বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

সাহিত্যিক ছদ্মনাম, উপাধি এবং পত্রিকা-সাময়িকী ও সম্পাদক

মোট প্রশ্ন১,৬০৩এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

সাহিত্যিক ছদ্মনাম, উপাধি এবং পত্রিকা-সাময়িকী ও সম্পাদক

PrepBank · পাতা / ১৬ · ২০১৩০০ / ১,৬০৩

২০১.
'ক্রান্তি' পত্রিকার প্রথম সম্পাদক কে ছিলেন?
  1. রণেশ দাশগুপ্ত
  2. সোমেন চন্দ
  3. আবদুল গনি
  4. মুনির চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
রণেশ দাশগুপ্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রণেশ দাশগুপ্ত
ব্যাখ্যা
'ক্রান্তি' পত্রিকা:
- বাংলাদেশের প্রগতিশীল আন্দোলনের প্রথম পর্যায়ের পত্রিকা 'ক্রান্তি।'
- ঢাকায় ১৯৩৯ সালে গঠিত হয় 'প্রগতি' লেখক শিল্পী সংঘ।
- এই সংঘের মুখপত্র হিসেবে প্রকাশিত হয় 'ক্রান্তি' পত্রিকা। 
 - এর প্রথম সম্পাদক ছিলেন রণেশ দাশগুপ্ত।
- প্রথম প্রকাশক ছিলেন- সোমেন চন্দ। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
২০২.
’বাংলার স্কট’ নামে পরিচিত কে?
  1. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  2. উইলিয়াম কেরি
  3. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. জীবনানন্দ দাশ
সঠিক উত্তর:
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়: 
- ১৮৩৮ সালের ২৭ জুন চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে।
- আনন্দমঠ, দেবী চৌধুরানী ও সীতারাম তাঁর ত্রয়ী উপন্যাস।
- তিনি 'বাংলার স্কট' ও 'সাহিত্য সম্রাট' নামে পরিচিত।

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উপন্যাস সমূহ:
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাজসিংহ।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
২০৩.
'কল্লোল' পত্রিকাটি প্রথম কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৯২১ সালে
  2. ১৯২৩ সালে
  3. ১৯৩৩ সালে
  4. ১৯৩৪ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯২৩ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯২৩ সালে
ব্যাখ্যা
• কল্লোল — পত্রিকাটি ১৯২৩ সালে প্রকাশিত হয়।
 
• 'কল্লোল' পত্রিকা:
 অতি আধুনিক লেখকগোষ্ঠীর মুখপাত্র হিসেবে এই পত্রিকাটি ১৯২৩ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়। কলকাতা থেকে মাসিক 'কল্লোল' পত্রিকা প্রকাশিত হয়েছিল। এ পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন দীনেশরঞ্জন দাশ।

• 'কল্লোল' পত্রিকার লেখক ছিলেন — অচিন্ত্যকমার সেনগুপ্ত, শৈলজানন্দ মুখােপাধ্যায়, বুদ্ধদেব বসু, প্রেমেন্দ্র মিত্র, মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়, কাজী নজরুল ইসলাম ও মোহিতলাল মজুমদার প্রমুখ।
 
উৎস:
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২০৪.
সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত কোন ছদ্মনামে কাব্যচর্চা করেননি?
  1. কলমগীর
  2. কবিরঞ্জন
  3. ত্রিবিক্রম বর্মণ
  4. নবকুমার
সঠিক উত্তর:
কবিরঞ্জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কবিরঞ্জন
ব্যাখ্যা

• 'কবিরঞ্জন' ছদ্মনামে সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত কাব্যচর্চা করেননি ।
• কবিরঞ্জন রামপ্রসাদ সেনের উপাধি।

সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত:

- কলকাতার নিকটবর্তী নিমতা গ্রামে ১৮৮২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি ছিলেন কবি ও ছান্দসিক। 
- বাংলা ভাষার নিজস্ব বাগ্‌ধারা ও ধ্বনি সহযোগে নতুন ছন্দসৃষ্টি তাঁর কবিপ্রতিভার মৌলিক কীর্তি। এজন্য তিনি ‘ছন্দের জাদুকর’ ও ‘ছন্দোরাজ’ নামে সাধারণ্যে পরিচিত।
- সত্যেন্দ্রনাথ একাধিক ছদ্মনামে কাব্যচর্চা করতেন, যেমন - নবকুমার, কবিরত্ন, অশীতিপর শর্মা, ত্রিবিক্রম বর্মণ, কলমগীর ইত্যাদি।
- ১৯২২ সালে তাঁর মৃত্যু হয়।
- তাঁর মৃত্যুর পর রচিত 'সত্যেন-প্রয়াণ' কবিতা কাজী নজরুল ইসলাম লিখেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২০৫.
‘রূপসী বাংলার কবি’ বলা হয় কাকে?
  1. জসীমউদ্দীন
  2. জীবনানন্দ দাশ
  3. আল মাহমুদ
  4. ফররুখ আহমদ
সঠিক উত্তর:
জীবনানন্দ দাশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জীবনানন্দ দাশ
ব্যাখ্যা
জীবনানন্দ দাশ: 
- জীবনানন্দ দাশ একজন কবি ও শিক্ষাবিদ।
- তিনি ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।
- তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক।তিনি ব্রহ্মবাদী পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন।
- মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন কবি।
- রূপসী বাংলার কবি বলা জীবননান্দ দাশকে। 
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জীবনানন্দ দাশের কবিতাকে “চিত্ররূপময়” কবিতা বলে আখ্যায়িত করেছেন।

• জীবনানন্দ দাশ এর উপাধি সমূহ:
- ধুসরতার কবি,
- তিমি হননের কবি
- রূপসী বাংলার কবি,
- নির্জনতার কবি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২০৬.
বাংলাদেশে নারীদের প্রকাশিত প্রথম সাপ্তাহিক পত্রিকা সম্পাদনা করতেন কে?
  1. নীলিমা ইব্রাহিম
  2. সুফিয়া কামাল
  3. বেগম রোকেয়া
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
সুফিয়া কামাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুফিয়া কামাল
ব্যাখ্যা

‘বেগম’ পত্রিকা:
- ‘বেগম’ বাংলাদেশে নারীদের প্রকাশিত প্রথম সাপ্তাহিক পত্রিকা।
- ১৯৪৭ সালের ২০ জুলাই কলকাতা থেকে এটি প্রকাশিত হয়।
- সাহিত্যক্ষেত্রে মেয়েদের এগিয়ে আনার লক্ষ্যে সাহিত্যচর্চার পৃথক ক্ষেত্র হিসেবে বেগমের আত্মপ্রকাশ ঘটে।
- বেগম পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন সম্পাদক মোহাম্মদ নাসিরউদ্দিন এবং প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদিকা ছিলেন সুফিয়া কামাল
- পরে পত্রিকাটি সম্পাদনা করেছেন নূরজাহান বেগম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

২০৭.
শিশুতোষ মাসিক পত্রিকা 'সন্দেশ' এর প্রথম সম্পাদক ছিলেন-
  1. সুকুমার রায়
  2. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 
  4. উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরীর
সঠিক উত্তর:
উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরীর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরীর
ব্যাখ্যা

• 'সন্দেশ' পত্রিকা:
- উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরীর সম্পাদনায় ১৯১৩ সালে বিখ্যাত শিশুতোষ মাসিক পত্রিকা 'সন্দেশ' প্রথম প্রকাশিত হয় যা আজও কলকাতা থেকে প্রকাশিত একটি জনপ্রিয় শিশুকিশোর সাহিত্য পত্রিকা।

- দেশবিদেশের গল্প, হাস্যকৌতুক, জ্ঞান বিজ্ঞানের কথা ইত্যাদি লেখার পাশাপাশি নিজের আঁকা নানা বুদ্ধিদীপ্ত ছবি সংযোজনের মাধ্যমে সন্দেশকে তিনি তরুণ হূদয়ের যোগ্য একটি পত্রিকা হিসেবে গড়ে তুলেছিলেন।

- তাঁর মৃত্যুর পর পুত্র সুকুমার রায় 'সন্দেশ' পত্রিকা পরিচালনা ও সম্পাদনার দায়িত্ব পালন করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

২০৮.
পাকিস্তান সরকার কর্তৃক ‘তঘমা-ই-ইমতিয়াজ’ নামক জাতীয় পুরস্কার লাভ করেন কোন নারী সাহিত্যিক?
  1. রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
  2. জাহানারা ইমাম
  3. সেলিনা হোসেন
  4. সুফিয়া কামাল
সঠিক উত্তর:
সুফিয়া কামাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুফিয়া কামাল
ব্যাখ্যা
⇒ সুফিয়া কামাল:
- 'জননী সাহসিকা' হিসেবে খ্যাত সুফিয়া কামাল ছিলেন মূলত কবি।
- সুফিয়া কামাল বাংলাদেশের একজন প্রথিতযশা কবি, লেখিকা ও নারী আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ।
- তিনি বরিশালের শায়েস্তাবাদে মামার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তার পৈতৃক নিবাস কুমিল্লায়।
- 'বেগম' (১৯৪৭) পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন তিনি।
- তাঁর রচিত প্রথম গল্প ‘সৈনিক বধূ’। রচনা হয় ১৯২৩ সালে। গ্রন্থটি বরিশালের ‘তরুণ’ পত্রিকায় প্রকাশ পায়।
- ১৯৮৪ সালে রুশ ভাষায় তাঁর সাঁঝের মায়া গ্রন্থটি সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে প্রকাশিত হয়।
- ২০০১ সালে বাংলা একাডেমী তাঁর কিছু কবিতার ইংরেজি অনুবাদ নিয়ে ‘Mother of Pearls and Other Poems’ এবং ২০০২ সালে সুফিয়া কামালের রচনা সমগ্র প্রকাশ করেছে।
- সাহিত্য ক্ষেত্রে বিশিষ্ট অবদানের জন্য সুফিয়া কামাল অসংখ্য পুরস্কার ও সম্মাননা লাভ করেছেন। ১৯৬১ সালে তিনি পাকিস্তান সরকার কর্তৃক ‘তঘমা-ই-ইমতিয়াজ’ নামক জাতীয় পুরস্কার লাভ করেন।

• তার রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সাঁঝের মায়া,
- উদাত্ত পৃথিবী,
- অভিযাত্রিক,
- মায়া কাজল ইত্যাদি।

• গল্পগ্রন্থ:
- কেয়ার কাঁটা।

• শিশুতোষ গল্প:
- ইতল বিতল,
- নওল কিশোরের দরবারে।

• ডায়েরি: একাত্তরের ডায়েরী। 
• আত্মজীবনী: একালে আমাদের কাল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২০৯.
'তত্ত্ববোধিনী' পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন-
  1. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  3. অক্ষয়কুমার দত্ত
  4. দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর
সঠিক উত্তর:
অক্ষয়কুমার দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অক্ষয়কুমার দত্ত
ব্যাখ্যা

• 'তত্ত্ববোধিনী' পত্রিকা:
- ১৮৪৩ সালের ১৬ আগস্ট দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের পৃষ্ঠপোষকতায় ও অক্ষয়কুমার দত্তের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা। অক্ষয়কুমার দত্ত এ পত্রিকায় ১৮৫৫ সাল পর্যন্ত সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।
- তৎকালীন উদার, বিজ্ঞানমনস্ক ও দেশসচেতন পত্রিকা ছিলো 'তত্ত্ববোধিনী' পত্রিকা।
- এই পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন অক্ষয়কুমার দত্ত। অক্ষয়কুমার অবসর নিলে পত্রিকার সম্পাদক হন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর।
তবে অক্ষয়কুমারের সম্পাদনাকাল ছিল পত্রিকার স্বর্ণযুগ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

২১০.
'ধূসরতার কবি' উপাধিটি কার?
  1. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  2. জীবনানন্দ দাশ
  3. জসীম উদ্‌দীন
  4. শামসুর রহমান
সঠিক উত্তর:
জীবনানন্দ দাশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জীবনানন্দ দাশ
ব্যাখ্যা
• জীবনানন্দ দাশের উপাধি:
- ধূসরতার কবি,
- তিমির হননের কবি,
- রূপসী বাংলার কবি,
- নির্জনতার কবি।

অন্যদিকে,
• জসীম উদ্‌দীনকে পল্লিকবি' বলা হয়।
• সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের উপাধি ছিল ছন্দের যাদুকর।
• শামসুর রহমানের উপাধি নাগরিক কবি।

------------------------------------
• জীবনানন্দ দাশ:
- তিনি ছিলেন কবি, শিক্ষাবিদ ছিলেন।
- তিনি ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।
- তাঁর ডাক নাম ছিল মিলু। মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন কবি।
- ১৯৫৪ খ্রিষ্টাব্দের ১৪ অক্টোবর জীবনানন্দ দাশ কলকাতায় এক ট্রাম-দুর্ঘটনায় আহত হন এবং ২২ অক্টোবর মৃত্যুবরণ করেন।

• জীবনানন্দ দাশ রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- ধূসর পাণ্ডুলিপি,
- বনলতা সেন,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- রূপসী বাংলা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২১১.
১৯২৭ খ্রিষ্টাব্দে 'প্রগতি' কী ধরনের সাহিত্য পত্রিকা হিসাবে প্রকাশিত হয়?
  1. অর্ধ-সাপ্তাহিক 
  2. সাময়িক 
  3. সাপ্তাহিক 
  4. মাসিক 
সঠিক উত্তর:
মাসিক 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাসিক 
ব্যাখ্যা

• 'প্রগতি' পত্রিকা:
- 'প্রগতি' ১৯২৭ খ্রিষ্টাব্দে ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয় মাসিকপত্র 'প্রগতি'।
- সম্পাদক ছিলেন বুদ্ধদেব বসু ও অজিতকুমার দত্ত।
- বাংলা সাহিত্যে আধুনিকতার বাতাস প্রবাহিত হলে ঢাকা যে তাতে পিছিয়ে ছিল না, 'প্রগতি'র প্রকাশ তার প্রমাণ। কল্লোল- কালিকলম-প্রগতি একই সঙ্গে উচ্চারিত হওয়ার যোগ্য তিনটি নাম। বাংলাদেশে আধুনিক সাহিত্যের বিকাশে এ পত্রিকার অবদান কম নয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

২১২.
'আমার সোনার বাংলা' গানটি প্রথম কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
  1. ক) বঙ্গদর্শন
  2. খ) সাধনা
  3. গ) ভারতী
  4. ঘ) বিশ্বভারতী
সঠিক উত্তর:
ক) বঙ্গদর্শন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) বঙ্গদর্শন
ব্যাখ্যা
'আমার সোনার বাংলা' গানটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গীতবিতানের স্বরবিতানের অন্তর্ভূক্ত।
- এটি স্বদেশ পর্যায়ের গান।
- এই গানের সুর করেছেন রবীন্দ্রনাথ স্বয়ং, তবে এতে বাউল গগন হরকরার সুরের প্রভাব পড়েছিল।

- এটি বঙ্গদর্শন পত্রিকায় ১৩১২ (১৯০৫) সালে প্রথম প্রকাশিত হয়।
- ব্রিটিশদের বঙ্গভঙ্গ প্রক্রিয়ার বিরোধিতা করে তিনি এই সঙ্গীতটি রচনা করেন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২১৩.
আবুল হাসানের প্রকৃত নাম কী?
  1. আবুল হোসেন মিয়া
  2. আবুল হুসেন
  3. আবুল হোসাইন
  4. হুসেন মিয়া
সঠিক উত্তর:
আবুল হোসেন মিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবুল হোসেন মিয়া
ব্যাখ্যা
আবুল হাসান:
- আবুল হাসানের প্রকৃত নাম - আবুল হোসেন মিয়া
- 'আবুল হাসান' তাঁর সাহিত্যিক নাম।
- তিনি একজন সৃষ্টিশীল কবি হিসেবে খ্যাত৷
- তিনি পেশায় সাংবাদিক ছিলেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- রাজা যায় রাজা আসে,
- যে তুমি হরণ করো,
- পৃথক পালঙ্ক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২১৪.
‘কাব্যসুধাকর’ কার উপাধি?
  1. শামসুর রাহমান
  2. আল মাহমুদ
  3. গোলাম মোস্তফা
  4. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
সঠিক উত্তর:
গোলাম মোস্তফা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গোলাম মোস্তফা
ব্যাখ্যা
গোলাম মোস্তফা:
- যশোর (বর্তমান ঝিনাইদহ) জেলার শৈলকুপা উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে ১৮৯৭ সালে তাঁর জন্ম।
- গোলাম মোস্তফা পাকিস্তানি আদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন এবং ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময় উর্দুর প্রতি সমর্থন জ্ঞাপন করেন।
- ১৯৪৯ সালে গঠিত পূর্ববঙ্গ সরকারের ভাষা সংস্কার কমিটির সচিব হিসেবে তিনি কাজ করেন।
- সাহিত্য-সংস্কৃতিতে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি যশোর সংঘ কর্তৃক ‘কাব্য সুধাকর’ (১৯৫২) এবং পাকিস্তান সরকার কর্তৃক ‘সিতারা-ই-ইমতিয়াজ’ (১৯৬০) উপাধি লাভ করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- রক্তরাগ,
- খোশরোজ,
- কাব্য-কাহিনী,
- সাহারা,
- হাসনাহেনা,
- বুলবুলিস্তান,
- তারানা-ই-পাকিস্তান,
- বনিআদম।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২১৫.
’সাধনা’ পত্রিকা প্রথম কার সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. সুধীন্দ্রনাথ ঠাকুর
সঠিক উত্তর:
সুধীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুধীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
• ’সাধনা’ পত্রিকা:
- এটি জোড়াসাঁকোর ঠাকুর পরিবারের তরুণ-বংশধরদের সম্পাদিত চতুর্থ পত্রিকা।
- সাধনা প্রথম প্রকাশিত হয় ১২৯৮ বঙ্গাব্দের অগ্রহায়ণ মাসে (ডিসেম্বর, ১৮৯১)।
- ১৮৯১ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভ্রাতুষ্পুত্র সুধীন্দ্রনাথ ঠাকুর সম্পাদনায় পত্রিকাটি প্রথম প্রকাশ ঘটে।
- চতুর্থ বছর সম্পাদনার ভার রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিজেই গ্রহণ করেন।
- এই পত্রিকার প্রধান লেখক ছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিজেই।

অন্যদিকে, 
------------------
• ‘ভারতী' পত্রিকা:
- ‘ভারতী' একটি মাসিক পত্রিকা। প্রথম প্রকাশিত হয় ১৮৭৭ (১২৮৪ বঙ্গাব্দ) সালে।
- প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর। স্বর্ণকুমারী দেবী ১২৯১-১৩০১ বঙ্গাব্দ পর্যন্ত পত্রিকাটি সম্পাদনা করেন।
- পরবর্তীতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরসহ ঠাকুর বাড়ির অনেকেই সম্পাদনা করেন।

• তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা:
- তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা ব্রাহ্মসমাজের তত্ত্ববোধিনী সভার মুখপত্র।
- ১৮৪৩ সালের ১৬ আগস্ট দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের পৃষ্ঠপোষকতায় ও অক্ষয়কুমার দত্তের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা।
- এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২১৬.
বাংলা গানে ঠুংরি ধারার প্রবর্তক-
  1. ক) অদ্বৈত মল্লবর্মণ
  2. খ) অতুলপ্রসাদ সেন
  3. গ) অন্নদাশঙ্কর রায়
  4. ঘ) অমিয় চক্রবর্তী
সঠিক উত্তর:
খ) অতুলপ্রসাদ সেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) অতুলপ্রসাদ সেন
ব্যাখ্যা
বাংলা গানে ঠুংরি ধারার প্রবর্তক অতুলপ্রসাদ সেন। বাংলায় ঠুংরি গীতধারার প্রথম প্রচলন করেন লক্ষ্ণৌর বিশিষ্ট সঙ্গীতজ্ঞ নবাব ওয়াজেদ আলী শাহ্। 'কয়েকটি গান' ও 'গীতিগুঞ্জ' অতুলপ্রসাদ সেনের গানের সংকলন। উৎস: শীকর, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।
২১৭.
'মার্কসবাদী' কবি বলা হয় কাকে?
  1. শামসুর রাহমান
  2. বিষ্ণু দে
  3. বুদ্ধদেব বসু
  4. নির্মলেন্দু গুণ
সঠিক উত্তর:
বিষ্ণু দে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিষ্ণু দে
ব্যাখ্যা
• বিষ্ণু দে- কে 'মার্কসবাদী' কবি বলা হয়। 
------------- 
বিষ্ণু দে:
- তিনি ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক, চিত্রসমালোচক ও শিল্পানুরাগী।
- ১৯০৯ সালের ১৮ জুলাই  কলকাতার পটলডাঙ্গায় তাঁর জন্ম।
- তাঁর পিতা অবিনাশচন্দ্র দে ছিলেন অ্যাটর্নি।
- বিষ্ণু দে ত্রিশোত্তর বাংলা কবিতার নব্যধারার আন্দোলনের প্রধান পাঁচজন কবির অন্যতম ছিলেন।
- তিনি মার্কসবাদী চেতনায় উদ্বুদ্ধ ছিলেন।
- বিষ্ণু দে মার্কসীয় তত্ত্বকে জীবনাবেগ ও শিল্পসম্মত করে রচনায় উপস্থাপনার ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জন করেন।
 
তাঁর সাহিত্যকর্ম:
কাব্যগ্রন্থ:
- উর্বশী ও আর্টেমিস,
- চোরাবালি,
- সাত ভাই চম্পা,
- স্মৃতি সত্তা ভবিষ্যত ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
শামসুর রাহমান, বুদ্ধদেব বসুকে -নাগরিক কবি বলা হয়।
নির্মলেন্দু গুণ কে -কবিদের কবি বলা হয়।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
২১৮.
'কুহেলিকা' উপন্যাসটি প্রথম কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়? 
  1. লাঙ্গল 
  2. বিজলী 
  3. নওরোজ
  4. বিচিত্রা 
সঠিক উত্তর:
নওরোজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নওরোজ
ব্যাখ্যা

• 'কুহেলিকা' উপন্যাস সম্পর্কিত কিছু তথ্য:
- কাজী নজরুল ইসলামের উপন্যাস ‘কুহেলিকা’ ১৩৩৪ বঙ্গাব্দে 'নওরোজ' পত্রিকায় 'কুহেলিকা' উপন্যাস প্রকাশ আরম্ভ হয়। গ্রন্থাকারে প্রথম প্রকাশ পায় ১৩৩৮ বঙ্গাব্দে (১৯৩১)।
- এ উপন্যাসে রাজনৈতিক প্রসঙ্গ এসেছে অত্যন্ত বড় ক্যানভাসে।উপন্যাসের নায়ক জাহাঙ্গীর বিপ্লবী স্বদেশি দলের সঙ্গে যুক্ত।
- এই উপন্যাসে তিনি একজন শিক্ষিত, দেশপ্রেমিক, বিপ্লবী চরিত্র — যিনি সমাজ ও রাষ্ট্রের অন্ধকার দূর করে আলোর পথ খুঁজছেন। কিন্তু তার যে প্রেমের সম্পর্ক ও নারী সম্পর্কে ধারণা তা যথেষ্ট ঋণাত্মক।

- নারী সম্পর্কে এ উপন্যাসে বলা হয়েছে:
‘ইহারা মায়াবিনীর জাত। ইহারা সকল কল্যাণের পথে মায়াজাল পাতিয়া রাখিয়াছে। ইহারা গহন-পথের কণ্টক, রাজপথের দস্যু।'

এই উপন্যাসের অন্যান্য চরিত্রগুলো হচ্ছে:
- কুহেলিকা,
- তাহমিনা,
- চম্পা,
- ফিরদৌস বেগম।

-----------------
কাজী নজরুল ইসলাম সম্পর্কে কিছু সংক্ষিপ্ত তথ্য:
- বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- তিনি ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ  (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তাঁর ডাক নাম ছিলো ‘দুখু মিয়া’। 
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’ এবং আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত উপন্যাস:
- বাঁধন-হারা,
- মৃত্যুক্ষুধা,
- কুহেলিকা।

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

২১৯.
'যাযাবর'- কার ছদ্মনাম?
  1. মণীশ ঘটক
  2. প্রমথ চৌধুরী
  3. নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
  4. বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• 'বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়ের' ছদ্মনাম ছিলো- যাযাবর।

অন্যদিকে,
- প্রমথ চৌধুরীর ছদ্মনাম- বীরবল। 
- নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম 'সুনন্দ'।
- মণীশ ঘটকের ছদ্মনাম 'যুবনাশ্ব'।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২২০.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম কাব্যগ্রন্থ কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে?
  1. ভারতী
  2. সাধনা
  3. বঙ্গদর্শন
  4. অমৃতবাজার পত্রিকা
সঠিক উত্তর:
ভারতী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভারতী
ব্যাখ্যা
• কবি-কাহিনী:
- 'কবি-কাহিনী' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ।
- 'ভারতী' পত্রিকায় পৌষ-চৈত্র, ১২৮৪ বঙ্গাব্দ (১৮৭৮ খ্রি.) সংখ্যায় এর কবিতাগুলি ছাপা হয়।
- ১৮৭৮ সালেই কবিতাগুলি নিয়ে 'কবি-কাহিনী' গ্রন্থ প্রকাশিত হলে গ্রন্থকার হিসেবে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পরিচয় আরম্ভ হয়।
- চার সর্গে বিভক্ত এই নাতিদীর্ঘ কাব্যের নায়ক এক কবি এবং নায়িকা 'নলিনী'।
- নলিনীর মৃত্যুর পর নায়ক কবির বিশ্বপ্রেমের উপলব্ধিতে কাব্যের পরিসমাপ্তি।
- মনে করা হয়, এ কাব্যের নায়ক রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিজেই।
- কবিতার কাহিনিতে নাটকীয়তা নেই।
- অমিত্রাক্ষর ছন্দের রচনা।
- তবে বিন্যাস পয়ার ও ত্রিপদী উভয় ধরনের।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রধান কাব্যগ্রন্থ:
- মানসী,
- সোনার তরী,
- চিত্রা,
- চৈতালী,
- কল্পনা,
- ক্ষণিকা,
- গীতাঞ্জলি,
- বলাকা,
- পূরবী,
- পুনশ্চ,
- পত্রপুট,
- সেঁজুতি,
- শেষলেখা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২২১.
কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত পত্রিকা-
  1. লাঙল
  2. ধূমকেতু
  3. নবযুগ
  4. সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
ব্যাখ্যা
কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত পত্রিকা-
- ধূমকেতু (অর্ধসাপ্তাহিক) ,
- লাঙল (সাপ্তাহিক),
- নবযুগ (দৈনিক)।

• ‘ধূমকেতু’ পত্রিকা:
- কাজী নজরুল ইসলামের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় অর্ধসপ্তাহিক পত্রিকা ধূমকেতু (১৯২২)।
- ধূমকেতু পত্রিকায় রবীন্দ্রনাথের বাণী ছাপা হয়েছিল- "আয় চলে আয় রে ধূমকেতু/ আঁধারে বাঁধ অগ্নিসেতু-"।
- ধূমকেতুর পূজা সংখ্যায় (২৬শে সেপ্টেম্বর ১৯২২) 'আনন্দময়ীর আগমনে' প্রকাশিত হলে পত্রিকাটি ব্রিটিশ সরকার দ্বারা বাজেয়াপ্ত হয় এবং তিনি গ্রেফতার হন।

কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত অন্যান্য পত্রিকা-
• 'দৈনিক নবযুগ’ পত্রিকা': 
- নবযুগ কলকাতা থেকে প্রকাশিত এক পাতার একটি সান্ধ্য দৈনিক।
- পত্রিকাটি কাজী নজরুল ইসলাম ও কমরেড মুজাফ্‌ফর আহমদ এর সাথে যৌথভাবে সম্পাদনা করেন। 
- দৈনিক নবযুগ পত্রিকা ১৯২০ সালের ১২ জুলাই প্রথম প্রকাশিত হয়।
- এটির মালিক ও পরিচালক ছিলেন শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক।
- জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ও মুজাফফর আহমদ ছিলেন যুগ্ম সম্পাদক।
- পরে ১৯৪০ সালের অক্টোবর মাসে পত্রিকাটি পুনঃপ্রকাশিত হলে নজরুল এককভাবে এর সম্পাদক হন। 

• ‘লাঙ্গল’ পত্রিকা:
- নজরুলের একটি উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ ছিল সাপ্তাহিক লাঙ্গল পত্রিকা প্রকাশ (১৬ ডিসেম্বর ১৯২৫)।
- তিনি এ পত্রিকার প্রধান সম্পাদক ছিলেন। এর প্রথম সংখ্যাতেই নজরুলের ‘সাম্যবাদী’ কবিতা সমষ্টি মুদ্রিত হয়।
- লাঙ্গল ছিল বাংলা ভাষায় প্রকাশিত প্রথম শ্রেণিসচেতন সাপ্তাহিক পত্রিকা।
- এতে প্রকাশিত ‘শ্রমিক-প্রজা-স্বরাজ দলে’র ম্যানিফেস্টোতে প্রথম ভারতের পূর্ণ স্বাধীনতার দাবি উত্থাপিত হয়।
- এ সময় নজরুল পেশাজীবী শ্রমিক-কৃষক সংগঠনের উপযোগী সাম্যবাদী ও সর্বহারা  কাব্যগ্রন্থ প্রকাশ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২২২.
হিন্দু ধর্মনুরাগীদের থেকে 'ঋষি' উপাধি লাভ করেন কোন সাহিত্যিক?
  1. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  2. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  4. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ঔপন্যাসিক, সাংবাদিক, বাংলার নবজাগরণের অন্যতম প্রধান পুরুষ।
- ১৮৩৮ সালে চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁকে বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয়। তিনি হিন্দু ধর্মনুরাগীদের থেকে 'ঋষি' উপাধি লাভ করেন।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত প্রথম উপন্যাস 'রাজমোহনস ওয়াইফ'। উপন্যাসটি ইংরেজিতে লেখা।
- তাঁর রচিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী' প্রকাশিত হয় ১৮৬৫। এটি তাঁর রচিত প্রথম বাংলা উপন্যাসও।
- 'ললিতা তথা মানস' (১৮৫৬) কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। এটি তাঁর রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ।
- 'কপালকুণ্ডলা' তাঁর রচিত দ্বিতীয় বাংলা উপন্যাস (১৮৬৬)।
- আনন্দমঠ, দেবী চৌধুরানী ও সীতারাম তাঁর ত্রয়ী উপন্যাস।

অন্যদিকে,
• ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তকে বলা হয় যুগ সন্ধিক্ষণের কবি।
• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় সাহিত্য প্রতিভার স্বীকৃতি হিসেবে তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জগত্তারিণী স্বর্ণপদক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডি.লিট উপাধি লাভ করেন।
• ১৮৩৯ সালে সংস্কৃত কলেজ ঈশ্বরচন্দ্রকে 'বিদ্যাসাগর' উপাধি প্রদান করে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

২২৩.
'বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়' কোন ছদ্মনামে সাহিত্য রচনা করতেন?
  1. ক) পরশুরাম
  2. খ) বীরবল
  3. গ) টেকচাঁদ ঠাকুর
  4. ঘ) বনফুল
সঠিক উত্তর:
ঘ) বনফুল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) বনফুল
ব্যাখ্যা
বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়:
• লেখক হিসেবে বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় হাজারেরও বেশি কবিতা, ৫৮৬টি ছোট গল্প, ৬০টি উপন্যাস, ৫টি নাটক, জীবনী ছাড়াও অসংখ্য প্রবন্ধ রচনা করেছেন। তার রচনাবলীসমগ্র ২২ খণ্ডে প্রকাশিত হয়েছে ।
বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম 'বনফুল'।
• বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় নাটক রচনাতে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন। প্রহসন, একাঙ্কিকা, চিত্রনাট্য, নাটিকা ছাড়াও তিনি বিখ্যাত ব্যক্তিদের জীবনচরিত অবলম্বন করে নাটক রচনা করেন, যাতে পাওয়া যায় তাঁর সৃজনশীল প্রতিভার অপর একটি ভিন্ন রূপের পরিচয়।

অন্যদিকে,
প্যারীচাঁদ মিত্রের ছদ্মনাম টেকচাঁদ ঠাকুর।
রাজশেখর বসুর ছদ্মনাম পরশুরাম।
প্রমথ চৌধুরীর ছদ্মনাম বীরবল। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২২৪.
বাংলা সাহিত্যে চলিত রীতির প্রবর্তনে কোন পত্রিকাটির ভূমিকা সবচেয়ে বেশী?
  1. শিখা
  2. সংবাদ প্রভাকর
  3. সবুজপত্র
  4. বঙ্গদর্শন 
সঠিক উত্তর:
সবুজপত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবুজপত্র
ব্যাখ্যা

• 'সবুজপত্র' পত্রিকা:
- বাংলা সাহিত্যে চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তক হলেন প্রমথ চৌধুরী।
- 'সবুজপত্র' পত্রিকা ১৯১৪ সালে প্রমথ চৌধুরীর সম্পাদিত বিশিষ্ট সাহিত্য পত্রিকা।
- এটি বৈশাখ ১৩২১ বঙ্গাব্দে প্রথম প্রকাশিত হয় এবং ১৩ বছর চলে।
- এটি চলিত রীতি প্রবর্তনে মূল ভূমিকা পালন করে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।

২২৫.
বাংলা সাহিত্যের “দুঃখবাদী কবি” কে?
  1. ক) গোবিন্দচন্দ্র দাস
  2. খ) যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত
  3. গ) সুকান্ত ভট্টাচার্য
  4. ঘ) রামেন্দ্রসুন্দর ত্রিবেদী
  5. ঙ) কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
খ) যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত
ব্যাখ্যা
যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত বাংলা সাহিত্যে “দুঃখবাদী কবি” হিসেবে পরিচিত। তার কাব্যঃ মরীচিকা, মরুমায়া, মরুশিখা, সায়ম, ত্রিযামা, নিশান্তিকা ইত্যাদি। উল্লেখ্য যে, কাজী নজরুল লিখেছিলেন - মরুভাস্কর কাব্য, যা মুহম্মদ (স.) এর জীবনী নিয়ে লেখা।
উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য-মোহসীনা নাজিলা
২২৬.
'যাযাবর' ছদ্মনামটি কোন লেখকের?
  1. বিমল মিত্র
  2. রোকনুজ্জামান খান
  3. বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়
  4. প্রমথ চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম - যাযাবর

অন্যদিকে,
• বীরবল- প্রমথ চৌধুরী।
• জাবালি - বিমল মিত্র।
• দাদাভাই - রোকনুজ্জামান খান।  

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২২৭.
‘বিদ্রোহী’ কবিতাটি প্রথম কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
  1. মোহাম্মদী
  2. ধূমকেতু
  3. বিজলী
  4. মোসলেম ভারত
সঠিক উত্তর:
বিজলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিজলী
ব্যাখ্যা
• 'বিদ্রোহী' কবিতা:
- ‘বিদ্রোহী’ কবিতাটি কাজী নজরুল ইসলামের 'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থের দ্বিতীয় কবিতা।
- ১৯২২ সালের ৬ জানুয়ারি সাপ্তাহিক ‘বিজলী’ পত্রিকায় কবিতাটি প্রথম প্রকাশিত হয়।
- এর মূলে রয়েছে - বিদ্রোহ ও বিপ্লবের আবেগ।
- মূলত ‘বিদ্রোহী’ কবিতার জন্যই কবি নজরুলকে ‘বিদ্রোহী কবি’ বলা হয়।

-------------------------
• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

• কাজী নজরুল ইসলামের সংগীত বিষয়ক গ্রন্থ:
- চোখের চাতক,
- নজরুল গীতিকা,
- সুর সাকী,
- বনগীতি প্রভৃতি।

• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত উপন্যাস:
- বাঁধন-হারা,
- মৃত্যুক্ষুধা,
- কুহেলিকা।

কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- দুর্দিনের যাত্রী,
- যুগবাণী,
- রুদ্র মঙ্গল।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২২৮.
ঢাকা থেকে প্রকাশিত সাহিত্য সাময়িকী ‘প্রগতি’র অন্যতম সম্পাদক ছিলেন-
  1. বুদ্ধদেব বসু
  2. নরেশ সেনগুপ্ত
  3. আশুতোশ ভট্টাচার্য
  4. মনীশ ঘটক
সঠিক উত্তর:
বুদ্ধদেব বসু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বুদ্ধদেব বসু
ব্যাখ্যা
• ঢাকা থেকে প্রকাশিত সাহিত্য সাময়িকী ‘প্রগতি’র অন্যতম সম্পাদক ছিলেন- 'বুদ্ধদেব বসু'। 

⇒ 'প্রগতি' পত্রিকা:
- প্রগতি ১৯২৭ খ্রিষ্টাব্দে ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয় মাসিকপত্র 'প্রগতি'।
-সম্পাদক ছিলেন বুদ্ধদেব বসু ও অজিতকুমার দত্ত। বাংলা
- সাহিত্যে আধুনিকতার বাতাস প্রবাহিত হলে ঢাকা যে তাতে পিছিয়ে ছিল না, 'প্রগতি'র প্রকাশ তার প্রমাণ।
- কল্লোল- কালিকলম-প্রগতি একই সঙ্গে উচ্চারিত হওয়ার যোগ্য তিনটি নাম।
- বাংলাদেশে আধুনিক সাহিত্যের বিকাশে এ পত্রিকার অবদান কম নয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
২২৯.
‘ক্রান্তি’ পত্রিকার প্রথম সংখ্যার সম্পাদক ছিলেন কে?
  1. রণেশ দাশগুপ্ত
  2. সোমেন চন্দ
  3. সত্যেন সেন
  4. কিরণশঙ্কর সেনগুপ্ত
সঠিক উত্তর:
রণেশ দাশগুপ্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রণেশ দাশগুপ্ত
ব্যাখ্যা

'ক্রান্তি' পত্রিকা:
- ‘ক্রান্তি’র প্রথম সংখ্যার সম্পাদক ছিলেন রণেশ দাশগুপ্ত, আর প্রকাশক ছিলেন সোমেন চন্দ।
- বাংলাদেশে প্রগতিশীল আন্দোলনের প্রথম পর্যায়ের পত্রিকা ‘ক্রান্তি’।
- পত্রিকাটি ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয়।
- ঢাকায় ১৯৩৯ সালে গঠিত হয় প্রগতি লেখক ও শিল্পী সংঘ। ১৯৪০ সালে এই সংঘের আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশ ঘটে।
- সংঘের উদ্যোক্তাদের মধ্যে ছিলেন সোমেন চন্দ, রণেশ দাশগুপ্ত, সত্যেন সেন, কিরণশঙ্কর সেনগুপ্ত, সতীশ পাকরাশী প্রমুখ।
- এই সংঘ ছিল মূলত সাম্রাজ্যবাদ, সাম্প্রদায়িকতা, যুদ্ধ, আধিপত্যবাদ বিরোধী এবং মেহনতি মানুষের পক্ষে লেখনী ধারণকারী প্রতিষ্ঠান।
- এই সংঘের মুখপত্র হিসেবে ‘ক্রান্তি’ পত্রিকা প্রকাশিত হয় ১৯৪০ সালের শেষ দিকে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

২৩০.
বিহারীলাল চক্রবর্তীকে 'ভোরের পাখি' উপাধিতে আখ্যায়িত করেন কে?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. রাজা রামমোহন রায়
  4. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
বিহারীলাল চক্রবর্তী
- বিহারীলাল চক্রবর্তী রবীন্দ্রনাথের কাব্যগুরু হিসেবে পরিচিত।
- বাংলা গীতিকবিতার জনক হিসেবে পরিচিত তিনি।
- তিনি আধুনিক বাংলা গীতিকাব্যের প্রথম কবি।

- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিহারীলাল চক্রবর্তীকে 'ভোরের পাখি' উপাধিতে আখ্যায়িত করেন।
-বিহারীলাল চক্রবর্তীর প্রথম সার্থক গীতিকবিতা - বঙ্গসুন্দরী।
- তার শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ: সারদামঙ্গল।

- বিহারীলাল চক্রবর্তী রচিত দুটি উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- স্বপ্নদর্শন,
- সঙ্গীত শত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২৩১.
হাসান আজিজুল হক সম্পাদিত পত্রিকা নিচের কোনটি?
  1. ক) কথাসাহিত্য
  2. খ) অসীমান্তিক
  3. গ) সঞ্জীবনী
  4. ঘ) শিল্পকলা
সঠিক উত্তর:
খ) অসীমান্তিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) অসীমান্তিক
ব্যাখ্যা
হাসান আজিজুল হক সম্পাদিত পত্রিকা - অসীমান্তিক (১৯৯৮)। তার রচিত নাটক - চন্দর কোথায়। তিনি ১৯৯৯ সালে একুশে পদক লাভ করেন। তার অন্যতম সেরা প্রবন্ধ - একাত্তর : করতলে ছিন্নমাথা। উৎসঃ মোহসীনা নাজিলা রচিত শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য।
২৩২.
ব্রাহ্মসমাজের মুখপত্র ছিলো কোন পত্রিকা? 
  1. কল্লোল
  2. তত্ত্ববােধিনী
  3. সওগাত
  4. ধূমকেতু
সঠিক উত্তর:
তত্ত্ববােধিনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তত্ত্ববােধিনী
ব্যাখ্যা

'তত্ত্ববোধিনী' পত্রিকা:
- এটি ব্রাহ্মসমাজের তত্ত্ববোধিনী সভার মুখপত্র ছিলো। 
- ব্রাহ্মধর্মের প্রচার এবং তত্ত্ববোধিনী সভার সভ্যদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষার উদ্দেশ্যে ১৮৪৩ সালের ১৬ আগস্ট অক্ষয়কুমার দত্তের সম্পাদনায় তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা প্রথম প্রকাশিত হয়।
- এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর।
- উনিশ শতকের শ্রেষ্ঠ গদ্যলেখক ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, রাজনারায়ণ বসু, দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রমুখ এ পত্রিকায় নিয়মিত লিখতেন এবং তাঁদের লেখার মাধ্যমে তখন বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে এক নবযুগের সূচনা হয়।
- বেদান্ত-প্রতিপাদ্য ব্রহ্মবিদ্যার প্রচার পত্রিকারমুখ্য উদ্দেশ্য হলেও জ্ঞানবিজ্ঞান, ইতিহাস, সাহিত্য, ধর্ম, রাজনীতি, অর্থনীতি, সমাজতত্ত্ব এবং দর্শনবিষয়ক মূল্যবান রচনাও এতে প্রকাশিত হতো।
- তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা ১৯৩২ সাল পর্যন্ত প্রকাশিত হয়েছে।
- অক্ষয়কুমারের পরে বিভিন্ন সময়ে এর সম্পাদনার দায়িত্ব পালন করেন নবীনচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়, সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর, অযোধ্যানাথ পাকড়াশী, হেমচন্দ্র বিদ্যারত্ন, দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও ক্ষিতীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

২৩৩.
মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে কে “চেনাকন্ঠ” ছদ্মনামে শব্দসৈনিক হিসাবে পরিচিত ছিলেন?
  1. ক) শামসুর রাহমান
  2. খ) সৈয়দ আলী আহসান
  3. গ) সৈয়দ শামসুল হক
  4. ঘ) হাসান হাফিজুর রহমান
সঠিক উত্তর:
খ) সৈয়দ আলী আহসান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সৈয়দ আলী আহসান
ব্যাখ্যা
জাতীয় অধ্যাপক সৈয়দ আলী আহসান বাংলাদেশের জাতীয় সংগীতের ইংরেজী অনুবাদ করেন। তার প্রবন্ধগ্রন্থ সমূহঃ গল্পসঞ্চয়ন ( ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ এর সহযোগে), বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত (মুহম্মদ আবদুল হাই - এর সাথে যৌথভাবে), নজরুল ইসলাম, কবি মধুসূদন, কবিতার কথা, সাহিত্যের কথা, সতত স্বাগত ইত্যাদি। উৎসঃ মোহসীনা নাজিলা রচিত শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য।
২৩৪.
'কল্লোল' পত্রিকাটি কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৯২৬ খ্রিষ্টাব্দে
  2. ১৯৩২ খ্রিষ্টাব্দে
  3. ১৯২৯ খ্রিষ্টাব্দে
  4. ১৯২৩ খ্রিষ্টাব্দে
সঠিক উত্তর:
১৯২৩ খ্রিষ্টাব্দে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯২৩ খ্রিষ্টাব্দে
ব্যাখ্যা
• 'কল্লোল' পত্রিকা:
- ১৯২৩ খ্রিষ্টাব্দে আধুনিক লেখকদের সাহিত্যিক মুখপত্র হিসেবে কলকাতা থেকে মাসিক 'কল্লোল' প্রকাশিত হয়।
- এ পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন দীনেশরঞ্জন দাশ।
- 'কল্লোল' পত্রিকায় নিয়মিত লিখতেন অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত, শৈলজানন্দ মুখোপাধ্যায়, বুদ্ধদেব বসু, প্রেমেন্দ্র মিত্র, মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় প্রমুখ।
- এই পত্রিকাকে কেন্দ্র করে স্বতন্ত্র সাহিত্যিক বলয় তৈরী হয়েছিল এবং 'কল্লোল যুগ' নামে আলাদা একটি যুগের সৃষ্টি হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২৩৫.
নিচের কোনটি বিংশ শতাব্দীর পত্রিকা?
  1. মোসলেম ভারত
  2. বঙ্গদর্শন
  3. তত্ত্ববােধিনী
  4.  সংবাদ প্রভাকর
সঠিক উত্তর:
মোসলেম ভারত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মোসলেম ভারত
ব্যাখ্যা

‘মোসলেম ভারত’:
-  ১৯২০ সালে কলকাতা থেকে মোজাম্মেল হকের সম্পাদনায় ‘মোসলেম ভারত’ মাসিক সাহিত্যপত্র হিসেবে প্রকাশিত হয়।

- বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবিখ্যাতি লাভের পশ্চাতে এই পত্রিকার বিশিষ্ট ভূমিকা ছিল।
- ‘মোসলেম’ শব্দটি থাকলেও এটি ছিল একটি অসাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গিসম্পন্ন পত্রিকা। ধর্মবর্ণ নির্বিশেষে খ্যাতিমান লেখকদের লেখা এতে প্রকাশিত হতো।

অন্যদিকে,
বঙ্গদর্শন পত্রিকা:

- ১৮৭২ সালে  বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৮৩৮-১৮৯৪) কর্তৃক 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকাটি প্রথম প্রকাশিত হয়।
- উনিশ শতকের  বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, বিশেষত বাংলা গদ্যের গঠনে এর অবদান অবিস্মরণীয়।
- পত্রিকাটি ১৮৭৬ পর্যন্ত মাত্র চার বছর প্রকাশিত হয়।

তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা:
- তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা ব্রাহ্মসমাজের তত্ত্ববোধিনী সভার মুখপত্র।
- ১৮৪৩ সালের ১৬ আগস্ট দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের পৃষ্ঠপোষকতায় ও অক্ষয়কুমার দত্তের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা।
- এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর।

সংবাদ প্রভাকর পত্রিকা:
- 'সংবাদ প্রভাকর' পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত।
- তিনি ১৮৩১ সালে সংবাদ প্রভাকর (সাপ্তাহিক) পত্রিকা প্রতিষ্ঠা করেন।
- ১৮৩৯ সাল থেকে এটি দৈনিক পত্রিকায় হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।

সুতরাং দেখা যাচ্ছে,
- 'মোসলেম ভারত' পত্রিকাটি বিশ শতকে প্রকাশিত হয়।
- অন্যদিকে, বঙ্গদর্শন, তত্ত্ববোধিনী ও সংবাদ প্রভাকর - উনিশ শতকের পত্রিকা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া।

২৩৬.
‘সবুজপত্র’ কি?
  1. নাটক
  2. উপন্যাস
  3. সাময়িকপত্র
  4. গদ্যসংকলন
সঠিক উত্তর:
সাময়িকপত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাময়িকপত্র
ব্যাখ্যা
- সবুজপত্র বিংশ শতাব্দীর বাংলায় আধুনিকতার বাহন বাংলা সাময়িকপত্র।
- প্রমথ চৌধুরীর সম্পাদনায় সবুজপত্র প্রথম প্রকাশিত হয় ১৩২১ বঙ্গাব্দের (১৯১৪ সালে) ২৫ বৈশাখ।
- বাংলা গদ্যরীতির বিকাশে এই পত্রিকার গুরুত্ব অপরিসীম।
- সাধু গদ্যরীতির বদলে চলিত গদ্যরীতি এই পত্রিকা ব্যবহার ও প্রতিষ্ঠা করে।
- বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিজেও এই পত্রিকায় লেখার সুবাদে চলিত গদ্যরীতির স্বাচ্ছন্দ্য অনুভব এবং পরে তা চর্চা করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২৩৭.
বাংলা সাহিত্যে ‘আধুনিক গীতিকবিতার জনক’ হিসেবে কাকে অভিহিত করা হয়?
  1. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. বিহারীলাল চক্রবর্তী
  4. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
সঠিক উত্তর:
বিহারীলাল চক্রবর্তী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিহারীলাল চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা

বিহারীলাল চক্রবর্তী:
- বিহারীলাল চক্রবর্তী  আধুনিক বাংলা গীতিকবিতার অন্যতম পুরোধা এবং রবীন্দ্রনাথের কাব্যগুরু হিসেবে পরিচত।
- বাংলা গীতিকবিতার জনক হিসেবে পরিচিত বিহারীলাল চক্রবর্তী। তিনি আধুনিক বাংলা গীতিকবিতার অন্যতম পুরোধা এবং রবীন্দ্রনাথের কাব্যগুরু হিসেবে পরিচিত।
- তিনি আধুনিক বাংলা গীতিকাব্যের প্রথম ও প্রধান কবি।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিহারীলাল চক্রবর্তীকে 'ভোরের পাখি' উপাধিতে আখ্যায়িত করেন।
- বিহারীলাল চক্রবর্তীর প্রথম সার্থক গীতিকবিতা ‘বঙ্গসুন্দরী’।
- তার শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ: সারদা মঙ্গল। 

বিহারীলাল চক্রবর্তী রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- স্বপ্নদর্শন,
- সঙ্গীত শতক,
- বঙ্গসুন্দরী,
- নিসর্গ সন্দর্শন,
- বন্ধু বিয়োগ,
- সারদা মঙ্গল,
- প্রেম প্রবাহিনী।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 
২) বাংলাপিডিয়া।

২৩৮.
কালীপ্রসন্ন সিংহ কোন প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন?
  1. ক) বিদ্যোৎসাহিনী সভা
  2. খ) বিদ্যোৎসাহিনী পত্রিকা
  3. গ) বিদ্যোৎসাহিনী রঙ্গমঞ্চ
  4. ঘ) সবগুলো
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা
কালীপ্রসন্ন সিংহ প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠান- 
- বিদ্যোৎসাহিনী সভা (১৮৫৩)
- বিদ্যোৎসাহিনী পত্রিকা (১৮৫৫) 
- বিদ্যোৎসাহিনী রঙ্গমঞ্চ  (১৮৫৩)
- মাত্র তেরো বছর বয়সে কালীপ্রসন্ন সিংহ প্রতিষ্ঠা করেন ‘বিদ্যোৎসাহিনী সভা’। 
- তৎকালীন প্রখ্যাত  বুদ্ধিজীবী রাজা রাজেন্দ্রলাল মিত্রের সম্পাদনায় তিনি পর্যায়ক্রমে তিনটি সাময়িকী প্রকাশ করেন: বিদ্যোৎসাহিনী পত্রিকা (১৮৫৫), সর্বতত্ত্ব প্রকাশিকা (১৮৫৬) এবং বিবিধার্থ সংগ্রহ। 
- নাটক ও যাত্রার মাধ্যমে সামাজিক জ্ঞান বৃদ্ধির মানসে তিনি  বিদ্যোৎসাহিনী মঞ্চ (১৮৫৬) প্রতিষ্ঠা করেন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২৩৯.
'বেঙ্গল গেজেট' পত্রিকাটি কত খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৭৮৪ খ্রিষ্টাব্দে
  2. ১৭৮০ খ্রিষ্টাব্দে
  3. ১৭৮৫ খ্রিষ্টাব্দে
  4. ১৭৭৭ খ্রিষ্টাব্দে
সঠিক উত্তর:
১৭৮০ খ্রিষ্টাব্দে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৭৮০ খ্রিষ্টাব্দে
ব্যাখ্যা

'বেঙ্গল গেজেট' পত্রিকা:
- ১৭৮০ খ্রিষ্টাব্দের ২৯শে জানুয়ারি কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয় ভারতের প্রথম মুদ্রিত সংবাদপত্র জেম্স অগাস্টাস হিকি সম্পাদিত 'বেঙ্গল গেজেট'।
- পত্রিকাটিতে মূলত বিজ্ঞাপন, বিদেশি ইংরেজি পত্রিকা থেকে উদ্ধৃতি, সংবাদদাতাদের বিবরণধর্মী লেখা ছাপা হতো।
- 'পোয়েটস্ কর্নার' বলে একটি বিশেষ অংশ ছিল। প্রকাশের প্রথম মাস দশেক কোনো রাজনৈতিক বিবাদপূর্ণ লেখা প্রকাশিত হয় নি।
- পরে প্রশাসনের বিপক্ষে কিছু লেখা বের হলে ১৭৮০ খ্রিষ্টাব্দের ১৪ই নবেম্বর ফোর্ট উইলিয়াম থেকে এক বিজ্ঞপ্তি জারি করে ডাকঘর মারফত পত্রিকা বিতরণ বন্ধ করা হয়। পরে হিকি মামলায় জড়িয়ে পড়েন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

২৪০.
'ইস্তাম্বুল যাত্রীর পত্র' গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. আনোয়ার পাশা
  2. ইব্রাহীম খাঁ
  3. অন্নদাশঙ্কর রায়
  4. আব্দুল্লাহ আল মামুন
সঠিক উত্তর:
ইব্রাহীম খাঁ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইব্রাহীম খাঁ
ব্যাখ্যা
• 'ইস্তাম্বুল যাত্রীর পত্র':
- 'ইস্তাম্বুল যাত্রীর পত্র' ইবরাহীম খাঁর কেবল ভ্রমণকাহিনিই নয়, এটি তাঁর অন্যতম সাহিত্যকীর্তিও।

- ইব্রাহীম খাঁ ১৯৫১ সালের ২২ আগস্ট করাচী থেকে ইস্তাম্বুল যাত্রা করেন। সহযাত্রী ছিলেন মৌলভী তমিজুদ্দীন খাঁ ও মৌলভী খোন্দকার আলী আফজাল-এঁরা তিনজনই বাঙালি। তাঁরা আন্তঃপার্লামেন্টারি মতবিনিময় কার্যক্রমের অংশ হিসাবে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের প্রতিনিধি দলের সদস্য হয়ে মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ ভ্রমণ করেন। মূলত এই ভ্রমণের অভিজ্ঞতাকেই অবলম্বন করে 'ইস্তাম্বুল যাত্রীর পত্র' গ্রন্থটি রচিত। 

- তাঁরা মধ্যপ্রাচ্যের পথে প্রথমেই গিয়েছিলেন বছরা; তারপর বৈরুত, আলোপ্পো, খালেদার মাজার দেখলেন, আরবী গান শুনলেন এবং আঙ্কারার পথে যাত্রা করলেন। এরপর এলেন ইস্তাম্বুলে, নিকোশিয়া, কায়রো, জেদ্দা, মক্কা, মদীনা, দামেশক, তেহরান ইত্যাদি ভ্রমণশেষে তাঁরা ১৯৫১ সালের ৪ অক্টোবর করাচী এসে তাঁদের সফর শেষ করেন।

- এই 'ইস্তাম্বুল যাত্রীর পত্র' গ্রন্থটি আলোচনা করতে গিয়ে দেওয়ান মোহাম্মদ আজরফ- ইবরাহীম খাঁ'কে 'অভিনব ভ্রমণকাহিনির প্রবর্তক' হিসাবে আখ্যায়িত করেছেন।

গ্রন্থের ভূমিকায় লেখক বলেন-
ইস্তাম্বুল যাত্রীর অনেকগুলি পত্র আজাদে প্রকাশিত হয়। তখন পাঠক সমাজের অনেকে একে বইয়ের আকারে ছাপাতে পরামর্শ দেন। তাঁদের এই পরামর্শকে কাজে পরিণত করার ব্যাপারে অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস যে সহযোগিতা করেছেন, সেজন্য তাঁদেরে ধন্যবাদ। আর যে সহৃদয় পাঠক বন্ধুদের আগ্রহে আমি এই ছাপান কাজে প্রবৃত্ত হই, আজ তাঁদেরেও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং 'ইস্তাম্বুল যাত্রীর পত্র' ভ্রমণকাহিনি।
২৪১.
কুষ্টিয়ার লাহিনীপাড়া থেকে প্রকাশিত পত্রিকা কোনটি?
  1. লহরী
  2. মিহির
  3. হিতকরী
  4. বাসনা
সঠিক উত্তর:
হিতকরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হিতকরী
ব্যাখ্যা
• 'হিতকরী' পত্রিকা:
- 'হিতকরী' পত্রিকা ১৮৯০ খ্রিস্টাব্দে কুষ্টিয়ার লাহিনীপাড়া থেকে মীর মশাররফ হোসেনের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়।
- পরবর্তীতে এর সম্পাদক হন মোসলেম উদ্দীন খান।
- বাঙালি মুসলিমদের মাতৃভাষা বাংলাচর্চা এবং হিন্দু মুসলিম সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে সংবাদ ও প্রবন্ধ ছাপা হয় পত্রিকাটিতে।

অন্যদিকে,
-----------------
• 'মিহির ও সুধাকর' পত্রিকা:
১৮৯২ সালের ২৭ জানুয়ারি শেখ আবদুর রহিম মিহির নামে একটি মাসিক পত্রিকা চালু করেন, যা অনিয়মিতভাবে প্রকাশিত হতো। ১৮৯৫ সালে মিহির এবং সুধাকর একীভূত হয়ে মিহির ও সুধাকর নাম ধারণ করে। প্রথমে কলকাতার ২৫, রায়বাগান স্ট্রিট থেকে এটি প্রাশিত হতো। পরবর্তীতে তা ৪২, মেটকাফ স্ট্রিটে স্থানান্তরিত হয়।

• 'লহরী' পত্রিকা:
- লহরী' নামক 'নানা বিষয়িনী কবিতাময়ী সমালোচনী পত্রিকা' মোজাম্মেল হকের সম্পাদনায় ১৯০০ সালে কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়েছিল।
- পত্রিকাটিতে কেবল কবিতাই প্রকাশিত হতো। সম্পাদক হিন্দু কবিগণের কবিতা স্থান দিতেন।
- 'লহরী'তে প্রকাশিত কবিতাগুলোর যে পরিচয় পাওয়া যায় তাতে, কবির আত্মগত ভাবকল্পনাকে আশ্রয় করে খণ্ড কবিতা, মুসলমানদের জাতীয় গৌরব, তুরস্কের মহিমা প্রভৃতি বিষয় অবলম্বনে এবং সমসাময়িক সমাজের বিভিন্ন সমস্যাকে অবলম্বন করে কবিতা দেখা যায়।' - পত্রিকাটি কিছুকাল পরেই অকালমৃত্যুর অধীন হয়েছিল।

• 'বাসনা' পত্রিকা:
- বাসনা' নামে সাহিত্য মাসিকটি প্রকাশিত হয়েছিল রংপুরের কাকিনা থেকে ১৯০৮ সালে। শেখ ফজলল করিম ছিলেন এর সম্পাদক।
- পত্রিকাটি প্রায় দুই বৎসর স্থায়ী হয়েছিল। নিয়মিত লেখকদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন রিয়াজউদ্দীন আহমদ, মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী, তসলিমুদ্দীন আহমদ, সৈয়দ নুরুল হোসেন, মুনসী হামেদ আলী, খগেন্দ্রনারায়ণ দাস, ললিতমোহন সেন প্রমুখ।
- ধর্ম ইতিহাস দর্শন বিজ্ঞান জীবনী সমালোচনা প্রভৃতি বিষয়ে রচিত প্রবন্ধ এবং গল্প কবিতা এতে প্রকাশিত হতো। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসলেখকগণ নিজ নিজ সমাজ ও ঐতিহ্য সম্বন্ধে সচেতন ছিলেন।
- 'হিন্দু মুসলমান উভয় শ্রেণির লেখকই তাঁদের স্বীয় ধর্ম, সংস্কৃতি ও সমাজ সম্পর্কে নিজেদের ভাবনা পত্রিকায় প্রকাশ করেছেন। ইতিহাস, দর্শন প্রভৃতি চর্চা করেছেন এবং সঙ্গে সঙ্গে সাম্প্রদায়িক ঐক্য কামনা করেছেন।'

উৎস: বাংলাপিডিয়া; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২৪২.
'জ্ঞানতাপস' হিসেবে পরিচিত ছিলেন কে?
  1. ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  2. কালীপ্রসন্ন সিংহ
  3. নজিবর রহমান
  4. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্
সঠিক উত্তর:
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্
ব্যাখ্যা
• 'জ্ঞানতাপস' হিসেবে পরিচিত ছিলেন ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্।

------------------------
• ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্:
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ (১৮৮৫-১৯৬৯) ভারতীয় উপমহাদেশের একজন স্মরণীয় বাঙালি ব্যক্তিত্ব, বহুভাষাবিদ, বিশিষ্ট শিক্ষক ও দার্শনিক ছিলেন। তিনি ১৮৮৫ সালের ১০ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার পেয়ারা গ্রামে তাঁর জন্ম।

- তিনি 'জ্ঞানতাপস' হিসেবে অধিক পরিচিত। তাঁকে 'চলিষ্ণু অভিধান' বলা হয়।

- ১৯৫৫-৫৮ সাল পর্যন্ত তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ও সংস্কৃত বিভাগে অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ইমেরিটাস নিযুক্ত হন।

- ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ে শহীদুল্লাহ্ বহু মননশীল ও জ্ঞানগর্ভ প্রবন্ধ নানা পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে এবং এ সংক্রান্ত বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা তিনি সম্পাদনা করেন। আল এসলাম পত্রিকার সহকারী সম্পাদক ও বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকার যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে তিনি যোগ্যতার পরিচয় দেন। তাঁরই সম্পাদনা ও প্রকাশনায় মুসলিম বাংলার প্রথম শিশুপত্রিকা আঙুর আত্মপ্রকাশ করে। এছাড়াও তিনি ইংরেজি মাসিক পত্রিকা দি পীস, বাংলা মাসিক সাহিত্য পত্রিকা বঙ্গভূমি এবং পাক্ষিক তকবীর সম্পাদনা করেন।

- ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপট জাতিসত্তা সম্পর্কে ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহর বিখ্যাত উক্তি- "আমরা হিন্দু বা মুসলমান যেমন সত্য, তার চেয়ে বেশি সত্য আমরা বাঙালি।"

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২৪৩.
"আয় চলে আয় রে ধূমকেতু/ আঁধারে বাঁধ অগ্নিসেতু" - এই বাণীটি কোন পত্রিকায় ছাপা হয়?
  1. কল্লোল
  2. দৈনিক নবযুগ
  3. মাসিক সওগাত
  4. ধূমকেতু
সঠিক উত্তর:
ধূমকেতু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধূমকেতু
ব্যাখ্যা
'ধূমকেতু' পত্রিকা:
- ১৯২২ সালে নজরুলের একটি বিপ্লবী উদ্যম হলো ধূমকেতু পত্রিকার প্রকাশ (১২ আগস্ট)।
- পত্রিকাটি সপ্তাহে দুবার প্রকাশিত হতো।
- বিশের দশকে অসহযোগ ও খিলাফত আন্দোলনের ব্যর্থতার পর সশস্ত্র বিপ্লববাদের পুনরাবির্ভাবে ধূমকেতু পত্রিকার তাৎপর্যপূর্ণ অবদান ছিল।
- এক অর্থে এ পত্রিকা হয়ে উঠেছিল সশস্ত্র বিপ্লবীদের মুখপত্র।
- ধূমকেতু পত্রিকায় রবীন্দ্রনাথের বাণী ছাপা হয়েছিল - "আয় চলে আয় রে ধূমকেতু/ আঁধারে বাঁধ অগ্নিসেতু"।
- ধূমকেতুর ২৬ সেপ্টেম্বর ১৯২২ সংখ্যায় নজরুলের প্রচ্ছন্ন রাজনৈতিক কবিতা ‘আনন্দময়ীর আগমনে’ প্রকাশিত হলে ৮ নভেম্বর পত্রিকার ওই সংখ্যাটি নিষিদ্ধ করা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২৪৪.
সাহিত্য-সংস্কৃতিতে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ 'কাব্য সুধাকর' উপাধি প্রদান করা হয় কাকে?
  1. মীর মশররফ হোসেন
  2. গোলাম মোস্তফা
  3. কায়কোবাদ
  4. মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক
সঠিক উত্তর:
গোলাম মোস্তফা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গোলাম মোস্তফা
ব্যাখ্যা
• গোলাম মোস্তফা:
- গোলাম মোস্তফা ছিলেন কবি ও লেখক। যশোর (বর্তমান ঝিনাইদহ) জেলার শৈলকুপা উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে তাঁর জন্ম।

- গোলাম মোস্তফা পাকিস্তানি আদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন এবং ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময় উর্দুর প্রতি সমর্থন জ্ঞাপন করেন। ১৯৪৯ সালে গঠিত পূর্ববঙ্গ সরকারের ভাষা সংস্কার কমিটির সচিব হিসেবে তিনি কাজ করেন।

- তিনি গদ্য ও পদ্য রচনায় সমান দক্ষ ছিলেন, তবে কবি হিসেবেই তাঁর মুখ্য পরিচয় ছিল। তাঁর বিশ্বনবী গ্রন্থখানি বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল। এতে তিনি হযরত মুহাম্মদ (স.)-কে ঐতিহাসিক মহামানব হিসেবে মূল্যায়ন করেছেন।

- সাহিত্য-সংস্কৃতিতে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি যশোর সংঘ কর্তৃক 'কাব্য সুধাকর' (১৯৫২) এবং পাকিস্তান সরকার কর্তৃক 'সিতারা-ই-ইমতিয়াজ' (১৯৬০) উপাধি লাভ করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- রক্তরাগ,
- খোশরোজ,
- কাব্য-কাহিনী,
- সাহারা,
- হাসনাহেনা,
- বুলবুলিস্তান,
- তারানা-ই-পাকিস্তান,
- বনি আদম।

অন্যদিকে, 
• কায়কোবাদ বাংলা কাব্যসাহিত্যে অসাধারণ অবদানের জন্য নিখিল ভারত সাহিত্য সংঘে থেকে 'কাব্যভূষণ', 'বিদ্যাভূষণ ও 'সাহিত্যরত্ন' উপাধিতে ভূষিত হন।
• কবি ও গদ্যশিল্পী মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ কর্তৃক 'কাব্যকণ্ঠ' উপাধি লাভ করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২৪৫.
'কালিকলম' সাহিত্য পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন-
  1. বিষ্ণু দে
  2. প্রেমেন্দ্র মিত্র
  3. মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক
  4. বদরুদ্দীন ওমর
সঠিক উত্তর:
প্রেমেন্দ্র মিত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রেমেন্দ্র মিত্র
ব্যাখ্যা
'কালিকলম' সাহিত্য পত্রিকা:
- কলকাতা থেকে ১৯২৬ খ্রিষ্টাব্দে মাসিক 'কালিকলম' সাহিত্য পত্রিকা প্রকাশিত হয়।
- এর সম্পাদক ছিলেন প্রেমেন্দ্র মিত্র।
- যে চেতনা ও সাহিত্যবোধ থেকে 'কল্লোল' প্রকাশিত হয়েছিল, 'কালিকলম'ও একই বোধ সম্পন্ন পত্রিকা ছিল। তবে পত্রিকাটি দীর্ঘায়ু হতে পারে নি। 'কল্লোল' ও 'কালিকলমে'র লেখককুল ছিল মূলত একই।

• প্রেমেন্দ্র মিত্র রচিত গল্পগ্রন্থ:
- পঞ্চশর,
- বেনামী বন্দর,
- পুতুল ও প্রতিমা,
- মৃত্তিকা ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- পাঁক,
- কুয়াশা,
- মিছিল,
- উপনয়ন,
- আগামীকাল,
- প্রতিশোধ,
- প্রতিধ্বনি ফেরে,
- অন্য এক নাম,
- পা বাড়ালেই রাস্তা ইদ্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
২৪৬.
'জাবালি' কার ব্যবহৃত ছদ্মনাম?
  1. বিমল মিত্র
  2. সতীনাথ ভাদুড়ী
  3. মণীশ ঘটক
  4. শম্ভু মিত্র
সঠিক উত্তর:
বিমল মিত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিমল মিত্র
ব্যাখ্যা
• বিমল মিত্রের ছদ্মনাম- জাবালি।

অন্যদিকে, 
- সতীনাথ ভাদুড়ী চিত্রগুপ্ত ছদ্মনামে লিখতেন।
- শম্ভু মিত্রের ছদ্মনাম - প্রসাদ দত্ত।
- মণীশ ঘটকের ছদ্মনাম - যুবনাশ্ব।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২৪৭.
কলকাতা থেকে প্রকাশিত 'সওগাত' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন?
  1. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  2. মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক
  3. মোহাম্মদ এয়াকুব আলী চৌধুরী
  4. মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন
সঠিক উত্তর:
মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন
ব্যাখ্যা
• মাসিক 'সওগাত':
- একটি সচিত্র মাসিক পত্রিকা।
- ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল) অগ্রহায়ণ মাসে মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীনের সম্পাদনায়  কলকাতা থেকে এটি প্রকাশিত হয়।
- ১৩২৭ বঙ্গাব্দের চৈত্রমাসে (১৯২১ সালের মার্চ-এপ্রিল) অনিবার্য কারণবশত এর প্রকাশনা বন্ধ হয়ে যায়।
- দীর্ঘ ছয় বছর পর ১৩৩৩ বঙ্গাব্দের (১৯২৬ সাল) আষাঢ় মাসে সওগাত-নবপর্যায় নামে পুনরায় এর প্রকাশনা শুরু হয় এবং ১৩৩৭ বঙ্গাব্দ (১৯৩০ সাল) পর্যন্ত নিয়মিত প্রকাশিত হওয়ার পর অনিয়মিত হয়ে পড়ে।
- ১৯৫০ থেকে প্রায় তিন বছর সওগাতের কোনো সংখ্যা প্রকাশিত হয়নি।
- ১৯৫২ সালের নভেম্বর/ডিসেম্বর (অগ্রহায়ণ ১৩৫৯) থেকে পত্রিকাটি ঢাকা থেকে প্রকাশিত হতে থাকে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
২৪৮.
বুদ্ধদেব বসু, প্রেমেন্দ্র মিত্র ও সমর সেন কোন পত্রিকার সূচনা পর্বের সম্পাদনার সাথে যুক্ত ছিলেন?
  1. কালিকলম
  2. প্রগতি
  3. কবিতা
  4. কল্লোল
সঠিক উত্তর:
কবিতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কবিতা
ব্যাখ্যা
• কবিতা (সাহিত্য পত্রিকা):
- বুদ্ধদেব বসু সম্পাদিত পত্রিকার নাম হচ্ছে কবিতা।
- বুদ্ধদেব বসু, প্রেমেন্দ্র মিত্র, সমর সেন এই তিন কবি 'কবিতা' পত্রিকার সূচনা পর্বের সম্পাদনা সূত্রে সাথে যুক্ত ছিলেন।
- পত্রিকাটি ১৯৩৫ সালে প্রথম প্রকাশ পায় এবং ১৯৬১ সাল পর্যন্ত চলে।
- এ পত্রিকায় শুধু কবিতা ও কবিতা বিষয়ক গদ্য ছাপা হতো।
- আধুনিক এমন কোনো বাঙালি উল্লেখযোগ্য কবি নেই, যিনি 'কবিতা' পত্রিকায় লিখেন নি।

অন্যদিকে,
• 'প্রগতি' একটি সাহিত্য পত্রিকা। ১৯২৭ সালে বুদ্ধদেব বসু ও অজিতকুমার দত্তের সম্পাদনায় ঢাকা থেকে প্রথম প্রকাশিত হয়।

• ‘কালিকলম’ সচিত্র মাসিক সাহিত্য পত্রিকা। প্রথম প্রকাশ বৈশাখ ১৩৩৩ (১৯২৬)।
- মুরলীধর বসু, শৈলেজানন্দ মুখোপাধ্যায় ও প্রেমেন্দ্র মিত্রের সম্পাদনায় কলকাতা, কলেজ স্ট্রিট মার্কেটের বরদা এজেন্সি থেকে প্রকাশিত হয়।

• ১৯২৩ সালে প্রথম কলকাতা থেকে মাসিক 'কল্লোল' পত্রিকা প্রকাশিত হয়। এ পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন দীনেশরঞ্জন দাশ।
- 'কল্লোল' পত্রিকায় নিয়মিত লিখতেন অচিন্ত্যকমার সেনগুপ্ত, শৈলজানন্দ মুখােপাধ্যায়, বুদ্ধদেব বসু, প্রেমেন্দ্র মিত্র, মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় প্রমুখ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২৪৯.
রাজা রামমোহন রায় কোন পত্রিকার সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন না?
  1. ক) সমাচার চন্দ্রিকা
  2. খ) সম্বাদ কৌমুদী
  3. গ) মিরাত-উল- আখবার
  4. ঘ) ব্রাহ্মণসেবধি
সঠিক উত্তর:
ক) সমাচার চন্দ্রিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সমাচার চন্দ্রিকা
ব্যাখ্যা
ভারতীয় জাতীয় জাগরণের লক্ষ্যে রাজা রামমোহন রায়ের পৃষ্ঠপোষকতায় কলকাতা থেকে ১৮২১ সালে প্রকাশিত হয় সম্বাদ কৌমুদী।
- এর সম্পাদক ছিলেন - ভবানীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় ও প্রকাশক - তারাচাঁদ দত্ত।
রাজা রামমোহন রায় সম্পাদিত অন্য দুটি পত্রিকা- 
- ব্রাহ্মণসেবধি (১৮২১), 
- পারসি ভাষায় মিরাত-উল- আখবার। 

অন্যদিকে,
রাজা রামমোহন রায়ের মতের বিরোধিতা করতে গিয়ে ১৮২২ সালের ৫ ই মার্চ ভবানীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত হয় পত্রিকা সমাচার চন্দ্রিকা। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২৫০.
চলচ্চিত্র বিষয়ক সাপ্তাহিক বাংলা পত্রিকা কোনটি?
  1. লাঙল
  2. নবযুগ
  3. বিজলী
  4. বিচিত্রা
সঠিক উত্তর:
বিজলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিজলী
ব্যাখ্যা

• 'বিজলী' পত্রিকা:
- বিজলী ১৯২০ সালে প্রথম প্রকাশিত চলচ্চিত্র বিষয়ক একটি সাপ্তাহিক বাংলা পত্রিকা, যার উদ্যোক্তা নলিনীকান্ত সরকার, বারীন্দ্রকুমার ঘোষ, শচ্চিদানন্দ সেনগুপ্ত, অরুণ সিংহ এবং দীনেশ রঞ্জন দাস।
- এর সম্পাদকদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন নলিনীকান্ত সরকার ও প্রবোধকুমার সান্যাল প্রমুখ।
- এই পত্রিকায় ১৯২২ সালের ৬ জানুয়ারি, ২২ পৌষ ১৩২৮ বঙ্গাব্দ শুক্রবারে প্রথম কাজী নজরুল ইসলামের "বিদ্রোহী" কবিতা প্রকাশিত হয়। সে সময় পত্রিকাটির সম্পাদক ছিলো নলিনীকান্ত সরকার।
- ঐদিন বিজলী পত্রিকা দুই বার ছাপতে হয়েছিল, যার সংখ্যা ছিলো ২৯ হাজার মুজাফফর আহমদের কাছ থেকে জানা যায়, সেদিন কমপক্ষে দুই লাখ মানুষ বিদ্রোহী পড়েছিল।

অন্যদিকে, 
• 'লাঙল' পত্রিকা:
লাঙল (১৯২৫) বিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধে কলকাতা থেকে প্রকাশিত কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত একটি বিখ্যাত বামপন্থী-সাহিত্যিক ও রাজনৈতিক সাপ্তাহিক পত্রিকা। এটি ‘শ্রমিক-প্রজা-স্বরাজ-সম্প্রদায়’ পার্টির মুখপত্র হিসেবে ১৬ ডিসেম্বর ১৯২৫-এ আত্মপ্রকাশ করে।  

• 'নবযুগ' পত্রিকা:
নবযুগ ছিল কলকাতা থেকে ১৯২০ সালে প্রকাশিত একটি সান্ধ্য দৈনিক রাজনৈতিক পত্রিকা, যা শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক প্রতিষ্ঠা করেন এবং বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম ও কমরেড মুজাফ্ফর আহমদ যুগ্ম সম্পাদনা করেন, যা ব্রিটিশ বিরোধী লেখা ও গণজাগরণের জন্য বিখ্যাত ছিল, পরে ব্রিটিশ সরকার এটি বন্ধ করে দেয়। 

• 'বিচিত্রা' পত্রিকা:
সাপ্তাহিক বিচিত্রা বাংলাদেশের একটি অধুনালুপ্ত সাপ্তাহিক পত্রিকা। ১৯৭২ খ্রিষ্টাব্দে দৈনিক বাংলা পত্রিকার সহযোগী প্রকাশনা হিসাবে এটি আত্মপ্রকাশ করে। তখন থেকে শুরু করে নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি পর্যন্ত এটি বাংলাদেশের প্রধান জনপ্রিয় পত্রিকা হিসাবে চালু ছিল। আলমগীর রহমান, শাহরিয়ার কবির, শাহাদাত চৌধুরী ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক আতিকুর রহমান প্রমুখ সাংবাদিক এই পত্রিকার সাথে জড়িত ছিলেন।

বিচিত্রা ও সচিত্র সন্ধানী বাংলাদেশে সর্বপ্রথম প্রতি বছর ঈদ সংখ্যায় উপন্যাস প্রকাশ আরম্ভ করে। ঈদ সংখ্যায় ছয়-সাতটি উপন্যাস প্রকাশিত হতো। স্বল্পমূল্যে প্রকাশিত উপন্যাস পড়ার এই সুযোগ জনপ্রিয়তা পায়। তরুণ হুমায়ূন আহমেদের ‘নন্দিত নরেক’ উপন্যাস সাপ্তাহিক বিচিত্রার ঈদ সংখ্যায় প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 'বিজলী' পত্রিকা এবং বাংলাপিডিয়া। 

২৫১.
সচিত্র মাসিক সাহিত্য পত্রিকা ‘কালিকলম’ এর সম্পাদনার সাথে যুক্ত ছিলেন কে?
  1. প্রেমেন্দ্র মিত্র
  2. শৈলেজানন্দ মুখোপাধ্যায়
  3. মুরলীধর বসু
  4. উপরের সবাই
সঠিক উত্তর:
উপরের সবাই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবাই
ব্যাখ্যা
‘কালিকলম’ পত্রিকা:
- এটি সচিত্র মাসিক সাহিত্য পত্রিকা।
- প্রথম প্রকাশ বৈশাখ ১৩৩৩ (১৯২৬)।
- মুরলীধর বসু, শৈলেজানন্দ মুখোপাধ্যায় ও প্রেমেন্দ্র মিত্রের সম্পাদনায় কলকাতা, কলেজ স্ট্রিট মার্কেটের বরদা এজেন্সি থেকে প্রকাশিত।
- পত্রিকাটির প্রথম সংখ্যার প্রথম রচনা ছিল শৈলজানন্দ মুখোপাধ্যায়ের ধারাবাহিক বড় গল্প ‘মহাযুদ্ধের ইতিহাস’।
- কল্লোল পত্রিকার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলেছে কালিকলম।
- যদিও দুটি পত্রিকার ভাবাদর্শ ছিল এক, লেখকবৃন্দও প্রায় এক।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
২৫২.
‘সংস্কৃতি’ সাময়িকী সম্পাদনা করেন কে?
  1. মোতাহার হোসেন চৌধুরী
  2. ড. আনোয়ারুল কাদির
  3. বদরুদ্দীন উমর
  4. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
সঠিক উত্তর:
বদরুদ্দীন উমর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বদরুদ্দীন উমর
ব্যাখ্যা
বদরুদ্দীন উমর:
- তিনি ২০শে ডিসেম্বর, ১৯৩১ সালে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমানে জন্মগ্রহন করেন।
- তিনি মূলত অধ্যাপক এবং রাজনীতিক হিসেবে পরিচিত।
- তিনি ‘সংস্কৃতি’ সাময়িকী সম্পাদনা করেন।

তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ:
- সাম্প্রদায়িকতা,
- সংস্কৃতির সাম্প্রদায়িকতা,
- যুদ্ধপূর্ব বাঙলাদেশ,
- যুদ্ধোত্তর বাঙলাদেশ,
- ভাষা আন্দোলন ও অন্যান্য প্রসঙ্গ,
- সংস্কৃতির সংকট ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২৫৩.
বাংলা সাহিত্যের 'স্বভাব কবি' হিসেবে পরিচিত কে?
  1. গােবিন্দচন্দ্র দাস
  2. চণ্ডীদাস
  3. মুকন্দরাম চক্রবর্তী
  4. বিহারীলাল চক্রবর্তী
সঠিক উত্তর:
গােবিন্দচন্দ্র দাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গােবিন্দচন্দ্র দাস
ব্যাখ্যা

গােবিন্দচন্দ্র দাস:
- গােবিন্দচন্দ্র দাস ১৮৫৫ সালের ১৬ জানুয়ারি ঢাকা জেলার ভাওয়ালের জয়দেবপুরে এক দরিদ্র পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা সাহিত্যের 'স্বভাব কবি' হচ্ছেন - গােবিন্দচন্দ্র দাস।
- রবীন্দ্রনাথের সমকালে আধুনিক গীতিকবিতার ধারায় কবিতা রচনা করেই গোবিন্দচন্দ্র খ্যাত হন।
- তাঁর প্রথমা পত্নী সারদাসুন্দরীর মৃত্যুর প্রায় সাত বছর পর তিনি দ্বিতীয়বার দারপরিগ্রহ করেন।
- কিন্তু কবিতার মাধ্যমে তিনি তাঁর প্রথমা পত্নীকে অমর করে রেখেছেন।

তাঁর কাব্যগ্রন্থ:
- প্রেম ও ফুল,
- কুঙ্কুম,
- কস্তুরী,
- চন্দন,
- ফুলরেণু (সনেট),
- বৈজয়ন্তী,
- শোক ও সান্ত্বনা,
- শোকোচ্ছ্বাস ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২৫৪.
'সম্বাদ কৌমুদী' পত্রিকা প্রকাশ করেন কে?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. রাজা রামমোহন রায়
  3. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
সঠিক উত্তর:
রাজা রামমোহন রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজা রামমোহন রায়
ব্যাখ্যা

'সম্বাদ কৌমুদী' পত্রিকা:
- খ্রিষ্টান মিশনারিরা সমাচার দর্পণ পত্রিকার মাধ্যমে হিন্দু ধর্মমতের প্রতি কটাক্ষপাত করত বলে এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানোর উদ্দেশ্যে রাজা রামমোহন রায় ও ভবানীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্মিলিত ভাবে ১৮২১ সালে 'সম্বাদ কৌমুদী' নামক সাপ্তাহিক পত্রিকা প্রকাশ করেন।
- এর প্রথম সংখ্যায় পত্রিকার উদ্দেশ্য সম্পর্কে লিখিত ছিল 'লোকহিতসাধনই এই সংবাদপত্র প্রকাশের প্রধান লক্ষ্য। দেশবাসীর অভাব অনুযোগের কথাও ইহাতে ভদ্রভাবে আলোচিত হইবে'।
- রাজা রামমোহন রায় নিয়মিত এই পত্রিকার জন্য প্রবন্ধ লিখতেন।
 
উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

২৫৫.
'দৃষ্টিহীন' ছদ্মনামে লিখতেন কোন সাহিত্যিক?
  1. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
  3. মধুসূদন দত্ত
  4.  আবু জাফর শামসুদ্দীন
সঠিক উত্তর:
দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
ব্যাখ্যা

• 'দৃষ্টিহীন' ছদ্মনামে লিখতেন - দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার।

অন্যদিকে,
• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় ব্যবহৃত ছদ্মনাম- হাবু শর্মা। 
• আবু জাফর শামসুদ্দীন মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত 'অল্পদর্শী' ছদ্মনামে দৈনিক সংবাদে 'বৈহাসিকের পার্শ্বচিন্তা' শীর্ষক সাপ্তাহিক কলাম লিখে তিনি বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।
• মাইকেল মধুসূদন দত্ত ব্যবহৃত ছদ্মনামগুলো হলো: Timothy Penpoem, দত্তকুলোদ্ভব কবি, এ নেটিভ।

-------------------------
• দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার:
- বাংলা শিশুসাহিত্যের ধারায় সর্বকালের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নাম দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার।
- প্রধানত 'ঠাকুরমার ঝুলি' শীর্ষক অবিস্মরণীয় গ্রন্থের জন্যই বাঙালি পাঠকসমাজে সমধিক পরিচিত তিনি।
- ১৮৭৭ সালের ১৫ এপ্রিল (১২৮৪ বঙ্গাব্দের ২ বৈশাখ) ঢাকা জেলার অন্তর্গত সাভারের উলাইল গ্রামের সম্ভ্রান্ত মিত্র মজুমদার বংশে
দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৯০১ সালে দক্ষিণারঞ্জনের সম্পাদিত মাসিক 'সুধা' পত্রিকা প্রকাশিত হয়। চার বছর ধরে গোটা বিশেক সংখ্যা প্রকাশিত হয়।
- দক্ষিণারঞ্জনের প্রথম গ্রন্থ 'উত্থান' কাব্য প্রকাশিত হয় ১৯০২ সালে।

তাঁর উল্লাখযোগ্য গ্রন্থ:
- ঠাকুরমার ঝুলি,
- ঠাকুরদাদার ঝুলি,
- দাদা মশায়ের থলে,
- বাংলার সোনার ছেলে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

২৫৬.
'বীরবল' ছদ্মনামটি কার?
  1. প্রমথ চৌধুরী
  2. মুনীর চৌধুরী
  3. প্যারীচাদ মিত্র
  4. মোহিতলাল মজুমদার
সঠিক উত্তর:
প্রমথ চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রমথ চৌধুরী
ব্যাখ্যা

• প্রমথ চৌধুরী:
• বাংলা চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তক প্রমথ চৌধুরী'র ছদ্মনাম বীরবল।

- ১৯১৪ সালে মাসিক  সবুজপত্র প্রকাশনা এবং তার মাধ্যমে বাংলা চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তন তাঁর জীবনের শ্রেষ্ঠ কীর্তি।
- একে কেন্দ্র করে তখন একটি শক্তিশালী লেখকগোষ্ঠী গড়ে ওঠে।
- স্বয়ং রবীন্দ্রনাথও এর অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
- প্রমথ চৌধুরী ‘বীরবল’ ছদ্মনামে এ পত্রিকায় ব্যঙ্গরসাত্মক প্রবন্ধ ও নানা গল্প প্রকাশ করেন।
- তাঁর এ ছদ্মনাম থেকে তখন বাংলা সাহিত্যে বীরবলী ধারা প্রবর্তিত হয়।

• আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ ছদ্মনাম:
- কালীপ্রসন্ন সিংহ এর ছদ্মনাম হুতোম পেঁচা ।
- রাজ শেখর বসুর ছদ্মনাম পরশুরাম।
- অন্নদাশঙ্কর রায়ের ছদ্মনাম লীলাময় রায়
- সমরেশ বসুর ছদ্মনাম কালকূট।
- বনফুল ছদ্মনামে লিখতেন বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় ।
- 'অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত' এর সাহিত্যিক ছদ্মনাম- নীহারিকা দেবী 
- 'তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়' এর সাহিত্যিক ছদ্মনাম- হাবু শর্মা।
- 'কালীপ্রসন্ন সিংহ' এর সাহিত্যিক ছদ্মনাম- হুতোম পেঁচা।
- 'অন্নদাশংকর রায়' এর সাহিত্যিক ছদ্মনাম- লীলাময় রায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২৫৭.
'প্রগতি' কোন ধরনের সাহিত্য পত্রিকা হিসেবে প্রকাশিত হতো?
  1. সাপ্তাহিক 
  2. বার্ষিক
  3. মাসিক 
  4. দৈনিক 
সঠিক উত্তর:
মাসিক 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাসিক 
ব্যাখ্যা

• 'প্রগতি' পত্রিকা:
- প্ৰগতি ১৯২৭ খ্রিষ্টাব্দে ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয় মাসিকপত্র 'প্রগতি'।
- সম্পাদক ছিলেন বুদ্ধদেব বসু ও অজিতকুমার দত্ত।
- বাংলা সাহিত্যে আধুনিকতার বাতাস প্রবাহিত হলে ঢাকা যে তাতে পিছিয়ে ছিল না, 'প্রগতি'র প্রকাশ তার প্রমাণ। কল্লোল- কালিকলম-প্রগতি একই সঙ্গে উচ্চারিত হওয়ার যোগ্য তিনটি নাম।
- বাংলাদেশে আধুনিক সাহিত্যের বিকাশে এ পত্রিকার অবদান কম নয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২৫৮.
'কলমগীর' কোন কবি ব্যবহৃত ছদ্মনাম?
  1. সৈয়দ মুজতবা আলী 
  2. আবদুল হক
  3. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  4. সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় 
সঠিক উত্তর:
সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা

• সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত:
- সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত ছিলেন কবি ও ছান্দসিক। কলকাতার নিকটবর্তী নিমতা গ্রামে ১৮৮২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত বাংলা সাহিত্য 'ছন্দের জাদুকর' বা 'ছন্দের রাজা' হিসেবে খ্যাত।
- সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের কিছু ছদ্মনাম হলো: নবকুমার, কবিরত্ন, অশীতিপর শর্মা, ত্রিবিক্রম বর্মণ, কলমগীর।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সবিতা,
- সন্ধিক্ষণ,
- বেণু ও বীণা,
- কুহু ও কেকা,
- তুলির লিখন,
- হোমশিখা,
- অভ্র-আবীর,
- হসন্তিকা,
- বেলা শেষের গান,
- বিদায় আরতি ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত অনুবাদকাব্য:
- তীর্থ রেণু,
- মণি মঞ্জুষা।

অন্যদিকে, 
• সৈয়দ মুজতবা আলী মূলত 'সত্যপীর' ছদ্মনামে সবচেয়ে বেশি পরিচিত ছিলেন। এছাড়াও তিনি 'ওমর খৈয়াম', 'প্রিয়দর্শী' এবং 'মুসাফির' ছদ্মনামে বিভিন্ন পত্রিকায় (দেশ, আনন্দবাজার, মোহাম্মদী) কলাম ও লেখা প্রকাশ করতেন।  
• 'কলম সৈনিক' মূলত বিশিষ্ট সাংবাদিক, সাহিত্যিক ও সম্পাদক আবদুল হক-এর উপাধি। 
• সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় ব্যবহৃত ছদ্মনাম- নীল লোহিত, নীল উপাধ্যায়, সনাতন পাঠক। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

২৫৯.
আবদুল মান্নান সৈয়দ এর ছদ্মনাম কী?
  1. সৈয়দ অশোক
  2. মান্নান সৈয়দ
  3. অশোক সৈয়দ
  4. অশোক মান্নান
সঠিক উত্তর:
অশোক সৈয়দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অশোক সৈয়দ
ব্যাখ্যা

আবদুল মান্নান সৈয়দ:
- তিনি ১৯৪৩ সালের ৩ আগস্ট পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি প্রথম জীবনে 'অশোক সৈয়দ' ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন।
- তিনি বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার (১৯৮১), নজরুল পুরস্কার (১৯৯৮), নজরুল পদক (২০০১) ইত্যাদি পদক ও পুরস্কার লাভ করেন।
- তিনি ২০১০ সালের ৫ই সেপ্টেম্বর মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- পরিপ্রেক্ষিতের দাস-দাসী, 
- শ্রাবস্তীর দিনরাত্রি,
- অ-তে অজগর, 
- পোড়ামাটির কাজ,
- ক্ষুধা প্রেম আগুন।

​উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২৬০.
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের পৈতৃক পদবি কী ছিল?
  1. বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. দাস
  3. চট্টোপাধ্যায়
  4. শর্মা
সঠিক উত্তর:
বন্দ্যোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর:
- তিনি ছিলেন সংস্কৃত পন্ডিত, লেখক, শিক্ষাবিদ, সমাজসংস্কারক, জনহিতৈষী।
- তিনি ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক পদবি বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি 'ঈশ্বরচন্দ্র শর্মা' নামে স্বাক্ষর করতেন।
- ১৮৩৯ সালে সংস্কৃত কলেজ ঈশ্বরচন্দ্রকে ‘বিদ্যাসাগর’ উপাধি প্রদান করে।
- তিনি বাংলা গদ্যের জনক হিসেবে খ্যাত। এবং বাংলা গদ্যে প্রথম যতি বা বিরামচিহ্ন স্থাপন করেন।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ 'বেতাল পঞ্চবিংশতি'। বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম মৌলিক গদ্য রচনার নাম 'প্রভাবতী সম্ভাষণ'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২৬১.
বন্দে আলী মিয়া সম্পাদিত পত্রিকা কোনটি?
  1. জ্ঞানান্বেষণ
  2. মিহির
  3. সওগাত
  4. জ্ঞানের আলো
সঠিক উত্তর:
জ্ঞানের আলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জ্ঞানের আলো
ব্যাখ্যা
• বন্দে আলী মিয়া:
- বন্দে আলী মিয়া একজন কবি, ঔপন্যাসিক ও শিশু সাহিত্যিক।
- তিনি তার কবিতায় পল্লী প্রকৃতির সৌন্দর্য বর্ণনায় নৈপুণ্যের পরিচয় দিয়েছেন।
- তিনি প্রথম ‘ইসলাম দর্শন’ পত্রিকায় সাংবাদিক হিসেবে যোগ দেন।
- শিশুসাহিত্যে অবদানের জন্য তিনি বাংলা একাডেমী পুরস্কার (১৯৬২), প্রেসিডেন্ট পুরস্কার (১৯৬৫) এবং উত্তরা সাহিত্য মজলিস পদক (১৯৭৭) লাভ করেন।

তাঁর সম্পাদিত পত্রিকাগুলো হলো:
- কিশোর পরাগ,
- শিশুবার্ষিকী,
- জ্ঞানের আলো।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ হলো:
- ময়নামতীর চর,
- অনুরাগ,
- পদ্মানদীর চর,
- মধুমতীর চর ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত শিশুতোষ গ্রন্থগুলোর নাম:
- চোর জামাই,
- রূপকথা ডাইনী বউ,
- মৃগপুরি,
- কূচবরণ কন্যা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• 'জ্ঞানান্বেষণ' পত্রিকা সম্পাদক ছিলেন দক্ষিণারঞ্জন মুখোপাধ্যায়।
• ‘মিহির’ পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন -শেখ আবদুর রহিম।
• ‘সওগাত’ একটি সচিত্র মাসিক পত্রিকা। ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল) অগ্রহায়ণ মাসে মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীনের সম্পাদনায় কলকাতা থেকে এটি প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২৬২.
'শিখা' পত্রিকা প্রকাশিত হয় কত সালে?
  1. ১৯২০ সালে 
  2. ১৯২৬ সালে
  3. ১৯২৮ সালে
  4. ১৯২৭ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯২৭ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯২৭ সালে
ব্যাখ্যা

• শিখা পত্রিকা: 
- ১৯২৬ সালে ঢাকায় প্রতিষ্ঠিত মুসলিম সাহিত্য-সমাজে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ১৯২৭ সালে 'শিখা' নামে একটি বার্ষিক মুখপত্র প্রকাশ করে। 
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি ও বাণিজ্য বিভাগের অধ্যাপক আবুল হুসেন ছিলেন শিখা পত্রিকার প্রথম সংখ্যার সম্পাদক।
- শিখা বছরে একবার প্রকাশিত হত। 
- পত্রিকাটি মুসলিম সাহিত্য-সমাজের পক্ষে আবদুল কাদির কর্তৃক মুসলিম হল থেকে প্রকাশিত এবং মুন্সি আহমদ আলী কর্তৃক সাত রওজার (ঢাকা) ইসলামিয়া প্রেস থেকে মুদ্রিত।
- শিখার পাঁচটি সংখ্যা প্রকাশিত হয়।

- শিখার প্রতিটি সংখ্যার শিরোদেশে ‘জ্ঞান যেখানে সীমাবদ্ধ, বুদ্ধি সেখানে আড়ষ্ট, মুক্তি সেখানে অসম্ভব’ কথাটি মুদ্রিত থাকত।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

২৬৩.
বাংলা ভাষায় প্রথম 'দৈনিক' পত্রিকা হিসেবে কোনটি প্রকাশিত হয়?
  1. সমাচার দর্পণ
  2. নবযুগ
  3. সবুজপত্র
  4. সংবাদ প্রভাকর
সঠিক উত্তর:
সংবাদ প্রভাকর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সংবাদ প্রভাকর
ব্যাখ্যা

'সংবাদ প্রভাকর' পত্রিকা:
- 'সংবাদ প্রভাকর' পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত।
- তিনি ১৮৩১ সালে সংবাদ প্রভাকর (সাপ্তাহিক) পত্রিকা প্রতিষ্ঠা করেন। পত্রিকাটি প্রকাশে পাথুরিয়া ঘাটার যোগেন্দ্রমোহন ঠাকুরের ভূমিকা ও সহযোগিতা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপুর্ণ ও অপরিহার্য।
- কিছুদিনের মধ্যেই বন্ধ হয়ে যায় কিন্তু ১৮৩৬ সালে পুনর্বার ছাপা হয়।
- ১৮৩৯ সালে বাংলা ভাষায় প্রথম দৈনিক পত্রিকা হিসেবে প্রকাশিত হয়। সংবাদ প্রকাশের পাশাপাশি এই পত্রিকায় সাহিত্যচর্চাও হতো।
- ১৮৫৩ সাল থেকে পত্রিকাটির মাসিক সংস্করণ প্রকাশিত হয়। মাসিক সংবাদ প্রভাকরে ঈশ্বরচন্দ্র প্রাচীন বাংলার ‘কবিয়াল’ ও গীতিকারদের জীবনী ও কর্মগাথা সংগ্রহ ও প্রকাশ করেছিলেন। ঈশ্বরচন্দ্রের মৃত্যুর পর তাঁর ভাই রামচন্দ্র গুপ্ত সংবাদ প্রভাকরের সম্পাদক নিযুক্ত হন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

২৬৪.
‘বেগম’ পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদিকা ছিলেন কে?
  1. বেগম রোকেয়া
  2. সুফিয়া কামাল
  3. রাবেয়া খাতুন
  4. স্বর্ণকুমারি দেবী
সঠিক উত্তর:
সুফিয়া কামাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুফিয়া কামাল
ব্যাখ্যা

‘বেগম’ পত্রিকা:
- ‘বেগম’ বাংলাদেশে নারীদের প্রকাশিত প্রথম সাপ্তাহিক পত্রিকা।
- ১৯৪৭ সালের ২০ জুলাই কলকাতা থেকে এটি প্রকাশিত হয়।
- সাহিত্যক্ষেত্রে মেয়েদের এগিয়ে আনার লক্ষ্যে সাহিত্যচর্চার পৃথক ক্ষেত্র হিসেবে বেগমের আত্মপ্রকাশ ঘটে।
- বেগম পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন সম্পাদক মোহাম্মদ নাসিরউদ্দিন এবং প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদিকা ছিলেন সুফিয়া কামাল।
- পরে পত্রিকাটি সম্পাদনা করেছেন নূরজাহান বেগম।

সুফিয়া কামাল:
- জননী সাহসিকা হিসেবে পরিচিত সুফিয়া কামাল ছিলেন মূলত কবি।
- সুফিয়া কামাল বাংলাদেশের একজন প্রথিতযশা কবি, লেখিকা ও নারী আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ।
- তিনি বরিশালের শায়েস্তাবাদে মামার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তার পৈতৃক নিবাস কুমিল্লায়।
- 'বেগম' (১৯৪৭) পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন তিনি।

তার রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সাঁঝের মায়া,
- উদাত্ত পৃথিবী,
- অভিযাত্রিক,
- মায়া কাজল ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২৬৫.
'চিত্রগুপ্ত' কার ছদ্মনাম?
  1. সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
  2. বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়
  3. সতীনাথ ভাদুড়ী
  4. মণীশ ঘটক
সঠিক উত্তর:
সতীনাথ ভাদুড়ী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সতীনাথ ভাদুড়ী
ব্যাখ্যা

• চিত্রগুপ্ত ছদ্মনামে লিখতেন - সতীনাথ ভাদুড়ী।

অন্যদিকে,
- শম্ভু মিত্রের ছদ্মনাম - প্রসাদ দত্ত।
- মণীশ ঘটকের ছদ্মনাম - যুবনাশ্ব।
- বিমল মিত্রের ছদ্মনাম - জাবালি।
- বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম - যাযাবর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২৬৬.
’সংবাদ সাধুরঞ্জন’ পত্রিকা সম্পাদনা করেন কে?
  1. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  2. সজনীকান্ত দাস
  3. প্রমথ চৌধুরি
  4. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
ব্যাখ্যা
• ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত:
- পশ্চিমবঙ্গের চবিবশ পরগনা জেলার কাঞ্চনপল্লী বা কাঁচড়াপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি মূলত ছিলেন কবি ও সাংবাদিক।
- ঈশ্বরচন্দ্র বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে যুগসন্ধির কবি হিসেবে পরিচিত।
- ঈশ্বরচন্দ্র সংবাদ প্রভাকর ছাড়াও সংবাদ রত্নাবলী, পাষন্ডপীড়ন ও সংবাদ সাধুরঞ্জন পত্রিকাও সম্পাদনা করেন। 
- তিনি রামপ্রসাদ সেন রচিত কালীকীর্তন (১৮৩৩) ও প্রবোধ প্রভাকর (১৮৫৮) সম্পাদনা করেন। 
- তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর রচিত হিতপ্রভাকর (১৮৬১) ও বোধেন্দুবিকাশ (১৮৬৩) প্রকাশিত হয়।

অন্যদিকে,
- সুধীন্দ্রনাথ দত্ত সম্পাদিত পত্রিকার নাম পরিচয়।
-  সজনীকান্ত দাস সম্পাদিত পত্রিকা শনিবারের চিঠি ।
- প্রমথ চৌধুরী  সম্পাদিত পত্রিকা সবুজপত্র।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২৬৭.
'কালকূট' - কার ছদ্মনাম?
  1. সতীনাথ ভাদুড়ী
  2. সমরেশ বসু
  3. বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়
  4. রাজশেখর বসু
সঠিক উত্তর:
সমরেশ বসু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমরেশ বসু
ব্যাখ্যা

• সমরেশ বসুর ছদ্মনাম- 'কালকূট'।

অন্যদিকে,
- সতীনাথ ভাদুড়ীর ছদ্মনাম- চিত্রগুপ্ত।
- মণীশ ঘটকের ছদ্মনাম - যুবনাশ্ব।
- রাজশেখর বসু ব্যবহৃত ছদ্মনাম- পরশুরাম। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

২৬৮.
কবিতাবিষয়ক পত্রিকা কোনটি?
  1. পরিচয়
  2. কবিতা
  3. প্রগতি
  4. বাসনা
সঠিক উত্তর:
কবিতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কবিতা
ব্যাখ্যা
• পত্রিকা "কবিতা":
-  কবিতাবিষয়ক পত্রিকা 'কবিতা' এর সম্পাদক ছিলেন বুদ্ধদেব বসু।
- ঢাকা থেকে 'প্রগতি' (১৯২৭-১৯২৯) এবং কলকাতা থেকে 'কবিতা' (১৯৩৫-১৯৬০) পত্রিকা প্রকাশ ও সম্পাদনা তাঁর জীবনের উল্লেখযোগ্য কর্ম।
- বুদ্ধদেব বসু, প্রেমেন্দ্র মিত্র, সমর সেন এই তিন কবি 'কবিতা' পত্রিকার সূচনা পর্বের সম্পাদনা সূত্রে সাথে যুক্ত ছিলেন। পত্রিকাটি ১৯৩৫ সালে প্রথম প্রকাশ পায় এবং ১৯৬১ সাল পর্যন্ত চলে।
- এ পত্রিকায় শুধু কবিতা ও কবিতা বিষয়ক গদ্য ছাপা হতো।
- কবিতাবিষয়ক 'কবিতা' পত্রিকাটি তখন সাহিত্যিক মহলে উচ্চ প্রশংসা লাভ করে; রবীন্দ্রোত্তর কবিতা-আন্দোলনেও এর ভূমিকা স্বীকৃত। বুদ্ধদেব নিজেও রবীন্দ্র- প্রভাববলয় থেকে বেরিয়ে আসেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২৬৯.
'নতুন কবিতা' পত্রিকার সম্পাদক -
  1. হাবীবুর রহমান
  2. আলাউদ্দিন আল আজাদ
  3. শামসুর রাহমান
  4. আবদুর রশীদ খান
সঠিক উত্তর:
আবদুর রশীদ খান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবদুর রশীদ খান
ব্যাখ্যা
'নতুন কবিতা':
- আবদুর রশীদ খান ও আশরাফ সিদ্দিকী যৌথভাবে পূর্ব পাকিস্তানের বাঙালি কবিদের প্রথম সংকলন 'নতুন কবিতা' সম্পাদনা করেন।
- সংকলনটি প্রকাশিত হয় ১৩৫৬ বঙ্গাব্দ অর্থাৎ ১৯৪৯ খ্রিষ্টাব্দে।
- এতে লিখেছিলেন: হাবীবুর রহমান, হাসান হাফিজুর রহমান, শামসুর রাহমান, জিল্লুর রহমান সিদ্দিকী, আলাউদ্দিন আল আজাদ, আবদুর রশীদ খান, আশরাফ সিদ্দিকী, মোহাম্মদ মামুন, বোরহান উদ্দিন খান জাহাঙ্গীর, মনোজ সেনগুপ্তসহ তেরোজন কবি।
- সম্পাদকগণ দাবি করেছিলেন যে, সংকলনটি হবে 'সাহিত্য পথের নতুন যাত্রীদের কাব্য সৃষ্টির খতিয়ান'।
- কিন্তু উত্তরকাল দেখা গেছে এঁদের মধ্যে অধিকাংশই কবি হতে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছেন, অনেকে কবিতা লিখলেও স্বাচ্ছন্দ্য হারিয়েছেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২৭০.
প্রমথ চৌধুরী সম্পাদিত পত্রিকা কোনটি?
  1. সবুজপত্র
  2. বিশ্বভারতী
  3. রূপ ও রীতি
  4. সবগুলো
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
ব্যাখ্যা
• প্রমথ চৌধুরী:
- তিনি সাহিত্যিক, বাংলা চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তক। ১৮৬৮ সালের ৭ আগস্ট যশোরে তাঁর জন্ম।
- ১৯১৪ সালে মাসিক সবুজপত্র প্রকাশনা এবং তার মাধ্যমে বাংলা চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তন তাঁর জীবনের শ্রেষ্ঠ কীর্তি।
- প্রমথ চৌধুরী ‘বীরবল’ ছদ্মনামে এ পত্রিকায় ব্যঙ্গরসাত্মক প্রবন্ধ ও নানা গল্প প্রকাশ করেন। তাঁর এ ছদ্মনাম থেকে তখন বাংলা সাহিত্যে বীরবলী ধারা প্রবর্তিত হয়।
- তাঁর সম্পাদিত অন্যান্য পত্রিকা হলো বিশ্বভারতী (১৩৪৯-৫০), রূপ ও রীতি (১৩৪৭-৪৯) এবং অলকা।
- সাহিত্য ক্ষেত্রে প্রমথ চৌধুরীর প্রধান খ্যাতি মননশীল প্রবন্ধলেখক হিসেবে। তবে তিনি উচ্চমানের গল্প ও কবিতাও রচনা করেছেন। বাংলা সাহিত্যে তিনিই প্রথম বিদ্রূপাত্মক প্রবন্ধ রচনা করেন।

• প্রমথ চৌধুরী রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- প্রবন্ধ সংগ্রহ,
- নানাকথা,
- নানাচর্চা,
- আমাদের শিক্ষা,
- রায়তের কথা,
- বীরবলের হালখাতা,
- তেল-নুন-লকড়ি ইত্যাদি।

• প্রমথ চৌধুরী রচিত গল্পগ্রন্থ:
- চার ইয়ারী কথা,
- আহুতি,
- নীললোহিত ও গল্পসংগ্রহ।

• প্রমথ চৌধুরী রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সনেট পঞ্চাশৎ,
- পদচরণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২৭১.
মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীনের সম্পাদনায় প্রকাশিত পত্রিকা কোনটি?
  1. সুধাকর
  2. মিহির
  3. সওগাত
  4. মাসিক মোহাম্মদী
সঠিক উত্তর:
সওগাত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সওগাত
ব্যাখ্যা
• 'সওগাত' পত্রিকা:
- ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল) অগ্রহায়ণ মাসে মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীনের সম্পাদনায় কলকাতা থেকে এটি প্রকাশিত হয়।
- কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন সওগাতের প্রধান লেখকদের অন্যতম।তিনি যখন করাচিতে বেঙ্গল রেজিমেন্টে কর্মরত, তখন 'বাউন্ডুলের আত্মকাহিনী' নামে একটি ছোট গল্প পাঠান।
এটিই ছিল তাঁর সওগাতে প্রকাশিত প্রথম লেখা।
- সওগাতের অন্যান্য প্রধান লেখক ছিলেন বেগম রোকেয়া, কাজী আবদুল ওদুদ, আবুল কালাম শামসুদ্দীন, আবুল মনসুর আহমদ এবং আবুল ফজল। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুরও এতে লিখেছেন।

অন্যদিকে,
• শেখ আবদুর রহিম সম্পাদিত পত্রিকা- সুধাকর, মিহির, হাফিজ।
• মো: আকরম খাঁ সম্পাদিত পত্রিকা- মাসিক মোহাম্মদী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২৭২.
'সবুজপত্র' পত্রিকার সম্পাদক কে ছিলেন?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  3. প্রমথ চৌধুরী
  4. আবুল হুসেন
সঠিক উত্তর:
প্রমথ চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রমথ চৌধুরী
ব্যাখ্যা

'সবুজপত্র' পত্রিকা:
- বিংশ শতাব্দীর বাংলায় আধুনিকতার বাহন বাংলা সাময়িকী।
- প্রমথ চৌধুরীর সম্পাদনায় সবুজপত্র প্রথম প্রকাশিত হয় ১৩২১ বঙ্গাব্দের (১৯১৪ সালে) ২৫ বৈশাখ।
- এ ধরণের একটি সাময়িকী প্রকাশ করার জন্য  রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রমথ চৌধুরীকে উৎসাহ প্রদান করেছিলেন।
- প্রমথ চৌধুরী নতুন সাহিত্য রীতি প্রবর্তনের চেষ্টা হিসেবে কথ্য বাংলাকে অগ্রাধিকার দেন, যা ‘বীরবলী’ ভাষা (তাঁর ছদ্মনাম ‘বীরবল’ থেকে) রূপে পরিচিতি লাভ করে।
- সবুজপত্রের প্রথম সংখ্যায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত এবং সম্পাদকের নিজের লেখা সন্নিবেশিত হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২৭৩.
ভাষা আন্দোলনে কোন পত্রিকা সাহসী ভূমিকা পালন করে?
  1. ইনকিলাব
  2. দৈনিক আজাদ
  3. সমাচার দর্পণ
  4. জয়বাংলা
সঠিক উত্তর:
দৈনিক আজাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দৈনিক আজাদ
ব্যাখ্যা
দৈনিক আজাদ:
- এটি একটি জাতীয় বাংলা দৈনিক পত্রিকা।
- ১৯৩৬ সালের ৩১ অক্টোবর পত্রিকাটি কলকাতা থেকে আত্মপ্রকাশ করে।
- মওলানা মোহাম্মদ আকরাম খাঁর সম্পাদনায় বাংলা ও আসামের মুসলমানদের মুখপত্র হিসেবে দৈনিক আজাদ প্রকাশিত হয়।
- এই পত্রিকার সঙ্গে আরো যুক্ত ছিলেন আবুল কালাম শামসুদ্দীন ও নজীর আহমদ চৌধুরী।
- ভারত বিভাগের (১৯৪৭) পর ১৯৪৮ সালের ১৯ অক্টোবর পত্রিকাটি কলকাতা থেকে ঢাকায় স্থানান্তরিত হয়।
- ভাষা আন্দোলনে দৈনিক আজাদ সাহসী ভূমিকা পালন করে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
২৭৪.
১৮১৮ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত পত্রিকা কোনটি?
  1. ক) দিগদর্শন
  2. খ) সমাচার দর্পণ
  3. গ) বাঙ্গাল গেজেট
  4. ঘ) সবগুলো
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা
বাংলা সংবাদপত্রের ইতিহাসে ১৮১৮ খ্রিষ্টাব্দ খুবই উল্লেখযোগ্য। কারণ এ বছর ৩টি গুরুত্বপুর্ণ পত্রিকা প্রকাশিত হয়। 
এগুল হল:
- দিগদর্শন
- সমাচার দর্পণ
- বাঙ্গাল গেজেট  

- ১৮১৮ খ্রিষ্টাব্দের এপ্রিল মাসে প্রথম প্রকাশিত হয় বাংলা পত্রিকা হিসেবে হুগলি জেলার শ্রীরামপুর মিশনারিদের পক্ষ থেকে থেকে 'দিগদর্শন' প্রকাশিত হয়। এর সম্পাদক ছিলেন জন ক্লার্ক মার্শম্যান।
- ১৮১৮ সালের মে মাসে হুগলির শ্রীরামপুর খ্রিষ্টান মিশনারিরা 'সমাচার দর্পণ' নামে একটি সাপ্তাহিক পত্রিকা প্রকাশ করে।
- ভারতীয় বা বাঙালি পরিচালিত প্রথম সংবাদপত্র- বাঙ্গাল গেজেট। এটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৮১৮ সালে। এর প্রথম সম্পাদক ছিলেন- গঙ্গাকিশোর ভট্টাচার্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২৭৫.
'ভ্রমণকারী বন্ধু' ছদ্মনামটি কার?
  1. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. সৈয়দ মুজতবা আলী
  3.  ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  4. এস ওয়াজেদ আলী
সঠিক উত্তর:
 ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
 ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
ব্যাখ্যা

• 'ভ্রমণকারী বন্ধু' ছদ্মনাম - ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত।

অন্যদিকে,
- সৈয়দ মুজতবা আলীর ছদ্মনাম - প্রিয়দর্শী।
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রকৃত নাম - প্রবোধকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়।

ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত:
- তিনি ১৮১২ সালে শিয়ালডাঙ্গা, কাঁচড়াপাড়া, পশ্চিমবঙ্গে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন কবি, সাংবাদিক।
- 'ভ্রমণকারী বন্ধু' ছিল তাঁর ছদ্মনাম।
- তিনি বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে যুগসন্ধির (মধ্যযুগ ও আধুনিক যুগের মিলনকারী) কবি হিসেবে পরিচিত। কারণ তিনি সমকালের সামাজিক ও ঐতিহাসিক বিষয় নিয়ে কবিতা রচনা করলেও তাঁর ভাষা, ছন্দ ও অলঙ্কার ছিলো মধ্যযুগীয়। ব্যঙ্গ-বিদ্রূপই ছিল তাঁর রচনার বিশেষত্ব।
- তিনি প্রথম বাংলা দৈনিক পত্রিকা ‘সংবাদ প্রভাকর’ সম্পাদনা করেন।
- তিনি ১৮৩১ সালে সংবাদ প্রভাকর (সাপ্তাহিক) পত্রিকা প্রতিষ্ঠা করেন এবং ১৮৩৯ সাল থেকে এটি দৈনিক পত্রিকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
- তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ কীর্তি হলো কবিয়ালদের লুপ্তপ্রায় জীবনী উদ্ধার করে প্রকাশ করা।
- তিনি 'সংবাদ প্রভাকর' ছাড়াও সংবাদ রত্নাবলী, পাষণ্ডপীড়ন ও সংবাদ সাধুরঞ্জন পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।

তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ:
- রামপ্রসাদ সেন কৃত কালীকীর্তন,
- কবিবর ভারতচন্দ্র রায় ও তাঁর জীবনবৃত্তান্ত,
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত কাব্যসংগ্রহ,
- কালীপ্রসন্ন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত সংগ্রহ,
- মণিকৃষ্ণ গুপ্ত সম্পাদিত সংগ্রহ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া।

২৭৬.
'দত্তকুলোদ্ভব কবি' কে?
  1. প্রেমেন্দ্র মিত্র
  2. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  3. মীর মশাররফ হোসেন
  4. সমরেশ বসু
সঠিক উত্তর:
মাইকেল মধুসূদন দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাইকেল মধুসূদন দত্ত
ব্যাখ্যা

• মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত একজন মহাকবি, নাট্যকার। তিনি ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- তাকে দত্তকুলোদ্ভব কবি বলা হয়।
- তিনি বাংলা ভাষার সনেট প্রবর্তক। তিনি অমিত্রাক্ষর ছন্দেরও প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করেন তাঁর রচিত 'পদ্মাবতী' নাটকে। (দ্বিতীয় অঙ্ক দ্বিতীয় গর্ভাঙ্কে) অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য। অর্থাৎ, এই কাব্যটি সম্পূর্ণ অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'দ্য ক্যাপটিভ লেডি'। এটি ইংরেজিতে রচিত।

মাইকেল মধুসূদন দত্ত ব্যবহৃত ছদ্মনামগুলো হলো:
- Timothy Penpoem,
- এ নেটিভ।

---------------
তাঁর রচিত কাব্যগুলো হলো:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য,
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

তাঁর রচিত নাটক:
- শর্মিষ্ঠা,
- পদ্মাবতী,
- কৃষ্ণকুমারী,
- মায়াকানন।

মাইকেল মুধুসূধন দত্ত রচিত প্রহসনগুলো হলো-
- একেই কি বলে সভ্যতা
- বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ।

অন্যদিকে, 
• প্রেমেন্দ্র মিত্র সাহিত্য-সাধনার প্রথমপর্বে তিনি 'কৃত্তিবাস ভদ্র' ছদ্মনামে লিখতেন।
• মীর মশাররফ হোসেনর ছদ্মনামগুলো: গৌড়তটবাসী মশা, গাজী মিয়াঁ এবং উদাসীন পথিক।
• সমরেশ বসু 'কালকূট' ছদ্মনামে লিখতেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

২৭৭.
বুদ্ধদেব বসু, প্রেমেন্দ্র মিত্র, সমর সেন এই তিন কবি কোন পত্রিকার সূচনা পর্বের সম্পাদনা সূত্রে সাথে যুক্ত ছিলেন?
  1. চিত্রদর্শন
  2. প্রগতি
  3. কবিতা
  4. পরিচয়
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
কবিতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কবিতা
ব্যাখ্যা
• 'কবিতা' পত্রিকা:
- বুদ্ধদেব বসু সম্পাদিত পত্রিকার নাম হচ্ছে কবিতা।
- ঢাকা থেকে প্রগতি (১৯২৭-১৯২৯) এবং কলকাতা থেকে কবিতা (১৯৩৫-১৯৬০) পত্রিকা প্রকাশ ও সম্পাদনা তাঁর জীবনের উল্লেখযোগ্য কর্ম।
- বুদ্ধদেব বসু, প্রেমেন্দ্র মিত্র, সমর সেন এই তিন কবি 'কবিতা' পত্রিকার সূচনা পর্বের সম্পাদনা সূত্রে সাথে যুক্ত ছিলেন।
- পত্রিকাটি ১৯৩৫ সালে প্রথম প্রকাশ পায় এবং ১৯৬১ সাল পর্যন্ত চলে।
- এ পত্রিকায় শুধু কবিতা ও কবিতা বিষয়ক গদ্য ছাপা হতো।
- কবিতাবিষয়ক 'কবিতা' পত্রিকাটি তখন সাহিত্যিক মহলে উচ্চ প্রশংসা লাভ করে; রবীন্দ্রোত্তর কবিতা-আন্দোলনেও এর ভূমিকা স্বীকৃত।

এছাড়া,
- 'প্রগতি' ১৯২৭ খ্রিষ্টাব্দে ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয়। মাসিকপত্র 'প্রগতি'র সম্পাদক ছিলেন বুদ্ধদেব বসু ও অজিতকুমার দত্ত।
- বিহারীলাল রায় সম্পাদিত পত্রিকা-'চিত্রদর্শন'।
- 'পরিচয়' পত্রিকার সম্পাদক সুধীন্দ্রনাথ দত্ত। এটি ১৯৩১ সালে প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২৭৮.
শিশুপত্রিকা 'আঙুর' এর প্রথম সম্পাদক কে ছিলেন?
  1. মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক
  2. ফররুখ আহমদ
  3. নওয়াব ফয়জুন্নেসা
  4. ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
সঠিক উত্তর:
ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
ব্যাখ্যা
• ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সম্পাদনা ও প্রকাশনায় মুসলিম বাংলার প্রথম শিশু পত্রিকা আঙুর (১৯২০) আত্মপ্রকাশ করে।

• ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ:

- ১৮৮৫ সালের ১০ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার পেয়ারা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ ভারতীয় উপমহাদেশের একজন স্মরণীয় বাঙালি ব্যক্তিত্ব, বহুভাষাবিদ, বিশিষ্ট শিক্ষক ও দার্শনিক ছিলেন।
- তিনি 'জ্ঞানতাপস' হিসেবে অধিক পরিচিত।
- তাঁকে চলিষ্ণু অভিধান' বলা হয়।
- ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপট জাতিসত্তা সম্পর্কে ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহর বিখ্যাত উক্তি- "আমরা হিন্দু বা মুসলমান যেমন সত্য, তার চেয়ে বেশি সত্য আমরা বাঙালি।"
- ১৯৫৯ সালে প্রকাশিত 'বাঙ্গালা ভাষার ইতিবৃত্ত' রচনা করেন ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ।

• তাঁর ভাষা ও সাহিত্যবিষয়ক উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- ভাষা ও সাহিত্য,
- বাঙ্গালা ব্যাকরণ,
- বাংলা সাহিত্যের কথা,
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস ইত্যাদি।
- এছাড়া তিনি বাংলা একাডেমির 'আঞ্চলিক ভাষার অভিধান' সম্পাদনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২৭৯.
বাংলার মিল্টন বলা হয় কাকে?
  1. হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. কায়কোবাদ
  3. কালীপ্রসন্ন সিংহ
  4. কাজী নজরুল ইসলাম
সঠিক উত্তর:
হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

• হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়:
- কবি, আইনজীবী হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়ে জন্ম ১৮৩৮ সালের ১৭ এপ্রিল হুগলির গুলিটা গ্রামে মাতামহের বাড়িতে।
- হেমচন্দ্রের প্রধান পরিচয় একজন দেশপ্রেমিক কবি হিসেবে।
- হিন্দু জাতীয়তাবাদের আদর্শে তিনি তাঁর রচনায় দেশপ্রেমকে তুলে ধরেন।
- ১৮৭২ সালের জুলাই মাসে এডুকেশন গেজেট-এ তাঁর ‘ভারতসঙ্গীত’ কবিতাটি প্রকাশিত হলে ব্রিটিশ সরকার তাঁর প্রতি রুষ্ট হন, এমনকি পত্রিকার সম্পাদক ভূদেব মুখোপাধ্যায়কেও এজন্য জবাবদিহি করতে হয়।
- হেমচন্দ্রের প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'চিন্তাতরঙ্গিণী' ১৮৬১ সালে প্রকাশিত হয়।
- কিন্তু তাঁর শ্রেষ্ঠ রচনা হচ্ছে 'বৃত্রসংহার' (২ খণ্ড, ১৮৭৫-৭৭) মহাকাব্য। মহাভারতের কাহিনি অবলম্বনে রচিত এ কাব্যে মূলত সমসাময়িক সমাজের অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায়ের জয় ঘোষিত হয়েছে।
- তাঁকে ‘বাংলার মিল্টন’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়।
- ১৯০৩ সালের ২৪ মে খিদিরপুরে নিঃসহায় ও নিঃস্ব অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

• তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্য:
- চিন্তাতরঙ্গিণী,
- বীরবাহু কাব্য (আখ্যান কাব্য),
- আশাকানন (রূপক কাব্য),
- কবিতাবলী (খণ্ড কবিতার সংকলন),
- ছায়াময়ী,
- দশমহাবিদ্যা,
- চিত্তবিকাশ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

২৮০.
'কালকূট' ছদ্মনামটি কার?
  1. সমরেশ বসু
  2. রাজশেখর বসু
  3. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. প্যারীচাঁদ মিত্র
সঠিক উত্তর:
সমরেশ বসু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমরেশ বসু
ব্যাখ্যা

• সমরেশ বসুর ছদ্মনাম 'কালকূট।'

অন্যদিকে,
- রাজশেখর বসু ব্যবহৃত ছদ্মনাম- পরশুরাম। 
- 'অনিলা দেবী' ছদ্মনামে লিখতেন শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।'
- প্যারীচাঁদ মিত্র এর ছদ্মনাম 'টেকচাঁদ ঠাকুর।'

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২৮১.
'দৈনিক গণকন্ঠ' পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন -
  1. আবুল ফজল
  2. কাজী আবদুল ওদুদ
  3. আবুল হুসেন
  4. আল মাহমুদ
সঠিক উত্তর:
আল মাহমুদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আল মাহমুদ
ব্যাখ্যা
• ‘দৈনিক গণকন্ঠ’ পত্রিকা:
- দৈনিক গণকন্ঠ স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে বাংলা ভাষায় প্রকাশিত একটি দৈনিক পত্রিকা। ১৯৭২ সালে ১০ই জানুয়ারী ঢাকা থেকে পত্রিকাটির প্রকাশনা শুরু হয়।
- এর প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন আল মাহমুদ। 
- পত্রিকাটির তৎকালীন সরকার-বিরোধী সাহসী অবস্থান সকলের দৃষ্টি কাড়ে।

---------------------
• আল মাহমুদ:

- তিনি ১৯৩৬ সালের ১১ই জুলাই ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার মোড়াইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ।
- তিনি একজন প্রথিতযশা কবি।
- স্বাধীনতা উত্তরকালে তিনি 'দৈনিক গণকন্ঠ' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- তাঁর প্রকাশিত শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ 'সোনালী কাবিন' (১৯৭৩)।

আল মাহমুদ রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- লোক লোকান্তর,
- কালের কলস,
- সোনালী কাবিন,
- পাখির কাছে ফুলের কাছে,
- অদৃষ্টবাদীদের রান্নাবান্না ইত্যাদি ।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- ডাহুকী,
- উপমহাদেশ,
- আগুনের মেয়ে,
- চেহারার চতুরঙ্গ,
- কাবিলের বোন ইত্যাদি।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- পানকৌড়ির রক্ত,
- সৌরভের কাছে পরাজিত,
- গন্ধবণিক,
- ময়ূরীর মুখ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২৮২.
'ব্যাঙাচি' - ছদ্মনামটি কোন কবির?
  1. জীবনানন্দ দাশ
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  4. সুকান্ত ভট্টাচার্য
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- তিনি ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- বাল্যকালে কাজী নজরুল ইসলামকে 'তারা ক্ষ্যাপা', 'নজর আলী’, 'দুখু মিয়া' নামে ডাকা হতো।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

- বাল্যকালেই নজরুল লেটোগানের দলে যোগ দেন। লেটোদলের বিখ্যাত কবিয়াল শেখ চাকার তাঁকে 'ব্যাঙাচি' বলে ডাকতেন। 
- এছাড়াও কবি নজরুলের অন্য ছদ্মনামগুলো হলো- ধূমকেতু ও নুরু।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।

• কাজী নজরুল ইসলামের সংগীত বিষয়ক গ্রন্থ:
- চোখের চাতক,
- নজরুল গীতিকা,
- সুর সাকী,
- বনগীতি প্রভৃতি।

• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত উপন্যাস:
- বাঁধন-হারা,
- মৃত্যুক্ষুধা,
- কুহেলিকা।

• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:,
- দুর্দিনের যাত্রী,
- যুগবাণী,
- রুদ্র মঙ্গল।

উৎস: বাংলাপিডিয়া; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং কবি নজরুল জীবনী।
২৮৩.
‘স্বভাব কবি' হিসেবে পরিচিত - 
  1. গোলাম মোস্তফা
  2. নবীনচন্দ্র সেন
  3. হাসন রাজা
  4. গােবিন্দচন্দ্র দাস
সঠিক উত্তর:
গােবিন্দচন্দ্র দাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গােবিন্দচন্দ্র দাস
ব্যাখ্যা

গােবিন্দচন্দ্র দাস:
- গােবিন্দচন্দ্র দাস ১৮৫৫ সালের ১৬ জানুয়ারি ঢাকা জেলার ভাওয়ালের জয়দেবপুরে এক দরিদ্র পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা সাহিত্যের 'স্বভাব কবি' হচ্ছেন গােবিন্দচন্দ্র দাস।
- রবীন্দ্রনাথের সমকালে আধুনিক গীতিকবিতার ধারায় কবিতা রচনা করেই গোবিন্দচন্দ্র খ্যাত হন।
- তাঁর প্রথমা পত্নী সারদাসুন্দরীর মৃত্যুর প্রায় সাত বছর পর তিনি দ্বিতীয়বার দারপরিগ্রহ করেন।
- কিন্তু কবিতার মাধ্যমে তিনি তাঁর প্রথমা পত্নীকে অমর করে রেখেছেন।
 
তাঁর কাব্যগ্রন্থ:
- প্রেম ও ফুল,
- কুঙ্কুম,
- কস্তুরী,
- চন্দন,
- ফুলরেণু (সনেট),
- বৈজয়ন্তী,
- শোক ও সান্ত্বনা,
- শোকোচ্ছ্বাস ইত্যাদি।
 
উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২৮৪.
নিম্নলিখিত উপাধিগুলোর কোনটি কায়কোবাদ পাননি?
  1. কবিতাবিনোদ
  2. বিদ্যাভূষণ
  3. সাহিত্যরত্ন
  4. কাব্যভূষণ
সঠিক উত্তর:
কবিতাবিনোদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কবিতাবিনোদ
ব্যাখ্যা
• কায়কোবাদের উপাধি নয় - কবিতাবিনোদ

কায়কোবাদ:
- তিনি আধুনিক বাংলাসাহিত্যে প্রথম মুসলিম কবি।
- ১৮৫৭ সালে ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার আগলা পূর্বপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম কাজেম আল কোরেশী। 'কায়কোবাদ' তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম। এবং তাঁর উপাধি কাব্যভূষণ
- নিখিল ভারত সাহিত্য সংঘ কর্তৃক কবি কায়বোবাদকে কাব্যভূষণ, বিদ্যাভূষণসাহিত্যরত্ন উপাধিতে ভূষিত করা হয়।
- বাঙালি মুসলমান কবিদের মধ্যে প্রথম সনেট ও মহাকাব্য রচয়িতা কায়কোবাদ।
- মাত্র তেরো বছর বয়সে তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'বিরহবিলাপ' প্রকাশিত হয়।
- তিনি ১৯৫১ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- অশ্রুমালা (গীতিকাব্য),
- মহাশ্মশান (মহাকাব্য),
- শিবমন্দির,
- অমিয়ধারা,
- কুসুমকানন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২৮৫.
সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত ব্যবহৃত ছদ্মনাম কোনটি?
  1. কলমগীর
  2. সুনন্দ
  3. কলম সৈনিক
  4. কালকূট
সঠিক উত্তর:
কলমগীর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কলমগীর
ব্যাখ্যা

• সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের কিছু ছদ্মনাম হলো: নবকুমার, কবিরত্ন, অশীতিপর শর্মা, ত্রিবিক্রম বর্মণ, কলমগীর।

অন্যদিকে,
• 'কলমসৈনিক' আবদুল হকের উপাধি। বাঙালি জাতীয়তাবাদী চেতনার পক্ষে সাহসী ও ক্ষুরধার লেখনীর মাধ্যমে তিনি বিশ শতকের ষাটের দশকে 'কলমসৈনিক' উপাধি লাভ করেন।
• 'সুনন্দ' নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম।
• সমরেশ বসুর ছদ্মনাম কালকূট ও ভ্রমর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২৮৬.
'কালিকলম' পত্রিকা সম্পাদনা করেন কে?
  1. মুরলীধর বসু
  2. শৈলেজানন্দ মুখোপাধ্যায়
  3. প্রেমেন্দ্র মিত্র
  4. সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
ব্যাখ্যা

'কালিকলম' পত্রিকা:
- এটি সচিত্র মাসিক সাহিত্য পত্রিকা। প্রথম প্রকাশ বৈশাখ ১৩৩৩ (১৯২৬)।
- মুরলীধর বসু, শৈলেজানন্দ মুখোপাধ্যায় ও প্রেমেন্দ্র মিত্রের সম্পাদনায় কলকাতা, কলেজ স্ট্রিট মার্কেটের বরদা এজেন্সি থেকে প্রকাশিত।
- পত্রিকাটির প্রথম সংখ্যার প্রথম রচনা ছিল শৈলজানন্দ মুখোপাধ্যায়ের ধারাবাহিক বড় গল্প 'মহাযুদ্ধের ইতিহাস'।
- কল্লোল পত্রিকার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলেছে কালিকলম।
- যদিও দুটি পত্রিকার ভাবাদর্শ ছিল এক, লেখকবৃন্দও প্রায় এক।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

২৮৭.
শ্রীরামপুর মিশন থেকে কোন পত্রিকাটি প্রকাশিত হতো?
  1. বেঙ্গল গেজেট
  2. সমাচার দর্পণ
  3. পূর্বাশা
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
সমাচার দর্পণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমাচার দর্পণ
ব্যাখ্যা

'সমাচার দর্পণ' পত্রিকা:
- বাংলা ভাষার প্রথম সংবাদপত্র- 'সমাচার দর্পণ'।
- ১৮১৮ সালের মে মাসে হুগলির শ্রীরামপুর থেকে খ্রিষ্টান মিশনারিরা 'সমাচার দর্পণ' পত্রিকা প্রকাশ করে।
- সমাচার দর্পণ পত্রিকা সম্পাদনা করেন জন ক্লার্ক মার্শম্যান।
- এটি জন ক্লার্ক মার্শম্যান সম্পাদিত বাংলা ভাষার প্রথম সাপ্তাহিক সংবাদপত্র।
- সমাচার দর্পণে প্রথমাবস্থায় সম্পাদকীয়-বিভাগে পণ্ডিত ছিলেন 'জয়গোপাল তর্কালঙ্কার'।
- প্রথম পর্যায়ে, ১৮১৮ সালের ২৩ মে সমাচার দর্পণের প্রথম সংখ্যা বের হয়।

অন্যদিকে,
'বেঙ্গল গেজেট' পত্রিকা:
- ১৭৮০ খ্রিষ্টাব্দের ২৯শে জানুয়ারি কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয় ভারতের প্রথম মুদ্রিত সংবাদপত্র জেম্স অগাস্টাস হিকি সম্পাদিত 'বেঙ্গল গেজেট'।

'পূর্বাশা' পত্রিকা:
- 'পূর্বাশা' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন - সঞ্জয় ভট্টাচার্য।
- এটি কুমিল্লা থেকে প্রথম প্রকাশিত পত্রিকা।
- এর প্রকাশকাল ছিল ১৯৩২ সাল।
- টানা সাত বছর চলার পর বন্ধ হয়ে আবার পুনরায় কলকাতা থেকে ১৯৪৩ সালে প্রকাশিত হয়।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

২৮৮.
রাজা রামমোহন রায় সম্পাদিত পত্রিকা-
  1. ব্রাহ্মণসেবধি
  2. বঙ্গদূত
  3. সম্বাদ কৌমুদী
  4. ক ও গ
সঠিক উত্তর:
ক ও গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক ও গ
ব্যাখ্যা
• রাজা রামমোহন রায়: 
রাজা রামমোহন রায় ছিলেন একাধারে সমাজ, শিক্ষা ও ধর্ম সংস্কারক ।রাজা রামমোহন রায় রচিত ব্যাকরণ গ্রন্থের নাম 'গৌড়ীয় ব্যাকরণ'। রাজা রামমোহন রায় প্রথম বাঙালি যিনি বাংলা ভাষায় প্রথম বাংলা ব্যাকরণ রচনা করেন।
- সতীদাহ প্রথা নিষিদ্ধকরণে তিনি জোর প্রচারণা চালান ।

• রাজা রামমোহন রায় সম্পাদিত পত্রিকা- 
- 'ব্রাহ্মণসেবধি' (১৮২১),
- সম্বাদ কৌমুদী, 
- ফারসি ভাষায় 'মিরাত-উল- আখবার' (১৯২২)। 

• 'ব্রাহ্মণসেবধি':
- রাজা রামমোহন রায় ১৮২১ সালে 'ব্রাহ্মণসেবধি' প্রকাশ করেন।
- পত্রিকাটির এক পৃষ্ঠায় বাংলা এবং অপর পৃষ্ঠায় এর ইংরেজি অনুবাদ থাকতো।

• 'সম্বাদ কৌমুদী':
- সম্পাদনা করেন রাজা রামমোহন রায়।
- এটি একটি সাময়িক পত্রিকা৷ যা ১৮২১ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়।
- ভারতীয় জাতীয় জাগরণের লক্ষ্যে রামমোহন রায়ের পৃষ্টপোষকতায় কলকাতা থেকে প্রকশিত হয়।

অন্যদিকে,
• 'বঙ্গদূত' পত্রিকা:
- রামমোহন ও তাঁর অনুগামীদের দ্বারা পরিচালিত হয়ে নীলমনি হালদার 'বঙ্গদূত' পত্রিকা সম্পাদনা করেন।
- বঙ্গদূত ছিল সাপ্তাহিক পত্রিকা।
- পত্রিকাটি প্রকাশিত হয় ১০ই মে, ১৮২৯ সালে।
- এটি সংস্কারবাদী প্রগতিমুখী চিন্তায় পরিচালিত হতো।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২৮৯.
কার উপাধি 'চারণকবি'?
  1. রামপ্রসাদ সেন
  2. মুকুন্দদাস
  3. মুকুন্দরাম
  4. লালন শাহ্‌
সঠিক উত্তর:
মুকুন্দদাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুকুন্দদাস
ব্যাখ্যা

মুকুন্দদাস:
- ঢাকার বিক্রমপুরে তাঁর জন্ম। তাঁর পিতৃদত্ত নাম ছিল যজ্ঞেশ্বর।
- রামানন্দ নামক এক সাধকের নিকট দীক্ষা নেওয়ার পর তাঁর নাম হয় মুকুন্দদাস।
- তিনি ১৯২২ সালে  অসহযোগ আন্দোলন এবং ১৯৩০ সালে আইন অমান্য আন্দোলনে স্বদেশপ্রেমের গান ও যাত্রাপালা লিখে ও গেয়ে জনসাধারণকে জাগিয়ে তোলেন।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও  কাজী নজরুল ইসলাম তাঁকে চারণকবির মর্যাদা দেন।
- সাধনসঙ্গীত, পল্লীসেবা, ব্রহ্মচারিণী, পথ, সাথী, সমাজ, কর্মক্ষেত্র প্রভৃতি তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ।
- মুকুন্দদাস সারাজীবনে সাতশত মেডেল এবং বহু পুরস্কার পেয়েছেন, কিন্তু ‘চারণকবি’ উপাধির মাধ্যমেই তিনি আজও স্মরণীয় হয়ে আছেন।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

২৯০.
তমদ্দুন মজলিসের মুখপত্র ছিল-
  1. দৈনিক বাংলা
  2. জয় বাংলা
  3. মাসিক দ্যুতি
  4. ছাত্রবার্তা
সঠিক উত্তর:
মাসিক দ্যুতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাসিক দ্যুতি
ব্যাখ্যা

- তমদ্দুন মজলিসের মুখপত্র ছিল 'মাসিক দ্যুতি' ও 'সাপ্তাহিক সৈনিক'।
- 'সাপ্তাহিক সৈনিক' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন শাহেদ আলী এবং 'মাসিক দ্যুতি' এর সম্পাদক ছিলেন আসকার ইবনে শাইখ।
- ডাকসুর মুখপত্র ছিল ছাত্রবার্তা।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া ও লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

২৯১.
‘সারদামঙ্গল’ কাব্যটি প্রথম কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
  1. বঙ্গদর্শন
  2. চিত্রদর্শন
  3. আর্যদর্শন
  4. পরিদর্শক
সঠিক উত্তর:
আর্যদর্শন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আর্যদর্শন
ব্যাখ্যা
⇒ সারদামঙ্গল কাব্য:
- কবি বিহারীলাল চক্রবর্তীর সর্বশ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ ‘সারদামঙ্গল’ (১৮৭৯)।
- এই কাব্যগ্রন্থটি প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল ‘আর্যদর্শন’ পত্রিকায়।
- আখ্যানকাব্য হলেও এর আখ্যানবস্তু সামান্যই। মূলত গীতিকবিতাধর্মী কাব্য এটি।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এই কাব্য সম্পর্কে লিখেছেন, “সূর্যাস্ত কালের সুবর্ণমণ্ডিত মেঘমালার মত সারদামঙ্গলের সোনার শ্লোকগুলি বিবিধরূপের আভাস দেয়। কিন্তু কোন রূপকে স্থায়ীভাবে ধারণ করিয়া রাখে না। অথচ সুদূর সৌন্দর্য স্বর্গ হইতে একটি অপূর্ণ পূরবী রাগিণী প্রবাহিত হইয়া অন্তরাত্মাকে ব্যাকুল করিয়া তুলিতে থাকে।”  
- এটি পাঁচটি সর্গে বিভক্ত।
- ভোরের পাখি খ্যাত রোমান্টিক কবি বিহারীলাল প্রিয়তমার মধ্যে দেবী সারদাকে অন্বেষণ করেছেন।
- এটি আধুনিক বাংলা সাহিত্যের একটি স্তম্ভস্বরূপ।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সারদামঙ্গল (এটি তাঁর শ্রেষ্ঠ রচনা),
- স্বপ্নদর্শন,
- সঙ্গীত শতক,
- বঙ্গসুন্দরী,
- নিসর্গ সন্দর্শন,
- বন্ধুবিয়োগ,
- সাধের আসন,
- ধুমকেতু ইত্যাদি।

উৎস : সারদামঙ্গলকাব্য এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২৯২.
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত সম্পাদিত দৈনিক সংবাদ পত্র কোনটি?
  1. সংবাদ প্রভাকর
  2. সাধনা
  3. কালিকলম
  4. বঙ্গদূত
সঠিক উত্তর:
সংবাদ প্রভাকর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সংবাদ প্রভাকর
ব্যাখ্যা
• সংবাদ প্রভাকর:
- বাংলা সাপ্তাহিক পত্রিকা।
- প্রথম প্রকাশের তারিখ ১৮৩১ সালের ২৮ জানুয়ারি, শুক্রবার (১৬ মাঘ, ১২৩৭ বঙ্গাব্দ)।
- সম্পাদক ছিলেন ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত ।
- পত্রিকাটি প্রকাশে পাথুরিয়া ঘাটার যোগেন্দ্রমোহন ঠাকুরের ভূমিকা ও সহযোগিতা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপুর্ণ ও অপরিহার্য।
- তাঁর মৃত্যুর কারণে ১৮৩২ সালের ২৫ মে প্রকাশিত ৬৯তম সংখ্যার পর পত্রিকাটির প্রকাশনা বন্ধ হয়ে যায়।
- তাঁর মৃত্যুর চার বছর পর ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত পুনরায় সংবাদ প্রভাকর প্রকাশের উদ্যোগ গ্রহণ করেন।
- ১৮৩৬ সালের ১০ আগস্ট থেকে পত্রিকাটি বারত্রয়িক রূপে প্রকাশিত হতে থাকে।
- পুনরায় পাথুরিয়াঘাটার ঠাকুর পরিবার পত্রিকা প্রকাশে সহযোগিতার হাত সম্প্রসারণ করে।
- ১৮৩৯ সালের ১৪ জুন সংবাদ প্রভাকর বাংলায় প্রকাশিত সর্বপ্রথম দৈনিক পত্রিকারূপে আবির্ভূত হয়।

অন্যদিকে,
- সাধনা পত্রিকার সম্পাদক ছিল সুধীন্দ্রনাথ দত্ত।
- রামমোহন ও তাঁর অনুগামীদের দ্বারা পরিচালিত হয়ে নীলমণি হালদারের সম্পাদনায় বঙ্গদূত প্রকাশিত হয়।
- কালিকলম পত্রিকার সম্পাদক প্রেমন্দ্র মিত্র।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।
২৯৩.
সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক পত্রিকা “চতুরঙ্গ” কার সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়?
  1. ক) শেখ আব্দুর রহিম
  2. খ) জর্জ আব্রাহাম গ্রিয়ারসন
  3. গ) মুহম্মদ মনসুর উদ্দীন
  4. ঘ) হুমায়ুন কবির
সঠিক উত্তর:
ঘ) হুমায়ুন কবির
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) হুমায়ুন কবির
ব্যাখ্যা
হুমায়ুন কবির সম্পাদিত বিখ্যাত ত্রৈমাসিক সাহিত্য পত্রিকা “চতুরঙ্গ” ১৯৩৯ সাল থেকে ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত প্রকাশিত হয়। তার ;রচিত বিখ্যাত উপন্যাস - নদী ও নারী।
উৎসঃ মোহসীনা নাজিলা রচিত শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য।
২৯৪.
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কাকে 'খাঁটি বাঙালি কবি' বলে আখ্যায়িত করেন?
  1. জসীমউদ্‌দীন
  2. অমিয় চক্রবর্তী
  3. জীবনানন্দ দাশ
  4. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
ব্যাখ্যা
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত:
• ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত (১৮১২-১৮৫৯) ছিলেন একজন কবি, সাংবাদিক। 'ভ্রমণকারী বন্ধু' ছিল তাঁর ছদ্মনাম।
• ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে যুগসন্ধির (মধ্যযুগ ও আধুনিক যুগের মিলনকারী) কবি হিসেবে পরিচিত। কারণ তিনি সমকালের সামাজিক ও ঐতিহাসিক বিষয় নিয়ে কবিতা রচনা করলেও তাঁর ভাষা, ছন্দ ও অলঙ্কার ছিলো মধ্যযুগীয়। ব্যঙ্গ-বিদ্রূপই ছিল তাঁর রচনার বিশেষত্ব।
• ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত প্রথম বাংলা দৈনিক পত্রিকা ‘সংবাদ প্রভাকর’ সম্পাদনা করেন। তিনি ১৮৩১ সালে সংবাদ প্রভাকর (সাপ্তাহিক) পত্রিকা প্রতিষ্ঠা করেন। এবং ১৮৩৯ সাল থেকে এটি দৈনিক পত্রিকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
• তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ কীর্তি হলো কবিয়ালদের লুপ্তপ্রায় জীবনী উদ্ধার করে প্রকাশ করা।
• ঈশ্বরচন্দ্র সংবাদ প্রভাকর ছাড়াও সংবাদ রত্নাবলী, পাষন্ডপীড়ন ও সংবাদ সাধুরঞ্জন পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় প্রথম ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের 'কবিতা সংগ্রহ' দীর্ঘ ভূমিকাসহ প্রকাশ করেন। তিনি ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তকে 'খাঁটি বাঙালি কবি' হিসেবে আখ্যায়িত করেন।বঙ্কিমচন্দ্র তাকে 'গুরু' বলেও আখ্যায়িত করে। 

• তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থগুলো হলো:
- রামপ্রসাদ সেন কৃত কালীকীর্তন;
- কবিবর ভারতচন্দ্র রায় ও তাঁর জীবনবৃত্তান্ত;
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত কাব্যসংগ্রহ;
- কালীপ্রসন্ন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত সংগ্রহ;
- মণিকৃষ্ণ গুপ্ত সম্পাদিত সংগ্রহ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের 'কবিতা সংগ্রহ' এবং বাংলাপিডিয়া।
২৯৫.
প্রমথ চৌধুরী সম্পাদিত পত্রিকা হলো -
  1. সবুজপত্র
  2. বিশ্বভারতী
  3. রূপ ও রীতি
  4. অলকা
  5. সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
ব্যাখ্যা
• প্রমথ চৌধুরী ও তাঁর সম্পাদিত পত্রিকা:
- প্রমথ চৌধুরী সাহিত্যিক, বাংলা চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তক। ১৮৬৮ সালের ৭ আগস্ট যশোরে তাঁর জন্ম।

- ১৯১৪ সালে মাসিক 'সবুজপত্র' প্রকাশনা এবং তার মাধ্যমে বাংলা চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তন তাঁর জীবনের শ্রেষ্ঠ কীর্তি। একে কেন্দ্র করে তখন একটি শক্তিশালী লেখকগোষ্ঠী গড়ে ওঠে। স্বয়ং রবীন্দ্রনাথও এর অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। প্রমথ চৌধুরী ‘বীরবল’ ছদ্মনামে এ পত্রিকায় ব্যঙ্গরসাত্মক প্রবন্ধ ও নানা গল্প প্রকাশ করেন। তাঁর এ ছদ্মনাম থেকে তখন বাংলা সাহিত্যে বীরবলী ধারা প্রবর্তিত হয়।

- তাঁর সম্পাদিত অন্যান্য পত্রিকা হলো বিশ্বভারতী (১৩৪৯-৫০), রূপ ও রীতি (১৩৪৭-৪৯) এবং অলকা।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
২৯৬.
‘তত্ত্ববোধিনী’ পত্রিকার প্রথম সম্পাদক কে?
  1. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  2. সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. অক্ষয়কুমার দত্ত
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
সঠিক উত্তর:
অক্ষয়কুমার দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অক্ষয়কুমার দত্ত
ব্যাখ্যা
'তত্ত্ববোধিনী' পত্রিকা:
- এটি ব্রাহ্মসমাজের তত্ত্ববোধিনী সভার মুখপত্র ছিলো।
- ব্রাহ্মধর্মের প্রচার এবং তত্ত্ববোধিনী সভার সভ্যদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষার উদ্দেশ্যে ১৮৪৩ সালের ১৬ আগস্ট অক্ষয়কুমার দত্তের সম্পাদনায় তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা প্রথম প্রকাশিত হয়।
- এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর।
- উনিশ শতকের শ্রেষ্ঠ গদ্যলেখক ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, রাজনারায়ণ বসু, দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রমুখ এ পত্রিকায় নিয়মিত লিখতেন এবং তাঁদের লেখার মাধ্যমে তখন বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে এক নবযুগের সূচনা হয়।
- বেদান্ত-প্রতিপাদ্য ব্রহ্মবিদ্যার প্রচার পত্রিকারমুখ্য উদ্দেশ্য হলেও জ্ঞানবিজ্ঞান, ইতিহাস, সাহিত্য, ধর্ম, রাজনীতি, অর্থনীতি, সমাজতত্ত্ব এবং দর্শনবিষয়ক মূল্যবান রচনাও এতে প্রকাশিত হতো।
- তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা ১৯৩২ সাল পর্যন্ত প্রকাশিত হয়েছে।
- অক্ষয়কুমারের পরে বিভিন্ন সময়ে এর সম্পাদনার দায়িত্ব পালন করেন নবীনচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়, সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর, অযোধ্যানাথ পাকড়াশী, হেমচন্দ্র বিদ্যারত্ন, দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও ক্ষিতীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
২৯৭.
কাজী নজরুল ইসলাম ও মুজাফ্ফর আহমদের যুগ্ম সম্পাদনায় প্রকাশিত সংবাদপত্র কোনটি?
  1. শিখা
  2. নবযুগ
  3. সৈনিক
  4. সংবাদ প্রভাকর
সঠিক উত্তর:
নবযুগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নবযুগ
ব্যাখ্যা
• দৈনিক নবযুগ পত্রিকা:
- দৈনিক নবযুগ পত্রিকাটি ১৯২০ সালের ১২ জুলাই প্রথম প্রকাশিত হয়। এটির মালিক ও পরিচালক ছিলেন শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক।
- জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ও মুজাফফর আহমদ ছিলেন যুগ্ম সম্পাদক।
- পত্রিকাটি প্রকাশের বছর খানেকের মধ্যে বন্ধ হয়ে যায় এবং ১৯৪২ সালে পুনরায় চালু হয়ে দুবছর পর চিরতরে বন্ধ হয়ে যায়।
- দৈনিক নবযুগে কাজী নজরুল লিখিত কলামসমূহ নিয়ে নজরুলের ‍যুগবাণী প্রবন্ধগ্রন্থ প্রকাশিত হয় যা ব্রিটিশ সরকার রাজয়োপ্ত করে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
২৯৮.
'মজলুম আদিব' ছদ্মনামে সাহিত্য রচনা করেছেন কে?
  1. আহসান হাবীব 
  2. হাসান আজিজুল হক 
  3. শামসুর রাহমান
  4. সৈয়দ শামসুল হক 
সঠিক উত্তর:
শামসুর রাহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শামসুর রাহমান
ব্যাখ্যা

• শামসুর রাহমান:
- শামসুর রাহমান ছিলেন কবি, সাংবাদিক। তিনি ১৯২৯ সালে পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পৈত্রিক বাড়ি ঢাকা জেলার রায়পুর থানার পাড়াতলী গ্রামে।

- তাঁর ডাক নাম ছিল 'বাচ্চু'। মুক্তিযুদ্ধকালে তিনি 'মজলুম আদিব' ছদ্মনামে লিখতেন।

উল্লেখ্য,
- ১৯৬০ সালে তাঁর প্রথম কাব্য, প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে-র প্রকাশ কবিতায় তাঁর অধিকার প্রতিষ্ঠা করে। কলকাতা থেকে বুদ্ধদেব বসু সম্পাদিত কবিতা পত্রিকায় তাঁর 'রূপালি স্নান' প্রকাশ করে কবিতার বৃহত্তর বাংলায় তাঁর আত্মপ্রকাশ ঘটে। 'রূপালি স্নান' কে বলা যায় শামসুর রাহমানের আগমনী কবিতা।

- শামসুর রাহমান ১৯৫৭ সালে সাংবাদিকতা জীবন শুরু করেন ইংরেজী দৈনিক মর্নিং নিউজ-এর সহসম্পাদক হিসেবে।

- তাঁর দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ 'রৌদ্র করোটিতে'। কবি তাঁর দ্বিতীয় কাব্যের জন্য আদমজী পুরস্কারে ভূষিত হন। পুরস্কারটি প্রদান করেছিলেন প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খান। 'হাতির শুঁড়' কবিতায় যাঁর ক্ষমতাগ্রহণকে তিনি ব্যঙ্গ করেছিলেন।

- ১৯৭০ সালে প্রকাশিত তাঁর নিজ বাসভূমে কাব্য তিনি উৎসর্গ করেন আবহমান বাঙলার শহীদদের উদ্দেশ্যে। 'বর্ণমালা, আমার দুঃখিনী বর্ণমালা', 'ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯', 'পুলিশ রিপোর্ট', 'হরতাল', 'এ লাশ আমরা রাখব কোথায়', তাঁর রচিত এ কবিতাগুলির ছত্রেছত্রে লেগে আছে এক বিক্ষুব্ধ সময়ের ছাপ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

২৯৯.
‘কবিতা’ পত্রিকার সম্পাদক কে ছিলেন?
  1. জীবনানন্দ দাশ
  2. বুদ্ধদেব বসু
  3. কাজী নজরুল ইসলাম
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
সঠিক উত্তর:
বুদ্ধদেব বসু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বুদ্ধদেব বসু
ব্যাখ্যা

'কবিতা' পত্রিকা:
- বুদ্ধদেব বসু সম্পাদিত পত্রিকার নাম হচ্ছে - কবিতা।
- বুদ্ধদেব বসু, প্রেমেন্দ্র মিত্র, সমর সেন এই তিন কবি 'কবিতা' পত্রিকার সূচনা পর্বের সম্পাদনা সূত্রে সাথে যুক্ত ছিলেন।
- পত্রিকাটি ১৯৩৫ সালে প্রথম প্রকাশ পায় এবং ১৯৬১ সাল পর্যন্ত চলে।
- এ পত্রিকায় শুধু কবিতা ও কবিতা বিষয়ক গদ্য ছাপা হতো। 
- আধুনিক এমন কোনো বাঙালি উল্লেখযোগ্য কবি নেই, যিনি 'কবিতা' পত্রিকায় লিখেননি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩০০.
বাংলা একাডেমির ‘আঞ্চলিক অভিধানে’র সম্পাদক হলেন:
  1. ক) ড. মুহম্মদ এনামুল হক
  2. খ) নরেন বিশ্বাস
  3. গ) ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  4. ঘ) ড. আহমদ শরীফ
সঠিক উত্তর:
গ) ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি প্রকাশিত আঞ্চলিক অভিধানের প্রধান সম্পাদক ছিলেন ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ (১৮৮৫ - ১৯৬৯)। 
• তার অন্যান্য সংকলিত ও সম্পাদিত গ্রন্থ:
- পদ্মাবতী,
- প্রাচীন ধর্মগ্রন্থে শেষ নবী,
- গল্প সংকলন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।