বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বল ও গতি এবং মহাকর্ষ ও অভিকর্ষ

মোট প্রশ্ন২৫৯এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বল ও গতি এবং মহাকর্ষ ও অভিকর্ষ

PrepBank · পাতা / · ১০০ / ২৫৯

.
কোন সরল দোলককে পাহাড়ের উপরে নিয়ে গেলে কী ঘটবে?
  1. ক) দোলনকাল কমবে
  2. খ) দোলনকাল বাড়বে।
  3. গ) দোলনকাল একই থাকবে
  4. ঘ) দোলনকাল অর্ধেক হবে।
ব্যাখ্যা
একটি ভারী আয়তনহীন বস্তুকণাকে ওজনহীন, নমনীয় এবং অপ্রসারণশীল সুতা দিয়ে ঝুলিয়ে দিলে এটি যদি ঘর্ষণ এড়িয়ে স্বাধীনভাবে দুলতে পারে তবে তাকে সরল দোলক বলে।
কৌণিক বিস্তার অল্প হলে-
সরল দোলকের দোলনকাল, T = 2π √(L/g).
এখানে, t= দোলনকাল, L= কার্যকরী দৈর্ঘ্য (সূতার দৈর্ঘ্য+দোলকপিন্ডের ব্যাসার্ধ), g= অভিকর্ষজ ত্বরণ।

উপরের সূত্রমতে আমরা পাই,
১. সরল দোলকের দোলনকাল কাযকরী দৈর্ঘ্য ও অভিকর্ষজ ত্বরণের উপর নির্ভরশীল।
২. একটি সরল দোলককে পৃথিবীর কেন্দ্রে নিলে তার দোলনকাল অসীম হবে, কারণ পৃথিবীর কেন্দ্রে অভিকর্ষজ ত্বরণের মান শূন্য। এক্ষেত্রে দোলকঘড়ি চলবে না।
৩. গ্রীষ্মকালে দোলকঘড়ি ধিরে চলে। কারন, অধিক তাপমাত্রার জন্য দোলকের কার্যকরী দৈর্ঘ্য বাড়ে, ফলে দোলককাল বাড়ে এবং ঘড়ি ধিরে চলে।
৪. শীতকালে দোলকঘড়ি দ্রুত চলে। কারণ, কম তাপমাত্রায় দোলকের কার্যকরী দৈর্ঘ্য কমে, ফলে দোলককাল কমে এবং ঘড়ি দ্রুত চলে।
৫. দোলকঘড়ি বিষুবরেখা হতে মেরু অঞ্চলে নিলে ঘড়ি দ্রুত চলবে। কারণ, বিষুবরেখার চেয়ে মেরু অঞ্চলে অভিকর্ষজ ত্বরণের মান বেশি। ফলে দোলনকাল কমবে এবং ঘড়ি দ্রুত চলবে।
৬. দোলককে পাহাড়ের উপর নিয়ে গেলে অভিকর্ষজ ত্বরণের মান কম বলে দোলনকাল বাড়বে।
৭. কোন সরল দোলকের কার্যকরী দৈর্ঘ্য ৯ গুণ বাড়লে দোলনকাল ৩ গুণ বাড়বে, আর মাধ্যাকর্ষণ জনিত ত্বরণ ৯ গুণ বাড়লে দোলনকাল ৩ গুণ কমবে।
.
তেজস্ক্রিয় নিউক্লিয়াস থেকে বিটা রশ্মি বা ইলেকট্রন বের হয় কোন বলের কারণে?
  1. মহাকর্ষ বল
  2. সবল নিউক্লিয় বল
  3. তড়িৎ চৌম্বক বল
  4. দুর্বল নিউক্লিয় বল
ব্যাখ্যা
দুর্বল নিউক্লিয় বল:
- যে স্বল্প পাল্লার ও স্বল্প মানের বল নিউক্লিয়াসের মধ্যে মৌলিক কণাগুলোর মধ্যে ক্রিয়া করে অনেক নিউক্লিয়াসের অস্থিতিশীলতার উদ্ভব ঘটায় তাকে দুর্বল নিউক্লিয় বল বলে।
- নিউক্লিয়াস থেকে বিটা কণিকা ক্ষয়ের জন্য এই মৌলিক বল ক্রিয়াশীল থাকে। 

• প্রকৃতিতে বেশ কিছু মৌলিক পদার্থ রয়েছে যাদের নিউক্লিয়াস স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভেঙ্গে যায় (যেমন ইউরেনিয়াম, থোরিয়াম ইত্যাদি)।  
•  এই সমস্ত নিউক্লিয়াস থেকে তিন ধরনের কণিকা ও রশ্মি নির্গত হয় যাদেরকে আলফা কণিকা (a-particle), বিটা কণিকা (B-particle) এবং গামা রশ্মি (y-ray) বলা হয়।
•   β রশ্মির নির্গমনের সময় নিউক্লিয়াস থেকে একটি ইলেকট্রন এবং একটি অনাহিত কণা নিউট্রিনো (neutrino) নির্গত হয়।

•  দুর্বল নিউক্লিয় বল মহাকর্ষ বল অপেক্ষা শক্তিশালী কিন্তু তাড়িতচৌম্বক বল অপেক্ষা কম শক্তিশালী। এই বলের পাল্লা অত্যন্ত কম, যেখানে সৃষ্টি হয় সেখানেই শুধুমাত্র কার্যকর থাকে। এর পাল্লা 10-m।
• মাধ্যমিক ভেক্টর বোসন (Intermediate vector bosons) নামক এক প্রকার কণার পারস্পরিক বিনিময়ের মাধ্যমে এ বল কার্যকর হয়। 

তথ্যসূত্র:
- পদার্থবিজ্ঞান ১ম পত্র, এইচ.এস.সি. প্রোগ্রাম; বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
কোন বল শুধুই আকর্ষণধর্মী?
  1. মহাকর্ষ বল
  2. তড়িৎচৌম্বক বল
  3. সবল নিউক্লিয় বল
  4. ক + গ
ব্যাখ্যা
• মহাকর্ষ বল শুধুই আকর্ষণধর্মী।

• মহাকর্ষ বল: 
- মহাবিশ্বের প্রত্যেক বস্তু একে অপরকে আকর্ষণ করে। এ আকর্ষণ বলকে মহাকর্ষ বল বলে।
- বস্তুর ভরের কারণে এ আকর্ষণ ঘটে। অর্থাৎ, এই বল শুধু আকর্ষণধর্মী।
- বল দুইটি বস্তুর ভর ও দূরত্বের উপর নির্ভর করে।
- এই বলের পাল্লা অসীম অর্থাৎ অসীম পর্যন্ত এই বল কার্যকর।
- এই বলের বাহক কণা হলো গ্রেভিটন।

• তড়িৎচৌম্বক বল:
- এই বল আকর্ষণ ও বিকর্ষণধর্মী হয়।
- সমধর্মী চার্জ পরষ্পরকে বিকর্ষণ করে এবং বিপরীতধর্মী চার্জ পরষ্পরকে আকর্ষণ করে।
- চৌম্বকের সমমেরু পরষ্পরকে বিকর্ষণ করে এবং বিপরীত মেরু পরষ্পরকে আকর্ষণ করে।
- এই বলের বাহক কণা হলো ফোটন।

• সবল নিউক্লিয় বল:
- নিউক্লিয়াসে থাকা অবস্থায় দুটি নিউক্লিয়নের মধ্যে (নিউক্লিয়াসের ভিতর প্রোটন ও নিউট্রন নামে যে কণা থাকে তাদেরকে এক কথায় নিউক্লিয়ন বলে) যে প্রবল আকর্ষণ বল বিদ্যমান তাকে সবল নিউক্লিয় বল বলে।
- এ বল আকর্ষণধর্মী, স্বল্প পাল্লা বিশিষ্ট এবং চার্জ নিরপেক্ষ। নিউক্লিয়াসের বাইরে এ বলের কোনো প্রভাব নেই।
- দুটি নিউক্লিয়নের মধ্যে মেসন (meson) নামক এক প্রকার কণার পারস্পরিক বিনিময়ের মাধ্যমে এ বল কার্যকর হয়।
- এর পাল্লা 10-15 m যা নিউক্লিয়াসের ব্যাসার্ধের সমান।

- সবল নিউক্লিয় বল প্রোটন ও নিউট্রনের মধ্যে খুব শক্তিশালী আকর্ষণ সৃষ্টি করে, যা পারমাণবিক কোর (nucleus) কে একসাথে ধরে রাখে।
- তবে, খুব ছোট দূরত্বে (প্রায় ০.৮ ফেমটোমিটার বা তার কম) এর মধ্যে একটি বিকর্ষণধর্মী অংশও থাকে, যা পারমাণবিক কোরের মধ্যে অংশগুলিকে একে অপর থেকে খুব বেশি কাছে যেতে বাধা দেয়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, শাহাজাহান তপন।
.
স্যাটেলাইট কোন বলের কারণে পৃথিবীর চারদিকে ঘুরতে থাকে?
  1. অভিকর্ষজ ত্বরণ
  2. মহাকর্ষ বল
  3. আপেক্ষিক বল
  4. সমান্তরাল বল
ব্যাখ্যা

- স্যাটেলাইট প্রধানত মহাকর্ষ বল বা মাধ্যাকর্ষণ শক্তির কারণে পৃথিবীর চারদিকে ঘুরতে থাকে।
- স্যাটেলাইটের নিজস্ব ভরবেগ (Momentum) বা সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার গতি এবং পৃথিবীর টান এমনভাবে ভারসাম্য বজায় রাখে যে, এটি পৃথিবীতে আছড়ে না পড়ে একটি নির্দিষ্ট কক্ষপথে ঘুরতে থাকে।
- স্যাটেলাইটের  ঘূর্ণন বজায় রাখার পেছনে দুটি প্রধান কারণ কাজ করে। যথা:

• মহাকর্ষ বল (Gravitational Force):
- মহাবিশ্বের যেকোনো দুটি বস্তুর মধ্যে যে আকর্ষণ বল কাজ করে, তাই মহাকর্ষ বল। এটি একটি সর্বজনীন আকর্ষণ বল।
- পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ শক্তি স্যাটেলাইটকে সবসময় নিজের কেন্দ্রের দিকে টেনে ধরে রাখে।

• কেন্দ্রমুখী বল (Centripetal Force):
- কেন্দ্রমুখী বল হলো সেই বাহ্যিক বল যা কোনো বস্তুকে বৃত্তাকার পথে ঘোরানোর জন্য কেন্দ্রের দিকে কাজ করে।
- মহাকর্ষ বলই মূলত এখানে কেন্দ্রমুখী বল হিসেবে কাজ করে, যা স্যাটেলাইটটিকে সোজা পথে চলে যেতে না দিয়ে বৃত্তাকার বা উপবৃত্তাকার পথে ঘুরতে বাধ্য করে।

• অন্যান্য অপশন সমূহ:

আপেক্ষিক বল: 
- আপেক্ষিক বল বলতে সাধারণত একটি চলন্ত বা অ-জড় (non-inertial) প্রসঙ্গ কাঠামো থেকে পরিমাপ করা কোনো বস্তুর ওপর প্রযুক্ত বলকে বোঝায়, যার মধ্যে প্রকৃত বলের সাথে কাল্পনিক বলও (pseudo-force) অন্তর্ভুক্ত থাকে। এটি পর্যবেক্ষকের গতির ওপর নির্ভর করে পরিবর্তিত হয়। 

সমান্তরাল বল:
- যখন দুই বা ততোধিক বলের ক্রিয়ারেখা পরস্পর সমান্তরাল হয়, তখন তাদের সমান্তরাল বল বলে। এই বলগুলো একই দিকে (সদৃশ/সমমুখী) অথবা বিপরীত দিকে (বিসদৃশ) কাজ করতে পারে।

অভিকর্ষজ ত্বরণ:
- অভিকর্ষজ ত্বরণ (Gravitational acceleration) হলো পৃথিবীর অভিকর্ষ বলের প্রভাবে মুক্তভাবে পড়ন্ত কোনো বস্তুর বেগ বৃদ্ধির হার, যাকে 'g' দ্বারা প্রকাশ করা হয় এবং এর মান প্রায় 9.8 m/s2 । 

উৎস:
১। পদার্থ বিজ্ঞান- নবম ও দশম শ্রেণি।
২। National Environmental Satellite, Data & Information Service- USA [Link]

.
সরল দোলকের প্রথম সূত্র (সমকাল সূত্র) অনুযায়ী নিচের কোনটি সত্য?
  1. কার্যকরী দৈর্ঘ্য এবং স্থান অপরিবর্তিত থাকলে সকল দোলকের দোলনকাল সমান
  2. দোলনকাল দৈর্ঘ্যের বর্গমূলের সমানুপাতিক
  3. দোলনকাল অভিকর্ষজ ত্বরণের বর্গমূলের সমানুপাতিক
  4. দোলনকাল দোলকের ভরের উপর নির্ভর করে
ব্যাখ্যা

কার্যকরী দৈর্ঘ্য এবং স্থান অপরিবর্তিত থাকলে ৪°  কৌণিক বিস্তারের মধ্যে সকল সরল দোলকের দোলনকাল ধ্রুব থাকে।

• সরল দোলক (Pendulum):
- একটি ভারী আয়তনহীন বস্তুকে ওজনহীন, অপ্রসারণশীল ও নমনীয় সুতার সাহায্য বুলিয়ে দিলে এটি যদি ঘর্ষণ এড়িয়ে স্বাধীনভাবে দুলতে থাকে তবে তাকে সরল দোলক বলে।
- বিজ্ঞানী গ্যালিলিও সরল দোলকের চারটি সূত্র প্রদান করেন।

- কৌণিক বিস্তার ৪°  এর বেশি না হলে, সরল দোলকের ক্ষেত্রে নিম্নোক্ত চারটি সূত্র প্রযোজ্য হবে।
সূত্রগুলো নিম্নরূপ-

• প্রথম সূত্র (সমকাল সূত্র):
- কার্যকরী দৈর্ঘ্য এবং স্থান অপরিবর্তিত থাকলে ৪°  কৌণিক বিস্তারের মধ্যে সকল সরল দোলকের দোলনকাল ধ্রুব থাকে।

• দ্বিতীয় সূত্র (দৈর্ঘ্যের সূত্র):
- স্থান অপরিবর্তিত থাকলে ৪° কৌণিক বিস্তারের মধ্যে সকল সরল দোলকের দোলনকাল তার কার্যকরী দৈর্ঘ্যোর বর্গমূলের সমানুপাতিক। অর্থাৎ T ∝ √L যেখানে T দোলনকাল এবং L কার্যকরী দৈর্ঘ্য

তৃতীয় সূত্র (ত্বরণের সূত্র):
- কার্যকরী দৈর্ঘ্য অপরিবর্তিত থাকলে ৪° কৌণিক বিস্তারের মধ্যে সকল সরল দোলকের দোলনকাল ঐ স্থানের অভিকর্ষজ ত্বরণের বর্গমূলের ব্যস্তানুপাতিক।

• চতুর্থ সূত্র (ভরের সূত্র):
- একটি নির্দিষ্ট স্থানে যদি সরল দোলকের কার্যকরী দৈর্ঘ্য স্থির থাকে এবং কৌণিক বিস্তার ৪° এর বেশি না হয়, তবে সরল দোলকের দোলনকাল দোলক পিন্ডের ভর, আকার এবং উপাদানের উপর নির্ভর করে না।
- বিভিন্ন ভর আয়তন বা উপাদানের ভরের জন্য দোলনকাল একই হয়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণী।

.
মহাবিশ্বের যে কোনো দুটি বস্তুর মধ্যে যে আকর্ষণ বল ক্রিয়া করে তাকে কী বলে?
  1. তড়িৎ বল
  2. চৌম্বক বল
  3. মহাকর্ষ বল
  4. ঘর্ষণ বল
ব্যাখ্যা

• মহাবিশ্বের যে কোনো দুটি বস্তুর মধ্যে যে আকর্ষণ বল ক্রিয়া করে, তাকে মহাকর্ষ বল বলা হয়।

• মহাকর্ষের ধারণা:
- মহাবিশ্বের প্রতিটি বস্তু অন্য সব বস্তুকে নিজের দিকে আকর্ষণ করে।
- এই সার্বজনীন আকর্ষণ বলই মহাকর্ষ বল নামে পরিচিত।
- মহাকর্ষ বল সর্বদা আকর্ষণমূলক এবং সব বস্তুর মধ্যে ক্রিয়াশীল।

• মহাকর্ষ বলের বৈশিষ্ট্য:
- বলের মান বস্তুর ভরের গুণফলের সমানুপাতিক।
- বলের মান বস্তুর মধ্যবর্তী দূরত্বের বর্গের ব্যস্তানুপাতিক।
- বলটি বস্তুর কেন্দ্রের মধ্য দিয়ে কার্যকর হয়।

• পৃথিবী ও মহাকর্ষের সম্পর্ক:
- পৃথিবী অন্যান্য বস্তুকে আকর্ষণ করে যে বল দ্বারা, সেটি অভিকর্ষ বা মাধ্যাকর্ষণ বল হিসেবে পরিচিত—এটি মহাকর্ষ বলেরই একটি বিশেষ রূপ।

• অন্যান্য অপশনসমূহ:
- তড়িৎ বল: বৈদ্যুতিক আধানযুক্ত বস্তুর মধ্যে ক্রিয়াশীল।
- চৌম্বক বল: চুম্বক বা চৌম্বক ক্ষেত্রের কারণে সৃষ্টি হয়।
- ঘর্ষণ বল: সংস্পর্শে থাকা পৃষ্ঠের মধ্যে ক্রিয়াশীল।

উৎস: বিজ্ঞান, ৮ম শ্রেণি।

.
গ্যালিলিওর দ্বিতীয় সূত্র অনুযায়ী, বিনা বাধায় পড়ন্ত বস্তুর বেগ (v) ও সময় (t) এর সম্পর্ক কী?
  1. বেগ সময়ের সমানুপাতিক
  2. বেগ সময়ের বর্গের সমানুপাতিক
  3. বেগ সমান থাকে সব সময়
  4. বেগ দূরত্বের সমানুপাতিক
ব্যাখ্যা

স্থির অবস্থান থেকে বিনা বাঁধায় পড়ন্ত বস্তুর নির্দিষ্ট সময়ের প্রাপ্ত বেগ ঐ সময়ের সমানুপাতিক।

• পড়ন্ত বস্তুর সূত্রসমূহ:
- ষোড়শ শতাব্দীতে বিজ্ঞানী গ্যালিলিও পড়ন্ত বস্তুর তিনটি সূত্র প্রদান করেন।

১. প্রথম সূত্র:
- স্থির অবস্থান এবং একই উচ্চতা থেকে বিনা ধাঁধায় পড়ন্ত সকল বস্তু সমান সময়ে সমান পথ অতিক্রম করবে।
- অর্থাৎ বায়ু শূন্য স্থানে একটি পালক ও একটি পাথর একই উচ্চতা থেকে ছেড়ে দিলে দুটি বস্তুই একই সময়ে একই পথ অতিক্রম করে মাটিতে গড়বে।

২. দ্বিতীয় সূত্র:
- স্থির অবস্থান থেকে বিনা বাঁধায় পড়ন্ত বস্তুর নির্দিষ্ট সময়ের প্রাপ্ত বেগ ঐ সময়ের সমানুপাতিক।
- এই ক্ষেত্রে বেগ v ও সময় t হলে, v ∝ t ।

  ৩. তৃতীয় সুত্র:
- স্থির অবস্থান থেকে বিনা বাঁধায় পড়ন্ত বস্তুর নির্দিষ্ট সময়ে অতিক্রান্ত দূরত্ব, ঐ সময়ের বর্গের সমানুপাতিক।
- এই ক্ষেত্রে অতিক্রান্ত দূরত্ব h ও সময় t হলে, h ∝ t2

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান ১ম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
পৃথিবীর কেন্দ্রে g এর মান কত? 
  1. ০ মিটার/সেকেন্ড2
  2. ৯.৭৮ মিটার/সেকেন্ড2
  3. ৯.৮০ মিটার/সেকেন্ড2
  4. ৯.৮৩ মিটার/সেকেন্ড2
ব্যাখ্যা
পৃথিবীর আকৃতির জন্য বিভিন্ন স্থানে বস্তুর ওজন বিভিন্ন হওয়ার কারণ: 
- পৃথিবী সুষম গোলক না হওয়ায় পৃথিবীর কেন্দ্র থেকে ভূপৃষ্ঠের সকল স্থান সমদূরে নয়। 
- যেহেতু g এর মান পৃথিবীর কেন্দ্র থেকে দূরত্বের উপর নির্ভর করে, তাই পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে g এর মানের পরিবর্তন হয়। 
- বিষুবীয় অঞ্চলে পৃথিবীর কেন্দ্র থেকে ভূপৃষ্ঠের দূরত্ব সবচেয়ে বেশি হওয়ায় g এর মান সবচেয়ে কম (৯.৭৮ মিটার/সেকেন্ড)। সুতরাং বিষুবীয় অঞ্চলে কোনো বস্তুর ওজন সবচেয়ে কম হয়। 
- বিষুবীয় অঞ্চল থেকে মেরু অঞ্চলের দিকে যত যাওয়া যায়, কেন্দ্র থেকে ভূপৃষ্ঠের দূরত্ব তত কমতে থাকে এবং g এর মান বাড়তে থাকে (৯.৮৩ মিটার/সেকেন্ড)। এর ফলে বস্তুর ওজনও বাড়তে থাকে। 
- মেরু অঞ্চলে পৃথিবীর কেন্দ্র থেকে ভূপৃষ্ঠের দূরত্ব সবচেয়ে কম হওয়ায় g এর মান মেরু অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি, ফলে ওজনও সবচেয়ে বেশি হয়। 
- আবার, পৃথিবীর কেন্দ্রে অভিকর্ষজ ত্বরণ শূন্য, তাই সেখানে বস্তুর ওজনও শূন্য। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
.
What does Newton’s first law of motion state?
  1. The relationship between force and acceleration
  2. Action-reaction principle
  3. Inertia of matter
  4. Gravitational force effect
  5. The principle of conservation of energy
ব্যাখ্যা
• নিউটনের প্রথম সূত্র:
- "বল প্রয়োগ না করলে স্থির বস্তু চিরকাল স্থির থাকবে এবং সমবেগে চলতে থাকা বস্তু চিরকাল সমবেগে চলতে থাকবে।"

• এই সূত্রটি স্যার আইজ্যাক নিউটন তার "ফিলোসফিয়া ন্যাচারালিস প্রিন্সিপিয়া ম্যাথমেটিকা" (1687) গ্রন্থে প্রস্তাব করেছিলেন।
- নিউটনের প্রথম সূত্রটি "জড়তার সূত্র" (Law of Inertia) নামে পরিচিত।

• জড়তা:
- জড়তা হলো বস্তুর একটি ধর্ম, যা দ্বারা বস্তু তার বর্তমান গতি বা স্থির অবস্থা বজায় রাখতে চায়।
• উদাহরণ:
- গাড়ি হঠাৎ ব্রেক করলে যাত্রীরা সামনের দিকে ঝুঁকে পড়ে।
- টেবিলের উপর রাখা বই যতক্ষণ পর্যন্ত না ঠেলা হয় ততখন পর্যন্ত নিজে থেকে নড়ে না।
 
অন্যদিকে,
• নিউটনের দ্বিতীয় সূত্রটি হলো বল ও ত্বরণের সম্পর্ক সূত্র।
• নিউটনের তৃতীয় সূত্রটি হলো বলের ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া সম্পর্কিত সূত্র।
• মহাকর্ষ সূত্র হলো মহাবিশ্বের ভর যুক্ত বস্তুর মধ্যে আকর্ষণ বল সম্পর্কিত সূত্র।
• শক্তির সংরক্ষণ সূত্র অনুযায়ী শক্তির কোন ধ্বংস নেই, এটি কেবল এক রূপ থেক অন্য রূপে স্থানান্তরিত হয়। 

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
১০.
"চলন্ত বাস হঠাৎ ব্রেক করলে যাত্রীরা সামনের দিকে ঝুঁকে পড়ে" এটি নিউটনের গতির কোন সূত্র দ্বারা ব্যাখ্যা করা যায়?
  1. নিউটনের প্রথম সূত্র
  2. নিউটনের দ্বিতীয় সূত্র
  3. নিউটনের তৃতীয় সূত্র
  4. নিউটনের চতুর্থ সূত্র
ব্যাখ্যা
১. নিউটনের প্রথম সূত্র:
- বাহ্যিক বল প্রয়োগ না করলে স্থির বস্তু চিরকাল স্থির থাকবে এবং গতিশীল বস্তু সুষম দ্রুতিতে সরলপথে চলতে থাকবে।
• উদাহরণ:
- চলন্ত বাস হঠাৎ ব্রেক করলে যাত্রীরা সামনের দিকে ঝুঁকে পড়ে।

২. নিউটনের দ্বিতীয় সূত্র:
- বস্তুর ভরবেগের পরিবর্তনের হার তার উপর প্রযুক্ত বলের সমানুপাতিক এবং বল যেদিকে ক্রিয়া করে বস্তুর ভরবেগের পরিবর্তনও সেদিকে ঘটে।

৩. নিউটনের তৃতীয় সূত্র:
- প্রত্যেক ক্রিয়ারই একটি সমান ও বিপরীত্মুখী প্রতিক্রিয়া থাকে। অর্থাৎ, যখন একটি বস্তু অন্য একটি বস্তুর ওপর বল প্রয়ােগ করে, তখন সেই বস্তুটিও প্রথম বস্তুটির ওপর বিপরীত দিকে সমান বল প্রয়ােগ করে।
• উদাহরণ:
- বন্দুক থেকে গুলি ছোঁড়া হলে পেছনের দিকে বন্দুক চালনাকারীকে ধাক্কা দিবে।
- মহাকাশযান উৎক্ষেপিত হয় নিউটনের তৃতীয় সূত্রের নীতিতে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১১.
পৃথিবী থেকে উপরে উঠলে বস্তুর ওজন- 
  1. স্থির থাকে
  2. বাড়ে
  3. কমে
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
- কোন বস্তুকে পৃথিবী তার কেন্দ্রের দিকে যে বলে আকর্ষণ করে, তাকে ঐ বস্তুর ওজন বলে। 
- পৃথিবী থেকে যতই উপরে উঠা যায় বস্তুর ওজন ততই কমতে থাকে। 
- এরূপে চাঁদে কোন বস্তুর ওজন পৃথিবীতে ঐ বস্তুর ওজনের ছয় ভাগের এক ভাগ (১/৬) হয়। 
অর্থাৎ, পৃথিবীতে কোন বস্তুর ওজন ৬০ নিউটন হলে চাঁদে ঐ জিনিসের ওজন ১০ নিউটন হবে। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
১২.
সেকেন্ড দোলকের দোলনকাল কত?
  1. ২ সেকেন্ড
  2. ১ সেকেন্ড
  3. ৫ সেকেন্ড
  4. ১০ সেকেন্ড
ব্যাখ্যা

সরল দোলক:
- একটি ভারী আয়তনহীন বস্তুকণাকে একটি ওজনহীন, নমনীয় ও অপ্রসারণশীল সুতা দিয়ে ঝুলিয়ে দিলে এটি যদি ঘর্ষণ এড়িয়ে স্বাধীনভাবে একটি উল্লম্ব তলে দুলতে পারে তবে তাকে সরল দোলক বলে।

সরল দোলন গতি:
- যদি কোনো বস্তুর ত্বরণ একটি নির্দিষ্ট বিন্দু থেকে এর সরণের সমানুপাতিক এবং সর্বদা ঐ বিন্দু অভিমুখী হয়, তাহলে বস্তুর ঐ গতিকে সরল দোলন গতি বলে।

সেকেন্ড দোলক:
- যে দোলকের দোলনকাল দুই সেকেন্ড অর্থাৎ, দোলকের এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে যেতে এক সেকেন্ড সময় লাগে তাকে সেকেন্ড দোলক বলে

কার্যকরী দৈর্ঘ্য:
- ঝুলন বিন্দু থেকে ববের ভারকেন্দ্র পর্যন্ত দূরত্বকে সরল দোলকের কার্যকরী দৈর্ঘ্য বলে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (শাহজাহান তপন)।

১৩.
বিভবশক্তি কিসের উপর নির্ভর করে?
  1. বল
  2. অভিকর্ষজ ত্বরণ
  3. বস্তুর বেগ
  4. উচ্চতা
ব্যাখ্যা
• বিভবশক্তি নির্ভর করে উচ্চতার উপর।

• বিভবশক্তি:

- বিভবশক্তিকে স্থিতিশক্তিও বলা হয়।
- বিভবশক্তি হচ্ছে বস্তুর স্থিতিজনিত শক্তি।
- কোন বস্তু তার অবস্থা বা অবস্থানে স্থিতিশীল থাকার ফলে যে শক্তি প্রাপ্ত হয় তাই বস্তুটির বিভশক্তির পরিমাপক।
- আবার বস্তুও বিভিন্ন অংশের পরিবর্তনের ফলে বস্তু যে শক্তি প্রাপ্ত হয় তাই হচ্ছে বস্তুর বিভব শক্তি।
- যেমন পানির ট্যাংকে রক্ষিত পানি এবং দেয়ালে ঝুলানো ছবি যে শক্তি প্রাপ্ত হয় তাই হচ্ছে এদের বিভবশক্তি।
- বিভবশক্তি যান্ত্রিক শক্তির একটি রূপ।
- বস্তু কর্তৃক সম্পন্ন কাজ বা বিভবশক্তি,
Ep = বল × সরণ (উচ্চতা)
⇒ Ep = mgh

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৪.
একটি পেন্ডুলাম ঘড়ি বিষুবরেখা থেকে মেরুতে নিলে ঘড়িটি- 
  1. স্লো হবে
  2. ফাস্ট হবে
  3. ঠিক সময় দেবে
  4. কোনো রকম প্রভাবিত হবে না
ব্যাখ্যা
- একটি ভারী আয়তনহীন বস্তুকণাকে ওজনহীন, নমনীয় এবং অপ্রসারণশীল সুতা দিয়ে ঝুলিয়ে দিলে এটি যদি ঘর্ষণ এড়িয়ে স্বাধীনভাবে দুলতে পারে তবে তাকে সরল দোলক বলে। 
- কৌণিক বিস্তার অল্প হলে-
সরল দোলকের দোলনকাল, T = 2π √(L/g). 
এখানে, t = দোলনকাল, L = কার্যকরী দৈর্ঘ্য (সূতার দৈর্ঘ্য+দোলকপিন্ডের ব্যাসার্ধ), g = অভিকর্ষজ ত্বরণ। 

উপরের সূত্র মতে আমরা পাই, 
১. সরল দোলকের দোলনকাল কাযকরী দৈর্ঘ্য ও অভিকর্ষজ ত্বরণের উপর নির্ভরশীল। 
২. একটি সরল দোলককে পৃথিবীর কেন্দ্রে নিলে তার দোলনকাল অসীম হবে, কারণ পৃথিবীর কেন্দ্রে অভিকর্ষজ ত্বরণের মান শূন্য। এক্ষেত্রে দোলকঘড়ি চলবে না। 
৩. গ্রীষ্মকালে দোলকঘড়ি ধিরে চলে। কারণ, অধিক তাপমাত্রার জন্য দোলকের কার্যকরী দৈর্ঘ্য বাড়ে, ফলে দোলককাল বাড়ে এবং ঘড়ি ধিরে চলে। 
৪. শীতকালে দোলকঘড়ি দ্রুত চলে। কারণ, কম তাপমাত্রায় দোলকের কার্যকরী দৈর্ঘ্য কমে, ফলে দোলককাল কমে এবং ঘড়ি দ্রুত চলে। 
৫. দোলকঘড়ি বিষুবরেখা হতে মেরু অঞ্চলে নিলে ঘড়ি দ্রুত চলবে। কারণ, বিষুবরেখার চেয়ে মেরু অঞ্চলে অভিকর্ষজ ত্বরণের মান বেশি। ফলে দোলনকাল কমবে এবং ঘড়ি দ্রুত চলবে। 
৬. দোলককে পাহাড়ের উপর নিয়ে গেলে অভিকর্ষজ ত্বরণের মান কম বলে দোলনকাল বাড়বে। 
৭. কোন সরল দোলকের কার্যকরী দৈর্ঘ্য ৯ গুণ বাড়লে দোলনকাল ৩ গুণ বাড়বে, আর মাধ্যাকর্ষণ জনিত ত্বরণ ৯ গুণ বাড়লে দোলনকাল ৩ গুণ কমবে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
১৫.
বস্তুর ওজন কোথায় শূন্য? 
  1. পৃথিবীর কেন্দ্রে
  2. পাহাড়ের উপরে
  3. মেরু অঞ্চলে
  4. বিষুবীয় অঞ্চলে
ব্যাখ্যা
- একটি বস্তু যে পরিমাণ বল দ্বারা পৃথিবীর কেন্দ্রের দিকে আকৃষ্ট হয় তাকে তার ওজন বলে। 
- কোন বস্তুর ওজন অভিকর্ষজ ত্বরণের ওপর নির্ভরশীল। 
- যে স্থানে অভিকর্ষজ ত্বরণের মান বেশি, সে স্থানে বস্তুর ওজনও বেশি হয়। 
- বস্তুর ওজন মেরু অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি। 
- মেরু অঞ্চলে অভিকর্ষজ ত্বরণের মান বিষুব অঞ্চলের চেয়ে বেশি তাই মেরু অঞ্চলে বস্তুর ওজনও বেশি। 
- আবার পৃথিবীর কেন্দ্রে অভিকর্ষজ ত্বরণের মান শূন্য হওয়ায় বস্তুর ওজন শূন্য। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
১৬.
নির্দিষ্ট দূরত্বে যদি দুটি বস্তু কণার ভরের গুণফল দ্বিগুণ হয়, তাহলে আকর্ষণ বল কী হবে? 
  1. দ্বিগুণ হবে
  2. অর্ধেক হবে
  3. চারগুণ হবে
  4. অপরিবর্তিত থাকবে
ব্যাখ্যা
মহাকর্ষ: 
- মানুষ লাফ দিয়ে উপরের দিকে উঠতে চাইলে বেশি দূর উঠতে পারে না, আবার ভূপৃষ্ঠে ফিরে আসে কারণ পৃথিবী তাদেরকে তার নিজের দিকে টানে বা আকর্ষণ করে। 
- মহাবিশ্বের প্রত্যেকটি বস্তুকণা পরস্পরকে আকর্ষণ করে, এই আকর্ষণ বলকে মহাকর্ষ বল বলে। এই ঘটনাকে (Phenomenon) বলে মহাকর্ষ। 
- পৃথিবী সকল বস্তুকে তার নিজের দিকে টানে। শুধু পৃথিবী নয়, এ মহাবিশ্বের সকল বস্তুকণাই একে অপরকে নিজের দিকে আকর্ষণ করে। 
- এ বিশ্বের যেকোনো দুটি বস্তুর মধ্যে যে আকর্ষণ বল তাই মহাকর্ষ বল। 

নিউটনের মহাকর্ষ সূত্র ও মহাকর্ষ বল: 
- দুটি বস্তুকণার মধ্যকার এ আকর্ষণ বলের মান শুধু কণাদ্বয়ের ভর এবং এদের মধ্যকার দূরত্বের উপর নির্ভর করে, এদের প্রকৃতি কিংবা মাধ্যমের প্রকৃতির উপর নির্ভর করে না। 
- বস্তু কণাদ্বয়ের ভর বেশি হলে আকর্ষণ বলও বেশি হয় আর তাদের মধ্যে দূরত্ব বেশি হলে বল কম হয়। 
- এ আকর্ষণ সম্পর্কে নিউটনের একটি সূত্র আছে যা নিউটনের মহাকর্ষ সূত্র নামে পরিচিত। 
সূত্র: "মহাবিশ্বের প্রতিটি বস্তুকণা একে অপরকে নিজের দিকে আকর্ষণ করে। এ আকর্ষণ বলের মান বস্তুকণাদ্বয়ের ভরের গুণফলের সমানুপাতিক এবং এদের দূরত্বের বর্গের ব্যস্তানুপাতিক এবং এ বল বস্তুকণাদ্বয়ের সংযোজক সরলরেখা বরাবর ক্রিয়া করে"। 
ধরা যাক, m1 এবং m2 ভরের দুটি বস্তু কণা পরস্পর থেকে d দূরত্বে অবস্থিত। এদের মধ্যকার আকর্ষণ বল F হলে, মহাকর্ষ সূত্রানুসারে, 

F = G(m1m2)/d2
এখানে, G একটি সমানুপাতিক ধ্রুবক, একে সর্বজনীন মহাকর্ষীয় ধ্রুবক বলে। 
অর্থাৎ, দুটি এক কিলোগ্রাম ভরের বস্তু এক মিটার দূরত্বে স্থাপন করলে এরা পরস্পরকে যে বলে আকর্ষণ করে, তার মান সংখ্যাগতভাবে G এর মানের সমান। 
- মহাকর্ষ সূত্রানুসারে দেখা যায়, নির্দিষ্ট দূরত্বে অবস্থিত দুটি বস্তু কণাদ্বয়ের বস্তুর ভরের গুণফল দ্বিগুণ হলে বল দ্বিগুণ হবে, ভরের গুণফল তিনগুণ হলে বল তিনগুণ হবে। 
- আর নির্দিষ্ট ভরের দুটি বস্তু কণার মধ্যবর্তী দূরত্ব দ্বিগুণ করলে বল পূর্বের এক-চতুর্থাংশ হবে, দূরত্ব তিনগুণ করলে বল পূর্বের নয় ভাগের এক ভাগ হবে। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
১৭.
কোন স্থানে মধ্যাকর্ষণজনিত ত্বরণ ৪ গুণ বাড়লে সেখানে একটি সরল দোলকের দোলনকাল কতগুণ বাড়বে বা কমবে?
  1. ২ গুণ কমবে
  2. ২ গুণ বাড়বে
  3. ৪ গুণ কমবে
  4. ৪ গুণ বাড়বে
ব্যাখ্যা
• সরল দোলক:
- সরল দোলক: একটি ভারী আয়তনহীন বস্তু কণাকে ওজনহীন, নমনীয় ও অপ্রসারণশীল সুতা দিয়ে ঝুলিয়ে দিলে এটি যদি ঘর্ষণ এড়িয়ে স্বাধীনভাবে একটি উলম্ব তলে দুলতে পারে তবে তাকে - সরল দোলক বলে।
- দোলনকাল (T) মধ্যাকর্ষণজনিত ত্বরণ (g)  এর বর্গমূলের ব্যস্তানুপাতে পরিবর্তিত হয়।
• T = 2π√(L/g)

- সুতরাং, মধ্যাকর্ষণজনিত ত্বরণ ৪ গুণ বাড়লে সেখানে একটি সরল দোলকের দোলনকাল ২ গুণ কমবে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, একাদশ- দ্বাদশ শ্রেণি।
১৮.
স্থির অবস্থা থেকে মুক্তভাবে পড়ন্ত বস্তুর প্রাপ্ত বেগ কিসের সমানুপাতিক? 
  1. সময়ের
  2. ভরের
  3. উচ্চতার
  4. দূরত্বের
ব্যাখ্যা
পড়ন্ত বস্তুর সূত্র (Laws of Falling Bodies): 
- সমত্বরণের একটি পরিচিত উদাহরণ হচ্ছে মাধ্যাকর্ষণজনিত ত্বরণ g, যার প্রভাবে যেকোনো বস্তু উপর থেকে ছেড়ে দিলে এটি ক্রমাগত ত্বরান্বিত বেগে নিচের দিকে নামতে থাকে। 
- এ ধরনের পড়ন্ত বস্তু দেখে গ্যালিলিও তিনটি সূত্র বের করেন। 
- সূত্রগুলো স্থির অবস্থা থেকে মুক্তভাবে পড়তে থাকা বস্তুর বেলায় ব্যবহার করা যায়। 
সূত্রগুলো হচ্ছে: 
প্রথম সূত্র: স্থির অবস্থান ও একই উচ্চতা থেকে বিনা বাধায় পড়ন্ত বস্তু সমান সময়ে সমান পথ অতিক্রম করবে। 
দ্বিতীয় সূত্র: স্থির অবস্থান থেকে বিনা বাধায় পড়ন্ত বস্তুর নির্দিষ্ট সময়ে (t) প্রাপ্ত বেগ (v) ঐ সময়ের সমানুপাতিক
অর্থাৎ, v ∝ t  । 
তৃতীয় সূত্র: স্থির অবস্থান থেকে বিনা বাধায় পড়ন্ত বস্তু নির্দিষ্ট সময়ে যে দূরত্ব (h) অতিক্রম করে তা ঐ সময়ের (t) বর্গের সমানুপাতিক।
অর্থাৎ, h ∝ t2  । 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১৯.
অভিকর্ষজ ত্বরণ কী কারণে ঘটে? 
  1. তড়িৎ বলের কারণে
  2. অভিকর্ষ বলের কারণে
  3. চৌম্বক বলের কারণে
  4. নিউট্রন বলের কারণে
ব্যাখ্যা
অভিকর্ষজ ত্বরণ: 
- বল প্রয়োগ করলে কোনো বস্তুর বেগের পরিবর্তন হয়। 
- সময়ের সাথে যে হারে বেগ বৃদ্ধি পায় তাকে ত্বরণ বলে। 
- অভিকর্ষ বলের প্রভাবেও বস্তুর ত্বরণ হয়, এ ত্বরণকে অভিকর্ষজ ত্বরণ বা মাধ্যাকর্ষণজনিত ত্বরণ বলা হয়। 
- যেহেতু বেগ বৃদ্ধির হারকে ত্বরণ বলে, সুতরাং অভিকর্ষ বলের প্রভাবে কোনো স্থানে মুক্তভাবে পড়ন্ত কোনো বস্তুর বেগ বৃদ্ধির হারকে অভিকর্ষজ ত্বরণ বলে। 
- অভিকর্ষজ ত্বরণকে g দ্বারা প্রকাশ করা হয়। 
- যেহেতু অভিকর্ষজ ত্বরণ এক প্রকার ত্বরণ, সুতরাং এর একক হবে ত্বরণের একক অর্থাৎ মিটার/সেকেন্ড । 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
২০.
নিউটনের কোন সূত্র বলের পরিমাণ (momentum) সম্পর্কে ধারণা দেয়? 
  1. প্রথম সূত্র
  2. দ্বিতীয় সূত্র
  3. তৃতীয় সূত্র
  4. কোনোটি নয় 
ব্যাখ্যা

নিউটনের প্রথম সূত্র (ইনর্শিয়ার সূত্র):
- কোন বস্তুর উপর যদি বাহ্যিক বল প্রয়োগ না করা হয়, তবে বস্তুটি তার বিশ্রাম অবস্থায় থাকবে বা সমত্ব বেগে সরলরেখায় চলতে থাকবে।
অর্থাৎ, এটি শুধুমাত্র গতিশীলতার ধারণা দেয়, কিন্তু সরাসরি বল ও পরিমাণের সম্পর্ক দেয় না।

নিউটনের দ্বিতীয় সূত্র (F = ma):

- কোনো বস্তুর ভরবেগের পরিবর্তনের হার তার উপর প্রযুক্ত বলের সমানুপাতিক এবং বল যেদিকে ক্রিয়া করে, ভরবেগের পরিবর্তনও সেদিকেই ঘটে।
- এই সূত্রটি গাণিতিকভাবে  F = ma দ্বারা প্রকাশ করা হয়, যেখানে F হল প্রযুক্ত বল, m হল বস্তুর ভর এবং a হল ত্বরণ।
- তাই, পরিমাণ বা momentum-এর পরিবর্তনের ধারাবাহিকতা ব্যাখ্যা করে নিউটনের দ্বিতীয় সূত্র।

নিউটনের তৃতীয় সূত্র:
- প্রতিটি ক্রিয়ার জন্য সমান ও বিপরীত প্রতিক্রিয়া থাকে।
অর্থাৎ, এটি বলের জোড়ার সম্পর্ক দেখায়, কিন্তু একক বস্তুতে পরিমাণ পরিবর্তনের ধারণা সরাসরি দেয় না।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২১.
ঘড়ির কাটার গতি কোন ধরণের গতি?
  1. রৈখিক গতি
  2. উপবৃত্তাকার গতি
  3. পর্যায়বৃত্তগতি
  4. স্পন্দন গতি
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা:

- ঘড়ির কাটার গতি পর্যায়বৃত্তগতি

পর্যায়বৃত্তগতি:

- কোন গতিশীল বস্তুর গতি যদি এমন হয় যে, এটি এর গতিপথের নির্দিষ্ট বিন্দুকে নির্দিষ্ট সময় পর পর একই দিক থেকে অতিক্রম করে তবে সেই গতিকে পর্যায়বৃত্তগতি বলে। যেমন: ঘড়ির কাটার গতি, বৈদ্যুতিক পাখার গতি ইত্যাদি

উপবৃত্তাকার গতি:

- উপবৃত্তাকার গতি এমন এক ধরণের গতি যেখানে কোন বস্তু একটি উপবৃত্তাকার পথ অনুসরণ করে ঘুরে , যা একটি আদর্শ বৃত্তের চেয়ে চ্যাপ্টা হয় এবং এটি মুলত পর্যায়বৃত্তগতির একটি উদাহরন।

রৈখিক গতি:

- সরলরেখা বরাবর একমাত্রিক গতিকে রৈখিক গতি বলে

স্পন্দন গতি:

- পর্যায়বৃত্ত গতিসম্পন্ন কোন বস্তু যদি পর্যায়কালের অর্ধেক সময় কোন নির্দিষ্ট দিকে এবং বাকি অর্ধেক সময় একই পথে তার বিপরীত দিকে চলে তবে এর গতিকে স্পন্দন গতি বলে।

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, নবম- দশম শ্রেণি

২২.
কোনো স্থানে মাধ্যাকর্ষণজনিত ত্বরণ ৯ গুণ বাড়লে সেখানে একটি সরল দোলকের দোলনকাল কতগুণ বাড়বে বা কমবে? 
  1. ৩ গুণ কমবে
  2. ৩ গুণ বাড়বে
  3. ৯ গুণ বাড়বে
  4. ৯ গুণ কমবে
ব্যাখ্যা
সরল দোলক: 
- একটি ভারী আয়তনহীন বস্তু কণাকে ওজনহীন, নমনীয় ও অপ্রসারণশীল সুতা দিয়ে ঝুলিয়ে দিলে এটি যদি ঘর্ষণ এড়িয়ে স্বাধীনভাবে একটি উলম্ব তলে দুলতে পারে তবে তাকে সরল দোলক বলে। 
- দোলনকাল মধ্যাকর্ষণজনিত ত্বরণ এর বর্গমূলের ব্যস্তানুপাতে পরিবর্তিত হয়। 
সরল দোলকের দোলনকাল, T = 2π √(L/g).
এখানে, t= দোলনকাল, L= কার্যকরী দৈর্ঘ্য (সূতার দৈর্ঘ্য+দোলকপিন্ডের ব্যাসার্ধ), g= অভিকর্ষজ ত্বরণ।

সুতরাং, মধ্যাকর্ষণজনিত ত্বরণ ৯ গুণ বাড়লে সেখানে একটি সরল দোলকের দোলনকাল ৩ গুণ কমবে
২৩.
আপনি বাসে চড়ে কুমিল্লা থেকে চট্টগ্রাম গেলেন। আপনার গতিটি কেমন হবে?
  1. সরল রৈখিক
  2. ঘূর্ণন গতি
  3. বক্র রৈখিক গতি
  4. কোন গতি নাই
ব্যাখ্যা
• গতির প্রকারভেদ (Types of motion):
- সময়ের পরিবর্তনের সাথে পারিপার্শ্বিকের সাপেক্ষে বস্তুর অবস্থান পরিবর্তন হলো গতি।
- কিন্তু এই অবস্থান পরিবর্তনের ধরন সব ক্ষেত্রে এক নয়।
- বস্তু বা ব্যক্তি কখনও সোজা পথে, কখনও আঁকা বাঁকা পথে, কখনও ঘোরা পথে চলে।
- কখনও একই জায়গায় থেকে ঘুরতে বা দুলতে থাকে।
- এসব আলাদা আলাদা ধরন বা বৈশিষ্ট্যের জন্য গতিকে বিভিন্ন নামে অভিহিত করা হয়।

• সরল রৈখিক গতি:
- মসৃণ মেঝের উপর গড়িয়ে দেওয়া মার্বেলের গতি, উপর থেকে ছেড়ে দেওয়া বস্তুর পৃথিবীর আকর্ষণে মাটিতে পড়ার গতি- রৈখিক গতি।
- অর্থাৎ যখন কোন বস্তু সরল রেখা বরাবর চলে তখন বস্তুর ঐ গতিকে সরল রৈখিক গতি বলে।

• বক্র রৈখিক গতি:
- আঁকাবাঁকা পথে হেঁটে যাওয়া, সাইকেলের গতি, রিক্সার গতি, মোটর গাড়ির গতি ইত্যাদি বক্র রৈখিক গতি।
- অর্থাৎ কোন গতিশীল বস্তুর গতিপথ যদি বাঁকা হয়, বক্র রেখা বরাবর হয় তখন বস্তুটির গতিকে বক্র রৈখিক গতি বলে।
- তাহলে "আপনি বাসে চড়ে কুমিল্লা থেকে চট্টগ্রাম গেলেন" - এ গতিটি বক্র রৈখিক গতি।

ঘূর্ণন গতি:
- চলন্ত সাইকেল বা রিক্সার চাকার গতি, বৈদ্যুতিক পাখার গতি, পৃথিবীর নিজ অক্ষে আবর্তনের গতি, লাটিমের গতি ইত্যাদি ঘূর্ণন গতি।
- অর্থাৎ কোন বিন্দু বা অক্ষকে কেন্দ্র করে যখন কোন বস্তু ঘুরতে থাকে তাতে বস্তুটির যে গতি হয় তাকে ঘূর্ণন গতি বলে।

সূত্র: পদার্থ বিজ্ঞান, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৪.
নিউটনের মহাকর্ষ সূত্র অনুযায়ী, দুটি বস্তুর মধ্যকার দূরত্ব দ্বিগুণ হলে আকর্ষণ বল কত গুণ হবে?
  1. ২ গুণ
  2. ৪ গুণ
  3. ১/২ গুণ
  4. ১/৪ গুণ
ব্যাখ্যা

◉ দূরত্ব দ্বিগুণ করা হলে, মহাকর্ষ বল ১/৪ গুণ হবে। 

মহাকর্ষ বল: 
- মহাবিশ্বের যেকোন দুইটি বস্তুর মধ্যকার আকর্ষণ বলকে মহাকর্ষ বল বলে।

নিউটনের মহাকর্ষ সূত্র: 
- দুইটি বস্তুর মধ্যকার আকর্ষণ বল বস্তু দুইটির ভরের গুণফলের সমানুপাতিক।
- মধ্যবর্তী দূরত্বের বর্গের ব্যস্তানুপাতিক।


অর্থাৎ, মধ্যবর্তী দূরত্ব বাড়লে বল কমে যায়। দূরত্ব দ্বিগুণ করা হলে বল পূর্বের ১/৪ হবে।

উৎস: উচ্চ মধ্যমিকের পদার্থবিজ্ঞান বই।

২৫.
নিউটনের তৃতীয় গতিসূত্রের উদাহরণ কোনটি?
  1. একজন মাঝির নৌকা চালানো
  2. চলন্ত বাস হঠাৎ ব্রেক করলে যাত্রীরা সামনের দিকে ঝুঁকে পড়ে
  3. থেমে থাকা বাস হঠাৎ চলতে শুরু করলে যাত্রীরা সবাই পেছনের দিকে হেলে পড়েন
  4. বস্তু নির্দিষ্ট উচ্চতা থেকে পড়ে তখন মহাকর্ষ বলের কারণে ত্বরণ বেড়ে যায়
ব্যাখ্যা
• নিউটনের প্রথম সূত্র:
- বল প্রয়োগ না করলে স্থির বস্তু স্থির থাকবে এবং সমবেগে চলতে থাকা বস্তু সমবেগে চলতে থাকবে।
- উদাহরণ: চলন্ত বাস হঠাৎ ব্রেক করলে যাত্রীরা সামনের দিকে ঝুঁকে পড়ে।
- থেমে থাকা বাস হঠাৎ চলতে শুরু করলে যাত্রীরা সবাই পেছনের দিকে হেলে পড়েন।

• নিউটনের দ্বিতীয় সূত্র:
- বস্তুর ভরবেগের পরিবর্তনের হার তার উপর প্রযুক্ত বলের সমানুপাতিক এবং যেদিকে বল প্রয়োগ করা হয় ভরবেগের পরিবর্তনও ঘটে সেদিকে।
- উদাহরণ: কোনো বস্তু নির্দিষ্ট উচ্চতা থেকে পড়ে তখন মহাকর্ষ বলের কারণে ত্বরণ বেড়ে যায়।

• নিউটনের তৃতীয় সূত্র:
- যখন একটি বস্তু অন্য একটি বস্তুর ওপর বল প্রয়োগ করে, তখন সেই বস্তুটিও প্রথম বস্তুটির ওপর বিপরীত দিকে সমান বল প্রয়োগ করে।
- উদাহরণ: বন্দুক থেকে গুলি ছোঁড়া হলে পেছনের দিকে বন্দুক চালনাকারীকে ধাক্কা দিবে।
- একজন মাঝি নৌকা চালানোর সময় নিউটনের তৃতীয় সূত্র প্রয়োগ করে।
- মহাকাশযান উৎক্ষেপিত হয় নিউটনের তৃতীয় সূত্রের নীতিতে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২৬.
How fast should an intercontinental ballistic missile be launched to leave Earth permanently?
  1. 11.2 kmh- 1
  2. 11.2 ms- 1
  3. 1.2 Kms- 1
  4. 9.8 ms- 2
  5. 11.2 Kms- 1
ব্যাখ্যা
• আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক মিসাইলকে (ICBM) ১১.২ Kms-1 বেগে উৎক্ষেপণ করা হলে তা আর পৃথিবীতে ফিরে আসবে না। 

• মুক্তি বেগ:
- সর্বাপেক্ষা কম যে বেগে কোনো বস্তুকে ওপরের দিকে নিক্ষেপ করলে তা আর পৃথিবীতে ফিরে আসে না সেই বেগকে মুক্তিবেগ (Escape velocity) বলা হয়।

• মুক্তি বেগ বা তার বেশি বেগে কোন বস্তুকে নিক্ষেপ করা হলে সেটি আর পৃথিবীতে ফিরে না এসে পৃথিবীর চারদিকে প্রদক্ষিন করতে থাকে।
- মুক্তি বেগের মান হলো ১১.২ কি.মি./সেকেন্ড বা ১১.২ Kms-1
- আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক মিসাইল (ICBM) কে মুক্তি বেগে উৎক্ষেপণ করা হলে সেটি পৃথিবীর অভিকর্ষকে অতিক্রম করে চলে যাবে , ফলে সেটি আর ফেরত আসবে না। 

• সাধারণত আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক মিসাইল (ICBM) এর গতিবেগ হয় প্রতি সেকেন্ডে ৬ থেকে ৯ কিলোমিটার। 
- মুক্তিবেগ থেকে এই বেগ কম হওয়ায় তা আবার ভূপৃষ্ঠে ফিরে আসে।
- কিন্তু তা ১১.২ কিলোমিটার/সেকেন্ড বা তার বেশি বেগ প্রাপ্ত হলে পৃথিবীতে আর ফিরে আসবে না। 

তথ্যসূত্র:
- ব্রিটানিকা।
- পদার্থবিজ্ঞান ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৭.
এভারেস্ট শৃঙ্গে মহাকর্ষজ ত্বরণ g-এর মান আনুমানিক কত?
  1. 9.75 m/s2
  2. 9.83 m/s2
  3. 9.77 m/s2
  4. 9.91 m/s2
ব্যাখ্যা
[পৃথিবীর পৃষ্ঠ থেকে উচ্চতা বাড়ার সাথে সাথে g-এর মান সামান্য কমে যায়। এভারেস্ট শৃঙ্গের উচ্চতা প্রায় ৮৮৪৯ মিটার, ফলে সেখানে এ-এর মান 9.77 m/s² এর কাছাকাছি হয়। উল্লেখ্য যে, বোর্ড বই অনুসারে এভারেষ্ট শৃঙ্গে g-এর মান 9.81 m/s2, যেহেতু অপশনে  9.81 m/s2 নেই তাই ব্রিটানিকা ও অন্যান্য উৎস অনুসারে 9.77 m/s² কে সঠিক উত্তর বলে বিবেচনা করা হয়েছে]

• অভিকর্ষ:

- পৃথিবী পৃষ্ঠের উপর বা পৃষ্ঠ সংলগ্ন কোনো বস্তু এবং পৃথিবীর মধ্যে যে মহাকর্ষ বল ক্রিয়াশীল তাকে অভিকর্ষ বলে।
• অভিকর্ষজ ত্বরণ:
- অভিকর্ষ বলের প্রভাবে মুক্তভাবে ভূ-পৃষ্ঠে পড়ন্ত বস্তুর ত্বরণ বা বেগ বৃদ্ধির হারকে অভিকর্ষজ ত্বরণ বলে। একে g দ্বারা প্রকাশ করা হয়।
• অভিকর্ষজ ত্বরণ g-এর মান:
- বিষুব রেখা বরাবর g-এর মান সর্ব নিম্ন প্রায় 9.78 m/s², মেরু বিন্দুতে সর্বোচ্চ 9.83 m/s²।
- এভারেষ্ট শৃঙ্গে g-এর মান 9.81 m/s2 ও সমুদ্র সমতলে প্রাপ্ত 9.75 m/s²।
- ভূ-পৃষ্ঠে বিভিন্ন স্থানে g-এর মান বিভিন্ন বলে 45° অক্ষাংশে সমুদ্র সমতলে ৪-এর মানকে আদর্শ ধরা হয়। এই মান হচ্ছে 9.80665 m/s²।
- হিসাবের সুবিধার্থে আদর্শমান ধরা হয় 9.81 m/s2

উৎস: পদার্থ ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।9.81 m/s2
২৮.
কোনটি মিথ্যা?
  1. ক) অভিকর্ষ হলো বস্তুর উপর কেন্দ্রমুখী বল
  2. খ) মাধ্যাকর্ষণ শক্তির ধারণা আবিষ্কার করেন বিজ্ঞানী নিউটন
  3. গ) অভিকর্ষ বা মাধ্যাকর্ষণ বলের কারণে পৃথিবীর ঘূর্ণনকালীন সময়ে আমরা ছিটকে পড়ি না
  4. ঘ) গ্রহ ও নক্ষত্রের মধ্যকার যে আকর্ষণ তা অভিকর্ষ
ব্যাখ্যা
পৃথিবী ও যেকোন বস্তুর মধ্যে যে আকর্ষণ তা অভিকর্ষ বা মাধ্যাকর্ষণ।
১. অভিকর্ষও এক ধরনের মহাকর্ষ।
২. অভিকর্ষ বল কোন বস্তুকে পৃথিবীর কেন্দ্রের দিকে আকর্ষণ করে।
৩. অভিকর্ষ হলো বস্তুর উপর কেন্দ্রমুখী বল।
৪. মাধ্যাকর্ষণ শক্তির ধারণা আবিষ্কার করেন বিজ্ঞানী নিউটন।
৫. অভিকর্ষ বা মাধ্যাকর্ষণ বলের কারণে পৃথিবীর ঘূর্ণনকালীন সময়ে আমরা ছিটকে পড়ি না।
মহাবিশ্বের যেকোনো দুটি বস্তুর মধ্যে যে আকর্ষণ তাকে মহাকর্ষ বলে।
১. সূর্য ও চন্দ্রের মধ্যে যে আকর্ষণ তা মহাকর্ষ।
২. গ্রহ ও নক্ষত্রের মধ্যকার আকর্ষণও মহাকর্ষ।
উৎসঃ পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২৯.
গ্রহের গতি সংক্রান্ত কেপলারের সূত্র কয়টি?
  1. ক) ২ টি
  2. খ) ৩ টি
  3. গ) ৪ টি
  4. ঘ) ৫ টি
ব্যাখ্যা

বিখ্যাত জার্মান জ্যোতির্বিজ্ঞানী ইয়োহানেস কেপলার গ্রহের গতির তিনটি সূত্র দিয়েছিলেন:
১। প্রতিটি গ্রহ সূর্যকে ফোকাসে রেখে নির্দিষ্ট উপবৃত্তাকার কক্ষপথে পরিভ্রমণ করে । যাকে উপবৃত্তের সূত্র বলা হয় ।
২। সূর্য এবং গ্রহের সংযোগকারী রেখা গ্রহের আবর্তনের সাথে সাথে সমান সময়ে সমান ক্ষেত্রফল অতিক্রম করে। যাকে ক্ষেত্রফলের সূত্র বলা হয় ।
৩। একটি গ্রহের কক্ষীয় পর্যায়কালের বর্গ তার কক্ষপথের পরাক্ষের ঘনফলের সমানুপাতিক। যাকে পর্যায়কালের সূত্র বলা হয় ।
সূত্র: ''Kepler's Laws of Planetary Motion''

৩০.
আদর্শ স্প্রিং-এর বিকৃতি প্রতিরোধী বল কোন শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত?
  1. সান্দ্র বল
  2. ঘর্ষণজাত বল
  3. সংরক্ষণশীল বল
  4. অসংরক্ষণশীল বল
ব্যাখ্যা

- আদর্শ স্প্রিং-এর বিকৃতি প্রতিরোধী বল বা প্রত্যায়নী বলকে সংরক্ষণশীল বল বলা হয়। কারণ, এই বল দ্বারা কাজ শুধুমাত্র বস্তুর আদি ও শেষ অবস্থানের ওপর নির্ভর করে, কোন পথে নেওয়া হয়েছে তার ওপর নয়; একটি পূর্ণচক্রে (যেখান থেকে শুরু সেখানেই ফিরে আসলে) এই বল দ্বারা কৃত কাজের পরিমাণ শূন্য হয় এবং যান্ত্রিক শক্তি সংরক্ষিত থাকে এবং স্প্রিংকে সংকুচিত বা প্রসারিত করতে যে কাজ করা হয়, তা বিভব শক্তি হিসেবে জমা থাকে এবং পরে তা পুনরুদ্ধার করা সম্ভব। 

সংরক্ষণশীল বল: 
- কোনো বস্তু বা কণার উপর যে বল দ্বারা কৃত মোট কাজের পরিমাণ শূন্য হয় তাকে সংরক্ষণশীল বল বলা হয়। 
- বস্তু বা কণার উপর সংরক্ষণশীল বল ক্রিয়াশীল হলে বস্তুটিকে বিভিন্ন পথে ঘুরিয়ে একটি পূর্ণচক্র সমাপ্ত করে এবং আগের অবস্থানে ফিরিয়ে আনে। 
উদাহরণ- অভিকর্ষজ বল, বৈদ্যুতিক বল, চৌম্বক বল, আদর্শ স্প্রিং-এর বিকৃতি প্রতিরোধী বল ইত্যাদি। 

অসংরক্ষণশীল বল: 
- কোনো বস্তু বা কণার উপর যে বল দ্বারা কৃত মোট কাজের পরিমাণ শূন্য হয় না তাকে অসংরক্ষণশীল বল বলা হয়। 
- বস্তু বা কণার উপর অসংরক্ষণশীল বল ক্রিয়াশীল হলে বস্তুটিকে বিভিন্ন পথে ঘুরিয়ে একটি পূর্ণচক্র সমাপ্ত করে এবং আগের অবস্থানে ফিরিয়ে আনলেও মোট কাজ শূন্য হয় না। 
উদাহরণ- ঘর্ষণ বল, সান্দ্র বল ইত্যাদি। 

উৎস: পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩১.
যে সংঘর্ষে ভরবেগ সংরক্ষিত হয়, কিন্তু গতিশক্তি সংরক্ষিত হয় না, তাকে কী বলে?
  1. আংশিক সংঘর্ষ
  2. স্থিতিস্থাপক সংঘর্ষ
  3. সম্পূর্ণ সংঘর্ষ
  4. অস্থিতিস্থাপক সংঘর্ষ
ব্যাখ্যা
• সংঘর্ষ:
- সংঘর্ষ হলো একটি প্রক্রিয়া, যেখানে অতি অল্প সময়ের জন্য বৃহৎ কোনো বল ক্রিয়া করে বস্তুর গতির হঠাৎ ও ব্যাপক পরিবর্তন ঘটায়।
- সাধারণত সংঘর্ষের সময় বস্তুর গতিশক্তি সংরক্ষিত হয় কিনা, তার ওপর ভিত্তি করে সংঘর্ষকে দুটি ভাগে বিভক্ত করা হয়। যথা:

• অস্থিতিস্থাপক সংঘর্ষ:
- যে সংঘর্ষে ভরবেগ সংরক্ষিত হয়, কিন্তু গতিশক্তি সংরক্ষিত হয় না, তাকে অস্থিতিস্থাপক সংঘর্ষ বলা হয়।
- একটি রাবারের বল যদি দৃঢ় পাটাতনে আঘাত করে, তবে বলটির আকার বিকৃত হয় এবং এর গতিশক্তি হ্রাস পায়।
- এই কারণেই রাবারের বলের সাথে পাটাতনের সংঘর্ষটি অস্থিতিস্থাপক।
- যদি সংঘর্ষের পরে অংশগ্রহণকারী দুটি বস্তু একত্রে যুক্ত হয়ে একই বেগে চলতে থাকে, তবে সেটি পূর্ণভাবে অস্থিতিস্থাপক সংঘর্ষ বলে বিবেচিত হয়।

• উদাহরণ:

- যখন একটি গুলি লক্ষ্যবস্তুকে আঘাত করে এবং লক্ষ্যবস্তুর ভেতরে ঢুকে পড়ে, তখন গুলি ও লক্ষ্যবস্তুর সংঘর্ষ অস্থিতিস্থাপক সংঘর্ষ হয়।

• স্থিতিস্থাপক সংঘর্ষ:
- যে সংঘর্ষে ভরবেগ ও গতিশক্তি উভয়ই সংরক্ষিত থাকে, তাকে স্থিতিস্থাপক সংঘর্ষ বলে।উৎস: পদার্থ ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

উৎস: পদার্থ ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩২.
নিউটনের “Principia Mathematica” কোন ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনে?
  1. গ্রহ ও চন্দ্রের গতিবিধি নির্ধারণের গাণিতিক পদ্ধতি
  2. আলোর বেগ ও রঙের প্রকৃতি বিশ্লেষণ
  3. গতিশক্তি ও মহাকর্ষের তত্ত্ব সংজ্ঞায়িত করা এবং গণিতের মাধ্যমে প্রকাশ
  4. বৈদ্যুতিক ও চুম্বকীয় ক্ষেত্রের প্রাথমিক সূত্র
ব্যাখ্যা

• স্যার আইজ্যাক নিউটন ও তাঁর গ্রন্থ “Principia Mathematica” (১৬৮৭):
- স্যার আইজ্যাক নিউটন ১৬৮৭ সালে তার গ্রন্থ “Philosophiae Naturalis Principia Mathematica” প্রকাশ করেন। সংক্ষেপে এটিকে Principia Mathematica বলা হয়।
- এই গ্রন্থে তিনি পদার্থবিজ্ঞানের মৌলিক সূত্র এবং গণিতের মাধ্যমে প্রাকৃতিক ঘটনাগুলোর বিশ্লেষণ উপস্থাপন করেন।

• নিউটনের তিনটি মৌলিক গতিসূত্র (Laws of Motion):
- এই গ্রন্থে নিউটন তিনটি মৌলিক গতিসূত্র প্রবর্তন করেন:

- জড় বস্তু স্থির থাকে বা সমান গতিতে সরলরেখায় চলে যতক্ষণ বাহ্যিক শক্তি প্রয়োগ হয় না।
- বাহ্যিক বল বস্তুতে এর ভর ও ত্বরণের সঙ্গে সমানুপাতিক।
- প্রতিটি ক্রিয়ার বিপরীত ও সমান প্রতিক্রিয়া থাকে।

- এরপর তিনি মহাকর্ষের সূত্র প্রণয়ন করেন, যা বলে যে পৃথিবীর সব বস্তু একে অপরকে আকর্ষণ করে। এই সূত্র ব্যবহার করে তিনি গ্রহগুলোর কক্ষপথ গণনা করেন এবং সৌরজগতের গতিবিধির ব্যাখ্যা দেন।

উৎস: Encyclopaedia Britannica.

৩৩.
দুটি বস্তুর মধ্যে দূরত্ব বৃদ্ধি পেলে মহাকর্ষ বলের মান কী হবে? 
  1. বৃদ্ধি পাবে 
  2. কমে যাবে 
  3. অপরিবর্তিত থাকবে 
  4. প্রথমে বৃদ্ধি পাবে পরে কমবে 
ব্যাখ্যা

মহাকর্ষ: 
- লাফ দিয়ে উপরের দিকে উঠতে চাইলে বেশি দূর উঠা যায় না, আবার ভূপৃষ্ঠে ফিরে আসে; এমনকি গাছের ফল মাটিতে পড়ে বা ক্রিকেট বলকে উপরের দিকে ছুড়ে দিলে মাটিতে পড়ে কারণ পৃথিবী সবকিছুকে তার নিজের দিকে টানে বা আকর্ষণ করে। 
অর্থাৎ, পৃথিবী সকল বস্তুকে তার নিজের দিকে টানে। 
- শুধু পৃথিবী নয়, এ মহাবিশ্বের সকল বস্তুকণাই একে অপরকে নিজের দিকে আকর্ষণ করে। 
- এ বিশ্বের যেকোনো দুটি বস্তুর মধ্যে যে আকর্ষণ বল তাই মহাকর্ষ বল। 

নিউটনের মহাকর্ষ সূত্র: 
- দুটি বস্তুকণার মধ্যকার এ আকর্ষণ বলের মান শুধু কণাদ্বয়ের ভর এবং এদের মধ্যকার দূরত্বের উপর নির্ভর করে। 
- এদের প্রকৃতি কিংবা মাধ্যমের প্রকৃতির উপর নির্ভর করে না। 
- বস্তু কণাদ্বয়ের ভর বেশি হলে আকর্ষণ বলও বেশি হয় আর তাদের মধ্যে দূরত্ব বেশি হলে বল কম হয়। 
- এ আকর্ষণ সম্পর্কে নিউটনের একটি সূত্র আছে যা নিউটনের মহাকর্ষ সূত্র নামে পরিচিত। 
সূত্র: 
- মহাবিশ্বের প্রতিটি বস্তুকণা একে অপরকে নিজের দিকে আকর্ষণ করে। এ আকর্ষণ বলের মান বস্তুকণাদ্বয়ের ভরের গুণফলের সমানুপাতিক এবং এদের দূরত্বের বর্গের ব্যস্তানুপাতিক এবং এ বল বস্তুকণাদ্বয়ের সংযোজক সরলরেখা বরাবর ক্রিয়া করে। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।

৩৪.
দুইটি বস্তুর মধ্যবর্তী দূরত্ব দ্বিগুণ করা হলে আকর্ষণ বল পূর্বের কতগুণ হবে?
  1. অর্ধেক
  2. এক-চতুর্থাংশ
  3. দ্বিগুণ
  4. চারগুণ
ব্যাখ্যা
• দূরত্ব দ্বিগুণ করা হলে, মহাকর্ষ বল এক-চতুর্থাংশ।

• মহাকর্ষ বল:

- মহাবিশ্বের যেকোন দুইটি বস্তুর মধ্যকার আকর্ষণ বলকে মহাকর্ষ বল বলে।

• নিউটনের মহাকর্ষ সূত্র:
দুইটি বস্তুর মধ্যাকার আকর্ষণ বল বস্তু দুইটির ভরের গুণফলের সমানুপাতিক এবং মধ্যবর্তী দূরত্বের বর্গের ব্যস্তানুপাতিক।


নিউটনের সূত্রানুযায়ী,
১. মধ্যাকার আকর্ষণ বল ভরের গুণফলের সমানুপাতিক। অর্থাৎ,
F ∝ m1m2
∴ ভর বাড়লে বল বাড়বে।
উভয় বস্তুর ভর যদি দ্বিগুণ করা হয় তাহলে বল চারগুণ হবে এবং ভর যদি তিনগুণ করা হয় তাহলে বল নয়গুণ হবে।

২. আকর্ষণ বল মধ্যবর্তী দূরত্বের বর্গের ব্যস্থানুপাতিক। 
∴ F ∝ 1/d2
অর্থাৎ দূরত্ব বাড়লে বল কমে।
দূরত্ব যদি দ্বিগুণ করা হয় তাহলে বল পূর্বের ১/৪ গুণ হবে এবং দূরত্ব যদি তিনগুণ করা হয় তাহলএ বল পূর্বের ১/৯ গুণ হবে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, শাহাজাহান তপন।
৩৫.
'চলন্ত বাস হঠাৎ ব্রেক করলে যাত্রীরা সামনের দিকে ঝুঁকে পড়া' নিউটনের গতির কোন সূত্র দ্বারা ব্যাখ্যা করা যায়? 
  1. প্রথম সূত্র 
  2. দ্বিতীয় সূত্র 
  3. তৃতীয় সূত্র 
  4. চতুর্থ সূত্র 
ব্যাখ্যা

নিউটনের প্রথম সূত্র: 
- বাহ্যিক বল প্রয়োগ না করলে স্থির বস্তু চিরকাল স্থির থাকবে এবং গতিশীল বস্তু সুষম দ্রুতিতে সরলপথে চলতে থাকবে। 
উদাহরণ: চলন্ত বাস হঠাৎ ব্রেক করলে যাত্রীরা সামনের দিকে ঝুঁকে পড়ে। 

নিউটনের দ্বিতীয় সূত্র: 
- বস্তুর ভরবেগের পরিবর্তনের হার তার উপর প্রযুক্ত বলের সমানুপাতিক এবং বল যেদিকে ক্রিয়া করে বস্তুর ভরবেগের পরিবর্তনও সেদিকে ঘটে। 

নিউটনের তৃতীয় সূত্র: 
- প্রত্যেক ক্রিয়ারই একটি সমান ও বিপরীত্মুখী প্রতিক্রিয়া থাকে। অর্থাৎ, যখন একটি বস্তু অন্য একটি বস্তুর ওপর বল প্রয়ােগ করে, তখন সেই বস্তুটিও প্রথম বস্তুটির ওপর বিপরীত দিকে সমান বল প্রয়ােগ করে। 
উদাহরণ- 
- বন্দুক থেকে গুলি ছোঁড়া হলে পেছনের দিকে বন্দুক চালনাকারীকে ধাক্কা দিবে। 
- মহাকাশযান উৎক্ষেপিত হয় নিউটনের তৃতীয় সূত্রের নীতিতে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৩৬.
চাঁদে কোন বস্তুর ওজন ৩০ কেজি হলে, পৃথিবীতে ঐ বস্তুর ওজন কত কেজি হবে?
  1. ৫ কেজি
  2. ৯০ কেজি 
  3.  ১৮০ কেজি 
  4. ২১০ কেজি
ব্যাখ্যা

• চাঁদে কোনো বস্তুর ওজন পৃথিবীর তুলনায় প্রায় ছয় ভাগের এক ভাগ হয়, কারণ চাঁদের অভিকর্ষজ ত্বরণ পৃথিবীর তুলনায় অনেক কম। যদি চাঁদে কোনো বস্তুর ওজন ৩০ কেজি হয়, তবে পৃথিবীতে সেই একই বস্তুর ওজন হবে প্রায় ৬ গুণ বেশি। অর্থাৎ, পৃথিবীতে বস্তুর ওজন = ৩০ × ৬ = ১৮০ কেজি। তাই সঠিক উত্তর হলো (গ) ১৮০ কেজি। এই পার্থক্যের মূল কারণ হলো, অভিকর্ষ বল বস্তুর ভর এবং গ্রহের অভিকর্ষজ ত্বরণের ওপর নির্ভর করে, যা চাঁদে তুলনামূলকভাবে দুর্বল।
- তবে এখানে, ওজনের একক হিসেবে নিউটন দেয়া উচিত ছিল, ভরের একক হচ্ছে - কেজি। 

- স্থানভেদে কোনো বস্তুর ভরের কোনো পরিবর্তন হয় না। 
অর্থাৎ, পৃথিবীতে কোনো বস্তুর ভর ১২০ কেজি হলে চাঁদে ঐ বস্তুর ভর হবে ১২০ কেজি। 
- কিন্তু স্থানভেদে কোনো বস্তুর ওজনের তারতম্য হতে পারে। 

আমরা জানি, 
- ওজন= ভর x অভিকর্ষজ ত্বরণ 
- পৃথিবীতে গড় অভিকর্ষজ ত্বরণ ধরা হয় ৯.৮ মি/সেকেন্ড। 
- তাহলে পৃথিবীতে কোনো বস্তুর ওজন ৯.৮ নিউটন হলে তার ভর হবে ১ কেজি। 
- সুতরাং চাঁদেও সেই বস্তুর ভর হবে ১ কেজি। 

- কিন্তু চাঁদের অভিকর্ষজ ত্বরণ পৃথিবীর তুলনায় প্রায় ৬ ভাগের ১ ভাগ। 
- অর্থাৎ, পৃথিবী পৃষ্ঠে কোন বস্তুর ওজন ১২০ কেজি হলে চাঁদে ঐ বস্তুর ওজন হবে ২০ কেজি।

উৎস: মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি [২০১৯ সংস্করণ]।

৩৭.
বিষুবীয় অঞ্চল থেকে মেরু অঞ্চলের দিকে গেলে বস্তুর ওজনের কী পরিবর্তন হয়? 
  1. ওজন শূন্য হয়
  2. ওজন কমে
  3. ওজন বাড়ে
  4. ওজন অপরিবর্তিত থাকে
ব্যাখ্যা
পৃথিবীর আকৃতির কারণে বিভিন্ন স্থানে বস্তুর ওজনের পার্থক্য: 
- পৃথিবীর আকৃতি সম্পূর্ণ গোলক না হওয়ায়, পৃথিবীর কেন্দ্র থেকে বিভিন্ন স্থানের দূরত্ব সমান নয়। 
- যেহেতু অভিকর্ষজ ত্বরণের (g) মান পৃথিবীর কেন্দ্র থেকে দূরত্বের ওপর নির্ভরশীল, তাই পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে g-এর মান ভিন্ন হয়। 
- পৃথিবীর বিষুবীয় অঞ্চলে কেন্দ্র থেকে ভূপৃষ্ঠের দূরত্ব সবচেয়ে বেশি হওয়ায় এখানে g-এর মান সর্বনিম্ন (প্রায় ৯.৭৮ মি/সেকেন্ড), তাই বিষুবীয় অঞ্চলে কোনো বস্তুর ওজন সবচেয়ে কম হয়। 
- বিষুবীয় অঞ্চল থেকে মেরু অঞ্চলের দিকে যত এগিয়ে যাওয়া হয়, ততই কেন্দ্র থেকে দূরত্ব কমে এবং g-এর মান বৃদ্ধি পায় (প্রায় ৯.৮৩ মি/সেকেন্ড), ফলে বস্তুর ওজনও বাড়ে। 
- মেরু অঞ্চলে পৃথিবীর কেন্দ্র থেকে দূরত্ব সর্বনিম্ন হওয়ায় g-এর মান সর্বোচ্চ এবং তাই বস্তুর ওজনও সর্বোচ্চ হয়। 
- এছাড়াও পৃথিবীর কেন্দ্রের মধ্যভাগে অভিকর্ষজ ত্বরণ শূন্য হওয়ায় সেখানে বস্তুর ওজন শূন্য হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
৩৮.
নিউটনের প্রথম গতিসূত্র কী নির্দেশ করে?
  1. জড়তার ধারণা
  2. বল ও ভরের সম্পর্ক
  3. ভরবেগের সংরক্ষণ
  4. ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া
ব্যাখ্যা

• জড়তার ধারণা — নিউটনের প্রথম গতিসূত্র মূলত বস্তুর জড়তার ধারণা প্রদান করে।

• নিউটনের প্রথম গতিসূত্র:
- বাহ্যিক বল প্রয়োগ না করলে স্থির বস্তু স্থিরই থাকবে।
- বাহ্যিক বল প্রয়োগ না করলে গতিশীল বস্তু সমবেগে সরলরেখায় চলতে থাকবে।
- কোনো বস্তু তার বর্তমান অবস্থা পরিবর্তন করতে চায় না। বস্তুর এই স্বাভাবিক প্রবণতাকে জড়তা বলা হয়।

• জড়তা:
- জড়তা বস্তুর একটি ধর্ম।
- জড়তার কারণে স্থির বস্তু স্থির থাকতে চায়।
- জড়তার কারণে গতিশীল বস্তু সমবেগে চলতে চায়।
- জড়তার পরিমাণ বস্তুর ভরের উপর নির্ভর করে।
- ভর যত বেশি, জড়তা তত বেশি।

• নিউটনের প্রথম সূত্র ও জড়তার সম্পর্ক:
- প্রথম গতিসূত্রকে জড়তার সূত্রও বলা হয়।
- বাহ্যিক বল না থাকলে বস্তুর অবস্থা অপরিবর্তিত থাকে।
- এই সূত্র থেকেই জড়তার ধারণা প্রতিষ্ঠিত হয়।

• অন্যান্য অপশন:
- বল ও ভরের সম্পর্ক → নিউটনের দ্বিতীয় গতিসূত্রে বল, ভর ও ত্বরণের সম্পর্ক নির্ধারিত হয়।
- ভরবেগের সংরক্ষণ → ভরবেগ সংরক্ষণ নীতি আলাদা নীতি, যা সংঘর্ষ ইত্যাদিতে প্রযোজ্য।
- ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া → নিউটনের তৃতীয় গতিসূত্র অনুযায়ী প্রত্যেক ক্রিয়ার বিপরীতে সমান ও বিপরীত প্রতিক্রিয়া থাকে।

উৎস:
1) পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়,
2) Science Expert, Live Publications.

৩৯.
What does Newton’s second law of motion state?
  1. Gravitational force effect
  2. Action-reaction principle
  3. Inertia of matter
  4. The principle of conservation of energy
  5. Relationship between force, mass, and acceleration
ব্যাখ্যা

• নিউটনের গতির দ্বিতীয় সূত্রটি মূলত বল, ভর এবং ত্বরণের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন করে।

• নিউটনের প্রথম সূত্র:
- "বল প্রয়োগ না করলে স্থির বস্তু চিরকাল স্থির থাকবে এবং সমবেগে চলতে থাকা বস্তু চিরকাল সমবেগে চলতে থাকবে।"
- এই সূত্রটি স্যার আইজ্যাক নিউটন তার "ফিলোসফিয়া ন্যাচারালিস প্রিন্সিপিয়া ম্যাথমেটিকা" (1687) গ্রন্থে প্রস্তাব করেছিলেন।
- নিউটনের প্রথম সূত্রটি "জড়তার সূত্র" (Law of Inertia) নামে পরিচিত।

• নিউটনের দ্বিতীয় সূত্র:
- এই সূত্র অনুযায়ী, কোনো বস্তুর ভরবেগের পরিবর্তনের হার তার ওপর প্রযুক্ত বলের সমানুপাতিক এবং বল যেদিকে প্রযুক্ত হয়, বস্তুর ভরবেগের পরিবর্তনও সেদিকে ঘটে।" 
- এটি থেকে আমরা বিখ্যাত গাণিতিক সমীকরণ F = ma পাই, যেখানে F হলো বল, m হলো ভর এবং a হলো ত্বরণ।

• নিউটনের তৃতীয় সূত্র:
- এই সূত্র অনুযায়ী, যখন একটি বস্তু অন্য একটি বস্তুর ওপর বল প্রয়োগ করে, তখন দ্বিতীয় বস্তুটিও প্রথম বস্তুর ওপর সমান ও বিপরীতমুখী বল প্রয়োগ করে।
- একে সংক্ষেপে 'ক্রিয়া ও প্রতিক্রিয়া' সূত্র বলা হয়। গাণিতিকভাবে একে F1 = - F2 দ্বারা প্রকাশ করা হয়, যেখানে একটি বল ক্রিয়া এবং অন্যটি প্রতিক্রিয়া।

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।

৪০.
বৈদ্যুতিক পাখার গতি এক ধরনের -
  1. স্পন্দন গতি
  2. রৈখিক গতি
  3. পর্যায়বৃত্ত গতি
  4. উপবৃত্তাকার গতি
ব্যাখ্যা
পর্যাবৃত্ত গতি: 
- কোনো গতিশীল বস্তু যদি একই পথ বারবার অতিক্রম করে তাহলে সে গতিকে পর্যাবৃত্ত গতি বলে। 
- ঘড়ির কাঁটার গতি লক্ষ্য করলে দেখা যায়, সেকেন্ডের কাটাটি প্রতি এক মিনিটে একবার এর কেন্দ্র বিন্দুর চারদিকে ঘুরে আসে। 
- ঘড়ির কাঁটাটি বারবার একটি পথে ঘুরছে অর্থাৎ এর গতির পুনরাবৃত্তি ঘটছে। এ ধরনের গতি হলো পর্যাবৃত্ত গতি। 
- বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় চারপাক দৌড়ের একজন প্রতিযোগী একই দিক থেকে চারবার অতিক্রম করে যা একটি পর্যাবৃত্ত গতি। 
- ঘড়ির কাঁটার গতি, পাকদৌড়ের গতি, বৈদ্যুতিক পাখার গতি হলো পর্যাবৃত্ত গতি। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।
৪১.
কোনো বস্তুর ওজন পৃথিবীতে ১২০ কেজি হলে চাঁদে ঐ বস্তুর ওজন কত হবে?
  1. ১০০ কেজি
  2. ২৪০ কেজি
  3. ৪০ কেজি
  4. ২০ কেজি
ব্যাখ্যা
[লাইভ পরীক্ষার প্রশ্নে টাইপিং এর ভুল ছিল। ২০ এর পরিবর্তে ১২০ দেয়া ছিল। যেহেতু জব সল্যুশনের প্রশ্ন, তাই প্রশ্ন সংশোধন করে দেয়া হয়েছে।]

- স্থানভেদে কোনো বস্তুর ভরের কোনো পরিবর্তন হয় না। 
অর্থাৎ, পৃথিবীতে কোনো বস্তুর ভর ১২০ কেজি হলে চাঁদে ঐ বস্তুর ভর হবে ১২০ কেজি। 
- কিন্তু স্থানভেদে কোনো বস্তুর ওজনের তারতম্য হতে পারে। 
আমরা জানি, 
ওজন= ভর x অভিকর্ষজ ত্বরণ 
পৃথিবীতে গড় অভিকর্ষজ ত্বরণ ধরা হয় ৯.৮ মি/সেকেন্ড। 
তাহলে পৃথিবীতে কোনো বস্তুর ওজন ৯.৮ নিউটন হলে তার ভর হবে ১ কেজি। 
সুতরাং চাঁদেও সেই বস্তুর ভর হবে ১ কেজি। 

কিন্তু চাঁদের অভিকর্ষজ ত্বরণ পৃথিবীর তুলনায় প্রায় ৬ ভাগের ১ ভাগ। 
অর্থাৎ, পৃথিবী পৃষ্ঠে কোন বস্তুর ওজন ১২০ কেজি হলে চাঁদে ঐ বস্তুর ওজন হবে ২০ কেজি।

উৎস: মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি [২০১৯ সংস্করণ]।
৪২.
'মেসন' কোন বলের বিনিময় কণা?
  1. মহাকর্ষ বল
  2. তাড়িতচৌম্বক বল
  3. দুর্বল নিউক্লিয় বল
  4. সবল নিউক্লিয় বল
ব্যাখ্যা
- 'মেসন' সবল নিউক্লিয় বলের একটি বিনিময় কণা। 

মৌলিক বল: 

- যে সকল বল মূল বা স্বাধীন অর্থাৎ যে সকল বল অন্য কোনো বল থেকে উৎপন্ন হয় না বরং অন্যান্য বল এ সকল বলের কোনো না কোনো রূপের প্রকাশ তাদেরকে মৌলিক বল বলে। 
মৌলিক বলগুলো হলো - 
১. মহাকর্ষ বল (Gravitational Force), 
২. তাড়িতচৌম্বক বল (Electromagnetic Force), 
৩. সবল নিউক্লিয় বল (Strong Nuclear Force) এবং 
৪. দুর্বল নিউক্লিয় বল (Weak Nuclear Force)। 

সবল নিউক্লিয় বল: 
- সবল নিউক্লিয় বল হচ্ছে সৃষ্টিজগতের সবচেয়ে শক্তিশালী বল। 
- এটি তড়িৎ চৌম্বক বল থেকেও একশ গুণ বেশি শক্তিশালী। কিন্তু এটা খুবই অল্প দূরত্বে (10-15m) কাজ করে। 
- পরমাণুর কেন্দ্রে যে নিউক্লিয়াস রয়েছে তার ভেতরকার প্রোটন এবং নিউট্রনের নিজেদের মাঝে এই প্রচণ্ড শক্তিশালী বল কাজ করে নিজেদের আটকে রাখে। 
- প্রচণ্ড বলে আটকে থাকার কারণে এর মাঝে অনেক শক্তি জমা থাকে। 
- তাই বড় নিউক্লিয়াসকে ভেঙে কিংবা ছোট নিউক্লিয়াসকে জোড়া দিয়ে এই বলের কারণে অনেক শক্তি তৈরি করা সম্ভব। 
- নিউক্লিয়ার বোমা সে জন্য এত শক্তিশালী। 
- সূর্য থেকে আলোর তাপও এই বল দিয়ে তৈরি হয়। 

 
উৎস: পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪৩.
ফ্যানের পাখার ঘূর্ণন কী ধরনের পর্যায়বৃত্ত গতি? 
  1. বৃত্তাকার
  2. উপবৃত্তাকার
  3. সরলরৈখিক 
  4.  অনিয়মিত 
ব্যাখ্যা

পর্যায়বৃত্ত গতি (Periodic Motion): 
- একটি নির্দিষ্ট সময় পরপর যদি গতির পুনরাবৃত্তি হয়, তবে সেই গতিকে পর্যায়বৃত্ত গতি বলা হয়।
- যে সময়কাল পরপর এই পুনরাবৃত্তি ঘটে, তাকে বলে এই গতির পর্যায়কাল।
- পর্যায়বৃত্ত গতিতে চলনশীল একটি বস্তুকণা তার গতিপথের প্রতিটি বিন্দুকে এক পর্যায়কাল পরপর একই বেগে অতিক্রম করে।
- আমাদের হৃৎপিণ্ডের স্পন্দন পর্যায়বৃত্ত কারণ হৃৎপিণ্ডটি নির্দিষ্ট সময় পরপর একইভাবে স্পন্দিত হয়।
- পর্যায়বৃত্ত গতি বৃত্তাকার (ফ্যানের পাখা), উপবৃত্তাকার (সূর্যকে ঘিরে হ্যালির ধূমকেতুর কক্ষপথ), সরলরৈখিক (স্প্রিংয়ে ঝুলিয়ে রাখা দুলতে থাকা বস্তু) কিংবা অন্য যেকোনো আকৃতির পথে হতে পারে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৪৪.
মহাকর্ষ বল কী? 
  1. পৃথিবীর নিজস্ব শক্তি 
  2. বস্তুর ভরের পরিমাণ 
  3. পৃথিবী এবং বস্তুর মধ্যকার আকর্ষণ শক্তি
  4. পৃথিবীর অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা 
ব্যাখ্যা

মহাকর্ষ বল: 
- মানুষ লাফ দিয়ে উপরের দিকে উঠতে চাইলে বেশি দূর উঠতে পারে না, আবার ভূপৃষ্ঠে ফিরে আসে কারণ পৃথিবী তাদেরকে তার নিজের দিকে টানে বা আকর্ষণ করে। 
- মহাবিশ্বের প্রত্যেকটি বস্তুকণা পরস্পরকে আকর্ষণ করে, এই আকর্ষণ বলকে মহাকর্ষ বল বলে। এই ঘটনাকে (Phenomenon) বলে মহাকর্ষ। 
- পৃথিবী সকল বস্তুকে তার নিজের দিকে টানে। শুধু পৃথিবী নয়, এ মহাবিশ্বের সকল বস্তুকণাই একে অপরকে নিজের দিকে আকর্ষণ করে। 
- এই বিশ্বের যেকোনো দুটি বস্তুর মধ্যে যে আকর্ষণ বল তাই মহাকর্ষ বল। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।

৪৫.
প্রকৃতিতে কয় ধরনের মৌলিক বল আছে?
ব্যাখ্যা

• প্রকৃতিতে ৪ ধরনের মৌলিক বল আছে।

• বল: 
- যা স্থির বস্তুর উপর ক্রিয়া করে তাকে গতিশীল করে বা করতে চায় অথবা যা গতিশীল বস্তুর উপর ক্রিয়া করে তার গতির পরিবর্তন করে বা করতে চায় তাকে বল বলে। 
- বল সবসময় জোড়ায় জোড়ায় ক্রিয়া করে। 
- প্রকৃতিতে চার ধরনের মৌলিক বল আছে। 
যথা:- মহাকর্ষ বল, তড়িৎ চৌম্বক বা বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় বল, দুর্বল নিউক্লীয় বল এবং সবল নিউক্লীয় বল।

১। মহাকর্ষ বল: 
- এই সৃষ্টিজগতের সকলবস্তু তাদের ভরের কারণে একে অপরকে যে বল দিয়ে আকর্ষণ করে, সেটাই হচ্ছে মহাকর্ষ বল। 
- এই বলের কারণে গ্যালাক্সির ভেতরে নক্ষত্ররা ঘুরপাক খায় কিংবা সূর্যকে ঘিরে পৃথিবী ঘোরে, পৃথিবীকে ঘিরে চাঁদ ঘোরে। 
- পৃথিবীর মহাকর্ষ বল যখন আমাদের ওপর কাজ করে, তখন তাকে মধ্যাকর্ষণ বল বলে। 
- এই মধ্যাকর্ষণ বল আমাদেরকে নিচের দিকে (পৃথিবীর কেন্দ্রের দিকে) টেনে রেখেছে এবং এর কারণেই আমরা নিজেদের ওজনের অনুভূতি পাই। 
- ভর আছে সেরকম যেকোন বস্তু অন্য বস্তুকে মহাকর্ষ বল দিয়ে আকর্ষণ করে। 

২. তড়িৎ চৌম্বক বা বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় বল: 
- দুটি আহিত কণা তাদের আধানের কারণে একে অপরের ওপর যে আকর্ষণ বা বিকর্ষণ বল প্রয়োগ করে তাকে তড়িৎ চৌম্বক বল বলে। 

৩। দুর্বল নিউক্লীয় বল: 
- দুর্বল নিউক্লীয় বলকে দুর্বল বলা হয় কারণ এটা তড়িৎ চৌম্বক বল থেকে দুর্বল (প্রায় ট্রিলিওন গুণ) কিন্তু মোটেও মহাকর্ষ বল থেকে দুর্বল নয়। 
- মহাকর্ষ এবং তড়িৎ চৌম্বক বল যেকোন দূরত্ব থেকে কাজ করতে পারে কিন্তু এই দুর্বল নিউক্লীয় বল খুবই অল্প দূরত্বে (১০-১৮ m) কাজ করে। 

৪। সবল নিউক্লীয় বল: 
- সবল নিউক্লীয় বল হচ্ছে সৃষ্টিজগতের সবচেয়ে শক্তিশালী বল, তড়িৎ চৌম্বকীয় বল থেকেও ১০০ গুণ বেশি শক্তিশালি কিন্তু এটাও খুবই অল্প দূরত্বে (১০-১৫ m) কাজ করে। 
- সূর্য থকে প্রাপ্ত আলো ও তাপ এই বল দিয়ে তৈরি হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৪৬.
মহাবিশ্বের মৌলিক বলসমূহের মধ্যে সবচেয়ে দুর্বল বল কোনটি?
  1. তড়িৎচুম্বকীয় বল
  2. মহাকর্ষ বল
  3. সবল নিউক্লীয় বল
  4. দুর্বল নিউক্লীয় বল
ব্যাখ্যা

মহাবিশ্বের মৌলিক বলের মধ্যে সবচেয়ে দুর্বল বলটি হলো মহাকর্ষ বল (Gravitational Force)।

• প্রকৃতিতে মাত্র চার ধরনের মৌলিক বল আছে। যথা:
- মহাকর্ষ বল, তড়িৎ চৌম্বক বা বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় বল, দুর্বল নিউক্লীয় বল এবং সবল নিউক্লীয় বল।
১। মহাকর্ষ বল:
- এই সৃষ্টিজগতের সকলবস্তু তাদের ভরের কারণে একে অপরকে যে বল দিয়ে আকর্ষণ করে, সেটাই হচ্ছে মহাকর্ষ বল।
- এই বলের কারণে গ্যালাক্সির ভেতরে নক্ষত্ররা ঘুরপাক খায় কিংবা সূর্যকে ঘিরে পৃথিবী ঘোরে, পৃথিবীকে ঘিরে চাঁদ ঘোরে।
- পৃথিবীর মহাকর্ষ বল যখন আমাদের ওপর কাজ করে, তখন তাকে মধ্যাকর্ষণ বল বলে।
এই মধ্যাকর্ষণ বল আমাদেরকে নিচের দিকে (পৃথিবীর কেন্দ্রের দিকে) টেনে রেখেছে এবং এর কারণেই আমরা নিজেদের ওজনের অনুভূতি পাই।
- ভর আছে সেরকম যেকোন বস্তু অন্য বস্তুকে মহাকর্ষ বল দিয়ে আকর্ষণ করে।

২. তড়িৎ চৌম্বক বা বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় বল:
- দুটি আহিত কণা তাদের আধানের কারণে একে অপরের ওপর যে আকর্ষণ বা বিকর্ষণ বল প্রয়োগ করে তাকে তড়িৎ চৌম্বক বল বলে।

৩। দুর্বল নিউক্লীয় বল:
- দুর্বল নিউক্লীয় বল মহাবিশ্বের চারটি মৌলিক বলের মধ্যে দ্বিতীয় দুর্বলতম বল, যা মহাকর্ষ বলের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী কিন্তু সবল নিউক্লীয় ও তড়িৎচুম্বকীয় বলের চেয়ে দুর্বল।
- মহাকর্ষ এবং তড়িৎ চৌম্বক বল যেকোন দূরত্ব থেকে কাজ করতে পারে কিন্তু এই দুর্বল নিউক্লীয় বল খুবই অল্প দূরত্বে (১০- ১৮ m) কাজ করে।

৪। সবল নিউক্লীয় বল:
- সবল নিউক্লীয় বল হচ্ছে সৃষ্টিজগতের সবচেয়ে শক্তিশালী বল, তড়িৎ চৌম্বকীয় বল থেকেও ১০০ গুণ বেশি শক্তিশালি কিন্তু এটাও খুবই অল্প দূরত্বে (১০- ১৫ m) কাজ করে।
- সূর্য থকে প্রাপ্ত আলো ও তাপ এই বল দিয়ে তৈরি হয়।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৪৭.
নিচের কোন গ্রহটি গ্রহরাজ নামে পরিচিত?
  1. শুক্র
  2. প্লুটো
  3. বুধ
  4. বৃহস্পতি
ব্যাখ্যা

বৃহস্পতি:
- সৌরজগতের বৃহত্তম গ্রহ বলে একে গ্রহরাজ বলা হয়।
- পৃথিবীর তুলনায় বৃহস্পতি প্রায় ১৩০০ জন বড়।
- সূর্য থেকে গড় দূরত্ব ৭৭ কোটি কিলোমিটার।
- বৃহস্পতির সূর্যের চারিদিকে একবার আবর্তন করতে সময় লাগে প্রায় ১২ বছর।
- বৃহস্পতির বায়ুমণ্ডলে হাইড্রোজেন, অ্যামোনিয়া, মিথেন এবং হিলিয়াম রয়েছে।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৮.
কোনটি মৌলিক বল?
  1. ক) মহাকর্ষ বল
  2. খ) তাড়িতচৌম্বক বল
  3. গ) মহাজাগতিক বল
  4. ঘ) ক ও খ উভয়ই
ব্যাখ্যা

যে সকল বল মূল বা স্বাধীন অর্থাৎ যে সকল বল অন্য কোনাে বল থেকে উৎপন্ন হয় না বা অন্য কোনাে বলের কোনাে রূপ নয় বরং অন্যান্য বল এই সকল বলের কোনাে না কোনাে রূপের প্রকাশ তাদেরকে মৌলিক বল বলে।

এই মৌলিক বলগুলাে হলাে :
১. মহাকর্ষ বল (Gravitational force)
২. তাড়িতচৌম্বক বল (Electromagnetic force)
৩. সবল নিউক্লিয় বল (Strong Nuclear force)
৪. দুর্বল নিউক্লিয় বল (Weak Nuclear force)

উৎসঃ পদার্থবিজ্ঞান, ২য় পত্র, ১১শ-১২শ শ্রেণি, ড. শাহজাহান তপন

৪৯.
সবল নিউক্লিয় বল কোথায় কাজ করে? 
  1. পরমাণুর ইলেকট্রন কক্ষপথে 
  2. পরমাণুর বাইরের স্তরে 
  3. নিউট্রন থেকে বাইরের কক্ষপথে 
  4. পরমাণুর কেন্দ্রে প্রোটন ও নিউট্রনের মধ্যে 
ব্যাখ্যা

সবল নিউক্লিয় বল: 
- সবল নিউক্লিয় বল হচ্ছে সৃষ্টিজগতের সবচেয়ে শক্তিশালী বল। 
- এটি তড়িৎ চৌম্বক বল থেকেও একশ গুণ বেশি শক্তিশালী। কিন্তু এটা খুবই অল্প দূরত্বে (10-15 m) কাজ করে। 
- পরমাণুর কেন্দ্রে যে নিউক্লিয়াস রয়েছে তার ভেতরকার প্রোটন এবং নিউট্রনের নিজেদের মাঝে এই প্রচণ্ড শক্তিশালী বল কাজ করে নিজেদের আটকে রাখে। 
- প্রচণ্ড বলে আটকে থাকার কারণে এর মাঝে অনেক শক্তি জমা থাকে। 
- তাই বড় নিউক্লিয়াসকে ভেঙে কিংবা ছোট নিউক্লিয়াসকে জোড়া দিয়ে এই বলের কারণে অনেক শক্তি তৈরি করা সম্ভব। 
- নিউক্লিয়ার বোমা সে জন্য এত শক্তিশালী। 
- সূর্য থেকে আলোর তাপও এই বল দিয়ে তৈরি হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৫০.
নিউটনের গতিসূত্রের প্রথমটি পদার্থবিজ্ঞানের কোন রাশি সম্পর্কে ধারণা দেয়?
  1. জড়তা 
  2. সরণ 
  3. ত্বরণ 
  4. ভরবেগ 
ব্যাখ্যা

নিউটনের গতিসূত্রসমূহ: 
- বিজ্ঞানী গ্যালিলিওর ধারণার উপর ভিত্তি করে স্যার আইজ্যাক নিউটন গতির সূত্রগুলো প্রতিষ্ঠা করেন। 
- ভর, গতি এবং বলের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন করে স্যার আইজাক নিউটন তিনটি সূত্র প্রকাশ করেন যা তাঁর অমর গ্রন্থ ন্যাচারালিস ফিলোসোফিয়া ম্যাথমেটিকাতে ১৬৮৭ খ্রিঃ প্রকাশিত হয়। 
- এই সূত্র তিনটি নিউটনের গতিসূত্র নামে পরিচিত। 
প্রথম সূত্র: 
- "বাহ্যিক বল প্রয়োগ না করলে স্থির বস্তু চিরকাল স্থির অবস্থায় থাকবে এবং গতিশীল বস্তু সুষম বেগে সরল পথে চলতে থাকবে”। 
অর্থাৎ, বাইরে থেকে বল ক্রিয়া না করলে (১) স্থির বস্তু স্থির থাকবে এবং (২) গতিশীল বস্তু সুষম গতিতে চলতে থাকবে। 
- নিউটনের গতির প্রথম সূত্র বস্তুর জড়তা-ধর্ম বিবৃত করে এবং বলের সংজ্ঞা প্রদান করে। 
- স্থির বস্তু সর্বদাই স্থির থাকতে চায় এবং গতিশীল বস্তু সর্বদাই গতিশীল থাকতে চাওয়ার এই প্রবণতাকে জড়তা বলা হয়। এজন্য এই সূত্রকে জড়তার সূত্রও বলা হয়। 
- যদি কোনো বস্তুর উপর বল প্রয়োগ না করা হয় তাহলে তার গতির পরিবর্তন বা স্থিতির পরিবর্তন হবে না। 
অর্থাৎ, বল প্রয়োগ না করলে বস্তুর ত্বরণ শূন্য হয়। 

দ্বিতীয় সূত্র: 
- কোন বস্তুর ভরবেগের পরিবর্তনের হার প্রযুক্ত বলের সমানুপাতিক এবং বল যে দিকে ক্রিয়া করে বস্তুর ভরবেগের পরিবর্তন সেদিকেই ঘটে। 
- যখন বস্তুর উপর বাহ্যিক লব্ধি বল প্রযুক্ত হয়। 
- নিউটনের দ্বিতীয় সূত্র হতে ভরবেগের পরিবর্তন, বলের অভিমুখ, বলের পরিমাপ, বল ও ত্বরণের মধ্যে সম্পর্ক এবং বলের একক সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। 

তৃতীয় সূত্র: 
- প্রত্যেক ক্রিয়ার একটি সমান ও বিপরীত প্রতিক্রিয়া আছে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫১.
অভিকর্ষজ ত্বরণের মান সবচেয়ে কম কোথায়?
  1. মহাসাগরে
  2. মেরুতে
  3. বিষুব অঞ্চলে
  4. পর্বত শৃঙ্গে
ব্যাখ্যা
• অভিকর্ষজ ত্বরণের মান সবচেয়ে কম বিষুব অঞ্চলে। 

• অভিকর্ষজ ত্বরণ:
- অভিকর্ষ বলের প্রভাবে মুক্তভাবে ভূ-পৃষ্টে পড়ন্ত বস্তুর ত্বরণ বা বেগ বৃদ্ধির হারকে অভিকর্ষজ ত্বরণ বলে।
 একে g অক্ষর দ্বারা প্রকাশ করা হয়।

• g এর বস্তু নিরপেক্ষ হলেও স্থান নিরপেক্ষ নয়। এর মান পৃথিবীর ব্যাসার্ধের উপর নির্ভর করে।
- ব্যাসার্ধ বেশি হলে g এর মান কম হয় এবং ব্যাসার্ধ কম হলে g এর মান বেশি হয়।

• বিষুব অঞ্চলে g  এর মান কম কারণ সেখানে পৃথিবীর ব্যাসার্ধ বেশি ।
• অপরদিকে মেরু অঞ্চলে পৃথিবীর ব্যাসার্ধ কম হওয়ার কারনে g  এর মান  সেখানে বেশি হয় যা সর্বাধিক। 
• সাধারনত g  এর গড় মান হিসেবে 9.8 ms-2 ধরা হয়। 

তথ্যসূত্র:
- পদার্থবিজ্ঞান ১ম পত্র, এইচ.এস.সি. প্রোগ্রাম; বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫২.
বলবিদ্যার সূত্র কয়টি?
  1. ক) ২
  2. খ) ৩
  3. গ) ৪
  4. ঘ) ৫
ব্যাখ্যা

নিউটনের বলবিদ্যার সূত্র তিনটি। যথা:

প্রথম সূত্র: বাইরে থেকে কোন বস্তুর উপর বল প্রয়োগ না করলে, স্থির বস্তু চিরকাল স্থির থাকবে এবং গতিশীল বস্তু চিরকাল সমবেগে সরলরেখায় বা সরল পথে চলতে থাকে।
দ্বিতীয় সূত্র: কোন বস্তুর ভরবেগের পরিবর্তনের হার প্রযুক্ত বলের সমানুপাতিক এবং বল যে দিকে ক্রিয়া করে বস্তুর ভরবেগের পরিবর্তন সেদিকেই ঘটে।
তৃতীয় সূত্র: প্রত্যেক ক্রিয়ারই সমান ও বিপরীত প্রতিক্রিয়া রয়েছে৷

উৎস: নবম-দশম শ্রেণির পদার্থবিজ্ঞান

৫৩.
কোনো তরঙ্গে কণার সর্বাধিক স্থানচ্যুতি ও বিশ্রাম অবস্থার মধ্যে দূরত্বকে কী বলে?
  1. তরঙ্গদৈর্ঘ্য
  2. বিস্তার
  3. সময়কাল
  4. ফেজ পার্থক্য
ব্যাখ্যা

• বিস্তার (Amplitude):
- মাধ্যমের কণার বিশ্রাম অবস্থান থেকে সর্বাধিক স্থানচ্যুতি পর্যন্ত দূরত্ব।
- তরঙ্গের শক্তি এবং তীব্রতা নির্ধারণ করে।
- জল ঢেউয়ের উচ্চতা, শব্দ তরঙ্গের চাপ ইত্যাদি বিস্তারের উদাহরণ।
- বিস্তার পরিবর্তন করলে তরঙ্গের শব্দ বা আলোতে তীব্রতা পরিবর্তিত হয়।

• তরঙ্গদৈর্ঘ্য (Wavelength):
- একই ফেজে থাকা দুটি বিন্দুর মধ্যে দূরত্ব (যেমন, শিখর থেকে পরবর্তী শিখর পর্যন্ত)।
- তরঙ্গদৈর্ঘ্য তরঙ্গের প্রকার (উদাহরণ: আলো, শব্দ) নির্ধারণ করে।

• সময়কাল (Time Period):
- এক সম্পূর্ণ কম্পনের জন্য প্রয়োজনীয় সময়।
- সময়কাল নির্ধারণ করে তরঙ্গের ফ্রিকোয়েন্সি।

• ফেজ পার্থক্য (Phase Difference):
- দুই বিন্দুর কম্পনের আপেক্ষিক অবস্থানের পার্থক্য।
- ফেজ পার্থক্য নির্ধারণ করে দুই তরঙ্গের সংযোজন বা বিঘ্নন।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ- শ্রেণি।

৫৪.
মধ্যাকর্ষণজনিত ত্বরণ সর্বোচ্চ-
  1. ভূপৃষ্ঠে
  2. ভূপৃষ্ঠ থেকে ১০০ মিটার গভীরে
  3. এভারেস্টের চূড়ায়
  4. ভূকেন্দ্রে
ব্যাখ্যা
• অভিকর্ষজ ত্বরণের মান:
- অভিকর্ষজ ত্বরণের মান ভূপৃষ্ঠে সর্বোচ্চ।
- ভূপৃষ্ঠ থেকে যত নিচে/উপরে যাওয়া যায় এর মান তত কমতে থাকে।
- এজন্য g এর মান পাহাড়ে বা খনির ভেতরে কম।
- মেরু অঞ্চলে g এর মান বিষুব অঞ্চলের চেয়ে বেশি।
- পৃথিবীর কেন্দ্রে এ এর মান শূন্য।

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
৫৫.
টানা তারের ক্ষেত্রে টান (T) ও একক দৈর্ঘ্যের ভর (m) অপরিবর্তিত থাকলে কম্পাঙ্ক (f) তারের দৈর্ঘ্য (l)-এর সাথে কী সম্পর্কযুক্ত?
  1. দৈর্ঘ্যের সমানুপাতিক
  2. দৈর্ঘ্যের ব্যস্তানুপাতিক
  3. দৈর্ঘ্যের বর্গের সমানুপাতিক
  4. দৈর্ঘ্যের বর্গমূলের ব্যস্তানুপাতিক
ব্যাখ্যা

• টান (T) ও একক দৈর্ঘ্যের ভর (m) অপরিবর্তিত থাকলে টানা তারের কম্পাঙ্ক তারের দৈর্ঘ্যের ব্যস্তানুপাতিক।

• টানা তারের আড় কম্পনের সূত্র:
- একটি তারকে দুই প্রান্তে দৃঢ়ভাবে বেঁধে নির্দিষ্ট বলে টান টান করে রাখা হয়।
- তারটিকে দৈর্ঘ্যের সাথে লম্বভাবে টেনে ছেড়ে দিলে আড় তরঙ্গ উৎপন্ন হয়।
- উৎপন্ন তরঙ্গ প্রান্তে প্রতিফলিত হয়ে স্থির তরঙ্গ সৃষ্টি করে।
- স্থির তরঙ্গের ফলে তারটি নির্দিষ্ট কম্পাঙ্কে কাঁপতে থাকে।
- ফরাসী বিজ্ঞানী মার্সেন ১৬৩৬ সালে টানা তারের কম্পনের সূত্রসমূহ আবিষ্কার করেন।

• দৈর্ঘ্যের সূত্র:
- কোনো কম্পমান তারের টান (T) ও একক দৈর্ঘ্যের ভর (m) অপরিবর্তিত থাকলে কম্পাঙ্ক (f) তারের দৈর্ঘ্য (l)-এর ব্যস্তানুপাতিক। অর্থাৎ, f ∝ 1 / l যখন T ও m স্থির থাকে।
- তারের দৈর্ঘ্য বৃদ্ধি পেলে কম্পাঙ্ক হ্রাস পায়।
- তারের দৈর্ঘ্য কমলে কম্পাঙ্ক বৃদ্ধি পায়। তাই ছোট তার তীক্ষ্ণ সুর এবং বড় তার গুরু সুর উৎপন্ন করে।

• টানের সূত্র:
- কোনো কম্পমান তারের দৈর্ঘ্য (l) স্থির থাকলে কম্পাঙ্ক (f) টান (T)-এর বর্গমূলের সমানুপাতিক।
অর্থাৎ, f ∝ √T যখন l ও m স্থির থাকে।

• ভরের সূত্র:
- দৈর্ঘ্য (l) ও টান (T) স্থির থাকলে কম্পাঙ্ক (f) প্রতি একক দৈর্ঘ্যের ভর (m)-এর বর্গমূলের ব্যস্তানুপাতিক।
অর্থাৎ, f ∝ 1 / √m যখন l ও T স্থির থাকে।

উপর্যুক্ত তিনটি সূত্র একত্র করে পাওয়া যায়,


উৎস:
1) পদার্থবিজ্ঞান ১ম পত্র, এইসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
2) Science Expert, Live Publications.

৫৬.
একটি সরল দোলককে পৃথিবীর কেন্দ্রে নিলে তার দোলনকাল কত হবে? 
  1. শূন্য
  2. অসীম
  3. ভূ-পৃষ্ঠ থেকে কম
  4. ভূ-পৃষ্ঠের সমান
ব্যাখ্যা
- পৃথিবীর কেন্দ্রে অভিকর্ষজ ত্বরণের মান শূন্য, তাই একটি সরল দোলককে পৃথিবীর কেন্দ্রে নিলে তার দোলনকাল অসীম হবে। 
- একটি পূর্ণ দোলন এর জন্য সরল দোলকের যে সময় লাগে তাকে দোলনকাল বলে। 
- দোলনকাল অভিকর্ষজ ত্বরণের বর্গমূলের ব্যস্তানুপাতিক। 

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৭.
নিউটনের মহাকর্ষ সূত্রে বলের মান কোন বিষয়গুলোর উপর নির্ভর করে? 
  1. মাধ্যমের ধরন ও তড়িৎ প্রবাহ
  2. কণাদ্বয়ের আয়তন ও তাপমাত্রা
  3. কণাদ্বয়ের আকার ও তাদের রঙ
  4. কণাদ্বয়ের ভর ও মধ্যবর্তী দূরত্ব
ব্যাখ্যা

মহাকর্ষ: 
- লাফ দিয়ে উপরের দিকে উঠতে চাইলে বেশি দূর উঠা যায় না, আবার ভূপৃষ্ঠে ফিরে আসে; এমনকি গাছের ফল মাটিতে পড়ে বা ক্রিকেট বলকে উপরের দিকে ছুড়ে দিলে মাটিতে পড়ে কারণ পৃথিবী সবকিছুকে তার নিজের দিকে টানে বা আকর্ষণ করে। 
অর্থাৎ, পৃথিবী সকল বস্তুকে তার নিজের দিকে টানে। 
- শুধু পৃথিবী নয়, এ মহাবিশ্বের সকল বস্তুকণাই একে অপরকে নিজের দিকে আকর্ষণ করে। 
- এ বিশ্বের যেকোনো দুটি বস্তুর মধ্যে যে আকর্ষণ বল তাই মহাকর্ষ বল। 

নিউটনের মহাকর্ষ সূত্র: 
- দুটি বস্তুকণার মধ্যকার এ আকর্ষণ বলের মান শুধু কণাদ্বয়ের ভর এবং এদের মধ্যকার দূরত্বের উপর নির্ভর করে। 
- এদের প্রকৃতি কিংবা মাধ্যমের প্রকৃতির উপর নির্ভর করে না। 
- বস্তু কণাদ্বয়ের ভর বেশি হলে আকর্ষণ বলও বেশি হয় আর তাদের মধ্যে দূরত্ব বেশি হলে বল কম হয়। 
- এ আকর্ষণ সম্পর্কে নিউটনের একটি সূত্র আছে যা নিউটনের মহাকর্ষ সূত্র নামে পরিচিত। 
সূত্র: 
- মহাবিশ্বের প্রতিটি বস্তুকণা একে অপরকে নিজের দিকে আকর্ষণ করে। এ আকর্ষণ বলের মান বস্তুকণাদ্বয়ের ভরের গুণফলের সমানুপাতিক এবং এদের দূরত্বের বর্গের ব্যস্তানুপাতিক এবং এ বল বস্তুকণাদ্বয়ের সংযোজক সরলরেখা বরাবর ক্রিয়া করে। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।

৫৮.
গ্যালিলিও কতটি সূত্র প্রস্তাব করেছেন পড়ন্ত বস্তুর জন্য?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৫টি
ব্যাখ্যা

• গ্যালিলিও গ্যালিলি পড়ন্ত বস্তুর গতির ওপর গবেষণা করেছিলেন এবং তিনি মূলত ৩টি গুরুত্বপূর্ণ সূত্র বা নীতি প্রস্তাব করেছিলেন।

• সূত্রগুলো হচ্ছে:
- প্রথম সূত্র:
- স্থির অবস্থান ও একই উচ্চতা থেকে বিনা বাধায় পড়ন্ত বস্তু সমান সময়ে সমান পথ অতিক্রম করবে।

- দ্বিতীয় সূত্র:
- স্থির অবস্থান থেকে বিনা বাধায় পড়ন্ত বস্তুর নির্দিষ্ট সময়ে (t) প্রাপ্ত বেগ (v) ঐ সময়ের সমানুপাতিক।
- অর্থাৎ v ∝ t.

- তৃতীয় সূত্র:
- স্থির অবস্থান থেকে বিনা বাধায় পড়ন্ত বস্তু নির্দিষ্ট সময়ে যে দূরত্ব (h) অতিক্রম করে তা ঐ সময়ের (t) বর্গের সমানুপাতিক।
- অর্থাৎ, h ∝ t2

তথ্যসূত্র:
- ব্রিটানিকা।

৫৯.
সূর্য ও অন্যান্য গ্রহের কৌণিক উন্নতি পরিমাপক যন্ত্রের নাম-
  1. ক) সেক্সট্যান্ট
  2. খ) হাইড্রোমিটার
  3. গ) ম্যানোমিটার
  4. ঘ) সিসমোগ্রাফ
ব্যাখ্যা
সূর্য ও অন্যান্য গ্রহের কৌণিক উন্নতি পরিমাপক যন্ত্রের নাম সেক্সট্যান্ট। হাইড্রোমিটার এর সাহায্যে তরলের আপেক্ষিক গুরুত্ব নির্ণয় করা হয়। ভূমিকম্প নির্ণায়ক যন্ত্রের নাম সিসমোগ্রাফ এবং গ্যাসের চাপ নির্ণায়ক যন্ত্রের নাম ম্যানোমিটার।
৬০.
অভিকর্ষজ ত্বরণের পরিবর্তন ঘটার কারণ-
  1. আহ্নিক গতি
  2. বার্ষিক গতি
  3. অক্ষাংশ ক্রিয়া
  4. ক ও গ উভয়ই
ব্যাখ্যা
অভিকর্ষজ ত্বরণ: অভিকর্ষ বলের প্রভাবে মুক্তভাবে পড়ন্ত বস্তুর বেগ বৃদ্ধির হারই অভিকর্ষজ ত্বরণ।
- একে (g) দ্বারা প্রকাশ করা হয়।
- এর একক ms-2 ,

• বিভিন্ন স্থানে অভিকর্ষজ ত্বরণের মান:
- ভূ-পৃষ্ঠ: 9.8 ms-2,
- পৃথিবীর কেন্দ্রে: 0 ms-2,
- মেরু অঞ্চল: 9.832 ms-2,
- বিষুবীয় অঞ্চল: 9.780 ms-2
 
• মূলত ৩ টি কারণে অভিকর্ষজ ত্বরণের পরিবর্তন ঘটে।

১. উচ্চতার ক্রিয়া,
২. অক্ষাংশ ক্রিয়া বা আকৃতি ক্রিয়া,  
৩. পৃথিবীর ঘূর্ণন ক্রিয়া বা পৃথিবীর আহ্নিক গতি ক্রিয়া।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান বই, নবম - দশম শ্রেণি। 
৬১.
"ভর ও শক্তি সমতুল্য”—কোন বিজ্ঞানীর উক্তি?
  1. নিউটন
  2. আইনস্টাইন
  3. গ্যালিলিও
  4. ফ্যারাডে
ব্যাখ্যা
ভরশক্তি সম্পর্ক:
- ভরশক্তি সম্পর্ককে E=mcসমীকরণ আকারে লেখা যায়।
- আইনস্টাইন আপেক্ষিকতার বিশেষ তত্ত্বের সাহায্যে একটি বিখ্যাত সম্পর্ক বের করেন।
- এটি হলো ভর ও শক্তির সম্পর্ক।

ভরকে শক্তিতে রূপান্তরের সম্পর্ক নিম্নোক্তভাবে লেখা যায়,
E = mc2
যেখানে,
E = মোট শক্তি,
m= বস্তুর ভর এবং
C = আলোর দ্রুতি।

- এই সমীকরণটি আইনস্টাইনের বিশেষ আপেক্ষিকতা তত্ত্বের অন্যতম ফসল যা হলো ভর শক্তির একটি রূপ । 
- "ভর ও শক্তি সমতুল্য”—উক্তিটি হচ্ছে আইনস্টাইনের।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, দ্বিতীয় পত্র; একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, ড. শাহজাহান তপন, মুহম্মদ আজিজ হাসান, ড. রানা চৌধুরী।
৬২.
রকেট চালনা করা কোন সূত্রের বাস্তব উদাহরণ?
  1. ক) আর্কিমিডিসের সূত্র
  2. খ) নিউটনের প্রথম সূত্র
  3. গ) পড়ন্ত বস্তুর সূত্র
  4. ঘ) নিউটনের তৃতীয় সূত্র
ব্যাখ্যা

রকেট চালনা করা নিউটনের তৃতীয় সূত্রের বাস্তব উদাহরণ।
নিউটনের তৃতীয় সূত্রটি হল - প্রত্যেক ক্রিয়ারই সমান ও বিপরীত প্রতিক্রিয়া রয়েছে
রকেট চালনার ক্ষেত্রে প্রচুর পরিমাণ জ্বালানিকে গ্যাসে পরিণত করা হয় এবং এই গ্যাস কে বাইরের দিকে সজোরে নিক্ষেপ করা হলে রকেট বিপরীত দিকে অর্থাৎ উপরের দিকে উৎক্ষেপিত হয়।

৬৩.
বস্তুর ওজন অপসারিত পানির ওজন থেকে কম হলে বস্তুটি পানিতে- 
  1. অর্ধেক ভেসে থাকবে
  2. ডুবে যাবে
  3. ভেসে থাকবে
  4. সম্পূর্ণ নিমজ্জিত হয়ে ভাসবে
ব্যাখ্যা
আর্কিমিডিসের সূত্র: 
- কোনো বস্তু তরল কিংবা বায়বীয় পদার্থে আংশিক বা সম্পূর্ণ নিমজ্জিত হলে, বস্তুটি কিছু পরিমাণ তরল বা বায়বীয় পদার্থ অপসারণ করে এবং বস্তুটি কিছু ওজন হারায়। 
- বস্তুর এই হারানো ওজন বস্তু দ্বারা অপসারিত তরল বা বায়বীয় পদার্থের ওজনের সমান। 

বস্তুর ভাসা ও ডোবার শর্ত: 
ধরা যাক, 
- একটি বস্তুর ওজন (বস্তুর উপর অভিকর্ষজ ত্বরণ জনিত বল) W নিউটন, বস্তুটির পানিতে ডোবালে এর উপর পানির প্লবতা (ঊর্ধ্ব চাপ জনিত বল) W1 নিউটন।  এক্ষেত্রে - 
১. W > W1 হলে, অর্থাৎ বস্তুর ওজন অপসারিত পানির ওজন থেকে বেশি হলে বস্তুটি পানিতে ডুবে যাবে। 
২. W < W1 হলে, অর্থাৎ বস্তুর ওজন অপসারিত পানির ওজন থেকে কম হলে বস্তুটি পানিতে ভেসে থাকবে। 
৩. W = W1 হলে, অর্থাৎ বস্তুর ওজন অপসারিত পানির ওজন সমান হলে বস্তুটি পানিতে ডুবে ডুবে ভাসবে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৪.
মহাবিশ্বে কার্যকর মৌলিক বলগুলোর মধ্যে দুর্বলতম কোনটি?
  1. সবল নিউক্লীয় বল
  2. দুর্বল নিউক্লীয় বল
  3. তড়িৎচুম্বকীয় বল
  4. মহাকর্ষ বল
  5. কোনটিই নয় 
ব্যাখ্যা

• মহাবিশ্বে চারটি মৌলিক বল বিদ্যমান: সবল নিউক্লীয় বল, দুর্বল নিউক্লীয় বল, তড়িৎচুম্বকীয় বল এবং মহাকর্ষ বল। এদের মধ্যে দুর্বলতম বল হলো মহাকর্ষ বল। এটি অন্যান্য বলের তুলনায় অত্যন্ত দুর্বল, কারণ এটি বড় কণার মধ্যে মাত্রই প্রভাব ফেলে এবং পারমাণবিক বা সাবপারমাণবিক স্তরে প্রায় অদৃশ্য। মহাকর্ষ বল তার ক্রিয়াশীলতা দ্বারা বৃহৎ আকারের বস্তু যেমন গ্রহ, তারা বা গ্যালাক্সিকে আকৃষ্ট করে, কিন্তু কণার স্তরে প্রভাব অত্যন্ত কম। অন্যদিকে তড়িৎচুম্বকীয় এবং নিউক্লীয় বলগুলো পারমাণবিক ও উপপারমাণবিক স্তরে শক্তিশালীভাবে কাজ করে। তাই, শক্তির দিক দিয়ে মহাবিশ্বে সবচেয়ে দুর্বল মৌলিক বল হলো মহাকর্ষ বল।

- সঠিক উত্তর: ঘ) মহাকর্ষ বল।

• প্রকৃতিতে মাত্র চার ধরনের মৌলিক বল আছে। যথা:
- মহাকর্ষ বল, তড়িৎ চৌম্বক বা বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় বল, দুর্বল নিউক্লীয় বল এবং সবল নিউক্লীয় বল।
১। মহাকর্ষ বল:
- এই সৃষ্টিজগতের সকলবস্তু তাদের ভরের কারণে একে অপরকে যে বল দিয়ে আকর্ষণ করে, সেটাই হচ্ছে মহাকর্ষ বল।
- এই বলের কারণে গ্যালাক্সির ভেতরে নক্ষত্ররা ঘুরপাক খায় কিংবা সূর্যকে ঘিরে পৃথিবী ঘোরে, পৃথিবীকে ঘিরে চাঁদ ঘোরে।
- পৃথিবীর মহাকর্ষ বল যখন আমাদের ওপর কাজ করে, তখন তাকে মধ্যাকর্ষণ বল বলে।
এই মধ্যাকর্ষণ বল আমাদেরকে নিচের দিকে (পৃথিবীর কেন্দ্রের দিকে) টেনে রেখেছে এবং এর কারণেই আমরা নিজেদের ওজনের অনুভূতি পাই।
- ভর আছে সেরকম যেকোন বস্তু অন্য বস্তুকে মহাকর্ষ বল দিয়ে আকর্ষণ করে।

২. তড়িৎ চৌম্বক বা বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় বল:
- দুটি আহিত কণা তাদের আধানের কারণে একে অপরের ওপর যে আকর্ষণ বা বিকর্ষণ বল প্রয়োগ করে তাকে তড়িৎ চৌম্বক বল বলে।

৩। দুর্বল নিউক্লীয় বল:
- দুর্বল নিউক্লীয় বল মহাবিশ্বের চারটি মৌলিক বলের মধ্যে দ্বিতীয় দুর্বলতম বল, যা মহাকর্ষ বলের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী কিন্তু সবল নিউক্লীয় ও তড়িৎচুম্বকীয় বলের চেয়ে দুর্বল।
- মহাকর্ষ এবং তড়িৎ চৌম্বক বল যেকোন দূরত্ব থেকে কাজ করতে পারে কিন্তু এই দুর্বল নিউক্লীয় বল খুবই অল্প দূরত্বে (১০- ১৮ m) কাজ করে।

৪। সবল নিউক্লীয় বল:
- সবল নিউক্লীয় বল হচ্ছে সৃষ্টিজগতের সবচেয়ে শক্তিশালী বল, তড়িৎ চৌম্বকীয় বল থেকেও ১০০ গুণ বেশি শক্তিশালি কিন্তু এটাও খুবই অল্প দূরত্বে (১০- ১৫ m) কাজ করে।
- সূর্য থকে প্রাপ্ত আলো ও তাপ এই বল দিয়ে তৈরি হয়।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৬৫.
পৃথিবীর কেন্দ্রে মধ্যাকর্ষণজনিত ত্বরণের মান কত?
  1. 9.8 m/s2
  2. 0 m/s2
  3. 1.6 m/s2
  4. - 9.8 m/s2
ব্যাখ্যা

- কোনো বস্তু যে পরিমাণ বল দ্বারা পৃথিবীর কেন্দ্রের দিকে আকর্ষিত হয় তাকে তার ওজন বলে।
- আমরা জানি, W = mg
- এখানে, g= অভিকর্ষজ ত্বরণ যার মান 9.8 ms- 2, m = বস্তুর ভর।
- অভিকর্ষজ ত্বরণের মান ভূপৃষ্ঠে সর্বোচ্চ। ভূপৃষ্ঠ থেকে যত নিচে/উপরে যাওয়া যায় এর মান তত কমতে থাকে।
- এজন্য g এর মান পাহাড়ে বা খনির ভেতরে কম।
- মেরু অঞ্চলে g এর মান বিষুব অঞ্চলের চেয়ে বেশি।
- পৃথিবীর কেন্দ্রে অভিকর্ষজ ত্বরণ g এর মান শূন্য।

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।

৬৬.
দুর্বলতম মৌলিক বল কোনটি?
  1. ক) মহাকর্ষ বল
  2. খ) তাড়িতচৌম্বক বল
  3. গ) সবল নিউক্লিয় বল
  4. ঘ) দুর্বল নিউক্লিয় বল
ব্যাখ্যা

যে সকল বল মূল বা স্বাধীন অর্থাৎ যে সকল বল অন্য কোনো বল থেকে উৎপন্ন হয় না বা অন্য কোনো বলের কোনো রূপ নয় বরং অন্যান্য বল এই সকল বলের কোনো না কোনো রূপের প্রকাশ তাদেরকে মৌলিক বল বলে।
মৌলিক বল হলো চারটি- মহাকর্ষ বল, তাড়িতচৌম্বক বল, সবল নিউক্লিয় বল, দুর্বল নিউক্লিয় বল।
ভরের কারণে মহাবিশ্বের যেকোনো দুটি বস্তুর মধ্যকার পারস্পরিক আকর্ষণ বলকে মহাকর্ষ বলে। মহাকর্ষ একটি সার্বজনীন বল৷ চারটি মৌলিক বলের মধ্যে মহাকর্ষ হলো দুর্বলতম বল।

সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি;

৬৭.
'টু এভরি অ্যাকশন দেয়ার ইজ অ্যান ইকুয়্যাল অ্যান্ড অপজিট রিয়েকশন'-এ সূত্রটি কার?
  1. আইনস্টাইন
  2. নিউটন
  3. ফ্যারাডে
  4. আর্কিমিডিস
ব্যাখ্যা
নিউটনের গতি সংক্রান্ত সূত্র: 
- বিজ্ঞানী স্যার আইজ্যাক নিউটান ১৬৮৭ খ্রিষ্টাব্দে গতি সম্পর্কে তিনটি সূত্র প্রদান করেন। 
- এই সূত্রগুলোর মধ্যে গতির মূল তথ্যগুলো নিহিত আছে। 
- এ তিনটি সূত্রকে নিউটনের গতিসূত্র বলা হয়। 
- নিউটনের গতি বিষয়ক সূত্র তিনটি: 
যেমন- 
১। প্রথম সূত্র: “বাহ্যিক বল প্রয়োগ না করলে স্থির বস্তু চিরকাল স্থির অবস্থায় থাকবে এবং গতিশীল বস্তু সুষম গতিতে সরল পথে চলতে থাকবে”। 

২। দ্বিতীয় সূত্র: কোন বস্তুর ভরবেগের পরিবর্তনের হার প্রযুক্ত বলের সমানুপাতিক এবং বল যে দিকে ক্রিয়া করে বস্তুর ভরবেগের পরিবর্তন সেদিকেই ঘটে। 

৩। তৃতীয় সূত্র: প্রত্যেক ক্রিয়ারই সমান ও বিপরীত প্রতিক্রিয়া রয়েছে (To every action there is an equal and opposite reaction)। 

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৬৮.
পদার্থ যেই অবস্থায় আছে চিরকাল সেই অবস্থায় থাকতে চাওয়ার যে প্রবণতা তাকে বলে - 
  1. বেগ
  2. জড়তা
  3. ভরবেগ
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
জড়তা: 
- পদার্থ যেই অবস্থায় আছে চিরকাল সেই অবস্থায় থাকতে চাওয়ার যেই প্রবণতা, তাকে জড়তা বলে। 
- জড়তা দুই প্রকার। 
যথা- 
১। স্থিতি জড়তা: 
- স্থির বস্তুর চিরকাল স্থির থাকতে চাওয়ার যেই ধর্ম বা প্রবণতা তাকে স্থিতি জড়তা বলে। 

২। গতি জড়তা: 
- গতিশীল বস্তুর চিরকাল স্থির থাকতে চাওয়ার যেই ধর্ম বা প্রবণতা তাকে স্থিতি জড়তা বলে। 
- গতিশীল গাড়ি হঠাৎ থেমে গেলে গাড়িতে বসা যাত্রী সামনের দিকে ঝুঁকে পড়ে বা হুমড়ি খেয়ে পড়ে। 
- গাড়ি যখন গতিশীল ছিল তখন যাত্রীর শরীরের উপরের অংশ এবং নিচের অংশ উভয়ই গতিশীল ছিল। কিন্তু গাড়ি হঠাৎ থেমে যাওয়ায় গাড়ি সংলগ্ন শরীরের নিচের অংশ সর্বপ্রথম থেমে যায় বা স্থির হয়। কিন্তু উপরের অংশ তখনও গতিশীল থাকায় তা গতিশীলই থাকতে চায়। ফলে আরোহী বা যাত্রী সামনের দিকে ঝুঁকে পরে। এটি গতি জড়তা এর উদাহরণ। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৯.
কোথায় অভিকর্ষজ ত্বরণ g-এর মান আদর্শ হিসেবে ধরা হয়?
  1. ক) বিষুব রেখা
  2. খ) মেরু বিন্দু
  3. গ) 15° অক্ষাংশে সমুদ্র সমতল
  4. ঘ) 45° অক্ষাংশে সমুদ্র সমতলে
ব্যাখ্যা
অভিকর্ষজ ত্বরণ g-এর মানঃ 
- বিষুব রেখা বরাবর g-এর মান সর্ব নিম্ন প্রায় 9.78 ms-2
- মেরু বিন্দুতে সর্বোচ্চ 9.83 ms-2 
- এভারেষ্ট শৃঙ্গে g-এর মান 9.81ms-2 
-  সমুদ্র সমতলে প্রাপ্ত g-এর মান 9.75 ms-2
- ভূ-পৃষ্ঠে বিভিন্ন স্থানে g-এর মান বিভিন্ন বলে 45° অক্ষাংশে সমুদ্র সমতলে g-এর মানকে আদর্শ ধরা হয়। 
- এই মান হচ্ছে 9.80665 ms-2 । 
- হিসাবের সুবিধার্থে আদর্শমান ধরা হয় 9.81 ms-2
 
উৎস: এইচএসসি প্রোগ্রাম; পদার্থ বিজ্ঞান ১ম পত্র; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৭০.
অভিকর্ষীয় ত্বরণ বেশি কোথায়?
  1. মেরু অঞ্চলে 
  2. বিষুব অঞ্চলে 
  3. পৃথিবীর কেন্দ্রে  
  4. মহাকাশে 
ব্যাখ্যা

বস্তুর ওজন: 
- যখন কোনো বস্তুকে বিষুবরেখা থেকে মেরুতে নেয়া হয় তখন তার ওজন বাড়তে থাকে। 
- বস্তুর ভর একটি ধ্রুব রাশি। 
- কোনো বস্তুর ওজন অভিকর্ষীয় ত্বরণের উপর নির্ভরশীল। 
- যে স্থানে অভিকর্ষীয় ত্বরণ বেশি, সে স্থানে বস্তুর ওজনও বেশি। 
- অভিকর্ষীয় ত্বরণ যে স্থানে কম বস্তুর ওজন সে স্থানে কম। 
- মেরু অঞ্চলে অভিকর্ষীয় ত্বরণ বেশি, তাই মেরু অঞ্চলে বস্তুর ওজন বেশি। 
- আবার, বিষুবীয় অঞ্চল অভিকর্ষীয় ত্বরণ কম তাই বিষুবীয় অঞ্চল বস্তুর ওজনও কম। 
- পৃথিবীর কেন্দ্রে অভিকর্ষীয় ত্বরণ শূন্য, এজন্য পৃথিবীর কেন্দ্রে বস্তুর ওজন শূন্য। 
 
উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৭১.
সেকেন্ড দোলকের দৈর্ঘ্য অভিকর্ষজ ত্বরণের - 
  1. সমানুপাতিক
  2. ব্যস্তানুপাতিক
  3. বর্গের সমানুপাতিক
  4. বর্গের ব্যস্তানুপাতিক
ব্যাখ্যা
সেকেন্ড দোলক (Second Pendulum): 
- যে সরল দোলকের দোলনকাল দুই সেকেন্ড অর্থাৎ যে দোলকের এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে যেতে এক সেকেন্ড সময় লাগে তাকে সেকেন্ড দোলক বলে। 
- সেকেন্ড দোলক ১ সেকেন্ডে একটি অর্ধদোলন সম্পন্ন করে। 

সেকেন্ড দোলকের দৈর্ঘ্য: 
- সেকেন্ড দোলকের দোলনকাল, T = 2 s 
আমরা জানি, 
সরল দোলকের দোলনকাল, T = 2π √(L/g) 
∴ সেকেন্ড দোলকের জন্য, 2 s = 2π √(L/g) 
বা, L = gs22 
সুতরাং দেখা যায় যে, সেকেন্ড দোলকের দৈর্ঘ্য অভিকর্ষজ ত্বরণের উপর নির্ভর করে। 
- সেকেন্ড দোলকের দৈর্ঘ্য অভিকর্ষজ ত্বরণের সমানুপাতিক। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. শাহজাহান তপন)।
৭২.
পড়ন্ত বস্তু সম্পর্কিত সূত্রগুলো কোন বিজ্ঞানী প্রদান করেন? 
  1. গ্যালিলিও 
  2. কেপলার 
  3. নিউটন 
  4. আইনস্টাইন
ব্যাখ্যা

পড়ন্ত বস্তুর সূত্র (Laws of Falling Bodies):
- সমত্বরণের একটি চমকপ্রদ উদাহরণ হচ্ছে মাধ্যাকর্ষণজনিত ত্বরণ g, এর প্রভাবে যেকোনাে বস্তু উপর থেকে ছেড়ে দিলে এটি গতিশীল হয়ে নিচের দিকে নামতে থাকে। 
- সূত্রগুলো একমাত্র স্থির অবস্থান থেকে বিনা বাঁধায় পড়ন্ত বস্তুর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। 
- পড়ন্ত বস্তু সম্পর্কে বিজ্ঞানী গ্যালিলিও তিনটি সূত্র প্রদান করেন। 
যেমন- 
১। প্রথম সূত্র: 
- স্থির অবস্থান ও একই উচ্চতা থেকে বিনা বাধায় পড়ন্ত বস্তু সমান সময়ে সমান পথ অতিক্রম করবে। 

২। দ্বিতীয় সূত্র: 
- স্থির অবস্থান থেকে বিনা বাধায় পড়ন্ত বস্তুর নির্দিষ্ট সময়ে (t) প্রাপ্ত বেগ (v) ঐ সময়ের সমানুপাতিক। 
অর্থাৎ, v ∝ t. 

৩। তৃতীয় সূত্র: 
- স্থির অবস্থান থেকে বিনা বাধায় পড়ন্ত বস্তু নির্দিষ্ট সময়ে যে দূরত্ব (h) অতিক্রম করে তা ঐ সময়ের (t) বর্গের সমানুপাতিক। 
অর্থাৎ, h ∝ t2

উৎস: পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭৩.
একটি m ভরের বস্তু দেয়ালে ছুড়লে v বেগে আঘাত করে, তারপর একই বেগে উল্টো দিকে ফিরে আসে। এই প্রক্রিয়ায় বস্তুটির ভরবেগের পরিবর্তন কত হবে? 
  1. 0
  2. mv
  3. 2mv
  4. mv/2
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: একটি m ভরের বস্তু দেয়ালে ছুড়লে v বেগে আঘাত করে, তারপর একই বেগে উল্টো দিকে ফিরে আসে। এই প্রক্রিয়ায় বস্তুটির ভরবেগের পরিবর্তন কত হবে? 

সমাধান: 
ছুড়ে দেওয়ার সময় ভরবেগ p = mv, 
দেয়ালে আঘাত করে ঠিক উল্টো দিকে ফিরে আসার সময় ভরবেগ হচ্ছে p' = - mv 
কাজেই ভরবেগের পরিবর্তন: 
p - p' = mv – (- mv) = 2mv 
অর্থাৎ, একটি m ভরের বস্তু দেয়ালে ছুড়লে v বেগে আঘাত করে, একই বেগে উল্টো দিকে ফিরে আসায় বস্তুটির ভরবেগের পরিবর্তন হবে: 2mv, 
-এই পরিবর্তনের জন্য টেনিস বলটার উপর দেয়ালটা খুব অল্প সময়ের জন্য বল প্রয়োগ করেছে। 
- ক্রিকেট খেলার সময় ব্যাটসম্যানরা এভাবে ব্যাট দিয়ে খুব অল্প সময়ের জন্য ক্রিকেট বলকে আঘাত করে ভরবেগের পরিবর্তন করে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৭৪.
যদি কোনো বস্তুর ওজন পৃথিবীতে ৬০ নিউটন হয়, তবে চাঁদে তা কত হবে? 
  1. ৬ নিউটন
  2. ২০ নিউটন
  3. ৩০ নিউটন
  4. ১০ নিউটন
ব্যাখ্যা
বস্তুর ওজন: 
- কোন বস্তুকে পৃথিবী তার কেন্দ্রের দিকে যে বলে আকর্ষণ করে, তাকে ঐ বস্তুর ওজন বলে। 
- পৃথিবী থেকে যতই উপরে উঠা যায় বস্তুর ওজন ততই কমতে থাকে। 
- এরূপে চাঁদে কোন বস্তুর ওজন পৃথিবীতে ঐ বস্তুর ওজনের ছয় ভাগের এক ভাগ (১/৬) হয়। 
অর্থাৎ, পৃথিবীতে কোন বস্তুর ওজন ৬০ নিউটন হলে চাঁদে ঐ জিনিসের ওজন ১০ নিউটন হবে। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
৭৫.
বলকে ভেক্টর রাশি বলা হয় কেন?
  1. এটি কেবল মানযুক্ত
  2. এটি কেবল দিকযুক্ত
  3. এটির মান ও দিক উভয়ই আছে
  4. এটি জোড়ায় জোড়ায় ক্রিয়াশীল
ব্যাখ্যা

• বল একটি ভেক্টর রাশি, কারণ এর মান ও দিক উভয়ই আছে।

• বল:
- যে বাহ্যিক কারণ বস্তুর স্থির বা গতিশীল অবস্থায় পরিবর্তন ঘটায় বা ঘটাতে চায় তাকে বল বলে।
- যে বল বস্তুকে গতিশীল করে বা গতি বাড়িয়ে দেয় তাকে ত্বরণ সৃষ্টিকারী বল বলে।
- যে বল গতিশীল বস্তুকে থামিয়ে দেয় বা বেগ কমিয়ে দেয় তাকে মন্দন সৃষ্টিকারী বল বলে।
- কোনো বস্তুকে ঠেলতে বা টানতে হলে প্রত্যক্ষ স্পর্শ প্রয়োজন, তাই এই বলকে স্পর্শ বল বলে।
- যেমন—ঘর্ষণ বল, সংঘর্ষের ফলে সৃষ্ট বল, টান বল ইত্যাদি।
- দুটি চুম্বকের বিপরীত মেরু পরস্পরকে আকর্ষণ করে এবং সমমেরু পরস্পরকে বিকর্ষণ করে, এটি অস্পর্শ বল।
- পৃথিবী তার পৃষ্ঠস্থ ও নিকটস্থ সকল বস্তুকে কেন্দ্রের দিকে আকর্ষণ করে, এ আকর্ষণ বল হচ্ছে অভিকর্ষ বা মহাকর্ষ বল।

• বলের কিছু বৈশিষ্ট্য:
- বল প্রয়োগে কোনো বস্তুর জড়তার পরিবর্তন হয় বা হওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়।
- বল সর্বদা জোড়ায় জোড়ায় ক্রিয়াশীল থাকে, অর্থাৎ প্রযুক্ত বলের বিপরীত দিকে আরেকটি বল ক্রিয়া করে, একে মিথস্ক্রিয়া বলে।
- যেমন—দড়িতে বেঁধে টানলে প্রযুক্ত বলের বিপরীত দিকে দড়িতে টান বল ক্রিয়া করে।
- বল বস্তুর বেগের পরিবর্তন ঘটায়, ফলে ত্বরণ বা মন্দন হয়।
- বল বস্তুকে বিকৃত করতে পারে বা ভৌত ধর্মের পরিবর্তন করতে পারে।
- বল একটি ভেক্টর রাশি, কারণ এর মান ও দিক উভয়ই আছে।

• অন্যান্য অপশন:
- এটি কেবল মানযুক্ত → স্কেলার রাশির বৈশিষ্ট্য।
- এটি জোড়ায় জোড়ায় ক্রিয়াশীল → বলের একটি বৈশিষ্ট্য, কিন্তু ভেক্টর হওয়ার কারণ নয়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭৬.
কেপলারের তৃতীয় সূত্র কী নির্দেশ করে?
  1. গ্রহের আবর্তনকাল ও তার কক্ষপথের আকারের মধ্যে সম্পর্ক
  2. গ্রহের গতি ও দূরত্বের মধ্যে সম্পর্ক
  3. গ্রহের ভর ও ঘূর্ণনের সময়ের মধ্যে সম্পর্ক
  4. সূর্য ও গ্রহের মধ্যবর্তী বলের মান
ব্যাখ্যা

• তৃতীয় সূত্র: সূর্যের চারিদিকে প্রতিটি গ্রহের আবর্তনকালের বর্গ এর কক্ষপথের অর্ধপরাক্ষের' (semi major axis) ঘনফলের সমানুপাতিক। গ্রহগুলো উপবৃত্তাকার পথে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে।

গ্রহের গতি সংক্রান্ত কেপলারের সূত্র (Kepler's Law of Planetary Motion):
- প্রাচীনকাল থেকেই বিজ্ঞানীরা সৌর জগতের সূর্য ও গ্রহগুলির গতিবিধি সম্পর্কে অনুসন্ধিৎসু ছিলেন।
- গ্রীক বিজ্ঞানী টলেমী, কোপার্নিকাস, ট্রাইকোব্রাহে প্রমুখ বিজ্ঞানীদের পরস্পর বিরোধী, জটিল এবং অস্পষ্ট তথ্যসমূহ বিশ্লেষণ করে ডেনমার্কের বিজ্ঞানী জন কেপলার সিদ্ধান্তে উপনীত হন যে, গ্রহগুলো কোনো এক বলের প্রভাবে সূর্যকে কেন্দ্র করে অবিরাম ঘুরছে।
- এ সম্পর্কে তিনি কয়েকটি সূত্র উপস্থাপন করেন।
- তার নাম অনুসারে এগুলো কেপলারের সূত্র নামে পরিচিত।

সূত্রগুলো হলো:
• প্রথম সূত্র: সূর্যকে ফোকাসে রেখে প্রতিটি গ্রহ উপবৃত্তাকার পথে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করছে।
• দ্বিতীয় সূত্র: প্রতিটি গ্রহ এমনভাবে ঘুরছে যে, সূর্য ও ঐ গ্রহের কেন্দ্র সংযোজক কাল্পনিক রেখা সমান সময়ে সমান ক্ষেত্রফল অতিক্রম করে।
• তৃতীয় সূত্র: সূর্যের চারিদিকে প্রতিটি গ্রহের আবর্তনকালের বর্গ এর কক্ষপথের অর্ধপরাক্ষের' (semi major axis) ঘনফলের সমানুপাতিক। গ্রহগুলো উপবৃত্তাকার পথে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে।

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান ১ম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭৭.
বস্তুর ভর, গতি এবং বলের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন করে গতিসূত্র প্রদান করেন কে?
  1. কোপার্নিকাস
  2. নিউটন
  3. আইনস্টাইন
  4. গ্যালিলিও
ব্যাখ্যা
• স্যার আইজ্যাক নিউটন বস্তুর ভর, গতি এবং বলের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন করে গতিসূত্র প্রদান করেন।

• নিউটনের গতিসূত্র:

- ১৬৮৭ সালে স্যার আইজ্যাক নিউটন বস্তুর ভর, গতি ও বলের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন করে তিনটি সূত্র প্রকাশ করেন।
- এই সূত্রগুলোর মধ্যে গতির মূল তথ্যগুলো নিহিত আছে।
- এ তিনটি সূত্র নিউটনের বা গতিসূত্র Newtons laws of motion নামে পরিচিত।

• প্রথম সূত্র (জড়তার সূত্র):
- বাহ্যিক বল প্রয়োগে বস্তুর অবস্থার পরিবর্তন করতে বাধ্য না করলে স্থির বস্তু চিরকাল স্থিরই থাকবে এবং গতিশীল বস্তু সমবেগে অর্থাৎ সমদ্রুতিতে সরলপথে চলতে থাকবে।

• দ্বিতীয় সূত্র:
- বস্তুর ভরবেগের পরিবর্তনের হার তার ওপর প্রযুক্ত বলের সমানুপাতিক এবং বল যেদিকে ক্রিয়া করে বস্তুর ভরবেগের পরিবর্তনও সেদিকে ঘটে।

• তৃতীয় সূত্র (ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ার সূত্র):
- প্রত্যেক ক্রিয়ারই একটা সমান ও বিপরীত প্রতিক্রিয়া আছে।

• অপশন আলোচনা:
- কোপার্নিকাস ১৫৪৩ সালে সূর্যকেন্দ্রিক সৌরজগতের ব্যাখ্যা দেন।
- গ্যালিলিও পড়ন্ত বস্তুর সূত্র আবিষ্কার করেন। তিনি টেলিস্কোপেরও আবিষ্কারক।
- আইনস্টাইন আপেক্ষিকতার সূত্র প্রদান করেন।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান বই, নবম - দশম শ্রেণি।
৭৮.
নিচের কোনটি সম্ভব নয়?
  1. আপেক্ষিক গতি
  2. ত্রিমাত্রিক গতি
  3. মহাকর্ষীয় গতি
  4. পরম গতি
ব্যাখ্যা
◉ পরমস্থিতি ও পরমগতি (Absolute Rest and Absolute Motion):
- কোনো বস্তু প্রকৃত পক্ষে স্থির না গতিশীল তা নির্ভর করে প্রসঙ্গ কাঠামোর উপর।
- প্রসঙ্গ কাঠামো যদি প্রকৃতপক্ষে স্থির হয় তবে তার সাপেক্ষে যে বস্তু স্থিতিশীল রয়েছে তাও প্রকৃত পক্ষে স্থির। এ ধরনের স্থিতিকে পরম স্থিতি বলে।
- আবার পরম স্থিতিশীল প্রসঙ্গ কাঠামোর সাপেক্ষে কোনো বস্তুর গতিকে পরম গতি বলা যায়।

- কিন্তু আপনারা জানেন এ মহাবিশ্বের কোনো বস্তুই স্থির নয় তাই পরম স্থিতিশীল প্রসঙ্গ কাঠামো পাওয়া সম্ভব নয়।
- কারণ পৃথিবী মূলত সূর্যকে কেন্দ্র করে ঘূর্ণনরত, আবার মহাকাশের অন্যান্য নক্ষত্রের সাপেক্ষে সূর্যও গতিশীল।
- তাই আপনারা যখন কোনো বস্তুকে স্থিতিশীল বা গতিশীল বলেন তা কোনো আপাত স্থিতিশীল বস্তুর সাপেক্ষে বলতে পারেন।
- সুতরাং বলা যায় যে - মহাবিশ্বের কোনো বস্তুই পরম স্থির বা পরম গতি সম্পন্ন নয়।

◉ আপেক্ষিক গতি (Relative Motion):
- একটি গতিশীল বস্তুর সাপেক্ষে অপর একটি গতিশীল বস্তুর গতিকে আপেক্ষিক গতি বলা হয়।
- যেমন- চলন্ত ট্রেনের একজন যাত্রীর কাছে ট্রেনের দরজা জানালা স্থির কিন্তু প্লাটফরমে দাঁড়িয়ে থাকা একজন লোক ট্রেনের যাত্রীসহ সবকিছুই গতিশীল দেখতে পারেন।
- আপনারা লক্ষ্য করে থাকবেন দুটি ট্রেন পরস্পর বিপরীত দিকে একে অন্যকে অতিক্রম করলে, যাত্রীর কাছে মনে হয় ট্রেনটির বেগ কমে গেছে।
- আসলে আমরা একটি ট্রেনের সাপেক্ষে অপর ট্রেনের বেগ পরিমাপ করি বলেই এমন মনে হয়।
- আপেক্ষিক বেগ পরিমাপ করার সময় যে বস্তুর সাপেক্ষে অন্য বস্তুর বেগ পরিমাপ করা হয় তার বেগ যে বস্তুর বেগ পরিমাপ করছি তা থেকে বিয়োগ করতে হয়।

◉ ত্রিমাত্রিক গতি:
- কোন বস্তু যদি কোন স্থানে (space) গতিশীল থাকে তাহলে তার গতিকে ত্রিমাত্রিক গতি বলা হয়।
- ত্রিমাত্রিক গতি বর্ণনার জন্য আমাদেরকে তিনটি অক্ষের তথা ত্রিমাত্রিক প্রসঙ্গ কাঠামোর প্রয়োজন হয়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৯.
সবল নিউক্লিয় বলের বাহক কণা কোনটি?
  1. গ্লুঅন
  2. ফোটন
  3. গ্রাভিটন 
  4. Z বোসন
ব্যাখ্যা

- সবল নিউক্লিয় বল হলো প্রকৃতির চারটি মৌলিক বলের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী বল। এই বল পরমাণুর নিউক্লিয়াসের ভেতরে প্রোটন ও নিউট্রনগুলোকে একত্রে ধরে রাখে। গ্লুঅন (Gluon) নামক ভরহীন কণা বিনিময়ের মাধ্যমে এই বলটি ক্রিয়াশীল হয়। 

মৌলিক বল: 
- যে সকল বল মূল বা স্বাধীন অর্থাৎ যে সকল বল অন্য কোনো বল থেকে উৎপন্ন হয় না বা অন্য কোনো বলের কোনো রূপ নয় বরং অন্যান্য বল এই সকল বলের কোনো না কোনো রূপের প্রকাশ তাদেরকে মৌলিক বল বলে। 
- এই মৌলিক বলগুলো হলো- 
১। মহাকর্ষ বল, 
২। তাড়িতচৌম্বক বল, 
৩। সবল নিউক্লিয় বল এবং 
৪। দুর্বল নিউক্লিয় বল। 
- সবল নিউক্লিয় বলের বাহক কণা- গ্লুঅন। 

অন্যদিকে,
- দুর্বল নিউক্লিয় বলের বাহক কণা- W এবং Z বোসন। 
- তাড়িতচৌম্বক বলের বাহক কণা- ফোটন। 
- মহাকর্ষ বলের বাহক কণা- গ্রাভিটন। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (শাহজাহান তপন)।

৮০.
ফোটনের বেগের মান কত?
  1. 3 × 106 ms-1
  2. 3 × 1016 ms-1
  3. 3 × 108 ms-1
  4. 3 × 1036 ms-1
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: গ) 3 × 108 ms-1

ফোটন (Photon):
- ফোটন কণায় তাড়িতচৌম্বক বল বিদ্যমান।
- ফোটন কণার নিশ্চল ভর শূন্য (০)।
- প্রতিটি কোয়ান্টা আকার তার বা শক্তি তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গের কম্পাংকের উপর নির্ভরশীল।
- কোয়ান্টাম তত্ত্বের মূল কথা হলো, তাড়িতচৌম্বক বিকিরণ তরঙ্গধর্মী নয়, বরং এক ধরণের কণার স্রোত, এই কণার নাম ফোটন।

ফোটন কণার ধর্মসমূহ:
১. প্রতিটি ফোটন কণাই তড়িৎ নিরপেক্ষ।
২. শূন্য মাধ্যমে প্রতিটি ফোটন কণাই আলোর বেগে (C = 3 × 108  ms-1) চলাচল করে। কোনো ঘটনাতেই ফোটনের বেগের কোনো হ্রাস বা বৃদ্ধি ঘটে না।
৩. প্রতি ফোটন দ্বারা বাহিত শক্তির পরিমাণ E = hf; এখানে f = বিবিরণের কম্পাঙ্ক, h = প্লাংকের ধ্রুবক। ফোটনের স্রোতে ফোটন কণার সংখ্যা যত বেশি হয়, বাহিত শক্তির পরিমাণও তত বেশি হয়। ফলে বিকিরণের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পায়।
৪. নিউটনীয় বলবিদ্যায় ফোটনের ভর ব্যাখ্যা করা যায় না। ফোটনের যে ভর আছে এই ধারণা বর্জনীয়। সহজে বলা যায়, ফোটনের স্থির ভর শূন্য।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮১.
পৃথিবীর কেন্দ্রে বস্তুর ওজন কেন শূন্য হয়?
  1. কারণ বস্তুতে ভর নেই 
  2. কারণ সেখানে তাপ শূন্য 
  3. কারণ অভিকর্ষজ ত্বরণের মান শূন্য
  4. কারণ বস্তুর আকার পরিবর্তিত হয় 
ব্যাখ্যা

বস্তুর ওজন: 
- একটি বস্তু যে পরিমাণ বল দ্বারা পৃথিবীর কেন্দ্রের দিকে আকৃষ্ট হয় তাকে তার ওজন বলে। 
- কোন বস্তুর ওজন অভিকর্ষজ ত্বরণের ওপর নির্ভরশীল। 
- যে স্থানে অভিকর্ষজ ত্বরণের মান বেশি, সে স্থানে বস্তুর ওজনও বেশি হয়। 
- বস্তুর ওজন মেরু অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি। 
- মেরু অঞ্চলে অভিকর্ষজ ত্বরণের মান বিষুব অঞ্চলের চেয়ে বেশি তাই মেরু অঞ্চলে বস্তুর ওজনও বেশি। 
- পৃথিবীর কেন্দ্রে অভিকর্ষজ ত্বরণের মান শূন্য হওয়ায় বস্তুর ওজন শূন্য। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।

৮২.
নিউটনের তৃতীয় গতিসূত্রের উদাহরণ নয় কোনটি?
  1. ক) মহাকাশযান উৎক্ষেপণ
  2. খ) একজন মাঝির নৌকা চালানো
  3. গ) চলন্ত বাস হঠাৎ ব্রেক করলে যাত্রীরা সামনের দিকে ঝুঁকে পড়ে
  4. ঘ) বন্দুক থেকে গুলি ছোঁড়া হলে পেছনের দিকে বন্দুক চালনাকারীকে ধাক্কা
ব্যাখ্যা
নিউটনের প্রথম সূত্র: বল প্রয়ােগ না করলে স্থির বস্তু স্থির থাকবে এবং সমবেগে চলতে থাকা বস্তু সমবেগে চলতে থাকবে। উদাহরণঃ চলন্ত বাস হঠাৎ ব্রেক করলে যাত্রীরা সামনের দিকে ঝুঁকে পড়ে।
নিউটনের দ্বিতীয় সূত্র: বস্তুর ভরবেগের পরিবর্তনের হার তার উপর প্রযুক্ত বলের সমানুপাতিক এবং যেদিকে বল প্রয়ােগ করা হয় ভরবেগের পরিবর্তনও ঘটে সেদিকে।
নিউটনের তৃতীয় সূত্র: যখন একটি বস্তু অন্য একটি বস্তুর ওপর বল প্রয়ােগ করে, তখন সেই বস্তুটিও প্রথম বস্তুটির ওপর বিপরীত দিকে সমান বল প্রয়ােগ করে। উদাহরণঃ
বন্দুক থেকে গুলি ছোঁড়া হলে পেছনের দিকে বন্দুক চালনাকারীকে ধাক্কা দিবে।
একজন মাঝি নৌকা চালানোর সময় নিউটনের তৃতীয় সূত্র প্রয়োগ করে।
মহাকাশযান উৎক্ষেপিত হয় নিউটনের তৃতীয় সূত্রের নীতিতে।
মহাকাশযানকে উৎক্ষেপ করার জন্য যে নীতির উপর ভিত্তি করে রকেট নির্মিত হয় তা নিউটনের তৃতীয় গতিসূত্র।
উৎসঃ পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৮৩.
পৃথিবীর সঙ্গে একটি বইয়ের যে আকর্ষণ তাকে কী হিসেবে অভিহিত করা হয়? 
  1. পীড়ন
  2. স্থিতিস্থাপকতা
  3. অভিকর্ষ বল
  4. তাড়িতচৌম্বক বল
ব্যাখ্যা

• অভিকর্ষ: 
- পৃথিবী পৃষ্ঠের উপর বা পৃষ্ঠ সংলগ্ন কোনো বস্তু এবং পৃথিবীর মধ্যে যে মহাকর্ষ বল ক্রিয়াশীল তাকে অভিকর্ষ বলে। 
- মূলত এই বলের প্রভাবে বস্তু পৃথিবীর দিকেই আকৃষ্ট হয়। 
- পৃথিবীর বিশালত্বের কারণে অন্য বস্তুটির বলের প্রভাব অনুভূত বা পরিলক্ষিত হয় না। 
- তাই পৃথিবী ও চাঁদের মধ্যে আকর্ষণ বা পৃথিবী ও সূর্যের মধ্যের আকর্ষণ মহাকর্ষ। 
- কিন্তু পৃথিবীর সঙ্গে এক খন্ড পাথরের বা একটুকরো ইটের বা একটি বইয়ের যে আকর্ষণ তা অভিকর্ষ বলে অভিহিত হয়। 
- মূলত অভিকর্ষ এক ধরণের মহাকর্ষ। 

উৎস: পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮৪.
সবল নিউক্লিয় বল সাধারণত কোথায় কাজ করে? 
  1. বিভিন্ন অণুর মধ্যে
  2. ইলেকট্রন ও নিউট্রনের মধ্যে
  3. নিউট্রন ও প্রোটনের মাঝে
  4. পরমাণুর বাইরের ইলেকট্রনে
ব্যাখ্যা
মৌলিক বল: 
- যে সকল বল মূল বা স্বাধীন অর্থাৎ যে সকল বল অন্য কোনো বল থেকে উৎপন্ন হয় না বরং অন্যান্য বল এ সকল বলের কোনো না কোনো রূপের প্রকাশ তাদেরকে মৌলিক বল বলে। 
- মৌলিক বলগুলো হলো - 
১. মহাকর্ষ বল (Gravitational Force), 
২. তাড়িতচৌম্বক বল (Electromagnetic Force), 
৩. সবল নিউক্লিয় বল (Strong Nuclear Force) এবং 
৪. দুর্বল নিউক্লিয় বল (Weak Nuclear Force)। 

সবল নিউক্লিয় বল: 
- সবল নিউক্লিয় বল হচ্ছে সৃষ্টিজগতের সবচেয়ে শক্তিশালী বল। 
- এটি তড়িৎ চৌম্বক বল থেকেও একশ গুণ বেশি শক্তিশালী। কিন্তু এটা খুবই অল্প দূরত্বে (10-15m) কাজ করে। 
- পরমাণুর কেন্দ্রে যে নিউক্লিয়াস রয়েছে তার ভেতরকার প্রোটন এবং নিউট্রনের নিজেদের মাঝে এই প্রচণ্ড শক্তিশালী বল কাজ করে নিজেদের আটকে রাখে। 
- প্রচণ্ড বলে আটকে থাকার কারণে এর মাঝে অনেক শক্তি জমা থাকে। 
- তাই বড় নিউক্লিয়াসকে ভেঙে কিংবা ছোট নিউক্লিয়াসকে জোড়া দিয়ে এই বলের কারণে অনেক শক্তি তৈরি করা সম্ভব। 
- নিউক্লিয়ার বোমা সে জন্য এত শক্তিশালী। 
- সূর্য থেকে আলোর তাপও এই বল দিয়ে তৈরি হয়। 

উৎস: পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৮৫.
পৃথিবী থেকে কোনো বস্তুর মুক্তিবেগের (Escape velocity) মান কত?
  1. 9.8 km/s
  2. 11.2 km/s
  3. 15.8 km/s2
  4. 25 km/s
ব্যাখ্যা

- সর্বাপেক্ষা কম যে বেগে কোনো বস্তুকে খাড়া ওপরের দিকে নিক্ষেপ করলে তা আর পৃথিবীতে ফিরে আসে না সে বেগকে মুক্তিবেগ বলে।

• মুক্তিবেগের মান:
- কোনো বস্তুকে এমন গতিশক্তি দিতে হবে যাতে সেটি পৃথিবীর আকর্ষণ কাটিয়ে মহাশূন্যে চলে যেতে পারে।
- ভূ-পৃষ্ঠ থেকে কোনো বস্তুকে অসীমে নিয়ে যেতে যে কাজ করতে হবে বস্তুটিকে নিক্ষেপের সময় সে গতিশক্তি প্রদান করতে হবে। এরূপ গতিশক্তি অর্জন করতে যে বেগ দিতে হবে তাই মুক্তিবেগ Ve .
- পৃথিবীর মুক্তিবেগের মান 11.2 kms- 1 .
- অর্থাৎ, কোন বস্তুকে এই বেগে নিক্ষেপ করলে তা পৃথিবীর আকর্ষণ কাটিয়ে মহাশূন্যে চলে যাবে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, ড. শাহজাহান তপন।

৮৬.
নিচের কোনটি মুক্তি বেগ (Escape Velocity)-এর সঠিক সংজ্ঞা?
  1. সর্বোচ্চ বেগ, যার মাধ্যমে বস্তু পৃথিবীর কেন্দ্রের দিকে যায়
  2. সর্বনিম্ন বেগ, যার মাধ্যমে বস্তু আবার পৃথিবীতে ফিরে আসে
  3. সর্বনিম্ন বেগ, যার মাধ্যমে বস্তু পৃথিবীর আকর্ষণ অতিক্রম করে মহাশূন্যে চলে যায়
  4. যে কোনও বেগ, যার মাধ্যমে বস্তু কিছু সময়ের জন্য স্থিতিশীল থাকে
ব্যাখ্যা

সর্বনিম্ন যে বেগে কোনো বস্তুকে উপরের দিকে নিক্ষেপ করলে নিক্ষিপ্ত বস্তুটি আর পৃথিবীতে ফিরে আসে না সেই বেগকে মুক্তি বেগ বলে।

• মুক্তি বেগ (Escape Velocity):
- এক টুকরো পাথরকে উপরের দিকে ছুড়ে দিলে অভিকর্ষের টানে তা আবার ভূ-পৃষ্ঠে ফিরে আসবে।
- পুনরায় একে দ্বিগুণ বলে ছুড়ে দিলে এটির বেগ বেশি হবে, আরও উপরে উঠবে বটে কিন্তু আবার ভূ-পৃষ্ঠে ফিরে আসবে।
- পৃথিবীর অভিকর্ষ বল ঊর্ধ্বে উৎক্ষিপ্ত পাথর খন্ডকে এভাবে টেনে আনে। কিন্তু যদি পাথর খন্ডের উপর এমন বল প্রয়োগ করা যায় যাতে এটি এমন বেগ প্রাপ্ত হয় যে পৃথিবীর আকর্ষণ সীমা বা অভিকর্ষ ক্ষেত্র অতিক্রম করে যায় তাহলে আর এটি ভূ-পৃষ্ঠে ফিরে আসবে না।
- এটি পৃথিীবীর আকর্ষণ মুক্ত হয়ে মহাশূন্যে চলে যাবে।
- এই বেগ হবে অভিকর্ষের থেকে মুক্তির পাওয়ার বেগ।
- সুতরাং মুক্তি বেগকে নিম্ন রূপে সংজ্ঞায়িত করা হয়।

• মুক্তি বেগ (Escape Velocity):
- সর্বনিম্ন যে বেগে কোনো বস্তুকে উপরের দিকে নিক্ষেপ করলে নিক্ষিপ্ত বস্তুটি আর পৃথিবীতে ফিরে আসে না সেই বেগকে মুক্তি বেগ বলে।

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান ১ম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮৭.
নক্ষত্রের মধ্যে পদার্থ কোন অবস্থায় থাকে?
  1. ক) কঠিন অবস্থায়
  2. খ) তরল অবস্থায়
  3. গ) গ্যাসীয় অবস্থায়
  4. ঘ) প্লাজমা অবস্থায়
ব্যাখ্যা

প্লাজমা অবস্থা (Plasma state):
প্লাজমা অবস্থায় পদার্থ তার সর্বোচ্চ গতিশক্তি প্রাপ্ত হয়। পদার্থ তার উপাদান কণায় বিয়োজিত হয়ে প্রতিটি কণা আধানযুক্ত হয় এবং প্রচন্ড গতিশক্তির কারণে ছুটাছুটি করতে থাকে, কিন্তু বিপরীত আধানের মধ্যে কোনরূপ আকর্ষণ বল অনুভূত হয় না।
- সাধারণত ১০৪ থেকে  ১০ কেল্ভিন তাপমাত্রায় বেশ কিছু পদার্থকে প্লাজমা অবস্থায় অবস্থান করতে দেখা যায়।
- সূর্য ও অন্যান্য নক্ষত্র মন্ডলের মধ্যে পদার্থ প্লাজমা অবস্থায় অবস্থান করে।
- পারমাণবিক চুল্লীর মধ্যে যখন নিউক্লিয়ার ফিউশান ঘটানো হয় তখন পদার্থকে প্লাজমা অবস্থায় পরিবর্তন করে নেয়া হয়।

সূত্রঃ রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়

৮৮.
ঘড়ির কাটার গতি কি রকম গতি?
  1. রৈখিত গতি
  2. উপবৃত্তাকার গতি
  3. পর্যায়বৃত্ত গতি
  4. স্পন্দন গতি
ব্যাখ্যা
পর্যাবৃত্ত গতি: 
- কোনো গতিশীল বস্তু যদি একই পথ বারবার অতিক্রম করে তাহলে সে গতিকে পর্যাবৃত্ত গতি বলে।
- ঘড়ির কাঁটার গতি লক্ষ্য করলে দেখা যায়, সেকেন্ডের কাটাটি প্রতি এক মিনিটে একবার এর কেন্দ্র বিন্দুর চারদিকে ঘুরে আসে। 
- ঘড়ির কাঁটাটি বারবার একটি পথে ঘুরছে অর্থাৎ এর গতির পুনরাবৃত্তি ঘটছে। এ ধরনের গতি হলো পর্যাবৃত্ত গতি।  
- বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় চারপাক দৌড়ের একজন প্রতিযোগী একই দিক থেকে চারবার অতিক্রম করে যা একটি পর্যাবৃত্ত গতি। 
- ঘড়ির কাঁটার গতি, পাকদৌড়ের গতি, বৈদ্যুতিক পাখার গতি হলো পর্যাবৃত্ত গতি।

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।
৮৯.
১৮ কেজি ভরের বস্তুর ওজন চাঁদে কত নিউটন হবে?
  1. ২৯.৪
  2. ১৯.৪
  3. ৩৯.৪
  4. ৪৯.৪
ব্যাখ্যা
- কোন বস্তুকে পৃথিবী তার কেন্দ্রের দিকে যে বলে আকর্ষণ করে, তাকে ঐ বস্তুর ওজন বলে। 
- পৃথিবী থেকে যতই উপরে উঠা যায় বস্তুর ওজন ততই কমতে থাকে। 
- এরূপে চাঁদে কোন বস্তুর ওজন পৃথিবীতে ঐ বস্তুর ওজনের ছয় ভাগের এক ভাগ (১/৬) হয়। 
- পৃথিবীতে কোন বস্তুর ওজন ৬০ নিউটন হলে চাঁদে ঐ জিনিসের ওজন ১০ নিউটন হবে অর্থাৎ কমবে। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।

- চাঁদে অভিকর্ষজ ত্বরণের মান পৃথিবীর পৃষ্ট হতে ৬ গুণ কম।
আমরা জানি, 
W = mg 
= 18 (g/6) 
= 3g 
= 3 × 9.8 [g এর মান 9.8 ms-2
= 29.4 নিউটন
৯০.
বলের একক কি?
  1. ক) নিউটন
  2. খ) জুল
  3. গ) ওয়াট
  4. ঘ) মিটার
ব্যাখ্যা
S.I (international system) পদ্ধতিতে বলের একক নিউটন, কাজের একক জুল ক্ষমতার একক ওয়াট,এবং দৈর্ঘ্যের একক মিটার।
৯১.
আপেক্ষিকতার তত্ত্বের ভিত্তিতে নিচের কোনটি ব্যাখ্যা করা যায়? 
  1. মহাকর্ষ
  2. নাক্ষত্রিক গতিপ্রকৃতি
  3. সম্প্রসারণশীল মহাবিশ্বের ধারণা
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
আপেক্ষিকতার তত্ত্ব: 
- যখন কোনো বস্তুর অবস্থান বা বেগ পরিমাপ করা হয় তখন কোনো স্থির বিন্দুকে প্রসঙ্গ কাঠামো হিসাবে বিবেচনা করা হয়। ঐ প্রসঙ্গ কাঠামো সাপেক্ষে বস্তুটির রৈখিক দূরত্বকে তার অবস্থান বলা হয় এবং প্রসঙ্গ কাঠামো সাপেক্ষে বস্তুটির রৈখিক দ্রুতিকে বেগ বলা হয়। 
- কিন্তু এই মহাবিশ্বে কোনো কিছুই স্থির নয়। সুতরাং পরম স্থির বলে কোনো অবস্থান পাওয়া সম্ভব নয় যাকে স্থির প্রসঙ্গ কাঠামো হিসাবে বিবেচনা করা যায়। 
- তাই প্রসঙ্গ কাঠামোর সাপেক্ষে যা পরিমাপ করা হয় তা পরম নয়। অর্থাৎ সব সময় অবস্থান বা বেগকে আপেক্ষিকভাবে পরিমাপ করা হয়। 
- চিরায়ত বল বিদ্যার মতে স্থান, ভর ও সময় ধ্রুব রাশি। 
- কিন্তু ১৯০৫ সালে আইনস্টাইন এই ধারণার আমূল পরিবর্তন ঘটান । তার তত্ত্ব অনুসারে স্থান, ভর ও সময় ধ্রুব রাশি নয়। এগুলো সকলই আপেক্ষিক। 
- বেগের পরিবর্তনের সাথে সাথে এদের পরিবর্তন হয়। কেবল মাত্র শূন্য মাধ্যমে আলোর বেগই পরম বেগ। 
- উচ্চ গতিশীল (আলোর কাছাকাছি বেগে) বস্তুর ক্ষেত্রে এই ধারণা পরীক্ষালব্ধ মানের সাথে সম্পূর্ণভাবে মিলে যায়। আইনস্টইনের এই তত্ত্বকে আপেক্ষিক বলা হয়। 
- পরমাণবিক ও নিউক্লিয় পদার্থবিজ্ঞানে এই তত্ত্বের গুরুত্ব অপরিসীম। 
- আইনস্টাইন তার আপেক্ষিক তত্ত্বে বলেন প্রাকৃতিক নিয়মাবলীর গাণিতিক সূত্রসমূহ সকল জড় কাঠামোতে অভিন্ন। এটাই আপেক্ষিকতার নীতি। 
- ১৯১৬ সালে আইনস্টাইন আপেক্ষিকতার আরো একটি তত্ত্ব উপস্থাপন করেন। 
- মহাকর্ষ, নাক্ষত্রিক গতিপ্রকৃতি, সম্প্রসারণশীল মহাবিশ্বের ধারণা ইত্যাদি আপেক্ষিকতার তত্ত্বের ভিত্তিতে ব্যাখ্যা প্রদান করা যায়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯২.
পৃথিবীতে ৫০ কেজি ভরের ব্যক্তির ভর চাঁদে কত হবে?
  1. ৮ কেজি
  2. ৩০ কেজি
  3. ৫০ কেজি
  4. ৯০ কেজি
ব্যাখ্যা
• পৃথিবীতে ৫০ কেজি ভরের ব্যক্তির ভর চাঁদেও একই অর্থাৎ অপরিবর্তিত থাকবে। 

• মহাকর্ষ বল:

- মহাবিশ্বে সব বস্তুই পরস্পরকে আকর্ষণ করে বা নিজের দিকে টানে।এই আকর্ষণ বল কে বলা হয় মহাকর্ষ বল।
• চাঁদের মহাকর্ষ বল পৃথিবীর তুলনায় প্রায় ৬ গুণ কম। 
• চাঁদের মহাকর্ষ বলের কারণে, চাঁদে একজন মানুষের ওজন পৃথিবীর চেয়ে অনেক কম হয়। অন্য কথায়, চাঁদে গেলে একজন মানুষের ওজন পৃথিবীর ওজনের ৬ ভাগের ১ ভাগ হবে। 
- কিন্তু চাঁদে ও পৃথিবীতে বস্তুর বা মানুষের ভর একই থাকবে। কারণ বস্তুর ভর স্থান নিরপেক্ষ।

• চাঁদের মহাকর্ষ বল কম হওয়ার প্রধান কারণ হল এর ভর এবং আকার।
- চাঁদ পৃথিবীর চেয়ে অনেক ছোট এবং এর ভরও অনেক কম। মহাকর্ষ বল (F) বস্তুর ভর (m) এবং আকারের উপর নির্ভর করে।
- কোনো বস্তুর ভর যত বেশি এবং আকার তত বড়, তার মহাকর্ষ বলও তত বেশি হবে। যেহেতু চাঁদের ভর ও আকার পৃথিবীর চেয়ে কম, তাই এর মহাকর্ষ বলও কম। 

তথ্যসূত্র:
- ব্রিটানিকা।
৯৩.
কোন বস্তুর ওজন কোথায় সবচেয়ে বেশী?
  1. খনির ভিতরে
  2. পাহাড়ের উপর
  3. মেরু অঞ্চলে
  4. বিষুব অঞ্চলে
ব্যাখ্যা

- বস্তুর ওজন অভিকর্ষজ ত্বরণ g এর উপর নির্ভরশীল।
- অভিকর্ষজ ত্বরণ g এর আদর্শমান ৯.৮ মিটার/সেকেন্ড২
- যে স্থানে অভিকর্ষজ ত্বরণ বেশি সেই স্থানে বস্তুর ওজন বেশি। 
- বিষুবীয় অঞ্চলে অভিকর্ষজ ত্বরণ সবচেয়ে কম তাই বস্তুর ওজন সবচেয়ে কম হয়।
- মেরু অঞ্চলে অভিকর্ষজ ত্বরণ সবচেয়ে বেশি তাই বস্তুর ওজন সবচেয়ে বেশি হয়।  
- পৃথিবীর কেন্দ্রে বস্তুর ওজন শূন্য। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।

৯৪.
সৌরজগতের ক্ষুদ্রতম গ্রহ কোনটি?
  1. বুধ
  2. শনি
  3. নেপচুন
  4. শুক্র
ব্যাখ্যা

বুধ (Mercury):
- বুধ সৌরজগতের ক্ষুদ্রতম এবং সূর্যের নিকটতম গ্রহ। 
- সূর্য থেকে এর গড় দূরত্ব ৫.৮ কোটি কিলোমিটার; এর ব্যাস ৪,৮৫০ কিলোমিটার।
- সূর্যের খুব কাছাকাছি থাকায় সূর্যের আলোর তীব্রতার কারণে সবসময় একে দেখা যায় না।
- সূর্যকে একবার প্রদক্ষিণ করে আসতে বুধের সময় লাগে ৮৮ দিন।
- সুতরাং বুধ গ্রহে ৮৮ দিনে এক বছর হয়।
- বুধের মাধ্যাকর্ষণ বল এত কম যে এটি কোনো বায়ুমন্ডল ধরে রাখতে পারে না।
- এখানে নেই মেঘ, বৃষ্টি, বাতাস ও পানি। সুতরাং প্রাণির অস্তিত্ব নেই।
- বুধের কোনো উপগ্রহ নেই।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম ও দশম শ্রেণি।

৯৫.
পৃথিবীতে কোনো বস্তুর ওজন ৫০ নিউটন হলে চাঁদে তার মান কেমন হবে?
  1. হ্রাস পাবে
  2. বৃদ্ধি পাবে
  3. অপরিবর্তিত থাকবে
  4. শূন্য হবে
ব্যাখ্যা
• পৃথিবীতে কোনো বস্তুর ওজন ৫০ নিউটন হলে চাঁদে তার মান হবে ১/৬ অংশ অর্থাৎ হ্রাস পাবে। 

• অভিকর্ষজ ত্বরণ:
- অভিকর্ষ বলে প্রভাব মুক্তভাবে ভূ-পৃষ্ঠে পড়তে থাকা বস্তুর ত্বরণ বা বেগ বৃদ্ধির হারকে অভিকর্ষজ ত্বরণ বলে।

• একে g অক্ষর দ্বারা প্রকাশ করা হয়।
- g - মান নিরপেক্ষ হলেও স্থান নিরপেক্ষ নয়। এর মান পৃথিবীর ব্যাসার্ধের উপর নির্ভর করে।
- ব্যাসার্ধ বেশি হলে g এর মান কম হয় এবং ব্যাসার্ধ কম হলে g এর মান বেশি হয়।
- বিষুব রেখা থেকে যতই মেরুর দিকে যাওয়া যায় ব্যাসার্ধ R-এর মান ততই কমতে থাকে এবং মেরু বিন্দুতে সর্ব নিম্ন হয়।
- বিষুব অক্ষরে g এর মান কম কারণ সেখানে পৃথিবীর ব্যাসার্ধ বেশি। বিষুব রেখা বরাবর g-এর মান প্রায় 9.78 ms-2.
- অপরদিকে মেরু অঞ্চলে পৃথিবীর ব্যাসার্ধ কম হওয়ার কারণে g এর মান সেখানে বেশি হয় যা সর্বাধিক। মেরু এলাকায় g-এর মান প্রায় 9.83 ms-2.

• ওজন:
- কোনো বস্তুর ওজন বস্তুর ভর ও অভিকর্ষজ ত্বরণের উপর নির্ভর করে।
- অভিকর্ষজ ত্বরণের মান কম হলে বস্তুর ওজন কম হবে এবং ত্বরণের মান বেশি হলে ওজনও বেশি হবে।
- চাঁদের অভিকর্ষজ ত্বরণের মান পৃথিবীর অভিকর্ষজ ত্বরণের ১/৬ অংশ।
- অর্থাৎ পৃথিবীতে কোনো বস্তুর ওজন যত হবে চাঁদে তার ১/৬ অংশ হবে অর্থাৎ ওজন হ্রাস পাবে।

তথ্যসূত্র:
- পদার্থবিজ্ঞান ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
- ব্রিটানিকা।
৯৬.
কোন বস্তুর স্থিতিস্থাপকতা সর্বাপেক্ষা বেশি? 
  1. সোনা
  2. তামা
  3. রাবার
  4. ইস্পাত
ব্যাখ্যা
স্থিতিস্থাপকতা: 
- বল প্রয়োগ যদি কোনো বস্তুর আকার বা আয়তন বা উভয়েরই পরিবর্তন ঘটে অর্থাৎ বস্তু বিকৃত হয় তাহলে প্রযুক্ত বল সরিয়ে নিলে যে ধর্মের ফলে বিকৃত বস্তু আগের আকার ও আয়তন ফিরে পায় তাকে স্থিতিস্থাপকতা বলে। 
- যে বস্তুর বাঁধা দেওয়ার ক্ষমতা বেশি তার স্থিতিস্থাপকতাও বেশি হবে। 
- লোহা ও রাবারের মধ্যে বাঁধা দেওয়ার ক্ষমতা লোহার বেশি তাই লোহা রাবারের চেয়ে বেশি স্থিতিস্থাপক। 

স্থিতিস্থাপক সীমা: 
- বাহ্যিক বলের একটি নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত প্রত্যেক বস্তুই পূর্ণ স্থিতিস্থাপক। 
- এই সীমাকে বস্তুটির উপাদানের স্থিতিস্থাপক সীমা বলা হয়। 
- বিভিন্ন পদার্থের স্থিতিস্থাপক সীমা বিভিন্ন। 
যেমন- ইস্পাতের স্থিতিস্থাপক সীমা খুব বেশি আবার রাবারের খুব কম। 

উৎস: পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. শাহজাহান তপন)।
৯৭.
জন কেপলার সৌরজগতের গ্রহসমূহের গতি সম্পর্কে কয়টি সূত্র প্রদান করেন?
  1. দুইটি
  2. তিনটি
  3. চারটি
  4. পাঁচটি
ব্যাখ্যা

• কেপলারের সূত্র:
- প্রাচীনকাল থেকেই বিজ্ঞানীরা সৌর জগতের সূর্য ও গ্রহগুলির গতিবিধি সম্পর্কে অনুসন্ধিৎসু ছিলেন।
- বিভিন্ন সময়ে বিজ্ঞানীরা এ সম্পর্কে বিভিন্ন ব্যাখ্যা দেয়ার চেষ্টা করেন।
- গ্রীক বিজ্ঞানী টলেমী, কোপার্নিকাস, ট্রাইকোব্রাহে প্রমুখ বিজ্ঞানীদের পরস্পর বিরোধী, জটিল এবং অস্পষ্ট তথ্যসমূহ বিশ্লেষণ করে।
- ডেনমার্কের বিজ্ঞানী জন কেপলার সিদ্ধান্তে উপনীত হন যে, গ্রহগুলো কোনো এক বলের প্রভাবে সূর্যকে কেন্দ্র করে অবিরাম ঘুরছে।
- জন কেপলার সৌরজগতের গ্রহগুলির গতি সংক্রান্ত তিনটি সূত্র উপস্থাপন করেন, তার নাম অনুসারে এগুলো কেপলারের সূত্র নামে পরিচিত।
যেমন-
প্রথম সূত্র:
- সূর্যকে ফোকাসে রেখে প্রতিটি গ্রহ উপবৃত্তাকার পথে সুর্যকে প্রদক্ষিণ করছে।
• দ্বিতীয় সূত্র:
- প্রতিটি গ্রহ এমনভাবে ঘুরছে যে, সূর্য ও ঐ গ্রহের কেন্দ্র সংযোজক কাল্পনিক রেখা সমান সময়ে সমান ক্ষেত্রফল অতিক্রম করে।
• তৃতীয় সূত্র: 
- সূর্যের চারিদিকে প্রতিটি গ্রহের আবর্তনকালের বর্গ এর কক্ষপথের অর্ধপরাক্ষের (semi major axis) ঘনফলের সমানুপাতিক। গ্রহগুলো উপবৃত্তাকার পথে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯৮.
কোথায় সাঁতারকাটা কম আয়াসসাধ্য?
  1. সুইমিংপুল
  2. পুকুর
  3. নদী
  4. সমুদ্র
ব্যাখ্যা
- নদীর পানি অপেক্ষা সমুদ্রের পানিতে প্লবতা বেশি হওয়ায় সমুদ্রের পানিতে সাঁতার কাটা সহজ।
- প্লবতা প্রবাহীর ঘনত্বের ওপর নির্ভর করে (সমানুপাতিক)।
- নদীর পানির তুলনায় সমুদ্রের পানির ঘনত্ব কিছু বেশি।
- তাই সাঁতার কাটার সময় নদীর পানির তুলনায় সমুদ্রের পানিতে বেশি উর্ধ্বমুখী বল পাওয়া যায়।
- এ কারণে নদীর পানি অপেক্ষা সমুদ্রের পানিতে সাঁতার কাটা সহজ

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি ও কালের কণ্ঠ।
৯৯.
পৃথিবী ও অন্য যেকোনো বস্তুর মধ্যে যে আকর্ষণ তাকে কী বলে?
  1. অভিকর্ষ 
  2. মধ্যাকর্ষণ
  3. গতি
  4. ক +খ
ব্যাখ্যা
• মহাকর্ষ ও অভিকর্ষ (Gravitation & Gravity):
- এই মহাবিশ্বের প্রত্যেকটি বস্তু কণা একে অপরকে নিজের দিকে আকর্ষণ করে।
- মহাবিশ্বের যে কোন দুটি বস্তুর মধ্যে যে আকর্ষণ তাকে মহাকর্ষ বলে।
- দুটি বস্তুর একটি যদি পৃথিবী হয় তবে তাকে অভিকর্ষ বা মাধ্যাকর্ষণ বলে অর্থাৎ কোনো বস্তুর উপর পৃথিবীর আকর্ষণকে অভিকর্ষ বা মাধ্যাকর্ষণ বলে।
- অভিকর্ষও এক ধরনের মহাকর্ষ।
- অভিকর্ষ বল একটি কেন্দ্রমুখী বল।
- মাধ্যাকর্ষণ বল বা অভিকর্ষের জন্য পৃথিবীর ঘূর্ণনের ফলে আমরা ছিটকিয়ে পড়ি না।
- পৃথিবীর কেন্দ্রীয় আকর্ষণে আকৃষ্ট হয়ে বায়ুমণ্ডল পৃথিবীর সঙ্গে আবর্তিত হচ্ছে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান ১ম পত্র, একাদশ দ্বাদশ শ্রেণি।
১০০.
যদি কোনো বাহ্যিক বল প্রয়োগ না করা হয়, ভরবেগের পরিবর্তনের মান কত হবে?
  1. অসীম
  2. ধ্রুব
  3. শূন্য
  4. উপরের যে কোনোটি হতে পারে 
ব্যাখ্যা

• যদি কোনো বাহ্যিক বল প্রয়োগ না করা হয়, তাহলে সিস্টেমটি নিউটনের দ্বিতীয় আইন অনুসারে অভ্যন্তরীণ বলের মাধ্যমে ভরবেগের পরিবর্তন করতে পারে না। ভরবেগের পরিবর্তন একটি বস্তুতে বাহ্যিক বলের উপস্থিতির উপর নির্ভর করে, এবং বাহ্যিক বল শূন্য হলে ভরবেগের মান অপরিবর্তিত থাকে। তাই কোনো বাহ্যিক বল না থাকলে ভরবেগের পরিবর্তনের মান শূন্য হয়। সুতরাং সঠিক উত্তর হলো: গ) শূন্য। এটি লিনিয়ার মোমেন্টাম সংরক্ষণ নীতির সরাসরি ফল।

• ভরবেগের পরিবর্তন (Change in Momentum):
- ভরবেগ হলো কোনো বস্তুর ভরের সাথে তার গতিবেগের গুণফল।
- ভরবেগের পরিবর্তন ঘটে তখন, যখন কোনো বাহ্যিক বল প্রয়োগ করা হয়।
- যদি কোনো বাহ্যিক বল প্রয়োগ না করা হয়, বস্তুর ভরবেগ অপরিবর্তিত থাকে।
- এর মানে হলো ভরবেগের পরিবর্তনের মান শূন্য হবে।
- বাহ্যিক বল প্রয়োগ করা হলে ভরবেগ বাড়তে বা কমতে পারে, কিন্তু প্রশ্নে বলা হয়েছে কোন বাহ্যিক বল প্রয়োগ নেই।  

• ১৬৮৭ সালে স্যার আইজ্যাক নিউটন তাঁর অমর গ্রন্থ "ন্যাচারালিস ফিলোসোফিয়া প্রিন্সিপিয়া ম্যাথেমেটিকা" তে বস্তুর ভর, গতি ও বলের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন করে তিনটি সূত্র প্রকাশ করেন। এ তিনটি সূত্র নিউটনের গতি সূত্র নামে পরিচিত। 

নিউটনের সূত্র তিনটি। যথা:

প্রথম সূত্র:
- বাইরে থেকে কোন বস্তুর উপর বল প্রয়োগ না করলে, স্থির বস্তু চিরকাল স্থির থাকবে এবং গতিশীল বস্তু চিরকাল সমবেগে সরলরেখায় বা সরল পথে চলতে থাকে।

দ্বিতীয় সূত্র:
- কোন বস্তুর ভরবেগের পরিবর্তনের হার প্রযুক্ত বলের সমানুপাতিক এবং বল যে দিকে ক্রিয়া করে বস্তুর ভরবেগের পরিবর্তন সেদিকেই ঘটে।

তৃতীয় সূত্র:
- প্রত্যেক ক্রিয়ারই সমান ও বিপরীত প্রতিক্রিয়া রয়েছে৷

উৎস: নবম-দশম শ্রেণির পদার্থবিজ্ঞান।