বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

তড়িৎ ও জৈব রসায়ন ও তাদের জাতকসমূহ

মোট প্রশ্ন২৬৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

তড়িৎ ও জৈব রসায়ন ও তাদের জাতকসমূহ

PrepBank · পাতা / · ১০০ / ২৬৭

.
প্রাকৃতিক গ্যাসের কত শতাংশ ইউরিয়া সারের কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) ১৫%
  2. খ) ২১%
  3. গ) ২৫%
  4. ঘ) ৩৩%
সঠিক উত্তর:
খ) ২১%
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ২১%
ব্যাখ্যা
ইউরিয়া সারের কাঁচামাল তৈরিতে প্রাকৃতিক গ্যাসের  ২১ শতাংশ ব্যবহৃত হয়। 
শিল্প কারখানায় ব্যবহৃত হয় প্রাকৃতিক গ্যাসের ২২%। 
বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত হয় প্রাকৃতিক গ্যাসের ৫১%। 
বাসা বাড়িতে ব্যবহৃত হয় প্রাকৃতিক গ্যাসের ১১%। 
বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে ব্যবহৃত হয় প্রাকৃতিক গ্যাসের ১%। 

সূত্র - নবম-দশম শ্রেণি, বিজ্ঞান, বোর্ড বই। 
.
ইথানল ব্যবহারের মাধ্যমে পরিবেশে প্রধানত কোন প্রভাবটি পড়ে? 
  1. সূর্যের আলো কমে 
  2. বাতাসে অক্সিজেনের পরিমাণ বাড়ে 
  3. জলবায়ুর তাপমাত্রা বাড়ে 
  4. জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর চাপ কমে 
সঠিক উত্তর:
জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর চাপ কমে 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর চাপ কমে 
ব্যাখ্যা

ইথানলকে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার: 
- ইথানল-এর অপর নাম ইথাইল অ্যালকোহল। 
- ইথানল-এর রাসায়নিক সংকেত CH3-CH2-OH । 
- জীবাশ্ম জ্বালানি যেমন- কেরোসিন, ডিজেল, পেট্রল প্রভৃতির মতো ইথানলকে পোড়ালেও তাপ উৎপন্ন হয়। 
- তাই জীবাশ্ম জ্বালানির মতো ইথানলকেও তাপ ইঞ্জিনে ব্যবহার করে কলকারখানা, গাড়ি, বিমান, জাহাজ প্রভৃতি চালানো যেতে পারে। 
- উত্তর আমেরিকাসহ অনেক দেশে জীবাশ্ম জ্বালানির সাথে ইথানলকে মিশিয়ে তাপ ইঞ্জিনে ব্যবহার করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের সব গাড়িতে পেট্রলের সাথে শতকরা 10 ভাগ ইথানল মিশিয়ে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হয়। 
- তাই যত ইথানলকে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হবে ততই জীবাশ্ম জ্বালানির উপর চাপ কমবে। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

.
ডায়োডে কয়টি তড়িৎদ্বার থাকে?
  1. ক) ২টি
  2. খ) ৩টি
  3. গ) ৪টি
  4. ঘ) ১টি
সঠিক উত্তর:
ক) ২টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ২টি
ব্যাখ্যা
ডায়োডে দুইটি তড়িৎদ্বার থাকে।
.
নীচের কোনটি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিকারক?
  1. কার্বন-ডাই-অক্সাইড
  2. কার্বন মনোক্সাইড
  3. অক্সিজেন
  4. অ্যামোনিয়া
সঠিক উত্তর:
কার্বন মনোক্সাইড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কার্বন মনোক্সাইড
ব্যাখ্যা
• কার্বন মনোক্সাইড:
- দূষিত বাতাসে কার্বন মনোক্সাইড গ্যাসটি মানবদেহে রক্তের অক্সিজেন পরিবহন ক্ষমতা নষ্ট করে।
- কার্বন মনোক্সাইড ইংরেজিতে Carbon Monoxide (রাসায়নিক সংকেত: CO) হলো একপ্রকার রঙ, গন্ধ এবং স্বাদহীন গ্যাস, যার ঘনত্ব বাতাসের তুলনায় কিছুটা কম।
- এক পরমাণু কার্বন ও এক পরমাণু অক্সিজেন যুক্ত হয়ে এক অণু কার্বন মনোক্সাইড গঠন করে।
- আন্তর্জাতিকভাবে এটি বিষাক্ত গ্যাস হিসেবে চিহ্নিত।

• কার্বন মনোক্সাইড বিষক্রিয়ায় মানবদেহে যে সকল সমস্যা দেখা দিতে পারে:
- দুর্বলতা,
- বমি বমি ভাব,
- মাথা ঘোরানো,
- ক্লান্তি,
- ক্ষুধা,
- মাথা ব্যাথা,
- অজ্ঞান হওয়া,
- খিঁচুনি ইত্যাদি।

উৎস: Centers of Disease Control and Prevention website.
.
হাইড্রোকার্বনকে কোন ধরনের রাসায়নিক যৌগ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়?
  1. অজৈব যৌগ 
  2. লবণ 
  3. জৈব যৌগ 
  4. এসিড
সঠিক উত্তর:
জৈব যৌগ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জৈব যৌগ 
ব্যাখ্যা

• হাইড্রোকার্বনকে জৈব যৌগ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়, অর্থাৎ সঠিক উত্তর হলো গ) জৈব যৌগ। হাইড্রোকার্বন মূলত কার্বন ও হাইড্রোজেন পরমাণু দিয়ে গঠিত রাসায়নিক যৌগ, যা জৈব রসায়নের মূল ভিত্তি। জীবদেহে উপস্থিত বিভিন্ন জৈব পদার্থ যেমন প্রোটিন, চর্বি ও শর্করার গঠনেও কার্বন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাছাড়া প্রাকৃতিক গ্যাস, পেট্রোল, ডিজেল ও কেরোসিনের মতো জ্বালানিও হাইড্রোকার্বনের উদাহরণ। কার্বনের বিশেষ বন্ধন ক্ষমতার কারণে এই যৌগগুলো নানা গঠন ও বৈশিষ্ট্য প্রদর্শন করে, যা অজৈব যৌগ, লবণ বা এসিডের বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
 
জৈব যৌগ: 
- কার্বন ও হাইড্রোজেন দ্বারা গঠিত যৌগসমূহকে হাইড্রোকার্বন বলা হয় এবং এই হাইড্রোকার্বন ও এদের জাতসমূহকে বলা হয় জৈব যৌগ। 
যেমন- মিথেন, ইথেন, বেনজিন, ইউরিয়া, প্রোপিন, পেন্টাইন ইত্যাদি জৈব যৌগ। 
- জৈব যৌগের বিক্রিয়া হতে সাধারণত অনেক বেশি সময় লাগে। 
- জৈব যৌগসমূহ সাধারণত সমযোজী বন্ধনের মাধ্যমে গঠিত হয়। 
- জৈব যৌগের জনক ফ্রেডরিখ ভোলার। 

অজৈব যৌগ: 
- দুই বা ততোধিক মৌলের সমন্বয়ে অজৈব যৌগ গঠিত হয়।
- সাধারণত অজৈব যৌগে কার্বন অনুপস্থিত থাকে। 
যেমন- পানি, খাবার লবণ, খাবার সোডা, কাপড় কাচার সোডা, কস্টিক সোডা, চুন, মরিচা ইত্যাদি অজৈব যৌগ। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

.
ডেরলিন প্লাস্টিক কোন মৌলিক উপাদান থেকে প্রস্তুত হয়?
  1. ইউরিয়া
  2. ইথানল
  3. মিথান্যাল
  4. ফেনল
সঠিক উত্তর:
মিথান্যাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মিথান্যাল
ব্যাখ্যা
অ্যালডিহাইড: 
- অ্যালডিহাইড যৌগ থেকে বিভিন্ন ধরনের উন্নত মানের পলিমার প্রস্তুত করা যায়। 
- অ্যালডিহাইড যৌগের প্রথম সদস্য মিথান্যাল থেকে ডেরলিন নামক পলিমার প্রস্তুত করা যায়। 
- ডেরলিন এর ব্যবহার খুবই ব্যাপক, প্লাস্টিকের চেয়ার, টেবিল, বালতি, জগ, মগ, প্লেট ইত্যাদি প্রস্তুতিতে ডেরলিন ব্যবহৃত হয়। 
- মিথান্যাল ইউরিয়ার ঘনীভবনের মাধ্যমে উৎপন্ন হয় মেলামাইন। 
- মেলামাইন দ্বারা প্লেট, মগ, গ্লাস, কাপ, প্রিজ, গামলা, বাটি ইত্যাদি প্রস্তুত করা হয়। 
- মিথান্যাল ও ফেনল থেকে প্রস্তুত করা হয় ব্যাকেলাইট প্লাস্টিক, এটি খুবই শক্ত ও সুদৃঢ় পলিমার। 
- এ থেকে বৈদ্যুতিক সুইচ, চিরুনি, বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতির হাতল, কলমের বডি প্রস্তুত করা হয়। 
- এছাড়া মেলামাইন ও মিথান্যালের ঘনীভবন বিক্রিয়ার ফলে মেলাডুর নামক মেলামাইন রেজিন ব্যবহার করা হয়। 

- মিথান্যাল পানিতে দ্রবীভূত করে ফরমালিন প্রস্তুত করা হয়। 
- 40% মিথান্যাল 52% পানি ও ৪% মিথাইল অ্যালকোহলের মিশ্রণ ফরমালিন। 
- মৃত জীবদেহ সংরক্ষণে ফরমালিনকে ব্যবহার করা হয়। 
- ফরমালিন শক্তিশালী জীবাণুনাশক ও জীবাণুজনিত পচন নিরোধক। 
- সংক্রামক রোগীর ব্যবহৃত বিছানা, আসবাব ও ঘর জীবাণুমুক্ত করতে ফরমালিনকে ব্যবহার করা হয়। 
- কিছু অসাধু অর্থলোভী ব্যবসায়ী মাছ, মাংস, দুধ, ফল, শাক-সবজি সংরক্ষণে ফরমালিনকে ব্যবহার করে থাকে। 
- ফরমালিন ব্যবহারে খাদ্যের অস্বাভাবিক খাদ্য শৃঙ্খল ভেঙ্গে যায়, ফলে খাদ্যের স্বাভাবিক পুষ্টিগুণ ও খাদ্যমান বিনষ্ট হয়। 
- ফরমালিনযুক্ত খাবার খেলে মানুষের কিডনি, যকৃত, হৃৎপিন্ড ক্ষতিগ্রস্থ হয় এবং ক্যান্সারের ঝুঁকি বেড়ে যায়। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
পরমাণুতে ইলেকট্রন সংখ্যা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি হলে তাকে কী বলে? 
  1. নিউট্রন
  2. পজিট্রন
  3. ক্যাটায়ন
  4. অ্যানায়ন
সঠিক উত্তর:
অ্যানায়ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অ্যানায়ন
ব্যাখ্যা
তড়িৎ বিশ্লেষণ: 
- কোনো অম্ল, ক্ষারক বা লবণ জাতীয় পদার্থের দ্রবণের মধ্য দিয়ে তড়িৎ প্রবাহিত হলে এর দ্রব পদার্থের প্রত্যেকটি অণু দুটি তড়িতাহিত অংশে বিভক্ত হয় যায়। 
অর্থাৎ, “কোনো দ্রবণের মধ্য দিয়ে তড়িৎ প্রবাহিত করে এর অণুগুলোকে ধনাত্মক ও ঋণাত্মক অংশে বিভক্ত করার পদ্ধতিকে তড়িৎ বিশ্লেষণ বলে”। 
- তড়িৎ প্রবাহের দ্বারা দ্রবনের যে দ্রবটিকে দুইভাগে বিভক্ত বা বিশ্লেষণ করা হয় তাকে তড়িৎ দ্রব বা তড়িৎ বিশ্লেষ্য পদার্থ বলে। 
- সকল অ্যাসিড, ক্ষার, কয়েকটি নিরপেক্ষ লবণ, অ্যাসিড মেশানো পানি ইত্যাদি তড়িৎ দ্রব বা তড়িৎ বিশ্লেষ্য পদার্থ। 
যেমন- H2SO4, NaOH, NaCl ইত্যাদি। 

- তড়িৎ বিশ্লেষণে পদার্থের মূলকগুলো আয়নিক হয়। 
- কোনো অণু, পরমাণু বা মূলকে যদি স্বাভাবিক সংখ্যার চেয়ে কম বা বেশী ইলেকট্রন থাকে তবে তাকে আয়ন বলে।
- যদি ইলেকট্রনের সংখ্যা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকে তবে তাকে ঋণাত্মক আয়ন বা অ্যানায়ন বলে। 
- আর যদি ইলেকট্রনের সংখ্যা স্বাভাবিকের চেয়ে কম থাকে তাকে ধনাত্মক আয়ন বা ক্যাটায়ন বলে। 
- স্বাভাবিক অবস্থায় কোনো অণু, পরমাণু বা মূলকের মোট ইলেকট্রনের সংখ্যা নিউক্লিয়াসে অবস্থিত মোট প্রোটনের সংখ্যার সমান হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
কোন প্রক্রিয়ার সাহায্যে স্টার্চকে অ্যালকোহলে রূপান্তর করা হয়?
  1. ক্রিস্টালাইজেশন
  2. ক্লোরিনেশন
  3. ডিস্টিলেশন
  4. ফার্মেন্টেশন
সঠিক উত্তর:
ফার্মেন্টেশন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফার্মেন্টেশন
ব্যাখ্যা

• স্টার্চকে অ্যালকোহলে রূপান্তর করার প্রক্রিয়াটি ফার্মেন্টেশন। এই প্রক্রিয়ায় স্টার্চ প্রথমে সহজ চিনিতে রূপান্তরিত হয়, সাধারণত অ্যামাইলেজ নামক এনজাইমের মাধ্যমে। এরপর সেই সহজ চিনি খামির বা অন্য মাইক্রোবায়ালের সাহায্যে আলকোহলে রূপান্তরিত হয়। ফার্মেন্টেশনের সময় চিনি ভেঙে ইথানল এবং কার্বন ডাইঅক্সাইড উৎপন্ন হয়। এটি একটি প্রাকৃতিক ও রাসায়নিক প্রক্রিয়ার সংমিশ্রণ, যা বীয়ার, রম, ভদকা ইত্যাদির উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়। অন্য তিনটি প্রক্রিয়া—ক্রিস্টালাইজেশন, ক্লোরিনেশন, এবং ডিস্টিলেশন—স্টার্চকে সরাসরি অ্যালকোহলে রূপান্তর করতে সক্ষম নয়। সুতরাং সঠিক উত্তর হলো ঘ) ফার্মেন্টেশন।
 
অ্যালকোহল: 
- মিথানল বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ। 
- মিথানল মূলত অন্য রাসায়নিক পদার্থ প্রস্তুত করতে ব্যবহৃত হয়। 
- রাসায়নিক শিল্পে ইথানয়িক এসিড, বিভিন্ন জৈব এসিডের এস্টার প্রস্তুত করা হয়। 
- ইথানলকে প্রধানত পারফিউম, কসমেটিকস ও ওষুধ শিল্পে দ্রাবক হিসেবে ব্যবহার করা হয়। 
- ফার্মাসিউটিক্যাল গ্রেডের ইথানলকে ওষুধ শিল্পে এবং রেকটিফাইড স্পিরিটকে হোমিও ওষুধে ব্যবহার করা হয়। 
- ইথানলের ৯৬% জলীয় দ্রবণকে রেকটিফাইড স্পিরিট (rectified spirit) বলে। 
- পারফিউম শিল্পেও ইথানলের ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে। পারফিউমে ইথানল ব্যবহারের পূর্বে তাকে গন্ধমুক্ত করা হয়। 

- ওষুধ ও খাদ্য শিল্প ব্যতীত অন্য শিল্পে রেকটিফাইড স্পিরিট সামান্য মিথানল যোগে বিষাক্ত করে ব্যবহার করা হয়, একে মেথিলেটেড স্পিরিট (methylated spirit) বলে। 
- কাঠ এবং ধাতুর তৈরি আসবাবপত্র বার্নিশ করার জন্য মেথিলেটেড স্পিরিট ব্যবহার করা হয়। 
- বর্তমানে ব্রাজিলে জীবাশ্ম জ্বালানির পরিবর্তে ইথানলকে মোটর ইঞ্জিনের জ্বালানিরূপে ব্যবহার করা হচ্ছে। 
- স্টার্চ (চাল, গম, আলু ও ভুট্টা) থেকে গাঁজন (Fermentation) প্রক্রিয়ায় অ্যালকোহল প্রস্তুত করা হয়। 
- এছাড়া চিনি শিল্পের উপজাত উৎপাদ (by-product) চিটাগুড় থেকে একই প্রক্রিয়ায় অ্যালকোহল (ইথানল) পাওয়া যায়। 
- বাংলাদেশের দর্শনায় কেরু এন্ড কেরু কোম্পানিতে ইথানল প্রস্তুত করে দেশের চাহিদা পূরণ করা হয়। 
- অ্যালকোহলকে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করলে একদিকে জীবাশ্ম জ্বালানির উপর চাপ কমে, অপরদিকে পরিবেশকে দূষণমুক্ত রাখা যায়। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

.
পানীয় হিসেবে গ্রহণযোগ্য একমাত্র অ্যালকোহল কোনটি? 
  1. ইথানল
  2. মিথানল 
  3. প্রোপানল 
  4. বিউটানল 
সঠিক উত্তর:
ইথানল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইথানল
ব্যাখ্যা

মিথানল: 
- মিথানল সম্পৃক্ত মনোহাইড্রিক অ্যালকোহল গোত্রের প্রথম অ্যালকোহল। 
- প্রকৃতিতে মিথানল এস্টার হিসাবে পাওয়া যায়। 
- এক সময়ে কাঠের বিধ্বংসী পাতনের মাধ্যমে এ অ্যালকোহল উৎপাদিত হতো বলে এর আরেক নাম উড স্পিরিট (Wood Spirit) । 

ইথানল: 
- সম্পৃক্ত অ্যালকোহল গোত্রের দ্বিতীয় সদস্য হচ্ছে ইথানল যা অ্যালকোহল হিসাবে সমাধিক পরিচিত। 
- প্রাপ্ত কাচাঁমালের আমদানীর উপর ভিত্তি করে নানা পদ্ধতিতে ইথানল উৎপন্ন করা হয়। 
- ফারমেন্টেশন বা গাঁজন পদ্ধতিতে শ্বেতসার বা চিটাগুড় হতে অ্যালকোহল প্রস্তুত করা হয়। 

মেথিলেটেড স্পিরিট: 
- ইথানল একমাত্র অ্যালকোহল যা পানীয় হিসেবে পান করা যায়। 
- অধিক পরিমাণ ইথানল পান বিষ ক্রিয়া প্রদর্শন করে। 
- রেকটিফাইড স্পিরিটকে বা শিল্পে ব্যবহৃত ইথানলকে মানুষের পানের অযোগ্য করার জন্য এতে বিষাক্ত মিথানল (৪%) মিশিয়ে দেয়া হয়। 
- মিথানল মিশ্রিত এ ধরনের রেকটিফাইড স্পিরিটকে মেথিলেটেড স্পিরিট বলে। একে ডিনেচারড অ্যালকোহলও (Denatured alcohol) বলা হয়ে থাকে। 

ফারমেন্টেশন: 
- জটিল অণুবিশিষ্ট জৈব পদার্থকে এনজাইমের প্রভাবে বিয়োজিত বা আর্দ্র বিশ্লেষিত করে সরল অণুবিশিষ্ট পদার্থে পরিণত করার প্রক্রিয়াকে ফারমেন্টেশন বা চোলাইকরণ বা গাঁজন বলা হয়। 
যেমন: শ্বেতসার হতে ইথানল উৎপাদন। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১০.
ভিনেগার অন্য কী নামে পরিচিত?
  1. ম্যালিক এসিড
  2. অ্যাসিটিক এসিড
  3. ল্যাকটিক এসিড
  4. সাইট্রিক এসিড
সঠিক উত্তর:
অ্যাসিটিক এসিড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অ্যাসিটিক এসিড
ব্যাখ্যা
ভিনেগার: 
- প্রাকৃতিক খাদ্য সংরক্ষক হিসেবে ভিনেগার অতুলনীয়। 
ইথানোয়িক এসিড বা অ্যাসিটিক এসিড (CH3-COOH) -এর 6-10% জলীয় দ্রবণকে ভিনেগার বা সিরকা বলে। 
- এটি বহুল ব্যবহৃত ও প্রচলিত প্রাকৃতিক প্রিজারভেটিভস। 
- এটি বাজারে প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায় ও দামে সস্তা এবং অতি সহজে পানিতে দ্রবীভূত হয়। 
- খাদ্য দ্রব্যে প্রিজারভেটিভস হিসেবে একে ব্যবহার করলে খাদ্যদ্রব্যের pH এর মান কমিয়ে দেয়। 
- তখন অণুজীবগুলো আর বংশ বিস্তার করতে পারে না। যেমন- অধিকাংশ অণুজীবের বংশ বিস্তারের অনুকূল pH এর মান 6.5-7.5 এর মধ্যে। 
- তাই প্রাকৃতিক খাদ্য সংরক্ষণে ভিনেগারের কোনো তুলনা হয় না। 

ভিনেগারের ব্যাপক ব্যবহারের কারণ: 
- মাত্র ৬% ইথানোয়িক এসিডের জলীয় দ্রবণ হওয়ায় এর কোনো পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া নেই। 
- যদিও ভিনেগার এসিডের দ্রবণ কিন্তু খাদ্যের সাথে এটি গ্রহণে পেটে এসিডিটির কোনো সমস্যা হয় না। 
- ভিনেগার ব্যবহারে খাদ্য দ্রব্য দীর্ঘ সময় টাটকা থাকে। 
- পানিতে অতি সহজেই যেকোনো অনুপাতে মিশ্রণীয়। 
- দামে সস্তা এবং সহজেই সংগ্রহ করা যায়। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১.
[Fe(CN)6]-4 এ Fe এর জারণ সংখ্যা কত?
  1. -2
  2. +2
  3. -4
  4. +6
সঠিক উত্তর:
+2
উত্তর
সঠিক উত্তর:
+2
ব্যাখ্যা
ধরি [Fe(CN)6]-4 এ Fe এর জারণ সংখ্যা x
আমরা জানি, CN এর প্রমাণ জারণ সংখ্যা -1 এবং সম্পূর্ণ যৌগটির আয়ন -4 ।

অতএব,
 x + (-1) × 6 = -4
⇒  x = 6 - 4
∴ x = + 2

∴ Fe এর জারণ সংখ্যা +2

উৎস: রসায়ন, নবম - দশম শ্রেণি
১২.
নিচের কোন প্লাস্টিক পুড়ে যাওয়ার সময় হাইড্রোজেন ক্লোরাইড গ্যাস নির্গত করে?
  1. পলিইউরেথেন
  2. পিভিসি
  3. পলিস্টার
  4. ব্যকেলাইট
সঠিক উত্তর:
পিভিসি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পিভিসি
ব্যাখ্যা
প্লাস্টিক: 
- প্লাস্টিক শব্দের অর্থ হলো সহজেই ছাঁচযোগ্য। 
- নরম অবস্থায় প্লাস্টিক ইচ্ছামতো ছাঁচে ফেলে সেটা থেকে নির্দিষ্ট আকার-আকৃতি বিশিষ্ট বস্তু সামগ্রী তৈরি করা যায়। 
যেমন- মগ, বালতি, জগ, মেলামাইনের থালা-বাসন, পিভিসি পাইপ, বাচ্চাদের খেলনা, গাড়ির সিটবেল্ট, এমনকি আসবাবপত্র সবকিছুই প্লাস্টিকের তৈরি। 
- এ সবই প্লাসটিক জাতীয় পলিমার থেকে তৈরি। 

প্লাস্টিকের ভৌত ধর্ম: 
- বেশির ভাগ প্লাস্টিকই পানিতে অদ্রবণীয় যা দ্রবীভূত হয় না। 
- প্লাস্টিকের বিদ্যুৎ এবং তাপ নিরোধক হিসেবে বহুল ব্যবহার রয়েছে। 
- প্লাস্টিকের সবচেয়ে বড় ধর্ম হলো গলিত অবস্থায় এদেরকে যেকোনো আকার দেওয়া যায়। 
- পলিথিন, পিভিসি পাইপ, পলিস্টার কাপড়, বাচ্চাদের খেলনা-এসব প্লাস্টিক তাপ দিলে নরম হয়ে যায় এবং গলিত প্লাস্টিক ঠান্ডা করলে শক্ত হয়ে যায়। এভাবে যতবারই এদেরকে তাপ দেওয়া যায়, এরা নরম হয় ও ঠান্ডা করলে শক্ত হয়, এগুলোকে থার্মোপ্লাস্টিকস (Thermoplastics) বলে। 
- অন্যদিকে মেলামাইন, ব্যকেলাইট (যা ফ্রাইং প্যানের হাতলে এবং বৈদ্যুতিক সকেটে ব্যবহার করা হয়) এগুলো তাপ দিলে নরম হয় না বরং পুড়ে শক্ত হয়ে যায়। এদেরকে একবারের বেশি ছাঁচে ফেলে নির্দিষ্ট আকার দেওয়া যায় না। এই সকল প্লাস্টিককে থার্মোসেটিং প্লাস্টিকস (Thermosetting Plastics) বলে। 

প্লাস্টিকের রাসায়নিক ধর্ম: 
- বেশির ভাগ প্লাস্টিক রাসায়নিকভাবে নিষ্ক্রিয়, তাই বাতাসের জলীয় বাষ্প ও অক্সিজেনের সাথে বিক্রিয়া করে না এবং ক্ষয়প্রাপ্ত হয় না। 
- এমনকি পাতলা এসিড বা ক্ষারের সাথেও প্লাস্টিক বিক্রিয়া করে না, তবে শক্তিশালী ও ঘনমাত্রার এসিডে কিছু কিছু প্লাস্টিক দ্রবীভূত হয়ে যায়। 
- প্লাস্টিক সাধারণত দাহ্য হয় অর্থাৎ এদেরকে আগুন ধরালে পুড়তে থাকে এবং প্রচুর তাপশক্তি উৎপন্ন করে। 
- প্লাস্টিক পচনশীল নয়, দীর্ঘদিন মাটি বা পানিতে পড়ে থাকলেও এসব পচে না। 
- অবশ্য বর্তমানে বিজ্ঞানীরা পচনশীল প্লাস্টিক আবিষ্কার করেছেন, সেগুলো বিশেষ কাজে ব্যবহৃত হয়। 
- হাত-পা কেটে গেলে বা মেডিক্যাল অপারেশনে সেলাইয়ের কাজে যে সুতা ব্যবহৃত হয়, সেগুলো এক ধরনের পচনশীল প্লাস্টিক। 
- প্লাস্টিক পোড়ালে অনেক ক্ষতিকর পদার্থ তৈরি হয়। 
যেমন- পিভিসি পোড়ালে হাইড্রোজেন ক্লোরাইড (HCl) নিঃসৃত হয়। আবার পলিইউরেথেন (Polyurethane) প্লাস্টিক (যা আসবাবপত্র, যেমন: চেয়ার তৈরিতে ব্যবহৃত হয়) পোড়ালে কার্বন মনোক্সাইড গ্যাস এবং হাইড্রোজেন সায়ানাইডের মতো বিষাক্ত গ্যাস তৈরি হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১৩.
চারটি কার্বন বিশিষ্ট অ্যালকেনের সংকেত কী?
  1. CH4
  2. CH3-CH2-CH2-CH3
  3. CH3-CH3
  4. CH3-CH2-CH3
সঠিক উত্তর:
CH3-CH2-CH2-CH3
উত্তর
সঠিক উত্তর:
CH3-CH2-CH2-CH3
ব্যাখ্যা
অ্যালকেন: 
- যে সকল হাইড্রোকার্বনের কার্বন শিকলে কার্বন-কার্বন একক বন্ধন বিদ্যমান থাকে তাকে অ্যালকেন বলে। 
- অ্যালকেনের সাধারণ সংকেত CnH2n+2 (n = 1, 2, 3, 4,... ইত্যাদি)। 
- এ শ্রেণির প্রথম সদস্যের নাম মিথেন, প্রথম সদস্য বলে সাধারণ সংকেতে n = 1 , তাই এর সংকেত CH4 এবং দ্বিতীয় সদস্য (n = 2) এর নাম ইথেন, ইথেনের সংকেত C2H6
- অ্যালকেনের কার্বন-কার্বন ও কার্বন-হাইড্রোজেন বন্ধন ভাঙা অনেক কঠিন, তাই অ্যালকেন রাসায়নিকভাবে অনেকটা নিষ্ক্রিয়। এজন্য এদেরকে প্যারাফিন বলে, প্যারাফিন অর্থ আসক্তিহীন। 
- সাধারণত উচ্চ তাপমাত্রা, উচ্চ চাপ কিংবা শক্তিশালী প্রভাবকের উপস্থিতিতেই অ্যালকেন রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে। 

অ্যালকেনের নামকরণ: 
- IUPAC পদ্ধতিতে অ্যালকেনের নামকরণের নিয়ম হলো- 
(i) সরল শিকলবিশিষ্ট অ্যালকেনে এক কার্বনবিশিষ্ট অ্যালকেন (CH4) কে মিথেন, দুই কার্বন বিশিষ্ট অ্যালকেন (CH3-CH3) কে ইথেন, তিন কার্বনবিশিষ্ট অ্যালকেন (CH3-CH2-CH3) কে প্রোপেন এবং চার কার্বনবিশিষ্ট অ্যালকেন (CH3-CH2-CH2-CH3) কে বিউটেন নাম দেওয়া হয়েছে। 
(ii) অ্যালকেনের ক্ষেত্রে কার্বন সংখ্যার গ্রিক সংখ্যাসূচক শব্দের শেষে এন (ane) যোগ করে নামকরণ করা হয়। 
- নিচে কিছু অ্যালকেনের কার্বন সংখ্যা, নাম এবং সংকেত দেওয়া হলো- 


উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
১৪.
পানির স্থায়ী খরতা দূর করতে কোনটি ব্যবহার করা হয়?
  1. ক্লোরিন
  2. ক্যালসিয়াম কার্বনেট
  3. সোডিয়াম কার্বনেট
  4. সালফিউরিক অ্যাসিড
সঠিক উত্তর:
সোডিয়াম কার্বনেট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সোডিয়াম কার্বনেট
ব্যাখ্যা
পানির খরতা (Hardness of Water): 
- পানির উৎস হলো নদী-নালা, খাল-বিল, পুকুর, সমুদ্র বা টিউবওয়েল ইত্যাদি, এসব পানিতে বিভিন্ন খনিজ লবণ দ্রবীভূত থাকতে পারে। 
- পানিতে ক্যালসিয়াম বা ম্যাগনেসিয়ামের ক্লোরাইড, সালফেট, কার্বনেট, বাইকার্বনেট ইত্যাদি লবণ দ্রবীভূত থাকলে উক্ত পানি সাবানের সাথে সহজে ফেনা উৎপন্ন করে না, এ ধরনের পানিকে খর পানি বলে। 
- অবশ্য ক্যালসিয়াম বা ম্যাগনেসিয়াম ছাড়া আয়রন, ম্যঙ্গানিজ প্রভৃতি লবণ দ্রবীভূত থাকলেও পানি খর হতে পারে। 
- খর পানিতে সাবান ঘষলে সহজে ফেনা উৎপাদন করে না, কারণ সাবান হলো উচ্চতর জৈব এসিডের সোডিয়াম বা পটাশিয়াম লবণ। 
যেমন- সোডিয়াম স্টিয়ারেট (C17H35COONa) হলো স্টিয়ারিক এসিডের সোডিয়াম লবণ, এটি সাবান হিসেবে ব্যবহৃত হয়। 
- এ সাবান দিয়ে খর পানিতে কাপড় কাচা হলে যতক্ষণ পানিতে ক্যালসিয়াম বা ম্যাগনেসিয়ামের লবণ উপস্থিত থাকে ততক্ষণ ফেনা উৎপন্ন হয় না এবং সাবান ক্ষয়প্রাপ্ত হতে থাকে। 
• 2C17H35COONa + CaCl2 → (C17H35COO)2Ca + 2NaCl 
- ম্যাগনেসিয়াম বা অন্যান্য ধাতুর লবণও একই রূপ বিক্রিয়া করে। 
- পানির পাইপ বা কলকারখানাতে বয়লারের ভিতরে খর পানি ব্যবহার করলে খর পানিতে বিদ্যমান বিভিন্ন খনিজ লবণ পাইপের গায়ে জমা হয়। ফলে পাইপের গায়ে মোটা আস্তরণ পড়ে। এতে পানির পাইপে পানি প্রবাহে বাধা পায়। বয়লারে তাপের অপচয় ঘটে এমনকি বয়লার ফেটে বিস্ফোরণ পর্যন্ত ঘটতে পারে। 
- পানির মধ্যে যে ধর্মের জন্য পানিতে সাবান ভালোভাবে ময়লা পরিষ্কার করতে পারে না পানির সেই ধর্মকে পানির খারতা বলে। 
- পানির খরতা দুই প্রকার। যথা- স্থায়ী খরতা এবং অস্থায়ী খরতা। 

স্থায়ী খরতা: 
- পানিতে ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, আয়রন প্রভৃতি ধাতুর ক্লোরাইড বা সালফেট লবণ দ্রবীভূত থাকলে স্থায়ী খরতার সৃষ্টি হয় এবং এই পানি স্থায়ী খর পানি বলে। 
- স্থায়ী খর পানিকে শুধু উত্তপ্ত করলেই স্থায়ী খরতা দূরীভূত হয় না। বিভিন্ন বিক্রিয়ার মাধ্যমে বা বিভিন্ন উপায় অবলম্বন করে স্থায়ী খরতা দূর করা হয়। 
- সাধারণত বদ্ধ জলাশয় যেমন-পুকুর, ডোবা ইত্যাদির পানি মৃদু হয় এমনকি বৃষ্টির পানিও মৃদু পানি। মৃদু পানিতে ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, আয়রন প্রভৃতি ধাতুর লবণ খুব বেশি দ্রবীভূত থাকে না। 
- স্থায়ী খর পানি থেকে স্থায়ী খরতা অপসারণ করে ঐ পানিকে মৃদু পানিতে পরিণত হয়। 

অস্থায়ী খরতা: 
- পানিতে ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, আয়রন প্রভৃতি লবণের বাইকার্বনেট (HCO3-) লবণ দ্রবীভূত থাকলে যে খারতা সৃষ্টি হয় তাকে অস্থায়ী খারতা বলে এবং এই পানিকে অস্থায়ী খর পানি বলা হয়। 
- অস্থায়ী খর পানিকে শুধু উত্তপ্ত করলেই অদ্রবণীয় কার্বনেট লবণ উৎপন্ন হয়। এ লবণ পাত্রের নিচে তলানি আকারে জমা হয়। এই তলানি থেকে ছাঁকনির মাধ্যমে পানিকে সহজেই পৃথক করা যায়। 
- ফলে অস্থায়ী খরতা দূর হয় এবং অস্থায়ী খর পানি মৃদু পানিতে পরিণত হয়। 
• Ca(HCO3)2  → CaCO3(s)↓ + CO2(g)↑ + H2O(l) 

স্থায়ী খরতা দূরীকরণের পদ্ধতি: 
- স্থায়ী খর পানির মধ্যে সোডিয়াম কার্বনেট যোগ করলে সোডিয়াম কার্বনেট ক্যালসিয়াম আয়ন ও ম্যাগনেসিয়াম আয়নের সাথে বিক্রিয়া করে ক্যালসিয়াম কার্বনেট এবং ম্যাগনেসিয়াম কার্বনেটের অধঃক্ষেপ উৎপন্ন করে। ফলে পানি থেকে ক্যালসিয়াম আয়ন এবং ম্যাগনেশিয়াম আয়ন পানি থেকে অপসারিত হয় অর্থাৎ স্থায়ী খরতা দূর হয়। 
• CaCl2 + Na2CO3 → CaCO3↓+ 2NaCl 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
১৫.
সাবান মূলত কোন ধরনের রাসায়নিক পদার্থ?
  1. অ্যালকোহল 
  2. প্রোটিন 
  3. কার্বোহাইড্রেট 
  4. ফ্যাটি অ্যাসিড 
সঠিক উত্তর:
ফ্যাটি অ্যাসিড 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফ্যাটি অ্যাসিড 
ব্যাখ্যা

- সাবান মূলত উচ্চতর ফ্যাটি অ্যাসিডের একটি লবণ। 

সাবান: 
- সাধারণত সাবান হলো উচ্চতর ফ্যাটি এসিডের সোডিয়াম লবণ (R-COONa) বা উচ্চতর ফ্যাটি এসিডের পটাশিয়াম লবণ (R-COOK) । 
এখানে, R কে অ্যালকাইল মূলক বলা হয়, R এর সাধারণ সংকেত CnH2n+1 যেখানে n এর মান 12 থেকে 18 পর্যন্ত। 
যেমন: সোডিয়াম স্টিয়ারেট সাবানের সংকেত C17H35COONa এবং পটাশিয়াম স্টিয়ারেট সাবানের সংকেত C17H35COOK । 
- তেল বা চর্বির সাথে সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড বা পটাশিয়াম হাইড্রোক্সাইড বিক্রিয়া করে সাবান এবং গ্লিসারিন তৈরি হয়। 
- সাবান ও গ্লিসারিন তৈরির এই প্রক্রিয়াকে সাবানায়ন বলে। 
- সাবানায়ন প্রক্রিয়ায় প্রাপ্ত সাবান এবং গ্লিসারিনের মিশ্রণের মধ্যে NaCl যোগ করলে গ্লিসারিন পাত্রের নিচে অবস্থান করে এবং সাবানের অণুগুলো NaCl কে ঘিরে একত্র হয়ে পাত্রের উপরের দিকে কেকের আকারে ভেসে উঠে, একে সোপ কেক বলে। 
- সোপ কেককে ছাঁকনির সাহায্যে ছেঁকে পৃথক করে বিভিন্ন আকৃতির ছাঁচে ঢেলে বিভিন্ন আকৃতির সাবান তৈরি করা হয়। 
- সাবান একটি পরিষ্কারক দ্রব্য যা তেল বা চর্বি এবং ক্ষার থেকে প্রস্তুত করা হয়। 
- ব্যবহারের উপর ভিত্তি করে সাবানকে মূলত দুই ভাগে ভাগ করা যায়। 
যথা- ১। প্রসাধনী সাবান এবং ২। লন্ড্রি সাবান। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

১৬.
পলিমার ও প্লাস্টিক তৈরিতে কার্বনের কোন বৈশিষ্ট্য গুরুত্বপূর্ণ?
  1. বৈদ্যুতিক পরিবাহিতা
  2. কাঠিন্যতা
  3. যৌগ গঠনের ক্ষমতা
  4. উচ্চ তাপ পরিবাহিতা
সঠিক উত্তর:
যৌগ গঠনের ক্ষমতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যৌগ গঠনের ক্ষমতা
ব্যাখ্যা
পলিমার ও প্লাস্টিক তৈরিতে কার্বনের যৌগ গঠনের ক্ষমতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
-  কার্বন (C) একে একে চারটি বন্ধন তৈরি করতে সক্ষম, যা তাকে বিভিন্ন ধরনের জটিল যৌগ গঠনে সক্ষম করে তোলে।
-  এটি ক্লোরিন, অক্সিজেন, নাইট্রোজেন এবং অন্যান্য মৌলগুলির সঙ্গে শক্তিশালী বন্ধন তৈরি করে, যার ফলে বিভিন্ন ধরনের পলিমার ও প্লাস্টিক তৈরি করা সম্ভব হয়।
-  পলিথিন, পলিপ্রোপিলিন, নাইলন ইত্যাদির পলিমার গঠন করা হয় কার্বন সম্বলিত মনোমারের সাহায্যে।  

অন্যদিকে, 
বৈদ্যুতিক পরিবাহিতা:  এটি সাধারণত পলিমার ও প্লাস্টিকের বৈশিষ্ট্য নয়।

কাঠিন্যতা: কাঠিন্যতা (hardness) প্লাস্টিকের সাধারণ বৈশিষ্ট্য নয়।

উচ্চ তাপ পরিবাহিতা: প্লাস্টিকের মধ্যে সাধারণত কম তাপ পরিবাহিতা থাকে কারন পলিমার সাধারণত তাপ কুপরিবাহী।

তথ্যসূত্র: 
- রসায়ন, ৯ম ও ১০ম শ্রেণী।
- রসায়ন ২য় পত্রএকাদশ-দ্বাদশ। 
- "Polymer Chemistry: An Introduction" by Malcom P. Stevens. 
১৭.
কোন অ্যালকোহল খাবার বা পানীয়ে ব্যবহারযোগ্য?
  1. প্রোপানল
  2. মেথিলেটেড স্পিরিট
  3. মিথানল
  4. ইথানল
সঠিক উত্তর:
ইথানল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইথানল
ব্যাখ্যা

• খাবার বা পানীয়ে ব্যবহারযোগ্য অ্যালকোহল হলো ইথানল (ঘ)। ইথানল সঠিক মাত্রায় গ্রহণ করলে মানবদেহের জন্য তুলনামূলকভাবে নিরাপদ এবং এটি বিভিন্ন খাদ্য, পানীয় ও ওষুধে ব্যবহৃত হয়। মদ্যপ পানীয়, ভিনেগার প্রস্তুতকরণ এবং ফুড ফ্লেভার এক্সট্রাকশনে ইথানল ব্যবহারের প্রচলন আছে। অন্যদিকে প্রোপানল, মিথানল ও মেথিলেটেড স্পিরিট মানবদেহের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর ও বিষাক্ত। বিশেষ করে মিথানল অল্প পরিমাণে গ্রহণ করলেও অন্ধত্ব বা মৃত্যুর কারণ হতে পারে। মেথিলেটেড স্পিরিটে বিষাক্ত পদার্থ মেশানো থাকে, তাই তা খাদ্যে ব্যবহারযোগ্য নয়।

• অ্যালকোহলের শিল্পোৎপাদন: 
মিথানল: 
- মিথানল সম্পৃক্ত মনোহাইড্রিক অ্যালকোহল গোত্রের প্রথম অ্যালকোহল। 
- প্রকৃতিতে মিথানল এস্টার হিসাবে পাওয়া যায়। 
- এক সময়ে কাঠের বিধ্বংসী পাতনের মাধ্যমে এ অ্যালকোহল উৎপাদিত হতো বলে এর আরেক নাম উড স্পিরিট (Wood Spirit) । 

ইথানল: 
- সম্পৃক্ত অ্যালকোহল গোত্রের দ্বিতীয় সদস্য হচ্ছে ইথানল যা অ্যালকোহল হিসাবে সমাধিক পরিচিত। 
- প্রাপ্ত কাচাঁমালের আমদানীর উপর ভিত্তি করে নানা পদ্ধতিতে ইথানল উৎপন্ন করা হয়। 
- ফারমেন্টেশন বা গাঁজন পদ্ধতিতে শ্বেতসার বা চিটাগুড় হতে অ্যালকোহল প্রস্তুত করা হয়। 

ফারমেন্টেশন: 
- জটিল অণুবিশিষ্ট জৈব পদার্থকে এনজাইমের প্রভাবে বিয়োজিত বা আর্দ্র বিশ্লেষিত করে সরল অণুবিশিষ্ট পদার্থে পরিণত করার প্রক্রিয়াকে ফারমেন্টেশন বা চোলাইকরণ বা গাঁজন বলা হয়। 
যেমন: শ্বেতসার হতে ইথানল উৎপাদন। 

মেথিলেটেড স্পিরিট: 
- ইথানল একমাত্র অ্যালকোহল যা পানীয় হিসেবে পান করা যায়। 
- অধিক পরিমাণ ইথানল পান বিষ ক্রিয়া প্রদর্শন করে। 
- রেকটিফাইড স্পিরিটকে বা শিল্পে ব্যবহৃত ইথানলকে মানুষের পানের অযোগ্য করার জন্য এতে বিষাক্ত মিথানল (৪%) মিশিয়ে দেয়া হয়। 
- মিথানল মিশ্রিত এ ধরনের রেকটিফাইড স্পিরিটকে মেথিলেটেড স্পিরিট বলে। একে ডিনেচারড অ্যালকোহলও (Denatured alcohol) বলা হয়ে থাকে। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৮.
নিচের কোনটি পেট্রোলিয়াম নয়?
  1. ক) প্রোপেন
  2. খ) গ্যাসোলিন
  3. গ) বিউটেন
  4. ঘ) অ্যাসিটোন
সঠিক উত্তর:
ঘ) অ্যাসিটোন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) অ্যাসিটোন
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা:
পেট্রোলিয়াম হলো খনিজ তেল, অর্থাৎ খনিতে পাওয়া তরল জ্বালানি পদার্থ। সাধারণত প্রাকৃতিক গ্যাস এর সাথে খনিতে পেট্রোলিয়ামও থাকে। প্রোপেন ও বিউটেন স্বাভাবিক চাপ ও তাপমাত্রায় গ্যাসীয় হলেও উচ্চ চাপে তরল অবস্থায় থাকে বলে এরাও পেট্রোলিয়ামের অন্তর্ভুক্ত। এছাড়া গ্যাসোলিন, কেরোসিন, ডিজেল- এগুলো সবই পেট্রোলিয়াম।
সূত্র: মাধ্যমিক বিজ্ঞান বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি

১৯.
একটি আদর্শ তড়িৎ কোষের তড়িচ্চালক বল সর্বদা -
  1. ক) শুন্য
  2. খ) বেশি
  3. গ) একই
  4. ঘ) কম
সঠিক উত্তর:
গ) একই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) একই
ব্যাখ্যা
প্রমাণ বা আদর্শ কোষ: সাধারণ বিদ্যুৎ কোষ থেকে বেশ কিছু সময় ধরে তড়িৎ প্রবাহ গ্রহণ করলে এদের তড়িচ্চালক বল ক্রমশ কমতে থাকে। 
সুতরাং প্রমিত করার (Standardisation) কাজে অথবা সূক্ষ্ম পরীক্ষা-নিরীক্ষার কাজে যেখানে প্রায় অপরিবর্তনীয় তড়িচ্চালক বলের প্রয়োজন হয় সে সব ক্ষেত্রে সাধারণ কোষ ব্যবহার করা যায় না। 
যে তড়িৎ কোষের তড়িচ্চালক বল সর্বদা একই থাকে এবং যার সাহায্যে প্রমিতকরণ কাজ সম্পন্ন করা যায় তাকে প্রমাণ বা আদর্শ কোষ বলে। 
ওয়েস্টান-ক্যাডমিয়াম ও ল্যাটিমার ক্লার্ক কোষ এ ধরণের কোষ। এগুলোকে পরাবর্ত কোষ (Reversible) বলে।
 
অর্থাৎ, যে তড়িৎ কোষের তড়িচ্চালক বলের মান সর্বদা একই থাকে এবং যার সাহায্যে অন্য তড়িৎ
কোষের বিদ্যুচ্চালক বলের তুলনা করা হয়, তাকে প্রমাণ বা আদর্শ তড়িৎ কোষ বলে। 
 
উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
২০.
ড্যানিয়েল কোষ এক ধরনের -
  1. সঞ্চয়ী কোষ
  2. সেকেন্ডারি কোষ
  3. প্রাইমারি কোষ
  4. উভমুখী কোষ
সঠিক উত্তর:
প্রাইমারি কোষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রাইমারি কোষ
ব্যাখ্যা
তড়িৎ রাসায়নিক কোষ: 
- যে কোষে রাসায়নিক জারণ বিজারণ বিক্রিয়ার ফলে রাসায়নিক শক্তি তড়িৎ শক্তিতে পরিণত হয়, তাকে তড়িৎ রাসায়নিক কোষ বলে। 
- তড়িৎ রাসায়নিক কোষকে স্বতঃস্ফূর্ততার ভিত্তিতে দুই শ্রেণিতে ভাগ করা যায়। 
যেমন- 
১। প্রাথমিক কোষ বা প্রাইমারি কোষ: 
- যে তড়িৎ রাসায়নিক কোষ নিজের রাসায়নিক শক্তি থেকে সরাসরি তড়িৎ উৎপন্ন করে তড়িৎ প্রবাহ বজায় রাখে, তাকে প্রাথমিক কোষ বলে। 
যেমন- ড্যানিয়েল কোষ, শুষ্ক কোষ বা ড্রাই সেল ইত্যাদি হলো প্রাথমিক কোষ। 

২। সেকেন্ডারি কোষ বা সঞ্চয়ী কোষ: 
- যে তড়িৎ রাসায়নিক কোষে বাইরে থেকে বিদ্যুত প্রবাহিত করে বিদ্যুত শক্তিকে রাসায়নিক শক্তি রূপে সঞ্চিত করা হয় এবং পরে ঐ রাসায়নিক শক্তিকে পুনরায় বিদ্যুত শক্তিতে রূপান্তরিত করা হয়, তাকে সেকেন্ডারি কোষ বলে। 
যেমন- লেড-এসিড স্টোরেজ কোষ, নিকেল অক্সাইড সঞ্চয়ী কোষ, লেড সঞ্চয়ী কোষ ইত্যাদি হলো সেকেন্ডারি কোষ।

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
২১.
সম্পৃক্ত ফ্যাটি এসিডের উদাহরণ হিসেবে কোনটি বিবেচিত হয়? 
  1. লিনোলিক এসিড
  2. স্টিয়ারিক এসিড
  3. অক্সালিক এসিড
  4. অলিয়িক এসিড
সঠিক উত্তর:
স্টিয়ারিক এসিড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্টিয়ারিক এসিড
ব্যাখ্যা

• সম্পৃক্ত ফ্যাটি অ্যাসিড (Saturated Fatty Acid) হলো সেই ধরনের ফ্যাটি অ্যাসিড যার কার্বন চেইনে দুটি কার্বনের মধ্যে একক বন্ধন (single bond) ছাড়া আর কোনো দ্বৈত বন্ধন (double bond) থাকে না। এর ফলে এগুলো সাধারণত কক্ষে দৃঢ় এবং তাপমাত্রা বাড়ালে ঘন অবস্থায় থাকে। উদাহরণ হিসেবে স্টিয়ারিক এসিড বিবেচিত হয়, যা একটি সাধারণ সম্পৃক্ত ফ্যাটি অ্যাসিড এবং প্রধানত প্রাণীজ তেল ও মাখনে পাওয়া যায়। অন্যদিকে লিনোলিক এসিড ও অলিয়িক এসিড হলো অসম্পৃক্ত ফ্যাটি অ্যাসিড, যেখানে এক বা একাধিক দ্বৈত বন্ধন থাকে, আর অক্সালিক এসিড হলো একটি কার্বোক্সিলিক অ্যাসিড যা ফ্যাটি অ্যাসিডের শ্রেণিতে পড়ে না। তাই সঠিক উত্তর হলো খ) স্টিয়ারিক এসিড।

ফ্যাটি এসিড: 
- অ্যালিফেটিক এসিডের অণুতে একটি মাত্র কার্বক্সিলমূলক থাকলে এদেরকে মনোকার্বক্সিল এসিড বলে। 
- অ্যালিফেটিক মনোকার্বক্সিলিক এসিড শ্রেণীকে ফ্যাটি এসিডও বলা হয়। 
- সম্পৃক্ত ফ্যাটি এসিডের সাধারণ সংকেত হল CnH2n+1COOH. 
- ফ্যাটি এসিড সম্পৃক্ত ও অসম্পৃক্ত উভয় প্রকার হতে পারে। 
যেমন- 

• সম্পৃক্ত ফ্যাটি এসিড: 
(১) প্রোপানোয়িক এসিড, 
(২) স্টিয়ারিক এসিড, 
(৩) পামিটিক এসিড। 

• অসম্পৃক্ত ফ্যাটি এসিড: 
(১) অক্সালিক এসিড, 
(২) অলিয়িক এসিড, 
(৩) লিনোলিক এসিড। 
- অসম্পৃক্ত ফ্যাটি এসিডের কার্বন শিকলে এক বা একাধিক দ্বি-বন্ধন থাকে। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (হাজারী নাগ)।

২২.
সিমেন্টের সেটিং প্রক্রিয়াকে মন্থর করতে কোন উপাদান ব্যবহার করা হয়? 
  1. ট্রাইক্যালসিয়াম অ্যালুমিনেট 
  2. জিপসাম 
  3. সিলিকা 
  4. ক্যালসিয়াম কার্বনেট 
সঠিক উত্তর:
জিপসাম 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জিপসাম 
ব্যাখ্যা

সিমেন্ট সেটিং-এ জিপসামের ভূমিকা: 
- সিমেন্টের উপাদান ট্রাইক্যালসিয়াম অ্যালুমিনেট (3CaO.Al2O3) সিমেন্ট জমাট বাঁধতে সাহায্য করে। 
- কিন্তু জিপসাম (CaSO4.2H2O) ট্রাইক্যালসিয়াম অ্যালুমিনেটের সাথে অদ্রবণীয় ক্যালসিয়াম সালফো অ্যালুমিনেট তৈরি করে।
- ফলে সিমেন্টের দ্রুত জমাট বাঁধা প্রক্রিয়াটি ধীরে চলে এবং উৎপন্ন কঠিন পদার্থের দৃঢ়তা শক্তি বেড়ে যায়। 
- সিমেন্টের জমাট বাঁধা প্রক্রিয়াকে মন্থর করা জিপসামের কাজ। 
• 3CaO.Al2O3 + 3(CaSO4.2H2O) + 2H2O → 3CaO.Al2O3.3CaSO4.2H2O + 6H2O

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. হাজারী ও নাগ)।

২৩.
তৈলকে চর্বিতে পরিণত করার হাইড্রোজেনেশন প্রক্রিয়ায় কোন ধাতু ক্যাটালিস্ট হিসেবে কাজ করে? 
  1. তামা 
  2. লোহা 
  3. অ্যালুমিনিয়াম 
  4. নিকেল 
সঠিক উত্তর:
নিকেল 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিকেল 
ব্যাখ্যা

তৈল ও চর্বি: 
- তৈল ও চর্বিকে একত্রে লিপিড বলে। 
- তৈল ও চর্বি হল গ্লিসারল বা গ্লিসারিন এর উচ্চতর ফ্যাটি এসিডের এস্টার। 
- উচ্চতর ফ্যাটি এসিডের মধ্যে সম্পৃক্ত পামিটিক এসিড (C15H31CO2H), স্টেয়ারিক এসিড (C17H35CO2H) এবং অসম্পৃক্ত অলিয়িক এসিড (C17H33CO2H), লিনোলিক এসিড (C17H31CO2H) ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। 

তৈল ও চর্বির পার্থক্য: 
(১) সম্পৃক্ত কার্বক্সিলিক এসিডের গ্লিসারিন এস্টার হল কঠিন চর্বি এবং অসম্পৃক্ত কার্বক্সিলিক এসিডের গ্লিসারিন এস্টার হল তৈল। 
(২) তৈলের গলনাঙ্ক 20° C এর কম হয়, কিন্তু চর্বির গলনাঙ্ক 20° C এর অধিক হয়। 
(৩) তৈল উদ্ভিদদেহে কিন্তু চর্বি প্রাণিদেহে উৎপন্ন হয়। 

তৈল ও চর্বির গুরুত্ব: 
(১) খাদ্যরূপে তৈল ও চর্বি থেকে শক্তি পাওয়া যায়। 1 g তৈল বা চর্বি = 9 cal = 9 ×4.184 J খাদ্যমান। 
(২) তৈল ও চর্বির ক্ষারীয় বিশ্লেষণে সাবান ও উৎপন্ন হয়। 
(৩) রং, বার্নিশ ও প্রসাধনী তৈরিতে তৈল চর্বি ব্যবহূত হয়। 
(৪) তৈলকে নিকেল উপস্থিতিতে হাইড্রোজেনেশন বা হাইড্রোজেন সংযোজন দ্বারা চর্বিতে পরিণত করা যায়। যেমন- সয়াবিন তৈলকে হাইড্রোজেনেশন করে মার্জারিন নামক চর্বি তৈরি করা হয়। 
• সয়াবিন তৈল (অসম্পৃক্ত গ্লিসারাইড) + H2 ⇒ মার্জারিন (সম্পৃক্ত গ্লিসারাইড)। 
(৫) পরিপাকতন্ত্রে চর্বির তুলনায় তৈল সহজে হজম হয় এবং তৈলে কলেস্টেরল কম থাকে। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, (হাজারী নাগ)।

২৪.
বাংলাদেশে প্রাকৃতিক গ্যাসে মিথেনের আনুমানিক পরিমাণ কত?
  1. ৫০-৬০%
  2. ৬০-৭০%
  3. ৭০-৮০%
  4. ৯৫-৯৯%
সঠিক উত্তর:
৯৫-৯৯%
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৯৫-৯৯%
ব্যাখ্যা

প্রাকৃতিক গ্যাস: 
- প্রাকৃতিক গ্যাস শক্তির একটি পরিচিত উৎস।
- গ্যাসের সাহায্যে তাপশক্তি উৎপাদিত হয় এবং তা থেকে তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে উৎপাদিত হয় বিদ্যুৎ। 
- ভূগর্ভ থেকে প্রাকৃতিক গ্যাস পাওয়া যায়। 
- পৃথিবীর অভ্যন্তরে প্রচন্ড তাপ ও চাপ এ ধরনের গ্যাস সৃষ্টির মূল কারণ। 
- পেট্রোলিয়াম কূপ থেকে প্রাকৃতিক গ্যাস পাওয়া যায়। 
- প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রধান উপাদান মিথেন গ্যাস। 
- এই সকল শক্তিকে জীবাশ্ম শক্তিও বলা হয়। 
- প্রাকৃতিক গ্যাসে সবচেয়ে বেশি পরিমানে থাকে মিথেন। 
- প্রাকৃতিক গ্যাসের উপাদানগুলাে হলাে- 
• মিথেন- ৮০-৯০%, 
• ইথেন- ১৩%, 
• প্রােপেন- ৩%। 
- এছাড়া বিউটেন, ইথিলিন ও নাইট্রোজেনও কিছু পরিমাণ থাকে। 
- বাংলাদেশে প্রাপ্ত প্রাকৃতিক গ্যাসে মিথেনের পরিমাণ ৯৫-৯৯%। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি এবং পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৫.
গ্যালভানিক কোষের অ্যানোডে কোন বিক্রিয়া সম্পন্ন হয়?
  1. ক) জারন
  2. খ) বিজারণ
  3. গ) প্রশমন
  4. ঘ) বিয়োজন
সঠিক উত্তর:
ক) জারন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) জারন
ব্যাখ্যা

• গ্যালভানিক কোষ (Galvanic Cell)

সংজ্ঞা: এটি একটি স্বতঃস্ফূর্ত বৈদ্যুতিক উৎস। অর্থাৎ প্রতিক্রিয়াটি নিজে থেকেই সংঘটিত হয় এবং বৈদ্যুতিক শক্তি উৎপন্ন করে।

অ্যানোড:
এটি ঋণাত্মক হয়।
এখানে জারণ (Oxidation) বিক্রিয়া সংঘটিত হয়।
ক্যাথোড:
এটি ধনাত্মক হয়।
এখানে বিজারণ (Reduction) বিক্রিয়া সংঘটিত হয়।

• ইলেকট্রোলাইটিক কোষ (Electrolytic Cell)

সংজ্ঞা: এটি একটি অ-স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিক্রিয়ায় বৈদ্যুতিক শক্তি ব্যবহার করে রাসায়নিক পরিবর্তন ঘটায়।

অ্যানোড:
- এখানে বিজারণ (Reduction) নয়, বরং জারণ (Oxidation) প্রতিক্রিয়া সংঘটিত হয়।

ক্যাথোড:
- এখানে বিজারণ (Reduction) ঘটে।

২৬.
প্রাকৃতিক পলিমার কোনটি?
  1. সিল্ক
  2. রেজিন
  3. মেলামাইন
  4. ব্যাকেলাইট
সঠিক উত্তর:
সিল্ক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিল্ক
ব্যাখ্যা
পলিমার (Polymer): 
- মেলামাইনের থালা-বাসন, বৈদ্যুতিক সুইচ বোর্ড, কার্পেট, পিভিসি পাইপ, পলিথিনের ব্যাগ, পাটের ব্যাগ, সিল্কের কাপড়, উলের কাপড়, সুতি কাপড়, নাইলনের সুতা, রাবার- এসব জিনিস সবই হচ্ছে পলিমার। 
- পলিমার (Polymer) শব্দটি এসেছে দুটি গ্রিক শব্দ পলি (Poly) ও মেরোস (Meros) থেকে। পলি শব্দের অর্থ হলো অনেক (Many) এবং মেরোস শব্দের অর্থ অংশ (Part)। 
অর্থাৎ, অনেকগুলো ছোট অণু পরপর যুক্ত হয়ে বড় আকারের যে অণু তৈরি হয় তাকে পলিমার বলে। 
- যে ছোট অণু থেকে পলিমার তৈরি হয়, তাকে বলে মনোমার (Monomer)। 
- যে পলিথিনের ব্যাগ ব্যবহার করা হয় তা 'ইথিলিন' নামের মনোমার থেকে তৈরি এক ধরনের পলিমার। 
- একইভাবে, পিভিসি পাইপ (PVC) হলো ভিনাইল ক্লোরাইড নামের মনোমার থেকে তৈরি পলিমার। 
- তবে সব সময় একটি মনোমার থেকেই পলিমার তৈরি হবে এমন নয়, একের অধিক মনোমার থেকেও পলিমার তৈরি হতে পারে। 
যেমন- বৈদ্যুতিক সুইচ বোর্ড তৈরিতে ব্যবহৃত বস্তু। বৈদ্যুতিক সুইচে বাকেলাইট নামের একটি পলিমার ব্যবহার করা হয়। ব্যাকেলাইট তৈরি হয় ফেনল ও ফরমালডিহাইড নামের দুটি মনোমার থেকে। আবার মেলামাইনের থালা-বাসন হলো মেলামাইন রেজিন নামের পলিমার, যা তৈরি হয় মেলামাইন ও ফরমালডিহাইড নামের দুটি মনোমার থাকে। 

প্রাকৃতিক পলিমার: 
- পাট, সিল্ক, সুতি কাপড়, রাবার প্রভৃতি হচ্ছে প্রাকৃতিক পলিমার। 

কৃত্রিম পলিমার: 
- মেলামাইন, রেজিন, ব্যাকেলাইট, পিভিসি, পলিথিন প্রভৃতি হলো কৃত্রিম পলিমার। এগুলো প্রকৃতিতে পাওয়া যায় না, শিল্পকারখানায় কৃত্রিমভাবে তৈরি করতে হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২৭.
ডেটলের প্রধান কার্যকরী উপাদান কোনটি? 
  1. সেট্রিমাইড
  2. ক্লোরোজাইলিনল
  3. ক্লোরোহেক্সিডিন
  4. আইসোপ্রোপানল
সঠিক উত্তর:
ক্লোরোজাইলিনল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্লোরোজাইলিনল
ব্যাখ্যা
ডেটল (Dettol): 
- ডেটল একটি জনপ্রিয় এন্টিসেপটিক এবং জীবাণুনাশক হলুদ বর্ণের তরল মিশ্রণ। 
- ডেটল কতগুলো রাসায়নিক পদার্থে তৈরি একটি প্রতিরোধক যা সজীব কোষ-কলার উপর জীবাণুর জন্ম ও বৃদ্ধি রোধ করে। 
- ডেটলের প্রধান কার্যকরী উপাদান ক্লোরোজাইলিনল (C8H9CIO) যা ডেটলে সর্বোচ্চ ৪.৮% থাকে
- ডেটলের অন্যান্য উপাদানগুলো হলো- আইসো প্রোপানল, পাইন অয়েল, ক্যাস্টার অয়েল, সাবান এবং পানি। 


ডেটলের ব্যবহার: 
- স্যাভলনের ন্যায় ডেটল পানির সাথে মিশিয়ে কাটা, ছেঁড়া, পোকায় আক্রান্ত স্থানে তুলার সাহায্যে লাগালে জীবাণু সংক্রমণ রোধ হয়। 
- ডেটল এবং স্যাভলন উভয়কেই অ্যান্টিসেপটিক রূপে ব্যবহার করা হলেও এদেরগঠন উপাদান ভিন্ন। 
- স্যাভলন হলো ক্লোরোহেক্সিডিন গ্লুকোনেট ও সেট্রিমাইড দ্রবণের মিশ্রণ। 
- এছাড়া পরিচ্ছন্নতার কাজে যেমন- গোসলের সময়, ধোয়া-মোছার কাজে, প্রসূতি, শিশু ও রোগীর ব্যবহৃত পোশাক ও অন্যান্য কাপড়, বিছানাপত্র, ঘরের মেঝে, বাথরুম ইত্যাদি পরিচ্ছন্ন ও জীবাণুমুক্ত রাখতে ডেটল ব্যবহার করা হয়।
- ডেটল পানির সাথে না মিশিয়ে ব্যবহার করা উচিৎ নয় এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখা উচিৎ। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৮.
নিচের কোনটি অজৈব রাসায়নিক যৌগের উদাহরণ? 
  1. ইথেন
  2. পেন্টাইন 
  3. প্রোপিন 
  4. মরিচা 
সঠিক উত্তর:
মরিচা 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মরিচা 
ব্যাখ্যা

• উল্লিখিত অপশন গুলোর মধ্যে ঘ) মরিচা অজৈব রাসায়নিক যৌগের উদাহরণ। কারণ অজৈব যৌগ সাধারণত কার্বন–হাইড্রোজেন (C–H) বন্ধনবিহীন হয় এবং ধাতু, অক্সাইড, লবণ ইত্যাদি নিয়ে গঠিত। মরিচা হলো লোহার অক্সাইড।

জৈব যৌগ:  
- কার্বন ও হাইড্রোজেন দ্বারা গঠিত যৌগসমূহকে হাইড্রোকার্বন বলা হয় এবং এই হাইড্রোকার্বন ও এদের জাতসমূহকে বলা হয় জৈব যৌগ।  
যেমন- মিথেন, ইথেন, বেনজিন, ইউরিয়া, প্রোপিন, পেন্টাইন ইত্যাদি জৈব যৌগ।  
- জৈব যৌগের বিক্রিয়া হতে সাধারণত অনেক বেশি সময় লাগে।  
- জৈব যৌগসমূহ সাধারণত সমযোজী বন্ধনের মাধ্যমে গঠিত হয়।  
- জৈব যৌগের জনক ফ্রেডরিখ ভোলার।  

অজৈব যৌগ:  
- দুই বা ততোধিক মৌলের সমন্বয়ে অজৈব যৌগ গঠিত হয়।
- সাধারণত অজৈব যৌগে কার্বন অনুপস্থিত থাকে।  
যেমন- পানি, খাবার লবণ, খাবার সোডা, কাপড় কাচার সোডা, কস্টিক সোডা, চুন, মরিচা ইত্যাদি অজৈব যৌগ। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি এবং লাইভ লেকচার।

২৯.
ড্রাই সেল কোন ধরনের কোষ? 
  1. উভমুখী কোষ 
  2. প্রাইমারি কোষ 
  3. সেকেন্ডারি কোষ 
  4. সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
প্রাইমারি কোষ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রাইমারি কোষ 
ব্যাখ্যা

তড়িৎ রাসায়নিক কোষ: 
- যে কোষে রাসায়নিক জারণ বিজারণ বিক্রিয়ার ফলে রাসায়নিক শক্তি তড়িৎ শক্তিতে পরিণত হয়, তাকে তড়িৎ রাসায়নিক কোষ বলে। 
- তড়িৎ রাসায়নিক কোষকে স্বতঃস্ফূর্ততার ভিত্তিতে দুই শ্রেণিতে ভাগ করা যায়। 
যেমন- 
১। প্রাথমিক কোষ বা প্রাইমারি কোষ: 
- যে তড়িৎ রাসায়নিক কোষ নিজের রাসায়নিক শক্তি থেকে সরাসরি তড়িৎ উৎপন্ন করে তড়িৎ প্রবাহ বজায় রাখে, তাকে প্রাথমিক কোষ বলে। 
যেমন- ড্যানিয়েল কোষ, শুষ্ক কোষ বা ড্রাই সেল ইত্যাদি হলো প্রাথমিক কোষ। 

২। সেকেন্ডারি কোষ বা সঞ্চয়ী কোষ: 
- যে তড়িৎ রাসায়নিক কোষে বাইরে থেকে বিদ্যুত প্রবাহিত করে বিদ্যুত শক্তিকে রাসায়নিক শক্তি রূপে সঞ্চিত করা হয় এবং পরে ঐ রাসায়নিক শক্তিকে পুনরায় বিদ্যুত শক্তিতে রূপান্তরিত করা হয়, তাকে সেকেন্ডারি কোষ বলে। 
যেমন- লেড-এসিড স্টোরেজ কোষ, নিকেল অক্সাইড সঞ্চয়ী কোষ, লেড সঞ্চয়ী কোষ ইত্যাদি হলো সেকেন্ডারি কোষ। 

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

৩০.
মিথান্যালের জলীয় দ্রবণকে কী বলে? 
  1. ভিনেগার
  2. মেথিলেটেড স্পিরিট
  3. রেকটিফাইড স্পিরিট
  4. ফরমালিন
সঠিক উত্তর:
ফরমালিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফরমালিন
ব্যাখ্যা
ফরমালিন: 
- মিথান্যালের জলীয় দ্রবণকে ফরমালিন বলে। 
- পরিমাণ হিসেবে 40% মিথান্যাল, 52% পানি ও 8% মিথাইল অ্যালকোহলের মিশ্রিত থাকে। 

ভিনেগার: 
- 6 -10% ইথানোয়িক এসিডের জলীয় দ্রবণকে ভিনেগার বলে। 

রেকটিফাইড স্পিরিট: 
- 95.6% ইথানল ও 4.4% পানির মিশ্রণকে রেকটিফাইড স্পিরিট বলে। 

মেথিলেটেড স্পিরিট: 
- ইথানলকে পানের অযোগ্য বা অসেবনীয় করার উদ্দেশ্যে রেকটিফাইড স্পিরিটের সাথে মিথানল মিশ্রিত করা হয়। 
- এ মিশ্রণকে মেথিলেটেড স্পিরিট বলে। 

পাওয়ার অ্যালকোহল: 
- পেট্রোলিয়াম জাতীয় উপাদানের সাথে 30% ইথানলকে যোগ করে বিকল্প জ্বালানী হিসেবে ব্যবহার করা হয়। 
- এ মিশ্রণকে পাওয়ার অ্যালকোহল বলে। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩১.
তড়িৎ কোষে কোন পদার্থটি ইলেকট্রন প্রদান করে?
  1. অ্যানোড
  2. ক্যাথোড
  3. ইলেকট্রোলাইট
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
অ্যানোড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অ্যানোড
ব্যাখ্যা
• তড়িৎ কোষে (Electrochemical Cell)  অ্যানোড হলো একটি ইলেকট্রোড বা তড়িৎদ্বার যেখানে জারণ বা অক্সিডেশন ঘটে।
অর্থাৎ এখানে পদার্থ ইলেকট্রন প্রদান করে।
• সাধারণভাবে বলা যায়, 
অ্যানোড → অক্সিডেশন → ইলেকট্রন প্রদান

অন্যদিকে,
ক্যাথোড: ক্যাথোডে বিজারণ  (Reduction) ঘটে, যেখানে পদার্থ ইলেকট্রন গ্রহণ করে।
  অর্থাৎ ,  ক্যাথোড → হ্রাস → ইলেকট্রন গ্রহণ

ইলেকট্রোলাইট: এটি আয়ন পরিবহন করে (যেমন: NaCl দ্রবণ), কিন্তু ইলেকট্রন প্রদান করে না।

তথ্যসূত্র:
- রসায়ন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী।
৩২.
মৃৎক্ষার ধাতুর প্রমাণ জারণ সংখ্যা-
  1. +১
  2. +২
  3. -১
  4. -২
সঠিক উত্তর:
+২
উত্তর
সঠিক উত্তর:
+২
ব্যাখ্যা
• জারণ সংখ্যা নির্ণয়:
- যৌগের অণুতে কোনো মৌলের জারণ সংখ্যা যৌগে উপস্থিত অন্যান্য মৌলের জারণ সংখ্যার উপর নির্ভরশীল।
- যৌগে কোনো একটি মৌলের জারণ সংখ্যা নির্ণয় করার ক্ষেত্রে যৌগের অণুতে উপস্থিত অন্যান্য মৌলের প্রমাণ জারণ সংখ্যা ব্যবহার করা হয়।

• বিভিন্ন মৌলের প্রমাণ জারণ মান:
- ক্ষার ধাতুর জারণ সংখ্যা +1.
- মৃৎক্ষার ধাতুর জারণ সংখ্যা +2.
- ধাতব হাইড্রাইড ব্যতিত অন্যসব মৌলের মধ্যে হাইড্রোজেনের জারণ সংখ্যা +1.
- ধাতব হাইড্রাইডের মধ্যে হাইড্রোজেনের জারণ সংখ্যা -1.
- অক্সাইড যৌগে অক্সিজেনের জারণ সংখ্যা -2.
- পারঅক্সাইড যৌগে অক্সিজেনের জারণ সংখ্যা -1.
- ধাতব হ্যালাইডে হ্যালোজেনের জারণ সংখ্যা -1.

উৎস: রসায়ন ১ম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৩.
সাধারণত অ্যালকোহল বলতে কোন পদার্থকে বোঝায়?
  1. ইথানল
  2. মিথানল
  3. মেথিলেটেড স্পিরিট
  4. রেকটিফাইড স্পিরিট 
সঠিক উত্তর:
ইথানল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইথানল
ব্যাখ্যা

- সাধারণত অ্যালকোহল বলতে মূলত ইথানল (C2H5OH) বোঝানো হয়, যা পানীয়, ওষুধ ও শিল্পে ব্যবহৃত হয়

অ্যালকোহল: 
- অ্যালকোহল বলতে সাধারণভাবে ইথানলকে বোঝায়। 
- স্টার্চ থেকে গাঁজন ক্রিয়ার মাধ্যমে ইথানল উৎপাদন করা হয়। এটি একটি শক্তিশালী জৈব দ্রাবক। 
- ৯৫.৬% ইথানল ও ৪.৪% পানির মিশ্রণকে রেকটিফাইড স্পিরিট বলে। রেকটিফাইড স্পিরিটকে হোমিও ওষুধে ব্যবহার করা হয়। 
- ইথানলকে পারফিউম, কসমেটিক্স, ফার্মাসিউটিক্যাল শিল্পে ব্যাপক ভাবে ব্যবহার করা হয়। 
- ইথানল পানীয় হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। পানীয় হিসেবে ইথানলকে ব্যবহার না করার জন্য রেটিফাইড স্পিরিটের সাথে সামান্য মিথানল যোগ করে দেয়া হয়। 

- রেকটিফাইড স্পিরিটের সাথে মিথানল যুক্ত থাকলে এটি সম্পূর্ণভাবে পানের অযোগ্য হয়, এ মিশ্রণকে মেথিলেটেড স্পিরিট বলে। 
- ঔষধ শিল্পে ও খাদ্যে শিল্পে ব্যবহৃত অ্যালকোহলের মধ্যে মিথানল যোগ করা হয় না। 
- ইথানলকে মোটর ইঞ্জিনের জ্বালানী হিসেবেও ব্যবহার করা যায়। পেট্রোলিয়াম জাতীয় উপাদানের সাথে প্রায় ৩০% ইথানল যোগ করে এ ধরনের জ্বালানী তৈরী করা হয়। এভাবে ব্যবহৃত অ্যালকোহলকে পাওয়ার অ্যালকোহল বলে। অ্যালকোহলকে জ্বালানী হিসেবে ব্যবহার করলে জীবাশ্ম জ্বালানীর উপর চাপ কম পড়ে। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৪.
আধান বা চার্জের একককে কী দিয়ে প্রকাশ করে?
  1. ক) C
  2. খ) A
  3. গ) V
  4. ঘ) Hz
সঠিক উত্তর:
ক) C
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) C
ব্যাখ্যা
আধানের একককে কুলম্ব C এবং বিদ্যুৎ প্রবাহের একককে এম্পিয়ার A দ্বারা প্রকাশ করা হয়৷
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর পদার্থ বিজ্ঞান বোর্ড বই
৩৫.
উচ্চতর জৈব এসিডের সোডিয়াম লবণকে কী বলা হয়?
  1. কাপড় কাঁচার সোডা
  2. সাবান
  3. টেস্টিং সল্ট
  4. সৈন্ধব লবণ
সঠিক উত্তর:
সাবান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাবান
ব্যাখ্যা
• উচ্চতর জৈব এসিডের সোডিয়াম লবণকে বলা হয় সাবান। 

• সাবান:
- উচ্চতর তৈল এসিডের (যেমন: স্টিয়ারিক এসিড, পামিটিক এসিড) সোডিয়াম বা পটাশিয়াম লবণকে সাবান বলা হয়। 

• সাবানের ব্যবহার:
- সাবান সাধারণত কঠিন পদার্থ, তবে পানিতে দ্রবীভূত হতে পারে এবং জলীয় দ্রবণ ক্ষারীয় প্রকৃতির হয়।  
- সাবান পরিষ্কার করার কাজে ব্যবহৃত হয়, কারণ এটি ময়লা এবং গ্রিজ অপসারণে সহায়ক।

• এটি এক ধরনের জৈব অ্যাসিডের লবণ। সাবান তৈরির জন্য চর্বি বা তেলকে ক্ষারের সাথে বিক্রিয়া করানো হয়, যা Saponification নামে পরিচিত।
- এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ফ্যাটি অ্যাসিড এবং গ্লিসারিন তৈরি হয় এবং ফ্যাটি অ্যাসিড ক্ষারের সাথে মিশে সাবান তৈরি করে।  

• বিক্রিয়াটি হলো:
 স্টিয়ারিক এসিড (C17H35COOH) + NaOH → C17H35COONa (সোডিয়াম স্টিয়ারেট) + H2O

- এখানে সোডিয়াম স্টিয়ারেট হলো সাবানের রাসায়নিক নাম।

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক রসায়ন, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
৩৬.
সাবানায়ন প্রক্রিয়ায় তেল বা চর্বির সাথে কোন পদার্থ বিক্রিয়া করে সাবান ও গ্লিসারিন তৈরি করে? 
  1. হাইড্রোক্লোরিক এসিড 
  2. নাইট্রিক অ্যাসিড 
  3. সালফিউরিক অ্যাসিড 
  4. সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড 
সঠিক উত্তর:
সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড 
ব্যাখ্যা

সাবান: 
- সাধারণত সাবান হলো উচ্চতর ফ্যাটি এসিডের সোডিয়াম লবণ (R-COONa) বা উচ্চতর ফ্যাটি এসিডের পটাশিয়াম লবণ (R-COOK) । এখানে, R কে অ্যালকাইল মূলক বলা হয়, R এর সাধারণ সংকেত CnH2n+1 যেখানে, n এর মান 12 থেকে 18 পর্যন্ত। 
যেমন: সোডিয়াম স্টিয়ারেট সাবানের সংকেত C17H35COONa এবং পটাশিয়াম স্টিয়ারেট সাবানের সংকেত C17H35COOK । 
- তেল বা চর্বির সাথে সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড বা পটাশিয়াম হাইড্রোক্সাইড বিক্রিয়া করে সাবান এবং গ্লিসারিন তৈরি হয়, সাবান ও গ্লিসারিন তৈরির এই প্রক্রিয়াকে সাবানায়ন বলে। 
- সাবানায়ন প্রক্রিয়ায় প্রাপ্ত সাবান এবং গ্লিসারিনের মিশ্রণের মধ্যে NaCl যোগ করলে গ্লিসারিন পাত্রের নিচে অবস্থান করে এবং সাবানের অণুগুলো NaCl কে ঘিরে একত্র হয়ে পাত্রের উপরের দিকে কেকের আকারে ভেসে উঠে, একে সোপ কেক বলে। 
- সোপ কেককে ছাঁকনির সাহায্যে ছেঁকে পৃথক করে বিভিন্ন আকৃতির ছাঁচে ঢেলে বিভিন্ন আকৃতির সাবান তৈরি করা হয়। 
- সাবান একটি পরিষ্কারক দ্রব্য যা তেল বা চর্বি এবং ক্ষার থেকে প্রস্তুত করা হয়। 
- ব্যবহারের উপর ভিত্তি করে সাবানকে মূলত দুই ভাগে ভাগ করা যায়। 
যথা- ১। প্রসাধনী সাবান এবং ২। লন্ড্রি সাবান। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

৩৭.
মিথান্যালের জলীয় দ্রবণকে কী বলে? 
  1. ফরমালিন
  2. ক্লোরোফরম 
  3. রেকটিফাইড স্পিরিট 
  4. ভিনেগার 
সঠিক উত্তর:
ফরমালিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফরমালিন
ব্যাখ্যা

• রেকটিফাইড স্পিরিট: 
- 95.6% ইথানল ও 4.4% পানির মিশ্রণকে রেকটিফাইড স্পিরিট বলে। 

ভিনেগার: 
- 6 -10% ইথানোয়িক এসিডের জলীয় দ্রবণকে ভিনেগার বলে। 

মেথিলেটেড স্পিরিট: 
- ইথানলকে পানের অযোগ্য বা অসেবনীয় করার উদ্দেশ্যে রেকটিফাইড স্পিরিটের সাথে মিথানল মিশ্রিত করা হয়। 
- এ মিশ্রণকে মেথিলেটেড স্পিরিট বলে। 

ফরমালিন: 
- মিথান্যালের জলীয় দ্রবণকে ফরমালিন বলে। 
- পরিমাণ হিসেবে 40% মিথান্যাল, 52% পানি ও 8% মিথাইল অ্যালকোহলের মিশ্রিত থাকে। 

পাওয়ার অ্যালকোহল: 
- পেট্রোলিয়াম জাতীয় উপাদানের সাথে 30% ইথানলকে যোগ করে বিকল্প জ্বালানী হিসেবে ব্যবহার করা হয়। 
- এ মিশ্রণকে পাওয়ার অ্যালকোহল বলে। 

ক্লোরোফরম: 
- ইথানল, ব্লিচিং পাউডার ও পানির মিশ্রণকে পাতন করলে ক্লোরোফরম পাতিত তরল রূপে সংগৃহীত হয়। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৮.
আদর্শ তড়িৎ কোষের উদাহরণ কোনটি?
  1. ক) গ্যালভানিক কোষ
  2. খ) ভোল্টার কোষ
  3. গ) ল্যাটিমার ক্লার্ক
  4. ঘ) কোনটি নয়
সঠিক উত্তর:
গ) ল্যাটিমার ক্লার্ক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ল্যাটিমার ক্লার্ক
ব্যাখ্যা
প্রমাণ বা আদর্শ কোষ: সাধারণ বিদ্যুৎ কোষ থেকে বেশ কিছু সময় ধরে তড়িৎ প্রবাহ গ্রহণ করলে এদের তড়িচ্চালক বল ক্রমশ কমতে থাকে। 
সুতরাং প্রমিত করার (Standardisation) কাজে অথবা সূক্ষ্ম পরীক্ষা-নিরীক্ষার কাজে যেখানে প্রায় অপরিবর্তনীয় তড়িচ্চালক বলের প্রয়োজন হয় সে সব ক্ষেত্রে সাধারণ কোষ ব্যবহার করা যায় না। 
যে তড়িৎ কোষের তড়িচ্চালক বল সর্বদা একই থাকে এবং যার সাহায্যে প্রমিতকরণ কাজ সম্পন্ন করা যায় তাকে প্রমাণ বা আদর্শ কোষ বলে। 
ওয়েস্টান-ক্যাডমিয়াম ও ল্যাটিমার ক্লার্ক কোষ এ ধরণের কোষ। এগুলোকে পরাবর্ত কোষ (Reversible) বলে।
 
অর্থাৎ, যে তড়িৎ কোষের তড়িচ্চালক বলের মান সর্বদা একই থাকে এবং যার সাহায্যে অন্য তড়িৎ
কোষের বিদ্যুচ্চালক বলের তুলনা করা হয়, তাকে প্রমাণ বা আদর্শ তড়িৎ কোষ বলে। 
 
উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৯.
অ্যালকেন সমগোত্রীয় শ্রেণির সাধারণ সংকেত কী? 
  1. CnH2n+1
  2. CnH2n
  3. CnH2n-2
  4. CnH2n+2
সঠিক উত্তর:
CnH2n+2
উত্তর
সঠিক উত্তর:
CnH2n+2
ব্যাখ্যা
সমগোত্রীয় শ্রেণি (Homologous): 
- যে সকল যৌগের কার্যকরীমূলক একই হওয়ায় তাদের ভৌত ও রাসায়নিক ধর্মের গভীর মিল থাকে তারা একই শ্রেণিভুক্ত, এদেরকে সমগোত্রীয় শ্রেণি বলে।
- একই সমগোত্রীয় শ্রেণির সকল সদস্যকে একটি সাধারণ সংকেত দিয়ে প্রকাশ করা যায়। 
যেমন- অ্যালকেন সমগোত্রীয় শ্রেণির সকল যৌগকে CnH2n+2 সংকেত দিয়ে প্রকাশ করা যেতে পারে। 
- নিচে বিভিন্ন সমগোত্রীয় শ্রেণির উদাহরণ দেওয়া হলো- 


উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৪০.
ফিটকিরি এর অপর নাম কি?
  1. কস্টিক পটাশ
  2. চুন
  3. পটাশ অ্যালাম
  4. সাধারণ লবণ
সঠিক উত্তর:
পটাশ অ্যালাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পটাশ অ্যালাম
ব্যাখ্যা

ফিটকিরি: 
- প্রাচীনকাল থেকেই আমাদের দেশে এন্টিসেপটিক হিসেবে ফিটকিরির ব্যবহার প্রচলিত। 
- ফিটকিরি অ্যালুমিনিয়াম সালফেট, পটাশিয়াম সালফার ও ২৪ অণু পানির যৌগ। 
- ফিটকিরির রাসায়নিক সংকেত হচ্ছে [K2SO4.Al2(SO4)3. 24H2O] । 
- ফিটকিরি বা পটাস অ্যালামে ২৪ অণু কেলাস পানি যুক্ত থাকে। 
- ফিটকিরি মানুষের কাছে পটাশ অ্যালাম নামে পরিচিত। 
- ফিটকিরি একটি দ্বি-লবণ অর্থাৎ দুটি লবণ (পটাসিয়াম সালফেট এবং অ্যালুমিনিয়াম সালফেট) এর সাধারণ মিশ্রণ। 
- অ্যালাম কঠিন অবস্থায় সুনির্দিষ্ট আকৃতির কেলাস। 
- এটি সাধারণত কঠিন অবস্থায় বাজারে প্রচলিত। 

Other Options:
Potassium Hydroxide = কস্টিক পটাশ।
Calcium Carbonate = চুন।
Sodium Chloride = সাধারণ লবণ।

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি এবং রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪১.
পলিমারের ক্ষুদ্র অংশকে কী বলা হয়? 
  1. মনোস্যাকারাইড
  2. মনোমার
  3. ডাইমার
  4. ট্রাইমার
সঠিক উত্তর:
মনোমার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মনোমার
ব্যাখ্যা
পলিমার: 
- গ্রিক শব্দ 'পলি' (poly) অর্থ বহু বা অনেক এবং 'মেরোস' (meros) অর্থ একক বা অংশ। এ দুটি শব্দ থেকেই পলিমার শব্দের উৎপত্তি। 
- প্রকৃতঅর্থে পলিমার বলতে বোঝায় বহু অংশযুক্ত উচ্চ আণবিক ভর সম্পন্ন বৃহদাকার অণু। এক কথায় বহু সংখ্যক ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অংশ পর পর যুক্ত হয়ে পলিমার অণু গঠন করে থাকে। 
- পলিমারের প্রত্যেকটি ক্ষুদ্র অংশকে মনোমার বলা হয়। 
যেমন- ইথিলিনের পলিমার পলিইথিলিন। প্রোপিনের পলিমার পলি প্রোপিন। 
- পলিমার সাধারণত দুই প্রকার। 
যথা- 
ক) প্রাকৃতিক পলিমার: 
- সাধারণভাবে প্রাকৃতিক উৎস বিশেষ করে উদ্ভিদ ও প্রাণি থেকে প্রাপ্ত পলিমার এ জাতীয় পলিমার। 
যেমন- প্রাকৃতিক রাবার, স্টার্চ, সেলুলোজ ইত্যাদি। 

খ) কৃত্রিম পলিমার: 
- পরীক্ষাগারে কৃত্রিমভাবে প্রস্তুত পলিমার সমূহ এ জাতীয় পলিমার। 
যেমন- পলিইথিলিন, পলিস্ট্যারিন, পলিভিনাইল ক্লোরাইড (PVC), নাইলন, টেফলন, টেরিলিন ইত্যাদি। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪২.
রেক্টিফাইড স্পিরিট হলো-
  1. ৯০% ইথাইল অ্যালকোহল +১০% পানি
  2. ৮০% ইথাইল অ্যালকোহল + ২০% পানি
  3. ৯৫% ইথাইল অ্যালকোহল + ৫% পানি
  4. ৯৮% ইথাইল অ্যালকোহল + ২% পানি
সঠিক উত্তর:
৯৫% ইথাইল অ্যালকোহল + ৫% পানি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৯৫% ইথাইল অ্যালকোহল + ৫% পানি
ব্যাখ্যা
অ্যালকোহল: 
- অ্যালকোহল বলতে সাধারণভাবে ইথানলকে বোঝায়। 
- স্টার্চ থেকে গাঁজন ক্রিয়ার মাধ্যমে ইথানল উৎপাদন করা হয়। 
- এটি একটি শক্তিশালী জৈব দ্রাবক। 
৯৫.৬% ইথানল ও ৪.৪% পানির মিশ্রণকে রেকটিফাইড স্পিরিট বলে। 
- রেকটিফাইড স্পিরিটকে হোমিও ওষুধে ব্যবহার করা হয়। 
- ইথানলকে পারফিউম, কসমেটিক্স, ফার্মাসিউটিক্যাল শিল্পে ব্যাপক ভাবে ব্যবহার করা হয়। 
- ইথানল পানীয় হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। 
- পানীয় হিসেবে ইথানলকে ব্যবহার না করার জন্য রেটিফাইড স্পিরিটের সাথে সামান্য মিথানল যোগ করে দেয়া হয়। 
- রেকটিফাইড স্পিরিটের সাথে মিথানল যুক্ত থাকলে এটি সম্পূর্ণভাবে পানের অযোগ্য হয়। এ মিশ্রণকে মেথিলেটেড স্পিরিট বলে। 
- ঔষধ শিল্পে ও খাদ্য শিল্পে ব্যবহৃত অ্যালকোহলের মধ্যে মিথানল যোগ করা হয় না। 
- ইথানলকে মোটর ইঞ্জিনের জ্বালানী হিসেবেও ব্যবহার করা যায়। 
- পেট্রোলিয়াম জাতীয় উপাদানের সাথে প্রায় ৩০% ইথানল যোগ করে এ ধরনের জ্বালানী তৈরী করা হয়। এভাবে ব্যবহৃত অ্যালকোহলকে পাওয়ার অ্যালকোহল বলে।
- অ্যালকোহলকে জ্বালানী হিসেবে ব্যবহার করলে জীবাশ্ম জ্বালানীর উপর চাপ কম পড়ে। তাছাড়া এটি পরিবেশ বান্ধব। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৩.
কোনটি থার্মোসেটিং পলিমার? 
  1. স্টার্চ 
  2. ফাইবার গ্লাস 
  3. সেলুলোজ 
  4. রাবার 
সঠিক উত্তর:
ফাইবার গ্লাস 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফাইবার গ্লাস 
ব্যাখ্যা

পলিমার: 
- গ্রিক শব্দ 'পলি' (poly) অর্থ বহু বা অনেক এবং 'মেরোস' (meros) অর্থ একক বা অংশ। 
- এ দুটি শব্দ থেকেই পলিমার শব্দের উৎপত্তি। 
- প্রকৃতঅর্থে পলিমার বলতে বোঝায় বহু অংশযুক্ত উচ্চ আণবিক ভর সম্পন্ন বৃহদাকার অণু। 
- পলিমার সাধারণত দুই প্রকার। 
যথা- 
ক) প্রাকৃতিক পলিমার: 
- সাধারণভাবে প্রাকৃতিক উৎস বিশেষ করে উদ্ভিদ ও প্রাণি থেকে প্রাপ্ত পলিমার এ জাতীয় পলিমার। 
যেমন- প্রাকৃতিক রাবার, স্টার্চ, সেলুলোজ ইত্যাদি। 

খ) কৃত্রিম পলিমার: 
- পরীক্ষাগারে কৃত্রিমভাবে প্রস্তুত পলিমার সমূহ এ জাতীয় পলিমার। 
যেমন- পলিইথিলিন, পলিস্ট্যারিন, পলিভিনাইল ক্লোরাইড (PVC), নাইলন, টেফলন, টেরিলিন ইত্যাদি। 
- গঠন ও তাপীয় বেশিষ্ট্যের উপর ভিত্তি করে কৃত্রিম পলিমারকে আবার দুই শ্রেণিতে ভাগ করা হয়। 
যেমন- ১। থার্মোপ্লাস্টিক ও ২। থার্মোর্সেটিং প্লাস্টিক। 

থার্মোর্সেটিং প্লাস্টিক: 
- থার্মোসেটিং প্লাষ্টিকের ক্ষেত্রে এরা অপেক্ষাকৃত শক্ত ও কম নমনীয় হয়। 
- তাপ প্রয়োগে এগুলো গলে যায় না বরঞ্চ কালো কয়লায় পরিণত হয়। 
- এ জাতীয় পলিমার অণুতে পরমাণুগুলোর শিকলের মধ্যে সমযোজী এবং পার্শ্ববর্তী শিকলের গঠনের সাথে দৃঢ়ভাবে হাইড্রোজেন বন্ধন বর্তমান থাকে। 
যেমন- ব্যাকেলাইট প্লাষ্টিক, ফাইবার গ্লাস, কৃত্রিম রেজিন ইত্যাদি। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৪.
কোন ধরণের জৈব যৌগে কার্বন-কার্বন একক বন্ধন থাকে?
  1. অ্যালকেন
  2. অ্যাালকিন
  3. অ্যাালকাইন
  4. সবগুলো
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: ঘ) সবগুলো
উত্তরপত্রের ইনপুট ও ব্যাখ্যা পরিবর্তন করা হয়েছে। 
-------------------- 

অ্যালকেন: 
- কার্বন-কার্বন একক বন্ধন যুক্ত সম্পৃক্ত হাইড্রোকার্বন গুলোকে অ্যালকেন বলা হয়। 
- অ্যালকেন শুধুমাত্র হাইড্রোজেন এবং কার্বন পরমাণূ দ্বারা গঠিত যারা একক বন্ধনে আবদ্ধ থাকে।
- অ্যালকেনের সাধারণ রাসায়নিক সংকেত হলো CnH2n+2। 

- অসম্পৃক্ত হাইড্রোকার্বনের সাথে হাইড্রোজেন সংযোজন করে অ্যালকেন প্রস্তুত করা হয়। 
- প্রভাবক নিকেল ধাতু (Ni) এর উপস্থিতিতে 150-180° সে. তাপমাত্রায় অ্যালকিন ও অ্যালকাইনের সাথে হাইড্রোজেন সংযুক্ত করে অ্যালকেন প্রস্তুত করা হয়। 

অ্যালকেনের ভৌত ধর্ম: 
- অ্যালকেনের ভৌত ধর্ম বিশেষ করে ভৌত অবস্থা, গলনাংক, স্ফুটনাংক নির্ভর করে যৌগের অণুতে কার্বনের সংখ্যার উপর। 
- এক থেকে চার কার্বন বিশিষ্ট অ্যালকেন গ্যাসীয়। 
- পাঁচ থেকে পনের কার্বন বিশিষ্ট অ্যালকেনের ভৌত অবস্থা তরল। 
- ষোল থেকে উচ্চতর কার্বন বিশিষ্ট অ্যালকেনের ভৌত অবস্থা কঠিন। 

অন্যদিকে, 
- কার্বন-কার্বন দ্বি-বন্ধন যুক্ত সম্পৃক্ত হাইড্রোকার্বন গুলোকে অ্যালকিন বলা হয়। 
- কার্বন-কার্বন ত্রি-বন্ধন যুক্ত সম্পৃক্ত হাইড্রোকার্বন গুলোকে অ্যালকাইন বলা হয়। 

উল্লেখ্য, অ্যালকেন, অ্যালকিন ও অ্যালকাইন তিনটি যৌগেই কার্বন-কার্বন একক বন্ধন থাকে। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৫.
ক্যাথোডকে কী বলে?
  1. ধনাত্মক তড়িৎদ্বার
  2. ঋনাত্মক তড়িৎদ্বার
  3. নিরপেক্ষ তড়িৎদ্বার
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ঋনাত্মক তড়িৎদ্বার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঋনাত্মক তড়িৎদ্বার
ব্যাখ্যা
- একটি তড়িৎ রাসায়নিক কোষ গঠনের ক্ষেত্রে দুটি তড়িৎদ্বারের প্রয়োজন।
যথা-
১। অ্যানোড তড়িৎদ্বার এবং
২। ক্যাথোড তড়িৎদ্বার।
• অ্যানোড তড়িৎদ্বার:
- যে তড়িৎদ্বার ব্যাটারির ধনাত্মক প্রান্তের সাথে যুক্ত থাকে এবং যার মাধ্যমে ইলেকট্রন দ্রবণ ছেড়ে চলে যায়, তাকে অ্যানোড তড়িৎদ্বার বা ধনাত্মক তড়িৎদ্বার বলে।
- অ্যানোড তড়িৎদ্বারে জারণ ক্রিয়া সম্পন্ন হয়।
অর্থাৎ, অ্যানোডে অ্যানায়নগুলো ইলেকট্রন ত্যাগ করে আধান মুক্ত হয়।

• ক্যাথোড তড়িৎদ্বার:
- যে তড়িৎদ্বার ব্যাটারির ঋণাত্মক প্রান্তের সাথে যুক্ত থাকে এবং যার মাধ্যমে ইলেকট্রন ব্যাটারি থেকে দ্রবণে প্রবেশ করে, তাকে ক্যাথোড তড়িৎদ্বার বা ঋণাত্মক তড়িৎদ্বার বলে।
- ক্যাথোড তড়িৎদ্বারে বিজারণ ক্রিয়া সম্পন্ন হয়।
অর্থাৎ, ক্যাথোডে ক্যাটায়নগুলো ইলেকট্রন গ্রহণ করে আধান মুক্ত হয়।

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৬.
কোলেস্টেরল মূলত এক ধরনের-
  1. অসম্পৃক্ত অ্যালকোহল
  2. সম্পৃক্ত অ্যালকোহল
  3. জৈব এসিড
  4. এমিনো এসিড
সঠিক উত্তর:
অসম্পৃক্ত অ্যালকোহল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অসম্পৃক্ত অ্যালকোহল
ব্যাখ্যা
• কোলেস্টেরল:
- কোলেস্টরল এক ধরনের চর্বিজাতীয়, তৈলাক্ত স্টেরয়েড যা কোষের ঝিল্লি বা (সেল মেমব্রেনে)-এ পাওয়া যায় এবং যা সব প্রাণীর রক্তে পরিবাহিত হয়।
- কোলেস্টেরলকে কঠিন বা অসম্পৃক্ত অ্যালকোহল বলা হয়।
- রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে গেলে উচ্চ রক্তচাপ, স্ট্রোক, হার্ট এ্যাটাক ইত্যাদি রোগের আশংকা বেড়ে যায়।
- যকৃৎ এবং মগজে এর পরিমাণ সবচেয়ে বেশি।
- স্নেহ এবং প্রোটিনের যৌগকে লাইপোপ্রোটিন বলে।
- স্নেহের পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে লাইপোপ্রোটিন দুই রকম-
- উচ্চ ঘনত্ব বিশিষ্ট লাইপোপ্রোটিন (High Density Lipoprotein - HDL)। 
- নিম্ন ঘনত্ববিশিষ্ট লাইপোপ্রোটিন (Low Density Lipoprotein - LDL)। 
- রক্তে LDL-এর পরিমাণ বেশি থাকা শরীরের জন্য ক্ষতিকর।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪৭.
নাইলন 6 : 6 উৎপাদনে কোন যৌগ ব্যবহৃত হয়না?
  1. HOOC - (CH2)4 - COOH
  2. NH2 - (CH2)6 - NH2
  3. TiO2
  4. NH3
সঠিক উত্তর:
NH3
উত্তর
সঠিক উত্তর:
NH3
৪৮.
সাবান প্রতির সময় একে শক্ত করতে কী ব্যবহৃত হয় ?
  1. NaOH
  2. KOH
  3. Na2CO3
  4. CaCO3
সঠিক উত্তর:
Na2CO3
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Na2CO3
ব্যাখ্যা
সাবান শিল্পে নিম্নলিখিত কাঁচামাল ব্যবহৃত হয়ঃ
১। তৈল ও চর্বি : ট্যালো, পাম তেল, নারিকেল তেল, সোয়াবিন তেল, তুলা বীজ তেল ইত্যাদি।
২। ক্ষার : কস্টিক পটাস (KOH), কস্টিক সোডা (NaOH)।
৩। ফিলার : সাবানকে শক্ত করার জন্য ফিলার ব্যবহৃত হয়। যেমন- স্টার্ক, ট্যালক, সোডিয়াম কার্বনেট, বোরাক্স ইত্যাদি।
৪। রঞ্জক : চর্বিতে দ্রবণীয় কমলা, হলুদ, সবুজ, নীল বিভিন্ন ধরনের অ্যাজোরঞ্জক সাবানে ব্যবহৃত হয়।
৫। সুগন্ধি : সাবানকে আর্কষণীয় ও জনপ্রিয় করার জন্য এতে বিভিন্ন প্রকারের সুগন্ধি ব্যবহৃত হয়। যেমন- ল্যাভেন্ডার তেল, বার্মোট তেল, সাইট্রোনল ও সিন্ট্রোনেলা তেল, জিরালিওল, লেমন ঘাস তেল প্রভৃতি।

সূত্রঃ রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৯.
ব্যাটারী থেকে কোন ধরনের বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয়?
  1. AC
  2. DC
  3. ADC
  4. TC
সঠিক উত্তর:
DC
উত্তর
সঠিক উত্তর:
DC
ব্যাখ্যা
• ব্যাটারি:
- ব্যাটারি বলতে একাধিক কোষের (Cell) সমন্বয়কে বুঝানো হয়।
- একটি তড়িৎ ব্যাটারি বলে উল্লেখ করলেও প্রকৃতপক্ষে ব্যাটারি হলো একাধিক তড়িৎ কোষের সমন্বয়।
- ব্যাটারি সেলে ব্যবহারের জন্য তড়িৎ শক্তি জমা থাকে।
- ব্যাটারিতে সাধারণত তিনটি অংশ থাকে। যেমন- অ্যানোড, ক্যাথোড এবং মাঝখানে থাকে ইলেকট্রোলাইট।
- ব্যাটারি সেলের বিভব পার্থক্য সবসময় সমান থাকে বলে ব্যাটারি থেকে ডিসি বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয়।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৫০.
অ্যারোমেটিক হাইড্রোকার্বনের উদাহরণ কোনটি? 
  1. প্রোপেন 
  2. ইথিন 
  3. বিউটেন 
  4. বেনজিন 
সঠিক উত্তর:
বেনজিন 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বেনজিন 
ব্যাখ্যা

হাইড্রোকার্বন (Hydrocarbons): 
- হাইড্রোকার্বন হলো শুধু কার্বন ও হাইড্রোজেন এর সমন্বয়ে গঠিত যৌগ। 
যেমন- মিথেন (CH4), ইথিন (C2H4), সাইক্লোহেক্সেন (C6H12), বেনজিন (C6H6) ইত্যাদি। 
- এই যৌগগুলোতে কার্বন আর হাইড্রোজেন ছাড়া আর কোনো মৌল নেই। 
- হাইড্রোকার্বন মূলত দুই প্রকার। 
যথা- 
১। অ্যালিফেটিক হাইড্রোকার্বন: 
- অ্যালিফেটিক কথাটির অর্থ হলো চর্বিজাত। 
- এই শ্রেণির হাইড্রোকার্বন মূলত প্রাণীর চর্বি থেকে পাওয়া গিয়েছিল, তাই এ ধরনের হাইড্রোকার্বনের নাম অ্যালিফেটিক হাইড্রোকার্বন দেওয়া হয়েছে। 
- অ্যালিফেটিক হাইড্রোকার্বন দুই ধরনের। যথা- (i) মুক্ত শিকল হাইড্রোকার্বন এবং (ii) বদ্ধ শিকল হাইড্রোকার্বন। 
যেমন- বিউটেন (CH3-CH2-CH2-CH3), ইথিন (CH2=CH2), ইথাইন (CH=CH) ও প্রোপেন (CH3-CH2-CH3) ইত্যাদি। 

২। অ্যারোমেটিক হাইড্রোকার্বন: 
- গ্রিক শব্দ অ্যারোমা (Aroma) থেকে অ্যারোমেটিক শব্দটি এসেছে। 
- অ্যারোমেটিক শব্দের অর্থ হলো সুগন্ধ। 
- প্রথমে যে অ্যারোমেটিক যৌগগুলো পাওয়া গিয়েছিল সেগুলো ছিল সুগন্ধযুক্ত, তাই এ ধরনের নামকরণ করা হয়েছে। 
যেমন- বেনজিন (C6H6) বা ন্যাপথলিন (C10H8) হচ্ছে অ্যারোমেটিক হাইড্রোকার্বনের উদাহরণ। 
- অ্যারোমেটিক যৌগগুলো সাধারণত 5, 6 কিংবা 7 সদস্যের সমতলীয় যৌগ (planar compounds)। এগুলোতে একান্তর (alternate) দ্বিবন্ধন থাকে, অর্থাৎ পর্যায়ক্রমে কার্বন-কার্বন একটি একক বন্ধন এবং তারপর একটি দ্বিবন্ধন থাকে। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

৫১.
রেকটিফাইড স্পিরিট হলো-
  1. ৯৫% মিথানল + ৪% পানি
  2. ৯০% গ্লিসারলের দ্রবণ
  3. ইথানলের ৫০% জলীয় দ্রবণ
  4. ৯৫.৬% ইথানল + ৪.৪% পানি
সঠিক উত্তর:
৯৫.৬% ইথানল + ৪.৪% পানি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৯৫.৬% ইথানল + ৪.৪% পানি
ব্যাখ্যা

• রেকটিফাইড স্পিরিট হলো ৯৫.৬% ইথানল + ৪.৪% পানি।

• অ্যালকোহল: 
- অ্যালকোহল বলতে সাধারণভাবে ইথানলকে বোঝায়। 
- স্টার্চ থেকে গাঁজন ক্রিয়ার মাধ্যমে ইথানল উৎপাদন করা হয়। 
- এটি একটি শক্তিশালী জৈব দ্রাবক। 
- ৯৫.৬% ইথানল ও ৪.৪% পানির মিশ্রণকে রেকটিফাইড স্পিরিট বলে। 
- রেকটিফাইড স্পিরিটকে হোমিও ওষুধে ব্যবহার করা হয়।
- ইথানলকে পারফিউম, কসমেটিক্স, ফার্মাসিউটিক্যাল শিল্পে ব্যাপক ভাবে ব্যবহার করা হয়। 
- ইথানল পানীয় হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। 
- পানীয় হিসেবে ইথানলকে ব্যবহার না করার জন্য রেটিফাইড স্পিরিটের সাথে সামান্য মিথানল যোগ করে দেয়া হয়। 
- রেকটিফাইড স্পিরিটের সাথে মিথানল যুক্ত থাকলে এটি সম্পূর্ণভাবে পানের অযোগ্য হয়। এ মিশ্রণকে মেথিলেটেড স্পিরিট বলে।
- ঔষধ শিল্পে ও খাদ্য শিল্পে ব্যবহৃত অ্যালকোহলের মধ্যে মিথানল যোগ করা হয় না। 
- ইথানলকে মোটর ইঞ্জিনের জ্বালানী হিসেবেও ব্যবহার করা যায়। 
- পেট্রোলিয়াম জাতীয় উপাদানের সাথে প্রায় ৩০% ইথানল যোগ করে এ ধরনের জ্বালানী তৈরী করা হয়। এভাবে ব্যবহৃত অ্যালকোহলকে পাওয়ার অ্যালকোহল বলে।
- অ্যালকোহলকে জ্বালানী হিসেবে ব্যবহার করলে জীবাশ্ম জ্বালানীর উপর চাপ কম পড়ে। তাছাড়া এটি পরিবেশ বান্ধব। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫২.
মিথেনের অণুতে কার্বন ও হাইড্রোজেনের অনুপাত কত?
  1. ১ : ২
  2. ১ : ৩
  3. ১ : ৪
  4. ১ : ৫
সঠিক উত্তর:
১ : ৪
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১ : ৪
ব্যাখ্যা
• হাইড্রোকার্বন:
- হাইড্রোজেন ও কার্বন দ্বারা গঠিত জৈব যৌগসমূহকে হাইড্রোকার্বন (Hydrocarbon) বলে।
- জৈব যৌগের মধ্যে সরলতম যৌগ হলো এ হাইড্রোকার্বন। 

• অ্যালিফেটিক হাইড্রোকার্বন:
- যে সকল হাইড্রোকার্বন অণুর কার্বন শিকলে কেবলমাত্র একক বন্ধন বিদ্যমান এবং এদের অবশিষ্ট যোজনীগুলো হাইড্রোজেন দ্বারা পূর্ণ থাকে তাদেরকে অ্যালিফেটিক বা সম্পৃক্ত হাইড্রোকার্বন বা অ্যালকেন (alkane) বলা হয়।
- এদের সাধারণ সংকেত হলো Cn H2n+2 , n=1,2,3............. ইত্যাদি। 

• মিথেন (Methane) হলো একটি সরল হাইড্রোকার্বন যার রাসায়নিক সংকেত: CH₄
এখানে- 
কার্বন (C) = ১টি
হাইড্রোজেন (H) = ৪টি

সুতরাং, মিথেনের অণুতে কার্বন ও হাইড্রোজেনের অনুপাত = ১ : ৪

তথ্যসূত্র:
- রসায়ন ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৩.
প্রোপেনের রাসায়নিক গঠন অনুযায়ী কার্বনের সংখ্যা কত?
  1. ১ টি
  2. ২ টি
  3. ৩ টি
  4. ৫ টি
সঠিক উত্তর:
৩ টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩ টি
ব্যাখ্যা

• প্রোপেন একটি হাইড্রোকার্বন যা অ্যালকেন পরিবারে অন্তর্ভুক্ত। এর রাসায়নিক সূত্র হলো C3H6, যা নির্দেশ করে এতে ৩টি কার্বন পরমাণু এবং ৬টি হাইড্রোজেন পরমাণু রয়েছে। প্রোপেনের কাঠামোতে তিনটি কার্বন পরমাণুর মধ্যে দুটি কার্বন একত্রে সাধারণ একক বন্ধনে এবং একটি কার্বন দ্বিগুণ বন্ধনে যুক্ত থাকে। এই দ্বিগুণ বন্ধনটি প্রোপেনকে আলাদা করে সাধারণ অ্যালকেন থেকে এবং এটি রাসায়নিকভাবে সক্রিয় করে তোলে। সুতরাং, প্রোপেনের রাসায়নিক গঠন অনুযায়ী কার্বনের সংখ্যা হলো ৩, যা অপশন গ-তে দেওয়া হয়েছে।

- সঠিক উত্তর: গ) ৩ টি। 

• হাইড্রোকার্বন:
- হাইড্রোজেন ও কার্বন দ্বারা গঠিত সরলতম জৈব যৌগসমূহকে হাইড্রোকার্বন (Hydrocarbon) বলে।

• সম্পৃক্ত হাইড্রোকার্বন:
- যে সকল হাইড্রোকার্বন অণুর কার্বন শিকলে কেবলমাত্র একক বন্ধন বিদ্যমান এবং এদের অবশিষ্ট যোজনীগুলো হাইড্রোজেন দ্বারা পূর্ণ থাকে তাদেরকে অ্যালিফেটিক বা সম্পৃক্ত হাইড্রোকার্বন বা অ্যালকেন (alkane) বলা হয়।
- এদের সাধারণ সংকেত হলো Cn H2n+2 , n=1,2,3............. ইত্যাদি। 

• প্রোপেন একটি সম্পৃক্ত হাইড্রোকার্বন বা অ্যালকেন। প্রোপেনের রাসায়নিক সংকেত হলো: C3H8
অর্থাৎ এটি হলো ৩ কার্বন বিশিষ্ট অ্যালকেন। যাতে ৩ টি কার্বনের সাথে ৮ টি হাইড্রোজেন পরমাণু যুক্ত থাকে। 

তথ্যসূত্র:
- রসায়ন ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫৪.
ভিনেগার তৈরি করার সময় কোন গ্যাস ব্যবহার করা হয়? 
  1. নাইট্রোজেন
  2. হাইড্রোজেন
  3. অক্সিজেন
  4. কার্বন মনোক্সাইড
সঠিক উত্তর:
অক্সিজেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অক্সিজেন
ব্যাখ্যা
সিরকা বা ভিনেগার: 
- ইথানয়িক এসিডের 4%-10% জলীয় দ্রবণকে ভিনেগার বলা হয়। 
- ভিনেগার তরল পদার্থ। 
- সাধারণত আচার তৈরি করার সময় ভিনেগার যোগ করা হয়। 

ভিনেগারের প্রস্তুতি: 
25°C-35°C তাপমাত্রায় রাখা একটি স্টিলের পাত্রে ইথানল (CH3CH2OH) এবং অ্যাসিটোব্যাকটর নিয়ে এর মধ্যে অক্সিজেন গ্যাসের বুদবুদ প্রবাহিত করলে ভিনেগার বা অ্যাসিটিক এসিড বা ইথানয়িক এসিড (CH3COOH) প্রস্তুত হয়। 
- অ্যাসিটোব্যাকটর (Acetobacter) ব্যাকটেরিয়া এমন এক ধরনের এনজাইম নিঃসৃত করে যা ইথানলকে অক্সিজেনের সাথে বিক্রিয়া করতে সাহায্য করে। 


খাদ্য সংরক্ষণে ভিনেগারের ভূমিকা: 
- ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণ থেকে আচার ভালো রাখার জন্য আচারের মধ্যে ভিনেগার দিলে আচারকে ব্যাকটেরিয়া আক্রমণ করতে পারে না। 
- ভিনেগারের মূল উপাদান ইথানয়িক এসিড। 
- ভিনেগারকে যখন আচারের মধ্যে দেওয়া হয় তখন ইথানয়িক এসিড কর্তৃক ত্যাগকৃত প্রোটন, H+ ব্যাকটেরিয়াকে ধ্বংস করে এবং খাদ্য দীর্ঘকাল ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণ থেকে রক্ষা পায়। এভাবে ভিনেগার দিয়ে খাদ্য সংরক্ষণ করা হয়। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৫৫.
হিউমাস কী?
  1. ক) মাটিতে বিদ্যমান জৈব পদার্থ
  2. খ) মাটিতে বিদ্যমান অজৈব পদার্থ
  3. গ) মাটিতে বিদ্যমান বিভিন্ন পদার্থ
  4. ঘ) মাটিতে বিদ্যমান উপকারি জীব
সঠিক উত্তর:
ক) মাটিতে বিদ্যমান জৈব পদার্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) মাটিতে বিদ্যমান জৈব পদার্থ
ব্যাখ্যা
- মাটিতে বিদ্যমান জৈব পদার্থ হিউমাস নামে পরিচিত।
 -হিউমাস আসলে এমিনো এসিড, প্রোটিন, চিনি, এলকোহল, চর্বি, তেল, লিগ্নিন, ট্যানিন ও অনন্য এরোমেটিক যৌগ নিয়ে গঠিত বিশেষ জটিল পদার্থ।
 -এই হিউমাস তৈরি হয় গাছপালা ও মৃত প্রানির দেহাবশেষ থেকে। 

সূত্র - নবম-দশম শ্রেণি, বিজ্ঞান, বোর্ড বই
৫৬.
টয়লেট্রিজ ও ভ্যাসলিন তৈরিতে নিচের কোনটি ব্যবহৃত হয়? 
  1. গ্যাসোলিন 
  2. পিচ
  3. ন্যাপথা 
  4. প্যারাফিন মোম 
সঠিক উত্তর:
প্যারাফিন মোম 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্যারাফিন মোম 
ব্যাখ্যা

পেট্রোলিয়াম গ্যাস: 
- এ অংশের স্ফুটনাঙ্ক 0°C থেকে 20°C পর্যন্ত। এ অংশে যে হাইড্রোকার্বনসমূহ থাকে তাদের অণুতে কার্বন সংখ্যা 1 থেকে 4 পর্যন্ত। পেট্রোলিয়ামে শতকরা দুই ভাগ পেট্রোলিয়াম গ্যাস থাকে। এ গ্যাসকে চাপ প্রয়োগ করে তরলে পরিণত করে সিলিন্ডারে ভর্তি করা হয় এবং LPG (Liquefied Petroleum Gas) নামে রান্নার কাজে ও অন্যান্য কাজে তাপ উৎপাদনের জন্য ব্যবহার করা হয়। 

পেট্রোল (গ্যাসোলিন): 
- এ অংশের স্ফুটনাঙ্ক 21°C থেকে 70°C পর্যন্ত। এ অংশে যে হাইড্রোকার্বনসমূহ থাকে তাদের অণুতে কার্বন সংখ্যা 5 থেকে 10 পর্যন্ত। পেট্রোলিয়ামে শতকরা 5 ভাগ পেট্রল থাকে। একে গ্যাসোলিনও বলা হয়। যানবাহনের ইঞ্জিনে জ্বালানি হিসেবে গ্যাসোলিন ব্যবহার করা হয়। 

ন্যাপথা: 
- এ অংশের স্ফুটনাঙ্ক 71°C থেকে 120°C পর্যন্ত। এ অংশে যে হাইড্রোকার্বনসমূহ থাকে তাদের অণুতে কার্বন সংখ্যা 7 থেকে 14 পর্যন্ত। পেট্রোলিয়ামে শতকরা 10 ভাগ ন্যাপথা থাকে। জ্বালানি ও পেট্রোকেমিক্যাল শিল্পে বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থ ও অন্যান্য অনেক ব্যবহার্য দ্রব্য তৈরি করা হয়। 

কেরোসিন: 
- এ অংশের স্ফুটনাঙ্ক 121°C থেকে 170°C পর্যন্ত। এ অংশে যে সকল হাইড্রোকার্বন থাকে তাদের অণুতে কার্বন সংখ্যা 11 থেকে 16 পর্যন্ত। পেট্রোলিয়ামে শতকরা 13 ভাগ কেরোসিন থাকে। পেট্রোলিয়ামের এই অংশকে জেট ইঞ্জিনের জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হয়। 

ডিজেল: 
- এ অংশের স্ফুটনাঙ্ক 171°C থেকে 270°C পর্যন্ত। এ অংশে যে হাইড্রোকার্বনসমূহ থাকে তাদের অণুতে কার্বন সংখ্যা 17 থেকে 20 পর্যন্ত। যানবাহনের জ্বালানি, পিচ্ছিলকারক পদার্থ ও দ্রাবক হিসেবে ব্যবহার করা হয়। 

প্যারাফিন মোম: 
- এ অংশের স্ফুটনাঙ্ক 271°C থেকে 340°C পর্যন্ত। এ অংশে যে হাইড্রোকার্বনসমূহ থাকে তাদের অণুতে কার্বন সংখ্যা 20 থেকে 30 পর্যন্ত। প্যারাফিন মোম টয়লেট্রিজ এবং ভ্যাসলিন তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। 

পিচ: 
- এ অংশের স্ফুটনাঙ্ক 340°C থেকে উচ্চ তাপমাত্রা পর্যন্ত। এ অংশে যে হাইড্রোকার্বনসমূহ থাকে তাদের অণুতে কার্বন সংখ্যা 30 এর বেশি। রাস্তা তৈরিতে এটি কাজ লাগে। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

৫৭.
ভিনেগার প্রাকৃতিক খাদ্য সংরক্ষক হিসেবে কিভাবে কাজ করে? 
  1. খাদ্যের তাপমাত্রা বৃদ্ধি করে
  2. খাদ্যের রঙ পরিবর্তন করে 
  3. খাদ্যের pH কমিয়ে অণুজীবের বংশবিস্তার রোধ করে
  4. খাদ্যের আর্দ্রতা বৃদ্ধি করে 
সঠিক উত্তর:
খাদ্যের pH কমিয়ে অণুজীবের বংশবিস্তার রোধ করে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খাদ্যের pH কমিয়ে অণুজীবের বংশবিস্তার রোধ করে
ব্যাখ্যা

ভিনেগার: 
- প্রাকৃতিক খাদ্য সংরক্ষক হিসেবে ভিনেগার অতুলনীয়। 
- ইথানোয়িক এসিড বা অ্যাসিটিক এসিড (CH3-COOH) -এর ৬-১০% জলীয় দ্রবণকে ভিনেগার বা সিরকা বলে। 
অর্থাৎ, ভিনেগারের প্রধান রাসায়নিক উপাদান হলো ইথানোয়িক এসিড বা অ্যাসিটিক এসিড। 
- ভিনেগার বহুল ব্যবহৃত ও প্রচলিত প্রাকৃতিক প্রিজারভেটিভস। এটি বাজারে প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায় ও দামে সস্তা এবং অতি সহজে পানিতে দ্রবীভূত হয়। 
- খাদ্যদ্রব্যে প্রিজারভেটিভস হিসেবে ভিনেগার ব্যবহার করলে খাদ্যদ্রব্যের pH এর মান কমে যায় ফলে অণুজীবগুলো বংশ বিস্তার করতে পারে না। 
যেমন- 
- অধিকাংশ অণুজীবের বংশ বিস্তারের অনুকূল pH এর মান 6.5-7.5 এর মধ্যে, তাই প্রাকৃতিক খাদ্য সংরক্ষণে ভিনেগারের কোনো তুলনা হয় না। 

ভিনেগারের ব্যাপক ব্যবহারের কারণ: 
- মাত্র ৬% ইথানোয়িক এসিডের জলীয় দ্রবণ হওয়ায় এভিনেগারের কোনো পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া নেই। 
- যদিও ভিনেগার এসিডের দ্রবণ কিন্তু খাদ্যের সাথে এটি গ্রহণে পেটে এসিডিটির কোনো সমস্যা হয় না। 
- ভিনেগার ব্যবহারে খাদ্য দ্রব্য দীর্ঘ সময় টাটকা থাকে। 
- ভিনেগার পানিতে অতি সহজেই যেকোনো অনুপাতে মিশ্রণীয়। 
- ভিনেগার দামে সস্তা এবং সহজেই সংগ্রহ করা যায়। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫৮.
৬ - ১০% ইথানোয়িক অ্যাসিডের জলীয় দ্রবণকে কী বলা হয়?
  1. ফরমালিন
  2. রেকটিফাইড স্পিরিট
  3. ভিনেগার
  4. মিথানল
সঠিক উত্তর:
ভিনেগার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভিনেগার
ব্যাখ্যা

• ৬ - ১০% ইথানোয়িক অ্যাসিডের জলীয় দ্রবণকে ভিনেগার বলা হয়।

• ভিনেগার:
- (৬ - ১০)% ইথানোয়িক অ্যাসিডের (Ethanoic acid) জলীয় দ্রবণকে ভিনেগার বলা হয়।
- এটি খাদ্য সংরক্ষণ এবং স্বাদ বৃদ্ধিতে ব্যবহৃত হয়।

• ফরমালিন:
- ফরমালডিহাইড অর্থাৎ মিথান্যাল (Methanal)-এর ৪০% জলীয় দ্রবণকে ফরমালিন বলে।
- অর্থাৎ এতে থাকে ৪০ ভাগ মিথান্যাল এবং ৬০ ভাগ পানি।
- এটি একটি সংরক্ষণকারী পদার্থ, যা বিভিন্ন মৃত প্রাণীর দেহ সংরক্ষণের জন্য ব্যবহার করা হয়।

• রেকটিফাইড স্পিরিট:
- এটি ৯৫.৬% ইথানল এবং ৪.৪% পানির মিশ্রণ।
- এটি সাধারণত জীবাণুনাশক, ঔষধ প্রস্তুতি এবং পরীক্ষাগারে দ্রাবক হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

• মিথানল:
- এটি সবচেয়ে সরল অ্যালকোহল এবং বর্ণহীন, হালকা, দাহ্য তরল।

সূত্র: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

৫৯.
প্রাকৃতিকভাবে স্টার্চ কোন মনোমারের পলিমার?
  1. ইউরিক অ্যাসিড
  2. ফ্যাটি অ্যাসিড
  3. গ্লুকোজ
  4. অ্যামাইনো অ্যাসিড
সঠিক উত্তর:
গ্লুকোজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ্লুকোজ
ব্যাখ্যা

- স্টার্চ বা শ্বেতসার হলো উদ্ভিদের প্রধান সঞ্চিত খাদ্য, যা হাজার হাজার গ্লুকোজ অণুর সমন্বয়ে গঠিত একটি পলিস্যাকারাইড। এটি মূলত দুই ধরণের (অ্যামাইলোজ এবং অ্যামাইলোপেক্টিন) পলিমারের মিশ্রণ। সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় উৎপন্ন অতিরিক্ত গ্লুকোজ উদ্ভিদদেহে স্টার্চ হিসেবে জমা থাকে। 

পলিমার: 
- পলিমার শব্দটি গ্রিক শব্দ (পলি অর্থ 'বহু বা অনেক' এবং মেরোস অর্থ 'অংশ') থেকে উৎপত্তি হয়েছে। অর্থাৎ, পলিমার বলতে একই ধরনের অনেকগুলো ছোট ছোট অংশ যুক্ত হয়ে যে উচ্চ আণবিক ভবিশিষ্ট বৃহদাকার অণু তৈরি হয় তাকে বুঝায়।
- যে ক্ষুদ্র অণু যুক্ত হয়ে পলিমার তৈরি হয় তাকে মনোমার বলা হয়।
-পলিমার সাধারণত দুই প্রকার।
যথা- 
১। প্রাকৃতিক পলিমার: 
- সাধারণভাবে প্রাকৃতিক উৎস বিশেষ করে উদ্ভিদ ও প্রাণি থেকে যে সমস্ত পলিমার পাওয়া যায়, তাদেরকে প্রাকৃতিক পলিমার বলে। 
যেমন: প্রাকৃতিক রাবার, স্টার্চ, তুলা, রেশম, পশম, সিল্ক, উল, পাট ইত্যাদি। 
- প্রাকৃতিকভাবে উৎপন্ন বিভিন্ন শস্য দানা বিশেষ করে চাল, গম, ভুট্টা, যব, গোল আলু এসব স্টার্চ গ্লুকোজের প্রাকৃতিক পলিমার। 
- মাছ, মাংস, ডিম এসব প্রোটিন অ্যামাইনো এসিডের পলিমার। 

২। কৃত্রিম পলিমার: 
- পরীক্ষাগারে বা শিল্প-কারখানায় কৃত্রিমভাবে প্রস্তুত করে যে সমস্ত পলিমার পাওয়া যায়, তাদেরকে কৃত্রিম পলিমার বলে। 
যেমন: পলিইথিলিন, পলিভিনাইল ক্লোরাইড (PVC), পলিস্ট্যারিন, টেফলন, টেরিলিন, নাইলন ইত্যাদি। 

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬০.
কোনটি গ্যালভানিক কোষ?
  1. ক) ল্যাকলেন্স কোষ
  2. খ) ড্রাই সেল
  3. গ) ডেনিয়েল সেল
  4. ঘ) লেড স্টোরেজ ব্যাটারি
সঠিক উত্তর:
গ) ডেনিয়েল সেল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ডেনিয়েল সেল
ব্যাখ্যা
ডেনিয়েল সেল একটি গ্যালভানিক কোষ কারণ এখানে বাহির থেকে শক্তির দরকার হয় না এবং রাসায়নিক শক্তি বিদ্যুৎ শক্তিতে পরিণত হয়৷
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর রসায়ন বোর্ড বই
৬১.
জৈব যৌগের প্রধান রসায়নিক উপাদান কোনটি?
  1. লোহা
  2. সোডিয়াম
  3. ক্যালসিয়াম
  4. কার্বন
সঠিক উত্তর:
কার্বন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কার্বন
ব্যাখ্যা

• জৈব যৌগের প্রধান রসায়নিক উপাদান হলো কার্বন। কারণ জীবজগতে উপস্থিত সব প্রজাতির অণু মূলত কার্বন দ্বারা গঠিত। কার্বন বিভিন্ন পরমাণুর সঙ্গে স্থায়ী বন্ধন সৃষ্টি করতে পারে, যা জটিল ও বড় অণু তৈরিতে সক্ষম। উদাহরণস্বরূপ, প্রোটিন, লিপিড, শর্করা এবং নিউক্লিক অ্যাসিড- কার্বনের ভিত্তিতে গঠিত। কার্বনের এই বৈশিষ্ট্য জৈব যৌগকে স্থিতিশীল এবং বৈচিত্র্যময় করে তোলে। লোহা, সোডিয়াম বা ক্যালসিয়াম জীবকোষে থাকা খনিজ উপাদান হলেও, জৈব যৌগের মূল কাঠামো গঠনে তারা ভূমিকা রাখে না। তাই জৈব রসায়নে কার্বনকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে ধরা হয়।

- সঠিক উত্তর: ঘ) কার্বন।
 
• জৈব যৌগ:
- কার্বন ও হাইড্রোজেন দ্বারা গঠিত যৌগসমূহকে হাইড্রোকার্বন বলা হয় এবং এই হাইড্রোকার্বন ও এদের জাতকসমূহকে জৈব যৌগ বলে।'
যেমন:- মিথেন (CH4), মিথানল (CH3OH), অ্যানিলিন (C6H5NH2) ইত্যাদি।

• কার্বনের ক্যাটেনেশন ধর্মের কারণে এটি জৈব যৌগের প্রধান উপাদান হিসেবে বিবেচিত হয়।

• জৈব যৌগের বৈশিষ্ট্য:
- জৈব যৌগে কার্বনের সাথে হাইড্রোজেন, অক্সিজেন, নাইট্রোজেন, সালফার প্রভৃতি মৌল যুক্ত থাকে।  
- প্রধানত সমযোজী বন্ধন দ্বারা গঠিত হয়। 
- নিম্ন গলনাঙ্ক ও নিম্ন স্ফুটনাংক বিশিষ্ট হয়।
- জৈব যৌগ পোলার দ্রাবক যেমন পানিতে অদ্রবণীয়, কিন্তু জৈব দ্রাবক যেমন, ইথার ও বেনজিনে দ্রবণীয়। তবে হাইড্রক্সিল মূলক যুক্ত যৌগ (চিনি, অ্যালকোহল) পানিতে দ্রবণীয়।
-জৈব যৌগের দহনের পর কোনো অবশেষ থাকে না। 
-জৈব যৌগ গলিত অবস্থায় বা দ্রবণে আয়নিত হয় না বলে তড়িৎ বিশ্লেষ্য নয়। অর্থাৎ বিশুদ্ধ জৈব যৌগ তড়িৎ অপরিবাহী।
-জৈব বিক্রিয়ার কৌশল জটিল ও মন্থর গতির হয়।

তথ্যসূত্র:
- রসায়ন ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬২.
কোন মৌল হাইড্রোকার্বনের মূল উপাদান হিসেবে কাজ করে?
  1. প্রাকৃতিক গ্যাস
  2. কেরোসিন
  3. মোম
  4. সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
ব্যাখ্যা

• হাইড্রোকার্বন হলো কার্বন এবং হাইড্রোজেন পরমাণুর সংমিশ্রণে গঠিত যৌগ। প্রাকৃতিক গ্যাস, কেরোসিন, এবং মোম—এই সবই মূলত হাইড্রোকার্বন থেকে তৈরি। প্রাকৃতিক গ্যাস প্রধানত মিথেনের সমন্বয়ে গঠিত, যা সহজ একটি হাইড্রোকার্বন। কেরোসিন তেল থেকে প্রাপ্ত একটি ফ্র্যাকশন, যা লম্বা চেইনের হাইড্রোকার্বন নিয়ে গঠিত। মোমও বিশেষ ধরনের লিপিড এবং হাইড্রোকার্বনের বড় চেইন দ্বারা গঠিত। সুতরাং, এই তিনটি পদার্থই হাইড্রোকার্বনের উপর নির্ভরশীল। তাই প্রশ্নের সঠিক উত্তর হলো “ঘ) সবগুলোই”, কারণ সবগুলোই হাইড্রোকার্বনকে মূল উপাদান হিসেবে ব্যবহার করে।

হাইড্রোকার্বন: 
- হাইড্রোকার্বন হলো শুধু কার্বন ও হাইড্রোজেন এর সমন্বয়ে গঠিত যৌগ। 
যেমন - মিথেন (CH4), ইথিন (C2H4), বেনজিন (C6H6) ইত্যাদি। 
- যৌগগুলোতে কার্বন আর হাইড্রোজেন ছাড়া আর কোনো মৌল নেই। 
- হাইড্রোকার্বন মূলত দুই প্রকার। 
যথা - 
(i) অ্যালিফেটিক হাইড্রোকার্বন ও 
(ii) অ্যারোমেটিক হাইড্রোকার্বন। 

- কেরোসিন, প্রাকৃতিক গ্যাস, মোম এগুলোর মূল উপাদান হাইড্রোকার্বন। 
- হাইড্রোকার্বন হচ্ছে কার্বন আর হাইড্রোজেনের যৌগ। 
- তাই যখন এগুলোর দহন ঘটে তখন বাতাসের অক্সিজেনের সাথে এগুলোর বিক্রিয়া হয় এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড, জলীয় বাষ্প, আলো আর তাপশক্তির সৃষ্টি হয়। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

৬৩.
পিভিসি প্লাস্টিক পোড়ালে কোন গ্যাসটি নিঃসৃত হয়? 
  1. ওজোন
  2. হাইড্রোজেন ক্লোরাইড
  3. ক্লোরোফ্লোরো কার্বন
  4. হাইড্রোজেন সায়ানাইড
সঠিক উত্তর:
হাইড্রোজেন ক্লোরাইড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাইড্রোজেন ক্লোরাইড
ব্যাখ্যা
প্লাস্টিক: 
- প্লাস্টিক শব্দের অর্থ হলো সহজেই ছাচঁযোগ্য। 
- নরম অবস্থায় প্লাস্টিক ইচ্ছেমতো ছাঁচে ফেলে সেটা থেকে নির্দিষ্ট আকার-আকৃতি বিশিষ্ট পদার্থ তৈরি করা যায়। 
- প্লাস্টিক জাতীয় সবকিছুই পলিমার পদার্থ, বেশির ভাগ প্লাস্টিকই পানিতে অদ্রবণীয়। 
- প্লাস্টিকের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্ম হলো এরা বিদ্যুৎ এবং তাপ পরিবহন করে না তাই বিদ্যুৎ এবং তাপ নিরোধক হিসেবে এদের বহুল ব্যবহার রয়েছে। 
- প্লাস্টিকের সবচেয়ে বড় ধর্ম হলো গলিত অবস্থায় এদেরকে যেকোন আকার দেয়া যায়। 
- পলিথিন, পিভিসি পাইপ, পলিস্টার কাপড়, বাচ্ছাদের খেলনা- এসব প্লাস্টিক তাপ দিলে নরম হয়ে যায় এবং গলিত প্লাস্টিক ঠান্ডা করলে শক্ত হয়ে যায়, এদেরকে থার্মোপ্লাস্টিকস (Thermoplastics) বলে। 
- অন্যদিকে মেলামাইন, বাকেলাইট এগুলো তাপ দিলে নরম হয় না বরং পুড়ে শক্ত হয়ে যায়। এদেরকে একবারের বেশি ছাঁচে ফেলে নির্দিষ্ট আকার দেওয়া যায় না, এসব প্লাস্টিককে থার্মোসেটিং প্লাস্টিকস (Thermosetting Plastics) বলে। 
- প্লাস্টিক পোড়ালে অনেক ক্ষতিকর পদার্থ বের হয়। 
যেমন: পিভিসি পোড়ালে হাইড্রোজেন ক্লোরাইড (HCl) গ্যাস নিঃসৃত হয়। আবার পলিইউরেথেন প্লাস্টিক পোড়ালে কার্বন মনোক্সাইড গ্যাস এবং হাইড্রোজেন সায়ানাইডের মতো বিষাক্ত গ্যাস তৈরি হয়। 
- বেশির ভাগ প্লাস্টিক রাসায়নিকভাবেশ যথেষ্ট নিষ্ক্রিয়, এরা বাতাসের জলীয় বাষ্প এবং অক্সিজেনের সাথে বিক্রিয়া করে না এবং ক্ষয়প্রাপ্ত হয় না। 
- প্লাস্টিক কোন পচনশীল বস্তু নয়, এরা দীর্ঘদিন মাটি বা পানিতে পড়ে থাকলেও পচে না। 
- প্লাস্টিক সাধারণত দাহ্য হয় অর্থাৎ এদেরকে আগুন ধরালে পুড়তে থাকে এবং প্রচুর তাপশক্তি উৎপন্ন করে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৬৪.
তড়িৎ রাসায়নিক কোষে যে তড়িৎদ্বারে বিজারণ বিক্রিয়া সংঘটিত হয়, তাকে কী বলা হয়? 
  1.  ধারক 
  2. ক্যাথোড 
  3. অ্যানোড 
  4. রেজিস্টার 
সঠিক উত্তর:
ক্যাথোড 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্যাথোড 
ব্যাখ্যা

তড়িৎদ্বার (Electrode): 
- তড়িৎ রাসায়নিক কোষে বিগলিত বা দ্রবীভূত তড়িৎ বিশ্লেষ্যের মধ্যে যে দুটি ইলেকট্রনীয় পরিবাহী অর্থাৎ ধাতব দণ্ড বা গ্রাফাইট দণ্ড অর্ধেক ডুবানো থাকে তাদেরকে তড়িৎদ্বার বলা হয়। 
- তড়িৎ রাসায়নিক কোষে একটি তড়িৎদ্বারে পরমাণু বা ঋণাত্বক আয়ন ইলেকট্রন ত্যাগ করে। 
অর্থাৎ, এ তড়িৎদ্বারে জারণ বিক্রিয়া সংঘটিত হয়। 
- অপর তড়িৎ দ্বারে ধনাত্মক আয়ন ইলেকট্রন গ্রহণ করে। 
অর্থাৎ, এ তড়িৎদ্বারে বিজারণ বিক্রিয়া সংঘটিত হয় এবং সম্পূর্ণ কোষের মধ্যে জারণ-বিজারণ বিক্রিয়া সংঘটিত হয়। 
- যে তড়িৎদ্বারে জারণ বিক্রিয়া ঘটে তাকে অ্যানোড তড়িৎদ্বার আর যে তড়িৎদ্বারে বিজারণ বিক্রিয়া ঘটে তাকে ক্যাথোড তড়িৎদ্বার বলে। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

৬৫.
পাকা কলায় কোন ধরনের এস্টার বিদ্যমান থাকে?
  1. ক) ইথাইল বিউটারেট
  2. খ) অকটাইল অ্যাসিটেড
  3. গ) মিথাইল বিউটারেট
  4. ঘ) অ্যামাইল অ্যাসিটেড
সঠিক উত্তর:
ঘ) অ্যামাইল অ্যাসিটেড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) অ্যামাইল অ্যাসিটেড
ব্যাখ্যা

- এস্টার হলো জৈব কার্বক্সিলিক এসিডের একটি জাতক।
- এস্টার বিভিন্ন ফুল ও ফলের মিষ্টি গন্ধের জন্য দায়ী।
- পাকা কলায় অ্যামাইল অ্যাসিটেড,
- পাকা কমলায় অকটাইল অ্যাসিটেড,
- পাকা আনারসে ইথাইল বিউটারেট,
- নাশপাতিতে ৩-মিথাইল বিউটাইল ইথানোয়েট এস্টার বিদ্যমান থাকে।

৬৬.
মোমের প্রধান উপাদান কী? 
  1. কার্বন 
  2. কার্বোহাইড্রেট 
  3. সালফার 
  4. হাইড্রোকার্বন 
সঠিক উত্তর:
হাইড্রোকার্বন 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাইড্রোকার্বন 
ব্যাখ্যা

দৈনন্দিন জীবনের বিভিন্ন বিষয় রসায়নের বিশ্লেষণ: 
- কাঁচা আমে বিভিন্ন ধরনের জৈব এসিড যেমন: সাক্সিনিক এসিড, ম্যালেয়িক এসিড প্রভৃতি থাকে, যার ফলে কাঁচা আম টক হয়। 
- কিন্তু আম যখন পাকে তখন এই এসিডগুলোর রাসায়নিক পরিবর্তন ঘটে গ্লুকোজ ও ফ্রুক্টোজের সৃষ্টি হয়, তাই পাকা আম মিষ্টি হয়। 

- কেরোসিন, প্রাকৃতিক গ্যাস, মোম এগুলোর মূল উপাদান হাইড্রোকার্বন। 
- হাইড্রোকার্বন হচ্ছে কার্বন আর হাইড্রোজেনের যৌগ। 
- তাই যখন এইগুলোর দহন ঘটে তখন বাতাসের অক্সিজেনের সাথে এইগুলোর বিক্রিয়া হয় এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড, জলীয় বাষ্প, আলো আর তাপশক্তির সৃষ্টি হয়। 

- পাকস্থলীতে অতিরিক্ত হাইড্রোক্লোরিক এসিড নিঃসরিত হলে পেটে এসিডিটির সমস্যা হয়। 
- এন্টাসিডে থাকে অ্যালুমিনিয়াম হাইড্রোক্সাইড ও ম্যাগনেসিয়াম হাইড্রোক্সাইড, এই দুটি যৌগ এসিডকে প্রশমিত করে। 
- দৈনন্দিন জীবনের বিভিন্ন জিনিস রসায়নের সাথে সম্পর্কিত। কাজেই বিজ্ঞানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শাখার একটি হলো রসায়ন। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

৬৭.
সূর্যালোকের উপস্থিতিতে মিথেন ক্লোরিনের সাথে বিক্রিয়া করে কোন যৌগ তৈরি করে? 
  1. অ্যালডিহাইড
  2. অ্যালকাইল হ্যালাইড
  3. অ্যালকোহল
  4. জৈব এসিড
সঠিক উত্তর:
অ্যালকাইল হ্যালাইড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অ্যালকাইল হ্যালাইড
ব্যাখ্যা
হাইড্রোকার্বন থেকে অ্যালকোহল, অ্যালডিহাইড ও জৈব এসিড প্রস্তুতি: 
- পেট্রোলিয়ামের প্রধান উপাদান হচ্ছে হাইড্রোকার্বন (অ্যালকেন, অ্যালকিন ও অ্যালকাইন) এবং এই হাইড্রোকার্বন থেকেও অ্যালকোহল, অ্যালডিহাইড ও জৈব এসিড প্রস্তুত করা যায়। 
যেমন- 
(i) সূর্যালোকের উপস্থিতিতে সম্পৃক্ত হাইড্রোকার্বন বা অ্যালকেন হ্যালোজেনের সাথে বিক্রিয়া করে অ্যালকাইল হ্যালাইড উৎপন্ন করে। সূর্যালোকের অতিবেগুনি রশ্মির উপস্থিতিতে মিথেনের সাথে ক্লোরিন বিক্রিয়া করে। হাইড্রোজেন পার-অক্সাইডের উপস্থিতিতে অ্যালকিন হাইড্রোজেন ব্রোমাইডের সাথে বিক্রিয়া করে অ্যালকাইল ব্রোমাইড উৎপন্ন করে। অ্যালকাইল হ্যালাইড সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইডের জলীয় দ্রবণের সাথে বিক্রিয়ায় অ্যালকোহলে পরিণত হয়। উৎপন্ন অ্যালকোহলকে শক্তিশালী জারক (K2Cr2O7 ও H2SO4) দ্বারা জারিত করলে প্রথমে অ্যালডিহাইড/কিটোন এবং পরবর্তীকালে জৈব এসিডে পরিণত হয়। 

(ii) ফসফরিক এসিডের উপস্থিতিতে অ্যালকিন 300°C তাপমাত্রায় এবং 60 atm চাপে জলীয় বাষ্পের (H2O) সাথে বিক্রিয়া করে অ্যালকোহল উৎপন্ন করে। 2% মারকিউরিক সালফেট (HgSO4) এবং 20% সালফিউরিক এসিডের (H2SO4) উপস্থিতিতে অ্যালকাইন (ইথাইন) পানির সাথে বিক্রিয়া করে অ্যালডিহাইড উৎপন্ন করে। তবে HgSO4 বিষাক্ত হওয়ায় শিল্পক্ষেত্রে এর ব্যবহার নিরুৎসাহিত করা হয়। পেট্রোলিয়াম থেকে প্রাপ্ত অ্যালকেনকে উচ্চ তাপ ও চাপে বায়ুর অক্সিজেন দ্বারা জারিত করলে জৈব এসিড উৎপন্ন হয়। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৬৮.
ডিটারজেন্ট এবং সাবানের মধ্যে পার্থক্য কী? 
  1. উভয়ই ঠান্ডা পানিতে গলে
  2. উভয়ই ঠান্ডা পানিতে গলে না
  3. সাবান ঠান্ডা পানিতে গলে যায়, ডিটারজেন্ট গলে না
  4. ডিটারজেন্ট ঠান্ডা পানিতে গলে যায়, সাবান গলে না
সঠিক উত্তর:
ডিটারজেন্ট ঠান্ডা পানিতে গলে যায়, সাবান গলে না
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডিটারজেন্ট ঠান্ডা পানিতে গলে যায়, সাবান গলে না
ব্যাখ্যা
ডিটারজেন্ট: 
- ডিটারজেন্ট বিশেষভাবে সিনথেটিক পদার্থ থেকে প্রস্তুত করা হয়। 
- এই সিনথেটিক পদার্থ তৈরিতে বিভিন্ন কাচাঁমাল ব্যবহৃত হয়। 
যেমন- পেট্রোলিয়াম উপজাতসমূহ, সাবান তৈরির উপাদান, উদ্ভিজ্জ ও প্রাণিজ চর্বি ইত্যাদি। 
- এছাড়া ডিটারজেন্টের মধ্যে থাকে গন্ধদ্রব্য, রঙ এবং কখনো জীবাণুনাশক পদার্থ। 
- ডিটারজেন্ট খর পানিতে কাজ করে এবং উত্তম ফেনা তৈরি করে। 
- ডিটারজেন্ট লবণের সাথে বিক্রিয়া করে দই বা চুন উৎপন্ন করে না। 
- ডিটারজেন্টের কঠিন তলে ঢোকার ক্ষমতা বেশি। 
- ডিটারজেন্ট ঠান্ডা পানিতে গলে যায় কিন্তু সাবান ঠান্ডা পানিতে সহজে গলে না। 

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৯.
রাবার নিচের কোন জৈব দ্রাবকে অদ্রবণীয় থাকে?
  1. বেনজিন
  2. ইথার
  3. পেট্রোল
  4. মিথানল
সঠিক উত্তর:
মিথানল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মিথানল
ব্যাখ্যা
রাবার: 
- পেনসিলের লেখা মোছার জন্য যে ইরেজার ব্যবহার করা হয়, সেটি এক ধরনের রাবার। 
- সাইকেল, রিকশা বা অন্যান্য গাড়ির টায়ার, টিউব, জন্মদিনে ব্যবহৃত বেলুন ইত্যাদি সবই রাবারের তৈরি। 
- পানির পাইপ, সার্জিক্যাল মোজা, কনভেয়ার বেল্ট, রাবার ব্যান্ড, বাচ্চাদের দুধ খাওয়ানোর নিপল-এগুলোও রাবারের তৈরি সামগ্রী। 
- রাবার এবং রাবারজাত পণ্যসামগ্রী জীবনের অনেক কাজের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। 

রাবারের ভৌত ধর্ম: 
- প্রাকৃতিক রাবার পানিতে অদ্রবণীয় একটি অদানাদার কঠিন পদার্থ। 
- রাবার কিছু কিছু জৈব দ্রাবক (যেমন- এসিটোন, মিথানল) এগুলোতে অদ্রবণীয় হলেও টারপেন্টাইন, পেট্রোল, ইথার, বেনজিন এগুলোতে সহজেই দ্রবণীয়। 
- রাবার সাধারণত সাদা বা হালকা বাদামি রঙের হয়। 
- রাবার একটি স্থিতিস্থাপক পদার্থ অর্থাৎ একে টানলে লম্বা হয় এবং ছেড়ে দিলে আগের অবস্থায় ফিরে যায়। 
- বেশিরভাগ রাবারই তাপ সংবেদনশীল অর্থাৎ তাপ দিলে গলে যায়। 
- বিশুদ্ধ রাবার বিদ্যুৎ এবং তাপ কুপরিবাহী। তবে বিজ্ঞানীরা বিশেষভাবে তৈরি বিদ্যুৎ পরিবাহী রাবার আবিষ্কার করেছেন। 

রাবারের রাসায়নিক ধর্ম: 
- প্রায় প্রতিটি পদার্থ তাপ দিলে আয়তনে বাড়ে কিন্তু রাবারের বেলায় ঠিক উল্টোটি ঘটে অর্থাৎ তাপ দিলে রাবারের আয়তন কমে যায়। 
- রাবারের একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ রাসায়নিক ধর্ম হলো এটি বেশ কিছু রাসায়নিক পদার্থ (যেমন- দুর্বল ক্ষার, এসিড, পানি) এগুলোর সাথে রাসায়নিক বিক্রিয়া করে না।
- যে কারণে কোনো কিছু রক্ষা করার জন্য প্রলেপ দেওয়ার কাজে এটি ব্যবহৃত হয়। 
- রাবার দীর্ঘদিন রেখে দিলে সেটি ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যায়। এর কারণ হলো রাবার বাতাসের অক্সিজেনের সাথে বিক্রিয়া করে।
- অক্সিজেন ছাড়াও আরও কিছু রাসায়নিক পদার্থ, বিশেষ করে ওজোন (O3) প্রাকৃতিক রাবারের সাথে বিক্রিয়া করে, যার কারণে রাবার ধীরে ধীরে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে নষ্ট হয়ে যায়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৭০.
রেকটিফাইড স্পিরিট কী?  
  1. মিথানলের জলীয় দ্রবণ 
  2. ইথানলের জলীয় দ্রবণ  
  3. মিথোনয়িক এসিডের জলীয় দ্রবণ 
  4. ইথোনয়িক এসিডের জলীয় দ্রবণ 
সঠিক উত্তর:
ইথানলের জলীয় দ্রবণ  
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইথানলের জলীয় দ্রবণ  
ব্যাখ্যা

অ্যালকোহল: 
- অ্যালকোহল বলতে সাধারণভাবে ইথানলকে বোঝায়। 
- স্টার্চ থেকে গাঁজন ক্রিয়ার মাধ্যমে ইথানল উৎপাদন করা হয়। 
- এটি একটি শক্তিশালী জৈব দ্রাবক। 
- ৯৫.৬% ইথানল ও ৪.৪% পানির মিশ্রণকে রেকটিফাইড স্পিরিট বলে। 
- রেকটিফাইড স্পিরিটকে হোমিও ওষুধে ব্যবহার করা হয়। 

- ইথানলকে পারফিউম, কসমেটিক্স, ফার্মাসিউটিক্যাল শিল্পে ব্যাপক ভাবে ব্যবহার করা হয়। 
- ইথানল পানীয় হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। 
- পানীয় হিসেবে ইথানলকে ব্যবহার না করার জন্য রেটিফাইড স্পিরিটের সাথে সামান্য মিথানল যোগ করে দেয়া হয়। 
- রেকটিফাইড স্পিরিটের সাথে মিথানল যুক্ত থাকলে এটি সম্পূর্ণভাবে পানের অযোগ্য হয়। এ মিশ্রণকে মেথিলেটেড স্পিরিট বলে। 

- ঔষধ শিল্পে ও খাদ্য শিল্পে ব্যবহৃত অ্যালকোহলের মধ্যে মিথানল যোগ করা হয় না। 
- ইথানলকে মোটর ইঞ্জিনের জ্বালানী হিসেবেও ব্যবহার করা যায়। 
- পেট্রোলিয়াম জাতীয় উপাদানের সাথে প্রায় ৩০% ইথানল যোগ করে এ ধরনের জ্বালানী তৈরী করা হয়। এভাবে ব্যবহৃত অ্যালকোহলকে পাওয়ার অ্যালকোহল বলে। 
- অ্যালকোহলকে জ্বালানী হিসেবে ব্যবহার করলে জীবাশ্ম জ্বালানীর উপর চাপ কম পড়ে। তাছাড়া এটি পরিবেশ বান্ধব। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭১.
বজ্রপাতের মাধ্যমে মাটিতে নাইট্রোজেন কীভাবে পৌঁছায়?
  1. বাতাসের চাপের মাধ্যমে
  2. বজ্রপাত দ্বারা নাইট্রোজেন অ্যামোনিয়াম ও নাইট্রেটে রূপান্তর, বৃষ্টিতে মাটিতে পৌঁছানো
  3. সূর্যালোকের বিকিরণ দ্বারা
  4. অক্সিজেনের সরাসরি আঘাতের মাধ্যমে
সঠিক উত্তর:
বজ্রপাত দ্বারা নাইট্রোজেন অ্যামোনিয়াম ও নাইট্রেটে রূপান্তর, বৃষ্টিতে মাটিতে পৌঁছানো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বজ্রপাত দ্বারা নাইট্রোজেন অ্যামোনিয়াম ও নাইট্রেটে রূপান্তর, বৃষ্টিতে মাটিতে পৌঁছানো
ব্যাখ্যা

বজ্রপাত নাইট্রোজেনকে অ্যামোনিয়াম (NH4+) এবং নাইট্রেটে (NO3-) রূপান্তরিত করে, পরে বৃষ্টির মাধ্যমে মাটিতে পৌঁছায়।

- মাটিতে নাইট্রোজেনের উৎস নাইট্রোজেন লবণ।
- বায়ুমন্ডলে শতকরা প্রায় ৮০ ভাগ নাইট্রোজেন থাকা সত্ত্বেও উদ্ভিদ সরাসরি বায়ুমন্ডল থেকে নাইট্রোজেন গ্রহণ করতে পারে না।
 - উদ্ভিদ মাটি থেকে আয়নিত অবস্থায় নাইট্রোজেন গ্রহণ করে থাকে।
- বিশ্বে ব্যবহৃত নাইট্রোজেন সারের মধ্যে ইউরিয়া অন্যতম প্রধান এবং বহুল ব্যবহৃত সার।
- বজ্রপাত একটি শক্তিশালী সার প্রদানকারী এজেন্ট।
- প্রতিবার বজ্রপাত ঘটলে, বায়ুমণ্ডলে নাইট্রোজেন হাইড্রোজেন বা অক্সিজেনের সাথে মিলিত হয়ে অ্যামোনিয়াম এবং নাইট্রেট তৈরি করে।
- নাইট্রোজেন তারপর বৃষ্টিতে মাটিতে ধুয়ে যায়।
- গাছপালা তখন মাটি থেকে নাইট্রোজেন শোষণ করে এবং বৃদ্ধির জন্য ব্যবহার করে।
- যেহেতু ইহা ক্লোরোফিলের একটি মূল উপাদান বিধায় নাইট্রোজেন গাছের সবুজায়ন ঘটায়।

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭২.
সম্পৃক্ত কার্বক্সিলিক এসিডের গ্লিসারিন এস্টার কোনটি? 
  1. তৈল
  2. চর্বি
  3. সাবান
  4. ডিটারজেন্ট
সঠিক উত্তর:
চর্বি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চর্বি
ব্যাখ্যা
তৈল ও চর্বি: 
- তৈল ও চর্বিকে একত্রে লিপিড বলে। 
- তৈল ও চর্বি হল গ্লিসারল বা গ্লিসারিন এর উচ্চতর ফ্যাটি এসিডের এস্টার। 
- উচ্চতর ফ্যাটি এসিডের মধ্যে সম্পৃক্ত পামিটিক এসিড, স্টেয়ারিক এসিড এবং অসম্পৃক্ত অলিয়িক এসিড, লিনোলিক এসিড ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।

তৈল ও চর্বির পার্থক্য: 
(১) সম্পৃক্ত কার্বক্সিলিক এসিডের গ্লিসারিন এস্টার হলো কঠিন চর্বি এবং অসম্পৃক্ত কার্বক্সিলিক এসিডের গ্লিসারিন এস্টার হলো তৈল। 
(২) তৈলের গলনাঙ্ক 20°C এর কম হয়, কিন্তু চর্বির গলনাঙ্ক 20°C এর অধিক হয়। 
(৩) তৈল উদ্ভিদ দেহে কিন্তু চর্বি প্রাণি দেহে উৎপন্ন হয়। 

তৈল ও চর্বির গুরুত্ব: 
(১) খাদ্যরূপে তৈল ও চর্বি থেকে আমরা শক্তি থাকি। 
[1g তৈল বা চর্বি = 9 cal = 9 ×4.184 J খাদ্যমান] 
(২) তৈল ও চর্বির ক্ষারীয় বিশ্লেষণে সাবান ও উৎপন্ন হয়। 
(৩) রং- বার্নিশ ও প্রসাধনী তৈরিতে তৈল চর্বি ব্যবহূত হয়। 
(৪) তৈলকে নিকেল উপস্থিতিতে হাইড্রোজেনেশন বা হাইড্রোজেন সংযোজন দ্বারা চর্বিতে পরিণত করা যায়। 
যেমন - সয়াবিন তৈলকে হাইড্রোজেনেশন করে মার্জারিন নামক চর্বি তৈরি করা হয়। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, (হাজারী নাগ)।
৭৩.
নিকেল অক্সাইড সঞ্চয়ী কোষ এক ধরনের- 
  1. শুষ্ক কোষ
  2. ড্যানিয়েল কোষ
  3. সেকেন্ডারি কোষ
  4. প্রাথমিক কোষ
সঠিক উত্তর:
সেকেন্ডারি কোষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সেকেন্ডারি কোষ
ব্যাখ্যা

তড়িৎ রাসায়নিক কোষ: 
- যে কোষে রাসায়নিক জারণ বিজারণ বিক্রিয়ার ফলে রাসায়নিক শক্তি তড়িৎ শক্তিতে পরিণত হয়, তাকে তড়িৎ রাসায়নিক কোষ বলে। 
- তড়িৎ রাসায়নিক কোষকে স্বতঃস্ফূর্ততার ভিত্তিতে দুই শ্রেণিতে ভাগ করা যায়। 
যেমন- 
১। প্রাথমিক কোষ বা প্রাইমারি কোষ: 
- যে তড়িৎ রাসায়নিক কোষ নিজের রাসায়নিক শক্তি থেকে সরাসরি তড়িৎ উৎপন্ন করে তড়িৎ প্রবাহ বজায় রাখে, তাকে প্রাথমিক কোষ বলে। 
যেমন- ড্যানিয়েল কোষ, শুষ্ক কোষ বা ড্রাই সেল ইত্যাদি হলো প্রাথমিক কোষ। 

২। সেকেন্ডারি কোষ বা সঞ্চয়ী কোষ: 
- যে তড়িৎ রাসায়নিক কোষে বাইরে থেকে বিদ্যুত প্রবাহিত করে বিদ্যুত শক্তিকে রাসায়নিক শক্তি রূপে সঞ্চিত করা হয় এবং পরে ঐ রাসায়নিক শক্তিকে পুনরায় বিদ্যুত শক্তিতে রূপান্তরিত করা হয়, তাকে সেকেন্ডারি কোষ বলে। 
যেমন- লেড-এসিড স্টোরেজ কোষ, নিকেল অক্সাইড সঞ্চয়ী কোষ, লেড সঞ্চয়ী কোষ ইত্যাদি হলো সেকেন্ডারি কোষ। 

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

৭৪.
কোন যৌগটি সাবানকে শক্ত করে?
  1. সোডিয়াম ক্লোরাইড
  2. সোডিয়াম সিলিকেট
  3. সোডিয়াম গ্লটামেট
  4. সোডিয়াম সালফেট
সঠিক উত্তর:
সোডিয়াম সিলিকেট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সোডিয়াম সিলিকেট
ব্যাখ্যা
• সাবান:
- সাধারণত সাবান হলো উচ্চতর ফ্যাটি এসিডের সোডিয়াম লবণ (R-COONa) বা উচ্চতর ফ্যাটি এসিডের পটাশিয়াম লবণ (R- COOK)।
- এর রাসায়নিক নাম হলো সোডিয়াম স্টিয়ারেট (C17H35COONa)।
- সাবান বহুল প্রচলিত পরিষ্কারক সামগ্রী হিসেবে দেহ এবং কাপড়-চোপড় পরিষ্কারের জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে।
- 'সোডিয়াম সিলিকেট(Na2SiO3) ' সাবানকে শক্ত করতে ব্যবহার করা হয়। 
- সাবান তৈরির প্রধান কাঁচামাল হচ্ছে তেল বা চর্বি।
- তেল বা চর্বিকে সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড বা পটাশিয়াম হাইড্রোক্সাইড দ্রবণ দ্বারা আর্দ্র বিশ্লেষণ করলে সোডিয়াম সাবান বা পটাশিয়াম সাবান উৎপন্ন হয়।
- সাবান তৈরির সময় উপজাত হিসেবে গ্লিসারিন পাওয়া যায়।

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি এবং রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৭৫.
স্যাকারিন প্রস্তুত হয়-
  1. বেনজিন থেকে
  2. টলুইন থেকে
  3. ফেনল থেকে
  4. এলডিহাইড থেকে
সঠিক উত্তর:
টলুইন থেকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
টলুইন থেকে
ব্যাখ্যা
• স্যাকারিন:
- স্যাকারিন হলো একটি কৃত্রিম মিষ্টি, যা প্রকৃত চিনি থেকে প্রায় ৩০০-৪০০ গুণ বেশি মিষ্টি।
- এটি সাধারণত টলুইন (Toluene) থেকে প্রস্তুত করা হয়।
- রাসায়নিক নাম: o-Benzosulfimide
- ব্যবহার: ডায়েট খাবার, ডায়াবেটিকদের জন্য বিকল্প মিষ্টি, সফট ড্রিঙ্ক, ওষুধে।

উৎস: ব্রিটানিকা।
৭৬.
ড্রাই সেলে ধনাত্মক পাত হিসেবে কাজ করে -
  1. ক) কার্বন দণ্ড
  2. খ) সীসার কৌটা
  3. গ) দস্তার কৌটা
  4. ঘ) ম্যাঙ্গানিজ অক্সাইড
সঠিক উত্তর:
ক) কার্বন দণ্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) কার্বন দণ্ড
ব্যাখ্যা
বিদ্যুৎ কোষ প্রধাণত দুই প্রকার। যথা- সাধারণ বিদ্যুৎ কোষ ও শুষ্ক বিদ্যুৎ কোষ।

শুষ্ক বিদ্যুৎ কোষে দস্তার তৈরি চোঙ এবং একটি কার্বন দন্ড ব্যবহৃত হয়। দস্তার চোঙে নিশাদল, কয়লার গুড়া এবং ম্যাঙ্গানিজ ডাই-অক্সাইডের মিশ্রণের সাথে সামান্য পানি মিশিয়ে লেই বা কাদার মত অবস্থায় দস্তার চোঙের মধ্যে ভর্তি করা হয়। চোঙের মধ্যে একি কার্বনের দন্ড এমনভাবে বসানো হয় যাতে তা চোঙটিকে স্পর্শ না করে।
কার্বন দন্ডটির মাথায় পিতলের টুপি লাগানো থাকে। কার্বন দন্ডের চারপাশে গালা বা পিচের স্তর দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়।

এ কোষের দস্তার চোঙটি ঋণ-মেরু এবং কার্বন দন্ড ধন-মেরু হিসেবে কাজ করে। এ কোষে ম্যাঙ্গানিজ ডাই-অক্সাইড পোলারন নিবারনের কাজ করে।
এতে সাধারণত ১.৫ ভোল্ট চাপের বিদ্যুৎ পাওয়া যায়।

উৎসঃ নবম দশম শ্রেণীর সাধারণ বিজ্ঞান বই (উন্মুক্ত)।
৭৭.
দুই প্রকোষ্ঠবিশিষ্ট তড়িৎ রাসায়নিক কোষ কোনটি? 
  1. শুষ্ক কোষ
  2. গ্যালভানিক কোষ
  3. ড্রাই সেল
  4. সরল ভোল্টায়িক কোষ
সঠিক উত্তর:
গ্যালভানিক কোষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ্যালভানিক কোষ
ব্যাখ্যা
দুই প্রকোষ্ঠবিশিষ্ট তড়িৎ রাসায়নিক কোষ হচ্ছে গ্যালভানিক কোষ। 
- এক প্রকোষ্ঠবিশিষ্ট তড়িৎ রাসায়নিক কোষ হচ্ছে শুষ্ক কোষ বা ড্রাই সেল এবং সরল ভোল্টায়িক কোষ। 

তড়িৎ রাসায়নিক কোষ: 

- যে কোষে রাসায়নিক জারণ বিজারণ বিক্রিয়ার ফলে রাসায়নিক শক্তি তড়িৎ শক্তিতে পরিণত হয়, তাকে তড়িৎ রাসায়নিক কোষ বলে। 
- তড়িৎ রাসায়নিক কোষকে স্বতঃস্ফূর্ততার ভিত্তিতে দুই শ্রেণিতে ভাগ করা যায়। 
যেমন- 
১। প্রাথমিক কোষ বা প্রাইমারি কোষ: 
- যে তড়িৎ রাসায়নিক কোষ নিজের রাসায়নিক শক্তি থেকে সরাসরি তড়িৎ উৎপন্ন করে তড়িৎ প্রবাহ বজায় রাখে, তাকে প্রাথমিক কোষ বলে। 
যেমন- ড্যানিয়েল কোষ, শুষ্ক কোষ বা ড্রাই সেল ইত্যাদি হলো প্রাথমিক কোষ। 

২। সেকেন্ডারি কোষ বা সঞ্চয়ী কোষ: 
- যে তড়িৎ রাসায়নিক কোষে বাইরে থেকে বিদ্যুত প্রবাহিত করে বিদ্যুত শক্তিকে রাসায়নিক শক্তি রূপে সঞ্চিত করা হয় এবং পরে ঐ রাসায়নিক শক্তিকে পুনরায় বিদ্যুত শক্তিতে রূপান্তরিত করা হয়, তাকে সেকেন্ডারি কোষ বলে। 
যেমন- লেড-এসিড স্টোরেজ কোষ, নিকেল অক্সাইড সঞ্চয়ী কোষ, লেড সঞ্চয়ী কোষ ইত্যাদি হলো সেকেন্ডারি কোষ।

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৭৮.
কোনটি জৈব যৌগের সমগোত্রীয় শ্রেণির বৈশিষ্ট্য নয়? 
  1. অভিন্ন মৌল দ্বারা গঠিত
  2. সাধারণ সংকেত দ্বারা প্রকাশ করা যায়
  3. রাসায়নিক ধর্মে সাদৃশ্য বিদ্যমান
  4. আণবিক ভর অভিন্ন
সঠিক উত্তর:
আণবিক ভর অভিন্ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আণবিক ভর অভিন্ন
ব্যাখ্যা

◉ সমগোত্রের যৌগের আণবিক ভর ভিন্ন হয় (প্রতিটি পরবর্তী যৌগে –CH2– গ্রুপ বৃদ্ধি পায়, ফলে আণবিক ভরও বাড়ে)।

​জৈব যৌগের সমগোত্রীয় শ্রেণি (Homologous Series): 
​- কার্বনের ক্যাটেনেশন ধর্মের কারণে কার্বন যৌগ তথা জৈব যৌগের সংখ্যা আট মিলিয়নের অধিক। এ বিপুল সংখ্যক জৈব যৌগ আলাদাভাবে অধ্যয়ন করা কষ্টসাধ্য ব্যাপার।
​- আলোচনার সুবিধার্থে জৈব যৌগসমূহকে গঠন ও ধর্মের সাদৃশ্যের ভিত্তিতে কতিপয় সমধর্মী যৌগ শ্রেণিতে বিভক্ত করা হয়। এ সব সমধর্মী যৌগ শ্রেণির নাম সমগোত্রীয় শ্রেণি। 
​- অভিন্ন মৌল দ্বারা গঠিত সমধর্মী যৌগসমূহকে ক্রমবর্ধমান আণবিক ভর অনুসারে সাজালে যদি পাশাপাশি দুটি যৌগের মধ্যে মিথিলিন -CH2-মূলকের পার্থক্য থাকে এবং এদের সংযুক্তি একটি সাধারণ সংকেত দ্বারা প্রকাশ করা যায়, তবে এরূপ নিকট সম্পর্কযুক্ত যৌগসমূহকে সমগোত্রক বলে এবং এদের শ্রেণিকে সমগোত্রীয় শ্রেণি বলা হয়। 
​- যেমন- অ্যালকেন (CnH2n + 2) একটি সমগোত্রীয় শ্রেণি। মিথেন (CH4), ইথেন (C2H6), প্রোপেন (C3H8) ইত্যাদি অ্যালকেন শ্রেণির সমগোত্রক। 

​সমগোত্রীয় শ্রেণির বৈশিষ্ট্য: 
​সাধারণভাবে সমগোত্রীয় শ্রেণির যৌগসমূহের বৈশিষ্ট্যসমূহ নিম্নরূপ:
(i) এরা অভিন্ন মৌল দ্বারা গঠিত।
(ii) একটি সাধারণ সংকেত দ্বারা এদেরকে প্রকাশ করা যায়।
(iii) আণবিক ভরের ভিত্তিতে পাশাপাশি দুটি সমগোত্রকের মধ্যে-CH2- মূলকের পার্থক্য বিদ্যমান।
(iv) প্রত্যেক সমগোত্রীয় শ্রেণির একটি নির্দিষ্ট কার্যকরীমূলক থাকে।
(v) এদের ভৌত ধর্মে নিয়মিত ক্রম লক্ষ্য করা যায়। আণবিক ভর বৃদ্ধির সাথে এদের ভৌত ধর্ম যেমন-গলনাংক, স্ফুটনাংক ও ঘনত্ব বৃদ্ধি পায় এবং দ্রাব্যতা হ্রাস পায়।
(vi) এদের রাসায়নিক ধর্মে সাদৃশ্য বিদ্যমান।
(vii) একই সাধারণ নিয়মে এদের প্রস্তুত করা যায়।

​উৎস: ​রসায়ন ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

৭৯.
নিচের কোন প্রোটিন দিয়ে 'রেশম তন্তু' তৈরি হয়? 
  1. ফাইব্রেয়ন
  2. প্রোলামিন
  3. প্রোটামিন
  4. অ্যালবিউমিন
সঠিক উত্তর:
ফাইব্রেয়ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফাইব্রেয়ন
ব্যাখ্যা
রেশম: 
- সৌন্দর্য ও গুণে রেশমের তৈরি পোশাক আসলে রাজকীয় পোশাক। 
- রেশমকে তন্তুর রাণি বলা হয়। 
- রেশম বা পলু পোকা নামের এক জাতীয় পোকার গুটি বা কোকুন থেকে রেশম বা সিল্ক তন্তু আহরণ করা হয়ে থাকে। 
- বাংলাদেশের রাজশাহী জেলায় রেশমের চাষ করা হয়। 

- রেশম রাজকীয় তন্তু কিন্তু পানি ধারণক্ষমতা অত্যধিক হওয়ায় রেশমের তৈরি পোশাক পানি দিয়ে ধোয়া যায় না। 
- এগুলো হচ্ছে পলু পোকার মুখ নিসৃত লালা যা আপন শরীরের চারপাশে এরা বুনতে থাকে। 
- রেশম তন্তু 'ফাইব্রেয়ন' নামক প্রোটিন জাতীয় পদার্থ দিয়ে তৈরি। 
- প্রাকৃতিক প্রাণিজ তন্তুর মধ্যে রেশমই সবচেয়ে হালকা, শক্ত ও দীর্ঘ। 
- সিল্কের শক্তিমাত্রা, দৃড়তা, মসৃণতা এবং কোমল অনুভবতা বৈশিষ্ট্য দীর্ঘকাল ধরে সুপরিচিত। 

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮০.
কার্বন পরমাণু থাকা সত্ত্বেও জৈব যৌগ নয় কোনটি?
  1. ক) অ্যালকোহল
  2. খ) অ্যামিনো এসিড
  3. গ) গ্লেসিয়াল এসিটিক এসিড
  4. ঘ) সোডিয়াম বাই কার্বনেট
সঠিক উত্তর:
ঘ) সোডিয়াম বাই কার্বনেট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সোডিয়াম বাই কার্বনেট
ব্যাখ্যা
• অ্যালকেন, অ্যালকিন, অ্যালকাইন, অ্যালকোহল, অ্যালডিহাইড, কিটোন, অ্যামিনো এসিড, কার্বক্সিলিক এসিড প্রভৃতি হলো জৈব যৌগ। এজন্য গ্লেসিয়াল এসিটিক এসিড, এবসোলিউট এলকোহল হলো জৈব যৌগ।
- ব্লু ভিট্রিওল হলো ৫ অণু পানি বিশিষ্ট কপার(II) সালফেট কেলাস। এটি জৈব যৌগ নয় এবং এতে কোনো কার্বন পরমাণুও নেই।
- খাবার সোডা হলো সোডিয়াম বাই কার্বনেট
- এতে কার্বন পরমাণু থাকা সত্ত্বেও এটি জৈব যৌগ নয়। এটি একটি অজৈব যৌগ।

সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
৮১.
সাধারণ ড্রাইসেলে ইলেকট্রোড হিসেবে থাকে-
  1. তামার দণ্ড ও দস্তার দণ্ড
  2. তামার পাত ও দস্তার পাত
  3. কার্বন দণ্ড ও দস্তার কৌটা
  4. তামার দণ্ড ও দস্তার কৌটা
সঠিক উত্তর:
কার্বন দণ্ড ও দস্তার কৌটা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কার্বন দণ্ড ও দস্তার কৌটা
ব্যাখ্যা
- সাধারণত ড্রাইসেলে ইলেকট্রোড হিসেবে কার্বন দন্ড ও দস্তার কৌটা থাকে। 
- ড্রাইসেলের কিছু বৈশিষ্ট্য- 
• এতে তরল ইলেকট্রোডের পরিবর্তে পেষ্ট ব্যবহার করা হয়, 
• এর পাত্রটি একটি ইলেকট্রোড নেগেটিভ হিসাবে কাজ করে, 
• প্রয়োজনে ইলেকট্রোড ও পানি যোগ করে ব্যবহার করা যায় না। 

উৎস: রসায়ন বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৮২.
কোন ধরনের অ্যালকোহল মোটর ইঞ্জিনে জ্বালানী হিসেবে ব্যবহৃত হয়? 
  1. রেকটিফাইড স্পিরিট
  2. মেথিলেটেড স্পিরিট
  3. পাওয়ার অ্যালকোহল
  4. ডেনেচার্ড অ্যালকোহল
সঠিক উত্তর:
পাওয়ার অ্যালকোহল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাওয়ার অ্যালকোহল
ব্যাখ্যা
অ্যালকোহল: 
- অ্যালকোহল বলতে সাধারণভাবে ইথানলকে বোঝায়। 
- স্টার্চ থেকে গাঁজন ক্রিয়ার মাধ্যমে ইথানল উৎপাদন করা হয়। 
- এটি একটি শক্তিশালী জৈব দ্রাবক। 
- ৯৫.৬% ইথানল ও ৪.৪% পানির মিশ্রণকে রেকটিফাইড স্পিরিট বলে। 
- রেকটিফাইড স্পিরিটকে হোমিও ওষুধে ব্যবহার করা হয়। 
- ইথানলকে পারফিউম, কসমেটিক্স, ফার্মাসিউটিক্যাল শিল্পে ব্যাপক ভাবে ব্যবহার করা হয়। 
- ইথানল পানীয় হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। 
- পানীয় হিসেবে ইথানলকে ব্যবহার না করার জন্য রেটিফাইড স্পিরিটের সাথে সামান্য মিথানল যোগ করে দেয়া হয়। 
- রেকটিফাইড স্পিরিটের সাথে মিথানল যুক্ত থাকলে এটি সম্পূর্ণভাবে পানের অযোগ্য হয়, এ মিশ্রণকে মেথিলেটেড স্পিরিট বলে। 
- ঔষধ শিল্পে ও খাদ্য শিল্পে ব্যবহৃত অ্যালকোহলের মধ্যে মিথানল যোগ করা হয় না। 
- ইথানলকে মোটর ইঞ্জিনের জ্বালানী হিসেবেও ব্যবহার করা যায়। 
- পেট্রোলিয়াম জাতীয় উপাদানের সাথে প্রায় ৩০% ইথানল যোগ করে এ ধরনের জ্বালানী তৈরী করা হয়, এভাবে ব্যবহৃত অ্যালকোহলকে পাওয়ার অ্যালকোহল বলে
- অ্যালকোহলকে জ্বালানী হিসেবে ব্যবহার করলে জীবাশ্ম জ্বালানীর উপর চাপ কম পড়ে। তাছাড়া এটি পরিবেশ বান্ধব। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৩.
লেড এসিড সঞ্চয়ী কোষ কী ধরণের কোষ?
  1. ক) প্রাইমারী কোষ
  2. খ) সেকেন্ডারী কোষ
  3. গ) উভমুখী কোষ
  4. ঘ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
খ) সেকেন্ডারী কোষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সেকেন্ডারী কোষ
ব্যাখ্যা
তড়িৎ রাসায়কি কোষগুলোকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। যেমন: প্রাইমারী ও সেকেন্ডারী কোষ।

প্রাইমারী কোষ (Primary Cells) বা প্রাথমিক কোষ:
যে বিদ্যুৎ কোষ নিজেই নিজের রাসায়নিক শক্তি থেকে সরাসরি বিদ্যুৎ শক্তি উৎপন্ন করে বিদ্যুৎ প্রবাহ বজায় রাখে তাকে প্রাইমারী বা প্রাথমিক কোষ বলে। এ ধরনের কোষে রাসায়নিক বিক্রিয়া সংঘটনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয় এবং একবার ব্যবহারে এ কোষগুলো ডিসচার্জ হয়ে পড়ে, সে কারণে একে পুনরায় চার্জিত করে ব্যবহার করা যায় না।

সেকেন্ডারী কোষ (Secondary Cells) বা গৌণ কোষ:
যে বিদ্যুৎ কোষে বাইরে থেকে বিদ্যুৎ প্রবাহিত করে বিদ্যুৎ শক্তিকে রাসায়নিক শক্তি হিসেবে সঞ্চিত রেখে পরে ঐ রাসায়নিক শক্তিকে পুনরায় বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তরিত করা হয়, তাকে সেকেন্ডারী কোষ বা গৌণ কোষ বা সঞ্চয়ী কোষ বলে। এ ধরনের কোষগুলো বিদ্যুৎ
প্রবাহ চালিয়ে বার বার চার্জিত করা যায় এবং ব্যবহার করা যায়।
উদাহরণ: লেড এসিড সঞ্চয়ী কোষ, নিকেল অক্সাইড সঞ্চয়ী কোষ। 

সূত্র: রসায়ন, এইসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৪.
বোলতা এবং বিচ্ছুর হুলে থাকে -
  1. ক) হিস্টামিন
  2. খ) ফরমিক এসিড
  3. গ) অ্যাপামিন
  4. ঘ) মেলিটিন
সঠিক উত্তর:
ক) হিস্টামিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) হিস্টামিন
ব্যাখ্যা
- বোলতা এবং বিচ্ছুর হুলে থাকে হিস্টামিন নামে এক ধরনের ক্ষারক পদার্থ।
- জ্বালা নিবারণের জন্য যে মলম ব্যবহার করা হয়, তাতে থাকে ভিনেগার অথবা বেকিং সোডা, যেগুলো এসিড কিংবা এসিড—জাতীয়। এগুলো ক্ষারকের সাথে বিক্রিয়া করে সেগুলো নিষ্ক্রিয় করে; ফলে জ্বালা আর থাকে না।

---------------------------
- পিঁপড়ার কামড়ে থাকে ফরমিক এসিড।
- মৌমাছি হুল ফুটালে ফরমিক এসিড, মেলিটিন, এবং অ্যাপামিন নামক এসিটিক এসিড নিঃসৃত হয়।

সূত্র- ৯ম-১০ম শ্রেণির বিজ্ঞান বই
৮৫.
নিচের কোনগুলো একটি ব্যাটারি সেলের কাঠামোগত অপরিহার্য অংশ?
  1. অ্যানোড, রোধ, সুইচ
  2. অ্যানোড, ক্যাথোড, ইলেকট্রোলাইট
  3. ক্যাথোড, ট্রানজিস্টর, ইলেকট্রোলাইট
  4. ডায়োড, পরিবাহী তার, রেজিস্টর
সঠিক উত্তর:
অ্যানোড, ক্যাথোড, ইলেকট্রোলাইট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অ্যানোড, ক্যাথোড, ইলেকট্রোলাইট
ব্যাখ্যা

• অ্যানোড, ক্যাথোড ও ইলেকট্রোলাইট—এই তিনটি অংশের সমন্বয়েই একটি ব্যাটারি সেলে রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে বিভব পার্থক্য সৃষ্টি হয়।

• ব্যাটারির কার্যক্রম:
- দৈনন্দিন জীবনে টর্চ লাইট, মোবাইল ফোন ইত্যাদিতে আমরা ব্যাটারি সেল ব্যবহার করি।
- সাধারণ কথায় একটি সেলকেই ব্যাটারি বলা হলেও বিজ্ঞানের ভাষায় ব্যাটারি বলতে একাধিক তড়িৎ কোষের সমন্বয় বোঝায়।
- একটি তড়িৎ ব্যাটারি প্রকৃতপক্ষে একাধিক তড়িৎ কোষের সমন্বয়ে গঠিত।
- ব্যাটারি সেলে তড়িৎ শক্তি রাসায়নিক শক্তি আকারে সঞ্চিত থাকে।

• ব্যাটারি সেলের গঠন:
- একটি অ্যানোড।
- একটি ক্যাথোড।
- মাঝখানে একটি ইলেকট্রোলাইট।

• ব্যাটারিতে বিভব পার্থক্য সৃষ্টি:
- ব্যাটারি সেলে রাসায়নিক বিক্রিয়ার ফলে অ্যানোড থেকে ইলেকট্রন অপসারিত হয়।
- এই ইলেকট্রনগুলো ক্যাথোডে জমা হয়।
- ফলে অ্যানোড ও ক্যাথোডের মধ্যে তড়িৎ বিভব পার্থক্য সৃষ্টি হয়।

• বিদ্যুৎ প্রবাহের দিক:
- অ্যানোড ও ক্যাথোডকে পরিবাহী তার দিয়ে সংযুক্ত করলে ক্যাথোডের ইলেকট্রন অ্যানোডের দিকে প্রবাহিত হয়।
- ইলেকট্রন প্রবাহের বিপরীত দিককে বিদ্যুৎ প্রবাহের দিক ধরা হয়।
- তাই বলা হয় অ্যানোড থেকে ক্যাথোডে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হচ্ছে।

• ব্যাটারি নিষ্ক্রিয় হওয়ার কারণ:
- সাধারণ ব্যাটারি সেলের রাসায়নিক পদার্থ বিক্রিয়া করে ধীরে ধীরে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়।
- তখন অ্যানোড ও ক্যাথোডের মধ্যে আর বিভব পার্থক্য সৃষ্টি করতে পারে না।
- ফলে বিদ্যুৎ প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়।

• রিচার্জযোগ্য ব্যাটারি:
- মোবাইল ফোনের ব্যাটারি পুনরায় চার্জ করা যায়।
- চার্জ দেওয়ার ফলে রাসায়নিক পদার্থ পুনরায় সক্রিয় হয়।
- তখন ব্যাটারি আবার বিদ্যুৎ উৎপাদনের উপযোগী হয়ে ওঠে।

• প্রশ্নের অপশনে উল্লেখিত গুরুত্বপূর্ণ টার্ম:
- অ্যানোড → ইলেকট্রন নির্গমন ঘটে এমন ইলেকট্রোড।
- ক্যাথোড → ইলেকট্রন গ্রহণ ঘটে এমন ইলেকট্রোড।
- ইলেকট্রোলাইট → আয়ন পরিবহনকারী রাসায়নিক মাধ্যম।
- রোধ → তড়িৎ প্রবাহে বাধা প্রদানকারী উপাদান।
- সুইচ → তড়িৎ বর্তনী চালু বা বন্ধ করার যন্ত্র।
- ট্রানজিস্টর → তড়িৎ সংকেত নিয়ন্ত্রণ ও পরিবর্ধনের উপাদান।
- ডায়োড → একমুখী তড়িৎ প্রবাহ নিয়ন্ত্রণকারী অর্ধপরিবাহী উপাদান।
- পরিবাহী তার → তড়িৎ প্রবাহ পরিবহনের মাধ্যম।
- রেজিস্টর → নির্দিষ্ট মানের রোধ প্রদানকারী উপাদান।

উৎস: বিজ্ঞান, ৯ম-১০ম শ্রেণি।

৮৬.
সিরকা তৈরিতে কোন অম্ল ব্যবহৃত হয়?
  1. এসকরবিক এসিড
  2. সাইট্রিক এসিড
  3. ইথানয়িক এসিড
  4. টারটারিক এসিড
সঠিক উত্তর:
ইথানয়িক এসিড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইথানয়িক এসিড
ব্যাখ্যা

- আমলকি, কমলালেবু ইত্যাদি টক ফলে থাকে ভিটামিন- সি বা এসকরবিক এসিড।
- লেবুস রসে থাকে সাইট্রিক এসিড।
- তেঁতুলে থাকে টারটারিক এসিড।
- অ্যাসিটিক এসিড বা ইথানয়িক এসিডের ৬-১০% জলীয় দ্রবণকে বলা হয় ভিনেগার বা সিরকা।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

৮৭.
জৈব যৌগের নামকরণের পদ্ধতি নয় কোনটি?
  1. ইউপ্যাক (IUPAC) পদ্ধতি
  2. ট্রিভিয়াল পদ্ধতি
  3. ডেকেন পদ্ধতি
  4. উদ্ভূত পদ্ধতি
সঠিক উত্তর:
ডেকেন পদ্ধতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডেকেন পদ্ধতি
ব্যাখ্যা
• জৈব যৌগ:
-  হাইড্রোজেন ও কার্বন দ্বারা গঠিত সরলতম জৈব যৌগসমূহকে হাইড্রোকার্বন (Hydrocarbon) বলে। হাইড্রোকার্বন ও এদের জাতক সমূহকে বলা হয় জৈব যৌগ। 

•  জৈব যৌগের নামকরণের ক্ষেত্রে সার্বজনিনভাবে কিছু বিধি বিধান অনুসরণ করা হয়।

• বর্তমানে প্রচলিত তিনটি পদ্ধতিতে জৈব যৌগের নামকরণ করা হয়। যথা-
- সাধারণ বা ট্রিভিয়াল পদ্ধতি (Common or trivial system)
- উদ্ভূত বা জাত পদ্ধতি (Derived system)
- আন্তর্জাতিক পদ্ধতি বা জেনেভা পদ্ধতি বা ইউপ্যাক পদ্ধতি (International system or Genava system or
IUPAC system) .

অন্যদিকে,
• ডেকেন কোন নামকরণ পদ্ধতি নয়। এটি একটি উচ্চতর অ্যালকেন। এর সংকেত হলো C10H22

তথ্যসূত্র:
- রসায়ন ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮৮.
গ্যালভানিক কোষে লবণ সেতুর প্রধান ভূমিকা কী?
  1. ক্যাথোডকে তৈরি করা
  2. অ্যানোডকে তৈরি করা
  3. দুই তড়িৎদ্বারের মধ্যবর্তী তড়িৎপ্রবাহকে বজায় রাখা
  4. ব্যাটারি সংযুক্ত করা 
সঠিক উত্তর:
দুই তড়িৎদ্বারের মধ্যবর্তী তড়িৎপ্রবাহকে বজায় রাখা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুই তড়িৎদ্বারের মধ্যবর্তী তড়িৎপ্রবাহকে বজায় রাখা
ব্যাখ্যা

- গ্যালভানিক কোষে লবণ সেতুর প্রধান ভূমিকা হচ্ছে দুই তড়িৎদ্বারের মধ্যবর্তী তড়িৎপ্রবাহকে বজায় রাখা। 

গ্যালভানিক কোষ: 

- গ্যালভানিক কোষের ক্ষেত্রে অ্যানোড তড়িৎদ্বার ও ক্যাথোড তড়িৎদ্বার গঠনের পদ্ধতি তড়িৎবিশ্লেষ্য কোষ থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। 
- একটি ধাতব দন্ডকে ঐ ধাতুর লবণের দ্রবণের মধ্যে স্থাপন করা হয়। 
- এভাবে ভিন্ন ভিন্ন ধাতুর দন্ডকে ঐ স্ব স্ব ধাতুর লবণের দ্রবণের মধ্যে স্থাপন করে অ্যানোড তড়িৎদ্বার ও ক্যাথোড তড়িৎদ্বার গঠন করা হয়। তবে অ্যানোড তড়িৎদ্বার ও ক্যাথোড তড়িৎদ্বার নির্ধারিত হয় ধাতুর সক্রিয়তার উপর ভিত্তি করে। 
- তড়িৎদ্বার হিসেবে ব্যবহৃত ধাতব দন্ড দুটোর মধ্যে অধিক সক্রিয় ধাতব দন্ডটি অ্যানোড তড়িৎদ্বার এবং অপেক্ষাকৃত কম সক্রিয় ধাতব দন্ডটি ক্যাথোড তড়িৎদ্বার হিসেবে কাজ করে। 
- গ্যালভানিক কোষের অ্যানোড তড়িৎদ্বার ও ক্যাথোড তড়িৎদ্বারকে ব্যাটারির সাহায্যে সংযুক্ত না করে শুধু পরিবাহি তারের মাধ্যমে যুক্ত করা হয়। তবে নির্দেশক বাল্ব যুক্ত করে তড়িৎ প্রবাহকে নিশ্চিত করা হয়। 
- দুটো তড়িৎ বিশ্লেষ্য দ্রবণকে লবণ সেতু দ্বারা সংযোগ করা হয়। 
- লবণ সেতুর মধ্যস্থ তড়িৎ বিশ্লেষ্য উভয় তড়িৎদ্বারের সাথে যুক্ত ধাতব লবণের দ্রবণের সাথে কোন বিক্রিয়া করে না। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮৯.
ফরমালডিহাইডের জলীয় দ্রবণকে অতি নিম্ন চাপে উত্তপ্ত করলে কী উৎপন্ন হয়? 
  1. ভিনেগার
  2. ডেলরিন পলিমার
  3. পলিইথিন
  4. ইউরিয়া-ফরমালডিহাইড রেজিন
সঠিক উত্তর:
ডেলরিন পলিমার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডেলরিন পলিমার
ব্যাখ্যা
অ্যালডিহাইড: 
- অ্যালডিহাইড এর পলিমারকরণ বিক্রিয়ায় বিভিন্ন প্লাস্টিক দ্রব্য তৈরি করা হয়। 
- ফরমালডিহাইড (মিথান্যাল) এর জলীয় দ্রবণকে অতি নিম্ন চাপে উত্তপ্ত করলে ডেলরিন পলিমার উৎপন্ন হয়। 
- ডেলরিন পলিমার দিয়ে চেয়ার, ডাইনিং টেবিল, বালতি ইত্যাদি প্লাস্টিক দ্রব্য তৈরি করা হয়। 
- ফরমালডিহাইড ও ইউরিয়া থেকে ঘনীভবন পলিমারকরণ বিক্রিয়ায় ইউরিয়া-ফরমালডিহাইড রেজিন উৎপন্ন হয় যা গৃহের প্লেট, গ্লাস, মগ ইত্যাদি তৈরি করতে ব্যবহৃত হয়। 

জৈব এসিড: 
- জৈব এসিডসমূহ অজৈব এসিডের তুলনায় দুর্বল। 
- জৈব এসিড মানুষের খাদ্যোপযোগী উপাদান। 
যেমন- লেবুর রস (সাইট্রিক এসিড), তেঁতুল (টারটারিক এসিড), দধি (ল্যাকটিক এসিড) ইত্যাদি জৈব এসিডকে খাবার হিসেবে গ্রহণ করা হয়। 
- জৈব এসিডের ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করার ক্ষমতা থাকায় একে খাদ্য সংরক্ষক হিসেবে ব্যবহার করা হয়। 
- ইথানয়িক এসিডের 4% থেকে 10% জলীয় দ্রবণকে ভিনেগার বলা হয়। 
- ভিনেগার সস ও আচার সংরক্ষণের জন্য ব্যবহৃত হয়। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৯০.
নিচের কোনটি হাইড্রোকার্বন?
  1. NaHCO3
  2. NaCl
  3. C6H6
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
C6H6
উত্তর
সঠিক উত্তর:
C6H6
ব্যাখ্যা

- হাইড্রোকার্বন হলো শুধু কার্বন ও হাইড্রোজেন এর সমন্বয়ে গঠিত যৌগ। যেমন: মিথেন (CH4), ইথিন (C2H4), সাইক্লোহেক্সেন (C2H12), বেনজিন (C6H6) ইত্যাদি। 
- হাইড্রোকার্বন মূলত দুই প্রকার: (i) অ্যালিফেটিক হাইড্রোকার্বন ও (ii) অ্যারোমেটিক হাইড্রোকার্বন।

 (i) অ্যালিফেটিক হাইড্রোকার্বন:
- অ্যালিফেটিক কথাটির অর্থ হলো চর্বিজাত। এই শ্রেণির হাইড্রোকার্বন মূলত প্রাণীর চর্বি থেকে পাওয়া গিয়েছিল। তাই এ ধরনের হাইড্রোকার্বনের নাম অ্যালিফেটিক হাইড্রোকার্বন দেওয়া হয়েছে। 
- মিথেন (CH4), ইথিন (C2H4), সাইক্লোহেক্সেন (C6H12), সাইক্লোবিউটিন হচ্ছে অ্যালিফেটিক হাইড্রোকার্বনের উদাহরণ। 

(ii) অ্যারোমেটিক হাইড্রোকার্বন:
- গ্রিক শব্দ অ্যারোমা (Aroma) থেকে অ্যারোমেটিক শব্দটি এসেছে। অ্যারোমেটিক শব্দের অর্থ হলো সুগন্ধযুক্ত। প্রথমে যে অ্যারোমেটিক যৌগগুলো পাওয়া গিয়েছিল সেগুলো ছিল সুগন্ধযুক্ত, তাই এ ধরনের নামকরণ করা হয়েছে।
- বেনজিন (C6H6) বা ন্যাপথলিন (C10H8) হচ্ছে অ্যারোমেটিক হাইড্রোকার্বনের উদাহরণ।

- অপরদিকে NaHCO3 এবং NaCl হচ্ছে অজৈব লবণ।

উৎস: রসায়ন- নবম ও দশম শ্রেণি।

৯১.
এক্রোলিন পরীক্ষা দ্বারা কোনটি শনাক্ত করা হয়?
  1. ইথানল
  2. গ্লিসারিন
  3. গ্লুকোজ
  4. ইথান্যাল
সঠিক উত্তর:
গ্লিসারিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ্লিসারিন
ব্যাখ্যা
গ্লিসারিন: 
- গ্লিসারিন ও ফেনল উভয় যৌগে অ্যালকোহলের মতো -OH মূলক কার্যকরী মূলকরূপে থাকলেও উভয় যৌগের রাসায়নিক বৈশিষ্ট্য সাধারণ অ্যালকোহল থেকে ভিন্ন। 
- প্রকৃতিতে প্রাণিজ ও উদ্ভিজ্জ সব ফ্যাট বা চর্বি ও তৈল হলো উচ্চতর ফ্যাটি এসিডের ট্রাই গ্লিসারাইড। 
- গ্লিসারিন ছাড়া এ তৈল ও চর্বি গঠন সম্ভব নয়। 
- গ্লিসারিন এর অপর নাম হলো গ্লিসারল বা প্রোপেন-1, 2, 3- ট্রাইঅল, HO-CH2-CH(OH)-CH2-OH. 

গ্লিসারিন প্রস্তুতি (Glycerine Preparation): 
- নিম্নোক্ত পদ্ধতিতে গ্লিাসারিন উৎপন্ন করা হয়। 
যেমন- 
(১) তৈল বা চর্বির ক্ষারীয় আর্দ্র বিশ্লেষণ: সাবানায়ন প্রক্রিয়া, 
(২) তৈল বা চর্বির অম্লীয় আর্দ্র বিশ্লেষণ: গ্লিসারিন ও ফ্যাটি এসিড উৎপাদন, 
(৩) প্রোপিন থেকে গ্লিসারিন: আধুনিক সংশ্লেষণ পদ্ধতি। 

অপসারণ বিক্রিয়া: 
- নিরুদক পটাসিয়াম হাইড্রোজেন সালফেট (KHSO4) এর উপস্থিতিতে অথবা উচ্চ তাপমাত্রায় গ্লিসারিনকে উত্তপ্ত করলে গ্লিসারিন অণু থেকে দুই অণু পানি অপসারিত হয়ে দুর্গন্ধযুক্ত শ্বাস রোধক ঝাঁঝালো এক্রোলিন উৎপন্ন হয়। 
- এটি গ্লিসারিন শনাক্তকরণের এক্রোলিন টেস্ট। 
- তৈল ও চর্বি আগুনে পড়লে বিষাক্ত এক্রোলিনের ঝাঁঝালো গন্ধ বের হয়। 


উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. হাজারী ও নাগ)।
৯২.
Which one is a saturated hydrocarbon?
  1. Ethene
  2. Propene
  3. Ethane
  4. Butene
  5. Ethyne
সঠিক উত্তর:
Ethane
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Ethane
ব্যাখ্যা
• ইথেন হলো সম্পৃক্ত হাইড্রোকার্বন বা অ্যালকেন। 

• হাইড্রোকার্বন:
- হাইড্রোজেন ও কার্বন দ্বারা গঠিত সরলতম জৈব যৌগসমূহকে হাইড্রোকার্বন (Hydrocarbon) বলে।

• সম্পৃক্ত হাইড্রোকার্বন:
- যে সকল হাইড্রোকার্বন অণুর কার্বন শিকলে কেবলমাত্র একক বন্ধন বিদ্যমান এবং এদের অবশিষ্ট যোজনীগুলো হাইড্রোজেন দ্বারা পূর্ণ থাকে তাদেরকে অ্যালিফেটিক বা সম্পৃক্ত হাইড্রোকার্বন বা অ্যালকেন (alkane) বলা হয়।
- এদের সাধারণ সংকেত হলো CnH2n+2 যেখানে n=1,2,3 ইত্যাদি।

• ইথেন:
- ইথেন একটি সম্পৃক্ত হাইড্রোকার্বন বা অ্যালকেন। ইথেনের রাসায়নিক সংকেত হলো: C2H6
- এটি হলো ২ কার্বন বিশিষ্ট অ্যালকেন। এতে ২ টি কার্বনের সাথে ৬ টি হাইড্রোজেন পরমাণু একক বন্ধনের মাধ্যমে যুক্ত থাকে।

তথ্যসূত্র:
- রসায়ন ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৩.
নিচের কোনটি জৈব যৌগ নয়? 
  1. প্রোপিন 
  2. পেন্টাইন 
  3. মরিচা 
  4. ইথেন 
সঠিক উত্তর:
মরিচা 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মরিচা 
ব্যাখ্যা

জৈব যৌগ:  
- কার্বন ও হাইড্রোজেন দ্বারা গঠিত যৌগসমূহকে হাইড্রোকার্বন বলা হয় এবং এই হাইড্রোকার্বন ও এদের জাতসমূহকে বলা হয় জৈব যৌগ।  
যেমন- মিথেন, ইথেন, বেনজিন, ইউরিয়া, প্রোপিন, পেন্টাইন ইত্যাদি জৈব যৌগ।  
- জৈব যৌগের বিক্রিয়া হতে সাধারণত অনেক বেশি সময় লাগে।  
- জৈব যৌগসমূহ সাধারণত সমযোজী বন্ধনের মাধ্যমে গঠিত হয়।  
- জৈব যৌগের জনক ফ্রেডরিখ ভোলার।  

অজৈব যৌগ:  
- দুই বা ততোধিক মৌলের সমন্বয়ে অজৈব যৌগ গঠিত হয়।
- সাধারণত অজৈব যৌগে কার্বন অনুপস্থিত থাকে।  
যেমন- পানি, খাবার লবণ, খাবার সোডা, কাপড় কাচার সোডা, কস্টিক সোডা, চুন, মরিচা ইত্যাদি অজৈব যৌগ। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি এবং লাইভ লেকচার।

৯৪.
জৈব যৌগ কোনটি?
  1. CO
  2. CO2
  3. CH4
  4. Na2CO3
সঠিক উত্তর:
CH4
উত্তর
সঠিক উত্তর:
CH4
ব্যাখ্যা
জৈব যৌগ: 
- সকল জৈব যৌগে কার্বন পরমাণু বিদ্যমান। 
- জৈব যৌগে কার্বনের সাথে এক বা একাধিক বিভিন্ন মৌল যেমন- H, O, N, S, P, X ইত্যাদি যৌগ মূলত যুক্ত থাকে। 
- আবার কার্বনের দ্বারা গঠিত সকল যৌগই জৈব যৌগ নয়। 
যেমন- CO2, CO, Na2CO3 ইত্যাদি। 
- কার্বন ও হাইড্রোজেন দ্বারা গঠিত যৌগসমূহকে হাইড্রোকার্বন বলা হয় এবং এই হাইড্রোকার্বন ও এদের জাতকসমূহকে জৈব যৌগ বলে। 
যেমন- মিথেন (CH4), মিথানল (CH3OH), অ্যানিলিন (C6H5NH2) ইত্যাদি। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৫.
অ্যানোড তড়িৎদ্বারে কোন ক্রিয়া সম্পন্ন হয়? 
  1. প্রশমন
  2. অধঃক্ষেপ
  3. জারণ
  4. বিজারণ
সঠিক উত্তর:
জারণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জারণ
ব্যাখ্যা
তড়িৎদ্বার: 
- তড়িৎ বিশ্লেষণের সময় বিগলিত অথবা দ্রবীভূত তড়িৎ বিশ্লেষ্যের মধ্যে দুটি ধাতব পরিবাহী অথবা গ্রাফাইট দন্ড এমনভাবে রেখে দেয়া হয় যেন একটি দিয়ে ইলেকট্রন কোষে প্রবেশ করে এবং অন্যটি দিয়ে ইলেকট্রন বের হয়ে যায়। 
- এ দুটি ধাতব অথবা গ্রাফাইট পরিবাহীকে তড়িৎদ্বার বলা হয়। 
- তড়িৎদ্বার তড়িৎ রাসায়নিক কোষের ইলেকট্রনিক পরিবাহী ও ইলেকট্রোলাইট পরিবহীর মধ্যে তড়িৎ প্রবাহের যোগসূত্র স্থাপন করে কোষ বর্তনী পূর্ণ করে। 
- একটি তড়িৎ রাসায়নিক কোষ গঠনের ক্ষেত্রে দুটি তড়িৎদ্বারের প্রয়োজন। 
যথা- 
১। অ্যানোড তড়িৎদ্বার এবং 
২। ক্যাথোড তড়িৎদ্বার। 

অ্যানোড তড়িৎদ্বার: 
- যে তড়িৎদ্বার ব্যাটারির ধনাত্নক প্রান্তের সাথে যুক্ত থাকে এবং যার মাধ্যমে ইলেকট্রন দ্রবণ ছেড়ে চলে যায়, তাকে অ্যানোড তড়িৎদ্বার বা ধনাত্নক তড়িৎদ্বার বলে। 
- অ্যানোড তড়িৎদ্বারে জারণ ক্রিয়া সম্পন্ন হয়। 
অর্থাৎ, অ্যানোডে অ্যানায়নগুলো ইলেকট্রন ত্যাগ করে আধান মুক্ত হয়। 

ক্যাথোড তড়িৎদ্বার: 
- যে তড়িৎদ্বার ব্যাটারির ঋণাত্নক প্রান্তের সাথে যুক্ত থাকে এবং যার মাধ্যমে ইলেকট্রন ব্যাটারি থেকে দ্রবণে প্রবেশ করে, তাকে ক্যাথোড তড়িৎদ্বার বা ঋণাত্নক তড়িৎদ্বার বলে। 
- ক্যাথোড তড়িৎদ্বারে বিজারণ ক্রিয়া সম্পন্ন হয়। 
অর্থাৎ, ক্যাথোডে ক্যাটায়নগুলো ইলেকট্রন গ্রহণ করে আধান মুক্ত হয়। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৬.
বিউটেনের অণুতে কার্বন পরমাণুর সংখ্যা কত?  
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৬টি
সঠিক উত্তর:
৪টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪টি
ব্যাখ্যা

• বিউটেন-এর অণুতে কার্বন পরমাণুর সংখ্যা হলো ৪ টি।

• হাইড্রোকার্বন:  
- হাইড্রোজেন ও কার্বন দ্বারা গঠিত সরলতম জৈব যৌগসমূহকে হাইড্রোকার্বন বলে।

• সম্পৃক্ত হাইড্রোকার্বন (অ্যালকেন):  
- যেসব হাইড্রোকার্বনে কার্বন পরমাণুগুলোর মধ্যে শুধুমাত্র একক বন্ধন থাকে এবং অবশিষ্ট যোজনী হাইড্রোজেন দিয়ে পূর্ণ থাকে, তাদের অ্যালকেন বলে।  
- সাধারণ সংকেত: CnH2n + 2 (যেখানে n = ১, ২, ৩, ৪, …)

• বিউটেন একটি সম্পৃক্ত হাইড্রোকার্বন বা অ্যালকেন।  
বিউটেনের রাসায়নিক সংকেত: C4H10
অর্থাৎ এটি ৪টি কার্বন বিশিষ্ট অ্যালকেন। এর অণুতে ৪টি কার্বন ও ১০টি হাইড্রোজেন পরমাণু থাকে।

তথ্যসূত্র:
রসায়ন ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯৭.
কোনটি ভিনেগারের মূল উপাদান? 
  1. লবণ 
  2. ইথানল 
  3. ইথানয়িক এসিড 
  4. সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড 
সঠিক উত্তর:
ইথানয়িক এসিড 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইথানয়িক এসিড 
ব্যাখ্যা

সিরকা বা ভিনেগার: 
- ইথানয়িক এসিডের 4%-10% জলীয় দ্রবণকে ভিনেগার বলা হয়। 
- ভিনেগার তরল পদার্থ। 
- সাধারণত আচার তৈরি করার সময় ভিনেগার যোগ করা হয়। 

ভিনেগারের প্রস্তুতি: 
- 25°C-35°C তাপমাত্রায় রাখা একটি স্টিলের পাত্রে ইথানল (CH3CH2OH) এবং অ্যাসিটোব্যাকটর নিয়ে এর মধ্যে অক্সিজেন গ্যাসের বুদবুদ প্রবাহিত করলে ভিনেগার বা অ্যাসিটিক এসিড বা ইথানয়িক এসিড (CH3COOH) প্রস্তুত হয়। 
- অ্যাসিটোব্যাকটর (Acetobacter) ব্যাকটেরিয়া এমন এক ধরনের এনজাইম নিঃসৃত করে যা ইথানলকে অক্সিজেনের সাথে বিক্রিয়া করতে সাহায্য করে। 
• CH3CH2OH + O2 → CH3COOH + H2

খাদ্য সংরক্ষণে ভিনেগারের ভূমিকা: 
- ভিনেগারের মূল উপাদান ইথানয়িক এসিড। 
- ভিনেগারকে যখন আচারের মধ্যে দেওয়া হয় তখন ইথানয়িক এসিড কর্তৃক ত্যাগকৃত প্রোটন, H+ ব্যাকটেরিয়াকে ধ্বংস করে এবং খাদ্য দীর্ঘকাল ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণ থেকে রক্ষা পায়, এভাবে ভিনেগার দিয়ে খাদ্য সংরক্ষণ করা হয়। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

৯৮.
সম্পৃক্ত ফ্যাটি এসিড কোনটি? 
  1. অলিয়িক এসিড
  2. অক্সালিক এসিড
  3. স্টিয়ারিক এসিড
  4. লিনোলিক এসিড
সঠিক উত্তর:
স্টিয়ারিক এসিড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্টিয়ারিক এসিড
ব্যাখ্যা
ফ্যাটি এসিড: 
- অ্যালিফেটিক এসিডের অণুতে একটি মাত্র কার্বক্সিলমূলক থাকলে এদেরকে মনোকার্বক্সিল এসিড বলে। 
- অ্যালিফেটিক মনোকার্বক্সিলিক এসিড শ্রেণীকে ফ্যাটি এসিডও বলা হয়। 
- সম্পৃক্ত ফ্যাটি এসিডের সাধারণ সংকেত হল CnH2n+1COOH. 
- ফ্যাটি এসিড সম্পৃক্ত ও অসম্পৃক্ত উভয় প্রকার হতে পারে। 
যেমন- 
সম্পৃক্ত ফ্যাটি এসিড: 
(১) প্রোপানোয়িক এসিড, 
(২) স্টিয়ারিক এসিড
(৩) পামিটিক এসিড। 

অসম্পৃক্ত ফ্যাটি এসিড: 
(১) অক্সালিক এসিড, 
(২) অলিয়িক এসিড, 
(৩) লিনোলিক এসিড। 
- অসম্পৃক্ত ফ্যাটি এসিডের কার্বন শিকলে এক বা একাধিক দ্বি-বন্ধন থাকে। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (হাজারী নাগ)।
৯৯.
তড়িৎ রাসায়নিক কোষের তড়িৎদ্বারের ক্যাথোডে কী ঘটে? 
  1. ইলেকট্রন গ্রহণ 
  2. ইলেকট্রন ত্যাগ 
  3. প্রোটন ত্যাগ 
  4. ইলেকট্রন নির্গমন 
সঠিক উত্তর:
ইলেকট্রন গ্রহণ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইলেকট্রন গ্রহণ 
ব্যাখ্যা

- তড়িৎ রাসায়নিক কোষের তড়িৎদ্বারের ক্যাথোডে 'ইলেকট্রন গ্রহণ' ঘটে। 

তড়িৎদ্বার (Electrode): 
- তড়িৎ রাসায়নিক কোষে বিগলিত বা দ্রবীভূত তড়িৎ বিশ্লেষ্যের মধ্যে যে দুটি ইলেকট্রনীয় পরিবাহী অর্থাৎ ধাতব দণ্ড বা গ্রাফাইট দণ্ড অর্ধেক ডুবানো থাকে তাদেরকে তড়িৎদ্বার বলা হয়। 
- তড়িৎ রাসায়নিক কোষে একটি তড়িৎদ্বারে পরমাণু বা ঋণাত্বক আয়ন ইলেকট্রন ত্যাগ করে। 
অর্থাৎ, এ তড়িৎদ্বারে জারণ বিক্রিয়া সংঘটিত হয়। 
- অপর তড়িৎদ্বারে ধনাত্মক আয়ন ইলেকট্রন গ্রহণ করে। 
অর্থাৎ, এ তড়িৎদ্বারে বিজারণ বিক্রিয়া সংঘটিত হয়। 
- সম্পূর্ণ কোষের মধ্যে জারণ-বিজারণ বিক্রিয়া সংঘটিত হয়। 
- যে তড়িৎদ্বারে জারণ বিক্রিয়া ঘটে তাকে অ্যানোড তড়িৎদ্বার আর যে তড়িৎদ্বারে বিজারণ বিক্রিয়া ঘটে তাকে ক্যাথোড তড়িৎদ্বার বলে। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

১০০.
ইথিলিনের পলিমার কী? 
  1. পলিইথিলিন 
  2. পলিস্টার 
  3. নাইলন 
  4. পলিপ্রোপিন 
সঠিক উত্তর:
পলিইথিলিন 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পলিইথিলিন 
ব্যাখ্যা

পলিমার: 
- গ্রিক শব্দ 'পলি' (poly) অর্থ বহু বা অনেক এবং 'মেরোস' (meros) অর্থ একক বা অংশ। এ দুটি শব্দ থেকেই পলিমার শব্দের উৎপত্তি। 
- প্রকৃতঅর্থে পলিমার বলতে বোঝায় বহু অংশযুক্ত উচ্চ আণবিক ভর সম্পন্ন বৃহদাকার অণু। এক কথায় বহু সংখ্যক ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অংশ পর পর যুক্ত হয়ে পলিমার অণু গঠন করে থাকে।
- পলিমারের প্রত্যেকটি ক্ষুদ্র অংশকে মনোমার বলা হয়। 
যেমন- ইথিলিনের পলিমার পলিইথিলিন; প্রোপিনের পলিমার পলি প্রোপিন। 
- পলিমার সাধারণত দুই প্রকার। 
যথা- 
ক) প্রাকৃতিক পলিমার: 
- সাধারণভাবে প্রাকৃতিক উৎস বিশেষ করে উদ্ভিদ ও প্রাণি থেকে প্রাপ্ত পলিমার এ জাতীয় পলিমার। 
যেমন- প্রাকৃতিক রাবার, স্টার্চ, সেলুলোজ ইত্যাদি। 

খ) কৃত্রিম পলিমার: 
- পরীক্ষাগারে কৃত্রিমভাবে প্রস্তুত পলিমার সমূহ এ জাতীয় পলিমার। 
যেমন- পলিইথিলিন, পলিস্ট্যারিন, পলিভিনাইল ক্লোরাইড (PVC), নাইলন, টেফলন, টেরিলিন ইত্যাদি। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।