারবে।
- জাতীয় অধ্যাপক পাঁচ বছরের জন্য নিয়োগ পাবেন।
- তবে মনোনয়ন কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে রাষ্ট্রপতির অনুমোদনক্রমে দ্বিতীয় মেয়াদে নিয়োগ করা যাবে।
- রাষ্ট্রপতি যেকোনও সময় নিয়োগ আদেশ বাতিল করতে পারবেন। 

উৎস:  ‘বাংলাদেশ জাতীয় অধ্যাপক নিয়োগ নীতিমালা-২০২৩’ (লিংক)।
৯১.
’জাতীয় শিক্ষানীতি-২০১০’ অনুযায়ী প্রাথমিক শিক্ষার মেয়াদ কোন ক্লাস পর্যন্ত সম্প্রসারনের কথা উল্লেখ করেন?
  1. ষষ্ঠ শ্রেণি
  2. পঞ্চম শ্রেণি
  3. অষ্টম শ্রেণি
  4. সপ্তম শ্রেণি
ব্যাখ্যা
• জাতীয় শিক্ষানীতি-২০১০ :

• প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা:
- শিশুদের জন্য আনুষ্ঠানিক শিক্ষা শুরু করার আগে শিশুর অন্তর্নিহিত অপার বিস্ময়বোধ, অসীম কৌতুহল, আনন্দবোধ ও অফুরন্ত উদ্যমের মতো সর্বজনীন মানবিক বৃত্তির সুষ্ঠু বিকাশ এবং প্রয়োজনীয় মানসিক ও দৈহিক প্রস্তুতিগ্রহণের পরিবেশ তৈরি করা প্রয়োজন। 
- কাজেই ৫+ বছর বয়স্ক শিশুদের জন্য প্রাথমিকভাবে এক বছর মেয়াদি প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা চালু করা হবে।
- পরবর্তীকালে তা ৪+ বছর বয়স্ক শিশু পর্যন্ত সম্প্রসারিত করা হবে। 

• প্রাথমিক শিক্ষার মেয়াদ ও বাস্তবায়ন :
- প্রাথমিক শিক্ষার মেয়াদ পাঁচ বছর থেকে বৃদ্ধি করে আট বছর অর্থাৎ অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত সম্প্রসারন করা হবে। এটি বাস্তবায়নে দু'টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো অবকাঠামোগত আবশ্যকতা মেটানো এবং প্রয়োজনীয়সংখ্যক উপযুক্ত শিক্ষকের ব্যবস্থা করা
• ২০১১-১২ অর্থ বছর থেকে প্রাথমিক শিক্ষায় ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত চালু করার জন্য অনতিবিলম্বে নিম্নলিখিত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে:
- প্রথম থেকে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত প্রাথমিক শিক্ষার নতুন শিক্ষাক্রম, পাঠ্যপুস্তক এবং শিক্ষক নির্দেশিকা প্রণয়ন করা:
- প্রাথমিক পর্যায়ের সকল শিক্ষকের জন্য শিক্ষাক্রম বিস্তারসহ শিখন-শেখানো কার্যক্রমের ওপর ফলপ্রসূ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা;
- শিক্ষা প্রশাসন ও ব্যবস্থাপনার প্রয়োজনীয় পুনর্বিন্যাস করা।

উৎস : জাতীয় শিক্ষানীতি-২০১০
৯২.
জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি (নেপ) কোথায় অবস্থিত?
  1. ঢাকা
  2. ময়মনসিংহ
  3. বগুড়া
  4. রাজশাহী
ব্যাখ্যা

জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি:
- ১৯৭৪ সালে দেশে প্রাথমিক শিক্ষা আইন জারি হয়।
- জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি (নেপ) ময়মনসিংহ জেলায় অবস্থিত।
- এটি ১৯৭৮ সালে 'মৌলিক শিক্ষা একাডেমি' নামে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ১৯৮৫ সালে এটির নামকরণ করা হয় 'জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি'।
- এখানে প্রাথমিক শিক্ষা সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও কর্মকর্তা- কর্মচারীদের প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়।
- এই প্রতিষ্ঠান প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষার প্রশ্নপত্র প্রণয়ন করে থাকে।
- ১৯৯০ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা আইন প্রণীত হয়।
- এই আইনের অধীনে ১৯৯২ সালের ১ জানুয়ারি দেশের ৬৮টি উপজেলায়।
- ১ জানুয়ারি ১৯৯৩ সারা দেশে বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা আইন চালু হয়।

তথ্যসূত্র: জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি ওয়েবসাইট, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ও দৈনিক প্রথম আলো। 

৯৩.
শামসুল হক শিক্ষা কমিশন গঠন করা হয় কত সালে?
  1. ১৯৯১ সালে
  2. ১৯৯৫ সালে
  3. ১৯৯৭ সালে
  4. ১৯৯৯ সালে
ব্যাখ্যা

শামসুল হক শিক্ষা কমিশন:
- বাংলাদেশ সরকার ১৯৯৭ সালের ১৪ জানুয়ারি জারীকৃত এক আদেশবলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর এম শামসুল হককে চেয়ারম্যান করে ৫৬ সদস্যের একটি শিক্ষা কমিশন গঠন করে। 
- কমিশনকে দায়িত্ব দেয়া হয় একটি বাস্তবধর্মী, গণমুখী ও গতিশীল শিক্ষানীতি প্রণয়নের।
- কমিশন দেশের জন্য উপযোগী একটি শিক্ষাব্যবস্থা প্রবর্তনের লক্ষ্যে শিক্ষানীতি প্রণয়নের জন্য সার্বিক প্রচেষ্টা চালায়।
- কমিশন ১৯৯৭ সালে এর রিপোর্ট পেশ করে।
- কমিশন কর্তৃক প্রণীত শিক্ষানীতির লক্ষ্য ছিল:
(ক) ছাত্রদের ব্যক্তিগত ও জাতীয় জীবনে নিজেদের মধ্যে নৈতিক, মানবিক, ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক মূল্যবোধ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে সহায়তা দান, 
(খ) মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ছাত্রদের অনুপ্রাণিত করা এবং তাদের মধ্যে জাতীয়তাবাদী চেতনা, দেশপ্রেম ও সুনাগরিকের গুণাবলীর বিকাশ, (গ) দেশে আর্থ-সামাজিক পরিবর্তন সাধনের লক্ষ্যে শিক্ষাকে বাস্তবমুখী, উৎপাদনশীল ও সৃজনশীল করা,
(ঘ) ছাত্রদের দায়িত্বশীল ও কর্তব্যপরায়ণ জনশক্তি হিসেবে গড়ে তোলা,
(ঙ) তাদের মধ্যে বিশ্বভ্রাতৃত্ববোধ, অসাম্প্রদায়িক মনোভাব, পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সহমর্মিতার মনোভাব সৃষ্টি এবং মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল করে গড়ে তোলা,
(চ) গণতান্ত্রিক চেতনার বিকাশের লক্ষ্যে তাদের মধ্যে পরস্পরের মতামতের প্রতি সহনশীলতার মনোভাব সৃষ্টি, এবং
(ছ) তাদের মধ্যে জীবন সম্পর্কে বাস্তবমুখী ও ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গী গড়ে তোলা। বৈষম্যহীন সমাজ গঠনের লক্ষ্যে মেধা ও প্রবণতার ভিত্তিতে শিক্ষাক্ষেত্রে সমঅধিকার নিশ্চিত করার প্রতি কমিশন বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করে।

উল্লেখ্য,
- কমিশনের রিপোর্টে শিক্ষার তিনটি পর্যায়ের সুপারিশ করা হয়েছে, প্রাথমিক স্তর, মাধ্যমিক স্তর ও উচ্চশিক্ষা। 
- প্রাথমিক শিক্ষার পরিধি পাঁচ বছরের পরিবর্তে আট বছর করার সুপারিশ করা হয়েছে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৯৪.
বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় শিক্ষা কমিশন কোনটি?
  1. মজিদ খান শিক্ষা কমিশন
  2. মফিজ খান শিক্ষা কমিশন
  3. মনিরুজ্জামান মিঞা কমিশন
  4. কুদরত-ই-খুদা শিক্ষা কমিশন
ব্যাখ্যা

• ড. কুদরত-ই-খুদা শিক্ষা কমিশন:
- ১৯৭২ সালের ২৬ জুলাই সরকার প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ ড. কুদরত-ই-খুদার নেতৃত্বে জাতীয় শিক্ষা কমিশন গঠন করেন।
- এটি বাংলাদেশের প্রথম শিক্ষা কমিশন।
- ১৯৭২ সালের ২৬ জুলাই, সরকার ড. কুদরাত-ই-খুদার নেতৃত্বে জাতীয় শিক্ষা কমিশন গঠন করে।
- কমিশন ১৯৮৩ সালের মধ্যে প্রচলিত প্রাথমিক শিক্ষা প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত বাধ্যতামূলক করার সুপারিশ করে।
- এছাড়া, কমিশন ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষা অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব দেয়।
- ১৯৭৩ সালে জারি হওয়া ‘প্রাথমিক শিক্ষা অর্ডিন্যান্স’ এবং ১৯৭৪ সালের প্রাথমিক বিদ্যালয় অধিগ্রহণ আইন বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষার দিক পরিবর্তন করে।
- এই আইন অনুসারে, পর্যায়ক্রমে ৩৬,১৬৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয় সরকারি প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়।
- প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১,৫৭,৭৪২ জন শিক্ষক সরকারি কর্মচারী হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হন।

উৎস: প্রাথমিক শিক্ষা, বিএড, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯৫.
বাংলাদেশের প্রথম শিক্ষা বোর্ড কেনটি?
  1. কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড
  2. ঢাকা শিক্ষা বোর্ড
  3. রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড
  4. চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড
ব্যাখ্যা

• বাংলাদেশে মোট ১১টি শিক্ষা বোর্ড রয়েছে।

এগুলো হলো:

- মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বোর্ড, ঢাকা (৭ মে ১৯২১)
- মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বোর্ড, রাজশাহী (১৯৬১)
- মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বোর্ড, কুমিল্লা (১৯৬২)
- মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বোর্ড, যশোর (১৯৬৫)
- মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বোর্ড, চট্টগ্রাম (১৯৯৫)
- মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বোর্ড, বরিশাল (১৯৯৯)
- মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বোর্ড, সিলেট (১৯৯৯)
- মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বোর্ড, দিনাজপুর (স্থাপিত : ২০০৬ সালে; কার্যক্রম শুরু ২০০৯ সালে)
- মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বোর্ড, ময়মনসিংহ (২৮ আগস্ট ২০১৭)
- বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড (১৯৫৪)
- বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড (১৯৭৮)।

উ: মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ, শিক্ষা মন্ত্রণালয়)

৯৬.
কুদরাত-ই-খুদার শিক্ষা কমিশন কোন শ্রেণি পর্যন্ত অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক করার সুপারিশ করেন?
  1. পঞ্চম শ্রেণি
  2. ষষ্ঠ শ্রেণি
  3. সপ্তম শ্রেণি
  4. অষ্টম শ্রেণি
ব্যাখ্যা

- ১৯৭২ সালের ২৬ জুলাই সরকার প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ ড. কুদরাত-ই-খুদার নেতৃত্বে জাতীয় শিক্ষা কমিশন গঠন করেন।
- কমিশন ১৯৮৩ সালের মধ্যে প্রচলিত প্রাথমিক শিক্ষা প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত বাধ্যতামূলক এবং
- কমিশন ১৯৮৩ সালের মধ্যে ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক করার সুপারিশ করেন।
-  ১৯৭৩ সালে জারীকৃত 'প্রাথমিক শিক্ষা অর্ডিন্যান্স' এবং প্রাথমিক বিদ্যালয় অধিগ্রহণ আইন (১৯৭৪) বাংলাদেশে প্রাথমিক শিক্ষার মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
- এসব আইনে পর্যায়ক্রমে ৩৬, ১৬৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয় পূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা লাভ করে।
- প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১,৫৭,৭৪২ জন শিক্ষক সরকারি কর্মচারী হিসেবে আত্তীকৃত হন।

সূত্র: প্রাথমিক শিক্ষা, বিএড, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

৯৭.
সারা দেশে প্রাথমিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার আইন কবে চালু করা হয়?
  1. ১৯৯১ সালে
  2. ১৯৯২ সালে
  3. ১৯৯৪ সালে
  4. ১৯৯৩ সালে
ব্যাখ্যা

• জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি:
- ১৯৭৪ সালে দেশে প্রাথমিক শিক্ষা আইন জারি হয়।
- জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি (নেপ) ময়মনসিংহ জেলায় অবস্থিত।
- এটি ১৯৭৮ সালে 'মৌলিক শিক্ষা একাডেমি' নামে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ১৯৮৫ সালে এটির নামকরণ করা হয় 'জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি'।
- এখানে প্রাথমিক শিক্ষা সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও কর্মকর্তা- কর্মচারীদের প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়।
- এই প্রতিষ্ঠান প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষার প্রশ্নপত্র প্রণয়ন করে থাকে।
- ১৯৯০ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা আইন প্রণীত হয়।
- এই আইনের অধীনে ১৯৯২ সালের ১ জানুয়ারি দেশের ৬৮টি উপজেলায়।
- ১ জানুয়ারি ১৯৯৩ সারা দেশে বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা আইন চালু হয়।

তথ্যসূত্র: জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি ওয়েবসাইট, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ও দৈনিক প্রথম আলো। 

৯৮.
জাতীয় শিক্ষা নীতি–২০১০ অনুযায়ী প্রাথমিক শিক্ষার স্তর কত পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে?
  1. তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত
  2. পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত
  3. অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত
  4. দশম শ্রেণি পর্যন্ত
ব্যাখ্যা

◊ জাতীয় শিক্ষানীতি–২০১০:
- জাতীয় শিক্ষানীতি–২০১০ অনুযায়ী প্রাথমিক শিক্ষার মেয়াদ পূর্বের পাঁচ বছর থেকে বাড়িয়ে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। 
- এর সঙ্গে এক বছরের প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা যুক্ত করা হয়েছে। 
- নীতিতে প্রথম থেকে অষ্টম শ্রেণিকে প্রাথমিক ও নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণিকে মাধ্যমিক স্তর হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।
- নীতিতে বলা হয়, প্রাথমিক শিক্ষাকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত সম্প্রসারণ করে একটি সমন্বিত স্তর গঠনের পাশাপাশি ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণিতে বৃত্তিমূলক ও তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। 
- যদিও অবকাঠামোসহ বিভিন্ন কারণে এটি সম্পূর্ণভাবে বাস্তবায়িত হয়নি;
- তবে সরকার ধীরে ধীরে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিচ্ছে।

উৎস: প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর।

৯৯.
প্রশিক্ষণ ও গবেষণা পরিচালনার মাধ্যমে মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা বাস্তবায়ন কোন প্রতিষ্ঠানের অভিলক্ষ্য? 
  1. শিক্ষা মন্ত্রণালয়
  2. জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি
  3. প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর
  4. এনসিটিবি
ব্যাখ্যা

• নেপ পরিচিতি:
- জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি (NAPE) সর্বপ্রথম ১৯৬৯ সনে জুনিয়র ট্রেনিং কলেজ (জেটিসি) হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর এখানে ২ বৎসর মেয়াদি ইন্টারমিডিয়েট ইন এডুকেশন (আই এড) কোর্স পরিচালিত হয়।
- ময়মনসিংহ ছাড়াও ঢাকা, চট্টগ্রাম, ফেনী, রংপুর ও যশোরে অনুরূপ আরো পাঁচটি জুনিয়র ট্রেনিং কলেজ (জেটিসি) স্থাপিত হয়।
- মহান স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে জুনিয়র ট্রেনিং কলেজ (জেটিসি)গুলো রূপান্তরিত হয়ে কলেজ অব এডুকেশন নামে যাত্রা  শুরু করে ।
- উক্ত কলেজগুলোতে ৩ বছর মেয়াদি ব্যাচেলর অব আর্টস ইন এডুকেশন (বিএ ইন এডুকেশন) কোর্স চালু হয় ।
- ১৯৭৮ সালে ঢাকাস্থ কলেজ অব এডুকেশনটি সরকারী কবি নজরুল কলেজ হিসেবে রূপান্তরিত হয়।
- অন্য চারটি কলেজ অব এডুকেশন (চট্টগ্রাম, ফেণি, রংপুর ও যশোর) টিচার্স ট্রেনিং কলেজে উন্নীত হয়।
- এছাড়া ১৯৭৮ সালে ময়মনসিংহস্থ কলেজ অব এডুকেশনটি "মৌলিক শিক্ষা একাডেমি" (Academy for Fundamental Education) নামে প্রতিষ্ঠিত হয়।
-  ১৯৮৫ সালে এর নামকরণ করা হয় ‘‘জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি (নেপ)" ।
- ২০০৪ সালের ১ অক্টোবর থেকে একাডেমী স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে কার্যক্রম  পরিচালনা করে।

• রূপকল্প ( Vision) :  মানসম্মত প্রশিক্ষণ  ও গবেষণা পরিচালনা
• অভিলক্ষ্য (Mission) :  প্রশিক্ষণ ও গবেষণা পরিচালনার মাধ্যমে মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা বাস্তবায়ন ।

উৎস:  জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি (NAPE)।

১০০.
ব্যানবেইস শিক্ষাক্ষেত্রে কোন ধরনের ভূমিকা রাখে?
  1. শিক্ষা অফিসারদের নিয়োগ প্রদান করা
  2. শিক্ষা সম্পর্কিত বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও প্রকাশ করা
  3. শিক্ষকদের বেতন অনুদান বিতরণের দায়িত্ব এ সংস্থার
  4. শিক্ষকদের নিয়োগের ব্যবস্থা করে
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরো (ব্যানবেইস):
- প্রথম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার অধীন ১৯৭৬-৭৭ অর্থবছরে একটি স্কীমের মাধ্যমে ‘বাংলাদেশ শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরো (ব্যানবেইস)’ ফেব্রুয়ারী ১৯৭৭ সালে জাতীয় পর্যায়ে শিক্ষা সম্পর্কিত তথ্য ও পরিসংখ্যান সংগ্রহ, সংরক্ষন, সংকলন ও প্রকাশনা উদ্দেশ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি সংযুক্ত দপ্তর হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করে।
- সীমিত জনবল নিয়ে একজন পরিচালকের অধীনে ২ জন বিভাগীয় প্রধানের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি কাজ শুরু করে।
- বর্তমানে একজন মহাপরিচালকের নেতৃত্বে প্রধান কার্যালয়ে ১৭৫ জন এবং মাঠ পর্যায়ে এ ৬৪০ জন কর্মকর্তা কর্মচারী কাজ করছেন । 

⇒ ব্যানবেইস শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি সংযুক্ত দপ্তর।
- এ সংস্থা শিক্ষা সম্পর্কীয় বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করে এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়সহ অন্যান্য এজেন্সিকে সরবরাহ করে। 

⇒ লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য:
- জাতীয় পর্যায়ে শিক্ষা সংক্রান্ত তথ্য ও পরিসংখ্যান সংরক্ষণ, সংকলন, সরবরাহ ও প্রচার করা।
- দেশে শিক্ষা শুমারি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জাতীয় জরিপসহ নানা ধরনের বিশ্লেষণধর্মী তথ্যের জন্য জনমত জরিপ করা।
- শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, ছাত্র-ছাত্রী, প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোসহ অন্যান্য তথ্যের ডাটাবেইস প্রণয়ন ও Education GIS (School Mapping) এর মাধ্যমে ডাটা ওয়্যার হাউসকে সমৃদ্ধ করা।
- শিক্ষাতথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে শিক্ষা পরিকল্পনা ও মূলনীতি প্রণয়নকারী সংস্থাসমূহে হালনাগাদ তথ্য সরবরাহ নিশ্চিত করা।
- জাতীয় পর্যায়ে একটি বিশেষায়িত ডিজিটাল লাইব্রেরি পরিচালনা করা।
- শিক্ষাক্ষেত্রে সকল ধরনের শিক্ষা সংক্রান্ত ডকুমেন্ট সংগ্রহ করে একটি শিক্ষা বিষয়ক জাতীয় ডকুমেন্টেশন সেন্টার পরিচালনা করা।
- শিক্ষা ক্ষেত্রে সমন্বিত শিক্ষাতথ্য ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি (আই.ই.আই.এম.এস.) প্রতিষ্ঠা করা এবং এর Focal Point হিসেবে কাজ করা।
- বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থায় নিয়মিত শিক্ষা সংক্রান্ত তথ্য সরবরাহ করা।
- শিক্ষাক্ষেত্রে বিভিন্ন বিষয়ে গবেষণা কার্য পরিচালনা করা।
- শিক্ষা ক্ষেত্রে আই. সি. টি. প্রশিক্ষণ প্রদান ও আই. সি. টি. শিক্ষা প্রসারে ব্যবস্থা গ্রহণ।
- উপজেলা পর্যায়ে আই.সি.টি. প্রশিক্ষণ প্রদান এবং শিক্ষার রিসোর্স সেন্টার প্রতিষ্ঠা করা।

উৎস: বাংলাদেশ শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরো ওয়েবসাইট।