বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

সাহিত্যিক ছদ্মনাম, উপাধি এবং পত্রিকা-সাময়িকী ও সম্পাদক

মোট প্রশ্ন১,৬০৩এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

সাহিত্যিক ছদ্মনাম, উপাধি এবং পত্রিকা-সাময়িকী ও সম্পাদক

PrepBank · পাতা / ১৬ · ১০০ / ১,৬০৩

.
'শিখা' - কোন ধরনের পত্রিকা?
  1. বার্ষিক
  2. সাপ্তাহিক
  3. দ্বিমাসিক
  4. মাসিক
সঠিক উত্তর:
বার্ষিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বার্ষিক
ব্যাখ্যা

'শিখা' পত্রিকা:
- ১৯২৬ সালে ঢাকায় প্রতিষ্ঠিত মুসলিম সাহিত্য-সমাজে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ১৯২৭ সালে 'শিখা' নামে একটি বার্ষিক মুখপত্র প্রকাশ করে। 
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি ও বাণিজ্য বিভাগের অধ্যাপক আবুল হুসেন ছিলেন শিখা পত্রিকার প্রথম সংখ্যার সম্পাদক।
- শিখা বছরে একবার প্রকাশিত হতো। 
- পত্রিকাটি মুসলিম সাহিত্য-সমাজের পক্ষে আবদুল কাদির কর্তৃক মুসলিম হল থেকে প্রকাশিত এবং মুন্সি আহমদ আলী কর্তৃক সাত রওজার (ঢাকা) ইসলামিয়া প্রেস থেকে মুদ্রিত।
- শিখার পাঁচটি সংখ্যা প্রকাশিত হয়।
- শিখা ছিল সমকালের অন্যান্য সাময়িকপত্র থেকে সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র ধরনের।
- তাই প্রথম সংখ্যা প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই পত্রিকাটি বুদ্ধিজীবী সমাজের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
 মুসলিম সাহিত্য-সমাজের সারা বছরের কর্মকান্ডের পরিচয় বহন করত শিখা। 
- শিখার প্রতিটি সংখ্যার শিরোদেশে ‘জ্ঞান যেখানে সীমাবদ্ধ, বুদ্ধি সেখানে আড়ষ্ট, মুক্তি সেখানে অসম্ভব’ কথাটি মুদ্রিত থাকত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

.
কোন খ্যাতিমান লেখক 'বীরবল' ছদ্মনামে লিখতেন?
  1. প্রমথনাথ বিশী
  2. প্রমথ চৌধুরী
  3. প্রেমেন্দ্র মিত্র
  4. প্রমথ নাথ বসু
সঠিক উত্তর:
প্রমথ চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রমথ চৌধুরী
ব্যাখ্যা
• প্রমথ চৌধুরী:
- প্রমথ চৌধুরী সাহিত্যিক, বাংলা চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তক।
- তিনি ১৮৬৮ সালের ৭ আগষ্ট যশোরে জন্মগ্রহণ করেন।
- প্রমথ চৌধুরীর সাহিত্যিক ছদ্মনাম 'বীরবল।'
- প্রমথ চৌধুরী রচিত 'বীরবলের হালখাতা' ১৯০২ সালে ভারতী পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়। এই গ্রন্থে তিনি প্রথম চলিত রীতির প্রয়োগ ঘটান।
- বাংলা কাব্য সাহিত্যে তিনিই প্রথম ইতালীয় সনেটের প্রবর্তন করেন।
- তিনি 'সবুজপত্র' পত্রিকাটি সম্পাদনা করেন।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সনেট পঞ্চাশৎ,
- পদচারণ।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- তেল নুন লকড়ি,
- বীরবলের হালখাতা,
- নানাকথা,
- আমাদের শিক্ষা,
- রায়তের কথা,
- নানাচর্চা,
- আত্মকথা,
- প্রবন্ধসংগ্রহ ইত্যাদি।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- চার ইয়ারী কথা,
- আহুতি,
- নীললোহিত।

---------------------
অন্যদিকে,
- প্রেমেন্দ্র মিত্রের ছদ্মনাম ছিল কৃত্তিবাস ভদ্র, লেখরাজ সামন্ত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
.
'শিখা' পত্রিকা কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৯২৭ সালে
  2. ১৮২৮ সালে
  3. ১৯২১ সালে
  4. ১৯৩৭ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯২৭ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯২৭ সালে
ব্যাখ্যা
'শিখা' পত্রিকা:
- ১৯২৭ সালে 'শিখা' নামে একটি বার্ষিক মুখপত্র প্রকাশ করে।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি ও বাণিজ্য বিভাগের অধ্যাপক আবুল হুসেন ছিলেন শিখা পত্রিকার প্রথম সংখ্যার সম্পাদক। শিখা বছরে একবার প্রকাশিত হত।
- পত্রিকাটি মুসলিম সাহিত্য-সমাজের পক্ষে আবদুল কাদির কর্তৃক মুসলিম হল থেকে প্রকাশিত এবং মুন্সি আহমদ আলী কর্তৃক সাত রওজার (ঢাকা) ইসলামিয়া প্রেস থেকে মুদ্রিত।
- শিখা ছিল সমকালের অন্যান্য সাময়িকপত্র থেকে সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র ধরনের।
- তাই প্রথম সংখ্যা প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই পত্রিকাটি বুদ্ধিজীবী সমাজের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। মুসলিম সাহিত্য-সমাজের সারা বছরের কর্মকান্ডের পরিচয় বহন করত শিখা।
- শিখার প্রতিটি সংখ্যার শিরোদেশে ‘জ্ঞান যেখানে সীমাবদ্ধ, বুদ্ধি সেখানে আড়ষ্ট, মুক্তি সেখানে অসম্ভব’ কথাটি মুদ্রিত থাকত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
.
প্যারীচাঁদ মিত্রের উদ্যোগে অল্পশিক্ষিতা মহিলাদের জন্য কোন পত্রিকা প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল? 
  1. তকবীর
  2. বঙ্গদর্শন
  3. আঙুর
  4. মাসিক পত্রিকা
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
মাসিক পত্রিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাসিক পত্রিকা
ব্যাখ্যা

প্যারীচাঁদ মিত্র:
- প্যারীচাঁদ মিত্র ১৮১৪ সালের ২২ জুলাই কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি ছিলেন লেখক, সাংবাদিক, সংস্কৃতিসেবী ও ব্যবসায়ী।
- তাঁর ছদ্মনাম ছিল 'টেকচাঁদ ঠাকুর'।
- কলকাতা পাবলিক লাইব্রেরির ডেপুটি লাইব্রেরিয়ান হিসেবে ১৮৩৬ সালে তাঁর কর্মজীবন শুরু হয়।
- তিনি বাংলা উপন্যাস রচনার পথিকৃৎ হিসেবে খ্যাত।
- সাহিত্যক্ষেত্রে তাঁর সর্বশ্রেষ্ঠ কৃতিত্ব হলো 'আলালের ঘরের দুলাল', যা বাংলা সাহিত্যের প্রথম উপন্যাস হিসেবে পরিচিত।

- প্যারীচাঁদের উদ্যোগে অল্পশিক্ষিতা মহিলাদের জন্য বাংলা ভাষায় একটি মাসিক পত্রিকা প্রথম প্রকাশিত হয়। 
- এর নাম ছিল- 'মাসিক পত্রিকা' প্রথম সংখ্যার প্রকাশকাল ১৬ আগস্ট ১৮৫৪।
- এই পত্রিকার মূল লক্ষ্য ছিল মহিলাদের সহজ ভাষায় জ্ঞান অর্জনের সুযোগ করে দেওয়া। ।
- ১৯৭৭ সালে তিনি ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন। 

• তাঁর উল্লেখযোগ্য রচিত গ্রন্থসমূহ:
- আলালের ঘরের দুলাল,
- মদ খাওয়া বড় দায়,
- জাত থাকার কি উপায়,
- রামারঞ্জিকা,
- গীতাঙ্কুর,
- যৎকিঞ্চিৎ,
- অভেদী।
---------------------
অন্যদিকে,
- আহসান হাবিব ‘দৈনিক তাকবীর’ পত্রিকার সহ-সম্পাদকের পদে নিযুক্ত ছিলেন।
- ‘বঙ্গদর্শন’ পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।
- ‘আঙুর’ শিশুতোষ মাসিক পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন পণ্ডিত ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ।

উৎস:
বাংলাপিডিয়া;
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

.
কোন লেখকের ছদ্মনাম ‘মুসাফির'?
  1. এস ওবায়দুল্লাহ
  2. মােহাম্মদ মনিরুজ্জামান
  3. সৈয়দ মুজতবা আলী
  4. মধুসূদন মজুমদার
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ মুজতবা আলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ মুজতবা আলী
ব্যাখ্যা

সৈয়দ মুজতবা আলী: 
- ১৯০৪ সালে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি  কাজী নজরুল ইসলামের 'রুবাইয়াৎ- ই- ওমর খৈয়াম' গ্রন্থের ভূমিকা লিখেন।  
- ১৯৭৪ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
- 'দেশে বিদেশে' সৈয়দ মুজতবা আলীর প্রথম গ্রন্থ। 
- সৈয়দ মুজতবা আলীর ছদ্মনাম - প্রিয়দর্শী; ওমর খৈয়াম; মুসাফির; সত্য পীর।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- অবিশ্বাস্য,
- শবনম।

তাঁর রচিত ছোটগল্প:
- চাচা-কাহিনী,
- টুনি মেম।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

.
'চতুরঙ্গ' পত্রিকার প্রধান উদ্যোক্তা ছিলেন- 
  1. হুমায়ুন আজাদ 
  2. প্রেমেন্দ্র মিত্র
  3. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত 
  4. হুমায়ুন কবির
সঠিক উত্তর:
হুমায়ুন কবির
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হুমায়ুন কবির
ব্যাখ্যা

• 'চতুরঙ্গ' পত্রিকা:
- 'চতুরঙ্গ' পত্রিকা সম্পাদনা করে হুমায়ুন কবির স্মরণীয় হয়ে আছেন।
- বাংলা সাময়িকপত্রের ইতিহাসে ত্রৈমাসিক ‘চতুরঙ্গ’ অবিস্মরণীয় নাম। ‘চতুরঙ্গ’-এর প্রথম সংখ্যা (আশ্বিন ১৩৪৫) বের হয় ১৯৩৮ খ্ৰীষ্টাব্দের শেষ দিকে, অক্টোবর মাসে। তবে উদ্যোগ শুরু হয়েছিল বছরের প্রথম দিকেই।

- ঐ ঐতিহাসিক উদ্যোগের প্রধান তিন কলাকুশলী হুমায়ুন কবির (১৯০৬-১৯৬৯), বুদ্ধদেব বসু (১৯০৮-১৯৭৪), আতাউর রহমান। তবে প্রথম থেকেই হুমায়ুন কবিরই ছিলেন প্রধান উদ্যোক্তা। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া এবং 'চতুরঙ্গ' পত্রিকা।

.
‘সুধা’ পত্রিকা প্রকাশ করেন কে?
  1. দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
  2. অক্ষয়কুমার দত্ত
  3. দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
সঠিক উত্তর:
দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
ব্যাখ্যা
• দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার:
- দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার ১৮৭৭ সালে উলাইল গ্রাম, ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন।

-  বিদ্যালয়ের অধ্যয়ন-শেষে পিতার সঙ্গে ২১ বছর বয়সে মুর্শিদাবাদে গিয়ে সেখানে ৫ বছর বাস করেন। এই সময় থেকেই ‘সাহিত্য-পরিষৎ পত্রিকা’, ‘প্ৰদীপ’ প্রভৃতি পত্রিকাতে প্ৰবন্ধাবলী প্ৰকাশ করতে থাকেন এবং নিজেও ‘সুধা’ নামে একটি পত্রিকা প্রকাশ করেন।

- এরপর পিতৃষ্বসার জমিদারী তত্ত্বাবধানের ভারপ্রাপ্ত হয়ে ময়মনসিংহে আসেন। সেই সময় থেকে দশ বছর ধরে বাঙলার লুপ্তপ্রায় ‘কথাসাহিত্যে’র সংগ্রহ ও গবেষণা করেন। পরে এই সংগৃহীত উপদানসমূহ ড. দীনেশচন্দ্ৰ সেনের উপদেশানুযায়ী রূপকথা, গীতিকথা, রসকথা ও ব্ৰতকথা—এই চারভাগে বিভক্ত করে পূর্ববঙ্গের পল্লী-অঞ্চলের লুপ্তপ্রায় বিপুল কথাসাহিত্যকে ‘ঠাকুরমার ঝুলি’, ‘ঠাকুরদাদার ঝুলি’, ‘দাদামশায়ের থলে’, ‘ঠানদিদির থলে’ প্রভৃতি গল্পগ্রন্থে স্থায়ী রূপদান করেছেন।

- দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদারের সাহিত্যিক ছদ্মনাম - দৃষ্টিহীন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
.
'বেঙ্গল গেজেট' পত্রিকার সম্পাদক কে?
  1. জেম্স অগাস্টাস হিকি
  2. জেমস সিল
  3. রাজা রামমোহন রায়
  4. উইলিয়াম কেরি
সঠিক উত্তর:
জেম্স অগাস্টাস হিকি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জেম্স অগাস্টাস হিকি
ব্যাখ্যা
'বেঙ্গল গেজেট' পত্রিকা:
- ১৭৮০ খ্রিষ্টাব্দের ২৯শে জানুয়ারি কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয় ভারতের প্রথম মুদ্রিত সংবাদপত্র জেম্স অগাস্টাস হিকি সম্পাদিত 'বেঙ্গল গেজেট'।
- পত্রিকাটিতে মূলত বিজ্ঞাপন, বিদেশি ইংরেজি পত্রিকা থেকে উদ্ধৃতি, সংবাদদাতাদের বিবরণধর্মী লেখা ছাপা হতো।
- 'পোয়েটস্ কর্নার' বলে একটি বিশেষ অংশ ছিল। প্রকাশের প্রথম মাস দশেক কোনো রাজনৈতিক বিবাদপূর্ণ লেখা প্রকাশিত হয় নি।
- পরে প্রশাসনের বিপক্ষে কিছু লেখা বের হলে ১৭৮০ খ্রিষ্টাব্দের ১৪ই নবেম্বর ফোর্ট উইলিয়াম থেকে এক বিজ্ঞপ্তি জারি করে ডাকঘর মারফত পত্রিকা বিতরণ বন্ধ করা হয়। পরে হিকি মামলায় জড়িয়ে পড়েন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
.
কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত ‘ধূমকেতু’ পত্রিকাটি কী ধরনের ছিল?
  1. দৈনিক
  2. সাপ্তাহিক
  3. অর্ধসাপ্তাহিক
  4. মাসিক
সঠিক উত্তর:
অর্ধসাপ্তাহিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অর্ধসাপ্তাহিক
ব্যাখ্যা

কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত ‘ধূমকেতু’ পত্রিকাটি অর্ধসাপ্তাহিকভাবে প্রকাশিত হতো।
--------------------------
• পত্রিকা:
- বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম প্রধানত তিনটি পত্রিকা সম্পাদনা ও পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, যা বাংলা সাংবাদিকতার ইতিহাসে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।
- এগুলো হলো:
- ধূমকেতু (১৯২২),
- লাঙল (১৯২৫) এবং
- দৈনিক নবযুগ (১৯২০-এর দশকে যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে)।
- পরে তিনি ‘লাঙল’-এর নাম পরিবর্তন করে গণবাণী (১৯২৬) পত্রিকাটিও সম্পাদনা করেন।
- এই পত্রিকাগুলোর মাধ্যমে নজরুল ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ, শ্রমিক-কৃষকের অধিকার, এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির মতো বিষয় সাহসিকতার সঙ্গে উপস্থাপন করেছেন।
------------------------- 
উল্লেখ্য,
• 'ধূমকেতু': ১৯২২ সালের ১১ আগস্ট প্রকাশিত ধূমকেতু ছিল অর্ধ-সাপ্তাহিক পত্রিকা। 
- এই পত্রিকায় নজরুলের বিখ্যাত কবিতা ‘আনন্দময়ীর আগমনে’ প্রকাশিত হয়।
- এই কবিতা লেখার জন্য নজরুলকে কারাবরণ করতে হয়। 

• 'লাঙল': 
- এই পত্রিকাটি ১৯২৫ সালে শ্রমিক, প্রজা ও স্বরাজের মুখপত্র হিসেবে ১৬ ডিসেম্বর প্রকাশিত, হয়। 
- নজরুল এই পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।

• 'দৈনিক নবযুগ':
- ১৯২০ সালে প্রকাশিত এই পত্রিকা নজরুল ও মুজফফর আহমদ যৌথভাবে সম্পাদনা করতেন।

• গণবাণী (১৯২৬): ‘লাঙল’-এর পুনঃনামকরণ, নজরুল এতে সম্পাদনা করেন।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

১০.
সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় ব্যবহৃত ছদ্মনাম নয় কোনটি?
  1. নীল লোহিত
  2. সনাতন পাঠক
  3. চিত্রগুপ্ত
  4. নীল উপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
চিত্রগুপ্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চিত্রগুপ্ত
ব্যাখ্যা
• সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় বেশ কয়েকটি ছদ্মনামে সাহিত্য রচনা করতেন। এগুলো হলো:
- নীল লোহিত,
- নীল উপাধ্যায়,
- সনাতন পাঠক।

এছাড়া,
- সতীনাথ ভাদুড়ী ব্যবহৃত ছদ্মনাম - চিত্রগুপ্ত।

বিভিন্ন লেখক ব্যবহৃত কিছু ছদ্মনাম হলো:
- সমরেশ বসুর ছদ্মনাম - কালকূট।
- সোমেন চন্দ ব্যবহৃত ছদ্মনাম - ইন্দ্রকুমার সোম।
- বিমল ঘোষ ব্যবহৃত ছদ্মনাম - মৌমাছি।
- বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় ব্যবহৃত ছদ্মনাম - যাযাবর।
- সতীনাথ ভাদুড়ী ব্যবহৃত ছদ্মনাম - চিত্রগুপ্ত।
- বিমল মিত্র ব্যবহৃত ছদ্মনাম - জাবালি।
- কালিকানন্দ ব্যবহৃত ছদ্মনাম - অবধূত।
-  সৈয়দ মুজতবা আলী ব্যবহৃত ছদ্মনাম - প্রিয়দর্শী। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১.
আবদুল কাদিরের উপাধি ছিলো কোনটি?
  1. কলমসৈনিক
  2. সাহিত্যবিশারদ
  3. ছান্দসিক কবি
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ছান্দসিক কবি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ছান্দসিক কবি
ব্যাখ্যা
• আবদুল কাদিরের উপাধি - ছান্দসিক কবি।

অন্যদিকে,
• আবদুল করিমের উপাধি - সাহিত্যবিশারদ।
• 'কলমসৈনিক' আবদুল হকের উপাধি।
----------------
আবদুল কাদির:
- তিনি ১৯০৬ সালের ১লা জুন আড়াই সিধা গ্রাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক, গবেষক, ছান্দসিক, সম্পাদক।
- মুসলিম সাহিত্য সমাজের (১৯২৬) মাধ্যমে ঢাকায় যে বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন সংঘটিত হয়, আবদুল কাদির ছিলেন তার অন্যতম উদ্যোক্তা।
- তিনি সংগঠনের মুখপত্র বার্ষিক 'শিখা' (১৯২৭) পত্রিকার প্রকাশক ও লেখক ছিলেন।

উৎস:
১. বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
২. প্রথম আলো পত্রিকা।
৩. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১২.
'সবুজপত্র' পত্রিকা প্রথম প্রকাশিত হয়-
  1. ১৮১৮ সালে
  2. ১৯১৪ সালে
  3. ১৯১৮ সালে
  4. ১৯২২ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯১৪ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯১৪ সালে
ব্যাখ্যা

• 'সবুজপত্র' পত্রিকা:
- বিংশ শতাব্দীর বাংলায় আধুনিকতার বাহন বাংলা সাময়িকী।
- প্রমথ চৌধুরীর সম্পাদনায় সবুজপত্র প্রথম প্রকাশিত হয় ১৩২১ বঙ্গাব্দের (১৯১৪ সালে) ২৫ বৈশাখ।
- এ ধরণের একটি সাময়িকী প্রকাশ করার জন্য  রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রমথ চৌধুরীকে উৎসাহ প্রদান করেছিলেন।
- প্রমথ চৌধুরী নতুন সাহিত্য রীতি প্রবর্তনের চেষ্টা হিসেবে কথ্য বাংলাকে অগ্রাধিকার দেন, যা ‘বীরবলী’ ভাষা (তাঁর ছদ্মনাম ‘বীরবল’ থেকে) রূপে পরিচিতি লাভ করে।
- সবুজপত্রের প্রথম সংখ্যায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত এবং সম্পাদকের নিজের লেখা সন্নিবেশিত হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৩.
কত খ্রিষ্টাব্দে 'বেঙ্গল গেজেট' পত্রিকা প্রকাশিত হয়?
  1. ১৭৮০ খ্রিষ্টাব্দ
  2. ১৭৮৮ খ্রিষ্টাব্দ
  3. ১৭৭৩ খ্রিষ্টাব্দ
  4. ১৭৯০ খ্রিষ্টাব্দ
সঠিক উত্তর:
১৭৮০ খ্রিষ্টাব্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৭৮০ খ্রিষ্টাব্দ
ব্যাখ্যা

'বেঙ্গল গেজেট' পত্রিকা:
- ১৭৮০ খ্রিষ্টাব্দের ২৯শে জানুয়ারি কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয় ভারতের প্রথম মুদ্রিত সংবাদপত্র জেম্স অগাস্টাস হিকি সম্পাদিত 'বেঙ্গল গেজেট'।
- পত্রিকাটিতে মূলত বিজ্ঞাপন, বিদেশি ইংরেজি পত্রিকা থেকে উদ্ধৃতি, সংবাদদাতাদের বিবরণধর্মী লেখা ছাপা হতো।
- 'পোয়েটস্ কর্নার' বলে একটি বিশেষ অংশ ছিল। প্রকাশের প্রথম মাস দশেক কোনো রাজনৈতিক বিবাদপূর্ণ লেখা প্রকাশিত হয় নি।
- পরে প্রশাসনের বিপক্ষে কিছু লেখা বের হলে ১৭৮০ খ্রিষ্টাব্দের ১৪ই নবেম্বর ফোর্ট উইলিয়াম থেকে এক বিজ্ঞপ্তি জারি করে ডাকঘর মারফত পত্রিকা বিতরণ বন্ধ করা হয়। পরে হিকি মামলায় জড়িয়ে পড়েন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৪.
নিচের কোন কবি ‘কৃত্তিবাস ভদ্র’ ছদ্মনামে লিখতেন?
  1. বিষ্ণু দে
  2. গোবিন্দদাস
  3. মালাধর বসু
  4. প্রেমেন্দ্র মিত্র
সঠিক উত্তর:
প্রেমেন্দ্র মিত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রেমেন্দ্র মিত্র
ব্যাখ্যা
প্রেমেন্দ্র মিত্র:
- তিনি একাধারে কবি, কথাসাহিত্যিক, সাংবাদিক, সম্পাদক।
- সাহিত্য-সাধনার প্রথমপর্বে তিনি ‘কৃত্তিবাস ভদ্র’ ছদ্মনামে লিখতেন
- তিনি কল্লোল পত্রিকার একজন নিয়মিত লেখক ছিলেন।

অন্যদিকে,
- মালাধর বসু গৌড়েশ্বরের কাছ থেকে 'গুণরাজ খান' উপাধি পেয়েছিলেন।
- শ্রীজীব গোস্বামী গোবিন্দদাসকে ‘কবিরাজ’ উপাধি দেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
১৫.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সম্পাদিত পত্রিকা নয় কোনটি?
  1. বঙ্গদর্শন
  2. সাধনা
  3. বঙ্গদূত
  4. ভারতী
সঠিক উত্তর:
বঙ্গদূত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বঙ্গদূত
ব্যাখ্যা
• 'বঙ্গদূত' — রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সম্পাদিত পত্রিকা নয়।
- ‘বঙ্গদূত’ নীলমণি হালদার সম্পাদিত পত্রিকা।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সম্পাদিত পত্রিকাসমূহ:
• 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকা:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের সম্পাদনায় ১৮৭২ খ্রিষ্টাব্দে মাসিক 'বঙ্গদর্শন' প্রকাশিত হয়।
- এ পত্রিকার মাধ্যমে বাংলা গদ্যের প্রভুত উন্নতি সাধনের লক্ষ্যে বঙ্কিমচন্দ্র একটি শক্তিশালী লেখকগোষ্ঠী গড়ে তোলেন।
- বঙ্কিমচন্দ্রের মৃত্যুর পর রবীন্দ্রনাথ 'বঙ্গদর্শন' সম্পাদনা করেন।

• 'সাধনা’ পত্রিকা:
- এটি জোড়াসাঁকোর ঠাকুর পরিবারের তরুণ-বংশধরদের সম্পাদিত চতুর্থ পত্রিকা।
- সাধনা প্রথম প্রকাশিত হয় ১২৯৮ বঙ্গাব্দের অগ্রহায়ণ মাসে (ডিসেম্বর, ১৮৯১)।
- ১৮৯১ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভ্রাতুষ্পুত্র সুধীন্দ্রনাথ ঠাকুর সম্পাদনায় পত্রিকাটি প্রথম প্রকাশ ঘটে।
- চতুর্থ বছর সম্পাদনার ভার রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিজেই গ্রহণ করেন।
- এই পত্রিকার প্রধান লেখক ছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিজেই।

• ‘ভারতী' পত্রিকা :
- ‘ভারতী' একটি মাসিক পত্রিকা।
- প্রথম প্রকাশিত হয় ১৮৭৭ (১২৮৪ বঙ্গাব্দ) সালে।
- প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর। স্বর্ণকুমারী দেবী ১২৯১-১৩০১ বঙ্গাব্দ পর্যন্ত পত্রিকাটি সম্পাদনা করেন।
- পরবর্তীতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরসহ ঠাকুর বাড়ির অনেকেই সম্পাদনা করেন।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
২. বাংলাপিডিয়া।
১৬.
বিশ শতকের পত্রিকা নয় কোনটি?
  1. নওরোজ
  2. নবজীবন
  3. নবনূর
  4. নারায়ণ
সঠিক উত্তর:
নবজীবন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নবজীবন
ব্যাখ্যা
• বিশ শতকের পত্রিকা নয় - নবজীবন
- এটি ১৮৮৪ সালে প্রকাশিত হয়।
- অক্ষয়চন্দ্র সরকার এটির প্রথম সম্পাদক ছিলেন।

অন্যদিকে,
• 'নওরোজ' পত্রিকা ১৯২৭ সালে প্রকাশিত হয়।
- মোহাম্মদ আফজাল-উল হক এটির প্রথম সম্পাদক ছিলেন।

• 'নবনূর' পত্রিকা ১৯০৩ সালে প্রকাশিত হয়।
- সৈয়দ এমদাদ আলী এটির প্রথম সম্পাদক ছিলেন।

• 'নারায়ণ' পত্রিকা ১৯১৪ সালে প্রকাশিত হয়।
- দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ এটির প্রথম সম্পাদক ছিলেন।

অভিসম্বন্ধ: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৭.
‘শনিবারের চিঠি’ কি ধরনের সাহিত্য পত্রিকা?
  1. ক) তথ্য সমৃদ্ধ
  2. খ) হাস্যরসাত্নক
  3. গ) নীতিকথা
  4. ঘ) সবগুলো
সঠিক উত্তর:
খ) হাস্যরসাত্নক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) হাস্যরসাত্নক
ব্যাখ্যা
‘শনিবারের চিঠি পত্রিকা’ এর প্রধান উদ্দেশ্য ছিল হাস্য কৌতুকের মাধ্যমে সমসাময়িক সাহিত্য-চর্চাকে আক্রমণ করা।

শনিবারের চিঠি পত্রিকা
- শনিবারের চিঠি স্যাটায়ার ধর্মী সাহিত্যিক পত্রিকা।
- প্রথম দিকে এটি সাপ্তাহিক পরে মাসিক পত্রিকা  হিসেবে প্রকাশিত হয়।
- এটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯২৪ সালে।
- শনিবারের চিঠির প্রায় সব রচনা বেনামে প্রকাশিত হয়েছে।
- হাস্য-কৌতুক ও তীর্যক মন্তব্যের মাধ্যমে শনিবারের চিঠি ত্রিশ ও চল্লিশের দশকের বাংলা সাময়িকপত্রের ইতিহাসে বিশিষ্ট স্থান অধিকার করে আছে।

লেখকদের মধ্যে উলেখযোগ্য ছিলেন:
- অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
- রামানন্দ চট্টোপাধ্যায়
- সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
- অশোক চট্টোপাধ্যায়
- সুবিমল রায়
- মোহিতলাল মজুমদার
- সজনীকান্ত দাস
- যোগানন্দ দাস
- নীরদ চন্দ্র চৌধুরী প্রমুখ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৮.
'শিখা' পত্রিকা প্রকাশিত হয় কত সালে?
  1. ১৯২৭ সালে
  2. ১৯২৩ সালে
  3. ১৯২৫ সালে
  4. ১৯৩০ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯২৭ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯২৭ সালে
ব্যাখ্যা
'শিখা' পত্রিকা:
- ১৯২৬ সালে ঢাকায় প্রতিষ্ঠিত মুসলিম সাহিত্য-সমাজে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ১৯২৭ সালে 'শিখা' নামে একটি বার্ষিক মুখপত্র প্রকাশ করে।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি ও বাণিজ্য বিভাগের অধ্যাপক আবুল হুসেন ছিলেন শিখা পত্রিকার প্রথম সংখ্যার সম্পাদক।
- শিখা বছরে একবার প্রকাশিত হত।
- পত্রিকাটি মুসলিম সাহিত্য-সমাজের পক্ষে আবদুল কাদির কর্তৃক মুসলিম হল থেকে প্রকাশিত এবং মুন্সি আহমদ আলী কর্তৃক সাত রওজার (ঢাকা) ইসলামিয়া প্রেস থেকে মুদ্রিত।
- শিখার পাঁচটি সংখ্যা প্রকাশিত হয়।
- শিখা ছিল সমকালের অন্যান্য সাময়িকপত্র থেকে সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র ধরনের।
- তাই প্রথম সংখ্যা প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই পত্রিকাটি বুদ্ধিজীবী সমাজের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
মুসলিম সাহিত্য-সমাজের সারা বছরের কর্মকান্ডের পরিচয় বহন করত শিখা।
- শিখার প্রতিটি সংখ্যার শিরোদেশে ‘জ্ঞান যেখানে সীমাবদ্ধ, বুদ্ধি সেখানে আড়ষ্ট, মুক্তি সেখানে অসম্ভব’ কথাটি মুদ্রিত থাকত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৯.
প্রমথ চৌধুরী রচিত 'চার-ইয়ারী কথা' গল্পটি প্রথম কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
  1. ভারতী 
  2. সবুজপত্র
  3. পরিচয় 
  4. কবিতা
সঠিক উত্তর:
সবুজপত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবুজপত্র
ব্যাখ্যা

• 'চার-ইয়ারী কথা' গল্প:
- প্রমথ চৌধুরী রচিত 'চার-ইয়ারী কথা' গল্পটি প্রথম প্রকাশিত হয় 'সবুজপত্র' পত্রিকায়। ১৩২২ বঙ্গাব্দের চৈত্র, ১৩২৩-এর বৈশাখ ও জৈষ্ঠ্য সংখ্যায় তিন কিস্তিতে গল্পটি প্রকাশিত হয়। বহু প্রশংসিত হবার পর, এটি গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয় ১৯১৬ সাধারণাব্দে।

- প্রমথ চৌধুরী বইটি উৎসর্গ করেন স্ত্রী ইন্দিরা দেবী চৌধুরাণীকে। ১৯৪৪-এ এই বইটির ইন্দিরা দেবীকৃত ইংরেজি তর্জমা 'Tale of Four Friends' প্রকাশ করে বিশ্বভারতী। এই কাহিনি সম্পর্কে অভিযোগ উঠেছিল, এটি আনাতোল ফ্রাঁসের গল্পের অনুকরণে গড়া।

- গল্প প্রকাশের সময় অনেকেই প্রমথ চৌধুরীকে মুখে বলেছেন: তাঁর নায়িকাগুলির বর্ণনা, কথোপকথন ও চরিত্রাঙ্কন এত নিখুঁত যে মনে হওয়াই স্বাভাবিক যে 'চার ইয়ারি কথা'-র চারটি নায়িকার সঙ্গে বিলেতে তাঁর নিশ্চয়ই পরিচয় ছিল। ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ছাড়া এমন লেখা সম্ভব নয়।
প্রত্যুত্তরে প্রমথ চৌধুরী বলেন: "প্রথম নায়িকা হচ্ছে পাগল, দ্বিতীয়টি চোর, তৃতীয়টি জুয়াচ্চোর, আর চতুর্থটি ভূত। বলা বাহুল্য, একরকম চারটি সম্পূর্ণ বিভিন্ন চরিত্রের নায়িকার একটির পর একটির সঙ্গে পরিচয় হওয়া অসম্ভব। এই চারটিই আমার মনগড়া। তবে এর ভিতর তৃতীয় গল্পের নায়িকার সঙ্গে আমার পরিচয় ছিল, যাকে আমি রিণী নামে গড়ে তুলেছি।"

- সেকালে পাঠক সমাজের বিশেষ উৎসাহ ছিল তৃতীয় গল্পের রহস্যময়ী নায়িকা রিণীকে নিয়ে। বিশেষত রিণীর সঙ্গে লেখকের কোনো সম্পর্ক ছিল কিনা তা-ই নিয়ে। আত্ম-কথা-য় এ বিষয়ে প্রমথ চৌধুরী যা লিখেছিলেন তার অনেকটাই হারিয়ে গেছে। আর যে-কিছুটা অংশ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে তা বৈশাখী-তে (১৩৫২) প্রকাশিত হয়েছে।

----------------
প্রমথ চৌধুরী রচিত বিখ্যাত সাহিত্যকর্মগুলো হলো-
• প্রবন্ধ:
- তেল-নুন-লকড়ী,
- বীরবলের হালখাতা,
- নানাকথা,
- ভাষার কথ,
- আমাদের শিক্ষা,
- নানাচর্চা। 

• গল্পগ্রন্থ:
- চার-ইয়ারী কথা,
- নীললোহিত,
- ঘোষালে ত্রিকথা।

উৎস: 'চার-ইয়ারী কথা' গল্প গ্রন্থ; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

২০.
কোন কবির প্রাপ্ত উপাধি - ‘গুণরাজ খান’?
  1. কৃত্তিবাস ওঝা
  2. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  3. মালাধর বসু
  4. চণ্ডীদাস
সঠিক উত্তর:
মালাধর বসু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মালাধর বসু
ব্যাখ্যা
গ) মালাধর বসু-র প্রাপ্ত উপাধি হলো - 'গুণরাজ খান'।

• মালাধর বসু ও তাঁর উপাধি: গুণরাজ খান।
মালাধর বসুকে গুণরাজ খান উপাধি দেওয়া হয়েছিল। তবে এই উপাধি কে দিয়েছিলেন, তা নিয়ে মতভেদ রয়েছে। কারণ, তাঁর কাব্যরচনার সময় দুইজন গৌড়েশ্বর ছিলেন:

এরা হলেন - 
• রুকনুদ্দিন বরবক শাহ – কাব্য রচনার প্রথম পর্যায় গৌড়েশ্বর।
• শামসুদ্দিন ইউসুফ শাহ – কাব্য রচনার শেষ পর্যায় গৌড়েশ্বর।

তবে কবির নিজ কাব্য থেকেই পাওয়া যায় এই উক্তি-
“গুণ নাই, অধম মুই, নাহি কোন জ্ঞান।
 গৌড়েশ্বর দিল নাম গুণরাজ খান।”

এই পদ থেকেই ধারণা করা হয়, মালাধর বসুকে গুণরাজ খান উপাধি দিয়েছিলেন রুকনুদ্দিন বরবক শাহ।

উল্লেখ্য:
মালাধর বসু ছিলেন গৌড়ের সুলতান রুকনুদ্দিন বরবক শাহের উচ্চপদস্থ কর্মচারী। তিনি সংস্কৃতপটু, হিন্দু ধর্মালম্বী হয়েও মুসলিম শাসকের কাছ থেকে এই সম্মান লাভ করেন, যা তৎকালীন সময়ের ধর্মীয় সহনশীলতার নিদর্শন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।
২১.
বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়ের সাহিত্যিক ছদ্মনাম কী? 
  1. নীল উপাধ্যায়
  2. বনফুল
  3. হাবু শর্মা
  4. দৃষ্টিহীন
সঠিক উত্তর:
বনফুল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বনফুল
ব্যাখ্যা

• বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় এর ছদ্মনাম ‘বনফুল’।

• অন্যদিকে,
​সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় এর ছদ্মনাম- 'নীল উপাধ্যায়'।
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম- হাবু শর্মা।
দক্ষিণারঞ্জন মিত্রমজুমদার এর ছদ্মনাম - দৃষ্টিহীন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া।

২২.
সঙ্গীতজগতে ‘নিধু গুপ্ত’ নামে পরিচিত-
  1. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী 
  2. রামনিধি গুপ্ত
  3. মানিক দত্ত
  4. বিজয় গুপ্ত
সঠিক উত্তর:
রামনিধি গুপ্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রামনিধি গুপ্ত
ব্যাখ্যা

রামনিধি গুপ্ত (১৭৪১-১৮৩০):
- তিনি সঙ্গীতশিল্পী ও টপ্পা গানের জনক।
- তাঁর প্রকৃত নাম ‘রামনিধি গুপ্ত’, কিন্তু সঙ্গীতজগতে তিনি ‘নিধু গুপ্ত’ নামেই পরিচিত
- কেউ কেউ তাঁকে ‘নিধুবাবু’ বলেও ডাকতেন।
- পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার চাপ্তায় মাতুলালয়ে তাঁর জন্ম। পিতা হরিনারায়ণ গুপ্ত পেশায় ছিলেন একজন কবিরাজ এবং তিনি কলকাতার কুমারটুলিতে সপরিবারে বাস করতেন।
- তাঁর টপ্পা সঙ্গীত সংকলনের নাম 'গীতরত্ন' (১৮৩২) 

- তাঁর রচিত বিখ্যাত টপ্পা- 
"নানান দেশের নানান ভাষা,
বিনে স্বদেশী ভাষা,
মিটে কি আশা?"

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ এবং বাংলাপিডিয়া।

২৩.
'বাংলার মিল্টন' কার অভিধা?
  1. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  2. জীবনানন্দ দাশ
  3. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টাপাধ্যায়
  4. হেমচন্দ্র বন্দোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
হেমচন্দ্র বন্দোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হেমচন্দ্র বন্দোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
- হেমচন্দ্র বন্দোপাধ্যায় মূলত মহাকাব্যের কবি ছিলেন।
- মধুসূদনের পরবর্তী কাব্য রচয়িতাদের মধ্যে ইনি সে সময় সবচেয়ে খ্যাতিমান ছিলেন।
- 'বাংলার মিল্টন' তার উপাধি / অভিধা।

অন্যদিকে, 
• মাইকেল মধুসূদন দত্ত একজন মহাকবি, বাংলাভাষার প্রথম সনেট প্রবর্তক, বাংলা সাহিত্যে অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক। এবং আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম বিদ্রোহী কবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত। 

• জীবনানন্দ দাশের উপাধি / অভিধাসমূহ:
- ধুসরতার কবি,
- তিমির হননের কবি,
- রূপসী বাংলার কবি,
- নির্জনতার কবি।

• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয়। তিনি 'বাংলার স্কট' ও 'সাহিত্য সম্রাট' নামে পরিচিত। এবং পেশাগত কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় 'রায়বাহাদুর' উপাধি লাভ করেন। 

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২৪.
'বীরবল' কার ছদ্মনাম?
  1. বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়
  2. অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
  3. অন্নদাশঙ্কর রায়
  4. প্রমথ চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
প্রমথ চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রমথ চৌধুরী
ব্যাখ্যা

• প্রমথ চৌধুরী:
• বাংলা চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তক প্রমথ চৌধুরী'র ছদ্মনাম বীরবল।
- ১৯১৪ সালে মাসিক  সবুজপত্র প্রকাশনা এবং তার মাধ্যমে বাংলা চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তন তাঁর জীবনের শ্রেষ্ঠ কীর্তি।
- একে কেন্দ্র করে তখন একটি শক্তিশালী লেখকগোষ্ঠী গড়ে ওঠে।
- স্বয়ং রবীন্দ্রনাথও এর অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
- প্রমথ চৌধুরী ‘বীরবল’ ছদ্মনামে এ পত্রিকায় ব্যঙ্গরসাত্মক প্রবন্ধ ও নানা গল্প প্রকাশ করেন।
- তাঁর এ ছদ্মনাম থেকে তখন বাংলা সাহিত্যে বীরবলী ধারা প্রবর্তিত হয়।

অন্যদিকে,
- অন্নদাশঙ্কর রায়ের ছদ্মনাম লীলাময় রায়
- বনফুল ছদ্মনামে লিখতেন বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়।
- 'অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত' এর সাহিত্যিক ছদ্মনাম- নীহারিকা দেবী 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২৫.
'জ্ঞানান্বেষণ' পত্রিকা প্রথম প্রকাশিত হয়-
  1. ১৯১৮ সালে
  2. ১৯২৩ সালে
  3. ১৮৩১ সালে
  4. ১৮৩৯ সালে
সঠিক উত্তর:
১৮৩১ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮৩১ সালে
ব্যাখ্যা

- 'জ্ঞানান্বেষণ' পত্রিকা সম্পাদক ছিলেন দক্ষিণারঞ্জন মুখোপাধ্যায়।
- এটি ১৮৩১ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়।
উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

২৬.
'তত্ত্ববোধিনী' পত্রিকা কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৮৬৩ সালে
  2. ১৮৪৩ সালে
  3. ১৮৮৭ সালে
  4. ১৮২৩ সালে
সঠিক উত্তর:
১৮৪৩ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮৪৩ সালে
ব্যাখ্যা

'তত্ত্ববোধিনী' পত্রিকা:
- এটি ব্রাহ্মসমাজের তত্ত্ববোধিনী সভার মুখপত্র ছিলো। 
- ব্রাহ্মধর্মের প্রচার এবং তত্ত্ববোধিনী সভার সভ্যদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষার উদ্দেশ্যে ১৮৪৩ সালের ১৬ আগস্ট অক্ষয়কুমার দত্তের সম্পাদনায় তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা প্রথম প্রকাশিত হয়। এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর।
- উনিশ শতকের শ্রেষ্ঠ গদ্যলেখক ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, রাজনারায়ণ বসু, দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রমুখ এ পত্রিকায় নিয়মিত লিখতেন এবং তাঁদের লেখার মাধ্যমে তখন বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে এক নবযুগের সূচনা হয়।
- বেদান্ত-প্রতিপাদ্য ব্রহ্মবিদ্যার প্রচার পত্রিকারমুখ্য উদ্দেশ্য হলেও জ্ঞানবিজ্ঞান, ইতিহাস, সাহিত্য, ধর্ম, রাজনীতি, অর্থনীতি, সমাজতত্ত্ব এবং দর্শনবিষয়ক মূল্যবান রচনাও এতে প্রকাশিত হতো।
- তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা ১৯৩২ সাল পর্যন্ত প্রকাশিত হয়েছে।
- অক্ষয়কুমারের পরে বিভিন্ন সময়ে এর সম্পাদনার দায়িত্ব পালন করেন নবীনচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়, সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর, অযোধ্যানাথ পাকড়াশী, হেমচন্দ্র বিদ্যারত্ন, দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও ক্ষিতীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

২৭.
নির্মলেন্দু গুণকে বলা হয়-
  1. প্রাচীন কবি
  2. বাংলাদেশের কবিদের কবি
  3. গ্রামীণ কবি
  4. নাগরিক কবি
সঠিক উত্তর:
বাংলাদেশের কবিদের কবি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাংলাদেশের কবিদের কবি
ব্যাখ্যা
- নির্মলেন্দু গুণকে বাংলাদেশের কবিদের কবি বলা হয়।

- নির্মলেন্দু গুণ গত শতাব্দীর ষাটের দশকে কবিতা লেখা আরম্ভ করেন। পরের দশকেই তাঁর কবিতা এতোটা প্রভাববিস্তারী হয়ে উঠে যে, তরুণরা তাঁর কবিতা দিয়ে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত হতে থাকে। অনেকে তাঁর কবিতা পড়েই কবি হবার আকাঙ্ক্ষা বোধ করে।

- বাংলাদেশের আর কোন কবি অনুজ কবিদের উপর এতটা প্রভাব বিস্তার করতে পারেনি। গত শতাব্দীর সত্তর দশকের অনেক প্রতিষ্ঠিত কবি তাঁর প্রভাবেই কবি হয়েছেন। তাই নির্মলেন্দু গুণকে কবিদের কবি বলা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২৮.
'বিদ্যাভূষণ' কোন কবির উপাধি?
  1. কায়কোবাদ
  2. দীনেশচন্দ্র সেন
  3. কালীপ্রসন্ন সিংহ
  4. হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
কায়কোবাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কায়কোবাদ
ব্যাখ্যা

• কায়কোবাদ:
- কায়কোবাদ (১৮৫৭-১৯৫১) ছিলেন আধুনিক বাংলা মহাকাব্য ধারার শেষ কবি, তিনি বাঙ্গালি মুসলিম কবিদের মধ্যে প্রথম সনেট রচয়িতা এবং আধুনিক বাংলাসাহিত্যের প্রথম মুসলিম কবি।
- তাঁর প্রকৃত নাম মোহাম্মদ কাজেম আল কোরেশী, 'কায়কোবাদ' তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম। ১৮৫৭ সালে ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার আগলা গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- অতি অল্পবয়স থেকে কায়কোবাদের সাহিত্য-প্রতিভার স্ফুরণ ঘটে। মাত্র তেরো বছর বয়সে তাঁর প্রথম কাব্য বিরহবিলাপ (১৮৭০) প্রকাশিত হয়।
- নিখিল ভারত সাহিত্য সংঘ কর্তৃক কবি কায়বোবাদকে কাব্যভূষণ, বিদ্যাভূষণ ও সাহিত্যরত্ন উপাধিতে ভূষিত করা হয়।

তাঁর অন্যান্য কাব্যগ্রন্থগুলো হচ্ছে:
- কুসুম কানন,
- অশ্রুমালা,
- মহাশ্মশান,
- শিব-মন্দির,
- অমিয়ধারা,
- শ্মশান-ভস্ম ও
- মহরম শরীফ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

২৯.
বাংলা একাডেমি থেকে কতটি পত্রিকা প্রকাশিত হয়?
  1. ক) ২টি
  2. খ) ৩টি
  3. গ) ৫টি
  4. ঘ) ৬টি
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৬টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৬টি
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি থেকে ছয়টি পত্রিকা প্রকাশিত হয়।

১. বাংলা একাডেমি পত্রিকা :
- গবেষণা মূলক ত্রৈমাসিক।বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের উপর বিশেষ গুরুত্ব সহ অন্যান্য বিষয়ে ও বাংলায় রচিত গবেষণা মূলক প্রবন্ধ এতে প্রকাশিত হয়।

২. উত্তরাধিকার মাসিক পত্রিকা :
- এতে সৃজনশীল রচনা, গল্প, কবিতা, প্রবন্ধ, নাটক, গ্রন্থ সমালোচনা ইত্যাদি মুদ্রিত হয়।

৩. ধানশালিকের দেশ : 
- ত্রৈমাসিক কিশোর পত্রিকা। কিশোর উপযোগী গল্প, কবিতা, ছড়া ইত্যাদি এই পত্রিকায় মুদ্রিত হয়।

৪. বাংলা একাডেমি বিজ্ঞান পত্রিকা :
- ষাণ্মাসিক এই পত্রিকাটি বিজ্ঞান বিষয়ক রচনার সমন্বয়ে প্রকাশিত হয়। এটি একটি অনিয়মিত প্রকাশনা।

৫. বাংলা একাডেমি জার্নাল : 
- ইংরেজি ভাষায় প্রকাশিত ষাণ্মাসিক পত্রিকা। বাংলা সাহিত্যের নির্বাচিত রচনা ইংরেজির অনুবাদ এবং বাংলা সাহিত্য ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ইংরেজি ভাষায় রচিত মৌলিক রচনা এতে প্রকাশিত হয়। এটি একটি অনিয়মিত প্রকাশনা।

৬. বার্তা :
- শের শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতির সংবাদসহ প্রকাশিত হচ্ছে। বর্তমানে এটি একটি অনিয়মিত প্রকাশনা। উল্লিখিত পত্রিকাসমূহ তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

উৎস: বাংলা একাডেমি :সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট।
৩০.
'বাঙ্গাল গেজেট' প্রথম প্রকাশিত হয় কত সালে?
  1. ক) ১৭৮০
  2. খ) ১৮১৮
  3. গ) ১৮২১
  4. ঘ) ১৮২৯
সঠিক উত্তর:
খ) ১৮১৮
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ১৮১৮
ব্যাখ্যা
• উপমহাদেশের কারো বা কোন বাঙ্গালী কর্তৃক সম্পাদিত প্রথম পত্রিকা - বাঙ্গাল গেজেট।
- এর প্রকাশকাল - ১৮১৮।
- এর সম্পাদক - গঙ্গাকিশোর ভট্টাচার্য 
- তার সহকারী হিসেবে ছিলেন হরচন্দ্র রায়৷
- পত্রিকাটি একবছর স্থায়ী ছিল।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
৩১.
বিশ শতকের পত্রিকা নয় কোনটি?
  1. নবনূর
  2. বাসনা
  3. মিহির
  4. প্রবাসী
সঠিক উত্তর:
মিহির
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মিহির
ব্যাখ্যা
• বিশ শতকের পত্রিকা নয় - মিহির।
- এটি ১৮৯২ সালে প্রকাশিত হয়। 
- সম্পাদক ছিলেন -শেখ আবদুর রহিম। 
উল্লেখ্য,
• হাফেজ, মিহির ও সুধাকর এই তিনটি পত্রিকারই সম্পাদক ছিলেন শেখ আবদুর রহিম।

অন্যদিকে,
• 'প্রবাসী' পত্রিকা ১৯০১ সালে প্রকাশিত হয়।
- রামানন্দ চট্টোপাধ্যায় এটির প্রথম সম্পাদক ছিলেন।

• 'নবনূর' পত্রিকা ১৯০৩ সালে প্রকাশিত হয়।
- সৈয়দ এমদাদ আলী এটির প্রথম সম্পাদক ছিলেন।

• 'বাসনা' পত্রিকা ১৯০৮ সালে প্রকাশিত হয়।
- শেখ ফজলল করিম এটির প্রথম সম্পাদক ছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩২.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম ভ্রমণকাহিনী “পালামৌ” - কোন পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়?
  1. ক) বঙ্গদর্শন
  2. খ) ভারতি
  3. গ) সবুজপত্র
  4. ঘ) কালিকলম
সঠিক উত্তর:
ক) বঙ্গদর্শন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) বঙ্গদর্শন
ব্যাখ্যা
পালামৌ - বাংলা সাহিত্যের প্রথম ভ্রমণকাহিনী এবং এটি রচনা করেন বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এর ভ্রাতা সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের রচনা। এটি ১২৮৪ থেকে ১২৮৯ বঙ্গাব্দের মধ্যে “বঙ্গদর্শন” পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। এটি সঞ্জীবের জীবদ্দশায় গ্রন্থ আকারে প্রকাশিত হয় নি। পরে ১৩৫১ বঙ্গাব্দে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে এটি প্রকাশিত হয়।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর
৩৩.
'লীলাময় রায়' কার ছদ্মনাম?
  1. সুকুমার রায়
  2. অন্নদাশঙ্কর রায়
  3. কালীপ্রসন্ন সিংহ
  4. তারাচরণ রায়
সঠিক উত্তর:
অন্নদাশঙ্কর রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অন্নদাশঙ্কর রায়
ব্যাখ্যা
অন্নদাশঙ্কর রায়ের ছদ্মনাম 'লীলাময় রায়'। 

• আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ ছদ্মনাম:
- রাজশেখর বসুর ছদ্মনাম -'পরশুরাম'।
- কালীপ্রসন্ন সিংহ এর ছদ্মনাম - হুতোম পেঁচা।
- সমরেশ বসুর ছদ্মনাম - 'কালকূট'। 
- বনফুল ছদ্মনামে লিখতেন - 'বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়'।
- 'অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত' এর সাহিত্যিক ছদ্মনাম - 'নীহারিকা দেবী'।  
- 'তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়' এর সাহিত্যিক ছদ্মনাম - 'হাবু শর্মা'। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ( ড. সৌমিত্র শেখর)।
৩৪.
বাংলাদেশের রণসঙ্গীত সর্বপ্রথম কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
  1. ক) ধূমকেতু
  2. খ) শিখা
  3. গ) সওগাত
  4. ঘ) লাঙল
সঠিক উত্তর:
খ) শিখা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) শিখা
ব্যাখ্যা
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের রণসঙ্গীতের রচয়িতা।
- রণসঙ্গীত হিসেবে মূল কবিতার মূল ২১ চরণ গৃহীত হয়।
- রণসঙ্গীত টি ‘নতুনের গান’ শিরোনামে ঢাকার ‘শিখা’ পত্রিকায় ১৯২৮ (১৩৩৫) বার্ষিক সংখ্যায় প্রথম প্রকাশিত হয়। পরে এর নাম হয় ‘চল্ চল্ চল্’।
- রণসঙ্গীতটি নজরুলের ‘সন্ধ্যা’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।
- কবির ‘বিদ্রোহী’ কবিতাটি প্রথম প্রকাশিত হয় ‘সাপ্তাহিক বিজলী’র ২২শে পৌষ (১৩২৮) সংখ্যায়।
- ‘ধূমকেতু’ কবি নজরুলের সম্পাদনায় প্রকাশিত অর্ধসাপ্তাহিক পত্রিকা, প্রাকাশকাল ১৯২২।
- ‘আয় চলে আয়, রে ধূমকেতু/আঁধারে বাঁধ অগ্নিসেতু-’ রবীন্দ্রনাথের এই বাণী টি ‘ধূমকেতু পত্রিকায় ছাপা হয়।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৫.
'সন্দেশ' পত্রিকার সম্পাদক কে?
  1. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্
  2. দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. মীর মশারফ হোসেন
  4. সুকুমার রায়
সঠিক উত্তর:
সুকুমার রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুকুমার রায়
ব্যাখ্যা
• 'সন্দেশ' পত্রিকা:
উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরীর সম্পাদনায় ১৯১৩ সালে বিখ্যাত শিশুতোষ মাসিক পত্রিকা 'সন্দেশ' প্রথম প্রকাশিত হয় যা আজও  কলকাতা থেকে প্রকাশিত একটি জনপ্রিয় শিশুকিশোর সাহিত্য পত্রিকা।

- দেশবিদেশের গল্প, হাস্যকৌতুক, জ্ঞান বিজ্ঞানের কথা ইত্যাদি লেখার পাশাপাশি নিজের আঁকা নানা বুদ্ধিদীপ্ত ছবি সংযোজনের মাধ্যমে সন্দেশকে তিনি তরুণ হূদয়ের যোগ্য একটি পত্রিকা হিসেবে গড়ে তুলেছিলেন।

- তাঁর মৃত্যুর পর পুত্র সুকুমার রায় 'সন্দেশ' পত্রিকা পরিচালনা ও সম্পাদনার দায়িত্ব পালন করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৩৬.
কালিকলম পত্রিকার সম্পাদক কে?
  1. ভবানীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  3. প্রেমেন্দ্র মিত্র
  4. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
সঠিক উত্তর:
প্রেমেন্দ্র মিত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রেমেন্দ্র মিত্র
ব্যাখ্যা

‘কালিকলম’ পত্রিকা:
- এটি সচিত্র মাসিক সাহিত্য পত্রিকা।
- প্রথম প্রকাশ বৈশাখ ১৩৩৩ (১৯২৬)।
- মুরলীধর বসু, শৈলেজানন্দ মুখোপাধ্যায় ও প্রেমেন্দ্র মিত্রের সম্পাদনায় কলকাতা, কলেজ স্ট্রিট মার্কেটের বরদা এজেন্সি থেকে প্রকাশিত।
- পত্রিকাটির প্রথম সংখ্যার প্রথম রচনা ছিল শৈলজানন্দ মুখোপাধ্যায়ের ধারাবাহিক বড় গল্প ‘মহাযুদ্ধের ইতিহাস’।
- কল্লোল পত্রিকার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলেছে কালিকলম।
- যদিও দুটি পত্রিকার ভাবাদর্শ ছিল এক, লেখকবৃন্দও প্রায় এক।

অন্যদিকে,
- সংবাদ কৌমুদী পত্রিকার  সম্পাদক ছিলেন- ভবানীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়।
- সাধনা পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন- সুধীন্দ্রনাথ দত্ত।
- সংবাদ প্রভাকর পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন- ঈশ্বরচন্দ্রগুপ্ত।

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 

৩৭.
কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত 'ধূমকেতু' কোন ধরনের পত্রিকা?
  1. মাসিক
  2. দৈনিক
  3. অর্ধ-সাপ্তাহিক
  4. বার্ষিক
সঠিক উত্তর:
অর্ধ-সাপ্তাহিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অর্ধ-সাপ্তাহিক
ব্যাখ্যা
• 'ধূমকেতু' পত্রিকা:
​- কাজী নজরুল ইসলামের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় অর্ধ-সপ্তাহিক পত্রিকা ধূমকেতু (১৯২২)।
- পত্রিকাটি সপ্তাহে দুবার প্রকাশিত হতো।
- বিশের দশকে অসহযোগ ও খিলাফত আন্দোলনের ব্যর্থতার পর সশস্ত্র বিপ্লববাদের পুনরাবির্ভাবে ধূমকেতু পত্রিকার তাৎপর্যপূর্ণ অবদান ছিল।
- এক অর্থে এ পত্রিকা হয়ে উঠেছিল সশস্ত্র বিপ্লবীদের মুখপত্র।
- পত্রিকাটি প্রকাশিত হতো ‘কাজী নজরুল ইসলাম কল্যাণীয়েষু, আয় চলে আয়রে ধূমকেতু।
- ধূমকেতুর ২৬ সেপ্টেম্বর ১৯২২ সংখ্যায় নজরুলের প্রচ্ছন্ন রাজনৈতিক কবিতা ‘আনন্দময়ীর আগমনে’ প্রকাশিত হলে ৮ নভেম্বর পত্রিকার ওই সংখ্যাটি নিষিদ্ধ করা হয়।

রবীন্দ্রনাথ পত্রিকার সাফল্য কামনা করে লেখেন:

'আয় চলে আয় রে ধূমকেতু
আঁধারে বাঁধ অগ্নিসেতু দুর্দিনের এই দুর্গশিরে
উড়িয়ে দে তাের বিজয়কেতন।'

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
৩৮.
'তত্ত্ববোধিনী' পত্রিকাটি কার সম্পাদনায় প্রথম প্রকাশিত হয়েছিলো? 
  1. রাজা রামমোহন রায়
  2. জন ক্লার্ক মার্শম্যান
  3. অক্ষয়কুমার দত্ত
  4. বুদ্ধদেব বসু
সঠিক উত্তর:
অক্ষয়কুমার দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অক্ষয়কুমার দত্ত
ব্যাখ্যা

'তত্ত্ববোধিনী' পত্রিকা:
- ১৮৪৩ সালের ১৬ আগস্ট দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের পৃষ্ঠপোষকতায় ও অক্ষয়কুমার দত্তের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা।
- অক্ষয়কুমার দত্ত এ পত্রিকায় ১৮৫৫ সাল পর্যন্ত সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। তৎকালীন উদার, বিজ্ঞানমনস্ক ও দেশসচেতন পত্রিকা ছিলো 'তত্ত্ববোধিনী' পত্রিকা।
- এই পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন অক্ষয়কুমার দত্ত।
​- অক্ষয়কুমার অবসর নিলে পত্রিকার সম্পাদক হন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর।
- তবে অক্ষয়কুমারের সম্পাদনাকাল ছিল পত্রিকার স্বর্ণযুগ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৩৯.
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের প্রতিষ্ঠিত পত্রিকা কোনটি?
  1. সংবাদ প্রভাকর
  2. দিকদর্শন
  3. বঙ্গদর্শন
  4. তত্ত্ববোধিনী
সঠিক উত্তর:
সংবাদ প্রভাকর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সংবাদ প্রভাকর
ব্যাখ্যা
• 'সংবাদ প্রভাকর' পত্রিকা:
- 'সংবাদ প্রভাকর' পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত।
- তিনি ১৮৩১ সালে সংবাদ প্রভাকর (সাপ্তাহিক) পত্রিকা প্রতিষ্ঠা করেন। কিছুদিনের মধ্যেই বন্ধ হয়ে যায় কিন্তু ১৮৩৬ সালে পুনর্বার ছাপা হয়।
- ১৮৩৯ সালে বাংলা ভাষায় প্রথম দৈনিক পত্রিকা হিসেবে প্রকাশিত হয়।সংবাদ প্রকাশের পাশাপাশি এই পত্রিকায় সাহিত্যচর্চাও হতো।
- 'বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়', 'দীনবন্ধু মিত্রের' প্রাথমিক রচনাগুলোও সংবাদ প্রভাকরেই প্রথম প্রকাশিত হতো।

অন্যদিকে, 
• জন ক্লার্ক মার্শম্যান কর্তৃক 'দিকদর্শন' প্রথম বাংলা সাময়িকপত্রটি ১৮১৮ সালে শ্রিরামপুর মিশন থেকে প্রকাশিত হয়।
• ১৮৭২ সালে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কর্তৃক 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকাটি প্রথম প্রকাশিত হয়।
• ১৮৪৩ সালের ১৬ আগস্ট দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের পৃষ্ঠপোষকতায় ও অক্ষয়কুমার দত্তের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪০.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ব্যবহৃত ছদ্মনাম- 
  1. বিস্যাসুন্দর ভাস্কর
  2. ভানুমতি ঠাকুর
  3. দিকশূণ্য ভট্টাচার্য
  4. শ্রীমতি ঠাকুর
সঠিক উত্তর:
দিকশূণ্য ভট্টাচার্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দিকশূণ্য ভট্টাচার্য
ব্যাখ্যা

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ব্যবহৃত ছদ্মনাম - দিকশূণ্য ভট্টাচার্য।

অন্যদিকে,
- 'ভানুমতি ঠাকুর', বিস্যাসুন্দর ভাস্কর, শ্রীমতি ঠাকুর - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছদ্মনাম নয়।
 
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নয়টি ছদ্মনাম ব্যবহার করেছেন।
- ভানুসিংহ ঠাকুর,
- অকপটচন্দ্র ভাস্কর,
- আন্নাকালী পাকড়াশী,
- দিকশূণ্য ভট্টাচার্য,
- নবীনকিশোর শর্মণঃ,
- ষষ্ঠীচরণ দেবশর্মা,
- বাণীবিনোদ বিদ্যাবিনোদ,
- শ্রীমতি কনিষ্ঠা,
- শ্রীমতি মধ্যমা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৪১.
'সাপ্তাহিক জয় বাংলা' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন-
  1. ক) আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
  2. খ) আব্দুল্লাহ আল মামুন
  3. গ) আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
  4. ঘ) আবুল মনসুর আহমদ
সঠিক উত্তর:
গ) আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
ব্যাখ্যা

- আবদুল গাফফার চৌধুরী একজন সুপরিচিত বাংলাদেশী গ্রন্থকার ও কলাম লেখক ছিলেন।
- তিনি ভাষা আন্দোলনের স্মরণীয় গান 'আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি...' গানটির রচয়িতা।
- তিনি স্বাধীনতা যুদ্ধে মুজিবনগর সরকারে মাধ্যমে নিবন্ধিত স্বাধীন বাংলার প্রথম পত্রিকা 'সাপ্তাহিক জয় বাংলা'র প্রতিষ্ঠাতা এবং এই পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।

• তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থসমূহ:
- পলাশী থেকে ধানমণ্ডি (বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনী ভিত্তিক একটি চলচ্চিত্রের কাহিনী)।
- চন্দ্রদ্বীপের উপাখ্যান,
- নাম না জানা ভোর,
- নীল যমুনা,
- শেষ রজনীর চাঁদ,
- কৃষ্ণপক্ষ,
- সম্রাটের ছবি,
- সুন্দর হে সুন্দর,
- ডানপিটে শওকত,
- বাংলাদেশ কথা কয়,

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৪২.
বাংলা ভাষার প্রথম সাময়িকপত্র-
  1. সমাচার দর্পণ
  2. দিগ্‌দর্শন
  3. সংবাদ প্রভাকর
  4. বঙ্গদর্শন
সঠিক উত্তর:
দিগ্‌দর্শন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দিগ্‌দর্শন
ব্যাখ্যা
• বাংলা ভাষায় প্রথম সাময়িক পত্র- দিগ্‌দর্শন।

দিকদর্শন: 
- প্রথম বাংলা সাময়িকপত্র “দিগ্‌দর্শন” (প্রথম বাংলা মাসিক পত্রিকা)।
- জন ক্লার্ক মার্শম্যান কর্তৃক ১৮১৮ সালে শ্রিরামপুর মিশন থেকে প্রকাশিত হয়।  
---------------------
অন্যদিকে,
• সমাচার দর্পণ: 
- “সমাচার দর্পণ” শ্রীরামপুর মিশন থেকে জন ক্লার্ক মার্শম্যান  কর্তৃক সম্পাদিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম সাপ্তাহিক পত্রিকা।  
- প্ত্রিকাটির প্রথম সংখ্যা প্রকাশিত হয় ২৩শে মে, ১৮১৮ সালে।   

• সংবাদ প্রভাকর: 
- বাংলা ভাষার প্রথম দৈনিক পত্রিকা- “সংবাদ প্রভাকর” ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত কর্তৃক ১৮৩৯ সালে প্রকাশিত হয়।

• ‘বঙ্গদর্শন’ পত্রিকা:
- ১৮৭২ সালে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কর্তৃক 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকাটি প্রথম প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৪৩.
'পূর্বাশা' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন - 
  1. সঞ্জয় ভট্টাচার্য
  2. সুফিয়া কামাল
  3. মোতাহের হোসেন চৌধুরী
  4. বুদ্ধদেব বসু
সঠিক উত্তর:
সঞ্জয় ভট্টাচার্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সঞ্জয় ভট্টাচার্য
ব্যাখ্যা

'পূর্বাশা' পত্রিকা:
- 'পূর্বাশা' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন - সঞ্জয় ভট্টাচার্য।
- এটি কুমিল্লা থেকে প্রথম প্রকাশিত পত্রিকা। এর প্রকাশকাল ছিল ১৯৩২ সাল।
- টানা সাত বছর চলার পর বন্ধ হয়ে আবার পুনরায় কলকাতা থেকে ১৯৪৩ সালে প্রকাশিত হয়।
- ১৯৭১ সালে স্থায়ীবভাবে বন্ধ হয়ে যায় পত্রিকাটি। পূর্বাশা' ছিল মাসিক পত্রিকা।
- আধুনিক বিখ্যাত লেখকদের প্রায় সবাই এই পত্রিকায় লিখেছেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৪৪.
জোড়াসাঁকোর ঠাকুর পরিবারের তরুণ-বংশধরদের সম্পাদিত পত্রিকা কোনটি?
  1. সংবাদ প্রভাকর
  2. সাধনা
  3. কল্লোল
  4. পূর্বাশা
সঠিক উত্তর:
সাধনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাধনা
ব্যাখ্যা

• ’সাধনা’ পত্রিকা:
- এটি জোড়াসাঁকোর ঠাকুর পরিবারের তরুণ-বংশধরদের সম্পাদিত চতুর্থ পত্রিকা।
- সাধনা প্রথম প্রকাশিত হয় ১২৯৮ বঙ্গাব্দের অগ্রহায়ণ মাসে (ডিসেম্বর, ১৮৯১)।
- ১৮৯১ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভ্রাতুষ্পুত্র সুধীন্দ্রনাথ ঠাকুর সম্পাদনায় পত্রিকাটি প্রথম প্রকাশ ঘটে।
- চতুর্থ বছর সম্পাদনার ভার রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিজেই গ্রহণ করেন।
- এই পত্রিকার প্রধান লেখক ছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিজেই।

অন্যদিকে,
- 'সংবাদ প্রভাকর' পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত।
- ১৯২৩ খ্রিষ্টাব্দে আধুনিক লেখকদের সাহিত্যিক মুখপত্র হিসেবে কলকাতা থেকে মাসিক ‘কল্লোল’ প্রকাশিত হয়।
- 'পূর্বাশা' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন সঞ্জয় ভট্টাচার্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং বাংলাপিডিয়া।

৪৫.
ভাষা আন্দোলনভিত্তিক প্রথম পত্রিকার সম্পাদকের নাম কী?
  1. মুনীর চৌধুরী
  2. হাসান হাফিজুর রহমান
  3. শামসুর রাহমান
  4. গাজীউল হক
সঠিক উত্তর:
হাসান হাফিজুর রহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাসান হাফিজুর রহমান
ব্যাখ্যা
• 'একুশে ফেব্রুয়ারী' ভাষা আন্দোলনভিত্তিক প্রথম সম্পাদনা। এটি একটি সাহিত্য সংকলন তবে এর লেখাগুলো ৬টি বিভাগে বিভিন্ন শিরোনামে প্রকাশিত হয়।

• সুতরাং এটিকে ভাষা আন্দোলনভিত্তিক প্রথম পত্রিকা সম্পাদনাও বলা যায়।

• 'একুশে ফেব্রুয়ারী' সংকলন:

- ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারিতে বাংলা ভাষার জন্য ঢাকায় যে আত্মদান করা হয় তার স্মরণে ১৯৫৩ সালের মার্চ মাসে হাসান হাফিজুর রহমান 'একুশে ফেব্রুয়ারী' নামে একটি সাহিত্য সংকলন সম্পাদনা করেন।
- এর প্রকাশক ছিলেন মোহাম্মদ সুলতান।
- সম্পাদক ও প্রকাশক উভয়েই বামপন্থি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
- এই সংকলনে কবিতা, প্রবন্ধ, গল্প, গান, নক্শা, ইতিহাস শিরোনামে ৬টি বিভাগে মোট ২২ জন লেখক লিখেছেন।
- এই সংকলনেই প্রথম প্রকাশিত হয় আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী রচিত 'আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো' গানটি।
- প্রকাশের তিন সপ্তাহের মধ্যে পাকিস্তানের তৎকালীন সরকার সংকলনটি বাজেয়াপ্ত করে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪৬.
প্যারীচাঁদ মিত্র সম্পাদিত পত্রিকার নাম কী?
  1. সংবাদ প্রভাকর
  2. বঙ্গদর্শন
  3. মাসিক পত্রিকা
  4. ভারতী
সঠিক উত্তর:
মাসিক পত্রিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাসিক পত্রিকা
ব্যাখ্যা

মাসিক পত্রিকা:
- তৎকালীন একটি বিশিষ্ট পত্রিকা ছিল 'মাসিক পত্রিকা'।
- ১৮৫৪ সালে প্যারীচাঁদ মিত্র  ও রাধানাথ শিকদারের সম্পাদনায় এই পত্রিকাটি প্রকাশিত হয়।
- প্যারীচাঁদ মিত্রের বিখ্যাত গ্রন্থ আলালের ঘরের দুলাল ১৮৫৫ সাল থেকে ধারাবাহিক ভাবে এই পত্রিকায় প্রকাশিত হতে থাকে।

অন্যদিকে:
- ভারতী পত্রিকা সম্পাদনা করেন দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর।
- বঙ্গদর্শন পত্রিকা সম্পাদনা করেন বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।
- সংবাদ প্রভাকর পত্রিকা সম্পাদনা করেন ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৪৭.
একুশের প্রথম স্মরণিকা প্রকাশ করে-
  1. ক) বাংলা একাডেমি
  2. খ) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রাবাস
  3. গ) আওয়ামী লীগ
  4. ঘ) ঢাকা কলেজ ছাত্রাবাস
সঠিক উত্তর:
ঘ) ঢাকা কলেজ ছাত্রাবাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ঢাকা কলেজ ছাত্রাবাস
ব্যাখ্যা
ঢাকা কলেজ ছাত্রাবাসের পক্ষ থেকে ১৯৫৩ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত চার পৃষ্ঠার পুস্তিকা শহিদদের স্মরণে একুশের প্রথম স্মরণিকা। 
- শুরুতেই আছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'উদয়ের পথে শুনি কার বাণী ভয় নাই ওরে ভয় নাই/নিঃশেষে প্রাণ যে করিবে দান ক্ষয় নাই তাঁর ক্ষয় নাই।"
- স্মরণিকায় ছিল 'আমাদের কথা' ভুলি নাই রক্তরাঙ্গাএকুশের কথা' শিরোনামে দুটি নিবন্ধ প্রকাশিত হয়। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪৮.
'জনৈক বঙ্গমহিলা' কার ব্যবহৃত ছদ্মনাম?
  1. সুফিয়া কামাল
  2. কামিনী রায়
  3. সেলিনা হোসেন
  4. কুসুমকুমারী দাশ
সঠিক উত্তর:
কামিনী রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কামিনী রায়
ব্যাখ্যা
• কামিনী রায়:
• কবি ও সমাজকর্মী কামিনী রায় ১৮৬৪ সালের ১২ অক্টোবর বাকেরগঞ্জের বাসন্ডা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
• তাঁর পিতা চণ্ডীচরণ সেন ছিলেন একজন ঐতিহাসিক উপন্যাস লেখক ও পেশায় বিচারক।
• কামিনী রায় মাত্র আট বছর বয়স থেকে কবিতা লেখা শুরু করেন।
• তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ আলো ও ছায়া প্রকাশিত হয় (১৮৮৯) সালে; হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় এর ভূমিকা লিখে দেন।
• কামিনী রায় এক সময় 'জনৈক বঙ্গমহিলা' ছদ্মনামে লিখতেন।

এছাড়াও তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- নির্মাল্য,
- মাল্য ও নির্মাল্য,
- অম্বা,
- পৌরাণিকী,
- অশোক সঙ্গীত,
- দীপ ও ধূপ,
- জীবন পথে,
- গুঞ্জন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪৯.
বাংলা ভাষার প্রথম নিয়মিত সাপ্তাহিক সংবাদপত্র কোনটি?
  1. দিগ্‌দর্শন
  2. সমাচার দর্পণ
  3. বেঙ্গল গেজেট
  4. মিরাৎ-উল-আখবার। 
সঠিক উত্তর:
সমাচার দর্পণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমাচার দর্পণ
ব্যাখ্যা

সমাচার দর্পণ:
- ১৮১৮ সালের ২৩ মে শ্রীরামপুর মিশন থেকে সমাচার দর্পণ প্রকাশিত হয়।
- এটি বাংলা ভাষার প্রথম নিয়মিত সাপ্তাহিক সংবাদপত্র হিসেবে পরিচিত।
- এটি জন ক্লার্ক মার্শম্যান সম্পাদিত।

- এর আগে ১৮১৮ সালের এপ্রিল মাসে ‘দিগ্দর্শন’ নামে একটি সাময়িকী প্রকাশিত হয়েছিল।
- সমাচার দর্পণের মাধ্যমে নানা ধরনের সংবাদ ছাপা হতো।
- যেমন—
- রাজকর্মচারীদের নিয়োগ, বিদেশি সংবাদ, বাণিজ্যিক খবর, জন্ম-বিবাহ-মৃত্যু, প্রাচীন ভারতীয় ইতিহাস ও বইয়ের বিবরণ, আইন ও হুকুম সম্পর্কিত তথ্য, এবং ইউরোপীয় বই ও কলকারখানার খবর।

- সমাচার দর্পণের সম্পাদনার দায়িত্ব মূলত দেশীয় পন্ডিতদের ওপর নির্ভরশীল ছিল।
- পন্ডিতরা অনুপস্থিত থাকলে নতুন সংবাদ প্রকাশ বন্ধ হয়ে যেত।
- বাংলা ভাষা না জানেন এমনদের জন্য ৬ মে ১৮২৬-এ শ্রীরামপুর থেকে পত্রিকার ফার্সি সংস্করণ ‘আত্থবারে শ্রীরামপুর’ প্রকাশিত হয়, যা বেশিদিন স্থায়ী হয়নি।
- ১৮১৭ সালে কলকাতায় হিন্দু কলেজ প্রতিষ্ঠার পর ইংরেজি শিক্ষার জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পায়।
- এই কারণে ১৮২৯ সাল থেকে পত্রিকাটি দ্বিভাষিক (বাংলা ও ইংরেজি) করা হয়।
- ১৮৩২ সাল থেকে সপ্তাহে দু’বার প্রকাশ শুরু হয়।
-------------------------------------- 
অন্যদিকে, 
- দিগ্দর্শন: প্রথম বাংলা মাসিক সাময়িকী (এপ্রিল ১৮১৮)।
- বেঙ্গল গেজেট: প্রথম ভারতীয় সংবাদপত্র, কিন্তু বাংলা ভাষার নয়।
- মিরাৎ-উল-আখবার: রাজা রামমোহন রায় সম্পাদিত পত্রিকা। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 

৫০.
‘সাহিত্যপত্র’ পত্রিকা প্রথম কার সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়?
  1. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  2. বুদ্ধদেব বসু
  3. মোজাম্মেল হক
  4. বিষ্ণু দে
সঠিক উত্তর:
বিষ্ণু দে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিষ্ণু দে
ব্যাখ্যা
⇒ বিষ্ণু দে:
- তিনি ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক, চিত্রসমালোচক ও শিল্পানুরাগী।
- ১৯০৯ সালের ১৮ জুলাই  কলকাতার পটলডাঙ্গায় তাঁর জন্ম।
- তাঁর পিতা অবিনাশচন্দ্র দে ছিলেন অ্যাটর্নি।
- বিষ্ণু দে ত্রিশোত্তর বাংলা কবিতার নব্যধারার আন্দোলনের প্রধান পাঁচজন কবির অন্যতম ছিলেন।
- তিনি মার্কসবাদী চেতনায় উদ্বুদ্ধ ছিলেন।
- তাঁর কবিতায় টি.এস এলিয়টের কবিতার প্রভাব রয়েছে।
- বিষ্ণু দে ‘পরিচয়’ পত্রিকায় (১৯৩১ থেকে ১৯৪৭ পর্যন্ত) সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। এবং তাঁর প্রকাশিত অপর পত্রিকা হচ্ছে ‘সাহিত্যপত্র’।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো হল:
- উর্বশী ও আর্টেমিস,
- চোরাবালি,
- সাত ভাই চম্পা,
- সাহিত্যের ভবিষ্যৎ,
- নাম রেখেছি কোমল গান্ধার,
- তুমি শুধু পঁচিশে বৈশাখ ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- রুচি ও প্রগতি,
- সাহিত্যের ভবিষ্যৎ,
- রবীন্দ্রনাথ ও শিল্প সাহিত্যে আধুনিকতার সমস্যা।

• অনুবাদ সাহিত্য:
- এলিয়টের কবিতা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।
৫১.
আয় চলে আয় রে ধূমকেতু
আঁধারে বাঁধ অগ্নিসেতু দুর্দিনের এই দুর্গশিরে
উড়িয়ে দে তোর বিজয়কেতন।'- উক্তিগুলো কার রচনা?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম 
  2. জীবনানন্দ দাশ  
  3. মাইকেল মধুসূদন দত্ত 
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা

• 'ধূমকেতু' পত্রিকা:
- ১৯২২ খ্রিষ্টাব্দে অর্ধ সাপ্তাহিক পত্রিকা হিসেবে 'ধূমকেতু' কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়।
- কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন সম্পাদক। ব্রিটিশ বিরোধী রচনা এখানে ছাপা হতো।
- নজরুলের কবিতা 'আনন্দময়ীর আগমনে' পত্রিকায় প্রকাশ হলে কবিতা ও পত্রিকা উভয়ই ব্রিটিশ সরকার নিষিদ্ধ করে। এজন্য নজরুলকে এক বছর কারাবাসও করতে হয়।

রবীন্দ্রনাথ পত্রিকার সাফল্য কামনা করে লেখেন:
'আয় চলে আয় রে ধূমকেতু
আঁধারে বাঁধ অগ্নিসেতু দুর্দিনের এই দুর্গশিরে
উড়িয়ে দে তোর বিজয়কেতন।'

কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত অন্যান্য পত্রিকা:
• 'লাঙ্গল' (১৯২৫) পত্রিকার প্রধান পরিচালক ছিলেন কাজী নজরুল ইসলাম, এটি ১৯২৫ সালে প্রকাশিত হয়।
• 'দৈনিক নবযুগ' পত্রিকাটি কাজী নজরুল ইসলাম কমরেড মুজাফ্ফর আহমদ এর সাথে যৌথভাবে সম্পাদনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৫২.
পূর্ববঙ্গ থেকে প্রকাশিত প্রথম বাংলা সাপ্তাহিক পত্রিকা কোনটি?
  1. গ্রামবার্তা প্রকাশিকা
  2. রঙ্গপুর বার্তাবহ
  3. পূর্বাশা
  4. কবিতা
সঠিক উত্তর:
রঙ্গপুর বার্তাবহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রঙ্গপুর বার্তাবহ
ব্যাখ্যা
রঙ্গপুর বার্তাবহ পত্রিকার ইতিহাস বাংলাদেশ তথা পূর্ববঙ্গের সংবাদপত্রের সূচনালগ্নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। রঙ্গপুর থেকে প্রকাশিত এই পত্রিকাটি বাংলা ভাষার অন্যতম প্রথম সাপ্তাহিক পত্রিকা ছিল, এবং এটি মূলত অনুন্নত পূর্ববঙ্গের একটি অঞ্চলে সংবাদ প্রচার করার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হয়।

মূল তথ্যসমূহ:
প্রথম প্রকাশ: ১৮৪৭ সালের আগস্ট মাসে (বাংলা ১২৫৪ সালের ভাদ্র মাসে)।
প্রকাশের স্থান: রংপুর, যা বর্তমান বাংলাদেশের একটি জেলা শহর।
পৃষ্ঠপোষক: কুন্ডির জমিদার কালীচরণ রায় চৌধুরী।
সম্পাদক: গুরুচরণ শর্মা রায়।
প্রকাশকাল: ১৮৪৭ থেকে ১৮৫৭ সাল পর্যন্ত।

পত্রিকার বিশেষ বৈশিষ্ট্য:
প্রথম সাপ্তাহিক পত্রিকা: রঙ্গপুর বার্তাবহ ছিল পূর্ববঙ্গ থেকে প্রকাশিত প্রথম বাংলা সাপ্তাহিক পত্রিকা। এটি মূলত সাধারণ মানুষের জন্য সংবাদ পরিবেশন করতো, এবং তখনকার সময়ে কলকাতার বাইরে থেকে প্রকাশিত প্রথম উল্লেখযোগ্য পত্রিকা।

বিদেশী শাসনের সমালোচনা: পত্রিকাটি পরবর্তীতে বিদেশী শাসন এবং এর ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সমালোচনামুখর হয়ে ওঠে, যা ব্রিটিশ উপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে সচেতনতা বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

অন্যদিকে,
- ১৮৬৩ সালের এপ্রিল মাসে কাঙাল হরিনাথ মজুমদারের সম্পাদনায় 'গ্রামবার্তা প্রকাশিকা' প্রথম প্রকাশিত হয়।
- 'পূর্বাশা' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন - সঞ্জয় ভট্টাচার্য। এর প্রকাশকাল ছিল ১৯৩২ সাল।
- বুদ্ধদেব বসু প্রকাশিত পত্রিকা কবিতা। পত্রিকাটি  ১৯৩৫ সালে প্রথম প্রকাশ পায় এবং ১৯৬১ সাল পর্যন্ত চলে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৫৩.
'দিগদর্শন' পত্রিকার সম্পাদক কে ছিলেন?
  1. জন ক্লার্ক মার্শম্যান 
  2. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  3. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  4. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
জন ক্লার্ক মার্শম্যান 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জন ক্লার্ক মার্শম্যান 
ব্যাখ্যা

'দিগদর্শন' পত্রিকা:
- বঙ্গভূমিতে বাংলা ভাষায় প্রকাশিত প্রথম সাময়িক পত্রিকা।
- দিগ্দর্শনের প্রথম সংখ্যাটি ১৮১৮ সালের এপ্রিল মাসে প্রকাশিত হয়।
- এটি ছিল মাসিক পত্রিকা।
- পত্রিকাটি শ্রীরামপুরের ব্যাপটিস্ট মিশন থেকে প্রকাশিত হয়।
-  বিখ্যাত খ্রিস্টান ধর্মপ্রচারক জোশুয়া মার্শম্যান এর পুত্র জন ক্লার্ক মার্শম্যান সম্পাদিত মাসিক সাময়িকী ছিল।
- কলকাতার বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ গ্রন্থাগারে দিগ্দর্শনের কপিসমূহ সংরক্ষিত আছে।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫৪.
'হিতকরী' পত্রিকাটি কোথায় থেকে প্রকাশিত হতো?
  1. কুষ্টিয়া
  2. বরিশাল
  3. রংপুর
  4. কুমিল্লা
সঠিক উত্তর:
কুষ্টিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুষ্টিয়া
ব্যাখ্যা

"হিতকরী" পত্রিকা:
- 'হিতকরী' পত্রিকাটি ১৮৯০ খ্রিষ্টাব্দে কুষ্টিয়ার লাহিনীপাড়া থেকে মীর মশাররফ হোসেনের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়। পরে এর সম্পাদক হন মোসলেম উদ্দিন খান।
- পত্রিকার প্রথম বর্ষে 'হিতকরী' একটি পাক্ষিক পত্রিকা হিসেবে কুমারখালীর মথুরানাথ যন্ত্রলায়ে মুদ্রিত হয়ে কুষ্টিয়ার লাহিনীপাড়া থেকে প্রকাশিত হতো। তখন পত্রিকার প্রকাশক ও মুদ্রাকার ছিলেন যথাক্রমে দেবনাথ বিশ্বাস ও রজনীকান্ত ঘোষ। তখন প্রতি সংখ্যার মূল্য ছিল দুই পাই।
- হিতকরী পাক্ষিক পত্রিকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে কিন্তু পাঠকদের চাহিদার কারণে দ্বিতীয় বর্ষে দাশাহিক পত্রিকা হিসেবে প্রকাশিত হয়। দ্বিতীয় বর্ষে পত্রিকার শুধু এই রদবদল হয়েছিল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫৫.
কোন কবি ‘ছন্দোরাজ’ নামে পরিচিত?
  1. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  2. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  3. বিহারীলাল চক্রবর্তী
  4. আব্দুল হাকিম
সঠিক উত্তর:
সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা
সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত:
- তিনি ছিলেন কবি ও ছান্দসিক।
- কলকাতার নিকটবর্তী নিমতা গ্রামে ১৮৮২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ‘ছন্দের জাদুকর’ ও ‘ছন্দোরাজ’ নামে সাধারণ্যে পরিচিত।
- সত্যেন্দ্রনাথ ছিলেন ভারতী পত্রিকাগোষ্ঠীর অন্যতম বিশিষ্ট কবি।
- সত্যেন্দ্রনাথ একাধিক ছদ্মনামে কাব্যচর্চা করতেন, যেমন - নবকুমার, কবিরত্ন, অশীতিপর শর্মা, ত্রিবিক্রম বর্মণ, কলমগীর ইত্যাদি।

তাঁর রচিত কাব্য:
- বেণু ও বীণা,
- কুহু ও কেকা,
- অভ্র আবীর,
- হসন্তিকা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৫৬.
'বঙ্গদর্শন' কী ধরনের সাহিত্য পত্রিকা?
  1. সাপ্তাহিক 
  2. মাসিক 
  3. দৈনিক 
  4. ত্রৈমাসিক 
সঠিক উত্তর:
মাসিক 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাসিক 
ব্যাখ্যা

• 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকা:
- 'বঙ্গদর্শন' একটি মাসিক সাহিত্যপত্রিকা।
- ১৮৭২ সালে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কর্তৃক পত্রিকাটি প্রথম প্রকাশিত হয়।
- উনিশ শতকের বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, বিশেষত বাংলা গদ্যের গঠনে এর অবদান অবিস্মরণীয়।
- পত্রিকাটি ১৮৭৬ পর্যন্ত মাত্র চার বছর প্রকাশিত হয়।
- বঙ্গদর্শনের ভাষা ছিল খুব উন্নত মানের সাধু বাংলা। সাহিত্য, সমাজ, বিজ্ঞান, রাজনীতি, ধর্মতত্ত্ব ও দর্শন সম্পর্কিত মূল্যবান প্রবন্ধ এবং উপন্যাস এতে প্রকাশিত হতো।
- প্রতিষ্ঠার পর থেকে ১৮৭৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত এর সম্পাদক ও প্রধান লেখক হিসেবে বঙ্কিমচন্দ্র এক গুরু দায়িত্ব পালন করেন।
- বঙ্কিমচন্দ্র রচিত ভারতের জাতীয় সঙ্গীত “বন্দে মাতরম্‌' এই পত্রিকায়ই প্রথম মুদ্রিত হয়।
- ২০০০ সাল থেকে পশ্চিমবঙ্গের নৈহাটিস্থ বঙ্কিমভবন গবেষণাকেন্দ্র কর্তৃক বঙ্গদর্শন নবরূপে ষাণ্মাসিক পত্রিকা হিসেবে প্রকাশিত হচ্ছে।

• বঙ্গদর্শনের প্রধান লেখক বঙ্কিমচন্দ্র হলেও এই পত্রিকায় অন্যান্য পন্ডিতগণও নিয়োমিত লিখতেন, এরা হলেন-
- গঙ্গাচরণ,
- রামদাস সেন,
- অক্ষয় সরকার,
- চন্দ্রনাথ বসু প্রমুখ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৫৭.
মুসলিম বাংলার প্রথম শিশুপত্রিকা ‘আঙুর’ এর সম্পাদক ছিলেন- 
  1. মুহাম্মদ আবদুল হাই
  2. মুনীর চৌধুরী
  3. ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ্‌
  4. মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ্‌
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ্‌
ব্যাখ্যা

• ‘আঙুর’ পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন - ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্। 
----------------- 
• ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্:
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ ছিলেন ভারতীয় উপমহাদেশের একজন প্রখ্যাত বাঙালি বহুভাষাবিদ, শিক্ষক ও দার্শনিক।
- তিনি ১৮৮৫ সালের ১০ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার পেয়ারা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলাভাষা ও সাহিত্য গবেষণায় তাঁর অবদানের জন্য তিনি ‘জ্ঞানতাপস’ এবং ‘চলিষ্ণু অভিধান’ হিসেবে বিশেষ পরিচিত।

- এছাড়া তিনি বিভিন্ন পত্রিকা সম্পাদনা করেছেন।
- তিনি সহকারী সম্পাদক হিসেবে আল–এসলাম এবং যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকা সম্পাদনা করেছে। 
- তিনি মুসলিম বাংলার প্রথম শিশুপত্রিকা ‘আঙুর’ এর সম্পাদক ছিলেন।
- এছাড়াও তিনি দি পীস (ইংরেজি মাসিক), বঙ্গভূমি (বাংলা মাসিক সাহিত্য পত্রিকা) এবং তকবীর (পাক্ষিক) সম্পাদনা করেছেন।

- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ-এর ‘বাঙ্গালা ভাষার ইতিবৃত্ত’ একটি গুরুত্বপূর্ণ ভাষাতাত্ত্বিক গ্রন্থ। 
- এই গ্রন্থে বাংলা ভাষার উৎপত্তি ও ক্রমবিবর্তন বিষয়ক বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ উপস্থাপন করা হয়েছে। 
- এতে তিনি বাংলা ভাষার উৎপত্তি, ধ্বনিতত্ত্ব, রূপতত্ত্ব এবং বিবর্তনের ধারাকে বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। 
- এই গ্রন্থে তিনি প্রমাণ করেছেন যে বাংলা ভাষা মাগধী প্রাকৃত ও গৌড়ীয় অপভ্রংশ থেকে উদ্ভূত হয়েছে।

- তিনি ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক বহু প্রবন্ধ লিখেছেন।
- ড. শহীদুল্লাহ্-এর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে—
• বাঙ্গালা ভাষার ইতিবৃত্ত, 
• সিন্দবাদ সওদাগরের গল্প,
• ভাষা ও সাহিত্য,
• বাঙ্গালা ব্যাকরণ,
• দীওয়ান-ই-হাফিজ,
• শিকওয়াহ ও জওয়াব-ই-শিকওয়াহ,
• রুবাইয়াত-ই-উমর খয়্যাম, 
• আমাদের সমস্যা,
• পদ্মাবতী,
• বাংলা সাহিত্যের কথা (২ খণ্ড),
• বিদ্যাপতি শতক,
• বাংলা আদব কী তারিখ,
• কুরআন শরীফ,
• অমরকাব্য ইত্যাদি। 

উৎস:
বাংলাপিডিয়া;
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

৫৮.
'জাবালি' ছদ্মনামে লিখতেন -
  1. মণীশ ঘটক
  2. সতীনাথ ভাদুড়ী
  3. বিমল মিত্র
  4. অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
সঠিক উত্তর:
বিমল মিত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিমল মিত্র
ব্যাখ্যা
• বিমল মিত্র 'জাবালি' ছদ্মনামে লিখতেন।

অন্যদিকে,
- সতীনাথ ভাদুড়ী এর ছদ্মনাম- চিত্রগুপ্ত।
- মণীশ ঘটকের ছদ্মনাম - 'যুবনাশ্ব'।
- 'নীহারিকা দেবী' ছদ্মনামে লিখতেন অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫৯.
মীর মশাররফ হোসেন সম্পাদিত ‘হিতকারী’ পত্রিকাটি কত খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৮৯১ খ্রিস্টাব্দে
  2. ১৮৮২ খ্রিস্টাব্দে
  3. ১৮৯০ খ্রিস্টাব্দে
  4. ১৮৯৬ খ্রিস্টাব্দে
সঠিক উত্তর:
১৮৯০ খ্রিস্টাব্দে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮৯০ খ্রিস্টাব্দে
ব্যাখ্যা
• 'হিতকরী' পত্রিকা:
- 'হিতকরী' পত্রিকা ১৮৯০ খ্রিস্টাব্দে কুষ্টিয়ার লাহিনীপাড়া থেকে মীর মশাররফ হোসেনের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়।
- পরবর্তীতে এর সম্পাদক হন মোসলেম উদ্দীন খান।
- বাঙালি মুসলিমদের মাতৃভাষা বাংলাচর্চা এবং হিন্দু মুসলিম সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে সংবাদ ও প্রবন্ধ ছাপা হয় পত্রিকাটিতে।

-------------------------------
• মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন একজন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- মশাররফ হোসেন ছাত্রাবস্থায় সংবাদ প্রভাকর ও কুমারখালির গ্রামবার্তা প্রকাশিকা-র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন।
- এখানেই তাঁর সাহিত্যজীবনের শুরু।
- গ্রামবার্তা প্রকাশিকার সম্পাদক ‘কাঙাল হরিনাথ’ ছিলেন তাঁর সাহিত্যগুরু।
- পরে তাঁর দ্বিতীয়া স্ত্রী বিবি কুলসুমও এক্ষেত্রে বিরাট অবদান রাখেন।
- মশাররফ আজিজননেহার (১৮৭৪) ও হিতকরী (১৮৯০) নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- মীর মশাররফ ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র ও শেখর; বাংলাপিডিয়া।
৬০.
ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ কোন পত্রিকা সম্পাদনার সাথে যুক্ত ছিলেন না?
  1. ক) আঙুর
  2. খ) দি পীস
  3. গ) সাম্যবাদী
  4. ঘ) তকবীর
সঠিক উত্তর:
গ) সাম্যবাদী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সাম্যবাদী
ব্যাখ্যা
ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ে শহীদুল্লাহ্ বহু মননশীল ও জ্ঞানগর্ভ প্রবন্ধ নানা পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে এবং এ সংক্রান্ত বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা তিনি সম্পাদনা করেন।
আল এসলাম পত্রিকার সহকারী সম্পাদক (১৯১৫) ও বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকার যুগ্ম সম্পাদক (১৯১৮-২১) হিসেবে তিনি যোগ্যতার পরিচয় দেন।
- তাঁরই সম্পাদনা ও প্রকাশনায় মুসলিম বাংলার প্রথম শিশুপত্রিকা আঙুর (১৯২০) আত্মপ্রকাশ করে।
- এছাড়াও তিনি ইংরেজি মাসিক পত্রিকা দি পীস (১৯২৩), বাংলা মাসিক সাহিত্য পত্রিকা বঙ্গভূমি (১৯৩৭) এবং পাক্ষিক তকবীর (১৯৪৭) সম্পাদনা করেন।

উল্লেখ, সাম্যবাদী পত্রিকার সম্পাদক মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলী। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬১.
'অশীতিপর শর্মা' কার ছদ্মনাম?
  1. সমরেশ বসু
  2. অমিয় চক্রাবর্তী
  3. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  4. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
সঠিক উত্তর:
সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা

• সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত:
- কলকাতার নিকটবর্তী নিমতা গ্রামে ১৮৮২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন কবি ও ছান্দসিক।
- পিতা রজনীনাথ দত্ত ছিলেন কলকাতার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী এবং পিতামহ অক্ষয়কুমার দত্ত ছিলেন তত্ত্ববোধিনী পত্রিকার সম্পাদক।
- সত্যেন্দ্রনাথ ছিলেন ভারতী পত্রিকাগোষ্ঠীর অন্যতম বিশিষ্ট কবি।
- বাংলা ভাষার নিজস্ব বাগ্‌ধারা ও ধ্বনি সহযোগে নতুন ছন্দসৃষ্টি তাঁর কবিপ্রতিভার মৌলিক কীর্তি।
- এজন্য তিনি ‘ছন্দের জাদুকর’ ও ‘ছন্দোরাজ’ নামে সাধারণ্যে পরিচিত।
- ১৯১৮ সালে ভারতী পত্রিকার বৈশাখ সংখ্যায় ছন্দ সম্পর্কিত তাঁর প্রসিদ্ধ রচনা ‘ছন্দ-সরস্বতী’ প্রকাশিত হয়।
- সত্যেন্দ্রনাথ একাধিক ছদ্মনামে কাব্যচর্চা করতেন, যেমন - নবকুমার, কবিরত্ন, অশীতিপর শর্মা, ত্রিবিক্রম বর্মণ, কলমগীর ইত্যাদি।
- ১৯২২ সালে তাঁর মৃত্যু হয়।
- তাঁর মৃত্যুর পর রচিত 'সত্যেন-প্রয়াণ' কবিতা কাজী নজরুল ইসলাম লিখেন।

তাঁর রচিত বিখ্যাত কাব্য:
- সবিতা,
- সন্ধিক্ষণ,
- বেণু ও বীণা,
- কুহু ও কেকা,
- অভ্র আবীর,
- হসন্তিকা,
- বেলা শেষের গান,
- বিদায় আরতি,
- কাব্যসঞ্চয়ন।

তাঁর রচিত অনুবাদকাব্য:
- তীর্থরেণু,
- মণি মঞ্জুষা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৬২.
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের পৈতৃক পদবি কী ছিলো?
  1. বিদ্যাসাগর
  2. শর্মা
  3. চট্টোপাধ্যায়
  4. বন্দ্যোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
বন্দ্যোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর এর পৈতৃক পদবি - বন্দ্যোপাধ্যায়।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর তাঁর পারিবারিক পদবি অনুসারে, তাঁর প্রকৃত নাম - 'ঈশ্বরচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়', কিন্তু তিনি 'ঈশ্বরচন্দ্র শর্মা' নামে স্বাক্ষর করতেন। 
----------------------------
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর: 
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর সংস্কৃত পণ্ডিত, লেখক, শিক্ষাবিদ, সমাজসংস্কারক, জনহিতৈষী। 
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর এর পৈতৃক পদবি 'বন্দ্যোপাধ্যায়'।
- তাঁর পিতার নাম ঠাকুরদাস বন্দ্যোপাধ্যায়।
- তাঁর প্রকৃত নাম- ঈশ্বরচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়। 
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর 'ঈশ্বরচন্দ্র শর্মা' নামেও স্বাক্ষর করতেন।
- ১৮৩৯ সালে সংস্কৃত কলেজ ঈশ্বরচন্দ্রকে ‘বিদ্যাসাগর’ উপাধি প্রদান করে।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ 'বেতাল পঞ্চবিংশতি'।

বিদ্যাসাগরের কয়েকটি বিখ্যাত গ্রন্থের নাম:
- শকুন্তলা, 
- সীতার বনবাস, 
- ভ্রান্তিবিলাস ইত্যাদি।

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত শিক্ষামূলক গ্রন্থ:
- আখ্যান মঞ্জুরী,
- বোধোদয়,
- বর্ণপরিচয়,
- কথামালা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬৩.
'গুণরাজ খান' উপাধিটি কোন সাহিত্যিকের?
  1. ভারতচন্দ্র
  2. মালাধর বসু
  3. মানিক দত্ত
  4. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
সঠিক উত্তর:
মালাধর বসু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মালাধর বসু
ব্যাখ্যা
মালাধর বসু:
- মালাধর বসু ভাগবতের প্রথম বাংলা অনুবাদক।
- তাঁর কাব্য 'শ্রীকৃষ্ণবিজয়' মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের দ্বিতীয় অনুবাদ গ্রন্থ।
- চৈতন্যদেবের সন্ন্যাস গ্রহণের পূর্বে ভাগবতকে প্রথম বাংলায় প্রচার ও জনপ্রিয় করে তোলার কৃতিত্ব মালাধর বসুর।
- মালাধর বসু বর্ধমান জেলার কাটোয়ার নিকটবর্তী কুলীন গ্রামে সম্ভবত পনের শতকের প্রথমার্ধে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি গৌড়েশ্বরের কাছ থেকে 'গুণরাজ খান' উপাধি পেয়েছিলেন।

অন্যদিকে,
কবি ভারতচন্দ্রের উপাধি ছিল - রায়গুণাকর।
রাজা রঘুনাথ রায় মুকুন্দরাম চক্রবর্তীকে ‘কবিকঙ্কণ’ উপাধিতে ভূষিত করেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
৬৪.
প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক শহীদুল্লা কায়সারে পুরো নাম কী ছিলো?
  1. ক) আবু আবদুল্লাহ মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ
  2. খ) মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ কায়সার
  3. গ) আবু নাঈম মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ
  4. ঘ) আবু আবদুল্লাহ মোহাম্মদ শহীদ হোসেন
সঠিক উত্তর:
গ) আবু নাঈম মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) আবু নাঈম মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ
ব্যাখ্যা
• শহীদুল্লা কায়সার একজন  কথাসাহিত্যিক, সাংবাদিক, লেখক। 
- তিনি ১৯২৭ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ফেনী জেলার মজুপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তাঁর প্রকৃত নাম আবু নাঈম মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ।  
- ১৯৪৯ সালে ঢাকার সাপ্তাহিক  ইত্তেফাক পত্রিকায় শহীদুল্লার সাংবাদিক জীবন শুরু হয়।
- শহীদুল্লা কায়সার তৎকালীন রাজনীতিতে সক্রিয় ভাবে অংশগ্রহণ করেন। 
- ১৯৫২ সালে কমিউনিস্ট পার্টির পক্ষ থেকে ভাষা আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬৫.
'বঙ্গভূমি' পত্রিকাটি সম্পাদনা করেন -
  1. ক) মোতাহের হোসেন চৌধুরী
  2. খ) মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলী
  3. গ) মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  4. ঘ) মুনীর চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
গ) মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
ব্যাখ্যা
• বাংলা মাসিক সাহিত্য পত্রিকা 'বঙ্গভূমি' পত্রিকাটি সম্পাদনা করেন - মুহম্মদ শহীদুল্লাহ

• মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্:
- তিনি ছিলেন শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও ভাষাতত্ত্ববিদ।
- ১৮৮৫ সালের ১০ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের চবিবশ পরগনা জেলার পেয়ারা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- পিতা মফিজউদ্দীন আহমদ ছিলেন পীর গোরাচাঁদের দরগাহর খাদেম।
- ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলনে শহীদুল্লাহ্ অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। তিনিই প্রথম উর্দুর পরিবর্তে বাংলাকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা করার যৌক্তিক দাবি জানান।
- তিনি বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য সমিতির সম্পাদক (১৯১১) ছিলেন এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সভা ও সম্মেলনে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।
- তাঁর সম্পাদিত আঞ্চলিক ভাষার অভিধান এক বিশেষ কীর্তি।
- তাঁর Buddhist Mystic Songs (১৯৬০) গ্রন্থটি চর্যাপদের অনুবাদ ও সম্পাদনা কর্ম।
- তিনিই প্রথম প্রমাণ করেন যে চর্যাপদ সম্পূর্ণ বাংলা ভাষায় রচিত; এর ধর্মতত্ত্ব নিয়েও তিনি আলোচনা করেন।

• তাঁর রচিত গবেষণা:
- সিদ্ধা কাহ্নপার গীত ও দোহা,
- বাংলা সাহিত্যের কথা,
- বৌদ্ধ মর্মবাদী গান,
- বাংলা ব্যাকরণ,
- ভাষা ও সাহিত্য,
- বাংলা ভাষার ইতিবৃত্ত।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- আমাদের সমস্যা,
- বাংলা আদব কি তারিখ,
- Essays of Islam: Traditional culture in East Pakistan.

• তাঁর রচিত অনুবাদ গ্রন্থ:
- দীওয়ানে হাফিজ,
- অমিয় শ্তক,
- রুবাইয়াত ই ওমর খ্যায়াম।

• তাঁর সম্পাদিত পত্রিকা:
- ইংরেজি মাসিক পত্রিকা 'দি পীস'।
- বাংলা মাসিক সাহিত্য পত্রিকা 'বঙ্গভূমি'
- পাক্ষিক 'তকবীর'।
- মাসিক শিশু পত্রিকা ‘আঙুর'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৬৬.
বঙ্কিমচন্দ্র রচিত 'বন্দে মাতরম্' সঙ্গীতটি কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
  1. সংবাদ প্রভাকর
  2. সম্বাদ কৌমুদী
  3. তত্ত্ববোধিনী
  4. বঙ্গদর্শন
সঠিক উত্তর:
বঙ্গদর্শন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বঙ্গদর্শন
ব্যাখ্যা
• 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকা:
- বঙ্গদর্শন মাসিক সাহিত্যপত্রিকা। ১৮৭২ সালে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৮৩৮-১৮৯৪) কর্তৃক এটি প্রথম প্রকাশিত হয়। উনিশ শতকের বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, বিশেষত বাংলা গদ্যের গঠনে এর অবদান অবিস্মরণীয়।

- পত্রিকাটি ১৮৭৬ পর্যন্ত মাত্র চার বছর প্রকাশিত হয়।

- বঙ্গদর্শনের ভাষা ছিল খুব উন্নত মানের সাধু বাংলা। প্রতিষ্ঠার পর থেকে ১৮৭৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত এর সম্পাদক ও প্রধান লেখক হিসেবে বঙ্কিমচন্দ্র এক গুরু দায়িত্ব পালন করেন।

- বঙ্গদর্শনকে তখন শিক্ষিত বাঙালি সমাজের প্রথম মুখপত্র বলা হতো, কেননা বাঙালি জাতির আধুনিক চিন্তা ও মনন এর মাধ্যমেই প্রথম প্রকাশ লাভ করে। বঙ্কিমচন্দ্রের ধর্ম ও সাম্যবিষয়ক চিন্তা এই পত্রিকায়ই প্রকাশিত হয়।

- বঙ্গদর্শনের প্রধান লেখক বঙ্কিমচন্দ্র হলেও গঙ্গাচরণ, রামদাস সেন, অক্ষয় সরকার, চন্দ্রনাথ বসু প্রমুখ পন্ডিতও এতে নিয়মিত লিখতেন।

- বঙ্কিমচন্দ্র রচিত ভারতের জাতীয় সঙ্গীত 'বন্দে মাতরম্' এই পত্রিকায়ই প্রথম মুদ্রিত হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৬৭.
শেখ আজিজুর রহমান কোন লেখকের আসল নাম?
  1. রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  2. শামসুর রাহমান
  3. জহির রায়হান
  4. শওকত ওসমান
সঠিক উত্তর:
শওকত ওসমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শওকত ওসমান
ব্যাখ্যা
• শওকত ওসমান:
- শওকত ওসমান কথাসাহিত্যিক ও প্রাবন্ধিক।
- ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান।
- 'শওকত ওসমান' তাঁর সাহিত্যিক নাম।

• তাঁর রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস:
- জাহান্নম হইতে বিদায়,
- দুই সৈনিক,
- নেকড়ে অরণ্য,
- জলাংগী।

• শওকত ওসমান রচিত কয়েকটি উপন্যাস -
- ক্রীতদাসের হাসি,
- সমাগম,
- রাজা উপাখ্যান,
- দুই সৈনিক,
- নেকড়ে অরণ্য,
- পতঙ্গ পিঞ্জর,
- জলাঙ্গী,
- বনি আদম,
- জননী,
- চৌরসন্ধি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬৮.
'ফ্রেন্ড অব ইন্ডিয়া' ও 'গভর্নমেন্ট গেজেট' পত্রিকাদ্বয়ের সম্পাদনার সাথে যুক্ত ছিলেন কে?
  1. গঙ্গাকিশোর ভট্টাচার্য
  2. জন ক্লাক মার্শম্যান
  3. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  4. জেমস্ অগাস্টাস হিকি
সঠিক উত্তর:
জন ক্লাক মার্শম্যান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জন ক্লাক মার্শম্যান
ব্যাখ্যা
• জন ক্লাক মার্শম্যান:
- তিনি ছিলেন মিশনারি, ইতিহাসবিদ, সাংবাদিক। ১৭৯৪ খ্রিস্টাব্দে ইংল্যান্ডের ব্রিস্টলে তাঁর জন্ম।
- ১৮১৮ সালে তিনি শ্রীরামপুর মিশনারি প্রেসে যোগ দেন এবং একই বছর সমাচার দর্পণ পত্রিকায় কাজ শুরু করেন।১৮৪১ সাল পর্যন্ত তিনি এই পত্রিকা পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন।
- ১৮১৮ সাল থেকে ১৮২৭ সাল পর্যন্ত মার্শম্যান প্রভাবশালী পত্রিকা Friend of India (মাসিক ও ত্রৈমাসিক) সম্পাদনা ও প্রকাশ করেন।
- ১৮১৮ সালে মার্শম্যান শ্রীরামপুর কলেজ এর অধ্যক্ষ নিযুক্ত হন।
- এছাড়াও তিনি ১৮৩৩ সালে সরকারের অনুবাদক এবং ১৮৪০ সালে Government Gazette এর সম্পাদকের দায়িত্ব লাভ করেন।

তাঁর সম্পাদিত পত্রিকা:
- দিগদর্শন,
- সমাচার দর্পণ,
- ফ্রেন্ড অব ইন্ডিয়া,
- গভর্নমেন্ট গেজেট।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- ভারতবর্ষের ইতিহাস,
- পুরাবৃত্তের সংক্ষিপ্ত বিবরণ,
- জ্যোতিষ গোলাধ্যায়,
- সদগুণ ও বীর্জের ইতিহাস ঈশপস ফেলস,
- ক্ষেত্রবাগান বিবরণ,
- Murray's Grammar। 

অন্যদিকে,
গঙ্গাকিশোর ভট্টাচার্য সম্পাদিত পত্রিকা 'বাঙ্গাল গেজেট'।
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত সম্পাদিত পত্রিকা 'সংবাদ প্রভাকর'।
জেমস্ অগাস্টাস হিকি সম্পাদিত পত্রিকা 'বেঙ্গল গেজেট'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখরএবং বাংলাপিডিয়া।
৬৯.
নিম্নের কোন পত্রিকার সাথে জোশুয়া মার্শম্যান সম্পৃক্ত ছিলেন না?
  1. ক) দিগদর্শন
  2. খ) বেঙ্গল গেজেট
  3. গ) ফ্রেন্ড অব ইন্ডিয়া
  4. ঘ) সমাচার দর্পন
সঠিক উত্তর:
খ) বেঙ্গল গেজেট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বেঙ্গল গেজেট
ব্যাখ্যা
জোশুয়া মার্শম্যান, (১৭৬৮-১৮৩৭)  পন্ডিত, প্রাচ্যবিদ্যাবিশারদ, ধর্মতাত্ত্বিক, শ্রীরামপুর মিশনের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা। 
জোশুয়া মার্শম্যান ভারতে সংবাদপত্রের সূচনাকারীদের অন্যতম। 
তিনি যেসকল পত্রিকার প্রধান উদ্যোক্তা ছিলেন সেগুল হচ্ছে-
- সমাচার দর্পন,
- দিগদর্শন
- ফ্রেন্ড অব ইন্ডিয়া

- তিনি ১৮১৮ সালে প্রথম বাংলা সাপ্তাহিক সমাচার দর্পণ প্রকাশে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।
- তিনি Friends of India নামে একটি মাসিক পত্রিকাও প্রকাশ করেন। 

অন্যদিকে,  জেমস অগাস্টাস হিকি সম্পাদিত 'বেঙ্গল গেজেট' কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭০.
বাংলা সাহিত্যে কথ্যরীতির প্রচলনে কোন পত্রিকার অবদান বেশি?
  1. কল্লোল
  2. সবুজপত্র
  3. বঙ্গদর্শন
  4. কালিকলম
সঠিক উত্তর:
সবুজপত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবুজপত্র
ব্যাখ্যা
• বাংলা সাহিত্যে কথ্যরীতির/গদ্যরীতির প্রচলনে কোন ‘সবুজপত্র’ পত্রিকার অবদান অপরিসীম।

• ‘সবুজপত্র’ পত্রিকা:

- প্রমথ চৌধুরীর সম্পাদনায় ১৯১৪ সালে মাসিক 'সবুজপত্র' পত্রিকা প্রথম প্রকাশিত হয়।
- বাংলা বৈশাখ ১৩২১ বঙ্গাব্দে পত্রিকাটি প্রথম প্রকাশিত হয়। 
- বাংলা গদ্যরীতির বিকাশে এই পত্রিকার গুরুত্ব অপরিসীম।
- সাধু গদ্যরীতির বদলে চলিত গদ্যরীতির ব্যবহার এই পত্রিকা প্রতিষ্ঠা করে। 
- বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিজেও এই পত্রিকায় লেখার সুবাদে চলিত গদ্যরীতির স্বাচ্ছন্দ্য অনুভব এবং পরে তা চর্চা করেন।
- সাহিত্য জগতে এই পত্রিকা 'সবুজপত্র গোষ্ঠী' তৈরিতে সক্ষম হয়। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭১.
সৈয়দ মুজতবা আলীর ছদ্মনাম নয় -
  1. দৃষ্টিহীন
  2. প্রিয়দর্শী
  3. ওমর খৈয়াম
  4. মুসাফির
সঠিক উত্তর:
দৃষ্টিহীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দৃষ্টিহীন
ব্যাখ্যা
• 'দৃষ্টিহীন' ছদ্মনামে লিখতেন - দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার। 
 
সৈয়দ মুজতবা আলী: 
- ১৯০৪ সালে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি  কাজী নজরুল ইসলামের 'রুবাইয়াৎ- ই- ওমর খৈয়াম' গ্রন্থের ভূমিকা লিখেন।  
- ১৯৭৪ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
- 'দেশে বিদেশে' সৈয়দ মুজতবা আলীর প্রথম গ্রন্থ। 
- সৈয়দ মুজতবা আলীর ছদ্মনাম - প্রিয়দর্শী; ওমর খৈয়াম; মুসাফির; সত্য পীর।
 
তাঁর রচিত উপন্যাস:
- অবিশ্বাস্য,
- শবনম।
 
তাঁর রচিত ছোটগল্প:
- চাচা-কাহিনী,
- টুনি মেম।
 
উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭২.
আবু জাফর শামসুদ্দীন ব্যবহৃত ছদ্মনাম কোনটি?
  1. বহুদর্শী 
  2. দৃষ্টিহীন 
  3. হাবু শর্মা
  4. অল্পদর্শী
সঠিক উত্তর:
অল্পদর্শী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অল্পদর্শী
ব্যাখ্যা

• আবু জাফর শামসুদ্দীন:
- আবু জাফর শামসুদ্দীন ছিলেন একজন সাংবাদিক ও সাহিত্যিক ছিলেন। ১৯১১ সালের ১২ মার্চ ঢাকা জেলার গাজীপুরের দক্ষিণবাগ গ্রামে তাঁর জন্ম।
- দৈনিক সোলতান পত্রিকায় সাবএডিটর হিসেবে আবু জাফরের কর্মজীবন শুরু হয়।

- মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত 'অল্পদর্শী' ছদ্মনামে দৈনিক সংবাদে 'বৈহাসিকের পার্শ্বচিন্তা' শীর্ষক সাপ্তাহিক কলাম লিখে তিনি বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।

​- এর আগে তিনি ১৯৬১ থেকে ১৯৭২ সাল পর্যন্ত বাংলা একাডেমিতে সহকারী অনুবাদকের পদে নিযুক্ত ছিলেন। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে তাঁর সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল।
 উপন্যাস রচনার মধ্য দিয়ে আবু জাফরের সাহিত্যিক জীবন শুরু হয়। তাঁর প্রথম উপন্যাস পরিত্যক্ত স্বামী প্রকাশিত হয় ১৯৪৭ সালে।

​অন্যদিকে, 
• ​তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম ছিলো 'হাবু শর্মা'।  
• মধুসূধন মজুমদারের ছদ্মনাম ছিলো- দৃষ্টিহীন।
আবার,
• দৃষ্টিহীন' - দক্ষিণারঞ্জন মিত্রমজুমদার এর ছদ্মনাম।

​উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৭৩.
আহমদ ছফা কোন পত্রিকার সম্পাদনার সাথে যুক্ত ছিলেন না?
  1. উত্তরণ
  2. সম্ভাবনা
  3. উত্থানপর্ব
  4. স্বাক্ষর
সঠিক উত্তর:
স্বাক্ষর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বাক্ষর
ব্যাখ্যা
আহমদ ছফা সম্পাদিত পত্রিকা নয়- স্বাক্ষর।

• আহমদ ছফা:
- আহমদ ছফা ছিলেন একজন প্রতিবাদী লেখক, প্রগতিপন্থি সাহিত্যকর্মী ও সংগঠক।
- আহমদ ছফা ৩০শে জুন, ১৯৪৩ সালে গাছবাড়িয়া, চট্টগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত ছিলেন চিন্তাবিদ ও সাহিত্যিক।
- তিনি স্বদেশ পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- ১৯৭০ সালের গোড়ার দিকে আহমদ ছফার সম্পাদনায় সাহিত্য পত্রিকা ‘স্বদেশ’ প্রকাশিত হয়েছিল। মাত্র তিন সংখ্যা প্রকাশের পর পত্রিকাটির প্রকাশনা বন্ধ হয়ে যায়। 
- স্বদেশ, প্রতিরোধ, সম্ভাবনা, উত্তরণ এবং উত্থানপর্বের তিনি ছিলেন সম্পাদক। 
 
 • তাঁর প্রকাশিত উপন্যাস গ্রন্থসমূহ হচ্ছে:
- সূর্য তুমি সাথী, 
- ওঙ্কর, 
- একজন আলী কেনানের উত্থান পতন,
- মরণ বিলাস, 
- গাভি বিত্তান্ত, 
- অর্ধেক নারী অর্ধেক উশ্বরী, 
- বিহঙ্গ পুরাণ। 

অন্যদিকে,
• 'স্বাক্ষর’ পত্রিকা:
- বাংলাদেশের ইতিহাসে উত্তাল ঘাটের দশকে যে-কয়েকটি লিটল ম্যাগাজিন ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছিল, 'স্বাক্ষর' এগুলোর একটি।
- ১৯৬৩ খ্রিষ্টাব্দে 'স্বাক্ষর’ এর প্রথম সংখ্যা প্রকাশিত হয়।
- এর সম্পাদক ছিলেন দুই কবি; রফিক আজাদ ও সিকদার আমিনুল হক।
- পরে বিভিন্নজন এর সম্পাদকতার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন: ইমরুল চৌধুরী, প্রশান্ত ঘোষাল, আসাদ চৌধুরী, রণজিৎ পালচৌধুরী।
- সাহিত্যে প্রথাবদ্ধতার বিরুদ্ধে ছিল এঁদের সংগ্রাম। রবীন্দ্র-রোম্যান্টিকতা, জীবনানন্দীয় প্রণয়- আকুলতা, সমাজবাদী মতবাদনিষ্ঠতার বিরুদ্ধে পাশ্চাত্য দর্শন প্রভাবিত হয়ে 'স্বাক্ষরে'র লেখকগণ লেখনীধারণ করেন।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭৪.
'কণ্ঠস্বর' পত্রিকার সম্পাদক -
  1. আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ
  2. আব্দুল্লাহ আল মামুন
  3. আবুল কালাম শামসুদ্দীন
  4. আব্দুল্লাহ আল মুতী
সঠিক উত্তর:
আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ
ব্যাখ্যা
'কণ্ঠস্বর' পত্রিকা:
- আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ সম্পাদিত ‘কণ্ঠস্বর’ কেবল একটি পত্রিকা নয়, একটি বৃহৎ আন্দোলনের সূতিকাগার।
- এই পত্রিকার সারথি হিসেবে, পত্রিকার সাহিত্যাদর্শ আর সাহিত্য-উদ্দেশ্যের নির্মাতা হিসেবে, সাংগঠনিক কাজকর্মের সম্পাদক হিসেবে আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ নিষ্ঠার সঙ্গে যে পরিশ্রম করেছেন, তা বাংলাদেশের সাহিত্যের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
- বাংলাদেশের বাংলা সাহিত্যে বিশ শতকের ষাটের দশকে বেশ কয়েকটি লিটল ম্যাগাজিন বা ছোট-কাগজ প্রকাশিত হয়ে সাহিত্য ক্ষেত্রে নতুন দিগ্বলয় সৃষ্টি করে।
- এর মধ্যে 'কণ্ঠস্বর' অন্যতম।
- ১৯৬৫ সালে লিটল ম্যাগাজিন হিসেবে প্রকাশিত হলেও পরে তা নিয়মিত সাহিত্যপত্র রূপে এক দশকের বেশি সময় ধরে প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭৫.
কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত 'নবযুগ' কোন ধরনের পত্রিকা?
  1. মাসিক
  2. সান্ধ্য দৈনিক
  3. সাপ্তাহিক
  4. ত্রৈমাসিক
সঠিক উত্তর:
সান্ধ্য দৈনিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সান্ধ্য দৈনিক
ব্যাখ্যা
• 'নবযুগ' পত্রিকা:
- নবযুগ কলকাতা থেকে প্রকাশিত এক পাতার একটি সান্ধ্য দৈনিক। এটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯২০ সালের ১২ জুলাই, কলকাতার ৬ নং টার্ন স্ট্রিট থেকে। পত্রিকাটির মূল্য ছিল এক পয়সা।

- এর মালিক ও পরিচালক ছিলেন শেরে বাংলা এ.কে ফজলুল হক এবং যুগ্ম সম্পাদক কাজী নজরুল ইসলাম ও কমরেড মুজফ্ফর আহমদ। পত্রিকায় পরিচালকের নাম মুদ্রিত হতো, কিন্তু সম্পাদকের নাম থাকত না। স্বাধীনচেতা, অসাম্প্রদায়িক ও গণমুখী পত্রিকা হিসেবে এটি পরিচিত ছিল।

- ফজলুল হক কৃষক প্রজা পার্টি গঠনের মানসে একটি পত্রিকা প্রকাশের সিদ্ধান্ত নেন; একই সময়ে নজরুল ইসলাম, মুজফ্ফর আহমদ ও কতিপয় সমমনা ব্যক্তি ব্রিটিশবিরোধী গণজাগরণের লক্ষ্যে একটি দৈনিক পত্রিকা প্রকাশেরও চিন্তাভাবনা করছিলেন। এ ব্যাপারে ফজলুল হকের বাসভবনে একাধিকবার সভা হয় এবং তাতে পত্রিকার নামসহ অন্যান্য বিষয় সম্পর্কে আলোচনা হয়। শেষপর্যন্ত নজরুলের প্রস্তাব অনুযায়ী পত্রিকার নাম হয় নবযুগ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৭৬.
'হুতোম প্যাঁচা' ছদ্মনাম কার?
  1. বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়
  2. সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
  3. কালীপ্রসন্ন সিংহ
  4. কালিকানন্দ
সঠিক উত্তর:
কালীপ্রসন্ন সিংহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কালীপ্রসন্ন সিংহ
ব্যাখ্যা

কয়েকজন সাহিত্যিকের ছদ্মনাম:
- কালীপ্রসন্ন সিংহ এর ছদ্মনাম 'হুতোম প্যাঁচা'।
- কালিকানন্দ এর ছদ্মনাম 'অবধূত'।
- সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় এর ছদ্মনাম 'নীল উপাধ্যায়, নীল লোহিত, সনাতন পাঠক'।
- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় এর ছদ্মনাম 'হাবু শর্মা'।
- বাংলা সাহিত্যে 'কালকূট' নামে পরিচিত সমরেশ বসু।
- 'পরশুরাম' রাজশেখর বসুর ছদ্মনাম।
- বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম ‘বনফুল'।
- 'দৃষ্টিহীন' হলো মধুসূদন মজুমদারের ছদ্মনাম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৭৭.
"যুবনাশ্ব" ছদ্মনামটি কোন লেখকের?
  1. চারুচন্দ্র চক্রবর্তী
  2. মণীশ ঘটক
  3. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. সুভাষ মুখোপাধ্যায়ে
সঠিক উত্তর:
মণীশ ঘটক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মণীশ ঘটক
ব্যাখ্যা

মণীশ ঘটক এর ছদ্মনাম - যুবনাশ্ব

অন্যদিকে,
- চারুচন্দ্র চক্রবর্তীর ছদ্মনাম - জরাসন্ধ।
- সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম - সুবচনী।
- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় এর ছদ্মনাম - হাবু শর্মা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৭৮.
নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম কী?
  1. শংকর
  2. সুনন্দ
  3. যুবনাশ্ব
  4. বাণভট্ট
সঠিক উত্তর:
সুনন্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুনন্দ
ব্যাখ্যা
• নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম - সুনন্দ

অন্যদিকে,
নীহাররঞ্জন গুপ্তের ছদ্মনাম - দাদাভাই; বাণভট্ট।
মণীশ ঘটকের ছদ্মনাম - যুবনাশ্ব।
মণিশঙ্কর মুখোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম - শংকর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭৯.
'সংবাদ প্রভাকর' - বাংলা ভাষার প্রথম দৈনিক পত্রিকা হিসেবে কবে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৮৩৬ সালে
  2. ১৮৩৭ সালে
  3. ১৮৩৮ সালে
  4. ১৮৩৯ সালে
সঠিক উত্তর:
১৮৩৯ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮৩৯ সালে
ব্যাখ্যা
• ‘সংবাদ প্রভাকর’ পত্রিকা:
- 'সংবাদ প্রভাকর' পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত।
- তিনি ১৮৩১ সালে সংবাদ প্রভাকর (সাপ্তাহিক) পত্রিকা প্রতিষ্ঠা করেন।
- কিছুদিনের মধ্যেই বন্ধ হয়ে যায় কিন্তু ১৮৩৬ সালে পুনর্বার ছাপা হয়।
- ১৮৩৯ সালে বাংলা ভাষায় প্রথম দৈনিক পত্রিকা হিসেবে প্রকাশিত হয়।
- সংবাদ প্রকাশের পাশাপাশি এই পত্রিকায় সাহিত্যচর্চাও হতো।
- 'বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়', 'দীনবন্ধু মিত্রের' প্রাথমিক রচনাগুলোও সংবাদ প্রভাকরেই প্রথম প্রকাশিত হতো।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৮০.
বিহারীলাল চক্রবর্তী সম্পাদিত পত্রিকা নয় কোনটি?
  1. অবলাবান্ধব
  2. অবোধ বন্ধু
  3. পূর্ণিমা
  4. সাহিত্য সংক্রান্তি
সঠিক উত্তর:
অবলাবান্ধব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অবলাবান্ধব
ব্যাখ্যা
• বিহারীলাল চক্রবর্তী সম্পাদিত পত্রিকা নয় - অবলাবান্ধব
- এটি দ্বারকানাথ গঙ্গোপাধ্যায় সম্পাদিত পত্রিকা।

বিহারীলাল চক্রবর্তী:
- তিনি ১৮৩৫ সালে নিমতলা, কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি আধুনিক বাংলা গীতিকবিতার অন্যতম পুরোধা এবং রবীন্দ্রনাথের কাব্যগুরু হিসেবে পরিচিত।
- তিনি বাংলা সাহিত্যের আধুনিক গীতিকবিতার স্রষ্টা।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর 'সারদা মঙ্গল' কাব্য পড়ে তাঁকে 'ভোরের পাখি' বলে আখ্যায়িত করেন।
- তাঁর শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ 'সারদা মঙ্গল'।
- তাঁর শেষ কাব্যগ্রন্থ 'সাধের আসন'। একে 'সারদা মঙ্গল' কাব্যের পরিশিষ্ট বলা হয়।
- তিনি ১৮৯৪ সালের ২৪ মে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- স্বপ্নদর্শন,
- সঙ্গীত শতক,
- বন্ধু-বিয়োগ,
- প্রেম প্রবাহিণী,
- নিসর্গ সন্দর্শন,
- বঙ্গসুন্দরী,
- সারদা মঙ্গল,
- নিসর্গ সঙ্গীত,
- মায়াদেবী,
- দেবরাণী,
- বাউল বিংশতি,
- সাধের আসন।

তাঁর সম্পাদিত পত্রিকা:
- পূর্ণিমা,
- সাহিত্য সংক্রান্তি,
- অবোধ বন্ধু

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৮১.
'পূর্বাশা' কোন শতকের পত্রিকা?
  1. আঠারো শতকের
  2. উনিশ শতকের
  3. বিশ শতকের
  4. একুশ শতকের
সঠিক উত্তর:
বিশ শতকের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশ শতকের
ব্যাখ্যা

• 'পূর্বাশা' বিশ শতকের পত্রিকা। 

• 'পূর্বাশা' পত্রিকা:
- 'পূর্বাশা' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন সঞ্জয় ভট্টাচার্য। এটি ছিল মাসিক পত্রিকা।
- এটি কুমিল্লা থেকে প্রথম প্রকাশিত পত্রিকা। এর প্রকাশকাল ছিল ১৯৩২ সাল।
- টানা সাত বছর চলার পর বন্ধ হয়ে আবার পুনরায় কলকাতা থেকে ১৯৪৩ সালে প্রকাশিত হয়। ১৯৭১ সালে স্থায়ীবভাবে বন্ধ হয়ে যায় পত্রিকাটি।
- আধুনিক বিখ্যাত লেখকদের প্রায় সবাই এই পত্রিকায় লিখেছেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৮২.
'রায়বাহাদুর' কার উপাধি?
  1. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. মীর মশাররফ হোসেন
  3. দীনবন্ধু মিত্র
  4. ক ও গ
সঠিক উত্তর:
ক ও গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক ও গ
ব্যাখ্যা
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ও দীনবন্ধু মিত্র উভয়ই  'রায়বাহাদুর' উপাধিতে ভূষিত হোন । 

• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:

- তিনি ছিলেন ঔপন্যাসিক, সাংবাদিক, বাংলার নবজাগরণের অন্যতম প্রধান পুরুষ।
- তিনি ১৮৩৮ সালে চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- পিতা যাদবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় প্রথম দিকে ছিলেন ব্রিটিশ উপনিবেশিক সরকারের একজন কর্মকর্তা, পরে হুগলির ডেপুটি কালেক্টর হন।
- ১৮৫৮ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ব্যাচের যে দুজন ছাত্র বিএ পাস করেন, বঙ্কিমচন্দ্র ছিলেন তাঁদের একজন।
- তিনি ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট ও ডেপুটি কালেক্টর পদে চাকরি করেন। উপনিবেশিক সরকারের কর্মকর্তা হিসেবে বঙ্কিমচন্দ্র তাঁর দায়িত্ব দক্ষতার সঙ্গে পালন করেন। তাঁর কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ কর্তৃপক্ষ তাঁকে ১৮৯১ সালে 'রায়বাহাদুর' এবং ১৮৯৪ সালে 'Companion of the Most Eminent Order of the Indian Empire' (CMEOIE) উপাধি প্রদান করে।

---------------------
• দীনবন্ধু মিত্র:

- রায়বাহাদুর দীনবন্ধু মিত্র একজন নাট্যকার ছিলেন।
- ১৮৩০ সালে পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার চৌবেড়িয়া গ্রামে এক দরিদ্র পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতৃদত্ত নাম গন্ধর্বনারায়ণ।
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের অনুপ্রেরণায় কবিতা লিখতেন।তিনি কলেজে পড়ার সময়ই ঈশ্বর গুপ্তের সংস্পর্শে গিয়ে সংবাদ প্রভাকর, সাধুরঞ্জন প্রভৃতি পত্রিকায় কবিতা লিখতে শুরু করেন।
- তবে নাটক ও প্রহসন লিখেই তিনি সর্বাধিক খ্যাতি অর্জন করেন। নীলদর্পণ তাঁর শ্রেষ্ঠ নাটক এবং শ্রেষ্ঠ রচনাও।
- ১৮৭১ সালে লুসাই যুদ্ধের সময় দীনবন্ধু কাছাড়ে সফলভাবে ডাকবিভাগ পরিচালনা করেন, যার জন্য তৎকালীন সরকার তাঁকে 'রায়বাহাদুর' উপাধিতে ভূষিত করে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৮৩.
'সমাচার দর্পণ' বাংলা ভাষার প্রথম-
  1. সাপ্তাহিক সংবাদপত্র
  2. মাসিক সংবাদপত্র
  3. দৈনিক সংবাদপত্র
  4. ত্রৈমাসিক সংবাদপত্র
সঠিক উত্তর:
সাপ্তাহিক সংবাদপত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাপ্তাহিক সংবাদপত্র
ব্যাখ্যা
• 'সমাচার দর্পণ' পত্রিকা:
- 'সমাচার দর্পণ' বাংলা ভাষার প্রথম সাপ্তাহিক সংবাদপত্র।
- শ্রীরামপুর মিশন থেকে পত্রিকাটি ১৮১৮ সালে প্রকাশিত হয়।
- এটি জন ক্লার্ক মার্শম্যান সম্পাদিত বাংলা ভাষার প্রথম সাপ্তাহিক সংবাদপত্র।
- সমাচার দর্পণে প্রথমাবস্থায় সম্পাদকীয়-বিভাগে পন্ডিত ছিলেন 'জয়গোপাল তর্কালঙ্কার'।প্রথম পর্যায়ে, ১৮১৮ সালের ২৩ মে (শনিবার) সমাচার দর্পণের প্রথম সংখ্যা বের হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৮৪.
'মৈনাক' কোন কবি ব্যবহৃত ছদ্মনাম?
  1. আবু জাফর শামসুদ্দীন
  2. শামসুর রাহমান
  3. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  4. সৈয়দ মুজতবা আলী
সঠিক উত্তর:
শামসুর রাহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শামসুর রাহমান
ব্যাখ্যা
'মৈনাক' হচ্ছে কবি শামসুর রাহমানের ছদ্মনাম। এছাড়াও তিনি 'নেপথ্যে', 'জনান্তিকে' প্রভৃতি ছদ্মনামে কবিতা লিখেছেন। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে তিনি মজলুম আদিব ছদ্মনামে কবিতা লিখতেন।

অনদিকে, 
• আবু জাফর শামসুদ্দীন মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত 'অল্পদর্শী' ছদ্মনামে দৈনিক সংবাদে 'বৈহাসিকের পার্শ্বচিন্তা' শীর্ষক সাপ্তাহিক কলাম লিখে তিনি বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।

• সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত একাধিক ছদ্মনামে কাব্যচর্চা করতেন। যেমন- নবকুমার, কবিরত্ন, অশীতিপর শর্মা, ত্রিবিক্রম বর্মণ, কলমগীর ইত্যাদি।

• সৈয়দ মুজতবা আলী তাঁর বিভিন্ন গ্রন্থে কয়েকটি ছদ্মনাম ব্যবহার করেন, এগুলো হলো: প্রিয়দর্শী, ওমর খৈয়াম, মুসাফির ও সত্যপীর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৮৫.
'সাহিত্যপত্র' পত্রিকা প্রকাশের কৃতিত্ব কার?
  1. বুদ্ধদেব বসু
  2. আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী
  3. প্রেমেন্দ্র মিত্র
  4. বিষ্ণু দে
সঠিক উত্তর:
বিষ্ণু দে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিষ্ণু দে
ব্যাখ্যা
• বিষ্ণু দে:
- বিষ্ণু দে ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক, চিত্রসমালোচক ও শিল্পানুরাগী। ১৯০৯ সালের ১৮ জুলাই কলকাতার পটলডাঙ্গায় তাঁর জন্ম।

- ১৯২৩ সালে 'কল্লোল' পত্রিকা প্রকাশের ফলে যে নতুন সাহিত্য উদ্যম ও ব্যতিক্রমী শিল্প চেতনার সৃষ্টি হয়, বিষ্ণু দে ছিলেন তার অন্যতম উদ্যোক্তা। কিন্তু ১৯৩০ সালে কল্লোল পত্রিকা বন্ধ হয়ে গেলে তিনি সুধীন্দ্রনাথ দত্তের 'পরিচয়' (১৯৩১) পত্রিকার সঙ্গে যুক্ত হন এবং ১৯৪৭ পর্যন্ত এর সম্পাদক মন্ডলীর অন্যতম সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

- ১৯৪৮ সালে তিনি চঞ্চলকুমার চট্টোপাধ্যায়ের সহযোগিতায় 'সাহিত্যপত্র' প্রকাশ করেন। তিনি নিজেও নিরুক্ত নামে একটি পত্রিকা সম্পাদনা করেন। বিষ্ণু দে কলকাতার বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় গল্প, কবিতা ও প্রবন্ধ প্রকাশের মাধ্যমে তাঁর সাহিত্য জীবন শুরু করেন।

তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থগুলো হলো:
- উর্বশী ও আর্টেমিস,
- চোরাবালি,
- নাম রেখেছি কোমল গান্ধার,
- তুমি শুধু পঁচিশে বৈশাখ।

তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- রুচি ও প্রগতি,
- সাহিত্যের ভবিষ্যৎ। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৮৬.
‘যাযাবর' কার ছদ্মনাম?
  1.  বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়
  2. দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদারে
  3. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

• 'যাযাবর' ছদ্মনামে লিখতেন = বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়।

তাছাড়া, 
• মধুসূদন মজুমদারের ছদ্মনাম ছিলো- দৃষ্টিহীন।
• আবার, দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদারের ছদ্মনামও ছিলো- দৃষ্টিহীন।
• প্যারীচাঁদ মিত্রের ছদ্মনাম- টেকচাঁদ ঠাকুর।
• বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় এর ছদ্মনাম - বনফুল।
• বিহারীলাল চক্রবর্তীর উপাধি- ভোরের পাখি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৮৭.
চলিত ভাষারীতি প্রবর্তনে অগ্রনী ভূমিকা রাখে কোন পত্রিকা?
  1. ক) ভারতী
  2. খ) তত্ত্ববোধনী
  3. গ) কল্লোল
  4. ঘ) সবুজপত্র
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবুজপত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবুজপত্র
ব্যাখ্যা
চৌধুরী, প্রমথ (১৮৬৮-১৯৪৬)  সাহিত্যিক, বাংলা চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তক। ১৯১৪ সালে মাসিক  সবুজপত্র প্রকাশনা এবং তার মাধ্যমে বাংলা চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তন তাঁর জীবনের শ্রেষ্ঠ কীর্তি। একে কেন্দ্র করে তখন একটি শক্তিশালী লেখকগোষ্ঠী গড়ে ওঠে। 
- সবুজপত্র  বিংশ শতাব্দীর বাংলায় আধুনিকতার বাহন বাংলা সাময়িকী। 
- প্রথম পর্যায়ে এটি ১৩২৯ বঙ্গাব্দ (১৯২২ সাল) পর্যন্ত প্রকাশিত হয়। দ্বিতীয় পর্যায়ে সবুজপত্রের প্রকাশনা শুরু হয় ১৩৩২ বঙ্গাব্দ থেকে। সাময়িকীটি শেষ পর্যন্ত ১৩৩৪ বঙ্গাব্দে (১৯২৭ সালে) বন্ধ হয়ে যায়।
-  প্রমথ চৌধুরী নতুন সাহিত্য রীতি প্রবর্তনের চেষ্টা হিসেবে কথ্য বাংলাকে অগ্রাধিকার দেন, যা ‘বীরবলী’ ভাষা (তাঁর ছদ্মনাম ‘বীরবল’ থেকে) রূপে পরিচিতি লাভ করে। 
- এরপর থেকে বাংলা সাহিত্যে কথ্য বাংলা প্রাধান্য লাভ করে। পরবর্তী সময়ে রবীন্দ্রনাথ লিখিত গদ্য এবং আধুনিক বাংলা সাহিত্য সবুজপত্রের সফলতা যথেষ্টভাবে প্রমাণ করে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৮৮.
'মহারাজাধিরাজ' পদবী কারা গ্রহণ করেন-
  1. ক) আকবর, হুমায়ুন ও জাহাঙ্গীর
  2. খ) ইলিয়াস শাহ , তুঘলক ও জালালউদ্দিন
  3. গ) ধর্মপাল ও গোপাল
  4. ঘ) গোপচন্দ্র, ধর্মাদিত্য ও সমাচারদেব
সঠিক উত্তর:
ঘ) গোপচন্দ্র, ধর্মাদিত্য ও সমাচারদেব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) গোপচন্দ্র, ধর্মাদিত্য ও সমাচারদেব
ব্যাখ্যা

'খ্রীস্টীয় ষষ্ঠ শতাব্দীর প্রথম দিকে দক্ষিণ ও পূর্ববঙ্গে একটি স্বাধীন রাজ্য প্রতিষ্ঠিত হয়।
সাতখানা তাম্রশাসন থেকে এই রাজ্যের তিনজন ‘মহারাজাধিরাজ’ উপাধিধারী রাজার নাম পাওয়া যায়।
তাঁরা হচ্ছেন ধর্মাদিত্য, গোপচন্দ্র ও সমাচারদেব।
তাঁদের এলাকাভুক্ত ছিল কর্ণসুবর্ণ (বর্তমান মুর্শিদাবাদ জেলা)।
উৎসঃ পৃষ্ঠা-২৮, বাঙলা ও বাঙালীর বিবর্তন, ড. অতুল সুর।

গুপ্ত সাম্রাজ্যের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে সমগ্র দক্ষিণ ও পূর্ব বঙ্গে একটি স্বাধীন রাজ্যের উত্থান ঘটে।
বর্তমান পশ্বিমবঙ্গের কিছু অংশ পর্যন্ত এর বিস্তৃতি ছিল।
স্বাধীন বঙ্গ রাষ্ট্রের রাজারা তামার পাতে খোদাই করা রাজ নির্দেশ জারি করতেন।
এগুলোকে তাম্রশাসন বলা হতো।
এ রকম ৭টি তাম্রশাসন পাওয়া গেছে।
স্বাধীন বঙ্গরাজ্যে চন্দ্রগুপ্ত, ধর্মাদিত্য ও সমাচারদেব নামের তিনজন রাজার নাম জানা যায়।
তারা ৫২৫ থেকে ৬০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত মোট ৭৫ বছর রাজত্ব করেন।
সম্ভবত চন্দ্রগুপ্ত একাই ৩৩ বছর শাসন করেছেন বলে জানা যায়।
বঙ্গের রাজাগণ ‘মহারাজাধিরাজ’ উপাধি ধারণ করতেন।
এতে তাদের সার্বভৌম ক্ষমতার পরিচয় পাওয়া যায়।
উৎসঃ বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএস প্রোগ্রাম (উন্মুক্ত)।

৮৯.
নিচের কোন পত্রিকাকে ঘিরে একটি স্বতন্ত্র সাহিত্য বলয় তৈরি হয়েছিলো?
  1. প্রগতি
  2. ধূমকেতু
  3. কল্লোল
  4. কালিকলম
সঠিক উত্তর:
কল্লোল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কল্লোল
ব্যাখ্যা
• 'কল্লোল' পত্রিকাটি ১৯২৩ সালে প্রকাশিত হয়।
 
'কল্লোল' পত্রিকা:
- অতি আধুনিক লেখকগোষ্ঠীর মুখপাত্র হিসেবে এই পত্রিকাটি ১৯২৩ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়।
- কলকাতা থেকে মাসিক 'কল্লোল' পত্রিকা প্রকাশিত হয়েছিল।
- এ পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন দীনেশরঞ্জন দাশ।
- 'কল্লোল' পত্রিকার লেখক ছিলেন অচিন্ত্যকমার সেনগুপ্ত, শৈলজানন্দ মুখােপাধ্যায়, বুদ্ধদেব বসু, প্রেমেন্দ্র মিত্র, মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়, কাজী নজরুল ইসলাম ও মোহিতলাল মজুমদার প্রমুখ।
- এই পত্রিকাকে কেন্দ্র করে স্বতন্ত্র সাহিত্যিক বলয় তৈরী হয়েছিল এবং ‘কল্লোল যুগ’ নামে আলাদা একটি যুগের সৃষ্টি হয়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৯০.
প্রথম কিশোর মাসিক পত্রিকা 'আঙ্গুর' এর সাথে কার নাম জড়িত ?
  1. ক) সুকুমার রায়
  2. খ) প্রমথ চৌধুরী
  3. গ) কাজী নজরুল ইসলাম
  4. ঘ) মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
সঠিক উত্তর:
ঘ) মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
ব্যাখ্যা
মুহম্মদ শহীদুল্লাহর সম্পাদনা ও প্রকাশনায় মুসলিম বাংলার প্রথম শিশুপত্রিকা আঙুর (১৯২০) আত্মপ্রকাশ করে। 

মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ (১৮৮৫-১৯৬৯)  
- শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও ভাষাতত্ত্ববিদ মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ এর জন্ম ১৮৮৫ সালের ১০ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের চবিবশ পরগনা জেলার পেয়ারা গ্রামে।
- ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ে শহীদুল্লাহ্র বহু মননশীল ও জ্ঞানগর্ভ প্রবন্ধ নানা পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে এবং এ সংক্রান্ত বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা তিনি সম্পাদনা করেন।
- আল এসলাম পত্রিকার সহকারী সম্পাদক (১৯১৫)
- বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকার যুগ্ম সম্পাদক (১৯১৮-২১) হিসেবে
- তাঁর সম্পাদনা ও প্রকাশনায় মুসলিম বাংলার প্রথম শিশুপত্রিকা আঙুর (১৯২০) আত্মপ্রকাশ করে।
তাঁর অন্যান্য সম্পাদিত পত্রিকা -
- ইংরেজি মাসিক পত্রিকা দি পীস (১৯২৩)।
- বাংলা মাসিক সাহিত্য পত্রিকা বঙ্গভূমি (১৯৩৭) এবং
- পাক্ষিক তকবীর (১৯৪৭)

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৯১.
‘ভাওয়ালের কবি’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন কে?
  1. মোহাম্মদ নজিবর রহমান
  2. আল মাহমুদ
  3. আব্দুল কাদির
  4. গােবিন্দচন্দ্র দাস
সঠিক উত্তর:
গােবিন্দচন্দ্র দাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গােবিন্দচন্দ্র দাস
ব্যাখ্যা
• গােবিন্দচন্দ্র দাস:
- গােবিন্দচন্দ্র দাস ১৮৫৫ সালে গাজীপুর জেলার জয়দেবপুরে এক দরিদ্র পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- ‘ভাওয়ালের কবি’ হিসেবে গোবিন্দচন্দ্র দাসের পরিচয়।
- বাংলা সাহিত্যের স্বভাবকবি হচ্ছেন গােবিন্দচন্দ্র দাস।
- রবীন্দ্রনাথের সমকালে আধুনিক গীতিকবিতার ধারায় কবিতা রচনা করেই গোবিন্দচন্দ্র খ্যাত হন।
- তাঁর কবিতায় পূর্ববঙ্গের প্রাকৃতিক শোভা, বস্ত্তনিষ্ঠতা এবং গভীর পত্নিপ্রেম ফুটে উঠেছে।
- তাঁর প্রথমা পত্নী সারদাসুন্দরীর মৃত্যুর প্রায় সাত বছর পর তিনি দ্বিতীয়বার দারপরিগ্রহ করেন। কিন্তু কবিতার মাধ্যমে তিনি তাঁর প্রথমা পত্নীকে অমর করে রেখেছেন।

• তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ:
- প্রসূন,
- প্রেম ও ফুল,
- কুঙ্কুম,
- কস্তুরী,
- চন্দন,
- ফুলরেণু (সনেট),
- বৈজয়ন্তী,
- শোক ও সান্ত্বনা,
- শোকোচ্ছ্বাস (১৯১০) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম।
৯২.
কোনটি সুধীন্দ্রনাথ দত্ত সম্পাদিত পত্রিকা?
  1. পরিচয়
  2. কবিতা
  3. ক্রান্তি
  4. কল্লোল
সঠিক উত্তর:
পরিচয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরিচয়
ব্যাখ্যা

'পরিচয়' পত্রিকা:
- সুধীন্দ্রনাথ দত্ত 'পরিচয়' পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
- তিনি একাধারে ১২ বছর এই পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন। 
- আধুনিক বাংলা সাহিত্য চর্চায় পত্রিকাটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।  
- বাংলা সাহিত্যে তিরিশের আধুনিকতা আন্দোলনে 'পরিচয়' পত্রিকার অবদান অনস্বীকার্য।
- 'কল্লোল’, ‘কালিকলম', ‘পরিচয়’- এর নাম একসঙ্গে উচ্চারণের দাবি রাখে।
- ১৯৩১ সালে ত্রৈমাসিক পত্রিকাটি কলকাতা থেকে আত্মপ্রকাশ করে।

অন্যদিকে, 
- 'কবিতা' বুদ্ধদেব বসু সম্পাদিত পত্রিকা।
- ‘ক্রান্তি’ পত্রিকার প্রথম সংখ্যার সম্পাদক ছিলেন রণেশ দাশগুপ্ত।
- 'কল্লোল' প্রথম সম্পাদক ছিলেন দীনেশরঞ্জন দাশ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৯৩.
শহীদুল্লা কায়সার তাঁর সাংবাদিক জীবন শুরু করেন কোন পত্রিকার মাধ্যমে?
  1. সংবাদ
  2. সমকাল
  3. দৈনিক নবযুগ
  4. ইত্তেফাক
সঠিক উত্তর:
ইত্তেফাক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইত্তেফাক
ব্যাখ্যা
• শহীদুল্লা কায়সার:
- শহীদুল্লা কায়সার ছিলেন কথাসাহিত্যিক, সাংবাদিক ও লেখক। ১৯২৭ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ফেনী জেলার মজুপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম আবু নঈম মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ।
- পিতা মাওলানা মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহ ছিলেন ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ। প্রখ্যাত চলচ্চিত্রকার ও লেখক জহির রায়হান তাঁর অনুজ।

- ১৯৪৯ সালে ঢাকার সাপ্তাহিক 'ইত্তেফাক' পত্রিকায় শহীদুল্লা কায়সারের সাংবাদিক জীবন শুরু হয়।
- ১৯৫৮ সালে তিনি 'সংবাদ' পত্রিকায় সহযোগী সম্পাদক হিসেবে নিযুক্ত হন এবং জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত কর্মরত ছিলেন।
- শহীদুল্লা কায়সার সাহিত্যকর্মের জন্য আদমজি সাহিত্য পুরস্কার (১৯৬২) এবং বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬২) লাভ করেন।
- ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের পূর্ব মুহূর্তে ১৪ ডিসেম্বর রাতে ঢাকার বাসভবন থেকে তিনি অপহৃত হন এবং আর ফিরে আসেন নি।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- সারেং বৌ,
- সংশপ্তক।

• তাঁর রচিত স্মৃতিকথা:
- রাজবন্দীর রোজনামচা।

• তাঁর রচিত ভ্রমণবৃত্তান্ত:
পেশোয়ার থেকে তাসখন্দ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৯৪.
'পরশুরাম' ছন্মনামে পরিচিত-
  1. প্রমথ চৌধুরী
  2. সমরেশ বসু
  3. বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়
  4. রাজশেখর বসু
সঠিক উত্তর:
রাজশেখর বসু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজশেখর বসু
ব্যাখ্যা

রাজশেখর বসুর ছদ্মনাম - পরশুরাম

অন্যদিকে,
সমরেশ বসুর ছদ্মনাম - কালকূট ও ভ্রমর।
- প্রমথ চৌধুরীর সাহিত্যিক ছদ্মনাম 'বীরবল।'
- বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম - বনফুল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৯৫.
'মৌমাছি' কোন সাহিত্যিকের ছদ্মনাম?
  1. বিমল ঘোষ
  2. বিমল মিত্র
  3. বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়
  4. প্যারীচাঁদ মিত্র
সঠিক উত্তর:
বিমল ঘোষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিমল ঘোষ
ব্যাখ্যা
বিমল ঘোষের  ছদ্মনাম - 'মৌমাছি'।

অন্যদিকে,
- বিমল মিত্র এর  ছদ্মনাম - জাবালি।
- বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় এর  ছদ্মনাম - যাযাবর।
- প্যারীচাঁদ মিত্র এর  ছদ্মনাম - টেকচাঁদ ঠাকুর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯৬.
"মরমি কবি" উপাধি কার?
  1. আবদুল করিম
  2. হাছন রাজা
  3. আবদুল কাদির
  4. গোলাম মোস্তফা
সঠিক উত্তর:
হাছন রাজা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাছন রাজা
ব্যাখ্যা
হাছন রাজা:
- তিনি ছিলেন মরমি কবি, সাধক।
- তাঁর প্রকৃত নাম দেওয়ান হাসন রজা চৌধুরী।
- ১২৬১ বঙ্গাব্দের ৭ পৌষ (১৮৫৪ সালের ২৪ জানুয়ারি) সিলেট জেলার সুনামগঞ্জে লক্ষ্মণশ্রী গ্রামের এক জমিদার পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি সহজ-সরল সুরে আঞ্চলিক ভাষায় প্রায় এক হাজার আধ্যাত্মিক গান রচনা করেন।
- তাঁর সম্পর্কে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একবার ভারতীয় দর্শন কংগ্রেসের অধিবেশনে সভাপতির ভাষণে বলেছিলেন, 'পূর্ববঙ্গের একজন গ্রাম্য কবির গানে দর্শনের একটি বড় তত্ত্ব পাই সেটি এই যে, ব্যক্তিস্বরূপের সহিত সম্বন্ধসূত্রেই বিশ্ব সত্য।'

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৯৭.
নিচের কোনটি কাজী নজরুল সম্পাদিত পত্রিকা নয়?
  1. লাঙ্গল
  2. ধূমকেতু
  3. দৈনিক নবযুগ
  4. বিজলী
সঠিক উত্তর:
বিজলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিজলী
ব্যাখ্যা

-  কাজী নজরুল সম্পাদিত পত্রিকা নয়- 'বিজলী' পত্রিকা
- এ পত্রিকার সম্পাদকদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলো নলিনীকান্ত সরকার, প্রবোধকুমার সান্যাল প্রমুখ।

• কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত পত্রিকা:

- 'ধূমকেতু' ১৯২২ সালে প্রকাশিত হয়।
- 'লাঙ্গল' (১৯২৫) পত্রিকার প্রধান পরিচালক ছিলেন কাজী নজরুল ইসলাম, এটি ১৯২৫ সালে প্রকাশিত হয়।
- 'দৈনিক নবযুগ' পত্রিকাটি কাজী নজরুল ইসলাম কমরেড মুজাফ্ফর আহমদ এর সাথে যৌথভাবে সম্পাদনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

৯৮.
'শিখা' পত্রিকার সাথে কে সম্পৃক্ত ছিলেন না?
  1. আবুল হুসেন
  2. আবদুল কাদির
  3. মুন্সি আহমদ আলী
  4. আবদুল মান্নান সৈয়দ
সঠিক উত্তর:
আবদুল মান্নান সৈয়দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবদুল মান্নান সৈয়দ
ব্যাখ্যা
•  আবদুল মান্নান সৈয়দ - এ পত্রিকার সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন না।

অন্যদিকে,
• আবুল হুসেন, আবদুল কাদির, এবং মুন্সি আহমদ আলী প্রত্যেকেই শিখা পত্রিকার সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন।
• আবুল হুসেন ছিলেন এর প্রথম সম্পাদক, আবদুল কাদির এর প্রকাশনার দায়িত্বে ছিলেন, এবং মুন্সি আহমদ আলী এটি মুদ্রণের দায়িত্ব পালন করেন। তবে আবদুল মান্নান সৈয়দ এই পত্রিকার সঙ্গে জড়িত ছিলেন না।

----------------- 
শিখা পত্রিকা: 
- ১৯২৬ সালে ঢাকায় প্রতিষ্ঠিত মুসলিম সাহিত্য-সমাজে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ১৯২৭ সালে 'শিখা' নামে একটি বার্ষিক মুখপত্র প্রকাশ করে। 
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি ও বাণিজ্য বিভাগের অধ্যাপক আবুল হুসেন ছিলেন শিখা পত্রিকার প্রথম সংখ্যার সম্পাদক।
- শিখা বছরে একবার প্রকাশিত হত। 
- পত্রিকাটি মুসলিম সাহিত্য-সমাজের পক্ষে আবদুল কাদির কর্তৃক মুসলিম হল থেকে প্রকাশিত এবং মুন্সি আহমদ আলী কর্তৃক সাত রওজার (ঢাকা) ইসলামিয়া প্রেস থেকে মুদ্রিত।
- শিখার পাঁচটি সংখ্যা প্রকাশিত হয়।

- শিখা ছিল সমকালের অন্যান্য সাময়িকপত্র থেকে সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র ধরনের।
- তাই প্রথম সংখ্যা প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই পত্রিকাটি বুদ্ধিজীবী সমাজের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
 মুসলিম সাহিত্য-সমাজের সারা বছরের কর্মকান্ডের পরিচয় বহন করত শিখা। 
- শিখার প্রতিটি সংখ্যার শিরোদেশে ‘জ্ঞান যেখানে সীমাবদ্ধ, বুদ্ধি সেখানে আড়ষ্ট, মুক্তি সেখানে অসম্ভব’ কথাটি মুদ্রিত থাকত।
 
উৎস:
- বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৯৯.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'হৈমন্তী' গল্প প্রথম কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়? 
  1. শিখা
  2. সবুজপত্র
  3. ভারতী
  4. বঙ্গদর্শন
সঠিক উত্তর:
সবুজপত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবুজপত্র
ব্যাখ্যা
হৈমন্তী: 
- ‘হৈমন্তী’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি ছোটগল্প। 
- 'হৈমন্তী' গল্পে 'হৈমন্তী'র ডাকনাম ছিলো শিশির। 
- 'হৈমন্তী' ছোটগল্পটি মাসিক সবুজপত্র পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়। 
- এটি রবীন্দ্রনাথের সমাজ সমস্যামূলক ছোট গল্পগুলোর মধ্যে অন্যতম। 
- এটির উল্লেখযোগ্য চরিত্র হলো - 
• হৈমন্তী (শিশির), 
• গৌরীশংকর, 
• অপু, 
• বনমালী প্রমুখ। 

এই গল্পের কিছু বিখ্যাত উক্তি- 
- জ্যৈষ্ঠের খররোদ্রই তো জ্যৈষ্ঠের অশ্রুশূণ্য রোদন। 
- আমি পাইলাম ইহাকে পাইলাম। 
- সে আমার সম্পত্তি নয়, সে আমার সম্পদ ইত্যাদি। 

রবীন্দ্রনাথের কিছু উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ হলো: 
- বিসর্জন, 
- রাজা, 
- অচলায়তন, 
- চিরকুমার সভা, 
- রক্তকরবী, 
- তাসের দেশ, 
- বনফুল, 
- মানসী, 
- চিত্রা। 

উৎস: হৈমন্তী, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০০.
শামসুদ্দীন আবুল কালামকে ডি.লিট (D.Litt) উপাধি প্রদান করে কোন বিশ্ববিদ্যালয়?
  1. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
  2. কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়
  3. জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
  4. রোম বিশ্ববিদ্যালয়
সঠিক উত্তর:
রোম বিশ্ববিদ্যালয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রোম বিশ্ববিদ্যালয়
ব্যাখ্যা
• শামসুদ্দীন আবুল কালাম:
- শামসুদ্দীন আবুল কালাম ছিলেন কথাসাহিত্যিক। ১৯২৬ সালের আগস্ট মাসে বরিশালের নলছিটি থানার কামদেবপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম আবুল কালাম শামসুদ্দীন। তিনি ইতালির রোম শহরে স্থায়ীভাবে অবস্থান করেন।

- দেশভাগের পর ১৯৫০ সালে শামসুদ্দীন ঢাকায় এসে প্রথমে পূর্বপাকিস্তান সরকারের প্রচার ও তথ্য দপ্তরে সহকারী পরিচালক পদে যোগদান করেন। পরে ওই অফিসেই 'মাহে নও' পত্রিকার সম্পাদক হন। 

- ষাটের দশকে তিনি রোম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডি.লিট উপাধি এবং রোমের এক্সপেরিমেন্টাল সেন্টার অব সিনেমাটোগ্রাফি থেকে চলচ্চিত্র বিষয়ক ডিপ্লোমা লাভ করেন। 

- জীবনের শেষদিকে শামসুদ্দীন ইউনেস্কোর কিছু ডকুমেন্টারি ফিল্ম তৈরি করেন। তিনি চলচ্চিত্র পরিচালক ভিক্টর ডি সিফার সহযোগী ছিলেন।

- সাহিত্যে অবদানের জন্য তিনি ১৯৯৪ সালে ‘বাংলা একাডেমী পুরস্কার’ লাভ করেন।

---------------------
• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- আলমনগরের উপকথা,
- কাশবনের কন্যা,
- কাঞ্চনমালা,
- জায়জঙ্গল,
- কাঞ্চনগ্রাম।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- অনেক দিনের আশা,
- ঢেউ,
- পথ জানা নাই,
- দুই হৃদয়ের তীর,
- শাহের বানু,
- পুঁই ডালিমের কাব্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।